উইকিউক্তি
bnwikiquote
https://bn.wikiquote.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.46.0-wmf.26
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিউক্তি
উইকিউক্তি আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
ইভেন্ট
ইভেন্ট আলোচনা
খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
0
290
83256
72909
2026-05-02T01:26:15Z
~2026-26542-90
5865
/* উক্তি */
83256
wikitext
text/x-wiki
'''খোন্দকার আবু নাসর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর''' (১৯৫৮-২০১৬) ছিলেন একজন বাংলাদেশী ইসলামি ব্যক্তিত্ব, অধ্যাপক, গবেষক, লেখক, টিভি আলোচক ও অনুবাদক। তিনি ইসলামিক টিভি, এনটিভি, পিস টিভি, এটিএন বাংলা, চ্যানেল নাইন প্রভৃতি গণমাধ্যমে ইসলামের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন, এবং আইটিভি ইউএস (মার্কিন ইসলামি টেলিভিশন চ্যানেল)-এর উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তার ''বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত: গুরুত্ব ও প্রয়োগ'' গ্রন্থটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সকল আলিয়া মাদ্রাসার সম্মান পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ''বুহুসুন ফি উলূমিল হাদীস'' এবং ''হাদিসের নামে জালিয়াতি'' দুইটি বই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকালীন তার অধীনে ১২ জন পিএইচডি এবং ৩০ জন এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
== উক্তি ==
* আল্লাহর পথে ডাকতে গেলে বা সৎকার্যে আদেশ ও অসৎকার্যে নিষেধ করতে গেলে মানুষের বিরোধিতা, শত্রুতা ও নিন্দার কারণে কখনো ক্রোধে কখনো বেদনায় অন্তর সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। এ মনোকষ্ট দূর করার ও প্রকৃত ধৈর্য ও মানসিক স্থিতি অর্জন করার উপায় হলো বেশি বেশি আল্লাহর যিকর, তাসবীহ, তাহমীদ ও সালাত আদায় করা। সাজদায় যেয়ে আল্লাহর দরবারে ক্রন্দন ও প্রার্থনা করা। এভাবেই আমরা ‘মন্দকে উৎকৃষ্ট দিয়ে প্রতিহত’ করার প্রকৃত গুণ অর্জন করতে পারব। আমরা (Re-active) না হয়ে (Pro-active) হতে পারব। কারো আচরণের প্রতিক্রিয়া আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করবে না। আল্লাহর রেযামন্দীর দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আচরণ করতে পারব। আমরা সত্যিকার অর্থে মহা-সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন।
* সবাই মনে করে, মুসলমানেরা বর্বর, আমাদের ব্রেণ উর্বর। ওরা আমাদের ব্রেণে অনেক কিছু দিতে আসে, অসাম্প্রদায়িকতা, উদারতা শেখাতে আসে। কারা? যারা অন্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থে প্রসাব করে, যারা অন্য ধর্মের পয়গম্বরকে অবমাননা করাকে ক্রেডিট মনে করে। তারা আমাদেরকে উদারতা শেখাতে আসে অথচ মুসলমানদের মানসিকতাই এমন জীবনে কোন জায়গায় কোন কাঠমোল্লা, ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী,জঙ্গি, তালেবান - কখনো শুনবেন না কোন বিধর্মীকে ধর্মের জন্য মেরেছে অথবা কোন বিধর্মীর ধর্মগ্রন্থে পেসাব করেছে, এমন পেয়েছেন নাকি? [[মুসলমান]] খেপলে আমেরিকার ফ্লাগ পোড়ায় কিন্তু বাইবেল ছিঁড়ে পোড়াইছে? এমন কথা আছে নাকি? কারণ মুসলমান বিশ্বাস করে, বাইবেল হোক রামায়ণ হোক যে কোন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ অবমাননা করা, এটা কোন ভালো কাজ না, এটা খারাপ কাজ। একারণে মুসলমান কোন ধর্মের কোন দেবতাকে নিয়ে, ভক্তি যাদেরকে করা হয় কার্টুন বানায় না, ব্যঙ্গ করে না, অবমাননা করে না। একজন মুসলমান ধর্ম পালন করে না তারপরেও তার মনে কখনোই জাগে না, অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে হবে। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকার ধর্মগুরুরা ইন্টেনশনালি রাস্তায় রাস্তায় কোরআন পোড়ান, কোরআনে পেসাব করেন, করান। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াটাকে তারা ধর্মীয়ভাবে খুব গৌরবের কাজ মনে করে!
* জামায়াতে ইসলামী উপমহাদেশের প্রাচীনতম ইসলামী রাজনৈতিক দল। দলটি বেশ কিছু ইতিবাচক কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: (i) তারা প্রমাণ করেছে যে ইসলাম একটি সম্পূর্ণ জীবন বিধান, এটি একটি ব্যবহারিক ব্যবস্থা, এবং এটি সর্বোত্তম জীবন ব্যবস্থা; (ii) তারা যুবক-যুবতীদের এবং শিক্ষিত জনগণকে ইসলাম সম্পর্কে এই সত্যগুলো বোঝাতে সক্ষম করেছে; (iii) তারা মূলত ইসলামিক অর্থনীতি, শিক্ষা ইত্যাদির জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে; (iv) তারা সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, যেমন ব্যক্তি, পীর, কবর পূজার বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে সফল হয়েছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর বলেন, জামায়াত-ই-ইসলামীর রাজনীতিতে বেশ কিছু ত্রুটি দেখা যায়: (i) তারা রাজনীতিকে জিহাদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এটি প্রথম করেছিলেন মাওলানা মওদুদী; (ii) তারা ইকামত-ই-দ্বীন (ধর্ম প্রতিষ্ঠা) ধারণার অর্থ হ্রাস করে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে বুঝিয়ে একটি গুরুতর ভুল করেছে; (iii) দলটি তার আদর্শের সাথে আপস করেছে এবং ক্ষমতা-রাজনীতিতে আরও মনোনিবেশ করেছে এবং ক্ষমতার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ দল ও জনগণের সাথে জোট করেছে; এবং (iv) মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত এমন এক সরকারকে সমর্থন করেছিল এবং তাদের পক্ষে অস্ত্র গ্রহণ করেছিল, যাদেরকে এর পূর্বে তারা "অমুসলিম তাগুদী [অত্যাচারী] সরকার" বলে অভিহিত করেছিল। এটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ভুল।... হ্যাঁ, উলামারাও পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিলেন কারণ তারা পাকিস্তানকে ভালোবাসতেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির চেতনায় তারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। ১৯৭১ সালের এই গৌরবময় ঘটনাকে তারা এখনও স্মরণ করে। তবে, [মুক্তিযুদ্ধের সময়] তারা পাকিস্তানের পক্ষে জনগণকে সংগঠিত করেনি এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সামরিক প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি। তারা শুধু নিষ্ক্রিয় সমর্থন দিয়েছিল.... জামায়াতের দ্বারা প্রদর্শিত ক্ষমতার লালসা প্রমাণ করে যে তারা তাদের মূল আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছে যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ইসলাম প্রচার করবে না; পরিবর্তে, একদল অত্যন্ত ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের উচিত ইসলামের জন্য সঠিকভাবে সেবা করার ক্ষমতা অর্জন করা। কিন্তু দলটি সেক্যুলারদের মদদে ক্ষমতার অংশ হয়ে যায়। এটা তাদের আদর্শগত বিচ্যুতি। এই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। জামায়াত যা উন্নয়ন মনে করে; এটা আসলে অনুন্নয়ন। আমাদের সমাজে, মাত্র ১০-১৫% লোকই নামাজী-দ্বীনদার (মুসলিম অনুশীলনকারী)। কিন্তু, জামায়াত, বিএনপির সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে বিশ্বকে একটি বার্তা দেয় যে ইসলামপন্থীরা দখল করে নিয়েছে এবং বাংলাদেশ তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে। তাই যেকোনো মূল্যে জামায়াতকে চূর্ণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ১০ কেজি শক্তি আছে, আপনি ১০০ কেজি দেখিয়েছেন। আপনার প্রতিপক্ষ আপনাকে ৬০ কেজি দিয়ে আঘাত করেছে, কিন্তু আপনার আছে মাত্র ১০ কেজি। আপনি নিশ্চিতভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হবেন। এই কারণে, ইসলামপন্থীদের পক্ষে ক্ষমতায় থাকা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদেরকে প্রভাবিত করা এবং চাপ দেওয়া ভাল, যতক্ষণ না তারা একতরফাভাবে ক্ষমতায় না আসে। জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেনি, বরং নীরবে সমর্থন করেছে। এটা তাদের আদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি। যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করে, তাদের ইসলামী আদর্শকে পূর্ণ বিবেচনায় নিতে হবে। ইসলামী রাজনীতি হচ্ছে আদর্শিক রাজনীতি। ইসলামী রাজনীতি শুধু ক্ষমতার পাসপোর্ট নয়। {{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=Islam |প্রথমাংশ1=Md Nazrul |শেষাংশ2=Islam |প্রথমাংশ2=Md Saidul |শিরোনাম=Islam and Democracy in South Asia: The Case of Bangladesh |তারিখ=২০ মার্চ ২০২০ |প্রকাশক=Springer Nature |আইএসবিএন=978-3-030-42909-6 |পাতা=২৭১, ২৭২ |ইউআরএল=https://books.google.com.bd/books?id=ci3YDwAAQBAJ&pg=PA271&dq=abdullah+jahangir&hl=en&sa=X&ved=2ahUKEwjKqbuJsKz0AhUIyosBHSzBCkoQ6AF6BAgDEAM#v=onepage&q=abdullah%20jahangir&f=false |সংগ্রহের-তারিখ=২২ নভেম্বর ২০২১ |ভাষা=en }}
* সার্বভৌমত্ব মানে মালিকানা। এটা সহজ যে সার্বভৌম মানে মালিক। যেমন আমি এই জমির মালিক যা সত্য। আমি এখানে দালান তৈরি করতে পারি, ভেঙ্গে ফেলতে পারি, পার্টিশন করতে পারি, বিক্রি করতে পারি। এই মালিকানা আমার আছে। আবার এই জমি আল্লাহর। এটাও সত্য। আর আসল কথা হল, ইসলামের মতে এই জমি দিয়ে আমি অনেক কিছু করতে পারি, কিন্তু এখানে পতিতালয় বানাতে পারি না। মানুষের মালিকানা সীমিত; আল্লাহর মালিকানা অন্য সকল সার্বভৌমত্বের উপর সর্বোচ্চ। আমার মালিকানা পার্থিব, এবং যদি আমি তা আল্লাহর মালিকানার উপর রাখি তবে আমি আল্লাহর কাছে অপরাধী হব। একই সাথে, জনগণই দেশের মালিক, এটি একটি সহজ কথা। যারা বলেন, জনগণকে সার্বভৌম বলা ইসলাম বিরোধী এবং তারাই সকল ক্ষমতার উৎস, আমি তাদের সাথে একমত নই। এখানে ক্ষমতা বলতে ঝড়-বৃষ্টি বা রোগ-ব্যাধির ক্ষমতা বোঝায় না, এর মানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। এই ক্ষমতা আসলে মানুষের। ইসলামে জনগণের সম্মতিতেই ক্ষমতা অর্জিত হবে। একটি সমাজে যদি জনগোষ্ঠীর প্রধানরা সম্মতি দেয় এবং জনগণ তাতে সম্মত হয়, এটা ঠিক আছে, এটাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র ইসলামে জনগণের অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব বাধ্যতামূলক। তাই জনগণই রাষ্ট্রের মালিক এবং জনগণই ক্ষমতার উৎস ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তবে কেউ যদি মনে করে এই মালিকানা মানে যে কেউ যে কোন কিছু করতে পারে; হারামকে (নিষিদ্ধ) হালাল (বৈধ), এবং হালালকে হারাম, তাহলে স্পষ্টতই এটা ইসলাম বিরোধী।(২ এপ্রিল ২০১৪){{cite book |last1=Islam |first1=Md Nazrul |last2=Islam |first2=Md Saidul |title=Islam and Democracy in South Asia: The Case of Bangladesh |date=20 March 2020 |publisher=Springer Nature |isbn=978-3-030-42909-6 |page=87 |url=https://books.google.com.bd/books?id=ci3YDwAAQBAJ&pg=PA87&lpg=PA87&dq=quote%7CSovereignty+means+ownership.+This+is+simple+that+sovereign+means+owner.+For+example,+I+am+the+owner+of+this+land+which+is+true.+I+can+erect+building+here,+I+can+demolish+it,+I+can+make+partition,+and+I+can+sell+it.+I+have+this+ownership.+Again,+this+land+belongs+to+Allah.+This+is+also+true.+And+the+fact+is,+according+to+Islam,+with+this+land+I+can+do+many+things,+but+I+cannot+make+a+brothel+here.+People%E2%80%99s+ownership+is+limited;+Allah%E2%80%99s+ownership+is+the+supreme+over+all+other+sovereigns.+My+ownership+is+worldly,+and+if+I+put+it+over+Allah%E2%80%99s+ownership,+I+will+be+offender+to+Allah.+In+the+same+vein,+people+are+the+owner+of+the+country,+it+is+a+simple+word.+Those+who+say+it+is+anti-Islamic+to+say+people+are+sovereign+and+they+are+the+source+of+all+powers,+I+do+not+agree+with+them.+Here+by+power,+it+does+not+mean+power+regarding+storm-rain,+or+disease,+it+means+the+power+of+ministers,+prime+minister+and+above+all+state+power.+This+power+actually+belongs+to+people.+In+Islam,+power+will+%E2%80%A6&source=bl&ots=CLGskaDOpA&sig=ACfU3U02qVhrfYmOBq2UDhh-58fXj3CqKg&hl=en&sa=X&ved=2ahUKEwj3oNz-y-L5AhVeyHMBHcy2AsYQ6AF6BAgHEAI#v=onepage&q&f=false |access-date=25 August 2022 |language=en}}
* হাদীসের নামে মিথ্যা বলার একটি প্রকরণ হলো, অনুবাদের ক্ষেত্রে শাব্দিক অনুবাদ না করে অনুবাদের সাথে নিজের মনমত কিছু সংযোগ করা বা কিছু বাদ দিয়ে অনুবাদ করা। অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তার ব্যাখ্যাকে হাদীসের অংশ বানিয়ে দেয়া। আমাদের সমাজে আমরা প্রায় সকলেই এ অপরাধে লিপ্ত রয়েছি। আত্মশুদ্ধি, পীর-মুরিদী, দাওয়াত-তাবলীগ, রাজনীতিসহ মতভেদীয় বিভিন্ন মাসআলা-মাসাইল-এর জন্য আমরা প্রত্যেক দলের ও মতের মানুষ কুরআন ও হাদীস থেকে দলীল প্রদান করি। এরূপ দলীল প্রদান খুবই স্বাভাবিক কর্ম ও ঈমানের দাবি। তবে সাধারণত আমরা আমাদের এ ব্যাখ্যাকেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে চালাই। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, কিন্তু প্রচলিত অর্থে ‘দলীয় রাজনীতি’ করেন নি, অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের মত কিছু করেন নি। বর্তমানে গণতান্ত্রিক ‘রাজনীতি’ করছেন অনেক আলিম। ন্যায়ের আদেশ, অন্যায়ের নিষেধ বা ইকামতে দীনের একটি নতুন পদ্ধতি হিসেবে একে গ্রহণ করা হয়। তবে যদি আমরা বলি যে, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাজনীতি করেছেন’, তবে শ্রোতা বা পাঠক ‘রাজনীতি’র প্রচলিত অর্থ, অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কথাই বুঝবেন। আর এ রাজনীতি তিনি করেন নি। ফলে এভাবে তাঁর নামে মিথ্যা বলা হবে। এজন্য আমাদের উচিত তিনি কী করেছেন ও বলেছেন এবং আমরা কি ব্যাখ্যা করছি তা পৃথকভাবে বলা।{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=জাহাঙ্গীর |প্রথমাংশ1=প্রফেসর ড খন্দকার আ ন ম আব্দুল্লাহ |শিরোনাম=হাদীসের নামে জালিয়াতি: প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা - বাংলা - প্রফেসর ড. খন্দকার আ.ন.ম আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর |তারিখ=সেপ্টেম্বর ২০১০ |প্রকাশক=আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স |অবস্থান=ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ |পাতা=৮৪ |সংস্করণ=৪র্থ |ইউআরএল=https://d1.islamhouse.com/data/bn/ih_books/single2/bn_Hadis_er_nam_e_jaliyati.pdf |সংগ্রহের-তারিখ=২৪ নভেম্বর ২০২২ |ভাষা=bn}}{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=জাহাঙ্গীর |প্রথমাংশ1= খোন্দকার আব্দুল্লাহ |শিরোনাম=হাদীসের নামে জালিয়াতি: প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা |তারিখ=এপ্রিল ২০১৭ |প্রকাশক=আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স |অবস্থান=ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ |পাতা=১৮৪ |সংস্করণ=৫ম |আইএসবিএন=978-984-90053-3-9 |সংগ্রহের-তারিখ=২৪ নভেম্বর ২০২২ |ভাষা=bn}}
* মূলত কোনো ধর্ম, মতবাদ বা আদর্শ সহিংসতা বা সন্ত্রাস শিক্ষা দেয় না। মানুষ মানবীয় লোভ, দুর্বলতা, অসহায়ত্ব, প্রতিশোধস্পৃহা ইত্যাদির কারণে সহিংসতা বা হিংস্রতায় লিপ্ত হয়। এরূপ সহিংসতায় লিপ্ত ব্যক্তি নিজের কর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য, নিজের বিবেককে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করার জন্য, অন্যকে নিজের পক্ষে টানার জন্য এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যে নিজের আদর্শকে ব্যবহার করে। হাজার হাজার বছর ধরে বসবাসকারী আরবদেরকে জেরুজালেম ও অন্যান্য ফিলিস্তিনী এলাকা থেকে সন্ত্রাস ও গণহত্যার মাধ্যমে বিতাড়ন করে অন্যান্য দেশে হাজার বছর ধরে বসবাসকারী ইহূদীদেরকে সেখানে নিয়ে এসে ইস্রায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার জন্য ইহূদী-খৃস্টানগণ পবিত্র বাইবেলের বাণীকে ব্যবহার করেছেন। অনুরূপভাবে আইরিশ ক্যাথলিক ব্রিটিশ প্রটেস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে নিজের ধর্মমতকে ব্যবহার করেন, তিববতীয় বৌদ্ধ চীনের বিরুদ্ধে নিজের বৌদ্ধ ধর্মমতকে ব্যবহার করেন, নিম্নবর্ণের হিন্দু উচ্চবর্ণের হিন্দুর বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক বা ধর্মীয় মতামত ব্যবহার করেন, নিম্নরর্ণের হিন্দুদের বিরুদ্ধে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে উচ্চবর্ণের হিন্দুরা বর্ণপ্রথা বিষয়ে বেদ, গীতা ও হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের শিক্ষা ও বাণীগুলিকে ব্যবহার করেন, ফিলিস্তিনী যোদ্ধা ইহূদী দখলদারের বিরুদ্ধে নিজের ইসলাম বা খৃস্টান ধর্ম থেকে উদ্দীপনা বা প্রেরণা লাভের চেষ্টা করেন। আমাদের সমাজে ‘আওয়ামী লীগের’ কর্মী যদি কোনো কারণে উত্তেজিত হয়ে সহিংসতায় লিপ্ত হন তবে তিনি ‘স্বাধীনতা’, ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ ইত্যাদি মহান বিষয়কে তার কর্মের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুরূপভাবে ‘বিএনপি’র কর্মী এ ক্ষেত্রে ‘শহীদ জিয়া’, জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ইত্যাদি মহান বিষয়কে নিজের ‘এক্সকিউজ’ হিসেবে ব্যবহার করেন। উভয় ক্ষেত্রেই দলের অন্যান্য বিচক্ষণ কর্মী জানেন যে, নিজের সহিংসতা বৈধ করার জন্যই এগুলি বলা হচ্ছে। সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষাকে দায়ী করে মাদ্রাসা শিক্ষা, মাদ্রাসা বা মাদ্রাসা শিক্ষিতদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে স্বভাবতই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সহিংসতায় লিপ্ত হবেন এবং ‘ইসলাম’ ও ‘ইসলামী শিক্ষা’-র বিপন্নতাকে অজুহাত হিসেবে পেশ করবেন। এতে একমাত্র সন্ত্রাসীরাই লাভবান হবে এবং জাতি ভয়ঙ্কর সংঘাতের মধ্যে নিপতিত হবে।
** ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ, পৃষ্ঠা: ৩৯, ২য় সংস্করণ, ২০০৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫৮-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১৬-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী অনুবাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসলামি পণ্ডিত]]
[[বিষয়শ্রেণী:ওয়াজ মাহফিলের বক্তা]]
a76ncefqczffwbeodcwkme920wvx0m3
83257
83256
2026-05-02T01:26:39Z
~2026-26542-90
5865
/* উক্তি */
83257
wikitext
text/x-wiki
'''খোন্দকার আবু নাসর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর''' (১৯৫৮-২০১৬) ছিলেন একজন বাংলাদেশী ইসলামি ব্যক্তিত্ব, অধ্যাপক, গবেষক, লেখক, টিভি আলোচক ও অনুবাদক। তিনি ইসলামিক টিভি, এনটিভি, পিস টিভি, এটিএন বাংলা, চ্যানেল নাইন প্রভৃতি গণমাধ্যমে ইসলামের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন, এবং আইটিভি ইউএস (মার্কিন ইসলামি টেলিভিশন চ্যানেল)-এর উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তার ''বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত: গুরুত্ব ও প্রয়োগ'' গ্রন্থটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সকল আলিয়া মাদ্রাসার সম্মান পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ''বুহুসুন ফি উলূমিল হাদীস'' এবং ''হাদিসের নামে জালিয়াতি'' দুইটি বই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকালীন তার অধীনে ১২ জন পিএইচডি এবং ৩০ জন এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
== উক্তি ==
* আল্লাহর পথে ডাকতে গেলে বা সৎকার্যে আদেশ ও অসৎকার্যে নিষেধ করতে গেলে মানুষের বিরোধিতা, শত্রুতা ও নিন্দার কারণে কখনো ক্রোধে কখনো বেদনায় অন্তর সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। এ মনোকষ্ট দূর করার ও প্রকৃত ধৈর্য ও মানসিক স্থিতি অর্জন করার উপায় হলো বেশি বেশি আল্লাহর যিকর, তাসবীহ, তাহমীদ ও সালাত আদায় করা। সাজদায় যেয়ে আল্লাহর দরবারে ক্রন্দন ও প্রার্থনা করা। এভাবেই আমরা ‘মন্দকে উৎকৃষ্ট দিয়ে প্রতিহত’ করার প্রকৃত গুণ অর্জন করতে পারব। আমরা (Re-active) না হয়ে (Pro-active) হতে পারব। কারো আচরণের প্রতিক্রিয়া আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করবে না। আল্লাহর রেযামন্দীর দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আচরণ করতে পারব। আমরা সত্যিকার অর্থে মহা-সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন।
* সবাই মনে করে, মুসলমানেরা বর্বর, আমাদের ব্রেণ উর্বর। ওরা আমাদের ব্রেণে অনেক কিছু দিতে আসে, অসাম্প্রদায়িকতা, উদারতা শেখাতে আসে। কারা? যারা অন্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থে প্রসাব করে, যারা অন্য ধর্মের পয়গম্বরকে অবমাননা করাকে ক্রেডিট মনে করে। তারা আমাদেরকে উদারতা শেখাতে আসে অথচ মুসলমানদের মানসিকতাই এমন জীবনে কোন জায়গায় কোন কাঠমোল্লা, ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী,জঙ্গি, তালেবান - কখনো শুনবেন না কোন বিধর্মীকে ধর্মের জন্য মেরেছে অথবা কোন বিধর্মীর ধর্মগ্রন্থে পেসাব করেছে, এমন পেয়েছেন নাকি? [[মুসলমান]] খেপলে আমেরিকার ফ্লাগ পোড়ায় কিন্তু বাইবেল ছিঁড়ে পোড়াইছে? এমন কথা আছে নাকি? কারণ মুসলমান বিশ্বাস করে, বাইবেল হোক রামায়ণ হোক যে কোন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ অবমাননা করা, এটা কোন ভালো কাজ না, এটা খারাপ কাজ। একারণে মুসলমান কোন ধর্মের কোন দেবতাকে নিয়ে, ভক্তি যাদেরকে করা হয় কার্টুন বানায় না, ব্যঙ্গ করে না, অবমাননা করে না। একজন মুসলমান ধর্ম পালন করে না তারপরেও তার মনে কখনোই জাগে না, অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে হবে। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকার ধর্মগুরুরা ইন্টেনশনালি রাস্তায় রাস্তায় কোরআন পোড়ান, কোরআনে পেসাব করেন, করান। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াটাকে তারা ধর্মীয়ভাবে খুব গৌরবের কাজ মনে করে!
* জামায়াতে ইসলামী উপমহাদেশের প্রাচীনতম ইসলামী রাজনৈতিক দল। দলটি বেশ কিছু ইতিবাচক কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: (i) তারা প্রমাণ করেছে যে ইসলাম একটি সম্পূর্ণ জীবন বিধান, এটি একটি ব্যবহারিক ব্যবস্থা, এবং এটি সর্বোত্তম জীবন ব্যবস্থা; (ii) তারা যুবক-যুবতীদের এবং শিক্ষিত জনগণকে ইসলাম সম্পর্কে এই সত্যগুলো বোঝাতে সক্ষম করেছে; (iii) তারা মূলত ইসলামিক অর্থনীতি, শিক্ষা ইত্যাদির জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে; (iv) তারা সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, যেমন ব্যক্তি, পীর, কবর পূজার বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে সফল হয়েছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর বলেন, জামায়াত-ই-ইসলামীর রাজনীতিতে বেশ কিছু ত্রুটি দেখা যায়: (i) তারা রাজনীতিকে জিহাদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এটি প্রথম করেছিলেন মাওলানা মওদুদী; (ii) তারা ইকামত-ই-দ্বীন (ধর্ম প্রতিষ্ঠা) ধারণার অর্থ হ্রাস করে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে বুঝিয়ে একটি গুরুতর ভুল করেছে; (iii) দলটি তার আদর্শের সাথে আপস করেছে এবং ক্ষমতা-রাজনীতিতে আরও মনোনিবেশ করেছে এবং ক্ষমতার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ দল ও জনগণের সাথে জোট করেছে; এবং (iv) মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত এমন এক সরকারকে সমর্থন করেছিল এবং তাদের পক্ষে অস্ত্র গ্রহণ করেছিল, যাদেরকে এর পূর্বে তারা "অমুসলিম তাগুদী [অত্যাচারী] সরকার" বলে অভিহিত করেছিল। এটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ভুল।... হ্যাঁ, উলামারাও পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিলেন কারণ তারা পাকিস্তানকে ভালোবাসতেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির চেতনায় তারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। ১৯৭১ সালের এই গৌরবময় ঘটনাকে তারা এখনও স্মরণ করে। তবে, [মুক্তিযুদ্ধের সময়] তারা পাকিস্তানের পক্ষে জনগণকে সংগঠিত করেনি এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সামরিক প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি। তারা শুধু নিষ্ক্রিয় সমর্থন দিয়েছিল.... জামায়াতের দ্বারা প্রদর্শিত ক্ষমতার লালসা প্রমাণ করে যে তারা তাদের মূল আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছে যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ইসলাম প্রচার করবে না; পরিবর্তে, একদল অত্যন্ত ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের উচিত ইসলামের জন্য সঠিকভাবে সেবা করার ক্ষমতা অর্জন করা। কিন্তু দলটি সেক্যুলারদের মদদে ক্ষমতার অংশ হয়ে যায়। এটা তাদের আদর্শগত বিচ্যুতি। এই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। জামায়াত যা উন্নয়ন মনে করে; এটা আসলে অনুন্নয়ন। আমাদের সমাজে, মাত্র ১০-১৫% লোকই নামাজী-দ্বীনদার (মুসলিম অনুশীলনকারী)। কিন্তু, জামায়াত, বিএনপির সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে বিশ্বকে একটি বার্তা দেয় যে ইসলামপন্থীরা দখল করে নিয়েছে এবং বাংলাদেশ তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে। তাই যেকোনো মূল্যে জামায়াতকে চূর্ণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ১০ কেজি শক্তি আছে, আপনি ১০০ কেজি দেখিয়েছেন। আপনার প্রতিপক্ষ আপনাকে ৬০ কেজি দিয়ে আঘাত করেছে, কিন্তু আপনার আছে মাত্র ১০ কেজি। আপনি নিশ্চিতভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হবেন। এই কারণে, ইসলামপন্থীদের পক্ষে ক্ষমতায় থাকা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদেরকে প্রভাবিত করা এবং চাপ দেওয়া ভাল, যতক্ষণ না তারা একতরফাভাবে ক্ষমতায় না আসে। জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেনি, বরং নীরবে সমর্থন করেছে। এটা তাদের আদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি। যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করে, তাদের ইসলামী আদর্শকে পূর্ণ বিবেচনায় নিতে হবে। ইসলামী রাজনীতি হচ্ছে আদর্শিক রাজনীতি। ইসলামী রাজনীতি শুধু ক্ষমতার পাসপোর্ট নয়। {{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=Islam |প্রথমাংশ1=Md Nazrul |শেষাংশ2=Islam |প্রথমাংশ2=Md Saidul |শিরোনাম=Islam and Democracy in South Asia: The Case of Bangladesh |তারিখ=২০ মার্চ ২০২০ |প্রকাশক=Springer Nature |আইএসবিএন=978-3-030-42909-6 |পাতা=২৭১, ২৭২ |ইউআরএল=https://books.google.com.bd/books?id=ci3YDwAAQBAJ&pg=PA271&dq=abdullah+jahangir&hl=en&sa=X&ved=2ahUKEwjKqbuJsKz0AhUIyosBHSzBCkoQ6AF6BAgDEAM#v=onepage&q=abdullah%20jahangir&f=false |সংগ্রহের-তারিখ=২২ নভেম্বর ২০২১ |ভাষা=en }}
* সার্বভৌমত্ব মানে মালিকানা। এটা সহজ যে সার্বভৌম মানে মালিক। যেমন আমি এই জমির মালিক যা সত্য। আমি এখানে দালান তৈরি করতে পারি, ভেঙ্গে ফেলতে পারি, পার্টিশন করতে পারি, বিক্রি করতে পারি। এই মালিকানা আমার আছে। আবার এই জমি আল্লাহর। এটাও সত্য। আর আসল কথা হল, ইসলামের মতে এই জমি দিয়ে আমি অনেক কিছু করতে পারি, কিন্তু এখানে পতিতালয় বানাতে পারি না। মানুষের মালিকানা সীমিত; আল্লাহর মালিকানা অন্য সকল সার্বভৌমত্বের উপর সর্বোচ্চ। আমার মালিকানা পার্থিব, এবং যদি আমি তা আল্লাহর মালিকানার উপর রাখি তবে আমি আল্লাহর কাছে অপরাধী হব। একই সাথে, জনগণই দেশের মালিক, এটি একটি সহজ কথা। যারা বলেন, জনগণকে সার্বভৌম বলা ইসলাম বিরোধী এবং তারাই সকল ক্ষমতার উৎস, আমি তাদের সাথে একমত নই। এখানে ক্ষমতা বলতে ঝড়-বৃষ্টি বা রোগ-ব্যাধির ক্ষমতা বোঝায় না, এর মানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। এই ক্ষমতা আসলে মানুষের। ইসলামে জনগণের সম্মতিতেই ক্ষমতা অর্জিত হবে। একটি সমাজে যদি জনগোষ্ঠীর প্রধানরা সম্মতি দেয় এবং জনগণ তাতে সম্মত হয়, এটা ঠিক আছে, এটাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র ইসলামে জনগণের অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব বাধ্যতামূলক। তাই জনগণই রাষ্ট্রের মালিক এবং জনগণই ক্ষমতার উৎস ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তবে কেউ যদি মনে করে এই মালিকানা মানে যে কেউ যে কোন কিছু করতে পারে; হারামকে (নিষিদ্ধ) হালাল (বৈধ), এবং হালালকে হারাম, তাহলে স্পষ্টতই এটা ইসলাম বিরোধী।(২ এপ্রিল ২০১৪){{cite book |last1=Islam |first1=Md Nazrul |last2=Islam |first2=Md Saidul |title=Islam and Democracy in South Asia: The Case of Bangladesh |date=20 March 2020 |publisher=Springer Nature |isbn=978-3-030-42909-6 |page=87 |url=https://books.google.com.bd/books?id=ci3YDwAAQBAJ&pg=PA87&lpg=PA87&dq=quote%7CSovereignty+means+ownership.+This+is+simple+that+sovereign+means+owner.+For+example,+I+am+the+owner+of+this+land+which+is+true.+I+can+erect+building+here,+I+can+demolish+it,+I+can+make+partition,+and+I+can+sell+it.+I+have+this+ownership.+Again,+this+land+belongs+to+Allah.+This+is+also+true.+And+the+fact+is,+according+to+Islam,+with+this+land+I+can+do+many+things,+but+I+cannot+make+a+brothel+here.+People%E2%80%99s+ownership+is+limited;+Allah%E2%80%99s+ownership+is+the+supreme+over+all+other+sovereigns.+My+ownership+is+worldly,+and+if+I+put+it+over+Allah%E2%80%99s+ownership,+I+will+be+offender+to+Allah.+In+the+same+vein,+people+are+the+owner+of+the+country,+it+is+a+simple+word.+Those+who+say+it+is+anti-Islamic+to+say+people+are+sovereign+and+they+are+the+source+of+all+powers,+I+do+not+agree+with+them.+Here+by+power,+it+does+not+mean+power+regarding+storm-rain,+or+disease,+it+means+the+power+of+ministers,+prime+minister+and+above+all+state+power.+This+power+actually+belongs+to+people.+In+Islam,+power+will+%E2%80%A6&source=bl&ots=CLGskaDOpA&sig=ACfU3U02qVhrfYmOBq2UDhh-58fXj3CqKg&hl=en&sa=X&ved=2ahUKEwj3oNz-y-L5AhVeyHMBHcy2AsYQ6AF6BAgHEAI#v=onepage&q&f=false |access-date=25 August 2022 |language=en}}
* হাদীসের নামে মিথ্যা বলার একটি প্রকরণ হলো, অনুবাদের ক্ষেত্রে শাব্দিক অনুবাদ না করে অনুবাদের সাথে নিজের মনমত কিছু সংযোগ করা বা কিছু বাদ দিয়ে অনুবাদ করা। অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তার ব্যাখ্যাকে হাদীসের অংশ বানিয়ে দেয়া। আমাদের সমাজে আমরা প্রায় সকলেই এ অপরাধে লিপ্ত রয়েছি। আত্মশুদ্ধি, পীর-মুরিদী, দাওয়াত-তাবলীগ, রাজনীতিসহ মতভেদীয় বিভিন্ন মাসআলা-মাসাইল-এর জন্য আমরা প্রত্যেক দলের ও মতের মানুষ কুরআন ও হাদীস থেকে দলীল প্রদান করি। এরূপ দলীল প্রদান খুবই স্বাভাবিক কর্ম ও ঈমানের দাবি। তবে সাধারণত আমরা আমাদের এ ব্যাখ্যাকেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে চালাই। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, কিন্তু প্রচলিত অর্থে ‘দলীয় রাজনীতি’ করেন নি, অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের মত কিছু করেন নি। বর্তমানে গণতান্ত্রিক ‘রাজনীতি’ করছেন অনেক আলিম। ন্যায়ের আদেশ, অন্যায়ের নিষেধ বা ইকামতে দীনের একটি নতুন পদ্ধতি হিসেবে একে গ্রহণ করা হয়। তবে যদি আমরা বলি যে, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাজনীতি করেছেন’, তবে শ্রোতা বা পাঠক ‘রাজনীতি’র প্রচলিত অর্থ, অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কথাই বুঝবেন। আর এ রাজনীতি তিনি করেন নি। ফলে এভাবে তাঁর নামে মিথ্যা বলা হবে। এজন্য আমাদের উচিত তিনি কী করেছেন ও বলেছেন এবং আমরা কি ব্যাখ্যা করছি তা পৃথকভাবে বলা।{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=জাহাঙ্গীর |প্রথমাংশ1=প্রফেসর ড খন্দকার আ ন ম আব্দুল্লাহ |শিরোনাম=হাদীসের নামে জালিয়াতি: প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা - বাংলা - প্রফেসর ড. খন্দকার আ.ন.ম আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর |তারিখ=সেপ্টেম্বর ২০১০ |প্রকাশক=আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স |অবস্থান=ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ |পাতা=৮৪ |সংস্করণ=৪র্থ |ইউআরএল=https://d1.islamhouse.com/data/bn/ih_books/single2/bn_Hadis_er_nam_e_jaliyati.pdf |সংগ্রহের-তারিখ=২৪ নভেম্বর ২০২২ |ভাষা=bn}}{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=জাহাঙ্গীর |প্রথমাংশ1= খোন্দকার আব্দুল্লাহ |শিরোনাম=হাদীসের নামে জালিয়াতি: প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা |তারিখ=এপ্রিল ২০১৭ |প্রকাশক=আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স |অবস্থান=ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ |পাতা=১৮৪ |সংস্করণ=৫ম |আইএসবিএন=978-984-90053-3-9 |সংগ্রহের-তারিখ=২৪ নভেম্বর ২০২২ |ভাষা=bn}}
* মূলত কোনো ধর্ম, মতবাদ বা আদর্শ সহিংসতা বা সন্ত্রাস শিক্ষা দেয় না। মানুষ মানবীয় লোভ, দুর্বলতা, অসহায়ত্ব, প্রতিশোধস্পৃহা ইত্যাদির কারণে সহিংসতা বা হিংস্রতায় লিপ্ত হয়। এরূপ সহিংসতায় লিপ্ত ব্যক্তি নিজের কর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য, নিজের বিবেককে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করার জন্য, অন্যকে নিজের পক্ষে টানার জন্য এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যে নিজের আদর্শকে ব্যবহার করে। হাজার হাজার বছর ধরে বসবাসকারী আরবদেরকে জেরুজালেম ও অন্যান্য ফিলিস্তিনী এলাকা থেকে সন্ত্রাস ও গণহত্যার মাধ্যমে বিতাড়ন করে অন্যান্য দেশে হাজার বছর ধরে বসবাসকারী ইহূদীদেরকে সেখানে নিয়ে এসে ইস্রায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার জন্য ইহূদী-খৃস্টানগণ পবিত্র বাইবেলের বাণীকে ব্যবহার করেছেন। অনুরূপভাবে আইরিশ ক্যাথলিক ব্রিটিশ প্রটেস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে নিজের ধর্মমতকে ব্যবহার করেন, তিববতীয় বৌদ্ধ চীনের বিরুদ্ধে নিজের বৌদ্ধ ধর্মমতকে ব্যবহার করেন, নিম্নবর্ণের হিন্দু উচ্চবর্ণের হিন্দুর বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক বা ধর্মীয় মতামত ব্যবহার করেন, নিম্নরর্ণের হিন্দুদের বিরুদ্ধে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে উচ্চবর্ণের হিন্দুরা বর্ণপ্রথা বিষয়ে বেদ, গীতা ও হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের শিক্ষা ও বাণীগুলিকে ব্যবহার করেন, ফিলিস্তিনী যোদ্ধা ইহূদী দখলদারের বিরুদ্ধে নিজের ইসলাম বা খৃস্টান ধর্ম থেকে উদ্দীপনা বা প্রেরণা লাভের চেষ্টা করেন। আমাদের সমাজে ‘আওয়ামী লীগের’ কর্মী যদি কোনো কারণে উত্তেজিত হয়ে সহিংসতায় লিপ্ত হন তবে তিনি ‘স্বাধীনতা’, ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ ইত্যাদি মহান বিষয়কে তার কর্মের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুরূপভাবে ‘বিএনপি’র কর্মী এ ক্ষেত্রে ‘শহীদ জিয়া’, জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ইত্যাদি মহান বিষয়কে নিজের ‘এক্সকিউজ’ হিসেবে ব্যবহার করেন। উভয় ক্ষেত্রেই দলের অন্যান্য বিচক্ষণ কর্মী জানেন যে, নিজের সহিংসতা বৈধ করার জন্যই এগুলি বলা হচ্ছে। সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষাকে দায়ী করে মাদ্রাসা শিক্ষা, মাদ্রাসা বা মাদ্রাসা শিক্ষিতদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে স্বভাবতই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সহিংসতায় লিপ্ত হবেন এবং ‘ইসলাম’ ও ‘ইসলামী শিক্ষা’-র বিপন্নতাকে অজুহাত হিসেবে পেশ করবেন। এতে একমাত্র সন্ত্রাসীরাই লাভবান হবে এবং জাতি ভয়ঙ্কর সংঘাতের মধ্যে নিপতিত হবে।
** ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ, পৃষ্ঠা: ৩৯, ২য় সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ২০০৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫৮-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১৬-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী অনুবাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসলামি পণ্ডিত]]
[[বিষয়শ্রেণী:ওয়াজ মাহফিলের বক্তা]]
feemw9y1sragxx1q1jr4ylol0oqpz34
83258
83257
2026-05-02T01:29:20Z
~2026-26542-90
5865
/* উক্তি */
83258
wikitext
text/x-wiki
'''খোন্দকার আবু নাসর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর''' (১৯৫৮-২০১৬) ছিলেন একজন বাংলাদেশী ইসলামি ব্যক্তিত্ব, অধ্যাপক, গবেষক, লেখক, টিভি আলোচক ও অনুবাদক। তিনি ইসলামিক টিভি, এনটিভি, পিস টিভি, এটিএন বাংলা, চ্যানেল নাইন প্রভৃতি গণমাধ্যমে ইসলামের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন, এবং আইটিভি ইউএস (মার্কিন ইসলামি টেলিভিশন চ্যানেল)-এর উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তার ''বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত: গুরুত্ব ও প্রয়োগ'' গ্রন্থটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সকল আলিয়া মাদ্রাসার সম্মান পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ''বুহুসুন ফি উলূমিল হাদীস'' এবং ''হাদিসের নামে জালিয়াতি'' দুইটি বই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকালীন তার অধীনে ১২ জন পিএইচডি এবং ৩০ জন এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
== উক্তি ==
* আল্লাহর পথে ডাকতে গেলে বা সৎকার্যে আদেশ ও অসৎকার্যে নিষেধ করতে গেলে মানুষের বিরোধিতা, শত্রুতা ও নিন্দার কারণে কখনো ক্রোধে কখনো বেদনায় অন্তর সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। এ মনোকষ্ট দূর করার ও প্রকৃত ধৈর্য ও মানসিক স্থিতি অর্জন করার উপায় হলো বেশি বেশি আল্লাহর যিকর, তাসবীহ, তাহমীদ ও সালাত আদায় করা। সাজদায় যেয়ে আল্লাহর দরবারে ক্রন্দন ও প্রার্থনা করা। এভাবেই আমরা ‘মন্দকে উৎকৃষ্ট দিয়ে প্রতিহত’ করার প্রকৃত গুণ অর্জন করতে পারব। আমরা (Re-active) না হয়ে (Pro-active) হতে পারব। কারো আচরণের প্রতিক্রিয়া আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করবে না। আল্লাহর রেযামন্দীর দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আচরণ করতে পারব। আমরা সত্যিকার অর্থে মহা-সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন।
* সবাই মনে করে, মুসলমানেরা বর্বর, আমাদের ব্রেণ উর্বর। ওরা আমাদের ব্রেণে অনেক কিছু দিতে আসে, অসাম্প্রদায়িকতা, উদারতা শেখাতে আসে। কারা? যারা অন্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থে প্রসাব করে, যারা অন্য ধর্মের পয়গম্বরকে অবমাননা করাকে ক্রেডিট মনে করে। তারা আমাদেরকে উদারতা শেখাতে আসে অথচ মুসলমানদের মানসিকতাই এমন জীবনে কোন জায়গায় কোন কাঠমোল্লা, ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী,জঙ্গি, তালেবান - কখনো শুনবেন না কোন বিধর্মীকে ধর্মের জন্য মেরেছে অথবা কোন বিধর্মীর ধর্মগ্রন্থে পেসাব করেছে, এমন পেয়েছেন নাকি? [[মুসলমান]] খেপলে আমেরিকার ফ্লাগ পোড়ায় কিন্তু বাইবেল ছিঁড়ে পোড়াইছে? এমন কথা আছে নাকি? কারণ মুসলমান বিশ্বাস করে, বাইবেল হোক রামায়ণ হোক যে কোন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ অবমাননা করা, এটা কোন ভালো কাজ না, এটা খারাপ কাজ। একারণে মুসলমান কোন ধর্মের কোন দেবতাকে নিয়ে, ভক্তি যাদেরকে করা হয় কার্টুন বানায় না, ব্যঙ্গ করে না, অবমাননা করে না। একজন মুসলমান ধর্ম পালন করে না তারপরেও তার মনে কখনোই জাগে না, অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে হবে। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকার ধর্মগুরুরা ইন্টেনশনালি রাস্তায় রাস্তায় কোরআন পোড়ান, কোরআনে পেসাব করেন, করান। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াটাকে তারা ধর্মীয়ভাবে খুব গৌরবের কাজ মনে করে!
* জামায়াতে ইসলামী উপমহাদেশের প্রাচীনতম ইসলামী রাজনৈতিক দল। দলটি বেশ কিছু ইতিবাচক কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: (i) তারা প্রমাণ করেছে যে ইসলাম একটি সম্পূর্ণ জীবন বিধান, এটি একটি ব্যবহারিক ব্যবস্থা, এবং এটি সর্বোত্তম জীবন ব্যবস্থা; (ii) তারা যুবক-যুবতীদের এবং শিক্ষিত জনগণকে ইসলাম সম্পর্কে এই সত্যগুলো বোঝাতে সক্ষম করেছে; (iii) তারা মূলত ইসলামিক অর্থনীতি, শিক্ষা ইত্যাদির জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে; (iv) তারা সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, যেমন ব্যক্তি, পীর, কবর পূজার বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে সফল হয়েছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর বলেন, জামায়াত-ই-ইসলামীর রাজনীতিতে বেশ কিছু ত্রুটি দেখা যায়: (i) তারা রাজনীতিকে জিহাদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এটি প্রথম করেছিলেন মাওলানা মওদুদী; (ii) তারা ইকামত-ই-দ্বীন (ধর্ম প্রতিষ্ঠা) ধারণার অর্থ হ্রাস করে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে বুঝিয়ে একটি গুরুতর ভুল করেছে; (iii) দলটি তার আদর্শের সাথে আপস করেছে এবং ক্ষমতা-রাজনীতিতে আরও মনোনিবেশ করেছে এবং ক্ষমতার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ দল ও জনগণের সাথে জোট করেছে; এবং (iv) মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত এমন এক সরকারকে সমর্থন করেছিল এবং তাদের পক্ষে অস্ত্র গ্রহণ করেছিল, যাদেরকে এর পূর্বে তারা "অমুসলিম তাগুদী [অত্যাচারী] সরকার" বলে অভিহিত করেছিল। এটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ভুল।... হ্যাঁ, উলামারাও পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিলেন কারণ তারা পাকিস্তানকে ভালোবাসতেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির চেতনায় তারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। ১৯৭১ সালের এই গৌরবময় ঘটনাকে তারা এখনও স্মরণ করে। তবে, [মুক্তিযুদ্ধের সময়] তারা পাকিস্তানের পক্ষে জনগণকে সংগঠিত করেনি এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সামরিক প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি। তারা শুধু নিষ্ক্রিয় সমর্থন দিয়েছিল.... জামায়াতের দ্বারা প্রদর্শিত ক্ষমতার লালসা প্রমাণ করে যে তারা তাদের মূল আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছে যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ইসলাম প্রচার করবে না; পরিবর্তে, একদল অত্যন্ত ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের উচিত ইসলামের জন্য সঠিকভাবে সেবা করার ক্ষমতা অর্জন করা। কিন্তু দলটি সেক্যুলারদের মদদে ক্ষমতার অংশ হয়ে যায়। এটা তাদের আদর্শগত বিচ্যুতি। এই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। জামায়াত যা উন্নয়ন মনে করে; এটা আসলে অনুন্নয়ন। আমাদের সমাজে, মাত্র ১০-১৫% লোকই নামাজী-দ্বীনদার (মুসলিম অনুশীলনকারী)। কিন্তু, জামায়াত, বিএনপির সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে বিশ্বকে একটি বার্তা দেয় যে ইসলামপন্থীরা দখল করে নিয়েছে এবং বাংলাদেশ তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে। তাই যেকোনো মূল্যে জামায়াতকে চূর্ণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ১০ কেজি শক্তি আছে, আপনি ১০০ কেজি দেখিয়েছেন। আপনার প্রতিপক্ষ আপনাকে ৬০ কেজি দিয়ে আঘাত করেছে, কিন্তু আপনার আছে মাত্র ১০ কেজি। আপনি নিশ্চিতভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হবেন। এই কারণে, ইসলামপন্থীদের পক্ষে ক্ষমতায় থাকা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদেরকে প্রভাবিত করা এবং চাপ দেওয়া ভাল, যতক্ষণ না তারা একতরফাভাবে ক্ষমতায় না আসে। জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেনি, বরং নীরবে সমর্থন করেছে। এটা তাদের আদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি। যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করে, তাদের ইসলামী আদর্শকে পূর্ণ বিবেচনায় নিতে হবে। ইসলামী রাজনীতি হচ্ছে আদর্শিক রাজনীতি। ইসলামী রাজনীতি শুধু ক্ষমতার পাসপোর্ট নয়।
** {{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=Islam |প্রথমাংশ1=Md Nazrul |শেষাংশ2=Islam |প্রথমাংশ2=Md Saidul |শিরোনাম=Islam and Democracy in South Asia: The Case of Bangladesh |তারিখ=২০ মার্চ ২০২০ |প্রকাশক=Springer Nature |আইএসবিএন=978-3-030-42909-6 |পাতা=২৭১, ২৭২ |ইউআরএল=https://books.google.com.bd/books?id=ci3YDwAAQBAJ&pg=PA271&dq=abdullah+jahangir&hl=en&sa=X&ved=2ahUKEwjKqbuJsKz0AhUIyosBHSzBCkoQ6AF6BAgDEAM#v=onepage&q=abdullah%20jahangir&f=false |সংগ্রহের-তারিখ=২২ নভেম্বর ২০২১ |ভাষা=en }}
* সার্বভৌমত্ব মানে মালিকানা। এটা সহজ যে সার্বভৌম মানে মালিক। যেমন আমি এই জমির মালিক যা সত্য। আমি এখানে দালান তৈরি করতে পারি, ভেঙ্গে ফেলতে পারি, পার্টিশন করতে পারি, বিক্রি করতে পারি। এই মালিকানা আমার আছে। আবার এই জমি আল্লাহর। এটাও সত্য। আর আসল কথা হল, ইসলামের মতে এই জমি দিয়ে আমি অনেক কিছু করতে পারি, কিন্তু এখানে পতিতালয় বানাতে পারি না। মানুষের মালিকানা সীমিত; আল্লাহর মালিকানা অন্য সকল সার্বভৌমত্বের উপর সর্বোচ্চ। আমার মালিকানা পার্থিব, এবং যদি আমি তা আল্লাহর মালিকানার উপর রাখি তবে আমি আল্লাহর কাছে অপরাধী হব। একই সাথে, জনগণই দেশের মালিক, এটি একটি সহজ কথা। যারা বলেন, জনগণকে সার্বভৌম বলা ইসলাম বিরোধী এবং তারাই সকল ক্ষমতার উৎস, আমি তাদের সাথে একমত নই। এখানে ক্ষমতা বলতে ঝড়-বৃষ্টি বা রোগ-ব্যাধির ক্ষমতা বোঝায় না, এর মানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। এই ক্ষমতা আসলে মানুষের। ইসলামে জনগণের সম্মতিতেই ক্ষমতা অর্জিত হবে। একটি সমাজে যদি জনগোষ্ঠীর প্রধানরা সম্মতি দেয় এবং জনগণ তাতে সম্মত হয়, এটা ঠিক আছে, এটাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র ইসলামে জনগণের অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব বাধ্যতামূলক। তাই জনগণই রাষ্ট্রের মালিক এবং জনগণই ক্ষমতার উৎস ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তবে কেউ যদি মনে করে এই মালিকানা মানে যে কেউ যে কোন কিছু করতে পারে; হারামকে (নিষিদ্ধ) হালাল (বৈধ), এবং হালালকে হারাম, তাহলে স্পষ্টতই এটা ইসলাম বিরোধী।
** (২ এপ্রিল ২০১৪){{cite book |last1=Islam |first1=Md Nazrul |last2=Islam |first2=Md Saidul |title=Islam and Democracy in South Asia: The Case of Bangladesh |date=20 March 2020 |publisher=Springer Nature |isbn=978-3-030-42909-6 |page=87 |url=https://books.google.com.bd/books?id=ci3YDwAAQBAJ&pg=PA87&lpg=PA87&dq=quote%7CSovereignty+means+ownership.+This+is+simple+that+sovereign+means+owner.+For+example,+I+am+the+owner+of+this+land+which+is+true.+I+can+erect+building+here,+I+can+demolish+it,+I+can+make+partition,+and+I+can+sell+it.+I+have+this+ownership.+Again,+this+land+belongs+to+Allah.+This+is+also+true.+And+the+fact+is,+according+to+Islam,+with+this+land+I+can+do+many+things,+but+I+cannot+make+a+brothel+here.+People%E2%80%99s+ownership+is+limited;+Allah%E2%80%99s+ownership+is+the+supreme+over+all+other+sovereigns.+My+ownership+is+worldly,+and+if+I+put+it+over+Allah%E2%80%99s+ownership,+I+will+be+offender+to+Allah.+In+the+same+vein,+people+are+the+owner+of+the+country,+it+is+a+simple+word.+Those+who+say+it+is+anti-Islamic+to+say+people+are+sovereign+and+they+are+the+source+of+all+powers,+I+do+not+agree+with+them.+Here+by+power,+it+does+not+mean+power+regarding+storm-rain,+or+disease,+it+means+the+power+of+ministers,+prime+minister+and+above+all+state+power.+This+power+actually+belongs+to+people.+In+Islam,+power+will+%E2%80%A6&source=bl&ots=CLGskaDOpA&sig=ACfU3U02qVhrfYmOBq2UDhh-58fXj3CqKg&hl=en&sa=X&ved=2ahUKEwj3oNz-y-L5AhVeyHMBHcy2AsYQ6AF6BAgHEAI#v=onepage&q&f=false |access-date=25 August 2022 |language=en}}
* হাদীসের নামে মিথ্যা বলার একটি প্রকরণ হলো, অনুবাদের ক্ষেত্রে শাব্দিক অনুবাদ না করে অনুবাদের সাথে নিজের মনমত কিছু সংযোগ করা বা কিছু বাদ দিয়ে অনুবাদ করা। অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তার ব্যাখ্যাকে হাদীসের অংশ বানিয়ে দেয়া। আমাদের সমাজে আমরা প্রায় সকলেই এ অপরাধে লিপ্ত রয়েছি। আত্মশুদ্ধি, পীর-মুরিদী, দাওয়াত-তাবলীগ, রাজনীতিসহ মতভেদীয় বিভিন্ন মাসআলা-মাসাইল-এর জন্য আমরা প্রত্যেক দলের ও মতের মানুষ কুরআন ও হাদীস থেকে দলীল প্রদান করি। এরূপ দলীল প্রদান খুবই স্বাভাবিক কর্ম ও ঈমানের দাবি। তবে সাধারণত আমরা আমাদের এ ব্যাখ্যাকেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে চালাই। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, কিন্তু প্রচলিত অর্থে ‘দলীয় রাজনীতি’ করেন নি, অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের মত কিছু করেন নি। বর্তমানে গণতান্ত্রিক ‘রাজনীতি’ করছেন অনেক আলিম। ন্যায়ের আদেশ, অন্যায়ের নিষেধ বা ইকামতে দীনের একটি নতুন পদ্ধতি হিসেবে একে গ্রহণ করা হয়। তবে যদি আমরা বলি যে, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাজনীতি করেছেন’, তবে শ্রোতা বা পাঠক ‘রাজনীতি’র প্রচলিত অর্থ, অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কথাই বুঝবেন। আর এ রাজনীতি তিনি করেন নি। ফলে এভাবে তাঁর নামে মিথ্যা বলা হবে। এজন্য আমাদের উচিত তিনি কী করেছেন ও বলেছেন এবং আমরা কি ব্যাখ্যা করছি তা পৃথকভাবে বলা।{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=জাহাঙ্গীর |প্রথমাংশ1=প্রফেসর ড খন্দকার আ ন ম আব্দুল্লাহ |শিরোনাম=হাদীসের নামে জালিয়াতি: প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা - বাংলা - প্রফেসর ড. খন্দকার আ.ন.ম আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর |তারিখ=সেপ্টেম্বর ২০১০ |প্রকাশক=আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স |অবস্থান=ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ |পাতা=৮৪ |সংস্করণ=৪র্থ |ইউআরএল=https://d1.islamhouse.com/data/bn/ih_books/single2/bn_Hadis_er_nam_e_jaliyati.pdf |সংগ্রহের-তারিখ=২৪ নভেম্বর ২০২২ |ভাষা=bn}}{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=জাহাঙ্গীর |প্রথমাংশ1= খোন্দকার আব্দুল্লাহ |শিরোনাম=হাদীসের নামে জালিয়াতি: প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা |তারিখ=এপ্রিল ২০১৭ |প্রকাশক=আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স |অবস্থান=ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ |পাতা=১৮৪ |সংস্করণ=৫ম |আইএসবিএন=978-984-90053-3-9 |সংগ্রহের-তারিখ=২৪ নভেম্বর ২০২২ |ভাষা=bn}}
* মূলত কোনো ধর্ম, মতবাদ বা আদর্শ সহিংসতা বা সন্ত্রাস শিক্ষা দেয় না। মানুষ মানবীয় লোভ, দুর্বলতা, অসহায়ত্ব, প্রতিশোধস্পৃহা ইত্যাদির কারণে সহিংসতা বা হিংস্রতায় লিপ্ত হয়। এরূপ সহিংসতায় লিপ্ত ব্যক্তি নিজের কর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য, নিজের বিবেককে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করার জন্য, অন্যকে নিজের পক্ষে টানার জন্য এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যে নিজের আদর্শকে ব্যবহার করে। হাজার হাজার বছর ধরে বসবাসকারী আরবদেরকে জেরুজালেম ও অন্যান্য ফিলিস্তিনী এলাকা থেকে সন্ত্রাস ও গণহত্যার মাধ্যমে বিতাড়ন করে অন্যান্য দেশে হাজার বছর ধরে বসবাসকারী ইহূদীদেরকে সেখানে নিয়ে এসে ইস্রায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার জন্য ইহূদী-খৃস্টানগণ পবিত্র বাইবেলের বাণীকে ব্যবহার করেছেন। অনুরূপভাবে আইরিশ ক্যাথলিক ব্রিটিশ প্রটেস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে নিজের ধর্মমতকে ব্যবহার করেন, তিববতীয় বৌদ্ধ চীনের বিরুদ্ধে নিজের বৌদ্ধ ধর্মমতকে ব্যবহার করেন, নিম্নবর্ণের হিন্দু উচ্চবর্ণের হিন্দুর বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক বা ধর্মীয় মতামত ব্যবহার করেন, নিম্নরর্ণের হিন্দুদের বিরুদ্ধে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে উচ্চবর্ণের হিন্দুরা বর্ণপ্রথা বিষয়ে বেদ, গীতা ও হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের শিক্ষা ও বাণীগুলিকে ব্যবহার করেন, ফিলিস্তিনী যোদ্ধা ইহূদী দখলদারের বিরুদ্ধে নিজের ইসলাম বা খৃস্টান ধর্ম থেকে উদ্দীপনা বা প্রেরণা লাভের চেষ্টা করেন। আমাদের সমাজে ‘আওয়ামী লীগের’ কর্মী যদি কোনো কারণে উত্তেজিত হয়ে সহিংসতায় লিপ্ত হন তবে তিনি ‘স্বাধীনতা’, ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ ইত্যাদি মহান বিষয়কে তার কর্মের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুরূপভাবে ‘বিএনপি’র কর্মী এ ক্ষেত্রে ‘শহীদ জিয়া’, জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ইত্যাদি মহান বিষয়কে নিজের ‘এক্সকিউজ’ হিসেবে ব্যবহার করেন। উভয় ক্ষেত্রেই দলের অন্যান্য বিচক্ষণ কর্মী জানেন যে, নিজের সহিংসতা বৈধ করার জন্যই এগুলি বলা হচ্ছে। সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষাকে দায়ী করে মাদ্রাসা শিক্ষা, মাদ্রাসা বা মাদ্রাসা শিক্ষিতদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে স্বভাবতই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সহিংসতায় লিপ্ত হবেন এবং ‘ইসলাম’ ও ‘ইসলামী শিক্ষা’-র বিপন্নতাকে অজুহাত হিসেবে পেশ করবেন। এতে একমাত্র সন্ত্রাসীরাই লাভবান হবে এবং জাতি ভয়ঙ্কর সংঘাতের মধ্যে নিপতিত হবে।
** ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ, পৃষ্ঠা: ৩৯, ২য় সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ২০০৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫৮-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১৬-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী অনুবাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসলামি পণ্ডিত]]
[[বিষয়শ্রেণী:ওয়াজ মাহফিলের বক্তা]]
5j42a1cpwcufgpcq5xh0y3yftk35hqd
83259
83258
2026-05-02T01:29:43Z
~2026-26542-90
5865
/* উক্তি */
83259
wikitext
text/x-wiki
'''খোন্দকার আবু নাসর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর''' (১৯৫৮-২০১৬) ছিলেন একজন বাংলাদেশী ইসলামি ব্যক্তিত্ব, অধ্যাপক, গবেষক, লেখক, টিভি আলোচক ও অনুবাদক। তিনি ইসলামিক টিভি, এনটিভি, পিস টিভি, এটিএন বাংলা, চ্যানেল নাইন প্রভৃতি গণমাধ্যমে ইসলামের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন, এবং আইটিভি ইউএস (মার্কিন ইসলামি টেলিভিশন চ্যানেল)-এর উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তার ''বাংলাদেশে উশর বা ফসলের যাকাত: গুরুত্ব ও প্রয়োগ'' গ্রন্থটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সকল আলিয়া মাদ্রাসার সম্মান পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ''বুহুসুন ফি উলূমিল হাদীস'' এবং ''হাদিসের নামে জালিয়াতি'' দুইটি বই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকালীন তার অধীনে ১২ জন পিএইচডি এবং ৩০ জন এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
== উক্তি ==
* আল্লাহর পথে ডাকতে গেলে বা সৎকার্যে আদেশ ও অসৎকার্যে নিষেধ করতে গেলে মানুষের বিরোধিতা, শত্রুতা ও নিন্দার কারণে কখনো ক্রোধে কখনো বেদনায় অন্তর সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। এ মনোকষ্ট দূর করার ও প্রকৃত ধৈর্য ও মানসিক স্থিতি অর্জন করার উপায় হলো বেশি বেশি আল্লাহর যিকর, তাসবীহ, তাহমীদ ও সালাত আদায় করা। সাজদায় যেয়ে আল্লাহর দরবারে ক্রন্দন ও প্রার্থনা করা। এভাবেই আমরা ‘মন্দকে উৎকৃষ্ট দিয়ে প্রতিহত’ করার প্রকৃত গুণ অর্জন করতে পারব। আমরা (Re-active) না হয়ে (Pro-active) হতে পারব। কারো আচরণের প্রতিক্রিয়া আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করবে না। আল্লাহর রেযামন্দীর দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আচরণ করতে পারব। আমরা সত্যিকার অর্থে মহা-সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন।
* সবাই মনে করে, মুসলমানেরা বর্বর, আমাদের ব্রেণ উর্বর। ওরা আমাদের ব্রেণে অনেক কিছু দিতে আসে, অসাম্প্রদায়িকতা, উদারতা শেখাতে আসে। কারা? যারা অন্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থে প্রসাব করে, যারা অন্য ধর্মের পয়গম্বরকে অবমাননা করাকে ক্রেডিট মনে করে। তারা আমাদেরকে উদারতা শেখাতে আসে অথচ মুসলমানদের মানসিকতাই এমন জীবনে কোন জায়গায় কোন কাঠমোল্লা, ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী,জঙ্গি, তালেবান - কখনো শুনবেন না কোন বিধর্মীকে ধর্মের জন্য মেরেছে অথবা কোন বিধর্মীর ধর্মগ্রন্থে পেসাব করেছে, এমন পেয়েছেন নাকি? [[মুসলমান]] খেপলে আমেরিকার ফ্লাগ পোড়ায় কিন্তু বাইবেল ছিঁড়ে পোড়াইছে? এমন কথা আছে নাকি? কারণ মুসলমান বিশ্বাস করে, বাইবেল হোক রামায়ণ হোক যে কোন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ অবমাননা করা, এটা কোন ভালো কাজ না, এটা খারাপ কাজ। একারণে মুসলমান কোন ধর্মের কোন দেবতাকে নিয়ে, ভক্তি যাদেরকে করা হয় কার্টুন বানায় না, ব্যঙ্গ করে না, অবমাননা করে না। একজন মুসলমান ধর্ম পালন করে না তারপরেও তার মনে কখনোই জাগে না, অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে হবে। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকার ধর্মগুরুরা ইন্টেনশনালি রাস্তায় রাস্তায় কোরআন পোড়ান, কোরআনে পেসাব করেন, করান। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াটাকে তারা ধর্মীয়ভাবে খুব গৌরবের কাজ মনে করে!
* জামায়াতে ইসলামী উপমহাদেশের প্রাচীনতম ইসলামী রাজনৈতিক দল। দলটি বেশ কিছু ইতিবাচক কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: (i) তারা প্রমাণ করেছে যে ইসলাম একটি সম্পূর্ণ জীবন বিধান, এটি একটি ব্যবহারিক ব্যবস্থা, এবং এটি সর্বোত্তম জীবন ব্যবস্থা; (ii) তারা যুবক-যুবতীদের এবং শিক্ষিত জনগণকে ইসলাম সম্পর্কে এই সত্যগুলো বোঝাতে সক্ষম করেছে; (iii) তারা মূলত ইসলামিক অর্থনীতি, শিক্ষা ইত্যাদির জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে; (iv) তারা সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, যেমন ব্যক্তি, পীর, কবর পূজার বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে সফল হয়েছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর বলেন, জামায়াত-ই-ইসলামীর রাজনীতিতে বেশ কিছু ত্রুটি দেখা যায়: (i) তারা রাজনীতিকে জিহাদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এটি প্রথম করেছিলেন মাওলানা মওদুদী; (ii) তারা ইকামত-ই-দ্বীন (ধর্ম প্রতিষ্ঠা) ধারণার অর্থ হ্রাস করে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে বুঝিয়ে একটি গুরুতর ভুল করেছে; (iii) দলটি তার আদর্শের সাথে আপস করেছে এবং ক্ষমতা-রাজনীতিতে আরও মনোনিবেশ করেছে এবং ক্ষমতার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ দল ও জনগণের সাথে জোট করেছে; এবং (iv) মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত এমন এক সরকারকে সমর্থন করেছিল এবং তাদের পক্ষে অস্ত্র গ্রহণ করেছিল, যাদেরকে এর পূর্বে তারা "অমুসলিম তাগুদী [অত্যাচারী] সরকার" বলে অভিহিত করেছিল। এটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ভুল।... হ্যাঁ, উলামারাও পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিলেন কারণ তারা পাকিস্তানকে ভালোবাসতেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির চেতনায় তারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। ১৯৭১ সালের এই গৌরবময় ঘটনাকে তারা এখনও স্মরণ করে। তবে, [মুক্তিযুদ্ধের সময়] তারা পাকিস্তানের পক্ষে জনগণকে সংগঠিত করেনি এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য সামরিক প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি। তারা শুধু নিষ্ক্রিয় সমর্থন দিয়েছিল.... জামায়াতের দ্বারা প্রদর্শিত ক্ষমতার লালসা প্রমাণ করে যে তারা তাদের মূল আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছে যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ইসলাম প্রচার করবে না; পরিবর্তে, একদল অত্যন্ত ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের উচিত ইসলামের জন্য সঠিকভাবে সেবা করার ক্ষমতা অর্জন করা। কিন্তু দলটি সেক্যুলারদের মদদে ক্ষমতার অংশ হয়ে যায়। এটা তাদের আদর্শগত বিচ্যুতি। এই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। জামায়াত যা উন্নয়ন মনে করে; এটা আসলে অনুন্নয়ন। আমাদের সমাজে, মাত্র ১০-১৫% লোকই নামাজী-দ্বীনদার (মুসলিম অনুশীলনকারী)। কিন্তু, জামায়াত, বিএনপির সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে বিশ্বকে একটি বার্তা দেয় যে ইসলামপন্থীরা দখল করে নিয়েছে এবং বাংলাদেশ তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে। তাই যেকোনো মূল্যে জামায়াতকে চূর্ণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ১০ কেজি শক্তি আছে, আপনি ১০০ কেজি দেখিয়েছেন। আপনার প্রতিপক্ষ আপনাকে ৬০ কেজি দিয়ে আঘাত করেছে, কিন্তু আপনার আছে মাত্র ১০ কেজি। আপনি নিশ্চিতভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হবেন। এই কারণে, ইসলামপন্থীদের পক্ষে ক্ষমতায় থাকা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদেরকে প্রভাবিত করা এবং চাপ দেওয়া ভাল, যতক্ষণ না তারা একতরফাভাবে ক্ষমতায় না আসে। জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেনি, বরং নীরবে সমর্থন করেছে। এটা তাদের আদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি। যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করে, তাদের ইসলামী আদর্শকে পূর্ণ বিবেচনায় নিতে হবে। ইসলামী রাজনীতি হচ্ছে আদর্শিক রাজনীতি। ইসলামী রাজনীতি শুধু ক্ষমতার পাসপোর্ট নয়।
** {{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=Islam |প্রথমাংশ1=Md Nazrul |শেষাংশ2=Islam |প্রথমাংশ2=Md Saidul |শিরোনাম=Islam and Democracy in South Asia: The Case of Bangladesh |তারিখ=২০ মার্চ ২০২০ |প্রকাশক=Springer Nature |আইএসবিএন=978-3-030-42909-6 |পাতা=২৭১, ২৭২ |ইউআরএল=https://books.google.com.bd/books?id=ci3YDwAAQBAJ&pg=PA271&dq=abdullah+jahangir&hl=en&sa=X&ved=2ahUKEwjKqbuJsKz0AhUIyosBHSzBCkoQ6AF6BAgDEAM#v=onepage&q=abdullah%20jahangir&f=false |সংগ্রহের-তারিখ=২২ নভেম্বর ২০২১ |ভাষা=en }}
* সার্বভৌমত্ব মানে মালিকানা। এটা সহজ যে সার্বভৌম মানে মালিক। যেমন আমি এই জমির মালিক যা সত্য। আমি এখানে দালান তৈরি করতে পারি, ভেঙ্গে ফেলতে পারি, পার্টিশন করতে পারি, বিক্রি করতে পারি। এই মালিকানা আমার আছে। আবার এই জমি আল্লাহর। এটাও সত্য। আর আসল কথা হল, ইসলামের মতে এই জমি দিয়ে আমি অনেক কিছু করতে পারি, কিন্তু এখানে পতিতালয় বানাতে পারি না। মানুষের মালিকানা সীমিত; আল্লাহর মালিকানা অন্য সকল সার্বভৌমত্বের উপর সর্বোচ্চ। আমার মালিকানা পার্থিব, এবং যদি আমি তা আল্লাহর মালিকানার উপর রাখি তবে আমি আল্লাহর কাছে অপরাধী হব। একই সাথে, জনগণই দেশের মালিক, এটি একটি সহজ কথা। যারা বলেন, জনগণকে সার্বভৌম বলা ইসলাম বিরোধী এবং তারাই সকল ক্ষমতার উৎস, আমি তাদের সাথে একমত নই। এখানে ক্ষমতা বলতে ঝড়-বৃষ্টি বা রোগ-ব্যাধির ক্ষমতা বোঝায় না, এর মানে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। এই ক্ষমতা আসলে মানুষের। ইসলামে জনগণের সম্মতিতেই ক্ষমতা অর্জিত হবে। একটি সমাজে যদি জনগোষ্ঠীর প্রধানরা সম্মতি দেয় এবং জনগণ তাতে সম্মত হয়, এটা ঠিক আছে, এটাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র ইসলামে জনগণের অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব বাধ্যতামূলক। তাই জনগণই রাষ্ট্রের মালিক এবং জনগণই ক্ষমতার উৎস ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তবে কেউ যদি মনে করে এই মালিকানা মানে যে কেউ যে কোন কিছু করতে পারে; হারামকে (নিষিদ্ধ) হালাল (বৈধ), এবং হালালকে হারাম, তাহলে স্পষ্টতই এটা ইসলাম বিরোধী।
** (২ এপ্রিল ২০১৪){{cite book |last1=Islam |first1=Md Nazrul |last2=Islam |first2=Md Saidul |title=Islam and Democracy in South Asia: The Case of Bangladesh |date=20 March 2020 |publisher=Springer Nature |isbn=978-3-030-42909-6 |page=87 |url=https://books.google.com.bd/books?id=ci3YDwAAQBAJ&pg=PA87&lpg=PA87&dq=quote%7CSovereignty+means+ownership.+This+is+simple+that+sovereign+means+owner.+For+example,+I+am+the+owner+of+this+land+which+is+true.+I+can+erect+building+here,+I+can+demolish+it,+I+can+make+partition,+and+I+can+sell+it.+I+have+this+ownership.+Again,+this+land+belongs+to+Allah.+This+is+also+true.+And+the+fact+is,+according+to+Islam,+with+this+land+I+can+do+many+things,+but+I+cannot+make+a+brothel+here.+People%E2%80%99s+ownership+is+limited;+Allah%E2%80%99s+ownership+is+the+supreme+over+all+other+sovereigns.+My+ownership+is+worldly,+and+if+I+put+it+over+Allah%E2%80%99s+ownership,+I+will+be+offender+to+Allah.+In+the+same+vein,+people+are+the+owner+of+the+country,+it+is+a+simple+word.+Those+who+say+it+is+anti-Islamic+to+say+people+are+sovereign+and+they+are+the+source+of+all+powers,+I+do+not+agree+with+them.+Here+by+power,+it+does+not+mean+power+regarding+storm-rain,+or+disease,+it+means+the+power+of+ministers,+prime+minister+and+above+all+state+power.+This+power+actually+belongs+to+people.+In+Islam,+power+will+%E2%80%A6&source=bl&ots=CLGskaDOpA&sig=ACfU3U02qVhrfYmOBq2UDhh-58fXj3CqKg&hl=en&sa=X&ved=2ahUKEwj3oNz-y-L5AhVeyHMBHcy2AsYQ6AF6BAgHEAI#v=onepage&q&f=false |access-date=25 August 2022 |language=en}}
* হাদীসের নামে মিথ্যা বলার একটি প্রকরণ হলো, অনুবাদের ক্ষেত্রে শাব্দিক অনুবাদ না করে অনুবাদের সাথে নিজের মনমত কিছু সংযোগ করা বা কিছু বাদ দিয়ে অনুবাদ করা। অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তার ব্যাখ্যাকে হাদীসের অংশ বানিয়ে দেয়া। আমাদের সমাজে আমরা প্রায় সকলেই এ অপরাধে লিপ্ত রয়েছি। আত্মশুদ্ধি, পীর-মুরিদী, দাওয়াত-তাবলীগ, রাজনীতিসহ মতভেদীয় বিভিন্ন মাসআলা-মাসাইল-এর জন্য আমরা প্রত্যেক দলের ও মতের মানুষ কুরআন ও হাদীস থেকে দলীল প্রদান করি। এরূপ দলীল প্রদান খুবই স্বাভাবিক কর্ম ও ঈমানের দাবি। তবে সাধারণত আমরা আমাদের এ ব্যাখ্যাকেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে চালাই। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, কিন্তু প্রচলিত অর্থে ‘দলীয় রাজনীতি’ করেন নি, অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের মত কিছু করেন নি। বর্তমানে গণতান্ত্রিক ‘রাজনীতি’ করছেন অনেক আলিম। ন্যায়ের আদেশ, অন্যায়ের নিষেধ বা ইকামতে দীনের একটি নতুন পদ্ধতি হিসেবে একে গ্রহণ করা হয়। তবে যদি আমরা বলি যে, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাজনীতি করেছেন’, তবে শ্রোতা বা পাঠক ‘রাজনীতি’র প্রচলিত অর্থ, অর্থাৎ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কথাই বুঝবেন। আর এ রাজনীতি তিনি করেন নি। ফলে এভাবে তাঁর নামে মিথ্যা বলা হবে। এজন্য আমাদের উচিত তিনি কী করেছেন ও বলেছেন এবং আমরা কি ব্যাখ্যা করছি তা পৃথকভাবে বলা।
** {{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=জাহাঙ্গীর |প্রথমাংশ1=প্রফেসর ড খন্দকার আ ন ম আব্দুল্লাহ |শিরোনাম=হাদীসের নামে জালিয়াতি: প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা - বাংলা - প্রফেসর ড. খন্দকার আ.ন.ম আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর |তারিখ=সেপ্টেম্বর ২০১০ |প্রকাশক=আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স |অবস্থান=ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ |পাতা=৮৪ |সংস্করণ=৪র্থ |ইউআরএল=https://d1.islamhouse.com/data/bn/ih_books/single2/bn_Hadis_er_nam_e_jaliyati.pdf |সংগ্রহের-তারিখ=২৪ নভেম্বর ২০২২ |ভাষা=bn}}{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ1=জাহাঙ্গীর |প্রথমাংশ1= খোন্দকার আব্দুল্লাহ |শিরোনাম=হাদীসের নামে জালিয়াতি: প্রচলিত মিথ্যা হাদীস ও ভিত্তিহীন কথা |তারিখ=এপ্রিল ২০১৭ |প্রকাশক=আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স |অবস্থান=ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ |পাতা=১৮৪ |সংস্করণ=৫ম |আইএসবিএন=978-984-90053-3-9 |সংগ্রহের-তারিখ=২৪ নভেম্বর ২০২২ |ভাষা=bn}}
* মূলত কোনো ধর্ম, মতবাদ বা আদর্শ সহিংসতা বা সন্ত্রাস শিক্ষা দেয় না। মানুষ মানবীয় লোভ, দুর্বলতা, অসহায়ত্ব, প্রতিশোধস্পৃহা ইত্যাদির কারণে সহিংসতা বা হিংস্রতায় লিপ্ত হয়। এরূপ সহিংসতায় লিপ্ত ব্যক্তি নিজের কর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য, নিজের বিবেককে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত করার জন্য, অন্যকে নিজের পক্ষে টানার জন্য এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যে নিজের আদর্শকে ব্যবহার করে। হাজার হাজার বছর ধরে বসবাসকারী আরবদেরকে জেরুজালেম ও অন্যান্য ফিলিস্তিনী এলাকা থেকে সন্ত্রাস ও গণহত্যার মাধ্যমে বিতাড়ন করে অন্যান্য দেশে হাজার বছর ধরে বসবাসকারী ইহূদীদেরকে সেখানে নিয়ে এসে ইস্রায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার জন্য ইহূদী-খৃস্টানগণ পবিত্র বাইবেলের বাণীকে ব্যবহার করেছেন। অনুরূপভাবে আইরিশ ক্যাথলিক ব্রিটিশ প্রটেস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে নিজের ধর্মমতকে ব্যবহার করেন, তিববতীয় বৌদ্ধ চীনের বিরুদ্ধে নিজের বৌদ্ধ ধর্মমতকে ব্যবহার করেন, নিম্নবর্ণের হিন্দু উচ্চবর্ণের হিন্দুর বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক বা ধর্মীয় মতামত ব্যবহার করেন, নিম্নরর্ণের হিন্দুদের বিরুদ্ধে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে উচ্চবর্ণের হিন্দুরা বর্ণপ্রথা বিষয়ে বেদ, গীতা ও হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের শিক্ষা ও বাণীগুলিকে ব্যবহার করেন, ফিলিস্তিনী যোদ্ধা ইহূদী দখলদারের বিরুদ্ধে নিজের ইসলাম বা খৃস্টান ধর্ম থেকে উদ্দীপনা বা প্রেরণা লাভের চেষ্টা করেন। আমাদের সমাজে ‘আওয়ামী লীগের’ কর্মী যদি কোনো কারণে উত্তেজিত হয়ে সহিংসতায় লিপ্ত হন তবে তিনি ‘স্বাধীনতা’, ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ ইত্যাদি মহান বিষয়কে তার কর্মের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুরূপভাবে ‘বিএনপি’র কর্মী এ ক্ষেত্রে ‘শহীদ জিয়া’, জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ইত্যাদি মহান বিষয়কে নিজের ‘এক্সকিউজ’ হিসেবে ব্যবহার করেন। উভয় ক্ষেত্রেই দলের অন্যান্য বিচক্ষণ কর্মী জানেন যে, নিজের সহিংসতা বৈধ করার জন্যই এগুলি বলা হচ্ছে। সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষাকে দায়ী করে মাদ্রাসা শিক্ষা, মাদ্রাসা বা মাদ্রাসা শিক্ষিতদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে স্বভাবতই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সহিংসতায় লিপ্ত হবেন এবং ‘ইসলাম’ ও ‘ইসলামী শিক্ষা’-র বিপন্নতাকে অজুহাত হিসেবে পেশ করবেন। এতে একমাত্র সন্ত্রাসীরাই লাভবান হবে এবং জাতি ভয়ঙ্কর সংঘাতের মধ্যে নিপতিত হবে।
** ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ, পৃষ্ঠা: ৩৯, ২য় সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ২০০৯
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৫৮-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১৬-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী অনুবাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসলামি পণ্ডিত]]
[[বিষয়শ্রেণী:ওয়াজ মাহফিলের বক্তা]]
f3uqtzyj7va7jf5cfiighncvbvhib97
ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS
3
2704
83218
82275
2026-05-01T13:23:16Z
ARI
356
/* ভারতে সুফিবাদ */ নতুন অনুচ্ছেদ
83218
wikitext
text/x-wiki
{{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান </b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud| «আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>।
;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে?
:প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না।
; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে?
: যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)।
আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন।
আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]):
* যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন।
* যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন।
প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে ==
[[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম।
[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== সাহায্য প্রয়োজন ==
আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন।
::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] ==
সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি ।
:::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি ==
পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]])
: {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]])
== রো বনাম ওয়েড ==
পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে ==
এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;"> ☪ </span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে ==
[[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== বাবুলমিয়া ==
মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/~2026-20015-50|~2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)
01924087544 [[বিশেষ:অবদান/~2026-20544-24|~2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পর্যালোচনা ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [আলফ্রেড নোবেল] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]
[[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
ধন্যবাদান্তে,
''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud''
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] '[[আল খোয়ারিজমি]]' পাতাটির সংশোধনের ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
:'''''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১১:১০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)'''''
== জেরার দ্যব্রু ==
নিবন্ধটি আমি সংশোধন করেছি এবং যান্ত্রিকতা দূর করেছি। অনুগ্রহ করে এখন পুনরায় পর্যালোচনা করুন। ''([[জেরার দ্যব্রু]])'' — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:২১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে সবার আগে এটিকে পর্যালোচনা করুন। এটি অত্যন্ত ছোট পাতা। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:৫৮, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] এটিতে কি কোন অসুবিধা বিদ্যমান? আপনি এখনও গ্রহণ করেননি। সমস্যা থাকলে জানান। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৭:৫২, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::ধন্যবাদ — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] ==
সংশোধন করেছি, পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ রইলো। [[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tanbiruzzaman|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৩, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলফ্রেড নোবেল]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পতাটি সংশোধন করা হয়েছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করুন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:০৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[সি. এ. আর. হোর]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ডায়ান ফসি]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরেল স্টেইন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আপনার সবগুলো পাতাতেই কিছু বাক্য আরেকটু সাবলীলভাবে লেখা যায়। আরেকদফা সংশোধন করে জানালে আমি গ্রহণ করে নিব। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]ঠিক আছে আমি সব পাতা সংশোধন করে একসাথে পরে জানাবো। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:০৯, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ড্যানিয়েল কানেমান]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] উল্লেখিত পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:৩০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি আরও একবার সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০২:০৬, ২১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আরও সংশোধন করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি পুনরায় সংশোধন করেছি অনুগ্রহ করে আরেকবার পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
r [[বিশেষ:অবদান/~2026-24691-92|~2026-24691-92]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-24691-92|আলাপ]]) ১১:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[শিং-শেন চের্ন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে [[শিং-শেন চের্ন]] নিবন্ধটি পুনঃপর্যালোচনা করুন। আমি এটিকে সংশোধন করেছি এবং জার্নাল, সংস্থা, প্রকাশক এসব বাংলায় লিপ্যন্তর করেছি। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১২:০০, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে এটি পর্যালোচনা করুন — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৫:৩৬, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক ধৈর্য ধারণ করুন। সংশোধন করলে অবশ্যই পুনঃপর্যালোচনা করা হবে। বারবার মেনশন করার প্রয়োজন নেই। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪০, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] দুঃখিত। অনুবাদে যান্ত্রিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। {{গৃহীত হয়নি}}। আবার সংশোধন করুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৬:১৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ঠিক আছে। আমি আবারও মেনশন করছিলাম, কারণ মনে হচ্ছিল কেনো ত্রুটির ফলে আপনার নিকট বিজ্ঞপ্তি যায় নি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] মনে হচ্ছে, আপনি আমার কথা বুঝতে পারেননি। আমি ২৫ তারিখে পুনঃপর্যালোচনা করেছি। পাতাটা তখনও যান্ত্রিক ছিল। এর পর আপনি আর কোনও সম্পাদনা করেননি। আপনার লাস্ট সম্পাদনা ২৩ তারিখে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৪, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ভারতে সুফিবাদ]] ==
[[ভারতে সুফিবাদ]]ে কি সমস্যা?? [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৩:২৩, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
29cvm0vv55p3izu6erzooheei6kxivd
83232
83218
2026-05-01T14:17:06Z
SMontaha32
3112
/* পেত্র ক্রাপোতকিন */ নতুন অনুচ্ছেদ
83232
wikitext
text/x-wiki
{{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান </b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud| «আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>।
;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে?
:প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না।
; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে?
: যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)।
আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন।
আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]):
* যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন।
* যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন।
প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে ==
[[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম।
[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== সাহায্য প্রয়োজন ==
আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন।
::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] ==
সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি ।
:::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি ==
পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]])
: {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]])
== রো বনাম ওয়েড ==
পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে ==
এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;"> ☪ </span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে ==
[[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== বাবুলমিয়া ==
মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/~2026-20015-50|~2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)
01924087544 [[বিশেষ:অবদান/~2026-20544-24|~2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পর্যালোচনা ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [আলফ্রেড নোবেল] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]
[[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
ধন্যবাদান্তে,
''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud''
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] '[[আল খোয়ারিজমি]]' পাতাটির সংশোধনের ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
:'''''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১১:১০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)'''''
== জেরার দ্যব্রু ==
নিবন্ধটি আমি সংশোধন করেছি এবং যান্ত্রিকতা দূর করেছি। অনুগ্রহ করে এখন পুনরায় পর্যালোচনা করুন। ''([[জেরার দ্যব্রু]])'' — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:২১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে সবার আগে এটিকে পর্যালোচনা করুন। এটি অত্যন্ত ছোট পাতা। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:৫৮, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] এটিতে কি কোন অসুবিধা বিদ্যমান? আপনি এখনও গ্রহণ করেননি। সমস্যা থাকলে জানান। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৭:৫২, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::ধন্যবাদ — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] ==
সংশোধন করেছি, পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ রইলো। [[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tanbiruzzaman|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৩, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলফ্রেড নোবেল]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পতাটি সংশোধন করা হয়েছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করুন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:০৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[সি. এ. আর. হোর]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ডায়ান ফসি]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরেল স্টেইন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আপনার সবগুলো পাতাতেই কিছু বাক্য আরেকটু সাবলীলভাবে লেখা যায়। আরেকদফা সংশোধন করে জানালে আমি গ্রহণ করে নিব। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]ঠিক আছে আমি সব পাতা সংশোধন করে একসাথে পরে জানাবো। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:০৯, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ড্যানিয়েল কানেমান]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] উল্লেখিত পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:৩০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি আরও একবার সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০২:০৬, ২১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আরও সংশোধন করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি পুনরায় সংশোধন করেছি অনুগ্রহ করে আরেকবার পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
r [[বিশেষ:অবদান/~2026-24691-92|~2026-24691-92]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-24691-92|আলাপ]]) ১১:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[শিং-শেন চের্ন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে [[শিং-শেন চের্ন]] নিবন্ধটি পুনঃপর্যালোচনা করুন। আমি এটিকে সংশোধন করেছি এবং জার্নাল, সংস্থা, প্রকাশক এসব বাংলায় লিপ্যন্তর করেছি। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১২:০০, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে এটি পর্যালোচনা করুন — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৫:৩৬, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক ধৈর্য ধারণ করুন। সংশোধন করলে অবশ্যই পুনঃপর্যালোচনা করা হবে। বারবার মেনশন করার প্রয়োজন নেই। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪০, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] দুঃখিত। অনুবাদে যান্ত্রিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। {{গৃহীত হয়নি}}। আবার সংশোধন করুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৬:১৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ঠিক আছে। আমি আবারও মেনশন করছিলাম, কারণ মনে হচ্ছিল কেনো ত্রুটির ফলে আপনার নিকট বিজ্ঞপ্তি যায় নি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] মনে হচ্ছে, আপনি আমার কথা বুঝতে পারেননি। আমি ২৫ তারিখে পুনঃপর্যালোচনা করেছি। পাতাটা তখনও যান্ত্রিক ছিল। এর পর আপনি আর কোনও সম্পাদনা করেননি। আপনার লাস্ট সম্পাদনা ২৩ তারিখে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৪, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ভারতে সুফিবাদ]] ==
[[ভারতে সুফিবাদ]]ে কি সমস্যা?? [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৩:২৩, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== পেত্র ক্রাপোতকিন ==
পাতাটি ঠিক করেছি। পাশাপাশি টনি বেন
পাতাটাও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৪:১৭, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
902n47usalrdaxdsup8v18jtvhvysau
83233
83232
2026-05-01T14:19:15Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
83233
wikitext
text/x-wiki
{{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান </b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud| «আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>।
;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে?
:প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না।
; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে?
: যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)।
আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন।
আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]):
* যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন।
* যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন।
প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে ==
[[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম।
[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== সাহায্য প্রয়োজন ==
আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন।
::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] ==
সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি ।
:::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি ==
পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]])
: {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]])
== রো বনাম ওয়েড ==
পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে ==
এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;"> ☪ </span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে ==
[[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== বাবুলমিয়া ==
মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/~2026-20015-50|~2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)
01924087544 [[বিশেষ:অবদান/~2026-20544-24|~2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পর্যালোচনা ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [আলফ্রেড নোবেল] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]
[[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
ধন্যবাদান্তে,
''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud''
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] '[[আল খোয়ারিজমি]]' পাতাটির সংশোধনের ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
:'''''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১১:১০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)'''''
== জেরার দ্যব্রু ==
নিবন্ধটি আমি সংশোধন করেছি এবং যান্ত্রিকতা দূর করেছি। অনুগ্রহ করে এখন পুনরায় পর্যালোচনা করুন। ''([[জেরার দ্যব্রু]])'' — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:২১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে সবার আগে এটিকে পর্যালোচনা করুন। এটি অত্যন্ত ছোট পাতা। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:৫৮, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] এটিতে কি কোন অসুবিধা বিদ্যমান? আপনি এখনও গ্রহণ করেননি। সমস্যা থাকলে জানান। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৭:৫২, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::ধন্যবাদ — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] ==
সংশোধন করেছি, পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ রইলো। [[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tanbiruzzaman|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৩, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলফ্রেড নোবেল]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পতাটি সংশোধন করা হয়েছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করুন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:০৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[সি. এ. আর. হোর]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ডায়ান ফসি]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরেল স্টেইন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আপনার সবগুলো পাতাতেই কিছু বাক্য আরেকটু সাবলীলভাবে লেখা যায়। আরেকদফা সংশোধন করে জানালে আমি গ্রহণ করে নিব। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]ঠিক আছে আমি সব পাতা সংশোধন করে একসাথে পরে জানাবো। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:০৯, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ড্যানিয়েল কানেমান]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] উল্লেখিত পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:৩০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি আরও একবার সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০২:০৬, ২১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আরও সংশোধন করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি পুনরায় সংশোধন করেছি অনুগ্রহ করে আরেকবার পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
r [[বিশেষ:অবদান/~2026-24691-92|~2026-24691-92]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-24691-92|আলাপ]]) ১১:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[শিং-শেন চের্ন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে [[শিং-শেন চের্ন]] নিবন্ধটি পুনঃপর্যালোচনা করুন। আমি এটিকে সংশোধন করেছি এবং জার্নাল, সংস্থা, প্রকাশক এসব বাংলায় লিপ্যন্তর করেছি। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১২:০০, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে এটি পর্যালোচনা করুন — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৫:৩৬, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক ধৈর্য ধারণ করুন। সংশোধন করলে অবশ্যই পুনঃপর্যালোচনা করা হবে। বারবার মেনশন করার প্রয়োজন নেই। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪০, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] দুঃখিত। অনুবাদে যান্ত্রিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। {{গৃহীত হয়নি}}। আবার সংশোধন করুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৬:১৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ঠিক আছে। আমি আবারও মেনশন করছিলাম, কারণ মনে হচ্ছিল কেনো ত্রুটির ফলে আপনার নিকট বিজ্ঞপ্তি যায় নি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] মনে হচ্ছে, আপনি আমার কথা বুঝতে পারেননি। আমি ২৫ তারিখে পুনঃপর্যালোচনা করেছি। পাতাটা তখনও যান্ত্রিক ছিল। এর পর আপনি আর কোনও সম্পাদনা করেননি। আপনার লাস্ট সম্পাদনা ২৩ তারিখে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৪, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ভারতে সুফিবাদ]] ==
[[ভারতে সুফিবাদ]]ে কি সমস্যা?? [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৩:২৩, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== পেত্র ক্রাপোতকিন ==
পাতাটি ঠিক করেছি। পাশাপাশি টনি বেন
পাতাটাও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৪:১৭, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
=== [[স্ট্যানলি বল্ডউইন]] ===
এটা সংশোধন করেছি আমি। পুনঃপর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker|আলাপ]]) ১৪:১৯, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
9losdhimwpgwsyp7msn1gsxduzjredv
83241
83233
2026-05-01T14:45:48Z
SMontaha32
3112
/* নরউইচের জুলিয়ান পাতা */ নতুন অনুচ্ছেদ
83241
wikitext
text/x-wiki
{{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান </b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud| «আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>।
;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে?
:প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না।
; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে?
: যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)।
আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন।
আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]):
* যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন।
* যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন।
প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে ==
[[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম।
[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== সাহায্য প্রয়োজন ==
আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন।
::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] ==
সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি ।
:::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি ==
পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]])
: {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]])
== রো বনাম ওয়েড ==
পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে ==
এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;"> ☪ </span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে ==
[[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== বাবুলমিয়া ==
মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/~2026-20015-50|~2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)
01924087544 [[বিশেষ:অবদান/~2026-20544-24|~2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পর্যালোচনা ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [আলফ্রেড নোবেল] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]
[[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
ধন্যবাদান্তে,
''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud''
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] '[[আল খোয়ারিজমি]]' পাতাটির সংশোধনের ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
:'''''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১১:১০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)'''''
== জেরার দ্যব্রু ==
নিবন্ধটি আমি সংশোধন করেছি এবং যান্ত্রিকতা দূর করেছি। অনুগ্রহ করে এখন পুনরায় পর্যালোচনা করুন। ''([[জেরার দ্যব্রু]])'' — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:২১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে সবার আগে এটিকে পর্যালোচনা করুন। এটি অত্যন্ত ছোট পাতা। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:৫৮, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] এটিতে কি কোন অসুবিধা বিদ্যমান? আপনি এখনও গ্রহণ করেননি। সমস্যা থাকলে জানান। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৭:৫২, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::ধন্যবাদ — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] ==
সংশোধন করেছি, পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ রইলো। [[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tanbiruzzaman|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৩, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলফ্রেড নোবেল]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পতাটি সংশোধন করা হয়েছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করুন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:০৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[সি. এ. আর. হোর]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ডায়ান ফসি]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরেল স্টেইন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আপনার সবগুলো পাতাতেই কিছু বাক্য আরেকটু সাবলীলভাবে লেখা যায়। আরেকদফা সংশোধন করে জানালে আমি গ্রহণ করে নিব। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]ঠিক আছে আমি সব পাতা সংশোধন করে একসাথে পরে জানাবো। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:০৯, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ড্যানিয়েল কানেমান]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] উল্লেখিত পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:৩০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি আরও একবার সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০২:০৬, ২১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আরও সংশোধন করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি পুনরায় সংশোধন করেছি অনুগ্রহ করে আরেকবার পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
r [[বিশেষ:অবদান/~2026-24691-92|~2026-24691-92]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-24691-92|আলাপ]]) ১১:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[শিং-শেন চের্ন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে [[শিং-শেন চের্ন]] নিবন্ধটি পুনঃপর্যালোচনা করুন। আমি এটিকে সংশোধন করেছি এবং জার্নাল, সংস্থা, প্রকাশক এসব বাংলায় লিপ্যন্তর করেছি। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১২:০০, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে এটি পর্যালোচনা করুন — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৫:৩৬, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক ধৈর্য ধারণ করুন। সংশোধন করলে অবশ্যই পুনঃপর্যালোচনা করা হবে। বারবার মেনশন করার প্রয়োজন নেই। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪০, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] দুঃখিত। অনুবাদে যান্ত্রিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। {{গৃহীত হয়নি}}। আবার সংশোধন করুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৬:১৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ঠিক আছে। আমি আবারও মেনশন করছিলাম, কারণ মনে হচ্ছিল কেনো ত্রুটির ফলে আপনার নিকট বিজ্ঞপ্তি যায় নি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] মনে হচ্ছে, আপনি আমার কথা বুঝতে পারেননি। আমি ২৫ তারিখে পুনঃপর্যালোচনা করেছি। পাতাটা তখনও যান্ত্রিক ছিল। এর পর আপনি আর কোনও সম্পাদনা করেননি। আপনার লাস্ট সম্পাদনা ২৩ তারিখে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৪, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ভারতে সুফিবাদ]] ==
[[ভারতে সুফিবাদ]]ে কি সমস্যা?? [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৩:২৩, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== পেত্র ক্রাপোতকিন ==
পাতাটি ঠিক করেছি। পাশাপাশি টনি বেন
পাতাটাও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৪:১৭, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
=== [[স্ট্যানলি বল্ডউইন]] ===
এটা সংশোধন করেছি আমি। পুনঃপর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker|আলাপ]]) ১৪:১৯, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== নরউইচের জুলিয়ান পাতা ==
পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৪:৪৫, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
0y9rmzob4eoxe5w6vt2gydgi5qj9t2x
83263
83241
2026-05-02T06:28:27Z
SMontaha32
3112
/* পেত্র ক্রাপোতকিন */
83263
wikitext
text/x-wiki
{{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান </b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud| «আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>।
;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে?
:প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না।
; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে?
: যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)।
আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন।
আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]):
* যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন।
* যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন।
প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে ==
[[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম।
[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== সাহায্য প্রয়োজন ==
আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন।
::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] ==
সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি ।
:::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি ==
পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]])
: {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]])
== রো বনাম ওয়েড ==
পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে ==
এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;"> ☪ </span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে ==
[[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== বাবুলমিয়া ==
মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/~2026-20015-50|~2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)
01924087544 [[বিশেষ:অবদান/~2026-20544-24|~2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পর্যালোচনা ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [আলফ্রেড নোবেল] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]
[[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
ধন্যবাদান্তে,
''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud''
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] '[[আল খোয়ারিজমি]]' পাতাটির সংশোধনের ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
:'''''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১১:১০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)'''''
== জেরার দ্যব্রু ==
নিবন্ধটি আমি সংশোধন করেছি এবং যান্ত্রিকতা দূর করেছি। অনুগ্রহ করে এখন পুনরায় পর্যালোচনা করুন। ''([[জেরার দ্যব্রু]])'' — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:২১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে সবার আগে এটিকে পর্যালোচনা করুন। এটি অত্যন্ত ছোট পাতা। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:৫৮, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] এটিতে কি কোন অসুবিধা বিদ্যমান? আপনি এখনও গ্রহণ করেননি। সমস্যা থাকলে জানান। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৭:৫২, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::ধন্যবাদ — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] ==
সংশোধন করেছি, পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ রইলো। [[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tanbiruzzaman|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৩, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলফ্রেড নোবেল]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পতাটি সংশোধন করা হয়েছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করুন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:০৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[সি. এ. আর. হোর]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ডায়ান ফসি]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরেল স্টেইন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আপনার সবগুলো পাতাতেই কিছু বাক্য আরেকটু সাবলীলভাবে লেখা যায়। আরেকদফা সংশোধন করে জানালে আমি গ্রহণ করে নিব। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]ঠিক আছে আমি সব পাতা সংশোধন করে একসাথে পরে জানাবো। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:০৯, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ড্যানিয়েল কানেমান]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] উল্লেখিত পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:৩০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি আরও একবার সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০২:০৬, ২১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আরও সংশোধন করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি পুনরায় সংশোধন করেছি অনুগ্রহ করে আরেকবার পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
r [[বিশেষ:অবদান/~2026-24691-92|~2026-24691-92]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-24691-92|আলাপ]]) ১১:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[শিং-শেন চের্ন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে [[শিং-শেন চের্ন]] নিবন্ধটি পুনঃপর্যালোচনা করুন। আমি এটিকে সংশোধন করেছি এবং জার্নাল, সংস্থা, প্রকাশক এসব বাংলায় লিপ্যন্তর করেছি। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১২:০০, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে এটি পর্যালোচনা করুন — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৫:৩৬, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক ধৈর্য ধারণ করুন। সংশোধন করলে অবশ্যই পুনঃপর্যালোচনা করা হবে। বারবার মেনশন করার প্রয়োজন নেই। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪০, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] দুঃখিত। অনুবাদে যান্ত্রিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। {{গৃহীত হয়নি}}। আবার সংশোধন করুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৬:১৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ঠিক আছে। আমি আবারও মেনশন করছিলাম, কারণ মনে হচ্ছিল কেনো ত্রুটির ফলে আপনার নিকট বিজ্ঞপ্তি যায় নি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] মনে হচ্ছে, আপনি আমার কথা বুঝতে পারেননি। আমি ২৫ তারিখে পুনঃপর্যালোচনা করেছি। পাতাটা তখনও যান্ত্রিক ছিল। এর পর আপনি আর কোনও সম্পাদনা করেননি। আপনার লাস্ট সম্পাদনা ২৩ তারিখে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৪, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ভারতে সুফিবাদ]] ==
[[ভারতে সুফিবাদ]]ে কি সমস্যা?? [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৩:২৩, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[পেত্র ক্রাপোতকিন]] ==
পাতাটি ঠিক করেছি। পাশাপাশি [[টনি বেন]]
পাতাটাও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৪:১৭, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
=== [[স্ট্যানলি বল্ডউইন]] ===
এটা সংশোধন করেছি আমি। পুনঃপর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker|আলাপ]]) ১৪:১৯, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== নরউইচের জুলিয়ান পাতা ==
পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৪:৪৫, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
5zr5lqnckhy3l7s1o5v1lq5fo2ls2vp
83264
83263
2026-05-02T06:29:00Z
SMontaha32
3112
/* নরউইচের জুলিয়ান পাতা */
83264
wikitext
text/x-wiki
{{স্বাগত}}≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান </b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud| «আলাপ»]]</b> ০৮:০৭, ৩১ অক্টোবর ২০২২ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ও ৩০ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখুন।
আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে প্রতিযোগিতার নিয়মে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে: প্রতিযোগিতায় এখন থেকে '''নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে না''' অর্থাৎ <u>নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য উল্লেখযোগ্য যেকোনও কিছু নিয়ে উক্তির পাতা তৈরি করা যাবে</u>।
;কেন নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র বাদ দেওয়া হয়েছে?
:প্রতিযোগিতা শুরুর পর অনেকেই নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র নিয়ে উক্তির পাতা বানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেকে শব্দ সংখ্যা বাড়াতে পুরো নাটক, উপন্যাস তুলে দিচ্ছেন। যা কোন ক্রমে কাম্য নয়। এটি অন্য প্রতিযোগীদের প্রতিও সুবিচার করা হয় না।
; আমি যে নাটক, গান, কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র জমা দিয়েছি তার কী হবে?
: যারা এই ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বা তার আগে এই জাতীয় উক্তির পাতা জমা দিয়েছেন সেগুলি গৃহীত হবে (অবশ্যই সংশোধনপূর্বক)।
আরেকটি বিষয়ের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এটাও লক্ষ্য করা গেছে যে অনেকে উক্তির উৎস দিচ্ছেন না। দয়া করে উক্তির উৎস দিতে ভুলবেন না। দয়া করে উদাহরণ হিসেবে [[চঞ্চল চৌধুরী]], [[নোম চম্স্কি]] পাতায় কীভাবে উক্তি ও উক্তির উৎস দেওয়া হয়েছে তা দেখুন।
আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৯:৪৭, ৬ এপ্রিল ২০২৪ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE&oldid=31634-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ([https://fountain.toolforge.org/editathons/qc2024 এখানে দেখুন]):
* যদি আপনার জমা দেওয়া কোনও নিবন্ধ গৃহীত না হয়, তবে আপনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে নিবন্ধের সমস্যাগুলি ঠিক করে পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ জানাতে পারেন।
* যদি আপনি কোনও গৃহীত নিবন্ধ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চান, কোনও অসঙ্গতি আমাদের দৃষ্টিতে আনতে চান, দয়া করে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন।
প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পর, ফলাফলে কোনোরূপ পরিবর্তন আনা হবে না। সুতরাং যা করার আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে করুন। আপনার কোনও জিজ্ঞাসা থাকলে আমাকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করুন। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ২১:৫৪, ৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় NusJaS, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৪/পরিসংখ্যান#ফলাফল|শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLScZptwVHdLgFGVAjzk79Ew7MjAcCUyL1PigcfsNwxBn5VeC6w/viewform?usp=sf_link এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:আফতাবুজ্জামান|আফতাবুজ্জামান]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:আফতাবুজ্জামান|আলাপ]]) ১৪:২৭, ১৮ মে ২০২৪ (ইউটিসি)
==উইকিউক্তি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে ==
[[উইলিয়াম ম্যাকিনলি]] পাতাটি পুনরায় সম্পাদন করা হয়েছে এখন গ্রহণ করতে পারেন আপনাকে মেনশন করলাম।
[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৫:১১, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] সংশোধন করায় ধন্যবাদ। গৃহীত হয়েছে। আপনার জমাদানকৃত বাকি পাতাগুলোতেও এরকম সংশোধন করার পরামর্শ রইল। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৪৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::ঠিক আছে তাহলে আমি পুনরায় পর্যালোচনা করছি [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫২, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== সাহায্য প্রয়োজন ==
আমি যখন আর্টিকেল গুলো বাংলা অনুবাদ করার পরে পাবলিশ করার পরে আমি এটি উইকি ডাটার সাথে কানেক্ট করতে চাচ্ছি যেন একটি ইংরেজি অনুবাদটাও যে কেউ দেখতে পারে। কিন্তু আমাকে এটা দেখাচ্ছে এগুলো সেমি প্রটেক্টেড পেজ । [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৫:৫৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] যেগুলো লিংক করতে পারবেন না, যেকোনো পর্যালোচকের আলাপ পাতায় সেগুলোর তালিকা দিবেন। তারা লিংক করে দিবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৯:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::[[অং সান সু চি]] এটি লিংক করে দিন।
::এবং আমি কিভাবে এই রাইট পেতে পারি! [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৫, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন]] ==
সুধী, উইকিমিডিয়ার অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মতো উইকিউক্তিতে কপিরাইট আইন মান্য করা হয়। তবে উইকিউক্তিতে হুবুহু উক্তি কপি করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা রয়েছে তেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন উইকিউক্তিতে "একই সূত্র থেকে খুব বেশি উক্তি পাতায় দেওয়া যায়না"। মোটামুটি সীমা বজায় রাখতে হয় যাতে কপিরাইট সমস্যায় পড়তে না হয়। [https://copyvios.toolforge.org/?lang=bn&project=wikiquote&title=মোহাম্মদ+নাজিম+উদ্দিন&oldid=&action=search&use_engine=0&use_links=1&turnitin=0&nocache=1 এটা দেখুন], এই রেজাল্ট অনুযায়ী তিনটি সূত্র থেকে ৪০% এর অধিক লেখা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। তাই উক্তির সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন৷ সবগুলো সূত্র থেকেই যে একদম ৩০% হতে হবে তা নয়, তবে উক্তির সংখ্যা মোটামুটি কমিয়ে এনে কপিরাইট সমস্যার সমাধান করে নিতে হবে। তারপর আমাকে জানালে আমি পাতাটি গ্রহণ করে নিবো। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:১৯, ২৫ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অগ্রগতি কতদূর? [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ০৩:৫৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] এখন অনেক লেখা বাদ দিয়েছি। এবার দেখুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:১৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ভাই, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। উক্তি তো হুবুহু হবে। এখানে কপিরাইট লঙ্ঘন হচ্ছে এমন জটিলতা কেন? ইংরেজি থেকে অনেক পাতা অনুবাদ করতে গিয়ে বিশাল বিশাল উক্তি হুবুহু কপি পেয়েছি। এক উক্তিতেই ৫-৬০০ শব্দ, এমন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] যেটা এখনও ৪৫% দেখাচ্ছে, ওটায় একই বাক্য বারবার এসেছে। তাই বেশি পার্সেন্টেজ। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৩৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] নন-ফ্রি লাইসেন্স নীতি অনুযায়ী আমরা উইকিপিডিয়ায় যেকোন লেখা বা উক্তি হুবুহু তুলে ধরতে পারবো, কিন্তু সেটা সীমা রেখে। অর্থাৎ একটি সূত্রের লেখার বড় অংশ তুলে ধরা যাবেনা। উইকিপিডিয়ায় এটা মান্য করা হয় কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য। সেজন্য আপনি দেখবেন যে অনেক সময় একটি উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বেশি উক্তি থাকেনা। উইকিউক্তি একই নীতিতে চলে। যদিও উইকিউক্তির একটি পাতায় উক্তিগুলোকে হুবুহু তুলে ধরতে হবে, কিন্তু সেটা নন-ফ্রি নীতিকে এড়িয়ে উদ্ধৃত করা যাবেনা অর্থাৎ কপিরাইট আইন বজায় রেখেই করতে হবে। তাই আমাদের এখানেও এটা মেনে চলতে হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, সবাই এই ব্যাপারটা জানেনা। মূল কথা হচ্ছে, উক্তি হুবুহু উদ্ধৃত করায় কোন সমস্যা নেই। এখানে সমস্যা হচ্ছে উক্তি উদ্ধৃত করার সময় প্রতিটি সূত্র থেকে কত শতাংশ লেখা কপি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিভেদে সর্বোচ্চ হয়তো ৪০-৪৫% ব্যবহার করা যেতে পারে (সবক্ষেত্রে নয়)। তবে সর্বোচ্চ ৩০% ব্যবহার করাই নিরাপদ। তবে, ব্যতিক্রম হতে পারে অনূদিত উক্তির ক্ষেত্রে। কেননা পড়ার উপযোগী করে উক্তি অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় উক্তিগুলোর মূল কাঠামো ও অনূদিত প্রতিশব্দ পালটে যেতে পারে আর তখন কপিরাইট সমস্যার প্রশ্ন আসবেনা। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১২:৫৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ওকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি বুঝতে পেরেছ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১২:৫৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]]: জি, এবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক করা হয়েছে। আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি।। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:৫৩, ১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:::::::আমি এখনো ব্যাপারটি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে থাকা উক্তিগুলো এবং প্রতিটি উক্তির তথ্যসূত্র সম্পূর্ণ অনুবাদ করি ।
:::::::এখানে সূত্র বলতে কি বুঝাচ্ছে ওই তথ্যসূত্র টাই [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৬:৫৯, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::@[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] হ্যাঁ, সেটাই সূত্র মানেই তথ্যসূত্র [[User:Md Mobashir Hossain|মোবাশশির]] <small>[[User Talk:Md Mobashir Hossain|বার্তা দিন]]</small> ০৭:৫৩, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::::::: [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৮:০৭, ৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি ==
পাতাটির অনুবাদ বেশ রুক্ষ। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে নিবন্ধটি সংশোধন করুন। ১৫:৫০, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]])
: {{ping|Yahya}} পর্যালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ। আমি ২ দিন সময় চাচ্ছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]])
== রো বনাম ওয়েড ==
পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫২, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই, সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪২, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::দুঃখিত। গ্রহণ করা যাচ্ছে না। অনুবাদ এখনও যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৪১, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি]] পাতা সম্পর্কে ==
এভাবে উপপাতায় নেয়ার কারণ? এমনকি আপনি [[রো বনাম ওয়েড/সম্পর্কে উক্তি/২]] নামেও পাতা তৈরি করেছেন। ― <span style="color:white; background-color:red;"> ☪ </span> <small>[[User:খাত্তাব হাসান|কাপুদান পাশা]] ([[User talk:খাত্তাব হাসান|✉]])</small> ০৭:৫৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান|খাত্তাব হাসান]] একটা পাতায় পুরো লেখা জায়গা হয় না। বাইট লিমিট দেখিয়েছিল। আমি "সম্পর্কে উক্তি"কে একটাই উপপাতায় রাখতে চেয়েছিলাম। সেটাও সম্ভব হয়নি। তাই দুটো পাতা করতে হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৩:২৪, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ অনুবাদ হওয়ায় পাতাটি উক্তি প্রতিযোগিতায় গৃহীত হয়নি। –– [[ব্যবহারকারী:Tahmid|তাহমিদ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tahmid|আলাপ]]) ১৪:০৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== সংশোধনের পর জানাতে বলা হয়েছে ==
[[প্রবীণ তোগাড়িয়া]] পাতাটিতে একই তথ্যসূত্র বেশ কয়েকটি উক্তিতে ছিল। তা সংশোধন করা হয়েছে। এখন গ্রহণ করতে পারবেন [[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
== বাবুলমিয়া ==
মাধবদী পৌরসভা জেলা নরসিংদী ০১৭১২ ৬২০ ৯৯২ আমার এই ওষুধটা লাগবে [[বিশেষ:অবদান/~2026-20015-50|~2026-20015-50]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20015-50|আলাপ]]) ১৮:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)
01924087544 [[বিশেষ:অবদান/~2026-20544-24|~2026-20544-24]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-20544-24|আলাপ]]) ০৬:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পর্যালোচনা ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] আমি [আলফ্রেড নোবেল] পাতাটি সংশোধন করেছি, অনুগ্রহ করে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ১০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== পাতা গ্রহণ সম্বন্ধে ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]
[[আল খোয়ারিজমি]] - পাতাটি গৃহীত হয়নি। কিন্তু এর ''সুনির্দিষ্ট'' এবং যথার্থ কারন উল্লেখ প্রয়োজন। উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
ধন্যবাদান্তে,
''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ০০:২৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)-Mahmud''
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] '[[আল খোয়ারিজমি]]' পাতাটির সংশোধনের ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
:'''''[[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch|Oindrojalik Watch]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Oindrojalik Watch|আলাপ]]) ১১:১০, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)'''''
== জেরার দ্যব্রু ==
নিবন্ধটি আমি সংশোধন করেছি এবং যান্ত্রিকতা দূর করেছি। অনুগ্রহ করে এখন পুনরায় পর্যালোচনা করুন। ''([[জেরার দ্যব্রু]])'' — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:২১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে সবার আগে এটিকে পর্যালোচনা করুন। এটি অত্যন্ত ছোট পাতা। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৪:৫৮, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] এটিতে কি কোন অসুবিধা বিদ্যমান? আপনি এখনও গ্রহণ করেননি। সমস্যা থাকলে জানান। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ০৭:৫২, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::ধন্যবাদ — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] ==
সংশোধন করেছি, পুনঃপর্যালোচনার অনুরোধ রইলো। [[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tanbiruzzaman|আলাপ]]) ০৫:৩৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman|Tanbiruzzaman]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৩, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[আলফ্রেড নোবেল]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পতাটি সংশোধন করা হয়েছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:০২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০০:৪৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করুন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:০৮, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[সি. এ. আর. হোর]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১২, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ডায়ান ফসি]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছে পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:১৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরেল স্টেইন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০১:২০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আপনার সবগুলো পাতাতেই কিছু বাক্য আরেকটু সাবলীলভাবে লেখা যায়। আরেকদফা সংশোধন করে জানালে আমি গ্রহণ করে নিব। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]]ঠিক আছে আমি সব পাতা সংশোধন করে একসাথে পরে জানাবো। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:০৯, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ড্যানিয়েল কানেমান]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] উল্লেখিত পাতাটি সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন।
ধন্যবাদ [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ১৬:৩০, ২০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[এর্নস্ট মাখ]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি আরও একবার সংশোধন করেছি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০২:০৬, ২১ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] আরও সংশোধন করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[অরবিন্দ আদিগা]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] পাতাটি পুনরায় সংশোধন করেছি অনুগ্রহ করে আরেকবার পর্যালোচনা করবেন [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Sumanta3023|আলাপ]]) ০৩:৪৯, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
r [[বিশেষ:অবদান/~2026-24691-92|~2026-24691-92]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-24691-92|আলাপ]]) ১১:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Sumanta3023|Sumanta3023]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৫৪, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[শিং-শেন চের্ন]] ==
@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে [[শিং-শেন চের্ন]] নিবন্ধটি পুনঃপর্যালোচনা করুন। আমি এটিকে সংশোধন করেছি এবং জার্নাল, সংস্থা, প্রকাশক এসব বাংলায় লিপ্যন্তর করেছি। ধন্যবাদ। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">Anaf</span> <span style="color:#388E3C">Ibn</span> <span style="color:#66BB6A">Shahibul</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১২:০০, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] অনুগ্রহ করে এটি পর্যালোচনা করুন — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৫:৩৬, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] গৃহীত হয়েছে। অনুগ্রহপূর্বক ধৈর্য ধারণ করুন। সংশোধন করলে অবশ্যই পুনঃপর্যালোচনা করা হবে। বারবার মেনশন করার প্রয়োজন নেই। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৫:৪০, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] দুঃখিত। অনুবাদে যান্ত্রিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। {{গৃহীত হয়নি}}। আবার সংশোধন করুন। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১৬:১৭, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ঠিক আছে। আমি আবারও মেনশন করছিলাম, কারণ মনে হচ্ছিল কেনো ত্রুটির ফলে আপনার নিকট বিজ্ঞপ্তি যায় নি। — 👋 '''[[User:Anaf Ibn Shahibul|<span style="color:#1B5E20">আনাফ</span> <span style="color:#388E3C">ইবনে</span> <span style="color:#66BB6A">সাহেবুল</span>]]''' <sup>([[User talk:Anaf Ibn Shahibul|📨/📥]])</sup> [[বাংলাদেশ|🇧🇩]] [[উইকিপিডিয়া|🌐]] ১৭:৫৫, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul|Anaf Ibn Shahibul]] মনে হচ্ছে, আপনি আমার কথা বুঝতে পারেননি। আমি ২৫ তারিখে পুনঃপর্যালোচনা করেছি। পাতাটা তখনও যান্ত্রিক ছিল। এর পর আপনি আর কোনও সম্পাদনা করেননি। আপনার লাস্ট সম্পাদনা ২৩ তারিখে। [[ব্যবহারকারী:NusJaS|NusJaS]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:NusJaS#top|আলাপ]]) ১২:০৪, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[ভারতে সুফিবাদ]] ==
[[ভারতে সুফিবাদ]]ে কি সমস্যা?? [[ব্যবহারকারী:ARI|ARI]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:ARI|আলাপ]]) ১৩:২৩, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[পেত্র ক্রাপোতকিন]] ==
পাতাটি ঠিক করেছি। পাশাপাশি [[টনি বেন]]
পাতাটাও ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৪:১৭, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
=== [[স্ট্যানলি বল্ডউইন]] ===
এটা সংশোধন করেছি আমি। পুনঃপর্যালোচনা করার অনুরোধ করছি। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker|আলাপ]]) ১৪:১৯, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== [[নরউইচের জুলিয়ান]] পাতা ==
পাতাটি ঠিক করেছি। [[ব্যবহারকারী:SMontaha32|SMontaha32]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:SMontaha32|আলাপ]]) ১৪:৪৫, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
4du5877et6x7geexb8xtabgwz4v0zi4
ব্যবহারকারী আলাপ:Tuhin
3
4386
83249
83147
2026-05-01T18:07:45Z
Tuhin
172
/* হেনরি হোম, লর্ড কেইমস */ উত্তর
83249
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Arabi Abrar,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটির পক্ষে]],<br />≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান </b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud| «আলাপ»]]</b> ০৪:০০, ১৪ নভেম্বর ২০২২ (ইউটিসি)
</div>
== যশবন্ত সিং ==
সূত্রের শিরোনাম সরাসরি অনুবাদ হবেনা। প্রয়োজন মূল ভাষার শিরোনামকে বাংলা হরফে লেখা যেতে পারে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৫:১১, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]], সূত্রের শিরোনাম ইংরেজিতে প্রতিস্থাপন করে দিয়েছি। [[ব্যবহারকারী:Tuhin|Tuhin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tuhin#top|আলাপ]]) ১৫:২২, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== মুম্বই ==
ফিনিশিং দেওয়া প্রয়োজন [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:২৪, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আদালত ==
[[আদালত]] নিবন্ধে অনেক শব্দের ক্ষেত্রে অধিকতর উপযুক্ত বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:৪৬, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== জমিদার ==
[[জমিদার]] অনুবাদ আরো প্রাঞ্জল করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:০৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ==
[[নিখিল ভারত মুসলিম লীগ]] পাতায় আরো সংশোধন প্রয়োজন [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:১১, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== মানব গুপ্ত ==
[[মানব গুপ্ত]] নিয়ে আরো কাজ করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:৪৫, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== অ্যামব্রোজ বিয়ার্স ==
[[অ্যামব্রোজ বিয়ার্স]] পাতাটিতে এআইয়ের স্পষ্ট ছাপ দেখা যাচ্ছে। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে আবার সংশোধন করে নিন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২২:১৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== ডরোথি রে হিলি ==
[[ডরোথি রে হিলি]] পাতাটিতে সম্পাদনা প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:৩২, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা ==
[[আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা]] পাতায় সংশোধন প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:৪৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== হেনরি হোম, লর্ড কেইমস ==
[[হেনরি হোম, লর্ড কেইমস]] পাতায় দেখা যাচ্ছে অকারণে শুধু অনুবাদের বদলে ইংরেজি শব্দের সাথে বা যুক্ত করে অর্থ দেখানো হয়েছে। আশাকরি এগুলো ঠিক করবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:৫১, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] [[হেনরি হোম, লর্ড কেইমস]] পাতাটি সংশোধন করেছি। এখন দেখুন।– [[ব্যবহারকারী:Tuhin|Tuhin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tuhin#top|আলাপ]]) ১৮:০৭, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
5z0k693rtbmdmawmiovq8lr2zb607nw
83252
83249
2026-05-01T21:55:35Z
Mehedi Abedin
50
/* হেনরি হোম, লর্ড কেইমস */ উত্তর
83252
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Arabi Abrar,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটির পক্ষে]],<br />≈ <b style="border:1.5px solid #736AFF;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:Md.Farhan Mahmud|<b style="background-color:green;color:white">ফারহান </b>]][[User talk:Md.Farhan Mahmud| «আলাপ»]]</b> ০৪:০০, ১৪ নভেম্বর ২০২২ (ইউটিসি)
</div>
== যশবন্ত সিং ==
সূত্রের শিরোনাম সরাসরি অনুবাদ হবেনা। প্রয়োজন মূল ভাষার শিরোনামকে বাংলা হরফে লেখা যেতে পারে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৫:১১, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]], সূত্রের শিরোনাম ইংরেজিতে প্রতিস্থাপন করে দিয়েছি। [[ব্যবহারকারী:Tuhin|Tuhin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tuhin#top|আলাপ]]) ১৫:২২, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== মুম্বই ==
ফিনিশিং দেওয়া প্রয়োজন [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৭:২৪, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আদালত ==
[[আদালত]] নিবন্ধে অনেক শব্দের ক্ষেত্রে অধিকতর উপযুক্ত বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:৪৬, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== জমিদার ==
[[জমিদার]] অনুবাদ আরো প্রাঞ্জল করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:০৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ==
[[নিখিল ভারত মুসলিম লীগ]] পাতায় আরো সংশোধন প্রয়োজন [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:১১, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== মানব গুপ্ত ==
[[মানব গুপ্ত]] নিয়ে আরো কাজ করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:৪৫, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== অ্যামব্রোজ বিয়ার্স ==
[[অ্যামব্রোজ বিয়ার্স]] পাতাটিতে এআইয়ের স্পষ্ট ছাপ দেখা যাচ্ছে। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে আবার সংশোধন করে নিন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২২:১৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== ডরোথি রে হিলি ==
[[ডরোথি রে হিলি]] পাতাটিতে সম্পাদনা প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:৩২, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা ==
[[আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা]] পাতায় সংশোধন প্রয়োজন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:৪৪, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== হেনরি হোম, লর্ড কেইমস ==
[[হেনরি হোম, লর্ড কেইমস]] পাতায় দেখা যাচ্ছে অকারণে শুধু অনুবাদের বদলে ইংরেজি শব্দের সাথে বা যুক্ত করে অর্থ দেখানো হয়েছে। আশাকরি এগুলো ঠিক করবেন। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:৫১, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] [[হেনরি হোম, লর্ড কেইমস]] পাতাটি সংশোধন করেছি। এখন দেখুন।– [[ব্যবহারকারী:Tuhin|Tuhin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tuhin#top|আলাপ]]) ১৮:০৭, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Tuhin|Tuhin]] গৃহীত হয়েছে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২১:৫৫, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
0yna2hem0blb24buqt1epklk25c6ig9
ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker
3
9527
83246
82407
2026-05-01T17:51:24Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
/* উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন */ উত্তর
83246
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Dr. Mosaddek Khondoker,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
১৯:১৩, ৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[জাইর বলসোনারু]] ==
বেশ কিছু উক্তিতে লিংক করা বাকি। এগুলো সংশোধন এবং বহিঃসংযোগ যোগ করে আমাকে মেনশন করে জানালে গ্রহণ করে নিব।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০০:৩৪, ৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== অনুবাদ ==
আপনি অনুবাদগুলো কিভাবে করেন ।
আমি নতুন তাই কিছু পরামর্শ চাচ্ছি।[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৩:০৫, ৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন]] ==
বেশিরভাগ তথ্যসূত্রে লিংক যোগ করা হয়নি। এছাড়া উক্তিতে যান্ত্রিকতা আছে। দ্রুত লিংক যোগ না করলে গ্রহণ করা হবে না।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৩:২০, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[ফ্রেডরিক ডগলাস]] ==
এই পাতাতেও কোনো উক্তির উৎসে লিংক যোগ করা হয়নি। একই কথা প্রযোজ্য।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৩:২৩, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] ভাই দুঃখিত। আমি অপ্রত্যাশিত ভাবে হঠাৎ একটি সমস্যায় পড়ে যাওয়ায় কাজ করার সময় পাচ্ছি না। আমি এই ২ টা উক্তির লেখা ভালো করে ঠিক করতে পারি নাই। <nowiki>[[ফ্রেডরিক ডগলাস]]</nowiki> এ কিছু করতে পারি নাই। গ্রহণ করা না হলে এই দুইটা উক্তি ডিলেট করে দিতে পারেন। আমি সময় পেলে করতাম। কিন্তু এখন প্রতিযোগিতা শেষ। আমি এখন ফ্রি সময় এবং মেন্টাল এবিলিটি কিছুই পাচ্ছি না। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ২২:৪১, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== জন হার্ভে কেলোগ ==
পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫৩, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই আমি করেছি। এখন ঠিক আছে? আর সংশোধন করতে হবে? [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১০:৩৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই আমি ঠিক করেছিলাম। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ০৮:৫২, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] দুঃখিত, গ্রহণ করা গেলো না। অনুবাদ এখনো যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৩৭, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] তাহলে এটা ডিলেট করে দিয়েন। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১২:১৪, ১৭ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
:@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] আমি নিবন্ধটি সংশোধন করেছি। [[মারে গেল-মান]] [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১৪:৫৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] গৃহীত হয়েছে। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ২২:৪৮, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] [[নবায়নযোগ্য শক্তি]] সংশোধন করেছি আমি। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ২৩:২৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::গৃহীত হয়েছে। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৪৯, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] [[স্টিফেন জে গুল্ড]] সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১৭:৫১, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== নার্গিস মোহাম্মাদি ==
[[নার্গিস মোহাম্মাদি]] পাতাটি পর্যাপ্ত সম্পাদনা না করে জমা দেওয়া হয়েছে। ভালোভাবে সংশোধন করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:০৮, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ধন্যবাদ। আমি আবার পড়ে সংশোধন করেছি। কোনও ভুল পেলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১৪:৫৫, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] আরো করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:১৪, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] আমি আবার পুরোটা পড়েছি। আমি আসলে বুঝতে পারছি না আর কী করা যাবে এখানে। অনুগ্রহ করে আমাকে পয়েন্ট আউট করে দিলে সুবিধাজনক হতো। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১৯:৪২, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] আমি ঠিক করে পাতাটি গ্রহণ করে নিয়েছি। অনুবাদের সময় খেয়াল করবেন যেন কে কাকে কি করছে সেটা স্পষ্ট বোঝা যায়। আর সংশোধনের জন্য লেখার লিংক সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২২:০৭, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] স্বাধীনতার বদলে মুক্তি লেখতে হবে বুঝতে পারিনি। আপনি সংশোধন করে দিয়ে গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ২৩:২২, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
3coztzua3srr2fq0oaxmmzl6z5ndq24
83247
83246
2026-05-01T17:52:04Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
/* উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন */
83247
wikitext
text/x-wiki
== উইকিউক্তিতে স্বাগত ==
<div style="box-shadow:gray 1px 1px 4px; margin-bottom:1em; padding:1em; border-radius:.5em;">
সুপ্রিয় Dr. Mosaddek Khondoker,<br>[[উইকিউক্তি:বৃত্তান্ত|উইকিউক্তিতে]] আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। {{হাসি}} </br> উইকিউক্তি হলো আপনার মত ব্যবহারকারীদের দ্বারা যৌথভাবে তৈরি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য উক্তিসমূহের মুক্ত অনলাইন সংকলন!
* উইকিউক্তি কী তা একনজরে জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি]] পড়ুন।
** এছাড়াও উইকিউক্তি যেসব সাধারণ বিষয় সমর্থন করে না তা জানার জন্য [[উইকিউক্তি:উইকিউক্তি কী নয়|উইকিউক্তি কী নয়]] পড়ুন।
* উইকিউক্তিতে পরিভ্রমণ করতে আমাদের [[উইকিউক্তি:পরিভ্রমণ|পরিভ্রমণ পাতাটি]] দেখুন।
* পাতা তৈরির পূর্বে অনুগ্রহ করে [[উইকিউক্তি:বিন্যাস নির্দেশিকা|আমাদের নির্দেশিকা]] দেখে নিন। সরাসরি পাতা তৈরির পূর্বে [[বিশেষ:আমার পাতা/খেলাঘর|আপনার খেলাঘরে]] অনুশীলন করে নিতে পারেন।
* পাতা সম্পাদনা করার সময় অনুগ্রহ করে [[:w:সাহায্য:সম্পাদনা সারাংশ|সম্পাদনা সারাংশ]] ব্যবহার করুন।
* [[উইকিউক্তি:সাহসী হোন|সাহসী হোন]] এবং [[উইকিউক্তি:কীভাবে অবদান রাখব?|অবদান রাখতে]] শুরু করুন!
কোনও পরামর্শ বা সহায়তার জন্য নির্দ্বিধায় [[উইকিউক্তি:আলোচনাসভা|আলোচনাসভায়]] যান অথবা আমার আলাপ পাতায় জিজ্ঞাসা করুন। আপনার সম্পাদনা শুভ হোক ও আবারও স্বাগতম!
— [[উইকিউক্তি:অভ্যর্থনা কমিটি|উইকিউক্তি অভ্যর্থনা কমিটি]]
</div>
১৯:১৩, ৯ এপ্রিল ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[জাইর বলসোনারু]] ==
বেশ কিছু উক্তিতে লিংক করা বাকি। এগুলো সংশোধন এবং বহিঃসংযোগ যোগ করে আমাকে মেনশন করে জানালে গ্রহণ করে নিব।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০০:৩৪, ৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== অনুবাদ ==
আপনি অনুবাদগুলো কিভাবে করেন ।
আমি নতুন তাই কিছু পরামর্শ চাচ্ছি।[[ব্যবহারকারী:MD Sahib|MD Sahib]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MD Sahib|আলাপ]]) ০৩:০৫, ৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন]] ==
বেশিরভাগ তথ্যসূত্রে লিংক যোগ করা হয়নি। এছাড়া উক্তিতে যান্ত্রিকতা আছে। দ্রুত লিংক যোগ না করলে গ্রহণ করা হবে না।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৩:২০, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== [[ফ্রেডরিক ডগলাস]] ==
এই পাতাতেও কোনো উক্তির উৎসে লিংক যোগ করা হয়নি। একই কথা প্রযোজ্য।≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৩:২৩, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] ভাই দুঃখিত। আমি অপ্রত্যাশিত ভাবে হঠাৎ একটি সমস্যায় পড়ে যাওয়ায় কাজ করার সময় পাচ্ছি না। আমি এই ২ টা উক্তির লেখা ভালো করে ঠিক করতে পারি নাই। <nowiki>[[ফ্রেডরিক ডগলাস]]</nowiki> এ কিছু করতে পারি নাই। গ্রহণ করা না হলে এই দুইটা উক্তি ডিলেট করে দিতে পারেন। আমি সময় পেলে করতাম। কিন্তু এখন প্রতিযোগিতা শেষ। আমি এখন ফ্রি সময় এবং মেন্টাল এবিলিটি কিছুই পাচ্ছি না। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ২২:৪১, ১১ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== জন হার্ভে কেলোগ ==
পাতাটির অনুবাদ রুক্ষ ও যান্ত্রিক। অনুগ্রহ করে অপসারণ এড়াতে পাতাটি সংশোধন করুন।[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১৭:৫৩, ১৩ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই আমি করেছি। এখন ঠিক আছে? আর সংশোধন করতে হবে? [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১০:৩৮, ১৪ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ভাই আমি ঠিক করেছিলাম। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ০৮:৫২, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] দুঃখিত, গ্রহণ করা গেলো না। অনুবাদ এখনো যান্ত্রিক। [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ১০:৩৭, ১৫ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] তাহলে এটা ডিলেট করে দিয়েন। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১২:১৪, ১৭ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
== উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫: ফরম পূরণ করুন ==
সুপ্রিয় {{BASEPAGENAME}}, শুভেচ্ছা নিন। [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫]]-এ অংশ নেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার জমা দেওয়া এক বা একাধিক নিবন্ধের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে ও শব্দযোগের ভিত্তিতে আপনি [[উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৫/ফলাফল|শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে স্থান লাভ]] করেছেন। আপনাকে পুরস্কার পাঠাতে আমাদের কিছু তথ্য দরকার। দয়া করে '''[https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSeDWCveBqp7ID0VVW0ipXM-WXeCqE7u-xHQCU_d7FRYo-9vAA/viewform?usp=dialog এই ফরমটি পূরণ করুন]'''। ধন্যবাদ। - ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ০৮:৩১, ১৬ মে ২০২৫ (ইউটিসি)
<!-- https://bn.wikiquote.org/w/index.php?title=%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80:MS_Sakib/%E0%A6%97%E0%A6%A3_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE&oldid=67623-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:খাত্তাব হাসান@bnwikiquote পাঠিয়েছেন -->
:@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] আমি নিবন্ধটি সংশোধন করেছি। [[মারে গেল-মান]] [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১৪:৫৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] গৃহীত হয়েছে। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ২২:৪৮, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] [[নবায়নযোগ্য শক্তি]] সংশোধন করেছি আমি। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ২৩:২৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::গৃহীত হয়েছে। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff"> MS Sakib </b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[বিশেষ:অবদান/MS Sakib|📝]]</b> ১৮:৪৯, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]] ধন্যবাদ। এবার [[স্টিফেন জে গুল্ড]] সংশোধন করেছি। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১৭:৫১, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== নার্গিস মোহাম্মাদি ==
[[নার্গিস মোহাম্মাদি]] পাতাটি পর্যাপ্ত সম্পাদনা না করে জমা দেওয়া হয়েছে। ভালোভাবে সংশোধন করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:০৮, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ধন্যবাদ। আমি আবার পড়ে সংশোধন করেছি। কোনও ভুল পেলে জানাবেন। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১৪:৫৫, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::@[[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] আরো করতে হবে। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২৩:১৪, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] আমি আবার পুরোটা পড়েছি। আমি আসলে বুঝতে পারছি না আর কী করা যাবে এখানে। অনুগ্রহ করে আমাকে পয়েন্ট আউট করে দিলে সুবিধাজনক হতো। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ১৯:৪২, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
::::@[[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] আমি ঠিক করে পাতাটি গ্রহণ করে নিয়েছি। অনুবাদের সময় খেয়াল করবেন যেন কে কাকে কি করছে সেটা স্পষ্ট বোঝা যায়। আর সংশোধনের জন্য লেখার লিংক সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই। [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ২২:০৭, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
:::::@[[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] স্বাধীনতার বদলে মুক্তি লেখতে হবে বুঝতে পারিনি। আপনি সংশোধন করে দিয়ে গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker|Dr. Mosaddek Khondoker]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Dr. Mosaddek Khondoker#top|আলাপ]]) ২৩:২২, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
bkmvompfvnw2u4m61l3vp7duq8ubia4
উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
4
11853
83214
83065
2026-05-01T13:15:41Z
রাইয়ান মাহফুজ
5278
83214
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
* {{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
* {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
* {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}}
* {{ব্যবহারকারী|নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}}
* {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}}
* {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}}
* {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}}
* {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}}
* {{ব্যবহারকারী|Usarker}}
* {{ব্যবহারকারী|M231991d}}
* {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}}
* {{ব্যবহারকারী|Rasel Mehedi}}
* {{ব্যবহারকারী|ENGR MD. LITON SIKDER}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃরাজুমিয়া}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammad Kausar Al Qadri}}
* {{ব্যবহারকারী|SSSinha14}}
* {{ব্যবহারকারী|Nafiz khane}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Mahin Faysal}}
* {{ব্যবহারকারী|TechnoBloxy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Abdullah Al Nibir}}
* {{ব্যবহারকারী|আরিফ শাহ}}
* {{ব্যবহারকারী|মো সজীব সরকার}}
* {{ব্যবহারকারী|Minhaz Shakil}}
* {{ব্যবহারকারী|রিয়ান}}
* {{ব্যবহারকারী|Premkumar samanta}}
* {{ব্যবহারকারী|রাইয়ান মাহফুজ}}
* {{ব্যবহারকারী|তাসনিম সাজিদ নিবিড়}}
* {{ব্যবহারকারী|Jemynokrek}}
* {{ব্যবহারকারী|S.M Hasibul Hasan}}
* {{ব্যবহারকারী|MdMarufHossen71}}
* {{ব্যবহারকারী|Ashrafulalambd1}}
* {{ব্যবহারকারী|Siyan BD}}
* {{ব্যবহারকারী|Trisha Mazumder}}
* {{ব্যবহারকারী|Hridoy The Heart}}
* {{ব্যবহারকারী|Sunil Baran Mishra}}
* {{ব্যবহারকারী|Jemynokrek}}
* {{ব্যবহারকারী|Jemynokrek}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Muqtadir Fuad}}
* {{ব্যবহারকারী|Ak mahmudul sharif}}
* {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}}
* {{ব্যবহারকারী|Jemynokrek}}
* {{ব্যবহারকারী|Jemynokrek}}
* {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}}
* {{ব্যবহারকারী|Rashed kha}}
* {{ব্যবহারকারী|Anik Kanti Dey}}
* {{ব্যবহারকারী|Muhammad Fahim Faisal}}
* {{ব্যবহারকারী|Muhammad Fahim Faisal}}
* {{ব্যবহারকারী|সাজ্জাদ হোসেন-346}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ আরিয়ান}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারুক ফরায়েজি}}
* {{ব্যবহারকারী|Rana mundari}}
* {{ব্যবহারকারী|Sahem Sk}}
* {{ব্যবহারকারী|Ashik212072}}
* {{ব্যবহারকারী|MojahidShaikh1}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahjalal84}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ মুফতাখেরুল ইসলাম মিরাজ}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ মুফতাখেরুল ইসলাম মিরাজ}}
* {{ব্যবহারকারী|SykoPrabhash}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Jubaer Hasan Rafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Karno Roy Shuprto}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Nayed Ahmed Riaj}}
* {{ব্যবহারকারী|Arefintaher}}
* {{ব্যবহারকারী|Redoyanul Haque}}
* {{ব্যবহারকারী|Lostboy044}}
* {{ব্যবহারকারী|দিশা রানী ঘোষ}}
* {{ব্যবহারকারী|Sattajit Banik Linkon}}
* {{ব্যবহারকারী|Farial Mostajir}}
* {{ব্যবহারকারী|Farial Mostajir}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Shohag Mridha}}
* {{ব্যবহারকারী|DNA2026}}
* {{ব্যবহারকারী|মিজানুর রহমান -হবিগঞ্জ}}
* {{ব্যবহারকারী|Faisal al mahmud farhad}}
* {{ব্যবহারকারী|Subha Sen Debjit}}
* {{ব্যবহারকারী|Djsilak2001}}
* {{ব্যবহারকারী|Bdnews247}}
* {{ব্যবহারকারী|এমএ. মায়াজ খান}}
এমএ. মায়াজ খান
শিল্পীর ক্ষুধা কখনো মেটে না। বার বার ওই জায়গায় ফিরতে ইচ্ছে করে। শিল্পীর ক্ষুধা থেকেই যায়। থাকাটাই স্বাভাবিক। একটি নাটকে বা সিনেমায় যত ভালো অভিনয় করা হোক না কেন, পরের কাজটির জন্য আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে যায়।
একজন শিল্পীর অভিনয়ের ক্ষুধা মেটে কিনা এর উত্তরে, ৯ নভেম্বর ২০২৩-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে, উদ্ধৃত: বার বার আমি মঞ্চেই ফিরতে চেয়েছি,
মঞ্চে অভিনয় করার আলাদা একটা আনন্দ আছে। সরাসরি দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়া যায়। দর্শকরা কতটুকু গ্রহণ করলেন, তা সরাসরি দেখা সম্ভব। বার বার আমি মঞ্চেই ফিরতে চেয়েছি।
অভিনয়ের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা সম্পর্কে, ৯ নভেম্বর ২০২৩-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে, উদ্ধৃত: বার বার আমি মঞ্চেই ফিরতে চেয়েছি
পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা আমার নাই। আমি জীবনে এমন কিছুই করিনি যে পরামর্শ দিতে পারি। তবে আমার ছেলে-মেয়েদের যে কথাটা বলি, সেটাই সবাইকে বলি- জীবনে যা-ই করতে চাও হৃদয় দিয়ে কর, পরিশ্রম কর।
আমি হতবাক। কারণ, আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মধ্যে, আমার ধারণা, গোটা তিন চারেক টেলিভিশন মোটামুটি লাভজনক অবস্থায় আছে। তিন-চারটা না হলেও পাঁচ-ছয়টা হবে। এর বেশি কোনো অবস্থাতেই না। বাকি সবগুলো লসের ভেতর আছে। তাহলে যারা মালিক, দীর্ঘদিন ধরে এই টেলিভিশনগুলো চালাচ্ছেন, প্রতি মাসে ভর্তুকি দিয়ে, এটা কেন করছেন আমি জানি না। তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি যে অন্য কোথাও নিশ্চয় লাভ হচ্ছে। যেটা আমরা সাধারণ মানুষ জানি না। হয়তো কারো আত্মশ্লাঘার ব্যাপার আছে— আমি একটা টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক। আমি যেটাকে বলি ইগো মাসাজ। ইগো মাসাজ না হলে অন্য কোথাও কোনো লাভ হচ্ছে। নয়তো আমি বুঝতে পারি না কোনো ব্যবসায়ী কেন একটি ব্যবসা দিনের পর দিন লস দিয়ে চালাবেন। অন্য কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে কি এটা হতো?
আমি মনে করি, যারা সংস্কৃতির চর্চা করছেন এই দেশে, তারা সবাই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারন করেন। বাঙালি চেতনাকে প্রোমোট করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কাজ করেন। তাদের রাজনৈতিক চেতনা নেই এটা আমি মনে করি না।
শিল্পীদের রাজনৈতিক চেতনা সম্পর্কে, ২ নভেম্বর ২০১৬-এ নেয়া সাক্ষাৎকারে, উদ্ধৃত: আসাদুজ্জামান নূর: অনেক বিষয় আছে যেগুলো সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা উচিত
আমাদের পরিচয় হওয়া উচিত আমরা বাঙালি। এই বাঙালির মধ্যে রয়েছে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান থেকে শুরু করে সব ধর্মের মানুষ। ধর্মের ভিত্তিতে বা ভাষার ভিত্তিতে কোনো দেশের পরিচিতি হতে পারে না। তা-ই যদি হতো, তাহলে সৌদি আরব থেকে শুরু করে অধিকাংশ মুসলিম দেশের ভাষা হতো আরবি, ধর্ম ইসলাম; কিন্তু ওই সব দেশের মানুষ নিজেদের সৌদি, মিসরীয়, পাকিস্তানি পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। তাঁরা মাথা উঁচু করে নিজের দেশের পরিচয় দেন। এটা আসলে সঠিক পরিচয়। এই আত্মমর্যাদা নিয়েই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই।
বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর অষ্টম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, ১০ ডিসেম্বর ২০২২
আমার এলাকার মানুষকে আমি প্রচণ্ড ভালোবাসি। তারাও আমাকে খুব ভালোবাসেন। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি। এলাকার প্রতি টান আমার সবসময়ই আছে।
জীবন তো নানাক্ষেত্রে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেল। একদিকে ব্যবসা, একদিকে সাংস্কৃতিক অঙ্গন, আরেকদিকে রাজনীতি। নানামুখী ব্যস্ততা। তারপরও সময় করে প্রতিটি কাজ করার চেষ্টাটা ছিল। তবে, আমার মধ্যে থিয়েটারে ফেরার ইচ্ছেটা প্রবল। নানা কাজের ভিড়েও। জীবন নানা ক্ষেত্রে ছড়ানোর পরও মঞ্চের প্রতি টানটা অনেক বেশি।
প্রতিদিন আমাকে পতাকা উত্তোলন করতে হবে। আমাকে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে। আমাকে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি একটি দেশাত্মবোধক গান জানতে হবে। আমাকে জানতে হবে রবীন্দ্রনাথকে, নজরুলকে, শামসুর রাহমানকে, জীবনানন্দ দাসকে। শুধু সংস্কৃতি কেন, বঙ্গবন্ধুকে আমাকে জানতে হবে না? যারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের কথা জানতে হবে না? আমাদের দেশের বড় বড় যারা পেইন্টার তাদের সম্পর্কে জানতে হবে না? যারা শিক্ষাবিদ, যারা বিজ্ঞানী, যারা খেলোয়াড়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছে এদের সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। এই জানার ভেতর দিয়েই কিন্তু সে নিজেকে তৈরি করবে। সে নিজেই এক সময় ঠিক করবে যে, আমি একজন বড় লেখক হতে চাই। আমি একজন বড় শিক্ষাবিদ হতে চাই। আমি একজন বড় অর্থনীতিবিদ হতে চাই। আমি একজন বড় খেলোয়াড় হতে চাই। বড় শিল্পী হতে চাই। এই যে গড়ে তোলার কাজটা,এটা সবচে' বেশি জরুরি।
* {{ব্যবহারকারী|Jamil Sparrow}}
* {{ব্যবহারকারী|Kh. Fahim}}
* {{ব্যবহারকারী|রাইয়ান মাহফুজ}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Alam baborc}}
বাংলা আমারে বাংলাদেশ, তুই বাংলা যেন আমার মনের ভিতর হৃদয়ের অহংকার এই বাংলা আমার থাকার মরুভূমি জল মুভি তাকে ছাড়া চলে আয় আর দিনে সেই দিলো আমায় থাকার স্থান সেই দিলো আমায় মরার স্থানে সেটা কি আমার আপন ভাই থেকেও আপন * {{ব্যবহারকারী|রাইয়ান মাহফুজ}}
f67q3d5x6r4wes7cu0c08vp94v2fnbk
83235
83214
2026-05-01T14:23:58Z
Tanbiruzzaman
806
[[Special:Contributions/রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[User talk:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]])-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে [[User:MD Alam baborc|MD Alam baborc]]-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত যাওয়া হয়েছে
83065
wikitext
text/x-wiki
{{উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/পরিভ্রমণ|সক্রিয়=6}}
<inputbox>
type = comment
default = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
page = উইকিউক্তি:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
preload = টেমপ্লেট:আমি
editintro = টেমপ্লেট:সম্মিলন/অংশগ্রহণ/সম্পাদনা-ভূমিকা
nosummary=true
hidden = yes
buttonlabel =নাম যোগ করতে এখানে ক্লিক করুন
minor = true
break = no
</inputbox>
{{div col}}
<!--
------------------------------- এই লাইনের উপর সম্পাদনা করবেন না। ---------------------------------------------------
সবার নিচে আপনার ব্যবহারকারী নাম অন্যদের মত করে যুক্ত করুন। উদাহরণ: # {{ব্যবহারকারী|আপনার ব্যবহারকারী নাম}}
--->
<!-- দয়া করে * কে # দিয়ে পরিবর্তন করবেন না -->
<!-- আপনার নাম যোগ করার আগে নিচের কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন
১. এখানে আপনার নাম যোগ করার জন্য # {{ব্যবহারকারী|{{subst:সংশোধনের_ব্যবহারকারী}}}}{{subst:^| এসব কিছু করার দরকার নেই।
২. আপনাকে এখানে কিছু লিখতে হবে না ;) কেবল নিচে যান ও "পরিবর্তন প্রকাশ করুন" ক্লিক করুন। আপনার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
৩. নাম যোগের পর অন্তত একটি নিবন্ধ অনুবাদ করতে ভুলবেন না। অন্যথায় আপনি পুরস্কার পাবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন -->
<!-- এই অংশের পর থেকে আপনার নাম লিখুন -->
* {{ব্যবহারকারী|Dhanaranjan Barman}}
* {{ব্যবহারকারী|NusJaS}}
* {{ব্যবহারকারী|MS Sakib}}
* {{ব্যবহারকারী|ARI}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar Kabir Pavel}}
* {{ব্যবহারকারী|Hmm123india}}
* {{ব্যবহারকারী|Tausheef Hassan}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারদিন}}
* {{ব্যবহারকারী|Sumanta3023}}
* {{ব্যবহারকারী|MdsShakil}}
* {{ব্যবহারকারী|Salil Kumar Mukherjee}}
* {{ব্যবহারকারী|Mojibrsm}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Ataul Haque Shaheen}}
* {{ব্যবহারকারী|MD AZAHAR ALl}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Sadek Ahmed (Abdullah)}}
* {{ব্যবহারকারী|Anaf Ibn Shahibul}}
* {{ব্যবহারকারী|S M Mominul I A J}}
* {{ব্যবহারকারী|Amirhusenjihed}}
* {{ব্যবহারকারী|মুসাঈদ আনসারী ফাহিম}}
* {{ব্যবহারকারী|Firuz Ahmmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanvir 360}}
* {{ব্যবহারকারী|MahdiRiyadX}}
* {{ব্যবহারকারী|NotNahid}}
* {{ব্যবহারকারী|Sohini Biswas 2004}}
* {{ব্যবহারকারী|মো: মুশফিকুর রহমান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোছা:লাভলি বেগম}}
* {{ব্যবহারকারী|Nil Nandy}}
* {{ব্যবহারকারী|MM Tarif}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammed Iftakhar Alam}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Sahib}}
* {{ব্যবহারকারী|Diponbd24}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahriar AhmedSayem}}
* {{ব্যবহারকারী|Arhanahmedanondo}}
* {{ব্যবহারকারী|Sujon shill}}
* {{ব্যবহারকারী|Oindrojalik Watch}}
* {{ব্যবহারকারী|MazeduHaque}}
* {{ব্যবহারকারী|Supriti2026}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminu Islam441}}
* {{ব্যবহারকারী|Tanbiruzzaman}}
* {{ব্যবহারকারী|Raihanur}}
* {{ব্যবহারকারী|Ruposhi88.has}}
* {{ব্যবহারকারী|MD SAJJAT CHOWDHORY}}
* {{ব্যবহারকারী|Rayhan Ahmed Arafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Aminul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মো.খাইরুল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|RushanSheikhRussu34}}
* {{ব্যবহারকারী|নিয়াজ ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|MdTajkar Uddin}}
* {{ব্যবহারকারী|Mst.Maria Parvin}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM ROHAN}}
* {{ব্যবহারকারী|Borhan}}
* {{ব্যবহারকারী|Tamaliya Das Gupta}}
* {{ব্যবহারকারী|Akash Ahmed Jhon}}
* {{ব্যবহারকারী|Md.sarif reza}}
* {{ব্যবহারকারী|MD.AL-AMIN MONDAL}}
* {{ব্যবহারকারী|Asad.fr}}
* {{ব্যবহারকারী|MD RADWAN ISLAM}}
* {{ব্যবহারকারী|ASM Shamimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ তানভীর বানান}}
* {{ব্যবহারকারী|মোহাম্মদ জনি হোসেন}}
* {{ব্যবহারকারী|Red1Ferdous}}
* {{ব্যবহারকারী|AKM Mahinur Rahman}}
* {{ব্যবহারকারী|Writer Debraj Saha}}
* {{ব্যবহারকারী|Kaustav Chowdhury}}
* {{ব্যবহারকারী|JIBON}}
* {{ব্যবহারকারী|SHEIKH}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Samiun}}
* {{ব্যবহারকারী|Mksh46}}
* {{ব্যবহারকারী|Kiran khaskil}}
* {{ব্যবহারকারী|কামরুল ইসলাম মজুমদার}}
* {{ব্যবহারকারী|Nazma Bugam}}
* {{ব্যবহারকারী|Mili Ahmed}}
* {{ব্যবহারকারী|Manik19}}
* {{ব্যবহারকারী|Kamrul bin Jamal}}
* {{ব্যবহারকারী|MD sumon k}}
* {{ব্যবহারকারী|Nayeem Hossain55}}
* {{ব্যবহারকারী|Talha toha}}
* {{ব্যবহারকারী|Shri Avishek Roy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Yasin Omor}}
* {{ব্যবহারকারী|Wizene}}
* {{ব্যবহারকারী|Shovu55}}
* {{ব্যবহারকারী|Afiya07}}
* {{ব্যবহারকারী|সানজার আল ইসলাম}}
* {{ব্যবহারকারী|Bayejid-wiki}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Rayan Alam Rifat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ahnaf Mosaddek}}
* {{ব্যবহারকারী|Mdhabib}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Emon090}}
* {{ব্যবহারকারী|BEnjOhiR}}
* {{ব্যবহারকারী|Md shakhhawat Hossain}}
* {{ব্যবহারকারী|Sheikh Mohammad Alimul Islam}}
* {{ব্যবহারকারী|Rumman Chowdhury 20}}
* {{ব্যবহারকারী|Vugon kumar}}
* {{ব্যবহারকারী|ExceptionistSagar}}
* {{ব্যবহারকারী|দীপক মণ্ডল}}
* {{ব্যবহারকারী|Shourav chandra saha}}
* {{ব্যবহারকারী|চৌধুরী প্রবীর}}
* {{ব্যবহারকারী|Akifa Shazzad Prova}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Jubayer 2012}}
* {{ব্যবহারকারী|Outsourcingbsl}}
* {{ব্যবহারকারী|নুর সাঈদ|নুর সাঈদ}}
* {{ব্যবহারকারী|মাধুর্য বর্মন}}
* {{ব্যবহারকারী|Pabel khan (Sergio)}}
* {{ব্যবহারকারী|রাকিবুল হাসান রাসেল}}
* {{ব্যবহারকারী|Prottasha Sparrow}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammad Shakowat}}
* {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}}
* {{ব্যবহারকারী|Usarker}}
* {{ব্যবহারকারী|M231991d}}
* {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}}
* {{ব্যবহারকারী|Rasel Mehedi}}
* {{ব্যবহারকারী|ENGR MD. LITON SIKDER}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃরাজুমিয়া}}
* {{ব্যবহারকারী|Mohammad Kausar Al Qadri}}
* {{ব্যবহারকারী|SSSinha14}}
* {{ব্যবহারকারী|Nafiz khane}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Mahin Faysal}}
* {{ব্যবহারকারী|TechnoBloxy}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Abdullah Al Nibir}}
* {{ব্যবহারকারী|আরিফ শাহ}}
* {{ব্যবহারকারী|মো সজীব সরকার}}
* {{ব্যবহারকারী|Minhaz Shakil}}
* {{ব্যবহারকারী|রিয়ান}}
* {{ব্যবহারকারী|Premkumar samanta}}
* {{ব্যবহারকারী|রাইয়ান মাহফুজ}}
* {{ব্যবহারকারী|তাসনিম সাজিদ নিবিড়}}
* {{ব্যবহারকারী|Jemynokrek}}
* {{ব্যবহারকারী|S.M Hasibul Hasan}}
* {{ব্যবহারকারী|MdMarufHossen71}}
* {{ব্যবহারকারী|Ashrafulalambd1}}
* {{ব্যবহারকারী|Siyan BD}}
* {{ব্যবহারকারী|Trisha Mazumder}}
* {{ব্যবহারকারী|Hridoy The Heart}}
* {{ব্যবহারকারী|Sunil Baran Mishra}}
* {{ব্যবহারকারী|Jemynokrek}}
* {{ব্যবহারকারী|Jemynokrek}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Muqtadir Fuad}}
* {{ব্যবহারকারী|Ak mahmudul sharif}}
* {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}}
* {{ব্যবহারকারী|Jemynokrek}}
* {{ব্যবহারকারী|Jemynokrek}}
* {{ব্যবহারকারী|Ridoy Khan Rid}}
* {{ব্যবহারকারী|Rashed kha}}
* {{ব্যবহারকারী|Anik Kanti Dey}}
* {{ব্যবহারকারী|Muhammad Fahim Faisal}}
* {{ব্যবহারকারী|Muhammad Fahim Faisal}}
* {{ব্যবহারকারী|সাজ্জাদ হোসেন-346}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ আরিয়ান}}
* {{ব্যবহারকারী|ফারুক ফরায়েজি}}
* {{ব্যবহারকারী|Rana mundari}}
* {{ব্যবহারকারী|Sahem Sk}}
* {{ব্যবহারকারী|Ashik212072}}
* {{ব্যবহারকারী|MojahidShaikh1}}
* {{ব্যবহারকারী|Shahjalal84}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ মুফতাখেরুল ইসলাম মিরাজ}}
* {{ব্যবহারকারী|মোঃ মুফতাখেরুল ইসলাম মিরাজ}}
* {{ব্যবহারকারী|SykoPrabhash}}
* {{ব্যবহারকারী|Md. Jubaer Hasan Rafat}}
* {{ব্যবহারকারী|Karno Roy Shuprto}}
* {{ব্যবহারকারী|Md Nayed Ahmed Riaj}}
* {{ব্যবহারকারী|Arefintaher}}
* {{ব্যবহারকারী|Redoyanul Haque}}
* {{ব্যবহারকারী|Lostboy044}}
* {{ব্যবহারকারী|দিশা রানী ঘোষ}}
* {{ব্যবহারকারী|Sattajit Banik Linkon}}
* {{ব্যবহারকারী|Farial Mostajir}}
* {{ব্যবহারকারী|Farial Mostajir}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Shohag Mridha}}
* {{ব্যবহারকারী|DNA2026}}
* {{ব্যবহারকারী|মিজানুর রহমান -হবিগঞ্জ}}
* {{ব্যবহারকারী|Faisal al mahmud farhad}}
* {{ব্যবহারকারী|Subha Sen Debjit}}
* {{ব্যবহারকারী|Djsilak2001}}
* {{ব্যবহারকারী|Bdnews247}}
* {{ব্যবহারকারী|এমএ. মায়াজ খান}}
এমএ. মায়াজ খান
শিল্পীর ক্ষুধা কখনো মেটে না। বার বার ওই জায়গায় ফিরতে ইচ্ছে করে। শিল্পীর ক্ষুধা থেকেই যায়। থাকাটাই স্বাভাবিক। একটি নাটকে বা সিনেমায় যত ভালো অভিনয় করা হোক না কেন, পরের কাজটির জন্য আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে যায়।
একজন শিল্পীর অভিনয়ের ক্ষুধা মেটে কিনা এর উত্তরে, ৯ নভেম্বর ২০২৩-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে, উদ্ধৃত: বার বার আমি মঞ্চেই ফিরতে চেয়েছি,
মঞ্চে অভিনয় করার আলাদা একটা আনন্দ আছে। সরাসরি দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়া যায়। দর্শকরা কতটুকু গ্রহণ করলেন, তা সরাসরি দেখা সম্ভব। বার বার আমি মঞ্চেই ফিরতে চেয়েছি।
অভিনয়ের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা সম্পর্কে, ৯ নভেম্বর ২০২৩-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে, উদ্ধৃত: বার বার আমি মঞ্চেই ফিরতে চেয়েছি
পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা আমার নাই। আমি জীবনে এমন কিছুই করিনি যে পরামর্শ দিতে পারি। তবে আমার ছেলে-মেয়েদের যে কথাটা বলি, সেটাই সবাইকে বলি- জীবনে যা-ই করতে চাও হৃদয় দিয়ে কর, পরিশ্রম কর।
আমি হতবাক। কারণ, আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মধ্যে, আমার ধারণা, গোটা তিন চারেক টেলিভিশন মোটামুটি লাভজনক অবস্থায় আছে। তিন-চারটা না হলেও পাঁচ-ছয়টা হবে। এর বেশি কোনো অবস্থাতেই না। বাকি সবগুলো লসের ভেতর আছে। তাহলে যারা মালিক, দীর্ঘদিন ধরে এই টেলিভিশনগুলো চালাচ্ছেন, প্রতি মাসে ভর্তুকি দিয়ে, এটা কেন করছেন আমি জানি না। তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি যে অন্য কোথাও নিশ্চয় লাভ হচ্ছে। যেটা আমরা সাধারণ মানুষ জানি না। হয়তো কারো আত্মশ্লাঘার ব্যাপার আছে— আমি একটা টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক। আমি যেটাকে বলি ইগো মাসাজ। ইগো মাসাজ না হলে অন্য কোথাও কোনো লাভ হচ্ছে। নয়তো আমি বুঝতে পারি না কোনো ব্যবসায়ী কেন একটি ব্যবসা দিনের পর দিন লস দিয়ে চালাবেন। অন্য কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে কি এটা হতো?
আমি মনে করি, যারা সংস্কৃতির চর্চা করছেন এই দেশে, তারা সবাই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারন করেন। বাঙালি চেতনাকে প্রোমোট করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কাজ করেন। তাদের রাজনৈতিক চেতনা নেই এটা আমি মনে করি না।
শিল্পীদের রাজনৈতিক চেতনা সম্পর্কে, ২ নভেম্বর ২০১৬-এ নেয়া সাক্ষাৎকারে, উদ্ধৃত: আসাদুজ্জামান নূর: অনেক বিষয় আছে যেগুলো সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা উচিত
আমাদের পরিচয় হওয়া উচিত আমরা বাঙালি। এই বাঙালির মধ্যে রয়েছে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান থেকে শুরু করে সব ধর্মের মানুষ। ধর্মের ভিত্তিতে বা ভাষার ভিত্তিতে কোনো দেশের পরিচিতি হতে পারে না। তা-ই যদি হতো, তাহলে সৌদি আরব থেকে শুরু করে অধিকাংশ মুসলিম দেশের ভাষা হতো আরবি, ধর্ম ইসলাম; কিন্তু ওই সব দেশের মানুষ নিজেদের সৌদি, মিসরীয়, পাকিস্তানি পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। তাঁরা মাথা উঁচু করে নিজের দেশের পরিচয় দেন। এটা আসলে সঠিক পরিচয়। এই আত্মমর্যাদা নিয়েই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই।
বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর অষ্টম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, ১০ ডিসেম্বর ২০২২
আমার এলাকার মানুষকে আমি প্রচণ্ড ভালোবাসি। তারাও আমাকে খুব ভালোবাসেন। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি। এলাকার প্রতি টান আমার সবসময়ই আছে।
জীবন তো নানাক্ষেত্রে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেল। একদিকে ব্যবসা, একদিকে সাংস্কৃতিক অঙ্গন, আরেকদিকে রাজনীতি। নানামুখী ব্যস্ততা। তারপরও সময় করে প্রতিটি কাজ করার চেষ্টাটা ছিল। তবে, আমার মধ্যে থিয়েটারে ফেরার ইচ্ছেটা প্রবল। নানা কাজের ভিড়েও। জীবন নানা ক্ষেত্রে ছড়ানোর পরও মঞ্চের প্রতি টানটা অনেক বেশি।
প্রতিদিন আমাকে পতাকা উত্তোলন করতে হবে। আমাকে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হবে। আমাকে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি একটি দেশাত্মবোধক গান জানতে হবে। আমাকে জানতে হবে রবীন্দ্রনাথকে, নজরুলকে, শামসুর রাহমানকে, জীবনানন্দ দাসকে। শুধু সংস্কৃতি কেন, বঙ্গবন্ধুকে আমাকে জানতে হবে না? যারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের কথা জানতে হবে না? আমাদের দেশের বড় বড় যারা পেইন্টার তাদের সম্পর্কে জানতে হবে না? যারা শিক্ষাবিদ, যারা বিজ্ঞানী, যারা খেলোয়াড়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছে এদের সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। এই জানার ভেতর দিয়েই কিন্তু সে নিজেকে তৈরি করবে। সে নিজেই এক সময় ঠিক করবে যে, আমি একজন বড় লেখক হতে চাই। আমি একজন বড় শিক্ষাবিদ হতে চাই। আমি একজন বড় অর্থনীতিবিদ হতে চাই। আমি একজন বড় খেলোয়াড় হতে চাই। বড় শিল্পী হতে চাই। এই যে গড়ে তোলার কাজটা,এটা সবচে' বেশি জরুরি।
* {{ব্যবহারকারী|Jamil Sparrow}}
* {{ব্যবহারকারী|Kh. Fahim}}
* {{ব্যবহারকারী|রাইয়ান মাহফুজ}}
* {{ব্যবহারকারী|MD Alam baborc}}
l0u3mnf15ehwjs9kot8enp7d07062ty
ব্যবহারকারী:ARI/খেলাঘর
2
11860
83253
82492
2026-05-02T00:25:33Z
ARI
356
83253
wikitext
text/x-wiki
{| class="wikitable sortable"
|-
! ক্রম
! ব্যবহারকারী
! নিবন্ধ
! মোট শব্দ
! বিস্তারিত
|-
| '''১'''
| '''ARI'''
| '''২৭'''
| '''২,৯০,৫৯৪'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৬৭,৯৭৪<br>
অপর্যালোচিত: ১৮,৩৪০<br>
বাতিল: ৪,২৮০
</div>
|-
| '''২'''
| '''Tuhin'''
| '''২৩৪'''
| '''২,০৬,২০৩'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৮৮,২২৩<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১৭,৯৮০
</div>
|-
| '''৩'''
| '''Oindrojalik Watch'''
| '''২৪'''
| '''১,৬৮,৯৪৮'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৫৩,৩৩৮<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১৫,৬১০
</div>
|-
| '''৪'''
| '''Sumanta3023'''
| '''১১০'''
| '''১,২২,৫০০'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৯৫,৫২৮<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২৬,৯৭২
</div>
|-
| '''৫'''
| '''Nil Nandy'''
| '''২৬'''
| '''৬৬,৭৩৭'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৬৬,৭৩৭<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''৬'''
| '''Tanbiruzzaman'''
| '''১৪'''
| '''৬৫,৪০০'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৬৫,৪০০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''৭'''
| '''R1F4T'''
| '''২২'''
| '''২,৮৫,২৭৫'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৬৩,৯৫১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২,২১,৩২৪
</div>
|-
| '''৮'''
| '''SMontaha32'''
| '''১৮'''
| '''৫৫,১১৮'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৫৩,২০৮<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,৯১০
</div>
|-
| '''৯'''
| '''Anik Kanti Dey'''
| '''৩১'''
| '''৫৩,১৬১'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৪২,৩৮১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১০,৭৮০
</div>
|-
| '''১০'''
| '''Salil Kumar Mukherjee'''
| '''২২'''
| '''৩৭,৫৪৯'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২৭,২২১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১০,৩২৮
</div>
|-
| ১১
| Dr. Mosaddek Khondoker
| ৫
| ২২,৩২১
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২২,৩২১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ১২
| Anaf Ibn Shahibul
| ৪৭
| ৫৬,৫৮১
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১৯,৩৪৬<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৩৭,২৩৫
</div>
|-
| ১৩
| মোহাম্মদ জনি হোসেন
| ২৫
| ৮,০১৭
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৫,৩৬৬<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২,৬৫১
</div>
|-
| ১৪
| JIBON
| ৫
| ৫,৫৫৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৪,৭৩২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৮২২
</div>
|-
| ১৫
| Md. Muqtadir Fuad
| ১১
| ৪,০২৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৪,০২৯<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ১৬
| Humaira.thithi
| ৮
| ৩,৭১০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৭৮৭<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৯২৩
</div>
|-
| ১৭
| Amirhusenjihed
| ৩
| ৩,০৬৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৫৬৯<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪৯৫
</div>
|-
| ১৮
| Asikur Rahman
| ৬
| ২,২২৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,২২৯<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ১৯
| Rasel Mehedi
| ১০
| ২,৪৬৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,২২২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২৪৬
</div>
|-
| ২০
| Mahiya50
| ৬
| ২,১৯০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,১৯০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২১
| Borhan
| ৬
| ১,৬৬২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৬৬২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২২
| Raihanur
| ৩
| ১,৫৪২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৫৪২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৩
| Muhammad Fahim Faisal
| ৬
| ১,৪৯৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৪৯৮<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৪
| Firuz Ahmmed
| ৪
| ২,১৯৭
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,১১৭<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,০৮০
</div>
|-
| ২৫
| নিয়াজ ইসলাম
| ২
| ৭৫৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৭৫৬<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৬
| Asad.fr
| ৩
| ৩,২৯৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩৬৪<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২,৯৩৫
</div>
|-
| ২৭
| Md. Rayan Alam Rifat
| ১
| ১৮০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১৮০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৮
| Siyan BD
| ১২
| ১,৫৩৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১৬১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,৩৭৫
</div>
|-
| ২৯
| Trisha Mazumder
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৩০
| MdMarufHossen71
| ২
| ৪৯৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪৯৮
</div>
|-
| ৩১
| Usarker
| ৩
| ১,৪৩৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,৪৩৮
</div>
|-
| ৩২
| রাকিবুল হাসান রাসেল
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৩৩
| MD RADWAN ISLAM
| ৬
| ২৭৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২৭৪
</div>
|-
| ৩৪
| AKM Mahinur Rahman
| ২
| ৪১৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪১৯
</div>
|-
| ৩৫
| MD RADWAN ISLAM ROHAN
| ৫
| ৬১৫
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৬১৫
</div>
|-
| ৩৬
| ShahinurWrites
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৩৭
| Abdullah Al Shishir
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৩৮
| চ্যাম্পিয়ন স্টার ১
| ১
| ৩১২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৩১২
</div>
|}
; পর্যালোচক
{| class="wikitable"
|-
! ক্রম !! নাম !! মোট !! গৃহীত !! বাতিল
|-
| '''১''' || '''Mehedi Abedin''' || '''২৪৩''' || ২১০ || ৩৩
|-
| '''২''' || '''MS Sakib''' || '''১৭৩''' || ১৩৯ || ৩৪
|-
| '''৩''' || '''ARI''' || '''১৫৪''' || ১২৩ || ৩১
|-
| '''৪''' || '''NusJaS''' || '''১২৪''' || ১০২ || ২২
|-
| '''৫''' || '''MdsShakil''' || '''৩২''' || ২৯ || ৩
|-
| '''৬''' || '''Tahmid''' || '''১৪''' || ১০ || ৪
|-
| '''৭''' || '''Yahya''' || '''৫''' || ৪ || ১
|-
! মোট || || ৭৪৫ || ৬১৭ || ১২৮
|}
----
সর্বশেষ হালনাগাদ - ২৩:৩২, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
----
== ব্যবহারকারী ভিত্তিক পরিসংখ্যান ==
=== [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker| Dr. Mosaddek Khondoker]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে উক্তি]] || ৩৯,৩০৩ || ✓
|-
| 2 || [[স্ট্যানলি বল্ডউইন]] || ৩৪,১৩১ || ✕
|-
| 3 || [[খ্রিস্টের অনৈতিহাসিকতা তত্ত্ব]] || ২৮,৭০৭ || ✓
|-
| 4 || [[বেঞ্জামিন ডিসরাইলি]] || ২৯,৪৭৯ || ✓
|-
| 5 || [[রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল]] || ৩০,০৯০ || ✕
|-
| 6 || [[রন পল]] || ২৪,৯২৮ || ✓
|-
| 7 || [[ক্যালকুলাসের ইতিহাস]] || ১৯,১৯৫ || ✓
|-
| 8 || [[অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা]] || ২৩,১০০ || ✓
|-
| 9 || [[ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার]] || ২১,০২৬ || ✓
|-
| 10 || [[স্টিফেন জে গুল্ড]] || ২২,১৫০ || ✓
|-
| 11 || [[এআর-১৫ স্টাইল রাইফেল]] || ১৮,৯০১ || ✓
|-
| 12 || [[শেরি এস. টেপার]] || ২৪,৯৯৯ || ✓
|-
| 13 || [[আউরেলিয়ুস আউগুস্তিনুস]] || ১৯,৩৪৬ || ✓
|-
| 14 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতিত্ব]] || ৪৬,৮৯৯ || ✓
|-
| 15 || [[নবায়নযোগ্য শক্তি]] || ১২,৬১০ || ✓
|-
| 16 || [[নাডিন গর্ডিমার]] || ১,৩৭২ || ✓
|-
| 17 || [[মারে গেল-মান]] || ১,৩২৮ || ✓
|-
| 18 || [[নার্গিস মোহাম্মাদি]] || ১,৭৫৫ || ✓
|-
| 19 || [[সাদি কার্নো]] || ৫,২৫৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১৯
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩,৪০,৩৫৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪,০৪,৫৭৫
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৬৪,২২১
|}
=== [[ব্যবহারকারী:ARI| ARI]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[জে. হাওয়ার্ড মুর]] || ২৪,১৯৫ || ✓
|-
| 2 || [[ভারতে পোশাক]] || ২,২৮৯ || ✓
|-
| 3 || [[ভারতের ভাষা]] || ৬৯৫ || ✓
|-
| 4 || [[মধ্যযুগীয় ভারত]] || ১,৭১৭ || ✓
|-
| 5 || [[ভারতে ইহুদিদের ইতিহাস]] || ২,০৪৬ || ✓
|-
| 6 || [[ভারতে সুফিবাদ]] || ৩,২০৭ || ✕
|-
| 7 || [[পর্তুগিজ ভারত]] || ১,৬৪৩ || ✓
|-
| 8 || [[ভারতের প্রাণী]] || ৩০৫ || ✓
|-
| 9 || [[স্বাধীনতা দিবস]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 10 || [[ভারতে দুর্ভিক্ষ]] || ৩,৭৮১ || ✓
|-
| 11 || [[ভারতে ধর্মহীনতা]] || ২,৩৮৯ || ✓
|-
| 12 || [[ওয়ারেন ফ্যারেল]] || ২১,০৭৮ || ✓
|-
| 13 || [[আর্নেস্ট বেকার]] || ১৩,৫৯৭ || ✓
|-
| 14 || [[অতিপ্রজতা]] || ২৯,৫০১ || ✓
|-
| 15 || [[মোপলা বিদ্রোহ]] || ১৪,৫১২ || ✓
|-
| 16 || [[সীতা রাম গোয়েল]] || ১,৫৯৬ || ✓
|-
| 17 || [[অরুণ শৌরি]] || ১৫,৪৫০ || ✓
|-
| 18 || [[ভারতের ইতিহাস লিখন]] || ১৭,৯১৮ || ✓
|-
| 19 || [[দ্রৌপদী]] || ৬,১৬৪ || ✓
|-
| 20 || [[দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস]] || ২,৬৮৫ || ✕
|-
| 21 || [[রামায়ণ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 22 || [[ভারতে শিক্ষা]] || ১০,৫৮০ || ✓
|-
| 23 || [[ভারতে নারী]] || ৬,১৫০ || ✓
|-
| 24 || [[বন্যপ্রাণীর কষ্ট]] || ৩৩,৭৪১ || ✓
|-
| 25 || [[নিরামিষবাদ]] || ৩০,৬২৭ || ✓
|-
| 26 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতিত্ব]] || ৩৭,৫৭২ || ✓
|-
| 27 || [[নির্বাচন]] || ৭,০২৫ || ✓
|-
| 28 || [[সরকার]] || ২২,৭৫৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৮
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩,০৯,০০৫
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,১৪,৮৯৭
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৫,৮৯২
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Tuhin| Tuhin]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মহুয়া মৈত্র]] || ৬৫০ || ✓
|-
| 2 || [[হেনরি হোম, লর্ড কেইমস]] || ১,২৯৬ || ✓
|-
| 3 || [[লেটি কটিন পোগ্রেবিন]] || ৩৭০ || ✓
|-
| 4 || [[মার্জ পিয়ার্সি]] || ৬,৭৯০ || ✓
|-
| 5 || [[এলেন ডুইবস]] || ৮০৪ || ✓
|-
| 6 || [[মেরেডিথ ট্যাক্স]] || ৪৯১ || ✓
|-
| 7 || [[মুলক রাজ আনন্দ]] || ২৩৫ || ✓
|-
| 8 || [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধর্ষণ]] || ১,৯২০ || ✓
|-
| 9 || [[সুসান ব্রাউনমিলার]] || ৯৯১ || ✓
|-
| 10 || [[রবিন মরগান]] || ১,২২১ || ✓
|-
| 11 || [[ভিভিয়ান গোর্নিক]] || ২,৬৯০ || ✓
|-
| 12 || [[ডরোথি রে হিলি]] || ২,৬৩৮ || ✕
|-
| 13 || [[ক্লডিয়া জোন্স]] || ১,২৯৯ || ✓
|-
| 14 || [[গের্ডা লার্নার]] || ৩,৪২৮ || ✓
|-
| 15 || [[এলিজাবেথ গার্লি ফ্লিন]] || ৯,৬৭৭ || ✕
|-
| 16 || [[এলা রিভ ব্লুর]] || ১,৯১৭ || ✓
|-
| 17 || [[টমাস হিউজ]] || ৯৯৬ || ✓
|-
| 18 || [[মার্গারিট দুরাস]] || ৩৪৯ || ✓
|-
| 19 || [[বেন অ্যারোনোভিচ]] || ৮,৭৯৭ || ✓
|-
| 20 || [[গ্লেন কুক]] || ৯,৯৮৫ || ✓
|-
| 21 || [[আব্রাহাম কাহান]] || ২,১৩৩ || ✓
|-
| 22 || [[গ্রেস পেলি]] || ৮,১৬৪ || ✕
|-
| 23 || [[স্টিফেন ক্রেন]] || ১,৯৬৩ || ✕
|-
| 24 || [[জোসেফাইন হার্বস্ট]] || ৪২৭ || ✓
|-
| 25 || [[জর্জ গিসিং]] || ২,০০৫ || ✓
|-
| 26 || [[আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা]] || ৩,২৬২ || ✕
|-
| 27 || [[মেরি অ্যান্টিন]] || ৪৯০ || ✓
|-
| 28 || [[জয়েস অ্যান্টলার]] || ৪২৯ || ✓
|-
| 29 || [[ক্যাথরিন ম্যাককিনন]] || ২,১৭৮ || ✓
|-
| 30 || [[বেটিনা আপথেকার]] || ১,০২০ || ✓
|-
| 31 || [[ক্যারি চ্যাপম্যান ক্যাট]] || ১,৬০৩ || ✓
|-
| 32 || [[জ্যানেট র্যাঙ্কিন]] || ৭২১ || ✓
|-
| 33 || [[ফ্রান্সেস উইলার্ড]] || ৯৪১ || ✕
|-
| 34 || [[অ্যালিস স্টোন ব্ল্যাকওয়েল]] || ৫৪০ || ✕
|-
| 35 || [[অ্যানা এলিজাবেথ ডিকিনসন]] || ৭৫১ || ✕
|-
| 36 || [[মেরি লিভারমোর]] || ২,৩০৭ || ✕
|-
| 37 || [[দাড়ি]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 38 || [[স্যার হেনরি হোবার্ট, ১ম ব্যারোনেট]] || ৭৩৮ || ✓
|-
| 39 || [[হার্ডিঞ্জ স্ট্যানলি গিফার্ড, হালসবুরির ১ম আর্ল]] || ৪১৯ || ✓
|-
| 40 || [[এ. ভি. ডাইসি]] || ১,৩৮১ || ✕
|-
| 41 || [[আলফ্রেড ডেনিং, ব্যারন ডেনিং]] || ৩,৮৩২ || ✓
|-
| 42 || [[টমাস ডেনিসন]] || ৪০০ || ✓
|-
| 43 || [[স্যার ফ্রান্সিস বুলার, ১ম ব্যারোনেট]] || ৯৬২ || ✓
|-
| 44 || [[নিকোলাস ব্রাতজা]] || ২৬৪ || ✓
|-
| 45 || [[রবার্ট অ্যাটকিনস]] || ৩৩৩ || ✕
|-
| 46 || [[রিচার্ড পেপার আর্ডেন, ১ম ব্যারন অ্যালভানলি]] || ৩৫১ || ✓
|-
| 47 || [[এডওয়ার্ড হল অল্ডারসন]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 48 || [[অ্যামব্রোজ বিয়ার্স]] || ৫,৫৪১ || ✕
|-
| 49 || [[মেওয়াত]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 50 || [[নানাবতী-মেহতা কমিশন]] || ২,৪৪৪ || ✓
|-
| 51 || [[ভারতে ঔষধ শিল্প]] || ১,৯২১ || ✓
|-
| 52 || [[পাঞ্জাব]] || ১,৪০৬ || ✓
|-
| 53 || [[রামনবমী]] || ৮৬২ || ✓
|-
| 54 || [[ভারতের শহরসমূহের নাম পরিবর্তন]] || ৪৪১ || ✓
|-
| 55 || [[নুপুর শর্মা]] || ৬০১ || ✓
|-
| 56 || [[রিপাবলিক টিভি]] || ৪৫৫ || ✓
|-
| 57 || [[রোহিলখণ্ড]] || ৪৪০ || ✓
|-
| 58 || [[রোহিলা]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 59 || [[সৌরাষ্ট্র]] || ৬৫৪ || ✓
|-
| 60 || [[ভারতে তিন তালাক]] || ১,১৩৪ || ✓
|-
| 61 || [[ভারতের পবিত্র উপবন]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 62 || [[অভিন্ন দেওয়ানি বিধি]] || ৩,৭৩৭ || ✓
|-
| 63 || [[নবনীত আদিত্য ওয়াইবা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 64 || [[ভারতে জল সরবরাহ ও স্যানিটেশন]] || ৭৪০ || ✓
|-
| 65 || [[জমিদার]] || ৩৮১ || ✕
|-
| 66 || [[নিখিল ভারত মুসলিম লীগ]] || ১,৭৩৭ || ✕
|-
| 67 || [[ফতোয়া]] || ৪৮৪ || ✓
|-
| 68 || [[দারা শিকোহ]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 69 || [[আমেরিকা নিপাত যাক]] || ৬৩৯ || ✓
|-
| 70 || [[মহা শয়তান]] || ৪১৪ || ✓
|-
| 71 || [[উলামা]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 72 || [[দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম জাতীয়তাবাদ]] || ১,৫১৬ || ✓
|-
| 73 || [[পার্সি-মুসলিম দাঙ্গা]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 74 || [[ভারতে দাঙ্গা]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 75 || [[ভারতে পেগাসাস প্রকল্পের উদঘাটন]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 76 || [[নেহরুবাদ]] || ৯৫২ || ✓
|-
| 77 || [[২জি স্পেকট্রাম মামলা]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 78 || [[রাহুল গান্ধী]] || ৪,০০৪ || ✓
|-
| 79 || [[আকবরউদ্দিন ওয়াইসি]] || ২৯৮ || ✓
|-
| 80 || [[ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ২০২৪]] || ২,৫৭৭ || ✓
|-
| 81 || [[ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 82 || [[নাইলা আলি খান]] || ২০৪ || ✓
|-
| 83 || [[অরুণ জেটলি]] || ৪৮১ || ✓
|-
| 84 || [[সুকেতু মেহতা]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 85 || [[রুক্মিণী মৈত্র]] || ৩৫৪ || ✓
|-
| 86 || [[মানব গুপ্ত]] || ৬৩৪ || ✕
|-
| 87 || [[মোহিনী মোহন ধর]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 88 || [[দিলীপ কুমার চক্রবর্তী]] || ২,৫৯৭ || ✓
|-
| 89 || [[রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 90 || [[পিটার অ্যাক্রয়েড]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 91 || [[হ্যারল্ড ব্লুম]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 92 || [[জেমস বসওয়েল]] || ১,১৪৯ || ✓
|-
| 93 || [[অলিভার গোল্ডস্মিথ]] || ৩,১৭৮ || ✓
|-
| 94 || [[হেনরি জাইলস]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 95 || [[এডউইন হাবেল চ্যাপিন]] || ৭৭০ || ✓
|-
| 96 || [[অবমাননা]] || ৭৮৮ || ✓
|-
| 97 || [[আদালত অবমাননা]] || ৮২৯ || ✓
|-
| 98 || [[আইনপ্রণেতা]] || ৭৪৩ || ✓
|-
| 99 || [[লেই বারডুগো]] || ১২২ || ✓
|-
| 100 || [[উইলিয়াম ব্রেট, ১ম ভিসকাউন্ট এশার]] || ১,০২০ || ✓
|-
| 101 || [[হেনরি হকিন্স, ১ম ব্যারন ব্র্যাম্পটন]] || ৩০৩ || ✓
|-
| 102 || [[জুনিয়াস]] || ১,৪১২ || ✓
|-
| 103 || [[উইলিয়াম মারে, ম্যানসফিল্ডের ১ম আর্ল]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 104 || [[জোসেফ ইয়েটস]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 105 || [[স্যার জন বেইলি, ১ম ব্যারোনেট]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 106 || [[হেনরি বিকারস্টথ, ১ম ব্যারন ল্যাংডেল]] || ৪১৫ || ✓
|-
| 107 || [[এডওয়ার্ড ল, ১ম ব্যারন এলেনবরো]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 108 || [[লয়েড কেনিয়ন, ১ম ব্যারন কেনিয়ন]] || ৪,৪০৮ || ✓
|-
| 109 || [[জন হোল্ট]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 110 || [[চার্লস বোয়েন, ব্যারন বোয়েন]] || ১,০৩৭ || ✓
|-
| 111 || [[চার্লস অ্যাবট, ১ম ব্যারন টেন্টারডেন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 112 || [[ন্যায়বিচার প্রশাসন]] || ২,৮৯৯ || ✓
|-
| 113 || [[আদালত]] || ১,৮১৮ || ✕
|-
| 114 || [[রোজান এ. ব্রাউন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 115 || [[মারিয়ন জিমার ব্র্যাডলি]] || ১,১০৪ || ✓
|-
| 116 || [[টেরি ব্রুকস]] || ৪৮৫ || ✓
|-
| 117 || [[লেই ব্র্যাকেট]] || ১,১১২ || ✓
|-
| 118 || [[জ্যাক ক্যাডি]] || ১,৫৬৮ || ✓
|-
| 119 || [[মেল ব্রুকস]] || ২,০১৬ || ✕
|-
| 120 || [[মাইকেল বিশপ]] || ৯৬০ || ✕
|-
| 121 || [[এলিজাবেথ বেয়ার]] || ৭০৫ || ✓
|-
| 122 || [[মার্গারেট বল]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 123 || [[পাওলো বাসিগালুপি]] || ৬৪৭ || ✓
|-
| 124 || [[কেলি আর্মস্ট্রং]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 125 || [[ক্যাথরিন আসরো]] || ৩৬১ || ✓
|-
| 126 || [[পিয়ার্স অ্যান্থনি]] || ২২৯ || ✓
|-
| 127 || [[রবার্ট আইকম্যান]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 128 || [[আইনজীবী]] || ২,৩২৯ || ✓
|-
| 129 || [[আইনসভা]] || ২,৩৪৩ || ✓
|-
| 130 || [[জর্জ বুশনার]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 131 || [[জোসেফ গার্নি ক্যানন]] || ৭০৯ || ✓
|-
| 132 || [[সংখ্যাগরিষ্ঠ]] || ১,৩৫৬ || ✓
|-
| 133 || [[সংখ্যালঘু গোষ্ঠী]] || ১,৮৮১ || ✓
|-
| 134 || [[প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 135 || [[মানব আচরণ]] || ৮৫২ || ✓
|-
| 136 || [[হার্ভে ম্যানসফিল্ড]] || ৯৭৯ || ✓
|-
| 137 || [[রাষ্ট্রবিজ্ঞান]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 138 || [[রাজনৈতিক দর্শন]] || ১,২৮৫ || ✓
|-
| 139 || [[দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা]] || ১,০৮৭ || ✓
|-
| 140 || [[আগ্রাসন]] || ৯২০ || ✓
|-
| 141 || [[হিন্দুত্ব]] || ২,৭০০ || ✓
|-
| 142 || [[ফ্লাভিয়া অ্যাগনেস]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 143 || [[লাভ জিহাদ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব]] || ৩,১৫০ || ✓
|-
| 144 || [[মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড]] || ১,৭৭৮ || ✓
|-
| 145 || [[যোগিন্দর সিকান্দ]] || ৮১৪ || ✓
|-
| 146 || [[ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা]] || ৮৫১ || ✓
|-
| 147 || [[জয় শ্রীরাম]] || ৭০৮ || ✓
|-
| 148 || [[লালকৃষ্ণ আডবাণী]] || ১,৫৫৫ || ✓
|-
| 149 || [[রাম রথযাত্রা]] || ১,৫৭৯ || ✓
|-
| 150 || [[হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন]] || ১,৪৫৫ || ✓
|-
| 151 || [[হর্ষ মান্দার]] || ৬৬০ || ✓
|-
| 152 || [[স্বপন দাশগুপ্ত]] || ১,১৬৭ || ✓
|-
| 153 || [[জরাথুস্ট্রবাদ]] || ৩৭৭ || ✓
|-
| 154 || [[পার্সি]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 155 || [[নাগরিকত্ব]] || ১,৮৭৯ || ✓
|-
| 156 || [[ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০]] || ৬৭৯ || ✓
|-
| 157 || [[মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯]] || ৭৬৯ || ✓
|-
| 158 || [[অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিশু শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯]] || ৩৭৯ || ✓
|-
| 159 || [[বোম্বাই দাঙ্গা]] || ৭৭৬ || ✓
|-
| 160 || [[বজরং দল]] || ৩৩১ || ✓
|-
| 161 || [[সংসদীয় ব্যবস্থা]] || ৪০৫ || ✓
|-
| 162 || [[বিচার বিভাগীয় ব্যাখ্যা]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 163 || [[বর্ণবাদ পরবর্তী আমেরিকা]] || ১,০৬৯ || ✓
|-
| 164 || [[শ্বেতাঙ্গ বিশেষাধিকার]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 165 || [[বিশেষাধিকার]] || ৭১২ || ✓
|-
| 166 || [[মানবহিতৈষণা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 167 || [[ভারত সরকার]] || ১,২২০ || ✓
|-
| 168 || [[শিলং]] || ৯৭৩ || ✓
|-
| 169 || [[মাঝৌলি রাজ]] || ৫৬০ || ✓
|-
| 170 || [[কালিকট]] || ৪৫৪ || ✓
|-
| 171 || [[যাজপুর]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 172 || [[কালিবাঙ্গান]] || ৭৩৮ || ✓
|-
| 173 || [[কাডাপা]] || ৪১৩ || ✓
|-
| 174 || [[ইদার]] || ৫৮৬ || ✓
|-
| 175 || [[গোধরা]] || ১,০১০ || ✓
|-
| 176 || [[ভুবনেশ্বর]] || ১,১৬৫ || ✓
|-
| 177 || [[অমৃতসর]] || ৮৬৮ || ✓
|-
| 178 || [[আম্বালা]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 179 || [[হায়দ্রাবাদ]] || ৩,২৪৮ || ✓
|-
| 180 || [[২০১৯ হায়দ্রাবাদ গণধর্ষণ]] || ১৭৭ || ✓
|-
| 181 || [[মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি]] || ৪২৩ || ✕
|-
| 182 || [[হায়দ্রাবাদ অধিগ্রহণ]] || ৪৫৬ || ✓
|-
| 183 || [[১৮৯৯-১৯০০ সালের ভারতীয় দুর্ভিক্ষ]] || ৫৪১ || ✓
|-
| 184 || [[১৯৯০ হায়দ্রাবাদ দাঙ্গা]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 185 || [[গুয়াহাটি]] || ১,৭৯৬ || ✓
|-
| 186 || [[গৌড়]] || ১,৯৩৬ || ✓
|-
| 187 || [[বিজাপুর]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 188 || [[মাণ্ডু]] || ৩৯৪ || ✓
|-
| 189 || [[খাজুরাহো]] || ৩৭১ || ✓
|-
| 190 || [[চান্দেরী]] || ৫০৭ || ✓
|-
| 191 || [[জুনাগড়]] || ৭১৯ || ✓
|-
| 192 || [[বৃহৎ কচ্ছের রাণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 193 || [[আহমেদাবাদ]] || ১,৮১২ || ✓
|-
| 194 || [[কচ্ছ জেলা]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 195 || [[দৃশদ্বতী নদী]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 196 || [[চেনাব নদী]] || ৩২১ || ✓
|-
| 197 || [[পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 198 || [[মুর্শিদাবাদ সহিংসতা]] || ২৫৭ || ✓
|-
| 199 || [[২০২৪ সন্দেশখালী সহিংসতা]] || ১,০৬১ || ✓
|-
| 200 || [[২০২২ বীরভূম সহিংসতা]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 201 || [[মৈতৈ জাতি]] || ৫২৭ || ✕
|-
| 202 || [[মৈতৈ সভ্যতা]] || ৩৫০ || ✓
|-
| 203 || [[মণিপুর]] || ৩০৬ || ✕
|-
| 204 || [[লাক্ষাদ্বীপ]] || ৩২৯ || ✓
|-
| 205 || [[বৃন্দাবন]] || ৬৮২ || ✕
|-
| 206 || [[সম্ভল]] || ২৪৩ || ✓
|-
| 207 || [[এলাহাবাদ]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 208 || [[আলিগড়]] || ৪০৯ || ✓
|-
| 209 || [[স্ট্যাচু অব ইউনিটি]] || ২৪১ || ✓
|-
| 210 || [[ভারতের দুর্গ]] || ৩১৪ || ✓
|-
| 211 || [[দ্য দুন স্কুল]] || ৬৬৪ || ✓
|-
| 212 || [[কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 213 || [[আগ্রা]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 214 || [[২০২০ দিল্লি দাঙ্গা]] || ১,১৭৮ || ✓
|-
| 215 || [[তিরুচিরাপল্লী]] || ৬২৬ || ✓
|-
| 216 || [[সেন্ট থমাস ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা, চেন্নাই]] || ৩৮০ || ✕
|-
| 217 || [[আতঙ্ক]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 218 || [[ভারতে দুর্নীতি]] || ১,০০৭ || ✓
|-
| 219 || [[তামিলনাড়ুর মন্দির]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 220 || [[এম. কে. স্ট্যালিন]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 221 || [[তামিলনাড়ু]] || ৫৪৩ || ✓
|-
| 222 || [[তামিলনাড়ুর হিন্দি বিরোধী আন্দোলন]] || ৪৬৫ || ✓
|-
| 223 || [[যোধপুর]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 224 || [[রাজস্থান]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 225 || [[ওড়িশা]] || ৭৪৫ || ✓
|-
| 226 || [[১৯৯৮ কোয়েম্বাটুর বোমা হামলা]] || ৫৩৭ || ✓
|-
| 227 || [[উত্তর-পূর্ব ভারতে বিদ্রোহ]] || ৩৯৮ || ✓
|-
| 228 || [[মারাদ হত্যাকাণ্ড]] || ৩৫২ || ✓
|-
| 229 || [[মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 230 || [[স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 231 || [[বিষ্ণু]] || ৬১৭ || ✓
|-
| 232 || [[২০২৪ রিয়াসি হামলা]] || ৩০২ || ✓
|-
| 233 || [[২০০৬ মালেগাঁও বোমা হামলা]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 234 || [[২০০৬ মুম্বই রেলে বোমা হামলা]] || ১৯০ || ✓
|-
| 235 || [[মুম্বই]] || ১,২২৪ || ✓
|-
| 236 || [[দৌলতাবাদ, মহারাষ্ট্র]] || ৮৮৯ || ✕
|-
| 237 || [[মহারাষ্ট্র]] || ৪৯৯ || ✓
|-
| 238 || [[পিনারাই বিজয়ন]] || ৫২৩ || ✓
|-
| 239 || [[আরব দেশ]] || ৯১৪ || ✓
|-
| 240 || [[দক্ষিণ এশিয়া]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 241 || [[শহুরে অবক্ষয়]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 242 || [[নগরায়ন]] || ১,০৯৭ || ✓
|-
| 243 || [[কেরল]] || ৩৬৫ || ✓
|-
| 244 || [[জম্মু ও কাশ্মীরে বিদ্রোহ]] || ৪১৮ || ✓
|-
| 245 || [[জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার]] || ৯৬৪ || ✓
|-
| 246 || [[শ্রীনগর]] || ১,৭২৯ || ✓
|-
| 247 || [[কাশ্মীর উপত্যকা]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 248 || [[লাদাখ]] || ৬৯৪ || ✓
|-
| 249 || [[কাশ্মীরি জাতি]] || ৮১৩ || ✓
|-
| 250 || [[তারিখ-ই-কাশ্মীর]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 251 || [[কর্ণাটক]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 252 || [[কর্ণাটকের রাজনীতি]] || ৪৩৯ || ✓
|-
| 253 || [[বেঙ্গালুরু]] || ৬১৪ || ✓
|-
| 254 || [[আসামে ইসলাম]] || ৬৯০ || ✓
|-
| 255 || [[আসামের ইতিহাস]] || ৭২৬ || ✓
|-
| 256 || [[আসামে হিন্দুধর্ম]] || ৩২৫ || ✓
|-
| 257 || [[ভারতের জনমিতি]] || ৩,৩৭৩ || ✓
|-
| 258 || [[বাংলাদেশের জনমিতি]] || ১,১৯৫ || ✓
|-
| 259 || [[পাকিস্তানের জনমিতি]] || ৮৫০ || ✓
|-
| 260 || [[আসামের জনমিতি]] || ১৮২ || ✓
|-
| 261 || [[বিহার]] || ৪৫৮ || ✓
|-
| 262 || [[পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি]] || ১৮১ || ✓
|-
| 263 || [[শাহ বানু মামলা]] || ৭৯৯ || ✕
|-
| 264 || [[ইসরায়েল–ভারত সম্পর্ক]] || ৮৯৭ || ✓
|-
| 265 || [[প্রণব মুখোপাধ্যায়]] || ৫৯৫ || ✓
|-
| 266 || [[দ্রৌপদী মুর্মু]] || ২৪৯ || ✓
|-
| 267 || [[ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ]] || ১,৬৪৭ || ✓
|-
| 268 || [[এলজিবিটিকিউ অধিকার বিরোধিতা]] || ২,০৪৯ || ✓
|-
| 269 || [[গেফোবিয়া]] || ২৭৮ || ✓
|-
| 270 || [[সমকামী যৌন চর্চা]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 271 || [[উভকামিতা]] || ১,৫৬০ || ✓
|-
| 272 || [[কামিং আউট]] || ৮০৫ || ✓
|-
| 273 || [[স্মৃতি ইরানি]] || ৯৯১ || ✓
|-
| 274 || [[মেনকা গান্ধী]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 275 || [[যশবন্ত সিং]] || ২০৬ || ✓
|-
| 276 || [[সৈয়দ শাহাবুদ্দিন]] || ৫৭৯ || ✓
|-
| 277 || [[শাকিল আহমদ]] || ১২৪ || ✓
|-
| 278 || [[তথাগত রায়]] || ২৭৫ || ✓
|-
| 279 || [[লালুপ্রসাদ যাদব]] || ১,১০৯ || ✓
|-
| 280 || [[আসাদউদ্দিন ওয়াইসি]] || ৪১৩ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৮০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,৪৮,৫৮৮
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,০০,৬৫৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪৯,৯৩৭
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch| Oindrojalik Watch]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ভ্রান্ত উদ্ধৃতি]] || ৯,৮৬৯ || ✓
|-
| 2 || [[২০১১ ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ]] || ৯৬৩ || ✓
|-
| 3 || [[তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] || ৩,১৭৯ || ✓
|-
| 4 || [[আফগান যুদ্ধ]] || ৪,৬২০ || ✓
|-
| 5 || [[ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ]] || ১২,৩৮২ || ✓
|-
| 6 || [[ইরাক যুদ্ধ]] || ১২,৩৪৪ || ✓
|-
| 7 || [[যুক্তরাজ্যের তৃতীয় জর্জ]] || ১২,০৪২ || ✓
|-
| 8 || [[২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৮৮৩ || ✓
|-
| 9 || [[২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৩,৫১৪ || ✓
|-
| 10 || [[২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬১১ || ✓
|-
| 11 || [[ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ]] || ১,৫৪২ || ✓
|-
| 12 || [[স্নায়ুযুদ্ধ]] || ১৫,৬১০ || ✓
|-
| 13 || [[দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ]] || ৪,৬৬৮ || ✓
|-
| 14 || [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] || ২৪,১৭৭ || ✓
|-
| 15 || [[মহত্ত্ব]] || ৭,৮১৪ || ✓
|-
| 16 || [[সাংবাদিকতা]] || ১৩,৪৭৭ || ✓
|-
| 17 || [[প্যানডিজম]] || ১০,৩০০ || ✓
|-
| 18 || [[গাজা যুদ্ধ]] || ১৬,৯৮২ || ✓
|-
| 19 || [[২০২৬ ইরান যুদ্ধ]] || ৬,৯৮১ || ✓
|-
| 20 || [[পারমাণবিক অস্ত্র]] || ৩,২৩৩ || ✓
|-
| 21 || [[২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 22 || [[ক্রুসেড]] || ৯৯৬ || ✓
|-
| 23 || [[অ্যানিমেশন]] || ৯,৪৫৭ || ✓
|-
| 24 || [[দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি]] || ৭৫৫ || ✓
|-
| 25 || [[ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ]] || ৩,৭৬৩ || ✓
|-
| 26 || [[পারমাণবিক যুদ্ধ]] || ৫,৫২০ || ✓
|-
| 27 || [[আল খোয়ারিজমি]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 28 || [[ফজলে রাব্বী]] || ৬৩৫ || ✓
|-
| 29 || [[ডেভিড হিউম]] || ১১,৭৮০ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৯
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৯০,১০১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৯৯,৯৭০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:NusJaS| NusJaS]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লিটিশা এলিজাবেথ ল্যান্ডন]] || ২৫,৯৭৯ || ✓
|-
| 2 || [[প্রজননবিরোধবাদ]] || ৩০,৯৭০ || ✓
|-
| 3 || [[উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন]] || ২৮,৬১৯ || ✓
|-
| 4 || [[ক্রিস্টোফার হিচেন্স]] || ২৫,৯২২ || ✓
|-
| 5 || [[বলপূর্বক খাওয়ানো]] || ২২,৬২২ || ✓
|-
| 6 || [[জন স্টুয়ার্ট মিল]] || ২২,৭৮৩ || ✓
|-
| 7 || [[রবার্ট গ্যাসকয়েন-সিসিল, স্যালিসবারির ৩য় মার্কুইস]] || ২০,৮৯৮ || ✓
|-
| 8 || [[অ্যারন রা]] || ২১,৯৫৫ || ✓
|-
| 9 || [[ফায়ারপ্লেস]] || ২১,৪১৭ || ✓
|-
| 10 || [[জন হার্ভে কেলোগ]] || ৩০,৭৪৮ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৬৬,৩৪৫
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৫১,৯১৩
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:SMontaha32| SMontaha32]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী]] || ১৯,১০০ || ✕
|-
| 2 || [[ভাকলাভ হাভেল]] || ৯,৩৫৭ || ✓
|-
| 3 || [[নরউইচের জুলিয়ান]] || ৩১,৬৩৩ || ✕
|-
| 4 || [[রামসে ম্যাকডোনাল্ড]] || ৯,৬২২ || ✓
|-
| 5 || [[জন মুয়ির]] || ৮,০৬১ || ✓
|-
| 6 || [[মার্গারেট অ্যাটউড]] || ৬,৩২৮ || ✓
|-
| 7 || [[পেত্র ক্রাপোতকিন]] || ১০,৮১৬ || ✕
|-
| 8 || [[টমাস হেনরি হাক্সলি]] || ৮,৫০৩ || ✓
|-
| 9 || [[উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস]] || ৭,২১০ || ✓
|-
| 10 || [[উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস]] || ৪,২৬০ || ✓
|-
| 11 || [[তাওয়াক্কোল কারমান]] || ৪,০৯৭ || ✓
|-
| 12 || [[র্যাচেল কারসন]] || ৪,৭৬৭ || ✓
|-
| 13 || [[আর্নেস্ট হেমিংওয়ে]] || ১৪,৯০৭ || ✓
|-
| 14 || [[আর্থার এডিংটন]] || ৫,৬৩৭ || ✓
|-
| 15 || [[এরিক হবসবাউম]] || ৫,৮৭৩ || ✓
|-
| 16 || [[টনি মরিসন]] || ১০,৩৮৩ || ✓
|-
| 17 || [[টনি বেন]] || ১০,৩৯৯ || ✕
|-
| 18 || [[নরম্যান মেইলার]] || ৬,৬০৬ || ✓
|-
| 19 || [[পল স্যামুয়েলসন]] || ৬,৮৫১ || ✓
|-
| 20 || [[এইচ. পি. লাভক্র্যাফট]] || ২৫,৪৭২ || ✓
|-
| 21 || [[ব্লেজ পাসকাল]] || ৩,০৫১ || ✓
|-
| 22 || [[চিনুয়া আচেবে]] || ৬,০৪২ || ✓
|-
| 23 || [[ডরিস লেসিং]] || ৪,৬২১ || ✓
|-
| 24 || [[ফেদেরিকো ফাগিন]] || ৬০০ || ✓
|-
| 25 || [[আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক]] || ১,২১১ || ✓
|-
| 26 || [[আঙ্গেলা ম্যার্কেল]] || ২,০২৯ || ✓
|-
| 27 || [[আনাক্সাগোরাস]] || ৩,৬৭১ || ✓
|-
| 28 || [[আমোস তভারস্কি]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 29 || [[আলফ্রেড মার্শাল]] || ১,৩০৯ || ✓
|-
| 30 || [[আলবার্টাস ম্যাগনাস]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 31 || [[অনিতা ব্রুকনার]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 32 || [[আলফ্রেড কিনসে]] || ১,০৩৩ || ✓
|-
| 33 || [[অ্যালান কে]] || ৯২৪ || ✓
|-
| 34 || [[আলেকজান্ডার ফ্লেমিং]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 35 || [[ক্যারোলিন বার্তোজি]] || ৪১১ || ✓
|-
| 36 || [[আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস]] || ১,৬৫৯ || ✓
|-
| 37 || [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] || ১,৪৩৬ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৬৫,৬৭০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৩৯,৫২৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৭৩,৮৫৮
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023| Sumanta3023]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লিওনিদ ক্যান্টোরোভিচ]] || ১,৪২২ || ✓
|-
| 2 || [[থিওডোসিয়াস ডবঝানস্কি]] || ৭৬০ || ✕
|-
| 3 || [[টেরেন্স টাও]] || ৭২০ || ✓
|-
| 4 || [[ফিলিপ]] || ৪২৬ || ✓
|-
| 5 || [[জুলিয়ান শুইঙার]] || ১,৩২২ || ✕
|-
| 6 || [[পিয়ের-জিল দ্য জেন]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 7 || [[ব্রায়ান কক্স]] || ৭৫৬ || ✓
|-
| 8 || [[জন ম্যাককার্থি]] || ১,০৪৫ || ✓
|-
| 9 || [[লুই দ্য ব্রোয়ি]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 10 || [[ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ]] || ১,১৯৪ || ✕
|-
| 11 || [[ফ্লিন্ডার্স পেট্রি]] || ১,২০৪ || ✕
|-
| 12 || [[পল আর. এহর্লিচ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 13 || [[মাইকেল আতিয়াহ]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 14 || [[মার্টন মিলার]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 15 || [[মেরি বিয়ার্ড]] || ৯১১ || ✓
|-
| 16 || [[মার্গারেট চ্যান]] || ৭০৪ || ✓
|-
| 17 || [[গেরহার্ড শ্রোডার]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 18 || [[ফিলিপ ওয়ারেন অ্যান্ডারসন]] || ৭৯৯ || ✓
|-
| 19 || [[পিটার হিগস]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 20 || [[লিওনার্ড সাসকিন্ড]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 21 || [[জন মেইনার্ড স্মিথ]] || ৬৪০ || ✓
|-
| 22 || [[জন জেমস অডুবন]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 23 || [[শেলডন লি গ্ল্যাশো]] || ৭৫১ || ✓
|-
| 24 || [[ভিক্টর উইসকফ]] || ৫১৯ || ✓
|-
| 25 || [[মার্টিন রিস]] || ৫৫১ || ✓
|-
| 26 || [[মার্ক ওলিফ্যান্ট]] || ৫৫৩ || ✓
|-
| 27 || [[ভিতালি গিঞ্জবার্গ]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 28 || [[স্যালি রাইড]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 29 || [[রবার্ট ফোগেল]] || ৪২৮ || ✓
|-
| 30 || [[রিঙ্গো স্টার]] || ৮৭০ || ✓
|-
| 31 || [[মাক্স ডেলব্রুক]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 32 || [[তৃতীয় লেওপোল্ড]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 33 || [[নরম্যান বোরল্যাগ]] || ৭০০ || ✓
|-
| 34 || [[নিকলাউস ভির্ট]] || ৪৭৯ || ✓
|-
| 35 || [[নিকোলাস স্টেনো]] || ২৯২ || ✓
|-
| 36 || [[নেভিল ফ্রান্সিস মট]] || ৫১১ || ✓
|-
| 37 || [[লুডউইক ফ্লেক]] || ৫১২ || ✓
|-
| 38 || [[কারেন উলেনবেক]] || ৩৯২ || ✓
|-
| 39 || [[ইয়োসেফ মেংগেলে]] || ৫৪৪ || ✓
|-
| 40 || [[কিরণ দেশাই]] || ২৬১ || ✓
|-
| 41 || [[কাতালিন কারিকো]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 42 || [[ইয়োন্স ইয়াকব বের্সেলিয়ুস]] || ৫১৬ || ✓
|-
| 43 || [[হুয়ান মালদাসেনা]] || ৭৩২ || ✓
|-
| 44 || [[হাইনরিখ বোল]] || ৩০০ || ✓
|-
| 45 || [[ইনগ্রিড ডোবিচি]] || ৬৭১ || ✓
|-
| 46 || [[ইয়ান উইলমুট]] || ৪২৭ || ✓
|-
| 47 || [[হিউ এভারেট]] || ৬০০ || ✓
|-
| 48 || [[ফ্রঁসোয়া অংল্যার]] || ৫৩৩ || ✓
|-
| 49 || [[এমানুয়েল সোয়েডেনবার্গ]] || ১,৫২২ || ✓
|-
| 50 || [[এলিজাবেথ বিশপ]] || ৬৫২ || ✓
|-
| 51 || [[শেখ আন্তা দিওপ]] || ৩৩৫ || ✓
|-
| 52 || [[জর্জ গ্যামো]] || ১,৫২১ || ✓
|-
| 53 || [[হাইনরিখ হের্ত্স]] || ১,৭৪৪ || ✓
|-
| 54 || [[গ্রো হারলেম ব্রুন্ডটল্যান্ড]] || ৩১১ || ✓
|-
| 55 || [[জন সি. মাদার]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 56 || [[জন ব্যাকাস]] || ৫৯৭ || ✓
|-
| 57 || [[এর্নস্ট মায়ার]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 58 || [[লিন মার্গুলিস]] || ১,৭১৮ || ✓
|-
| 59 || [[হ্যান্স বেটে]] || ৩৯৬ || ✓
|-
| 60 || [[লুই আগাসিজ]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 61 || [[জর্জ ক্যুভিয়ে]] || ৭৬৮ || ✓
|-
| 62 || [[ব্রাসেলস]] || ৯৬৭ || ✓
|-
| 63 || [[ড্যানিয়েল কানেমান]] || ২,৯৫৭ || ✕
|-
| 64 || [[ডোনাল্ড কানুথ]] || ১,৫৮২ || ✓
|-
| 65 || [[লেমাহ গবোউই]] || ১,১৫০ || ✓
|-
| 66 || [[গারট্রুড বি. এলিয়ন]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 67 || [[ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড]] || ৩৫৯ || ✓
|-
| 68 || [[এর্নস্ট মাখ]] || ২,০২৮ || ✕
|-
| 69 || [[ডোনাল্ড টাস্ক]] || ১,৭৭১ || ✓
|-
| 70 || [[অরবিন্দ আদিগা]] || ৮৬৬ || ✓
|-
| 71 || [[সি. এ. আর. হোর]] || ১,০৬১ || ✕
|-
| 72 || [[পল ডিরাক]] || ৪,৭০৯ || ✕
|-
| 73 || [[ই. ও. উইলসন]] || ৪,৪৫৮ || ✕
|-
| 74 || [[ডেসমন্ড মরিস]] || ৩,৯৮৬ || ✓
|-
| 75 || [[মাইকেল গোভ]] || ৩,৭৩৬ || ✓
|-
| 76 || [[হার্পার লি]] || ২,৪৯১ || ✓
|-
| 77 || [[কেন টম্পসন]] || ১,৮১৬ || ✓
|-
| 78 || [[জন টিন্ডাল]] || ২,৫২৮ || ✓
|-
| 79 || [[মেরি রবিনসন]] || ১,৩৭৬ || ✓
|-
| 80 || [[হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] || ২,২৪৪ || ✓
|-
| 81 || [[আইরিস মারডক]] || ১,২৬৮ || ✓
|-
| 82 || [[আর্নেস্ট রাদারফোর্ড]] || ২,৪৫৩ || ✓
|-
| 83 || [[ফ্রেড ব্রুকস]] || ১,১৯১ || ✓
|-
| 84 || [[ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]] || ১,৯০৭ || ✓
|-
| 85 || [[ডায়ান ফসি]] || ১,৬৪৬ || ✕
|-
| 86 || [[ইডিথ হোয়ার্টন]] || ১,৪২৫ || ✓
|-
| 87 || [[অরেল স্টেইন]] || ১,৪৭৮ || ✕
|-
| 88 || [[গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল]] || ১,৬৫০ || ✓
|-
| 89 || [[আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট]] || ১,১২০ || ✓
|-
| 90 || [[ফ্রান্সিস্কো ভারেলা]] || ১,৮৯৩ || ✓
|-
| 91 || [[ডেনিস রিচি]] || ১,১০৮ || ✓
|-
| 92 || [[অড্রে হেপবার্ন]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 93 || [[জি. এইচ. হার্ডি]] || ২,৩৩০ || ✓
|-
| 94 || [[হ্যারল্ড পিন্টার]] || ২,০৭২ || ✓
|-
| 95 || [[অ্যানাক্সিম্যান্ডার]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 96 || [[ডেভিড ব্রুস্টার]] || ২,৪০৪ || ✓
|-
| 97 || [[ব্রায়ান গ্রিন]] || ১,২৭৯ || ✕
|-
| 98 || [[অমিত গোস্বামী]] || ৯১৫ || ✓
|-
| 99 || [[এডমন্ড হ্যালি]] || ২,৬১৯ || ✓
|-
| 100 || [[ডেভিড সুজুকি]] || ১,৫১৭ || ✓
|-
| 101 || [[ডেভিড জোনাথন গ্রোস]] || ৮০৯ || ✓
|-
| 102 || [[ডেভিড ম্যামেট]] || ১,২৫২ || ✓
|-
| 103 || [[আহমেদ জেওয়াইল]] || ১৯২ || ✓
|-
| 104 || [[ইউরোপীয় পার্লামেন্ট]] || ৬১৫ || ✓
|-
| 105 || [[ডেভিড গ্রসম্যান]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 106 || [[হরিশ-চন্দ্র]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 107 || [[অনিতা দেসাই]] || ১,৪৩৯ || ✓
|-
| 108 || [[অ্যাশ কার্টার]] || ৪৬৩ || ✓
|-
| 109 || [[আলফ্রেড নোবেল]] || ৫০৯ || ✕
|-
| 110 || [[ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড]] || ৬৩৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১১০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৯৭,৪২১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,২২,৫০০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২৫,০৭৯
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Anik Kanti Dey| Anik Kanti Dey]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[রেজা পাহলভি]] || ৯,৯১০ || ✓
|-
| 2 || [[রজার ইবার্ট]] || ২১,৩২৫ || ✓
|-
| 3 || [[পুনর্জন্ম]] || ২০,২৪৮ || ✓
|-
| 4 || [[জ্যারেড ডায়মন্ড]] || ১,১৬৮ || ✕
|-
| 5 || [[জেন গুডাল]] || ১,৩৫৭ || ✓
|-
| 6 || [[জেমস টোবিন]] || ১,০৫৯ || ✓
|-
| 7 || [[জেমস ক্যালাহান]] || ১,৬১৫ || ✓
|-
| 8 || [[উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভন্স]] || ১,৭০১ || ✓
|-
| 9 || [[উইলিয়াম থমসন]] || ১,০৫১ || ✓
|-
| 10 || [[ওলে সোয়িংকা]] || ৩,১৬১ || ✕
|-
| 11 || [[জোসেফ স্টিগলিটজ]] || ১,৫০৪ || ✕
|-
| 12 || [[গ্রেগর মেন্ডেল]] || ৮৭৪ || ✓
|-
| 13 || [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস]] || ১,২৩৬ || ✓
|-
| 14 || [[গ্লেন থিওডোর সিবর্গ]] || ৯৮৪ || ✓
|-
| 15 || [[হেরমান ভাইল]] || ১,৫৪১ || ✓
|-
| 16 || [[হেরমান হেস]] || ৪,৫৬৫ || ✓
|-
| 17 || [[হার্বার্ট স্পেন্সার]] || ২,৩৬৮ || ✓
|-
| 18 || [[হার্বার্ট এ. সাইমন]] || ১,৩৩৭ || ✓
|-
| 19 || [[হেরাক্লিটাস]] || ১,৫৭০ || ✓
|-
| 20 || [[হেনরিক শিয়েনকিয়েভিচ]] || ১,৯১১ || ✕
|-
| 21 || [[উইলা ক্যাথার]] || ৩,০৩৩ || ✕
|-
| 22 || [[উইল ডুরান্ট]] || ২,৮১৫ || ✓
|-
| 23 || [[ডব্লিউ. এইচ. অডেন]] || ২,৮১৯ || ✓
|-
| 24 || [[ভোলফগাং পাউলি]] || ১,৬৩৯ || ✓
|-
| 25 || [[ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা]] || ২,২৫৮ || ✓
|-
| 26 || [[জন আর্চিবল্ড হুইলার]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 27 || [[সেমুর হার্শ]] || ১,৭৬১ || ✓
|-
| 28 || [[সের্গেই কোরোলিয়ভ]] || ৫৬৫ || ✓
|-
| 29 || [[জেন অ্যাডামস]] || ১,৯০৬ || ✓
|-
| 30 || [[জাক-ইভ কুস্তো]] || ৬৬৩ || ✓
|-
| 31 || [[হিদেকি ইউকাওয়া]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 32 || [[প্রিমো লেভি]] || ৪,২৩৮ || ✓
|-
| 33 || [[ঝুম্পা লাহিড়ী]] || ৪৩০ || ✓
|-
| 34 || [[জেমস প্রেসকট জুল]] || ৪৮৭ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩৪
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৯৩,৮৬৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,০৪,৬৪১
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১০,৭৭৭
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman| Tanbiruzzaman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা]] || ৪,৮৫১ || ✓
|-
| 2 || [[সংবাদ মাধ্যম]] || ১,১৫৫ || ✓
|-
| 3 || [[গণমাধ্যম]] || ৩,৩৫৭ || ✓
|-
| 4 || [[মূলধারার গণমাধ্যম]] || ১,০৫২ || ✓
|-
| 5 || [[হলুদ সাংবাদিকতা]] || ২,২৯৬ || ✓
|-
| 6 || [[ভুয়া সংবাদ]] || ১,৪০৮ || ✓
|-
| 7 || [[বিকল্প প্রচারমাধ্যম]] || ১,২০৫ || ✓
|-
| 8 || [[জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ]] || ১১,২৬৬ || ✓
|-
| 9 || [[অ্যানোনিমাস]] || ৪,০৪৩ || ✓
|-
| 10 || [[টুপাক শাকুর]] || ৬,২৮৭ || ✓
|-
| 11 || [[জেনডেয়া]] || ২,০১৪ || ✓
|-
| 12 || [[টিমথি শালামে]] || ১,১২৭ || ✓
|-
| 13 || [[হিপোক্রেটিস]] || ২,৯২৩ || ✓
|-
| 14 || [[ষষ্ঠ মুহাম্মদ]] || ৮৭৮ || ✓
|-
| 15 || [[জন লেনক্স]] || ৭০২ || ✓
|-
| 16 || [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] || ৮,০৫৬ || ✓
|-
| 17 || [[আবদুল হান্নান মাসউদ]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 18 || [[পরকাল সম্পর্কে কুরআন]] || ১৮,৭৯৪ || ✓
|-
| 19 || [[মানবতাবিরোধী অপরাধ]] || ১,৯১২ || ✓
|-
| 20 || [[আন্তর্জাতিক আইন]] || ৫,৫৩৯ || ✓
|-
| 21 || [[মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ]] || ১,৪৫২ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৮০,৭২৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৮০,৭২৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Nil Nandy| Nil Nandy]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[অনিল ভৌমিক]] || ২১৬ || ✓
|-
| 2 || [[মনোজ মিত্র]] || ৫,৫৬৭ || ✓
|-
| 3 || [[নারায়ণ সান্যাল]] || ৩৬৬ || ✓
|-
| 4 || [[মতি নন্দী]] || ৫,০১৮ || ✓
|-
| 5 || [[দেবেশ রায়]] || ৯,২৪৪ || ✓
|-
| 6 || [[শিশিরকুমার বসু]] || ৪,৮০৭ || ✓
|-
| 7 || [[বিমল কর]] || ১,৩৬৯ || ✓
|-
| 8 || [[সুবোধ সরকার]] || ১,৮৪৮ || ✓
|-
| 9 || [[স্মরণজিৎ চক্রবর্তী]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 10 || [[স্বামী সারদানন্দ]] || ৮,৬৯৫ || ✓
|-
| 11 || [[শক্তিপদ রাজগুরু]] || ৯৯৩ || ✓
|-
| 12 || [[কমলকুমার মজুমদার]] || ১,৫৭৩ || ✓
|-
| 13 || [[গৌতম ভদ্র]] || ৬৮৫ || ✓
|-
| 14 || [[পরিমল গোস্বামী]] || ৬,৫৫০ || ✓
|-
| 15 || [[প্রেমাঙ্কুর আতর্থী]] || ৫,৬৯৮ || ✓
|-
| 16 || [[কালীপ্রসন্ন সিংহ]] || ৫,৪০৪ || ✓
|-
| 17 || [[অখিল নিয়োগী]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 18 || [[হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]] || ৫১৩ || ✓
|-
| 19 || [[গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক]] || ৫৯২ || ✓
|-
| 20 || [[অজিত দত্ত]] || ৮৭০ || ✓
|-
| 21 || [[অজিতকৃষ্ণ বসু]] || ২,৩৮৬ || ✓
|-
| 22 || [[এম এস স্বামীনাথন]] || ৮৭২ || ✓
|-
| 23 || [[চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন]] || ২,১৭১ || ✓
|-
| 24 || [[চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও]] || ২,১৬৭ || ✓
|-
| 25 || [[কণাদ]] || ৯১৯ || ✓
|-
| 26 || [[জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর]] || ৩,১৮৭ || ✓
|-
| 27 || [[বিক্রম সারাভাই]] || ১,১২৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৭৪,২৬৭
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৭৪,২৬৭
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:R1F4T| R1F4T]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আর্নেস্ট কিং]] || ১৫,৭৬৯ || ✕
|-
| 2 || [[ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট]] || ২৬,২১৫ || ✓
|-
| 3 || [[আনোয়ার ইব্রাহিম]] || ৬,৯৯৩ || ✓
|-
| 4 || [[ইসলাম ও যুদ্ধ]] || ৫,৬৮১ || ✓
|-
| 5 || [[আহমদ সিরহিন্দি]] || ৪,০৭০ || ✓
|-
| 6 || [[মুসা সেরান্তোনিও]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 7 || [[ইয়াকুব]] || ১,৯৫৬ || ✓
|-
| 8 || [[আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার্দি]] || ১,৯৭৯ || ✕
|-
| 9 || [[অ্যালিস পল]] || ১,৮৬২ || ✕
|-
| 10 || [[অ্যামি ট্যান]] || ২,০০৭ || ✕
|-
| 11 || [[অ্যান্ড্রু সেগা]] || ১,৯৬৯ || ✓
|-
| 12 || [[আল্যাঁ বাদিউ]] || ১,৯৬৬ || ✕
|-
| 13 || [[আফ্রিকান স্পির]] || ১,৭২২ || ✕
|-
| 14 || [[ফ্রেডরিক ডগলাস]] || ৮৬২ || ✕
|-
| 15 || [[নবী]] || ২,০৬২ || ✕
|-
| 16 || [[এমা গোল্ডম্যান]] || ১২,৮০০ || ✕
|-
| 17 || [[প্রেম সম্পর্কে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি]] || ১৫,০৪০ || ✓
|-
| 18 || [[মিস্ট্রি সায়েন্স থিয়েটার ৩০০০]] || ৯৪,৯৬৮ || ✕
|-
| 19 || [[দ্য থিক অফ ইট]] || ৬৯,২৮৩ || ✕
|-
| 20 || [[অ্যালেক্স হেইলি]] || ১,৬০৪ || ✓
|-
| 21 || [[দাসত্ব সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি]] || ৫,৭৮৫ || ✕
|-
| 22 || [[দাসত্ব]] || ১০,২৫৯ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৬৩,৯৫১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৮৫,২৭৫
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২,২১,৩২৪
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee| Salil Kumar Mukherjee]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[যন্ত্র]] || ৭১৩ || ✓
|-
| 2 || [[বিচারক]] || ৯৫২ || ✓
|-
| 3 || [[রুটি]] || ১,০৯৭ || ✓
|-
| 4 || [[খড়]] || ৯৩২ || ✓
|-
| 5 || [[মন্মথমোহন বসু]] || ৯৬৩ || ✕
|-
| 6 || [[কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 7 || [[কলসী]] || ১,০৮৬ || ✓
|-
| 8 || [[চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১,১৫৭ || ✓
|-
| 9 || [[শহর]] || ১,৪৫৮ || ✕
|-
| 10 || [[ঘাস]] || ২,১১২ || ✓
|-
| 11 || [[জলধর সেন]] || ১,৭৬৪ || ✓
|-
| 12 || [[ঠিকানা]] || ১,১৮৭ || ✓
|-
| 13 || [[গন্ধ]] || ১,৮০৭ || ✓
|-
| 14 || [[চা]] || ২,৪২৪ || ✓
|-
| 15 || [[রবীন্দ্রনাথ মৈত্র]] || ১,২৮১ || ✓
|-
| 16 || [[দিগন্ত]] || ১,২২৮ || ✓
|-
| 17 || [[ময়ূর]] || ১,৩৪৫ || ✓
|-
| 18 || [[করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৯১১ || ✓
|-
| 19 || [[ঢেউ]] || ১,৫৩৯ || ✓
|-
| 20 || [[ছাতা]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 21 || [[উমাকান্ত হাজারী]] || ৯৪২ || ✓
|-
| 22 || [[ঘৃণা]] || ২,৩৩৯ || ✓
|-
| 23 || [[বাঁশ]] || ২,৪৫৯ || ✕
|-
| 24 || [[কলেরা]] || ১,৬৩৮ || ✓
|-
| 25 || [[মাঠ]] || ২,৪৪৭ || ✓
|-
| 26 || [[টিন]] || ১,৯৩২ || ✕
|-
| 27 || [[সংবাদ]] || ৪,৪৭৯ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩০,৯১৫
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪২,২০৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১১,২৯১
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul| Anaf Ibn Shahibul]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[জন বারবার]] || ৫৭৪ || ✕
|-
| 2 || [[স্কটিশ জাতি]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 3 || [[ওয়েন্ডি বোম্যান]] || ১৫১ || ✕
|-
| 4 || [[যুদ্ধাপরাধ]] || ৪,৬৭৯ || ✕
|-
| 5 || [[রুবি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 6 || [[রিতা এনজেলু]] || ১৫৯ || ✓
|-
| 7 || [[বমি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 8 || [[পার্ল]] || ৬৯০ || ✕
|-
| 9 || [[পাইথন]] || ১৩৯ || ✓
|-
| 10 || [[উইকিলিকস]] || ১,৬৩১ || ✕
|-
| 11 || [[জনস্টন ম্যাককালি]] || ৩১১ || ✕
|-
| 12 || [[যুগোস্লাভিয়া]] || ৪,১৩৬ || ✓
|-
| 13 || [[অংশুমান কর]] || ২০৯ || ✓
|-
| 14 || [[কেমব্রিজ গান]] || ৩০৫ || ✕
|-
| 15 || [[হেলেনীয় শিক্ষা]] || ৫০২ || ✓
|-
| 16 || [[টমাস হলি চিভার্স]] || ২৩৫ || ✓
|-
| 17 || [[মুহাম্মদ মাহদি আল-জাওয়াহিরি]] || ৬৩৮ || ✓
|-
| 18 || [[জেডি স্মিথ]] || ১,০৮০ || ✓
|-
| 19 || [[ব্রায়ান পি. শ্মিট]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 20 || [[কার্ল বার্নস্টিন]] || ৩৬৮ || ✓
|-
| 21 || [[চার্লস ফেফারম্যান]] || ৩৩৯ || ✓
|-
| 22 || [[ইয়ুস্টুস ফন লিবিগ]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 23 || [[টমাস শেলিংস]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 24 || [[উইলিয়াম শকলি]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 25 || [[শিং-শেন চের্ন]] || ৭৬৫ || ✕
|-
| 26 || [[হুগো দ্য ভ্রিস]] || ৩৪৪ || ✓
|-
| 27 || [[রবার্ট অ্যান্ড্রুজ মিলিকান]] || ৪৩৬ || ✓
|-
| 28 || [[জেমস ভ্যান অ্যালেন]] || ৫৯৬ || ✓
|-
| 29 || [[জাক শিরাক]] || ৭১১ || ✓
|-
| 30 || [[ডরোথি হজকিন]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 31 || [[গোরান পারসন]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 32 || [[জেরার দ্যব্রু]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 33 || [[কোরীয় যুদ্ধ]] || ৯,৯৬৫ || ✕
|-
| 34 || [[রবার্ট জে. শিলার]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 35 || [[ফ্রঁসোয়া আরাগন]] || ৪৩৫ || ✓
|-
| 36 || [[অখিলচন্দ্র দত্ত]] || ৩৭৩ || ✕
|-
| 37 || [[ফ্রান্সিস কলিন্স]] || ৫৮৮ || ✓
|-
| 38 || [[হেলেন ক্লার্ক]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 39 || [[লেয়োঁ ফুকো]] || ৫৩২ || ✓
|-
| 40 || [[জন চার্লস পোলানি]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 41 || [[জন মেইনার্ড কেইনস]] || ১৭,৭৯১ || ✕
|-
| 42 || [[দিমিত্রি মুরাতভ]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 43 || [[আবদুস সালাম]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 44 || [[আবদুলরাজাক গুরনাহ]] || ৭৪৯ || ✓
|-
| 45 || [[এ. সি. বেনসন]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 46 || [[প্রথম আলবার্ট]] || ৮৬৪ || ✓
|-
| 47 || [[অম্লান দত্ত]] || ১৪৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৪৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১৯,৩৪৬
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৫৬,৫৮১
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৩৭,২৩৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন| মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ইয়ান মার্টেল]] || ১,১৩৩ || ✕
|-
| 2 || [[ইয়োইচিরো নাম্বু]] || ৪৩১ || ✕
|-
| 3 || [[সৈয়দ জামিল আহমেদ]] || ২০৩ || ✓
|-
| 4 || [[পূর্ণিমা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 5 || [[শরিফুল রাজ]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 6 || [[কাজী হায়াৎ]] || ২৭৪ || ✓
|-
| 7 || [[আরেফিন রুমি]] || ১৬২ || ✓
|-
| 8 || [[ইমাম নাসাই]] || ৬৯৭ || ✕
|-
| 9 || [[কবরী]] || ২৭১ || ✓
|-
| 10 || [[হাফিজ উদ্দিন আহমদ]] || ২৩৬ || ✓
|-
| 11 || [[আ ন ম এহসানুল হক মিলন]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 12 || [[আন্দালিব রহমান পার্থ]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 13 || [[ববি হাজ্জাজ]] || ২৫৩ || ✓
|-
| 14 || [[ইবনে মাজাহ]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 15 || [[হাবিব ওয়াহিদ]] || ২৬৪ || ✓
|-
| 16 || [[জাইমা রহমান]] || ২১২ || ✓
|-
| 17 || [[কনকচাঁপা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 18 || [[আহসান হাবীব]] || ২১৯ || ✓
|-
| 19 || [[বেলাল খান]] || ২১৯ || ✓
|-
| 20 || [[নচিকেতা চক্রবর্তী]] || ২৮৯ || ✓
|-
| 21 || [[আ ফ ম খালিদ হোসেন]] || ২৪৮ || ✓
|-
| 22 || [[আলমগীর]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 23 || [[সালাহউদ্দিন আহমেদ]] || ৪৫৯ || ✓
|-
| 24 || [[চোং নানশান]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 25 || [[এ. সি. ব্র্যাডলি]] || ৩৯০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৫
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৫,৪৭২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৮,১২৩
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২,৬৫১
|}
=== [[ব্যবহারকারী:JIBON| JIBON]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আলবার্ট হফমান]] || ৩,৪৪৪ || ✓
|-
| 2 || [[অ্যালান পারলিস]] || ৯২৮ || ✓
|-
| 3 || [[হেইনরিখ রোরার]] || ৩৬০ || ✓
|-
| 4 || [[আলফ্রেড আহো]] || ১৪৪ || ✕
|-
| 5 || [[উ থান্ট]] || ৬৭৮ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৫
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৪,৭৩২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৫,৫৫৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৮২২
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad| Md. Muqtadir Fuad]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লোরঁ শোয়ার্তজ]] || ৬১০ || ✓
|-
| 2 || [[উইলিয়াম শার্প]] || ৩৯৯ || ✓
|-
| 3 || [[পাউল এরেনফেস্ট]] || ৪৩৩ || ✓
|-
| 4 || [[রবার্ট মান্ডেল]] || ৩২২ || ✓
|-
| 5 || [[হান কাং]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 6 || [[ক্রিপটিক ফেইট]] || ১৭৬ || ✓
|-
| 7 || [[কাকাবাবু]] || ২৫৮ || ✓
|-
| 8 || [[ক্যারি মুলিস]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 9 || [[টোমাস ট্রান্সট্রোমার]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 10 || [[ইরিনা বোকোভা]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 11 || [[মার্টিনুস ভেল্টম্যান]] || ১৯৫ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৪,০২৯
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪,০২৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Humaira.thithi| Humaira.thithi]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ড্যামন গ্যালগুট]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 2 || [[আর্থার কর্নবার্গ]] || ১৭৭ || ✕
|-
| 3 || [[বেন ওক্রি]] || ৮৫৮ || ✓
|-
| 4 || [[সল বেলো]] || ১,০০৩ || ✓
|-
| 5 || [[সল পার্লমাটার]] || ৩১১ || ✕
|-
| 6 || [[সিমেওঁ দ্যনি পোয়াসোঁ]] || ১৬০ || ✓
|-
| 7 || [[স্টিভ আরউইন]] || ৪৩৫ || ✕
|-
| 8 || [[আনি এরনো]] || ২৮৪ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৮
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,৭৮৭
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,৭১০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৯২৩
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Amirhusenjihed| Amirhusenjihed]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ফজল শাহাবুদ্দীন]] || ৪৯৫ || ✕
|-
| 2 || [[আল-জাহিজ]] || ৭৩৩ || ✓
|-
| 3 || [[আল-বিরুনি]] || ১,৮৩৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,৫৬৯
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,০৬৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪৯৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Asikur Rahman| Asikur Rahman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[থমাস হ্যারিয়ট]] || ৪৩২ || ✓
|-
| 2 || [[স্টিভেন চু]] || ২২০ || ✓
|-
| 3 || [[ইভাঞ্জেলিস্টা টরিসেলি]] || ৩৭২ || ✓
|-
| 4 || [[লেসলি ল্যামপোর্ট]] || ৫৫০ || ✓
|-
| 5 || [[মার্টিন লুইস পার্ল]] || ৩৮৮ || ✓
|-
| 6 || [[ভ্লাদিমির মার্কভনিকভ]] || ২৬৭ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,২২৯
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,২২৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Rasel Mehedi| Rasel Mehedi]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[বাপ্পী লাহিড়ী]] || ২৫২ || ✓
|-
| 2 || [[নুহাশ হুমায়ূন]] || ২০৫ || ✓
|-
| 3 || [[আনিসুল হক]] || ২৪৬ || ✕
|-
| 4 || [[বাবর আলী]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 5 || [[মেহের আফরোজ শাওন]] || ৩১৯ || ✓
|-
| 6 || [[ফেলুদা]] || ২৪৬ || ✓
|-
| 7 || [[ব্যোমকেশ বক্সী]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 8 || [[প্রোফেসর শঙ্কু]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 9 || [[বারী সিদ্দিকী]] || ২৪২ || ✓
|-
| 10 || [[সমরেশ বসু]] || ২০২ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,২২২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৪৬৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২৪৬
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Mahiya50| Mahiya50]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লিয়ন কুপার]] || ৩২৩ || ✓
|-
| 2 || [[কামিলা শামসি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 3 || [[ক্রিস্টোফার রেন]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 4 || [[জিওফ্রে হিন্টন]] || ৩২২ || ✓
|-
| 5 || [[ফ্রিডতিয়ফ নানসেন]] || ১৯১ || ✓
|-
| 6 || [[আলাঁ আস্পে]] || ৭৭৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,১৯০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,১৯০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Borhan| Borhan]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ক্যারিল ফিলিপস]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 2 || [[জেমস কুক]] || ৩৯৭ || ✓
|-
| 3 || [[ক্লাউদিয়া শেইনবাউম]] || ৩২১ || ✓
|-
| 4 || [[আবি আহমেদ]] || ২৫৫ || ✓
|-
| 5 || [[পিটার আগ্রি]] || ১৯০ || ✓
|-
| 6 || [[ফখরুদ্দীন আল-রাযী]] || ২১৫ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৬৬২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৬৬২
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Raihanur| Raihanur]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[শি চিনফিং]] || ৪,১৩২ || ✕
|-
| 2 || [[ইব্রাহিম ত্রাওরে]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 3 || [[পেদ্রো সানচেজ]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 4 || [[অ্যাডাম রিস]] || ৪৮৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৪
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৫৪২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৫,৬৭৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪,১৩২
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Muhammad Fahim Faisal| Muhammad Fahim Faisal]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আব্দুল হান্নান আবকারী]] || ০ || ✕
|-
| 2 || [[ইবরাহীম আলী তশনা]] || ২৪৭ || ✓
|-
| 3 || [[রুহুল আমিন বসিরহাটি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 4 || [[মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী]] || ৩৪২ || ✓
|-
| 5 || [[শামছুল হুদা]] || ০ || ✕
|-
| 6 || [[শামছুল হক ফরিদপুরী]] || ৫৪৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৪৯৮
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৪৯৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Firuz Ahmmed| Firuz Ahmmed]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[গর্ডন মুর]] || ৫৮৭ || ✓
|-
| 2 || [[শিরিন এবাদি]] || ৫৪৩ || ✕
|-
| 3 || [[নাগিব মাহফুজ]] || ৫৩০ || ✓
|-
| 4 || [[আল-ফারাবি]] || ৫৩৭ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৪
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,১১৭
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,১৯৭
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১,০৮০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম| নিয়াজ ইসলাম]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[চাষী নজরুল ইসলাম]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 2 || [[বাপ্পা মজুমদার]] || ৩১০ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৭৫৬
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৭৫৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Asad.fr| Asad.fr]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[রবার্ট ক্লাইভ]] || ২,০০২ || ✕
|-
| 2 || [[পার্ল এস. বাক]] || ৯৩৩ || ✕
|-
| 3 || [[জন বারডিন]] || ৩৬৪ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩৬৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,২৯৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২,৯৩৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin| Mehedi Abedin]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[তাসমিয়া প্রধান]] || ৩৫২ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩৫২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩৫২
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Md. Rayan Alam Rifat| Md. Rayan Alam Rifat]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আজিজুল হক]] || ১৮০ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১৮০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১৮০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Siyan BD| Siyan BD]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আবদুস সালাম]] || ১০০ || ✕
|-
| 2 || [[আবদুল গফুর]] || ১০১ || ✕
|-
| 3 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৬১ || ✓
|-
| 4 || [[আবদুল জব্বার]] || ৯২ || ✕
|-
| 5 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৩৩ || ✕
|-
| 6 || [[অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১৩৪ || ✕
|-
| 7 || [[অনিমেষ রায়]] || ১২৬ || ✕
|-
| 8 || [[অনির্বাণ বসু]] || ১২০ || ✕
|-
| 9 || [[অজয় ঘটক]] || ১১৪ || ✕
|-
| 10 || [[অচলা মল্লিক]] || ১৫৪ || ✕
|-
| 11 || [[অজয় হোম]] || ১৫৯ || ✕
|-
| 12 || [[অমিতা বসু]] || ১৪২ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১৬১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৫৩৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১,৩৭৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Dewan mahbubr Rahman| Dewan mahbubr Rahman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ভেরা রুবিন]] || ৩৫০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩৫০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৩৫০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:ExceptionistSagar| ExceptionistSagar]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মেরি কুরি]] || ১৭৯ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১৭৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১৭৯
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Kh. Fahim| Kh. Fahim]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মিসির আলি]] || ৪০৬ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪০৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪০৬
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Trisha Mazumder| Trisha Mazumder]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আস্ট্রোনমি]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:MdMarufHossen71| MdMarufHossen71]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মমতাজ বেগম]] || ৩৫৫ || ✕
|-
| 2 || [[আবুল বরকত]] || ১৪৩ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪৯৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪৯৮
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Usarker| Usarker]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মেরি স্টোপস]] || ৫০৫ || ✕
|-
| 2 || [[ইয়োন ফসে]] || ৩৯৩ || ✕
|-
| 3 || [[জুনো দিয়াজ]] || ৫৪০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৪৩৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১,৪৩৮
|}
=== [[ব্যবহারকারী:রাকিবুল হাসান রাসেল| রাকিবুল হাসান রাসেল]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[পারভীন এতেসামি]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:MD RADWAN ISLAM| MD RADWAN ISLAM]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[চুয়াং জি]] || ২৭৪ || ✕
|-
| 2 || [[ফকির শাহাবুদ্দীন]] || ০ || ✕
|-
| 3 || [[আবু বকর সিদ্দিকী]] || ০ || ✕
|-
| 4 || [[বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট]] || ০ || ✕
|-
| 5 || [[বাংলাদেশের কৃষি প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 6 || [[হাসিবুন নাহের]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২৭৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২৭৪
|}
=== [[ব্যবহারকারী:AKM Mahinur Rahman| AKM Mahinur Rahman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মেরি উলস্টোনক্রাফ্ট]] || ২১৩ || ✕
|-
| 2 || [[বালতাসার গ্রাসিয়ান]] || ২০৬ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪১৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪১৯
|}
=== [[ব্যবহারকারী:MD RADWAN ISLAM ROHAN| MD RADWAN ISLAM ROHAN]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[জুলাই আন্দোলন]] || ৬১৫ || ✕
|-
| 2 || [[বিকাশ]] || ০ || ✕
|-
| 3 || [[নতুন প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 4 || [[বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট শিল্প: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা]] || ০ || ✕
|-
| 5 || [[জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের পরিবেশ]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৫
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৬১৫
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৬১৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:ShahinurWrites| ShahinurWrites]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মোহাম্মদ শেখ শাহিনুর রহমান]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Abdullah Al Shishir| Abdullah Al Shishir]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[অপ্রত্যাশিত জীবনযাত্রা]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:চ্যাম্পিয়ন স্টার ১| চ্যাম্পিয়ন স্টার ১]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[অপর্ণা সেন]] || ৩১২ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩১২
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৩১২
|}
----
{| class="wikitable sortable mw-collapsible mw-collapsed"
|+ class="nowrap" | শব্দসংখ্যা অনুযায়ী নিবন্ধ তালিকা
! ক্রমিক !! নিবন্ধ !! শব্দ সংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ভারতে পোশাক]] || ২,২৮৯ || ✓
|-
| 2 || [[ভারতের ভাষা]] || ৬৯৫ || ✓
|-
| 3 || [[মধ্যযুগীয় ভারত]] || ১,৭১৭ || ✓
|-
| 4 || [[ভারতে ইহুদিদের ইতিহাস]] || ২,০৪৬ || ✓
|-
| 5 || [[ভারতে সুফিবাদ]] || ৩,২০৭ || ✓
|-
| 6 || [[পর্তুগিজ ভারত]] || ১,৬৪৩ || ✓
|-
| 7 || [[ভারতের প্রাণী]] || ৩০৫ || ✓
|-
| 8 || [[স্বাধীনতা দিবস]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 9 || [[ভারতে দুর্ভিক্ষ]] || ৩,৭৮১ || ✓
|-
| 10 || [[ভারতে ধর্মহীনতা]] || ২,৩৮৯ || ✓
|-
| 11 || [[ওয়ারেন ফ্যারেল]] || ২১,০৭৮ || ✓
|-
| 12 || [[আর্নেস্ট বেকার]] || ১৩,৫৯৭ || ✓
|-
| 13 || [[অতিপ্রজতা]] || ২৯,৫০১ || ✓
|-
| 14 || [[মোপলা বিদ্রোহ]] || ১৪,৫১২ || ✓
|-
| 15 || [[সীতা রাম গোয়েল]] || ১,৫৯৬ || ✓
|-
| 16 || [[অরুণ শৌরি]] || ১৫,৪৫০ || ✓
|-
| 17 || [[ভারতের ইতিহাস লিখন]] || ১৭,৯১৮ || ✓
|-
| 18 || [[দ্রৌপদী]] || ৬,১৬৪ || ✓
|-
| 19 || [[দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস]] || ২,৬৮৫ || ✕
|-
| 20 || [[রামায়ণ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 21 || [[ভারতে শিক্ষা]] || ১০,৫৮০ || ✓
|-
| 22 || [[ভারতে নারী]] || ৬,১৫০ || ✓
|-
| 23 || [[বন্যপ্রাণীর কষ্ট]] || ৩৩,৭৪১ || ✓
|-
| 24 || [[নিরামিষবাদ]] || ৩০,৬২৭ || ✓
|-
| 25 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতিত্ব]] || ৩৭,৫৭২ || ✓
|-
| 26 || [[নির্বাচন]] || ৭,০২৫ || ✓
|-
| 27 || [[সরকার]] || ২২,৭৫৯ || ✓
|-
| 28 || [[এডওয়ার্ড হল অল্ডারসন]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 29 || [[অ্যামব্রোজ বিয়ার্স]] || ৫,৫৪১ || ✕
|-
| 30 || [[মেওয়াত]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 31 || [[নানাবতী-মেহতা কমিশন]] || ২,৪৪৪ || ✓
|-
| 32 || [[ভারতে ঔষধ শিল্প]] || ১,৯২১ || ✓
|-
| 33 || [[পাঞ্জাব]] || ১,৪০৬ || ✓
|-
| 34 || [[রামনবমী]] || ৮৬২ || ✓
|-
| 35 || [[ভারতের শহরসমূহের নাম পরিবর্তন]] || ৪৪১ || ✓
|-
| 36 || [[নুপুর শর্মা]] || ৬০১ || ✓
|-
| 37 || [[রিপাবলিক টিভি]] || ৪৫৫ || ✓
|-
| 38 || [[রোহিলখণ্ড]] || ৪৪০ || ✓
|-
| 39 || [[রোহিলা]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 40 || [[সৌরাষ্ট্র]] || ৬৫৪ || ✓
|-
| 41 || [[ভারতে তিন তালাক]] || ১,১৩৪ || ✓
|-
| 42 || [[ভারতের পবিত্র উপবন]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 43 || [[অভিন্ন দেওয়ানি বিধি]] || ৩,৭৩৭ || ✓
|-
| 44 || [[নবনীত আদিত্য ওয়াইবা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 45 || [[ভারতে জল সরবরাহ ও স্যানিটেশন]] || ৭৪০ || ✓
|-
| 46 || [[জমিদার]] || ৩৮১ || ✕
|-
| 47 || [[নিখিল ভারত মুসলিম লীগ]] || ১,৭৩৭ || ✕
|-
| 48 || [[ফতোয়া]] || ৪৮৪ || ✓
|-
| 49 || [[দারা শিকোহ]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 50 || [[আমেরিকা নিপাত যাক]] || ৬৩৯ || ✓
|-
| 51 || [[মহা শয়তান]] || ৪১৪ || ✓
|-
| 52 || [[উলামা]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 53 || [[দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম জাতীয়তাবাদ]] || ১,৫১৬ || ✓
|-
| 54 || [[পার্সি-মুসলিম দাঙ্গা]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 55 || [[ভারতে দাঙ্গা]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 56 || [[ভারতে পেগাসাস প্রকল্পের উদঘাটন]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 57 || [[নেহরুবাদ]] || ৯৫২ || ✓
|-
| 58 || [[২জি স্পেকট্রাম মামলা]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 59 || [[রাহুল গান্ধী]] || ৪,০০৪ || ✓
|-
| 60 || [[আকবরউদ্দিন ওয়াইসি]] || ২৯৮ || ✓
|-
| 61 || [[ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ২০২৪]] || ২,৫৭৭ || ✓
|-
| 62 || [[ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 63 || [[নাইলা আলি খান]] || ২০৪ || ✓
|-
| 64 || [[অরুণ জেটলি]] || ৪৮১ || ✓
|-
| 65 || [[সুকেতু মেহতা]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 66 || [[রুক্মিণী মৈত্র]] || ৩৫৪ || ✓
|-
| 67 || [[মানব গুপ্ত]] || ৬৩৪ || ✕
|-
| 68 || [[মোহিনী মোহন ধর]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 69 || [[দিলীপ কুমার চক্রবর্তী]] || ২,৫৯৭ || ✓
|-
| 70 || [[রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 71 || [[পিটার অ্যাক্রয়েড]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 72 || [[হ্যারল্ড ব্লুম]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 73 || [[জেমস বসওয়েল]] || ১,১৪৯ || ✓
|-
| 74 || [[অলিভার গোল্ডস্মিথ]] || ৩,১৭৮ || ✓
|-
| 75 || [[হেনরি জাইলস]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 76 || [[এডউইন হাবেল চ্যাপিন]] || ৭৭০ || ✓
|-
| 77 || [[অবমাননা]] || ৭৮৮ || ✓
|-
| 78 || [[আদালত অবমাননা]] || ৮২৯ || ✓
|-
| 79 || [[আইনপ্রণেতা]] || ৭৪৩ || ✓
|-
| 80 || [[লেই বারডুগো]] || ১২২ || ✓
|-
| 81 || [[উইলিয়াম ব্রেট, ১ম ভিসকাউন্ট এশার]] || ১,০২০ || ✓
|-
| 82 || [[হেনরি হকিন্স, ১ম ব্যারন ব্র্যাম্পটন]] || ৩০৩ || ✓
|-
| 83 || [[জুনিয়াস]] || ১,৪১২ || ✓
|-
| 84 || [[উইলিয়াম মারে, ম্যানসফিল্ডের ১ম আর্ল]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 85 || [[জোসেফ ইয়েটস]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 86 || [[স্যার জন বেইলি, ১ম ব্যারোনেট]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 87 || [[হেনরি বিকারস্টথ, ১ম ব্যারন ল্যাংডেল]] || ৪১৫ || ✓
|-
| 88 || [[এডওয়ার্ড ল, ১ম ব্যারন এলেনবরো]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 89 || [[লয়েড কেনিয়ন, ১ম ব্যারন কেনিয়ন]] || ৪,৪০৮ || ✓
|-
| 90 || [[জন হোল্ট]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 91 || [[চার্লস বোয়েন, ব্যারন বোয়েন]] || ১,০৩৭ || ✓
|-
| 92 || [[চার্লস অ্যাবট, ১ম ব্যারন টেন্টারডেন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 93 || [[ন্যায়বিচার প্রশাসন]] || ২,৮৯৯ || ✓
|-
| 94 || [[আদালত]] || ১,৮১৮ || ✕
|-
| 95 || [[রোজান এ. ব্রাউন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 96 || [[মারিয়ন জিমার ব্র্যাডলি]] || ১,১০৪ || ✓
|-
| 97 || [[টেরি ব্রুকস]] || ৪৮৫ || ✓
|-
| 98 || [[লেই ব্র্যাকেট]] || ১,১১২ || ✓
|-
| 99 || [[জ্যাক ক্যাডি]] || ১,৫৬৮ || ✓
|-
| 100 || [[মেল ব্রুকস]] || ২,০১৬ || ✕
|-
| 101 || [[মাইকেল বিশপ]] || ৯৬০ || ✕
|-
| 102 || [[এলিজাবেথ বেয়ার]] || ৭০৫ || ✓
|-
| 103 || [[মার্গারেট বল]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 104 || [[পাওলো বাসিগালুপি]] || ৬৪৭ || ✓
|-
| 105 || [[কেলি আর্মস্ট্রং]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 106 || [[ক্যাথরিন আসরো]] || ৩৬১ || ✓
|-
| 107 || [[পিয়ার্স অ্যান্থনি]] || ২২৯ || ✓
|-
| 108 || [[রবার্ট আইকম্যান]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 109 || [[আইনজীবী]] || ২,৩২৯ || ✓
|-
| 110 || [[আইনসভা]] || ২,৩৪৩ || ✓
|-
| 111 || [[জর্জ বুশনার]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 112 || [[জোসেফ গার্নি ক্যানন]] || ৭০৯ || ✓
|-
| 113 || [[সংখ্যাগরিষ্ঠ]] || ১,৩৫৬ || ✓
|-
| 114 || [[সংখ্যালঘু গোষ্ঠী]] || ১,৮৮১ || ✓
|-
| 115 || [[প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 116 || [[মানব আচরণ]] || ৮৫২ || ✓
|-
| 117 || [[হার্ভে ম্যানসফিল্ড]] || ৯৭৯ || ✓
|-
| 118 || [[রাষ্ট্রবিজ্ঞান]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 119 || [[রাজনৈতিক দর্শন]] || ১,২৮৫ || ✓
|-
| 120 || [[দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা]] || ১,০৮৭ || ✓
|-
| 121 || [[আগ্রাসন]] || ৯২০ || ✓
|-
| 122 || [[হিন্দুত্ব]] || ২,৭০০ || ✓
|-
| 123 || [[ফ্লাভিয়া অ্যাগনেস]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 124 || [[লাভ জিহাদ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব]] || ৩,১৫০ || ✓
|-
| 125 || [[মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড]] || ১,৭৭৮ || ✓
|-
| 126 || [[যোগিন্দর সিকান্দ]] || ৮১৪ || ✓
|-
| 127 || [[ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা]] || ৮৫১ || ✓
|-
| 128 || [[জয় শ্রীরাম]] || ৭০৮ || ✓
|-
| 129 || [[লালকৃষ্ণ আডবাণী]] || ১,৫৫৫ || ✓
|-
| 130 || [[রাম রথযাত্রা]] || ১,৫৭৯ || ✓
|-
| 131 || [[হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন]] || ১,৪৫৫ || ✓
|-
| 132 || [[হর্ষ মান্দার]] || ৬৬০ || ✓
|-
| 133 || [[স্বপন দাশগুপ্ত]] || ১,১৬৭ || ✓
|-
| 134 || [[জরাথুস্ট্রবাদ]] || ৩৭৭ || ✓
|-
| 135 || [[পার্সি]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 136 || [[নাগরিকত্ব]] || ১,৮৭৯ || ✓
|-
| 137 || [[ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০]] || ৬৭৯ || ✓
|-
| 138 || [[মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯]] || ৭৬৯ || ✓
|-
| 139 || [[অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিশু শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯]] || ৩৭৯ || ✓
|-
| 140 || [[বোম্বাই দাঙ্গা]] || ৭৭৬ || ✓
|-
| 141 || [[বজরং দল]] || ৩৩১ || ✓
|-
| 142 || [[সংসদীয় ব্যবস্থা]] || ৪০৫ || ✓
|-
| 143 || [[বিচার বিভাগীয় ব্যাখ্যা]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 144 || [[বর্ণবাদ পরবর্তী আমেরিকা]] || ১,০৬৯ || ✓
|-
| 145 || [[শ্বেতাঙ্গ বিশেষাধিকার]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 146 || [[বিশেষাধিকার]] || ৭১২ || ✓
|-
| 147 || [[মানবহিতৈষণা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 148 || [[ভারত সরকার]] || ১,২২০ || ✓
|-
| 149 || [[শিলং]] || ৯৭৩ || ✓
|-
| 150 || [[মাঝৌলি রাজ]] || ৫৬০ || ✓
|-
| 151 || [[কালিকট]] || ৪৫৪ || ✓
|-
| 152 || [[যাজপুর]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 153 || [[কালিবাঙ্গান]] || ৭৩৮ || ✓
|-
| 154 || [[কাডাপা]] || ৪১৩ || ✓
|-
| 155 || [[ইদার]] || ৫৮৬ || ✓
|-
| 156 || [[গোধরা]] || ১,০১০ || ✓
|-
| 157 || [[ভুবনেশ্বর]] || ১,১৬৫ || ✓
|-
| 158 || [[অমৃতসর]] || ৮৬৮ || ✓
|-
| 159 || [[আম্বালা]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 160 || [[হায়দ্রাবাদ]] || ৩,২৪৮ || ✓
|-
| 161 || [[২০১৯ হায়দ্রাবাদ গণধর্ষণ]] || ১৭৭ || ✓
|-
| 162 || [[মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি]] || ৪২৩ || ✕
|-
| 163 || [[হায়দ্রাবাদ অধিগ্রহণ]] || ৪৫৬ || ✓
|-
| 164 || [[১৮৯৯-১৯০০ সালের ভারতীয় দুর্ভিক্ষ]] || ৫৪১ || ✓
|-
| 165 || [[১৯৯০ হায়দ্রাবাদ দাঙ্গা]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 166 || [[গুয়াহাটি]] || ১,৭৯৬ || ✓
|-
| 167 || [[গৌড়]] || ১,৯৩৬ || ✓
|-
| 168 || [[বিজাপুর]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 169 || [[মাণ্ডু]] || ৩৯৪ || ✓
|-
| 170 || [[খাজুরাহো]] || ৩৭১ || ✓
|-
| 171 || [[চান্দেরী]] || ৫০৭ || ✓
|-
| 172 || [[জুনাগড়]] || ৭১৯ || ✓
|-
| 173 || [[বৃহৎ কচ্ছের রাণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 174 || [[আহমেদাবাদ]] || ১,৮১২ || ✓
|-
| 175 || [[কচ্ছ জেলা]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 176 || [[দৃশদ্বতী নদী]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 177 || [[চেনাব নদী]] || ৩২১ || ✓
|-
| 178 || [[পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 179 || [[মুর্শিদাবাদ সহিংসতা]] || ২৫৭ || ✓
|-
| 180 || [[২০২৪ সন্দেশখালী সহিংসতা]] || ১,০৬১ || ✓
|-
| 181 || [[২০২২ বীরভূম সহিংসতা]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 182 || [[মৈতৈ জাতি]] || ৫২৭ || ✕
|-
| 183 || [[মৈতৈ সভ্যতা]] || ৩৫০ || ✓
|-
| 184 || [[মণিপুর]] || ৩০৬ || ✕
|-
| 185 || [[লাক্ষাদ্বীপ]] || ৩২৯ || ✓
|-
| 186 || [[বৃন্দাবন]] || ৬৮২ || ✕
|-
| 187 || [[সম্ভল]] || ২৪৩ || ✓
|-
| 188 || [[এলাহাবাদ]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 189 || [[আলিগড়]] || ৪০৯ || ✓
|-
| 190 || [[স্ট্যাচু অব ইউনিটি]] || ২৪১ || ✓
|-
| 191 || [[ভারতের দুর্গ]] || ৩১৪ || ✓
|-
| 192 || [[দ্য দুন স্কুল]] || ৬৬৪ || ✓
|-
| 193 || [[কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 194 || [[আগ্রা]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 195 || [[২০২০ দিল্লি দাঙ্গা]] || ১,১৭৮ || ✓
|-
| 196 || [[তিরুচিরাপল্লী]] || ৬২৬ || ✓
|-
| 197 || [[সেন্ট থমাস ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা, চেন্নাই]] || ৩৮০ || ✕
|-
| 198 || [[আতঙ্ক]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 199 || [[ভারতে দুর্নীতি]] || ১,০০৭ || ✓
|-
| 200 || [[তামিলনাড়ুর মন্দির]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 201 || [[এম. কে. স্ট্যালিন]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 202 || [[তামিলনাড়ু]] || ৫৪৩ || ✓
|-
| 203 || [[তামিলনাড়ুর হিন্দি বিরোধী আন্দোলন]] || ৪৬৫ || ✓
|-
| 204 || [[যোধপুর]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 205 || [[রাজস্থান]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 206 || [[ওড়িশা]] || ৭৪৫ || ✓
|-
| 207 || [[১৯৯৮ কোয়েম্বাটুর বোমা হামলা]] || ৫৩৭ || ✓
|-
| 208 || [[উত্তর-পূর্ব ভারতে বিদ্রোহ]] || ৩৯৮ || ✓
|-
| 209 || [[মারাদ হত্যাকাণ্ড]] || ৩৫২ || ✓
|-
| 210 || [[মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 211 || [[স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 212 || [[বিষ্ণু]] || ৬১৭ || ✓
|-
| 213 || [[২০২৪ রিয়াসি হামলা]] || ৩০২ || ✓
|-
| 214 || [[২০০৬ মালেগাঁও বোমা হামলা]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 215 || [[২০০৬ মুম্বই রেলে বোমা হামলা]] || ১৯০ || ✓
|-
| 216 || [[মুম্বই]] || ১,২২৪ || ✓
|-
| 217 || [[দৌলতাবাদ, মহারাষ্ট্র]] || ৮৮৯ || ✕
|-
| 218 || [[মহারাষ্ট্র]] || ৪৯৯ || ✓
|-
| 219 || [[পিনারাই বিজয়ন]] || ৫২৩ || ✓
|-
| 220 || [[আরব দেশ]] || ৯১৪ || ✓
|-
| 221 || [[দক্ষিণ এশিয়া]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 222 || [[শহুরে অবক্ষয়]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 223 || [[নগরায়ন]] || ১,০৯৭ || ✓
|-
| 224 || [[কেরল]] || ৩৬৫ || ✓
|-
| 225 || [[জম্মু ও কাশ্মীরে বিদ্রোহ]] || ৪১৮ || ✓
|-
| 226 || [[জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার]] || ৯৬৪ || ✓
|-
| 227 || [[শ্রীনগর]] || ১,৭২৯ || ✓
|-
| 228 || [[কাশ্মীর উপত্যকা]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 229 || [[লাদাখ]] || ৬৯৪ || ✓
|-
| 230 || [[কাশ্মীরি জাতি]] || ৮১৩ || ✓
|-
| 231 || [[তারিখ-ই-কাশ্মীর]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 232 || [[কর্ণাটক]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 233 || [[কর্ণাটকের রাজনীতি]] || ৪৩৯ || ✓
|-
| 234 || [[বেঙ্গালুরু]] || ৬১৪ || ✓
|-
| 235 || [[আসামে ইসলাম]] || ৬৯০ || ✓
|-
| 236 || [[আসামের ইতিহাস]] || ৭২৬ || ✓
|-
| 237 || [[আসামে হিন্দুধর্ম]] || ৩২৫ || ✓
|-
| 238 || [[ভারতের জনমিতি]] || ৩,৩৭৩ || ✓
|-
| 239 || [[বাংলাদেশের জনমিতি]] || ১,১৯৫ || ✓
|-
| 240 || [[পাকিস্তানের জনমিতি]] || ৮৫০ || ✓
|-
| 241 || [[আসামের জনমিতি]] || ১৮২ || ✓
|-
| 242 || [[বিহার]] || ৪৫৮ || ✓
|-
| 243 || [[পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি]] || ১৮১ || ✓
|-
| 244 || [[শাহ বানু মামলা]] || ৭৯৯ || ✕
|-
| 245 || [[ইসরায়েল–ভারত সম্পর্ক]] || ৮৯৭ || ✓
|-
| 246 || [[প্রণব মুখোপাধ্যায়]] || ৫৯৫ || ✓
|-
| 247 || [[দ্রৌপদী মুর্মু]] || ২৪৯ || ✓
|-
| 248 || [[ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ]] || ১,৬৪৭ || ✓
|-
| 249 || [[এলজিবিটিকিউ অধিকার বিরোধিতা]] || ২,০৪৯ || ✓
|-
| 250 || [[গেফোবিয়া]] || ২৭৮ || ✓
|-
| 251 || [[সমকামী যৌন চর্চা]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 252 || [[উভকামিতা]] || ১,৫৬০ || ✓
|-
| 253 || [[কামিং আউট]] || ৮০৫ || ✓
|-
| 254 || [[স্মৃতি ইরানি]] || ৯৯১ || ✓
|-
| 255 || [[মেনকা গান্ধী]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 256 || [[যশবন্ত সিং]] || ২০৬ || ✓
|-
| 257 || [[সৈয়দ শাহাবুদ্দিন]] || ৫৭৯ || ✓
|-
| 258 || [[শাকিল আহমদ]] || ১২৪ || ✓
|-
| 259 || [[তথাগত রায়]] || ২৭৫ || ✓
|-
| 260 || [[লালুপ্রসাদ যাদব]] || ১,১০৯ || ✓
|-
| 261 || [[আসাদউদ্দিন ওয়াইসি]] || ৪১৩ || ✕
|-
| 262 || [[ইরাক যুদ্ধ]] || ১২,৩৪৪ || ✓
|-
| 263 || [[যুক্তরাজ্যের তৃতীয় জর্জ]] || ১২,০৪২ || ✓
|-
| 264 || [[২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৮৮৩ || ✓
|-
| 265 || [[২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৩,৫১৪ || ✓
|-
| 266 || [[২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬১১ || ✓
|-
| 267 || [[ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ]] || ১,৫৪২ || ✓
|-
| 268 || [[স্নায়ুযুদ্ধ]] || ১৫,৬১০ || ✕
|-
| 269 || [[দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ]] || ৪,৬৬৮ || ✓
|-
| 270 || [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] || ২৪,১৭৭ || ✓
|-
| 271 || [[মহত্ত্ব]] || ৭,৮১৪ || ✓
|-
| 272 || [[সাংবাদিকতা]] || ১৩,৪৭৭ || ✓
|-
| 273 || [[প্যানডিজম]] || ১০,৩০০ || ✓
|-
| 274 || [[গাজা যুদ্ধ]] || ১৬,৯৮২ || ✓
|-
| 275 || [[২০২৬ ইরান যুদ্ধ]] || ৬,৯৮৩ || ✓
|-
| 276 || [[পারমাণবিক অস্ত্র]] || ৩,২৩৩ || ✓
|-
| 277 || [[২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 278 || [[ক্রুসেড]] || ৯৯৬ || ✓
|-
| 279 || [[অ্যানিমেশন]] || ৯,৪৫৭ || ✓
|-
| 280 || [[দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি]] || ৭৫৫ || ✓
|-
| 281 || [[ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ]] || ৩,৭৬৩ || ✓
|-
| 282 || [[পারমাণবিক যুদ্ধ]] || ৫,৫২০ || ✓
|-
| 283 || [[আল খোয়ারিজমি]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 284 || [[ফজলে রাব্বী]] || ৬৩৫ || ✓
|-
| 285 || [[ডেভিড হিউম]] || ১১,৭৮০ || ✓
|-
| 286 || [[লিওনিদ ক্যান্টোরোভিচ]] || ১,৪২২ || ✓
|-
| 287 || [[থিওডোসিয়াস ডবঝানস্কি]] || ৭৬০ || ✕
|-
| 288 || [[টেরেন্স টাও]] || ৭২০ || ✓
|-
| 289 || [[ফিলিপ]] || ৪২৬ || ✓
|-
| 290 || [[জুলিয়ান শুইঙার]] || ১,৩২২ || ✕
|-
| 291 || [[পিয়ের-জিল দ্য জেন]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 292 || [[ব্রায়ান কক্স]] || ৭৫৬ || ✓
|-
| 293 || [[জন ম্যাককার্থি]] || ১,০৪৫ || ✓
|-
| 294 || [[লুই দ্য ব্রোয়ি]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 295 || [[ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ]] || ১,১৯৪ || ✕
|-
| 296 || [[ফ্লিন্ডার্স পেট্রি]] || ১,২০৪ || ✕
|-
| 297 || [[পল আর. এহর্লিচ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 298 || [[মাইকেল আতিয়াহ]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 299 || [[মার্টন মিলার]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 300 || [[মেরি বিয়ার্ড]] || ৯১১ || ✓
|-
| 301 || [[মার্গারেট চ্যান]] || ৭০৪ || ✓
|-
| 302 || [[গেরহার্ড শ্রোডার]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 303 || [[ফিলিপ ওয়ারেন অ্যান্ডারসন]] || ৭৯৯ || ✓
|-
| 304 || [[পিটার হিগস]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 305 || [[লিওনার্ড সাসকিন্ড]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 306 || [[জন মেইনার্ড স্মিথ]] || ৬৪০ || ✓
|-
| 307 || [[জন জেমস অডুবন]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 308 || [[শেলডন লি গ্ল্যাশো]] || ৭৫১ || ✓
|-
| 309 || [[ভিক্টর উইসকফ]] || ৫১৯ || ✓
|-
| 310 || [[মার্টিন রিস]] || ৫৫১ || ✓
|-
| 311 || [[মার্ক ওলিফ্যান্ট]] || ৫৫৩ || ✓
|-
| 312 || [[ভিতালি গিঞ্জবার্গ]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 313 || [[স্যালি রাইড]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 314 || [[রবার্ট ফোগেল]] || ৪২৮ || ✓
|-
| 315 || [[রিঙ্গো স্টার]] || ৮৭০ || ✓
|-
| 316 || [[মাক্স ডেলব্রুক]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 317 || [[তৃতীয় লেওপোল্ড]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 318 || [[নরম্যান বোরল্যাগ]] || ৭০০ || ✓
|-
| 319 || [[নিকলাউস ভির্ট]] || ৪৭৯ || ✓
|-
| 320 || [[নিকোলাস স্টেনো]] || ২৯২ || ✓
|-
| 321 || [[নেভিল ফ্রান্সিস মট]] || ৫১১ || ✓
|-
| 322 || [[লুডউইক ফ্লেক]] || ৫১২ || ✓
|-
| 323 || [[কারেন উলেনবেক]] || ৩৯২ || ✓
|-
| 324 || [[ইয়োসেফ মেংগেলে]] || ৫৪৪ || ✓
|-
| 325 || [[কিরণ দেশাই]] || ২৬১ || ✓
|-
| 326 || [[কাতালিন কারিকো]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 327 || [[ইয়োন্স ইয়াকব বের্সেলিয়ুস]] || ৫১৬ || ✓
|-
| 328 || [[হুয়ান মালদাসেনা]] || ৭৩২ || ✓
|-
| 329 || [[হাইনরিখ বোল]] || ৩০০ || ✓
|-
| 330 || [[ইনগ্রিড ডোবিচি]] || ৬৭১ || ✓
|-
| 331 || [[ইয়ান উইলমুট]] || ৪২৭ || ✓
|-
| 332 || [[হিউ এভারেট]] || ৬০০ || ✓
|-
| 333 || [[ফ্রঁসোয়া অংল্যার]] || ৫৩৩ || ✓
|-
| 334 || [[এমানুয়েল সোয়েডেনবার্গ]] || ১,৫২২ || ✓
|-
| 335 || [[এলিজাবেথ বিশপ]] || ৬৫২ || ✓
|-
| 336 || [[শেখ আন্তা দিওপ]] || ৩৩৫ || ✓
|-
| 337 || [[জর্জ গ্যামো]] || ১,৫২১ || ✓
|-
| 338 || [[হাইনরিখ হের্ত্স]] || ১,৭৪৪ || ✓
|-
| 339 || [[গ্রো হারলেম ব্রুন্ডটল্যান্ড]] || ৩১১ || ✓
|-
| 340 || [[জন সি. মাদার]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 341 || [[জন ব্যাকাস]] || ৫৯৭ || ✓
|-
| 342 || [[এর্নস্ট মায়ার]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 343 || [[লিন মার্গুলিস]] || ১,৭১৮ || ✓
|-
| 344 || [[হ্যান্স বেটে]] || ৩৯৬ || ✓
|-
| 345 || [[লুই আগাসিজ]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 346 || [[জর্জ ক্যুভিয়ে]] || ৭৬৮ || ✓
|-
| 347 || [[ব্রাসেলস]] || ৯৬৭ || ✓
|-
| 348 || [[ড্যানিয়েল কানেমান]] || ২,৯৫৭ || ✕
|-
| 349 || [[ডোনাল্ড কানুথ]] || ১,৫৮২ || ✓
|-
| 350 || [[লেমাহ গবোউই]] || ১,১৫০ || ✓
|-
| 351 || [[গারট্রুড বি. এলিয়ন]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 352 || [[ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড]] || ৩৫৯ || ✓
|-
| 353 || [[এর্নস্ট মাখ]] || ২,০২৮ || ✕
|-
| 354 || [[ডোনাল্ড টাস্ক]] || ১,৭৭১ || ✓
|-
| 355 || [[অরবিন্দ আদিগা]] || ৮৬৬ || ✓
|-
| 356 || [[সি. এ. আর. হোর]] || ১,০৬১ || ✕
|-
| 357 || [[পল ডিরাক]] || ৪,৭০৯ || ✕
|-
| 358 || [[ই. ও. উইলসন]] || ৪,৪৫৮ || ✕
|-
| 359 || [[ডেসমন্ড মরিস]] || ৩,৯৮৬ || ✓
|-
| 360 || [[মাইকেল গোভ]] || ৩,৭৩৬ || ✓
|-
| 361 || [[হার্পার লি]] || ২,৪৯১ || ✓
|-
| 362 || [[কেন টম্পসন]] || ১,৮১৬ || ✓
|-
| 363 || [[জন টিন্ডাল]] || ২,৫২৮ || ✓
|-
| 364 || [[মেরি রবিনসন]] || ১,৩৭৬ || ✓
|-
| 365 || [[হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] || ২,২৪৪ || ✓
|-
| 366 || [[আইরিস মারডক]] || ১,২৬৮ || ✓
|-
| 367 || [[আর্নেস্ট রাদারফোর্ড]] || ২,৪৫৩ || ✓
|-
| 368 || [[ফ্রেড ব্রুকস]] || ১,১৯১ || ✓
|-
| 369 || [[ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]] || ১,৯০৭ || ✓
|-
| 370 || [[ডায়ান ফসি]] || ১,৬৪৬ || ✕
|-
| 371 || [[ইডিথ হোয়ার্টন]] || ১,৪২৫ || ✓
|-
| 372 || [[অরেল স্টেইন]] || ১,৪৭৮ || ✕
|-
| 373 || [[গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল]] || ১,৬৫০ || ✓
|-
| 374 || [[আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট]] || ১,১২০ || ✓
|-
| 375 || [[ফ্রান্সিস্কো ভারেলা]] || ১,৮৯৩ || ✕
|-
| 376 || [[ডেনিস রিচি]] || ১,১০৮ || ✓
|-
| 377 || [[অড্রে হেপবার্ন]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 378 || [[জি. এইচ. হার্ডি]] || ২,৩৩০ || ✓
|-
| 379 || [[হ্যারল্ড পিন্টার]] || ২,০৭২ || ✓
|-
| 380 || [[অ্যানাক্সিম্যান্ডার]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 381 || [[ডেভিড ব্রুস্টার]] || ২,৪০৪ || ✓
|-
| 382 || [[ব্রায়ান গ্রিন]] || ১,২৭৯ || ✕
|-
| 383 || [[অমিত গোস্বামী]] || ৯১৫ || ✓
|-
| 384 || [[এডমন্ড হ্যালি]] || ২,৬১৯ || ✓
|-
| 385 || [[ডেভিড সুজুকি]] || ১,৫১৭ || ✓
|-
| 386 || [[ডেভিড জোনাথন গ্রোস]] || ৮০৯ || ✓
|-
| 387 || [[ডেভিড ম্যামেট]] || ১,২৫২ || ✓
|-
| 388 || [[আহমেদ জেওয়াইল]] || ১৯২ || ✓
|-
| 389 || [[ইউরোপীয় পার্লামেন্ট]] || ৬১৫ || ✓
|-
| 390 || [[ডেভিড গ্রসম্যান]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 391 || [[হরিশ-চন্দ্র]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 392 || [[অনিতা দেসাই]] || ১,৪৩৯ || ✓
|-
| 393 || [[অ্যাশ কার্টার]] || ৪৬৩ || ✓
|-
| 394 || [[আলফ্রেড নোবেল]] || ৫০৯ || ✕
|-
| 395 || [[ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড]] || ৬৩৯ || ✓
|-
| 396 || [[মনোজ মিত্র]] || ৫,৫৬৭ || ✓
|-
| 397 || [[নারায়ণ সান্যাল]] || ৩৬৬ || ✓
|-
| 398 || [[মতি নন্দী]] || ৫,০১৮ || ✓
|-
| 399 || [[দেবেশ রায়]] || ৯,২৪৪ || ✓
|-
| 400 || [[শিশিরকুমার বসু]] || ৪,৮০৭ || ✓
|-
| 401 || [[বিমল কর]] || ১,৩৬৯ || ✓
|-
| 402 || [[সুবোধ সরকার]] || ৬৬০ || ✓
|-
| 403 || [[স্মরণজিৎ চক্রবর্তী]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 404 || [[স্বামী সারদানন্দ]] || ৮,৬৯৫ || ✓
|-
| 405 || [[শক্তিপদ রাজগুরু]] || ৯৯৩ || ✓
|-
| 406 || [[কমলকুমার মজুমদার]] || ১,৫৭৩ || ✓
|-
| 407 || [[গৌতম ভদ্র]] || ৬৮৫ || ✓
|-
| 408 || [[পরিমল গোস্বামী]] || ১,৪৬৭ || ✓
|-
| 409 || [[প্রেমাঙ্কুর আতর্থী]] || ৫,৬৯৮ || ✓
|-
| 410 || [[কালীপ্রসন্ন সিংহ]] || ৫,৪০৪ || ✓
|-
| 411 || [[অখিল নিয়োগী]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 412 || [[হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]] || ৫১৩ || ✓
|-
| 413 || [[গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক]] || ৫৯২ || ✓
|-
| 414 || [[অজিত দত্ত]] || ৬১৩ || ✓
|-
| 415 || [[অজিতকৃষ্ণ বসু]] || ২,৩৮৬ || ✓
|-
| 416 || [[এম এস স্বামীনাথন]] || ৮৭২ || ✓
|-
| 417 || [[চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন]] || ২,১৭১ || ✓
|-
| 418 || [[চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও]] || ২,১৬৭ || ✓
|-
| 419 || [[কণাদ]] || ৯১৯ || ✓
|-
| 420 || [[জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর]] || ৩,১৮৭ || ✓
|-
| 421 || [[বিক্রম সারাভাই]] || ১,১২৯ || ✓
|-
| 422 || [[জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ]] || ১১,২৬৬ || ✓
|-
| 423 || [[অ্যানোনিমাস]] || ৪,০৪৩ || ✓
|-
| 424 || [[টুপাক শাকুর]] || ৬,২৮৭ || ✓
|-
| 425 || [[জেনডেয়া]] || ২,০১৪ || ✓
|-
| 426 || [[টিমথি শালামে]] || ১,১২৭ || ✓
|-
| 427 || [[হিপোক্রেটিস]] || ২,৯২৩ || ✓
|-
| 428 || [[ষষ্ঠ মুহাম্মদ]] || ৮৭৮ || ✓
|-
| 429 || [[জন লেনক্স]] || ৭০২ || ✓
|-
| 430 || [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] || ৮,০৫৬ || ✓
|-
| 431 || [[আবদুল হান্নান মাসউদ]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 432 || [[পরকাল সম্পর্কে কুরআন]] || ১৮,৭৯৪ || ✓
|-
| 433 || [[মানবতাবিরোধী অপরাধ]] || ১,৯১২ || ✓
|-
| 434 || [[আন্তর্জাতিক আইন]] || ৫,৫৩৯ || ✓
|-
| 435 || [[মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ]] || ১,৪৫২ || ✓
|-
| 436 || [[আর্নেস্ট কিং]] || ১৫,৭৬৯ || ✕
|-
| 437 || [[ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট]] || ২৬,২১৫ || ✓
|-
| 438 || [[আনোয়ার ইব্রাহিম]] || ৬,৯৯৩ || ✓
|-
| 439 || [[ইসলাম ও যুদ্ধ]] || ৫,৬৮১ || ✓
|-
| 440 || [[আহমদ সিরহিন্দি]] || ৪,০৭০ || ✓
|-
| 441 || [[মুসা সেরান্তোনিও]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 442 || [[ইয়াকুব]] || ১,৯৫৬ || ✓
|-
| 443 || [[আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার্দি]] || ১,৯৭৯ || ✕
|-
| 444 || [[অ্যালিস পল]] || ১,৮৬২ || ✕
|-
| 445 || [[অ্যামি ট্যান]] || ২,০০৭ || ✕
|-
| 446 || [[অ্যান্ড্রু সেগা]] || ১,৯৬৯ || ✓
|-
| 447 || [[আল্যাঁ বাদিউ]] || ১,৯৬৬ || ✕
|-
| 448 || [[আফ্রিকান স্পির]] || ১,৭২২ || ✕
|-
| 449 || [[ফ্রেডরিক ডগলাস]] || ৮৬২ || ✕
|-
| 450 || [[নবী]] || ২,০৬২ || ✕
|-
| 451 || [[এমা গোল্ডম্যান]] || ১২,৮০০ || ✕
|-
| 452 || [[প্রেম সম্পর্কে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি]] || ১৫,০৪০ || ✓
|-
| 453 || [[মিস্ট্রি সায়েন্স থিয়েটার ৩০০০]] || ৯৪,৯৬৮ || ✕
|-
| 454 || [[দ্য থিক অফ ইট]] || ৬৯,২৮৩ || ✕
|-
| 455 || [[অ্যালেক্স হেইলি]] || ১,৬০৪ || ✓
|-
| 456 || [[দাসত্ব সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি]] || ৫,৭৮৫ || ✕
|-
| 457 || [[দাসত্ব]] || ১০,২৫৯ || ✕
|-
| 458 || [[এইচ. পি. লাভক্র্যাফট]] || ২৫,৪৭২ || ✓
|-
| 459 || [[ব্লেজ পাসকাল]] || ৩,০৫১ || ✓
|-
| 460 || [[চিনুয়া আচেবে]] || ৬,০৪২ || ✓
|-
| 461 || [[ডরিস লেসিং]] || ৪,৬২১ || ✓
|-
| 462 || [[ফেদেরিকো ফাগিন]] || ৬০০ || ✓
|-
| 463 || [[আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক]] || ১,২১১ || ✓
|-
| 464 || [[আঙ্গেলা ম্যার্কেল]] || ২,০২৯ || ✓
|-
| 465 || [[আনাক্সাগোরাস]] || ৩,৬৭১ || ✓
|-
| 466 || [[আমোস তভারস্কি]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 467 || [[আলফ্রেড মার্শাল]] || ১,৩০৯ || ✓
|-
| 468 || [[আলবার্টাস ম্যাগনাস]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 469 || [[অনিতা ব্রুকনার]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 470 || [[আলফ্রেড কিনসে]] || ১,০৩৩ || ✓
|-
| 471 || [[অ্যালান কে]] || ৯২৪ || ✓
|-
| 472 || [[আলেকজান্ডার ফ্লেমিং]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 473 || [[ক্যারোলিন বার্তোজি]] || ৪১১ || ✓
|-
| 474 || [[আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস]] || ১,৬৫৯ || ✓
|-
| 475 || [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] || ১,৪৩৬ || ✕
|-
| 476 || [[জ্যারেড ডায়মন্ড]] || ১,১৭১ || ✕
|-
| 477 || [[জেন গুডাল]] || ১,৩৫৭ || ✓
|-
| 478 || [[জেমস টোবিন]] || ১,০৫৯ || ✓
|-
| 479 || [[জেমস ক্যালাহান]] || ১,৬১৫ || ✓
|-
| 480 || [[উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভন্স]] || ১,৭০১ || ✓
|-
| 481 || [[উইলিয়াম থমসন]] || ১,০৫১ || ✓
|-
| 482 || [[ওলে সোয়িংকা]] || ৩,১৬১ || ✕
|-
| 483 || [[জোসেফ স্টিগলিটজ]] || ১,৫০৪ || ✕
|-
| 484 || [[গ্রেগর মেন্ডেল]] || ৮৭৪ || ✓
|-
| 485 || [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস]] || ১,২৩৬ || ✓
|-
| 486 || [[গ্লেন থিওডোর সিবর্গ]] || ৯৮৪ || ✓
|-
| 487 || [[হেরমান ভাইল]] || ১,৫৪১ || ✓
|-
| 488 || [[হেরমান হেস]] || ৪,৫৬৫ || ✓
|-
| 489 || [[হার্বার্ট স্পেন্সার]] || ২,৩৬৮ || ✓
|-
| 490 || [[হার্বার্ট এ. সাইমন]] || ১,৩৩৭ || ✓
|-
| 491 || [[হেরাক্লিটাস]] || ১,৫৭০ || ✓
|-
| 492 || [[হেনরিক শিয়েনকিয়েভিচ]] || ১,৯১১ || ✕
|-
| 493 || [[উইলা ক্যাথার]] || ৩,০৩৩ || ✕
|-
| 494 || [[উইল ডুরান্ট]] || ২,৮১৫ || ✓
|-
| 495 || [[ডব্লিউ. এইচ. অডেন]] || ২,৮১৯ || ✓
|-
| 496 || [[ভোলফগাং পাউলি]] || ১,৬৩৯ || ✓
|-
| 497 || [[ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা]] || ২,২৫৮ || ✓
|-
| 498 || [[জন আর্চিবল্ড হুইলার]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 499 || [[সেমুর হার্শ]] || ১,৭৬১ || ✓
|-
| 500 || [[সের্গেই কোরোলিয়ভ]] || ৫৬৫ || ✓
|-
| 501 || [[জেন অ্যাডামস]] || ১,৯০৬ || ✓
|-
| 502 || [[জাক-ইভ কুস্তো]] || ৬৬৩ || ✓
|-
| 503 || [[হিদেকি ইউকাওয়া]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 504 || [[প্রিমো লেভি]] || ৪,২৩৮ || ✓
|-
| 505 || [[ঝুম্পা লাহিড়ী]] || ৪৩০ || ✓
|-
| 506 || [[জেমস প্রেসকট জুল]] || ৪৮৭ || ✓
|-
| 507 || [[কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 508 || [[কলসী]] || ১,০৮৬ || ✓
|-
| 509 || [[চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১,১৫৭ || ✓
|-
| 510 || [[শহর]] || ১,৪৫৮ || ✕
|-
| 511 || [[ঘাস]] || ২,১১২ || ✓
|-
| 512 || [[জলধর সেন]] || ১,৭৬৪ || ✓
|-
| 513 || [[ঠিকানা]] || ১,১৮৭ || ✓
|-
| 514 || [[গন্ধ]] || ১,৮০৭ || ✓
|-
| 515 || [[চা]] || ২,৪২৪ || ✓
|-
| 516 || [[রবীন্দ্রনাথ মৈত্র]] || ১,২৮১ || ✓
|-
| 517 || [[দিগন্ত]] || ১,২২৮ || ✓
|-
| 518 || [[ময়ূর]] || ১,৩৪৫ || ✓
|-
| 519 || [[করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৯১১ || ✓
|-
| 520 || [[ঢেউ]] || ১,৫৩৯ || ✓
|-
| 521 || [[ছাতা]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 522 || [[উমাকান্ত হাজারী]] || ৯৪২ || ✓
|-
| 523 || [[ঘৃণা]] || ২,৩৩৯ || ✓
|-
| 524 || [[বাঁশ]] || ২,৪৫৯ || ✕
|-
| 525 || [[কলেরা]] || ১,৬৩৮ || ✓
|-
| 526 || [[মাঠ]] || ২,৪৪৭ || ✓
|-
| 527 || [[টিন]] || ১,৯৩২ || ✕
|-
| 528 || [[সংবাদ]] || ৪,৪৭৯ || ✕
|-
| 529 || [[নবায়নযোগ্য শক্তি]] || ১২,৬১০ || ✓
|-
| 530 || [[নাডিন গর্ডিমার]] || ১,৩৭২ || ✓
|-
| 531 || [[মারে গেল-মান]] || ১,৩২৮ || ✓
|-
| 532 || [[নার্গিস মোহাম্মাদি]] || ১,৭৫৫ || ✓
|-
| 533 || [[সাদি কার্নো]] || ৫,২৫৬ || ✓
|-
| 534 || [[জন বারবার]] || ৫৭৪ || ✕
|-
| 535 || [[স্কটিশ জাতি]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 536 || [[ওয়েন্ডি বোম্যান]] || ১৫১ || ✕
|-
| 537 || [[যুদ্ধাপরাধ]] || ৪,৬৭৯ || ✕
|-
| 538 || [[রুবি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 539 || [[রিতা এনজেলু]] || ১৫৯ || ✓
|-
| 540 || [[বমি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 541 || [[পার্ল]] || ৬৯০ || ✕
|-
| 542 || [[পাইথন]] || ১৩৯ || ✓
|-
| 543 || [[উইকিলিকস]] || ১,৬৩১ || ✕
|-
| 544 || [[জনস্টন ম্যাককালি]] || ৩১১ || ✕
|-
| 545 || [[যুগোস্লাভিয়া]] || ৪,১৩৬ || ✓
|-
| 546 || [[অংশুমান কর]] || ২০৯ || ✓
|-
| 547 || [[কেমব্রিজ গান]] || ৩০৫ || ✕
|-
| 548 || [[হেলেনীয় শিক্ষা]] || ৫০২ || ✓
|-
| 549 || [[টমাস হলি চিভার্স]] || ২৩৫ || ✓
|-
| 550 || [[মুহাম্মদ মাহদি আল-জাওয়াহিরি]] || ৬৩৮ || ✓
|-
| 551 || [[জেডি স্মিথ]] || ১,০৮০ || ✓
|-
| 552 || [[ব্রায়ান পি. শ্মিট]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 553 || [[কার্ল বার্নস্টিন]] || ৩৬৮ || ✓
|-
| 554 || [[চার্লস ফেফারম্যান]] || ৩৩৯ || ✓
|-
| 555 || [[ইয়ুস্টুস ফন লিবিগ]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 556 || [[টমাস শেলিংস]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 557 || [[উইলিয়াম শকলি]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 558 || [[শিং-শেন চের্ন]] || ৭৬৫ || ✕
|-
| 559 || [[হুগো দ্য ভ্রিস]] || ৩৪৪ || ✓
|-
| 560 || [[রবার্ট অ্যান্ড্রুজ মিলিকান]] || ৪৩৬ || ✓
|-
| 561 || [[জেমস ভ্যান অ্যালেন]] || ৫৯৬ || ✓
|-
| 562 || [[জাক শিরাক]] || ৭১১ || ✓
|-
| 563 || [[ডরোথি হজকিন]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 564 || [[গোরান পারসন]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 565 || [[জেরার দ্যব্রু]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 566 || [[কোরীয় যুদ্ধ]] || ৯,৯৬৫ || ✕
|-
| 567 || [[রবার্ট জে. শিলার]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 568 || [[ফ্রঁসোয়া আরাগন]] || ৪৩৫ || ✓
|-
| 569 || [[অখিলচন্দ্র দত্ত]] || ৩৭৩ || ✕
|-
| 570 || [[ফ্রান্সিস কলিন্স]] || ৫৮৮ || ✓
|-
| 571 || [[হেলেন ক্লার্ক]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 572 || [[লেয়োঁ ফুকো]] || ৫৩২ || ✓
|-
| 573 || [[জন চার্লস পোলানি]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 574 || [[জন মেইনার্ড কেইনস]] || ১৭,৭৯১ || ✕
|-
| 575 || [[দিমিত্রি মুরাতভ]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 576 || [[আবদুস সালাম]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 577 || [[আবদুলরাজাক গুরনাহ]] || ৭৪৯ || ✓
|-
| 578 || [[এ. সি. বেনসন]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 579 || [[প্রথম আলবার্ট]] || ৮৬৪ || ✓
|-
| 580 || [[অম্লান দত্ত]] || ১৪৬ || ✓
|-
| 581 || [[ইয়ান মার্টেল]] || ১,১৩৩ || ✕
|-
| 582 || [[ইয়োইচিরো নাম্বু]] || ৪৩১ || ✕
|-
| 583 || [[সৈয়দ জামিল আহমেদ]] || ২০৩ || ✓
|-
| 584 || [[পূর্ণিমা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 585 || [[শরিফুল রাজ]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 586 || [[কাজী হায়াৎ]] || ২৭৪ || ✓
|-
| 587 || [[আরেফিন রুমি]] || ১৬২ || ✓
|-
| 588 || [[ইমাম নাসাই]] || ৬৯৭ || ✕
|-
| 589 || [[কবরী]] || ২৭১ || ✓
|-
| 590 || [[হাফিজ উদ্দিন আহমদ]] || ২৩৬ || ✓
|-
| 591 || [[আ ন ম এহসানুল হক মিলন]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 592 || [[আন্দালিব রহমান পার্থ]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 593 || [[ববি হাজ্জাজ]] || ২৫৩ || ✓
|-
| 594 || [[ইবনে মাজাহ]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 595 || [[হাবিব ওয়াহিদ]] || ২৬৪ || ✓
|-
| 596 || [[জাইমা রহমান]] || ২১২ || ✓
|-
| 597 || [[কনকচাঁপা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 598 || [[আহসান হাবীব]] || ২১৯ || ✓
|-
| 599 || [[বেলাল খান]] || ২১৯ || ✓
|-
| 600 || [[নচিকেতা চক্রবর্তী]] || ২৮৯ || ✓
|-
| 601 || [[আ ফ ম খালিদ হোসেন]] || ২৪৮ || ✓
|-
| 602 || [[আলমগীর]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 603 || [[সালাহউদ্দিন আহমেদ]] || ৩৫৩ || ✓
|-
| 604 || [[চোং নানশান]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 605 || [[এ. সি. ব্র্যাডলি]] || ৩৯০ || ✕
|-
| 606 || [[আলবার্ট হফমান]] || ৩,৪৪৪ || ✓
|-
| 607 || [[অ্যালান পারলিস]] || ৯২৮ || ✓
|-
| 608 || [[হেইনরিখ রোরার]] || ৩৬০ || ✓
|-
| 609 || [[আলফ্রেড আহো]] || ১৪৪ || ✕
|-
| 610 || [[উ থান্ট]] || ৬৭৮ || ✕
|-
| 611 || [[লোরঁ শোয়ার্তজ]] || ৬১০ || ✓
|-
| 612 || [[উইলিয়াম শার্প]] || ৩৯৯ || ✓
|-
| 613 || [[পাউল এরেনফেস্ট]] || ৪৩৩ || ✓
|-
| 614 || [[রবার্ট মান্ডেল]] || ৩২২ || ✓
|-
| 615 || [[হান কাং]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 616 || [[ক্রিপটিক ফেইট]] || ১৭৬ || ✓
|-
| 617 || [[কাকাবাবু]] || ২৫৮ || ✓
|-
| 618 || [[ক্যারি মুলিস]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 619 || [[টোমাস ট্রান্সট্রোমার]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 620 || [[ইরিনা বোকোভা]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 621 || [[মার্টিনুস ভেল্টম্যান]] || ১৯৫ || ✓
|-
| 622 || [[ড্যামন গ্যালগুট]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 623 || [[আর্থার কর্নবার্গ]] || ১৭৭ || ✕
|-
| 624 || [[বেন ওক্রি]] || ৮৫৮ || ✓
|-
| 625 || [[সল বেলো]] || ১,০০৩ || ✓
|-
| 626 || [[সল পার্লমাটার]] || ৩১১ || ✕
|-
| 627 || [[সিমেওঁ দ্যনি পোয়াসোঁ]] || ১৬০ || ✓
|-
| 628 || [[স্টিভ আরউইন]] || ৪৩৫ || ✕
|-
| 629 || [[আনি এরনো]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 630 || [[ফজল শাহাবুদ্দীন]] || ৪৯৫ || ✕
|-
| 631 || [[আল-জাহিজ]] || ৭৩৩ || ✓
|-
| 632 || [[আল-বিরুনি]] || ১,৮৩৬ || ✓
|-
| 633 || [[থমাস হ্যারিয়ট]] || ৪৩২ || ✓
|-
| 634 || [[স্টিভেন চু]] || ২২০ || ✓
|-
| 635 || [[ইভাঞ্জেলিস্টা টরিসেলি]] || ৩৭২ || ✓
|-
| 636 || [[লেসলি ল্যামপোর্ট]] || ৫৫০ || ✓
|-
| 637 || [[মার্টিন লুইস পার্ল]] || ৩৮৮ || ✓
|-
| 638 || [[ভ্লাদিমির মার্কভনিকভ]] || ২৬৭ || ✓
|-
| 639 || [[বাপ্পী লাহিড়ী]] || ২৫২ || ✓
|-
| 640 || [[নুহাশ হুমায়ূন]] || ২০৫ || ✓
|-
| 641 || [[আনিসুল হক]] || ২৪৬ || ✕
|-
| 642 || [[বাবর আলী]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 643 || [[মেহের আফরোজ শাওন]] || ৩১৯ || ✓
|-
| 644 || [[ফেলুদা]] || ২৪৬ || ✓
|-
| 645 || [[ব্যোমকেশ বক্সী]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 646 || [[প্রোফেসর শঙ্কু]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 647 || [[বারী সিদ্দিকী]] || ২৪২ || ✓
|-
| 648 || [[সমরেশ বসু]] || ২০২ || ✓
|-
| 649 || [[লিয়ন কুপার]] || ৩২৩ || ✓
|-
| 650 || [[কামিলা শামসি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 651 || [[ক্রিস্টোফার রেন]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 652 || [[জিওফ্রে হিন্টন]] || ৩২২ || ✓
|-
| 653 || [[ফ্রিডতিয়ফ নানসেন]] || ১৯১ || ✓
|-
| 654 || [[আলাঁ আস্পে]] || ৭৭৬ || ✓
|-
| 655 || [[ক্যারিল ফিলিপস]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 656 || [[জেমস কুক]] || ৩৯৭ || ✓
|-
| 657 || [[ক্লাউদিয়া শেইনবাউম]] || ৩২১ || ✓
|-
| 658 || [[আবি আহমেদ]] || ২৫৫ || ✓
|-
| 659 || [[পিটার আগ্রি]] || ১৯০ || ✓
|-
| 660 || [[ফখরুদ্দীন আল-রাযী]] || ২১৫ || ✓
|-
| 661 || [[ইব্রাহিম ত্রাওরে]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 662 || [[পেদ্রো সানচেজ]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 663 || [[অ্যাডাম রিস]] || ৪৮৯ || ✓
|-
| 664 || [[আব্দুল হান্নান আবকারী]] || ০ || ✕
|-
| 665 || [[ইবরাহীম আলী তশনা]] || ২৪৭ || ✓
|-
| 666 || [[রুহুল আমিন বসিরহাটি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 667 || [[মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী]] || ৩৪২ || ✓
|-
| 668 || [[শামছুল হুদা]] || ০ || ✕
|-
| 669 || [[শামছুল হক ফরিদপুরী]] || ৫৪৬ || ✓
|-
| 670 || [[গর্ডন মুর]] || ৫৮৭ || ✓
|-
| 671 || [[শিরিন এবাদি]] || ৫৪৩ || ✕
|-
| 672 || [[নাগিব মাহফুজ]] || ৫৩০ || ✓
|-
| 673 || [[আল-ফারাবি]] || ৫৩৭ || ✕
|-
| 674 || [[চাষী নজরুল ইসলাম]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 675 || [[বাপ্পা মজুমদার]] || ৩১০ || ✓
|-
| 676 || [[রবার্ট ক্লাইভ]] || ২,০০২ || ✕
|-
| 677 || [[পার্ল এস. বাক]] || ৯৩৩ || ✕
|-
| 678 || [[জন বারডিন]] || ৩৬৪ || ✓
|-
| 679 || [[আজিজুল হক]] || ১৮০ || ✓
|-
| 680 || [[আবদুস সালাম]] || ১০০ || ✕
|-
| 681 || [[আবদুল গফুর]] || ১০১ || ✕
|-
| 682 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৬১ || ✓
|-
| 683 || [[আবদুল জব্বার]] || ৯২ || ✕
|-
| 684 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৩৩ || ✕
|-
| 685 || [[অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১৩৪ || ✕
|-
| 686 || [[অনিমেষ রায়]] || ১২৬ || ✕
|-
| 687 || [[অনির্বাণ বসু]] || ১২০ || ✕
|-
| 688 || [[অজয় ঘটক]] || ১১৪ || ✕
|-
| 689 || [[অচলা মল্লিক]] || ১৫৪ || ✕
|-
| 690 || [[অজয় হোম]] || ১৫৯ || ✕
|-
| 691 || [[অমিতা বসু]] || ১৪২ || ✕
|-
| 692 || [[আস্ট্রোনমি]] || ০ || ✕
|-
| 693 || [[মমতাজ বেগম]] || ৩৫৫ || ✕
|-
| 694 || [[আবুল বরকত]] || ১৪৩ || ✕
|-
| 695 || [[মেরি স্টোপস]] || ৫০৫ || ✕
|-
| 696 || [[ইয়োন ফসে]] || ৩৯৩ || ✕
|-
| 697 || [[জুনো দিয়াজ]] || ৫৪০ || ✕
|-
| 698 || [[পারভীন এতেসামি]] || ০ || ✕
|-
| 699 || [[চুয়াং জি]] || ২৭৪ || ✕
|-
| 700 || [[ফকির শাহাবুদ্দীন]] || ০ || ✕
|-
| 701 || [[আবু বকর সিদ্দিকী]] || ০ || ✕
|-
| 702 || [[বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট]] || ০ || ✕
|-
| 703 || [[বাংলাদেশের কৃষি প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 704 || [[হাসিবুন নাহের]] || ০ || ✕
|-
| 705 || [[মেরি উলস্টোনক্রাফ্ট]] || ২১৩ || ✕
|-
| 706 || [[বালতাসার গ্রাসিয়ান]] || ২০৬ || ✕
|-
| 707 || [[জুলাই আন্দোলন]] || ৬১৫ || ✕
|-
| 708 || [[বিকাশ]] || ০ || ✕
|-
| 709 || [[নতুন প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 710 || [[বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট শিল্প: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা]] || ০ || ✕
|-
| 711 || [[জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের পরিবেশ]] || ০ || ✕
|-
| 712 || [[মোহাম্মদ শেখ শাহিনুর রহমান]] || ০ || ✕
|-
| 713 || [[অপ্রত্যাশিত জীবনযাত্রা]] || ০ || ✕
|-
| 714 || [[অপর্ণা সেন]] || ৩১২ || ✕
|}
skh66oid24efni8grsahvvrmio2u54i
83254
83253
2026-05-02T01:04:45Z
ARI
356
83254
wikitext
text/x-wiki
----
সর্বশেষ হালনাগাদ - ২৩:৩২, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
----
==উইকিউক্তি ফলাফল ২০২৬==
{| class="wikitable sortable"
|-
! ক্রম
! ব্যবহারকারী
! নিবন্ধ
! মোট শব্দ
! বিস্তারিত
|-
| '''১'''
| '''Dr. Mosaddek Khondoker'''
| '''১৯'''
| '''৪,০৪,৫৭৫'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩,৪০,৩৫৪<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৬৪,২২১
</div>
|-
| '''২'''
| '''ARI'''
| '''২৮'''
| '''৩,১৪,৮৯৭'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩,০৯,০০৫<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৫,৮৯২
</div>
|-
| '''৩'''
| '''Tuhin'''
| '''২৮০'''
| '''৩,০০,৬৫৮'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৪৮,৫৮৮<br>
অপর্যালোচিত: ২,১৩৩<br>
বাতিল: ৪৯,৯৩৭
</div>
|-
| '''৪'''
| '''Oindrojalik Watch'''
| '''২৯'''
| '''১,৯৯,৯৭০'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৯০,১০১<br>
অপর্যালোচিত: ৯,৮৬৯<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''৫'''
| '''NusJaS'''
| '''১০'''
| '''২,৫১,৯১৩'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৬৬,৩৪৫<br>
অপর্যালোচিত: ৮৫,৫৬৮<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''৬'''
| '''SMontaha32'''
| '''৩৭'''
| '''২,৩৯,৫২৮'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৬৫,৬৭০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৭৩,৮৫৮
</div>
|-
| '''৭'''
| '''Sumanta3023'''
| '''১১০'''
| '''১,২২,৫০০'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৯৭,৪২১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২৫,০৭৯
</div>
|-
| '''৮'''
| '''Anik Kanti Dey'''
| '''৩৪'''
| '''১,০৪,৬৪১'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৯৩,৮৬৪<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১০,৭৭৭
</div>
|-
| '''৯'''
| '''Tanbiruzzaman'''
| '''২১'''
| '''৮০,৭২৪'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৮০,৭২৪<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''১০'''
| '''Nil Nandy'''
| '''২৭'''
| '''৭৪,২৬৭'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৭৪,২৬৭<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ১১
| R1F4T
| ২২
| ২,৮৫,২৭৫
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৬৩,৯৫১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২,২১,৩২৪
</div>
|-
| ১২
| Salil Kumar Mukherjee
| ২৭
| ৪২,২০৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩০,৯১৫<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১১,২৯১
</div>
|-
| ১৩
| Anaf Ibn Shahibul
| ৪৭
| ৫৬,৫৮১
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১৯,৩৪৬<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৩৭,২৩৫
</div>
|-
| ১৪
| মোহাম্মদ জনি হোসেন
| ২৫
| ৮,১২৩
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৫,৪৭২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২,৬৫১
</div>
|-
| ১৫
| JIBON
| ৫
| ৫,৫৫৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৪,৭৩২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৮২২
</div>
|-
| ১৬
| Md. Muqtadir Fuad
| ১১
| ৪,০২৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৪,০২৯<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ১৭
| Humaira.thithi
| ৮
| ৩,৭১০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৭৮৭<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৯২৩
</div>
|-
| ১৮
| Amirhusenjihed
| ৩
| ৩,০৬৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৫৬৯<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪৯৫
</div>
|-
| ১৯
| Asikur Rahman
| ৬
| ২,২২৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,২২৯<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২০
| Rasel Mehedi
| ১০
| ২,৪৬৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,২২২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২৪৬
</div>
|-
| ২১
| Mahiya50
| ৬
| ২,১৯০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,১৯০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২২
| Borhan
| ৬
| ১,৬৬২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৬৬২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৩
| Raihanur
| ৪
| ৫,৬৭৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৫৪২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪,১৩২
</div>
|-
| ২৪
| Muhammad Fahim Faisal
| ৬
| ১,৪৯৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৪৯৮<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৫
| Firuz Ahmmed
| ৪
| ২,১৯৭
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,১১৭<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,০৮০
</div>
|-
| ২৬
| নিয়াজ ইসলাম
| ২
| ৭৫৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৭৫৬<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৭
| Asad.fr
| ৩
| ৩,২৯৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩৬৪<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২,৯৩৫
</div>
|-
| ২৮
| Mehedi Abedin
| ১
| ৩৫২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩৫২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৯
| Md. Rayan Alam Rifat
| ১
| ১৮০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১৮০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৩০
| Siyan BD
| ১২
| ১,৫৩৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১৬১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,৩৭৫
</div>
|-
| ৩১
| Dewan mahbubr Rahman
| ১
| ৩৫০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৩৫০
</div>
|-
| ৩২
| ExceptionistSagar
| ১
| ১৭৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১৭৯
</div>
|-
| ৩৩
| Kh. Fahim
| ১
| ৪০৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪০৬
</div>
|-
| ৩৪
| Trisha Mazumder
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৩৫
| MdMarufHossen71
| ২
| ৪৯৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪৯৮
</div>
|-
| ৩৬
| Usarker
| ৩
| ১,৪৩৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,৪৩৮
</div>
|-
| ৩৭
| রাকিবুল হাসান রাসেল
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৩৮
| MD RADWAN ISLAM
| ৬
| ২৭৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২৭৪
</div>
|-
| ৩৯
| AKM Mahinur Rahman
| ২
| ৪১৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪১৯
</div>
|-
| ৪০
| MD RADWAN ISLAM ROHAN
| ৫
| ৬১৫
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৬১৫
</div>
|-
| ৪১
| ShahinurWrites
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৪২
| Abdullah Al Shishir
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৪৩
| চ্যাম্পিয়ন স্টার ১
| ১
| ৩১২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৩১২
</div>
|}
== পর্যালোচক পরিসংখ্যান ==
; পর্যালোচক
{| class="wikitable"
|-
! ক্রম !! নাম !! মোট !! গৃহীত !! বাতিল
|-
| '''১''' || '''Mehedi Abedin''' || '''২৭৫''' || ২৩৮ || ৩৭
|-
| '''২''' || '''NusJaS''' || '''১৯৩''' || ১৫৪ || ৩৯
|-
| '''৩''' || '''MS Sakib''' || '''১৮১''' || ১৪৮ || ৩৩
|-
| '''৪''' || '''ARI''' || '''১৫৮''' || ১২৬ || ৩২
|-
| '''৫''' || '''MdsShakil''' || '''৪০''' || ৩৮ || ২
|-
| '''৬''' || '''Tahmid''' || '''১৪''' || ১০ || ৪
|-
| '''৭''' || '''Yahya''' || '''৫''' || ৪ || ১
|-
! মোট || || ৮৬৬ || ৭১৮ || ১৪৮
|}
== ব্যবহারকারী ভিত্তিক পরিসংখ্যান ==
=== [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker| Dr. Mosaddek Khondoker]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে উক্তি]] || ৩৯,৩০৩ || ✓
|-
| 2 || [[স্ট্যানলি বল্ডউইন]] || ৩৪,১৩১ || ✕
|-
| 3 || [[খ্রিস্টের অনৈতিহাসিকতা তত্ত্ব]] || ২৮,৭০৭ || ✓
|-
| 4 || [[বেঞ্জামিন ডিসরাইলি]] || ২৯,৪৭৯ || ✓
|-
| 5 || [[রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল]] || ৩০,০৯০ || ✕
|-
| 6 || [[রন পল]] || ২৪,৯২৮ || ✓
|-
| 7 || [[ক্যালকুলাসের ইতিহাস]] || ১৯,১৯৫ || ✓
|-
| 8 || [[অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা]] || ২৩,১০০ || ✓
|-
| 9 || [[ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার]] || ২১,০২৬ || ✓
|-
| 10 || [[স্টিফেন জে গুল্ড]] || ২২,১৫০ || ✓
|-
| 11 || [[এআর-১৫ স্টাইল রাইফেল]] || ১৮,৯০১ || ✓
|-
| 12 || [[শেরি এস. টেপার]] || ২৪,৯৯৯ || ✓
|-
| 13 || [[আউরেলিয়ুস আউগুস্তিনুস]] || ১৯,৩৪৬ || ✓
|-
| 14 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতিত্ব]] || ৪৬,৮৯৯ || ✓
|-
| 15 || [[নবায়নযোগ্য শক্তি]] || ১২,৬১০ || ✓
|-
| 16 || [[নাডিন গর্ডিমার]] || ১,৩৭২ || ✓
|-
| 17 || [[মারে গেল-মান]] || ১,৩২৮ || ✓
|-
| 18 || [[নার্গিস মোহাম্মাদি]] || ১,৭৫৫ || ✓
|-
| 19 || [[সাদি কার্নো]] || ৫,২৫৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১৯
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩,৪০,৩৫৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪,০৪,৫৭৫
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৬৪,২২১
|}
=== [[ব্যবহারকারী:ARI| ARI]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[জে. হাওয়ার্ড মুর]] || ২৪,১৯৫ || ✓
|-
| 2 || [[ভারতে পোশাক]] || ২,২৮৯ || ✓
|-
| 3 || [[ভারতের ভাষা]] || ৬৯৫ || ✓
|-
| 4 || [[মধ্যযুগীয় ভারত]] || ১,৭১৭ || ✓
|-
| 5 || [[ভারতে ইহুদিদের ইতিহাস]] || ২,০৪৬ || ✓
|-
| 6 || [[ভারতে সুফিবাদ]] || ৩,২০৭ || ✕
|-
| 7 || [[পর্তুগিজ ভারত]] || ১,৬৪৩ || ✓
|-
| 8 || [[ভারতের প্রাণী]] || ৩০৫ || ✓
|-
| 9 || [[স্বাধীনতা দিবস]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 10 || [[ভারতে দুর্ভিক্ষ]] || ৩,৭৮১ || ✓
|-
| 11 || [[ভারতে ধর্মহীনতা]] || ২,৩৮৯ || ✓
|-
| 12 || [[ওয়ারেন ফ্যারেল]] || ২১,০৭৮ || ✓
|-
| 13 || [[আর্নেস্ট বেকার]] || ১৩,৫৯৭ || ✓
|-
| 14 || [[অতিপ্রজতা]] || ২৯,৫০১ || ✓
|-
| 15 || [[মোপলা বিদ্রোহ]] || ১৪,৫১২ || ✓
|-
| 16 || [[সীতা রাম গোয়েল]] || ১,৫৯৬ || ✓
|-
| 17 || [[অরুণ শৌরি]] || ১৫,৪৫০ || ✓
|-
| 18 || [[ভারতের ইতিহাস লিখন]] || ১৭,৯১৮ || ✓
|-
| 19 || [[দ্রৌপদী]] || ৬,১৬৪ || ✓
|-
| 20 || [[দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস]] || ২,৬৮৫ || ✕
|-
| 21 || [[রামায়ণ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 22 || [[ভারতে শিক্ষা]] || ১০,৫৮০ || ✓
|-
| 23 || [[ভারতে নারী]] || ৬,১৫০ || ✓
|-
| 24 || [[বন্যপ্রাণীর কষ্ট]] || ৩৩,৭৪১ || ✓
|-
| 25 || [[নিরামিষবাদ]] || ৩০,৬২৭ || ✓
|-
| 26 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতিত্ব]] || ৩৭,৫৭২ || ✓
|-
| 27 || [[নির্বাচন]] || ৭,০২৫ || ✓
|-
| 28 || [[সরকার]] || ২২,৭৫৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৮
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩,০৯,০০৫
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,১৪,৮৯৭
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৫,৮৯২
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Tuhin| Tuhin]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মহুয়া মৈত্র]] || ৬৫০ || ✓
|-
| 2 || [[হেনরি হোম, লর্ড কেইমস]] || ১,২৯৬ || ✓
|-
| 3 || [[লেটি কটিন পোগ্রেবিন]] || ৩৭০ || ✓
|-
| 4 || [[মার্জ পিয়ার্সি]] || ৬,৭৯০ || ✓
|-
| 5 || [[এলেন ডুইবস]] || ৮০৪ || ✓
|-
| 6 || [[মেরেডিথ ট্যাক্স]] || ৪৯১ || ✓
|-
| 7 || [[মুলক রাজ আনন্দ]] || ২৩৫ || ✓
|-
| 8 || [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধর্ষণ]] || ১,৯২০ || ✓
|-
| 9 || [[সুসান ব্রাউনমিলার]] || ৯৯১ || ✓
|-
| 10 || [[রবিন মরগান]] || ১,২২১ || ✓
|-
| 11 || [[ভিভিয়ান গোর্নিক]] || ২,৬৯০ || ✓
|-
| 12 || [[ডরোথি রে হিলি]] || ২,৬৩৮ || ✕
|-
| 13 || [[ক্লডিয়া জোন্স]] || ১,২৯৯ || ✓
|-
| 14 || [[গের্ডা লার্নার]] || ৩,৪২৮ || ✓
|-
| 15 || [[এলিজাবেথ গার্লি ফ্লিন]] || ৯,৬৭৭ || ✕
|-
| 16 || [[এলা রিভ ব্লুর]] || ১,৯১৭ || ✓
|-
| 17 || [[টমাস হিউজ]] || ৯৯৬ || ✓
|-
| 18 || [[মার্গারিট দুরাস]] || ৩৪৯ || ✓
|-
| 19 || [[বেন অ্যারোনোভিচ]] || ৮,৭৯৭ || ✓
|-
| 20 || [[গ্লেন কুক]] || ৯,৯৮৫ || ✓
|-
| 21 || [[আব্রাহাম কাহান]] || ২,১৩৩ || ✓
|-
| 22 || [[গ্রেস পেলি]] || ৮,১৬৪ || ✕
|-
| 23 || [[স্টিফেন ক্রেন]] || ১,৯৬৩ || ✕
|-
| 24 || [[জোসেফাইন হার্বস্ট]] || ৪২৭ || ✓
|-
| 25 || [[জর্জ গিসিং]] || ২,০০৫ || ✓
|-
| 26 || [[আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা]] || ৩,২৬২ || ✕
|-
| 27 || [[মেরি অ্যান্টিন]] || ৪৯০ || ✓
|-
| 28 || [[জয়েস অ্যান্টলার]] || ৪২৯ || ✓
|-
| 29 || [[ক্যাথরিন ম্যাককিনন]] || ২,১৭৮ || ✓
|-
| 30 || [[বেটিনা আপথেকার]] || ১,০২০ || ✓
|-
| 31 || [[ক্যারি চ্যাপম্যান ক্যাট]] || ১,৬০৩ || ✓
|-
| 32 || [[জ্যানেট র্যাঙ্কিন]] || ৭২১ || ✓
|-
| 33 || [[ফ্রান্সেস উইলার্ড]] || ৯৪১ || ✕
|-
| 34 || [[অ্যালিস স্টোন ব্ল্যাকওয়েল]] || ৫৪০ || ✕
|-
| 35 || [[অ্যানা এলিজাবেথ ডিকিনসন]] || ৭৫১ || ✕
|-
| 36 || [[মেরি লিভারমোর]] || ২,৩০৭ || ✕
|-
| 37 || [[দাড়ি]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 38 || [[স্যার হেনরি হোবার্ট, ১ম ব্যারোনেট]] || ৭৩৮ || ✓
|-
| 39 || [[হার্ডিঞ্জ স্ট্যানলি গিফার্ড, হালসবুরির ১ম আর্ল]] || ৪১৯ || ✓
|-
| 40 || [[এ. ভি. ডাইসি]] || ১,৩৮১ || ✕
|-
| 41 || [[আলফ্রেড ডেনিং, ব্যারন ডেনিং]] || ৩,৮৩২ || ✓
|-
| 42 || [[টমাস ডেনিসন]] || ৪০০ || ✓
|-
| 43 || [[স্যার ফ্রান্সিস বুলার, ১ম ব্যারোনেট]] || ৯৬২ || ✓
|-
| 44 || [[নিকোলাস ব্রাতজা]] || ২৬৪ || ✓
|-
| 45 || [[রবার্ট অ্যাটকিনস]] || ৩৩৩ || ✕
|-
| 46 || [[রিচার্ড পেপার আর্ডেন, ১ম ব্যারন অ্যালভানলি]] || ৩৫১ || ✓
|-
| 47 || [[এডওয়ার্ড হল অল্ডারসন]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 48 || [[অ্যামব্রোজ বিয়ার্স]] || ৫,৫৪১ || ✕
|-
| 49 || [[মেওয়াত]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 50 || [[নানাবতী-মেহতা কমিশন]] || ২,৪৪৪ || ✓
|-
| 51 || [[ভারতে ঔষধ শিল্প]] || ১,৯২১ || ✓
|-
| 52 || [[পাঞ্জাব]] || ১,৪০৬ || ✓
|-
| 53 || [[রামনবমী]] || ৮৬২ || ✓
|-
| 54 || [[ভারতের শহরসমূহের নাম পরিবর্তন]] || ৪৪১ || ✓
|-
| 55 || [[নুপুর শর্মা]] || ৬০১ || ✓
|-
| 56 || [[রিপাবলিক টিভি]] || ৪৫৫ || ✓
|-
| 57 || [[রোহিলখণ্ড]] || ৪৪০ || ✓
|-
| 58 || [[রোহিলা]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 59 || [[সৌরাষ্ট্র]] || ৬৫৪ || ✓
|-
| 60 || [[ভারতে তিন তালাক]] || ১,১৩৪ || ✓
|-
| 61 || [[ভারতের পবিত্র উপবন]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 62 || [[অভিন্ন দেওয়ানি বিধি]] || ৩,৭৩৭ || ✓
|-
| 63 || [[নবনীত আদিত্য ওয়াইবা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 64 || [[ভারতে জল সরবরাহ ও স্যানিটেশন]] || ৭৪০ || ✓
|-
| 65 || [[জমিদার]] || ৩৮১ || ✕
|-
| 66 || [[নিখিল ভারত মুসলিম লীগ]] || ১,৭৩৭ || ✕
|-
| 67 || [[ফতোয়া]] || ৪৮৪ || ✓
|-
| 68 || [[দারা শিকোহ]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 69 || [[আমেরিকা নিপাত যাক]] || ৬৩৯ || ✓
|-
| 70 || [[মহা শয়তান]] || ৪১৪ || ✓
|-
| 71 || [[উলামা]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 72 || [[দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম জাতীয়তাবাদ]] || ১,৫১৬ || ✓
|-
| 73 || [[পার্সি-মুসলিম দাঙ্গা]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 74 || [[ভারতে দাঙ্গা]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 75 || [[ভারতে পেগাসাস প্রকল্পের উদঘাটন]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 76 || [[নেহরুবাদ]] || ৯৫২ || ✓
|-
| 77 || [[২জি স্পেকট্রাম মামলা]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 78 || [[রাহুল গান্ধী]] || ৪,০০৪ || ✓
|-
| 79 || [[আকবরউদ্দিন ওয়াইসি]] || ২৯৮ || ✓
|-
| 80 || [[ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ২০২৪]] || ২,৫৭৭ || ✓
|-
| 81 || [[ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 82 || [[নাইলা আলি খান]] || ২০৪ || ✓
|-
| 83 || [[অরুণ জেটলি]] || ৪৮১ || ✓
|-
| 84 || [[সুকেতু মেহতা]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 85 || [[রুক্মিণী মৈত্র]] || ৩৫৪ || ✓
|-
| 86 || [[মানব গুপ্ত]] || ৬৩৪ || ✕
|-
| 87 || [[মোহিনী মোহন ধর]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 88 || [[দিলীপ কুমার চক্রবর্তী]] || ২,৫৯৭ || ✓
|-
| 89 || [[রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 90 || [[পিটার অ্যাক্রয়েড]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 91 || [[হ্যারল্ড ব্লুম]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 92 || [[জেমস বসওয়েল]] || ১,১৪৯ || ✓
|-
| 93 || [[অলিভার গোল্ডস্মিথ]] || ৩,১৭৮ || ✓
|-
| 94 || [[হেনরি জাইলস]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 95 || [[এডউইন হাবেল চ্যাপিন]] || ৭৭০ || ✓
|-
| 96 || [[অবমাননা]] || ৭৮৮ || ✓
|-
| 97 || [[আদালত অবমাননা]] || ৮২৯ || ✓
|-
| 98 || [[আইনপ্রণেতা]] || ৭৪৩ || ✓
|-
| 99 || [[লেই বারডুগো]] || ১২২ || ✓
|-
| 100 || [[উইলিয়াম ব্রেট, ১ম ভিসকাউন্ট এশার]] || ১,০২০ || ✓
|-
| 101 || [[হেনরি হকিন্স, ১ম ব্যারন ব্র্যাম্পটন]] || ৩০৩ || ✓
|-
| 102 || [[জুনিয়াস]] || ১,৪১২ || ✓
|-
| 103 || [[উইলিয়াম মারে, ম্যানসফিল্ডের ১ম আর্ল]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 104 || [[জোসেফ ইয়েটস]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 105 || [[স্যার জন বেইলি, ১ম ব্যারোনেট]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 106 || [[হেনরি বিকারস্টথ, ১ম ব্যারন ল্যাংডেল]] || ৪১৫ || ✓
|-
| 107 || [[এডওয়ার্ড ল, ১ম ব্যারন এলেনবরো]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 108 || [[লয়েড কেনিয়ন, ১ম ব্যারন কেনিয়ন]] || ৪,৪০৮ || ✓
|-
| 109 || [[জন হোল্ট]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 110 || [[চার্লস বোয়েন, ব্যারন বোয়েন]] || ১,০৩৭ || ✓
|-
| 111 || [[চার্লস অ্যাবট, ১ম ব্যারন টেন্টারডেন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 112 || [[ন্যায়বিচার প্রশাসন]] || ২,৮৯৯ || ✓
|-
| 113 || [[আদালত]] || ১,৮১৮ || ✕
|-
| 114 || [[রোজান এ. ব্রাউন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 115 || [[মারিয়ন জিমার ব্র্যাডলি]] || ১,১০৪ || ✓
|-
| 116 || [[টেরি ব্রুকস]] || ৪৮৫ || ✓
|-
| 117 || [[লেই ব্র্যাকেট]] || ১,১১২ || ✓
|-
| 118 || [[জ্যাক ক্যাডি]] || ১,৫৬৮ || ✓
|-
| 119 || [[মেল ব্রুকস]] || ২,০১৬ || ✕
|-
| 120 || [[মাইকেল বিশপ]] || ৯৬০ || ✕
|-
| 121 || [[এলিজাবেথ বেয়ার]] || ৭০৫ || ✓
|-
| 122 || [[মার্গারেট বল]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 123 || [[পাওলো বাসিগালুপি]] || ৬৪৭ || ✓
|-
| 124 || [[কেলি আর্মস্ট্রং]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 125 || [[ক্যাথরিন আসরো]] || ৩৬১ || ✓
|-
| 126 || [[পিয়ার্স অ্যান্থনি]] || ২২৯ || ✓
|-
| 127 || [[রবার্ট আইকম্যান]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 128 || [[আইনজীবী]] || ২,৩২৯ || ✓
|-
| 129 || [[আইনসভা]] || ২,৩৪৩ || ✓
|-
| 130 || [[জর্জ বুশনার]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 131 || [[জোসেফ গার্নি ক্যানন]] || ৭০৯ || ✓
|-
| 132 || [[সংখ্যাগরিষ্ঠ]] || ১,৩৫৬ || ✓
|-
| 133 || [[সংখ্যালঘু গোষ্ঠী]] || ১,৮৮১ || ✓
|-
| 134 || [[প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 135 || [[মানব আচরণ]] || ৮৫২ || ✓
|-
| 136 || [[হার্ভে ম্যানসফিল্ড]] || ৯৭৯ || ✓
|-
| 137 || [[রাষ্ট্রবিজ্ঞান]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 138 || [[রাজনৈতিক দর্শন]] || ১,২৮৫ || ✓
|-
| 139 || [[দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা]] || ১,০৮৭ || ✓
|-
| 140 || [[আগ্রাসন]] || ৯২০ || ✓
|-
| 141 || [[হিন্দুত্ব]] || ২,৭০০ || ✓
|-
| 142 || [[ফ্লাভিয়া অ্যাগনেস]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 143 || [[লাভ জিহাদ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব]] || ৩,১৫০ || ✓
|-
| 144 || [[মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড]] || ১,৭৭৮ || ✓
|-
| 145 || [[যোগিন্দর সিকান্দ]] || ৮১৪ || ✓
|-
| 146 || [[ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা]] || ৮৫১ || ✓
|-
| 147 || [[জয় শ্রীরাম]] || ৭০৮ || ✓
|-
| 148 || [[লালকৃষ্ণ আডবাণী]] || ১,৫৫৫ || ✓
|-
| 149 || [[রাম রথযাত্রা]] || ১,৫৭৯ || ✓
|-
| 150 || [[হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন]] || ১,৪৫৫ || ✓
|-
| 151 || [[হর্ষ মান্দার]] || ৬৬০ || ✓
|-
| 152 || [[স্বপন দাশগুপ্ত]] || ১,১৬৭ || ✓
|-
| 153 || [[জরাথুস্ট্রবাদ]] || ৩৭৭ || ✓
|-
| 154 || [[পার্সি]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 155 || [[নাগরিকত্ব]] || ১,৮৭৯ || ✓
|-
| 156 || [[ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০]] || ৬৭৯ || ✓
|-
| 157 || [[মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯]] || ৭৬৯ || ✓
|-
| 158 || [[অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিশু শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯]] || ৩৭৯ || ✓
|-
| 159 || [[বোম্বাই দাঙ্গা]] || ৭৭৬ || ✓
|-
| 160 || [[বজরং দল]] || ৩৩১ || ✓
|-
| 161 || [[সংসদীয় ব্যবস্থা]] || ৪০৫ || ✓
|-
| 162 || [[বিচার বিভাগীয় ব্যাখ্যা]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 163 || [[বর্ণবাদ পরবর্তী আমেরিকা]] || ১,০৬৯ || ✓
|-
| 164 || [[শ্বেতাঙ্গ বিশেষাধিকার]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 165 || [[বিশেষাধিকার]] || ৭১২ || ✓
|-
| 166 || [[মানবহিতৈষণা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 167 || [[ভারত সরকার]] || ১,২২০ || ✓
|-
| 168 || [[শিলং]] || ৯৭৩ || ✓
|-
| 169 || [[মাঝৌলি রাজ]] || ৫৬০ || ✓
|-
| 170 || [[কালিকট]] || ৪৫৪ || ✓
|-
| 171 || [[যাজপুর]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 172 || [[কালিবাঙ্গান]] || ৭৩৮ || ✓
|-
| 173 || [[কাডাপা]] || ৪১৩ || ✓
|-
| 174 || [[ইদার]] || ৫৮৬ || ✓
|-
| 175 || [[গোধরা]] || ১,০১০ || ✓
|-
| 176 || [[ভুবনেশ্বর]] || ১,১৬৫ || ✓
|-
| 177 || [[অমৃতসর]] || ৮৬৮ || ✓
|-
| 178 || [[আম্বালা]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 179 || [[হায়দ্রাবাদ]] || ৩,২৪৮ || ✓
|-
| 180 || [[২০১৯ হায়দ্রাবাদ গণধর্ষণ]] || ১৭৭ || ✓
|-
| 181 || [[মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি]] || ৪২৩ || ✕
|-
| 182 || [[হায়দ্রাবাদ অধিগ্রহণ]] || ৪৫৬ || ✓
|-
| 183 || [[১৮৯৯-১৯০০ সালের ভারতীয় দুর্ভিক্ষ]] || ৫৪১ || ✓
|-
| 184 || [[১৯৯০ হায়দ্রাবাদ দাঙ্গা]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 185 || [[গুয়াহাটি]] || ১,৭৯৬ || ✓
|-
| 186 || [[গৌড়]] || ১,৯৩৬ || ✓
|-
| 187 || [[বিজাপুর]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 188 || [[মাণ্ডু]] || ৩৯৪ || ✓
|-
| 189 || [[খাজুরাহো]] || ৩৭১ || ✓
|-
| 190 || [[চান্দেরী]] || ৫০৭ || ✓
|-
| 191 || [[জুনাগড়]] || ৭১৯ || ✓
|-
| 192 || [[বৃহৎ কচ্ছের রাণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 193 || [[আহমেদাবাদ]] || ১,৮১২ || ✓
|-
| 194 || [[কচ্ছ জেলা]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 195 || [[দৃশদ্বতী নদী]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 196 || [[চেনাব নদী]] || ৩২১ || ✓
|-
| 197 || [[পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 198 || [[মুর্শিদাবাদ সহিংসতা]] || ২৫৭ || ✓
|-
| 199 || [[২০২৪ সন্দেশখালী সহিংসতা]] || ১,০৬১ || ✓
|-
| 200 || [[২০২২ বীরভূম সহিংসতা]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 201 || [[মৈতৈ জাতি]] || ৫২৭ || ✕
|-
| 202 || [[মৈতৈ সভ্যতা]] || ৩৫০ || ✓
|-
| 203 || [[মণিপুর]] || ৩০৬ || ✕
|-
| 204 || [[লাক্ষাদ্বীপ]] || ৩২৯ || ✓
|-
| 205 || [[বৃন্দাবন]] || ৬৮২ || ✕
|-
| 206 || [[সম্ভল]] || ২৪৩ || ✓
|-
| 207 || [[এলাহাবাদ]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 208 || [[আলিগড়]] || ৪০৯ || ✓
|-
| 209 || [[স্ট্যাচু অব ইউনিটি]] || ২৪১ || ✓
|-
| 210 || [[ভারতের দুর্গ]] || ৩১৪ || ✓
|-
| 211 || [[দ্য দুন স্কুল]] || ৬৬৪ || ✓
|-
| 212 || [[কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 213 || [[আগ্রা]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 214 || [[২০২০ দিল্লি দাঙ্গা]] || ১,১৭৮ || ✓
|-
| 215 || [[তিরুচিরাপল্লী]] || ৬২৬ || ✓
|-
| 216 || [[সেন্ট থমাস ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা, চেন্নাই]] || ৩৮০ || ✕
|-
| 217 || [[আতঙ্ক]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 218 || [[ভারতে দুর্নীতি]] || ১,০০৭ || ✓
|-
| 219 || [[তামিলনাড়ুর মন্দির]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 220 || [[এম. কে. স্ট্যালিন]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 221 || [[তামিলনাড়ু]] || ৫৪৩ || ✓
|-
| 222 || [[তামিলনাড়ুর হিন্দি বিরোধী আন্দোলন]] || ৪৬৫ || ✓
|-
| 223 || [[যোধপুর]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 224 || [[রাজস্থান]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 225 || [[ওড়িশা]] || ৭৪৫ || ✓
|-
| 226 || [[১৯৯৮ কোয়েম্বাটুর বোমা হামলা]] || ৫৩৭ || ✓
|-
| 227 || [[উত্তর-পূর্ব ভারতে বিদ্রোহ]] || ৩৯৮ || ✓
|-
| 228 || [[মারাদ হত্যাকাণ্ড]] || ৩৫২ || ✓
|-
| 229 || [[মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 230 || [[স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 231 || [[বিষ্ণু]] || ৬১৭ || ✓
|-
| 232 || [[২০২৪ রিয়াসি হামলা]] || ৩০২ || ✓
|-
| 233 || [[২০০৬ মালেগাঁও বোমা হামলা]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 234 || [[২০০৬ মুম্বই রেলে বোমা হামলা]] || ১৯০ || ✓
|-
| 235 || [[মুম্বই]] || ১,২২৪ || ✓
|-
| 236 || [[দৌলতাবাদ, মহারাষ্ট্র]] || ৮৮৯ || ✕
|-
| 237 || [[মহারাষ্ট্র]] || ৪৯৯ || ✓
|-
| 238 || [[পিনারাই বিজয়ন]] || ৫২৩ || ✓
|-
| 239 || [[আরব দেশ]] || ৯১৪ || ✓
|-
| 240 || [[দক্ষিণ এশিয়া]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 241 || [[শহুরে অবক্ষয়]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 242 || [[নগরায়ন]] || ১,০৯৭ || ✓
|-
| 243 || [[কেরল]] || ৩৬৫ || ✓
|-
| 244 || [[জম্মু ও কাশ্মীরে বিদ্রোহ]] || ৪১৮ || ✓
|-
| 245 || [[জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার]] || ৯৬৪ || ✓
|-
| 246 || [[শ্রীনগর]] || ১,৭২৯ || ✓
|-
| 247 || [[কাশ্মীর উপত্যকা]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 248 || [[লাদাখ]] || ৬৯৪ || ✓
|-
| 249 || [[কাশ্মীরি জাতি]] || ৮১৩ || ✓
|-
| 250 || [[তারিখ-ই-কাশ্মীর]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 251 || [[কর্ণাটক]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 252 || [[কর্ণাটকের রাজনীতি]] || ৪৩৯ || ✓
|-
| 253 || [[বেঙ্গালুরু]] || ৬১৪ || ✓
|-
| 254 || [[আসামে ইসলাম]] || ৬৯০ || ✓
|-
| 255 || [[আসামের ইতিহাস]] || ৭২৬ || ✓
|-
| 256 || [[আসামে হিন্দুধর্ম]] || ৩২৫ || ✓
|-
| 257 || [[ভারতের জনমিতি]] || ৩,৩৭৩ || ✓
|-
| 258 || [[বাংলাদেশের জনমিতি]] || ১,১৯৫ || ✓
|-
| 259 || [[পাকিস্তানের জনমিতি]] || ৮৫০ || ✓
|-
| 260 || [[আসামের জনমিতি]] || ১৮২ || ✓
|-
| 261 || [[বিহার]] || ৪৫৮ || ✓
|-
| 262 || [[পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি]] || ১৮১ || ✓
|-
| 263 || [[শাহ বানু মামলা]] || ৭৯৯ || ✕
|-
| 264 || [[ইসরায়েল–ভারত সম্পর্ক]] || ৮৯৭ || ✓
|-
| 265 || [[প্রণব মুখোপাধ্যায়]] || ৫৯৫ || ✓
|-
| 266 || [[দ্রৌপদী মুর্মু]] || ২৪৯ || ✓
|-
| 267 || [[ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ]] || ১,৬৪৭ || ✓
|-
| 268 || [[এলজিবিটিকিউ অধিকার বিরোধিতা]] || ২,০৪৯ || ✓
|-
| 269 || [[গেফোবিয়া]] || ২৭৮ || ✓
|-
| 270 || [[সমকামী যৌন চর্চা]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 271 || [[উভকামিতা]] || ১,৫৬০ || ✓
|-
| 272 || [[কামিং আউট]] || ৮০৫ || ✓
|-
| 273 || [[স্মৃতি ইরানি]] || ৯৯১ || ✓
|-
| 274 || [[মেনকা গান্ধী]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 275 || [[যশবন্ত সিং]] || ২০৬ || ✓
|-
| 276 || [[সৈয়দ শাহাবুদ্দিন]] || ৫৭৯ || ✓
|-
| 277 || [[শাকিল আহমদ]] || ১২৪ || ✓
|-
| 278 || [[তথাগত রায়]] || ২৭৫ || ✓
|-
| 279 || [[লালুপ্রসাদ যাদব]] || ১,১০৯ || ✓
|-
| 280 || [[আসাদউদ্দিন ওয়াইসি]] || ৪১৩ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৮০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,৪৮,৫৮৮
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,০০,৬৫৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪৯,৯৩৭
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch| Oindrojalik Watch]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ভ্রান্ত উদ্ধৃতি]] || ৯,৮৬৯ || ✓
|-
| 2 || [[২০১১ ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ]] || ৯৬৩ || ✓
|-
| 3 || [[তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] || ৩,১৭৯ || ✓
|-
| 4 || [[আফগান যুদ্ধ]] || ৪,৬২০ || ✓
|-
| 5 || [[ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ]] || ১২,৩৮২ || ✓
|-
| 6 || [[ইরাক যুদ্ধ]] || ১২,৩৪৪ || ✓
|-
| 7 || [[যুক্তরাজ্যের তৃতীয় জর্জ]] || ১২,০৪২ || ✓
|-
| 8 || [[২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৮৮৩ || ✓
|-
| 9 || [[২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৩,৫১৪ || ✓
|-
| 10 || [[২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬১১ || ✓
|-
| 11 || [[ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ]] || ১,৫৪২ || ✓
|-
| 12 || [[স্নায়ুযুদ্ধ]] || ১৫,৬১০ || ✓
|-
| 13 || [[দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ]] || ৪,৬৬৮ || ✓
|-
| 14 || [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] || ২৪,১৭৭ || ✓
|-
| 15 || [[মহত্ত্ব]] || ৭,৮১৪ || ✓
|-
| 16 || [[সাংবাদিকতা]] || ১৩,৪৭৭ || ✓
|-
| 17 || [[প্যানডিজম]] || ১০,৩০০ || ✓
|-
| 18 || [[গাজা যুদ্ধ]] || ১৬,৯৮২ || ✓
|-
| 19 || [[২০২৬ ইরান যুদ্ধ]] || ৬,৯৮১ || ✓
|-
| 20 || [[পারমাণবিক অস্ত্র]] || ৩,২৩৩ || ✓
|-
| 21 || [[২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 22 || [[ক্রুসেড]] || ৯৯৬ || ✓
|-
| 23 || [[অ্যানিমেশন]] || ৯,৪৫৭ || ✓
|-
| 24 || [[দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি]] || ৭৫৫ || ✓
|-
| 25 || [[ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ]] || ৩,৭৬৩ || ✓
|-
| 26 || [[পারমাণবিক যুদ্ধ]] || ৫,৫২০ || ✓
|-
| 27 || [[আল খোয়ারিজমি]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 28 || [[ফজলে রাব্বী]] || ৬৩৫ || ✓
|-
| 29 || [[ডেভিড হিউম]] || ১১,৭৮০ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৯
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৯০,১০১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৯৯,৯৭০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:NusJaS| NusJaS]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লিটিশা এলিজাবেথ ল্যান্ডন]] || ২৫,৯৭৯ || ✓
|-
| 2 || [[প্রজননবিরোধবাদ]] || ৩০,৯৭০ || ✓
|-
| 3 || [[উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন]] || ২৮,৬১৯ || ✓
|-
| 4 || [[ক্রিস্টোফার হিচেন্স]] || ২৫,৯২২ || ✓
|-
| 5 || [[বলপূর্বক খাওয়ানো]] || ২২,৬২২ || ✓
|-
| 6 || [[জন স্টুয়ার্ট মিল]] || ২২,৭৮৩ || ✓
|-
| 7 || [[রবার্ট গ্যাসকয়েন-সিসিল, স্যালিসবারির ৩য় মার্কুইস]] || ২০,৮৯৮ || ✓
|-
| 8 || [[অ্যারন রা]] || ২১,৯৫৫ || ✓
|-
| 9 || [[ফায়ারপ্লেস]] || ২১,৪১৭ || ✓
|-
| 10 || [[জন হার্ভে কেলোগ]] || ৩০,৭৪৮ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৬৬,৩৪৫
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৫১,৯১৩
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:SMontaha32| SMontaha32]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী]] || ১৯,১০০ || ✕
|-
| 2 || [[ভাকলাভ হাভেল]] || ৯,৩৫৭ || ✓
|-
| 3 || [[নরউইচের জুলিয়ান]] || ৩১,৬৩৩ || ✕
|-
| 4 || [[রামসে ম্যাকডোনাল্ড]] || ৯,৬২২ || ✓
|-
| 5 || [[জন মুয়ির]] || ৮,০৬১ || ✓
|-
| 6 || [[মার্গারেট অ্যাটউড]] || ৬,৩২৮ || ✓
|-
| 7 || [[পেত্র ক্রাপোতকিন]] || ১০,৮১৬ || ✕
|-
| 8 || [[টমাস হেনরি হাক্সলি]] || ৮,৫০৩ || ✓
|-
| 9 || [[উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস]] || ৭,২১০ || ✓
|-
| 10 || [[উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস]] || ৪,২৬০ || ✓
|-
| 11 || [[তাওয়াক্কোল কারমান]] || ৪,০৯৭ || ✓
|-
| 12 || [[র্যাচেল কারসন]] || ৪,৭৬৭ || ✓
|-
| 13 || [[আর্নেস্ট হেমিংওয়ে]] || ১৪,৯০৭ || ✓
|-
| 14 || [[আর্থার এডিংটন]] || ৫,৬৩৭ || ✓
|-
| 15 || [[এরিক হবসবাউম]] || ৫,৮৭৩ || ✓
|-
| 16 || [[টনি মরিসন]] || ১০,৩৮৩ || ✓
|-
| 17 || [[টনি বেন]] || ১০,৩৯৯ || ✕
|-
| 18 || [[নরম্যান মেইলার]] || ৬,৬০৬ || ✓
|-
| 19 || [[পল স্যামুয়েলসন]] || ৬,৮৫১ || ✓
|-
| 20 || [[এইচ. পি. লাভক্র্যাফট]] || ২৫,৪৭২ || ✓
|-
| 21 || [[ব্লেজ পাসকাল]] || ৩,০৫১ || ✓
|-
| 22 || [[চিনুয়া আচেবে]] || ৬,০৪২ || ✓
|-
| 23 || [[ডরিস লেসিং]] || ৪,৬২১ || ✓
|-
| 24 || [[ফেদেরিকো ফাগিন]] || ৬০০ || ✓
|-
| 25 || [[আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক]] || ১,২১১ || ✓
|-
| 26 || [[আঙ্গেলা ম্যার্কেল]] || ২,০২৯ || ✓
|-
| 27 || [[আনাক্সাগোরাস]] || ৩,৬৭১ || ✓
|-
| 28 || [[আমোস তভারস্কি]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 29 || [[আলফ্রেড মার্শাল]] || ১,৩০৯ || ✓
|-
| 30 || [[আলবার্টাস ম্যাগনাস]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 31 || [[অনিতা ব্রুকনার]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 32 || [[আলফ্রেড কিনসে]] || ১,০৩৩ || ✓
|-
| 33 || [[অ্যালান কে]] || ৯২৪ || ✓
|-
| 34 || [[আলেকজান্ডার ফ্লেমিং]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 35 || [[ক্যারোলিন বার্তোজি]] || ৪১১ || ✓
|-
| 36 || [[আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস]] || ১,৬৫৯ || ✓
|-
| 37 || [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] || ১,৪৩৬ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৬৫,৬৭০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৩৯,৫২৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৭৩,৮৫৮
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023| Sumanta3023]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লিওনিদ ক্যান্টোরোভিচ]] || ১,৪২২ || ✓
|-
| 2 || [[থিওডোসিয়াস ডবঝানস্কি]] || ৭৬০ || ✕
|-
| 3 || [[টেরেন্স টাও]] || ৭২০ || ✓
|-
| 4 || [[ফিলিপ]] || ৪২৬ || ✓
|-
| 5 || [[জুলিয়ান শুইঙার]] || ১,৩২২ || ✕
|-
| 6 || [[পিয়ের-জিল দ্য জেন]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 7 || [[ব্রায়ান কক্স]] || ৭৫৬ || ✓
|-
| 8 || [[জন ম্যাককার্থি]] || ১,০৪৫ || ✓
|-
| 9 || [[লুই দ্য ব্রোয়ি]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 10 || [[ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ]] || ১,১৯৪ || ✕
|-
| 11 || [[ফ্লিন্ডার্স পেট্রি]] || ১,২০৪ || ✕
|-
| 12 || [[পল আর. এহর্লিচ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 13 || [[মাইকেল আতিয়াহ]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 14 || [[মার্টন মিলার]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 15 || [[মেরি বিয়ার্ড]] || ৯১১ || ✓
|-
| 16 || [[মার্গারেট চ্যান]] || ৭০৪ || ✓
|-
| 17 || [[গেরহার্ড শ্রোডার]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 18 || [[ফিলিপ ওয়ারেন অ্যান্ডারসন]] || ৭৯৯ || ✓
|-
| 19 || [[পিটার হিগস]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 20 || [[লিওনার্ড সাসকিন্ড]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 21 || [[জন মেইনার্ড স্মিথ]] || ৬৪০ || ✓
|-
| 22 || [[জন জেমস অডুবন]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 23 || [[শেলডন লি গ্ল্যাশো]] || ৭৫১ || ✓
|-
| 24 || [[ভিক্টর উইসকফ]] || ৫১৯ || ✓
|-
| 25 || [[মার্টিন রিস]] || ৫৫১ || ✓
|-
| 26 || [[মার্ক ওলিফ্যান্ট]] || ৫৫৩ || ✓
|-
| 27 || [[ভিতালি গিঞ্জবার্গ]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 28 || [[স্যালি রাইড]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 29 || [[রবার্ট ফোগেল]] || ৪২৮ || ✓
|-
| 30 || [[রিঙ্গো স্টার]] || ৮৭০ || ✓
|-
| 31 || [[মাক্স ডেলব্রুক]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 32 || [[তৃতীয় লেওপোল্ড]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 33 || [[নরম্যান বোরল্যাগ]] || ৭০০ || ✓
|-
| 34 || [[নিকলাউস ভির্ট]] || ৪৭৯ || ✓
|-
| 35 || [[নিকোলাস স্টেনো]] || ২৯২ || ✓
|-
| 36 || [[নেভিল ফ্রান্সিস মট]] || ৫১১ || ✓
|-
| 37 || [[লুডউইক ফ্লেক]] || ৫১২ || ✓
|-
| 38 || [[কারেন উলেনবেক]] || ৩৯২ || ✓
|-
| 39 || [[ইয়োসেফ মেংগেলে]] || ৫৪৪ || ✓
|-
| 40 || [[কিরণ দেশাই]] || ২৬১ || ✓
|-
| 41 || [[কাতালিন কারিকো]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 42 || [[ইয়োন্স ইয়াকব বের্সেলিয়ুস]] || ৫১৬ || ✓
|-
| 43 || [[হুয়ান মালদাসেনা]] || ৭৩২ || ✓
|-
| 44 || [[হাইনরিখ বোল]] || ৩০০ || ✓
|-
| 45 || [[ইনগ্রিড ডোবিচি]] || ৬৭১ || ✓
|-
| 46 || [[ইয়ান উইলমুট]] || ৪২৭ || ✓
|-
| 47 || [[হিউ এভারেট]] || ৬০০ || ✓
|-
| 48 || [[ফ্রঁসোয়া অংল্যার]] || ৫৩৩ || ✓
|-
| 49 || [[এমানুয়েল সোয়েডেনবার্গ]] || ১,৫২২ || ✓
|-
| 50 || [[এলিজাবেথ বিশপ]] || ৬৫২ || ✓
|-
| 51 || [[শেখ আন্তা দিওপ]] || ৩৩৫ || ✓
|-
| 52 || [[জর্জ গ্যামো]] || ১,৫২১ || ✓
|-
| 53 || [[হাইনরিখ হের্ত্স]] || ১,৭৪৪ || ✓
|-
| 54 || [[গ্রো হারলেম ব্রুন্ডটল্যান্ড]] || ৩১১ || ✓
|-
| 55 || [[জন সি. মাদার]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 56 || [[জন ব্যাকাস]] || ৫৯৭ || ✓
|-
| 57 || [[এর্নস্ট মায়ার]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 58 || [[লিন মার্গুলিস]] || ১,৭১৮ || ✓
|-
| 59 || [[হ্যান্স বেটে]] || ৩৯৬ || ✓
|-
| 60 || [[লুই আগাসিজ]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 61 || [[জর্জ ক্যুভিয়ে]] || ৭৬৮ || ✓
|-
| 62 || [[ব্রাসেলস]] || ৯৬৭ || ✓
|-
| 63 || [[ড্যানিয়েল কানেমান]] || ২,৯৫৭ || ✕
|-
| 64 || [[ডোনাল্ড কানুথ]] || ১,৫৮২ || ✓
|-
| 65 || [[লেমাহ গবোউই]] || ১,১৫০ || ✓
|-
| 66 || [[গারট্রুড বি. এলিয়ন]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 67 || [[ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড]] || ৩৫৯ || ✓
|-
| 68 || [[এর্নস্ট মাখ]] || ২,০২৮ || ✕
|-
| 69 || [[ডোনাল্ড টাস্ক]] || ১,৭৭১ || ✓
|-
| 70 || [[অরবিন্দ আদিগা]] || ৮৬৬ || ✓
|-
| 71 || [[সি. এ. আর. হোর]] || ১,০৬১ || ✕
|-
| 72 || [[পল ডিরাক]] || ৪,৭০৯ || ✕
|-
| 73 || [[ই. ও. উইলসন]] || ৪,৪৫৮ || ✕
|-
| 74 || [[ডেসমন্ড মরিস]] || ৩,৯৮৬ || ✓
|-
| 75 || [[মাইকেল গোভ]] || ৩,৭৩৬ || ✓
|-
| 76 || [[হার্পার লি]] || ২,৪৯১ || ✓
|-
| 77 || [[কেন টম্পসন]] || ১,৮১৬ || ✓
|-
| 78 || [[জন টিন্ডাল]] || ২,৫২৮ || ✓
|-
| 79 || [[মেরি রবিনসন]] || ১,৩৭৬ || ✓
|-
| 80 || [[হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] || ২,২৪৪ || ✓
|-
| 81 || [[আইরিস মারডক]] || ১,২৬৮ || ✓
|-
| 82 || [[আর্নেস্ট রাদারফোর্ড]] || ২,৪৫৩ || ✓
|-
| 83 || [[ফ্রেড ব্রুকস]] || ১,১৯১ || ✓
|-
| 84 || [[ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]] || ১,৯০৭ || ✓
|-
| 85 || [[ডায়ান ফসি]] || ১,৬৪৬ || ✕
|-
| 86 || [[ইডিথ হোয়ার্টন]] || ১,৪২৫ || ✓
|-
| 87 || [[অরেল স্টেইন]] || ১,৪৭৮ || ✕
|-
| 88 || [[গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল]] || ১,৬৫০ || ✓
|-
| 89 || [[আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট]] || ১,১২০ || ✓
|-
| 90 || [[ফ্রান্সিস্কো ভারেলা]] || ১,৮৯৩ || ✓
|-
| 91 || [[ডেনিস রিচি]] || ১,১০৮ || ✓
|-
| 92 || [[অড্রে হেপবার্ন]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 93 || [[জি. এইচ. হার্ডি]] || ২,৩৩০ || ✓
|-
| 94 || [[হ্যারল্ড পিন্টার]] || ২,০৭২ || ✓
|-
| 95 || [[অ্যানাক্সিম্যান্ডার]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 96 || [[ডেভিড ব্রুস্টার]] || ২,৪০৪ || ✓
|-
| 97 || [[ব্রায়ান গ্রিন]] || ১,২৭৯ || ✕
|-
| 98 || [[অমিত গোস্বামী]] || ৯১৫ || ✓
|-
| 99 || [[এডমন্ড হ্যালি]] || ২,৬১৯ || ✓
|-
| 100 || [[ডেভিড সুজুকি]] || ১,৫১৭ || ✓
|-
| 101 || [[ডেভিড জোনাথন গ্রোস]] || ৮০৯ || ✓
|-
| 102 || [[ডেভিড ম্যামেট]] || ১,২৫২ || ✓
|-
| 103 || [[আহমেদ জেওয়াইল]] || ১৯২ || ✓
|-
| 104 || [[ইউরোপীয় পার্লামেন্ট]] || ৬১৫ || ✓
|-
| 105 || [[ডেভিড গ্রসম্যান]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 106 || [[হরিশ-চন্দ্র]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 107 || [[অনিতা দেসাই]] || ১,৪৩৯ || ✓
|-
| 108 || [[অ্যাশ কার্টার]] || ৪৬৩ || ✓
|-
| 109 || [[আলফ্রেড নোবেল]] || ৫০৯ || ✕
|-
| 110 || [[ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড]] || ৬৩৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১১০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৯৭,৪২১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,২২,৫০০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২৫,০৭৯
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Anik Kanti Dey| Anik Kanti Dey]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[রেজা পাহলভি]] || ৯,৯১০ || ✓
|-
| 2 || [[রজার ইবার্ট]] || ২১,৩২৫ || ✓
|-
| 3 || [[পুনর্জন্ম]] || ২০,২৪৮ || ✓
|-
| 4 || [[জ্যারেড ডায়মন্ড]] || ১,১৬৮ || ✕
|-
| 5 || [[জেন গুডাল]] || ১,৩৫৭ || ✓
|-
| 6 || [[জেমস টোবিন]] || ১,০৫৯ || ✓
|-
| 7 || [[জেমস ক্যালাহান]] || ১,৬১৫ || ✓
|-
| 8 || [[উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভন্স]] || ১,৭০১ || ✓
|-
| 9 || [[উইলিয়াম থমসন]] || ১,০৫১ || ✓
|-
| 10 || [[ওলে সোয়িংকা]] || ৩,১৬১ || ✕
|-
| 11 || [[জোসেফ স্টিগলিটজ]] || ১,৫০৪ || ✕
|-
| 12 || [[গ্রেগর মেন্ডেল]] || ৮৭৪ || ✓
|-
| 13 || [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস]] || ১,২৩৬ || ✓
|-
| 14 || [[গ্লেন থিওডোর সিবর্গ]] || ৯৮৪ || ✓
|-
| 15 || [[হেরমান ভাইল]] || ১,৫৪১ || ✓
|-
| 16 || [[হেরমান হেস]] || ৪,৫৬৫ || ✓
|-
| 17 || [[হার্বার্ট স্পেন্সার]] || ২,৩৬৮ || ✓
|-
| 18 || [[হার্বার্ট এ. সাইমন]] || ১,৩৩৭ || ✓
|-
| 19 || [[হেরাক্লিটাস]] || ১,৫৭০ || ✓
|-
| 20 || [[হেনরিক শিয়েনকিয়েভিচ]] || ১,৯১১ || ✕
|-
| 21 || [[উইলা ক্যাথার]] || ৩,০৩৩ || ✕
|-
| 22 || [[উইল ডুরান্ট]] || ২,৮১৫ || ✓
|-
| 23 || [[ডব্লিউ. এইচ. অডেন]] || ২,৮১৯ || ✓
|-
| 24 || [[ভোলফগাং পাউলি]] || ১,৬৩৯ || ✓
|-
| 25 || [[ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা]] || ২,২৫৮ || ✓
|-
| 26 || [[জন আর্চিবল্ড হুইলার]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 27 || [[সেমুর হার্শ]] || ১,৭৬১ || ✓
|-
| 28 || [[সের্গেই কোরোলিয়ভ]] || ৫৬৫ || ✓
|-
| 29 || [[জেন অ্যাডামস]] || ১,৯০৬ || ✓
|-
| 30 || [[জাক-ইভ কুস্তো]] || ৬৬৩ || ✓
|-
| 31 || [[হিদেকি ইউকাওয়া]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 32 || [[প্রিমো লেভি]] || ৪,২৩৮ || ✓
|-
| 33 || [[ঝুম্পা লাহিড়ী]] || ৪৩০ || ✓
|-
| 34 || [[জেমস প্রেসকট জুল]] || ৪৮৭ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩৪
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৯৩,৮৬৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,০৪,৬৪১
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১০,৭৭৭
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman| Tanbiruzzaman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা]] || ৪,৮৫১ || ✓
|-
| 2 || [[সংবাদ মাধ্যম]] || ১,১৫৫ || ✓
|-
| 3 || [[গণমাধ্যম]] || ৩,৩৫৭ || ✓
|-
| 4 || [[মূলধারার গণমাধ্যম]] || ১,০৫২ || ✓
|-
| 5 || [[হলুদ সাংবাদিকতা]] || ২,২৯৬ || ✓
|-
| 6 || [[ভুয়া সংবাদ]] || ১,৪০৮ || ✓
|-
| 7 || [[বিকল্প প্রচারমাধ্যম]] || ১,২০৫ || ✓
|-
| 8 || [[জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ]] || ১১,২৬৬ || ✓
|-
| 9 || [[অ্যানোনিমাস]] || ৪,০৪৩ || ✓
|-
| 10 || [[টুপাক শাকুর]] || ৬,২৮৭ || ✓
|-
| 11 || [[জেনডেয়া]] || ২,০১৪ || ✓
|-
| 12 || [[টিমথি শালামে]] || ১,১২৭ || ✓
|-
| 13 || [[হিপোক্রেটিস]] || ২,৯২৩ || ✓
|-
| 14 || [[ষষ্ঠ মুহাম্মদ]] || ৮৭৮ || ✓
|-
| 15 || [[জন লেনক্স]] || ৭০২ || ✓
|-
| 16 || [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] || ৮,০৫৬ || ✓
|-
| 17 || [[আবদুল হান্নান মাসউদ]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 18 || [[পরকাল সম্পর্কে কুরআন]] || ১৮,৭৯৪ || ✓
|-
| 19 || [[মানবতাবিরোধী অপরাধ]] || ১,৯১২ || ✓
|-
| 20 || [[আন্তর্জাতিক আইন]] || ৫,৫৩৯ || ✓
|-
| 21 || [[মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ]] || ১,৪৫২ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৮০,৭২৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৮০,৭২৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Nil Nandy| Nil Nandy]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[অনিল ভৌমিক]] || ২১৬ || ✓
|-
| 2 || [[মনোজ মিত্র]] || ৫,৫৬৭ || ✓
|-
| 3 || [[নারায়ণ সান্যাল]] || ৩৬৬ || ✓
|-
| 4 || [[মতি নন্দী]] || ৫,০১৮ || ✓
|-
| 5 || [[দেবেশ রায়]] || ৯,২৪৪ || ✓
|-
| 6 || [[শিশিরকুমার বসু]] || ৪,৮০৭ || ✓
|-
| 7 || [[বিমল কর]] || ১,৩৬৯ || ✓
|-
| 8 || [[সুবোধ সরকার]] || ১,৮৪৮ || ✓
|-
| 9 || [[স্মরণজিৎ চক্রবর্তী]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 10 || [[স্বামী সারদানন্দ]] || ৮,৬৯৫ || ✓
|-
| 11 || [[শক্তিপদ রাজগুরু]] || ৯৯৩ || ✓
|-
| 12 || [[কমলকুমার মজুমদার]] || ১,৫৭৩ || ✓
|-
| 13 || [[গৌতম ভদ্র]] || ৬৮৫ || ✓
|-
| 14 || [[পরিমল গোস্বামী]] || ৬,৫৫০ || ✓
|-
| 15 || [[প্রেমাঙ্কুর আতর্থী]] || ৫,৬৯৮ || ✓
|-
| 16 || [[কালীপ্রসন্ন সিংহ]] || ৫,৪০৪ || ✓
|-
| 17 || [[অখিল নিয়োগী]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 18 || [[হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]] || ৫১৩ || ✓
|-
| 19 || [[গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক]] || ৫৯২ || ✓
|-
| 20 || [[অজিত দত্ত]] || ৮৭০ || ✓
|-
| 21 || [[অজিতকৃষ্ণ বসু]] || ২,৩৮৬ || ✓
|-
| 22 || [[এম এস স্বামীনাথন]] || ৮৭২ || ✓
|-
| 23 || [[চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন]] || ২,১৭১ || ✓
|-
| 24 || [[চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও]] || ২,১৬৭ || ✓
|-
| 25 || [[কণাদ]] || ৯১৯ || ✓
|-
| 26 || [[জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর]] || ৩,১৮৭ || ✓
|-
| 27 || [[বিক্রম সারাভাই]] || ১,১২৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৭৪,২৬৭
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৭৪,২৬৭
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:R1F4T| R1F4T]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আর্নেস্ট কিং]] || ১৫,৭৬৯ || ✕
|-
| 2 || [[ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট]] || ২৬,২১৫ || ✓
|-
| 3 || [[আনোয়ার ইব্রাহিম]] || ৬,৯৯৩ || ✓
|-
| 4 || [[ইসলাম ও যুদ্ধ]] || ৫,৬৮১ || ✓
|-
| 5 || [[আহমদ সিরহিন্দি]] || ৪,০৭০ || ✓
|-
| 6 || [[মুসা সেরান্তোনিও]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 7 || [[ইয়াকুব]] || ১,৯৫৬ || ✓
|-
| 8 || [[আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার্দি]] || ১,৯৭৯ || ✕
|-
| 9 || [[অ্যালিস পল]] || ১,৮৬২ || ✕
|-
| 10 || [[অ্যামি ট্যান]] || ২,০০৭ || ✕
|-
| 11 || [[অ্যান্ড্রু সেগা]] || ১,৯৬৯ || ✓
|-
| 12 || [[আল্যাঁ বাদিউ]] || ১,৯৬৬ || ✕
|-
| 13 || [[আফ্রিকান স্পির]] || ১,৭২২ || ✕
|-
| 14 || [[ফ্রেডরিক ডগলাস]] || ৮৬২ || ✕
|-
| 15 || [[নবী]] || ২,০৬২ || ✕
|-
| 16 || [[এমা গোল্ডম্যান]] || ১২,৮০০ || ✕
|-
| 17 || [[প্রেম সম্পর্কে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি]] || ১৫,০৪০ || ✓
|-
| 18 || [[মিস্ট্রি সায়েন্স থিয়েটার ৩০০০]] || ৯৪,৯৬৮ || ✕
|-
| 19 || [[দ্য থিক অফ ইট]] || ৬৯,২৮৩ || ✕
|-
| 20 || [[অ্যালেক্স হেইলি]] || ১,৬০৪ || ✓
|-
| 21 || [[দাসত্ব সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি]] || ৫,৭৮৫ || ✕
|-
| 22 || [[দাসত্ব]] || ১০,২৫৯ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৬৩,৯৫১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৮৫,২৭৫
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২,২১,৩২৪
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee| Salil Kumar Mukherjee]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[যন্ত্র]] || ৭১৩ || ✓
|-
| 2 || [[বিচারক]] || ৯৫২ || ✓
|-
| 3 || [[রুটি]] || ১,০৯৭ || ✓
|-
| 4 || [[খড়]] || ৯৩২ || ✓
|-
| 5 || [[মন্মথমোহন বসু]] || ৯৬৩ || ✕
|-
| 6 || [[কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 7 || [[কলসী]] || ১,০৮৬ || ✓
|-
| 8 || [[চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১,১৫৭ || ✓
|-
| 9 || [[শহর]] || ১,৪৫৮ || ✕
|-
| 10 || [[ঘাস]] || ২,১১২ || ✓
|-
| 11 || [[জলধর সেন]] || ১,৭৬৪ || ✓
|-
| 12 || [[ঠিকানা]] || ১,১৮৭ || ✓
|-
| 13 || [[গন্ধ]] || ১,৮০৭ || ✓
|-
| 14 || [[চা]] || ২,৪২৪ || ✓
|-
| 15 || [[রবীন্দ্রনাথ মৈত্র]] || ১,২৮১ || ✓
|-
| 16 || [[দিগন্ত]] || ১,২২৮ || ✓
|-
| 17 || [[ময়ূর]] || ১,৩৪৫ || ✓
|-
| 18 || [[করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৯১১ || ✓
|-
| 19 || [[ঢেউ]] || ১,৫৩৯ || ✓
|-
| 20 || [[ছাতা]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 21 || [[উমাকান্ত হাজারী]] || ৯৪২ || ✓
|-
| 22 || [[ঘৃণা]] || ২,৩৩৯ || ✓
|-
| 23 || [[বাঁশ]] || ২,৪৫৯ || ✕
|-
| 24 || [[কলেরা]] || ১,৬৩৮ || ✓
|-
| 25 || [[মাঠ]] || ২,৪৪৭ || ✓
|-
| 26 || [[টিন]] || ১,৯৩২ || ✕
|-
| 27 || [[সংবাদ]] || ৪,৪৭৯ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩০,৯১৫
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪২,২০৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১১,২৯১
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul| Anaf Ibn Shahibul]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[জন বারবার]] || ৫৭৪ || ✕
|-
| 2 || [[স্কটিশ জাতি]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 3 || [[ওয়েন্ডি বোম্যান]] || ১৫১ || ✕
|-
| 4 || [[যুদ্ধাপরাধ]] || ৪,৬৭৯ || ✕
|-
| 5 || [[রুবি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 6 || [[রিতা এনজেলু]] || ১৫৯ || ✓
|-
| 7 || [[বমি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 8 || [[পার্ল]] || ৬৯০ || ✕
|-
| 9 || [[পাইথন]] || ১৩৯ || ✓
|-
| 10 || [[উইকিলিকস]] || ১,৬৩১ || ✕
|-
| 11 || [[জনস্টন ম্যাককালি]] || ৩১১ || ✕
|-
| 12 || [[যুগোস্লাভিয়া]] || ৪,১৩৬ || ✓
|-
| 13 || [[অংশুমান কর]] || ২০৯ || ✓
|-
| 14 || [[কেমব্রিজ গান]] || ৩০৫ || ✕
|-
| 15 || [[হেলেনীয় শিক্ষা]] || ৫০২ || ✓
|-
| 16 || [[টমাস হলি চিভার্স]] || ২৩৫ || ✓
|-
| 17 || [[মুহাম্মদ মাহদি আল-জাওয়াহিরি]] || ৬৩৮ || ✓
|-
| 18 || [[জেডি স্মিথ]] || ১,০৮০ || ✓
|-
| 19 || [[ব্রায়ান পি. শ্মিট]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 20 || [[কার্ল বার্নস্টিন]] || ৩৬৮ || ✓
|-
| 21 || [[চার্লস ফেফারম্যান]] || ৩৩৯ || ✓
|-
| 22 || [[ইয়ুস্টুস ফন লিবিগ]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 23 || [[টমাস শেলিংস]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 24 || [[উইলিয়াম শকলি]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 25 || [[শিং-শেন চের্ন]] || ৭৬৫ || ✕
|-
| 26 || [[হুগো দ্য ভ্রিস]] || ৩৪৪ || ✓
|-
| 27 || [[রবার্ট অ্যান্ড্রুজ মিলিকান]] || ৪৩৬ || ✓
|-
| 28 || [[জেমস ভ্যান অ্যালেন]] || ৫৯৬ || ✓
|-
| 29 || [[জাক শিরাক]] || ৭১১ || ✓
|-
| 30 || [[ডরোথি হজকিন]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 31 || [[গোরান পারসন]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 32 || [[জেরার দ্যব্রু]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 33 || [[কোরীয় যুদ্ধ]] || ৯,৯৬৫ || ✕
|-
| 34 || [[রবার্ট জে. শিলার]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 35 || [[ফ্রঁসোয়া আরাগন]] || ৪৩৫ || ✓
|-
| 36 || [[অখিলচন্দ্র দত্ত]] || ৩৭৩ || ✕
|-
| 37 || [[ফ্রান্সিস কলিন্স]] || ৫৮৮ || ✓
|-
| 38 || [[হেলেন ক্লার্ক]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 39 || [[লেয়োঁ ফুকো]] || ৫৩২ || ✓
|-
| 40 || [[জন চার্লস পোলানি]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 41 || [[জন মেইনার্ড কেইনস]] || ১৭,৭৯১ || ✕
|-
| 42 || [[দিমিত্রি মুরাতভ]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 43 || [[আবদুস সালাম]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 44 || [[আবদুলরাজাক গুরনাহ]] || ৭৪৯ || ✓
|-
| 45 || [[এ. সি. বেনসন]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 46 || [[প্রথম আলবার্ট]] || ৮৬৪ || ✓
|-
| 47 || [[অম্লান দত্ত]] || ১৪৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৪৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১৯,৩৪৬
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৫৬,৫৮১
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৩৭,২৩৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন| মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ইয়ান মার্টেল]] || ১,১৩৩ || ✕
|-
| 2 || [[ইয়োইচিরো নাম্বু]] || ৪৩১ || ✕
|-
| 3 || [[সৈয়দ জামিল আহমেদ]] || ২০৩ || ✓
|-
| 4 || [[পূর্ণিমা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 5 || [[শরিফুল রাজ]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 6 || [[কাজী হায়াৎ]] || ২৭৪ || ✓
|-
| 7 || [[আরেফিন রুমি]] || ১৬২ || ✓
|-
| 8 || [[ইমাম নাসাই]] || ৬৯৭ || ✕
|-
| 9 || [[কবরী]] || ২৭১ || ✓
|-
| 10 || [[হাফিজ উদ্দিন আহমদ]] || ২৩৬ || ✓
|-
| 11 || [[আ ন ম এহসানুল হক মিলন]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 12 || [[আন্দালিব রহমান পার্থ]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 13 || [[ববি হাজ্জাজ]] || ২৫৩ || ✓
|-
| 14 || [[ইবনে মাজাহ]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 15 || [[হাবিব ওয়াহিদ]] || ২৬৪ || ✓
|-
| 16 || [[জাইমা রহমান]] || ২১২ || ✓
|-
| 17 || [[কনকচাঁপা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 18 || [[আহসান হাবীব]] || ২১৯ || ✓
|-
| 19 || [[বেলাল খান]] || ২১৯ || ✓
|-
| 20 || [[নচিকেতা চক্রবর্তী]] || ২৮৯ || ✓
|-
| 21 || [[আ ফ ম খালিদ হোসেন]] || ২৪৮ || ✓
|-
| 22 || [[আলমগীর]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 23 || [[সালাহউদ্দিন আহমেদ]] || ৪৫৯ || ✓
|-
| 24 || [[চোং নানশান]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 25 || [[এ. সি. ব্র্যাডলি]] || ৩৯০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৫
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৫,৪৭২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৮,১২৩
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২,৬৫১
|}
=== [[ব্যবহারকারী:JIBON| JIBON]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আলবার্ট হফমান]] || ৩,৪৪৪ || ✓
|-
| 2 || [[অ্যালান পারলিস]] || ৯২৮ || ✓
|-
| 3 || [[হেইনরিখ রোরার]] || ৩৬০ || ✓
|-
| 4 || [[আলফ্রেড আহো]] || ১৪৪ || ✕
|-
| 5 || [[উ থান্ট]] || ৬৭৮ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৫
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৪,৭৩২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৫,৫৫৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৮২২
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad| Md. Muqtadir Fuad]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লোরঁ শোয়ার্তজ]] || ৬১০ || ✓
|-
| 2 || [[উইলিয়াম শার্প]] || ৩৯৯ || ✓
|-
| 3 || [[পাউল এরেনফেস্ট]] || ৪৩৩ || ✓
|-
| 4 || [[রবার্ট মান্ডেল]] || ৩২২ || ✓
|-
| 5 || [[হান কাং]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 6 || [[ক্রিপটিক ফেইট]] || ১৭৬ || ✓
|-
| 7 || [[কাকাবাবু]] || ২৫৮ || ✓
|-
| 8 || [[ক্যারি মুলিস]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 9 || [[টোমাস ট্রান্সট্রোমার]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 10 || [[ইরিনা বোকোভা]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 11 || [[মার্টিনুস ভেল্টম্যান]] || ১৯৫ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৪,০২৯
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪,০২৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Humaira.thithi| Humaira.thithi]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ড্যামন গ্যালগুট]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 2 || [[আর্থার কর্নবার্গ]] || ১৭৭ || ✕
|-
| 3 || [[বেন ওক্রি]] || ৮৫৮ || ✓
|-
| 4 || [[সল বেলো]] || ১,০০৩ || ✓
|-
| 5 || [[সল পার্লমাটার]] || ৩১১ || ✕
|-
| 6 || [[সিমেওঁ দ্যনি পোয়াসোঁ]] || ১৬০ || ✓
|-
| 7 || [[স্টিভ আরউইন]] || ৪৩৫ || ✕
|-
| 8 || [[আনি এরনো]] || ২৮৪ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৮
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,৭৮৭
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,৭১০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৯২৩
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Amirhusenjihed| Amirhusenjihed]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ফজল শাহাবুদ্দীন]] || ৪৯৫ || ✕
|-
| 2 || [[আল-জাহিজ]] || ৭৩৩ || ✓
|-
| 3 || [[আল-বিরুনি]] || ১,৮৩৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,৫৬৯
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,০৬৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪৯৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Asikur Rahman| Asikur Rahman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[থমাস হ্যারিয়ট]] || ৪৩২ || ✓
|-
| 2 || [[স্টিভেন চু]] || ২২০ || ✓
|-
| 3 || [[ইভাঞ্জেলিস্টা টরিসেলি]] || ৩৭২ || ✓
|-
| 4 || [[লেসলি ল্যামপোর্ট]] || ৫৫০ || ✓
|-
| 5 || [[মার্টিন লুইস পার্ল]] || ৩৮৮ || ✓
|-
| 6 || [[ভ্লাদিমির মার্কভনিকভ]] || ২৬৭ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,২২৯
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,২২৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Rasel Mehedi| Rasel Mehedi]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[বাপ্পী লাহিড়ী]] || ২৫২ || ✓
|-
| 2 || [[নুহাশ হুমায়ূন]] || ২০৫ || ✓
|-
| 3 || [[আনিসুল হক]] || ২৪৬ || ✕
|-
| 4 || [[বাবর আলী]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 5 || [[মেহের আফরোজ শাওন]] || ৩১৯ || ✓
|-
| 6 || [[ফেলুদা]] || ২৪৬ || ✓
|-
| 7 || [[ব্যোমকেশ বক্সী]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 8 || [[প্রোফেসর শঙ্কু]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 9 || [[বারী সিদ্দিকী]] || ২৪২ || ✓
|-
| 10 || [[সমরেশ বসু]] || ২০২ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,২২২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৪৬৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২৪৬
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Mahiya50| Mahiya50]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লিয়ন কুপার]] || ৩২৩ || ✓
|-
| 2 || [[কামিলা শামসি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 3 || [[ক্রিস্টোফার রেন]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 4 || [[জিওফ্রে হিন্টন]] || ৩২২ || ✓
|-
| 5 || [[ফ্রিডতিয়ফ নানসেন]] || ১৯১ || ✓
|-
| 6 || [[আলাঁ আস্পে]] || ৭৭৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,১৯০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,১৯০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Borhan| Borhan]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ক্যারিল ফিলিপস]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 2 || [[জেমস কুক]] || ৩৯৭ || ✓
|-
| 3 || [[ক্লাউদিয়া শেইনবাউম]] || ৩২১ || ✓
|-
| 4 || [[আবি আহমেদ]] || ২৫৫ || ✓
|-
| 5 || [[পিটার আগ্রি]] || ১৯০ || ✓
|-
| 6 || [[ফখরুদ্দীন আল-রাযী]] || ২১৫ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৬৬২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৬৬২
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Raihanur| Raihanur]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[শি চিনফিং]] || ৪,১৩২ || ✕
|-
| 2 || [[ইব্রাহিম ত্রাওরে]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 3 || [[পেদ্রো সানচেজ]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 4 || [[অ্যাডাম রিস]] || ৪৮৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৪
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৫৪২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৫,৬৭৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪,১৩২
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Muhammad Fahim Faisal| Muhammad Fahim Faisal]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আব্দুল হান্নান আবকারী]] || ০ || ✕
|-
| 2 || [[ইবরাহীম আলী তশনা]] || ২৪৭ || ✓
|-
| 3 || [[রুহুল আমিন বসিরহাটি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 4 || [[মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী]] || ৩৪২ || ✓
|-
| 5 || [[শামছুল হুদা]] || ০ || ✕
|-
| 6 || [[শামছুল হক ফরিদপুরী]] || ৫৪৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৪৯৮
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৪৯৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Firuz Ahmmed| Firuz Ahmmed]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[গর্ডন মুর]] || ৫৮৭ || ✓
|-
| 2 || [[শিরিন এবাদি]] || ৫৪৩ || ✕
|-
| 3 || [[নাগিব মাহফুজ]] || ৫৩০ || ✓
|-
| 4 || [[আল-ফারাবি]] || ৫৩৭ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৪
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,১১৭
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,১৯৭
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১,০৮০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম| নিয়াজ ইসলাম]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[চাষী নজরুল ইসলাম]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 2 || [[বাপ্পা মজুমদার]] || ৩১০ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৭৫৬
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৭৫৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Asad.fr| Asad.fr]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[রবার্ট ক্লাইভ]] || ২,০০২ || ✕
|-
| 2 || [[পার্ল এস. বাক]] || ৯৩৩ || ✕
|-
| 3 || [[জন বারডিন]] || ৩৬৪ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩৬৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,২৯৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২,৯৩৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin| Mehedi Abedin]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[তাসমিয়া প্রধান]] || ৩৫২ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩৫২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩৫২
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Md. Rayan Alam Rifat| Md. Rayan Alam Rifat]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আজিজুল হক]] || ১৮০ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১৮০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১৮০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Siyan BD| Siyan BD]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আবদুস সালাম]] || ১০০ || ✕
|-
| 2 || [[আবদুল গফুর]] || ১০১ || ✕
|-
| 3 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৬১ || ✓
|-
| 4 || [[আবদুল জব্বার]] || ৯২ || ✕
|-
| 5 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৩৩ || ✕
|-
| 6 || [[অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১৩৪ || ✕
|-
| 7 || [[অনিমেষ রায়]] || ১২৬ || ✕
|-
| 8 || [[অনির্বাণ বসু]] || ১২০ || ✕
|-
| 9 || [[অজয় ঘটক]] || ১১৪ || ✕
|-
| 10 || [[অচলা মল্লিক]] || ১৫৪ || ✕
|-
| 11 || [[অজয় হোম]] || ১৫৯ || ✕
|-
| 12 || [[অমিতা বসু]] || ১৪২ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১৬১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৫৩৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১,৩৭৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Dewan mahbubr Rahman| Dewan mahbubr Rahman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ভেরা রুবিন]] || ৩৫০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩৫০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৩৫০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:ExceptionistSagar| ExceptionistSagar]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মেরি কুরি]] || ১৭৯ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১৭৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১৭৯
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Kh. Fahim| Kh. Fahim]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মিসির আলি]] || ৪০৬ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪০৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪০৬
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Trisha Mazumder| Trisha Mazumder]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আস্ট্রোনমি]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:MdMarufHossen71| MdMarufHossen71]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মমতাজ বেগম]] || ৩৫৫ || ✕
|-
| 2 || [[আবুল বরকত]] || ১৪৩ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪৯৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪৯৮
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Usarker| Usarker]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মেরি স্টোপস]] || ৫০৫ || ✕
|-
| 2 || [[ইয়োন ফসে]] || ৩৯৩ || ✕
|-
| 3 || [[জুনো দিয়াজ]] || ৫৪০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৪৩৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১,৪৩৮
|}
=== [[ব্যবহারকারী:রাকিবুল হাসান রাসেল| রাকিবুল হাসান রাসেল]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[পারভীন এতেসামি]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:MD RADWAN ISLAM| MD RADWAN ISLAM]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[চুয়াং জি]] || ২৭৪ || ✕
|-
| 2 || [[ফকির শাহাবুদ্দীন]] || ০ || ✕
|-
| 3 || [[আবু বকর সিদ্দিকী]] || ০ || ✕
|-
| 4 || [[বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট]] || ০ || ✕
|-
| 5 || [[বাংলাদেশের কৃষি প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 6 || [[হাসিবুন নাহের]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২৭৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২৭৪
|}
=== [[ব্যবহারকারী:AKM Mahinur Rahman| AKM Mahinur Rahman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মেরি উলস্টোনক্রাফ্ট]] || ২১৩ || ✕
|-
| 2 || [[বালতাসার গ্রাসিয়ান]] || ২০৬ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪১৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪১৯
|}
=== [[ব্যবহারকারী:MD RADWAN ISLAM ROHAN| MD RADWAN ISLAM ROHAN]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[জুলাই আন্দোলন]] || ৬১৫ || ✕
|-
| 2 || [[বিকাশ]] || ০ || ✕
|-
| 3 || [[নতুন প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 4 || [[বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট শিল্প: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা]] || ০ || ✕
|-
| 5 || [[জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের পরিবেশ]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৫
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৬১৫
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৬১৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:ShahinurWrites| ShahinurWrites]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মোহাম্মদ শেখ শাহিনুর রহমান]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Abdullah Al Shishir| Abdullah Al Shishir]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[অপ্রত্যাশিত জীবনযাত্রা]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:চ্যাম্পিয়ন স্টার ১| চ্যাম্পিয়ন স্টার ১]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[অপর্ণা সেন]] || ৩১২ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩১২
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৩১২
|}
----
{| class="wikitable sortable mw-collapsible mw-collapsed"
|+ class="nowrap" | শব্দসংখ্যা অনুযায়ী নিবন্ধ তালিকা
! ক্রমিক !! নিবন্ধ !! শব্দ সংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ভারতে পোশাক]] || ২,২৮৯ || ✓
|-
| 2 || [[ভারতের ভাষা]] || ৬৯৫ || ✓
|-
| 3 || [[মধ্যযুগীয় ভারত]] || ১,৭১৭ || ✓
|-
| 4 || [[ভারতে ইহুদিদের ইতিহাস]] || ২,০৪৬ || ✓
|-
| 5 || [[ভারতে সুফিবাদ]] || ৩,২০৭ || ✓
|-
| 6 || [[পর্তুগিজ ভারত]] || ১,৬৪৩ || ✓
|-
| 7 || [[ভারতের প্রাণী]] || ৩০৫ || ✓
|-
| 8 || [[স্বাধীনতা দিবস]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 9 || [[ভারতে দুর্ভিক্ষ]] || ৩,৭৮১ || ✓
|-
| 10 || [[ভারতে ধর্মহীনতা]] || ২,৩৮৯ || ✓
|-
| 11 || [[ওয়ারেন ফ্যারেল]] || ২১,০৭৮ || ✓
|-
| 12 || [[আর্নেস্ট বেকার]] || ১৩,৫৯৭ || ✓
|-
| 13 || [[অতিপ্রজতা]] || ২৯,৫০১ || ✓
|-
| 14 || [[মোপলা বিদ্রোহ]] || ১৪,৫১২ || ✓
|-
| 15 || [[সীতা রাম গোয়েল]] || ১,৫৯৬ || ✓
|-
| 16 || [[অরুণ শৌরি]] || ১৫,৪৫০ || ✓
|-
| 17 || [[ভারতের ইতিহাস লিখন]] || ১৭,৯১৮ || ✓
|-
| 18 || [[দ্রৌপদী]] || ৬,১৬৪ || ✓
|-
| 19 || [[দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস]] || ২,৬৮৫ || ✕
|-
| 20 || [[রামায়ণ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 21 || [[ভারতে শিক্ষা]] || ১০,৫৮০ || ✓
|-
| 22 || [[ভারতে নারী]] || ৬,১৫০ || ✓
|-
| 23 || [[বন্যপ্রাণীর কষ্ট]] || ৩৩,৭৪১ || ✓
|-
| 24 || [[নিরামিষবাদ]] || ৩০,৬২৭ || ✓
|-
| 25 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতিত্ব]] || ৩৭,৫৭২ || ✓
|-
| 26 || [[নির্বাচন]] || ৭,০২৫ || ✓
|-
| 27 || [[সরকার]] || ২২,৭৫৯ || ✓
|-
| 28 || [[এডওয়ার্ড হল অল্ডারসন]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 29 || [[অ্যামব্রোজ বিয়ার্স]] || ৫,৫৪১ || ✕
|-
| 30 || [[মেওয়াত]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 31 || [[নানাবতী-মেহতা কমিশন]] || ২,৪৪৪ || ✓
|-
| 32 || [[ভারতে ঔষধ শিল্প]] || ১,৯২১ || ✓
|-
| 33 || [[পাঞ্জাব]] || ১,৪০৬ || ✓
|-
| 34 || [[রামনবমী]] || ৮৬২ || ✓
|-
| 35 || [[ভারতের শহরসমূহের নাম পরিবর্তন]] || ৪৪১ || ✓
|-
| 36 || [[নুপুর শর্মা]] || ৬০১ || ✓
|-
| 37 || [[রিপাবলিক টিভি]] || ৪৫৫ || ✓
|-
| 38 || [[রোহিলখণ্ড]] || ৪৪০ || ✓
|-
| 39 || [[রোহিলা]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 40 || [[সৌরাষ্ট্র]] || ৬৫৪ || ✓
|-
| 41 || [[ভারতে তিন তালাক]] || ১,১৩৪ || ✓
|-
| 42 || [[ভারতের পবিত্র উপবন]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 43 || [[অভিন্ন দেওয়ানি বিধি]] || ৩,৭৩৭ || ✓
|-
| 44 || [[নবনীত আদিত্য ওয়াইবা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 45 || [[ভারতে জল সরবরাহ ও স্যানিটেশন]] || ৭৪০ || ✓
|-
| 46 || [[জমিদার]] || ৩৮১ || ✕
|-
| 47 || [[নিখিল ভারত মুসলিম লীগ]] || ১,৭৩৭ || ✕
|-
| 48 || [[ফতোয়া]] || ৪৮৪ || ✓
|-
| 49 || [[দারা শিকোহ]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 50 || [[আমেরিকা নিপাত যাক]] || ৬৩৯ || ✓
|-
| 51 || [[মহা শয়তান]] || ৪১৪ || ✓
|-
| 52 || [[উলামা]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 53 || [[দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম জাতীয়তাবাদ]] || ১,৫১৬ || ✓
|-
| 54 || [[পার্সি-মুসলিম দাঙ্গা]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 55 || [[ভারতে দাঙ্গা]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 56 || [[ভারতে পেগাসাস প্রকল্পের উদঘাটন]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 57 || [[নেহরুবাদ]] || ৯৫২ || ✓
|-
| 58 || [[২জি স্পেকট্রাম মামলা]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 59 || [[রাহুল গান্ধী]] || ৪,০০৪ || ✓
|-
| 60 || [[আকবরউদ্দিন ওয়াইসি]] || ২৯৮ || ✓
|-
| 61 || [[ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ২০২৪]] || ২,৫৭৭ || ✓
|-
| 62 || [[ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 63 || [[নাইলা আলি খান]] || ২০৪ || ✓
|-
| 64 || [[অরুণ জেটলি]] || ৪৮১ || ✓
|-
| 65 || [[সুকেতু মেহতা]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 66 || [[রুক্মিণী মৈত্র]] || ৩৫৪ || ✓
|-
| 67 || [[মানব গুপ্ত]] || ৬৩৪ || ✕
|-
| 68 || [[মোহিনী মোহন ধর]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 69 || [[দিলীপ কুমার চক্রবর্তী]] || ২,৫৯৭ || ✓
|-
| 70 || [[রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 71 || [[পিটার অ্যাক্রয়েড]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 72 || [[হ্যারল্ড ব্লুম]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 73 || [[জেমস বসওয়েল]] || ১,১৪৯ || ✓
|-
| 74 || [[অলিভার গোল্ডস্মিথ]] || ৩,১৭৮ || ✓
|-
| 75 || [[হেনরি জাইলস]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 76 || [[এডউইন হাবেল চ্যাপিন]] || ৭৭০ || ✓
|-
| 77 || [[অবমাননা]] || ৭৮৮ || ✓
|-
| 78 || [[আদালত অবমাননা]] || ৮২৯ || ✓
|-
| 79 || [[আইনপ্রণেতা]] || ৭৪৩ || ✓
|-
| 80 || [[লেই বারডুগো]] || ১২২ || ✓
|-
| 81 || [[উইলিয়াম ব্রেট, ১ম ভিসকাউন্ট এশার]] || ১,০২০ || ✓
|-
| 82 || [[হেনরি হকিন্স, ১ম ব্যারন ব্র্যাম্পটন]] || ৩০৩ || ✓
|-
| 83 || [[জুনিয়াস]] || ১,৪১২ || ✓
|-
| 84 || [[উইলিয়াম মারে, ম্যানসফিল্ডের ১ম আর্ল]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 85 || [[জোসেফ ইয়েটস]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 86 || [[স্যার জন বেইলি, ১ম ব্যারোনেট]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 87 || [[হেনরি বিকারস্টথ, ১ম ব্যারন ল্যাংডেল]] || ৪১৫ || ✓
|-
| 88 || [[এডওয়ার্ড ল, ১ম ব্যারন এলেনবরো]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 89 || [[লয়েড কেনিয়ন, ১ম ব্যারন কেনিয়ন]] || ৪,৪০৮ || ✓
|-
| 90 || [[জন হোল্ট]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 91 || [[চার্লস বোয়েন, ব্যারন বোয়েন]] || ১,০৩৭ || ✓
|-
| 92 || [[চার্লস অ্যাবট, ১ম ব্যারন টেন্টারডেন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 93 || [[ন্যায়বিচার প্রশাসন]] || ২,৮৯৯ || ✓
|-
| 94 || [[আদালত]] || ১,৮১৮ || ✕
|-
| 95 || [[রোজান এ. ব্রাউন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 96 || [[মারিয়ন জিমার ব্র্যাডলি]] || ১,১০৪ || ✓
|-
| 97 || [[টেরি ব্রুকস]] || ৪৮৫ || ✓
|-
| 98 || [[লেই ব্র্যাকেট]] || ১,১১২ || ✓
|-
| 99 || [[জ্যাক ক্যাডি]] || ১,৫৬৮ || ✓
|-
| 100 || [[মেল ব্রুকস]] || ২,০১৬ || ✕
|-
| 101 || [[মাইকেল বিশপ]] || ৯৬০ || ✕
|-
| 102 || [[এলিজাবেথ বেয়ার]] || ৭০৫ || ✓
|-
| 103 || [[মার্গারেট বল]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 104 || [[পাওলো বাসিগালুপি]] || ৬৪৭ || ✓
|-
| 105 || [[কেলি আর্মস্ট্রং]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 106 || [[ক্যাথরিন আসরো]] || ৩৬১ || ✓
|-
| 107 || [[পিয়ার্স অ্যান্থনি]] || ২২৯ || ✓
|-
| 108 || [[রবার্ট আইকম্যান]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 109 || [[আইনজীবী]] || ২,৩২৯ || ✓
|-
| 110 || [[আইনসভা]] || ২,৩৪৩ || ✓
|-
| 111 || [[জর্জ বুশনার]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 112 || [[জোসেফ গার্নি ক্যানন]] || ৭০৯ || ✓
|-
| 113 || [[সংখ্যাগরিষ্ঠ]] || ১,৩৫৬ || ✓
|-
| 114 || [[সংখ্যালঘু গোষ্ঠী]] || ১,৮৮১ || ✓
|-
| 115 || [[প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 116 || [[মানব আচরণ]] || ৮৫২ || ✓
|-
| 117 || [[হার্ভে ম্যানসফিল্ড]] || ৯৭৯ || ✓
|-
| 118 || [[রাষ্ট্রবিজ্ঞান]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 119 || [[রাজনৈতিক দর্শন]] || ১,২৮৫ || ✓
|-
| 120 || [[দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা]] || ১,০৮৭ || ✓
|-
| 121 || [[আগ্রাসন]] || ৯২০ || ✓
|-
| 122 || [[হিন্দুত্ব]] || ২,৭০০ || ✓
|-
| 123 || [[ফ্লাভিয়া অ্যাগনেস]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 124 || [[লাভ জিহাদ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব]] || ৩,১৫০ || ✓
|-
| 125 || [[মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড]] || ১,৭৭৮ || ✓
|-
| 126 || [[যোগিন্দর সিকান্দ]] || ৮১৪ || ✓
|-
| 127 || [[ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা]] || ৮৫১ || ✓
|-
| 128 || [[জয় শ্রীরাম]] || ৭০৮ || ✓
|-
| 129 || [[লালকৃষ্ণ আডবাণী]] || ১,৫৫৫ || ✓
|-
| 130 || [[রাম রথযাত্রা]] || ১,৫৭৯ || ✓
|-
| 131 || [[হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন]] || ১,৪৫৫ || ✓
|-
| 132 || [[হর্ষ মান্দার]] || ৬৬০ || ✓
|-
| 133 || [[স্বপন দাশগুপ্ত]] || ১,১৬৭ || ✓
|-
| 134 || [[জরাথুস্ট্রবাদ]] || ৩৭৭ || ✓
|-
| 135 || [[পার্সি]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 136 || [[নাগরিকত্ব]] || ১,৮৭৯ || ✓
|-
| 137 || [[ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০]] || ৬৭৯ || ✓
|-
| 138 || [[মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯]] || ৭৬৯ || ✓
|-
| 139 || [[অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিশু শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯]] || ৩৭৯ || ✓
|-
| 140 || [[বোম্বাই দাঙ্গা]] || ৭৭৬ || ✓
|-
| 141 || [[বজরং দল]] || ৩৩১ || ✓
|-
| 142 || [[সংসদীয় ব্যবস্থা]] || ৪০৫ || ✓
|-
| 143 || [[বিচার বিভাগীয় ব্যাখ্যা]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 144 || [[বর্ণবাদ পরবর্তী আমেরিকা]] || ১,০৬৯ || ✓
|-
| 145 || [[শ্বেতাঙ্গ বিশেষাধিকার]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 146 || [[বিশেষাধিকার]] || ৭১২ || ✓
|-
| 147 || [[মানবহিতৈষণা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 148 || [[ভারত সরকার]] || ১,২২০ || ✓
|-
| 149 || [[শিলং]] || ৯৭৩ || ✓
|-
| 150 || [[মাঝৌলি রাজ]] || ৫৬০ || ✓
|-
| 151 || [[কালিকট]] || ৪৫৪ || ✓
|-
| 152 || [[যাজপুর]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 153 || [[কালিবাঙ্গান]] || ৭৩৮ || ✓
|-
| 154 || [[কাডাপা]] || ৪১৩ || ✓
|-
| 155 || [[ইদার]] || ৫৮৬ || ✓
|-
| 156 || [[গোধরা]] || ১,০১০ || ✓
|-
| 157 || [[ভুবনেশ্বর]] || ১,১৬৫ || ✓
|-
| 158 || [[অমৃতসর]] || ৮৬৮ || ✓
|-
| 159 || [[আম্বালা]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 160 || [[হায়দ্রাবাদ]] || ৩,২৪৮ || ✓
|-
| 161 || [[২০১৯ হায়দ্রাবাদ গণধর্ষণ]] || ১৭৭ || ✓
|-
| 162 || [[মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি]] || ৪২৩ || ✕
|-
| 163 || [[হায়দ্রাবাদ অধিগ্রহণ]] || ৪৫৬ || ✓
|-
| 164 || [[১৮৯৯-১৯০০ সালের ভারতীয় দুর্ভিক্ষ]] || ৫৪১ || ✓
|-
| 165 || [[১৯৯০ হায়দ্রাবাদ দাঙ্গা]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 166 || [[গুয়াহাটি]] || ১,৭৯৬ || ✓
|-
| 167 || [[গৌড়]] || ১,৯৩৬ || ✓
|-
| 168 || [[বিজাপুর]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 169 || [[মাণ্ডু]] || ৩৯৪ || ✓
|-
| 170 || [[খাজুরাহো]] || ৩৭১ || ✓
|-
| 171 || [[চান্দেরী]] || ৫০৭ || ✓
|-
| 172 || [[জুনাগড়]] || ৭১৯ || ✓
|-
| 173 || [[বৃহৎ কচ্ছের রাণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 174 || [[আহমেদাবাদ]] || ১,৮১২ || ✓
|-
| 175 || [[কচ্ছ জেলা]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 176 || [[দৃশদ্বতী নদী]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 177 || [[চেনাব নদী]] || ৩২১ || ✓
|-
| 178 || [[পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 179 || [[মুর্শিদাবাদ সহিংসতা]] || ২৫৭ || ✓
|-
| 180 || [[২০২৪ সন্দেশখালী সহিংসতা]] || ১,০৬১ || ✓
|-
| 181 || [[২০২২ বীরভূম সহিংসতা]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 182 || [[মৈতৈ জাতি]] || ৫২৭ || ✕
|-
| 183 || [[মৈতৈ সভ্যতা]] || ৩৫০ || ✓
|-
| 184 || [[মণিপুর]] || ৩০৬ || ✕
|-
| 185 || [[লাক্ষাদ্বীপ]] || ৩২৯ || ✓
|-
| 186 || [[বৃন্দাবন]] || ৬৮২ || ✕
|-
| 187 || [[সম্ভল]] || ২৪৩ || ✓
|-
| 188 || [[এলাহাবাদ]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 189 || [[আলিগড়]] || ৪০৯ || ✓
|-
| 190 || [[স্ট্যাচু অব ইউনিটি]] || ২৪১ || ✓
|-
| 191 || [[ভারতের দুর্গ]] || ৩১৪ || ✓
|-
| 192 || [[দ্য দুন স্কুল]] || ৬৬৪ || ✓
|-
| 193 || [[কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 194 || [[আগ্রা]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 195 || [[২০২০ দিল্লি দাঙ্গা]] || ১,১৭৮ || ✓
|-
| 196 || [[তিরুচিরাপল্লী]] || ৬২৬ || ✓
|-
| 197 || [[সেন্ট থমাস ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা, চেন্নাই]] || ৩৮০ || ✕
|-
| 198 || [[আতঙ্ক]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 199 || [[ভারতে দুর্নীতি]] || ১,০০৭ || ✓
|-
| 200 || [[তামিলনাড়ুর মন্দির]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 201 || [[এম. কে. স্ট্যালিন]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 202 || [[তামিলনাড়ু]] || ৫৪৩ || ✓
|-
| 203 || [[তামিলনাড়ুর হিন্দি বিরোধী আন্দোলন]] || ৪৬৫ || ✓
|-
| 204 || [[যোধপুর]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 205 || [[রাজস্থান]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 206 || [[ওড়িশা]] || ৭৪৫ || ✓
|-
| 207 || [[১৯৯৮ কোয়েম্বাটুর বোমা হামলা]] || ৫৩৭ || ✓
|-
| 208 || [[উত্তর-পূর্ব ভারতে বিদ্রোহ]] || ৩৯৮ || ✓
|-
| 209 || [[মারাদ হত্যাকাণ্ড]] || ৩৫২ || ✓
|-
| 210 || [[মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 211 || [[স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 212 || [[বিষ্ণু]] || ৬১৭ || ✓
|-
| 213 || [[২০২৪ রিয়াসি হামলা]] || ৩০২ || ✓
|-
| 214 || [[২০০৬ মালেগাঁও বোমা হামলা]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 215 || [[২০০৬ মুম্বই রেলে বোমা হামলা]] || ১৯০ || ✓
|-
| 216 || [[মুম্বই]] || ১,২২৪ || ✓
|-
| 217 || [[দৌলতাবাদ, মহারাষ্ট্র]] || ৮৮৯ || ✕
|-
| 218 || [[মহারাষ্ট্র]] || ৪৯৯ || ✓
|-
| 219 || [[পিনারাই বিজয়ন]] || ৫২৩ || ✓
|-
| 220 || [[আরব দেশ]] || ৯১৪ || ✓
|-
| 221 || [[দক্ষিণ এশিয়া]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 222 || [[শহুরে অবক্ষয়]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 223 || [[নগরায়ন]] || ১,০৯৭ || ✓
|-
| 224 || [[কেরল]] || ৩৬৫ || ✓
|-
| 225 || [[জম্মু ও কাশ্মীরে বিদ্রোহ]] || ৪১৮ || ✓
|-
| 226 || [[জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার]] || ৯৬৪ || ✓
|-
| 227 || [[শ্রীনগর]] || ১,৭২৯ || ✓
|-
| 228 || [[কাশ্মীর উপত্যকা]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 229 || [[লাদাখ]] || ৬৯৪ || ✓
|-
| 230 || [[কাশ্মীরি জাতি]] || ৮১৩ || ✓
|-
| 231 || [[তারিখ-ই-কাশ্মীর]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 232 || [[কর্ণাটক]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 233 || [[কর্ণাটকের রাজনীতি]] || ৪৩৯ || ✓
|-
| 234 || [[বেঙ্গালুরু]] || ৬১৪ || ✓
|-
| 235 || [[আসামে ইসলাম]] || ৬৯০ || ✓
|-
| 236 || [[আসামের ইতিহাস]] || ৭২৬ || ✓
|-
| 237 || [[আসামে হিন্দুধর্ম]] || ৩২৫ || ✓
|-
| 238 || [[ভারতের জনমিতি]] || ৩,৩৭৩ || ✓
|-
| 239 || [[বাংলাদেশের জনমিতি]] || ১,১৯৫ || ✓
|-
| 240 || [[পাকিস্তানের জনমিতি]] || ৮৫০ || ✓
|-
| 241 || [[আসামের জনমিতি]] || ১৮২ || ✓
|-
| 242 || [[বিহার]] || ৪৫৮ || ✓
|-
| 243 || [[পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি]] || ১৮১ || ✓
|-
| 244 || [[শাহ বানু মামলা]] || ৭৯৯ || ✕
|-
| 245 || [[ইসরায়েল–ভারত সম্পর্ক]] || ৮৯৭ || ✓
|-
| 246 || [[প্রণব মুখোপাধ্যায়]] || ৫৯৫ || ✓
|-
| 247 || [[দ্রৌপদী মুর্মু]] || ২৪৯ || ✓
|-
| 248 || [[ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ]] || ১,৬৪৭ || ✓
|-
| 249 || [[এলজিবিটিকিউ অধিকার বিরোধিতা]] || ২,০৪৯ || ✓
|-
| 250 || [[গেফোবিয়া]] || ২৭৮ || ✓
|-
| 251 || [[সমকামী যৌন চর্চা]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 252 || [[উভকামিতা]] || ১,৫৬০ || ✓
|-
| 253 || [[কামিং আউট]] || ৮০৫ || ✓
|-
| 254 || [[স্মৃতি ইরানি]] || ৯৯১ || ✓
|-
| 255 || [[মেনকা গান্ধী]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 256 || [[যশবন্ত সিং]] || ২০৬ || ✓
|-
| 257 || [[সৈয়দ শাহাবুদ্দিন]] || ৫৭৯ || ✓
|-
| 258 || [[শাকিল আহমদ]] || ১২৪ || ✓
|-
| 259 || [[তথাগত রায়]] || ২৭৫ || ✓
|-
| 260 || [[লালুপ্রসাদ যাদব]] || ১,১০৯ || ✓
|-
| 261 || [[আসাদউদ্দিন ওয়াইসি]] || ৪১৩ || ✕
|-
| 262 || [[ইরাক যুদ্ধ]] || ১২,৩৪৪ || ✓
|-
| 263 || [[যুক্তরাজ্যের তৃতীয় জর্জ]] || ১২,০৪২ || ✓
|-
| 264 || [[২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৮৮৩ || ✓
|-
| 265 || [[২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৩,৫১৪ || ✓
|-
| 266 || [[২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬১১ || ✓
|-
| 267 || [[ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ]] || ১,৫৪২ || ✓
|-
| 268 || [[স্নায়ুযুদ্ধ]] || ১৫,৬১০ || ✕
|-
| 269 || [[দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ]] || ৪,৬৬৮ || ✓
|-
| 270 || [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] || ২৪,১৭৭ || ✓
|-
| 271 || [[মহত্ত্ব]] || ৭,৮১৪ || ✓
|-
| 272 || [[সাংবাদিকতা]] || ১৩,৪৭৭ || ✓
|-
| 273 || [[প্যানডিজম]] || ১০,৩০০ || ✓
|-
| 274 || [[গাজা যুদ্ধ]] || ১৬,৯৮২ || ✓
|-
| 275 || [[২০২৬ ইরান যুদ্ধ]] || ৬,৯৮৩ || ✓
|-
| 276 || [[পারমাণবিক অস্ত্র]] || ৩,২৩৩ || ✓
|-
| 277 || [[২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 278 || [[ক্রুসেড]] || ৯৯৬ || ✓
|-
| 279 || [[অ্যানিমেশন]] || ৯,৪৫৭ || ✓
|-
| 280 || [[দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি]] || ৭৫৫ || ✓
|-
| 281 || [[ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ]] || ৩,৭৬৩ || ✓
|-
| 282 || [[পারমাণবিক যুদ্ধ]] || ৫,৫২০ || ✓
|-
| 283 || [[আল খোয়ারিজমি]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 284 || [[ফজলে রাব্বী]] || ৬৩৫ || ✓
|-
| 285 || [[ডেভিড হিউম]] || ১১,৭৮০ || ✓
|-
| 286 || [[লিওনিদ ক্যান্টোরোভিচ]] || ১,৪২২ || ✓
|-
| 287 || [[থিওডোসিয়াস ডবঝানস্কি]] || ৭৬০ || ✕
|-
| 288 || [[টেরেন্স টাও]] || ৭২০ || ✓
|-
| 289 || [[ফিলিপ]] || ৪২৬ || ✓
|-
| 290 || [[জুলিয়ান শুইঙার]] || ১,৩২২ || ✕
|-
| 291 || [[পিয়ের-জিল দ্য জেন]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 292 || [[ব্রায়ান কক্স]] || ৭৫৬ || ✓
|-
| 293 || [[জন ম্যাককার্থি]] || ১,০৪৫ || ✓
|-
| 294 || [[লুই দ্য ব্রোয়ি]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 295 || [[ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ]] || ১,১৯৪ || ✕
|-
| 296 || [[ফ্লিন্ডার্স পেট্রি]] || ১,২০৪ || ✕
|-
| 297 || [[পল আর. এহর্লিচ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 298 || [[মাইকেল আতিয়াহ]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 299 || [[মার্টন মিলার]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 300 || [[মেরি বিয়ার্ড]] || ৯১১ || ✓
|-
| 301 || [[মার্গারেট চ্যান]] || ৭০৪ || ✓
|-
| 302 || [[গেরহার্ড শ্রোডার]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 303 || [[ফিলিপ ওয়ারেন অ্যান্ডারসন]] || ৭৯৯ || ✓
|-
| 304 || [[পিটার হিগস]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 305 || [[লিওনার্ড সাসকিন্ড]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 306 || [[জন মেইনার্ড স্মিথ]] || ৬৪০ || ✓
|-
| 307 || [[জন জেমস অডুবন]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 308 || [[শেলডন লি গ্ল্যাশো]] || ৭৫১ || ✓
|-
| 309 || [[ভিক্টর উইসকফ]] || ৫১৯ || ✓
|-
| 310 || [[মার্টিন রিস]] || ৫৫১ || ✓
|-
| 311 || [[মার্ক ওলিফ্যান্ট]] || ৫৫৩ || ✓
|-
| 312 || [[ভিতালি গিঞ্জবার্গ]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 313 || [[স্যালি রাইড]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 314 || [[রবার্ট ফোগেল]] || ৪২৮ || ✓
|-
| 315 || [[রিঙ্গো স্টার]] || ৮৭০ || ✓
|-
| 316 || [[মাক্স ডেলব্রুক]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 317 || [[তৃতীয় লেওপোল্ড]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 318 || [[নরম্যান বোরল্যাগ]] || ৭০০ || ✓
|-
| 319 || [[নিকলাউস ভির্ট]] || ৪৭৯ || ✓
|-
| 320 || [[নিকোলাস স্টেনো]] || ২৯২ || ✓
|-
| 321 || [[নেভিল ফ্রান্সিস মট]] || ৫১১ || ✓
|-
| 322 || [[লুডউইক ফ্লেক]] || ৫১২ || ✓
|-
| 323 || [[কারেন উলেনবেক]] || ৩৯২ || ✓
|-
| 324 || [[ইয়োসেফ মেংগেলে]] || ৫৪৪ || ✓
|-
| 325 || [[কিরণ দেশাই]] || ২৬১ || ✓
|-
| 326 || [[কাতালিন কারিকো]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 327 || [[ইয়োন্স ইয়াকব বের্সেলিয়ুস]] || ৫১৬ || ✓
|-
| 328 || [[হুয়ান মালদাসেনা]] || ৭৩২ || ✓
|-
| 329 || [[হাইনরিখ বোল]] || ৩০০ || ✓
|-
| 330 || [[ইনগ্রিড ডোবিচি]] || ৬৭১ || ✓
|-
| 331 || [[ইয়ান উইলমুট]] || ৪২৭ || ✓
|-
| 332 || [[হিউ এভারেট]] || ৬০০ || ✓
|-
| 333 || [[ফ্রঁসোয়া অংল্যার]] || ৫৩৩ || ✓
|-
| 334 || [[এমানুয়েল সোয়েডেনবার্গ]] || ১,৫২২ || ✓
|-
| 335 || [[এলিজাবেথ বিশপ]] || ৬৫২ || ✓
|-
| 336 || [[শেখ আন্তা দিওপ]] || ৩৩৫ || ✓
|-
| 337 || [[জর্জ গ্যামো]] || ১,৫২১ || ✓
|-
| 338 || [[হাইনরিখ হের্ত্স]] || ১,৭৪৪ || ✓
|-
| 339 || [[গ্রো হারলেম ব্রুন্ডটল্যান্ড]] || ৩১১ || ✓
|-
| 340 || [[জন সি. মাদার]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 341 || [[জন ব্যাকাস]] || ৫৯৭ || ✓
|-
| 342 || [[এর্নস্ট মায়ার]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 343 || [[লিন মার্গুলিস]] || ১,৭১৮ || ✓
|-
| 344 || [[হ্যান্স বেটে]] || ৩৯৬ || ✓
|-
| 345 || [[লুই আগাসিজ]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 346 || [[জর্জ ক্যুভিয়ে]] || ৭৬৮ || ✓
|-
| 347 || [[ব্রাসেলস]] || ৯৬৭ || ✓
|-
| 348 || [[ড্যানিয়েল কানেমান]] || ২,৯৫৭ || ✕
|-
| 349 || [[ডোনাল্ড কানুথ]] || ১,৫৮২ || ✓
|-
| 350 || [[লেমাহ গবোউই]] || ১,১৫০ || ✓
|-
| 351 || [[গারট্রুড বি. এলিয়ন]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 352 || [[ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড]] || ৩৫৯ || ✓
|-
| 353 || [[এর্নস্ট মাখ]] || ২,০২৮ || ✕
|-
| 354 || [[ডোনাল্ড টাস্ক]] || ১,৭৭১ || ✓
|-
| 355 || [[অরবিন্দ আদিগা]] || ৮৬৬ || ✓
|-
| 356 || [[সি. এ. আর. হোর]] || ১,০৬১ || ✕
|-
| 357 || [[পল ডিরাক]] || ৪,৭০৯ || ✕
|-
| 358 || [[ই. ও. উইলসন]] || ৪,৪৫৮ || ✕
|-
| 359 || [[ডেসমন্ড মরিস]] || ৩,৯৮৬ || ✓
|-
| 360 || [[মাইকেল গোভ]] || ৩,৭৩৬ || ✓
|-
| 361 || [[হার্পার লি]] || ২,৪৯১ || ✓
|-
| 362 || [[কেন টম্পসন]] || ১,৮১৬ || ✓
|-
| 363 || [[জন টিন্ডাল]] || ২,৫২৮ || ✓
|-
| 364 || [[মেরি রবিনসন]] || ১,৩৭৬ || ✓
|-
| 365 || [[হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] || ২,২৪৪ || ✓
|-
| 366 || [[আইরিস মারডক]] || ১,২৬৮ || ✓
|-
| 367 || [[আর্নেস্ট রাদারফোর্ড]] || ২,৪৫৩ || ✓
|-
| 368 || [[ফ্রেড ব্রুকস]] || ১,১৯১ || ✓
|-
| 369 || [[ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]] || ১,৯০৭ || ✓
|-
| 370 || [[ডায়ান ফসি]] || ১,৬৪৬ || ✕
|-
| 371 || [[ইডিথ হোয়ার্টন]] || ১,৪২৫ || ✓
|-
| 372 || [[অরেল স্টেইন]] || ১,৪৭৮ || ✕
|-
| 373 || [[গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল]] || ১,৬৫০ || ✓
|-
| 374 || [[আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট]] || ১,১২০ || ✓
|-
| 375 || [[ফ্রান্সিস্কো ভারেলা]] || ১,৮৯৩ || ✕
|-
| 376 || [[ডেনিস রিচি]] || ১,১০৮ || ✓
|-
| 377 || [[অড্রে হেপবার্ন]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 378 || [[জি. এইচ. হার্ডি]] || ২,৩৩০ || ✓
|-
| 379 || [[হ্যারল্ড পিন্টার]] || ২,০৭২ || ✓
|-
| 380 || [[অ্যানাক্সিম্যান্ডার]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 381 || [[ডেভিড ব্রুস্টার]] || ২,৪০৪ || ✓
|-
| 382 || [[ব্রায়ান গ্রিন]] || ১,২৭৯ || ✕
|-
| 383 || [[অমিত গোস্বামী]] || ৯১৫ || ✓
|-
| 384 || [[এডমন্ড হ্যালি]] || ২,৬১৯ || ✓
|-
| 385 || [[ডেভিড সুজুকি]] || ১,৫১৭ || ✓
|-
| 386 || [[ডেভিড জোনাথন গ্রোস]] || ৮০৯ || ✓
|-
| 387 || [[ডেভিড ম্যামেট]] || ১,২৫২ || ✓
|-
| 388 || [[আহমেদ জেওয়াইল]] || ১৯২ || ✓
|-
| 389 || [[ইউরোপীয় পার্লামেন্ট]] || ৬১৫ || ✓
|-
| 390 || [[ডেভিড গ্রসম্যান]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 391 || [[হরিশ-চন্দ্র]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 392 || [[অনিতা দেসাই]] || ১,৪৩৯ || ✓
|-
| 393 || [[অ্যাশ কার্টার]] || ৪৬৩ || ✓
|-
| 394 || [[আলফ্রেড নোবেল]] || ৫০৯ || ✕
|-
| 395 || [[ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড]] || ৬৩৯ || ✓
|-
| 396 || [[মনোজ মিত্র]] || ৫,৫৬৭ || ✓
|-
| 397 || [[নারায়ণ সান্যাল]] || ৩৬৬ || ✓
|-
| 398 || [[মতি নন্দী]] || ৫,০১৮ || ✓
|-
| 399 || [[দেবেশ রায়]] || ৯,২৪৪ || ✓
|-
| 400 || [[শিশিরকুমার বসু]] || ৪,৮০৭ || ✓
|-
| 401 || [[বিমল কর]] || ১,৩৬৯ || ✓
|-
| 402 || [[সুবোধ সরকার]] || ৬৬০ || ✓
|-
| 403 || [[স্মরণজিৎ চক্রবর্তী]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 404 || [[স্বামী সারদানন্দ]] || ৮,৬৯৫ || ✓
|-
| 405 || [[শক্তিপদ রাজগুরু]] || ৯৯৩ || ✓
|-
| 406 || [[কমলকুমার মজুমদার]] || ১,৫৭৩ || ✓
|-
| 407 || [[গৌতম ভদ্র]] || ৬৮৫ || ✓
|-
| 408 || [[পরিমল গোস্বামী]] || ১,৪৬৭ || ✓
|-
| 409 || [[প্রেমাঙ্কুর আতর্থী]] || ৫,৬৯৮ || ✓
|-
| 410 || [[কালীপ্রসন্ন সিংহ]] || ৫,৪০৪ || ✓
|-
| 411 || [[অখিল নিয়োগী]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 412 || [[হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]] || ৫১৩ || ✓
|-
| 413 || [[গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক]] || ৫৯২ || ✓
|-
| 414 || [[অজিত দত্ত]] || ৬১৩ || ✓
|-
| 415 || [[অজিতকৃষ্ণ বসু]] || ২,৩৮৬ || ✓
|-
| 416 || [[এম এস স্বামীনাথন]] || ৮৭২ || ✓
|-
| 417 || [[চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন]] || ২,১৭১ || ✓
|-
| 418 || [[চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও]] || ২,১৬৭ || ✓
|-
| 419 || [[কণাদ]] || ৯১৯ || ✓
|-
| 420 || [[জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর]] || ৩,১৮৭ || ✓
|-
| 421 || [[বিক্রম সারাভাই]] || ১,১২৯ || ✓
|-
| 422 || [[জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ]] || ১১,২৬৬ || ✓
|-
| 423 || [[অ্যানোনিমাস]] || ৪,০৪৩ || ✓
|-
| 424 || [[টুপাক শাকুর]] || ৬,২৮৭ || ✓
|-
| 425 || [[জেনডেয়া]] || ২,০১৪ || ✓
|-
| 426 || [[টিমথি শালামে]] || ১,১২৭ || ✓
|-
| 427 || [[হিপোক্রেটিস]] || ২,৯২৩ || ✓
|-
| 428 || [[ষষ্ঠ মুহাম্মদ]] || ৮৭৮ || ✓
|-
| 429 || [[জন লেনক্স]] || ৭০২ || ✓
|-
| 430 || [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] || ৮,০৫৬ || ✓
|-
| 431 || [[আবদুল হান্নান মাসউদ]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 432 || [[পরকাল সম্পর্কে কুরআন]] || ১৮,৭৯৪ || ✓
|-
| 433 || [[মানবতাবিরোধী অপরাধ]] || ১,৯১২ || ✓
|-
| 434 || [[আন্তর্জাতিক আইন]] || ৫,৫৩৯ || ✓
|-
| 435 || [[মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ]] || ১,৪৫২ || ✓
|-
| 436 || [[আর্নেস্ট কিং]] || ১৫,৭৬৯ || ✕
|-
| 437 || [[ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট]] || ২৬,২১৫ || ✓
|-
| 438 || [[আনোয়ার ইব্রাহিম]] || ৬,৯৯৩ || ✓
|-
| 439 || [[ইসলাম ও যুদ্ধ]] || ৫,৬৮১ || ✓
|-
| 440 || [[আহমদ সিরহিন্দি]] || ৪,০৭০ || ✓
|-
| 441 || [[মুসা সেরান্তোনিও]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 442 || [[ইয়াকুব]] || ১,৯৫৬ || ✓
|-
| 443 || [[আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার্দি]] || ১,৯৭৯ || ✕
|-
| 444 || [[অ্যালিস পল]] || ১,৮৬২ || ✕
|-
| 445 || [[অ্যামি ট্যান]] || ২,০০৭ || ✕
|-
| 446 || [[অ্যান্ড্রু সেগা]] || ১,৯৬৯ || ✓
|-
| 447 || [[আল্যাঁ বাদিউ]] || ১,৯৬৬ || ✕
|-
| 448 || [[আফ্রিকান স্পির]] || ১,৭২২ || ✕
|-
| 449 || [[ফ্রেডরিক ডগলাস]] || ৮৬২ || ✕
|-
| 450 || [[নবী]] || ২,০৬২ || ✕
|-
| 451 || [[এমা গোল্ডম্যান]] || ১২,৮০০ || ✕
|-
| 452 || [[প্রেম সম্পর্কে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি]] || ১৫,০৪০ || ✓
|-
| 453 || [[মিস্ট্রি সায়েন্স থিয়েটার ৩০০০]] || ৯৪,৯৬৮ || ✕
|-
| 454 || [[দ্য থিক অফ ইট]] || ৬৯,২৮৩ || ✕
|-
| 455 || [[অ্যালেক্স হেইলি]] || ১,৬০৪ || ✓
|-
| 456 || [[দাসত্ব সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি]] || ৫,৭৮৫ || ✕
|-
| 457 || [[দাসত্ব]] || ১০,২৫৯ || ✕
|-
| 458 || [[এইচ. পি. লাভক্র্যাফট]] || ২৫,৪৭২ || ✓
|-
| 459 || [[ব্লেজ পাসকাল]] || ৩,০৫১ || ✓
|-
| 460 || [[চিনুয়া আচেবে]] || ৬,০৪২ || ✓
|-
| 461 || [[ডরিস লেসিং]] || ৪,৬২১ || ✓
|-
| 462 || [[ফেদেরিকো ফাগিন]] || ৬০০ || ✓
|-
| 463 || [[আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক]] || ১,২১১ || ✓
|-
| 464 || [[আঙ্গেলা ম্যার্কেল]] || ২,০২৯ || ✓
|-
| 465 || [[আনাক্সাগোরাস]] || ৩,৬৭১ || ✓
|-
| 466 || [[আমোস তভারস্কি]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 467 || [[আলফ্রেড মার্শাল]] || ১,৩০৯ || ✓
|-
| 468 || [[আলবার্টাস ম্যাগনাস]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 469 || [[অনিতা ব্রুকনার]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 470 || [[আলফ্রেড কিনসে]] || ১,০৩৩ || ✓
|-
| 471 || [[অ্যালান কে]] || ৯২৪ || ✓
|-
| 472 || [[আলেকজান্ডার ফ্লেমিং]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 473 || [[ক্যারোলিন বার্তোজি]] || ৪১১ || ✓
|-
| 474 || [[আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস]] || ১,৬৫৯ || ✓
|-
| 475 || [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] || ১,৪৩৬ || ✕
|-
| 476 || [[জ্যারেড ডায়মন্ড]] || ১,১৭১ || ✕
|-
| 477 || [[জেন গুডাল]] || ১,৩৫৭ || ✓
|-
| 478 || [[জেমস টোবিন]] || ১,০৫৯ || ✓
|-
| 479 || [[জেমস ক্যালাহান]] || ১,৬১৫ || ✓
|-
| 480 || [[উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভন্স]] || ১,৭০১ || ✓
|-
| 481 || [[উইলিয়াম থমসন]] || ১,০৫১ || ✓
|-
| 482 || [[ওলে সোয়িংকা]] || ৩,১৬১ || ✕
|-
| 483 || [[জোসেফ স্টিগলিটজ]] || ১,৫০৪ || ✕
|-
| 484 || [[গ্রেগর মেন্ডেল]] || ৮৭৪ || ✓
|-
| 485 || [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস]] || ১,২৩৬ || ✓
|-
| 486 || [[গ্লেন থিওডোর সিবর্গ]] || ৯৮৪ || ✓
|-
| 487 || [[হেরমান ভাইল]] || ১,৫৪১ || ✓
|-
| 488 || [[হেরমান হেস]] || ৪,৫৬৫ || ✓
|-
| 489 || [[হার্বার্ট স্পেন্সার]] || ২,৩৬৮ || ✓
|-
| 490 || [[হার্বার্ট এ. সাইমন]] || ১,৩৩৭ || ✓
|-
| 491 || [[হেরাক্লিটাস]] || ১,৫৭০ || ✓
|-
| 492 || [[হেনরিক শিয়েনকিয়েভিচ]] || ১,৯১১ || ✕
|-
| 493 || [[উইলা ক্যাথার]] || ৩,০৩৩ || ✕
|-
| 494 || [[উইল ডুরান্ট]] || ২,৮১৫ || ✓
|-
| 495 || [[ডব্লিউ. এইচ. অডেন]] || ২,৮১৯ || ✓
|-
| 496 || [[ভোলফগাং পাউলি]] || ১,৬৩৯ || ✓
|-
| 497 || [[ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা]] || ২,২৫৮ || ✓
|-
| 498 || [[জন আর্চিবল্ড হুইলার]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 499 || [[সেমুর হার্শ]] || ১,৭৬১ || ✓
|-
| 500 || [[সের্গেই কোরোলিয়ভ]] || ৫৬৫ || ✓
|-
| 501 || [[জেন অ্যাডামস]] || ১,৯০৬ || ✓
|-
| 502 || [[জাক-ইভ কুস্তো]] || ৬৬৩ || ✓
|-
| 503 || [[হিদেকি ইউকাওয়া]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 504 || [[প্রিমো লেভি]] || ৪,২৩৮ || ✓
|-
| 505 || [[ঝুম্পা লাহিড়ী]] || ৪৩০ || ✓
|-
| 506 || [[জেমস প্রেসকট জুল]] || ৪৮৭ || ✓
|-
| 507 || [[কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 508 || [[কলসী]] || ১,০৮৬ || ✓
|-
| 509 || [[চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১,১৫৭ || ✓
|-
| 510 || [[শহর]] || ১,৪৫৮ || ✕
|-
| 511 || [[ঘাস]] || ২,১১২ || ✓
|-
| 512 || [[জলধর সেন]] || ১,৭৬৪ || ✓
|-
| 513 || [[ঠিকানা]] || ১,১৮৭ || ✓
|-
| 514 || [[গন্ধ]] || ১,৮০৭ || ✓
|-
| 515 || [[চা]] || ২,৪২৪ || ✓
|-
| 516 || [[রবীন্দ্রনাথ মৈত্র]] || ১,২৮১ || ✓
|-
| 517 || [[দিগন্ত]] || ১,২২৮ || ✓
|-
| 518 || [[ময়ূর]] || ১,৩৪৫ || ✓
|-
| 519 || [[করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৯১১ || ✓
|-
| 520 || [[ঢেউ]] || ১,৫৩৯ || ✓
|-
| 521 || [[ছাতা]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 522 || [[উমাকান্ত হাজারী]] || ৯৪২ || ✓
|-
| 523 || [[ঘৃণা]] || ২,৩৩৯ || ✓
|-
| 524 || [[বাঁশ]] || ২,৪৫৯ || ✕
|-
| 525 || [[কলেরা]] || ১,৬৩৮ || ✓
|-
| 526 || [[মাঠ]] || ২,৪৪৭ || ✓
|-
| 527 || [[টিন]] || ১,৯৩২ || ✕
|-
| 528 || [[সংবাদ]] || ৪,৪৭৯ || ✕
|-
| 529 || [[নবায়নযোগ্য শক্তি]] || ১২,৬১০ || ✓
|-
| 530 || [[নাডিন গর্ডিমার]] || ১,৩৭২ || ✓
|-
| 531 || [[মারে গেল-মান]] || ১,৩২৮ || ✓
|-
| 532 || [[নার্গিস মোহাম্মাদি]] || ১,৭৫৫ || ✓
|-
| 533 || [[সাদি কার্নো]] || ৫,২৫৬ || ✓
|-
| 534 || [[জন বারবার]] || ৫৭৪ || ✕
|-
| 535 || [[স্কটিশ জাতি]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 536 || [[ওয়েন্ডি বোম্যান]] || ১৫১ || ✕
|-
| 537 || [[যুদ্ধাপরাধ]] || ৪,৬৭৯ || ✕
|-
| 538 || [[রুবি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 539 || [[রিতা এনজেলু]] || ১৫৯ || ✓
|-
| 540 || [[বমি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 541 || [[পার্ল]] || ৬৯০ || ✕
|-
| 542 || [[পাইথন]] || ১৩৯ || ✓
|-
| 543 || [[উইকিলিকস]] || ১,৬৩১ || ✕
|-
| 544 || [[জনস্টন ম্যাককালি]] || ৩১১ || ✕
|-
| 545 || [[যুগোস্লাভিয়া]] || ৪,১৩৬ || ✓
|-
| 546 || [[অংশুমান কর]] || ২০৯ || ✓
|-
| 547 || [[কেমব্রিজ গান]] || ৩০৫ || ✕
|-
| 548 || [[হেলেনীয় শিক্ষা]] || ৫০২ || ✓
|-
| 549 || [[টমাস হলি চিভার্স]] || ২৩৫ || ✓
|-
| 550 || [[মুহাম্মদ মাহদি আল-জাওয়াহিরি]] || ৬৩৮ || ✓
|-
| 551 || [[জেডি স্মিথ]] || ১,০৮০ || ✓
|-
| 552 || [[ব্রায়ান পি. শ্মিট]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 553 || [[কার্ল বার্নস্টিন]] || ৩৬৮ || ✓
|-
| 554 || [[চার্লস ফেফারম্যান]] || ৩৩৯ || ✓
|-
| 555 || [[ইয়ুস্টুস ফন লিবিগ]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 556 || [[টমাস শেলিংস]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 557 || [[উইলিয়াম শকলি]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 558 || [[শিং-শেন চের্ন]] || ৭৬৫ || ✕
|-
| 559 || [[হুগো দ্য ভ্রিস]] || ৩৪৪ || ✓
|-
| 560 || [[রবার্ট অ্যান্ড্রুজ মিলিকান]] || ৪৩৬ || ✓
|-
| 561 || [[জেমস ভ্যান অ্যালেন]] || ৫৯৬ || ✓
|-
| 562 || [[জাক শিরাক]] || ৭১১ || ✓
|-
| 563 || [[ডরোথি হজকিন]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 564 || [[গোরান পারসন]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 565 || [[জেরার দ্যব্রু]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 566 || [[কোরীয় যুদ্ধ]] || ৯,৯৬৫ || ✕
|-
| 567 || [[রবার্ট জে. শিলার]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 568 || [[ফ্রঁসোয়া আরাগন]] || ৪৩৫ || ✓
|-
| 569 || [[অখিলচন্দ্র দত্ত]] || ৩৭৩ || ✕
|-
| 570 || [[ফ্রান্সিস কলিন্স]] || ৫৮৮ || ✓
|-
| 571 || [[হেলেন ক্লার্ক]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 572 || [[লেয়োঁ ফুকো]] || ৫৩২ || ✓
|-
| 573 || [[জন চার্লস পোলানি]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 574 || [[জন মেইনার্ড কেইনস]] || ১৭,৭৯১ || ✕
|-
| 575 || [[দিমিত্রি মুরাতভ]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 576 || [[আবদুস সালাম]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 577 || [[আবদুলরাজাক গুরনাহ]] || ৭৪৯ || ✓
|-
| 578 || [[এ. সি. বেনসন]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 579 || [[প্রথম আলবার্ট]] || ৮৬৪ || ✓
|-
| 580 || [[অম্লান দত্ত]] || ১৪৬ || ✓
|-
| 581 || [[ইয়ান মার্টেল]] || ১,১৩৩ || ✕
|-
| 582 || [[ইয়োইচিরো নাম্বু]] || ৪৩১ || ✕
|-
| 583 || [[সৈয়দ জামিল আহমেদ]] || ২০৩ || ✓
|-
| 584 || [[পূর্ণিমা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 585 || [[শরিফুল রাজ]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 586 || [[কাজী হায়াৎ]] || ২৭৪ || ✓
|-
| 587 || [[আরেফিন রুমি]] || ১৬২ || ✓
|-
| 588 || [[ইমাম নাসাই]] || ৬৯৭ || ✕
|-
| 589 || [[কবরী]] || ২৭১ || ✓
|-
| 590 || [[হাফিজ উদ্দিন আহমদ]] || ২৩৬ || ✓
|-
| 591 || [[আ ন ম এহসানুল হক মিলন]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 592 || [[আন্দালিব রহমান পার্থ]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 593 || [[ববি হাজ্জাজ]] || ২৫৩ || ✓
|-
| 594 || [[ইবনে মাজাহ]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 595 || [[হাবিব ওয়াহিদ]] || ২৬৪ || ✓
|-
| 596 || [[জাইমা রহমান]] || ২১২ || ✓
|-
| 597 || [[কনকচাঁপা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 598 || [[আহসান হাবীব]] || ২১৯ || ✓
|-
| 599 || [[বেলাল খান]] || ২১৯ || ✓
|-
| 600 || [[নচিকেতা চক্রবর্তী]] || ২৮৯ || ✓
|-
| 601 || [[আ ফ ম খালিদ হোসেন]] || ২৪৮ || ✓
|-
| 602 || [[আলমগীর]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 603 || [[সালাহউদ্দিন আহমেদ]] || ৩৫৩ || ✓
|-
| 604 || [[চোং নানশান]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 605 || [[এ. সি. ব্র্যাডলি]] || ৩৯০ || ✕
|-
| 606 || [[আলবার্ট হফমান]] || ৩,৪৪৪ || ✓
|-
| 607 || [[অ্যালান পারলিস]] || ৯২৮ || ✓
|-
| 608 || [[হেইনরিখ রোরার]] || ৩৬০ || ✓
|-
| 609 || [[আলফ্রেড আহো]] || ১৪৪ || ✕
|-
| 610 || [[উ থান্ট]] || ৬৭৮ || ✕
|-
| 611 || [[লোরঁ শোয়ার্তজ]] || ৬১০ || ✓
|-
| 612 || [[উইলিয়াম শার্প]] || ৩৯৯ || ✓
|-
| 613 || [[পাউল এরেনফেস্ট]] || ৪৩৩ || ✓
|-
| 614 || [[রবার্ট মান্ডেল]] || ৩২২ || ✓
|-
| 615 || [[হান কাং]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 616 || [[ক্রিপটিক ফেইট]] || ১৭৬ || ✓
|-
| 617 || [[কাকাবাবু]] || ২৫৮ || ✓
|-
| 618 || [[ক্যারি মুলিস]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 619 || [[টোমাস ট্রান্সট্রোমার]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 620 || [[ইরিনা বোকোভা]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 621 || [[মার্টিনুস ভেল্টম্যান]] || ১৯৫ || ✓
|-
| 622 || [[ড্যামন গ্যালগুট]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 623 || [[আর্থার কর্নবার্গ]] || ১৭৭ || ✕
|-
| 624 || [[বেন ওক্রি]] || ৮৫৮ || ✓
|-
| 625 || [[সল বেলো]] || ১,০০৩ || ✓
|-
| 626 || [[সল পার্লমাটার]] || ৩১১ || ✕
|-
| 627 || [[সিমেওঁ দ্যনি পোয়াসোঁ]] || ১৬০ || ✓
|-
| 628 || [[স্টিভ আরউইন]] || ৪৩৫ || ✕
|-
| 629 || [[আনি এরনো]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 630 || [[ফজল শাহাবুদ্দীন]] || ৪৯৫ || ✕
|-
| 631 || [[আল-জাহিজ]] || ৭৩৩ || ✓
|-
| 632 || [[আল-বিরুনি]] || ১,৮৩৬ || ✓
|-
| 633 || [[থমাস হ্যারিয়ট]] || ৪৩২ || ✓
|-
| 634 || [[স্টিভেন চু]] || ২২০ || ✓
|-
| 635 || [[ইভাঞ্জেলিস্টা টরিসেলি]] || ৩৭২ || ✓
|-
| 636 || [[লেসলি ল্যামপোর্ট]] || ৫৫০ || ✓
|-
| 637 || [[মার্টিন লুইস পার্ল]] || ৩৮৮ || ✓
|-
| 638 || [[ভ্লাদিমির মার্কভনিকভ]] || ২৬৭ || ✓
|-
| 639 || [[বাপ্পী লাহিড়ী]] || ২৫২ || ✓
|-
| 640 || [[নুহাশ হুমায়ূন]] || ২০৫ || ✓
|-
| 641 || [[আনিসুল হক]] || ২৪৬ || ✕
|-
| 642 || [[বাবর আলী]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 643 || [[মেহের আফরোজ শাওন]] || ৩১৯ || ✓
|-
| 644 || [[ফেলুদা]] || ২৪৬ || ✓
|-
| 645 || [[ব্যোমকেশ বক্সী]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 646 || [[প্রোফেসর শঙ্কু]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 647 || [[বারী সিদ্দিকী]] || ২৪২ || ✓
|-
| 648 || [[সমরেশ বসু]] || ২০২ || ✓
|-
| 649 || [[লিয়ন কুপার]] || ৩২৩ || ✓
|-
| 650 || [[কামিলা শামসি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 651 || [[ক্রিস্টোফার রেন]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 652 || [[জিওফ্রে হিন্টন]] || ৩২২ || ✓
|-
| 653 || [[ফ্রিডতিয়ফ নানসেন]] || ১৯১ || ✓
|-
| 654 || [[আলাঁ আস্পে]] || ৭৭৬ || ✓
|-
| 655 || [[ক্যারিল ফিলিপস]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 656 || [[জেমস কুক]] || ৩৯৭ || ✓
|-
| 657 || [[ক্লাউদিয়া শেইনবাউম]] || ৩২১ || ✓
|-
| 658 || [[আবি আহমেদ]] || ২৫৫ || ✓
|-
| 659 || [[পিটার আগ্রি]] || ১৯০ || ✓
|-
| 660 || [[ফখরুদ্দীন আল-রাযী]] || ২১৫ || ✓
|-
| 661 || [[ইব্রাহিম ত্রাওরে]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 662 || [[পেদ্রো সানচেজ]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 663 || [[অ্যাডাম রিস]] || ৪৮৯ || ✓
|-
| 664 || [[আব্দুল হান্নান আবকারী]] || ০ || ✕
|-
| 665 || [[ইবরাহীম আলী তশনা]] || ২৪৭ || ✓
|-
| 666 || [[রুহুল আমিন বসিরহাটি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 667 || [[মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী]] || ৩৪২ || ✓
|-
| 668 || [[শামছুল হুদা]] || ০ || ✕
|-
| 669 || [[শামছুল হক ফরিদপুরী]] || ৫৪৬ || ✓
|-
| 670 || [[গর্ডন মুর]] || ৫৮৭ || ✓
|-
| 671 || [[শিরিন এবাদি]] || ৫৪৩ || ✕
|-
| 672 || [[নাগিব মাহফুজ]] || ৫৩০ || ✓
|-
| 673 || [[আল-ফারাবি]] || ৫৩৭ || ✕
|-
| 674 || [[চাষী নজরুল ইসলাম]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 675 || [[বাপ্পা মজুমদার]] || ৩১০ || ✓
|-
| 676 || [[রবার্ট ক্লাইভ]] || ২,০০২ || ✕
|-
| 677 || [[পার্ল এস. বাক]] || ৯৩৩ || ✕
|-
| 678 || [[জন বারডিন]] || ৩৬৪ || ✓
|-
| 679 || [[আজিজুল হক]] || ১৮০ || ✓
|-
| 680 || [[আবদুস সালাম]] || ১০০ || ✕
|-
| 681 || [[আবদুল গফুর]] || ১০১ || ✕
|-
| 682 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৬১ || ✓
|-
| 683 || [[আবদুল জব্বার]] || ৯২ || ✕
|-
| 684 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৩৩ || ✕
|-
| 685 || [[অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১৩৪ || ✕
|-
| 686 || [[অনিমেষ রায়]] || ১২৬ || ✕
|-
| 687 || [[অনির্বাণ বসু]] || ১২০ || ✕
|-
| 688 || [[অজয় ঘটক]] || ১১৪ || ✕
|-
| 689 || [[অচলা মল্লিক]] || ১৫৪ || ✕
|-
| 690 || [[অজয় হোম]] || ১৫৯ || ✕
|-
| 691 || [[অমিতা বসু]] || ১৪২ || ✕
|-
| 692 || [[আস্ট্রোনমি]] || ০ || ✕
|-
| 693 || [[মমতাজ বেগম]] || ৩৫৫ || ✕
|-
| 694 || [[আবুল বরকত]] || ১৪৩ || ✕
|-
| 695 || [[মেরি স্টোপস]] || ৫০৫ || ✕
|-
| 696 || [[ইয়োন ফসে]] || ৩৯৩ || ✕
|-
| 697 || [[জুনো দিয়াজ]] || ৫৪০ || ✕
|-
| 698 || [[পারভীন এতেসামি]] || ০ || ✕
|-
| 699 || [[চুয়াং জি]] || ২৭৪ || ✕
|-
| 700 || [[ফকির শাহাবুদ্দীন]] || ০ || ✕
|-
| 701 || [[আবু বকর সিদ্দিকী]] || ০ || ✕
|-
| 702 || [[বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট]] || ০ || ✕
|-
| 703 || [[বাংলাদেশের কৃষি প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 704 || [[হাসিবুন নাহের]] || ০ || ✕
|-
| 705 || [[মেরি উলস্টোনক্রাফ্ট]] || ২১৩ || ✕
|-
| 706 || [[বালতাসার গ্রাসিয়ান]] || ২০৬ || ✕
|-
| 707 || [[জুলাই আন্দোলন]] || ৬১৫ || ✕
|-
| 708 || [[বিকাশ]] || ০ || ✕
|-
| 709 || [[নতুন প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 710 || [[বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট শিল্প: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা]] || ০ || ✕
|-
| 711 || [[জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের পরিবেশ]] || ০ || ✕
|-
| 712 || [[মোহাম্মদ শেখ শাহিনুর রহমান]] || ০ || ✕
|-
| 713 || [[অপ্রত্যাশিত জীবনযাত্রা]] || ০ || ✕
|-
| 714 || [[অপর্ণা সেন]] || ৩১২ || ✕
|}
349t0n8r019y3fwblaxtxxu9hnrv9gr
83255
83254
2026-05-02T01:05:16Z
ARI
356
83255
wikitext
text/x-wiki
----
সর্বশেষ হালনাগাদ - ০১:০৫, ২ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
----
==উইকিউক্তি ফলাফল ২০২৬==
{| class="wikitable sortable"
|-
! ক্রম
! ব্যবহারকারী
! নিবন্ধ
! মোট শব্দ
! বিস্তারিত
|-
| '''১'''
| '''Dr. Mosaddek Khondoker'''
| '''১৯'''
| '''৪,০৪,৫৭৫'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩,৪০,৩৫৪<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৬৪,২২১
</div>
|-
| '''২'''
| '''ARI'''
| '''২৮'''
| '''৩,১৪,৮৯৭'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩,০৯,০০৫<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৫,৮৯২
</div>
|-
| '''৩'''
| '''Tuhin'''
| '''২৮০'''
| '''৩,০০,৬৫৮'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৪৮,৫৮৮<br>
অপর্যালোচিত: ২,১৩৩<br>
বাতিল: ৪৯,৯৩৭
</div>
|-
| '''৪'''
| '''Oindrojalik Watch'''
| '''২৯'''
| '''১,৯৯,৯৭০'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৯০,১০১<br>
অপর্যালোচিত: ৯,৮৬৯<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''৫'''
| '''NusJaS'''
| '''১০'''
| '''২,৫১,৯১৩'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৬৬,৩৪৫<br>
অপর্যালোচিত: ৮৫,৫৬৮<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''৬'''
| '''SMontaha32'''
| '''৩৭'''
| '''২,৩৯,৫২৮'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৬৫,৬৭০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৭৩,৮৫৮
</div>
|-
| '''৭'''
| '''Sumanta3023'''
| '''১১০'''
| '''১,২২,৫০০'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৯৭,৪২১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২৫,০৭৯
</div>
|-
| '''৮'''
| '''Anik Kanti Dey'''
| '''৩৪'''
| '''১,০৪,৬৪১'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৯৩,৮৬৪<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১০,৭৭৭
</div>
|-
| '''৯'''
| '''Tanbiruzzaman'''
| '''২১'''
| '''৮০,৭২৪'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৮০,৭২৪<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| '''১০'''
| '''Nil Nandy'''
| '''২৭'''
| '''৭৪,২৬৭'''
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৭৪,২৬৭<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ১১
| R1F4T
| ২২
| ২,৮৫,২৭৫
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৬৩,৯৫১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২,২১,৩২৪
</div>
|-
| ১২
| Salil Kumar Mukherjee
| ২৭
| ৪২,২০৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩০,৯১৫<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১১,২৯১
</div>
|-
| ১৩
| Anaf Ibn Shahibul
| ৪৭
| ৫৬,৫৮১
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১৯,৩৪৬<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৩৭,২৩৫
</div>
|-
| ১৪
| মোহাম্মদ জনি হোসেন
| ২৫
| ৮,১২৩
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৫,৪৭২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২,৬৫১
</div>
|-
| ১৫
| JIBON
| ৫
| ৫,৫৫৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৪,৭৩২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৮২২
</div>
|-
| ১৬
| Md. Muqtadir Fuad
| ১১
| ৪,০২৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৪,০২৯<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ১৭
| Humaira.thithi
| ৮
| ৩,৭১০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৭৮৭<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৯২৩
</div>
|-
| ১৮
| Amirhusenjihed
| ৩
| ৩,০৬৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,৫৬৯<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪৯৫
</div>
|-
| ১৯
| Asikur Rahman
| ৬
| ২,২২৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,২২৯<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২০
| Rasel Mehedi
| ১০
| ২,৪৬৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,২২২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২৪৬
</div>
|-
| ২১
| Mahiya50
| ৬
| ২,১৯০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ২,১৯০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২২
| Borhan
| ৬
| ১,৬৬২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৬৬২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৩
| Raihanur
| ৪
| ৫,৬৭৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৫৪২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪,১৩২
</div>
|-
| ২৪
| Muhammad Fahim Faisal
| ৬
| ১,৪৯৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,৪৯৮<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৫
| Firuz Ahmmed
| ৪
| ২,১৯৭
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১,১১৭<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,০৮০
</div>
|-
| ২৬
| নিয়াজ ইসলাম
| ২
| ৭৫৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৭৫৬<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৭
| Asad.fr
| ৩
| ৩,২৯৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩৬৪<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২,৯৩৫
</div>
|-
| ২৮
| Mehedi Abedin
| ১
| ৩৫২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ৩৫২<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ২৯
| Md. Rayan Alam Rifat
| ১
| ১৮০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১৮০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৩০
| Siyan BD
| ১২
| ১,৫৩৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ১৬১<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,৩৭৫
</div>
|-
| ৩১
| Dewan mahbubr Rahman
| ১
| ৩৫০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৩৫০
</div>
|-
| ৩২
| ExceptionistSagar
| ১
| ১৭৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১৭৯
</div>
|-
| ৩৩
| Kh. Fahim
| ১
| ৪০৬
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪০৬
</div>
|-
| ৩৪
| Trisha Mazumder
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৩৫
| MdMarufHossen71
| ২
| ৪৯৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪৯৮
</div>
|-
| ৩৬
| Usarker
| ৩
| ১,৪৩৮
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ১,৪৩৮
</div>
|-
| ৩৭
| রাকিবুল হাসান রাসেল
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৩৮
| MD RADWAN ISLAM
| ৬
| ২৭৪
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ২৭৪
</div>
|-
| ৩৯
| AKM Mahinur Rahman
| ২
| ৪১৯
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৪১৯
</div>
|-
| ৪০
| MD RADWAN ISLAM ROHAN
| ৫
| ৬১৫
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৬১৫
</div>
|-
| ৪১
| ShahinurWrites
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৪২
| Abdullah Al Shishir
| ১
| ০
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ০
</div>
|-
| ৪৩
| চ্যাম্পিয়ন স্টার ১
| ১
| ৩১২
| <div class="mw-collapsible mw-collapsed">
গৃহীত: ০<br>
অপর্যালোচিত: ০<br>
বাতিল: ৩১২
</div>
|}
== পর্যালোচক পরিসংখ্যান ==
; পর্যালোচক
{| class="wikitable"
|-
! ক্রম !! নাম !! মোট !! গৃহীত !! বাতিল
|-
| '''১''' || '''Mehedi Abedin''' || '''২৭৫''' || ২৩৮ || ৩৭
|-
| '''২''' || '''NusJaS''' || '''১৯৩''' || ১৫৪ || ৩৯
|-
| '''৩''' || '''MS Sakib''' || '''১৮১''' || ১৪৮ || ৩৩
|-
| '''৪''' || '''ARI''' || '''১৫৮''' || ১২৬ || ৩২
|-
| '''৫''' || '''MdsShakil''' || '''৪০''' || ৩৮ || ২
|-
| '''৬''' || '''Tahmid''' || '''১৪''' || ১০ || ৪
|-
| '''৭''' || '''Yahya''' || '''৫''' || ৪ || ১
|-
! মোট || || ৮৬৬ || ৭১৮ || ১৪৮
|}
== ব্যবহারকারী ভিত্তিক পরিসংখ্যান ==
=== [[ব্যবহারকারী:Dr. Mosaddek Khondoker| Dr. Mosaddek Khondoker]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে উক্তি]] || ৩৯,৩০৩ || ✓
|-
| 2 || [[স্ট্যানলি বল্ডউইন]] || ৩৪,১৩১ || ✕
|-
| 3 || [[খ্রিস্টের অনৈতিহাসিকতা তত্ত্ব]] || ২৮,৭০৭ || ✓
|-
| 4 || [[বেঞ্জামিন ডিসরাইলি]] || ২৯,৪৭৯ || ✓
|-
| 5 || [[রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল]] || ৩০,০৯০ || ✕
|-
| 6 || [[রন পল]] || ২৪,৯২৮ || ✓
|-
| 7 || [[ক্যালকুলাসের ইতিহাস]] || ১৯,১৯৫ || ✓
|-
| 8 || [[অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা]] || ২৩,১০০ || ✓
|-
| 9 || [[ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার]] || ২১,০২৬ || ✓
|-
| 10 || [[স্টিফেন জে গুল্ড]] || ২২,১৫০ || ✓
|-
| 11 || [[এআর-১৫ স্টাইল রাইফেল]] || ১৮,৯০১ || ✓
|-
| 12 || [[শেরি এস. টেপার]] || ২৪,৯৯৯ || ✓
|-
| 13 || [[আউরেলিয়ুস আউগুস্তিনুস]] || ১৯,৩৪৬ || ✓
|-
| 14 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতিত্ব]] || ৪৬,৮৯৯ || ✓
|-
| 15 || [[নবায়নযোগ্য শক্তি]] || ১২,৬১০ || ✓
|-
| 16 || [[নাডিন গর্ডিমার]] || ১,৩৭২ || ✓
|-
| 17 || [[মারে গেল-মান]] || ১,৩২৮ || ✓
|-
| 18 || [[নার্গিস মোহাম্মাদি]] || ১,৭৫৫ || ✓
|-
| 19 || [[সাদি কার্নো]] || ৫,২৫৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১৯
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩,৪০,৩৫৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪,০৪,৫৭৫
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৬৪,২২১
|}
=== [[ব্যবহারকারী:ARI| ARI]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[জে. হাওয়ার্ড মুর]] || ২৪,১৯৫ || ✓
|-
| 2 || [[ভারতে পোশাক]] || ২,২৮৯ || ✓
|-
| 3 || [[ভারতের ভাষা]] || ৬৯৫ || ✓
|-
| 4 || [[মধ্যযুগীয় ভারত]] || ১,৭১৭ || ✓
|-
| 5 || [[ভারতে ইহুদিদের ইতিহাস]] || ২,০৪৬ || ✓
|-
| 6 || [[ভারতে সুফিবাদ]] || ৩,২০৭ || ✕
|-
| 7 || [[পর্তুগিজ ভারত]] || ১,৬৪৩ || ✓
|-
| 8 || [[ভারতের প্রাণী]] || ৩০৫ || ✓
|-
| 9 || [[স্বাধীনতা দিবস]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 10 || [[ভারতে দুর্ভিক্ষ]] || ৩,৭৮১ || ✓
|-
| 11 || [[ভারতে ধর্মহীনতা]] || ২,৩৮৯ || ✓
|-
| 12 || [[ওয়ারেন ফ্যারেল]] || ২১,০৭৮ || ✓
|-
| 13 || [[আর্নেস্ট বেকার]] || ১৩,৫৯৭ || ✓
|-
| 14 || [[অতিপ্রজতা]] || ২৯,৫০১ || ✓
|-
| 15 || [[মোপলা বিদ্রোহ]] || ১৪,৫১২ || ✓
|-
| 16 || [[সীতা রাম গোয়েল]] || ১,৫৯৬ || ✓
|-
| 17 || [[অরুণ শৌরি]] || ১৫,৪৫০ || ✓
|-
| 18 || [[ভারতের ইতিহাস লিখন]] || ১৭,৯১৮ || ✓
|-
| 19 || [[দ্রৌপদী]] || ৬,১৬৪ || ✓
|-
| 20 || [[দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস]] || ২,৬৮৫ || ✕
|-
| 21 || [[রামায়ণ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 22 || [[ভারতে শিক্ষা]] || ১০,৫৮০ || ✓
|-
| 23 || [[ভারতে নারী]] || ৬,১৫০ || ✓
|-
| 24 || [[বন্যপ্রাণীর কষ্ট]] || ৩৩,৭৪১ || ✓
|-
| 25 || [[নিরামিষবাদ]] || ৩০,৬২৭ || ✓
|-
| 26 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতিত্ব]] || ৩৭,৫৭২ || ✓
|-
| 27 || [[নির্বাচন]] || ৭,০২৫ || ✓
|-
| 28 || [[সরকার]] || ২২,৭৫৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৮
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩,০৯,০০৫
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,১৪,৮৯৭
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৫,৮৯২
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Tuhin| Tuhin]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মহুয়া মৈত্র]] || ৬৫০ || ✓
|-
| 2 || [[হেনরি হোম, লর্ড কেইমস]] || ১,২৯৬ || ✓
|-
| 3 || [[লেটি কটিন পোগ্রেবিন]] || ৩৭০ || ✓
|-
| 4 || [[মার্জ পিয়ার্সি]] || ৬,৭৯০ || ✓
|-
| 5 || [[এলেন ডুইবস]] || ৮০৪ || ✓
|-
| 6 || [[মেরেডিথ ট্যাক্স]] || ৪৯১ || ✓
|-
| 7 || [[মুলক রাজ আনন্দ]] || ২৩৫ || ✓
|-
| 8 || [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধর্ষণ]] || ১,৯২০ || ✓
|-
| 9 || [[সুসান ব্রাউনমিলার]] || ৯৯১ || ✓
|-
| 10 || [[রবিন মরগান]] || ১,২২১ || ✓
|-
| 11 || [[ভিভিয়ান গোর্নিক]] || ২,৬৯০ || ✓
|-
| 12 || [[ডরোথি রে হিলি]] || ২,৬৩৮ || ✕
|-
| 13 || [[ক্লডিয়া জোন্স]] || ১,২৯৯ || ✓
|-
| 14 || [[গের্ডা লার্নার]] || ৩,৪২৮ || ✓
|-
| 15 || [[এলিজাবেথ গার্লি ফ্লিন]] || ৯,৬৭৭ || ✕
|-
| 16 || [[এলা রিভ ব্লুর]] || ১,৯১৭ || ✓
|-
| 17 || [[টমাস হিউজ]] || ৯৯৬ || ✓
|-
| 18 || [[মার্গারিট দুরাস]] || ৩৪৯ || ✓
|-
| 19 || [[বেন অ্যারোনোভিচ]] || ৮,৭৯৭ || ✓
|-
| 20 || [[গ্লেন কুক]] || ৯,৯৮৫ || ✓
|-
| 21 || [[আব্রাহাম কাহান]] || ২,১৩৩ || ✓
|-
| 22 || [[গ্রেস পেলি]] || ৮,১৬৪ || ✕
|-
| 23 || [[স্টিফেন ক্রেন]] || ১,৯৬৩ || ✕
|-
| 24 || [[জোসেফাইন হার্বস্ট]] || ৪২৭ || ✓
|-
| 25 || [[জর্জ গিসিং]] || ২,০০৫ || ✓
|-
| 26 || [[আনজিয়া ইয়েজিয়ারস্কা]] || ৩,২৬২ || ✕
|-
| 27 || [[মেরি অ্যান্টিন]] || ৪৯০ || ✓
|-
| 28 || [[জয়েস অ্যান্টলার]] || ৪২৯ || ✓
|-
| 29 || [[ক্যাথরিন ম্যাককিনন]] || ২,১৭৮ || ✓
|-
| 30 || [[বেটিনা আপথেকার]] || ১,০২০ || ✓
|-
| 31 || [[ক্যারি চ্যাপম্যান ক্যাট]] || ১,৬০৩ || ✓
|-
| 32 || [[জ্যানেট র্যাঙ্কিন]] || ৭২১ || ✓
|-
| 33 || [[ফ্রান্সেস উইলার্ড]] || ৯৪১ || ✕
|-
| 34 || [[অ্যালিস স্টোন ব্ল্যাকওয়েল]] || ৫৪০ || ✕
|-
| 35 || [[অ্যানা এলিজাবেথ ডিকিনসন]] || ৭৫১ || ✕
|-
| 36 || [[মেরি লিভারমোর]] || ২,৩০৭ || ✕
|-
| 37 || [[দাড়ি]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 38 || [[স্যার হেনরি হোবার্ট, ১ম ব্যারোনেট]] || ৭৩৮ || ✓
|-
| 39 || [[হার্ডিঞ্জ স্ট্যানলি গিফার্ড, হালসবুরির ১ম আর্ল]] || ৪১৯ || ✓
|-
| 40 || [[এ. ভি. ডাইসি]] || ১,৩৮১ || ✕
|-
| 41 || [[আলফ্রেড ডেনিং, ব্যারন ডেনিং]] || ৩,৮৩২ || ✓
|-
| 42 || [[টমাস ডেনিসন]] || ৪০০ || ✓
|-
| 43 || [[স্যার ফ্রান্সিস বুলার, ১ম ব্যারোনেট]] || ৯৬২ || ✓
|-
| 44 || [[নিকোলাস ব্রাতজা]] || ২৬৪ || ✓
|-
| 45 || [[রবার্ট অ্যাটকিনস]] || ৩৩৩ || ✕
|-
| 46 || [[রিচার্ড পেপার আর্ডেন, ১ম ব্যারন অ্যালভানলি]] || ৩৫১ || ✓
|-
| 47 || [[এডওয়ার্ড হল অল্ডারসন]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 48 || [[অ্যামব্রোজ বিয়ার্স]] || ৫,৫৪১ || ✕
|-
| 49 || [[মেওয়াত]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 50 || [[নানাবতী-মেহতা কমিশন]] || ২,৪৪৪ || ✓
|-
| 51 || [[ভারতে ঔষধ শিল্প]] || ১,৯২১ || ✓
|-
| 52 || [[পাঞ্জাব]] || ১,৪০৬ || ✓
|-
| 53 || [[রামনবমী]] || ৮৬২ || ✓
|-
| 54 || [[ভারতের শহরসমূহের নাম পরিবর্তন]] || ৪৪১ || ✓
|-
| 55 || [[নুপুর শর্মা]] || ৬০১ || ✓
|-
| 56 || [[রিপাবলিক টিভি]] || ৪৫৫ || ✓
|-
| 57 || [[রোহিলখণ্ড]] || ৪৪০ || ✓
|-
| 58 || [[রোহিলা]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 59 || [[সৌরাষ্ট্র]] || ৬৫৪ || ✓
|-
| 60 || [[ভারতে তিন তালাক]] || ১,১৩৪ || ✓
|-
| 61 || [[ভারতের পবিত্র উপবন]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 62 || [[অভিন্ন দেওয়ানি বিধি]] || ৩,৭৩৭ || ✓
|-
| 63 || [[নবনীত আদিত্য ওয়াইবা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 64 || [[ভারতে জল সরবরাহ ও স্যানিটেশন]] || ৭৪০ || ✓
|-
| 65 || [[জমিদার]] || ৩৮১ || ✕
|-
| 66 || [[নিখিল ভারত মুসলিম লীগ]] || ১,৭৩৭ || ✕
|-
| 67 || [[ফতোয়া]] || ৪৮৪ || ✓
|-
| 68 || [[দারা শিকোহ]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 69 || [[আমেরিকা নিপাত যাক]] || ৬৩৯ || ✓
|-
| 70 || [[মহা শয়তান]] || ৪১৪ || ✓
|-
| 71 || [[উলামা]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 72 || [[দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম জাতীয়তাবাদ]] || ১,৫১৬ || ✓
|-
| 73 || [[পার্সি-মুসলিম দাঙ্গা]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 74 || [[ভারতে দাঙ্গা]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 75 || [[ভারতে পেগাসাস প্রকল্পের উদঘাটন]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 76 || [[নেহরুবাদ]] || ৯৫২ || ✓
|-
| 77 || [[২জি স্পেকট্রাম মামলা]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 78 || [[রাহুল গান্ধী]] || ৪,০০৪ || ✓
|-
| 79 || [[আকবরউদ্দিন ওয়াইসি]] || ২৯৮ || ✓
|-
| 80 || [[ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ২০২৪]] || ২,৫৭৭ || ✓
|-
| 81 || [[ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 82 || [[নাইলা আলি খান]] || ২০৪ || ✓
|-
| 83 || [[অরুণ জেটলি]] || ৪৮১ || ✓
|-
| 84 || [[সুকেতু মেহতা]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 85 || [[রুক্মিণী মৈত্র]] || ৩৫৪ || ✓
|-
| 86 || [[মানব গুপ্ত]] || ৬৩৪ || ✕
|-
| 87 || [[মোহিনী মোহন ধর]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 88 || [[দিলীপ কুমার চক্রবর্তী]] || ২,৫৯৭ || ✓
|-
| 89 || [[রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 90 || [[পিটার অ্যাক্রয়েড]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 91 || [[হ্যারল্ড ব্লুম]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 92 || [[জেমস বসওয়েল]] || ১,১৪৯ || ✓
|-
| 93 || [[অলিভার গোল্ডস্মিথ]] || ৩,১৭৮ || ✓
|-
| 94 || [[হেনরি জাইলস]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 95 || [[এডউইন হাবেল চ্যাপিন]] || ৭৭০ || ✓
|-
| 96 || [[অবমাননা]] || ৭৮৮ || ✓
|-
| 97 || [[আদালত অবমাননা]] || ৮২৯ || ✓
|-
| 98 || [[আইনপ্রণেতা]] || ৭৪৩ || ✓
|-
| 99 || [[লেই বারডুগো]] || ১২২ || ✓
|-
| 100 || [[উইলিয়াম ব্রেট, ১ম ভিসকাউন্ট এশার]] || ১,০২০ || ✓
|-
| 101 || [[হেনরি হকিন্স, ১ম ব্যারন ব্র্যাম্পটন]] || ৩০৩ || ✓
|-
| 102 || [[জুনিয়াস]] || ১,৪১২ || ✓
|-
| 103 || [[উইলিয়াম মারে, ম্যানসফিল্ডের ১ম আর্ল]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 104 || [[জোসেফ ইয়েটস]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 105 || [[স্যার জন বেইলি, ১ম ব্যারোনেট]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 106 || [[হেনরি বিকারস্টথ, ১ম ব্যারন ল্যাংডেল]] || ৪১৫ || ✓
|-
| 107 || [[এডওয়ার্ড ল, ১ম ব্যারন এলেনবরো]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 108 || [[লয়েড কেনিয়ন, ১ম ব্যারন কেনিয়ন]] || ৪,৪০৮ || ✓
|-
| 109 || [[জন হোল্ট]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 110 || [[চার্লস বোয়েন, ব্যারন বোয়েন]] || ১,০৩৭ || ✓
|-
| 111 || [[চার্লস অ্যাবট, ১ম ব্যারন টেন্টারডেন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 112 || [[ন্যায়বিচার প্রশাসন]] || ২,৮৯৯ || ✓
|-
| 113 || [[আদালত]] || ১,৮১৮ || ✕
|-
| 114 || [[রোজান এ. ব্রাউন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 115 || [[মারিয়ন জিমার ব্র্যাডলি]] || ১,১০৪ || ✓
|-
| 116 || [[টেরি ব্রুকস]] || ৪৮৫ || ✓
|-
| 117 || [[লেই ব্র্যাকেট]] || ১,১১২ || ✓
|-
| 118 || [[জ্যাক ক্যাডি]] || ১,৫৬৮ || ✓
|-
| 119 || [[মেল ব্রুকস]] || ২,০১৬ || ✕
|-
| 120 || [[মাইকেল বিশপ]] || ৯৬০ || ✕
|-
| 121 || [[এলিজাবেথ বেয়ার]] || ৭০৫ || ✓
|-
| 122 || [[মার্গারেট বল]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 123 || [[পাওলো বাসিগালুপি]] || ৬৪৭ || ✓
|-
| 124 || [[কেলি আর্মস্ট্রং]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 125 || [[ক্যাথরিন আসরো]] || ৩৬১ || ✓
|-
| 126 || [[পিয়ার্স অ্যান্থনি]] || ২২৯ || ✓
|-
| 127 || [[রবার্ট আইকম্যান]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 128 || [[আইনজীবী]] || ২,৩২৯ || ✓
|-
| 129 || [[আইনসভা]] || ২,৩৪৩ || ✓
|-
| 130 || [[জর্জ বুশনার]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 131 || [[জোসেফ গার্নি ক্যানন]] || ৭০৯ || ✓
|-
| 132 || [[সংখ্যাগরিষ্ঠ]] || ১,৩৫৬ || ✓
|-
| 133 || [[সংখ্যালঘু গোষ্ঠী]] || ১,৮৮১ || ✓
|-
| 134 || [[প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 135 || [[মানব আচরণ]] || ৮৫২ || ✓
|-
| 136 || [[হার্ভে ম্যানসফিল্ড]] || ৯৭৯ || ✓
|-
| 137 || [[রাষ্ট্রবিজ্ঞান]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 138 || [[রাজনৈতিক দর্শন]] || ১,২৮৫ || ✓
|-
| 139 || [[দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা]] || ১,০৮৭ || ✓
|-
| 140 || [[আগ্রাসন]] || ৯২০ || ✓
|-
| 141 || [[হিন্দুত্ব]] || ২,৭০০ || ✓
|-
| 142 || [[ফ্লাভিয়া অ্যাগনেস]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 143 || [[লাভ জিহাদ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব]] || ৩,১৫০ || ✓
|-
| 144 || [[মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড]] || ১,৭৭৮ || ✓
|-
| 145 || [[যোগিন্দর সিকান্দ]] || ৮১৪ || ✓
|-
| 146 || [[ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা]] || ৮৫১ || ✓
|-
| 147 || [[জয় শ্রীরাম]] || ৭০৮ || ✓
|-
| 148 || [[লালকৃষ্ণ আডবাণী]] || ১,৫৫৫ || ✓
|-
| 149 || [[রাম রথযাত্রা]] || ১,৫৭৯ || ✓
|-
| 150 || [[হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন]] || ১,৪৫৫ || ✓
|-
| 151 || [[হর্ষ মান্দার]] || ৬৬০ || ✓
|-
| 152 || [[স্বপন দাশগুপ্ত]] || ১,১৬৭ || ✓
|-
| 153 || [[জরাথুস্ট্রবাদ]] || ৩৭৭ || ✓
|-
| 154 || [[পার্সি]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 155 || [[নাগরিকত্ব]] || ১,৮৭৯ || ✓
|-
| 156 || [[ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০]] || ৬৭৯ || ✓
|-
| 157 || [[মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯]] || ৭৬৯ || ✓
|-
| 158 || [[অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিশু শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯]] || ৩৭৯ || ✓
|-
| 159 || [[বোম্বাই দাঙ্গা]] || ৭৭৬ || ✓
|-
| 160 || [[বজরং দল]] || ৩৩১ || ✓
|-
| 161 || [[সংসদীয় ব্যবস্থা]] || ৪০৫ || ✓
|-
| 162 || [[বিচার বিভাগীয় ব্যাখ্যা]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 163 || [[বর্ণবাদ পরবর্তী আমেরিকা]] || ১,০৬৯ || ✓
|-
| 164 || [[শ্বেতাঙ্গ বিশেষাধিকার]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 165 || [[বিশেষাধিকার]] || ৭১২ || ✓
|-
| 166 || [[মানবহিতৈষণা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 167 || [[ভারত সরকার]] || ১,২২০ || ✓
|-
| 168 || [[শিলং]] || ৯৭৩ || ✓
|-
| 169 || [[মাঝৌলি রাজ]] || ৫৬০ || ✓
|-
| 170 || [[কালিকট]] || ৪৫৪ || ✓
|-
| 171 || [[যাজপুর]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 172 || [[কালিবাঙ্গান]] || ৭৩৮ || ✓
|-
| 173 || [[কাডাপা]] || ৪১৩ || ✓
|-
| 174 || [[ইদার]] || ৫৮৬ || ✓
|-
| 175 || [[গোধরা]] || ১,০১০ || ✓
|-
| 176 || [[ভুবনেশ্বর]] || ১,১৬৫ || ✓
|-
| 177 || [[অমৃতসর]] || ৮৬৮ || ✓
|-
| 178 || [[আম্বালা]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 179 || [[হায়দ্রাবাদ]] || ৩,২৪৮ || ✓
|-
| 180 || [[২০১৯ হায়দ্রাবাদ গণধর্ষণ]] || ১৭৭ || ✓
|-
| 181 || [[মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি]] || ৪২৩ || ✕
|-
| 182 || [[হায়দ্রাবাদ অধিগ্রহণ]] || ৪৫৬ || ✓
|-
| 183 || [[১৮৯৯-১৯০০ সালের ভারতীয় দুর্ভিক্ষ]] || ৫৪১ || ✓
|-
| 184 || [[১৯৯০ হায়দ্রাবাদ দাঙ্গা]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 185 || [[গুয়াহাটি]] || ১,৭৯৬ || ✓
|-
| 186 || [[গৌড়]] || ১,৯৩৬ || ✓
|-
| 187 || [[বিজাপুর]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 188 || [[মাণ্ডু]] || ৩৯৪ || ✓
|-
| 189 || [[খাজুরাহো]] || ৩৭১ || ✓
|-
| 190 || [[চান্দেরী]] || ৫০৭ || ✓
|-
| 191 || [[জুনাগড়]] || ৭১৯ || ✓
|-
| 192 || [[বৃহৎ কচ্ছের রাণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 193 || [[আহমেদাবাদ]] || ১,৮১২ || ✓
|-
| 194 || [[কচ্ছ জেলা]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 195 || [[দৃশদ্বতী নদী]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 196 || [[চেনাব নদী]] || ৩২১ || ✓
|-
| 197 || [[পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 198 || [[মুর্শিদাবাদ সহিংসতা]] || ২৫৭ || ✓
|-
| 199 || [[২০২৪ সন্দেশখালী সহিংসতা]] || ১,০৬১ || ✓
|-
| 200 || [[২০২২ বীরভূম সহিংসতা]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 201 || [[মৈতৈ জাতি]] || ৫২৭ || ✕
|-
| 202 || [[মৈতৈ সভ্যতা]] || ৩৫০ || ✓
|-
| 203 || [[মণিপুর]] || ৩০৬ || ✕
|-
| 204 || [[লাক্ষাদ্বীপ]] || ৩২৯ || ✓
|-
| 205 || [[বৃন্দাবন]] || ৬৮২ || ✕
|-
| 206 || [[সম্ভল]] || ২৪৩ || ✓
|-
| 207 || [[এলাহাবাদ]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 208 || [[আলিগড়]] || ৪০৯ || ✓
|-
| 209 || [[স্ট্যাচু অব ইউনিটি]] || ২৪১ || ✓
|-
| 210 || [[ভারতের দুর্গ]] || ৩১৪ || ✓
|-
| 211 || [[দ্য দুন স্কুল]] || ৬৬৪ || ✓
|-
| 212 || [[কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 213 || [[আগ্রা]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 214 || [[২০২০ দিল্লি দাঙ্গা]] || ১,১৭৮ || ✓
|-
| 215 || [[তিরুচিরাপল্লী]] || ৬২৬ || ✓
|-
| 216 || [[সেন্ট থমাস ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা, চেন্নাই]] || ৩৮০ || ✕
|-
| 217 || [[আতঙ্ক]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 218 || [[ভারতে দুর্নীতি]] || ১,০০৭ || ✓
|-
| 219 || [[তামিলনাড়ুর মন্দির]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 220 || [[এম. কে. স্ট্যালিন]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 221 || [[তামিলনাড়ু]] || ৫৪৩ || ✓
|-
| 222 || [[তামিলনাড়ুর হিন্দি বিরোধী আন্দোলন]] || ৪৬৫ || ✓
|-
| 223 || [[যোধপুর]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 224 || [[রাজস্থান]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 225 || [[ওড়িশা]] || ৭৪৫ || ✓
|-
| 226 || [[১৯৯৮ কোয়েম্বাটুর বোমা হামলা]] || ৫৩৭ || ✓
|-
| 227 || [[উত্তর-পূর্ব ভারতে বিদ্রোহ]] || ৩৯৮ || ✓
|-
| 228 || [[মারাদ হত্যাকাণ্ড]] || ৩৫২ || ✓
|-
| 229 || [[মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 230 || [[স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 231 || [[বিষ্ণু]] || ৬১৭ || ✓
|-
| 232 || [[২০২৪ রিয়াসি হামলা]] || ৩০২ || ✓
|-
| 233 || [[২০০৬ মালেগাঁও বোমা হামলা]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 234 || [[২০০৬ মুম্বই রেলে বোমা হামলা]] || ১৯০ || ✓
|-
| 235 || [[মুম্বই]] || ১,২২৪ || ✓
|-
| 236 || [[দৌলতাবাদ, মহারাষ্ট্র]] || ৮৮৯ || ✕
|-
| 237 || [[মহারাষ্ট্র]] || ৪৯৯ || ✓
|-
| 238 || [[পিনারাই বিজয়ন]] || ৫২৩ || ✓
|-
| 239 || [[আরব দেশ]] || ৯১৪ || ✓
|-
| 240 || [[দক্ষিণ এশিয়া]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 241 || [[শহুরে অবক্ষয়]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 242 || [[নগরায়ন]] || ১,০৯৭ || ✓
|-
| 243 || [[কেরল]] || ৩৬৫ || ✓
|-
| 244 || [[জম্মু ও কাশ্মীরে বিদ্রোহ]] || ৪১৮ || ✓
|-
| 245 || [[জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার]] || ৯৬৪ || ✓
|-
| 246 || [[শ্রীনগর]] || ১,৭২৯ || ✓
|-
| 247 || [[কাশ্মীর উপত্যকা]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 248 || [[লাদাখ]] || ৬৯৪ || ✓
|-
| 249 || [[কাশ্মীরি জাতি]] || ৮১৩ || ✓
|-
| 250 || [[তারিখ-ই-কাশ্মীর]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 251 || [[কর্ণাটক]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 252 || [[কর্ণাটকের রাজনীতি]] || ৪৩৯ || ✓
|-
| 253 || [[বেঙ্গালুরু]] || ৬১৪ || ✓
|-
| 254 || [[আসামে ইসলাম]] || ৬৯০ || ✓
|-
| 255 || [[আসামের ইতিহাস]] || ৭২৬ || ✓
|-
| 256 || [[আসামে হিন্দুধর্ম]] || ৩২৫ || ✓
|-
| 257 || [[ভারতের জনমিতি]] || ৩,৩৭৩ || ✓
|-
| 258 || [[বাংলাদেশের জনমিতি]] || ১,১৯৫ || ✓
|-
| 259 || [[পাকিস্তানের জনমিতি]] || ৮৫০ || ✓
|-
| 260 || [[আসামের জনমিতি]] || ১৮২ || ✓
|-
| 261 || [[বিহার]] || ৪৫৮ || ✓
|-
| 262 || [[পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি]] || ১৮১ || ✓
|-
| 263 || [[শাহ বানু মামলা]] || ৭৯৯ || ✕
|-
| 264 || [[ইসরায়েল–ভারত সম্পর্ক]] || ৮৯৭ || ✓
|-
| 265 || [[প্রণব মুখোপাধ্যায়]] || ৫৯৫ || ✓
|-
| 266 || [[দ্রৌপদী মুর্মু]] || ২৪৯ || ✓
|-
| 267 || [[ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ]] || ১,৬৪৭ || ✓
|-
| 268 || [[এলজিবিটিকিউ অধিকার বিরোধিতা]] || ২,০৪৯ || ✓
|-
| 269 || [[গেফোবিয়া]] || ২৭৮ || ✓
|-
| 270 || [[সমকামী যৌন চর্চা]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 271 || [[উভকামিতা]] || ১,৫৬০ || ✓
|-
| 272 || [[কামিং আউট]] || ৮০৫ || ✓
|-
| 273 || [[স্মৃতি ইরানি]] || ৯৯১ || ✓
|-
| 274 || [[মেনকা গান্ধী]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 275 || [[যশবন্ত সিং]] || ২০৬ || ✓
|-
| 276 || [[সৈয়দ শাহাবুদ্দিন]] || ৫৭৯ || ✓
|-
| 277 || [[শাকিল আহমদ]] || ১২৪ || ✓
|-
| 278 || [[তথাগত রায়]] || ২৭৫ || ✓
|-
| 279 || [[লালুপ্রসাদ যাদব]] || ১,১০৯ || ✓
|-
| 280 || [[আসাদউদ্দিন ওয়াইসি]] || ৪১৩ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৮০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,৪৮,৫৮৮
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,০০,৬৫৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪৯,৯৩৭
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Oindrojalik Watch| Oindrojalik Watch]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ভ্রান্ত উদ্ধৃতি]] || ৯,৮৬৯ || ✓
|-
| 2 || [[২০১১ ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ]] || ৯৬৩ || ✓
|-
| 3 || [[তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] || ৩,১৭৯ || ✓
|-
| 4 || [[আফগান যুদ্ধ]] || ৪,৬২০ || ✓
|-
| 5 || [[ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ]] || ১২,৩৮২ || ✓
|-
| 6 || [[ইরাক যুদ্ধ]] || ১২,৩৪৪ || ✓
|-
| 7 || [[যুক্তরাজ্যের তৃতীয় জর্জ]] || ১২,০৪২ || ✓
|-
| 8 || [[২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৮৮৩ || ✓
|-
| 9 || [[২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৩,৫১৪ || ✓
|-
| 10 || [[২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬১১ || ✓
|-
| 11 || [[ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ]] || ১,৫৪২ || ✓
|-
| 12 || [[স্নায়ুযুদ্ধ]] || ১৫,৬১০ || ✓
|-
| 13 || [[দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ]] || ৪,৬৬৮ || ✓
|-
| 14 || [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] || ২৪,১৭৭ || ✓
|-
| 15 || [[মহত্ত্ব]] || ৭,৮১৪ || ✓
|-
| 16 || [[সাংবাদিকতা]] || ১৩,৪৭৭ || ✓
|-
| 17 || [[প্যানডিজম]] || ১০,৩০০ || ✓
|-
| 18 || [[গাজা যুদ্ধ]] || ১৬,৯৮২ || ✓
|-
| 19 || [[২০২৬ ইরান যুদ্ধ]] || ৬,৯৮১ || ✓
|-
| 20 || [[পারমাণবিক অস্ত্র]] || ৩,২৩৩ || ✓
|-
| 21 || [[২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 22 || [[ক্রুসেড]] || ৯৯৬ || ✓
|-
| 23 || [[অ্যানিমেশন]] || ৯,৪৫৭ || ✓
|-
| 24 || [[দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি]] || ৭৫৫ || ✓
|-
| 25 || [[ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ]] || ৩,৭৬৩ || ✓
|-
| 26 || [[পারমাণবিক যুদ্ধ]] || ৫,৫২০ || ✓
|-
| 27 || [[আল খোয়ারিজমি]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 28 || [[ফজলে রাব্বী]] || ৬৩৫ || ✓
|-
| 29 || [[ডেভিড হিউম]] || ১১,৭৮০ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৯
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৯০,১০১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৯৯,৯৭০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:NusJaS| NusJaS]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লিটিশা এলিজাবেথ ল্যান্ডন]] || ২৫,৯৭৯ || ✓
|-
| 2 || [[প্রজননবিরোধবাদ]] || ৩০,৯৭০ || ✓
|-
| 3 || [[উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন]] || ২৮,৬১৯ || ✓
|-
| 4 || [[ক্রিস্টোফার হিচেন্স]] || ২৫,৯২২ || ✓
|-
| 5 || [[বলপূর্বক খাওয়ানো]] || ২২,৬২২ || ✓
|-
| 6 || [[জন স্টুয়ার্ট মিল]] || ২২,৭৮৩ || ✓
|-
| 7 || [[রবার্ট গ্যাসকয়েন-সিসিল, স্যালিসবারির ৩য় মার্কুইস]] || ২০,৮৯৮ || ✓
|-
| 8 || [[অ্যারন রা]] || ২১,৯৫৫ || ✓
|-
| 9 || [[ফায়ারপ্লেস]] || ২১,৪১৭ || ✓
|-
| 10 || [[জন হার্ভে কেলোগ]] || ৩০,৭৪৮ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৬৬,৩৪৫
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৫১,৯১৩
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:SMontaha32| SMontaha32]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী]] || ১৯,১০০ || ✕
|-
| 2 || [[ভাকলাভ হাভেল]] || ৯,৩৫৭ || ✓
|-
| 3 || [[নরউইচের জুলিয়ান]] || ৩১,৬৩৩ || ✕
|-
| 4 || [[রামসে ম্যাকডোনাল্ড]] || ৯,৬২২ || ✓
|-
| 5 || [[জন মুয়ির]] || ৮,০৬১ || ✓
|-
| 6 || [[মার্গারেট অ্যাটউড]] || ৬,৩২৮ || ✓
|-
| 7 || [[পেত্র ক্রাপোতকিন]] || ১০,৮১৬ || ✕
|-
| 8 || [[টমাস হেনরি হাক্সলি]] || ৮,৫০৩ || ✓
|-
| 9 || [[উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস]] || ৭,২১০ || ✓
|-
| 10 || [[উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস]] || ৪,২৬০ || ✓
|-
| 11 || [[তাওয়াক্কোল কারমান]] || ৪,০৯৭ || ✓
|-
| 12 || [[র্যাচেল কারসন]] || ৪,৭৬৭ || ✓
|-
| 13 || [[আর্নেস্ট হেমিংওয়ে]] || ১৪,৯০৭ || ✓
|-
| 14 || [[আর্থার এডিংটন]] || ৫,৬৩৭ || ✓
|-
| 15 || [[এরিক হবসবাউম]] || ৫,৮৭৩ || ✓
|-
| 16 || [[টনি মরিসন]] || ১০,৩৮৩ || ✓
|-
| 17 || [[টনি বেন]] || ১০,৩৯৯ || ✕
|-
| 18 || [[নরম্যান মেইলার]] || ৬,৬০৬ || ✓
|-
| 19 || [[পল স্যামুয়েলসন]] || ৬,৮৫১ || ✓
|-
| 20 || [[এইচ. পি. লাভক্র্যাফট]] || ২৫,৪৭২ || ✓
|-
| 21 || [[ব্লেজ পাসকাল]] || ৩,০৫১ || ✓
|-
| 22 || [[চিনুয়া আচেবে]] || ৬,০৪২ || ✓
|-
| 23 || [[ডরিস লেসিং]] || ৪,৬২১ || ✓
|-
| 24 || [[ফেদেরিকো ফাগিন]] || ৬০০ || ✓
|-
| 25 || [[আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক]] || ১,২১১ || ✓
|-
| 26 || [[আঙ্গেলা ম্যার্কেল]] || ২,০২৯ || ✓
|-
| 27 || [[আনাক্সাগোরাস]] || ৩,৬৭১ || ✓
|-
| 28 || [[আমোস তভারস্কি]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 29 || [[আলফ্রেড মার্শাল]] || ১,৩০৯ || ✓
|-
| 30 || [[আলবার্টাস ম্যাগনাস]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 31 || [[অনিতা ব্রুকনার]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 32 || [[আলফ্রেড কিনসে]] || ১,০৩৩ || ✓
|-
| 33 || [[অ্যালান কে]] || ৯২৪ || ✓
|-
| 34 || [[আলেকজান্ডার ফ্লেমিং]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 35 || [[ক্যারোলিন বার্তোজি]] || ৪১১ || ✓
|-
| 36 || [[আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস]] || ১,৬৫৯ || ✓
|-
| 37 || [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] || ১,৪৩৬ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৬৫,৬৭০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৩৯,৫২৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৭৩,৮৫৮
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Sumanta3023| Sumanta3023]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লিওনিদ ক্যান্টোরোভিচ]] || ১,৪২২ || ✓
|-
| 2 || [[থিওডোসিয়াস ডবঝানস্কি]] || ৭৬০ || ✕
|-
| 3 || [[টেরেন্স টাও]] || ৭২০ || ✓
|-
| 4 || [[ফিলিপ]] || ৪২৬ || ✓
|-
| 5 || [[জুলিয়ান শুইঙার]] || ১,৩২২ || ✕
|-
| 6 || [[পিয়ের-জিল দ্য জেন]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 7 || [[ব্রায়ান কক্স]] || ৭৫৬ || ✓
|-
| 8 || [[জন ম্যাককার্থি]] || ১,০৪৫ || ✓
|-
| 9 || [[লুই দ্য ব্রোয়ি]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 10 || [[ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ]] || ১,১৯৪ || ✕
|-
| 11 || [[ফ্লিন্ডার্স পেট্রি]] || ১,২০৪ || ✕
|-
| 12 || [[পল আর. এহর্লিচ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 13 || [[মাইকেল আতিয়াহ]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 14 || [[মার্টন মিলার]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 15 || [[মেরি বিয়ার্ড]] || ৯১১ || ✓
|-
| 16 || [[মার্গারেট চ্যান]] || ৭০৪ || ✓
|-
| 17 || [[গেরহার্ড শ্রোডার]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 18 || [[ফিলিপ ওয়ারেন অ্যান্ডারসন]] || ৭৯৯ || ✓
|-
| 19 || [[পিটার হিগস]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 20 || [[লিওনার্ড সাসকিন্ড]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 21 || [[জন মেইনার্ড স্মিথ]] || ৬৪০ || ✓
|-
| 22 || [[জন জেমস অডুবন]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 23 || [[শেলডন লি গ্ল্যাশো]] || ৭৫১ || ✓
|-
| 24 || [[ভিক্টর উইসকফ]] || ৫১৯ || ✓
|-
| 25 || [[মার্টিন রিস]] || ৫৫১ || ✓
|-
| 26 || [[মার্ক ওলিফ্যান্ট]] || ৫৫৩ || ✓
|-
| 27 || [[ভিতালি গিঞ্জবার্গ]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 28 || [[স্যালি রাইড]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 29 || [[রবার্ট ফোগেল]] || ৪২৮ || ✓
|-
| 30 || [[রিঙ্গো স্টার]] || ৮৭০ || ✓
|-
| 31 || [[মাক্স ডেলব্রুক]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 32 || [[তৃতীয় লেওপোল্ড]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 33 || [[নরম্যান বোরল্যাগ]] || ৭০০ || ✓
|-
| 34 || [[নিকলাউস ভির্ট]] || ৪৭৯ || ✓
|-
| 35 || [[নিকোলাস স্টেনো]] || ২৯২ || ✓
|-
| 36 || [[নেভিল ফ্রান্সিস মট]] || ৫১১ || ✓
|-
| 37 || [[লুডউইক ফ্লেক]] || ৫১২ || ✓
|-
| 38 || [[কারেন উলেনবেক]] || ৩৯২ || ✓
|-
| 39 || [[ইয়োসেফ মেংগেলে]] || ৫৪৪ || ✓
|-
| 40 || [[কিরণ দেশাই]] || ২৬১ || ✓
|-
| 41 || [[কাতালিন কারিকো]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 42 || [[ইয়োন্স ইয়াকব বের্সেলিয়ুস]] || ৫১৬ || ✓
|-
| 43 || [[হুয়ান মালদাসেনা]] || ৭৩২ || ✓
|-
| 44 || [[হাইনরিখ বোল]] || ৩০০ || ✓
|-
| 45 || [[ইনগ্রিড ডোবিচি]] || ৬৭১ || ✓
|-
| 46 || [[ইয়ান উইলমুট]] || ৪২৭ || ✓
|-
| 47 || [[হিউ এভারেট]] || ৬০০ || ✓
|-
| 48 || [[ফ্রঁসোয়া অংল্যার]] || ৫৩৩ || ✓
|-
| 49 || [[এমানুয়েল সোয়েডেনবার্গ]] || ১,৫২২ || ✓
|-
| 50 || [[এলিজাবেথ বিশপ]] || ৬৫২ || ✓
|-
| 51 || [[শেখ আন্তা দিওপ]] || ৩৩৫ || ✓
|-
| 52 || [[জর্জ গ্যামো]] || ১,৫২১ || ✓
|-
| 53 || [[হাইনরিখ হের্ত্স]] || ১,৭৪৪ || ✓
|-
| 54 || [[গ্রো হারলেম ব্রুন্ডটল্যান্ড]] || ৩১১ || ✓
|-
| 55 || [[জন সি. মাদার]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 56 || [[জন ব্যাকাস]] || ৫৯৭ || ✓
|-
| 57 || [[এর্নস্ট মায়ার]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 58 || [[লিন মার্গুলিস]] || ১,৭১৮ || ✓
|-
| 59 || [[হ্যান্স বেটে]] || ৩৯৬ || ✓
|-
| 60 || [[লুই আগাসিজ]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 61 || [[জর্জ ক্যুভিয়ে]] || ৭৬৮ || ✓
|-
| 62 || [[ব্রাসেলস]] || ৯৬৭ || ✓
|-
| 63 || [[ড্যানিয়েল কানেমান]] || ২,৯৫৭ || ✕
|-
| 64 || [[ডোনাল্ড কানুথ]] || ১,৫৮২ || ✓
|-
| 65 || [[লেমাহ গবোউই]] || ১,১৫০ || ✓
|-
| 66 || [[গারট্রুড বি. এলিয়ন]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 67 || [[ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড]] || ৩৫৯ || ✓
|-
| 68 || [[এর্নস্ট মাখ]] || ২,০২৮ || ✕
|-
| 69 || [[ডোনাল্ড টাস্ক]] || ১,৭৭১ || ✓
|-
| 70 || [[অরবিন্দ আদিগা]] || ৮৬৬ || ✓
|-
| 71 || [[সি. এ. আর. হোর]] || ১,০৬১ || ✕
|-
| 72 || [[পল ডিরাক]] || ৪,৭০৯ || ✕
|-
| 73 || [[ই. ও. উইলসন]] || ৪,৪৫৮ || ✕
|-
| 74 || [[ডেসমন্ড মরিস]] || ৩,৯৮৬ || ✓
|-
| 75 || [[মাইকেল গোভ]] || ৩,৭৩৬ || ✓
|-
| 76 || [[হার্পার লি]] || ২,৪৯১ || ✓
|-
| 77 || [[কেন টম্পসন]] || ১,৮১৬ || ✓
|-
| 78 || [[জন টিন্ডাল]] || ২,৫২৮ || ✓
|-
| 79 || [[মেরি রবিনসন]] || ১,৩৭৬ || ✓
|-
| 80 || [[হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] || ২,২৪৪ || ✓
|-
| 81 || [[আইরিস মারডক]] || ১,২৬৮ || ✓
|-
| 82 || [[আর্নেস্ট রাদারফোর্ড]] || ২,৪৫৩ || ✓
|-
| 83 || [[ফ্রেড ব্রুকস]] || ১,১৯১ || ✓
|-
| 84 || [[ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]] || ১,৯০৭ || ✓
|-
| 85 || [[ডায়ান ফসি]] || ১,৬৪৬ || ✕
|-
| 86 || [[ইডিথ হোয়ার্টন]] || ১,৪২৫ || ✓
|-
| 87 || [[অরেল স্টেইন]] || ১,৪৭৮ || ✕
|-
| 88 || [[গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল]] || ১,৬৫০ || ✓
|-
| 89 || [[আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট]] || ১,১২০ || ✓
|-
| 90 || [[ফ্রান্সিস্কো ভারেলা]] || ১,৮৯৩ || ✓
|-
| 91 || [[ডেনিস রিচি]] || ১,১০৮ || ✓
|-
| 92 || [[অড্রে হেপবার্ন]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 93 || [[জি. এইচ. হার্ডি]] || ২,৩৩০ || ✓
|-
| 94 || [[হ্যারল্ড পিন্টার]] || ২,০৭২ || ✓
|-
| 95 || [[অ্যানাক্সিম্যান্ডার]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 96 || [[ডেভিড ব্রুস্টার]] || ২,৪০৪ || ✓
|-
| 97 || [[ব্রায়ান গ্রিন]] || ১,২৭৯ || ✕
|-
| 98 || [[অমিত গোস্বামী]] || ৯১৫ || ✓
|-
| 99 || [[এডমন্ড হ্যালি]] || ২,৬১৯ || ✓
|-
| 100 || [[ডেভিড সুজুকি]] || ১,৫১৭ || ✓
|-
| 101 || [[ডেভিড জোনাথন গ্রোস]] || ৮০৯ || ✓
|-
| 102 || [[ডেভিড ম্যামেট]] || ১,২৫২ || ✓
|-
| 103 || [[আহমেদ জেওয়াইল]] || ১৯২ || ✓
|-
| 104 || [[ইউরোপীয় পার্লামেন্ট]] || ৬১৫ || ✓
|-
| 105 || [[ডেভিড গ্রসম্যান]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 106 || [[হরিশ-চন্দ্র]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 107 || [[অনিতা দেসাই]] || ১,৪৩৯ || ✓
|-
| 108 || [[অ্যাশ কার্টার]] || ৪৬৩ || ✓
|-
| 109 || [[আলফ্রেড নোবেল]] || ৫০৯ || ✕
|-
| 110 || [[ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড]] || ৬৩৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১১০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৯৭,৪২১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,২২,৫০০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২৫,০৭৯
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Anik Kanti Dey| Anik Kanti Dey]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[রেজা পাহলভি]] || ৯,৯১০ || ✓
|-
| 2 || [[রজার ইবার্ট]] || ২১,৩২৫ || ✓
|-
| 3 || [[পুনর্জন্ম]] || ২০,২৪৮ || ✓
|-
| 4 || [[জ্যারেড ডায়মন্ড]] || ১,১৬৮ || ✕
|-
| 5 || [[জেন গুডাল]] || ১,৩৫৭ || ✓
|-
| 6 || [[জেমস টোবিন]] || ১,০৫৯ || ✓
|-
| 7 || [[জেমস ক্যালাহান]] || ১,৬১৫ || ✓
|-
| 8 || [[উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভন্স]] || ১,৭০১ || ✓
|-
| 9 || [[উইলিয়াম থমসন]] || ১,০৫১ || ✓
|-
| 10 || [[ওলে সোয়িংকা]] || ৩,১৬১ || ✕
|-
| 11 || [[জোসেফ স্টিগলিটজ]] || ১,৫০৪ || ✕
|-
| 12 || [[গ্রেগর মেন্ডেল]] || ৮৭৪ || ✓
|-
| 13 || [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস]] || ১,২৩৬ || ✓
|-
| 14 || [[গ্লেন থিওডোর সিবর্গ]] || ৯৮৪ || ✓
|-
| 15 || [[হেরমান ভাইল]] || ১,৫৪১ || ✓
|-
| 16 || [[হেরমান হেস]] || ৪,৫৬৫ || ✓
|-
| 17 || [[হার্বার্ট স্পেন্সার]] || ২,৩৬৮ || ✓
|-
| 18 || [[হার্বার্ট এ. সাইমন]] || ১,৩৩৭ || ✓
|-
| 19 || [[হেরাক্লিটাস]] || ১,৫৭০ || ✓
|-
| 20 || [[হেনরিক শিয়েনকিয়েভিচ]] || ১,৯১১ || ✕
|-
| 21 || [[উইলা ক্যাথার]] || ৩,০৩৩ || ✕
|-
| 22 || [[উইল ডুরান্ট]] || ২,৮১৫ || ✓
|-
| 23 || [[ডব্লিউ. এইচ. অডেন]] || ২,৮১৯ || ✓
|-
| 24 || [[ভোলফগাং পাউলি]] || ১,৬৩৯ || ✓
|-
| 25 || [[ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা]] || ২,২৫৮ || ✓
|-
| 26 || [[জন আর্চিবল্ড হুইলার]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 27 || [[সেমুর হার্শ]] || ১,৭৬১ || ✓
|-
| 28 || [[সের্গেই কোরোলিয়ভ]] || ৫৬৫ || ✓
|-
| 29 || [[জেন অ্যাডামস]] || ১,৯০৬ || ✓
|-
| 30 || [[জাক-ইভ কুস্তো]] || ৬৬৩ || ✓
|-
| 31 || [[হিদেকি ইউকাওয়া]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 32 || [[প্রিমো লেভি]] || ৪,২৩৮ || ✓
|-
| 33 || [[ঝুম্পা লাহিড়ী]] || ৪৩০ || ✓
|-
| 34 || [[জেমস প্রেসকট জুল]] || ৪৮৭ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩৪
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৯৩,৮৬৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,০৪,৬৪১
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১০,৭৭৭
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Tanbiruzzaman| Tanbiruzzaman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা]] || ৪,৮৫১ || ✓
|-
| 2 || [[সংবাদ মাধ্যম]] || ১,১৫৫ || ✓
|-
| 3 || [[গণমাধ্যম]] || ৩,৩৫৭ || ✓
|-
| 4 || [[মূলধারার গণমাধ্যম]] || ১,০৫২ || ✓
|-
| 5 || [[হলুদ সাংবাদিকতা]] || ২,২৯৬ || ✓
|-
| 6 || [[ভুয়া সংবাদ]] || ১,৪০৮ || ✓
|-
| 7 || [[বিকল্প প্রচারমাধ্যম]] || ১,২০৫ || ✓
|-
| 8 || [[জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ]] || ১১,২৬৬ || ✓
|-
| 9 || [[অ্যানোনিমাস]] || ৪,০৪৩ || ✓
|-
| 10 || [[টুপাক শাকুর]] || ৬,২৮৭ || ✓
|-
| 11 || [[জেনডেয়া]] || ২,০১৪ || ✓
|-
| 12 || [[টিমথি শালামে]] || ১,১২৭ || ✓
|-
| 13 || [[হিপোক্রেটিস]] || ২,৯২৩ || ✓
|-
| 14 || [[ষষ্ঠ মুহাম্মদ]] || ৮৭৮ || ✓
|-
| 15 || [[জন লেনক্স]] || ৭০২ || ✓
|-
| 16 || [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] || ৮,০৫৬ || ✓
|-
| 17 || [[আবদুল হান্নান মাসউদ]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 18 || [[পরকাল সম্পর্কে কুরআন]] || ১৮,৭৯৪ || ✓
|-
| 19 || [[মানবতাবিরোধী অপরাধ]] || ১,৯১২ || ✓
|-
| 20 || [[আন্তর্জাতিক আইন]] || ৫,৫৩৯ || ✓
|-
| 21 || [[মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ]] || ১,৪৫২ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৮০,৭২৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৮০,৭২৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Nil Nandy| Nil Nandy]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[অনিল ভৌমিক]] || ২১৬ || ✓
|-
| 2 || [[মনোজ মিত্র]] || ৫,৫৬৭ || ✓
|-
| 3 || [[নারায়ণ সান্যাল]] || ৩৬৬ || ✓
|-
| 4 || [[মতি নন্দী]] || ৫,০১৮ || ✓
|-
| 5 || [[দেবেশ রায়]] || ৯,২৪৪ || ✓
|-
| 6 || [[শিশিরকুমার বসু]] || ৪,৮০৭ || ✓
|-
| 7 || [[বিমল কর]] || ১,৩৬৯ || ✓
|-
| 8 || [[সুবোধ সরকার]] || ১,৮৪৮ || ✓
|-
| 9 || [[স্মরণজিৎ চক্রবর্তী]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 10 || [[স্বামী সারদানন্দ]] || ৮,৬৯৫ || ✓
|-
| 11 || [[শক্তিপদ রাজগুরু]] || ৯৯৩ || ✓
|-
| 12 || [[কমলকুমার মজুমদার]] || ১,৫৭৩ || ✓
|-
| 13 || [[গৌতম ভদ্র]] || ৬৮৫ || ✓
|-
| 14 || [[পরিমল গোস্বামী]] || ৬,৫৫০ || ✓
|-
| 15 || [[প্রেমাঙ্কুর আতর্থী]] || ৫,৬৯৮ || ✓
|-
| 16 || [[কালীপ্রসন্ন সিংহ]] || ৫,৪০৪ || ✓
|-
| 17 || [[অখিল নিয়োগী]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 18 || [[হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]] || ৫১৩ || ✓
|-
| 19 || [[গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক]] || ৫৯২ || ✓
|-
| 20 || [[অজিত দত্ত]] || ৮৭০ || ✓
|-
| 21 || [[অজিতকৃষ্ণ বসু]] || ২,৩৮৬ || ✓
|-
| 22 || [[এম এস স্বামীনাথন]] || ৮৭২ || ✓
|-
| 23 || [[চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন]] || ২,১৭১ || ✓
|-
| 24 || [[চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও]] || ২,১৬৭ || ✓
|-
| 25 || [[কণাদ]] || ৯১৯ || ✓
|-
| 26 || [[জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর]] || ৩,১৮৭ || ✓
|-
| 27 || [[বিক্রম সারাভাই]] || ১,১২৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৭৪,২৬৭
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৭৪,২৬৭
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:R1F4T| R1F4T]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আর্নেস্ট কিং]] || ১৫,৭৬৯ || ✕
|-
| 2 || [[ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট]] || ২৬,২১৫ || ✓
|-
| 3 || [[আনোয়ার ইব্রাহিম]] || ৬,৯৯৩ || ✓
|-
| 4 || [[ইসলাম ও যুদ্ধ]] || ৫,৬৮১ || ✓
|-
| 5 || [[আহমদ সিরহিন্দি]] || ৪,০৭০ || ✓
|-
| 6 || [[মুসা সেরান্তোনিও]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 7 || [[ইয়াকুব]] || ১,৯৫৬ || ✓
|-
| 8 || [[আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার্দি]] || ১,৯৭৯ || ✕
|-
| 9 || [[অ্যালিস পল]] || ১,৮৬২ || ✕
|-
| 10 || [[অ্যামি ট্যান]] || ২,০০৭ || ✕
|-
| 11 || [[অ্যান্ড্রু সেগা]] || ১,৯৬৯ || ✓
|-
| 12 || [[আল্যাঁ বাদিউ]] || ১,৯৬৬ || ✕
|-
| 13 || [[আফ্রিকান স্পির]] || ১,৭২২ || ✕
|-
| 14 || [[ফ্রেডরিক ডগলাস]] || ৮৬২ || ✕
|-
| 15 || [[নবী]] || ২,০৬২ || ✕
|-
| 16 || [[এমা গোল্ডম্যান]] || ১২,৮০০ || ✕
|-
| 17 || [[প্রেম সম্পর্কে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি]] || ১৫,০৪০ || ✓
|-
| 18 || [[মিস্ট্রি সায়েন্স থিয়েটার ৩০০০]] || ৯৪,৯৬৮ || ✕
|-
| 19 || [[দ্য থিক অফ ইট]] || ৬৯,২৮৩ || ✕
|-
| 20 || [[অ্যালেক্স হেইলি]] || ১,৬০৪ || ✓
|-
| 21 || [[দাসত্ব সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি]] || ৫,৭৮৫ || ✕
|-
| 22 || [[দাসত্ব]] || ১০,২৫৯ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৬৩,৯৫১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৮৫,২৭৫
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২,২১,৩২৪
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Salil Kumar Mukherjee| Salil Kumar Mukherjee]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[যন্ত্র]] || ৭১৩ || ✓
|-
| 2 || [[বিচারক]] || ৯৫২ || ✓
|-
| 3 || [[রুটি]] || ১,০৯৭ || ✓
|-
| 4 || [[খড়]] || ৯৩২ || ✓
|-
| 5 || [[মন্মথমোহন বসু]] || ৯৬৩ || ✕
|-
| 6 || [[কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 7 || [[কলসী]] || ১,০৮৬ || ✓
|-
| 8 || [[চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১,১৫৭ || ✓
|-
| 9 || [[শহর]] || ১,৪৫৮ || ✕
|-
| 10 || [[ঘাস]] || ২,১১২ || ✓
|-
| 11 || [[জলধর সেন]] || ১,৭৬৪ || ✓
|-
| 12 || [[ঠিকানা]] || ১,১৮৭ || ✓
|-
| 13 || [[গন্ধ]] || ১,৮০৭ || ✓
|-
| 14 || [[চা]] || ২,৪২৪ || ✓
|-
| 15 || [[রবীন্দ্রনাথ মৈত্র]] || ১,২৮১ || ✓
|-
| 16 || [[দিগন্ত]] || ১,২২৮ || ✓
|-
| 17 || [[ময়ূর]] || ১,৩৪৫ || ✓
|-
| 18 || [[করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৯১১ || ✓
|-
| 19 || [[ঢেউ]] || ১,৫৩৯ || ✓
|-
| 20 || [[ছাতা]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 21 || [[উমাকান্ত হাজারী]] || ৯৪২ || ✓
|-
| 22 || [[ঘৃণা]] || ২,৩৩৯ || ✓
|-
| 23 || [[বাঁশ]] || ২,৪৫৯ || ✕
|-
| 24 || [[কলেরা]] || ১,৬৩৮ || ✓
|-
| 25 || [[মাঠ]] || ২,৪৪৭ || ✓
|-
| 26 || [[টিন]] || ১,৯৩২ || ✕
|-
| 27 || [[সংবাদ]] || ৪,৪৭৯ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩০,৯১৫
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪২,২০৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১১,২৯১
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Anaf Ibn Shahibul| Anaf Ibn Shahibul]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[জন বারবার]] || ৫৭৪ || ✕
|-
| 2 || [[স্কটিশ জাতি]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 3 || [[ওয়েন্ডি বোম্যান]] || ১৫১ || ✕
|-
| 4 || [[যুদ্ধাপরাধ]] || ৪,৬৭৯ || ✕
|-
| 5 || [[রুবি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 6 || [[রিতা এনজেলু]] || ১৫৯ || ✓
|-
| 7 || [[বমি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 8 || [[পার্ল]] || ৬৯০ || ✕
|-
| 9 || [[পাইথন]] || ১৩৯ || ✓
|-
| 10 || [[উইকিলিকস]] || ১,৬৩১ || ✕
|-
| 11 || [[জনস্টন ম্যাককালি]] || ৩১১ || ✕
|-
| 12 || [[যুগোস্লাভিয়া]] || ৪,১৩৬ || ✓
|-
| 13 || [[অংশুমান কর]] || ২০৯ || ✓
|-
| 14 || [[কেমব্রিজ গান]] || ৩০৫ || ✕
|-
| 15 || [[হেলেনীয় শিক্ষা]] || ৫০২ || ✓
|-
| 16 || [[টমাস হলি চিভার্স]] || ২৩৫ || ✓
|-
| 17 || [[মুহাম্মদ মাহদি আল-জাওয়াহিরি]] || ৬৩৮ || ✓
|-
| 18 || [[জেডি স্মিথ]] || ১,০৮০ || ✓
|-
| 19 || [[ব্রায়ান পি. শ্মিট]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 20 || [[কার্ল বার্নস্টিন]] || ৩৬৮ || ✓
|-
| 21 || [[চার্লস ফেফারম্যান]] || ৩৩৯ || ✓
|-
| 22 || [[ইয়ুস্টুস ফন লিবিগ]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 23 || [[টমাস শেলিংস]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 24 || [[উইলিয়াম শকলি]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 25 || [[শিং-শেন চের্ন]] || ৭৬৫ || ✕
|-
| 26 || [[হুগো দ্য ভ্রিস]] || ৩৪৪ || ✓
|-
| 27 || [[রবার্ট অ্যান্ড্রুজ মিলিকান]] || ৪৩৬ || ✓
|-
| 28 || [[জেমস ভ্যান অ্যালেন]] || ৫৯৬ || ✓
|-
| 29 || [[জাক শিরাক]] || ৭১১ || ✓
|-
| 30 || [[ডরোথি হজকিন]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 31 || [[গোরান পারসন]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 32 || [[জেরার দ্যব্রু]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 33 || [[কোরীয় যুদ্ধ]] || ৯,৯৬৫ || ✕
|-
| 34 || [[রবার্ট জে. শিলার]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 35 || [[ফ্রঁসোয়া আরাগন]] || ৪৩৫ || ✓
|-
| 36 || [[অখিলচন্দ্র দত্ত]] || ৩৭৩ || ✕
|-
| 37 || [[ফ্রান্সিস কলিন্স]] || ৫৮৮ || ✓
|-
| 38 || [[হেলেন ক্লার্ক]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 39 || [[লেয়োঁ ফুকো]] || ৫৩২ || ✓
|-
| 40 || [[জন চার্লস পোলানি]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 41 || [[জন মেইনার্ড কেইনস]] || ১৭,৭৯১ || ✕
|-
| 42 || [[দিমিত্রি মুরাতভ]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 43 || [[আবদুস সালাম]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 44 || [[আবদুলরাজাক গুরনাহ]] || ৭৪৯ || ✓
|-
| 45 || [[এ. সি. বেনসন]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 46 || [[প্রথম আলবার্ট]] || ৮৬৪ || ✓
|-
| 47 || [[অম্লান দত্ত]] || ১৪৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৪৭
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১৯,৩৪৬
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৫৬,৫৮১
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৩৭,২৩৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:মোহাম্মদ জনি হোসেন| মোহাম্মদ জনি হোসেন]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ইয়ান মার্টেল]] || ১,১৩৩ || ✕
|-
| 2 || [[ইয়োইচিরো নাম্বু]] || ৪৩১ || ✕
|-
| 3 || [[সৈয়দ জামিল আহমেদ]] || ২০৩ || ✓
|-
| 4 || [[পূর্ণিমা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 5 || [[শরিফুল রাজ]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 6 || [[কাজী হায়াৎ]] || ২৭৪ || ✓
|-
| 7 || [[আরেফিন রুমি]] || ১৬২ || ✓
|-
| 8 || [[ইমাম নাসাই]] || ৬৯৭ || ✕
|-
| 9 || [[কবরী]] || ২৭১ || ✓
|-
| 10 || [[হাফিজ উদ্দিন আহমদ]] || ২৩৬ || ✓
|-
| 11 || [[আ ন ম এহসানুল হক মিলন]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 12 || [[আন্দালিব রহমান পার্থ]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 13 || [[ববি হাজ্জাজ]] || ২৫৩ || ✓
|-
| 14 || [[ইবনে মাজাহ]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 15 || [[হাবিব ওয়াহিদ]] || ২৬৪ || ✓
|-
| 16 || [[জাইমা রহমান]] || ২১২ || ✓
|-
| 17 || [[কনকচাঁপা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 18 || [[আহসান হাবীব]] || ২১৯ || ✓
|-
| 19 || [[বেলাল খান]] || ২১৯ || ✓
|-
| 20 || [[নচিকেতা চক্রবর্তী]] || ২৮৯ || ✓
|-
| 21 || [[আ ফ ম খালিদ হোসেন]] || ২৪৮ || ✓
|-
| 22 || [[আলমগীর]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 23 || [[সালাহউদ্দিন আহমেদ]] || ৪৫৯ || ✓
|-
| 24 || [[চোং নানশান]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 25 || [[এ. সি. ব্র্যাডলি]] || ৩৯০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২৫
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৫,৪৭২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৮,১২৩
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২,৬৫১
|}
=== [[ব্যবহারকারী:JIBON| JIBON]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আলবার্ট হফমান]] || ৩,৪৪৪ || ✓
|-
| 2 || [[অ্যালান পারলিস]] || ৯২৮ || ✓
|-
| 3 || [[হেইনরিখ রোরার]] || ৩৬০ || ✓
|-
| 4 || [[আলফ্রেড আহো]] || ১৪৪ || ✕
|-
| 5 || [[উ থান্ট]] || ৬৭৮ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৫
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৪,৭৩২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৫,৫৫৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৮২২
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Md. Muqtadir Fuad| Md. Muqtadir Fuad]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লোরঁ শোয়ার্তজ]] || ৬১০ || ✓
|-
| 2 || [[উইলিয়াম শার্প]] || ৩৯৯ || ✓
|-
| 3 || [[পাউল এরেনফেস্ট]] || ৪৩৩ || ✓
|-
| 4 || [[রবার্ট মান্ডেল]] || ৩২২ || ✓
|-
| 5 || [[হান কাং]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 6 || [[ক্রিপটিক ফেইট]] || ১৭৬ || ✓
|-
| 7 || [[কাকাবাবু]] || ২৫৮ || ✓
|-
| 8 || [[ক্যারি মুলিস]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 9 || [[টোমাস ট্রান্সট্রোমার]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 10 || [[ইরিনা বোকোভা]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 11 || [[মার্টিনুস ভেল্টম্যান]] || ১৯৫ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৪,০২৯
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪,০২৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Humaira.thithi| Humaira.thithi]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ড্যামন গ্যালগুট]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 2 || [[আর্থার কর্নবার্গ]] || ১৭৭ || ✕
|-
| 3 || [[বেন ওক্রি]] || ৮৫৮ || ✓
|-
| 4 || [[সল বেলো]] || ১,০০৩ || ✓
|-
| 5 || [[সল পার্লমাটার]] || ৩১১ || ✕
|-
| 6 || [[সিমেওঁ দ্যনি পোয়াসোঁ]] || ১৬০ || ✓
|-
| 7 || [[স্টিভ আরউইন]] || ৪৩৫ || ✕
|-
| 8 || [[আনি এরনো]] || ২৮৪ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৮
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,৭৮৭
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,৭১০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৯২৩
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Amirhusenjihed| Amirhusenjihed]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ফজল শাহাবুদ্দীন]] || ৪৯৫ || ✕
|-
| 2 || [[আল-জাহিজ]] || ৭৩৩ || ✓
|-
| 3 || [[আল-বিরুনি]] || ১,৮৩৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,৫৬৯
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,০৬৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪৯৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Asikur Rahman| Asikur Rahman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[থমাস হ্যারিয়ট]] || ৪৩২ || ✓
|-
| 2 || [[স্টিভেন চু]] || ২২০ || ✓
|-
| 3 || [[ইভাঞ্জেলিস্টা টরিসেলি]] || ৩৭২ || ✓
|-
| 4 || [[লেসলি ল্যামপোর্ট]] || ৫৫০ || ✓
|-
| 5 || [[মার্টিন লুইস পার্ল]] || ৩৮৮ || ✓
|-
| 6 || [[ভ্লাদিমির মার্কভনিকভ]] || ২৬৭ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,২২৯
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,২২৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Rasel Mehedi| Rasel Mehedi]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[বাপ্পী লাহিড়ী]] || ২৫২ || ✓
|-
| 2 || [[নুহাশ হুমায়ূন]] || ২০৫ || ✓
|-
| 3 || [[আনিসুল হক]] || ২৪৬ || ✕
|-
| 4 || [[বাবর আলী]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 5 || [[মেহের আফরোজ শাওন]] || ৩১৯ || ✓
|-
| 6 || [[ফেলুদা]] || ২৪৬ || ✓
|-
| 7 || [[ব্যোমকেশ বক্সী]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 8 || [[প্রোফেসর শঙ্কু]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 9 || [[বারী সিদ্দিকী]] || ২৪২ || ✓
|-
| 10 || [[সমরেশ বসু]] || ২০২ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১০
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,২২২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,৪৬৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২৪৬
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Mahiya50| Mahiya50]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[লিয়ন কুপার]] || ৩২৩ || ✓
|-
| 2 || [[কামিলা শামসি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 3 || [[ক্রিস্টোফার রেন]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 4 || [[জিওফ্রে হিন্টন]] || ৩২২ || ✓
|-
| 5 || [[ফ্রিডতিয়ফ নানসেন]] || ১৯১ || ✓
|-
| 6 || [[আলাঁ আস্পে]] || ৭৭৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ২,১৯০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,১৯০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Borhan| Borhan]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ক্যারিল ফিলিপস]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 2 || [[জেমস কুক]] || ৩৯৭ || ✓
|-
| 3 || [[ক্লাউদিয়া শেইনবাউম]] || ৩২১ || ✓
|-
| 4 || [[আবি আহমেদ]] || ২৫৫ || ✓
|-
| 5 || [[পিটার আগ্রি]] || ১৯০ || ✓
|-
| 6 || [[ফখরুদ্দীন আল-রাযী]] || ২১৫ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৬৬২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৬৬২
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Raihanur| Raihanur]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[শি চিনফিং]] || ৪,১৩২ || ✕
|-
| 2 || [[ইব্রাহিম ত্রাওরে]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 3 || [[পেদ্রো সানচেজ]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 4 || [[অ্যাডাম রিস]] || ৪৮৯ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৪
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৫৪২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৫,৬৭৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪,১৩২
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Muhammad Fahim Faisal| Muhammad Fahim Faisal]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আব্দুল হান্নান আবকারী]] || ০ || ✕
|-
| 2 || [[ইবরাহীম আলী তশনা]] || ২৪৭ || ✓
|-
| 3 || [[রুহুল আমিন বসিরহাটি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 4 || [[মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী]] || ৩৪২ || ✓
|-
| 5 || [[শামছুল হুদা]] || ০ || ✕
|-
| 6 || [[শামছুল হক ফরিদপুরী]] || ৫৪৬ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,৪৯৮
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৪৯৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Firuz Ahmmed| Firuz Ahmmed]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[গর্ডন মুর]] || ৫৮৭ || ✓
|-
| 2 || [[শিরিন এবাদি]] || ৫৪৩ || ✕
|-
| 3 || [[নাগিব মাহফুজ]] || ৫৩০ || ✓
|-
| 4 || [[আল-ফারাবি]] || ৫৩৭ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৪
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১,১১৭
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২,১৯৭
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১,০৮০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:নিয়াজ ইসলাম| নিয়াজ ইসলাম]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[চাষী নজরুল ইসলাম]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 2 || [[বাপ্পা মজুমদার]] || ৩১০ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৭৫৬
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৭৫৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Asad.fr| Asad.fr]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[রবার্ট ক্লাইভ]] || ২,০০২ || ✕
|-
| 2 || [[পার্ল এস. বাক]] || ৯৩৩ || ✕
|-
| 3 || [[জন বারডিন]] || ৩৬৪ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩৬৪
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩,২৯৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২,৯৩৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin| Mehedi Abedin]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[তাসমিয়া প্রধান]] || ৩৫২ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ৩৫২
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩৫২
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Md. Rayan Alam Rifat| Md. Rayan Alam Rifat]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আজিজুল হক]] || ১৮০ || ✓
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১৮০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১৮০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Siyan BD| Siyan BD]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আবদুস সালাম]] || ১০০ || ✕
|-
| 2 || [[আবদুল গফুর]] || ১০১ || ✕
|-
| 3 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৬১ || ✓
|-
| 4 || [[আবদুল জব্বার]] || ৯২ || ✕
|-
| 5 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৩৩ || ✕
|-
| 6 || [[অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১৩৪ || ✕
|-
| 7 || [[অনিমেষ রায়]] || ১২৬ || ✕
|-
| 8 || [[অনির্বাণ বসু]] || ১২০ || ✕
|-
| 9 || [[অজয় ঘটক]] || ১১৪ || ✕
|-
| 10 || [[অচলা মল্লিক]] || ১৫৪ || ✕
|-
| 11 || [[অজয় হোম]] || ১৫৯ || ✕
|-
| 12 || [[অমিতা বসু]] || ১৪২ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ১৬১
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৫৩৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১,৩৭৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Dewan mahbubr Rahman| Dewan mahbubr Rahman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ভেরা রুবিন]] || ৩৫০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩৫০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৩৫০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:ExceptionistSagar| ExceptionistSagar]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মেরি কুরি]] || ১৭৯ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১৭৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১৭৯
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Kh. Fahim| Kh. Fahim]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মিসির আলি]] || ৪০৬ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪০৬
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪০৬
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Trisha Mazumder| Trisha Mazumder]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[আস্ট্রোনমি]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:MdMarufHossen71| MdMarufHossen71]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মমতাজ বেগম]] || ৩৫৫ || ✕
|-
| 2 || [[আবুল বরকত]] || ১৪৩ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪৯৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪৯৮
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Usarker| Usarker]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মেরি স্টোপস]] || ৫০৫ || ✕
|-
| 2 || [[ইয়োন ফসে]] || ৩৯৩ || ✕
|-
| 3 || [[জুনো দিয়াজ]] || ৫৪০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৩
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ১,৪৩৮
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ১,৪৩৮
|}
=== [[ব্যবহারকারী:রাকিবুল হাসান রাসেল| রাকিবুল হাসান রাসেল]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[পারভীন এতেসামি]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:MD RADWAN ISLAM| MD RADWAN ISLAM]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[চুয়াং জি]] || ২৭৪ || ✕
|-
| 2 || [[ফকির শাহাবুদ্দীন]] || ০ || ✕
|-
| 3 || [[আবু বকর সিদ্দিকী]] || ০ || ✕
|-
| 4 || [[বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট]] || ০ || ✕
|-
| 5 || [[বাংলাদেশের কৃষি প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 6 || [[হাসিবুন নাহের]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৬
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ২৭৪
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ২৭৪
|}
=== [[ব্যবহারকারী:AKM Mahinur Rahman| AKM Mahinur Rahman]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মেরি উলস্টোনক্রাফ্ট]] || ২১৩ || ✕
|-
| 2 || [[বালতাসার গ্রাসিয়ান]] || ২০৬ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ২
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৪১৯
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৪১৯
|}
=== [[ব্যবহারকারী:MD RADWAN ISLAM ROHAN| MD RADWAN ISLAM ROHAN]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[জুলাই আন্দোলন]] || ৬১৫ || ✕
|-
| 2 || [[বিকাশ]] || ০ || ✕
|-
| 3 || [[নতুন প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 4 || [[বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট শিল্প: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা]] || ০ || ✕
|-
| 5 || [[জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের পরিবেশ]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ৫
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৬১৫
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৬১৫
|}
=== [[ব্যবহারকারী:ShahinurWrites| ShahinurWrites]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[মোহাম্মদ শেখ শাহিনুর রহমান]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:Abdullah Al Shishir| Abdullah Al Shishir]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[অপ্রত্যাশিত জীবনযাত্রা]] || ০ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ০
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ০
|}
=== [[ব্যবহারকারী:চ্যাম্পিয়ন স্টার ১| চ্যাম্পিয়ন স্টার ১]] ===
{| class="wikitable sortable" style="text-align:center; width:100%;"
|-
! ক্রম !! ভূক্তির শিরোনাম !! শব্দসংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[অপর্ণা সেন]] || ৩১২ || ✕
|-
! colspan="4" | সার্বিক শব্দ পরিসংখ্যান: ১
|-
| colspan="3" | গৃহীত শব্দ: ০
| rowspan="2" | মোট শব্দ: ৩১২
|-
| colspan="3" | বাতিল শব্দ: ৩১২
|}
----
{| class="wikitable sortable mw-collapsible mw-collapsed"
|+ class="nowrap" | শব্দসংখ্যা অনুযায়ী নিবন্ধ তালিকা
! ক্রমিক !! নিবন্ধ !! শব্দ সংখ্যা !! অবস্থা
|-
| 1 || [[ভারতে পোশাক]] || ২,২৮৯ || ✓
|-
| 2 || [[ভারতের ভাষা]] || ৬৯৫ || ✓
|-
| 3 || [[মধ্যযুগীয় ভারত]] || ১,৭১৭ || ✓
|-
| 4 || [[ভারতে ইহুদিদের ইতিহাস]] || ২,০৪৬ || ✓
|-
| 5 || [[ভারতে সুফিবাদ]] || ৩,২০৭ || ✓
|-
| 6 || [[পর্তুগিজ ভারত]] || ১,৬৪৩ || ✓
|-
| 7 || [[ভারতের প্রাণী]] || ৩০৫ || ✓
|-
| 8 || [[স্বাধীনতা দিবস]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 9 || [[ভারতে দুর্ভিক্ষ]] || ৩,৭৮১ || ✓
|-
| 10 || [[ভারতে ধর্মহীনতা]] || ২,৩৮৯ || ✓
|-
| 11 || [[ওয়ারেন ফ্যারেল]] || ২১,০৭৮ || ✓
|-
| 12 || [[আর্নেস্ট বেকার]] || ১৩,৫৯৭ || ✓
|-
| 13 || [[অতিপ্রজতা]] || ২৯,৫০১ || ✓
|-
| 14 || [[মোপলা বিদ্রোহ]] || ১৪,৫১২ || ✓
|-
| 15 || [[সীতা রাম গোয়েল]] || ১,৫৯৬ || ✓
|-
| 16 || [[অরুণ শৌরি]] || ১৫,৪৫০ || ✓
|-
| 17 || [[ভারতের ইতিহাস লিখন]] || ১৭,৯১৮ || ✓
|-
| 18 || [[দ্রৌপদী]] || ৬,১৬৪ || ✓
|-
| 19 || [[দ্য হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া, অ্যাজ টোল্ড বাই ইটস ওন হিস্টোরিয়ানস]] || ২,৬৮৫ || ✕
|-
| 20 || [[রামায়ণ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 21 || [[ভারতে শিক্ষা]] || ১০,৫৮০ || ✓
|-
| 22 || [[ভারতে নারী]] || ৬,১৫০ || ✓
|-
| 23 || [[বন্যপ্রাণীর কষ্ট]] || ৩৩,৭৪১ || ✓
|-
| 24 || [[নিরামিষবাদ]] || ৩০,৬২৭ || ✓
|-
| 25 || [[ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতিত্ব]] || ৩৭,৫৭২ || ✓
|-
| 26 || [[নির্বাচন]] || ৭,০২৫ || ✓
|-
| 27 || [[সরকার]] || ২২,৭৫৯ || ✓
|-
| 28 || [[এডওয়ার্ড হল অল্ডারসন]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 29 || [[অ্যামব্রোজ বিয়ার্স]] || ৫,৫৪১ || ✕
|-
| 30 || [[মেওয়াত]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 31 || [[নানাবতী-মেহতা কমিশন]] || ২,৪৪৪ || ✓
|-
| 32 || [[ভারতে ঔষধ শিল্প]] || ১,৯২১ || ✓
|-
| 33 || [[পাঞ্জাব]] || ১,৪০৬ || ✓
|-
| 34 || [[রামনবমী]] || ৮৬২ || ✓
|-
| 35 || [[ভারতের শহরসমূহের নাম পরিবর্তন]] || ৪৪১ || ✓
|-
| 36 || [[নুপুর শর্মা]] || ৬০১ || ✓
|-
| 37 || [[রিপাবলিক টিভি]] || ৪৫৫ || ✓
|-
| 38 || [[রোহিলখণ্ড]] || ৪৪০ || ✓
|-
| 39 || [[রোহিলা]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 40 || [[সৌরাষ্ট্র]] || ৬৫৪ || ✓
|-
| 41 || [[ভারতে তিন তালাক]] || ১,১৩৪ || ✓
|-
| 42 || [[ভারতের পবিত্র উপবন]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 43 || [[অভিন্ন দেওয়ানি বিধি]] || ৩,৭৩৭ || ✓
|-
| 44 || [[নবনীত আদিত্য ওয়াইবা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 45 || [[ভারতে জল সরবরাহ ও স্যানিটেশন]] || ৭৪০ || ✓
|-
| 46 || [[জমিদার]] || ৩৮১ || ✕
|-
| 47 || [[নিখিল ভারত মুসলিম লীগ]] || ১,৭৩৭ || ✕
|-
| 48 || [[ফতোয়া]] || ৪৮৪ || ✓
|-
| 49 || [[দারা শিকোহ]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 50 || [[আমেরিকা নিপাত যাক]] || ৬৩৯ || ✓
|-
| 51 || [[মহা শয়তান]] || ৪১৪ || ✓
|-
| 52 || [[উলামা]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 53 || [[দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম জাতীয়তাবাদ]] || ১,৫১৬ || ✓
|-
| 54 || [[পার্সি-মুসলিম দাঙ্গা]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 55 || [[ভারতে দাঙ্গা]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 56 || [[ভারতে পেগাসাস প্রকল্পের উদঘাটন]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 57 || [[নেহরুবাদ]] || ৯৫২ || ✓
|-
| 58 || [[২জি স্পেকট্রাম মামলা]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 59 || [[রাহুল গান্ধী]] || ৪,০০৪ || ✓
|-
| 60 || [[আকবরউদ্দিন ওয়াইসি]] || ২৯৮ || ✓
|-
| 61 || [[ভারতের সাধারণ নির্বাচন, ২০২৪]] || ২,৫৭৭ || ✓
|-
| 62 || [[ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 63 || [[নাইলা আলি খান]] || ২০৪ || ✓
|-
| 64 || [[অরুণ জেটলি]] || ৪৮১ || ✓
|-
| 65 || [[সুকেতু মেহতা]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 66 || [[রুক্মিণী মৈত্র]] || ৩৫৪ || ✓
|-
| 67 || [[মানব গুপ্ত]] || ৬৩৪ || ✕
|-
| 68 || [[মোহিনী মোহন ধর]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 69 || [[দিলীপ কুমার চক্রবর্তী]] || ২,৫৯৭ || ✓
|-
| 70 || [[রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 71 || [[পিটার অ্যাক্রয়েড]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 72 || [[হ্যারল্ড ব্লুম]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 73 || [[জেমস বসওয়েল]] || ১,১৪৯ || ✓
|-
| 74 || [[অলিভার গোল্ডস্মিথ]] || ৩,১৭৮ || ✓
|-
| 75 || [[হেনরি জাইলস]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 76 || [[এডউইন হাবেল চ্যাপিন]] || ৭৭০ || ✓
|-
| 77 || [[অবমাননা]] || ৭৮৮ || ✓
|-
| 78 || [[আদালত অবমাননা]] || ৮২৯ || ✓
|-
| 79 || [[আইনপ্রণেতা]] || ৭৪৩ || ✓
|-
| 80 || [[লেই বারডুগো]] || ১২২ || ✓
|-
| 81 || [[উইলিয়াম ব্রেট, ১ম ভিসকাউন্ট এশার]] || ১,০২০ || ✓
|-
| 82 || [[হেনরি হকিন্স, ১ম ব্যারন ব্র্যাম্পটন]] || ৩০৩ || ✓
|-
| 83 || [[জুনিয়াস]] || ১,৪১২ || ✓
|-
| 84 || [[উইলিয়াম মারে, ম্যানসফিল্ডের ১ম আর্ল]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 85 || [[জোসেফ ইয়েটস]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 86 || [[স্যার জন বেইলি, ১ম ব্যারোনেট]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 87 || [[হেনরি বিকারস্টথ, ১ম ব্যারন ল্যাংডেল]] || ৪১৫ || ✓
|-
| 88 || [[এডওয়ার্ড ল, ১ম ব্যারন এলেনবরো]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 89 || [[লয়েড কেনিয়ন, ১ম ব্যারন কেনিয়ন]] || ৪,৪০৮ || ✓
|-
| 90 || [[জন হোল্ট]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 91 || [[চার্লস বোয়েন, ব্যারন বোয়েন]] || ১,০৩৭ || ✓
|-
| 92 || [[চার্লস অ্যাবট, ১ম ব্যারন টেন্টারডেন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 93 || [[ন্যায়বিচার প্রশাসন]] || ২,৮৯৯ || ✓
|-
| 94 || [[আদালত]] || ১,৮১৮ || ✕
|-
| 95 || [[রোজান এ. ব্রাউন]] || ৩৪১ || ✓
|-
| 96 || [[মারিয়ন জিমার ব্র্যাডলি]] || ১,১০৪ || ✓
|-
| 97 || [[টেরি ব্রুকস]] || ৪৮৫ || ✓
|-
| 98 || [[লেই ব্র্যাকেট]] || ১,১১২ || ✓
|-
| 99 || [[জ্যাক ক্যাডি]] || ১,৫৬৮ || ✓
|-
| 100 || [[মেল ব্রুকস]] || ২,০১৬ || ✕
|-
| 101 || [[মাইকেল বিশপ]] || ৯৬০ || ✕
|-
| 102 || [[এলিজাবেথ বেয়ার]] || ৭০৫ || ✓
|-
| 103 || [[মার্গারেট বল]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 104 || [[পাওলো বাসিগালুপি]] || ৬৪৭ || ✓
|-
| 105 || [[কেলি আর্মস্ট্রং]] || ৫৮৫ || ✓
|-
| 106 || [[ক্যাথরিন আসরো]] || ৩৬১ || ✓
|-
| 107 || [[পিয়ার্স অ্যান্থনি]] || ২২৯ || ✓
|-
| 108 || [[রবার্ট আইকম্যান]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 109 || [[আইনজীবী]] || ২,৩২৯ || ✓
|-
| 110 || [[আইনসভা]] || ২,৩৪৩ || ✓
|-
| 111 || [[জর্জ বুশনার]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 112 || [[জোসেফ গার্নি ক্যানন]] || ৭০৯ || ✓
|-
| 113 || [[সংখ্যাগরিষ্ঠ]] || ১,৩৫৬ || ✓
|-
| 114 || [[সংখ্যালঘু গোষ্ঠী]] || ১,৮৮১ || ✓
|-
| 115 || [[প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ]] || ৬৫৬ || ✓
|-
| 116 || [[মানব আচরণ]] || ৮৫২ || ✓
|-
| 117 || [[হার্ভে ম্যানসফিল্ড]] || ৯৭৯ || ✓
|-
| 118 || [[রাষ্ট্রবিজ্ঞান]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 119 || [[রাজনৈতিক দর্শন]] || ১,২৮৫ || ✓
|-
| 120 || [[দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা]] || ১,০৮৭ || ✓
|-
| 121 || [[আগ্রাসন]] || ৯২০ || ✓
|-
| 122 || [[হিন্দুত্ব]] || ২,৭০০ || ✓
|-
| 123 || [[ফ্লাভিয়া অ্যাগনেস]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 124 || [[লাভ জিহাদ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব]] || ৩,১৫০ || ✓
|-
| 125 || [[মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড]] || ১,৭৭৮ || ✓
|-
| 126 || [[যোগিন্দর সিকান্দ]] || ৮১৪ || ✓
|-
| 127 || [[ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা]] || ৮৫১ || ✓
|-
| 128 || [[জয় শ্রীরাম]] || ৭০৮ || ✓
|-
| 129 || [[লালকৃষ্ণ আডবাণী]] || ১,৫৫৫ || ✓
|-
| 130 || [[রাম রথযাত্রা]] || ১,৫৭৯ || ✓
|-
| 131 || [[হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন]] || ১,৪৫৫ || ✓
|-
| 132 || [[হর্ষ মান্দার]] || ৬৬০ || ✓
|-
| 133 || [[স্বপন দাশগুপ্ত]] || ১,১৬৭ || ✓
|-
| 134 || [[জরাথুস্ট্রবাদ]] || ৩৭৭ || ✓
|-
| 135 || [[পার্সি]] || ৩৯০ || ✓
|-
| 136 || [[নাগরিকত্ব]] || ১,৮৭৯ || ✓
|-
| 137 || [[ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০]] || ৬৭৯ || ✓
|-
| 138 || [[মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯]] || ৭৬৯ || ✓
|-
| 139 || [[অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিশু শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯]] || ৩৭৯ || ✓
|-
| 140 || [[বোম্বাই দাঙ্গা]] || ৭৭৬ || ✓
|-
| 141 || [[বজরং দল]] || ৩৩১ || ✓
|-
| 142 || [[সংসদীয় ব্যবস্থা]] || ৪০৫ || ✓
|-
| 143 || [[বিচার বিভাগীয় ব্যাখ্যা]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 144 || [[বর্ণবাদ পরবর্তী আমেরিকা]] || ১,০৬৯ || ✓
|-
| 145 || [[শ্বেতাঙ্গ বিশেষাধিকার]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 146 || [[বিশেষাধিকার]] || ৭১২ || ✓
|-
| 147 || [[মানবহিতৈষণা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 148 || [[ভারত সরকার]] || ১,২২০ || ✓
|-
| 149 || [[শিলং]] || ৯৭৩ || ✓
|-
| 150 || [[মাঝৌলি রাজ]] || ৫৬০ || ✓
|-
| 151 || [[কালিকট]] || ৪৫৪ || ✓
|-
| 152 || [[যাজপুর]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 153 || [[কালিবাঙ্গান]] || ৭৩৮ || ✓
|-
| 154 || [[কাডাপা]] || ৪১৩ || ✓
|-
| 155 || [[ইদার]] || ৫৮৬ || ✓
|-
| 156 || [[গোধরা]] || ১,০১০ || ✓
|-
| 157 || [[ভুবনেশ্বর]] || ১,১৬৫ || ✓
|-
| 158 || [[অমৃতসর]] || ৮৬৮ || ✓
|-
| 159 || [[আম্বালা]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 160 || [[হায়দ্রাবাদ]] || ৩,২৪৮ || ✓
|-
| 161 || [[২০১৯ হায়দ্রাবাদ গণধর্ষণ]] || ১৭৭ || ✓
|-
| 162 || [[মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি]] || ৪২৩ || ✕
|-
| 163 || [[হায়দ্রাবাদ অধিগ্রহণ]] || ৪৫৬ || ✓
|-
| 164 || [[১৮৯৯-১৯০০ সালের ভারতীয় দুর্ভিক্ষ]] || ৫৪১ || ✓
|-
| 165 || [[১৯৯০ হায়দ্রাবাদ দাঙ্গা]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 166 || [[গুয়াহাটি]] || ১,৭৯৬ || ✓
|-
| 167 || [[গৌড়]] || ১,৯৩৬ || ✓
|-
| 168 || [[বিজাপুর]] || ৬৬২ || ✓
|-
| 169 || [[মাণ্ডু]] || ৩৯৪ || ✓
|-
| 170 || [[খাজুরাহো]] || ৩৭১ || ✓
|-
| 171 || [[চান্দেরী]] || ৫০৭ || ✓
|-
| 172 || [[জুনাগড়]] || ৭১৯ || ✓
|-
| 173 || [[বৃহৎ কচ্ছের রাণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 174 || [[আহমেদাবাদ]] || ১,৮১২ || ✓
|-
| 175 || [[কচ্ছ জেলা]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 176 || [[দৃশদ্বতী নদী]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 177 || [[চেনাব নদী]] || ৩২১ || ✓
|-
| 178 || [[পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম]] || ১,২৩২ || ✓
|-
| 179 || [[মুর্শিদাবাদ সহিংসতা]] || ২৫৭ || ✓
|-
| 180 || [[২০২৪ সন্দেশখালী সহিংসতা]] || ১,০৬১ || ✓
|-
| 181 || [[২০২২ বীরভূম সহিংসতা]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 182 || [[মৈতৈ জাতি]] || ৫২৭ || ✕
|-
| 183 || [[মৈতৈ সভ্যতা]] || ৩৫০ || ✓
|-
| 184 || [[মণিপুর]] || ৩০৬ || ✕
|-
| 185 || [[লাক্ষাদ্বীপ]] || ৩২৯ || ✓
|-
| 186 || [[বৃন্দাবন]] || ৬৮২ || ✕
|-
| 187 || [[সম্ভল]] || ২৪৩ || ✓
|-
| 188 || [[এলাহাবাদ]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 189 || [[আলিগড়]] || ৪০৯ || ✓
|-
| 190 || [[স্ট্যাচু অব ইউনিটি]] || ২৪১ || ✓
|-
| 191 || [[ভারতের দুর্গ]] || ৩১৪ || ✓
|-
| 192 || [[দ্য দুন স্কুল]] || ৬৬৪ || ✓
|-
| 193 || [[কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়]] || ৩৪৫ || ✓
|-
| 194 || [[আগ্রা]] || ৭১৮ || ✓
|-
| 195 || [[২০২০ দিল্লি দাঙ্গা]] || ১,১৭৮ || ✓
|-
| 196 || [[তিরুচিরাপল্লী]] || ৬২৬ || ✓
|-
| 197 || [[সেন্ট থমাস ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা, চেন্নাই]] || ৩৮০ || ✕
|-
| 198 || [[আতঙ্ক]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 199 || [[ভারতে দুর্নীতি]] || ১,০০৭ || ✓
|-
| 200 || [[তামিলনাড়ুর মন্দির]] || ৯১৮ || ✓
|-
| 201 || [[এম. কে. স্ট্যালিন]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 202 || [[তামিলনাড়ু]] || ৫৪৩ || ✓
|-
| 203 || [[তামিলনাড়ুর হিন্দি বিরোধী আন্দোলন]] || ৪৬৫ || ✓
|-
| 204 || [[যোধপুর]] || ৬২৮ || ✓
|-
| 205 || [[রাজস্থান]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 206 || [[ওড়িশা]] || ৭৪৫ || ✓
|-
| 207 || [[১৯৯৮ কোয়েম্বাটুর বোমা হামলা]] || ৫৩৭ || ✓
|-
| 208 || [[উত্তর-পূর্ব ভারতে বিদ্রোহ]] || ৩৯৮ || ✓
|-
| 209 || [[মারাদ হত্যাকাণ্ড]] || ৩৫২ || ✓
|-
| 210 || [[মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণ]] || ৫৮৪ || ✓
|-
| 211 || [[স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া]] || ৩৫৭ || ✓
|-
| 212 || [[বিষ্ণু]] || ৬১৭ || ✓
|-
| 213 || [[২০২৪ রিয়াসি হামলা]] || ৩০২ || ✓
|-
| 214 || [[২০০৬ মালেগাঁও বোমা হামলা]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 215 || [[২০০৬ মুম্বই রেলে বোমা হামলা]] || ১৯০ || ✓
|-
| 216 || [[মুম্বই]] || ১,২২৪ || ✓
|-
| 217 || [[দৌলতাবাদ, মহারাষ্ট্র]] || ৮৮৯ || ✕
|-
| 218 || [[মহারাষ্ট্র]] || ৪৯৯ || ✓
|-
| 219 || [[পিনারাই বিজয়ন]] || ৫২৩ || ✓
|-
| 220 || [[আরব দেশ]] || ৯১৪ || ✓
|-
| 221 || [[দক্ষিণ এশিয়া]] || ৫৯৩ || ✓
|-
| 222 || [[শহুরে অবক্ষয়]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 223 || [[নগরায়ন]] || ১,০৯৭ || ✓
|-
| 224 || [[কেরল]] || ৩৬৫ || ✓
|-
| 225 || [[জম্মু ও কাশ্মীরে বিদ্রোহ]] || ৪১৮ || ✓
|-
| 226 || [[জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার]] || ৯৬৪ || ✓
|-
| 227 || [[শ্রীনগর]] || ১,৭২৯ || ✓
|-
| 228 || [[কাশ্মীর উপত্যকা]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 229 || [[লাদাখ]] || ৬৯৪ || ✓
|-
| 230 || [[কাশ্মীরি জাতি]] || ৮১৩ || ✓
|-
| 231 || [[তারিখ-ই-কাশ্মীর]] || ৫১৪ || ✓
|-
| 232 || [[কর্ণাটক]] || ৬৮২ || ✓
|-
| 233 || [[কর্ণাটকের রাজনীতি]] || ৪৩৯ || ✓
|-
| 234 || [[বেঙ্গালুরু]] || ৬১৪ || ✓
|-
| 235 || [[আসামে ইসলাম]] || ৬৯০ || ✓
|-
| 236 || [[আসামের ইতিহাস]] || ৭২৬ || ✓
|-
| 237 || [[আসামে হিন্দুধর্ম]] || ৩২৫ || ✓
|-
| 238 || [[ভারতের জনমিতি]] || ৩,৩৭৩ || ✓
|-
| 239 || [[বাংলাদেশের জনমিতি]] || ১,১৯৫ || ✓
|-
| 240 || [[পাকিস্তানের জনমিতি]] || ৮৫০ || ✓
|-
| 241 || [[আসামের জনমিতি]] || ১৮২ || ✓
|-
| 242 || [[বিহার]] || ৪৫৮ || ✓
|-
| 243 || [[পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি]] || ১৮১ || ✓
|-
| 244 || [[শাহ বানু মামলা]] || ৭৯৯ || ✕
|-
| 245 || [[ইসরায়েল–ভারত সম্পর্ক]] || ৮৯৭ || ✓
|-
| 246 || [[প্রণব মুখোপাধ্যায়]] || ৫৯৫ || ✓
|-
| 247 || [[দ্রৌপদী মুর্মু]] || ২৪৯ || ✓
|-
| 248 || [[ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ]] || ১,৬৪৭ || ✓
|-
| 249 || [[এলজিবিটিকিউ অধিকার বিরোধিতা]] || ২,০৪৯ || ✓
|-
| 250 || [[গেফোবিয়া]] || ২৭৮ || ✓
|-
| 251 || [[সমকামী যৌন চর্চা]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 252 || [[উভকামিতা]] || ১,৫৬০ || ✓
|-
| 253 || [[কামিং আউট]] || ৮০৫ || ✓
|-
| 254 || [[স্মৃতি ইরানি]] || ৯৯১ || ✓
|-
| 255 || [[মেনকা গান্ধী]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 256 || [[যশবন্ত সিং]] || ২০৬ || ✓
|-
| 257 || [[সৈয়দ শাহাবুদ্দিন]] || ৫৭৯ || ✓
|-
| 258 || [[শাকিল আহমদ]] || ১২৪ || ✓
|-
| 259 || [[তথাগত রায়]] || ২৭৫ || ✓
|-
| 260 || [[লালুপ্রসাদ যাদব]] || ১,১০৯ || ✓
|-
| 261 || [[আসাদউদ্দিন ওয়াইসি]] || ৪১৩ || ✕
|-
| 262 || [[ইরাক যুদ্ধ]] || ১২,৩৪৪ || ✓
|-
| 263 || [[যুক্তরাজ্যের তৃতীয় জর্জ]] || ১২,০৪২ || ✓
|-
| 264 || [[২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৮৮৩ || ✓
|-
| 265 || [[২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৩,৫১৪ || ✓
|-
| 266 || [[২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬১১ || ✓
|-
| 267 || [[ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ]] || ১,৫৪২ || ✓
|-
| 268 || [[স্নায়ুযুদ্ধ]] || ১৫,৬১০ || ✕
|-
| 269 || [[দ্বিতীয় স্নায়ুযুদ্ধ]] || ৪,৬৬৮ || ✓
|-
| 270 || [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] || ২৪,১৭৭ || ✓
|-
| 271 || [[মহত্ত্ব]] || ৭,৮১৪ || ✓
|-
| 272 || [[সাংবাদিকতা]] || ১৩,৪৭৭ || ✓
|-
| 273 || [[প্যানডিজম]] || ১০,৩০০ || ✓
|-
| 274 || [[গাজা যুদ্ধ]] || ১৬,৯৮২ || ✓
|-
| 275 || [[২০২৬ ইরান যুদ্ধ]] || ৬,৯৮৩ || ✓
|-
| 276 || [[পারমাণবিক অস্ত্র]] || ৩,২৩৩ || ✓
|-
| 277 || [[২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ]] || ৬৪৩ || ✓
|-
| 278 || [[ক্রুসেড]] || ৯৯৬ || ✓
|-
| 279 || [[অ্যানিমেশন]] || ৯,৪৫৭ || ✓
|-
| 280 || [[দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি]] || ৭৫৫ || ✓
|-
| 281 || [[ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ]] || ৩,৭৬৩ || ✓
|-
| 282 || [[পারমাণবিক যুদ্ধ]] || ৫,৫২০ || ✓
|-
| 283 || [[আল খোয়ারিজমি]] || ১,২৩০ || ✓
|-
| 284 || [[ফজলে রাব্বী]] || ৬৩৫ || ✓
|-
| 285 || [[ডেভিড হিউম]] || ১১,৭৮০ || ✓
|-
| 286 || [[লিওনিদ ক্যান্টোরোভিচ]] || ১,৪২২ || ✓
|-
| 287 || [[থিওডোসিয়াস ডবঝানস্কি]] || ৭৬০ || ✕
|-
| 288 || [[টেরেন্স টাও]] || ৭২০ || ✓
|-
| 289 || [[ফিলিপ]] || ৪২৬ || ✓
|-
| 290 || [[জুলিয়ান শুইঙার]] || ১,৩২২ || ✕
|-
| 291 || [[পিয়ের-জিল দ্য জেন]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 292 || [[ব্রায়ান কক্স]] || ৭৫৬ || ✓
|-
| 293 || [[জন ম্যাককার্থি]] || ১,০৪৫ || ✓
|-
| 294 || [[লুই দ্য ব্রোয়ি]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 295 || [[ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ]] || ১,১৯৪ || ✕
|-
| 296 || [[ফ্লিন্ডার্স পেট্রি]] || ১,২০৪ || ✕
|-
| 297 || [[পল আর. এহর্লিচ]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 298 || [[মাইকেল আতিয়াহ]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 299 || [[মার্টন মিলার]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 300 || [[মেরি বিয়ার্ড]] || ৯১১ || ✓
|-
| 301 || [[মার্গারেট চ্যান]] || ৭০৪ || ✓
|-
| 302 || [[গেরহার্ড শ্রোডার]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 303 || [[ফিলিপ ওয়ারেন অ্যান্ডারসন]] || ৭৯৯ || ✓
|-
| 304 || [[পিটার হিগস]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 305 || [[লিওনার্ড সাসকিন্ড]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 306 || [[জন মেইনার্ড স্মিথ]] || ৬৪০ || ✓
|-
| 307 || [[জন জেমস অডুবন]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 308 || [[শেলডন লি গ্ল্যাশো]] || ৭৫১ || ✓
|-
| 309 || [[ভিক্টর উইসকফ]] || ৫১৯ || ✓
|-
| 310 || [[মার্টিন রিস]] || ৫৫১ || ✓
|-
| 311 || [[মার্ক ওলিফ্যান্ট]] || ৫৫৩ || ✓
|-
| 312 || [[ভিতালি গিঞ্জবার্গ]] || ৩০৮ || ✓
|-
| 313 || [[স্যালি রাইড]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 314 || [[রবার্ট ফোগেল]] || ৪২৮ || ✓
|-
| 315 || [[রিঙ্গো স্টার]] || ৮৭০ || ✓
|-
| 316 || [[মাক্স ডেলব্রুক]] || ৫৭৫ || ✓
|-
| 317 || [[তৃতীয় লেওপোল্ড]] || ৮৩৭ || ✓
|-
| 318 || [[নরম্যান বোরল্যাগ]] || ৭০০ || ✓
|-
| 319 || [[নিকলাউস ভির্ট]] || ৪৭৯ || ✓
|-
| 320 || [[নিকোলাস স্টেনো]] || ২৯২ || ✓
|-
| 321 || [[নেভিল ফ্রান্সিস মট]] || ৫১১ || ✓
|-
| 322 || [[লুডউইক ফ্লেক]] || ৫১২ || ✓
|-
| 323 || [[কারেন উলেনবেক]] || ৩৯২ || ✓
|-
| 324 || [[ইয়োসেফ মেংগেলে]] || ৫৪৪ || ✓
|-
| 325 || [[কিরণ দেশাই]] || ২৬১ || ✓
|-
| 326 || [[কাতালিন কারিকো]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 327 || [[ইয়োন্স ইয়াকব বের্সেলিয়ুস]] || ৫১৬ || ✓
|-
| 328 || [[হুয়ান মালদাসেনা]] || ৭৩২ || ✓
|-
| 329 || [[হাইনরিখ বোল]] || ৩০০ || ✓
|-
| 330 || [[ইনগ্রিড ডোবিচি]] || ৬৭১ || ✓
|-
| 331 || [[ইয়ান উইলমুট]] || ৪২৭ || ✓
|-
| 332 || [[হিউ এভারেট]] || ৬০০ || ✓
|-
| 333 || [[ফ্রঁসোয়া অংল্যার]] || ৫৩৩ || ✓
|-
| 334 || [[এমানুয়েল সোয়েডেনবার্গ]] || ১,৫২২ || ✓
|-
| 335 || [[এলিজাবেথ বিশপ]] || ৬৫২ || ✓
|-
| 336 || [[শেখ আন্তা দিওপ]] || ৩৩৫ || ✓
|-
| 337 || [[জর্জ গ্যামো]] || ১,৫২১ || ✓
|-
| 338 || [[হাইনরিখ হের্ত্স]] || ১,৭৪৪ || ✓
|-
| 339 || [[গ্রো হারলেম ব্রুন্ডটল্যান্ড]] || ৩১১ || ✓
|-
| 340 || [[জন সি. মাদার]] || ৪২৫ || ✓
|-
| 341 || [[জন ব্যাকাস]] || ৫৯৭ || ✓
|-
| 342 || [[এর্নস্ট মায়ার]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 343 || [[লিন মার্গুলিস]] || ১,৭১৮ || ✓
|-
| 344 || [[হ্যান্স বেটে]] || ৩৯৬ || ✓
|-
| 345 || [[লুই আগাসিজ]] || ৯৩৭ || ✓
|-
| 346 || [[জর্জ ক্যুভিয়ে]] || ৭৬৮ || ✓
|-
| 347 || [[ব্রাসেলস]] || ৯৬৭ || ✓
|-
| 348 || [[ড্যানিয়েল কানেমান]] || ২,৯৫৭ || ✕
|-
| 349 || [[ডোনাল্ড কানুথ]] || ১,৫৮২ || ✓
|-
| 350 || [[লেমাহ গবোউই]] || ১,১৫০ || ✓
|-
| 351 || [[গারট্রুড বি. এলিয়ন]] || ২৩৪ || ✓
|-
| 352 || [[ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড]] || ৩৫৯ || ✓
|-
| 353 || [[এর্নস্ট মাখ]] || ২,০২৮ || ✕
|-
| 354 || [[ডোনাল্ড টাস্ক]] || ১,৭৭১ || ✓
|-
| 355 || [[অরবিন্দ আদিগা]] || ৮৬৬ || ✓
|-
| 356 || [[সি. এ. আর. হোর]] || ১,০৬১ || ✕
|-
| 357 || [[পল ডিরাক]] || ৪,৭০৯ || ✕
|-
| 358 || [[ই. ও. উইলসন]] || ৪,৪৫৮ || ✕
|-
| 359 || [[ডেসমন্ড মরিস]] || ৩,৯৮৬ || ✓
|-
| 360 || [[মাইকেল গোভ]] || ৩,৭৩৬ || ✓
|-
| 361 || [[হার্পার লি]] || ২,৪৯১ || ✓
|-
| 362 || [[কেন টম্পসন]] || ১,৮১৬ || ✓
|-
| 363 || [[জন টিন্ডাল]] || ২,৫২৮ || ✓
|-
| 364 || [[মেরি রবিনসন]] || ১,৩৭৬ || ✓
|-
| 365 || [[হেনরি ক্যাভেন্ডিশ]] || ২,২৪৪ || ✓
|-
| 366 || [[আইরিস মারডক]] || ১,২৬৮ || ✓
|-
| 367 || [[আর্নেস্ট রাদারফোর্ড]] || ২,৪৫৩ || ✓
|-
| 368 || [[ফ্রেড ব্রুকস]] || ১,১৯১ || ✓
|-
| 369 || [[ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস]] || ১,৯০৭ || ✓
|-
| 370 || [[ডায়ান ফসি]] || ১,৬৪৬ || ✕
|-
| 371 || [[ইডিথ হোয়ার্টন]] || ১,৪২৫ || ✓
|-
| 372 || [[অরেল স্টেইন]] || ১,৪৭৮ || ✕
|-
| 373 || [[গাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল]] || ১,৬৫০ || ✓
|-
| 374 || [[আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট]] || ১,১২০ || ✓
|-
| 375 || [[ফ্রান্সিস্কো ভারেলা]] || ১,৮৯৩ || ✕
|-
| 376 || [[ডেনিস রিচি]] || ১,১০৮ || ✓
|-
| 377 || [[অড্রে হেপবার্ন]] || ১,৪৩৫ || ✓
|-
| 378 || [[জি. এইচ. হার্ডি]] || ২,৩৩০ || ✓
|-
| 379 || [[হ্যারল্ড পিন্টার]] || ২,০৭২ || ✓
|-
| 380 || [[অ্যানাক্সিম্যান্ডার]] || ১,৩০০ || ✓
|-
| 381 || [[ডেভিড ব্রুস্টার]] || ২,৪০৪ || ✓
|-
| 382 || [[ব্রায়ান গ্রিন]] || ১,২৭৯ || ✕
|-
| 383 || [[অমিত গোস্বামী]] || ৯১৫ || ✓
|-
| 384 || [[এডমন্ড হ্যালি]] || ২,৬১৯ || ✓
|-
| 385 || [[ডেভিড সুজুকি]] || ১,৫১৭ || ✓
|-
| 386 || [[ডেভিড জোনাথন গ্রোস]] || ৮০৯ || ✓
|-
| 387 || [[ডেভিড ম্যামেট]] || ১,২৫২ || ✓
|-
| 388 || [[আহমেদ জেওয়াইল]] || ১৯২ || ✓
|-
| 389 || [[ইউরোপীয় পার্লামেন্ট]] || ৬১৫ || ✓
|-
| 390 || [[ডেভিড গ্রসম্যান]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 391 || [[হরিশ-চন্দ্র]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 392 || [[অনিতা দেসাই]] || ১,৪৩৯ || ✓
|-
| 393 || [[অ্যাশ কার্টার]] || ৪৬৩ || ✓
|-
| 394 || [[আলফ্রেড নোবেল]] || ৫০৯ || ✕
|-
| 395 || [[ক্রিস্টিয়ান বার্নার্ড]] || ৬৩৯ || ✓
|-
| 396 || [[মনোজ মিত্র]] || ৫,৫৬৭ || ✓
|-
| 397 || [[নারায়ণ সান্যাল]] || ৩৬৬ || ✓
|-
| 398 || [[মতি নন্দী]] || ৫,০১৮ || ✓
|-
| 399 || [[দেবেশ রায়]] || ৯,২৪৪ || ✓
|-
| 400 || [[শিশিরকুমার বসু]] || ৪,৮০৭ || ✓
|-
| 401 || [[বিমল কর]] || ১,৩৬৯ || ✓
|-
| 402 || [[সুবোধ সরকার]] || ৬৬০ || ✓
|-
| 403 || [[স্মরণজিৎ চক্রবর্তী]] || ৭৯২ || ✓
|-
| 404 || [[স্বামী সারদানন্দ]] || ৮,৬৯৫ || ✓
|-
| 405 || [[শক্তিপদ রাজগুরু]] || ৯৯৩ || ✓
|-
| 406 || [[কমলকুমার মজুমদার]] || ১,৫৭৩ || ✓
|-
| 407 || [[গৌতম ভদ্র]] || ৬৮৫ || ✓
|-
| 408 || [[পরিমল গোস্বামী]] || ১,৪৬৭ || ✓
|-
| 409 || [[প্রেমাঙ্কুর আতর্থী]] || ৫,৬৯৮ || ✓
|-
| 410 || [[কালীপ্রসন্ন সিংহ]] || ৫,৪০৪ || ✓
|-
| 411 || [[অখিল নিয়োগী]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 412 || [[হরপ্রসাদ শাস্ত্রী]] || ৫১৩ || ✓
|-
| 413 || [[গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক]] || ৫৯২ || ✓
|-
| 414 || [[অজিত দত্ত]] || ৬১৩ || ✓
|-
| 415 || [[অজিতকৃষ্ণ বসু]] || ২,৩৮৬ || ✓
|-
| 416 || [[এম এস স্বামীনাথন]] || ৮৭২ || ✓
|-
| 417 || [[চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন]] || ২,১৭১ || ✓
|-
| 418 || [[চিন্তামণি নাগেশ রামচন্দ্র রাও]] || ২,১৬৭ || ✓
|-
| 419 || [[কণাদ]] || ৯১৯ || ✓
|-
| 420 || [[জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর]] || ৩,১৮৭ || ✓
|-
| 421 || [[বিক্রম সারাভাই]] || ১,১২৯ || ✓
|-
| 422 || [[জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ]] || ১১,২৬৬ || ✓
|-
| 423 || [[অ্যানোনিমাস]] || ৪,০৪৩ || ✓
|-
| 424 || [[টুপাক শাকুর]] || ৬,২৮৭ || ✓
|-
| 425 || [[জেনডেয়া]] || ২,০১৪ || ✓
|-
| 426 || [[টিমথি শালামে]] || ১,১২৭ || ✓
|-
| 427 || [[হিপোক্রেটিস]] || ২,৯২৩ || ✓
|-
| 428 || [[ষষ্ঠ মুহাম্মদ]] || ৮৭৮ || ✓
|-
| 429 || [[জন লেনক্স]] || ৭০২ || ✓
|-
| 430 || [[আলেক্সান্দ্র্ সলজেনিৎসিন]] || ৮,০৫৬ || ✓
|-
| 431 || [[আবদুল হান্নান মাসউদ]] || ৪০৭ || ✓
|-
| 432 || [[পরকাল সম্পর্কে কুরআন]] || ১৮,৭৯৪ || ✓
|-
| 433 || [[মানবতাবিরোধী অপরাধ]] || ১,৯১২ || ✓
|-
| 434 || [[আন্তর্জাতিক আইন]] || ৫,৫৩৯ || ✓
|-
| 435 || [[মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ]] || ১,৪৫২ || ✓
|-
| 436 || [[আর্নেস্ট কিং]] || ১৫,৭৬৯ || ✕
|-
| 437 || [[ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট]] || ২৬,২১৫ || ✓
|-
| 438 || [[আনোয়ার ইব্রাহিম]] || ৬,৯৯৩ || ✓
|-
| 439 || [[ইসলাম ও যুদ্ধ]] || ৫,৬৮১ || ✓
|-
| 440 || [[আহমদ সিরহিন্দি]] || ৪,০৭০ || ✓
|-
| 441 || [[মুসা সেরান্তোনিও]] || ৪২৩ || ✓
|-
| 442 || [[ইয়াকুব]] || ১,৯৫৬ || ✓
|-
| 443 || [[আদ্রিয়ান গোল্ডসওয়ার্দি]] || ১,৯৭৯ || ✕
|-
| 444 || [[অ্যালিস পল]] || ১,৮৬২ || ✕
|-
| 445 || [[অ্যামি ট্যান]] || ২,০০৭ || ✕
|-
| 446 || [[অ্যান্ড্রু সেগা]] || ১,৯৬৯ || ✓
|-
| 447 || [[আল্যাঁ বাদিউ]] || ১,৯৬৬ || ✕
|-
| 448 || [[আফ্রিকান স্পির]] || ১,৭২২ || ✕
|-
| 449 || [[ফ্রেডরিক ডগলাস]] || ৮৬২ || ✕
|-
| 450 || [[নবী]] || ২,০৬২ || ✕
|-
| 451 || [[এমা গোল্ডম্যান]] || ১২,৮০০ || ✕
|-
| 452 || [[প্রেম সম্পর্কে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি]] || ১৫,০৪০ || ✓
|-
| 453 || [[মিস্ট্রি সায়েন্স থিয়েটার ৩০০০]] || ৯৪,৯৬৮ || ✕
|-
| 454 || [[দ্য থিক অফ ইট]] || ৬৯,২৮৩ || ✕
|-
| 455 || [[অ্যালেক্স হেইলি]] || ১,৬০৪ || ✓
|-
| 456 || [[দাসত্ব সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি]] || ৫,৭৮৫ || ✕
|-
| 457 || [[দাসত্ব]] || ১০,২৫৯ || ✕
|-
| 458 || [[এইচ. পি. লাভক্র্যাফট]] || ২৫,৪৭২ || ✓
|-
| 459 || [[ব্লেজ পাসকাল]] || ৩,০৫১ || ✓
|-
| 460 || [[চিনুয়া আচেবে]] || ৬,০৪২ || ✓
|-
| 461 || [[ডরিস লেসিং]] || ৪,৬২১ || ✓
|-
| 462 || [[ফেদেরিকো ফাগিন]] || ৬০০ || ✓
|-
| 463 || [[আলেকজান্ডার গ্রোথেনডিক]] || ১,২১১ || ✓
|-
| 464 || [[আঙ্গেলা ম্যার্কেল]] || ২,০২৯ || ✓
|-
| 465 || [[আনাক্সাগোরাস]] || ৩,৬৭১ || ✓
|-
| 466 || [[আমোস তভারস্কি]] || ৪৬১ || ✓
|-
| 467 || [[আলফ্রেড মার্শাল]] || ১,৩০৯ || ✓
|-
| 468 || [[আলবার্টাস ম্যাগনাস]] || ৩৮২ || ✓
|-
| 469 || [[অনিতা ব্রুকনার]] || ৪৭৪ || ✕
|-
| 470 || [[আলফ্রেড কিনসে]] || ১,০৩৩ || ✓
|-
| 471 || [[অ্যালান কে]] || ৯২৪ || ✓
|-
| 472 || [[আলেকজান্ডার ফ্লেমিং]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 473 || [[ক্যারোলিন বার্তোজি]] || ৪১১ || ✓
|-
| 474 || [[আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস]] || ১,৬৫৯ || ✓
|-
| 475 || [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে]] || ১,৪৩৬ || ✕
|-
| 476 || [[জ্যারেড ডায়মন্ড]] || ১,১৭১ || ✕
|-
| 477 || [[জেন গুডাল]] || ১,৩৫৭ || ✓
|-
| 478 || [[জেমস টোবিন]] || ১,০৫৯ || ✓
|-
| 479 || [[জেমস ক্যালাহান]] || ১,৬১৫ || ✓
|-
| 480 || [[উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভন্স]] || ১,৭০১ || ✓
|-
| 481 || [[উইলিয়াম থমসন]] || ১,০৫১ || ✓
|-
| 482 || [[ওলে সোয়িংকা]] || ৩,১৬১ || ✕
|-
| 483 || [[জোসেফ স্টিগলিটজ]] || ১,৫০৪ || ✕
|-
| 484 || [[গ্রেগর মেন্ডেল]] || ৮৭৪ || ✓
|-
| 485 || [[গটফ্রিড ভিলহেল্ম লাইবনিৎস]] || ১,২৩৬ || ✓
|-
| 486 || [[গ্লেন থিওডোর সিবর্গ]] || ৯৮৪ || ✓
|-
| 487 || [[হেরমান ভাইল]] || ১,৫৪১ || ✓
|-
| 488 || [[হেরমান হেস]] || ৪,৫৬৫ || ✓
|-
| 489 || [[হার্বার্ট স্পেন্সার]] || ২,৩৬৮ || ✓
|-
| 490 || [[হার্বার্ট এ. সাইমন]] || ১,৩৩৭ || ✓
|-
| 491 || [[হেরাক্লিটাস]] || ১,৫৭০ || ✓
|-
| 492 || [[হেনরিক শিয়েনকিয়েভিচ]] || ১,৯১১ || ✕
|-
| 493 || [[উইলা ক্যাথার]] || ৩,০৩৩ || ✕
|-
| 494 || [[উইল ডুরান্ট]] || ২,৮১৫ || ✓
|-
| 495 || [[ডব্লিউ. এইচ. অডেন]] || ২,৮১৯ || ✓
|-
| 496 || [[ভোলফগাং পাউলি]] || ১,৬৩৯ || ✓
|-
| 497 || [[ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা]] || ২,২৫৮ || ✓
|-
| 498 || [[জন আর্চিবল্ড হুইলার]] || ১,১৩৯ || ✓
|-
| 499 || [[সেমুর হার্শ]] || ১,৭৬১ || ✓
|-
| 500 || [[সের্গেই কোরোলিয়ভ]] || ৫৬৫ || ✓
|-
| 501 || [[জেন অ্যাডামস]] || ১,৯০৬ || ✓
|-
| 502 || [[জাক-ইভ কুস্তো]] || ৬৬৩ || ✓
|-
| 503 || [[হিদেকি ইউকাওয়া]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 504 || [[প্রিমো লেভি]] || ৪,২৩৮ || ✓
|-
| 505 || [[ঝুম্পা লাহিড়ী]] || ৪৩০ || ✓
|-
| 506 || [[জেমস প্রেসকট জুল]] || ৪৮৭ || ✓
|-
| 507 || [[কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন]] || ৮২৫ || ✓
|-
| 508 || [[কলসী]] || ১,০৮৬ || ✓
|-
| 509 || [[চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১,১৫৭ || ✓
|-
| 510 || [[শহর]] || ১,৪৫৮ || ✕
|-
| 511 || [[ঘাস]] || ২,১১২ || ✓
|-
| 512 || [[জলধর সেন]] || ১,৭৬৪ || ✓
|-
| 513 || [[ঠিকানা]] || ১,১৮৭ || ✓
|-
| 514 || [[গন্ধ]] || ১,৮০৭ || ✓
|-
| 515 || [[চা]] || ২,৪২৪ || ✓
|-
| 516 || [[রবীন্দ্রনাথ মৈত্র]] || ১,২৮১ || ✓
|-
| 517 || [[দিগন্ত]] || ১,২২৮ || ✓
|-
| 518 || [[ময়ূর]] || ১,৩৪৫ || ✓
|-
| 519 || [[করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ৯১১ || ✓
|-
| 520 || [[ঢেউ]] || ১,৫৩৯ || ✓
|-
| 521 || [[ছাতা]] || ১,১৮৯ || ✓
|-
| 522 || [[উমাকান্ত হাজারী]] || ৯৪২ || ✓
|-
| 523 || [[ঘৃণা]] || ২,৩৩৯ || ✓
|-
| 524 || [[বাঁশ]] || ২,৪৫৯ || ✕
|-
| 525 || [[কলেরা]] || ১,৬৩৮ || ✓
|-
| 526 || [[মাঠ]] || ২,৪৪৭ || ✓
|-
| 527 || [[টিন]] || ১,৯৩২ || ✕
|-
| 528 || [[সংবাদ]] || ৪,৪৭৯ || ✕
|-
| 529 || [[নবায়নযোগ্য শক্তি]] || ১২,৬১০ || ✓
|-
| 530 || [[নাডিন গর্ডিমার]] || ১,৩৭২ || ✓
|-
| 531 || [[মারে গেল-মান]] || ১,৩২৮ || ✓
|-
| 532 || [[নার্গিস মোহাম্মাদি]] || ১,৭৫৫ || ✓
|-
| 533 || [[সাদি কার্নো]] || ৫,২৫৬ || ✓
|-
| 534 || [[জন বারবার]] || ৫৭৪ || ✕
|-
| 535 || [[স্কটিশ জাতি]] || ৩৭৫ || ✓
|-
| 536 || [[ওয়েন্ডি বোম্যান]] || ১৫১ || ✕
|-
| 537 || [[যুদ্ধাপরাধ]] || ৪,৬৭৯ || ✕
|-
| 538 || [[রুবি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 539 || [[রিতা এনজেলু]] || ১৫৯ || ✓
|-
| 540 || [[বমি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 541 || [[পার্ল]] || ৬৯০ || ✕
|-
| 542 || [[পাইথন]] || ১৩৯ || ✓
|-
| 543 || [[উইকিলিকস]] || ১,৬৩১ || ✕
|-
| 544 || [[জনস্টন ম্যাককালি]] || ৩১১ || ✕
|-
| 545 || [[যুগোস্লাভিয়া]] || ৪,১৩৬ || ✓
|-
| 546 || [[অংশুমান কর]] || ২০৯ || ✓
|-
| 547 || [[কেমব্রিজ গান]] || ৩০৫ || ✕
|-
| 548 || [[হেলেনীয় শিক্ষা]] || ৫০২ || ✓
|-
| 549 || [[টমাস হলি চিভার্স]] || ২৩৫ || ✓
|-
| 550 || [[মুহাম্মদ মাহদি আল-জাওয়াহিরি]] || ৬৩৮ || ✓
|-
| 551 || [[জেডি স্মিথ]] || ১,০৮০ || ✓
|-
| 552 || [[ব্রায়ান পি. শ্মিট]] || ৪৬০ || ✓
|-
| 553 || [[কার্ল বার্নস্টিন]] || ৩৬৮ || ✓
|-
| 554 || [[চার্লস ফেফারম্যান]] || ৩৩৯ || ✓
|-
| 555 || [[ইয়ুস্টুস ফন লিবিগ]] || ৩৩২ || ✓
|-
| 556 || [[টমাস শেলিংস]] || ৬৭৪ || ✓
|-
| 557 || [[উইলিয়াম শকলি]] || ৩৯১ || ✓
|-
| 558 || [[শিং-শেন চের্ন]] || ৭৬৫ || ✕
|-
| 559 || [[হুগো দ্য ভ্রিস]] || ৩৪৪ || ✓
|-
| 560 || [[রবার্ট অ্যান্ড্রুজ মিলিকান]] || ৪৩৬ || ✓
|-
| 561 || [[জেমস ভ্যান অ্যালেন]] || ৫৯৬ || ✓
|-
| 562 || [[জাক শিরাক]] || ৭১১ || ✓
|-
| 563 || [[ডরোথি হজকিন]] || ২৯৪ || ✓
|-
| 564 || [[গোরান পারসন]] || ৩২৬ || ✓
|-
| 565 || [[জেরার দ্যব্রু]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 566 || [[কোরীয় যুদ্ধ]] || ৯,৯৬৫ || ✕
|-
| 567 || [[রবার্ট জে. শিলার]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 568 || [[ফ্রঁসোয়া আরাগন]] || ৪৩৫ || ✓
|-
| 569 || [[অখিলচন্দ্র দত্ত]] || ৩৭৩ || ✕
|-
| 570 || [[ফ্রান্সিস কলিন্স]] || ৫৮৮ || ✓
|-
| 571 || [[হেলেন ক্লার্ক]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 572 || [[লেয়োঁ ফুকো]] || ৫৩২ || ✓
|-
| 573 || [[জন চার্লস পোলানি]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 574 || [[জন মেইনার্ড কেইনস]] || ১৭,৭৯১ || ✕
|-
| 575 || [[দিমিত্রি মুরাতভ]] || ৬৩৬ || ✓
|-
| 576 || [[আবদুস সালাম]] || ৩৮৪ || ✓
|-
| 577 || [[আবদুলরাজাক গুরনাহ]] || ৭৪৯ || ✓
|-
| 578 || [[এ. সি. বেনসন]] || ৩৮৩ || ✓
|-
| 579 || [[প্রথম আলবার্ট]] || ৮৬৪ || ✓
|-
| 580 || [[অম্লান দত্ত]] || ১৪৬ || ✓
|-
| 581 || [[ইয়ান মার্টেল]] || ১,১৩৩ || ✕
|-
| 582 || [[ইয়োইচিরো নাম্বু]] || ৪৩১ || ✕
|-
| 583 || [[সৈয়দ জামিল আহমেদ]] || ২০৩ || ✓
|-
| 584 || [[পূর্ণিমা]] || ১৯২ || ✓
|-
| 585 || [[শরিফুল রাজ]] || ১৮৬ || ✓
|-
| 586 || [[কাজী হায়াৎ]] || ২৭৪ || ✓
|-
| 587 || [[আরেফিন রুমি]] || ১৬২ || ✓
|-
| 588 || [[ইমাম নাসাই]] || ৬৯৭ || ✕
|-
| 589 || [[কবরী]] || ২৭১ || ✓
|-
| 590 || [[হাফিজ উদ্দিন আহমদ]] || ২৩৬ || ✓
|-
| 591 || [[আ ন ম এহসানুল হক মিলন]] || ৩৪০ || ✓
|-
| 592 || [[আন্দালিব রহমান পার্থ]] || ২৯৭ || ✓
|-
| 593 || [[ববি হাজ্জাজ]] || ২৫৩ || ✓
|-
| 594 || [[ইবনে মাজাহ]] || ৩৩৬ || ✓
|-
| 595 || [[হাবিব ওয়াহিদ]] || ২৬৪ || ✓
|-
| 596 || [[জাইমা রহমান]] || ২১২ || ✓
|-
| 597 || [[কনকচাঁপা]] || ২২৮ || ✓
|-
| 598 || [[আহসান হাবীব]] || ২১৯ || ✓
|-
| 599 || [[বেলাল খান]] || ২১৯ || ✓
|-
| 600 || [[নচিকেতা চক্রবর্তী]] || ২৮৯ || ✓
|-
| 601 || [[আ ফ ম খালিদ হোসেন]] || ২৪৮ || ✓
|-
| 602 || [[আলমগীর]] || ৪০৬ || ✓
|-
| 603 || [[সালাহউদ্দিন আহমেদ]] || ৩৫৩ || ✓
|-
| 604 || [[চোং নানশান]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 605 || [[এ. সি. ব্র্যাডলি]] || ৩৯০ || ✕
|-
| 606 || [[আলবার্ট হফমান]] || ৩,৪৪৪ || ✓
|-
| 607 || [[অ্যালান পারলিস]] || ৯২৮ || ✓
|-
| 608 || [[হেইনরিখ রোরার]] || ৩৬০ || ✓
|-
| 609 || [[আলফ্রেড আহো]] || ১৪৪ || ✕
|-
| 610 || [[উ থান্ট]] || ৬৭৮ || ✕
|-
| 611 || [[লোরঁ শোয়ার্তজ]] || ৬১০ || ✓
|-
| 612 || [[উইলিয়াম শার্প]] || ৩৯৯ || ✓
|-
| 613 || [[পাউল এরেনফেস্ট]] || ৪৩৩ || ✓
|-
| 614 || [[রবার্ট মান্ডেল]] || ৩২২ || ✓
|-
| 615 || [[হান কাং]] || ৬৬৬ || ✓
|-
| 616 || [[ক্রিপটিক ফেইট]] || ১৭৬ || ✓
|-
| 617 || [[কাকাবাবু]] || ২৫৮ || ✓
|-
| 618 || [[ক্যারি মুলিস]] || ৪০৩ || ✓
|-
| 619 || [[টোমাস ট্রান্সট্রোমার]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 620 || [[ইরিনা বোকোভা]] || ২৬৮ || ✓
|-
| 621 || [[মার্টিনুস ভেল্টম্যান]] || ১৯৫ || ✓
|-
| 622 || [[ড্যামন গ্যালগুট]] || ৪৮২ || ✓
|-
| 623 || [[আর্থার কর্নবার্গ]] || ১৭৭ || ✕
|-
| 624 || [[বেন ওক্রি]] || ৮৫৮ || ✓
|-
| 625 || [[সল বেলো]] || ১,০০৩ || ✓
|-
| 626 || [[সল পার্লমাটার]] || ৩১১ || ✕
|-
| 627 || [[সিমেওঁ দ্যনি পোয়াসোঁ]] || ১৬০ || ✓
|-
| 628 || [[স্টিভ আরউইন]] || ৪৩৫ || ✕
|-
| 629 || [[আনি এরনো]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 630 || [[ফজল শাহাবুদ্দীন]] || ৪৯৫ || ✕
|-
| 631 || [[আল-জাহিজ]] || ৭৩৩ || ✓
|-
| 632 || [[আল-বিরুনি]] || ১,৮৩৬ || ✓
|-
| 633 || [[থমাস হ্যারিয়ট]] || ৪৩২ || ✓
|-
| 634 || [[স্টিভেন চু]] || ২২০ || ✓
|-
| 635 || [[ইভাঞ্জেলিস্টা টরিসেলি]] || ৩৭২ || ✓
|-
| 636 || [[লেসলি ল্যামপোর্ট]] || ৫৫০ || ✓
|-
| 637 || [[মার্টিন লুইস পার্ল]] || ৩৮৮ || ✓
|-
| 638 || [[ভ্লাদিমির মার্কভনিকভ]] || ২৬৭ || ✓
|-
| 639 || [[বাপ্পী লাহিড়ী]] || ২৫২ || ✓
|-
| 640 || [[নুহাশ হুমায়ূন]] || ২০৫ || ✓
|-
| 641 || [[আনিসুল হক]] || ২৪৬ || ✕
|-
| 642 || [[বাবর আলী]] || ৩০৯ || ✓
|-
| 643 || [[মেহের আফরোজ শাওন]] || ৩১৯ || ✓
|-
| 644 || [[ফেলুদা]] || ২৪৬ || ✓
|-
| 645 || [[ব্যোমকেশ বক্সী]] || ১৭৮ || ✓
|-
| 646 || [[প্রোফেসর শঙ্কু]] || ২৬৯ || ✓
|-
| 647 || [[বারী সিদ্দিকী]] || ২৪২ || ✓
|-
| 648 || [[সমরেশ বসু]] || ২০২ || ✓
|-
| 649 || [[লিয়ন কুপার]] || ৩২৩ || ✓
|-
| 650 || [[কামিলা শামসি]] || ২০৪ || ✓
|-
| 651 || [[ক্রিস্টোফার রেন]] || ৩৭৪ || ✓
|-
| 652 || [[জিওফ্রে হিন্টন]] || ৩২২ || ✓
|-
| 653 || [[ফ্রিডতিয়ফ নানসেন]] || ১৯১ || ✓
|-
| 654 || [[আলাঁ আস্পে]] || ৭৭৬ || ✓
|-
| 655 || [[ক্যারিল ফিলিপস]] || ২৮৪ || ✓
|-
| 656 || [[জেমস কুক]] || ৩৯৭ || ✓
|-
| 657 || [[ক্লাউদিয়া শেইনবাউম]] || ৩২১ || ✓
|-
| 658 || [[আবি আহমেদ]] || ২৫৫ || ✓
|-
| 659 || [[পিটার আগ্রি]] || ১৯০ || ✓
|-
| 660 || [[ফখরুদ্দীন আল-রাযী]] || ২১৫ || ✓
|-
| 661 || [[ইব্রাহিম ত্রাওরে]] || ৭৫৪ || ✓
|-
| 662 || [[পেদ্রো সানচেজ]] || ২৯৯ || ✓
|-
| 663 || [[অ্যাডাম রিস]] || ৪৮৯ || ✓
|-
| 664 || [[আব্দুল হান্নান আবকারী]] || ০ || ✕
|-
| 665 || [[ইবরাহীম আলী তশনা]] || ২৪৭ || ✓
|-
| 666 || [[রুহুল আমিন বসিরহাটি]] || ৩৬৩ || ✓
|-
| 667 || [[মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী]] || ৩৪২ || ✓
|-
| 668 || [[শামছুল হুদা]] || ০ || ✕
|-
| 669 || [[শামছুল হক ফরিদপুরী]] || ৫৪৬ || ✓
|-
| 670 || [[গর্ডন মুর]] || ৫৮৭ || ✓
|-
| 671 || [[শিরিন এবাদি]] || ৫৪৩ || ✕
|-
| 672 || [[নাগিব মাহফুজ]] || ৫৩০ || ✓
|-
| 673 || [[আল-ফারাবি]] || ৫৩৭ || ✕
|-
| 674 || [[চাষী নজরুল ইসলাম]] || ৪৪৬ || ✓
|-
| 675 || [[বাপ্পা মজুমদার]] || ৩১০ || ✓
|-
| 676 || [[রবার্ট ক্লাইভ]] || ২,০০২ || ✕
|-
| 677 || [[পার্ল এস. বাক]] || ৯৩৩ || ✕
|-
| 678 || [[জন বারডিন]] || ৩৬৪ || ✓
|-
| 679 || [[আজিজুল হক]] || ১৮০ || ✓
|-
| 680 || [[আবদুস সালাম]] || ১০০ || ✕
|-
| 681 || [[আবদুল গফুর]] || ১০১ || ✕
|-
| 682 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৬১ || ✓
|-
| 683 || [[আবদুল জব্বার]] || ৯২ || ✕
|-
| 684 || [[আবদুল জব্বার]] || ১৩৩ || ✕
|-
| 685 || [[অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়]] || ১৩৪ || ✕
|-
| 686 || [[অনিমেষ রায়]] || ১২৬ || ✕
|-
| 687 || [[অনির্বাণ বসু]] || ১২০ || ✕
|-
| 688 || [[অজয় ঘটক]] || ১১৪ || ✕
|-
| 689 || [[অচলা মল্লিক]] || ১৫৪ || ✕
|-
| 690 || [[অজয় হোম]] || ১৫৯ || ✕
|-
| 691 || [[অমিতা বসু]] || ১৪২ || ✕
|-
| 692 || [[আস্ট্রোনমি]] || ০ || ✕
|-
| 693 || [[মমতাজ বেগম]] || ৩৫৫ || ✕
|-
| 694 || [[আবুল বরকত]] || ১৪৩ || ✕
|-
| 695 || [[মেরি স্টোপস]] || ৫০৫ || ✕
|-
| 696 || [[ইয়োন ফসে]] || ৩৯৩ || ✕
|-
| 697 || [[জুনো দিয়াজ]] || ৫৪০ || ✕
|-
| 698 || [[পারভীন এতেসামি]] || ০ || ✕
|-
| 699 || [[চুয়াং জি]] || ২৭৪ || ✕
|-
| 700 || [[ফকির শাহাবুদ্দীন]] || ০ || ✕
|-
| 701 || [[আবু বকর সিদ্দিকী]] || ০ || ✕
|-
| 702 || [[বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট]] || ০ || ✕
|-
| 703 || [[বাংলাদেশের কৃষি প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 704 || [[হাসিবুন নাহের]] || ০ || ✕
|-
| 705 || [[মেরি উলস্টোনক্রাফ্ট]] || ২১৩ || ✕
|-
| 706 || [[বালতাসার গ্রাসিয়ান]] || ২০৬ || ✕
|-
| 707 || [[জুলাই আন্দোলন]] || ৬১৫ || ✕
|-
| 708 || [[বিকাশ]] || ০ || ✕
|-
| 709 || [[নতুন প্রযুক্তি]] || ০ || ✕
|-
| 710 || [[বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট শিল্প: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা]] || ০ || ✕
|-
| 711 || [[জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের পরিবেশ]] || ০ || ✕
|-
| 712 || [[মোহাম্মদ শেখ শাহিনুর রহমান]] || ০ || ✕
|-
| 713 || [[অপ্রত্যাশিত জীবনযাত্রা]] || ০ || ✕
|-
| 714 || [[অপর্ণা সেন]] || ৩১২ || ✕
|}
k8wnu2oeycd3fllk62hqcydykeb3iah
আরিফ আজাদ
0
12000
83237
78165
2026-05-01T14:30:44Z
Oindrojalik Watch
4169
83237
wikitext
text/x-wiki
'''আরিফ আজাদ''' (জন্ম: ৭ জানুয়ারি ১৯৯০) একজন সমকালীন [[:w:বাংলাদেশী|বাংলাদেশী]] মুসলিম [[:w:লেখক|লেখক]] ও [[সাহিত্য|সাহিত্যিক]]। তিনি মূলত [[:w:ধর্মতত্ত্ব|ধর্মতত্ত্ব]], [[:w:ইসলামি জীবনবোধ|ইসলামি জীবনবোধ]] এবং [[:w:আত্মউন্নয়নমূলক প্রবন্ধ|আত্মউন্নয়নমূলক প্রবন্ধ]] ও উপন্যাস লিখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার প্রকাশিত প্রথম বই [[w:প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ|প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ]] ২০১৭ সালে প্রকাশের পর তিনি দেশব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন। তার বইসমূহ টানা বেশ কয়েক বছর [[:w:অমর একুশে বইমেলা|অমর একুশে বইমেলায়]] বেস্টসেলার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
== উক্তি ==
* [[:w:বস্তুবাদ|বস্তুবাদী]] দুনিয়া সুখ বলতে আমাদের যা চেনায় তা যে আদতে মরীচিকা, সেটা বুঝতেই আস্ত একটা জীবন পার হয়ে যায়।
** ''হায়াতের দিন ফুরালে'', ৮ পৃষ্ঠা (লেখকের কথা)।
* আমি ভীষণভাবে বিশ্বাস করি – আত্মিকভাবে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা না গেলে কখনোই পরম পবিত্রতার সন্ধান লাভ সম্ভব নয়। আত্মার সেই শুদ্ধতার দিকে যুবক-যুবতীদের ধাবমান করতে আমি আত্মউন্নয়ন মূলক লেখায় হাত দিয়েছিলাম। যেহেতু যৌবনের সমস্যাগুলোর সাথে আমি পরিচিত, তাই এগুলোকে চিহ্নিত করা কঠিন কিছু নয়। আমি শুধু বিলিয়ে দিতে চাই সেসব সমস্যার সম্ভাব্য সঠিক চিকিৎসায়।
** ''এবার ভিন্ন কিছু হোক,'' ১৩ পৃষ্ঠা (লেখকের কথা)।
* যে আপনার শত্রুতা করে তথা আপনার ভালো চায় না এবং ক্ষতি করতে চায়, তার উপকার করা মানে এই নয় যে তাকে প্রশ্রয় দেওয়া বা তার কাছে হেরে যাওয়া, তা কিন্তু নয়। এতে বরং আপনার লাভের পরিমাণই বেশি। একটি শাশ্বত মানব জীবনের উদাহরণ আপনি তার সামনে এবং সমাজের সামনে স্থাপন করতে পারবেন।
** ''এবার ভিন্ন কিছু হোক'', ১৬৩ পৃষ্ঠা (হৃদয়ের জানালাটা খুলে দাও না)।
* জীবনের প্রতিটি অর্জন আর ব্যর্থতাকে যদি আমরা নিক্তিতে মেপে বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে সবকিছুর মূলে এক ধ্রুব সত্য হিসেবে জড়িয়ে আছে সময়। সময় যেমন মানুষকে তিলে তিলে গড়ে তুলতে পারে, তেমনি মুহূর্তেই সব ভেঙে চুরমার করে দিতেও সক্ষম। মূলত আমরা প্রতিনিয়ত এক অদৃশ্য ক্ষতির গহ্বরে নিমজ্জিত আছি—যা কেবল সময়ের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই উপলব্ধি করা সম্ভব। সময় এমন এক অলৌকিক স্পর্শ, যা হয় আমাদের জীবনকে পূর্ণতায় ভরিয়ে দেয়, নয়তো অপূর্ণতার গ্লানিতে পর্যবসিত করে।
** ''এবার ভিন্ন কিছু হোক'', ১৬৯ পৃষ্ঠা (জীবনের কম্পাস)।
* সত্যিকারের বীরপুরুষ তো তারাই, যারা ক্ষমতা হাতে পেয়ে বিনয়ী হয়, প্রতিশোধের সমস্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যারা ক্ষমতার চাদরে মুড়িয়ে নেয় জীবন – তারাই শক্তিশালী। কদর্যতার বিপরীতে, হিংসা আর বিদ্বেষের দুনিয়ায় আপনার এহেন [[মহত্ত্ব|মহানুভবতা]] সমাজের অনেকের জন্য হয়ে উঠবে অনুপ্রেরণা!
** ''এবার ভিন্ন কিছু হোক'', ১৬৩ পৃষ্ঠা (হৃদয়ের জানালা টা খুলে দাও না)।
* [[:w:নামাজ|সালাত]] হলো জীবনের এক অভেদ্য বর্ম। যতক্ষণ এই আধ্যাত্মিক সুরক্ষা-বলয় আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকে, ততক্ষণ বাইরের কোনো অশুভ শক্তি আমাদের আত্মাকে আহত করতে পারে না। রিপুর যাবতীয় প্ররোচনা এই বর্মে লেগে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সালাত যখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়, তখন কোনো মন্দ চিন্তা বা নেতিবাচক ভাবনা হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। যদি কখনো মনের অজান্তে কোনো অশুভ চিন্তা উঁকিও দেয়, তবে সালাতের প্রভাবে সৃষ্ট অনুশোচনা তৎক্ষণাৎ সেই ভাবনাকে চেতনার জগত থেকে সমূলে মুছে ফেলার প্রবল শক্তি জোগায়।
** ''এবার ভিন্ন কিছু হোক'', ২০ পৃষ্ঠা (আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই)।
* আত্মমুগ্ধতার মোহে পড়ে স্বয়ং [[:w:ইবলিশ|ইবলিশও]] তার শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়েছিল। নিজের গাঠনিক উপাদানের বড়াই করে সে মাটির তৈরি [[:w:আদম|আদমকে]] তুচ্ছ ভেবেছিল; অথচ শ্রেষ্ঠত্বের প্রকৃত মাপকাঠি নির্ধারণের একক ক্ষমতা কেবল মহান [[:w:আল্লাহ|আল্লাহর]]। কে শ্রেষ্ঠ হবে—আদম না ইবলিশ—তা বিচারের চূড়ান্ত অধিকার অন্য কারো নয়, বরং একমাত্র স্রষ্টার হাতেই ন্যস্ত।
** ''এবার ভিন্ন কিছু হোক'', ৬৫পৃষ্ঠা (পতনের আওয়াজ পাওয়া যায়)।
* জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না—এই প্রচলিত ধারণাটি পুরোপুরি সত্য নয়। সময়ের স্রোত বহমান এবং একে রুদ্ধ করা অসম্ভব বলে হয়তো একজনের অনুপস্থিতিতে অন্যজনের দিনগুলো কেটে যায়; তবে সেই টিকে থাকাকে ঠিক কতটুকু 'জীবন' বলা যায়, তা বড় এক প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়।
** ''হায়াতের দিন ফুরোলে'', ১২৩ পৃষ্ঠা (চাঁদের জীবন)।
* আমি জানি — [[:w:জান্নাত|জান্নাত]] লাভ এবং প্রিয় [[:w:মুহাম্মাদ|নবীজির]] সাহচর্য পাওয়া প্রতিটি বিশ্বাসী হৃদয়ের পরম আকাঙ্ক্ষা। যারা অন্তরে জান্নাতের স্বপ্ন লালন করেন এবং নবীজির সুপারিশ লাভের তীব্র বাসনায় প্রার্থনা করেন, তাদের স্মরণে রাখা উচিত [[:w:মুহাম্মাদ|রাসুলুল্লাহ (সা.)]] এর সেই অমিয় উপদেশ—'অধিক [[:w:সিজদা|সিজদাহর]] মাধ্যমে আমাকে সহায়তা করো।' অর্থাৎ, নবীজির একান্ত সান্নিধ্য পেতে হলে সিজদাহর মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে নিমজ্জিত করা অপরিহার্য।
** ''হায়াতের দিন ফুরোলে'', ১৪৬ পৃষ্ঠা (বাড়তি দুটো সিজদাহ)।
* একবার ভাবুন তো—[[:w:ফুল|ফুলের]] মতো পবিত্র ও নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও শেষ রাতের আকুতিতে যদি প্রিয় নবীজি (সা.)-এর চরণে ক্লান্তি নামে, তবে পাপে জর্জরিত আমাদের এই অবাধ্য কেন প্রভুর সামনে দাঁড়াতে কুণ্ঠা পায়? আমরা জীবনের অমূল্য প্রহরগুলো অবহেলা আর ঘুমের ঘোরে বিলীন করছি, অথচ শেষ রজনীর সেই অমিয় সুধাকে আপন করে নিতে পারছি না। ইবাদতবিমুখ এই [[মরীচিকা]]-তুল্য জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য তবে কোন শূন্যতায়—সেটিই আজ বিশাল এক হাহাকার।
** ''হায়াতের দিন ফুরোলে'', ১৭৫ পৃষ্ঠা (চোখ ঘুম ঘুম রাত্রি নিঝুম নিঝুম নিরালায়)।
* আমাদের জীবন এক সংক্ষিপ্ত সফরের নাম। এই সফরের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর কোনো অংশ যদি অনাদর পায় তবে জীবনভর আফসোস করতে হয়! অল্পসংখ্যক মানুষই সুযোগ পায় পুনরায় সেটাকে কাজে লাগাতে।
** ''হায়াতের দিন ফুরোলে'', ৪০ পৃষ্ঠা (জীবনের ৫ সুতো)।
* দুনিয়ার দুঃখ কষ্ট আর যন্ত্রণাগুলো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলোকে পাশ কাটানো যায় না। ধৈর্য, [[:w:তাওয়াক্কুল|তাওয়াক্কুল]] আর [[:w:ঈমান|ইমানের]] শক্তি দিয়ে এগুলো মোকাবিলা করতে হয়। ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত—দুঃখের ধরণ যেমনই হোক না কেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই এই যাতনা থেকে মুক্তির একমাত্র উৎস। যেকোনো শোক বা কষ্ট উপশমের চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল তাঁরই হাতে ন্যস্ত।
** ''হায়াতের দিন ফুরোলে'', ১৯ পৃষ্ঠা (দুঃখ - প্লাবন দিনে)।
* জীবনে এমন কিছু মায়াবী মুহূর্ত আসে, যার প্রতিটি পলক সযতনে অনুভব করতে হয়। রাসূল আরাবির (সা.) পুণ্যভূমিতে পৌঁছে আমি এক ঘোরলাগা আবেশে থমকে গেলাম। সম্পূর্ণ নতুন দেশ হওয়া সত্ত্বেও এই পবিত্র মাটি যেন আমায় পরম মমতায় আহ্বান জানাচ্ছিল। চারদিকে [[:w:আযান|আযানের]] সুমধুর সুর আর আসমানের তারাদের ঝলমলে উপস্থিতি মিলে এক স্বর্গীয় আমেজ তৈরি করেছিল।
** ''[[:w:উমরা|উমরা]] সফরের গল্প'', ২৫ পৃষ্ঠা (রাসুল আরাবির দেশে)।
* [[:w:উমর ইবনুল খাত্তাব|উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে]] কে আমার অতি-মানব মনে হয়! কী দুর্দান্ত তাঁর প্রত্যাবর্তন! খোলা [[:w:তরবারি|তলোয়ার]] হাতে বের হয়েছিলেন নবীজিকে হত্যা করবেন বলে। কিন্তু দিনশেষে হত্যা করে আসলেন নিজের অহংকার, অহমিকা এবং [[:w:শিরক (ইসলাম)|শিরকের]] অমার্জনীয় অপরাধকে!
** ''উমরাহ সফরের গল্প'', ১৩ পৃষ্ঠা (আমি যদি আরব হতাম)।
* পরিচিতজনদের কাছে আমি প্রায়ই বলি, সেই [[:w:রমজান|রামাদান]] মাসটা (যে রামাদানে আরিফ আজাদ [[:w:উমরা|উমরাহ]] সফর করেছিলেন) পেয়ে আমার মনে হয়েছিল— 'এই বুঝি আমার জীবনে প্রথম রামাদান এসেছে!' তার আগে, এত গভীরভাবে, এত অনুরাগ আর আবেগের সাথে রামাদান আমাকে স্পর্শ করে যায়নি।
** ''উমরাহ সফরের গল্প'', ১০ পৃষ্ঠা (লেখকের কথা)।
* এক কদম, দুই কদম, তিন কদম—বাবুস সালামের সম্মুখভাগে এসে দাঁড়াতেই চোখে পড়ল সেটা। সেই অতিআশ্চর্য, সেই অতি কাঙ্ক্ষিত, স্বপ্নের প্রতিটা প্রহরে, প্রতিটা আকুল মুনাজাতে যাকে দেখার বাসনা জপে গিয়েছে আমার তনুমন। কালো গিলাফে ঢেকে থাকা [[:w:কাবা|বাইতুল্লাহ]]। আহা, আমার দু'চোখ যেন ধন্য হলো। কোন উজানের ঢল যে আছড়ে পড়ল চোখের তারায় বলতে পারিনা, বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়লাম মুহূর্তেই। [[:w:হৃদপিণ্ড|হৃদপিণ্ডের]] এত তড়িৎ চঞ্চলতা, এত দ্রুতবেগে নিঃশ্বাসের ওঠানামা আগে কখনো বুঝতে পারিনি। এত সৌভাগ্য সত্যিই আমার কপালে ছিল! আমি কী করে এই মুহূর্তকে আটকে রাখব? কী উপায়ে থমকে দেব ঘড়ির কাঁটা? মনে হচ্ছিল—যদি স্থির হয়ে যেত সময়, যদি আর না ঘুরত ঘড়ির কাঁটা, বাকি জীবন যদি আমি এভাবেই তাকিয়ে থাকতে পারতাম আল্লাহর ঘরের দিকে, আহা, সে কী মহা-সৌভাগ্য হতো!
** ''উমরাহ সফরের গল্প'', ১২৭ পৃষ্ঠা (স্বপ্ন যখন পৌঁছে গেল মঞ্জিলে)।
* রোগ হলে আমরা [[:w:চিকিৎসক|ডাক্তারের]] কাছে ছুটি, পরীক্ষায় ভালো ফল লাভরে উপায় জানতে ধরনা দিই যোগ্য [[:w:শিক্ষক|শিক্ষকের]] কাছে। বিষিয়ে ওঠা জীবনের যাতনা থেকে মুক্তি পেতে আমরা পাগলের মতন খুঁজে নিই পছন্দের ব্যক্তি, বস্তু অথবা মাধ্যম, যা-কিছু আঁকড়ে ধরলে আমরা বেঁচে থাকার প্রেরণা পেতে পারি; তবে যদি প্রশ্ন করি- [[:w:নফস|নফসের]] তাড়না থেকে বাঁচতে কখনো কি আমাদের মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে? যে কুপ্রবৃত্তির বলয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে সেঁটে আছে জীবন, সেই বলয় ভাঙতে কখনো কি হৃদয়ে দানা বেঁধেছে একটুখানি সাহস?
** ''বেলা ফুরাবার আগে'', ১৮ পৃষ্ঠা, (আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই)।
* [[:w:মা|মায়েরা]] দশটা কথা বললে আমরা যারা একটা কথাও শুনি না, বিরক্তিভরে এড়িয়ে যাই, আমাদের মায়েরা যদি আমাদের জন্য কোনো বদ-দুআ করেন,তাহলে ভাবুন তো, জীবনে কী ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হবে আমাদের? মায়ের অবাধ্য যারা, তারা সত্যিকার অর্থেই হতভাগা। তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায় শান্তি। জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে তারা নিদারুণ ব্যর্থ হবেই। আর [[:w:আখিরাত|আখিরাতে]] চূড়ান্ত ব্যর্থতা তো আছেই। সুতরাং,আমাদের বারংবার ব্যর্থতার কারণ আমাদের নিরন্তর হেরে যাওয়ার সম্ভাব্য সূত্রটা সম্ভবত এখানেই লুকোনো। ভেবে দেখা উচিত, আমাদের জীবনে আমাদের মায়েরা কোন অবস্থানে আছেন।
** ''বেলা ফুরাবার আগে'', ২৭ পৃষ্ঠা, (আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই)।
* জীবনের গোলকধাঁধায় আমরা মাঝেমধ্যেই পথ হারাই। মাঝে মাঝে ভীষণ শূন্যতাবোধে যখন হাহাকার করে ওঠে মন, যখন জীবন খুঁজে পায় না জীবনের মানে, তখন জীবন থেকে এক টুকরো ছুটি নিয়ে আমরা নিজেকে খুঁজতে বসি। ভাবতে বসি—কোথায় গিয়ে ঠিক খেই হারাচ্ছে সব? [[:w:হুমায়ূন আহমেদ|হুমায়ূন আহমেদের]] ভাষায়- 'আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই।' সেই আপনাকে,অর্থাৎ নিজেকে খুঁজে পেতে হলে, খুঁজে পেতে হলে জীবনের সত্যিকার মানে, আমাদের ফিরতে হবে আমাদের রবের দেখানো পথে। সেই পথে, যে পথ গিয়ে মিশেছে অনন্ত অসীমে।
** ''বেলা ফুরাবার আগে'', ৩০ পৃষ্ঠা, (আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই)।
* আপনি হয়তো কোনো একটা সংগ্রামের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। হতে পারে সেই সংগ্রাম ভীষণ দুঃসহ! আপনি হয়তো প্রিয় কোনো মানুষকে জীবন থেকে হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণায় দগ্ধ। কোনো অপ্রিয় বিচ্ছেদ-ব্যথায় হয়তো আপনি ভীষণ নাজেহাল। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সমস্যা হয়তো আপনাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। হতে পারে জীবন আপনার ছক অনুযায়ী চলছেই না।<br>জীবনের এইসব সংগ্রামে আপনি ক্লান্ত হতে পারেন মাঝে মাঝে, তবে হতোদ্যম হবেন না। বিচ্ছেদ-ব্যথায় আপনি কাঁদতেও পারেন,যেভাবে [[:w:ইউসুফ|ইউসুফ আলাইহিস সালামকে]] হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখের জ্যোতি হারিয়েছিলেন [[:w:ইয়াকুব|ইয়াকুব আলাইহিস সালাম]]। কাঁদুন, অশ্রু ঝরান,ব্যাকুল হোন; কিন্তু কখনোই আল্লাহকে অভিযুক্ত করবেন না। ধৈর্য রাখুন। আপনার জীবনের যে অংশটা এখনো বাকি, যে অংশে আপনার জন্যকী অপেক্ষা করে আছে, তা আপনি জানেন না-তার জন্য আল্লাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন না!
** ''এবার ভিন্ন কিছু হোক'', ৪০ পৃষ্ঠা, (যে সুতোয় বাঁধা জীবন)।
* জীবনের সাময়িক চিত্রনাট্যে বিলীন হয়ে যাবেন না। যে সুতোয় আল্লাহ সুবহানাহ্ ওয়া তাআলা আপনার জীবনকে বাঁধতে চান, তাকে ধৈর্যের সাথে আলিঙ্গন করুন। বিশ্বাস করুন, রাত পোহালে একটা সুন্দর সকাল আপনার জীবনটাকেও রাঙিয়ে যাবে।
** ''এবার ভিন্ন কিছু হোক'', ৪১ পৃষ্ঠা, (যে সুতোয় বাঁধা জীবন)।
* আমাদের আরো একটা ব্যামো আছে। আমরা যখন [[:w:পর্দা প্রথা|পর্দার]] কথা বলি, পর্দা সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা করি, তখন আমাদের মানসপটে জ্বলজ্বল করে একটা বোরকা পরা নারীমূর্তির ছবি ভেসে উঠে। আমরা, পুরুষেরা ধরেই নিয়েছি, পর্দাটা কেবল নারীদের জন্যই। পুরুষের আবার পর্দা কী? দুঃখের ব্যাপার হলো- পর্দা বলতে আমরা কেবল বোরকা-[[:w:হিজাব|হিজাবকেই]] ভাবতে শিখেছি। দৃষ্টিরও যে পর্দা আছে, শ্রবণেরও যে পর্দা থাকে, তা কি আমরা কখনো জানতে চেয়েছি? কুরআনে সুরা নুরে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পর্দার বিধান নাযিল করেছেন। মজার ব্যাপার হলো-[[:w:সূরা নূর|সুরা নুরের]] পর্দা-সংক্রান্ত প্রথম আয়াতটাই পুরুষদের উদ্দেশে করে বলা এবং ওই আয়াতে প্রধানত পুরুষদেরকে দৃষ্টির ও লজ্জাস্থানের হিফাযত করতেই বলা হয়েছে।
** ''এবার ভিন্ন কিছু হোক'', ৫০ পৃষ্ঠা, (গাহি নতুনের গান)।
* মাঝে মাঝে গিয়ে যখন জানালার ধারে গিয়ে আকাশ দেখো, রোমন্থন করি নিজের অতীত—তখন ভারী আফসোস লাগে! রেখে আসা সময়গুলোর জন্য বড্ড মায়া হয়! আরও কত যত্নে, কত পরিপাটি করে কাটানো যেত সময়গুলো! কত কী করা যেত, শেখা যেত, ভাবা যেত! আমি ভাবি—এই যে সময়গুলো এমনিভাবে কেটে নিয়মতান্ত্রিকতার বেড়াজালে—আরামের ঘুম আর [[:w:সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম|সোশ্যাল মিডিয়া]] স্ক্রলিংয়ে। দিনগুলোও তেমনই—কাজ আর দৌড়ঝাঁপ! আমরা খাই-দাই আর ঘুমাই। সবকিছুই করি কিন্তু ভুলে থাকি জীবনের পরম উদ্দেশ্যকে।
** ''হায়াতের দিন ফুরোলে'', ৯৩ পৃষ্ঠা (হায়াতের দিন ফুরোলে)।
* [[:w:প্রাচীন রোম|প্রাচীন রোমে]] যখন [[:w:রোমান সেনাবাহিনী|রোমান সেনাবাহিনী]] যুদ্ধজয় করে ফিরত, তখন একদল লোক বিজয়ীদের কানে কানে বলত—'''Momento Mori'''।<br>অর্থাৎ—‘মনে রেখো, একদিন কিন্তু তুমিও মরবে।’ ‘আমরা অমর’—যুদ্ধজয়ের ফলে সমান সৈন্যবাহিনীর মনে যেন এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে না যায় সে কারণে এই ব্যবস্থা। যাতে তাদের পা মাটিতে থাকে, অহংকার আর অহমিকায় তারা যেন জীবনের পরম সত্য ‘মৃত্যু’কে ভুলে না যায়।
** ''হায়াতের দিন ফুরোলে'', ৯৪ পৃষ্ঠা (হায়াতের দিন ফুরোলে)।
== তাঁর সম্পর্কে উক্তি ==
* ‘আরিফ আজাদের বই এতো চলে কেন? আত্ন-উন্নয়নমূলক বই এতো বিক্রি হচ্ছে কেন? এসব নিয়ে বেশ ক্ষুদ্ধ কিছু মানুষ।আমার কথা হচ্ছে, আপনার সমস্যা কি? আপনার টাকা দিয়ে কিনে তারা এসব বই? আর 'আপনার রুচিই হলো সেরা রুচি' এ সনদ আপনাকে কে দিল? আপনার বই কেউ কিনেনা বা আপনার পছন্দমতো বই কেনা হয়না বলে এর দায় আরিফ আজাদদের ওপর কেন? স্টপ দিস ননসেন্স!’
*:— '''''[[:w:আসিফ নজরুল|আসিফ নজরুল]]''''', [[:w:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়|ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের]] [[:w:আইন|আইন বিভাগের]] অধ্যাপক এবং [[:w:মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার|অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের]] সাবেক উপদেষ্টা। [https://www.jugantor.com/social-media/281508 আসিফ নজরুলের [[:w:ফেসবুক|ফেসবুক]] স্ট্যাটাস নিয়ে যুগান্তরের প্রতিবেদন]
== বহিঃসংযোগ ==
* [https://bn.wikipedia.org/wiki/প্যারাডক্সিক্যাল_সাজিদ উইকিপিডিয়াতে আরিফ আজাদের বই সম্পর্কিত নিবন্ধ]
* [https://www.goodreads.com/author/show/16462503.Arif_Azad গুডরিডসে আরিফ আজাদের বই]
* [https://arifazad.com/ দাপ্তরিক ওয়েবসাইট]
* [https://www.facebook.com/arifazad.bd/ ফেসবুকে আরিফ আজাদ]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৯০-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:সাহিত্যিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের লেখক]]
0werqoywbp02euz07spdtvceyx27fs1
স্ট্যানলি বল্ডউইন
0
12161
83226
74438
2026-05-01T14:06:38Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
83226
wikitext
text/x-wiki
[[File:Stanley Baldwin ggbain.35233 (cropped).jpg |thumb|right|আমাদের নিজেদের জনগণের প্রতি সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো সত্য বলতে ভয় পাওয়া … পুরোনো সীমানাগুলো আর নেই।]]
'''[[w:স্ট্যানলি বল্ডউইন|স্ট্যানলি বল্ডউইন, বিউডলির ১ম আর্ল বল্ডউইন]]''' কেজি পিসি (৩ আগস্ট ১৮৬৭ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৭) তিনটি ভিন্ন মেয়াদে (১৯২৩–২৪, ১৯২৪–২৯ এবং ১৯৩৫–৩৭) [[w:যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী|যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী]] ছিলেন।
==উক্তি==
===১৯১০-এর দশক===
[[Image:Stanley Baldwin.JPG|thumb|আমার মধ্যে একটা ধারণা গেঁথে গেছে যে যুদ্ধের সময় সবাই যার যা খুশি তাই আদায় করতে ব্যস্ত এবং এটা আমাকে বিরক্ত করে।]]
*আমার মধ্যে একটা ধারণা গেঁথে গেছে যে যুদ্ধের সময় সবাই যার যা খুশি তাই আদায় করতে ব্যস্ত এবং এটা আমাকে বিরক্ত করে।
**লেডি ডিকিনসনকে লেখা চিঠি (২৮ নভেম্বর ১৯১৭), রবার্ট রোডস জেমস (সম্পাদিত), ''মেমোয়ার্স অব অ্যা কনজারভেটিভ: জে. সি. সি. ডেভিডসনস মেমোয়ার্স অ্যান্ড পেপারস, ১৯১০-১৯৩৭'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৭৯-এ উদ্ধৃত।
* '''অনেক শক্ত মুখের মানুষ, যাদের দেখে মনে হয় তারা যুদ্ধ থেকে বেশ ভালোই ফায়দা লুটেছে।'''
** ১৯১৮ সালে নির্বাচিত নতুন এমপিদের নিয়ে; [[জন মেনার্ড কেইনস]] তার ''ইকোনমিক কনসিকোয়েন্সেস অফ দ্য পিস'', অধ্যায় ৫-এ উদ্ধৃত করেছেন।
*আমার আত্মার কী হবে? ওটা ঠিক আছে। এমন সেবার মূল কথা হলো নিঃস্বার্থতা। আমার প্রথম চিন্তা হতে হবে অন্যদের নিয়ে, রাজমুকুট ও জনগণের সম্পর্ক নিয়ে: টাকা বা আমার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার কোনো সুযোগ থাকবে না।
**সরকারি দায়িত্ব গ্রহণের কথা ভেবে জে. সি. সি. ডেভিডসনকে লেখা চিঠি (২৮ জানুয়ারি ১৯১৯), রবার্ট রোডস জেমস (সম্পাদিত), ''মেমোয়ার্স অব অ্যা কনজারভেটিভ: জে. সি. সি. ডেভিডসনস মেমোয়ার্স অ্যান্ড পেপারস, ১৯১০-১৯৩৭'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৯৫-এ উদ্ধৃত।
===১৯২০-এর দশক===
====১৯২২====
*[[w:যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী|প্রধানমন্ত্রীকে]] আজ সকালে ''[[w:দ্য টাইমস|দ্য টাইমসে]]'' একজন বিশিষ্ট অভিজাতের ভাষায় একটি "জীবন্ত তার" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। লর্ড চ্যান্সেলর তাঁকে আমার এবং অন্যদের কাছে আরও স্থির ভাষায় একটি গতিশীল শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমি সেই শব্দগুলো মেনে নিচ্ছি। তিনি একটি গতিশীল শক্তি। আমাদের মতে, ঠিক সেই কারণেই আমাদের সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে। '''একটি গতিশীল শক্তি অত্যন্ত ভয়ংকর একটি ব্যাপার; এটি আপনাকে পিষে ফেলতে পারে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে এটি সবসময় সঠিক।''' সেই গতিশীল শক্তি এবং তার অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কারণেই লিবারেল পার্টি (তিনি আগে যেটির সদস্য ছিলেন) টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে সময়ের সাথে সাথে আমাদের দলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে।
**[[ডেভিড লয়েড জর্জ|ডেভিড লয়েড জর্জের]] ওপর কার্লটন ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (১৯ অক্টোবর ১৯২২), ''দ্য টাইমস''-এ উদ্ধৃত (২০ অক্টোবর ১৯২২), পৃষ্ঠা ৮।
====১৯২৩====
*আমি নিজে সেই কিছুটা দুর্বল প্রকৃতির মানুষ, যে সবসময় মতানৈক্যের চেয়ে একমত হওয়াকে বেশি পছন্দ করে... যখন [[w:লেবার পার্টি (যুক্তরাজ্য)|লেবার পার্টি]] এই বেঞ্চগুলোতে বসবে, তখন দেশ পরিচালনার প্রচেষ্টায় আমরা সবাই তাদের মঙ্গল কামনা করব। তবে আমি একটি বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত যে তারা সফল হোক বা ব্যর্থ হোক, এই দেশে কখনোই কোনো [[কমিউনিজম|কমিউনিস্ট]] সরকার আসবে না। এর কারণ হলো, '''[[ঘৃণা|ঘৃণার]] ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো গসপেল কখনোই আমাদের জনগণের''', [[w:গ্রেট ব্রিটেন|গ্রেট ব্রিটেনের]] জনগণের '''হৃদয় দখল করতে পারবে না।''' রক্তের সাগর বইয়ে দিয়ে বিশ্বকে নিরাময় করার চেষ্টা করা অর্থহীন। ফরাসি ভাষার পাঁচ মাত্রার শব্দ "[[সর্বহারা|প্রোলেতারিয়েত]]" (সর্বহারা) বারবার উচ্চারণ করে বিশ্বকে নিরাময় করার চেষ্টা করাও অর্থহীন। [[ইংরেজি ভাষা]] চিন্তাধারার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ভাষা। ইংরেজি ভাষা একাক্ষর শব্দের দিক থেকেও বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ভাষা। একাক্ষরের চারটি শব্দই এই দেশের এবং সমগ্র বিশ্বের মুক্তির চাবিকাঠি ধারণ করে, আর সেগুলো হলো "[[বিশ্বাস]]," "[[আশা]]," "[[ভালোবাসা]]," এবং "[[কাজ]]।" '''আজ এই দেশে এমন কোনো সরকার, যাদের জনগণের ওপর বিশ্বাস নেই, ভবিষ্যতের প্রতি আশা নেই, সহমানুষের প্রতি ভালোবাসা নেই এবং যারা কাজ, কাজ এবং শুধু কাজ করবে না, তারা কখনোই এই দেশকে ভালো দিন ও ভালো সময়ের দিকে নিয়ে যেতে পারবে না, বা কখনোই [[ইউরোপ]] বা বিশ্বকে পার করতে পারবে না।'''
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া ভাষণ (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৫৯-৬০-এ উদ্ধৃত।
*...আজ যারা আন্তর্জাতিক [[শান্তিবাদ|শান্তিবাদের]] সপক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার, তারাই আবার সবচেয়ে বেশি চিৎকার করে বলছে যে শ্রেণিসংগ্রাম ছাড়া সমাজকে বাঁচানোর আর কোনো পথ নেই। এক শতাব্দী বা তারও বেশি সময় আগে [[দর্শন|দার্শনিক]] [[ইমানুয়েল কান্ট|কান্ট]] একটি কথা বলেছিলেন, যার চেয়ে সত্য কথা আর কেউ বলেননি। তিনি বলেছিলেন, আমরা সভ্যতার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যা ক্লান্তিকর, কিন্তু নৈতিকতায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। '''আমরা সবাই বিশ্বকে নৈতিকতা শেখাতে চাই।''' ...এর পাশাপাশি আমাদের আরও একটি কথা মনে রাখতে হবে। যুদ্ধের পর যুদ্ধক্লান্তিকে মানুষের জন্মগত সদিচ্ছার আধিক্য বলে ভুল করা ঠিক হবে না। আমরা লক্ষ্য না করে পারছি না যে শান্তির কয়েক বছর পর ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় চরম জাতীয়তাবাদের একটি শক্তিশালী স্থানীয় অনুভূতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এটি নিজে থেকে খারাপ কিছু না হলেও, সংশোধন করা না হলে ইউরোপের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য ভবিষ্যতে এটি চরম বিপদের বীজ বপন করতে পারে।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1923/jul/23/military-expenditure-and-disarmament ভাষণ] (২৩ জুলাই ১৯২৩)।
*[[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|গত যুদ্ধের]] কথা ভেবে আমি প্রায়ই ভেবেছি... যে এটি সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, এই প্রজন্ম যে সভ্যতার ওপর হাঁটছে তার স্তরটি কতটা পাতলা। এর উপলব্ধি এখানকার আমাদের বেশিরভাগের কাছেই এক ভয়ংকর আঘাত হিসেবে এসেছে। কিন্তু শুধু তাই নয়। [[w:হাউস অব কমন্স|এই হাউসে]] এমন কোনো মানুষ নেই যার প্রথম বিমান হামলা ও প্রথম বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহারের কথার পাশাপাশি এই দেশ থেকে যে হাহাকার উঠেছিল তার কথা মনে নেই। আমরা জানি কীভাবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে শত্রুর ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে আমরা সবাই এই দুটি উপায়ই ব্যবহার করছিলাম। আমরা বুঝতে পারি যে মানুষের পিঠ যখন দেওয়ালে ঠেকে যায়, তখন আত্মরক্ষার জন্য তারা যেকোনো পথই বেছে নেবে। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউরোপজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে এক অস্বস্তিকর অনুভূতি রয়ে গিয়েছিল যে, যুদ্ধের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সভ্যতা বলতে যা বোঝায় সে সম্পর্কে আমাদের সবার দৃষ্টিভঙ্গিই নিচে নেমে গেছে। আমরা এই ভেবে শিউরে উঠছিলাম যে, বিজ্ঞানের আরও আবিষ্কারের ফলে ভবিষ্যতের যুদ্ধগুলো মানবজাতির জন্য আরও দ্রুত পতনের পথ তৈরি করতে পারে। এই হাউসের প্রতিটি কোণায় এই অনুভূতি জেগেছে যে, যদি আমাদের সভ্যতাকে এর বর্তমান স্তরেও বাঁচাতে হয়, তবে সকল জাতির সকল মানুষের উচিত একে অপরকে সহযোগিতা করা। আমরা যেন সবাই মিলে এক খাদে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে, এই সহযোগিতাকে ভবিষ্যৎ উন্নতির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1923/jul/23/military-expenditure-and-disarmament ভাষণ] (২৩ জুলাই ১৯২৩)।
*আজকাল অনেকেই খুব সহজেই বলে দেন যে এই দেশের উচিত নিজেকে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে [[যুক্তরাজ্যের ইতিহাস|আমাদের দ্বীপের গল্প]] ইতোমধ্যেই বলা হয়ে গেছে। [[উড়োজাহাজ|উড়োজাহাজের]] আগমনের সাথে সাথে আমরা আর কোনো দ্বীপ নই। আমরা পছন্দ করি বা না করি, আমরা অবিচ্ছেদ্যভাবে ইউরোপের সাথে আবদ্ধ। ইউরোপ এবং আমরা যে শান্তিতে সমানভাবে বিশ্বাস করি, সেই শান্তি মহাদেশটিতে ফিরিয়ে আনতে আমাদের সর্বোত্তম চেষ্টা করতে হবে এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1923/jul/23/military-expenditure-and-disarmament ভাষণ] (২৩ জুলাই ১৯২৩)।
*'''আমার মতে, এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় কাজ হলো [[গণতন্ত্র|গণতন্ত্রকে]] রক্ষা করা, এটি সংরক্ষণ করা এবং একে অনুপ্রাণিত করা।''' গণতন্ত্রের আদর্শটি খুব সুন্দর, কিন্তু কোনো আদর্শই নিজে থেকে চলতে পারে না... জনগণের সমস্ত সরকারকে একটি চাকার পরিধির মতো উপস্থাপন করা যেতে পারে। সরকার সবচেয়ে সম্পূর্ণ এবং নিরঙ্কুশ স্বৈরতন্ত্র থেকে ধাপে ধাপে বিশৃঙ্খলার দিকে যায়। ইতিহাসে এমন অনেক সরকারের উদাহরণ পাওয়া যায় যারা সেই পরিধির প্রতিটি পর্যায় অতিক্রম করেছে... এখন আমরা সেই চাকার এমন এক বিন্দুতে আছি, এবং সেই বিন্দুটি হলো প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারসহ গণতন্ত্র। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, স্বাধীনতার মূল্য হলো অবিরাম সতর্কতা। আমি আরও যোগ করতে পারি, অবিরাম জ্ঞান, অবিরাম সহানুভূতি এবং অবিরাম বোঝাপড়া। এই প্রজন্মে আমাদের কর্তব্য হলো, রাষ্ট্রকে যে বিন্দুতে আমরা নিয়ে এসেছি সেখানে স্থিতিশীল রাখা। চাকার এক দিক বা অন্য দিকে পিছলে যাওয়ার ঝুঁকিগুলো আমাদের খুব ভালো করেই জানা আছে। এক দিক আমাদের স্বাধীনতা হরণের দিকে নিয়ে যায়, অন্য দিকটি এমন এক দিকে যায় যেখানে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত হয়।
**ফিলিপ স্কট কলেজে দেওয়া ভাষণ (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৪৯-১৫০-এ উদ্ধৃত।
*এখন, নিশ্চিতভাবেই, যখন আমরা [[নাগরিকত্ব|নাগরিকত্বের]] উদ্দেশ্যে নিজেদের শিক্ষিত করতে চাই... আপনি যদি মন থেকে কপটতা দূর করতে পারেন এবং ভণ্ডামি শনাক্ত করতে পারেন, আর সেটা যে রূপেই থাকুক না কেন, তাহলে আমি মনে করি, একটি গণতন্ত্র যা টিকে থাকার আশা করতে পারে তার প্রতিটি নাগরিকের যে শিক্ষা থাকা উচিত, তার দিকে আপনি একটি দীর্ঘ পদক্ষেপ এগিয়েছেন। আমি মনে করি আমরা সবাই আজ বুঝতে পারছি যে কোনো সভ্য সমাজই অনিবার্যভাবে এবং কোনো রহস্যময় ভাগ্যের কারণে উন্নতির দিকে যেতে বাধ্য নয়। সভ্যতায় বাধা বলে কিছু আছে, পিছিয়ে পড়া বলেও কিছু আছে। একটি সভ্য সমাজের নিছক অস্তিত্বই তার ধারাবাহিকতা বা তার উন্নতির কোনো গ্যারান্টি নয়। অন্য ভাবে বললে, আমরা ইতোমধ্যেই যে সভ্যতা অর্জন করেছি তার বিশ্বস্ত রক্ষক না হলে, অসীম পরিশ্রমে এই সময় পর্যন্ত আমাদের করা পুরো উন্নতি ধীরে ধীরে আরও পেছনে পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আমরা নেব।
**ফিলিপ স্কট কলেজে দেওয়া ভাষণ (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের এই দেশ মানব স্বাধীনতা এবং মানব প্রগতির জন্য শুরু হওয়া সবচেয়ে বড় কিছু আন্দোলনের জন্মস্থান এবং আবাসস্থল। আমাদের জাতির শক্তি এখনও নিঃশেষ হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা গ্রেট ব্রিটেনে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগেছি, নিজেদের ওপর ভরসা করতে ভয় পেয়েছি। এর ফল হয়েছে এই যে, যারা আমাদের দেশের উন্নতির জন্য আগ্রহী ছিলেন, তারা [[ভাইমার প্রজাতন্ত্র|জার্মান সমাজতন্ত্র]], [[মার্কসবাদ-লেনিনবাদ|রুশ কমিউনিজম]] এবং [[ফ্রান্স|ফরাসি]] সিন্ডিক্যালিজমের ফাঁকা বুলিতে নিজেদের পেট ভরিয়ে নিজেদের এবং তাদের দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি। '''এর বদলে তাদের উচিত ছিল তাদের নিজেদের মানুষের হৃদয়ের গভীরে তাকানো, সেই কাণ্ডজ্ঞান এবং রাজনৈতিক বোধের ওপর নির্ভর করা যা আমাদের জাতিকে কখনোই ব্যর্থ করেনি।''' ... ব্যর্থ মহাদেশীয় তাত্ত্বিকদের লেজ ধরে চলার বদলে, সময়ের শুরু থেকে তার যেমনটা করার কথা ছিল, সেভাবে সে আবারও বিশ্বকে পথ দেখাতে প্রস্তুত। অন্যান্য জাতি, যারা এখনও প্রকৃত রাজনৈতিক স্বাধীনতা কী তা শেখেনি, তাদের দেখাতে প্রস্তুত যে রাজনৈতিক স্বাধীনতার জননী এখনও তার সন্তানদের এবং তার সন্তানদের সন্তানদের পথ দেখাতে সক্ষম।
**ফিলিপ স্কট কলেজে দেওয়া ভাষণ (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৫৩-১৫৪-এ উদ্ধৃত।
*দেশ ও বিদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো শান্তি, অস্ত্রের যুদ্ধ থেকে শান্তি এবং আত্মার শান্তি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি যত দিনই থাকি না কেন, এই বিষয়গুলোর জন্যই আমি লড়তে চেয়েছি। আর সেটি এই উদ্দেশ্যেই:'''সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং সবার আগে শান্তির উদ্দেশ্য।'''
**ফিলিপ স্কট কলেজে দেওয়া ভাষণ (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৫৭-এ উদ্ধৃত।
*...আমার কাছে অন্তত এই [[বেকারত্ব|বেকারত্বের]] সমস্যাটি আমাদের দেশের সবচেয়ে জটিল সমস্যা। আমি একে সেভাবেই দেখি। আমি এর বিরুদ্ধে লড়তে পারি। আমি এর বিরুদ্ধে লড়তে ইচ্ছুক। তবে [[অস্ত্র|অস্ত্র]] ছাড়া আমি এর সাথে লড়তে পারব না। আমি নিজে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে—আজ বিশ্বে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, অর্থনৈতিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করে, আমাদের দেশের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে—আমরা যদি এভাবেই চলতে থাকি, তবে শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের তীব্র বেকারত্বের সাথে কাটাতে হবে। এবং আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে এই সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করার একমাত্র উপায় হলো দেশীয় বাজার রক্ষা করা। (প্রচণ্ড ও একটানা হর্ষধ্বনি)।
**প্লিমাউথে ন্যাশনাল ইউনিয়নিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কনফারেন্সে দেওয়া ভাষণ (২৫ অক্টোবর ১৯২৩), ''দ্য টাইমস'' (২৬ অক্টোবর ১৯২৩), পৃষ্ঠা ১৭-তে উদ্ধৃত।
*'''আমি আপনাদের মতোই একজন, যাকে এই সময়ে দেশের জন্য বিশেষ কাজ করতে ডাকা হয়েছে।''' আমি কখনোই এই পদের খোঁজ করিনি। আমি কখনোই আমার জীবনের কোনো পরিকল্পনা বা ছক কষিনি। আমার শুধু একটিই ধারণা ছিল, যা আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, আর তা হলো সেবা—এই দেশের মানুষের সেবা। আমার বাবা সারা জীবন এই বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে ছিলেন... এটি একটি ঐতিহ্য; এটি আমাদের রক্তে মিশে আছে; এবং আমাদের এটি করতেই হবে। এই সেবা আমাকে ব্যবসা এবং কাউন্টি কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে নিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। এটি আমাকে বিভিন্ন অদ্ভুত পথ দিয়ে আজকের এই জায়গায় এনেছে; কিন্তু আদর্শটি একই রয়ে গেছে। কারণ আমি সারা জীবন আমার হৃদয় থেকে [[রবার্ট ব্রাউনিং|ব্রাউনিংয়ের]] কথাগুলো বিশ্বাস করেছি, "ঈশ্বরের কাছে সব সেবাই সমান"। একজন মানুষ ট্রাম চালাচ্ছেন না রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, তা খুব একটা পার্থক্য গড়ে না, যদি তিনি কেবল তার মধ্যে থাকা সবকিছু সেই সেবায় ঢেলে দেন এবং মানবজাতির কল্যাণে তা পালন করেন।
** ওরস্টারে দেওয়া ভাষণ (৭ নভেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯-এ উদ্ধৃত।
*অনেকের কাছেই গত পাঁচ বছর ছিল এক মোহভঙ্গের সময়। প্রতিটি মেঘেরই রুপোলি রেখা থাকে। আমরা এই সত্যটি থেকে শক্তি পাই যে, সময়ের সমস্ত সমস্যার মধ্য দিয়েও আমাদের জনগণের চরিত্রের শক্তি ও সংযম আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছে। প্রায় পুরো ইউরোপের মধ্যে কেবল আমাদের দেশেই কোনো অসাংবিধানিক বিদ্রোহ হয়নি। তার চেয়েও বড় কথা, আমি মনে করি আমরা আমাদের নিজেদের মানুষ সম্পর্কে বলতে পারি যে ঘৃণা ও প্রতিশোধের অনুভূতি তাদের হৃদয়ে স্থায়ী কোনো শিকড় গাড়তে পারেনি।
**বোর্ড অব ট্রেড ওয়ার মেমোরিয়াল উন্মোচনের সময় দেওয়া ভাষণ (১৯ ডিসেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২৭৩-২৭৪-এ উদ্ধৃত।
====১৯২৪====
*ভবিষ্যৎ বিপরীত দিকের মাননীয় সদস্য এবং আমাদের হাতে। হাউসের এই দিকে বসে আমরা সামাজিক সংস্কারকে ভয় পাই না। '''[[w:রক্ষণশীল দল (যুক্তরাজ্য)|আমাদের দলের]] (কনজারভেটিভ পার্টি_ সদস্যরা যখন [[শ্রমিক|শ্রমিক শ্রেণির]] জন্য লড়ছিলেন, তখন বিপরীত দিকের সদস্যরা বা তাদের পূর্বপুরুষরা লেসে-ফেয়ার (মুক্ত বাণিজ্য) নীতিতে আবদ্ধ ছিলেন।''' কৃষি শ্রমিকরা ভোটাধিকার পাওয়ার বহু বছর আগে [[w:বেঞ্জামিন ডিসরেলি|ডিসরেলি]] তাদের সংগঠিত হওয়ার পক্ষে কথা বলেছিলেন। যখন তিনি প্রথম এই দেশের জনবহুল কেন্দ্রগুলোতে পয়োনিষ্কাশনের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রচার করতে শুরু করেন, তখন লিবারেল পার্টি এটিকে "নর্দমার নীতি" বলে আখ্যা দিয়েছিল। গত দুই প্রজন্ম ধরে আমরা তিনটি মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছি—'''আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো বজায় রাখা, আমাদের [[w:ব্রিটিশ সাম্রাজ্য|সাম্রাজ্য]] সংরক্ষণ ও বিকাশ করা, এবং আমাদের জনগণের অবস্থার উন্নতি করা'''; এবং আমরা প্রতিটি প্রজন্মের পরিবর্তিত চাহিদার সাথে এই নীতিগুলোকে মানিয়ে নিই। আমার পেছনের বন্ধুদের দেখে কি পরাজিত সেনাদল মনে হচ্ছে? যখনই, যেখানেই এবং যে-ই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিক না কেন, যেকোনো দলের কাছ থেকে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1924/jan/21/debate-on-the-address ভাষণ] (২১ জানুয়ারি ১৯২৪)।
*রাষ্ট্রের কোনো দল যদি তাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের কারণে শ্রমিক শ্রেণির জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি তাদের কাজ ও কর্মসূচির একেবারে সামনে রাখার অধিকার রাখে, তবে সেটি আমাদের দল। (শুনুন, শুনুন)। কারখানা শ্রমিকরা ভোট পাওয়ার অনেক আগেই আমরা তাদের হয়ে লড়ছিলাম; এবং যখন লিবারেলরা লেসে-ফেয়ারের শেকলে বাঁধা ছিল, তখন লিবারেলরা বিষয়টি নিয়ে ভাবার অনেক আগেই আমরা শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার পক্ষে কথা বলছিলাম। ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে [[w:বেঞ্জামিন ডিসরেলি|ডিসরেলি]] যখন আবাসন ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে দেশের মনোযোগ আকর্ষণ করছিলেন, তখন তারা নর্দমার নীতি বলে তাঁকে উপহাস করেছিল। আমাদের জনগণের স্যানিটেশন, বা বলতে পারি আধ্যাত্মিক স্যানিটেশন, ঐতিহাসিক টোরি পার্টির প্রথম ডাক হওয়া উচিত। লেবার পার্টির যেকোনো সদস্যের মতোই আমরাও যে এই প্রশ্নগুলোতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী এবং এই প্রশ্নগুলোর সমাধানে নিজেদের উৎসর্গ করতে সমানভাবে প্রস্তুত, তা যদি আমরা দেশকে দেওয়া আমাদের সেবার মাধ্যমে বোঝাতে পারি, তবেই দেশ আমাদের বিশ্বাস করবে এবং দেশ আমাদের আবার ক্ষমতায় আনবে।
**হোটেল সিসিলে ইউনিয়নিস্ট পার্টির এক সভায় দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৪), ''দ্য টাইমস''-এ উদ্ধৃত (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯২৪), পৃষ্ঠা ১৭।
*বাগ্মীতা, যেটিকে আমি আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে বড় বিপদগুলোর একটি বলে মনে করি..."আত্মনিয়ন্ত্রণ" হলো আরেকটি বাগাড়ম্বরপূর্ণ শব্দ যা কোনো একদিন জাতিগুলোকে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বাগ্মীতা ঠিক এই কাজটিই করে। "বীরদের বসবাসের উপযোগী বাড়ি" এবং "গণতন্ত্রের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব!" এগুলো আমার কাছে বাগ্মীতার সারমর্ম এবং এই অর্থে বাগ্মীতার বিরুদ্ধেই আমি আজ রাতে ভোট দিতে যাচ্ছি।
**কেমব্রিজ ইউনিয়নে দেওয়া ভাষণ (মার্চ ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৯৪-৯৫-এ উদ্ধৃত।
*আজকের বাগ্মীতা, যে বাগ্মীতা আমাদের বিবেচনা করতে হবে, তা হলো "উপচে পড়া শস্যভাণ্ডারের" বাগ্মীতা। আমার ধারণা এই গুণটি পৃথিবীতে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সমস্ত বন্দুক এবং বিস্ফোরকের চেয়ে বেশি রক্তপাতের জন্য দায়ী। আমরা যদি কেবল [[ঊনবিংশ শতাব্দী|গত শতাব্দীর]] দিকে ফিরে তাকাই, তবে কি দেখতে পাব না যে [[রুশো|রুশোর]] সাহিত্যিক বাগ্মীতা, যা [[রোবসপিয়র|রোবসপিয়র]] এবং অন্যদের মৌখিক বাগ্মীতা দ্বারা উসকে দেওয়া হয়েছিল, তা [[ফরাসি বিপ্লব|ফরাসি বিপ্লবের]] জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী ছিল? ঠিক যেভাবে [[রুশ বিপ্লব|রুশ বিপ্লব]] [[w:আলেকজান্ডার কেরেনস্কির|কেরেনস্কির]] বাগ্মীতার কারণে ঘটেছিল—যে ফাঁকা বাগ্মীতা তার দেশের মানুষের পেট কেবল হাওয়ায় ভরিয়ে দিয়েছিল? শব্দ-বুননের কল্পনা এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রশিক্ষণের সাথে যুক্ত সেই ভয়ংকর সস্তা সাবলীলতাই হলো সেই ধরনের বাগ্মীতা যা অজ্ঞ জনতার আবেগকে নাড়া দেয় এবং তাদের আন্দোলনে নামায়। বাগ্মীতার কারণে এমন সব শক্তিকে চালিত করা যায় বলেই আমি একে সম্মান করি না, বরং আমি এর প্রতি একটি ইতিবাচক ভয় পোষণ করি।
**কেমব্রিজ ইউনিয়নে দেওয়া ভাষণ (মার্চ ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৯৫-৯৬-এ উদ্ধৃত।
*আমি মনে করি আজ সারা দেশে সাদামাটা, অলংকারহীন বক্তব্য শোনার আকাঙ্ক্ষা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি... আসুন আমরা সবসময় এটি মনে রাখি: যখন আমরা বড় কোনো বিষয়ে আসি, তখন আমাদের বাগ্মীতার প্রয়োজন হয় না। সত্য, যেমনটা আমাদের সবসময় বলা হয়েছে, নগ্ন। তার খুব সামান্য পোশাকেরই প্রয়োজন। সর্বোপরি, [[পল দ্য অ্যাপোস্টল|সেন্ট পল]] কোনো বক্তা ছিলেন না, তবুও তার বক্তব্য এবং শিক্ষা মনে হয় ছড়িয়ে পড়েছে এবং দীর্ঘকাল টিকে আছে। আমি এই না ভেবে পারি না যে, যদি আমরা দুই হাজার বছর পিছিয়ে যেতাম, তবে আমি রবিবারের কোনো পত্রিকা বা যুগের শীর্ষ বক্তাদের সমস্ত বাগ্মীতার বিপরীতে সেন্ট পল এবং তার শিক্ষার ফলাফলকেই সমর্থন করতাম।
**কেমব্রিজ ইউনিয়নে দেওয়া ভাষণ (মার্চ ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৯৬-৯৭-এ উদ্ধৃত।
*[[ওয়াল্টার স্কট|স্যার ওয়াল্টার স্কট]], [[উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ|ওয়ার্ডসওয়ার্থ]], [[লর্ড বায়রন|বায়রন]]...[[টমাস কার্লাইল|কার্লাইল]], টেনিসন, [[জন হেনরি নিউম্যান]]...থ্যাকারি, ব্রাউনিং এবং [[চার্লস ডিকেন্স|ডিকেন্স]]। বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি [[সাহিত্য|সাহিত্যে]] সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিভাদের একটি গ্যালাক্সি ছিল... সেই সময়ের সাহিত্যের ক্ষেত্রে কোনো দেশই আমাদের দেশের সাথে তুলনা করতে পারে না... আমি সবসময় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এসেছি যে আমাদের নিজেদের চেয়ে বেশি সুপ্ত প্রতিভা বা যান্ত্রিক প্রতিভার জন্য উচ্চতর যোগ্যতা আর কোনো জাতির নেই। যখন কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন হারগ্রিভস, আর্করাইট এবং ক্রম্পটন, যারা সবাই কর্মজীবী মানুষের সন্তান ছিলেন, তারাই সেই [[যন্ত্র|মেশিনগুলো]] আবিষ্কার করছিলেন যা [[তুলা|সুতা]] শিল্পের জন্ম দেয়। আমাদের মানুষগুলো কী উপাদানে তৈরি, তা বোঝাতেই আমি এই নামগুলো উল্লেখ করছি। এই উপাদানগুলো প্রশিক্ষণ ও শিক্ষিত করার মতো। যে কেউ এটি নিয়ে গবেষণা করতে চাইলে দেখতে পাবেন যে, এটি একটি খুব আকর্ষণীয় বিষয় হবে। মার্কিনিদের বলে হালকাভাবে ধরে নেওয়া যান্ত্রিক আবিষ্কারগুলোর কতগুলো আসলে ব্রিটিশ মেধার ফসল, তা সে ব্রিটিশ মেধাই হোক যারা সে দেশে গিয়ে কাজ করেছে, বা ব্রিটিশ বাবা-মায়ের সন্তানরাই হোক যারা সেখানে গিয়েছে।
**বার্কবেক কলেজে দেওয়া ভাষণ (২০ মার্চ ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৪-এ উদ্ধৃত।
*সাহিত্যের প্রজাতন্ত্র ছাড়া আর কোনো সত্যিকারের প্রজাতন্ত্র নেই। আমি যদি দেখি যে এমন কোনো উদ্ধৃতি শুনে মানুষের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে যা সবারই জানা উচিত, তবে সেই মানুষটি ডিউক হোক বা ডাস্টম্যান, সে আমার ভাই। এটাই সাহিত্যের বন্ধন। এটি অধ্যয়ন করে দেখুন, বিশ্বের প্রথম দেশের গৌরবময় সাহিত্য—আপনার নিজের দেশের সাহিত্য।
**বার্কবেক কলেজে দেওয়া ভাষণ (২০ মার্চ ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৪৬-এ উদ্ধৃত।
*আমার সরকারি ও ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুর জন্যই আমি আমার ননকনফর্মিস্ট]] পূর্বপুরুষদের কাছে ঋণী।
**ননকনফর্মিস্ট ইউনিয়নিস্ট লিগের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ এপ্রিল ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২৬৯-এ উদ্ধৃত।
*[[লর্ড বায়রন|বায়রন]], এমন একজন মানুষ যিনি বিশ্বকে একটি ভালো হৃদয় এবং একটি নতুন স্পন্দন দিয়েছিলেন... যে মানুষটি বিশ্বে নতুন স্পন্দন খুঁজে পান, তিনিই অমরত্ব লাভ করবেন। বায়রন, যদি কিছু হয়েই থাকেন, তবে তিনি ছিলেন নতুন বীজের একজন বপনকারী, যার মধ্যে একটি বিশাল অঙ্কুরোদগমের শক্তি ছিল... বায়রন মানুষের চোখ বন্ধ থাকতে দেখেছিলেন এবং তা খুলে দিয়েছিলেন, আর সেই কারণেই জাতির উচিত তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানানো।
**বায়রনের শতবর্ষের মধ্যাহ্নভোজে দেওয়া ভাষণ (২৯ এপ্রিল ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪-এ উদ্ধৃত।
*আমরা আমাদের নিজেদের মানুষের জন্য অবস্থার উন্নতি করতে সাহায্য করতে চাই। আমরা চাই আমাদের মানুষ এমন একটি সমাজে বেড়ে উঠুক, যা [[জাতীয়করণ|রাষ্ট্রীয় মালিকানার]] সমাজ নয়, বরং এমন একটি সমাজ যেখানে ব্যক্তি ক্রমশ মালিক হয়ে উঠতে পারে। স্যার হেনরি মেইনের একটি খুব বিখ্যাত বাক্য আছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে সাম্প্রতিক শতাব্দীগুলোতে আমাদের সভ্যতার অগ্রগতি হলো মানবজাতির মর্যাদা থেকে চুক্তির দিকে একটি অগ্রগতি। '''[[সমাজতন্ত্র]] তাকে চুক্তি থেকে আবার মর্যাদায় ফিরিয়ে আনবে।'''
**জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের কাছে দেওয়া ভাষণ (৩ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২২৫-এ উদ্ধৃত।
*ঈশ্বর তাকে যা বানিয়েছেন, অর্থাৎ একজন ইংরেজ হতে যতক্ষণ সে সন্তুষ্ট থাকে, ততক্ষণ একজন ইংরেজ ঠিক আছে। কিন্তু সে যখন অন্য কিছু হওয়ার চেষ্টা করে তখনই সমস্যায় পড়ে। এমন কিছু ইতিহাসবিদ আছেন, বা ছিলেন, যারা বলেছেন যে আমাদের ইংরেজ পূর্বপুরুষদের ফরাসি রীতিনীতি অনুকরণ করার কারণেই আমরা উইলিয়াম দ্য নরম্যানের শিকারে পরিণত হয়েছিলাম এবং হেস্টিংসের যুদ্ধে আমাদের পরাজয় ঘটেছিল। এটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হোক যাতে আমরা কোনো বিদেশি দেশকে অনুকরণ না করি। আসুন আমরা নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে এবং নিজের মতো থাকতে সন্তুষ্ট থাকি।
**দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২-এ উদ্ধৃত।
*এখন, আমি সবসময় মনে করি যে [[ইংরেজ জাতি|ইংরেজদের]] সম্পর্কে সবচেয়ে কৌতূহলজনক দ্বন্দ্বগুলোর মধ্যে একটি হলো এটি: আমাদের সম্পর্কে প্রায়ই যে সমালোচনা করা হয় তা পুরোপুরি সত্যবর্জিত নয়। আর তা হলো জাতি হিসেবে আমরা ল্যাটিন জাতিগুলোর তুলনায় বুদ্ধিবৃত্তিক অনুভূতির প্রতি কম উন্মুক্ত। তবুও এই একই জাতির মধ্যেই প্রতিভাবান মানুষ তৈরি করার এক অনন্য দক্ষতা রয়েছে। এটি প্রায় ইংরেজ জাতির একটি বৈশিষ্ট্য। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে এই জাতি প্রতিভাবানদের জন্ম দেয়নি। অনেকেই মনে করতে পারে যে এই জাতি খুব নিয়ন্ত্রিত, নিজেকে প্রকাশ করতে অক্ষম। অথচ এই একই জাতির এমন সাহিত্য রয়েছে যা বিশ্বের অন্য যেকোনো সাহিত্যের চেয়ে পিছিয়ে নেই এবং কবিতায় তো এটি অবশ্যই অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
**দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২-৩-এ উদ্ধৃত।
*ইংরেজ তৈরিই হয়েছে সংকটের সময় এবং জরুরি অবস্থার জন্য। সে কঠিন সময়ে শান্ত থাকে, কিন্তু সময় যখন সহজ হয় তখন সে হয়তো উদাসীন মনে হতে পারে। সে হয়তো ভবিষ্যতের দিকে তাকায় না, সে হয়তো সতর্কবাণীতে কান দেয় না, সে হয়তো প্রস্তুতি নেয় না। কিন্তু সে একবার শুরু করলে মৃত্যু পর্যন্ত নাছোড়বান্দা থাকে এবং কাজে সে নির্মম হয়। এই গুণগুলোই ইংরেজকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছে এবং ইংরেজকে ইংল্যান্ড এবং সাম্রাজ্যকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।
**দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৩-৪-এ উদ্ধৃত।
*আমি মনে করি ইংরেজরা হৃদয়ে এবং কাজে বিশ্বের সবচেয়ে দয়ালু মানুষ... [[ইংল্যান্ড|ইংল্যান্ডে]] দুর্বলদের জন্য এক গভীর সহানুভূতি রয়েছে। একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ অনুভূতি রয়েছে, যা আমরা সব শ্রেণির মধ্যেই ব্যাপকভাবে দেখতে পাই। হাসিমুখে দুর্ভাগ্য মোকাবিলা করার একটা উপায় আছে। যুদ্ধের সময় এটি আশ্চর্যজনকভাবে দেখা গিয়েছিল।
**দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৪-৫-এ উদ্ধৃত।
*তারপর, ইংরেজদের চেয়ে অন্য কোনো জাতিতে এত বৈচিত্র্যময় স্বকীয়তা নেই। আমরা স্বকীয়তার মানুষ এবং আমরা চরিত্রের মানুষ... জাতির ধরন বজায় রাখার জন্য ইংরেজের স্বকীয়তা রক্ষা করা অপরিহার্য। আর আমাদের পার্থক্যগুলো যদি মুছে যায় এবং আমরা সেই উপহার হারিয়ে ফেলি, তবে আমরা একই সাথে আমাদের ক্ষমতাও হারাব। ধরন বা বৈশিষ্ট্যের একরূপতা একটি খারাপ জিনিস। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভাষার একরূপতার জন্য খুব দুঃখ প্রকাশ করি। দুই শতাব্দী আগের এক সময় ছিল যখন আপনি তার কথা শুনেই বলতে পারতেন যে [[যুক্তরাজ্যের সংসদ|পার্লামেন্টের]] প্রতিটি সদস্য ইংল্যান্ডের কোন অংশ থেকে এসেছেন। তিনি তার পূর্বপুরুষদের ভাষায় কথা বলতেন। আমি দুঃখিত যে উপভাষাগুলো হারিয়ে গেছে। আর আমি দুঃখিত যে, একটি ভালো নামের অভাবে যে প্রক্রিয়াটিকে আমরা নিজেদের মধ্যে শিক্ষা বলে ডাকতে রাজি হয়েছি, সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষের ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আমরা এমন কিছু সেরা ইংরেজি শব্দ ও বাক্যাংশ হারিয়ে ফেলছি, যা শতাব্দী ধরে দেশে টিকে ছিল, যাতে আমরা সবাই একটি অভিন্ন এবং ভাবপ্রকাশহীন ভাষায় কথা বলতে পারি।
**দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৫-৬-এ উদ্ধৃত।
[[Image:Stanley Baldwin daughter.jpg|thumb|আমার কাছে ইংল্যান্ড হলো গ্রাম, এবং গ্রামই হলো ইংল্যান্ড।]]
* '''আমার কাছে ইংল্যান্ড হলো গ্রাম, এবং গ্রামই হলো ইংল্যান্ড।''' আর বিদেশে থাকার সময় আমি যখন নিজেকে জিজ্ঞেস করি যে ইংল্যান্ড বলতে আমি কী বুঝি, তখন ইংল্যান্ড আমার কাছে আমার বিভিন্ন অনুভূতির মাধ্যমে ধরা দেয় — কানের মাধ্যমে, চোখের মাধ্যমে এবং কিছু অবিনশ্বর সুবাসের মাধ্যমে... ইংল্যান্ডের শব্দগুলো, গ্রামের কামারশালায় নেহাইয়ের ওপর হাতুড়ির টুংটাং শব্দ, শিশিরভেজা সকালে কর্নক্রেক পাখির ডাক, শানপাথরে কাস্তে ঘষার শব্দ, এবং পাহাড়ের চূড়া দিয়ে একটি লাঙল দলের উঠে আসার দৃশ্য, সেই দৃশ্য যা ইংল্যান্ডে ভূমি সৃষ্টির শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে... ইংল্যান্ডের একমাত্র চিরন্তন দৃশ্য।
** দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬-৭-এ উদ্ধৃত।
*আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন [[হোরেস|হোরেসের]] ''ওডস'' আমার মুখস্থ ছিল। আর আমি যখন বড় হতে লাগলাম, তখন বছরের পর বছর সেই ওডগুলো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত সময়ে এবং জায়গায় আমার হৃদয়ের দরজায় কড়া নাড়তে লাগল। তাই, আপনি এখন বুঝতে না পারলেও, এমন সময় আসবে যখন আপনি ছোটবেলায় [[উইলিয়াম শেকসপিয়র|শেকসপিয়রে]] ডুবে থাকার জন্য কৃতজ্ঞ হবেন। তার মধ্যে আমরা কেবল বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষকেই পাই না—যেমনটা স্যার জেরাল্ড ডু মরিয়ার কিছুদিন আগে এখানে বলেছিলেন—বরং এমন একজন মানুষকে পাই যাঁর মানবপ্রকৃতি ও বিশ্ব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ছিল। শেকসপিয়র ছিলেন সেই অল্প কয়েকজন কবিদের মধ্যে একজন যাঁর মধ্যে আমরা সেই জাদুকরী শক্তি খুঁজে পাই যা সরাসরি স্বর্গ থেকে আসে এবং যা কেবল সর্বশ্রেষ্ঠদেরই বিশেষ অধিকার... শেকসপিয়রের নাটকগুলো, তিনি যে দেশের কথাই লিখুন না কেন, আমাদের নিজস্ব মাটি এবং আমাদের দেশের মানুষের গন্ধে ভরপুর। শেকসপিয়রের দেশের মানুষ এবং সেই জ্ঞানী মানুষদের, অর্থাৎ শেকসপিয়রের বোকাদের চিন্তাধারা এবং দৃষ্টিভঙ্গি আজও আমাদের গ্রামীণ কাউন্টিগুলোতে পাওয়া যায়।
**সিটি অফ লন্ডন স্কুলে দেওয়া ভাষণ (১৩ জুন ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১২০-এ উদ্ধৃত।
*আমার কাছে আমরা যে [[ব্রিটিশ সাম্রাজ্য|কমনওয়েলথ অফ নেশনসের]] অন্তর্ভুক্ত, তার সবচেয়ে বড় মূল্য শুধু টাকা কামানোর জায়গাতেই নয়। বরং এটি হলো আমাদের নিজস্ব জাতির বিস্তৃতি ও বৃদ্ধির জন্য বিশ্বের একটি বিশাল পরিসর। কারণ আমি বিশ্বাস করি আমাদের জাতি বিশ্বের সেরা জাতি। আমি বিশ্বাস করি বিশ্বের অগ্রগতি, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে এবং সেই সাথে অর্থনৈতিক দিক থেকেও, আমাদের মানুষের তাদের ধারণা এবং আদর্শগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1924/jun/18/imperial-preference ভাষণ] (১৮ জুন ১৯২৪)।
*আজ গ্রেট ব্রিটেনের [[রামজে ম্যাকডোনাল্ড|প্রধানমন্ত্রীকে]] নিয়ে [[গ্রিগরি জিনোভিয়েভ|এম. জিনোভিয়েভ]] যেভাবে কথা বলছেন তা পড়ে আমার রক্ত ফুটছে। একসময় একটা স্লোগান উঠেছিল, "রাশিয়া থেকে হাত সরাও।" আমার কথা হলো, আমি মনে করি সময় এসেছে কাউকে "[[রাশিয়া|রাশিয়া]], ইংল্যান্ড থেকে হাত সরাও" বলার।
**জিনোভিয়েভ চিঠির ওপর সাধারণ নির্বাচন প্রচারণাকালে সাউথ-এন্ডে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর ১৯২৪), ''দ্য টাইমস'' (২১ অক্টোবর ১৯২৪), পৃষ্ঠা ১০-এ উদ্ধৃত।
*[[প্রগতি|অগ্রগতির]] দায়িত্ব কেবল সরকারের ওপরই নয়, বরং দেশের প্রতিটি নারী-পুরুষের ওপরও বর্তায়। জনগণ যতদূর যেতে দেবে, সরকার তার চেয়ে দ্রুত এগোতে পারে না। নতুন পদ্ধতিতে স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা অপরিহার্য, আর কাজ করার ইচ্ছা ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়। শিল্পের ক্রমাগত অচলাবস্থা নিয়েও অগ্রগতি সম্ভব নয়।
**অ্যালবার্ট হলে দেওয়া ভাষণ (৪ ডিসেম্বর ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭০-এ উদ্ধৃত।
*এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি পরীক্ষার সময়... গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য বিশ্বের অন্য যেকোনো শাসনব্যবস্থার চেয়ে বেশি কঠোর পরিশ্রম, উচ্চতর শিক্ষা, এবং আরও দূরদর্শিতার প্রয়োজন হয়। পাশ্চাত্যে এটি এখনও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আমাদের মতো যারা এটিতে বিশ্বাস করে, কেবল তাদের এটিকে সফল করার মাধ্যমেই আমরা এটিকে স্থায়ী হতে দেখার আশা করতে পারি এবং এর যে সুফল দেওয়া উচিত, তা পাওয়ার আশা করতে পারি। জনগণের অধিকারের দাবি কখনও তাদের খাবার জোগাতে পারেনি। কেবল তাদের দায়িত্ব পালনই সরকার পরিচালনার সেই পরীক্ষাগুলোতে সফল পরিণতি আনতে পারে, যা আমরা বিশ্বের অন্য যেকোনো জাতির চেয়ে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেছি। '''গণতন্ত্র অনেক উঁচুতে উঠতে পারে; আবার এটি অনেক গভীরে তলিয়েও যেতে পারে। আমাদের নিজেদের সেভাবেই পরিচালিত করতে হবে, এবং আমাদের নিজেদের মানুষকে সেভাবেই শিক্ষিত করতে হবে, যাতে আমরা সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারি এবং গভীর খাদগুলো এড়াতে পারি।'''
**অ্যালবার্ট হলে দেওয়া ভাষণ (৪ ডিসেম্বর ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭০-৭১-এ উদ্ধৃত।
*যখন আমরা সাম্রাজ্যের কথা বলি, তখন আমরা কেবল পতাকা ওড়ানোর আবেগে কথা বলি না... সমুদ্র দিয়ে বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও, এই বিশাল উত্তরাধিকারের মধ্যে আমরা অনুভব করি যে আমাদের একটি বাড়ি এবং একটি জাতি রয়েছে... বস্তুগত সুবিধাগুলো যত বড়ই হোক না কেন, আমরা মূলত সেদিকে তাকাই না। আমি মনে করি আমাদের সবার হৃদয়ের গভীরে আমরা সাম্রাজ্যটিকে এমন একটি উপায় হিসেবে দেখি, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের জাতির সেই বৃদ্ধি দেখতে আশা করতে পারি, যা আমরা সমগ্র বিশ্বের জন্য এক অসীম কল্যাণকর বলে বিশ্বাস করি। এটি এমন মানুষদের বিদেশে ছড়িয়ে পড়া, যাদের কাছে স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার তাদের নিঃশ্বাসের মতোই প্রয়োজনীয়। এটি এমন মানুষদের ছড়িয়ে পড়া যারা—যেমনটা আমরা আশা ও বিশ্বাস করতে চাই—সবার ওপরে, তাদের কর্তব্যের প্রতি অবিচল অনুভূতি দ্বারা আলাদা। যদি কখনও এমন দিন আসে যখন আমাদের নিজেদের আত্মীয়দের মধ্যে সেই কর্তব্যের প্রতি আবেদন কানে পৌঁছায় না, তবে সেই দিনটি সত্যিই আমাদের দেশের এবং আমাদের সাম্রাজ্যের শেষ দিন হবে, যার জন্য আপনি এবং আমি আমাদের জীবন উৎসর্গ করেছি।
**অ্যালবার্ট হলে দেওয়া ভাষণ (৪ ডিসেম্বর ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭১-৭২-এ উদ্ধৃত।
*আজ আমরা হয়তো দেশের সেবার সবচেয়ে চমৎকার সুযোগটি পেয়েছি, যা এর আগে কোনো দলকে দেওয়া হয়নি। আপনারা যারা সদ্য হাউস অফ কমন্সে নির্বাচিত হয়েছেন, আপনাদের সহদেশবাসীদের রায় অনুযায়ী, আপনারাই আগামী চার বা পাঁচ বছরের জন্য তাদের স্বাভাবিক নেতা। আপনারা যে বিশাল গণতন্ত্রের অংশ, তাকে শিক্ষিত করা আপনাদের দায়িত্ব, আপনাদের প্রাথমিক দায়িত্ব... আমাদের সহদেশবাসীদের সেই দলগুলোর চেয়ে পরিষ্কার বা মর্মস্পর্শী আর কিছু কি আমাদের সামনে থাকতে পারে, যারা আমাদের কথায় বিশ্বাস রেখেছিল, যারা আমাদের বিশ্বাস করেছিল এবং আমাদের তাদের আস্থা দিয়েছে, এবং যারা তাদের হৃদয়ে বিশ্বাস করে যে আমরা তাদের জন্য কঠিন ও সমস্যাযুক্ত বিষয়গুলো ঠিক করার জন্য এবং তাদের জীবনের কঠিন সংগ্রামে তাদের সাহায্য করার জন্য যা যা সম্ভব তা করতে [[লন্ডন|লন্ডনে]] এসেছি? আপনাদের নির্বাচনী এলাকার সাথে কখনও যোগাযোগ হারাবেন না; কখনও লন্ডনের কোনো ক্লাবের সদস্য এবং কোনো সংবাদকর্মীর কণ্ঠস্বরকে দেশের কণ্ঠস্বর বলে ভুল করবেন না। দেশ আপনাদের নির্বাচিত করেছে; দেশই আপনাদের বিচার করবে।
**অ্যালবার্ট হলে দেওয়া ভাষণ (৪ ডিসেম্বর ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭২-৭৩-এ উদ্ধৃত।
*আমি দেখতে চাই সমগ্র জাতির সেবা করার মনোভাব ইউনিয়নিস্ট পার্টির প্রতিটি সদস্যের জন্মগত অধিকার হয়ে উঠুক—সেই অর্থে ইউনিয়নিস্ট যে আমরা সেই দুই জাতির মিলনের পক্ষে দাঁড়াই, যার কথা দুই প্রজন্ম আগে ডিসরেলি বলেছিলেন; আমাদের নিজেদের মানুষের মধ্যে মিলন, যাতে দেশে আমাদের মানুষের একটিই জাতি তৈরি হয়, যা নিশ্চিত হলে বিশ্বের আর কোনো কিছুই এসে যায় না।
**অ্যালবার্ট হলে দেওয়া ভাষণ (৪ ডিসেম্বর ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭৩-এ উদ্ধৃত।
====১৯২৫====
*যদি কিছু থেকে থাকে... তবে তা হলো আমার প্রশিক্ষণ। এটি আমাকে এমন একটি জ্ঞান এবং সহানুভূতি দিয়েছে—আমি সেটি ব্যবহার করতে পারি বা না পারি—যা কোনো এককভাবে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ পাওয়া মানুষের পক্ষে অর্জন করা খুবই কঠিন। আমি এটিকে নিজের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করি যে, আমার জীবনের গঠনমূলক বছরগুলোতে এবং আমি যখন প্রথম পৃথিবীতে কাজ শুরু করি সেই দশ-বিশ বছর ধরে, আমি এই দেশের সব শ্রেণির মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। আর কোনো কৃতিত্ব ছাড়াই আমি এমন একটি সদিচ্ছা উপভোগ করেছি যা আমি আমার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। তারা তাঁদের সততা, সুষ্ঠু বিচার এবং যাঁদের সাথে কাজ করতেন তাঁদের প্রতি সদয় আচরণের জন্য একটি নাম রেখে গেছেন। আমি সফল হই বা না হই, এর মাধ্যমে আমি বিশ্বাস করি যে আমি দেশের মানুষের মন সম্পর্কে এমন একটি বোঝাপড়া পেয়েছি যা আমি অন্য কোনো উপায়ে পেতাম না। এর মাধ্যমেই আমাদের মানুষের প্রতি আমার সেই অটুট বিশ্বাস এবং আস্থা তৈরি হয়েছে যা ভালো-খারাপ সব সময়ে আমাকে টিকিয়ে রাখে। আর এর জন্যই আমার পূর্ণ আস্থা আছে যে, এই দেশে বা এই দেশের ওপর যখনই কোনো সমস্যা নেমে আসুক না কেন, আমাদের মানুষের সহজাত শক্তি ও গুণ সবকিছু কাটিয়ে উঠবে। '''আমি অনুভব করি কেবল একটি কাজেই নিজের সমস্ত শক্তি ব্যয় করা সার্থক, আর তা হলো শব্দের প্রতিটি অর্থে এই দেশের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রচেষ্টায় আমাদের মানুষের সব শ্রেণিকে একত্রিত করা। রাজনীতিতে আমার জীবনের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য এটাই'''।
**স্টুরপোর্টে দেওয়া ভাষণ (১২ জানুয়ারি ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৫-১৬-এ উদ্ধৃত।
*ইউরোপ মহাদেশ, একটি মহাদেশ যা একটি সরু সমুদ্র দ্বারা আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন বটে, কিন্তু বাণিজ্য ও মানবতার শত শত বাঁধনে আমাদের সাথে যুক্ত, আমরা পছন্দ করি বা না করি, তা আমাদের ভাগ্যের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। ... যতক্ষণ না আপনার স্থিতিশীলতা আসে, ততক্ষণ আপনি আত্মবিশ্বাস পেতে পারেন না। আর আত্মবিশ্বাস না আসা পর্যন্ত আপনি কখনোই সেই বর্ধিত উৎপাদন ক্ষমতা পেতে পারেন না যা ইংল্যান্ডে আমাদের নিজেদের বাণিজ্যের উন্নতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়... মানুষে-মানুষে এবং জাতিতে-জাতিতে সেই অভিশপ্ত ও পৈশাচিক সন্দেহই ইউরোপকে সেই নিরাপত্তার অনুভূতি থেকে বঞ্চিত করে, যা আত্মার সেই ঐক্যের জন্য অপরিহার্য, যা বিশ্বের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য আমাদের থাকতে হবে।
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৫ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২৫-২৭-এ উদ্ধৃত।
*আর তাই, যুদ্ধের প্রায় সাত বছর পরও আমরা দেখতে পাচ্ছি এই দীর্ঘায়িত ও তীব্র মন্দা, এবং বেকারত্বের এই ভয়ংকর পরিসংখ্যান... আমরা আজ এমন এক বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে, মোটামুটিভাবে বললে, বিমাকৃত জনসংখ্যার প্রতি দশজনের মধ্যে একজন কর্মহীন... কিন্তু কেবল রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি প্রতিকার নেই। কেবল সাধারণ মানুষের মাধ্যমেও কোনো সরাসরি প্রতিকার নেই। আমরা সবাই মিলে একযোগে চেষ্টা না করলে কিছুই করা সম্ভব নয়। আর আমি—এবং আমি বেশ সিরিয়াসভাবেই বলছি—লেবার পার্টি ক্ষমতায় ছিল বলে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এর কারণ হলো: তারা এখন জানে যে, অন্য যেকোনো সরকারের মতোই তারাও বেকারত্ব দূর করার মতো কোনো জাদুকরী দাওয়াই তৈরি করতে পারেনি। আর মনে মনে তাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে তাদের কাছে এমন কোনো প্রতিকার নেই যা এই রোগ নিরাময়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে এবং একই সাথে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে।
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৫ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৩০-৩১-এ উদ্ধৃত।
*যেসব মানুষ মহাদেশে নিরস্ত্রীকরণ, মহাদেশে শান্তি এবং মহাদেশে সন্দেহ দূর করার কথা বলেন, আমি তাঁদের সাথে পুরোপুরি একমত। তবে আমি এর চেয়েও বেশি করে চাই দেশে নিরস্ত্রীকরণ এবং দেশে এমন সন্দেহ দূর করা যা মানুষে-মানুষে সম্পর্ককে বিষাক্ত করে তোলে। একমাত্র এটি দূর করলেই আমরা আমাদের ধুঁকতে থাকা শিল্পের জন্য স্থিতিশীলতা পেতে পারি এবং সেই আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারি যার মাধ্যমে আমাদের মানুষ আরও ভালো কিছুর দিকে এগিয়ে যেতে পারবে... এটি জনজীবনের অন্যতম একটি স্ববিরোধিতা যে, যারা বিদেশে শান্তিবাদ প্রচার করে, তাদের মুখেই আমরা দেশে যুদ্ধের ডাক শুনতে পাই। রুশোর সম্পর্কে কে যেন বলেছিলেন যে তিনি তার স্বজাতির প্রেমিক, কিন্তু তার আত্মীয়দের ঘৃণাকারী? '''এমন দর্শনের অনুসারীরা কেবল এই দেশের জন্যই সর্বনাশ বয়ে আনতে পারে।'''
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৫ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৩২-৩৩-এ উদ্ধৃত।
*'''আমি এই দেশে ঈশ্বরের একটি যুদ্ধবিরতি চাই''', যাতে আমরা আমাদের পার্থক্যগুলো দূর করতে পারি, যাতে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে দেখতে পারি যে আমরা দেশটিকে একটি আরও ভালো এবং সুখী অবস্থায় নিয়ে যেতে পারি কি না। একটি সরকার খুব সামান্যই করতে পারে; এই সংস্কারগুলো, এই বিপ্লবগুলো অবশ্যই জনগণকেই আনতে হবে। নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিকদের সংগঠনগুলো যদি কাজে নেমে পড়ে, তবে তারা রাজনীতিবিদদের চেয়ে তাদের সমস্যার সমাধান খুঁজতে অনেক বেশি সক্ষম... তাই যারা শ্রম এবং পুঁজির প্রতিনিধিত্ব করে, তারা কাজে নেমে পড়ুক এবং এই দেশের প্রতিটি গলি এবং কোণায় শান্তি খুঁজুক এবং তার পিছু ছুটুক... আর আজ রাতে যদি আপনাদের এবং এই দেশের মানুষের জন্য আমার কোনো বার্তা থাকে, তবে তা ঠিক এমনই হবে। '''আমি বলব: "ইংল্যান্ড! স্থির হও! দেখো তুমি কোথায় যাচ্ছ! মানুষের হাত আমাদের দেওয়া হয়েছিল হাত মেলানোর জন্য, ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বে একে অপরের বিরুদ্ধে তোলার জন্য নয়।"'''
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৫ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৩৩-৩৪, ৪০-এ উদ্ধৃত।
*আমি প্রায়ই অবাক হয়ে ভাবি যে এই দেশের সব মানুষ ইংল্যান্ডের শিল্প ব্যবস্থায় আসা অবশ্যম্ভাবী পরিবর্তনগুলো বুঝতে পারে কি না... আমার নিজের জীবনের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে, আমি আমার নিজের চোখের সামনে এই বিবর্তনের অনেক কিছুই ঘটতে দেখেছি। আমি অনেক বছর ধরে একটি শিল্প ব্যবসায় কাজ করেছি, এবং আমার অধীনে বিপুল সংখ্যক, বা তখনকার সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ছিল... আমি সম্ভবত এমন একটি ব্যবস্থার অধীনে কাজ করছিলাম যা ইতোমধ্যেই অতীতের বিষয় হতে চলেছিল। আমার সন্দেহ আছে যে সেই সময়েও এই দেশের কোনো বড় আধুনিক শিল্প শহরে এর মতো কিছু খুঁজে পাওয়া যেত কি না। এটি এমন একটি জায়গা ছিল যেখানে আমি জায়গাটির প্রতিটি মানুষকে চিনতাম এবং ছোটবেলা থেকেই তাদের চিনতাম। এমন একটি জায়গা যেখানে আমি কেবল কারখানার সমস্যা নিয়েই নয়, বরং বাড়িতে হওয়া সমস্যা নিয়েও পুরুষদের সাথে কথা বলতে পারতাম, যেখানে ধর্মঘট এবং লক-আউটের মতো বিষয়গুলো ছিল অজানা। এটি এমন একটি জায়গা ছিল যেখানে তখন কাজ করা পুরুষদের বাবা এবং দাদারা কাজ করতেন এবং যেখানে তাদের ছেলেরাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবসায় যুক্ত হতো। এটি এমন একটি জায়গাও ছিল যেখানে কাউকে কখনো "বরখাস্ত" করা হয়নি। যারা এই প্রজন্মের তুলনায় দক্ষতার বিষয়ে কম চিন্তিত ছিল, তাদের প্রতি আমাদের একটি স্বাভাবিক সহানুভূতি ছিল। সেখানে বেশ কয়েকজন বয়স্ক ভদ্রলোক তাদের পাইপ টানতে টানতে চাকাগাড়ির হাতলে বসে দিন পার করতেন। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এটি কোনো অদক্ষ সম্প্রদায় ছিল না। এটি ছিল সেই ধরনের কারখানার শেষ নিদর্শন। শেষ পর্যন্ত এটি আজকের শিল্পগুলো যে বিশাল সমন্বয়ের দিকে ঝুঁকছে, তার একটির মধ্যেই বিলীন হয়ে যায়।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1925/mar/06/industrial-peace ভাষণ] (৬ মার্চ ১৯২৫)।
*...একদিন কয়লাখনিগুলোতে একটা বড় ধর্মঘট শুরু হলো। এটি ছিল শুরুর দিককার ধর্মঘটগুলোর একটি, আর এটি একটি [[সাধারণ ধর্মঘট|জাতীয় ধর্মঘটে]] রূপ নিয়েছিল। আমরা যতদিন সম্ভব কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই কাজ চালিয়ে যাওয়াটা আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়েছিল। ধীরে ধীরে একটার পর একটা চুল্লি নিভিয়ে ফেলা হলো; চিমনির ধোঁয়া বন্ধ হয়ে গেল। যে ধর্মঘট চলছিল তার সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা প্রায় ১,০০০ মানুষ কোনো দোষ না করেই বেকার হয়ে পড়ল। আর সেসময় কোনো বেকার ভাতাও ছিল না। আমি স্বীকার করছি যে এই ঘটনাটি আমাকে খুব গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। সেই সময়ে আমার কাছে এই মানুষগুলোর প্রতি এটি এক ভয়ংকর অবিচার বলে মনে হয়েছিল, কারণ আমি তাদের আমার নিজের পরিবারের মতোই দেখতাম। এটি আমাকে খুব আঘাত করেছিল—দুই বা তিন বছর আগে এটি সংবাদমাধ্যমে না এলে আমি হয়তো এটা উল্লেখই করতাম না—এবং আমি তাদের জন্য একটি ভাতার ব্যবস্থা করেছিলাম, খুব বড় কিছু নয়, তবে অন্তত কিছু একটা, যাতে তারা ছয় সপ্তাহ চলতে পারে। আমি এমনটা করেছিলাম কারণ আমার মনে হয়েছিল তাদের সাথে খুব অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে আসলে আরও অনেক কিছু ছিল। খনিশ্রমিকরা এই মানুষগুলোর প্রতি ইচ্ছে করে কোনো অন্যায় আচরণ করেনি। আসল ব্যাপার হলো, আমরা ধীরে ধীরে শিল্পের এমন এক নতুন স্তরে প্রবেশ করছিলাম, যেখানে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান এবং ছোট শিল্পগুলোকে কোণঠাসা করে ফেলা হচ্ছিল। [[ব্যবসা]] একদিকে নিয়োগকর্তা এবং অন্যদিকে শ্রমিকদের বড় ধরনের একীভূতকরণের দিকে ঝুঁকছিল... এই বিবর্তনের সময়টাতে দেশকে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, যাতে আমরা আমাদের শিল্প সভ্যতার পরবর্তী স্তরে পৌঁছাতে পারি, সে ব্যাপারে প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়করা কী করতে পারেন তা আমাদের দেখতে হবে।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1925/mar/06/industrial-peace ভাষণ] (৬ মার্চ ১৯২৫)।
*আগামী বছরগুলোতে দেশের সামনে আসতে চলা এই বিশাল সমস্যায়, এক পক্ষ বা অন্য পক্ষের দিক থেকে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। কিন্তু এটি নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করে যে, এই দেশে অগ্রগতি কেবল সেই দুই দলের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব—যারা শক্তিতে এতটা সমান এবং দুর্বলতায় এতটা সমান—যদি তারা একে অপরকে বুঝতে শেখে এবং একে অপরের সাথে লড়াই না করে... আমরা শিল্পের পুরোনো অবস্থা থেকে নতুন অবস্থার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। আর প্রশ্ন হলো: সেই নতুন অবস্থাটি কেমন হতে চলেছে? কোনো মানুষই অবশ্যই বলতে পারবে না যে বিবর্তন ঠিক কী রূপ নিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আমি বেশ নিশ্চিত যে, আমরা যে রূপই দেখি না কেন... এটিকে একটি বেশ নিবিড় অংশীদারিত্বের রূপ নিতে হবে, তা যেভাবেই অর্জিত হোক না কেন। আর এটি এমন কোনো অংশীদারিত্ব হবে না যার শর্তগুলো পার্লামেন্টের আইনে, বা এই দল বা সেই দল থেকে ঠিক করে দেওয়া হবে, অন্তত এখনই নয়। এটি এমন মানুষদের একটি অংশীদারিত্ব হতে হবে যারা তাদের নিজেদের কাজ বোঝে। রাজনীতিবিদ বা বুদ্ধিজীবী কারও কাছ থেকেই তারা এ ব্যাপারে খুব বেশি সাহায্য পেতে পারে না। নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে যে সমস্যাটি আজ দেশকে বিভক্ত করে রেখেছে, তা বিচার করার, মীমাংসা করার এবং ব্যবস্থা করার মতো উপযুক্ত মানুষের সংখ্যা খুব কম। যারা নিজেরা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ করে আসেননি, এমন খুব কম মানুষই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার যোগ্যতা রাখেন। আমি সবসময় এই সংস্থাগুলোর উভয় পক্ষের শীর্ষ পদে এমন মানুষদের দেখতে চাই, যারা নিজেরা তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন, যারা ঠিক জানেন কোথায় সমস্যা হচ্ছে, যারা ঠিক জানেন কী ছাড় দেওয়া যেতে পারে এবং কী পারে না, যারা তাদের যুক্তিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেন। আমি আশা করি আমরা সবসময় এমন মানুষ খুঁজে পাব যারা সরাসরি সংঘর্ষের দিকে না গিয়ে নিজেদের জাহাজগুলোকে পাশাপাশি চালানোর চেষ্টা করবেন।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1925/mar/06/industrial-peace ভাষণ] (৬ মার্চ ১৯২৫)।
*ক্ষমতায় থাকার এই দুই বছর পর, আমরা আজ সম্ভবত আমাদের দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এবং দেশের সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়ে অবস্থান করছি। এখন, আমরা সেখানে কীভাবে পৌঁছালাম? এই বিলটি আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমরা সেখানে পৌঁছাইনি; বরং আমরা সেখানে পৌঁছাতে পেরেছি কারণ, ঠিক হোক বা ভুল, আমরা সারা দেশে এই ধারণাটি তৈরি করতে পেরেছিলাম যে আমরা একটি স্থিতিশীল সরকার এবং সমাজের সব শ্রেণির মধ্যে শান্তির পক্ষে... আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে; আজ যে বিলটি আনা হয়েছে তার ন্যায়বিচারে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু আমরা আমাদের হাত গুটিয়ে নেব, এবং এমন একটি সময়ে আমরা আমাদের রাজনৈতিক সুবিধাকে কাজে লাগাব না। যে সন্দেহ ইউরোপে স্থিতিশীলতা আসতে বাধা দিয়েছে, ঠিক সেই একই বিষ আমাদের দেশে স্থিতিশীলতা আসতে বাধা দিচ্ছে। আর আমরা আজ দেশকে এই প্রস্তাব দিচ্ছি: '''অন্তত আমরা প্রথম গুলিটি ছুড়তে যাচ্ছি না। আমরা শান্তির পক্ষে। আমরা দেশে সন্দেহ দূর করার পক্ষে। আমরা একটি নতুন যুগের জন্য একটি নতুন পার্লামেন্টে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে মানুষ একসাথে আসতে পারে।''' আমরা যে কাজে হাত দিয়েছিলাম, তা থেকে আমরা সরে দাঁড়াচ্ছি। আমরা জানি এর জন্য আমাদের কাপুরুষ বলা হতে পারে। আমরা জানি আমাদের বলা হতে পারে যে আমরা আমাদের নীতি থেকে সরে এসেছি। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই মুহূর্তে দেশের কী প্রয়োজন তা আমরা জানি। আর আমরা বিশ্বাস করি যে, এই মুহূর্তে অন্য কোনো দল যা করতে পারে না, আমাদের সেই কাজটি করার শক্তি আছে এবং আমরা অন্তত শান্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছি... যদিও আমি জানি যে এই হাউসে অনেকেই আছেন যারা আমাদের বেশিরভাগের চেয়ে ভিন্ন লক্ষ্যের জন্য কাজ করেন, তবুও সব স্তরের এবং সব দলের অনেকেই আছেন যারা আমার প্রার্থনার প্রতিধ্বনি করবেন: '''"হে প্রভু, আমাদের সময়ে শান্তি দাও।"'''
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1925/mar/06/industrial-peace ভাষণ] (৬ মার্চ ১৯২৫)।
*আমার মনে হয় আমাদের অনেকেই বুঝতে শুরু করেছিলাম যে আমরা বস্তুগত সম্পদের প্রতি আকর্ষণ হারাচ্ছি। আমরা বুঝতে পারছিলাম যে '''সম্পদ তৈরি হয়েছিল দাস হওয়ার জন্য, মনিব হওয়ার জন্য নয়—একটি দাস হিসেবে এর খুবই দরকারী একটি ভূমিকা রয়েছে, কিন্তু মনিব হিসেবে এর অর্থ হলো ধ্বংস বা নরকবাস।'''
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬১-৬২-এ উদ্ধৃত।
*যুদ্ধের পর যে গৌরবময় সময় আসবে, সেই কথা বলা ভাষণগুলোতে আমরা খুব একটা মুগ্ধ হইনি। বিশ্বে যুদ্ধের অর্থ কী তা আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। আমরা ইউরোপে সভ্যতার ভিত্তিগুলো ফাটল ধরতে অনুভব করেছিলাম। ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা জানতাম যে একটি প্রজন্মের জন্য এই দেশ এবং সমগ্র বিশ্ব অনেক, অনেক বেশি দরিদ্র হয়ে পড়বে। আমরা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের সভ্যতার ভিত্তির ফাটলগুলো মেরামত করতে এবং যুদ্ধের আগে দেশ যে সমৃদ্ধি ভোগ করত তা ফিরিয়ে আনতে কতটা সংগ্রাম করতে হবে। আমি এও মনে করি যে, আমাদের অনেকেরই [[w:Übermensch|সুপারম্যানদের]] ওপর খুব একটা বিশ্বাস ছিল না। '''আমি মনে করি ব্যবসায় আমাদের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছিল যে, বাস্তব জীবনে সুপারম্যান বলে কিছু নেই। আর আমাদের যদি সফল হতে হয়, তবে এই দেশের সাধারণ নারী-পুরুষের সহজাত কাণ্ডজ্ঞান, সততা, সাহস এবং বিশ্বাসের ওপরই আমাদের নির্ভর করতে হবে।'''
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬২-এ উদ্ধৃত।
*ঠিক এই কারণেই, আমার অনুভূতির জায়গা থেকেই, ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে আমি সেই পথ বেছে নিতে বাধ্য হই যখন আমি [[অ্যান্ড্রু বোনার ল|মিস্টার বোনার ল'র]] পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব গ্রহণ করি। আমি জেনেশুনেই তা করেছিলাম। কারণ আমি বিশ্বাস করেছিলাম যে, জীবনের এই পর্যায়ে এসে, আমি যে ব্যবসায় এতকাল যুক্ত ছিলাম তা থেকে স্বাধীন হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ আমার রয়েছে। তাই কোনো পারিশ্রমিকের প্রয়োজন ছাড়াই দেশের সেবা করার একটি সুযোগ আমার আছে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। আমার মতো এমন অনুভব করা লাখ লাখ মানুষ নিশ্চয়ই ছিল। আমি কখনোই বলিনি বা বিশ্বাস করিনি যে, আমি যে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি তা অন্য যেকোনো সেবার চেয়ে এক চুলও বেশি বা ভালো। '''যে মনোভাব নিয়ে সেবা করা হয়, তার ভিত্তিতে সব সেবাই সমান।''' আমাদের রাজ্যের প্রতিটি কোণায় আমাদের দেশের মহান শক্তির অন্যতম একটি উৎস হলো, এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের নিজেদের জন্য এমন কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই যেখানে প্রচার সবচেয়ে বেশি আর মানুষের নজর সবচেয়ে তীক্ষ্ণ। আর যতদিন আমাদের দেশ এই ধরনের মানুষ তৈরি করতে পারবে—আর আমি শুকরিয়া জানাই যে সমাজের সব শ্রেণি থেকেই এমন মানুষ তৈরি হচ্ছে—ততদিন আমি ইংল্যান্ডকে নিয়ে কখনোই হতাশ হব না।
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩-এ উদ্ধৃত।
*যুদ্ধ শেষ হওয়ার অনেক আগেই আমার কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এর প্রভাব—যা যুদ্ধ-পরবর্তী বছরগুলোতে এই দেশকে সবচেয়ে কঠিন আঘাত করবে—তা হলো আমাদের সেইসব তরুণদের হারানোর ট্র্যাজেডি, যারা মাত্র যোগ্যতা অর্জন করছিল এবং আমাদের তরুণদের নেতা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল... যুদ্ধের পর প্রথম কুড়ি বছরে এমন কিছুই নেই যা এই দেশের সেই বয়সের এতগুলো মানুষের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে। আর এটিই ছিল আরও একটি কারণ, যার জন্য আমরা যারা যুদ্ধ শুরুর সময় ইতোমধ্যেই মধ্যবয়সী ছিলাম, তারা যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই নিজেদের আরও উন্নত সত্তার কাছে এই বলে শপথ নিয়েছিলাম যে, মৃতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আমরা আমাদের বাকি জীবনের জন্য দেশের সেবায় আমাদের সেরাটা উজাড় করে দেব। আমাদের কাজ এখন আর সেই স্বস্তি খোঁজা নয় যা আমরা বৈধভাবেই খুঁজতে পারতাম। আমাদের কাজ হলো শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া এবং আসছে পরবর্তী প্রজন্মকে সাহায্য করা—সেই প্রজন্ম যারা যুদ্ধ করার জন্য খুব ছোট ছিল—তাদের সাহায্য করা যাতে সময় হলে তারা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে। বয়স্ক পুরুষদের ওপর এটি একটি বিশাল বোঝা, এবং এটি এমনই থাকবে। কিন্তু একটি ভাঙা এবং চূর্ণবিচূর্ণ বিশ্বকে সাহায্য করার জন্য নিজেদের সেরাটা দিতে পারাটাই তাদের গর্বের অবদান।
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪-এ উদ্ধৃত।
*[গত বিশ] বছরে দেশের অনেক জায়গাতেই পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। এখানে কার দোষ থাকতে পারে তা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। কিন্তু আমি এটা বলতে চাই যে, আমি উপলব্ধি করি, আপনারাও যেমনটা করেন, গত বিশ বছরে যে ধরনের প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার চালানো হয়েছে—যে প্রোপাগান্ডা শ্রেণিশত্রুতা শেখায়—তা অনেক জায়গাতেই তার মন্দ এবং বিষাক্ত কাজ করে গেছে... সেই দিকে যে কাজ করা হয়েছে তা মুহূর্তের মধ্যে মুছে ফেলা যায় না। আর এর জন্য সর্বোচ্চ সদিচ্ছা এবং দৃষ্টান্তের সর্বোচ্চ শক্তির প্রয়োজন হবে, যাতে বড় পরিসরে ভালো এবং এমন কিছু আনা যায় যার ওপর আমরা একটি স্থায়ী এবং স্থিতিশীল ইমারত গড়তে পারি।
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬৬-৬৭-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের যা করতে হবে... তা হলো লিমিটেড লায়াবিলিটি বা সীমিত দায়ের ব্যবস্থাকে মানবিক করে তোলা।
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬৭-এ উদ্ধৃত।
*আমি চাই নিয়োগকর্তাদের মধ্য থেকে এমন একজন মানুষ উঠে আসুক, যিনি তার কর্মীদের নেতৃত্ব দেবেন। তিনি তার নিজ পক্ষের হয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের কাজের সাথে যুক্ত সব বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হওয়াকে তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানাবেন। একজন যুবকের জন্য ব্যবসায় নামার এর চেয়ে ভালো কোনো উদ্দেশ্য হতে পারে না... শুধু টাকা কামানো নয়, বরং এই সম্পর্কগুলোকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা। যেসব যুবক ছেলেবেলায় ফ্রান্সে গিয়েছিলেন এবং একটি ব্রিটিশ রেজিমেন্ট কী তা শিখেছিলেন, তাঁদের জন্য সেই ব্রিটিশ রেজিমেন্টের চেতনা নিজেদের শিল্পে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করার চেয়ে ভালো কাজ আর কিছু হতে পারে না।
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬৮-৬৯-এ উদ্ধৃত।
*এই দেশে অনেকের কাছেই [[সাম্রাজ্যবাদ]] শব্দটির একটি কিছুটা নেতিবাচক অর্থ রয়েছে। আমার এবং আপনাদের মতে ভুলভাবে হলেও তারা এটিকে শোষণ, সারা বিশ্বকে পদদলিত করা, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সরকারি নীতিতে স্বার্থপরতার সাথে মিলিয়ে ফেলে। [[আলফ্রেড মিলনার, ১ম ভিসকাউন্ট মিলনার|লর্ড মিলনারের]] কাছে এটি তেমন কিছু ছিল না, আর আমাদের কাছেও এটি তেমন নয়। বরং এটি হলো—আমরা যে অংশগুলো নিয়ন্ত্রণ করি বা যেখানে আমাদের প্রভাব রয়েছে, সেখানে আইন, শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচারের সেই সমস্ত ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া, যা আমাদের জাতির জন্য অনন্য বলে আমরা বিশ্বাস করি। পিছিয়ে পড়া সভ্যতার মানুষকে সভ্যতার মাপকাঠিতে আরও ওপরে উঠতে সাহায্য করাটা—একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ, এবং এটি সফল করার জন্য প্রজ্ঞার প্রয়োজন। বিশ্বের আর কোনো দেশের ওপর আমাদের দেশের মতো এই দায়িত্ব চাপানো হয়নি। আর নিঃসন্দেহে আমরা কীভাবে এই দায়িত্ব পালন করি, তার ওপর ভিত্তি করেই ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের বিচার করা হবে। হয়তো আজ নয়, কিন্তু আমাদের রক্তের যারা আমাদের পরে আসবে, তারা এই বিচার করবে।
**অক্সফোর্ডে দেওয়া ভাষণ (১৫ মে ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের মধ্যে যারা গ্রাম এবং গ্রামের জিনিস ভালোবাসে, তারা নিজেদের রক্তে আমাদের ভূমির এই নগরায়ণ অনুভব করে। আমাদের পাখি এবং ফুল রক্ষার জন্য কিছু একটা করা প্রয়োজন বলেও তারা গভীরভাবে অনুভব করে।
**হাইড পার্কে হাডসন মেমোরিয়াল উন্মোচনকালে দেওয়া ভাষণ (১৯ মে ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১২৯-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের দুঃসাহসী চেতনা থেকে। অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি ভালোবাসা, আবিষ্কারের নেশা আর নতুন দেশে মুক্ত জীবনের আকাঙ্ক্ষা তাঁদের এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তারা যেখানেই গেছেন, নিজেদের সাথে তাঁদের মাতৃভূমির ঐতিহ্য, অভ্যাস আর আদর্শ নিয়ে গেছেন। যেখানেই তারা বসতি স্থাপন করেছেন, সেখানে একটি নতুন মাতৃভূমি গড়ে তুলেছেন। আর যদিও পর্বতমালা এবং বিস্তীর্ণ সমুদ্র তাঁদের আলাদা করে রেখেছিল, তবু সেই আত্মার সোনালি সুতো তারা কখনোই হারাননি, যা তাঁদের জন্মভূমির স্মৃতির দিকে টেনে নিয়ে যেত। এমনকি তাঁদের সন্তানরা এবং তাদের সন্তানদের সন্তানরা, যাদের কাছে গ্রেট ব্রিটেন ছিল কেবল একটি নাম বা একটি স্বপ্ন, তারাও সব সময় এটিকে বাড়ি বলেই ডাকত। আত্মীয়তার এই অনুভূতির মাঝেই সাম্রাজ্য তার উজ্জ্বলতম গৌরব এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় শক্তি খুঁজে পায়। পুরোনো সাম্রাজ্যগুলো সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এবং সামরিক আধিপত্যের মাধ্যমেই টিকে ছিল। সেগুলো ছিল পরাধীন জাতিগুলোর সাম্রাজ্য, যা একটি কেন্দ্রীয় শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো। আমাদের সাম্রাজ্য এগুলো থেকে এতটাই আলাদা যে আমাদের অবশ্যই সাম্রাজ্য শব্দটিকে একটি নতুন অর্থ দিতে হবে, অথবা এর পরিবর্তে ব্রিটিশ ন্যাশনস কমনওয়েলথ উপাধিটি ব্যবহার করতে হবে... '''আমি নিশ্চিত যে আমাদের মধ্যে কেউই এই ব্রিটিশ ন্যাশনস কমনওয়েলথ নিয়ে ভাবতে পারে না—যা আমাদের নিজস্ব জাতির নারী-পুরুষরাই তৈরি করেছেন—আমাদের গভীরতম অনুভূতির নাড়া দেওয়া ছাড়া।'''
**এম্পায়ার ডে বার্তা (১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২১৩-২১৪-এ উদ্ধৃত।
*আপনাদের অনেকেই জানেন, পুরোনো দিনে বিউডলি ছিল একটি আশ্রয় শহর। সেখানে একজন মানুষ, সে যতই পাপ করুক না কেন, পালিয়ে এসে বিচারের হাত থেকে নিরাপদ থাকতে পারত। তাই, বাইরের পৃথিবীর রুক্ষ ঢেউ যখন আমাকে সাধারণের চেয়ে বেশি জোরে ধাক্কা দেয়, তখন আমাকে কেবল মনে করতে হয় যে বিউডলিতে এমনকি একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্যও আশ্রয় আছে... আমার নিজের দেশে বোঝাপড়া, সহানুভূতি এবং সমর্থন পেতে আমি কখনোই ব্যর্থ হইনি। এমনকি জীবন যখন সবচেয়ে কঠিন মনে হয় এবং সামনের বাধাগুলো পার হওয়া অসম্ভব বলে মনে হয়, তখনও আমি স্মৃতির পাতায় এই নদীর ধারের শান্ত জায়গাটিতে ফিরে যেতে পারি। এখানেই আমি প্রথম শ্বাস নিয়েছিলাম, এবং এখানকার স্মৃতি থেকেই আমি শক্তি সঞ্চয় করতে পারি। ছেলেবেলার স্মৃতি লালন করার জন্য এর চেয়ে আদর্শ কোনো ইংরেজ পরিবেশ হতে পারে না। আমার মনে পড়ে, ছোটবেলায় আমি সেতু থেকে নদীর উজানের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আমি দেখতাম নদীর ঠিক পাশেই থাকা শ্রপশায়ারের সেই রহস্যময় ও রোমান্টিক ভূমি, যেখান থেকে মাত্র তিন প্রজন্ম আগে আমার পূর্বপুরুষরা এসেছিলেন। আমি দেখতাম ছোট্ট রেললাইন ধরে ওয়ায়ার ফরেস্ট, ক্লিওবেরি মর্টিমার, নিন সোলার্স এবং টেনবেরির মতো নামধারী জায়গাগুলোর মধ্য দিয়ে ছুটে চলা ট্রেনের ধোঁয়া। এই নামগুলো রোমান্স এবং বহু আগে পেরিয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের বসন্তের গন্ধে ভরপুর, যার ঐতিহ্য আজ আমাদের।
**বিউডলিতে দেওয়া ভাষণ (৮ আগস্ট ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০-১১-এ উদ্ধৃত।
*শব্দ হলো ভালোবাসা ও [[বন্ধুত্ব|বন্ধুত্বের]], তৈরি ও বিপণনের, শান্তি ও যুদ্ধের মুদ্রা। শব্দ দিয়েই জাতিগুলোকে বাঁধা হয় এবং মুক্ত করা হয়। তিনটি বা চারটি সহজ শব্দই সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ের মতো মানুষের হৃদয়ে আবেগের ঢেউ তুলতে পারে: "যাতে আমরা ভুলে না যাই ।" "[[দেশপ্রেম|দেশপ্রেমই]] যথেষ্ট নয় ।"
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭৮-এ উদ্ধৃত।
*'''খামখেয়ালিভাবে চিন্তা করার চেয়ে নিয়মমাফিকভাবে সন্দেহ করা ভালো।'''
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৮৩-এ উদ্ধৃত।
*আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের কোথাও এই দেশের চেয়ে উচ্চতর বাণিজ্যিক সম্মানের মানদণ্ড নেই। আর আমাদের আইনের अदालतগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যা বিশ্বব্যাপী একটি সম্মানজনক মর্যাদা ভোগ করে।
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৮৪-এ উদ্ধৃত।
*কেবল একটি দলের রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সমগ্র জাতির সাথে যুক্ত থাকা এই দুর্নামের ব্যাখ্যা কী? মূলত, আমি মনে করি, এর কারণ হলো রাষ্ট্রগুলো যখন থেকে অস্তিত্ব লাভ করেছে, তখন থেকেই তারা বিপদে পড়েছে এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শক্তির ওপর নির্ভর করেছে। যুদ্ধই তাদের স্বাভাবিক ইতিহাস... যুদ্ধ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির সাথে সাথে আসে কূটনীতির কৌশল, সাধারণ নৈতিকতার পতন, সত্যের জন্য একটি ছুটি এবং এর ফলস্বরূপ সৃষ্টি হওয়া মানববিদ্বেষ... আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং সংঘাতের ময়দানে মানুষ রাষ্ট্রনায়কদের অপরিহার্য গুণ হিসেবে সত্যবাদিতার চেয়ে দেশপ্রেমকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৮৫-৮৬-এ উদ্ধৃত।
*একজন রাজনীতিবিদ একজন বিজ্ঞানীর চেয়ে একজন ব্যারিস্টার বা আইনজীবীর অনেক কাছাকাছি... আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ প্রমাণের চেয়ে প্ররোচনায় বেশি আগ্রহী। তাদের রক্ষা করার জন্য একজন মক্কেল বা একটি নীতি থাকে। রাজনৈতিক দর্শকরা স্বভাবগতভাবে অসাধু নয়, বা তারা অন্যের অসাধুতা বা মিথ্যা উপস্থাপন পছন্দ বা অনুমোদন করে না। তবে তারা এমন দর্শক যারা গভীর কোনো যুক্তি অনুসরণ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। আর একজন বক্তা দর্শকদের মনে একটি অনুকূল ছাপ ফেলতে চান, একটি নীতির পক্ষে সমর্থন আদায় করতে চান। এটি সহজেই বোঝা যায় যে কীভাবে এটি শব্দের মুদ্রামূল্য কমিয়ে দিতে পারে এবং এমন সব প্রতিশ্রুতি ছড়িয়ে দিতে পারে যা কখনোই পূরণ করা সম্ভব নয়।
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৮৯-৯০-এ উদ্ধৃত।
*মানুষ যেসব ভালো জিনিস উপভোগ করে, তার জন্য তাকে যে মূল্য চোকাতে হয় তা হলো অবিরাম সতর্কতা, যাতে সেগুলো কোনো খারাপ কাজে ব্যবহার করা না হয়। ইতিহাসের শুরু থেকেই কি পানীয়, ভাষা এবং স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এই কথাটি সত্য নয়? ...আসুন আমরা [[ম্যাকিয়াভেলি|ম্যাকিয়াভেলির]] বদলে [[হুগো গ্রোশিয়াস|গ্রোটিয়াসের]] মতো জনঅধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়াই; আসুন আমরা আমাদের সরকারি আলাপ-আলোচনাগুলোকে আরও নৈতিক করে তোলার চেষ্টা করি এবং কপটতা ও প্রতারণার জায়গা কমিয়ে আনি। এটি কেবল আমাদের সেরা মানুষদেরই একটি গৃহীত নীতি নয়, বরং আমি নিশ্চিত যে এটি ব্রিটিশ জনগণের এক গভীর প্রবৃত্তি বা স্বভাবের সাথেও মিলে যায়। এটি ১৯১৪ সালের আগস্টে প্রমাণিত হয়েছিল যখন এটি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে '''নৈতিকতা রাজনীতির কোনো শাখা নয়, বরং রাজনীতিই নৈতিকতার শাখা'''। এটি লিগ অব নেশনস-এ আমাদের সমর্থনের মূলেও রয়েছে।
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৯১-এ উদ্ধৃত।
*মৌলিক প্রশ্নটি হলো, একজন ব্যক্তির সব ধরনের স্বভাব বা বৈশিষ্ট্যগুলো তার কাজে কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়... [[শিল্পবিপ্লব|শিল্পবিপ্লবের]] এই হতাশাজনক দিকগুলো কারখানার ভেতরে যা-ই বয়ে আনুক না কেন, কারখানার বাইরে একটি অত্যন্ত খারাপ জিনিস বয়ে আনার প্রবণতা এদের মধ্যে ছিল। আর তা হলো কাজের প্রতিই এক ধরনের অনীহা। কাজকে যদি রুচিসম্মতভাবে উপস্থাপন করা যায়, তবে আমি নিশ্চিত নই যে সাধারণ মানুষ এটি পছন্দ করবে না, যদি না তারা পর্যাপ্ত বিনোদনের সুযোগ পায়। '''আসল শত্রু হলো অতিরিক্ত কাজ, কম বেতন, নিরাপত্তাহীনতা এবং খারাপ পরিস্থিতি'''... আমরা যা সম্ভব তাকে বাড়িয়ে বলতে পারি না। আপনি একঘেয়েমি কাজ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবেন না; এমনকি কোনো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও পারবেন না। সর্বোপরি, একজন শ্রমিকের জীবনের একঘেয়েমি অনেকটাই নির্ভর করে ভোক্তাদের চাহিদার একঘেয়েমির ওপর। যদি কোনো মানুষ প্রতিদিন একই জিনিস চায়, তবে যে মানুষটি সেটি তৈরি করছে তার কাজ একঘেয়ে হবেই।
**ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইকোলজিতে দেওয়া ভাষণ (১২ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৫৫-৫৬-এ উদ্ধৃত।
==== ১৯২৬ ====
[[Image:KingBaldwin1926.jpg|thumb|রাজনীতিকে যদি সঠিকভাবে দেখা যায়, তবে তা সত্যিই এক ধরনের ধর্মীয় সেবার (মিনিস্ট্রি) মতো।]]
*কেন [[রোম সাম্রাজ্য|রোমান সাম্রাজ্যের]] উত্থান হয়েছিল এবং কেনই বা উত্থানের পর তার পতন ঘটেছিল? ...সাম্রাজ্যের উত্থানে রোমানদের চরিত্র যেমন ভূমিকা রেখেছিল, পতনের ক্ষেত্রেও কি ঠিক তেমনই ভূমিকা রাখেনি? ...আমার কাছে রোমান চরিত্রের সবচেয়ে বড় এবং অনন্য শক্তি হলো ''pietas (নিষ্ঠা)'' ও ''gravitas (গাম্ভীর্য)'' শব্দ দুটির মধ্যে। এগুলোই ছিল সেই দেশপ্রেমের ভিত্তি, যা একাই সাম্রাজ্যের বোঝা বইতে পারত। এই দেশপ্রেম ছিল সহজাত, অসীম ক্ষমতার এক চালিকাশক্তি। অথচ এটি এতটাই পবিত্র ছিল যে, একে নিয়ে কখনোই বড়াই করা হয়নি, কোনো পুরস্কারের আশা করা হয়নি, একে খুব স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া হতো এবং একে প্রকাশ করার মতো কোনো একক শব্দও ছিল না।
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৩-১০৪-এ উদ্ধৃত।
*''Pietas'' ও ''gravitas'' (তথা নিষ্ঠা ও গাম্ভীর্যের) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা চরিত্রের শেকড় ছিল সত্যের গভীরে। আর আমি এ কথা ভেবে গর্ববোধ করি যে, ইংরেজি শব্দটি রোমান শব্দের চেয়ে কোনো অংশেই কম সম্মানজনক নয়... রোমান সৈন্যদল যখন ব্রিটেন ছাড়ছিল, তখন অ্যামিয়ান লিখেছিলেন, রোমানদের কথার ওপর আর ভরসা করা যায় না। তার এই লেখা থেকেই আমরা তা জানতে পারি। '''শহরগুলোতে জনসংখ্যার ভিড়, অপরিসীম বিলাসিতা এবং সম্পদের স্থায়ী উৎসগুলোর নিঃশেষ হয়ে যাওয়া—এসবের চেয়েও এটি আমার কাছে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ একটি অশনিসংকেত বলে মনে হয়। কারণ এই সব কিছু মিলে সেই চরিত্রটিকেই দুর্বল করে দিয়েছিল, রাষ্ট্রের বেঁচে থাকার জন্য যার টিকে থাকাটা অপরিহার্য ছিল।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৫-এ উদ্ধৃত।
*আজ যারা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাদের মনে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। সেই ভয় এখনও আমাদের গলা চেপে ধরেনি ঠিকই, তবে গোধূলির আলোয় এক ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। ভয়টা হলো, [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|মহামহাবুদ্ধ]] এত বিপুল সংখ্যক সেরা জীবন কেড়ে নেওয়ার কারণে সাম্রাজ্যের কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট উপযুক্ত মানুষ হয়তো আর অবশিষ্ট নেই। আমাদের কাজ এমনিতেই অনেক কঠিন, তবে তা সম্পন্ন হবে; '''তবুও ইউরোপের কে না জানে যে, পশ্চিমে যদি আর একটি যুদ্ধ হয়, তবে যুগের পর যুগ ধরে গড়ে ওঠা সভ্যতা রোমের মতোই এক ভয়ংকর পতনের সম্মুখীন হবে? সে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিপদের সংকেত রেখে গেছে; এখন সেগুলো পড়ার দায়িত্ব আমাদের।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৬-এ উদ্ধৃত।
*আমি যেহেতু বিশ্বাস করি যে বিশ্বের অনেক সভ্যতা ও সংস্কৃতি পশ্চিম ইউরোপের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই আমাদের জন্য এটি মনে রাখা ভালো যে, ঐতিহাসিক সময়ে আমরা পশ্চিম ইউরোপীয়রা একসঙ্গে একটি বিশাল সাম্রাজ্যের সদস্য ছিলাম। এবং আমরা ভাষা, আইন এবং ঐতিহ্য—যদিও ভিন্ন মাত্রায়—একে অপরের সাথে ভাগ করে নিই। '''একই মায়ের কাছ থেকে নাগরিকত্বের প্রথম পাঠ শেখা জাতিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ হওয়াটা আমার কাছে ভ্রাতৃঘাতী উন্মাদনা বলেই মনে হয়।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৭-এ উদ্ধৃত।
*অ্যাথেন্স এবং রোমে... প্রতিটি চূড়ান্ত সমস্যাই তাদের ছিল, যেমনটা এখন আমাদের। আর আপনি তাদের আবেদনে যত বেশি নিজের আত্মাকে উন্মুক্ত করবেন, হোঁচট খাওয়া মানবতার প্রতি আপনার করুণা তত গভীর হবে। আপনি মানব পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করার চেয়ে বরং তাদের একত্রে বাঁধতে তত বেশি আগ্রহী হবেন। এটা কোনো অন্ধ নিয়তি নয় যে আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন পণ্ডিত তার জীবনকে [[w:সম্মিলিত_জাতিপুঞ্জ|লিগ অফ নেশনসের]] আদর্শের জন্য উৎসর্গ করেছেন। বরং এটি সেই গ্রিকদের ব্যর্থতা মোচনে অবদান রাখার ইচ্ছা থেকেই এসেছে, যাদেরকে বুঝতে তিনি জীবিত যেকোনো মানুষের চেয়ে এই আধুনিক বিশ্বকে বেশি সাহায্য করেছেন।
**[[গিলবার্ট মারে|গিলবার্ট মারেকে]] নিয়ে ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১১৫-১১৬-এ উদ্ধৃত।
*দেশের এখন অন্য একজন [[জন ওয়েসলি|ওয়েসলি]] বা [[জর্জ হোয়াইটফিল্ড|হোয়াইটফিল্ডের]] মতো আর কাউকে এতটা প্রয়োজন নেই... আজ বিশ্বকে খ্রিস্টীয় যুগে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি [[অধর্ম|ধর্মহীন]] বলে মনে হচ্ছে। দায়িত্বজ্ঞানহীন আনন্দ-সন্ধান এবং অপব্যয়ী বিলাসিতা এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে; আমাদের শৈশবে গির্জায় যাওয়ার যে চল ছিল, তা এখন আর নেই; এবং যাজকপদের (মিনিস্ট্রি) জন্য প্রার্থীদের সংখ্যাও আগের বছরগুলোর তুলনায় কমে গেছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এই পরিস্থিতি কেটে যাবে।
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৫-১৯৬-এ উদ্ধৃত।
*আমি সেখানে, বিশেষ করে লেবার পার্টির মধ্যে এমন অনেক লোককে দেখি যারা পঞ্চাশ বছর আগে নিশ্চিতভাবেই খ্রিস্টান যাজকপদে (মিনিস্ট্রি) যোগ দিতেন। জনগণকে সাহায্য করার গভীর আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা রাজনৈতিক জীবনে আকৃষ্ট হয়েছেন। আজকাল সব দলেই এমন মানুষ দেখা যায়... আমি অবশ্যই অনেক পর্যবেক্ষকের সাথে একমত যে, যুদ্ধের পর থেকে [[শয়তান|শয়তানের]] স্পষ্ট শক্তিগুলো আরও বেশি মাত্রায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এই শক্তিগুলোর প্রকাশই আবার অন্যান্য শক্তিগুলোকে মাঠে নামার আহ্বান জানাচ্ছে।
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৬-এ উদ্ধৃত।
*'''রাজনীতিকে যদি সঠিকভাবে দেখা যায়, তবে তা সত্যিই এক ধরনের ধর্মীয় সেবার (মিনিস্ট্রি) মতো।'''
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৭-এ উদ্ধৃত।
* '''আমি একজন শান্তির মানুষ। আমি শান্তির জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা করছি, কাজ করছি এবং প্রার্থনা করছি। কিন্তু আমি ব্রিটিশ সংবিধানের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার সাথে কোনো আপস করব না।''' আপনারা আঠারো মাস আগে আমাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। অনেক অনেক বছর পর কোনো দলকে দেওয়া সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি কি এমন কিছু করেছি যার জন্য সেই বিশ্বাস হারাতে পারি? মানুষে মানুষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং একটি ন্যায্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে আপনারা কি আমার ওপর ভরসা রাখতে পারেন না?
** সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে বিবিসি রেডিওতে দেওয়া ভাষণ (৮ মে ১৯২৬), কিথ মিডলমাস এবং জন বার্নসের লেখা ''বল্ডউইন : এ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৪১৫-তে উদ্ধৃত। *খাদ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, সব ধরনের [[পরিবহন]] ব্যবস্থা অধিগ্রহণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বন্দরগুলোতে থাকা কয়লা রপ্তানি বন্ধ করতে সরকার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছিল, যা আমাদের চেয়ে কম সুশৃঙ্খল কোনো জাতির মধ্যে ঘটলে দাঙ্গা এবং বিপ্লব অনিবার্য ছিল। '''কিন্তু আমাদের জাতি কোনো অপরিপক্ব বা অনভিজ্ঞ জাতি নয়। আমাদের দেশ তার সেরা ঐতিহ্য বজায় রেখে মাথা ঠান্ডা রেখেছিল। আর মাথা ঠান্ডা রেখেই সারা বিশ্বের প্রশংসা—এমনকি অনিচ্ছাকৃত প্রশংসাও—আদায় করে নিয়েছিল।'''
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৫৯-এ উদ্ধৃত।
*এটি স্বীকার করা হয়েছিল, এবং ন্যায্যভাবেই স্বীকার করা হয়েছিল যে, যখন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একজোট হয়, তখন তাদের পক্ষে এককভাবে সেই শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার সাথে দরকষাকষি করা সম্ভব নয়, যারা এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনটা আশা করাও তাদের প্রতি সুবিচার নয়। তাই কার্যকর চুক্তির স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্যই, নিজেদের অবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার অধিকার মানুষকে দেওয়া হয়েছিল। শিল্পের নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই ট্রেড ইউনিয়নগুলোর জন্ম হয়েছিল, যেমনটা আমরা আজ দেখি। তখন এটি অপরিহার্য ছিল, এবং সেই উদ্দেশ্যের জন্য এটি ভবিষ্যতেও অপরিহার্য থাকবে। এই দেশই হলো এ ধরনের জোটবদ্ধ হওয়ার জন্মস্থান—'''এই দেশ, যা বৈধ এবং বিবর্তনমূলক উপায়ে মানবজাতিকে মুক্ত করার প্রতিটি প্রচেষ্টার জন্মস্থান। অন্যান্য এবং অপেক্ষাকৃত কম সৌভাগ্যবান দেশগুলোর প্রচেষ্টা ব্যর্থতা ও বিপর্যয়ে তলিয়ে যাওয়ার অনেক পরও এই দেশ এভাবেই তার ধারা বজায় রাখবে।'''
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬১-তে উদ্ধৃত।
*যুদ্ধের দুই বছর আগে [[এইচ. এইচ. অ্যাসকুইথ|লর্ড অক্সফোর্ডের]] তৎকালীন সরকারকে ধর্মঘটের মহামারির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এক পেশার মানুষের বিরোধ সবার বিরোধে পরিণত হয়েছিল। এটি ছিল সহমর্মিতার ধর্মঘট... এক দল নেতার হাতে এটি হয়তো শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির জন্য নিয়োগকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। কিন্তু অন্যদের হাতে এটি এমন এক অস্ত্রে পরিণত হয়েছিল, যা দিয়ে শ্রেণিসংগ্রাম—যাকে তখন শ্রেণিসংগ্রাম বলা শুরু হয়েছিল—পরিচালনা করা যায়। আর সাধারণ ধর্মঘট, যা নিয়ে তখন প্রথম আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা হয়ে উঠেছিল এমন এক চরম হাতিয়ার যার মাধ্যমে পুরো সমাজকে হয় অনাহারে রেখে অথবা ভয় দেখিয়ে এর প্রবর্তকদের ইচ্ছার কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করা যেতে পারে। একই আন্দোলনের মধ্যে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছিল: পুরোনো নিয়মতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি... আলোচনা করা, সম্মিলিতভাবে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে ধর্মঘটের আশ্রয় নেওয়া। অন্যদিকে, ট্রেড ইউনিয়নের এই বিশাল সংগঠনটিকে এমন এক যন্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা, যা দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন উদ্যোগের ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে সার্বজনীন রাষ্ট্রীয় কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা স্থাপন করা যায়... এরপর কী হবে তা কখনোই খুব একটা পরিষ্কার ছিল না। শুধু এটুকু পরিষ্কার ছিল যে, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলাই হলো প্রথম প্রয়োজনীয়তা। এটি ছিল অতীতের সাথে এক গভীর বিচ্ছেদ, এবং এর উৎপত্তি হয়েছিল বিদেশি উৎস থেকে। আর সেইসব বিদেশি বিপ্লবী দৃষ্টান্তগুলোর মতোই এটিও মূলত অত্যন্ত গোপনীয় এবং গুপ্ত ছিল। চুক্তি এবং চুক্তিনামার প্রতি এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ব্রিটিশদের খোলাখুলি এবং সৎ লেনদেনের ঐতিহ্য থেকে সরে আসা। এই প্রোপাগান্ডা হলো ঘৃণা এবং ঈর্ষার প্রোপাগান্ডা।
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৪-১৬৫-তে উদ্ধৃত।
*ধর্মঘটকারীদের ভালো গুণাবলির প্রতি এটি একটি বড় সম্মান যে তারা তাদের নির্দেশনার প্রতি আনুগত্যে শৃঙ্খলা এবং সংযমের প্রমাণ দিয়েছে। তারা আমাদেরই দেশের মানুষ। তাদের অনেকেই কেবল আনুগত্যের অনুভূতি থেকেই নির্দেশ পালন করেছে, যদিও তারা নিজেরাই সেই নির্দেশগুলো পছন্দ করেনি। কিন্তু যদি সেই ধর্মঘট সফল হতো, তবে তা কেবল খনি শ্রমিকদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র দেশের জন্যই শিল্পক্ষেত্রে ধ্বংস ডেকে আনত।
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৭-তে উদ্ধৃত।
*এটি হয়তো শ্রমিকদের সংহতির এক চমৎকার প্রদর্শন হতে পারত। কিন্তু একই সাথে, সবার মঙ্গলের জন্য একসঙ্গে বসবাস ও কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের সবার ব্যর্থতার এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক প্রমাণও ছিল এটি। যেসব নেতারা ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলেন, কোনো শর্ত ছাড়াই সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে যে সাহসের প্রয়োজন ছিল, আমি তার প্রশংসা করি... এখন যেসব সমালোচক তাদের সোজা পথে না চলার জন্য দোষারোপ করছেন, তাদের চেয়ে ঐ নেতাদের অনেক বেশি সাহসের প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু সেই ধর্মঘট যদি খনি শ্রমিকদের প্রতি সংহতি বা সহানুভূতি—বা আপনি যা-ই বলুন না কেন—দেখিয়ে থাকে, তবে এটি তার চেয়েও অনেক বড় কিছু দেখিয়েছিল। '''এটি আমাদের দেশের পুরো কাঠামোর স্থিতিশীলতা প্রমাণ করেছিল, এবং পুরো বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে একটি গুলিও ছোড়া হয়নি। আমাদের দেশের মানুষের কাণ্ডজ্ঞান এবং ভালো মেজাজের কারণেই আমরা রক্ষা পেয়েছি।'''
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৭-১৬৮-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের মানুষ পার্লামেন্টকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে [[পুঁজিবাদ|পুঁজিপতি]] বা [[ট্রেড ইউনিয়ন|ট্রেড ইউনিয়নিস্টদের]] [[রাজাদের ঐশ্বরিক অধিকার|ঐশ্বরিক অধিকার]] প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে না। আর আমরা এদের কারও [[স্বৈরতন্ত্র|স্বৈরতন্ত্রের]] কাছেই মাথা নত করতে যাচ্ছি না... আমি দেখতে চাই আমাদের ব্রিটিশ লেবার আন্দোলন বিদেশি এবং ভিন্নমতের চিন্তাধারা থেকে মুক্ত থাকুক। আমি দেখতে চাই এটি ইংরেজদের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে ইংরেজি ধাঁচেই এগোচ্ছে এবং বিকশিত হচ্ছে।
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৯-১৭০-এ উদ্ধৃত।
*'''অবিরাম সংঘাত কেবল দারিদ্র্য এবং নিপীড়নের দিকেই নিয়ে যেতে পারে। একমাত্র শান্তিই দারিদ্র্য এবং নিপীড়নের এই দুই ভূতকে দূর করতে পারে।'''
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৭১-এ উদ্ধৃত।
*আপনাদের বুঝতে হবে যে আমরা যে বছরগুলোতে বাস করছি, যে বছরগুলোতে আমরা প্রবেশ করছি, সেগুলো অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি করে গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষার সময় হতে যাচ্ছে... আমরা এই দেশে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলতে পারি; আর যদি আমরা তা করি, তবে আমরা এর চেয়েও অনেক খারাপ কিছু পাব—আমরা কোনো না কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র পাব। আমি জানি না সেটি কোন ধরনের স্বৈরতন্ত্র হতে পারে। '''এটি কমিউনিস্ট স্বৈরতন্ত্র হতে পারে; আবার অন্য দিকের কোনো স্বৈরতন্ত্রও হতে পারে। কিন্তু আপনারা যদি একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতন্ত্র গড়ে তুলতে না পারেন, তবে সেটাই হবে দেশের পরিণতি।'''
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৭-১৮-তে উদ্ধৃত।
*যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, রাজনৈতিক কোনো বিষয়, আইন প্রণয়ন বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ বিচার করার সময় কোন দুটি মূল নীতি আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত, তবে আমি বলব কাণ্ডজ্ঞান এবং এই দেশের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটির সংরক্ষণ—আর তা হলো ব্যক্তি স্বাধীনতা। এই মানদণ্ডগুলো প্রয়োগ করলে আপনি খুব কমই ভুল পথে যাবেন। আজ অনেকেই মনে করেন আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই বিশ্বের সব রোগ সারানো সম্ভব। কিন্তু তাদের প্রস্তাবিত আইনটি দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে মানানসই কি না এবং তা ব্যক্তির স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করছে কি না, তা আপনাকে যাচাই করে দেখতে হবে। আর যদি এই বিষয়গুলোতে আপনি সন্তুষ্ট হতে না পারেন, তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে দীর্ঘমেয়াদে সেই আইন উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে।
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৮-১৯-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের দেশে স্বাধীনতার ধারণাটি এতটাই মূল্যবান, এতটাই পবিত্র এবং যুগ যুগ ধরে সংগ্রামের ফল হিসেবে অর্জিত যে, আমি নিশ্চিত ছিলাম অন্য কোনো দেশে এমনটা নেই। অন্যান্য দিক দিয়ে তারা আমাদের চেয়ে যত সুবিধাতেই থাকুক না কেন, এই দেশের মতো আর কোথাও স্বাধীনতাকে এত মূল্যবান মনে করা হয় না বা সেভাবে দেখা হয় না। আর এটি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যারা সব পরিস্থিতিতে আমাদের কিছু শেখাতে পারে।
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৯-এ উদ্ধৃত।
*আমার মতে ১৯১৪ সালের আগস্টের চেয়ে ৪৯০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সেপ্টেম্বর মাসটি ইউরোপের ভাগ্য নির্ধারণে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পশ্চিমা সভ্যতা... তার শৈশবেই ম্যারাথনে রক্ষা পেয়েছিল, এবং দশ বছর পর লিওনিদাস এবং সালামিসের মানুষদের দ্বারা... যদি সেই দশকটি না থাকত, তবে [[পূর্ব/মধ্য ইউরোপ|পূর্ব ইউরোপকে]] প্রাচ্যমুখী হওয়া থেকে আটকানোর মতো কিছুই থাকত না। তখন ইউরোপের আধিপত্যের চূড়ান্ত লড়াইটা কেবল [[হাখমানেশি সাম্রাজ্য|পারসিক]] এবং [[প্রাচীন কার্থেজ|কার্থাজিনিয়ানদের]] মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। [[প্রাচীন গ্রিস|গ্রিকরা]] না থাকলে আমরা আজ যে সভ্যতা চিনি, তার অস্তিত্বই থাকত না। আমরা সবাই হয়তো কালো চামড়ার, লম্বা নাকের মানুষ হতাম... '''[[ইংল্যান্ড]] হলো [[স্বাধীনতা]] এবং মুক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক আবাস। বিশ্বের জন্য এই আশীর্বাদগুলো নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় হেলাসের (প্রাচীন গ্রিস) কাছে তার ঋণ স্বীকার করতে তার চেয়ে বেশি ত্বরিত অন্য কোনো দেশের হওয়া উচিত নয়।'''
**লন্ডনে ব্রিটিশ স্কুল অ্যাট অ্যাথেন্সের বার্ষিক সভায় দেওয়া ভাষণ (২ নভেম্বর ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ২০৫-এ উদ্ধৃত।
==== ১৯২৭ ====
*...সেই উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা যা প্রায়শই আধুনিক ইউরোপের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। '''একটি সত্যিকারের জাতীয় অনুভূতি গড়ে তোলার এবং আপনার নিজের দেশকে তার প্রাপ্য গৌরবের আসনে বসানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অন্যান্য জাতির সাথে মিলেমিশে এবং সমগ্র বিশ্বের উন্নতির একমাত্র লক্ষ্য নিয়ে তা করা।''' যুদ্ধের পর থেকে আমরা কেবল মোহভঙ্গেই ভুগিনি; আমরা নিজেদের এবং বিশ্ব সম্পর্কে অনেক বেশি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছি... '''[[জাতীয়তাবাদ]] অনেক কুৎসিত রূপ নিতে পারে। দেখে মনে হচ্ছে ধর্ম বা স্বাধীনতার নামের মতোই এর নামেও অনেক অপরাধ সংঘটিত হবে।''' প্রকৃতপক্ষে, সমস্যার মূল কারণ হলো জাতীয়তাবাদীরা ধর্মের পোশাক পরতে পছন্দ করে... '''একপেশে বুদ্ধিজীবীদের প্রচারণার ফলে নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রতিবেশীর দেশের প্রতি ঘৃণায় পরিণত হয়েছে। এই বুদ্ধিজীবীরা সাধারণত অন্যদের জন্য যে আত্মত্যাগের ব্যবস্থা করে, নিজেরা ঠিকই তা থেকে পালিয়ে বাঁচে।'''
**কার্ডিফে সেন্ট ডেভিডস ডে ব্যাঙ্কোয়েটে দেওয়া ভাষণ (১ মার্চ ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭-এ উদ্ধৃত।
*যে শেকড় আমাদের জন্মভূমি এবং জন্মভাষার সাথে বেঁধে রাখে, তা ধ্বংস করলে আমাদের আত্মার স্বাস্থ্যেরই ক্ষতি হবে। '''দেশের প্রতি ভালোবাসা এক গভীর এবং সর্বজনীন প্রবৃত্তি, যা প্রাচীন স্মৃতি এবং সূক্ষ্ম সংযোগে ভরপুর। যেসব মানুষ অস্পষ্ট এবং পানসে বিশ্বজনীনতার লোভে তাদের জাতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে, তারা মানুষের চেয়েও অধম হয়ে যায়; তারা তাদের ব্যক্তিত্বকে অভুক্ত রাখে এবং খর্ব করে; তারা একধরনের রাজনৈতিক নপুংসকে পরিণত হয়।'''
**কার্ডিফে সেন্ট ডেভিডস ডে ব্যাঙ্কোয়েটে দেওয়া ভাষণ (১ মার্চ ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৫০-এ উদ্ধৃত।
*আজ আমাদের সাম্রাজ্যের চিন্তায় পতাকা ওড়ানো বা মানচিত্র লাল রঙে রাঙানোর অহংকার করার মতো কিছুই নেই। না! কেবল সেই জাতির প্রতি গর্ববোধ আছে যে জাতি থেকে আমাদের উদ্ভব—এমন এক গর্ব যা আমাদের নিজেদের চোখেই আমাদের বিনীত করে এবং আমাদের যে উত্তরাধিকার এবং দায়িত্ব রয়েছে, তার যতটা সম্ভব যোগ্য করে তুলতে সংকল্পবদ্ধ করে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬০-এ উদ্ধৃত।
*...এখনও কেবল আমাদের জন্যই এমন সব সুযোগ রয়েছে যা অন্যান্য জাতিদের জন্য উন্মুক্ত নয়। বিশ্বের প্রায় যেকোনো অংশে এবং যেকোনো জলবায়ুতে বসতি স্থাপন এবং কাজ করা আমাদের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে আমরা এমন সব মানুষদের মাঝে নিজেদের খুঁজে পাই যারা আমাদের ভাষায় কথা বলে, আমাদের আইন মেনে চলে, আমাদের মতো একই আদর্শ লালন করে, আমাদের পরিচিত রীতি অনুযায়ী উপাসনা করে এবং একই সার্বভৌম ক্ষমতার অধীন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের—টোরি, লিবারেল এবং লেবার নির্বিশেষে—আমাদের ঐক্যকে এমন এক বাস্তবতায় রূপ দিতে হবে যাতে নারী-পুরুষ সবাই সাম্রাজ্যকে একটি অভিন্ন সত্তা হিসেবে দেখে। যাতে করে গ্লাসগো থেকে লন্ডন বা ব্রিস্টল থেকে নিউক্যাসল যাওয়ার মতোই সহজে এবং স্বাধীনভাবে তারা সাম্রাজ্যের সীমানার মধ্যে [[নিউজিল্যান্ড]], [[অস্ট্রেলিয়া]], [[দক্ষিণ আফ্রিকা]] বা [[কানাডা|কানাডায়]] যেতে পারে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬০-৬১-তে উদ্ধৃত।
*আমরা যারা এই সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হয়েছি, তারা এর জন্য গর্বিত। আর আমাদের গর্বিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এই গর্বের সাথে সেইসব মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও মিশে থাকা উচিত, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সাম্রাজ্য বেড়ে উঠেছে। যুদ্ধের ধাক্কায় এখনও ধুঁকতে থাকা এই বিশ্বে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য মঙ্গলের এক বিশাল শক্তি হিসেবে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে... প্রতিটি বাতাসের প্রবাহে, প্রতিটি সমুদ্রের ঢেউয়ে এটি সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, বিশ্বাস এবং ভ্রাতৃত্ববোধের আত্মা এই বিশ্বে কী বিশাল কিছু অর্জন করতে পারে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬৩-তে উদ্ধৃত।
*[[চার্চ অফ ইংল্যান্ড|চার্চ]] এবং চ্যাপেলের দ্বৈতসত্তা একসঙ্গে আমাদের দেশের জীবনে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রভাবগুলোর একটি হিসেবে কাজ করেছে। একটি হয়তো অন্যের চেয়ে বেশি করে কর্তৃত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার বোধ জাগিয়ে তুলেছে; আর অন্যটি [[ঐশ্বরিক আইন|শাশ্বত আইনের]] প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যের ওপর বেশি জোর দিয়েছে। তাদের উভয়েরই কিছু ভালো গুণ ও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু তারা উভয়েই বড় মাপের সামাজিক শক্তি ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, যার রাজনৈতিক পরিণতিও ব্যাপক। তাদের সেরা সময়ে উভয়েই জীবনকে একটি গম্ভীর উদ্দেশ্য দিয়ে পূর্ণ করে। তারা সবসময় সেই ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনার বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ করে, যা অলসতা এবং চপলতায় তার স্বর্গ খুঁজে পায় এবং যার কারণে কোনো দেশ কখনোই উন্নতি করতে পারে না।
**কর্নওয়ালে দেওয়া ভাষণ (২৩ জুন ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৫৫-তে উদ্ধৃত।
*সাম্প্রতিক সময়ে [[কানাডা|কানাডার]] কিছু বাছাই করা স্নাতক সাম্রাজ্যের সেসব অংশের দেখভাল করার দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন, যেখানে [[শ্বেতাঙ্গ|শ্বেতাঙ্গরা]] প্রায়শই একাই যান—সাম্রাজ্যের অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর জাতিদের শেখাতে, শিক্ষিত করতে এবং সামনে এগিয়ে নিতে। এর চেয়ে বেশি আত্মত্যাগের কাজ, এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। আজ আপনারা কানাডিয়ানদের [[সুদান]], [[মালয়েশিয়া|মালয়]], [[মরিশাস]] এবং সামগ্রিকভাবে ঔপনিবেশিক সেবায় দেখতে পাবেন—চিকিৎসক হিসেবে, সিভিল সার্ভিসে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তারা শ্বেতাঙ্গদের বোঝা বইতে সাহায্য করছেন। আমি যথেষ্ট সেকেলে মানসিকতার মানুষ বলেই বিশ্বাস করি যে, কোনো দেশের পক্ষে কেবল নিজেদের জন্য প্রচুর অর্থ উপার্জনে মনোনিবেশ করাই যথেষ্ট নয়; বরং সত্যিকারের আধ্যাত্মিক শক্তি তখনই আসে যখন এর সন্তানেরা প্রস্তুত থাকে। যেমনটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে [[ইংরেজ জাতি|ইংরেজ]], [[আইরিশ]] এবং [[স্কটল্যান্ড|স্কটিশরা]] প্রস্তুত ছিল। তারা পারিবারিক জীবনের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সেই অগ্রগামীর কাজে বেরিয়ে পড়তে প্রস্তুত ছিল, যাতে বিশ্বের সেই পিছিয়ে পড়া অংশগুলোকে এগিয়ে নিয়ে আসা যায় এবং অতীতের বছরগুলোতে আমাদের জন্য এত লাভজনক হওয়া বিষয়গুলো থেকে তাদেরও উপকৃত হতে সাহায্য করা যায়।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৫-৭৬-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের দেশের জন্য আমার সবচেয়ে বড় আশা হলো [[শিক্ষা|শিক্ষার]] প্রতি মানুষের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা ব্যাপকভাবে জেগে ওঠা। আমি এটিকে যুদ্ধের একমাত্র সুফল বলে মনে করি যার দিকে আমি তৃপ্তি নিয়ে তাকাতে পারি... আমরা শিক্ষার একটি নিজস্ব উদ্দেশ্য হিসেবে এর গুরুত্ব ভুলে যাই। আপনি যদি শিক্ষাকে কেবল একটি বেতন উপার্জনের উপায় হিসেবে দেখেন, তা সে যতই দরকারি হোক না কেন, তবে আপনি শিক্ষার অন্যতম সেরা উদ্দেশ্যটিই হারিয়ে ফেলবেন।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৬-৭৭-এ উদ্ধৃত।
*আমরা ইংল্যান্ডেও খুব ভুগছি... এমন কিছু খুব চতুর চিকিৎসকের কারণে, যারা সর্বদা ব্যাপক বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষিপ্রতার সাথে রাজনীতির জন্য প্রেসক্রিপশন দিতে প্রস্তুত। তবে মানব প্রকৃতি সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতাও সেই ক্ষিপ্রতার সমান। ইউরোপের এই লোকগুলোকে "বুদ্ধিজীবী" বলা হয়—'''একটি খুব কুৎসিত জিনিসের জন্য এটি একটি খুব কুৎসিত শব্দ।'''
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৮-এ উদ্ধৃত।
*ইংরেজি বংশোদ্ভূত এখানকার পুরুষদের কাছে আমি স্বীকার করতে পারি যে, আমাদের ইংরেজি বুদ্ধিমত্তাকে মাঝেমধ্যে এমন জাতিগুলো অবজ্ঞা করে যারা নিজেদের আমাদের চেয়ে বেশি চতুর বলে মনে করে। '''আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো আমাদের চরিত্র'''—এর স্থিরতা, এর নির্ভরযোগ্যতা, এর ব্যক্তিগত সততা, এর সহনশীলতা এবং বিরক্তিকর বিষয়গুলোকেও শান্ত ও হাস্যরসাত্মকভাবে নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ডের সাধারণ ধর্মঘট, যার কিছু ভীতিকর দিকও ছিল, তা আমাদের মানুষের এই সমস্ত গুণাবলিকেই তুলে ধরেছে।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৯-এ উদ্ধৃত।
*আমি সবসময়ই দাবি করি যে শিক্ষা গণতন্ত্রের জন্য যে মহান সেবা করে, তা ধর্মের কাছ থেকে আমরা যে সেবা আশা করি তারই অনুরূপ। তাদের হাতে হাত রেখে কাজ করা উচিত, বা করতে হয়। এর কাজ হলো নৈতিকতার ওজন এবং পরিমাপকে মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক রাখা; এবং শুধু মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক নয়—বরং সর্বোচ্চ মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক রাখা। আর আসুন আমরা সমাজের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সকল শ্রেণির মানুষের প্রতি এটি সমানভাবে প্রয়োগ করি। এমন কিছু লোক আছেন যারা রাষ্ট্রীয় ধারণাকে সমস্ত নৈতিক গুণাবলি থেকে শূন্য করতে চান, এবং তারা শিক্ষাকে কেবল রুজি-রোজগারের ব্যবসায় সীমাবদ্ধ করতে চান। নার্স ক্যাভেলের শেষ কথাগুলো ধার করে বলতে গেলে, এমন দেশপ্রেমই যথেষ্ট নয়। আমি যেভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, সেভাবে নৈতিক মানদণ্ড প্রয়োগ করাই হলো গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় সেই মৌলিক সামাজিক ঐক্য অর্জনের সবচেয়ে নিশ্চিত উপায়।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৯-৮০-তে উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ কমনওয়েলথ অফ নেশনসের কোনো পূর্ব নজির নেই... আমরা নিজেদের জন্য এমন এক অভিন্ন ঐতিহ্য গড়ে তুলেছি যা সব ধরনের স্থানীয় আনুগত্যকে ছাড়িয়ে যায় এবং আমাদের এক জাতি হিসেবে বাঁধে। আমাদের স্বপ্নের সাম্রাজ্য, যদিও তা সবসময় আমাদের কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয় না, মহান সব আধ্যাত্মিক উপাদানে গড়া—স্বাধীনতা এবং আইন, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং আনুগত্য, সম্মান এবং সহনশীলতা... '''আজ আমরা যখন সাম্রাজ্যের কথা ভাবি, তখন আমরা এটিকে মূলত বিশ্ব শান্তির একটি হাতিয়ার হিসেবেই ভাবি।'''
**অন্টারিও প্রদেশ আয়োজিত এক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৯১-৯২-তে উদ্ধৃত।
*আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে যারা মধ্য-পশ্চিম এবং দূর-পশ্চিমের উন্নয়ন দেখেছেন, তাদের কাছে এক উপকূল থেকে অন্য উপকূল পর্যন্ত যেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছে, তার চেয়ে অসাধারণ বা আমাদের জাতির সেরা গুণাবলির প্রতি এর চেয়ে বড় সম্মান আর কিছু হতে পারে না।
**কানাডার রেজাইনায় দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৫-এ উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ জাতির এমন কিছু দয়ালু সমালোচক আছেন যারা বলেন যে আমরা তিনটি জিনিসকে কীভাবে মেলাতে হয় তা জানি—[[ধর্ম]], [[দেশপ্রেম]] এবং [[মুনাফা]]—যা অন্য যেকোনো [[জাতি|জাতির]] চেয়ে আমরা ভালো পারি। [[উত্তর আমেরিকা|উত্তর আমেরিকায়]] আমাদের সাফল্যের আরও অন্যান্য প্রশংসনীয় ব্যাখ্যা রয়েছে। আসল সত্যটি হলো: আমরা নতুন বিশ্বে আমাদের নিজস্ব বংশধরদের পাঠিয়েছি... ইউরোপের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি সময় ধরে একটি স্বাধীন দেশ থাকার অমূল্য সুবিধা আমাদের ছিল। আমাদের মানুষ ছোট ছোট নৌকায় করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতার বীজ রোপণ করেছিল, যা নিজ দেশে বেড়ে উঠেছিল এবং ফুলেফেঁপে উঠেছিল। সেই মানুষগুলো এবং তাদের দুঃসাহসী চেতনার মধ্যেই আপনি [[কানাডা]] এবং [[ম্যানিটোবা|ম্যানিটোবার]] উৎপত্তি খুঁজে পাবেন।
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৭-১০৮-এ উদ্ধৃত।
*ইংরেজি ইতিহাসে, বা সাম্রাজ্যের এই এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠার পেছনে, "কোম্পানি অফ অ্যাডভেঞ্চারার্স অফ ইংল্যান্ড ট্রেডিং ইনটু হাডসন'স বে"র গল্পের চেয়ে রোমাঞ্চকর আর কোনো ঘটনা নেই। পশুর চামড়া থেকে মুনাফা করার পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমের পথ খোঁজা, সেই উপসাগরে প্রবাহিত সব জলের অধিকারী ভূমিগুলোর ওপর সার্বভৌমত্বের সনদ পাওয়া, অথচ সেই ভূমিগুলোকে বহু বহু বছর ধরে অনাবিষ্কৃত ফেলে রাখা—এটি একটি আদর্শ ব্রিটিশ আচরণ। তারা "হাতির দাঁত, বানর এবং ময়ূরের" পশ্চিমা সমতুল্য জিনিস খুঁজছিল, এবং বাই-প্রোডাক্ট বা উপজাত হিসেবে তারা একটি সাম্রাজ্য খুঁজে পেয়েছিল। তারা একটি মহান ঐতিহ্য তৈরি করেছিল, যে ঐতিহ্য আজ আপনাদের। এটি একটি বাণিজ্যিক আদর্শকে ঘিরে তৈরি হওয়া শৃঙ্খলা এবং সহনশীলতার ঐতিহ্য। তারা আদিবাসীদের মুনাফার উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছিল, তবুও তাদের সাথে ন্যায়বিচার এবং সদয় আচরণ করেছিল। তারা এক চোখ রেখেছিল লভ্যাংশের দিকে, অন্য চোখ আবিষ্কারের দিকে। আমাদের ছাড়া আর কোন জাতি এতটা উদাসীন, এতটা দূরদর্শী, এতটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতটা সফল হতে পারে?
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৮-১০৯-এ উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ জাতির প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয় এমন [[সংবাদপত্র|সংবাদপত্রে]] আপনারা প্রায়ই শোনেন এবং মাঝেমধ্যেই পড়েন যে গ্রেট ব্রিটেনে পতনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এর একটা শব্দও বিশ্বাস করবেন না। দেশের মানুষগুলো তারাই, যারা সারা বিশ্বজুড়ে চার বছর ধরে আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল। তারা সেই একই বংশধর যারা মেরিটাইম প্রভিন্স এবং [[অন্টারিও]] গড়ে তুলেছে। তারা সেই একই বংশধর যারা এই দেশটিকে গড়ে তুলেছে। '''বংশধররা আগের মতোই আছে, এবং আগের মতোই চমৎকার আছে।'''
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১১৬-১১৭-তে উদ্ধৃত।
*একটি জাতির ভাগ্য সবার ওপরে নির্ধারিত হয় তার মানুষের গুণগত মান দিয়ে।
**স্কটল্যান্ডের ল্যানার্কশায়ারে ডগলাস ক্যাসলে দেওয়া ভাষণ (২৭ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১২৯-এ উদ্ধৃত।
*আপনার সমাজসেবামূলক কাজ, তা যে রূপেই হোক না কেন, ঠিক সেই দুটি জিনিসেরই দাবি করে যা আমার কাজের জন্য প্রয়োজন... [[ধৈর্য]] এবং মানুষের মূল্যের ওপর [[বিশ্বাস]]। এরাই হলো গণতন্ত্রের আসল ভিত্তি, [[সমতা]] নয়—যে অর্থে শব্দটি প্রায়শই ব্যবহার করা হয়। '''আমরা সবাই সমান নই, এবং কখনোই সমান হব না; গণতন্ত্রের আসল শর্ত সমতা নয়, বরং এই বিশ্বাস যে প্রতিটি নারী ও পুরুষই মূল্যবান।'''
**ইউনিয়ন অফ গার্লস স্কুলের বার্ষিক সভায় দেওয়া ভাষণ (২৭ অক্টোবর ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১-তে উদ্ধৃত।
*আপনাদের দেশ হলো উত্তরের মানুষদের, অর্থাৎ সহনশীল ও বীরত্বপূর্ণ জাতিগুলোর জন্য। '''যেকোনো দিনই পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান আগে। সেরাদের নিয়েই দেশ গড়ুন। আপনাদের দেশ পূর্ণ হতে একশো বছর, নাকি দুইশো বছর, নাকি তারও বেশি সময় লাগল, তাতে কী এসে যায়? আপনাদের যে বংশধর আছে, এবং যে নারী-পুরুষরা আছে, তাদের ধরে রাখুন এবং নিশ্চিত করুন যে আগামী প্রজন্ম কোনোভাবেই তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট হবে না।'''
**লন্ডনে কানাডা ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (২১ নভেম্বর ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৪১-এ উদ্ধৃত।
* সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকৃত এবং শত্রুবাহিনীর জন্য একটি সহজ শিকারে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ড! এর চেয়ে বেশি লোভ এবং শত্রুতা জাগিয়ে তোলার মতো আর কিছু কি আপনি ভাবতে পারেন? আমরা পঞ্চম শ্রেণির শক্তির স্তরে নেমে যাব, আমাদের উপনিবেশগুলো আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে, আমাদের বাণিজ্য ধ্বংস হবে, দুর্ভিক্ষ এবং বেকারত্ব দেশে হানা দেবে। ... আমি আপনাদের শান্তি কামনার অংশীদার। ঈশ্বর না করুন যে এটি যেন আর কখনও ব্যাহত না হয়! সরকারের নিরন্তর এবং অবিভক্ত প্রচেষ্টা হলো এটি রক্ষা করা। কিন্তু আমি এখনও শিখিনি যে আমাদের দেশকে দুর্বল করে কীভাবে শান্তির উদ্দেশ্য সাধিত হতে পারে।
** [[আর্থার পনসনবি|আর্থার পনসনবিকে]] লেখা চিঠি (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৭); মার্টিন সিডেলের ''সেমি-ডিটাচড আইডিয়ালিস্টস: দ্য ব্রিটিশ পিস মুভমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস, ১৮৫৪-১৯৪৫'' (২০০০), পৃষ্ঠা ২৭১-এ প্রকাশিত। ==== ১৯২৮ ====
* '''আমি যদি বিশ্বাস না করতাম যে আমাদের কাজ সেই বিশ্বাস এবং আশার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে যে কোনো এক দিন—হতে পারে তা আজ থেকে দশ লক্ষ বছর পর—ঈশ্বরের রাজ্য সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, তবে আমার কোনো আশা থাকত না। আমি কোনো কাজ করতে পারতাম না, এবং যে কেউ আমার এই পদের দায়িত্ব নিতে চাইলে আজ সকালেই আমি তা ছেড়ে দিতাম।'''
** ব্রিটিশ অ্যান্ড ফরেন বাইবেল সোসাইটির কাছে দেওয়া ভাষণ (২ মে ১৯২৮); ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৯২-৯৩-এ প্রকাশিত।
*দীর্ঘকাল ধরে মানুষ ভুলে গেছে যে এই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে কী অসাধারণ প্রতিভা লুকিয়ে আছে... ইংরেজ বংশোদ্ভূতরা একটি খাঁটি বংশ; আর আমাদের মানুষেরাই সেই মানুষ যারা আমাদের ক্যাথেড্রাল এবং গ্রামের গির্জাগুলো তৈরি করেছিল: যারা ভাস্কর্য খোদাই করেছিল এবং এর ভেতরে থাকা পর্দাগুলো খোদাই করেছিল।
**উইঞ্চেস্টার শহরের স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (৬ জুলাই ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১৫-তে প্রকাশিত।
*ইংল্যান্ডের চেয়ে সুন্দর কোনো দেশ নেই।
**উইঞ্চেস্টার শহরের স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (৬ জুলাই ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১৬-তে প্রকাশিত।
*ওয়েসলি প্রথম এবং শেষ পর্যন্ত একজন মহান ইংরেজ ছিলেন... মহাদেশটিতে হওয়া ভয়ংকর উত্থান-পতন আর ইংল্যান্ডের মাঝে যদি কোনো একজন মানুষ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে তিনি হলেন জন ওয়েসলি... তিনি ছিলেন নিখুঁত ইংরেজ: ইংরেজের সেরা দেশীয় গুণাবলি তার মধ্যে ছিল, এবং সেগুলো এত অসাধারণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তা প্রতিভায় পরিণত হয়েছিল... সেই শতাব্দীর যেসব ইতিহাসবিদ তাদের পাতাগুলো নেপোলিয়ন দিয়ে ভরিয়ে তুলেছিলেন কিন্তু জন ওয়েসলি সম্পর্কে বলার মতো কিছু পাননি, তারা এখন বুঝতে পারছেন যে ওয়েসলিকে ব্যাখ্যা করতে না পারলে তারা [[ঊনবিংশ শতাব্দী|উনিশ শতকের]] ইংল্যান্ডকে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। আর আমি বিশ্বাস করি এ কথা বলাও সত্য যে, ওয়েসলিকে বুঝতে না পারলে আপনি বিংশ শতাব্দীর আমেরিকা বুঝতে পারবেন না।
**লন্ডনে ওয়েসলির চ্যাপেলের ১৫০তম বার্ষিকী সভায় দেওয়া ভাষণ (১ নভেম্বর ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৯৪-৯৮-এ প্রকাশিত।
==== ১৯২৯ ====
*[[উইলিয়াম বুথ|বুথের]] কথা ভাবলেই একটি বিষয় আমাকে অবাক করে, আর তা হলো [[ভিক্টোরীয় যুগ|ভিক্টোরীয় যুগের]] [[দারিদ্র্য|দারিদ্র্য]] নিয়ে আজকাল যে সব বাজে কথা বলা হয়। ভিক্টোরীয় যুগ আজ কেন এত অজনপ্রিয়, তার বড় একটি কারণ হলো, এর সমস্ত দোষ থাকা সত্ত্বেও এর মহান মানুষদের—যাদের সংখ্যা ছিল অনেক—মধ্যে সততার প্রতি বিশ্বাস ছিল: সেখানে একটি নৈতিক ঐকান্তিকতা ছিল, কর্তব্যের বোধ ছিল এবং কর্তব্য পালন করার প্রবণতা ছিল।
**লন্ডনে স্যালভেশন আর্মি উইলিয়াম বুথ শতবার্ষিকী উদযাপনে দেওয়া ভাষণ (১০ এপ্রিল ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১০৬-১০৭-এ প্রকাশিত।
*আজ এম্পায়ার ডে, এবং আমাদের বিশাল উত্তরাধিকার দেখার জন্য আমরা আমাদের তাৎক্ষণিক চারপাশ এবং আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোর বাইরে তাকাই। আমরা এক বিশাল স্থানে পা রেখেছি। এই টাইটান যদি ক্লান্তির মুহূর্তগুলো অনুভব করে থাকে, যদি আমাদের বোঝা ভারী হয়, তবু আমাদের কাঁধ চওড়া। আর এগুলো আমাদের ভাগ্যের বিশাল ভার বইতে বহুকাল ধরেই অভ্যস্ত।
**হাইড পার্কে দেওয়া ভাষণ (২৪ মে ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২৫-এ প্রকাশিত। ১৯০২ সালে [[জোসেফ চেম্বারলেইন]] বলেছিলেন, "ক্লান্ত টাইটান তার ভাগ্যের অত্যধিক বিশাল ভারে টলমল করছে।"
*আমরা যখন এর [ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের] ভাগ্য নিয়ে অধ্যয়ন করি, তখন আমরা একে একটি মানব অর্জনের চেয়ে মানবজাতির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য ঐশ্বরিক প্রভিডেন্স বা বিধাতার একটি হাতিয়ার হিসেবে বেশি ভাবতে বাধ্য হই।
**হাইড পার্কে দেওয়া ভাষণ (২৪ মে ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২৬-এ প্রকাশিত।
* টম মোসলে একজন অভদ্র এবং ভুল লোক। তারা এটা খুঁজে বের করবে।
**[[ওসওয়াল্ড মোসলে|ওসওয়াল্ড মোসলেকে]] নিয়ে মন্তব্য (২১ জুন ১৯২৯)। "তারা" বলতে লেবার পার্টিকে বোঝানো হয়েছে, যারা সম্প্রতি একটি সাধারণ নির্বাচনে জিতেছিল। টমাস জোনসের ''হোয়াইটহল ডায়েরি : ভলিউম ২'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ১৯৫-এ উদ্ধৃত।
*বাস্তব জীবনের রহস্য, রোমান্স এবং কাকতালীয় ঘটনাগুলো কল্পকাহিনীর রহস্য, রোমান্স এবং কাকতালীয় ঘটনাগুলোকেও বহুদূর ছাড়িয়ে যায়। আমার বক্তব্যের শুরুতেই আমি মাননীয় সদস্যদের এমন একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, যা আমার কাছে সবসময়ই আমাদের রাজনৈতিক জীবনে ঘটা সবচেয়ে অদ্ভুত এবং রোমান্টিক কাকতালীয় ঘটনাগুলোর একটি বলে মনে হয়েছে। সময়ের অনেক আগে, ইতিহাসের ঊষালগ্নে, প্রাগৈতিহাসিক কুয়াশা থেকে বেরিয়ে আসা অনেকগুলো জাতির মধ্যে সবচেয়ে মহান জাতিটি ছিল মহান [[আর্য জাতি]]। সেই জাতি যখন [[মধ্য এশিয়া|মধ্য এশিয়ার]] পশ্চিমাঞ্চলে তাদের দখল করা দেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন একটি বড় শাখা পশ্চিমে চলে যায়। তাদের ঘোরাঘুরির সময় তারা [[অ্যাথেন্স]] এবং [[স্পার্টা]] শহরগুলো প্রতিষ্ঠা করে; তারা [[রোম (প্রাচীন শহর)|রোম]] প্রতিষ্ঠা করে; তারা ইউরোপ তৈরি করে। আর ইউরোপের প্রধান জাতিগুলোর শিরায় তাদের আর্য পূর্বপুরুষদের রক্তই প্রবাহিত। আর্যদের যে ভাষা তারা সাথে নিয়ে এসেছিল, তা সারা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আমেরিকায় ছড়িয়েছে। এটি সমুদ্রের ওপারের ডোমিনিয়নগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে, একটি শাখা দক্ষিণে যায় এবং তারা [[হিমালয়]] অতিক্রম করে। তারা [[পাঞ্জাব|পাঞ্জাবে]] যায় এবং ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর ঐতিহাসিক সত্য হলো, যুগ যুগ আগে তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে ইংরেজ জাতির পূর্বপুরুষ এবং [[রাজপুত]] ও [[ব্রাহ্মণ|ব্রাহ্মণদের]] পূর্বপুরুষরা পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলেন। আর এখন, যুগ যুগ পার হওয়ার পর, সেই বংশের দূরতম প্রজন্মের সন্তানরা ঈশ্বরের এক রহস্যময় বিধানে একত্রিত হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো জাতির সামনে আসা সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে তারা এক হয়েছে।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1929/nov/07/india ভাষণ] (৭ নভেম্বর ১৯২৯)।
=== ১৯৩০-এর দশক ===
==== ১৯৩০ ====
*...অতীতের প্রতি সেই আনুগত্য তার স্বপ্নের সৌন্দর্য এবং তার বাস্তব কঠোরতা ও কষ্টের সাথে মিশে আছে। এগুলোই আমাদের '''আমাদের যুগের সবচেয়ে বড় বিপদ, [[বস্তুবাদ|বস্তুবাদের]] বিপদ থেকে রক্ষা করে।'''... আমাদের মানুষের হৃদয়ে বস্তুবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এই যুগের অন্যতম বড় একটি লড়াই।
**স্কটল্যান্ডের ইনভারনেস বুরোর স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (১৩ জুন ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৯১-১৯২-তে প্রকাশিত।
*কারণ গ্রিক গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল এবং এর ব্যর্থতার কারণগুলো শিক্ষণীয়। গ্রিকরা বিশ্বকে যে মহান শাসক ধারণাগুলো দিয়েছিল, যে ধারণাগুলো ইংল্যান্ড পরে গ্রহণ করেছিল এবং বিশ্বের এক-চতুর্থাংশে ছড়িয়ে দিয়েছিল—স্বাধীনতা এবং স্বশাসন, সামাজিক সাম্য এবং নাগরিক দেশপ্রেম—সেগুলো জনগণের চাটুকার এবং জননেতাদের দ্বারা কলুষিত হয়েছিল। এটা ভাবা খুব মারাত্মকভাবে সহজ ছিল যে, স্বাধীনতা মানে হলো নিজের যা খুশি তাই করা। একজন মানুষ অন্য মানুষের মতোই ভালো, শুধু তাই নয়, সে যেকোনো পদ পূরণে সমানভাবে সক্ষম। সংখ্যাগরিষ্ঠরা কোনো ভুল করতে পারে না। অন্য জাতি বা অন্যান্য সাম্রাজ্য কী করছে তা বিবেচনা না করেই আপনি আপনার নিজের দেশের জন্য কাল্পনিক সব আইন তৈরি করতে পারেন... বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করা হয়েছিল এবং যেসব জনপ্রতিনিধি সাধারণ জনতার জন্য আনন্দের পক্ষে কথা বলতে অস্বীকার করেছিলেন, তাদের নির্বাসিত করা হয়েছিল। ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদরা একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়েছিলেন।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৫-৩৬-এ প্রকাশিত।
*একদিকে ব্যক্তিগত আত্মার অসীম মূল্য সম্পর্কে [[প্রোটেস্ট্যান্টবাদ|প্রোটেস্ট্যান্ট]] মতবাদ এবং অন্যদিকে চার্চের মণ্ডলীতে ভাইদের একত্রিত হওয়ার মধ্যেই আধুনিক গণতন্ত্রের বীজ লুকিয়ে আছে।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৮-এ প্রকাশিত।
*আমরা... এই দ্বীপপুঞ্জের পুরো প্রাপ্তবয়স্ক এবং শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে, সাধু এবং পাপী নির্বিশেষে সবাইকে ভোটাধিকার দিয়েছি। আমরা এক বিশাল দ্বৈত উদ্যোগের চেষ্টা করছি। কেবল প্রতিটি নাগরিককে এক জন হিসেবে গণনা করা এবং তার নিজের অধিকারে তাকে মূল্য দেওয়াই নয়, বরং তাকে পৌর নাগরিকত্ব এবং সাম্রাজ্যিক সরকারের দায়িত্বগুলোতে কার্যকর এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে ভাগ নিতেও বলছি... গণতন্ত্র এখনও একটি আকাঙ্ক্ষা, এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়... আমরা যা অর্জন করেছি তা হলো সরকারের একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সমান নয়। আমরা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের যন্ত্রটিকে নিখুঁত করেছি। আর একটি তাৎক্ষণিক বিপদ হলো, গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য একে অগণতান্ত্রিক উপায়ে দখল এবং কাজে লাগানো হতে পারে। সার্বভৌম জনগণের নামে এমন নিষ্ঠুর কাজ করা হতে পারে, যা কোনো গ্রিক স্বৈরশাসক বা মধ্যযুগীয় অত্যাচারী শাসকের কাজের মতোই ভয়ংকর। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচারকে শক্তিশালীদের স্বার্থের সাথে গুলিয়ে ফেলা ভয়ংকরভাবে সহজ; কিন্তু বহুজনের দ্বারা সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নও এর বিপরীত অবস্থার মতোই কুৎসিত।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০-এ প্রকাশিত।
*বিপ্লব এড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক সক্ষমতা, "প্রাণবন্ত পরিমিতিবোধের" প্রতি আমাদের স্বভাবগত দক্ষতা (যেমনটা ব্যাজহট বলেছেন), দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের মহাদেশীয় প্রতিবেশীদের ঈর্ষার কারণ হয়ে আছে। আমি ভবিষ্যদ্বাণী করার সাহস রাখছি যে, তারা আবারও দেখবে আমরা একসাথে বসব এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সংশোধন করব। আমরা ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করায় খুব একটা ভালো নই, তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং আপস করার ক্ষেত্রে আমাদের একটা দক্ষতা আছে।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪২-এ প্রকাশিত।
*'''গ্রিকদের মতোই পুরোনো একটি প্রবাদ আছে যে, ভালো আইন প্রণয়নের চেয়ে ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।''' এটি যে সত্যি, তার পেছনে একটি সন্দেহের চোরা স্রোত কাজ করে এবং দেশপ্রেমের মতোই, কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আইন প্রণয়নের সময় যে আশাগুলো দেখানো হয়, আইন পাস হলে সব সময় তা পূরণ হয় না... '''সংবিধানের বইয়ে থাকা সমস্ত আইনের কী হয়? যদি তাদের প্রবর্তকদের আশার অর্ধেকও পূরণ হতো, তবে কি এর মধ্যেই সহস্রাব্দের শান্তি নেমে আসত না?'''
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৬-এ প্রকাশিত।
*সব দলই মানুষের জীবনে হস্তক্ষেপ করার বিষয়ে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারও কারও লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রকে একটি সার্বজনীন রক্ষাকর্তায় রূপান্তর করা। অসংখ্য বাছাইয়ের কাজের মাধ্যমেই চরিত্র গড়ে ওঠে। জীবনের সব বা বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পছন্দগুলো যদি রাষ্ট্র আপনার জন্য ঠিক করে দেয়, তবে গণতান্ত্রিক আদর্শের কী হবে... আমরা চালাক বা বোকা, ভালো বা মন্দ যাই হই না কেন, আমাদের নিজেদের জীবন পরিচালনা করা এবং তার দায়িত্ব নেওয়ার কী হবে?
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৭-এ প্রকাশিত।
*বর্তমানে কার্যকর থাকা ত্রাণ ব্যবস্থাগুলোতে সব দলই সমানভাবে জড়িত। সবাই একমত যে অভাব-অনটন সহ্য করা উচিত নয়। কিন্তু জন স্মিথকে এভাবে পাইকারি হারে রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়ার সময় আমরা কি জন স্মিথের কাছ থেকে এমন কিছু কেড়ে নিচ্ছি না, যা তাকে সত্যিই দরিদ্র করে তুলবে? এই ভেবে কি আমরা সবাই সম্পূর্ণ খুশি হতে পারি?
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৮-এ প্রকাশিত।
*আমি গতকাল ভারতীয় সম্মেলনের রাজকীয় উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলাম... আমাদের প্রতিনিধি দল ভালোভাবেই শুরু করছে, কিন্তু উইনস্টন [চার্চিল] চরম হতাশায় ডুবে আছেন। তিনি চান সম্মেলনটি দ্রুত ভেস্তে যাক এবং টোরি পার্টি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে গিয়ে শক্ত হাতে শাসন করুক। তিনি আবারও '৯৬ সালের হুসারদের সাবল্টার্ন বা অধস্তন সামরিক কর্মকর্তা হয়ে উঠেছেন।
**জে. সি. সি. ডেভিডসনকে লেখা চিঠি (১৩ নভেম্বর ১৯৩০), রবার্ট রোডস জেমস (সম্পাদিত), ''মেমোয়ার্স অব অ্যা কনজারভেটিভ: জে. সি. সি. ডেভিডসনস মেমোয়ার্স অ্যান্ড পেপারস, ১৯১০-১৯৩৭'' (লন্ডন: উইডেনফেল্ড অ্যান্ড নিকলসন, ১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৩৫৫-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩১ ====
[[Image:View from Haresfield Beacon - geograph.org.uk - 1120282.jpg|thumb|গ্রাম সেই শাশ্বত মূল্যবোধ এবং শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে যা থেকে আমাদের কখনোই নিজেদের বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া উচিত নয়।]]
*এই ধরনের অনুষ্ঠানে কেউ জিজ্ঞেস করতেই পারে, কেন মানুষ এই ধরনের উপহার দিতে এগিয়ে আসে, এবং কেন এই ধরনের জায়গাগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন? আমার মনে হয় এটি ইংরেজদের একটি খুব গভীর এবং মৌলিক প্রবৃত্তির জবাব দেয়। আমরা অনেকাংশেই শহরের মানুষে পরিণত হয়েছি। কিন্তু দুই বা তিন প্রজন্ম ধরে যারা আমাদের শহরগুলোতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছে, তাদের হৃদয়ের গভীরেও গ্রামের জিনিসপত্র এবং গ্রামীণ সৌন্দর্যের প্রতি এক অদম্য ভালোবাসা লুকিয়ে আছে, যা তাদের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে এবং অবচেতনভাবে বিরাজ করতে পারে। আমাদের চেয়েও বেশি করে তাদের কাছে, '''গ্রাম সেই শাশ্বত মূল্যবোধ এবং শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে যা থেকে আমাদের কখনোই নিজেদের বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া উচিত নয়।'''
**ন্যাশনাল ট্রাস্টের কাছে হেয়ার্সফিল্ড বীকন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (১০ জানুয়ারি ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১২০-এ প্রকাশিত।
*আমরা প্রায়ই এই দেশে শুনতে পাই, এবং কথাগুলোর মধ্যে একটি পরিচিত সুরও আছে, যে [ভারতের জন্য] একটি দৃঢ় বা শক্তিশালী সরকারের সময় প্রয়োজন। এর মানে আসলে কী, তা সংজ্ঞায়িত করা খুব কঠিন। তবে এক মুহূর্তের জন্য যদি ধরে নিই যে আমরা এর অর্থ নিয়ে একমত, তবে আমি এই কথা বলব। এটি পুরোপুরি সম্ভব, কিন্তু আপনি কেবল দুটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই সেই নীতিতে সফল হওয়ার আশা করতে পারেন; আমি একটু পরেই ইতিহাসে আসছি। সেই দুটি অনুমান হলো, প্রথমত, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য এবং দ্বিতীয়ত, নীতির ধারাবাহিকতা। আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই দুটি প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তার অভাব ছিল বলেই আইরিশ প্রশ্নটি এক প্রজন্ম ধরে চলেছিল, যেমনটা ঘটেছিল। আর শেষ পর্যন্ত এর পরিণতি দাঁড়িয়েছিল সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ অথবা যুদ্ধের মতো দুটির একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার মধ্যে। যে সমাধানটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তৎকালীন সরকারের একজন সদস্য হিসেবে আমি আত্মসমর্পণের সমাধানটিকে সমর্থন করেছিলাম। সে সময় আমার এটি পছন্দ হয়নি, কিন্তু আমি নিজের বিশ্বাস থেকেই এটি করেছিলাম।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/jan/26/india-1 ভাষণ] (২৬ জানুয়ারি ১৯৩১)।
*আমার দলের মতো বিভক্ত দল আর একটিও নেই। আমি একে একতাবদ্ধ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু এটি [[w:Queen Victoria#Diamond Jubilee|দ্বিতীয় জুবিলির]] সাম্রাজ্যবাদীদের থেকে শুরু করে তরুণ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের পর্যন্ত বিস্তৃত, যারা সবাই আরউইনের নীতির পক্ষে। আমি নিজেও সেই নীতির পক্ষে এবং আমি সেটা বলতেও চাই।
**ভারতের হোম রুল নিয়ে টমাস জোনসের সঙ্গে কথোপকথন (১১ মার্চ ১৯৩১), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৫-এ উদ্ধৃত।
*পথ যতই কঠিন হোক না কেন, বিপদগুলো শুধু সেই কঠিন পথ থেকেই আসে না; বরং দেশে ও ভারতে থাকা চরমপন্থীদের কাছ থেকেও আসে। আমি বলছি আমার কথার মানে কী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, ''ডেইলি মেইলের'' মতো পত্রিকায় যে ধরনের লেখা ছাপা হয়, তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য ভারত হাতছাড়া হওয়ার ক্ষেত্রে, বা বিপ্লবী মনোভাব উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কারও যেকোনো কাজের চেয়ে বেশি দায়ী হবে। আমাকে আর আলাদা করে বলতে হবে না, আমি সব ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই অনেক চিঠি পাই। গত সপ্তাহে আমি খুব অদ্ভুত একটি চিঠি পেয়েছি... এটি একজন কর্নেলের কাছ থেকে এসেছিল; তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ ছিলেন, তার হাতের লেখা দেখেই তা বোঝা যাচ্ছিল। তিনি এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিলেন: তিনি বলেছিলেন, "আপনি এবং লর্ড আরউইন হলেন নিগ্রোফাইল (কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল)।" সম্ভবত তিনি ইউনাইটেড এম্পায়ার পার্টির একজন সদস্য ছিলেন। সাম্রাজ্যকে একতাবদ্ধ রাখার এটি কোনো পথ নয়। এ ধরনের ঘটনা, এবং এর পেছনের যে মানসিকতা, তা নিশ্চিতভাবেই আমাদের সাম্রাজ্য ভেঙে দেবে। আর আমি এর বিরুদ্ধেই লড়াই করতে নেমেছি।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/mar/12/india ভাষণ] (১২ মার্চ ১৯৩১)।
* '''এই পত্রিকাগুলোর মালিকানার লক্ষ্য হলো ক্ষমতা, এবং দায়িত্বহীন ক্ষমতা — যা যুগ যুগ ধরে বেশ্যাদের বিশেষ অধিকার।'''
** বল্ডউইন তার সময়ের শীর্ষস্থানীয় প্রেস ব্যারনদের (লর্ড বিভারব্রুক এবং লর্ড রদারমের) আক্রমণ করছিলেন; বাক্যটি বল্ডউইনের চাচাতো ভাই [[রুডইয়ার্ড কিপলিং]] (১৭ মার্চ ১৯৩১) পরামর্শ দিয়েছিলেন, ''দ্য টাইমস'' (১৮ মার্চ ১৯৩১), পৃষ্ঠা ১৮-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের নিজেদের সুরক্ষার সময় এসেছে। বিদেশি যেমন নিজেকে রক্ষা করে, তেমনি আমাদেরও নিজেদের জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে। আমরা দেশবাসীকে আমাদের নিজেদের ডোমিনিয়নগুলোর সাথেও বাণিজ্য চুক্তিতে প্রবেশের আহ্বান জানাব। এর অধীনে আমরা তাদের আমাদের নিজেদের উৎপাদিত পণ্য কেনার আহ্বান জানাব এবং বিনিময়ে আমরা খাদ্যসামগ্রী ও কাঁচামাল নেব। ... গম উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষমতা দিতে আমরা ভোটারদের কাছে আহ্বান জানাব।
**নিউজরিলে দেওয়া সাক্ষাৎকার (বসন্ত ১৯৩১), জন রামসডেনের ''এ হিস্ট্রি অফ দ্য কনজারভেটিভ পার্টি: দ্য এজ অফ বেলফোর অ্যান্ড বল্ডউইন, ১৯০২-১৯৪০'' (১৯৭৮), পৃষ্ঠা ৩২০-তে উদ্ধৃত।
*সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ধর্ম আমাদের উদ্দেশ্যগুলোকে পরিচালিত করবে, আমাদের নীতিগুলোকে টিকিয়ে রাখবে, এবং আমরা যখন কাজে যাব তখন এক গোপন আবহের মতো আমাদের আত্মাকে ঘিরে রাখবে ও সিক্ত করবে... আমরা সবাই একমত যে, ধর্ম কেবল চার্চে থাকা খ্রিস্টানদের বিষয় নয়; এটি রাজনীতিতে, কূটনীতিতে, বাণিজ্যে, শিল্পে, স্কুলে এবং খেলাধুলায় থাকা খ্রিস্টানদেরও বিষয়। আমার মনে হয় সাধারণ মানুষের বিচার এটিকে স্বতঃসিদ্ধ হিসেবেই গ্রহণ করেছে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৮০-৮১-তে প্রকাশিত।
*যেকোনো আকাঙ্ক্ষাকে, তা যতই অশালীন হোক না কেন, আকাঙ্ক্ষিত হওয়ার কারণেই ভালো বলে মনে করাটা হয়তো রক্তমাংসের সাধারণ মানুষের পথ হতে পারে, কিন্তু এটি ক্রুশের পথ নয়। আর আমাদের তরুণদের মধ্যে যে নৈতিক নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়েছে বলে বলা হয়... তা ধর্মের দাবিগুলো কমিয়ে দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে না, বরং সেগুলোর ওপর জোর দিয়েই করতে হবে। তরুণদের সমর্থন এবং উৎসাহ পাওয়ার জন্য তাদের বদভ্যাসগুলো মেনে নিতে হবে—এমন ধারণা তাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল বিচার করা এবং তাদের সম্মান হারানোর নামান্তর। চার্চগুলো মানবপ্রকৃতির কাছে খুব বেশি কিছু দাবি করার চেয়ে বরং খুব কম কিছু দাবি করার কারণেই দীর্ঘমেয়াদে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তরুণরা আজ যে পরিস্থিতিতে নিজেদের আবিষ্কার করেছে, তার আসল ট্র্যাজেডি হলো অতীত প্রজন্মের গোঁড়ামির পতন এবং আজকের পরিস্থিতির সাথে মানানসই একটি আত্মবিশ্বাসী, সুসংগত বিশ্বাস দিয়ে এটিকে প্রতিস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়া। নীতিগুলো শাশ্বত হতে পারে, তবে তাদের বাস্তবায়ন অবশ্যই সময়োপযোগী হতে হবে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৮৩-৮৪-তে প্রকাশিত।
*আসুন আমরা এটা মনে না করি যে উচ্চতর [[গণিত]], [[পদার্থবিজ্ঞান]] বা [[জীববিজ্ঞান|জীববিজ্ঞানের]] জগতে হওয়া আবিষ্কারগুলো নৈতিক সমতলে আমাদের সমস্যাগুলোকে দূর করবে বা এমনকি কমিয়ে দেবে... নৈতিকতার জগৎ পরিমাণ বা রাসায়নিক ক্রিয়ার কোনো জগৎ নয়। এটি মূল্যবোধের একটি জগৎ। [[সঠিক ও বেঠিক]], [[ভালো ও মন্দ]], [[সততা]] এবং [[সাহস|সাহসের]] এই মূল্যবোধগুলোই ধর্ম এবং জাতীয় জীবনের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ... আমি বিজ্ঞানকে অবজ্ঞা করছি না। আমি শুধু এ কথাই বলতে চাইছি যে নৈতিক মূল্যবোধগুলো—যা তাদের গুণাবলিতে শাশ্বত, কিন্তু তাদের রূপ এবং প্রয়োগে ক্ষণস্থায়ী—হলো একটি দেশের মহত্ত্বের ভিত্তি। যদি আমাদের সাধারণ জীবনে নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে, তবে জাতির সব কিছুই ভালো হবে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭-তে প্রকাশিত।
*এখন আমাদের এই দেশের এমন একটি রেকর্ড রয়েছে যার জন্য আমরা গর্ব করতে পারি। আমরা যখন বিভিন্ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে সেই [[নিরস্ত্রীকরণ|নিরস্ত্রীকরণের]] প্রশ্নটি আন্তরিকতা, ঐকান্তিকতা এবং সম্মানের সাথে মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তখন আমরা আমাদের স্বাক্ষরকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করেছি এবং এর প্রতি সমর্থন দিয়েছি। এবং একটি দেশ নিজে একা যা যা করতে পারে, আমরা তার সবই করেছি। আমরা আমাদের সব অস্ত্রশস্ত্র কমিয়ে দিয়েছি। আজ [[রয়েল এয়ার ফোর্স|আমাদের বিমান বাহিনীর]] শক্তিতে আমরা বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছি। আমরা [[ব্রিটিশ সেনাবাহিনী|আমাদের সেনাবাহিনীকে]] একদম ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে এনেছি। আমাদের নৌবাহিনী সীমিত করার জন্য আমরা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছি। একতরফা নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে আর কিছুই করা সম্ভব নয়।
**হালের সিটি হলে দেওয়া ভাষণ (১৭ জুলাই ১৯৩১), ''দ্য টাইমস'' (১৮ জুলাই ১৯৩১), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*ভারতীয় প্রশ্নে আমাদের দল কী অবস্থান নেবে তা নিয়ে দুই বছর আগে আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম যে একটি প্রগতিশীল দলের জন্য একটি পথই খোলা আছে—আর বেঁচে থাকতে হলে একটি দলকে প্রগতিশীল হতেই হবে। আমি বিশ্বাস করতাম যে অন্য পথটি দলকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/dec/03/indian-policy ভাষণ] (৩ ডিসেম্বর ১৯৩১)।
==== ১৯৩২ ====
*আমরা শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর করব এবং এটি যদি সফল হয় তবে তা অবাধ বাণিজ্যের মতোই দলীয় রাজনীতি থেকে অনেকটা ছিটকে পড়বে। এরপর আমাদের দলের নাম পরিবর্তন করে ন্যাশনাল (জাতীয়) রাখার জন্য উপযুক্ত সময় দিন, কারণ তখন লিবারেলদের বৃহত্তর অংশের থেকে আমাদের আসলেই আলাদা করার মতো খুব সামান্য কিছুই থাকবে।
**টমাস জোনসকে দেওয়া মন্তব্য (২৮ জানুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ২৫-২৬-এ উদ্ধৃত।
*ঠিক বা ভুল যা-ই হোক না কেন, পুরোনো ভারতের সাথে আমাদের কাজ শেষ; একটি নতুন ভারত তৈরি হচ্ছে এবং আমাদের অবশ্যই এর সাথে মানিয়ে নিয়ে সেরাটা বের করে আনতে হবে।
**টমাস জোনসকে দেওয়া মন্তব্য (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ২৯-এ উদ্ধৃত।
*[[সোভিয়েত ইউনিয়ন|রাশিয়া]] এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|আমেরিকা]] লিগের বাইরে থাকায় [[অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা|নিষেধাজ্ঞাগুলো]] একটি ভুল। আমি সবসময়ই এমনটা ভেবেছি। আপনি একটি প্রথম-শ্রেণির শক্তির বিরুদ্ধে এগুলো প্রয়োগ করতে পারবেন না। [[রবার্ট সিসিল, চেলউডের ১ম ভিসকাউন্ট সিসিল|বব সিসিলের]] মতো ঠিক যে মানুষেরা আমাদের নিরস্ত্রীকরণে বাধ্য করেছিল, এবং তা একেবারে ঠিকও ছিল, তারাই এখন আমাদের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দিচ্ছে। কিন্তু পদক্ষেপ আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে? আমরা যদি রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করি, তবে তা হবে কেবল প্রথম পদক্ষেপ। এর পরের পদক্ষেপ কী? এবং তার পরেরটা? আপনি যদি অর্থনৈতিক বয়কট করেন তবে [[জাপান সাম্রাজ্য|জাপান]] যুদ্ধ ঘোষণা করবে এবং সে [[সিঙ্গাপুর]] ও [[ব্রিটিশ হংকং|হংকং]] দখল করবে। আর আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, তাতে তাকে থামাতে পারব না। আপনি [[ওয়াশিংটন, ডিসি|ওয়াশিংটন]] থেকে কেবল কথাই পাবেন, বড় বড় কথা, কিন্তু কেবল কথাই।
**জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণের পর টমাস জোনসকে দেওয়া মন্তব্য (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৩০-এ উদ্ধৃত।
*তারা কি কখনো [[ইসলাম|মোহাম্মদীয় ধর্ম]] (ইসলাম) এবং [[কমিউনিজম|বলশেভিজমের]] উৎপত্তির মধ্যে থাকা মিলের কথা ভেবেছে? উভয়ই [[খ্রিস্টধর্ম|খ্রিস্টধর্ম]] থেকে উদ্ভূত, একটি ভ্রাতৃত্বের প্রচার করছে এবং অন্যটি সাম্যবাদের। তবে উভয়ই সকল অবিশ্বাসীদের জন্য মৃত্যু এবং নরকবাসের ঘোষণা দেয়। নবীর মৃত্যুর এক শতাব্দীর মধ্যেই মোহাম্মদীয়রা তরবারির জোরে [[আরব]] থেকে পিরেনিজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল [এবং] ট্যুরসে চার্লস মার্টেল তাদের থামিয়েছিলেন। রাশিয়া খুব কমই মহান মানুষের জন্ম দেয়, তবে কল্পনা করুন যদি একজন বলশেভিক [[প্রথম পিটার|পিটার দ্য গ্রেট]] দৃশ্যপটে হাজির হন, তবে কী ঘটতে পারে।
**টমাস জোনসের সঙ্গে কথোপকথন (৩ জুলাই ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৪৩-এ উদ্ধৃত।
*সরকার যে শুধু নিরস্ত্রীকরণের কথাই বলেনি, বরং এটি বাস্তবেও প্রয়োগ করেছে, তা আমার জোর দিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। গ্রেট ব্রিটেন একতরফা নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখন শেষ হয়েছে।
**লন্ডনের গিল্ডহলে দেওয়া ভাষণ (৯ নভেম্বর ১৯৩২), ''দ্য টাইমস'' (১০ নভেম্বর ১৯৩২), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমি মনে করি সাধারণ মানুষের জন্য এটি উপলব্ধি করাও ভালো যে পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাকে বোমা হামলার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। মানুষ তাকে যা-ই বলুক না কেন, '''বোমারু বিমান সব সময়ই পথ খুঁজে নেবে'''।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1932/nov/10/international-affairs ভাষণ] (১০ নভেম্বর ১৯৩২)।
*আমি যাদের সবচেয়ে বেশি বিরোধী, তারা হলেন চরম টোরি উইংয়ের সেই বয়স্ক ভদ্রলোকেরা। তারা ক্লাবের ধূমপানের ঘরে বসে থাকেন এবং কখনোই কোনো কাজে হাত লাগান না, কিন্তু আমি যা কিছু করি তার সবকিছুর জন্যই আমাকে গালমন্দ করেন... সরকারি কাজের জন্য আমাদের কাছে যে জনবল ছিল, অন্য কোনো দেশের কাছে তা ছিল না। জনজীবন জঘন্যভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠতে পারত, কিন্তু আমরা সবাই একে পরিচ্ছন্ন এবং ঘুষমুক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারতাম।
**সান্ডারল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া হলে জাতীয় সরকারের সমর্থনে এক সভায় দেওয়া ভাষণ (২ ডিসেম্বর ১৯৩২), ''দ্য টাইমস'' (৩ ডিসেম্বর ১৯৩২), পৃষ্ঠা ১২-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩৩ ====
*আমি সব সময়ই [[ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট|রুজভেল্টের]] [[নিউ ডিল|পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোকে]] ভয় পেয়েছি এবং আমার মনে হয় কয়েক মাসের মধ্যেই আমেরিকায় একটি ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
**টমাস জোনসকে লেখা চিঠি (১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ১১৫-তে উদ্ধৃত।
*[[মধ্যযুগ|মধ্যযুগে]], এবং মূলত তার পরবর্তী বছরগুলোতে... আমাদের সীমানা ছিল সমুদ্র; এটি একটি নির্দিষ্ট সীমানা ছিল। আর এটি এমন এক সীমানা ছিল, যা একবার একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি সেই সমুদ্র সীমান্ত রক্ষা করতে সক্ষম হলে আর কেউ পার হতে পারত না। আর মূলত ও প্রধানত এর কারণেই আমরা এই দেশে আমাদের নিজস্ব অদ্ভুত সভ্যতা এবং আমাদের নিজস্ব স্বাধীনতা গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। আমরা এমন এক নিরাপত্তায় তা করতে পেরেছিলাম, যা সে সময় বিশ্বের প্রায় অন্য সব জাতির কাছেই অপরিচিত ছিল।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১-তে উদ্ধৃত।
*জাতি হিসেবে আমরা অভিযোগ করি, আমরা কখনোই দুশ্চিন্তা করি না, আর সময় যত কঠিন হয়, আমরা তত বেশি উৎফুল্ল হই। বাইরের বিশ্বে কী ঘটছে তা নিয়ে অনেক দিক থেকেই আমরা উদাসীন হতে পারি, কিন্তু বিপদের সময় এই উদাসীনতা খুব দ্রুতই দূর হয়ে যায়। আমরা বিপদের সময় সব সময়ই শান্ত থাকি। আমরা সামরিক জাতি নই, কিন্তু আমরা মহান যোদ্ধা—যে বংশ থেকে আমাদের উদ্ভব, তাতে আমাদের এমনটাই হওয়া উচিত। আমাদের টিকে থাকার ক্ষমতা আছে, আমরা বিচলিত হই না। আমার মনে আছে, ''দ্য টাইমসের'' একজন লেখকের কথায় আমি খুব মজা পেয়েছিলাম এবং বেশ খুশিও হয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন যে আমার আধ্যাত্মিক বাড়ি হলো শেষ পরিখায় । যদি তা-ই হয়, তবে আমি আমার বেশিরভাগ দেশবাসীর সাথেই সেই পরিখা ভাগ করে নিয়েছি।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-তে উদ্ধৃত।
*তারপর, সবার ওপরে, ইংরেজদের বুদ্ধির চেয়ে [[রসবোধ|রসবোধের]] এক অদ্ভুত অনুভূতি রয়েছে। রসবোধ আসে হৃদয় থেকে; বুদ্ধি আসে মস্তিষ্ক থেকে। আমরা নিজেদের নিয়ে হাসতে পারি। [[জন রাস্কিন|রাস্কিন]] কী বলেছিলেন মনে আছে? "ইংরেজদের হাসি হলো টাকশালে তৈরি হওয়া ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে খাঁটি এবং সত্য।" এবং সত্যিই, কেবল ঈশ্বরই জানেন যে দেশ এর কাছে কতটা ঋণী। আসলে, হাসি হলো ঈশ্বরের দেওয়া সেরা উপহারগুলোর একটি। আর মনখোলা হাসির সাথে কোনো বিদ্বেষ বা অশালীনতা থাকতে পারে না। আর যে মানুষগুলো আমাদের দেখিয়েছেন সেই হাসির মানে কী হতে পারে, তাদের মধ্যে [[w:চার্লস ডিকেন্স|ডিকেন্সের]] মতো আর কেউ ছিলেন না। তার প্রতিটি চরিত্রই মজ্জায় মজ্জায় ইংরেজ। আর যদি আমি একজন জীবিত লেখকের কথা উল্লেখ করি, তবে আমার মনে হয় সবচেয়ে খাঁটি ইংরেজদের দেখা যায় মিস্টার প্রিস্টলির উপন্যাসগুলোতে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-তে উদ্ধৃত।
*দয়া, দুর্বলদের প্রতি সহানুভূতি, বাড়ির প্রতি ভালোবাসা! এগুলো কি আপনার পরিচিত সাধারণ ইংরেজদের বৈশিষ্ট্য নয়? সে একজন প্রবল ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী এই কারণে যে, সে নিজেকে কোনো সাধারণ ছাঁচে ফেলতে চায় না, সবার মতো হতে চায় না; সে তার নিজস্ব স্বকীয়তা গড়ে তুলতে পছন্দ করে। এবং তবুও সে সেবার জন্য একজোট হতে পারে। এই দেশের সেরা কিছু জিনিস আমাদের সাধারণ মানুষের মধ্যেই তৈরি হয়েছে, সরকারের কোনো সাহায্য ছাড়াই—ফ্রেন্ডলি সোসাইটির কাজ, আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন, আমাদের হাসপাতাল এবং রাষ্ট্র দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমাদের শিক্ষা। তারপর আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি ইংরেজের এক গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে—এটি তার স্বশাসনের ঐতিহ্যের অংশ। সুশৃঙ্খল স্বাধীনতা—বিশৃঙ্খলাপূর্ণ স্বাধীনতা নয়, বা যা অবধারিতভাবে এর অনুসরণ করে সেই স্বৈরতন্ত্রও নয়; বরং সুশৃঙ্খল স্বাধীনতা, যা বর্তমানে এই ওলটপালট পৃথিবীর অন্যতম বিরল জিনিস।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমি বলছি যে বিশ্বে এ ধরনের গুণাবলি এর আগে কখনোই এতটা প্রয়োজনীয় ছিল না। আসুন আমরা যা, তা-ই ধরে রাখি; আসুন আমরা অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা না করি... আমাদের অধ্যবসায়, আমাদের স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা, আমাদের সুশৃঙ্খল স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা, আমাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, আমাদের ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সেবায় আমাদের একজোট হওয়ার ক্ষমতা; বস্তুত, আমাদের শক্তি এবং আমাদের দুর্বলতার মাঝেই আমি আমার হৃদয় থেকে বিশ্বাস করি যে, আমাদের মানুষ আমাদের সামনে আসা যেকোনো পরীক্ষা পার হওয়ার যোগ্য। এবং যদি তারা তাদের নিজস্ব সেরা ঐতিহ্যগুলোর প্রতি সৎ থাকে, তবে অতীতে তারা যেমনটা ছিল ভবিষ্যতে তার চেয়েও এক মহান জাতি হিসেবে তারা আত্মপ্রকাশ করবে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*এটি কোনো তৈরি করা জিনিস নয়; এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ওক, ছাই বা কাঁটার মতোই আমাদের দেশ এবং মানুষের নিজস্ব জিনিস হিসেবে বেড়ে উঠেছে। এটি তার মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছে এবং তাদের স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে পার্থক্য শিখিয়েছে। আজ সেই সংবিধানই হুমকির মুখে, সোশ্যালিস্ট পার্টির তাদের সম্মেলনে এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে না হলেও, প্রবণতাগতভাবে এমন একটি কর্মপন্থা আঁকার মাধ্যমে, যা যদি বাস্তবায়িত হয় তবে তার অর্থ হবে সংবিধানের ধ্বংস। আপনি এটিকে যত খুশি বিতর্কিত করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে হাউস অফ কমন্সের নির্বাহী ক্ষমতা কেড়ে নেওয়াই হলো প্রতিটি স্বৈরতন্ত্রের শুরুর পথ। এটি সর্বহারা হিটলারবাদ এবং অন্য কিছু নয়, এবং এটি অন্য কিছু হতেও পারে না। আমি চাই আপনারা সময়ের আগেই এটি উপলব্ধি করুন।
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দ্য টাইমস'' (৭ অক্টোবর ১৯৩৩), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তিসংগত করার যেকোনো ইচ্ছাকৃত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টাকে সন্দেহের চোখে দেখাটা ব্রিটিশ জনসাধারণের একটি বৈশিষ্ট্য।
**লন্ডনে ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে দেওয়া ভাষণ (২৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৫২-তে উদ্ধৃত।
*নিখুঁত সরকার কেবল সেখানেই পাওয়া যায় যেখানে কারাগারগুলো পূর্ণ থাকে।
**লন্ডনে ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে দেওয়া ভাষণ (২৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৫৩-তে উদ্ধৃত।
*'''আমি একজন ভিক্টোরিয়ান'''। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমি সেই সময়ের অন্য সবার মতোই প্রায় দশ মাইল ব্যাসার্ধের একটি বৃত্তের কেন্দ্রে বাস করতাম—যতদূর এক জোড়া ঘোড়া আমাকে টেনে নিয়ে যেতে পারত। এর বাইরে আমি খুব কমই যেতাম, এবং আমি ইংল্যান্ডের অন্যান্য অংশ থেকে এমনভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলাম যা কেবল মোটর রাস্তা এবং মোটর গাড়ির দেশ হিসেবে ইংল্যান্ডকে চিনেছে, এমন কারও পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব।
**লন্ডনে ইয়র্কশায়ার সোসাইটির বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৮ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩৪-এ উদ্ধৃত।
*কোনো মানুষের প্ল্যাটফর্মে কথাবার্তা যেমনই হোক না কেন বা দৈনন্দিন জীবনে সে নিজের ঢাল হিসেবে যতটাই মানববিদ্বেষের ভান করুক না কেন, সেই আবরণের নিচে, একশো জনের মধ্যে নিরানব্বই জন ইংরেজের মধ্যেই এমন একটি ভালোবাসা থাকবে—যা সে কখনো ব্যাখ্যা করতে পারে না বা কখনো করবেও না—সেই বাড়ির প্রতি যেখানে সে নিজে একসময় বাস করেছে বা তার আগে তার বাবা-মা বা দাদা-দাদি বাস করেছেন।
**লন্ডনে ইয়র্কশায়ার সোসাইটির বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৮ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩৭-এ উদ্ধৃত।
*দুটি সত্য আমাদের মনে গেঁথে আছে। আমরা যে যুগে বাস করি, সেখানে যুদ্ধ বিজয়ী এবং বিজিত উভয়ের জন্যই সমান ধ্বংসাত্মক। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, ইউরোপে আরেকটি যুদ্ধের অর্থ হবে আমাদের পরিচিত পশ্চিমা সভ্যতার অবসান। এই পরিস্থিতিতে এই সরকার যা করছে, তা ছাড়া আর কোনো সরকার কী-ই বা করতে পারে—অস্ত্রসীমিতকরণের বিষয়ে ইউরোপে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অবিরাম সংগ্রাম করা? এই মুহূর্তে সামনের বাধাগুলোর কারণে অনেক মানুষের হৃদয় নিরাশ হয়ে পড়ছে... আমাদের দায়িত্ব হলো এই রাজনৈতিক বাধাগুলো অতিক্রম করতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি না রাখা এবং শেষ মুহূর্তে হলেও অস্ত্রসীমিতকরণের একটি চুক্তি তৈরি করার কাজ পুনরায় শুরু করা।
**এডিনবার্গে দেওয়া ভাষণ (১৭ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দ্য টাইমস'' (১৮ নভেম্বর ১৯৩৩), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩৪ ====
*আমি বলব যে, [[ফ্যাসিবাদ|ফ্যাসিস্টদের]] বিশ্বে স্বাধীনতার একমাত্র রক্ষক হিসেবে আমরাই টিকে আছি। ... এই ফ্যাসিস্ট এবং কমিউনিস্টরা আজ সেই ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর যুদ্ধের উত্তরসূরি।
**টমাস জোনসের সঙ্গে কথোপকথন (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৪), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ১২৪-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের স্বাধীনতা আমাদের নিজস্ব—তা সে নাগরিক হোক বা ধর্মীয়। আমরা এতে এতটাই অভ্যস্ত, ঠিক যেমন আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই তার প্রতি, যে আমরা এটিকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নিই... আর সেই স্বাধীনতা স্বর্গ থেকে মান্নার মতো আমাদের ওপর ঝরে পড়েনি: আমাদের ইতিহাসের শুরু থেকেই এর জন্য লড়াই করতে হয়েছে, এবং এটি অর্জনের জন্য আমাদের চেয়ে অনেক ভালো মানুষের রক্ত ঝরেছে। এটি নির্বাহী ক্ষমতার প্রতি শতাব্দী ধরে করা প্রতিরোধের ফল, এবং এটি আমাদের জন্য একটি সমান ন্যায়বিচার ও জুরির মাধ্যমে বিচার, এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতামতের স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৭-তে উদ্ধৃত।
*আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে এই দেশে সরকার অনেক বেশি পরিচ্ছন্নভাবে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশের সরকারের মতোই আমাদের স্থানীয় জনপ্রশাসনেও এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই বিরল, যারা পথভ্রষ্ট হয় এবং [[দুর্নীতি]] বা অযাচিত প্রভাবের কারণে আসা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করে। আমাদের ভাইদের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, তাদের সবার মঙ্গলের জন্য জনসেবা করার একটি চমৎকার ঐতিহ্য এই দেশে প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২০-তে উদ্ধৃত।
*আর এই দেশে বসে আমাদের জন্য কোনো [[স্বৈরতন্ত্র|স্বৈরতন্ত্রের]] কথা ভাবা—যা আজ অনেক দেশে সরকারের একটি জনপ্রিয় রূপ—তা হবে আমাদের দিক থেকে চূড়ান্ত [[কাপুরুষতা|কাপুরুষতার]] কাজ, একটি [[আত্মসমর্পণ|আত্মসমর্পণের]] কাজ, হাল ছেড়ে দেওয়ার কাজ, এটি হবে এক ধরনের স্বীকারোক্তি যে আমরা নিজেদের শাসন করতে অক্ষম... এই দেশে আমরা যাকে "রাতারাতি ধনী হওয়ার" মানসিকতা বলি, তা আমরা চাই না। গতি এবং দক্ষতা খুব ভালো জিনিস, এবং সম্ভবত সেগুলো এই প্রজন্মের কাছে পূজনীয়। কিন্তু সেগুলো সবসময় একসাথে চলে না। আমি যেমনটা প্রায়ই বলি, ত্বরণ বা অ্যাক্সিলারেশন সভ্যতার সমার্থক নয়। এটা ঠিক যে এই দেশের রাষ্ট্রীয় ঘোড়ার গাড়িটি হয়তো কর্দমাক্ত পথ দিয়ে যাচ্ছে, এর চাকায় হয়তো ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ হচ্ছে; কিন্তু আপনি কি নিশ্চিত যে আজ [[মস্কো]], [[বার্লিন]], [[ভিয়েনা|ভিয়েনায়]] রাষ্ট্রীয় গাড়ির চাকাগুলো ক্যাঁচক্যাঁচ করছে না? আপনি কি পুরোপুরি নিশ্চিত যে সেগুলো এমনকি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও]] ক্যাঁচক্যাঁচ করছে না?
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২১-এ উদ্ধৃত।
*'''স্বৈরতন্ত্র হলো একটি বিশাল বিচ গাছের মতো—যৌবনে এটি দেখতে খুবই চমৎকার, কিন্তু এর নিচে কিছুই জন্মায় না বা বাঁচে না।'''
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২১-এ উদ্ধৃত।
==== ১৯২৬ ====
[[Image:KingBaldwin1926.jpg|thumb|রাজনীতিকে যদি সঠিকভাবে দেখা যায়, তবে তা সত্যিই এক ধরনের ধর্মীয় সেবার (মিনিস্ট্রি) মতো।]]
*কেন [[রোম সাম্রাজ্য|রোমান সাম্রাজ্যের]] উত্থান হয়েছিল এবং কেনই বা উত্থানের পর তার পতন ঘটেছিল? ...সাম্রাজ্যের উত্থানে রোমানদের চরিত্র যেমন ভূমিকা রেখেছিল, পতনের ক্ষেত্রেও কি ঠিক তেমনই ভূমিকা রাখেনি? ...আমার কাছে রোমান চরিত্রের সবচেয়ে বড় এবং অনন্য শক্তি হলো ''pietas (নিষ্ঠা)'' এবং ''gravitas (গাম্ভীর্য)'' শব্দ দুটির মধ্যে। এগুলোই ছিল সেই দেশপ্রেমের ভিত্তি, যা একাই সাম্রাজ্যের বোঝা বইতে পারত। এই দেশপ্রেম ছিল সহজাত, অসীম ক্ষমতার এক চালিকাশক্তি। অথচ এটি এতটাই পবিত্র ছিল যে, একে নিয়ে কখনোই বড়াই করা হয়নি, কোনো পুরস্কারের আশা করা হয়নি, একে খুব স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া হতো এবং একে প্রকাশ করার মতো কোনো একক শব্দও ছিল না।
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৩-১০৪-এ উদ্ধৃত।
*''Pietas'' এবং ''gravitas''-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা চরিত্রের শেকড় ছিল সত্যের গভীরে। আর আমি এ কথা ভেবে গর্ববোধ করি যে, ইংরেজি শব্দটি রোমান শব্দের চেয়ে কোনো অংশেই কম সম্মানজনক নয়... রোমান সৈন্যদল যখন ব্রিটেন ছাড়ছিল, তখন [[w:অ্যামিয়ানাস মার্শেলিনাস|অ্যামিয়ান]] লিখেছিলেন যে, রোমানদের কথার ওপর আর ভরসা করা যায় না। তার এই লেখা থেকেই আমরা তা জানতে পারি। '''শহরগুলোতে জনসংখ্যার ভিড়, অপরিসীম বিলাসিতা এবং সম্পদের স্থায়ী উৎসগুলোর নিঃশেষ হয়ে যাওয়া—এসবের চেয়েও এটি আমার কাছে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ একটি অশনিসংকেত বলে মনে হয়। কারণ এই সব কিছু মিলে সেই চরিত্রটিকেই দুর্বল করে দিয়েছিল, রাষ্ট্রের বেঁচে থাকার জন্য যার টিকে থাকাটা অপরিহার্য ছিল।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৫-এ উদ্ধৃত।
*আজ যারা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাদের মনে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। সেই ভয় এখনও আমাদের গলা চেপে ধরেনি ঠিকই, তবে গোধূলির আলোয় এক ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। ভয়টা হলো, [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|মহামহাবুদ্ধ]] এত বিপুল সংখ্যক সেরা জীবন কেড়ে নেওয়ার কারণে সাম্রাজ্যের কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট উপযুক্ত মানুষ হয়তো আর অবশিষ্ট নেই। আমাদের কাজ এমনিতেই অনেক কঠিন, তবে তা সম্পন্ন হবে; '''তবুও ইউরোপের কে না জানে যে, পশ্চিমে যদি আর একটি যুদ্ধ হয়, তবে যুগের পর যুগ ধরে গড়ে ওঠা সভ্যতা রোমের মতোই এক ভয়ংকর পতনের সম্মুখীন হবে? সে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিপদের সংকেত রেখে গেছে; এখন সেগুলো পড়ার দায়িত্ব আমাদের।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৬-এ উদ্ধৃত।
*আমি যেহেতু বিশ্বাস করি যে বিশ্বের অনেক সভ্যতা ও সংস্কৃতি পশ্চিম ইউরোপের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই আমাদের জন্য এটি মনে রাখা ভালো যে, ঐতিহাসিক সময়ে আমরা পশ্চিম ইউরোপীয়রা একসঙ্গে একটি বিশাল সাম্রাজ্যের সদস্য ছিলাম। এবং আমরা ভাষা, আইন এবং ঐতিহ্য—যদিও ভিন্ন মাত্রায়—একে অপরের সাথে ভাগ করে নিই। '''একই মায়ের কাছ থেকে নাগরিকত্বের প্রথম পাঠ শেখা জাতিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ হওয়াটা আমার কাছে ভ্রাতৃঘাতী উন্মাদনা বলেই মনে হয়।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৭-এ উদ্ধৃত।
*অ্যাথেন্স এবং রোমে... প্রতিটি চূড়ান্ত সমস্যাই তাদের ছিল, যেমনটা এখন আমাদের। আর আপনি তাদের আবেদনে যত বেশি নিজের আত্মাকে উন্মুক্ত করবেন, হোঁচট খাওয়া মানবতার প্রতি আপনার করুণা তত গভীর হবে। আপনি মানব পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করার চেয়ে বরং তাদের একত্রে বাঁধতে তত বেশি আগ্রহী হবেন। এটা কোনো অন্ধ নিয়তি নয় যে আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন পণ্ডিত তার জীবনকে [[w:সম্মিলিত_জাতিপুঞ্জ|লিগ অফ নেশনসের]] আদর্শের জন্য উৎসর্গ করেছেন। বরং এটি সেই গ্রিকদের ব্যর্থতা মোচনে অবদান রাখার ইচ্ছা থেকেই এসেছে, যাদেরকে বুঝতে তিনি জীবিত যেকোনো মানুষের চেয়ে এই আধুনিক বিশ্বকে বেশি সাহায্য করেছেন।
**[[গিলবার্ট মারে|গিলবার্ট মারেকে]] নিয়ে ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১১৫-১১৬-এ উদ্ধৃত।
*দেশের এখন অন্য একজন [[জন ওয়েসলি|ওয়েসলি]] বা [[জর্জ হোয়াইটফিল্ড|হোয়াইটফিল্ডের]] মতো আর কাউকে এতটা প্রয়োজন নেই... আজ বিশ্বকে খ্রিস্টীয় যুগে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি [[অধর্ম|ধর্মহীন]] বলে মনে হচ্ছে। দায়িত্বজ্ঞানহীন আনন্দ-সন্ধান এবং অপব্যয়ী বিলাসিতা এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে; আমাদের শৈশবে গির্জায় যাওয়ার যে চল ছিল, তা এখন আর নেই; এবং যাজকপদের (মিনিস্ট্রি) জন্য প্রার্থীদের সংখ্যাও আগের বছরগুলোর তুলনায় কমে গেছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এই পরিস্থিতি কেটে যাবে।
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৫-১৯৬-এ উদ্ধৃত।
*আমি সেখানে, বিশেষ করে লেবার পার্টির মধ্যে এমন অনেক লোককে দেখি যারা পঞ্চাশ বছর আগে নিশ্চিতভাবেই খ্রিস্টান যাজকপদে (মিনিস্ট্রি) যোগ দিতেন। জনগণকে সাহায্য করার গভীর আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা রাজনৈতিক জীবনে আকৃষ্ট হয়েছেন। আজকাল সব দলেই এমন মানুষ দেখা যায়... আমি অবশ্যই অনেক পর্যবেক্ষকের সাথে একমত যে, যুদ্ধের পর থেকে [[শয়তান|শয়তানের]] স্পষ্ট শক্তিগুলো আরও বেশি মাত্রায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এই শক্তিগুলোর প্রকাশই আবার অন্যান্য শক্তিগুলোকে মাঠে নামার আহ্বান জানাচ্ছে।
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৬-এ উদ্ধৃত।
*'''রাজনীতিকে যদি সঠিকভাবে দেখা যায়, তবে তা সত্যিই এক ধরনের ধর্মীয় সেবার (মিনিস্ট্রি) মতো।'''
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৭-এ উদ্ধৃত।
* '''আমি একজন শান্তির মানুষ। আমি শান্তির জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা করছি, কাজ করছি এবং প্রার্থনা করছি। কিন্তু আমি ব্রিটিশ সংবিধানের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার সাথে কোনো আপস করব না।''' আপনারা আঠারো মাস আগে আমাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। অনেক অনেক বছর পর কোনো দলকে দেওয়া সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি কি এমন কিছু করেছি যার জন্য সেই বিশ্বাস হারাতে পারি? মানুষে মানুষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং একটি ন্যায্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে আপনারা কি আমার ওপর ভরসা রাখতে পারেন না?
** সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে বিবিসি রেডিওতে দেওয়া ভাষণ (৮ মে ১৯২৬), কিথ মিডলমাস এবং জন বার্নসের লেখা ''বল্ডউইন : এ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৪১৫-তে উদ্ধৃত। *খাদ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, সব ধরনের [[পরিবহন]] ব্যবস্থা অধিগ্রহণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বন্দরগুলোতে থাকা কয়লা রপ্তানি বন্ধ করতে সরকার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছিল, যা আমাদের চেয়ে কম সুশৃঙ্খল কোনো জাতির মধ্যে ঘটলে দাঙ্গা এবং বিপ্লব অনিবার্য ছিল। '''কিন্তু আমাদের জাতি কোনো অপরিপক্ব বা অনভিজ্ঞ জাতি নয়। আমাদের দেশ তার সেরা ঐতিহ্য বজায় রেখে মাথা ঠান্ডা রেখেছিল। আর মাথা ঠান্ডা রেখেই সারা বিশ্বের প্রশংসা—এমনকি অনিচ্ছাকৃত প্রশংসাও—আদায় করে নিয়েছিল।'''
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৫৯-এ উদ্ধৃত।
*এটি স্বীকার করা হয়েছিল, এবং ন্যায্যভাবেই স্বীকার করা হয়েছিল যে, যখন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একজোট হয়, তখন তাদের পক্ষে এককভাবে সেই শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার সাথে দরকষাকষি করা সম্ভব নয়, যারা এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনটা আশা করাও তাদের প্রতি সুবিচার নয়। তাই কার্যকর চুক্তির স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্যই, নিজেদের অবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার অধিকার মানুষকে দেওয়া হয়েছিল। শিল্পের নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই ট্রেড ইউনিয়নগুলোর জন্ম হয়েছিল, যেমনটা আমরা আজ দেখি। তখন এটি অপরিহার্য ছিল, এবং সেই উদ্দেশ্যের জন্য এটি ভবিষ্যতেও অপরিহার্য থাকবে। এই দেশই হলো এ ধরনের জোটবদ্ধ হওয়ার জন্মস্থান—'''এই দেশ, যা বৈধ এবং বিবর্তনমূলক উপায়ে মানবজাতিকে মুক্ত করার প্রতিটি প্রচেষ্টার জন্মস্থান। অন্যান্য এবং অপেক্ষাকৃত কম সৌভাগ্যবান দেশগুলোর প্রচেষ্টা ব্যর্থতা ও বিপর্যয়ে তলিয়ে যাওয়ার অনেক পরও এই দেশ এভাবেই তার ধারা বজায় রাখবে।'''
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬১-তে উদ্ধৃত।
*যুদ্ধের দুই বছর আগে [[এইচ. এইচ. অ্যাসকুইথ|লর্ড অক্সফোর্ডের]] তৎকালীন সরকারকে [[w:গ্রেট আনরেস্ট|ধর্মঘটের মহামারির]] মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এক পেশার মানুষের বিরোধ সবার বিরোধে পরিণত হয়েছিল। এটি ছিল সহমর্মিতার ধর্মঘট... এক দল নেতার হাতে এটি হয়তো শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির জন্য নিয়োগকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। কিন্তু অন্যদের হাতে এটি এমন এক অস্ত্রে পরিণত হয়েছিল, যা দিয়ে শ্রেণিসংগ্রাম—যাকে তখন শ্রেণিসংগ্রাম বলা শুরু হয়েছিল—পরিচালনা করা যায়। আর সাধারণ ধর্মঘট, যা নিয়ে তখন প্রথম আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা হয়ে উঠেছিল এমন এক চরম হাতিয়ার যার মাধ্যমে পুরো সমাজকে হয় অনাহারে রেখে অথবা ভয় দেখিয়ে এর প্রবর্তকদের ইচ্ছার কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করা যেতে পারে। একই আন্দোলনের মধ্যে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছিল: পুরোনো নিয়মতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি... আলোচনা করা, সম্মিলিতভাবে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে ধর্মঘটের আশ্রয় নেওয়া। অন্যদিকে, ট্রেড ইউনিয়নের এই বিশাল সংগঠনটিকে এমন এক যন্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা, যা দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন উদ্যোগের ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে সার্বজনীন রাষ্ট্রীয় কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা স্থাপন করা যায়... এরপর কী হবে তা কখনোই খুব একটা পরিষ্কার ছিল না। শুধু এটুকু পরিষ্কার ছিল যে, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলাই হলো প্রথম প্রয়োজনীয়তা। এটি ছিল অতীতের সাথে এক গভীর বিচ্ছেদ, এবং এর উৎপত্তি হয়েছিল বিদেশি উৎস থেকে। আর সেইসব বিদেশি বিপ্লবী দৃষ্টান্তগুলোর মতোই এটিও মূলত অত্যন্ত গোপনীয় এবং গুপ্ত ছিল। চুক্তি এবং চুক্তিনামার প্রতি এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ব্রিটিশদের খোলাখুলি এবং সৎ লেনদেনের ঐতিহ্য থেকে সরে আসা। এই প্রোপাগান্ডা হলো ঘৃণা এবং ঈর্ষার প্রোপাগান্ডা।
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৪-১৬৫-তে উদ্ধৃত।
*ধর্মঘটকারীদের ভালো গুণাবলির প্রতি এটি একটি বড় সম্মান যে তারা তাদের নির্দেশনার প্রতি আনুগত্যে শৃঙ্খলা এবং সংযমের প্রমাণ দিয়েছে। তারা আমাদেরই দেশের মানুষ। তাদের অনেকেই কেবল আনুগত্যের অনুভূতি থেকেই নির্দেশ পালন করেছে, যদিও তারা নিজেরাই সেই নির্দেশগুলো পছন্দ করেনি। কিন্তু যদি সেই ধর্মঘট সফল হতো, তবে তা কেবল খনি শ্রমিকদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র দেশের জন্যই শিল্পক্ষেত্রে ধ্বংস ডেকে আনত।
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৭-তে উদ্ধৃত।
*এটি হয়তো শ্রমিকদের সংহতির এক চমৎকার প্রদর্শন হতে পারত। কিন্তু একই সাথে, সবার মঙ্গলের জন্য একসঙ্গে বসবাস ও কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের সবার ব্যর্থতার এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক প্রমাণও ছিল এটি। যেসব নেতারা ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলেন, কোনো শর্ত ছাড়াই সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে যে সাহসের প্রয়োজন ছিল, আমি তার প্রশংসা করি... এখন যেসব সমালোচক তাদের সোজা পথে না চলার জন্য দোষারোপ করছেন, তাদের চেয়ে ঐ নেতাদের অনেক বেশি সাহসের প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু সেই ধর্মঘট যদি খনি শ্রমিকদের প্রতি সংহতি বা সহানুভূতি—বা আপনি যা-ই বলুন না কেন—দেখিয়ে থাকে, তবে এটি তার চেয়েও অনেক বড় কিছু দেখিয়েছিল। '''এটি আমাদের দেশের পুরো কাঠামোর স্থিতিশীলতা প্রমাণ করেছিল, এবং পুরো বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে একটি গুলিও ছোড়া হয়নি। আমাদের দেশের মানুষের কাণ্ডজ্ঞান এবং ভালো মেজাজের কারণেই আমরা রক্ষা পেয়েছি।'''
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৭-১৬৮-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের মানুষ পার্লামেন্টকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে [[পুঁজিবাদ|পুঁজিপতি]] বা [[ট্রেড ইউনিয়ন|ট্রেড ইউনিয়নিস্টদের]] [[রাজাদের ঐশ্বরিক অধিকার|ঐশ্বরিক অধিকার]] প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে না। আর আমরা এদের কারও [[স্বৈরতন্ত্র|স্বৈরতন্ত্রের]] কাছেই মাথা নত করতে যাচ্ছি না... আমি দেখতে চাই আমাদের ব্রিটিশ লেবার আন্দোলন বিদেশি এবং ভিন্নমতের চিন্তাধারা থেকে মুক্ত থাকুক। আমি দেখতে চাই এটি ইংরেজদের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে ইংরেজি ধাঁচেই এগোচ্ছে এবং বিকশিত হচ্ছে।
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৯-১৭০-এ উদ্ধৃত।
*'''অবিরাম সংঘাত কেবল দারিদ্র্য এবং নিপীড়নের দিকেই নিয়ে যেতে পারে। একমাত্র শান্তিই দারিদ্র্য এবং নিপীড়নের এই দুই ভূতকে দূর করতে পারে।'''
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৭১-এ উদ্ধৃত।
*আপনাদের বুঝতে হবে যে আমরা যে বছরগুলোতে বাস করছি, যে বছরগুলোতে আমরা প্রবেশ করছি, সেগুলো অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি করে গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষার সময় হতে যাচ্ছে... আমরা এই দেশে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলতে পারি; আর যদি আমরা তা করি, তবে আমরা এর চেয়েও অনেক খারাপ কিছু পাব—আমরা কোনো না কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র পাব। আমি জানি না সেটি কোন ধরনের স্বৈরতন্ত্র হতে পারে। '''এটি কমিউনিস্ট স্বৈরতন্ত্র হতে পারে; আবার অন্য দিকের কোনো স্বৈরতন্ত্রও হতে পারে। কিন্তু আপনারা যদি একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতন্ত্র গড়ে তুলতে না পারেন, তবে সেটাই হবে দেশের পরিণতি।'''
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৭-১৮-তে উদ্ধৃত।
*যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, রাজনৈতিক কোনো বিষয়, আইন প্রণয়ন বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ বিচার করার সময় কোন দুটি মূল নীতি আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত, তবে আমি বলব কাণ্ডজ্ঞান এবং এই দেশের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটির সংরক্ষণ—আর তা হলো ব্যক্তি স্বাধীনতা। এই মানদণ্ডগুলো প্রয়োগ করলে আপনি খুব কমই ভুল পথে যাবেন। আজ অনেকেই মনে করেন আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই বিশ্বের সব রোগ সারানো সম্ভব। কিন্তু তাদের প্রস্তাবিত আইনটি দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে মানানসই কি না এবং তা ব্যক্তির স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করছে কি না, তা আপনাকে যাচাই করে দেখতে হবে। আর যদি এই বিষয়গুলোতে আপনি সন্তুষ্ট হতে না পারেন, তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে দীর্ঘমেয়াদে সেই আইন উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে।
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৮-১৯-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের দেশে স্বাধীনতার ধারণাটি এতটাই মূল্যবান, এতটাই পবিত্র এবং যুগ যুগ ধরে সংগ্রামের ফল হিসেবে অর্জিত যে, আমি নিশ্চিত ছিলাম অন্য কোনো দেশে এমনটা নেই। অন্যান্য দিক দিয়ে তারা আমাদের চেয়ে যত সুবিধাতেই থাকুক না কেন, এই দেশের মতো আর কোথাও স্বাধীনতাকে এত মূল্যবান মনে করা হয় না বা সেভাবে দেখা হয় না। আর এটি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যারা সব পরিস্থিতিতে আমাদের কিছু শেখাতে পারে।
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৯-এ উদ্ধৃত।
*আমার মতে ১৯১৪ সালের আগস্টের চেয়ে ৪৯০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সেপ্টেম্বর মাসটি ইউরোপের ভাগ্য নির্ধারণে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পশ্চিমা সভ্যতা... তার শৈশবেই [[w:ম্যারাথনের যুদ্ধ|ম্যারাথনে]] রক্ষা পেয়েছিল, এবং দশ বছর পর [[w:লিওনিদাস ১|লিওনিদাস]] এবং [[w:সালামিসের যুদ্ধ|সালামিসের]] মানুষদের দ্বারা... যদি সেই দশকটি না থাকত, তবে [[পূর্ব/মধ্য ইউরোপ|পূর্ব ইউরোপকে]] প্রাচ্যমুখী হওয়া থেকে আটকানোর মতো কিছুই থাকত না। তখন ইউরোপের আধিপত্যের চূড়ান্ত লড়াইটা কেবল [[হাখমানেশি সাম্রাজ্য|পারসিক]] এবং [[প্রাচীন কার্থেজ|কার্থাজিনিয়ানদের]] মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। [[প্রাচীন গ্রিস|গ্রিকরা]] না থাকলে আমরা আজ যে সভ্যতা চিনি, তার অস্তিত্বই থাকত না। আমরা সবাই হয়তো কালো চামড়ার, লম্বা নাকের মানুষ হতাম... '''[[ইংল্যান্ড]] হলো [[স্বাধীনতা]] এবং মুক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক আবাস। বিশ্বের জন্য এই আশীর্বাদগুলো নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় হেলাসের (প্রাচীন গ্রিস) কাছে তার ঋণ স্বীকার করতে তার চেয়ে বেশি ত্বরিত অন্য কোনো দেশের হওয়া উচিত নয়।'''
**লন্ডনে ব্রিটিশ স্কুল অ্যাট অ্যাথেন্সের বার্ষিক সভায় দেওয়া ভাষণ (২ নভেম্বর ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ২০৫-এ উদ্ধৃত।
==== ১৯২৭ ====
*...সেই উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা যা প্রায়শই আধুনিক ইউরোপের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। '''একটি সত্যিকারের জাতীয় অনুভূতি গড়ে তোলার এবং আপনার নিজের দেশকে তার প্রাপ্য গৌরবের আসনে বসানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অন্যান্য জাতির সাথে মিলেমিশে এবং সমগ্র বিশ্বের উন্নতির একমাত্র লক্ষ্য নিয়ে তা করা।''' যুদ্ধের পর থেকে আমরা কেবল মোহভঙ্গেই ভুগিনি; আমরা নিজেদের এবং বিশ্ব সম্পর্কে অনেক বেশি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছি... '''[[জাতীয়তাবাদ]] অনেক কুৎসিত রূপ নিতে পারে। দেখে মনে হচ্ছে ধর্ম বা স্বাধীনতার নামের মতোই এর নামেও অনেক অপরাধ সংঘটিত হবে।''' প্রকৃতপক্ষে, সমস্যার মূল কারণ হলো জাতীয়তাবাদীরা ধর্মের পোশাক পরতে পছন্দ করে... '''একপেশে বুদ্ধিজীবীদের প্রচারণার ফলে নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রতিবেশীর দেশের প্রতি ঘৃণায় পরিণত হয়েছে। এই বুদ্ধিজীবীরা সাধারণত অন্যদের জন্য যে আত্মত্যাগের ব্যবস্থা করে, নিজেরা ঠিকই তা থেকে পালিয়ে বাঁচে।'''
**কার্ডিফে সেন্ট ডেভিডস ডে ব্যাঙ্কোয়েটে দেওয়া ভাষণ (১ মার্চ ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭-এ উদ্ধৃত।
*যে শেকড় আমাদের জন্মভূমি এবং জন্মভাষার সাথে বেঁধে রাখে, তা ধ্বংস করলে আমাদের আত্মার স্বাস্থ্যেরই ক্ষতি হবে। '''দেশের প্রতি ভালোবাসা এক গভীর এবং সর্বজনীন প্রবৃত্তি, যা প্রাচীন স্মৃতি এবং সূক্ষ্ম সংযোগে ভরপুর। যেসব মানুষ অস্পষ্ট এবং পানসে বিশ্বজনীনতার লোভে তাদের জাতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে, তারা মানুষের চেয়েও অধম হয়ে যায়; তারা তাদের ব্যক্তিত্বকে অভুক্ত রাখে এবং খর্ব করে; তারা একধরনের রাজনৈতিক নপুংসকে পরিণত হয়।'''
**কার্ডিফে সেন্ট ডেভিডস ডে ব্যাঙ্কোয়েটে দেওয়া ভাষণ (১ মার্চ ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৫০-এ উদ্ধৃত।
*আজ আমাদের সাম্রাজ্যের চিন্তায় পতাকা ওড়ানো বা মানচিত্র লাল রঙে রাঙানোর অহংকার করার মতো কিছুই নেই। না! কেবল সেই জাতির প্রতি গর্ববোধ আছে যে জাতি থেকে আমাদের উদ্ভব—এমন এক গর্ব যা আমাদের নিজেদের চোখেই আমাদের বিনীত করে এবং আমাদের যে উত্তরাধিকার এবং দায়িত্ব রয়েছে, তার যতটা সম্ভব যোগ্য করে তুলতে সংকল্পবদ্ধ করে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬০-এ উদ্ধৃত।
*...এখনও কেবল আমাদের জন্যই এমন সব সুযোগ রয়েছে যা অন্যান্য জাতিদের জন্য উন্মুক্ত নয়। বিশ্বের প্রায় যেকোনো অংশে এবং যেকোনো জলবায়ুতে বসতি স্থাপন এবং কাজ করা আমাদের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে আমরা এমন সব মানুষদের মাঝে নিজেদের খুঁজে পাই যারা আমাদের ভাষায় কথা বলে, আমাদের আইন মেনে চলে, আমাদের মতো একই আদর্শ লালন করে, আমাদের পরিচিত রীতি অনুযায়ী উপাসনা করে এবং একই সার্বভৌম ক্ষমতার অধীন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের—টোরি, লিবারেল এবং লেবার নির্বিশেষে—আমাদের ঐক্যকে এমন এক বাস্তবতায় রূপ দিতে হবে যাতে নারী-পুরুষ সবাই সাম্রাজ্যকে একটি অভিন্ন সত্তা হিসেবে দেখে। যাতে করে গ্লাসগো থেকে লন্ডন বা ব্রিস্টল থেকে নিউক্যাসল যাওয়ার মতোই সহজে এবং স্বাধীনভাবে তারা সাম্রাজ্যের সীমানার মধ্যে [[নিউজিল্যান্ড]], [[অস্ট্রেলিয়া]], [[দক্ষিণ আফ্রিকা]] বা [[কানাডা|কানাডায়]] যেতে পারে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬০-৬১-তে উদ্ধৃত।
*আমরা যারা এই সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হয়েছি, তারা এর জন্য গর্বিত। আর আমাদের গর্বিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এই গর্বের সাথে সেইসব মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও মিশে থাকা উচিত, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সাম্রাজ্য বেড়ে উঠেছে। যুদ্ধের ধাক্কায় এখনও ধুঁকতে থাকা এই বিশ্বে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য মঙ্গলের এক বিশাল শক্তি হিসেবে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে... প্রতিটি বাতাসের প্রবাহে, প্রতিটি সমুদ্রের ঢেউয়ে এটি সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, বিশ্বাস এবং ভ্রাতৃত্ববোধের আত্মা এই বিশ্বে কী বিশাল কিছু অর্জন করতে পারে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬৩-তে উদ্ধৃত।
*[[চার্চ অফ ইংল্যান্ড|চার্চ]] এবং চ্যাপেলের দ্বৈতসত্তা একসঙ্গে আমাদের দেশের জীবনে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রভাবগুলোর একটি হিসেবে কাজ করেছে। একটি হয়তো অন্যের চেয়ে বেশি করে কর্তৃত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার বোধ জাগিয়ে তুলেছে; আর অন্যটি [[ঐশ্বরিক আইন|শাশ্বত আইনের]] প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যের ওপর বেশি জোর দিয়েছে। তাদের উভয়েরই কিছু ভালো গুণ ও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু তারা উভয়েই বড় মাপের সামাজিক শক্তি ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, যার রাজনৈতিক পরিণতিও ব্যাপক। তাদের সেরা সময়ে উভয়েই জীবনকে একটি গম্ভীর উদ্দেশ্য দিয়ে পূর্ণ করে। তারা সবসময় সেই ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনার বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ করে, যা অলসতা এবং চপলতায় তার স্বর্গ খুঁজে পায় এবং যার কারণে কোনো দেশ কখনোই উন্নতি করতে পারে না।
**কর্নওয়ালে দেওয়া ভাষণ (২৩ জুন ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৫৫-তে উদ্ধৃত।
*সাম্প্রতিক সময়ে [[কানাডা|কানাডার]] কিছু বাছাই করা স্নাতক সাম্রাজ্যের সেসব অংশের দেখভাল করার দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন, যেখানে [[শ্বেতাঙ্গ|শ্বেতাঙ্গরা]] প্রায়শই একাই যান—সাম্রাজ্যের অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর জাতিদের শেখাতে, শিক্ষিত করতে এবং সামনে এগিয়ে নিতে। এর চেয়ে বেশি আত্মত্যাগের কাজ, এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। আজ আপনারা কানাডিয়ানদের [[সুদান]], [[মালয়েশিয়া|মালয়]], [[মরিশাস]] এবং সামগ্রিকভাবে ঔপনিবেশিক সেবায় দেখতে পাবেন—চিকিৎসক হিসেবে, সিভিল সার্ভিসে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তারা [[w:দ্য হোয়াইট ম্যান'স বার্ডেন|শ্বেতাঙ্গদের বোঝা]] বইতে সাহায্য করছেন। আমি যথেষ্ট সেকেলে মানসিকতার মানুষ বলেই বিশ্বাস করি যে, কোনো দেশের পক্ষে কেবল নিজেদের জন্য প্রচুর অর্থ উপার্জনে মনোনিবেশ করাই যথেষ্ট নয়; বরং সত্যিকারের আধ্যাত্মিক শক্তি তখনই আসে যখন এর সন্তানেরা প্রস্তুত থাকে। যেমনটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে [[ইংরেজ জাতি|ইংরেজ]], [[আইরিশ]] এবং [[স্কটল্যান্ড|স্কটিশরা]] প্রস্তুত ছিল। তারা পারিবারিক জীবনের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সেই অগ্রগামীর কাজে বেরিয়ে পড়তে প্রস্তুত ছিল, যাতে বিশ্বের সেই পিছিয়ে পড়া অংশগুলোকে এগিয়ে নিয়ে আসা যায় এবং অতীতের বছরগুলোতে আমাদের জন্য এত লাভজনক হওয়া বিষয়গুলো থেকে তাদেরও উপকৃত হতে সাহায্য করা যায়।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৫-৭৬-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের দেশের জন্য আমার সবচেয়ে বড় আশা হলো [[শিক্ষা|শিক্ষার]] প্রতি মানুষের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা ব্যাপকভাবে জেগে ওঠা। আমি এটিকে যুদ্ধের একমাত্র সুফল বলে মনে করি যার দিকে আমি তৃপ্তি নিয়ে তাকাতে পারি... আমরা শিক্ষার একটি নিজস্ব উদ্দেশ্য হিসেবে এর গুরুত্ব ভুলে যাই। আপনি যদি শিক্ষাকে কেবল একটি বেতন উপার্জনের উপায় হিসেবে দেখেন, তা সে যতই দরকারি হোক না কেন, তবে আপনি শিক্ষার অন্যতম সেরা উদ্দেশ্যটিই হারিয়ে ফেলবেন।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৬-৭৭-এ উদ্ধৃত।
*আমরা ইংল্যান্ডেও খুব ভুগছি... এমন কিছু খুব চতুর চিকিৎসকের কারণে, যারা সর্বদা ব্যাপক বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষিপ্রতার সাথে রাজনীতির জন্য প্রেসক্রিপশন দিতে প্রস্তুত। তবে মানব প্রকৃতি সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতাও সেই ক্ষিপ্রতার সমান। ইউরোপের এই লোকগুলোকে "বুদ্ধিজীবী" বলা হয়—'''একটি খুব কুৎসিত জিনিসের জন্য এটি একটি খুব কুৎসিত শব্দ।'''
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৮-এ উদ্ধৃত।
*ইংরেজি বংশোদ্ভূত এখানকার পুরুষদের কাছে আমি স্বীকার করতে পারি যে, আমাদের ইংরেজি বুদ্ধিমত্তাকে মাঝেমধ্যে এমন জাতিগুলো অবজ্ঞা করে যারা নিজেদের আমাদের চেয়ে বেশি চতুর বলে মনে করে। '''আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো আমাদের চরিত্র'''—এর স্থিরতা, এর নির্ভরযোগ্যতা, এর ব্যক্তিগত সততা, এর সহনশীলতা এবং বিরক্তিকর বিষয়গুলোকেও শান্ত ও হাস্যরসাত্মকভাবে নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ডের সাধারণ ধর্মঘট, যার কিছু ভীতিকর দিকও ছিল, তা আমাদের মানুষের এই সমস্ত গুণাবলিকেই তুলে ধরেছে।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৯-এ উদ্ধৃত।
*আমি সবসময়ই দাবি করি যে শিক্ষা গণতন্ত্রের জন্য যে মহান সেবা করে, তা ধর্মের কাছ থেকে আমরা যে সেবা আশা করি তারই অনুরূপ। তাদের হাতে হাত রেখে কাজ করা উচিত, বা করতে হয়। এর কাজ হলো নৈতিকতার ওজন এবং পরিমাপকে মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক রাখা; এবং শুধু মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক নয়—বরং সর্বোচ্চ মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক রাখা। আর আসুন আমরা সমাজের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সকল শ্রেণির মানুষের প্রতি এটি সমানভাবে প্রয়োগ করি। এমন কিছু লোক আছেন যারা রাষ্ট্রীয় ধারণাকে সমস্ত নৈতিক গুণাবলি থেকে শূন্য করতে চান, এবং তারা শিক্ষাকে কেবল রুজি-রোজগারের ব্যবসায় সীমাবদ্ধ করতে চান। [[w:এডিথ ক্যাভেল|নার্স ক্যাভেলের]] শেষ কথাগুলো ধার করে বলতে গেলে, এমন দেশপ্রেমই যথেষ্ট নয়। আমি যেভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, সেভাবে নৈতিক মানদণ্ড প্রয়োগ করাই হলো গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় সেই মৌলিক সামাজিক ঐক্য অর্জনের সবচেয়ে নিশ্চিত উপায়।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৯-৮০-তে উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ কমনওয়েলথ অফ নেশনসের কোনো পূর্ব নজির নেই... আমরা নিজেদের জন্য এমন এক অভিন্ন ঐতিহ্য গড়ে তুলেছি যা সব ধরনের স্থানীয় আনুগত্যকে ছাড়িয়ে যায় এবং আমাদের এক জাতি হিসেবে বাঁধে। আমাদের স্বপ্নের সাম্রাজ্য, যদিও তা সবসময় আমাদের কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয় না, মহান সব আধ্যাত্মিক উপাদানে গড়া—স্বাধীনতা এবং আইন, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং আনুগত্য, সম্মান এবং সহনশীলতা... '''আজ আমরা যখন সাম্রাজ্যের কথা ভাবি, তখন আমরা এটিকে মূলত বিশ্ব শান্তির একটি হাতিয়ার হিসেবেই ভাবি।'''
**অন্টারিও প্রদেশ আয়োজিত এক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৯১-৯২-তে উদ্ধৃত।
*আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে যারা মধ্য-পশ্চিম এবং দূর-পশ্চিমের উন্নয়ন দেখেছেন, তাদের কাছে এক উপকূল থেকে অন্য উপকূল পর্যন্ত যেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছে, তার চেয়ে অসাধারণ বা আমাদের জাতির সেরা গুণাবলির প্রতি এর চেয়ে বড় সম্মান আর কিছু হতে পারে না।
**কানাডার [[w:রেজাইনা, সাসকাচুয়ান|রেজাইনায়]] দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৫-এ উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ জাতির এমন কিছু দয়ালু সমালোচক আছেন যারা বলেন যে আমরা তিনটি জিনিসকে কীভাবে মেলাতে হয় তা জানি—[[ধর্ম]], [[দেশপ্রেম]] এবং [[মুনাফা]]—যা অন্য যেকোনো [[জাতি|জাতির]] চেয়ে আমরা ভালো পারি। [[উত্তর আমেরিকা|উত্তর আমেরিকায়]] আমাদের সাফল্যের আরও অন্যান্য প্রশংসনীয় ব্যাখ্যা রয়েছে। আসল সত্যটি হলো: আমরা নতুন বিশ্বে আমাদের নিজস্ব বংশধরদের পাঠিয়েছি... ইউরোপের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি সময় ধরে একটি স্বাধীন দেশ থাকার অমূল্য সুবিধা আমাদের ছিল। আমাদের মানুষ ছোট ছোট নৌকায় করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতার বীজ রোপণ করেছিল, যা নিজ দেশে বেড়ে উঠেছিল এবং ফুলেফেঁপে উঠেছিল। সেই মানুষগুলো এবং তাদের দুঃসাহসী চেতনার মধ্যেই আপনি [[কানাডা]] এবং [[ম্যানিটোবা|ম্যানিটোবার]] উৎপত্তি খুঁজে পাবেন।
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৭-১০৮-এ উদ্ধৃত।
*ইংরেজি ইতিহাসে, বা সাম্রাজ্যের এই এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠার পেছনে, "কোম্পানি অফ অ্যাডভেঞ্চারার্স অফ ইংল্যান্ড ট্রেডিং ইনটু হাডসন'স বে"র গল্পের চেয়ে রোমাঞ্চকর আর কোনো ঘটনা নেই। পশুর চামড়া থেকে মুনাফা করার পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমের পথ খোঁজা, সেই উপসাগরে প্রবাহিত সব জলের অধিকারী ভূমিগুলোর ওপর সার্বভৌমত্বের সনদ পাওয়া, অথচ সেই ভূমিগুলোকে বহু বহু বছর ধরে অনাবিষ্কৃত ফেলে রাখা—এটি একটি আদর্শ ব্রিটিশ আচরণ। তারা "হাতির দাঁত, বানর এবং ময়ূরের" পশ্চিমা সমতুল্য জিনিস খুঁজছিল, এবং বাই-প্রোডাক্ট বা উপজাত হিসেবে তারা একটি সাম্রাজ্য খুঁজে পেয়েছিল। তারা একটি মহান ঐতিহ্য তৈরি করেছিল, যে ঐতিহ্য আজ আপনাদের। এটি একটি বাণিজ্যিক আদর্শকে ঘিরে তৈরি হওয়া শৃঙ্খলা এবং সহনশীলতার ঐতিহ্য। তারা আদিবাসীদের মুনাফার উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছিল, তবুও তাদের সাথে ন্যায়বিচার এবং সদয় আচরণ করেছিল। তারা এক চোখ রেখেছিল লভ্যাংশের দিকে, অন্য চোখ আবিষ্কারের দিকে। আমাদের ছাড়া আর কোন জাতি এতটা উদাসীন, এতটা দূরদর্শী, এতটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতটা সফল হতে পারে?
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৮-১০৯-এ উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ জাতির প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয় এমন [[সংবাদপত্র|সংবাদপত্রে]] আপনারা প্রায়ই শোনেন এবং মাঝেমধ্যেই পড়েন যে গ্রেট ব্রিটেনে পতনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এর একটা শব্দও বিশ্বাস করবেন না। দেশের মানুষগুলো তারাই, যারা সারা বিশ্বজুড়ে চার বছর ধরে আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল। তারা সেই একই বংশধর যারা মেরিটাইম প্রভিন্স এবং [[অন্টারিও]] গড়ে তুলেছে। তারা সেই একই বংশধর যারা এই দেশটিকে গড়ে তুলেছে। '''বংশধররা আগের মতোই আছে, এবং আগের মতোই চমৎকার আছে।'''
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১১৬-১১৭-তে উদ্ধৃত।
*একটি জাতির ভাগ্য সবার ওপরে নির্ধারিত হয় তার মানুষের গুণগত মান দিয়ে।
**স্কটল্যান্ডের ল্যানার্কশায়ারে ডগলাস ক্যাসলে দেওয়া ভাষণ (২৭ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১২৯-এ উদ্ধৃত।
*আপনার সমাজসেবামূলক কাজ, তা যে রূপেই হোক না কেন, ঠিক সেই দুটি জিনিসেরই দাবি করে যা আমার কাজের জন্য প্রয়োজন... [[ধৈর্য]] এবং মানুষের মূল্যের ওপর [[বিশ্বাস]]। এরাই হলো গণতন্ত্রের আসল ভিত্তি, [[সমতা]] নয়—যে অর্থে শব্দটি প্রায়শই ব্যবহার করা হয়। '''আমরা সবাই সমান নই, এবং কখনোই সমান হব না; গণতন্ত্রের আসল শর্ত সমতা নয়, বরং এই বিশ্বাস যে প্রতিটি নারী ও পুরুষই মূল্যবান।'''
**ইউনিয়ন অফ গার্লস স্কুলের বার্ষিক সভায় দেওয়া ভাষণ (২৭ অক্টোবর ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১-তে উদ্ধৃত।
*আপনাদের দেশ হলো উত্তরের মানুষদের, অর্থাৎ সহনশীল ও বীরত্বপূর্ণ জাতিগুলোর জন্য। '''যেকোনো দিনই পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান আগে। সেরাদের নিয়েই দেশ গড়ুন। আপনাদের দেশ পূর্ণ হতে একশো বছর, নাকি দুইশো বছর, নাকি তারও বেশি সময় লাগল, তাতে কী এসে যায়? আপনাদের যে বংশধর আছে, এবং যে নারী-পুরুষরা আছে, তাদের ধরে রাখুন এবং নিশ্চিত করুন যে আগামী প্রজন্ম কোনোভাবেই তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট হবে fixনা।'''
**লন্ডনে কানাডা ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (২১ নভেম্বর ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৪১-এ উদ্ধৃত।
* সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকৃত এবং শত্রুবাহিনীর জন্য একটি সহজ শিকারে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ড! এর চেয়ে বেশি লোভ এবং শত্রুতা জাগিয়ে তোলার মতো আর কিছু কি আপনি ভাবতে পারেন? আমরা পঞ্চম শ্রেণির শক্তির স্তরে নেমে যাব, আমাদের উপনিবেশগুলো আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে, আমাদের বাণিজ্য ধ্বংস হবে, দুর্ভিক্ষ এবং বেকারত্ব দেশে হানা দেবে। ... আমি আপনাদের শান্তি কামনার অংশীদার। ঈশ্বর না করুন যে এটি যেন আর কখনও ব্যাহত না হয়! সরকারের নিরন্তর এবং অবিভক্ত প্রচেষ্টা হলো এটি রক্ষা করা। কিন্তু আমি এখনও শিখিনি যে আমাদের দেশকে দুর্বল করে কীভাবে শান্তির উদ্দেশ্য সাধিত হতে পারে।
** [[আর্থার পনসনবি|আর্থার পনসনবিকে]] লেখা চিঠি (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৭); মার্টিন সিডেলের ''সেমি-ডিটাচড আইডিয়ালিস্টস: দ্য ব্রিটিশ পিস মুভমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস, ১৮৫৪-১৯৪৫'' (২০০০), পৃষ্ঠা ২৭১-এ প্রকাশিত। ==== ১৯২৮ ====
* '''আমি যদি বিশ্বাস না করতাম যে আমাদের কাজ সেই বিশ্বাস এবং আশার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে যে কোনো এক দিন—হতে পারে তা আজ থেকে দশ লক্ষ বছর পর—[[w:ঈশ্বরের রাজ্য|ঈশ্বরের রাজ্য]] সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, তবে আমার কোনো আশা থাকত না। আমি কোনো কাজ করতে পারতাম না, এবং যে কেউ আমার এই পদের দায়িত্ব নিতে চাইলে আজ সকালেই আমি তা ছেড়ে দিতাম।'''
** ব্রিটিশ অ্যান্ড ফরেন বাইবেল সোসাইটির কাছে দেওয়া ভাষণ (২ মে ১৯২৮); ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৯২-৯৩-এ প্রকাশিত।
*দীর্ঘকাল ধরে মানুষ ভুলে গেছে যে এই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে কী অসাধারণ প্রতিভা লুকিয়ে আছে... ইংরেজ বংশোদ্ভূতরা একটি খাঁটি বংশ; আর আমাদের মানুষেরাই সেই মানুষ যারা আমাদের ক্যাথেড্রাল এবং গ্রামের গির্জাগুলো তৈরি করেছিল: যারা ভাস্কর্য খোদাই করেছিল এবং এর ভেতরে থাকা পর্দাগুলো খোদাই করেছিল।
**উইঞ্চেস্টার শহরের স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (৬ জুলাই ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১৫-তে প্রকাশিত।
*ইংল্যান্ডের চেয়ে সুন্দর কোনো দেশ নেই।
**উইঞ্চেস্টার শহরের স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (৬ জুলাই ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১৬-তে প্রকাশিত।
*[[w:জন ওয়েসলি|ওয়েসলি]] প্রথম এবং শেষ পর্যন্ত একজন মহান ইংরেজ ছিলেন... মহাদেশটিতে হওয়া ভয়ংকর উত্থান-পতন আর ইংল্যান্ডের মাঝে যদি কোনো একজন মানুষ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে তিনি হলেন জন ওয়েসলি... তিনি ছিলেন নিখুঁত ইংরেজ: ইংরেজের সেরা দেশীয় গুণাবলি তার মধ্যে ছিল, এবং সেগুলো এত অসাধারণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তা প্রতিভায় পরিণত হয়েছিল... সেই শতাব্দীর যেসব ইতিহাসবিদ তাদের পাতাগুলো নেপোলিয়ন দিয়ে ভরিয়ে তুলেছিলেন কিন্তু জন ওয়েসলি সম্পর্কে বলার মতো কিছু পাননি, তারা এখন বুঝতে পারছেন যে ওয়েসলিকে ব্যাখ্যা করতে না পারলে তারা [[ঊনবিংশ শতাব্দী|উনিশ শতকের]] ইংল্যান্ডকে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। আর আমি বিশ্বাস করি এ কথা বলাও সত্য যে, ওয়েসলিকে বুঝতে না পারলে আপনি বিংশ শতাব্দীর আমেরিকা বুঝতে পারবেন না।
**লন্ডনে ওয়েসলির চ্যাপেলের ১৫০তম বার্ষিকী সভায় দেওয়া ভাষণ (১ নভেম্বর ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৯৪-৯৮-এ প্রকাশিত।
==== ১৯২৯ ====
*[[উইলিয়াম বুথ|বুথের]] কথা ভাবলেই একটি বিষয় আমাকে অবাক করে, আর তা হলো [[ভিক্টোরীয় যুগ|ভিক্টোরীয় যুগের]] [[দারিদ্র্য|দারিদ্র্য]] নিয়ে আজকাল যে সব বাজে কথা বলা হয়। ভিক্টোরীয় যুগ আজ কেন এত অজনপ্রিয়, তার বড় একটি কারণ হলো, এর সমস্ত দোষ থাকা সত্ত্বেও এর মহান মানুষদের—যাদের সংখ্যা ছিল অনেক—মধ্যে সততার প্রতি বিশ্বাস ছিল: সেখানে একটি নৈতিক ঐকান্তিকতা ছিল, কর্তব্যের বোধ ছিল এবং কর্তব্য পালন করার প্রবণতা ছিল।
**লন্ডনে স্যালভেশন আর্মি উইলিয়াম বুথ শতবার্ষিকী উদযাপনে দেওয়া ভাষণ (১০ এপ্রিল ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১০৬-১০৭-এ প্রকাশিত।
*আজ এম্পায়ার ডে, এবং আমাদের বিশাল উত্তরাধিকার দেখার জন্য আমরা আমাদের তাৎক্ষণিক চারপাশ এবং আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোর বাইরে তাকাই। আমরা এক বিশাল স্থানে পা রেখেছি। এই টাইটান যদি ক্লান্তির মুহূর্তগুলো অনুভব করে থাকে, যদি আমাদের বোঝা ভারী হয়, তবু আমাদের কাঁধ চওড়া। আর এগুলো আমাদের ভাগ্যের বিশাল ভার বইতে বহুকাল ধরেই অভ্যস্ত।
**হাইড পার্কে দেওয়া ভাষণ (২৪ মে ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২৫-এ প্রকাশিত। ১৯০২ সালে [[জোসেফ চেম্বারলেইন]] বলেছিলেন, "ক্লান্ত টাইটান তার ভাগ্যের অত্যধিক বিশাল ভারে টলমল করছে।"
*আমরা যখন এর [ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের] ভাগ্য নিয়ে অধ্যয়ন করি, তখন আমরা একে একটি মানব অর্জনের চেয়ে মানবজাতির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য ঐশ্বরিক প্রভিডেন্স বা বিধাতার একটি হাতিয়ার হিসেবে বেশি ভাবতে বাধ্য হই।
**হাইড পার্কে দেওয়া ভাষণ (২৪ মে ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২৬-এ প্রকাশিত।
* টম মোসলে একজন অভদ্র এবং ভুল লোক। তারা এটা খুঁজে বের করবে।
**[[ওসওয়াল্ড মোসলে|ওসওয়াল্ড মোসলেকে]] নিয়ে মন্তব্য (২১ জুন ১৯২৯)। "তারা" বলতে লেবার পার্টিকে বোঝানো হয়েছে, যারা সম্প্রতি একটি সাধারণ নির্বাচনে জিতেছিল। টমাস জোনসের ''হোয়াইটহল ডায়েরি : ভলিউম ২'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ১৯৫-এ উদ্ধৃত।
*বাস্তব জীবনের রহস্য, রোমান্স এবং কাকতালীয় ঘটনাগুলো কল্পকাহিনীর রহস্য, রোমান্স এবং কাকতালীয় ঘটনাগুলোকেও বহুদূর ছাড়িয়ে যায়। আমার বক্তব্যের শুরুতেই আমি মাননীয় সদস্যদের এমন একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, যা আমার কাছে সবসময়ই আমাদের রাজনৈতিক জীবনে ঘটা সবচেয়ে অদ্ভুত এবং রোমান্টিক কাকতালীয় ঘটনাগুলোর একটি বলে মনে হয়েছে। সময়ের অনেক আগে, ইতিহাসের ঊষালগ্নে, প্রাগৈতিহাসিক কুয়াশা থেকে বেরিয়ে আসা অনেকগুলো জাতির মধ্যে সবচেয়ে মহান জাতিটি ছিল মহান [[আর্য জাতি]]। সেই জাতি যখন [[মধ্য এশিয়া|মধ্য এশিয়ার]] পশ্চিমাঞ্চলে তাদের দখল করা দেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন একটি বড় শাখা পশ্চিমে চলে যায়। তাদের ঘোরাঘুরির সময় তারা [[অ্যাথেন্স]] এবং [[স্পার্টা]] শহরগুলো প্রতিষ্ঠা করে; তারা [[রোম (প্রাচীন শহর)|রোম]] প্রতিষ্ঠা করে; তারা ইউরোপ তৈরি করে। আর ইউরোপের প্রধান জাতিগুলোর শিরায় তাদের আর্য পূর্বপুরুষদের রক্তই প্রবাহিত। আর্যদের যে ভাষা তারা সাথে নিয়ে এসেছিল, তা সারা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আমেরিকায় ছড়িয়েছে। এটি সমুদ্রের ওপারের ডোমিনিয়নগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে, একটি শাখা দক্ষিণে যায় এবং তারা [[হিমালয়]] অতিক্রম করে। তারা [[পাঞ্জাব|পাঞ্জাবে]] যায় এবং ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর ঐতিহাসিক সত্য হলো, যুগ যুগ আগে তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে ইংরেজ জাতির পূর্বপুরুষ এবং [[রাজপুত]] ও [[ব্রাহ্মণ|ব্রাহ্মণদের]] পূর্বপুরুষরা পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলেন। আর এখন, যুগ যুগ পার হওয়ার পর, সেই বংশের দূরতম প্রজন্মের সন্তানরা ঈশ্বরের এক রহস্যময় বিধানে একত্রিত হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো জাতির সামনে আসা সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে তারা এক হয়েছে।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1929/nov/07/india ভাষণ] (৭ নভেম্বর ১৯২৯)।
=== ১৯৩০-এর দশক ===
==== ১৯৩০ ====
*...অতীতের প্রতি সেই আনুগত্য তার স্বপ্নের সৌন্দর্য এবং তার বাস্তব কঠোরতা ও কষ্টের সাথে মিশে আছে। এগুলোই আমাদের '''আমাদের যুগের সবচেয়ে বড় বিপদ, [[বস্তুবাদ|বস্তুবাদের]] বিপদ থেকে রক্ষা করে।'''... আমাদের মানুষের হৃদয়ে বস্তুবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এই যুগের অন্যতম বড় একটি লড়াই।
**স্কটল্যান্ডের ইনভারনেস বুরোর স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (১৩ জুন ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৯১-১৯২-তে প্রকাশিত।
*কারণ গ্রিক গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল এবং এর ব্যর্থতার কারণগুলো শিক্ষণীয়। গ্রিকরা বিশ্বকে যে মহান শাসক ধারণাগুলো দিয়েছিল, যে ধারণাগুলো ইংল্যান্ড পরে গ্রহণ করেছিল এবং বিশ্বের এক-চতুর্থাংশে ছড়িয়ে দিয়েছিল—স্বাধীনতা এবং স্বশাসন, সামাজিক সাম্য এবং নাগরিক দেশপ্রেম—সেগুলো জনগণের চাটুকার এবং জননেতাদের দ্বারা কলুষিত হয়েছিল। এটা ভাবা খুব মারাত্মকভাবে সহজ ছিল যে, স্বাধীনতা মানে হলো নিজের যা খুশি তাই করা। একজন মানুষ অন্য মানুষের মতোই ভালো, শুধু তাই নয়, সে যেকোনো পদ পূরণে সমানভাবে সক্ষম। সংখ্যাগরিষ্ঠরা কোনো ভুল করতে পারে না। অন্য জাতি বা অন্যান্য সাম্রাজ্য কী করছে তা বিবেচনা না করেই আপনি আপনার নিজের দেশের জন্য কাল্পনিক সব আইন তৈরি করতে পারেন... বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করা হয়েছিল এবং যেসব জনপ্রতিনিধি সাধারণ জনতার জন্য আনন্দের পক্ষে কথা বলতে অস্বীকার করেছিলেন, তাদের নির্বাসিত করা হয়েছিল। ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদরা একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়েছিলেন।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৫-৩৬-এ প্রকাশিত।
*একদিকে ব্যক্তিগত আত্মার অসীম মূল্য সম্পর্কে [[প্রোটেস্ট্যান্টবাদ|প্রোটেস্ট্যান্ট]] মতবাদ এবং অন্যদিকে চার্চের মণ্ডলীতে ভাইদের একত্রিত হওয়ার মধ্যেই আধুনিক গণতন্ত্রের বীজ লুকিয়ে আছে।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৮-এ প্রকাশিত।
*আমরা... এই দ্বীপপুঞ্জের পুরো প্রাপ্তবয়স্ক এবং শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে, সাধু এবং পাপী নির্বিশেষে সবাইকে ভোটাধিকার দিয়েছি। আমরা এক বিশাল দ্বৈত উদ্যোগের চেষ্টা করছি। কেবল প্রতিটি নাগরিককে এক জন হিসেবে গণনা করা এবং তার নিজের অধিকারে তাকে মূল্য দেওয়াই নয়, বরং তাকে পৌর নাগরিকত্ব এবং সাম্রাজ্যিক সরকারের দায়িত্বগুলোতে কার্যকর এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে ভাগ নিতেও বলছি... গণতন্ত্র এখনও একটি আকাঙ্ক্ষা, এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়... আমরা যা অর্জন করেছি তা হলো সরকারের একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সমান নয়। আমরা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের যন্ত্রটিকে নিখুঁত করেছি। আর একটি তাৎক্ষণিক বিপদ হলো, গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য একে অগণতান্ত্রিক উপায়ে দখল এবং কাজে লাগানো হতে পারে। সার্বভৌম জনগণের নামে এমন নিষ্ঠুর কাজ করা হতে পারে, যা কোনো গ্রিক স্বৈরশাসক বা মধ্যযুগীয় অত্যাচারী শাসকের কাজের মতোই ভয়ংকর। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচারকে শক্তিশালীদের স্বার্থের সাথে গুলিয়ে ফেলা ভয়ংকরভাবে সহজ; কিন্তু বহুজনের দ্বারা সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নও এর বিপরীত অবস্থার মতোই কুৎসিত।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০-এ প্রকাশিত।
*বিপ্লব এড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক সক্ষমতা, "প্রাণবন্ত পরিমিতিবোধের" প্রতি আমাদের স্বভাবগত দক্ষতা (যেমনটা [[w:ওয়াল্টার ব্যাজহট|ব্যাজহট]] বলেছেন), দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের মহাদেশীয় প্রতিবেশীদের ঈর্ষার কারণ হয়ে আছে। আমি ভবিষ্যদ্বাণী করার সাহস রাখছি যে, তারা আবারও দেখবে আমরা একসাথে বসব এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সংশোধন করব। আমরা ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করায় খুব একটা ভালো নই, তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং আপস করার ক্ষেত্রে আমাদের একটা দক্ষতা আছে।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪২-এ প্রকাশিত।
*'''গ্রিকদের মতোই পুরোনো একটি প্রবাদ আছে যে, ভালো আইন প্রণয়নের চেয়ে ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।''' এটি যে সত্যি, তার পেছনে একটি সন্দেহের চোরা স্রোত কাজ করে এবং দেশপ্রেমের মতোই, কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আইন প্রণয়নের সময় যে আশাগুলো দেখানো হয়, আইন পাস হলে সব সময় তা পূরণ হয় না... '''সংবিধানের বইয়ে থাকা সমস্ত আইনের কী হয়? যদি তাদের প্রবর্তকদের আশার অর্ধেকও পূরণ হতো, তবে কি এর মধ্যেই সহস্রাব্দের শান্তি নেমে আসত না?'''
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৬-এ প্রকাশিত।
*সব দলই মানুষের জীবনে হস্তক্ষেপ করার বিষয়ে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারও কারও লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রকে একটি সার্বজনীন রক্ষাকর্তায় রূপান্তর করা। অসংখ্য বাছাইয়ের কাজের মাধ্যমেই চরিত্র গড়ে ওঠে। জীবনের সব বা বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পছন্দগুলো যদি রাষ্ট্র আপনার জন্য ঠিক করে দেয়, তবে গণতান্ত্রিক আদর্শের কী হবে... আমরা চালাক বা বোকা, ভালো বা মন্দ যাই হই না কেন, আমাদের নিজেদের জীবন পরিচালনা করা এবং তার দায়িত্ব নেওয়ার কী হবে?
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৭-এ প্রকাশিত।
*বর্তমানে কার্যকর থাকা ত্রাণ ব্যবস্থাগুলোতে সব দলই সমানভাবে জড়িত। সবাই একমত যে অভাব-অনটন সহ্য করা উচিত নয়। কিন্তু জন স্মিথকে এভাবে পাইকারি হারে রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়ার সময় আমরা কি জন স্মিথের কাছ থেকে এমন কিছু কেড়ে নিচ্ছি না, যা তাকে সত্যিই দরিদ্র করে তুলবে? এই ভেবে কি আমরা সবাই সম্পূর্ণ খুশি হতে পারি?
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৮-এ প্রকাশিত।
*আমি গতকাল ভারতীয় সম্মেলনের রাজকীয় উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলাম... আমাদের প্রতিনিধি দল ভালোভাবেই শুরু করছে, কিন্তু উইনস্টন [চার্চিল] চরম হতাশায় ডুবে আছেন। তিনি চান সম্মেলনটি দ্রুত ভেস্তে যাক এবং টোরি পার্টি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে গিয়ে শক্ত হাতে শাসন করুক। তিনি আবারও '৯৬ সালের হুসারদের সাবল্টার্ন বা অধস্তন সামরিক কর্মকর্তা হয়ে উঠেছেন।
**জে. সি. সি. ডেভিডসনকে লেখা চিঠি (১৩ নভেম্বর ১৯৩০), রবার্ট রোডস জেমস (সম্পাদিত), ''মেমোয়ার্স অব অ্যা কনজারভেটিভ: জে. সি. সি. ডেভিডসনস মেমোয়ার্স অ্যান্ড পেপারস, ১৯১০-১৯৩৭'' (লন্ডন: উইডেনফেল্ড অ্যান্ড নিকলসন, ১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৩৫৫-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩১ ====
[[Image:View from Haresfield Beacon - geograph.org.uk - 1120282.jpg|thumb|গ্রাম সেই শাশ্বত মূল্যবোধ এবং শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে যা থেকে আমাদের কখনোই নিজেদের বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া উচিত নয়।]]
*এই ধরনের অনুষ্ঠানে কেউ জিজ্ঞেস করতেই পারে, কেন মানুষ এই ধরনের উপহার দিতে এগিয়ে আসে, এবং কেন এই ধরনের জায়গাগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন? আমার মনে হয় এটি ইংরেজদের একটি খুব গভীর এবং মৌলিক প্রবৃত্তির জবাব দেয়। আমরা অনেকাংশেই শহরের মানুষে পরিণত হয়েছি। কিন্তু দুই বা তিন প্রজন্ম ধরে যারা আমাদের শহরগুলোতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছে, তাদের হৃদয়ের গভীরেও গ্রামের জিনিসপত্র এবং গ্রামীণ সৌন্দর্যের প্রতি এক অদম্য ভালোবাসা লুকিয়ে আছে, যা তাদের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে এবং অবচেতনভাবে বিরাজ করতে পারে। আমাদের চেয়েও বেশি করে তাদের কাছে, '''গ্রাম সেই শাশ্বত মূল্যবোধ এবং শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে যা থেকে আমাদের কখনোই নিজেদের বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া উচিত নয়।'''
**ন্যাশনাল ট্রাস্টের কাছে [[w:হেয়ার্সফিল্ড বীকন|হেয়ার্সফিল্ড বীকন]] হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (১০ জানুয়ারি ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১২০-এ প্রকাশিত।
*আমরা প্রায়ই এই দেশে শুনতে পাই, এবং কথাগুলোর মধ্যে একটি পরিচিত সুরও আছে, যে [ভারতের জন্য] একটি দৃঢ় বা শক্তিশালী সরকারের সময় প্রয়োজন। এর মানে আসলে কী, তা সংজ্ঞায়িত করা খুব কঠিন। তবে এক মুহূর্তের জন্য যদি ধরে নিই যে আমরা এর অর্থ নিয়ে একমত, তবে আমি এই কথা বলব। এটি পুরোপুরি সম্ভব, কিন্তু আপনি কেবল দুটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই সেই নীতিতে সফল হওয়ার আশা করতে পারেন; আমি একটু পরেই ইতিহাসে আসছি। সেই দুটি অনুমান হলো, প্রথমত, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য এবং দ্বিতীয়ত, নীতির ধারাবাহিকতা। আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই দুটি প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তার অভাব ছিল বলেই আইরিশ প্রশ্নটি এক প্রজন্ম ধরে চলেছিল, যেমনটা ঘটেছিল। আর শেষ পর্যন্ত এর পরিণতি দাঁড়িয়েছিল সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ অথবা যুদ্ধের মতো দুটির একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার মধ্যে। যে সমাধানটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তৎকালীন সরকারের একজন সদস্য হিসেবে আমি আত্মসমর্পণের সমাধানটিকে সমর্থন করেছিলাম। সে সময় আমার এটি পছন্দ হয়নি, কিন্তু আমি নিজের বিশ্বাস থেকেই এটি করেছিলাম।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/jan/26/india-1 ভাষণ] (২৬ জানুয়ারি ১৯৩১)।
*আমার দলের মতো বিভক্ত দল আর একটিও নেই। আমি একে একতাবদ্ধ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু এটি [[w:রানি ভিক্টোরিয়া#ডায়মন্ড জুবিলি|দ্বিতীয় জুবিলির]] সাম্রাজ্যবাদীদের থেকে শুরু করে তরুণ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের পর্যন্ত বিস্তৃত, যারা সবাই আরউইনের নীতির পক্ষে। আমি নিজেও সেই নীতির পক্ষে এবং আমি সেটা বলতেও চাই।
**ভারতের হোম রুল নিয়ে [[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসের]] সাথে কথোপকথন (১১ মার্চ ১৯৩১), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৫-এ উদ্ধৃত।
*পথ যতই কঠিন হোক না কেন, বিপদগুলো শুধু সেই কঠিন পথ থেকেই আসে না; বরং দেশে ও ভারতে থাকা চরমপন্থীদের কাছ থেকেও আসে। আমি বলছি আমার কথার মানে কী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, ''ডেইলি মেইলের'' মতো পত্রিকায় যে ধরনের লেখা ছাপা হয়, তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য ভারত হাতছাড়া হওয়ার ক্ষেত্রে, বা বিপ্লবী মনোভাব উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কারও যেকোনো কাজের চেয়ে বেশি দায়ী হবে। আমাকে আর আলাদা করে বলতে হবে না, আমি সব ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই অনেক চিঠি পাই। গত সপ্তাহে আমি খুব অদ্ভুত একটি চিঠি পেয়েছি... এটি একজন কর্নেলের কাছ থেকে এসেছিল; তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ ছিলেন, তার হাতের লেখা দেখেই তা বোঝা যাচ্ছিল। তিনি এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিলেন: তিনি বলেছিলেন, "আপনি এবং লর্ড আরউইন হলেন নিগ্রোফাইল (কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল)।" সম্ভবত তিনি [[w:এম্পায়ার ফ্রি ট্রেড ক্রুসেড|ইউনাইটেড এম্পায়ার পার্টির]] একজন সদস্য ছিলেন। সাম্রাজ্যকে একতাবদ্ধ রাখার এটি কোনো পথ নয়। এ ধরনের ঘটনা, এবং এর পেছনের যে মানসিকতা, তা নিশ্চিতভাবেই আমাদের সাম্রাজ্য ভেঙে দেবে। আর আমি এর বিরুদ্ধেই লড়াই করতে নেমেছি।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/mar/12/india ভাষণ] (১২ মার্চ ১৯৩১)।
* '''এই পত্রিকাগুলোর মালিকানার লক্ষ্য হলো ক্ষমতা, এবং দায়িত্বহীন ক্ষমতা — যা যুগ যুগ ধরে বেশ্যাদের বিশেষ অধিকার।'''
** বল্ডউইন তার সময়ের শীর্ষস্থানীয় প্রেস ব্যারনদের (লর্ড বিভারব্রুক এবং লর্ড রদারমের) আক্রমণ করছিলেন; বাক্যটি বল্ডউইনের চাচাতো ভাই [[রুডইয়ার্ড কিপলিং]] (১৭ মার্চ ১৯৩১) পরামর্শ দিয়েছিলেন, ''দ্য টাইমস'' (১৮ মার্চ ১৯৩১), পৃষ্ঠা ১৮-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের নিজেদের সুরক্ষার সময় এসেছে। বিদেশি যেমন নিজেকে রক্ষা করে, তেমনি আমাদেরও নিজেদের জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে। আমরা দেশবাসীকে আমাদের নিজেদের ডোমিনিয়নগুলোর সাথেও বাণিজ্য চুক্তিতে প্রবেশের আহ্বান জানাব। এর অধীনে আমরা তাদের আমাদের নিজেদের উৎপাদিত পণ্য কেনার আহ্বান জানাব এবং বিনিময়ে আমরা খাদ্যসামগ্রী ও কাঁচামাল নেব। ... গম উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষমতা দিতে আমরা ভোটারদের কাছে আহ্বান জানাব।
**নিউজরিলে দেওয়া সাক্ষাৎকার (বসন্ত ১৯৩১), জন রামসডেনের ''এ হিস্ট্রি অফ দ্য কনজারভেটিভ পার্টি: দ্য এজ অফ বেলফোর অ্যান্ড বল্ডউইন, ১৯০২-১৯৪০'' (১৯৭৮), পৃষ্ঠা ৩২০-তে উদ্ধৃত।
*সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ধর্ম আমাদের উদ্দেশ্যগুলোকে পরিচালিত করবে, আমাদের নীতিগুলোকে টিকিয়ে রাখবে, এবং আমরা যখন কাজে যাব তখন এক গোপন আবহের মতো আমাদের আত্মাকে ঘিরে রাখবে ও সিক্ত করবে... আমরা সবাই একমত যে, ধর্ম কেবল চার্চে থাকা খ্রিস্টানদের বিষয় নয়; এটি রাজনীতিতে, কূটনীতিতে, বাণিজ্যে, শিল্পে, স্কুলে এবং খেলাধুলায় থাকা খ্রিস্টানদেরও বিষয়। আমার মনে হয় সাধারণ মানুষের বিচার এটিকে স্বতঃসিদ্ধ হিসেবেই গ্রহণ করেছে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৮০-৮১-তে প্রকাশিত।
*যেকোনো আকাঙ্ক্ষাকে, তা যতই অশালীন হোক না কেন, আকাঙ্ক্ষিত হওয়ার কারণেই ভালো বলে মনে করাটা হয়তো রক্তমাংসের সাধারণ মানুষের পথ হতে পারে, কিন্তু এটি ক্রুশের পথ নয়। আর আমাদের তরুণদের মধ্যে যে নৈতিক নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়েছে বলে বলা হয়... তা ধর্মের দাবিগুলো কমিয়ে দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে্বা, বরং সেগুলোর ওপর জোর দিয়েই করতে হবে। তরুণদের সমর্থন এবং উৎসাহ পাওয়ার জন্য তাদের বদভ্যাসগুলো মেনে নিতে হবে—এমন ধারণা তাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল বিচার করা এবং তাদের সম্মান হারানোর নামান্তর। চার্চগুলো মানবপ্রকৃতির কাছে খুব বেশি কিছু দাবি করার চেয়ে বরং খুব কম কিছু দাবি করার কারণেই দীর্ঘমেয়াদে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তরুণরা আজ যে পরিস্থিতিতে নিজেদের আবিষ্কার করেছে, তার আসল ট্র্যাজেডি হলো অতীত প্রজন্মের গোঁড়ামির পতন এবং আজকের পরিস্থিতির সাথে মানানসই একটি আত্মবিশ্বাসী, সুসংগত বিশ্বাস দিয়ে এটিকে প্রতিস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়া। নীতিগুলো শাশ্বত হতে পারে, তবে তাদের বাস্তবায়ন অবশ্যই সময়োপযোগী হতে হবে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ۸৩-৮৪-তে প্রকাশিত।
*আসুন আমরা এটা মনে না করি যে উচ্চতর [[গণিত]], [[পদার্থবিজ্ঞান]] বা [[জীববিজ্ঞান|জীববিজ্ঞানের]] জগতে হওয়া আবিষ্কারগুলো নৈতিক সমতলে আমাদের সমস্যাগুলোকে দূর করবে বা এমনকি কমিয়ে দেবে... নৈতিকতার জগৎ পরিমাণ বা রাসায়নিক ক্রিয়ার কোনো জগৎ নয়। এটি মূল্যবোধের একটি জগৎ। [[সঠিক ও বেঠিক]], [[ভালো ও মন্দ]], [[সততা]] এবং [[সাহস|সাহসের]] এই মূল্যবোধগুলোই ধর্ম এবং জাতীয় জীবনের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ... আমি বিজ্ঞানকে অবজ্ঞা করছি না। আমি শুধু এ কথাই বলতে চাইছি যে নৈতিক মূল্যবোধগুলো—যা তাদের গুণাবলিতে শাশ্বত, কিন্তু তাদের রূপ এবং প্রয়োগে ক্ষণস্থায়ী—হলো একটি দেশের মহত্ত্বের ভিত্তি। যদি আমাদের সাধারণ জীবনে নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে, তবে জাতির সব কিছুই ভালো হবে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭-তে প্রকাশিত।
*এখন আমাদের এই দেশের এমন একটি রেকর্ড রয়েছে যার জন্য আমরা গর্ব করতে পারি। আমরা যখন বিভিন্ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে সেই [[নিরস্ত্রীকরণ|নিরস্ত্রীকরণের]] প্রশ্নটি আন্তরিকতা, ঐকান্তিকতা এবং সম্মানের সাথে মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তখন আমরা আমাদের স্বাক্ষরকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করেছি এবং এর প্রতি সমর্থন দিয়েছি। এবং একটি দেশ নিজে একা যা যা করতে পারে, আমরা তার সবই করেছি। আমরা আমাদের সব অস্ত্রশস্ত্র কমিয়ে দিয়েছি। আজ [[রয়েল এয়ার ফোর্স|আমাদের বিমান বাহিনীর]] শক্তিতে আমরা বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছি। আমরা [[ব্রিটিশ সেনাবাহিনী|আমাদের সেনাবাহিনীকে]] একদম ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে এনেছি। আমাদের নৌবাহিনী সীমিত করার জন্য আমরা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছি। একতরফা নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে আর কিছুই করা সম্ভব নয়।
**হালের সিটি হলে দেওয়া ভাষণ (১৭ জুলাই ১৯৩১), ''দ্য টাইমস'' (১৮ জুলাই ১৯৩১), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*ভারতীয় প্রশ্নে আমাদের দল কী অবস্থান নেবে তা নিয়ে দুই বছর আগে আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম যে একটি প্রগতিশীল দলের জন্য একটি পথই খোলা আছে—আর বেঁচে থাকতে হলে একটি দলকে প্রগতিশীল হতেই হবে। আমি বিশ্বাস করতাম যে অন্য পথটি দলকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/dec/03/indian-policy ভাষণ] (৩ ডিসেম্বর ১৯৩১)।
==== ১৯৩২ ====
*আমরা [[w:আমদানি শুল্ক আইন ১৯৩২|শুল্ক]] ব্যবস্থা কার্যকর করব এবং এটি যদি সফল হয় তবে তা অবাধ বাণিজ্যের মতোই দলীয় রাজনীতি থেকে অনেকটা ছিটকে পড়বে। এরপর আমাদের দলের নাম পরিবর্তন করে ন্যাশনাল (জাতীয়) রাখার জন্য উপযুক্ত সময় দিন, কারণ তখন লিবারেলদের বৃহত্তর অংশের থেকে আমাদের আসলেই আলাদা করার মতো খুব সামান্য কিছুই থাকবে।
**[[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসকে]] দেওয়া মন্তব্য (২৮ জানুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ২৫-২৬-এ উদ্ধৃত।
*ঠিক বা ভুল যা-ই হোক না কেন, পুরোনো ভারতের সাথে আমাদের কাজ শেষ; একটি নতুন ভারত তৈরি হচ্ছে এবং আমাদের অবশ্যই এর সাথে মানিয়ে নিয়ে সেরাটা বের করে আনতে হবে।
**[[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসকে]] দেওয়া মন্তব্য (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ২৯-এ উদ্ধৃত।
*[[সোভিয়েত ইউনিয়ন|রাশিয়া]] এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|আমেরিকা]] লিগের বাইরে থাকায় [[অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা|নিষেধাজ্ঞাগুলো]] একটি ভুল। আমি সবসময়ই এমনটা ভেবেছি। আপনি একটি প্রথম-শ্রেণির শক্তির বিরুদ্ধে এগুলো প্রয়োগ করতে পারবেন না। [[রবার্ট সিসিল, চেলউডের ১ম ভিসকাউন্ট সিসিল|বব সিসিলের]] মতো ঠিক যে মানুষেরা আমাদের নিরস্ত্রীকরণে বাধ্য করেছিল, এবং তা একেবারে ঠিকও ছিল, তারাই এখন আমাদের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দিচ্ছে। কিন্তু পদক্ষেপ আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে? আমরা যদি রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করি, তবে তা হবে কেবল প্রথম পদক্ষেপ। এর পরের পদক্ষেপ কী? এবং তার পরেরটা? আপনি যদি অর্থনৈতিক বয়কট করেন তবে [[জাপান সাম্রাজ্য|জাপান]] যুদ্ধ ঘোষণা করবে এবং সে [[সিঙ্গাপুর]] ও [[ব্রিটিশ হংকং|হংকং]] দখল করবে। আর আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, তাতে তাকে থামাতে পারব না। আপনি [[ওয়াশিংটন, ডিসি|ওয়াশিংটন]] থেকে কেবল কথাই পাবেন, বড় বড় কথা, কিন্তু কেবল কথাই।
**[[w:জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ|জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণের]] পর [[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসকে]] দেওয়া মন্তব্য (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৩০-এ উদ্ধৃত।
*তারা কি কখনো [[ইসলাম|মোহাম্মদীয় ধর্ম]] (ইসলাম) এবং [[কমিউনিজম|বলশেভিজমের]] উৎপত্তির মধ্যে থাকা মিলের কথা ভেবেছে? উভয়ই [[খ্রিস্টধর্ম|খ্রিস্টধর্ম]] থেকে উদ্ভূত, একটি ভ্রাতৃত্বের প্রচার করছে এবং অন্যটি সাম্যবাদের। তবে উভয়ই সকল অবিশ্বাসীদের জন্য মৃত্যু এবং নরকবাসের ঘোষণা দেয়। নবীর মৃত্যুর এক শতাব্দীর মধ্যেই মোহাম্মদীয়রা তরবারির জোরে [[আরব]] থেকে পিরেনিজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং [[w:ট্যুরসের যুদ্ধ|ট্যুরসে]] [[w:চার্লস মার্টেল|চার্লস মার্টেল]] তাদের থামিয়েছিলেন। রাশিয়া খুব কমই মহান মানুষের জন্ম দেয়, তবে কল্পনা করুন যদি একজন বলশেভিক [[প্রথম পিটার|পিটার দ্য গ্রেট]] দৃশ্যপটে হাজির হন, তবে কী ঘটতে পারে।
**[[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসের]] সাথে কথোপকথন (৩ জুলাই ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৪৩-এ উদ্ধৃত।
*সরকার যে শুধু নিরস্ত্রীকরণের কথাই বলেনি, বরং এটি বাস্তবেও প্রয়োগ করেছে, তা আমার জোর দিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। গ্রেট ব্রিটেন একতরফা নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখন শেষ হয়েছে।
**লন্ডনের গিল্ডহলে দেওয়া ভাষণ (৯ নভেম্বর ১৯৩২), ''দ্য টাইমস'' (১০ নভেম্বর ১৯৩২), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমি মনে করি সাধারণ মানুষের জন্য এটি উপলব্ধি করাও ভালো যে পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাকে বোমা হামলার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। মানুষ তাকে যা-ই বলুক না কেন, '''বোমারু বিমান সব সময়ই পথ খুঁজে নেবে'''।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1932/nov/10/international-affairs ভাষণ] (১০ নভেম্বর ১৯৩২)।
*আমি যাদের সবচেয়ে বেশি বিরোধী, তারা হলেন চরম টোরি উইংয়ের সেই বয়স্ক ভদ্রলোকেরা। তারা ক্লাবের ধূমপানের ঘরে বসে থাকেন এবং কখনোই কোনো কাজে হাত লাগান না, কিন্তু আমি যা কিছু করি তার সবকিছুর জন্যই আমাকে গালমন্দ করেন... সরকারি কাজের জন্য আমাদের কাছে যে জনবল ছিল, অন্য কোনো দেশের কাছে তা ছিল না। জনজীবন জঘন্যভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠতে পারত, কিন্তু আমরা সবাই একে পরিচ্ছন্ন এবং ঘুষমুক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারতাম।
**সান্ডারল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া হলে জাতীয় সরকারের সমর্থনে এক সভায় দেওয়া ভাষণ (২ ডিসেম্বর ১৯৩২), ''দ্য টাইমস'' (৩ ডিসেম্বর ১৯৩২), পৃষ্ঠা ১২-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩৩ ====
*আমি সব সময়ই [[ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট|রুজভেল্টের]] [[নিউ ডিল|পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোকে]] ভয় পেয়েছি এবং আমার মনে হয় কয়েক মাসের মধ্যেই আমেরিকায় একটি ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
**টমাস জোনসকে লেখা চিঠি (১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ১১৫-তে উদ্ধৃত।
*[[মধ্যযুগ|মধ্যযুগে]], এবং মূলত তার পরবর্তী বছরগুলোতে... আমাদের সীমানা ছিল সমুদ্র; এটি একটি নির্দিষ্ট সীমানা ছিল। আর এটি এমন এক সীমানা ছিল, যা একবার একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি সেই সমুদ্র সীমান্ত রক্ষা করতে সক্ষম হলে আর কেউ পার হতে পারত না। আর মূলত ও প্রধানত এর কারণেই আমরা এই দেশে আমাদের নিজস্ব অদ্ভুত সভ্যতা এবং আমাদের নিজস্ব স্বাধীনতা গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। আমরা এমন এক নিরাপত্তায় তা করতে পেরেছিলাম, যা সে সময় বিশ্বের প্রায় অন্য সব জাতির কাছেই অপরিচিত ছিল।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১-তে উদ্ধৃত।
*জাতি হিসেবে আমরা অভিযোগ করি, আমরা কখনোই দুশ্চিন্তা করি না, আর সময় যত কঠিন হয়, আমরা তত বেশি উৎফুল্ল হই। বাইরের বিশ্বে কী ঘটছে তা নিয়ে অনেক দিক থেকেই আমরা উদাসীন হতে পারি, কিন্তু বিপদের সময় এই উদাসীনতা খুব দ্রুতই দূর হয়ে যায়। আমরা বিপদের সময় সব সময়ই শান্ত থাকি। আমরা সামরিক জাতি নই, কিন্তু আমরা মহান যোদ্ধা—যে বংশ থেকে আমাদের উদ্ভব, তাতে আমাদের এমনটাই হওয়া উচিত। আমাদের টিকে থাকার ক্ষমতা আছে, আমরা বিচলিত হই না। আমার মনে আছে, ''দ্য টাইমসের'' একজন লেখকের কথায় আমি খুব মজা পেয়েছিলাম এবং বেশ খুশিও হয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন যে আমার আধ্যাত্মিক বাড়ি হলো শেষ পরিখায় । যদি তা-ই হয়, তবে আমি আমার বেশিরভাগ দেশবাসীর সাথেই সেই পরিখা ভাগ করে নিয়েছি।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-তে উদ্ধৃত।
*তারপর, সবার ওপরে, ইংরেজদের বুদ্ধির চেয়ে [[রসবোধ|রসবোধের]] এক অদ্ভুত অনুভূতি রয়েছে। রসবোধ আসে হৃদয় থেকে; বুদ্ধি আসে মস্তিষ্ক থেকে। আমরা নিজেদের নিয়ে হাসতে পারি। [[জন রাস্কিন|রাস্কিন]] কী বলেছিলেন মনে আছে? "ইংরেজদের হাসি হলো টাকশালে তৈরি হওয়া ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে খাঁটি এবং সত্য।" এবং সত্যিই, কেবল ঈশ্বরই জানেন যে দেশ এর কাছে কতটা ঋণী। আসলে, হাসি হলো ঈশ্বরের দেওয়া সেরা উপহারগুলোর একটি। আর মনখোলা হাসির সাথে কোনো বিদ্বেষ বা অশালীনতা থাকতে পারে না। আর যে মানুষগুলো আমাদের দেখিয়েছেন সেই হাসির মানে কী হতে পারে, তাদের মধ্যে [[w:চার্লস ডিকেন্স|ডিকেন্সের]] মতো আর কেউ ছিলেন না। তার প্রতিটি চরিত্রই মজ্জায় মজ্জায় ইংরেজ। আর যদি আমি একজন জীবিত লেখকের কথা উল্লেখ করি, তবে আমার মনে হয় সবচেয়ে খাঁটি ইংরেজদের দেখা যায় [[w:জে. বি. প্রিস্টলি|মিস্টার প্রিস্টলির]] উপন্যাসগুলোতে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-তে উদ্ধৃত।
*দয়া, দুর্বলদের প্রতি সহানুভূতি, বাড়ির প্রতি ভালোবাসা! এগুলো কি আপনার পরিচিত সাধারণ ইংরেজদের বৈশিষ্ট্য নয়? সে একজন প্রবল ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী এই কারণে যে, সে নিজেকে কোনো সাধারণ ছাঁচে ফেলতে চায় না, সবার মতো হতে চায় না; সে তার নিজস্ব স্বকীয়তা গড়ে তুলতে পছন্দ করে। এবং তবুও সে সেবার জন্য একজোট হতে পারে। এই দেশের সেরা কিছু জিনিস আমাদের সাধারণ মানুষের মধ্যেই তৈরি হয়েছে, সরকারের কোনো সাহায্য ছাড়াই—ফ্রেন্ডলি সোসাইটির কাজ, আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন, আমাদের হাসপাতাল এবং রাষ্ট্র দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমাদের শিক্ষা। তারপর আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি ইংরেজের এক গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে—এটি তার স্বশাসনের ঐতিহ্যের অংশ। সুশৃঙ্খল স্বাধীনতা—বিশৃঙ্খলাপূর্ণ স্বাধীনতা নয়, বা যা অবধারিতভাবে এর অনুসরণ করে সেই স্বৈরতন্ত্রও নয়; বরং সুশৃঙ্খল স্বাধীনতা, যা বর্তমানে এই ওলটপালট পৃথিবীর অন্যতম বিরল জিনিস।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমি বলছি যে বিশ্বে এ ধরনের গুণাবলি এর আগে কখনোই এতটা প্রয়োজনীয় ছিল না। আসুন আমরা যা, তা-ই ধরে রাখি; আসুন আমরা অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা না করি... আমাদের অধ্যবসায়, আমাদের স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা, আমাদের সুশৃঙ্খল স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা, আমাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, আমাদের ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সেবায় আমাদের একজোট হওয়ার ক্ষমতা; বস্তুত, আমাদের শক্তি এবং আমাদের দুর্বলতার মাঝেই আমি আমার হৃদয় থেকে বিশ্বাস করি যে, আমাদের মানুষ আমাদের সামনে আসা যেকোনো পরীক্ষা পার হওয়ার যোগ্য। এবং যদি তারা তাদের নিজস্ব সেরা ঐতিহ্যগুলোর প্রতি সৎ থাকে, তবে অতীতে তারা যেমনটা ছিল ভবিষ্যতে তার চেয়েও এক মহান জাতি হিসেবে তারা আত্মপ্রকাশ করবে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*এটি কোনো তৈরি করা জিনিস নয়; এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ওক, ছাই বা কাঁটার মতোই আমাদের দেশ এবং মানুষের নিজস্ব জিনিস হিসেবে বেড়ে উঠেছে। এটি তার মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছে এবং তাদের স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে পার্থক্য শিখিয়েছে। আজ সেই সংবিধানই হুমকির মুখে, সোশ্যালিস্ট পার্টির তাদের সম্মেলনে এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে না হলেও, প্রবণতাগতভাবে এমন একটি কর্মপন্থা আঁকার মাধ্যমে, যা যদি বাস্তবায়িত হয় তবে তার অর্থ হবে সংবিধানের ধ্বংস। আপনি এটিকে যত খুশি বিতর্কিত করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে হাউস অফ কমন্সের নির্বাহী ক্ষমতা কেড়ে নেওয়াই হলো প্রতিটি স্বৈরতন্ত্রের শুরুর পথ। এটি সর্বহারা হিটলারবাদ এবং অন্য কিছু নয়, এবং এটি অন্য কিছু হতেও পারে না। আমি চাই আপনারা সময়ের আগেই এটি উপলব্ধি করুন।
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দ্য টাইমস'' (৭ অক্টোবর ১৯৩৩), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তিসংগত করার যেকোনো ইচ্ছাকৃত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টাকে সন্দেহের চোখে দেখাটা ব্রিটিশ জনসাধারণের একটি বৈশিষ্ট্য।
**লন্ডনে ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে দেওয়া ভাষণ (২৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৫২-তে উদ্ধৃত।
*নিখুঁত সরকার কেবল সেখানেই পাওয়া যায় যেখানে কারাগারগুলো পূর্ণ থাকে।
**লন্ডনে ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে দেওয়া ভাষণ (২৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৫৩-তে উদ্ধৃত।
*'''আমি একজন ভিক্টোরিয়ান'''। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমি সেই সময়ের অন্য সবার মতোই প্রায় দশ মাইল ব্যাসার্ধের একটি বৃত্তের কেন্দ্রে বাস করতাম—যতদূর এক জোড়া ঘোড়া আমাকে টেনে নিয়ে যেতে পারত। এর বাইরে আমি খুব কমই যেতাম, এবং আমি ইংল্যান্ডের অন্যান্য অংশ থেকে এমনভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলাম যা কেবল মোটর রাস্তা এবং মোটর গাড়ির দেশ হিসেবে ইংল্যান্ডকে চিনেছে, এমন কারও পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব।
**লন্ডনে ইয়র্কশায়ার সোসাইটির বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৮ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩৪-এ উদ্ধৃত।
*কোনো মানুষের প্ল্যাটফর্মে কথাবার্তা যেমনই হোক না কেন বা দৈনন্দিন জীবনে সে নিজের ঢাল হিসেবে যতটাই মানববিদ্বেষের ভান করুক না কেন, সেই আবরণের নিচে, একশো জনের মধ্যে নিরানব্বই জন ইংরেজের মধ্যেই এমন একটি ভালোবাসা থাকবে—যা সে কখনো ব্যাখ্যা করতে পারে না বা কখনো করবেও fixনা—সেই বাড়ির প্রতি যেখানে সে নিজে একসময় বাস করেছে বা তার আগে তার বাবা-মা বা দাদা-দাদি বাস করেছেন।
**লন্ডনে ইয়র্কশায়ার সোসাইটির বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৮ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩৭-এ উদ্ধৃত।
*দুটি সত্য আমাদের মনে গেঁথে আছে। আমরা যে যুগে বাস করি, সেখানে যুদ্ধ বিজয়ী এবং বিজিত উভয়ের জন্যই সমান ধ্বংসাত্মক। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, ইউরোপে আরেকটি যুদ্ধের অর্থ হবে আমাদের পরিচিত পশ্চিমা সভ্যতার অবসান। এই পরিস্থিতিতে এই সরকার যা করছে, তা ছাড়া আর কোনো সরকার কী-ই বা করতে পারে—অস্ত্রসীমিতকরণের বিষয়ে ইউরোপে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অবিরাম সংগ্রাম করা? এই মুহূর্তে সামনের বাধাগুলোর কারণে অনেক মানুষের হৃদয় নিরাশ হয়ে পড়ছে... আমাদের দায়িত্ব হলো এই রাজনৈতিক বাধাগুলো অতিক্রম করতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি না রাখা এবং শেষ মুহূর্তে হলেও অস্ত্রসীমিতকরণের একটি চুক্তি তৈরি করার কাজ পুনরায় শুরু করা।
**এডিনবার্গে দেওয়া ভাষণ (১৭ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দ্য টাইমস'' (১৮ নভেম্বর ১৯৩৩), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩৪ ====
*আমি বলব যে, [[ফ্যাসিবাদ|ফ্যাসিস্টদের]] বিশ্বে স্বাধীনতার একমাত্র রক্ষক হিসেবে আমরাই টিকে আছি। ... এই ফ্যাসিস্ট এবং কমিউনিস্টরা আজ সেই ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর যুদ্ধের উত্তরসূরি।
**[[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসের]] সাথে কথোপকথন (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৪), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ১২৪-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের স্বাধীনতা আমাদের নিজস্ব—তা সে নাগরিক হোক বা ধর্মীয়। আমরা এতে এতটাই অভ্যস্ত, ঠিক যেমন আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই তার প্রতি, যে আমরা এটিকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নিই... আর সেই স্বাধীনতা স্বর্গ থেকে মান্নার মতো আমাদের ওপর ঝরে পড়েনি: আমাদের ইতিহাসের শুরু থেকেই এর জন্য লড়াই করতে হয়েছে, এবং এটি অর্জনের জন্য আমাদের চেয়ে অনেক ভালো মানুষের রক্ত ঝরেছে। এটি নির্বাহী ক্ষমতার প্রতি শতাব্দী ধরে করা প্রতিরোধের ফল, এবং এটি আমাদের জন্য একটি সমান ন্যায়বিচার ও জুরির মাধ্যমে বিচার, এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতামতের স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৭-তে উদ্ধৃত।
*আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে এই দেশে সরকার অনেক বেশি পরিচ্ছন্নভাবে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশের সরকারের মতোই আমাদের স্থানীয় জনপ্রশাসনেও এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই বিরল, যারা পথভ্রষ্ট হয় এবং [[দুর্নীতি]] বা অযাচিত প্রভাবের কারণে আসা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করে। আমাদের ভাইদের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, তাদের সবার মঙ্গলের জন্য জনসেবা করার একটি চমৎকার ঐতিহ্য এই দেশে প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২০-তে উদ্ধৃত।
*আর এই দেশে বসে আমাদের জন্য কোনো [[স্বৈরতন্ত্র|স্বৈরতন্ত্রের]] কথা ভাবা—যা আজ অনেক দেশে সরকারের একটি জনপ্রিয় রূপ—তা হবে আমাদের দিক থেকে চূড়ান্ত [[কাপুরুষতা|কাপুরুষতার]] কাজ, একটি [[আত্মসমর্পণ|আত্মসমর্পণের]] কাজ, হাল ছেড়ে দেওয়ার কাজ, এটি হবে এক ধরনের স্বীকারোক্তি যে আমরা নিজেদের শাসন করতে অক্ষম... এই দেশে আমরা যাকে "রাতারাতি ধনী হওয়ার" মানসিকতা বলি, তা আমরা চাই না। গতি এবং দক্ষতা খুব ভালো জিনিস, এবং সম্ভবত সেগুলো এই প্রজন্মের কাছে পূজনীয়। কিন্তু সেগুলো সবসময় একসাথে চলে না। আমি যেমনটা প্রায়ই বলি, ত্বরণ বা অ্যাক্সিলারেশন সভ্যতার সমার্থক নয়। এটা ঠিক যে এই দেশের রাষ্ট্রীয় ঘোড়ার গাড়িটি হয়তো কর্দমাক্ত পথ দিয়ে যাচ্ছে, এর চাকায় হয়তো ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ হচ্ছে; কিন্তু আপনি কি নিশ্চিত যে আজ [[মস্কো]], [[বার্লিন]], [[ভিয়েনা|ভিয়েনায়]] রাষ্ট্রীয় গাড়ির চাকাগুলো ক্যাঁচক্যাঁচ করছে না? আপনি কি পুরোপুরি নিশ্চিত যে সেগুলো এমনকি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও]] ক্যাঁচক্যাঁচ করছে না?
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২১-এ উদ্ধৃত।
*'''স্বৈরতন্ত্র হলো একটি বিশাল বিচ গাছের মতো; যৌবনে এটি দেখতে খুবই চমৎকার, কিন্তু এর নিচে কিছুই জন্মায় না বা বাঁচে না।'''
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২১-এ উদ্ধৃত।
* তিনি অন্য সবার চেয়ে বেশি [লয়েড জর্জের] [[লয়েড জর্জের মন্ত্রিসভা|জোট সরকার]] ভেঙে দিয়েছিলেন। তিনি কেন এমনটি করেছিলেন? তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ভিক্টোরীয় যুগে যেই নৈতিক চরিত্রের জন্য দেশের সরকার আলাদা মর্যাদা পেত, তা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। এই নৈতিক অবক্ষয় অব্যাহত থাকলে তা ইংল্যান্ডের মহত্ত্ব ও গৌরবের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। এই অবক্ষয়কে আঘাত করে চিরতরে নির্মূল করার অর্থ হলো জোট সরকারের কিছু অত্যন্ত মেধাবী মানুষের ওপর আঘাত হানা। এর ফলে উভয় দলের কিছু অত্যন্ত সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও ধ্বংস হয়ে যেত। তবে জনজীবনের পুরো পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলা একটি ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে দেশের জন্য অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী একটি সরকার থাকা ভালো বলে তিনি মনে করতেন। এমনকি দীর্ঘ সময়ের জন্য তার দলের ক্ষমতার বাইরে থাকাকেও তিনি শ্রেয় মনে করতেন। তার এই সিদ্ধান্তের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দুটি সংস্কার সাধিত হয়। তিনি [[সংবাদমাধ্যম|সংবাদমাধ্যমের]] আধিপত্য দূর করেন। একইসঙ্গে তিনি সম্মাননা প্রদান প্রক্রিয়ার কলঙ্কও মুছে ফেলেন... তিনি পুরোনো মানদণ্ডগুলো পুনরুদ্ধার করেছেন। তিনি প্রাচীন বাধাগুলো মেরামত করেছেন। যতদিন তার দলের সেরা মানুষেরা তাঁকে বিশ্বস্তভাবে সমর্থন করবেন, ততদিন ফ্লিট স্ট্রিটের জলোচ্ছ্বাস আর কখনো হোয়াইটহলে ফিরে আসবে না। জনজীবন আবার পরিচ্ছন্ন হয়েছে।
** [[হ্যারল্ড বেগবি]], ''দ্য উইন্ডোজ অব ওয়েস্টমিনস্টার'' (১৯২৪), পৃষ্ঠা ৯-১১
* এ বিষয়ে [লর্ড বল্ডউইনের] প্রতিভা একজন সুবক্তা বা বিতার্কিক হিসেবে তার সীমাবদ্ধতাগুলো পুষিয়ে দিয়েছিল। বল্ডউইন অনুভূতি তৈরির শিল্পে দক্ষ ছিলেন। তবে তা শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে তিনি আরও বড় ওস্তাদ ছিলেন। তিনি শুধু উপস্থাপিত যুক্তির ওপর আঘাত হানতেন না। বরং যেই অনুভূতির প্রকাশ হিসেবে যুক্তিটি দেওয়া হয়েছে, তিনি সেই অনুভূতির ওপরও আঘাত হানতেন। নিজেকে রক্ষা করার সময় তিনি সুকৌশলে একের পর এক তথ্য উপস্থাপন করতেন না। এর পরিবর্তে তিনি তার প্রতিপক্ষের মহৎ ও মানবিক অনুভূতিগুলোর কাছে আবেদন জানাতেন। তিনি প্রতিপক্ষকে নিরস্ত্র করায় দারুণ দক্ষ ছিলেন। তবে মাঝে মাঝে তিনি একজন কসাইয়ের মতো পাল্টা আঘাতও করতেন।
** [[অ্যানিউরিন বেভান]], কিথ মিডলমাস ও জন বার্নসের ''বল্ডউইন: আ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৬৬৭
* ট্রেড ইউনিয়নগুলোর কাছে বল্ডউইন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। তার দেওয়া যেকোনো বক্তব্যের অনেক গুরুত্ব ছিল... তারা সাধারণ ধর্মঘটের এত ঘন ঘন উল্লেখ করার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করতেন। বল্ডউইনের "আমাদের সময়ে শান্তি" শীর্ষক ভাষণে তাদের ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রতি তার প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করতেন।
** জেফ্রি ফ্রাইকে লেখা [[আর্নেস্ট বেভিনের]] চিঠি (২৪ জানুয়ারি ১৯৩৪), কিথ মিডলমাস ও জন বার্নসের ''বল্ডউইন: আ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৮৩–৪৮৪
* সম্পদের সাথে সামাজিক বাধ্যবাধকতাও থাকে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। তিনি এই নীতি অনুসারেই জীবনযাপন করেছেন।
** ২০০৬ সালে বল্ডউইন সম্পর্কে লর্ড [[জন বিফেনের]] বক্তব্য।
* স্ট্যানলি বল্ডউইনের অন্তত একটি গুণ ছিল। তিনি উভয় পক্ষকে একত্রিত করার চেষ্টা করতেন। তিনি শ্রমিক আন্দোলন বোঝার ও আমাদের দেশে শিল্পক্ষেত্রে শান্তি আনার চেষ্টা করেছেন। যদি এটিই রায় হয়, তবে আমি বল্ডউইনের সাথে যুক্ত হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত হব। তবে অন্য সব দিক থেকে নয় বলেই আমার মনে হয়।
** [[জেমস ক্যালাহান]], [https://www.youtube.com/watch?v=y4bhqnk602I টেমস টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকার] (২০ জুলাই ১৯৭৮)। লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী ক্যালাহানকে [[পিটার জেনকিন্স]] জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাঁকে "স্ট্যানলি বল্ডউইনের পর সেরা রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী" বলাটা তিনি প্রশংসা হিসেবে দেখেন নাকি সমালোচনা হিসেবে।
* তার [<nowiki/>[[ডেভিড লয়েড জর্জ|ডেভিড লয়েড জর্জের]]] স্থলাভিষিক্ত হওয়া বল্ডউইন স্বভাবগতভাবেই যুদ্ধকে ঘৃণ্য মনে করতেন। একদিক থেকে তিনি স্বভাবগতভাবেই খুব শান্তিকামী ছিলেন। সম্মুক্তিনামায় জবরদস্তিমূলক ক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা আমি বিশ্বাস করি কি না, তা তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বলে আমার মনে আছে। সামরিক পদক্ষেপের প্রতি তার এই অপছন্দের কারণেই মূলত অ্যাবিসিনীয় বিপর্যয় ঘটেছিল বলে আমি মনে করি। লয়েড জর্জ শক্তি প্রয়োগের ওপর খুব বেশি বিশ্বাস করলে, বল্ডউইন তাতে খুব কমই বিশ্বাস করতেন।
** [[চেলউডের ভিসকাউন্ট সিসিল|চেলউডের ভিসকাউন্ট সিসিল]], ''অল দ্য ওয়ে'' (১৯৪৯), পৃষ্ঠা ১৭৩
* আমি একজন কুখ্যাত জনোত্তেজক ধরনের মানুষ। আমার মতে বেশিরভাগ সংস্কার খুব দ্রুত হওয়ার পরিবর্তে অনেক ধীরগতিতে হয়। এই সবকিছু থেকে সহজেই অনুমান করা যায় আমার প্রিয় রাজনীতিবিদ হলেন বল্ডউইন। এই অনুমান দ্রুত ও সুস্পষ্ট না হলেও এটি যুক্তিযুক্ত। আমি যখন আমার প্রিয় রাজনীতিবিদের কথা বলি, তখন একজন রাজনীতিবিদ কোনো মানুষের যতটা প্রিয় হতে পারে, আমি ততটাই বোঝাই। [...] তবে আমি ব্যবহারিক রাজনীতিতে থাকলে (ঈশ্বর না করুন) ও তারা আমাকে দলীয় আনুগত্যের সেই বিশেষ সমস্যায় জড়ালে আমি আমার বা তার সমস্ত যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁকে সমর্থন করতাম। তার যোগ্যতা মোটেও কম নয়। তার সাথে আমার দ্বিমত থাকলেও আমি তাঁকে সমর্থন করব। কারণ তিনি লিবারেলদের চেয়েও বেশি উদার। তিনি সমাজতন্ত্রীদের চেয়েও বেশি সমাজমনস্ক এবং সাম্রাজ্যবাদীদের চেয়ে বহুগুণ বেশি দেশপ্রেমিক। আমি সুখে-দুঃখে তাঁকে সমর্থন করব। কারণ আমার মনে হয়, বিরোধী তত্ত্বগুলো বেশ দুর্বল ও তাদের ধৃষ্টতা একটু বেশিই। আমি বিশেষ করে তার অনুগত ও নিবেদিতপ্রাণ অনুসারীদের বিরুদ্ধে তাঁকে সমর্থন করব। তবে আমি তাঁকে খুব বিশেষভাবে মূল্যায়ন করি। আমি মনে করি জীবিত রাজনীতিবিদদের মধ্যে একমাত্র তারই ইংরেজ জাতির সম্পর্কে কিছুটা অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া রয়েছে।
** জি. কে. চেস্টারটন, ''অ্যাজ আই ওয়াজ সেয়িং'' গ্রন্থে, অধ্যায় ১৭: "অ্যাবাউট পলিটিক্যাল ক্রিডস", ১৯৩৬
* তিনি এতটা ক্ষমতা দেখাতে পারেন বলে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। সম্পূর্ণ রক্ষণশীল দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং একজন বিদ্রোহী ছাড়াই নির্দেশ মেনে চলেছে। আমি আর কিছুতেই বিস্মিত হই না।
** ট্রেড ইউনিয়ন ও লেবার পার্টির অর্থায়নকে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে আনা একটি প্রাইভেট মেম্বার বিল বাতিল করতে নিজের ব্যাকবেঞ্চারদের রাজি করানোর পর [[উইনস্টন চার্চিল]], ১৯২৫, ফিলিপ উইলিয়ামসনের ''বল্ডউইন পেপারস: আ কনজারভেটিভ স্টেটসম্যান, ১৯০৮-১৯৪৭'' (২০০৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১৬৯
* সরকার কিছুতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। অথবা তারা প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াতে পারছে না। তাই তারা এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা সিদ্ধান্তহীন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অনড় থাকার প্রতিজ্ঞা করেছে, ভেসে যাওয়ার জন্য অটল রয়েছে, তরল হওয়ার জন্য কঠিন হয়েছে এবং ক্ষমতাহীন হওয়ার জন্য সর্বশক্তিমান হয়েছে। এভাবেই আমরা আরও কয়েক মাস ও বছর ধরে পঙ্গপালের খাবারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এগুলো খুব মূল্যবান ও সম্ভবত ব্রিটেনের মহত্ত্বের জন্য অত্যাবশ্যক।
** [[উইনস্টন চার্চিল]], [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1936/nov/12/debate-on-the-address#column_1107 হাউজ অব কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১২ নভেম্বর ১৯৩৬)]
* আমি স্ট্যানলি বল্ডউইনের কোনো ক্ষতি চাই না। তবে তিনি কখনো না জন্মালে অনেক ভালো হতো।
** বল্ডউইনকে তার আশি তম জন্মদিনের চিঠি পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোর সময় [[উইনস্টন চার্চিল]], ডমিনিক এনরাইট সম্পাদিত ''দ্য উইকড উইট অব উইনস্টন চার্চিল'' (২০০১) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৫৮ * আমার ধারণা ছিল, সব বড় ধরনের সাম্রাজ্যিক ও জাতীয় ইস্যুতে রক্ষণশীল বিরোধীদের উচিত শক্তভাবে [[দ্বিতীয় ম্যাকডোনাল্ড মন্ত্রিসভা|লেবার সরকারের]] মুখোমুখি হওয়া। [[বেঞ্জামিন ডিসরেলি|লর্ড বিকনসফিল্ড]] ও [[রবার্ট গ্যাসকোয়েন-সিসিল, স্যালিসবারির ৩য় মার্কুয়েস|লর্ড স্যালিসবারির]] অধীনে থাকা ব্রিটেনের মহিমার সাথে নিজেদের যুক্ত করা উচিত। বিতর্কের মুখোমুখি হতেও তাদের দ্বিধা করা উচিত নয়। যদিও তা তাৎক্ষণিকভাবে দেশবাসীর কাছ থেকে কোনো সাড়া নাও পেতে পারে। আমি যতদূর বুঝতে পারছিলাম, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মহত্ত্ব জোরালোভাবে প্রমাণের সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে বলে বল্ডউইন মনে করতেন। লিবারেল ও লেবার শক্তির সাথে মানিয়ে নেওয়ার মধ্যেই রক্ষণশীল দলের আশা নিহিত রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। সেইসাথে সুকৌশলী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে শক্তিশালী জনমত ও বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পক্ষপাতী ছিলেন তিনি। তিনি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সফল ছিলেন। তিনি ছিলেন রক্ষণশীলদের পাওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ দলীয় ব্যবস্থাপক। দলের নেতা হিসেবে তিনি পাঁচটি সাধারণ নির্বাচনে লড়াই করে তিনটিতে জয়লাভ করেন। শুধু ইতিহাসই এসব সাধারণ বিষয়ের বিচার করতে পারে।
** [[উইনস্টন চার্চিল]], ''দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার, ভলিউম ওয়ান: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম'' [১৯৪৮] (১৯৫০), পৃষ্ঠা ৪৪
* আমি দীর্ঘকাল ধরে চেনা দুই প্রধানমন্ত্রী বল্ডউইন ও চেম্বারলেইনের তুলনামূলক মূল্যায়ন এখানে তুলে ধরতে পারি। আমি তাঁদের অধীনে কাজ করেছি বা করার কথা ছিল। স্ট্যানলি বল্ডউইন বেশি জ্ঞানী ও অনেক বেশি সমঝদার ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তবে তার বিস্তারিত নির্বাহী ক্ষমতার অভাব ছিল। তিনি মূলত পররাষ্ট্র ও সামরিক বিষয়ক কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি ইউরোপ সম্পর্কে খুব কমই জানতেন এবং যা জানতেন তা-ও অপছন্দ করতেন। ব্রিটিশ দলীয় রাজনীতি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান ছিল। তিনি বিস্তৃতভাবে আমাদের দ্বীপবাসীর কিছু শক্তি ও অনেক দুর্বলতার প্রতিনিধিত্ব করতেন। তিনি রক্ষণশীল দলের নেতা হিসেবে পাঁচটি সাধারণ নির্বাচনে লড়াই করে তিনটিতে জয়লাভ করেন। ঘটনা ঘটার জন্য অপেক্ষা করার ক্ষেত্রে তার দারুণ প্রতিভা ছিল। বিরূপ সমালোচনার মুখেও তিনি অবিচল থাকতেন। পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে তিনি অনন্য দক্ষতাসম্পন্ন ছিলেন। উপযুক্ত সময় আসলে তা কাজে লাগাতেও তিনি পারদর্শী ছিলেন। তাঁকে দেখে আমার স্যার [[রবার্ট ওয়ালপোল|রবার্ট ওয়ালপোল]] সম্পর্কে ইতিহাসের ধারণার পুনরুত্থান বলে মনে হতো। তবে অবশ্যই তাতে অষ্টাদশ শতাব্দীর কোনো দুর্নীতি ছিল না। তিনিও প্রায় একই সময় ধরে ব্রিটিশ রাজনীতির নিয়ন্ত্রক ছিলেন।
** [[উইনস্টন চার্চিল]], ''দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার, ভলিউম ওয়ান: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম'' [১৯৪৮] (১৯৫০), পৃষ্ঠা ১৮৯
* বল্ডউইন, স্ট্যানলি … দেশের চেয়ে দলের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, ১৬৯-৭০; ...
** [[উইনস্টন চার্চিল]], "দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার : ভলিউম ১ : দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম" (১৯৪৮) গ্রন্থে নির্ঘণ্ট ভুক্তি
* তিনি মাঝে মাঝে সত্যের কাছে হোঁচট খেতেন। তবে দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে এমনভাবে তাড়াহুড়ো করে চলে যেতেন যেন কিছুই হয়নি।
** [[উইনস্টন চার্চিল]] (আরোপিত), অ্যান্টনি জের ''লেন্ড মি ইওর ইয়ার্স: অক্সফোর্ড ডিকশনারি অব পলিটিক্যাল কোটেশনস'' (২০১০) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৭১
* বল্ডউইন একবারও আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেননি।
** [[এ. জে. কুক]], [[গ্রেট ব্রিটেনের খনি শ্রমিক ফেডারেশন|মাইনরস ফেডারেশন অব গ্রেট ব্রিটেনের]] সাধারণ সম্পাদক (১৯২৫), জি. এম. ইয়াংয়ের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন'' (১৯৫২) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১০২
* [[১৯২৪ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন|১৯২৪ সালের নির্বাচনের]] আগ পর্যন্ত বল্ডউইন "সর্বোচ্চ চরিত্রের অধিকারী একজন মানুষ" হিসেবে সফল হতে পারেননি। সেই সময়ে তার বিজয় এটাই দেখিয়েছিল যে, তার কাজ ছিল নৈতিক, শিল্প, কৃষি, [[উদারনীতিবাদ|উদারনৈতিক]], [[অ্যাংলিকান ধর্মবাদ|অ্যাংলিকান]] ও অ-সনাতনপন্থী প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে একত্রিত করা। তিনি সরলতা, শালীনতা ও স্বল্পভাষিতার এক অসম্পূর্ণ জনোত্তেজক মিশ্রণের মাধ্যমে এই কাজটি করতেন। বল্ডউইন কখনো ক্ষমতা দিয়ে ইতিবাচক কিছু করতে চাইলে [[১৯২৩ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন|১৯২৩ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন]] সম্ভবত তার সেই ইচ্ছাকে নিরাময় করে দিয়েছিল। এরপর গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথেই তিনি এক ধরনের নির্বোধ গ্রামীণ সত্তা আবিষ্কার করেন। পাইপ টানা সাধারণ মানুষের নতুন ভাবমূর্তির মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সাথে দূরত্ব কমানোর লক্ষ্য নিয়েছিলেন। ভোটারদের ভোটদানের পদ্ধতি অন্তত এটুকু প্রমাণ করেছিল যে, "মূলে...কর্মজীবী মানুষেরা [ছিল] ভালো"। তিনি এক পরিমিত নৈতিকতার প্রচার করতেন। এটি "গ্রামের পুরোনো ইংল্যান্ডের...একবারের জন্য হলেও নিজের কিছু ফিরে পাওয়া" না হলেও অন্তত নিজের সুনামকে অন্য অনেকের সুনামের চেয়ে আলাদা করতে পেরেছিল। এদের মধ্যে লম্পট হিসেবে পরিচিত [[হ্যারল্ড হার্মসওয়ার্থ, ১ম ভিসকাউন্ট রদারমিয়ার|রদারমিয়ার]], সিফিলিসে আক্রান্ত [[আলফ্রেড হার্মসওয়ার্থ, ১ম ভিসকাউন্ট নর্থক্লিফ|নর্থক্লিফ]], প্যান্টালুন পরা [[এডওয়ার্ড স্ট্যানলি, ডার্বির ১৭শ আর্ল|ডার্বি]], মাতাল [[এফ. ই. স্মিথ, বার্কেনহেডের ১ম আর্ল|বার্কেনহেড]], অভিযাত্রী [[ম্যাক্স আইটকেন, ১ম ব্যারন বিভারব্রুক|বিভারব্রুক]], কমার্শিয়াল ট্রাভেলার ও নারীদের প্রিয়পাত্র "স্কচ ক্যাড" [[রবার্ট হর্ন, স্লামান্যনের ১ম ভিসকাউন্ট হর্ন|হর্ন]], পকেটমার "ট্যামানি বস" [[আর্চিবল্ড স্যালভিজ|স্যালভিজ]] এবং [[ডেভিড লয়েড জর্জ|লয়েড জর্জের]] নৈতিক ও রাজনৈতিক অশালীনতা উল্লেখযোগ্য। ঠিক বা ভুল যা-ই হোক না কেন, এসব সুনাম তাদের ওপরই বর্তায়। তবে [[রুডইয়ার্ড কিপলিং|কিপলিংয়ের]] পরিবারের "আসল লেখকের" সেই স্নায়বিক কল্পনার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না। তিনি এমন একটি জাতিকে শাসন করার কাজে হাত দিয়েছিলেন যেখানে ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল এবং বার্কেনহেডের তলোয়ার প্রথম ধারালো হওয়ার পর থেকে প্রায় ৮৫ লাখ নারী ভোটাধিকার পেয়েছিল।
** [[মরিস কাউলিং]], ''দ্য ইমপ্যাক্ট অব লেবার, ১৯২০-১৯২৪: দ্য বিগিনিং অব মডার্ন ব্রিটিশ পলিটিক্স'' (১৯৭১), পৃষ্ঠা ৪২১
* বল্ডউইনের পদ্ধতিগুলো বেশ ধীরগতির ছিল। তিনি বিস্তারিত এড়িয়ে চলতেন। সমালোচকেরা বলতেন, তিনি চিন্তা করাটাই এড়িয়ে চলেন। তবে তিনি সে সময়ের প্রধান সমস্যা নিয়ে ভাবতে পিছপা হননি। তিনি ধরে নিয়েছিলেন, "সমাজতন্ত্রীরা বদ্ধপরিকর হলে" সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ [[সমাজতন্ত্র|সমাজতন্ত্রকে]] থামাতে পারবে না। তাই এর পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে।<br>একজন প্রতিক্রিয়াশীল টোরি সদস্য হিসেবে তার এই অর্জন ছিল অসাধারণ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার তৃতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগেই "উচ্চমার্গীয় ও শুষ্ক টোরিবাদ" থেকে তার মুক্তি তাকে অ-রক্ষণশীল সহকর্মীদের কাছে "পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য" করে তোলে। কোনো রাজনীতিবিদই এ ব্যাপারে সন্দেহ করেননি। সব দলেই থাকা "মাগওয়াম্প", "ক্লেরিকল" এবং আন্তরিক ও তাত্ত্বিক "লিবারেলদের" কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্য ছিলেন। অনেক লেবার রাজনীতিকের কাছে তার শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য ও "আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির" এই "খাঁটি ইংরেজ" মিশ্রণ এমন একটি সামাজিক আশ্বাস দিয়েছিল যা অন্য কোনো রক্ষণশীলের পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিল না।<br>শিল্প সম্পদের মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা ও সামাজিক সীমাহীনতা প্রদর্শন করা বল্ডউইনের লক্ষ্য ছিল... "সর্বগ্রাসবাদের বন্য হুমকির" মুখে তার ভাষণগুলো শালীনতা ও আইনের বিবৃতিতে পরিণত হয়। তিনি ইংল্যান্ড ও ইংরেজদের নিয়ে কথা বলতেন। এমনকি "খ্রিস্টধর্মের সহজ ভাষায় কথা বলতেও তিনি দ্বিধা করেননি"।
** [[মরিস কাউলিং]], ''দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিটলার: ব্রিটিশ পলিটিক্স অ্যান্ড ব্রিটিশ পলিসি, ১৯৩৩-১৯৪০'' (১৯৭৫), পৃষ্ঠা ২৫৯
* বল্ডউইন কর্মজীবী শ্রেণির আন্দোলনকে সাধারণ মানুষের সৃষ্টি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এই মানুষেরা অনেকটা তার মতোই ছিলেন এবং মীমাংসার বার্তায় সাড়া দেবেন বলে তিনি মনে করতেন। "বুদ্ধিজীবী" ও "সংবাদমাধ্যমের মালিকদের" দ্বারা বিপথগামী না হওয়া একটি শক্তিশালী, ভদ্র ও সুখী মানুষের অস্তিত্ব বোঝাতে তিনি অনেক সামাজিক নায়কের উদাহরণ তুলে ধরেন। এদের কেউই [[ম্যাক্স আইটকেন, ১ম ব্যারন বিভারব্রুক|বিভারব্রুক]] বা [[ওয়াল্টার লেটন, ১ম ব্যারন লেটন|লেটনের]] মতো ছিলেন না। বরং তারা নানাভাবে সেই গুণাবলিই প্রতিফলিত করতেন, যা ইংরেজরা প্রশংসা করে বলে মনে করা হতো। প্রেক্ষাপটটি প্রাক-শিল্প যুগের ছিল। বল্ডউইনের জীবদ্দশাতেই "গ্রামীণ সমাজ" "বিলুপ্ত" হয়ে গেলেও তার বক্তৃতায় এর গুণাবলির প্রতি প্রশংসা ফুটে উঠত... বল্ডউইন কি কোনো মিথ তৈরি করছিলেন? সম্ভবত না... বল্ডউইন সম্ভবত নিজের কথাগুলো বিশ্বাস করতেন। তার অনুরাগীদের মতো তিনিও ভাবতেন যে তিনি তাদের "জীবনের মৌলিক বিষয়গুলোর" দিকে "ফিরে ডাকছেন"।
** [[মরিস কাউলিং]], ''দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিটলার: ব্রিটিশ পলিটিক্স অ্যান্ড ব্রিটিশ পলিসি, ১৯৩৩-১৯৪০'' (১৯৭৫), পৃষ্ঠা ২৬০
* বল্ডউইনের নৈতিক, সামাজিক ও নান্দনিক বিশ্বাস ছিল। তার একটি ধর্মও ছিল। তবে তার খুব কম বিশ্বাসই রাজনৈতিক ছিল। উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি হতাশাগ্রস্ত ছিলেন এবং এর প্রতি এক ধরনের সহজাত প্রতিরোধ অনুভব করতেন। প্রয়োজনের সময় অনীহা কাটিয়ে উঠতে সফল হলেও তার আগ্রহ মূলত আধ্যাত্মিক ও পরিবেশগত ছিল। প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে তিনি লাঠির চেয়ে জাদুদণ্ড বেশি পছন্দ করতেন।<br>তিনি মূলত একজন "ভদ্র ইংরেজের" অনুভূতি প্রকাশ করতে চাইতেন। কল্পনায় তিনি এই অনুভূতির একটি সংস্করণ নিয়ে বাঁচতেন এবং এগুলো কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে একটি শিক্ষা তৈরি করেছিলেন। এটি করতে গিয়ে তিনি এমন কিছু করেছিলেন যা বিংশ শতাব্দীর অন্য কোনো রাজনীতিবিদ আগে করতে পারেননি। কেবল [[এডওয়ার্ড গ্রে, ফ্যালোডনের ১ম ভিসকাউন্ট গ্রে|গ্রে]] এর ব্যতিক্রম ছিলেন। এটি করার মাধ্যমে তিনি মধ্যম সারির সাহিত্যিক ও গ্রামীণ রুচির অধিকারী পাবলিক-স্কুলের ভদ্রলোকদের রাজনীতির সাথে সাধারণ মানুষের নীরবতার একটি মিল তুলে ধরেন। ১৯৩৫ সালে তিনি লিখেছিলেন, "ইংরেজরা হয়তো নিজেদের পারস্পরিক আনুগত্যকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়। আমরা এটি নিয়ে কথা বলি না। তবে মাঝে মাঝে আমাদের এই সহজাত নীরবতা ভেঙে একে অপরের প্রতি এমন কিছু বলা ভালো, যা অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পর না বলার জন্য আমাদের আক্ষেপ করতে হতে পারে।"
** [[মরিস কাউলিং]], ''দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিটলার: ব্রিটিশ পলিটিক্স অ্যান্ড ব্রিটিশ পলিসি, ১৯৩৩-১৯৪০'' (১৯৭৫), পৃষ্ঠা ২৬০-২৬১
* এমনকি কোনো জনপ্রতিনিধিও নন। কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আর একেবারেই গুরুত্বহীন একজন মানুষ।
** বল্ডউইন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর (প্রায় ২২ মে ১৯২৩) [[জর্জ কার্জন, কেডলেস্টনের ১ম মার্কুয়েস কার্জন|লর্ড কার্জনের]] প্রতিক্রিয়া, হ্যারল্ড নিকলসনের ''কার্জন: দ্য লাস্ট ফেজ, ১৯১৯-১৯২৫: আ স্টাডি ইন পোস্ট-ওয়ার ডিপ্লোমেসি'' (১৯৩৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৫৫
* স্ট্যানলি বল্ডউইন এ দেশের মানুষের অনেক চারিত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন। নিজের দেশ, এর ঐতিহ্য ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ছিল। তবে সর্বোপরি তিনি বিশ্বের সব দুর্যোগ ও ঝড়ের মধ্যেও এর বিচক্ষণতা, অবিচলতা, সাহস ও নেতৃত্বের প্রশংসা করতেন। '''সহনশীলতা ছিল তার সবচেয়ে বড় গুণ। তিনি ঝগড়া-বিবাদ ঘৃণা করতেন এবং সব জাতির মধ্যে একটি ভালো বোঝাপড়া ও সদিচ্ছা তৈরি করতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন।''' ...তিনি সবসময় নিজের বলিষ্ঠ সাধারণ জ্ঞান ও দেশের প্রতি প্রবল ভক্তি দ্বারা পরিচালিত হতেন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী, বন্ধুত্বপূর্ণ বিচারক এবং সর্বোপরি নৈতিক নেতা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে ব্রিটেনের অবস্থান বজায় রাখা ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তার অনেক ভাষণ এতটাই উচ্চমানের ছিল যে, ভালো গদ্যগুলোও ভালো কবিতার মতোই সমান উচ্চতায় পৌঁছে যায়... সেগুলো এতই আদর্শগতভাবে উন্নত ও সুন্দর ভাষায় লেখা ছিল যে, ইতোমধ্যেই সেগুলো ইংরেজি ধ্রুপদী সাহিত্যের সমৃদ্ধ ভান্ডারে যুক্ত হয়েছে। '''তিনি ছিলেন সম্মানের মূর্ত প্রতীক; সৎ, উদার ও বিশ্বস্ত।''' তিনি বিনয়ী ও লাজুক ছিলেন। তবে একবার কারও সাথে বন্ধুত্ব করলে তা কখনো ভঙ্গ হতো না এবং প্রয়োজনের সময় তা সবচেয়ে বেশি উষ্ণ থাকত। আমরা যারা সেই বন্ধুত্ব পেয়ে ভাগ্যবান হয়েছি, তারা সবসময় এটি লালন করব। বিশেষ করে তার নিজের প্রজন্মের চেয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার দয়া ও উৎসাহ আমরা সবসময় স্মরণ করব। '''লর্ড বল্ডউইনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমরা একজন মহান গণতন্ত্রী, একজন সত্যিকারের ইংরেজ এবং শান্তি ও সম্প্রীতির অবিচল প্রেমিককে স্যালুট জানাই।'''
** বল্ডউইনের মৃত্যুর পর হাউজ অব কমন্সে দেওয়া একটি [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1947/dec/15/death-of-earl-baldwin-of-bewdley-kg ভাষণে] (১৫ ডিসেম্বর ১৯৪৭) লিবারেল পার্টির নেতা [[ক্লেমেন্ট ডেভিস]]
* রক্ষণশীল দল বল্ডউইনকে বাদ দিলে তারা তাদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সম্পদ হারাবে... যতদিন বল্ডউইন রক্ষণশীল দলের নেতৃত্ব দেবেন, ততদিন এর "ডানপন্থী" অংশ দলের সিদ্ধান্তে আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না এবং এর উদ্দেশ্যকে সংকুচিত করতে পারবে না। ট্রেড ডিসপুটস বিল এর একটি বড় প্রমাণ... বল্ডউইন নেতা থাকলে রক্ষণশীল দল কখনো কোটিপতি সংবাদপত্র মালিকদের হাতের পুতুল বা বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর লেজুড় হবে না।
** ''দ্য টাইমস'' পত্রিকায় লেখা [[অ্যান্থনি ইডেনের]] চিঠি (৬ অক্টোবর ১৯৩০), পৃষ্ঠা ১৫
* '''স্ট্যানলি বল্ডউইন যদি অন্য সবকিছুর চেয়ে একটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, তবে তা হলো শিল্পক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া।''' এই ক্ষেত্রে অবদান রাখা ছিল তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। আমি মনে করি তিনি তা অর্জনও করেছিলেন। অনেকের হয়তো মনে আছে...হাউজ অব কমন্সে দেওয়া স্ট্যানলি বল্ডউইনের সর্বশেষ ভাষণের কথা। সেটি ছিল ১৯৩৭ সালের ৫ মে। কয়লাখনি এলাকার আলোচনা ভালো চলছিল না। সেখানে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এই হাউজের বিতর্কেও প্রতিফলিত হয়েছিল। স্ট্যানলি বল্ডউইন বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই হাউজের সদস্য হিসেবে এটিই তার শেষ অবদান রাখার সুযোগ। তিনি অত্যন্ত সহজ, আন্তরিক ও সফলভাবে তা করেছিলেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আমি যখন লর্ড বল্ডউইনের সাথে শেষবার দেখা করি, তখন তিনি আমাকে সেই ভাষণের কথাই বলেছিলেন। আমি নিশ্চিত, তিনি এ ধরনের ভাষণ ও কাজের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকতে চাইবেন। নিঃসন্দেহে এগুলো সামনের কঠিন পরীক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছিল... স্ট্যানলি বল্ডউইন ছিলেন একজন ধৈর্যশীল, সহনশীল ও ব্যাপক মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ। তিনি তার দেশবাসীকে চিনতেন এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যেই বন্ধু খুঁজে পেতেন। শ্রেণিবৈষম্য বা অহংকার তার কাছে ঘৃণ্য ছিল। তিনি প্রতিহিংসা বা আক্রোশ দেখাতে অক্ষম ছিলেন। এমনকি সমালোচকদের সবচেয়ে কঠোর কথার পরও তিনি খুব কমই বিরক্তি প্রকাশ করতেন। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সংযম ও যুক্তিবাদী হয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরা... '''সব দিক থেকেই তিনি ছিলেন একজন খাঁটি ইংরেজ। এমন একজন ইংরেজ, যিনি শিল্পক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং নিজের দেশকে ভালোবেসেছেন।'''
** হাউজ অব কমন্সে দেওয়া একটি [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1947/dec/15/death-of-earl-baldwin-of-bewdley-kg ভাষণে] (১৫ ডিসেম্বর ১৯৪৭) [[অ্যান্থনি ইডেন]]
* ১৯২৩ সালের সংসদে খুব কম সংখ্যক নতুন রক্ষণশীল সদস্য ছিলেন। বল্ডউইন আমাদের যেই উপদেশ দিয়েছিলেন, তা আমার মনে আছে। তিনি লেবার পার্টির সদস্যদের কথা বলতেন, যারা তখন প্রথমবারের মতো নিজেদের দলের সরকারকে সমর্থন দিচ্ছিলেন। সে সময় তাদের বেশিরভাগই ছিলেন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য। তারা কারখানায় বা খনিতে কাজ করে জীবনের বড় একটা সময় কাটিয়েছিলেন। বল্ডউইন বলেছিলেন, "আপনাদের হয়তো শিক্ষার ভালো সুযোগ ছিল। তবে এর জন্য অহংকার করবেন না। বেকারত্ব ভাতা সম্পর্কে তারা আপনাদের চেয়ে বেশি জানেন। সর্বোপরি, তাদের প্রতি কখনো ব্যঙ্গাত্মক আচরণ করবেন না।"
** [[অ্যান্থনি ইডেন]], ''দ্য ইডেন মেমোরিস: ফেসিং দ্য ডিক্টেটরস'' (১৯৬২), পৃষ্ঠা ৫
* র্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের প্রশাসন ও এক বছর পর আসা বল্ডউইনের প্রশাসনে অনেক শিল্প বিরোধ দেখা গিয়েছিল। এটি ১৯২৬ সালের সাধারণ ধর্মঘটের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নেয়। এই জটিল পরিস্থিতি বল্ডউইন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলেছিলেন। পরে রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের সিংহাসন ত্যাগের সময় তিনি যেভাবে ব্রিটিশ জনগণের অনুভূতি বুঝতে পেরে তাদের দ্বিধাহীন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই তিনি এই পরিস্থিতিও সামাল দিয়েছিলেন। সাধারণ ধর্মঘটের পর তিনি কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেননি। এই শতকে অন্য কোনো ব্রিটিশ রাষ্ট্রনায়ক শ্রেণি বিভেদ দূর করতে এত বেশি কাজ করেননি। ডিসরেলির দুই জাতিকে একীভূত করা তার নীতি ছিল। এই সফলতা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। পররাষ্ট্রনীতিতে কিছু ভুল থাকলেও, দেশের ভেতরে তিনি যেই ইতিবাচক রাষ্ট্রনীতি প্রয়োগ করেছিলেন, তা ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করেছিল। ব্রিটিশ জনগণের প্রতি তার বিশ্বাস এবং তাদের কোনো স্বার্থান্বেষী শ্রেণির স্বার্থে পরিচালনা না করার বিষয়ে তার দৃঢ় অবস্থান তরুণ প্রজন্মের অনেককে তার প্রতি আকৃষ্ট করেছিল এবং তাদের বিশ্বস্ততা ধরে রেখেছিল। আমরা ব্রিটিশ সৈন্যদের একসঙ্গে যুদ্ধ করতে ও মরতে দেখেছি। সমাজতন্ত্র ছাড়াই জাতি হিসেবে একসঙ্গে বাঁচা সম্ভব বলে আমরা মনে করতাম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপরই রক্ষণশীল দলে আধিপত্য বিস্তারকারী কঠোর মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিলেন বল্ডউইন। দেশীয় রাজনীতিতে আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তার চরিত্র ও উদ্দেশ্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছিল।
** [[অ্যান্থনি ইডেন]], ''দ্য ইডেন মেমোরিস: ফেসিং দ্য ডিক্টেটরস'' (১৯৬২), পৃষ্ঠা ৫
* তিনি সেই প্রজন্মের মানুষ ছিলেন, যারা মার্ক্সবাদীদের মধ্যে লালের চেয়ে [[শ্বেতাঙ্গ আন্দোলন|সাদা]] বেশি পছন্দ করতেন। তিনি শুধু একজন বিদেশিকে চিনতেন এবং তার একমাত্র স্লোগানকেই ভয় পেতেন ও ভবিষ্যদ্বাণী করতেন। সেই স্লোগানটি ছিল, "দুনিয়ার মজদুর এক হও, হারানোর মতো তোমাদের শৃঙ্খল ছাড়া আর কিছু নেই।" ইংল্যান্ডে সেই ডাক আসার আগেই যাতে কোনো শৃঙ্খল অবশিষ্ট না থাকে, তা নিশ্চিত করা তার প্রধান ভাবনা, এমনকি একধরনের আবেশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি সেই যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন।
** ''টাইম অ্যান্ড টাইড'' (১৫ নভেম্বর ১৯৫২) পত্রিকায় লেখা [[ওয়াল্টার এলিয়ট]], কিথ মিডলমাস ও জন বার্নসের ''বল্ডউইন: আ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৬৯৬
* ব্রিটেনে দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে দুটি ঐতিহ্যবাহী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা হ্রাস পায়। এর একটি হলো [[যুক্তরাজ্যের রাজতন্ত্র|রাজতন্ত্র]] ও অন্যটি হলো [[ব্রিটিশ সেনাবাহিনী|সেনাবাহিনী]]। ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বরে অষ্টম এডওয়ার্ড সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য হন। [[যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন]] এক [[বিবাহবিচ্ছেদ|তালাকপ্রাপ্তা]] নারীকে বিয়ে করার ইচ্ছায় [[যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী|প্রধানমন্ত্রী]] স্ট্যানলি বল্ডউইন তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। বল্ডউইন দাবি করেছিলেন, [[ব্রিটিশ জাতি|ব্রিটিশ জনগণ]] ও ডোমিনিয়নগুলোর সরকারগুলোও তার সাথে একমত। এদিকে ১৯১৯ সালে চালু হওয়া ও ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর নবায়ন করা 'টেন-ইয়ার রুল' অনুযায়ী অন্তত ১০ বছরের মধ্যে কোনো বড় যুদ্ধ হবে না ধরে নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে [[অর্থ|অর্থসংকটে]] রাখা হয়েছিল। তবে [[জাপান সাম্রাজ্য|জাপানে]] ঠিক উল্টোটা ঘটেছিল। সেখানে রাজতন্ত্র ও সেনাবাহিনী উভয়ই বেশি ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিল। [[মহামন্দা|মহামন্দার]] জবাবে জাপানের উত্তর জার্মানির মতো জাতীয় সমাজতন্ত্র ছিল না। বরং সেটি ছিল সাম্রাজ্যিক সামরিকবাদ।
** [[নিয়াল ফার্গুসন]], ''দ্য ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ড: টুয়েন্টিয়েথ-সেঞ্চুরি কনফ্লিক্ট অ্যান্ড দ্য ডিসেন্ট অব দ্য ওয়েস্ট'' (২০০৬), পৃষ্ঠা ২৮৯
* আপনি যতদিন সরকারের প্রধান থাকবেন, ততদিন তা সম্মানের প্রতীক হয়ে থাকবে। যুদ্ধের পর যখন লয়েড জর্জের সরকার দেশে জনজীবনকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলে এবং বিদেশে আমাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, তখন আমি চরম আঘাত পেয়েছিলাম। এরপর থেকে জনসম্মান পুনরুদ্ধারে এটি একটি স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি সর্বদা এর প্রতীক হয়ে থাকবেন।
** বল্ডউইনকে লেখা [[এডওয়ার্ড গ্রে, ফ্যালোডনের ১ম ভিসকাউন্ট গ্রে|এডওয়ার্ড গ্রের]] চিঠি (৫ জানুয়ারি ১৯২৯), জন ক্যাম্পবেলের ''লয়েড জর্জ: দ্য গোট ইন দ্য ওয়াইল্ডারনেস, ১৯২২-১৯৩১'' (১৯৭৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২৪৩
* বল্ডউইন বলেছিলেন যে, রক্ষণশীল নেতার সবচেয়ে কম আনন্দদায়ক দায়িত্বগুলোর মধ্যে একটি হলো [[শ্রমিক শ্রেণি|কর্মজীবী শ্রেণির]] অলসতা নিয়ে এমন লোকদের লেকচার শোনা, যাদের কাছে কঠোর পরিশ্রম বলতে মুখে [[সিগার]] ধরিয়ে ধোঁয়া দিয়ে গোলাপ গাছ থেকে পোকা তাড়ানোর কাজকে বোঝায়।
** [[ডগলাস হার্ড]], ''অ্যান এন্ড টু প্রমিসেস: স্কেচ অব আ গভর্নমেন্ট, ১৯৭০-৭৪'' (১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৮৭
* [ফ্রি চার্চের সদস্যরা] মনে করে যে—আপনার মতো একজন মানুষকে আমরা আমাদের জাতীয় বিষয়ের প্রধান হিসেবে পেয়েছি, যাঁকে আমরা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি। [[উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন|গ্ল্যাডস্টোনের]] প্রতি ফ্রি চার্চের সদস্যদের যে ধরনের বিশ্বাস ছিল, আমার বয়স এখন তা মনে রাখার মতো। আমি সম্ভবত খুব একটা বাড়িয়ে বলছি না যে, তারা আপনার ওপরও ঠিক একই রকম বিশ্বাস স্থাপন করেছেন।
** বল্ডউইনকে লেখা রেভারেন্ড জে. ডি. জোনসের চিঠি (১৯ মে ১৯৩৭), ফিলিপ উইলিয়ামসনের 'দ্য ডকট্রিনাল পলিটিক্স অব স্ট্যানলি বল্ডউইন' থেকে, মাইকেল বেন্টলি সম্পাদিত, ''পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট ডকট্রিন: এসেজ ইন ব্রিটিশ হিস্ট্রি প্রেজেন্টেড টু মরিস কাউলিং'' (১৯৯৩) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২০৭-২০৮
* আমরা বল্ডউইনকে দিয়ে এই গল্পের সত্যতা স্বীকার করিয়েছিলাম যে, ট্রেনের কামরায় এক পুরোনো হ্যারো স্কুলছাত্র বল্ডউইনকে পুরোনো টাই পরা দেখে জিজ্ঞাসা করেছিল: 'আপনি কি আমার সময়ে হ্যারোতে ছিলেন না? এরপর থেকে আপনি কী করছেন?' আর এই ঘটনা ঘটেছিল যখন বল্ডউইন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
** লেডি গ্রিগকে লেখা [[থমাস জোনসের]] চিঠি (১ জুন ১৯৩৫), থমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটার্স, ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১৫০
* প্রথমে বল্ডউইনের চালাক না হওয়ার বিষয়টি মানুষকে আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু তিনি যখন বারবার নিজের বোকামি নিয়ে আবেগপ্রবণ হন, তখন সেই আকর্ষণ নষ্ট হয়ে যায়।
** স্কিডেলস্কি (১৯৯২:২৩২) উদ্ধৃত করে [[জন মেইনার্ড কেইনস|কেইনসের]] ''পেপার্স'' পিএস/৬
* ১৯১৪ সালে...মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে গভীর দ্বন্দ্ব ছিল... আজ আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি... আমি আমার সাথে হাঁটতে থাকা এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলাম, গত কয়েক বছরে কীভাবে এত বড় পরিবর্তন এলো। আমরা এর পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে আপনার একটি ভাষণের কথা মনে করলাম। যখন [[ফ্রেড ম্যাককুইস্টেন]] ট্রেড ইউনিয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন, তখন আপনি হাউজ অব কমন্সে এই ভাষণ দিয়েছিলেন। আপনি বিলটির বিরোধিতা করে ভাষণটি দিয়েছিলেন... আজ সন্ধ্যায় আমার মনে হলো, আপনি আপনার ভাষণে আমাদের সবার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। আপনি বুঝিয়েছেন যে, বিদ্বেষ, তিক্ততা ও শ্রেণি প্রতিদ্বন্দ্বিতা একেবারেই অমূলক। এর বদলে বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব সম্ভব... আমি যোগ করতে চাই, যদিও আজকাল আপনার সাথে আমাদের খুব কমই দেখা হয়, তবুও আপনার নাম প্রায়শই আমাদের মুখে থাকে এবং আপনার চিন্তাভাবনা আমাদের হৃদয়ে থাকে।
** বল্ডউইনের ১৯২৫ সালের "আমাদের সময়ে শান্তি" ভাষণের বিষয়ে বল্ডউইনকে লেখা লেবার পার্টির এমপি [[ডেভিড কার্কউডের]] চিঠি (১৯৩৯), জি. এম. ইয়াংয়ের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন'' (১৯৫২) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৯৫–৯৬
* আমি যখনই তার কথা শুনি, তখনই তিনি আমাকে প্রায় রাজি করিয়ে ফেলেন যে আমার তাঁকে সমর্থন করা উচিত। আমি মনে করি তার ভাষণগুলো আরও অনেক মানুষের ওপর একই রকম প্রভাব ফেলে।
** [[জর্জ ল্যান্সবারি]], [https://api.parliament.uk/historic-hansard/commons/1931/nov/11/business-of-the-house-government-business#S5CV0259P0_19311111_HOC_25 হাউজ অব কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১১ নভেম্বর ১৯৩১)]
* বিশেষ করে আমি যখন আপনার প্রধান ভাষণগুলো পড়ি, তখন আমি প্রায়ই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাই যে, মৌলিক নীতি নয়, বরং ঐতিহ্যই আপনাকে ডানপন্থী শক্তির কাতারে দাঁড় করিয়েছে।
** বল্ডউইনকে লেখা [[হ্যারল্ড লাস্কির]] চিঠি (৬ মার্চ ১৯৩৩), ফিলিপ উইলিয়ামসনের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন: কনজারভেটিভ লিডারশিপ অ্যান্ড ন্যাশনাল ভ্যালুস'' (১৯৯৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৪৬ এবং জি. এম. ইয়াংয়ের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন'' (১৯৫২) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৫৪
* মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবী শ্রেণিকে একই দিকে ভোট দেওয়ানোর ক্ষেত্রে তার মতো দক্ষ আর কেউ ছিল না।
** লেডি স্যালিসবারিকে লেখা [[ভিক্টর হোপ, ২য় মার্কুয়েস অব লিনলিথগো|লিনলিথগোর মার্কুয়েসের]] চিঠি (১৬ জুন ১৯৩৬), ফিলিপ উইলিয়ামসনের 'দ্য ডকট্রিনাল পলিটিক্স অব স্ট্যানলি বল্ডউইন' থেকে, মাইকেল বেন্টলি সম্পাদিত, ''পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট ডকট্রিন: এসেজ ইন ব্রিটিশ হিস্ট্রি প্রেজেন্টেড টু মরিস কাউলিং'' (১৯৯৩) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২০৪
* বল্ডউইন এখনও আমাকে বিভ্রান্ত করেন। তার যথেষ্ট যোগ্যতা থাকার কথা। সেইসাথে তার মধ্যে এক ধরনের বেপরোয়া ভাবও আছে, যা সাহসের মতো মনে হয়। তবে তার নিশ্চিতভাবেই বিচারবুদ্ধি, পরিশ্রম, উদ্দীপনা, উদ্যোগ ও সম্পদের সদ্ব্যবহারের অভাব রয়েছে। এই গুণাবলি ছাড়া কোনো মানুষই জাতিকে বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে না। তিনি হয় সাধারণ মানুষের চিন্তার বাইরের কোনো বড় উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা একজন মহান মানুষ, নয়তো তিনি আস্ত একজন বোকা। তার মধ্যে একজন প্রতারকের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে—বলতে গেলে অনেকগুলোই। তার এক অস্বাভাবিক অহংকার রয়েছে। এটি তাকে বোঝায় এবং ফলস্বরূপ অন্যদেরও বোঝায় যে, তিনি তার চারপাশের বা আগের মানুষের চেয়ে অনেক উন্নত। তিনি যদি সফল হন, তবে অগণিত ভক্ত তাকে পূজনীয় আসনে বসাবে এবং তার আসল রূপ প্রকাশ পেতে অনেক সময় লাগতে পারে।
** [[ফ্রান্সেস স্টিভেনসনকে]] লেখা [[ডেভিড লয়েড জর্জ|ডেভিড লয়েড জর্জের]] চিঠি (২০ আগস্ট ১৯২৫), এ. জে. পি. টেইলর সম্পাদিত ''মাই ডার্লিং পুসি: দ্য লেটার্স অব লয়েড জর্জ অ্যান্ড ফ্রান্সেস স্টিভেনসন, ১৯১৩-৪১'' (১৯৭৫) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৯৭
* বল্ডউইন অনেকটা নমনীয় ও কথা বলতে ভালোবাসেন এমন একজন [[ক্যালভিন কুলিজ|কুলিজের]] মতো। তার মধ্যে অনেক গুণ আছে যা সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করে। তিনি কোনোভাবেই অসাধারণ নন। তবে তার অনেক ভাষণে তিনি যেই অনুভূতিগুলো সহজে ও চমৎকারভাবে প্রকাশ করেন, তা সাধারণ ব্রিটিশদের কাছে সাধারণ জ্ঞান বলে মনে হয়। কিন্তু তার কোনো উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতা নেই। তার উদ্দেশ্যের সুস্পষ্টতা ও দৃঢ়তার অভাব রয়েছে। [[যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি|মার্কিন রাষ্ট্রপতির]] সাথে তার পার্থক্য হলো, তিনি একেবারেই পরিশ্রমী নন এবং নিজের সমস্যা সমাধানের কোনো চেষ্টাই করেন না। তার স্বভাব বেশ অমায়িক ও দয়ালু। উপায় জানা থাকলে তিনি সব মানুষের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পছন্দ করতেন। কিন্তু তিনি কোনো কাজেই কষ্ট করতে চাননি। ফলে আইন প্রণয়ন বা প্রশাসন পরিচালনা—কোনো ক্ষেত্রেই তার নিজের কোনো কৃতিত্ব নেই।
** [[ডেভিড লয়েড জর্জ|ডেভিড লয়েড জর্জ]], সংবাদপত্রের প্রবন্ধ (১৩ এপ্রিল ১৯২৭), জন ক্যাম্পবেলের ''লয়েড জর্জ: দ্য গোট ইন দ্য ওয়াইল্ডারনেস, ১৯২২-১৯৩১'' (১৯৭৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১৬৭
* একজন সৎ ও সম্মানজনক ইংরেজ।
** ১৯২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণার সময় (অক্টোবর ১৯২৪) লেবার পার্টির এমপি [[উইলিয়াম লুনের]] মন্তব্য, জন রামসডেনের ''আ হিস্ট্রি অব দ্য কনজারভেটিভ পার্টি: দ্য এজ অব বেলফোর অ্যান্ড বল্ডউইন, ১৯০২-১৯৪০'' (১৯৭৮) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২০৩
* মৌলিক সব দিক থেকেই স্ট্যানলি বল্ডউইনের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সাথে খুব মিলে যায়।
** [[র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড]], ১৯২৩।
* [বল্ডউইন হলেন] একজন খাঁটি ইউটোপিয়ান। [তিনি] ডিসরেলির মতবাদকে [একটি] ভাঁওতাবাজি থেকে...একটি আনন্দদায়ক ও সৎ অনুভূতিতে পরিণত করেছেন।
** [[র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড]], ডায়েরি (১৮ মে ১৯২৫), ফিলিপ উইলিয়ামসনের 'দ্য ডকট্রিনাল পলিটিক্স অব স্ট্যানলি বল্ডউইন' থেকে, মাইকেল বেন্টলি সম্পাদিত, ''পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট ডকট্রিন: এসেজ ইন ব্রিটিশ হিস্ট্রি প্রেজেন্টেড টু মরিস কাউলিং'' (১৯৯৩) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২০৩
* বল্ডউইনকে...নিঃসন্দেহে হাউজের সব প্রান্তের সদস্যরাই এক ধরনের স্নেহের চোখে দেখতেন। তার দলের তরুণ ও প্রগতিশীল অংশের তার প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা ছিল। বিশেষ করে শিল্প সমস্যা নিয়ে তার ভাষণগুলোতে আমরা যেমনটি আশা করতাম, ঠিক তেমনই নিখুঁত ও শিক্ষণীয় হতো। ডানপন্থী ও বিশেষ করে তথাকথিত "শিল্পপতিরা" তাঁকে খুব একটা পছন্দ না করার কারণে তার প্রতি আমাদের অনুভূতি আরও দৃঢ় হতো... সেই শুরুর দিনগুলোতে আমি তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবে চিনতাম, যিনি আমাদের এক বিশাল নির্বাচনী বিজয় এনে দিয়েছিলেন। নিজের শালীনতা ও নিরপেক্ষতার সুনামের কারণে তিনি সারা দেশে কর্মজীবী নারী-পুরুষের সমর্থন আদায় করা সম্ভব করে তুলেছিলেন।
** [[হ্যারল্ড ম্যাকমিলান]], ''উইন্ডস অব চেঞ্জ, ১৯১৪-১৯৩৯'' (১৯৬৬), পৃষ্ঠা ১৬৯-১৭০
* আগের নির্বাচনে বল্ডউইনের রেডিও সম্প্রচার...সব শ্রোতার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। রেডিও সম্প্রচার...প্রথমবারের মতো ১৯২৪ সালে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল... বল্ডউইন একটি পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন—যাকে পরবর্তীতে [[ফ্র্যাংকলিন ডি. রুজভেল্ট|প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট]] "ফায়ারসাইড চ্যাট" হিসেবে পূর্ণতা দিয়েছিলেন। তিনি সহজ, স্পষ্ট ও পরিমিত ছিলেন। তিনি মনে হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রেখেছিলেন যে, রেডিও ভাষণে...শ্রোতারা নিজ বাড়িতে বসে থাকা মাত্র দু-তিনজন মানুষ। তারা ভাষণ নয়, বরং কথাবার্তা শুনতে চায়... [[১৯২৬ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ ধর্মঘট|সাধারণ ধর্মঘটের]] সময় তার প্রজ্ঞা ও সহানুভূতি আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। যেমনটি করেছিল এর আগের বছর পলিটিক্যাল লেভি বিলে তার বিখ্যাত ভাষণ... তিনি "বুদ্ধিজীবীদের" অপছন্দ করার ভান করতেন। কিন্তু এটি উচ্চ মেধার অধিকারীদের একটি সাধারণ ভান। বল্ডউইন অবশ্যই একজন রূঢ় গ্রামবাসীর চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল শিল্পী ছিলেন। কারণ তিনি অর্ধেক কেল্টিক ছিলেন... এমনকি সবচেয়ে সাধারণ পর্যবেক্ষকের কাছেও এটি স্পষ্ট ছিল যে, বল্ডউইন সংকটের সময় নিজের সেরাটা দিতে পারতেন। এর পরপরই তার বিশ্রাম ও সুস্থ হওয়ার প্রয়োজন হতো। তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্নায়বিক ছিলেন। দলের লোকজন তার যেই ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল, তিনি প্রায় সব দিক থেকেই তার বিপরীত ছিলেন। লর্ড লিভারপুল সম্পর্কে বলা হতো, তার নীতির রহস্য হলো, তার কোনো নীতিই নেই। বল্ডউইনের ক্ষেত্রেও এটি অনেকাংশে সত্যি ছিল। রক্ষণশীলতা, "সুরক্ষা", প্রতিরক্ষা এবং সর্বোপরি ইউরোপীয় সমস্যা তাকে খুব একটা উত্তেজিত করত না। তিনি কোনো মহান প্রশাসক ছিলেন না। তিনি একটি প্রভাব ছিলেন এবং মঙ্গলের জন্য প্রভাব ছিলেন। বিরোধী লেবার পার্টির শ্রদ্ধা ও স্নেহ অর্জন করাটা আমাদের নেতার প্রতি আমাদের প্রশংসাকে আরও মজবুত করেছিল।
** [[হ্যারল্ড ম্যাকমিলান]], ''উইন্ডস অব চেঞ্জ, ১৯১৪-১৯৩৯'' (১৯৬৬), পৃষ্ঠা ১৭০-১৭২
* তার...উদ্দেশ্য ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জাতি যেই বিপজ্জনক বিভাজনের মুখে পড়েছিল, তা দূর করতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। তাই তিনি সুকৌশলে পরিমিতিবোধের মাধ্যমে দলের ঊর্ধ্বে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন। বল্ডউইন হাউজ অব কমন্সের [[লেবার পার্টি (যুক্তরাজ্য)|লেবার]] সদস্যদের প্রলুব্ধ করে তাদের আস্থা অর্জন করেছিলেন। তার পুরো দর্শন তাঁকে এই বিশ্বাস দিয়েছিল যে, লেবার পার্টিকে গণতন্ত্রের জন্য নিরাপদ করা এবং তাদের বিপ্লবী পদ্ধতি থেকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফিরিয়ে আনা তার অন্যতম প্রধান কাজ। তিনি এও জানতেন যে, ভোটারদের সেই কেন্দ্রীয় অংশের সমর্থন না পেলে কনজারভেটিভ পার্টির কোনো ভবিষ্যৎ নেই... তাই ডানপন্থীদের নয়, বরং কনজারভেটিভ পার্টির মধ্য ও বামপন্থীদেরই দলের নীতি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এই মানসিকতা ও পদ্ধতিতে শ্রেণিসংগ্রাম ও স্থূল মতাদর্শ ধীরে ধীরে প্রশমিত হবে। ব্যাপক বেকারত্বের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভোগ ও অসন্তোষ যে বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক আন্দোলনে রূপ নেয়নি, তা আংশিকভাবে তার দৃষ্টান্ত ও বোঝাপড়ার কারণেই সম্ভব হয়েছিল।
** [[হ্যারল্ড ম্যাকমিলান]], ''উইন্ডস অব চেঞ্জ, ১৯১৪-১৯৩৯'' (১৯৬৬), পৃষ্ঠা ৫১৫-৫১৬
* বল্ডউইন হয়তো জাতির অন্তর্নিহিত ঐক্য বজায় রাখা ও জোরদার করার গুরুত্বপূর্ণ কাজে সফল হয়েছিলেন, যার ওপর জাতির চূড়ান্ত শক্তি নির্ভর করে। কিন্তু একজন প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ দায়িত্ব—সম্মানজনক শান্তি বজায় রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্রিটেনকে তার উপযুক্ত ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত রাখা—সেক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি তার উত্তরসূরির জন্য পররাষ্ট্র পরিস্থিতি এবং ব্রিটেনের আসন্ন বিপদ মোকাবিলার ক্ষমতার ক্ষেত্রে এক শুষ্ক ও অনুর্বর উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছিলেন। যদিও মানবিক অনুভূতির দিক থেকে তিনি এমন এক দেশ রেখে গিয়েছিলেন, যেখানে দয়া ও শালীনতা তখনও বিরাজমান ছিল। আর যখন পরীক্ষার সময় এসেছিল, তখন এ দেশের নারী-পুরুষেরা সেই পরিস্থিতির যোগ্য জবাব দেওয়ার মতো মনোবল দেখিয়েছিল।
** [[হ্যারল্ড ম্যাকমিলান]], ''উইন্ডস অব চেঞ্জ, ১৯১৪-১৯৩৯'' (১৯৬৬), পৃষ্ঠা ৫১৭
* '''স্ট্যানলি বল্ডউইন একজন সফল প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কারণ প্রত্যেক সাধারণ ইংরেজ জানত যে তিনি তাদের সংস্কারগুলো শেয়ার করেন এবং তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেন।'''
** [[কিংসলে মার্টিন]], ''এডিটর। আ সেকেন্ড ভলিউম অব অটোবায়োগ্রাফি। ১৯৩১-৪৫'' (১৯৬৮), পৃষ্ঠা ২১
* তিনি সবসময় ধীরগতিতে চলতেন। সব কাজেই দেরি করতেন। তবে সহজাতভাবেই তিনি খুব চতুর ছিলেন। তিনি সবাইকে বিভ্রান্ত করতেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের মেজাজে খুব দ্রুত সাড়া দিতেন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছ থেকে আমি জেনেছিলাম, যুদ্ধের ভয়ই সবসময় তার নীতি বা নীতিহীনতার প্রধান কারণ ছিল... চেম্বারলেইনের মতো তিনিও জানতেন, পুনরায় অস্ত্রশস্ত্র মজুত করা হলো আরেকটি জার্মান যুদ্ধের প্রথম ধাপ। তাই তার [[ডানপন্থী রাজনীতি|ডানপন্থী]] সমালোচকদের তোলা অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ছিল না। তারা অভিযোগ করতেন যে, ব্রিটেনকে শক্তিশালী মিত্র ছাড়া সাম্রাজ্য রক্ষায় সাধারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তিনি ও ম্যাকডোনাল্ড বাধা দিয়েছিলেন। বল্ডউইন কখনোই সাম্রাজ্যবাদী ছিলেন না। একই সময়ে, তিনি নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনকে বাস্তবায়ন করতে কিছুই করেননি। বরং বিকল্প যৌথ নিরাপত্তা নীতি ধ্বংস করতে সব চেষ্টাই করেছিলেন। যুদ্ধের প্রতি তার ভয় ও ঘৃণা পুরোপুরি আন্তরিক ছিল। তিনি তার বিখ্যাত 'দ্য-বোম্বার-উইল-অলওয়েজ-গেট-থ্রু' ভাষণটি শেষ করেছিলেন তরুণদের কাছে এমন ভয়াবহতা প্রতিরোধের এক আন্তরিক আবেদন জানিয়ে... বল্ডউইনের চাবিকাঠি কী ছিল?...এটি ছিল ওরচেস্টারশায়ারের গ্রামাঞ্চল ও [[মেরি ওয়েব|মেরি ওয়েবের]] সাহিত্যকর্ম। মেরি ওয়েব ছিলেন একজন সহৃদয় জনপ্রিয় গ্রামীণ জীবনের লেখক। তার চাচাতো ভাই [[রুডইয়ার্ড কিপলিং|রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের]] ধারণা ও মূল্যবোধ তাঁকে আকর্ষণ করেনি। সংক্ষেপে, তিনি একজন 'লিটল ইংল্যান্ডার' ছিলেন। তিনি বিদেশিদের অপছন্দ করতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে [[ইংল্যান্ড]] আর একটি যুদ্ধ সহ্য করতে পারবে না। লিগের মতো বড় ধারণাগুলো বিপজ্জনক। তবে ব্রিটিশ জনগণ তাদের স্বার্থ চরমভাবে বিপন্ন হলে যুদ্ধ করবে। হিটলারের বিরুদ্ধে তাদের হয়তো অস্ত্র ধারণ করতে হবে। যদিও সাম্রাজ্যের প্রতি তার খুব একটা আগ্রহ ছিল না, কিন্তু অনেকেই উপনিবেশগুলো জার্মানিকে ফিরিয়ে দেওয়ার যেই কথা বলছিল, তিনি তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে মনে করতেন... তিনি একটি কনভেয়র বেল্টে নির্মমভাবে বাঁধা যান্ত্রিক গতির সভ্যতার ভয়াবহ পরিণতির সাথে গ্রামাঞ্চলের...শান্ত, প্রাচীন জীবনের একটি পার্থক্য তুলে ধরতেন... তিনি দয়ালু, সহানুভূতিশীল ও একজন বন্ধুত্বপূর্ণ গ্রামের ভদ্রলোকের দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী ছিলেন। তিনি কিপলিংয়ের মতো ছিলেন না এবং অবশ্যই [[ব্রিটিশ শিল্পপতি ফেডারেশন|ব্রিটিশ শিল্পপতি ফেডারেশনের]] মতো তো নয়ই... একটি জোট সরকার পরিচালনার সঠিক গুণাবলি তার মধ্যে ছিল। '''তিনি একজন রক্ষণশীলের মতো কাজ করতেন, লিবারেলদের মতো কথা বলতেন এবং কথায় ও কাজে সবসময়ই বিশাল ব্রিটিশ মধ্যবিত্ত শ্রেণির সত্যিকারের প্রতিনিধি ছিলেন।'''
** কিংসলে মার্টিন, ''এডিটর। আ সেকেন্ড ভলিউম অব অটোবায়োগ্রাফি। ১৯৩১-৪৫'' (১৯৬৮), পৃষ্ঠা ১৯১-১৯৯
* গত সত্তর বছরে আর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে স্ট্যানলি বল্ডউইনের মতো এত কঠোরভাবে একপেশে ছাঁচে ফেলা হয়নি। সমসাময়িকদের প্রাথমিক মূল্যায়নের পর আর কাউকেই এত বেশি অবহেলা করা হয়নি।
** [[কিথ মিডলমাস]]
* সমসাময়িক ইতিহাসবিদদের কাছে বল্ডউইন হলেন একজন ভালো মানুষ, একজন আদর্শবাদী এবং একজন সম্মানিত ভদ্রলোক। এই ভূমিকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি যোগ্যতাই তার মধ্যে রয়েছে। আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, তিনি আমাদের সময়ের একমাত্র রাজনীতিবিদ, যিনি সততার সাথে দলের চেয়ে নিজেকে এবং দলের চেয়ে দেশকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন...আমরা [[আর্থার বেলফোর|লর্ড বেলফোরের]] অবিচল আদর্শবাদ, কর্মজীবী মানুষের প্রতি [[এইচ. এইচ. অ্যাসকুইথ|লর্ড অক্সফোর্ডের]] গভীর আগ্রহ বা ক্ষমতার প্রতি [[ডেভিড লয়েড জর্জ|লয়েড জর্জের]] নিঃস্বার্থ উদাসীনতা—কোনোটিই ভুলে যাইনি। তবু আমরা বলি, অন্য কোনো নেতার অধীনে ইংল্যান্ড সাধারণ ধর্মঘট এত ভালোভাবে পার করতে পারত না। তিনি আমাদের বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, শুধু চালাকিই যথেষ্ট নয়...একজন রাজনীতিবিদকে 'ভালো মানুষ' হিসেবে ডাকার সাথে আমরা এতই অপরিচিত যে, আপাতত আমরা বল্ডউইনকে শুধু প্রশংসায় ভাসাতে চাই। কিন্তু এটি বেশি দিন স্থায়ী হবে না। এমন সময় আসবে যখন আমরা ব্যবহারের জন্য অন্য কোনো অস্ত্র খুঁজব।
** [[এ. এ. মিলনে]], ''বাই ওয়ে অব ইন্ট্রোডাকশন'' (১৯২৯), পৃষ্ঠা ৬৪, ৬৮-৬৯
* বল্ডউইন নির্বাচনে দলের হারের ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে যুদ্ধে দেশ হারানোর ঝুঁকি বেশি নিতেন। তিনি নিজের নিম্নমানের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে ব্রিটেনের জীবন নিয়ে রাজনীতি করেছেন। তার অলস ভীরুতা সবসময় যেকোনো মূল্যে ঝামেলা এড়াতে চাইত। ফলে তিনি তার দেশের নীতি হিসেবে বর্তমান শিল্প কাঠামো রেখে গেছেন। বল্ডউইন থাকা সত্ত্বেও পরাজয়ের ভাগ্য এড়ানো গিয়েছিল, কিন্তু বল্ডউইন যুগের পরিণাম এখনো আমাদের দেশকে তাড়া করে।
** [[অসওয়াল্ড মোসলি]], ''মাই লাইফ'' (১৯৬৮), পৃষ্ঠা ৩৮০
* তাঁকে অন্তত স্টাফড শার্ট বা দাম্ভিক বলেও সম্মান দেওয়া যায় না। তিনি শুধু বাতাসের একটি গর্ত ছিলেন।
** [[জর্জ অরওয়েল]], [http://www.k-1.com/Orwell/index.cgi/work/essays/lionunicorn.html ''দ্য লায়ন অ্যান্ড দ্য ইউনিকর্ন'' (১৯৪১) পার্ট ১ : ইংল্যান্ড ইওর ইংল্যান্ড] গ্রন্থে
* আমি তাঁকে ফিসফিস করে বলেছিলাম, "মিসেস বল্ডউইন, আপনি তো ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন।" তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "অবশ্যই করি। আপনাকে একটি কথা বলতে চাই, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা দুজন একসাথে ঈশ্বরের কাছে নতজানু হই। দিনটি তার কাছে সমর্পণ করি। আমরা প্রার্থনা করি যেন আজ আমরা কোনো ভালো কাজ করতে পারি। আমরা নিজেদের জন্য নয়, বরং দেশ ও ঈশ্বরের জন্য কাজ করছি। নইলে আমরা কীভাবে বাঁচতাম?" তিনি আমার দিকে আন্তরিক ও স্বাভাবিকভাবে তাকিয়েছিলেন। আমি তাদের জীবন সম্পর্কে সরল ও গভীর উপলব্ধি বুঝতে পেরেছিলাম।
** [[এরিক পামস্টিয়র্না]], ''আটস্কিলিজিয়া এগেনহেটার'' (১৯৫০), পৃষ্ঠা ৭, থমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটার্স, ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪) গ্রন্থে অনূদিত, পৃষ্ঠা xxxiv
* বল্ডউইনের যেকোনো সমালোচনাই ঈশ্বরনিন্দার মতো মনে হতো।
** [[স্যার চার্লস পেট্রি, ৩য় ব্যারোনেট|চার্লস পেট্রি]], ''টুয়েন্টি ইয়ারস আর্মিসটিস—অ্যান্ড আফটার: ব্রিটিশ ফরেন পলিসি সিন্স ১৯১৮'' (১৯৪০), পৃষ্ঠা ১১৭
* সব দলের মানুষই তার সাথে দেখা করতে আসত, বিশেষ করে লেবার পার্টির লোকেরা। তাদের অনেককেই তিনি পছন্দ করতেন। আমি নিশ্চিত, বল্ডউইনের সাথে পরিচিত হয়ে কেউ তাঁকে অপছন্দ করতে পারবে না। এমনকি তাঁকে ভালো না বেসেও থাকতে পারবে না।
** ১৯৩৮ সালে স্ট্যানলি বল্ডউইনকে নিয়ে লেখা [[জে. ডব্লিউ. রবার্টসন স্কটের]] মন্তব্য।
* ঠিক সাত বছর আগে আমি দেশে একটি সংবাদ পাঠিয়েছিলাম। সেখানে আমি ''[[মাইন কাম্ফ|মাইন কাম্ফের]]'' সব অশুভ অংশের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছিলাম। আমি সামরিকবাদের পুনরুত্থানের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম, যার পরিণতি হতে পারে একমাত্র যুদ্ধ। যাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তাদের সবার জন্যই এটি একটি চিন্তার বিষয় ছিল। ''মাইন কাম্ফ'' ডেসপ্যাচ নামে পরিচিত এই সংবাদটি বেশ সাড়া ফেললেও পরবর্তীতে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। [[র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড|ম্যাকডোনাল্ড]] বা বল্ডউইন—কেউই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চাননি। প্রথমজন মারা গেছেন, আর দ্বিতীয়জন সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। বর্তমান মন্ত্রীদের কয়েকজনও এর জন্য দায়ী। সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট বা নিরস্ত্রীকরণের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বল্ডউইন ও তার সঙ্গীরা আক্ষরিক অর্থেই সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে জুয়া খেলেছেন, যা ছিল ক্ষমার অযোগ্য। [[রাইনল্যান্ডের পুনঃসামরিকীকরণ|রাইনল্যান্ড পুনঃদখলের]] পর আমাদের সরকারের দ্রুত পুনরায় সামরিকীকরণ শুরু করা উচিত ছিল। এটি দেখিয়েছিল যে, [[অ্যাডলফ হিটলার|হিটলার]] আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে কী ভাবেন। আপনি হয়তো বলবেন, দেশের মানুষ পুনরায় সামরিকীকরণ সমর্থন করত না। তাহলে একটি সরকারের কাজ কী? যেকোনো মূল্যে নিজেকে ও নিজের দলকে ক্ষমতায় রাখা, নাকি প্রয়োজনে দেশকে অপ্রিয় সত্য কথা বলা? পুনরায় সামরিকীকরণ ইস্যুতে বল্ডউইন পদত্যাগ করলে, এমন বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি সরকারের পদত্যাগ দেশের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলত।
** [[নেভিল হেন্ডারসনকে]] লেখা [[স্যার হোরেস রামবোল্ড, ৯ম ব্যারোনেট|হোরেস রামবোল্ডের]] চিঠি (১৫ এপ্রিল ১৯৪০), মার্টিন গিলবার্টের ''স্যার হোরেস রামবোল্ড: পোর্ট্রেট অব আ ডিপ্লোম্যাট, ১৮৬৯-১৯৪১'' (১৯৭৩) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪৯
* বল্ডউইন নিঃসন্দেহে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন... যখন [[জার্মানির পুনঃসামরিকীকরণ|জার্মানির সামরিক প্রস্তুতি]] এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তার জবাবে একটি জাতীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি ছিল, তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি তার চোখের সামনের প্রমাণগুলো দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন। যখন প্রমাণগুলো আর উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না, তখনও তিনি গড়িমসি করেছিলেন। তিনি ভোটারদের বিরোধিতার ভয় পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নীতি ঘোষণা করে জনগণের ইচ্ছা যাচাই করেননি বা বিপদের কথা জানিয়ে তাদের পথপ্রদর্শনও করেননি। তিনি দেশবাসীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় রেখেই পদত্যাগ করেছিলেন। এমনকি প্রস্তুত করার কোনো প্রস্তুতিও তিনি নেননি... [[নাৎসিদের ক্ষমতা দখল|১৯৩৩ সালের জানুয়ারিতে]] শুরু হওয়া ঐতিহাসিক সময়েই কাজ করার অনিয়মিত ইচ্ছা ও অপছন্দের কাজ করার প্রতি অনীহার মতো তার এই ত্রুটিগুলো সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে, যা একটি বড় জাতীয় বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। তিনি কাছাকাছি থাকা কোনো শক্তির সাথে বিমান সক্ষমতার সমতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাতির ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রশমিত করেছিলেন। কিন্তু তিনি এটি বাস্তবায়নে কিছুই করেননি। একজন প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বিস্ময়কর স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেছিলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য তিনি যেই নীতি প্রয়োজন মনে করেছিলেন, তিনি তা প্রস্তাব করা থেকে বিরত ছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে জনগণ তা মেনে নেবে না। অথচ তিনি এই জনগণকে শুধু নির্দেশনাই দেননি, বরং তাদের এক বোকার স্বর্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। দূরদৃষ্টির অভাব বা পরিস্থিতি বিচার করার অক্ষমতা, এমনকি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাজ না করতে পারা তার পতনের কারণ ছিল না। বরং তার ইচ্ছাশক্তির বারবার আসা অলসতাই তার এবং আমাদের পতনের কারণ ছিল।
** [[আর্থার সল্টার, ১ম ব্যারন সল্টার|আর্থার সল্টার]], ''সিকিউরিটি: ক্যান উই রিট্রিভ ইট?'' (১৯৩৯), পৃষ্ঠা ১৯৪, ১৯৭-১৯৮
* সেভয় হোটেলে [[ইয়ান মাটস|মাটসের]] সাথে সকালের নাশতা করলাম... আমি তাঁকে বল্ডউইন সম্পর্কে জানতে চাইলাম, যিনি তখন কিছুটা অজানা ছিলেন। তিনি কি শক্তিশালী এবং যোগ্য? মাটস এই দুই বিষয়েই কিছুটা মিশ্র মত দিলেন। তিনি বলেছিলেন, বল্ডউইন একজন চমৎকার মানুষ এবং আন্তরিক ও সৎ। তবে তার বিচারবুদ্ধি ও উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করতেন।
** [[সি. পি. স্কট]], ডায়েরি (২৭ অক্টোবর ১৯২৩), ট্রেভর উইলসন সম্পাদিত ''দ্য পলিটিক্যাল ডায়েরিজ অব সি. পি. স্কট, ১৯১১-১৯২৮'' (১৯৭০) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪৬
* অ্যাথেনিয়ামে [[র্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের]] সাথে দুপুরের খাবার খেলাম... সরকার দেশের মানুষের কাছে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এটি স্মৃতিতে থাকা সবচেয়ে দুর্বল ও বোকা সরকার এবং দেশের জন্য সত্যিকারের এক কলঙ্ক... বেচারা বল্ডউইন সম্পর্কে বলতে গেলে, আমি সেদিন তার সাথে কোনো একটি বিষয়ে কথা বলছিলাম এবং তিনি পুরোপুরি বিভ্রান্ত ছিলেন... তিনি এক অসাধারণ ব্যর্থতা। তিনি কী করতে চান তা জানেন না এবং জানলেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষমতা তার নেই। স্মৃতিতে থাকা সবচেয়ে দুর্বল প্রধানমন্ত্রী।
** [[সি. পি. স্কট]], ডায়েরি (২৩ জুলাই ১৯২৭), ট্রেভর উইলসন সম্পাদিত ''দ্য পলিটিক্যাল ডায়েরিজ অব সি. পি. স্কট, ১৯১১-১৯২৮'' (১৯৭০) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৮৯-৪৯০
* দলের নেতা হিসেবে মাননীয় বেউডলি সদস্য ছিলেন '''একজন উদার ও সাহসী প্রতিপক্ষ। হাউজের নেতা হিসেবে আমরা জানতাম যে এর সম্মান ও মর্যাদা তার হাতে নিরাপদ। যতদিন এ দেশে মনের বিশালতা এবং মানবিক সহানুভূতি ও বোঝাপড়ার মতো গুণাবলি সম্মানিত হবে, ততদিন তিনি আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।''' ...মাননীয় বেউডলি সদস্য এই হাউজ থেকে অন্য একটি স্থানে যাচ্ছেন। তার সুস্বাস্থ্য ও শক্তির জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাসী শুভকামনা তার সাথে থাকবে। বিরোধী দলের নেতার মতো আমরাও নিশ্চিত যে, তিনি তার অবসর ও বিশ্রাম উপভোগ করবেন। পাশাপাশি তিনি জাতির বিষয়ে আরও অনেক বড় ভূমিকা পালন করবেন।
** বল্ডউইনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অবসরের পর হাউজ অব কমন্সে দেওয়া একটি [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1937/may/31/welcome-to-new-prime-minister ভাষণে] (৩১ মে ১৯৩৭) লিবারেল পার্টির নেতা [[আর্চিবল্ড সিনক্লেয়ার, ১ম ভিসকাউন্ট থারসো|আর্চিবল্ড সিনক্লেয়ার]]
* [বল্ডউইন হলেন] একজন সৎ ও ভদ্র মানুষ। রক্ষণশীলদের সাথে প্রতিটি বিষয়ে আমার দ্বিমত থাকলেও...আমি তাদের মূলত সম্মানজনক মানুষ হিসেবেই দেখেছি, যারা অন্তত নিজেদের মতামতের প্রতি অবিচল ছিলেন।
** ১৯২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণার সময় (অক্টোবর ১৯২৪) লেবার পার্টির এমপি [[হেনরি স্লেসারের]] মন্তব্য, জন রামসডেনের ''আ হিস্ট্রি অব দ্য কনজারভেটিভ পার্টি: দ্য এজ অব বেলফোর অ্যান্ড বল্ডউইন, ১৯০২-১৯৪০'' (১৯৭৮) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২০৩
* হাউজের আমাদের পক্ষে স্ট্যানলি বল্ডউইনের কোনো শত্রু ছিল না এবং আমাদের সব সদস্য তাঁকে বিশ্বাস করতেন। টোরি পার্টির নেতা হিসেবে তার দুর্বলতা ছিল এই যে, তিনি রাজনৈতিক নিচতা দেখাতে অক্ষম ছিলেন। তিনি কখনো সস্তা অভিযোগ করতেন না বা নোংরা আঘাত হানতেন না। তিনি যদি খুব কমই উচ্চমার্গীয় বক্তব্য বা বড় অর্জনের শিখরে পৌঁছে থাকেন, তবে তিনি কখনোই কোনোটিতে সাধারণ স্তরে নেমে আসেননি। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, বন্ধুত্বপূর্ণ ও দৃঢ়। তার মধ্যে কোনো চালাকি বা বাড়াবাড়ি ছিল না। সবাই তাঁকে পছন্দ করত।
** [[হ্যারি স্নেল, ১ম ব্যারন স্নেল|হেনরি স্নেল]], ''মেন, মুভমেন্টস অ্যান্ড মাইসেলফ'' (১৯৩৬), পৃষ্ঠা ২৪৭
* বল্ডউইনের একটি বহুল স্মরণীয় ভাষণ হলো...যা তিনি ১৯২৫ সালের ৬ মার্চ দিয়েছিলেন। ট্রেড ইউনিয়নের রাজনৈতিক তহবিল সংক্রান্ত একটি প্রাইভেট মেম্বার বিলের আলোচনার সময় তিনি এই ভাষণ দিয়েছিলেন। বল্ডউইন...এমন এক সময়ে এই বিতর্কিত বিষয়টি উত্থাপন করার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, যখন এমন কিছু না করাটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যাতে সন্দেহ তৈরি না হয় যে সংসদ ট্রেড ইউনিয়নের ওপর আক্রমণ করছে... তিনি তার ভাষণ শেষ করেছিলেন এই কথা বলে: "আমি জানি, এই হাউজের বেশিরভাগ সদস্যের চেয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে কাজ করেন এমন অনেকে আছেন। তা সত্ত্বেও সব দলের সব স্তরের অনেকেই আমার প্রার্থনার প্রতিধ্বনি করবেন, 'হে প্রভু, আমাদের সময়ে শান্তি দাও।'" এটি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল যে, বল্ডউইনের ভাষণের শেষে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস তার নিজের দলের কাছ থেকে আসেনি, বরং এসেছিল লেবার বেঞ্চ থেকে। হাউজ অব কমন্সে এমন গভীর প্রভাব ফেলা কোনো ভাষণ আমার খুব একটা মনে পড়ে না। এটি ছিল প্রকৃত স্ট্যানলি বল্ডউইনের প্রকাশ। এটি গরিবদের প্রতি তার সহানুভূতি এবং পুঁজিপতি ও শ্রমিকদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রবল আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল। তার আন্তরিকতা ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ সন্দেহ করতে পারেনি। ভাষণটি বল্ডউইনের সুস্থ ও শান্ত রক্ষণশীলতা এবং তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের পুরোনো টোরিবাদের মধ্যে গভীর ও মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরেছিল। যারা এটি শোনার সুযোগ পেয়েছেন, তারা এই ভাষণটি সবসময় মনে রাখবেন।
** ফিলিপ স্নোডেন]], ''অ্যান অটোবায়োগ্রাফি। ভলিউম টু, ১৯১৯-১৯৩৪'' (১৯৩৪), পৃষ্ঠা ৭৪১-৭৪২
* পরিশেষে বলতে হয়, বল্ডউইন একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি হয়তো অবহেলার একটি উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। তবে তিনি এমন সব সভ্য মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও উন্নত করেছেন, যা ব্রিটিশ রাজনীতি ও ব্রিটিশ জনগণকে আলাদা করেছে।
** কেনেথ ইয়াংয়ের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন'' (১৯৭৬) গ্রন্থের ভূমিকায় [[w:এ. জে. পি. টেইলর|এ. জে. পি. টেইলর]], পৃষ্ঠা ix-x
* ঘৃণায় ভরা এক পৃথিবীতে, তিনি মানুষকে একে অপরকে পছন্দ করতে, বা অন্তত সহ্য করতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। এই দ্বীপের সীমানার মধ্যে তিনি অনেকাংশে সফলও হয়েছিলেন। তিনি সব প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানবিক ও স্নেহশীল মানুষ হিসেবে রয়ে গেছেন।
** [[জর্জ ম্যাকোলে ট্রেভেলিয়ান|জি. এম. ট্রেভেলিয়ান]]
* বল্ডউইনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়ার পর আসল পরিবর্তনটি আসে... নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাথে সাথেই...জনসাধারণের কল্পনা কেড়ে নিয়েছিলেন। তার প্রশান্তি, সাধারণ জ্ঞান, পরিমিতিবোধ, বিনয় ও স্পষ্ট আন্তরিকতা দেখে মানুষ বলতে শুরু করে, "এই সেই মানুষ, একজন সাধারণ ইংরেজ, যাঁকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিলাম। আমরা ওয়েলশম্যান ও আইনজীবী, সেরা মেধা ও অতিমানবদের দেখে ক্লান্ত। আমরা পুরোনো ধাঁচের ইংরেজ রাষ্ট্রনায়কদের চাই, যারা বুদ্ধিমান হওয়ার চেয়ে ন্যায্য, বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল হবেন। এমন কাউকে চাই না যিনি সবার চেয়ে এগিয়ে চিন্তা করেন।"
** লর্ড লিটনকে লেখা লর্ড উইন্টারটনের (এডওয়ার্ড টার্নুর) চিঠি (১১ সেপ্টেম্বর ১৯২৩), কিথ মিডলমাস ও জন বার্নসের ''বল্ডউইন: আ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২১১
* ১৯২৪ থেকে ১৯৩৭ সালের মধ্যে আপনার রাষ্ট্রনায়কত্বের চরম পরীক্ষা এখন সামনে। যদি এই সরকার সাংবিধানিকভাবে দেশ পরিচালনায় প্রস্তুত থাকে, তবে তার কারণ হবে আপনি তাদের একটি বিপ্লবী দলের বদলে একটি সংসদীয় দল হতে শিখিয়েছেন। আমার সবসময়ই বিশ্বাস ছিল যে, আপনি আর যা-ই অর্জন করে থাকুন না কেন, এটি অন্য সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। সে সময়ের আমাদের আলোচনার কথা মনে করে বলতে পারি, এটি ছিল আপনার নিয়মিত ও সচেতন লক্ষ্য। আমার বিশ্বাস, ইতিহাস আমাদের প্রজন্মের অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে সংসদীয় সরকার বাঁচানোর কৃতিত্ব আপনাকেই দেবে।
** সংসদে লেবার পার্টি প্রথমবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরপরই বল্ডউইনকে লেখা চিঠি (প্রায় জুন ১৯৪৫), জি. এম. ইয়াংয়ের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন'' (১৯৫২) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২৫৪
* তার সব কাজের পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল [[ডেভিড লয়েড জর্জ|লয়েড জর্জ]] ও তার প্রভাবের ভয়। [[অস্টেন চেম্বারলেইন|অস্টেন]] ও এফ.ই.-র ওপর লয়েড জর্জ ও [[w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টনের]] প্রভাবের ভয়ই তাঁকে উইনস্টনকে অর্থমন্ত্রীর পদের প্রস্তাব দিতে প্ররোচিত করেছিল। পরবর্তীতে মূলত উইনস্টন ও লয়েড জর্জকে বাইরে রাখতেই তিনি [[w:র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড|র্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের]] সাথে সেই সমান বিপর্যয়কর জোট গঠনে সম্মত হন।
** থমাস জোনসকে লেখা এক সাবেক রক্ষণশীল মন্ত্রিপরিষদ সদস্যের চিঠি (১২ নভেম্বর ১৯৫১), থমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটার্স, ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা xxxii
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{কমন্স|স্ট্যানলি বল্ডউইন}}
* ["১০ ডাউনিং স্ট্রিট"-এ প্রোফাইল http://www.number-10.gov.uk/output/Page137.asp]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের রাজনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬৭-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪৭-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:কনজারভেটিভ পার্টি (যুক্তরাজ্য)-এর রাজনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের অ্যাংলিকান]]
[[বিষয়শ্রেণী:বার্মিংহামের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রয়েল সোসাইটির ফেলো]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা]]
[[বিষয়শ্রেণী:হাউজ অব কমন্সের নেতা (যুক্তরাজ্য)]]
[[বিষয়শ্রেণী:বোর্ড অব ট্রেডের সভাপতি (যুক্তরাজ্য)]]
c7n3c64havf7ocseqxk2vnn2lrxxhju
83231
83226
2026-05-01T14:16:50Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
83231
wikitext
text/x-wiki
[[File:Stanley Baldwin ggbain.35233 (cropped).jpg |thumb|right|আমাদের নিজেদের জনগণের প্রতি সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো সত্য বলতে ভয় পাওয়া … পুরোনো সীমানাগুলো আর নেই।]]
'''[[w:স্ট্যানলি বল্ডউইন|স্ট্যানলি বল্ডউইন, বিউডলির ১ম আর্ল বল্ডউইন]]''' কেজি পিসি (৩ আগস্ট ১৮৬৭ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৭) তিনটি ভিন্ন মেয়াদে (১৯২৩–২৪, ১৯২৪–২৯ এবং ১৯৩৫–৩৭) [[w:যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী|যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী]] ছিলেন।
==উক্তি==
===১৯১০-এর দশক===
[[Image:Stanley Baldwin.JPG|thumb|আমার মধ্যে একটা ধারণা গেঁথে গেছে যে যুদ্ধের সময় সবাই যার যা খুশি তাই আদায় করতে ব্যস্ত এবং এটা আমাকে বিরক্ত করে।]]
*আমার মধ্যে একটা ধারণা গেঁথে গেছে যে, যুদ্ধের সময় সবাই যার যা খুশি তাই আদায় করতে ব্যস্ত এবং এই জিনিসটা আমাকে বিরক্ত করে।
**লেডি ডিকিনসনকে লেখা চিঠি (২৮ নভেম্বর ১৯১৭), রবার্ট রোডস জেমস (সম্পাদিত), ''মেমোয়ার্স অব অ্যা কনজারভেটিভ: জে. সি. সি. ডেভিডসনস মেমোয়ার্স অ্যান্ড পেপারস, ১৯১০-১৯৩৭'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৭৯-এ উদ্ধৃত।
* '''অনেক শক্ত মুখের মানুষ, যাদের দেখে মনে হয় তারা যুদ্ধ থেকে বেশ ভালোই ফায়দা লুটেছে।'''
** ১৯১৮ সালে নির্বাচিত নতুন এমপিদের নিয়ে; জন মেনার্ড কেইনস তার ''ইকোনমিক কনসিকোয়েন্সেস অফ দ্য পিস'', অধ্যায় ৫-এ উদ্ধৃত করেছেন।
*আমার আত্মার কী হবে? ওটা ঠিক আছে। এমন সেবার মূল কথা হলো নিঃস্বার্থতা। আমার প্রথম চিন্তা হতে হবে অন্যদের নিয়ে, রাজমুকুট ও জনগণের সম্পর্ক নিয়ে: টাকা বা আমার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার কোনো সুযোগ থাকবে না।
**সরকারি দায়িত্ব গ্রহণের কথা ভেবে জে. সি. সি. ডেভিডসনকে লেখা চিঠি (২৮ জানুয়ারি ১৯১৯), রবার্ট রোডস জেমস (সম্পাদিত), ''মেমোয়ার্স অব অ্যা কনজারভেটিভ: জে. সি. সি. ডেভিডসনস মেমোয়ার্স অ্যান্ড পেপারস, ১৯১০-১৯৩৭'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৯৫-এ উদ্ধৃত।
===১৯২০-এর দশক===
====১৯২২====
*[[w:যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী|প্রধানমন্ত্রীকে]] আজ সকালে ''[[w:দ্য টাইমস|দ্য টাইমসে]]'' একজন বিশিষ্ট অভিজাতের ভাষায় একটি "জীবন্ত তার" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। লর্ড চ্যান্সেলর তাঁকে আমার এবং অন্যদের কাছে আরও স্থির ভাষায় একটি গতিশীল শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমি সেই শব্দগুলো মেনে নিচ্ছি। তিনি একটি গতিশীল শক্তি। আমাদের মতে, ঠিক সেই কারণেই আমাদের সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে। '''একটি গতিশীল শক্তি অত্যন্ত ভয়ংকর একটি ব্যাপার; এটি আপনাকে পিষে ফেলতে পারে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে এটি সবসময় সঠিক।''' সেই গতিশীল শক্তি এবং তার অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কারণেই লিবারেল পার্টি (তিনি আগে যেটির সদস্য ছিলেন) টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে সময়ের সাথে সাথে আমাদের দলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে।
**[[ডেভিড লয়েড জর্জ|ডেভিড লয়েড জর্জের]] ওপর কার্লটন ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (১৯ অক্টোবর ১৯২২), ''দ্য টাইমস''-এ উদ্ধৃত (২০ অক্টোবর ১৯২২), পৃষ্ঠা ৮।
====১৯২৩====
*আমি নিজে সেই কিছুটা দুর্বল প্রকৃতির মানুষ, যে সবসময় মতানৈক্যের চেয়ে একমত হওয়াকে বেশি পছন্দ করে... [[w:লেবার পার্টি (যুক্তরাজ্য)|লেবার পার্টি]] যখন এই বেঞ্চগুলোতে বসবে, তখন দেশ পরিচালনার প্রচেষ্টায় আমরা সবাই তাদের মঙ্গল কামনা করব। তবে আমি একটি বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত যে তারা সফল হোক বা ব্যর্থ হোক, এই দেশে কখনোই কোনো [[কমিউনিজম|কমিউনিস্ট]] সরকার আসবে না। এর কারণ হলো, '''[[ঘৃণা|ঘৃণার]] ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো গসপেল কখনোই আমাদের জনগণের''', তথা [[w:গ্রেট ব্রিটেন|গ্রেট ব্রিটেনের]] জনগণের '''হৃদয় দখল করতে পারবে না।''' রক্তের সাগর বইয়ে দিয়ে বিশ্বকে নিরাময় করার চেষ্টা করা অর্থহীন। ফরাসি ভাষার পাঁচ মাত্রার শব্দ "[[সর্বহারা|প্রোলেতারিয়েত]]" (সর্বহারা) বারবার উচ্চারণ করে বিশ্বকে নিরাময় করার চেষ্টা করাও অর্থহীন। [[ইংরেজি ভাষা]] চিন্তাধারার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ভাষা। ইংরেজি ভাষা একাক্ষর শব্দের দিক থেকেও বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ভাষা। একাক্ষরের চারটি শব্দই এই দেশের এবং সমগ্র বিশ্বের মুক্তির চাবিকাঠি ধারণ করে, আর সেগুলো হলো "Faith" ([[বিশ্বাস]]), "Hope" ([[আশা]]), "Love" ([[ভালোবাসা]]) ও "Work" (কাজ)।" '''আজ এই দেশে এমন কোনো সরকার, যাদের জনগণের ওপর বিশ্বাস নেই, ভবিষ্যতের প্রতি আশা নেই, সহমানুষের প্রতি ভালোবাসা নেই এবং যারা কাজ, কাজ এবং শুধু কাজ করবে না, তারা কখনোই এই দেশকে ভালো দিন ও ভালো সময়ের দিকে নিয়ে যেতে পারবে না কিংবা কখনোই [[ইউরোপ]] বা বিশ্বকে পার করতে পারবে না।'''
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া ভাষণ (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৫৯-৬০-এ উদ্ধৃত।
*...আজ যারা আন্তর্জাতিক [[শান্তিবাদ|শান্তিবাদের]] সপক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার, তারাই আবার সবচেয়ে বেশি চিৎকার করে বলছে যে শ্রেণিসংগ্রাম ছাড়া সমাজকে বাঁচানোর আর কোনো পথ নেই। এক শতাব্দী বা তারও বেশি সময় আগে [[দর্শন|দার্শনিক]] [[ইমানুয়েল কান্ট|কান্ট]] একটি কথা বলেছিলেন, যার চেয়ে সত্য কথা আর কেউ বলেননি। তিনি বলেছিলেন, আমরা সভ্যতার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যা ক্লান্তিকর, কিন্তু নৈতিকতায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। '''আমরা সবাই বিশ্বকে নৈতিকতা শেখাতে চাই।''' ...এর পাশাপাশি আমাদের আরও একটি কথা মনে রাখতে হবে। যুদ্ধের পর যুদ্ধক্লান্তিকে মানুষের জন্মগত সদিচ্ছার আধিক্য বলে ভুল করা ঠিক হবে না। আমরা লক্ষ্য না করে পারছি না যে শান্তির কয়েক বছর পর ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় চরম জাতীয়তাবাদের একটি শক্তিশালী স্থানীয় অনুভূতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এটি নিজে থেকে খারাপ কিছু না হলেও, সংশোধন করা না হলে ইউরোপের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য ভবিষ্যতে এটি চরম বিপদের বীজ বপন করতে পারে।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1923/jul/23/military-expenditure-and-disarmament ভাষণ] (২৩ জুলাই ১৯২৩)।
*[[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|গত যুদ্ধের]] কথা ভেবে আমি প্রায়ই ভেবেছি... যে এটি সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, এই প্রজন্ম যে সভ্যতার ওপর হাঁটছে তার স্তরটি কতটা পাতলা। এর উপলব্ধি এখানকার আমাদের বেশিরভাগের কাছেই এক ভয়ংকর আঘাত হিসেবে এসেছে। কিন্তু শুধু তাই নয়। [[w:হাউস অব কমন্স|এই হাউসে]] এমন কোনো মানুষ নেই যার প্রথম বিমান হামলা ও প্রথম বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহারের কথার পাশাপাশি এই দেশ থেকে যে হাহাকার উঠেছিল তার কথা মনে নেই। আমরা জানি কীভাবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে শত্রুর ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে আমরা সবাই এই দুটি উপায়ই ব্যবহার করছিলাম। আমরা বুঝতে পারি যে মানুষের পিঠ যখন দেওয়ালে ঠেকে যায়, তখন আত্মরক্ষার জন্য তারা যেকোনো পথই বেছে নেবে। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউরোপজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে এক অস্বস্তিকর অনুভূতি রয়ে গিয়েছিল যে, যুদ্ধের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সভ্যতা বলতে যা বোঝায় সে সম্পর্কে আমাদের সবার দৃষ্টিভঙ্গিই নিচে নেমে গেছে। আমরা এই ভেবে শিউরে উঠছিলাম যে, বিজ্ঞানের আরও আবিষ্কারের ফলে ভবিষ্যতের যুদ্ধগুলো মানবজাতির জন্য আরও দ্রুত পতনের পথ তৈরি করতে পারে। এই হাউসের প্রতিটি কোণায় এই অনুভূতি জেগেছে যে, যদি আমাদের সভ্যতাকে এর বর্তমান স্তরেও বাঁচাতে হয়, তবে সকল জাতির সকল মানুষের উচিত একে অপরকে সহযোগিতা করা। আমরা যেন সবাই মিলে এক খাদে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে, এই সহযোগিতাকে ভবিষ্যৎ উন্নতির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1923/jul/23/military-expenditure-and-disarmament ভাষণ] (২৩ জুলাই ১৯২৩)।
*আজকাল অনেকেই খুব সহজেই বলে দেন যে এই দেশের উচিত নিজেকে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে [[যুক্তরাজ্যের ইতিহাস|আমাদের দ্বীপের গল্প]] ইতোমধ্যেই বলা হয়ে গেছে। [[উড়োজাহাজ|উড়োজাহাজের]] আগমনের সাথে সাথে আমরা আর কোনো দ্বীপ নই। আমরা পছন্দ করি বা না করি, আমরা অবিচ্ছেদ্যভাবে ইউরোপের সাথে আবদ্ধ। ইউরোপ এবং আমরা যে শান্তিতে সমানভাবে বিশ্বাস করি, সেই শান্তি মহাদেশটিতে ফিরিয়ে আনতে আমাদের সর্বোত্তম চেষ্টা করতে হবে এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1923/jul/23/military-expenditure-and-disarmament ভাষণ] (২৩ জুলাই ১৯২৩)।
*'''আমার মতে, এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় কাজ হলো [[গণতন্ত্র|গণতন্ত্রকে]] রক্ষা করা, এটি সংরক্ষণ করা এবং একে অনুপ্রাণিত করা।''' গণতন্ত্রের আদর্শটি খুব সুন্দর, কিন্তু কোনো আদর্শই নিজে থেকে চলতে পারে না... জনগণের সমস্ত সরকারকে একটি চাকার পরিধির মতো উপস্থাপন করা যেতে পারে। সরকার সবচেয়ে সম্পূর্ণ এবং নিরঙ্কুশ স্বৈরতন্ত্র থেকে ধাপে ধাপে বিশৃঙ্খলার দিকে যায়। ইতিহাসে এমন অনেক সরকারের উদাহরণ পাওয়া যায় যারা সেই পরিধির প্রতিটি পর্যায় অতিক্রম করেছে... এখন আমরা সেই চাকার এমন এক বিন্দুতে আছি, এবং সেই বিন্দুটি হলো প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারসহ গণতন্ত্র। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, স্বাধীনতার মূল্য হলো অবিরাম সতর্কতা। আমি আরও যোগ করতে পারি, অবিরাম জ্ঞান, অবিরাম সহানুভূতি এবং অবিরাম বোঝাপড়া। এই প্রজন্মে আমাদের কর্তব্য হলো, রাষ্ট্রকে যে বিন্দুতে আমরা নিয়ে এসেছি সেখানে স্থিতিশীল রাখা। চাকার এক দিক বা অন্য দিকে পিছলে যাওয়ার ঝুঁকিগুলো আমাদের খুব ভালো করেই জানা আছে। এক দিক আমাদের স্বাধীনতা হরণের দিকে নিয়ে যায়, অন্য দিকটি এমন এক দিকে যায় যেখানে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত হয়।
**ফিলিপ স্কট কলেজে দেওয়া ভাষণ (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৪৯-১৫০-এ উদ্ধৃত।
*এখন, নিশ্চিতভাবেই, যখন আমরা [[নাগরিকত্ব|নাগরিকত্বের]] উদ্দেশ্যে নিজেদের শিক্ষিত করতে চাই... আপনি যদি মন থেকে কপটতা দূর করতে পারেন এবং ভণ্ডামি শনাক্ত করতে পারেন, আর সেটা যে রূপেই থাকুক না কেন, তাহলে আমি মনে করি, একটি গণতন্ত্র যা টিকে থাকার আশা করতে পারে তার প্রতিটি নাগরিকের যে শিক্ষা থাকা উচিত, তার দিকে আপনি একটি দীর্ঘ পদক্ষেপ এগিয়েছেন। আমি মনে করি আমরা সবাই আজ বুঝতে পারছি যে কোনো সভ্য সমাজই অনিবার্যভাবে এবং কোনো রহস্যময় ভাগ্যের কারণে উন্নতির দিকে যেতে বাধ্য নয়। সভ্যতায় বাধা বলে কিছু আছে, পিছিয়ে পড়া বলেও কিছু আছে। একটি সভ্য সমাজের নিছক অস্তিত্বই তার ধারাবাহিকতা বা তার উন্নতির কোনো গ্যারান্টি নয়। অন্য ভাবে বললে, আমরা ইতোমধ্যেই যে সভ্যতা অর্জন করেছি তার বিশ্বস্ত রক্ষক না হলে, অসীম পরিশ্রমে এই সময় পর্যন্ত আমাদের করা পুরো উন্নতি ধীরে ধীরে আরও পেছনে পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আমরা নেব।
**ফিলিপ স্কট কলেজে দেওয়া ভাষণ (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের এই দেশ মানব স্বাধীনতা এবং মানব প্রগতির জন্য শুরু হওয়া সবচেয়ে বড় কিছু আন্দোলনের জন্মস্থান এবং আবাসস্থল। আমাদের জাতির শক্তি এখনও নিঃশেষ হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা গ্রেট ব্রিটেনে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগেছি, নিজেদের ওপর ভরসা করতে ভয় পেয়েছি। এর ফল হয়েছে এই যে, যারা আমাদের দেশের উন্নতির জন্য আগ্রহী ছিলেন, তারা [[ভাইমার প্রজাতন্ত্র|জার্মান সমাজতন্ত্র]], [[মার্কসবাদ-লেনিনবাদ|রুশ কমিউনিজম]] এবং [[ফ্রান্স|ফরাসি]] সিন্ডিক্যালিজমের ফাঁকা বুলিতে নিজেদের পেট ভরিয়ে নিজেদের এবং তাদের দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি। '''এর বদলে তাদের উচিত ছিল তাদের নিজেদের মানুষের হৃদয়ের গভীরে তাকানো, সেই কাণ্ডজ্ঞান এবং রাজনৈতিক বোধের ওপর নির্ভর করা যা আমাদের জাতিকে কখনোই ব্যর্থ করেনি।''' ... ব্যর্থ মহাদেশীয় তাত্ত্বিকদের লেজ ধরে চলার বদলে, সময়ের শুরু থেকে তার যেমনটা করার কথা ছিল, সেভাবে সে আবারও বিশ্বকে পথ দেখাতে প্রস্তুত। অন্যান্য জাতি, যারা এখনও প্রকৃত রাজনৈতিক স্বাধীনতা কী তা শেখেনি, তাদের দেখাতে প্রস্তুত যে রাজনৈতিক স্বাধীনতার জননী এখনও তার সন্তানদের এবং তার সন্তানদের সন্তানদের পথ দেখাতে সক্ষম।
**ফিলিপ স্কট কলেজে দেওয়া ভাষণ (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৫৩-১৫৪-এ উদ্ধৃত।
*দেশ ও বিদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো শান্তি, অস্ত্রের যুদ্ধ থেকে শান্তি এবং আত্মার শান্তি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি যত দিনই থাকি না কেন, এই বিষয়গুলোর জন্যই আমি লড়তে চেয়েছি। আর সেটি এই উদ্দেশ্যেই:'''সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং সবার আগে শান্তির উদ্দেশ্য।'''
**ফিলিপ স্কট কলেজে দেওয়া ভাষণ (২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৫৭-এ উদ্ধৃত।
*...আমার কাছে অন্তত এই [[বেকারত্ব|বেকারত্বের]] সমস্যাটি আমাদের দেশের সবচেয়ে জটিল সমস্যা। আমি একে সেভাবেই দেখি। আমি এর বিরুদ্ধে লড়তে পারি। আমি এর বিরুদ্ধে লড়তে ইচ্ছুক। তবে [[অস্ত্র|অস্ত্র]] ছাড়া আমি এর সাথে লড়তে পারব না। আমি নিজে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে—আজ বিশ্বে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, অর্থনৈতিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করে, আমাদের দেশের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে—আমরা যদি এভাবেই চলতে থাকি, তবে শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের তীব্র বেকারত্বের সাথে কাটাতে হবে। এবং আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে এই সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করার একমাত্র উপায় হলো দেশীয় বাজার রক্ষা করা। (প্রচণ্ড ও একটানা হর্ষধ্বনি)।
**প্লিমাউথে ন্যাশনাল ইউনিয়নিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কনফারেন্সে দেওয়া ভাষণ (২৫ অক্টোবর ১৯২৩), ''দ্য টাইমস'' (২৬ অক্টোবর ১৯২৩), পৃষ্ঠা ১৭-তে উদ্ধৃত।
*'''আমি আপনাদের মতোই একজন, যাকে এই সময়ে দেশের জন্য বিশেষ কাজ করতে ডাকা হয়েছে।''' আমি কখনোই এই পদের খোঁজ করিনি। আমি কখনোই আমার জীবনের কোনো পরিকল্পনা বা ছক কষিনি। আমার শুধু একটিই ধারণা ছিল, যা আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, আর তা হলো সেবা—এই দেশের মানুষের সেবা। আমার বাবা সারা জীবন এই বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে ছিলেন... এটি একটি ঐতিহ্য; এটি আমাদের রক্তে মিশে আছে; এবং আমাদের এটি করতেই হবে। এই সেবা আমাকে ব্যবসা এবং কাউন্টি কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে নিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। এটি আমাকে বিভিন্ন অদ্ভুত পথ দিয়ে আজকের এই জায়গায় এনেছে; কিন্তু আদর্শটি একই রয়ে গেছে। কারণ আমি সারা জীবন আমার হৃদয় থেকে [[রবার্ট ব্রাউনিং|ব্রাউনিংয়ের]] কথাগুলো বিশ্বাস করেছি, "ঈশ্বরের কাছে সব সেবাই সমান"। একজন মানুষ ট্রাম চালাচ্ছেন না রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, তা খুব একটা পার্থক্য গড়ে না, যদি তিনি কেবল তার মধ্যে থাকা সবকিছু সেই সেবায় ঢেলে দেন এবং মানবজাতির কল্যাণে তা পালন করেন।
** ওরস্টারে দেওয়া ভাষণ (৭ নভেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯-এ উদ্ধৃত।
*অনেকের কাছেই গত পাঁচ বছর ছিল এক মোহভঙ্গের সময়। প্রতিটি মেঘেরই রুপোলি রেখা থাকে। আমরা এই সত্যটি থেকে শক্তি পাই যে, সময়ের সমস্ত সমস্যার মধ্য দিয়েও আমাদের জনগণের চরিত্রের শক্তি ও সংযম আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছে। প্রায় পুরো ইউরোপের মধ্যে কেবল আমাদের দেশেই কোনো অসাংবিধানিক বিদ্রোহ হয়নি। তার চেয়েও বড় কথা, আমি মনে করি আমরা আমাদের নিজেদের মানুষ সম্পর্কে বলতে পারি যে ঘৃণা ও প্রতিশোধের অনুভূতি তাদের হৃদয়ে স্থায়ী কোনো শিকড় গাড়তে পারেনি।
**বোর্ড অব ট্রেড ওয়ার মেমোরিয়াল উন্মোচনের সময় দেওয়া ভাষণ (১৯ ডিসেম্বর ১৯২৩), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২৭৩-২৭৪-এ উদ্ধৃত।
====১৯২৪====
*ভবিষ্যৎ বিপরীত দিকের মাননীয় সদস্য এবং আমাদের হাতে। হাউসের এই দিকে বসে আমরা সামাজিক সংস্কারকে ভয় পাই না। '''[[w:রক্ষণশীল দল (যুক্তরাজ্য)|আমাদের দলের]] (কনজারভেটিভ পার্টি_ সদস্যরা যখন [[শ্রমিক|শ্রমিক শ্রেণির]] জন্য লড়ছিলেন, তখন বিপরীত দিকের সদস্যরা বা তাদের পূর্বপুরুষরা লেসে-ফেয়ার (মুক্ত বাণিজ্য) নীতিতে আবদ্ধ ছিলেন।''' কৃষি শ্রমিকরা ভোটাধিকার পাওয়ার বহু বছর আগে [[w:বেঞ্জামিন ডিসরেলি|ডিসরেলি]] তাদের সংগঠিত হওয়ার পক্ষে কথা বলেছিলেন। যখন তিনি প্রথম এই দেশের জনবহুল কেন্দ্রগুলোতে পয়োনিষ্কাশনের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রচার করতে শুরু করেন, তখন লিবারেল পার্টি এটিকে "নর্দমার নীতি" বলে আখ্যা দিয়েছিল। গত দুই প্রজন্ম ধরে আমরা তিনটি মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছি—'''আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো বজায় রাখা, আমাদের [[w:ব্রিটিশ সাম্রাজ্য|সাম্রাজ্য]] সংরক্ষণ ও বিকাশ করা, এবং আমাদের জনগণের অবস্থার উন্নতি করা'''; এবং আমরা প্রতিটি প্রজন্মের পরিবর্তিত চাহিদার সাথে এই নীতিগুলোকে মানিয়ে নিই। আমার পেছনের বন্ধুদের দেখে কি পরাজিত সেনাদল মনে হচ্ছে? যখনই, যেখানেই এবং যে-ই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিক না কেন, যেকোনো দলের কাছ থেকে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1924/jan/21/debate-on-the-address ভাষণ] (২১ জানুয়ারি ১৯২৪)।
*রাষ্ট্রের কোনো দল যদি তাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের কারণে শ্রমিক শ্রেণির জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি তাদের কাজ ও কর্মসূচির একেবারে সামনে রাখার অধিকার রাখে, তবে সেটি আমাদের দল। (শুনুন, শুনুন)। কারখানা শ্রমিকরা ভোট পাওয়ার অনেক আগেই আমরা তাদের হয়ে লড়ছিলাম; এবং যখন লিবারেলরা লেসে-ফেয়ারের শেকলে বাঁধা ছিল, তখন লিবারেলরা বিষয়টি নিয়ে ভাবার অনেক আগেই আমরা শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার পক্ষে কথা বলছিলাম। ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে [[w:বেঞ্জামিন ডিসরেলি|ডিসরেলি]] যখন আবাসন ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে দেশের মনোযোগ আকর্ষণ করছিলেন, তখন তারা নর্দমার নীতি বলে তাঁকে উপহাস করেছিল। আমাদের জনগণের স্যানিটেশন, বা বলতে পারি আধ্যাত্মিক স্যানিটেশন, ঐতিহাসিক টোরি পার্টির প্রথম ডাক হওয়া উচিত। লেবার পার্টির যেকোনো সদস্যের মতোই আমরাও যে এই প্রশ্নগুলোতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী এবং এই প্রশ্নগুলোর সমাধানে নিজেদের উৎসর্গ করতে সমানভাবে প্রস্তুত, তা যদি আমরা দেশকে দেওয়া আমাদের সেবার মাধ্যমে বোঝাতে পারি, তবেই দেশ আমাদের বিশ্বাস করবে এবং দেশ আমাদের আবার ক্ষমতায় আনবে।
**হোটেল সিসিলে ইউনিয়নিস্ট পার্টির এক সভায় দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৪), ''দ্য টাইমস''-এ উদ্ধৃত (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯২৪), পৃষ্ঠা ১৭।
*বাগ্মীতা, যেটিকে আমি আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে বড় বিপদগুলোর একটি বলে মনে করি..."আত্মনিয়ন্ত্রণ" হলো আরেকটি বাগাড়ম্বরপূর্ণ শব্দ যা কোনো একদিন জাতিগুলোকে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বাগ্মীতা ঠিক এই কাজটিই করে। "বীরদের বসবাসের উপযোগী বাড়ি" এবং "গণতন্ত্রের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব!" এগুলো আমার কাছে বাগ্মীতার সারমর্ম এবং এই অর্থে বাগ্মীতার বিরুদ্ধেই আমি আজ রাতে ভোট দিতে যাচ্ছি।
**কেমব্রিজ ইউনিয়নে দেওয়া ভাষণ (মার্চ ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৯৪-৯৫-এ উদ্ধৃত।
*আজকের বাগ্মীতা, যে বাগ্মীতা আমাদের বিবেচনা করতে হবে, তা হলো "উপচে পড়া শস্যভাণ্ডারের" বাগ্মীতা। আমার ধারণা এই গুণটি পৃথিবীতে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সমস্ত বন্দুক এবং বিস্ফোরকের চেয়ে বেশি রক্তপাতের জন্য দায়ী। আমরা যদি কেবল [[ঊনবিংশ শতাব্দী|গত শতাব্দীর]] দিকে ফিরে তাকাই, তবে কি দেখতে পাব না যে [[রুশো|রুশোর]] সাহিত্যিক বাগ্মীতা, যা [[রোবসপিয়র|রোবসপিয়র]] এবং অন্যদের মৌখিক বাগ্মীতা দ্বারা উসকে দেওয়া হয়েছিল, তা [[ফরাসি বিপ্লব|ফরাসি বিপ্লবের]] জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী ছিল? ঠিক যেভাবে [[রুশ বিপ্লব|রুশ বিপ্লব]] [[w:আলেকজান্ডার কেরেনস্কির|কেরেনস্কির]] বাগ্মীতার কারণে ঘটেছিল—যে ফাঁকা বাগ্মীতা তার দেশের মানুষের পেট কেবল হাওয়ায় ভরিয়ে দিয়েছিল? শব্দ-বুননের কল্পনা এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রশিক্ষণের সাথে যুক্ত সেই ভয়ংকর সস্তা সাবলীলতাই হলো সেই ধরনের বাগ্মীতা যা অজ্ঞ জনতার আবেগকে নাড়া দেয় এবং তাদের আন্দোলনে নামায়। বাগ্মীতার কারণে এমন সব শক্তিকে চালিত করা যায় বলেই আমি একে সম্মান করি না, বরং আমি এর প্রতি একটি ইতিবাচক ভয় পোষণ করি।
**কেমব্রিজ ইউনিয়নে দেওয়া ভাষণ (মার্চ ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৯৫-৯৬-এ উদ্ধৃত।
*আমি মনে করি আজ সারা দেশে সাদামাটা, অলংকারহীন বক্তব্য শোনার আকাঙ্ক্ষা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি... আসুন আমরা সবসময় এটি মনে রাখি: যখন আমরা বড় কোনো বিষয়ে আসি, তখন আমাদের বাগ্মীতার প্রয়োজন হয় না। সত্য, যেমনটা আমাদের সবসময় বলা হয়েছে, নগ্ন। তার খুব সামান্য পোশাকেরই প্রয়োজন। সর্বোপরি, [[পল দ্য অ্যাপোস্টল|সেন্ট পল]] কোনো বক্তা ছিলেন না, তবুও তার বক্তব্য এবং শিক্ষা মনে হয় ছড়িয়ে পড়েছে এবং দীর্ঘকাল টিকে আছে। আমি এই না ভেবে পারি না যে, যদি আমরা দুই হাজার বছর পিছিয়ে যেতাম, তবে আমি রবিবারের কোনো পত্রিকা বা যুগের শীর্ষ বক্তাদের সমস্ত বাগ্মীতার বিপরীতে সেন্ট পল এবং তার শিক্ষার ফলাফলকেই সমর্থন করতাম।
**কেমব্রিজ ইউনিয়নে দেওয়া ভাষণ (মার্চ ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৯৬-৯৭-এ উদ্ধৃত।
*[[ওয়াল্টার স্কট|স্যার ওয়াল্টার স্কট]], [[উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ|ওয়ার্ডসওয়ার্থ]], [[লর্ড বায়রন|বায়রন]]...[[টমাস কার্লাইল|কার্লাইল]], টেনিসন, [[জন হেনরি নিউম্যান]]...থ্যাকারি, ব্রাউনিং এবং [[চার্লস ডিকেন্স|ডিকেন্স]]। বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি [[সাহিত্য|সাহিত্যে]] সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিভাদের একটি গ্যালাক্সি ছিল... সেই সময়ের সাহিত্যের ক্ষেত্রে কোনো দেশই আমাদের দেশের সাথে তুলনা করতে পারে না... আমি সবসময় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এসেছি যে আমাদের নিজেদের চেয়ে বেশি সুপ্ত প্রতিভা বা যান্ত্রিক প্রতিভার জন্য উচ্চতর যোগ্যতা আর কোনো জাতির নেই। যখন কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন হারগ্রিভস, আর্করাইট এবং ক্রম্পটন, যারা সবাই কর্মজীবী মানুষের সন্তান ছিলেন, তারাই সেই [[যন্ত্র|মেশিনগুলো]] আবিষ্কার করছিলেন যা [[তুলা|সুতা]] শিল্পের জন্ম দেয়। আমাদের মানুষগুলো কী উপাদানে তৈরি, তা বোঝাতেই আমি এই নামগুলো উল্লেখ করছি। এই উপাদানগুলো প্রশিক্ষণ ও শিক্ষিত করার মতো। যে কেউ এটি নিয়ে গবেষণা করতে চাইলে দেখতে পাবেন যে, এটি একটি খুব আকর্ষণীয় বিষয় হবে। মার্কিনিদের বলে হালকাভাবে ধরে নেওয়া যান্ত্রিক আবিষ্কারগুলোর কতগুলো আসলে ব্রিটিশ মেধার ফসল, তা সে ব্রিটিশ মেধাই হোক যারা সে দেশে গিয়ে কাজ করেছে, বা ব্রিটিশ বাবা-মায়ের সন্তানরাই হোক যারা সেখানে গিয়েছে।
**বার্কবেক কলেজে দেওয়া ভাষণ (২০ মার্চ ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৪-এ উদ্ধৃত।
*সাহিত্যের প্রজাতন্ত্র ছাড়া আর কোনো সত্যিকারের প্রজাতন্ত্র নেই। আমি যদি দেখি যে এমন কোনো উদ্ধৃতি শুনে মানুষের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে যা সবারই জানা উচিত, তবে সেই মানুষটি ডিউক হোক বা ডাস্টম্যান, সে আমার ভাই। এটাই সাহিত্যের বন্ধন। এটি অধ্যয়ন করে দেখুন, বিশ্বের প্রথম দেশের গৌরবময় সাহিত্য—আপনার নিজের দেশের সাহিত্য।
**বার্কবেক কলেজে দেওয়া ভাষণ (২০ মার্চ ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৪৬-এ উদ্ধৃত।
*আমার সরকারি ও ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুর জন্যই আমি আমার ননকনফর্মিস্ট]] পূর্বপুরুষদের কাছে ঋণী।
**ননকনফর্মিস্ট ইউনিয়নিস্ট লিগের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ এপ্রিল ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২৬৯-এ উদ্ধৃত।
*[[লর্ড বায়রন|বায়রন]], এমন একজন মানুষ যিনি বিশ্বকে একটি ভালো হৃদয় এবং একটি নতুন স্পন্দন দিয়েছিলেন... যে মানুষটি বিশ্বে নতুন স্পন্দন খুঁজে পান, তিনিই অমরত্ব লাভ করবেন। বায়রন, যদি কিছু হয়েই থাকেন, তবে তিনি ছিলেন নতুন বীজের একজন বপনকারী, যার মধ্যে একটি বিশাল অঙ্কুরোদগমের শক্তি ছিল... বায়রন মানুষের চোখ বন্ধ থাকতে দেখেছিলেন এবং তা খুলে দিয়েছিলেন, আর সেই কারণেই জাতির উচিত তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানানো।
**বায়রনের শতবর্ষের মধ্যাহ্নভোজে দেওয়া ভাষণ (২৯ এপ্রিল ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১২৩-১২৪-এ উদ্ধৃত।
*আমরা আমাদের নিজেদের মানুষের জন্য অবস্থার উন্নতি করতে সাহায্য করতে চাই। আমরা চাই আমাদের মানুষ এমন একটি সমাজে বেড়ে উঠুক, যা [[জাতীয়করণ|রাষ্ট্রীয় মালিকানার]] সমাজ নয়, বরং এমন একটি সমাজ যেখানে ব্যক্তি ক্রমশ মালিক হয়ে উঠতে পারে। স্যার হেনরি মেইনের একটি খুব বিখ্যাত বাক্য আছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে সাম্প্রতিক শতাব্দীগুলোতে আমাদের সভ্যতার অগ্রগতি হলো মানবজাতির মর্যাদা থেকে চুক্তির দিকে একটি অগ্রগতি। '''[[সমাজতন্ত্র]] তাকে চুক্তি থেকে আবার মর্যাদায় ফিরিয়ে আনবে।'''
**জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের কাছে দেওয়া ভাষণ (৩ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২২৫-এ উদ্ধৃত।
*ঈশ্বর তাকে যা বানিয়েছেন, অর্থাৎ একজন ইংরেজ হতে যতক্ষণ সে সন্তুষ্ট থাকে, ততক্ষণ একজন ইংরেজ ঠিক আছে। কিন্তু সে যখন অন্য কিছু হওয়ার চেষ্টা করে তখনই সমস্যায় পড়ে। এমন কিছু ইতিহাসবিদ আছেন, বা ছিলেন, যারা বলেছেন যে আমাদের ইংরেজ পূর্বপুরুষদের ফরাসি রীতিনীতি অনুকরণ করার কারণেই আমরা উইলিয়াম দ্য নরম্যানের শিকারে পরিণত হয়েছিলাম এবং হেস্টিংসের যুদ্ধে আমাদের পরাজয় ঘটেছিল। এটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হোক যাতে আমরা কোনো বিদেশি দেশকে অনুকরণ না করি। আসুন আমরা নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে এবং নিজের মতো থাকতে সন্তুষ্ট থাকি।
**দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২-এ উদ্ধৃত।
*এখন, আমি সবসময় মনে করি যে [[ইংরেজ জাতি|ইংরেজদের]] সম্পর্কে সবচেয়ে কৌতূহলজনক দ্বন্দ্বগুলোর মধ্যে একটি হলো এটি: আমাদের সম্পর্কে প্রায়ই যে সমালোচনা করা হয় তা পুরোপুরি সত্যবর্জিত নয়। আর তা হলো জাতি হিসেবে আমরা ল্যাটিন জাতিগুলোর তুলনায় বুদ্ধিবৃত্তিক অনুভূতির প্রতি কম উন্মুক্ত। তবুও এই একই জাতির মধ্যেই প্রতিভাবান মানুষ তৈরি করার এক অনন্য দক্ষতা রয়েছে। এটি প্রায় ইংরেজ জাতির একটি বৈশিষ্ট্য। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে এই জাতি প্রতিভাবানদের জন্ম দেয়নি। অনেকেই মনে করতে পারে যে এই জাতি খুব নিয়ন্ত্রিত, নিজেকে প্রকাশ করতে অক্ষম। অথচ এই একই জাতির এমন সাহিত্য রয়েছে যা বিশ্বের অন্য যেকোনো সাহিত্যের চেয়ে পিছিয়ে নেই এবং কবিতায় তো এটি অবশ্যই অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
**দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২-৩-এ উদ্ধৃত।
*ইংরেজ তৈরিই হয়েছে সংকটের সময় এবং জরুরি অবস্থার জন্য। সে কঠিন সময়ে শান্ত থাকে, কিন্তু সময় যখন সহজ হয় তখন সে হয়তো উদাসীন মনে হতে পারে। সে হয়তো ভবিষ্যতের দিকে তাকায় না, সে হয়তো সতর্কবাণীতে কান দেয় না, সে হয়তো প্রস্তুতি নেয় না। কিন্তু সে একবার শুরু করলে মৃত্যু পর্যন্ত নাছোড়বান্দা থাকে এবং কাজে সে নির্মম হয়। এই গুণগুলোই ইংরেজকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছে এবং ইংরেজকে ইংল্যান্ড এবং সাম্রাজ্যকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।
**দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৩-৪-এ উদ্ধৃত।
*আমি মনে করি ইংরেজরা হৃদয়ে এবং কাজে বিশ্বের সবচেয়ে দয়ালু মানুষ... [[ইংল্যান্ড|ইংল্যান্ডে]] দুর্বলদের জন্য এক গভীর সহানুভূতি রয়েছে। একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ অনুভূতি রয়েছে, যা আমরা সব শ্রেণির মধ্যেই ব্যাপকভাবে দেখতে পাই। হাসিমুখে দুর্ভাগ্য মোকাবিলা করার একটা উপায় আছে। যুদ্ধের সময় এটি আশ্চর্যজনকভাবে দেখা গিয়েছিল।
**দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৪-৫-এ উদ্ধৃত।
*তারপর, ইংরেজদের চেয়ে অন্য কোনো জাতিতে এত বৈচিত্র্যময় স্বকীয়তা নেই। আমরা স্বকীয়তার মানুষ এবং আমরা চরিত্রের মানুষ... জাতির ধরন বজায় রাখার জন্য ইংরেজের স্বকীয়তা রক্ষা করা অপরিহার্য। আর আমাদের পার্থক্যগুলো যদি মুছে যায় এবং আমরা সেই উপহার হারিয়ে ফেলি, তবে আমরা একই সাথে আমাদের ক্ষমতাও হারাব। ধরন বা বৈশিষ্ট্যের একরূপতা একটি খারাপ জিনিস। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভাষার একরূপতার জন্য খুব দুঃখ প্রকাশ করি। দুই শতাব্দী আগের এক সময় ছিল যখন আপনি তার কথা শুনেই বলতে পারতেন যে [[যুক্তরাজ্যের সংসদ|পার্লামেন্টের]] প্রতিটি সদস্য ইংল্যান্ডের কোন অংশ থেকে এসেছেন। তিনি তার পূর্বপুরুষদের ভাষায় কথা বলতেন। আমি দুঃখিত যে উপভাষাগুলো হারিয়ে গেছে। আর আমি দুঃখিত যে, একটি ভালো নামের অভাবে যে প্রক্রিয়াটিকে আমরা নিজেদের মধ্যে শিক্ষা বলে ডাকতে রাজি হয়েছি, সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষের ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আমরা এমন কিছু সেরা ইংরেজি শব্দ ও বাক্যাংশ হারিয়ে ফেলছি, যা শতাব্দী ধরে দেশে টিকে ছিল, যাতে আমরা সবাই একটি অভিন্ন এবং ভাবপ্রকাশহীন ভাষায় কথা বলতে পারি।
**দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৫-৬-এ উদ্ধৃত।
[[Image:Stanley Baldwin daughter.jpg|thumb|আমার কাছে ইংল্যান্ড হলো গ্রাম, এবং গ্রামই হলো ইংল্যান্ড।]]
* '''আমার কাছে ইংল্যান্ড হলো গ্রাম, এবং গ্রামই হলো ইংল্যান্ড।''' আর বিদেশে থাকার সময় আমি যখন নিজেকে জিজ্ঞেস করি যে ইংল্যান্ড বলতে আমি কী বুঝি, তখন ইংল্যান্ড আমার কাছে আমার বিভিন্ন অনুভূতির মাধ্যমে ধরা দেয় — কানের মাধ্যমে, চোখের মাধ্যমে এবং কিছু অবিনশ্বর সুবাসের মাধ্যমে... ইংল্যান্ডের শব্দগুলো, গ্রামের কামারশালায় নেহাইয়ের ওপর হাতুড়ির টুংটাং শব্দ, শিশিরভেজা সকালে কর্নক্রেক পাখির ডাক, শানপাথরে কাস্তে ঘষার শব্দ, এবং পাহাড়ের চূড়া দিয়ে একটি লাঙল দলের উঠে আসার দৃশ্য, সেই দৃশ্য যা ইংল্যান্ডে ভূমি সৃষ্টির শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে... ইংল্যান্ডের একমাত্র চিরন্তন দৃশ্য।
** দ্য রয়্যাল সোসাইটি অফ সেন্ট জর্জের বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ মে ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬-৭-এ উদ্ধৃত।
*আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন [[হোরেস|হোরেসের]] ''ওডস'' আমার মুখস্থ ছিল। আর আমি যখন বড় হতে লাগলাম, তখন বছরের পর বছর সেই ওডগুলো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত সময়ে এবং জায়গায় আমার হৃদয়ের দরজায় কড়া নাড়তে লাগল। তাই, আপনি এখন বুঝতে না পারলেও, এমন সময় আসবে যখন আপনি ছোটবেলায় [[উইলিয়াম শেকসপিয়র|শেকসপিয়রে]] ডুবে থাকার জন্য কৃতজ্ঞ হবেন। তার মধ্যে আমরা কেবল বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষকেই পাই না—যেমনটা স্যার জেরাল্ড ডু মরিয়ার কিছুদিন আগে এখানে বলেছিলেন—বরং এমন একজন মানুষকে পাই যাঁর মানবপ্রকৃতি ও বিশ্ব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ছিল। শেকসপিয়র ছিলেন সেই অল্প কয়েকজন কবিদের মধ্যে একজন যাঁর মধ্যে আমরা সেই জাদুকরী শক্তি খুঁজে পাই যা সরাসরি স্বর্গ থেকে আসে এবং যা কেবল সর্বশ্রেষ্ঠদেরই বিশেষ অধিকার... শেকসপিয়রের নাটকগুলো, তিনি যে দেশের কথাই লিখুন না কেন, আমাদের নিজস্ব মাটি এবং আমাদের দেশের মানুষের গন্ধে ভরপুর। শেকসপিয়রের দেশের মানুষ এবং সেই জ্ঞানী মানুষদের, অর্থাৎ শেকসপিয়রের বোকাদের চিন্তাধারা এবং দৃষ্টিভঙ্গি আজও আমাদের গ্রামীণ কাউন্টিগুলোতে পাওয়া যায়।
**সিটি অফ লন্ডন স্কুলে দেওয়া ভাষণ (১৩ জুন ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১২০-এ উদ্ধৃত।
*আমার কাছে আমরা যে [[ব্রিটিশ সাম্রাজ্য|কমনওয়েলথ অফ নেশনসের]] অন্তর্ভুক্ত, তার সবচেয়ে বড় মূল্য শুধু টাকা কামানোর জায়গাতেই নয়। বরং এটি হলো আমাদের নিজস্ব জাতির বিস্তৃতি ও বৃদ্ধির জন্য বিশ্বের একটি বিশাল পরিসর। কারণ আমি বিশ্বাস করি আমাদের জাতি বিশ্বের সেরা জাতি। আমি বিশ্বাস করি বিশ্বের অগ্রগতি, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে এবং সেই সাথে অর্থনৈতিক দিক থেকেও, আমাদের মানুষের তাদের ধারণা এবং আদর্শগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1924/jun/18/imperial-preference ভাষণ] (১৮ জুন ১৯২৪)।
*আজ গ্রেট ব্রিটেনের [[রামজে ম্যাকডোনাল্ড|প্রধানমন্ত্রীকে]] নিয়ে [[গ্রিগরি জিনোভিয়েভ|এম. জিনোভিয়েভ]] যেভাবে কথা বলছেন তা পড়ে আমার রক্ত ফুটছে। একসময় একটা স্লোগান উঠেছিল, "রাশিয়া থেকে হাত সরাও।" আমার কথা হলো, আমি মনে করি সময় এসেছে কাউকে "[[রাশিয়া|রাশিয়া]], ইংল্যান্ড থেকে হাত সরাও" বলার।
**জিনোভিয়েভ চিঠির ওপর সাধারণ নির্বাচন প্রচারণাকালে সাউথ-এন্ডে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর ১৯২৪), ''দ্য টাইমস'' (২১ অক্টোবর ১৯২৪), পৃষ্ঠা ১০-এ উদ্ধৃত।
*[[প্রগতি|অগ্রগতির]] দায়িত্ব কেবল সরকারের ওপরই নয়, বরং দেশের প্রতিটি নারী-পুরুষের ওপরও বর্তায়। জনগণ যতদূর যেতে দেবে, সরকার তার চেয়ে দ্রুত এগোতে পারে না। নতুন পদ্ধতিতে স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা অপরিহার্য, আর কাজ করার ইচ্ছা ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়। শিল্পের ক্রমাগত অচলাবস্থা নিয়েও অগ্রগতি সম্ভব নয়।
**অ্যালবার্ট হলে দেওয়া ভাষণ (৪ ডিসেম্বর ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭০-এ উদ্ধৃত।
*এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি পরীক্ষার সময়... গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য বিশ্বের অন্য যেকোনো শাসনব্যবস্থার চেয়ে বেশি কঠোর পরিশ্রম, উচ্চতর শিক্ষা, এবং আরও দূরদর্শিতার প্রয়োজন হয়। পাশ্চাত্যে এটি এখনও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আমাদের মতো যারা এটিতে বিশ্বাস করে, কেবল তাদের এটিকে সফল করার মাধ্যমেই আমরা এটিকে স্থায়ী হতে দেখার আশা করতে পারি এবং এর যে সুফল দেওয়া উচিত, তা পাওয়ার আশা করতে পারি। জনগণের অধিকারের দাবি কখনও তাদের খাবার জোগাতে পারেনি। কেবল তাদের দায়িত্ব পালনই সরকার পরিচালনার সেই পরীক্ষাগুলোতে সফল পরিণতি আনতে পারে, যা আমরা বিশ্বের অন্য যেকোনো জাতির চেয়ে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেছি। '''গণতন্ত্র অনেক উঁচুতে উঠতে পারে; আবার এটি অনেক গভীরে তলিয়েও যেতে পারে। আমাদের নিজেদের সেভাবেই পরিচালিত করতে হবে, এবং আমাদের নিজেদের মানুষকে সেভাবেই শিক্ষিত করতে হবে, যাতে আমরা সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারি এবং গভীর খাদগুলো এড়াতে পারি।'''
**অ্যালবার্ট হলে দেওয়া ভাষণ (৪ ডিসেম্বর ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭০-৭১-এ উদ্ধৃত।
*যখন আমরা সাম্রাজ্যের কথা বলি, তখন আমরা কেবল পতাকা ওড়ানোর আবেগে কথা বলি না... সমুদ্র দিয়ে বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও, এই বিশাল উত্তরাধিকারের মধ্যে আমরা অনুভব করি যে আমাদের একটি বাড়ি এবং একটি জাতি রয়েছে... বস্তুগত সুবিধাগুলো যত বড়ই হোক না কেন, আমরা মূলত সেদিকে তাকাই না। আমি মনে করি আমাদের সবার হৃদয়ের গভীরে আমরা সাম্রাজ্যটিকে এমন একটি উপায় হিসেবে দেখি, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের জাতির সেই বৃদ্ধি দেখতে আশা করতে পারি, যা আমরা সমগ্র বিশ্বের জন্য এক অসীম কল্যাণকর বলে বিশ্বাস করি। এটি এমন মানুষদের বিদেশে ছড়িয়ে পড়া, যাদের কাছে স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার তাদের নিঃশ্বাসের মতোই প্রয়োজনীয়। এটি এমন মানুষদের ছড়িয়ে পড়া যারা—যেমনটা আমরা আশা ও বিশ্বাস করতে চাই—সবার ওপরে, তাদের কর্তব্যের প্রতি অবিচল অনুভূতি দ্বারা আলাদা। যদি কখনও এমন দিন আসে যখন আমাদের নিজেদের আত্মীয়দের মধ্যে সেই কর্তব্যের প্রতি আবেদন কানে পৌঁছায় না, তবে সেই দিনটি সত্যিই আমাদের দেশের এবং আমাদের সাম্রাজ্যের শেষ দিন হবে, যার জন্য আপনি এবং আমি আমাদের জীবন উৎসর্গ করেছি।
**অ্যালবার্ট হলে দেওয়া ভাষণ (৪ ডিসেম্বর ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭১-৭২-এ উদ্ধৃত।
*আজ আমরা হয়তো দেশের সেবার সবচেয়ে চমৎকার সুযোগটি পেয়েছি, যা এর আগে কোনো দলকে দেওয়া হয়নি। আপনারা যারা সদ্য হাউস অফ কমন্সে নির্বাচিত হয়েছেন, আপনাদের সহদেশবাসীদের রায় অনুযায়ী, আপনারাই আগামী চার বা পাঁচ বছরের জন্য তাদের স্বাভাবিক নেতা। আপনারা যে বিশাল গণতন্ত্রের অংশ, তাকে শিক্ষিত করা আপনাদের দায়িত্ব, আপনাদের প্রাথমিক দায়িত্ব... আমাদের সহদেশবাসীদের সেই দলগুলোর চেয়ে পরিষ্কার বা মর্মস্পর্শী আর কিছু কি আমাদের সামনে থাকতে পারে, যারা আমাদের কথায় বিশ্বাস রেখেছিল, যারা আমাদের বিশ্বাস করেছিল এবং আমাদের তাদের আস্থা দিয়েছে, এবং যারা তাদের হৃদয়ে বিশ্বাস করে যে আমরা তাদের জন্য কঠিন ও সমস্যাযুক্ত বিষয়গুলো ঠিক করার জন্য এবং তাদের জীবনের কঠিন সংগ্রামে তাদের সাহায্য করার জন্য যা যা সম্ভব তা করতে [[লন্ডন|লন্ডনে]] এসেছি? আপনাদের নির্বাচনী এলাকার সাথে কখনও যোগাযোগ হারাবেন না; কখনও লন্ডনের কোনো ক্লাবের সদস্য এবং কোনো সংবাদকর্মীর কণ্ঠস্বরকে দেশের কণ্ঠস্বর বলে ভুল করবেন না। দেশ আপনাদের নির্বাচিত করেছে; দেশই আপনাদের বিচার করবে।
**অ্যালবার্ট হলে দেওয়া ভাষণ (৪ ডিসেম্বর ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭২-৭৩-এ উদ্ধৃত।
*আমি দেখতে চাই সমগ্র জাতির সেবা করার মনোভাব ইউনিয়নিস্ট পার্টির প্রতিটি সদস্যের জন্মগত অধিকার হয়ে উঠুক—সেই অর্থে ইউনিয়নিস্ট যে আমরা সেই দুই জাতির মিলনের পক্ষে দাঁড়াই, যার কথা দুই প্রজন্ম আগে ডিসরেলি বলেছিলেন; আমাদের নিজেদের মানুষের মধ্যে মিলন, যাতে দেশে আমাদের মানুষের একটিই জাতি তৈরি হয়, যা নিশ্চিত হলে বিশ্বের আর কোনো কিছুই এসে যায় না।
**অ্যালবার্ট হলে দেওয়া ভাষণ (৪ ডিসেম্বর ১৯২৪), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭৩-এ উদ্ধৃত।
====১৯২৫====
*যদি কিছু থেকে থাকে... তবে তা হলো আমার প্রশিক্ষণ। এটি আমাকে এমন একটি জ্ঞান এবং সহানুভূতি দিয়েছে—আমি সেটি ব্যবহার করতে পারি বা না পারি—যা কোনো এককভাবে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ পাওয়া মানুষের পক্ষে অর্জন করা খুবই কঠিন। আমি এটিকে নিজের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করি যে, আমার জীবনের গঠনমূলক বছরগুলোতে এবং আমি যখন প্রথম পৃথিবীতে কাজ শুরু করি সেই দশ-বিশ বছর ধরে, আমি এই দেশের সব শ্রেণির মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। আর কোনো কৃতিত্ব ছাড়াই আমি এমন একটি সদিচ্ছা উপভোগ করেছি যা আমি আমার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। তারা তাঁদের সততা, সুষ্ঠু বিচার এবং যাঁদের সাথে কাজ করতেন তাঁদের প্রতি সদয় আচরণের জন্য একটি নাম রেখে গেছেন। আমি সফল হই বা না হই, এর মাধ্যমে আমি বিশ্বাস করি যে আমি দেশের মানুষের মন সম্পর্কে এমন একটি বোঝাপড়া পেয়েছি যা আমি অন্য কোনো উপায়ে পেতাম না। এর মাধ্যমেই আমাদের মানুষের প্রতি আমার সেই অটুট বিশ্বাস এবং আস্থা তৈরি হয়েছে যা ভালো-খারাপ সব সময়ে আমাকে টিকিয়ে রাখে। আর এর জন্যই আমার পূর্ণ আস্থা আছে যে, এই দেশে বা এই দেশের ওপর যখনই কোনো সমস্যা নেমে আসুক না কেন, আমাদের মানুষের সহজাত শক্তি ও গুণ সবকিছু কাটিয়ে উঠবে। '''আমি অনুভব করি কেবল একটি কাজেই নিজের সমস্ত শক্তি ব্যয় করা সার্থক, আর তা হলো শব্দের প্রতিটি অর্থে এই দেশের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রচেষ্টায় আমাদের মানুষের সব শ্রেণিকে একত্রিত করা। রাজনীতিতে আমার জীবনের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য এটাই'''।
**স্টুরপোর্টে দেওয়া ভাষণ (১২ জানুয়ারি ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৫-১৬-এ উদ্ধৃত।
*ইউরোপ মহাদেশ, একটি মহাদেশ যা একটি সরু সমুদ্র দ্বারা আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন বটে, কিন্তু বাণিজ্য ও মানবতার শত শত বাঁধনে আমাদের সাথে যুক্ত, আমরা পছন্দ করি বা না করি, তা আমাদের ভাগ্যের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। ... যতক্ষণ না আপনার স্থিতিশীলতা আসে, ততক্ষণ আপনি আত্মবিশ্বাস পেতে পারেন না। আর আত্মবিশ্বাস না আসা পর্যন্ত আপনি কখনোই সেই বর্ধিত উৎপাদন ক্ষমতা পেতে পারেন না যা ইংল্যান্ডে আমাদের নিজেদের বাণিজ্যের উন্নতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়... মানুষে-মানুষে এবং জাতিতে-জাতিতে সেই অভিশপ্ত ও পৈশাচিক সন্দেহই ইউরোপকে সেই নিরাপত্তার অনুভূতি থেকে বঞ্চিত করে, যা আত্মার সেই ঐক্যের জন্য অপরিহার্য, যা বিশ্বের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য আমাদের থাকতে হবে।
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৫ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২৫-২৭-এ উদ্ধৃত।
*আর তাই, যুদ্ধের প্রায় সাত বছর পরও আমরা দেখতে পাচ্ছি এই দীর্ঘায়িত ও তীব্র মন্দা, এবং বেকারত্বের এই ভয়ংকর পরিসংখ্যান... আমরা আজ এমন এক বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে, মোটামুটিভাবে বললে, বিমাকৃত জনসংখ্যার প্রতি দশজনের মধ্যে একজন কর্মহীন... কিন্তু কেবল রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি প্রতিকার নেই। কেবল সাধারণ মানুষের মাধ্যমেও কোনো সরাসরি প্রতিকার নেই। আমরা সবাই মিলে একযোগে চেষ্টা না করলে কিছুই করা সম্ভব নয়। আর আমি—এবং আমি বেশ সিরিয়াসভাবেই বলছি—লেবার পার্টি ক্ষমতায় ছিল বলে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এর কারণ হলো: তারা এখন জানে যে, অন্য যেকোনো সরকারের মতোই তারাও বেকারত্ব দূর করার মতো কোনো জাদুকরী দাওয়াই তৈরি করতে পারেনি। আর মনে মনে তাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে তাদের কাছে এমন কোনো প্রতিকার নেই যা এই রোগ নিরাময়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে এবং একই সাথে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে।
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৫ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৩০-৩১-এ উদ্ধৃত।
*যেসব মানুষ মহাদেশে নিরস্ত্রীকরণ, মহাদেশে শান্তি এবং মহাদেশে সন্দেহ দূর করার কথা বলেন, আমি তাঁদের সাথে পুরোপুরি একমত। তবে আমি এর চেয়েও বেশি করে চাই দেশে নিরস্ত্রীকরণ এবং দেশে এমন সন্দেহ দূর করা যা মানুষে-মানুষে সম্পর্ককে বিষাক্ত করে তোলে। একমাত্র এটি দূর করলেই আমরা আমাদের ধুঁকতে থাকা শিল্পের জন্য স্থিতিশীলতা পেতে পারি এবং সেই আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারি যার মাধ্যমে আমাদের মানুষ আরও ভালো কিছুর দিকে এগিয়ে যেতে পারবে... এটি জনজীবনের অন্যতম একটি স্ববিরোধিতা যে, যারা বিদেশে শান্তিবাদ প্রচার করে, তাদের মুখেই আমরা দেশে যুদ্ধের ডাক শুনতে পাই। রুশোর সম্পর্কে কে যেন বলেছিলেন যে তিনি তার স্বজাতির প্রেমিক, কিন্তু তার আত্মীয়দের ঘৃণাকারী? '''এমন দর্শনের অনুসারীরা কেবল এই দেশের জন্যই সর্বনাশ বয়ে আনতে পারে।'''
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৫ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৩২-৩৩-এ উদ্ধৃত।
*'''আমি এই দেশে ঈশ্বরের একটি যুদ্ধবিরতি চাই''', যাতে আমরা আমাদের পার্থক্যগুলো দূর করতে পারি, যাতে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে দেখতে পারি যে আমরা দেশটিকে একটি আরও ভালো এবং সুখী অবস্থায় নিয়ে যেতে পারি কি না। একটি সরকার খুব সামান্যই করতে পারে; এই সংস্কারগুলো, এই বিপ্লবগুলো অবশ্যই জনগণকেই আনতে হবে। নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিকদের সংগঠনগুলো যদি কাজে নেমে পড়ে, তবে তারা রাজনীতিবিদদের চেয়ে তাদের সমস্যার সমাধান খুঁজতে অনেক বেশি সক্ষম... তাই যারা শ্রম এবং পুঁজির প্রতিনিধিত্ব করে, তারা কাজে নেমে পড়ুক এবং এই দেশের প্রতিটি গলি এবং কোণায় শান্তি খুঁজুক এবং তার পিছু ছুটুক... আর আজ রাতে যদি আপনাদের এবং এই দেশের মানুষের জন্য আমার কোনো বার্তা থাকে, তবে তা ঠিক এমনই হবে। '''আমি বলব: "ইংল্যান্ড! স্থির হও! দেখো তুমি কোথায় যাচ্ছ! মানুষের হাত আমাদের দেওয়া হয়েছিল হাত মেলানোর জন্য, ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বে একে অপরের বিরুদ্ধে তোলার জন্য নয়।"'''
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৫ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৩৩-৩৪, ৪০-এ উদ্ধৃত।
*আমি প্রায়ই অবাক হয়ে ভাবি যে এই দেশের সব মানুষ ইংল্যান্ডের শিল্প ব্যবস্থায় আসা অবশ্যম্ভাবী পরিবর্তনগুলো বুঝতে পারে কি না... আমার নিজের জীবনের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে, আমি আমার নিজের চোখের সামনে এই বিবর্তনের অনেক কিছুই ঘটতে দেখেছি। আমি অনেক বছর ধরে একটি শিল্প ব্যবসায় কাজ করেছি, এবং আমার অধীনে বিপুল সংখ্যক, বা তখনকার সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ছিল... আমি সম্ভবত এমন একটি ব্যবস্থার অধীনে কাজ করছিলাম যা ইতোমধ্যেই অতীতের বিষয় হতে চলেছিল। আমার সন্দেহ আছে যে সেই সময়েও এই দেশের কোনো বড় আধুনিক শিল্প শহরে এর মতো কিছু খুঁজে পাওয়া যেত কি না। এটি এমন একটি জায়গা ছিল যেখানে আমি জায়গাটির প্রতিটি মানুষকে চিনতাম এবং ছোটবেলা থেকেই তাদের চিনতাম। এমন একটি জায়গা যেখানে আমি কেবল কারখানার সমস্যা নিয়েই নয়, বরং বাড়িতে হওয়া সমস্যা নিয়েও পুরুষদের সাথে কথা বলতে পারতাম, যেখানে ধর্মঘট এবং লক-আউটের মতো বিষয়গুলো ছিল অজানা। এটি এমন একটি জায়গা ছিল যেখানে তখন কাজ করা পুরুষদের বাবা এবং দাদারা কাজ করতেন এবং যেখানে তাদের ছেলেরাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবসায় যুক্ত হতো। এটি এমন একটি জায়গাও ছিল যেখানে কাউকে কখনো "বরখাস্ত" করা হয়নি। যারা এই প্রজন্মের তুলনায় দক্ষতার বিষয়ে কম চিন্তিত ছিল, তাদের প্রতি আমাদের একটি স্বাভাবিক সহানুভূতি ছিল। সেখানে বেশ কয়েকজন বয়স্ক ভদ্রলোক তাদের পাইপ টানতে টানতে চাকাগাড়ির হাতলে বসে দিন পার করতেন। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এটি কোনো অদক্ষ সম্প্রদায় ছিল না। এটি ছিল সেই ধরনের কারখানার শেষ নিদর্শন। শেষ পর্যন্ত এটি আজকের শিল্পগুলো যে বিশাল সমন্বয়ের দিকে ঝুঁকছে, তার একটির মধ্যেই বিলীন হয়ে যায়।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1925/mar/06/industrial-peace ভাষণ] (৬ মার্চ ১৯২৫)।
*...একদিন কয়লাখনিগুলোতে একটা বড় ধর্মঘট শুরু হলো। এটি ছিল শুরুর দিককার ধর্মঘটগুলোর একটি, আর এটি একটি [[সাধারণ ধর্মঘট|জাতীয় ধর্মঘটে]] রূপ নিয়েছিল। আমরা যতদিন সম্ভব কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই কাজ চালিয়ে যাওয়াটা আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়েছিল। ধীরে ধীরে একটার পর একটা চুল্লি নিভিয়ে ফেলা হলো; চিমনির ধোঁয়া বন্ধ হয়ে গেল। যে ধর্মঘট চলছিল তার সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা প্রায় ১,০০০ মানুষ কোনো দোষ না করেই বেকার হয়ে পড়ল। আর সেসময় কোনো বেকার ভাতাও ছিল না। আমি স্বীকার করছি যে এই ঘটনাটি আমাকে খুব গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। সেই সময়ে আমার কাছে এই মানুষগুলোর প্রতি এটি এক ভয়ংকর অবিচার বলে মনে হয়েছিল, কারণ আমি তাদের আমার নিজের পরিবারের মতোই দেখতাম। এটি আমাকে খুব আঘাত করেছিল—দুই বা তিন বছর আগে এটি সংবাদমাধ্যমে না এলে আমি হয়তো এটা উল্লেখই করতাম না—এবং আমি তাদের জন্য একটি ভাতার ব্যবস্থা করেছিলাম, খুব বড় কিছু নয়, তবে অন্তত কিছু একটা, যাতে তারা ছয় সপ্তাহ চলতে পারে। আমি এমনটা করেছিলাম কারণ আমার মনে হয়েছিল তাদের সাথে খুব অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে আসলে আরও অনেক কিছু ছিল। খনিশ্রমিকরা এই মানুষগুলোর প্রতি ইচ্ছে করে কোনো অন্যায় আচরণ করেনি। আসল ব্যাপার হলো, আমরা ধীরে ধীরে শিল্পের এমন এক নতুন স্তরে প্রবেশ করছিলাম, যেখানে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান এবং ছোট শিল্পগুলোকে কোণঠাসা করে ফেলা হচ্ছিল। [[ব্যবসা]] একদিকে নিয়োগকর্তা এবং অন্যদিকে শ্রমিকদের বড় ধরনের একীভূতকরণের দিকে ঝুঁকছিল... এই বিবর্তনের সময়টাতে দেশকে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, যাতে আমরা আমাদের শিল্প সভ্যতার পরবর্তী স্তরে পৌঁছাতে পারি, সে ব্যাপারে প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়করা কী করতে পারেন তা আমাদের দেখতে হবে।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1925/mar/06/industrial-peace ভাষণ] (৬ মার্চ ১৯২৫)।
*আগামী বছরগুলোতে দেশের সামনে আসতে চলা এই বিশাল সমস্যায়, এক পক্ষ বা অন্য পক্ষের দিক থেকে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। কিন্তু এটি নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করে যে, এই দেশে অগ্রগতি কেবল সেই দুই দলের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব—যারা শক্তিতে এতটা সমান এবং দুর্বলতায় এতটা সমান—যদি তারা একে অপরকে বুঝতে শেখে এবং একে অপরের সাথে লড়াই না করে... আমরা শিল্পের পুরোনো অবস্থা থেকে নতুন অবস্থার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। আর প্রশ্ন হলো: সেই নতুন অবস্থাটি কেমন হতে চলেছে? কোনো মানুষই অবশ্যই বলতে পারবে না যে বিবর্তন ঠিক কী রূপ নিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আমি বেশ নিশ্চিত যে, আমরা যে রূপই দেখি না কেন... এটিকে একটি বেশ নিবিড় অংশীদারিত্বের রূপ নিতে হবে, তা যেভাবেই অর্জিত হোক না কেন। আর এটি এমন কোনো অংশীদারিত্ব হবে না যার শর্তগুলো পার্লামেন্টের আইনে, বা এই দল বা সেই দল থেকে ঠিক করে দেওয়া হবে, অন্তত এখনই নয়। এটি এমন মানুষদের একটি অংশীদারিত্ব হতে হবে যারা তাদের নিজেদের কাজ বোঝে। রাজনীতিবিদ বা বুদ্ধিজীবী কারও কাছ থেকেই তারা এ ব্যাপারে খুব বেশি সাহায্য পেতে পারে না। নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে যে সমস্যাটি আজ দেশকে বিভক্ত করে রেখেছে, তা বিচার করার, মীমাংসা করার এবং ব্যবস্থা করার মতো উপযুক্ত মানুষের সংখ্যা খুব কম। যারা নিজেরা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ করে আসেননি, এমন খুব কম মানুষই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার যোগ্যতা রাখেন। আমি সবসময় এই সংস্থাগুলোর উভয় পক্ষের শীর্ষ পদে এমন মানুষদের দেখতে চাই, যারা নিজেরা তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন, যারা ঠিক জানেন কোথায় সমস্যা হচ্ছে, যারা ঠিক জানেন কী ছাড় দেওয়া যেতে পারে এবং কী পারে না, যারা তাদের যুক্তিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেন। আমি আশা করি আমরা সবসময় এমন মানুষ খুঁজে পাব যারা সরাসরি সংঘর্ষের দিকে না গিয়ে নিজেদের জাহাজগুলোকে পাশাপাশি চালানোর চেষ্টা করবেন।
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1925/mar/06/industrial-peace ভাষণ] (৬ মার্চ ১৯২৫)।
*ক্ষমতায় থাকার এই দুই বছর পর, আমরা আজ সম্ভবত আমাদের দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এবং দেশের সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়ে অবস্থান করছি। এখন, আমরা সেখানে কীভাবে পৌঁছালাম? এই বিলটি আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমরা সেখানে পৌঁছাইনি; বরং আমরা সেখানে পৌঁছাতে পেরেছি কারণ, ঠিক হোক বা ভুল, আমরা সারা দেশে এই ধারণাটি তৈরি করতে পেরেছিলাম যে আমরা একটি স্থিতিশীল সরকার এবং সমাজের সব শ্রেণির মধ্যে শান্তির পক্ষে... আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে; আজ যে বিলটি আনা হয়েছে তার ন্যায়বিচারে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু আমরা আমাদের হাত গুটিয়ে নেব, এবং এমন একটি সময়ে আমরা আমাদের রাজনৈতিক সুবিধাকে কাজে লাগাব না। যে সন্দেহ ইউরোপে স্থিতিশীলতা আসতে বাধা দিয়েছে, ঠিক সেই একই বিষ আমাদের দেশে স্থিতিশীলতা আসতে বাধা দিচ্ছে। আর আমরা আজ দেশকে এই প্রস্তাব দিচ্ছি: '''অন্তত আমরা প্রথম গুলিটি ছুড়তে যাচ্ছি না। আমরা শান্তির পক্ষে। আমরা দেশে সন্দেহ দূর করার পক্ষে। আমরা একটি নতুন যুগের জন্য একটি নতুন পার্লামেন্টে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে মানুষ একসাথে আসতে পারে।''' আমরা যে কাজে হাত দিয়েছিলাম, তা থেকে আমরা সরে দাঁড়াচ্ছি। আমরা জানি এর জন্য আমাদের কাপুরুষ বলা হতে পারে। আমরা জানি আমাদের বলা হতে পারে যে আমরা আমাদের নীতি থেকে সরে এসেছি। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই মুহূর্তে দেশের কী প্রয়োজন তা আমরা জানি। আর আমরা বিশ্বাস করি যে, এই মুহূর্তে অন্য কোনো দল যা করতে পারে না, আমাদের সেই কাজটি করার শক্তি আছে এবং আমরা অন্তত শান্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছি... যদিও আমি জানি যে এই হাউসে অনেকেই আছেন যারা আমাদের বেশিরভাগের চেয়ে ভিন্ন লক্ষ্যের জন্য কাজ করেন, তবুও সব স্তরের এবং সব দলের অনেকেই আছেন যারা আমার প্রার্থনার প্রতিধ্বনি করবেন: '''"হে প্রভু, আমাদের সময়ে শান্তি দাও।"'''
**[[w:যুক্তরাজ্যের কমন্সসভা|হাউস অব কমন্সে]] দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1925/mar/06/industrial-peace ভাষণ] (৬ মার্চ ১৯২৫)।
*আমার মনে হয় আমাদের অনেকেই বুঝতে শুরু করেছিলাম যে আমরা বস্তুগত সম্পদের প্রতি আকর্ষণ হারাচ্ছি। আমরা বুঝতে পারছিলাম যে '''সম্পদ তৈরি হয়েছিল দাস হওয়ার জন্য, মনিব হওয়ার জন্য নয়—একটি দাস হিসেবে এর খুবই দরকারী একটি ভূমিকা রয়েছে, কিন্তু মনিব হিসেবে এর অর্থ হলো ধ্বংস বা নরকবাস।'''
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬১-৬২-এ উদ্ধৃত।
*যুদ্ধের পর যে গৌরবময় সময় আসবে, সেই কথা বলা ভাষণগুলোতে আমরা খুব একটা মুগ্ধ হইনি। বিশ্বে যুদ্ধের অর্থ কী তা আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। আমরা ইউরোপে সভ্যতার ভিত্তিগুলো ফাটল ধরতে অনুভব করেছিলাম। ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা জানতাম যে একটি প্রজন্মের জন্য এই দেশ এবং সমগ্র বিশ্ব অনেক, অনেক বেশি দরিদ্র হয়ে পড়বে। আমরা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের সভ্যতার ভিত্তির ফাটলগুলো মেরামত করতে এবং যুদ্ধের আগে দেশ যে সমৃদ্ধি ভোগ করত তা ফিরিয়ে আনতে কতটা সংগ্রাম করতে হবে। আমি এও মনে করি যে, আমাদের অনেকেরই [[w:Übermensch|সুপারম্যানদের]] ওপর খুব একটা বিশ্বাস ছিল না। '''আমি মনে করি ব্যবসায় আমাদের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছিল যে, বাস্তব জীবনে সুপারম্যান বলে কিছু নেই। আর আমাদের যদি সফল হতে হয়, তবে এই দেশের সাধারণ নারী-পুরুষের সহজাত কাণ্ডজ্ঞান, সততা, সাহস এবং বিশ্বাসের ওপরই আমাদের নির্ভর করতে হবে।'''
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬২-এ উদ্ধৃত।
*ঠিক এই কারণেই, আমার অনুভূতির জায়গা থেকেই, ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে আমি সেই পথ বেছে নিতে বাধ্য হই যখন আমি [[অ্যান্ড্রু বোনার ল|মিস্টার বোনার ল'র]] পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব গ্রহণ করি। আমি জেনেশুনেই তা করেছিলাম। কারণ আমি বিশ্বাস করেছিলাম যে, জীবনের এই পর্যায়ে এসে, আমি যে ব্যবসায় এতকাল যুক্ত ছিলাম তা থেকে স্বাধীন হওয়ার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ আমার রয়েছে। তাই কোনো পারিশ্রমিকের প্রয়োজন ছাড়াই দেশের সেবা করার একটি সুযোগ আমার আছে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। আমার মতো এমন অনুভব করা লাখ লাখ মানুষ নিশ্চয়ই ছিল। আমি কখনোই বলিনি বা বিশ্বাস করিনি যে, আমি যে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি তা অন্য যেকোনো সেবার চেয়ে এক চুলও বেশি বা ভালো। '''যে মনোভাব নিয়ে সেবা করা হয়, তার ভিত্তিতে সব সেবাই সমান।''' আমাদের রাজ্যের প্রতিটি কোণায় আমাদের দেশের মহান শক্তির অন্যতম একটি উৎস হলো, এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের নিজেদের জন্য এমন কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই যেখানে প্রচার সবচেয়ে বেশি আর মানুষের নজর সবচেয়ে তীক্ষ্ণ। আর যতদিন আমাদের দেশ এই ধরনের মানুষ তৈরি করতে পারবে—আর আমি শুকরিয়া জানাই যে সমাজের সব শ্রেণি থেকেই এমন মানুষ তৈরি হচ্ছে—ততদিন আমি ইংল্যান্ডকে নিয়ে কখনোই হতাশ হব না।
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩-এ উদ্ধৃত।
*যুদ্ধ শেষ হওয়ার অনেক আগেই আমার কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এর প্রভাব—যা যুদ্ধ-পরবর্তী বছরগুলোতে এই দেশকে সবচেয়ে কঠিন আঘাত করবে—তা হলো আমাদের সেইসব তরুণদের হারানোর ট্র্যাজেডি, যারা মাত্র যোগ্যতা অর্জন করছিল এবং আমাদের তরুণদের নেতা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল... যুদ্ধের পর প্রথম কুড়ি বছরে এমন কিছুই নেই যা এই দেশের সেই বয়সের এতগুলো মানুষের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে। আর এটিই ছিল আরও একটি কারণ, যার জন্য আমরা যারা যুদ্ধ শুরুর সময় ইতোমধ্যেই মধ্যবয়সী ছিলাম, তারা যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই নিজেদের আরও উন্নত সত্তার কাছে এই বলে শপথ নিয়েছিলাম যে, মৃতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আমরা আমাদের বাকি জীবনের জন্য দেশের সেবায় আমাদের সেরাটা উজাড় করে দেব। আমাদের কাজ এখন আর সেই স্বস্তি খোঁজা নয় যা আমরা বৈধভাবেই খুঁজতে পারতাম। আমাদের কাজ হলো শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া এবং আসছে পরবর্তী প্রজন্মকে সাহায্য করা—সেই প্রজন্ম যারা যুদ্ধ করার জন্য খুব ছোট ছিল—তাদের সাহায্য করা যাতে সময় হলে তারা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে। বয়স্ক পুরুষদের ওপর এটি একটি বিশাল বোঝা, এবং এটি এমনই থাকবে। কিন্তু একটি ভাঙা এবং চূর্ণবিচূর্ণ বিশ্বকে সাহায্য করার জন্য নিজেদের সেরাটা দিতে পারাটাই তাদের গর্বের অবদান।
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪-এ উদ্ধৃত।
*[গত বিশ] বছরে দেশের অনেক জায়গাতেই পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। এখানে কার দোষ থাকতে পারে তা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। কিন্তু আমি এটা বলতে চাই যে, আমি উপলব্ধি করি, আপনারাও যেমনটা করেন, গত বিশ বছরে যে ধরনের প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার চালানো হয়েছে—যে প্রোপাগান্ডা শ্রেণিশত্রুতা শেখায়—তা অনেক জায়গাতেই তার মন্দ এবং বিষাক্ত কাজ করে গেছে... সেই দিকে যে কাজ করা হয়েছে তা মুহূর্তের মধ্যে মুছে ফেলা যায় না। আর এর জন্য সর্বোচ্চ সদিচ্ছা এবং দৃষ্টান্তের সর্বোচ্চ শক্তির প্রয়োজন হবে, যাতে বড় পরিসরে ভালো এবং এমন কিছু আনা যায় যার ওপর আমরা একটি স্থায়ী এবং স্থিতিশীল ইমারত গড়তে পারি।
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬৬-৬৭-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের যা করতে হবে... তা হলো লিমিটেড লায়াবিলিটি বা সীমিত দায়ের ব্যবস্থাকে মানবিক করে তোলা।
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬৭-এ উদ্ধৃত।
*আমি চাই নিয়োগকর্তাদের মধ্য থেকে এমন একজন মানুষ উঠে আসুক, যিনি তার কর্মীদের নেতৃত্ব দেবেন। তিনি তার নিজ পক্ষের হয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের কাজের সাথে যুক্ত সব বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হওয়াকে তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানাবেন। একজন যুবকের জন্য ব্যবসায় নামার এর চেয়ে ভালো কোনো উদ্দেশ্য হতে পারে না... শুধু টাকা কামানো নয়, বরং এই সম্পর্কগুলোকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা। যেসব যুবক ছেলেবেলায় ফ্রান্সে গিয়েছিলেন এবং একটি ব্রিটিশ রেজিমেন্ট কী তা শিখেছিলেন, তাঁদের জন্য সেই ব্রিটিশ রেজিমেন্টের চেতনা নিজেদের শিল্পে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করার চেয়ে ভালো কাজ আর কিছু হতে পারে না।
**লিডসে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৬৮-৬৯-এ উদ্ধৃত।
*এই দেশে অনেকের কাছেই [[সাম্রাজ্যবাদ]] শব্দটির একটি কিছুটা নেতিবাচক অর্থ রয়েছে। আমার এবং আপনাদের মতে ভুলভাবে হলেও তারা এটিকে শোষণ, সারা বিশ্বকে পদদলিত করা, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সরকারি নীতিতে স্বার্থপরতার সাথে মিলিয়ে ফেলে। [[আলফ্রেড মিলনার, ১ম ভিসকাউন্ট মিলনার|লর্ড মিলনারের]] কাছে এটি তেমন কিছু ছিল না, আর আমাদের কাছেও এটি তেমন নয়। বরং এটি হলো—আমরা যে অংশগুলো নিয়ন্ত্রণ করি বা যেখানে আমাদের প্রভাব রয়েছে, সেখানে আইন, শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচারের সেই সমস্ত ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া, যা আমাদের জাতির জন্য অনন্য বলে আমরা বিশ্বাস করি। পিছিয়ে পড়া সভ্যতার মানুষকে সভ্যতার মাপকাঠিতে আরও ওপরে উঠতে সাহায্য করাটা—একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ, এবং এটি সফল করার জন্য প্রজ্ঞার প্রয়োজন। বিশ্বের আর কোনো দেশের ওপর আমাদের দেশের মতো এই দায়িত্ব চাপানো হয়নি। আর নিঃসন্দেহে আমরা কীভাবে এই দায়িত্ব পালন করি, তার ওপর ভিত্তি করেই ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের বিচার করা হবে। হয়তো আজ নয়, কিন্তু আমাদের রক্তের যারা আমাদের পরে আসবে, তারা এই বিচার করবে।
**অক্সফোর্ডে দেওয়া ভাষণ (১৫ মে ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৮৫-১৮৬-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের মধ্যে যারা গ্রাম এবং গ্রামের জিনিস ভালোবাসে, তারা নিজেদের রক্তে আমাদের ভূমির এই নগরায়ণ অনুভব করে। আমাদের পাখি এবং ফুল রক্ষার জন্য কিছু একটা করা প্রয়োজন বলেও তারা গভীরভাবে অনুভব করে।
**হাইড পার্কে হাডসন মেমোরিয়াল উন্মোচনকালে দেওয়া ভাষণ (১৯ মে ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১২৯-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের দুঃসাহসী চেতনা থেকে। অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি ভালোবাসা, আবিষ্কারের নেশা আর নতুন দেশে মুক্ত জীবনের আকাঙ্ক্ষা তাঁদের এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তারা যেখানেই গেছেন, নিজেদের সাথে তাঁদের মাতৃভূমির ঐতিহ্য, অভ্যাস আর আদর্শ নিয়ে গেছেন। যেখানেই তারা বসতি স্থাপন করেছেন, সেখানে একটি নতুন মাতৃভূমি গড়ে তুলেছেন। আর যদিও পর্বতমালা এবং বিস্তীর্ণ সমুদ্র তাঁদের আলাদা করে রেখেছিল, তবু সেই আত্মার সোনালি সুতো তারা কখনোই হারাননি, যা তাঁদের জন্মভূমির স্মৃতির দিকে টেনে নিয়ে যেত। এমনকি তাঁদের সন্তানরা এবং তাদের সন্তানদের সন্তানরা, যাদের কাছে গ্রেট ব্রিটেন ছিল কেবল একটি নাম বা একটি স্বপ্ন, তারাও সব সময় এটিকে বাড়ি বলেই ডাকত। আত্মীয়তার এই অনুভূতির মাঝেই সাম্রাজ্য তার উজ্জ্বলতম গৌরব এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় শক্তি খুঁজে পায়। পুরোনো সাম্রাজ্যগুলো সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এবং সামরিক আধিপত্যের মাধ্যমেই টিকে ছিল। সেগুলো ছিল পরাধীন জাতিগুলোর সাম্রাজ্য, যা একটি কেন্দ্রীয় শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো। আমাদের সাম্রাজ্য এগুলো থেকে এতটাই আলাদা যে আমাদের অবশ্যই সাম্রাজ্য শব্দটিকে একটি নতুন অর্থ দিতে হবে, অথবা এর পরিবর্তে ব্রিটিশ ন্যাশনস কমনওয়েলথ উপাধিটি ব্যবহার করতে হবে... '''আমি নিশ্চিত যে আমাদের মধ্যে কেউই এই ব্রিটিশ ন্যাশনস কমনওয়েলথ নিয়ে ভাবতে পারে না—যা আমাদের নিজস্ব জাতির নারী-পুরুষরাই তৈরি করেছেন—আমাদের গভীরতম অনুভূতির নাড়া দেওয়া ছাড়া।'''
**এম্পায়ার ডে বার্তা (১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ২১৩-২১৪-এ উদ্ধৃত।
*আপনাদের অনেকেই জানেন, পুরোনো দিনে বিউডলি ছিল একটি আশ্রয় শহর। সেখানে একজন মানুষ, সে যতই পাপ করুক না কেন, পালিয়ে এসে বিচারের হাত থেকে নিরাপদ থাকতে পারত। তাই, বাইরের পৃথিবীর রুক্ষ ঢেউ যখন আমাকে সাধারণের চেয়ে বেশি জোরে ধাক্কা দেয়, তখন আমাকে কেবল মনে করতে হয় যে বিউডলিতে এমনকি একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্যও আশ্রয় আছে... আমার নিজের দেশে বোঝাপড়া, সহানুভূতি এবং সমর্থন পেতে আমি কখনোই ব্যর্থ হইনি। এমনকি জীবন যখন সবচেয়ে কঠিন মনে হয় এবং সামনের বাধাগুলো পার হওয়া অসম্ভব বলে মনে হয়, তখনও আমি স্মৃতির পাতায় এই নদীর ধারের শান্ত জায়গাটিতে ফিরে যেতে পারি। এখানেই আমি প্রথম শ্বাস নিয়েছিলাম, এবং এখানকার স্মৃতি থেকেই আমি শক্তি সঞ্চয় করতে পারি। ছেলেবেলার স্মৃতি লালন করার জন্য এর চেয়ে আদর্শ কোনো ইংরেজ পরিবেশ হতে পারে না। আমার মনে পড়ে, ছোটবেলায় আমি সেতু থেকে নদীর উজানের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আমি দেখতাম নদীর ঠিক পাশেই থাকা শ্রপশায়ারের সেই রহস্যময় ও রোমান্টিক ভূমি, যেখান থেকে মাত্র তিন প্রজন্ম আগে আমার পূর্বপুরুষরা এসেছিলেন। আমি দেখতাম ছোট্ট রেললাইন ধরে ওয়ায়ার ফরেস্ট, ক্লিওবেরি মর্টিমার, নিন সোলার্স এবং টেনবেরির মতো নামধারী জায়গাগুলোর মধ্য দিয়ে ছুটে চলা ট্রেনের ধোঁয়া। এই নামগুলো রোমান্স এবং বহু আগে পেরিয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের বসন্তের গন্ধে ভরপুর, যার ঐতিহ্য আজ আমাদের।
**বিউডলিতে দেওয়া ভাষণ (৮ আগস্ট ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০-১১-এ উদ্ধৃত।
*শব্দ হলো ভালোবাসা ও [[বন্ধুত্ব|বন্ধুত্বের]], তৈরি ও বিপণনের, শান্তি ও যুদ্ধের মুদ্রা। শব্দ দিয়েই জাতিগুলোকে বাঁধা হয় এবং মুক্ত করা হয়। তিনটি বা চারটি সহজ শব্দই সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ের মতো মানুষের হৃদয়ে আবেগের ঢেউ তুলতে পারে: "যাতে আমরা ভুলে না যাই ।" "[[দেশপ্রেম|দেশপ্রেমই]] যথেষ্ট নয় ।"
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৭৮-এ উদ্ধৃত।
*'''খামখেয়ালিভাবে চিন্তা করার চেয়ে নিয়মমাফিকভাবে সন্দেহ করা ভালো।'''
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৮৩-এ উদ্ধৃত।
*আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের কোথাও এই দেশের চেয়ে উচ্চতর বাণিজ্যিক সম্মানের মানদণ্ড নেই। আর আমাদের আইনের अदालतগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যা বিশ্বব্যাপী একটি সম্মানজনক মর্যাদা ভোগ করে।
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৮৪-এ উদ্ধৃত।
*কেবল একটি দলের রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সমগ্র জাতির সাথে যুক্ত থাকা এই দুর্নামের ব্যাখ্যা কী? মূলত, আমি মনে করি, এর কারণ হলো রাষ্ট্রগুলো যখন থেকে অস্তিত্ব লাভ করেছে, তখন থেকেই তারা বিপদে পড়েছে এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শক্তির ওপর নির্ভর করেছে। যুদ্ধই তাদের স্বাভাবিক ইতিহাস... যুদ্ধ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতির সাথে সাথে আসে কূটনীতির কৌশল, সাধারণ নৈতিকতার পতন, সত্যের জন্য একটি ছুটি এবং এর ফলস্বরূপ সৃষ্টি হওয়া মানববিদ্বেষ... আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং সংঘাতের ময়দানে মানুষ রাষ্ট্রনায়কদের অপরিহার্য গুণ হিসেবে সত্যবাদিতার চেয়ে দেশপ্রেমকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৮৫-৮৬-এ উদ্ধৃত।
*একজন রাজনীতিবিদ একজন বিজ্ঞানীর চেয়ে একজন ব্যারিস্টার বা আইনজীবীর অনেক কাছাকাছি... আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ প্রমাণের চেয়ে প্ররোচনায় বেশি আগ্রহী। তাদের রক্ষা করার জন্য একজন মক্কেল বা একটি নীতি থাকে। রাজনৈতিক দর্শকরা স্বভাবগতভাবে অসাধু নয়, বা তারা অন্যের অসাধুতা বা মিথ্যা উপস্থাপন পছন্দ বা অনুমোদন করে না। তবে তারা এমন দর্শক যারা গভীর কোনো যুক্তি অনুসরণ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। আর একজন বক্তা দর্শকদের মনে একটি অনুকূল ছাপ ফেলতে চান, একটি নীতির পক্ষে সমর্থন আদায় করতে চান। এটি সহজেই বোঝা যায় যে কীভাবে এটি শব্দের মুদ্রামূল্য কমিয়ে দিতে পারে এবং এমন সব প্রতিশ্রুতি ছড়িয়ে দিতে পারে যা কখনোই পূরণ করা সম্ভব নয়।
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৮৯-৯০-এ উদ্ধৃত।
*মানুষ যেসব ভালো জিনিস উপভোগ করে, তার জন্য তাকে যে মূল্য চোকাতে হয় তা হলো অবিরাম সতর্কতা, যাতে সেগুলো কোনো খারাপ কাজে ব্যবহার করা না হয়। ইতিহাসের শুরু থেকেই কি পানীয়, ভাষা এবং স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এই কথাটি সত্য নয়? ...আসুন আমরা [[ম্যাকিয়াভেলি|ম্যাকিয়াভেলির]] বদলে [[হুগো গ্রোশিয়াস|গ্রোটিয়াসের]] মতো জনঅধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়াই; আসুন আমরা আমাদের সরকারি আলাপ-আলোচনাগুলোকে আরও নৈতিক করে তোলার চেষ্টা করি এবং কপটতা ও প্রতারণার জায়গা কমিয়ে আনি। এটি কেবল আমাদের সেরা মানুষদেরই একটি গৃহীত নীতি নয়, বরং আমি নিশ্চিত যে এটি ব্রিটিশ জনগণের এক গভীর প্রবৃত্তি বা স্বভাবের সাথেও মিলে যায়। এটি ১৯১৪ সালের আগস্টে প্রমাণিত হয়েছিল যখন এটি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে '''নৈতিকতা রাজনীতির কোনো শাখা নয়, বরং রাজনীতিই নৈতিকতার শাখা'''। এটি লিগ অব নেশনস-এ আমাদের সমর্থনের মূলেও রয়েছে।
**দ্য ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের লর্ড রেক্টর হিসেবে তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (৬ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৯১-এ উদ্ধৃত।
*মৌলিক প্রশ্নটি হলো, একজন ব্যক্তির সব ধরনের স্বভাব বা বৈশিষ্ট্যগুলো তার কাজে কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়... [[শিল্পবিপ্লব|শিল্পবিপ্লবের]] এই হতাশাজনক দিকগুলো কারখানার ভেতরে যা-ই বয়ে আনুক না কেন, কারখানার বাইরে একটি অত্যন্ত খারাপ জিনিস বয়ে আনার প্রবণতা এদের মধ্যে ছিল। আর তা হলো কাজের প্রতিই এক ধরনের অনীহা। কাজকে যদি রুচিসম্মতভাবে উপস্থাপন করা যায়, তবে আমি নিশ্চিত নই যে সাধারণ মানুষ এটি পছন্দ করবে না, যদি না তারা পর্যাপ্ত বিনোদনের সুযোগ পায়। '''আসল শত্রু হলো অতিরিক্ত কাজ, কম বেতন, নিরাপত্তাহীনতা এবং খারাপ পরিস্থিতি'''... আমরা যা সম্ভব তাকে বাড়িয়ে বলতে পারি না। আপনি একঘেয়েমি কাজ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবেন না; এমনকি কোনো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও পারবেন না। সর্বোপরি, একজন শ্রমিকের জীবনের একঘেয়েমি অনেকটাই নির্ভর করে ভোক্তাদের চাহিদার একঘেয়েমির ওপর। যদি কোনো মানুষ প্রতিদিন একই জিনিস চায়, তবে যে মানুষটি সেটি তৈরি করছে তার কাজ একঘেয়ে হবেই।
**ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইকোলজিতে দেওয়া ভাষণ (১২ নভেম্বর ১৯২৫), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ৫৫-৫৬-এ উদ্ধৃত।
==== ১৯২৬ ====
[[Image:KingBaldwin1926.jpg|thumb|রাজনীতিকে যদি সঠিকভাবে দেখা যায়, তবে তা সত্যিই এক ধরনের ধর্মীয় সেবার (মিনিস্ট্রি) মতো।]]
*কেন [[রোম সাম্রাজ্য|রোমান সাম্রাজ্যের]] উত্থান হয়েছিল এবং কেনই বা উত্থানের পর তার পতন ঘটেছিল? ...সাম্রাজ্যের উত্থানে রোমানদের চরিত্র যেমন ভূমিকা রেখেছিল, পতনের ক্ষেত্রেও কি ঠিক তেমনই ভূমিকা রাখেনি? ...আমার কাছে রোমান চরিত্রের সবচেয়ে বড় এবং অনন্য শক্তি হলো ''pietas (নিষ্ঠা)'' ও ''gravitas (গাম্ভীর্য)'' শব্দ দুটির মধ্যে। এগুলোই ছিল সেই দেশপ্রেমের ভিত্তি, যা একাই সাম্রাজ্যের বোঝা বইতে পারত। এই দেশপ্রেম ছিল সহজাত, অসীম ক্ষমতার এক চালিকাশক্তি। অথচ এটি এতটাই পবিত্র ছিল যে, একে নিয়ে কখনোই বড়াই করা হয়নি, কোনো পুরস্কারের আশা করা হয়নি, একে খুব স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া হতো এবং একে প্রকাশ করার মতো কোনো একক শব্দও ছিল না।
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৩-১০৪-এ উদ্ধৃত।
*''Pietas'' ও ''gravitas'' (তথা নিষ্ঠা ও গাম্ভীর্যের) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা চরিত্রের শেকড় ছিল সত্যের গভীরে। আর আমি এ কথা ভেবে গর্ববোধ করি যে, ইংরেজি শব্দটি রোমান শব্দের চেয়ে কোনো অংশেই কম সম্মানজনক নয়... রোমান সৈন্যদল যখন ব্রিটেন ছাড়ছিল, তখন অ্যামিয়ান লিখেছিলেন, রোমানদের কথার ওপর আর ভরসা করা যায় না। তার এই লেখা থেকেই আমরা তা জানতে পারি। '''শহরগুলোতে জনসংখ্যার ভিড়, অপরিসীম বিলাসিতা এবং সম্পদের স্থায়ী উৎসগুলোর নিঃশেষ হয়ে যাওয়া—এসবের চেয়েও এটি আমার কাছে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ একটি অশনিসংকেত বলে মনে হয়। কারণ এই সব কিছু মিলে সেই চরিত্রটিকেই দুর্বল করে দিয়েছিল, রাষ্ট্রের বেঁচে থাকার জন্য যার টিকে থাকাটা অপরিহার্য ছিল।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৫-এ উদ্ধৃত।
*আজ যারা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাদের মনে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। সেই ভয় এখনও আমাদের গলা চেপে ধরেনি ঠিকই, তবে গোধূলির আলোয় এক ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। ভয়টা হলো, [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|মহামহাবুদ্ধ]] এত বিপুল সংখ্যক সেরা জীবন কেড়ে নেওয়ার কারণে সাম্রাজ্যের কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট উপযুক্ত মানুষ হয়তো আর অবশিষ্ট নেই। আমাদের কাজ এমনিতেই অনেক কঠিন, তবে তা সম্পন্ন হবে; '''তবুও ইউরোপের কে না জানে যে, পশ্চিমে যদি আর একটি যুদ্ধ হয়, তবে যুগের পর যুগ ধরে গড়ে ওঠা সভ্যতা রোমের মতোই এক ভয়ংকর পতনের সম্মুখীন হবে? সে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিপদের সংকেত রেখে গেছে; এখন সেগুলো পড়ার দায়িত্ব আমাদের।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৬-এ উদ্ধৃত।
*আমি যেহেতু বিশ্বাস করি যে বিশ্বের অনেক সভ্যতা ও সংস্কৃতি পশ্চিম ইউরোপের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই আমাদের জন্য এটি মনে রাখা ভালো যে, ঐতিহাসিক সময়ে আমরা পশ্চিম ইউরোপীয়রা একসঙ্গে একটি বিশাল সাম্রাজ্যের সদস্য ছিলাম। এবং আমরা ভাষা, আইন এবং ঐতিহ্য—যদিও ভিন্ন মাত্রায়—একে অপরের সাথে ভাগ করে নিই। '''একই মায়ের কাছ থেকে নাগরিকত্বের প্রথম পাঠ শেখা জাতিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ হওয়াটা আমার কাছে ভ্রাতৃঘাতী উন্মাদনা বলেই মনে হয়।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৭-এ উদ্ধৃত।
*অ্যাথেন্স এবং রোমে... প্রতিটি চূড়ান্ত সমস্যাই তাদের ছিল, যেমনটা এখন আমাদের। আর আপনি তাদের আবেদনে যত বেশি নিজের আত্মাকে উন্মুক্ত করবেন, হোঁচট খাওয়া মানবতার প্রতি আপনার করুণা তত গভীর হবে। আপনি মানব পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করার চেয়ে বরং তাদের একত্রে বাঁধতে তত বেশি আগ্রহী হবেন। এটা কোনো অন্ধ নিয়তি নয় যে আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন পণ্ডিত তার জীবনকে [[w:সম্মিলিত_জাতিপুঞ্জ|লিগ অফ নেশনসের]] আদর্শের জন্য উৎসর্গ করেছেন। বরং এটি সেই গ্রিকদের ব্যর্থতা মোচনে অবদান রাখার ইচ্ছা থেকেই এসেছে, যাদেরকে বুঝতে তিনি জীবিত যেকোনো মানুষের চেয়ে এই আধুনিক বিশ্বকে বেশি সাহায্য করেছেন।
**[[গিলবার্ট মারে|গিলবার্ট মারেকে]] নিয়ে ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১১৫-১১৬-এ উদ্ধৃত।
*দেশের এখন অন্য একজন [[জন ওয়েসলি|ওয়েসলি]] বা [[জর্জ হোয়াইটফিল্ড|হোয়াইটফিল্ডের]] মতো আর কাউকে এতটা প্রয়োজন নেই... আজ বিশ্বকে খ্রিস্টীয় যুগে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি [[অধর্ম|ধর্মহীন]] বলে মনে হচ্ছে। দায়িত্বজ্ঞানহীন আনন্দ-সন্ধান এবং অপব্যয়ী বিলাসিতা এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে; আমাদের শৈশবে গির্জায় যাওয়ার যে চল ছিল, তা এখন আর নেই; এবং যাজকপদের (মিনিস্ট্রি) জন্য প্রার্থীদের সংখ্যাও আগের বছরগুলোর তুলনায় কমে গেছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এই পরিস্থিতি কেটে যাবে।
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৫-১৯৬-এ উদ্ধৃত।
*আমি সেখানে, বিশেষ করে লেবার পার্টির মধ্যে এমন অনেক লোককে দেখি যারা পঞ্চাশ বছর আগে নিশ্চিতভাবেই খ্রিস্টান যাজকপদে (মিনিস্ট্রি) যোগ দিতেন। জনগণকে সাহায্য করার গভীর আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা রাজনৈতিক জীবনে আকৃষ্ট হয়েছেন। আজকাল সব দলেই এমন মানুষ দেখা যায়... আমি অবশ্যই অনেক পর্যবেক্ষকের সাথে একমত যে, যুদ্ধের পর থেকে [[শয়তান|শয়তানের]] স্পষ্ট শক্তিগুলো আরও বেশি মাত্রায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এই শক্তিগুলোর প্রকাশই আবার অন্যান্য শক্তিগুলোকে মাঠে নামার আহ্বান জানাচ্ছে।
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৬-এ উদ্ধৃত।
*'''রাজনীতিকে যদি সঠিকভাবে দেখা যায়, তবে তা সত্যিই এক ধরনের ধর্মীয় সেবার (মিনিস্ট্রি) মতো।'''
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৭-এ উদ্ধৃত।
* '''আমি একজন শান্তির মানুষ। আমি শান্তির জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা করছি, কাজ করছি এবং প্রার্থনা করছি। কিন্তু আমি ব্রিটিশ সংবিধানের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার সাথে কোনো আপস করব না।''' আপনারা আঠারো মাস আগে আমাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। অনেক অনেক বছর পর কোনো দলকে দেওয়া সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি কি এমন কিছু করেছি যার জন্য সেই বিশ্বাস হারাতে পারি? মানুষে মানুষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং একটি ন্যায্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে আপনারা কি আমার ওপর ভরসা রাখতে পারেন না?
** সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে বিবিসি রেডিওতে দেওয়া ভাষণ (৮ মে ১৯২৬), কিথ মিডলমাস এবং জন বার্নসের লেখা ''বল্ডউইন : এ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৪১৫-তে উদ্ধৃত। *খাদ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, সব ধরনের [[পরিবহন]] ব্যবস্থা অধিগ্রহণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বন্দরগুলোতে থাকা কয়লা রপ্তানি বন্ধ করতে সরকার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছিল, যা আমাদের চেয়ে কম সুশৃঙ্খল কোনো জাতির মধ্যে ঘটলে দাঙ্গা এবং বিপ্লব অনিবার্য ছিল। '''কিন্তু আমাদের জাতি কোনো অপরিপক্ব বা অনভিজ্ঞ জাতি নয়। আমাদের দেশ তার সেরা ঐতিহ্য বজায় রেখে মাথা ঠান্ডা রেখেছিল। আর মাথা ঠান্ডা রেখেই সারা বিশ্বের প্রশংসা—এমনকি অনিচ্ছাকৃত প্রশংসাও—আদায় করে নিয়েছিল।'''
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৫৯-এ উদ্ধৃত।
*এটি স্বীকার করা হয়েছিল, এবং ন্যায্যভাবেই স্বীকার করা হয়েছিল যে, যখন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একজোট হয়, তখন তাদের পক্ষে এককভাবে সেই শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার সাথে দরকষাকষি করা সম্ভব নয়, যারা এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনটা আশা করাও তাদের প্রতি সুবিচার নয়। তাই কার্যকর চুক্তির স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্যই, নিজেদের অবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার অধিকার মানুষকে দেওয়া হয়েছিল। শিল্পের নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই ট্রেড ইউনিয়নগুলোর জন্ম হয়েছিল, যেমনটা আমরা আজ দেখি। তখন এটি অপরিহার্য ছিল, এবং সেই উদ্দেশ্যের জন্য এটি ভবিষ্যতেও অপরিহার্য থাকবে। এই দেশই হলো এ ধরনের জোটবদ্ধ হওয়ার জন্মস্থান—'''এই দেশ, যা বৈধ এবং বিবর্তনমূলক উপায়ে মানবজাতিকে মুক্ত করার প্রতিটি প্রচেষ্টার জন্মস্থান। অন্যান্য এবং অপেক্ষাকৃত কম সৌভাগ্যবান দেশগুলোর প্রচেষ্টা ব্যর্থতা ও বিপর্যয়ে তলিয়ে যাওয়ার অনেক পরও এই দেশ এভাবেই তার ধারা বজায় রাখবে।'''
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬১-তে উদ্ধৃত।
*যুদ্ধের দুই বছর আগে [[এইচ. এইচ. অ্যাসকুইথ|লর্ড অক্সফোর্ডের]] তৎকালীন সরকারকে ধর্মঘটের মহামারির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এক পেশার মানুষের বিরোধ সবার বিরোধে পরিণত হয়েছিল। এটি ছিল সহমর্মিতার ধর্মঘট... এক দল নেতার হাতে এটি হয়তো শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির জন্য নিয়োগকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। কিন্তু অন্যদের হাতে এটি এমন এক অস্ত্রে পরিণত হয়েছিল, যা দিয়ে শ্রেণিসংগ্রাম—যাকে তখন শ্রেণিসংগ্রাম বলা শুরু হয়েছিল—পরিচালনা করা যায়। আর সাধারণ ধর্মঘট, যা নিয়ে তখন প্রথম আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা হয়ে উঠেছিল এমন এক চরম হাতিয়ার যার মাধ্যমে পুরো সমাজকে হয় অনাহারে রেখে অথবা ভয় দেখিয়ে এর প্রবর্তকদের ইচ্ছার কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করা যেতে পারে। একই আন্দোলনের মধ্যে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছিল: পুরোনো নিয়মতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি... আলোচনা করা, সম্মিলিতভাবে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে ধর্মঘটের আশ্রয় নেওয়া। অন্যদিকে, ট্রেড ইউনিয়নের এই বিশাল সংগঠনটিকে এমন এক যন্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা, যা দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন উদ্যোগের ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে সার্বজনীন রাষ্ট্রীয় কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা স্থাপন করা যায়... এরপর কী হবে তা কখনোই খুব একটা পরিষ্কার ছিল না। শুধু এটুকু পরিষ্কার ছিল যে, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলাই হলো প্রথম প্রয়োজনীয়তা। এটি ছিল অতীতের সাথে এক গভীর বিচ্ছেদ, এবং এর উৎপত্তি হয়েছিল বিদেশি উৎস থেকে। আর সেইসব বিদেশি বিপ্লবী দৃষ্টান্তগুলোর মতোই এটিও মূলত অত্যন্ত গোপনীয় এবং গুপ্ত ছিল। চুক্তি এবং চুক্তিনামার প্রতি এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ব্রিটিশদের খোলাখুলি এবং সৎ লেনদেনের ঐতিহ্য থেকে সরে আসা। এই প্রোপাগান্ডা হলো ঘৃণা এবং ঈর্ষার প্রোপাগান্ডা।
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৪-১৬৫-তে উদ্ধৃত।
*ধর্মঘটকারীদের ভালো গুণাবলির প্রতি এটি একটি বড় সম্মান যে তারা তাদের নির্দেশনার প্রতি আনুগত্যে শৃঙ্খলা এবং সংযমের প্রমাণ দিয়েছে। তারা আমাদেরই দেশের মানুষ। তাদের অনেকেই কেবল আনুগত্যের অনুভূতি থেকেই নির্দেশ পালন করেছে, যদিও তারা নিজেরাই সেই নির্দেশগুলো পছন্দ করেনি। কিন্তু যদি সেই ধর্মঘট সফল হতো, তবে তা কেবল খনি শ্রমিকদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র দেশের জন্যই শিল্পক্ষেত্রে ধ্বংস ডেকে আনত।
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৭-তে উদ্ধৃত।
*এটি হয়তো শ্রমিকদের সংহতির এক চমৎকার প্রদর্শন হতে পারত। কিন্তু একই সাথে, সবার মঙ্গলের জন্য একসঙ্গে বসবাস ও কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের সবার ব্যর্থতার এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক প্রমাণও ছিল এটি। যেসব নেতারা ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলেন, কোনো শর্ত ছাড়াই সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে যে সাহসের প্রয়োজন ছিল, আমি তার প্রশংসা করি... এখন যেসব সমালোচক তাদের সোজা পথে না চলার জন্য দোষারোপ করছেন, তাদের চেয়ে ঐ নেতাদের অনেক বেশি সাহসের প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু সেই ধর্মঘট যদি খনি শ্রমিকদের প্রতি সংহতি বা সহানুভূতি—বা আপনি যা-ই বলুন না কেন—দেখিয়ে থাকে, তবে এটি তার চেয়েও অনেক বড় কিছু দেখিয়েছিল। '''এটি আমাদের দেশের পুরো কাঠামোর স্থিতিশীলতা প্রমাণ করেছিল, এবং পুরো বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে একটি গুলিও ছোড়া হয়নি। আমাদের দেশের মানুষের কাণ্ডজ্ঞান এবং ভালো মেজাজের কারণেই আমরা রক্ষা পেয়েছি।'''
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৭-১৬৮-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের মানুষ পার্লামেন্টকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে [[পুঁজিবাদ|পুঁজিপতি]] বা [[ট্রেড ইউনিয়ন|ট্রেড ইউনিয়নিস্টদের]] [[রাজাদের ঐশ্বরিক অধিকার|ঐশ্বরিক অধিকার]] প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে না। আর আমরা এদের কারও [[স্বৈরতন্ত্র|স্বৈরতন্ত্রের]] কাছেই মাথা নত করতে যাচ্ছি না... আমি দেখতে চাই আমাদের ব্রিটিশ লেবার আন্দোলন বিদেশি এবং ভিন্নমতের চিন্তাধারা থেকে মুক্ত থাকুক। আমি দেখতে চাই এটি ইংরেজদের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে ইংরেজি ধাঁচেই এগোচ্ছে এবং বিকশিত হচ্ছে।
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৯-১৭০-এ উদ্ধৃত।
*'''অবিরাম সংঘাত কেবল দারিদ্র্য এবং নিপীড়নের দিকেই নিয়ে যেতে পারে। একমাত্র শান্তিই দারিদ্র্য এবং নিপীড়নের এই দুই ভূতকে দূর করতে পারে।'''
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৭১-এ উদ্ধৃত।
*আপনাদের বুঝতে হবে যে আমরা যে বছরগুলোতে বাস করছি, যে বছরগুলোতে আমরা প্রবেশ করছি, সেগুলো অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি করে গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষার সময় হতে যাচ্ছে... আমরা এই দেশে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলতে পারি; আর যদি আমরা তা করি, তবে আমরা এর চেয়েও অনেক খারাপ কিছু পাব—আমরা কোনো না কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র পাব। আমি জানি না সেটি কোন ধরনের স্বৈরতন্ত্র হতে পারে। '''এটি কমিউনিস্ট স্বৈরতন্ত্র হতে পারে; আবার অন্য দিকের কোনো স্বৈরতন্ত্রও হতে পারে। কিন্তু আপনারা যদি একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতন্ত্র গড়ে তুলতে না পারেন, তবে সেটাই হবে দেশের পরিণতি।'''
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৭-১৮-তে উদ্ধৃত।
*যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, রাজনৈতিক কোনো বিষয়, আইন প্রণয়ন বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ বিচার করার সময় কোন দুটি মূল নীতি আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত, তবে আমি বলব কাণ্ডজ্ঞান এবং এই দেশের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটির সংরক্ষণ—আর তা হলো ব্যক্তি স্বাধীনতা। এই মানদণ্ডগুলো প্রয়োগ করলে আপনি খুব কমই ভুল পথে যাবেন। আজ অনেকেই মনে করেন আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই বিশ্বের সব রোগ সারানো সম্ভব। কিন্তু তাদের প্রস্তাবিত আইনটি দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে মানানসই কি না এবং তা ব্যক্তির স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করছে কি না, তা আপনাকে যাচাই করে দেখতে হবে। আর যদি এই বিষয়গুলোতে আপনি সন্তুষ্ট হতে না পারেন, তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে দীর্ঘমেয়াদে সেই আইন উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে।
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৮-১৯-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের দেশে স্বাধীনতার ধারণাটি এতটাই মূল্যবান, এতটাই পবিত্র এবং যুগ যুগ ধরে সংগ্রামের ফল হিসেবে অর্জিত যে, আমি নিশ্চিত ছিলাম অন্য কোনো দেশে এমনটা নেই। অন্যান্য দিক দিয়ে তারা আমাদের চেয়ে যত সুবিধাতেই থাকুক না কেন, এই দেশের মতো আর কোথাও স্বাধীনতাকে এত মূল্যবান মনে করা হয় না বা সেভাবে দেখা হয় না। আর এটি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যারা সব পরিস্থিতিতে আমাদের কিছু শেখাতে পারে।
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৯-এ উদ্ধৃত।
*আমার মতে ১৯১৪ সালের আগস্টের চেয়ে ৪৯০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সেপ্টেম্বর মাসটি ইউরোপের ভাগ্য নির্ধারণে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পশ্চিমা সভ্যতা... তার শৈশবেই ম্যারাথনে রক্ষা পেয়েছিল, এবং দশ বছর পর লিওনিদাস এবং সালামিসের মানুষদের দ্বারা... যদি সেই দশকটি না থাকত, তবে [[পূর্ব/মধ্য ইউরোপ|পূর্ব ইউরোপকে]] প্রাচ্যমুখী হওয়া থেকে আটকানোর মতো কিছুই থাকত না। তখন ইউরোপের আধিপত্যের চূড়ান্ত লড়াইটা কেবল [[হাখমানেশি সাম্রাজ্য|পারসিক]] এবং [[প্রাচীন কার্থেজ|কার্থাজিনিয়ানদের]] মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। [[প্রাচীন গ্রিস|গ্রিকরা]] না থাকলে আমরা আজ যে সভ্যতা চিনি, তার অস্তিত্বই থাকত না। আমরা সবাই হয়তো কালো চামড়ার, লম্বা নাকের মানুষ হতাম... '''[[ইংল্যান্ড]] হলো [[স্বাধীনতা]] এবং মুক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক আবাস। বিশ্বের জন্য এই আশীর্বাদগুলো নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় হেলাসের (প্রাচীন গ্রিস) কাছে তার ঋণ স্বীকার করতে তার চেয়ে বেশি ত্বরিত অন্য কোনো দেশের হওয়া উচিত নয়।'''
**লন্ডনে ব্রিটিশ স্কুল অ্যাট অ্যাথেন্সের বার্ষিক সভায় দেওয়া ভাষণ (২ নভেম্বর ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ২০৫-এ উদ্ধৃত।
==== ১৯২৭ ====
*...সেই উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা যা প্রায়শই আধুনিক ইউরোপের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। '''একটি সত্যিকারের জাতীয় অনুভূতি গড়ে তোলার এবং আপনার নিজের দেশকে তার প্রাপ্য গৌরবের আসনে বসানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অন্যান্য জাতির সাথে মিলেমিশে এবং সমগ্র বিশ্বের উন্নতির একমাত্র লক্ষ্য নিয়ে তা করা।''' যুদ্ধের পর থেকে আমরা কেবল মোহভঙ্গেই ভুগিনি; আমরা নিজেদের এবং বিশ্ব সম্পর্কে অনেক বেশি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছি... '''[[জাতীয়তাবাদ]] অনেক কুৎসিত রূপ নিতে পারে। দেখে মনে হচ্ছে ধর্ম বা স্বাধীনতার নামের মতোই এর নামেও অনেক অপরাধ সংঘটিত হবে।''' প্রকৃতপক্ষে, সমস্যার মূল কারণ হলো জাতীয়তাবাদীরা ধর্মের পোশাক পরতে পছন্দ করে... '''একপেশে বুদ্ধিজীবীদের প্রচারণার ফলে নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রতিবেশীর দেশের প্রতি ঘৃণায় পরিণত হয়েছে। এই বুদ্ধিজীবীরা সাধারণত অন্যদের জন্য যে আত্মত্যাগের ব্যবস্থা করে, নিজেরা ঠিকই তা থেকে পালিয়ে বাঁচে।'''
**কার্ডিফে সেন্ট ডেভিডস ডে ব্যাঙ্কোয়েটে দেওয়া ভাষণ (১ মার্চ ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭-এ উদ্ধৃত।
*যে শেকড় আমাদের জন্মভূমি এবং জন্মভাষার সাথে বেঁধে রাখে, তা ধ্বংস করলে আমাদের আত্মার স্বাস্থ্যেরই ক্ষতি হবে। '''দেশের প্রতি ভালোবাসা এক গভীর এবং সর্বজনীন প্রবৃত্তি, যা প্রাচীন স্মৃতি এবং সূক্ষ্ম সংযোগে ভরপুর। যেসব মানুষ অস্পষ্ট এবং পানসে বিশ্বজনীনতার লোভে তাদের জাতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে, তারা মানুষের চেয়েও অধম হয়ে যায়; তারা তাদের ব্যক্তিত্বকে অভুক্ত রাখে এবং খর্ব করে; তারা একধরনের রাজনৈতিক নপুংসকে পরিণত হয়।'''
**কার্ডিফে সেন্ট ডেভিডস ডে ব্যাঙ্কোয়েটে দেওয়া ভাষণ (১ মার্চ ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৫০-এ উদ্ধৃত।
*আজ আমাদের সাম্রাজ্যের চিন্তায় পতাকা ওড়ানো বা মানচিত্র লাল রঙে রাঙানোর অহংকার করার মতো কিছুই নেই। না! কেবল সেই জাতির প্রতি গর্ববোধ আছে যে জাতি থেকে আমাদের উদ্ভব—এমন এক গর্ব যা আমাদের নিজেদের চোখেই আমাদের বিনীত করে এবং আমাদের যে উত্তরাধিকার এবং দায়িত্ব রয়েছে, তার যতটা সম্ভব যোগ্য করে তুলতে সংকল্পবদ্ধ করে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬০-এ উদ্ধৃত।
*...এখনও কেবল আমাদের জন্যই এমন সব সুযোগ রয়েছে যা অন্যান্য জাতিদের জন্য উন্মুক্ত নয়। বিশ্বের প্রায় যেকোনো অংশে এবং যেকোনো জলবায়ুতে বসতি স্থাপন এবং কাজ করা আমাদের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে আমরা এমন সব মানুষদের মাঝে নিজেদের খুঁজে পাই যারা আমাদের ভাষায় কথা বলে, আমাদের আইন মেনে চলে, আমাদের মতো একই আদর্শ লালন করে, আমাদের পরিচিত রীতি অনুযায়ী উপাসনা করে এবং একই সার্বভৌম ক্ষমতার অধীন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের—টোরি, লিবারেল এবং লেবার নির্বিশেষে—আমাদের ঐক্যকে এমন এক বাস্তবতায় রূপ দিতে হবে যাতে নারী-পুরুষ সবাই সাম্রাজ্যকে একটি অভিন্ন সত্তা হিসেবে দেখে। যাতে করে গ্লাসগো থেকে লন্ডন বা ব্রিস্টল থেকে নিউক্যাসল যাওয়ার মতোই সহজে এবং স্বাধীনভাবে তারা সাম্রাজ্যের সীমানার মধ্যে [[নিউজিল্যান্ড]], [[অস্ট্রেলিয়া]], [[দক্ষিণ আফ্রিকা]] বা [[কানাডা|কানাডায়]] যেতে পারে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬০-৬১-তে উদ্ধৃত।
*আমরা যারা এই সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হয়েছি, তারা এর জন্য গর্বিত। আর আমাদের গর্বিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এই গর্বের সাথে সেইসব মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও মিশে থাকা উচিত, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সাম্রাজ্য বেড়ে উঠেছে। যুদ্ধের ধাক্কায় এখনও ধুঁকতে থাকা এই বিশ্বে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য মঙ্গলের এক বিশাল শক্তি হিসেবে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে... প্রতিটি বাতাসের প্রবাহে, প্রতিটি সমুদ্রের ঢেউয়ে এটি সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, বিশ্বাস এবং ভ্রাতৃত্ববোধের আত্মা এই বিশ্বে কী বিশাল কিছু অর্জন করতে পারে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬৩-তে উদ্ধৃত।
*[[চার্চ অফ ইংল্যান্ড|চার্চ]] এবং চ্যাপেলের দ্বৈতসত্তা একসঙ্গে আমাদের দেশের জীবনে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রভাবগুলোর একটি হিসেবে কাজ করেছে। একটি হয়তো অন্যের চেয়ে বেশি করে কর্তৃত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার বোধ জাগিয়ে তুলেছে; আর অন্যটি [[ঐশ্বরিক আইন|শাশ্বত আইনের]] প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যের ওপর বেশি জোর দিয়েছে। তাদের উভয়েরই কিছু ভালো গুণ ও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু তারা উভয়েই বড় মাপের সামাজিক শক্তি ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, যার রাজনৈতিক পরিণতিও ব্যাপক। তাদের সেরা সময়ে উভয়েই জীবনকে একটি গম্ভীর উদ্দেশ্য দিয়ে পূর্ণ করে। তারা সবসময় সেই ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনার বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ করে, যা অলসতা এবং চপলতায় তার স্বর্গ খুঁজে পায় এবং যার কারণে কোনো দেশ কখনোই উন্নতি করতে পারে না।
**কর্নওয়ালে দেওয়া ভাষণ (২৩ জুন ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৫৫-তে উদ্ধৃত।
*সাম্প্রতিক সময়ে [[কানাডা|কানাডার]] কিছু বাছাই করা স্নাতক সাম্রাজ্যের সেসব অংশের দেখভাল করার দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন, যেখানে [[শ্বেতাঙ্গ|শ্বেতাঙ্গরা]] প্রায়শই একাই যান—সাম্রাজ্যের অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর জাতিদের শেখাতে, শিক্ষিত করতে এবং সামনে এগিয়ে নিতে। এর চেয়ে বেশি আত্মত্যাগের কাজ, এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। আজ আপনারা কানাডিয়ানদের [[সুদান]], [[মালয়েশিয়া|মালয়]], [[মরিশাস]] এবং সামগ্রিকভাবে ঔপনিবেশিক সেবায় দেখতে পাবেন—চিকিৎসক হিসেবে, সিভিল সার্ভিসে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তারা শ্বেতাঙ্গদের বোঝা বইতে সাহায্য করছেন। আমি যথেষ্ট সেকেলে মানসিকতার মানুষ বলেই বিশ্বাস করি যে, কোনো দেশের পক্ষে কেবল নিজেদের জন্য প্রচুর অর্থ উপার্জনে মনোনিবেশ করাই যথেষ্ট নয়; বরং সত্যিকারের আধ্যাত্মিক শক্তি তখনই আসে যখন এর সন্তানেরা প্রস্তুত থাকে। যেমনটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে [[ইংরেজ জাতি|ইংরেজ]], [[আইরিশ]] এবং [[স্কটল্যান্ড|স্কটিশরা]] প্রস্তুত ছিল। তারা পারিবারিক জীবনের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সেই অগ্রগামীর কাজে বেরিয়ে পড়তে প্রস্তুত ছিল, যাতে বিশ্বের সেই পিছিয়ে পড়া অংশগুলোকে এগিয়ে নিয়ে আসা যায় এবং অতীতের বছরগুলোতে আমাদের জন্য এত লাভজনক হওয়া বিষয়গুলো থেকে তাদেরও উপকৃত হতে সাহায্য করা যায়।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৫-৭৬-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের দেশের জন্য আমার সবচেয়ে বড় আশা হলো [[শিক্ষা|শিক্ষার]] প্রতি মানুষের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা ব্যাপকভাবে জেগে ওঠা। আমি এটিকে যুদ্ধের একমাত্র সুফল বলে মনে করি যার দিকে আমি তৃপ্তি নিয়ে তাকাতে পারি... আমরা শিক্ষার একটি নিজস্ব উদ্দেশ্য হিসেবে এর গুরুত্ব ভুলে যাই। আপনি যদি শিক্ষাকে কেবল একটি বেতন উপার্জনের উপায় হিসেবে দেখেন, তা সে যতই দরকারি হোক না কেন, তবে আপনি শিক্ষার অন্যতম সেরা উদ্দেশ্যটিই হারিয়ে ফেলবেন।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৬-৭৭-এ উদ্ধৃত।
*আমরা ইংল্যান্ডেও খুব ভুগছি... এমন কিছু খুব চতুর চিকিৎসকের কারণে, যারা সর্বদা ব্যাপক বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষিপ্রতার সাথে রাজনীতির জন্য প্রেসক্রিপশন দিতে প্রস্তুত। তবে মানব প্রকৃতি সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতাও সেই ক্ষিপ্রতার সমান। ইউরোপের এই লোকগুলোকে "বুদ্ধিজীবী" বলা হয়—'''একটি খুব কুৎসিত জিনিসের জন্য এটি একটি খুব কুৎসিত শব্দ।'''
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৮-এ উদ্ধৃত।
*ইংরেজি বংশোদ্ভূত এখানকার পুরুষদের কাছে আমি স্বীকার করতে পারি যে, আমাদের ইংরেজি বুদ্ধিমত্তাকে মাঝেমধ্যে এমন জাতিগুলো অবজ্ঞা করে যারা নিজেদের আমাদের চেয়ে বেশি চতুর বলে মনে করে। '''আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো আমাদের চরিত্র'''—এর স্থিরতা, এর নির্ভরযোগ্যতা, এর ব্যক্তিগত সততা, এর সহনশীলতা এবং বিরক্তিকর বিষয়গুলোকেও শান্ত ও হাস্যরসাত্মকভাবে নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ডের সাধারণ ধর্মঘট, যার কিছু ভীতিকর দিকও ছিল, তা আমাদের মানুষের এই সমস্ত গুণাবলিকেই তুলে ধরেছে।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৯-এ উদ্ধৃত।
*আমি সবসময়ই দাবি করি যে শিক্ষা গণতন্ত্রের জন্য যে মহান সেবা করে, তা ধর্মের কাছ থেকে আমরা যে সেবা আশা করি তারই অনুরূপ। তাদের হাতে হাত রেখে কাজ করা উচিত, বা করতে হয়। এর কাজ হলো নৈতিকতার ওজন এবং পরিমাপকে মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক রাখা; এবং শুধু মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক নয়—বরং সর্বোচ্চ মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক রাখা। আর আসুন আমরা সমাজের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সকল শ্রেণির মানুষের প্রতি এটি সমানভাবে প্রয়োগ করি। এমন কিছু লোক আছেন যারা রাষ্ট্রীয় ধারণাকে সমস্ত নৈতিক গুণাবলি থেকে শূন্য করতে চান, এবং তারা শিক্ষাকে কেবল রুজি-রোজগারের ব্যবসায় সীমাবদ্ধ করতে চান। নার্স ক্যাভেলের শেষ কথাগুলো ধার করে বলতে গেলে, এমন দেশপ্রেমই যথেষ্ট নয়। আমি যেভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, সেভাবে নৈতিক মানদণ্ড প্রয়োগ করাই হলো গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় সেই মৌলিক সামাজিক ঐক্য অর্জনের সবচেয়ে নিশ্চিত উপায়।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৯-৮০-তে উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ কমনওয়েলথ অফ নেশনসের কোনো পূর্ব নজির নেই... আমরা নিজেদের জন্য এমন এক অভিন্ন ঐতিহ্য গড়ে তুলেছি যা সব ধরনের স্থানীয় আনুগত্যকে ছাড়িয়ে যায় এবং আমাদের এক জাতি হিসেবে বাঁধে। আমাদের স্বপ্নের সাম্রাজ্য, যদিও তা সবসময় আমাদের কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয় না, মহান সব আধ্যাত্মিক উপাদানে গড়া—স্বাধীনতা এবং আইন, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং আনুগত্য, সম্মান এবং সহনশীলতা... '''আজ আমরা যখন সাম্রাজ্যের কথা ভাবি, তখন আমরা এটিকে মূলত বিশ্ব শান্তির একটি হাতিয়ার হিসেবেই ভাবি।'''
**অন্টারিও প্রদেশ আয়োজিত এক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৯১-৯২-তে উদ্ধৃত।
*আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে যারা মধ্য-পশ্চিম এবং দূর-পশ্চিমের উন্নয়ন দেখেছেন, তাদের কাছে এক উপকূল থেকে অন্য উপকূল পর্যন্ত যেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছে, তার চেয়ে অসাধারণ বা আমাদের জাতির সেরা গুণাবলির প্রতি এর চেয়ে বড় সম্মান আর কিছু হতে পারে না।
**কানাডার রেজাইনায় দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৫-এ উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ জাতির এমন কিছু দয়ালু সমালোচক আছেন যারা বলেন যে আমরা তিনটি জিনিসকে কীভাবে মেলাতে হয় তা জানি—[[ধর্ম]], [[দেশপ্রেম]] এবং [[মুনাফা]]—যা অন্য যেকোনো [[জাতি|জাতির]] চেয়ে আমরা ভালো পারি। [[উত্তর আমেরিকা|উত্তর আমেরিকায়]] আমাদের সাফল্যের আরও অন্যান্য প্রশংসনীয় ব্যাখ্যা রয়েছে। আসল সত্যটি হলো: আমরা নতুন বিশ্বে আমাদের নিজস্ব বংশধরদের পাঠিয়েছি... ইউরোপের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি সময় ধরে একটি স্বাধীন দেশ থাকার অমূল্য সুবিধা আমাদের ছিল। আমাদের মানুষ ছোট ছোট নৌকায় করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতার বীজ রোপণ করেছিল, যা নিজ দেশে বেড়ে উঠেছিল এবং ফুলেফেঁপে উঠেছিল। সেই মানুষগুলো এবং তাদের দুঃসাহসী চেতনার মধ্যেই আপনি [[কানাডা]] এবং [[ম্যানিটোবা|ম্যানিটোবার]] উৎপত্তি খুঁজে পাবেন।
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৭-১০৮-এ উদ্ধৃত।
*ইংরেজি ইতিহাসে, বা সাম্রাজ্যের এই এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠার পেছনে, "কোম্পানি অফ অ্যাডভেঞ্চারার্স অফ ইংল্যান্ড ট্রেডিং ইনটু হাডসন'স বে"র গল্পের চেয়ে রোমাঞ্চকর আর কোনো ঘটনা নেই। পশুর চামড়া থেকে মুনাফা করার পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমের পথ খোঁজা, সেই উপসাগরে প্রবাহিত সব জলের অধিকারী ভূমিগুলোর ওপর সার্বভৌমত্বের সনদ পাওয়া, অথচ সেই ভূমিগুলোকে বহু বহু বছর ধরে অনাবিষ্কৃত ফেলে রাখা—এটি একটি আদর্শ ব্রিটিশ আচরণ। তারা "হাতির দাঁত, বানর এবং ময়ূরের" পশ্চিমা সমতুল্য জিনিস খুঁজছিল, এবং বাই-প্রোডাক্ট বা উপজাত হিসেবে তারা একটি সাম্রাজ্য খুঁজে পেয়েছিল। তারা একটি মহান ঐতিহ্য তৈরি করেছিল, যে ঐতিহ্য আজ আপনাদের। এটি একটি বাণিজ্যিক আদর্শকে ঘিরে তৈরি হওয়া শৃঙ্খলা এবং সহনশীলতার ঐতিহ্য। তারা আদিবাসীদের মুনাফার উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছিল, তবুও তাদের সাথে ন্যায়বিচার এবং সদয় আচরণ করেছিল। তারা এক চোখ রেখেছিল লভ্যাংশের দিকে, অন্য চোখ আবিষ্কারের দিকে। আমাদের ছাড়া আর কোন জাতি এতটা উদাসীন, এতটা দূরদর্শী, এতটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতটা সফল হতে পারে?
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৮-১০৯-এ উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ জাতির প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয় এমন [[সংবাদপত্র|সংবাদপত্রে]] আপনারা প্রায়ই শোনেন এবং মাঝেমধ্যেই পড়েন যে গ্রেট ব্রিটেনে পতনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এর একটা শব্দও বিশ্বাস করবেন না। দেশের মানুষগুলো তারাই, যারা সারা বিশ্বজুড়ে চার বছর ধরে আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল। তারা সেই একই বংশধর যারা মেরিটাইম প্রভিন্স এবং [[অন্টারিও]] গড়ে তুলেছে। তারা সেই একই বংশধর যারা এই দেশটিকে গড়ে তুলেছে। '''বংশধররা আগের মতোই আছে, এবং আগের মতোই চমৎকার আছে।'''
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১১৬-১১৭-তে উদ্ধৃত।
*একটি জাতির ভাগ্য সবার ওপরে নির্ধারিত হয় তার মানুষের গুণগত মান দিয়ে।
**স্কটল্যান্ডের ল্যানার্কশায়ারে ডগলাস ক্যাসলে দেওয়া ভাষণ (২৭ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১২৯-এ উদ্ধৃত।
*আপনার সমাজসেবামূলক কাজ, তা যে রূপেই হোক না কেন, ঠিক সেই দুটি জিনিসেরই দাবি করে যা আমার কাজের জন্য প্রয়োজন... [[ধৈর্য]] এবং মানুষের মূল্যের ওপর [[বিশ্বাস]]। এরাই হলো গণতন্ত্রের আসল ভিত্তি, [[সমতা]] নয়—যে অর্থে শব্দটি প্রায়শই ব্যবহার করা হয়। '''আমরা সবাই সমান নই, এবং কখনোই সমান হব না; গণতন্ত্রের আসল শর্ত সমতা নয়, বরং এই বিশ্বাস যে প্রতিটি নারী ও পুরুষই মূল্যবান।'''
**ইউনিয়ন অফ গার্লস স্কুলের বার্ষিক সভায় দেওয়া ভাষণ (২৭ অক্টোবর ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১-তে উদ্ধৃত।
*আপনাদের দেশ হলো উত্তরের মানুষদের, অর্থাৎ সহনশীল ও বীরত্বপূর্ণ জাতিগুলোর জন্য। '''যেকোনো দিনই পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান আগে। সেরাদের নিয়েই দেশ গড়ুন। আপনাদের দেশ পূর্ণ হতে একশো বছর, নাকি দুইশো বছর, নাকি তারও বেশি সময় লাগল, তাতে কী এসে যায়? আপনাদের যে বংশধর আছে, এবং যে নারী-পুরুষরা আছে, তাদের ধরে রাখুন এবং নিশ্চিত করুন যে আগামী প্রজন্ম কোনোভাবেই তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট হবে না।'''
**লন্ডনে কানাডা ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (২১ নভেম্বর ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৪১-এ উদ্ধৃত।
* সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকৃত এবং শত্রুবাহিনীর জন্য একটি সহজ শিকারে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ড! এর চেয়ে বেশি লোভ এবং শত্রুতা জাগিয়ে তোলার মতো আর কিছু কি আপনি ভাবতে পারেন? আমরা পঞ্চম শ্রেণির শক্তির স্তরে নেমে যাব, আমাদের উপনিবেশগুলো আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে, আমাদের বাণিজ্য ধ্বংস হবে, দুর্ভিক্ষ এবং বেকারত্ব দেশে হানা দেবে। ... আমি আপনাদের শান্তি কামনার অংশীদার। ঈশ্বর না করুন যে এটি যেন আর কখনও ব্যাহত না হয়! সরকারের নিরন্তর এবং অবিভক্ত প্রচেষ্টা হলো এটি রক্ষা করা। কিন্তু আমি এখনও শিখিনি যে আমাদের দেশকে দুর্বল করে কীভাবে শান্তির উদ্দেশ্য সাধিত হতে পারে।
** [[আর্থার পনসনবি|আর্থার পনসনবিকে]] লেখা চিঠি (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৭); মার্টিন সিডেলের ''সেমি-ডিটাচড আইডিয়ালিস্টস: দ্য ব্রিটিশ পিস মুভমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস, ১৮৫৪-১৯৪৫'' (২০০০), পৃষ্ঠা ২৭১-এ প্রকাশিত। ==== ১৯২৮ ====
* '''আমি যদি বিশ্বাস না করতাম যে আমাদের কাজ সেই বিশ্বাস এবং আশার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে যে কোনো এক দিন—হতে পারে তা আজ থেকে দশ লক্ষ বছর পর—ঈশ্বরের রাজ্য সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, তবে আমার কোনো আশা থাকত না। আমি কোনো কাজ করতে পারতাম না, এবং যে কেউ আমার এই পদের দায়িত্ব নিতে চাইলে আজ সকালেই আমি তা ছেড়ে দিতাম।'''
** ব্রিটিশ অ্যান্ড ফরেন বাইবেল সোসাইটির কাছে দেওয়া ভাষণ (২ মে ১৯২৮); ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৯২-৯৩-এ প্রকাশিত।
*দীর্ঘকাল ধরে মানুষ ভুলে গেছে যে এই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে কী অসাধারণ প্রতিভা লুকিয়ে আছে... ইংরেজ বংশোদ্ভূতরা একটি খাঁটি বংশ; আর আমাদের মানুষেরাই সেই মানুষ যারা আমাদের ক্যাথেড্রাল এবং গ্রামের গির্জাগুলো তৈরি করেছিল: যারা ভাস্কর্য খোদাই করেছিল এবং এর ভেতরে থাকা পর্দাগুলো খোদাই করেছিল।
**উইঞ্চেস্টার শহরের স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (৬ জুলাই ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১৫-তে প্রকাশিত।
*ইংল্যান্ডের চেয়ে সুন্দর কোনো দেশ নেই।
**উইঞ্চেস্টার শহরের স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (৬ জুলাই ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১৬-তে প্রকাশিত।
*ওয়েসলি প্রথম এবং শেষ পর্যন্ত একজন মহান ইংরেজ ছিলেন... মহাদেশটিতে হওয়া ভয়ংকর উত্থান-পতন আর ইংল্যান্ডের মাঝে যদি কোনো একজন মানুষ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে তিনি হলেন জন ওয়েসলি... তিনি ছিলেন নিখুঁত ইংরেজ: ইংরেজের সেরা দেশীয় গুণাবলি তার মধ্যে ছিল, এবং সেগুলো এত অসাধারণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তা প্রতিভায় পরিণত হয়েছিল... সেই শতাব্দীর যেসব ইতিহাসবিদ তাদের পাতাগুলো নেপোলিয়ন দিয়ে ভরিয়ে তুলেছিলেন কিন্তু জন ওয়েসলি সম্পর্কে বলার মতো কিছু পাননি, তারা এখন বুঝতে পারছেন যে ওয়েসলিকে ব্যাখ্যা করতে না পারলে তারা [[ঊনবিংশ শতাব্দী|উনিশ শতকের]] ইংল্যান্ডকে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। আর আমি বিশ্বাস করি এ কথা বলাও সত্য যে, ওয়েসলিকে বুঝতে না পারলে আপনি বিংশ শতাব্দীর আমেরিকা বুঝতে পারবেন না।
**লন্ডনে ওয়েসলির চ্যাপেলের ১৫০তম বার্ষিকী সভায় দেওয়া ভাষণ (১ নভেম্বর ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৯৪-৯৮-এ প্রকাশিত।
==== ১৯২৯ ====
*[[উইলিয়াম বুথ|বুথের]] কথা ভাবলেই একটি বিষয় আমাকে অবাক করে, আর তা হলো [[ভিক্টোরীয় যুগ|ভিক্টোরীয় যুগের]] [[দারিদ্র্য|দারিদ্র্য]] নিয়ে আজকাল যে সব বাজে কথা বলা হয়। ভিক্টোরীয় যুগ আজ কেন এত অজনপ্রিয়, তার বড় একটি কারণ হলো, এর সমস্ত দোষ থাকা সত্ত্বেও এর মহান মানুষদের—যাদের সংখ্যা ছিল অনেক—মধ্যে সততার প্রতি বিশ্বাস ছিল: সেখানে একটি নৈতিক ঐকান্তিকতা ছিল, কর্তব্যের বোধ ছিল এবং কর্তব্য পালন করার প্রবণতা ছিল।
**লন্ডনে স্যালভেশন আর্মি উইলিয়াম বুথ শতবার্ষিকী উদযাপনে দেওয়া ভাষণ (১০ এপ্রিল ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১০৬-১০৭-এ প্রকাশিত।
*আজ এম্পায়ার ডে, এবং আমাদের বিশাল উত্তরাধিকার দেখার জন্য আমরা আমাদের তাৎক্ষণিক চারপাশ এবং আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোর বাইরে তাকাই। আমরা এক বিশাল স্থানে পা রেখেছি। এই টাইটান যদি ক্লান্তির মুহূর্তগুলো অনুভব করে থাকে, যদি আমাদের বোঝা ভারী হয়, তবু আমাদের কাঁধ চওড়া। আর এগুলো আমাদের ভাগ্যের বিশাল ভার বইতে বহুকাল ধরেই অভ্যস্ত।
**হাইড পার্কে দেওয়া ভাষণ (২৪ মে ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২৫-এ প্রকাশিত। ১৯০২ সালে [[জোসেফ চেম্বারলেইন]] বলেছিলেন, "ক্লান্ত টাইটান তার ভাগ্যের অত্যধিক বিশাল ভারে টলমল করছে।"
*আমরা যখন এর [ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের] ভাগ্য নিয়ে অধ্যয়ন করি, তখন আমরা একে একটি মানব অর্জনের চেয়ে মানবজাতির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য ঐশ্বরিক প্রভিডেন্স বা বিধাতার একটি হাতিয়ার হিসেবে বেশি ভাবতে বাধ্য হই।
**হাইড পার্কে দেওয়া ভাষণ (২৪ মে ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২৬-এ প্রকাশিত।
* টম মোসলে একজন অভদ্র এবং ভুল লোক। তারা এটা খুঁজে বের করবে।
**[[ওসওয়াল্ড মোসলে|ওসওয়াল্ড মোসলেকে]] নিয়ে মন্তব্য (২১ জুন ১৯২৯)। "তারা" বলতে লেবার পার্টিকে বোঝানো হয়েছে, যারা সম্প্রতি একটি সাধারণ নির্বাচনে জিতেছিল। টমাস জোনসের ''হোয়াইটহল ডায়েরি : ভলিউম ২'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ১৯৫-এ উদ্ধৃত।
*বাস্তব জীবনের রহস্য, রোমান্স এবং কাকতালীয় ঘটনাগুলো কল্পকাহিনীর রহস্য, রোমান্স এবং কাকতালীয় ঘটনাগুলোকেও বহুদূর ছাড়িয়ে যায়। আমার বক্তব্যের শুরুতেই আমি মাননীয় সদস্যদের এমন একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, যা আমার কাছে সবসময়ই আমাদের রাজনৈতিক জীবনে ঘটা সবচেয়ে অদ্ভুত এবং রোমান্টিক কাকতালীয় ঘটনাগুলোর একটি বলে মনে হয়েছে। সময়ের অনেক আগে, ইতিহাসের ঊষালগ্নে, প্রাগৈতিহাসিক কুয়াশা থেকে বেরিয়ে আসা অনেকগুলো জাতির মধ্যে সবচেয়ে মহান জাতিটি ছিল মহান [[আর্য জাতি]]। সেই জাতি যখন [[মধ্য এশিয়া|মধ্য এশিয়ার]] পশ্চিমাঞ্চলে তাদের দখল করা দেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন একটি বড় শাখা পশ্চিমে চলে যায়। তাদের ঘোরাঘুরির সময় তারা [[অ্যাথেন্স]] এবং [[স্পার্টা]] শহরগুলো প্রতিষ্ঠা করে; তারা [[রোম (প্রাচীন শহর)|রোম]] প্রতিষ্ঠা করে; তারা ইউরোপ তৈরি করে। আর ইউরোপের প্রধান জাতিগুলোর শিরায় তাদের আর্য পূর্বপুরুষদের রক্তই প্রবাহিত। আর্যদের যে ভাষা তারা সাথে নিয়ে এসেছিল, তা সারা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আমেরিকায় ছড়িয়েছে। এটি সমুদ্রের ওপারের ডোমিনিয়নগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে, একটি শাখা দক্ষিণে যায় এবং তারা [[হিমালয়]] অতিক্রম করে। তারা [[পাঞ্জাব|পাঞ্জাবে]] যায় এবং ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর ঐতিহাসিক সত্য হলো, যুগ যুগ আগে তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে ইংরেজ জাতির পূর্বপুরুষ এবং [[রাজপুত]] ও [[ব্রাহ্মণ|ব্রাহ্মণদের]] পূর্বপুরুষরা পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলেন। আর এখন, যুগ যুগ পার হওয়ার পর, সেই বংশের দূরতম প্রজন্মের সন্তানরা ঈশ্বরের এক রহস্যময় বিধানে একত্রিত হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো জাতির সামনে আসা সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে তারা এক হয়েছে।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1929/nov/07/india ভাষণ] (৭ নভেম্বর ১৯২৯)।
=== ১৯৩০-এর দশক ===
==== ১৯৩০ ====
*...অতীতের প্রতি সেই আনুগত্য তার স্বপ্নের সৌন্দর্য এবং তার বাস্তব কঠোরতা ও কষ্টের সাথে মিশে আছে। এগুলোই আমাদের '''আমাদের যুগের সবচেয়ে বড় বিপদ, [[বস্তুবাদ|বস্তুবাদের]] বিপদ থেকে রক্ষা করে।'''... আমাদের মানুষের হৃদয়ে বস্তুবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এই যুগের অন্যতম বড় একটি লড়াই।
**স্কটল্যান্ডের ইনভারনেস বুরোর স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (১৩ জুন ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৯১-১৯২-তে প্রকাশিত।
*কারণ গ্রিক গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল এবং এর ব্যর্থতার কারণগুলো শিক্ষণীয়। গ্রিকরা বিশ্বকে যে মহান শাসক ধারণাগুলো দিয়েছিল, যে ধারণাগুলো ইংল্যান্ড পরে গ্রহণ করেছিল এবং বিশ্বের এক-চতুর্থাংশে ছড়িয়ে দিয়েছিল—স্বাধীনতা এবং স্বশাসন, সামাজিক সাম্য এবং নাগরিক দেশপ্রেম—সেগুলো জনগণের চাটুকার এবং জননেতাদের দ্বারা কলুষিত হয়েছিল। এটা ভাবা খুব মারাত্মকভাবে সহজ ছিল যে, স্বাধীনতা মানে হলো নিজের যা খুশি তাই করা। একজন মানুষ অন্য মানুষের মতোই ভালো, শুধু তাই নয়, সে যেকোনো পদ পূরণে সমানভাবে সক্ষম। সংখ্যাগরিষ্ঠরা কোনো ভুল করতে পারে না। অন্য জাতি বা অন্যান্য সাম্রাজ্য কী করছে তা বিবেচনা না করেই আপনি আপনার নিজের দেশের জন্য কাল্পনিক সব আইন তৈরি করতে পারেন... বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করা হয়েছিল এবং যেসব জনপ্রতিনিধি সাধারণ জনতার জন্য আনন্দের পক্ষে কথা বলতে অস্বীকার করেছিলেন, তাদের নির্বাসিত করা হয়েছিল। ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদরা একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়েছিলেন।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৫-৩৬-এ প্রকাশিত।
*একদিকে ব্যক্তিগত আত্মার অসীম মূল্য সম্পর্কে [[প্রোটেস্ট্যান্টবাদ|প্রোটেস্ট্যান্ট]] মতবাদ এবং অন্যদিকে চার্চের মণ্ডলীতে ভাইদের একত্রিত হওয়ার মধ্যেই আধুনিক গণতন্ত্রের বীজ লুকিয়ে আছে।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৮-এ প্রকাশিত।
*আমরা... এই দ্বীপপুঞ্জের পুরো প্রাপ্তবয়স্ক এবং শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে, সাধু এবং পাপী নির্বিশেষে সবাইকে ভোটাধিকার দিয়েছি। আমরা এক বিশাল দ্বৈত উদ্যোগের চেষ্টা করছি। কেবল প্রতিটি নাগরিককে এক জন হিসেবে গণনা করা এবং তার নিজের অধিকারে তাকে মূল্য দেওয়াই নয়, বরং তাকে পৌর নাগরিকত্ব এবং সাম্রাজ্যিক সরকারের দায়িত্বগুলোতে কার্যকর এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে ভাগ নিতেও বলছি... গণতন্ত্র এখনও একটি আকাঙ্ক্ষা, এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়... আমরা যা অর্জন করেছি তা হলো সরকারের একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সমান নয়। আমরা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের যন্ত্রটিকে নিখুঁত করেছি। আর একটি তাৎক্ষণিক বিপদ হলো, গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য একে অগণতান্ত্রিক উপায়ে দখল এবং কাজে লাগানো হতে পারে। সার্বভৌম জনগণের নামে এমন নিষ্ঠুর কাজ করা হতে পারে, যা কোনো গ্রিক স্বৈরশাসক বা মধ্যযুগীয় অত্যাচারী শাসকের কাজের মতোই ভয়ংকর। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচারকে শক্তিশালীদের স্বার্থের সাথে গুলিয়ে ফেলা ভয়ংকরভাবে সহজ; কিন্তু বহুজনের দ্বারা সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নও এর বিপরীত অবস্থার মতোই কুৎসিত।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০-এ প্রকাশিত।
*বিপ্লব এড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক সক্ষমতা, "প্রাণবন্ত পরিমিতিবোধের" প্রতি আমাদের স্বভাবগত দক্ষতা (যেমনটা ব্যাজহট বলেছেন), দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের মহাদেশীয় প্রতিবেশীদের ঈর্ষার কারণ হয়ে আছে। আমি ভবিষ্যদ্বাণী করার সাহস রাখছি যে, তারা আবারও দেখবে আমরা একসাথে বসব এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সংশোধন করব। আমরা ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করায় খুব একটা ভালো নই, তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং আপস করার ক্ষেত্রে আমাদের একটা দক্ষতা আছে।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪২-এ প্রকাশিত।
*'''গ্রিকদের মতোই পুরোনো একটি প্রবাদ আছে যে, ভালো আইন প্রণয়নের চেয়ে ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।''' এটি যে সত্যি, তার পেছনে একটি সন্দেহের চোরা স্রোত কাজ করে এবং দেশপ্রেমের মতোই, কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আইন প্রণয়নের সময় যে আশাগুলো দেখানো হয়, আইন পাস হলে সব সময় তা পূরণ হয় না... '''সংবিধানের বইয়ে থাকা সমস্ত আইনের কী হয়? যদি তাদের প্রবর্তকদের আশার অর্ধেকও পূরণ হতো, তবে কি এর মধ্যেই সহস্রাব্দের শান্তি নেমে আসত না?'''
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৬-এ প্রকাশিত।
*সব দলই মানুষের জীবনে হস্তক্ষেপ করার বিষয়ে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারও কারও লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রকে একটি সার্বজনীন রক্ষাকর্তায় রূপান্তর করা। অসংখ্য বাছাইয়ের কাজের মাধ্যমেই চরিত্র গড়ে ওঠে। জীবনের সব বা বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পছন্দগুলো যদি রাষ্ট্র আপনার জন্য ঠিক করে দেয়, তবে গণতান্ত্রিক আদর্শের কী হবে... আমরা চালাক বা বোকা, ভালো বা মন্দ যাই হই না কেন, আমাদের নিজেদের জীবন পরিচালনা করা এবং তার দায়িত্ব নেওয়ার কী হবে?
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৭-এ প্রকাশিত।
*বর্তমানে কার্যকর থাকা ত্রাণ ব্যবস্থাগুলোতে সব দলই সমানভাবে জড়িত। সবাই একমত যে অভাব-অনটন সহ্য করা উচিত নয়। কিন্তু জন স্মিথকে এভাবে পাইকারি হারে রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়ার সময় আমরা কি জন স্মিথের কাছ থেকে এমন কিছু কেড়ে নিচ্ছি না, যা তাকে সত্যিই দরিদ্র করে তুলবে? এই ভেবে কি আমরা সবাই সম্পূর্ণ খুশি হতে পারি?
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৮-এ প্রকাশিত।
*আমি গতকাল ভারতীয় সম্মেলনের রাজকীয় উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলাম... আমাদের প্রতিনিধি দল ভালোভাবেই শুরু করছে, কিন্তু উইনস্টন [চার্চিল] চরম হতাশায় ডুবে আছেন। তিনি চান সম্মেলনটি দ্রুত ভেস্তে যাক এবং টোরি পার্টি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে গিয়ে শক্ত হাতে শাসন করুক। তিনি আবারও '৯৬ সালের হুসারদের সাবল্টার্ন বা অধস্তন সামরিক কর্মকর্তা হয়ে উঠেছেন।
**জে. সি. সি. ডেভিডসনকে লেখা চিঠি (১৩ নভেম্বর ১৯৩০), রবার্ট রোডস জেমস (সম্পাদিত), ''মেমোয়ার্স অব অ্যা কনজারভেটিভ: জে. সি. সি. ডেভিডসনস মেমোয়ার্স অ্যান্ড পেপারস, ১৯১০-১৯৩৭'' (লন্ডন: উইডেনফেল্ড অ্যান্ড নিকলসন, ১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৩৫৫-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩১ ====
[[Image:View from Haresfield Beacon - geograph.org.uk - 1120282.jpg|thumb|গ্রাম সেই শাশ্বত মূল্যবোধ এবং শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে যা থেকে আমাদের কখনোই নিজেদের বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া উচিত নয়।]]
*এই ধরনের অনুষ্ঠানে কেউ জিজ্ঞেস করতেই পারে, কেন মানুষ এই ধরনের উপহার দিতে এগিয়ে আসে, এবং কেন এই ধরনের জায়গাগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন? আমার মনে হয় এটি ইংরেজদের একটি খুব গভীর এবং মৌলিক প্রবৃত্তির জবাব দেয়। আমরা অনেকাংশেই শহরের মানুষে পরিণত হয়েছি। কিন্তু দুই বা তিন প্রজন্ম ধরে যারা আমাদের শহরগুলোতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছে, তাদের হৃদয়ের গভীরেও গ্রামের জিনিসপত্র এবং গ্রামীণ সৌন্দর্যের প্রতি এক অদম্য ভালোবাসা লুকিয়ে আছে, যা তাদের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে এবং অবচেতনভাবে বিরাজ করতে পারে। আমাদের চেয়েও বেশি করে তাদের কাছে, '''গ্রাম সেই শাশ্বত মূল্যবোধ এবং শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে যা থেকে আমাদের কখনোই নিজেদের বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া উচিত নয়।'''
**ন্যাশনাল ট্রাস্টের কাছে হেয়ার্সফিল্ড বীকন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (১০ জানুয়ারি ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১২০-এ প্রকাশিত।
*আমরা প্রায়ই এই দেশে শুনতে পাই, এবং কথাগুলোর মধ্যে একটি পরিচিত সুরও আছে, যে [ভারতের জন্য] একটি দৃঢ় বা শক্তিশালী সরকারের সময় প্রয়োজন। এর মানে আসলে কী, তা সংজ্ঞায়িত করা খুব কঠিন। তবে এক মুহূর্তের জন্য যদি ধরে নিই যে আমরা এর অর্থ নিয়ে একমত, তবে আমি এই কথা বলব। এটি পুরোপুরি সম্ভব, কিন্তু আপনি কেবল দুটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই সেই নীতিতে সফল হওয়ার আশা করতে পারেন; আমি একটু পরেই ইতিহাসে আসছি। সেই দুটি অনুমান হলো, প্রথমত, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য এবং দ্বিতীয়ত, নীতির ধারাবাহিকতা। আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই দুটি প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তার অভাব ছিল বলেই আইরিশ প্রশ্নটি এক প্রজন্ম ধরে চলেছিল, যেমনটা ঘটেছিল। আর শেষ পর্যন্ত এর পরিণতি দাঁড়িয়েছিল সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ অথবা যুদ্ধের মতো দুটির একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার মধ্যে। যে সমাধানটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তৎকালীন সরকারের একজন সদস্য হিসেবে আমি আত্মসমর্পণের সমাধানটিকে সমর্থন করেছিলাম। সে সময় আমার এটি পছন্দ হয়নি, কিন্তু আমি নিজের বিশ্বাস থেকেই এটি করেছিলাম।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/jan/26/india-1 ভাষণ] (২৬ জানুয়ারি ১৯৩১)।
*আমার দলের মতো বিভক্ত দল আর একটিও নেই। আমি একে একতাবদ্ধ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু এটি [[w:Queen Victoria#Diamond Jubilee|দ্বিতীয় জুবিলির]] সাম্রাজ্যবাদীদের থেকে শুরু করে তরুণ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের পর্যন্ত বিস্তৃত, যারা সবাই আরউইনের নীতির পক্ষে। আমি নিজেও সেই নীতির পক্ষে এবং আমি সেটা বলতেও চাই।
**ভারতের হোম রুল নিয়ে টমাস জোনসের সঙ্গে কথোপকথন (১১ মার্চ ১৯৩১), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৫-এ উদ্ধৃত।
*পথ যতই কঠিন হোক না কেন, বিপদগুলো শুধু সেই কঠিন পথ থেকেই আসে না; বরং দেশে ও ভারতে থাকা চরমপন্থীদের কাছ থেকেও আসে। আমি বলছি আমার কথার মানে কী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, ''ডেইলি মেইলের'' মতো পত্রিকায় যে ধরনের লেখা ছাপা হয়, তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য ভারত হাতছাড়া হওয়ার ক্ষেত্রে, বা বিপ্লবী মনোভাব উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কারও যেকোনো কাজের চেয়ে বেশি দায়ী হবে। আমাকে আর আলাদা করে বলতে হবে না, আমি সব ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই অনেক চিঠি পাই। গত সপ্তাহে আমি খুব অদ্ভুত একটি চিঠি পেয়েছি... এটি একজন কর্নেলের কাছ থেকে এসেছিল; তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ ছিলেন, তার হাতের লেখা দেখেই তা বোঝা যাচ্ছিল। তিনি এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিলেন: তিনি বলেছিলেন, "আপনি এবং লর্ড আরউইন হলেন নিগ্রোফাইল (কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল)।" সম্ভবত তিনি ইউনাইটেড এম্পায়ার পার্টির একজন সদস্য ছিলেন। সাম্রাজ্যকে একতাবদ্ধ রাখার এটি কোনো পথ নয়। এ ধরনের ঘটনা, এবং এর পেছনের যে মানসিকতা, তা নিশ্চিতভাবেই আমাদের সাম্রাজ্য ভেঙে দেবে। আর আমি এর বিরুদ্ধেই লড়াই করতে নেমেছি।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/mar/12/india ভাষণ] (১২ মার্চ ১৯৩১)।
* '''এই পত্রিকাগুলোর মালিকানার লক্ষ্য হলো ক্ষমতা, এবং দায়িত্বহীন ক্ষমতা — যা যুগ যুগ ধরে বেশ্যাদের বিশেষ অধিকার।'''
** বল্ডউইন তার সময়ের শীর্ষস্থানীয় প্রেস ব্যারনদের (লর্ড বিভারব্রুক এবং লর্ড রদারমের) আক্রমণ করছিলেন; বাক্যটি বল্ডউইনের চাচাতো ভাই [[রুডইয়ার্ড কিপলিং]] (১৭ মার্চ ১৯৩১) পরামর্শ দিয়েছিলেন, ''দ্য টাইমস'' (১৮ মার্চ ১৯৩১), পৃষ্ঠা ১৮-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের নিজেদের সুরক্ষার সময় এসেছে। বিদেশি যেমন নিজেকে রক্ষা করে, তেমনি আমাদেরও নিজেদের জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে। আমরা দেশবাসীকে আমাদের নিজেদের ডোমিনিয়নগুলোর সাথেও বাণিজ্য চুক্তিতে প্রবেশের আহ্বান জানাব। এর অধীনে আমরা তাদের আমাদের নিজেদের উৎপাদিত পণ্য কেনার আহ্বান জানাব এবং বিনিময়ে আমরা খাদ্যসামগ্রী ও কাঁচামাল নেব। ... গম উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষমতা দিতে আমরা ভোটারদের কাছে আহ্বান জানাব।
**নিউজরিলে দেওয়া সাক্ষাৎকার (বসন্ত ১৯৩১), জন রামসডেনের ''এ হিস্ট্রি অফ দ্য কনজারভেটিভ পার্টি: দ্য এজ অফ বেলফোর অ্যান্ড বল্ডউইন, ১৯০২-১৯৪০'' (১৯৭৮), পৃষ্ঠা ৩২০-তে উদ্ধৃত।
*সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ধর্ম আমাদের উদ্দেশ্যগুলোকে পরিচালিত করবে, আমাদের নীতিগুলোকে টিকিয়ে রাখবে, এবং আমরা যখন কাজে যাব তখন এক গোপন আবহের মতো আমাদের আত্মাকে ঘিরে রাখবে ও সিক্ত করবে... আমরা সবাই একমত যে, ধর্ম কেবল চার্চে থাকা খ্রিস্টানদের বিষয় নয়; এটি রাজনীতিতে, কূটনীতিতে, বাণিজ্যে, শিল্পে, স্কুলে এবং খেলাধুলায় থাকা খ্রিস্টানদেরও বিষয়। আমার মনে হয় সাধারণ মানুষের বিচার এটিকে স্বতঃসিদ্ধ হিসেবেই গ্রহণ করেছে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৮০-৮১-তে প্রকাশিত।
*যেকোনো আকাঙ্ক্ষাকে, তা যতই অশালীন হোক না কেন, আকাঙ্ক্ষিত হওয়ার কারণেই ভালো বলে মনে করাটা হয়তো রক্তমাংসের সাধারণ মানুষের পথ হতে পারে, কিন্তু এটি ক্রুশের পথ নয়। আর আমাদের তরুণদের মধ্যে যে নৈতিক নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়েছে বলে বলা হয়... তা ধর্মের দাবিগুলো কমিয়ে দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে না, বরং সেগুলোর ওপর জোর দিয়েই করতে হবে। তরুণদের সমর্থন এবং উৎসাহ পাওয়ার জন্য তাদের বদভ্যাসগুলো মেনে নিতে হবে—এমন ধারণা তাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল বিচার করা এবং তাদের সম্মান হারানোর নামান্তর। চার্চগুলো মানবপ্রকৃতির কাছে খুব বেশি কিছু দাবি করার চেয়ে বরং খুব কম কিছু দাবি করার কারণেই দীর্ঘমেয়াদে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তরুণরা আজ যে পরিস্থিতিতে নিজেদের আবিষ্কার করেছে, তার আসল ট্র্যাজেডি হলো অতীত প্রজন্মের গোঁড়ামির পতন এবং আজকের পরিস্থিতির সাথে মানানসই একটি আত্মবিশ্বাসী, সুসংগত বিশ্বাস দিয়ে এটিকে প্রতিস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়া। নীতিগুলো শাশ্বত হতে পারে, তবে তাদের বাস্তবায়ন অবশ্যই সময়োপযোগী হতে হবে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৮৩-৮৪-তে প্রকাশিত।
*আসুন আমরা এটা মনে না করি যে উচ্চতর [[গণিত]], [[পদার্থবিজ্ঞান]] বা [[জীববিজ্ঞান|জীববিজ্ঞানের]] জগতে হওয়া আবিষ্কারগুলো নৈতিক সমতলে আমাদের সমস্যাগুলোকে দূর করবে বা এমনকি কমিয়ে দেবে... নৈতিকতার জগৎ পরিমাণ বা রাসায়নিক ক্রিয়ার কোনো জগৎ নয়। এটি মূল্যবোধের একটি জগৎ। [[সঠিক ও বেঠিক]], [[ভালো ও মন্দ]], [[সততা]] এবং [[সাহস|সাহসের]] এই মূল্যবোধগুলোই ধর্ম এবং জাতীয় জীবনের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ... আমি বিজ্ঞানকে অবজ্ঞা করছি না। আমি শুধু এ কথাই বলতে চাইছি যে নৈতিক মূল্যবোধগুলো—যা তাদের গুণাবলিতে শাশ্বত, কিন্তু তাদের রূপ এবং প্রয়োগে ক্ষণস্থায়ী—হলো একটি দেশের মহত্ত্বের ভিত্তি। যদি আমাদের সাধারণ জীবনে নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে, তবে জাতির সব কিছুই ভালো হবে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭-তে প্রকাশিত।
*এখন আমাদের এই দেশের এমন একটি রেকর্ড রয়েছে যার জন্য আমরা গর্ব করতে পারি। আমরা যখন বিভিন্ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে সেই [[নিরস্ত্রীকরণ|নিরস্ত্রীকরণের]] প্রশ্নটি আন্তরিকতা, ঐকান্তিকতা এবং সম্মানের সাথে মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তখন আমরা আমাদের স্বাক্ষরকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করেছি এবং এর প্রতি সমর্থন দিয়েছি। এবং একটি দেশ নিজে একা যা যা করতে পারে, আমরা তার সবই করেছি। আমরা আমাদের সব অস্ত্রশস্ত্র কমিয়ে দিয়েছি। আজ [[রয়েল এয়ার ফোর্স|আমাদের বিমান বাহিনীর]] শক্তিতে আমরা বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছি। আমরা [[ব্রিটিশ সেনাবাহিনী|আমাদের সেনাবাহিনীকে]] একদম ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে এনেছি। আমাদের নৌবাহিনী সীমিত করার জন্য আমরা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছি। একতরফা নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে আর কিছুই করা সম্ভব নয়।
**হালের সিটি হলে দেওয়া ভাষণ (১৭ জুলাই ১৯৩১), ''দ্য টাইমস'' (১৮ জুলাই ১৯৩১), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*ভারতীয় প্রশ্নে আমাদের দল কী অবস্থান নেবে তা নিয়ে দুই বছর আগে আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম যে একটি প্রগতিশীল দলের জন্য একটি পথই খোলা আছে—আর বেঁচে থাকতে হলে একটি দলকে প্রগতিশীল হতেই হবে। আমি বিশ্বাস করতাম যে অন্য পথটি দলকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/dec/03/indian-policy ভাষণ] (৩ ডিসেম্বর ১৯৩১)।
==== ১৯৩২ ====
*আমরা শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর করব এবং এটি যদি সফল হয় তবে তা অবাধ বাণিজ্যের মতোই দলীয় রাজনীতি থেকে অনেকটা ছিটকে পড়বে। এরপর আমাদের দলের নাম পরিবর্তন করে ন্যাশনাল (জাতীয়) রাখার জন্য উপযুক্ত সময় দিন, কারণ তখন লিবারেলদের বৃহত্তর অংশের থেকে আমাদের আসলেই আলাদা করার মতো খুব সামান্য কিছুই থাকবে।
**টমাস জোনসকে দেওয়া মন্তব্য (২৮ জানুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ২৫-২৬-এ উদ্ধৃত।
*ঠিক বা ভুল যা-ই হোক না কেন, পুরোনো ভারতের সাথে আমাদের কাজ শেষ; একটি নতুন ভারত তৈরি হচ্ছে এবং আমাদের অবশ্যই এর সাথে মানিয়ে নিয়ে সেরাটা বের করে আনতে হবে।
**টমাস জোনসকে দেওয়া মন্তব্য (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ২৯-এ উদ্ধৃত।
*[[সোভিয়েত ইউনিয়ন|রাশিয়া]] এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|আমেরিকা]] লিগের বাইরে থাকায় [[অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা|নিষেধাজ্ঞাগুলো]] একটি ভুল। আমি সবসময়ই এমনটা ভেবেছি। আপনি একটি প্রথম-শ্রেণির শক্তির বিরুদ্ধে এগুলো প্রয়োগ করতে পারবেন না। [[রবার্ট সিসিল, চেলউডের ১ম ভিসকাউন্ট সিসিল|বব সিসিলের]] মতো ঠিক যে মানুষেরা আমাদের নিরস্ত্রীকরণে বাধ্য করেছিল, এবং তা একেবারে ঠিকও ছিল, তারাই এখন আমাদের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দিচ্ছে। কিন্তু পদক্ষেপ আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে? আমরা যদি রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করি, তবে তা হবে কেবল প্রথম পদক্ষেপ। এর পরের পদক্ষেপ কী? এবং তার পরেরটা? আপনি যদি অর্থনৈতিক বয়কট করেন তবে [[জাপান সাম্রাজ্য|জাপান]] যুদ্ধ ঘোষণা করবে এবং সে [[সিঙ্গাপুর]] ও [[ব্রিটিশ হংকং|হংকং]] দখল করবে। আর আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, তাতে তাকে থামাতে পারব না। আপনি [[ওয়াশিংটন, ডিসি|ওয়াশিংটন]] থেকে কেবল কথাই পাবেন, বড় বড় কথা, কিন্তু কেবল কথাই।
**জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণের পর টমাস জোনসকে দেওয়া মন্তব্য (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৩০-এ উদ্ধৃত।
*তারা কি কখনো [[ইসলাম|মোহাম্মদীয় ধর্ম]] (ইসলাম) এবং [[কমিউনিজম|বলশেভিজমের]] উৎপত্তির মধ্যে থাকা মিলের কথা ভেবেছে? উভয়ই [[খ্রিস্টধর্ম|খ্রিস্টধর্ম]] থেকে উদ্ভূত, একটি ভ্রাতৃত্বের প্রচার করছে এবং অন্যটি সাম্যবাদের। তবে উভয়ই সকল অবিশ্বাসীদের জন্য মৃত্যু এবং নরকবাসের ঘোষণা দেয়। নবীর মৃত্যুর এক শতাব্দীর মধ্যেই মোহাম্মদীয়রা তরবারির জোরে [[আরব]] থেকে পিরেনিজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল [এবং] ট্যুরসে চার্লস মার্টেল তাদের থামিয়েছিলেন। রাশিয়া খুব কমই মহান মানুষের জন্ম দেয়, তবে কল্পনা করুন যদি একজন বলশেভিক [[প্রথম পিটার|পিটার দ্য গ্রেট]] দৃশ্যপটে হাজির হন, তবে কী ঘটতে পারে।
**টমাস জোনসের সঙ্গে কথোপকথন (৩ জুলাই ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৪৩-এ উদ্ধৃত।
*সরকার যে শুধু নিরস্ত্রীকরণের কথাই বলেনি, বরং এটি বাস্তবেও প্রয়োগ করেছে, তা আমার জোর দিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। গ্রেট ব্রিটেন একতরফা নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখন শেষ হয়েছে।
**লন্ডনের গিল্ডহলে দেওয়া ভাষণ (৯ নভেম্বর ১৯৩২), ''দ্য টাইমস'' (১০ নভেম্বর ১৯৩২), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমি মনে করি সাধারণ মানুষের জন্য এটি উপলব্ধি করাও ভালো যে পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাকে বোমা হামলার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। মানুষ তাকে যা-ই বলুক না কেন, '''বোমারু বিমান সব সময়ই পথ খুঁজে নেবে'''।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1932/nov/10/international-affairs ভাষণ] (১০ নভেম্বর ১৯৩২)।
*আমি যাদের সবচেয়ে বেশি বিরোধী, তারা হলেন চরম টোরি উইংয়ের সেই বয়স্ক ভদ্রলোকেরা। তারা ক্লাবের ধূমপানের ঘরে বসে থাকেন এবং কখনোই কোনো কাজে হাত লাগান না, কিন্তু আমি যা কিছু করি তার সবকিছুর জন্যই আমাকে গালমন্দ করেন... সরকারি কাজের জন্য আমাদের কাছে যে জনবল ছিল, অন্য কোনো দেশের কাছে তা ছিল না। জনজীবন জঘন্যভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠতে পারত, কিন্তু আমরা সবাই একে পরিচ্ছন্ন এবং ঘুষমুক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারতাম।
**সান্ডারল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া হলে জাতীয় সরকারের সমর্থনে এক সভায় দেওয়া ভাষণ (২ ডিসেম্বর ১৯৩২), ''দ্য টাইমস'' (৩ ডিসেম্বর ১৯৩২), পৃষ্ঠা ১২-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩৩ ====
*আমি সব সময়ই [[ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট|রুজভেল্টের]] [[নিউ ডিল|পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোকে]] ভয় পেয়েছি এবং আমার মনে হয় কয়েক মাসের মধ্যেই আমেরিকায় একটি ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
**টমাস জোনসকে লেখা চিঠি (১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ১১৫-তে উদ্ধৃত।
*[[মধ্যযুগ|মধ্যযুগে]], এবং মূলত তার পরবর্তী বছরগুলোতে... আমাদের সীমানা ছিল সমুদ্র; এটি একটি নির্দিষ্ট সীমানা ছিল। আর এটি এমন এক সীমানা ছিল, যা একবার একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি সেই সমুদ্র সীমান্ত রক্ষা করতে সক্ষম হলে আর কেউ পার হতে পারত না। আর মূলত ও প্রধানত এর কারণেই আমরা এই দেশে আমাদের নিজস্ব অদ্ভুত সভ্যতা এবং আমাদের নিজস্ব স্বাধীনতা গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। আমরা এমন এক নিরাপত্তায় তা করতে পেরেছিলাম, যা সে সময় বিশ্বের প্রায় অন্য সব জাতির কাছেই অপরিচিত ছিল।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১-তে উদ্ধৃত।
*জাতি হিসেবে আমরা অভিযোগ করি, আমরা কখনোই দুশ্চিন্তা করি না, আর সময় যত কঠিন হয়, আমরা তত বেশি উৎফুল্ল হই। বাইরের বিশ্বে কী ঘটছে তা নিয়ে অনেক দিক থেকেই আমরা উদাসীন হতে পারি, কিন্তু বিপদের সময় এই উদাসীনতা খুব দ্রুতই দূর হয়ে যায়। আমরা বিপদের সময় সব সময়ই শান্ত থাকি। আমরা সামরিক জাতি নই, কিন্তু আমরা মহান যোদ্ধা—যে বংশ থেকে আমাদের উদ্ভব, তাতে আমাদের এমনটাই হওয়া উচিত। আমাদের টিকে থাকার ক্ষমতা আছে, আমরা বিচলিত হই না। আমার মনে আছে, ''দ্য টাইমসের'' একজন লেখকের কথায় আমি খুব মজা পেয়েছিলাম এবং বেশ খুশিও হয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন যে আমার আধ্যাত্মিক বাড়ি হলো শেষ পরিখায় । যদি তা-ই হয়, তবে আমি আমার বেশিরভাগ দেশবাসীর সাথেই সেই পরিখা ভাগ করে নিয়েছি।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-তে উদ্ধৃত।
*তারপর, সবার ওপরে, ইংরেজদের বুদ্ধির চেয়ে [[রসবোধ|রসবোধের]] এক অদ্ভুত অনুভূতি রয়েছে। রসবোধ আসে হৃদয় থেকে; বুদ্ধি আসে মস্তিষ্ক থেকে। আমরা নিজেদের নিয়ে হাসতে পারি। [[জন রাস্কিন|রাস্কিন]] কী বলেছিলেন মনে আছে? "ইংরেজদের হাসি হলো টাকশালে তৈরি হওয়া ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে খাঁটি এবং সত্য।" এবং সত্যিই, কেবল ঈশ্বরই জানেন যে দেশ এর কাছে কতটা ঋণী। আসলে, হাসি হলো ঈশ্বরের দেওয়া সেরা উপহারগুলোর একটি। আর মনখোলা হাসির সাথে কোনো বিদ্বেষ বা অশালীনতা থাকতে পারে না। আর যে মানুষগুলো আমাদের দেখিয়েছেন সেই হাসির মানে কী হতে পারে, তাদের মধ্যে [[w:চার্লস ডিকেন্স|ডিকেন্সের]] মতো আর কেউ ছিলেন না। তার প্রতিটি চরিত্রই মজ্জায় মজ্জায় ইংরেজ। আর যদি আমি একজন জীবিত লেখকের কথা উল্লেখ করি, তবে আমার মনে হয় সবচেয়ে খাঁটি ইংরেজদের দেখা যায় মিস্টার প্রিস্টলির উপন্যাসগুলোতে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-তে উদ্ধৃত।
*দয়া, দুর্বলদের প্রতি সহানুভূতি, বাড়ির প্রতি ভালোবাসা! এগুলো কি আপনার পরিচিত সাধারণ ইংরেজদের বৈশিষ্ট্য নয়? সে একজন প্রবল ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী এই কারণে যে, সে নিজেকে কোনো সাধারণ ছাঁচে ফেলতে চায় না, সবার মতো হতে চায় না; সে তার নিজস্ব স্বকীয়তা গড়ে তুলতে পছন্দ করে। এবং তবুও সে সেবার জন্য একজোট হতে পারে। এই দেশের সেরা কিছু জিনিস আমাদের সাধারণ মানুষের মধ্যেই তৈরি হয়েছে, সরকারের কোনো সাহায্য ছাড়াই—ফ্রেন্ডলি সোসাইটির কাজ, আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন, আমাদের হাসপাতাল এবং রাষ্ট্র দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমাদের শিক্ষা। তারপর আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি ইংরেজের এক গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে—এটি তার স্বশাসনের ঐতিহ্যের অংশ। সুশৃঙ্খল স্বাধীনতা—বিশৃঙ্খলাপূর্ণ স্বাধীনতা নয়, বা যা অবধারিতভাবে এর অনুসরণ করে সেই স্বৈরতন্ত্রও নয়; বরং সুশৃঙ্খল স্বাধীনতা, যা বর্তমানে এই ওলটপালট পৃথিবীর অন্যতম বিরল জিনিস।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমি বলছি যে বিশ্বে এ ধরনের গুণাবলি এর আগে কখনোই এতটা প্রয়োজনীয় ছিল না। আসুন আমরা যা, তা-ই ধরে রাখি; আসুন আমরা অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা না করি... আমাদের অধ্যবসায়, আমাদের স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা, আমাদের সুশৃঙ্খল স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা, আমাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, আমাদের ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সেবায় আমাদের একজোট হওয়ার ক্ষমতা; বস্তুত, আমাদের শক্তি এবং আমাদের দুর্বলতার মাঝেই আমি আমার হৃদয় থেকে বিশ্বাস করি যে, আমাদের মানুষ আমাদের সামনে আসা যেকোনো পরীক্ষা পার হওয়ার যোগ্য। এবং যদি তারা তাদের নিজস্ব সেরা ঐতিহ্যগুলোর প্রতি সৎ থাকে, তবে অতীতে তারা যেমনটা ছিল ভবিষ্যতে তার চেয়েও এক মহান জাতি হিসেবে তারা আত্মপ্রকাশ করবে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*এটি কোনো তৈরি করা জিনিস নয়; এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ওক, ছাই বা কাঁটার মতোই আমাদের দেশ এবং মানুষের নিজস্ব জিনিস হিসেবে বেড়ে উঠেছে। এটি তার মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছে এবং তাদের স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে পার্থক্য শিখিয়েছে। আজ সেই সংবিধানই হুমকির মুখে, সোশ্যালিস্ট পার্টির তাদের সম্মেলনে এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে না হলেও, প্রবণতাগতভাবে এমন একটি কর্মপন্থা আঁকার মাধ্যমে, যা যদি বাস্তবায়িত হয় তবে তার অর্থ হবে সংবিধানের ধ্বংস। আপনি এটিকে যত খুশি বিতর্কিত করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে হাউস অফ কমন্সের নির্বাহী ক্ষমতা কেড়ে নেওয়াই হলো প্রতিটি স্বৈরতন্ত্রের শুরুর পথ। এটি সর্বহারা হিটলারবাদ এবং অন্য কিছু নয়, এবং এটি অন্য কিছু হতেও পারে না। আমি চাই আপনারা সময়ের আগেই এটি উপলব্ধি করুন।
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দ্য টাইমস'' (৭ অক্টোবর ১৯৩৩), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তিসংগত করার যেকোনো ইচ্ছাকৃত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টাকে সন্দেহের চোখে দেখাটা ব্রিটিশ জনসাধারণের একটি বৈশিষ্ট্য।
**লন্ডনে ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে দেওয়া ভাষণ (২৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৫২-তে উদ্ধৃত।
*নিখুঁত সরকার কেবল সেখানেই পাওয়া যায় যেখানে কারাগারগুলো পূর্ণ থাকে।
**লন্ডনে ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে দেওয়া ভাষণ (২৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৫৩-তে উদ্ধৃত।
*'''আমি একজন ভিক্টোরিয়ান'''। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমি সেই সময়ের অন্য সবার মতোই প্রায় দশ মাইল ব্যাসার্ধের একটি বৃত্তের কেন্দ্রে বাস করতাম—যতদূর এক জোড়া ঘোড়া আমাকে টেনে নিয়ে যেতে পারত। এর বাইরে আমি খুব কমই যেতাম, এবং আমি ইংল্যান্ডের অন্যান্য অংশ থেকে এমনভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলাম যা কেবল মোটর রাস্তা এবং মোটর গাড়ির দেশ হিসেবে ইংল্যান্ডকে চিনেছে, এমন কারও পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব।
**লন্ডনে ইয়র্কশায়ার সোসাইটির বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৮ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩৪-এ উদ্ধৃত।
*কোনো মানুষের প্ল্যাটফর্মে কথাবার্তা যেমনই হোক না কেন বা দৈনন্দিন জীবনে সে নিজের ঢাল হিসেবে যতটাই মানববিদ্বেষের ভান করুক না কেন, সেই আবরণের নিচে, একশো জনের মধ্যে নিরানব্বই জন ইংরেজের মধ্যেই এমন একটি ভালোবাসা থাকবে—যা সে কখনো ব্যাখ্যা করতে পারে না বা কখনো করবেও না—সেই বাড়ির প্রতি যেখানে সে নিজে একসময় বাস করেছে বা তার আগে তার বাবা-মা বা দাদা-দাদি বাস করেছেন।
**লন্ডনে ইয়র্কশায়ার সোসাইটির বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৮ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩৭-এ উদ্ধৃত।
*দুটি সত্য আমাদের মনে গেঁথে আছে। আমরা যে যুগে বাস করি, সেখানে যুদ্ধ বিজয়ী এবং বিজিত উভয়ের জন্যই সমান ধ্বংসাত্মক। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, ইউরোপে আরেকটি যুদ্ধের অর্থ হবে আমাদের পরিচিত পশ্চিমা সভ্যতার অবসান। এই পরিস্থিতিতে এই সরকার যা করছে, তা ছাড়া আর কোনো সরকার কী-ই বা করতে পারে—অস্ত্রসীমিতকরণের বিষয়ে ইউরোপে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অবিরাম সংগ্রাম করা? এই মুহূর্তে সামনের বাধাগুলোর কারণে অনেক মানুষের হৃদয় নিরাশ হয়ে পড়ছে... আমাদের দায়িত্ব হলো এই রাজনৈতিক বাধাগুলো অতিক্রম করতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি না রাখা এবং শেষ মুহূর্তে হলেও অস্ত্রসীমিতকরণের একটি চুক্তি তৈরি করার কাজ পুনরায় শুরু করা।
**এডিনবার্গে দেওয়া ভাষণ (১৭ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দ্য টাইমস'' (১৮ নভেম্বর ১৯৩৩), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩৪ ====
*আমি বলব যে, [[ফ্যাসিবাদ|ফ্যাসিস্টদের]] বিশ্বে স্বাধীনতার একমাত্র রক্ষক হিসেবে আমরাই টিকে আছি। ... এই ফ্যাসিস্ট এবং কমিউনিস্টরা আজ সেই ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর যুদ্ধের উত্তরসূরি।
**টমাস জোনসের সঙ্গে কথোপকথন (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৪), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ১২৪-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের স্বাধীনতা আমাদের নিজস্ব—তা সে নাগরিক হোক বা ধর্মীয়। আমরা এতে এতটাই অভ্যস্ত, ঠিক যেমন আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই তার প্রতি, যে আমরা এটিকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নিই... আর সেই স্বাধীনতা স্বর্গ থেকে মান্নার মতো আমাদের ওপর ঝরে পড়েনি: আমাদের ইতিহাসের শুরু থেকেই এর জন্য লড়াই করতে হয়েছে, এবং এটি অর্জনের জন্য আমাদের চেয়ে অনেক ভালো মানুষের রক্ত ঝরেছে। এটি নির্বাহী ক্ষমতার প্রতি শতাব্দী ধরে করা প্রতিরোধের ফল, এবং এটি আমাদের জন্য একটি সমান ন্যায়বিচার ও জুরির মাধ্যমে বিচার, এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতামতের স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৭-তে উদ্ধৃত।
*আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে এই দেশে সরকার অনেক বেশি পরিচ্ছন্নভাবে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশের সরকারের মতোই আমাদের স্থানীয় জনপ্রশাসনেও এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই বিরল, যারা পথভ্রষ্ট হয় এবং [[দুর্নীতি]] বা অযাচিত প্রভাবের কারণে আসা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করে। আমাদের ভাইদের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, তাদের সবার মঙ্গলের জন্য জনসেবা করার একটি চমৎকার ঐতিহ্য এই দেশে প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২০-তে উদ্ধৃত।
*আর এই দেশে বসে আমাদের জন্য কোনো [[স্বৈরতন্ত্র|স্বৈরতন্ত্রের]] কথা ভাবা—যা আজ অনেক দেশে সরকারের একটি জনপ্রিয় রূপ—তা হবে আমাদের দিক থেকে চূড়ান্ত [[কাপুরুষতা|কাপুরুষতার]] কাজ, একটি [[আত্মসমর্পণ|আত্মসমর্পণের]] কাজ, হাল ছেড়ে দেওয়ার কাজ, এটি হবে এক ধরনের স্বীকারোক্তি যে আমরা নিজেদের শাসন করতে অক্ষম... এই দেশে আমরা যাকে "রাতারাতি ধনী হওয়ার" মানসিকতা বলি, তা আমরা চাই না। গতি এবং দক্ষতা খুব ভালো জিনিস, এবং সম্ভবত সেগুলো এই প্রজন্মের কাছে পূজনীয়। কিন্তু সেগুলো সবসময় একসাথে চলে না। আমি যেমনটা প্রায়ই বলি, ত্বরণ বা অ্যাক্সিলারেশন সভ্যতার সমার্থক নয়। এটা ঠিক যে এই দেশের রাষ্ট্রীয় ঘোড়ার গাড়িটি হয়তো কর্দমাক্ত পথ দিয়ে যাচ্ছে, এর চাকায় হয়তো ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ হচ্ছে; কিন্তু আপনি কি নিশ্চিত যে আজ [[মস্কো]], [[বার্লিন]], [[ভিয়েনা|ভিয়েনায়]] রাষ্ট্রীয় গাড়ির চাকাগুলো ক্যাঁচক্যাঁচ করছে না? আপনি কি পুরোপুরি নিশ্চিত যে সেগুলো এমনকি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও]] ক্যাঁচক্যাঁচ করছে না?
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২১-এ উদ্ধৃত।
*'''স্বৈরতন্ত্র হলো একটি বিশাল বিচ গাছের মতো—যৌবনে এটি দেখতে খুবই চমৎকার, কিন্তু এর নিচে কিছুই জন্মায় না বা বাঁচে না।'''
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২১-এ উদ্ধৃত।
==== ১৯২৬ ====
[[Image:KingBaldwin1926.jpg|thumb|রাজনীতিকে যদি সঠিকভাবে দেখা যায়, তবে তা সত্যিই এক ধরনের ধর্মীয় সেবার (মিনিস্ট্রি) মতো।]]
*কেন [[রোম সাম্রাজ্য|রোমান সাম্রাজ্যের]] উত্থান হয়েছিল এবং কেনই বা উত্থানের পর তার পতন ঘটেছিল? ...সাম্রাজ্যের উত্থানে রোমানদের চরিত্র যেমন ভূমিকা রেখেছিল, পতনের ক্ষেত্রেও কি ঠিক তেমনই ভূমিকা রাখেনি? ...আমার কাছে রোমান চরিত্রের সবচেয়ে বড় এবং অনন্য শক্তি হলো ''pietas (নিষ্ঠা)'' এবং ''gravitas (গাম্ভীর্য)'' শব্দ দুটির মধ্যে। এগুলোই ছিল সেই দেশপ্রেমের ভিত্তি, যা একাই সাম্রাজ্যের বোঝা বইতে পারত। এই দেশপ্রেম ছিল সহজাত, অসীম ক্ষমতার এক চালিকাশক্তি। অথচ এটি এতটাই পবিত্র ছিল যে, একে নিয়ে কখনোই বড়াই করা হয়নি, কোনো পুরস্কারের আশা করা হয়নি, একে খুব স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া হতো এবং একে প্রকাশ করার মতো কোনো একক শব্দও ছিল না।
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৩-১০৪-এ উদ্ধৃত।
*''Pietas'' এবং ''gravitas''-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা চরিত্রের শেকড় ছিল সত্যের গভীরে। আর আমি এ কথা ভেবে গর্ববোধ করি যে, ইংরেজি শব্দটি রোমান শব্দের চেয়ে কোনো অংশেই কম সম্মানজনক নয়... রোমান সৈন্যদল যখন ব্রিটেন ছাড়ছিল, তখন [[w:অ্যামিয়ানাস মার্শেলিনাস|অ্যামিয়ান]] লিখেছিলেন যে, রোমানদের কথার ওপর আর ভরসা করা যায় না। তার এই লেখা থেকেই আমরা তা জানতে পারি। '''শহরগুলোতে জনসংখ্যার ভিড়, অপরিসীম বিলাসিতা এবং সম্পদের স্থায়ী উৎসগুলোর নিঃশেষ হয়ে যাওয়া—এসবের চেয়েও এটি আমার কাছে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ একটি অশনিসংকেত বলে মনে হয়। কারণ এই সব কিছু মিলে সেই চরিত্রটিকেই দুর্বল করে দিয়েছিল, রাষ্ট্রের বেঁচে থাকার জন্য যার টিকে থাকাটা অপরিহার্য ছিল।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৫-এ উদ্ধৃত।
*আজ যারা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাদের মনে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। সেই ভয় এখনও আমাদের গলা চেপে ধরেনি ঠিকই, তবে গোধূলির আলোয় এক ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। ভয়টা হলো, [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|মহামহাবুদ্ধ]] এত বিপুল সংখ্যক সেরা জীবন কেড়ে নেওয়ার কারণে সাম্রাজ্যের কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট উপযুক্ত মানুষ হয়তো আর অবশিষ্ট নেই। আমাদের কাজ এমনিতেই অনেক কঠিন, তবে তা সম্পন্ন হবে; '''তবুও ইউরোপের কে না জানে যে, পশ্চিমে যদি আর একটি যুদ্ধ হয়, তবে যুগের পর যুগ ধরে গড়ে ওঠা সভ্যতা রোমের মতোই এক ভয়ংকর পতনের সম্মুখীন হবে? সে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিপদের সংকেত রেখে গেছে; এখন সেগুলো পড়ার দায়িত্ব আমাদের।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৬-এ উদ্ধৃত।
*আমি যেহেতু বিশ্বাস করি যে বিশ্বের অনেক সভ্যতা ও সংস্কৃতি পশ্চিম ইউরোপের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই আমাদের জন্য এটি মনে রাখা ভালো যে, ঐতিহাসিক সময়ে আমরা পশ্চিম ইউরোপীয়রা একসঙ্গে একটি বিশাল সাম্রাজ্যের সদস্য ছিলাম। এবং আমরা ভাষা, আইন এবং ঐতিহ্য—যদিও ভিন্ন মাত্রায়—একে অপরের সাথে ভাগ করে নিই। '''একই মায়ের কাছ থেকে নাগরিকত্বের প্রথম পাঠ শেখা জাতিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ হওয়াটা আমার কাছে ভ্রাতৃঘাতী উন্মাদনা বলেই মনে হয়।'''
**ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১০৭-এ উদ্ধৃত।
*অ্যাথেন্স এবং রোমে... প্রতিটি চূড়ান্ত সমস্যাই তাদের ছিল, যেমনটা এখন আমাদের। আর আপনি তাদের আবেদনে যত বেশি নিজের আত্মাকে উন্মুক্ত করবেন, হোঁচট খাওয়া মানবতার প্রতি আপনার করুণা তত গভীর হবে। আপনি মানব পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করার চেয়ে বরং তাদের একত্রে বাঁধতে তত বেশি আগ্রহী হবেন। এটা কোনো অন্ধ নিয়তি নয় যে আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন পণ্ডিত তার জীবনকে [[w:সম্মিলিত_জাতিপুঞ্জ|লিগ অফ নেশনসের]] আদর্শের জন্য উৎসর্গ করেছেন। বরং এটি সেই গ্রিকদের ব্যর্থতা মোচনে অবদান রাখার ইচ্ছা থেকেই এসেছে, যাদেরকে বুঝতে তিনি জীবিত যেকোনো মানুষের চেয়ে এই আধুনিক বিশ্বকে বেশি সাহায্য করেছেন।
**[[গিলবার্ট মারে|গিলবার্ট মারেকে]] নিয়ে ক্লাসিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে দেওয়া ভাষণ (৮ জানুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১১৫-১১৬-এ উদ্ধৃত।
*দেশের এখন অন্য একজন [[জন ওয়েসলি|ওয়েসলি]] বা [[জর্জ হোয়াইটফিল্ড|হোয়াইটফিল্ডের]] মতো আর কাউকে এতটা প্রয়োজন নেই... আজ বিশ্বকে খ্রিস্টীয় যুগে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি [[অধর্ম|ধর্মহীন]] বলে মনে হচ্ছে। দায়িত্বজ্ঞানহীন আনন্দ-সন্ধান এবং অপব্যয়ী বিলাসিতা এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে; আমাদের শৈশবে গির্জায় যাওয়ার যে চল ছিল, তা এখন আর নেই; এবং যাজকপদের (মিনিস্ট্রি) জন্য প্রার্থীদের সংখ্যাও আগের বছরগুলোর তুলনায় কমে গেছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এই পরিস্থিতি কেটে যাবে।
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৫-১৯৬-এ উদ্ধৃত।
*আমি সেখানে, বিশেষ করে লেবার পার্টির মধ্যে এমন অনেক লোককে দেখি যারা পঞ্চাশ বছর আগে নিশ্চিতভাবেই খ্রিস্টান যাজকপদে (মিনিস্ট্রি) যোগ দিতেন। জনগণকে সাহায্য করার গভীর আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা রাজনৈতিক জীবনে আকৃষ্ট হয়েছেন। আজকাল সব দলেই এমন মানুষ দেখা যায়... আমি অবশ্যই অনেক পর্যবেক্ষকের সাথে একমত যে, যুদ্ধের পর থেকে [[শয়তান|শয়তানের]] স্পষ্ট শক্তিগুলো আরও বেশি মাত্রায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এই শক্তিগুলোর প্রকাশই আবার অন্যান্য শক্তিগুলোকে মাঠে নামার আহ্বান জানাচ্ছে।
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৬-এ উদ্ধৃত।
*'''রাজনীতিকে যদি সঠিকভাবে দেখা যায়, তবে তা সত্যিই এক ধরনের ধর্মীয় সেবার (মিনিস্ট্রি) মতো।'''
**ল্যাংহ্যাম হোটেলে দেওয়া ভাষণ (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬), ''অন ইংল্যান্ড, অ্যান্ড আদার অ্যাড্রেসেস'' (১৯২৬), পৃষ্ঠা ১৯৭-এ উদ্ধৃত।
* '''আমি একজন শান্তির মানুষ। আমি শান্তির জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা করছি, কাজ করছি এবং প্রার্থনা করছি। কিন্তু আমি ব্রিটিশ সংবিধানের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার সাথে কোনো আপস করব না।''' আপনারা আঠারো মাস আগে আমাকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। অনেক অনেক বছর পর কোনো দলকে দেওয়া সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি কি এমন কিছু করেছি যার জন্য সেই বিশ্বাস হারাতে পারি? মানুষে মানুষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং একটি ন্যায্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে আপনারা কি আমার ওপর ভরসা রাখতে পারেন না?
** সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে বিবিসি রেডিওতে দেওয়া ভাষণ (৮ মে ১৯২৬), কিথ মিডলমাস এবং জন বার্নসের লেখা ''বল্ডউইন : এ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৪১৫-তে উদ্ধৃত। *খাদ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, সব ধরনের [[পরিবহন]] ব্যবস্থা অধিগ্রহণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বন্দরগুলোতে থাকা কয়লা রপ্তানি বন্ধ করতে সরকার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছিল, যা আমাদের চেয়ে কম সুশৃঙ্খল কোনো জাতির মধ্যে ঘটলে দাঙ্গা এবং বিপ্লব অনিবার্য ছিল। '''কিন্তু আমাদের জাতি কোনো অপরিপক্ব বা অনভিজ্ঞ জাতি নয়। আমাদের দেশ তার সেরা ঐতিহ্য বজায় রেখে মাথা ঠান্ডা রেখেছিল। আর মাথা ঠান্ডা রেখেই সারা বিশ্বের প্রশংসা—এমনকি অনিচ্ছাকৃত প্রশংসাও—আদায় করে নিয়েছিল।'''
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৫৯-এ উদ্ধৃত।
*এটি স্বীকার করা হয়েছিল, এবং ন্যায্যভাবেই স্বীকার করা হয়েছিল যে, যখন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একজোট হয়, তখন তাদের পক্ষে এককভাবে সেই শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার সাথে দরকষাকষি করা সম্ভব নয়, যারা এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিককে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনটা আশা করাও তাদের প্রতি সুবিচার নয়। তাই কার্যকর চুক্তির স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্যই, নিজেদের অবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার অধিকার মানুষকে দেওয়া হয়েছিল। শিল্পের নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই ট্রেড ইউনিয়নগুলোর জন্ম হয়েছিল, যেমনটা আমরা আজ দেখি। তখন এটি অপরিহার্য ছিল, এবং সেই উদ্দেশ্যের জন্য এটি ভবিষ্যতেও অপরিহার্য থাকবে। এই দেশই হলো এ ধরনের জোটবদ্ধ হওয়ার জন্মস্থান—'''এই দেশ, যা বৈধ এবং বিবর্তনমূলক উপায়ে মানবজাতিকে মুক্ত করার প্রতিটি প্রচেষ্টার জন্মস্থান। অন্যান্য এবং অপেক্ষাকৃত কম সৌভাগ্যবান দেশগুলোর প্রচেষ্টা ব্যর্থতা ও বিপর্যয়ে তলিয়ে যাওয়ার অনেক পরও এই দেশ এভাবেই তার ধারা বজায় রাখবে।'''
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬১-তে উদ্ধৃত।
*যুদ্ধের দুই বছর আগে [[এইচ. এইচ. অ্যাসকুইথ|লর্ড অক্সফোর্ডের]] তৎকালীন সরকারকে [[w:গ্রেট আনরেস্ট|ধর্মঘটের মহামারির]] মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এক পেশার মানুষের বিরোধ সবার বিরোধে পরিণত হয়েছিল। এটি ছিল সহমর্মিতার ধর্মঘট... এক দল নেতার হাতে এটি হয়তো শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির জন্য নিয়োগকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। কিন্তু অন্যদের হাতে এটি এমন এক অস্ত্রে পরিণত হয়েছিল, যা দিয়ে শ্রেণিসংগ্রাম—যাকে তখন শ্রেণিসংগ্রাম বলা শুরু হয়েছিল—পরিচালনা করা যায়। আর সাধারণ ধর্মঘট, যা নিয়ে তখন প্রথম আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা হয়ে উঠেছিল এমন এক চরম হাতিয়ার যার মাধ্যমে পুরো সমাজকে হয় অনাহারে রেখে অথবা ভয় দেখিয়ে এর প্রবর্তকদের ইচ্ছার কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করা যেতে পারে। একই আন্দোলনের মধ্যে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছিল: পুরোনো নিয়মতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি... আলোচনা করা, সম্মিলিতভাবে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে ধর্মঘটের আশ্রয় নেওয়া। অন্যদিকে, ট্রেড ইউনিয়নের এই বিশাল সংগঠনটিকে এমন এক যন্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা, যা দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন উদ্যোগের ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে সার্বজনীন রাষ্ট্রীয় কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা স্থাপন করা যায়... এরপর কী হবে তা কখনোই খুব একটা পরিষ্কার ছিল না। শুধু এটুকু পরিষ্কার ছিল যে, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলাই হলো প্রথম প্রয়োজনীয়তা। এটি ছিল অতীতের সাথে এক গভীর বিচ্ছেদ, এবং এর উৎপত্তি হয়েছিল বিদেশি উৎস থেকে। আর সেইসব বিদেশি বিপ্লবী দৃষ্টান্তগুলোর মতোই এটিও মূলত অত্যন্ত গোপনীয় এবং গুপ্ত ছিল। চুক্তি এবং চুক্তিনামার প্রতি এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ব্রিটিশদের খোলাখুলি এবং সৎ লেনদেনের ঐতিহ্য থেকে সরে আসা। এই প্রোপাগান্ডা হলো ঘৃণা এবং ঈর্ষার প্রোপাগান্ডা।
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৪-১৬৫-তে উদ্ধৃত।
*ধর্মঘটকারীদের ভালো গুণাবলির প্রতি এটি একটি বড় সম্মান যে তারা তাদের নির্দেশনার প্রতি আনুগত্যে শৃঙ্খলা এবং সংযমের প্রমাণ দিয়েছে। তারা আমাদেরই দেশের মানুষ। তাদের অনেকেই কেবল আনুগত্যের অনুভূতি থেকেই নির্দেশ পালন করেছে, যদিও তারা নিজেরাই সেই নির্দেশগুলো পছন্দ করেনি। কিন্তু যদি সেই ধর্মঘট সফল হতো, তবে তা কেবল খনি শ্রমিকদের জন্যই নয়, বরং সমগ্র দেশের জন্যই শিল্পক্ষেত্রে ধ্বংস ডেকে আনত।
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৭-তে উদ্ধৃত।
*এটি হয়তো শ্রমিকদের সংহতির এক চমৎকার প্রদর্শন হতে পারত। কিন্তু একই সাথে, সবার মঙ্গলের জন্য একসঙ্গে বসবাস ও কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের সবার ব্যর্থতার এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক প্রমাণও ছিল এটি। যেসব নেতারা ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলেন, কোনো শর্ত ছাড়াই সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে যে সাহসের প্রয়োজন ছিল, আমি তার প্রশংসা করি... এখন যেসব সমালোচক তাদের সোজা পথে না চলার জন্য দোষারোপ করছেন, তাদের চেয়ে ঐ নেতাদের অনেক বেশি সাহসের প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু সেই ধর্মঘট যদি খনি শ্রমিকদের প্রতি সংহতি বা সহানুভূতি—বা আপনি যা-ই বলুন না কেন—দেখিয়ে থাকে, তবে এটি তার চেয়েও অনেক বড় কিছু দেখিয়েছিল। '''এটি আমাদের দেশের পুরো কাঠামোর স্থিতিশীলতা প্রমাণ করেছিল, এবং পুরো বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে একটি গুলিও ছোড়া হয়নি। আমাদের দেশের মানুষের কাণ্ডজ্ঞান এবং ভালো মেজাজের কারণেই আমরা রক্ষা পেয়েছি।'''
**সাধারণ ধর্মঘট নিয়ে চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৭-১৬৮-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের মানুষ পার্লামেন্টকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে [[পুঁজিবাদ|পুঁজিপতি]] বা [[ট্রেড ইউনিয়ন|ট্রেড ইউনিয়নিস্টদের]] [[রাজাদের ঐশ্বরিক অধিকার|ঐশ্বরিক অধিকার]] প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে না। আর আমরা এদের কারও [[স্বৈরতন্ত্র|স্বৈরতন্ত্রের]] কাছেই মাথা নত করতে যাচ্ছি না... আমি দেখতে চাই আমাদের ব্রিটিশ লেবার আন্দোলন বিদেশি এবং ভিন্নমতের চিন্তাধারা থেকে মুক্ত থাকুক। আমি দেখতে চাই এটি ইংরেজদের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে ইংরেজি ধাঁচেই এগোচ্ছে এবং বিকশিত হচ্ছে।
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৬৯-১৭০-এ উদ্ধৃত।
*'''অবিরাম সংঘাত কেবল দারিদ্র্য এবং নিপীড়নের দিকেই নিয়ে যেতে পারে। একমাত্র শান্তিই দারিদ্র্য এবং নিপীড়নের এই দুই ভূতকে দূর করতে পারে।'''
**চিপেনহ্যামে দেওয়া ভাষণ (১২ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৭১-এ উদ্ধৃত।
*আপনাদের বুঝতে হবে যে আমরা যে বছরগুলোতে বাস করছি, যে বছরগুলোতে আমরা প্রবেশ করছি, সেগুলো অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি করে গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষার সময় হতে যাচ্ছে... আমরা এই দেশে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলতে পারি; আর যদি আমরা তা করি, তবে আমরা এর চেয়েও অনেক খারাপ কিছু পাব—আমরা কোনো না কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র পাব। আমি জানি না সেটি কোন ধরনের স্বৈরতন্ত্র হতে পারে। '''এটি কমিউনিস্ট স্বৈরতন্ত্র হতে পারে; আবার অন্য দিকের কোনো স্বৈরতন্ত্রও হতে পারে। কিন্তু আপনারা যদি একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতন্ত্র গড়ে তুলতে না পারেন, তবে সেটাই হবে দেশের পরিণতি।'''
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৭-১৮-তে উদ্ধৃত।
*যদি আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, রাজনৈতিক কোনো বিষয়, আইন প্রণয়ন বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ বিচার করার সময় কোন দুটি মূল নীতি আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত, তবে আমি বলব কাণ্ডজ্ঞান এবং এই দেশের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটির সংরক্ষণ—আর তা হলো ব্যক্তি স্বাধীনতা। এই মানদণ্ডগুলো প্রয়োগ করলে আপনি খুব কমই ভুল পথে যাবেন। আজ অনেকেই মনে করেন আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই বিশ্বের সব রোগ সারানো সম্ভব। কিন্তু তাদের প্রস্তাবিত আইনটি দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে মানানসই কি না এবং তা ব্যক্তির স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করছে কি না, তা আপনাকে যাচাই করে দেখতে হবে। আর যদি এই বিষয়গুলোতে আপনি সন্তুষ্ট হতে না পারেন, তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে দীর্ঘমেয়াদে সেই আইন উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে।
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৮-১৯-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের দেশে স্বাধীনতার ধারণাটি এতটাই মূল্যবান, এতটাই পবিত্র এবং যুগ যুগ ধরে সংগ্রামের ফল হিসেবে অর্জিত যে, আমি নিশ্চিত ছিলাম অন্য কোনো দেশে এমনটা নেই। অন্যান্য দিক দিয়ে তারা আমাদের চেয়ে যত সুবিধাতেই থাকুক না কেন, এই দেশের মতো আর কোথাও স্বাধীনতাকে এত মূল্যবান মনে করা হয় না বা সেভাবে দেখা হয় না। আর এটি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যারা সব পরিস্থিতিতে আমাদের কিছু শেখাতে পারে।
**কিংসওয়ে হলে জুনিয়র ইম্পেরিয়াল লিগের ত্রিশতম বার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণ (১৯ জুন ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৯-এ উদ্ধৃত।
*আমার মতে ১৯১৪ সালের আগস্টের চেয়ে ৪৯০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সেপ্টেম্বর মাসটি ইউরোপের ভাগ্য নির্ধারণে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পশ্চিমা সভ্যতা... তার শৈশবেই [[w:ম্যারাথনের যুদ্ধ|ম্যারাথনে]] রক্ষা পেয়েছিল, এবং দশ বছর পর [[w:লিওনিদাস ১|লিওনিদাস]] এবং [[w:সালামিসের যুদ্ধ|সালামিসের]] মানুষদের দ্বারা... যদি সেই দশকটি না থাকত, তবে [[পূর্ব/মধ্য ইউরোপ|পূর্ব ইউরোপকে]] প্রাচ্যমুখী হওয়া থেকে আটকানোর মতো কিছুই থাকত না। তখন ইউরোপের আধিপত্যের চূড়ান্ত লড়াইটা কেবল [[হাখমানেশি সাম্রাজ্য|পারসিক]] এবং [[প্রাচীন কার্থেজ|কার্থাজিনিয়ানদের]] মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। [[প্রাচীন গ্রিস|গ্রিকরা]] না থাকলে আমরা আজ যে সভ্যতা চিনি, তার অস্তিত্বই থাকত না। আমরা সবাই হয়তো কালো চামড়ার, লম্বা নাকের মানুষ হতাম... '''[[ইংল্যান্ড]] হলো [[স্বাধীনতা]] এবং মুক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক আবাস। বিশ্বের জন্য এই আশীর্বাদগুলো নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় হেলাসের (প্রাচীন গ্রিস) কাছে তার ঋণ স্বীকার করতে তার চেয়ে বেশি ত্বরিত অন্য কোনো দেশের হওয়া উচিত নয়।'''
**লন্ডনে ব্রিটিশ স্কুল অ্যাট অ্যাথেন্সের বার্ষিক সভায় দেওয়া ভাষণ (২ নভেম্বর ১৯২৬), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ২০৫-এ উদ্ধৃত।
==== ১৯২৭ ====
*...সেই উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা যা প্রায়শই আধুনিক ইউরোপের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। '''একটি সত্যিকারের জাতীয় অনুভূতি গড়ে তোলার এবং আপনার নিজের দেশকে তার প্রাপ্য গৌরবের আসনে বসানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অন্যান্য জাতির সাথে মিলেমিশে এবং সমগ্র বিশ্বের উন্নতির একমাত্র লক্ষ্য নিয়ে তা করা।''' যুদ্ধের পর থেকে আমরা কেবল মোহভঙ্গেই ভুগিনি; আমরা নিজেদের এবং বিশ্ব সম্পর্কে অনেক বেশি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছি... '''[[জাতীয়তাবাদ]] অনেক কুৎসিত রূপ নিতে পারে। দেখে মনে হচ্ছে ধর্ম বা স্বাধীনতার নামের মতোই এর নামেও অনেক অপরাধ সংঘটিত হবে।''' প্রকৃতপক্ষে, সমস্যার মূল কারণ হলো জাতীয়তাবাদীরা ধর্মের পোশাক পরতে পছন্দ করে... '''একপেশে বুদ্ধিজীবীদের প্রচারণার ফলে নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রতিবেশীর দেশের প্রতি ঘৃণায় পরিণত হয়েছে। এই বুদ্ধিজীবীরা সাধারণত অন্যদের জন্য যে আত্মত্যাগের ব্যবস্থা করে, নিজেরা ঠিকই তা থেকে পালিয়ে বাঁচে।'''
**কার্ডিফে সেন্ট ডেভিডস ডে ব্যাঙ্কোয়েটে দেওয়া ভাষণ (১ মার্চ ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭-এ উদ্ধৃত।
*যে শেকড় আমাদের জন্মভূমি এবং জন্মভাষার সাথে বেঁধে রাখে, তা ধ্বংস করলে আমাদের আত্মার স্বাস্থ্যেরই ক্ষতি হবে। '''দেশের প্রতি ভালোবাসা এক গভীর এবং সর্বজনীন প্রবৃত্তি, যা প্রাচীন স্মৃতি এবং সূক্ষ্ম সংযোগে ভরপুর। যেসব মানুষ অস্পষ্ট এবং পানসে বিশ্বজনীনতার লোভে তাদের জাতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে, তারা মানুষের চেয়েও অধম হয়ে যায়; তারা তাদের ব্যক্তিত্বকে অভুক্ত রাখে এবং খর্ব করে; তারা একধরনের রাজনৈতিক নপুংসকে পরিণত হয়।'''
**কার্ডিফে সেন্ট ডেভিডস ডে ব্যাঙ্কোয়েটে দেওয়া ভাষণ (১ মার্চ ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৫০-এ উদ্ধৃত।
*আজ আমাদের সাম্রাজ্যের চিন্তায় পতাকা ওড়ানো বা মানচিত্র লাল রঙে রাঙানোর অহংকার করার মতো কিছুই নেই। না! কেবল সেই জাতির প্রতি গর্ববোধ আছে যে জাতি থেকে আমাদের উদ্ভব—এমন এক গর্ব যা আমাদের নিজেদের চোখেই আমাদের বিনীত করে এবং আমাদের যে উত্তরাধিকার এবং দায়িত্ব রয়েছে, তার যতটা সম্ভব যোগ্য করে তুলতে সংকল্পবদ্ধ করে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬০-এ উদ্ধৃত।
*...এখনও কেবল আমাদের জন্যই এমন সব সুযোগ রয়েছে যা অন্যান্য জাতিদের জন্য উন্মুক্ত নয়। বিশ্বের প্রায় যেকোনো অংশে এবং যেকোনো জলবায়ুতে বসতি স্থাপন এবং কাজ করা আমাদের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে আমরা এমন সব মানুষদের মাঝে নিজেদের খুঁজে পাই যারা আমাদের ভাষায় কথা বলে, আমাদের আইন মেনে চলে, আমাদের মতো একই আদর্শ লালন করে, আমাদের পরিচিত রীতি অনুযায়ী উপাসনা করে এবং একই সার্বভৌম ক্ষমতার অধীন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের—টোরি, লিবারেল এবং লেবার নির্বিশেষে—আমাদের ঐক্যকে এমন এক বাস্তবতায় রূপ দিতে হবে যাতে নারী-পুরুষ সবাই সাম্রাজ্যকে একটি অভিন্ন সত্তা হিসেবে দেখে। যাতে করে গ্লাসগো থেকে লন্ডন বা ব্রিস্টল থেকে নিউক্যাসল যাওয়ার মতোই সহজে এবং স্বাধীনভাবে তারা সাম্রাজ্যের সীমানার মধ্যে [[নিউজিল্যান্ড]], [[অস্ট্রেলিয়া]], [[দক্ষিণ আফ্রিকা]] বা [[কানাডা|কানাডায়]] যেতে পারে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬০-৬১-তে উদ্ধৃত।
*আমরা যারা এই সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হয়েছি, তারা এর জন্য গর্বিত। আর আমাদের গর্বিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এই গর্বের সাথে সেইসব মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও মিশে থাকা উচিত, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সাম্রাজ্য বেড়ে উঠেছে। যুদ্ধের ধাক্কায় এখনও ধুঁকতে থাকা এই বিশ্বে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য মঙ্গলের এক বিশাল শক্তি হিসেবে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে... প্রতিটি বাতাসের প্রবাহে, প্রতিটি সমুদ্রের ঢেউয়ে এটি সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, বিশ্বাস এবং ভ্রাতৃত্ববোধের আত্মা এই বিশ্বে কী বিশাল কিছু অর্জন করতে পারে।
**লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সম্প্রচার (২৪ মে ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৬৩-তে উদ্ধৃত।
*[[চার্চ অফ ইংল্যান্ড|চার্চ]] এবং চ্যাপেলের দ্বৈতসত্তা একসঙ্গে আমাদের দেশের জীবনে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রভাবগুলোর একটি হিসেবে কাজ করেছে। একটি হয়তো অন্যের চেয়ে বেশি করে কর্তৃত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার বোধ জাগিয়ে তুলেছে; আর অন্যটি [[ঐশ্বরিক আইন|শাশ্বত আইনের]] প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্যের ওপর বেশি জোর দিয়েছে। তাদের উভয়েরই কিছু ভালো গুণ ও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু তারা উভয়েই বড় মাপের সামাজিক শক্তি ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, যার রাজনৈতিক পরিণতিও ব্যাপক। তাদের সেরা সময়ে উভয়েই জীবনকে একটি গম্ভীর উদ্দেশ্য দিয়ে পূর্ণ করে। তারা সবসময় সেই ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনার বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ করে, যা অলসতা এবং চপলতায় তার স্বর্গ খুঁজে পায় এবং যার কারণে কোনো দেশ কখনোই উন্নতি করতে পারে না।
**কর্নওয়ালে দেওয়া ভাষণ (২৩ জুন ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৫৫-তে উদ্ধৃত।
*সাম্প্রতিক সময়ে [[কানাডা|কানাডার]] কিছু বাছাই করা স্নাতক সাম্রাজ্যের সেসব অংশের দেখভাল করার দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন, যেখানে [[শ্বেতাঙ্গ|শ্বেতাঙ্গরা]] প্রায়শই একাই যান—সাম্রাজ্যের অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর জাতিদের শেখাতে, শিক্ষিত করতে এবং সামনে এগিয়ে নিতে। এর চেয়ে বেশি আত্মত্যাগের কাজ, এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। আজ আপনারা কানাডিয়ানদের [[সুদান]], [[মালয়েশিয়া|মালয়]], [[মরিশাস]] এবং সামগ্রিকভাবে ঔপনিবেশিক সেবায় দেখতে পাবেন—চিকিৎসক হিসেবে, সিভিল সার্ভিসে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তারা [[w:দ্য হোয়াইট ম্যান'স বার্ডেন|শ্বেতাঙ্গদের বোঝা]] বইতে সাহায্য করছেন। আমি যথেষ্ট সেকেলে মানসিকতার মানুষ বলেই বিশ্বাস করি যে, কোনো দেশের পক্ষে কেবল নিজেদের জন্য প্রচুর অর্থ উপার্জনে মনোনিবেশ করাই যথেষ্ট নয়; বরং সত্যিকারের আধ্যাত্মিক শক্তি তখনই আসে যখন এর সন্তানেরা প্রস্তুত থাকে। যেমনটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে [[ইংরেজ জাতি|ইংরেজ]], [[আইরিশ]] এবং [[স্কটল্যান্ড|স্কটিশরা]] প্রস্তুত ছিল। তারা পারিবারিক জীবনের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সেই অগ্রগামীর কাজে বেরিয়ে পড়তে প্রস্তুত ছিল, যাতে বিশ্বের সেই পিছিয়ে পড়া অংশগুলোকে এগিয়ে নিয়ে আসা যায় এবং অতীতের বছরগুলোতে আমাদের জন্য এত লাভজনক হওয়া বিষয়গুলো থেকে তাদেরও উপকৃত হতে সাহায্য করা যায়।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৫-৭৬-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের দেশের জন্য আমার সবচেয়ে বড় আশা হলো [[শিক্ষা|শিক্ষার]] প্রতি মানুষের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা ব্যাপকভাবে জেগে ওঠা। আমি এটিকে যুদ্ধের একমাত্র সুফল বলে মনে করি যার দিকে আমি তৃপ্তি নিয়ে তাকাতে পারি... আমরা শিক্ষার একটি নিজস্ব উদ্দেশ্য হিসেবে এর গুরুত্ব ভুলে যাই। আপনি যদি শিক্ষাকে কেবল একটি বেতন উপার্জনের উপায় হিসেবে দেখেন, তা সে যতই দরকারি হোক না কেন, তবে আপনি শিক্ষার অন্যতম সেরা উদ্দেশ্যটিই হারিয়ে ফেলবেন।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৬-৭৭-এ উদ্ধৃত।
*আমরা ইংল্যান্ডেও খুব ভুগছি... এমন কিছু খুব চতুর চিকিৎসকের কারণে, যারা সর্বদা ব্যাপক বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষিপ্রতার সাথে রাজনীতির জন্য প্রেসক্রিপশন দিতে প্রস্তুত। তবে মানব প্রকৃতি সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতাও সেই ক্ষিপ্রতার সমান। ইউরোপের এই লোকগুলোকে "বুদ্ধিজীবী" বলা হয়—'''একটি খুব কুৎসিত জিনিসের জন্য এটি একটি খুব কুৎসিত শব্দ।'''
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৮-এ উদ্ধৃত।
*ইংরেজি বংশোদ্ভূত এখানকার পুরুষদের কাছে আমি স্বীকার করতে পারি যে, আমাদের ইংরেজি বুদ্ধিমত্তাকে মাঝেমধ্যে এমন জাতিগুলো অবজ্ঞা করে যারা নিজেদের আমাদের চেয়ে বেশি চতুর বলে মনে করে। '''আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো আমাদের চরিত্র'''—এর স্থিরতা, এর নির্ভরযোগ্যতা, এর ব্যক্তিগত সততা, এর সহনশীলতা এবং বিরক্তিকর বিষয়গুলোকেও শান্ত ও হাস্যরসাত্মকভাবে নেওয়ার ক্ষমতা। ইংল্যান্ডের সাধারণ ধর্মঘট, যার কিছু ভীতিকর দিকও ছিল, তা আমাদের মানুষের এই সমস্ত গুণাবলিকেই তুলে ধরেছে।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৯-এ উদ্ধৃত।
*আমি সবসময়ই দাবি করি যে শিক্ষা গণতন্ত্রের জন্য যে মহান সেবা করে, তা ধর্মের কাছ থেকে আমরা যে সেবা আশা করি তারই অনুরূপ। তাদের হাতে হাত রেখে কাজ করা উচিত, বা করতে হয়। এর কাজ হলো নৈতিকতার ওজন এবং পরিমাপকে মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক রাখা; এবং শুধু মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক নয়—বরং সর্বোচ্চ মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক রাখা। আর আসুন আমরা সমাজের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সকল শ্রেণির মানুষের প্রতি এটি সমানভাবে প্রয়োগ করি। এমন কিছু লোক আছেন যারা রাষ্ট্রীয় ধারণাকে সমস্ত নৈতিক গুণাবলি থেকে শূন্য করতে চান, এবং তারা শিক্ষাকে কেবল রুজি-রোজগারের ব্যবসায় সীমাবদ্ধ করতে চান। [[w:এডিথ ক্যাভেল|নার্স ক্যাভেলের]] শেষ কথাগুলো ধার করে বলতে গেলে, এমন দেশপ্রেমই যথেষ্ট নয়। আমি যেভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, সেভাবে নৈতিক মানদণ্ড প্রয়োগ করাই হলো গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় সেই মৌলিক সামাজিক ঐক্য অর্জনের সবচেয়ে নিশ্চিত উপায়।
**টরন্টোতে কানাডিয়ান ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৭৯-৮০-তে উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ কমনওয়েলথ অফ নেশনসের কোনো পূর্ব নজির নেই... আমরা নিজেদের জন্য এমন এক অভিন্ন ঐতিহ্য গড়ে তুলেছি যা সব ধরনের স্থানীয় আনুগত্যকে ছাড়িয়ে যায় এবং আমাদের এক জাতি হিসেবে বাঁধে। আমাদের স্বপ্নের সাম্রাজ্য, যদিও তা সবসময় আমাদের কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হয় না, মহান সব আধ্যাত্মিক উপাদানে গড়া—স্বাধীনতা এবং আইন, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং আনুগত্য, সম্মান এবং সহনশীলতা... '''আজ আমরা যখন সাম্রাজ্যের কথা ভাবি, তখন আমরা এটিকে মূলত বিশ্ব শান্তির একটি হাতিয়ার হিসেবেই ভাবি।'''
**অন্টারিও প্রদেশ আয়োজিত এক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৬ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ৯১-৯২-তে উদ্ধৃত।
*আমার মনে হয় আমাদের মধ্যে যারা মধ্য-পশ্চিম এবং দূর-পশ্চিমের উন্নয়ন দেখেছেন, তাদের কাছে এক উপকূল থেকে অন্য উপকূল পর্যন্ত যেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছে, তার চেয়ে অসাধারণ বা আমাদের জাতির সেরা গুণাবলির প্রতি এর চেয়ে বড় সম্মান আর কিছু হতে পারে না।
**কানাডার [[w:রেজাইনা, সাসকাচুয়ান|রেজাইনায়]] দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৫-এ উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ জাতির এমন কিছু দয়ালু সমালোচক আছেন যারা বলেন যে আমরা তিনটি জিনিসকে কীভাবে মেলাতে হয় তা জানি—[[ধর্ম]], [[দেশপ্রেম]] এবং [[মুনাফা]]—যা অন্য যেকোনো [[জাতি|জাতির]] চেয়ে আমরা ভালো পারি। [[উত্তর আমেরিকা|উত্তর আমেরিকায়]] আমাদের সাফল্যের আরও অন্যান্য প্রশংসনীয় ব্যাখ্যা রয়েছে। আসল সত্যটি হলো: আমরা নতুন বিশ্বে আমাদের নিজস্ব বংশধরদের পাঠিয়েছি... ইউরোপের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি সময় ধরে একটি স্বাধীন দেশ থাকার অমূল্য সুবিধা আমাদের ছিল। আমাদের মানুষ ছোট ছোট নৌকায় করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতার বীজ রোপণ করেছিল, যা নিজ দেশে বেড়ে উঠেছিল এবং ফুলেফেঁপে উঠেছিল। সেই মানুষগুলো এবং তাদের দুঃসাহসী চেতনার মধ্যেই আপনি [[কানাডা]] এবং [[ম্যানিটোবা|ম্যানিটোবার]] উৎপত্তি খুঁজে পাবেন।
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৭-১০৮-এ উদ্ধৃত।
*ইংরেজি ইতিহাসে, বা সাম্রাজ্যের এই এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠার পেছনে, "কোম্পানি অফ অ্যাডভেঞ্চারার্স অফ ইংল্যান্ড ট্রেডিং ইনটু হাডসন'স বে"র গল্পের চেয়ে রোমাঞ্চকর আর কোনো ঘটনা নেই। পশুর চামড়া থেকে মুনাফা করার পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমের পথ খোঁজা, সেই উপসাগরে প্রবাহিত সব জলের অধিকারী ভূমিগুলোর ওপর সার্বভৌমত্বের সনদ পাওয়া, অথচ সেই ভূমিগুলোকে বহু বহু বছর ধরে অনাবিষ্কৃত ফেলে রাখা—এটি একটি আদর্শ ব্রিটিশ আচরণ। তারা "হাতির দাঁত, বানর এবং ময়ূরের" পশ্চিমা সমতুল্য জিনিস খুঁজছিল, এবং বাই-প্রোডাক্ট বা উপজাত হিসেবে তারা একটি সাম্রাজ্য খুঁজে পেয়েছিল। তারা একটি মহান ঐতিহ্য তৈরি করেছিল, যে ঐতিহ্য আজ আপনাদের। এটি একটি বাণিজ্যিক আদর্শকে ঘিরে তৈরি হওয়া শৃঙ্খলা এবং সহনশীলতার ঐতিহ্য। তারা আদিবাসীদের মুনাফার উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছিল, তবুও তাদের সাথে ন্যায়বিচার এবং সদয় আচরণ করেছিল। তারা এক চোখ রেখেছিল লভ্যাংশের দিকে, অন্য চোখ আবিষ্কারের দিকে। আমাদের ছাড়া আর কোন জাতি এতটা উদাসীন, এতটা দূরদর্শী, এতটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতটা সফল হতে পারে?
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১০৮-১০৯-এ উদ্ধৃত।
*ব্রিটিশ জাতির প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয় এমন [[সংবাদপত্র|সংবাদপত্রে]] আপনারা প্রায়ই শোনেন এবং মাঝেমধ্যেই পড়েন যে গ্রেট ব্রিটেনে পতনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এর একটা শব্দও বিশ্বাস করবেন না। দেশের মানুষগুলো তারাই, যারা সারা বিশ্বজুড়ে চার বছর ধরে আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল। তারা সেই একই বংশধর যারা মেরিটাইম প্রভিন্স এবং [[অন্টারিও]] গড়ে তুলেছে। তারা সেই একই বংশধর যারা এই দেশটিকে গড়ে তুলেছে। '''বংশধররা আগের মতোই আছে, এবং আগের মতোই চমৎকার আছে।'''
**কানাডার উইনিপেগে দেওয়া ভাষণ (১৩ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১১৬-১১৭-তে উদ্ধৃত।
*একটি জাতির ভাগ্য সবার ওপরে নির্ধারিত হয় তার মানুষের গুণগত মান দিয়ে।
**স্কটল্যান্ডের ল্যানার্কশায়ারে ডগলাস ক্যাসলে দেওয়া ভাষণ (২৭ আগস্ট ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১২৯-এ উদ্ধৃত।
*আপনার সমাজসেবামূলক কাজ, তা যে রূপেই হোক না কেন, ঠিক সেই দুটি জিনিসেরই দাবি করে যা আমার কাজের জন্য প্রয়োজন... [[ধৈর্য]] এবং মানুষের মূল্যের ওপর [[বিশ্বাস]]। এরাই হলো গণতন্ত্রের আসল ভিত্তি, [[সমতা]] নয়—যে অর্থে শব্দটি প্রায়শই ব্যবহার করা হয়। '''আমরা সবাই সমান নই, এবং কখনোই সমান হব না; গণতন্ত্রের আসল শর্ত সমতা নয়, বরং এই বিশ্বাস যে প্রতিটি নারী ও পুরুষই মূল্যবান।'''
**ইউনিয়ন অফ গার্লস স্কুলের বার্ষিক সভায় দেওয়া ভাষণ (২৭ অক্টোবর ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১-তে উদ্ধৃত।
*আপনাদের দেশ হলো উত্তরের মানুষদের, অর্থাৎ সহনশীল ও বীরত্বপূর্ণ জাতিগুলোর জন্য। '''যেকোনো দিনই পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান আগে। সেরাদের নিয়েই দেশ গড়ুন। আপনাদের দেশ পূর্ণ হতে একশো বছর, নাকি দুইশো বছর, নাকি তারও বেশি সময় লাগল, তাতে কী এসে যায়? আপনাদের যে বংশধর আছে, এবং যে নারী-পুরুষরা আছে, তাদের ধরে রাখুন এবং নিশ্চিত করুন যে আগামী প্রজন্ম কোনোভাবেই তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট হবে fixনা।'''
**লন্ডনে কানাডা ক্লাবে দেওয়া ভাষণ (২১ নভেম্বর ১৯২৭), ''আওয়ার ইনহেরিট্যান্স'' (লন্ডন: হোডার অ্যান্ড স্টোটন, ১৯৩৮), পৃষ্ঠা ১৪১-এ উদ্ধৃত।
* সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকৃত এবং শত্রুবাহিনীর জন্য একটি সহজ শিকারে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ড! এর চেয়ে বেশি লোভ এবং শত্রুতা জাগিয়ে তোলার মতো আর কিছু কি আপনি ভাবতে পারেন? আমরা পঞ্চম শ্রেণির শক্তির স্তরে নেমে যাব, আমাদের উপনিবেশগুলো আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে, আমাদের বাণিজ্য ধ্বংস হবে, দুর্ভিক্ষ এবং বেকারত্ব দেশে হানা দেবে। ... আমি আপনাদের শান্তি কামনার অংশীদার। ঈশ্বর না করুন যে এটি যেন আর কখনও ব্যাহত না হয়! সরকারের নিরন্তর এবং অবিভক্ত প্রচেষ্টা হলো এটি রক্ষা করা। কিন্তু আমি এখনও শিখিনি যে আমাদের দেশকে দুর্বল করে কীভাবে শান্তির উদ্দেশ্য সাধিত হতে পারে।
** [[আর্থার পনসনবি|আর্থার পনসনবিকে]] লেখা চিঠি (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৭); মার্টিন সিডেলের ''সেমি-ডিটাচড আইডিয়ালিস্টস: দ্য ব্রিটিশ পিস মুভমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস, ১৮৫৪-১৯৪৫'' (২০০০), পৃষ্ঠা ২৭১-এ প্রকাশিত। ==== ১৯২৮ ====
* '''আমি যদি বিশ্বাস না করতাম যে আমাদের কাজ সেই বিশ্বাস এবং আশার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে যে কোনো এক দিন—হতে পারে তা আজ থেকে দশ লক্ষ বছর পর—[[w:ঈশ্বরের রাজ্য|ঈশ্বরের রাজ্য]] সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, তবে আমার কোনো আশা থাকত না। আমি কোনো কাজ করতে পারতাম না, এবং যে কেউ আমার এই পদের দায়িত্ব নিতে চাইলে আজ সকালেই আমি তা ছেড়ে দিতাম।'''
** ব্রিটিশ অ্যান্ড ফরেন বাইবেল সোসাইটির কাছে দেওয়া ভাষণ (২ মে ১৯২৮); ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৯২-৯৩-এ প্রকাশিত।
*দীর্ঘকাল ধরে মানুষ ভুলে গেছে যে এই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে কী অসাধারণ প্রতিভা লুকিয়ে আছে... ইংরেজ বংশোদ্ভূতরা একটি খাঁটি বংশ; আর আমাদের মানুষেরাই সেই মানুষ যারা আমাদের ক্যাথেড্রাল এবং গ্রামের গির্জাগুলো তৈরি করেছিল: যারা ভাস্কর্য খোদাই করেছিল এবং এর ভেতরে থাকা পর্দাগুলো খোদাই করেছিল।
**উইঞ্চেস্টার শহরের স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (৬ জুলাই ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১৫-তে প্রকাশিত।
*ইংল্যান্ডের চেয়ে সুন্দর কোনো দেশ নেই।
**উইঞ্চেস্টার শহরের স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (৬ জুলাই ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১৬-তে প্রকাশিত।
*[[w:জন ওয়েসলি|ওয়েসলি]] প্রথম এবং শেষ পর্যন্ত একজন মহান ইংরেজ ছিলেন... মহাদেশটিতে হওয়া ভয়ংকর উত্থান-পতন আর ইংল্যান্ডের মাঝে যদি কোনো একজন মানুষ ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে তিনি হলেন জন ওয়েসলি... তিনি ছিলেন নিখুঁত ইংরেজ: ইংরেজের সেরা দেশীয় গুণাবলি তার মধ্যে ছিল, এবং সেগুলো এত অসাধারণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তা প্রতিভায় পরিণত হয়েছিল... সেই শতাব্দীর যেসব ইতিহাসবিদ তাদের পাতাগুলো নেপোলিয়ন দিয়ে ভরিয়ে তুলেছিলেন কিন্তু জন ওয়েসলি সম্পর্কে বলার মতো কিছু পাননি, তারা এখন বুঝতে পারছেন যে ওয়েসলিকে ব্যাখ্যা করতে না পারলে তারা [[ঊনবিংশ শতাব্দী|উনিশ শতকের]] ইংল্যান্ডকে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। আর আমি বিশ্বাস করি এ কথা বলাও সত্য যে, ওয়েসলিকে বুঝতে না পারলে আপনি বিংশ শতাব্দীর আমেরিকা বুঝতে পারবেন না।
**লন্ডনে ওয়েসলির চ্যাপেলের ১৫০তম বার্ষিকী সভায় দেওয়া ভাষণ (১ নভেম্বর ১৯২৮), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৯৪-৯৮-এ প্রকাশিত।
==== ১৯২৯ ====
*[[উইলিয়াম বুথ|বুথের]] কথা ভাবলেই একটি বিষয় আমাকে অবাক করে, আর তা হলো [[ভিক্টোরীয় যুগ|ভিক্টোরীয় যুগের]] [[দারিদ্র্য|দারিদ্র্য]] নিয়ে আজকাল যে সব বাজে কথা বলা হয়। ভিক্টোরীয় যুগ আজ কেন এত অজনপ্রিয়, তার বড় একটি কারণ হলো, এর সমস্ত দোষ থাকা সত্ত্বেও এর মহান মানুষদের—যাদের সংখ্যা ছিল অনেক—মধ্যে সততার প্রতি বিশ্বাস ছিল: সেখানে একটি নৈতিক ঐকান্তিকতা ছিল, কর্তব্যের বোধ ছিল এবং কর্তব্য পালন করার প্রবণতা ছিল।
**লন্ডনে স্যালভেশন আর্মি উইলিয়াম বুথ শতবার্ষিকী উদযাপনে দেওয়া ভাষণ (১০ এপ্রিল ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১০৬-১০৭-এ প্রকাশিত।
*আজ এম্পায়ার ডে, এবং আমাদের বিশাল উত্তরাধিকার দেখার জন্য আমরা আমাদের তাৎক্ষণিক চারপাশ এবং আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোর বাইরে তাকাই। আমরা এক বিশাল স্থানে পা রেখেছি। এই টাইটান যদি ক্লান্তির মুহূর্তগুলো অনুভব করে থাকে, যদি আমাদের বোঝা ভারী হয়, তবু আমাদের কাঁধ চওড়া। আর এগুলো আমাদের ভাগ্যের বিশাল ভার বইতে বহুকাল ধরেই অভ্যস্ত।
**হাইড পার্কে দেওয়া ভাষণ (২৪ মে ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২৫-এ প্রকাশিত। ১৯০২ সালে [[জোসেফ চেম্বারলেইন]] বলেছিলেন, "ক্লান্ত টাইটান তার ভাগ্যের অত্যধিক বিশাল ভারে টলমল করছে।"
*আমরা যখন এর [ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের] ভাগ্য নিয়ে অধ্যয়ন করি, তখন আমরা একে একটি মানব অর্জনের চেয়ে মানবজাতির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য ঐশ্বরিক প্রভিডেন্স বা বিধাতার একটি হাতিয়ার হিসেবে বেশি ভাবতে বাধ্য হই।
**হাইড পার্কে দেওয়া ভাষণ (২৪ মে ১৯২৯), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২৬-এ প্রকাশিত।
* টম মোসলে একজন অভদ্র এবং ভুল লোক। তারা এটা খুঁজে বের করবে।
**[[ওসওয়াল্ড মোসলে|ওসওয়াল্ড মোসলেকে]] নিয়ে মন্তব্য (২১ জুন ১৯২৯)। "তারা" বলতে লেবার পার্টিকে বোঝানো হয়েছে, যারা সম্প্রতি একটি সাধারণ নির্বাচনে জিতেছিল। টমাস জোনসের ''হোয়াইটহল ডায়েরি : ভলিউম ২'' (১৯৬৯), পৃষ্ঠা ১৯৫-এ উদ্ধৃত।
*বাস্তব জীবনের রহস্য, রোমান্স এবং কাকতালীয় ঘটনাগুলো কল্পকাহিনীর রহস্য, রোমান্স এবং কাকতালীয় ঘটনাগুলোকেও বহুদূর ছাড়িয়ে যায়। আমার বক্তব্যের শুরুতেই আমি মাননীয় সদস্যদের এমন একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, যা আমার কাছে সবসময়ই আমাদের রাজনৈতিক জীবনে ঘটা সবচেয়ে অদ্ভুত এবং রোমান্টিক কাকতালীয় ঘটনাগুলোর একটি বলে মনে হয়েছে। সময়ের অনেক আগে, ইতিহাসের ঊষালগ্নে, প্রাগৈতিহাসিক কুয়াশা থেকে বেরিয়ে আসা অনেকগুলো জাতির মধ্যে সবচেয়ে মহান জাতিটি ছিল মহান [[আর্য জাতি]]। সেই জাতি যখন [[মধ্য এশিয়া|মধ্য এশিয়ার]] পশ্চিমাঞ্চলে তাদের দখল করা দেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন একটি বড় শাখা পশ্চিমে চলে যায়। তাদের ঘোরাঘুরির সময় তারা [[অ্যাথেন্স]] এবং [[স্পার্টা]] শহরগুলো প্রতিষ্ঠা করে; তারা [[রোম (প্রাচীন শহর)|রোম]] প্রতিষ্ঠা করে; তারা ইউরোপ তৈরি করে। আর ইউরোপের প্রধান জাতিগুলোর শিরায় তাদের আর্য পূর্বপুরুষদের রক্তই প্রবাহিত। আর্যদের যে ভাষা তারা সাথে নিয়ে এসেছিল, তা সারা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি আমেরিকায় ছড়িয়েছে। এটি সমুদ্রের ওপারের ডোমিনিয়নগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে, একটি শাখা দক্ষিণে যায় এবং তারা [[হিমালয়]] অতিক্রম করে। তারা [[পাঞ্জাব|পাঞ্জাবে]] যায় এবং ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর ঐতিহাসিক সত্য হলো, যুগ যুগ আগে তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে ইংরেজ জাতির পূর্বপুরুষ এবং [[রাজপুত]] ও [[ব্রাহ্মণ|ব্রাহ্মণদের]] পূর্বপুরুষরা পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলেন। আর এখন, যুগ যুগ পার হওয়ার পর, সেই বংশের দূরতম প্রজন্মের সন্তানরা ঈশ্বরের এক রহস্যময় বিধানে একত্রিত হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো জাতির সামনে আসা সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে তারা এক হয়েছে।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1929/nov/07/india ভাষণ] (৭ নভেম্বর ১৯২৯)।
=== ১৯৩০-এর দশক ===
==== ১৯৩০ ====
*...অতীতের প্রতি সেই আনুগত্য তার স্বপ্নের সৌন্দর্য এবং তার বাস্তব কঠোরতা ও কষ্টের সাথে মিশে আছে। এগুলোই আমাদের '''আমাদের যুগের সবচেয়ে বড় বিপদ, [[বস্তুবাদ|বস্তুবাদের]] বিপদ থেকে রক্ষা করে।'''... আমাদের মানুষের হৃদয়ে বস্তুবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এই যুগের অন্যতম বড় একটি লড়াই।
**স্কটল্যান্ডের ইনভারনেস বুরোর স্বাধীনতা অর্জনের পর দেওয়া ভাষণ (১৩ জুন ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৯১-১৯২-তে প্রকাশিত।
*কারণ গ্রিক গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল এবং এর ব্যর্থতার কারণগুলো শিক্ষণীয়। গ্রিকরা বিশ্বকে যে মহান শাসক ধারণাগুলো দিয়েছিল, যে ধারণাগুলো ইংল্যান্ড পরে গ্রহণ করেছিল এবং বিশ্বের এক-চতুর্থাংশে ছড়িয়ে দিয়েছিল—স্বাধীনতা এবং স্বশাসন, সামাজিক সাম্য এবং নাগরিক দেশপ্রেম—সেগুলো জনগণের চাটুকার এবং জননেতাদের দ্বারা কলুষিত হয়েছিল। এটা ভাবা খুব মারাত্মকভাবে সহজ ছিল যে, স্বাধীনতা মানে হলো নিজের যা খুশি তাই করা। একজন মানুষ অন্য মানুষের মতোই ভালো, শুধু তাই নয়, সে যেকোনো পদ পূরণে সমানভাবে সক্ষম। সংখ্যাগরিষ্ঠরা কোনো ভুল করতে পারে না। অন্য জাতি বা অন্যান্য সাম্রাজ্য কী করছে তা বিবেচনা না করেই আপনি আপনার নিজের দেশের জন্য কাল্পনিক সব আইন তৈরি করতে পারেন... বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করা হয়েছিল এবং যেসব জনপ্রতিনিধি সাধারণ জনতার জন্য আনন্দের পক্ষে কথা বলতে অস্বীকার করেছিলেন, তাদের নির্বাসিত করা হয়েছিল। ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদরা একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়েছিলেন।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৫-৩৬-এ প্রকাশিত।
*একদিকে ব্যক্তিগত আত্মার অসীম মূল্য সম্পর্কে [[প্রোটেস্ট্যান্টবাদ|প্রোটেস্ট্যান্ট]] মতবাদ এবং অন্যদিকে চার্চের মণ্ডলীতে ভাইদের একত্রিত হওয়ার মধ্যেই আধুনিক গণতন্ত্রের বীজ লুকিয়ে আছে।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৮-এ প্রকাশিত।
*আমরা... এই দ্বীপপুঞ্জের পুরো প্রাপ্তবয়স্ক এবং শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে, সাধু এবং পাপী নির্বিশেষে সবাইকে ভোটাধিকার দিয়েছি। আমরা এক বিশাল দ্বৈত উদ্যোগের চেষ্টা করছি। কেবল প্রতিটি নাগরিককে এক জন হিসেবে গণনা করা এবং তার নিজের অধিকারে তাকে মূল্য দেওয়াই নয়, বরং তাকে পৌর নাগরিকত্ব এবং সাম্রাজ্যিক সরকারের দায়িত্বগুলোতে কার্যকর এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে ভাগ নিতেও বলছি... গণতন্ত্র এখনও একটি আকাঙ্ক্ষা, এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়... আমরা যা অর্জন করেছি তা হলো সরকারের একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সমান নয়। আমরা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের যন্ত্রটিকে নিখুঁত করেছি। আর একটি তাৎক্ষণিক বিপদ হলো, গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য একে অগণতান্ত্রিক উপায়ে দখল এবং কাজে লাগানো হতে পারে। সার্বভৌম জনগণের নামে এমন নিষ্ঠুর কাজ করা হতে পারে, যা কোনো গ্রিক স্বৈরশাসক বা মধ্যযুগীয় অত্যাচারী শাসকের কাজের মতোই ভয়ংকর। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচারকে শক্তিশালীদের স্বার্থের সাথে গুলিয়ে ফেলা ভয়ংকরভাবে সহজ; কিন্তু বহুজনের দ্বারা সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নও এর বিপরীত অবস্থার মতোই কুৎসিত।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০-এ প্রকাশিত।
*বিপ্লব এড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক সক্ষমতা, "প্রাণবন্ত পরিমিতিবোধের" প্রতি আমাদের স্বভাবগত দক্ষতা (যেমনটা [[w:ওয়াল্টার ব্যাজহট|ব্যাজহট]] বলেছেন), দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের মহাদেশীয় প্রতিবেশীদের ঈর্ষার কারণ হয়ে আছে। আমি ভবিষ্যদ্বাণী করার সাহস রাখছি যে, তারা আবারও দেখবে আমরা একসাথে বসব এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সংশোধন করব। আমরা ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করায় খুব একটা ভালো নই, তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং আপস করার ক্ষেত্রে আমাদের একটা দক্ষতা আছে।
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪২-এ প্রকাশিত।
*'''গ্রিকদের মতোই পুরোনো একটি প্রবাদ আছে যে, ভালো আইন প্রণয়নের চেয়ে ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।''' এটি যে সত্যি, তার পেছনে একটি সন্দেহের চোরা স্রোত কাজ করে এবং দেশপ্রেমের মতোই, কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। আইন প্রণয়নের সময় যে আশাগুলো দেখানো হয়, আইন পাস হলে সব সময় তা পূরণ হয় না... '''সংবিধানের বইয়ে থাকা সমস্ত আইনের কী হয়? যদি তাদের প্রবর্তকদের আশার অর্ধেকও পূরণ হতো, তবে কি এর মধ্যেই সহস্রাব্দের শান্তি নেমে আসত না?'''
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৬-এ প্রকাশিত।
*সব দলই মানুষের জীবনে হস্তক্ষেপ করার বিষয়ে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারও কারও লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রকে একটি সার্বজনীন রক্ষাকর্তায় রূপান্তর করা। অসংখ্য বাছাইয়ের কাজের মাধ্যমেই চরিত্র গড়ে ওঠে। জীবনের সব বা বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ পছন্দগুলো যদি রাষ্ট্র আপনার জন্য ঠিক করে দেয়, তবে গণতান্ত্রিক আদর্শের কী হবে... আমরা চালাক বা বোকা, ভালো বা মন্দ যাই হই না কেন, আমাদের নিজেদের জীবন পরিচালনা করা এবং তার দায়িত্ব নেওয়ার কী হবে?
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৭-এ প্রকাশিত।
*বর্তমানে কার্যকর থাকা ত্রাণ ব্যবস্থাগুলোতে সব দলই সমানভাবে জড়িত। সবাই একমত যে অভাব-অনটন সহ্য করা উচিত নয়। কিন্তু জন স্মিথকে এভাবে পাইকারি হারে রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়ার সময় আমরা কি জন স্মিথের কাছ থেকে এমন কিছু কেড়ে নিচ্ছি না, যা তাকে সত্যিই দরিদ্র করে তুলবে? এই ভেবে কি আমরা সবাই সম্পূর্ণ খুশি হতে পারি?
**কভেন্ট্রিতে দেওয়া জন ক্লিফোর্ড বক্তৃতা (১৪ জুলাই ১৯৩০), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৪৮-এ প্রকাশিত।
*আমি গতকাল ভারতীয় সম্মেলনের রাজকীয় উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলাম... আমাদের প্রতিনিধি দল ভালোভাবেই শুরু করছে, কিন্তু উইনস্টন [চার্চিল] চরম হতাশায় ডুবে আছেন। তিনি চান সম্মেলনটি দ্রুত ভেস্তে যাক এবং টোরি পার্টি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে গিয়ে শক্ত হাতে শাসন করুক। তিনি আবারও '৯৬ সালের হুসারদের সাবল্টার্ন বা অধস্তন সামরিক কর্মকর্তা হয়ে উঠেছেন।
**জে. সি. সি. ডেভিডসনকে লেখা চিঠি (১৩ নভেম্বর ১৯৩০), রবার্ট রোডস জেমস (সম্পাদিত), ''মেমোয়ার্স অব অ্যা কনজারভেটিভ: জে. সি. সি. ডেভিডসনস মেমোয়ার্স অ্যান্ড পেপারস, ১৯১০-১৯৩৭'' (লন্ডন: উইডেনফেল্ড অ্যান্ড নিকলসন, ১৯৬৯), পৃষ্ঠা ৩৫৫-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩১ ====
[[Image:View from Haresfield Beacon - geograph.org.uk - 1120282.jpg|thumb|গ্রাম সেই শাশ্বত মূল্যবোধ এবং শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে যা থেকে আমাদের কখনোই নিজেদের বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া উচিত নয়।]]
*এই ধরনের অনুষ্ঠানে কেউ জিজ্ঞেস করতেই পারে, কেন মানুষ এই ধরনের উপহার দিতে এগিয়ে আসে, এবং কেন এই ধরনের জায়গাগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন? আমার মনে হয় এটি ইংরেজদের একটি খুব গভীর এবং মৌলিক প্রবৃত্তির জবাব দেয়। আমরা অনেকাংশেই শহরের মানুষে পরিণত হয়েছি। কিন্তু দুই বা তিন প্রজন্ম ধরে যারা আমাদের শহরগুলোতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছে, তাদের হৃদয়ের গভীরেও গ্রামের জিনিসপত্র এবং গ্রামীণ সৌন্দর্যের প্রতি এক অদম্য ভালোবাসা লুকিয়ে আছে, যা তাদের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে এবং অবচেতনভাবে বিরাজ করতে পারে। আমাদের চেয়েও বেশি করে তাদের কাছে, '''গ্রাম সেই শাশ্বত মূল্যবোধ এবং শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে যা থেকে আমাদের কখনোই নিজেদের বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া উচিত নয়।'''
**ন্যাশনাল ট্রাস্টের কাছে [[w:হেয়ার্সফিল্ড বীকন|হেয়ার্সফিল্ড বীকন]] হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ (১০ জানুয়ারি ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১২০-এ প্রকাশিত।
*আমরা প্রায়ই এই দেশে শুনতে পাই, এবং কথাগুলোর মধ্যে একটি পরিচিত সুরও আছে, যে [ভারতের জন্য] একটি দৃঢ় বা শক্তিশালী সরকারের সময় প্রয়োজন। এর মানে আসলে কী, তা সংজ্ঞায়িত করা খুব কঠিন। তবে এক মুহূর্তের জন্য যদি ধরে নিই যে আমরা এর অর্থ নিয়ে একমত, তবে আমি এই কথা বলব। এটি পুরোপুরি সম্ভব, কিন্তু আপনি কেবল দুটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই সেই নীতিতে সফল হওয়ার আশা করতে পারেন; আমি একটু পরেই ইতিহাসে আসছি। সেই দুটি অনুমান হলো, প্রথমত, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য এবং দ্বিতীয়ত, নীতির ধারাবাহিকতা। আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই দুটি প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তার অভাব ছিল বলেই আইরিশ প্রশ্নটি এক প্রজন্ম ধরে চলেছিল, যেমনটা ঘটেছিল। আর শেষ পর্যন্ত এর পরিণতি দাঁড়িয়েছিল সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ অথবা যুদ্ধের মতো দুটির একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার মধ্যে। যে সমাধানটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তৎকালীন সরকারের একজন সদস্য হিসেবে আমি আত্মসমর্পণের সমাধানটিকে সমর্থন করেছিলাম। সে সময় আমার এটি পছন্দ হয়নি, কিন্তু আমি নিজের বিশ্বাস থেকেই এটি করেছিলাম।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/jan/26/india-1 ভাষণ] (২৬ জানুয়ারি ১৯৩১)।
*আমার দলের মতো বিভক্ত দল আর একটিও নেই। আমি একে একতাবদ্ধ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু এটি [[w:রানি ভিক্টোরিয়া#ডায়মন্ড জুবিলি|দ্বিতীয় জুবিলির]] সাম্রাজ্যবাদীদের থেকে শুরু করে তরুণ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের পর্যন্ত বিস্তৃত, যারা সবাই আরউইনের নীতির পক্ষে। আমি নিজেও সেই নীতির পক্ষে এবং আমি সেটা বলতেও চাই।
**ভারতের হোম রুল নিয়ে [[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসের]] সাথে কথোপকথন (১১ মার্চ ১৯৩১), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৫-এ উদ্ধৃত।
*পথ যতই কঠিন হোক না কেন, বিপদগুলো শুধু সেই কঠিন পথ থেকেই আসে না; বরং দেশে ও ভারতে থাকা চরমপন্থীদের কাছ থেকেও আসে। আমি বলছি আমার কথার মানে কী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, ''ডেইলি মেইলের'' মতো পত্রিকায় যে ধরনের লেখা ছাপা হয়, তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য ভারত হাতছাড়া হওয়ার ক্ষেত্রে, বা বিপ্লবী মনোভাব উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কারও যেকোনো কাজের চেয়ে বেশি দায়ী হবে। আমাকে আর আলাদা করে বলতে হবে না, আমি সব ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই অনেক চিঠি পাই। গত সপ্তাহে আমি খুব অদ্ভুত একটি চিঠি পেয়েছি... এটি একজন কর্নেলের কাছ থেকে এসেছিল; তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ ছিলেন, তার হাতের লেখা দেখেই তা বোঝা যাচ্ছিল। তিনি এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিলেন: তিনি বলেছিলেন, "আপনি এবং লর্ড আরউইন হলেন নিগ্রোফাইল (কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল)।" সম্ভবত তিনি [[w:এম্পায়ার ফ্রি ট্রেড ক্রুসেড|ইউনাইটেড এম্পায়ার পার্টির]] একজন সদস্য ছিলেন। সাম্রাজ্যকে একতাবদ্ধ রাখার এটি কোনো পথ নয়। এ ধরনের ঘটনা, এবং এর পেছনের যে মানসিকতা, তা নিশ্চিতভাবেই আমাদের সাম্রাজ্য ভেঙে দেবে। আর আমি এর বিরুদ্ধেই লড়াই করতে নেমেছি।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/mar/12/india ভাষণ] (১২ মার্চ ১৯৩১)।
* '''এই পত্রিকাগুলোর মালিকানার লক্ষ্য হলো ক্ষমতা, এবং দায়িত্বহীন ক্ষমতা — যা যুগ যুগ ধরে বেশ্যাদের বিশেষ অধিকার।'''
** বল্ডউইন তার সময়ের শীর্ষস্থানীয় প্রেস ব্যারনদের (লর্ড বিভারব্রুক এবং লর্ড রদারমের) আক্রমণ করছিলেন; বাক্যটি বল্ডউইনের চাচাতো ভাই [[রুডইয়ার্ড কিপলিং]] (১৭ মার্চ ১৯৩১) পরামর্শ দিয়েছিলেন, ''দ্য টাইমস'' (১৮ মার্চ ১৯৩১), পৃষ্ঠা ১৮-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের নিজেদের সুরক্ষার সময় এসেছে। বিদেশি যেমন নিজেকে রক্ষা করে, তেমনি আমাদেরও নিজেদের জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে। আমরা দেশবাসীকে আমাদের নিজেদের ডোমিনিয়নগুলোর সাথেও বাণিজ্য চুক্তিতে প্রবেশের আহ্বান জানাব। এর অধীনে আমরা তাদের আমাদের নিজেদের উৎপাদিত পণ্য কেনার আহ্বান জানাব এবং বিনিময়ে আমরা খাদ্যসামগ্রী ও কাঁচামাল নেব। ... গম উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষমতা দিতে আমরা ভোটারদের কাছে আহ্বান জানাব।
**নিউজরিলে দেওয়া সাক্ষাৎকার (বসন্ত ১৯৩১), জন রামসডেনের ''এ হিস্ট্রি অফ দ্য কনজারভেটিভ পার্টি: দ্য এজ অফ বেলফোর অ্যান্ড বল্ডউইন, ১৯০২-১৯৪০'' (১৯৭৮), পৃষ্ঠা ৩২০-তে উদ্ধৃত।
*সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ধর্ম আমাদের উদ্দেশ্যগুলোকে পরিচালিত করবে, আমাদের নীতিগুলোকে টিকিয়ে রাখবে, এবং আমরা যখন কাজে যাব তখন এক গোপন আবহের মতো আমাদের আত্মাকে ঘিরে রাখবে ও সিক্ত করবে... আমরা সবাই একমত যে, ধর্ম কেবল চার্চে থাকা খ্রিস্টানদের বিষয় নয়; এটি রাজনীতিতে, কূটনীতিতে, বাণিজ্যে, শিল্পে, স্কুলে এবং খেলাধুলায় থাকা খ্রিস্টানদেরও বিষয়। আমার মনে হয় সাধারণ মানুষের বিচার এটিকে স্বতঃসিদ্ধ হিসেবেই গ্রহণ করেছে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৮০-৮১-তে প্রকাশিত।
*যেকোনো আকাঙ্ক্ষাকে, তা যতই অশালীন হোক না কেন, আকাঙ্ক্ষিত হওয়ার কারণেই ভালো বলে মনে করাটা হয়তো রক্তমাংসের সাধারণ মানুষের পথ হতে পারে, কিন্তু এটি ক্রুশের পথ নয়। আর আমাদের তরুণদের মধ্যে যে নৈতিক নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়েছে বলে বলা হয়... তা ধর্মের দাবিগুলো কমিয়ে দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে্বা, বরং সেগুলোর ওপর জোর দিয়েই করতে হবে। তরুণদের সমর্থন এবং উৎসাহ পাওয়ার জন্য তাদের বদভ্যাসগুলো মেনে নিতে হবে—এমন ধারণা তাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল বিচার করা এবং তাদের সম্মান হারানোর নামান্তর। চার্চগুলো মানবপ্রকৃতির কাছে খুব বেশি কিছু দাবি করার চেয়ে বরং খুব কম কিছু দাবি করার কারণেই দীর্ঘমেয়াদে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তরুণরা আজ যে পরিস্থিতিতে নিজেদের আবিষ্কার করেছে, তার আসল ট্র্যাজেডি হলো অতীত প্রজন্মের গোঁড়ামির পতন এবং আজকের পরিস্থিতির সাথে মানানসই একটি আত্মবিশ্বাসী, সুসংগত বিশ্বাস দিয়ে এটিকে প্রতিস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়া। নীতিগুলো শাশ্বত হতে পারে, তবে তাদের বাস্তবায়ন অবশ্যই সময়োপযোগী হতে হবে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ۸৩-৮৪-তে প্রকাশিত।
*আসুন আমরা এটা মনে না করি যে উচ্চতর [[গণিত]], [[পদার্থবিজ্ঞান]] বা [[জীববিজ্ঞান|জীববিজ্ঞানের]] জগতে হওয়া আবিষ্কারগুলো নৈতিক সমতলে আমাদের সমস্যাগুলোকে দূর করবে বা এমনকি কমিয়ে দেবে... নৈতিকতার জগৎ পরিমাণ বা রাসায়নিক ক্রিয়ার কোনো জগৎ নয়। এটি মূল্যবোধের একটি জগৎ। [[সঠিক ও বেঠিক]], [[ভালো ও মন্দ]], [[সততা]] এবং [[সাহস|সাহসের]] এই মূল্যবোধগুলোই ধর্ম এবং জাতীয় জীবনের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ... আমি বিজ্ঞানকে অবজ্ঞা করছি না। আমি শুধু এ কথাই বলতে চাইছি যে নৈতিক মূল্যবোধগুলো—যা তাদের গুণাবলিতে শাশ্বত, কিন্তু তাদের রূপ এবং প্রয়োগে ক্ষণস্থায়ী—হলো একটি দেশের মহত্ত্বের ভিত্তি। যদি আমাদের সাধারণ জীবনে নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে, তবে জাতির সব কিছুই ভালো হবে।
**লন্ডনে কংগ্রেগেশনাল ইউনিয়নের বার্ষিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (১২ মে ১৯৩১), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭-তে প্রকাশিত।
*এখন আমাদের এই দেশের এমন একটি রেকর্ড রয়েছে যার জন্য আমরা গর্ব করতে পারি। আমরা যখন বিভিন্ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে সেই [[নিরস্ত্রীকরণ|নিরস্ত্রীকরণের]] প্রশ্নটি আন্তরিকতা, ঐকান্তিকতা এবং সম্মানের সাথে মোকাবিলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তখন আমরা আমাদের স্বাক্ষরকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করেছি এবং এর প্রতি সমর্থন দিয়েছি। এবং একটি দেশ নিজে একা যা যা করতে পারে, আমরা তার সবই করেছি। আমরা আমাদের সব অস্ত্রশস্ত্র কমিয়ে দিয়েছি। আজ [[রয়েল এয়ার ফোর্স|আমাদের বিমান বাহিনীর]] শক্তিতে আমরা বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছি। আমরা [[ব্রিটিশ সেনাবাহিনী|আমাদের সেনাবাহিনীকে]] একদম ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে এনেছি। আমাদের নৌবাহিনী সীমিত করার জন্য আমরা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছি। একতরফা নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে আর কিছুই করা সম্ভব নয়।
**হালের সিটি হলে দেওয়া ভাষণ (১৭ জুলাই ১৯৩১), ''দ্য টাইমস'' (১৮ জুলাই ১৯৩১), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*ভারতীয় প্রশ্নে আমাদের দল কী অবস্থান নেবে তা নিয়ে দুই বছর আগে আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম যে একটি প্রগতিশীল দলের জন্য একটি পথই খোলা আছে—আর বেঁচে থাকতে হলে একটি দলকে প্রগতিশীল হতেই হবে। আমি বিশ্বাস করতাম যে অন্য পথটি দলকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1931/dec/03/indian-policy ভাষণ] (৩ ডিসেম্বর ১৯৩১)।
==== ১৯৩২ ====
*আমরা [[w:আমদানি শুল্ক আইন ১৯৩২|শুল্ক]] ব্যবস্থা কার্যকর করব এবং এটি যদি সফল হয় তবে তা অবাধ বাণিজ্যের মতোই দলীয় রাজনীতি থেকে অনেকটা ছিটকে পড়বে। এরপর আমাদের দলের নাম পরিবর্তন করে ন্যাশনাল (জাতীয়) রাখার জন্য উপযুক্ত সময় দিন, কারণ তখন লিবারেলদের বৃহত্তর অংশের থেকে আমাদের আসলেই আলাদা করার মতো খুব সামান্য কিছুই থাকবে।
**[[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসকে]] দেওয়া মন্তব্য (২৮ জানুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ২৫-২৬-এ উদ্ধৃত।
*ঠিক বা ভুল যা-ই হোক না কেন, পুরোনো ভারতের সাথে আমাদের কাজ শেষ; একটি নতুন ভারত তৈরি হচ্ছে এবং আমাদের অবশ্যই এর সাথে মানিয়ে নিয়ে সেরাটা বের করে আনতে হবে।
**[[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসকে]] দেওয়া মন্তব্য (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ২৯-এ উদ্ধৃত।
*[[সোভিয়েত ইউনিয়ন|রাশিয়া]] এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|আমেরিকা]] লিগের বাইরে থাকায় [[অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা|নিষেধাজ্ঞাগুলো]] একটি ভুল। আমি সবসময়ই এমনটা ভেবেছি। আপনি একটি প্রথম-শ্রেণির শক্তির বিরুদ্ধে এগুলো প্রয়োগ করতে পারবেন না। [[রবার্ট সিসিল, চেলউডের ১ম ভিসকাউন্ট সিসিল|বব সিসিলের]] মতো ঠিক যে মানুষেরা আমাদের নিরস্ত্রীকরণে বাধ্য করেছিল, এবং তা একেবারে ঠিকও ছিল, তারাই এখন আমাদের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দিচ্ছে। কিন্তু পদক্ষেপ আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে? আমরা যদি রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করি, তবে তা হবে কেবল প্রথম পদক্ষেপ। এর পরের পদক্ষেপ কী? এবং তার পরেরটা? আপনি যদি অর্থনৈতিক বয়কট করেন তবে [[জাপান সাম্রাজ্য|জাপান]] যুদ্ধ ঘোষণা করবে এবং সে [[সিঙ্গাপুর]] ও [[ব্রিটিশ হংকং|হংকং]] দখল করবে। আর আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, তাতে তাকে থামাতে পারব না। আপনি [[ওয়াশিংটন, ডিসি|ওয়াশিংটন]] থেকে কেবল কথাই পাবেন, বড় বড় কথা, কিন্তু কেবল কথাই।
**[[w:জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ|জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণের]] পর [[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসকে]] দেওয়া মন্তব্য (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৩০-এ উদ্ধৃত।
*তারা কি কখনো [[ইসলাম|মোহাম্মদীয় ধর্ম]] (ইসলাম) এবং [[কমিউনিজম|বলশেভিজমের]] উৎপত্তির মধ্যে থাকা মিলের কথা ভেবেছে? উভয়ই [[খ্রিস্টধর্ম|খ্রিস্টধর্ম]] থেকে উদ্ভূত, একটি ভ্রাতৃত্বের প্রচার করছে এবং অন্যটি সাম্যবাদের। তবে উভয়ই সকল অবিশ্বাসীদের জন্য মৃত্যু এবং নরকবাসের ঘোষণা দেয়। নবীর মৃত্যুর এক শতাব্দীর মধ্যেই মোহাম্মদীয়রা তরবারির জোরে [[আরব]] থেকে পিরেনিজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং [[w:ট্যুরসের যুদ্ধ|ট্যুরসে]] [[w:চার্লস মার্টেল|চার্লস মার্টেল]] তাদের থামিয়েছিলেন। রাশিয়া খুব কমই মহান মানুষের জন্ম দেয়, তবে কল্পনা করুন যদি একজন বলশেভিক [[প্রথম পিটার|পিটার দ্য গ্রেট]] দৃশ্যপটে হাজির হন, তবে কী ঘটতে পারে।
**[[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসের]] সাথে কথোপকথন (৩ জুলাই ১৯৩২), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ৪৩-এ উদ্ধৃত।
*সরকার যে শুধু নিরস্ত্রীকরণের কথাই বলেনি, বরং এটি বাস্তবেও প্রয়োগ করেছে, তা আমার জোর দিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। গ্রেট ব্রিটেন একতরফা নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখন শেষ হয়েছে।
**লন্ডনের গিল্ডহলে দেওয়া ভাষণ (৯ নভেম্বর ১৯৩২), ''দ্য টাইমস'' (১০ নভেম্বর ১৯৩২), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমি মনে করি সাধারণ মানুষের জন্য এটি উপলব্ধি করাও ভালো যে পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাকে বোমা হামলার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। মানুষ তাকে যা-ই বলুক না কেন, '''বোমারু বিমান সব সময়ই পথ খুঁজে নেবে'''।
**হাউস অফ কমন্সে দেওয়া [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1932/nov/10/international-affairs ভাষণ] (১০ নভেম্বর ১৯৩২)।
*আমি যাদের সবচেয়ে বেশি বিরোধী, তারা হলেন চরম টোরি উইংয়ের সেই বয়স্ক ভদ্রলোকেরা। তারা ক্লাবের ধূমপানের ঘরে বসে থাকেন এবং কখনোই কোনো কাজে হাত লাগান না, কিন্তু আমি যা কিছু করি তার সবকিছুর জন্যই আমাকে গালমন্দ করেন... সরকারি কাজের জন্য আমাদের কাছে যে জনবল ছিল, অন্য কোনো দেশের কাছে তা ছিল না। জনজীবন জঘন্যভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠতে পারত, কিন্তু আমরা সবাই একে পরিচ্ছন্ন এবং ঘুষমুক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারতাম।
**সান্ডারল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া হলে জাতীয় সরকারের সমর্থনে এক সভায় দেওয়া ভাষণ (২ ডিসেম্বর ১৯৩২), ''দ্য টাইমস'' (৩ ডিসেম্বর ১৯৩২), পৃষ্ঠা ১২-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩৩ ====
*আমি সব সময়ই [[ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট|রুজভেল্টের]] [[নিউ ডিল|পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোকে]] ভয় পেয়েছি এবং আমার মনে হয় কয়েক মাসের মধ্যেই আমেরিকায় একটি ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
**টমাস জোনসকে লেখা চিঠি (১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ১১৫-তে উদ্ধৃত।
*[[মধ্যযুগ|মধ্যযুগে]], এবং মূলত তার পরবর্তী বছরগুলোতে... আমাদের সীমানা ছিল সমুদ্র; এটি একটি নির্দিষ্ট সীমানা ছিল। আর এটি এমন এক সীমানা ছিল, যা একবার একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি সেই সমুদ্র সীমান্ত রক্ষা করতে সক্ষম হলে আর কেউ পার হতে পারত না। আর মূলত ও প্রধানত এর কারণেই আমরা এই দেশে আমাদের নিজস্ব অদ্ভুত সভ্যতা এবং আমাদের নিজস্ব স্বাধীনতা গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। আমরা এমন এক নিরাপত্তায় তা করতে পেরেছিলাম, যা সে সময় বিশ্বের প্রায় অন্য সব জাতির কাছেই অপরিচিত ছিল।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১১-তে উদ্ধৃত।
*জাতি হিসেবে আমরা অভিযোগ করি, আমরা কখনোই দুশ্চিন্তা করি না, আর সময় যত কঠিন হয়, আমরা তত বেশি উৎফুল্ল হই। বাইরের বিশ্বে কী ঘটছে তা নিয়ে অনেক দিক থেকেই আমরা উদাসীন হতে পারি, কিন্তু বিপদের সময় এই উদাসীনতা খুব দ্রুতই দূর হয়ে যায়। আমরা বিপদের সময় সব সময়ই শান্ত থাকি। আমরা সামরিক জাতি নই, কিন্তু আমরা মহান যোদ্ধা—যে বংশ থেকে আমাদের উদ্ভব, তাতে আমাদের এমনটাই হওয়া উচিত। আমাদের টিকে থাকার ক্ষমতা আছে, আমরা বিচলিত হই না। আমার মনে আছে, ''দ্য টাইমসের'' একজন লেখকের কথায় আমি খুব মজা পেয়েছিলাম এবং বেশ খুশিও হয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন যে আমার আধ্যাত্মিক বাড়ি হলো শেষ পরিখায় । যদি তা-ই হয়, তবে আমি আমার বেশিরভাগ দেশবাসীর সাথেই সেই পরিখা ভাগ করে নিয়েছি।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-তে উদ্ধৃত।
*তারপর, সবার ওপরে, ইংরেজদের বুদ্ধির চেয়ে [[রসবোধ|রসবোধের]] এক অদ্ভুত অনুভূতি রয়েছে। রসবোধ আসে হৃদয় থেকে; বুদ্ধি আসে মস্তিষ্ক থেকে। আমরা নিজেদের নিয়ে হাসতে পারি। [[জন রাস্কিন|রাস্কিন]] কী বলেছিলেন মনে আছে? "ইংরেজদের হাসি হলো টাকশালে তৈরি হওয়া ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে খাঁটি এবং সত্য।" এবং সত্যিই, কেবল ঈশ্বরই জানেন যে দেশ এর কাছে কতটা ঋণী। আসলে, হাসি হলো ঈশ্বরের দেওয়া সেরা উপহারগুলোর একটি। আর মনখোলা হাসির সাথে কোনো বিদ্বেষ বা অশালীনতা থাকতে পারে না। আর যে মানুষগুলো আমাদের দেখিয়েছেন সেই হাসির মানে কী হতে পারে, তাদের মধ্যে [[w:চার্লস ডিকেন্স|ডিকেন্সের]] মতো আর কেউ ছিলেন না। তার প্রতিটি চরিত্রই মজ্জায় মজ্জায় ইংরেজ। আর যদি আমি একজন জীবিত লেখকের কথা উল্লেখ করি, তবে আমার মনে হয় সবচেয়ে খাঁটি ইংরেজদের দেখা যায় [[w:জে. বি. প্রিস্টলি|মিস্টার প্রিস্টলির]] উপন্যাসগুলোতে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-তে উদ্ধৃত।
*দয়া, দুর্বলদের প্রতি সহানুভূতি, বাড়ির প্রতি ভালোবাসা! এগুলো কি আপনার পরিচিত সাধারণ ইংরেজদের বৈশিষ্ট্য নয়? সে একজন প্রবল ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী এই কারণে যে, সে নিজেকে কোনো সাধারণ ছাঁচে ফেলতে চায় না, সবার মতো হতে চায় না; সে তার নিজস্ব স্বকীয়তা গড়ে তুলতে পছন্দ করে। এবং তবুও সে সেবার জন্য একজোট হতে পারে। এই দেশের সেরা কিছু জিনিস আমাদের সাধারণ মানুষের মধ্যেই তৈরি হয়েছে, সরকারের কোনো সাহায্য ছাড়াই—ফ্রেন্ডলি সোসাইটির কাজ, আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন, আমাদের হাসপাতাল এবং রাষ্ট্র দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমাদের শিক্ষা। তারপর আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি ইংরেজের এক গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে—এটি তার স্বশাসনের ঐতিহ্যের অংশ। সুশৃঙ্খল স্বাধীনতা—বিশৃঙ্খলাপূর্ণ স্বাধীনতা নয়, বা যা অবধারিতভাবে এর অনুসরণ করে সেই স্বৈরতন্ত্রও নয়; বরং সুশৃঙ্খল স্বাধীনতা, যা বর্তমানে এই ওলটপালট পৃথিবীর অন্যতম বিরল জিনিস।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩-১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমি বলছি যে বিশ্বে এ ধরনের গুণাবলি এর আগে কখনোই এতটা প্রয়োজনীয় ছিল না। আসুন আমরা যা, তা-ই ধরে রাখি; আসুন আমরা অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা না করি... আমাদের অধ্যবসায়, আমাদের স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা, আমাদের সুশৃঙ্খল স্বাধীনতার প্রতি ভালোবাসা, আমাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, আমাদের ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সেবায় আমাদের একজোট হওয়ার ক্ষমতা; বস্তুত, আমাদের শক্তি এবং আমাদের দুর্বলতার মাঝেই আমি আমার হৃদয় থেকে বিশ্বাস করি যে, আমাদের মানুষ আমাদের সামনে আসা যেকোনো পরীক্ষা পার হওয়ার যোগ্য। এবং যদি তারা তাদের নিজস্ব সেরা ঐতিহ্যগুলোর প্রতি সৎ থাকে, তবে অতীতে তারা যেমনটা ছিল ভবিষ্যতে তার চেয়েও এক মহান জাতি হিসেবে তারা আত্মপ্রকাশ করবে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*এটি কোনো তৈরি করা জিনিস নয়; এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ওক, ছাই বা কাঁটার মতোই আমাদের দেশ এবং মানুষের নিজস্ব জিনিস হিসেবে বেড়ে উঠেছে। এটি তার মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছে এবং তাদের স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে পার্থক্য শিখিয়েছে। আজ সেই সংবিধানই হুমকির মুখে, সোশ্যালিস্ট পার্টির তাদের সম্মেলনে এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে না হলেও, প্রবণতাগতভাবে এমন একটি কর্মপন্থা আঁকার মাধ্যমে, যা যদি বাস্তবায়িত হয় তবে তার অর্থ হবে সংবিধানের ধ্বংস। আপনি এটিকে যত খুশি বিতর্কিত করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে হাউস অফ কমন্সের নির্বাহী ক্ষমতা কেড়ে নেওয়াই হলো প্রতিটি স্বৈরতন্ত্রের শুরুর পথ। এটি সর্বহারা হিটলারবাদ এবং অন্য কিছু নয়, এবং এটি অন্য কিছু হতেও পারে না। আমি চাই আপনারা সময়ের আগেই এটি উপলব্ধি করুন।
**বার্মিংহামে দেওয়া ভাষণ (৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দ্য টাইমস'' (৭ অক্টোবর ১৯৩৩), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
*আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তিসংগত করার যেকোনো ইচ্ছাকৃত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টাকে সন্দেহের চোখে দেখাটা ব্রিটিশ জনসাধারণের একটি বৈশিষ্ট্য।
**লন্ডনে ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে দেওয়া ভাষণ (২৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৫২-তে উদ্ধৃত।
*নিখুঁত সরকার কেবল সেখানেই পাওয়া যায় যেখানে কারাগারগুলো পূর্ণ থাকে।
**লন্ডনে ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে দেওয়া ভাষণ (২৬ অক্টোবর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ৫৩-তে উদ্ধৃত।
*'''আমি একজন ভিক্টোরিয়ান'''। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমি সেই সময়ের অন্য সবার মতোই প্রায় দশ মাইল ব্যাসার্ধের একটি বৃত্তের কেন্দ্রে বাস করতাম—যতদূর এক জোড়া ঘোড়া আমাকে টেনে নিয়ে যেতে পারত। এর বাইরে আমি খুব কমই যেতাম, এবং আমি ইংল্যান্ডের অন্যান্য অংশ থেকে এমনভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলাম যা কেবল মোটর রাস্তা এবং মোটর গাড়ির দেশ হিসেবে ইংল্যান্ডকে চিনেছে, এমন কারও পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব।
**লন্ডনে ইয়র্কশায়ার সোসাইটির বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৮ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩৪-এ উদ্ধৃত।
*কোনো মানুষের প্ল্যাটফর্মে কথাবার্তা যেমনই হোক না কেন বা দৈনন্দিন জীবনে সে নিজের ঢাল হিসেবে যতটাই মানববিদ্বেষের ভান করুক না কেন, সেই আবরণের নিচে, একশো জনের মধ্যে নিরানব্বই জন ইংরেজের মধ্যেই এমন একটি ভালোবাসা থাকবে—যা সে কখনো ব্যাখ্যা করতে পারে না বা কখনো করবেও fixনা—সেই বাড়ির প্রতি যেখানে সে নিজে একসময় বাস করেছে বা তার আগে তার বাবা-মা বা দাদা-দাদি বাস করেছেন।
**লন্ডনে ইয়র্কশায়ার সোসাইটির বার্ষিক নৈশভোজে দেওয়া ভাষণ (৮ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৩৭-এ উদ্ধৃত।
*দুটি সত্য আমাদের মনে গেঁথে আছে। আমরা যে যুগে বাস করি, সেখানে যুদ্ধ বিজয়ী এবং বিজিত উভয়ের জন্যই সমান ধ্বংসাত্মক। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, ইউরোপে আরেকটি যুদ্ধের অর্থ হবে আমাদের পরিচিত পশ্চিমা সভ্যতার অবসান। এই পরিস্থিতিতে এই সরকার যা করছে, তা ছাড়া আর কোনো সরকার কী-ই বা করতে পারে—অস্ত্রসীমিতকরণের বিষয়ে ইউরোপে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অবিরাম সংগ্রাম করা? এই মুহূর্তে সামনের বাধাগুলোর কারণে অনেক মানুষের হৃদয় নিরাশ হয়ে পড়ছে... আমাদের দায়িত্ব হলো এই রাজনৈতিক বাধাগুলো অতিক্রম করতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি না রাখা এবং শেষ মুহূর্তে হলেও অস্ত্রসীমিতকরণের একটি চুক্তি তৈরি করার কাজ পুনরায় শুরু করা।
**এডিনবার্গে দেওয়া ভাষণ (১৭ নভেম্বর ১৯৩৩), ''দ্য টাইমস'' (১৮ নভেম্বর ১৯৩৩), পৃষ্ঠা ১৪-তে উদ্ধৃত।
==== ১৯৩৪ ====
*আমি বলব যে, [[ফ্যাসিবাদ|ফ্যাসিস্টদের]] বিশ্বে স্বাধীনতার একমাত্র রক্ষক হিসেবে আমরাই টিকে আছি। ... এই ফ্যাসিস্ট এবং কমিউনিস্টরা আজ সেই ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর যুদ্ধের উত্তরসূরি।
**[[w:টমাস জোনস (সরকারি কর্মকর্তা)|টমাস জোনসের]] সাথে কথোপকথন (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৪), টমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটারস. ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪), পৃষ্ঠা ১২৪-এ উদ্ধৃত।
*আমাদের স্বাধীনতা আমাদের নিজস্ব—তা সে নাগরিক হোক বা ধর্মীয়। আমরা এতে এতটাই অভ্যস্ত, ঠিক যেমন আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই তার প্রতি, যে আমরা এটিকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নিই... আর সেই স্বাধীনতা স্বর্গ থেকে মান্নার মতো আমাদের ওপর ঝরে পড়েনি: আমাদের ইতিহাসের শুরু থেকেই এর জন্য লড়াই করতে হয়েছে, এবং এটি অর্জনের জন্য আমাদের চেয়ে অনেক ভালো মানুষের রক্ত ঝরেছে। এটি নির্বাহী ক্ষমতার প্রতি শতাব্দী ধরে করা প্রতিরোধের ফল, এবং এটি আমাদের জন্য একটি সমান ন্যায়বিচার ও জুরির মাধ্যমে বিচার, এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতামতের স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ১৭-তে উদ্ধৃত।
*আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে এই দেশে সরকার অনেক বেশি পরিচ্ছন্নভাবে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশের সরকারের মতোই আমাদের স্থানীয় জনপ্রশাসনেও এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই বিরল, যারা পথভ্রষ্ট হয় এবং [[দুর্নীতি]] বা অযাচিত প্রভাবের কারণে আসা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করে। আমাদের ভাইদের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, তাদের সবার মঙ্গলের জন্য জনসেবা করার একটি চমৎকার ঐতিহ্য এই দেশে প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে।
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২০-তে উদ্ধৃত।
*আর এই দেশে বসে আমাদের জন্য কোনো [[স্বৈরতন্ত্র|স্বৈরতন্ত্রের]] কথা ভাবা—যা আজ অনেক দেশে সরকারের একটি জনপ্রিয় রূপ—তা হবে আমাদের দিক থেকে চূড়ান্ত [[কাপুরুষতা|কাপুরুষতার]] কাজ, একটি [[আত্মসমর্পণ|আত্মসমর্পণের]] কাজ, হাল ছেড়ে দেওয়ার কাজ, এটি হবে এক ধরনের স্বীকারোক্তি যে আমরা নিজেদের শাসন করতে অক্ষম... এই দেশে আমরা যাকে "রাতারাতি ধনী হওয়ার" মানসিকতা বলি, তা আমরা চাই না। গতি এবং দক্ষতা খুব ভালো জিনিস, এবং সম্ভবত সেগুলো এই প্রজন্মের কাছে পূজনীয়। কিন্তু সেগুলো সবসময় একসাথে চলে না। আমি যেমনটা প্রায়ই বলি, ত্বরণ বা অ্যাক্সিলারেশন সভ্যতার সমার্থক নয়। এটা ঠিক যে এই দেশের রাষ্ট্রীয় ঘোড়ার গাড়িটি হয়তো কর্দমাক্ত পথ দিয়ে যাচ্ছে, এর চাকায় হয়তো ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ হচ্ছে; কিন্তু আপনি কি নিশ্চিত যে আজ [[মস্কো]], [[বার্লিন]], [[ভিয়েনা|ভিয়েনায়]] রাষ্ট্রীয় গাড়ির চাকাগুলো ক্যাঁচক্যাঁচ করছে না? আপনি কি পুরোপুরি নিশ্চিত যে সেগুলো এমনকি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও]] ক্যাঁচক্যাঁচ করছে না?
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২১-এ উদ্ধৃত।
*'''স্বৈরতন্ত্র হলো একটি বিশাল বিচ গাছের মতো; যৌবনে এটি দেখতে খুবই চমৎকার, কিন্তু এর নিচে কিছুই জন্মায় না বা বাঁচে না।'''
**লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত (৬ মার্চ ১৯৩৪), ''দিস টর্চ অফ ফ্রিডম'' (১৯৩৫), পৃষ্ঠা ২১-এ উদ্ধৃত।
* তিনি অন্য সবার চেয়ে বেশি [লয়েড জর্জের] [[লয়েড জর্জের মন্ত্রিসভা|জোট সরকার]] ভেঙে দিয়েছিলেন। তিনি কেন এমনটি করেছিলেন? তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ভিক্টোরীয় যুগে যেই নৈতিক চরিত্রের জন্য দেশের সরকার আলাদা মর্যাদা পেত, তা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। এই নৈতিক অবক্ষয় অব্যাহত থাকলে তা ইংল্যান্ডের মহত্ত্ব ও গৌরবের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। এই অবক্ষয়কে আঘাত করে চিরতরে নির্মূল করার অর্থ হলো জোট সরকারের কিছু অত্যন্ত মেধাবী মানুষের ওপর আঘাত হানা। এর ফলে উভয় দলের কিছু অত্যন্ত সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও ধ্বংস হয়ে যেত। তবে জনজীবনের পুরো পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলা একটি ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে দেশের জন্য অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী একটি সরকার থাকা ভালো বলে তিনি মনে করতেন। এমনকি দীর্ঘ সময়ের জন্য তার দলের ক্ষমতার বাইরে থাকাকেও তিনি শ্রেয় মনে করতেন। তার এই সিদ্ধান্তের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দুটি সংস্কার সাধিত হয়। তিনি [[সংবাদমাধ্যম|সংবাদমাধ্যমের]] আধিপত্য দূর করেন। একইসঙ্গে তিনি সম্মাননা প্রদান প্রক্রিয়ার কলঙ্কও মুছে ফেলেন... তিনি পুরোনো মানদণ্ডগুলো পুনরুদ্ধার করেছেন। তিনি প্রাচীন বাধাগুলো মেরামত করেছেন। যতদিন তার দলের সেরা মানুষেরা তাঁকে বিশ্বস্তভাবে সমর্থন করবেন, ততদিন ফ্লিট স্ট্রিটের জলোচ্ছ্বাস আর কখনো হোয়াইটহলে ফিরে আসবে না। জনজীবন আবার পরিচ্ছন্ন হয়েছে।
** [[হ্যারল্ড বেগবি]], ''দ্য উইন্ডোজ অব ওয়েস্টমিনস্টার'' (১৯২৪), পৃষ্ঠা ৯-১১
* এ বিষয়ে [লর্ড বল্ডউইনের] প্রতিভা একজন সুবক্তা বা বিতার্কিক হিসেবে তার সীমাবদ্ধতাগুলো পুষিয়ে দিয়েছিল। বল্ডউইন অনুভূতি তৈরির শিল্পে দক্ষ ছিলেন। তবে তা শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে তিনি আরও বড় ওস্তাদ ছিলেন। তিনি শুধু উপস্থাপিত যুক্তির ওপর আঘাত হানতেন না। বরং যেই অনুভূতির প্রকাশ হিসেবে যুক্তিটি দেওয়া হয়েছে, তিনি সেই অনুভূতির ওপরও আঘাত হানতেন। নিজেকে রক্ষা করার সময় তিনি সুকৌশলে একের পর এক তথ্য উপস্থাপন করতেন না। এর পরিবর্তে তিনি তার প্রতিপক্ষের মহৎ ও মানবিক অনুভূতিগুলোর কাছে আবেদন জানাতেন। তিনি প্রতিপক্ষকে নিরস্ত্র করায় দারুণ দক্ষ ছিলেন। তবে মাঝে মাঝে তিনি একজন কসাইয়ের মতো পাল্টা আঘাতও করতেন।
** [[অ্যানিউরিন বেভান]], কিথ মিডলমাস ও জন বার্নসের ''বল্ডউইন: আ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৬৬৭
* ট্রেড ইউনিয়নগুলোর কাছে বল্ডউইন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। তার দেওয়া যেকোনো বক্তব্যের অনেক গুরুত্ব ছিল... তারা সাধারণ ধর্মঘটের এত ঘন ঘন উল্লেখ করার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করতেন। বল্ডউইনের "আমাদের সময়ে শান্তি" শীর্ষক ভাষণে তাদের ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রতি তার প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করতেন।
** জেফ্রি ফ্রাইকে লেখা [[আর্নেস্ট বেভিনের]] চিঠি (২৪ জানুয়ারি ১৯৩৪), কিথ মিডলমাস ও জন বার্নসের ''বল্ডউইন: আ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৮৩–৪৮৪
* সম্পদের সাথে সামাজিক বাধ্যবাধকতাও থাকে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। তিনি এই নীতি অনুসারেই জীবনযাপন করেছেন।
** ২০০৬ সালে বল্ডউইন সম্পর্কে লর্ড [[জন বিফেনের]] বক্তব্য।
* স্ট্যানলি বল্ডউইনের অন্তত একটি গুণ ছিল। তিনি উভয় পক্ষকে একত্রিত করার চেষ্টা করতেন। তিনি শ্রমিক আন্দোলন বোঝার ও আমাদের দেশে শিল্পক্ষেত্রে শান্তি আনার চেষ্টা করেছেন। যদি এটিই রায় হয়, তবে আমি বল্ডউইনের সাথে যুক্ত হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত হব। তবে অন্য সব দিক থেকে নয় বলেই আমার মনে হয়।
** [[জেমস ক্যালাহান]], [https://www.youtube.com/watch?v=y4bhqnk602I টেমস টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকার] (২০ জুলাই ১৯৭৮)। লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী ক্যালাহানকে [[পিটার জেনকিন্স]] জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাঁকে "স্ট্যানলি বল্ডউইনের পর সেরা রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী" বলাটা তিনি প্রশংসা হিসেবে দেখেন নাকি সমালোচনা হিসেবে।
* তার [<nowiki/>[[ডেভিড লয়েড জর্জ|ডেভিড লয়েড জর্জের]]] স্থলাভিষিক্ত হওয়া বল্ডউইন স্বভাবগতভাবেই যুদ্ধকে ঘৃণ্য মনে করতেন। একদিক থেকে তিনি স্বভাবগতভাবেই খুব শান্তিকামী ছিলেন। সম্মুক্তিনামায় জবরদস্তিমূলক ক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা আমি বিশ্বাস করি কি না, তা তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বলে আমার মনে আছে। সামরিক পদক্ষেপের প্রতি তার এই অপছন্দের কারণেই মূলত অ্যাবিসিনীয় বিপর্যয় ঘটেছিল বলে আমি মনে করি। লয়েড জর্জ শক্তি প্রয়োগের ওপর খুব বেশি বিশ্বাস করলে, বল্ডউইন তাতে খুব কমই বিশ্বাস করতেন।
** [[চেলউডের ভিসকাউন্ট সিসিল|চেলউডের ভিসকাউন্ট সিসিল]], ''অল দ্য ওয়ে'' (১৯৪৯), পৃষ্ঠা ১৭৩
* আমি একজন কুখ্যাত জনোত্তেজক ধরনের মানুষ। আমার মতে বেশিরভাগ সংস্কার খুব দ্রুত হওয়ার পরিবর্তে অনেক ধীরগতিতে হয়। এই সবকিছু থেকে সহজেই অনুমান করা যায় আমার প্রিয় রাজনীতিবিদ হলেন বল্ডউইন। এই অনুমান দ্রুত ও সুস্পষ্ট না হলেও এটি যুক্তিযুক্ত। আমি যখন আমার প্রিয় রাজনীতিবিদের কথা বলি, তখন একজন রাজনীতিবিদ কোনো মানুষের যতটা প্রিয় হতে পারে, আমি ততটাই বোঝাই। [...] তবে আমি ব্যবহারিক রাজনীতিতে থাকলে (ঈশ্বর না করুন) ও তারা আমাকে দলীয় আনুগত্যের সেই বিশেষ সমস্যায় জড়ালে আমি আমার বা তার সমস্ত যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁকে সমর্থন করতাম। তার যোগ্যতা মোটেও কম নয়। তার সাথে আমার দ্বিমত থাকলেও আমি তাঁকে সমর্থন করব। কারণ তিনি লিবারেলদের চেয়েও বেশি উদার। তিনি সমাজতন্ত্রীদের চেয়েও বেশি সমাজমনস্ক এবং সাম্রাজ্যবাদীদের চেয়ে বহুগুণ বেশি দেশপ্রেমিক। আমি সুখে-দুঃখে তাঁকে সমর্থন করব। কারণ আমার মনে হয়, বিরোধী তত্ত্বগুলো বেশ দুর্বল ও তাদের ধৃষ্টতা একটু বেশিই। আমি বিশেষ করে তার অনুগত ও নিবেদিতপ্রাণ অনুসারীদের বিরুদ্ধে তাঁকে সমর্থন করব। তবে আমি তাঁকে খুব বিশেষভাবে মূল্যায়ন করি। আমি মনে করি জীবিত রাজনীতিবিদদের মধ্যে একমাত্র তারই ইংরেজ জাতির সম্পর্কে কিছুটা অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া রয়েছে।
** জি. কে. চেস্টারটন, ''অ্যাজ আই ওয়াজ সেয়িং'' গ্রন্থে, অধ্যায় ১৭: "অ্যাবাউট পলিটিক্যাল ক্রিডস", ১৯৩৬
* তিনি এতটা ক্ষমতা দেখাতে পারেন বলে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। সম্পূর্ণ রক্ষণশীল দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং একজন বিদ্রোহী ছাড়াই নির্দেশ মেনে চলেছে। আমি আর কিছুতেই বিস্মিত হই না।
** ট্রেড ইউনিয়ন ও লেবার পার্টির অর্থায়নকে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে আনা একটি প্রাইভেট মেম্বার বিল বাতিল করতে নিজের ব্যাকবেঞ্চারদের রাজি করানোর পর [[উইনস্টন চার্চিল]], ১৯২৫, ফিলিপ উইলিয়ামসনের ''বল্ডউইন পেপারস: আ কনজারভেটিভ স্টেটসম্যান, ১৯০৮-১৯৪৭'' (২০০৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১৬৯
* সরকার কিছুতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। অথবা তারা প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াতে পারছে না। তাই তারা এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা সিদ্ধান্তহীন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অনড় থাকার প্রতিজ্ঞা করেছে, ভেসে যাওয়ার জন্য অটল রয়েছে, তরল হওয়ার জন্য কঠিন হয়েছে এবং ক্ষমতাহীন হওয়ার জন্য সর্বশক্তিমান হয়েছে। এভাবেই আমরা আরও কয়েক মাস ও বছর ধরে পঙ্গপালের খাবারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এগুলো খুব মূল্যবান ও সম্ভবত ব্রিটেনের মহত্ত্বের জন্য অত্যাবশ্যক।
** [[উইনস্টন চার্চিল]], [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1936/nov/12/debate-on-the-address#column_1107 হাউজ অব কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১২ নভেম্বর ১৯৩৬)]
* আমি স্ট্যানলি বল্ডউইনের কোনো ক্ষতি চাই না। তবে তিনি কখনো না জন্মালে অনেক ভালো হতো।
** বল্ডউইনকে তার আশি তম জন্মদিনের চিঠি পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোর সময় [[উইনস্টন চার্চিল]], ডমিনিক এনরাইট সম্পাদিত ''দ্য উইকড উইট অব উইনস্টন চার্চিল'' (২০০১) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৫৮ * আমার ধারণা ছিল, সব বড় ধরনের সাম্রাজ্যিক ও জাতীয় ইস্যুতে রক্ষণশীল বিরোধীদের উচিত শক্তভাবে [[দ্বিতীয় ম্যাকডোনাল্ড মন্ত্রিসভা|লেবার সরকারের]] মুখোমুখি হওয়া। [[বেঞ্জামিন ডিসরেলি|লর্ড বিকনসফিল্ড]] ও [[রবার্ট গ্যাসকোয়েন-সিসিল, স্যালিসবারির ৩য় মার্কুয়েস|লর্ড স্যালিসবারির]] অধীনে থাকা ব্রিটেনের মহিমার সাথে নিজেদের যুক্ত করা উচিত। বিতর্কের মুখোমুখি হতেও তাদের দ্বিধা করা উচিত নয়। যদিও তা তাৎক্ষণিকভাবে দেশবাসীর কাছ থেকে কোনো সাড়া নাও পেতে পারে। আমি যতদূর বুঝতে পারছিলাম, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মহত্ত্ব জোরালোভাবে প্রমাণের সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে বলে বল্ডউইন মনে করতেন। লিবারেল ও লেবার শক্তির সাথে মানিয়ে নেওয়ার মধ্যেই রক্ষণশীল দলের আশা নিহিত রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। সেইসাথে সুকৌশলী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে শক্তিশালী জনমত ও বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পক্ষপাতী ছিলেন তিনি। তিনি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সফল ছিলেন। তিনি ছিলেন রক্ষণশীলদের পাওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ দলীয় ব্যবস্থাপক। দলের নেতা হিসেবে তিনি পাঁচটি সাধারণ নির্বাচনে লড়াই করে তিনটিতে জয়লাভ করেন। শুধু ইতিহাসই এসব সাধারণ বিষয়ের বিচার করতে পারে।
** [[উইনস্টন চার্চিল]], ''দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার, ভলিউম ওয়ান: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম'' [১৯৪৮] (১৯৫০), পৃষ্ঠা ৪৪
* আমি দীর্ঘকাল ধরে চেনা দুই প্রধানমন্ত্রী বল্ডউইন ও চেম্বারলেইনের তুলনামূলক মূল্যায়ন এখানে তুলে ধরতে পারি। আমি তাঁদের অধীনে কাজ করেছি বা করার কথা ছিল। স্ট্যানলি বল্ডউইন বেশি জ্ঞানী ও অনেক বেশি সমঝদার ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তবে তার বিস্তারিত নির্বাহী ক্ষমতার অভাব ছিল। তিনি মূলত পররাষ্ট্র ও সামরিক বিষয়ক কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তিনি ইউরোপ সম্পর্কে খুব কমই জানতেন এবং যা জানতেন তা-ও অপছন্দ করতেন। ব্রিটিশ দলীয় রাজনীতি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান ছিল। তিনি বিস্তৃতভাবে আমাদের দ্বীপবাসীর কিছু শক্তি ও অনেক দুর্বলতার প্রতিনিধিত্ব করতেন। তিনি রক্ষণশীল দলের নেতা হিসেবে পাঁচটি সাধারণ নির্বাচনে লড়াই করে তিনটিতে জয়লাভ করেন। ঘটনা ঘটার জন্য অপেক্ষা করার ক্ষেত্রে তার দারুণ প্রতিভা ছিল। বিরূপ সমালোচনার মুখেও তিনি অবিচল থাকতেন। পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে তিনি অনন্য দক্ষতাসম্পন্ন ছিলেন। উপযুক্ত সময় আসলে তা কাজে লাগাতেও তিনি পারদর্শী ছিলেন। তাঁকে দেখে আমার স্যার [[রবার্ট ওয়ালপোল|রবার্ট ওয়ালপোল]] সম্পর্কে ইতিহাসের ধারণার পুনরুত্থান বলে মনে হতো। তবে অবশ্যই তাতে অষ্টাদশ শতাব্দীর কোনো দুর্নীতি ছিল না। তিনিও প্রায় একই সময় ধরে ব্রিটিশ রাজনীতির নিয়ন্ত্রক ছিলেন।
** [[উইনস্টন চার্চিল]], ''দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার, ভলিউম ওয়ান: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম'' [১৯৪৮] (১৯৫০), পৃষ্ঠা ১৮৯
* বল্ডউইন, স্ট্যানলি … দেশের চেয়ে দলের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, ১৬৯-৭০; ...
** [[উইনস্টন চার্চিল]], "দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার : ভলিউম ১ : দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম" (১৯৪৮) গ্রন্থে নির্ঘণ্ট ভুক্তি
* তিনি মাঝে মাঝে সত্যের কাছে হোঁচট খেতেন। তবে দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে এমনভাবে তাড়াহুড়ো করে চলে যেতেন যেন কিছুই হয়নি।
** [[উইনস্টন চার্চিল]] (আরোপিত), অ্যান্টনি জের ''লেন্ড মি ইওর ইয়ার্স: অক্সফোর্ড ডিকশনারি অব পলিটিক্যাল কোটেশনস'' (২০১০) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৭১
* বল্ডউইন একবারও আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেননি।
** [[এ. জে. কুক]], [[গ্রেট ব্রিটেনের খনি শ্রমিক ফেডারেশন|মাইনরস ফেডারেশন অব গ্রেট ব্রিটেনের]] সাধারণ সম্পাদক (১৯২৫), জি. এম. ইয়াংয়ের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন'' (১৯৫২) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১০২
* [[১৯২৪ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন|১৯২৪ সালের নির্বাচনের]] আগ পর্যন্ত বল্ডউইন "সর্বোচ্চ চরিত্রের অধিকারী একজন মানুষ" হিসেবে সফল হতে পারেননি। সেই সময়ে তার বিজয় এটাই দেখিয়েছিল যে, তার কাজ ছিল নৈতিক, শিল্প, কৃষি, [[উদারনীতিবাদ|উদারনৈতিক]], [[অ্যাংলিকান ধর্মবাদ|অ্যাংলিকান]] ও অ-সনাতনপন্থী প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে একত্রিত করা। তিনি সরলতা, শালীনতা ও স্বল্পভাষিতার এক অসম্পূর্ণ জনোত্তেজক মিশ্রণের মাধ্যমে এই কাজটি করতেন। বল্ডউইন কখনো ক্ষমতা দিয়ে ইতিবাচক কিছু করতে চাইলে [[১৯২৩ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন|১৯২৩ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন]] সম্ভবত তার সেই ইচ্ছাকে নিরাময় করে দিয়েছিল। এরপর গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথেই তিনি এক ধরনের নির্বোধ গ্রামীণ সত্তা আবিষ্কার করেন। পাইপ টানা সাধারণ মানুষের নতুন ভাবমূর্তির মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সাথে দূরত্ব কমানোর লক্ষ্য নিয়েছিলেন। ভোটারদের ভোটদানের পদ্ধতি অন্তত এটুকু প্রমাণ করেছিল যে, "মূলে...কর্মজীবী মানুষেরা [ছিল] ভালো"। তিনি এক পরিমিত নৈতিকতার প্রচার করতেন। এটি "গ্রামের পুরোনো ইংল্যান্ডের...একবারের জন্য হলেও নিজের কিছু ফিরে পাওয়া" না হলেও অন্তত নিজের সুনামকে অন্য অনেকের সুনামের চেয়ে আলাদা করতে পেরেছিল। এদের মধ্যে লম্পট হিসেবে পরিচিত [[হ্যারল্ড হার্মসওয়ার্থ, ১ম ভিসকাউন্ট রদারমিয়ার|রদারমিয়ার]], সিফিলিসে আক্রান্ত [[আলফ্রেড হার্মসওয়ার্থ, ১ম ভিসকাউন্ট নর্থক্লিফ|নর্থক্লিফ]], প্যান্টালুন পরা [[এডওয়ার্ড স্ট্যানলি, ডার্বির ১৭শ আর্ল|ডার্বি]], মাতাল [[এফ. ই. স্মিথ, বার্কেনহেডের ১ম আর্ল|বার্কেনহেড]], অভিযাত্রী [[ম্যাক্স আইটকেন, ১ম ব্যারন বিভারব্রুক|বিভারব্রুক]], কমার্শিয়াল ট্রাভেলার ও নারীদের প্রিয়পাত্র "স্কচ ক্যাড" [[রবার্ট হর্ন, স্লামান্যনের ১ম ভিসকাউন্ট হর্ন|হর্ন]], পকেটমার "ট্যামানি বস" [[আর্চিবল্ড স্যালভিজ|স্যালভিজ]] এবং [[ডেভিড লয়েড জর্জ|লয়েড জর্জের]] নৈতিক ও রাজনৈতিক অশালীনতা উল্লেখযোগ্য। ঠিক বা ভুল যা-ই হোক না কেন, এসব সুনাম তাদের ওপরই বর্তায়। তবে [[রুডইয়ার্ড কিপলিং|কিপলিংয়ের]] পরিবারের "আসল লেখকের" সেই স্নায়বিক কল্পনার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না। তিনি এমন একটি জাতিকে শাসন করার কাজে হাত দিয়েছিলেন যেখানে ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল এবং বার্কেনহেডের তলোয়ার প্রথম ধারালো হওয়ার পর থেকে প্রায় ৮৫ লাখ নারী ভোটাধিকার পেয়েছিল।
** [[মরিস কাউলিং]], ''দ্য ইমপ্যাক্ট অব লেবার, ১৯২০-১৯২৪: দ্য বিগিনিং অব মডার্ন ব্রিটিশ পলিটিক্স'' (১৯৭১), পৃষ্ঠা ৪২১
* বল্ডউইনের পদ্ধতিগুলো বেশ ধীরগতির ছিল। তিনি বিস্তারিত এড়িয়ে চলতেন। সমালোচকেরা বলতেন, তিনি চিন্তা করাটাই এড়িয়ে চলেন। তবে তিনি সে সময়ের প্রধান সমস্যা নিয়ে ভাবতে পিছপা হননি। তিনি ধরে নিয়েছিলেন, "সমাজতন্ত্রীরা বদ্ধপরিকর হলে" সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ [[সমাজতন্ত্র|সমাজতন্ত্রকে]] থামাতে পারবে না। তাই এর পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে।<br>একজন প্রতিক্রিয়াশীল টোরি সদস্য হিসেবে তার এই অর্জন ছিল অসাধারণ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার তৃতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগেই "উচ্চমার্গীয় ও শুষ্ক টোরিবাদ" থেকে তার মুক্তি তাকে অ-রক্ষণশীল সহকর্মীদের কাছে "পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য" করে তোলে। কোনো রাজনীতিবিদই এ ব্যাপারে সন্দেহ করেননি। সব দলেই থাকা "মাগওয়াম্প", "ক্লেরিকল" এবং আন্তরিক ও তাত্ত্বিক "লিবারেলদের" কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্য ছিলেন। অনেক লেবার রাজনীতিকের কাছে তার শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য ও "আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির" এই "খাঁটি ইংরেজ" মিশ্রণ এমন একটি সামাজিক আশ্বাস দিয়েছিল যা অন্য কোনো রক্ষণশীলের পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিল না।<br>শিল্প সম্পদের মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা ও সামাজিক সীমাহীনতা প্রদর্শন করা বল্ডউইনের লক্ষ্য ছিল... "সর্বগ্রাসবাদের বন্য হুমকির" মুখে তার ভাষণগুলো শালীনতা ও আইনের বিবৃতিতে পরিণত হয়। তিনি ইংল্যান্ড ও ইংরেজদের নিয়ে কথা বলতেন। এমনকি "খ্রিস্টধর্মের সহজ ভাষায় কথা বলতেও তিনি দ্বিধা করেননি"।
** [[মরিস কাউলিং]], ''দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিটলার: ব্রিটিশ পলিটিক্স অ্যান্ড ব্রিটিশ পলিসি, ১৯৩৩-১৯৪০'' (১৯৭৫), পৃষ্ঠা ২৫৯
* বল্ডউইন কর্মজীবী শ্রেণির আন্দোলনকে সাধারণ মানুষের সৃষ্টি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এই মানুষেরা অনেকটা তার মতোই ছিলেন এবং মীমাংসার বার্তায় সাড়া দেবেন বলে তিনি মনে করতেন। "বুদ্ধিজীবী" ও "সংবাদমাধ্যমের মালিকদের" দ্বারা বিপথগামী না হওয়া একটি শক্তিশালী, ভদ্র ও সুখী মানুষের অস্তিত্ব বোঝাতে তিনি অনেক সামাজিক নায়কের উদাহরণ তুলে ধরেন। এদের কেউই [[ম্যাক্স আইটকেন, ১ম ব্যারন বিভারব্রুক|বিভারব্রুক]] বা [[ওয়াল্টার লেটন, ১ম ব্যারন লেটন|লেটনের]] মতো ছিলেন না। বরং তারা নানাভাবে সেই গুণাবলিই প্রতিফলিত করতেন, যা ইংরেজরা প্রশংসা করে বলে মনে করা হতো। প্রেক্ষাপটটি প্রাক-শিল্প যুগের ছিল। বল্ডউইনের জীবদ্দশাতেই "গ্রামীণ সমাজ" "বিলুপ্ত" হয়ে গেলেও তার বক্তৃতায় এর গুণাবলির প্রতি প্রশংসা ফুটে উঠত... বল্ডউইন কি কোনো মিথ তৈরি করছিলেন? সম্ভবত না... বল্ডউইন সম্ভবত নিজের কথাগুলো বিশ্বাস করতেন। তার অনুরাগীদের মতো তিনিও ভাবতেন যে তিনি তাদের "জীবনের মৌলিক বিষয়গুলোর" দিকে "ফিরে ডাকছেন"।
** [[মরিস কাউলিং]], ''দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিটলার: ব্রিটিশ পলিটিক্স অ্যান্ড ব্রিটিশ পলিসি, ১৯৩৩-১৯৪০'' (১৯৭৫), পৃষ্ঠা ২৬০
* বল্ডউইনের নৈতিক, সামাজিক ও নান্দনিক বিশ্বাস ছিল। তার একটি ধর্মও ছিল। তবে তার খুব কম বিশ্বাসই রাজনৈতিক ছিল। উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি হতাশাগ্রস্ত ছিলেন এবং এর প্রতি এক ধরনের সহজাত প্রতিরোধ অনুভব করতেন। প্রয়োজনের সময় অনীহা কাটিয়ে উঠতে সফল হলেও তার আগ্রহ মূলত আধ্যাত্মিক ও পরিবেশগত ছিল। প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে তিনি লাঠির চেয়ে জাদুদণ্ড বেশি পছন্দ করতেন।<br>তিনি মূলত একজন "ভদ্র ইংরেজের" অনুভূতি প্রকাশ করতে চাইতেন। কল্পনায় তিনি এই অনুভূতির একটি সংস্করণ নিয়ে বাঁচতেন এবং এগুলো কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে একটি শিক্ষা তৈরি করেছিলেন। এটি করতে গিয়ে তিনি এমন কিছু করেছিলেন যা বিংশ শতাব্দীর অন্য কোনো রাজনীতিবিদ আগে করতে পারেননি। কেবল [[এডওয়ার্ড গ্রে, ফ্যালোডনের ১ম ভিসকাউন্ট গ্রে|গ্রে]] এর ব্যতিক্রম ছিলেন। এটি করার মাধ্যমে তিনি মধ্যম সারির সাহিত্যিক ও গ্রামীণ রুচির অধিকারী পাবলিক-স্কুলের ভদ্রলোকদের রাজনীতির সাথে সাধারণ মানুষের নীরবতার একটি মিল তুলে ধরেন। ১৯৩৫ সালে তিনি লিখেছিলেন, "ইংরেজরা হয়তো নিজেদের পারস্পরিক আনুগত্যকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়। আমরা এটি নিয়ে কথা বলি না। তবে মাঝে মাঝে আমাদের এই সহজাত নীরবতা ভেঙে একে অপরের প্রতি এমন কিছু বলা ভালো, যা অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পর না বলার জন্য আমাদের আক্ষেপ করতে হতে পারে।"
** [[মরিস কাউলিং]], ''দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিটলার: ব্রিটিশ পলিটিক্স অ্যান্ড ব্রিটিশ পলিসি, ১৯৩৩-১৯৪০'' (১৯৭৫), পৃষ্ঠা ২৬০-২৬১
* এমনকি কোনো জনপ্রতিনিধিও নন। কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আর একেবারেই গুরুত্বহীন একজন মানুষ।
** বল্ডউইন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর (প্রায় ২২ মে ১৯২৩) [[জর্জ কার্জন, কেডলেস্টনের ১ম মার্কুয়েস কার্জন|লর্ড কার্জনের]] প্রতিক্রিয়া, হ্যারল্ড নিকলসনের ''কার্জন: দ্য লাস্ট ফেজ, ১৯১৯-১৯২৫: আ স্টাডি ইন পোস্ট-ওয়ার ডিপ্লোমেসি'' (১৯৩৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৫৫
* স্ট্যানলি বল্ডউইন এ দেশের মানুষের অনেক চারিত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন। নিজের দেশ, এর ঐতিহ্য ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ছিল। তবে সর্বোপরি তিনি বিশ্বের সব দুর্যোগ ও ঝড়ের মধ্যেও এর বিচক্ষণতা, অবিচলতা, সাহস ও নেতৃত্বের প্রশংসা করতেন। '''সহনশীলতা ছিল তার সবচেয়ে বড় গুণ। তিনি ঝগড়া-বিবাদ ঘৃণা করতেন এবং সব জাতির মধ্যে একটি ভালো বোঝাপড়া ও সদিচ্ছা তৈরি করতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন।''' ...তিনি সবসময় নিজের বলিষ্ঠ সাধারণ জ্ঞান ও দেশের প্রতি প্রবল ভক্তি দ্বারা পরিচালিত হতেন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী, বন্ধুত্বপূর্ণ বিচারক এবং সর্বোপরি নৈতিক নেতা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে ব্রিটেনের অবস্থান বজায় রাখা ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তার অনেক ভাষণ এতটাই উচ্চমানের ছিল যে, ভালো গদ্যগুলোও ভালো কবিতার মতোই সমান উচ্চতায় পৌঁছে যায়... সেগুলো এতই আদর্শগতভাবে উন্নত ও সুন্দর ভাষায় লেখা ছিল যে, ইতোমধ্যেই সেগুলো ইংরেজি ধ্রুপদী সাহিত্যের সমৃদ্ধ ভান্ডারে যুক্ত হয়েছে। '''তিনি ছিলেন সম্মানের মূর্ত প্রতীক; সৎ, উদার ও বিশ্বস্ত।''' তিনি বিনয়ী ও লাজুক ছিলেন। তবে একবার কারও সাথে বন্ধুত্ব করলে তা কখনো ভঙ্গ হতো না এবং প্রয়োজনের সময় তা সবচেয়ে বেশি উষ্ণ থাকত। আমরা যারা সেই বন্ধুত্ব পেয়ে ভাগ্যবান হয়েছি, তারা সবসময় এটি লালন করব। বিশেষ করে তার নিজের প্রজন্মের চেয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার দয়া ও উৎসাহ আমরা সবসময় স্মরণ করব। '''লর্ড বল্ডউইনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমরা একজন মহান গণতন্ত্রী, একজন সত্যিকারের ইংরেজ এবং শান্তি ও সম্প্রীতির অবিচল প্রেমিককে স্যালুট জানাই।'''
** বল্ডউইনের মৃত্যুর পর হাউজ অব কমন্সে দেওয়া একটি [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1947/dec/15/death-of-earl-baldwin-of-bewdley-kg ভাষণে] (১৫ ডিসেম্বর ১৯৪৭) লিবারেল পার্টির নেতা [[ক্লেমেন্ট ডেভিস]]
* রক্ষণশীল দল বল্ডউইনকে বাদ দিলে তারা তাদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সম্পদ হারাবে... যতদিন বল্ডউইন রক্ষণশীল দলের নেতৃত্ব দেবেন, ততদিন এর "ডানপন্থী" অংশ দলের সিদ্ধান্তে আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না এবং এর উদ্দেশ্যকে সংকুচিত করতে পারবে না। ট্রেড ডিসপুটস বিল এর একটি বড় প্রমাণ... বল্ডউইন নেতা থাকলে রক্ষণশীল দল কখনো কোটিপতি সংবাদপত্র মালিকদের হাতের পুতুল বা বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর লেজুড় হবে না।
** ''দ্য টাইমস'' পত্রিকায় লেখা [[অ্যান্থনি ইডেনের]] চিঠি (৬ অক্টোবর ১৯৩০), পৃষ্ঠা ১৫
* '''স্ট্যানলি বল্ডউইন যদি অন্য সবকিছুর চেয়ে একটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, তবে তা হলো শিল্পক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া।''' এই ক্ষেত্রে অবদান রাখা ছিল তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। আমি মনে করি তিনি তা অর্জনও করেছিলেন। অনেকের হয়তো মনে আছে...হাউজ অব কমন্সে দেওয়া স্ট্যানলি বল্ডউইনের সর্বশেষ ভাষণের কথা। সেটি ছিল ১৯৩৭ সালের ৫ মে। কয়লাখনি এলাকার আলোচনা ভালো চলছিল না। সেখানে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এই হাউজের বিতর্কেও প্রতিফলিত হয়েছিল। স্ট্যানলি বল্ডউইন বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই হাউজের সদস্য হিসেবে এটিই তার শেষ অবদান রাখার সুযোগ। তিনি অত্যন্ত সহজ, আন্তরিক ও সফলভাবে তা করেছিলেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে আমি যখন লর্ড বল্ডউইনের সাথে শেষবার দেখা করি, তখন তিনি আমাকে সেই ভাষণের কথাই বলেছিলেন। আমি নিশ্চিত, তিনি এ ধরনের ভাষণ ও কাজের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকতে চাইবেন। নিঃসন্দেহে এগুলো সামনের কঠিন পরীক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছিল... স্ট্যানলি বল্ডউইন ছিলেন একজন ধৈর্যশীল, সহনশীল ও ব্যাপক মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ। তিনি তার দেশবাসীকে চিনতেন এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যেই বন্ধু খুঁজে পেতেন। শ্রেণিবৈষম্য বা অহংকার তার কাছে ঘৃণ্য ছিল। তিনি প্রতিহিংসা বা আক্রোশ দেখাতে অক্ষম ছিলেন। এমনকি সমালোচকদের সবচেয়ে কঠোর কথার পরও তিনি খুব কমই বিরক্তি প্রকাশ করতেন। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সংযম ও যুক্তিবাদী হয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরা... '''সব দিক থেকেই তিনি ছিলেন একজন খাঁটি ইংরেজ। এমন একজন ইংরেজ, যিনি শিল্পক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং নিজের দেশকে ভালোবেসেছেন।'''
** হাউজ অব কমন্সে দেওয়া একটি [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1947/dec/15/death-of-earl-baldwin-of-bewdley-kg ভাষণে] (১৫ ডিসেম্বর ১৯৪৭) [[অ্যান্থনি ইডেন]]
* ১৯২৩ সালের সংসদে খুব কম সংখ্যক নতুন রক্ষণশীল সদস্য ছিলেন। বল্ডউইন আমাদের যেই উপদেশ দিয়েছিলেন, তা আমার মনে আছে। তিনি লেবার পার্টির সদস্যদের কথা বলতেন, যারা তখন প্রথমবারের মতো নিজেদের দলের সরকারকে সমর্থন দিচ্ছিলেন। সে সময় তাদের বেশিরভাগই ছিলেন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য। তারা কারখানায় বা খনিতে কাজ করে জীবনের বড় একটা সময় কাটিয়েছিলেন। বল্ডউইন বলেছিলেন, "আপনাদের হয়তো শিক্ষার ভালো সুযোগ ছিল। তবে এর জন্য অহংকার করবেন না। বেকারত্ব ভাতা সম্পর্কে তারা আপনাদের চেয়ে বেশি জানেন। সর্বোপরি, তাদের প্রতি কখনো ব্যঙ্গাত্মক আচরণ করবেন না।"
** [[অ্যান্থনি ইডেন]], ''দ্য ইডেন মেমোরিস: ফেসিং দ্য ডিক্টেটরস'' (১৯৬২), পৃষ্ঠা ৫
* র্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের প্রশাসন ও এক বছর পর আসা বল্ডউইনের প্রশাসনে অনেক শিল্প বিরোধ দেখা গিয়েছিল। এটি ১৯২৬ সালের সাধারণ ধর্মঘটের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নেয়। এই জটিল পরিস্থিতি বল্ডউইন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলেছিলেন। পরে রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের সিংহাসন ত্যাগের সময় তিনি যেভাবে ব্রিটিশ জনগণের অনুভূতি বুঝতে পেরে তাদের দ্বিধাহীন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই তিনি এই পরিস্থিতিও সামাল দিয়েছিলেন। সাধারণ ধর্মঘটের পর তিনি কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেননি। এই শতকে অন্য কোনো ব্রিটিশ রাষ্ট্রনায়ক শ্রেণি বিভেদ দূর করতে এত বেশি কাজ করেননি। ডিসরেলির দুই জাতিকে একীভূত করা তার নীতি ছিল। এই সফলতা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। পররাষ্ট্রনীতিতে কিছু ভুল থাকলেও, দেশের ভেতরে তিনি যেই ইতিবাচক রাষ্ট্রনীতি প্রয়োগ করেছিলেন, তা ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করেছিল। ব্রিটিশ জনগণের প্রতি তার বিশ্বাস এবং তাদের কোনো স্বার্থান্বেষী শ্রেণির স্বার্থে পরিচালনা না করার বিষয়ে তার দৃঢ় অবস্থান তরুণ প্রজন্মের অনেককে তার প্রতি আকৃষ্ট করেছিল এবং তাদের বিশ্বস্ততা ধরে রেখেছিল। আমরা ব্রিটিশ সৈন্যদের একসঙ্গে যুদ্ধ করতে ও মরতে দেখেছি। সমাজতন্ত্র ছাড়াই জাতি হিসেবে একসঙ্গে বাঁচা সম্ভব বলে আমরা মনে করতাম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপরই রক্ষণশীল দলে আধিপত্য বিস্তারকারী কঠোর মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিলেন বল্ডউইন। দেশীয় রাজনীতিতে আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তার চরিত্র ও উদ্দেশ্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছিল।
** [[অ্যান্থনি ইডেন]], ''দ্য ইডেন মেমোরিস: ফেসিং দ্য ডিক্টেটরস'' (১৯৬২), পৃষ্ঠা ৫
* তিনি সেই প্রজন্মের মানুষ ছিলেন, যারা মার্ক্সবাদীদের মধ্যে লালের চেয়ে [[শ্বেতাঙ্গ আন্দোলন|সাদা]] বেশি পছন্দ করতেন। তিনি শুধু একজন বিদেশিকে চিনতেন এবং তার একমাত্র স্লোগানকেই ভয় পেতেন ও ভবিষ্যদ্বাণী করতেন। সেই স্লোগানটি ছিল, "দুনিয়ার মজদুর এক হও, হারানোর মতো তোমাদের শৃঙ্খল ছাড়া আর কিছু নেই।" ইংল্যান্ডে সেই ডাক আসার আগেই যাতে কোনো শৃঙ্খল অবশিষ্ট না থাকে, তা নিশ্চিত করা তার প্রধান ভাবনা, এমনকি একধরনের আবেশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি সেই যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন।
** ''টাইম অ্যান্ড টাইড'' (১৫ নভেম্বর ১৯৫২) পত্রিকায় লেখা [[ওয়াল্টার এলিয়ট]], কিথ মিডলমাস ও জন বার্নসের ''বল্ডউইন: আ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৬৯৬
* ব্রিটেনে দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে দুটি ঐতিহ্যবাহী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা হ্রাস পায়। এর একটি হলো [[যুক্তরাজ্যের রাজতন্ত্র|রাজতন্ত্র]] ও অন্যটি হলো [[ব্রিটিশ সেনাবাহিনী|সেনাবাহিনী]]। ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বরে অষ্টম এডওয়ার্ড সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য হন। [[যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন]] এক [[বিবাহবিচ্ছেদ|তালাকপ্রাপ্তা]] নারীকে বিয়ে করার ইচ্ছায় [[যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী|প্রধানমন্ত্রী]] স্ট্যানলি বল্ডউইন তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। বল্ডউইন দাবি করেছিলেন, [[ব্রিটিশ জাতি|ব্রিটিশ জনগণ]] ও ডোমিনিয়নগুলোর সরকারগুলোও তার সাথে একমত। এদিকে ১৯১৯ সালে চালু হওয়া ও ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর নবায়ন করা 'টেন-ইয়ার রুল' অনুযায়ী অন্তত ১০ বছরের মধ্যে কোনো বড় যুদ্ধ হবে না ধরে নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে [[অর্থ|অর্থসংকটে]] রাখা হয়েছিল। তবে [[জাপান সাম্রাজ্য|জাপানে]] ঠিক উল্টোটা ঘটেছিল। সেখানে রাজতন্ত্র ও সেনাবাহিনী উভয়ই বেশি ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিল। [[মহামন্দা|মহামন্দার]] জবাবে জাপানের উত্তর জার্মানির মতো জাতীয় সমাজতন্ত্র ছিল না। বরং সেটি ছিল সাম্রাজ্যিক সামরিকবাদ।
** [[নিয়াল ফার্গুসন]], ''দ্য ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ড: টুয়েন্টিয়েথ-সেঞ্চুরি কনফ্লিক্ট অ্যান্ড দ্য ডিসেন্ট অব দ্য ওয়েস্ট'' (২০০৬), পৃষ্ঠা ২৮৯
* আপনি যতদিন সরকারের প্রধান থাকবেন, ততদিন তা সম্মানের প্রতীক হয়ে থাকবে। যুদ্ধের পর যখন লয়েড জর্জের সরকার দেশে জনজীবনকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলে এবং বিদেশে আমাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, তখন আমি চরম আঘাত পেয়েছিলাম। এরপর থেকে জনসম্মান পুনরুদ্ধারে এটি একটি স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি সর্বদা এর প্রতীক হয়ে থাকবেন।
** বল্ডউইনকে লেখা [[এডওয়ার্ড গ্রে, ফ্যালোডনের ১ম ভিসকাউন্ট গ্রে|এডওয়ার্ড গ্রের]] চিঠি (৫ জানুয়ারি ১৯২৯), জন ক্যাম্পবেলের ''লয়েড জর্জ: দ্য গোট ইন দ্য ওয়াইল্ডারনেস, ১৯২২-১৯৩১'' (১৯৭৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২৪৩
* বল্ডউইন বলেছিলেন যে, রক্ষণশীল নেতার সবচেয়ে কম আনন্দদায়ক দায়িত্বগুলোর মধ্যে একটি হলো [[শ্রমিক শ্রেণি|কর্মজীবী শ্রেণির]] অলসতা নিয়ে এমন লোকদের লেকচার শোনা, যাদের কাছে কঠোর পরিশ্রম বলতে মুখে [[সিগার]] ধরিয়ে ধোঁয়া দিয়ে গোলাপ গাছ থেকে পোকা তাড়ানোর কাজকে বোঝায়।
** [[ডগলাস হার্ড]], ''অ্যান এন্ড টু প্রমিসেস: স্কেচ অব আ গভর্নমেন্ট, ১৯৭০-৭৪'' (১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৮৭
* [ফ্রি চার্চের সদস্যরা] মনে করে যে—আপনার মতো একজন মানুষকে আমরা আমাদের জাতীয় বিষয়ের প্রধান হিসেবে পেয়েছি, যাঁকে আমরা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি। [[উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন|গ্ল্যাডস্টোনের]] প্রতি ফ্রি চার্চের সদস্যদের যে ধরনের বিশ্বাস ছিল, আমার বয়স এখন তা মনে রাখার মতো। আমি সম্ভবত খুব একটা বাড়িয়ে বলছি না যে, তারা আপনার ওপরও ঠিক একই রকম বিশ্বাস স্থাপন করেছেন।
** বল্ডউইনকে লেখা রেভারেন্ড জে. ডি. জোনসের চিঠি (১৯ মে ১৯৩৭), ফিলিপ উইলিয়ামসনের 'দ্য ডকট্রিনাল পলিটিক্স অব স্ট্যানলি বল্ডউইন' থেকে, মাইকেল বেন্টলি সম্পাদিত, ''পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট ডকট্রিন: এসেজ ইন ব্রিটিশ হিস্ট্রি প্রেজেন্টেড টু মরিস কাউলিং'' (১৯৯৩) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২০৭-২০৮
* আমরা বল্ডউইনকে দিয়ে এই গল্পের সত্যতা স্বীকার করিয়েছিলাম যে, ট্রেনের কামরায় এক পুরোনো হ্যারো স্কুলছাত্র বল্ডউইনকে পুরোনো টাই পরা দেখে জিজ্ঞাসা করেছিল: 'আপনি কি আমার সময়ে হ্যারোতে ছিলেন না? এরপর থেকে আপনি কী করছেন?' আর এই ঘটনা ঘটেছিল যখন বল্ডউইন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
** লেডি গ্রিগকে লেখা [[থমাস জোনসের]] চিঠি (১ জুন ১৯৩৫), থমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটার্স, ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১৫০
* প্রথমে বল্ডউইনের চালাক না হওয়ার বিষয়টি মানুষকে আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু তিনি যখন বারবার নিজের বোকামি নিয়ে আবেগপ্রবণ হন, তখন সেই আকর্ষণ নষ্ট হয়ে যায়।
** স্কিডেলস্কি (১৯৯২:২৩২) উদ্ধৃত করে [[জন মেইনার্ড কেইনস|কেইনসের]] ''পেপার্স'' পিএস/৬
* ১৯১৪ সালে...মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে গভীর দ্বন্দ্ব ছিল... আজ আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি... আমি আমার সাথে হাঁটতে থাকা এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলাম, গত কয়েক বছরে কীভাবে এত বড় পরিবর্তন এলো। আমরা এর পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে আপনার একটি ভাষণের কথা মনে করলাম। যখন [[ফ্রেড ম্যাককুইস্টেন]] ট্রেড ইউনিয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন, তখন আপনি হাউজ অব কমন্সে এই ভাষণ দিয়েছিলেন। আপনি বিলটির বিরোধিতা করে ভাষণটি দিয়েছিলেন... আজ সন্ধ্যায় আমার মনে হলো, আপনি আপনার ভাষণে আমাদের সবার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। আপনি বুঝিয়েছেন যে, বিদ্বেষ, তিক্ততা ও শ্রেণি প্রতিদ্বন্দ্বিতা একেবারেই অমূলক। এর বদলে বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব সম্ভব... আমি যোগ করতে চাই, যদিও আজকাল আপনার সাথে আমাদের খুব কমই দেখা হয়, তবুও আপনার নাম প্রায়শই আমাদের মুখে থাকে এবং আপনার চিন্তাভাবনা আমাদের হৃদয়ে থাকে।
** বল্ডউইনের ১৯২৫ সালের "আমাদের সময়ে শান্তি" ভাষণের বিষয়ে বল্ডউইনকে লেখা লেবার পার্টির এমপি [[ডেভিড কার্কউডের]] চিঠি (১৯৩৯), জি. এম. ইয়াংয়ের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন'' (১৯৫২) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৯৫–৯৬
* আমি যখনই তার কথা শুনি, তখনই তিনি আমাকে প্রায় রাজি করিয়ে ফেলেন যে আমার তাঁকে সমর্থন করা উচিত। আমি মনে করি তার ভাষণগুলো আরও অনেক মানুষের ওপর একই রকম প্রভাব ফেলে।
** [[জর্জ ল্যান্সবারি]], [https://api.parliament.uk/historic-hansard/commons/1931/nov/11/business-of-the-house-government-business#S5CV0259P0_19311111_HOC_25 হাউজ অব কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১১ নভেম্বর ১৯৩১)]
* বিশেষ করে আমি যখন আপনার প্রধান ভাষণগুলো পড়ি, তখন আমি প্রায়ই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাই যে, মৌলিক নীতি নয়, বরং ঐতিহ্যই আপনাকে ডানপন্থী শক্তির কাতারে দাঁড় করিয়েছে।
** বল্ডউইনকে লেখা [[হ্যারল্ড লাস্কির]] চিঠি (৬ মার্চ ১৯৩৩), ফিলিপ উইলিয়ামসনের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন: কনজারভেটিভ লিডারশিপ অ্যান্ড ন্যাশনাল ভ্যালুস'' (১৯৯৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৪৬ এবং জি. এম. ইয়াংয়ের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন'' (১৯৫২) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৫৪
* মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবী শ্রেণিকে একই দিকে ভোট দেওয়ানোর ক্ষেত্রে তার মতো দক্ষ আর কেউ ছিল না।
** লেডি স্যালিসবারিকে লেখা [[ভিক্টর হোপ, ২য় মার্কুয়েস অব লিনলিথগো|লিনলিথগোর মার্কুয়েসের]] চিঠি (১৬ জুন ১৯৩৬), ফিলিপ উইলিয়ামসনের 'দ্য ডকট্রিনাল পলিটিক্স অব স্ট্যানলি বল্ডউইন' থেকে, মাইকেল বেন্টলি সম্পাদিত, ''পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট ডকট্রিন: এসেজ ইন ব্রিটিশ হিস্ট্রি প্রেজেন্টেড টু মরিস কাউলিং'' (১৯৯৩) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২০৪
* বল্ডউইন এখনও আমাকে বিভ্রান্ত করেন। তার যথেষ্ট যোগ্যতা থাকার কথা। সেইসাথে তার মধ্যে এক ধরনের বেপরোয়া ভাবও আছে, যা সাহসের মতো মনে হয়। তবে তার নিশ্চিতভাবেই বিচারবুদ্ধি, পরিশ্রম, উদ্দীপনা, উদ্যোগ ও সম্পদের সদ্ব্যবহারের অভাব রয়েছে। এই গুণাবলি ছাড়া কোনো মানুষই জাতিকে বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে না। তিনি হয় সাধারণ মানুষের চিন্তার বাইরের কোনো বড় উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা একজন মহান মানুষ, নয়তো তিনি আস্ত একজন বোকা। তার মধ্যে একজন প্রতারকের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে—বলতে গেলে অনেকগুলোই। তার এক অস্বাভাবিক অহংকার রয়েছে। এটি তাকে বোঝায় এবং ফলস্বরূপ অন্যদেরও বোঝায় যে, তিনি তার চারপাশের বা আগের মানুষের চেয়ে অনেক উন্নত। তিনি যদি সফল হন, তবে অগণিত ভক্ত তাকে পূজনীয় আসনে বসাবে এবং তার আসল রূপ প্রকাশ পেতে অনেক সময় লাগতে পারে।
** [[ফ্রান্সেস স্টিভেনসনকে]] লেখা [[ডেভিড লয়েড জর্জ|ডেভিড লয়েড জর্জের]] চিঠি (২০ আগস্ট ১৯২৫), এ. জে. পি. টেইলর সম্পাদিত ''মাই ডার্লিং পুসি: দ্য লেটার্স অব লয়েড জর্জ অ্যান্ড ফ্রান্সেস স্টিভেনসন, ১৯১৩-৪১'' (১৯৭৫) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৯৭
* বল্ডউইন অনেকটা নমনীয় ও কথা বলতে ভালোবাসেন এমন একজন [[ক্যালভিন কুলিজ|কুলিজের]] মতো। তার মধ্যে অনেক গুণ আছে যা সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করে। তিনি কোনোভাবেই অসাধারণ নন। তবে তার অনেক ভাষণে তিনি যেই অনুভূতিগুলো সহজে ও চমৎকারভাবে প্রকাশ করেন, তা সাধারণ ব্রিটিশদের কাছে সাধারণ জ্ঞান বলে মনে হয়। কিন্তু তার কোনো উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতা নেই। তার উদ্দেশ্যের সুস্পষ্টতা ও দৃঢ়তার অভাব রয়েছে। [[যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি|মার্কিন রাষ্ট্রপতির]] সাথে তার পার্থক্য হলো, তিনি একেবারেই পরিশ্রমী নন এবং নিজের সমস্যা সমাধানের কোনো চেষ্টাই করেন না। তার স্বভাব বেশ অমায়িক ও দয়ালু। উপায় জানা থাকলে তিনি সব মানুষের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পছন্দ করতেন। কিন্তু তিনি কোনো কাজেই কষ্ট করতে চাননি। ফলে আইন প্রণয়ন বা প্রশাসন পরিচালনা—কোনো ক্ষেত্রেই তার নিজের কোনো কৃতিত্ব নেই।
** [[ডেভিড লয়েড জর্জ|ডেভিড লয়েড জর্জ]], সংবাদপত্রের প্রবন্ধ (১৩ এপ্রিল ১৯২৭), জন ক্যাম্পবেলের ''লয়েড জর্জ: দ্য গোট ইন দ্য ওয়াইল্ডারনেস, ১৯২২-১৯৩১'' (১৯৭৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১৬৭
* একজন সৎ ও সম্মানজনক ইংরেজ।
** ১৯২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণার সময় (অক্টোবর ১৯২৪) লেবার পার্টির এমপি [[উইলিয়াম লুনের]] মন্তব্য, জন রামসডেনের ''আ হিস্ট্রি অব দ্য কনজারভেটিভ পার্টি: দ্য এজ অব বেলফোর অ্যান্ড বল্ডউইন, ১৯০২-১৯৪০'' (১৯৭৮) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২০৩
* মৌলিক সব দিক থেকেই স্ট্যানলি বল্ডউইনের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সাথে খুব মিলে যায়।
** [[র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড]], ১৯২৩।
* [বল্ডউইন হলেন] একজন খাঁটি ইউটোপিয়ান। [তিনি] ডিসরেলির মতবাদকে [একটি] ভাঁওতাবাজি থেকে...একটি আনন্দদায়ক ও সৎ অনুভূতিতে পরিণত করেছেন।
** [[র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড]], ডায়েরি (১৮ মে ১৯২৫), ফিলিপ উইলিয়ামসনের 'দ্য ডকট্রিনাল পলিটিক্স অব স্ট্যানলি বল্ডউইন' থেকে, মাইকেল বেন্টলি সম্পাদিত, ''পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট ডকট্রিন: এসেজ ইন ব্রিটিশ হিস্ট্রি প্রেজেন্টেড টু মরিস কাউলিং'' (১৯৯৩) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২০৩
* বল্ডউইনকে...নিঃসন্দেহে হাউজের সব প্রান্তের সদস্যরাই এক ধরনের স্নেহের চোখে দেখতেন। তার দলের তরুণ ও প্রগতিশীল অংশের তার প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা ছিল। বিশেষ করে শিল্প সমস্যা নিয়ে তার ভাষণগুলোতে আমরা যেমনটি আশা করতাম, ঠিক তেমনই নিখুঁত ও শিক্ষণীয় হতো। ডানপন্থী ও বিশেষ করে তথাকথিত "শিল্পপতিরা" তাঁকে খুব একটা পছন্দ না করার কারণে তার প্রতি আমাদের অনুভূতি আরও দৃঢ় হতো... সেই শুরুর দিনগুলোতে আমি তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবে চিনতাম, যিনি আমাদের এক বিশাল নির্বাচনী বিজয় এনে দিয়েছিলেন। নিজের শালীনতা ও নিরপেক্ষতার সুনামের কারণে তিনি সারা দেশে কর্মজীবী নারী-পুরুষের সমর্থন আদায় করা সম্ভব করে তুলেছিলেন।
** [[হ্যারল্ড ম্যাকমিলান]], ''উইন্ডস অব চেঞ্জ, ১৯১৪-১৯৩৯'' (১৯৬৬), পৃষ্ঠা ১৬৯-১৭০
* আগের নির্বাচনে বল্ডউইনের রেডিও সম্প্রচার...সব শ্রোতার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। রেডিও সম্প্রচার...প্রথমবারের মতো ১৯২৪ সালে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল... বল্ডউইন একটি পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন—যাকে পরবর্তীতে [[ফ্র্যাংকলিন ডি. রুজভেল্ট|প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট]] "ফায়ারসাইড চ্যাট" হিসেবে পূর্ণতা দিয়েছিলেন। তিনি সহজ, স্পষ্ট ও পরিমিত ছিলেন। তিনি মনে হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রেখেছিলেন যে, রেডিও ভাষণে...শ্রোতারা নিজ বাড়িতে বসে থাকা মাত্র দু-তিনজন মানুষ। তারা ভাষণ নয়, বরং কথাবার্তা শুনতে চায়... [[১৯২৬ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ ধর্মঘট|সাধারণ ধর্মঘটের]] সময় তার প্রজ্ঞা ও সহানুভূতি আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। যেমনটি করেছিল এর আগের বছর পলিটিক্যাল লেভি বিলে তার বিখ্যাত ভাষণ... তিনি "বুদ্ধিজীবীদের" অপছন্দ করার ভান করতেন। কিন্তু এটি উচ্চ মেধার অধিকারীদের একটি সাধারণ ভান। বল্ডউইন অবশ্যই একজন রূঢ় গ্রামবাসীর চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল শিল্পী ছিলেন। কারণ তিনি অর্ধেক কেল্টিক ছিলেন... এমনকি সবচেয়ে সাধারণ পর্যবেক্ষকের কাছেও এটি স্পষ্ট ছিল যে, বল্ডউইন সংকটের সময় নিজের সেরাটা দিতে পারতেন। এর পরপরই তার বিশ্রাম ও সুস্থ হওয়ার প্রয়োজন হতো। তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্নায়বিক ছিলেন। দলের লোকজন তার যেই ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল, তিনি প্রায় সব দিক থেকেই তার বিপরীত ছিলেন। লর্ড লিভারপুল সম্পর্কে বলা হতো, তার নীতির রহস্য হলো, তার কোনো নীতিই নেই। বল্ডউইনের ক্ষেত্রেও এটি অনেকাংশে সত্যি ছিল। রক্ষণশীলতা, "সুরক্ষা", প্রতিরক্ষা এবং সর্বোপরি ইউরোপীয় সমস্যা তাকে খুব একটা উত্তেজিত করত না। তিনি কোনো মহান প্রশাসক ছিলেন না। তিনি একটি প্রভাব ছিলেন এবং মঙ্গলের জন্য প্রভাব ছিলেন। বিরোধী লেবার পার্টির শ্রদ্ধা ও স্নেহ অর্জন করাটা আমাদের নেতার প্রতি আমাদের প্রশংসাকে আরও মজবুত করেছিল।
** [[হ্যারল্ড ম্যাকমিলান]], ''উইন্ডস অব চেঞ্জ, ১৯১৪-১৯৩৯'' (১৯৬৬), পৃষ্ঠা ১৭০-১৭২
* তার...উদ্দেশ্য ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জাতি যেই বিপজ্জনক বিভাজনের মুখে পড়েছিল, তা দূর করতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। তাই তিনি সুকৌশলে পরিমিতিবোধের মাধ্যমে দলের ঊর্ধ্বে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন। বল্ডউইন হাউজ অব কমন্সের [[লেবার পার্টি (যুক্তরাজ্য)|লেবার]] সদস্যদের প্রলুব্ধ করে তাদের আস্থা অর্জন করেছিলেন। তার পুরো দর্শন তাঁকে এই বিশ্বাস দিয়েছিল যে, লেবার পার্টিকে গণতন্ত্রের জন্য নিরাপদ করা এবং তাদের বিপ্লবী পদ্ধতি থেকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফিরিয়ে আনা তার অন্যতম প্রধান কাজ। তিনি এও জানতেন যে, ভোটারদের সেই কেন্দ্রীয় অংশের সমর্থন না পেলে কনজারভেটিভ পার্টির কোনো ভবিষ্যৎ নেই... তাই ডানপন্থীদের নয়, বরং কনজারভেটিভ পার্টির মধ্য ও বামপন্থীদেরই দলের নীতি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এই মানসিকতা ও পদ্ধতিতে শ্রেণিসংগ্রাম ও স্থূল মতাদর্শ ধীরে ধীরে প্রশমিত হবে। ব্যাপক বেকারত্বের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভোগ ও অসন্তোষ যে বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক আন্দোলনে রূপ নেয়নি, তা আংশিকভাবে তার দৃষ্টান্ত ও বোঝাপড়ার কারণেই সম্ভব হয়েছিল।
** [[হ্যারল্ড ম্যাকমিলান]], ''উইন্ডস অব চেঞ্জ, ১৯১৪-১৯৩৯'' (১৯৬৬), পৃষ্ঠা ৫১৫-৫১৬
* বল্ডউইন হয়তো জাতির অন্তর্নিহিত ঐক্য বজায় রাখা ও জোরদার করার গুরুত্বপূর্ণ কাজে সফল হয়েছিলেন, যার ওপর জাতির চূড়ান্ত শক্তি নির্ভর করে। কিন্তু একজন প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ দায়িত্ব—সম্মানজনক শান্তি বজায় রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্রিটেনকে তার উপযুক্ত ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত রাখা—সেক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি তার উত্তরসূরির জন্য পররাষ্ট্র পরিস্থিতি এবং ব্রিটেনের আসন্ন বিপদ মোকাবিলার ক্ষমতার ক্ষেত্রে এক শুষ্ক ও অনুর্বর উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছিলেন। যদিও মানবিক অনুভূতির দিক থেকে তিনি এমন এক দেশ রেখে গিয়েছিলেন, যেখানে দয়া ও শালীনতা তখনও বিরাজমান ছিল। আর যখন পরীক্ষার সময় এসেছিল, তখন এ দেশের নারী-পুরুষেরা সেই পরিস্থিতির যোগ্য জবাব দেওয়ার মতো মনোবল দেখিয়েছিল।
** [[হ্যারল্ড ম্যাকমিলান]], ''উইন্ডস অব চেঞ্জ, ১৯১৪-১৯৩৯'' (১৯৬৬), পৃষ্ঠা ৫১৭
* '''স্ট্যানলি বল্ডউইন একজন সফল প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কারণ প্রত্যেক সাধারণ ইংরেজ জানত যে তিনি তাদের সংস্কারগুলো শেয়ার করেন এবং তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেন।'''
** [[কিংসলে মার্টিন]], ''এডিটর। আ সেকেন্ড ভলিউম অব অটোবায়োগ্রাফি। ১৯৩১-৪৫'' (১৯৬৮), পৃষ্ঠা ২১
* তিনি সবসময় ধীরগতিতে চলতেন। সব কাজেই দেরি করতেন। তবে সহজাতভাবেই তিনি খুব চতুর ছিলেন। তিনি সবাইকে বিভ্রান্ত করতেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের মেজাজে খুব দ্রুত সাড়া দিতেন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছ থেকে আমি জেনেছিলাম, যুদ্ধের ভয়ই সবসময় তার নীতি বা নীতিহীনতার প্রধান কারণ ছিল... চেম্বারলেইনের মতো তিনিও জানতেন, পুনরায় অস্ত্রশস্ত্র মজুত করা হলো আরেকটি জার্মান যুদ্ধের প্রথম ধাপ। তাই তার [[ডানপন্থী রাজনীতি|ডানপন্থী]] সমালোচকদের তোলা অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ছিল না। তারা অভিযোগ করতেন যে, ব্রিটেনকে শক্তিশালী মিত্র ছাড়া সাম্রাজ্য রক্ষায় সাধারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তিনি ও ম্যাকডোনাল্ড বাধা দিয়েছিলেন। বল্ডউইন কখনোই সাম্রাজ্যবাদী ছিলেন না। একই সময়ে, তিনি নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনকে বাস্তবায়ন করতে কিছুই করেননি। বরং বিকল্প যৌথ নিরাপত্তা নীতি ধ্বংস করতে সব চেষ্টাই করেছিলেন। যুদ্ধের প্রতি তার ভয় ও ঘৃণা পুরোপুরি আন্তরিক ছিল। তিনি তার বিখ্যাত 'দ্য-বোম্বার-উইল-অলওয়েজ-গেট-থ্রু' ভাষণটি শেষ করেছিলেন তরুণদের কাছে এমন ভয়াবহতা প্রতিরোধের এক আন্তরিক আবেদন জানিয়ে... বল্ডউইনের চাবিকাঠি কী ছিল?...এটি ছিল ওরচেস্টারশায়ারের গ্রামাঞ্চল ও [[মেরি ওয়েব|মেরি ওয়েবের]] সাহিত্যকর্ম। মেরি ওয়েব ছিলেন একজন সহৃদয় জনপ্রিয় গ্রামীণ জীবনের লেখক। তার চাচাতো ভাই [[রুডইয়ার্ড কিপলিং|রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের]] ধারণা ও মূল্যবোধ তাঁকে আকর্ষণ করেনি। সংক্ষেপে, তিনি একজন 'লিটল ইংল্যান্ডার' ছিলেন। তিনি বিদেশিদের অপছন্দ করতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে [[ইংল্যান্ড]] আর একটি যুদ্ধ সহ্য করতে পারবে না। লিগের মতো বড় ধারণাগুলো বিপজ্জনক। তবে ব্রিটিশ জনগণ তাদের স্বার্থ চরমভাবে বিপন্ন হলে যুদ্ধ করবে। হিটলারের বিরুদ্ধে তাদের হয়তো অস্ত্র ধারণ করতে হবে। যদিও সাম্রাজ্যের প্রতি তার খুব একটা আগ্রহ ছিল না, কিন্তু অনেকেই উপনিবেশগুলো জার্মানিকে ফিরিয়ে দেওয়ার যেই কথা বলছিল, তিনি তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে মনে করতেন... তিনি একটি কনভেয়র বেল্টে নির্মমভাবে বাঁধা যান্ত্রিক গতির সভ্যতার ভয়াবহ পরিণতির সাথে গ্রামাঞ্চলের...শান্ত, প্রাচীন জীবনের একটি পার্থক্য তুলে ধরতেন... তিনি দয়ালু, সহানুভূতিশীল ও একজন বন্ধুত্বপূর্ণ গ্রামের ভদ্রলোকের দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী ছিলেন। তিনি কিপলিংয়ের মতো ছিলেন না এবং অবশ্যই [[ব্রিটিশ শিল্পপতি ফেডারেশন|ব্রিটিশ শিল্পপতি ফেডারেশনের]] মতো তো নয়ই... একটি জোট সরকার পরিচালনার সঠিক গুণাবলি তার মধ্যে ছিল। '''তিনি একজন রক্ষণশীলের মতো কাজ করতেন, লিবারেলদের মতো কথা বলতেন এবং কথায় ও কাজে সবসময়ই বিশাল ব্রিটিশ মধ্যবিত্ত শ্রেণির সত্যিকারের প্রতিনিধি ছিলেন।'''
** কিংসলে মার্টিন, ''এডিটর। আ সেকেন্ড ভলিউম অব অটোবায়োগ্রাফি। ১৯৩১-৪৫'' (১৯৬৮), পৃষ্ঠা ১৯১-১৯৯
* গত সত্তর বছরে আর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে স্ট্যানলি বল্ডউইনের মতো এত কঠোরভাবে একপেশে ছাঁচে ফেলা হয়নি। সমসাময়িকদের প্রাথমিক মূল্যায়নের পর আর কাউকেই এত বেশি অবহেলা করা হয়নি।
** [[কিথ মিডলমাস]]
* সমসাময়িক ইতিহাসবিদদের কাছে বল্ডউইন হলেন একজন ভালো মানুষ, একজন আদর্শবাদী এবং একজন সম্মানিত ভদ্রলোক। এই ভূমিকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি যোগ্যতাই তার মধ্যে রয়েছে। আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, তিনি আমাদের সময়ের একমাত্র রাজনীতিবিদ, যিনি সততার সাথে দলের চেয়ে নিজেকে এবং দলের চেয়ে দেশকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন...আমরা [[আর্থার বেলফোর|লর্ড বেলফোরের]] অবিচল আদর্শবাদ, কর্মজীবী মানুষের প্রতি [[এইচ. এইচ. অ্যাসকুইথ|লর্ড অক্সফোর্ডের]] গভীর আগ্রহ বা ক্ষমতার প্রতি [[ডেভিড লয়েড জর্জ|লয়েড জর্জের]] নিঃস্বার্থ উদাসীনতা—কোনোটিই ভুলে যাইনি। তবু আমরা বলি, অন্য কোনো নেতার অধীনে ইংল্যান্ড সাধারণ ধর্মঘট এত ভালোভাবে পার করতে পারত না। তিনি আমাদের বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, শুধু চালাকিই যথেষ্ট নয়...একজন রাজনীতিবিদকে 'ভালো মানুষ' হিসেবে ডাকার সাথে আমরা এতই অপরিচিত যে, আপাতত আমরা বল্ডউইনকে শুধু প্রশংসায় ভাসাতে চাই। কিন্তু এটি বেশি দিন স্থায়ী হবে না। এমন সময় আসবে যখন আমরা ব্যবহারের জন্য অন্য কোনো অস্ত্র খুঁজব।
** [[এ. এ. মিলনে]], ''বাই ওয়ে অব ইন্ট্রোডাকশন'' (১৯২৯), পৃষ্ঠা ৬৪, ৬৮-৬৯
* বল্ডউইন নির্বাচনে দলের হারের ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে যুদ্ধে দেশ হারানোর ঝুঁকি বেশি নিতেন। তিনি নিজের নিম্নমানের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে ব্রিটেনের জীবন নিয়ে রাজনীতি করেছেন। তার অলস ভীরুতা সবসময় যেকোনো মূল্যে ঝামেলা এড়াতে চাইত। ফলে তিনি তার দেশের নীতি হিসেবে বর্তমান শিল্প কাঠামো রেখে গেছেন। বল্ডউইন থাকা সত্ত্বেও পরাজয়ের ভাগ্য এড়ানো গিয়েছিল, কিন্তু বল্ডউইন যুগের পরিণাম এখনো আমাদের দেশকে তাড়া করে।
** [[অসওয়াল্ড মোসলি]], ''মাই লাইফ'' (১৯৬৮), পৃষ্ঠা ৩৮০
* তাঁকে অন্তত স্টাফড শার্ট বা দাম্ভিক বলেও সম্মান দেওয়া যায় না। তিনি শুধু বাতাসের একটি গর্ত ছিলেন।
** [[জর্জ অরওয়েল]], [http://www.k-1.com/Orwell/index.cgi/work/essays/lionunicorn.html ''দ্য লায়ন অ্যান্ড দ্য ইউনিকর্ন'' (১৯৪১) পার্ট ১ : ইংল্যান্ড ইওর ইংল্যান্ড] গ্রন্থে
* আমি তাঁকে ফিসফিস করে বলেছিলাম, "মিসেস বল্ডউইন, আপনি তো ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন।" তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "অবশ্যই করি। আপনাকে একটি কথা বলতে চাই, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা দুজন একসাথে ঈশ্বরের কাছে নতজানু হই। দিনটি তার কাছে সমর্পণ করি। আমরা প্রার্থনা করি যেন আজ আমরা কোনো ভালো কাজ করতে পারি। আমরা নিজেদের জন্য নয়, বরং দেশ ও ঈশ্বরের জন্য কাজ করছি। নইলে আমরা কীভাবে বাঁচতাম?" তিনি আমার দিকে আন্তরিক ও স্বাভাবিকভাবে তাকিয়েছিলেন। আমি তাদের জীবন সম্পর্কে সরল ও গভীর উপলব্ধি বুঝতে পেরেছিলাম।
** [[এরিক পামস্টিয়র্না]], ''আটস্কিলিজিয়া এগেনহেটার'' (১৯৫০), পৃষ্ঠা ৭, থমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটার্স, ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪) গ্রন্থে অনূদিত, পৃষ্ঠা xxxiv
* বল্ডউইনের যেকোনো সমালোচনাই ঈশ্বরনিন্দার মতো মনে হতো।
** [[স্যার চার্লস পেট্রি, ৩য় ব্যারোনেট|চার্লস পেট্রি]], ''টুয়েন্টি ইয়ারস আর্মিসটিস—অ্যান্ড আফটার: ব্রিটিশ ফরেন পলিসি সিন্স ১৯১৮'' (১৯৪০), পৃষ্ঠা ১১৭
* সব দলের মানুষই তার সাথে দেখা করতে আসত, বিশেষ করে লেবার পার্টির লোকেরা। তাদের অনেককেই তিনি পছন্দ করতেন। আমি নিশ্চিত, বল্ডউইনের সাথে পরিচিত হয়ে কেউ তাঁকে অপছন্দ করতে পারবে না। এমনকি তাঁকে ভালো না বেসেও থাকতে পারবে না।
** ১৯৩৮ সালে স্ট্যানলি বল্ডউইনকে নিয়ে লেখা [[জে. ডব্লিউ. রবার্টসন স্কটের]] মন্তব্য।
* ঠিক সাত বছর আগে আমি দেশে একটি সংবাদ পাঠিয়েছিলাম। সেখানে আমি ''[[মাইন কাম্ফ|মাইন কাম্ফের]]'' সব অশুভ অংশের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছিলাম। আমি সামরিকবাদের পুনরুত্থানের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম, যার পরিণতি হতে পারে একমাত্র যুদ্ধ। যাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তাদের সবার জন্যই এটি একটি চিন্তার বিষয় ছিল। ''মাইন কাম্ফ'' ডেসপ্যাচ নামে পরিচিত এই সংবাদটি বেশ সাড়া ফেললেও পরবর্তীতে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। [[র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড|ম্যাকডোনাল্ড]] বা বল্ডউইন—কেউই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চাননি। প্রথমজন মারা গেছেন, আর দ্বিতীয়জন সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। বর্তমান মন্ত্রীদের কয়েকজনও এর জন্য দায়ী। সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট বা নিরস্ত্রীকরণের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বল্ডউইন ও তার সঙ্গীরা আক্ষরিক অর্থেই সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে জুয়া খেলেছেন, যা ছিল ক্ষমার অযোগ্য। [[রাইনল্যান্ডের পুনঃসামরিকীকরণ|রাইনল্যান্ড পুনঃদখলের]] পর আমাদের সরকারের দ্রুত পুনরায় সামরিকীকরণ শুরু করা উচিত ছিল। এটি দেখিয়েছিল যে, [[অ্যাডলফ হিটলার|হিটলার]] আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে কী ভাবেন। আপনি হয়তো বলবেন, দেশের মানুষ পুনরায় সামরিকীকরণ সমর্থন করত না। তাহলে একটি সরকারের কাজ কী? যেকোনো মূল্যে নিজেকে ও নিজের দলকে ক্ষমতায় রাখা, নাকি প্রয়োজনে দেশকে অপ্রিয় সত্য কথা বলা? পুনরায় সামরিকীকরণ ইস্যুতে বল্ডউইন পদত্যাগ করলে, এমন বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি সরকারের পদত্যাগ দেশের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলত।
** [[নেভিল হেন্ডারসনকে]] লেখা [[স্যার হোরেস রামবোল্ড, ৯ম ব্যারোনেট|হোরেস রামবোল্ডের]] চিঠি (১৫ এপ্রিল ১৯৪০), মার্টিন গিলবার্টের ''স্যার হোরেস রামবোল্ড: পোর্ট্রেট অব আ ডিপ্লোম্যাট, ১৮৬৯-১৯৪১'' (১৯৭৩) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪৯
* বল্ডউইন নিঃসন্দেহে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন... যখন [[জার্মানির পুনঃসামরিকীকরণ|জার্মানির সামরিক প্রস্তুতি]] এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তার জবাবে একটি জাতীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি ছিল, তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি তার চোখের সামনের প্রমাণগুলো দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন। যখন প্রমাণগুলো আর উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না, তখনও তিনি গড়িমসি করেছিলেন। তিনি ভোটারদের বিরোধিতার ভয় পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নীতি ঘোষণা করে জনগণের ইচ্ছা যাচাই করেননি বা বিপদের কথা জানিয়ে তাদের পথপ্রদর্শনও করেননি। তিনি দেশবাসীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় রেখেই পদত্যাগ করেছিলেন। এমনকি প্রস্তুত করার কোনো প্রস্তুতিও তিনি নেননি... [[নাৎসিদের ক্ষমতা দখল|১৯৩৩ সালের জানুয়ারিতে]] শুরু হওয়া ঐতিহাসিক সময়েই কাজ করার অনিয়মিত ইচ্ছা ও অপছন্দের কাজ করার প্রতি অনীহার মতো তার এই ত্রুটিগুলো সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে, যা একটি বড় জাতীয় বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। তিনি কাছাকাছি থাকা কোনো শক্তির সাথে বিমান সক্ষমতার সমতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাতির ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রশমিত করেছিলেন। কিন্তু তিনি এটি বাস্তবায়নে কিছুই করেননি। একজন প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বিস্ময়কর স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেছিলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য তিনি যেই নীতি প্রয়োজন মনে করেছিলেন, তিনি তা প্রস্তাব করা থেকে বিরত ছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে জনগণ তা মেনে নেবে না। অথচ তিনি এই জনগণকে শুধু নির্দেশনাই দেননি, বরং তাদের এক বোকার স্বর্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। দূরদৃষ্টির অভাব বা পরিস্থিতি বিচার করার অক্ষমতা, এমনকি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাজ না করতে পারা তার পতনের কারণ ছিল না। বরং তার ইচ্ছাশক্তির বারবার আসা অলসতাই তার এবং আমাদের পতনের কারণ ছিল।
** [[আর্থার সল্টার, ১ম ব্যারন সল্টার|আর্থার সল্টার]], ''সিকিউরিটি: ক্যান উই রিট্রিভ ইট?'' (১৯৩৯), পৃষ্ঠা ১৯৪, ১৯৭-১৯৮
* সেভয় হোটেলে [[ইয়ান মাটস|মাটসের]] সাথে সকালের নাশতা করলাম... আমি তাঁকে বল্ডউইন সম্পর্কে জানতে চাইলাম, যিনি তখন কিছুটা অজানা ছিলেন। তিনি কি শক্তিশালী এবং যোগ্য? মাটস এই দুই বিষয়েই কিছুটা মিশ্র মত দিলেন। তিনি বলেছিলেন, বল্ডউইন একজন চমৎকার মানুষ এবং আন্তরিক ও সৎ। তবে তার বিচারবুদ্ধি ও উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করতেন।
** [[সি. পি. স্কট]], ডায়েরি (২৭ অক্টোবর ১৯২৩), ট্রেভর উইলসন সম্পাদিত ''দ্য পলিটিক্যাল ডায়েরিজ অব সি. পি. স্কট, ১৯১১-১৯২৮'' (১৯৭০) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৪৬
* অ্যাথেনিয়ামে [[র্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের]] সাথে দুপুরের খাবার খেলাম... সরকার দেশের মানুষের কাছে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এটি স্মৃতিতে থাকা সবচেয়ে দুর্বল ও বোকা সরকার এবং দেশের জন্য সত্যিকারের এক কলঙ্ক... বেচারা বল্ডউইন সম্পর্কে বলতে গেলে, আমি সেদিন তার সাথে কোনো একটি বিষয়ে কথা বলছিলাম এবং তিনি পুরোপুরি বিভ্রান্ত ছিলেন... তিনি এক অসাধারণ ব্যর্থতা। তিনি কী করতে চান তা জানেন না এবং জানলেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষমতা তার নেই। স্মৃতিতে থাকা সবচেয়ে দুর্বল প্রধানমন্ত্রী।
** [[সি. পি. স্কট]], ডায়েরি (২৩ জুলাই ১৯২৭), ট্রেভর উইলসন সম্পাদিত ''দ্য পলিটিক্যাল ডায়েরিজ অব সি. পি. স্কট, ১৯১১-১৯২৮'' (১৯৭০) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৪৮৯-৪৯০
* দলের নেতা হিসেবে মাননীয় বেউডলি সদস্য ছিলেন '''একজন উদার ও সাহসী প্রতিপক্ষ। হাউজের নেতা হিসেবে আমরা জানতাম যে এর সম্মান ও মর্যাদা তার হাতে নিরাপদ। যতদিন এ দেশে মনের বিশালতা এবং মানবিক সহানুভূতি ও বোঝাপড়ার মতো গুণাবলি সম্মানিত হবে, ততদিন তিনি আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।''' ...মাননীয় বেউডলি সদস্য এই হাউজ থেকে অন্য একটি স্থানে যাচ্ছেন। তার সুস্বাস্থ্য ও শক্তির জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাসী শুভকামনা তার সাথে থাকবে। বিরোধী দলের নেতার মতো আমরাও নিশ্চিত যে, তিনি তার অবসর ও বিশ্রাম উপভোগ করবেন। পাশাপাশি তিনি জাতির বিষয়ে আরও অনেক বড় ভূমিকা পালন করবেন।
** বল্ডউইনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অবসরের পর হাউজ অব কমন্সে দেওয়া একটি [http://hansard.millbanksystems.com/commons/1937/may/31/welcome-to-new-prime-minister ভাষণে] (৩১ মে ১৯৩৭) লিবারেল পার্টির নেতা [[আর্চিবল্ড সিনক্লেয়ার, ১ম ভিসকাউন্ট থারসো|আর্চিবল্ড সিনক্লেয়ার]]
* [বল্ডউইন হলেন] একজন সৎ ও ভদ্র মানুষ। রক্ষণশীলদের সাথে প্রতিটি বিষয়ে আমার দ্বিমত থাকলেও...আমি তাদের মূলত সম্মানজনক মানুষ হিসেবেই দেখেছি, যারা অন্তত নিজেদের মতামতের প্রতি অবিচল ছিলেন।
** ১৯২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণার সময় (অক্টোবর ১৯২৪) লেবার পার্টির এমপি [[হেনরি স্লেসারের]] মন্তব্য, জন রামসডেনের ''আ হিস্ট্রি অব দ্য কনজারভেটিভ পার্টি: দ্য এজ অব বেলফোর অ্যান্ড বল্ডউইন, ১৯০২-১৯৪০'' (১৯৭৮) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২০৩
* হাউজের আমাদের পক্ষে স্ট্যানলি বল্ডউইনের কোনো শত্রু ছিল না এবং আমাদের সব সদস্য তাঁকে বিশ্বাস করতেন। টোরি পার্টির নেতা হিসেবে তার দুর্বলতা ছিল এই যে, তিনি রাজনৈতিক নিচতা দেখাতে অক্ষম ছিলেন। তিনি কখনো সস্তা অভিযোগ করতেন না বা নোংরা আঘাত হানতেন না। তিনি যদি খুব কমই উচ্চমার্গীয় বক্তব্য বা বড় অর্জনের শিখরে পৌঁছে থাকেন, তবে তিনি কখনোই কোনোটিতে সাধারণ স্তরে নেমে আসেননি। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, বন্ধুত্বপূর্ণ ও দৃঢ়। তার মধ্যে কোনো চালাকি বা বাড়াবাড়ি ছিল না। সবাই তাঁকে পছন্দ করত।
** [[হ্যারি স্নেল, ১ম ব্যারন স্নেল|হেনরি স্নেল]], ''মেন, মুভমেন্টস অ্যান্ড মাইসেলফ'' (১৯৩৬), পৃষ্ঠা ২৪৭
* বল্ডউইনের একটি বহুল স্মরণীয় ভাষণ হলো...যা তিনি ১৯২৫ সালের ৬ মার্চ দিয়েছিলেন। ট্রেড ইউনিয়নের রাজনৈতিক তহবিল সংক্রান্ত একটি প্রাইভেট মেম্বার বিলের আলোচনার সময় তিনি এই ভাষণ দিয়েছিলেন। বল্ডউইন...এমন এক সময়ে এই বিতর্কিত বিষয়টি উত্থাপন করার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, যখন এমন কিছু না করাটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যাতে সন্দেহ তৈরি না হয় যে সংসদ ট্রেড ইউনিয়নের ওপর আক্রমণ করছে... তিনি তার ভাষণ শেষ করেছিলেন এই কথা বলে: "আমি জানি, এই হাউজের বেশিরভাগ সদস্যের চেয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে কাজ করেন এমন অনেকে আছেন। তা সত্ত্বেও সব দলের সব স্তরের অনেকেই আমার প্রার্থনার প্রতিধ্বনি করবেন, 'হে প্রভু, আমাদের সময়ে শান্তি দাও।'" এটি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল যে, বল্ডউইনের ভাষণের শেষে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস তার নিজের দলের কাছ থেকে আসেনি, বরং এসেছিল লেবার বেঞ্চ থেকে। হাউজ অব কমন্সে এমন গভীর প্রভাব ফেলা কোনো ভাষণ আমার খুব একটা মনে পড়ে না। এটি ছিল প্রকৃত স্ট্যানলি বল্ডউইনের প্রকাশ। এটি গরিবদের প্রতি তার সহানুভূতি এবং পুঁজিপতি ও শ্রমিকদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রবল আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল। তার আন্তরিকতা ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ সন্দেহ করতে পারেনি। ভাষণটি বল্ডউইনের সুস্থ ও শান্ত রক্ষণশীলতা এবং তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের পুরোনো টোরিবাদের মধ্যে গভীর ও মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরেছিল। যারা এটি শোনার সুযোগ পেয়েছেন, তারা এই ভাষণটি সবসময় মনে রাখবেন।
** ফিলিপ স্নোডেন]], ''অ্যান অটোবায়োগ্রাফি। ভলিউম টু, ১৯১৯-১৯৩৪'' (১৯৩৪), পৃষ্ঠা ৭৪১-৭৪২
* পরিশেষে বলতে হয়, বল্ডউইন একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি হয়তো অবহেলার একটি উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। তবে তিনি এমন সব সভ্য মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও উন্নত করেছেন, যা ব্রিটিশ রাজনীতি ও ব্রিটিশ জনগণকে আলাদা করেছে।
** কেনেথ ইয়াংয়ের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন'' (১৯৭৬) গ্রন্থের ভূমিকায় [[w:এ. জে. পি. টেইলর|এ. জে. পি. টেইলর]], পৃষ্ঠা ix-x
* ঘৃণায় ভরা এক পৃথিবীতে, তিনি মানুষকে একে অপরকে পছন্দ করতে, বা অন্তত সহ্য করতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। এই দ্বীপের সীমানার মধ্যে তিনি অনেকাংশে সফলও হয়েছিলেন। তিনি সব প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানবিক ও স্নেহশীল মানুষ হিসেবে রয়ে গেছেন।
** [[জর্জ ম্যাকোলে ট্রেভেলিয়ান|জি. এম. ট্রেভেলিয়ান]]
* বল্ডউইনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়ার পর আসল পরিবর্তনটি আসে... নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাথে সাথেই...জনসাধারণের কল্পনা কেড়ে নিয়েছিলেন। তার প্রশান্তি, সাধারণ জ্ঞান, পরিমিতিবোধ, বিনয় ও স্পষ্ট আন্তরিকতা দেখে মানুষ বলতে শুরু করে, "এই সেই মানুষ, একজন সাধারণ ইংরেজ, যাঁকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিলাম। আমরা ওয়েলশম্যান ও আইনজীবী, সেরা মেধা ও অতিমানবদের দেখে ক্লান্ত। আমরা পুরোনো ধাঁচের ইংরেজ রাষ্ট্রনায়কদের চাই, যারা বুদ্ধিমান হওয়ার চেয়ে ন্যায্য, বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল হবেন। এমন কাউকে চাই না যিনি সবার চেয়ে এগিয়ে চিন্তা করেন।"
** লর্ড লিটনকে লেখা লর্ড উইন্টারটনের (এডওয়ার্ড টার্নুর) চিঠি (১১ সেপ্টেম্বর ১৯২৩), কিথ মিডলমাস ও জন বার্নসের ''বল্ডউইন: আ বায়োগ্রাফি'' (১৯৬৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২১১
* ১৯২৪ থেকে ১৯৩৭ সালের মধ্যে আপনার রাষ্ট্রনায়কত্বের চরম পরীক্ষা এখন সামনে। যদি এই সরকার সাংবিধানিকভাবে দেশ পরিচালনায় প্রস্তুত থাকে, তবে তার কারণ হবে আপনি তাদের একটি বিপ্লবী দলের বদলে একটি সংসদীয় দল হতে শিখিয়েছেন। আমার সবসময়ই বিশ্বাস ছিল যে, আপনি আর যা-ই অর্জন করে থাকুন না কেন, এটি অন্য সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। সে সময়ের আমাদের আলোচনার কথা মনে করে বলতে পারি, এটি ছিল আপনার নিয়মিত ও সচেতন লক্ষ্য। আমার বিশ্বাস, ইতিহাস আমাদের প্রজন্মের অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে সংসদীয় সরকার বাঁচানোর কৃতিত্ব আপনাকেই দেবে।
** সংসদে লেবার পার্টি প্রথমবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরপরই বল্ডউইনকে লেখা চিঠি (প্রায় জুন ১৯৪৫), জি. এম. ইয়াংয়ের ''স্ট্যানলি বল্ডউইন'' (১৯৫২) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ২৫৪
* তার সব কাজের পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল [[ডেভিড লয়েড জর্জ|লয়েড জর্জ]] ও তার প্রভাবের ভয়। [[অস্টেন চেম্বারলেইন|অস্টেন]] ও এফ.ই.-র ওপর লয়েড জর্জ ও [[w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টনের]] প্রভাবের ভয়ই তাঁকে উইনস্টনকে অর্থমন্ত্রীর পদের প্রস্তাব দিতে প্ররোচিত করেছিল। পরবর্তীতে মূলত উইনস্টন ও লয়েড জর্জকে বাইরে রাখতেই তিনি [[w:র্যামজে ম্যাকডোনাল্ড|র্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের]] সাথে সেই সমান বিপর্যয়কর জোট গঠনে সম্মত হন।
** থমাস জোনসকে লেখা এক সাবেক রক্ষণশীল মন্ত্রিপরিষদ সদস্যের চিঠি (১২ নভেম্বর ১৯৫১), থমাস জোনসের ''আ ডায়েরি উইথ লেটার্স, ১৯৩১-১৯৫০'' (১৯৫৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা xxxii
==বহিঃসংযোগ==
{{উইকিপিডিয়া}}
{{কমন্স|স্ট্যানলি বল্ডউইন}}
* ["১০ ডাউনিং স্ট্রিট"-এ প্রোফাইল http://www.number-10.gov.uk/output/Page137.asp]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের রাজনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৬৭-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪৭-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:কনজারভেটিভ পার্টি (যুক্তরাজ্য)-এর রাজনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের অ্যাংলিকান]]
[[বিষয়শ্রেণী:বার্মিংহামের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রয়েল সোসাইটির ফেলো]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা]]
[[বিষয়শ্রেণী:হাউজ অব কমন্সের নেতা (যুক্তরাজ্য)]]
[[বিষয়শ্রেণী:বোর্ড অব ট্রেডের সভাপতি (যুক্তরাজ্য)]]
rkk033xi03dm8ndmkzzwgbbecv3v6em
পারমাণবিক যুদ্ধ
0
12198
83220
76676
2026-05-01T13:56:03Z
Oindrojalik Watch
4169
83220
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
[[File:Nagasakibomb.jpg|thumb|৯ আগস্ট, ১৯৪৫-এ [[:w:নাগাসাকি|নাগাসাকিতে]] পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর আকাশে উড্ডীয়মান সেই ভয়ংকর মাশরুম মেঘ বা পারমাণবিক ধোঁয়া!]]
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
[[File:US_and_USSR_nuclear_stockpiles.png|thumb|স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত। এটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা সেই উন্মাদনাপূর্ণ আণবিক প্রতিযোগিতার একটি তুলনামূলক চিত্র।]]
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু [[:w:সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]] চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও ৎসে-তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
* জাপানের সেই দুটি শহরের নাম আমার হৃদয়ে এক দারুন বিভীষিকা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল! একদিকে ছিল এক বিষাক্ত সচেতনতা যে আমার এই দেশ, মাত্র পাঁচ বছর আগে যার নাগরিকত্ব আমি পেয়েছি, সেই যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী বীভৎস ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম! অন্যদিকে ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এই সংহারী গতিপথ দেখে এক বমিভাব জাগানিয়া আতঙ্ক! পৃথিবীর বিনাশী রূপটি আমার কাছে কখনোই খুব দূরের কোনো বিষয় ছিল না। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম মানবতার শাশ্বত সত্তার পতন ঘনিয়ে আসছে। আর এই সর্বনাশকে সম্ভব করেছে আমার নিজের এই পেশা। আমার দু'নয়নে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা আসলে একই অভিন্ন সত্তা। যদি বিজ্ঞানের একটি শাখা তার নিষ্কলঙ্ক হওয়ার দাবি হারিয়ে ফেলে, তবে অন্য কোনো শাখার নিজেকে নির্দোষ বলার আর কোনো পথ থাকে না।
* ১৯৪৫ সালের সেই বিভীষিকা পূর্ণ সময়ে নিজেকে এক আবেগীয় বেকুব হিসেবে প্রমাণ করেছিলাম! প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান চাইলে আমাকেও সেই সব বিলাপকারী নির্বোধদের তালিকায় স্বচ্ছন্দে ফেলে দিতে পারতেন, যাঁদের তিনি আপন অফিসে প্রবেশের ন্যূনতম অধিকারটুকু দিতেও নারাজ ছিলেন। কারণ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম, এত বিপুল যাতনা বা কষ্টের পরোয়ানা জারি করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। বিজ্ঞান এখানে ঘাতকের ছুরিতে শাণ দিয়েছে, তাকে পথ দেখিয়েছে! আর এভাবেই বিজ্ঞান এমন এক কলঙ্ক বা পাপের ভাগীদার হয়েছে যার হাত থেকে তার মুক্তি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজ্ঞান এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যকার সেই অশুভ যোগসূত্রটি আমার কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই বিষাদময় ঘটনার পরবর্তী কয়েক বছর, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আমি মরিয়া হয়ে তথাকথিত শান্ত-শীতল সুইজারল্যান্ডে একটু আশ্রয় খুঁজেছিলাম। কিন্তু আমি সফল হ্তে পারিনি।
** '''''[[:w:আরউইন শার্গাফ|আরউইন শার্গাফ]]''''', ''হেরাক্লিটিয়ান ফায়ার: স্কেচেস ফ্রম এ লাইফ বিফোর নেচার'' (১৯৭৮)
=== ১৯৮০-এর দশক ===
* [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] প্রথম পারমাণবিক বোমা পড়ার পর এখন প্রায় ৩৫ বছর পার হয়ে গেছে। বিশ্বের বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন আর এমন কোনো সময়ের কথা মনে করতে পারে না, যখন এই পৃথিবী পারমাণবিক ছায়ায় ঢাকা ছিল না। আমাদের মন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, ঠিক যেমন দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকলে আমাদের চোখ সেই আঁধারেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অথচ পারমাণবিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এক বিন্দুও কমেনি বরং বেড়েছে। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যে এটি এখনও ঘটেনি। কিন্তু তাতে স্বস্তির অবকাশ খুবই কম, কারণ এটি কেবল একবার ঘটতে পারলেই তা যথেষ্ট! বিপদ দিনের দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার এখন আকার ও আধুনিকতায় আরো বিশাল হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও যখন এসব মারণাস্ত্রের মালিক হচ্ছে—তখন উন্মাদনা, হতাশা, লোভ কিংবা ভুল হিসাবের কারণে এই ভয়ংকর দানবটির শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র! একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে, [[:w:দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] সমপরিমাণ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রতিটি সেকেন্ডে উগড়ে দেওয়া হবে!যতক্ষণ না সব ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ভাবুন তো, প্রতি সেকেন্ডে একটি করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! ইতিহাসের সব যুদ্ধে মিলে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারাবে প্রথম কয়েক ঘণ্টায়। আর যদি কেউ বেঁচেও থাকে, তবে তারা বেঁচে থাকবে এক বিষাক্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে। যে সভ্যতা নিজেই নিজের আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছিল।
** '''''[[:w:জিমি কার্টার|জিমি কার্টার]]''''', জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ (১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১)
* কল্পনা করুন [[:w:পেট্রোল|পেট্রোলে]] ভাসছে এমন একটি ঘর, যেখানে দুজন আপসহীন শত্রু দাঁড়িয়ে আছে। তাদের একজনের হাতে আছে নয় হাজার [[:w:দিয়াশলাই|দেশলাই কাঠি]], আর অন্যজনের হাতে সাত হাজার। প্রত্যেকেই এই চিন্তায় অস্থির যে কে কার চেয়ে এগিয়ে আছে, কার শক্তি বেশি! ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা এখন বাস করছি। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে মজুদ অস্ত্রের পরিমাণ এতটাই স্ফীত এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনে যা দরকার তার চেয়ে এতটাই অবিশ্বাস্য রকম বেশি যে পুরো বিষয়টি [[:w:বিয়োগান্ত নাটক|ট্র্যাজিক]] না হলে একে হাস্যকর বলা যেত। এখন যেটা প্রয়োজন তা হলো, হাতের দেশলাই কাঠির সংখ্যা কমানো এবং নিচে গলার কাঁটা হয়ে থাকা পেট্রোলটুকু পরিষ্কার করা।
** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''', এবিসি নিউজ ভিউপয়েন্ট প্যানেল আলোচনায় (২০ নভেম্বর, ১৯৮৩)
[[File:Opening chess position from black side.jpg|thumb|এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! এ খেলা থেকে বিরত থাকায় হলো আসল জিত!]]
* এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! তার চেয়ে বরং এক রাউন্ড দাবা খেললে কেমন হয়?
** '''''ওয়ারগেমস''''' (১৯৮৩ সালের চলচ্চিত্র)
* প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি আপনাদেরকে এই সংবাদটি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছি যা রাশিয়াকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। আমরা আগামী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বোমা বর্ষণ শুরু করতে যাচ্ছি!
** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', স্নায়ুযুদ্ধের সময় করা একটি অফ-দ্য-রেকর্ড রসিকতা। ১১ আগস্ট, ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর অবকাশ যাপনের বাড়িতে একটি নির্ধারিত রেডিও ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে তিনি এই রসিকতা করেন। এটি সরাসরি সম্প্রচারিত না হলেও রেকর্ড করা হয়েছিল তবে পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায়।
* ''সরল বোধের ওপর নেই তব আধিপত্যের অধিকার,<br>হোক না সেটা রাজকীয় বেড়ার এপার ও ওপার!<br>ভিন্ আদর্শ, তবু কোটি প্রাণের একই সন্তরণ!<br>হৃদয় পেতে শোনো, যা করি বর্ণন—<br>আশায় থাকি, রুশরা যেন প্রজন্মদের আগলে রাখে সারাক্ষণ!''
** '''''[[:w:স্টিং (সঙ্গীতজ্ঞ)|স্টিং]]''''', ''"রাশিয়ানস"'', অ্যালবাম: ''দ্য ড্রিম অফ দ্য ব্লু টার্টলস'' (১৯৮৫); ''রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
* একটি পারমাণবিক যুদ্ধ কোনো দেশকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি কোনো আদর্শ বা ব্যবস্থাকেও রক্ষা করতে পারে না!<br>আমি বহুবার একটি কথা বলেছি—এমনকি বিশ্বের সবচাইতে ঝানু তাত্ত্বিকও পুঁজিবাদের ছাই আর কমিউনিজমের ছাইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারলাম না!
** '''''[[:w:জন কেনেথ গলব্রেথ|জন কেনেথ গলব্রেথ]]''''', "দ্য অ্যাশেস অফ ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড দ্য অ্যাশেস অফ কমিউনিজম", জন এম হোয়াইটলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (তারিখবিহীন), ''কোয়েস্ট ফর পিস: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন'' (১৯৮৬)
* ''যুদ্ধ শুধুই একটি খেলা,<br>খাস-মকসুদ মাতালদের জন্য মেলা!<br>কিন্তু তাদের বিনাশের হুমকি দাও—<br>রবেনা এই ভুবনে, পালাতে দেবে নাও!<br>যদি এটাই হয় শান্তনামূলক মানবতাবাদ,<br>তবে বোমার জন্য 'ঈশ্বর জিন্দাবাদ'!''
** '''''[[:w:ওজি অসবোর্ন|ওজি অসবোর্ন]]''''', ''বব ডেইসলি'', ''জেক ই. লি'', "থ্যাঙ্ক গড ফর দ্য বোম্ব", ''দ্য আল্টিমেট সিন'' অ্যালবাম থেকে (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬); ''বাংলায় রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
[[File:Typhoon iced.jpg|thumb|চার মহাসাগর আর সাত সমুদ্রের নিচে, আমেরিকান এবং সোভিয়েত সাবমেরিনগুলো বছরের প্রতিটি দিন এক যুদ্ধের কাছাকাছি লড়াইয়ে লিপ্ত থাকে।<br>—'''''রিচার্ড হ্যালোজান''''']]
* চার মহাসাগর আর সাত দরিয়ার তলদেশে, আমেরিকান এবং সোভিয়েত [[:w:সাবমেরিন|সাবমেরিনগুলো]] বছরের প্রতিটি দিন এক প্রায়-যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। বিরামহীনভাবে তারা একে অপরকে খুঁজে বেড়ায়, সুযোগ পেলেই শত্রুর পিছু নেয় আর ধরা পড়লে পালানোর চেষ্টা করে। কেবল গুলি চালানো ছাড়া আসল যুদ্ধের প্রতিটি চালই তারা দেয়। যদি কখনো সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু হয়, তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সাবমেরিনগুলোই হবে আমেরিকান এবং সোভিয়েত নৌবহরের প্রধান শক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যেমন যুদ্ধজাহাজ অনেক আধিপত্য দেখিয়েছিল আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিমানবাহী [[:W:যুদ্ধ জাহাজ|রণতরীগুলো]] সমুদ্রজয় নিশ্চিত করেছিল। ভবিষ্যৎ দ্বন্দ্বে [[:w:পারমাণবিক ডুবোজাহাজ|পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনই]] হবে জয়ের তুরুপের তাস।
** '''''রিচার্ড হ্যালোজান''''', [https://www.nytimes.com/1986/12/07/magazine/a-silent-battle-surfaces.html "এ সাইলেন্ট ব্যাটল সারফেসেস"], ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'' (৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৬)
* ''আমরা যদি যুদ্ধের ওপর বিশ্বাস নাই-ই করি—<br>তবে কেউ কি বলতে পারো, কেন এই অস্ত্রের সাজ-পসরি?<br>শুনে নাও আমার কথা,<br>একবার জেগে ওঠে যদি তারা, পালাবে তুমি কোথা?<br>দৈত্যরা ঘুমায় আর বারবার হয় জিৎ—<br>স্বপ্নে বাজছে দামামা, কাঁপছে মাটির ভিত!<br>যতক্ষণ না তাদের ঘুম ভাঙছে,<br>ততক্ষণ-ই ঈশ্বরদ্রোহিতা চালাচ্ছে!''
** '''''[[:w:ওজি অসবোর্ন|ওজি অসবোর্ন]]''''', ''বব ডেইসলি'', ''জেক ই. লি'', "কিলার অফ জায়ান্টস", ''দ্য আল্টিমেট সিন'' অ্যালবাম থেকে (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬); ''বাংলায় কাব্যিক-রূপান্তর:'' যোবায়ের আল-'''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
* পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একমাত্র উস্কানি কী হতে পারে? উত্তরটি হলো 'পারমাণবিক অস্ত্র'। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তু কী? সেটিও পারমাণবিক অস্ত্র। পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনটি? তা-ও হলো পারমাণবিক বোমা!<br>আমরা কীভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধ করতে পারি? পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পাল্টা হুমকি দিয়ে। আর আমরা এই পারমাণবিক অস্ত্র থেকে মুক্তিও পাচ্ছি না কেন? সেই একই খোদ পারমাণবিক অস্ত্রের কারণেই!<br>মনে হচ্ছে, এই একগুঁয়েমি যেন খোদ ওই মারণাস্ত্রগুলোরই এক অদ্ভুত কারসাজি!
* এই প্রতিযোগিতার দৌড় মূলত পারমাণবিক অস্ত্র বনাম আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের মধ্যে।
** '''''[[:w:মার্টিন এমিস|মার্টিন এমিস]]''''', ''আইনস্টাইন'স মনস্টারস'' (১৯৮৭), ভূমিকা
* আমরা স্রেফ জানি না যে পারমাণবিক অস্ত্র আদৌ প্রতিরোধক হিসেবে কার্যকর হয়েছে কিনা। কিংবা এগুলো আজ কার্যকর কিনা অথবা ভবিষ্যতে কার্যকর হবে বলে আশা করা যায় কি না। বছরের পর বছর ধরে পারমাণবিক নীতিগুলো এমন সব তথ্যের অজ্ঞানতার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি করা হয়েছে, যা এই নীতির ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য সবচেয়ে প্রধান বিষয় ছিল।
** '''''রবার্ট এল. হোমস''''', [https://www.nytimes.com/1988/01/17/opinion/l-what-we-don-t-know-about-nuclear-policy-016788.html ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'', "পারমাণবিক নীতি সম্পর্কে আমরা যা জানি না" (১৭ জানুয়ারি, ১৯৮৮)], পৃষ্ঠা ২৬
* কেবল পারমাণবিক বোমার সহিংসতাই মানবজাতির জন্য একমাত্র হুমকি নয়। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের সহকর্মী মানুষদের, নির্দোষ অথবা দোষী উভয়কেই—হত্যা করার এই যে নিচু মানসিকতা, সেটিই হলো বড় হুমকি! যতক্ষণ না আমরা আমাদের সময়, শক্তি এবং সম্পদকে যেকোনো ধরনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পথ থেকে সরিয়ে এনে যুদ্ধের অহিংস বিকল্প খোঁজার কাজে নিয়োজিত করছি, ততক্ষণ পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলার আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা সম্ভবত কোনো কাজেই আসবে না অর্থাৎ এটি শুধুই বৃথা যাবে!
** '''''রবার্ট এল. হোমস''''', ''অন ওয়ার অ্যান্ড মোরালিটি'' (১৯৮৯), ভূমিকা পৃষ্ঠা ১০
=== ১৯৯০-এর দশক ===
* পারমাণবিক হামলার জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের অনেক জরুরি কিছু পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যেত যে আমি ভাবতাম, এমন সংকটে পরিকল্পনা বা যুক্তির কতটা প্রয়োগ করা সম্ভব। [[:w:রাশিয়া|রাশিয়ানরা]] মাঝেমধ্যেই আমাদের পূর্ব উপকূলে এমন সব পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন রাখত, যা মাত্র ছয় থেকে আট মিনিটের মধ্যে [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসকে]] একদম পারমাণবীয় [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়]] ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারত! [[:w:রাডার|রাডার]] স্কোপের ওপর ভেসে ওঠা একটা বিন্দুর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র ছয় মিনিট সময় পাওয়া যেত; যে আপনি কি ''আরমাগেডন'' (বাইবেল অনুসারে শেষ যুগে দুনিয়া ধ্বংসের পূর্বে সত্য ও মিথ্যার মাঝে চূড়ান্ত মহাযুদ্ধ) শুরু করবেন কি না! এমন সময়ে কীভাবে যুক্তি প্রয়োগ করতে পারা যায়? [[:w:পেন্টাগন|পেন্টাগনের]] কিছু লোক ছিল যারা পারমাণবিক যুদ্ধ করা এবং তাতে জেতার কথা ভাবত। আমার কাছে এটি ছিল সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান। পারমাণবিক যুদ্ধে কোনো পক্ষই জিততে পারে না। তাই এটি কখনোই লড়া উচিত নয়।
** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', ''অ্যান আমেরিকান লাইফ'' (১৯৯০)
* পারমাণবিক বোমার এই [[:w:স্নায়ুযুদ্ধ|শীতল-যুদ্ধের]] ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্যই বৈশ্বিক পারমাণবিক যুদ্ধের পরিণতির কোনো সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হয়নি। বরং এটি করা হয়েছে [[:w:পদার্থবিজ্ঞান|পদার্থবিজ্ঞানের]] নিয়মগুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে। (এই সমস্যাটি পূর্ণ পরীক্ষামূলক যাচাইকরণের সুযোগ দেয় না। অন্তত একবারের বেশি তো কখনই নয়।)
** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''' এবং ''রিচার্ড পি. টারকো'', ''এ পাথ হোয়্যার নো ম্যান থট: নিউক্লিয়ার উইন্টার অ্যান্ড দ্য এন্ড অফ দ্য আর্মস রেস'' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ২৬
* ''[[গ্যালিলিও গ্যালিলেই|গ্যালিলিও]] এর মাথা যখন ছিন্ন করতে চায় জল্লাদ—<br>তখন,<br>সত্য খুঁজতে আরশের দিকে তাকানোই ছিল তাঁর অপরাধ!...<br>জাগবেই জাগবে সেই পুনর্জন্ম...<br>পেতেই হবে আত্মার সঠিক ধর্ম...<br>কোনো মানুষ কী মাখতে পারে না সেই আলোড়ন?...<br>যেথায় গ্যালিলিওরা করে বিচরণ—<br>ছিলেন তিনি নিশার রাজা, দৃষ্টি-গভীর সম্রাট...<br>এ তো রসিকতা নয়, ছিলেন যে সত্যের লৌহ কপাট!<br>আমি সবকিছুই খুব চেখে দেখি;<br>দেখে যাই সঠিক পথ, বেড়ে যায় হিম্মত।<br>মানবতা যেন হৃদয়ে রাখি, না হই যেন আণবিক ধ্বংসলীলা—<br>কিন্তু চিনেছি কী সেই সত্যকে, যা ছিল দুনিয়া ভোলা?''
** '''''[[w:ইন্ডিগো গার্লস|ইন্ডিগো গার্লস]]''''', "গ্যালিলিও", ''জিনিয়াস'' অ্যালবাম থেকে (১২ মে, ১৯৯২); ''বাংলায় রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
* যুদ্ধ। যুদ্ধ কখনোই বদলায় না।
** ''ফলআউট'', (১৯৯৭ ভিডিও গেম), প্রারম্ভিক বর্ণনা: '''''[[:w::রন পার্লম্যান|রন পার্লম্যান]]''''
=== ২০০০-এর দশক ===
* ঈশ্বরের দোহাই, আপনাদের সন্তানদের প্রতি ভালোবাসার দোহাই, আপনারা যে সভ্যতার অংশ তার দোহাই - আপনারা দয়া করে এই উন্মাদনা বন্ধ করুন! আপনারা মরণশীল মানুষ। আপনাদের ভুল হতে পারে। আপনাদের হাতে এমন ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা রাখার কোনো অধিকার নেই। এমন কোনো বিজ্ঞ বা শক্তিশালী মানুষ নেই যার হাতে আমাদের গ্রহের একটি বিশাল অংশের সভ্য জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা থাকা উচিত।
** '''''জর্জ এফ কেনান''''', তাঁর মৃত্যুসংবাদে উদ্ধৃত, "১০১ বছর বয়সে জর্জ কেনানের মৃত্যু; কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের নীতি প্রণয়নকারী", ''দ্য বোস্টন গ্লোব'' (১৮ মার্চ, ২০০৫); এছাড়াও জেমস ক্যারল, ''হাউস অফ ওয়ার'' (বোস্টন এবং নিউ ইয়র্ক: হটন মিফলিন কোং, ২০০৬), "আপস্ট্রিম", পৃষ্ঠা ৫৮১, নোট ১৪০। ISBN 0618187804.
=== ২০১০-এর দশক ===
* ...ঠিক রাশিয়ান সীমান্তে অত্যন্ত চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে এবং এমন একটি পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা মূলত পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব এবং প্রজাতির জন্য চূড়ান্ত বিনাশ ডেকে আনতে পারে! আমরা এর খুব কাছাকাছিই রয়েছি।<br>প্রথমত, এটি প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আমাদের কিছু করা উচিত। দ্বিতীয়ত, আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত কেন এমনটা হলো। এর কারণ হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর [[:w:মিখাইল গর্বাচেভ|মিখাইল গর্বাচেভকে]] দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে [[:w:ন্যাটো|ন্যাটোর]] বিস্তার। মূলত [[:w:বিল ক্লিনটন|ক্লিনটনের]] অধীনে এটি শুরু হয়, আংশিকভাবে প্রথম [[:w:জর্জ ডব্লিউ. বুশ|জর্জ ডব্লিউ. বুশ]] এবং তারপর ক্লিনটন একে সরাসরি রাশিয়ান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করেন, যা [[:w:বারাক ওবামা|বারাক ওবামার]] অধীনে আরও প্রসারিত হয়। সুসংগঠিত মানব সমাজের ভাগ্য, এমনকি প্রজাতির টিকে থাকাও এর ওপর নির্ভর করছে! [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] কোনো বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন কি না; তার তুলনায় এই বিষয়গুলোতে কতটা মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে?
** '''''[[:w:নোম চম্স্কি|নোম চম্স্কি]]''''', [https://www.democracynow.org/2018/7/27/noam_chomsky_on_mass_media_obsession "Noam Chomsky on Mass Media Obsession with Russia & the Stories Not Being Covered in the Trump Era"], ''ডেমোক্রেসি নাও'' (২৭ জুলাই, ২০১৮)
=== ২০২০-এর দশক ===
* পারমাণবিক অস্ত্রগুলো নাটকের মঞ্চে দেয়ালে ঝুলে থাকা একটি [[:w:রাইফেল|রাইফেলের]] মতো! আমরা সেই নাটকটি লিখিনি, আমরা এটি মঞ্চস্থ করছি না এবং নাট্যকার কী চান তাও আমরা জানি না। যে কেউ যেকোনো সময় দেয়াল থেকে রাইফেলটি তুলে নিতে পারে।
** '''''[[:w:মিখাইল গর্বাচেভ|মিখাইল গর্বাচেভ]]''''', ''হোয়াট ইজ অ্যাট স্টেক নাউ'' (২০২০), জেসিকা স্পেংলার কর্তৃক [[:w:রুশ ভাষা|রুশ ভাষা]] থেকে অনূদিত
* আমেরিকার একটি মাত্র 'ট্রাইডেন্ট' সাবমেরিন, যা এখন আরও শক্তিশালী সাবমেরিন দিয়ে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। এখন এটি তার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের প্রায় ২০০টি শহর ধ্বংস করে দিতে সক্ষম! [[:w:দক্ষিণ চীন সাগর|দক্ষিণ চীন সাগরে]] চীনের মাত্র চারটি পুরনো ও শব্দ সৃষ্টিকারী সাবমেরিন রয়েছে, যা আমেরিকা ও তার মিত্র বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে ঠিকমতো বের হতেই পারে না। এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র [[:w:অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়ায়]] পারমাণবিক সাবমেরিনের একটি বহর পাঠাচ্ছে। এটিই হলো সেই 'AUKUS' বা অকাস চুক্তি(অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত) যার আসলে কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্যই নেই। এগুলো এমনকি আগামী ১৫ বছরের মধ্যেও সচল হবে না, কিন্তু এগুলো চীনকে তাদের পিছিয়ে থাকা সামরিক শক্তি বাড়িয়ে তুলতে এবং সংঘাতের মাত্রা তীব্র করতে নিশ্চিতভাবেই উস্কানি দিচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে যেসব সমস্যা রয়েছে তা আঞ্চলিক শক্তির নেতৃত্বে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব, আমি চাইলে এর গভীরে যেতে পারি। কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ কখনোই উস্কানি বাড়ানো হতে পারে না, কিংবা এমন কোনো দুর্ঘটনাবশত পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়ানো নয় যা ধ্বংসাত্মক হতে পারে। এমনকি এই ধরনের পদক্ষেপ পৃথিবীর জন্য চূড়ান্ত পারমাণবিক যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে! কিন্তু [[:w:বাইডেন|জো বাইডেন]] প্রশাসন ট্রাম্পের কর্মসূচিগুলো সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেই পথেই হাঁটছে। এটিই তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।
** '''''[[:w:নোম চমস্কি|নোম চমস্কি]]''''', [https://www.democracynow.org/2021/11/23/noam_chomsky_on_bidens_foreign_policy "চীন কি আসলেই একটি হুমকি?"], ''ডেমোক্রেসি নাও'' (২৩ নভেম্বর, ২০২১)
== আরও দেখুন ==
* [[পারমাণবিক শক্তি]]
* [[পারমাণবিক অস্ত্র]]
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
* [https://history.state.gov/search?q=atomic%20bomb&within=documents&start-date=1945-01-01&end-date=1952-12-31&sort-by=relevance ১৯৪৫ –১৯৫২: পারমাণবিক বোমার ইতিহাস] মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল আর্কাইভ।
* [https://nsarchive.gwu.edu/ ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ] জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি।
* [https://www.atomicarchive.com/ অ্যাটমিক আর্কাইভ]: পারমাণবিক অস্ত্রের বিজ্ঞান ও ইতিহাস।
* [https://disarmament.unoda.org/en জাতিসংঘ: নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক কার্যালয় (UNODA)]
* [https://www.iaea.org/ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)]
* [https://thebulletin.org/doomsday-clock/ domsday ক্লক (Doomsday Clock)] বর্তমান পারমাণবিক ঝুঁকির সূচক।
* [https://peace-tourism.com/en/spot/entry-40.html হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল মিউজিয়াম]
* [https://nuclearsecrecy.com/nukemap/ নিউক ম্যাপ (NUKEMAP)]: পারমাণবিক বিস্ফোরণ সিমুলেটর।
[[বিষয়শ্রেণী:যুদ্ধ]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারমাণবিক অস্ত্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারমাণবিক যুদ্ধ]]
pa2o6p78t1akwtanwpcbrlf5dt7btli
83221
83220
2026-05-01T13:57:24Z
Oindrojalik Watch
4169
83221
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
[[File:Nagasakibomb.jpg|thumb|৯ আগস্ট, ১৯৪৫-এ [[:w:নাগাসাকি|নাগাসাকিতে]] পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর আকাশে উড্ডীয়মান সেই ভয়ংকর মাশরুম মেঘ বা পারমাণবিক ধোঁয়া!]]
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
[[File:US_and_USSR_nuclear_stockpiles.png|thumb|স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত। এটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা সেই উন্মাদনাপূর্ণ আণবিক প্রতিযোগিতার একটি তুলনামূলক চিত্র।]]
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু [[:w:সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]] চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও ৎসে-তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
* জাপানের সেই দুটি শহরের নাম আমার হৃদয়ে এক দারুন বিভীষিকা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল! একদিকে ছিল এক বিষাক্ত সচেতনতা যে আমার এই দেশ, মাত্র পাঁচ বছর আগে যার নাগরিকত্ব আমি পেয়েছি, সেই যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী বীভৎস ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম! অন্যদিকে ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এই সংহারী গতিপথ দেখে এক বমিভাব জাগানিয়া আতঙ্ক! পৃথিবীর বিনাশী রূপটি আমার কাছে কখনোই খুব দূরের কোনো বিষয় ছিল না। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম মানবতার শাশ্বত সত্তার পতন ঘনিয়ে আসছে। আর এই সর্বনাশকে সম্ভব করেছে আমার নিজের এই পেশা। আমার দু'নয়নে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা আসলে একই অভিন্ন সত্তা। যদি বিজ্ঞানের একটি শাখা তার নিষ্কলঙ্ক হওয়ার দাবি হারিয়ে ফেলে, তবে অন্য কোনো শাখার নিজেকে নির্দোষ বলার আর কোনো পথ থাকে না।
* ১৯৪৫ সালের সেই বিভীষিকা পূর্ণ সময়ে নিজেকে এক আবেগীয় বেকুব হিসেবে প্রমাণ করেছিলাম! প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান চাইলে আমাকেও সেই সব বিলাপকারী নির্বোধদের তালিকায় স্বচ্ছন্দে ফেলে দিতে পারতেন, যাঁদের তিনি আপন অফিসে প্রবেশের ন্যূনতম অধিকারটুকু দিতেও নারাজ ছিলেন। কারণ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম, এত বিপুল যাতনা বা কষ্টের পরোয়ানা জারি করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। বিজ্ঞান এখানে ঘাতকের ছুরিতে শাণ দিয়েছে, তাকে পথ দেখিয়েছে! আর এভাবেই বিজ্ঞান এমন এক কলঙ্ক বা পাপের ভাগীদার হয়েছে যার হাত থেকে তার মুক্তি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজ্ঞান এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যকার সেই অশুভ যোগসূত্রটি আমার কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই বিষাদময় ঘটনার পরবর্তী কয়েক বছর, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আমি মরিয়া হয়ে তথাকথিত শান্ত-শীতল সুইজারল্যান্ডে একটু আশ্রয় খুঁজেছিলাম। কিন্তু আমি সফল হ্তে পারিনি।
** '''''[[:w:আরউইন শার্গাফ|আরউইন শার্গাফ]]''''', ''হেরাক্লিটিয়ান ফায়ার: স্কেচেস ফ্রম এ লাইফ বিফোর নেচার'' (১৯৭৮)
=== ১৯৮০-এর দশক ===
* [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] প্রথম পারমাণবিক বোমা পড়ার পর এখন প্রায় ৩৫ বছর পার হয়ে গেছে। বিশ্বের বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন আর এমন কোনো সময়ের কথা মনে করতে পারে না, যখন এই পৃথিবী পারমাণবিক ছায়ায় ঢাকা ছিল না। আমাদের মন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, ঠিক যেমন দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকলে আমাদের চোখ সেই আঁধারেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অথচ পারমাণবিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এক বিন্দুও কমেনি বরং বেড়েছে। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যে এটি এখনও ঘটেনি। কিন্তু তাতে স্বস্তির অবকাশ খুবই কম, কারণ এটি কেবল একবার ঘটতে পারলেই তা যথেষ্ট! বিপদ দিনের দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার এখন আকার ও আধুনিকতায় আরো বিশাল হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও যখন এসব মারণাস্ত্রের মালিক হচ্ছে—তখন উন্মাদনা, হতাশা, লোভ কিংবা ভুল হিসাবের কারণে এই ভয়ংকর দানবটির শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র! একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে, [[:w:দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] সমপরিমাণ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রতিটি সেকেন্ডে উগড়ে দেওয়া হবে!যতক্ষণ না সব ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ভাবুন তো, প্রতি সেকেন্ডে একটি করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! ইতিহাসের সব যুদ্ধে মিলে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারাবে প্রথম কয়েক ঘণ্টায়। আর যদি কেউ বেঁচেও থাকে, তবে তারা বেঁচে থাকবে এক বিষাক্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে। যে সভ্যতা নিজেই নিজের আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছিল।
** '''''[[:w:জিমি কার্টার|জিমি কার্টার]]''''', জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ (১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১)
* কল্পনা করুন [[:w:পেট্রোল|পেট্রোলে]] ভাসছে এমন একটি ঘর, যেখানে দুজন আপসহীন শত্রু দাঁড়িয়ে আছে। তাদের একজনের হাতে আছে নয় হাজার [[:w:দিয়াশলাই|দেশলাই কাঠি]], আর অন্যজনের হাতে সাত হাজার। প্রত্যেকেই এই চিন্তায় অস্থির যে কে কার চেয়ে এগিয়ে আছে, কার শক্তি বেশি! ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা এখন বাস করছি। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে মজুদ অস্ত্রের পরিমাণ এতটাই স্ফীত এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনে যা দরকার তার চেয়ে এতটাই অবিশ্বাস্য রকম বেশি যে পুরো বিষয়টি [[:w:বিয়োগান্ত নাটক|ট্র্যাজিক]] না হলে একে হাস্যকর বলা যেত। এখন যেটা প্রয়োজন তা হলো, হাতের দেশলাই কাঠির সংখ্যা কমানো এবং নিচে গলার কাঁটা হয়ে থাকা পেট্রোলটুকু পরিষ্কার করা।
** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''', এবিসি নিউজ ভিউপয়েন্ট প্যানেল আলোচনায় (২০ নভেম্বর, ১৯৮৩)
[[File:Opening chess position from black side.jpg|thumb|এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! এ খেলা থেকে বিরত থাকায় হলো আসল জিত!]]
* এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! তার চেয়ে বরং এক রাউন্ড দাবা খেললে কেমন হয়?
** '''''ওয়ারগেমস''''' (১৯৮৩ সালের চলচ্চিত্র)
* প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি আপনাদেরকে এই সংবাদটি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছি যা রাশিয়াকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। আমরা আগামী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বোমা বর্ষণ শুরু করতে যাচ্ছি!
** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', স্নায়ুযুদ্ধের সময় করা একটি অফ-দ্য-রেকর্ড রসিকতা। ১১ আগস্ট, ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর অবকাশ যাপনের বাড়িতে একটি নির্ধারিত রেডিও ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে তিনি এই রসিকতা করেন। এটি সরাসরি সম্প্রচারিত না হলেও রেকর্ড করা হয়েছিল তবে পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায়।
* ''সরল বোধের ওপর নেই তব আধিপত্যের অধিকার,<br>হোক না সেটা রাজকীয় বেড়ার এপার ও ওপার!<br>ভিন্ আদর্শ, তবু কোটি প্রাণের একই সন্তরণ!<br>হৃদয় পেতে শোনো, যা করি বর্ণন—<br>আশায় থাকি, রুশরা যেন প্রজন্মদের আগলে রাখে সারাক্ষণ!''
** '''''[[:w:স্টিং (সঙ্গীতজ্ঞ)|স্টিং]]''''', ''"রাশিয়ানস"'', অ্যালবাম: ''দ্য ড্রিম অফ দ্য ব্লু টার্টলস'' (১৯৮৫); ''রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
* একটি পারমাণবিক যুদ্ধ কোনো দেশকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি কোনো আদর্শ বা ব্যবস্থাকেও রক্ষা করতে পারে না!<br>আমি বহুবার একটি কথা বলেছি—এমনকি বিশ্বের সবচাইতে ঝানু তাত্ত্বিকও পুঁজিবাদের ছাই আর কমিউনিজমের ছাইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারলাম না!
** '''''[[:w:জন কেনেথ গলব্রেথ|জন কেনেথ গলব্রেথ]]''''', "দ্য অ্যাশেস অফ ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড দ্য অ্যাশেস অফ কমিউনিজম", জন এম হোয়াইটলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (তারিখবিহীন), ''কোয়েস্ট ফর পিস: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন'' (১৯৮৬)
* ''যুদ্ধ শুধুই একটি খেলা,<br>খাস-মকসুদ মাতালদের জন্য মেলা!<br>কিন্তু তাদের বিনাশের হুমকি দাও—<br>রবেনা এই ভুবনে, পালাতে দেবে নাও!<br>যদি এটাই হয় শান্তনামূলক মানবতাবাদ,<br>তবে বোমার জন্য 'ঈশ্বর জিন্দাবাদ'!''
** '''''[[:w:ওজি অসবোর্ন|ওজি অসবোর্ন]]''''', ''বব ডেইসলি'', ''জেক ই. লি'', "থ্যাঙ্ক গড ফর দ্য বোম্ব", ''দ্য আল্টিমেট সিন'' অ্যালবাম থেকে (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬); ''বাংলায় রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
[[File:Typhoon iced.jpg|thumb|চার মহাসাগর আর সাত সমুদ্রের নিচে, আমেরিকান এবং সোভিয়েত সাবমেরিনগুলো বছরের প্রতিটি দিন এক যুদ্ধের কাছাকাছি লড়াইয়ে লিপ্ত থাকে।<br>—'''''রিচার্ড হ্যালোজান''''']]
* চার মহাসাগর আর সাত দরিয়ার তলদেশে, আমেরিকান এবং সোভিয়েত [[:w:সাবমেরিন|সাবমেরিনগুলো]] বছরের প্রতিটি দিন এক প্রায়-যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। বিরামহীনভাবে তারা একে অপরকে খুঁজে বেড়ায়, সুযোগ পেলেই শত্রুর পিছু নেয় আর ধরা পড়লে পালানোর চেষ্টা করে। কেবল গুলি চালানো ছাড়া আসল যুদ্ধের প্রতিটি চালই তারা দেয়। যদি কখনো সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু হয়, তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সাবমেরিনগুলোই হবে আমেরিকান এবং সোভিয়েত নৌবহরের প্রধান শক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যেমন যুদ্ধজাহাজ অনেক আধিপত্য দেখিয়েছিল আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিমানবাহী [[:W:যুদ্ধ জাহাজ|রণতরীগুলো]] সমুদ্রজয় নিশ্চিত করেছিল। ভবিষ্যৎ দ্বন্দ্বে [[:w:পারমাণবিক ডুবোজাহাজ|পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনই]] হবে জয়ের তুরুপের তাস।
** '''''রিচার্ড হ্যালোজান''''', [https://www.nytimes.com/1986/12/07/magazine/a-silent-battle-surfaces.html "এ সাইলেন্ট ব্যাটল সারফেসেস"], ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'' (৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৬)
* ''আমরা যদি যুদ্ধের ওপর বিশ্বাস নাই-ই করি—<br>তবে কেউ কি বলতে পারো, কেন অস্ত্রের এই সাজ-পসরি?<br>শুনে নাও আমার কথা,<br>একবার জেগে ওঠে যদি তারা, পালাবে তুমি কোথা?<br>দৈত্যরা ঘুমায় আর বারবার হয় জিৎ—<br>স্বপ্নে বাজছে দামামা, কাঁপছে মাটির ভিত!<br>যতক্ষণ না তাদের ঘুম ভাঙছে,<br>ততক্ষণ-ই ঈশ্বরদ্রোহিতা চালাচ্ছে!''
** '''''[[:w:ওজি অসবোর্ন|ওজি অসবোর্ন]]''''', ''বব ডেইসলি'', ''জেক ই. লি'', "কিলার অফ জায়ান্টস", ''দ্য আল্টিমেট সিন'' অ্যালবাম থেকে (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬); ''বাংলায় কাব্যিক-রূপান্তর:'' যোবায়ের আল-'''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
* পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একমাত্র উস্কানি কী হতে পারে? উত্তরটি হলো 'পারমাণবিক অস্ত্র'। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তু কী? সেটিও পারমাণবিক অস্ত্র। পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনটি? তা-ও হলো পারমাণবিক বোমা!<br>আমরা কীভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধ করতে পারি? পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পাল্টা হুমকি দিয়ে। আর আমরা এই পারমাণবিক অস্ত্র থেকে মুক্তিও পাচ্ছি না কেন? সেই একই খোদ পারমাণবিক অস্ত্রের কারণেই!<br>মনে হচ্ছে, এই একগুঁয়েমি যেন খোদ ওই মারণাস্ত্রগুলোরই এক অদ্ভুত কারসাজি!
* এই প্রতিযোগিতার দৌড় মূলত পারমাণবিক অস্ত্র বনাম আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের মধ্যে।
** '''''[[:w:মার্টিন এমিস|মার্টিন এমিস]]''''', ''আইনস্টাইন'স মনস্টারস'' (১৯৮৭), ভূমিকা
* আমরা স্রেফ জানি না যে পারমাণবিক অস্ত্র আদৌ প্রতিরোধক হিসেবে কার্যকর হয়েছে কিনা। কিংবা এগুলো আজ কার্যকর কিনা অথবা ভবিষ্যতে কার্যকর হবে বলে আশা করা যায় কি না। বছরের পর বছর ধরে পারমাণবিক নীতিগুলো এমন সব তথ্যের অজ্ঞানতার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি করা হয়েছে, যা এই নীতির ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য সবচেয়ে প্রধান বিষয় ছিল।
** '''''রবার্ট এল. হোমস''''', [https://www.nytimes.com/1988/01/17/opinion/l-what-we-don-t-know-about-nuclear-policy-016788.html ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'', "পারমাণবিক নীতি সম্পর্কে আমরা যা জানি না" (১৭ জানুয়ারি, ১৯৮৮)], পৃষ্ঠা ২৬
* কেবল পারমাণবিক বোমার সহিংসতাই মানবজাতির জন্য একমাত্র হুমকি নয়। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের সহকর্মী মানুষদের, নির্দোষ অথবা দোষী উভয়কেই—হত্যা করার এই যে নিচু মানসিকতা, সেটিই হলো বড় হুমকি! যতক্ষণ না আমরা আমাদের সময়, শক্তি এবং সম্পদকে যেকোনো ধরনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পথ থেকে সরিয়ে এনে যুদ্ধের অহিংস বিকল্প খোঁজার কাজে নিয়োজিত করছি, ততক্ষণ পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলার আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা সম্ভবত কোনো কাজেই আসবে না অর্থাৎ এটি শুধুই বৃথা যাবে!
** '''''রবার্ট এল. হোমস''''', ''অন ওয়ার অ্যান্ড মোরালিটি'' (১৯৮৯), ভূমিকা পৃষ্ঠা ১০
=== ১৯৯০-এর দশক ===
* পারমাণবিক হামলার জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের অনেক জরুরি কিছু পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যেত যে আমি ভাবতাম, এমন সংকটে পরিকল্পনা বা যুক্তির কতটা প্রয়োগ করা সম্ভব। [[:w:রাশিয়া|রাশিয়ানরা]] মাঝেমধ্যেই আমাদের পূর্ব উপকূলে এমন সব পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন রাখত, যা মাত্র ছয় থেকে আট মিনিটের মধ্যে [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসকে]] একদম পারমাণবীয় [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়]] ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারত! [[:w:রাডার|রাডার]] স্কোপের ওপর ভেসে ওঠা একটা বিন্দুর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র ছয় মিনিট সময় পাওয়া যেত; যে আপনি কি ''আরমাগেডন'' (বাইবেল অনুসারে শেষ যুগে দুনিয়া ধ্বংসের পূর্বে সত্য ও মিথ্যার মাঝে চূড়ান্ত মহাযুদ্ধ) শুরু করবেন কি না! এমন সময়ে কীভাবে যুক্তি প্রয়োগ করতে পারা যায়? [[:w:পেন্টাগন|পেন্টাগনের]] কিছু লোক ছিল যারা পারমাণবিক যুদ্ধ করা এবং তাতে জেতার কথা ভাবত। আমার কাছে এটি ছিল সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান। পারমাণবিক যুদ্ধে কোনো পক্ষই জিততে পারে না। তাই এটি কখনোই লড়া উচিত নয়।
** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', ''অ্যান আমেরিকান লাইফ'' (১৯৯০)
* পারমাণবিক বোমার এই [[:w:স্নায়ুযুদ্ধ|শীতল-যুদ্ধের]] ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্যই বৈশ্বিক পারমাণবিক যুদ্ধের পরিণতির কোনো সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হয়নি। বরং এটি করা হয়েছে [[:w:পদার্থবিজ্ঞান|পদার্থবিজ্ঞানের]] নিয়মগুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে। (এই সমস্যাটি পূর্ণ পরীক্ষামূলক যাচাইকরণের সুযোগ দেয় না। অন্তত একবারের বেশি তো কখনই নয়।)
** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''' এবং ''রিচার্ড পি. টারকো'', ''এ পাথ হোয়্যার নো ম্যান থট: নিউক্লিয়ার উইন্টার অ্যান্ড দ্য এন্ড অফ দ্য আর্মস রেস'' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ২৬
* ''[[গ্যালিলিও গ্যালিলেই|গ্যালিলিও]] এর মাথা যখন ছিন্ন করতে চায় জল্লাদ—<br>তখন,<br>সত্য খুঁজতে আরশের দিকে তাকানোই ছিল তাঁর অপরাধ!...<br>জাগবেই জাগবে সেই পুনর্জন্ম...<br>পেতেই হবে আত্মার সঠিক ধর্ম...<br>কোনো মানুষ কী মাখতে পারে না সেই আলোড়ন?...<br>যেথায় গ্যালিলিওরা করে বিচরণ—<br>ছিলেন তিনি নিশার রাজা, দৃষ্টি-গভীর সম্রাট...<br>এ তো রসিকতা নয়, ছিলেন যে সত্যের লৌহ কপাট!<br>আমি সবকিছুই খুব চেখে দেখি;<br>দেখে যাই সঠিক পথ, বেড়ে যায় হিম্মত।<br>মানবতা যেন হৃদয়ে রাখি, না হই যেন আণবিক ধ্বংসলীলা—<br>কিন্তু চিনেছি কী সেই সত্যকে, যা ছিল দুনিয়া ভোলা?''
** '''''[[w:ইন্ডিগো গার্লস|ইন্ডিগো গার্লস]]''''', "গ্যালিলিও", ''জিনিয়াস'' অ্যালবাম থেকে (১২ মে, ১৯৯২); ''বাংলায় রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
* যুদ্ধ। যুদ্ধ কখনোই বদলায় না।
** ''ফলআউট'', (১৯৯৭ ভিডিও গেম), প্রারম্ভিক বর্ণনা: '''''[[:w::রন পার্লম্যান|রন পার্লম্যান]]''''
=== ২০০০-এর দশক ===
* ঈশ্বরের দোহাই, আপনাদের সন্তানদের প্রতি ভালোবাসার দোহাই, আপনারা যে সভ্যতার অংশ তার দোহাই - আপনারা দয়া করে এই উন্মাদনা বন্ধ করুন! আপনারা মরণশীল মানুষ। আপনাদের ভুল হতে পারে। আপনাদের হাতে এমন ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা রাখার কোনো অধিকার নেই। এমন কোনো বিজ্ঞ বা শক্তিশালী মানুষ নেই যার হাতে আমাদের গ্রহের একটি বিশাল অংশের সভ্য জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা থাকা উচিত।
** '''''জর্জ এফ কেনান''''', তাঁর মৃত্যুসংবাদে উদ্ধৃত, "১০১ বছর বয়সে জর্জ কেনানের মৃত্যু; কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের নীতি প্রণয়নকারী", ''দ্য বোস্টন গ্লোব'' (১৮ মার্চ, ২০০৫); এছাড়াও জেমস ক্যারল, ''হাউস অফ ওয়ার'' (বোস্টন এবং নিউ ইয়র্ক: হটন মিফলিন কোং, ২০০৬), "আপস্ট্রিম", পৃষ্ঠা ৫৮১, নোট ১৪০। ISBN 0618187804.
=== ২০১০-এর দশক ===
* ...ঠিক রাশিয়ান সীমান্তে অত্যন্ত চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে এবং এমন একটি পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা মূলত পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব এবং প্রজাতির জন্য চূড়ান্ত বিনাশ ডেকে আনতে পারে! আমরা এর খুব কাছাকাছিই রয়েছি।<br>প্রথমত, এটি প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আমাদের কিছু করা উচিত। দ্বিতীয়ত, আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত কেন এমনটা হলো। এর কারণ হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর [[:w:মিখাইল গর্বাচেভ|মিখাইল গর্বাচেভকে]] দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে [[:w:ন্যাটো|ন্যাটোর]] বিস্তার। মূলত [[:w:বিল ক্লিনটন|ক্লিনটনের]] অধীনে এটি শুরু হয়, আংশিকভাবে প্রথম [[:w:জর্জ ডব্লিউ. বুশ|জর্জ ডব্লিউ. বুশ]] এবং তারপর ক্লিনটন একে সরাসরি রাশিয়ান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করেন, যা [[:w:বারাক ওবামা|বারাক ওবামার]] অধীনে আরও প্রসারিত হয়। সুসংগঠিত মানব সমাজের ভাগ্য, এমনকি প্রজাতির টিকে থাকাও এর ওপর নির্ভর করছে! [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] কোনো বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন কি না; তার তুলনায় এই বিষয়গুলোতে কতটা মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে?
** '''''[[:w:নোম চম্স্কি|নোম চম্স্কি]]''''', [https://www.democracynow.org/2018/7/27/noam_chomsky_on_mass_media_obsession "Noam Chomsky on Mass Media Obsession with Russia & the Stories Not Being Covered in the Trump Era"], ''ডেমোক্রেসি নাও'' (২৭ জুলাই, ২০১৮)
=== ২০২০-এর দশক ===
* পারমাণবিক অস্ত্রগুলো নাটকের মঞ্চে দেয়ালে ঝুলে থাকা একটি [[:w:রাইফেল|রাইফেলের]] মতো! আমরা সেই নাটকটি লিখিনি, আমরা এটি মঞ্চস্থ করছি না এবং নাট্যকার কী চান তাও আমরা জানি না। যে কেউ যেকোনো সময় দেয়াল থেকে রাইফেলটি তুলে নিতে পারে।
** '''''[[:w:মিখাইল গর্বাচেভ|মিখাইল গর্বাচেভ]]''''', ''হোয়াট ইজ অ্যাট স্টেক নাউ'' (২০২০), জেসিকা স্পেংলার কর্তৃক [[:w:রুশ ভাষা|রুশ ভাষা]] থেকে অনূদিত
* আমেরিকার একটি মাত্র 'ট্রাইডেন্ট' সাবমেরিন, যা এখন আরও শক্তিশালী সাবমেরিন দিয়ে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। এখন এটি তার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের প্রায় ২০০টি শহর ধ্বংস করে দিতে সক্ষম! [[:w:দক্ষিণ চীন সাগর|দক্ষিণ চীন সাগরে]] চীনের মাত্র চারটি পুরনো ও শব্দ সৃষ্টিকারী সাবমেরিন রয়েছে, যা আমেরিকা ও তার মিত্র বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে ঠিকমতো বের হতেই পারে না। এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র [[:w:অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়ায়]] পারমাণবিক সাবমেরিনের একটি বহর পাঠাচ্ছে। এটিই হলো সেই 'AUKUS' বা অকাস চুক্তি(অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত) যার আসলে কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্যই নেই। এগুলো এমনকি আগামী ১৫ বছরের মধ্যেও সচল হবে না, কিন্তু এগুলো চীনকে তাদের পিছিয়ে থাকা সামরিক শক্তি বাড়িয়ে তুলতে এবং সংঘাতের মাত্রা তীব্র করতে নিশ্চিতভাবেই উস্কানি দিচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে যেসব সমস্যা রয়েছে তা আঞ্চলিক শক্তির নেতৃত্বে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব, আমি চাইলে এর গভীরে যেতে পারি। কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ কখনোই উস্কানি বাড়ানো হতে পারে না, কিংবা এমন কোনো দুর্ঘটনাবশত পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়ানো নয় যা ধ্বংসাত্মক হতে পারে। এমনকি এই ধরনের পদক্ষেপ পৃথিবীর জন্য চূড়ান্ত পারমাণবিক যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে! কিন্তু [[:w:বাইডেন|জো বাইডেন]] প্রশাসন ট্রাম্পের কর্মসূচিগুলো সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেই পথেই হাঁটছে। এটিই তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।
** '''''[[:w:নোম চমস্কি|নোম চমস্কি]]''''', [https://www.democracynow.org/2021/11/23/noam_chomsky_on_bidens_foreign_policy "চীন কি আসলেই একটি হুমকি?"], ''ডেমোক্রেসি নাও'' (২৩ নভেম্বর, ২০২১)
== আরও দেখুন ==
* [[পারমাণবিক শক্তি]]
* [[পারমাণবিক অস্ত্র]]
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
* [https://history.state.gov/search?q=atomic%20bomb&within=documents&start-date=1945-01-01&end-date=1952-12-31&sort-by=relevance ১৯৪৫ –১৯৫২: পারমাণবিক বোমার ইতিহাস] মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল আর্কাইভ।
* [https://nsarchive.gwu.edu/ ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ] জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি।
* [https://www.atomicarchive.com/ অ্যাটমিক আর্কাইভ]: পারমাণবিক অস্ত্রের বিজ্ঞান ও ইতিহাস।
* [https://disarmament.unoda.org/en জাতিসংঘ: নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক কার্যালয় (UNODA)]
* [https://www.iaea.org/ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)]
* [https://thebulletin.org/doomsday-clock/ domsday ক্লক (Doomsday Clock)] বর্তমান পারমাণবিক ঝুঁকির সূচক।
* [https://peace-tourism.com/en/spot/entry-40.html হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল মিউজিয়াম]
* [https://nuclearsecrecy.com/nukemap/ নিউক ম্যাপ (NUKEMAP)]: পারমাণবিক বিস্ফোরণ সিমুলেটর।
[[বিষয়শ্রেণী:যুদ্ধ]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারমাণবিক অস্ত্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারমাণবিক যুদ্ধ]]
2hyamxtbkjmuarnte5e7qd85xr2cmz7
83222
83221
2026-05-01T14:00:18Z
Oindrojalik Watch
4169
83222
wikitext
text/x-wiki
[[File:AtomicWar0101.jpg|thumb|আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই '[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।<br>—'''''জে. আর. আর. টলকিন''''']]
'''[[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]]''', যা আণবিক যুদ্ধ নামেও পরিচিত; এটি এমন এক সামরিক সংঘাত বা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল যেখানে [[:w:পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক অস্ত্রের]] প্রয়োগ ঘটানো হয়।
== উক্তি ==
=== পূর্বাভাস ===
* মানুষ বিজ্ঞানের পিঠে চড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানই এখন তাকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটে চলেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বিজ্ঞানই মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যেসব যন্ত্র উদ্ভাবন করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার সাধ্যের বাইরে চলে যাবে। কোনো একদিন বিজ্ঞান হয়তো মানবজাতির অস্তিত্বকেই নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবে এবং পৃথিবীটাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মানুষ নিজেই নিজের আত্মহননের পথ বেছে নেবে!
** '''''[[:w:হেনরি অ্যাডামস|হেনরি অ্যাডামস]]''''', চার্লস ফ্রান্সিস অ্যাডামস জুনিয়রের কাছে লেখা চিঠি (লন্ডন, ১১ এপ্রিল, ১৮৬২); জে. সি. লেভেনসন, ই. স্যামুয়েলস, সি. ভ্যান্ডারসি এবং ভি. হপকিন্স উইনার সম্পাদিত, দ্য ''লেটারস অফ হেনরি অ্যাডামস'': ১৮৫৮-১৮৬৮ (১৯৮২), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯০।
* বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মানচিত্রেই তিন-চারটি বা তারও বেশি লাল বৃত্ত দেখা যায়। প্রায় কুড়ি মাইল ব্যাসার্ধের এই চিহ্নগুলো মূলত একেকটি মৃত পারমাণবিক বোমার অবস্থান এবং সেই অভিশপ্ত মৃত্যুপুরীর সাক্ষ্য দেয়, যা মানুষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের ভেতরেই চিরতরে হারিয়ে গেছে অমূল্য সব জাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, রাজপ্রাসাদ, গ্রন্থাগার আর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের গ্যালারি আর সহস্র বছরের অর্জনের এক বিশাল স্তূপ! এই দগ্ধ অবশিষ্টাংশ আজ মাটির নিচে সমাহিত, যা কি না এক বিচিত্র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হিসেবে কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় পড়ে আছে।
** '''''[[:w:এইচ. জি. ওয়েলস|এইচ. জি. ওয়েলস']]''''', ''দ্য ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি'' (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২২২।
=== ১৯৪০-এর দশক ===
[[File:Nagasakibomb.jpg|thumb|৯ আগস্ট, ১৯৪৫-এ [[:w:নাগাসাকি|নাগাসাকিতে]] পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর আকাশে উড্ডীয়মান সেই ভয়ংকর মাশরুম মেঘ বা পারমাণবিক ধোঁয়া!]]
* তারা যদি এখনই আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে তারা আকাশ থেকে ধ্বংসের এমন এক বৃষ্টির আশঙ্কা করতে পারে যা এই পৃথিবীতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] পারমাণবিক বোমা হামলার ঘোষণা সম্বলিত [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসের]] সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (৬ আগস্ট, ১৯৪৫); এই ঘোষণাটি মূলত ৩১ জুলাই যুদ্ধ সচিব হেনরি স্টিমসনের তৈরি করা একটি খসড়ার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল।
* প্রকৃতির গোপন রহস্যের এই উন্মোচন—যা এতদিন পরম করুণাময় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তা বোধশক্তি সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মন ও বিবেককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলবে। আমাদের অবশ্যই প্রার্থনা করতে হবে যে, এই ভয়াবহ শক্তি যেন জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়; এবং সারা বিশ্বে সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে তা যেন বিশ্ব সমৃদ্ধির এক চিরস্থায়ী উৎসে পরিণত হয়।
** '''''[[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]''''', হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার পর প্রস্তুত করা বিবৃতি। সরকার পরিবর্তনের কারণে বিবৃতিটি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল (৬ আগস্ট, ১৯৪৫)। তথ্যসূত্র: ''ভিক্টরি: ওয়ার স্পিচেস বাই দ্য রাইট অনারেবল উইনস্টন চার্চিল'' (১৯৪৬), পৃষ্ঠা ২৮৯।
* "পারমাণবিক বোমা" সম্পর্কে আজকের খবরগুলো এতটাই ভয়াবহ যে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মান যখন নিম্নমুখী, তখন তাদের হাতে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক তুলে দেওয়া আর কারাগারের কয়েদিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে "শান্তি বজায় থাকবে" বলে আশা করা একই কথা। তবে যদি এই খবরগুলো অতিরঞ্জিত না হয়, তবে এর থেকে একটি ভালো ফল আসতে পারে—জাপানের নতিস্বীকার করা উচিত। আমরা এখন বিধাতার করুণার ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি কখনোই ''[[:w:ব্যাবিলনের টাওয়ার|ব্যাবিলন-টাওয়ার]]'' নির্মাতাদের সদয় দৃষ্টিতে দেখেন না।
** '''''[[:w:জে. আর. আর. টলকিন|জে. আর. আর. টলকিন]]''''', তাঁর পুত্র ক্রিস্টোফারের কাছে লেখা একটি চিঠি থেকে (৯ আগস্ট, ১৯৪৫); ''দ্য লেটারস অফ জে. আর. আর. টলকিন'' (১৯৮১) বইয়ে সংকলিত।
* ...শত্রুপক্ষ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যার ধ্বংসক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে অভাবনীয় এবং যা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আমরা যদি যুদ্ধ চালিয়ে যাই, তবে তা কেবল জাপানি জাতির চূড়ান্ত পতন ও বিলুপ্তিই ঘটাবে না, বরং তা সমগ্র মানব সভ্যতার সম্পূর্ণ বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।
** '''''[[:w:হিরোহিতো|হিরোহিতো]]''''', ''ইম্পেরিয়াল রেস্ক্রিপ্ট অন দ্য টারমিনেশন অফ দ্য ওয়ার'' (১৫ আগস্ট, ১৯৪৫); পটসডাম ঘোষণা গ্রহণের সময়।
[[File:US_and_USSR_nuclear_stockpiles.png|thumb|স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত। এটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা সেই উন্মাদনাপূর্ণ আণবিক প্রতিযোগিতার একটি তুলনামূলক চিত্র।]]
* [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] এবং [[:w:সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়নের]] মধ্যে এমন এক যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে যা লন্ডনের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। আমার মনে হয় এই যুদ্ধ অন্তত ৩০ বছর স্থায়ী হবে এবং বিশ্বে কোনো সভ্য মানুষ অবশিষ্ট থাকবে না। সেখান থেকে সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলতে হবে, যা হয়তো (ধরা নেওয়া যাক) আরও ৫০০ বছর সময় নেবে!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', গ্যামেল ব্রেনানকে লেখা চিঠি (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫)। নিকোলাস গ্রিফিন সম্পাদিত, ''সিলেক্টেড লেটারস'' (২০০২), পৃষ্ঠা ৪১০।
* কী এক অদ্ভুত পরিহাষের বিষয়! বিধাতার সৃষ্টি এই শ্রেষ্ঠ জীব '[[:w:মানুষ|হোমো সেপিয়েন্স]]' আজ নিজেরই বোকামির পরিণাম থেকে বাঁচতে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে! সামান্যতম প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা থাকলেও এই নির্মল বাতাস আর সূর্যের উষ্ণ আলোয় ঘেরা জীবনকে এভাবে ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ত না। বিজ্ঞানে আমাদের এই চতুরতা যদি শেষ পর্যন্ত [[:w:পাতি গেছো ছুঁচো|ছুঁচোদের]] মতো মাটির নিচে বাস করতে বাধ্য করে, তবে তার চেয়ে বড় বৈপরীত্য এবং পরিহাসের বিষয় আর কী হতে পারে!
** '''''জে. উইলিয়াম ফুলব্রাইট''''', [[:w:নিউ ইয়র্ক শহর|নিউইয়র্ক সিটিতে]] ফরেন পলিসি অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া ভাষণ (২০ অক্টোবর, ১৯৪৫); ''ফুলব্রাইট অফ আরকানসাস: দ্য পাবলিক পজিশনস অফ আ প্রাইভেট থিংকার'' (১৯৬৩) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:জার্মানি|জার্মানরা]] পারমাণবিক বোমা তৈরিতে আর সফল হবে না। এটা যদি আগে জানতাম, তবে আমি এই কাজে একটি আঙুলও নাড়াতাম না।
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', রুজভেল্টের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে লেখা চিঠির প্রসঙ্গে; ''[[:w:নিউজউইক|নিউজউইক সাময়িকী]]'' (১০ মার্চ, ১৯৪৭), "অ্যাটম: আইনস্টাইন, দ্য ম্যান হু স্টার্টেড ইট অল" নিবন্ধে।
* আমাদের কাছে বৈজ্ঞানিক মানুষের ভিড় প্রচুর, কিন্তু বিবেকবান মানুষের বড়ই অভাব। আমরা পরমাণুর রহস্য উন্মোচন করেছি ঠিকই, কিন্তু যিশুর সেই 'পাহাড়ের চূড়ায় দেওয়া আলোকিত উপদেশ' ([[:w:পর্বতে ধর্মাপদেশ|সারমন অন দ্য মাউন্ট]]) উপেক্ষা করেছি। পৃথিবী আজ এক বিবেকহীন উজ্জ্বলতা অর্জন করেছে! আমাদের এই জগত এখন পারমাণবিক দানব আর 'নৈতিক-শিশুদের' (যারা ক্ষমতাধর কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন) বাসভূমি। আমরা শান্তি সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি জানি যুদ্ধ সম্পর্কে। জীবন সম্পর্কে জানার চেয়ে অনেক বেশি জানি নিধন সম্পর্কে। আমরা যদি প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা ছাড়া আমাদের এই প্রযুক্তির উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাই, তবে এই দাস তথা প্রযুক্তিগুলোই একদিন আমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে!
** '''''[[:w:ওমর ব্র্যাডলি|ওমর ব্র্যাডলি]]''''', যুদ্ধবিরতি দিবসের ভাষণ (১১ নভেম্বর, ১৯৪৭); ''কালেক্টেড রাইটিংস'', খণ্ড ১ (১৯৬৭) বইয়ে সংকলিত।
* [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|হাইড্রোজেন বোমার]] আরও একটি বিশেষ সুবিধা আছে। এই গ্রহে [[:w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুদ খুবই সীমিত, তাই একটা ভয় ছিল যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এই জ্বালানি হয়তো ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু এখন যেহেতু হাইড্রোজেনের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ ব্যবহার করা সম্ভব। তাই আশা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, 'হোমো সেপিয়েন্স' বা মানবজাতি নিজেই নিজেদের ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে! আর এটি হবে বেঁচে থাকা অন্যান্য কম হিংস্র প্রাণীকুলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। তবে এখন বরং কম আনন্দদায়ক বিষয়গুলোতে ফিরে আসা যাক।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান নলেজ: ইটস স্কোপ অ্যান্ড লিমিটস'' (১৯৪৮), প্রথম অংশ, তৃতীয় অধ্যায়।
* তৃতীয় [[:w:বিশ্বযুদ্ধ|বিশ্বযুদ্ধ]] কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে তা আমি জানি না, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে!
** '''''[[:w:আলবার্ট আইনস্টাইন|আলবার্ট আইনস্টাইন]]''''', আলফ্রেড ওয়ার্নারের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে; ''লিবারেল জুডাইজম'', সংখ্যা ১৬ (এপ্রিল-মে ১৯৪৯), আইনস্টাইন আর্কাইভ ৩০-১১০৪; অ্যালিস ক্যালাপ্রিস সম্পাদিত ''দ্য নিউ কোটেবল আইনস্টাইন'' (২০০৫) হতে সংকলিত, পৃষ্ঠা ১৭৩।
** ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকেও এমন বক্তব্যের বিভিন্ন সংস্করণ লক্ষ্য করা যায়। যেমনঃ ''দ্য রোটারিয়ান'', খণ্ড ৭২, সংখ্যা ৬ (জুন ১৯৪৮), পৃষ্ঠা ৯: "আমি জানি না। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধে তারা কী ব্যবহার করবে। তারা পাথর ব্যবহার করবে!"। [[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে|হ্যারি এস. ট্রুম্যানকে]] লেখা একটি অজ্ঞাত পত্রেও এর ভিন্ন রূপ পাওয়া যায়: "আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্র দিয়ে লড়া হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে।" (সূত্র: ''এমএসএনবিসি'', ১৮ এপ্রিল ২০০৫)। যদিও ১৯৪৮ সালের আগে প্রায় একই ধরণের উক্তি জনৈক আর্মি লেফটেন্যান্টের নামেও প্রচলিত ছিল।
=== ১৯৫০-এর দশক ===
* এখন কেবল একটাই প্রশ্ন অবশিষ্ঠ—আমাকে ঠিক কবে উড়িয়ে দেওয়া হবে?
** '''''[[:w:উইলিয়াম ফকনার|উইলিয়াম ফকনার]]''''', সাহিত্যে [[:w:নোবেল পুরস্কার|নোবেল পুরস্কার]] গ্রহণকালীন ভাষণ (১০ ডিসেম্বর, ১৯৫০), তাঁর প্রজন্মের "এক সর্বজনীন এবং বিশ্বজনীন জাগতিক ভীতি" প্রসঙ্গে। জেমস বেকার কর্তৃক "আমেরিকা অ্যান্ড দ্য কলাপস অফ দ্য সোভিয়েত এম্পায়ার: হোয়াট হ্যাজ টু বি ডান" (১২ ডিসেম্বর, ১৯৯১) ভাষণে উদ্ধৃত; ''ভাইটাল স্পিচেস অফ দ্য ডে'', খণ্ড ৫৮, সংখ্যা ৬ (১ জানুয়ারি, ১৯৯২)।
[[File:Bert2.png|thumb|...বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে!]]
* যদি তুমি প্রস্তুত না থাকো এবং না জানো যে ঠিক কী করতে হবে, তবে এটি তোমাকে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে। এটি তোমাকে সজোরে নিচে ফেলে দিতে পারে কিংবা আছড়ে ফেলতে পারে কোনো গাছ অথবা দেয়ালের ওপর। এটি এতটাই ''বিশাল'' এক বিস্ফোরণ যে, তা ঘরবাড়ি ''চুরমার'' করে দিতে পারে, বিজ্ঞাপনী ফলকগুলো ''গুঁড়িয়ে'' দিতে পারে এবং পুরো শহরটার জানালার কাচ ভেঙে ফেলতে পারে! কিন্তু বার্টের মতো যদি তুমিও মাথা নিচু করে নিজেকে গুম করে ফেল, তবে তুমি অনেকটাই নিরাপদে থাকবে।
** ''ডাক অ্যান্ড কভার'' (১৯৫১ সালের একটি সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র), বার্ট দ্য টার্টল।
* যা-ই হোক, এক দিক দিয়ে আমি খুশিই যে তারা পারমাণবিক বোমাটা অন্তত আবিষ্কার করেছে। যদি কখনো আবার যুদ্ধ বাঁধে, তবে আমি সেই নারকীয় বোমাটার ঠিক ওপরেই গিয়ে জেঁকে বসব! খোদার কসম, আমি নিজেই এর জন্য স্বেচ্ছাসেবী হব!
** '''''[[:w:জে. ডি. সালিঞ্জার|জে. ডি. সালিঞ্জার]]''''', ''দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই'' (১৯৫১), পৃষ্ঠা ১৮৩ (হোল্ডেন কলফিল্ডের উক্তি)।
* পরমাণুর মাঝে কোনো অশুভ নেই অশুভ কেবল মানুষের আত্মায়।
** '''''আদলাই স্টিভেনসন II''''', "দ্য অ্যাটমিক ফিউচার", হার্টফোর্ড, কানেকটিকাটে দেওয়া ভাষণ (১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২); ''স্পিচেস অফ আদলাই স্টিভেনসন'' (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত।
* সবচেয়ে ভয়ের বিষয় এবং সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশাটুকু খুব সহজভাবে বলা যায়। সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো পারমাণবিক যুদ্ধ। আর সবচেয়ে ভালোটি হতে পারে চিরস্থায়ী ভয় আর উত্তেজনায় পূর্ণ এক জীবন!<br>এই অস্ত্রটি এমন এক বোঝা যা প্রতিটি জাতির সম্পদ ও শ্রমকে নিঃশেষ করে দিতে পারে। এটি শক্তির এমন এক অপচয় যা আমেরিকান [[:w:পুঁজিবাদ|ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা]], সোভিয়েত [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা]] কিংবা পৃথিবীর কোনো প্রকার ব্যবস্থাকেই মানুষের জন্য প্রকৃত প্রাচুর্য আর সুখের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যে বন্দুকই তৈরি করা হোক, যে [[:w:যুদ্ধ জাহাজ |যুদ্ধজাহাজই]] ভাসানো হোক কিংবা যে রকেটই ছোঁড়া হোক না কেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো সেই ক্ষুধার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের অন্ন জোটেনি, সেই শীতার্তদের কাছ থেকে চুরি করা যাদের বস্ত্র জোটেনি!<br>এই সশস্ত্র পৃথিবী কেবল অর্থই ব্যয় করছে না; এটি ব্যয় করছে তার শ্রমিকের ঘাম, বিজ্ঞানীদের মগজ আর শিশুদের স্বপ্ন এবং অমোঘ প্রতিভা! একটি আধুনিক ভারী [[:w: যুদ্ধ বিমান|বোমারু বিমানের]] মূল্য ৩০টিরও বেশি শহরে থাকা আধুনিক ইটের তৈরি স্কুল ভবনের থেকেও বেশি! এটি দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমন্বিত শক্তির সমান, যার একটি ৬০,০০০ মানুষ সম্বলিত শহরকে আলোকিত করতে পারত! এটি দুটি চমৎকার এবং সম্পূর্ণ সুসজ্জিত হাসপাতালের সমান। এটি প্রায় পঞ্চাশ মাইল দীর্ঘ কংক্রিটের রাস্তার সমান!<br>একটি মাত্র যুদ্ধবিমান কিনতে আমাদের পাঁচ লক্ষ বুশেল গম গচ্চা দিতে হয়। একটি মাত্র ডেস্ট্রয়ার জাহাজ তৈরি করতে আমাদের সেই অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা দিয়ে ৮,০০০ মানুষের নতুন আবাসন তৈরি করা সম্ভব ছিল!<br>আমি আবারও বলছি, পৃথিবী যে পথে এগোচ্ছে, এটিই তার সেরা সময়কাল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো জীবনই নয়। যুদ্ধের আশঙ্কার কালো মেঘের নিচে এটি যেন এক লৌহ ক্রুশবিদ্ধ মানবতা! ... পৃথিবী কি আর অন্য কোনো উপায়ে বেঁচে থাকতে পারে না?
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', "দ্য চান্স ফর পিস", ''আমেরিকান সোসাইটি অফ নিউজপেপার এডিটরসের'' সামনে দেওয়া এক ভাষণ (১৬ এপ্রিল, ১৯৫৩)।
[[File:Imagination 195403 (cropped).jpg|thumb|ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে, তবে কি তাদের মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া উচিত? </br> —'''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''']]
* ধরা যাক পারমাণবিক বোমার আঘাতে পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে কেবল আপন এক ভাই এবং এক বোনে এসে ঠেকেছে! তবে কি তাদের উচিত মানবজাতিকে বিলুপ্ত হতে দেওয়া? এর আমি উত্তর জানি না, তবে আমার মনে হয় না যে কেবল '[[:w:অজাচার|রক্তসম্পর্কীয় অজাচার পাপ]]' এই যুক্তিতে উত্তরটি ইতিবাচক হওয়া উচিত।
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''হিউম্যান সোসাইটি ইন এথিক্স অ্যান্ড পলিটিক্স'' (১৯৫৪)।
* 安らかに眠って下さい 過ちは 繰返しませぬから
** শান্তিতে ঘুমান। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।
** [[w:হিরোশিমা শান্তি স্মৃতিসৌধ|হিরোশিমা শান্তি স্মৃতি উদ্যানের]] স্মৃতিফলকে খোদাই করা এপিটাফ (১ এপ্রিল, ১৯৫৪)। অ্যালান এল. ম্যাকে-র 'দ্য হার্ভেস্ট অফ আ কোয়ায়েট আই' (১৯৭৭) বইয়ে উদ্ধৃত। [[:w:রবার্ট মিলিকান|রবার্ট অ্যান্ড্রুস মিলিকানের]] 'ফেমাস লাইনস: আ কলম্বিয়া ডিকশনারি অফ ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস' (১৯৯৭), পৃষ্ঠা ৩৪০।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব! এখন এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। </br> —'''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''']]
* আমার মতে, বর্তমান সময়ে একটি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ অসম্ভব এক কল্পনা! এটি কীভাবে সম্ভব যখন এই যুদ্ধের একটি অনিবার্য বৈশিষ্ট্যই হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একেকটি শহর। যেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত, আহত কিংবা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকবে? যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না? একে আর যাই হোক প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ বলা যায় না। এটি স্রেফ যুদ্ধ!
** '''''[[:w:ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার|ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]]''''', প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন (১১ আগস্ট, ১৯৫৪); এলসি গলাঘের সম্পাদিত ''দ্য কোটেবল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার'' (১৯৬৭), পৃষ্ঠা ২১৯-এ প্রকাশিত।
* শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, হাইড্রোজেন বোমা বা [[:w:তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র|এইচ-বোমার]] মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধ সম্ভবত মানবজাতির অস্তিত্বই মিটিয়ে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, যদি প্রচুর পরিমাণে এইচ-বোমা ব্যবহার করা হয়, তবে সারা বিশ্বে এক সর্বজনীন মৃত্যু নেমে আসবে! যা অল্প কিছু মানুষের জন্য হবে তাৎক্ষণিক, কিন্তু বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য তা হবে রোগ-ব্যাধি আর শারীরিক বিপর্যয়ের এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক তিল তিল মৃত্যু!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''রাসেল-আইনস্টাইন ইশতেহার'' (১৯৫৫)।
* পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পেছনে তেমন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং তথ্যের জন্য আপনাকে জানিয়ে রাখি, হিরোশিমার আণবিক বোমার চেয়েও টোকিওতে অগ্নিবোমা হামলায় অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল তাদের অস্ত্রাগারে থাকা আরও একটি শক্তিশালী অস্ত্র মাত্র। এই বোমা নিক্ষেপ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
** '''''[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|হ্যারি এস. ট্রুম্যান]]''''', নিউ ইয়র্ক সিটির [[:w:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়|কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে]] একটি সিম্পোজিয়ামে প্রশ্নের উত্তরে (২৮ এপ্রিল, ১৯৫৯); ''ট্রুম্যান স্পিকস'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ৬৭।
=== ১৯৬০-এর দশক ===
* এই 'ডুমসডে মেশিন' বা কেয়ামতের যন্ত্রের অগ্রহণযোগ্যতা এমন কিছু অস্বস্তিকর, অপ্রীতিকর এবং জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে যা নীতি-নির্ধারক এবং প্রযুক্তিবিদ, উভয়কেই গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। যদি অতর্কিত আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য পৃথিবীর তিনশ কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে ঠিক কতজন মানুষের জীবন বাজি ধরতে আমরা রাজি আছি? আমি বিশ্বাস করি, যদি 'টাইপ-১ ডিটারেন্স' বা প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার ফলে একটি সর্বাত্মক তাপ-পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং [[:w:ন্যাটো|ন্যাটো]] অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাৎক্ষণিক প্রভাবে এক থেকে বিশ কোটি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে! এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদী [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়তার]] প্রভাব বিবেচনা না করলেও। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও 'টাইপ-২ ডিটারেন্স' বা দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যা প্রযোজ্য হবে। আমরা এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সাথে বেঁচে থাকতে রাজি আছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, আমরা একে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা বলে মনে করি। দ্বিতীয়ত, আমাদের বিশ্বাস যে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখনোই ব্যর্থ হবে না এবং এটি যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তবে তার ফলাফল এতটা বিপর্যয়কর হবে না।
** '''''হারমান কান''''', ''অন থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ার'' (১৯৬০)।
* কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন যে [[:w:চীন|চীন]] কি পারমাণবিক বোমা অর্জন বা নিক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে? না, চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন—কেউই কখনোই এই বোমা ব্যবহার করবে না, যদি না তারা তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাদের রক্তে রয়েছে আগ্রাসন আর যুদ্ধ। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে এই বোমা না থাকত, তবে সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের সাথে অন্য ভাষায় কথা বলত। আমরা কখনোই পারমাণবিক বোমা দিয়ে আক্রমণ করব না, আমরা যুদ্ধ বিরোধী। আমরা এই বোমা ধ্বংস করতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে আমরা এটি নিজেদের কাছে রেখেছি।<br>আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, '''''"Frika ruan vreshtin"''''' (''ভয়ই আঙুর বাগান রক্ষা করে'' বা ''চোরের মন পুলিশ পুলিশ'')। সাম্রাজ্যবাদীদের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া এবং সেই ভয়টি হওয়া উচিত চরম মাত্রার।
** '''''[[:w:এনভার হোজা|এনভার হোজা]]''''', মস্কোতে ৮১টি [[:w:সাম্যবাদ|কমিউনিস্ট]] ও [[:w:ওয়ার্কার্স পার্টি|ওয়ার্কার্স পার্টির]] সভায় আলবেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দেওয়া ভাষণ (১৬ নভেম্বর, ১৯৬০)।
* [[:w:মহান আলেকজান্ডার|আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট]], [[:w:জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজার]] এবং [[:w:নেপোলিয়ন বোনাপার্ট|নেপোলিয়নের]] ঐতিহ্যে [[:w:অ্যাডলফ হিটলার|অ্যাডলফ হিটলার]] সম্ভবত মহান দুঃসাহসী বিজয়ে বিশ্বাসী যোদ্ধাদের মধ্যে শেষ ব্যক্তি। 'থার্ড রাইখ' হলো রোম বা [[:w:ম্যাসেডোনিয়া|ম্যাসেডোনিয়ার]] পথে হাঁটা সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। ইতিহাসের সেই অধ্যায়ের ওপর পর্দা নেমে গেছে মূলত হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং চাঁদে আঘাত হানতে সক্ষম রকেটের আকস্মিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে। আমাদের এই নতুন যুগের ভয়ংকর আর প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রগুলো এত দ্রুত পুরনো পদ্ধতিকে হটিয়ে দিয়েছে। যদি কখনো প্রথম কোনো বড় আগ্রাসনী যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুরু হবে কোনো এক আত্মঘাতী উন্মাদ ছোট মানুষের ইলেকট্রনিক বোতামে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো বিজয়ী থাকবে না, থাকবে না কোনো বিজয়! শুধু এক জনহীন গ্রহে পড়ে থাকবে কেবল মৃতদের দগ্ধ হাড়গোড়।
** '''''উইলিয়াম এল. শিরার''''', ''দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অফ দ্য থার্ড রাইখ'' (১৯৬০), পৃষ্ঠা ১২।
* মনে করুন, আমাদের আগে জার্মানি দুটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করেছিল। আর ধরুন, তারা একটি বোমা [[:w:রচেস্টার, নিউ ইয়র্ক|রচেস্টার]] এবং অন্যটি [[:w:বাফালো, নিউ ইয়র্ক|বাফেলোতে]] নিক্ষেপ করল। কিন্তু এরপর বোমার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা যুদ্ধে হেরে গেল। কেউ কি তখন সন্দেহ প্রকাশ করবেন যে, শহরগুলোতে এই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকে আমরা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতাম না? আমরা কি তখন [[:w:নুরেমবার্গ|নুরেমবার্গে]] এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে জার্মানদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম না এবং তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতাম না? ... এখান থেকে আমরা একমাত্র এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারি যে, সংকটের সময় সরকারগুলো কেবল সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেখানে নৈতিকতার খুব একটা বালাই নেই। আর এই দিক থেকে আমেরিকার সাথে অন্য কোনো জাতির কোনো পার্থক্য নেই।
** '''''[[:w:লিও জিলার্ড|লিও জিলার্ড]]''''', সাক্ষাৎকার: "[[:w:হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান]] বুঝতে পারেননি", ''ইউ.এস. নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট'' (১৫ আগস্ট, ১৯৬০)।
* বৈজ্ঞানিক বিনাশের এই চরম বিজয়, আবিষ্কারের এই চরম সাফল্য—আসলে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে যুদ্ধের সম্ভাবনাকেই ঠিক করে দিয়েছে। সমানে-সমান দুই প্রতিপক্ষের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা বিজয়ী পক্ষের জয়কেও এক মহাবিপর্যয়ে রূপান্তর করতে বাধ্য করে। বিশ্বযুদ্ধ এখন এমন এক 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' হয়ে দাঁড়িয়েছে যা উভয় পক্ষকেই ধ্বংস করে দেবে। এটি এখন আর আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দখলের কোনো রোমাঞ্চকর পথ বা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নয়। বরং যুদ্ধে হারলে আপনি নিঃশেষ হবেন আর জিতলে কেবল হারানো ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার থাকবে না। এটি এখন আর কোনো দ্বৈরথ বা দ্বন্দ্বযুদ্ধ নয় যেখানে জেতার সামান্য সুযোগ থাকে। এটি এখন শুধুই এক যৌথ আত্মহননের বীজ বহন করছে!
** '''''[[:w:ডগলাস ম্যাকআর্থার|ডগলাস ম্যাকার্থার]]''''', [[:w:ফিলিপাইন|ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের]] কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণ (৫ জুলাই, ১৯৬১); ''রিপ্রেজেন্টেটিভ স্পিচেস অফ জেনারেল অফ দ্য আর্মি ডগলাস ম্যাকার্থার'' (১৯৬৪), পৃষ্ঠা ৯৮।
[[File:DavyCrockettBomb.jpg|thumb|যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা। </br> —'''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''']]
* এই গ্রহের প্রতিটি বাসিন্দাকে অবশ্যই সেই দিনটির কথা ভাবতে হবে যখন এই পৃথিবী আর বসবাসের উপযোগী থাকবে না। প্রতিটি পুরুষ, নারী এবং শিশু আজ ড্যামোক্লিসের তলোয়ারের নিচে বসবাস করছে! যা অতি সূক্ষ্ম একটি সুতোয় ঝুলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা, ভুল হিসেব-নিকেশ কিংবা কোনো উন্মাদনার ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে। যুদ্ধের অস্ত্রগুলো আমাদের ধ্বংস করার আগেই আমাদের উচিত সেগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা।
** '''''[[:w:জন এফ. কেনেডি|জন এফ. কেনেডি]]''''', [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণ (২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১)।
* এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই হয়তো মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। একজন গণিতবিদ হিসেবে যদি বলি, তবে আমি বলব আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা চার ভাগের এক ভাগ মাত্র (অর্থাৎ, বিলুপ্তির সম্ভাবনা ৩:১)!
** '''''[[:w:বারট্রান্ড রাসেল|বারট্রান্ড রাসেল]]''''', ''প্লেবয়'' সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (মার্চ ১৯৬৩)। কেনেথ রোজের 'ওয়ান নেশন আন্ডারগ্রাউন্ড: দ্য ফলআউট শেল্টার ইন আমেরিকান কালচার' (২০০৪) বইয়ে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩৯।
* মানুষের এই জটিল প্রযুক্তি যে পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সম্ভবত সবচাইতে অস্থিতিশিল এবং নড়বড়ে। আমাদের বর্তমান সমাজ কাঠামোর বয়স এখনো দুই শতাব্দীও পার হয়নি। মাত্র কয়েকটি পারমাণবিক বোমাই একে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিবর্তন খুব দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এবং হোমো টেকনিকোস তৈরির জন্য দুই শতাব্দী মোটেও যথেষ্ট নয়। পারমাণবিক রেষারেষির বশবর্তী হয়ে আমাদের এই প্রযুক্তিগত সমাজ ধ্বংস হয়ে গেলে তা এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি যদি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেঁচেও থাকে, তবুও। যে পরিবেশের সাথে তারা খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং ডারউইনের সেই রাক্ষুসে প্রাকৃতিক নির্বাচন কোনো প্রকার অনুশোচনা বা পিছুটান ছাড়াই নির্মমভাবে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
** '''''[[:w:আইজাক আসিমভ|আইজাক আসিমভ]]''''', ''ভিউ ফ্রম আ হাইট'' (১৯৬৩), পৃষ্ঠা ১৬৪। এছাড়া ''আসিমভ অন ফিজিক্স'' (১৯৭৬) এবং ''আইজ্যাক আসিমভ'স বুক অফ সায়েন্স অ্যান্ড নেচার কোটেশনস'' (১৯৮৮) বইয়েও সংকলিত।
* বাজি এখন এগুলোই! হয় আমাদের এমন এক পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে বিধাতার সব সন্তান মিলেমিশে বাস করতে পারবে, নয়তো আমাদের সেই অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে। আমাদের হয় একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, নয়তো আমাদের মৃত্যু অবধারিত!
** '''''[[:w:লিন্ডন বি. জনসন|লিন্ডন বি. জনসন]]''''', ''ডেইজি'' (রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন), ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৪।
* মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি বলছি না যে আমাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগবে না। তবে আমি নিশ্চিত যে ১০ থেকে ২০ মিলিয়নের (১-২ কোটি) বেশি মানুষ মারা যাবে না, ব্যস! তবে হ্যাঁ, ভাগ্য সহায় থাকলে সংখ্যাটা এমনই থাকবে।
** '''''[[:w:জর্জ সি. স্কট|জেনারেল 'বাক' টারগিডসন]]''''', ''ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ'' (১৯৬৪ সালের চলচ্চিত্র); স্ট্যানলি কুবরিক, টেরি সাউদার্ন এবং পিটার জর্জের লেখা, যা পিটার জর্জের 'রেড অ্যালার্ট' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
* প্রেসিডেন্টের যদি নিজের ইচ্ছায় চলত, তবে আমরা প্রতি সপ্তাহেই একটা করে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে দিতাম।
** '''''[[:w:হেনরি কিসিঞ্জার|হেনরি কিসিঞ্জার]]''''', রিচার্ড নিক্সন প্রসঙ্গে; জি. জে. ব্যাসের ''দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'' (২০১৪), অধ্যায় ১৯-এ উদ্ধৃত।
* জীবিতরা মৃতদের হিংসা করবে।
** '''''[[:w:নিকিতা খ্রুশ্চেভ|নিকিতা খ্রুশ্চেভ]]''''', পারমাণবিক যুদ্ধ প্রসঙ্গে। এড জুকারম্যানের "হাইডিং ফ্রম দ্য বোম্ব—অ্যাগেইন", ''হার্পার'স'' (আগস্ট ১৯৭৯), পৃষ্ঠা ৩৬; যেখানে ক্রুশ্চেভের উদ্ধৃতি হিসেবে বলা হয়েছে "বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা মৃতদের হিংসা করবে"। ১৯৭৯ সালে মার্কিন সেনেট কমিটির শুনানিতেও এই উক্তিটি ক্রুশ্চেভের নামে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এর আদি উৎস জন এফ কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভের মধ্যকার আলোচনা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, তবে এটি ক্রুশ্চেভের উক্তি হিসেবেই বিশ্বজুড়ে সমধিক পরিচিত।
=== ১৯৭০-এর দশক ===
* ধরুন যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তবে কত মানুষ মারা যেতে পারে তা একটু কল্পনা করা যাক।<br>বিশ্বে এখন প্রায় ২৭০ কোটি মানুষ আছে, যার এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ১৮০ কোটি) হয়তো বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর যদি সংখ্যাটা একটু বেশিও হয়, তবে তা হয়তো অর্ধেক হতে পারে! আমি বলছি যদি পরিস্থিতি সবচাইতে খারাপের দিকেও যায় এবং অর্ধেক মানুষও মারা যায়, তবুও তো বাকি অর্ধেক মানুষ টিকে থাকবে! কিন্তু [[:w:সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]] চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং গোটা বিশ্ব [[:w:সমাজতন্ত্র|সমাজতান্ত্রিক]] হয়ে উঠবে। এরপর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে আবারও ২৭০ কোটি মানুষের সমাগম হবে।
** '''''[[:w:মাও ৎসে-তুং|মাও ৎসে-তুং]]''''' (মৃত্যু: ১৯৭৬); ফ্রাঙ্ক ডিকোটার সম্পাদিত, ''মাও'স গ্রেট ফেমিন: দ্য হিস্ট্রি অফ চায়না'স মোস্ট ডেভাস্টেটিং ক্যাটাস্ট্রফি, ১৯৫৮–৬২'' (২০১০), পৃষ্ঠা ১৩।
* জাপানের সেই দুটি শহরের নাম আমার হৃদয়ে এক দারুন বিভীষিকা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল! একদিকে ছিল এক বিষাক্ত সচেতনতা যে আমার এই দেশ, মাত্র পাঁচ বছর আগে যার নাগরিকত্ব আমি পেয়েছি, সেই যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী বীভৎস ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম! অন্যদিকে ছিল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এই সংহারী গতিপথ দেখে এক বমিভাব জাগানিয়া আতঙ্ক! পৃথিবীর বিনাশী রূপটি আমার কাছে কখনোই খুব দূরের কোনো বিষয় ছিল না। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম মানবতার শাশ্বত সত্তার পতন ঘনিয়ে আসছে। আর এই সর্বনাশকে সম্ভব করেছে আমার নিজের এই পেশা। আমার দু'নয়নে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা আসলে একই অভিন্ন সত্তা। যদি বিজ্ঞানের একটি শাখা তার নিষ্কলঙ্ক হওয়ার দাবি হারিয়ে ফেলে, তবে অন্য কোনো শাখার নিজেকে নির্দোষ বলার আর কোনো পথ থাকে না।
* ১৯৪৫ সালের সেই বিভীষিকা পূর্ণ সময়ে নিজেকে এক আবেগীয় বেকুব হিসেবে প্রমাণ করেছিলাম! প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান চাইলে আমাকেও সেই সব বিলাপকারী নির্বোধদের তালিকায় স্বচ্ছন্দে ফেলে দিতে পারতেন, যাঁদের তিনি আপন অফিসে প্রবেশের ন্যূনতম অধিকারটুকু দিতেও নারাজ ছিলেন। কারণ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলাম, এত বিপুল যাতনা বা কষ্টের পরোয়ানা জারি করার অধিকার কোনো মানুষের নেই। বিজ্ঞান এখানে ঘাতকের ছুরিতে শাণ দিয়েছে, তাকে পথ দেখিয়েছে! আর এভাবেই বিজ্ঞান এমন এক কলঙ্ক বা পাপের ভাগীদার হয়েছে যার হাত থেকে তার মুক্তি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিজ্ঞান এবং হত্যাকাণ্ডের মধ্যকার সেই অশুভ যোগসূত্রটি আমার কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই বিষাদময় ঘটনার পরবর্তী কয়েক বছর, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত আমি মরিয়া হয়ে তথাকথিত শান্ত-শীতল সুইজারল্যান্ডে একটু আশ্রয় খুঁজেছিলাম। কিন্তু আমি সফল হ্তে পারিনি।
** '''''[[:w:আরউইন শার্গাফ|আরউইন শার্গাফ]]''''', ''হেরাক্লিটিয়ান ফায়ার: স্কেচেস ফ্রম এ লাইফ বিফোর নেচার'' (১৯৭৮)
=== ১৯৮০-এর দশক ===
* [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমায়]] প্রথম পারমাণবিক বোমা পড়ার পর এখন প্রায় ৩৫ বছর পার হয়ে গেছে। বিশ্বের বিশাল সংখ্যক মানুষ এখন আর এমন কোনো সময়ের কথা মনে করতে পারে না, যখন এই পৃথিবী পারমাণবিক ছায়ায় ঢাকা ছিল না। আমাদের মন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, ঠিক যেমন দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকলে আমাদের চোখ সেই আঁধারেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। অথচ পারমাণবিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এক বিন্দুও কমেনি বরং বেড়েছে। ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যে এটি এখনও ঘটেনি। কিন্তু তাতে স্বস্তির অবকাশ খুবই কম, কারণ এটি কেবল একবার ঘটতে পারলেই তা যথেষ্ট! বিপদ দিনের দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে। পরাশক্তিগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার এখন আকার ও আধুনিকতায় আরো বিশাল হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও যখন এসব মারণাস্ত্রের মালিক হচ্ছে—তখন উন্মাদনা, হতাশা, লোভ কিংবা ভুল হিসাবের কারণে এই ভয়ংকর দানবটির শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র! একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধে, [[:w:দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] সমপরিমাণ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রতিটি সেকেন্ডে উগড়ে দেওয়া হবে!যতক্ষণ না সব ক্ষেপণাস্ত্র আর বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। ভাবুন তো, প্রতি সেকেন্ডে একটি করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! ইতিহাসের সব যুদ্ধে মিলে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারাবে প্রথম কয়েক ঘণ্টায়। আর যদি কেউ বেঁচেও থাকে, তবে তারা বেঁচে থাকবে এক বিষাক্ত ধ্বংসস্তূপের মাঝে। যে সভ্যতা নিজেই নিজের আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছিল।
** '''''[[:w:জিমি কার্টার|জিমি কার্টার]]''''', জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ (১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১)
* কল্পনা করুন [[:w:পেট্রোল|পেট্রোলে]] ভাসছে এমন একটি ঘর, যেখানে দুজন আপসহীন শত্রু দাঁড়িয়ে আছে। তাদের একজনের হাতে আছে নয় হাজার [[:w:দিয়াশলাই|দেশলাই কাঠি]], আর অন্যজনের হাতে সাত হাজার। প্রত্যেকেই এই চিন্তায় অস্থির যে কে কার চেয়ে এগিয়ে আছে, কার শক্তি বেশি! ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা এখন বাস করছি। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে মজুদ অস্ত্রের পরিমাণ এতটাই স্ফীত এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনে যা দরকার তার চেয়ে এতটাই অবিশ্বাস্য রকম বেশি যে পুরো বিষয়টি [[:w:বিয়োগান্ত নাটক|ট্র্যাজিক]] না হলে একে হাস্যকর বলা যেত। এখন যেটা প্রয়োজন তা হলো, হাতের দেশলাই কাঠির সংখ্যা কমানো এবং নিচে গলার কাঁটা হয়ে থাকা পেট্রোলটুকু পরিষ্কার করা।
** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''', এবিসি নিউজ ভিউপয়েন্ট প্যানেল আলোচনায় (২০ নভেম্বর, ১৯৮৩)
[[File:Opening chess position from black side.jpg|thumb|এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! এ খেলা থেকে বিরত থাকায় হলো আসল জিত!]]
* এ এক অদ্ভুত খেলা।<br>জেতার একমাত্র উপায় হচ্ছে—না খেলা! তার চেয়ে বরং এক রাউন্ড দাবা খেললে কেমন হয়?
** '''''ওয়ারগেমস''''' (১৯৮৩ সালের চলচ্চিত্র)
* প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি আপনাদেরকে এই সংবাদটি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছি যা রাশিয়াকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। আমরা আগামী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বোমা বর্ষণ শুরু করতে যাচ্ছি!
** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', স্নায়ুযুদ্ধের সময় করা একটি অফ-দ্য-রেকর্ড রসিকতা। ১১ আগস্ট, ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর অবকাশ যাপনের বাড়িতে একটি নির্ধারিত রেডিও ভাষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে তিনি এই রসিকতা করেন। এটি সরাসরি সম্প্রচারিত না হলেও রেকর্ড করা হয়েছিল তবে পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যায়।
* ''সরল বোধের ওপর নেই তব আধিপত্যের অধিকার,<br>হোক না সেটা রাজকীয় বেড়ার এপার ও ওপার!<br>ভিন্ আদর্শ, তবু কোটি প্রাণের একই সন্তরণ!<br>হৃদয় পেতে শোনো, যা করি বর্ণন—<br>আশায় থাকি, রুশরা যেন প্রজন্মদের আগলে রাখে সারাক্ষণ!''
** '''''[[:w:স্টিং (সঙ্গীতজ্ঞ)|স্টিং]]''''', ''"রাশিয়ানস"'', অ্যালবাম: ''দ্য ড্রিম অফ দ্য ব্লু টার্টলস'' (১৯৮৫); ''রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
* একটি পারমাণবিক যুদ্ধ কোনো দেশকে রক্ষা করতে পারে না, এমনকি কোনো আদর্শ বা ব্যবস্থাকেও রক্ষা করতে পারে না!<br>আমি বহুবার একটি কথা বলেছি—এমনকি বিশ্বের সবচাইতে ঝানু তাত্ত্বিকও পুঁজিবাদের ছাই আর কমিউনিজমের ছাইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারলাম না!
** '''''[[:w:জন কেনেথ গলব্রেথ|জন কেনেথ গলব্রেথ]]''''', "দ্য অ্যাশেস অফ ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড দ্য অ্যাশেস অফ কমিউনিজম", জন এম হোয়াইটলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (তারিখবিহীন), ''কোয়েস্ট ফর পিস: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন'' (১৯৮৬)
* ''যুদ্ধ শুধুই একটি খেলা,<br>খাস-মকসুদ মাতালদের জন্য মেলা!<br>কিন্তু তাদের বিনাশের হুমকি দাও—<br>রবেনা এই ভুবনে, পালাতে দেবে নাও!<br>যদি এটাই হয় শান্তনামূলক মানবতাবাদ,<br>তবে বোমার জন্য 'ঈশ্বর জিন্দাবাদ'!''
** '''''[[:w:ওজি অসবোর্ন|ওজি অসবোর্ন]]''''', ''বব ডেইসলি'', ''জেক ই. লি'', "থ্যাঙ্ক গড ফর দ্য বোম্ব", ''দ্য আল্টিমেট সিন'' অ্যালবাম থেকে (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬); ''বাংলায় রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
[[File:Typhoon iced.jpg|thumb|চার মহাসাগর আর সাত সমুদ্রের নিচে, আমেরিকান এবং সোভিয়েত সাবমেরিনগুলো বছরের প্রতিটি দিন এক যুদ্ধের কাছাকাছি লড়াইয়ে লিপ্ত থাকে।<br>—'''''রিচার্ড হ্যালোজান''''']]
* চার মহাসাগর আর সাত দরিয়ার তলদেশে, আমেরিকান এবং সোভিয়েত [[:w:সাবমেরিন|সাবমেরিনগুলো]] বছরের প্রতিটি দিন এক প্রায়-যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। বিরামহীনভাবে তারা একে অপরকে খুঁজে বেড়ায়, সুযোগ পেলেই শত্রুর পিছু নেয় আর ধরা পড়লে পালানোর চেষ্টা করে। কেবল গুলি চালানো ছাড়া আসল যুদ্ধের প্রতিটি চালই তারা দেয়। যদি কখনো সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু হয়, তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সাবমেরিনগুলোই হবে আমেরিকান এবং সোভিয়েত নৌবহরের প্রধান শক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যেমন যুদ্ধজাহাজ অনেক আধিপত্য দেখিয়েছিল আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিমানবাহী [[:W:যুদ্ধ জাহাজ|রণতরীগুলো]] সমুদ্রজয় নিশ্চিত করেছিল। ভবিষ্যৎ দ্বন্দ্বে [[:w:পারমাণবিক ডুবোজাহাজ|পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনই]] হবে জয়ের তুরুপের তাস।
** '''''রিচার্ড হ্যালোজান''''', [https://www.nytimes.com/1986/12/07/magazine/a-silent-battle-surfaces.html "এ সাইলেন্ট ব্যাটল সারফেসেস"], ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'' (৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৬)
* ''আমরা যদি যুদ্ধের ওপর বিশ্বাস নাই-ই করি—<br>তবে কেউ কি বলতে পারো, কেন অস্ত্রের এই সাজ-পসরি?<br>শুনে নাও আমার কথা,<br>একবার জেগে ওঠে যদি তারা, পালাবে তুমি কোথা?<br>দৈত্যরা ঘুমায় আর বারবার হয় জিৎ—<br>স্বপ্নে বাজছে দামামা, কাঁপছে মাটির ভিত!<br>যতক্ষণ না তাদের ঘুম ভাঙছে,<br>ততক্ষণ-ই ঈশ্বরদ্রোহিতা চালাচ্ছে!''
** '''''[[:w:ওজি অসবোর্ন|ওজি অসবোর্ন]]''''', ''বব ডেইসলি'', ''জেক ই. লি'', "কিলার অফ জায়ান্টস", ''দ্য আল্টিমেট সিন'' অ্যালবাম থেকে (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬); ''বাংলায় কাব্যিক-রূপান্তর:'' যোবায়ের আল-'''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
* পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একমাত্র উস্কানি কী হতে পারে? উত্তরটি হলো 'পারমাণবিক অস্ত্র'। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তু কী? সেটিও পারমাণবিক অস্ত্র। পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনটি? তা-ও হলো পারমাণবিক বোমা!<br>আমরা কীভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার রোধ করতে পারি? পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পাল্টা হুমকি দিয়ে। আর আমরা এই পারমাণবিক অস্ত্র থেকে মুক্তিও পাচ্ছি না কেন? সেই একই খোদ পারমাণবিক অস্ত্রের কারণেই!<br>মনে হচ্ছে, এই একগুঁয়েমি যেন খোদ ওই মারণাস্ত্রগুলোরই এক অদ্ভুত কারসাজি!
* এই প্রতিযোগিতার দৌড় মূলত পারমাণবিক অস্ত্র বনাম আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের মধ্যে।
** '''''[[:w:মার্টিন এমিস|মার্টিন এমিস]]''''', ''আইনস্টাইন'স মনস্টারস'' (১৯৮৭), ভূমিকা
* আমরা স্রেফ জানি না যে পারমাণবিক অস্ত্র আদৌ প্রতিরোধক হিসেবে কার্যকর হয়েছে কিনা। কিংবা এগুলো আজ কার্যকর কিনা অথবা ভবিষ্যতে কার্যকর হবে বলে আশা করা যায় কি না। বছরের পর বছর ধরে পারমাণবিক নীতিগুলো এমন সব তথ্যের অজ্ঞানতার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি করা হয়েছে, যা এই নীতির ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য সবচেয়ে প্রধান বিষয় ছিল।
** '''''রবার্ট এল. হোমস''''', [https://www.nytimes.com/1988/01/17/opinion/l-what-we-don-t-know-about-nuclear-policy-016788.html ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'', "পারমাণবিক নীতি সম্পর্কে আমরা যা জানি না" (১৭ জানুয়ারি, ১৯৮৮)], পৃষ্ঠা ২৬
* কেবল পারমাণবিক বোমার সহিংসতাই মানবজাতির জন্য একমাত্র হুমকি নয়। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের সহকর্মী মানুষদের, নির্দোষ অথবা দোষী উভয়কেই—হত্যা করার এই যে নিচু মানসিকতা, সেটিই হলো বড় হুমকি! যতক্ষণ না আমরা আমাদের সময়, শক্তি এবং সম্পদকে যেকোনো ধরনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পথ থেকে সরিয়ে এনে যুদ্ধের অহিংস বিকল্প খোঁজার কাজে নিয়োজিত করছি, ততক্ষণ পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলার আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা সম্ভবত কোনো কাজেই আসবে না অর্থাৎ এটি শুধুই বৃথা যাবে!
** '''''রবার্ট এল. হোমস''''', ''অন ওয়ার অ্যান্ড মোরালিটি'' (১৯৮৯), ভূমিকা পৃষ্ঠা ১০
=== ১৯৯০-এর দশক ===
* পারমাণবিক হামলার জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের অনেক জরুরি কিছু পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যেত যে আমি ভাবতাম, এমন সংকটে পরিকল্পনা বা যুক্তির কতটা প্রয়োগ করা সম্ভব। [[:w:রাশিয়া|রাশিয়ানরা]] মাঝেমধ্যেই আমাদের পূর্ব উপকূলে এমন সব পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন রাখত, যা মাত্র ছয় থেকে আট মিনিটের মধ্যে [[:w:হোয়াইট হাউস|হোয়াইট হাউসকে]] একদম পারমাণবীয় [[:w:তেজস্ক্রিয়তা|তেজস্ক্রিয়]] ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারত! [[:w:রাডার|রাডার]] স্কোপের ওপর ভেসে ওঠা একটা বিন্দুর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে মাত্র ছয় মিনিট সময় পাওয়া যেত; যে আপনি কি ''আরমাগেডন'' (বাইবেল অনুসারে শেষ যুগে দুনিয়া ধ্বংসের পূর্বে সত্য ও মিথ্যার মাঝে চূড়ান্ত মহাযুদ্ধ) শুরু করবেন কি না! এমন সময়ে কীভাবে যুক্তি প্রয়োগ করতে পারা যায়? [[:w:পেন্টাগন|পেন্টাগনের]] কিছু লোক ছিল যারা পারমাণবিক যুদ্ধ করা এবং তাতে জেতার কথা ভাবত। আমার কাছে এটি ছিল সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান। পারমাণবিক যুদ্ধে কোনো পক্ষই জিততে পারে না। তাই এটি কখনোই লড়া উচিত নয়।
** '''''[[:w:রোনাল্ড রেগন|রোনাল্ড রেগন]]''''', ''অ্যান আমেরিকান লাইফ'' (১৯৯০)
* পারমাণবিক বোমার এই [[:w:স্নায়ুযুদ্ধ|শীতল-যুদ্ধের]] ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্যই বৈশ্বিক পারমাণবিক যুদ্ধের পরিণতির কোনো সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হয়নি। বরং এটি করা হয়েছে [[:w:পদার্থবিজ্ঞান|পদার্থবিজ্ঞানের]] নিয়মগুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে। (এই সমস্যাটি পূর্ণ পরীক্ষামূলক যাচাইকরণের সুযোগ দেয় না। অন্তত একবারের বেশি তো কখনই নয়।)
** '''''[[:w:কার্ল সেগান|কার্ল সেগান]]''''' এবং ''রিচার্ড পি. টারকো'', ''এ পাথ হোয়্যার নো ম্যান থট: নিউক্লিয়ার উইন্টার অ্যান্ড দ্য এন্ড অফ দ্য আর্মস রেস'' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ২৬
* ''[[গ্যালিলিও গ্যালিলেই|গ্যালিলিও]] এর মাথা যখন ছিন্ন করতে চায় জল্লাদ—<br>তখন,<br>সত্য খুঁজতে আরশের দিকে তাকানোই ছিল তাঁর অপরাধ!...<br>জাগবেই জাগবে সেই পুনর্জন্ম...<br>পেতেই হবে আত্মার সঠিক ধর্ম...<br>কোনো মানুষ কী মাখতে পারে না সেই আলোড়ন?...<br>যেথায় গ্যালিলিওরা করে বিচরণ—<br>ছিলেন তিনি নিশার রাজা, দৃষ্টি-গভীর সম্রাট...<br>এ তো রসিকতা নয়, ছিলেন যে সত্যের লৌহ কপাট!<br>আমি সবকিছুই খুব চেখে দেখি;<br>দেখে যাই সঠিক পথ, বেড়ে যায় হিম্মত।<br>মানবতা যেন হৃদয়ে রাখি, হই না যেন আণবিক ধ্বংসলীলা—<br>কিন্তু চিনেছি কী সেই সত্যকে, যা ছিল দুনিয়া ভোলা?''
** '''''[[w:ইন্ডিগো গার্লস|ইন্ডিগো গার্লস]]''''', "গ্যালিলিও", ''জিনিয়াস'' অ্যালবাম থেকে (১২ মে, ১৯৯২); ''বাংলায় রূপান্তর:'' '''মাহমুদ''' (১৩ এপ্রিল, ২০২৬)
* যুদ্ধ। যুদ্ধ কখনোই বদলায় না।
** ''ফলআউট'', (১৯৯৭ ভিডিও গেম), প্রারম্ভিক বর্ণনা: '''''[[:w::রন পার্লম্যান|রন পার্লম্যান]]''''
=== ২০০০-এর দশক ===
* ঈশ্বরের দোহাই, আপনাদের সন্তানদের প্রতি ভালোবাসার দোহাই, আপনারা যে সভ্যতার অংশ তার দোহাই - আপনারা দয়া করে এই উন্মাদনা বন্ধ করুন! আপনারা মরণশীল মানুষ। আপনাদের ভুল হতে পারে। আপনাদের হাতে এমন ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা রাখার কোনো অধিকার নেই। এমন কোনো বিজ্ঞ বা শক্তিশালী মানুষ নেই যার হাতে আমাদের গ্রহের একটি বিশাল অংশের সভ্য জীবন শেষ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা থাকা উচিত।
** '''''জর্জ এফ কেনান''''', তাঁর মৃত্যুসংবাদে উদ্ধৃত, "১০১ বছর বয়সে জর্জ কেনানের মৃত্যু; কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের নীতি প্রণয়নকারী", ''দ্য বোস্টন গ্লোব'' (১৮ মার্চ, ২০০৫); এছাড়াও জেমস ক্যারল, ''হাউস অফ ওয়ার'' (বোস্টন এবং নিউ ইয়র্ক: হটন মিফলিন কোং, ২০০৬), "আপস্ট্রিম", পৃষ্ঠা ৫৮১, নোট ১৪০। ISBN 0618187804.
=== ২০১০-এর দশক ===
* ...ঠিক রাশিয়ান সীমান্তে অত্যন্ত চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে এবং এমন একটি পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা মূলত পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব এবং প্রজাতির জন্য চূড়ান্ত বিনাশ ডেকে আনতে পারে! আমরা এর খুব কাছাকাছিই রয়েছি।<br>প্রথমত, এটি প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আমাদের কিছু করা উচিত। দ্বিতীয়ত, আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত কেন এমনটা হলো। এর কারণ হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর [[:w:মিখাইল গর্বাচেভ|মিখাইল গর্বাচেভকে]] দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে [[:w:ন্যাটো|ন্যাটোর]] বিস্তার। মূলত [[:w:বিল ক্লিনটন|ক্লিনটনের]] অধীনে এটি শুরু হয়, আংশিকভাবে প্রথম [[:w:জর্জ ডব্লিউ. বুশ|জর্জ ডব্লিউ. বুশ]] এবং তারপর ক্লিনটন একে সরাসরি রাশিয়ান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করেন, যা [[:w:বারাক ওবামা|বারাক ওবামার]] অধীনে আরও প্রসারিত হয়। সুসংগঠিত মানব সমাজের ভাগ্য, এমনকি প্রজাতির টিকে থাকাও এর ওপর নির্ভর করছে! [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] কোনো বিষয়ে মিথ্যা বলেছেন কি না; তার তুলনায় এই বিষয়গুলোতে কতটা মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে?
** '''''[[:w:নোম চম্স্কি|নোম চম্স্কি]]''''', [https://www.democracynow.org/2018/7/27/noam_chomsky_on_mass_media_obsession "Noam Chomsky on Mass Media Obsession with Russia & the Stories Not Being Covered in the Trump Era"], ''ডেমোক্রেসি নাও'' (২৭ জুলাই, ২০১৮)
=== ২০২০-এর দশক ===
* পারমাণবিক অস্ত্রগুলো নাটকের মঞ্চে দেয়ালে ঝুলে থাকা একটি [[:w:রাইফেল|রাইফেলের]] মতো! আমরা সেই নাটকটি লিখিনি, আমরা এটি মঞ্চস্থ করছি না এবং নাট্যকার কী চান তাও আমরা জানি না। যে কেউ যেকোনো সময় দেয়াল থেকে রাইফেলটি তুলে নিতে পারে।
** '''''[[:w:মিখাইল গর্বাচেভ|মিখাইল গর্বাচেভ]]''''', ''হোয়াট ইজ অ্যাট স্টেক নাউ'' (২০২০), জেসিকা স্পেংলার কর্তৃক [[:w:রুশ ভাষা|রুশ ভাষা]] থেকে অনূদিত
* আমেরিকার একটি মাত্র 'ট্রাইডেন্ট' সাবমেরিন, যা এখন আরও শক্তিশালী সাবমেরিন দিয়ে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। এখন এটি তার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের প্রায় ২০০টি শহর ধ্বংস করে দিতে সক্ষম! [[:w:দক্ষিণ চীন সাগর|দক্ষিণ চীন সাগরে]] চীনের মাত্র চারটি পুরনো ও শব্দ সৃষ্টিকারী সাবমেরিন রয়েছে, যা আমেরিকা ও তার মিত্র বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে ঠিকমতো বের হতেই পারে না। এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র [[:w:অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়ায়]] পারমাণবিক সাবমেরিনের একটি বহর পাঠাচ্ছে। এটিই হলো সেই 'AUKUS' বা অকাস চুক্তি(অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত) যার আসলে কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্যই নেই। এগুলো এমনকি আগামী ১৫ বছরের মধ্যেও সচল হবে না, কিন্তু এগুলো চীনকে তাদের পিছিয়ে থাকা সামরিক শক্তি বাড়িয়ে তুলতে এবং সংঘাতের মাত্রা তীব্র করতে নিশ্চিতভাবেই উস্কানি দিচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে যেসব সমস্যা রয়েছে তা আঞ্চলিক শক্তির নেতৃত্বে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব, আমি চাইলে এর গভীরে যেতে পারি। কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ কখনোই উস্কানি বাড়ানো হতে পারে না, কিংবা এমন কোনো দুর্ঘটনাবশত পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়ানো নয় যা ধ্বংসাত্মক হতে পারে। এমনকি এই ধরনের পদক্ষেপ পৃথিবীর জন্য চূড়ান্ত পারমাণবিক যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে! কিন্তু [[:w:বাইডেন|জো বাইডেন]] প্রশাসন ট্রাম্পের কর্মসূচিগুলো সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেই পথেই হাঁটছে। এটিই তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।
** '''''[[:w:নোম চমস্কি|নোম চমস্কি]]''''', [https://www.democracynow.org/2021/11/23/noam_chomsky_on_bidens_foreign_policy "চীন কি আসলেই একটি হুমকি?"], ''ডেমোক্রেসি নাও'' (২৩ নভেম্বর, ২০২১)
== আরও দেখুন ==
* [[পারমাণবিক শক্তি]]
* [[পারমাণবিক অস্ত্র]]
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
* [https://history.state.gov/search?q=atomic%20bomb&within=documents&start-date=1945-01-01&end-date=1952-12-31&sort-by=relevance ১৯৪৫ –১৯৫২: পারমাণবিক বোমার ইতিহাস] মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল আর্কাইভ।
* [https://nsarchive.gwu.edu/ ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ] জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি।
* [https://www.atomicarchive.com/ অ্যাটমিক আর্কাইভ]: পারমাণবিক অস্ত্রের বিজ্ঞান ও ইতিহাস।
* [https://disarmament.unoda.org/en জাতিসংঘ: নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক কার্যালয় (UNODA)]
* [https://www.iaea.org/ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)]
* [https://thebulletin.org/doomsday-clock/ domsday ক্লক (Doomsday Clock)] বর্তমান পারমাণবিক ঝুঁকির সূচক।
* [https://peace-tourism.com/en/spot/entry-40.html হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল মিউজিয়াম]
* [https://nuclearsecrecy.com/nukemap/ নিউক ম্যাপ (NUKEMAP)]: পারমাণবিক বিস্ফোরণ সিমুলেটর।
[[বিষয়শ্রেণী:যুদ্ধ]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারমাণবিক অস্ত্র]]
[[বিষয়শ্রেণী:পারমাণবিক যুদ্ধ]]
3goklip2mcziqg927jdisbd98jzyrf9
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
0
12321
83265
77110
2026-05-02T08:00:10Z
Oindrojalik Watch
4169
83265
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ|ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ]]''' ছিল মূলত [[:w:ইরান|ইরান]] এবং [[:w:ইসরায়েল|ইসরায়েলের]] মধ্যে সংঘটিত একটি যুদ্ধ, যা ১৩ জুন ২০২৫ তারিখে শুরু হয়; যখন ইসরায়েল ইরানের প্রধান সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অতর্কিত হামলা চালায়।
[[File:President Trump answering reporters on June 24, 2025 - Quote 15.wav|thumb|center|শুনুন, এই দুই দেশ এতো দীর্ঘ সময় ধরে এবং এতোটাই ভয়াবহভাবে লড়াই করছে যে, তারা নিজেরাও জানে না তারা আসলে কী করছে! আপনারা কি সেটা বুঝতে পারছেন?]]
[[চিত্র:Pictures of the Israeli attack on Tehran 1 Mehr (2).jpg|thumb|২০২৫ সালের ১৩ জুন, শুক্রবার ভোরে তেহরানের বিভিন্ন অংশে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলা।]]
[[চিত্র:Iranian missile strike in Bat Yam, 15 June 2025. IV.jpg|thumb|২০২৫ সালের ১৫ জুন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের বাত ইয়াম শহরে ধ্বংসযজ্ঞ।]]
[[File:Iran provinces and counties 1956 English.svg|thumb|ইরানকে বাঁচানোর একমাত্র পথ হলো দেশটিকে তার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।<br>[https://www.bbc.com/persian/articles/cedvzdz5wxpo]]]
[[File:State flag of Iran (1964–1980).svg|thumb|আমি যাই করি না কেন—হোক তা রাশিয়া/ইউক্রেন কিংবা ইসরায়েল/ইরান সমস্যা সমাধান। আমি কোনো [[:w:শান্তিতে নোবেল পুরস্কার|নোবেল শান্তি পুরস্কার]] পাব না। ফলাফল যাই হোক। কিন্তু জনগণ আসল সত্যটা জানে, আর আমার কাছে সেটাই বড় কথা।~<br>[https://www.yahoo.com/news/global-leaders-daddy-strategy-flatter-160000526.html]ডোনাল্ড ট্রাম্প]]]
[[File:Donald Trump official portrait.jpg|thumb|আমি সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, বিশেষ করে ঈশ্বরকে। আমি শুধু বলতে চাই, ‘ঈশ্বর, আমরা আপনাকে ভালোবাসি। আমাদের মহান সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করুন—আমরা তাদেরকেও ভালোবাসি। ঈশ্বর মধ্যপ্রাচ্যের মঙ্গল করুন, ইসরায়েলকে আশীর্বাদ করুন এবং আমেরিকার সহায় হোন।’ ~<br>[https://www.aljazeera.com/amp/opinions/2025/7/2/did-god-want-trump-to-bomb-iran ডোনাল্ড ট্রাম্প]]]
[[চিত্র:2025 Hoisting the flag of Hosseini's mourning over the dome of the shrine of Our Lady of Dignity 20 Mehr.jpg|thumb|যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরানের তথাকথিত "সর্বোচ্চ নেতা" আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেন এমন নির্লজ্জ এবং বোকার মতো দাবি করছেন যে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন? তিনি ভালো করেই জানেন তার এই বক্তব্য একটি ডাহা মিথ্যা। একজন মহান ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে তার মিথ্যা বলা সাজে না। তার দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে, তার তিনটি অশুভ পারমাণবিক কেন্দ্র পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়েছে। আমি ঠিক জানতাম তিনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। কিন্তু আমি ইসরায়েল বা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে—যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী—তাকে হত্যা করার অনুমতি দিইনি। আমি তাকে এক অত্যন্ত কদর্য এবং অসম্মানজনক মৃত্যু থেকে বাঁচিয়েছি। আর এর জন্য তাকে "ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!" বলতে হবে না।<br>প্রকৃতপক্ষে, যুদ্ধের একদম শেষ মুহূর্তে আমি ইসরায়েলকে এক বিশাল যুদ্ধবিমানের বহর ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করেছিলাম। যারা সরাসরি তেহরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি বড় কোনো লক্ষ্য হাসিলে যাচ্ছিল। সম্ভবত সেটিই হতে পারত চূড়ান্ত আঘাত! এতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হতো এবং বহু ইরানি প্রাণ হারাত। এটি হতে পারত এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আক্রমণ। গত কয়েকদিন ধরে আমি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য বিষয়ে কাজ করছিলাম, যা ইরানকে দ্রুত পূর্ণ পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ করে দিত।কারণ এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তাদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে! কিন্তু না, বিনিময়ে আমি পেলাম শুধুই একটি ক্রোধ, ঘৃণায় আর বিতৃষ্ণায় ভরা বিবৃতি! আমি সাথে সাথে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সব কাজও বন্ধ করে দিলাম। ইরানকে হয় বিশ্বব্যবস্থার ধারায় ফিরতে হবে, নতুবা তাদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে যাবে। তারা সবসময়ই রাগান্বিত, শত্রুভাবাপন্ন এবং অসুখী থাকে। আর দেখুন এর ফল তারা কী পেয়েছে। একটি ভস্মীভূত, বিধ্বস্ত দেশ যার কোনো ভবিষ্যৎ-ই নেই! একটি তছনছ হয়ে যাওয়া সেনাবাহিনী, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং চারদিকে শুধুই মৃত্যু মিছিল। তাদের আর কোনো আশা বেছে নেই এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ খারাপ হবে! আমি আশা করছি যে বর্তমান ইরান নেতৃত্বের উপলব্ধি করা উচিত যে, তেতো কথার চেয়ে মিষ্টি কথায় কাজ আরো বেশি হয়। শান্তি!!!<br>—[https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/posts/114756430889057942 ট্রাম্প]]][[File:Crown_Prince_of_IRAN_Reza_PAHLAVI_(3x4_cropped).jpg|thumb|আমরা লড়ব, আমরা মরব, ইরানকে ফিরিয়ে আনবই।~<br>[https://web.archive.org/web/https://www.iranintl.com/202508228257][https://web.archive.org/web/iranopasmigirim.com/fa]]]
== উক্তি ==
* কমান্ডাররা ভাবতেও পারেননি যে [[:W:ইসরায়েল|ইসরায়েল]] সরাসরি তাদের ঘরবাড়িতে হানা দেবে। তারা ভেবেছিল যুদ্ধ বাধলে বুঝি ইসরায়েল পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেই শুধু আক্রমণ করবে। কিন্তু প্রথম সারির কমান্ডারদের অন্দরমহলে ঢুকে আঘাত হানবে, এটা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল! আমি নিজেই ১৪০৩ হিজরি শামসির (ইরানি ক্যালেন্ডার অনুসারে) এপ্রিলে সরদার রশিদ এবং [[:w:মোহাম্মদ বাঘেরি (ইরানি কমান্ডার)|সরদার বাঘেরিকে]] বলেছিলাম যে, আমার মতে ইসরায়েল সব কমান্ডারকে নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরদার রশিদ—রাহিমাহুল্লাহ '''('''আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)—একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ, প্রভাবশালী এবং জ্ঞানপিপাসু মানুষ ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমরা যদি বুঝতে পারি তারা এমন কিছু করতে চায়, তবে আমরা এমন সব জায়গায় সরে যাব যেখানে সে পৌঁছাতে পারবে না। আমি বলেছিলাম, সরদার রশিদ, সমস্যাটা এখানেই যে আগে সে আঘাত হানবে, তারপর আমরা বুঝতে পারব।
** [https://web.archive.org/web/20251017154958/https://www.tabnak.ir/fa/news/1334802/%D8%A8%D9%87-%D8%B3%D8%B1%D8%AF%D8%A7%D8%B1-%D8%B1%D8%B%DB%8C%D8%AF-%D9%88-%D8%B3%D8%B1%D8%AF%D8%A7%D8%B1-%D8%A8%D8%A7%D9%82%D8%B1%DB%8C-%DA%AF%D9%81%D8%AA%D9%85-%D8%A7%D8%B3%D8%B1%D8%A7%D8%A6%DB%8C%D9%84-%D9%85%DB%8C%E2%80%8C%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%D8%AF-%D9%87%D9%85%D9%87-%D9%81%D8%B1%D9%85%D8%A7%D9%86%D8%AF%D9%87%D8%A7%D9%86-%D8%B1%D8%A7-%D8%A8%D8%B2%D9%86%D8%AF সোর্স: তাবনাক]
* তেহরানের উচিত দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে এবার [[:w:পারমাণবিক বোমা|পারমাণবিক বোমা]] তৈরি করা শুরু করা!
** ইরানি [[:w:সংসদ সদস্য|সংসদ সদস্য]] [https://www.iranintl.com/en/202509107879 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল]
* আজ ইরান কেবল টিকে থাকার লড়াই করছে। দুই সপ্তাহ আগে যখন রিপোর্টগুলো শুনলাম, ইরান তখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ফন্দি আঁটছিল। আমি বললাম, এটা নিয়ে ঘাবড়ানোর কোনো কিছুই নেই। আমরা যদি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে ধূলিসাৎ না করতাম, তবে সেই চুক্তি (আব্রাহাম অ্যাকর্ড বা আব্রাহাম চুক্তি) কোনোদিন সম্ভব হতো না। আসলে দুটি কারণে। প্রথমত, আরব দেশগুলো তখন এতখানি সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পেত না, কারণ তখন ইরান ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী; যা এখন আর নেই। আর দ্বিতীয়ত, তারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর কাছাকাছিও পৌঁছাত, তবে সেই মুহূর্তেই তাদের সেই স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে এই পৃথিবী থেকেই মুছে ফেলা হতো!
** [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] [https://www.iranintl.com/en/202510158814 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল]
* আমরা মাত্র ২০টি একেবারে নয়া B-2 বোমারু বিমানের অর্ডার দিয়েছি। আমি যখন [[:w:ভ্লাদিমির পুতিন|ভ্লাদিমির পুতিনের]] সাথে [[:w:আলাস্কা|আলাস্কায়]] যাচ্ছিলাম, তখন আমরা এমন অনেক বিমানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং পুতিন মন্তব্য করেছিলেন, 'এগুলো সত্যিই জাদুর মতো কাজ করেছে।' আমি বললাম, 'হ্যাঁ, সত্যিই তাই।'
** [https://www.themirror.com/news/politics/donald-trump-claims-no-president-1450138 সোর্স: দ্য মিরর]
* আমরা এখন পর্যন্ত যা দেখিয়েছি তা প্রতিরোধের সামান্য কম্পন মাত্র। আসল [[:w:ভূমিকম্প|ভূমিকম্প]] তো এখনও আসতেই বাকি!
** খুজেস্তান ইমাম [https://www.irna.ir/amp/85969831/ সোর্স: ইরনা]
* [[:w:ইসলামী প্রজাতন্ত্র|ইসলামী প্রজাতন্ত্র]] চায় ইসরায়েলকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলতে।
** তেহরানের ইমাম [https://web.archive.org/web/www.iranintl.com/202509294214 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল আর্কাইভ]
* আমেরিকানদের মনে যা আছে তা-ই তাদের করতে দিন। তবে তারা যেন ভালো করে দেখে নেয় যে তারা আসলে কাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নেমেছে।
** আলি লারিজানি [https://web.archive.org/web/www.entekhab.ir/fa/news/887745/%D9%BE%DB%8C%D8%B4%D9%86%D9%87%D8%A7%D8%AF-%D9%85%D9%86-%D8%AF%D8%B1-%D8%A8%D8%B1%D8%AC%D8%A7%D9%85-%D8%A7%DB%8C%D9%86-%D8%A8%D9%88%D8%AF-%DA%A9%D9%87-%5B%D8%A8%D9%87-%D8%AC%D8%A7%DB%8C-%D8%A7%D8%B3%D9%86%D9%BE%E2%80%8C%D8%A8%DA%A9%5D-%D8%A8%D8%B1%D8%A7%DB%8C-%D8%AD%D9%84-%D8%A7%D8%AE%D8%AA%D9%84%D8%A7%D9%81-%D9%86%D8%B8%D8%B1%D9%87%D8%A7-%DB%8C%DA%A9-%D9%86%D9%85%D8%A7%DB%8C%D9%86%D8%AF%D9%87-%D8%A7%D8%B2-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%DB%8C%DA%A9-%D9%86%D9%85%D8%A7%DB%8C%D9%86%D8%AF%D9%87-%D8%A7%D8%B2-%DB%B1-%DB%B5-%D9%88-%DB%8C%DA%A9-%D9%85%D8%B1%D8%B6%DB%8C%E2%80%8C%D8%A7%D9%84%D8%B7%D8%B1%D9%81%DB%8C%D9%86-%D8%AA%D8%B5%D9%85%DB%8C%D9%85%E2%80%8C%DA%AF%DB%8C%D8%B1%DB%8C-%DA%A9%D9%86%D9%86%D8%AF-%D9%87%D8%B1-%D8%AF%D9%88-%D8%B7%D8%B1%D9%81-%D9%86%D9%BE%D8%B0%DB%8C%D8%B1%D9%81%D8%AA%D9%86%D8%AF-%DA%AF%D9%81%D8%AA%D9%86%D8%AF-%D8%B4%D8%A7%DB%8C%D8%AF-%D9%85%D8%B1%D8%B6%DB%8C%E2%80%8C%D8%A7%D9%84%D8%B7%D8%B1%D9%81%DB%8C%D9%86-%D8%AA%D8%AD%D8%AA-%D9%81%D8%B4%D8%A7%D8%B1-%D9%82%D8%B1%D8%A7%D8%B1-%D8%A8%DA%AF%DB%8C%D8%B1%D8%AF-%D9%88-%D8%A8%D9%87-%D8%B3%D9%85%D8%AA-%D8%B7%D8%B1%D9%81-%D9%85%D9%82%D8%A7%D8%A8%D9%84-%D8%A8%D8%BA%D9%84%D8%AA%D8%AF-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7%DB%8C%DB%8C%E2%80%8C%D9%87%D8%A7-%D8%A2%D9%86%DA%86%D9%87-%D8%AF%D8%B1-%D8%B0%D9%87%D9%86-%D8%AF%D8%A7%D8%B1%D9%86%D8%AF-%D8%B1%D8%A7-%D9%87%D9%85-%D8%A7%D9%86%D8%AC%D8%A7%D9%85-%D8%AF%D9%87%D9%86%D8%AF-%D8%AA%D8%A7-%D8%A8%D9%81%D9%87%D9%85%D9%86%D8%AF-%D9%85%D9%82%D8%A7%D8%A8%D9%84-%DA%86%D9%87-%D9%85%D9%84%D8%AA%DB%8C-%D9%82%D8%B1%D8%A7%D8%B1-%D8%AF%D8%A7%D8%B1%D9%86%D8%AF সোর্স: ইন্তেখাব আর্কাইভ]
* এই সরকার দুর্বল এবং শতধা বিভক্ত। এটি ইতিমধ্যেই তার অবধারিত মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে একদম ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। এর হাজার হাজার নেতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দলত্যাগ করার জন্য এখন প্রস্তুত। এর প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো—[[:w:হামাস|হামাস]], [[:w:হিজবুল্লাহ|হিজবুল্লাহ]] এবং [[:w:হুতি আন্দোলন|হুতিরা]] এখন এক প্রকার কানাগলিতে এসে যেন ঠেকেছে। [[:w:বাশার আল-আসাদ|আসাদের]] পতন হয়েছে। আধুনিক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে এই ইরানি সরকার এখন অনেক বেশি আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন।
** [https://www.iranintl.com/202509095461 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল]
* ইরানিরা ইসরায়েলকে এই শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই এবং আমাদের দেশ পুনরুদ্ধারের যুদ্ধের এক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে।
** ইরান প্রসপারিটি প্রজেক্ট [https://www.jns.org/iranian-dissidents-visit-israel-to-promote-future-regional-cooperation/ সোর্স: জেএনএস]
* ইরান এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকাই হলো এখন প্রধান বিষয়। আমেরিকানদের তবূ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে এবং তারা আদতে আলোচনার পথ-ই খুঁজছে না।
** সিকিউরিটি কাউন্সিল [https://www.tasnimnews.com/fa/news/1404/06/11/3390759/%D9%84%D8%A7%D8%B1%DB%8C%D8%AC%D8%A7%D9%86%DB%8C-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7%DB%8C%DB%8C-%D9%87%D8%A7-%D8%A8%D8%A7-%D8%B7%D8%B1%D8%AD-%D9%85%D8%B3%D8%A7%D8%A6%D9%84%DB%8C-%D9%86%D9%85%DB%8C-%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%D9%86%D8%AF-%D9%85%D8%B0%D8%A7%DA%A9%D8%B1%D9%87-%D8%B4%DA%A9%D9%84-%D8%A8%DA%AF%DB%8C%D8%B1%D8%AF সোর্স: তাসনিম নিউজ]
* শত্রু এখন ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার পথ খুঁজছে।
** আইআরজিসি [https://www.tasnimnews.com/fa/news/1404/06/11/3390791/%D9%86%D8%A7%D8%A6%DB%8C%D9%86%DB%8C-%D8%AF%D8%B4%D9%85%D9%86-%D8%A8%D8%AF%D9%86%D8%A8%D8%A7%D9%84-%D8%A7%D9%86%D8%AA%D9%82%D8%A7%D9%85-%D8%B4%DA%A9%D8%B3%D8%AA-%D8%A7%D8%B2-%D9%85%D8%B1%D8%AF%D9%85-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%A7%D8%B3%D8%AA সোর্স: তাসনিম নিউজ]
* আমি অন্তত সাতটি যুদ্ধ থামিয়েছি এবং একটি [[:w:পারমাণবিক যুদ্ধ|পারমাণবিক যুদ্ধ]] রুখে দিয়েছি যা ইরানের সাথে সম্ভবত ঘটতে যাচ্ছিল! ওটা একদম অবধারিত ছিল। ইসরায়েলের জন্য আমার চেয়ে বেশি কেউ কিছু করেনি। এমনকি ইরানের ওপর সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোও আমিই করিয়েছি, আমি ওই বিপদটাকে সমূলে উপড়ে ফেলেছি।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প [https://web.archive.org/web/www.iranintl.com/en/202509026235 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল আর্কাইভ]
* আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী যে ইরানি বিশেষজ্ঞরা তাদের ইসরায়েলি সমকক্ষদের সহযোগিতায় কেবল এই শাসনব্যবস্থার তৈরি করা সমস্যাগুলোর সমাধানই করবে না, বরং ভবিষ্যতে ইসরায়েল এবং একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ইরানের মধ্যে 'সাইরাস চুক্তি'র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে। এটি এমন এক চুক্তি যা দুই জাতির মধ্যকার গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধনকে পুনরুজ্জীবিত করবে, ঠিক যেমন ২৫০০ বছর আগে মহান সাইরাস দ্য গ্রেট করেছিলেন।
** [[:w:রেজা পাহলভি|রেজা পাহলভি]], [https://persianepochtimes.com/prince-reza-pahlavis-emphasis-on-the-conclusion-of-the-cyrus-treaty-between-iran-and-israel/ সোর্স: পার্সিয়ান ইপোচ টাইমস]
* তাবরিজ, তেহরান এবং ইস্ফাহান হলো [[:w:তুরস্কের ইতিহাস|তুর্কি সভ্যতার]] অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
** [[:W:রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান|রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান]], [https://web.archive.org/web/20250902154203/https://www.sharghdaily.com/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%AC%D9%87%D8%A7%D9%86-219/1029810-%D8%A7%D8%B1%D8%AF%D9%88%D8%BA%D8%A7%D9%86-%D8%AA%D8%A8%D8%B1%DB%8C%D8%B2-%D8%A7%D8%B5%D9%81%D9%87%D8%A7%D9%86-%D8%B1%DB%8C-%D8%B1%D8%A7-%D8%A7%D8%B2-%D9%85%D8%B1%D8%A7%DA%A9%D8%B2-%D8%AA%D9%85%D8%AF%D9%86-%D8%AA%D8%B1%DA%A9-%D9%87%D8%A7-%D8%A8%D8%B1%D8%B4%D9%85%D8%B1%D8%AF-%D9%88%DB%8C%D8%AF%D8%A6%D9%88 সোর্স: শারঘ ডেইলি আর্কাইভ]
* ইরান কর্তৃক তিনটি দ্বীপের ([[:w:আবু মুসা দ্বীপ|আবু মুসা]] ও [[:w:টার্কস ও কেইকোস দ্বীপপুঞ্জ|তুর্কি দ্বীপপুঞ্জ]]) ব্যাপারে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ অকার্যকর এবং তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সার্বভৌমত্বের ঐতিহাসিক ও আইনি সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না।
** জিসিসি, [http://www.iranintl.com/en/202509019044 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল]
* আমরা যখন প্রথম পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করি, তখন আমাদের প্রকৃত লক্ষ্যই ছিল একটি বোমা তৈরি করা।
** মুতাহার, [https://ir.voanews.com/a/8059388.html সোর্স: ভিওএ নিউজ]
* আমেরিকা চলে গেছে; এখন আর কতজন বাকি আছে? মাত্র ছয়জন রয়ে গেছে। এর অর্থ হলো সেখানে এখন ইরান, [[:w:রাশিয়া|রাশিয়া]], [[:w:চীন|চীন]] এবং তিনটি ইউরোপীয় দেশ আছে। তার মানে এটি এখন 'তিন বনাম তিন' এর লড়াই হয়ে গেছে। আপনারা কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চান? যদি সাতটি দেশ থাকত, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একটি বিষয় থাকত; কিন্তু এখন যেহেতু পরিস্থিতি তিনে-তিনে! তাই তারা যদি নিয়ম অনুসরণ করতে চায়, তবে বিষয়টি মোটেও এত সহজ হবে না।
** সিকিউরিটি কাউন্সিল, [https://web.archive.org/web/20250901184824/https://farsi.khamenei.ir/others-dialog?id=60963 সোর্স: খামেনি ডট আইআর আর্কাইভ]
* মন্ত্রিপরিষদ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মন্ত্রী ও গভর্নরদের হাতে অর্পণ করা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী, বিধায় এটি [[:W:ভেটো|ভেটো]] (বাতিল) করা হয়েছে।
** সরকার, [https://www.bartarinha.ir/بخش-اخبار-روز-20/1541104-قالیবাব-تصمیم-پزشکیان-را-وتو-کرد সোর্স: বারতারিনহা]
* ইরান ও চীন হলো এশিয়ার দুই প্রান্তের প্রাচীন সভ্যতার দুটি দেশ, যাদের অঞ্চল ও বিশ্বে এক বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটানোর ক্ষমতা রয়েছে। কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির সকল দিক বাস্তবায়ন করা এই লক্ষ্য অর্জনের পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করবে।
** আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, [https://www.indiatoday.in/world/story/supreme-leader-ayatollah-ali-khamenei-strategic-partnership-iran-china-power-to-transform-the-world-2779658-2025-08-31 সোর্স: ইন্ডিয়া টুডে]
* তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে অপরাধী এবং সংগঠিত অপরাধী চক্রের সদস্যদের 'ছদ্মবেশ' হিসেবে ব্যবহার করছে।
** মাইক বার্গেস (একজন বিশিষ্ট অস্ট্রেলীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের (ASIO) ডিরেক্টর-জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন), [[:w:অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়ান]] কোশার রেস্তোরাঁয় [[:w:ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী|আইআরজিসির]] হামলা প্রসঙ্গে [https://www.bbc.com/news/articles/c9d085n75q3o সোর্স: বিবিসি নিউজ]
* বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে যে ইরানি জনগণের মধ্যে সুখ-সন্তুষ্টির পরিমাণ অত্যন্ত কম।
** আরদাবিল শহরের ইমাম, খামেনির প্রতিনিধি [https://www.didbaniran.ir/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-3/237357-%D8%A2%DB%8C%D8%AA-%D8%A7%D9%84%D9%84%D9%87-%D8%B9%D8%A7%D9%85%D9%84%DB%8C-%D8%A8%D9%87-%D9%86%D8%AA%D8%A7%D9%86%DB%8C%D8%A7%D9%87%D9%88-%DA%AF%D8%B2%D8%A7%D8%B1%D8%B4-%D8%BA%D9%84%D8%B7-%D8%AF%D8%A7%D8%AF%D9%86%D8%AF-%DA%A9%D9%87-%D9%86%D8%A7%D8%B1%D8%B6%D8%A7%DB%8C%D8%AA%DB%8C-%D8%AF%D8%B1-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%B2%DB%8C%D8%A7%D8%AF-%D8%A7%D8%B3%D8%AA সোর্স: দিদবান ইরান]
* [[:w:সিরিয়া|সিরিয়ার]] যুবসমাজ তাদের জন্মভূমি মুক্ত করতে সর্বদা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
** হাজ আলিকবারি, তেহরানের ইমাম [https://www.didbaniran.ir/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-3/237345-%D8%A2%D9%85%D8%A7%D9%85-%D8%AC%D9%85%D8%B9%D9%87-%D8%AA%D9%87%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%AC%D9%88%D8%A7%D9%86%D8%A7%D9%86-%D8%B3%D9%88%D8%B1%DB%8C%D9%87-%D8%A2%D9%85%D8%A7%D8%AF%D9%87-%D8%A7%D9%86%D8%AF-%D8%AA%D8%A7-%D8%AF%D8%B1-%D8%A2%DB%8C%D9%86%D8%AF%D9%87-%D9%86%D8%B2%D8%AF%DB%8C%DA%A9-%D8%B3%D8%B1%D8%B2%D9%85%DB%8C%D9%86-%D8%B4%D8%A7%D9%86-%D8%B1%D8%A7-%D8%A2%D8%B2%D8%A7%D8%AF-%DA%A9%D9%86%D9%86%D8%AF-%D8%A7%D9%82%D8%AF%D8%A7%D9%85-%D8%B3%D9%87-%DA%A9%D8%B4%D9%88%D8%B1-%D8%A7%D8%B1%D9%88%D9%BE%D8%A7%DB%8C%DB%8C-%D9%84%DA%A9%D9%87-%D9%86%D9%86%DA%AF-%D8%A8%D9%88%D8%AF সোর্স: দিদবান ইরান]
* পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, বুঝে নিবেন [[:w:মুহম্মদ আল-মাহদী|মসিহ—মাহদী হুজ্জাতুল হাসানের]] দ্বিতীয় আগমনের সময় ততই সন্নিকটে।
** শিরাজ শহরের জুমার ইমাম, খামেনির প্রতিনিধি [https://www.didbaniran.ir/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-3/237351-%D8%A7%D9%85%D8%A7%D9%85-%D8%AC%D9%85%D8%B9%D9%87-%D8%B4%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D8%B2-%D9%87%D8%B1%DA%86%D9%87-%D8%B4%D8%B1%D8%A7%DB%8C%D8%B7-%D8%B3%D8%AE%D8%AA-%D8%AA%D8%B1-%D8%B4%D9%88%D8%AF-%D8%B8%D9%87%D9%88%D8%B1-%D9%86%D8%B2%D8%AF%DB%8C%DA%A9-%D9%85%DB%8C-%D8%B4%D9%88%D8%AF-%D8%A7%D8%B1%D9%88%D9%BE%D8%A7-%D8%B1%D9%88-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D9%87-%D9%85%D8%A7-%D8%AF%D8%B1-%D8%B1%DA%A9%D8%A7%D8%A8-%D8%A7%D9%85%D8%A7%D9%85-%D8%B2%D9%85%D8%A7%D9%86-%D9%BE%DB%8C%D8%B1%D9%88%D8%B2-%D9%85%DB%8C-%D8%B4%D9%88%DB%8C%D9%85 সোর্স: দিদবান ইরান]
* যদি [[:w:জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের 'স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম' কার্যকর করা হয়, তবে এক ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হবে। পরবর্তী এই নতুন যুদ্ধে কেবল ইরানের স্বার্থই বিঘ্নিত হবে না, বরং এই অঞ্চলের বহু দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ...আমরা '[[:w:পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ চুক্তি|পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ চুক্তি]]' ত্যাগ করব এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাব।
** সিকিউরিটি কমিশন, [https://www.iranintl.com/202508290825 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল] [https://tejaratnews.com/%D8%B9%D8%B6%D9%88-%DA%A9%D9%85%DB%8C%D8%B3%DB%8C%D9%88%D9%86-%D8%A7%D9%85%D9%86%DB%8C%D8%AA-%D9%85%D9%84%DB%8C-%D8%A7%DA%AF%D8%B1-%D8%A7%D8%B1%D9%88%D9%BE%D8%A7-%D9%85%DA%A9%D8%A7%D9%86%DB%8C%D8%B3 সোর্স: তেজারত নিউজ]
* আমাদের এই সরকারের বড় দুর্বলতা হলো যে আমরা গত চার দশকে এদেশের মানুষের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে পারিনি।
** রেজা সালেহি আমিরি, পর্যটন ও ইসলামি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী, [https://web.archive.org/web/20250828024700/https://www.entekhab.ir/fa/news/881606/%D9%88%D8%B2%DB%8C%D8%B1-%D9%85%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D8%AB-%D9%81%D8%B1%D9%87%D9%86%DA%AF%DB%8C-%D9%86%D9%82%D8%B7%D9%87-%D8%B6%D8%B9%D9%81-%D8%AD%D8%A7%DA%A9%D9%85%DB%8C%D8%AA-%D8%A7%D8%B3%D8%AA-%DA%A9%D9%87-%D9%85%D8%A7-%D8%AF%D8%B1-%DB%B4-%D8%AF%D9%87%D9%87-%DA%AF%D8%B0%D8%B4%D8%AA%D9%87-%D9%86%D8%AA%D9%88%D8%A7%D9%86%D8%B3%D8%AA%D9%87%E2%80%8C%D8%A7%DB%8C%D9%85-%D8%B2%DB%8C%D8%B3%D8%AA-%D8%B4%D8%B1%D8%A7%D9%81%D8%AA%D9%85%D9%86%D8%AF%D8%A7%D9%86%D9%87-%D8%B1%D8%A7-%D8%A8%D8%B1%D8%A7%DB%8C-%D9%85%D8%B1%D8%AF%D9%85-%D1%81%D8%B1%D8%A7%D9%87%D9%85-%DA%A9%D9%86%DB%8C%D9%85 সোর্স: ইন্তেখাব আর্কাইভ]
* এটি [[:w:মার্ক্সবাদ|মার্ক্সবাদ]] এবং [[:w: রাজনৈতিক ইসলাম|রাজনৈতিক ইসলাম]] এই দুই মতাদর্শের এক জগাখিচুড়ি দৃষ্টিভঙ্গির ফল। যা বর্তমানে 'বেলায়েত-ই-ফকিহ' বা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের রূপ নিয়েছে এবং গত ৪৭ বছর ধরে বিভিন্ন ভুল চিন্তা, দর্শন ও বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে আছে। এই শাসনব্যবস্থা ইরানি জাতির [[:W:সার্বভৌমত্ব|সার্বভৌমত্বকে]] জবরদখল করে রেখেছে।
** [[:w:রাজনৈতিক বন্দি|রাজনৈতিক বন্দিদের]] লেখা চিঠি, [https://kayhan.london/1404/06/04/385183/ সোর্স: কায়হান লন্ডন]
* ইউনাইটেড কিংডম বা [[:w:যুক্তরাজ্য|যুক্তরাজ্য]], [[:w:জার্মানি|জার্মানি]] এবং [[:w:ফ্রান্স|ফ্রান্স]]—এই তিনটি ইউরোপীয় দেশকে অবশ্যই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। কোনো আলোচনা দিয়েই এই শাসনের পরিবর্তন সম্ভব নয়, কারণ ইসলামিক রিপাবলিক বর্তমান বিশ্বের জন্য এক চরম হুমকি।
** [https://www.iranintl.com/202508269729 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল]
* আমি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে একটি বিষয়ে একমত যে [[অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়ার]] প্রধানমন্ত্রী [[:w:অ্যান্টনি অ্যালবানিজ|অ্যান্টনি অ্যালবানিজ]] প্রকৃতপক্ষে একজন দুর্বল রাজনীতিবিদ।
** ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, [https://web.archive.org/web/www.afr.com/politics/federal/iran-s-foreign-minister-calls-albanese-a-weak-politician-20250827-p5mq3n সোর্স: এএফআর আর্কাইভ]
* ইরানের জন্য এনপিটি বা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির কোনো উপযোগিতা নেই।
** আলি লারিজানি, [https://web.archive.org/web/www.ettelaat.com/news/109054 সোর্স: ইত্তেলাত আর্কাইভ]
* আমরা লড়ব, আমরা মরব, তবুও ইরানকে আমরা ফিরিয়ে আনব।
** পূর্বও নয়, পশ্চিমও নয়—আমরা এখন অন্ধকারে (ব্ল্যাকআউটে) ডুবে আছি।
** ইরান সরকার বিরোধী স্লোগান, [https://web.archive.org/web/https://www.iranintl.com/202508228257 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল আর্কাইভ]
* রাশিয়া ইসরায়েলকে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহ করেছে।
** [https://english.alarabiya.net/News/middle-east/2025/08/25/iranian-official-accuses-russia-of-providing-intel-on-air-defense-sites-to-israel- সোর্স: আল আরাবিয়া ইংরেজি]
* হঠাৎ করেই সব ভুয়া প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা বন্ধ হয়ে গেল! দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা অদৃশ্য! কোনো পোস্ট নেই, কোনো শোরগোল নেই, চারদিকে শুধুই এক ডিজিটাল নিস্তব্ধতা।
** [https://ukdefencejournal.org.uk/figures-claim-26-of-recent-scot-independence-posts-by-iran/ সোর্স: ইউকে ডিফেন্স জার্নাল]
* [[:w:ইউরোপে|ইউরোপের]] রাজধানীতে যুদ্ধ চলাকালীন একদিন তারা ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক সরকারের পতন এবং বিকল্প হিসেবে ইরানের একজন রাজার রাজ্যাভিষেক নিয়ে আলোচনা করেছিল। তাদের মধ্যে একজন ইরানিও উপস্থিত ছিল, ধিক্কার জানাই সেই ইরানিকে।
** [https://web.archive.org/web/www.etemadonline.com/بخش-سیاسی-9/731544-رهبر-انقلاب সোর্স: এতেমাদ অনলাইন আর্কাইভ]
* আমার মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই সমস্যাটির কোনো সমাধান নেই।
** আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, [https://www.al-monitor.com/originals/2025/08/iran-will-not-be-obedient-us-demands-supreme-leader-says সোর্স: আল-মনিটর]
* আমরা বেশ কয়েকটি দেশে অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছি, তবে কৌশলগত কারণে আপাতত আমরা সেই দেশগুলোর নাম প্রকাশ করছি না।
** [https://www.iranintl.com/en/202508238927 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল]
* আমি ইরানের একনায়ক খামেনিকে পরামর্শ দিচ্ছি—তিনি যখনই তার বাংকার থেকে বের হবেন, যেন আকাশের দিকে তাকান এবং প্রতিটি গুঞ্জন গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন। 'রেড ওয়েডিং' এর কুশীলবরা সেখানেই তার জন্য অপেক্ষা করছে।
** ইসরায়েল কাটজ, [https://www.iranintl.com/en/202508116593 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল]
* এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন না যা আমাদের ক্ষয়িষ্ণু করে তোলে এবং শত্রুকে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে প্রলুব্ধ করে।
** সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, [https://www.etemadonline.com/بخش-سیاسی-9/731274-لاریجانی-شورায়-عالی-امنیت-ملی সোর্স: এতেমাদ অনলাইন]
* মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র লক্ষ্য হলো [[:w:ইসলাম|ইসলাম]] এবং [[:w:মানবাধিকার|মানবাধিকারকে]] ধ্বংস করা।
** আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, [https://web.archive.org/web/20250822160248/https://donya-e-eqtesad.com/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D9%81%DB%8C%D8%AF-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-81/4206753-%D8%A7%D8%Bظ%D9%87%D8%A7%D8%B1%D8%A7%D8%AA-%D8%A7%D9%85%D8%A7%D9%85-%D8%AC%D9%85%D8%B9%D9%87-%D9%82%D9%85-%D8%AF%D8%B1%D8%A8%D8%A7%D8%B1%D9%87-%D9%85%D8%B0%D8%A7%DA%A9%D8%B1%D9%87-%D8%A8%D8%A7-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7-%D8%A7%D9%85%D8%B1%D9%88%D8%B2-%D9%85%D9%84%D8%AA-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%A8%D8%A7%DB%8C%D8%AF-%D8%AF%D8%B1-%D8%A8%D8%B1%D8%A7%D8%A8%D8%B1-%DB%8C%D8%B2%DB%8C%D8%AF%DB%8C%D8%A7%D9%86-%D8%B2%D9%85%D8%A7%D9%86-%D8%A8%D8%A7%DB%8C%D8%AF-%D8%A8%D8%A7%DB%8C%D8%B3%D8%AA%D8%AF সোর্স: দোনিয়া-এ-একতেসাদ আর্কাইভ]
* যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরানের তথাকথিত "সর্বোচ্চ নেতা" আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেন এমন নির্লজ্জ এবং বোকার মতো দাবি করছেন যে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন? তিনি ভালো করেই জানেন তার এই বক্তব্য একটি ডাহা মিথ্যা। একজন মহান ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে তার মিথ্যা বলা সাজে না। তার দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে, তার তিনটি অশুভ পারমাণবিক কেন্দ্র পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়েছে। আমি ঠিক জানতাম তিনি কোথায় লুকিয়ে আছেন। কিন্তু আমি ইসরায়েল বা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে—যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী—তাকে হত্যা করার অনুমতি দিইনি। আমি তাকে এক অত্যন্ত কদর্য এবং অসম্মানজনক মৃত্যু থেকে বাঁচিয়েছি। আর এর জন্য তাকে "ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!" বলতে হবে না।<br>প্রকৃতপক্ষে, যুদ্ধের একদম শেষ মুহূর্তে আমি ইসরায়েলকে এক বিশাল যুদ্ধবিমানের বহর ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করেছিলাম। যারা সরাসরি তেহরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি বড় কোনো লক্ষ্য হাসিলে যাচ্ছিল। সম্ভবত সেটিই হতে পারত চূড়ান্ত আঘাত! এতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হতো এবং বহু ইরানি প্রাণ হারাত। এটি হতে পারত এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আক্রমণ। গত কয়েকদিন ধরে আমি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য বিষয়ে কাজ করছিলাম, যা ইরানকে দ্রুত পূর্ণ পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ করে দিত।কারণ এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তাদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে! কিন্তু না, বিনিময়ে আমি পেলাম শুধুই একটি ক্রোধ, ঘৃণায় আর বিতৃষ্ণায় ভরা বিবৃতি! আমি সাথে সাথে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সব কাজও বন্ধ করে দিলাম। ইরানকে হয় বিশ্বব্যবস্থার ধারায় ফিরতে হবে, নতুবা তাদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে যাবে। তারা সবসময়ই রাগান্বিত, শত্রুভাবাপন্ন এবং অসুখী থাকে। আর দেখুন এর ফল তারা কী পেয়েছে। একটি ভস্মীভূত, বিধ্বস্ত দেশ যার কোনো ভবিষ্যৎ-ই নেই! একটি তছনছ হয়ে যাওয়া সেনাবাহিনী, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং চারদিকে শুধুই মৃত্যু মিছিল। তাদের আর কোনো আশা বেছে নেই এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ খারাপ হবে! আমি আশা করছি যে বর্তমান ইরান নেতৃত্বের উপলব্ধি করা উচিত যে, 'তেতো কথার চেয়ে মিষ্টি কথায় কাজ আরো বেশি হয়'। শান্তি!!!
** [https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/posts/114756430889057942 ডোনাল্ড ট্রাম্প]
* যখন আমরা বিশ্বাস করি যে তাদের (ইউরোপীয় দেশগুলোর) 'স্ন্যাপব্যাক' (কোনো নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর করার একটি প্রক্রিয়া) কার্যকর করার কোনো অধিকার নেই, তখন এটা বলাই বাহুল্য যে তারা এর সময়সীমা বাড়ানোরও কোনো অধিকার রাখে না।
** [[:w:আব্বাস আরাগচি|আব্বাস আরাগচি]], [https://english.alarabiya.net/News/middle-east/2025/08/20/iran-says-europe-has-no-right-to-extend-deadline-for-snapback-sanctions সোর্স: আল-আরাবিয়া]
* নেতানিয়াহু একজন ভালো মানুষ এবং তিনি সম্মুখ সমরে লড়ে যাচ্ছেন। তিনি অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, অথচ দেখুন তারা তাকে জেলের ঘানি টানানোর সবরকম চেষ্টা করছে। একবার ভাবা যায়? তিনি একজন সত্যিকারের 'ওয়ার হিরো', কারণ আমরা একসাথে কাজ করেছি। তিনি যুদ্ধনায়ক, আর আমার মনে হয় আমিও তাই। কেউ হয়তো পাত্তা দেয় না, কিন্তু আমি নিজেও একজন যুদ্ধনায়ক। কারণ শেষ পর্যন্ত ওই বিমানগুলো তো আমিই পাঠিয়েছিলাম।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://www.nytimes.com/2025/08/20/world/middleeast/trump-war-hero-netanyahu-iran.html সোর্স: নিউ ইয়র্ক টাইমস]
* হয়তো আমাদের পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি আমেরিকার ওয়াশিংটনে গিয়েই আঘাত হানবে!
** [https://nationalsecurityjournal.org/iran-makes-new-threat-perhaps-our-next-missile-will-hit-washington-directly/ সোর্স: ন্যাশনাল সিকিউরিটি জার্নাল]
* আমেরিকানরা এবং [[:w:জায়নবাদ|জায়নবাদীরা]] বলে যে তারা পেশি শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। সুতরাং ইরানকেও শক্তিশালী হতে হবে, কারণ প্রকৃতির নিয়মে দুর্বলেরা সবসময়-ই পদদলিত হয়। আমার মনে হয় সামনে আরও একটি যুদ্ধ হতে পারে, আর সেই যুদ্ধের পর হয়তো পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধই থাকবে না!
** [https://www.iranintl.com/en/202508177421 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল ইংরেজি]
* এই মুহূর্তে ইউরোপের সব দেশই আমাদের নাগালের মধ্যে। আমরা আমাদের যুদ্ধজাহাজগুলোকে আমেরিকার ২,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে যেতে পারি এবং সেখান থেকে ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্কসহ অন্যান্য শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারি।
** [https://www.jpost.com/middle-east/iran-news/article-864512 সোর্স: জেরুজালেম পোস্ট]
* MAKE IRAN GREAT AGAIN! ( বা ইরানকে আবারো মহান করে তুলুন) ।
** [https://m.economictimes.com/news/international/us/trump-declares-miga-make-iran-great-again-these-are-the-leaders-he-might-back-to-replace-the-current-regime/articleshow/122027181.cms সোর্স: ইকোনমিক টাইমস]
* নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমরা যেকোনো চড়া মূল্য দিতে প্রস্তুত।
** [https://www.aa.com.tr/en/middle-east/israeli-army-chief-alludes-to-another-strike-on-iran/3659795 সোর্স: আনাদোলু এজেন্সি]
* [[:w:লেবানন|লেবাননের]] অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ? ইরানের এমন কোনো অভিপ্রায় নেই।
** আলি লারিজানি, [https://farsi.alarabiya.net/middle-east/2025/08/14/توییت-لاریجانی-جنجالی-شد-وزیر-خارجه-لبنان-اگر-هم-وقت-داشتم-حاضر-به-دیدارش-نبودم সোর্স: আল আরাবিয়া ফারসি]
* আমরা এখনো অনিশ্চিত, তবে বাইরের শত্রু কর্তৃক আমাদের ওপর আক্রমণের সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।
** আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, [https://web.archive.org/web/20250814165711/https://parsi.euronews.com/2025/03/31/irans-leaders-response-to-trumps-threats সোর্স: ইউরোনিউজ আর্কাইভ] [https://web.archive.org/web/20250814165711/https://www.iranintl.com/202503312897 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল আর্কাইভ]
* জনসাধারণের আশ্বস্ত হওয়া উচিত যে, আর কোনো যুদ্ধ ঘটতে যাচ্ছে না।
** ইরান সরকারের মুখপাত্র [https://jahanesanat.ir/%D9%85%D8%B1%D8%AF%D9%85-%D9%85%D8%B7%D9%85%D8%A6%D9%86-%D8%A8%D8%A7%D8%B4%D9%86%D8%AF-%DA%A9%D9%87-%D8%AC%D9%85%DA%AF-%D9%86%D9%85%DB%8C%D8%B4%D9%88%D8%AF/ সোর্স: জাহান-এ-সানাত]
* আমাদের সবার জন্য জনগণের সেবক হওয়া ছাড়া এই দেশকে বাঁচানোর আর কোনো পথ খোলা নেই।
** হাসান রুহানি, [https://www.iranintl.com/en/202508140489 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল]
* (ইসলামী প্রজাতন্ত্র) তাদের 'যুদ্ধও নয়, আলোচনাও নয়'—এই অনড় অবস্থানের মাধ্যমে দেশের 'মর্যাদা ও প্রজ্ঞা' ধূলিসাৎ করেছে। অথচ পরিণামে যুদ্ধ এবং আলোচনা উভয়ই ঘটেছে। আর এখন তারা খোদ ইরানকে রক্ষা করতেই হিমশিম খাচ্ছে।
** [https://www.iranintl.com/en/202508140489 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল]
* আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে বাঁধগুলোতে আর কোনো পানি অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি ঠিকই বলেছেন যে সবকিছুই ভেঙে পড়ছে। এই প্রচণ্ড গ্রীষ্মের দাবদাহে আপনাদের সন্তানদের দেওয়ার মতো এক ফোঁটা স্বচ্ছ ও শীতল পানিও নেই। কী এক চরম ভণ্ডামি! ইরানি জনগণের প্রতি কী প্রবল অবজ্ঞা! ইরানে পানির জন্য যে তৃষ্ণা, তা কেবল স্বাধীনতার তৃষ্ণার সাথেই তুলনা করা চলে। আপনারা এমন নেতাদের পাওয়ার যোগ্য নন, যারা যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে আপনাদের একা ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। একবার ভাবুন, উত্তর-পশ্চিম ইরানের সেই এক সময়ের নয়নাভিরাম উরমিয়া লেক আবারও পুনরুজ্জীবিত করার কথা!
** [https://www.ynetnews.com/article/hyekhwtdee সোর্স: ওয়াইনেট নিউজ] [https://www.yahoo.com/news/articles/netanyahu-vows-israeli-help-water-205743787.html সোর্স: ইয়াহু নিউজ]
* আমরা মার্কিন আলোচনাকারীদের জানিয়েছিলাম যে আমরা আস্থা তৈরি করতে ইচ্ছুক, কিন্তু মনে হচ্ছে তারা যেন ঘুমের ভান করে আছে।
** [https://www.iranintl.com/en/202508120328 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল]
* পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুমোদনের জন্য আমাদের মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। ট্রিগারে এখন আমাদের আঙুল রাখা আছে।
** [https://www.newsweek.com/nuclear-war-program-threat-nato-countries-iran-sanctions-2113137 সোর্স: নিউজউইক]
* আপনারা কি যুদ্ধ করতে চান? বেশ, আপনারা তো লড়েছিলেন, কিন্তু তারা আমাদের ওপর আঘাত হেনেছে। আমরা যদি আবারও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ করি, তারা আবারও সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে। এমতাবস্থায় আলোচনা ছাড়া আমাদের আর করারই বা কী আছে?
** [https://www.iranintl.com/en/202508119542 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল ইংরেজি]
* [[:w:মাসুদ পেজেশকিয়ান|মাসুদ পজেশকিয়ানের]] "মুখ ফসকে ভুল কথা বলার" প্রবণতা ইদানীং বেড়েছে।
** জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি, আইআরজিসি পলিটব্যুরো প্রধান, [https://iranwire.com/en/news/143949-irgc-official-criticizes-iranian-presidents-public-statements/ সোর্স: ইরান অয়্যার]
* ইরান ছিল ঘৃণার মদদদাতা এবং এক অতিশয় অশুভ স্থান! তাদের জন্য এমনটা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে, কারণ তারা শুরু করা মাত্রই আমরা ফিরে আসব। আমরা ফিরে আসবই। আর আমার মনে হয় তারা সেটা বোঝে। আমরা ইরানের সাথে যা করেছি তা যদি ভেবে দেখেন... তবে দেখবেন আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি অনেক ভিন্ন হতে চলেছে।
** প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://www.iranintl.com/en/202508072310 সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল ইংরেজি]
* আপনারা যদি চান, তবে একটি স্বাধীন ইরান আর স্বপ্ন হয়ে থাকবে না। তাহলে রাজপথে নেমে আসুন। এই ধর্মান্ধদের আর এক মুহূর্তের জন্যও আপনাদের জীবন ধ্বংস করতে দেবেন না। মহান সাইরাসের বংশধর হিসেবে আপনারা এর চেয়ে অনেক বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য।
** বিবি (বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু), [https://www.i24news.tv/en/news/middle-east/artc-take-to-the-streets-a-free-iran-is-not-a-dream-israeli-pm-addresses-iranian-people সোর্স: আই-২৪ নিউজ]
* এমন কোনো করিডোর মার্কিন প্রেসিডেন্টের মালিকানাধীন রুট হবে না, বরং তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাড়াটে সৈন্যদের কবরস্থানে পরিণত হবে। ফলস্বরূপ, ইরান এই বিষয়ে অটল যে তারা দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নির্বিশাজেই পদক্ষেপ নেবে।
** ইরান শাসন ব্যবস্থার কর্মকর্তা, [https://www.newsweek.com/iran-threatens-donald-trump-armenia-azerbaijan-deal-2111615 সোর্স: নিউজউইক]
* [[:w:মহান কুরুশ|সাইরাস]] দ্য গ্রেট একদা ইহুদিদের মুক্ত করেছিলেন, আর আজ হয়তো এই [[:w:ইহুদি|ইহুদি]] রাষ্ট্রই পারস্যবাসীদের মুক্ত করবে!
** বিবি (বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু), [https://nypost.com/2025/06/17/us-news/netanyahu-calls-khamenei-modern-hitler-vows-to-free-the-persians-as-irans-exiled-crown-prince-pushes-for-uprising/ সোর্স: নিউ ইয়র্ক পোস্ট]
* ইরান সরকার দেশত্যাগ করা ইরানিদের বিকল্প হিসেবে শূন্যস্থান পূরণে প্রায় ৬০ থেকে ১০০ লক্ষ [[:w:আফগান|আফগান]] নাগরিককে দেশে আমদানি করেছে।
** আইআরএমপি, [https://web.archive.org/web/20250727021936/https://www.entekhab.ir/fa/news/877082/ সোর্স: এন্তেখাব আর্কাইভ]
* আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিয়েছি। তারা চাইলে আবার শুরু করতে পারে; তবে যদি তারা তা করে, তবে চোখের পলক ফেলার আগেই আমরা তা আবারও গুঁড়িয়ে দেব।
* ইরান অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে মার খেয়েছে। তবু তারা এখনও [[:w:সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ]] নিয়ে কথা বলে। আমি বলতে চাইছি, এমন পাগলামিটা কে করে? আপনি মাত্রই ভয়াবহ এক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বেরিয়ে এলেন এবং এসেই বলা শুরু করলেন, 'আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চাই'! কার বুদ্ধিশুদ্ধি এত কম হতে পারে যে সে এই কথা বলবে?
** ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://usa.news-pravda.com/world/2025/07/27/394153.html সোর্স: নিউজ-প্রাভদা]
* ইসলামী প্রজাতন্ত্রের এই ইরান-বিরোধী শাসনব্যবস্থা এবং তার সর্পতুল্য নেতা, যারা কয়েক দশক ধরে পরজীবীর মতো ইরানের রক্ত চুষে বেঁচে আছে, তারা এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে নিজেদের কুৎসিত মুখে দেশপ্রেমের মুখোশ পরেছে। তারা চরম ধৃষ্টতার সাথে আমাদের '''"ও ইরান'''" (ইরানের একটি জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক সংগীত) সংগীতটিকে বিকৃত করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এই সেই শাসনব্যবস্থা, যারা শুরু থেকেই তাদের নিপীড়ন আর নৃশংস অপরাধকে বৈধতা দিতে ইসলাম ও শিয়া মতবাদকে আঁকড়ে ধরেছিল।যাদের প্রতিটি কাজের মূল ভিত্তিই ছিল ইরান, তার সংস্কৃতি, সভ্যতা, ভূমি, জাতি এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি চরম শত্রুতা। এখন ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের ইরানের রক্ষক হিসেবে জাহির করছে। অথচ লক্ষণীয় যে, তাদের সেই ত্রাস সৃষ্টিকারী ও দমনকারী বাহিনী 'রেভল্যুশনারি গার্ড কর্প্সের' নামের কোথাও 'ইরান' শব্দটি পর্যন্ত নেই! আর এটাই তাদের জন্য সবচেয়ে মানানসই।
** রেজা পাহলভি, [https://iranwire.com/fa/news-1/143174-%D8%B4%D8%A7%D9%87%D8%B2%D8%A7%D8%AF%D9%87-%D8%B1%D8%B6%D8%A7-%D9%BE%D9%87%D9%84%D9%88%DB%8C-%D8%AC%D9%85%D9%87%D9%88%D8%B1%DB%8C-%D8%A7%D8%B3%D9%84%D8%A7%D9%85%DB%8C-%D8%A8%D9%87-%DA%86%D9%87%D8%B1%D9%87-%D9%BE%D9%84%DB%8C%D8%AF%D8%B4-%D9%8核心%D8%A7%D8%A8-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86%DA%AF%D8%B1%D8%A7%DB%8C%DB%8C-%D8%B2%D8%AF%D9%87-%D8%A7%D8%B3%D8%AA/ সোর্স: ইরানওয়্যার]
* ইরান-বিরোধী এই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বেপরোয়া নেতা আলী খামেনি আবারও আমাদের দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এটি ইরানের যুদ্ধ নয়, এটি ইরানি জনগণেরও যুদ্ধ নয়। এটি খামেনির যুদ্ধ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের যুদ্ধ। পতনের পরবর্তী প্রথম ১০০ দিন, অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় এবং ইরানি জনগণের দ্বারা গঠিত একটি জাতীয় ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানি জনগণকে এই শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে এবং নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করুন।
** রেজা পাহলভি, [https://allisraelnews.com/crown-prince-pahlavi-announces-european-summit-on-iran-future-of-iranian-democracy সোর্স: অল ইসরায়েল নিউজ]
* আমেরিকা কি কেবল বড় শয়তান, নাকি সবথেকে বড় শয়তান (অথবা ইবলীশ)?
** [[:w:ইলন মাস্ক|ইলন মাস্ক]] [https://inshorts.com/en/amp_news/-is-america-great-satan-or-greatest-satan---musk-asks-iran-s-supreme-leader-khamenei-1751000559962 সোর্স: ইনশর্টস]
* ইরানি জনগণ বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং আশীর্বাদপুষ্ট ইহুদি জাতির প্রতি তাদের মনে কখনোই কোনো বিদ্বেষ ছিল না। ইসলামিক রিপাবলিক আজ তার এমন এক শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে এবং পতনের মুখে দাঁড়িয়েছে। আলী খামেনি এখন ভীতুর মতো আত্মগোপন করে আছেন এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।
** রেজা পাহলভী, [https://www.msn.com/en-gb/news/other/crown-prince-pahlavi-s-warning-comes-true-as-regime-strongholds-burn/ar-AA1HPeBZ সোর্স: এমএসএন]
* ইরানের বিরুদ্ধে আমরা অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছি। এখন মোটেও তারা সুখে নেই... বরং বোমায় বিধ্বস্ত। আসলে জায়গাটি পুরো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কেউ সেখানে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হতেও কয়েক বছর লেগে যাবে। তবে ইরান থেকে আমরা যা চাই, তা-ই আদায় করে নেব। এটি হতে যাচ্ছে এক দ্রুত উদযাপনের মুহূর্ত। আমাদের আঘাত ছিল একদম নিখুঁত পুরো যা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মতো।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প
* ক্ষেপণাস্ত্রগুলো [[:w:পারমাণবিক কেন্দ্র|পারমাণবিক স্থাপনা]] গুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে, বোমাগুলো স্থাপনার ভেতরে এমনভাবে ঢুকে গিয়েছিল তা একদম যেন ছুরি দিয়ে মোম কাটছে, এমন অবলীলায় তা ভেতরে ঢুকে গেল।।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://www.msn.com/en-us/news/world/trump-iran-s-nuclear-program-obliterated-bombs-penetrated-fordo-like-it-was-butter/ar-AA1HDIAU সোর্স: এমএসএন]
* নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এটাই হওয়া উচিত যাতে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।
** [[:w:ফ্রিডরিখ মেরৎস|ফ্রিডরিখ মেরৎস]], [https://www.lemonde.fr/en/international/article/2025/06/14/europe-s-paradoxical-support-for-israel-s-attack-against-iran_6742340_4.html সোর্স: ল্য মঁদ]
* আমি ইরানের সাথে কোনো কথা বলছি না, এমনকি তাদের কোনো প্রস্তাবও দিচ্ছি না।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://www.timesofisrael.com/trump-im-not-talking-to-iran-nor-offering-it-anything-after-us-struck-nuke-sites/amp/ সোর্স: টাইমস অফ ইসরায়েল]
* এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমার গায়ের কাঁটা দিয়ে উঠছে!
** মেজর জেনারেল কেইন, [https://www.defense.gov/News/News-Stories/Article/Article/4227082/ সোর্স: ইউএস ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট ও নিউজ১৮]
* আমার পুরো প্রশাসনকে ইরানের সাথে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা একটি মহান দেশ হয়ে উঠতে পারে, তবে তার আগে তাদের অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://www.reuters.com/world/middle-east/trump-says-us-remains-committed-diplomatic-solution-iran-nuclear-issue-2025-06-12/ সোর্স: রয়টার্স]
* ইরানের কিছু কট্টরপন্থী নেতা খুব সাহসের সাথে বড় বড় কথা বলেছিলেন, কিন্তু তারা জানতেন না যে কী ঘটতে চলেছে। তারা এখন সবাই মৃত, এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ নিন। একসময়ের সেই ঐতিহ্যবাহী [[:w:পারস্য|পারস্য সাম্রাজ্যকে]] রক্ষা করুন।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://www.axios.com/2025/06/13/trump-iran-israel-war-nuclear-talks সোর্স: অ্যাক্সিওস]
* মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন যে ইরানকে অবশ্যই আত্মসমর্পণ করতে হবে। এই বক্তব্যটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ দিয়ে বের হওয়ার জন্য বড্ড বেশি বড় হয়ে গেছে। আগের কোনো প্রশাসনই এভাবে প্রকাশ্যে এমন কথা বলেনি কারণ এটি একটি অগ্রহণযোগ্য বিষয়। প্রতিবারই তারা হরেক রকম অজুহাত নিয়ে আসে। কখনো সেটি মানবাধিকার, কখনো গণতন্ত্রের সুরক্ষা, আবার কখনো বা নারী অধিকার। কখনো তো তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে পড়ে থাকে, আবার কখনো পারমাণবিক ইস্যু বা ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে সামনে আনে। তারা আসলে কেবল নানা ধরনের অজুহাতই তৈরি করাতেই ব্যস্ত।
** সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ আলী খামেনি, [https://english.khamenei.ir/news/11751/Statement-Iran-must-surrender-is-too-big-for-the-US-president-s সোর্স: khamenei.ir]
* আমরা খুব ভালো করেই জানি যে এই 'সর্বোচ্চ নেতা' কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন। তিনি এখন একটি অত্যন্ত সহজ লক্ষ্যবস্তু, তবে আপাতত সেখানে নিরাপদেই আছেন। হয়তো আমরা তাকে অন্তত এই মুহূর্তের জন্য বেঁচে থাকতে দিচ্ছি।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://www.reuters.com/world/middle-east/succession-plans-irans-khamenei-hit-top-gear-2025-06-23/ সোর্স: রয়টার্স]
* এটি আমাদের জন্য '[[:w:বার্লিন প্রাচীর|বার্লিন প্রাচীর]]' পতনের মতো একটি মুহূর্ত।
** রেজা পাহলভি, [https://www.reuters.com/business/media-telecom/regime-change-is-only-solution-iran-shahs-son-says-2025-06-23/ সোর্স: রয়টার্স]
* ওই একটি আঘাতই যুদ্ধ শেষ করে দিয়েছে। আমি [[:w:হিরোশিমা|হিরোশিমার]] উদাহরণ দিতে চাই না, আমি [[:w:নাগাসাকি|নাগাসাকির]] উদাহরণও দিতে চাই না, তবে ওটি ছিল মূলত একই জিনিস। যা যুদ্ধকে একদম থামিয়ে দিয়েছিল। এই আঘাতটিই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছে। আমরা যদি সেটিকে ধ্বংস না করতাম, তবে তারা এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যেত।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://nymag.com/intelligencer/article/trump-iran-strike-hiroshima-bombing.html সোর্স: এনওয়াই ম্যাগ]
[[চিত্র:Demonstrations and protests against United States recognition of Jerusalem in Tehran 032.jpg|thumb|দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ইরান কেবল 'আমেরিকা ধ্বংস হোক, ইসরায়েল নিপাত যাক'—এসবই বলে এসেছে। ~ ডোনাল্ড ট্রাম্প। [https://www.lemonde.fr/en/international/article/2025/06/22/trump-s-full-remarks-after-us-strikes-on-iran_6742597_4.html ২২ জুন, ২০২৫]]]
* [[:w:মধ্যপ্রাচ্য|মধ্যপ্রাচ্যের]] ত্রাস এই ইরানকে এখন অবশ্যই শান্তি স্থাপন করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তবে ভবিষ্যতে আক্রমণগুলো হবে আরও ভয়াবহ এবং আমাদের জন্য অনেক বেশি সহজ।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://www.lemonde.fr/en/international/article/2025/06/22/trump-s-full-remarks-after-us-strikes-on-iran_6742597_4.html ২২ জুন, ২০২৫, সোর্স: লে মন্দে]
* তারা জানেই না যে কী চুলটা ছিড়েছে!
** ডোনাল্ড ট্রাম্প [https://www.cnn.com/2025/06/24/politics/video/trump-israel-iran-ceasfire-reaction-ldn-digvid সোর্স: সিএনএন]
* আমরা জায়নবাদীদের প্রতি বিন্দুমাত্রও করুণা দেখাব না।
** আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, [https://www.aljazeera.com/news/liveblog/2025/6/17/live-israel-iran-trade-attacks-trump-orders-residents-of-tehran-to-flee ১৭ জুন, ২০২৫, সোর্স: আল জাজিরা]
* '''Beams are on''' (ইন্টারনেটের সিগন্যাল প্রেরণ করা হচ্ছে; ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলাকালীন ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম X এ ছোট করে লিখেছিলেন, "The beams are on" । এর মানে ছিল, ইরানের আকাশে এখন স্টারলিংকের সিগন্যাল সক্রিয় এবং মানুষ বিশেষ টার্মিনালের মাধ্যমে সেখান থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে)
** ইলন মাস্ক, [https://theconversation.com/in-the-sky-over-iran-elon-musk-and-starlink-step-into-geopolitics-not-for-the-first-time-259833 সোর্স: দ্য কনভারসেশন]
* ওই বোমাগুলো আর ফেলো না।
** ডোনাল্ড ট্রাম্প, [https://www.ndtv.com/world-news/israel-iran-conflict-ceasefire-donald-trump-trump-tells-israel-dont-drop-bombs-then-drops-an-f-bomb-8749636 সোর্স: এনডিটিভি]
[[বিষয়শ্রেণী:ইরান]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসরায়েল]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসরায়েলের ইতিহাস]]
4wx5cje1nk8rb8quos89xy35gtns3z1
২০২৬ ইরান যুদ্ধ
0
12507
83219
80483
2026-05-01T13:42:56Z
Oindrojalik Watch
4169
83219
wikitext
text/x-wiki
[[File:Iran and Israel (without West Bank and Gaza).png|thumb|৪০০পিক্সেল|[[:w:ইরান|ইরান]] এবং [[:w:ইসরায়েল|ইসরায়েলের]] ভৌগোলিক অবস্থান নির্দেশক মানচিত্র। এই অঞ্চলটি ২০২৬ সালের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।]]
২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি, [[:w:ইসরায়েল|ইসরায়েল]] এবং [[:w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] [[:w:ইরান|ইরানের]] অসংখ্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একটি '''[[:w:২০২৬ ইরান যুদ্ধ|সমন্বিত যৌথ হামলা]]''' চালায়, যা একটি ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর কর্তৃক এই অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন রোরিং লায়ন এবং অপারেশন এপিক ফিউরি। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া, যার নেপথ্যে ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল মূলত সেদেশের [[:w:শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন|শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন]] ঘটানো। এই আক্রমণের সময় ইরানের দ্বিতীয় [[:w:ইরানের সর্বোচ্চ নেতা|সর্বোচ্চ নেতা]] [[:w:আলী খামেনেয়ী|আলী খামেনেয়ীর]] [[:w:আলী খামেনেয়ীর হত্যাকাণ্ড|হত্যাকাণ্ডের]] মতো স্পর্শকাতর ঘটনাও ঘটে।
এই আক্রমণগুলো ইরানের [[:w:তেহরান|তেহরান]], [[:w:ইস্পাহান|ইস্পাহান]], [[:w:কোম|কোম]], [[:w:কারাজ|কারাজ]] এবং [[:w:কেরমানশাহ|কেরমানশাহ]] শহরগুলোতে শুরু হয়। [[:w:সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ|সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের]] সচিব [[:w:আলী শামখানি|আলী শামখানি]] সহ ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এই হামলায় প্রাণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কথা জানান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী [[:w:ইসরায়েল কাটজ|ইসরায়েল কাটজ]] নিশ্চিত করেন যে, [[:w:ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী|ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)]] এই হামলাগুলো পরিচালনা করেছে। [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]] '[[:w:'ট্রুথ সোশ্যাল|ট্রুথ সোশ্যালে]]' পোস্ট করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযানে ইসরায়েলের সাথে যোগ দিয়েছে।
এর জবাবে [[:w:ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী|ইরানি বাহিনী]] [[:w:পারস্য উপসাগর|পারস্য উপসাগর]] জুড়ে ডজন খানেক [[:w:মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান (ড্রোন)|ড্রোন]] এবং [[:w:নিক্ষেপী ক্ষেপণাস্ত্র|ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র]] নিক্ষেপ করে; যা ইসরায়েল সহ [[:w:জর্ডান|জর্ডান]], [[:W:কুয়েত|কুয়েত]], [[:W:বাহরাইন|বাহরাইন]], [[:w:কাতার|কাতার]], [[:w:ইরাক|ইরাক]], [[:w:সৌদি আরব|সৌদি আরব]] এবং [[:w:সংযুক্ত আরব আমিরাত|সংযুক্ত আরব আমিরাতে]] অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়।
[[File:Khamenei last end year 5458884.jpg|thumb|সদ্য নিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতার উচিত বিশ্বের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং ইরানে এক নতুন যুগের ঘোষণা করা। [[:w:রাজনৈতিক বন্দি|রাজনৈতিক বন্দিদের]] মুক্তি দেওয়া এবং যারা ইরানিদের হত্যা বা ২০২৬ সালের ইরান হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল না, তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা এখন একটি ঐতিহাসিক আবশ্যকতা।<ref>[https://www.khabarfoori.com/بخش-سیاسی-59/3198657-جبهه-اصلاحات-انتخاب-رهبری-جدید-می-بایست-حاوی-پیام-صلح-به-جهان-آغاز-دورانی-تازه-در-ایران-باشد-اعلام-عفو-عمومی-کلیه-کسانی-که-دستشان-به-خون-آلوده-نشده-آزادی-همه-زندانیان-سیاسی-فعالان-مدنی-یک-ضرورت-ملی-تاریخی-است Khabarfoori News Portal]</ref>]]
[[চিত্র:Mojtaba Khamenei 2019.jpg|thumb|আরেকজন খামেনি আসছেন।~[https://www.khabarfoori.com/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-59/3198781-%D8%AA%D8%A7%DB%8C%DB%8C%D8%AF-%D8%AA%D9%84%D9%88%DB%8C%D8%AD%DB%8C-%D8%A7%D9%86%D8%AA%D8%AE%D8%A7%D8%A8-%D8%A2%DB%8C%D8%AA-%D8%A7%D9%84%D9%84%D9%87-%D8%B3%DB%8C%D8%AF-%D9%85%D8%AC%D8%AA%D8%A8%DB%8C-%D8%AE%D8%A7%D9%85%D9%86%D9%87-%D8%A7%DB%8C-%D8%A8%D8%B9%D9%86%D9%88%D8%A7%D9%86-%D8%B1%D9%87%D8%A8%D8%B1-%D8%A8%D8%B9%D8%AF%DB%8C-%D8%AA%D9%88%D8%B3%D8%B7-%D8%B9%D8%B6%D9%88-%D8%AE%D8%A8%D8%B1%DA%AF%D8%A7%D9%86-%D8%B1%D9%87%D8%A8%D8%B1%DB%8C QomImam]]]
[[চিত্র:Flag of the Cooperation Council for the Arab States of the Gulf.svg|thumb|ট্রাম্প হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছেন এবং নিজের শেষ নিঃশ্বাস দিয়ে লড়াই করছেন। আমেরিকানরা এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার অবস্থায় রয়েছে। শত্রু আজ এক মরিয়া চোরাবালিতে আটকা পড়েছে। [[:w:বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু|বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু]] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণের জন্য উসকে দিয়েছেন, আমরা এখন এর প্রতিশোধ নেবই! ট্রাম্প, আপনি একজন [[:w:মানসিক ব্যাধি|মানসিক বিকারগ্রস্ত]] ব্যক্তি... আমরা যুদ্ধের এক বন্ধুর গিরিপথ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি... ইরানিদের একটি মহান সভ্যতা রয়েছে, অথচ এই অঞ্চলের দেশগুলো দালালদের মতো আচরণ শুরু করেছে। ট্রাম্প বলছেন আমাদের সেনাবাহিনীর কিছু লোক পক্ষত্যাগ করেছে। সাহস থাকলে তাদের মধ্য থেকে অন্তত দুজনের নাম আমাদেরকে বলে দেখুক।<br>— '''''[[:w:আলি লারিজানি|আলি লারিজানি]]'''''<ref>[https://sahebkhabar.ir/news/77421052/%D8%B9%D9%84%DB%8C-%D9%84%D8%A7%D8%B1%DB%8C%D8%AC%D8%A7%D9%86%DB%8C-%D8%AA%D8%B1%D8%A7%D9%85%D9%BE-%D8%A2%D8%AF%D9%85-%D8%B9%D9%82%D8%A8-%D8%A7%D9%81%D8%AA%D8%A7%D8%AF%D9%87-%D8%A7%DB%8C-%D8%A7%D8%B3%D8%AA-%D8%AF%D8%A7%D8%B1%DB%8C%D9%85-%D8%A7%D8%B2-%DA%AF%D8%B1%D8%AF%D9%86%D9%87-%D8%AC%D9%86%DA%AF লারিঞ্জানি: ট্রাম্প একজন অনগ্রসর ব্যক্তি]।</ref><ref>[https://sahebkhabar.ir/news/77421726/%D8%A8%D8%A8%DB%8C%D9%86%DB%8C%D8%AF-%D8%B9%D9%84%DB%8C-%D9%84%D8%A7%D8%B1%DB%8C%D8%AC%D8%A7%D9%86%DB%8C-%D9%86%D9%81%D8%B3-%D9%87%D8%A7%DB%8C-%D8%A2%D8%AE%D8%B1-%D8%AA%D8%B1%D8%A7%D9%85%D9%BE-%D8%A7%D8%B3%D8%AA-%D9%87%DB%8C%D8%B3%D8%AA%D8%B1%DB%8C%DA%A9-%D8%B4%D8%AF%D9%87-%D9%88 লারিঞ্জানি: ট্রাম্পের শেষ নিঃশ্বাস ও হিস্টেরিয়া], সাহেব খবর।</ref><ref>[https://farsnews.ir/mohammadreza_dehghan/1772912586911483130/%D8%B9%D9%84%DB%8C-%D9%84%D8%A7%D8%B1%DB%8C%D8%AC%D8%A7%D9%86%DB%8C-%D8%AA%D8%A7-%DA%AF%D8%B1%D9%81%D8%AA%D9%86-%D8%AA%D8%A7%D9%88%D8%A7%D9%86-%D8%AF%D8%B3%D8%AA-%D8%A7%D8%B2-%D8%B3%D8%B1-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7-%D8%A8%D8%B1%D9%86%D9%85%DB%8C-%D8%AF%D8%A7%D8%B1%DB%8C%D9%85 আলী লারিঞ্জানি: ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত আমেরিকার ওপর থেকে হাত সরাব না], ফার্স নিউজ।</ref>]]
[[চিত্র:State_flag_of_Iran_(1964–1980).svg|thumb|জার শাসিত [[:w:রাশিয়া|রাশিয়া]] [[:w:ককেশাস|ককেশাস অঞ্চলের]] ১৭টি ইরানি শহরকে ইরান থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। আমরা [[:w:মঙ্গোল সাম্রাজ্য|মঙ্গোল]] আক্রমণ এবং [[:w:তৈমুরি সাম্রাজ্য|তৈমুরিদের]] ধ্বংসস্তূপ থেকে [[:w:ফিনিক্স পাখি|ফিনিক্স পাখির]] মতো বারবার জেগে ওঠা এক জাতি।<ref>[https://sahebkhabar.ir/news/77413081/%D8%A7%DB%8C%D8%B3%D8%AA%D8%A7%D8%AF%DA%AF%DB%8C-%D8%AE%D9%88%D9%86-%D9%88-%D8%AE%D8%A7%DA%A9 রক্ত ও মাটি: প্রতিরোধের অটল সংকল্প], সাহেব খবর।</ref>]]
== উক্তি ==
<small>Please add quotes in chronological order</small>
=== ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ===
* তারা অবিশ্বাসী কাফেরদের বিরুদ্ধে ইস্পাতকঠিন কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াবান, সহমর্মী ও পরম সহানুভূতিশীল।
** '''''[[w:আলী_খামেনেয়ী|আলী খামেনেই]]''''' কর্তৃক পবিত্র কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত; [https://sahebkhabar.ir/news/77473280/%D8%A3%D8%B4%D8%AF%D8%A7%D8%A1-%D8%B9%D9%84%DB%8C-%D8%A7%D9%84%DA%A9%D9%81%D8%A7%D8%B1-%D8%B1%D8%AD%D9%85%D8%A7%D8%A1-%D8%A8%DB%8C%D9%86%D9%87%D9%85]
* যারা ট্রাম্পের পদাঙ্ক অনুসরণকারী এবং তার সাম্রাজ্যবাদী মতাদর্শের সমর্থক ইরানি, তাদের জন্য নরকের অতল গহ্বরে এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিশেষ স্থান সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
** আইআরজিসি (IRGC) মাশরে '''''দিমিত্রি ল্যাস্কারিস'''''; [https://www.shahrekhabar.com/news/177328434067132]
* বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক প্রলয়ংকরী বিদ্রোহ ও সশস্ত্র বিপ্লব গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৪ লক্ষ সৈন্য এখন রণসজ্জায় সজ্জিত এবং চূড়ান্ত মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে অপেক্ষমান রয়েছে।
** '''''জেনারেল আরাসতে'''''; [https://www.ettelaat.com/news/140255/%DB%B4%DB%B0%DB%B0-%D9%87%D8%B2%D8%A7%D8%B1-%D9%86%D9%81%D8%B1-%D9%85%D8%B3%D9%84%D8%AD-%D8%AF%D8%B1-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7-%D8%A2%D9%85%D8%A7%D8%AF%D9%87-%D9%82%DB%8C%D8%A7%D9%85-%D8%B9%D9%84%DB%8C-%D8%A7%D9%84%DA%A9%D9%81%D8%A7%D8%B1-%D8%B1%D8%AD%D9%85%D8%A7%D8%A1-%D8%A8%DB%8C%D9%86%D9%87%D9%85#ref=shahrekhabar]
* সমাগত এই মহাযুদ্ধে জয়োল্লাস কেবল ইরানের একার হবে না। বরং রাশিয়া এবং চীনও এই লড়াইয়ের ময়দানে চূড়ান্ত বিজয়ীর বেশে আবির্ভূত হবে।
** আইআরজিসি জেনারেল '''''রহিম সাফাভি'''''; [https://www.shahrekhabar.com/news/177326496039426]
* আমাদের হাত এখন আমেরিকানদের ঘাড়ের ওপর শক্তভাবে চেপে বসে আছে। তারা সামান্যতম নড়াচড়া করার চেষ্টা করলেই আমরা তাদের গালে এক প্রচণ্ড চপেটাঘাত হেনে উচিত শিক্ষা দেব।
** আইআরজিসি জেনারেল '''''মহসেন রেজাই'''''; [https://sahebkhabar.ir/news/77471755/%D9%85%D8%AD%D8%B3%D9%86-%D8%B1%D8%B6%D8%A7%DB%8C%DB%8C-%D8%AF%D8%B3%D8%AA%D9%85%D8%A7%D9%86-%D9%BE%D8%B4%D8%AA-%DA%AF%D8%B1%D8%AF%D9%86-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7%D8%B3%D8%AA-%D8%AA%D8%A7-%D8%A8%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%D8%AF-%D8%AA%DA%A9%D8%A7%D9%86-%D8%A8%D8%AE%D9%88%D8%B1%D8%AF-%DB%8C%DA%A9]
* যদি এই মুহূর্তে কেউ রাজপথে নেমে আসে, তবে তাদের সাধারণ প্রতিবাদকারী হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের সরাসরি শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। আমাদের প্রতিটি সন্তান আজ বন্দুকের ট্রিগারে আঙুল রেখে চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। প্রতিটি গলি, রাজপথ এবং শহরের মোড়গুলো এখন সম্পূর্ণভাবে পুলিশ, বিশেষ বাহিনী এবং আইআরজিসি ('''IRGC)''' বাসিজের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
** ফারাজা ('''FARAJA''') কমান্ডার '''''জেনারেল আহমেদ রাদান'''''[https://sahebkhabar.ir/news/77462710/%D8%B3%D8%B1%D8%AF%D8%A7%D8%B1-%D8%B1%D8%A7%D8%AF%D8%A7%D9%86-%D8%A7%DA%AF%D8%B1-%DA%A9%D8%B3%DB%8C-%D8%A8%D9%87-%D8%AE%D9%88%D8%A7%D8%B3%D8%AA-%D8%AF%D8%BUSH%D9%85%D9%86-%D8%A8%D9%87-%D8%AE%DB%8C%D8%A7%D8%A8%D8%A7%D9%86-%D8%A8%DB%8C%D9%86%D9%87%D9%85#ref=shahrekhabar]
* আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি যে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি এখন আমাদের হাতের নাগালে রয়েছে। যদি আমরা কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রচেষ্টাকে সেই প্রয়োজনীয় সুযোগ ও ক্ষেত্রটুকু প্রদান করি। আমি মনে করি না যে এই জটিল সংকটের সমাধান কূটনীতি ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প উপায়ে সম্ভব। এই চুক্তির মূল সত্তা বা 'হৃদয়ের' জায়গাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা সেই মূল জায়গাটি ধরতে সক্ষম হয়েছি। যদি আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হয় চিরতরে এটি নিশ্চিত করা যে ইরান কখনোই হয়তো কোনো [[পারমাণবিক অস্ত্র]] তৈরি করতে পারবে না। তবে আমরা সেই কঠিন সমস্যার সমাধানমূলক সূত্র খুঁজে পেয়েছি। আমরা এখানে পারমাণবিক উপাদানের মজুত একদম শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে কথা বলছি... কারণ আপনি যদি সমৃদ্ধ [[w:ইউরেনিয়াম|ইউরেনিয়ামের]] মজুত গড়ে তুলতে না পারেন, তবে আপনার পক্ষে কোনোভাবেই বোমা তৈরি করা সম্ভব নয় এবং একইসাথে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইন্টারনেশনাল এট্মিক এনারজি এজেন্সি বা আইএইএ এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপকভিত্তিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা। বর্তমানে থাকা মজুতগুলো সম্ভাব্য সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনা হবে এবং সেগুলোকে এমন জ্বালানিতে রূপান্তর করা হবে যা থেকে পুনরায় বোমার কাঁচামালে ফিরে যাওয়া আর সম্ভব হবে না। আমি আত্মবিশ্বাসী যে একটি সম্মানজনক, ন্যায্য এবং টেকসই চুক্তি সম্পাদিত হলে এমনকি মার্কিন পরিদর্শকরাও এক পর্যায়ে সেখানে প্রবেশাধিকার পাবেন। আমরা ইরান এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করতে এবং একটি সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু করতে সাধারণভাবে সম্মত হয়েছি। যা পারস্পরিক আস্থা ও সুসম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে ইরান এবং জিসিসি/ GCC উভয় পক্ষের উদ্বেগের জায়গাগুলোতে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। বৃহৎ পরিসরে বলতে গেলে, মূল রাজনৈতিক ইস্যুগুলো আগামীকালের মধ্যেই একমত হওয়া সম্ভব, তবে প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আইএইএর সাথে মিটিয়ে নিতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে। সেটিও তুলনামূলক দ্রুত করা সম্ভব কারণ এর অনেক প্রাথমিক কাজ কয়েক বছর আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে চুক্তির অগ্রগতি অনেক বেশি; আমাদের শুধু এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে আরও কিছুটা অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন।
** বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী; মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণের পূর্বে ''ফেইস দ্য নেশন'' এ প্রদত্ত বক্তব্য (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। [https://www.youtube.com/watch?v=Pg5sXQDR8NY&t=38s ইউটিউব ভিডিও সূত্র।]
* ইমাম মাহদি আমাদের সাথেই আছেন এবং তিনি স্বয়ং এই উম্মাহর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন; তিনি বিশেষজ্ঞ পর্ষদের মাধ্যমে আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনেই-কে পরবর্তী নেতা হিসেবে মনোনীত ও পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
** [https://kayhan.ir/fa/news/328896/%D8%A7%D9%85%D8%A7%D9%85-%D8%B2%D9%85%D8%A7%D9%86%D8%B9%D8%AC-%D9%88%D9%84%DB%8C-%D9%81%D9%82%DB%8C%D9%87-%D8%B1%D8%A7-%D8%A8%D9%87-%D8%AE%D8%A8%D8%B1%DA%AF%D8%A7%D9%86-%D9%85%D8%B9%D8%B1%D9%81%DB%8C-%DA%A9%D8%B1%D8%AF-%D9%86%DA%A9%D8%AA%D9%87 হোসেন শরীয়ত মাদারে]; কায়হান।
* পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তরে এবং প্রতিটি কোণে যতক্ষণ না [[w:মাহদী|ইমাম মাহদির]] বিজয় নিশান বা পবিত্র পতাকা উড্ডীন হচ্ছে, ততক্ষণ এই মহান বিপ্লব বিন্দুমাত্র স্তিমিত হবে না কিংবা থমকে দাঁড়াবে না।
** [https://kayhan.ir/fa/news/328901/%D8%B3%DB%8C%D8%AF-%D8%B9%D9%84%DB%8C-%D8%AE%D8%A7%D9%85%D9%86%D9%87%E2%80%8C%D8%A7%DB%8C-%D8%A8%D8%A7-%D9%86%D8%A7%D9%85-%D8%AC%D8%AF%DB%8C%D8%AF-%D9%85%D8%AC%D8%AA%D8%A8%DB%8C-%D8%A2%D9%85%D8%AF%D9%87-%D8%A7%D8%B3%D8%AA হোসেন শরীয়ত মাদারে]; কায়হান।
* নিজের পরাজিত ও বিপর্যস্ত সৈন্যদের নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার হীন উদ্দেশ্যে ট্রাম্প এখন ইউক্রেনের তথাকথিত ভাঁড় রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।
** [https://kayhan.ir/fa/news/328922/%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7-%D8%A8%D8%B1%D8%A7%DB%8C-%D9%86%D9%82%D8%A7%D8%AA-%D8%AC%D8%A7%D9%86-%D8%B3%D8%B1%D8%A8%D8%A7%D8%B2%D8%A7%D9%86%D8%B4-%D8%AF%D8%B3%D8%AA-%D8%A8%D9%87-%D8%AF%D8%A7%D9%85%D8%A7%D9%86-%DB%8C%DA%A9-%D8%AF%D9%84%D9%82%DA%A9-%D8%B4%D8%AF হোসেন শরীয়ত মাদারে]; কায়হান।
* যুদ্ধের রণকৌশলগত ভারসাম্য এখন আমূল পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং বর্তমানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। সুতরাং এখন আর কোনো আলোচনার অবকাশ নেই। যেকোনো রাষ্ট্র যদি এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে কোনো প্রকার সহায়তা প্রদান করে, তবে তাকে সরাসরি শত্রু হিসেবে গণ্য করে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে।
** [https://tasnimnews.ir/fa/news/1404/12/19/3537514/%D9%85%D9%88%D9%81%D9%82%DB%8C%D8%AA-90-%D8%AF%D8%B1%D8%B5%D8%AF%DB%8C-%D8%AD%D9%85%D9%84%D8%A7%D8%AA-%D9%85%D9%88%D8%B4%DA%A9%DB%8C-%D9%88-%D9%BE%D9%87%D9%BE%D8%A7%D8%AF%DB%8C-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D9%85%D9%88%D8%A7%D8%B2%D9%86%D9%87-%D8%A8%D9%87-%D9%86%D9%81%D8%B9-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%A7%D8%B3%D8%AA আইসিএ (ICA)]; তাসনিম নিউজ।
* হরমুজ প্রণালী দিয়ে একটি নৌযান সফলভাবে অতিক্রম করেছে এবং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক যুদ্ধজাহাজ তাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তবে এই দৃশ্য বাস্তবে নয়, বরং একটি 'প্লে-স্টেশন' গেমের ভেতরেই কেবল সম্ভব হয়েছে।
** আইসিএ (ICA) [https://sahebkhabar.ir/news/77461463/%D9%88%D8%A7%DA%A9%D9%86%D8%B4-%D8%B1%D8%A6%DB%8C%D8%B3-%D9%85%D8%AC%D9%84%D8%B3-%D8%A8%D9%87-%D8%A7%D8%AF%D8%B9%D8%A7%DB%8C-%D8%AF%D8%B1%D9%88%D8%BA%DB%8C%D9%86-%D9%88%D8%B2%DB%8C%D8%B1-%D8%A7%D9%86%D8%B1%DA%98%DB%8C-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7-%D8%AF%D8%B1%D8%A8%D8%A7%D8%B1%D9%87-%D8%AA%D9%86%DA%AF%D9%87]
* আমরা তো কেবল আমাদের রণকৌশলগত অভিযান শুরু করেছি। আমাদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে শত্রুপক্ষের ডেরায় চরম বিপর্যয়, ধ্বংসস্তূপ আর হাহাকার বয়ে এনেছে। যদিও নেতানিয়াহু চতুরতার সাথে সেই ধ্বংসলীলার প্রকৃত চিত্র আপনাদের চোখের আড়ালে রাখার চেষ্টা করছেন।
** '''''[[w:আব্বাস_আরাগচি|আব্বাস আরাগচি]]''''' [https://sahebkhabar.ir/news/77462291/%D8%B9%D8%B1%D8%A7%D9%82%DA%86%DB%8C-%D9%85%D8%A7-%D8%AA%D8%A7%D8%B2%D9%87-%D8%B4%D8%B1%D9%88%D8%B9-%DA%A9%D8%B1%D8%AF%D9%87-%D8%A7%DB%8C%D9%85]
* আমাদের প্রতিপক্ষ হলো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ও নির্বোধতম গাধা। আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেবল নিছক কোনো যান্ত্রিক সুরক্ষা পদ্ধতি নয়, বরং এটি একটি অটল আদর্শ ও বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—অথচ যখন আমরা হাইফায় আঘাত হানলাম, তখন তাদের নাগরিকরা গাড়ির সামান্য জ্বালানির জন্য রাজপথে করুণভাবে আর্তনাদ ও ভিক্ষা করছিল।
** ফারাজা কমান্ডার '''''জেনারেল আহমেদ রাদান''''' [https://sahebkhabar.ir/news/77460868/%D8%A8%D8%A8%DB%8C%D9%86%DB%8C%D8%AF-%D8%B3%D8%B1%D8%AF%D8%A7%D8%B1-%D8%B1%D8%A7%D8%AF%D8%A7%D9%86-%D8%AF%D8%BNo%D9%85%D9%86%D8%A7%D9%86-%D9%85%D8%A7-%D8%A7%D8%B2-%D8%A7%D8%AD%D9%85%D9%82-%D8%AA%D8%B1%DB%8C%D9%86-%D9%87%D8%A7-%D9%87%D8%B3%D8%AA%D9%86%D8%AF]
* আজ রাতে তোমাদের সন্তানেরা যখন রণক্ষেত্রের মিসাইল লঞ্চারগুলোর পাশে অবস্থান নেবে, তখন তারা পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমেই নিজেদের মনোবল ও আধ্যাত্মিক শক্তি সঞ্চয় করবে।
** '''''জেনারেল মুসাভি''''' [https://sahebkhabar.ir/news/77461610/%D8%B3%D8%B1%D8%AF%D8%A7%D8%B1-%D9%85%D9%88%D8%B3%D9%88%DB%8C-%D9%81%D8%B1%D8%B2%D9%86%D8%AF%D8%A7%D9%86-%D8%B4%D9%85%D8%A7-%D8%A7%D9%85%D8%B4%D8%A8-%D9%BE%D8%A7%DB%8C-%D9%84%D8%A7%D9%86%DA%86%D8%B1%D9%87%D8%A7-%D9%82%D8%B1%D8%A2%D9%86-%D8%A8%D9%87-%D8%B3%D8%B1-%D9%85%DB%8C-%DA%AF%DB%8C%D8%B1%D9%86%D8%AF]
[[File:HIMARS Support Operation Epic Fury (9564974).jpg|thumb|অপারেশন এপিক ফিউরি]]
=== ২০২৬ সালের মার্চ ===
* আজ থেকে কোনো প্রকার নৌযান বা জাহাজ আর হরমুজ প্রণালী দিয়ে অতিক্রম করার দুঃসাহস দেখাতে পারবে না; এই জলপথ এখন আমাদের নিশ্ছিদ্র নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
** আইআরজিসিএন (IRGCN) জেনারেল '''''আলী তাংসিরি''''' [https://www.mehrnews.com/news/6771339/%D8%B3%D8%B1%D8%AF%D8%A7%D8%B1-%D8%AA%D9%86%DA%AF%D8%B3%DB%8C%D8%B1%DB%8C-%D9%87%DB%8C%DA%86-%D8%B4%D9%86%D8%A7%D9%88%D8%B1-%D9%85%D8%B1%D8%AA%D8%A8%D8%B7-%D8%A8%D8%A7-%D9%85%D8%AA%D8%AC%D8%A7%D9%88%D8%B2%D8%A7%D9%86-%D8%AD%D9%82-%D8%B9%D8%A8%D9%88%D8%B1-%D8%A7%D8%B2-%D8%AA%D9%86%DA%AF%D9%87-%D9%87%D8%B1%D9%85%D8%B2]
* মার্কিন প্রেসিডেন্ট কতটা মেরুদণ্ডহীন ও কাপুরুষ হতে পারেন, তা অস্ট্রেলীয় পুলিশের কর্মকাণ্ড থেকেই স্পষ্ট। তারা আমাদের মেয়েদের জোরপূর্বক হোটেল থেকে বের করে নিয়ে গেছে এবং তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করতে বাধ্য করেছে।
** মেহদি তাজ, ন্যাশনাল ফুটবল ফেডারেশনের চেয়ারম্যান [https://sahebkhabar.ir/news/77458637/%D9%85%D9%87%D8%AF%DB%8C-%D8%AA%D8%A7%D8%AC-%D8%AF%D8%B1%DB%8C%D9%88%D8%B2%DA%AF%DB%8C-%D8%B1%D8%A6%DB%8C%D8%B3-%D8%AC%D9%85%D9%87%D9%88%D8%B1-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7-%D8%AA%D8%A7-%DA%86%D9%87-%D8%AD%D8%AF-%D8%AF%D9%85-%DA%AF%DB%8C%D8%AA-%D8%AC%D9%84%D9%88%DB%8C-%D8%AE%D8%B1%D9%88%D8%AC]
* আমরা আমেরিকার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ কেবল আজ নয়। বরং আগামী অন্তত আরও ১০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে এবং রণকৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
** আইআরজিসি জেনারেল '''''জাব্বারি''''' [https://sahebkhabar.ir/news/77449662/%D8%A8%D8%A8%DB%8C%D9%86%DB%8C%D8%AF-%D9%85%D8%B3%D9%84%D8%AD-%D8%AF%D8%B1-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7-%D8%A2%D9%85%D8%A7%D8%AF%D9%87-%D9%82%DB%8C%D8%A7%D9%85-%D8%B9%D9%84%DB%8C-%D9%86%D8%B8%D8%A7%D9%85-%D8%A7%DB%8C%D9%86-%DA%A9%D8%B4%D9%88%D8%B1-%D9%87%D8%B3%D8%AA%D9%86%D8%AF]
* বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে ইরান হলো মানবতার জাগ্রত বিবেক, প্রকৃত মর্যাদা এবং গৌরবের এক অনন্য প্রতীক। এটি এমন এক নির্বাচিত জাতি, যারা অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে নিরন্তর লড়াই করে যাচ্ছে। এটিই হলো ওরমজদ, ইশরাক এবং পবিত্র মাহদি অনুসারী মানুষের ভূখণ্ড।
** '''''আলেকজান্ডার দুগিন''''' [https://sahebkhabar.ir/news/77392273/%D8%AA%D9%88%DB%8C%DB%8C%D8%AA-%D8%A7%D9%84%DA%A9%D8%B3%D8%A7%D9%86%D8%AF%D8%B1-%D8%AF%D9%88%DA%AF%DB%8C%D9%86-%D9%BE%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%85%D9%88%D9%86-%D8%A7%DB%8C%D8%B3%D8%AA%D8%A7%D8%AF%DA%AF%DB%8C-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86]
* সাম্প্রতিক এই মহাযুদ্ধ আসলে কোনো সাধারণ সংঘাত নয়। এটি হলো ন্যায় এবং অন্যায়ের মধ্যে, সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে এক চিরন্তন লড়াই।
** আইসিএ [https://sahebkhabar.ir/news/77432191/%D8%AC%D9%86%DA%AF-%D8%A7%D8%AE%DB%8C%D8%B1-%D8%AC%D9%86%DA%AF-%D8%AD%D9%82-%D9%88-%D8%A8%D8%A7%D8%B7%D9%84-%D8%A7%D8%B3%D8%AA]
* বজ্রের মতো প্রচণ্ড শক্তিতে আমরা হাইফা নগরী এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকার প্রতিটি সামরিক ঘাঁটির ওপর আঘাত হানব।
** আইআরজিসি জেনারেল '''''সাইদ মুসাভি''''' [https://sahebkhabar.ir/news/77449498/%D8%B3%D8%B1%D9%84%D8%B4%DA%A9%D8%B1-%D8%B9%D8%A8%D8%AF%D8%A7%D9%84%D9%84%D9%87%DB%8C-%D9%87%D9%85%DA%86%D9%88%D9%86-%D8%B5%D8%A7%D8%B9%D9%82%D9%87-%D8%A8%D8%B1-%D8%AD%DB%8C%D9%81%D8%A7-%D9%88-%D9%BE%D8%A7%DB%8C%DA%AF%D8%A7%D9%87-%D9%87%D8%A7%DB%8C-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7-%D8%AF%D8%B1-%D9%85%D9%86%D8%B7%D9%82%D9%87]
* এই ভয়াবহ আক্রমণ শুরু হওয়ার পূর্বে ইরানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা ও সমঝোতা করতে ইচ্ছুক ছিলেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা চলছিল এবং একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট ভিত্তিও তৈরি হয়েছিল; কারণ তৎকালীন ইরানি সরকার অদূর ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করার মতো অবস্থায় ছিল না। অন্যদিকে, সাধারণ আমেরিকান নাগরিকরা তাদের পূর্ববর্তী বড় যুদ্ধগুলোতে। বিশেষ করে {{w|regime change|শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের}} লক্ষ্যে চালানো আফগানিস্তান এবং ইরাক যুদ্ধে চরম বিপর্যয়ের কারণে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট ছিল। ইরান বিরোধী এই যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান যখন শুরু হয়, তখন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকান এই সামরিক দুঃসাহসিকতাকে সমর্থন করেছিল...
** ডানা অ্যালিন, "মার্কিন রাজনীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ" (২ মার্চ ২০২৬); [https://www.iiss.org/online-analysis/online-analysis/2026/02/the-us-israel-campaign-in-iran/ "ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল অভিযান"] @[[:w:International Institute for Strategic Studies|আইআইএসএস (IISS)]]।
* এটি এমন এক প্রলয়ংকরী যুদ্ধ যা চিরতরে সকল বিতর্কের অবসান ঘটাবে।
::[https://www.mehrnews.com/news/6764020/%D9%86%DB%8C%DA%A9%D8%B2%D8%A7%D8%AF-%D8%A8%D9%87-%D8%AF%D9%86%D8%A8%D8%A7%D9%84-%D8%AC%D9%86%DA%AF-%D9%85%D9%86%D8%B7%D9%82%D9%87-%D8%A7%DB%8C-%D9%86%DB%8C%D8%B3%D8%AA%DB%8C%D9%85-%D8%A7%DB%8C%D9%86-%D8%AC%D9%86%DA%AF-%D8%B1%D8%A7-%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%DB%8C%D9%85-%D8%A1%D8%B1%D8%AF আইসিএ (ICA)] (২ মার্চ ২০২৬)
* আমাদের সাহসী ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী সেই প্রতিটি ইরানি মা, বাবা এবং সন্তানের ওপর চালানো বর্বরোচিত হামলার প্রতিশোধ নেবে, যারা শত্রুশক্তির ঘৃণ্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
** পররাষ্ট্রমন্ত্রী '''''আব্বাস ইরাকচি''''' [https://sahebkhabar.ir/news/77405403/%D8%B9%D8%B1%D8%A7%D9%82%DA%86%DB%8C-%D9%86%DB%8C%D8%B1%D9%88%D9%87%D8%A7%DB%8C-%D9%85%D8%B3%D9%84%D8%AD-%D9%85%D8%A7-%D8%A7%D9%86%D8%AA%D9%82%D8%A7%D9%85-%D8%AA%DA%A9-%D8%AA%DA%A9-%D8%B4%D9%87%D8%AF%D8%A7-%D8%B1%D8%A7-%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%D9%86%D8%AF-%DA%AF%D8%B1%D9%81%D8%AA]
* এমন কোনো আশ্রয়স্থল অবশিষ্ট নেই যেখানে তোমরা নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারো।
** [https://www.shahrekhabar.com/news/177298212045678 আইআরজিসি (IRGC) বার্তা]; শাহরে খবর।
* আমরা প্রতিটি আমেরিকান সৈন্যের কফিন পূর্ণ করব। যতক্ষণ না তারা নিঃশর্তভাবে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করছে, ততক্ষণ এই যুদ্ধের কোনো সমাপ্তি ঘটবে না।
** আইআরজিসি (IRGC) অপারেশন মিশন স্টেটমেন্ট [https://sahebkhabar.ir/news/77389339]
* ৫০০-এরও বেশি আমেরিকান সৈন্য ইতোমধ্যে নিহত হয়েছে। ট্রাম্প এখন হিসেব করে দেখুন যে তার কাছে 'আমেরিকা ফার্স্ট' বড় নাকি 'ইসরায়েল ফার্স্ট'। ইনশাআল্লাহ, আয়াতুল্লাহ খামেনীর ওপর আঘাত হানার জন্য তাদের অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হবে।
** '''''আলি লারিজানি'''''<ref>[https://sahebkhabar.ir/news/77384703/%D8%AA%D8%B1%D8%A7%D9%85%D9%BE-%D8%AD%D8%B3%D8%A7%D8%A8-%DA%A9%D9%86%D8%AF-%D8%A8%D8%A7%D8%B2-%D9%87%D9%85-%D8%A7%D9%8 powder%D9%84-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7%D8%B3%D8%AA-%DB%8C%D8%A7-%D8%A7%D9%8 powder%D9%84-%D8%A7%D8%B3%D8%B1%D8%A7%D8%A6%DB%8C%D9%84 ]</ref>
* যুদ্ধের ব্যয়ভার যা-ই হোক না কেন, তা বিবেচ্য নয়। ইরান বর্তমানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো রাষ্ট্র নয়। গত ৩০০ বছরে ইরান কখনো আগে থেকে কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি, তবে আমরা একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
** '''''আলী লারিজানি''''', ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সচিব। [https://sahebkhabar.ir/news/77359057 উৎস (ফার্সি ভাষায়)]
* এখন যেহেতু আমরা আমেরিকাকে যুদ্ধের ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হয়েছি, তাই এই মুহূর্তে কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতি কিংবা শান্তির পথে পা বাড়ানো যাবে না; আমাদের অবশ্যই তাদের চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করতে হবে।
::আয়াতুল্লাহ পানাহিয়ান [https://sahebkhabar.ir/news/77388174/%D8%A8%D8%A8%DB%8C%D9%86%DB%8C%D8%AF-%D8%AD%D8%AC%D8%AA-%D8%A7%D9%84%D8%A7%D8%B3%D9%84%D8%A7%D9%85-%D9%BE%D9%86%D8%A7%D9%87%DB%8C%D8%A7%D9%86-%D8%A7%DA%AF%D8%B1-%D8%AA%D9%82%D8%A7%D8%B6%D8%A7%DB%8C-%D8%A2%D8%AA%D8%B4-%D8%A8%D8%B3-%DA%A9%D8%B1%D8%AF%D9%86%D8%AF-%D9%86%D9%BE%D8%B0%DB%8C%D8%B1%DB%8C%D8%AF]
* আমরা ইরানের সাধারণ মানুষ আজ বিচ্ছিন্ন, কেবল প্রেসিডেন্টের পুত্র আগা ইউসুফ পজেশকিয়ান এবং তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাই বর্তমানে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন।
::[https://sahebkhabar.ir/news/77388864/%D8%A7%D8%B2-%D9%85%D8%A7-%D9%85%D8%B1%D8%AF%D9%85-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D9%81%D9%82%D8%B7-%D8%A2%D9%82%D8%A7-%DB%8C%D9%88%D8%B3%D9%81-%D9%88-%D8%B1%D9%81%DB%8C%D9%82%D8%A7%D8%B4-%D8%A7%DB%8C%D9%86%D8%AA%D8%B1%D9%86%D8%AA-%D8%AF%D8%A7%D8%B1%D9%86%D8%AF পাযামে ইমাম]
* ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চালানো এই হামলাগুলো ছিল সম্পূর্ণ উস্কানিহীন। সেখানে কোনো তাৎক্ষণিক হুমকির অস্তিত্ব ছিল না। অনেকেই এই যুদ্ধকে একটি অবৈধ যুদ্ধ হিসেবেই ব্যাখ্যা করবেন।
** ইভালিলা পেসারন, [https://www.youtube.com/watch?v=5nJnVYpbKuM&t=600s "ইরানের সাথে যুদ্ধ: একজন বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ"] (২ মার্চ ২০২৬); ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় চ্যানেলের ইউটিউব ভিডিও।
* আমি এমন কোনো লক্ষণ দেখি না যা প্রমাণ করে যে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল বা ভেঙে পড়েছে কিংবা আপনি আকাশপথ থেকে হামলার মাধ্যমে সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারবেন। বর্তমান প্রশাসন এই যুদ্ধকে অনেকটা জ্যাকসন পোলকের চিত্রকর্মের ঢঙে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণের চেষ্টা করছে। আপনি ক্যানভাসের ওপর এক বালতি অজুহাত ছুঁড়ে মারলেন এবং আশা করলেন যে ফলাফলটি দেখতে চমৎকার হবে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি—এই দাবিটি সত্য থেকে প্রায় ৪,০০০ মাইল দূরে অবস্থান করছে। আমরা যদি এখন সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হুমকি প্রতিরোধের দোহাই দিয়ে এই 'প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ' শুরু করি, তবে [[উত্তর কোরিয়া]], [[চীন]] কিংবা [[রাশিয়া]] কি এই তালিকার পরবর্তী সারিতে আছে? আমি তা মনে করি না। এই যুদ্ধ শুরুর স্বপক্ষে বর্তমান প্রশাসন যেসব কারণ সামনে এনেছে, তার আমি কোনো আগামাথা খুঁজে পাচ্ছি না।
** '''''অ্যালান আয়ার''''', "বিশেষজ্ঞ প্যানেল ইরানের যুদ্ধে মার্কিন উদ্দেশ্যগুলো বিশ্লেষণ করছে" (২ মার্চ ২০২৬) @''পিবিএস নিউজ আওয়ার''।
* আবারও আমেরিকা ইসরায়েলের স্বার্থে যুদ্ধে যাচ্ছে। আবারও জায়নবাদী রাষ্ট্রের জন্য অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাবে, যার মধ্যে মার্কিন সেনাসদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত। আবারও আমরা অন্ধের মতো একটি সামরিক বিপর্যয়ের দিকে পা বাড়াচ্ছি। আবারও আমরা একটি বিদেশি শক্তির আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছি যাদের স্বার্থ আমাদের স্বার্থ নয়, কিন্তু যাদের লবিস্টরা ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আমাদের পুরো রাজনৈতিক শ্রেণিকে কিনে নিয়েছে। আবারও আমরা একটি দেশকে আক্রমণ করার মাধ্যমে জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করছি, যে দেশ আমাদের জন্য কোনো আসন্ন বা তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না।
** '''''ক্রিস হেজেস''''', [https://scheerpost.com/2026/03/01/going-to-war-again-for-israel/ ইসরায়েলের জন্য আবারও যুদ্ধে যাওয়া]। শেয়ারপোস্ট (ScheerPost)। (১ মার্চ ২০২৬)
* যে নজিরটি এখন স্থাপিত হচ্ছে তা হলো, কোনো দেশ যদি—
* এটি বহুলাংশে একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ যা নির্ধারণ করবে যে আদতে [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] কিসের জন্য ছিল। ১৬৪৮ সালের ওয়েস্টফালিয়া শান্তি চুক্তি থেকে শুরু করে জাতিসংঘের সনদ পর্যন্ত জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও বিদেশি হস্তক্ষেপ ও নিপীড়নমুক্ত যে নিয়মগুলো একটি সভ্য আইন ব্যবস্থাকে সমর্থন করে, যথেষ্ট সংখ্যক দেশ সেগুলোকে রক্ষা করতে অনিচ্ছুক হওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন কি এখন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে? এবং অনিবার্যভাবে যে যুদ্ধগুলো সংঘটিত হতে যাচ্ছে, সেখানে কি সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ও যুদ্ধে লিপ্ত নয় এমন মানুষদের রেহাই দেওয়া হবে...
** '''''মাইকেল হাডসন''''', [https://www.counterpunch.org/2026/03/02/the-us-israeli-attack-was-to-prevent-peace-not-advance-it/ "মার্কিন/ইসরায়েলি আক্রমণ শান্তি বজায় রাখার জন্য নয় বরং তা বাধাগ্রস্ত করার জন্য ছিল"] (২ মার্চ ২০২৬) @''কাউন্টারপাঞ্চ''।
* ইরানের আলোচনাকারীরা সম্মত হয়েছিলেন যে তারা কোনো পারমাণবিক বোমা রাখবে না। তাদের শোধিত ইউরেনিয়াম হ্রাস করবে, সেই ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেবে এবং এক নজিরবিহীন তদারকির আওতায় থাকবে... কিন্তু এর কোনোটিই আসলে পারমাণবিক বোমা নিয়ে ছিল না। আমেরিকা যে কারণে ইরান আক্রমণ করেছে, তা ছিল নিকট প্রাচ্যের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং জেনারেল ডেভিড পেট্রেয়াস বহু বছর আগে এই পুরো পরিকল্পনাটির রূপরেখা তৈরি করেছিলেন, "...আপনার তেলের সমস্ত মুনাফা এবং খাজনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে, যা ডলারে মূল্যমান নির্ধারিত হবে এবং মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজ, বন্ড ও স্টকগুলোতে বিনিয়োগ করা হবে। যাতে আপনার তেল রপ্তানি থেকে আসা বিশাল ডলারের প্রবাহ মার্কিন অর্থনীতির অংশ হয়ে ওঠে!"<br />আমি ১৯৭৪ সালে হোয়াইট হাউসের সেই বৈঠকগুলোতে উপস্থিত ছিলাম যখন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল...
** '''''মাইকেল হাডসন''''', [https://www.democracynow.org/2026/3/3/michael_hudson_economist_trump_iran_attack তেলের জন্য একটি যুদ্ধ:] বিশ্বের তেল বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে মার্কিন অনুসন্ধানের ওপর অর্থনীতিবিদ মাইকেল হাডসনের বক্তব্য (৩ মার্চ ২০২৬) @ডেমোক্রেসি নাও!
* এটি বহুলাংশে একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ যা নির্ধারণ করবে যে আদতে [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] কিসের জন্য ছিল। ১৬৪৮ সালের ওয়েস্টফালিয়া শান্তি চুক্তি থেকে শুরু করে জাতিসংঘের সনদ পর্যন্ত জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও বিদেশি হস্তক্ষেপ ও নিপীড়নমুক্ত যে নিয়মগুলো একটি সভ্য আইন ব্যবস্থাকে সমর্থন করে, যথেষ্ট সংখ্যক দেশ সেগুলোকে রক্ষা করতে অনিচ্ছুক হওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন কি এখন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে? এবং অনিবার্যভাবে যে যুদ্ধগুলো সংঘটিত হতে যাচ্ছে, সেখানে কি সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ও যুদ্ধে লিপ্ত নয় এমন মানুষদের রেহাই দেওয়া হবে...
** '''''মাইকেল হাডসন''''', [https://www.counterpunch.org/2026/03/02/the-us-israeli-attack-was-to-prevent-peace-not-advance-it/ "মার্কিন/ইসরায়েলি আক্রমণ শান্তি বজায় রাখার জন্য নয় বরং তা বাধাগ্রস্ত করার জন্য ছিল"] (২ মার্চ ২০২৬) @''কাউন্টারপাঞ্চ''।
* আমেরিকান দর্শন হলো—প্রথমত, আপনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলা করবেন এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের সেই সমস্ত নিয়ম ভঙ্গ করবেন যা এই ধরনের কাজের বিরুদ্ধে। আপনি সাধারণ মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে তাদের ওপর বোমা ফেলবেন। এবং আপনি যদি কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের পাশাপাশি ট্রাম্পের করা কর্মকাণ্ডের দিকে নজর দেন, তবে দেখবেন আপনি স্কুলে বোমা মারছেন, আপনি হাসপাতালে বোমা মারছেন। এটিই বিদেশের মাটিতে আমেরিকার নীতি। ইসরায়েলি নীতির ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান যা গাজায় এবং এখন পশ্চিম তীরেও বিদ্যমান। এবং এটি সেই একই নীতি যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অনুসরণ করেছে।
** '''''মাইকেল হাডসন''''', [https://geopoliticaleconomy.com/2026/03/29/war-iran-change-economy-michael-hudson/ "ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে: অর্থনীতিবিদ মাইকেল হাডসন ব্যাখ্যা করছেন কীভাবে"] (২৯ মার্চ ২০২৬) @জিওপলিটিক্যাল ইকোনমি রিপোর্ট।
* যখনই কোনো রাষ্ট্র যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন আপনাকে প্রশ্ন করতে হবে যে সেই হুমকির পেছনে গোয়েন্দা তথ্য কোথায়? ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে কূটনীতিকে একপাশে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি মধ্যস্থতা করছিলেন—তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। যুদ্ধের পক্ষে আরও দুটি যুক্তি দেওয়া হয়। একটি হলো আমেরিকা ইরানের কাছ থেকে আসন্ন হুমকির সম্মুখীন এবং অন্যটি হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি। এই শেষ দাবিটি বাতিল করুন, এটি একেবারেই সত্য নয়। কেন একটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়া ইসলামী প্রজাতন্ত্র "আসন্ন হুমকি" হয়ে দাঁড়াবে? মার্কো রুবিও একটি হাস্যকর যুক্তি সামনে এনেছেন... কেউ কি সত্যিই বিশ্বাস করে যে ইসরায়েল মার্কিন সমর্থন ছাড়া একা এই পথে হাঁটবে এবং এই অভিযানটি যৌথভাবে পরিকল্পনা করা হয়নি? এগুলো সবই মরিয়া হয়ে সাজানো গল্পমাত্র, কোনো গোয়েন্দা তথ্য নয়।
** '''''ওয়েসলি ওয়ার্ক''''', [https://thewalrus.ca/iran-foreign-policy-experts/ ইরানের যুদ্ধ সম্পর্কে আপনাকে যা বলা হচ্ছে না তার ওপর আটজন বিশেষজ্ঞের মতামত:] সেই প্রশ্নগুলো যা রণক্ষেত্রের সংবাদগুলোতে উঠে আসছে না (৩ মার্চ ২০২৬) @''দ্য ওয়ালরাস''।
* পরিহাসের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক আইনের এই গুরুতর লঙ্ঘনের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে সেই সব পক্ষ, যাদেরকে সাধারণ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করত: মস্কো ইউক্রেনে তাদের বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হবে, আর অন্যদিকে চীন তাইওয়ান দখলের পদক্ষেপে নিজেকে ক্ষমতাবান মনে করবে।
** '''''স্ট্যানি টি. উইলিয়ামস''''', "ফ্লাইং ব্লাইন্ড" (২ মার্চ ২০২৬) [https://www.brookings.edu/articles/after-the-strike-the-danger-of-war-in-iran/ "হামলার পর: ইরানে যুদ্ধের বিপদ"]; ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন।
* দেশগুলোর জন্য এটি ভাবা প্রলুব্ধকর হবে যে, এমন এক [[পৃথিবী|পৃথিবীতে]] যেখানে কোনো নিয়ম নেই, যুদ্ধের কোনো আইন নেই, যেখানে যুদ্ধোত্তর সেই উদারপন্থী ব্যবস্থা (তা যতই ত্রুটিপূর্ণ হোক না কেন) এখন সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে—তা আমাদের সবার জন্য পৃথিবীকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে। একসময় এক ধরনের শৃঙ্খলা ছিল... এই ধারণা ছিল যে অন্য দেশে হস্তক্ষেপ করার আগে একটি আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন। যুদ্ধের কিছু নিয়ম ছিল। আমাদের সবারই এমন একটি বিশ্ব তৈরিতে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে খুব চিন্তাশীল হওয়া দরকার যেখানে যা খুশি তাই করা যায় এবং যেখানে 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতি চলে। আমেরিকা এখনও প্রধান শক্তি, মহাশক্তি এবং বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তারকারী। আমি আশা করি এটি আমেরিকানদের জন্য সেই সত্যটি নিয়ে ভাবার একটি মুহূর্ত যে—নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, যা মার্কিন শক্তির ওপর এক ধরনের সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করত, তা আমেরিকাকে কিছু অর্থবহ সুরক্ষা প্রদান করেছিল।
** '''''ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড''''', [[ইরান]], [[ইউক্রেন]] এবং বিশ্বশক্তির পরিবর্তন নিয়ে ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড | আমানপুর অ্যান্ড কোম্পানি (৩ মার্চ ২০২৬) [https://www.youtube.com/watch?v=Vlj_beVDuxg&t=196s ৩:১৬]।
* যদি এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইরানের মাধ্যমে কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড ঘটতে চলেছে, তবে কংগ্রেস কীভাবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (DHS) এর সংস্কার এবং তাদের মিথ্যাচার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের তহবিল আটকে রাখতে পারে? আপনারা অচিরেই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে দেখবেন যেখানে বলা হবে, "তহবিল ছেড়ে দাও এবং এই বিভাগকে তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে দাও—এমনকি যদি তারা অভিবাসন কর্মকর্তার কাছে ক্যামেরা চালানো কোনো ব্যক্তিকে মিথ্যাভাবে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে আখ্যা দেয়, তবুও।" আপনারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ দেখতে পাবেন। এই প্রশাসন পেন্টাগনের কর্মচারীদের কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করাকে অবৈধ ও অপরাধমূলক বলে মনে করে। কেবল মনোনীত নেতারাই কথা বলার সুযোগ পান এবং যদি তারা এমন কিছু বলেন যা সত্য বলে মনে হচ্ছে না। তবুও আপনি তাদের দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন করতে পারবেন না। আমরা অতীতে জরুরি ক্ষমতার ভুল ব্যবহারের অনেক উদাহরণ দেখেছি। শুল্ক সংক্রান্ত সমস্ত অর্থহীন বিষয়গুলো ছিল অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা সম্পর্কে প্রেসিডেন্টের মিথ্যা দাবির ফসল। এখন যেহেতু একটি প্রকৃত যুদ্ধ চলছে এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের একটি বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে, তাই এটি অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে প্রতীয়মান হবে। যে কোন আদালত এখন বলবে যে, "আমরা মনে করি না আপনি এ ব্যাপারেও সত্য বলছেন"? সুতরাং, জরুরি ক্ষমতার নতুন নতুন দাবি উত্থাপন করা হবে। যারা প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ, তারা তাকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করার জন্য প্ররোচিত করছে। গত এক সপ্তাহ আগের তুলনায় আজ সেই সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক চরম বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ইরানের এই যুদ্ধ এখন একটি জরুরি অভ্যন্তরীণ নীতি সংক্রান্ত প্রশ্ন... এটি এমন একজন প্রেসিডেন্ট এবং প্রশাসনের হাতে বিশাল ক্ষমতার অর্পণ, যারা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে তাদের ওপর অর্পিত যেকোনো ক্ষমতার তারা অপব্যবহার করবে।
** '''''ডেভিড ফ্রাম''''', [https://www.youtube.com/watch?v=8w7KOoD8sCs&t=190s "ট্রাম্পের যুদ্ধ থেকে উত্তরণের পথ নেই: টম নিকোলসের সাথে"] দ্য ডেভিড ফ্রাম শো। ''দ্য আটলান্টিক'' চ্যানেলের একটি ইউটিউব ভিডিও। (৪ মার্চ ২০২৬)
* "ইরানের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া থেকে ট্রাম্পকে বিরত রাখতে সিনেটে আনা প্রস্তাবটি ভোটে নাকচ হয়ে গেছে।" (৪ মার্চ ২০২৬)
** <small>''দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট''। [https://www.independent.co.uk/news/world/americas/us-politics/senate-iran-war-vote-trump-powers-resolution-b2932221.html উৎস।]</small>
* কেউ লুকিয়ে থাকতে পারবে না কিংবা প্রেসিডেন্টকে সংবিধান এড়িয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ দিতে পারবে না। প্রত্যেককে স্পষ্ট করতে হবে যে তারা এই সময়ে এই যুদ্ধের পক্ষে নাকি বিপক্ষে রয়েছে।
** সিনেটর '''''টিম কেইন'''''
* যুদ্ধ কুৎসিত, এটি সব সময়ই কুৎসিত ছিল! তবে আমরা এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে হটিয়ে দিচ্ছি যারা দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
** সিনেটর '''''মার্কওয়েন মুলিন'''''
* ইরাক এবং আফগানিস্তানে লড়াই করার সময় আমি শিখেছি যে, যখন ওয়াশিংটনের উচ্চবিত্তরা যুদ্ধের দামামা বাজায়, নিজেদের বীরত্ব জাহির করে, যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে বড় বড় কথা বলে এবং কঠোর হওয়ার ভান করে। তখন তারা নিজেদের কথা বলে না, তারা তাদের সন্তানদের যুদ্ধের ময়দানে পাঠানোর কথা বলে না। তারা আমাদের মতো শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানদের কথা বলে।
** রিপ্রেজেন্টেটিভ '''''জেসন ক্রো'''''
* আমরা কেন ইরানে যাচ্ছি? ...এটি প্রেসিডেন্টের নিছক অহংকার বা দাম্ভিকতা। তিনি মনে করছেন তিনি এক অভাবনীয় সাফল্যের জোয়ারে ভাসছেন। তিনি ভাবছেন এটি করা হয়তো খুবই সহজ, ভাবছেন [[ভেনেজুয়েলা|ভেনিজুয়েলার]] মতো একনায়কতন্ত্রকে সহজেই ধরাশায়ী করা যায় এবং এরপর বিজয় মিছিল করা যায়। তিনি মনে করছেন এটি তার অনেক সমস্যার সমাধান করে দেবে। এটি মানুষকে "'''এপস্টেইন ফাইল"''' নিয়ে চর্চা করা থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে মানুষকে এপস্টাইন ফাইল নিয়ে কথা বলা বন্ধ করানো। তিনি এতটাই সংকীর্ণমনা এবং স্থূল। এখন তিনি বলবেন যে তিনি একজন 'যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রপতি'। তার মানে হলো আপনি আমাকে সমালোচনা করতে পারবেন না! আমি সংবাদমাধ্যমকে পিষে ফেলতে পারি! আমি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দিতে পারি! ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট যেমনটা বলেছিল... "এটি নির্বাচনের জন্য কোনো উপযুক্ত সময় নয়।" যুদ্ধের সাথে সাথে নানা অনিষ্টের আগমন ঘটে কারণ রাষ্ট্রপতির যুদ্ধকালীন ক্ষমতাগুলো তখন প্রায় অনস্বীকার্য ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।
** '''''টম নিকোলস''''', [https://www.youtube.com/watch?v=8w7KOoD8sCs&t=797s "ইরানের সাথে ট্রাম্পের যুদ্ধ এবং দেশের অভ্যন্তরে এক নতুন বিপদ"] | দ্য ডেভিড ফ্রাম শো (৪ মার্চ ২০২৬)। ''দ্য আটলান্টিক'' চ্যানেলের একটি ইউটিউব ভিডিও।
* প্রেসিডেন্ট সেই দীর্ঘ তালিকায় থাকা অন্য সাধারণ প্রেসিডেন্টদের মতো হতে চাননি, যারা কেবল হাত গুটিয়ে বসে থেকেছেন এবং পরবর্তী প্রশাসনের ওপর এই সরাসরি হুমকির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের একটি অন্তর্দৃষ্টি ছিল, যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি যে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং এই অঞ্চলে আমাদের সম্পদের ওপর আঘাত হানতে যাচ্ছে। আর সেই সমস্ত কারণেই তিনি 'অপারেশন এপিক ফিউরি' ( শুরু করার সংকল্প করেছিলেন।
** '''''ক্যারোলিন লেভিট''''', উদ্ধৃত: [https://www.independent.co.uk/news/world/americas/us-politics/trump-iran-war-white-house-briefing-b2931933.html "ক্যারোলিন লেভিট জোর দিয়ে বলছেন যে ইরান হামলার আগে ট্রাম্পের কাছে ‘তথ্যের ভিত্তিতে একটি অনুভূতি’ ছিল কিন্তু তবুও তিনি আমেরিকার জন্য আসন্ন হুমকির বিস্তারিত বিবরণ দেননি"], ''দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট'' (০৫ মার্চ ২০২৬)।
* মার্কিন জনগণের কাছে কোনো জোরালো যুক্তি উপস্থাপন না করে এবং দৃশ্যত অস্তিত্বহীন কোনো 'আসন্ন হুমকির' কথা উল্লেখ করে এই ধরনের অসাধারণ ঝুঁকি নেওয়াটা সমস্যাজনক। আর এর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির সম্ভাবনা অত্যন্ত গুরুতর। আমরা অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ২০,০০০ ডলারের ড্রোন ধ্বংস করতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করছি যা সময়ের বিচারে এটি কোনো ভালো সমীকরণ নয়। আমি এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা আমাদের অস্ত্রভাণ্ডার এতটাই নিঃশেষ করে ফেলছি যে তা পুনরায় গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় লাগবে! যা চীন কিংবা রাশিয়ার ক্ষেত্রে আমাদের একটি সুবিধাবঞ্চিত অবস্থানে ফেলে দেবে। যদিও সবাই পরিবর্তন দেখতে চায়, তবে এটি কেবল [[w:ইসলামি_বিপ্লবী_রক্ষীবাহিনী|আইআরজিসিকে]] আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বাইরে থেকে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা অত্যন্ত কঠিন, বোমা মেরে এটি সম্ভব নয়। আশঙ্কার লাল সংকেতটি হলো এটি সিরিয়া কিংবা লিবিয়ার পুনরাবৃত্তি হতে পারে! দেশটি ভেঙে পড়া, ভেতর থেকে ধ্বংস হওয়া বা এমনকি শরণার্থী ও অভিবাসনের চাপে বিস্ফোরিত হওয়া, চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া—এটি অবিশ্বাস্য রকমের বিপজ্জনক। কূটনীতির জন্য কখনোই খুব বেশি দেরি হয়ে যায় না। যখন রাশিয়া তাদের যুদ্ধকালীন অর্থনীতির জ্বালানি হিসেবে তেলের ওপর নির্ভরতার কারণে একটি দুর্বল অবস্থানে পৌঁছেছে, তখন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে তারা একটি লাইফলাইন বা বাঁচার পথ পেয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয়রা রুশ গ্যাস থেকে সরে আসার পর এখন মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। যদি [[w:হরমুজ_প্রণালী|হরমুজ প্রণালী]] অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে তা বিশাল চাপের সৃষ্টি করবে। সুতরাং প্রতিটি পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য কিছু ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল; কিন্তু এটি করা হয়েছে কি না তা পরিষ্কার নয়। কেন এখন এই আক্রমণ, তা নিয়ে একেক সময় একেক যুক্তি বা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। একারণেই মার্কিন জনগণ এবং আমাদের অংশীদার ও মিত্রদের সামনে বিষয়টি আগে থেকে পরিষ্কার করা এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদি একটি জোরালো যুক্তি থাকত, তবে তাদের সাথে আমাদের ঘর্ষণ বা মতবিরোধ অনেক কম হতো এবং আমরা অভিযানের মাঝপথে নয়, বরং শুরু থেকেই তাদের পাশে পেতাম।
** '''''অ্যান্টনি ব্লিনকেন''''', [https://www.youtube.com/watch?v=aHgG-lkOi6w&t=74s "ইরান যুদ্ধ অবসানের দুটি চাবিকাঠি নিয়ে প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য"] (৪ মার্চ ২০২৬)। ব্লুমবার্গ পডকাস্ট চ্যানেলের একটি ইউটিউব ভিডিও।
* বিশেষজ্ঞ পর্ষদের বা Assembly of Experts অধিকাংশ সদস্য পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং তারা 'সাইয়্যেদ'-কেই মনোনীত করেছেন।
** '''''দিরবাজ''''' [https://www.etemadonline.com/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-9/764537-%D9%85%D9%82%D8%A7%D9%85-%D9%85%D8%AC%D9%84%D8%B3-%D8%AE%D8%A8%D8%B1%DA%AF%D8%A7%D9%86-%D8%B1%D9%87%D8%A8%D8%B1%DB%8C] (৮ মার্চ ২০২৬)
* মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এই উস্কানিহীন হামলাগুলো শক্তি প্রয়োগের মৌলিক নিষেধাজ্ঞা, সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতাকে লঙ্ঘন করে। এগুলো জীবনের অধিকারকেও ক্ষুণ্ণ করে। আন্তর্জাতিক আইন কখন প্রযোজ্য হবে তা আমরা নিজেদের পছন্দমতো বেছে নিতে পারি না। অবৈধ সামরিক হস্তক্ষেপ কোনো সমাধান নয়... এই হামলাগুলো কেবল সামরিক বিমূর্ততায় আঘাত করে না—এগুলো সরাসরি মানুষের ওপর আঘাত হানে... সাধারণ বেসামরিক নাগরিকরাই এই যুদ্ধের মূল ধকল সইছে। যে দেশ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে হাজার হাজার মানুষকে হারিয়েছে, সেখানে এই হামলাগুলো গভীর মানবিক ট্র্যাজেডিকে আরও ঘনীভূত করছে। বেসামরিক নাগরিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন... সামনের যেকোনো পথ অবশ্যই আইনের শাসন, ইরানি জনগণের সদিচ্ছা এবং সকল পক্ষের দ্বারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পূর্ণ জবাবদিহিতার ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।
** '''''মাই সাতো''''', '''''সেসিলিয়া এম. বেইলিয়েট''''', '''''অ্যাস্ট্রিড পুয়েন্তেস রিয়ানো''''', '''''আলেক্সান্দ্রা জানথাকি''''', '''''ফরিদা শহীদ''''', সূর্য দেবা, '''''মার্গারেট স্যাটারথওয়েট''''', '''''জিনা রোমেরো''''', নিকোলাস লেভরাট, '''''রিচার্ড বেনেট''''', তোমোয়া ওবোকাতা, '''''মেরি ললর''''', '''''বেন সল''''', '''''অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস''''', ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ, মরিস টিডবল-বিঞ্জ, '''''সিওভান মুলালি''''', গ্যাব্রিয়েলা সিট্রোনি, গ্রাজিনা বারানোস্কা, আউয়া বাল্ডে, আনা লোরেনা ডেলগাডিলো পেরেজ, '''''বীণা ডি’কস্তা''''', '''''ক্লডিয়া ফ্লোরেস''''', ইভানা ক্রসটিচ, '''''ডোরোথি এস্ট্রাদা-ট্যাঙ্ক''''', হাইনা লু, রিম আলসালেম, '''''পাওলা গাভিরিয়া বেটানকুর''''', এলিজাবেথ সালমন, মারিয়ানা কাটজারোভা (মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ পদ্ধতি, স্বেচ্ছাসেবী বিশেষ প্রতিবেদক/স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ/ওয়ার্কিং গ্রুপ) [https://www.ohchr.org/en/press-releases/2026/03/iran-un-experts-call-de-escalation-and-accountability "ইরান: জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা উত্তেজনা হ্রাস এবং জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছেন"] (৪ মার্চ ২০২৬) ওএইচসিএইচআর (OHCHR)।
* ক্রাউন প্রিন্স এবং পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য নেতারা আমেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে আসছিলেন। কারণ আমরা সবাই বিশ্বাস করি যে এই পদক্ষেপ কেবল ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরান এই অঞ্চলে থাকা আমেরিকানদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে, যারা সমস্ত উপসাগরীয় দেশ এবং এমনকি তুরস্ক পর্যন্ত বিস্তৃত... তারা আমেরিকানদের সতর্ক করে আসছিল যাতে তারা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে এবং এর পরিণাম ভোগ না করে। আমি মনে করি না ইরানের শাসনব্যবস্থা এত দ্রুত ভেঙে পড়বে। ইরানি নেতৃত্ব এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কারণ গত ৪০ বছর ধরে তারা মিস্টার নেতানিয়াহুর কাছ থেকে ক্রমাগত হুমকি শুনে আসছে। তিনি বারংবার ইরান ধ্বংসের ডাক দিয়ে আসছিলেন! তাই ইরানিরা এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে রেখেছিল। এই শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের একমাত্র পথ হতে পারে কেবল ইরানি জনগণের মাধ্যমে।
** '''''তুর্কি বিন ফয়সাল আল সৌদ''''', "প্রাক্তন সৌদি গোয়েন্দা প্রধান ইরান হামলার বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করছেন | আমানপুর অ্যান্ড কোম্পানি" [https://www.youtube.com/watch?v=LfGcX4XuZ5A&t=62s ১:০২,] ৫:০৮।
* ইরান এইমাত্র ঘোষণা করেছে যে তারা আজ অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করতে যাচ্ছে, যা তাদের ওপর হওয়া পূর্ববর্তী যেকোনো আঘাতের চেয়েও তীব্র হবে। তবে তারা যেন এমনটা করার দুঃসাহস না দেখায়। কারণ তারা যদি তা করে, তবে আমরা তাদের ওপর এমন এক শক্তি প্রয়োগ করব যা আগে কখনো দেখা যায়নি!
** '''''ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প''''', ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট, "ইরান পাল্টা হামলা চালালে ট্রাম্প নজিরবিহীন শক্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন" (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬); রয়টার্স।
[[চিত্র:Donald Trump OEF.jpg|thumb|[[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]]: "আমার মনে হয় যুদ্ধটি প্রায় সম্পূর্ণ এবং হয়তো বেশ সফলভাবেই সমাপ্ত হয়েছে"। (৯ মার্চ)]]
[[File:P20260307DT-1619 The Dignified Transfer of Remains of Six U.S. Soldiers.jpg|thumb|৪০০পিক্সেল|২০২৬ সালের ৭ মার্চ, পোর্টের শুয়াইবা ড্রোন হামলায় নিহত ছয়জন মার্কিন সেনার কফিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের দৃশ্য।]]
* আমি মনে করি যুদ্ধটি মোটামুটি সম্পন্নই হয়ে গেছে! ইরানের এখন কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই এবং তাদের কোনো বিমান বাহিনীও আর নাকি অবশিষ্ট নেই। তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন কেবল বিচ্ছিন্নভাবে ছিটকে পড়ছে। তাদের ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রসহ ড্রোনগুলো সব জায়গায় ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।
** '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''', উদ্ধৃত: [https://www.cbsnews.com/news/trump-iran-cbs-news-the-war-is-very-complete-strait-hormuz/ "ট্রাম্প বলেছেন 'যুদ্ধটি প্রায় সম্পন্ন', এবং তিনি হরমুজ প্রণালী দখল করার কথা বিবেচনা করছেন"], সিবিএস নিউজ (৯ মার্চ ২০২৬)।
* মার্কিন কর্মকর্তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভুয়া খবর প্রচার করছেন। এটি তাদের সেই মুদ্রাস্ফীতির সুনামি থেকে রক্ষা করতে পারবে না যা তারা আমেরিকানদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। বাজার এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে, যা আরব তেল অবরোধ কিংবা কুয়েত সংকটের চেয়েও ভয়াবহ।
** জনাব '''''আরাগচি''''' [https://www.etemadonline.com/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%A8%DB%8C%D9%86-%D8%A7%D9%84%D9%85%D9%84%D9%84-17/764878-%D8%B9%D8%B1%D8%A7%D9%82%DA%86%DB%8C-%D9%88%D8%B2%DB%8C%D8%B1%D8%AE%D8%A7%D8%B1%D8%AC%D9%87-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7] (১০ মার্চ ২০২৬)।
* ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর এখন পর্যন্ত হওয়া আঘাতের চেয়েও ২০ গুণ বেশি কঠোরভাবে আঘাত হানবে। এছাড়া, আমরা এমন সব সহজ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করব যা একটি জাতি হিসেবে ইরানের পুনরুত্থানকে কার্যত অসম্ভব করে তুলবে। তাদের ওপর হয়তো মৃত্যু, অগ্নি এবং প্রচণ্ড ক্রোধের রাজত্ব কায়েম হবে! তবে আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি যেন এমনটা না ঘটে! এটি চীন এবং সেই সমস্ত দেশ যারা ব্যাপকভাবে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে, তাদের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি উপহার। আশা করি, এই পদক্ষেপটি সমাদৃত হবে। বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।
** [https://x.com/WhiteHouse/status/2031167037620236703 ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট] (১০ মার্চ ২০২৬)।
* আমরা নিশ্চিতভাবেই কোনো যুদ্ধবিরতি খুঁজছি না। আমরা জায়নবাদীদের সেই চক্রটি ভেঙে দেব যেখানে যুদ্ধ, আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি অনন্তকাল ধরে একের পর এক চলতে থাকে।
** '''''মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ''''' [https://www.etemadonline.com/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-9/764797-%D8%A2%D9%82%D8%A7%DB%8C-%D9%82%D8%A7%D9%84%DB%8C%D8%A8%D8%A7%D9%81-%D8%A2%D8%AA%D8%B4-%D8%A8%D8%B3-%D8%AC%D9%86%DA%AF-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%A7%D8%B3%D8%B1%D8%A7%D8%A6%DB%8C%D9%84] (১০ মার্চ ২০২৬)।
* [[w:বাহরাইন|বাহরাইন]] পুনর্দখল করো! একে ইরানের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলো।
** [[w:সংসদ_সদস্য|সংসদ সদস্য]] আয়াতুল্লাহ '''''রেসায়ি হামিদ''''' [https://www.khabarfoori.com/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-59/3200147-%DB%8C%DA%A9-%D9%86%D9%85%D8%A7%DB%8C%D9%86%D8%AF%D9%87-%D9%85%D8%AC%D9%84%D8%B3-%D8%A8%D8%AD%D8%B1%DB%8C%D9%86-%D8%B1%D8%A7-%D9%BE%D8%B3-%D8%A8%DA%AF%DB%8C%D8%B1%DB%8C%D9%85] (১২ মার্চ ২০২৬)
* <blockquote>বাবার শাহাদাতের পর আমি তাঁর পবিত্র শবদেহ দেখেছি। আমি শুনেছি তিনি তাঁর মুষ্টিবদ্ধ হাত শক্ত করে রেখেছিলেন। আপনারা এই দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আপামর জনতার ইচ্ছা হলো এই কার্যকর এবং অনুশোচনাহীন প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখা। অবশ্যই [[w:হরমুজ_প্রণালী|হরমুজ প্রণালী]] অবরোধের কৌশলটি এখনও ব্যবহার করা উচিত। প্রতিবেশী দেশগুলোকে অবশ্যই আমাদের দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসীদের প্রতি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে আমরা শত্রুর কাছ থেকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দাবি করব অথবা আদায় করে নেব। তারা অস্বীকার করলে আমরা তাদের সম্পদের যতটা প্রয়োজন জব্দ করব। আর তা সম্ভব না হলে আমরা তাদের সম্পদের যতটুকু পারি ধ্বংস করে দিব!
* '''''[[:w:মোজতবা খামেনি|মোজতবা খামেনি]]''''' (১২ মার্চ ২০২৬) [https://www.irna.ir/news/86100475/%D8%B1%D9%87%D8%A8%D8%B1-%D9%85%D8%B9%D8%B8%D9%85-%D8%A7%D9%86%D9%82%D9%84%D8%A7%D8%A8-%D8%AA%D8%A9%DA%A9%DB%8C%D8%AF-%D8%A8%D8%B1-%D9%86%D9%82%D8%B4-%D9%88-%D8%AD%D8%B6%D9%88%D8%B1-%D9%85%D8%B1%D8%AF%D9%85-%D8%AD%D8%B6%D9%88%D8%B1-%D8%AF%D8%B1-%D8%B5%D8%AD%D9%86%D9%87-%D8%A8%D8%A7%DB%8C%D8%AF] [https://www.khabarfoori.com/%D8%A8%D8%AE%D8%B4-%D8%B3%DB%8C%D8%A7%D8%B3%DB%8C-59/3200277-%D8%B4%D9%85%D8%A7-%D9%85%D8%B1%D8%AF%D9%85-%DA%A9%D8%B4%D9%88%D8%B1-%D8%B1%D8%A7-%D8%B1%D9%87%D8%A8%D8%B1%DB%8C-%DA%A9%D8%B1%D8%AF%DB%8C%D8%AF-%D8%A7%D8%B2-%D8%A7%D9%86%D8%AA%D9%82%D8%A7%D9%85-%D8%AE%D9%88%D9%86-%D8%B4%D9%87%DB%8C%D8%AF%D8%A7%D9%86-%D8%B4%D9%85%D8%A7-%D8%B5%D8%B1%D9%81-%D9%86%D8%B8%D8%B1-%D9%86%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%DB%8C%D9%85-%DA%A9%D8%B1%D8%AF-%D9%87%D9%85%DA%86%D9%86%D8%A7%D9%86-%D8%AA%D9%86%DA%AF%D9%87-%D9%87%D8%B1%D9%85%D8%B2-%D8%A8%D8%A7%DB%8C%D8%AF-%D8%A8%D8%B3%D8%AA%D9%87-%D8%A8%D9%85%D8%A7%D9%86%D8%AF-%D9%85%D8%B9%D8%AA%D9%82%D8%AF-%D8%A8%D9%87-%D8%AF%D9%88%D8%B3%D8%AA%DB%8C-%D8%A8%D8%A7-%D9%87%D9%85%D8%B3%D8%A7%DB%8C%DA%AF%D8%A7%D9%86-%D9%87%D8%B3%D8%AA%DB%8C%D9%85]</blockquote>
* ইরানি দ্বীপপুঞ্জের মাটির ওপর যেকোনো আগ্রাসন আমাদের সকল ধৈর্য ও সংযমকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবে। আমরা সকল প্রকার আত্মসংযম বিসর্জন দেব এবং পারস্য উপসাগরকে আক্রমণকারীদের রক্তে রঞ্জিত করে তুলব।
** '''''মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ''''' [https://sahebkhabar.ir/news/77477478/%D9%82%D8%A7%D9%84%DB%8C%D8%A8%D8%A7%D9%81-%D9%87%D8%B1%DA%AF%D9%88%D9%86%D9%87-%D8%AA%D8%B9%D8%AF%DB%8C-%D8%A8%D9%87-%D8%AE%D8%A7%DA%A9-%D8%AC%D8%B2%D8%A7%DB%8C%D8%B1-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86%DB%8C-%D8%AE%D9%88%DB%8C%D8%B4%D9%86%D8%AF%D8%A7%D8%B1%DB%8C-%D8%B1%D8%A7-%D8%AA%D9%85%D8%A7%D9%85-%D9%85%DB%8C] (১২ মার্চ ২০২৬)
[[File:Attack on Gandhi Hospital 3.jpg|thumb|৪০০পিক্সেল|২০২৬ সালের ১ মার্চ, ইরানের রাজধানী লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার একটি ঢেউ চলাকালীন তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।]]
* মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ, তাই তেলের দাম যখন বৃদ্ধি পায়, আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করি। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমার কাছে এর চেয়েও বড় আগ্রহ এবং গুরুত্বের বিষয় হলো যে এই শয়তানি সাম্রাজ্য ইরানকে [[পারমাণবিক অস্ত্র]] অর্জন করা থেকে বিরত রাখা, যাতে তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং প্রকৃতপক্ষে পুরো বিশ্বকে ধ্বংস করতে না পারে। আমি কখনোই তা হতে দেব না!
** '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''' [https://www.independent.co.uk/news/world/middle-east/iran-us-war-live-updates-supreme-leader-trump-oil-b2937272.html "ইরান-মার্কিন যুদ্ধ সর্বশেষ: ইরাকে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর সর্বোচ্চ নেতার বিবৃতিতে নতুন হামলার হুমকি"], ''দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট'' (১২ মার্চ ২০২৬)।
* যতক্ষণ আমেরিকা এবং জায়নবাদী রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকবে, ততক্ষণ মানবজাতি শান্তির মুখ দেখবে না। প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে।
** আয়াতুল্লাহ '''''খাতামি''''', তেহরানের ইমাম [https://sahebkhabar.ir/news/77485962/%D8%AE%D8%A7%D8%AA%D9%85%DB%8C-%D8%A8%D8%B1%D8%A7%DB%8C-%D8%A7%D8%B3%D8%AA%D9%82%D8%B1%D8%A7%D8%B1-%D8%B5%D9%84%D8%AD-%D8%A8%D8%A7%DB%8C%D8%AF-%D8%B1%DA%98%DB%8C%D9%85-%D8%B5%D9%87%DB%8C%D9%88%D9%86%DB%8C%D8%B3%D8%AA%DB%8C-%D8%A7%D8%B2-%D8%A8%DB%8C%D9%86-%D8%A8%D8%B1%D9%88%D8%AF] [https://sahebkhabar.ir/news/77487036/%D8%AA%D8%A7-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7-%D9%88-%D8%B1%DA%98%DB%8C%D9%85-%D8%B5%D9%87%DB%8C%D9%88%D9%86%DB%8C-%D9%87%D8%B3%D8%AA%D9%86%D8%AF-%D8%A8%D8%B4%D8%B1%DB%8C%D8%AA-%D8%B1%D9%88%DB%8C-%D8%A2%D8%B1%D8%A7%D9%85%D8%B4-%D9%86%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%D8%AF-%D8%AF%DB%8C%D8%AF] (১৩ মার্চ ২০২৬)
* <blockquote>'''פשוט לברוח!'''</blockquote>
* কেবল পালিয়ে যাও!
** আইআরজিসির [[w:হিব্রু_ভাষা|হিব্রু ভাষায়]] একটি বার্তা [https://sahebkhabar.ir/news/77499999/%D8%AE%D8%B7%D8%A7%D8%A8-%D8%A8%D9%87-%D8%B3%D8%A7%DA%A9%D9%86%D8%A7%D9%86-%D8%B3%D8%B1%D8%B2%D9%85%DB%8C%D9%86-%D9%87%D8%A7%DB%8C-%D8%A7%D8%B3%D8%AA%D9%82%D8%B1%D8%A7%D8%B1-%D8%A2%D8%B1%D8%A7%D9%85%D8%B4-%D9%86%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%D8%AF-%D8%AF%DB%8C%D8%AF] (১৪ মার্চ ২০২৬)
* আমেরিকানরা যদি খার্ক দ্বীপ দখলের জন্য কোনো হ্যালিবোর্ন অপারেশন (হেলিকপ্টার ভিত্তিক অভিযান) চালায়, তবে আমরা তাদের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাব এবং সৈন্যদের বন্দি করব।
** পররাষ্ট্রমন্ত্রী '''''মানুচেহর মোত্তাকি''''', ইরানি আলোচক দল [https://sahebkhabar.ir/news/77500152/%D8%A8%D8%A8%DB%8C%D9%86%DB%8C%D8%AF-%D9%85%D8%AA%DA%A9%DB%8C-%D8%A7%DA%AF%D8%B1-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7%DB%8C%DB%8C-%D9%87%D8%A7-%D8%A8%D8%AE%D9%88%D8%A7%D9%87%D9%86%D8%AF-%D8%AC%D8%Bre%DB%8C%D8%B1%D9%87-%D8%AE%D8%A7%D8%B1%DA%A9-%D8%B1%D8%A7-%D8%A7%D8%B4%D8%BA%D8%A7%D9%84-%DA%A9%D9%86%D9%86%D8%AF] (১৪ মার্চ ২০২৬)
* [[২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ|বিশ্বকাপের]] ম্যাচগুলো যদি [[মেক্সিকো|মেক্সিকোতে]] অনুষ্ঠিত হয়, তবে হয়তো আমরা সেখানে যাব।
** ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী [https://sahebkhabar.ir/news/77499588/%D8%A8%D8%A8%DB%8C%D9%86%DB%8C%D8%AF-%D9%88%D8%B2%DB%8C%D8%B1-%D9%88%D8%B1%D8%B2%D8%B4-%D9%81%DB%8C%D9%81%D8%A7-%D8%A8%D8%A7%DB%8C%D8%AF-%D9%85%DB%8C%D8%B2%D8%A8%D8%A7%D9%86%DB%8C-%D8%AC%D8%A7%D9%85-%D8%AC%D9%87%D8%A7%D9%86%DB%8C-%D8%B1%D8%A7-%D8%A7%D8%B2-%D8%A2%D9%85%D8%B1%DB%8C%DA%A9%D8%A7] (১৪ মার্চ ২০২৬)
* খামেনেইকে হত্যার দায়ে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
** ভাইস প্রেসিডেন্ট '''''মোহাম্মদ মোখবার''''' [https://www.mehrnews.com/news/6774791/%D9%85%D8%AE%D8%A8%D8%B1-%DA%A9%D8%B4%D9%88%D8%B1%D9%87%D8%A7%DB%8C-%D9%85%D9%86%D8%B7%D9%82%D9%87-%D9%85%DA%A9%D9%84%D9%81-%D8%A8%D9%87-%D8%AC%D8%A8%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D8%AE%D8%B3%D8%A7%D8%B1%D8%AA-%D9%87%D8%A7%DB%8C-%D9%88%D8%A7%D8%B1%D8%AF%D9%87-%D8%A8%D9%87-%D8%A7%DB%8C%D8%B1%D8%A7%D9%86-%D9%87%D8%B3%D8%AA%D9%86%D8%AF] (১৪ মার্চ ২০২৬)
* যখন আমি এটি অনুভব করব। যখন আমি এটি আমার হাড়ের ভেতরে অনুভব করব।
** যুদ্ধ কবে শেষ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে '''''প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প''''': [https://www.huffingtonpost.co.uk/entry/trump-says-iran-war-will-end-when-i-feel-it-in-my-bones_uk_69b57775e4b09d87d0277fa2 "ট্রাম্প বলেছেন ইরান যুদ্ধ শেষ হবে ‘যখন আমি এটি আমার হাড়ের ভেতরে অনুভব করব’"], ''হাফিংটন পোস্ট'' (১৪ মার্চ ২০২৬)।
* এটি কিছুটা অন্যায্য। আপনি যুদ্ধে জয়লাভ করেন, কিন্তু তারা যা করছে তা করার কোনো অধিকার তাদের নেই।
** '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''' [https://www.bbc.co.uk/news/articles/c70k29914q4o "যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামের ঊর্ধ্বগতি ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি গভীর করছে"], ''বিবিসি নিউজ'' (১৭ মার্চ ২০২৬)।
* যেহেতু আমরা এমন ব্যাপক সামরিক সাফল্য অর্জন করেছি, তাই আমাদের আর ন্যাটো দেশগুলোর সহযোগিতার কোনো "প্রয়োজন" বা আকাঙ্ক্ষা নেই, আমাদের তা কখনোই ছিল না! একইভাবে [[w:জাপান|জাপান]], [[w:অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়া]] বা দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতারও প্রয়োজন নেই! প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বলছি যা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের তুলনায় দীর্ঘ ব্যবধানে সবথেকে শক্তিশালী দেশ। তাই আমাদের কারো কোনো ধরনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই!
** [https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/posts/116245182325726375 ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প] (১৭ মার্চ ২০২৬)
* মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটেছে তার ক্ষোভ থেকে ইসরায়েল ইরানের 'সাউথ পার্স' নামক একটি প্রধান গ্যাস ক্ষেত্রে তীব্র হামলা চালিয়েছে। পুরো প্রকল্পের তুলনামূলক একটি ছোট অংশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নির্দিষ্ট হামলা সম্পর্কে কিছুই জানত না এবং কাতার দেশটিও কোনোভাবেই এর সাথে জড়িত ছিল না, এমনকি তাদের এ বিষয়ে কোনো ধারণাও ছিল না যে এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত, ইরান এই সত্যগুলো বা সাউথ পার্স হামলার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানত না এবং অন্যায় ও অন্যায্যভাবে কাতারের এলএনজি বা LNG - Liquefied Natural Gas গ্যাস সুবিধার একটি অংশে আক্রমণ করেছে। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান সাউথ পার্স ক্ষেত্র নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আর কোনো হামলা চালানো হবে না, যদি না ইরান অবিবেচকের মতো পুনরায় নিরীহ কাতারকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয় যে ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের সাহায্য বা সম্মতি ছাড়াই, সমগ্র সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রটিকে এমন শক্তিতে উড়িয়ে দেবে যা ইরান আগে কখনো দেখেনি বা প্রত্যক্ষ করেনি। আমি এই পর্যায়ের সহিংসতা এবং ধ্বংসযজ্ঞের অনুমতি দিতে চাই না কারণ ইরানের ভবিষ্যতের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে, কিন্তু যদি কাতারের এলএনজি পুনরায় আক্রান্ত হয়, তবে আমি তা করতে দ্বিধা করব না।
** [https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/posts/116253388303392718 ট্রুথ সোশ্যালে] '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''' (১৯ মার্চ ২০২৬)
* ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মুসলমান, খ্রিস্টান, ইহুদি কিংবা অন্য কোনো ধর্মের মধ্যে পার্থক্য করে না; তারা যে কাউকে হত্যা করতে প্রস্তুত কারণ তারা মনে করে যারা তাদের বিশ্বাস গ্রহণ করে না তারা সবাই কাফের।
** পশ্চিম তীরের বেইত আউয়া সেলুন হামলার পর ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট '''''আইজ্যাক হারজোগ'''''। (১৯ মার্চ ২০২৬) [https://www.jpost.com/middle-east/iran-news/article-890479]
* আমি মনে করি ইরানের শাসনের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মহান সামরিক প্রচেষ্টাকে সমাপ্ত করার পথে আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি: (১) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, উৎক্ষেপক এবং এ সংক্রান্ত অন্য সবকিছু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা। (২) ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প কাঠামো ধ্বংস করা। (৩) বিমান বিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্রসহ তাদের নৌ ও বিমান বাহিনীকে নির্মূল করা। (৪) ইরানকে কখনোই পারমাণবিক সক্ষমতার ধারেকাছেও আসতে না দেওয়া এবং সবসময় এমন অবস্থানে থাকা যাতে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ও শক্তিশালীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। (৫) ইসরায়েল, [[w:সৌদি_আরব|সৌদি আরব]], [[w:কাতার|কাতার]], [[w:সংযুক্ত_আরব_আমিরাত|সংযুক্ত আরব আমিরাত]], [[w:Bahrain|বাহরাইন]], [[w:কুয়েত|কুয়েত]] এবং অন্যদেরসহ আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সর্বোচ্চ স্তরে সুরক্ষা প্রদান করা। হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী পাহারা এবং তদারকি করতে হবে — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা করবে না!
** [https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/posts/116263563453969628 ট্রুথ সোশ্যালে] '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''' (২০ মার্চ ২০২৬)
[[File:Houses in Nesher hit by shrapnel from Missile parts of a Multiple independently targetable reentry vehicl, fired from Iran on March 24, 2026 at 00.22 AM 04.jpg|thumb|৪০০পিক্সেল|২০২৬ সালের ২৪ মার্চ রাত ১২:২২ মিনিটে ইরান থেকে ছোড়া একটি MIRV বা 'মাল্টিপল ইনডিপেনডেন্টলি টার্গেটেবল রিএন্ট্রি ভেহিকল' বা বিভক্ত সক্ষম মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ ইসরায়েলের নেশের শহরের রামোত ইতজাক পাড়ায় আঘাত হানে। আইডিএফ মিসাইলটি প্রতিহত করলেও এর বড় একটি অংশ একটি দোতলা বাড়ির ওপর পড়ে সেটি ধ্বংস করে দেয় এবং আশপাশের বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।]]
* ইরান যদি এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো রকম হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে দেবে, যার শুরু হবে সবথেকে বড় কেন্দ্রটি দিয়ে!
** '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''' [https://www.bbc.co.uk/news/articles/clyxv87zwwpo "ইরানে কঠিন বিকল্পগুলো বিবেচনার সময় ট্রাম্প এক মোড় পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে"], ''বিবিসি নিউজ'' (২১ মার্চ ২০২৬)।
* বর্তমানের এই কঠিন সময়ে, যখন ঘটনাপ্রবাহ অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর বলে মনে হচ্ছে, তখন মার্ক টোয়েনের সেই 'প্রাচীন কিংবদন্তির ভাঙা টুকরোগুলো' আমাদের গ্রেট ব্রিটেন কিংবা সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতা ও প্রভাব পতনের মতো ঐতিহাসিক উপমাগুলোকে মনে করিয়ে দিতে পারে, যা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে কীভাবে অতীত বর্তমানের কানে ফিসফিস করে কথা বলে। যেমনটা ইদানীং [[w:হরমুজ_প্রণালী|হরমুজ প্রণালীতে]] ঘটছে বলে মনে হচ্ছে।
** '''''আলফ্রেড ডব্লিউ ম্যাককয়''''', [https://inkstickmedia.com/how-the-iran-war-gave-trump-his-very-own-suez-crisis/ "কীভাবে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পকে তার নিজস্ব সুয়েজ সংকট উপহার দিল"] (২১ মার্চ ২০২৬)।
* ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশ যাদেরকে ট্রাম্প বারবার হেনস্তা করেছেন, তারা এমন একজনের হয়ে এই আত্মঘাতী মিশনে যেতে রাজি হবে না—যে তাদের সাথে জঘন্য আচরণ করে।
** '''''অ্যাডাম মকলার''''' (''MeidasTouch'' থেকে), উদ্ধৃত: ''সিএনএনে'' [https://inews.co.uk/news/world/trump-iran-gamble-failed-americas-allies-pay-it-4309972 "ট্রাম্পের ইরান জুয়া ব্যর্থ হয়েছে – এবং আমেরিকার মিত্রদের এর মূল্য দিতে হবে"], ''আইনিউজ'' (২২ মার্চ ২০২৬)।
* হয়তো আমি। আমি এবং আয়াতুল্লাহ—সে যেই আয়াতুল্লাহই হোক না কেন, কিংবা পরবর্তী আয়াতুল্লাহ। সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটছে, তবে আমরা এমন কিছু মানুষের সাথে কাজ করছি যাদের আমি খুব যুক্তিবাদী এবং দৃঢ় বলে মনে করি। ভেতরে থাকা মানুষজন জানে তারা কারা। তারা অত্যন্ত সম্মানিত এবং হয়তো তাদের মধ্যে একজন ঠিক তেমনই হবেন যেমনটা আমরা খুঁজছি।
** হরমুজ প্রণালী কে নিয়ন্ত্রণ করবে—এই প্রশ্নে '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''', উদ্ধৃত: [https://www.independent.co.uk/news/world/middle-east/trump-ayatollah-joint-leadership-hormuz-b2944024.html "ট্রাম্প আয়াতুল্লাহর পাশাপাশি ইরানের এক অসাধারণ ‘যৌথ নেতৃত্বের’ প্রস্তাব দিয়েছেন"], ''ইন্ডিপেন্ডেন্ট'' (২৩ মার্চ ২০২৬)।
* মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি। আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকা পড়েছে তা থেকে মুক্তি পেতে তারা ভুয়া খবর ব্যবহার করছে।
** '''''[[:w:মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ|মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ]]''''' [https://www.independent.co.uk/news/world/middle-east/trump-ayatollah-joint-leadership-hormuz-b2944024.html "ট্রাম্প আয়াতুল্লাহর পাশাপাশি ইরানের এক অসাধারণ ‘যৌথ নেতৃত্বের’ প্রস্তাব দিয়েছেন"], ''ইন্ডিপেন্ডেন্ট'' (২৩ মার্চ ২০২৬)।
* কারণ তারা একটি চুক্তি করতে যাচ্ছে। তারা গতকাল এমন কিছু করেছে যা আসলে আশ্চর্যজনক ছিল। তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে। এবং সেই উপহারটি আজ এসে পৌঁছেছে। এটি একটি বিশাল উপহার ছিল যার আর্থিক মূল্য অকল্পনীয়। আমি আপনাদের বলব না সেই উপহারটি কী, কিন্তু এটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি পুরস্কার। এটি আমার কাছে একটি বিষয়ই স্পষ্ট করেছে আমরা সঠিক লোকজনের সাথেই লেনদেন করছি।
** ইরানের সাথে আলোচনার বিষয়ে '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''', উদ্ধৃত: [https://www.newsbreak.com/the-new-republic-1991457/4556482986909-trump-says-he-changed-his-mind-after-iran-gave-very-big-present "ইরান ‘বিশাল উপহার’ দেওয়ার পর ট্রাম্প নিজের মত পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন"], ''নিউজব্রেক'' (২৪ মার্চ ২০২৬)।
* আপনার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মাত্রা কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আপনি এখন নিজের সাথেই আলোচনা করছেন?
** ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইরানি নাগরিক ইব্রাহিম জুলফিকারির প্রশ্ন, উদ্ধৃত: [https://www.aljazeera.com/news/2026/3/25/us-talking-to-itself-says-iran-as-trump-claims-wheels-of-diplomacy-turning "আমেরিকা নিজের সাথেই কথা বলছে, ট্রাম্পের কূটনীতির চাকা ঘোরার দাবির প্রেক্ষিতে ইরানের মন্তব্য"], ''আল জাজিরা'' (২৫ মার্চ ২০২৬)।
* শত্রু প্রকাশ্যে আলোচনার সংকেত দিলেও গোপনে স্থল অভিযানের ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যথাস্থানে প্রস্তুত আছে। আমাদের সংকল্প এবং ঈমান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। '''''ইরানি বাহিনী'' মার্কিন সেনাদের স্থলভাগে আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে যাতে কীভাবে তাদের পুড়িয়ে মারা যায় এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের চিরতরে নিঃশেষ করে দেওয়া যায়'''।
** '''''মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ''''', ইরানের সংসদ স্পিকার; উদ্ধৃত: [https://www.theguardian.com/world/2026/mar/29/iran-accuses-us-plotting-ground-assault-publicly-seeking-talks "প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বললেও আমেরিকা স্থল অভিযানের ষড়যন্ত্র করছে বলে ইরানের অভিযোগ"], ''গার্ডিয়ান'' (২৯ মার্চ ২০২৬)।
* এই আমাদের ঈশ্বর। যিশু, শান্তির রাজা, যিনি যুদ্ধ প্রত্যাখ্যান করেন; যাকে কেউ যুদ্ধকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণের জন্য ব্যবহার করতে পারে না। যারা যুদ্ধ চালায় তিনি তাদের প্রার্থনা শোনেন না, বরং তাদের প্রত্যাখ্যান করেন।
* (যিশাইয় ১:১৫) ‘তোমরা অনেক প্রার্থনা করলেও আমি তা শুনব না: তোমাদের হাত রক্তে মাখা।’
** '''''পোপ লিও চতুর্দশ''''', ''যিশাইয়র বই'' থেকে উদ্ধৃতি; [https://www.bbc.co.uk/news/live/cje4x38q8xqt?post=asset%3A58d1f907-b13b-443a-b413-d7741b63b566 "'রক্তে মাখা হাত': পোপ লিও দৃশ্যত যুদ্ধে লিপ্তদের সমালোচনা করেছেন"], ''বিবিসি নিউজ'' (২৯ মার্চ ২০২৬)।
===এপ্রিল ২০২৬===
[[File:Gas prices Sonoma, California April 7 2026.jpg|thumb|ট্রাম্প: হরমুজ প্রণালী যখন উন্মুক্ত, মুক্ত এবং পরিষ্কার হবে তখন আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব। ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছি অথবা তারা যেমনটা বলে—পাথর যুগে পাঠিয়ে দিচ্ছি।]]
* আমরা কাজ শেষ করছি এবং আমার মনে হয় সম্ভবত দুই সপ্তাহের মধ্যেই বা কয়েক দিন বেশি লাগতে পারে কাজটি শেষ করতে। কিন্তু আমরা তাদের কাছে থাকা প্রতিটি জিনিস ধ্বংস করে দিতে চাই। তবে হয়তো এটাও সম্ভব যে তার আগেই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছে যাব।
** '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''', উদ্ধৃত: [https://newsroom.ap.org/editorial-photos-videos/detail?itemid=ad13f6002bde4e30befd5495f58499d9 "ট্রাম্প: ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে আমেরিকা ইরান ছাড়তে পারে, হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করা 'আমাদের কাজ নয়'"], ''এপি নিউজ'' (১ এপ্রিল ২০২৬)।
* হরমুজ প্রণালী যখন উন্মুক্ত, মুক্ত এবং পরিষ্কার হবে তখন আমরা যুদ্ধবিরতির বিষয়টি বিবেচনা করব। ততক্ষণ পর্যন্ত হয়তো আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছি অথবা তারা যেমনটা বলে—পাথর যুগে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
** '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''', উদ্ধৃত: [https://www.independent.co.uk/news/world/americas/us-politics/trump-iran-speech-stone-age-b2950116.html "যুদ্ধের ওপর ভাষণের আগে ইরান এবং ন্যাটো মিত্র উভয়কেই ট্রাম্পের হুমকি: ‘পাথর যুগে প্রত্যাবর্তন’"], ''ইন্ডিপেন্ডেন্ট'' (১ এপ্রিল ২০২৬)।
* যদি শত্রুতা আরও বৃদ্ধি পায়, তবে পুরো অঞ্চলটি তোমাদের জন্য নরকে পরিণত হবে। [[w:ইরান#%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%93_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF|ইসলামী প্রজাতন্ত্র]] ইরানকে পরাজিত করার বিভ্রমটি এমন এক চোরাবালিতে পরিণত হবে যেখানে তোমরা ডুবে মরবে।
** '''''ইব্রাহিম জুলফিকারি'''''; উদ্ধৃত: [https://www.bbc.co.uk/news/articles/c5y90jl8veyo "নিখোঁজ মার্কিন বিমান সেনার সন্ধানের মধ্যেই আমেরিকা এবং ইরানের একে অপরকে ‘নরক’ নামিয়ে আনার হুমকি"], ''বিবিসি নিউজ'' (৪ এপ্রিল ২০২৬)।
* ইরানকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উল্টো ইরানের হাতে একটি ''Weapon of Mass Disruption'' বা গণ-বিঘ্নকারী অস্ত্র' তুলে দিয়েছে!
** '''''আলী ভায়েজ''''', উদ্ধৃত: [https://www.reuters.com/world/middle-east/us-intelligence-warns-iran-unlikely-ease-hormuz-strait-chokehold-soon-sources-2026-04-03/ রয়টার্স]।
* মঙ্গলবার ইরানে ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিবস’ এবং ‘সেতু দিবস’—সব একসাথেই পালিত হবে। এর আগে এমন কিছু আর কখনো দেখা যায়নি!!! ঐ নরকীয় প্রণালীটি খুলে দাও, উন্মাদের দল, নয়তো তোমাদের নরকে বসবাস করতে হবে—শুধু তাকিয়ে দেখো! আলহামদুলিল্লাহ। জে. ট্রাম্প।
** [https://www.bbc.co.uk/news/articles/cvg0q6wdzp1o "হরমুজ প্রণালী অবরোধ নিয়ে ইরানকে ট্রাম্পের অকথ্য নিন্দাযোগ্য ভাষায় হুঁশিয়ারি"], ''বিবিসি নিউজ'' (৫ এপ্রিল ২০২৬)।
* ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, অবিলম্বে এবং নিরাপদভাবে খুলে দিতে সম্মত হয়। তবে আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমা হামলা এবং আক্রমণ স্থগিত করতে রাজি আছি।
** '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''', উদ্ধৃত: [https://www.theguardian.com/us-news/2026/apr/07/trump-iran-war-ceasefire "তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় আমেরিকা ও ইরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে"], ''দ্য গার্ডিয়ান'' (৮ এপ্রিল ২০২৬)।
* যদি ইরানের ওপর আক্রমণ বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করবে। আগামী দুই সপ্তাহের জন্য, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সমন্বয় সাপেক্ষে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল সম্ভব হবে।
** ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী '''''[[:w:আব্বাস আরাঘচি|আব্বাস আরাঘচি]]''''', উদ্ধৃত: [https://www.theguardian.com/us-news/2026/apr/07/trump-iran-war-ceasefire "তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় আমেরিকা ও ইরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে"], ''দ্য গার্ডিয়ান'' (৮ এপ্রিল ২০২৬)।
* ইরানিরা সম্ভবত এটা বুঝতে পারছে না যে আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে বিশ্বকে স্বল্পমেয়াদী ব্ল্যাকমেইল করা ছাড়া তাদের হাতে আর কোনো তাস নেই। তারা আজ যে বেঁচে আছে, তার একমাত্র কারণ হলো আলোচনা করা!
** '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''', উদ্ধৃত: [https://www.theguardian.com/world/2026/apr/10/jd-vance-warns-iran-against-trying-to-play-the-us-in-peace-talks "জেডি ভ্যান্স শান্তি আলোচনায় আমেরিকাকে ‘খেলানো’র বিরুদ্ধে ইরানকে সতর্ক করেছেন"], ''দ্য গার্ডিয়ান'' (১০ এপ্রিল ২০২৬)।
* সহজ প্রশ্ন হলো, ইরানিরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে মৌলিক কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে কি না—কেবল এখনকার জন্য নয়, কিংবা দুই বছর পরের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে। আমরা এখনও তেমন কিছু দেখিনি।
** '''''জেডি ভ্যান্স''''', উদ্ধৃত: [https://www.independent.co.uk/news/world/middle-east/iran-us-peace-talks-vance-trump-b2956013.html "কেন মাত্র একদিন পরেই আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলো – এবং এরপর কী ঘটবে"], ''দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট'' (১২ এপ্রিল ২০২৬)।
* আমরা এই প্রণালীটি একদম সাফ করে ফেলব।
** '''''ডোনাল্ড ট্রাম্প''''', উদ্ধৃত: [https://thehill.com/homenews/administration/5827840-trump-navy-strait-hormuz-blockade/ "মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালী ‘পরিষ্কার’ করবে: ট্রাম্প"], ''দ্য হিল'' (১২ এপ্রিল ২০২৬)।
* আমরা ন্যাটোর ওপর খুবই হতাশ বেদনায়, তারা যে আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি তাতে আমরা অত্যন্ত হতাশ। এখন হয়তো তারা আসতে চায় এবং প্রণালী পরিষ্কারের কাজে সাহায্য করতে চায়।
** '''''ট্রাম্প''''', উদ্ধৃত: [https://thehill.com/homenews/administration/5827840-trump-navy-strait-hormuz-blockade/ "মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালী ‘পরিষ্কার’ করবে: ট্রাম্প"], ''দ্য হিল'' (১২ এপ্রিল ২০২৬)।
[[File:Straße von Hormuz.jpg|thumb|ট্রাম্প - ইরান হরমুজ প্রণালী আর কখনোই বন্ধ না করতে সম্মত হয়েছে]]
* লেবাননের যুদ্ধবিরতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য [[w:হরমুজ_প্রণালী|হরমুজ প্রণালী]] দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো। এই চলাচল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক ইতোপূর্বে ঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
** ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী '''''[[:w:আব্বাস আরাঘচি|আব্বাস আরাঘচি]]''''', উদ্ধৃত: [https://www.bbc.co.uk/news/live/cqxdg17yr2wt "ইরান বলছে হরমুজ প্রণালী 'উন্মুক্ত', অন্যদিকে ট্রাম্প বলছেন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে"], ''বিবিসি নিউজ'' (১৭ এপ্রিল ২০২৬)।
* ইরান হরমুজ প্রণালী আর কখনোই বন্ধ না করতে সম্মত হয়েছে। এটিকে বিশ্বের বিরুদ্ধে আর কখনোই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে না!
** [https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/posts/116420562510387829 ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প] (১৭ এপ্রিল ২০২৬)
* [[:w:ইরান সরকার|ইরান সরকারের]] অভ্যন্তরীণ কাঠামো বর্তমানে মারাত্মকভাবে খণ্ডিত ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে, যা আমাদের কাছে খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। এই পরিস্থিতিতে, [[:w:পাকিস্তান|পাকিস্তানের]] [[:w:ফিল্ড মার্শাল|ফিল্ড মার্শাল]] [[:w:আসিম মুনির|আসিম মুনির]] এবং প্রধানমন্ত্রী [[:w:শেহবাজ শরীফ|শাহবাজ শরিফের]] বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে, আমি [[ইরান]] অভিমুখে আমাদের সামরিক আক্রমণ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যতক্ষণ না তাদের নেতা ও প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হতে পারেন। আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ও সক্ষমতায় প্রস্তুত থাকে। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ততক্ষণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো, যতক্ষণ না তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে এবং সেই আলোচনার একটি চূড়ান্ত ফলাফল যা-ই হোক না কেন—অর্জিত হচ্ছে।"
** [[:w:ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]]; সূত্র: [https://www.bbc.co.uk/news/live/cx297218m9vt "ইউএস ব্লকেড অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা 'অসম্ভব' বলছে ইরান"], ''বিবিসি নিউজ'' (২২ এপ্রিল, ২০২৬)
* আমরা সকলেই 'ইরানি' এবং 'বিপ্লবী'। জাতির এই ইস্পাতকঠিন ঐক্য, সরকার এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতি আমাদের পূর্ণ আনুগত্যের মাধ্যমে আমরা যেকোনো সময় আগ্রাসনকারী অপরাধীকে তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য করব।
** — ইরানের প্রেসিডেন্ট '''''[[:w:মাসুদ পেজেশকিয়ান|মাসুদ পেজেশকিয়ান]]'''''; সূত্রঃ [https://www.bbc.co.uk/news/live/c0mjev4kn9jt?page=2 "ট্রাম্প বলেছেন ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে, তবে তিনি ইরান চুক্তিতে 'তাড়াহুড়ো' করবেন না"], 'বিবিসি নিউজে' (২৪ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত।
== আরও দেখুন ==
* [[যুদ্ধ]]
* [[মধ্যপ্রাচ্য]]
* [[ইরান]]
* [[যুক্তরাষ্ট্র]]
* [[ইসরায়েল]]
* [[ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ]]
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
* [https://www.bbc.com ২০২৬ সালের ইরান সংঘাত নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদন]
* [https://www.aljazeera.com/news আল জাজিরা: ইরান সংকট কভারেজ]
[[বিষয়শ্রেণী:যুদ্ধ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০২০-এর দশকে ইরান]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুদ্ধ ও যুদ্ধবিগ্রহ]]
[[বিষয়শ্রেণী:আরব-ইসরায়েল সংঘাত]]
iy6lnbzruhk6hpivgr2ne9uznav7qxm
২০১১ ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ
0
12948
83260
83115
2026-05-02T03:09:36Z
Oindrojalik Watch
4169
হটক্যাটের মাধ্যমে [[বিষয়শ্রেণী:ফিফা]] যোগ
83260
wikitext
text/x-wiki
[[File:FIFA Women's World Cup 2011 Olympiastadion Berlin.jpg|thumb|অপূর্ব, ধ্রুপদী। রোমাঞ্চকর, ব্লক-বাস্টার। আমার মনে হয় সবকটি বিশেষণই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আমি বলতে চাচ্ছি— আজ সকালে যখন আপনার ঘুম ভাঙল, আপনি বলেছিলেন যে এই ম্যাচটি নিয়ে আপনি বিচলিত বোধ করছেন। এখন আমি বুঝতে পারছি কেন। ~ ইয়ান ডার্ক]]
'''২০১১ ফিফা নারী বিশ্বকাপ''' ছিল ফিফা নারী বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসর, যা [[নারী]] জাতীয় [[w:ফুটবল|ফুটবল]] দলগুলোর জন্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতা। এটি ২০১১ সালের ২৬ জুন থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত [[জার্মানি|জার্মানিতে]] অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যারা ২০০৭ সালের অক্টোবরে এই ইভেন্টটি আয়োজনের স্বত্ব লাভ করেছিল। অতিরিক্ত সময়ের পর ২–২ গোলে ড্র হওয়ায় [[w:২০১১ ফিফা নারী বিশ্বকাপ ফাইনাল|ফাইনালে]] [[w:জাপান নারী জাতীয় ফুটবল দল|জাপান]] [[w:যুক্তরাষ্ট্র নারী জাতীয় ফুটবল দল|যুক্তরাষ্ট্রের]] বিপক্ষে [[w:পেনাল্টি_শুট-আউট_(ফুটবল)|পেনাল্টি শ্যুট-আউটে]] জয়লাভ করে। এর মাধ্যমে তারা প্রথম [[w:এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন|এশীয়]] দল হিসেবে ফিফার কোনো সিনিয়র বিশ্বকাপ জেতার গৌরব অর্জন করে, যা বিশ্ব [[w:ফুটবল|ফুটবলের]] ইতিহাসে সর্বকালের সেরা 'জায়ান্ট-কিলিং' বা অঘটন হিসেবে বিবেচিত।
==উক্তি==
[[File:Wambach 2003.jpg|thumb|যদিও পরিস্থিতির মধ্যে অনেক আবেগ এবং নাটকীয়তা ছিল, আমি সেটা নিয়ে ভাবছিলাম না। আমি শুধু বল, মাথা এবং গোলের কথা ভাবছিলাম।~ [[:w:অ্যাবি ওয়ামব্যাচ|অ্যাবি ওয়ামব্যাচ]]]]
[[File:Wambach-cropped.jpg|thumb|ওহ, আপনি কি এটা বিশ্বাস করতে পারছেন? [[:w:অ্যাবি ওয়ামব্যাচ|অ্যাবি ওয়ামব্যাচ]] এই বিশ্বকাপে তো [[:w:যুক্তরাষ্ট্র|যুক্তরাষ্ট্রের]] প্রাণ বাঁচিয়েছেন!
~ ইয়ান ডার্ক]]
* ক্রিস্টিয়ান [[ব্রাজিল|ব্রাজিলের]] সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। হোপ সোলো সেটি বাঁচিয়ে দিলেন! আবারও এক বীরের আবির্ভাব! হোপ সোলো আর ব্রাজিলের মধ্যে সম্পর্কটা আসলে কী? এখন [[w:রেফারি_(ফুটবল)|রেফারি]] এখানে কী করছেন? ওটা কি [[:w:পেনাল্টি কিক|পেনাল্টি]]? ওটা কি আবার নিতে হবে? কারণ তারা দাবি করছে বল কিক করার আগেই সোলো নড়ে উঠেছিলেন। এখন এটি অত্যন্ত বিতর্কিত একটি বিষয়, এবং এর জন্য সোলো একটি [[w:পেনাল্টি_কার্ড|হলুদ কার্ডও]] পেয়েছেন। '''এটি অত্যন্ত বির্তকিত সিদ্ধান্ত! এখন এটি আবার দেখুন, তিনি কি গোললাইন থেকে সরে এসেছিলেন? না, না, না, না! আমার মতে এটি একটি বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত।'''
** ইয়ান ডার্ক, [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=cvGfV6qCiOI ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* [[:w:মার্তা (ফুটবলার)|মার্তা]] আবারও বলটি কর্নারে রাখার চেষ্টা করবেন, যা দর্শকদের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি ছিল [[:w:গোল কিক|গোল কিক]]। আমি মনে করি এই রেফারি জানেন যে তিনি ওই পেনাল্টি নিয়ে একটি খুব বড় এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মরগান, এবং খেলা এখনও চলছে। টবিন হিথ। বক্স। [[:w:কার্লি লয়েড|কার্লি লয়েড]]! ওহ, গোললাইনের নিচে রাখতে পারলেন না। [[:w:ড্রেসডেন|ড্রেসডেনের]] এই অ্যারেনায় 'ইউ-এস-এ!' [[w:স্লোগান|স্লোগান]] প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, কিন্তু মনে হচ্ছে এটি কোনো কাজে আসবে না। আর এটি নারী বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য হতে যাচ্ছে। ক্রিস্টিয়ান কর্নারের কাছে কিছুটা সময়ক্ষেপণ করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েক সেকেন্ড নষ্ট করছেন তিনি। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। আর তাদের এখন সবাইকে নিয়ে সামনে এগোতে হবে। এখন আর রক্ষণভাগ আগলে রাখার কোনো মানে হয় না, লয়েডকে এই পাসটি দিতেই হবে। র্যাপিনোর কাছে, এবং সবাই এখন সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়বে। র্যাপিনো একটি ক্রস করলেন, এটি [[:w:অ্যাবি ওয়ামব্যাচ|ওয়ামব্যাচের]] দিকে! '''ওহ, আপনি কি এটা বিশ্বাস করতে পারেন? অ্যাবি ওয়ামব্যাচ এই বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণ বাঁচিয়েছেন!'''
** [[:w:ইয়ান ডার্ক|ইয়ান ডার্ক]], [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=cvGfV6qCiOI ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* স্রেফ অবিশ্বাস্য! হোপ সোলোর [[:w:গোল উদযাপন|গোল উদযাপন]] দেখুন! গ্যালারির চারপাশে যেন আমেরিকানদের একটি [[:w:উৎসব|উৎসব]] চলছে! নিশ্চয়ই যেকোনো সেকেন্ডে বাঁশি বাজবে এবং খেলা পেনাল্টি শ্যুটআউটে গড়াবে। ১২২তম মিনিটে অ্যাবি ওয়ামব্যাচ। এটি গত বছরের [[:w:২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ|পুরুষদের বিশ্বকাপের]] সেই নাটকীয়তা এবং ল্যান্ডন ডনোভানের গোলের কথা মনে করিয়ে দেয় যা [[আলজেরিয়া|আলজেরিয়ার]] বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে বাঁচিয়েছিল, তাই না? চমৎকার! '''আর গোলটি হয়েছে সেই সময়ে যা মূলত সাজানো ইনজুরি বা চোটের কারণে অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা হয়েছিল—আমরা মনে করি যা [[:w:এরিকা (ফুটবলার)|এরিকা]] করেছিলেন। এর মধ্যে কি এক ধরণের কাব্যিক [[:w:ন্যায়বিচার|ন্যায়বিচার]] লুকিয়ে নেই?''' তবে এটি এখনও শেষ হয়নি। রেফারি খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এখানে আবারও মার্তা! সোলো সেটি রুখে দিলেন; এটি কর্নার হবে। '''আর কতক্ষণ এই খেলা চলতে পারে?''' শেষ হয়েছে! এটি [[w:পেনাল্টি_শুট-আউট_(ফুটবল)|পেনাল্টি শ্যুট-আউট]] হতে যাচ্ছে! একটি অবিশ্বাস্য সমাপ্তি, যেকোনো বিশ্বকাপ ম্যাচের অন্যতম সেরা চূড়ান্ত মুহূর্ত! শেষ মুহূর্তে ব্রাজিল জয়বঞ্চিত হলো! ১০ জনের যুক্তরাষ্ট্র লড়াই টিকিয়ে রাখল! আমাদের একটু দম নেওয়া দরকার। চলুন এক মুহূর্তের জন্য বব লের কাছে ফিরে যাই।
** ইয়ান ডার্ক, [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=r1PlC9mj-N0 ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* দায়ান, যার [[:w:আত্মঘাতী গোল|আত্মঘাতী গোল]] ম্যাচের ৭৪ সেকেন্ডেই আজকের আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মনে হচ্ছে সেটি অনেক অনেক আগের কথা। সেটি ছিল এই গোলেই, এখন ব্রাজিলের জন্য তাকে বৈধভাবে একটি গোল করতে হবে। '''হ্যাঁ! সোলোর পক্ষ থেকে চমৎকার সেভ, দুর্দান্ত সেভ!''' এবং এটি বৈধ ছিল, আর এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি শেষ দুটি পেনাল্টি সফলভাবে নিতে পারে, তবে তারা সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। '''এটি হোপ সোলোর পক্ষ থেকে একটি জাদুকরী মুহূর্ত!'''
** ইয়ান ডার্ক, [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=r1PlC9mj-N0 ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* এটি তাঁর ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। [[:w:আলি ক্রিগার|আলি ক্রিগার]], যিনি পাঁচ বছর আগে জীবনঘাতী রোগ থেকে সেরে উঠেছিলেন। '''তিনি কি এখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন? এবং তিনি পেরেছেন! যুক্তরাষ্ট্র এখন [[:w:২০১১ ফিফা নারী বিশ্বকাপ নকআউট পর্ব|শেষ চারে]] পৌঁছে গেছে! এটি ছিল প্রায় একটি [[:w:অলৌকিক|অলৌকিক]] ঘটনা! ড্রেসডেনে!'''
** ইয়ান ডার্ক, [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=r1PlC9mj-N0 ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* আমি মনে করি আমরা একটি শব্দে একমত হতে পারি [[:w:বব লে|বব]], তাই না? মহাকাব্যিক, ধ্রুপদী, রোমাঞ্চকর, ব্লকবাস্টার। আমার মনে হয় সব ক্লিশে আজ বাস্তবে রূপ পেয়েছে। আমি বলতে চাচ্ছি— [[:w:জুলি ফাউডি|আপনি]] আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে বলেছিলেন যে আপনি [[:w:২০১১ ফিফা নারী বিশ্বকাপ নকআউট পর্ব|এই ম্যাচটি]] নিয়ে নার্ভাস বোধ করছেন। এখন আমি জানি কেন।
** ইয়ান ডার্ক, [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=ke8XNArZvVU ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* হ্যাঁ তারা পেরেছে, বব। এটি ছিল একটি ধ্রুপদী ফাইনাল, আর আমি মনে করি সেই পুরনো কথাটিই সত্য—এখানে [[:w:ফুটবল|ফুটবলই]] জয়ী হয়েছে; স্রেফ একটি অসাধারণ ম্যাচ। [[:w:যুক্তরাষ্ট্র|যুক্তরাষ্ট্রের]] জন্য এটি একটি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া পরাজয়; যা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু স্রেফ পাষাণ হৃদয়ের কেউ ছাড়া আর কি কেউ জুলি, [[:w:জাপান|জাপানকে]] এই জয় থেকে বঞ্চিত করতে চাইবে? আমার ধারণা যুক্তরাষ্ট্রে হয়তো এ নিয়ে কাটাছেঁড়া হতে পারে যে তারা ম্যাচের অনেকটা সময় খুব ভালো খেলেছে। মনে হচ্ছিল জয়ের রেখা যখন খুব কাছে ছিল, তখন তারা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আসলে এটি কি কিছুটা খুঁতখুঁতে হওয়া নয়? কারণ তারা এখানে অত্যন্ত ভালো করেছে। আমার শুধু মনে হয় বলটির গায়ে জাপানের নাম লেখা ছিল। তাদের জয়ী হওয়া যেন নির্ধারিত ছিল। বব, আমার মনে হয় জাপান এখানে স্রেফ একটি [[:w:ফুটবল|ফুটবল]] ম্যাচের চেয়েও বড় কিছু জয় করেছে।
** [[:w:ইয়ান ডার্ক|ইয়ান ডার্ক]], [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=yKYkxJ6TY0c জাপান বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১৭ জুলাই ২০১১)।
* পরিস্থিতির সেই আবেগ এবং নাটকীয়তা সত্ত্বেও, আমি তা নিয়ে ভাবছিলাম না। '''আমি শুধু ভাবছিলাম বল, মাথা এবং গোলের কথা'''... ভবিষ্যতে যখন আমি অবসর নেব, তখন পেছনে ফিরে তাকাব এবং আমার ভাগ্যকে ধন্যবাদ জানাব যে আমার দলে এমন কিছু দুর্দান্ত খেলোয়াড় ছিল যারা আমাকে মাথায় আঘাত করে গোল করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল।
** [[:w:অ্যাবি ওয়ামব্যাচ|অ্যাবি ওয়ামব্যাচ]], [http://meninblazers.com/podcasts ''মেন ইন ব্লেজার্স''] (১০ এপ্রিল ২০১৩) থেকে উদ্ধৃত।
== বহিঃসংযোগ ==
*
[[বিষয়শ্রেণী:ফুটবল]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফিফা নারী বিশ্বকাপ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জার্মানির ক্রীড়া ইতিহাস]]
[[বিষয়শ্রেণী:ক্রীড়ায় নারী]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১১|ফিফা নারী বিশ্বকাপ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১০-এর দশকে ইউরোপ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১০-এর দশকে ফুটবল]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফিফা নারী বিশ্বকাপ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফিফা]]
9d5gng97c1z4x4pj62z01les2d3exg9
83261
83260
2026-05-02T03:10:03Z
Oindrojalik Watch
4169
হটক্যাটের মাধ্যমে [[বিষয়শ্রেণী:ফিফা বিশ্বকাপ]] যোগ
83261
wikitext
text/x-wiki
[[File:FIFA Women's World Cup 2011 Olympiastadion Berlin.jpg|thumb|অপূর্ব, ধ্রুপদী। রোমাঞ্চকর, ব্লক-বাস্টার। আমার মনে হয় সবকটি বিশেষণই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আমি বলতে চাচ্ছি— আজ সকালে যখন আপনার ঘুম ভাঙল, আপনি বলেছিলেন যে এই ম্যাচটি নিয়ে আপনি বিচলিত বোধ করছেন। এখন আমি বুঝতে পারছি কেন। ~ ইয়ান ডার্ক]]
'''২০১১ ফিফা নারী বিশ্বকাপ''' ছিল ফিফা নারী বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসর, যা [[নারী]] জাতীয় [[w:ফুটবল|ফুটবল]] দলগুলোর জন্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতা। এটি ২০১১ সালের ২৬ জুন থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত [[জার্মানি|জার্মানিতে]] অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যারা ২০০৭ সালের অক্টোবরে এই ইভেন্টটি আয়োজনের স্বত্ব লাভ করেছিল। অতিরিক্ত সময়ের পর ২–২ গোলে ড্র হওয়ায় [[w:২০১১ ফিফা নারী বিশ্বকাপ ফাইনাল|ফাইনালে]] [[w:জাপান নারী জাতীয় ফুটবল দল|জাপান]] [[w:যুক্তরাষ্ট্র নারী জাতীয় ফুটবল দল|যুক্তরাষ্ট্রের]] বিপক্ষে [[w:পেনাল্টি_শুট-আউট_(ফুটবল)|পেনাল্টি শ্যুট-আউটে]] জয়লাভ করে। এর মাধ্যমে তারা প্রথম [[w:এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন|এশীয়]] দল হিসেবে ফিফার কোনো সিনিয়র বিশ্বকাপ জেতার গৌরব অর্জন করে, যা বিশ্ব [[w:ফুটবল|ফুটবলের]] ইতিহাসে সর্বকালের সেরা 'জায়ান্ট-কিলিং' বা অঘটন হিসেবে বিবেচিত।
==উক্তি==
[[File:Wambach 2003.jpg|thumb|যদিও পরিস্থিতির মধ্যে অনেক আবেগ এবং নাটকীয়তা ছিল, আমি সেটা নিয়ে ভাবছিলাম না। আমি শুধু বল, মাথা এবং গোলের কথা ভাবছিলাম।~ [[:w:অ্যাবি ওয়ামব্যাচ|অ্যাবি ওয়ামব্যাচ]]]]
[[File:Wambach-cropped.jpg|thumb|ওহ, আপনি কি এটা বিশ্বাস করতে পারছেন? [[:w:অ্যাবি ওয়ামব্যাচ|অ্যাবি ওয়ামব্যাচ]] এই বিশ্বকাপে তো [[:w:যুক্তরাষ্ট্র|যুক্তরাষ্ট্রের]] প্রাণ বাঁচিয়েছেন!
~ ইয়ান ডার্ক]]
* ক্রিস্টিয়ান [[ব্রাজিল|ব্রাজিলের]] সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। হোপ সোলো সেটি বাঁচিয়ে দিলেন! আবারও এক বীরের আবির্ভাব! হোপ সোলো আর ব্রাজিলের মধ্যে সম্পর্কটা আসলে কী? এখন [[w:রেফারি_(ফুটবল)|রেফারি]] এখানে কী করছেন? ওটা কি [[:w:পেনাল্টি কিক|পেনাল্টি]]? ওটা কি আবার নিতে হবে? কারণ তারা দাবি করছে বল কিক করার আগেই সোলো নড়ে উঠেছিলেন। এখন এটি অত্যন্ত বিতর্কিত একটি বিষয়, এবং এর জন্য সোলো একটি [[w:পেনাল্টি_কার্ড|হলুদ কার্ডও]] পেয়েছেন। '''এটি অত্যন্ত বির্তকিত সিদ্ধান্ত! এখন এটি আবার দেখুন, তিনি কি গোললাইন থেকে সরে এসেছিলেন? না, না, না, না! আমার মতে এটি একটি বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত।'''
** ইয়ান ডার্ক, [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=cvGfV6qCiOI ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* [[:w:মার্তা (ফুটবলার)|মার্তা]] আবারও বলটি কর্নারে রাখার চেষ্টা করবেন, যা দর্শকদের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি ছিল [[:w:গোল কিক|গোল কিক]]। আমি মনে করি এই রেফারি জানেন যে তিনি ওই পেনাল্টি নিয়ে একটি খুব বড় এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মরগান, এবং খেলা এখনও চলছে। টবিন হিথ। বক্স। [[:w:কার্লি লয়েড|কার্লি লয়েড]]! ওহ, গোললাইনের নিচে রাখতে পারলেন না। [[:w:ড্রেসডেন|ড্রেসডেনের]] এই অ্যারেনায় 'ইউ-এস-এ!' [[w:স্লোগান|স্লোগান]] প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, কিন্তু মনে হচ্ছে এটি কোনো কাজে আসবে না। আর এটি নারী বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য হতে যাচ্ছে। ক্রিস্টিয়ান কর্নারের কাছে কিছুটা সময়ক্ষেপণ করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েক সেকেন্ড নষ্ট করছেন তিনি। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। আর তাদের এখন সবাইকে নিয়ে সামনে এগোতে হবে। এখন আর রক্ষণভাগ আগলে রাখার কোনো মানে হয় না, লয়েডকে এই পাসটি দিতেই হবে। র্যাপিনোর কাছে, এবং সবাই এখন সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়বে। র্যাপিনো একটি ক্রস করলেন, এটি [[:w:অ্যাবি ওয়ামব্যাচ|ওয়ামব্যাচের]] দিকে! '''ওহ, আপনি কি এটা বিশ্বাস করতে পারেন? অ্যাবি ওয়ামব্যাচ এই বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণ বাঁচিয়েছেন!'''
** [[:w:ইয়ান ডার্ক|ইয়ান ডার্ক]], [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=cvGfV6qCiOI ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* স্রেফ অবিশ্বাস্য! হোপ সোলোর [[:w:গোল উদযাপন|গোল উদযাপন]] দেখুন! গ্যালারির চারপাশে যেন আমেরিকানদের একটি [[:w:উৎসব|উৎসব]] চলছে! নিশ্চয়ই যেকোনো সেকেন্ডে বাঁশি বাজবে এবং খেলা পেনাল্টি শ্যুটআউটে গড়াবে। ১২২তম মিনিটে অ্যাবি ওয়ামব্যাচ। এটি গত বছরের [[:w:২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ|পুরুষদের বিশ্বকাপের]] সেই নাটকীয়তা এবং ল্যান্ডন ডনোভানের গোলের কথা মনে করিয়ে দেয় যা [[আলজেরিয়া|আলজেরিয়ার]] বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে বাঁচিয়েছিল, তাই না? চমৎকার! '''আর গোলটি হয়েছে সেই সময়ে যা মূলত সাজানো ইনজুরি বা চোটের কারণে অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা হয়েছিল—আমরা মনে করি যা [[:w:এরিকা (ফুটবলার)|এরিকা]] করেছিলেন। এর মধ্যে কি এক ধরণের কাব্যিক [[:w:ন্যায়বিচার|ন্যায়বিচার]] লুকিয়ে নেই?''' তবে এটি এখনও শেষ হয়নি। রেফারি খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এখানে আবারও মার্তা! সোলো সেটি রুখে দিলেন; এটি কর্নার হবে। '''আর কতক্ষণ এই খেলা চলতে পারে?''' শেষ হয়েছে! এটি [[w:পেনাল্টি_শুট-আউট_(ফুটবল)|পেনাল্টি শ্যুট-আউট]] হতে যাচ্ছে! একটি অবিশ্বাস্য সমাপ্তি, যেকোনো বিশ্বকাপ ম্যাচের অন্যতম সেরা চূড়ান্ত মুহূর্ত! শেষ মুহূর্তে ব্রাজিল জয়বঞ্চিত হলো! ১০ জনের যুক্তরাষ্ট্র লড়াই টিকিয়ে রাখল! আমাদের একটু দম নেওয়া দরকার। চলুন এক মুহূর্তের জন্য বব লের কাছে ফিরে যাই।
** ইয়ান ডার্ক, [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=r1PlC9mj-N0 ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* দায়ান, যার [[:w:আত্মঘাতী গোল|আত্মঘাতী গোল]] ম্যাচের ৭৪ সেকেন্ডেই আজকের আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মনে হচ্ছে সেটি অনেক অনেক আগের কথা। সেটি ছিল এই গোলেই, এখন ব্রাজিলের জন্য তাকে বৈধভাবে একটি গোল করতে হবে। '''হ্যাঁ! সোলোর পক্ষ থেকে চমৎকার সেভ, দুর্দান্ত সেভ!''' এবং এটি বৈধ ছিল, আর এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি শেষ দুটি পেনাল্টি সফলভাবে নিতে পারে, তবে তারা সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। '''এটি হোপ সোলোর পক্ষ থেকে একটি জাদুকরী মুহূর্ত!'''
** ইয়ান ডার্ক, [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=r1PlC9mj-N0 ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* এটি তাঁর ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। [[:w:আলি ক্রিগার|আলি ক্রিগার]], যিনি পাঁচ বছর আগে জীবনঘাতী রোগ থেকে সেরে উঠেছিলেন। '''তিনি কি এখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন? এবং তিনি পেরেছেন! যুক্তরাষ্ট্র এখন [[:w:২০১১ ফিফা নারী বিশ্বকাপ নকআউট পর্ব|শেষ চারে]] পৌঁছে গেছে! এটি ছিল প্রায় একটি [[:w:অলৌকিক|অলৌকিক]] ঘটনা! ড্রেসডেনে!'''
** ইয়ান ডার্ক, [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=r1PlC9mj-N0 ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* আমি মনে করি আমরা একটি শব্দে একমত হতে পারি [[:w:বব লে|বব]], তাই না? মহাকাব্যিক, ধ্রুপদী, রোমাঞ্চকর, ব্লকবাস্টার। আমার মনে হয় সব ক্লিশে আজ বাস্তবে রূপ পেয়েছে। আমি বলতে চাচ্ছি— [[:w:জুলি ফাউডি|আপনি]] আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে বলেছিলেন যে আপনি [[:w:২০১১ ফিফা নারী বিশ্বকাপ নকআউট পর্ব|এই ম্যাচটি]] নিয়ে নার্ভাস বোধ করছেন। এখন আমি জানি কেন।
** ইয়ান ডার্ক, [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=ke8XNArZvVU ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১০ জুলাই ২০১১)।
* হ্যাঁ তারা পেরেছে, বব। এটি ছিল একটি ধ্রুপদী ফাইনাল, আর আমি মনে করি সেই পুরনো কথাটিই সত্য—এখানে [[:w:ফুটবল|ফুটবলই]] জয়ী হয়েছে; স্রেফ একটি অসাধারণ ম্যাচ। [[:w:যুক্তরাষ্ট্র|যুক্তরাষ্ট্রের]] জন্য এটি একটি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া পরাজয়; যা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু স্রেফ পাষাণ হৃদয়ের কেউ ছাড়া আর কি কেউ জুলি, [[:w:জাপান|জাপানকে]] এই জয় থেকে বঞ্চিত করতে চাইবে? আমার ধারণা যুক্তরাষ্ট্রে হয়তো এ নিয়ে কাটাছেঁড়া হতে পারে যে তারা ম্যাচের অনেকটা সময় খুব ভালো খেলেছে। মনে হচ্ছিল জয়ের রেখা যখন খুব কাছে ছিল, তখন তারা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আসলে এটি কি কিছুটা খুঁতখুঁতে হওয়া নয়? কারণ তারা এখানে অত্যন্ত ভালো করেছে। আমার শুধু মনে হয় বলটির গায়ে জাপানের নাম লেখা ছিল। তাদের জয়ী হওয়া যেন নির্ধারিত ছিল। বব, আমার মনে হয় জাপান এখানে স্রেফ একটি [[:w:ফুটবল|ফুটবল]] ম্যাচের চেয়েও বড় কিছু জয় করেছে।
** [[:w:ইয়ান ডার্ক|ইয়ান ডার্ক]], [http://www.listenonrepeat.com/watch/?v=yKYkxJ6TY0c জাপান বনাম যুক্তরাষ্ট্র] (১৭ জুলাই ২০১১)।
* পরিস্থিতির সেই আবেগ এবং নাটকীয়তা সত্ত্বেও, আমি তা নিয়ে ভাবছিলাম না। '''আমি শুধু ভাবছিলাম বল, মাথা এবং গোলের কথা'''... ভবিষ্যতে যখন আমি অবসর নেব, তখন পেছনে ফিরে তাকাব এবং আমার ভাগ্যকে ধন্যবাদ জানাব যে আমার দলে এমন কিছু দুর্দান্ত খেলোয়াড় ছিল যারা আমাকে মাথায় আঘাত করে গোল করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল।
** [[:w:অ্যাবি ওয়ামব্যাচ|অ্যাবি ওয়ামব্যাচ]], [http://meninblazers.com/podcasts ''মেন ইন ব্লেজার্স''] (১০ এপ্রিল ২০১৩) থেকে উদ্ধৃত।
== বহিঃসংযোগ ==
*
[[বিষয়শ্রেণী:ফুটবল]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফিফা নারী বিশ্বকাপ]]
[[বিষয়শ্রেণী:জার্মানির ক্রীড়া ইতিহাস]]
[[বিষয়শ্রেণী:ক্রীড়ায় নারী]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১১|ফিফা নারী বিশ্বকাপ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১০-এর দশকে ইউরোপ]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১০-এর দশকে ফুটবল]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফিফা নারী বিশ্বকাপ]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফিফা]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফিফা বিশ্বকাপ]]
jxcluchpbzrhr5njr8tgtfrkucrftzl
ভ্রান্ত উদ্ধৃতি
0
12952
83242
83209
2026-05-01T16:21:50Z
Oindrojalik Watch
4169
মন্তব্য
83242
wikitext
text/x-wiki
এই পাতায় এমন কিছু উক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেগুলোকে অনেক মানুষ সঠিক বলে মনে করেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ভুল। এর মধ্যে সেইসব উক্তি অন্তর্ভুক্ত নয় যেগুলো বক্তার নিজস্ব ভুল বা অসাবধানতাবশত বলা কথা (যেমন: রাজনৈতিক ভুলভ্রান্তি)।
:
'''[বিঃ দ্রঃ বোঝানোর সুবিধার্থে তথা শব্দ এবং উক্তি বিশ্লেষণের জন্য কিছু অংশে বা উক্তিতে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজী ভাষা রাখতে হয়েছে।]'''
__TOC__
{{misattributed begin}}
== ভুল উদ্ধৃতি বা ভুল আরোপ ==
* '''"সত্য যখন নিজের জুতো পরছে, একটি মিথ্যা তখন অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে আসে।"'''
** মার্ক টোয়েন, উইনস্টন চার্চিল, থমাস জেফারসন কিংবা অ্যান ল্যান্ডার্স—তারা কেউই এই কথাটি বলেননি। এই বাক্যটি মূলত জোনাথন সুইফটের একটি উক্তির পরিবর্তিত রূপ; তিনি বলেছিলেন: '''"মিথ্যা উড়ে চলে, আর সত্য তার পেছনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসে।"''' । (বিস্তারিত দেখুন [https://quoteinvestigator.com/2014/07/13/truth/ কোট ইনভেস্টিগেটরে])।
* '''"নরক কেবল একটি মানসিক অবস্থা"''': ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে দাবি করা হয় যে এটি ক্রিস্টোফার মার্লোর ''ডক্টর ফস্টাসের'' একটি উদ্ধৃতি। তবে ''ডক্টর ফস্টাসের'' দানব মেফিস্টোফিলিস একটি অনুরূপ ধারণা পোষণ করেন যখন তিনি বলেন যে, স্বর্গের স্থান হারানো তাকে সবখানেই নরকের অভিজ্ঞতা দেয়: (''বাংলায় রূপান্তরঃ'' '''মাহমুদ'''।)
<poem>
:: "কেননা এটাই নরক, এর বাইরে আমি কেউ নই।
:: তুমি কি মনে করো, আমি করেছি ঈশ্বরের মুখাবয়ব-দর্শন,
:: এবং স্বর্গের আনন্দ চিরন্তন—করেছি আস্বাদন
:: দশ সহস্র নরকের যন্ত্রণায় কি দগ্ধ হচ্ছি না প্রতি ক্ষণে ক্ষণে,
:: চিরস্থায়ী সুখ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে?"
</poem>
* '''"আপনার কাছে যদি একটি আপেল থাকে এবং আমার কাছেও একটি আপেল থাকে এবং আমরা সেগুলো বিনিময় করি, তবে আমাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করেই আপেল থাকবে। কিন্তু আপনার কাছে যদি একটি ধারণা থাকে এবং আমার কাছেও একটি ধারণা থাকে এবং আমরা সেগুলো বিনিময় করি, তবে আমাদের প্রত্যেকের কাছে দুটি করে ধারণা থাকবে।"'''
** জর্জ বার্নার্ড শ কখনোই এই কথাগুলো বলেননি, বরং চার্লস এফ. ব্রানান এটি বলেছিলেন। [http://quoteinvestigator.com/2011/12/13/swap-ideas/]
* '''"সব বিজয়ের রহস্য নিহিত থাকে অপ্রকাশ্য বা পরোক্ষ বিষয়ের সংগঠনের মধ্যে"'''
** এটি ব্যাপকভাবে [[:w:মার্কাস অরেলিয়াস|মার্কাস অরেলিয়াসের]] নামে প্রচলিত হলেও উক্তিটি আসলে অসওয়াল্ড স্পেংলারের ''দ্য ডিক্লাইন অফ দ্য ওয়েস্ট'' (১৯১৮ এবং ১৯২৩) গ্রন্থে পাওয়া যায়।
* '''"আমার মনে হয় আমরা আর কানসাসে নেই, টোটো।"''', ''দ্য উইজার্ড অফ অজের'' ডরোথি গেল (জুডি গারল্যান্ড অভিনীত)।
** এই বাক্যটি চরিত্রটি কখনোই উচ্চারণ করেনি। তিনি আসলে যা বলেছিলেন তা হলো: ''টোটো, আমার মনে হচ্ছে আমরা আর কানসাসে নেই।''
* '''"আবশ্যকীয় বিষয়ে ঐক্য, অনাবশ্যকীয় বিষয়ে স্বাধীনতা, আর সব বিষয়ে দয়া।"'''
** এটি ব্যাপকভাবে অগাস্টিনের উক্তি হিসেবে পরিচিত, কিন্তু বাক্যটি আসলে ১৬২৬ সালে লুথারান ধর্মতত্ত্ববিদ এবং শিক্ষাবিদ রুপার্টাস মেলডেনিয়াস তৈরি করেছিলেন। [https://en.wikipedia.org/wiki/Rupertus_Meldenius]
* '''"একজন বোকা মানুষের চোখে একজন চতুর ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি"''', [[:w:স্টিফেন ফ্রাই|স্টিফেন ফ্রাই]] সম্পর্কে [[:w:জুলি বার্চিল|জুলি বার্চিলের]] মন্তব্য।
** এই বাক্যটি মূলত ১৯৩০ সালের দশকে আইরিশ লেখিকা এলিজাবেথ বোয়েন, অলডাস হাক্সলি সম্পর্কে তৈরি করেছিলেন। বার্চিল মন্তব্য করেছিলেন যে, "আমার স্বামী দাবি করেন স্টিফেন ফ্রাই সম্পর্কে আমিই প্রথম বলেছিলাম যে তিনি 'একজন বোকা মানুষের চোখে একজন চতুর ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি'। আমি যদি মদ্যপানে বিভোর না হয়ে একজন সচেতন ব্যক্তি হতাম, তবে এটি সত্যি কি না তা মনে করতে পারতাম। যাই হোক, কথাটি বেশ চমৎকার।"
* '''"খুব বেশি মানুষ এটি জানে না।"''', ব্রিটিশ অভিনেতা [[:w:মাইকেল কেইন|মাইকেল কেইন]]।
** কেইনকে অনুকরণ করার সময় অভিনেতা/কৌতুক অভিনেতা [[:w:পিটার সেলার্স|পিটার সেলার্স]] এই মন্তব্যটি করেছিলেন যা পরবর্তীতে কেইনের উক্তি হিসেবে পরিচিতি পায়, যদিও তিনি নিজে এটি কখনোই বলেননি। [http://www.metro.co.uk/film/858942-michael-caine-i-never-said-not-a-lot-of-people-know-that]
* '''"ভালো মানুষেরা সবার শেষে শেষ করে (হার মানে)।"''' লিও ডুরোচার (১৯০৬–১৯৯১), মার্কিন [[:w:বেসবল|বেসবল]] ম্যানেজার।
** লিও ডুরোচারের জীবনীগ্রন্থ, ''নাইস গাইজ ফিনিশ লাস্ট'' (লিও ডুরোচার এবং এড লিন, সাইমন এবং শুস্টারে, ১৯৭৫) বর্ণিত তথ্যমতে— ১৯৪৬ সালের নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস দল সম্পর্কে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি এই মন্তব্যটি করেছিলেন। তিনি আসলে বলেছিলেন, "তাদের দিকে একবার তাকান। সবাই ভালো মানুষ। তারা সবার শেষে শেষ করবে। ভালো মানুষেরা—সবার শেষে শেষ করে।" বাক্যের শেষ অংশে একটি সর্বনাম ("যারা") বাদ পড়ে যাওয়ায় একটি সাধারণ মূল্যায়ন কালক্রমে এমন এক ঘোষণায় পরিণত হয়েছে যে—ভালো মানুষদের ভাগ্যে কেবল ব্যর্থতাই জোটে।
* '''"মহাবিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ দুটি উপাদান হলো হাইড্রোজেন এবং মূর্খতা।"''' হারলান এলিসন (জন্ম ২৭ মে, ১৯৩৪), মার্কিন [[:w:লেখক|লেখক]]।
** ১৯৬০ সালের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এলিসন একটি গদ্যে এটি উল্লেখ করলেও, উক্তিটি প্রায়ই ভুলভাবে [[:w:ফ্র্যাংক জ্যাপা|ফ্র্যাংক জ্যাপার]] নামে চালিয়ে দেওয়া হয়। জাপ্পার আত্মজীবনী, ''দ্য রিয়েল ফ্রাঙ্ক জাপ্পা বুকের'' (১৯৮৯) ২৩৯ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি একটি অনুরূপ মন্তব্য করেছেন: "কিছু বিজ্ঞানী দাবি করেন যে হাইড্রোজেন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকায় এটিই মহাবিশ্বের মৌলিক গাঠনিক উপাদান। আমি তা নিয়ে বিতর্ক করি। '''আমি বলি হাইড্রোজেনের চেয়েও বেশি মূর্খতা রয়েছে এবং সেটিই মহাবিশ্বের মৌলিক গাঠনিক উপাদান।'''"
* '''"আপনার কথার সাথে আমি একমত না হতে পারি, কিন্তু আপনার কথা বলার অধিকার আমি আমৃত্যু রক্ষা করব।"''' [[:w:ভলতেয়ার|ভলতেয়ার]]
** এটি ভলতেয়ারের উক্তি হিসেবে মনে করা হলেও, আসলে এটি লিখেছিলেন ইভলিন বিয়াট্রিস হল।
* '''"কারা আপনাকে শাসন করছে তা জানতে হলে কেবল খুঁজে বের করুন যে আপনি কাদের সমালোচনা করতে পারবেন না।"''' [[:w:ভলতেয়ার|ভলতেয়ার]]
** ১৯৯৩ সালের একটি বিতর্কমূলক লেখায় কেভিন স্ট্রম নামক একজন নব্য-নাৎসি লেখক এই ধরনের একটি বাক্য ব্যবহার করেছিলেন। স্ট্রম এই উক্তিটির উৎস হিসেবে ১৯৬০ সালের দশকে শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী রেভিলো পি. অলিভারের দেওয়া একটি ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
* "'''আমি যদি নাচতে না পারি, তবে আমি আপনার বিপ্লবে অথবা বিপ্লবের অংশ হতে চাই না।'''" (অথবা: "'''যদি আমি এতে নাচতে না পারি, তবে এটি আমার বিপ্লব নয়'''")
** এটি ব্যাপকভাবে [[:w:এমা গোল্ডম্যান|এমা গোল্ডম্যানের]] উক্তি হিসেবে প্রচলিত। তবে গোল্ডম্যান গবেষক অ্যালিক্স কেটস শুলম্যানের মতে, এটি মূলত ১৯৭৩ সালে জ্যাক ফ্রেজার নামক একজন [[:w:অ্যানার্কিস্ট|অ্যানার্কিস্ট]] প্রিন্টারের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন ছিল, যা তিনি এমা গোল্ডম্যানের ছবি সংবলিত টি-শার্টের জন্য তৈরি করেছিলেন। গোল্ডম্যান তাঁর আত্মজীবনীতে নাচার কারণে সমালোচিত হওয়ার কথা মনে করে লিখেছিলেন:
*** "আমি জোর দিয়ে বলেছিলাম যে আমাদের আদর্শ আমার কাছ থেকে সন্ন্যাসিনী হওয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না এবং আন্দোলনটি আশ্রমে পরিণত হওয়া উচিত নয়। যদি তাই হয়, তবে আমি এটি চাই না। 'আমি স্বাধীনতা চাই, আত্মপ্রকাশের অধিকার চাই, সুন্দর ও উজ্জ্বল জিনিসের ওপর সবার অধিকার চাই'।" – ''লিভিং মাই লাইফ'' (নিউ ইয়র্ক: নফ, ১৯৩৪), পৃষ্ঠা ৫৬।
**** ''ভি ফর ভেনডেটা'' চলচ্চিত্রে ভি (হুগো ওয়েভিং অভিনীত) বলেন যে, "নাচ ছাড়া বিপ্লব আসলে কোনো কাজের বিপ্লব নয়।"
** দেখুন: শুলম্যান, অ্যালিক্স কেটস ''[http://sunsite.berkeley.edu/Goldman/Features/dances_shulman.html ড্যান্সেস উইথ ফেমিনিস্ট],'' ''ওমেনস রিভিউ অফ বুকস'', খণ্ড ৯, সংখ্যা ৩, ডিসেম্বর ১৯৯১।
* "'''শুধুমাত্র তথ্যগুলো দিন, ম্যাডাম।'''"
** জ্যাক ওয়েবের সিরিজ ''ড্র্যাগনেটের'' সবচেয়ে পরিচিত উক্তি হিসেবে এটি পরিচিত হলেও, সার্জেন্ট ফ্রাইডে রেডিও বা টেলিভিশন সিরিজের কোথাও এটি বলেননি। তবে ১৯৮৭ সালের ''ড্র্যাগনেট'' প্যারোডি চলচ্চিত্রে ড্যান অ্যাকরয়েড (যিনি সার্জেন্ট জো ফ্রাইডে চরিত্রে অভিনয় করেছেন) এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিলেন।
** সঠিক সংস্করণগুলো:<br>"আমরা কেবল তথ্যগুলো জানতে চাই, ম্যাডাম।"<br>"আমরা কেবল তথ্যগুলোই জানি, ম্যাডাম।"
** দেখুন: {{cite web
| last = মিকলসন
| first = বারবারা এবং ডেভিড পি.
| date = ২৯ মার্চ ২০০২
| url = http://www.snopes.com/radiotv/tv/dragnet.htm
| title = জাস্ট দ্য ফ্যাক্টস
| work = আরবান লিজেন্ডস
| publisher = snopes.com
| access-date = ১৮ ডিসেম্বর ২০০৬
}}
* '''"আমরা কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম... কিন্তু মনে হতো প্রতিবারই যখন আমরা দলে সংগঠিত হতে শুরু করতাম, তখনই আমাদের আবার পুনর্গঠিত করা হতো। আমি জীবনের পরবর্তী সময়ে শিখতে পেরেছি যে, আমরা যেকোনো নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করি পুনর্গঠনের মাধ্যমে; আর প্রগতির বিভ্রম তৈরি করার জন্য এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি হতে পারে, যেখানে এটি আসলে বিভ্রান্তি, অদক্ষতা এবং মনোবলহানি সৃষ্টি করে।"'''
** সাধারণত এটি পেট্রোনিয়াস আরবিটারের নামে ভুলভাবে চালানো হয়।
** আসলে এটি চার্লটন ওগবার্নের (১৯১১–১৯৯৮) লেখা, যা ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি সংখ্যায় ''[[:w:হার্পার'স ম্যাগাজিন|হার্পার'স ম্যাগাজিনে]]'' [http://www.harpers.org/archive/1957/01/0007289 "মেরিল'স ম্যারাউডার্স: দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট অ্যান ইনক্রেডিবল অ্যাডভেঞ্চার"] শীর্ষক প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল।
** মূল উক্তি: "আমরা কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম, কিন্তু মনে হতো প্রতিবারই যখন আমরা দলে সংগঠিত হতে শুরু করতাম, তখনই আমাদের আবার পুনর্গঠিত করা হতো। সম্ভবত আমাদের নিয়োগের পরিকল্পনাগুলো বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছিল। আমি জীবনের পরবর্তী সময়ে শিখতে পেরেছি যে, সম্ভবত আমরা সংগঠিত হতে খুব দক্ষ বলেই একটি জাতি হিসেবে যেকোনো নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করি পুনর্গঠনের মাধ্যমে; আর প্রগতির বিভ্রম তৈরি করার জন্য এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি হতে পারে, যেখানে এটি আসলে বিভ্রান্তি, অদক্ষতা এবং মনোবলহানি সৃষ্টি করে।"
** দেখুন: ব্রাউন, ডেভিড এস. "পেট্রোনিয়াস অর অগবার্ন?", ''পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিভিউ'', খণ্ড ৩৮, সংখ্যা ৩ (মে-জুন, ১৯৭৮), পৃষ্ঠা ২৯৬ [http://links.jstor.org/sici?sici=0033-3352(197805%2F06)38%3A3%3C296%3APOO%3E2.0.CO%3B2-Z]।
* "'''প্রাথমিক, আমার প্রিয় ওয়াটসন | Elementary, my dear Watson'''" – [[:w:শার্লক হোমস|শার্লক হোমস]]
** [[:w:আর্থার কোনান ডয়েল|স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের]] কোনো লিখিত সাহিত্যকর্মে চরিত্রটি কখনোই এই বাক্যটি উচ্চারণ করেনি। যদিও "Elementary" এবং "...my dear Watson" উভয়ই ''[[:s:দ্য ক্রুকড ম্যান|দ্য ক্রুকড ম্যান]]'' (১৮৯৩) এর শুরুর দিকে পাওয়া যায়, তবে সেখানে "...my dear Watson" আগে এসেছে এবং তার কয়েক লাইন সংলাপের পর ওয়াটসনের বিস্ময়ের উত্তরে হোমস সংক্ষেপে "Elementary" বলেছিলেন। হোমস ক্যাননের মধ্যে এই চারটি অমর শব্দ এই অংশেই একে অপরের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
** এই উক্তিটির প্রথম নথিভুক্ত ব্যবহার পাওয়া যায় [[:w:পি. জি. উডহাউস|পি. জি. উডহাউসের]] উপন্যাস [http://www.gutenberg.org/ebooks/2607 "স্মিথ, জার্নালিস্টে"], যা ১৯০৯-১০ সালে ''দ্য ক্যাপ্টেন'' ম্যাগাজিনে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে ১৯১৫ সালে বই আকারে বের হয়। সেখানে সংলাপটি ছিল এরকম:
::"সেটাই ঠিক," বিলি উইন্ডসর বলল। "অবশ্যই।"
::"প্রাথমিক, আমার প্রিয় ওয়াটসন, প্রাথমিক," স্মিথ বিড়বিড় করে বলল।
* '''উদ্দেশ্যই উপায়কে ন্যায়সঙ্গত করে।'''
** এটি প্রায়ই [[:w:নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি|নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি]] ''দ্য প্রিন্সের'' উক্তি হিসেবে ভুলভাবে মনে করা হয়; বইটিতে এই ধারণাটি থাকলেও হুবহু এই বাক্যটি নেই। এছাড়াও আরও অনেক লেখকের নামে এটি চালানো হয় যারা মূলত ওভিদের (খ্রিস্টপূর্ব ১০ অব্দ) ''হেরোয়েডসে'' থাকা ''Exitus acta proba'' কথাটিরই পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। আরও দেখুন:উপায় এবং লক্ষ্য।
* '''"প্রতি মিনিটে একজন করে বোকা জন্মায়।"'''
** যদিও এটি প্রায়ই পি. টি. বার্নামের উক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তবে আদতে এটি তাঁর একজন প্রতিযোগী বলেছিলেন—বার্নামের প্রদর্শনী সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে।
** দেখুন: দেয়ার'স আ সাকার বর্ন এভরি মিনিট।
* '''সব মিলিয়ে, আমি বরং ফিলাডেলফিয়াতেই থাকতে পছন্দ করব।'''
** এটি ডব্লিউ. সি. ফিল্ডসের নামে ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃত উক্তি: "এখানে শায়িত আছেন ডব্লিউ. সি. ফিল্ডস: আমি বরং ফিলাডেলফিয়াতে বেঁচে থাকতেই পছন্দ করতাম।" এটি ১৯২৫ সালে ''ভ্যানিটি ফেয়ারের'' একটি সংখ্যায় "একদল শিল্পীর নিজেদের জন্য লেখা এপিটাফ" হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল, যা হয়তো সেই ব্যক্তিদের লেখা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
** ''মাই লিটল চিকাডি'' সিনেমায় ফিল্ডসের চরিত্রটিকে যখন ফাঁসি দেওয়া হচ্ছিল, তখন গলায় দড়ি পরা অবস্থায় তিনি তাঁর শেষ ইচ্ছা হিসেবে বলেন— "আমি মরার আগে একবার প্যারিস দেখতে চাই।" দড়ি শক্ত হতে শুরু করলে তিনি দ্রুত যোগ করেন, "ফিলাডেলফিয়া হলেও চলবে!"
** দেখুন: অ্যামোরি, ক্লিভল্যান্ড এবং ব্রাডলি, ফ্রেডরিক, ''ভ্যানিটি ফেয়ার: সিলেকশনস ফ্রম আমেরিকা'স মোস্ট মেমোরেবল ম্যাগাজিন, আ ক্যাভালকেড অফ দ্য ১৯২০স অ্যান্ড ১৯৩০স'', ভাইকিং প্রেস, ১৯৬০, পৃষ্ঠা ১০৩।
* '''"আমিই ইন্টারনেট উদ্ভাবন করেছি।"'''
** এটি [[:w:আল গোর|আল গোরের]] উক্তি হিসেবে ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃতপক্ষে, আল গোর কখনোই ইন্টারনেট "উদ্ভাবন" করার দাবি করেননি। এটি তাঁর একটি বক্তব্যের বিকৃতি, যেখানে তিনি ইন্টারনেটের উন্নয়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভেতরে তাঁর ভূমিকার কৃতিত্ব দাবি করেছিলেন। যদিও গোরের রাজনৈতিক বিরোধীরা এটিকে তাঁর উক্তি হিসেবে জনপ্রিয় করেছে, তবে এই প্রেক্ষাপটে "উদ্ভাবন" (invented) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ''উইয়ার্ড নিউজের'' লেখক ডেক্লান ম্যাককুলাঘ; যিনি মূলত গোরের দাবির প্রতি হাউজ মেজরিটি লিডার আরমির করা সমালোচনার সারসংক্ষেপ করেছিলেন। সিএনএনের ''লেট এডিশনে'' দেওয়া গোরের সঠিক উক্তিটি ছিল: "'''মার্কিন কংগ্রেসে আমার দায়িত্ব পালনকালে, আমি ইন্টারনেট তৈরির ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমি এমন অনেকগুলো পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিলাম যা আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে।'''"
** {{cite web
| last = ফিঙ্কেলস্টাইন
| first = সেথ
| date = ২৮ এপ্রিল ২০০৬
| url = http://sethf.com/gore/
| title = আল গোর "ইন্টারনেট উদ্ভাবন করেছেন" – তথ্যসূত্র
| publisher = sethf.com
| access-date = ১৬ জুন ২০১১
}}
* '''"হয় তারা করবে, নয়তো মরবে!"'''
** এটি [[:w:আলফ্রেড, লর্ড টেনিসন|টেনিসনের]] "দ্য চার্জ অফ দ্য লাইট ব্রিগেড" কবিতার একটি লাইনের ভুল উপস্থাপনা। কবিতাটিতে আসলে বলা হয়েছে, তাদের কাজ কেন তা নিয়ে তর্ক করা নয়, তাদের কাজ হলো শুধুই করা '''এবং''' মরে যাওয়া।
** দেখুন: দ্য চার্জ অফ দ্য লাইট ব্রিগেড (কবিতা)
* '''"কোলাহলমুক্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে"'''
** এটি [[:w:থমাস গ্ৰে|থমাস গ্ৰের]] কবিতা "এলিজি রিটেন ইন আ কান্ট্রি চার্চইয়ার্ডের" (১৭৫১) একটি লাইনের ভুল রূপান্তর: "জনারণ্যের ওই তুচ্ছ কোলাহল থেকে দূরে, ঝিম-ঝিঁমে শান্ত ইচ্ছেরা কভু ভ্রান্ত পথে পা বাড়ায়নি।" পরবর্তীতে টমাস হার্ডি তাঁর উপন্যাস "ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউডের" শিরোনাম হিসেবে এই লাইনটি ব্যবহার করেন।
** দেখুন: http://www.phrases.org.uk/meanings/134150.html
* '''"অসীম ক্ষমতাই অসীম দায়িত্ব নিয়ে আসে।"'''
** এটি প্রায়ই ভুলভাবে আঙ্কেল বেনের উক্তি হিসেবে ধরা হয়, যা ১৯৬২ সালের ''অ্যামেজিং ফ্যান্টাসি'' #১৫ তে প্রদর্শিত মূল [[:w:স্পাইডার-ম্যান|স্পাইডার-ম্যানের]] উৎস কাহিনীতে ছিল। তবে এই বাক্যটি মূলত গল্পের শেষ প্যানেলে বর্ণনাকারীর ক্যাপশন হিসেবে ছিল, কোনো চরিত্রের মুখনিসৃত সংলাপ ছিল না। স্পাইডার-ম্যানের উৎপত্তির পরবর্তী সংস্করণগুলোতে, যার মধ্যে [:w:[স্পাইডার-ম্যান|২০০২ সালের চলচ্চিত্র]] অন্যতম, এটিকে আঙ্কেল বেনের চূড়ান্ত উপদেশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে (যা একটি রেটকন বা পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠিত তথ্যের পরিবর্তন)।
** এছাড়াও, ''অ্যামেজিং ফ্যান্টাসিতে'' সঠিক উক্তিটি ছিল, "'''অসীম ক্ষমতার সাথে অবশ্যই অসীম দায়িত্বও আসা উচিত।'''"
* '''"এটি জীবন, জিম, কিন্তু আমরা যেভাবে চিনি সেভাবে নয়।"'''
** এটি ''স্টার ট্রেক: দ্য অরিজিনাল সিরিজে'' লিওনার্ড ম্যাককয়ের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে তিনি এটি কখনোই বলেননি। প্রথম সিজনের "দ্য ডেভিল ইন দ্য ডার্ক" পর্বে স্পকের মুখে "নট লাইফ অ্যাজ উই নো ইট" বাক্যটি শোনা যায়। বর্তমান জনপ্রিয় ভুল বাক্যটির উৎপত্তি ১৯৮৭ সালের প্যারোডি গান "স্টার ট্র্যাকিং" থেকে, যেখানে স্পককে এই কথাটি বলতে শোনা যায়। গানে ম্যাককয়ের লাইনটি ছিল, "এটি তার চেয়েও খারাপ, সে মারা গেছে, জিম!"
** দেখুন: ''দ্য অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ মডার্ন কোটেশনস'', ২০০৭ সংস্করণ (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস), এলিজাবেথ নোলসের ভুক্তি; {{ISBN|978-0-19-920895-1}}
* "'''আমরা রাতে আমাদের বিছানায় নিরাপদে ঘুমাই কারণ কিছু কঠোর মানুষ রাতে প্রস্তুত থাকে আরা খুব সহিংস এবং তারা আমাদের ক্ষতি করতে চায়।'''"
** বিকল্প: "মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমায় কেবল কারণ কিছু কঠোর মানুষ তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করার জন্য প্রস্তুত থাকে।"
** এটি কোনো তথ্যসূত্র ছাড়াই ব্যাপকভাবে [[:w:জর্জ অরওয়েল|জর্জ অরওয়েলের]] নামে চালানো হয়। কখনো কখনো একইভাবে [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের]] নামেও এটি ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃত উৎস: [http://quoteinvestigator.com/2011/11/07/rough-men/ কোট ইনভেস্টিগেটর] ১৯৯৩ সালে ''ওয়াশিংটন টাইমসে'' রিচার্ড গ্রেনিয়ারের একটি প্রবন্ধে এর প্রথম ব্যবহার খুঁজে পায়: "যেমনটি জর্জ অরওয়েল উল্লেখ করেছিলেন, মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমায় কেবল কারণ কিছু কঠোর মানুষ তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করার জন্য প্রস্তুত থাকে।" এখানে উদ্ধৃতি চিহ্নের অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, গ্রেনিয়ার অরওয়েলের মতাদর্শ নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করছিলেন।
** ১৯৪৫ সালের "নোটস অন ন্যাশনালিজমে" অরওয়েল লিখেছিলেন যে, শান্তিবাদীরা এই কথাটি মেনে নিতে পারে না যে "যারা সহিংসতা ত্যাগ করে তারা তা করতে পারে কেবল কারণ অন্যরা তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করছে।"
** অনুরূপ বাক্য: "যিনি আমার দেওয়া স্বাধীনতার কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমান এবং পরে আমি কীভাবে সেই স্বাধীনতা দিচ্ছি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় বা আগ্রহ কোনটিই আমার নেই।" – সোরকিন (''আ ফিউ গুড মেন'')
* '''"প্রথা মেনে চলা লক্ষ্মী মেয়েরা খুবই কম ইতিহাস সৃষ্টি করতে জানে।"'''
** প্রায়ই এটি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে উক্তিটি আসলে [[:w:হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়|হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের]] অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ লরেল থ্যাচার উলরিচের] লেখা। উলরিচের মূল বাক্যটি ছিল, "লক্ষ্মী মেয়েদের হাতে সচরাচর ইতিহাস রচিত হয় না।", যা ১৯৭৬ সালে একটি একাডেমিক নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল। নিবন্ধটিতে তিনি ঐতিহাসিক নারীদের সাধারণ জীবন যাপনের প্রতি ইতিহাসবিদদের কম আগ্রহের কথা বোঝাতে এটি ব্যবহার করেছিলেন।
** দেখুন: https://news.harvard.edu/gazette/story/2007/01/ulrich-explains-that-well-behaved-women-should-make-history/
* '''"বাহ, পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল।"'''
** এটি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে মারামারি করার পর রন বারগুন্ডি বলেছিলেন। সঠিক উক্তিটি হলো, "Boy, that escalated quickly" (হে খোদা, এটা দ্রুতই বেড়ে গেল)।
** দেখুন: অ্যাঙ্করম্যান: দ্য লিজেন্ড অফ রন বারগুন্ডি]]
* '''"দয়া করে জনাব, আমি কি আরেকটু পেতে পারি?"'''
** সাধারণত মনে করা হয় এটি অনাথ আশ্রমে ''[[:w:অলিভার টুইস্ট (উপন্যাস)|অলিভার টুইস্ট]]'' বলেছিল। সঠিক উক্তিটি হলো, "দয়া করে জনাব, আমি আরও চাই"।
* '''"সে যত বেশি পরিশ্রম করে, তার ভাগ্য তত বেশি সুপ্রসন্ন হয়।"'''
** এর বিভিন্ন সংস্করণ প্রায়ই ইন্টারভিউতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর স্ত্রীর নামে চালানো হয়। তবে এই বাক্যটির মূল প্রবর্তক হলেন [[:w:স্যামুয়েল গোল্ডউইন|স্যামুয়েল গোল্ডউইন]], যা ছিল: "আমি যত বেশি পরিশ্রম করি, আমার ভাগ্য তত বেশি সুপ্রসন্ন হয়।" ধারণা করা হয় তিনি নিচের অন্য একটি উক্তিকে নিজের মতো করে বলেছিলেন।
* '''"আমি ভাগ্যে অনেক বেশি বিশ্বাস করি, আর আমি দেখেছি যে আমি যত বেশি পরিশ্রম করি, ভাগ্য তত বেশি আমার সহায় হয়।"'''
** [[:w:টমাস জেফারসন|টমাস জেফারসন]] এটি বলেছেন বা লিখেছেন এমন কোনো রেকর্ড নেই। [http://www.monticello.org/site/research-and-collections/i-am-great-believer-luckquotation]। এটি প্রথম ১৯৪৭ সালে এফ. এল. এমারসনের লেখায় ছাপা হয়।
* '''"৯৯ সাল ব্যাচের ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।"'''
** এই বিখ্যাত "ওয়্যার স্যানস্ক্রিন" ভাষণটি নিয়মিতভাবে কার্ট ভনেগাট বা বাজ লুরম্যানের নামে চালানো হয়। কিন্তু এটি মূলত ১৯৯৭ সালে মেরি স্মিচের লেখা একটি সংবাদপত্রের কলাম ছিল, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধা-ব্যঙ্গাত্মক "জীবন নির্দেশিকা" হিসেবে লেখা হয়েছিল।
* '''"পাহাড় যদি মুহাম্মাদের কাছে না আসে, তবে মুহাম্মাদকেই পাহাড়ের কাছে যেতে হবে।"'''
** এটি প্রায়ই ইসলামের নবী [[:w:মুহাম্মদ|মুহাম্মদের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু তিনি আসলে এটি বলেছিলেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। এই বাক্যটি মূলত ১৬২৫ সালে [[:w:ফ্রান্সিস বেকন|ফ্রান্সিস বেকন]] কর্তৃক বর্ণিত মুহাম্মদের একটি গল্প থেকে এসেছে: "''মোহাম্মাদ পাহাড়কে তাঁর কাছে আসার ডাক দিলেন। যখন পাহাড় স্থির রইল, তিনি বিন্দুমাত্র লজ্জিত না হয়ে বললেন; পাহাড় যদি মোহাম্মাদের কাছে না আসে, তবে মোহাম্মাদকেই পাহাড়ের কাছে যেতে হবে।''"
** মূল উক্তিতে "পাহাড়" বোঝাতে "Hill" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিল, কিন্তু ১৬৪৩ সালে জন ওয়েনের অনুবাদে "Mountain" শব্দটি ব্যবহার করা হয়। উক্তিটির প্রকৃত অর্থ নিয়ে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। এটি "সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে সুযোগের পেছনে ছোটা" বোঝায় না; বরং এর অর্থ হলো— "যদি কারো ইচ্ছা জয়ী না হয়, তবে তাকে বিকল্প পরিস্থিতির কাছে নতি স্বীকার করতে হবে।"
* '''"এখানে এক বিলিয়ন, ওখানে এক বিলিয়ন, আর খুব শীঘ্রই আপনি প্রকৃত অর্থ নিয়ে কথা বলবেন।"'''
** এটি এভারেট ডার্কসেনের উক্তি হিসেবে পরিচিত। ডার্কসেন তাঁর বক্তৃতায় মাঝেমধ্যে "এখানে এক বিলিয়ন, ওখানে এক বিলিয়ন" অংশটি ব্যবহার করতেন, কিন্তু পরের অংশটি সম্ভবত একজন সংবাদ প্রতিবেদকের সংযোজন। ডার্কসেন লক্ষ্য করেছিলেন যে, যদিও তিনি পুরো বাক্যটি কখনোই বলেননি, তবুও তিনি এই ভুল উদ্ধৃতিটি পছন্দ করতেন এবং এটি তাঁর নামে চলায় কখনো গুরুত্বর আপত্তি জানাননি।
* '''"আমি ফিরে আসব এবং আমি কোটি কোটি জনতা হয়েই ফিরে আসব।"'''
** এটি প্রায়ই ইভা পেরনের উক্তি হিসেবে মনে করা হয় এবং এমনকি তাঁর সমাধিস্তম্ভেও এটি খোদাই করা আছে, কিন্তু [https://books.google.com/books?id=ck6bXqt5shkC&pg=PA251 তিনি এটি বলেছিলেন এমন কোনো রেকর্ড নেই]। সম্ভবত তাঁর মৃত্যুর দশ বছর পর ১৯৫২ সালে হোসে মারিয়া কাস্তিনেইরা দে দিওসের লেখা একটি কবিতায় ইভার কণ্ঠে এই লাইনটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মানুষ এটি বিশ্বাস করে। তবে ১৭৮১ সালে স্প্যানিশ শাসনের বিরুদ্ধে বলিভিয়ার আদিবাসীদের বিদ্রোহের নেতা তুপাক কাতারি তাঁর মৃত্যুদণ্ডের আগে অনুরূপ কিছু বলেছিলেন ("[https://books.google.com/books?id=aekDJE3NMcsC&pg=PA62 আমি মরব কিন্তু আগামীকাল দশ হাজার গুণ হয়ে ফিরে আসব]"); অতি সম্প্রতি হাওয়ার্ড ফাস্টের উপন্যাস ''স্পার্টাকাসে'' একজন ক্রীতদাস ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময় এই লাইনটি বলে এবং ১৯৬০ সালের [[:w:স্ট্যানলি কুবরিক|স্ট্যানলি কুবরিকের]] চলচ্চিত্র সংস্করণেও এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
* '''"চুরুটের ধোঁয়ায় ডুবে থাকা আমার পছন্দ হলেও, মাঝেমধ্যে আমার এই ধোঁয়া থেকে মুক্ত হতে হয়!"'''
** এটি গ্রাউচো মার্কসের উক্তি হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি আছে যে, ১৯৫০ সালে ''ইউ বেট ইয়োর লাইফের'' একটি পর্বে ম্যারিয়ন এবং শার্লট স্টোরির সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় মার্কস এটি বলেছিলেন। শার্লট যখন তাঁর স্বামীকে খুব ভালোবাসার কথা বলেন এবং জানান যে তাঁদের ২০টি সন্তান রয়েছে, তখন মার্কস এই মন্তব্যটি করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে সেই পর্বের সংরক্ষিত রেকর্ডিং অনুযায়ী মার্কস আসলে বলেছিলেন, "প্রতিটি নতুন বাচ্চার জন্মের সময় আপনি কি চারদিকে চুরুট বিলি করেন?" মার্কস নিজে এই ধরনের চটুল মন্তব্য করার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
** অন্য একটি পর্বে ১৭ জন ভাইবোনের একজনের কাছে গ্রাউচো জানতে চেয়েছিলেন তার বাবা এত বড় পরিবার সম্পর্কে কী ভাবেন। মেয়েটি যখন উত্তর দেয় যে তার বাবা শিশুদের ভালোবাসেন, তখন গ্রাউচো বলেছিলেন— "আমি প্যানকেক পছন্দ করি, কিন্তু তাই বলে আলমারি ভর্তি প্যানকেক আমার নেই!" সম্ভবত এই দুটি ভিন্ন ঘটনার মিশ্রণ থেকেই সেই ভুল উদ্ধৃতিটির জন্ম হয়েছে।
* '''"জেতাটাই বড় কথা নয়, বরং জেতার তাড়নাটাই হলো সব।"'''
** [[:w:ভিন্স লম্বার্ডি|ভিন্স লম্বার্ডি]] সবসময় জোর দিয়ে বলতেন যে তিনি এটি কখনোই বলেননি, যদিও এটি তাঁর ঘনঘন বলা একটি লাইনের খুব কাছাকাছি: "জেতা সাময়িক কোনো বিষয় নয়; বরং এটি সবসময়কার বিষয়।" প্রকৃত বাক্যটি আসলে ইউসিএলএ ফুটবল কোচ হেনরি রাসেল "রেড" স্যান্ডার্স বলেছিলেন।
* '''"আপনার অজ্ঞতা যতই বিশাল হোক না কেন, তাকে আমার জ্ঞানের ওপর প্রাধান্য দিতে পারি না, তা সে যতই সামান্য হোক।"'''
** এর বিভিন্ন সংস্করণ [[:w:উইলিয়াম জেমস|উইলিয়াম জেমসের]] নামে চালানো হয়। এই ধরনের একটি বাক্য সম্ভবত লিওনার্ড বেকন বলেছিলেন, যদিও এর সবচেয়ে পুরনো উৎসটি পাওয়া যায় ১৮৯৮ সালে—বেকনের মৃত্যুর সাত বছর পর। বেকনের প্রপৌত্র তাঁর আত্মজীবনীতে এই উক্তির একটি সংস্করণ নিশ্চিত করেছেন। জেমসের নামে এই ভুল প্রচারের সূত্রপাত বিড়ম্বনাকরভাবে ১৯৯৪ সালে জয়েস অ্যাপলবি, লিন হান্ট এবং মার্গারেট জ্যাকবের লেখা বই ''টেলিং দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট হিস্ট্রি'' (পৃষ্ঠা ২৫৮) থেকে হতে পারে।
* '''"সবুরে মেওয়া ফলে (সব ভালো জিনিস তাদের কাছেই আসে যারা অপেক্ষা করে)।"'''
** ইংরেজ কবি [[:w:ভায়োলেট ফ্যান|ভায়োলেট ফ্যান]] মূলত বলেছিলেন, "অপেক্ষা করলে সবকিছুই পাওয়া যায়, কিন্তু ততোক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে যায়—বাকি থাকে শুধু বিজয়ী মানবদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট!" এই প্রবাদটি ফ্যান লেখার আগেও প্রচলিত থাকতে পারে।
** এটি দুবার উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে: প্রথমবার গিনেস বিয়ারের বিজ্ঞাপনে বর্তমান প্রচলিত রূপে, এবং হেইঞ্জ কোম্পানি এটিকে "সবচেয়ে ভালো জিনিসগুলো তাদের কাছেই আসে যারা অপেক্ষা করে" হিসেবে ব্যবহার করেছে।
* '''"আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে [[:w:রিচার্ড নিক্সন|নিক্সন]] জিতেছেন। আমি এমন কাউকেই চিনি না যে তাকে ভোট দিয়েছে।"'''
** এটি চলচ্চিত্র সমালোচক [[:w:পলিন কায়েল|পলিন কায়েলের]] উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়। কায়েল ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন: "আমি বেশ বিশেষ এক জগতে বাস করি। আমি কেবল একজনকে চিনি যে নিক্সনকে ভোট দিয়েছে। তারা কোথায় থাকে আমি জানি না। তারা আমার জানার পরিধির বাইরে।"
* '''"আমরা এমন সব মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আমরা পছন্দ করি না, এমন সব জিনিস কিনি আমাদের প্রয়োজন নেই সেই টাকা দিয়ে যা আমাদের কাছে নেই।"'''
** এটি প্রায়ই ''[[:w:ফাইট ক্লাব|ফাইট ক্লাব]]'' চলচ্চিত্রের একটি লাইন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যদিও এটি চলচ্চিত্রের ভোগবাদ-বিরোধী দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে চলচ্চিত্র বা মূল উপন্যাসের কোথাও এই উক্তিটি হুবহু বলা হয়নি। মূল উক্তিটি ছিল, "''' অপরিতুষ্য ব্যক্তিদের তুষ্ট করতে, অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতায় রিক্তহস্ত হওয়া—এক পণ্ডশ্রম বৈ কিছু নয়।'''", যা মূলত ১৯২৮ সালের ৪ জুন 'ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসে' আমেরিকান হাস্যরসিক ও সাংবাদিক রবার্ট কুইলেনের কলামে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি "আমেরিকানবাদকে" সংজ্ঞায়িত করেছিলেন— "অর্জিত নয় এমন অর্থ ব্যয় করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কেবল এমন মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আপনি পছন্দ করেন না।"
** উপন্যাসে একটি লাইন আছে: "অনেক তরুণ বিশ্বকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এবং খুব বেশি জিনিস কিনে ফেলে," এবং চলচ্চিত্রে ব্র্যাড পিট অভিনীত চরিত্রটি বলে, "আমরা এমন সব কাজ করি যা আমরা ঘৃণা করি যাতে আমরা এমন সব আজেবাজে জিনিস কিনতে পারি যা আমাদের প্রয়োজন নেই।"
** ইন্টারনেট যুগে উক্তিটি এভাবে পরিবর্তিত হয়েছে: "আমরা এমন সব বিষয়বস্তু পোস্ট করি যা আমাদের নয়, এমন সব লাইকের জন্য যা আসল নয়, কেবল এমন সব মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আমরা চিনি না।"
* '''"ব্রিটিশরা আসছে।"'''
** [[:w:পল রিভিয়ার|পল রিভিয়ার]] আসলে এই বাক্যটি চিৎকার করে বলেননি: তাঁর মিশনটি গোপনীয়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, গ্রামগুলো ব্রিটিশ সেনা টহলে পূর্ণ ছিল এবং ম্যাসাচুসেটসের বেশিরভাগ উপনিবেশবাসী (যারা জাতিগতভাবে ইংরেজ ছিলেন) তখনও নিজেদের ব্রিটিশ মনে করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং রিভিয়ারের নিজস্ব বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর সতর্কতা ছিল— "রেগুলাররা (নিয়মিত সেনারা) বেরিয়ে আসছে।"<ref>{{cite book
|ref= harv
|last1= রিভিয়ার
|first1= পল
|others= এডমন্ড মরগান কর্তৃক ভূমিকা
|year= ১৯৬১
|title= পল রিভিয়ার'স থ্রি অ্যাকাউন্টস অফ হিজ ফেমাস রাইড
|location= বোস্টন
|publisher= ম্যাসাচুসেটস হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি
|isbn=978-0-9619999-0-2
}}</ref>
* '''দ্য শ্যাগস বিটলসের চেয়েও ভালো।'''
** এটি জনপ্রিয়ভাবে সঙ্গীতশিল্পী [[:w:ফ্র্যাংক জ্যাপা|
ফ্র্যাংক জ্যাপার]] নামে ভুলভাবে চালানো হয়। ১৯৬০ সালের দশকের অদক্ষ গার্ল গ্রুপ 'দ্য শ্যাগসকে' বিটলসের চেয়ে ভালো বলার কৃতিত্ব আসলে লেস্টার ব্যাংসের। জাপ্পা দলটিকে উচ্চ মর্যাদা দিতেন ঠিকই, কিন্তু তিনি এই নির্দিষ্ট বাক্যটি ব্যবহার করেননি।<ref name=newyorker2017>{{cite web|url=https://www.newyorker.com/culture/culture-desk/the-shaggs-reunion-concert-was-unsettling-beautiful-eerie-and-will-probably-never-happen-again|title=দ্য শ্যাগস রিইউনিয়ন কনসার্ট ওয়াজ আনসেটলিং, বিউটিফুল, ইরি, অ্যান্ড উইল প্রবাবলি নেভার হ্যাপেন এগেইন|first=হাওয়ার্ড|last=ফিশম্যান|date=আগস্ট ৩০, ২০১৭|access-date=জানুয়ারি ৮, ২০২০}}</ref>
* '''মৌখিক চুক্তির দাম সেই কাগজের চেয়েও কম যার ওপর এটি লেখা হয়।''' ([[:w:স্যামুয়েল গোল্ডউইন|স্যামুয়েল গোল্ডউইন]])
** গোল্ডউইনের অনেক অদ্ভুত উক্তির মধ্যে এটি একটি বিকৃতি। তিনি আসলে তাঁর এক বন্ধুর বিশ্বস্ত প্রকৃতির প্রশংসা করে বলেছিলেন: "তাঁর মৌখিক চুক্তির মূল্য সেই কাগজের চেয়েও বেশি যার ওপর এটি লেখা হয়।"<ref>পল এফ. বোলার, জন জর্জ, ''দে নেভার সেড ইট'' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ৪২।</ref><ref>ক্যারল ইস্টন, ''দ্য সার্চ ফর স্যাম গোল্ডউইন'' (১৯৭৬)।</ref>
* '''চিন্তা করো না, খুশি থেকো।'''
** যদিও [[:w:বব মার্লে|বব মার্লে]] তাঁর গানে বিশেষ করে "থ্রি লিটল বার্ডসে" অনুরূপ অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তিনি এই নামে কোনো গান রেকর্ড করেননি। এই বাক্যটি মূলত মেহের বাবা তৈরি করেছিলেন; আর মার্লের মৃত্যুর ছয় বছর পর [[:w:ববি ম্যাকফারিন|ববি ম্যাকফারিন]] এই নামে গানটি লেখেন ও রেকর্ড করেন।
* '''ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, ব্রঙ্কস পুড়ছে।'''
** ১৯৭৭ সালের ওয়ার্ল্ড সিরিজের টেলিকাস্টের সময় হাওয়ার্ড কোসেল বা [[:w:কিথ জ্যাকসন|কিথ জ্যাকসন]] কেউই এই উক্তিটি করেননি। "দ্য ব্রঙ্কস ইজ বার্নিং" বাক্যটির উৎপত্তি পাঁচ বছর আগে ''[[:w:ম্যান অ্যালাইভ (ব্রিটিশ টিভি সিরিজ)|ম্যান অ্যালাইভের]]'' একটি পর্বে, যেখানে ব্রঙ্কসের ফায়ার স্টেশনগুলোর আর্থিক সংকটের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। পরে ওয়ার্ল্ড সিরিজের সময় একটি স্কুল ভবন পুড়ে যাওয়ার ফুটেজ দেখানোর ফলে উক্তিটি কোসেল এবং জ্যাকসনের নামে ভুলভাবে প্রচলিত হয়ে যায়।<ref>{{cite web|last1=ফ্লাড|first1=জো|title=হোয়াই দ্য ব্রঙ্কস বার্নড|url=https://nypost.com/2010/05/16/why-the-bronx-burned/|website=নিউ ইয়র্ক পোস্ট|publisher=NYP Holdings, INC.|date=১৬ মে ২০১০|access-date=৪ জুন ২০১৬}}</ref>
* '''সঙ্গীত নিয়ে লেখা স্থাপত্য নিয়ে নাচার মতো।'''
** এলভিস কস্টেলো বা লরি অ্যান্ডারসন কেউই এই উক্তির প্রবর্তক নন। ১৯১৮ সালের প্রথম দিকেই এই উক্তির বিভিন্ন সংস্করণ ছাপা হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে চালানো হয়েছে।<ref>{{cite news|date=মার্চ ২০০৮|magazine=কিউ|title=৫০ ইয়ারস অফ গ্রেট ব্রিটিশ মিউজিক, এলভিস কস্টেলো ইন্টারভিউ|page=৬৭|quote=ওহ ঈশ্বর! আমি কি দয়া করে ছাপাতে পারি যে আমি ওটা বলিনি! [...] ওটা এখনো আমাকে তাড়া করে ফেরে। সম্ভবত কোনো উক্তির বইতে ওটা আমার নামে দেওয়া আছে।}}</ref><ref>{{cite news |title=গেটিং ইন টিউন উইথ লাইফস বিগার কোয়েশ্চেনস |url=https://www.smh.com.au/entertainment/art-and-design/getting-in-tune-with-lifes-bigger-questions-20040820-gdjl2e.html |work=দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড |date=আগস্ট ২০, ২০০৪ |quote=এলভিস কস্টেলো বিখ্যাতভাবে বলেছিলেন যে সঙ্গীত নিয়ে লেখা স্থাপত্য নিয়ে নাচার মতো।}}</ref><ref name="Keyes">{{cite book |last1=কিয়েস |first1=র্যালফ |title=দ্য কোট ভেরিফায়ার: হু সেইড হোয়াট, হোয়্যার, অ্যান্ড হোয়েন |date=২০০৭ |publisher=সেন্ট মার্টিনস |isbn=9781429906173 |page=২৫৬ |url=https://books.google.com/books?id=d6JZryGvfxYC&pg=PA256}}</ref>
* '''ফেনোমেনন - ডু, ডুউ, ডু-ডু-ডু'''
** যদিও এই নামে পরিচিত গানটি 'মাপ্পেট শোতে' বেশ কয়েকবার প্রদর্শিত হয়েছে, তবে এটি মূলত পিয়েরো উমিলিয়ানির সৃষ্টি এবং একটি সফটকোর পর্ন চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।<ref name="CBC-Mahna">{{cite web |last1=সিবিসি রেডিও |title=মাহনা মাহনা অ্যাট ৫০: ফ্যাসিনেটিং ফ্যাক্টস অ্যাবাউট দ্য আনফরগেটেবল মাপেটস সং |url=[https://www.cbc.ca/radio/q/blog/mahna-mahna-at-50-fascinating-facts-about-the-unforgettable-muppets-song-1.5375722](https://www.cbc.ca/radio/q/blog/mahna-mahna-at-50-fascinating-facts-about-the-unforgettable-muppets-song-1.5375722) |date=২০ নভেম্বর ২০১৯ |publisher=সিবিসি |access-date=১ মে ২০২৬}}</ref> মূল গানের শিরোনাম এবং লিরিক্স উভয়ই ছিল "মাহনা মাহনা", যার কোনো অর্থ নেই; পরবর্তীতে মাপ্পেট শোতে মূল শব্দের ওপর ভিত্তি করে কৌতুক হিসেবে "ফেনোমেনন" শব্দটি যুক্ত করা হয়।
* '''[[রিঙ্গো স্টার|রিঙ্গো]] বিশ্বের সেরা ড্রামার নন; এমনকি তিনি বিটলসেরও সেরা ড্রামার নন।'''
** এটি ভুলভাবে [[জন লেননের]] উক্তি হিসেবে চালানো হয়। আবার অনেকে জ্যাসপার ক্যারটকেও এর কৃতিত্ব দেন, যিনি সম্ভবত ১৯৮৩ সালে তাঁর বিবিসি শো 'ক্যারট'স লিবে' এটি বলেছিলেন।
** এই কৌতুকটির প্রকৃত উৎস হলো ১৯৮১ সালের বিবিসি রেডিও ৪ এর কমেডি শো 'রেডিও অ্যাক্টিভ', যা জেফরি পারকিন্স লিখেছিলেন এবং ফিলিপ পোপ এটি উচ্চারণ করেছিলেন।<ref>{{Cite web|url=https://www.radiox.co.uk/artists/beatles/did-john-lennon-say-ringo-wasnt-even-best-drummer/|title=Did John Lennon really say Ringo “Wasn’t Even The Best Drummer In The Beatles”?|website=Radio X|date=July 7, 2024|access-date=September 9, 2025}}</ref>
== উৎসবিহীন, যাচাইহীন বা অন্যান্য অনুমানসমূহ ==
:''এগুলো সরাসরি ভুল উদ্ধৃতি নাও হতে পারে, বরং জনপ্রিয় সংস্কৃতির কিছু ক্যাচফ্রেজ বা চটুল বাক্য হতে পারে, যেগুলোকে প্রাসঙ্গিক এবং স্মরণীয় করার জন্য কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে।''
* '''"যে বাড়িতে একটি লাইব্রেরি আছে, সেই বাড়ির একটি আত্মা আছে।"'''
** ১৮৭৭ সালে রবার্ট জি. ইনগারসোল তাঁর "দ্য লিবার্টি অফ অল" লেখায় এটি প্লেটোর উক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু প্লেটোর কোনো লেখায় এটি পাওয়া যায় না।
* '''"নরক হলো এমন এক সত্য যা খুব দেরিতে দেখা যায়।"'''
** এটি থমাস হবসের 'লেভিয়াথানের' উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু বইটিতে এটি নেই।
* '''"দুষ্টদের কোনো বিশ্রাম নেই।"'''
** এটি সম্ভবত ইসাইয়া ৫৭:২১ এর একটি বিকৃতি: "আমার ঈশ্বর বলেন, দুষ্টদের জন্য কোনো শান্তি নেই।"
* '''"মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা এবং পরিসংখ্যান"'''
** ১৯০৬ সালে মার্ক টোয়েন এটি জনপ্রিয় করেন এবং তিনি ভুলবশত এই উক্তিটির কৃতিত্ব বেঞ্জামিন ডিসরায়েলিকে দেন। ১৮৮৫ সালের শেষদিকে এর একটি ভিন্ন রূপ পাওয়া যায় যেখানে সাক্ষীদের "মিথ্যাবাদী, ডাহা মিথ্যাবাদী এবং বিশেষজ্ঞ" হিসেবে ভাগ করা হয়েছিল। ১৮৯১ সালের দিকে এটি বর্তমান প্রচলিত রূপ পায়। এই বাক্যটি আসলে কে প্রথম তৈরি করেছিলেন তার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না।
* '''"বিক্রির জন্য: শিশুর জুতো, যা কখনোই পরা হয়নি।"'''
** এই ছয় শব্দের ছোট গল্পটি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মৃত্যুর কয়েক দশক পর তাঁর নামে চালানো শুরু হয়। ১৯১০ সালের একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে একজন শিশুর মৃত্যুর খবরের সাথে অনুরূপ একটি বাক্যের প্রথম দেখা মেলে: "শিশুর হাতে তৈরি প্যান্ট এবং বিছানা বিক্রির জন্য। কখনো ব্যবহার করা হয়নি।"
* '''"আমি ভয় পাচ্ছি আমরা কেবল একটি ঘুমন্ত দানবকে জাগিয়ে তুলেছি এবং তাকে এক ভয়াবহ সংকল্পে পূর্ণ করেছি।"'''
** এটি ১৯৪১ সালের [[:w:পার্ল হারবার আক্রমণ|পার্ল হারবার আক্রমণ]] নিয়ে জাপানি অ্যাডমিরাল ইসোরোকু ইয়ামামোতোর উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়। এটি প্রথম ১৯৭০ সালের চলচ্চিত্র ''[[তোরা! তোরা! তোরা!]]'' এবং পরবর্তীতে ২০০১ সালের ''হারবার'' চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়। আক্রমণটি নিয়ে তাঁর অনুভূতি এমন থাকলেও, ইয়ামামোতো এটি কোথাও বলেছিলেন বা লিখেছিলেন এমন কোনো ছাপানো প্রমাণ নেই।
* '''"বন্ধু, বিশ্বকাপটা ফেলে দিয়ে কেমন লাগছে?"'''
** এটি হার্শেল গিবস একটি ক্যাচ মিস করার পর স্টিভ ওয়াহ তাঁকে বলেছিলেন বলে দাবি করা হয়, যার ফলে ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিটকে যায়। কিছু অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার এমন বিনিময় শুনেছেন বলে দাবি করলেও স্টিভ ওয়াহ নিজে এটি বলার কথা অস্বীকার করেছেন।
* '''"কারণ এটি সেখানে আছে"'''
** কেন তিনি এভারেস্টে চড়তে চান—এমন প্রশ্নের উত্তরে জর্জ ম্যালোরি এটি বলেছিলেন বলে প্রচলিত আছে। তবে এই উক্তির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এটি কোনো সংবাদ প্রতিবেদকের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন হতে পারে।
* '''"এটি একটি অদ্ভুত পুরনো খেলা"'''
** জিমি গ্রিভস তাঁর আত্মজীবনী 'গ্রিভসিতে' জোর দিয়ে বলেছেন যে, এটি নিয়মিত তাঁর উক্তি হিসেবে চালানো হলেও তিনি এটি কখনোই ব্যবহার করেননি। সম্ভবত আশির দশকের মাঝামাঝি 'স্পিটিং ইমেজ' অনুষ্ঠানের একটি ট্রেলার থেকে এই ভুল উদ্ধৃতির সূত্রপাত।
* '''"ক্ষমতা দুর্নীতি করে; আর পরম ক্ষমতা পরমভাবে দুর্নীতি করে।"'''
** এটি ১৯ শতকের ব্রিটিশ ঐতিহাসিক লর্ড অ্যাক্টনের একটি উক্তির ভুল সংস্করণ। তিনি আসলে লিখেছিলেন: "ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত করার প্রবণতা রাখে; পরম ক্ষমতা পরমভাবে দুর্নীতি করে। মহৎ ব্যক্তিরা প্রায় সবসময়ই খারাপ মানুষ হয়ে থাকেন।"
* '''"বিম মি আপ, স্কটি বা Beam me up, Scotty"''' – জেমস টি. কার্ক
** 'স্টার ট্রেক' টেলিভিশন সিরিজের জনপ্রিয় এই উক্তিটি মূল সিরিজে কখনোই হুবহু এভাবে বলা হয়নি। সেখানে "Energize", "Beam me aboard" বা "Beam us up home" এর মতো বাক্য ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ''স্টার ট্রেক: দ্য অ্যানিমেটেড সিরিজে'' "Beam us up, Scotty" বাক্যটি শোনা যায়। ১৯৯৬ সালে স্কটি চরিত্রে অভিনয় করা জেমস ডুহান তাঁর আত্মজীবনীর শিরোনাম হিসেবে এই ভুল উদ্ধৃতিটিই বেছে নিয়েছিলেন।
* '''"ধ্যাত জিম! আমি একজন ডাক্তার, আমি কোনো... নই"''' – লিওনার্ড ম্যাককয়
** 'স্টার ট্রেক' সিরিজের এই বাক্যে ম্যাককয় কখনোই "damn it" (ধ্যাত) শব্দটি ব্যবহার করেননি। মূল সিরিজে একমাত্র গালি হিসেবে "hell" ব্যবহৃত হয়েছিল। সম্ভবত স্যাটারডে নাইট লাইভের একটি প্যারোডি স্কেচ থেকে এই "damn it" যুক্ত বাক্যটি জনপ্রিয় হয়। অবশ্য ২০০৯ সালের ''স্টার ট্রেক'' চলচ্চিত্রে এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
* '''"চকচক করলেই সোনা হয় না"''' – [[উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]]
** সঠিক উক্তি: "All that glisters is not gold" (এখানে glisters ব্যবহৃত হয়েছে, glitters নয়)। এটি 'দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিসে' মরক্কোর রাজপুত্র বলেছিলেন।
** লেড জেপলিনের গান "Stairway to Heaven" এ বলা হয়েছে, "all that glitters is gold"।
** 'লর্ড অফ দ্য রিংস' এর একটি কবিতায় বলা হয়েছে, "All that is gold does not glitter", যা আরাগর্ন চরিত্রটিকে নির্দেশ করে।
** স্ম্যাশ মাউথের গান "অল স্টারের" কোরাসেও "All that glitters is gold" বাক্যটি পাওয়া যায়।
* '''"রক্ত, ঘাম এবং অশ্রু"''' – [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]
** সঠিক উক্তি: "রক্ত, পরিশ্রম, অশ্রু এবং ঘাম ছাড়া আমার দেওয়ার মতো আর কিছুই নেই।"
** এই বাক্যটি থিয়া ফন হার্বোর লেখা 'মেট্রোপলিস' (১৯২৬) বইতেও পাওয়া যায়। মেট্রোপলিসের যন্ত্র সচল রাখতে প্রথম দিনের কাজ শেষে ফ্রেডার ফ্রেডারসেনের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছিল, "সে তার ঠোঁটে নোনতা স্বাদ অনুভব করল এবং বুঝতে পারল না যে এটি রক্ত, ঘাম নাকি অশ্রু ছিল।"
** টীকা: চার্চিলের একটি ভাষণেও অনুরূপ উক্তি পাওয়া যায় যেখানে তিনি বলেছিলেন, "আমি রক্ত, ঘাম এবং অশ্রু ছাড়া আর কিছুর প্রতিশ্রুতি দিইনি..."।
** এছাড়া ১৯৬৩ সালে জনি ক্যাশ এই নামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড বিটিএস এই নামে একটি গান মুক্তি দেয়।
* '''"আল্লাহ তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেরা নিজেদেরকে সাহায্য করে।"'''
** এটি বাইবেলের কোনো উক্তি নয়, বরং এটি একটি প্রাচীন প্রবাদ যা বিভিন্ন সংস্কৃতিতে পাওয়া যায়। ১৭৩৬ সালে [[:w:বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন|বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের]] 'পুওর রিচার্ড'স অ্যালম্যানাকে' এটি স্থান পায়।
** ঈশপের গল্প "হারকিউলিস এবং গাড়িচালকেও" একই বার্তা পাওয়া যায়, যার নৈতিক শিক্ষা ছিল— "ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেদের সাহায্য করে।"
** জেনোফনের 'সাইরোপেডিয়া' এবং [[:w:কোরআনে|আল-কোরআনের]] সূরা আর-রাদেও (আয়াত ১১) অনুরূপ ধারণা ব্যক্ত হয়েছে: "...নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরাই পরিবর্তন করে..."।
* '''"এগিয়ে চলো, ম্যাকডাফ"'''
** সঠিক উক্তি: "লড়াই করো, ম্যাকডাফ... – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:ম্যাকবেথ|ম্যাকবেথ]]'')
** বাক্যটির প্রথম লিখিত ব্যবহার ১৮৫৫ সালের দিকে পাওয়া যায়।
* '''"বাবল বাবল, টয়েল অ্যান্ড ট্রাবল।"'''
** সঠিক উক্তি: "ডাবল, ডাবল টয়েল অ্যান্ড ট্রাবল " – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:ম্যাকবেথ|ম্যাকবেথ]]'')
** ডিজনি কার্টুন 'ডাকটেলসে' জাদুকরীদের মুখে এই "বাবল, বাবল" উক্তিটি জনপ্রিয় হয়।
* '''"আমার মনে হয়, নারীটি একটু বেশিই প্রতিবাদ করে ফেলছে!"'''
** সঠিক উক্তি: "যতটা প্রয়োজন, ভদ্রমহিলা তার চেয়েও বেশি আপত্তি দেখাচ্ছেন—ঘটনা নিশ্চয়ই অন্য কিছু।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
** শেক্সপীয়ারের সময়ে "প্রটেস্ট" শব্দের অর্থ ছিল "দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করা" বা "প্রতিজ্ঞা করা", বর্তমানের মতো কোনো কিছু "অস্বীকার করা" নয়। এখানে রানী গারট্রুড নাটকের রানীর অতিশয় আবেগের বিষয়ে মন্তব্য করছিলেন।
* '''"টাকাই সব অনর্থের মূল।"'''
** মূল বক্তব্য: "বরং টাকার প্রতি মোহ-ই সব অনর্থের মূল।" (১ টিমোথি ৬:১০, কিং জেমস বাইবেল)
** সব অনুবাদই একমত যে, টাকা নিজে মন্দ নয়, বরং টাকার প্রতি অতিরিক্ত 'লোভ' বা 'মোহ' মন্দের সাথে জড়িত।
* '''"এখন আমাদের অসন্তোষের শীতকাল।"'''
** মূল বক্তব্য: "Now is the winter of our discontent / Made glorious summer by this son of York." – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:তৃতীয় রিচার্ড (নাটক)|তৃতীয় রিচার্ড]]'')
** এটি মূলত একটি অসম্পূর্ণ উদ্ধৃতি। পুরো বাক্যে বলা হয়েছে যে, ইয়র্কের এই সন্তানের (এখানে সূর্যের সাথে একটি শব্দালঙ্কার করা হয়েছে) কারণে আমাদের অসন্তোষের শীতকাল এখন গৌরবময় গ্রীষ্মে পরিণত হয়েছে।
* '''"হায়, বেচারা ইয়োরিক! আমি তাকে খুব ভালো করে চিনতাম।"'''
** সঠিক উক্তি: "আমাদের অসন্তোষের এই যে হিমশীতল শীতকাল—ইয়র্কের এই সুযোগ্য সন্তানের আগমনে তা আজ এক মহিমান্বিত গ্রীষ্মে রূপ নিয়েছে!" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
* '''"স্যাম, ওটা আবার বাজাও"'''
** প্রকৃত উক্তি: "স্যাম, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে একবার বাজাও, 'অ্যাজ টাইম গোজ বাই' গানটি বাজাও।" – ইনগ্রিড বার্গম্যান (''ক্যাসাব্লাঙ্কা'')
** হামফ্রে বোগার্ট বলেছিলেন: "তুমি ওর জন্য বাজিয়েছ, এখন আমার জন্য বাজাতে পারো... ও যদি শুনতে পারে, তবে আমিও পারব। বাজাও।"
** ১৯৪৬ সালের মার্ক্স ব্রাদার্সের সিনেমা 'এ নাইট ইন ক্যাসাব্লাঙ্কা' থেকে সম্ভবত এই ভুল উদ্ধৃতিটির জন্ম।
* '''"মিস্টার ডিমিল, আমি আমার ক্লোজ-আপ শটের জন্য তৈরি।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "ঠিক আছে মিস্টার ডিমিল, আমি আমার ক্লোজ-আপ শটের জন্য তৈরি" – গ্লোরিয়া সোয়ানসন (''সানসেট বুলেভার্ড'')
* '''"লোভ ভালো।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, মূল কথা হলো— উন্নত শব্দের অভাবে বলছি— লোভ ভালো। লোভ সঠিক, লোভ কাজে দেয়।" – গর্ডন গেক্কো (''ওয়াল স্ট্রিট'')
* '''"কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!"'''
** সঠিক উক্তি: "কেউ আমাদের ওপর ফাঁদ পেতেছে, পাতা হয়েছে বোমা—শেষ অপেক্ষার পালা, এবার পাল্টা আঘাতের সময়!!"
** একটি ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশনের কারণে "কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!" রূপটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
** 'এম্পায়ার আর্থ' গেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেতার জন্য "কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!" বাক্যটি একটি চিট কোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
** টীকা: এটি জাপানি ভিডিও গেম ''[[:w:জিরো উইং|জিরো উইংয়ের]]'' একটি অত্যন্ত কাঁচা এবং হাস্যকর ইংরেজি অনুবাদ থেকে এসেছে। মূল জাপানি বাক্যটি ছিল স্বাভাবিক, যার অর্থ দাঁড়ায়— "মনে হচ্ছে কেউ এখানে বিস্ফোরক স্থাপন করেছে।" একই গেমের "[[:w:আপনার সমস্ত ঘাঁটি এখন আমাদের দখলে|আপনার সমস্ত ঘাঁটি এখন আমাদের দখলে]]" উক্তিটিও একইভাবে বিখ্যাত।
* '''"বাকিটুকু নীরবতা... বাকিটুকুও বিজ্ঞান!"'''
** সঠিক উক্তি: "বাকিটুকু কেবল নীরবতা।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
** টীকা: এই বাক্যটি অনেক সময় শব্দের খেলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন জাজ শিল্পী স্টিভ সোয়ালো জাজ কম্পোজিশন সম্পর্কে বলেছিলেন, "শেষ পর্যন্ত একটি আইডিয়া চলেই আসে, আর বাকিটুকু স্রেফ বিজ্ঞান।"
* '''"লিলি ফুলকে ঝলক দেয়"'''
** সঠিক উক্তি: "খাঁটি সোনায় ঝিলিক দেওয়া, কিংবা পদ্মকে রঙে রাঙানো।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:কিং জন|কিং জন]]'')
** শেক্সপীয়ার মূলত বাইবেলের একটি কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে এটি লিখেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছে যে ঈশ্বর লিলি ফুলকে যেভাবে তৈরি করেছেন তাতে নতুন কিছু যোগ করার প্রয়োজন নেই।
* '''"আপনি কেন মাঝেমধ্যে আমার এখানে এসে দেখা করেন না?"'''
** সঠিক উক্তি: "সময় পেলে কোনো একদিন এসো না আমার এখানে? প্রতি সন্ধ্যায় তো আমি ঘরেই থাকি।" – মে ওয়েস্ট (''শী ডান হিম রং'')
** তিনি তাঁর পরের ছবি 'আই অ্যাম নো অ্যাঞ্জেলে' শব্দগুলোর ক্রম পরিবর্তন করে বলেছিলেন।
** 'টম অ্যান্ড জেরি' কার্টুনের একটি যান্ত্রিক ইঁদুরকেও এই বাক্যটি বারবার বলতে শোনা যায়।
* '''"আমি কোনো প্রতারক নই"''' – [[:w:রিচার্ড নিক্সন|রিচার্ড নিক্সন]]
** এটি প্রায়ই [[:w:ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি|ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি]] সংক্রান্ত তাঁর কোনো সাফাই হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এটি বলেছিলেন। তাঁর সঠিক উক্তিটি ছিল: "জনগণের জানা উচিত তাদের প্রেসিডেন্ট প্রতারক কি না। আমি কোনো প্রতারক নই।"
* '''"তুই এক নোংরা ইঁদুর!"'''
** [[:w:জেমস ক্যাগনি|জেমস ক্যাগনি]] কোনো চলচ্চিত্রেই হুবহু এই বাক্যটি বলেননি। তবে 'ব্লন্ড ক্রেজি' (১৯৩১) ছবিতে তিনি অন্য একটি চরিত্রকে "dirty, double-crossing rat" বলেছিলেন।
** 'ট্যাক্সি! ট্যাক্সি!' (১৯৩২) ছবিতে তিনি তাঁর ভাইকে হত্যাকারী ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "বাইরে এসে লড়ো, তুই নোংরা পীত-হৃদয় ইঁদুর!" এটিই মূল প্রেক্ষাপটের সবচেয়ে কাছাকাছি উক্তি। পরবর্তীতে 'টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলসে' মিকেলেঞ্জেলো চরিত্রটি ক্যাগনিকে অনুকরণ করতে গিয়ে এই ভুল উক্তিটি ব্যবহার করে।
* '''"রয়্যাল নেভির একমাত্র ঐতিহ্য হলো রাম (মদ), পুংমৈথুন এবং চাবুক।"'''
** [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের] ব্যক্তিগত সচিব অ্যান্থনি মন্টেগু-ব্রাউন জানিয়েছিলেন যে, চার্চিল এটি কখনোই বলেননি, তবে তিনি আফসোস করে বলেছিলেন যে ইশ! যদি তিনি এটি বলতেন।
* '''"একটি ভাষা হলো নৌবাহিনী সমৃদ্ধ একটি উপভাষা।"'''
** মূল উক্তি (ইদিশ ভাষায়): "אַ שפּראַך איז אַ דיאַלעקט מיט אַן אַרמיי און פֿלאָט" (একটি ভাষা হলো সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনী সমৃদ্ধ একটি উপভাষা)।
** এটি অটো ফন বিসমার্ক বলেননি, বরং ভাষাবিদ ম্যাক্স ওয়াইনরিখ এটি বলেছিলেন।
* '''"নরকের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থানগুলো তাদের জন্য সংরক্ষিত যারা বড় ধরনের নৈতিক সংকটের সময় নিরপেক্ষ থাকে।"'''
** জন এফ. কেনেডি এটি বলেছিলেন এবং তিনি এর কৃতিত্ব [[:w:দান্তে আলিগিয়েরি|দান্তেকে]] দিয়েছিলেন। কিন্তু দান্তের 'ডিভাইন কমেডিতে' যারা নিরপেক্ষ ছিল তাদের স্থান দেওয়া হয়েছে নরকের প্রবেশদ্বারে, যা কোনোভাবেই উত্তপ্ত নয়। অন্যদিকে নরকের সর্বনিম্ন বা সবচেয়ে ভয়াবহ স্থানটি ছিল তুষারে জমাট বাঁধা হ্রদ, যা বিশ্বাসঘাতকদের জন্য নির্ধারিত।
* '''"একদম ঘাড়ের ওপর দিয়ে যাওয়া জয়"''' – আর্থার ওয়েলেসলি (ডিউক অফ ওয়েলিংটন)
** ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে জয়ের পর তিনি আসলে বলেছিলেন, "এটি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি বিষয়—আমার দেখা সবচেয়ে কাছাকাছি লড়াই..."। এখানে তিনি জয়টি কতটা কঠিন ছিল তা বোঝাতে 'nice' শব্দটি প্রাচীন অর্থে (সুক্ষ্ম বা নিখুঁত) ব্যবহার করেছিলেন।
* '''"নিজেকে কি ভাগ্যবান মনে হয়, ছোকরা?"''' – [[:w:ক্লিন্ট ইস্টউড|ক্লিন্ট ইস্টউড]] (''ডার্টি হ্যারি'')
** সঠিক উক্তি এবং প্রেক্ষাপট: "আমি জানি তুমি কি ভাবছ: 'সে কি ছয়টি গুলি চালিয়েছে নাকি পাঁচটি?' সত্যি বলতে, এই উত্তেজনার চোটে আমি নিজেও হিসাব হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু যেহেতু এটি একটি .৪৪ ম্যাগনাম—বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যান্ডগান যা তোমার মাথা উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট—তাই তোমাকে নিজেকে একটি প্রশ্ন করতে হবে: 'আমি কি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি?' কি মনে হয়, ছোকরা?"
** 'দ্য মাস্ক' চলচ্চিত্রে জিম ক্যারি এই উক্তিটির সঠিক রূপের বেশ কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন।
<div id="revolver">
* '''"যখনই আমি 'সংস্কৃতি' শব্দটি শুনি, আমি আমার রিভলভারের দিকে হাত বাড়াই।"'''
** প্রকৃত উক্তিটি হলো— "Wenn ich Kultur höre ... entsichere ich meinen Browning!" এর অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: "যখনই আমি 'সংস্কৃতি' (শব্দটি) শুনি... আমি আমার ব্রাউনিংয়ের সেফটি লক খুলে ফেলি!"
** এই উক্তিটি প্রায়ই ভুলবশত শীর্ষস্থানীয় নাৎসি নেতা হার্মান গোয়েরিং অথবা মাঝেমধ্যে [[:w:জুলিয়াস স্ট্রাইচার|জুলিয়াস স্ট্রাইচারের]] নামে চালানো হয়। এই ভুল প্রচার সম্ভবত [[:w:ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রা|ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রার]] বিখ্যাত তথ্যচিত্র থেকে শুরু হয়েছে, যা যুদ্ধের আগে আমেরিকান সৈন্যদের দেখানো হতো।
** বাস্তবে, এটি [[:w:হানস জোহস্ট|হানস জোহস্টের]] লেখা 'শ্লাগেটার' নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে থিম্যান নামক একটি চরিত্রের সংলাপ। তবে নাৎসিবাদের সাথে এর সম্পর্ক থাকাটা যৌক্তিক, কারণ নাটকটি ১৯৩৩ সালের এপ্রিলে [[:w:হিটলার|হিটলারের]] জন্মদিনের সম্মানে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল।
** হিটলার ইয়ুথের প্রধান বলদুর ফন শিরাখ ১৯৩৮ সালের দিকে একটি জনসভায় এই বাক্যটি উচ্চারণ করেছিলেন। ফ্রেডেরিক রোসিফের তথ্যচিত্র 'ফ্রম নুরেমবার্গ টু নুরেমবার্গে' একটি ফুটেজ দেখা যায় যেখানে ফন শিরাখ এটি বলার সময় সত্যি সত্যি বন্দুক বের করছেন।
** টীকা: এটি মূল জার্মান ভাষার চেয়ে ইংরেজিতে অনুবাদের পর আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে 'জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিতে' নিকোলাস এইচ. ব্যাটির একটি নিবন্ধের পর্যালোচনায় হাওয়ার্ড থমাস মূল জার্মান বাক্য এবং এর অনুবাদ পাশাপাশি উল্লেখ করেছিলেন।
** এই বাক্যটি একটি শব্দালঙ্কার হতে পারে, কারণ 'ব্রাউনিং' বলতে পিস্তল এবং ইংরেজ কবি [[:w:রবার্ট ব্রাউনিং|রবার্ট ব্রাউনিং]] উভয়কেই বোঝানো যেতে পারে।
** এছাড়া এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ব্রাউনিং (সম্ভবত এম১৯৩৫ হাই-পাওয়ার) কোনো রিভলভার নয়, বরং এটি একটি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। তবে সেই সময়ে 'ব্রাউনিং' শব্দটি যেকোনো পিস্তল বোঝাতে ব্যবহৃত হতো, ঠিক যেভাবে ওয়েস্টার্ন সিনেমাগুলোতে যেকোনো রিভলভারকে 'কোল্ট' বলা হয়।
</div>
* '''"প্রত্যাখ্যাত নারীর মতো ভয়ংকর উন্মাদনা নরকেও নেই"'''
** সঠিক উক্তিটি হলো: "স্বর্গের এমন কোনো ক্রোধ নেই যা ঘৃণায় রূপান্তরিত প্রেমের মতো / না আছে নরকের এমন উন্মাদনা যা একজন প্রত্যাখ্যাত নারীর মতো।" এটি ১৬৯৭ সালে [[:w:উইলিয়াম কনগ্রিভ|উইলিয়াম কনগ্রিভ]] তাঁর 'দ্য মর্নিং ব্রাইডে' লিখেছিলেন।
* '''"তাদের চোখের সাদা অংশ না দেখা পর্যন্ত গুলি ছুড়বে না।"'''
** এই উক্তিটি সাধারণত নিউ অর্লিন্সের যুদ্ধে অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের বলে মনে করা হয়।
** বাস্তবে, এটি জর্জ ওয়াশিংটনের কন্টিনেন্টাল আর্মির কমান্ডার কর্নেল [[:w:উইলিয়াম প্রেসকট|উইলিয়াম প্রেসকট]] বাঙ্কার হিলের যুদ্ধে বলেছিলেন। পুরো উক্তিটি ছিল, "তাদের চোখের সাদা অংশ না দেখা পর্যন্ত গুলি ছুড়বে না। তারপর, '''নিচু করে গুলি চালাও!'''"
** উৎস: রবার্ট ল্যাকি রচিত 'জর্জ ওয়াশিংটন'স ওয়ার'।
* '''"হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছে"'''
** অ্যাপোলো ১৩ এর কমান্ডার জিম লাভেল এটি বলেছিলেন বলে মনে করা হয়, তবে তাঁর মূল কথা ছিল: "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল। আমাদের মেইন বি বাস আন্ডারভোল্ট হয়েছিল।" তবে হিউস্টনকে সমস্যার কথা প্রথম জানিয়েছিলেন নভোচারী জ্যাক সুইগার্ট, যিনি প্রায় একই শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। নাসার আনুষ্ঠানিক কালানুক্রম অনুযায়ী কথোপকথনটি ছিল এমন:
*** ৫৫:৫৫:২০ – সুইগার্ট: "ঠিক আছে হিউস্টন, এখানে আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল।"
*** ৫৫:৫৫:২৮ – লুসমা: "এটি হিউস্টন। দয়া করে আবার বলুন।"
*** ৫৫:৫৫:৩৫ – লাভেল: "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল। আমাদের মেইন বি বাস আন্ডারভোল্ট হয়েছিল।"
** তবে 'অ্যাপোলো ১৩' চলচ্চিত্রে টম হ্যাঙ্কস বলেন, "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছে।"
* '''"কিসমেত হার্ডি / কিস মি, হার্ডি"''' – ব্রিটিশ ভাইস অ্যাডমিরাল [[:w:হোরেশিও নেলসন|হোরেশিও নেলসন]]
** নেলসন মৃত্যুর সময় "কিসমেত হার্ডি" বা "কিস মি, হার্ডি" বলেছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। 'কিসমেত' শব্দের অর্থ ভাগ্য। তবে ওক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান অনুযায়ী ১৮৪৯ সালের আগে ইংরেজি ভাষায় 'কিসমেত' শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায় না। নেলসন তাঁর ফ্ল্যাগ ক্যাপ্টেন টমাস মাস্টারম্যান হার্ডিকে "কিস মি, হার্ডি" বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো তাঁর শেষ কথা ছিল না। সার্জন উইলিয়াম বিটির মতে নেলসনের প্রকৃত শেষ কথা ছিল: "ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি। পানি, পানি। বাতাস, বাতাস। মালিশ, মালিশ।"
* '''"মন্দের বিজয়ের জন্য একমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিস হলো ভালো মানুষের কিছু না করা"''' – [[:w:এডমন্ড বার্ক|এডমন্ড বার্ক]]
** এটি সম্ভবত দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের ১৮৬৭ সালের একটি বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত রূপ। মিল বলেছিলেন: "মন্দ লোকেরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য ভালো মানুষদের কেবল তাকিয়ে থাকা এবং কিছু না করার চেয়ে বেশি কিছু চায় না।"
** বার্কের 'থটস অন দ্য কজ অফ প্রেজেন্ট ডিসকন্টেন্টে' অনুরূপ অর্থের একটি বাক্য পাওয়া যায়: "যখন মন্দ লোকেরা জোট বাঁধে, তখন ভালো মানুষদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; অন্যথায় তারা এক এক করে তুচ্ছ সংগ্রামে করুণ আত্মত্যাগ হিসেবে ধপাস করে পড়বে।"
** এটি অনেক সময় আলেকজিস ডি টোকভিলের উক্তি হিসেবেও চালানো হয়।
* '''"আমাদের ওই পচা ব্যাজগুলোর দরকার নেই!"''' – 'দ্য ট্রেজার অফ দ্য সিয়েরা মাদ্রে' চলচ্চিত্রের ডাকাত
** মূল উক্তিটি হলো— "ব্যাজ? আমাদের কোনো ব্যাজ নেই! আমাদের ব্যাজের দরকার নেই। আমাকে কোনো পচা ব্যাজ দেখাতে হবে না!"
** এই ভুল সংস্করণটি মূলত 'ব্লেজিং স্যাডলস' চলচ্চিত্রে মূল দৃশ্যটির প্যারোডি হিসেবে জনপ্রিয় হয়। সেখানে মেক্সিকান ডাকাতদের নেতা বলেছিল: "ব্যাজ? আমাদের কোনো পচা ব্যাজের দরকার নেই।"
** উক্তিটি 'দ্য নাইন্থ কনফিগারেশন' এবং উইয়ার্ড আল ইয়ানকোভিকের 'ইউএইচএফ' সিনেমাতেও বিকৃতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি 'ট্রান্সফরমারস' কার্টুনে স্টারস্ক্রিম চরিত্রটিও এর একটি ভিন্ন রূপ ব্যবহার করেছিল।
* '''"শাসন না করলে সন্তান নষ্ট হয়ে যায় ।"'''
** সন্তান পালনে শাসনের গুরুত্ব নিয়ে অনেক প্রবাদ আছে, তবে বাইবেলের (কিং জেমস সংস্করণ) হিতোপদেশ ১৩:২৪ এর সবচেয়ে কাছের সংস্করণটি হলো: "যে শাসন করতে কার্পণ্য করে সে তার সন্তানকে ঘৃণা করে; কিন্তু যে তাকে ভালোবাসে সে সময়মতো তাকে শাসন করে।"
** এই নির্দিষ্ট বাক্যটি ১৬০০ এর দশকে স্যামুয়েল বাটলারের 'হুডিব্রাস' কবিতায় পাওয়া যায়।
* '''"সংকট? কিসের সংকট?"''' – ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী [[:w:জেমস ক্যালাহান|জেমস ক্যালাহান]]
** এটি ছিল ১৯৭৯ সালের ১১ জানুয়ারি 'দ্য সান' পত্রিকার একটি শিরোনাম। দেশে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ক্যালাহান যখন বিদেশ থেকে ফিরছিলেন, তখন এক সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন— "দেশের বর্তমান বিশৃঙ্খলার মুখে আপনার সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি কী?" ক্যালাহান উত্তরে বলেছিলেন— "এটি আপনার বিচার। আমি আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আপনি যদি বাইরে থেকে দেখেন... তবে বিশ্বের অন্য কেউ মনে করবে না যে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে।" ক্যালাহান সরাসরি "কিসের সংকট" শব্দটি ব্যবহার না করলেও পত্রিকাটির এই শিরোনামটি জনমনে গেঁথে যায়।
* '''"কখনও কখনও একটি চুরুট স্রেফ একটি চুরুটই।"'''
** এই উক্তিটি প্রায়ই [[:w:সিগমুন্ড ফ্রয়েড|সিগমুন্ড ফ্রয়েডের]]নামে চালানো হয় এটা বোঝাতে যে, এমনকি একজন বিখ্যাত মনোবিশ্লেষকও স্বীকার করতে পারেন যে সবকিছুরই গভীর কোনো অর্থ থাকে না; তবে তাঁর কোনো লেখায় এই উক্তির কোনো বৈচিত্র্য কখনোই পাওয়া যায় না। তাঁর মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর এটি ভুলভাবে তাঁর নামে প্রচলিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। [http://quoteinvestigator.com/2011/08/12/just-a-cigar/]
** [[:w:রুডইয়ার্ড কিপলিং|রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের]] 'দ্য বেট্রোথড' কবিতা থেকে একটি বিকল্প:
<blockquote>
:"লক্ষ লক্ষ উদ্বৃত্ত ম্যাগি জোয়াল বইতে ইচ্ছুক;
:আর একজন নারী স্রেফ একজন নারীই, কিন্তু একটি ভালো চুরুট হলো প্রশান্তির ধোঁয়া।"
</blockquote>
* '''"সবসময় সুসমাচার প্রচার করো, আর যদি প্রয়োজন হয় তবেই শব্দ ব্যবহার করো।"'''
** এটি প্রায়ই [[:w:ফ্রান্সিস অফ আসিসি|ফ্রান্সিস অফ আসিসির]] উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়, তবে এই উক্তির প্রকৃত উৎস অজানা।
* '''"আমাকে একজন তরুণ রক্ষণশীল দেখাও, আমি তোমাকে এমন একজনকে দেখাব যার হৃদয় নেই। আমাকে একজন বৃদ্ধ উদারপন্থী দেখাও, আমি তোমাকে এমন একজনকে দেখাব যার মস্তিষ্ক নেই।"'''
** এটি প্রায়ই [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয় ([http://www.winstonchurchill.org/learn/speeches/quotations/quotes-falsely-attributed])। এই বাক্যটির আদি উৎস হলো ফ্রাঁসোয়া গিজো (১৭৮৭-১৮৭৪): "বিশ বছর বয়সে প্রজাতন্ত্রপন্থী না হওয়া হৃদয়ের অভাবের প্রমাণ; ত্রিশ বছর বয়সেও তা থাকা বুদ্ধির অভাবের প্রমাণ।" পরবর্তীতে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লেমেনসো (১৮৪১-১৯২৯) এটি পুনরায় ব্যবহার করেন: "বিশ বছর বয়সে সমাজতন্ত্রী না হওয়া হৃদয়ের অভাব; ত্রিশ বছর বয়সেও তা থাকা বুদ্ধির অভাব।"
** ১৯৯৪ সালের চলচ্চিত্র [[:w:সুইমিং উইথ শার্কস|সুইমিং উইথ শার্কসে]] এর উল্লেখ পাওয়া যায় এভাবে— "যদি তুমি ২০ বছর বয়সে বিদ্রোহী না হও তবে তোমার হৃদয় নেই, কিন্তু যদি তুমি ৩০ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থায় না ফেরো তবে তোমার মস্তিষ্ক নেই।"
* '''"আমি আজ সকালে ঘুম থেকে উঠলাম এবং নিজের জন্য একটি বিয়ার নিলাম।"'''
** [[:w:দ্য ডোরস|দ্য ডোরস]] ব্যান্ডের সদস্য [[:w:রে মানজারেক|রে মানজারেকের]] লেখা [[:w:লাইট মাই ফায়ার (বই)|''লাইট মাই ফায়ার'']] বই অনুযায়ী, [[:w:জিম মরিসন|জিম মরিসন]] আসলে গেয়েছিলেন "আমি আজ সকালে উঠলাম এবং আমার দাড়ি গজালো", কারণ গানটি মরিসনের ৩ সপ্তাহের মাদকাসক্ত ঘুম থেকে জেগে ওঠার গল্প বলে মনে করা হয়।
** "আমি আজ সকালে উঠলাম এবং নিজের জন্য একটি বিয়ার নিলাম" লাইনটি [[:w:এলিস কুপার|এলিস কুপার]] দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। মরিসন গানটি রেকর্ড করার ঠিক আগে স্টুডিওতে তাঁর সাথে কথা বলছিলেন। তিনি এলিসকে তাঁর দিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন— "উমম.. আজ সকালে উঠলাম.... নিজের জন্য একটা বিয়ার নিলাম।" মরিসন গানে লাইনটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এলিস কুপারের অনেক সাক্ষাৎকারে এটি বারবার বলা হয়েছে। [http://www.uncut.co.uk/news/the_doors/news/11838]
* '''"তাকে তার আরামকেদারায় ধরো, তুমি তার রোগ অনুভব করতে পারবে।"'''
** ১৯৬৯ সালের গান "কাম টুগেদারে" [[:w:দ্য বিটলস|দ্য বিটলসের]] সদস্য [[:w:জন লেনন|জন লেননের]] মূল লিরিক্স ছিল— "তাকে তার বাহুতে ধরো, তুমি তার রোগ অনুভব করতে পারবে।" কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটি 'আরামকেদারা' শুনতে পাওয়ায় লেনন বলেছিলেন যে ওই লিরিক্সটিও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য। [https://ultimateclassicrock.com/the-beatles-come-together-lyrics-uncovered/]
* '''"তাদের কেক খেতে দাও।"'''
** [[:w:মারি অঁতোয়ানেত|মারি অঁতোয়ানেত]] কখনোই এটি বলেননি। [[:w:জঁ-জাক রুসো|জঁ-জাক রুসো]] ১৭৮৩ সালে তাঁর আত্মজীবনী 'কনফেশনসে' উল্লেখ করেন যে, "এক মহান রাজকুমারী" ক্ষুধার্ত কৃষকদের সম্পর্কে বলেছিলেন— "যদি তাদের রুটি না থাকে, তবে তাদের কেক (ব্রায়োশ) খেতে দাও।" ধারণা করা হয় তিনি আসলে স্পেনের মারিয়া তেরেসার কথা বলছিলেন। (রুসোর পাণ্ডুলিপিটি ১৭৬৭ সালে লেখা হয়েছিল, যখন মারি অঁতোয়ানেতের বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর এবং ভবিষ্যতে লুই ১৬ এর সাথে তাঁর বিয়ে হতে তখনও তিন বছর বাকি ছিল।)
* '''"তুমি সত্য জানতে চাও? তুমি সত্য সহ্য করার ক্ষমতা রাখো না!"'''
** [[:w:জ্যাক নিকোলসন|জ্যাক নিকোলসন]] 'এ ফিউ গুড মেন' চলচ্চিত্রে এই উক্তির দ্বিতীয় অংশটি বললেও সংলাপের সঠিক ক্রম ছিল: "তুমি কি উত্তর চাও?" "আমি সত্য চাই!" "তুমি সত্য সহ্য করতে পারবে না!" ক্রুজের চরিত্র যখন জিজ্ঞাসা করে যে সে কি উত্তরের অধিকারী, তখন তাকে আবারও জিজ্ঞেস করা হয় সে উত্তর চায় কি না, এবং উত্তরে ক্রুজ বলে সে সত্য চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিকোলসনের সেই বিখ্যাত ভাষণ শুরু হয়— "তুমি সত্য সহ্য করতে পারবে না!" এই ভুল উদ্ধৃতিটি প্রায়ই বিভিন্ন প্যারোডিতে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে [[:w:দ্য সিম্পসন্স|দ্য সিম্পসন্সে]] দুইবার দেখা গেছে। [http://www.imdb.com/title/tt0112384/quotes?qt0476805]
* '''"হ্যালো, ক্ল্যারিস।"'''
** 'দ্য সাইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্বস' চলচ্চিত্রের প্যারোডিতে এটি মাঝেমাঝে ব্যবহৃত হলেও মূল সিনেমায় [[:w:হানিবাল লেক্টর|হানিবাল লেক্টর]] কখনোই এটি বলেননি। তবে অ্যান্থনি হপকিন্স একবার অনুরূপ বাক্য "শুভ সন্ধ্যা, ক্ল্যারিস" বলেছিলেন। অন্যদিকে সিক্যুয়েল ছবি [[:w:হানিবাল (চলচ্চিত্র)|হানিবালে]] ডক্টর লেক্টর যখন ডিটেকটিভ পাজির ফোন ধরেন, ঠিক তাকে ব্যালকনি থেকে ফেলে দেওয়ার আগে এজেন্ট স্টারলিংকে অভিবাদন জানাতে গিয়ে বলেছিলেন— "তুমি কি ক্ল্যারিস? আচ্ছা, হ্যালো ক্ল্যারিস..."
* '''"দেখলে তো, তুমি আমাকে আবারও কী চমৎকার বিপদে ফেললে"'''
** এটি [[:w:অলিভার হার্ডি|অলিভার হার্ডির]] উক্তি হিসেবে পরিচিত যা তিনি [[:w:স্ট্যান লরেল|স্ট্যান লরেলের]] ভুলের পর বলতেন।
** প্রকৃত উক্তিটি ছিল— "Well, here's another '''nice''' mess you've gotten me into!" (এখানে 'fine' এর বদলে 'nice' ব্যবহৃত হয়েছিল)। ১৯৩০ সালের ছবি [[:w:দ্য লরেল-হার্ডি মার্ডার কেস|দ্য লরেল-হার্ডি মার্ডার কেসে]] এটি বলা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায়। এই ছবির ঠিক পরেই 'অ্যানাদার ফাইন মেস' নামে একটি ছবি আসায় সম্ভবত বিভ্রান্তিটি তৈরি হয়।
** রে স্টিভেন্স পরবর্তীতে একটি গান রেকর্ড করেন যেখানে এই উদ্ধৃতিটি ছিল— "Here's another fine mess you've gotten me into / another fine mess, ah well, what else is new."
** বাস্তবে এটি ১৮৮৫ সালের অপেরা 'দ্য মিকাডোতে' ডব্লিউ. এস. গিলবার্ট প্রথম লিখেছিলেন। ([https://archive.org/details/mikadolibrettoof00sulluoft/page/36 লিব্রেটো দেখুন], দ্বিতীয় অঙ্ক দ্রষ্টব্য)। আদি সংলাপটি ছিল— "Well, a nice mess you've got us into, ..." যা কো-কো চরিত্রটি পুহ-বাহকে বলেছিল। গিলবার্ট এবং সুলিভানের কাজের জনপ্রিয়তার কারণে এই অপেরাগুলোর অনেক সংলাপ সাধারণ প্রবাদে পরিণত হয়েছে। [https://www.gsarchive.net/mikado/html/mikado_by_mencken.html ১৯১০ সালের একটি পর্যালোচনা] এবং [https://gsarchive.net/pinafore/html/pinafore_by_mencken.html ১৯১১ সালের অন্য একটি পর্যালোচনা] দ্রষ্টব্য।
* '''"আমি আইনের বাইরে? আপনি আইনের বাইরে! এই পুরো আদালত আইনের বাইরে!"'''
** প্রকৃত সংলাপ: "''আপনি'' আইনের বাইরে! ''আপনি'' আইনের বাইরে! এই পুরো ''বিচার প্রক্রিয়া'' আইনের বাইরে! '''''তারা''''' আইনের বাইরে!"
** বিচারক রেইফোর্ড যখন বলেন "মিস্টার কার্কল্যান্ড, আপনি আইনের বাইরে", তখন [[:w:অ্যান্ড জাস্টিস ফর অল (চলচ্চিত্র)|...অ্যান্ড জাস্টিস ফর অল]] সিনেমায় আর্থার কার্কল্যান্ড এই উত্তর দেন।
* '''"আমিই শয়তান এবং আমি শয়তানের কাজ করতে এসেছি।"'''
** শ্যারন টেটের বাড়িতে খুনের ঘটনায় এটি প্রায়ই ভুলবশত [[:w:চার্লস ম্যানসন|চার্লস ম্যানসনের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়। ম্যানসন তাঁর অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত কোনো খুনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে এই বাক্যটি [[:w:চার্লস "টেক্স" ওয়াটসন|চার্লস "টেক্স" ওয়াটসন]] ভয়েটেক ফ্রাইকোস্কিকে বলেছিলেন।
** রব জম্বির চলচ্চিত্র [[:w:দ্য ডেভিল'স রিজেক্টস|দ্য ডেভিল'স রিজেক্টসে]] ওটিস চরিত্রটি (বিল মোসলে অভিনীত) "I'm the devil, and I'm here to do the devil's work" বাক্যটি ব্যবহার করে, যা সম্ভবত আদি উক্তিটির প্রতি এক ধরণের শ্রদ্ধা নিবেদন।
** প্রকৃত উক্তি: "আমি শয়তান, আমি এখানে শয়তানের ব্যবসা করতে এসেছি। তোমার সব টাকা আমাকে দাও।"
* '''"সঙ্গীতের এমন জাদু আছে যা বন্য পশুকে শান্ত করতে পারে।"'''
** এটি উইলিয়াম কনগ্রিভের ১৬৯৭ সালের নাটক 'দ্য মর্নিং ব্রাইডের' একটি ভুল উদ্ধৃতি।
** প্রকৃত উক্তি: "হৃদয়ের উন্মত্ততা দমানোর জন্য সঙ্গীতই যথেষ্ট। পাথরকে নরম করতে পারে, বা শক্ত ওক গাছকে বাঁকিয়ে দিতে পারে।"
** [http://en.wikipedia.org/wiki/William_Congreve_(playwright)#.22Music_hath_charms_to_soothe_a_savage_breast.22 উইলিয়াম কনগ্রিভ] সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া তালিকা দেখুন।
* '''"কেবল মৃতরাই যুদ্ধের শেষটা দেখেছে।"'''
** এটি প্লাটোর উক্তি হিসেবে চালানো হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি জর্জ সান্তায়ানা তাঁর 'দ্য লাইফ অফ রিজন' (১৯৫৩) বইয়ে লিখেছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থারের একটি বিদায়ী ভাষণে এটি প্রথম ভুলভাবে উদ্ধৃত হয় এবং এরপর থেকেই তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
* '''"গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক, তা একই রকম মিষ্টি গন্ধ ছড়াবে।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "নামে কী আসে যায়? গোলাপকে আমরা অন্য যে নামেই ডাকি না কেন, তা একই রকম মিষ্টি সুবাস ছড়াবে।"
** এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েটের' দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় দৃশ্য থেকে নেওয়া।
** 'স্টার ট্রেক' সিরিজের "বাই অ্যানি আদার নেম" পর্বে ক্যাপ্টেন কার্ক এই লাইনটি ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছিলেন।
* '''"হোয়ার আর্ট থাউ রোমিও? (রোমিও তুমি কোথায়?)"'''
** সঠিক লাইনটি (প্রেক্ষাপটসহ) হলো: "ও রোমিও, রোমিও! হোয়ারফোর আর্ট থাউ রোমিও? / তোমার পিতাকে অস্বীকার করো এবং তোমার নাম ত্যাগ করো। / অথবা, যদি তুমি তা না করো, তবে আমার ভালোবাসার শপথ নাও, / আর আমি আর কাপুলেট থাকব না।" এখানে জুলিয়েট রোমিও ''কোথায়'' তা জানতে চাচ্ছে না, বরং সে জিজ্ঞাসা করছে সে ''কেন'' রোমিও (মন্টেগু বংশের) নামে পরিচিত।
** শেক্সপিয়রের মূল নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় দৃশ্য।
** রোমিওর পদবি 'মন্টেগু' হওয়ার অর্থ হলো সে জুলিয়েটের পরিবার 'কাপুলেট'-দের চরম শত্রু, তাই জুলিয়েট তাকে তার নাম ত্যাগ করতে বলছে।
* '''"তুমি যদি এটি তৈরি করো, তবে তারা আসবে"'''
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি যদি এটি তৈরি করো, তবে ''সে'' আসবে"। এটি ''ফিল্ড অফ ড্রিমস'' চলচ্চিত্র থেকে নেওয়া।
** সম্ভবত 'ওয়েন'স ওয়ার্ল্ড ২' এর উক্তি "ইফ দে বুক দেম, দে উইল কামের" সাথে গুলিয়ে ফেলার কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কথাটি জিম মরিসনের আত্মা বলেছিল।
* '''"আমার বসার ঘরে এসো,' মাকড়সা মাছিকে বলল।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি কি আমার বসার ঘরে আসবে? মাকড়সা মাছিকে বলল"। এটি "দ্য স্পাইডার অ্যান্ড দ্য ফ্লাই" কবিতাটি থেকে নেওয়া।
** এছাড়াও দ্য পেপার চেজের গান "স্পাইডার টু দ্য ফ্লাই" এবং দ্য কিওরের গান লালাবাইতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
* '''"মস্তিষ্ক: এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে আমরা ভাবি যে আমরা ভাবছি "'''
** প্রকৃত উক্তি: "মস্তিষ্ক: এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে আমরা ভাবি যে আমরা চিন্তা করছি)। এটি অ্যামব্রোস বিয়ার্সের ''দ্য ডেভিল'স ডিকশনারি'' থেকে নেওয়া।
* '''"নাল পয়েন্টস | Nul points"'''
** সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য জায়গায় এই ফরাসি বাক্যটি প্রায়ই বার্ষিক ইউরোভিশন সং কন্টেস্টের']] সাথে জুড়ে দেওয়া হয়, বিশেষ করে 'ফাদার টেডের' "সং ফর ইউরোপ" পর্বে। তবে এই প্রতিযোগিতায় কেবল এক থেকে বারো পর্যন্ত পয়েন্ট দেওয়া হয়। এই বাক্যটি মূলত চূড়ান্ত স্কোরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যখন কোনো দেশ কোনো ভোটই পায় না।
* '''"বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবথেকে বেশি?..."''' – ''স্নো হোয়াইট অ্যান্ড দ্য সেভেন ডোয়ার্ফস'' চলচ্চিত্রে রানী।
** এই উদ্ধৃতিটির কোনো সঠিক উৎস নেই, কারণ এর উৎপত্তি একটি লোকগাথা থেকে, আর লোকগাথার সংজ্ঞানুসারেই এর কোনো নির্দিষ্ট লেখক বা পরিচিত উৎস থাকে না। ১৯৩৭ সালের চলচ্চিত্রে সংলাপটি ছিল "দেওয়ালে জাদুক্রী আয়না" (যার পর ছিল "বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবচেয়ে বেশি?" এবং চলচ্চিত্রের পরবর্তী অংশে ছিল "বল তো আরশি—''এখন'' এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবচেয়ে বেশি??")। গ্রিম ভাইদের সংগৃহীত সংস্করণে এটি ছিল "আয়না, আয়না, দেয়ালে তুমি, সারা দেশে সবচেয়ে সুন্দরী দাপটে কে?" – তবে অবশ্যই গ্রিম ভাইদের সংগ্রহের অনেক আগে থেকেই স্নো হোয়াইটের গল্প প্রচলিত ছিল।
* '''"হাও-মাও-খাও, মানুষের গন্ধ পাও! বাঁচুক কি মরুক—ওর হাড় গুঁড়ো করেই আজ আমার আহার হবে!"'''
** যদি এটি জোসেফ জ্যাকবসের 'ইংলিশ ফেয়ারি টেলস' থেকে উদ্ধৃত করা হয়, তবে এটি হওয়া উচিত: "হাও-মাও-খাও, মানুষের গন্ধ পাও! বেঁচে থাকুক কি মরে যাক—ওর হাড়গুলো আমার চাই-ই, আমার রুটি গুঁড়ো করার তরে!"
<div id="IamYourFather">
* '''লুক, আই অ্যাম ইয়োর ফাদার (লুক, আমিই তোমার বাবা)''' – ''স্টার ওয়ার্স এপিসোড ৫: দ্য এম্পায়ার স্ট্রাইকস ব্যাকে'' ডার্থ ভেডার।
** সঠিক উদ্ধৃতিটি হলো:
***ডার্থ ভেডার: ওবি-ওয়ান তোমাকে কখনোই বলেনি তোমার বাবার কী হয়েছিল।
***লুক স্কাইওয়াকার: সে আমাকে যথেষ্ট বলেছে! সে বলেছে তুমি তাকে মেরে ফেলেছ!
***ডার্থ ভেডার: '''না। ''আমিই'' তোমার বাবা।'''
***লুক স্কাইওয়াকার: না... এটা সত্যি নয়! এটা অসম্ভব!
* '''চারিদিকে জল, জল, শুধু জল, অথচ পান করার মতো এক ফোঁটাও নেই।'''
** এটি স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজের (১৮৩৪) "দ্য রাইম অফ দ্য অ্যানশিয়েন্ট ম্যারিনার" কবিতার একটি ভুল উদ্ধৃতি।
** প্রকৃত উক্তি: "জল, জল, চারদিকে শুধু জল, / শুকিয়ে কাঠ সব কাষ্ঠ-অনল; / জল, জল, চারদিকে শুধু জল, / নেই এক ফোঁটা পানযোগ্য জল!"
* '''"নিজেকে প্রস্তুত করো, শীত আসছে "'''
** এটি এডাড (নেড) স্টার্কের (জর্জ আর. আর. মার্টিনের বইয়ের সিরিজ 'এ সং অফ আইস অ্যান্ড ফায়ারের একটি চরিত্র) উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু পুরো সিরিজে তিনি কখনোই এই দুটি বাক্য ধারাবাহিকভাবে একসাথে বলেননি।
* '''"আর আমি পার পেয়ে যেতাম যদি এই নাক গলানো বাচ্চাগুলো না থাকত!"'''
** রহস্যের শেষে ধরা পড়া এবং মুখোশ খুলে যাওয়ার পর বিভিন্ন [[:w:স্কুবি-ডু|স্কুবি-ডু]] ভিলেনদের উক্তি হিসেবে এটি সাধারণত মনে করা হয়।
** এই উদ্ধৃতিটি মূলত ভিলেনদের দেওয়া বিভিন্ন সংলাপের একটি সংমিশ্রণ। কিছু ভিলেন প্রায় এই ধরণের কথা বলত কিন্তু মেডলিং কিডসের (বা 'নাক গলানো বাচ্চা') বদলে "মেডলার্স" বা "ব্লাস্টেড কিডস" বা অন্য কিছু ব্যবহার করত। কেউ কেউ "মেডলিং কিডস" অংশটি ব্যবহার করলেও বাক্যের বাকি অংশটি অন্যরকম হতো। অনেক ভিলেন গ্রেফতারের সময় চুপ থাকত।
** এই ধরণের উদ্ধৃতির ঘনঘন ব্যবহার শুরু হয় 'এ পাপ নেমড স্কুবি-ডু' সিরিজে, যেখানে প্রায় প্রতিটি পর্বে গ্রেফতার হওয়া ভিলেনরা এটি বলত, তবে তারা দলটিকে মেডলিংয়ের বদলে "পেসকি কিডস" (জন্ত্রণাদায়ক বাচ্চা) হিসেবে সম্বোধন করত। "মেডলিং" সংবলিত সংস্করণটি পরবর্তী বিভিন্ন প্রোডাকশনে যেমন ডাইরেক্ট-টু-ভিডিও মুভি, 'হোয়াটস নিউ, স্কুবি-ডু?' এবং 'স্কুবি-ডু, মিস্ট্রি ইনকর্পোরেটেডে' এবং ডাইরেক্ট টিভির মতো বিজ্ঞাপনে বারবার ব্যবহৃত (ও প্যারোডি) হতে শুরু করে।
* '''"সুখের কোনো পথ নেই; সুখই হলো পথ।"'''
** এটি সাধারণত বুদ্ধের উক্তি হিসেবে চালানো হয়, কিন্তু পালি ত্রিপিটকের কোথাও এর অস্তিত্ব নেই এবং এটি তাঁর বলা উক্তি— এমন কোনো প্রমাণও নেই। বাক্যটি আধুনিক বৌদ্ধ ভিক্ষু থিচ নাট হানের লেখায় পাওয়া যায়, তবে তিনি এর কৃতিত্ব দিয়েছেন ক্যালভিনিস্ট ধর্মযাজক আব্রাহাম জোহানেস মুস্তেকে। মুস্তে ১৯৬৭ সালে এই বাক্যের একটি রূপ— "'শান্তি'ই হলো পথ" ব্যবহার করেছিলেন বলে পরিচিত; তবে এটিই তাঁর প্রথম ব্যবহার ছিল না। ১৯৪৮ সালের মার্কিন সিনেট শুনানির একটি নথিতে এর প্রথম উপস্থিতি পাওয়া যায়। (তথ্যসূত্র: fakebuddhaquotes.com/there-is-no-path-to-happiness-happiness-is-the-path/)
** এটি মনে রাখা জরুরি যে, এই বাক্যের ক্যালভিনিস্ট ব্যাখ্যা এবং আধুনিক বৌদ্ধ ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে, তাই একই শব্দ ব্যবহৃত হলেও দুই লেখকের উদ্দেশ্য ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
* '''"এপ্পুর সি মুওভে (তবুও এটি ঘোরে)।"'''
** গ্যালিলিও যখন ইনকুইজিশনের বিচারের সম্মুখীন ছিলেন, তখন তিনি এটি বলেছিলেন বলে মনে করা হয়; তবে তিনি বাস্তবে এই উক্তিটি করেছিলেন— এমন কোনো প্রকৃত প্রমাণ নেই।
* '''"লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন)।"'''
** চলচ্চিত্র নির্মাণে এটি কখনোই আদর্শ কোনো নির্দেশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। "লাইটস" (আলো) শব্দটি মূলত আগেকার সময়ের বাতি জ্বালানোর নির্দেশ ছিল, যা ব্যবহারের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত করতে হতো; বর্তমান সময়ে এর কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। "ক্যামেরা" বলে কোনো শব্দ ডাকারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না: সাধারণত ক্যামেরা অপারেটর "স্পিড" শব্দটি বলেন, যার অর্থ হলো ক্যামেরার ফিল্ম চিত্রগ্রহণের জন্য সঠিক গতিতে ঘুরতে শুরু করেছে।
* '''"একজন মানুষের সামান্য এক পদযাত্রা, অথচ মানবজাতির তরে এক মহাবিপ্লবী উল্লম্ফন!"'''
** চাঁদে হাঁটার সময় নীল আর্মস্ট্রং এটি বলেছিলেন।
** তথ্য আদান-প্রদানের সময় স্ট্যাটিক নয়েজ বা যান্ত্রিক বিঘ্ন ঘটায় আর্মস্ট্রংয়ের বার্তাটি ভুলভাবে বোঝা হয়েছিল এবং ফলস্বরূপ ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়ে আসছে। আর্মস্ট্রং আসলে বলেছিলেন, "এটি '''''একজনের''''' জন্য ছোট পদক্ষেপ..."।
** চাঁদে নামার একটি ভিডিও ক্লিপ এখানে পাওয়া যাবে: https://www.youtube.com/watch?v=xSdHina-fTk। উক্তিটি ০:৪১ মিনিটে শুরু হয়। সেখানে খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে "a" শব্দটি নেই এবং সিগন্যালে এমন কোনো বিরতিও ছিল না যেখানে শব্দটি শোনা যায়নি এমনটা ভাবা যায়। এই তথাকথিত "সঠিক" উক্তিটি নিঃসন্দেহে তিনি যা বলতে ''চেয়েছিলেন'' তা-ই, তবে তিনি যা বলেছিলেন তা নয়।
* '''"৬৪০ কিলোবাইট-ই যেকোনো ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।"'''
** বিল গেটস কখনোই এটি বলেছিলেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না [http://quoteinvestigator.com/2011/09/08/640k-enough/]। গেটস এমন কিছু বলেছিলেন এমন প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৯৮৫ সালের (১৯৮১ সালের নয়) 'ইনফোওয়ার্ল্ড' ম্যাগাজিনে, এবং সেটি ভবিষ্যৎবাণী ছিল না বরং অতীতের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ ছিল: "যখন আমরা পিসি-ডসের সর্বোচ্চ সীমা ৬৪০ কিলোবাইট নির্ধারণ করেছিলাম, আমরা ভেবেছিলাম কারো এর চেয়ে বেশি মেমরির প্রয়োজন হবে না।" এমনকি এই তথ্যটিরও কোনো সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স ছিল না এবং এটি কোনো সাক্ষাৎকারের অংশ ছিল না। এই উক্তিটির সাথে বব নিউহার্টের একটি উক্তির মিল পাওয়া যায়: "পরবর্তীতে আমি ৬৪ কিলোবাইট মডেলের (কমোডোর ৬৪ পার্সোনাল কম্পিউটার) দিকে এগিয়ে যাই এবং ভাবি যে এটি পাগলামি, কারণ এটি আমার প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি মেমরি।"<ref name="colker20010809">{{cite news | url=http://articles.latimes.com/2001/aug/09/news/tt-32244 | title=Happy Birthday PC! | work=Los Angeles Times | date=2001-08-09 | accessdate=9 January 2015 | author=Colker, David}}</ref>
* '''"তুমি কি কোনো খেলা খেলতে চাও?"'''
** 'স' চলচ্চিত্র সিরিজের কোনোটিতেই এই বাক্যটি নেই। জিগসের মূল সংলাপটি হলো— "''আমি'' একটি খেলা খেলতে চাই ।"
** "আমরা কি একটি খেলা খেলব? " প্রশ্নটি 'ওয়ারগেমস' চলচ্চিত্রে কম্পিউটার দ্বারা বলা হয়েছিল।
* '''একবার যদি তুমি উড়াল দেওয়ার স্বাদ পাও, তবে তুমি চিরকাল আকাশের দিকে তাকিয়ে পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়াবে; কারণ তুমি সেখানে গিয়েছিলে এবং সেখানেই তুমি সবসময় ফিরে যেতে চাইবে।'''
** বিমান চালনা সংক্রান্ত এটি সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি যা যাচাইযোগ্য নয়। এটি সর্বত্র (স্মিথসোনিয়ান প্রকাশনা এবং ওয়াশিংটন পোস্টসহ) লিওনার্দো দা ভিঞ্চির নামে চালানো হয়। এর সম্ভাব্য লেখক হলেন জন হার্মিস সেকেন্ডারি (১৯১৯-১৯৭৫), যিনি ১৯৬৫ সালের টিভি ডকুমেন্টারি 'আই, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির' লেখক ছিলেন।
* '''বাতাসের চেয়ে ভারী উড়ন্ত যন্ত্র তৈরি অসম্ভব।'''
** এটি প্রায়ই লর্ড কেলভিনের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, আবার কখনো লর্ড রেলে বা সাইমন নিউকম্বের নামেও চালানো হয়। এটি সত্যি যে কেলভিন বাতাসের চেয়ে ভারী যন্ত্রের সাহায্যে ওড়ায় বিশ্বাস করতেন না [http://zapatopi.net/kelvin/quotes/], তবে ১৯ শতকের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই যা প্রমাণ করে যে তিনি বা অন্য কোনো পদার্থবিজ্ঞানী বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে অসম্ভব বলেছিলেন।
** এর সবচেয়ে পুরোনো পরিচিত উৎস হলো ক্রিস মরগানের বই 'তথ্য এবং বিভ্রান্তি: ভুল বিশ্বাস আর ভুল অনুমানের এক নিশ্চিত সংগ্রহশালা।' (১৯৮১)।
* '''"শুভ সকাল, ডেভ ।"'''
** এটি ৯০০০ এর (''২০০১: এ স্পেস ওডিসি'' এবং ''২০১০'' চলচ্চিত্রের একটি চরিত্র) উক্তি হিসেবে মনে করা হলেও এটি কখনোই তার দ্বারা উচ্চারিত হয়নি। হ্যাল ৯০০০ এর দুটি উক্তি যা এই ভুল উদ্ধৃতিটির খুব কাছাকাছি, সেগুলো হলো— ''২০০১: এ স্পেস ওডিসিতে'' "হ্যালো, ডেভ" এবং ''২০১০'' সালে "শুভ সকাল, ডক্টর চন্দ্র।"
* '''"রক্তের নদী।"'''
** বিতর্কিত ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ইনোক পাওয়েল ১৯৬০ সালের দশকে অভিবাসনের তথাকথিত বিপদ নিয়ে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন, যা সবসময় "রিভার্স অফ ব্লাড" ভাষণ হিসেবে পরিচিত; কিন্তু তাঁর প্রকৃত ভাষণে শব্দগুলো ছিল "টাইবার নদী রক্তে ফেনিল হয়ে উঠছে।"
* '''"আপনি কি জানেন যে ক্লড পেপার পুরো ওয়াশিংটনে একজন নির্লজ্জ বহির্মুখী হিসেবে পরিচিত? শুধু তাই নয়, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে এই ব্যক্তি তাঁর ভাতৃবধূর সাথে স্বজনপ্রীতি করেন, তাঁর একজন ভাই আছে যে একজন পরিচিত হোমো সেপিয়েন্স, এবং তাঁর একজন বোন আছে যে একসময় দুশ্চরিত্র নিউ ইয়র্কে একজন থেসপিয়ান ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে মিস্টার পেপার বিয়ের আগে অভ্যাসগতভাবে কৌমার্য পালন করতেন।"'''
** এটি জর্জ স্মাদার্সের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়। স্মাদার্স কখনোই এই ভাষণ দেননি বা এমন কোনো মনোভাব প্রকাশ করেননি। এই ভাষণটি মূলত এমন কিছু শব্দের খেলা যা একজন কম শিক্ষিত বা অসচেতন শ্রোতাকে ভাবিয়ে তুলবে যে পেপার সম্ভবত কোনো যৌন বিকৃত পরিবারের সদস্য। ১৯৫০ সালে 'টাইম' ম্যাগাজিনে এটি প্রথমবার ছাপার অক্ষরে আসার আগেই এটি এক ধরণের শহুরে কিংবদন্তি হিসেবে প্রচলিত ছিল।
* '''"এভাবে শেষ হতে দিও না। তাদের বলো আমি কিছু একটা বলেছি।"'''
** ধারণা করা হয় ১৯২৩ সালে মেক্সিকান বিপ্লবী সামরিক নেতা পাঞ্চো ভিলাকে হত্যার পর এগুলোই ছিল তাঁর শেষ কথা। তবে সেই ঘটনার অধিকাংশ বিবরণ অনুযায়ী তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মারা গিয়েছিলেন, কোনো কিছু বলার মতো 'ন্যূনতম' সময়ও তিনি পাননি।
* '''"কারণ টাকা তো সেখানেই থাকে।"'''
** উইলি সাটন কেন ব্যাংক ডাকাতি করতেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই উত্তর দিয়েছিলেন বলে প্রচলিত থাকলেও সাটন তাঁর সারাজীবন এটি অস্বীকার করে গেছেন। মনে করা হয় এটি ওই সাংবাদিকের নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন ছিল। তবে সাটন ১৯৭৬ সালে তাঁর আত্মজীবনীর শিরোনাম 'Where the Money Was' রাখার কারণে মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তিনি সত্যিই এটি বলেছিলেন।
* '''"বেসি, আমি হয়তো মাতাল, কিন্তু তুমি কুৎসিত; আর আগামীকাল সকালে আমি সুস্থ হয়ে যাব (মাতাল ভাব কেটে যাবে)।"'''
** চার্চিল এটি বেসি ব্র্যাডকে বলেছিলেন বলে মনে করা হলেও এর কোনো রেকর্ড নেই; চার্চিলের সাথে নাম জড়ানোর আগে ওই সময়ের অন্যান্য জননেতাদের জড়িয়ে একই ধরণের গল্পের প্রচলন ছিল।
* '''"ওয়াটার্লুর যুদ্ধ জেতা হয়েছিল ইটনের খেলার মাঠে।"'''
** এটি ডিউক অফ ওয়েলিংটনের উক্তি হিসেবে তাঁর শিক্ষাজীবনের স্মৃতি চারণের ক্ষেত্রে মনে করা হলেও ঐতিহাসিকরা মনে করেন এটি তাঁর বলার সম্ভাবনা কম। যুদ্ধের চার দশক পর এবং তাঁর মৃত্যুর পর এই উক্তিটি প্রথম সামনে আসে; এছাড়া তিনি ইটনে খুব বেশি সময় কাটাননি এবং সেই সময়গুলো নিয়ে তাঁর খুব একটা সুখস্মৃতিও ছিল না। তাঁর কথা বলার ধরণ সম্পর্কে পরিচিত জীবনীকাররাও সন্দেহ পোষণ করেন যে, তিনি এমন মনোভাব ব্যক্ত করলেও সেটি এভাবে বলতেন না।
* '''"উন্মাদনার সংজ্ঞা হলো একই কাজ বারবার করা এবং ভিন্ন ফলাফলের আশা করা।"'''
** এই উক্তিটি অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন এবং মার্ক টোয়েনসহ বেশ কয়েকজনের নামে চালানো হয়। এটি সম্ভবত ১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত রিটা মে ব্রাউনের বই 'সাডেন ডেথে' প্রথমবার দেখা গিয়েছিল। [http://www.barrypopik.com/index.php/new_york_city/entry/insanity_is_doing_the_same_thing_and_expecting_different_results/ barrypopik.com] [https://www.psychologytoday.com/blog/in-therapy/200907/the-definition-insanity-is psychologytoday.com]
* '''"এদেশের মানুষের বিশেষজ্ঞদের ওপর যথেষ্ট বিতৃষ্ণা এসে গেছে।"''' — মাইকেল গোভ, ৩ জুন ২০১৬ সালে ফয়সাল ইসলামের সাথে এক সাক্ষাৎকারে।
** গোভ তাঁর বাক্যটি এখানে শেষ করেননি; সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছিলেন [https://www.youtube.com/watch?v=GGgiGtJk7MA]। পুরো উক্তিটি ছিল: "এদেশের মানুষের সেই সব সংক্ষিপ্ত নামধারী (acronyms) প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের ওপর যথেষ্ট বিতৃষ্ণা এসে গেছে, যারা বলে যে তারা সবচেয়ে ভালো বোঝে, কিন্তু প্রতিনিয়ত ভুল প্রমাণিত হয়।" বাক্যের শেষ অংশটুকু বাদ দেওয়ার ফলে তাঁর বিরোধীরা যুক্তি দেওয়ার সুযোগ পায় যে তিনি সব বিশেষজ্ঞকেই বুঝিয়েছেন, অথচ তিনি আসলে বিশেষজ্ঞদের একটি নির্দিষ্ট আচরণের কথা বলছিলেন।
* '''"আমার এবং আমার ক্যালভিনের মাঝে কিছুই আসে না।"''' — ব্রুক শিল্ডস
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি কি জানতে চাও আমার এবং আমার ক্যালভিনের মাঝে কী আসে? কিছুই না।" এটি ক্যালভিন ক্লেইন জিন্সের একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে নেওয়া।
* '''"এটি উন্মাদনা নয়। এটি স্পার্টা।"''' — ২০০৭ সালের '৩০০' চলচ্চিত্রে লিওনিডাস চরিত্রে জেরার্ড বাটলার।
** প্রকৃত উক্তি: ''উন্মাদনা? এটি স্পার্টা'' । পুরো দৃশ্যে ''এটি উন্মাদনা নয়'' বাক্যটি কখনোই উচ্চারিত হয়নি। এই উক্তিটির একটি ভুল উদ্ধৃতি 'ফিনিক্স রাইট ৩: ট্রায়ালস অ্যান্ড ট্রিবিউলেশনসের' ইংরেজি অনুবাদে দেখা গিয়েছিল।
* '''"তোমার রাজকুমারী অন্য একটি দুর্গে আছে ।"''' — সুপার মারিও ব্রাদার্স (১৯৮৫)।
** প্রকৃত উক্তি: "ধন্যবাদ মারিও, কিন্তু ''আমাদের'' রাজকুমারী অন্য একটি দুর্গে আছে।" মারিও যখন ওয়ার্ল্ড ৮ এর আগের দুর্গগুলো থেকে মাশরুম নাগরিকদের উদ্ধার করে, তখন তারা এই কথাটি বলে। তারা "আমাদের" শব্দটি ব্যবহার করে কারণ তিনি মাশরুম মানুষদের রাজকুমারী। এই লাইনটি মারিওর কোনো মালিকানা বা রোমান্টিক প্রত্যাখ্যান বোঝায় না; এমনকি মূল গেমে মারিও এবং রাজকুমারীর মধ্যে কোনো রোমান্টিক সম্পর্কের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি।
** "তোমার রাজকুমারী..." বাক্যটি অনেক পরের গেম 'ব্রেইড' (২০০৮) এ দেখা যায়, যেখানে মূল চরিত্র টিমের রাজকুমারীর প্রতি একটি অস্বাস্থ্যকর এবং একতরফা রোমান্টিক আসক্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
* '''"কল্পনা করুন, যদি আপনি চান।"''' — দ্য টোয়াইলাইট জোন (১৯৫৯-১৯৬৪)।
** উপস্থাপক এবং বর্ণনাকারী রড সার্লিং কোনো পর্বের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করার সময় দর্শকদের প্রায়ই "কল্পনা" করতে বলতেন, কিন্তু তিনি সিরিজে কখনোই এই হুবহু বাক্যটি বলেননি, যদিও এটি প্রায়ই তাঁর নামে চালানো হয়।
* '''"জীবনের অর্থ হলো ৪২।"''' — ডগলাস অ্যাডামস, ''দ্য হিচহাইকার’স গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি, প্রাইমারি ফেজ'' (রেডিও), ১৯৭৮।
** প্রকৃত উক্তি: "জীবন, মহাবিশ্ব এবং সবকিছুর মহান প্রশ্নের উত্তর হলো ৪২।" ম্যাগরাথিয়ান কম্পিউটার 'ডিপ থট' এই কথাটি বলেছিল। গল্পের মূল বিষয়বস্তু ছিল যে, এই উত্তরটি শোনার পর ম্যাগরাথিয়ানরা বুঝতে পেরেছিল যে তারা আসলে 'মহান প্রশ্নটি' কী ছিল সেটাই জানে না। গল্পের কোনো সংস্করণেই এটি জীবনের "অর্থের" সাথে সম্পর্কিত নয়। বরং ৪২ উত্তরটি এটিই প্রমাণ করে যে প্রশ্নটি "কেন?" বা এই জাতীয় কিছু হতে পারে না।
** উদাহরণস্বরূপ, মূল রেডিও সিরিজে প্রশ্নটি পাওয়া যায় না; ২০০৪ সালের 'টারশিয়ারি ফেজ' সিরিজে দাবি করা হয় যে প্রশ্ন এবং উত্তর একসাথে জেনে ফেললে মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটবে। মূল ব্রিটিশ টিভি সিরিজে প্রশ্নটিকে বলা হয়েছে "ছয় কে নয় দিয়ে গুণ করলে কত হয়?", যা প্রমাণ করে যে "মহাবিশ্বের মৌলিক কোনো কিছুতে বড় ধরণের গলদ আছে"।
* '''"X এর ব্যাপারটা কী?"''' — সিনফেল্ড (১৯৮৯-১৯৯৮)
**জেরি সিনফেল্ডের চরিত্রটি মাঝে মাঝে এই বাক্যটি ব্যবহার করত, তবে তা কেবল 'অবজারভেশনাল কমেডির' ধারণাকে উপহাস করার জন্য তীব্র ব্যঙ্গ বা আইরনি হিসেবে। পর্বের শুরুতে বা শেষে স্ট্যান্ড-আপ কমেডির অংশে তিনি কখনোই এটি বলেননি। পুরো সিরিজে একমাত্র জর্জ কস্তানজা চরিত্রটি একবার ব্যঙ্গ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিল।
* '''"আমি বিশ্বাস করতে চাই না, আমি জানতে চাই।"'''
** এই উক্তিটি ভুলবশত কার্ল সেগানের নামে চালানো হয়, যিনি এই কথাটি কখনোই বলেননি বা লেখেননি। তাঁর কোনো বই, নিবন্ধ, টিভি শো বা সাক্ষাৎকারে এটি নেই। এই বাক্যের প্রকৃত লেখক হলেন মুক্তচিন্তক, মানবতাবাদী এবং [[নাস্তিক]] পাউলো বিটেনকোর্ট, যিনি 'লিবারেটেড ফ্রম রিলিজিয়ন' এবং 'ওয়েস্টিং টাইম অন গড' বইগুলো লিখেছেন। [https://www.quora.com/Did-Carl-Sagan-say-I-dont-want-to-believe-I-want-to-know/answer/Alex-Thompson-7] [https://www.google.co.uk/books/edition/Wasting_Time_on_God/yPd7EAAAQBAJ?gbpv=1]
* '''"একটি বিলম্বিত গেম শেষ পর্যন্ত ভালো হতে পারে, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে বানানো গেম চিরকালই খারাপ থেকে যায়।"'''
** এটি সাধারণত [[:w:Shigeru Miyamoto|শিগেরু মিয়ামোতোর]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে তিনি এই হুবহু শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন বা তিনিই এই উক্তির জনক— এমন কোনো প্রমাণ নেই। ১৯৯৭ সালের 'গেমপ্রো' ম্যাগাজিনে অনুরূপ একটি উক্তি দেখা গিয়েছিল, তবে সেখানে এটিকে গেমিং ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রচলিত প্রবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
{{misattributed end}}
== সাধারণভাবে ভুল উদ্ধৃত করা হয় এমন ==
=== ব্যক্তি ===
{{refimprove|section}}
যেহেতু তাঁরা সুপরিচিত বুদ্ধিমান, নায়ক বা খলনায়ক হিসেবে পরিচিত, তাই কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এমন সব উক্তির কৃতিত্ব দেওয়া হয় যা তাঁরা আসলে বাস্তবে কখনোই বলেননি। যাদের নামে সবচেয়ে বেশি ভুল উক্তি প্রচলিত, তারা হলেন:
* যোগী বেরা
* [[অটো ফন বিসমার্ক]]
* আলবেয়ার কামু
* [[জর্জ কার্লিন]]
* [[উইনস্টন চার্চিল]]
* [[কনফুসিয়াস]]
* [[আলবার্ট আইনস্টাইন]]<ref name="bt">{{Cite web |url=https://bigthink.com/high-culture/how-viral-misquotes-evolve-and-replicate/ |title=আইনস্টাইন এটি বলেননি: যেভাবে ভাইরাল ভুল উদ্ধৃতিগুলো বিবর্তিত এবং প্রতিলিপি হয় |date=২০২৪-১০-২৮ |accessdate=২০২৪-১১-০২ |publisher={{w|বিগ থিঙ্ক}} |last=ডিকিনসন |first=কেভিন}}</ref>
* বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন
* [[বিল গেটস]]
* স্যামুয়েল গোল্ডউইন
* [[অ্যাডলফ হিটলার]]
* [[ব্রুস লি]]
* আব্রাহাম লিঙ্কন
* [[নেপোলিয়ন বোনাপার্ট]]
* ডোরোথি পার্কার
* ড্যান কোয়েল
* [[কার্ল সেগান]] [https://www.quora.com/Did-Carl-Sagan-say-I-dont-want-to-believe-I-want-to-know/answer/Alex-Thompson-7]
* [[উইলিয়াম শেকসপিয়র]]
* [[জর্জ বার্নার্ড শ]]
* জোসেফ স্ট্যালিন
* জন স্টেইনবেক
* সান জু
* হেনরি ডেভিড থোরো [http://www.walden.org/Library/Quotations/The_Henry_D._Thoreau_Mis-Quotation_Page]
* [[মার্ক টোয়েন]]
* কার্ট ভনেগাট
* [[অস্কার ওয়াইল্ড]]
{{misattributed end}}
== তথ্যসূত্র ==
<references />
[[বিষয়শ্রেণী:উক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভ্রান্ত উক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:বিষয়বস্তু]]
f3dtk3sf3i74pl2rz72xsxcl7dqyce6
83243
83242
2026-05-01T16:32:28Z
Oindrojalik Watch
4169
p
83243
wikitext
text/x-wiki
[[File:Bottega ranieri.jpg|thumb|'''''বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবথেকে বেশি?''''']]
এই পাতায় এমন কিছু উক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেগুলোকে অনেক মানুষ সঠিক বলে মনে করেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ভুল। এর মধ্যে সেইসব উক্তি অন্তর্ভুক্ত নয় যেগুলো বক্তার নিজস্ব ভুল বা অসাবধানতাবশত বলা কথা (যেমন: রাজনৈতিক ভুলভ্রান্তি)।
:
'''[বিঃ দ্রঃ বোঝানোর সুবিধার্থে তথা শব্দ এবং উক্তি বিশ্লেষণের জন্য কিছু অংশে বা উক্তিতে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজী ভাষা রাখতে হয়েছে।]'''
__TOC__
{{misattributed begin}}
== ভুল উদ্ধৃতি বা ভুল আরোপ ==
* '''"সত্য যখন নিজের জুতো পরছে, একটি মিথ্যা তখন অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে আসে।"'''
** মার্ক টোয়েন, উইনস্টন চার্চিল, থমাস জেফারসন কিংবা অ্যান ল্যান্ডার্স—তারা কেউই এই কথাটি বলেননি। এই বাক্যটি মূলত জোনাথন সুইফটের একটি উক্তির পরিবর্তিত রূপ; তিনি বলেছিলেন: '''"মিথ্যা উড়ে চলে, আর সত্য তার পেছনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসে।"''' । (বিস্তারিত দেখুন [https://quoteinvestigator.com/2014/07/13/truth/ কোট ইনভেস্টিগেটরে])।
* '''"নরক কেবল একটি মানসিক অবস্থা"''': ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে দাবি করা হয় যে এটি ক্রিস্টোফার মার্লোর ''ডক্টর ফস্টাসের'' একটি উদ্ধৃতি। তবে ''ডক্টর ফস্টাসের'' দানব মেফিস্টোফিলিস একটি অনুরূপ ধারণা পোষণ করেন যখন তিনি বলেন যে, স্বর্গের স্থান হারানো তাকে সবখানেই নরকের অভিজ্ঞতা দেয়: (''বাংলায় রূপান্তরঃ'' '''মাহমুদ'''।)
<poem>
:: "কেননা এটাই নরক, এর বাইরে আমি কেউ নই।
:: তুমি কি মনে করো, আমি করেছি ঈশ্বরের মুখাবয়ব-দর্শন,
:: এবং স্বর্গের আনন্দ চিরন্তন—করেছি আস্বাদন
:: দশ সহস্র নরকের যন্ত্রণায় কি দগ্ধ হচ্ছি না প্রতি ক্ষণে ক্ষণে,
:: চিরস্থায়ী সুখ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে?"
</poem>
* '''"আপনার কাছে যদি একটি আপেল থাকে এবং আমার কাছেও একটি আপেল থাকে এবং আমরা সেগুলো বিনিময় করি, তবে আমাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করেই আপেল থাকবে। কিন্তু আপনার কাছে যদি একটি ধারণা থাকে এবং আমার কাছেও একটি ধারণা থাকে এবং আমরা সেগুলো বিনিময় করি, তবে আমাদের প্রত্যেকের কাছে দুটি করে ধারণা থাকবে।"'''
** জর্জ বার্নার্ড শ কখনোই এই কথাগুলো বলেননি, বরং চার্লস এফ. ব্রানান এটি বলেছিলেন। [http://quoteinvestigator.com/2011/12/13/swap-ideas/]
* '''"সব বিজয়ের রহস্য নিহিত থাকে অপ্রকাশ্য বা পরোক্ষ বিষয়ের সংগঠনের মধ্যে"'''
** এটি ব্যাপকভাবে [[:w:মার্কাস অরেলিয়াস|মার্কাস অরেলিয়াসের]] নামে প্রচলিত হলেও উক্তিটি আসলে অসওয়াল্ড স্পেংলারের ''দ্য ডিক্লাইন অফ দ্য ওয়েস্ট'' (১৯১৮ এবং ১৯২৩) গ্রন্থে পাওয়া যায়।
* '''"আমার মনে হয় আমরা আর কানসাসে নেই, টোটো।"''', ''দ্য উইজার্ড অফ অজের'' ডরোথি গেল (জুডি গারল্যান্ড অভিনীত)।
** এই বাক্যটি চরিত্রটি কখনোই উচ্চারণ করেনি। তিনি আসলে যা বলেছিলেন তা হলো: ''টোটো, আমার মনে হচ্ছে আমরা আর কানসাসে নেই।''
* '''"আবশ্যকীয় বিষয়ে ঐক্য, অনাবশ্যকীয় বিষয়ে স্বাধীনতা, আর সব বিষয়ে দয়া।"'''
** এটি ব্যাপকভাবে অগাস্টিনের উক্তি হিসেবে পরিচিত, কিন্তু বাক্যটি আসলে ১৬২৬ সালে লুথারান ধর্মতত্ত্ববিদ এবং শিক্ষাবিদ রুপার্টাস মেলডেনিয়াস তৈরি করেছিলেন। [https://en.wikipedia.org/wiki/Rupertus_Meldenius]
* '''"একজন বোকা মানুষের চোখে একজন চতুর ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি"''', [[:w:স্টিফেন ফ্রাই|স্টিফেন ফ্রাই]] সম্পর্কে [[:w:জুলি বার্চিল|জুলি বার্চিলের]] মন্তব্য।
** এই বাক্যটি মূলত ১৯৩০ সালের দশকে আইরিশ লেখিকা এলিজাবেথ বোয়েন, অলডাস হাক্সলি সম্পর্কে তৈরি করেছিলেন। বার্চিল মন্তব্য করেছিলেন যে, "আমার স্বামী দাবি করেন স্টিফেন ফ্রাই সম্পর্কে আমিই প্রথম বলেছিলাম যে তিনি 'একজন বোকা মানুষের চোখে একজন চতুর ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি'। আমি যদি মদ্যপানে বিভোর না হয়ে একজন সচেতন ব্যক্তি হতাম, তবে এটি সত্যি কি না তা মনে করতে পারতাম। যাই হোক, কথাটি বেশ চমৎকার।"
* '''"খুব বেশি মানুষ এটি জানে না।"''', ব্রিটিশ অভিনেতা [[:w:মাইকেল কেইন|মাইকেল কেইন]]।
** কেইনকে অনুকরণ করার সময় অভিনেতা/কৌতুক অভিনেতা [[:w:পিটার সেলার্স|পিটার সেলার্স]] এই মন্তব্যটি করেছিলেন যা পরবর্তীতে কেইনের উক্তি হিসেবে পরিচিতি পায়, যদিও তিনি নিজে এটি কখনোই বলেননি। [http://www.metro.co.uk/film/858942-michael-caine-i-never-said-not-a-lot-of-people-know-that]
* '''"ভালো মানুষেরা সবার শেষে শেষ করে (হার মানে)।"''' লিও ডুরোচার (১৯০৬–১৯৯১), মার্কিন [[:w:বেসবল|বেসবল]] ম্যানেজার।
** লিও ডুরোচারের জীবনীগ্রন্থ, ''নাইস গাইজ ফিনিশ লাস্ট'' (লিও ডুরোচার এবং এড লিন, সাইমন এবং শুস্টারে, ১৯৭৫) বর্ণিত তথ্যমতে— ১৯৪৬ সালের নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস দল সম্পর্কে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি এই মন্তব্যটি করেছিলেন। তিনি আসলে বলেছিলেন, "তাদের দিকে একবার তাকান। সবাই ভালো মানুষ। তারা সবার শেষে শেষ করবে। ভালো মানুষেরা—সবার শেষে শেষ করে।" বাক্যের শেষ অংশে একটি সর্বনাম ("যারা") বাদ পড়ে যাওয়ায় একটি সাধারণ মূল্যায়ন কালক্রমে এমন এক ঘোষণায় পরিণত হয়েছে যে—ভালো মানুষদের ভাগ্যে কেবল ব্যর্থতাই জোটে।
* '''"মহাবিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ দুটি উপাদান হলো হাইড্রোজেন এবং মূর্খতা।"''' হারলান এলিসন (জন্ম ২৭ মে, ১৯৩৪), মার্কিন [[:w:লেখক|লেখক]]।
** ১৯৬০ সালের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এলিসন একটি গদ্যে এটি উল্লেখ করলেও, উক্তিটি প্রায়ই ভুলভাবে [[:w:ফ্র্যাংক জ্যাপা|ফ্র্যাংক জ্যাপার]] নামে চালিয়ে দেওয়া হয়। জাপ্পার আত্মজীবনী, ''দ্য রিয়েল ফ্রাঙ্ক জাপ্পা বুকের'' (১৯৮৯) ২৩৯ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি একটি অনুরূপ মন্তব্য করেছেন: "কিছু বিজ্ঞানী দাবি করেন যে হাইড্রোজেন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকায় এটিই মহাবিশ্বের মৌলিক গাঠনিক উপাদান। আমি তা নিয়ে বিতর্ক করি। '''আমি বলি হাইড্রোজেনের চেয়েও বেশি মূর্খতা রয়েছে এবং সেটিই মহাবিশ্বের মৌলিক গাঠনিক উপাদান।'''"
* '''"আপনার কথার সাথে আমি একমত না হতে পারি, কিন্তু আপনার কথা বলার অধিকার আমি আমৃত্যু রক্ষা করব।"''' [[:w:ভলতেয়ার|ভলতেয়ার]]
** এটি ভলতেয়ারের উক্তি হিসেবে মনে করা হলেও, আসলে এটি লিখেছিলেন ইভলিন বিয়াট্রিস হল।
* '''"কারা আপনাকে শাসন করছে তা জানতে হলে কেবল খুঁজে বের করুন যে আপনি কাদের সমালোচনা করতে পারবেন না।"''' [[:w:ভলতেয়ার|ভলতেয়ার]]
** ১৯৯৩ সালের একটি বিতর্কমূলক লেখায় কেভিন স্ট্রম নামক একজন নব্য-নাৎসি লেখক এই ধরনের একটি বাক্য ব্যবহার করেছিলেন। স্ট্রম এই উক্তিটির উৎস হিসেবে ১৯৬০ সালের দশকে শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী রেভিলো পি. অলিভারের দেওয়া একটি ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
* "'''আমি যদি নাচতে না পারি, তবে আমি আপনার বিপ্লবে অথবা বিপ্লবের অংশ হতে চাই না।'''" (অথবা: "'''যদি আমি এতে নাচতে না পারি, তবে এটি আমার বিপ্লব নয়'''")
** এটি ব্যাপকভাবে [[:w:এমা গোল্ডম্যান|এমা গোল্ডম্যানের]] উক্তি হিসেবে প্রচলিত। তবে গোল্ডম্যান গবেষক অ্যালিক্স কেটস শুলম্যানের মতে, এটি মূলত ১৯৭৩ সালে জ্যাক ফ্রেজার নামক একজন [[:w:অ্যানার্কিস্ট|অ্যানার্কিস্ট]] প্রিন্টারের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন ছিল, যা তিনি এমা গোল্ডম্যানের ছবি সংবলিত টি-শার্টের জন্য তৈরি করেছিলেন। গোল্ডম্যান তাঁর আত্মজীবনীতে নাচার কারণে সমালোচিত হওয়ার কথা মনে করে লিখেছিলেন:
*** "আমি জোর দিয়ে বলেছিলাম যে আমাদের আদর্শ আমার কাছ থেকে সন্ন্যাসিনী হওয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না এবং আন্দোলনটি আশ্রমে পরিণত হওয়া উচিত নয়। যদি তাই হয়, তবে আমি এটি চাই না। 'আমি স্বাধীনতা চাই, আত্মপ্রকাশের অধিকার চাই, সুন্দর ও উজ্জ্বল জিনিসের ওপর সবার অধিকার চাই'।" – ''লিভিং মাই লাইফ'' (নিউ ইয়র্ক: নফ, ১৯৩৪), পৃষ্ঠা ৫৬।
**** ''ভি ফর ভেনডেটা'' চলচ্চিত্রে ভি (হুগো ওয়েভিং অভিনীত) বলেন যে, "নাচ ছাড়া বিপ্লব আসলে কোনো কাজের বিপ্লব নয়।"
** দেখুন: শুলম্যান, অ্যালিক্স কেটস ''[http://sunsite.berkeley.edu/Goldman/Features/dances_shulman.html ড্যান্সেস উইথ ফেমিনিস্ট],'' ''ওমেনস রিভিউ অফ বুকস'', খণ্ড ৯, সংখ্যা ৩, ডিসেম্বর ১৯৯১।
* "'''শুধুমাত্র তথ্যগুলো দিন, ম্যাডাম।'''"
** জ্যাক ওয়েবের সিরিজ ''ড্র্যাগনেটের'' সবচেয়ে পরিচিত উক্তি হিসেবে এটি পরিচিত হলেও, সার্জেন্ট ফ্রাইডে রেডিও বা টেলিভিশন সিরিজের কোথাও এটি বলেননি। তবে ১৯৮৭ সালের ''ড্র্যাগনেট'' প্যারোডি চলচ্চিত্রে ড্যান অ্যাকরয়েড (যিনি সার্জেন্ট জো ফ্রাইডে চরিত্রে অভিনয় করেছেন) এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিলেন।
** সঠিক সংস্করণগুলো:<br>"আমরা কেবল তথ্যগুলো জানতে চাই, ম্যাডাম।"<br>"আমরা কেবল তথ্যগুলোই জানি, ম্যাডাম।"
** দেখুন: {{cite web
| last = মিকলসন
| first = বারবারা এবং ডেভিড পি.
| date = ২৯ মার্চ ২০০২
| url = http://www.snopes.com/radiotv/tv/dragnet.htm
| title = জাস্ট দ্য ফ্যাক্টস
| work = আরবান লিজেন্ডস
| publisher = snopes.com
| access-date = ১৮ ডিসেম্বর ২০০৬
}}
* '''"আমরা কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম... কিন্তু মনে হতো প্রতিবারই যখন আমরা দলে সংগঠিত হতে শুরু করতাম, তখনই আমাদের আবার পুনর্গঠিত করা হতো। আমি জীবনের পরবর্তী সময়ে শিখতে পেরেছি যে, আমরা যেকোনো নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করি পুনর্গঠনের মাধ্যমে; আর প্রগতির বিভ্রম তৈরি করার জন্য এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি হতে পারে, যেখানে এটি আসলে বিভ্রান্তি, অদক্ষতা এবং মনোবলহানি সৃষ্টি করে।"'''
** সাধারণত এটি পেট্রোনিয়াস আরবিটারের নামে ভুলভাবে চালানো হয়।
** আসলে এটি চার্লটন ওগবার্নের (১৯১১–১৯৯৮) লেখা, যা ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি সংখ্যায় ''[[:w:হার্পার'স ম্যাগাজিন|হার্পার'স ম্যাগাজিনে]]'' [http://www.harpers.org/archive/1957/01/0007289 "মেরিল'স ম্যারাউডার্স: দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট অ্যান ইনক্রেডিবল অ্যাডভেঞ্চার"] শীর্ষক প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল।
** মূল উক্তি: "আমরা কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম, কিন্তু মনে হতো প্রতিবারই যখন আমরা দলে সংগঠিত হতে শুরু করতাম, তখনই আমাদের আবার পুনর্গঠিত করা হতো। সম্ভবত আমাদের নিয়োগের পরিকল্পনাগুলো বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছিল। আমি জীবনের পরবর্তী সময়ে শিখতে পেরেছি যে, সম্ভবত আমরা সংগঠিত হতে খুব দক্ষ বলেই একটি জাতি হিসেবে যেকোনো নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করি পুনর্গঠনের মাধ্যমে; আর প্রগতির বিভ্রম তৈরি করার জন্য এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি হতে পারে, যেখানে এটি আসলে বিভ্রান্তি, অদক্ষতা এবং মনোবলহানি সৃষ্টি করে।"
** দেখুন: ব্রাউন, ডেভিড এস. "পেট্রোনিয়াস অর অগবার্ন?", ''পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিভিউ'', খণ্ড ৩৮, সংখ্যা ৩ (মে-জুন, ১৯৭৮), পৃষ্ঠা ২৯৬ [http://links.jstor.org/sici?sici=0033-3352(197805%2F06)38%3A3%3C296%3APOO%3E2.0.CO%3B2-Z]।
* "'''প্রাথমিক, আমার প্রিয় ওয়াটসন | Elementary, my dear Watson'''" – [[:w:শার্লক হোমস|শার্লক হোমস]]
** [[:w:আর্থার কোনান ডয়েল|স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের]] কোনো লিখিত সাহিত্যকর্মে চরিত্রটি কখনোই এই বাক্যটি উচ্চারণ করেনি। যদিও "Elementary" এবং "...my dear Watson" উভয়ই ''[[:s:দ্য ক্রুকড ম্যান|দ্য ক্রুকড ম্যান]]'' (১৮৯৩) এর শুরুর দিকে পাওয়া যায়, তবে সেখানে "...my dear Watson" আগে এসেছে এবং তার কয়েক লাইন সংলাপের পর ওয়াটসনের বিস্ময়ের উত্তরে হোমস সংক্ষেপে "Elementary" বলেছিলেন। হোমস ক্যাননের মধ্যে এই চারটি অমর শব্দ এই অংশেই একে অপরের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
** এই উক্তিটির প্রথম নথিভুক্ত ব্যবহার পাওয়া যায় [[:w:পি. জি. উডহাউস|পি. জি. উডহাউসের]] উপন্যাস [http://www.gutenberg.org/ebooks/2607 "স্মিথ, জার্নালিস্টে"], যা ১৯০৯-১০ সালে ''দ্য ক্যাপ্টেন'' ম্যাগাজিনে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে ১৯১৫ সালে বই আকারে বের হয়। সেখানে সংলাপটি ছিল এরকম:
::"সেটাই ঠিক," বিলি উইন্ডসর বলল। "অবশ্যই।"
::"প্রাথমিক, আমার প্রিয় ওয়াটসন, প্রাথমিক," স্মিথ বিড়বিড় করে বলল।
* '''উদ্দেশ্যই উপায়কে ন্যায়সঙ্গত করে।'''
** এটি প্রায়ই [[:w:নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি|নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি]] ''দ্য প্রিন্সের'' উক্তি হিসেবে ভুলভাবে মনে করা হয়; বইটিতে এই ধারণাটি থাকলেও হুবহু এই বাক্যটি নেই। এছাড়াও আরও অনেক লেখকের নামে এটি চালানো হয় যারা মূলত ওভিদের (খ্রিস্টপূর্ব ১০ অব্দ) ''হেরোয়েডসে'' থাকা ''Exitus acta proba'' কথাটিরই পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। আরও দেখুন:উপায় এবং লক্ষ্য।
* '''"প্রতি মিনিটে একজন করে বোকা জন্মায়।"'''
** যদিও এটি প্রায়ই পি. টি. বার্নামের উক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তবে আদতে এটি তাঁর একজন প্রতিযোগী বলেছিলেন—বার্নামের প্রদর্শনী সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে।
** দেখুন: দেয়ার'স আ সাকার বর্ন এভরি মিনিট।
* '''সব মিলিয়ে, আমি বরং ফিলাডেলফিয়াতেই থাকতে পছন্দ করব।'''
** এটি ডব্লিউ. সি. ফিল্ডসের নামে ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃত উক্তি: "এখানে শায়িত আছেন ডব্লিউ. সি. ফিল্ডস: আমি বরং ফিলাডেলফিয়াতে বেঁচে থাকতেই পছন্দ করতাম।" এটি ১৯২৫ সালে ''ভ্যানিটি ফেয়ারের'' একটি সংখ্যায় "একদল শিল্পীর নিজেদের জন্য লেখা এপিটাফ" হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল, যা হয়তো সেই ব্যক্তিদের লেখা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
** ''মাই লিটল চিকাডি'' সিনেমায় ফিল্ডসের চরিত্রটিকে যখন ফাঁসি দেওয়া হচ্ছিল, তখন গলায় দড়ি পরা অবস্থায় তিনি তাঁর শেষ ইচ্ছা হিসেবে বলেন— "আমি মরার আগে একবার প্যারিস দেখতে চাই।" দড়ি শক্ত হতে শুরু করলে তিনি দ্রুত যোগ করেন, "ফিলাডেলফিয়া হলেও চলবে!"
** দেখুন: অ্যামোরি, ক্লিভল্যান্ড এবং ব্রাডলি, ফ্রেডরিক, ''ভ্যানিটি ফেয়ার: সিলেকশনস ফ্রম আমেরিকা'স মোস্ট মেমোরেবল ম্যাগাজিন, আ ক্যাভালকেড অফ দ্য ১৯২০স অ্যান্ড ১৯৩০স'', ভাইকিং প্রেস, ১৯৬০, পৃষ্ঠা ১০৩।
* '''"আমিই ইন্টারনেট উদ্ভাবন করেছি।"'''
** এটি [[:w:আল গোর|আল গোরের]] উক্তি হিসেবে ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃতপক্ষে, আল গোর কখনোই ইন্টারনেট "উদ্ভাবন" করার দাবি করেননি। এটি তাঁর একটি বক্তব্যের বিকৃতি, যেখানে তিনি ইন্টারনেটের উন্নয়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভেতরে তাঁর ভূমিকার কৃতিত্ব দাবি করেছিলেন। যদিও গোরের রাজনৈতিক বিরোধীরা এটিকে তাঁর উক্তি হিসেবে জনপ্রিয় করেছে, তবে এই প্রেক্ষাপটে "উদ্ভাবন" (invented) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ''উইয়ার্ড নিউজের'' লেখক ডেক্লান ম্যাককুলাঘ; যিনি মূলত গোরের দাবির প্রতি হাউজ মেজরিটি লিডার আরমির করা সমালোচনার সারসংক্ষেপ করেছিলেন। সিএনএনের ''লেট এডিশনে'' দেওয়া গোরের সঠিক উক্তিটি ছিল: "'''মার্কিন কংগ্রেসে আমার দায়িত্ব পালনকালে, আমি ইন্টারনেট তৈরির ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমি এমন অনেকগুলো পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিলাম যা আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে।'''"
** {{cite web
| last = ফিঙ্কেলস্টাইন
| first = সেথ
| date = ২৮ এপ্রিল ২০০৬
| url = http://sethf.com/gore/
| title = আল গোর "ইন্টারনেট উদ্ভাবন করেছেন" – তথ্যসূত্র
| publisher = sethf.com
| access-date = ১৬ জুন ২০১১
}}
* '''"হয় তারা করবে, নয়তো মরবে!"'''
** এটি [[:w:আলফ্রেড, লর্ড টেনিসন|টেনিসনের]] "দ্য চার্জ অফ দ্য লাইট ব্রিগেড" কবিতার একটি লাইনের ভুল উপস্থাপনা। কবিতাটিতে আসলে বলা হয়েছে, তাদের কাজ কেন তা নিয়ে তর্ক করা নয়, তাদের কাজ হলো শুধুই করা '''এবং''' মরে যাওয়া।
** দেখুন: দ্য চার্জ অফ দ্য লাইট ব্রিগেড (কবিতা)
* '''"কোলাহলমুক্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে"'''
** এটি [[:w:থমাস গ্ৰে|থমাস গ্ৰের]] কবিতা "এলিজি রিটেন ইন আ কান্ট্রি চার্চইয়ার্ডের" (১৭৫১) একটি লাইনের ভুল রূপান্তর: "জনারণ্যের ওই তুচ্ছ কোলাহল থেকে দূরে, ঝিম-ঝিঁমে শান্ত ইচ্ছেরা কভু ভ্রান্ত পথে পা বাড়ায়নি।" পরবর্তীতে টমাস হার্ডি তাঁর উপন্যাস "ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউডের" শিরোনাম হিসেবে এই লাইনটি ব্যবহার করেন।
** দেখুন: http://www.phrases.org.uk/meanings/134150.html
* '''"অসীম ক্ষমতাই অসীম দায়িত্ব নিয়ে আসে।"'''
** এটি প্রায়ই ভুলভাবে আঙ্কেল বেনের উক্তি হিসেবে ধরা হয়, যা ১৯৬২ সালের ''অ্যামেজিং ফ্যান্টাসি'' #১৫ তে প্রদর্শিত মূল [[:w:স্পাইডার-ম্যান|স্পাইডার-ম্যানের]] উৎস কাহিনীতে ছিল। তবে এই বাক্যটি মূলত গল্পের শেষ প্যানেলে বর্ণনাকারীর ক্যাপশন হিসেবে ছিল, কোনো চরিত্রের মুখনিসৃত সংলাপ ছিল না। স্পাইডার-ম্যানের উৎপত্তির পরবর্তী সংস্করণগুলোতে, যার মধ্যে [:w:[স্পাইডার-ম্যান|২০০২ সালের চলচ্চিত্র]] অন্যতম, এটিকে আঙ্কেল বেনের চূড়ান্ত উপদেশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে (যা একটি রেটকন বা পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠিত তথ্যের পরিবর্তন)।
** এছাড়াও, ''অ্যামেজিং ফ্যান্টাসিতে'' সঠিক উক্তিটি ছিল, "'''অসীম ক্ষমতার সাথে অবশ্যই অসীম দায়িত্বও আসা উচিত।'''"
* '''"এটি জীবন, জিম, কিন্তু আমরা যেভাবে চিনি সেভাবে নয়।"'''
** এটি ''স্টার ট্রেক: দ্য অরিজিনাল সিরিজে'' লিওনার্ড ম্যাককয়ের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে তিনি এটি কখনোই বলেননি। প্রথম সিজনের "দ্য ডেভিল ইন দ্য ডার্ক" পর্বে স্পকের মুখে "নট লাইফ অ্যাজ উই নো ইট" বাক্যটি শোনা যায়। বর্তমান জনপ্রিয় ভুল বাক্যটির উৎপত্তি ১৯৮৭ সালের প্যারোডি গান "স্টার ট্র্যাকিং" থেকে, যেখানে স্পককে এই কথাটি বলতে শোনা যায়। গানে ম্যাককয়ের লাইনটি ছিল, "এটি তার চেয়েও খারাপ, সে মারা গেছে, জিম!"
** দেখুন: ''দ্য অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ মডার্ন কোটেশনস'', ২০০৭ সংস্করণ (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস), এলিজাবেথ নোলসের ভুক্তি; {{ISBN|978-0-19-920895-1}}
* "'''আমরা রাতে আমাদের বিছানায় নিরাপদে ঘুমাই কারণ কিছু কঠোর মানুষ রাতে প্রস্তুত থাকে আরা খুব সহিংস এবং তারা আমাদের ক্ষতি করতে চায়।'''"
** বিকল্প: "মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমায় কেবল কারণ কিছু কঠোর মানুষ তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করার জন্য প্রস্তুত থাকে।"
** এটি কোনো তথ্যসূত্র ছাড়াই ব্যাপকভাবে [[:w:জর্জ অরওয়েল|জর্জ অরওয়েলের]] নামে চালানো হয়। কখনো কখনো একইভাবে [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের]] নামেও এটি ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃত উৎস: [http://quoteinvestigator.com/2011/11/07/rough-men/ কোট ইনভেস্টিগেটর] ১৯৯৩ সালে ''ওয়াশিংটন টাইমসে'' রিচার্ড গ্রেনিয়ারের একটি প্রবন্ধে এর প্রথম ব্যবহার খুঁজে পায়: "যেমনটি জর্জ অরওয়েল উল্লেখ করেছিলেন, মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমায় কেবল কারণ কিছু কঠোর মানুষ তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করার জন্য প্রস্তুত থাকে।" এখানে উদ্ধৃতি চিহ্নের অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, গ্রেনিয়ার অরওয়েলের মতাদর্শ নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করছিলেন।
** ১৯৪৫ সালের "নোটস অন ন্যাশনালিজমে" অরওয়েল লিখেছিলেন যে, শান্তিবাদীরা এই কথাটি মেনে নিতে পারে না যে "যারা সহিংসতা ত্যাগ করে তারা তা করতে পারে কেবল কারণ অন্যরা তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করছে।"
** অনুরূপ বাক্য: "যিনি আমার দেওয়া স্বাধীনতার কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমান এবং পরে আমি কীভাবে সেই স্বাধীনতা দিচ্ছি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় বা আগ্রহ কোনটিই আমার নেই।" – সোরকিন (''আ ফিউ গুড মেন'')
* '''"প্রথা মেনে চলা লক্ষ্মী মেয়েরা খুবই কম ইতিহাস সৃষ্টি করতে জানে।"'''
** প্রায়ই এটি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে উক্তিটি আসলে [[:w:হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়|হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের]] অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ লরেল থ্যাচার উলরিচের] লেখা। উলরিচের মূল বাক্যটি ছিল, "লক্ষ্মী মেয়েদের হাতে সচরাচর ইতিহাস রচিত হয় না।", যা ১৯৭৬ সালে একটি একাডেমিক নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল। নিবন্ধটিতে তিনি ঐতিহাসিক নারীদের সাধারণ জীবন যাপনের প্রতি ইতিহাসবিদদের কম আগ্রহের কথা বোঝাতে এটি ব্যবহার করেছিলেন।
** দেখুন: https://news.harvard.edu/gazette/story/2007/01/ulrich-explains-that-well-behaved-women-should-make-history/
* '''"বাহ, পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল।"'''
** এটি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে মারামারি করার পর রন বারগুন্ডি বলেছিলেন। সঠিক উক্তিটি হলো, "Boy, that escalated quickly" (হে খোদা, এটা দ্রুতই বেড়ে গেল)।
** দেখুন: অ্যাঙ্করম্যান: দ্য লিজেন্ড অফ রন বারগুন্ডি]]
* '''"দয়া করে জনাব, আমি কি আরেকটু পেতে পারি?"'''
** সাধারণত মনে করা হয় এটি অনাথ আশ্রমে ''[[:w:অলিভার টুইস্ট (উপন্যাস)|অলিভার টুইস্ট]]'' বলেছিল। সঠিক উক্তিটি হলো, "দয়া করে জনাব, আমি আরও চাই"।
* '''"সে যত বেশি পরিশ্রম করে, তার ভাগ্য তত বেশি সুপ্রসন্ন হয়।"'''
** এর বিভিন্ন সংস্করণ প্রায়ই ইন্টারভিউতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর স্ত্রীর নামে চালানো হয়। তবে এই বাক্যটির মূল প্রবর্তক হলেন [[:w:স্যামুয়েল গোল্ডউইন|স্যামুয়েল গোল্ডউইন]], যা ছিল: "আমি যত বেশি পরিশ্রম করি, আমার ভাগ্য তত বেশি সুপ্রসন্ন হয়।" ধারণা করা হয় তিনি নিচের অন্য একটি উক্তিকে নিজের মতো করে বলেছিলেন।
* '''"আমি ভাগ্যে অনেক বেশি বিশ্বাস করি, আর আমি দেখেছি যে আমি যত বেশি পরিশ্রম করি, ভাগ্য তত বেশি আমার সহায় হয়।"'''
** [[:w:টমাস জেফারসন|টমাস জেফারসন]] এটি বলেছেন বা লিখেছেন এমন কোনো রেকর্ড নেই। [http://www.monticello.org/site/research-and-collections/i-am-great-believer-luckquotation]। এটি প্রথম ১৯৪৭ সালে এফ. এল. এমারসনের লেখায় ছাপা হয়।
* '''"৯৯ সাল ব্যাচের ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।"'''
** এই বিখ্যাত "ওয়্যার স্যানস্ক্রিন" ভাষণটি নিয়মিতভাবে কার্ট ভনেগাট বা বাজ লুরম্যানের নামে চালানো হয়। কিন্তু এটি মূলত ১৯৯৭ সালে মেরি স্মিচের লেখা একটি সংবাদপত্রের কলাম ছিল, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধা-ব্যঙ্গাত্মক "জীবন নির্দেশিকা" হিসেবে লেখা হয়েছিল।
* '''"পাহাড় যদি মুহাম্মাদের কাছে না আসে, তবে মুহাম্মাদকেই পাহাড়ের কাছে যেতে হবে।"'''
** এটি প্রায়ই ইসলামের নবী [[:w:মুহাম্মদ|মুহাম্মদের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু তিনি আসলে এটি বলেছিলেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। এই বাক্যটি মূলত ১৬২৫ সালে [[:w:ফ্রান্সিস বেকন|ফ্রান্সিস বেকন]] কর্তৃক বর্ণিত মুহাম্মদের একটি গল্প থেকে এসেছে: "''মোহাম্মাদ পাহাড়কে তাঁর কাছে আসার ডাক দিলেন। যখন পাহাড় স্থির রইল, তিনি বিন্দুমাত্র লজ্জিত না হয়ে বললেন; পাহাড় যদি মোহাম্মাদের কাছে না আসে, তবে মোহাম্মাদকেই পাহাড়ের কাছে যেতে হবে।''"
** মূল উক্তিতে "পাহাড়" বোঝাতে "Hill" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিল, কিন্তু ১৬৪৩ সালে জন ওয়েনের অনুবাদে "Mountain" শব্দটি ব্যবহার করা হয়। উক্তিটির প্রকৃত অর্থ নিয়ে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। এটি "সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে সুযোগের পেছনে ছোটা" বোঝায় না; বরং এর অর্থ হলো— "যদি কারো ইচ্ছা জয়ী না হয়, তবে তাকে বিকল্প পরিস্থিতির কাছে নতি স্বীকার করতে হবে।"
* '''"এখানে এক বিলিয়ন, ওখানে এক বিলিয়ন, আর খুব শীঘ্রই আপনি প্রকৃত অর্থ নিয়ে কথা বলবেন।"'''
** এটি এভারেট ডার্কসেনের উক্তি হিসেবে পরিচিত। ডার্কসেন তাঁর বক্তৃতায় মাঝেমধ্যে "এখানে এক বিলিয়ন, ওখানে এক বিলিয়ন" অংশটি ব্যবহার করতেন, কিন্তু পরের অংশটি সম্ভবত একজন সংবাদ প্রতিবেদকের সংযোজন। ডার্কসেন লক্ষ্য করেছিলেন যে, যদিও তিনি পুরো বাক্যটি কখনোই বলেননি, তবুও তিনি এই ভুল উদ্ধৃতিটি পছন্দ করতেন এবং এটি তাঁর নামে চলায় কখনো গুরুত্বর আপত্তি জানাননি।
* '''"আমি ফিরে আসব এবং আমি কোটি কোটি জনতা হয়েই ফিরে আসব।"'''
** এটি প্রায়ই ইভা পেরনের উক্তি হিসেবে মনে করা হয় এবং এমনকি তাঁর সমাধিস্তম্ভেও এটি খোদাই করা আছে, কিন্তু [https://books.google.com/books?id=ck6bXqt5shkC&pg=PA251 তিনি এটি বলেছিলেন এমন কোনো রেকর্ড নেই]। সম্ভবত তাঁর মৃত্যুর দশ বছর পর ১৯৫২ সালে হোসে মারিয়া কাস্তিনেইরা দে দিওসের লেখা একটি কবিতায় ইভার কণ্ঠে এই লাইনটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মানুষ এটি বিশ্বাস করে। তবে ১৭৮১ সালে স্প্যানিশ শাসনের বিরুদ্ধে বলিভিয়ার আদিবাসীদের বিদ্রোহের নেতা তুপাক কাতারি তাঁর মৃত্যুদণ্ডের আগে অনুরূপ কিছু বলেছিলেন ("[https://books.google.com/books?id=aekDJE3NMcsC&pg=PA62 আমি মরব কিন্তু আগামীকাল দশ হাজার গুণ হয়ে ফিরে আসব]"); অতি সম্প্রতি হাওয়ার্ড ফাস্টের উপন্যাস ''স্পার্টাকাসে'' একজন ক্রীতদাস ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময় এই লাইনটি বলে এবং ১৯৬০ সালের [[:w:স্ট্যানলি কুবরিক|স্ট্যানলি কুবরিকের]] চলচ্চিত্র সংস্করণেও এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
* '''"চুরুটের ধোঁয়ায় ডুবে থাকা আমার পছন্দ হলেও, মাঝেমধ্যে আমার এই ধোঁয়া থেকে মুক্ত হতে হয়!"'''
** এটি গ্রাউচো মার্কসের উক্তি হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি আছে যে, ১৯৫০ সালে ''ইউ বেট ইয়োর লাইফের'' একটি পর্বে ম্যারিয়ন এবং শার্লট স্টোরির সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় মার্কস এটি বলেছিলেন। শার্লট যখন তাঁর স্বামীকে খুব ভালোবাসার কথা বলেন এবং জানান যে তাঁদের ২০টি সন্তান রয়েছে, তখন মার্কস এই মন্তব্যটি করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে সেই পর্বের সংরক্ষিত রেকর্ডিং অনুযায়ী মার্কস আসলে বলেছিলেন, "প্রতিটি নতুন বাচ্চার জন্মের সময় আপনি কি চারদিকে চুরুট বিলি করেন?" মার্কস নিজে এই ধরনের চটুল মন্তব্য করার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
** অন্য একটি পর্বে ১৭ জন ভাইবোনের একজনের কাছে গ্রাউচো জানতে চেয়েছিলেন তার বাবা এত বড় পরিবার সম্পর্কে কী ভাবেন। মেয়েটি যখন উত্তর দেয় যে তার বাবা শিশুদের ভালোবাসেন, তখন গ্রাউচো বলেছিলেন— "আমি প্যানকেক পছন্দ করি, কিন্তু তাই বলে আলমারি ভর্তি প্যানকেক আমার নেই!" সম্ভবত এই দুটি ভিন্ন ঘটনার মিশ্রণ থেকেই সেই ভুল উদ্ধৃতিটির জন্ম হয়েছে।
* '''"জেতাটাই বড় কথা নয়, বরং জেতার তাড়নাটাই হলো সব।"'''
** [[:w:ভিন্স লম্বার্ডি|ভিন্স লম্বার্ডি]] সবসময় জোর দিয়ে বলতেন যে তিনি এটি কখনোই বলেননি, যদিও এটি তাঁর ঘনঘন বলা একটি লাইনের খুব কাছাকাছি: "জেতা সাময়িক কোনো বিষয় নয়; বরং এটি সবসময়কার বিষয়।" প্রকৃত বাক্যটি আসলে ইউসিএলএ ফুটবল কোচ হেনরি রাসেল "রেড" স্যান্ডার্স বলেছিলেন।
* '''"আপনার অজ্ঞতা যতই বিশাল হোক না কেন, তাকে আমার জ্ঞানের ওপর প্রাধান্য দিতে পারি না, তা সে যতই সামান্য হোক।"'''
** এর বিভিন্ন সংস্করণ [[:w:উইলিয়াম জেমস|উইলিয়াম জেমসের]] নামে চালানো হয়। এই ধরনের একটি বাক্য সম্ভবত লিওনার্ড বেকন বলেছিলেন, যদিও এর সবচেয়ে পুরনো উৎসটি পাওয়া যায় ১৮৯৮ সালে—বেকনের মৃত্যুর সাত বছর পর। বেকনের প্রপৌত্র তাঁর আত্মজীবনীতে এই উক্তির একটি সংস্করণ নিশ্চিত করেছেন। জেমসের নামে এই ভুল প্রচারের সূত্রপাত বিড়ম্বনাকরভাবে ১৯৯৪ সালে জয়েস অ্যাপলবি, লিন হান্ট এবং মার্গারেট জ্যাকবের লেখা বই ''টেলিং দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট হিস্ট্রি'' (পৃষ্ঠা ২৫৮) থেকে হতে পারে।
* '''"সবুরে মেওয়া ফলে (সব ভালো জিনিস তাদের কাছেই আসে যারা অপেক্ষা করে)।"'''
** ইংরেজ কবি [[:w:ভায়োলেট ফ্যান|ভায়োলেট ফ্যান]] মূলত বলেছিলেন, "অপেক্ষা করলে সবকিছুই পাওয়া যায়, কিন্তু ততোক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে যায়—বাকি থাকে শুধু বিজয়ী মানবদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট!" এই প্রবাদটি ফ্যান লেখার আগেও প্রচলিত থাকতে পারে।
** এটি দুবার উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে: প্রথমবার গিনেস বিয়ারের বিজ্ঞাপনে বর্তমান প্রচলিত রূপে, এবং হেইঞ্জ কোম্পানি এটিকে "সবচেয়ে ভালো জিনিসগুলো তাদের কাছেই আসে যারা অপেক্ষা করে" হিসেবে ব্যবহার করেছে।
* '''"আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে [[:w:রিচার্ড নিক্সন|নিক্সন]] জিতেছেন। আমি এমন কাউকেই চিনি না যে তাকে ভোট দিয়েছে।"'''
** এটি চলচ্চিত্র সমালোচক [[:w:পলিন কায়েল|পলিন কায়েলের]] উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়। কায়েল ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন: "আমি বেশ বিশেষ এক জগতে বাস করি। আমি কেবল একজনকে চিনি যে নিক্সনকে ভোট দিয়েছে। তারা কোথায় থাকে আমি জানি না। তারা আমার জানার পরিধির বাইরে।"
* '''"আমরা এমন সব মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আমরা পছন্দ করি না, এমন সব জিনিস কিনি আমাদের প্রয়োজন নেই সেই টাকা দিয়ে যা আমাদের কাছে নেই।"'''
** এটি প্রায়ই ''[[:w:ফাইট ক্লাব|ফাইট ক্লাব]]'' চলচ্চিত্রের একটি লাইন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যদিও এটি চলচ্চিত্রের ভোগবাদ-বিরোধী দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে চলচ্চিত্র বা মূল উপন্যাসের কোথাও এই উক্তিটি হুবহু বলা হয়নি। মূল উক্তিটি ছিল, "''' অপরিতুষ্য ব্যক্তিদের তুষ্ট করতে, অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতায় রিক্তহস্ত হওয়া—এক পণ্ডশ্রম বৈ কিছু নয়।'''", যা মূলত ১৯২৮ সালের ৪ জুন 'ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসে' আমেরিকান হাস্যরসিক ও সাংবাদিক রবার্ট কুইলেনের কলামে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি "আমেরিকানবাদকে" সংজ্ঞায়িত করেছিলেন— "অর্জিত নয় এমন অর্থ ব্যয় করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কেবল এমন মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আপনি পছন্দ করেন না।"
** উপন্যাসে একটি লাইন আছে: "অনেক তরুণ বিশ্বকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এবং খুব বেশি জিনিস কিনে ফেলে," এবং চলচ্চিত্রে ব্র্যাড পিট অভিনীত চরিত্রটি বলে, "আমরা এমন সব কাজ করি যা আমরা ঘৃণা করি যাতে আমরা এমন সব আজেবাজে জিনিস কিনতে পারি যা আমাদের প্রয়োজন নেই।"
** ইন্টারনেট যুগে উক্তিটি এভাবে পরিবর্তিত হয়েছে: "আমরা এমন সব বিষয়বস্তু পোস্ট করি যা আমাদের নয়, এমন সব লাইকের জন্য যা আসল নয়, কেবল এমন সব মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আমরা চিনি না।"
* '''"ব্রিটিশরা আসছে।"'''
** [[:w:পল রিভিয়ার|পল রিভিয়ার]] আসলে এই বাক্যটি চিৎকার করে বলেননি: তাঁর মিশনটি গোপনীয়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, গ্রামগুলো ব্রিটিশ সেনা টহলে পূর্ণ ছিল এবং ম্যাসাচুসেটসের বেশিরভাগ উপনিবেশবাসী (যারা জাতিগতভাবে ইংরেজ ছিলেন) তখনও নিজেদের ব্রিটিশ মনে করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং রিভিয়ারের নিজস্ব বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর সতর্কতা ছিল— "রেগুলাররা (নিয়মিত সেনারা) বেরিয়ে আসছে।"<ref>{{cite book
|ref= harv
|last1= রিভিয়ার
|first1= পল
|others= এডমন্ড মরগান কর্তৃক ভূমিকা
|year= ১৯৬১
|title= পল রিভিয়ার'স থ্রি অ্যাকাউন্টস অফ হিজ ফেমাস রাইড
|location= বোস্টন
|publisher= ম্যাসাচুসেটস হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি
|isbn=978-0-9619999-0-2
}}</ref>
* '''দ্য শ্যাগস বিটলসের চেয়েও ভালো।'''
** এটি জনপ্রিয়ভাবে সঙ্গীতশিল্পী [[:w:ফ্র্যাংক জ্যাপা|
ফ্র্যাংক জ্যাপার]] নামে ভুলভাবে চালানো হয়। ১৯৬০ সালের দশকের অদক্ষ গার্ল গ্রুপ 'দ্য শ্যাগসকে' বিটলসের চেয়ে ভালো বলার কৃতিত্ব আসলে লেস্টার ব্যাংসের। জাপ্পা দলটিকে উচ্চ মর্যাদা দিতেন ঠিকই, কিন্তু তিনি এই নির্দিষ্ট বাক্যটি ব্যবহার করেননি।<ref name=newyorker2017>{{cite web|url=https://www.newyorker.com/culture/culture-desk/the-shaggs-reunion-concert-was-unsettling-beautiful-eerie-and-will-probably-never-happen-again|title=দ্য শ্যাগস রিইউনিয়ন কনসার্ট ওয়াজ আনসেটলিং, বিউটিফুল, ইরি, অ্যান্ড উইল প্রবাবলি নেভার হ্যাপেন এগেইন|first=হাওয়ার্ড|last=ফিশম্যান|date=আগস্ট ৩০, ২০১৭|access-date=জানুয়ারি ৮, ২০২০}}</ref>
* '''মৌখিক চুক্তির দাম সেই কাগজের চেয়েও কম যার ওপর এটি লেখা হয়।''' ([[:w:স্যামুয়েল গোল্ডউইন|স্যামুয়েল গোল্ডউইন]])
** গোল্ডউইনের অনেক অদ্ভুত উক্তির মধ্যে এটি একটি বিকৃতি। তিনি আসলে তাঁর এক বন্ধুর বিশ্বস্ত প্রকৃতির প্রশংসা করে বলেছিলেন: "তাঁর মৌখিক চুক্তির মূল্য সেই কাগজের চেয়েও বেশি যার ওপর এটি লেখা হয়।"<ref>পল এফ. বোলার, জন জর্জ, ''দে নেভার সেড ইট'' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ৪২।</ref><ref>ক্যারল ইস্টন, ''দ্য সার্চ ফর স্যাম গোল্ডউইন'' (১৯৭৬)।</ref>
* '''চিন্তা করো না, খুশি থেকো।'''
** যদিও [[:w:বব মার্লে|বব মার্লে]] তাঁর গানে বিশেষ করে "থ্রি লিটল বার্ডসে" অনুরূপ অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তিনি এই নামে কোনো গান রেকর্ড করেননি। এই বাক্যটি মূলত মেহের বাবা তৈরি করেছিলেন; আর মার্লের মৃত্যুর ছয় বছর পর [[:w:ববি ম্যাকফারিন|ববি ম্যাকফারিন]] এই নামে গানটি লেখেন ও রেকর্ড করেন।
* '''ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, ব্রঙ্কস পুড়ছে।'''
** ১৯৭৭ সালের ওয়ার্ল্ড সিরিজের টেলিকাস্টের সময় হাওয়ার্ড কোসেল বা [[:w:কিথ জ্যাকসন|কিথ জ্যাকসন]] কেউই এই উক্তিটি করেননি। "দ্য ব্রঙ্কস ইজ বার্নিং" বাক্যটির উৎপত্তি পাঁচ বছর আগে ''[[:w:ম্যান অ্যালাইভ (ব্রিটিশ টিভি সিরিজ)|ম্যান অ্যালাইভের]]'' একটি পর্বে, যেখানে ব্রঙ্কসের ফায়ার স্টেশনগুলোর আর্থিক সংকটের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। পরে ওয়ার্ল্ড সিরিজের সময় একটি স্কুল ভবন পুড়ে যাওয়ার ফুটেজ দেখানোর ফলে উক্তিটি কোসেল এবং জ্যাকসনের নামে ভুলভাবে প্রচলিত হয়ে যায়।<ref>{{cite web|last1=ফ্লাড|first1=জো|title=হোয়াই দ্য ব্রঙ্কস বার্নড|url=https://nypost.com/2010/05/16/why-the-bronx-burned/|website=নিউ ইয়র্ক পোস্ট|publisher=NYP Holdings, INC.|date=১৬ মে ২০১০|access-date=৪ জুন ২০১৬}}</ref>
* '''সঙ্গীত নিয়ে লেখা স্থাপত্য নিয়ে নাচার মতো।'''
** এলভিস কস্টেলো বা লরি অ্যান্ডারসন কেউই এই উক্তির প্রবর্তক নন। ১৯১৮ সালের প্রথম দিকেই এই উক্তির বিভিন্ন সংস্করণ ছাপা হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে চালানো হয়েছে।<ref>{{cite news|date=মার্চ ২০০৮|magazine=কিউ|title=৫০ ইয়ারস অফ গ্রেট ব্রিটিশ মিউজিক, এলভিস কস্টেলো ইন্টারভিউ|page=৬৭|quote=ওহ ঈশ্বর! আমি কি দয়া করে ছাপাতে পারি যে আমি ওটা বলিনি! [...] ওটা এখনো আমাকে তাড়া করে ফেরে। সম্ভবত কোনো উক্তির বইতে ওটা আমার নামে দেওয়া আছে।}}</ref><ref>{{cite news |title=গেটিং ইন টিউন উইথ লাইফস বিগার কোয়েশ্চেনস |url=https://www.smh.com.au/entertainment/art-and-design/getting-in-tune-with-lifes-bigger-questions-20040820-gdjl2e.html |work=দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড |date=আগস্ট ২০, ২০০৪ |quote=এলভিস কস্টেলো বিখ্যাতভাবে বলেছিলেন যে সঙ্গীত নিয়ে লেখা স্থাপত্য নিয়ে নাচার মতো।}}</ref><ref name="Keyes">{{cite book |last1=কিয়েস |first1=র্যালফ |title=দ্য কোট ভেরিফায়ার: হু সেইড হোয়াট, হোয়্যার, অ্যান্ড হোয়েন |date=২০০৭ |publisher=সেন্ট মার্টিনস |isbn=9781429906173 |page=২৫৬ |url=https://books.google.com/books?id=d6JZryGvfxYC&pg=PA256}}</ref>
* '''ফেনোমেনন - ডু, ডুউ, ডু-ডু-ডু'''
** যদিও এই নামে পরিচিত গানটি 'মাপ্পেট শোতে' বেশ কয়েকবার প্রদর্শিত হয়েছে, তবে এটি মূলত পিয়েরো উমিলিয়ানির সৃষ্টি এবং একটি সফটকোর পর্ন চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।<ref name="CBC-Mahna">{{cite web |last1=সিবিসি রেডিও |title=মাহনা মাহনা অ্যাট ৫০: ফ্যাসিনেটিং ফ্যাক্টস অ্যাবাউট দ্য আনফরগেটেবল মাপেটস সং |url=[https://www.cbc.ca/radio/q/blog/mahna-mahna-at-50-fascinating-facts-about-the-unforgettable-muppets-song-1.5375722](https://www.cbc.ca/radio/q/blog/mahna-mahna-at-50-fascinating-facts-about-the-unforgettable-muppets-song-1.5375722) |date=২০ নভেম্বর ২০১৯ |publisher=সিবিসি |access-date=১ মে ২০২৬}}</ref> মূল গানের শিরোনাম এবং লিরিক্স উভয়ই ছিল "মাহনা মাহনা", যার কোনো অর্থ নেই; পরবর্তীতে মাপ্পেট শোতে মূল শব্দের ওপর ভিত্তি করে কৌতুক হিসেবে "ফেনোমেনন" শব্দটি যুক্ত করা হয়।
* '''[[রিঙ্গো স্টার|রিঙ্গো]] বিশ্বের সেরা ড্রামার নন; এমনকি তিনি বিটলসেরও সেরা ড্রামার নন।'''
** এটি ভুলভাবে [[জন লেননের]] উক্তি হিসেবে চালানো হয়। আবার অনেকে জ্যাসপার ক্যারটকেও এর কৃতিত্ব দেন, যিনি সম্ভবত ১৯৮৩ সালে তাঁর বিবিসি শো 'ক্যারট'স লিবে' এটি বলেছিলেন।
** এই কৌতুকটির প্রকৃত উৎস হলো ১৯৮১ সালের বিবিসি রেডিও ৪ এর কমেডি শো 'রেডিও অ্যাক্টিভ', যা জেফরি পারকিন্স লিখেছিলেন এবং ফিলিপ পোপ এটি উচ্চারণ করেছিলেন।<ref>{{Cite web|url=https://www.radiox.co.uk/artists/beatles/did-john-lennon-say-ringo-wasnt-even-best-drummer/|title=Did John Lennon really say Ringo “Wasn’t Even The Best Drummer In The Beatles”?|website=Radio X|date=July 7, 2024|access-date=September 9, 2025}}</ref>
== উৎসবিহীন, যাচাইহীন বা অন্যান্য অনুমানসমূহ ==
:''এগুলো সরাসরি ভুল উদ্ধৃতি নাও হতে পারে, বরং জনপ্রিয় সংস্কৃতির কিছু ক্যাচফ্রেজ বা চটুল বাক্য হতে পারে, যেগুলোকে প্রাসঙ্গিক এবং স্মরণীয় করার জন্য কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে।''
* '''"যে বাড়িতে একটি লাইব্রেরি আছে, সেই বাড়ির একটি আত্মা আছে।"'''
** ১৮৭৭ সালে রবার্ট জি. ইনগারসোল তাঁর "দ্য লিবার্টি অফ অল" লেখায় এটি প্লেটোর উক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু প্লেটোর কোনো লেখায় এটি পাওয়া যায় না।
* '''"নরক হলো এমন এক সত্য যা খুব দেরিতে দেখা যায়।"'''
** এটি থমাস হবসের 'লেভিয়াথানের' উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু বইটিতে এটি নেই।
* '''"দুষ্টদের কোনো বিশ্রাম নেই।"'''
** এটি সম্ভবত ইসাইয়া ৫৭:২১ এর একটি বিকৃতি: "আমার ঈশ্বর বলেন, দুষ্টদের জন্য কোনো শান্তি নেই।"
* '''"মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা এবং পরিসংখ্যান"'''
** ১৯০৬ সালে মার্ক টোয়েন এটি জনপ্রিয় করেন এবং তিনি ভুলবশত এই উক্তিটির কৃতিত্ব বেঞ্জামিন ডিসরায়েলিকে দেন। ১৮৮৫ সালের শেষদিকে এর একটি ভিন্ন রূপ পাওয়া যায় যেখানে সাক্ষীদের "মিথ্যাবাদী, ডাহা মিথ্যাবাদী এবং বিশেষজ্ঞ" হিসেবে ভাগ করা হয়েছিল। ১৮৯১ সালের দিকে এটি বর্তমান প্রচলিত রূপ পায়। এই বাক্যটি আসলে কে প্রথম তৈরি করেছিলেন তার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না।
* '''"বিক্রির জন্য: শিশুর জুতো, যা কখনোই পরা হয়নি।"'''
** এই ছয় শব্দের ছোট গল্পটি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মৃত্যুর কয়েক দশক পর তাঁর নামে চালানো শুরু হয়। ১৯১০ সালের একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে একজন শিশুর মৃত্যুর খবরের সাথে অনুরূপ একটি বাক্যের প্রথম দেখা মেলে: "শিশুর হাতে তৈরি প্যান্ট এবং বিছানা বিক্রির জন্য। কখনো ব্যবহার করা হয়নি।"
* '''"আমি ভয় পাচ্ছি আমরা কেবল একটি ঘুমন্ত দানবকে জাগিয়ে তুলেছি এবং তাকে এক ভয়াবহ সংকল্পে পূর্ণ করেছি।"'''
** এটি ১৯৪১ সালের [[:w:পার্ল হারবার আক্রমণ|পার্ল হারবার আক্রমণ]] নিয়ে জাপানি অ্যাডমিরাল ইসোরোকু ইয়ামামোতোর উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়। এটি প্রথম ১৯৭০ সালের চলচ্চিত্র ''[[তোরা! তোরা! তোরা!]]'' এবং পরবর্তীতে ২০০১ সালের ''হারবার'' চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়। আক্রমণটি নিয়ে তাঁর অনুভূতি এমন থাকলেও, ইয়ামামোতো এটি কোথাও বলেছিলেন বা লিখেছিলেন এমন কোনো ছাপানো প্রমাণ নেই।
* '''"বন্ধু, বিশ্বকাপটা ফেলে দিয়ে কেমন লাগছে?"'''
** এটি হার্শেল গিবস একটি ক্যাচ মিস করার পর স্টিভ ওয়াহ তাঁকে বলেছিলেন বলে দাবি করা হয়, যার ফলে ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিটকে যায়। কিছু অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার এমন বিনিময় শুনেছেন বলে দাবি করলেও স্টিভ ওয়াহ নিজে এটি বলার কথা অস্বীকার করেছেন।
* '''"কারণ এটি সেখানে আছে"'''
** কেন তিনি এভারেস্টে চড়তে চান—এমন প্রশ্নের উত্তরে জর্জ ম্যালোরি এটি বলেছিলেন বলে প্রচলিত আছে। তবে এই উক্তির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এটি কোনো সংবাদ প্রতিবেদকের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন হতে পারে।
* '''"এটি একটি অদ্ভুত পুরনো খেলা"'''
** জিমি গ্রিভস তাঁর আত্মজীবনী 'গ্রিভসিতে' জোর দিয়ে বলেছেন যে, এটি নিয়মিত তাঁর উক্তি হিসেবে চালানো হলেও তিনি এটি কখনোই ব্যবহার করেননি। সম্ভবত আশির দশকের মাঝামাঝি 'স্পিটিং ইমেজ' অনুষ্ঠানের একটি ট্রেলার থেকে এই ভুল উদ্ধৃতির সূত্রপাত।
* '''"ক্ষমতা দুর্নীতি করে; আর পরম ক্ষমতা পরমভাবে দুর্নীতি করে।"'''
** এটি ১৯ শতকের ব্রিটিশ ঐতিহাসিক লর্ড অ্যাক্টনের একটি উক্তির ভুল সংস্করণ। তিনি আসলে লিখেছিলেন: "ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত করার প্রবণতা রাখে; পরম ক্ষমতা পরমভাবে দুর্নীতি করে। মহৎ ব্যক্তিরা প্রায় সবসময়ই খারাপ মানুষ হয়ে থাকেন।"
* '''"বিম মি আপ, স্কটি বা Beam me up, Scotty"''' – জেমস টি. কার্ক
** 'স্টার ট্রেক' টেলিভিশন সিরিজের জনপ্রিয় এই উক্তিটি মূল সিরিজে কখনোই হুবহু এভাবে বলা হয়নি। সেখানে "Energize", "Beam me aboard" বা "Beam us up home" এর মতো বাক্য ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ''স্টার ট্রেক: দ্য অ্যানিমেটেড সিরিজে'' "Beam us up, Scotty" বাক্যটি শোনা যায়। ১৯৯৬ সালে স্কটি চরিত্রে অভিনয় করা জেমস ডুহান তাঁর আত্মজীবনীর শিরোনাম হিসেবে এই ভুল উদ্ধৃতিটিই বেছে নিয়েছিলেন।
* '''"ধ্যাত জিম! আমি একজন ডাক্তার, আমি কোনো... নই"''' – লিওনার্ড ম্যাককয়
** 'স্টার ট্রেক' সিরিজের এই বাক্যে ম্যাককয় কখনোই "damn it" (ধ্যাত) শব্দটি ব্যবহার করেননি। মূল সিরিজে একমাত্র গালি হিসেবে "hell" ব্যবহৃত হয়েছিল। সম্ভবত স্যাটারডে নাইট লাইভের একটি প্যারোডি স্কেচ থেকে এই "damn it" যুক্ত বাক্যটি জনপ্রিয় হয়। অবশ্য ২০০৯ সালের ''স্টার ট্রেক'' চলচ্চিত্রে এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
* '''"চকচক করলেই সোনা হয় না"''' – [[উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]]
** সঠিক উক্তি: "All that glisters is not gold" (এখানে glisters ব্যবহৃত হয়েছে, glitters নয়)। এটি 'দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিসে' মরক্কোর রাজপুত্র বলেছিলেন।
** লেড জেপলিনের গান "Stairway to Heaven" এ বলা হয়েছে, "all that glitters is gold"।
** 'লর্ড অফ দ্য রিংস' এর একটি কবিতায় বলা হয়েছে, "All that is gold does not glitter", যা আরাগর্ন চরিত্রটিকে নির্দেশ করে।
** স্ম্যাশ মাউথের গান "অল স্টারের" কোরাসেও "All that glitters is gold" বাক্যটি পাওয়া যায়।
* '''"রক্ত, ঘাম এবং অশ্রু"''' – [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]
** সঠিক উক্তি: "রক্ত, পরিশ্রম, অশ্রু এবং ঘাম ছাড়া আমার দেওয়ার মতো আর কিছুই নেই।"
** এই বাক্যটি থিয়া ফন হার্বোর লেখা 'মেট্রোপলিস' (১৯২৬) বইতেও পাওয়া যায়। মেট্রোপলিসের যন্ত্র সচল রাখতে প্রথম দিনের কাজ শেষে ফ্রেডার ফ্রেডারসেনের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছিল, "সে তার ঠোঁটে নোনতা স্বাদ অনুভব করল এবং বুঝতে পারল না যে এটি রক্ত, ঘাম নাকি অশ্রু ছিল।"
** টীকা: চার্চিলের একটি ভাষণেও অনুরূপ উক্তি পাওয়া যায় যেখানে তিনি বলেছিলেন, "আমি রক্ত, ঘাম এবং অশ্রু ছাড়া আর কিছুর প্রতিশ্রুতি দিইনি..."।
** এছাড়া ১৯৬৩ সালে জনি ক্যাশ এই নামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড বিটিএস এই নামে একটি গান মুক্তি দেয়।
* '''"আল্লাহ তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেরা নিজেদেরকে সাহায্য করে।"'''
** এটি বাইবেলের কোনো উক্তি নয়, বরং এটি একটি প্রাচীন প্রবাদ যা বিভিন্ন সংস্কৃতিতে পাওয়া যায়। ১৭৩৬ সালে [[:w:বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন|বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের]] 'পুওর রিচার্ড'স অ্যালম্যানাকে' এটি স্থান পায়।
** ঈশপের গল্প "হারকিউলিস এবং গাড়িচালকেও" একই বার্তা পাওয়া যায়, যার নৈতিক শিক্ষা ছিল— "ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেদের সাহায্য করে।"
** জেনোফনের 'সাইরোপেডিয়া' এবং [[:w:কোরআনে|আল-কোরআনের]] সূরা আর-রাদেও (আয়াত ১১) অনুরূপ ধারণা ব্যক্ত হয়েছে: "...নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরাই পরিবর্তন করে..."।
* '''"এগিয়ে চলো, ম্যাকডাফ"'''
** সঠিক উক্তি: "লড়াই করো, ম্যাকডাফ... – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:ম্যাকবেথ|ম্যাকবেথ]]'')
** বাক্যটির প্রথম লিখিত ব্যবহার ১৮৫৫ সালের দিকে পাওয়া যায়।
* '''"বাবল বাবল, টয়েল অ্যান্ড ট্রাবল।"'''
** সঠিক উক্তি: "ডাবল, ডাবল টয়েল অ্যান্ড ট্রাবল " – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:ম্যাকবেথ|ম্যাকবেথ]]'')
** ডিজনি কার্টুন 'ডাকটেলসে' জাদুকরীদের মুখে এই "বাবল, বাবল" উক্তিটি জনপ্রিয় হয়।
* '''"আমার মনে হয়, নারীটি একটু বেশিই প্রতিবাদ করে ফেলছে!"'''
** সঠিক উক্তি: "যতটা প্রয়োজন, ভদ্রমহিলা তার চেয়েও বেশি আপত্তি দেখাচ্ছেন—ঘটনা নিশ্চয়ই অন্য কিছু।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
** শেক্সপীয়ারের সময়ে "প্রটেস্ট" শব্দের অর্থ ছিল "দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করা" বা "প্রতিজ্ঞা করা", বর্তমানের মতো কোনো কিছু "অস্বীকার করা" নয়। এখানে রানী গারট্রুড নাটকের রানীর অতিশয় আবেগের বিষয়ে মন্তব্য করছিলেন।
* '''"টাকাই সব অনর্থের মূল।"'''
** মূল বক্তব্য: "বরং টাকার প্রতি মোহ-ই সব অনর্থের মূল।" (১ টিমোথি ৬:১০, কিং জেমস বাইবেল)
** সব অনুবাদই একমত যে, টাকা নিজে মন্দ নয়, বরং টাকার প্রতি অতিরিক্ত 'লোভ' বা 'মোহ' মন্দের সাথে জড়িত।
* '''"এখন আমাদের অসন্তোষের শীতকাল।"'''
** মূল বক্তব্য: "Now is the winter of our discontent / Made glorious summer by this son of York." – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:তৃতীয় রিচার্ড (নাটক)|তৃতীয় রিচার্ড]]'')
** এটি মূলত একটি অসম্পূর্ণ উদ্ধৃতি। পুরো বাক্যে বলা হয়েছে যে, ইয়র্কের এই সন্তানের (এখানে সূর্যের সাথে একটি শব্দালঙ্কার করা হয়েছে) কারণে আমাদের অসন্তোষের শীতকাল এখন গৌরবময় গ্রীষ্মে পরিণত হয়েছে।
* '''"হায়, বেচারা ইয়োরিক! আমি তাকে খুব ভালো করে চিনতাম।"'''
** সঠিক উক্তি: "আমাদের অসন্তোষের এই যে হিমশীতল শীতকাল—ইয়র্কের এই সুযোগ্য সন্তানের আগমনে তা আজ এক মহিমান্বিত গ্রীষ্মে রূপ নিয়েছে!" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
* '''"স্যাম, ওটা আবার বাজাও"'''
** প্রকৃত উক্তি: "স্যাম, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে একবার বাজাও, 'অ্যাজ টাইম গোজ বাই' গানটি বাজাও।" – ইনগ্রিড বার্গম্যান (''ক্যাসাব্লাঙ্কা'')
** হামফ্রে বোগার্ট বলেছিলেন: "তুমি ওর জন্য বাজিয়েছ, এখন আমার জন্য বাজাতে পারো... ও যদি শুনতে পারে, তবে আমিও পারব। বাজাও।"
** ১৯৪৬ সালের মার্ক্স ব্রাদার্সের সিনেমা 'এ নাইট ইন ক্যাসাব্লাঙ্কা' থেকে সম্ভবত এই ভুল উদ্ধৃতিটির জন্ম।
* '''"মিস্টার ডিমিল, আমি আমার ক্লোজ-আপ শটের জন্য তৈরি।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "ঠিক আছে মিস্টার ডিমিল, আমি আমার ক্লোজ-আপ শটের জন্য তৈরি" – গ্লোরিয়া সোয়ানসন (''সানসেট বুলেভার্ড'')
* '''"লোভ ভালো।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, মূল কথা হলো— উন্নত শব্দের অভাবে বলছি— লোভ ভালো। লোভ সঠিক, লোভ কাজে দেয়।" – গর্ডন গেক্কো (''ওয়াল স্ট্রিট'')
* '''"কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!"'''
** সঠিক উক্তি: "কেউ আমাদের ওপর ফাঁদ পেতেছে, পাতা হয়েছে বোমা—শেষ অপেক্ষার পালা, এবার পাল্টা আঘাতের সময়!!"
** একটি ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশনের কারণে "কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!" রূপটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
** 'এম্পায়ার আর্থ' গেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেতার জন্য "কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!" বাক্যটি একটি চিট কোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
** টীকা: এটি জাপানি ভিডিও গেম ''[[:w:জিরো উইং|জিরো উইংয়ের]]'' একটি অত্যন্ত কাঁচা এবং হাস্যকর ইংরেজি অনুবাদ থেকে এসেছে। মূল জাপানি বাক্যটি ছিল স্বাভাবিক, যার অর্থ দাঁড়ায়— "মনে হচ্ছে কেউ এখানে বিস্ফোরক স্থাপন করেছে।" একই গেমের "[[:w:আপনার সমস্ত ঘাঁটি এখন আমাদের দখলে|আপনার সমস্ত ঘাঁটি এখন আমাদের দখলে]]" উক্তিটিও একইভাবে বিখ্যাত।
* '''"বাকিটুকু নীরবতা... বাকিটুকুও বিজ্ঞান!"'''
** সঠিক উক্তি: "বাকিটুকু কেবল নীরবতা।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
** টীকা: এই বাক্যটি অনেক সময় শব্দের খেলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন জাজ শিল্পী স্টিভ সোয়ালো জাজ কম্পোজিশন সম্পর্কে বলেছিলেন, "শেষ পর্যন্ত একটি আইডিয়া চলেই আসে, আর বাকিটুকু স্রেফ বিজ্ঞান।"
* '''"লিলি ফুলকে ঝলক দেয়"'''
** সঠিক উক্তি: "খাঁটি সোনায় ঝিলিক দেওয়া, কিংবা পদ্মকে রঙে রাঙানো।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:কিং জন|কিং জন]]'')
** শেক্সপীয়ার মূলত বাইবেলের একটি কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে এটি লিখেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছে যে ঈশ্বর লিলি ফুলকে যেভাবে তৈরি করেছেন তাতে নতুন কিছু যোগ করার প্রয়োজন নেই।
* '''"আপনি কেন মাঝেমধ্যে আমার এখানে এসে দেখা করেন না?"'''
** সঠিক উক্তি: "সময় পেলে কোনো একদিন এসো না আমার এখানে? প্রতি সন্ধ্যায় তো আমি ঘরেই থাকি।" – মে ওয়েস্ট (''শী ডান হিম রং'')
** তিনি তাঁর পরের ছবি 'আই অ্যাম নো অ্যাঞ্জেলে' শব্দগুলোর ক্রম পরিবর্তন করে বলেছিলেন।
** 'টম অ্যান্ড জেরি' কার্টুনের একটি যান্ত্রিক ইঁদুরকেও এই বাক্যটি বারবার বলতে শোনা যায়।
* '''"আমি কোনো প্রতারক নই"''' – [[:w:রিচার্ড নিক্সন|রিচার্ড নিক্সন]]
** এটি প্রায়ই [[:w:ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি|ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি]] সংক্রান্ত তাঁর কোনো সাফাই হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এটি বলেছিলেন। তাঁর সঠিক উক্তিটি ছিল: "জনগণের জানা উচিত তাদের প্রেসিডেন্ট প্রতারক কি না। আমি কোনো প্রতারক নই।"
* '''"তুই এক নোংরা ইঁদুর!"'''
** [[:w:জেমস ক্যাগনি|জেমস ক্যাগনি]] কোনো চলচ্চিত্রেই হুবহু এই বাক্যটি বলেননি। তবে 'ব্লন্ড ক্রেজি' (১৯৩১) ছবিতে তিনি অন্য একটি চরিত্রকে "dirty, double-crossing rat" বলেছিলেন।
** 'ট্যাক্সি! ট্যাক্সি!' (১৯৩২) ছবিতে তিনি তাঁর ভাইকে হত্যাকারী ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "বাইরে এসে লড়ো, তুই নোংরা পীত-হৃদয় ইঁদুর!" এটিই মূল প্রেক্ষাপটের সবচেয়ে কাছাকাছি উক্তি। পরবর্তীতে 'টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলসে' মিকেলেঞ্জেলো চরিত্রটি ক্যাগনিকে অনুকরণ করতে গিয়ে এই ভুল উক্তিটি ব্যবহার করে।
* '''"রয়্যাল নেভির একমাত্র ঐতিহ্য হলো রাম (মদ), পুংমৈথুন এবং চাবুক।"'''
** [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের] ব্যক্তিগত সচিব অ্যান্থনি মন্টেগু-ব্রাউন জানিয়েছিলেন যে, চার্চিল এটি কখনোই বলেননি, তবে তিনি আফসোস করে বলেছিলেন যে ইশ! যদি তিনি এটি বলতেন।
* '''"একটি ভাষা হলো নৌবাহিনী সমৃদ্ধ একটি উপভাষা।"'''
** মূল উক্তি (ইদিশ ভাষায়): "אַ שפּראַך איז אַ דיאַלעקט מיט אַן אַרמיי און פֿלאָט" (একটি ভাষা হলো সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনী সমৃদ্ধ একটি উপভাষা)।
** এটি অটো ফন বিসমার্ক বলেননি, বরং ভাষাবিদ ম্যাক্স ওয়াইনরিখ এটি বলেছিলেন।
* '''"নরকের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থানগুলো তাদের জন্য সংরক্ষিত যারা বড় ধরনের নৈতিক সংকটের সময় নিরপেক্ষ থাকে।"'''
** জন এফ. কেনেডি এটি বলেছিলেন এবং তিনি এর কৃতিত্ব [[:w:দান্তে আলিগিয়েরি|দান্তেকে]] দিয়েছিলেন। কিন্তু দান্তের 'ডিভাইন কমেডিতে' যারা নিরপেক্ষ ছিল তাদের স্থান দেওয়া হয়েছে নরকের প্রবেশদ্বারে, যা কোনোভাবেই উত্তপ্ত নয়। অন্যদিকে নরকের সর্বনিম্ন বা সবচেয়ে ভয়াবহ স্থানটি ছিল তুষারে জমাট বাঁধা হ্রদ, যা বিশ্বাসঘাতকদের জন্য নির্ধারিত।
* '''"একদম ঘাড়ের ওপর দিয়ে যাওয়া জয়"''' – আর্থার ওয়েলেসলি (ডিউক অফ ওয়েলিংটন)
** ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে জয়ের পর তিনি আসলে বলেছিলেন, "এটি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি বিষয়—আমার দেখা সবচেয়ে কাছাকাছি লড়াই..."। এখানে তিনি জয়টি কতটা কঠিন ছিল তা বোঝাতে 'nice' শব্দটি প্রাচীন অর্থে (সুক্ষ্ম বা নিখুঁত) ব্যবহার করেছিলেন।
* '''"নিজেকে কি ভাগ্যবান মনে হয়, ছোকরা?"''' – [[:w:ক্লিন্ট ইস্টউড|ক্লিন্ট ইস্টউড]] (''ডার্টি হ্যারি'')
** সঠিক উক্তি এবং প্রেক্ষাপট: "আমি জানি তুমি কি ভাবছ: 'সে কি ছয়টি গুলি চালিয়েছে নাকি পাঁচটি?' সত্যি বলতে, এই উত্তেজনার চোটে আমি নিজেও হিসাব হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু যেহেতু এটি একটি .৪৪ ম্যাগনাম—বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যান্ডগান যা তোমার মাথা উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট—তাই তোমাকে নিজেকে একটি প্রশ্ন করতে হবে: 'আমি কি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি?' কি মনে হয়, ছোকরা?"
** 'দ্য মাস্ক' চলচ্চিত্রে জিম ক্যারি এই উক্তিটির সঠিক রূপের বেশ কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন।
<div id="revolver">
* '''"যখনই আমি 'সংস্কৃতি' শব্দটি শুনি, আমি আমার রিভলভারের দিকে হাত বাড়াই।"'''
** প্রকৃত উক্তিটি হলো— "Wenn ich Kultur höre ... entsichere ich meinen Browning!" এর অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: "যখনই আমি 'সংস্কৃতি' (শব্দটি) শুনি... আমি আমার ব্রাউনিংয়ের সেফটি লক খুলে ফেলি!"
** এই উক্তিটি প্রায়ই ভুলবশত শীর্ষস্থানীয় নাৎসি নেতা হার্মান গোয়েরিং অথবা মাঝেমধ্যে [[:w:জুলিয়াস স্ট্রাইচার|জুলিয়াস স্ট্রাইচারের]] নামে চালানো হয়। এই ভুল প্রচার সম্ভবত [[:w:ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রা|ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রার]] বিখ্যাত তথ্যচিত্র থেকে শুরু হয়েছে, যা যুদ্ধের আগে আমেরিকান সৈন্যদের দেখানো হতো।
** বাস্তবে, এটি [[:w:হানস জোহস্ট|হানস জোহস্টের]] লেখা 'শ্লাগেটার' নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে থিম্যান নামক একটি চরিত্রের সংলাপ। তবে নাৎসিবাদের সাথে এর সম্পর্ক থাকাটা যৌক্তিক, কারণ নাটকটি ১৯৩৩ সালের এপ্রিলে [[:w:হিটলার|হিটলারের]] জন্মদিনের সম্মানে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল।
** হিটলার ইয়ুথের প্রধান বলদুর ফন শিরাখ ১৯৩৮ সালের দিকে একটি জনসভায় এই বাক্যটি উচ্চারণ করেছিলেন। ফ্রেডেরিক রোসিফের তথ্যচিত্র 'ফ্রম নুরেমবার্গ টু নুরেমবার্গে' একটি ফুটেজ দেখা যায় যেখানে ফন শিরাখ এটি বলার সময় সত্যি সত্যি বন্দুক বের করছেন।
** টীকা: এটি মূল জার্মান ভাষার চেয়ে ইংরেজিতে অনুবাদের পর আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে 'জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিতে' নিকোলাস এইচ. ব্যাটির একটি নিবন্ধের পর্যালোচনায় হাওয়ার্ড থমাস মূল জার্মান বাক্য এবং এর অনুবাদ পাশাপাশি উল্লেখ করেছিলেন।
** এই বাক্যটি একটি শব্দালঙ্কার হতে পারে, কারণ 'ব্রাউনিং' বলতে পিস্তল এবং ইংরেজ কবি [[:w:রবার্ট ব্রাউনিং|রবার্ট ব্রাউনিং]] উভয়কেই বোঝানো যেতে পারে।
** এছাড়া এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ব্রাউনিং (সম্ভবত এম১৯৩৫ হাই-পাওয়ার) কোনো রিভলভার নয়, বরং এটি একটি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। তবে সেই সময়ে 'ব্রাউনিং' শব্দটি যেকোনো পিস্তল বোঝাতে ব্যবহৃত হতো, ঠিক যেভাবে ওয়েস্টার্ন সিনেমাগুলোতে যেকোনো রিভলভারকে 'কোল্ট' বলা হয়।
</div>
* '''"প্রত্যাখ্যাত নারীর মতো ভয়ংকর উন্মাদনা নরকেও নেই"'''
** সঠিক উক্তিটি হলো: "স্বর্গের এমন কোনো ক্রোধ নেই যা ঘৃণায় রূপান্তরিত প্রেমের মতো / না আছে নরকের এমন উন্মাদনা যা একজন প্রত্যাখ্যাত নারীর মতো।" এটি ১৬৯৭ সালে [[:w:উইলিয়াম কনগ্রিভ|উইলিয়াম কনগ্রিভ]] তাঁর 'দ্য মর্নিং ব্রাইডে' লিখেছিলেন।
* '''"তাদের চোখের সাদা অংশ না দেখা পর্যন্ত গুলি ছুড়বে না।"'''
** এই উক্তিটি সাধারণত নিউ অর্লিন্সের যুদ্ধে অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের বলে মনে করা হয়।
** বাস্তবে, এটি জর্জ ওয়াশিংটনের কন্টিনেন্টাল আর্মির কমান্ডার কর্নেল [[:w:উইলিয়াম প্রেসকট|উইলিয়াম প্রেসকট]] বাঙ্কার হিলের যুদ্ধে বলেছিলেন। পুরো উক্তিটি ছিল, "তাদের চোখের সাদা অংশ না দেখা পর্যন্ত গুলি ছুড়বে না। তারপর, '''নিচু করে গুলি চালাও!'''"
** উৎস: রবার্ট ল্যাকি রচিত 'জর্জ ওয়াশিংটন'স ওয়ার'।
* '''"হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছে"'''
** অ্যাপোলো ১৩ এর কমান্ডার জিম লাভেল এটি বলেছিলেন বলে মনে করা হয়, তবে তাঁর মূল কথা ছিল: "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল। আমাদের মেইন বি বাস আন্ডারভোল্ট হয়েছিল।" তবে হিউস্টনকে সমস্যার কথা প্রথম জানিয়েছিলেন নভোচারী জ্যাক সুইগার্ট, যিনি প্রায় একই শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। নাসার আনুষ্ঠানিক কালানুক্রম অনুযায়ী কথোপকথনটি ছিল এমন:
*** ৫৫:৫৫:২০ – সুইগার্ট: "ঠিক আছে হিউস্টন, এখানে আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল।"
*** ৫৫:৫৫:২৮ – লুসমা: "এটি হিউস্টন। দয়া করে আবার বলুন।"
*** ৫৫:৫৫:৩৫ – লাভেল: "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল। আমাদের মেইন বি বাস আন্ডারভোল্ট হয়েছিল।"
** তবে 'অ্যাপোলো ১৩' চলচ্চিত্রে টম হ্যাঙ্কস বলেন, "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছে।"
* '''"কিসমেত হার্ডি / কিস মি, হার্ডি"''' – ব্রিটিশ ভাইস অ্যাডমিরাল [[:w:হোরেশিও নেলসন|হোরেশিও নেলসন]]
** নেলসন মৃত্যুর সময় "কিসমেত হার্ডি" বা "কিস মি, হার্ডি" বলেছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। 'কিসমেত' শব্দের অর্থ ভাগ্য। তবে ওক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান অনুযায়ী ১৮৪৯ সালের আগে ইংরেজি ভাষায় 'কিসমেত' শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায় না। নেলসন তাঁর ফ্ল্যাগ ক্যাপ্টেন টমাস মাস্টারম্যান হার্ডিকে "কিস মি, হার্ডি" বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো তাঁর শেষ কথা ছিল না। সার্জন উইলিয়াম বিটির মতে নেলসনের প্রকৃত শেষ কথা ছিল: "ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি। পানি, পানি। বাতাস, বাতাস। মালিশ, মালিশ।"
* '''"মন্দের বিজয়ের জন্য একমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিস হলো ভালো মানুষের কিছু না করা"''' – [[:w:এডমন্ড বার্ক|এডমন্ড বার্ক]]
** এটি সম্ভবত দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের ১৮৬৭ সালের একটি বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত রূপ। মিল বলেছিলেন: "মন্দ লোকেরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য ভালো মানুষদের কেবল তাকিয়ে থাকা এবং কিছু না করার চেয়ে বেশি কিছু চায় না।"
** বার্কের 'থটস অন দ্য কজ অফ প্রেজেন্ট ডিসকন্টেন্টে' অনুরূপ অর্থের একটি বাক্য পাওয়া যায়: "যখন মন্দ লোকেরা জোট বাঁধে, তখন ভালো মানুষদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; অন্যথায় তারা এক এক করে তুচ্ছ সংগ্রামে করুণ আত্মত্যাগ হিসেবে ধপাস করে পড়বে।"
** এটি অনেক সময় আলেকজিস ডি টোকভিলের উক্তি হিসেবেও চালানো হয়।
* '''"আমাদের ওই পচা ব্যাজগুলোর দরকার নেই!"''' – 'দ্য ট্রেজার অফ দ্য সিয়েরা মাদ্রে' চলচ্চিত্রের ডাকাত
** মূল উক্তিটি হলো— "ব্যাজ? আমাদের কোনো ব্যাজ নেই! আমাদের ব্যাজের দরকার নেই। আমাকে কোনো পচা ব্যাজ দেখাতে হবে না!"
** এই ভুল সংস্করণটি মূলত 'ব্লেজিং স্যাডলস' চলচ্চিত্রে মূল দৃশ্যটির প্যারোডি হিসেবে জনপ্রিয় হয়। সেখানে মেক্সিকান ডাকাতদের নেতা বলেছিল: "ব্যাজ? আমাদের কোনো পচা ব্যাজের দরকার নেই।"
** উক্তিটি 'দ্য নাইন্থ কনফিগারেশন' এবং উইয়ার্ড আল ইয়ানকোভিকের 'ইউএইচএফ' সিনেমাতেও বিকৃতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি 'ট্রান্সফরমারস' কার্টুনে স্টারস্ক্রিম চরিত্রটিও এর একটি ভিন্ন রূপ ব্যবহার করেছিল।
* '''"শাসন না করলে সন্তান নষ্ট হয়ে যায় ।"'''
** সন্তান পালনে শাসনের গুরুত্ব নিয়ে অনেক প্রবাদ আছে, তবে বাইবেলের (কিং জেমস সংস্করণ) হিতোপদেশ ১৩:২৪ এর সবচেয়ে কাছের সংস্করণটি হলো: "যে শাসন করতে কার্পণ্য করে সে তার সন্তানকে ঘৃণা করে; কিন্তু যে তাকে ভালোবাসে সে সময়মতো তাকে শাসন করে।"
** এই নির্দিষ্ট বাক্যটি ১৬০০ এর দশকে স্যামুয়েল বাটলারের 'হুডিব্রাস' কবিতায় পাওয়া যায়।
* '''"সংকট? কিসের সংকট?"''' – ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী [[:w:জেমস ক্যালাহান|জেমস ক্যালাহান]]
** এটি ছিল ১৯৭৯ সালের ১১ জানুয়ারি 'দ্য সান' পত্রিকার একটি শিরোনাম। দেশে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ক্যালাহান যখন বিদেশ থেকে ফিরছিলেন, তখন এক সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন— "দেশের বর্তমান বিশৃঙ্খলার মুখে আপনার সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি কী?" ক্যালাহান উত্তরে বলেছিলেন— "এটি আপনার বিচার। আমি আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আপনি যদি বাইরে থেকে দেখেন... তবে বিশ্বের অন্য কেউ মনে করবে না যে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে।" ক্যালাহান সরাসরি "কিসের সংকট" শব্দটি ব্যবহার না করলেও পত্রিকাটির এই শিরোনামটি জনমনে গেঁথে যায়।
* '''"কখনও কখনও একটি চুরুট স্রেফ একটি চুরুটই।"'''
** এই উক্তিটি প্রায়ই [[:w:সিগমুন্ড ফ্রয়েড|সিগমুন্ড ফ্রয়েডের]]নামে চালানো হয় এটা বোঝাতে যে, এমনকি একজন বিখ্যাত মনোবিশ্লেষকও স্বীকার করতে পারেন যে সবকিছুরই গভীর কোনো অর্থ থাকে না; তবে তাঁর কোনো লেখায় এই উক্তির কোনো বৈচিত্র্য কখনোই পাওয়া যায় না। তাঁর মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর এটি ভুলভাবে তাঁর নামে প্রচলিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। [http://quoteinvestigator.com/2011/08/12/just-a-cigar/]
** [[:w:রুডইয়ার্ড কিপলিং|রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের]] 'দ্য বেট্রোথড' কবিতা থেকে একটি বিকল্প:
<blockquote>
:"লক্ষ লক্ষ উদ্বৃত্ত ম্যাগি জোয়াল বইতে ইচ্ছুক;
:আর একজন নারী স্রেফ একজন নারীই, কিন্তু একটি ভালো চুরুট হলো প্রশান্তির ধোঁয়া।"
</blockquote>
* '''"সবসময় সুসমাচার প্রচার করো, আর যদি প্রয়োজন হয় তবেই শব্দ ব্যবহার করো।"'''
** এটি প্রায়ই [[:w:ফ্রান্সিস অফ আসিসি|ফ্রান্সিস অফ আসিসির]] উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়, তবে এই উক্তির প্রকৃত উৎস অজানা।
* '''"আমাকে একজন তরুণ রক্ষণশীল দেখাও, আমি তোমাকে এমন একজনকে দেখাব যার হৃদয় নেই। আমাকে একজন বৃদ্ধ উদারপন্থী দেখাও, আমি তোমাকে এমন একজনকে দেখাব যার মস্তিষ্ক নেই।"'''
** এটি প্রায়ই [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয় ([http://www.winstonchurchill.org/learn/speeches/quotations/quotes-falsely-attributed])। এই বাক্যটির আদি উৎস হলো ফ্রাঁসোয়া গিজো (১৭৮৭-১৮৭৪): "বিশ বছর বয়সে প্রজাতন্ত্রপন্থী না হওয়া হৃদয়ের অভাবের প্রমাণ; ত্রিশ বছর বয়সেও তা থাকা বুদ্ধির অভাবের প্রমাণ।" পরবর্তীতে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লেমেনসো (১৮৪১-১৯২৯) এটি পুনরায় ব্যবহার করেন: "বিশ বছর বয়সে সমাজতন্ত্রী না হওয়া হৃদয়ের অভাব; ত্রিশ বছর বয়সেও তা থাকা বুদ্ধির অভাব।"
** ১৯৯৪ সালের চলচ্চিত্র [[:w:সুইমিং উইথ শার্কস|সুইমিং উইথ শার্কসে]] এর উল্লেখ পাওয়া যায় এভাবে— "যদি তুমি ২০ বছর বয়সে বিদ্রোহী না হও তবে তোমার হৃদয় নেই, কিন্তু যদি তুমি ৩০ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থায় না ফেরো তবে তোমার মস্তিষ্ক নেই।"
* '''"আমি আজ সকালে ঘুম থেকে উঠলাম এবং নিজের জন্য একটি বিয়ার নিলাম।"'''
** [[:w:দ্য ডোরস|দ্য ডোরস]] ব্যান্ডের সদস্য [[:w:রে মানজারেক|রে মানজারেকের]] লেখা [[:w:লাইট মাই ফায়ার (বই)|''লাইট মাই ফায়ার'']] বই অনুযায়ী, [[:w:জিম মরিসন|জিম মরিসন]] আসলে গেয়েছিলেন "আমি আজ সকালে উঠলাম এবং আমার দাড়ি গজালো", কারণ গানটি মরিসনের ৩ সপ্তাহের মাদকাসক্ত ঘুম থেকে জেগে ওঠার গল্প বলে মনে করা হয়।
** "আমি আজ সকালে উঠলাম এবং নিজের জন্য একটি বিয়ার নিলাম" লাইনটি [[:w:এলিস কুপার|এলিস কুপার]] দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। মরিসন গানটি রেকর্ড করার ঠিক আগে স্টুডিওতে তাঁর সাথে কথা বলছিলেন। তিনি এলিসকে তাঁর দিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন— "উমম.. আজ সকালে উঠলাম.... নিজের জন্য একটা বিয়ার নিলাম।" মরিসন গানে লাইনটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এলিস কুপারের অনেক সাক্ষাৎকারে এটি বারবার বলা হয়েছে। [http://www.uncut.co.uk/news/the_doors/news/11838]
* '''"তাকে তার আরামকেদারায় ধরো, তুমি তার রোগ অনুভব করতে পারবে।"'''
** ১৯৬৯ সালের গান "কাম টুগেদারে" [[:w:দ্য বিটলস|দ্য বিটলসের]] সদস্য [[:w:জন লেনন|জন লেননের]] মূল লিরিক্স ছিল— "তাকে তার বাহুতে ধরো, তুমি তার রোগ অনুভব করতে পারবে।" কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটি 'আরামকেদারা' শুনতে পাওয়ায় লেনন বলেছিলেন যে ওই লিরিক্সটিও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য। [https://ultimateclassicrock.com/the-beatles-come-together-lyrics-uncovered/]
* '''"তাদের কেক খেতে দাও।"'''
** [[:w:মারি অঁতোয়ানেত|মারি অঁতোয়ানেত]] কখনোই এটি বলেননি। [[:w:জঁ-জাক রুসো|জঁ-জাক রুসো]] ১৭৮৩ সালে তাঁর আত্মজীবনী 'কনফেশনসে' উল্লেখ করেন যে, "এক মহান রাজকুমারী" ক্ষুধার্ত কৃষকদের সম্পর্কে বলেছিলেন— "যদি তাদের রুটি না থাকে, তবে তাদের কেক (ব্রায়োশ) খেতে দাও।" ধারণা করা হয় তিনি আসলে স্পেনের মারিয়া তেরেসার কথা বলছিলেন। (রুসোর পাণ্ডুলিপিটি ১৭৬৭ সালে লেখা হয়েছিল, যখন মারি অঁতোয়ানেতের বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর এবং ভবিষ্যতে লুই ১৬ এর সাথে তাঁর বিয়ে হতে তখনও তিন বছর বাকি ছিল।)
* '''"তুমি সত্য জানতে চাও? তুমি সত্য সহ্য করার ক্ষমতা রাখো না!"'''
** [[:w:জ্যাক নিকোলসন|জ্যাক নিকোলসন]] 'এ ফিউ গুড মেন' চলচ্চিত্রে এই উক্তির দ্বিতীয় অংশটি বললেও সংলাপের সঠিক ক্রম ছিল: "তুমি কি উত্তর চাও?" "আমি সত্য চাই!" "তুমি সত্য সহ্য করতে পারবে না!" ক্রুজের চরিত্র যখন জিজ্ঞাসা করে যে সে কি উত্তরের অধিকারী, তখন তাকে আবারও জিজ্ঞেস করা হয় সে উত্তর চায় কি না, এবং উত্তরে ক্রুজ বলে সে সত্য চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিকোলসনের সেই বিখ্যাত ভাষণ শুরু হয়— "তুমি সত্য সহ্য করতে পারবে না!" এই ভুল উদ্ধৃতিটি প্রায়ই বিভিন্ন প্যারোডিতে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে [[:w:দ্য সিম্পসন্স|দ্য সিম্পসন্সে]] দুইবার দেখা গেছে। [http://www.imdb.com/title/tt0112384/quotes?qt0476805]
* '''"হ্যালো, ক্ল্যারিস।"'''
** 'দ্য সাইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্বস' চলচ্চিত্রের প্যারোডিতে এটি মাঝেমাঝে ব্যবহৃত হলেও মূল সিনেমায় [[:w:হানিবাল লেক্টর|হানিবাল লেক্টর]] কখনোই এটি বলেননি। তবে অ্যান্থনি হপকিন্স একবার অনুরূপ বাক্য "শুভ সন্ধ্যা, ক্ল্যারিস" বলেছিলেন। অন্যদিকে সিক্যুয়েল ছবি [[:w:হানিবাল (চলচ্চিত্র)|হানিবালে]] ডক্টর লেক্টর যখন ডিটেকটিভ পাজির ফোন ধরেন, ঠিক তাকে ব্যালকনি থেকে ফেলে দেওয়ার আগে এজেন্ট স্টারলিংকে অভিবাদন জানাতে গিয়ে বলেছিলেন— "তুমি কি ক্ল্যারিস? আচ্ছা, হ্যালো ক্ল্যারিস..."
* '''"দেখলে তো, তুমি আমাকে আবারও কী চমৎকার বিপদে ফেললে"'''
** এটি [[:w:অলিভার হার্ডি|অলিভার হার্ডির]] উক্তি হিসেবে পরিচিত যা তিনি [[:w:স্ট্যান লরেল|স্ট্যান লরেলের]] ভুলের পর বলতেন।
** প্রকৃত উক্তিটি ছিল— "Well, here's another '''nice''' mess you've gotten me into!" (এখানে 'fine' এর বদলে 'nice' ব্যবহৃত হয়েছিল)। ১৯৩০ সালের ছবি [[:w:দ্য লরেল-হার্ডি মার্ডার কেস|দ্য লরেল-হার্ডি মার্ডার কেসে]] এটি বলা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায়। এই ছবির ঠিক পরেই 'অ্যানাদার ফাইন মেস' নামে একটি ছবি আসায় সম্ভবত বিভ্রান্তিটি তৈরি হয়।
** রে স্টিভেন্স পরবর্তীতে একটি গান রেকর্ড করেন যেখানে এই উদ্ধৃতিটি ছিল— "Here's another fine mess you've gotten me into / another fine mess, ah well, what else is new."
** বাস্তবে এটি ১৮৮৫ সালের অপেরা 'দ্য মিকাডোতে' ডব্লিউ. এস. গিলবার্ট প্রথম লিখেছিলেন। ([https://archive.org/details/mikadolibrettoof00sulluoft/page/36 লিব্রেটো দেখুন], দ্বিতীয় অঙ্ক দ্রষ্টব্য)। আদি সংলাপটি ছিল— "Well, a nice mess you've got us into, ..." যা কো-কো চরিত্রটি পুহ-বাহকে বলেছিল। গিলবার্ট এবং সুলিভানের কাজের জনপ্রিয়তার কারণে এই অপেরাগুলোর অনেক সংলাপ সাধারণ প্রবাদে পরিণত হয়েছে। [https://www.gsarchive.net/mikado/html/mikado_by_mencken.html ১৯১০ সালের একটি পর্যালোচনা] এবং [https://gsarchive.net/pinafore/html/pinafore_by_mencken.html ১৯১১ সালের অন্য একটি পর্যালোচনা] দ্রষ্টব্য।
* '''"আমি আইনের বাইরে? আপনি আইনের বাইরে! এই পুরো আদালত আইনের বাইরে!"'''
** প্রকৃত সংলাপ: "''আপনি'' আইনের বাইরে! ''আপনি'' আইনের বাইরে! এই পুরো ''বিচার প্রক্রিয়া'' আইনের বাইরে! '''''তারা''''' আইনের বাইরে!"
** বিচারক রেইফোর্ড যখন বলেন "মিস্টার কার্কল্যান্ড, আপনি আইনের বাইরে", তখন [[:w:অ্যান্ড জাস্টিস ফর অল (চলচ্চিত্র)|...অ্যান্ড জাস্টিস ফর অল]] সিনেমায় আর্থার কার্কল্যান্ড এই উত্তর দেন।
* '''"আমিই শয়তান এবং আমি শয়তানের কাজ করতে এসেছি।"'''
** শ্যারন টেটের বাড়িতে খুনের ঘটনায় এটি প্রায়ই ভুলবশত [[:w:চার্লস ম্যানসন|চার্লস ম্যানসনের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়। ম্যানসন তাঁর অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত কোনো খুনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে এই বাক্যটি [[:w:চার্লস "টেক্স" ওয়াটসন|চার্লস "টেক্স" ওয়াটসন]] ভয়েটেক ফ্রাইকোস্কিকে বলেছিলেন।
** রব জম্বির চলচ্চিত্র [[:w:দ্য ডেভিল'স রিজেক্টস|দ্য ডেভিল'স রিজেক্টসে]] ওটিস চরিত্রটি (বিল মোসলে অভিনীত) "I'm the devil, and I'm here to do the devil's work" বাক্যটি ব্যবহার করে, যা সম্ভবত আদি উক্তিটির প্রতি এক ধরণের শ্রদ্ধা নিবেদন।
** প্রকৃত উক্তি: "আমি শয়তান, আমি এখানে শয়তানের ব্যবসা করতে এসেছি। তোমার সব টাকা আমাকে দাও।"
* '''"সঙ্গীতের এমন জাদু আছে যা বন্য পশুকে শান্ত করতে পারে।"'''
** এটি উইলিয়াম কনগ্রিভের ১৬৯৭ সালের নাটক 'দ্য মর্নিং ব্রাইডের' একটি ভুল উদ্ধৃতি।
** প্রকৃত উক্তি: "হৃদয়ের উন্মত্ততা দমানোর জন্য সঙ্গীতই যথেষ্ট। পাথরকে নরম করতে পারে, বা শক্ত ওক গাছকে বাঁকিয়ে দিতে পারে।"
** [http://en.wikipedia.org/wiki/William_Congreve_(playwright)#.22Music_hath_charms_to_soothe_a_savage_breast.22 উইলিয়াম কনগ্রিভ] সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া তালিকা দেখুন।
* '''"কেবল মৃতরাই যুদ্ধের শেষটা দেখেছে।"'''
** এটি প্লাটোর উক্তি হিসেবে চালানো হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি জর্জ সান্তায়ানা তাঁর 'দ্য লাইফ অফ রিজন' (১৯৫৩) বইয়ে লিখেছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থারের একটি বিদায়ী ভাষণে এটি প্রথম ভুলভাবে উদ্ধৃত হয় এবং এরপর থেকেই তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
* '''"গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক, তা একই রকম মিষ্টি গন্ধ ছড়াবে।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "নামে কী আসে যায়? গোলাপকে আমরা অন্য যে নামেই ডাকি না কেন, তা একই রকম মিষ্টি সুবাস ছড়াবে।"
** এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েটের' দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় দৃশ্য থেকে নেওয়া।
** 'স্টার ট্রেক' সিরিজের "বাই অ্যানি আদার নেম" পর্বে ক্যাপ্টেন কার্ক এই লাইনটি ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছিলেন।
* '''"হোয়ার আর্ট থাউ রোমিও? (রোমিও তুমি কোথায়?)"'''
** সঠিক লাইনটি (প্রেক্ষাপটসহ) হলো: "ও রোমিও, রোমিও! হোয়ারফোর আর্ট থাউ রোমিও? / তোমার পিতাকে অস্বীকার করো এবং তোমার নাম ত্যাগ করো। / অথবা, যদি তুমি তা না করো, তবে আমার ভালোবাসার শপথ নাও, / আর আমি আর কাপুলেট থাকব না।" এখানে জুলিয়েট রোমিও ''কোথায়'' তা জানতে চাচ্ছে না, বরং সে জিজ্ঞাসা করছে সে ''কেন'' রোমিও (মন্টেগু বংশের) নামে পরিচিত।
** শেক্সপিয়রের মূল নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় দৃশ্য।
** রোমিওর পদবি 'মন্টেগু' হওয়ার অর্থ হলো সে জুলিয়েটের পরিবার 'কাপুলেট'-দের চরম শত্রু, তাই জুলিয়েট তাকে তার নাম ত্যাগ করতে বলছে।
* '''"তুমি যদি এটি তৈরি করো, তবে তারা আসবে"'''
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি যদি এটি তৈরি করো, তবে ''সে'' আসবে"। এটি ''ফিল্ড অফ ড্রিমস'' চলচ্চিত্র থেকে নেওয়া।
** সম্ভবত 'ওয়েন'স ওয়ার্ল্ড ২' এর উক্তি "ইফ দে বুক দেম, দে উইল কামের" সাথে গুলিয়ে ফেলার কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কথাটি জিম মরিসনের আত্মা বলেছিল।
* '''"আমার বসার ঘরে এসো,' মাকড়সা মাছিকে বলল।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি কি আমার বসার ঘরে আসবে? মাকড়সা মাছিকে বলল"। এটি "দ্য স্পাইডার অ্যান্ড দ্য ফ্লাই" কবিতাটি থেকে নেওয়া।
** এছাড়াও দ্য পেপার চেজের গান "স্পাইডার টু দ্য ফ্লাই" এবং দ্য কিওরের গান লালাবাইতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
* '''"মস্তিষ্ক: এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে আমরা ভাবি যে আমরা ভাবছি "'''
** প্রকৃত উক্তি: "মস্তিষ্ক: এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে আমরা ভাবি যে আমরা চিন্তা করছি)। এটি অ্যামব্রোস বিয়ার্সের ''দ্য ডেভিল'স ডিকশনারি'' থেকে নেওয়া।
* '''"নাল পয়েন্টস | Nul points"'''
** সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য জায়গায় এই ফরাসি বাক্যটি প্রায়ই বার্ষিক ইউরোভিশন সং কন্টেস্টের']] সাথে জুড়ে দেওয়া হয়, বিশেষ করে 'ফাদার টেডের' "সং ফর ইউরোপ" পর্বে। তবে এই প্রতিযোগিতায় কেবল এক থেকে বারো পর্যন্ত পয়েন্ট দেওয়া হয়। এই বাক্যটি মূলত চূড়ান্ত স্কোরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যখন কোনো দেশ কোনো ভোটই পায় না।
* '''"বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবথেকে বেশি?..."''' – ''স্নো হোয়াইট অ্যান্ড দ্য সেভেন ডোয়ার্ফস'' চলচ্চিত্রে রানী।
** এই উদ্ধৃতিটির কোনো সঠিক উৎস নেই, কারণ এর উৎপত্তি একটি লোকগাথা থেকে, আর লোকগাথার সংজ্ঞানুসারেই এর কোনো নির্দিষ্ট লেখক বা পরিচিত উৎস থাকে না। ১৯৩৭ সালের চলচ্চিত্রে সংলাপটি ছিল "দেওয়ালে জাদুক্রী আয়না" (যার পর ছিল "বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবচেয়ে বেশি?" এবং চলচ্চিত্রের পরবর্তী অংশে ছিল "বল তো আরশি—''এখন'' এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবচেয়ে বেশি??")। গ্রিম ভাইদের সংগৃহীত সংস্করণে এটি ছিল "আয়না, আয়না, দেয়ালে তুমি, সারা দেশে সবচেয়ে সুন্দরী দাপটে কে?" – তবে অবশ্যই গ্রিম ভাইদের সংগ্রহের অনেক আগে থেকেই স্নো হোয়াইটের গল্প প্রচলিত ছিল।
* '''"হাও-মাও-খাও, মানুষের গন্ধ পাও! বাঁচুক কি মরুক—ওর হাড় গুঁড়ো করেই আজ আমার আহার হবে!"'''
** যদি এটি জোসেফ জ্যাকবসের 'ইংলিশ ফেয়ারি টেলস' থেকে উদ্ধৃত করা হয়, তবে এটি হওয়া উচিত: "হাও-মাও-খাও, মানুষের গন্ধ পাও! বেঁচে থাকুক কি মরে যাক—ওর হাড়গুলো আমার চাই-ই, আমার রুটি গুঁড়ো করার তরে!"
<div id="IamYourFather">
* '''লুক, আই অ্যাম ইয়োর ফাদার (লুক, আমিই তোমার বাবা)''' – ''স্টার ওয়ার্স এপিসোড ৫: দ্য এম্পায়ার স্ট্রাইকস ব্যাকে'' ডার্থ ভেডার।
** সঠিক উদ্ধৃতিটি হলো:
***ডার্থ ভেডার: ওবি-ওয়ান তোমাকে কখনোই বলেনি তোমার বাবার কী হয়েছিল।
***লুক স্কাইওয়াকার: সে আমাকে যথেষ্ট বলেছে! সে বলেছে তুমি তাকে মেরে ফেলেছ!
***ডার্থ ভেডার: '''না। ''আমিই'' তোমার বাবা।'''
***লুক স্কাইওয়াকার: না... এটা সত্যি নয়! এটা অসম্ভব!
* '''চারিদিকে জল, জল, শুধু জল, অথচ পান করার মতো এক ফোঁটাও নেই।'''
** এটি স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজের (১৮৩৪) "দ্য রাইম অফ দ্য অ্যানশিয়েন্ট ম্যারিনার" কবিতার একটি ভুল উদ্ধৃতি।
** প্রকৃত উক্তি: "জল, জল, চারদিকে শুধু জল, / শুকিয়ে কাঠ সব কাষ্ঠ-অনল; / জল, জল, চারদিকে শুধু জল, / নেই এক ফোঁটা পানযোগ্য জল!"
* '''"নিজেকে প্রস্তুত করো, শীত আসছে "'''
** এটি এডাড (নেড) স্টার্কের (জর্জ আর. আর. মার্টিনের বইয়ের সিরিজ 'এ সং অফ আইস অ্যান্ড ফায়ারের একটি চরিত্র) উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু পুরো সিরিজে তিনি কখনোই এই দুটি বাক্য ধারাবাহিকভাবে একসাথে বলেননি।
* '''"আর আমি পার পেয়ে যেতাম যদি এই নাক গলানো বাচ্চাগুলো না থাকত!"'''
** রহস্যের শেষে ধরা পড়া এবং মুখোশ খুলে যাওয়ার পর বিভিন্ন [[:w:স্কুবি-ডু|স্কুবি-ডু]] ভিলেনদের উক্তি হিসেবে এটি সাধারণত মনে করা হয়।
** এই উদ্ধৃতিটি মূলত ভিলেনদের দেওয়া বিভিন্ন সংলাপের একটি সংমিশ্রণ। কিছু ভিলেন প্রায় এই ধরণের কথা বলত কিন্তু মেডলিং কিডসের (বা 'নাক গলানো বাচ্চা') বদলে "মেডলার্স" বা "ব্লাস্টেড কিডস" বা অন্য কিছু ব্যবহার করত। কেউ কেউ "মেডলিং কিডস" অংশটি ব্যবহার করলেও বাক্যের বাকি অংশটি অন্যরকম হতো। অনেক ভিলেন গ্রেফতারের সময় চুপ থাকত।
** এই ধরণের উদ্ধৃতির ঘনঘন ব্যবহার শুরু হয় 'এ পাপ নেমড স্কুবি-ডু' সিরিজে, যেখানে প্রায় প্রতিটি পর্বে গ্রেফতার হওয়া ভিলেনরা এটি বলত, তবে তারা দলটিকে মেডলিংয়ের বদলে "পেসকি কিডস" (জন্ত্রণাদায়ক বাচ্চা) হিসেবে সম্বোধন করত। "মেডলিং" সংবলিত সংস্করণটি পরবর্তী বিভিন্ন প্রোডাকশনে যেমন ডাইরেক্ট-টু-ভিডিও মুভি, 'হোয়াটস নিউ, স্কুবি-ডু?' এবং 'স্কুবি-ডু, মিস্ট্রি ইনকর্পোরেটেডে' এবং ডাইরেক্ট টিভির মতো বিজ্ঞাপনে বারবার ব্যবহৃত (ও প্যারোডি) হতে শুরু করে।
* '''"সুখের কোনো পথ নেই; সুখই হলো পথ।"'''
** এটি সাধারণত বুদ্ধের উক্তি হিসেবে চালানো হয়, কিন্তু পালি ত্রিপিটকের কোথাও এর অস্তিত্ব নেই এবং এটি তাঁর বলা উক্তি— এমন কোনো প্রমাণও নেই। বাক্যটি আধুনিক বৌদ্ধ ভিক্ষু থিচ নাট হানের লেখায় পাওয়া যায়, তবে তিনি এর কৃতিত্ব দিয়েছেন ক্যালভিনিস্ট ধর্মযাজক আব্রাহাম জোহানেস মুস্তেকে। মুস্তে ১৯৬৭ সালে এই বাক্যের একটি রূপ— "'শান্তি'ই হলো পথ" ব্যবহার করেছিলেন বলে পরিচিত; তবে এটিই তাঁর প্রথম ব্যবহার ছিল না। ১৯৪৮ সালের মার্কিন সিনেট শুনানির একটি নথিতে এর প্রথম উপস্থিতি পাওয়া যায়। (তথ্যসূত্র: fakebuddhaquotes.com/there-is-no-path-to-happiness-happiness-is-the-path/)
** এটি মনে রাখা জরুরি যে, এই বাক্যের ক্যালভিনিস্ট ব্যাখ্যা এবং আধুনিক বৌদ্ধ ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে, তাই একই শব্দ ব্যবহৃত হলেও দুই লেখকের উদ্দেশ্য ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
* '''"এপ্পুর সি মুওভে (তবুও এটি ঘোরে)।"'''
** গ্যালিলিও যখন ইনকুইজিশনের বিচারের সম্মুখীন ছিলেন, তখন তিনি এটি বলেছিলেন বলে মনে করা হয়; তবে তিনি বাস্তবে এই উক্তিটি করেছিলেন— এমন কোনো প্রকৃত প্রমাণ নেই।
* '''"লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন)।"'''
** চলচ্চিত্র নির্মাণে এটি কখনোই আদর্শ কোনো নির্দেশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। "লাইটস" (আলো) শব্দটি মূলত আগেকার সময়ের বাতি জ্বালানোর নির্দেশ ছিল, যা ব্যবহারের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত করতে হতো; বর্তমান সময়ে এর কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। "ক্যামেরা" বলে কোনো শব্দ ডাকারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না: সাধারণত ক্যামেরা অপারেটর "স্পিড" শব্দটি বলেন, যার অর্থ হলো ক্যামেরার ফিল্ম চিত্রগ্রহণের জন্য সঠিক গতিতে ঘুরতে শুরু করেছে।
* '''"একজন মানুষের সামান্য এক পদযাত্রা, অথচ মানবজাতির তরে এক মহাবিপ্লবী উল্লম্ফন!"'''
** চাঁদে হাঁটার সময় নীল আর্মস্ট্রং এটি বলেছিলেন।
** তথ্য আদান-প্রদানের সময় স্ট্যাটিক নয়েজ বা যান্ত্রিক বিঘ্ন ঘটায় আর্মস্ট্রংয়ের বার্তাটি ভুলভাবে বোঝা হয়েছিল এবং ফলস্বরূপ ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়ে আসছে। আর্মস্ট্রং আসলে বলেছিলেন, "এটি '''''একজনের''''' জন্য ছোট পদক্ষেপ..."।
** চাঁদে নামার একটি ভিডিও ক্লিপ এখানে পাওয়া যাবে: https://www.youtube.com/watch?v=xSdHina-fTk। উক্তিটি ০:৪১ মিনিটে শুরু হয়। সেখানে খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে "a" শব্দটি নেই এবং সিগন্যালে এমন কোনো বিরতিও ছিল না যেখানে শব্দটি শোনা যায়নি এমনটা ভাবা যায়। এই তথাকথিত "সঠিক" উক্তিটি নিঃসন্দেহে তিনি যা বলতে ''চেয়েছিলেন'' তা-ই, তবে তিনি যা বলেছিলেন তা নয়।
* '''"৬৪০ কিলোবাইট-ই যেকোনো ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।"'''
** বিল গেটস কখনোই এটি বলেছিলেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না [http://quoteinvestigator.com/2011/09/08/640k-enough/]। গেটস এমন কিছু বলেছিলেন এমন প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৯৮৫ সালের (১৯৮১ সালের নয়) 'ইনফোওয়ার্ল্ড' ম্যাগাজিনে, এবং সেটি ভবিষ্যৎবাণী ছিল না বরং অতীতের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ ছিল: "যখন আমরা পিসি-ডসের সর্বোচ্চ সীমা ৬৪০ কিলোবাইট নির্ধারণ করেছিলাম, আমরা ভেবেছিলাম কারো এর চেয়ে বেশি মেমরির প্রয়োজন হবে না।" এমনকি এই তথ্যটিরও কোনো সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স ছিল না এবং এটি কোনো সাক্ষাৎকারের অংশ ছিল না। এই উক্তিটির সাথে বব নিউহার্টের একটি উক্তির মিল পাওয়া যায়: "পরবর্তীতে আমি ৬৪ কিলোবাইট মডেলের (কমোডোর ৬৪ পার্সোনাল কম্পিউটার) দিকে এগিয়ে যাই এবং ভাবি যে এটি পাগলামি, কারণ এটি আমার প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি মেমরি।"<ref name="colker20010809">{{cite news | url=http://articles.latimes.com/2001/aug/09/news/tt-32244 | title=Happy Birthday PC! | work=Los Angeles Times | date=2001-08-09 | accessdate=9 January 2015 | author=Colker, David}}</ref>
* '''"তুমি কি কোনো খেলা খেলতে চাও?"'''
** 'স' চলচ্চিত্র সিরিজের কোনোটিতেই এই বাক্যটি নেই। জিগসের মূল সংলাপটি হলো— "''আমি'' একটি খেলা খেলতে চাই ।"
** "আমরা কি একটি খেলা খেলব? " প্রশ্নটি 'ওয়ারগেমস' চলচ্চিত্রে কম্পিউটার দ্বারা বলা হয়েছিল।
* '''একবার যদি তুমি উড়াল দেওয়ার স্বাদ পাও, তবে তুমি চিরকাল আকাশের দিকে তাকিয়ে পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়াবে; কারণ তুমি সেখানে গিয়েছিলে এবং সেখানেই তুমি সবসময় ফিরে যেতে চাইবে।'''
** বিমান চালনা সংক্রান্ত এটি সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি যা যাচাইযোগ্য নয়। এটি সর্বত্র (স্মিথসোনিয়ান প্রকাশনা এবং ওয়াশিংটন পোস্টসহ) লিওনার্দো দা ভিঞ্চির নামে চালানো হয়। এর সম্ভাব্য লেখক হলেন জন হার্মিস সেকেন্ডারি (১৯১৯-১৯৭৫), যিনি ১৯৬৫ সালের টিভি ডকুমেন্টারি 'আই, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির' লেখক ছিলেন।
* '''বাতাসের চেয়ে ভারী উড়ন্ত যন্ত্র তৈরি অসম্ভব।'''
** এটি প্রায়ই লর্ড কেলভিনের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, আবার কখনো লর্ড রেলে বা সাইমন নিউকম্বের নামেও চালানো হয়। এটি সত্যি যে কেলভিন বাতাসের চেয়ে ভারী যন্ত্রের সাহায্যে ওড়ায় বিশ্বাস করতেন না [http://zapatopi.net/kelvin/quotes/], তবে ১৯ শতকের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই যা প্রমাণ করে যে তিনি বা অন্য কোনো পদার্থবিজ্ঞানী বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে অসম্ভব বলেছিলেন।
** এর সবচেয়ে পুরোনো পরিচিত উৎস হলো ক্রিস মরগানের বই 'তথ্য এবং বিভ্রান্তি: ভুল বিশ্বাস আর ভুল অনুমানের এক নিশ্চিত সংগ্রহশালা।' (১৯৮১)।
* '''"শুভ সকাল, ডেভ ।"'''
** এটি ৯০০০ এর (''২০০১: এ স্পেস ওডিসি'' এবং ''২০১০'' চলচ্চিত্রের একটি চরিত্র) উক্তি হিসেবে মনে করা হলেও এটি কখনোই তার দ্বারা উচ্চারিত হয়নি। হ্যাল ৯০০০ এর দুটি উক্তি যা এই ভুল উদ্ধৃতিটির খুব কাছাকাছি, সেগুলো হলো— ''২০০১: এ স্পেস ওডিসিতে'' "হ্যালো, ডেভ" এবং ''২০১০'' সালে "শুভ সকাল, ডক্টর চন্দ্র।"
* '''"রক্তের নদী।"'''
** বিতর্কিত ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ইনোক পাওয়েল ১৯৬০ সালের দশকে অভিবাসনের তথাকথিত বিপদ নিয়ে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন, যা সবসময় "রিভার্স অফ ব্লাড" ভাষণ হিসেবে পরিচিত; কিন্তু তাঁর প্রকৃত ভাষণে শব্দগুলো ছিল "টাইবার নদী রক্তে ফেনিল হয়ে উঠছে।"
* '''"আপনি কি জানেন যে ক্লড পেপার পুরো ওয়াশিংটনে একজন নির্লজ্জ বহির্মুখী হিসেবে পরিচিত? শুধু তাই নয়, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে এই ব্যক্তি তাঁর ভাতৃবধূর সাথে স্বজনপ্রীতি করেন, তাঁর একজন ভাই আছে যে একজন পরিচিত হোমো সেপিয়েন্স, এবং তাঁর একজন বোন আছে যে একসময় দুশ্চরিত্র নিউ ইয়র্কে একজন থেসপিয়ান ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে মিস্টার পেপার বিয়ের আগে অভ্যাসগতভাবে কৌমার্য পালন করতেন।"'''
** এটি জর্জ স্মাদার্সের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়। স্মাদার্স কখনোই এই ভাষণ দেননি বা এমন কোনো মনোভাব প্রকাশ করেননি। এই ভাষণটি মূলত এমন কিছু শব্দের খেলা যা একজন কম শিক্ষিত বা অসচেতন শ্রোতাকে ভাবিয়ে তুলবে যে পেপার সম্ভবত কোনো যৌন বিকৃত পরিবারের সদস্য। ১৯৫০ সালে 'টাইম' ম্যাগাজিনে এটি প্রথমবার ছাপার অক্ষরে আসার আগেই এটি এক ধরণের শহুরে কিংবদন্তি হিসেবে প্রচলিত ছিল।
* '''"এভাবে শেষ হতে দিও না। তাদের বলো আমি কিছু একটা বলেছি।"'''
** ধারণা করা হয় ১৯২৩ সালে মেক্সিকান বিপ্লবী সামরিক নেতা পাঞ্চো ভিলাকে হত্যার পর এগুলোই ছিল তাঁর শেষ কথা। তবে সেই ঘটনার অধিকাংশ বিবরণ অনুযায়ী তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মারা গিয়েছিলেন, কোনো কিছু বলার মতো 'ন্যূনতম' সময়ও তিনি পাননি।
* '''"কারণ টাকা তো সেখানেই থাকে।"'''
** উইলি সাটন কেন ব্যাংক ডাকাতি করতেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই উত্তর দিয়েছিলেন বলে প্রচলিত থাকলেও সাটন তাঁর সারাজীবন এটি অস্বীকার করে গেছেন। মনে করা হয় এটি ওই সাংবাদিকের নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন ছিল। তবে সাটন ১৯৭৬ সালে তাঁর আত্মজীবনীর শিরোনাম 'Where the Money Was' রাখার কারণে মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তিনি সত্যিই এটি বলেছিলেন।
* '''"বেসি, আমি হয়তো মাতাল, কিন্তু তুমি কুৎসিত; আর আগামীকাল সকালে আমি সুস্থ হয়ে যাব (মাতাল ভাব কেটে যাবে)।"'''
** চার্চিল এটি বেসি ব্র্যাডকে বলেছিলেন বলে মনে করা হলেও এর কোনো রেকর্ড নেই; চার্চিলের সাথে নাম জড়ানোর আগে ওই সময়ের অন্যান্য জননেতাদের জড়িয়ে একই ধরণের গল্পের প্রচলন ছিল।
* '''"ওয়াটার্লুর যুদ্ধ জেতা হয়েছিল ইটনের খেলার মাঠে।"'''
** এটি ডিউক অফ ওয়েলিংটনের উক্তি হিসেবে তাঁর শিক্ষাজীবনের স্মৃতি চারণের ক্ষেত্রে মনে করা হলেও ঐতিহাসিকরা মনে করেন এটি তাঁর বলার সম্ভাবনা কম। যুদ্ধের চার দশক পর এবং তাঁর মৃত্যুর পর এই উক্তিটি প্রথম সামনে আসে; এছাড়া তিনি ইটনে খুব বেশি সময় কাটাননি এবং সেই সময়গুলো নিয়ে তাঁর খুব একটা সুখস্মৃতিও ছিল না। তাঁর কথা বলার ধরণ সম্পর্কে পরিচিত জীবনীকাররাও সন্দেহ পোষণ করেন যে, তিনি এমন মনোভাব ব্যক্ত করলেও সেটি এভাবে বলতেন না।
* '''"উন্মাদনার সংজ্ঞা হলো একই কাজ বারবার করা এবং ভিন্ন ফলাফলের আশা করা।"'''
** এই উক্তিটি অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন এবং মার্ক টোয়েনসহ বেশ কয়েকজনের নামে চালানো হয়। এটি সম্ভবত ১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত রিটা মে ব্রাউনের বই 'সাডেন ডেথে' প্রথমবার দেখা গিয়েছিল। [http://www.barrypopik.com/index.php/new_york_city/entry/insanity_is_doing_the_same_thing_and_expecting_different_results/ barrypopik.com] [https://www.psychologytoday.com/blog/in-therapy/200907/the-definition-insanity-is psychologytoday.com]
* '''"এদেশের মানুষের বিশেষজ্ঞদের ওপর যথেষ্ট বিতৃষ্ণা এসে গেছে।"''' — মাইকেল গোভ, ৩ জুন ২০১৬ সালে ফয়সাল ইসলামের সাথে এক সাক্ষাৎকারে।
** গোভ তাঁর বাক্যটি এখানে শেষ করেননি; সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছিলেন [https://www.youtube.com/watch?v=GGgiGtJk7MA]। পুরো উক্তিটি ছিল: "এদেশের মানুষের সেই সব সংক্ষিপ্ত নামধারী (acronyms) প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের ওপর যথেষ্ট বিতৃষ্ণা এসে গেছে, যারা বলে যে তারা সবচেয়ে ভালো বোঝে, কিন্তু প্রতিনিয়ত ভুল প্রমাণিত হয়।" বাক্যের শেষ অংশটুকু বাদ দেওয়ার ফলে তাঁর বিরোধীরা যুক্তি দেওয়ার সুযোগ পায় যে তিনি সব বিশেষজ্ঞকেই বুঝিয়েছেন, অথচ তিনি আসলে বিশেষজ্ঞদের একটি নির্দিষ্ট আচরণের কথা বলছিলেন।
* '''"আমার এবং আমার ক্যালভিনের মাঝে কিছুই আসে না।"''' — ব্রুক শিল্ডস
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি কি জানতে চাও আমার এবং আমার ক্যালভিনের মাঝে কী আসে? কিছুই না।" এটি ক্যালভিন ক্লেইন জিন্সের একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে নেওয়া।
* '''"এটি উন্মাদনা নয়। এটি স্পার্টা।"''' — ২০০৭ সালের '৩০০' চলচ্চিত্রে লিওনিডাস চরিত্রে জেরার্ড বাটলার।
** প্রকৃত উক্তি: ''উন্মাদনা? এটি স্পার্টা'' । পুরো দৃশ্যে ''এটি উন্মাদনা নয়'' বাক্যটি কখনোই উচ্চারিত হয়নি। এই উক্তিটির একটি ভুল উদ্ধৃতি 'ফিনিক্স রাইট ৩: ট্রায়ালস অ্যান্ড ট্রিবিউলেশনসের' ইংরেজি অনুবাদে দেখা গিয়েছিল।
* '''"তোমার রাজকুমারী অন্য একটি দুর্গে আছে ।"''' — সুপার মারিও ব্রাদার্স (১৯৮৫)।
** প্রকৃত উক্তি: "ধন্যবাদ মারিও, কিন্তু ''আমাদের'' রাজকুমারী অন্য একটি দুর্গে আছে।" মারিও যখন ওয়ার্ল্ড ৮ এর আগের দুর্গগুলো থেকে মাশরুম নাগরিকদের উদ্ধার করে, তখন তারা এই কথাটি বলে। তারা "আমাদের" শব্দটি ব্যবহার করে কারণ তিনি মাশরুম মানুষদের রাজকুমারী। এই লাইনটি মারিওর কোনো মালিকানা বা রোমান্টিক প্রত্যাখ্যান বোঝায় না; এমনকি মূল গেমে মারিও এবং রাজকুমারীর মধ্যে কোনো রোমান্টিক সম্পর্কের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি।
** "তোমার রাজকুমারী..." বাক্যটি অনেক পরের গেম 'ব্রেইড' (২০০৮) এ দেখা যায়, যেখানে মূল চরিত্র টিমের রাজকুমারীর প্রতি একটি অস্বাস্থ্যকর এবং একতরফা রোমান্টিক আসক্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
* '''"কল্পনা করুন, যদি আপনি চান।"''' — দ্য টোয়াইলাইট জোন (১৯৫৯-১৯৬৪)।
** উপস্থাপক এবং বর্ণনাকারী রড সার্লিং কোনো পর্বের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করার সময় দর্শকদের প্রায়ই "কল্পনা" করতে বলতেন, কিন্তু তিনি সিরিজে কখনোই এই হুবহু বাক্যটি বলেননি, যদিও এটি প্রায়ই তাঁর নামে চালানো হয়।
* '''"জীবনের অর্থ হলো ৪২।"''' — ডগলাস অ্যাডামস, ''দ্য হিচহাইকার’স গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি, প্রাইমারি ফেজ'' (রেডিও), ১৯৭৮।
** প্রকৃত উক্তি: "জীবন, মহাবিশ্ব এবং সবকিছুর মহান প্রশ্নের উত্তর হলো ৪২।" ম্যাগরাথিয়ান কম্পিউটার 'ডিপ থট' এই কথাটি বলেছিল। গল্পের মূল বিষয়বস্তু ছিল যে, এই উত্তরটি শোনার পর ম্যাগরাথিয়ানরা বুঝতে পেরেছিল যে তারা আসলে 'মহান প্রশ্নটি' কী ছিল সেটাই জানে না। গল্পের কোনো সংস্করণেই এটি জীবনের "অর্থের" সাথে সম্পর্কিত নয়। বরং ৪২ উত্তরটি এটিই প্রমাণ করে যে প্রশ্নটি "কেন?" বা এই জাতীয় কিছু হতে পারে না।
** উদাহরণস্বরূপ, মূল রেডিও সিরিজে প্রশ্নটি পাওয়া যায় না; ২০০৪ সালের 'টারশিয়ারি ফেজ' সিরিজে দাবি করা হয় যে প্রশ্ন এবং উত্তর একসাথে জেনে ফেললে মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটবে। মূল ব্রিটিশ টিভি সিরিজে প্রশ্নটিকে বলা হয়েছে "ছয় কে নয় দিয়ে গুণ করলে কত হয়?", যা প্রমাণ করে যে "মহাবিশ্বের মৌলিক কোনো কিছুতে বড় ধরণের গলদ আছে"।
* '''"X এর ব্যাপারটা কী?"''' — সিনফেল্ড (১৯৮৯-১৯৯৮)
**জেরি সিনফেল্ডের চরিত্রটি মাঝে মাঝে এই বাক্যটি ব্যবহার করত, তবে তা কেবল 'অবজারভেশনাল কমেডির' ধারণাকে উপহাস করার জন্য তীব্র ব্যঙ্গ বা আইরনি হিসেবে। পর্বের শুরুতে বা শেষে স্ট্যান্ড-আপ কমেডির অংশে তিনি কখনোই এটি বলেননি। পুরো সিরিজে একমাত্র জর্জ কস্তানজা চরিত্রটি একবার ব্যঙ্গ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিল।
* '''"আমি বিশ্বাস করতে চাই না, আমি জানতে চাই।"'''
** এই উক্তিটি ভুলবশত কার্ল সেগানের নামে চালানো হয়, যিনি এই কথাটি কখনোই বলেননি বা লেখেননি। তাঁর কোনো বই, নিবন্ধ, টিভি শো বা সাক্ষাৎকারে এটি নেই। এই বাক্যের প্রকৃত লেখক হলেন মুক্তচিন্তক, মানবতাবাদী এবং [[নাস্তিক]] পাউলো বিটেনকোর্ট, যিনি 'লিবারেটেড ফ্রম রিলিজিয়ন' এবং 'ওয়েস্টিং টাইম অন গড' বইগুলো লিখেছেন। [https://www.quora.com/Did-Carl-Sagan-say-I-dont-want-to-believe-I-want-to-know/answer/Alex-Thompson-7] [https://www.google.co.uk/books/edition/Wasting_Time_on_God/yPd7EAAAQBAJ?gbpv=1]
* '''"একটি বিলম্বিত গেম শেষ পর্যন্ত ভালো হতে পারে, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে বানানো গেম চিরকালই খারাপ থেকে যায়।"'''
** এটি সাধারণত [[:w:Shigeru Miyamoto|শিগেরু মিয়ামোতোর]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে তিনি এই হুবহু শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন বা তিনিই এই উক্তির জনক— এমন কোনো প্রমাণ নেই। ১৯৯৭ সালের 'গেমপ্রো' ম্যাগাজিনে অনুরূপ একটি উক্তি দেখা গিয়েছিল, তবে সেখানে এটিকে গেমিং ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রচলিত প্রবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
{{misattributed end}}
== সাধারণভাবে ভুল উদ্ধৃত করা হয় এমন ==
=== ব্যক্তি ===
{{refimprove|section}}
যেহেতু তাঁরা সুপরিচিত বুদ্ধিমান, নায়ক বা খলনায়ক হিসেবে পরিচিত, তাই কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এমন সব উক্তির কৃতিত্ব দেওয়া হয় যা তাঁরা আসলে বাস্তবে কখনোই বলেননি। যাদের নামে সবচেয়ে বেশি ভুল উক্তি প্রচলিত, তারা হলেন:
* যোগী বেরা
* [[অটো ফন বিসমার্ক]]
* আলবেয়ার কামু
* [[জর্জ কার্লিন]]
* [[উইনস্টন চার্চিল]]
* [[কনফুসিয়াস]]
* [[আলবার্ট আইনস্টাইন]]<ref name="bt">{{Cite web |url=https://bigthink.com/high-culture/how-viral-misquotes-evolve-and-replicate/ |title=আইনস্টাইন এটি বলেননি: যেভাবে ভাইরাল ভুল উদ্ধৃতিগুলো বিবর্তিত এবং প্রতিলিপি হয় |date=২০২৪-১০-২৮ |accessdate=২০২৪-১১-০২ |publisher={{w|বিগ থিঙ্ক}} |last=ডিকিনসন |first=কেভিন}}</ref>
* বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন
* [[বিল গেটস]]
* স্যামুয়েল গোল্ডউইন
* [[অ্যাডলফ হিটলার]]
* [[ব্রুস লি]]
* আব্রাহাম লিঙ্কন
* [[নেপোলিয়ন বোনাপার্ট]]
* ডোরোথি পার্কার
* ড্যান কোয়েল
* [[কার্ল সেগান]] [https://www.quora.com/Did-Carl-Sagan-say-I-dont-want-to-believe-I-want-to-know/answer/Alex-Thompson-7]
* [[উইলিয়াম শেকসপিয়র]]
* [[জর্জ বার্নার্ড শ]]
* জোসেফ স্ট্যালিন
* জন স্টেইনবেক
* সান জু
* হেনরি ডেভিড থোরো [http://www.walden.org/Library/Quotations/The_Henry_D._Thoreau_Mis-Quotation_Page]
* [[মার্ক টোয়েন]]
* কার্ট ভনেগাট
* [[অস্কার ওয়াইল্ড]]
{{misattributed end}}
== তথ্যসূত্র ==
<references />
[[বিষয়শ্রেণী:উক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভ্রান্ত উক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:বিষয়বস্তু]]
npjqy99yip4pbcofwjv5k6w3fe0ik5i
83244
83243
2026-05-01T16:33:51Z
Oindrojalik Watch
4169
83244
wikitext
text/x-wiki
[[File:Bottega ranieri.jpg|thumb|'''''বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবথেকে বেশি?'''''|304x304পিক্সেল]]
এই পাতায় এমন কিছু উক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেগুলোকে অনেক মানুষ সঠিক বলে মনে করেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ভুল। এর মধ্যে সেইসব উক্তি অন্তর্ভুক্ত নয় যেগুলো বক্তার নিজস্ব ভুল বা অসাবধানতাবশত বলা কথা (যেমন: রাজনৈতিক ভুলভ্রান্তি)।
:
'''[বিঃ দ্রঃ বোঝানোর সুবিধার্থে তথা শব্দ এবং উক্তি বিশ্লেষণের জন্য কিছু অংশে বা উক্তিতে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজী ভাষা রাখতে হয়েছে।]'''
__TOC__
{{misattributed begin}}
== ভুল উদ্ধৃতি বা ভুল আরোপ ==
* '''"সত্য যখন নিজের জুতো পরছে, একটি মিথ্যা তখন অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে আসে।"'''
** মার্ক টোয়েন, উইনস্টন চার্চিল, থমাস জেফারসন কিংবা অ্যান ল্যান্ডার্স—তারা কেউই এই কথাটি বলেননি। এই বাক্যটি মূলত জোনাথন সুইফটের একটি উক্তির পরিবর্তিত রূপ; তিনি বলেছিলেন: '''"মিথ্যা উড়ে চলে, আর সত্য তার পেছনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসে।"''' । (বিস্তারিত দেখুন [https://quoteinvestigator.com/2014/07/13/truth/ কোট ইনভেস্টিগেটরে])।
* '''"নরক কেবল একটি মানসিক অবস্থা"''': ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে দাবি করা হয় যে এটি ক্রিস্টোফার মার্লোর ''ডক্টর ফস্টাসের'' একটি উদ্ধৃতি। তবে ''ডক্টর ফস্টাসের'' দানব মেফিস্টোফিলিস একটি অনুরূপ ধারণা পোষণ করেন যখন তিনি বলেন যে, স্বর্গের স্থান হারানো তাকে সবখানেই নরকের অভিজ্ঞতা দেয়: (''বাংলায় রূপান্তরঃ'' '''মাহমুদ'''।)
<poem>
:: "কেননা এটাই নরক, এর বাইরে আমি কেউ নই।
:: তুমি কি মনে করো, আমি করেছি ঈশ্বরের মুখাবয়ব-দর্শন,
:: এবং স্বর্গের আনন্দ চিরন্তন—করেছি আস্বাদন
:: দশ সহস্র নরকের যন্ত্রণায় কি দগ্ধ হচ্ছি না প্রতি ক্ষণে ক্ষণে,
:: চিরস্থায়ী সুখ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে?"
</poem>
* '''"আপনার কাছে যদি একটি আপেল থাকে এবং আমার কাছেও একটি আপেল থাকে এবং আমরা সেগুলো বিনিময় করি, তবে আমাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করেই আপেল থাকবে। কিন্তু আপনার কাছে যদি একটি ধারণা থাকে এবং আমার কাছেও একটি ধারণা থাকে এবং আমরা সেগুলো বিনিময় করি, তবে আমাদের প্রত্যেকের কাছে দুটি করে ধারণা থাকবে।"'''
** জর্জ বার্নার্ড শ কখনোই এই কথাগুলো বলেননি, বরং চার্লস এফ. ব্রানান এটি বলেছিলেন। [http://quoteinvestigator.com/2011/12/13/swap-ideas/]
* '''"সব বিজয়ের রহস্য নিহিত থাকে অপ্রকাশ্য বা পরোক্ষ বিষয়ের সংগঠনের মধ্যে"'''
** এটি ব্যাপকভাবে [[:w:মার্কাস অরেলিয়াস|মার্কাস অরেলিয়াসের]] নামে প্রচলিত হলেও উক্তিটি আসলে অসওয়াল্ড স্পেংলারের ''দ্য ডিক্লাইন অফ দ্য ওয়েস্ট'' (১৯১৮ এবং ১৯২৩) গ্রন্থে পাওয়া যায়।
* '''"আমার মনে হয় আমরা আর কানসাসে নেই, টোটো।"''', ''দ্য উইজার্ড অফ অজের'' ডরোথি গেল (জুডি গারল্যান্ড অভিনীত)।
** এই বাক্যটি চরিত্রটি কখনোই উচ্চারণ করেনি। তিনি আসলে যা বলেছিলেন তা হলো: ''টোটো, আমার মনে হচ্ছে আমরা আর কানসাসে নেই।''
* '''"আবশ্যকীয় বিষয়ে ঐক্য, অনাবশ্যকীয় বিষয়ে স্বাধীনতা, আর সব বিষয়ে দয়া।"'''
** এটি ব্যাপকভাবে অগাস্টিনের উক্তি হিসেবে পরিচিত, কিন্তু বাক্যটি আসলে ১৬২৬ সালে লুথারান ধর্মতত্ত্ববিদ এবং শিক্ষাবিদ রুপার্টাস মেলডেনিয়াস তৈরি করেছিলেন। [https://en.wikipedia.org/wiki/Rupertus_Meldenius]
* '''"একজন বোকা মানুষের চোখে একজন চতুর ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি"''', [[:w:স্টিফেন ফ্রাই|স্টিফেন ফ্রাই]] সম্পর্কে [[:w:জুলি বার্চিল|জুলি বার্চিলের]] মন্তব্য।
** এই বাক্যটি মূলত ১৯৩০ সালের দশকে আইরিশ লেখিকা এলিজাবেথ বোয়েন, অলডাস হাক্সলি সম্পর্কে তৈরি করেছিলেন। বার্চিল মন্তব্য করেছিলেন যে, "আমার স্বামী দাবি করেন স্টিফেন ফ্রাই সম্পর্কে আমিই প্রথম বলেছিলাম যে তিনি 'একজন বোকা মানুষের চোখে একজন চতুর ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি'। আমি যদি মদ্যপানে বিভোর না হয়ে একজন সচেতন ব্যক্তি হতাম, তবে এটি সত্যি কি না তা মনে করতে পারতাম। যাই হোক, কথাটি বেশ চমৎকার।"
* '''"খুব বেশি মানুষ এটি জানে না।"''', ব্রিটিশ অভিনেতা [[:w:মাইকেল কেইন|মাইকেল কেইন]]।
** কেইনকে অনুকরণ করার সময় অভিনেতা/কৌতুক অভিনেতা [[:w:পিটার সেলার্স|পিটার সেলার্স]] এই মন্তব্যটি করেছিলেন যা পরবর্তীতে কেইনের উক্তি হিসেবে পরিচিতি পায়, যদিও তিনি নিজে এটি কখনোই বলেননি। [http://www.metro.co.uk/film/858942-michael-caine-i-never-said-not-a-lot-of-people-know-that]
* '''"ভালো মানুষেরা সবার শেষে শেষ করে (হার মানে)।"''' লিও ডুরোচার (১৯০৬–১৯৯১), মার্কিন [[:w:বেসবল|বেসবল]] ম্যানেজার।
** লিও ডুরোচারের জীবনীগ্রন্থ, ''নাইস গাইজ ফিনিশ লাস্ট'' (লিও ডুরোচার এবং এড লিন, সাইমন এবং শুস্টারে, ১৯৭৫) বর্ণিত তথ্যমতে— ১৯৪৬ সালের নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস দল সম্পর্কে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি এই মন্তব্যটি করেছিলেন। তিনি আসলে বলেছিলেন, "তাদের দিকে একবার তাকান। সবাই ভালো মানুষ। তারা সবার শেষে শেষ করবে। ভালো মানুষেরা—সবার শেষে শেষ করে।" বাক্যের শেষ অংশে একটি সর্বনাম ("যারা") বাদ পড়ে যাওয়ায় একটি সাধারণ মূল্যায়ন কালক্রমে এমন এক ঘোষণায় পরিণত হয়েছে যে—ভালো মানুষদের ভাগ্যে কেবল ব্যর্থতাই জোটে।
* '''"মহাবিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ দুটি উপাদান হলো হাইড্রোজেন এবং মূর্খতা।"''' হারলান এলিসন (জন্ম ২৭ মে, ১৯৩৪), মার্কিন [[:w:লেখক|লেখক]]।
** ১৯৬০ সালের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এলিসন একটি গদ্যে এটি উল্লেখ করলেও, উক্তিটি প্রায়ই ভুলভাবে [[:w:ফ্র্যাংক জ্যাপা|ফ্র্যাংক জ্যাপার]] নামে চালিয়ে দেওয়া হয়। জাপ্পার আত্মজীবনী, ''দ্য রিয়েল ফ্রাঙ্ক জাপ্পা বুকের'' (১৯৮৯) ২৩৯ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি একটি অনুরূপ মন্তব্য করেছেন: "কিছু বিজ্ঞানী দাবি করেন যে হাইড্রোজেন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকায় এটিই মহাবিশ্বের মৌলিক গাঠনিক উপাদান। আমি তা নিয়ে বিতর্ক করি। '''আমি বলি হাইড্রোজেনের চেয়েও বেশি মূর্খতা রয়েছে এবং সেটিই মহাবিশ্বের মৌলিক গাঠনিক উপাদান।'''"
* '''"আপনার কথার সাথে আমি একমত না হতে পারি, কিন্তু আপনার কথা বলার অধিকার আমি আমৃত্যু রক্ষা করব।"''' [[:w:ভলতেয়ার|ভলতেয়ার]]
** এটি ভলতেয়ারের উক্তি হিসেবে মনে করা হলেও, আসলে এটি লিখেছিলেন ইভলিন বিয়াট্রিস হল।
* '''"কারা আপনাকে শাসন করছে তা জানতে হলে কেবল খুঁজে বের করুন যে আপনি কাদের সমালোচনা করতে পারবেন না।"''' [[:w:ভলতেয়ার|ভলতেয়ার]]
** ১৯৯৩ সালের একটি বিতর্কমূলক লেখায় কেভিন স্ট্রম নামক একজন নব্য-নাৎসি লেখক এই ধরনের একটি বাক্য ব্যবহার করেছিলেন। স্ট্রম এই উক্তিটির উৎস হিসেবে ১৯৬০ সালের দশকে শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী রেভিলো পি. অলিভারের দেওয়া একটি ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
* "'''আমি যদি নাচতে না পারি, তবে আমি আপনার বিপ্লবে অথবা বিপ্লবের অংশ হতে চাই না।'''" (অথবা: "'''যদি আমি এতে নাচতে না পারি, তবে এটি আমার বিপ্লব নয়'''")
** এটি ব্যাপকভাবে [[:w:এমা গোল্ডম্যান|এমা গোল্ডম্যানের]] উক্তি হিসেবে প্রচলিত। তবে গোল্ডম্যান গবেষক অ্যালিক্স কেটস শুলম্যানের মতে, এটি মূলত ১৯৭৩ সালে জ্যাক ফ্রেজার নামক একজন [[:w:অ্যানার্কিস্ট|অ্যানার্কিস্ট]] প্রিন্টারের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন ছিল, যা তিনি এমা গোল্ডম্যানের ছবি সংবলিত টি-শার্টের জন্য তৈরি করেছিলেন। গোল্ডম্যান তাঁর আত্মজীবনীতে নাচার কারণে সমালোচিত হওয়ার কথা মনে করে লিখেছিলেন:
*** "আমি জোর দিয়ে বলেছিলাম যে আমাদের আদর্শ আমার কাছ থেকে সন্ন্যাসিনী হওয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না এবং আন্দোলনটি আশ্রমে পরিণত হওয়া উচিত নয়। যদি তাই হয়, তবে আমি এটি চাই না। 'আমি স্বাধীনতা চাই, আত্মপ্রকাশের অধিকার চাই, সুন্দর ও উজ্জ্বল জিনিসের ওপর সবার অধিকার চাই'।" – ''লিভিং মাই লাইফ'' (নিউ ইয়র্ক: নফ, ১৯৩৪), পৃষ্ঠা ৫৬।
**** ''ভি ফর ভেনডেটা'' চলচ্চিত্রে ভি (হুগো ওয়েভিং অভিনীত) বলেন যে, "নাচ ছাড়া বিপ্লব আসলে কোনো কাজের বিপ্লব নয়।"
** দেখুন: শুলম্যান, অ্যালিক্স কেটস ''[http://sunsite.berkeley.edu/Goldman/Features/dances_shulman.html ড্যান্সেস উইথ ফেমিনিস্ট],'' ''ওমেনস রিভিউ অফ বুকস'', খণ্ড ৯, সংখ্যা ৩, ডিসেম্বর ১৯৯১।
* "'''শুধুমাত্র তথ্যগুলো দিন, ম্যাডাম।'''"
** জ্যাক ওয়েবের সিরিজ ''ড্র্যাগনেটের'' সবচেয়ে পরিচিত উক্তি হিসেবে এটি পরিচিত হলেও, সার্জেন্ট ফ্রাইডে রেডিও বা টেলিভিশন সিরিজের কোথাও এটি বলেননি। তবে ১৯৮৭ সালের ''ড্র্যাগনেট'' প্যারোডি চলচ্চিত্রে ড্যান অ্যাকরয়েড (যিনি সার্জেন্ট জো ফ্রাইডে চরিত্রে অভিনয় করেছেন) এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিলেন।
** সঠিক সংস্করণগুলো:<br>"আমরা কেবল তথ্যগুলো জানতে চাই, ম্যাডাম।"<br>"আমরা কেবল তথ্যগুলোই জানি, ম্যাডাম।"
** দেখুন: {{cite web
| last = মিকলসন
| first = বারবারা এবং ডেভিড পি.
| date = ২৯ মার্চ ২০০২
| url = http://www.snopes.com/radiotv/tv/dragnet.htm
| title = জাস্ট দ্য ফ্যাক্টস
| work = আরবান লিজেন্ডস
| publisher = snopes.com
| access-date = ১৮ ডিসেম্বর ২০০৬
}}
* '''"আমরা কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম... কিন্তু মনে হতো প্রতিবারই যখন আমরা দলে সংগঠিত হতে শুরু করতাম, তখনই আমাদের আবার পুনর্গঠিত করা হতো। আমি জীবনের পরবর্তী সময়ে শিখতে পেরেছি যে, আমরা যেকোনো নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করি পুনর্গঠনের মাধ্যমে; আর প্রগতির বিভ্রম তৈরি করার জন্য এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি হতে পারে, যেখানে এটি আসলে বিভ্রান্তি, অদক্ষতা এবং মনোবলহানি সৃষ্টি করে।"'''
** সাধারণত এটি পেট্রোনিয়াস আরবিটারের নামে ভুলভাবে চালানো হয়।
** আসলে এটি চার্লটন ওগবার্নের (১৯১১–১৯৯৮) লেখা, যা ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি সংখ্যায় ''[[:w:হার্পার'স ম্যাগাজিন|হার্পার'স ম্যাগাজিনে]]'' [http://www.harpers.org/archive/1957/01/0007289 "মেরিল'স ম্যারাউডার্স: দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট অ্যান ইনক্রেডিবল অ্যাডভেঞ্চার"] শীর্ষক প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল।
** মূল উক্তি: "আমরা কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম, কিন্তু মনে হতো প্রতিবারই যখন আমরা দলে সংগঠিত হতে শুরু করতাম, তখনই আমাদের আবার পুনর্গঠিত করা হতো। সম্ভবত আমাদের নিয়োগের পরিকল্পনাগুলো বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছিল। আমি জীবনের পরবর্তী সময়ে শিখতে পেরেছি যে, সম্ভবত আমরা সংগঠিত হতে খুব দক্ষ বলেই একটি জাতি হিসেবে যেকোনো নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করি পুনর্গঠনের মাধ্যমে; আর প্রগতির বিভ্রম তৈরি করার জন্য এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি হতে পারে, যেখানে এটি আসলে বিভ্রান্তি, অদক্ষতা এবং মনোবলহানি সৃষ্টি করে।"
** দেখুন: ব্রাউন, ডেভিড এস. "পেট্রোনিয়াস অর অগবার্ন?", ''পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিভিউ'', খণ্ড ৩৮, সংখ্যা ৩ (মে-জুন, ১৯৭৮), পৃষ্ঠা ২৯৬ [http://links.jstor.org/sici?sici=0033-3352(197805%2F06)38%3A3%3C296%3APOO%3E2.0.CO%3B2-Z]।
* "'''প্রাথমিক, আমার প্রিয় ওয়াটসন | Elementary, my dear Watson'''" – [[:w:শার্লক হোমস|শার্লক হোমস]]
** [[:w:আর্থার কোনান ডয়েল|স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের]] কোনো লিখিত সাহিত্যকর্মে চরিত্রটি কখনোই এই বাক্যটি উচ্চারণ করেনি। যদিও "Elementary" এবং "...my dear Watson" উভয়ই ''[[:s:দ্য ক্রুকড ম্যান|দ্য ক্রুকড ম্যান]]'' (১৮৯৩) এর শুরুর দিকে পাওয়া যায়, তবে সেখানে "...my dear Watson" আগে এসেছে এবং তার কয়েক লাইন সংলাপের পর ওয়াটসনের বিস্ময়ের উত্তরে হোমস সংক্ষেপে "Elementary" বলেছিলেন। হোমস ক্যাননের মধ্যে এই চারটি অমর শব্দ এই অংশেই একে অপরের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
** এই উক্তিটির প্রথম নথিভুক্ত ব্যবহার পাওয়া যায় [[:w:পি. জি. উডহাউস|পি. জি. উডহাউসের]] উপন্যাস [http://www.gutenberg.org/ebooks/2607 "স্মিথ, জার্নালিস্টে"], যা ১৯০৯-১০ সালে ''দ্য ক্যাপ্টেন'' ম্যাগাজিনে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে ১৯১৫ সালে বই আকারে বের হয়। সেখানে সংলাপটি ছিল এরকম:
::"সেটাই ঠিক," বিলি উইন্ডসর বলল। "অবশ্যই।"
::"প্রাথমিক, আমার প্রিয় ওয়াটসন, প্রাথমিক," স্মিথ বিড়বিড় করে বলল।
* '''উদ্দেশ্যই উপায়কে ন্যায়সঙ্গত করে।'''
** এটি প্রায়ই [[:w:নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি|নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি]] ''দ্য প্রিন্সের'' উক্তি হিসেবে ভুলভাবে মনে করা হয়; বইটিতে এই ধারণাটি থাকলেও হুবহু এই বাক্যটি নেই। এছাড়াও আরও অনেক লেখকের নামে এটি চালানো হয় যারা মূলত ওভিদের (খ্রিস্টপূর্ব ১০ অব্দ) ''হেরোয়েডসে'' থাকা ''Exitus acta proba'' কথাটিরই পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। আরও দেখুন:উপায় এবং লক্ষ্য।
* '''"প্রতি মিনিটে একজন করে বোকা জন্মায়।"'''
** যদিও এটি প্রায়ই পি. টি. বার্নামের উক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তবে আদতে এটি তাঁর একজন প্রতিযোগী বলেছিলেন—বার্নামের প্রদর্শনী সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে।
** দেখুন: দেয়ার'স আ সাকার বর্ন এভরি মিনিট।
* '''সব মিলিয়ে, আমি বরং ফিলাডেলফিয়াতেই থাকতে পছন্দ করব।'''
** এটি ডব্লিউ. সি. ফিল্ডসের নামে ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃত উক্তি: "এখানে শায়িত আছেন ডব্লিউ. সি. ফিল্ডস: আমি বরং ফিলাডেলফিয়াতে বেঁচে থাকতেই পছন্দ করতাম।" এটি ১৯২৫ সালে ''ভ্যানিটি ফেয়ারের'' একটি সংখ্যায় "একদল শিল্পীর নিজেদের জন্য লেখা এপিটাফ" হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল, যা হয়তো সেই ব্যক্তিদের লেখা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
** ''মাই লিটল চিকাডি'' সিনেমায় ফিল্ডসের চরিত্রটিকে যখন ফাঁসি দেওয়া হচ্ছিল, তখন গলায় দড়ি পরা অবস্থায় তিনি তাঁর শেষ ইচ্ছা হিসেবে বলেন— "আমি মরার আগে একবার প্যারিস দেখতে চাই।" দড়ি শক্ত হতে শুরু করলে তিনি দ্রুত যোগ করেন, "ফিলাডেলফিয়া হলেও চলবে!"
** দেখুন: অ্যামোরি, ক্লিভল্যান্ড এবং ব্রাডলি, ফ্রেডরিক, ''ভ্যানিটি ফেয়ার: সিলেকশনস ফ্রম আমেরিকা'স মোস্ট মেমোরেবল ম্যাগাজিন, আ ক্যাভালকেড অফ দ্য ১৯২০স অ্যান্ড ১৯৩০স'', ভাইকিং প্রেস, ১৯৬০, পৃষ্ঠা ১০৩।
* '''"আমিই ইন্টারনেট উদ্ভাবন করেছি।"'''
** এটি [[:w:আল গোর|আল গোরের]] উক্তি হিসেবে ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃতপক্ষে, আল গোর কখনোই ইন্টারনেট "উদ্ভাবন" করার দাবি করেননি। এটি তাঁর একটি বক্তব্যের বিকৃতি, যেখানে তিনি ইন্টারনেটের উন্নয়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভেতরে তাঁর ভূমিকার কৃতিত্ব দাবি করেছিলেন। যদিও গোরের রাজনৈতিক বিরোধীরা এটিকে তাঁর উক্তি হিসেবে জনপ্রিয় করেছে, তবে এই প্রেক্ষাপটে "উদ্ভাবন" (invented) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ''উইয়ার্ড নিউজের'' লেখক ডেক্লান ম্যাককুলাঘ; যিনি মূলত গোরের দাবির প্রতি হাউজ মেজরিটি লিডার আরমির করা সমালোচনার সারসংক্ষেপ করেছিলেন। সিএনএনের ''লেট এডিশনে'' দেওয়া গোরের সঠিক উক্তিটি ছিল: "'''মার্কিন কংগ্রেসে আমার দায়িত্ব পালনকালে, আমি ইন্টারনেট তৈরির ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমি এমন অনেকগুলো পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিলাম যা আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে।'''"
** {{cite web
| last = ফিঙ্কেলস্টাইন
| first = সেথ
| date = ২৮ এপ্রিল ২০০৬
| url = http://sethf.com/gore/
| title = আল গোর "ইন্টারনেট উদ্ভাবন করেছেন" – তথ্যসূত্র
| publisher = sethf.com
| access-date = ১৬ জুন ২০১১
}}
* '''"হয় তারা করবে, নয়তো মরবে!"'''
** এটি [[:w:আলফ্রেড, লর্ড টেনিসন|টেনিসনের]] "দ্য চার্জ অফ দ্য লাইট ব্রিগেড" কবিতার একটি লাইনের ভুল উপস্থাপনা। কবিতাটিতে আসলে বলা হয়েছে, তাদের কাজ কেন তা নিয়ে তর্ক করা নয়, তাদের কাজ হলো শুধুই করা '''এবং''' মরে যাওয়া।
** দেখুন: দ্য চার্জ অফ দ্য লাইট ব্রিগেড (কবিতা)
* '''"কোলাহলমুক্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে"'''
** এটি [[:w:থমাস গ্ৰে|থমাস গ্ৰের]] কবিতা "এলিজি রিটেন ইন আ কান্ট্রি চার্চইয়ার্ডের" (১৭৫১) একটি লাইনের ভুল রূপান্তর: "জনারণ্যের ওই তুচ্ছ কোলাহল থেকে দূরে, ঝিম-ঝিঁমে শান্ত ইচ্ছেরা কভু ভ্রান্ত পথে পা বাড়ায়নি।" পরবর্তীতে টমাস হার্ডি তাঁর উপন্যাস "ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউডের" শিরোনাম হিসেবে এই লাইনটি ব্যবহার করেন।
** দেখুন: http://www.phrases.org.uk/meanings/134150.html
* '''"অসীম ক্ষমতাই অসীম দায়িত্ব নিয়ে আসে।"'''
** এটি প্রায়ই ভুলভাবে আঙ্কেল বেনের উক্তি হিসেবে ধরা হয়, যা ১৯৬২ সালের ''অ্যামেজিং ফ্যান্টাসি'' #১৫ তে প্রদর্শিত মূল [[:w:স্পাইডার-ম্যান|স্পাইডার-ম্যানের]] উৎস কাহিনীতে ছিল। তবে এই বাক্যটি মূলত গল্পের শেষ প্যানেলে বর্ণনাকারীর ক্যাপশন হিসেবে ছিল, কোনো চরিত্রের মুখনিসৃত সংলাপ ছিল না। স্পাইডার-ম্যানের উৎপত্তির পরবর্তী সংস্করণগুলোতে, যার মধ্যে [:w:[স্পাইডার-ম্যান|২০০২ সালের চলচ্চিত্র]] অন্যতম, এটিকে আঙ্কেল বেনের চূড়ান্ত উপদেশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে (যা একটি রেটকন বা পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠিত তথ্যের পরিবর্তন)।
** এছাড়াও, ''অ্যামেজিং ফ্যান্টাসিতে'' সঠিক উক্তিটি ছিল, "'''অসীম ক্ষমতার সাথে অবশ্যই অসীম দায়িত্বও আসা উচিত।'''"
* '''"এটি জীবন, জিম, কিন্তু আমরা যেভাবে চিনি সেভাবে নয়।"'''
** এটি ''স্টার ট্রেক: দ্য অরিজিনাল সিরিজে'' লিওনার্ড ম্যাককয়ের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে তিনি এটি কখনোই বলেননি। প্রথম সিজনের "দ্য ডেভিল ইন দ্য ডার্ক" পর্বে স্পকের মুখে "নট লাইফ অ্যাজ উই নো ইট" বাক্যটি শোনা যায়। বর্তমান জনপ্রিয় ভুল বাক্যটির উৎপত্তি ১৯৮৭ সালের প্যারোডি গান "স্টার ট্র্যাকিং" থেকে, যেখানে স্পককে এই কথাটি বলতে শোনা যায়। গানে ম্যাককয়ের লাইনটি ছিল, "এটি তার চেয়েও খারাপ, সে মারা গেছে, জিম!"
** দেখুন: ''দ্য অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ মডার্ন কোটেশনস'', ২০০৭ সংস্করণ (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস), এলিজাবেথ নোলসের ভুক্তি; {{ISBN|978-0-19-920895-1}}
* "'''আমরা রাতে আমাদের বিছানায় নিরাপদে ঘুমাই কারণ কিছু কঠোর মানুষ রাতে প্রস্তুত থাকে আরা খুব সহিংস এবং তারা আমাদের ক্ষতি করতে চায়।'''"
** বিকল্প: "মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমায় কেবল কারণ কিছু কঠোর মানুষ তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করার জন্য প্রস্তুত থাকে।"
** এটি কোনো তথ্যসূত্র ছাড়াই ব্যাপকভাবে [[:w:জর্জ অরওয়েল|জর্জ অরওয়েলের]] নামে চালানো হয়। কখনো কখনো একইভাবে [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের]] নামেও এটি ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃত উৎস: [http://quoteinvestigator.com/2011/11/07/rough-men/ কোট ইনভেস্টিগেটর] ১৯৯৩ সালে ''ওয়াশিংটন টাইমসে'' রিচার্ড গ্রেনিয়ারের একটি প্রবন্ধে এর প্রথম ব্যবহার খুঁজে পায়: "যেমনটি জর্জ অরওয়েল উল্লেখ করেছিলেন, মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমায় কেবল কারণ কিছু কঠোর মানুষ তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করার জন্য প্রস্তুত থাকে।" এখানে উদ্ধৃতি চিহ্নের অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, গ্রেনিয়ার অরওয়েলের মতাদর্শ নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করছিলেন।
** ১৯৪৫ সালের "নোটস অন ন্যাশনালিজমে" অরওয়েল লিখেছিলেন যে, শান্তিবাদীরা এই কথাটি মেনে নিতে পারে না যে "যারা সহিংসতা ত্যাগ করে তারা তা করতে পারে কেবল কারণ অন্যরা তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করছে।"
** অনুরূপ বাক্য: "যিনি আমার দেওয়া স্বাধীনতার কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমান এবং পরে আমি কীভাবে সেই স্বাধীনতা দিচ্ছি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় বা আগ্রহ কোনটিই আমার নেই।" – সোরকিন (''আ ফিউ গুড মেন'')
* '''"প্রথা মেনে চলা লক্ষ্মী মেয়েরা খুবই কম ইতিহাস সৃষ্টি করতে জানে।"'''
** প্রায়ই এটি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে উক্তিটি আসলে [[:w:হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়|হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের]] অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ লরেল থ্যাচার উলরিচের] লেখা। উলরিচের মূল বাক্যটি ছিল, "লক্ষ্মী মেয়েদের হাতে সচরাচর ইতিহাস রচিত হয় না।", যা ১৯৭৬ সালে একটি একাডেমিক নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল। নিবন্ধটিতে তিনি ঐতিহাসিক নারীদের সাধারণ জীবন যাপনের প্রতি ইতিহাসবিদদের কম আগ্রহের কথা বোঝাতে এটি ব্যবহার করেছিলেন।
** দেখুন: https://news.harvard.edu/gazette/story/2007/01/ulrich-explains-that-well-behaved-women-should-make-history/
* '''"বাহ, পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল।"'''
** এটি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে মারামারি করার পর রন বারগুন্ডি বলেছিলেন। সঠিক উক্তিটি হলো, "Boy, that escalated quickly" (হে খোদা, এটা দ্রুতই বেড়ে গেল)।
** দেখুন: অ্যাঙ্করম্যান: দ্য লিজেন্ড অফ রন বারগুন্ডি]]
* '''"দয়া করে জনাব, আমি কি আরেকটু পেতে পারি?"'''
** সাধারণত মনে করা হয় এটি অনাথ আশ্রমে ''[[:w:অলিভার টুইস্ট (উপন্যাস)|অলিভার টুইস্ট]]'' বলেছিল। সঠিক উক্তিটি হলো, "দয়া করে জনাব, আমি আরও চাই"।
* '''"সে যত বেশি পরিশ্রম করে, তার ভাগ্য তত বেশি সুপ্রসন্ন হয়।"'''
** এর বিভিন্ন সংস্করণ প্রায়ই ইন্টারভিউতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর স্ত্রীর নামে চালানো হয়। তবে এই বাক্যটির মূল প্রবর্তক হলেন [[:w:স্যামুয়েল গোল্ডউইন|স্যামুয়েল গোল্ডউইন]], যা ছিল: "আমি যত বেশি পরিশ্রম করি, আমার ভাগ্য তত বেশি সুপ্রসন্ন হয়।" ধারণা করা হয় তিনি নিচের অন্য একটি উক্তিকে নিজের মতো করে বলেছিলেন।
* '''"আমি ভাগ্যে অনেক বেশি বিশ্বাস করি, আর আমি দেখেছি যে আমি যত বেশি পরিশ্রম করি, ভাগ্য তত বেশি আমার সহায় হয়।"'''
** [[:w:টমাস জেফারসন|টমাস জেফারসন]] এটি বলেছেন বা লিখেছেন এমন কোনো রেকর্ড নেই। [http://www.monticello.org/site/research-and-collections/i-am-great-believer-luckquotation]। এটি প্রথম ১৯৪৭ সালে এফ. এল. এমারসনের লেখায় ছাপা হয়।
* '''"৯৯ সাল ব্যাচের ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।"'''
** এই বিখ্যাত "ওয়্যার স্যানস্ক্রিন" ভাষণটি নিয়মিতভাবে কার্ট ভনেগাট বা বাজ লুরম্যানের নামে চালানো হয়। কিন্তু এটি মূলত ১৯৯৭ সালে মেরি স্মিচের লেখা একটি সংবাদপত্রের কলাম ছিল, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধা-ব্যঙ্গাত্মক "জীবন নির্দেশিকা" হিসেবে লেখা হয়েছিল।
* '''"পাহাড় যদি মুহাম্মাদের কাছে না আসে, তবে মুহাম্মাদকেই পাহাড়ের কাছে যেতে হবে।"'''
** এটি প্রায়ই ইসলামের নবী [[:w:মুহাম্মদ|মুহাম্মদের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু তিনি আসলে এটি বলেছিলেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। এই বাক্যটি মূলত ১৬২৫ সালে [[:w:ফ্রান্সিস বেকন|ফ্রান্সিস বেকন]] কর্তৃক বর্ণিত মুহাম্মদের একটি গল্প থেকে এসেছে: "''মোহাম্মাদ পাহাড়কে তাঁর কাছে আসার ডাক দিলেন। যখন পাহাড় স্থির রইল, তিনি বিন্দুমাত্র লজ্জিত না হয়ে বললেন; পাহাড় যদি মোহাম্মাদের কাছে না আসে, তবে মোহাম্মাদকেই পাহাড়ের কাছে যেতে হবে।''"
** মূল উক্তিতে "পাহাড়" বোঝাতে "Hill" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিল, কিন্তু ১৬৪৩ সালে জন ওয়েনের অনুবাদে "Mountain" শব্দটি ব্যবহার করা হয়। উক্তিটির প্রকৃত অর্থ নিয়ে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। এটি "সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে সুযোগের পেছনে ছোটা" বোঝায় না; বরং এর অর্থ হলো— "যদি কারো ইচ্ছা জয়ী না হয়, তবে তাকে বিকল্প পরিস্থিতির কাছে নতি স্বীকার করতে হবে।"
* '''"এখানে এক বিলিয়ন, ওখানে এক বিলিয়ন, আর খুব শীঘ্রই আপনি প্রকৃত অর্থ নিয়ে কথা বলবেন।"'''
** এটি এভারেট ডার্কসেনের উক্তি হিসেবে পরিচিত। ডার্কসেন তাঁর বক্তৃতায় মাঝেমধ্যে "এখানে এক বিলিয়ন, ওখানে এক বিলিয়ন" অংশটি ব্যবহার করতেন, কিন্তু পরের অংশটি সম্ভবত একজন সংবাদ প্রতিবেদকের সংযোজন। ডার্কসেন লক্ষ্য করেছিলেন যে, যদিও তিনি পুরো বাক্যটি কখনোই বলেননি, তবুও তিনি এই ভুল উদ্ধৃতিটি পছন্দ করতেন এবং এটি তাঁর নামে চলায় কখনো গুরুত্বর আপত্তি জানাননি।
* '''"আমি ফিরে আসব এবং আমি কোটি কোটি জনতা হয়েই ফিরে আসব।"'''
** এটি প্রায়ই ইভা পেরনের উক্তি হিসেবে মনে করা হয় এবং এমনকি তাঁর সমাধিস্তম্ভেও এটি খোদাই করা আছে, কিন্তু [https://books.google.com/books?id=ck6bXqt5shkC&pg=PA251 তিনি এটি বলেছিলেন এমন কোনো রেকর্ড নেই]। সম্ভবত তাঁর মৃত্যুর দশ বছর পর ১৯৫২ সালে হোসে মারিয়া কাস্তিনেইরা দে দিওসের লেখা একটি কবিতায় ইভার কণ্ঠে এই লাইনটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মানুষ এটি বিশ্বাস করে। তবে ১৭৮১ সালে স্প্যানিশ শাসনের বিরুদ্ধে বলিভিয়ার আদিবাসীদের বিদ্রোহের নেতা তুপাক কাতারি তাঁর মৃত্যুদণ্ডের আগে অনুরূপ কিছু বলেছিলেন ("[https://books.google.com/books?id=aekDJE3NMcsC&pg=PA62 আমি মরব কিন্তু আগামীকাল দশ হাজার গুণ হয়ে ফিরে আসব]"); অতি সম্প্রতি হাওয়ার্ড ফাস্টের উপন্যাস ''স্পার্টাকাসে'' একজন ক্রীতদাস ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময় এই লাইনটি বলে এবং ১৯৬০ সালের [[:w:স্ট্যানলি কুবরিক|স্ট্যানলি কুবরিকের]] চলচ্চিত্র সংস্করণেও এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
* '''"চুরুটের ধোঁয়ায় ডুবে থাকা আমার পছন্দ হলেও, মাঝেমধ্যে আমার এই ধোঁয়া থেকে মুক্ত হতে হয়!"'''
** এটি গ্রাউচো মার্কসের উক্তি হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি আছে যে, ১৯৫০ সালে ''ইউ বেট ইয়োর লাইফের'' একটি পর্বে ম্যারিয়ন এবং শার্লট স্টোরির সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় মার্কস এটি বলেছিলেন। শার্লট যখন তাঁর স্বামীকে খুব ভালোবাসার কথা বলেন এবং জানান যে তাঁদের ২০টি সন্তান রয়েছে, তখন মার্কস এই মন্তব্যটি করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে সেই পর্বের সংরক্ষিত রেকর্ডিং অনুযায়ী মার্কস আসলে বলেছিলেন, "প্রতিটি নতুন বাচ্চার জন্মের সময় আপনি কি চারদিকে চুরুট বিলি করেন?" মার্কস নিজে এই ধরনের চটুল মন্তব্য করার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
** অন্য একটি পর্বে ১৭ জন ভাইবোনের একজনের কাছে গ্রাউচো জানতে চেয়েছিলেন তার বাবা এত বড় পরিবার সম্পর্কে কী ভাবেন। মেয়েটি যখন উত্তর দেয় যে তার বাবা শিশুদের ভালোবাসেন, তখন গ্রাউচো বলেছিলেন— "আমি প্যানকেক পছন্দ করি, কিন্তু তাই বলে আলমারি ভর্তি প্যানকেক আমার নেই!" সম্ভবত এই দুটি ভিন্ন ঘটনার মিশ্রণ থেকেই সেই ভুল উদ্ধৃতিটির জন্ম হয়েছে।
* '''"জেতাটাই বড় কথা নয়, বরং জেতার তাড়নাটাই হলো সব।"'''
** [[:w:ভিন্স লম্বার্ডি|ভিন্স লম্বার্ডি]] সবসময় জোর দিয়ে বলতেন যে তিনি এটি কখনোই বলেননি, যদিও এটি তাঁর ঘনঘন বলা একটি লাইনের খুব কাছাকাছি: "জেতা সাময়িক কোনো বিষয় নয়; বরং এটি সবসময়কার বিষয়।" প্রকৃত বাক্যটি আসলে ইউসিএলএ ফুটবল কোচ হেনরি রাসেল "রেড" স্যান্ডার্স বলেছিলেন।
* '''"আপনার অজ্ঞতা যতই বিশাল হোক না কেন, তাকে আমার জ্ঞানের ওপর প্রাধান্য দিতে পারি না, তা সে যতই সামান্য হোক।"'''
** এর বিভিন্ন সংস্করণ [[:w:উইলিয়াম জেমস|উইলিয়াম জেমসের]] নামে চালানো হয়। এই ধরনের একটি বাক্য সম্ভবত লিওনার্ড বেকন বলেছিলেন, যদিও এর সবচেয়ে পুরনো উৎসটি পাওয়া যায় ১৮৯৮ সালে—বেকনের মৃত্যুর সাত বছর পর। বেকনের প্রপৌত্র তাঁর আত্মজীবনীতে এই উক্তির একটি সংস্করণ নিশ্চিত করেছেন। জেমসের নামে এই ভুল প্রচারের সূত্রপাত বিড়ম্বনাকরভাবে ১৯৯৪ সালে জয়েস অ্যাপলবি, লিন হান্ট এবং মার্গারেট জ্যাকবের লেখা বই ''টেলিং দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট হিস্ট্রি'' (পৃষ্ঠা ২৫৮) থেকে হতে পারে।
* '''"সবুরে মেওয়া ফলে (সব ভালো জিনিস তাদের কাছেই আসে যারা অপেক্ষা করে)।"'''
** ইংরেজ কবি [[:w:ভায়োলেট ফ্যান|ভায়োলেট ফ্যান]] মূলত বলেছিলেন, "অপেক্ষা করলে সবকিছুই পাওয়া যায়, কিন্তু ততোক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে যায়—বাকি থাকে শুধু বিজয়ী মানবদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট!" এই প্রবাদটি ফ্যান লেখার আগেও প্রচলিত থাকতে পারে।
** এটি দুবার উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে: প্রথমবার গিনেস বিয়ারের বিজ্ঞাপনে বর্তমান প্রচলিত রূপে, এবং হেইঞ্জ কোম্পানি এটিকে "সবচেয়ে ভালো জিনিসগুলো তাদের কাছেই আসে যারা অপেক্ষা করে" হিসেবে ব্যবহার করেছে।
* '''"আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে [[:w:রিচার্ড নিক্সন|নিক্সন]] জিতেছেন। আমি এমন কাউকেই চিনি না যে তাকে ভোট দিয়েছে।"'''
** এটি চলচ্চিত্র সমালোচক [[:w:পলিন কায়েল|পলিন কায়েলের]] উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়। কায়েল ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন: "আমি বেশ বিশেষ এক জগতে বাস করি। আমি কেবল একজনকে চিনি যে নিক্সনকে ভোট দিয়েছে। তারা কোথায় থাকে আমি জানি না। তারা আমার জানার পরিধির বাইরে।"
* '''"আমরা এমন সব মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আমরা পছন্দ করি না, এমন সব জিনিস কিনি আমাদের প্রয়োজন নেই সেই টাকা দিয়ে যা আমাদের কাছে নেই।"'''
** এটি প্রায়ই ''[[:w:ফাইট ক্লাব|ফাইট ক্লাব]]'' চলচ্চিত্রের একটি লাইন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যদিও এটি চলচ্চিত্রের ভোগবাদ-বিরোধী দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে চলচ্চিত্র বা মূল উপন্যাসের কোথাও এই উক্তিটি হুবহু বলা হয়নি। মূল উক্তিটি ছিল, "''' অপরিতুষ্য ব্যক্তিদের তুষ্ট করতে, অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতায় রিক্তহস্ত হওয়া—এক পণ্ডশ্রম বৈ কিছু নয়।'''", যা মূলত ১৯২৮ সালের ৪ জুন 'ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসে' আমেরিকান হাস্যরসিক ও সাংবাদিক রবার্ট কুইলেনের কলামে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি "আমেরিকানবাদকে" সংজ্ঞায়িত করেছিলেন— "অর্জিত নয় এমন অর্থ ব্যয় করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কেবল এমন মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আপনি পছন্দ করেন না।"
** উপন্যাসে একটি লাইন আছে: "অনেক তরুণ বিশ্বকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এবং খুব বেশি জিনিস কিনে ফেলে," এবং চলচ্চিত্রে ব্র্যাড পিট অভিনীত চরিত্রটি বলে, "আমরা এমন সব কাজ করি যা আমরা ঘৃণা করি যাতে আমরা এমন সব আজেবাজে জিনিস কিনতে পারি যা আমাদের প্রয়োজন নেই।"
** ইন্টারনেট যুগে উক্তিটি এভাবে পরিবর্তিত হয়েছে: "আমরা এমন সব বিষয়বস্তু পোস্ট করি যা আমাদের নয়, এমন সব লাইকের জন্য যা আসল নয়, কেবল এমন সব মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আমরা চিনি না।"
* '''"ব্রিটিশরা আসছে।"'''
** [[:w:পল রিভিয়ার|পল রিভিয়ার]] আসলে এই বাক্যটি চিৎকার করে বলেননি: তাঁর মিশনটি গোপনীয়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, গ্রামগুলো ব্রিটিশ সেনা টহলে পূর্ণ ছিল এবং ম্যাসাচুসেটসের বেশিরভাগ উপনিবেশবাসী (যারা জাতিগতভাবে ইংরেজ ছিলেন) তখনও নিজেদের ব্রিটিশ মনে করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং রিভিয়ারের নিজস্ব বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর সতর্কতা ছিল— "রেগুলাররা (নিয়মিত সেনারা) বেরিয়ে আসছে।"<ref>{{cite book
|ref= harv
|last1= রিভিয়ার
|first1= পল
|others= এডমন্ড মরগান কর্তৃক ভূমিকা
|year= ১৯৬১
|title= পল রিভিয়ার'স থ্রি অ্যাকাউন্টস অফ হিজ ফেমাস রাইড
|location= বোস্টন
|publisher= ম্যাসাচুসেটস হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি
|isbn=978-0-9619999-0-2
}}</ref>
* '''দ্য শ্যাগস বিটলসের চেয়েও ভালো।'''
** এটি জনপ্রিয়ভাবে সঙ্গীতশিল্পী [[:w:ফ্র্যাংক জ্যাপা|
ফ্র্যাংক জ্যাপার]] নামে ভুলভাবে চালানো হয়। ১৯৬০ সালের দশকের অদক্ষ গার্ল গ্রুপ 'দ্য শ্যাগসকে' বিটলসের চেয়ে ভালো বলার কৃতিত্ব আসলে লেস্টার ব্যাংসের। জাপ্পা দলটিকে উচ্চ মর্যাদা দিতেন ঠিকই, কিন্তু তিনি এই নির্দিষ্ট বাক্যটি ব্যবহার করেননি।<ref name=newyorker2017>{{cite web|url=https://www.newyorker.com/culture/culture-desk/the-shaggs-reunion-concert-was-unsettling-beautiful-eerie-and-will-probably-never-happen-again|title=দ্য শ্যাগস রিইউনিয়ন কনসার্ট ওয়াজ আনসেটলিং, বিউটিফুল, ইরি, অ্যান্ড উইল প্রবাবলি নেভার হ্যাপেন এগেইন|first=হাওয়ার্ড|last=ফিশম্যান|date=আগস্ট ৩০, ২০১৭|access-date=জানুয়ারি ৮, ২০২০}}</ref>
* '''মৌখিক চুক্তির দাম সেই কাগজের চেয়েও কম যার ওপর এটি লেখা হয়।''' ([[:w:স্যামুয়েল গোল্ডউইন|স্যামুয়েল গোল্ডউইন]])
** গোল্ডউইনের অনেক অদ্ভুত উক্তির মধ্যে এটি একটি বিকৃতি। তিনি আসলে তাঁর এক বন্ধুর বিশ্বস্ত প্রকৃতির প্রশংসা করে বলেছিলেন: "তাঁর মৌখিক চুক্তির মূল্য সেই কাগজের চেয়েও বেশি যার ওপর এটি লেখা হয়।"<ref>পল এফ. বোলার, জন জর্জ, ''দে নেভার সেড ইট'' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ৪২।</ref><ref>ক্যারল ইস্টন, ''দ্য সার্চ ফর স্যাম গোল্ডউইন'' (১৯৭৬)।</ref>
* '''চিন্তা করো না, খুশি থেকো।'''
** যদিও [[:w:বব মার্লে|বব মার্লে]] তাঁর গানে বিশেষ করে "থ্রি লিটল বার্ডসে" অনুরূপ অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তিনি এই নামে কোনো গান রেকর্ড করেননি। এই বাক্যটি মূলত মেহের বাবা তৈরি করেছিলেন; আর মার্লের মৃত্যুর ছয় বছর পর [[:w:ববি ম্যাকফারিন|ববি ম্যাকফারিন]] এই নামে গানটি লেখেন ও রেকর্ড করেন।
* '''ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, ব্রঙ্কস পুড়ছে।'''
** ১৯৭৭ সালের ওয়ার্ল্ড সিরিজের টেলিকাস্টের সময় হাওয়ার্ড কোসেল বা [[:w:কিথ জ্যাকসন|কিথ জ্যাকসন]] কেউই এই উক্তিটি করেননি। "দ্য ব্রঙ্কস ইজ বার্নিং" বাক্যটির উৎপত্তি পাঁচ বছর আগে ''[[:w:ম্যান অ্যালাইভ (ব্রিটিশ টিভি সিরিজ)|ম্যান অ্যালাইভের]]'' একটি পর্বে, যেখানে ব্রঙ্কসের ফায়ার স্টেশনগুলোর আর্থিক সংকটের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। পরে ওয়ার্ল্ড সিরিজের সময় একটি স্কুল ভবন পুড়ে যাওয়ার ফুটেজ দেখানোর ফলে উক্তিটি কোসেল এবং জ্যাকসনের নামে ভুলভাবে প্রচলিত হয়ে যায়।<ref>{{cite web|last1=ফ্লাড|first1=জো|title=হোয়াই দ্য ব্রঙ্কস বার্নড|url=https://nypost.com/2010/05/16/why-the-bronx-burned/|website=নিউ ইয়র্ক পোস্ট|publisher=NYP Holdings, INC.|date=১৬ মে ২০১০|access-date=৪ জুন ২০১৬}}</ref>
* '''সঙ্গীত নিয়ে লেখা স্থাপত্য নিয়ে নাচার মতো।'''
** এলভিস কস্টেলো বা লরি অ্যান্ডারসন কেউই এই উক্তির প্রবর্তক নন। ১৯১৮ সালের প্রথম দিকেই এই উক্তির বিভিন্ন সংস্করণ ছাপা হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে চালানো হয়েছে।<ref>{{cite news|date=মার্চ ২০০৮|magazine=কিউ|title=৫০ ইয়ারস অফ গ্রেট ব্রিটিশ মিউজিক, এলভিস কস্টেলো ইন্টারভিউ|page=৬৭|quote=ওহ ঈশ্বর! আমি কি দয়া করে ছাপাতে পারি যে আমি ওটা বলিনি! [...] ওটা এখনো আমাকে তাড়া করে ফেরে। সম্ভবত কোনো উক্তির বইতে ওটা আমার নামে দেওয়া আছে।}}</ref><ref>{{cite news |title=গেটিং ইন টিউন উইথ লাইফস বিগার কোয়েশ্চেনস |url=https://www.smh.com.au/entertainment/art-and-design/getting-in-tune-with-lifes-bigger-questions-20040820-gdjl2e.html |work=দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড |date=আগস্ট ২০, ২০০৪ |quote=এলভিস কস্টেলো বিখ্যাতভাবে বলেছিলেন যে সঙ্গীত নিয়ে লেখা স্থাপত্য নিয়ে নাচার মতো।}}</ref><ref name="Keyes">{{cite book |last1=কিয়েস |first1=র্যালফ |title=দ্য কোট ভেরিফায়ার: হু সেইড হোয়াট, হোয়্যার, অ্যান্ড হোয়েন |date=২০০৭ |publisher=সেন্ট মার্টিনস |isbn=9781429906173 |page=২৫৬ |url=https://books.google.com/books?id=d6JZryGvfxYC&pg=PA256}}</ref>
* '''ফেনোমেনন - ডু, ডুউ, ডু-ডু-ডু'''
** যদিও এই নামে পরিচিত গানটি 'মাপ্পেট শোতে' বেশ কয়েকবার প্রদর্শিত হয়েছে, তবে এটি মূলত পিয়েরো উমিলিয়ানির সৃষ্টি এবং একটি সফটকোর পর্ন চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।<ref name="CBC-Mahna">{{cite web |last1=সিবিসি রেডিও |title=মাহনা মাহনা অ্যাট ৫০: ফ্যাসিনেটিং ফ্যাক্টস অ্যাবাউট দ্য আনফরগেটেবল মাপেটস সং |url=[https://www.cbc.ca/radio/q/blog/mahna-mahna-at-50-fascinating-facts-about-the-unforgettable-muppets-song-1.5375722](https://www.cbc.ca/radio/q/blog/mahna-mahna-at-50-fascinating-facts-about-the-unforgettable-muppets-song-1.5375722) |date=২০ নভেম্বর ২০১৯ |publisher=সিবিসি |access-date=১ মে ২০২৬}}</ref> মূল গানের শিরোনাম এবং লিরিক্স উভয়ই ছিল "মাহনা মাহনা", যার কোনো অর্থ নেই; পরবর্তীতে মাপ্পেট শোতে মূল শব্দের ওপর ভিত্তি করে কৌতুক হিসেবে "ফেনোমেনন" শব্দটি যুক্ত করা হয়।
* '''[[রিঙ্গো স্টার|রিঙ্গো]] বিশ্বের সেরা ড্রামার নন; এমনকি তিনি বিটলসেরও সেরা ড্রামার নন।'''
** এটি ভুলভাবে [[জন লেননের]] উক্তি হিসেবে চালানো হয়। আবার অনেকে জ্যাসপার ক্যারটকেও এর কৃতিত্ব দেন, যিনি সম্ভবত ১৯৮৩ সালে তাঁর বিবিসি শো 'ক্যারট'স লিবে' এটি বলেছিলেন।
** এই কৌতুকটির প্রকৃত উৎস হলো ১৯৮১ সালের বিবিসি রেডিও ৪ এর কমেডি শো 'রেডিও অ্যাক্টিভ', যা জেফরি পারকিন্স লিখেছিলেন এবং ফিলিপ পোপ এটি উচ্চারণ করেছিলেন।<ref>{{Cite web|url=https://www.radiox.co.uk/artists/beatles/did-john-lennon-say-ringo-wasnt-even-best-drummer/|title=Did John Lennon really say Ringo “Wasn’t Even The Best Drummer In The Beatles”?|website=Radio X|date=July 7, 2024|access-date=September 9, 2025}}</ref>
== উৎসবিহীন, যাচাইহীন বা অন্যান্য অনুমানসমূহ ==
:''এগুলো সরাসরি ভুল উদ্ধৃতি নাও হতে পারে, বরং জনপ্রিয় সংস্কৃতির কিছু ক্যাচফ্রেজ বা চটুল বাক্য হতে পারে, যেগুলোকে প্রাসঙ্গিক এবং স্মরণীয় করার জন্য কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে।''
* '''"যে বাড়িতে একটি লাইব্রেরি আছে, সেই বাড়ির একটি আত্মা আছে।"'''
** ১৮৭৭ সালে রবার্ট জি. ইনগারসোল তাঁর "দ্য লিবার্টি অফ অল" লেখায় এটি প্লেটোর উক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু প্লেটোর কোনো লেখায় এটি পাওয়া যায় না।
* '''"নরক হলো এমন এক সত্য যা খুব দেরিতে দেখা যায়।"'''
** এটি থমাস হবসের 'লেভিয়াথানের' উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু বইটিতে এটি নেই।
* '''"দুষ্টদের কোনো বিশ্রাম নেই।"'''
** এটি সম্ভবত ইসাইয়া ৫৭:২১ এর একটি বিকৃতি: "আমার ঈশ্বর বলেন, দুষ্টদের জন্য কোনো শান্তি নেই।"
* '''"মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা এবং পরিসংখ্যান"'''
** ১৯০৬ সালে মার্ক টোয়েন এটি জনপ্রিয় করেন এবং তিনি ভুলবশত এই উক্তিটির কৃতিত্ব বেঞ্জামিন ডিসরায়েলিকে দেন। ১৮৮৫ সালের শেষদিকে এর একটি ভিন্ন রূপ পাওয়া যায় যেখানে সাক্ষীদের "মিথ্যাবাদী, ডাহা মিথ্যাবাদী এবং বিশেষজ্ঞ" হিসেবে ভাগ করা হয়েছিল। ১৮৯১ সালের দিকে এটি বর্তমান প্রচলিত রূপ পায়। এই বাক্যটি আসলে কে প্রথম তৈরি করেছিলেন তার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না।
* '''"বিক্রির জন্য: শিশুর জুতো, যা কখনোই পরা হয়নি।"'''
** এই ছয় শব্দের ছোট গল্পটি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মৃত্যুর কয়েক দশক পর তাঁর নামে চালানো শুরু হয়। ১৯১০ সালের একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে একজন শিশুর মৃত্যুর খবরের সাথে অনুরূপ একটি বাক্যের প্রথম দেখা মেলে: "শিশুর হাতে তৈরি প্যান্ট এবং বিছানা বিক্রির জন্য। কখনো ব্যবহার করা হয়নি।"
* '''"আমি ভয় পাচ্ছি আমরা কেবল একটি ঘুমন্ত দানবকে জাগিয়ে তুলেছি এবং তাকে এক ভয়াবহ সংকল্পে পূর্ণ করেছি।"'''
** এটি ১৯৪১ সালের [[:w:পার্ল হারবার আক্রমণ|পার্ল হারবার আক্রমণ]] নিয়ে জাপানি অ্যাডমিরাল ইসোরোকু ইয়ামামোতোর উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়। এটি প্রথম ১৯৭০ সালের চলচ্চিত্র ''[[তোরা! তোরা! তোরা!]]'' এবং পরবর্তীতে ২০০১ সালের ''হারবার'' চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়। আক্রমণটি নিয়ে তাঁর অনুভূতি এমন থাকলেও, ইয়ামামোতো এটি কোথাও বলেছিলেন বা লিখেছিলেন এমন কোনো ছাপানো প্রমাণ নেই।
* '''"বন্ধু, বিশ্বকাপটা ফেলে দিয়ে কেমন লাগছে?"'''
** এটি হার্শেল গিবস একটি ক্যাচ মিস করার পর স্টিভ ওয়াহ তাঁকে বলেছিলেন বলে দাবি করা হয়, যার ফলে ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিটকে যায়। কিছু অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার এমন বিনিময় শুনেছেন বলে দাবি করলেও স্টিভ ওয়াহ নিজে এটি বলার কথা অস্বীকার করেছেন।
* '''"কারণ এটি সেখানে আছে"'''
** কেন তিনি এভারেস্টে চড়তে চান—এমন প্রশ্নের উত্তরে জর্জ ম্যালোরি এটি বলেছিলেন বলে প্রচলিত আছে। তবে এই উক্তির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এটি কোনো সংবাদ প্রতিবেদকের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন হতে পারে।
* '''"এটি একটি অদ্ভুত পুরনো খেলা"'''
** জিমি গ্রিভস তাঁর আত্মজীবনী 'গ্রিভসিতে' জোর দিয়ে বলেছেন যে, এটি নিয়মিত তাঁর উক্তি হিসেবে চালানো হলেও তিনি এটি কখনোই ব্যবহার করেননি। সম্ভবত আশির দশকের মাঝামাঝি 'স্পিটিং ইমেজ' অনুষ্ঠানের একটি ট্রেলার থেকে এই ভুল উদ্ধৃতির সূত্রপাত।
* '''"ক্ষমতা দুর্নীতি করে; আর পরম ক্ষমতা পরমভাবে দুর্নীতি করে।"'''
** এটি ১৯ শতকের ব্রিটিশ ঐতিহাসিক লর্ড অ্যাক্টনের একটি উক্তির ভুল সংস্করণ। তিনি আসলে লিখেছিলেন: "ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত করার প্রবণতা রাখে; পরম ক্ষমতা পরমভাবে দুর্নীতি করে। মহৎ ব্যক্তিরা প্রায় সবসময়ই খারাপ মানুষ হয়ে থাকেন।"
* '''"বিম মি আপ, স্কটি বা Beam me up, Scotty"''' – জেমস টি. কার্ক
** 'স্টার ট্রেক' টেলিভিশন সিরিজের জনপ্রিয় এই উক্তিটি মূল সিরিজে কখনোই হুবহু এভাবে বলা হয়নি। সেখানে "Energize", "Beam me aboard" বা "Beam us up home" এর মতো বাক্য ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ''স্টার ট্রেক: দ্য অ্যানিমেটেড সিরিজে'' "Beam us up, Scotty" বাক্যটি শোনা যায়। ১৯৯৬ সালে স্কটি চরিত্রে অভিনয় করা জেমস ডুহান তাঁর আত্মজীবনীর শিরোনাম হিসেবে এই ভুল উদ্ধৃতিটিই বেছে নিয়েছিলেন।
* '''"ধ্যাত জিম! আমি একজন ডাক্তার, আমি কোনো... নই"''' – লিওনার্ড ম্যাককয়
** 'স্টার ট্রেক' সিরিজের এই বাক্যে ম্যাককয় কখনোই "damn it" (ধ্যাত) শব্দটি ব্যবহার করেননি। মূল সিরিজে একমাত্র গালি হিসেবে "hell" ব্যবহৃত হয়েছিল। সম্ভবত স্যাটারডে নাইট লাইভের একটি প্যারোডি স্কেচ থেকে এই "damn it" যুক্ত বাক্যটি জনপ্রিয় হয়। অবশ্য ২০০৯ সালের ''স্টার ট্রেক'' চলচ্চিত্রে এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
* '''"চকচক করলেই সোনা হয় না"''' – [[উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]]
** সঠিক উক্তি: "All that glisters is not gold" (এখানে glisters ব্যবহৃত হয়েছে, glitters নয়)। এটি 'দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিসে' মরক্কোর রাজপুত্র বলেছিলেন।
** লেড জেপলিনের গান "Stairway to Heaven" এ বলা হয়েছে, "all that glitters is gold"।
** 'লর্ড অফ দ্য রিংস' এর একটি কবিতায় বলা হয়েছে, "All that is gold does not glitter", যা আরাগর্ন চরিত্রটিকে নির্দেশ করে।
** স্ম্যাশ মাউথের গান "অল স্টারের" কোরাসেও "All that glitters is gold" বাক্যটি পাওয়া যায়।
* '''"রক্ত, ঘাম এবং অশ্রু"''' – [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]
** সঠিক উক্তি: "রক্ত, পরিশ্রম, অশ্রু এবং ঘাম ছাড়া আমার দেওয়ার মতো আর কিছুই নেই।"
** এই বাক্যটি থিয়া ফন হার্বোর লেখা 'মেট্রোপলিস' (১৯২৬) বইতেও পাওয়া যায়। মেট্রোপলিসের যন্ত্র সচল রাখতে প্রথম দিনের কাজ শেষে ফ্রেডার ফ্রেডারসেনের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছিল, "সে তার ঠোঁটে নোনতা স্বাদ অনুভব করল এবং বুঝতে পারল না যে এটি রক্ত, ঘাম নাকি অশ্রু ছিল।"
** টীকা: চার্চিলের একটি ভাষণেও অনুরূপ উক্তি পাওয়া যায় যেখানে তিনি বলেছিলেন, "আমি রক্ত, ঘাম এবং অশ্রু ছাড়া আর কিছুর প্রতিশ্রুতি দিইনি..."।
** এছাড়া ১৯৬৩ সালে জনি ক্যাশ এই নামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড বিটিএস এই নামে একটি গান মুক্তি দেয়।
* '''"আল্লাহ তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেরা নিজেদেরকে সাহায্য করে।"'''
** এটি বাইবেলের কোনো উক্তি নয়, বরং এটি একটি প্রাচীন প্রবাদ যা বিভিন্ন সংস্কৃতিতে পাওয়া যায়। ১৭৩৬ সালে [[:w:বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন|বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের]] 'পুওর রিচার্ড'স অ্যালম্যানাকে' এটি স্থান পায়।
** ঈশপের গল্প "হারকিউলিস এবং গাড়িচালকেও" একই বার্তা পাওয়া যায়, যার নৈতিক শিক্ষা ছিল— "ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেদের সাহায্য করে।"
** জেনোফনের 'সাইরোপেডিয়া' এবং [[:w:কোরআনে|আল-কোরআনের]] সূরা আর-রাদেও (আয়াত ১১) অনুরূপ ধারণা ব্যক্ত হয়েছে: "...নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরাই পরিবর্তন করে..."।
* '''"এগিয়ে চলো, ম্যাকডাফ"'''
** সঠিক উক্তি: "লড়াই করো, ম্যাকডাফ... – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:ম্যাকবেথ|ম্যাকবেথ]]'')
** বাক্যটির প্রথম লিখিত ব্যবহার ১৮৫৫ সালের দিকে পাওয়া যায়।
* '''"বাবল বাবল, টয়েল অ্যান্ড ট্রাবল।"'''
** সঠিক উক্তি: "ডাবল, ডাবল টয়েল অ্যান্ড ট্রাবল " – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:ম্যাকবেথ|ম্যাকবেথ]]'')
** ডিজনি কার্টুন 'ডাকটেলসে' জাদুকরীদের মুখে এই "বাবল, বাবল" উক্তিটি জনপ্রিয় হয়।
* '''"আমার মনে হয়, নারীটি একটু বেশিই প্রতিবাদ করে ফেলছে!"'''
** সঠিক উক্তি: "যতটা প্রয়োজন, ভদ্রমহিলা তার চেয়েও বেশি আপত্তি দেখাচ্ছেন—ঘটনা নিশ্চয়ই অন্য কিছু।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
** শেক্সপীয়ারের সময়ে "প্রটেস্ট" শব্দের অর্থ ছিল "দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করা" বা "প্রতিজ্ঞা করা", বর্তমানের মতো কোনো কিছু "অস্বীকার করা" নয়। এখানে রানী গারট্রুড নাটকের রানীর অতিশয় আবেগের বিষয়ে মন্তব্য করছিলেন।
* '''"টাকাই সব অনর্থের মূল।"'''
** মূল বক্তব্য: "বরং টাকার প্রতি মোহ-ই সব অনর্থের মূল।" (১ টিমোথি ৬:১০, কিং জেমস বাইবেল)
** সব অনুবাদই একমত যে, টাকা নিজে মন্দ নয়, বরং টাকার প্রতি অতিরিক্ত 'লোভ' বা 'মোহ' মন্দের সাথে জড়িত।
* '''"এখন আমাদের অসন্তোষের শীতকাল।"'''
** মূল বক্তব্য: "Now is the winter of our discontent / Made glorious summer by this son of York." – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:তৃতীয় রিচার্ড (নাটক)|তৃতীয় রিচার্ড]]'')
** এটি মূলত একটি অসম্পূর্ণ উদ্ধৃতি। পুরো বাক্যে বলা হয়েছে যে, ইয়র্কের এই সন্তানের (এখানে সূর্যের সাথে একটি শব্দালঙ্কার করা হয়েছে) কারণে আমাদের অসন্তোষের শীতকাল এখন গৌরবময় গ্রীষ্মে পরিণত হয়েছে।
* '''"হায়, বেচারা ইয়োরিক! আমি তাকে খুব ভালো করে চিনতাম।"'''
** সঠিক উক্তি: "আমাদের অসন্তোষের এই যে হিমশীতল শীতকাল—ইয়র্কের এই সুযোগ্য সন্তানের আগমনে তা আজ এক মহিমান্বিত গ্রীষ্মে রূপ নিয়েছে!" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
* '''"স্যাম, ওটা আবার বাজাও"'''
** প্রকৃত উক্তি: "স্যাম, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে একবার বাজাও, 'অ্যাজ টাইম গোজ বাই' গানটি বাজাও।" – ইনগ্রিড বার্গম্যান (''ক্যাসাব্লাঙ্কা'')
** হামফ্রে বোগার্ট বলেছিলেন: "তুমি ওর জন্য বাজিয়েছ, এখন আমার জন্য বাজাতে পারো... ও যদি শুনতে পারে, তবে আমিও পারব। বাজাও।"
** ১৯৪৬ সালের মার্ক্স ব্রাদার্সের সিনেমা 'এ নাইট ইন ক্যাসাব্লাঙ্কা' থেকে সম্ভবত এই ভুল উদ্ধৃতিটির জন্ম।
* '''"মিস্টার ডিমিল, আমি আমার ক্লোজ-আপ শটের জন্য তৈরি।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "ঠিক আছে মিস্টার ডিমিল, আমি আমার ক্লোজ-আপ শটের জন্য তৈরি" – গ্লোরিয়া সোয়ানসন (''সানসেট বুলেভার্ড'')
* '''"লোভ ভালো।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, মূল কথা হলো— উন্নত শব্দের অভাবে বলছি— লোভ ভালো। লোভ সঠিক, লোভ কাজে দেয়।" – গর্ডন গেক্কো (''ওয়াল স্ট্রিট'')
* '''"কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!"'''
** সঠিক উক্তি: "কেউ আমাদের ওপর ফাঁদ পেতেছে, পাতা হয়েছে বোমা—শেষ অপেক্ষার পালা, এবার পাল্টা আঘাতের সময়!!"
** একটি ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশনের কারণে "কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!" রূপটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
** 'এম্পায়ার আর্থ' গেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেতার জন্য "কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!" বাক্যটি একটি চিট কোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
** টীকা: এটি জাপানি ভিডিও গেম ''[[:w:জিরো উইং|জিরো উইংয়ের]]'' একটি অত্যন্ত কাঁচা এবং হাস্যকর ইংরেজি অনুবাদ থেকে এসেছে। মূল জাপানি বাক্যটি ছিল স্বাভাবিক, যার অর্থ দাঁড়ায়— "মনে হচ্ছে কেউ এখানে বিস্ফোরক স্থাপন করেছে।" একই গেমের "[[:w:আপনার সমস্ত ঘাঁটি এখন আমাদের দখলে|আপনার সমস্ত ঘাঁটি এখন আমাদের দখলে]]" উক্তিটিও একইভাবে বিখ্যাত।
* '''"বাকিটুকু নীরবতা... বাকিটুকুও বিজ্ঞান!"'''
** সঠিক উক্তি: "বাকিটুকু কেবল নীরবতা।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
** টীকা: এই বাক্যটি অনেক সময় শব্দের খেলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন জাজ শিল্পী স্টিভ সোয়ালো জাজ কম্পোজিশন সম্পর্কে বলেছিলেন, "শেষ পর্যন্ত একটি আইডিয়া চলেই আসে, আর বাকিটুকু স্রেফ বিজ্ঞান।"
* '''"লিলি ফুলকে ঝলক দেয়"'''
** সঠিক উক্তি: "খাঁটি সোনায় ঝিলিক দেওয়া, কিংবা পদ্মকে রঙে রাঙানো।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:কিং জন|কিং জন]]'')
** শেক্সপীয়ার মূলত বাইবেলের একটি কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে এটি লিখেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছে যে ঈশ্বর লিলি ফুলকে যেভাবে তৈরি করেছেন তাতে নতুন কিছু যোগ করার প্রয়োজন নেই।
* '''"আপনি কেন মাঝেমধ্যে আমার এখানে এসে দেখা করেন না?"'''
** সঠিক উক্তি: "সময় পেলে কোনো একদিন এসো না আমার এখানে? প্রতি সন্ধ্যায় তো আমি ঘরেই থাকি।" – মে ওয়েস্ট (''শী ডান হিম রং'')
** তিনি তাঁর পরের ছবি 'আই অ্যাম নো অ্যাঞ্জেলে' শব্দগুলোর ক্রম পরিবর্তন করে বলেছিলেন।
** 'টম অ্যান্ড জেরি' কার্টুনের একটি যান্ত্রিক ইঁদুরকেও এই বাক্যটি বারবার বলতে শোনা যায়।
* '''"আমি কোনো প্রতারক নই"''' – [[:w:রিচার্ড নিক্সন|রিচার্ড নিক্সন]]
** এটি প্রায়ই [[:w:ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি|ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি]] সংক্রান্ত তাঁর কোনো সাফাই হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এটি বলেছিলেন। তাঁর সঠিক উক্তিটি ছিল: "জনগণের জানা উচিত তাদের প্রেসিডেন্ট প্রতারক কি না। আমি কোনো প্রতারক নই।"
* '''"তুই এক নোংরা ইঁদুর!"'''
** [[:w:জেমস ক্যাগনি|জেমস ক্যাগনি]] কোনো চলচ্চিত্রেই হুবহু এই বাক্যটি বলেননি। তবে 'ব্লন্ড ক্রেজি' (১৯৩১) ছবিতে তিনি অন্য একটি চরিত্রকে "dirty, double-crossing rat" বলেছিলেন।
** 'ট্যাক্সি! ট্যাক্সি!' (১৯৩২) ছবিতে তিনি তাঁর ভাইকে হত্যাকারী ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "বাইরে এসে লড়ো, তুই নোংরা পীত-হৃদয় ইঁদুর!" এটিই মূল প্রেক্ষাপটের সবচেয়ে কাছাকাছি উক্তি। পরবর্তীতে 'টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলসে' মিকেলেঞ্জেলো চরিত্রটি ক্যাগনিকে অনুকরণ করতে গিয়ে এই ভুল উক্তিটি ব্যবহার করে।
* '''"রয়্যাল নেভির একমাত্র ঐতিহ্য হলো রাম (মদ), পুংমৈথুন এবং চাবুক।"'''
** [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের] ব্যক্তিগত সচিব অ্যান্থনি মন্টেগু-ব্রাউন জানিয়েছিলেন যে, চার্চিল এটি কখনোই বলেননি, তবে তিনি আফসোস করে বলেছিলেন যে ইশ! যদি তিনি এটি বলতেন।
* '''"একটি ভাষা হলো নৌবাহিনী সমৃদ্ধ একটি উপভাষা।"'''
** মূল উক্তি (ইদিশ ভাষায়): "אַ שפּראַך איז אַ דיאַלעקט מיט אַן אַרמיי און פֿלאָט" (একটি ভাষা হলো সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনী সমৃদ্ধ একটি উপভাষা)।
** এটি অটো ফন বিসমার্ক বলেননি, বরং ভাষাবিদ ম্যাক্স ওয়াইনরিখ এটি বলেছিলেন।
* '''"নরকের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থানগুলো তাদের জন্য সংরক্ষিত যারা বড় ধরনের নৈতিক সংকটের সময় নিরপেক্ষ থাকে।"'''
** জন এফ. কেনেডি এটি বলেছিলেন এবং তিনি এর কৃতিত্ব [[:w:দান্তে আলিগিয়েরি|দান্তেকে]] দিয়েছিলেন। কিন্তু দান্তের 'ডিভাইন কমেডিতে' যারা নিরপেক্ষ ছিল তাদের স্থান দেওয়া হয়েছে নরকের প্রবেশদ্বারে, যা কোনোভাবেই উত্তপ্ত নয়। অন্যদিকে নরকের সর্বনিম্ন বা সবচেয়ে ভয়াবহ স্থানটি ছিল তুষারে জমাট বাঁধা হ্রদ, যা বিশ্বাসঘাতকদের জন্য নির্ধারিত।
* '''"একদম ঘাড়ের ওপর দিয়ে যাওয়া জয়"''' – আর্থার ওয়েলেসলি (ডিউক অফ ওয়েলিংটন)
** ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে জয়ের পর তিনি আসলে বলেছিলেন, "এটি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি বিষয়—আমার দেখা সবচেয়ে কাছাকাছি লড়াই..."। এখানে তিনি জয়টি কতটা কঠিন ছিল তা বোঝাতে 'nice' শব্দটি প্রাচীন অর্থে (সুক্ষ্ম বা নিখুঁত) ব্যবহার করেছিলেন।
* '''"নিজেকে কি ভাগ্যবান মনে হয়, ছোকরা?"''' – [[:w:ক্লিন্ট ইস্টউড|ক্লিন্ট ইস্টউড]] (''ডার্টি হ্যারি'')
** সঠিক উক্তি এবং প্রেক্ষাপট: "আমি জানি তুমি কি ভাবছ: 'সে কি ছয়টি গুলি চালিয়েছে নাকি পাঁচটি?' সত্যি বলতে, এই উত্তেজনার চোটে আমি নিজেও হিসাব হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু যেহেতু এটি একটি .৪৪ ম্যাগনাম—বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যান্ডগান যা তোমার মাথা উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট—তাই তোমাকে নিজেকে একটি প্রশ্ন করতে হবে: 'আমি কি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি?' কি মনে হয়, ছোকরা?"
** 'দ্য মাস্ক' চলচ্চিত্রে জিম ক্যারি এই উক্তিটির সঠিক রূপের বেশ কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন।
<div id="revolver">
* '''"যখনই আমি 'সংস্কৃতি' শব্দটি শুনি, আমি আমার রিভলভারের দিকে হাত বাড়াই।"'''
** প্রকৃত উক্তিটি হলো— "Wenn ich Kultur höre ... entsichere ich meinen Browning!" এর অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: "যখনই আমি 'সংস্কৃতি' (শব্দটি) শুনি... আমি আমার ব্রাউনিংয়ের সেফটি লক খুলে ফেলি!"
** এই উক্তিটি প্রায়ই ভুলবশত শীর্ষস্থানীয় নাৎসি নেতা হার্মান গোয়েরিং অথবা মাঝেমধ্যে [[:w:জুলিয়াস স্ট্রাইচার|জুলিয়াস স্ট্রাইচারের]] নামে চালানো হয়। এই ভুল প্রচার সম্ভবত [[:w:ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রা|ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রার]] বিখ্যাত তথ্যচিত্র থেকে শুরু হয়েছে, যা যুদ্ধের আগে আমেরিকান সৈন্যদের দেখানো হতো।
** বাস্তবে, এটি [[:w:হানস জোহস্ট|হানস জোহস্টের]] লেখা 'শ্লাগেটার' নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে থিম্যান নামক একটি চরিত্রের সংলাপ। তবে নাৎসিবাদের সাথে এর সম্পর্ক থাকাটা যৌক্তিক, কারণ নাটকটি ১৯৩৩ সালের এপ্রিলে [[:w:হিটলার|হিটলারের]] জন্মদিনের সম্মানে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল।
** হিটলার ইয়ুথের প্রধান বলদুর ফন শিরাখ ১৯৩৮ সালের দিকে একটি জনসভায় এই বাক্যটি উচ্চারণ করেছিলেন। ফ্রেডেরিক রোসিফের তথ্যচিত্র 'ফ্রম নুরেমবার্গ টু নুরেমবার্গে' একটি ফুটেজ দেখা যায় যেখানে ফন শিরাখ এটি বলার সময় সত্যি সত্যি বন্দুক বের করছেন।
** টীকা: এটি মূল জার্মান ভাষার চেয়ে ইংরেজিতে অনুবাদের পর আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে 'জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিতে' নিকোলাস এইচ. ব্যাটির একটি নিবন্ধের পর্যালোচনায় হাওয়ার্ড থমাস মূল জার্মান বাক্য এবং এর অনুবাদ পাশাপাশি উল্লেখ করেছিলেন।
** এই বাক্যটি একটি শব্দালঙ্কার হতে পারে, কারণ 'ব্রাউনিং' বলতে পিস্তল এবং ইংরেজ কবি [[:w:রবার্ট ব্রাউনিং|রবার্ট ব্রাউনিং]] উভয়কেই বোঝানো যেতে পারে।
** এছাড়া এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ব্রাউনিং (সম্ভবত এম১৯৩৫ হাই-পাওয়ার) কোনো রিভলভার নয়, বরং এটি একটি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। তবে সেই সময়ে 'ব্রাউনিং' শব্দটি যেকোনো পিস্তল বোঝাতে ব্যবহৃত হতো, ঠিক যেভাবে ওয়েস্টার্ন সিনেমাগুলোতে যেকোনো রিভলভারকে 'কোল্ট' বলা হয়।
</div>
* '''"প্রত্যাখ্যাত নারীর মতো ভয়ংকর উন্মাদনা নরকেও নেই"'''
** সঠিক উক্তিটি হলো: "স্বর্গের এমন কোনো ক্রোধ নেই যা ঘৃণায় রূপান্তরিত প্রেমের মতো / না আছে নরকের এমন উন্মাদনা যা একজন প্রত্যাখ্যাত নারীর মতো।" এটি ১৬৯৭ সালে [[:w:উইলিয়াম কনগ্রিভ|উইলিয়াম কনগ্রিভ]] তাঁর 'দ্য মর্নিং ব্রাইডে' লিখেছিলেন।
* '''"তাদের চোখের সাদা অংশ না দেখা পর্যন্ত গুলি ছুড়বে না।"'''
** এই উক্তিটি সাধারণত নিউ অর্লিন্সের যুদ্ধে অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের বলে মনে করা হয়।
** বাস্তবে, এটি জর্জ ওয়াশিংটনের কন্টিনেন্টাল আর্মির কমান্ডার কর্নেল [[:w:উইলিয়াম প্রেসকট|উইলিয়াম প্রেসকট]] বাঙ্কার হিলের যুদ্ধে বলেছিলেন। পুরো উক্তিটি ছিল, "তাদের চোখের সাদা অংশ না দেখা পর্যন্ত গুলি ছুড়বে না। তারপর, '''নিচু করে গুলি চালাও!'''"
** উৎস: রবার্ট ল্যাকি রচিত 'জর্জ ওয়াশিংটন'স ওয়ার'।
* '''"হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছে"'''
** অ্যাপোলো ১৩ এর কমান্ডার জিম লাভেল এটি বলেছিলেন বলে মনে করা হয়, তবে তাঁর মূল কথা ছিল: "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল। আমাদের মেইন বি বাস আন্ডারভোল্ট হয়েছিল।" তবে হিউস্টনকে সমস্যার কথা প্রথম জানিয়েছিলেন নভোচারী জ্যাক সুইগার্ট, যিনি প্রায় একই শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। নাসার আনুষ্ঠানিক কালানুক্রম অনুযায়ী কথোপকথনটি ছিল এমন:
*** ৫৫:৫৫:২০ – সুইগার্ট: "ঠিক আছে হিউস্টন, এখানে আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল।"
*** ৫৫:৫৫:২৮ – লুসমা: "এটি হিউস্টন। দয়া করে আবার বলুন।"
*** ৫৫:৫৫:৩৫ – লাভেল: "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল। আমাদের মেইন বি বাস আন্ডারভোল্ট হয়েছিল।"
** তবে 'অ্যাপোলো ১৩' চলচ্চিত্রে টম হ্যাঙ্কস বলেন, "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছে।"
* '''"কিসমেত হার্ডি / কিস মি, হার্ডি"''' – ব্রিটিশ ভাইস অ্যাডমিরাল [[:w:হোরেশিও নেলসন|হোরেশিও নেলসন]]
** নেলসন মৃত্যুর সময় "কিসমেত হার্ডি" বা "কিস মি, হার্ডি" বলেছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। 'কিসমেত' শব্দের অর্থ ভাগ্য। তবে ওক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান অনুযায়ী ১৮৪৯ সালের আগে ইংরেজি ভাষায় 'কিসমেত' শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায় না। নেলসন তাঁর ফ্ল্যাগ ক্যাপ্টেন টমাস মাস্টারম্যান হার্ডিকে "কিস মি, হার্ডি" বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো তাঁর শেষ কথা ছিল না। সার্জন উইলিয়াম বিটির মতে নেলসনের প্রকৃত শেষ কথা ছিল: "ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি। পানি, পানি। বাতাস, বাতাস। মালিশ, মালিশ।"
* '''"মন্দের বিজয়ের জন্য একমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিস হলো ভালো মানুষের কিছু না করা"''' – [[:w:এডমন্ড বার্ক|এডমন্ড বার্ক]]
** এটি সম্ভবত দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের ১৮৬৭ সালের একটি বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত রূপ। মিল বলেছিলেন: "মন্দ লোকেরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য ভালো মানুষদের কেবল তাকিয়ে থাকা এবং কিছু না করার চেয়ে বেশি কিছু চায় না।"
** বার্কের 'থটস অন দ্য কজ অফ প্রেজেন্ট ডিসকন্টেন্টে' অনুরূপ অর্থের একটি বাক্য পাওয়া যায়: "যখন মন্দ লোকেরা জোট বাঁধে, তখন ভালো মানুষদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; অন্যথায় তারা এক এক করে তুচ্ছ সংগ্রামে করুণ আত্মত্যাগ হিসেবে ধপাস করে পড়বে।"
** এটি অনেক সময় আলেকজিস ডি টোকভিলের উক্তি হিসেবেও চালানো হয়।
* '''"আমাদের ওই পচা ব্যাজগুলোর দরকার নেই!"''' – 'দ্য ট্রেজার অফ দ্য সিয়েরা মাদ্রে' চলচ্চিত্রের ডাকাত
** মূল উক্তিটি হলো— "ব্যাজ? আমাদের কোনো ব্যাজ নেই! আমাদের ব্যাজের দরকার নেই। আমাকে কোনো পচা ব্যাজ দেখাতে হবে না!"
** এই ভুল সংস্করণটি মূলত 'ব্লেজিং স্যাডলস' চলচ্চিত্রে মূল দৃশ্যটির প্যারোডি হিসেবে জনপ্রিয় হয়। সেখানে মেক্সিকান ডাকাতদের নেতা বলেছিল: "ব্যাজ? আমাদের কোনো পচা ব্যাজের দরকার নেই।"
** উক্তিটি 'দ্য নাইন্থ কনফিগারেশন' এবং উইয়ার্ড আল ইয়ানকোভিকের 'ইউএইচএফ' সিনেমাতেও বিকৃতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি 'ট্রান্সফরমারস' কার্টুনে স্টারস্ক্রিম চরিত্রটিও এর একটি ভিন্ন রূপ ব্যবহার করেছিল।
* '''"শাসন না করলে সন্তান নষ্ট হয়ে যায় ।"'''
** সন্তান পালনে শাসনের গুরুত্ব নিয়ে অনেক প্রবাদ আছে, তবে বাইবেলের (কিং জেমস সংস্করণ) হিতোপদেশ ১৩:২৪ এর সবচেয়ে কাছের সংস্করণটি হলো: "যে শাসন করতে কার্পণ্য করে সে তার সন্তানকে ঘৃণা করে; কিন্তু যে তাকে ভালোবাসে সে সময়মতো তাকে শাসন করে।"
** এই নির্দিষ্ট বাক্যটি ১৬০০ এর দশকে স্যামুয়েল বাটলারের 'হুডিব্রাস' কবিতায় পাওয়া যায়।
* '''"সংকট? কিসের সংকট?"''' – ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী [[:w:জেমস ক্যালাহান|জেমস ক্যালাহান]]
** এটি ছিল ১৯৭৯ সালের ১১ জানুয়ারি 'দ্য সান' পত্রিকার একটি শিরোনাম। দেশে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ক্যালাহান যখন বিদেশ থেকে ফিরছিলেন, তখন এক সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন— "দেশের বর্তমান বিশৃঙ্খলার মুখে আপনার সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি কী?" ক্যালাহান উত্তরে বলেছিলেন— "এটি আপনার বিচার। আমি আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আপনি যদি বাইরে থেকে দেখেন... তবে বিশ্বের অন্য কেউ মনে করবে না যে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে।" ক্যালাহান সরাসরি "কিসের সংকট" শব্দটি ব্যবহার না করলেও পত্রিকাটির এই শিরোনামটি জনমনে গেঁথে যায়।
* '''"কখনও কখনও একটি চুরুট স্রেফ একটি চুরুটই।"'''
** এই উক্তিটি প্রায়ই [[:w:সিগমুন্ড ফ্রয়েড|সিগমুন্ড ফ্রয়েডের]]নামে চালানো হয় এটা বোঝাতে যে, এমনকি একজন বিখ্যাত মনোবিশ্লেষকও স্বীকার করতে পারেন যে সবকিছুরই গভীর কোনো অর্থ থাকে না; তবে তাঁর কোনো লেখায় এই উক্তির কোনো বৈচিত্র্য কখনোই পাওয়া যায় না। তাঁর মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর এটি ভুলভাবে তাঁর নামে প্রচলিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। [http://quoteinvestigator.com/2011/08/12/just-a-cigar/]
** [[:w:রুডইয়ার্ড কিপলিং|রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের]] 'দ্য বেট্রোথড' কবিতা থেকে একটি বিকল্প:
<blockquote>
:"লক্ষ লক্ষ উদ্বৃত্ত ম্যাগি জোয়াল বইতে ইচ্ছুক;
:আর একজন নারী স্রেফ একজন নারীই, কিন্তু একটি ভালো চুরুট হলো প্রশান্তির ধোঁয়া।"
</blockquote>
* '''"সবসময় সুসমাচার প্রচার করো, আর যদি প্রয়োজন হয় তবেই শব্দ ব্যবহার করো।"'''
** এটি প্রায়ই [[:w:ফ্রান্সিস অফ আসিসি|ফ্রান্সিস অফ আসিসির]] উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়, তবে এই উক্তির প্রকৃত উৎস অজানা।
* '''"আমাকে একজন তরুণ রক্ষণশীল দেখাও, আমি তোমাকে এমন একজনকে দেখাব যার হৃদয় নেই। আমাকে একজন বৃদ্ধ উদারপন্থী দেখাও, আমি তোমাকে এমন একজনকে দেখাব যার মস্তিষ্ক নেই।"'''
** এটি প্রায়ই [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয় ([http://www.winstonchurchill.org/learn/speeches/quotations/quotes-falsely-attributed])। এই বাক্যটির আদি উৎস হলো ফ্রাঁসোয়া গিজো (১৭৮৭-১৮৭৪): "বিশ বছর বয়সে প্রজাতন্ত্রপন্থী না হওয়া হৃদয়ের অভাবের প্রমাণ; ত্রিশ বছর বয়সেও তা থাকা বুদ্ধির অভাবের প্রমাণ।" পরবর্তীতে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লেমেনসো (১৮৪১-১৯২৯) এটি পুনরায় ব্যবহার করেন: "বিশ বছর বয়সে সমাজতন্ত্রী না হওয়া হৃদয়ের অভাব; ত্রিশ বছর বয়সেও তা থাকা বুদ্ধির অভাব।"
** ১৯৯৪ সালের চলচ্চিত্র [[:w:সুইমিং উইথ শার্কস|সুইমিং উইথ শার্কসে]] এর উল্লেখ পাওয়া যায় এভাবে— "যদি তুমি ২০ বছর বয়সে বিদ্রোহী না হও তবে তোমার হৃদয় নেই, কিন্তু যদি তুমি ৩০ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থায় না ফেরো তবে তোমার মস্তিষ্ক নেই।"
* '''"আমি আজ সকালে ঘুম থেকে উঠলাম এবং নিজের জন্য একটি বিয়ার নিলাম।"'''
** [[:w:দ্য ডোরস|দ্য ডোরস]] ব্যান্ডের সদস্য [[:w:রে মানজারেক|রে মানজারেকের]] লেখা [[:w:লাইট মাই ফায়ার (বই)|''লাইট মাই ফায়ার'']] বই অনুযায়ী, [[:w:জিম মরিসন|জিম মরিসন]] আসলে গেয়েছিলেন "আমি আজ সকালে উঠলাম এবং আমার দাড়ি গজালো", কারণ গানটি মরিসনের ৩ সপ্তাহের মাদকাসক্ত ঘুম থেকে জেগে ওঠার গল্প বলে মনে করা হয়।
** "আমি আজ সকালে উঠলাম এবং নিজের জন্য একটি বিয়ার নিলাম" লাইনটি [[:w:এলিস কুপার|এলিস কুপার]] দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। মরিসন গানটি রেকর্ড করার ঠিক আগে স্টুডিওতে তাঁর সাথে কথা বলছিলেন। তিনি এলিসকে তাঁর দিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন— "উমম.. আজ সকালে উঠলাম.... নিজের জন্য একটা বিয়ার নিলাম।" মরিসন গানে লাইনটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এলিস কুপারের অনেক সাক্ষাৎকারে এটি বারবার বলা হয়েছে। [http://www.uncut.co.uk/news/the_doors/news/11838]
* '''"তাকে তার আরামকেদারায় ধরো, তুমি তার রোগ অনুভব করতে পারবে।"'''
** ১৯৬৯ সালের গান "কাম টুগেদারে" [[:w:দ্য বিটলস|দ্য বিটলসের]] সদস্য [[:w:জন লেনন|জন লেননের]] মূল লিরিক্স ছিল— "তাকে তার বাহুতে ধরো, তুমি তার রোগ অনুভব করতে পারবে।" কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটি 'আরামকেদারা' শুনতে পাওয়ায় লেনন বলেছিলেন যে ওই লিরিক্সটিও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য। [https://ultimateclassicrock.com/the-beatles-come-together-lyrics-uncovered/]
* '''"তাদের কেক খেতে দাও।"'''
** [[:w:মারি অঁতোয়ানেত|মারি অঁতোয়ানেত]] কখনোই এটি বলেননি। [[:w:জঁ-জাক রুসো|জঁ-জাক রুসো]] ১৭৮৩ সালে তাঁর আত্মজীবনী 'কনফেশনসে' উল্লেখ করেন যে, "এক মহান রাজকুমারী" ক্ষুধার্ত কৃষকদের সম্পর্কে বলেছিলেন— "যদি তাদের রুটি না থাকে, তবে তাদের কেক (ব্রায়োশ) খেতে দাও।" ধারণা করা হয় তিনি আসলে স্পেনের মারিয়া তেরেসার কথা বলছিলেন। (রুসোর পাণ্ডুলিপিটি ১৭৬৭ সালে লেখা হয়েছিল, যখন মারি অঁতোয়ানেতের বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর এবং ভবিষ্যতে লুই ১৬ এর সাথে তাঁর বিয়ে হতে তখনও তিন বছর বাকি ছিল।)
* '''"তুমি সত্য জানতে চাও? তুমি সত্য সহ্য করার ক্ষমতা রাখো না!"'''
** [[:w:জ্যাক নিকোলসন|জ্যাক নিকোলসন]] 'এ ফিউ গুড মেন' চলচ্চিত্রে এই উক্তির দ্বিতীয় অংশটি বললেও সংলাপের সঠিক ক্রম ছিল: "তুমি কি উত্তর চাও?" "আমি সত্য চাই!" "তুমি সত্য সহ্য করতে পারবে না!" ক্রুজের চরিত্র যখন জিজ্ঞাসা করে যে সে কি উত্তরের অধিকারী, তখন তাকে আবারও জিজ্ঞেস করা হয় সে উত্তর চায় কি না, এবং উত্তরে ক্রুজ বলে সে সত্য চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিকোলসনের সেই বিখ্যাত ভাষণ শুরু হয়— "তুমি সত্য সহ্য করতে পারবে না!" এই ভুল উদ্ধৃতিটি প্রায়ই বিভিন্ন প্যারোডিতে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে [[:w:দ্য সিম্পসন্স|দ্য সিম্পসন্সে]] দুইবার দেখা গেছে। [http://www.imdb.com/title/tt0112384/quotes?qt0476805]
* '''"হ্যালো, ক্ল্যারিস।"'''
** 'দ্য সাইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্বস' চলচ্চিত্রের প্যারোডিতে এটি মাঝেমাঝে ব্যবহৃত হলেও মূল সিনেমায় [[:w:হানিবাল লেক্টর|হানিবাল লেক্টর]] কখনোই এটি বলেননি। তবে অ্যান্থনি হপকিন্স একবার অনুরূপ বাক্য "শুভ সন্ধ্যা, ক্ল্যারিস" বলেছিলেন। অন্যদিকে সিক্যুয়েল ছবি [[:w:হানিবাল (চলচ্চিত্র)|হানিবালে]] ডক্টর লেক্টর যখন ডিটেকটিভ পাজির ফোন ধরেন, ঠিক তাকে ব্যালকনি থেকে ফেলে দেওয়ার আগে এজেন্ট স্টারলিংকে অভিবাদন জানাতে গিয়ে বলেছিলেন— "তুমি কি ক্ল্যারিস? আচ্ছা, হ্যালো ক্ল্যারিস..."
* '''"দেখলে তো, তুমি আমাকে আবারও কী চমৎকার বিপদে ফেললে"'''
** এটি [[:w:অলিভার হার্ডি|অলিভার হার্ডির]] উক্তি হিসেবে পরিচিত যা তিনি [[:w:স্ট্যান লরেল|স্ট্যান লরেলের]] ভুলের পর বলতেন।
** প্রকৃত উক্তিটি ছিল— "Well, here's another '''nice''' mess you've gotten me into!" (এখানে 'fine' এর বদলে 'nice' ব্যবহৃত হয়েছিল)। ১৯৩০ সালের ছবি [[:w:দ্য লরেল-হার্ডি মার্ডার কেস|দ্য লরেল-হার্ডি মার্ডার কেসে]] এটি বলা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায়। এই ছবির ঠিক পরেই 'অ্যানাদার ফাইন মেস' নামে একটি ছবি আসায় সম্ভবত বিভ্রান্তিটি তৈরি হয়।
** রে স্টিভেন্স পরবর্তীতে একটি গান রেকর্ড করেন যেখানে এই উদ্ধৃতিটি ছিল— "Here's another fine mess you've gotten me into / another fine mess, ah well, what else is new."
** বাস্তবে এটি ১৮৮৫ সালের অপেরা 'দ্য মিকাডোতে' ডব্লিউ. এস. গিলবার্ট প্রথম লিখেছিলেন। ([https://archive.org/details/mikadolibrettoof00sulluoft/page/36 লিব্রেটো দেখুন], দ্বিতীয় অঙ্ক দ্রষ্টব্য)। আদি সংলাপটি ছিল— "Well, a nice mess you've got us into, ..." যা কো-কো চরিত্রটি পুহ-বাহকে বলেছিল। গিলবার্ট এবং সুলিভানের কাজের জনপ্রিয়তার কারণে এই অপেরাগুলোর অনেক সংলাপ সাধারণ প্রবাদে পরিণত হয়েছে। [https://www.gsarchive.net/mikado/html/mikado_by_mencken.html ১৯১০ সালের একটি পর্যালোচনা] এবং [https://gsarchive.net/pinafore/html/pinafore_by_mencken.html ১৯১১ সালের অন্য একটি পর্যালোচনা] দ্রষ্টব্য।
* '''"আমি আইনের বাইরে? আপনি আইনের বাইরে! এই পুরো আদালত আইনের বাইরে!"'''
** প্রকৃত সংলাপ: "''আপনি'' আইনের বাইরে! ''আপনি'' আইনের বাইরে! এই পুরো ''বিচার প্রক্রিয়া'' আইনের বাইরে! '''''তারা''''' আইনের বাইরে!"
** বিচারক রেইফোর্ড যখন বলেন "মিস্টার কার্কল্যান্ড, আপনি আইনের বাইরে", তখন [[:w:অ্যান্ড জাস্টিস ফর অল (চলচ্চিত্র)|...অ্যান্ড জাস্টিস ফর অল]] সিনেমায় আর্থার কার্কল্যান্ড এই উত্তর দেন।
* '''"আমিই শয়তান এবং আমি শয়তানের কাজ করতে এসেছি।"'''
** শ্যারন টেটের বাড়িতে খুনের ঘটনায় এটি প্রায়ই ভুলবশত [[:w:চার্লস ম্যানসন|চার্লস ম্যানসনের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়। ম্যানসন তাঁর অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত কোনো খুনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে এই বাক্যটি [[:w:চার্লস "টেক্স" ওয়াটসন|চার্লস "টেক্স" ওয়াটসন]] ভয়েটেক ফ্রাইকোস্কিকে বলেছিলেন।
** রব জম্বির চলচ্চিত্র [[:w:দ্য ডেভিল'স রিজেক্টস|দ্য ডেভিল'স রিজেক্টসে]] ওটিস চরিত্রটি (বিল মোসলে অভিনীত) "I'm the devil, and I'm here to do the devil's work" বাক্যটি ব্যবহার করে, যা সম্ভবত আদি উক্তিটির প্রতি এক ধরণের শ্রদ্ধা নিবেদন।
** প্রকৃত উক্তি: "আমি শয়তান, আমি এখানে শয়তানের ব্যবসা করতে এসেছি। তোমার সব টাকা আমাকে দাও।"
* '''"সঙ্গীতের এমন জাদু আছে যা বন্য পশুকে শান্ত করতে পারে।"'''
** এটি উইলিয়াম কনগ্রিভের ১৬৯৭ সালের নাটক 'দ্য মর্নিং ব্রাইডের' একটি ভুল উদ্ধৃতি।
** প্রকৃত উক্তি: "হৃদয়ের উন্মত্ততা দমানোর জন্য সঙ্গীতই যথেষ্ট। পাথরকে নরম করতে পারে, বা শক্ত ওক গাছকে বাঁকিয়ে দিতে পারে।"
** [http://en.wikipedia.org/wiki/William_Congreve_(playwright)#.22Music_hath_charms_to_soothe_a_savage_breast.22 উইলিয়াম কনগ্রিভ] সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া তালিকা দেখুন।
* '''"কেবল মৃতরাই যুদ্ধের শেষটা দেখেছে।"'''
** এটি প্লাটোর উক্তি হিসেবে চালানো হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি জর্জ সান্তায়ানা তাঁর 'দ্য লাইফ অফ রিজন' (১৯৫৩) বইয়ে লিখেছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থারের একটি বিদায়ী ভাষণে এটি প্রথম ভুলভাবে উদ্ধৃত হয় এবং এরপর থেকেই তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
* '''"গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক, তা একই রকম মিষ্টি গন্ধ ছড়াবে।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "নামে কী আসে যায়? গোলাপকে আমরা অন্য যে নামেই ডাকি না কেন, তা একই রকম মিষ্টি সুবাস ছড়াবে।"
** এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েটের' দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় দৃশ্য থেকে নেওয়া।
** 'স্টার ট্রেক' সিরিজের "বাই অ্যানি আদার নেম" পর্বে ক্যাপ্টেন কার্ক এই লাইনটি ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছিলেন।
* '''"হোয়ার আর্ট থাউ রোমিও? (রোমিও তুমি কোথায়?)"'''
** সঠিক লাইনটি (প্রেক্ষাপটসহ) হলো: "ও রোমিও, রোমিও! হোয়ারফোর আর্ট থাউ রোমিও? / তোমার পিতাকে অস্বীকার করো এবং তোমার নাম ত্যাগ করো। / অথবা, যদি তুমি তা না করো, তবে আমার ভালোবাসার শপথ নাও, / আর আমি আর কাপুলেট থাকব না।" এখানে জুলিয়েট রোমিও ''কোথায়'' তা জানতে চাচ্ছে না, বরং সে জিজ্ঞাসা করছে সে ''কেন'' রোমিও (মন্টেগু বংশের) নামে পরিচিত।
** শেক্সপিয়রের মূল নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় দৃশ্য।
** রোমিওর পদবি 'মন্টেগু' হওয়ার অর্থ হলো সে জুলিয়েটের পরিবার 'কাপুলেট'-দের চরম শত্রু, তাই জুলিয়েট তাকে তার নাম ত্যাগ করতে বলছে।
* '''"তুমি যদি এটি তৈরি করো, তবে তারা আসবে"'''
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি যদি এটি তৈরি করো, তবে ''সে'' আসবে"। এটি ''ফিল্ড অফ ড্রিমস'' চলচ্চিত্র থেকে নেওয়া।
** সম্ভবত 'ওয়েন'স ওয়ার্ল্ড ২' এর উক্তি "ইফ দে বুক দেম, দে উইল কামের" সাথে গুলিয়ে ফেলার কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কথাটি জিম মরিসনের আত্মা বলেছিল।
* '''"আমার বসার ঘরে এসো,' মাকড়সা মাছিকে বলল।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি কি আমার বসার ঘরে আসবে? মাকড়সা মাছিকে বলল"। এটি "দ্য স্পাইডার অ্যান্ড দ্য ফ্লাই" কবিতাটি থেকে নেওয়া।
** এছাড়াও দ্য পেপার চেজের গান "স্পাইডার টু দ্য ফ্লাই" এবং দ্য কিওরের গান লালাবাইতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
* '''"মস্তিষ্ক: এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে আমরা ভাবি যে আমরা ভাবছি "'''
** প্রকৃত উক্তি: "মস্তিষ্ক: এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে আমরা ভাবি যে আমরা চিন্তা করছি)। এটি অ্যামব্রোস বিয়ার্সের ''দ্য ডেভিল'স ডিকশনারি'' থেকে নেওয়া।
* '''"নাল পয়েন্টস | Nul points"'''
** সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য জায়গায় এই ফরাসি বাক্যটি প্রায়ই বার্ষিক ইউরোভিশন সং কন্টেস্টের']] সাথে জুড়ে দেওয়া হয়, বিশেষ করে 'ফাদার টেডের' "সং ফর ইউরোপ" পর্বে। তবে এই প্রতিযোগিতায় কেবল এক থেকে বারো পর্যন্ত পয়েন্ট দেওয়া হয়। এই বাক্যটি মূলত চূড়ান্ত স্কোরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যখন কোনো দেশ কোনো ভোটই পায় না।
* '''"বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবথেকে বেশি?..."''' – ''স্নো হোয়াইট অ্যান্ড দ্য সেভেন ডোয়ার্ফস'' চলচ্চিত্রে রানী।
** এই উদ্ধৃতিটির কোনো সঠিক উৎস নেই, কারণ এর উৎপত্তি একটি লোকগাথা থেকে, আর লোকগাথার সংজ্ঞানুসারেই এর কোনো নির্দিষ্ট লেখক বা পরিচিত উৎস থাকে না। ১৯৩৭ সালের চলচ্চিত্রে সংলাপটি ছিল "দেওয়ালে জাদুক্রী আয়না" (যার পর ছিল "বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবচেয়ে বেশি?" এবং চলচ্চিত্রের পরবর্তী অংশে ছিল "বল তো আরশি—''এখন'' এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবচেয়ে বেশি??")। গ্রিম ভাইদের সংগৃহীত সংস্করণে এটি ছিল "আয়না, আয়না, দেয়ালে তুমি, সারা দেশে সবচেয়ে সুন্দরী দাপটে কে?" – তবে অবশ্যই গ্রিম ভাইদের সংগ্রহের অনেক আগে থেকেই স্নো হোয়াইটের গল্প প্রচলিত ছিল।
* '''"হাও-মাও-খাও, মানুষের গন্ধ পাও! বাঁচুক কি মরুক—ওর হাড় গুঁড়ো করেই আজ আমার আহার হবে!"'''
** যদি এটি জোসেফ জ্যাকবসের 'ইংলিশ ফেয়ারি টেলস' থেকে উদ্ধৃত করা হয়, তবে এটি হওয়া উচিত: "হাও-মাও-খাও, মানুষের গন্ধ পাও! বেঁচে থাকুক কি মরে যাক—ওর হাড়গুলো আমার চাই-ই, আমার রুটি গুঁড়ো করার তরে!"
<div id="IamYourFather">
* '''লুক, আই অ্যাম ইয়োর ফাদার (লুক, আমিই তোমার বাবা)''' – ''স্টার ওয়ার্স এপিসোড ৫: দ্য এম্পায়ার স্ট্রাইকস ব্যাকে'' ডার্থ ভেডার।
** সঠিক উদ্ধৃতিটি হলো:
***ডার্থ ভেডার: ওবি-ওয়ান তোমাকে কখনোই বলেনি তোমার বাবার কী হয়েছিল।
***লুক স্কাইওয়াকার: সে আমাকে যথেষ্ট বলেছে! সে বলেছে তুমি তাকে মেরে ফেলেছ!
***ডার্থ ভেডার: '''না। ''আমিই'' তোমার বাবা।'''
***লুক স্কাইওয়াকার: না... এটা সত্যি নয়! এটা অসম্ভব!
* '''চারিদিকে জল, জল, শুধু জল, অথচ পান করার মতো এক ফোঁটাও নেই।'''
** এটি স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজের (১৮৩৪) "দ্য রাইম অফ দ্য অ্যানশিয়েন্ট ম্যারিনার" কবিতার একটি ভুল উদ্ধৃতি।
** প্রকৃত উক্তি: "জল, জল, চারদিকে শুধু জল, / শুকিয়ে কাঠ সব কাষ্ঠ-অনল; / জল, জল, চারদিকে শুধু জল, / নেই এক ফোঁটা পানযোগ্য জল!"
* '''"নিজেকে প্রস্তুত করো, শীত আসছে "'''
** এটি এডাড (নেড) স্টার্কের (জর্জ আর. আর. মার্টিনের বইয়ের সিরিজ 'এ সং অফ আইস অ্যান্ড ফায়ারের একটি চরিত্র) উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু পুরো সিরিজে তিনি কখনোই এই দুটি বাক্য ধারাবাহিকভাবে একসাথে বলেননি।
* '''"আর আমি পার পেয়ে যেতাম যদি এই নাক গলানো বাচ্চাগুলো না থাকত!"'''
** রহস্যের শেষে ধরা পড়া এবং মুখোশ খুলে যাওয়ার পর বিভিন্ন [[:w:স্কুবি-ডু|স্কুবি-ডু]] ভিলেনদের উক্তি হিসেবে এটি সাধারণত মনে করা হয়।
** এই উদ্ধৃতিটি মূলত ভিলেনদের দেওয়া বিভিন্ন সংলাপের একটি সংমিশ্রণ। কিছু ভিলেন প্রায় এই ধরণের কথা বলত কিন্তু মেডলিং কিডসের (বা 'নাক গলানো বাচ্চা') বদলে "মেডলার্স" বা "ব্লাস্টেড কিডস" বা অন্য কিছু ব্যবহার করত। কেউ কেউ "মেডলিং কিডস" অংশটি ব্যবহার করলেও বাক্যের বাকি অংশটি অন্যরকম হতো। অনেক ভিলেন গ্রেফতারের সময় চুপ থাকত।
** এই ধরণের উদ্ধৃতির ঘনঘন ব্যবহার শুরু হয় 'এ পাপ নেমড স্কুবি-ডু' সিরিজে, যেখানে প্রায় প্রতিটি পর্বে গ্রেফতার হওয়া ভিলেনরা এটি বলত, তবে তারা দলটিকে মেডলিংয়ের বদলে "পেসকি কিডস" (জন্ত্রণাদায়ক বাচ্চা) হিসেবে সম্বোধন করত। "মেডলিং" সংবলিত সংস্করণটি পরবর্তী বিভিন্ন প্রোডাকশনে যেমন ডাইরেক্ট-টু-ভিডিও মুভি, 'হোয়াটস নিউ, স্কুবি-ডু?' এবং 'স্কুবি-ডু, মিস্ট্রি ইনকর্পোরেটেডে' এবং ডাইরেক্ট টিভির মতো বিজ্ঞাপনে বারবার ব্যবহৃত (ও প্যারোডি) হতে শুরু করে।
* '''"সুখের কোনো পথ নেই; সুখই হলো পথ।"'''
** এটি সাধারণত বুদ্ধের উক্তি হিসেবে চালানো হয়, কিন্তু পালি ত্রিপিটকের কোথাও এর অস্তিত্ব নেই এবং এটি তাঁর বলা উক্তি— এমন কোনো প্রমাণও নেই। বাক্যটি আধুনিক বৌদ্ধ ভিক্ষু থিচ নাট হানের লেখায় পাওয়া যায়, তবে তিনি এর কৃতিত্ব দিয়েছেন ক্যালভিনিস্ট ধর্মযাজক আব্রাহাম জোহানেস মুস্তেকে। মুস্তে ১৯৬৭ সালে এই বাক্যের একটি রূপ— "'শান্তি'ই হলো পথ" ব্যবহার করেছিলেন বলে পরিচিত; তবে এটিই তাঁর প্রথম ব্যবহার ছিল না। ১৯৪৮ সালের মার্কিন সিনেট শুনানির একটি নথিতে এর প্রথম উপস্থিতি পাওয়া যায়। (তথ্যসূত্র: fakebuddhaquotes.com/there-is-no-path-to-happiness-happiness-is-the-path/)
** এটি মনে রাখা জরুরি যে, এই বাক্যের ক্যালভিনিস্ট ব্যাখ্যা এবং আধুনিক বৌদ্ধ ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে, তাই একই শব্দ ব্যবহৃত হলেও দুই লেখকের উদ্দেশ্য ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
* '''"এপ্পুর সি মুওভে (তবুও এটি ঘোরে)।"'''
** গ্যালিলিও যখন ইনকুইজিশনের বিচারের সম্মুখীন ছিলেন, তখন তিনি এটি বলেছিলেন বলে মনে করা হয়; তবে তিনি বাস্তবে এই উক্তিটি করেছিলেন— এমন কোনো প্রকৃত প্রমাণ নেই।
* '''"লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন)।"'''
** চলচ্চিত্র নির্মাণে এটি কখনোই আদর্শ কোনো নির্দেশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। "লাইটস" (আলো) শব্দটি মূলত আগেকার সময়ের বাতি জ্বালানোর নির্দেশ ছিল, যা ব্যবহারের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত করতে হতো; বর্তমান সময়ে এর কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। "ক্যামেরা" বলে কোনো শব্দ ডাকারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না: সাধারণত ক্যামেরা অপারেটর "স্পিড" শব্দটি বলেন, যার অর্থ হলো ক্যামেরার ফিল্ম চিত্রগ্রহণের জন্য সঠিক গতিতে ঘুরতে শুরু করেছে।
* '''"একজন মানুষের সামান্য এক পদযাত্রা, অথচ মানবজাতির তরে এক মহাবিপ্লবী উল্লম্ফন!"'''
** চাঁদে হাঁটার সময় নীল আর্মস্ট্রং এটি বলেছিলেন।
** তথ্য আদান-প্রদানের সময় স্ট্যাটিক নয়েজ বা যান্ত্রিক বিঘ্ন ঘটায় আর্মস্ট্রংয়ের বার্তাটি ভুলভাবে বোঝা হয়েছিল এবং ফলস্বরূপ ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়ে আসছে। আর্মস্ট্রং আসলে বলেছিলেন, "এটি '''''একজনের''''' জন্য ছোট পদক্ষেপ..."।
** চাঁদে নামার একটি ভিডিও ক্লিপ এখানে পাওয়া যাবে: https://www.youtube.com/watch?v=xSdHina-fTk। উক্তিটি ০:৪১ মিনিটে শুরু হয়। সেখানে খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে "a" শব্দটি নেই এবং সিগন্যালে এমন কোনো বিরতিও ছিল না যেখানে শব্দটি শোনা যায়নি এমনটা ভাবা যায়। এই তথাকথিত "সঠিক" উক্তিটি নিঃসন্দেহে তিনি যা বলতে ''চেয়েছিলেন'' তা-ই, তবে তিনি যা বলেছিলেন তা নয়।
* '''"৬৪০ কিলোবাইট-ই যেকোনো ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।"'''
** বিল গেটস কখনোই এটি বলেছিলেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না [http://quoteinvestigator.com/2011/09/08/640k-enough/]। গেটস এমন কিছু বলেছিলেন এমন প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৯৮৫ সালের (১৯৮১ সালের নয়) 'ইনফোওয়ার্ল্ড' ম্যাগাজিনে, এবং সেটি ভবিষ্যৎবাণী ছিল না বরং অতীতের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ ছিল: "যখন আমরা পিসি-ডসের সর্বোচ্চ সীমা ৬৪০ কিলোবাইট নির্ধারণ করেছিলাম, আমরা ভেবেছিলাম কারো এর চেয়ে বেশি মেমরির প্রয়োজন হবে না।" এমনকি এই তথ্যটিরও কোনো সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স ছিল না এবং এটি কোনো সাক্ষাৎকারের অংশ ছিল না। এই উক্তিটির সাথে বব নিউহার্টের একটি উক্তির মিল পাওয়া যায়: "পরবর্তীতে আমি ৬৪ কিলোবাইট মডেলের (কমোডোর ৬৪ পার্সোনাল কম্পিউটার) দিকে এগিয়ে যাই এবং ভাবি যে এটি পাগলামি, কারণ এটি আমার প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি মেমরি।"<ref name="colker20010809">{{cite news | url=http://articles.latimes.com/2001/aug/09/news/tt-32244 | title=Happy Birthday PC! | work=Los Angeles Times | date=2001-08-09 | accessdate=9 January 2015 | author=Colker, David}}</ref>
* '''"তুমি কি কোনো খেলা খেলতে চাও?"'''
** 'স' চলচ্চিত্র সিরিজের কোনোটিতেই এই বাক্যটি নেই। জিগসের মূল সংলাপটি হলো— "''আমি'' একটি খেলা খেলতে চাই ।"
** "আমরা কি একটি খেলা খেলব? " প্রশ্নটি 'ওয়ারগেমস' চলচ্চিত্রে কম্পিউটার দ্বারা বলা হয়েছিল।
* '''একবার যদি তুমি উড়াল দেওয়ার স্বাদ পাও, তবে তুমি চিরকাল আকাশের দিকে তাকিয়ে পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়াবে; কারণ তুমি সেখানে গিয়েছিলে এবং সেখানেই তুমি সবসময় ফিরে যেতে চাইবে।'''
** বিমান চালনা সংক্রান্ত এটি সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি যা যাচাইযোগ্য নয়। এটি সর্বত্র (স্মিথসোনিয়ান প্রকাশনা এবং ওয়াশিংটন পোস্টসহ) লিওনার্দো দা ভিঞ্চির নামে চালানো হয়। এর সম্ভাব্য লেখক হলেন জন হার্মিস সেকেন্ডারি (১৯১৯-১৯৭৫), যিনি ১৯৬৫ সালের টিভি ডকুমেন্টারি 'আই, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির' লেখক ছিলেন।
* '''বাতাসের চেয়ে ভারী উড়ন্ত যন্ত্র তৈরি অসম্ভব।'''
** এটি প্রায়ই লর্ড কেলভিনের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, আবার কখনো লর্ড রেলে বা সাইমন নিউকম্বের নামেও চালানো হয়। এটি সত্যি যে কেলভিন বাতাসের চেয়ে ভারী যন্ত্রের সাহায্যে ওড়ায় বিশ্বাস করতেন না [http://zapatopi.net/kelvin/quotes/], তবে ১৯ শতকের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই যা প্রমাণ করে যে তিনি বা অন্য কোনো পদার্থবিজ্ঞানী বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে অসম্ভব বলেছিলেন।
** এর সবচেয়ে পুরোনো পরিচিত উৎস হলো ক্রিস মরগানের বই 'তথ্য এবং বিভ্রান্তি: ভুল বিশ্বাস আর ভুল অনুমানের এক নিশ্চিত সংগ্রহশালা।' (১৯৮১)।
* '''"শুভ সকাল, ডেভ ।"'''
** এটি ৯০০০ এর (''২০০১: এ স্পেস ওডিসি'' এবং ''২০১০'' চলচ্চিত্রের একটি চরিত্র) উক্তি হিসেবে মনে করা হলেও এটি কখনোই তার দ্বারা উচ্চারিত হয়নি। হ্যাল ৯০০০ এর দুটি উক্তি যা এই ভুল উদ্ধৃতিটির খুব কাছাকাছি, সেগুলো হলো— ''২০০১: এ স্পেস ওডিসিতে'' "হ্যালো, ডেভ" এবং ''২০১০'' সালে "শুভ সকাল, ডক্টর চন্দ্র।"
* '''"রক্তের নদী।"'''
** বিতর্কিত ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ইনোক পাওয়েল ১৯৬০ সালের দশকে অভিবাসনের তথাকথিত বিপদ নিয়ে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন, যা সবসময় "রিভার্স অফ ব্লাড" ভাষণ হিসেবে পরিচিত; কিন্তু তাঁর প্রকৃত ভাষণে শব্দগুলো ছিল "টাইবার নদী রক্তে ফেনিল হয়ে উঠছে।"
* '''"আপনি কি জানেন যে ক্লড পেপার পুরো ওয়াশিংটনে একজন নির্লজ্জ বহির্মুখী হিসেবে পরিচিত? শুধু তাই নয়, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে এই ব্যক্তি তাঁর ভাতৃবধূর সাথে স্বজনপ্রীতি করেন, তাঁর একজন ভাই আছে যে একজন পরিচিত হোমো সেপিয়েন্স, এবং তাঁর একজন বোন আছে যে একসময় দুশ্চরিত্র নিউ ইয়র্কে একজন থেসপিয়ান ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে মিস্টার পেপার বিয়ের আগে অভ্যাসগতভাবে কৌমার্য পালন করতেন।"'''
** এটি জর্জ স্মাদার্সের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়। স্মাদার্স কখনোই এই ভাষণ দেননি বা এমন কোনো মনোভাব প্রকাশ করেননি। এই ভাষণটি মূলত এমন কিছু শব্দের খেলা যা একজন কম শিক্ষিত বা অসচেতন শ্রোতাকে ভাবিয়ে তুলবে যে পেপার সম্ভবত কোনো যৌন বিকৃত পরিবারের সদস্য। ১৯৫০ সালে 'টাইম' ম্যাগাজিনে এটি প্রথমবার ছাপার অক্ষরে আসার আগেই এটি এক ধরণের শহুরে কিংবদন্তি হিসেবে প্রচলিত ছিল।
* '''"এভাবে শেষ হতে দিও না। তাদের বলো আমি কিছু একটা বলেছি।"'''
** ধারণা করা হয় ১৯২৩ সালে মেক্সিকান বিপ্লবী সামরিক নেতা পাঞ্চো ভিলাকে হত্যার পর এগুলোই ছিল তাঁর শেষ কথা। তবে সেই ঘটনার অধিকাংশ বিবরণ অনুযায়ী তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মারা গিয়েছিলেন, কোনো কিছু বলার মতো 'ন্যূনতম' সময়ও তিনি পাননি।
* '''"কারণ টাকা তো সেখানেই থাকে।"'''
** উইলি সাটন কেন ব্যাংক ডাকাতি করতেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই উত্তর দিয়েছিলেন বলে প্রচলিত থাকলেও সাটন তাঁর সারাজীবন এটি অস্বীকার করে গেছেন। মনে করা হয় এটি ওই সাংবাদিকের নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন ছিল। তবে সাটন ১৯৭৬ সালে তাঁর আত্মজীবনীর শিরোনাম 'Where the Money Was' রাখার কারণে মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তিনি সত্যিই এটি বলেছিলেন।
* '''"বেসি, আমি হয়তো মাতাল, কিন্তু তুমি কুৎসিত; আর আগামীকাল সকালে আমি সুস্থ হয়ে যাব (মাতাল ভাব কেটে যাবে)।"'''
** চার্চিল এটি বেসি ব্র্যাডকে বলেছিলেন বলে মনে করা হলেও এর কোনো রেকর্ড নেই; চার্চিলের সাথে নাম জড়ানোর আগে ওই সময়ের অন্যান্য জননেতাদের জড়িয়ে একই ধরণের গল্পের প্রচলন ছিল।
* '''"ওয়াটার্লুর যুদ্ধ জেতা হয়েছিল ইটনের খেলার মাঠে।"'''
** এটি ডিউক অফ ওয়েলিংটনের উক্তি হিসেবে তাঁর শিক্ষাজীবনের স্মৃতি চারণের ক্ষেত্রে মনে করা হলেও ঐতিহাসিকরা মনে করেন এটি তাঁর বলার সম্ভাবনা কম। যুদ্ধের চার দশক পর এবং তাঁর মৃত্যুর পর এই উক্তিটি প্রথম সামনে আসে; এছাড়া তিনি ইটনে খুব বেশি সময় কাটাননি এবং সেই সময়গুলো নিয়ে তাঁর খুব একটা সুখস্মৃতিও ছিল না। তাঁর কথা বলার ধরণ সম্পর্কে পরিচিত জীবনীকাররাও সন্দেহ পোষণ করেন যে, তিনি এমন মনোভাব ব্যক্ত করলেও সেটি এভাবে বলতেন না।
* '''"উন্মাদনার সংজ্ঞা হলো একই কাজ বারবার করা এবং ভিন্ন ফলাফলের আশা করা।"'''
** এই উক্তিটি অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন এবং মার্ক টোয়েনসহ বেশ কয়েকজনের নামে চালানো হয়। এটি সম্ভবত ১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত রিটা মে ব্রাউনের বই 'সাডেন ডেথে' প্রথমবার দেখা গিয়েছিল। [http://www.barrypopik.com/index.php/new_york_city/entry/insanity_is_doing_the_same_thing_and_expecting_different_results/ barrypopik.com] [https://www.psychologytoday.com/blog/in-therapy/200907/the-definition-insanity-is psychologytoday.com]
* '''"এদেশের মানুষের বিশেষজ্ঞদের ওপর যথেষ্ট বিতৃষ্ণা এসে গেছে।"''' — মাইকেল গোভ, ৩ জুন ২০১৬ সালে ফয়সাল ইসলামের সাথে এক সাক্ষাৎকারে।
** গোভ তাঁর বাক্যটি এখানে শেষ করেননি; সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছিলেন [https://www.youtube.com/watch?v=GGgiGtJk7MA]। পুরো উক্তিটি ছিল: "এদেশের মানুষের সেই সব সংক্ষিপ্ত নামধারী (acronyms) প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের ওপর যথেষ্ট বিতৃষ্ণা এসে গেছে, যারা বলে যে তারা সবচেয়ে ভালো বোঝে, কিন্তু প্রতিনিয়ত ভুল প্রমাণিত হয়।" বাক্যের শেষ অংশটুকু বাদ দেওয়ার ফলে তাঁর বিরোধীরা যুক্তি দেওয়ার সুযোগ পায় যে তিনি সব বিশেষজ্ঞকেই বুঝিয়েছেন, অথচ তিনি আসলে বিশেষজ্ঞদের একটি নির্দিষ্ট আচরণের কথা বলছিলেন।
* '''"আমার এবং আমার ক্যালভিনের মাঝে কিছুই আসে না।"''' — ব্রুক শিল্ডস
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি কি জানতে চাও আমার এবং আমার ক্যালভিনের মাঝে কী আসে? কিছুই না।" এটি ক্যালভিন ক্লেইন জিন্সের একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে নেওয়া।
* '''"এটি উন্মাদনা নয়। এটি স্পার্টা।"''' — ২০০৭ সালের '৩০০' চলচ্চিত্রে লিওনিডাস চরিত্রে জেরার্ড বাটলার।
** প্রকৃত উক্তি: ''উন্মাদনা? এটি স্পার্টা'' । পুরো দৃশ্যে ''এটি উন্মাদনা নয়'' বাক্যটি কখনোই উচ্চারিত হয়নি। এই উক্তিটির একটি ভুল উদ্ধৃতি 'ফিনিক্স রাইট ৩: ট্রায়ালস অ্যান্ড ট্রিবিউলেশনসের' ইংরেজি অনুবাদে দেখা গিয়েছিল।
* '''"তোমার রাজকুমারী অন্য একটি দুর্গে আছে ।"''' — সুপার মারিও ব্রাদার্স (১৯৮৫)।
** প্রকৃত উক্তি: "ধন্যবাদ মারিও, কিন্তু ''আমাদের'' রাজকুমারী অন্য একটি দুর্গে আছে।" মারিও যখন ওয়ার্ল্ড ৮ এর আগের দুর্গগুলো থেকে মাশরুম নাগরিকদের উদ্ধার করে, তখন তারা এই কথাটি বলে। তারা "আমাদের" শব্দটি ব্যবহার করে কারণ তিনি মাশরুম মানুষদের রাজকুমারী। এই লাইনটি মারিওর কোনো মালিকানা বা রোমান্টিক প্রত্যাখ্যান বোঝায় না; এমনকি মূল গেমে মারিও এবং রাজকুমারীর মধ্যে কোনো রোমান্টিক সম্পর্কের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি।
** "তোমার রাজকুমারী..." বাক্যটি অনেক পরের গেম 'ব্রেইড' (২০০৮) এ দেখা যায়, যেখানে মূল চরিত্র টিমের রাজকুমারীর প্রতি একটি অস্বাস্থ্যকর এবং একতরফা রোমান্টিক আসক্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
* '''"কল্পনা করুন, যদি আপনি চান।"''' — দ্য টোয়াইলাইট জোন (১৯৫৯-১৯৬৪)।
** উপস্থাপক এবং বর্ণনাকারী রড সার্লিং কোনো পর্বের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করার সময় দর্শকদের প্রায়ই "কল্পনা" করতে বলতেন, কিন্তু তিনি সিরিজে কখনোই এই হুবহু বাক্যটি বলেননি, যদিও এটি প্রায়ই তাঁর নামে চালানো হয়।
* '''"জীবনের অর্থ হলো ৪২।"''' — ডগলাস অ্যাডামস, ''দ্য হিচহাইকার’স গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি, প্রাইমারি ফেজ'' (রেডিও), ১৯৭৮।
** প্রকৃত উক্তি: "জীবন, মহাবিশ্ব এবং সবকিছুর মহান প্রশ্নের উত্তর হলো ৪২।" ম্যাগরাথিয়ান কম্পিউটার 'ডিপ থট' এই কথাটি বলেছিল। গল্পের মূল বিষয়বস্তু ছিল যে, এই উত্তরটি শোনার পর ম্যাগরাথিয়ানরা বুঝতে পেরেছিল যে তারা আসলে 'মহান প্রশ্নটি' কী ছিল সেটাই জানে না। গল্পের কোনো সংস্করণেই এটি জীবনের "অর্থের" সাথে সম্পর্কিত নয়। বরং ৪২ উত্তরটি এটিই প্রমাণ করে যে প্রশ্নটি "কেন?" বা এই জাতীয় কিছু হতে পারে না।
** উদাহরণস্বরূপ, মূল রেডিও সিরিজে প্রশ্নটি পাওয়া যায় না; ২০০৪ সালের 'টারশিয়ারি ফেজ' সিরিজে দাবি করা হয় যে প্রশ্ন এবং উত্তর একসাথে জেনে ফেললে মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটবে। মূল ব্রিটিশ টিভি সিরিজে প্রশ্নটিকে বলা হয়েছে "ছয় কে নয় দিয়ে গুণ করলে কত হয়?", যা প্রমাণ করে যে "মহাবিশ্বের মৌলিক কোনো কিছুতে বড় ধরণের গলদ আছে"।
* '''"X এর ব্যাপারটা কী?"''' — সিনফেল্ড (১৯৮৯-১৯৯৮)
**জেরি সিনফেল্ডের চরিত্রটি মাঝে মাঝে এই বাক্যটি ব্যবহার করত, তবে তা কেবল 'অবজারভেশনাল কমেডির' ধারণাকে উপহাস করার জন্য তীব্র ব্যঙ্গ বা আইরনি হিসেবে। পর্বের শুরুতে বা শেষে স্ট্যান্ড-আপ কমেডির অংশে তিনি কখনোই এটি বলেননি। পুরো সিরিজে একমাত্র জর্জ কস্তানজা চরিত্রটি একবার ব্যঙ্গ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিল।
* '''"আমি বিশ্বাস করতে চাই না, আমি জানতে চাই।"'''
** এই উক্তিটি ভুলবশত কার্ল সেগানের নামে চালানো হয়, যিনি এই কথাটি কখনোই বলেননি বা লেখেননি। তাঁর কোনো বই, নিবন্ধ, টিভি শো বা সাক্ষাৎকারে এটি নেই। এই বাক্যের প্রকৃত লেখক হলেন মুক্তচিন্তক, মানবতাবাদী এবং [[নাস্তিক]] পাউলো বিটেনকোর্ট, যিনি 'লিবারেটেড ফ্রম রিলিজিয়ন' এবং 'ওয়েস্টিং টাইম অন গড' বইগুলো লিখেছেন। [https://www.quora.com/Did-Carl-Sagan-say-I-dont-want-to-believe-I-want-to-know/answer/Alex-Thompson-7] [https://www.google.co.uk/books/edition/Wasting_Time_on_God/yPd7EAAAQBAJ?gbpv=1]
* '''"একটি বিলম্বিত গেম শেষ পর্যন্ত ভালো হতে পারে, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে বানানো গেম চিরকালই খারাপ থেকে যায়।"'''
** এটি সাধারণত [[:w:Shigeru Miyamoto|শিগেরু মিয়ামোতোর]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে তিনি এই হুবহু শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন বা তিনিই এই উক্তির জনক— এমন কোনো প্রমাণ নেই। ১৯৯৭ সালের 'গেমপ্রো' ম্যাগাজিনে অনুরূপ একটি উক্তি দেখা গিয়েছিল, তবে সেখানে এটিকে গেমিং ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রচলিত প্রবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
{{misattributed end}}
== সাধারণভাবে ভুল উদ্ধৃত করা হয় এমন ==
=== ব্যক্তি ===
{{refimprove|section}}
যেহেতু তাঁরা সুপরিচিত বুদ্ধিমান, নায়ক বা খলনায়ক হিসেবে পরিচিত, তাই কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এমন সব উক্তির কৃতিত্ব দেওয়া হয় যা তাঁরা আসলে বাস্তবে কখনোই বলেননি। যাদের নামে সবচেয়ে বেশি ভুল উক্তি প্রচলিত, তারা হলেন:
* যোগী বেরা
* [[অটো ফন বিসমার্ক]]
* আলবেয়ার কামু
* [[জর্জ কার্লিন]]
* [[উইনস্টন চার্চিল]]
* [[কনফুসিয়াস]]
* [[আলবার্ট আইনস্টাইন]]<ref name="bt">{{Cite web |url=https://bigthink.com/high-culture/how-viral-misquotes-evolve-and-replicate/ |title=আইনস্টাইন এটি বলেননি: যেভাবে ভাইরাল ভুল উদ্ধৃতিগুলো বিবর্তিত এবং প্রতিলিপি হয় |date=২০২৪-১০-২৮ |accessdate=২০২৪-১১-০২ |publisher={{w|বিগ থিঙ্ক}} |last=ডিকিনসন |first=কেভিন}}</ref>
* বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন
* [[বিল গেটস]]
* স্যামুয়েল গোল্ডউইন
* [[অ্যাডলফ হিটলার]]
* [[ব্রুস লি]]
* আব্রাহাম লিঙ্কন
* [[নেপোলিয়ন বোনাপার্ট]]
* ডোরোথি পার্কার
* ড্যান কোয়েল
* [[কার্ল সেগান]] [https://www.quora.com/Did-Carl-Sagan-say-I-dont-want-to-believe-I-want-to-know/answer/Alex-Thompson-7]
* [[উইলিয়াম শেকসপিয়র]]
* [[জর্জ বার্নার্ড শ]]
* জোসেফ স্ট্যালিন
* জন স্টেইনবেক
* সান জু
* হেনরি ডেভিড থোরো [http://www.walden.org/Library/Quotations/The_Henry_D._Thoreau_Mis-Quotation_Page]
* [[মার্ক টোয়েন]]
* কার্ট ভনেগাট
* [[অস্কার ওয়াইল্ড]]
{{misattributed end}}
== তথ্যসূত্র ==
<references />
[[বিষয়শ্রেণী:উক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভ্রান্ত উক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:বিষয়বস্তু]]
k8ocpkttnqdghfobixapqy4xlihck64
83262
83244
2026-05-02T03:14:45Z
Oindrojalik Watch
4169
83262
wikitext
text/x-wiki
[[File:Bottega ranieri.jpg|thumb|'''''বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবথেকে বেশি?'''''|304x304পিক্সেল]]
এই পাতায় এমন কিছু উক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেগুলোকে অনেক মানুষ সঠিক বলে মনে করেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ভুল। এর মধ্যে সেইসব উক্তি অন্তর্ভুক্ত নয় যেগুলো বক্তার নিজস্ব ভুল বা অসাবধানতাবশত বলা কথা (যেমন: রাজনৈতিক ভুলভ্রান্তি)।
:
'''[বিঃ দ্রঃ বোঝানোর সুবিধার্থে তথা শব্দ এবং উক্তি বিশ্লেষণের জন্য কিছু অংশে বা উক্তিতে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজী ভাষা রাখতে হয়েছে।]'''
__TOC__
{{misattributed begin}}
== ভুল উদ্ধৃতি বা ভুল আরোপ ==
* '''"সত্য যখন নিজের জুতো পরছে, তখন একটি মিথ্যা ইতোমধ্যে অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে আসে।"'''
** মার্ক টোয়েন, উইনস্টন চার্চিল, থমাস জেফারসন কিংবা অ্যান ল্যান্ডার্স—তারা কেউই এই কথাটি বলেননি। এই বাক্যটি মূলত জোনাথন সুইফটের একটি উক্তির পরিবর্তিত রূপ; তিনি বলেছিলেন: '''"মিথ্যা উড়ে চলে, আর সত্য তার পেছনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসে।"''' । (বিস্তারিত দেখুন [https://quoteinvestigator.com/2014/07/13/truth/ কোট ইনভেস্টিগেটরে])।
* '''"নরক কেবল-ই একটি মানসিক অবস্থা"''': ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে দাবি করা হয় যে এটি ক্রিস্টোফার মার্লোর ''ডক্টর ফস্টাসের'' একটি উদ্ধৃতি। তবে ''ডক্টর ফস্টাসের'' দানব মেফিস্টোফিলিস একটি অনুরূপ ধারণা পোষণ করেন যখন তিনি বলেন যে, স্বর্গের স্থান হারানো তাকে সবখানেই নরকের অভিজ্ঞতা দেয়: (''বাংলায় রূপান্তরঃ'' '''মাহমুদ'''।)
<poem>
:: "কেননা এটাই নরক, এর বাইরে আমি কেউ নই।
:: তুমি কি মনে করো, আমি করেছি ঈশ্বরের মুখাবয়ব-দর্শন,
:: এবং স্বর্গের আনন্দ চিরন্তন—করেছি আস্বাদন
:: দশ সহস্র নরকের যন্ত্রণায় কি দগ্ধ হচ্ছি না প্রতি ক্ষণে ক্ষণে,
:: চিরস্থায়ী সুখ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে?"
</poem>
* '''"আপনার কাছে যদি একটি আপেল থাকে এবং আমার কাছেও একটি আপেল থাকে এবং আমরা সেগুলো বিনিময় করি, তবে আমাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করেই আপেল থাকবে। কিন্তু আপনার কাছে যদি একটি ধারণা থাকে এবং আমার কাছেও একটি ধারণা থাকে এবং আমরা সেগুলো বিনিময় করি, তবে আমাদের প্রত্যেকের কাছে দুটি করে ধারণা থাকবে।"'''
** জর্জ বার্নার্ড শ কখনোই এই কথাগুলো বলেননি, বরং চার্লস এফ. ব্রানান এটি বলেছিলেন। [http://quoteinvestigator.com/2011/12/13/swap-ideas/]
* '''"সব বিজয়ের রহস্য নিহিত থাকে অপ্রকাশ্য বা পরোক্ষ বিষয়ের সংগঠনের মধ্যে"'''
** এটি ব্যাপকভাবে [[:w:মার্কাস অরেলিয়াস|মার্কাস অরেলিয়াসের]] নামে প্রচলিত হলেও উক্তিটি আসলে অসওয়াল্ড স্পেংলারের ''দ্য ডিক্লাইন অফ দ্য ওয়েস্ট'' (১৯১৮ এবং ১৯২৩) গ্রন্থে পাওয়া যায়।
* '''"আমার মনে হয় আমরা আর কানসাসে নেই, টোটো।"''', ''দ্য উইজার্ড অফ অজের'' ডরোথি গেল (জুডি গারল্যান্ড অভিনীত)।
** এই বাক্যটি চরিত্রটি কখনোই উচ্চারণ করেনি। তিনি আসলে যা বলেছিলেন তা হলো: ''টোটো, আমার মনে হচ্ছে আমরা আর কানসাসে নেই।''
* '''"আবশ্যকীয় বিষয়ে ঐক্য, অনাবশ্যকীয় বিষয়ে স্বাধীনতা, আর সব বিষয়ে দয়া।"'''
** এটি ব্যাপকভাবে অগাস্টিনের উক্তি হিসেবে পরিচিত, কিন্তু বাক্যটি আসলে ১৬২৬ সালে লুথারান ধর্মতত্ত্ববিদ এবং শিক্ষাবিদ রুপার্টাস মেলডেনিয়াস তৈরি করেছিলেন। [https://en.wikipedia.org/wiki/Rupertus_Meldenius]
* '''"একজন বোকা মানুষের চোখে একজন চতুর ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি"''', [[:w:স্টিফেন ফ্রাই|স্টিফেন ফ্রাই]] সম্পর্কে [[:w:জুলি বার্চিল|জুলি বার্চিলের]] মন্তব্য।
** এই বাক্যটি মূলত ১৯৩০ সালের দশকে আইরিশ লেখিকা এলিজাবেথ বোয়েন, অলডাস হাক্সলি সম্পর্কে তৈরি করেছিলেন। বার্চিল মন্তব্য করেছিলেন যে, "আমার স্বামী দাবি করেন স্টিফেন ফ্রাই সম্পর্কে আমিই প্রথম বলেছিলাম যে তিনি 'একজন বোকা মানুষের চোখে একজন চতুর ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি'। আমি যদি মদ্যপানে বিভোর না হয়ে একজন সচেতন ব্যক্তি হতাম, তবে এটি সত্যি কি না তা মনে করতে পারতাম। যাই হোক, কথাটি বেশ চমৎকার।"
* '''"খুব বেশি মানুষ এটি জানে না।"''', ব্রিটিশ অভিনেতা [[:w:মাইকেল কেইন|মাইকেল কেইন]]।
** কেইনকে অনুকরণ করার সময় অভিনেতা/কৌতুক অভিনেতা [[:w:পিটার সেলার্স|পিটার সেলার্স]] এই মন্তব্যটি করেছিলেন যা পরবর্তীতে কেইনের উক্তি হিসেবে পরিচিতি পায়, যদিও তিনি নিজে এটি কখনোই বলেননি। [http://www.metro.co.uk/film/858942-michael-caine-i-never-said-not-a-lot-of-people-know-that]
* '''"ভালো মানুষেরা সবার শেষে শেষ করে (হার মানে)।"''' লিও ডুরোচার (১৯০৬–১৯৯১), মার্কিন [[:w:বেসবল|বেসবল]] ম্যানেজার।
** লিও ডুরোচারের জীবনীগ্রন্থ, ''নাইস গাইজ ফিনিশ লাস্ট'' (লিও ডুরোচার এবং এড লিন, সাইমন এবং শুস্টারে, ১৯৭৫) বর্ণিত তথ্যমতে— ১৯৪৬ সালের নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস দল সম্পর্কে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি এই মন্তব্যটি করেছিলেন। তিনি আসলে বলেছিলেন, "তাদের দিকে একবার তাকান। সবাই ভালো মানুষ। তারা সবার শেষে শেষ করবে। ভালো মানুষেরা—সবার শেষে শেষ করে।" বাক্যের শেষ অংশে একটি সর্বনাম ("যারা") বাদ পড়ে যাওয়ায় একটি সাধারণ মূল্যায়ন কালক্রমে এমন এক ঘোষণায় পরিণত হয়েছে যে—ভালো মানুষদের ভাগ্যে কেবল ব্যর্থতাই জোটে।
* '''"মহাবিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ দুটি উপাদান হলো হাইড্রোজেন এবং মূর্খতা।"''' হারলান এলিসন (জন্ম ২৭ মে, ১৯৩৪), মার্কিন [[:w:লেখক|লেখক]]।
** ১৯৬০ সালের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এলিসন একটি গদ্যে এটি উল্লেখ করলেও, উক্তিটি প্রায়ই ভুলভাবে [[:w:ফ্র্যাংক জ্যাপা|ফ্র্যাংক জ্যাপার]] নামে চালিয়ে দেওয়া হয়। জাপ্পার আত্মজীবনী, ''দ্য রিয়েল ফ্রাঙ্ক জাপ্পা বুকের'' (১৯৮৯) ২৩৯ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি একটি অনুরূপ মন্তব্য করেছেন: "কিছু বিজ্ঞানী দাবি করেন যে হাইড্রোজেন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকায় এটিই মহাবিশ্বের মৌলিক গাঠনিক উপাদান। আমি তা নিয়ে বিতর্ক করি। '''আমি বলি হাইড্রোজেনের চেয়েও বেশি মূর্খতা রয়েছে এবং সেটিই মহাবিশ্বের মৌলিক গাঠনিক উপাদান।'''"
* '''"আপনার কথার সাথে আমি একমত না হতে পারি, কিন্তু আপনার কথা বলার অধিকার আমি আমৃত্যু রক্ষা করব।"''' [[:w:ভলতেয়ার|ভলতেয়ার]]
** এটি ভলতেয়ারের উক্তি হিসেবে মনে করা হলেও, আসলে এটি লিখেছিলেন ইভলিন বিয়াট্রিস হল।
* '''"কারা আপনাকে শাসন করছে তা জানতে হলে কেবল খুঁজে বের করুন যে আপনি কাদের সমালোচনা করতে পারবেন না।"''' [[:w:ভলতেয়ার|ভলতেয়ার]]
** ১৯৯৩ সালের একটি বিতর্কমূলক লেখায় কেভিন স্ট্রম নামক একজন নব্য-নাৎসি লেখক এই ধরনের একটি বাক্য ব্যবহার করেছিলেন। স্ট্রম এই উক্তিটির উৎস হিসেবে ১৯৬০ সালের দশকে শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী রেভিলো পি. অলিভারের দেওয়া একটি ভাষণের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
* "'''আমি যদি নাচতে না পারি, তবে আমি আপনার বিপ্লবে অথবা বিপ্লবের অংশ হতে চাই না।'''" (অথবা: "'''যদি আমি এতে নাচতে না পারি, তবে এটি আমার বিপ্লব নয়'''")
** এটি ব্যাপকভাবে [[:w:এমা গোল্ডম্যান|এমা গোল্ডম্যানের]] উক্তি হিসেবে প্রচলিত। তবে গোল্ডম্যান গবেষক অ্যালিক্স কেটস শুলম্যানের মতে, এটি মূলত ১৯৭৩ সালে জ্যাক ফ্রেজার নামক একজন [[:w:অ্যানার্কিস্ট|অ্যানার্কিস্ট]] প্রিন্টারের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন ছিল, যা তিনি এমা গোল্ডম্যানের ছবি সংবলিত টি-শার্টের জন্য তৈরি করেছিলেন। গোল্ডম্যান তাঁর আত্মজীবনীতে নাচার কারণে সমালোচিত হওয়ার কথা মনে করে লিখেছিলেন:
*** "আমি জোর দিয়ে বলেছিলাম যে আমাদের আদর্শ আমার কাছ থেকে সন্ন্যাসিনী হওয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না এবং আন্দোলনটি আশ্রমে পরিণত হওয়া উচিত নয়। যদি তাই হয়, তবে আমি এটি চাই না। 'আমি স্বাধীনতা চাই, আত্মপ্রকাশের অধিকার চাই, সুন্দর ও উজ্জ্বল জিনিসের ওপর সবার অধিকার চাই'।" – ''লিভিং মাই লাইফ'' (নিউ ইয়র্ক: নফ, ১৯৩৪), পৃষ্ঠা ৫৬।
**** ''ভি ফর ভেনডেটা'' চলচ্চিত্রে ভি (হুগো ওয়েভিং অভিনীত) বলেন যে, "নাচ ছাড়া বিপ্লব আসলে কোনো কাজের বিপ্লব নয়।"
** দেখুন: শুলম্যান, অ্যালিক্স কেটস ''[http://sunsite.berkeley.edu/Goldman/Features/dances_shulman.html ড্যান্সেস উইথ ফেমিনিস্ট],'' ''ওমেনস রিভিউ অফ বুকস'', খণ্ড ৯, সংখ্যা ৩, ডিসেম্বর ১৯৯১।
* "'''শুধুমাত্র তথ্যগুলো দিন, ম্যাডাম।'''"
** জ্যাক ওয়েবের সিরিজ ''ড্র্যাগনেটের'' সবচেয়ে পরিচিত উক্তি হিসেবে এটি পরিচিত হলেও, সার্জেন্ট ফ্রাইডে রেডিও বা টেলিভিশন সিরিজের কোথাও এটি বলেননি। তবে ১৯৮৭ সালের ''ড্র্যাগনেট'' প্যারোডি চলচ্চিত্রে ড্যান অ্যাকরয়েড (যিনি সার্জেন্ট জো ফ্রাইডে চরিত্রে অভিনয় করেছেন) এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিলেন।
** সঠিক সংস্করণগুলো:<br>"আমরা কেবল তথ্যগুলো জানতে চাই, ম্যাডাম।"<br>"আমরা কেবল তথ্যগুলোই জানি, ম্যাডাম।"
** দেখুন: {{cite web
| last = মিকলসন
| first = বারবারা এবং ডেভিড পি.
| date = ২৯ মার্চ ২০০২
| url = http://www.snopes.com/radiotv/tv/dragnet.htm
| title = জাস্ট দ্য ফ্যাক্টস
| work = আরবান লিজেন্ডস
| publisher = snopes.com
| access-date = ১৮ ডিসেম্বর ২০০৬
}}
* '''"আমরা কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম... কিন্তু মনে হতো প্রতিবারই যখন আমরা দলে সংগঠিত হতে শুরু করতাম, তখনই আমাদের আবার পুনর্গঠিত করা হতো। আমি জীবনের পরবর্তী সময়ে শিখতে পেরেছি যে, আমরা যেকোনো নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করি পুনর্গঠনের মাধ্যমে; আর প্রগতির বিভ্রম তৈরি করার জন্য এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি হতে পারে, যেখানে এটি আসলে বিভ্রান্তি, অদক্ষতা এবং মনোবলহানি সৃষ্টি করে।"'''
** সাধারণত এটি পেট্রোনিয়াস আরবিটারের নামে ভুলভাবে চালানো হয়।
** আসলে এটি চার্লটন ওগবার্নের (১৯১১–১৯৯৮) লেখা, যা ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি সংখ্যায় ''[[:w:হার্পার'স ম্যাগাজিন|হার্পার'স ম্যাগাজিনে]]'' [http://www.harpers.org/archive/1957/01/0007289 "মেরিল'স ম্যারাউডার্স: দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট অ্যান ইনক্রেডিবল অ্যাডভেঞ্চার"] শীর্ষক প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল।
** মূল উক্তি: "আমরা কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম, কিন্তু মনে হতো প্রতিবারই যখন আমরা দলে সংগঠিত হতে শুরু করতাম, তখনই আমাদের আবার পুনর্গঠিত করা হতো। সম্ভবত আমাদের নিয়োগের পরিকল্পনাগুলো বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছিল। আমি জীবনের পরবর্তী সময়ে শিখতে পেরেছি যে, সম্ভবত আমরা সংগঠিত হতে খুব দক্ষ বলেই একটি জাতি হিসেবে যেকোনো নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করি পুনর্গঠনের মাধ্যমে; আর প্রগতির বিভ্রম তৈরি করার জন্য এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি হতে পারে, যেখানে এটি আসলে বিভ্রান্তি, অদক্ষতা এবং মনোবলহানি সৃষ্টি করে।"
** দেখুন: ব্রাউন, ডেভিড এস. "পেট্রোনিয়াস অর অগবার্ন?", ''পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিভিউ'', খণ্ড ৩৮, সংখ্যা ৩ (মে-জুন, ১৯৭৮), পৃষ্ঠা ২৯৬ [http://links.jstor.org/sici?sici=0033-3352(197805%2F06)38%3A3%3C296%3APOO%3E2.0.CO%3B2-Z]।
* "'''প্রাথমিক, আমার প্রিয় ওয়াটসন | Elementary, my dear Watson'''" – [[:w:শার্লক হোমস|শার্লক হোমস]]
** [[:w:আর্থার কোনান ডয়েল|স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের]] কোনো লিখিত সাহিত্যকর্মে চরিত্রটি কখনোই এই বাক্যটি উচ্চারণ করেনি। যদিও "Elementary" এবং "...my dear Watson" উভয়ই ''[[:s:দ্য ক্রুকড ম্যান|দ্য ক্রুকড ম্যান]]'' (১৮৯৩) এর শুরুর দিকে পাওয়া যায়, তবে সেখানে "...my dear Watson" আগে এসেছে এবং তার কয়েক লাইন সংলাপের পর ওয়াটসনের বিস্ময়ের উত্তরে হোমস সংক্ষেপে "Elementary" বলেছিলেন। হোমস ক্যাননের মধ্যে এই চারটি অমর শব্দ এই অংশেই একে অপরের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
** এই উক্তিটির প্রথম নথিভুক্ত ব্যবহার পাওয়া যায় [[:w:পি. জি. উডহাউস|পি. জি. উডহাউসের]] উপন্যাস [http://www.gutenberg.org/ebooks/2607 "স্মিথ, জার্নালিস্টে"], যা ১৯০৯-১০ সালে ''দ্য ক্যাপ্টেন'' ম্যাগাজিনে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে ১৯১৫ সালে বই আকারে বের হয়। সেখানে সংলাপটি ছিল এরকম:
::"সেটাই ঠিক," বিলি উইন্ডসর বলল। "অবশ্যই।"
::"প্রাথমিক, আমার প্রিয় ওয়াটসন, প্রাথমিক," স্মিথ বিড়বিড় করে বলল।
* '''উদ্দেশ্যই উপায়কে ন্যায়সঙ্গত করে।'''
** এটি প্রায়ই [[:w:নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি|নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি]] ''দ্য প্রিন্সের'' উক্তি হিসেবে ভুলভাবে মনে করা হয়; বইটিতে এই ধারণাটি থাকলেও হুবহু এই বাক্যটি নেই। এছাড়াও আরও অনেক লেখকের নামে এটি চালানো হয় যারা মূলত ওভিদের (খ্রিস্টপূর্ব ১০ অব্দ) ''হেরোয়েডসে'' থাকা ''Exitus acta proba'' কথাটিরই পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। আরও দেখুন:উপায় এবং লক্ষ্য।
* '''"প্রতি মিনিটে একজন করে বোকা জন্মায়।"'''
** যদিও এটি প্রায়ই পি. টি. বার্নামের উক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তবে আদতে এটি তাঁর একজন প্রতিযোগী বলেছিলেন—বার্নামের প্রদর্শনী সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে।
** দেখুন: দেয়ার'স আ সাকার বর্ন এভরি মিনিট।
* '''সব মিলিয়ে, আমি বরং ফিলাডেলফিয়াতেই থাকতে পছন্দ করব।'''
** এটি ডব্লিউ. সি. ফিল্ডসের নামে ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃত উক্তি: "এখানে শায়িত আছেন ডব্লিউ. সি. ফিল্ডস: আমি বরং ফিলাডেলফিয়াতে বেঁচে থাকতেই পছন্দ করতাম।" এটি ১৯২৫ সালে ''ভ্যানিটি ফেয়ারের'' একটি সংখ্যায় "একদল শিল্পীর নিজেদের জন্য লেখা এপিটাফ" হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল, যা হয়তো সেই ব্যক্তিদের লেখা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
** ''মাই লিটল চিকাডি'' সিনেমায় ফিল্ডসের চরিত্রটিকে যখন ফাঁসি দেওয়া হচ্ছিল, তখন গলায় দড়ি পরা অবস্থায় তিনি তাঁর শেষ ইচ্ছা হিসেবে বলেন— "আমি মরার আগে একবার প্যারিস দেখতে চাই।" দড়ি শক্ত হতে শুরু করলে তিনি দ্রুত যোগ করেন, "ফিলাডেলফিয়া হলেও চলবে!"
** দেখুন: অ্যামোরি, ক্লিভল্যান্ড এবং ব্রাডলি, ফ্রেডরিক, ''ভ্যানিটি ফেয়ার: সিলেকশনস ফ্রম আমেরিকা'স মোস্ট মেমোরেবল ম্যাগাজিন, আ ক্যাভালকেড অফ দ্য ১৯২০স অ্যান্ড ১৯৩০স'', ভাইকিং প্রেস, ১৯৬০, পৃষ্ঠা ১০৩।
* '''"আমিই ইন্টারনেট উদ্ভাবন করেছি।"'''
** এটি [[:w:আল গোর|আল গোরের]] উক্তি হিসেবে ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃতপক্ষে, আল গোর কখনোই ইন্টারনেট "উদ্ভাবন" করার দাবি করেননি। এটি তাঁর একটি বক্তব্যের বিকৃতি, যেখানে তিনি ইন্টারনেটের উন্নয়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভেতরে তাঁর ভূমিকার কৃতিত্ব দাবি করেছিলেন। যদিও গোরের রাজনৈতিক বিরোধীরা এটিকে তাঁর উক্তি হিসেবে জনপ্রিয় করেছে, তবে এই প্রেক্ষাপটে "উদ্ভাবন" (invented) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ''উইয়ার্ড নিউজের'' লেখক ডেক্লান ম্যাককুলাঘ; যিনি মূলত গোরের দাবির প্রতি হাউজ মেজরিটি লিডার আরমির করা সমালোচনার সারসংক্ষেপ করেছিলেন। সিএনএনের ''লেট এডিশনে'' দেওয়া গোরের সঠিক উক্তিটি ছিল: "'''মার্কিন কংগ্রেসে আমার দায়িত্ব পালনকালে, আমি ইন্টারনেট তৈরির ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমি এমন অনেকগুলো পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিলাম যা আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে।'''"
** {{cite web
| last = ফিঙ্কেলস্টাইন
| first = সেথ
| date = ২৮ এপ্রিল ২০০৬
| url = http://sethf.com/gore/
| title = আল গোর "ইন্টারনেট উদ্ভাবন করেছেন" – তথ্যসূত্র
| publisher = sethf.com
| access-date = ১৬ জুন ২০১১
}}
* '''"হয় তারা করবে, নয়তো মরবে!"'''
** এটি [[:w:আলফ্রেড, লর্ড টেনিসন|টেনিসনের]] "দ্য চার্জ অফ দ্য লাইট ব্রিগেড" কবিতার একটি লাইনের ভুল উপস্থাপনা। কবিতাটিতে আসলে বলা হয়েছে, তাদের কাজ কেন তা নিয়ে তর্ক করা নয়, তাদের কাজ হলো শুধুই করা '''এবং''' মরে যাওয়া।
** দেখুন: দ্য চার্জ অফ দ্য লাইট ব্রিগেড (কবিতা)
* '''"কোলাহলমুক্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে"'''
** এটি [[:w:থমাস গ্ৰে|থমাস গ্ৰের]] কবিতা "এলিজি রিটেন ইন আ কান্ট্রি চার্চইয়ার্ডের" (১৭৫১) একটি লাইনের ভুল রূপান্তর: "জনারণ্যের ওই তুচ্ছ কোলাহল থেকে দূরে, ঝিম-ঝিঁমে শান্ত ইচ্ছেরা কভু ভ্রান্ত পথে পা বাড়ায়নি।" পরবর্তীতে টমাস হার্ডি তাঁর উপন্যাস "ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউডের" শিরোনাম হিসেবে এই লাইনটি ব্যবহার করেন।
** দেখুন: http://www.phrases.org.uk/meanings/134150.html
* '''"অসীম ক্ষমতাই অসীম দায়িত্ব নিয়ে আসে।"'''
** এটি প্রায়ই ভুলভাবে আঙ্কেল বেনের উক্তি হিসেবে ধরা হয়, যা ১৯৬২ সালের ''অ্যামেজিং ফ্যান্টাসি'' #১৫ তে প্রদর্শিত মূল [[:w:স্পাইডার-ম্যান|স্পাইডার-ম্যানের]] উৎস কাহিনীতে ছিল। তবে এই বাক্যটি মূলত গল্পের শেষ প্যানেলে বর্ণনাকারীর ক্যাপশন হিসেবে ছিল, কোনো চরিত্রের মুখনিসৃত সংলাপ ছিল না। স্পাইডার-ম্যানের উৎপত্তির পরবর্তী সংস্করণগুলোতে, যার মধ্যে [:w:[স্পাইডার-ম্যান|২০০২ সালের চলচ্চিত্র]] অন্যতম, এটিকে আঙ্কেল বেনের চূড়ান্ত উপদেশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে (যা একটি রেটকন বা পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠিত তথ্যের পরিবর্তন)।
** এছাড়াও, ''অ্যামেজিং ফ্যান্টাসিতে'' সঠিক উক্তিটি ছিল, "'''অসীম ক্ষমতার সাথে অবশ্যই অসীম দায়িত্বও আসা উচিত।'''"
* '''"এটি জীবন, জিম, কিন্তু আমরা যেভাবে চিনি সেভাবে নয়।"'''
** এটি ''স্টার ট্রেক: দ্য অরিজিনাল সিরিজে'' লিওনার্ড ম্যাককয়ের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে তিনি এটি কখনোই বলেননি। প্রথম সিজনের "দ্য ডেভিল ইন দ্য ডার্ক" পর্বে স্পকের মুখে "নট লাইফ অ্যাজ উই নো ইট" বাক্যটি শোনা যায়। বর্তমান জনপ্রিয় ভুল বাক্যটির উৎপত্তি ১৯৮৭ সালের প্যারোডি গান "স্টার ট্র্যাকিং" থেকে, যেখানে স্পককে এই কথাটি বলতে শোনা যায়। গানে ম্যাককয়ের লাইনটি ছিল, "এটি তার চেয়েও খারাপ, সে মারা গেছে, জিম!"
** দেখুন: ''দ্য অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ মডার্ন কোটেশনস'', ২০০৭ সংস্করণ (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস), এলিজাবেথ নোলসের ভুক্তি; {{ISBN|978-0-19-920895-1}}
* "'''আমরা রাতে আমাদের বিছানায় নিরাপদে ঘুমাই কারণ কিছু কঠোর মানুষ রাতে প্রস্তুত থাকে আরা খুব সহিংস এবং তারা আমাদের ক্ষতি করতে চায়।'''"
** বিকল্প: "মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমায় কেবল কারণ কিছু কঠোর মানুষ তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করার জন্য প্রস্তুত থাকে।"
** এটি কোনো তথ্যসূত্র ছাড়াই ব্যাপকভাবে [[:w:জর্জ অরওয়েল|জর্জ অরওয়েলের]] নামে চালানো হয়। কখনো কখনো একইভাবে [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের]] নামেও এটি ভুলভাবে প্রচলিত।
** প্রকৃত উৎস: [http://quoteinvestigator.com/2011/11/07/rough-men/ কোট ইনভেস্টিগেটর] ১৯৯৩ সালে ''ওয়াশিংটন টাইমসে'' রিচার্ড গ্রেনিয়ারের একটি প্রবন্ধে এর প্রথম ব্যবহার খুঁজে পায়: "যেমনটি জর্জ অরওয়েল উল্লেখ করেছিলেন, মানুষ রাতে শান্তিতে ঘুমায় কেবল কারণ কিছু কঠোর মানুষ তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করার জন্য প্রস্তুত থাকে।" এখানে উদ্ধৃতি চিহ্নের অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, গ্রেনিয়ার অরওয়েলের মতাদর্শ নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করছিলেন।
** ১৯৪৫ সালের "নোটস অন ন্যাশনালিজমে" অরওয়েল লিখেছিলেন যে, শান্তিবাদীরা এই কথাটি মেনে নিতে পারে না যে "যারা সহিংসতা ত্যাগ করে তারা তা করতে পারে কেবল কারণ অন্যরা তাদের পক্ষ হয়ে সহিংসতা করছে।"
** অনুরূপ বাক্য: "যিনি আমার দেওয়া স্বাধীনতার কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমান এবং পরে আমি কীভাবে সেই স্বাধীনতা দিচ্ছি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় বা আগ্রহ কোনটিই আমার নেই।" – সোরকিন (''আ ফিউ গুড মেন'')
* '''"প্রথা মেনে চলা লক্ষ্মী মেয়েরা খুবই কম ইতিহাস সৃষ্টি করতে জানে।"'''
** প্রায়ই এটি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে উক্তিটি আসলে [[:w:হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়|হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের]] অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ লরেল থ্যাচার উলরিচের] লেখা। উলরিচের মূল বাক্যটি ছিল, "লক্ষ্মী মেয়েদের হাতে সচরাচর ইতিহাস রচিত হয় না।", যা ১৯৭৬ সালে একটি একাডেমিক নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল। নিবন্ধটিতে তিনি ঐতিহাসিক নারীদের সাধারণ জীবন যাপনের প্রতি ইতিহাসবিদদের কম আগ্রহের কথা বোঝাতে এটি ব্যবহার করেছিলেন।
** দেখুন: https://news.harvard.edu/gazette/story/2007/01/ulrich-explains-that-well-behaved-women-should-make-history/
* '''"বাহ, পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল।"'''
** এটি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে মারামারি করার পর রন বারগুন্ডি বলেছিলেন। সঠিক উক্তিটি হলো, "Boy, that escalated quickly" (হে খোদা, এটা দ্রুতই বেড়ে গেল)।
** দেখুন: অ্যাঙ্করম্যান: দ্য লিজেন্ড অফ রন বারগুন্ডি]]
* '''"দয়া করে জনাব, আমি কি আরেকটু পেতে পারি?"'''
** সাধারণত মনে করা হয় এটি অনাথ আশ্রমে ''[[:w:অলিভার টুইস্ট (উপন্যাস)|অলিভার টুইস্ট]]'' বলেছিল। সঠিক উক্তিটি হলো, "দয়া করে জনাব, আমি আরও চাই"।
* '''"সে যত বেশি পরিশ্রম করে, তার ভাগ্য তত বেশি সুপ্রসন্ন হয়।"'''
** এর বিভিন্ন সংস্করণ প্রায়ই ইন্টারভিউতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর স্ত্রীর নামে চালানো হয়। তবে এই বাক্যটির মূল প্রবর্তক হলেন [[:w:স্যামুয়েল গোল্ডউইন|স্যামুয়েল গোল্ডউইন]], যা ছিল: "আমি যত বেশি পরিশ্রম করি, আমার ভাগ্য তত বেশি সুপ্রসন্ন হয়।" ধারণা করা হয় তিনি নিচের অন্য একটি উক্তিকে নিজের মতো করে বলেছিলেন।
* '''"আমি ভাগ্যে অনেক বেশি বিশ্বাস করি, আর আমি দেখেছি যে আমি যত বেশি পরিশ্রম করি, ভাগ্য তত বেশি আমার সহায় হয়।"'''
** [[:w:টমাস জেফারসন|টমাস জেফারসন]] এটি বলেছেন বা লিখেছেন এমন কোনো রেকর্ড নেই। [http://www.monticello.org/site/research-and-collections/i-am-great-believer-luckquotation]। এটি প্রথম ১৯৪৭ সালে এফ. এল. এমারসনের লেখায় ছাপা হয়।
* '''"৯৯ সাল ব্যাচের ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।"'''
** এই বিখ্যাত "ওয়্যার স্যানস্ক্রিন" ভাষণটি নিয়মিতভাবে কার্ট ভনেগাট বা বাজ লুরম্যানের নামে চালানো হয়। কিন্তু এটি মূলত ১৯৯৭ সালে মেরি স্মিচের লেখা একটি সংবাদপত্রের কলাম ছিল, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধা-ব্যঙ্গাত্মক "জীবন নির্দেশিকা" হিসেবে লেখা হয়েছিল।
* '''"পাহাড় যদি মুহাম্মাদের কাছে না আসে, তবে মুহাম্মাদকেই পাহাড়ের কাছে যেতে হবে।"'''
** এটি প্রায়ই ইসলামের নবী [[:w:মুহাম্মদ|মুহাম্মদের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু তিনি আসলে এটি বলেছিলেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। এই বাক্যটি মূলত ১৬২৫ সালে [[:w:ফ্রান্সিস বেকন|ফ্রান্সিস বেকন]] কর্তৃক বর্ণিত মুহাম্মদের একটি গল্প থেকে এসেছে: "''মোহাম্মাদ পাহাড়কে তাঁর কাছে আসার ডাক দিলেন। যখন পাহাড় স্থির রইল, তিনি বিন্দুমাত্র লজ্জিত না হয়ে বললেন; পাহাড় যদি মোহাম্মাদের কাছে না আসে, তবে মোহাম্মাদকেই পাহাড়ের কাছে যেতে হবে।''"
** মূল উক্তিতে "পাহাড়" বোঝাতে "Hill" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিল, কিন্তু ১৬৪৩ সালে জন ওয়েনের অনুবাদে "Mountain" শব্দটি ব্যবহার করা হয়। উক্তিটির প্রকৃত অর্থ নিয়ে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। এটি "সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে সুযোগের পেছনে ছোটা" বোঝায় না; বরং এর অর্থ হলো— "যদি কারো ইচ্ছা জয়ী না হয়, তবে তাকে বিকল্প পরিস্থিতির কাছে নতি স্বীকার করতে হবে।"
* '''"এখানে এক বিলিয়ন, ওখানে এক বিলিয়ন, আর খুব শীঘ্রই আপনি প্রকৃত অর্থ নিয়ে কথা বলবেন।"'''
** এটি এভারেট ডার্কসেনের উক্তি হিসেবে পরিচিত। ডার্কসেন তাঁর বক্তৃতায় মাঝেমধ্যে "এখানে এক বিলিয়ন, ওখানে এক বিলিয়ন" অংশটি ব্যবহার করতেন, কিন্তু পরের অংশটি সম্ভবত একজন সংবাদ প্রতিবেদকের সংযোজন। ডার্কসেন লক্ষ্য করেছিলেন যে, যদিও তিনি পুরো বাক্যটি কখনোই বলেননি, তবুও তিনি এই ভুল উদ্ধৃতিটি পছন্দ করতেন এবং এটি তাঁর নামে চলায় কখনো গুরুত্বর আপত্তি জানাননি।
* '''"আমি ফিরে আসব এবং আমি কোটি কোটি জনতা হয়েই ফিরে আসব।"'''
** এটি প্রায়ই ইভা পেরনের উক্তি হিসেবে মনে করা হয় এবং এমনকি তাঁর সমাধিস্তম্ভেও এটি খোদাই করা আছে, কিন্তু [https://books.google.com/books?id=ck6bXqt5shkC&pg=PA251 তিনি এটি বলেছিলেন এমন কোনো রেকর্ড নেই]। সম্ভবত তাঁর মৃত্যুর দশ বছর পর ১৯৫২ সালে হোসে মারিয়া কাস্তিনেইরা দে দিওসের লেখা একটি কবিতায় ইভার কণ্ঠে এই লাইনটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মানুষ এটি বিশ্বাস করে। তবে ১৭৮১ সালে স্প্যানিশ শাসনের বিরুদ্ধে বলিভিয়ার আদিবাসীদের বিদ্রোহের নেতা তুপাক কাতারি তাঁর মৃত্যুদণ্ডের আগে অনুরূপ কিছু বলেছিলেন ("[https://books.google.com/books?id=aekDJE3NMcsC&pg=PA62 আমি মরব কিন্তু আগামীকাল দশ হাজার গুণ হয়ে ফিরে আসব]"); অতি সম্প্রতি হাওয়ার্ড ফাস্টের উপন্যাস ''স্পার্টাকাসে'' একজন ক্রীতদাস ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময় এই লাইনটি বলে এবং ১৯৬০ সালের [[:w:স্ট্যানলি কুবরিক|স্ট্যানলি কুবরিকের]] চলচ্চিত্র সংস্করণেও এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
* '''"চুরুটের ধোঁয়ায় ডুবে থাকা আমার পছন্দ হলেও, মাঝেমধ্যে আমার এই ধোঁয়া থেকে মুক্ত হতে হয়!"'''
** এটি গ্রাউচো মার্কসের উক্তি হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি আছে যে, ১৯৫০ সালে ''ইউ বেট ইয়োর লাইফের'' একটি পর্বে ম্যারিয়ন এবং শার্লট স্টোরির সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় মার্কস এটি বলেছিলেন। শার্লট যখন তাঁর স্বামীকে খুব ভালোবাসার কথা বলেন এবং জানান যে তাঁদের ২০টি সন্তান রয়েছে, তখন মার্কস এই মন্তব্যটি করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে সেই পর্বের সংরক্ষিত রেকর্ডিং অনুযায়ী মার্কস আসলে বলেছিলেন, "প্রতিটি নতুন বাচ্চার জন্মের সময় আপনি কি চারদিকে চুরুট বিলি করেন?" মার্কস নিজে এই ধরনের চটুল মন্তব্য করার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
** অন্য একটি পর্বে ১৭ জন ভাইবোনের একজনের কাছে গ্রাউচো জানতে চেয়েছিলেন তার বাবা এত বড় পরিবার সম্পর্কে কী ভাবেন। মেয়েটি যখন উত্তর দেয় যে তার বাবা শিশুদের ভালোবাসেন, তখন গ্রাউচো বলেছিলেন— "আমি প্যানকেক পছন্দ করি, কিন্তু তাই বলে আলমারি ভর্তি প্যানকেক আমার নেই!" সম্ভবত এই দুটি ভিন্ন ঘটনার মিশ্রণ থেকেই সেই ভুল উদ্ধৃতিটির জন্ম হয়েছে।
* '''"জেতাটাই বড় কথা নয়, বরং জেতার তাড়নাটাই হলো সব।"'''
** [[:w:ভিন্স লম্বার্ডি|ভিন্স লম্বার্ডি]] সবসময় জোর দিয়ে বলতেন যে তিনি এটি কখনোই বলেননি, যদিও এটি তাঁর ঘনঘন বলা একটি লাইনের খুব কাছাকাছি: "জেতা সাময়িক কোনো বিষয় নয়; বরং এটি সবসময়কার বিষয়।" প্রকৃত বাক্যটি আসলে ইউসিএলএ ফুটবল কোচ হেনরি রাসেল "রেড" স্যান্ডার্স বলেছিলেন।
* '''"আপনার অজ্ঞতা যতই বিশাল হোক না কেন, তাকে আমার জ্ঞানের ওপর প্রাধান্য দিতে পারি না, তা সে যতই সামান্য হোক।"'''
** এর বিভিন্ন সংস্করণ [[:w:উইলিয়াম জেমস|উইলিয়াম জেমসের]] নামে চালানো হয়। এই ধরনের একটি বাক্য সম্ভবত লিওনার্ড বেকন বলেছিলেন, যদিও এর সবচেয়ে পুরনো উৎসটি পাওয়া যায় ১৮৯৮ সালে—বেকনের মৃত্যুর সাত বছর পর। বেকনের প্রপৌত্র তাঁর আত্মজীবনীতে এই উক্তির একটি সংস্করণ নিশ্চিত করেছেন। জেমসের নামে এই ভুল প্রচারের সূত্রপাত বিড়ম্বনাকরভাবে ১৯৯৪ সালে জয়েস অ্যাপলবি, লিন হান্ট এবং মার্গারেট জ্যাকবের লেখা বই ''টেলিং দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট হিস্ট্রি'' (পৃষ্ঠা ২৫৮) থেকে হতে পারে।
* '''"সবুরে মেওয়া ফলে (সব ভালো জিনিস তাদের কাছেই আসে যারা অপেক্ষা করে)।"'''
** ইংরেজ কবি [[:w:ভায়োলেট ফ্যান|ভায়োলেট ফ্যান]] মূলত বলেছিলেন, "অপেক্ষা করলে সবকিছুই পাওয়া যায়, কিন্তু ততোক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে যায়—বাকি থাকে শুধু বিজয়ী মানবদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট!" এই প্রবাদটি ফ্যান লেখার আগেও প্রচলিত থাকতে পারে।
** এটি দুবার উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে: প্রথমবার গিনেস বিয়ারের বিজ্ঞাপনে বর্তমান প্রচলিত রূপে, এবং হেইঞ্জ কোম্পানি এটিকে "সবচেয়ে ভালো জিনিসগুলো তাদের কাছেই আসে যারা অপেক্ষা করে" হিসেবে ব্যবহার করেছে।
* '''"আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে [[:w:রিচার্ড নিক্সন|নিক্সন]] জিতেছেন। আমি এমন কাউকেই চিনি না যে তাকে ভোট দিয়েছে।"'''
** এটি চলচ্চিত্র সমালোচক [[:w:পলিন কায়েল|পলিন কায়েলের]] উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়। কায়েল ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন: "আমি বেশ বিশেষ এক জগতে বাস করি। আমি কেবল একজনকে চিনি যে নিক্সনকে ভোট দিয়েছে। তারা কোথায় থাকে আমি জানি না। তারা আমার জানার পরিধির বাইরে।"
* '''"আমরা এমন সব মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আমরা পছন্দ করি না, এমন সব জিনিস কিনি আমাদের প্রয়োজন নেই সেই টাকা দিয়ে যা আমাদের কাছে নেই।"'''
** এটি প্রায়ই ''[[:w:ফাইট ক্লাব|ফাইট ক্লাব]]'' চলচ্চিত্রের একটি লাইন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যদিও এটি চলচ্চিত্রের ভোগবাদ-বিরোধী দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে চলচ্চিত্র বা মূল উপন্যাসের কোথাও এই উক্তিটি হুবহু বলা হয়নি। মূল উক্তিটি ছিল, "''' অপরিতুষ্য ব্যক্তিদের তুষ্ট করতে, অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতায় রিক্তহস্ত হওয়া—এক পণ্ডশ্রম বৈ কিছু নয়।'''", যা মূলত ১৯২৮ সালের ৪ জুন 'ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসে' আমেরিকান হাস্যরসিক ও সাংবাদিক রবার্ট কুইলেনের কলামে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি "আমেরিকানবাদকে" সংজ্ঞায়িত করেছিলেন— "অর্জিত নয় এমন অর্থ ব্যয় করে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কেবল এমন মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আপনি পছন্দ করেন না।"
** উপন্যাসে একটি লাইন আছে: "অনেক তরুণ বিশ্বকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এবং খুব বেশি জিনিস কিনে ফেলে," এবং চলচ্চিত্রে ব্র্যাড পিট অভিনীত চরিত্রটি বলে, "আমরা এমন সব কাজ করি যা আমরা ঘৃণা করি যাতে আমরা এমন সব আজেবাজে জিনিস কিনতে পারি যা আমাদের প্রয়োজন নেই।"
** ইন্টারনেট যুগে উক্তিটি এভাবে পরিবর্তিত হয়েছে: "আমরা এমন সব বিষয়বস্তু পোস্ট করি যা আমাদের নয়, এমন সব লাইকের জন্য যা আসল নয়, কেবল এমন সব মানুষকে প্রভাবিত করতে যাদের আমরা চিনি না।"
* '''"ব্রিটিশরা আসছে।"'''
** [[:w:পল রিভিয়ার|পল রিভিয়ার]] আসলে এই বাক্যটি চিৎকার করে বলেননি: তাঁর মিশনটি গোপনীয়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, গ্রামগুলো ব্রিটিশ সেনা টহলে পূর্ণ ছিল এবং ম্যাসাচুসেটসের বেশিরভাগ উপনিবেশবাসী (যারা জাতিগতভাবে ইংরেজ ছিলেন) তখনও নিজেদের ব্রিটিশ মনে করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং রিভিয়ারের নিজস্ব বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর সতর্কতা ছিল— "রেগুলাররা (নিয়মিত সেনারা) বেরিয়ে আসছে।"<ref>{{cite book
|ref= harv
|last1= রিভিয়ার
|first1= পল
|others= এডমন্ড মরগান কর্তৃক ভূমিকা
|year= ১৯৬১
|title= পল রিভিয়ার'স থ্রি অ্যাকাউন্টস অফ হিজ ফেমাস রাইড
|location= বোস্টন
|publisher= ম্যাসাচুসেটস হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি
|isbn=978-0-9619999-0-2
}}</ref>
* '''দ্য শ্যাগস বিটলসের চেয়েও ভালো।'''
** এটি জনপ্রিয়ভাবে সঙ্গীতশিল্পী [[:w:ফ্র্যাংক জ্যাপা|
ফ্র্যাংক জ্যাপার]] নামে ভুলভাবে চালানো হয়। ১৯৬০ সালের দশকের অদক্ষ গার্ল গ্রুপ 'দ্য শ্যাগসকে' বিটলসের চেয়ে ভালো বলার কৃতিত্ব আসলে লেস্টার ব্যাংসের। জাপ্পা দলটিকে উচ্চ মর্যাদা দিতেন ঠিকই, কিন্তু তিনি এই নির্দিষ্ট বাক্যটি ব্যবহার করেননি।<ref name=newyorker2017>{{cite web|url=https://www.newyorker.com/culture/culture-desk/the-shaggs-reunion-concert-was-unsettling-beautiful-eerie-and-will-probably-never-happen-again|title=দ্য শ্যাগস রিইউনিয়ন কনসার্ট ওয়াজ আনসেটলিং, বিউটিফুল, ইরি, অ্যান্ড উইল প্রবাবলি নেভার হ্যাপেন এগেইন|first=হাওয়ার্ড|last=ফিশম্যান|date=আগস্ট ৩০, ২০১৭|access-date=জানুয়ারি ৮, ২০২০}}</ref>
* '''মৌখিক চুক্তির দাম সেই কাগজের চেয়েও কম যার ওপর এটি লেখা হয়।''' ([[:w:স্যামুয়েল গোল্ডউইন|স্যামুয়েল গোল্ডউইন]])
** গোল্ডউইনের অনেক অদ্ভুত উক্তির মধ্যে এটি একটি বিকৃতি। তিনি আসলে তাঁর এক বন্ধুর বিশ্বস্ত প্রকৃতির প্রশংসা করে বলেছিলেন: "তাঁর মৌখিক চুক্তির মূল্য সেই কাগজের চেয়েও বেশি যার ওপর এটি লেখা হয়।"<ref>পল এফ. বোলার, জন জর্জ, ''দে নেভার সেড ইট'' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ৪২।</ref><ref>ক্যারল ইস্টন, ''দ্য সার্চ ফর স্যাম গোল্ডউইন'' (১৯৭৬)।</ref>
* '''চিন্তা করো না, খুশি থেকো।'''
** যদিও [[:w:বব মার্লে|বব মার্লে]] তাঁর গানে বিশেষ করে "থ্রি লিটল বার্ডসে" অনুরূপ অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তিনি এই নামে কোনো গান রেকর্ড করেননি। এই বাক্যটি মূলত মেহের বাবা তৈরি করেছিলেন; আর মার্লের মৃত্যুর ছয় বছর পর [[:w:ববি ম্যাকফারিন|ববি ম্যাকফারিন]] এই নামে গানটি লেখেন ও রেকর্ড করেন।
* '''ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, ব্রঙ্কস পুড়ছে।'''
** ১৯৭৭ সালের ওয়ার্ল্ড সিরিজের টেলিকাস্টের সময় হাওয়ার্ড কোসেল বা [[:w:কিথ জ্যাকসন|কিথ জ্যাকসন]] কেউই এই উক্তিটি করেননি। "দ্য ব্রঙ্কস ইজ বার্নিং" বাক্যটির উৎপত্তি পাঁচ বছর আগে ''[[:w:ম্যান অ্যালাইভ (ব্রিটিশ টিভি সিরিজ)|ম্যান অ্যালাইভের]]'' একটি পর্বে, যেখানে ব্রঙ্কসের ফায়ার স্টেশনগুলোর আর্থিক সংকটের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। পরে ওয়ার্ল্ড সিরিজের সময় একটি স্কুল ভবন পুড়ে যাওয়ার ফুটেজ দেখানোর ফলে উক্তিটি কোসেল এবং জ্যাকসনের নামে ভুলভাবে প্রচলিত হয়ে যায়।<ref>{{cite web|last1=ফ্লাড|first1=জো|title=হোয়াই দ্য ব্রঙ্কস বার্নড|url=https://nypost.com/2010/05/16/why-the-bronx-burned/|website=নিউ ইয়র্ক পোস্ট|publisher=NYP Holdings, INC.|date=১৬ মে ২০১০|access-date=৪ জুন ২০১৬}}</ref>
* '''সঙ্গীত নিয়ে লেখা স্থাপত্য নিয়ে নাচার মতো।'''
** এলভিস কস্টেলো বা লরি অ্যান্ডারসন কেউই এই উক্তির প্রবর্তক নন। ১৯১৮ সালের প্রথম দিকেই এই উক্তির বিভিন্ন সংস্করণ ছাপা হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে চালানো হয়েছে।<ref>{{cite news|date=মার্চ ২০০৮|magazine=কিউ|title=৫০ ইয়ারস অফ গ্রেট ব্রিটিশ মিউজিক, এলভিস কস্টেলো ইন্টারভিউ|page=৬৭|quote=ওহ ঈশ্বর! আমি কি দয়া করে ছাপাতে পারি যে আমি ওটা বলিনি! [...] ওটা এখনো আমাকে তাড়া করে ফেরে। সম্ভবত কোনো উক্তির বইতে ওটা আমার নামে দেওয়া আছে।}}</ref><ref>{{cite news |title=গেটিং ইন টিউন উইথ লাইফস বিগার কোয়েশ্চেনস |url=https://www.smh.com.au/entertainment/art-and-design/getting-in-tune-with-lifes-bigger-questions-20040820-gdjl2e.html |work=দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড |date=আগস্ট ২০, ২০০৪ |quote=এলভিস কস্টেলো বিখ্যাতভাবে বলেছিলেন যে সঙ্গীত নিয়ে লেখা স্থাপত্য নিয়ে নাচার মতো।}}</ref><ref name="Keyes">{{cite book |last1=কিয়েস |first1=র্যালফ |title=দ্য কোট ভেরিফায়ার: হু সেইড হোয়াট, হোয়্যার, অ্যান্ড হোয়েন |date=২০০৭ |publisher=সেন্ট মার্টিনস |isbn=9781429906173 |page=২৫৬ |url=https://books.google.com/books?id=d6JZryGvfxYC&pg=PA256}}</ref>
* '''ফেনোমেনন - ডু, ডুউ, ডু-ডু-ডু'''
** যদিও এই নামে পরিচিত গানটি 'মাপ্পেট শোতে' বেশ কয়েকবার প্রদর্শিত হয়েছে, তবে এটি মূলত পিয়েরো উমিলিয়ানির সৃষ্টি এবং একটি সফটকোর পর্ন চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।<ref name="CBC-Mahna">{{cite web |last1=সিবিসি রেডিও |title=মাহনা মাহনা অ্যাট ৫০: ফ্যাসিনেটিং ফ্যাক্টস অ্যাবাউট দ্য আনফরগেটেবল মাপেটস সং |url=[https://www.cbc.ca/radio/q/blog/mahna-mahna-at-50-fascinating-facts-about-the-unforgettable-muppets-song-1.5375722](https://www.cbc.ca/radio/q/blog/mahna-mahna-at-50-fascinating-facts-about-the-unforgettable-muppets-song-1.5375722) |date=২০ নভেম্বর ২০১৯ |publisher=সিবিসি |access-date=১ মে ২০২৬}}</ref> মূল গানের শিরোনাম এবং লিরিক্স উভয়ই ছিল "মাহনা মাহনা", যার কোনো অর্থ নেই; পরবর্তীতে মাপ্পেট শোতে মূল শব্দের ওপর ভিত্তি করে কৌতুক হিসেবে "ফেনোমেনন" শব্দটি যুক্ত করা হয়।
* '''[[রিঙ্গো স্টার|রিঙ্গো]] বিশ্বের সেরা ড্রামার নন; এমনকি তিনি বিটলসেরও সেরা ড্রামার নন।'''
** এটি ভুলভাবে [[জন লেননের]] উক্তি হিসেবে চালানো হয়। আবার অনেকে জ্যাসপার ক্যারটকেও এর কৃতিত্ব দেন, যিনি সম্ভবত ১৯৮৩ সালে তাঁর বিবিসি শো 'ক্যারট'স লিবে' এটি বলেছিলেন।
** এই কৌতুকটির প্রকৃত উৎস হলো ১৯৮১ সালের বিবিসি রেডিও ৪ এর কমেডি শো 'রেডিও অ্যাক্টিভ', যা জেফরি পারকিন্স লিখেছিলেন এবং ফিলিপ পোপ এটি উচ্চারণ করেছিলেন।<ref>{{Cite web|url=https://www.radiox.co.uk/artists/beatles/did-john-lennon-say-ringo-wasnt-even-best-drummer/|title=Did John Lennon really say Ringo “Wasn’t Even The Best Drummer In The Beatles”?|website=Radio X|date=July 7, 2024|access-date=September 9, 2025}}</ref>
== উৎসবিহীন, যাচাইহীন বা অন্যান্য অনুমানসমূহ ==
:''এগুলো সরাসরি ভুল উদ্ধৃতি নাও হতে পারে, বরং জনপ্রিয় সংস্কৃতির কিছু ক্যাচফ্রেজ বা চটুল বাক্য হতে পারে, যেগুলোকে প্রাসঙ্গিক এবং স্মরণীয় করার জন্য কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে।''
* '''"যে বাড়িতে একটি লাইব্রেরি আছে, সেই বাড়ির একটি আত্মা আছে।"'''
** ১৮৭৭ সালে রবার্ট জি. ইনগারসোল তাঁর "দ্য লিবার্টি অফ অল" লেখায় এটি প্লেটোর উক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু প্লেটোর কোনো লেখায় এটি পাওয়া যায় না।
* '''"নরক হলো এমন এক সত্য যা খুব দেরিতে দেখা যায়।"'''
** এটি থমাস হবসের 'লেভিয়াথানের' উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু বইটিতে এটি নেই।
* '''"দুষ্টদের কোনো বিশ্রাম নেই।"'''
** এটি সম্ভবত ইসাইয়া ৫৭:২১ এর একটি বিকৃতি: "আমার ঈশ্বর বলেন, দুষ্টদের জন্য কোনো শান্তি নেই।"
* '''"মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা এবং পরিসংখ্যান"'''
** ১৯০৬ সালে মার্ক টোয়েন এটি জনপ্রিয় করেন এবং তিনি ভুলবশত এই উক্তিটির কৃতিত্ব বেঞ্জামিন ডিসরায়েলিকে দেন। ১৮৮৫ সালের শেষদিকে এর একটি ভিন্ন রূপ পাওয়া যায় যেখানে সাক্ষীদের "মিথ্যাবাদী, ডাহা মিথ্যাবাদী এবং বিশেষজ্ঞ" হিসেবে ভাগ করা হয়েছিল। ১৮৯১ সালের দিকে এটি বর্তমান প্রচলিত রূপ পায়। এই বাক্যটি আসলে কে প্রথম তৈরি করেছিলেন তার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না।
* '''"বিক্রির জন্য: শিশুর জুতো, যা কখনোই পরা হয়নি।"'''
** এই ছয় শব্দের ছোট গল্পটি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মৃত্যুর কয়েক দশক পর তাঁর নামে চালানো শুরু হয়। ১৯১০ সালের একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে একজন শিশুর মৃত্যুর খবরের সাথে অনুরূপ একটি বাক্যের প্রথম দেখা মেলে: "শিশুর হাতে তৈরি প্যান্ট এবং বিছানা বিক্রির জন্য। কখনো ব্যবহার করা হয়নি।"
* '''"আমি ভয় পাচ্ছি আমরা কেবল একটি ঘুমন্ত দানবকে জাগিয়ে তুলেছি এবং তাকে এক ভয়াবহ সংকল্পে পূর্ণ করেছি।"'''
** এটি ১৯৪১ সালের [[:w:পার্ল হারবার আক্রমণ|পার্ল হারবার আক্রমণ]] নিয়ে জাপানি অ্যাডমিরাল ইসোরোকু ইয়ামামোতোর উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়। এটি প্রথম ১৯৭০ সালের চলচ্চিত্র ''[[তোরা! তোরা! তোরা!]]'' এবং পরবর্তীতে ২০০১ সালের ''হারবার'' চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়। আক্রমণটি নিয়ে তাঁর অনুভূতি এমন থাকলেও, ইয়ামামোতো এটি কোথাও বলেছিলেন বা লিখেছিলেন এমন কোনো ছাপানো প্রমাণ নেই।
* '''"বন্ধু, বিশ্বকাপটা ফেলে দিয়ে কেমন লাগছে?"'''
** এটি হার্শেল গিবস একটি ক্যাচ মিস করার পর স্টিভ ওয়াহ তাঁকে বলেছিলেন বলে দাবি করা হয়, যার ফলে ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিটকে যায়। কিছু অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার এমন বিনিময় শুনেছেন বলে দাবি করলেও স্টিভ ওয়াহ নিজে এটি বলার কথা অস্বীকার করেছেন।
* '''"কারণ এটি সেখানে আছে"'''
** কেন তিনি এভারেস্টে চড়তে চান—এমন প্রশ্নের উত্তরে জর্জ ম্যালোরি এটি বলেছিলেন বলে প্রচলিত আছে। তবে এই উক্তির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এটি কোনো সংবাদ প্রতিবেদকের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন হতে পারে।
* '''"এটি একটি অদ্ভুত পুরনো খেলা"'''
** জিমি গ্রিভস তাঁর আত্মজীবনী 'গ্রিভসিতে' জোর দিয়ে বলেছেন যে, এটি নিয়মিত তাঁর উক্তি হিসেবে চালানো হলেও তিনি এটি কখনোই ব্যবহার করেননি। সম্ভবত আশির দশকের মাঝামাঝি 'স্পিটিং ইমেজ' অনুষ্ঠানের একটি ট্রেলার থেকে এই ভুল উদ্ধৃতির সূত্রপাত।
* '''"ক্ষমতা দুর্নীতি করে; আর পরম ক্ষমতা পরমভাবে দুর্নীতি করে।"'''
** এটি ১৯ শতকের ব্রিটিশ ঐতিহাসিক লর্ড অ্যাক্টনের একটি উক্তির ভুল সংস্করণ। তিনি আসলে লিখেছিলেন: "ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত করার প্রবণতা রাখে; পরম ক্ষমতা পরমভাবে দুর্নীতি করে। মহৎ ব্যক্তিরা প্রায় সবসময়ই খারাপ মানুষ হয়ে থাকেন।"
* '''"বিম মি আপ, স্কটি বা Beam me up, Scotty"''' – জেমস টি. কার্ক
** 'স্টার ট্রেক' টেলিভিশন সিরিজের জনপ্রিয় এই উক্তিটি মূল সিরিজে কখনোই হুবহু এভাবে বলা হয়নি। সেখানে "Energize", "Beam me aboard" বা "Beam us up home" এর মতো বাক্য ব্যবহৃত হয়েছে। তবে ''স্টার ট্রেক: দ্য অ্যানিমেটেড সিরিজে'' "Beam us up, Scotty" বাক্যটি শোনা যায়। ১৯৯৬ সালে স্কটি চরিত্রে অভিনয় করা জেমস ডুহান তাঁর আত্মজীবনীর শিরোনাম হিসেবে এই ভুল উদ্ধৃতিটিই বেছে নিয়েছিলেন।
* '''"ধ্যাত জিম! আমি একজন ডাক্তার, আমি কোনো... নই"''' – লিওনার্ড ম্যাককয়
** 'স্টার ট্রেক' সিরিজের এই বাক্যে ম্যাককয় কখনোই "damn it" (ধ্যাত) শব্দটি ব্যবহার করেননি। মূল সিরিজে একমাত্র গালি হিসেবে "hell" ব্যবহৃত হয়েছিল। সম্ভবত স্যাটারডে নাইট লাইভের একটি প্যারোডি স্কেচ থেকে এই "damn it" যুক্ত বাক্যটি জনপ্রিয় হয়। অবশ্য ২০০৯ সালের ''স্টার ট্রেক'' চলচ্চিত্রে এটি ব্যবহার করা হয়েছে।
* '''"চকচক করলেই সোনা হয় না"''' – [[উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]]
** সঠিক উক্তি: "All that glisters is not gold" (এখানে glisters ব্যবহৃত হয়েছে, glitters নয়)। এটি 'দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিসে' মরক্কোর রাজপুত্র বলেছিলেন।
** লেড জেপলিনের গান "Stairway to Heaven" এ বলা হয়েছে, "all that glitters is gold"।
** 'লর্ড অফ দ্য রিংস' এর একটি কবিতায় বলা হয়েছে, "All that is gold does not glitter", যা আরাগর্ন চরিত্রটিকে নির্দেশ করে।
** স্ম্যাশ মাউথের গান "অল স্টারের" কোরাসেও "All that glitters is gold" বাক্যটি পাওয়া যায়।
* '''"রক্ত, ঘাম এবং অশ্রু"''' – [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিল]]
** সঠিক উক্তি: "রক্ত, পরিশ্রম, অশ্রু এবং ঘাম ছাড়া আমার দেওয়ার মতো আর কিছুই নেই।"
** এই বাক্যটি থিয়া ফন হার্বোর লেখা 'মেট্রোপলিস' (১৯২৬) বইতেও পাওয়া যায়। মেট্রোপলিসের যন্ত্র সচল রাখতে প্রথম দিনের কাজ শেষে ফ্রেডার ফ্রেডারসেনের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছিল, "সে তার ঠোঁটে নোনতা স্বাদ অনুভব করল এবং বুঝতে পারল না যে এটি রক্ত, ঘাম নাকি অশ্রু ছিল।"
** টীকা: চার্চিলের একটি ভাষণেও অনুরূপ উক্তি পাওয়া যায় যেখানে তিনি বলেছিলেন, "আমি রক্ত, ঘাম এবং অশ্রু ছাড়া আর কিছুর প্রতিশ্রুতি দিইনি..."।
** এছাড়া ১৯৬৩ সালে জনি ক্যাশ এই নামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড বিটিএস এই নামে একটি গান মুক্তি দেয়।
* '''"আল্লাহ তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেরা নিজেদেরকে সাহায্য করে।"'''
** এটি বাইবেলের কোনো উক্তি নয়, বরং এটি একটি প্রাচীন প্রবাদ যা বিভিন্ন সংস্কৃতিতে পাওয়া যায়। ১৭৩৬ সালে [[:w:বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন|বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের]] 'পুওর রিচার্ড'স অ্যালম্যানাকে' এটি স্থান পায়।
** ঈশপের গল্প "হারকিউলিস এবং গাড়িচালকেও" একই বার্তা পাওয়া যায়, যার নৈতিক শিক্ষা ছিল— "ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন যারা নিজেদের সাহায্য করে।"
** জেনোফনের 'সাইরোপেডিয়া' এবং [[:w:কোরআনে|আল-কোরআনের]] সূরা আর-রাদেও (আয়াত ১১) অনুরূপ ধারণা ব্যক্ত হয়েছে: "...নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরাই পরিবর্তন করে..."।
* '''"এগিয়ে চলো, ম্যাকডাফ"'''
** সঠিক উক্তি: "লড়াই করো, ম্যাকডাফ... – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:ম্যাকবেথ|ম্যাকবেথ]]'')
** বাক্যটির প্রথম লিখিত ব্যবহার ১৮৫৫ সালের দিকে পাওয়া যায়।
* '''"বাবল বাবল, টয়েল অ্যান্ড ট্রাবল।"'''
** সঠিক উক্তি: "ডাবল, ডাবল টয়েল অ্যান্ড ট্রাবল " – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:ম্যাকবেথ|ম্যাকবেথ]]'')
** ডিজনি কার্টুন 'ডাকটেলসে' জাদুকরীদের মুখে এই "বাবল, বাবল" উক্তিটি জনপ্রিয় হয়।
* '''"আমার মনে হয়, নারীটি একটু বেশিই প্রতিবাদ করে ফেলছে!"'''
** সঠিক উক্তি: "যতটা প্রয়োজন, ভদ্রমহিলা তার চেয়েও বেশি আপত্তি দেখাচ্ছেন—ঘটনা নিশ্চয়ই অন্য কিছু।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
** শেক্সপীয়ারের সময়ে "প্রটেস্ট" শব্দের অর্থ ছিল "দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করা" বা "প্রতিজ্ঞা করা", বর্তমানের মতো কোনো কিছু "অস্বীকার করা" নয়। এখানে রানী গারট্রুড নাটকের রানীর অতিশয় আবেগের বিষয়ে মন্তব্য করছিলেন।
* '''"টাকাই সব অনর্থের মূল।"'''
** মূল বক্তব্য: "বরং টাকার প্রতি মোহ-ই সব অনর্থের মূল।" (১ টিমোথি ৬:১০, কিং জেমস বাইবেল)
** সব অনুবাদই একমত যে, টাকা নিজে মন্দ নয়, বরং টাকার প্রতি অতিরিক্ত 'লোভ' বা 'মোহ' মন্দের সাথে জড়িত।
* '''"এখন আমাদের অসন্তোষের শীতকাল।"'''
** মূল বক্তব্য: "Now is the winter of our discontent / Made glorious summer by this son of York." – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:তৃতীয় রিচার্ড (নাটক)|তৃতীয় রিচার্ড]]'')
** এটি মূলত একটি অসম্পূর্ণ উদ্ধৃতি। পুরো বাক্যে বলা হয়েছে যে, ইয়র্কের এই সন্তানের (এখানে সূর্যের সাথে একটি শব্দালঙ্কার করা হয়েছে) কারণে আমাদের অসন্তোষের শীতকাল এখন গৌরবময় গ্রীষ্মে পরিণত হয়েছে।
* '''"হায়, বেচারা ইয়োরিক! আমি তাকে খুব ভালো করে চিনতাম।"'''
** সঠিক উক্তি: "আমাদের অসন্তোষের এই যে হিমশীতল শীতকাল—ইয়র্কের এই সুযোগ্য সন্তানের আগমনে তা আজ এক মহিমান্বিত গ্রীষ্মে রূপ নিয়েছে!" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
* '''"স্যাম, ওটা আবার বাজাও"'''
** প্রকৃত উক্তি: "স্যাম, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে একবার বাজাও, 'অ্যাজ টাইম গোজ বাই' গানটি বাজাও।" – ইনগ্রিড বার্গম্যান (''ক্যাসাব্লাঙ্কা'')
** হামফ্রে বোগার্ট বলেছিলেন: "তুমি ওর জন্য বাজিয়েছ, এখন আমার জন্য বাজাতে পারো... ও যদি শুনতে পারে, তবে আমিও পারব। বাজাও।"
** ১৯৪৬ সালের মার্ক্স ব্রাদার্সের সিনেমা 'এ নাইট ইন ক্যাসাব্লাঙ্কা' থেকে সম্ভবত এই ভুল উদ্ধৃতিটির জন্ম।
* '''"মিস্টার ডিমিল, আমি আমার ক্লোজ-আপ শটের জন্য তৈরি।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "ঠিক আছে মিস্টার ডিমিল, আমি আমার ক্লোজ-আপ শটের জন্য তৈরি" – গ্লোরিয়া সোয়ানসন (''সানসেট বুলেভার্ড'')
* '''"লোভ ভালো।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, মূল কথা হলো— উন্নত শব্দের অভাবে বলছি— লোভ ভালো। লোভ সঠিক, লোভ কাজে দেয়।" – গর্ডন গেক্কো (''ওয়াল স্ট্রিট'')
* '''"কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!"'''
** সঠিক উক্তি: "কেউ আমাদের ওপর ফাঁদ পেতেছে, পাতা হয়েছে বোমা—শেষ অপেক্ষার পালা, এবার পাল্টা আঘাতের সময়!!"
** একটি ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশনের কারণে "কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!" রূপটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
** 'এম্পায়ার আর্থ' গেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেতার জন্য "কেউ আমাদের ওপর বোমা পেতে রেখেছে!" বাক্যটি একটি চিট কোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
** টীকা: এটি জাপানি ভিডিও গেম ''[[:w:জিরো উইং|জিরো উইংয়ের]]'' একটি অত্যন্ত কাঁচা এবং হাস্যকর ইংরেজি অনুবাদ থেকে এসেছে। মূল জাপানি বাক্যটি ছিল স্বাভাবিক, যার অর্থ দাঁড়ায়— "মনে হচ্ছে কেউ এখানে বিস্ফোরক স্থাপন করেছে।" একই গেমের "[[:w:আপনার সমস্ত ঘাঁটি এখন আমাদের দখলে|আপনার সমস্ত ঘাঁটি এখন আমাদের দখলে]]" উক্তিটিও একইভাবে বিখ্যাত।
* '''"বাকিটুকু নীরবতা... বাকিটুকুও বিজ্ঞান!"'''
** সঠিক উক্তি: "বাকিটুকু কেবল নীরবতা।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:হ্যামলেট|হ্যামলেট]]'')
** টীকা: এই বাক্যটি অনেক সময় শব্দের খেলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন জাজ শিল্পী স্টিভ সোয়ালো জাজ কম্পোজিশন সম্পর্কে বলেছিলেন, "শেষ পর্যন্ত একটি আইডিয়া চলেই আসে, আর বাকিটুকু স্রেফ বিজ্ঞান।"
* '''"লিলি ফুলকে ঝলক দেয়"'''
** সঠিক উক্তি: "খাঁটি সোনায় ঝিলিক দেওয়া, কিংবা পদ্মকে রঙে রাঙানো।" – [[:w:উইলিয়াম শেক্সপীয়ার|উইলিয়াম শেক্সপীয়ার]] (''[[:w:কিং জন|কিং জন]]'')
** শেক্সপীয়ার মূলত বাইবেলের একটি কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে এটি লিখেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছে যে ঈশ্বর লিলি ফুলকে যেভাবে তৈরি করেছেন তাতে নতুন কিছু যোগ করার প্রয়োজন নেই।
* '''"আপনি কেন মাঝেমধ্যে আমার এখানে এসে দেখা করেন না?"'''
** সঠিক উক্তি: "সময় পেলে কোনো একদিন এসো না আমার এখানে? প্রতি সন্ধ্যায় তো আমি ঘরেই থাকি।" – মে ওয়েস্ট (''শী ডান হিম রং'')
** তিনি তাঁর পরের ছবি 'আই অ্যাম নো অ্যাঞ্জেলে' শব্দগুলোর ক্রম পরিবর্তন করে বলেছিলেন।
** 'টম অ্যান্ড জেরি' কার্টুনের একটি যান্ত্রিক ইঁদুরকেও এই বাক্যটি বারবার বলতে শোনা যায়।
* '''"আমি কোনো প্রতারক নই"''' – [[:w:রিচার্ড নিক্সন|রিচার্ড নিক্সন]]
** এটি প্রায়ই [[:w:ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি|ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি]] সংক্রান্ত তাঁর কোনো সাফাই হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এটি বলেছিলেন। তাঁর সঠিক উক্তিটি ছিল: "জনগণের জানা উচিত তাদের প্রেসিডেন্ট প্রতারক কি না। আমি কোনো প্রতারক নই।"
* '''"তুই এক নোংরা ইঁদুর!"'''
** [[:w:জেমস ক্যাগনি|জেমস ক্যাগনি]] কোনো চলচ্চিত্রেই হুবহু এই বাক্যটি বলেননি। তবে 'ব্লন্ড ক্রেজি' (১৯৩১) ছবিতে তিনি অন্য একটি চরিত্রকে "dirty, double-crossing rat" বলেছিলেন।
** 'ট্যাক্সি! ট্যাক্সি!' (১৯৩২) ছবিতে তিনি তাঁর ভাইকে হত্যাকারী ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "বাইরে এসে লড়ো, তুই নোংরা পীত-হৃদয় ইঁদুর!" এটিই মূল প্রেক্ষাপটের সবচেয়ে কাছাকাছি উক্তি। পরবর্তীতে 'টিনেজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলসে' মিকেলেঞ্জেলো চরিত্রটি ক্যাগনিকে অনুকরণ করতে গিয়ে এই ভুল উক্তিটি ব্যবহার করে।
* '''"রয়্যাল নেভির একমাত্র ঐতিহ্য হলো রাম (মদ), পুংমৈথুন এবং চাবুক।"'''
** [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের] ব্যক্তিগত সচিব অ্যান্থনি মন্টেগু-ব্রাউন জানিয়েছিলেন যে, চার্চিল এটি কখনোই বলেননি, তবে তিনি আফসোস করে বলেছিলেন যে ইশ! যদি তিনি এটি বলতেন।
* '''"একটি ভাষা হলো নৌবাহিনী সমৃদ্ধ একটি উপভাষা।"'''
** মূল উক্তি (ইদিশ ভাষায়): "אַ שפּראַך איז אַ דיאַלעקט מיט אַן אַרמיי און פֿלאָט" (একটি ভাষা হলো সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনী সমৃদ্ধ একটি উপভাষা)।
** এটি অটো ফন বিসমার্ক বলেননি, বরং ভাষাবিদ ম্যাক্স ওয়াইনরিখ এটি বলেছিলেন।
* '''"নরকের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থানগুলো তাদের জন্য সংরক্ষিত যারা বড় ধরনের নৈতিক সংকটের সময় নিরপেক্ষ থাকে।"'''
** জন এফ. কেনেডি এটি বলেছিলেন এবং তিনি এর কৃতিত্ব [[:w:দান্তে আলিগিয়েরি|দান্তেকে]] দিয়েছিলেন। কিন্তু দান্তের 'ডিভাইন কমেডিতে' যারা নিরপেক্ষ ছিল তাদের স্থান দেওয়া হয়েছে নরকের প্রবেশদ্বারে, যা কোনোভাবেই উত্তপ্ত নয়। অন্যদিকে নরকের সর্বনিম্ন বা সবচেয়ে ভয়াবহ স্থানটি ছিল তুষারে জমাট বাঁধা হ্রদ, যা বিশ্বাসঘাতকদের জন্য নির্ধারিত।
* '''"একদম ঘাড়ের ওপর দিয়ে যাওয়া জয়"''' – আর্থার ওয়েলেসলি (ডিউক অফ ওয়েলিংটন)
** ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে জয়ের পর তিনি আসলে বলেছিলেন, "এটি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি বিষয়—আমার দেখা সবচেয়ে কাছাকাছি লড়াই..."। এখানে তিনি জয়টি কতটা কঠিন ছিল তা বোঝাতে 'nice' শব্দটি প্রাচীন অর্থে (সুক্ষ্ম বা নিখুঁত) ব্যবহার করেছিলেন।
* '''"নিজেকে কি ভাগ্যবান মনে হয়, ছোকরা?"''' – [[:w:ক্লিন্ট ইস্টউড|ক্লিন্ট ইস্টউড]] (''ডার্টি হ্যারি'')
** সঠিক উক্তি এবং প্রেক্ষাপট: "আমি জানি তুমি কি ভাবছ: 'সে কি ছয়টি গুলি চালিয়েছে নাকি পাঁচটি?' সত্যি বলতে, এই উত্তেজনার চোটে আমি নিজেও হিসাব হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু যেহেতু এটি একটি .৪৪ ম্যাগনাম—বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যান্ডগান যা তোমার মাথা উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট—তাই তোমাকে নিজেকে একটি প্রশ্ন করতে হবে: 'আমি কি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি?' কি মনে হয়, ছোকরা?"
** 'দ্য মাস্ক' চলচ্চিত্রে জিম ক্যারি এই উক্তিটির সঠিক রূপের বেশ কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন।
<div id="revolver">
* '''"যখনই আমি 'সংস্কৃতি' শব্দটি শুনি, আমি আমার রিভলভারের দিকে হাত বাড়াই।"'''
** প্রকৃত উক্তিটি হলো— "Wenn ich Kultur höre ... entsichere ich meinen Browning!" এর অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: "যখনই আমি 'সংস্কৃতি' (শব্দটি) শুনি... আমি আমার ব্রাউনিংয়ের সেফটি লক খুলে ফেলি!"
** এই উক্তিটি প্রায়ই ভুলবশত শীর্ষস্থানীয় নাৎসি নেতা হার্মান গোয়েরিং অথবা মাঝেমধ্যে [[:w:জুলিয়াস স্ট্রাইচার|জুলিয়াস স্ট্রাইচারের]] নামে চালানো হয়। এই ভুল প্রচার সম্ভবত [[:w:ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রা|ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রার]] বিখ্যাত তথ্যচিত্র থেকে শুরু হয়েছে, যা যুদ্ধের আগে আমেরিকান সৈন্যদের দেখানো হতো।
** বাস্তবে, এটি [[:w:হানস জোহস্ট|হানস জোহস্টের]] লেখা 'শ্লাগেটার' নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে থিম্যান নামক একটি চরিত্রের সংলাপ। তবে নাৎসিবাদের সাথে এর সম্পর্ক থাকাটা যৌক্তিক, কারণ নাটকটি ১৯৩৩ সালের এপ্রিলে [[:w:হিটলার|হিটলারের]] জন্মদিনের সম্মানে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল।
** হিটলার ইয়ুথের প্রধান বলদুর ফন শিরাখ ১৯৩৮ সালের দিকে একটি জনসভায় এই বাক্যটি উচ্চারণ করেছিলেন। ফ্রেডেরিক রোসিফের তথ্যচিত্র 'ফ্রম নুরেমবার্গ টু নুরেমবার্গে' একটি ফুটেজ দেখা যায় যেখানে ফন শিরাখ এটি বলার সময় সত্যি সত্যি বন্দুক বের করছেন।
** টীকা: এটি মূল জার্মান ভাষার চেয়ে ইংরেজিতে অনুবাদের পর আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে 'জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিতে' নিকোলাস এইচ. ব্যাটির একটি নিবন্ধের পর্যালোচনায় হাওয়ার্ড থমাস মূল জার্মান বাক্য এবং এর অনুবাদ পাশাপাশি উল্লেখ করেছিলেন।
** এই বাক্যটি একটি শব্দালঙ্কার হতে পারে, কারণ 'ব্রাউনিং' বলতে পিস্তল এবং ইংরেজ কবি [[:w:রবার্ট ব্রাউনিং|রবার্ট ব্রাউনিং]] উভয়কেই বোঝানো যেতে পারে।
** এছাড়া এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ব্রাউনিং (সম্ভবত এম১৯৩৫ হাই-পাওয়ার) কোনো রিভলভার নয়, বরং এটি একটি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। তবে সেই সময়ে 'ব্রাউনিং' শব্দটি যেকোনো পিস্তল বোঝাতে ব্যবহৃত হতো, ঠিক যেভাবে ওয়েস্টার্ন সিনেমাগুলোতে যেকোনো রিভলভারকে 'কোল্ট' বলা হয়।
</div>
* '''"প্রত্যাখ্যাত নারীর মতো ভয়ংকর উন্মাদনা নরকেও নেই"'''
** সঠিক উক্তিটি হলো: "স্বর্গের এমন কোনো ক্রোধ নেই যা ঘৃণায় রূপান্তরিত প্রেমের মতো / না আছে নরকের এমন উন্মাদনা যা একজন প্রত্যাখ্যাত নারীর মতো।" এটি ১৬৯৭ সালে [[:w:উইলিয়াম কনগ্রিভ|উইলিয়াম কনগ্রিভ]] তাঁর 'দ্য মর্নিং ব্রাইডে' লিখেছিলেন।
* '''"তাদের চোখের সাদা অংশ না দেখা পর্যন্ত গুলি ছুড়বে না।"'''
** এই উক্তিটি সাধারণত নিউ অর্লিন্সের যুদ্ধে অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের বলে মনে করা হয়।
** বাস্তবে, এটি জর্জ ওয়াশিংটনের কন্টিনেন্টাল আর্মির কমান্ডার কর্নেল [[:w:উইলিয়াম প্রেসকট|উইলিয়াম প্রেসকট]] বাঙ্কার হিলের যুদ্ধে বলেছিলেন। পুরো উক্তিটি ছিল, "তাদের চোখের সাদা অংশ না দেখা পর্যন্ত গুলি ছুড়বে না। তারপর, '''নিচু করে গুলি চালাও!'''"
** উৎস: রবার্ট ল্যাকি রচিত 'জর্জ ওয়াশিংটন'স ওয়ার'।
* '''"হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছে"'''
** অ্যাপোলো ১৩ এর কমান্ডার জিম লাভেল এটি বলেছিলেন বলে মনে করা হয়, তবে তাঁর মূল কথা ছিল: "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল। আমাদের মেইন বি বাস আন্ডারভোল্ট হয়েছিল।" তবে হিউস্টনকে সমস্যার কথা প্রথম জানিয়েছিলেন নভোচারী জ্যাক সুইগার্ট, যিনি প্রায় একই শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। নাসার আনুষ্ঠানিক কালানুক্রম অনুযায়ী কথোপকথনটি ছিল এমন:
*** ৫৫:৫৫:২০ – সুইগার্ট: "ঠিক আছে হিউস্টন, এখানে আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল।"
*** ৫৫:৫৫:২৮ – লুসমা: "এটি হিউস্টন। দয়া করে আবার বলুন।"
*** ৫৫:৫৫:৩৫ – লাভেল: "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছিল। আমাদের মেইন বি বাস আন্ডারভোল্ট হয়েছিল।"
** তবে 'অ্যাপোলো ১৩' চলচ্চিত্রে টম হ্যাঙ্কস বলেন, "হিউস্টন, আমাদের একটি সমস্যা হয়েছে।"
* '''"কিসমেত হার্ডি / কিস মি, হার্ডি"''' – ব্রিটিশ ভাইস অ্যাডমিরাল [[:w:হোরেশিও নেলসন|হোরেশিও নেলসন]]
** নেলসন মৃত্যুর সময় "কিসমেত হার্ডি" বা "কিস মি, হার্ডি" বলেছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। 'কিসমেত' শব্দের অর্থ ভাগ্য। তবে ওক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান অনুযায়ী ১৮৪৯ সালের আগে ইংরেজি ভাষায় 'কিসমেত' শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায় না। নেলসন তাঁর ফ্ল্যাগ ক্যাপ্টেন টমাস মাস্টারম্যান হার্ডিকে "কিস মি, হার্ডি" বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো তাঁর শেষ কথা ছিল না। সার্জন উইলিয়াম বিটির মতে নেলসনের প্রকৃত শেষ কথা ছিল: "ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি। পানি, পানি। বাতাস, বাতাস। মালিশ, মালিশ।"
* '''"মন্দের বিজয়ের জন্য একমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিস হলো ভালো মানুষের কিছু না করা"''' – [[:w:এডমন্ড বার্ক|এডমন্ড বার্ক]]
** এটি সম্ভবত দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের ১৮৬৭ সালের একটি বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত রূপ। মিল বলেছিলেন: "মন্দ লোকেরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য ভালো মানুষদের কেবল তাকিয়ে থাকা এবং কিছু না করার চেয়ে বেশি কিছু চায় না।"
** বার্কের 'থটস অন দ্য কজ অফ প্রেজেন্ট ডিসকন্টেন্টে' অনুরূপ অর্থের একটি বাক্য পাওয়া যায়: "যখন মন্দ লোকেরা জোট বাঁধে, তখন ভালো মানুষদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; অন্যথায় তারা এক এক করে তুচ্ছ সংগ্রামে করুণ আত্মত্যাগ হিসেবে ধপাস করে পড়বে।"
** এটি অনেক সময় আলেকজিস ডি টোকভিলের উক্তি হিসেবেও চালানো হয়।
* '''"আমাদের ওই পচা ব্যাজগুলোর দরকার নেই!"''' – 'দ্য ট্রেজার অফ দ্য সিয়েরা মাদ্রে' চলচ্চিত্রের ডাকাত
** মূল উক্তিটি হলো— "ব্যাজ? আমাদের কোনো ব্যাজ নেই! আমাদের ব্যাজের দরকার নেই। আমাকে কোনো পচা ব্যাজ দেখাতে হবে না!"
** এই ভুল সংস্করণটি মূলত 'ব্লেজিং স্যাডলস' চলচ্চিত্রে মূল দৃশ্যটির প্যারোডি হিসেবে জনপ্রিয় হয়। সেখানে মেক্সিকান ডাকাতদের নেতা বলেছিল: "ব্যাজ? আমাদের কোনো পচা ব্যাজের দরকার নেই।"
** উক্তিটি 'দ্য নাইন্থ কনফিগারেশন' এবং উইয়ার্ড আল ইয়ানকোভিকের 'ইউএইচএফ' সিনেমাতেও বিকৃতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি 'ট্রান্সফরমারস' কার্টুনে স্টারস্ক্রিম চরিত্রটিও এর একটি ভিন্ন রূপ ব্যবহার করেছিল।
* '''"শাসন না করলে সন্তান নষ্ট হয়ে যায় ।"'''
** সন্তান পালনে শাসনের গুরুত্ব নিয়ে অনেক প্রবাদ আছে, তবে বাইবেলের (কিং জেমস সংস্করণ) হিতোপদেশ ১৩:২৪ এর সবচেয়ে কাছের সংস্করণটি হলো: "যে শাসন করতে কার্পণ্য করে সে তার সন্তানকে ঘৃণা করে; কিন্তু যে তাকে ভালোবাসে সে সময়মতো তাকে শাসন করে।"
** এই নির্দিষ্ট বাক্যটি ১৬০০ এর দশকে স্যামুয়েল বাটলারের 'হুডিব্রাস' কবিতায় পাওয়া যায়।
* '''"সংকট? কিসের সংকট?"''' – ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী [[:w:জেমস ক্যালাহান|জেমস ক্যালাহান]]
** এটি ছিল ১৯৭৯ সালের ১১ জানুয়ারি 'দ্য সান' পত্রিকার একটি শিরোনাম। দেশে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ক্যালাহান যখন বিদেশ থেকে ফিরছিলেন, তখন এক সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন— "দেশের বর্তমান বিশৃঙ্খলার মুখে আপনার সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি কী?" ক্যালাহান উত্তরে বলেছিলেন— "এটি আপনার বিচার। আমি আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আপনি যদি বাইরে থেকে দেখেন... তবে বিশ্বের অন্য কেউ মনে করবে না যে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে।" ক্যালাহান সরাসরি "কিসের সংকট" শব্দটি ব্যবহার না করলেও পত্রিকাটির এই শিরোনামটি জনমনে গেঁথে যায়।
* '''"কখনও কখনও একটি চুরুট স্রেফ একটি চুরুটই।"'''
** এই উক্তিটি প্রায়ই [[:w:সিগমুন্ড ফ্রয়েড|সিগমুন্ড ফ্রয়েডের]]নামে চালানো হয় এটা বোঝাতে যে, এমনকি একজন বিখ্যাত মনোবিশ্লেষকও স্বীকার করতে পারেন যে সবকিছুরই গভীর কোনো অর্থ থাকে না; তবে তাঁর কোনো লেখায় এই উক্তির কোনো বৈচিত্র্য কখনোই পাওয়া যায় না। তাঁর মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর এটি ভুলভাবে তাঁর নামে প্রচলিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। [http://quoteinvestigator.com/2011/08/12/just-a-cigar/]
** [[:w:রুডইয়ার্ড কিপলিং|রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের]] 'দ্য বেট্রোথড' কবিতা থেকে একটি বিকল্প:
<blockquote>
:"লক্ষ লক্ষ উদ্বৃত্ত ম্যাগি জোয়াল বইতে ইচ্ছুক;
:আর একজন নারী স্রেফ একজন নারীই, কিন্তু একটি ভালো চুরুট হলো প্রশান্তির ধোঁয়া।"
</blockquote>
* '''"সবসময় সুসমাচার প্রচার করো, আর যদি প্রয়োজন হয় তবেই শব্দ ব্যবহার করো।"'''
** এটি প্রায়ই [[:w:ফ্রান্সিস অফ আসিসি|ফ্রান্সিস অফ আসিসির]] উক্তি হিসেবে দাবি করা হয়, তবে এই উক্তির প্রকৃত উৎস অজানা।
* '''"আমাকে একজন তরুণ রক্ষণশীল দেখাও, আমি তোমাকে এমন একজনকে দেখাব যার হৃদয় নেই। আমাকে একজন বৃদ্ধ উদারপন্থী দেখাও, আমি তোমাকে এমন একজনকে দেখাব যার মস্তিষ্ক নেই।"'''
** এটি প্রায়ই [[:w:উইনস্টন চার্চিল|উইনস্টন চার্চিলের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয় ([http://www.winstonchurchill.org/learn/speeches/quotations/quotes-falsely-attributed])। এই বাক্যটির আদি উৎস হলো ফ্রাঁসোয়া গিজো (১৭৮৭-১৮৭৪): "বিশ বছর বয়সে প্রজাতন্ত্রপন্থী না হওয়া হৃদয়ের অভাবের প্রমাণ; ত্রিশ বছর বয়সেও তা থাকা বুদ্ধির অভাবের প্রমাণ।" পরবর্তীতে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লেমেনসো (১৮৪১-১৯২৯) এটি পুনরায় ব্যবহার করেন: "বিশ বছর বয়সে সমাজতন্ত্রী না হওয়া হৃদয়ের অভাব; ত্রিশ বছর বয়সেও তা থাকা বুদ্ধির অভাব।"
** ১৯৯৪ সালের চলচ্চিত্র [[:w:সুইমিং উইথ শার্কস|সুইমিং উইথ শার্কসে]] এর উল্লেখ পাওয়া যায় এভাবে— "যদি তুমি ২০ বছর বয়সে বিদ্রোহী না হও তবে তোমার হৃদয় নেই, কিন্তু যদি তুমি ৩০ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থায় না ফেরো তবে তোমার মস্তিষ্ক নেই।"
* '''"আমি আজ সকালে ঘুম থেকে উঠলাম এবং নিজের জন্য একটি বিয়ার নিলাম।"'''
** [[:w:দ্য ডোরস|দ্য ডোরস]] ব্যান্ডের সদস্য [[:w:রে মানজারেক|রে মানজারেকের]] লেখা [[:w:লাইট মাই ফায়ার (বই)|''লাইট মাই ফায়ার'']] বই অনুযায়ী, [[:w:জিম মরিসন|জিম মরিসন]] আসলে গেয়েছিলেন "আমি আজ সকালে উঠলাম এবং আমার দাড়ি গজালো", কারণ গানটি মরিসনের ৩ সপ্তাহের মাদকাসক্ত ঘুম থেকে জেগে ওঠার গল্প বলে মনে করা হয়।
** "আমি আজ সকালে উঠলাম এবং নিজের জন্য একটি বিয়ার নিলাম" লাইনটি [[:w:এলিস কুপার|এলিস কুপার]] দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। মরিসন গানটি রেকর্ড করার ঠিক আগে স্টুডিওতে তাঁর সাথে কথা বলছিলেন। তিনি এলিসকে তাঁর দিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন— "উমম.. আজ সকালে উঠলাম.... নিজের জন্য একটা বিয়ার নিলাম।" মরিসন গানে লাইনটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এলিস কুপারের অনেক সাক্ষাৎকারে এটি বারবার বলা হয়েছে। [http://www.uncut.co.uk/news/the_doors/news/11838]
* '''"তাকে তার আরামকেদারায় ধরো, তুমি তার রোগ অনুভব করতে পারবে।"'''
** ১৯৬৯ সালের গান "কাম টুগেদারে" [[:w:দ্য বিটলস|দ্য বিটলসের]] সদস্য [[:w:জন লেনন|জন লেননের]] মূল লিরিক্স ছিল— "তাকে তার বাহুতে ধরো, তুমি তার রোগ অনুভব করতে পারবে।" কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটি 'আরামকেদারা' শুনতে পাওয়ায় লেনন বলেছিলেন যে ওই লিরিক্সটিও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য। [https://ultimateclassicrock.com/the-beatles-come-together-lyrics-uncovered/]
* '''"তাদের কেক খেতে দাও।"'''
** [[:w:মারি অঁতোয়ানেত|মারি অঁতোয়ানেত]] কখনোই এটি বলেননি। [[:w:জঁ-জাক রুসো|জঁ-জাক রুসো]] ১৭৮৩ সালে তাঁর আত্মজীবনী 'কনফেশনসে' উল্লেখ করেন যে, "এক মহান রাজকুমারী" ক্ষুধার্ত কৃষকদের সম্পর্কে বলেছিলেন— "যদি তাদের রুটি না থাকে, তবে তাদের কেক (ব্রায়োশ) খেতে দাও।" ধারণা করা হয় তিনি আসলে স্পেনের মারিয়া তেরেসার কথা বলছিলেন। (রুসোর পাণ্ডুলিপিটি ১৭৬৭ সালে লেখা হয়েছিল, যখন মারি অঁতোয়ানেতের বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর এবং ভবিষ্যতে লুই ১৬ এর সাথে তাঁর বিয়ে হতে তখনও তিন বছর বাকি ছিল।)
* '''"তুমি সত্য জানতে চাও? তুমি সত্য সহ্য করার ক্ষমতা রাখো না!"'''
** [[:w:জ্যাক নিকোলসন|জ্যাক নিকোলসন]] 'এ ফিউ গুড মেন' চলচ্চিত্রে এই উক্তির দ্বিতীয় অংশটি বললেও সংলাপের সঠিক ক্রম ছিল: "তুমি কি উত্তর চাও?" "আমি সত্য চাই!" "তুমি সত্য সহ্য করতে পারবে না!" ক্রুজের চরিত্র যখন জিজ্ঞাসা করে যে সে কি উত্তরের অধিকারী, তখন তাকে আবারও জিজ্ঞেস করা হয় সে উত্তর চায় কি না, এবং উত্তরে ক্রুজ বলে সে সত্য চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিকোলসনের সেই বিখ্যাত ভাষণ শুরু হয়— "তুমি সত্য সহ্য করতে পারবে না!" এই ভুল উদ্ধৃতিটি প্রায়ই বিভিন্ন প্যারোডিতে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে [[:w:দ্য সিম্পসন্স|দ্য সিম্পসন্সে]] দুইবার দেখা গেছে। [http://www.imdb.com/title/tt0112384/quotes?qt0476805]
* '''"হ্যালো, ক্ল্যারিস।"'''
** 'দ্য সাইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্বস' চলচ্চিত্রের প্যারোডিতে এটি মাঝেমাঝে ব্যবহৃত হলেও মূল সিনেমায় [[:w:হানিবাল লেক্টর|হানিবাল লেক্টর]] কখনোই এটি বলেননি। তবে অ্যান্থনি হপকিন্স একবার অনুরূপ বাক্য "শুভ সন্ধ্যা, ক্ল্যারিস" বলেছিলেন। অন্যদিকে সিক্যুয়েল ছবি [[:w:হানিবাল (চলচ্চিত্র)|হানিবালে]] ডক্টর লেক্টর যখন ডিটেকটিভ পাজির ফোন ধরেন, ঠিক তাকে ব্যালকনি থেকে ফেলে দেওয়ার আগে এজেন্ট স্টারলিংকে অভিবাদন জানাতে গিয়ে বলেছিলেন— "তুমি কি ক্ল্যারিস? আচ্ছা, হ্যালো ক্ল্যারিস..."
* '''"দেখলে তো, তুমি আমাকে আবারও কী চমৎকার বিপদে ফেললে"'''
** এটি [[:w:অলিভার হার্ডি|অলিভার হার্ডির]] উক্তি হিসেবে পরিচিত যা তিনি [[:w:স্ট্যান লরেল|স্ট্যান লরেলের]] ভুলের পর বলতেন।
** প্রকৃত উক্তিটি ছিল— "Well, here's another '''nice''' mess you've gotten me into!" (এখানে 'fine' এর বদলে 'nice' ব্যবহৃত হয়েছিল)। ১৯৩০ সালের ছবি [[:w:দ্য লরেল-হার্ডি মার্ডার কেস|দ্য লরেল-হার্ডি মার্ডার কেসে]] এটি বলা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায়। এই ছবির ঠিক পরেই 'অ্যানাদার ফাইন মেস' নামে একটি ছবি আসায় সম্ভবত বিভ্রান্তিটি তৈরি হয়।
** রে স্টিভেন্স পরবর্তীতে একটি গান রেকর্ড করেন যেখানে এই উদ্ধৃতিটি ছিল— "Here's another fine mess you've gotten me into / another fine mess, ah well, what else is new."
** বাস্তবে এটি ১৮৮৫ সালের অপেরা 'দ্য মিকাডোতে' ডব্লিউ. এস. গিলবার্ট প্রথম লিখেছিলেন। ([https://archive.org/details/mikadolibrettoof00sulluoft/page/36 লিব্রেটো দেখুন], দ্বিতীয় অঙ্ক দ্রষ্টব্য)। আদি সংলাপটি ছিল— "Well, a nice mess you've got us into, ..." যা কো-কো চরিত্রটি পুহ-বাহকে বলেছিল। গিলবার্ট এবং সুলিভানের কাজের জনপ্রিয়তার কারণে এই অপেরাগুলোর অনেক সংলাপ সাধারণ প্রবাদে পরিণত হয়েছে। [https://www.gsarchive.net/mikado/html/mikado_by_mencken.html ১৯১০ সালের একটি পর্যালোচনা] এবং [https://gsarchive.net/pinafore/html/pinafore_by_mencken.html ১৯১১ সালের অন্য একটি পর্যালোচনা] দ্রষ্টব্য।
* '''"আমি আইনের বাইরে? আপনি আইনের বাইরে! এই পুরো আদালত আইনের বাইরে!"'''
** প্রকৃত সংলাপ: "''আপনি'' আইনের বাইরে! ''আপনি'' আইনের বাইরে! এই পুরো ''বিচার প্রক্রিয়া'' আইনের বাইরে! '''''তারা''''' আইনের বাইরে!"
** বিচারক রেইফোর্ড যখন বলেন "মিস্টার কার্কল্যান্ড, আপনি আইনের বাইরে", তখন [[:w:অ্যান্ড জাস্টিস ফর অল (চলচ্চিত্র)|...অ্যান্ড জাস্টিস ফর অল]] সিনেমায় আর্থার কার্কল্যান্ড এই উত্তর দেন।
* '''"আমিই শয়তান এবং আমি শয়তানের কাজ করতে এসেছি।"'''
** শ্যারন টেটের বাড়িতে খুনের ঘটনায় এটি প্রায়ই ভুলবশত [[:w:চার্লস ম্যানসন|চার্লস ম্যানসনের]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়। ম্যানসন তাঁর অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত কোনো খুনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে এই বাক্যটি [[:w:চার্লস "টেক্স" ওয়াটসন|চার্লস "টেক্স" ওয়াটসন]] ভয়েটেক ফ্রাইকোস্কিকে বলেছিলেন।
** রব জম্বির চলচ্চিত্র [[:w:দ্য ডেভিল'স রিজেক্টস|দ্য ডেভিল'স রিজেক্টসে]] ওটিস চরিত্রটি (বিল মোসলে অভিনীত) "I'm the devil, and I'm here to do the devil's work" বাক্যটি ব্যবহার করে, যা সম্ভবত আদি উক্তিটির প্রতি এক ধরণের শ্রদ্ধা নিবেদন।
** প্রকৃত উক্তি: "আমি শয়তান, আমি এখানে শয়তানের ব্যবসা করতে এসেছি। তোমার সব টাকা আমাকে দাও।"
* '''"সঙ্গীতের এমন জাদু আছে যা বন্য পশুকে শান্ত করতে পারে।"'''
** এটি উইলিয়াম কনগ্রিভের ১৬৯৭ সালের নাটক 'দ্য মর্নিং ব্রাইডের' একটি ভুল উদ্ধৃতি।
** প্রকৃত উক্তি: "হৃদয়ের উন্মত্ততা দমানোর জন্য সঙ্গীতই যথেষ্ট। পাথরকে নরম করতে পারে, বা শক্ত ওক গাছকে বাঁকিয়ে দিতে পারে।"
** [http://en.wikipedia.org/wiki/William_Congreve_(playwright)#.22Music_hath_charms_to_soothe_a_savage_breast.22 উইলিয়াম কনগ্রিভ] সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া তালিকা দেখুন।
* '''"কেবল মৃতরাই যুদ্ধের শেষটা দেখেছে।"'''
** এটি প্লাটোর উক্তি হিসেবে চালানো হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি জর্জ সান্তায়ানা তাঁর 'দ্য লাইফ অফ রিজন' (১৯৫৩) বইয়ে লিখেছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থারের একটি বিদায়ী ভাষণে এটি প্রথম ভুলভাবে উদ্ধৃত হয় এবং এরপর থেকেই তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
* '''"গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক, তা একই রকম মিষ্টি গন্ধ ছড়াবে।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "নামে কী আসে যায়? গোলাপকে আমরা অন্য যে নামেই ডাকি না কেন, তা একই রকম মিষ্টি সুবাস ছড়াবে।"
** এটি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েটের' দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় দৃশ্য থেকে নেওয়া।
** 'স্টার ট্রেক' সিরিজের "বাই অ্যানি আদার নেম" পর্বে ক্যাপ্টেন কার্ক এই লাইনটি ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছিলেন।
* '''"হোয়ার আর্ট থাউ রোমিও? (রোমিও তুমি কোথায়?)"'''
** সঠিক লাইনটি (প্রেক্ষাপটসহ) হলো: "ও রোমিও, রোমিও! হোয়ারফোর আর্ট থাউ রোমিও? / তোমার পিতাকে অস্বীকার করো এবং তোমার নাম ত্যাগ করো। / অথবা, যদি তুমি তা না করো, তবে আমার ভালোবাসার শপথ নাও, / আর আমি আর কাপুলেট থাকব না।" এখানে জুলিয়েট রোমিও ''কোথায়'' তা জানতে চাচ্ছে না, বরং সে জিজ্ঞাসা করছে সে ''কেন'' রোমিও (মন্টেগু বংশের) নামে পরিচিত।
** শেক্সপিয়রের মূল নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় দৃশ্য।
** রোমিওর পদবি 'মন্টেগু' হওয়ার অর্থ হলো সে জুলিয়েটের পরিবার 'কাপুলেট'-দের চরম শত্রু, তাই জুলিয়েট তাকে তার নাম ত্যাগ করতে বলছে।
* '''"তুমি যদি এটি তৈরি করো, তবে তারা আসবে"'''
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি যদি এটি তৈরি করো, তবে ''সে'' আসবে"। এটি ''ফিল্ড অফ ড্রিমস'' চলচ্চিত্র থেকে নেওয়া।
** সম্ভবত 'ওয়েন'স ওয়ার্ল্ড ২' এর উক্তি "ইফ দে বুক দেম, দে উইল কামের" সাথে গুলিয়ে ফেলার কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কথাটি জিম মরিসনের আত্মা বলেছিল।
* '''"আমার বসার ঘরে এসো,' মাকড়সা মাছিকে বলল।"'''
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি কি আমার বসার ঘরে আসবে? মাকড়সা মাছিকে বলল"। এটি "দ্য স্পাইডার অ্যান্ড দ্য ফ্লাই" কবিতাটি থেকে নেওয়া।
** এছাড়াও দ্য পেপার চেজের গান "স্পাইডার টু দ্য ফ্লাই" এবং দ্য কিওরের গান লালাবাইতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
* '''"মস্তিষ্ক: এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে আমরা ভাবি যে আমরা ভাবছি "'''
** প্রকৃত উক্তি: "মস্তিষ্ক: এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে আমরা ভাবি যে আমরা চিন্তা করছি)। এটি অ্যামব্রোস বিয়ার্সের ''দ্য ডেভিল'স ডিকশনারি'' থেকে নেওয়া।
* '''"নাল পয়েন্টস | Nul points"'''
** সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য জায়গায় এই ফরাসি বাক্যটি প্রায়ই বার্ষিক ইউরোভিশন সং কন্টেস্টের']] সাথে জুড়ে দেওয়া হয়, বিশেষ করে 'ফাদার টেডের' "সং ফর ইউরোপ" পর্বে। তবে এই প্রতিযোগিতায় কেবল এক থেকে বারো পর্যন্ত পয়েন্ট দেওয়া হয়। এই বাক্যটি মূলত চূড়ান্ত স্কোরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যখন কোনো দেশ কোনো ভোটই পায় না।
* '''"বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবথেকে বেশি?..."''' – ''স্নো হোয়াইট অ্যান্ড দ্য সেভেন ডোয়ার্ফস'' চলচ্চিত্রে রানী।
** এই উদ্ধৃতিটির কোনো সঠিক উৎস নেই, কারণ এর উৎপত্তি একটি লোকগাথা থেকে, আর লোকগাথার সংজ্ঞানুসারেই এর কোনো নির্দিষ্ট লেখক বা পরিচিত উৎস থাকে না। ১৯৩৭ সালের চলচ্চিত্রে সংলাপটি ছিল "দেওয়ালে জাদুক্রী আয়না" (যার পর ছিল "বল তো আরশি—এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবচেয়ে বেশি?" এবং চলচ্চিত্রের পরবর্তী অংশে ছিল "বল তো আরশি—''এখন'' এই সাম্রাজ্যে কার দাপট সবচেয়ে বেশি??")। গ্রিম ভাইদের সংগৃহীত সংস্করণে এটি ছিল "আয়না, আয়না, দেয়ালে তুমি, সারা দেশে সবচেয়ে সুন্দরী দাপটে কে?" – তবে অবশ্যই গ্রিম ভাইদের সংগ্রহের অনেক আগে থেকেই স্নো হোয়াইটের গল্প প্রচলিত ছিল।
* '''"হাও-মাও-খাও, মানুষের গন্ধ পাও! বাঁচুক কি মরুক—ওর হাড় গুঁড়ো করেই আজ আমার আহার হবে!"'''
** যদি এটি জোসেফ জ্যাকবসের 'ইংলিশ ফেয়ারি টেলস' থেকে উদ্ধৃত করা হয়, তবে এটি হওয়া উচিত: "হাও-মাও-খাও, মানুষের গন্ধ পাও! বেঁচে থাকুক কি মরে যাক—ওর হাড়গুলো আমার চাই-ই, আমার রুটি গুঁড়ো করার তরে!"
<div id="IamYourFather">
* '''লুক, আই অ্যাম ইয়োর ফাদার (লুক, আমিই তোমার বাবা)''' – ''স্টার ওয়ার্স এপিসোড ৫: দ্য এম্পায়ার স্ট্রাইকস ব্যাকে'' ডার্থ ভেডার।
** সঠিক উদ্ধৃতিটি হলো:
***ডার্থ ভেডার: ওবি-ওয়ান তোমাকে কখনোই বলেনি তোমার বাবার কী হয়েছিল।
***লুক স্কাইওয়াকার: সে আমাকে যথেষ্ট বলেছে! সে বলেছে তুমি তাকে মেরে ফেলেছ!
***ডার্থ ভেডার: '''না। ''আমিই'' তোমার বাবা।'''
***লুক স্কাইওয়াকার: না... এটা সত্যি নয়! এটা অসম্ভব!
* '''চারিদিকে জল, জল, শুধু জল, অথচ পান করার মতো এক ফোঁটাও নেই।'''
** এটি স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজের (১৮৩৪) "দ্য রাইম অফ দ্য অ্যানশিয়েন্ট ম্যারিনার" কবিতার একটি ভুল উদ্ধৃতি।
** প্রকৃত উক্তি: "জল, জল, চারদিকে শুধু জল, / শুকিয়ে কাঠ সব কাষ্ঠ-অনল; / জল, জল, চারদিকে শুধু জল, / নেই এক ফোঁটা পানযোগ্য জল!"
* '''"নিজেকে প্রস্তুত করো, শীত আসছে "'''
** এটি এডাড (নেড) স্টার্কের (জর্জ আর. আর. মার্টিনের বইয়ের সিরিজ 'এ সং অফ আইস অ্যান্ড ফায়ারের একটি চরিত্র) উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, কিন্তু পুরো সিরিজে তিনি কখনোই এই দুটি বাক্য ধারাবাহিকভাবে একসাথে বলেননি।
* '''"আর আমি পার পেয়ে যেতাম যদি এই নাক গলানো বাচ্চাগুলো না থাকত!"'''
** রহস্যের শেষে ধরা পড়া এবং মুখোশ খুলে যাওয়ার পর বিভিন্ন [[:w:স্কুবি-ডু|স্কুবি-ডু]] ভিলেনদের উক্তি হিসেবে এটি সাধারণত মনে করা হয়।
** এই উদ্ধৃতিটি মূলত ভিলেনদের দেওয়া বিভিন্ন সংলাপের একটি সংমিশ্রণ। কিছু ভিলেন প্রায় এই ধরণের কথা বলত কিন্তু মেডলিং কিডসের (বা 'নাক গলানো বাচ্চা') বদলে "মেডলার্স" বা "ব্লাস্টেড কিডস" বা অন্য কিছু ব্যবহার করত। কেউ কেউ "মেডলিং কিডস" অংশটি ব্যবহার করলেও বাক্যের বাকি অংশটি অন্যরকম হতো। অনেক ভিলেন গ্রেফতারের সময় চুপ থাকত।
** এই ধরণের উদ্ধৃতির ঘনঘন ব্যবহার শুরু হয় 'এ পাপ নেমড স্কুবি-ডু' সিরিজে, যেখানে প্রায় প্রতিটি পর্বে গ্রেফতার হওয়া ভিলেনরা এটি বলত, তবে তারা দলটিকে মেডলিংয়ের বদলে "পেসকি কিডস" (জন্ত্রণাদায়ক বাচ্চা) হিসেবে সম্বোধন করত। "মেডলিং" সংবলিত সংস্করণটি পরবর্তী বিভিন্ন প্রোডাকশনে যেমন ডাইরেক্ট-টু-ভিডিও মুভি, 'হোয়াটস নিউ, স্কুবি-ডু?' এবং 'স্কুবি-ডু, মিস্ট্রি ইনকর্পোরেটেডে' এবং ডাইরেক্ট টিভির মতো বিজ্ঞাপনে বারবার ব্যবহৃত (ও প্যারোডি) হতে শুরু করে।
* '''"সুখের কোনো পথ নেই; সুখই হলো পথ।"'''
** এটি সাধারণত বুদ্ধের উক্তি হিসেবে চালানো হয়, কিন্তু পালি ত্রিপিটকের কোথাও এর অস্তিত্ব নেই এবং এটি তাঁর বলা উক্তি— এমন কোনো প্রমাণও নেই। বাক্যটি আধুনিক বৌদ্ধ ভিক্ষু থিচ নাট হানের লেখায় পাওয়া যায়, তবে তিনি এর কৃতিত্ব দিয়েছেন ক্যালভিনিস্ট ধর্মযাজক আব্রাহাম জোহানেস মুস্তেকে। মুস্তে ১৯৬৭ সালে এই বাক্যের একটি রূপ— "'শান্তি'ই হলো পথ" ব্যবহার করেছিলেন বলে পরিচিত; তবে এটিই তাঁর প্রথম ব্যবহার ছিল না। ১৯৪৮ সালের মার্কিন সিনেট শুনানির একটি নথিতে এর প্রথম উপস্থিতি পাওয়া যায়। (তথ্যসূত্র: fakebuddhaquotes.com/there-is-no-path-to-happiness-happiness-is-the-path/)
** এটি মনে রাখা জরুরি যে, এই বাক্যের ক্যালভিনিস্ট ব্যাখ্যা এবং আধুনিক বৌদ্ধ ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে, তাই একই শব্দ ব্যবহৃত হলেও দুই লেখকের উদ্দেশ্য ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
* '''"এপ্পুর সি মুওভে (তবুও এটি ঘোরে)।"'''
** গ্যালিলিও যখন ইনকুইজিশনের বিচারের সম্মুখীন ছিলেন, তখন তিনি এটি বলেছিলেন বলে মনে করা হয়; তবে তিনি বাস্তবে এই উক্তিটি করেছিলেন— এমন কোনো প্রকৃত প্রমাণ নেই।
* '''"লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন)।"'''
** চলচ্চিত্র নির্মাণে এটি কখনোই আদর্শ কোনো নির্দেশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। "লাইটস" (আলো) শব্দটি মূলত আগেকার সময়ের বাতি জ্বালানোর নির্দেশ ছিল, যা ব্যবহারের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত করতে হতো; বর্তমান সময়ে এর কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। "ক্যামেরা" বলে কোনো শব্দ ডাকারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না: সাধারণত ক্যামেরা অপারেটর "স্পিড" শব্দটি বলেন, যার অর্থ হলো ক্যামেরার ফিল্ম চিত্রগ্রহণের জন্য সঠিক গতিতে ঘুরতে শুরু করেছে।
* '''"একজন মানুষের সামান্য এক পদযাত্রা, অথচ মানবজাতির তরে এক মহাবিপ্লবী উল্লম্ফন!"'''
** চাঁদে হাঁটার সময় নীল আর্মস্ট্রং এটি বলেছিলেন।
** তথ্য আদান-প্রদানের সময় স্ট্যাটিক নয়েজ বা যান্ত্রিক বিঘ্ন ঘটায় আর্মস্ট্রংয়ের বার্তাটি ভুলভাবে বোঝা হয়েছিল এবং ফলস্বরূপ ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়ে আসছে। আর্মস্ট্রং আসলে বলেছিলেন, "এটি '''''একজনের''''' জন্য ছোট পদক্ষেপ..."।
** চাঁদে নামার একটি ভিডিও ক্লিপ এখানে পাওয়া যাবে: https://www.youtube.com/watch?v=xSdHina-fTk। উক্তিটি ০:৪১ মিনিটে শুরু হয়। সেখানে খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে "a" শব্দটি নেই এবং সিগন্যালে এমন কোনো বিরতিও ছিল না যেখানে শব্দটি শোনা যায়নি এমনটা ভাবা যায়। এই তথাকথিত "সঠিক" উক্তিটি নিঃসন্দেহে তিনি যা বলতে ''চেয়েছিলেন'' তা-ই, তবে তিনি যা বলেছিলেন তা নয়।
* '''"৬৪০ কিলোবাইট-ই যেকোনো ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।"'''
** বিল গেটস কখনোই এটি বলেছিলেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না [http://quoteinvestigator.com/2011/09/08/640k-enough/]। গেটস এমন কিছু বলেছিলেন এমন প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৯৮৫ সালের (১৯৮১ সালের নয়) 'ইনফোওয়ার্ল্ড' ম্যাগাজিনে, এবং সেটি ভবিষ্যৎবাণী ছিল না বরং অতীতের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ ছিল: "যখন আমরা পিসি-ডসের সর্বোচ্চ সীমা ৬৪০ কিলোবাইট নির্ধারণ করেছিলাম, আমরা ভেবেছিলাম কারো এর চেয়ে বেশি মেমরির প্রয়োজন হবে না।" এমনকি এই তথ্যটিরও কোনো সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স ছিল না এবং এটি কোনো সাক্ষাৎকারের অংশ ছিল না। এই উক্তিটির সাথে বব নিউহার্টের একটি উক্তির মিল পাওয়া যায়: "পরবর্তীতে আমি ৬৪ কিলোবাইট মডেলের (কমোডোর ৬৪ পার্সোনাল কম্পিউটার) দিকে এগিয়ে যাই এবং ভাবি যে এটি পাগলামি, কারণ এটি আমার প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি মেমরি।"<ref name="colker20010809">{{cite news | url=http://articles.latimes.com/2001/aug/09/news/tt-32244 | title=Happy Birthday PC! | work=Los Angeles Times | date=2001-08-09 | accessdate=9 January 2015 | author=Colker, David}}</ref>
* '''"তুমি কি কোনো খেলা খেলতে চাও?"'''
** 'স' চলচ্চিত্র সিরিজের কোনোটিতেই এই বাক্যটি নেই। জিগসের মূল সংলাপটি হলো— "''আমি'' একটি খেলা খেলতে চাই ।"
** "আমরা কি একটি খেলা খেলব? " প্রশ্নটি 'ওয়ারগেমস' চলচ্চিত্রে কম্পিউটার দ্বারা বলা হয়েছিল।
* '''একবার যদি তুমি উড়াল দেওয়ার স্বাদ পাও, তবে তুমি চিরকাল আকাশের দিকে তাকিয়ে পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়াবে; কারণ তুমি সেখানে গিয়েছিলে এবং সেখানেই তুমি সবসময় ফিরে যেতে চাইবে।'''
** বিমান চালনা সংক্রান্ত এটি সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি যা যাচাইযোগ্য নয়। এটি সর্বত্র (স্মিথসোনিয়ান প্রকাশনা এবং ওয়াশিংটন পোস্টসহ) লিওনার্দো দা ভিঞ্চির নামে চালানো হয়। এর সম্ভাব্য লেখক হলেন জন হার্মিস সেকেন্ডারি (১৯১৯-১৯৭৫), যিনি ১৯৬৫ সালের টিভি ডকুমেন্টারি 'আই, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির' লেখক ছিলেন।
* '''বাতাসের চেয়ে ভারী উড়ন্ত যন্ত্র তৈরি অসম্ভব।'''
** এটি প্রায়ই লর্ড কেলভিনের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, আবার কখনো লর্ড রেলে বা সাইমন নিউকম্বের নামেও চালানো হয়। এটি সত্যি যে কেলভিন বাতাসের চেয়ে ভারী যন্ত্রের সাহায্যে ওড়ায় বিশ্বাস করতেন না [http://zapatopi.net/kelvin/quotes/], তবে ১৯ শতকের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই যা প্রমাণ করে যে তিনি বা অন্য কোনো পদার্থবিজ্ঞানী বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে অসম্ভব বলেছিলেন।
** এর সবচেয়ে পুরোনো পরিচিত উৎস হলো ক্রিস মরগানের বই 'তথ্য এবং বিভ্রান্তি: ভুল বিশ্বাস আর ভুল অনুমানের এক নিশ্চিত সংগ্রহশালা।' (১৯৮১)।
* '''"শুভ সকাল, ডেভ ।"'''
** এটি ৯০০০ এর (''২০০১: এ স্পেস ওডিসি'' এবং ''২০১০'' চলচ্চিত্রের একটি চরিত্র) উক্তি হিসেবে মনে করা হলেও এটি কখনোই তার দ্বারা উচ্চারিত হয়নি। হ্যাল ৯০০০ এর দুটি উক্তি যা এই ভুল উদ্ধৃতিটির খুব কাছাকাছি, সেগুলো হলো— ''২০০১: এ স্পেস ওডিসিতে'' "হ্যালো, ডেভ" এবং ''২০১০'' সালে "শুভ সকাল, ডক্টর চন্দ্র।"
* '''"রক্তের নদী।"'''
** বিতর্কিত ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ইনোক পাওয়েল ১৯৬০ সালের দশকে অভিবাসনের তথাকথিত বিপদ নিয়ে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন, যা সবসময় "রিভার্স অফ ব্লাড" ভাষণ হিসেবে পরিচিত; কিন্তু তাঁর প্রকৃত ভাষণে শব্দগুলো ছিল "টাইবার নদী রক্তে ফেনিল হয়ে উঠছে।"
* '''"আপনি কি জানেন যে ক্লড পেপার পুরো ওয়াশিংটনে একজন নির্লজ্জ বহির্মুখী হিসেবে পরিচিত? শুধু তাই নয়, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে এই ব্যক্তি তাঁর ভাতৃবধূর সাথে স্বজনপ্রীতি করেন, তাঁর একজন ভাই আছে যে একজন পরিচিত হোমো সেপিয়েন্স, এবং তাঁর একজন বোন আছে যে একসময় দুশ্চরিত্র নিউ ইয়র্কে একজন থেসপিয়ান ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে মিস্টার পেপার বিয়ের আগে অভ্যাসগতভাবে কৌমার্য পালন করতেন।"'''
** এটি জর্জ স্মাদার্সের উক্তি হিসেবে মনে করা হয়। স্মাদার্স কখনোই এই ভাষণ দেননি বা এমন কোনো মনোভাব প্রকাশ করেননি। এই ভাষণটি মূলত এমন কিছু শব্দের খেলা যা একজন কম শিক্ষিত বা অসচেতন শ্রোতাকে ভাবিয়ে তুলবে যে পেপার সম্ভবত কোনো যৌন বিকৃত পরিবারের সদস্য। ১৯৫০ সালে 'টাইম' ম্যাগাজিনে এটি প্রথমবার ছাপার অক্ষরে আসার আগেই এটি এক ধরণের শহুরে কিংবদন্তি হিসেবে প্রচলিত ছিল।
* '''"এভাবে শেষ হতে দিও না। তাদের বলো আমি কিছু একটা বলেছি।"'''
** ধারণা করা হয় ১৯২৩ সালে মেক্সিকান বিপ্লবী সামরিক নেতা পাঞ্চো ভিলাকে হত্যার পর এগুলোই ছিল তাঁর শেষ কথা। তবে সেই ঘটনার অধিকাংশ বিবরণ অনুযায়ী তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মারা গিয়েছিলেন, কোনো কিছু বলার মতো 'ন্যূনতম' সময়ও তিনি পাননি।
* '''"কারণ টাকা তো সেখানেই থাকে।"'''
** উইলি সাটন কেন ব্যাংক ডাকাতি করতেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই উত্তর দিয়েছিলেন বলে প্রচলিত থাকলেও সাটন তাঁর সারাজীবন এটি অস্বীকার করে গেছেন। মনে করা হয় এটি ওই সাংবাদিকের নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্ভাবন ছিল। তবে সাটন ১৯৭৬ সালে তাঁর আত্মজীবনীর শিরোনাম 'Where the Money Was' রাখার কারণে মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তিনি সত্যিই এটি বলেছিলেন।
* '''"বেসি, আমি হয়তো মাতাল, কিন্তু তুমি কুৎসিত; আর আগামীকাল সকালে আমি সুস্থ হয়ে যাব (মাতাল ভাব কেটে যাবে)।"'''
** চার্চিল এটি বেসি ব্র্যাডকে বলেছিলেন বলে মনে করা হলেও এর কোনো রেকর্ড নেই; চার্চিলের সাথে নাম জড়ানোর আগে ওই সময়ের অন্যান্য জননেতাদের জড়িয়ে একই ধরণের গল্পের প্রচলন ছিল।
* '''"ওয়াটার্লুর যুদ্ধ জেতা হয়েছিল ইটনের খেলার মাঠে।"'''
** এটি ডিউক অফ ওয়েলিংটনের উক্তি হিসেবে তাঁর শিক্ষাজীবনের স্মৃতি চারণের ক্ষেত্রে মনে করা হলেও ঐতিহাসিকরা মনে করেন এটি তাঁর বলার সম্ভাবনা কম। যুদ্ধের চার দশক পর এবং তাঁর মৃত্যুর পর এই উক্তিটি প্রথম সামনে আসে; এছাড়া তিনি ইটনে খুব বেশি সময় কাটাননি এবং সেই সময়গুলো নিয়ে তাঁর খুব একটা সুখস্মৃতিও ছিল না। তাঁর কথা বলার ধরণ সম্পর্কে পরিচিত জীবনীকাররাও সন্দেহ পোষণ করেন যে, তিনি এমন মনোভাব ব্যক্ত করলেও সেটি এভাবে বলতেন না।
* '''"উন্মাদনার সংজ্ঞা হলো একই কাজ বারবার করা এবং ভিন্ন ফলাফলের আশা করা।"'''
** এই উক্তিটি অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন এবং মার্ক টোয়েনসহ বেশ কয়েকজনের নামে চালানো হয়। এটি সম্ভবত ১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত রিটা মে ব্রাউনের বই 'সাডেন ডেথে' প্রথমবার দেখা গিয়েছিল। [http://www.barrypopik.com/index.php/new_york_city/entry/insanity_is_doing_the_same_thing_and_expecting_different_results/ barrypopik.com] [https://www.psychologytoday.com/blog/in-therapy/200907/the-definition-insanity-is psychologytoday.com]
* '''"এদেশের মানুষের বিশেষজ্ঞদের ওপর যথেষ্ট বিতৃষ্ণা এসে গেছে।"''' — মাইকেল গোভ, ৩ জুন ২০১৬ সালে ফয়সাল ইসলামের সাথে এক সাক্ষাৎকারে।
** গোভ তাঁর বাক্যটি এখানে শেষ করেননি; সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছিলেন [https://www.youtube.com/watch?v=GGgiGtJk7MA]। পুরো উক্তিটি ছিল: "এদেশের মানুষের সেই সব সংক্ষিপ্ত নামধারী (acronyms) প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের ওপর যথেষ্ট বিতৃষ্ণা এসে গেছে, যারা বলে যে তারা সবচেয়ে ভালো বোঝে, কিন্তু প্রতিনিয়ত ভুল প্রমাণিত হয়।" বাক্যের শেষ অংশটুকু বাদ দেওয়ার ফলে তাঁর বিরোধীরা যুক্তি দেওয়ার সুযোগ পায় যে তিনি সব বিশেষজ্ঞকেই বুঝিয়েছেন, অথচ তিনি আসলে বিশেষজ্ঞদের একটি নির্দিষ্ট আচরণের কথা বলছিলেন।
* '''"আমার এবং আমার ক্যালভিনের মাঝে কিছুই আসে না।"''' — ব্রুক শিল্ডস
** প্রকৃত উক্তি: "তুমি কি জানতে চাও আমার এবং আমার ক্যালভিনের মাঝে কী আসে? কিছুই না।" এটি ক্যালভিন ক্লেইন জিন্সের একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে নেওয়া।
* '''"এটি উন্মাদনা নয়। এটি স্পার্টা।"''' — ২০০৭ সালের '৩০০' চলচ্চিত্রে লিওনিডাস চরিত্রে জেরার্ড বাটলার।
** প্রকৃত উক্তি: ''উন্মাদনা? এটি স্পার্টা'' । পুরো দৃশ্যে ''এটি উন্মাদনা নয়'' বাক্যটি কখনোই উচ্চারিত হয়নি। এই উক্তিটির একটি ভুল উদ্ধৃতি 'ফিনিক্স রাইট ৩: ট্রায়ালস অ্যান্ড ট্রিবিউলেশনসের' ইংরেজি অনুবাদে দেখা গিয়েছিল।
* '''"তোমার রাজকুমারী অন্য একটি দুর্গে আছে ।"''' — সুপার মারিও ব্রাদার্স (১৯৮৫)।
** প্রকৃত উক্তি: "ধন্যবাদ মারিও, কিন্তু ''আমাদের'' রাজকুমারী অন্য একটি দুর্গে আছে।" মারিও যখন ওয়ার্ল্ড ৮ এর আগের দুর্গগুলো থেকে মাশরুম নাগরিকদের উদ্ধার করে, তখন তারা এই কথাটি বলে। তারা "আমাদের" শব্দটি ব্যবহার করে কারণ তিনি মাশরুম মানুষদের রাজকুমারী। এই লাইনটি মারিওর কোনো মালিকানা বা রোমান্টিক প্রত্যাখ্যান বোঝায় না; এমনকি মূল গেমে মারিও এবং রাজকুমারীর মধ্যে কোনো রোমান্টিক সম্পর্কের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি।
** "তোমার রাজকুমারী..." বাক্যটি অনেক পরের গেম 'ব্রেইড' (২০০৮) এ দেখা যায়, যেখানে মূল চরিত্র টিমের রাজকুমারীর প্রতি একটি অস্বাস্থ্যকর এবং একতরফা রোমান্টিক আসক্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
* '''"কল্পনা করুন, যদি আপনি চান।"''' — দ্য টোয়াইলাইট জোন (১৯৫৯-১৯৬৪)।
** উপস্থাপক এবং বর্ণনাকারী রড সার্লিং কোনো পর্বের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করার সময় দর্শকদের প্রায়ই "কল্পনা" করতে বলতেন, কিন্তু তিনি সিরিজে কখনোই এই হুবহু বাক্যটি বলেননি, যদিও এটি প্রায়ই তাঁর নামে চালানো হয়।
* '''"জীবনের অর্থ হলো ৪২।"''' — ডগলাস অ্যাডামস, ''দ্য হিচহাইকার’স গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি, প্রাইমারি ফেজ'' (রেডিও), ১৯৭৮।
** প্রকৃত উক্তি: "জীবন, মহাবিশ্ব এবং সবকিছুর মহান প্রশ্নের উত্তর হলো ৪২।" ম্যাগরাথিয়ান কম্পিউটার 'ডিপ থট' এই কথাটি বলেছিল। গল্পের মূল বিষয়বস্তু ছিল যে, এই উত্তরটি শোনার পর ম্যাগরাথিয়ানরা বুঝতে পেরেছিল যে তারা আসলে 'মহান প্রশ্নটি' কী ছিল সেটাই জানে না। গল্পের কোনো সংস্করণেই এটি জীবনের "অর্থের" সাথে সম্পর্কিত নয়। বরং ৪২ উত্তরটি এটিই প্রমাণ করে যে প্রশ্নটি "কেন?" বা এই জাতীয় কিছু হতে পারে না।
** উদাহরণস্বরূপ, মূল রেডিও সিরিজে প্রশ্নটি পাওয়া যায় না; ২০০৪ সালের 'টারশিয়ারি ফেজ' সিরিজে দাবি করা হয় যে প্রশ্ন এবং উত্তর একসাথে জেনে ফেললে মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটবে। মূল ব্রিটিশ টিভি সিরিজে প্রশ্নটিকে বলা হয়েছে "ছয় কে নয় দিয়ে গুণ করলে কত হয়?", যা প্রমাণ করে যে "মহাবিশ্বের মৌলিক কোনো কিছুতে বড় ধরণের গলদ আছে"।
* '''"X এর ব্যাপারটা কী?"''' — সিনফেল্ড (১৯৮৯-১৯৯৮)
**জেরি সিনফেল্ডের চরিত্রটি মাঝে মাঝে এই বাক্যটি ব্যবহার করত, তবে তা কেবল 'অবজারভেশনাল কমেডির' ধারণাকে উপহাস করার জন্য তীব্র ব্যঙ্গ বা আইরনি হিসেবে। পর্বের শুরুতে বা শেষে স্ট্যান্ড-আপ কমেডির অংশে তিনি কখনোই এটি বলেননি। পুরো সিরিজে একমাত্র জর্জ কস্তানজা চরিত্রটি একবার ব্যঙ্গ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে এই বাক্যটি ব্যবহার করেছিল।
* '''"আমি বিশ্বাস করতে চাই না, আমি জানতে চাই।"'''
** এই উক্তিটি ভুলবশত কার্ল সেগানের নামে চালানো হয়, যিনি এই কথাটি কখনোই বলেননি বা লেখেননি। তাঁর কোনো বই, নিবন্ধ, টিভি শো বা সাক্ষাৎকারে এটি নেই। এই বাক্যের প্রকৃত লেখক হলেন মুক্তচিন্তক, মানবতাবাদী এবং [[নাস্তিক]] পাউলো বিটেনকোর্ট, যিনি 'লিবারেটেড ফ্রম রিলিজিয়ন' এবং 'ওয়েস্টিং টাইম অন গড' বইগুলো লিখেছেন। [https://www.quora.com/Did-Carl-Sagan-say-I-dont-want-to-believe-I-want-to-know/answer/Alex-Thompson-7] [https://www.google.co.uk/books/edition/Wasting_Time_on_God/yPd7EAAAQBAJ?gbpv=1]
* '''"একটি বিলম্বিত গেম শেষ পর্যন্ত ভালো হতে পারে, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে বানানো গেম চিরকালই খারাপ থেকে যায়।"'''
** এটি সাধারণত [[:w:Shigeru Miyamoto|শিগেরু মিয়ামোতোর]] উক্তি হিসেবে মনে করা হয়, তবে তিনি এই হুবহু শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন বা তিনিই এই উক্তির জনক— এমন কোনো প্রমাণ নেই। ১৯৯৭ সালের 'গেমপ্রো' ম্যাগাজিনে অনুরূপ একটি উক্তি দেখা গিয়েছিল, তবে সেখানে এটিকে গেমিং ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রচলিত প্রবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
{{misattributed end}}
== সাধারণভাবে ভুল উদ্ধৃত করা হয় এমন ==
=== ব্যক্তি ===
{{refimprove|section}}
যেহেতু তাঁরা সুপরিচিত বুদ্ধিমান, নায়ক বা খলনায়ক হিসেবে পরিচিত, তাই কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এমন সব উক্তির কৃতিত্ব দেওয়া হয় যা তাঁরা আসলে বাস্তবে কখনোই বলেননি। যাদের নামে সবচেয়ে বেশি ভুল উক্তি প্রচলিত, তারা হলেন:
* যোগী বেরা
* [[অটো ফন বিসমার্ক]]
* আলবেয়ার কামু
* [[জর্জ কার্লিন]]
* [[উইনস্টন চার্চিল]]
* [[কনফুসিয়াস]]
* [[আলবার্ট আইনস্টাইন]]<ref name="bt">{{Cite web |url=https://bigthink.com/high-culture/how-viral-misquotes-evolve-and-replicate/ |title=আইনস্টাইন এটি বলেননি: যেভাবে ভাইরাল ভুল উদ্ধৃতিগুলো বিবর্তিত এবং প্রতিলিপি হয় |date=২০২৪-১০-২৮ |accessdate=২০২৪-১১-০২ |publisher={{w|বিগ থিঙ্ক}} |last=ডিকিনসন |first=কেভিন}}</ref>
* বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন
* [[বিল গেটস]]
* স্যামুয়েল গোল্ডউইন
* [[অ্যাডলফ হিটলার]]
* [[ব্রুস লি]]
* আব্রাহাম লিঙ্কন
* [[নেপোলিয়ন বোনাপার্ট]]
* ডোরোথি পার্কার
* ড্যান কোয়েল
* [[কার্ল সেগান]] [https://www.quora.com/Did-Carl-Sagan-say-I-dont-want-to-believe-I-want-to-know/answer/Alex-Thompson-7]
* [[উইলিয়াম শেকসপিয়র]]
* [[জর্জ বার্নার্ড শ]]
* জোসেফ স্ট্যালিন
* জন স্টেইনবেক
* সান জু
* হেনরি ডেভিড থোরো [http://www.walden.org/Library/Quotations/The_Henry_D._Thoreau_Mis-Quotation_Page]
* [[মার্ক টোয়েন]]
* কার্ট ভনেগাট
* [[অস্কার ওয়াইল্ড]]
{{misattributed end}}
== তথ্যসূত্র ==
<references />
[[বিষয়শ্রেণী:উক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভ্রান্ত উক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:বিষয়বস্তু]]
ewa4c2ok6k0vu3do7mvn33lvlfsf35h
উইকিউক্তি আলোচনা:উক্তি প্রতিযোগিতা ২০২৬/অংশগ্রহণকারী
5
13153
83215
79723
2026-05-01T13:17:55Z
রাইয়ান মাহফুজ
5278
/* জন্মভূমি */ নতুন অনুচ্ছেদ
83215
wikitext
text/x-wiki
== রাউটার ==
রাউটার শব্দটি এসেছে রাউট থেকে, রাউটার একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র, যা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সম্বন্ধে তৈরি, এটি নেটওয়ার্ক তৈরীর কাজে ব্যবহৃত করা হয় ইন্টারনেট অসংখ্য নেটওয়ার্কের সম্বন্ধে তৈরি একই প্রটোকলের অধীনে কার্যরত দুটি নেটওয়ার্কের সংযুক্ত করার জন্য রাউটার ব্যবহৃত হয় বর্তমানে ইন্টারনেট অসংখ্য রাউটার রয়েছে, রাউটারের প্রধান কাজ ডাটা বা উপাত্তাকে শপথ নির্দেশনা দেওয়া, ধর অস্ট্রেলিয়া অবস্থিত কোন বন্ধুকে ইমেইলের মাধ্যমে কেউ ছবি পাঠাতে চায় ছবিটি কয়েকটি ডাটা বিভক্ত হয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বন্ধুর কম্পিউটার পৌঁছাবে প্রতিটি ডাটা প্যাকেট গন্তব্য স্থলের ঠিকানা সংযুক্ত থাকে, ইন্টারনেট যেহেতু জলের মতো গোটা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত তাই বিভিন্ন ডেটা ব্রেকেট বিভিন্ন পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, একটি ডাটা প্যাকেট কোন একটি রাউটারে পৌঁছালে পরবর্তী কোনো প্রতি অগ্রসর হলে ডাটা সহজে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাবে তার পথ নির্দেশ রাউটার, একটি উদাহরণ দিলে বিষয় আরো স্পষ্ট মনে হবে, মনে কর তুমি বাংলাদেশ থেকে বিমান করে এমন একটি দেশে যেতে চাও যেখানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বিমানে যাওয়া যায় না, তখন কি হবে বিমান কোম্পানি প্রথমে তোমাকে তোমাকে সুবিধে জন্য গন্তব্যে নিয়ে যাবে যেখান থেকে অন্য আরেকটি বিমান তোমার কাঙ্খিত দেশটিতে পৌঁছাতে দেবে কি বুঝা গেল রাউটারের কাজের ধরন [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ০২:০১, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== টপোলজি ==
তোমরা সবাই জেনে গেছ কম্পিউটার নেটওয়ার্কের অনেকগুলো কম্পিউটার একসাথে জুড়ে দেওয়া হয় যেন একটি কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পারে জুড়ে দেওয়া কম্পিউটার গুলোর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নিম্নলিখিত ভাবে ভাগ করা যায় যেমন: পিএএন পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক, এলএএন লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক,,এম এ এন মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক,ডব্লিউ এ এন ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক,,,,,,,{{{{{{{{{{{*---*--***** ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে নেটওয়ার্ক মূলত এর মাধ্যমে তৈরি করা হয় তাকে পিএএন বলা হয় অর্থাৎ পার্সোনাল নেটওয়ার্ক বিষয়টি ভালো লাগলে ভালো মাপ নিবেন [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ০২:০৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== বাংলাদেশ ভারত এর মধ্যে কূটনীতি দূর করতে চাই । ==
নাম=আকাশ দেবনাথ
জেলা= সুনামগঞ্জ
বিভাগ=সিলেট
নিজের বাবার জমি নিয়ে স্যমেসা কারনে মধ্যনগর থানায় মামলা করে পরিবার নিয়ে ময়মনসিংহ স্কয়ার মাস্টার বাড়ি ডুবালিয়া বাস করি।
বিষয়=2024 সাল এর পর থেকে বাংলাদেশ ভারত এর মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো ভেঙে আবার ভারত বাংলাদেশ একত্রিত করতে চাই।
কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সহ ভাল্লুকা থানা পুলিশ OSI সহ গোপনীয়ভাবে আমাকে হেল্প করে তাহলে এক,দুই মাসের ভিতর ভারত বাংলাদেশ মধ্যে শান্তি ফিরে আনা সম্ভব।
কারণ আমার সামনে4/5টা কাটা আছে। ওই কাঁটাগুলো ভেঙে দিলেই দেশ বিশ্বের শান্তি ফিরে আসবে✊
01320484499 ইমু whatsapp এ যোগাযোগ করতে পারেন গোপনীয় রাকবেন।
আগে হয়তো জানতাম না উইকিপিডিয়া কি উপকারে আসে। you tube এ চার্জ দেওয়ার পর বুঝতে পারলাম আসল তথ্য। [[বিশেষ:অবদান/~2026-21458-48|~2026-21458-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-21458-48|আলাপ]]) ১২:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== জন্মভূমি ==
জন্মভূমি চলবি আমার প্রাণের ভাই, আপন ভাই তুই হলে আমার আপন ভাই তোকে ছাড়া ছিল না একদিন [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ১৩:১৭, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
8pt3xnkjszik103ph963pf5ymn5g7qy
83216
83215
2026-05-01T13:19:39Z
রাইয়ান মাহফুজ
5278
/* উইকি উক্তি */ নতুন অনুচ্ছেদ
83216
wikitext
text/x-wiki
== রাউটার ==
রাউটার শব্দটি এসেছে রাউট থেকে, রাউটার একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র, যা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সম্বন্ধে তৈরি, এটি নেটওয়ার্ক তৈরীর কাজে ব্যবহৃত করা হয় ইন্টারনেট অসংখ্য নেটওয়ার্কের সম্বন্ধে তৈরি একই প্রটোকলের অধীনে কার্যরত দুটি নেটওয়ার্কের সংযুক্ত করার জন্য রাউটার ব্যবহৃত হয় বর্তমানে ইন্টারনেট অসংখ্য রাউটার রয়েছে, রাউটারের প্রধান কাজ ডাটা বা উপাত্তাকে শপথ নির্দেশনা দেওয়া, ধর অস্ট্রেলিয়া অবস্থিত কোন বন্ধুকে ইমেইলের মাধ্যমে কেউ ছবি পাঠাতে চায় ছবিটি কয়েকটি ডাটা বিভক্ত হয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বন্ধুর কম্পিউটার পৌঁছাবে প্রতিটি ডাটা প্যাকেট গন্তব্য স্থলের ঠিকানা সংযুক্ত থাকে, ইন্টারনেট যেহেতু জলের মতো গোটা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত তাই বিভিন্ন ডেটা ব্রেকেট বিভিন্ন পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, একটি ডাটা প্যাকেট কোন একটি রাউটারে পৌঁছালে পরবর্তী কোনো প্রতি অগ্রসর হলে ডাটা সহজে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাবে তার পথ নির্দেশ রাউটার, একটি উদাহরণ দিলে বিষয় আরো স্পষ্ট মনে হবে, মনে কর তুমি বাংলাদেশ থেকে বিমান করে এমন একটি দেশে যেতে চাও যেখানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বিমানে যাওয়া যায় না, তখন কি হবে বিমান কোম্পানি প্রথমে তোমাকে তোমাকে সুবিধে জন্য গন্তব্যে নিয়ে যাবে যেখান থেকে অন্য আরেকটি বিমান তোমার কাঙ্খিত দেশটিতে পৌঁছাতে দেবে কি বুঝা গেল রাউটারের কাজের ধরন [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ০২:০১, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== টপোলজি ==
তোমরা সবাই জেনে গেছ কম্পিউটার নেটওয়ার্কের অনেকগুলো কম্পিউটার একসাথে জুড়ে দেওয়া হয় যেন একটি কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পারে জুড়ে দেওয়া কম্পিউটার গুলোর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নিম্নলিখিত ভাবে ভাগ করা যায় যেমন: পিএএন পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক, এলএএন লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক,,এম এ এন মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক,ডব্লিউ এ এন ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক,,,,,,,{{{{{{{{{{{*---*--***** ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে নেটওয়ার্ক মূলত এর মাধ্যমে তৈরি করা হয় তাকে পিএএন বলা হয় অর্থাৎ পার্সোনাল নেটওয়ার্ক বিষয়টি ভালো লাগলে ভালো মাপ নিবেন [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ০২:০৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== বাংলাদেশ ভারত এর মধ্যে কূটনীতি দূর করতে চাই । ==
নাম=আকাশ দেবনাথ
জেলা= সুনামগঞ্জ
বিভাগ=সিলেট
নিজের বাবার জমি নিয়ে স্যমেসা কারনে মধ্যনগর থানায় মামলা করে পরিবার নিয়ে ময়মনসিংহ স্কয়ার মাস্টার বাড়ি ডুবালিয়া বাস করি।
বিষয়=2024 সাল এর পর থেকে বাংলাদেশ ভারত এর মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো ভেঙে আবার ভারত বাংলাদেশ একত্রিত করতে চাই।
কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সহ ভাল্লুকা থানা পুলিশ OSI সহ গোপনীয়ভাবে আমাকে হেল্প করে তাহলে এক,দুই মাসের ভিতর ভারত বাংলাদেশ মধ্যে শান্তি ফিরে আনা সম্ভব।
কারণ আমার সামনে4/5টা কাটা আছে। ওই কাঁটাগুলো ভেঙে দিলেই দেশ বিশ্বের শান্তি ফিরে আসবে✊
01320484499 ইমু whatsapp এ যোগাযোগ করতে পারেন গোপনীয় রাকবেন।
আগে হয়তো জানতাম না উইকিপিডিয়া কি উপকারে আসে। you tube এ চার্জ দেওয়ার পর বুঝতে পারলাম আসল তথ্য। [[বিশেষ:অবদান/~2026-21458-48|~2026-21458-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-21458-48|আলাপ]]) ১২:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== জন্মভূমি ==
জন্মভূমি চলবি আমার প্রাণের ভাই, আপন ভাই তুই হলে আমার আপন ভাই তোকে ছাড়া ছিল না একদিন [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ১৩:১৭, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== উইকি উক্তি ==
উইকি উক্তি হলো একটি পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম, এটি পড়ার এবং শিক্ষনীয় অনেক কিছুর জন্য ভালো একটি ওয়েবসাইট ওয়েবসাইট, থেকে অনেক কিছু শিখা যায় সেটি অনেক কাজে আসে, উক্তিতে পরীক্ষা দিলে পরীক্ষার সব বই দূর হয়ে যায়,, এবং মানুষ আগ্রহে পড়ে যায় [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ১৩:১৯, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
gdec33mxaiplnp74gxkjoov315z9nt8
83217
83216
2026-05-01T13:21:47Z
রাইয়ান মাহফুজ
5278
/* উইকি উক্তি */ নতুন অনুচ্ছেদ
83217
wikitext
text/x-wiki
== রাউটার ==
রাউটার শব্দটি এসেছে রাউট থেকে, রাউটার একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র, যা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সম্বন্ধে তৈরি, এটি নেটওয়ার্ক তৈরীর কাজে ব্যবহৃত করা হয় ইন্টারনেট অসংখ্য নেটওয়ার্কের সম্বন্ধে তৈরি একই প্রটোকলের অধীনে কার্যরত দুটি নেটওয়ার্কের সংযুক্ত করার জন্য রাউটার ব্যবহৃত হয় বর্তমানে ইন্টারনেট অসংখ্য রাউটার রয়েছে, রাউটারের প্রধান কাজ ডাটা বা উপাত্তাকে শপথ নির্দেশনা দেওয়া, ধর অস্ট্রেলিয়া অবস্থিত কোন বন্ধুকে ইমেইলের মাধ্যমে কেউ ছবি পাঠাতে চায় ছবিটি কয়েকটি ডাটা বিভক্ত হয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বন্ধুর কম্পিউটার পৌঁছাবে প্রতিটি ডাটা প্যাকেট গন্তব্য স্থলের ঠিকানা সংযুক্ত থাকে, ইন্টারনেট যেহেতু জলের মতো গোটা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত তাই বিভিন্ন ডেটা ব্রেকেট বিভিন্ন পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, একটি ডাটা প্যাকেট কোন একটি রাউটারে পৌঁছালে পরবর্তী কোনো প্রতি অগ্রসর হলে ডাটা সহজে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাবে তার পথ নির্দেশ রাউটার, একটি উদাহরণ দিলে বিষয় আরো স্পষ্ট মনে হবে, মনে কর তুমি বাংলাদেশ থেকে বিমান করে এমন একটি দেশে যেতে চাও যেখানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বিমানে যাওয়া যায় না, তখন কি হবে বিমান কোম্পানি প্রথমে তোমাকে তোমাকে সুবিধে জন্য গন্তব্যে নিয়ে যাবে যেখান থেকে অন্য আরেকটি বিমান তোমার কাঙ্খিত দেশটিতে পৌঁছাতে দেবে কি বুঝা গেল রাউটারের কাজের ধরন [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ০২:০১, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== টপোলজি ==
তোমরা সবাই জেনে গেছ কম্পিউটার নেটওয়ার্কের অনেকগুলো কম্পিউটার একসাথে জুড়ে দেওয়া হয় যেন একটি কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পারে জুড়ে দেওয়া কম্পিউটার গুলোর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নিম্নলিখিত ভাবে ভাগ করা যায় যেমন: পিএএন পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক, এলএএন লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক,,এম এ এন মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক,ডব্লিউ এ এন ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক,,,,,,,{{{{{{{{{{{*---*--***** ব্যক্তিগত পর্যায়ে যে নেটওয়ার্ক মূলত এর মাধ্যমে তৈরি করা হয় তাকে পিএএন বলা হয় অর্থাৎ পার্সোনাল নেটওয়ার্ক বিষয়টি ভালো লাগলে ভালো মাপ নিবেন [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ০২:০৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== বাংলাদেশ ভারত এর মধ্যে কূটনীতি দূর করতে চাই । ==
নাম=আকাশ দেবনাথ
জেলা= সুনামগঞ্জ
বিভাগ=সিলেট
নিজের বাবার জমি নিয়ে স্যমেসা কারনে মধ্যনগর থানায় মামলা করে পরিবার নিয়ে ময়মনসিংহ স্কয়ার মাস্টার বাড়ি ডুবালিয়া বাস করি।
বিষয়=2024 সাল এর পর থেকে বাংলাদেশ ভারত এর মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো ভেঙে আবার ভারত বাংলাদেশ একত্রিত করতে চাই।
কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সহ ভাল্লুকা থানা পুলিশ OSI সহ গোপনীয়ভাবে আমাকে হেল্প করে তাহলে এক,দুই মাসের ভিতর ভারত বাংলাদেশ মধ্যে শান্তি ফিরে আনা সম্ভব।
কারণ আমার সামনে4/5টা কাটা আছে। ওই কাঁটাগুলো ভেঙে দিলেই দেশ বিশ্বের শান্তি ফিরে আসবে✊
01320484499 ইমু whatsapp এ যোগাযোগ করতে পারেন গোপনীয় রাকবেন।
আগে হয়তো জানতাম না উইকিপিডিয়া কি উপকারে আসে। you tube এ চার্জ দেওয়ার পর বুঝতে পারলাম আসল তথ্য। [[বিশেষ:অবদান/~2026-21458-48|~2026-21458-48]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:~2026-21458-48|আলাপ]]) ১২:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)
== জন্মভূমি ==
জন্মভূমি চলবি আমার প্রাণের ভাই, আপন ভাই তুই হলে আমার আপন ভাই তোকে ছাড়া ছিল না একদিন [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ১৩:১৭, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== উইকি উক্তি ==
উইকি উক্তি হলো একটি পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম, এটি পড়ার এবং শিক্ষনীয় অনেক কিছুর জন্য ভালো একটি ওয়েবসাইট ওয়েবসাইট, থেকে অনেক কিছু শিখা যায় সেটি অনেক কাজে আসে, উক্তিতে পরীক্ষা দিলে পরীক্ষার সব বই দূর হয়ে যায়,, এবং মানুষ আগ্রহে পড়ে যায় [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ১৩:১৯, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
== উইকি উক্তি ==
উইকি উক্তি এবং উইকি পিডিয়া ভালো একটি পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম এবং সাইকোলজি সাইন্স আর মূলক প্ল্যাটফর্ম [[ব্যবহারকারী:রাইয়ান মাহফুজ|রাইয়ান মাহফুজ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:রাইয়ান মাহফুজ|আলাপ]]) ১৩:২১, ১ মে ২০২৬ (ইউটিসি)
b0x6t1vi8qczkm0b9oxb63a4e4lzrds
টনি বেন
0
13284
83230
80754
2026-05-01T14:13:36Z
SMontaha32
3112
83230
wikitext
text/x-wiki
[[File:Tony Benn2.jpg|thumb|right|আমি মনে করি গণতন্ত্র বিশ্বের সবচেয়ে বিপ্লবী একটি বিষয়।]]
[[File:Glastonbury 2008 126.JPG|thumb|right|একটি স্টিলথ বোমারু বিমান এবং একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর মধ্যে কোনো নৈতিক পার্থক্য নেই। উভয়ই রাজনৈতিক কারণে নির্দোষ মানুষকে হত্যা করে।]]
[[File:Tony Benn 2005.jpg|thumb|right|বিশ্বাস হলো এমন কিছু যার জন্য আপনি প্রাণ দিতে পারেন, আর মতবাদ হলো এমন কিছু যার জন্য আপনি হত্যা করেন। এই দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।]]
'''[[w:টনি বেন|অ্যান্থনি নীল ওয়েজউড বেন]]''' (৩ এপ্রিল,১৯২৫ – ১৪ মার্চ, ২০১৪), যিনি ১৯৬০ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত '''ভিসকাউন্ট স্ট্যানসগেট''' নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি একজন ব্রিটিশ লেবার পার্টির রাজনীতিবিদ এবং ডায়েরি লেখক ছিলেন। তিনি ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৫০ থেকে ২০০১ সালের মধ্যবর্তী ৫১ বছরের মধ্যে ৪৭ বছরই [[w:ব্রিস্টল দক্ষিণ পূর্ব (যুক্তরাজ্যের সংসদ নির্বাচনী এলাকা)|ব্রিস্টল সাউথ ইস্ট]] এবং [[w|চেস্টারফিল্ড (যুক্তরাজ্যের সংসদ নির্বাচনী এলাকা) চেস্টারফিল্ড]] এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত [[w:স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন|স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশনের]] প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
== উক্তি ==
=== ১৯৫০ দশক ===
* আমাকে হাউসের সামনে খুব স্পষ্টভাবে বলতে হচ্ছে যে, এই মুহূর্তে আমি যদি কোনো জাপানি নাগরিকের মুখোমুখি হই এবং তাকে বলি যে আমাদের ব্রিটিশ যুদ্ধবন্দীদের সাথে তার দেশের করা আচরণ ভুল ছিল, তবে অ্যাটম বোম বা পারমাণবিক বোমার প্রশ্নে তার কাছ থেকে আসা একই ধরণের সমালোচনা আমাকে গ্রহণ করতেই হবে। আমি তা এড়াতে পারব না। আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি যে, এখানে যে নৈতিক আদর্শের প্রশ্ন জড়িত আমি মনে করি তা এক ধরণের ভণ্ডামি। কারণ হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমায় অসংখ্য নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ প্রাণ হারিয়েছেন। জাপানিদের হাতে আহত ও বিপর্যস্ত একজন ব্রিটিশ যুদ্ধবন্দীর প্রতিটি ছবির বিপরীতে পারমাণবিক বোমার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সমপরিমাণ ভয়াবহ একটি ছবি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। সদস্যদের বাধা। আমার এক মাননীয় বন্ধু বলছেন যে এই দুটি বিষয় তুলনীয় নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না যে যুদ্ধের সময় উভয় পক্ষের নিষ্ঠুরতার মধ্যে কোনো পার্থক্য করা সম্ভব।
** হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১০ মে ১৯৫১)
* উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া উদারনৈতিক আদর্শ থেকে আমি মনে করি যে, সকল মানুষের অবাধ চলাচল একটি ভালো বিষয় এবং এটিকে উৎসাহিত করা উচিত। ... মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক মানুষের একটি জাতীয়তা গ্রহণ করার, তা পরিবর্তন করার এবং নির্বিচারে বা খামখেয়ালিভাবে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত না হওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি বুঝি যে এটি অতটা সহজ নয়, তবে অধিকাংশ সমস্যাই নির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সরকারি দপ্তরের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাবিদদের পক্ষে বোঝা ও পরিমাপ করা সম্ভব হওয়া উচিত। আমি বিশ্বাস করি অভিবাসন বাধাগ্রস্ত হওয়ার মূল কারণটি অর্থনৈতিক। ... এখানে যে অবস্থা, তার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বজনীন প্রবেশের আদর্শের প্রতিফলন অনেক বেশি। আমার মনে হয় এ থেকে আমরা কিছু শিখতে পারি। ... আমরা যদি এই ধারার ওপর ভিত্তি করে কোনো অভিবাসন নীতি তৈরি করতে পারি, তবে সেটি বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষের মধ্যে বোঝাপড়ার জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করবে।
** হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (২৬ জুলাই ১৯৫১)
* তারারা মাত্র ফুটেছে এবং জনতা হাসাহাসি ও কৌতুক করছে, কিন্তু এই সবকিছুর গভীরে লুকিয়ে ছিল গ্যাস চেম্বারে ৬ মিলিয়ন (৬০ লক্ষ) মানুষের মৃত্যুর ট্র্যাজেডি এবং ১৯০০ বছরের হত্যাযজ্ঞ ও বন্দিদশার পর ইহুদিদের জন্য একটি নিজস্ব বাসভূমি পাওয়ার অলৌকিক ঘটনা।
** ১৯৫৬ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ভ্রমণের বিবরণ থেকে। আশার বছর: ডায়েরি, চিঠি এবং কাগজপত্র ১৯৪০-৬২
* (বিরোধী দল) সাম্রাজ্যের স্বপ্নের বিরোধিতা করি। কারণ আমরা মুক্ত সঙ্ঘের কথা ভাবি এবং আমরা বিশ্বাস করি যে সাম্রাজ্যটি গড়ে তোলা হয়েছিল এই দেশের শক্তি ও আধিপত্যের ওপর ভিত্তি করে।
** হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬)
* এই হাউসে ইসরায়েলের আমার চেয়ে বড় কোনো বন্ধু হতে পারে না। আমি এটি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে বলছি। আমি বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি যদি কখনও এর পক্ষে জোরালো যুক্তি থাকে, তবে তা আজই যেহেতু মিশরে রাশিয়ার যুদ্ধ সরঞ্জামের বিশাল সরবরাহ যাচ্ছে, তাই ইসরায়েলের এখনই আরও অস্ত্র পাওয়া উচিত।
** হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬)
=== ১৯৬০ দশক ===
* [[রোম চুক্তি|রোম চুক্তি]] যা তার দর্শন হিসেবে 'অবাধ নীতি' বা ‘ল্যাসেজ-ফেয়ার’কে প্রতিষ্ঠিত করে এবং প্রশাসনিক পদ্ধতি হিসেবে আমলাতন্ত্রকে বেছে নেয়, তা গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় অতি-রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ব্যবস্থা তৈরি না করেই কার্যকর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করবে। ... ইইসির রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা মূলত ন্যাটোর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ওপর বিশ্বাসেরই নামান্তর, যা ইউরোপের বিভাজনকে আরও দৃঢ় করবে এবং একটি নতুন পারমাণবিক মহাশক্তির উত্থানকে উৎসাহিত করবে। ফলস্বরূপ এটি পূর্ব-পশ্চিম সম্পর্ককে আরও খারাপ করবে এবং নিরস্ত্রীকরণকে আরও কঠিন করে তুলবে।
* সবদিক বিবেচনা করলে, ব্রিটেন যদি ইইসি-র ভেতরে থাকে তবে বিশ্বজুড়ে তার যে প্রভাব থাকবে, বাইরে থাকলে তার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব রাখা সম্ভব।
** ''এনকাউন্টার'' (জানুয়ারি ১৯৬৩)। উদ্ধৃত: 'বেস্ট অফ বেন: স্পিচেস, ডায়েরিজ, লেটার্স অ্যান্ড আদার রাইটিংস' (২০১৫)
* এমনকি নির্বাচিত ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অপেক্ষাকৃত নমনীয় এবং সাময়িক একনায়কতন্ত্রকেও চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে। আমরা দ্রুত এমন একটি পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার পুনর্বণ্টনের চাপকে একটি প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে মোকাবিলা করতে হবে। এমন এক বিশ্বে যেখানে বাম বা ডানপন্থী একনায়কতন্ত্র একটি বাস্তব সম্ভাবনা, সেখানে সাধারণ মানুষ সম্মতির ভিত্তিতে নিজেদের শাসন করতে পারে কি না সেই প্রশ্নটি এখনও পরীক্ষার সম্মুখীন যেমনটি এটি সবসময় ছিল এবং থাকবে। আমাদের পরিচিত সংসদীয় গণতন্ত্রের বাইরে, একে প্রতিস্থাপন করার জন্য আমাদের একটি নতুন গণ-গণতন্ত্র খুঁজে বের করতে হবে।
** ওয়েলশ কাউন্সিল অফ লেবারে দেওয়া ভাষণ (২৫ মে ১৯৬৮)। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (২৭ মে ১৯৬৮), পৃ. ২
=== ১৯৭০–১৯৭২ ===
* উলভারহ্যাম্পটনে বর্ণবাদের যে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তা দেখতে ২৫ বছর আগে ডাখাউ এবং [[বারগেন-বেলসেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্প|বেলসেন]] কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের ওপর উড়তে থাকা পতাকার মতোই মনে হচ্ছে।
** ১৯৭০ সালের ৩ জুন লন্ডনের মেথডিস্ট সেন্ট্রাল হলে এক সমাবেশে উলভারহ্যাম্পটন সাউথ ওয়েস্টের এমপি [[ইনোক পাওয়েল|ইনোক পাওয়েলকে]] উদ্দেশ্য করে দেওয়া ভাষণ।
* নিচ থেকে পরিবর্তন, অর্থাৎ অগ্রহণযোগ্য অন্যায় নিরসনে জনগণের দাবির সূত্রপাত এবং সরাসরি অ্যাকশন দ্বারা তার সমর্থন। অধিকাংশ সাংবিধানিক আইনজীবী, রাজনৈতিক ভাষ্যকার, ঐতিহাসিক বা রাষ্ট্রনায়ক যা স্বীকার করতে চান তার চেয়ে ব্রিটিশ গণতন্ত্র গঠনে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সরাসরি অ্যাকশন মূলত একটি শিক্ষামূলক অনুশীলন।
** ‘নিউ পলিটিক্স’ (১৯৭০) থেকে।
* শিল্পক্ষেত্রে আরও বেশি জনশক্তির ক্ষমতার দাবি জোরালো হচ্ছে এবং শিল্প গণতন্ত্রের চাপ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনো এক সময়ে একটি বড় পরিবর্তন অনিবার্য। এখানে যা ঘটছে তা কেবল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ম্যানেজমেন্টের কাছে পরামর্শের জন্য বিনীত অনুরোধ নয়। শ্রমিকদের কেবল গুটিকয় শেয়ার দিয়ে বা জার্মান কো-ডিটারমিনেশন পদ্ধতির কার্বন কপি দিয়ে শান্ত করা যাবে না। এই প্রচারণা ধীরে ধীরে প্রকৃত শ্রমিক নিয়ন্ত্রণের দাবিতে রূপ নিচ্ছে। এই শব্দগুচ্ছটি শুনতে যতই বৈপ্লবিক মনে হোক বা এটি ট্রটস্কিবাদী ভয় জাগিয়ে তুলুক না কেন এটাই এখনকার দাবি এবং এ নিয়ে আমাদের ভাবতে শুরু করাই ভালো।
** ‘টুওয়ার্ডস ওয়ার্কার্স কন্ট্রোল’, ''দ্য টাইমস'' (৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭০), পৃ. ১২
* শ্রমিকদের এখন একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতার মাধ্যমে ব্যবস্থার ওপর বিশাল নেতিবাচক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ আছে। শ্রমিক নিয়ন্ত্রণ যার মানে হলো তাদের নিজস্ব কাজ পরিকল্পনা করার ক্ষমতা এবং সরাসরি প্ল্যান্ট ম্যানেজমেন্টকে নিয়োগ বা বরখাস্ত করার ক্ষমতা (ঠিক যেভাবে ভোটাররা এমপিদের নিয়োগ বা বরখাস্ত করেন) বিদ্যমান সেই নেতিবাচক ক্ষমতাকে ইতিবাচক এবং গঠনমূলক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটি স্থানীয় ম্যানেজারদের সাথে অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তি তৈরি করে, যারা ব্যবসাকে সফল করতে এবং উপরিকাঠামোর অতি-কেন্দ্রীভূত আমলাতান্ত্রিক বোর্ড থেকে কর্তৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণের জন্য লড়াই করছেন।
** ‘টুওয়ার্ডস ওয়ার্কার্স কন্ট্রোল’, ''দ্য টাইমস'' (৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭০), পৃ. ১২
* আমরা চাই শিল্প খাত পাবলিক সেক্টরের অধীনে থাকুক, যাতে আমাদের সমাজের ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন করা যায়... সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের এমন কোনো বড় ক্ষেত্র আমরা এখনও তৈরি করতে পারিনি যা যথাযথভাবে শ্রমিকদের নিজেদের আওতায় আনা উচিত।
** ব্রাইটন ভাষণ (৬ অক্টোবর ১৯৭১)
* তারা এমন মানুষ যারা তাদের সহকর্মী শ্রমিকদের প্রতি কর্তব্য এবং নিজেদের আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার চেয়ে জেলখানায় যাওয়াকে শ্রেয় মনে করেন।
** আদালত অবমাননার দায়ে কারারুদ্ধ পাঁচজন ডকার সম্পর্কে দেওয়া বিবৃতি (২১ জুলাই ১৯৭২)।
* ব্রিটিশ গণতন্ত্রের প্রথম নীতি হলো একে অপরের প্রতি এবং আমাদের বিবেক যা সঠিক বলে মনে করে তার প্রতি আমাদের প্রধান কর্তব্য পালন করা। এটি যদি ব্যক্তিদের আইনের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত করে, তবে সেই ব্যক্তিদের অহিংসভাবে পরিণতি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের গণতন্ত্রে কোনো মানুষের উচিত নয় অন্যকে আইন ভাঙতে বলা, কিংবা পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে আইন ভঙ্গ করা। কিন্তু একজন ব্যক্তি যিনি একটি অন্যায় আইন ভাঙার জন্য শাস্তি পান, তিনি যদি আন্তরিক হন এবং তার উদ্দেশ্য জন সহানুভূতি পায়, তবে তিনি পার্লামেন্টের মাধ্যমে সেই অন্যায় আইন পরিবর্তনের জন্য গণদাবি তৈরি করতে পারেন। এটি ব্রিটিশ গণতন্ত্রের প্রথম এবং সবচেয়ে মৌলিক নীতি। এর একটি গভীর নৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। আমাদের ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত।
** ব্রিস্টল ভাষণ (৪ আগস্ট ১৯৭২)। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (৫ আগস্ট ১৯৭২), পৃ. ২
* ব্রিটিশ গণতন্ত্রের তৃতীয় নীতি ছিল জাতীয় সার্বভৌমত্ব জনগণের। আমরা এটি আমাদের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য ব্যবহারের জন্য ধার দিই। ... জনগণের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া এই সার্বভৌম ক্ষমতা অন্যকে দিয়ে দেওয়ার ভান করে এমন কোনো সরকার বা এমপি অসাংবিধানিক কাজ করছেন। যে আইনগুলো স্থায়ীভাবে এই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার ভান করে, সেগুলোর কোনো নৈতিক কর্তৃত্ব নেই। ... হীথ সরকার ব্যর্থ হবে কারণ তারা শত শত বছরের ব্রিটিশ ঐতিহ্যের বিপরীতে কাজ করার চেষ্টা করছে। জনগণ তা মেনে নেবে না। তবে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠছে তা কোনো অর্থেই বৈপ্লবিক নয়।
** ব্রিস্টল ভাষণ (৪ আগস্ট ১৯৭২)। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (৫ আগস্ট ১৯৭২), পৃ. ২
* ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একমাত্র উপনিবেশ হলো স্বয়ং ব্রিটেন এবং এখন নিজেদের মুক্ত করা আমাদের নিজেদের ওপরই নির্ভর করছে।
** ব্ল্যাকপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া ভাষণ (২ অক্টোবর ১৯৭২)।
* আমি মাঝে মাঝে ইচ্ছা করি যে গণমাধ্যমে কাজ করা ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীরা যারা লেখক, সম্প্রচারক, সেক্রেটারি, মুদ্রাকর এবং লিফট অপারেটর। তারা যদি মনে রাখতেন যে তারাও আমাদের শ্রমজীবী আন্দোলনের সদস্য এবং আমাদের সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে তা যেন সত্য হয়, তা দেখার দায়িত্ব তাদেরও।
** ব্ল্যাকপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে সভাপতির সমাপনী ভাষণ (৬ অক্টোবর ১৯৭২)।
=== ১৯৭৩–১৯৭৪ ===
* কনজারভেটিভদের ১৯৭২ সালের শিল্প আইনে বেসরকারি শিল্পের ওপর ব্যবহারের জন্য সরকারি নিয়ন্ত্রণের এমন এক ব্যাপক অস্ত্রাগার জড়ো করা হয়েছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এটি গত লেবার সরকারের প্রয়োজনীয় মনে করা ক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি... ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সম্পদের যে মৌলিক ও অপরিবর্তনীয় রূপান্তর ঘটা প্রয়োজন, তার পথ প্রশস্ত করার ক্ষেত্রে হিথ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন... বাজার ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে চলা মিশ্র অর্থনীতির সম্পূর্ণ ধরণটি এই নিঃশব্দ বিপ্লবের মাধ্যমে এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যা এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করা যায়নি।
** ‘হিথ’স স্পেডওয়ার্ক ফর সোশ্যালিজম’, ''দ্য সানডে টাইমস'' (২৫ মার্চ ১৯৭৩), পৃ. ৬১
* ১৯৭৩ সালের লেবার কনফারেন্সে ১৯৪৫ সালের পর পার্টির তৈরি করা সবচেয়ে আমূল কর্মসূচি উপস্থাপন করা হবে।
** ‘মোর ইকুয়ালিটি অ্যান্ড মোর ডেমোক্রেসি’, ''দ্য টাইমস'' (১ অক্টোবর ১৯৭৩), পৃ. ১৬
* এই বেতন নীতির মূল উদ্দেশ্য মুদ্রাস্ফীতি ঠেকানো নয়, বরং মজুরি কমিয়ে রাখা। মুক্ত ট্রেড ইউনিয়নের দর কষাকষির ক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য মুদ্রাস্ফীতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
** হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (৭ নভেম্বর ১৯৭৩)
* ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিয়নের ওপর জরিমানা এবং ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়নের ওপর যে ভারী ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হতে পারে, তা অর্থনৈতিক নীতির প্রশ্নকেও ছাড়িয়ে যায় এবং মুক্ত ট্রেড ইউনিয়নবাদের মূলে আঘাত করে। আইনের প্রতি বিবেকপ্রসূত আপত্তি কোনো অপরাধমূলক কাজ নয়। এটি সরাসরি শিল্প শক্তি ব্যবহার করে নির্বাচন ছাড়াই সরকারকে উল্টে দেওয়া এবং নতুন সরকার গঠন করার মতো বিষয় নয়।
** সমারসেটের ওয়েলসে দেওয়া ভাষণ (২৩ নভেম্বর ১৯৭৩)। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (২৪ নভেম্বর ১৯৭৩), পৃ. ২
* এটি এমন কিছু ক্ষমতা গ্রহণ করছে যা স্থায়ী। এটি কোনো সাময়িক বিধান নয় এবং এটি সকল ধরণের জ্বালানিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমি এই বিলটিকে স্বাগত জানাই কারণ এটি একটি লেবার সরকারকে ব্রিটেনের জন্য লেবারদের কর্মসূচির অধীনে যা যা করতে চায় তার সবটুকুই করার সুযোগ দেবে... এটি আমাদের সমস্ত তেল কোম্পানি এবং সমস্ত বহুজাতিক কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করার, তাদের দাম এবং বন্টন ব্যবস্থা নির্ধারণ করার ক্ষমতা দেবে এবং এই ক্ষমতার অধীনে রাসায়নিক শিল্পসহ অন্য প্রতিটি জ্বালানি ও তার ব্যবহার তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসবে। এর মধ্যে সড়ক পরিবহন এবং ব্যক্তিগত পরিবহনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
** কনজারভেটিভদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ (নিয়ন্ত্রণ) বিলের ওপর হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (২৬ নভেম্বর ১৯৭৩)
* এডওয়ার্ড হিথ যিনি ব্রিটেনের স্বার্থকে কমন মার্কেটের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং আমাদের সম্মতি ছাড়াই আমাদের সার্বভৌমত্ব বিলিয়ে দিয়েছেন মিস্টার থর্প এবং লিবারেলদের সমর্থনে তিনি নিজেকে এই জট থেকে বাঁচাতে ইউনিয়ন জ্যাক (ব্রিটিশ পতাকা) ওড়ানোর অধিকার রাখেন না।
** ব্রিস্টল ভাষণ (৩০ নভেম্বর ১৯৭৩)। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (১ ডিসেম্বর ১৯৭৩), পৃ. ১-২
* সামনের সময়ের জন্য আমাদের শিল্প কৌশল তৈরি করতে গিয়ে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। প্রায় সবকিছুই অন্তত একবার করে চেষ্টা করা হয়েছে... এই দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতিটি নীতির একটি ধ্রুবক উপাদান ছিল যে, এই বিকল্পগুলো মূলত কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত ও চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোকে রাজনীতি ও সম্মতির সমস্যার চেয়ে অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনার সমস্যা হিসেবে দেখা হয়েছে... যেকোনো গঠনমূলক দীর্ঘমেয়াদী শিল্প কৌশল অবশ্যই প্রকৃত আলোচনা এবং ক্ষমতার অংশীদারিত্বের দীর্ঘ ও ধীর পথে তৈরি করতে হবে, যা আরও খোলামেলাভাবে করা উচিত। এর কোনো বিকল্প নেই।
** হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯৭৪)
* সরকারে আমাদের যা অভাব তা হলো উদ্যোক্তা সুলভ ক্ষমতা।
** লন্ডন ভাষণ (৬ জুন ১৯৭৪)
* ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের এই বিশাল ভবনটি, যা দেখতে ক্রুশ চিহ্নের মতো, সেটি একেবারেই ব্রিটিশ বিরোধী। আমার মনে হচ্ছিল যেন আমি রোমে ক্রীতদাস হিসেবে যাচ্ছি। পুরো সম্পর্কটাই ভুল ছিল। এখানে আমি একজন নির্বাচিত ব্যক্তি যাকে সরিয়ে দেওয়া যায়, কাজ করছি। আর এখানে এই মানুষগুলোর কাছে আমার চেয়ে বেশি ক্ষমতা কিন্তু কারো কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই... আমার সফর বাস্তবিকভাবে আমার সব সন্দেহকেই নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো প্রতিদানমূলক সুবিধা ছাড়াই ব্রিটিশ গণতন্ত্রের শিরচ্ছেদ করবে এবং ব্রিটিশ জনগণ সঙ্গত কারণেই তা মেনে নেবে না। ব্রিটেনের জন্য এর কোনো প্রকৃত সুবিধা নেই।
** ডায়েরি (১৮ জুন ১৯৭৪) উদ্ধৃত: 'এগেইনস্ট দ্য টাইড: ডায়েরিজ ১৯৭৩-১৯৭৬'
* ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের সদস্যপদ অব্যাহত রাখার অর্থ হলো একটি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত জাতি হিসেবে ব্রিটেনের সমাপ্তি এবং যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা হিসেবে আমাদের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত পার্লামেন্টের অবসান।
** ব্রিস্টলবাসীদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠি (২৯ ডিসেম্বর ১৯৭৪)
=== ১৯৭৫ ===
* আমাদের শিল্প ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। টোরি পার্টি যে শিল্প ব্যবস্থার অনুসারী অন্তত আনুষ্ঠানিকভাবে এবং তাদের ইশতেহারে তা আমাদের ব্যর্থ করেছে। ... শ্রমজীবী মানুষ বা ইউনিয়নগুলোকে দোষারোপ করে লাভ নেই যদি তাদের সেকেলে কারখানায়, মান্ধাতা আমলের যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করতে হয় এবং সেই পণ্যের দাম যদি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক না হয়। ব্রিটিশ উৎপাদন শিল্পের দুর্বলতার জন্য শ্রমজীবী মানুষ দায়ী নয়। বরং তাদের এতকাল সেই সুযোগ ও সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি যা দিয়ে তারা এটি ঠিক করতে পারতো। ... আমাদের এখন নতুন করে শুরু করতে হবে। আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব তা করতে হবে। যদি বাজার অর্থনীতি আমাদের সেই বিনিয়োগ দিতে না পারে বা না চায়, তবে আমাদের সরাসরি তা করতে হবে।
** ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিলের দ্বিতীয় পাঠের সময় হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫)
* আমি যদি কোনো শিশুকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচাতাম, তবে জাতীয় সংবাদমাধ্যম নিঃসন্দেহে শিরোনাম করত: "বেন চাইল্ড গ্র্যাবস" (বেন জোর করে শিশুকে ধরলেন)।
** ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিতে করা মন্তব্য (২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫)
* আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের আসল বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছি, কারণ ইতোমধ্যে একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। আইন প্রণেতাদের ওপর ভোটারদের ক্ষমতা চলে গেছে, মন্ত্রীদের ওপর এমপিদের ক্ষমতা চলে গেছে, মন্ত্রীদের ভূমিকাও বদলে গেছে। ইইসি-তে যোগ দেওয়ার আসল কারণটি কখনোই খোলাসা করা হয়নি। তা হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল ইউরোপ তৈরি করা যেখানে আমরা কেবল একটি প্রদেশে পরিণত হব। এটি স্পষ্ট করা হয়নি কারণ মানুষ তা কখনোই গ্রহণ করবে না। আমরা এই মুহূর্তে একটি ফেডারেল এস্কেলেটরে চড়ে আছি যা আমরা কথা বলার সময়ও নড়ছে এবং এমন এক ফেডারেল লক্ষ্যের দিকে যাচ্ছে যেখানে আমরা পৌঁছাতে চাই না। বাস্তবে ব্রিটেন একটি ইউরোপীয় জোট সরকার দ্বারা শাসিত হবে যাকে আমরা পরিবর্তন করতে পারব না এবং যা পুঁজিবাদী বা বাজার অর্থনীতি তত্ত্বের প্রতি নিবেদিত। ইউরোপীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে একটি অযৌক্তিক আশাবাদ এবং যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি ভিত্তিহীন নিরাশা আমাদের গেলানো হচ্ছে যাতে আমরা ভয়ে এটি গ্রহণ করি। [[জেমস ক্যালাগান|জিম]] [[বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন|বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিনের]] উক্তি টেনেছেন, তাই আমিও তা-ই করি: "যে ব্যক্তি সামান্য সাময়িক নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যকীয় স্বাধীনতা বিসর্জন দেয়, সে নিরাপত্তা বা স্বাধীনতা কোনোটিরই যোগ্য নয়।" কমন মার্কেট যুক্তরাজ্যকে ভেঙে ফেলবে কারণ তখন একটি স্বাধীন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো যুক্তি থাকবে না। আমরা তখন যুক্তরাজ্যের ঐক্য এবং ইইসির ঐক্যের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেব... আমি বিশ্বাস করি আমরা স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক স্বায়ত্তশাসন চাই।
** ক্যাবিনেট মিটিংয়ে দেওয়া ভাষণ (১৮ মার্চ ১৯৭৫)। ডায়েরি থেকে সংগৃহীত।
* ব্রিটেন বর্তমানে যে শিল্প সংকটের সম্মুখীন তা যতটা মনে করা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি গভীর। তাই এটি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় জাতীয় শিল্প কৌশলের মাত্রা ও পরিধিও অনেক বড় হওয়া উচিত। ... এটি বাড়িয়ে বলা হবে না যে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে আমাদের উৎপাদন কারখানাগুলোর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য বড় বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করছে, যার লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা। এই বিনিয়োগ কর্মসূচি হবে এক বিশাল ও দীর্ঘ কাজ। এর জন্য উৎপাদন খাতে প্রতি বছর প্রায় ৬,০০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে, যা আমরা বর্তমানে যা খরচ করছি তার দ্বিগুণ।
** ‘ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ আর্টিকেলের অংশবিশেষ। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (৪ এপ্রিল ১৯৭৫), পৃ. ১
* ব্রিটেনের প্রতি, ব্রিটিশ জনগণের প্রতি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার গভীর অবজ্ঞা রয়েছে। তিনি রোম চুক্তির মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন এবং ব্রিটেনকে চিরতরে ব্রাসেলসের শাসনের অধীনে নিয়ে যেতে চাইছেন। ১৯৭০ সালে মিস্টার হিথ পবিত্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি ব্রিটিশ জনগণের পূর্ণ সমর্থন ছাড়া ব্রিটেনকে কমন মার্কেটে নিয়ে যাবেন না। তিনি তখন তার কথা রাখেননি এবং এখন তিনি বলছেন যে তিনি বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে 'না' ভোট গ্রহণ করবেন না। হিথ ইইসি-র ভেতরে আরও কর্মসংস্থান এবং উন্নত জীবনযাত্রার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই সব প্রতিশ্রুতিই ভঙ্গ করা হয়েছে... হিথের নেতৃত্ব ব্রিটিশ জনগণের জন্য এক চরম বিপর্যয় ছিল। টোরি পার্টি তাকে বের করে দিয়েছে।
** ইইসি-বিরোধী সমাবেশে ভাষণ (৩ জুন ১৯৭৫); উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (৪ জুন ১৯৭৫), পৃ. ৬
* আমার মাধ্যমেই পুরো কমন মার্কেটের জ্বালানি নীতি আটকে আছে। পুরনো ক্ষত খুঁচিয়ে তোলা ছাড়াই বলছি, এটি আমাকে সীমাহীন আনন্দ দেয়।
** একটি লেবার সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য ইইসি মিটিংয়ে না যাওয়ার বিষয়ে মন্তব্য (১২ ডিসেম্বর ১৯৭৫)।
=== ১৯৭৬–১৯৭৭ ===
* মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর পরপরই লেখা আমার মতে, তিনি নিঃসন্দেহে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম মহান। যদি মহানতম না হয়,ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য হবেন। একজন স্কুল শিক্ষক যিনি চীনকে বদলে দিয়েছিলেন, গৃহযুদ্ধ ও বৈদেশিক আক্রমণ থেকে দেশটিকে মুক্ত করেছিলেন এবং সেখানে এক নতুন সমাজ গড়ে তুলেছিলেন। সারা বিশ্বে তার প্রভাব ছিল অপরিসীম; আমি মনে করি তার এই প্রভাব কিছুটা ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ছিল ঠিকই, তবে তার বিশাল অর্জনগুলোই ছিল এর মূল ভিত্তি... তার দার্শনিক অবদান এবং সামরিক প্রতিভার বিচারে বিংশ শতাব্দীর অন্য যেকোনো ব্যক্তিত্বের চেয়ে তিনি আমার কাছে অনেক উঁচুতে অবস্থান করেন।
** ডায়েরি (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬)। উদ্ধৃত: 'দ্য বেন ডায়েরিজ ১৯৪০-১৯৯০' (১৯৯৬), পৃ. ৩৬৭
* যখন আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে, তখন আমরা এটি করব। আমি মনে করি হাউস অফ লর্ডসের দিন সত্যিই ঘনিয়ে এসেছে।
** ইনডিপেনডেন্ট রেডিও নিউজ (১২ নভেম্বর ১৯৭৬)। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (১৩ নভেম্বর ১৯৭৬), পৃ. ২
* বিদেশ থেকে আসা যে কেউ আপনাকে বলবে যে শ্রেণী ব্যবস্থাই আসলে আমাদের অর্থনৈতিক ও শিল্প সংক্রান্ত সমস্যার মূলে রয়েছে। হাউস অফ লর্ডস সেই ব্যবস্থারই প্রতীক।
** উদ্ধৃত: ''ইয়র্কশায়ার পোস্ট'' (২২ নভেম্বর ১৯৭৬)
* এটি একটি অনস্বীকার্য ঐতিহাসিক সত্য... যে মার্কসবাদ একদম শুরুর দিন থেকেই আমাদের আন্দোলনের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস হিসেবে লেবার পার্টিতে খোলাখুলিভাবে স্বীকৃত হয়ে আসছে—যদিও এর প্রভাব খ্রিস্টান সমাজতন্ত্র, ফেবিয়ানবাদ, ওয়েনবাদ, ট্রেড ইউনিয়নবাদ বা এমনকি র্যাডিক্যাল লিবারেলিজমের তুলনায় অনেক কম। মার্কসবাদ মানেই কমিউনিজম নয় এবং এটিও সত্য নয় যে লেবার পার্টিতে এমন কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী গড়ে উঠছে যারা সহিংস বিপ্লব, একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার দমনে বিশ্বাসী।
** লেবার পার্টির ন্যাশনাল ইয়ুথ অফিসার হিসেবে নিযুক্ত মার্কসবাদী অ্যান্ডি বেভানের সমর্থনে দেওয়া বিবৃতি। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৬), পৃ. ১৪
* পার্লামেন্ট, সাধারণ মানুষ এবং সংবাদমাধ্যম যদি এখন এই স্পষ্ট ও সহজ সত্যটি গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকে যে ক্যাবিনেট আলোচনাগুলো বেশ চিত্তাকর্ষক, জোরালো এবং মাঝে মাঝে বিকল্প নীতিগুলোকে ঘিরে আবর্তিত হয়। তবে কেন আলোচনারত বিষয়গুলোর একটি রূপরেখা প্রকাশের ক্ষেত্রেও প্রচারের ঝুঁকির বিরুদ্ধে এত কঠোরভাবে এবং অকার্যকরভাবে সুরক্ষা দেওয়া হবে? ... সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা কোনো দুর্ঘটনা বা অবহেলার কারণে ঘটে না। এটি ঘটে কারণ জ্ঞানই শক্তি, আর কোনো সরকারই স্বেচ্ছায় কমন্স সভা, সাধারণ মানুষ বা অন্য কারো কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দেয় না। স্বচ্ছ সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করবে। যার মধ্যে ক্যাবিনেট কমিটির কাজ, সরকারি কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাদের ভূমিকা প্রকাশিত হবে এবং মন্ত্রীদের ওপর জনগণের চাপ স্বীকার ও উৎসাহিত করবে। ... সংসদীয় গণতন্ত্র যদি সত্যিই একটি অনন্য শাসনব্যবস্থা হয়। যেমনটি আমি বিশ্বাস করি। কারণ এটি আমাদের নিজেদের ভুল থেকে সময়মতো শিক্ষা নিয়ে তা সংশোধনের সুযোগ দেয়, তবে সেই অভিজ্ঞতার কাঁচামাল সময়মতো উপলব্ধ হতে হবে যাতে সেই উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা যায়।
** প্রেস গ্যালারি লাঞ্চে দেওয়া ভাষণ (১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭)। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭), পৃ. ৪
* উত্তর সাগরের তেল আমাদের অর্থনীতির পতনের মুখে একটি মুখোশ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ভাববেন না যে এটি আমাদের সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। ব্রিটেন বর্তমানে শিল্পহীনকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তেলের রাজস্ব যাতে শিল্পে পুনরবিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয় তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক ছিল। আমি এই দেশের একের পর এক শিল্প। যার ওপর আমাদের জীবনযাত্রার মান নির্ভর করে। বিনিয়োগের অভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেছি। আমি এটি জাহাজ নির্মাণ, বিমান শিল্প, মেশিন টুলস, মোটর শিল্প, মোটরসাইকেল এবং ইলেকট্রনিক্স খাতে দেখেছি। যে সমাজের জীবনযাত্রা এবং সরকারি পরিষেবা উৎপাদন খাতের ওপর নির্ভরশীল, সেই সমাজের পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারি বিনিয়োগ এবং মালিকানা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
** লন্ডন কো-অপারেটিভ সোসাইটির পলিটিক্যাল কমিটির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণ (১৬ অক্টোবর ১৯৭৭) উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (১৭ অক্টোবর ১৯৭৭), পৃ. ১৭
=== ১৯৭৮ ===
* বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন থেকে আজ পর্যন্ত তারা উত্তর সাগরের তেলের ওপর ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রতিটি প্রচেষ্টাকে ক্রমাগত বাধা দিয়ে আসছে। ... উত্তর সাগরের উন্নয়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, উত্তর সাগরের প্রাপ্ত সুবিধার একটি ক্রমবর্ধমান অংশ ব্রিটিশ জনগণের পাওয়া উচিত। ... আমি এটি ভেবে কুল পাই না যে। যে দলটি একসময় জাতীয় স্বার্থের কথা বলার ভান করত, তারা কেন নিয়মিতভাবে মহীসোপান অঞ্চলের তেলের ওপর ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা বিস্তারের যেকোনো পদক্ষেপের নিন্দা জানায়।
** হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (৫ এপ্রিল ১৯৭৮)
* তিনি বলেছিলেন যে তিনি [[ইউরোপীয় মুদ্রা ব্যবস্থা|ইউরোপীয় মুদ্রা ব্যবস্থার]] প্রস্তাবকে তাত্ত্বিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেন না। তাঁর মতে, পশ্চিম জার্মান সরকার এটি চেয়েছিল যাতে তারা তাদের প্রতিযোগীদের পঙ্গু করে দিতে পারে; ফরাসিরা এটি চেয়েছিল কারণ তারা জার্মানদের সমান হতে চেয়েছিল। আর ইইসি কমিশনাররা এটি চেয়েছিলেন কারণ তাঁরা একটি ফেডারেল ইউরোপে বিশ্বাস করতেন। "এর অর্থ হবে ব্রিটিশ সরকার যদি কখনও মুদ্রার অবমূল্যায়ন করতে চায়, তবে বড় ধরণের সরকারি ব্যয় সংকোচনের শর্তে কেবল তাদের অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে তা করতে পারবে। আমরা যদি ইএমএসে যোগ দিই, তবে 'লেবার'স প্রোগ্রাম ১৯৭৬' এবং পার্টি কনফারেন্সের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমাদের এটি পরিষ্কার করা উচিত... যে আমরা এতে যোগ দিতে প্রস্তুত নই এবং এটি জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে না হলে আমরা ভেটো দেব।"
** ক্যাবিনেট এবং লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির যৌথ সভায় করা মন্তব্য (২৩ অক্টোবর ১৯৭৮); উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (২৪ অক্টোবর ১৯৭৮), পৃ. ১
* আরও অনেক কমিউনিস্ট এখন উপলব্ধি করতে পারছেন যে, গণতন্ত্রহীন সমাজতন্ত্র মোটেও কোনো সমাজতন্ত্র নয়। ... আমি বিশ্বাস করি যে, আগামী দশকে মনিটরিবাদ এবং কর্পোরেশনবাদের ধারণার বিপরীতে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের বিকাশ ঘটবে।
** লন্ডনের আমেরিকান ক্লাবে ইউরোপীয় রিপাবলিক কমিটির সভায় দেওয়া ভাষণ (২৫ অক্টোবর ১৯৭৮); উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (২৬ অক্টোবর ১৯৭৮), পৃ. ৫
=== ১৯৮০–১৯৮১ ===
* আমার মনে হয় ক্যাবিনেট টেবিলের চারপাশে ২৪ জন মানুষ বসে থাকা। যাঁদের ভবিষ্যৎ কেবল একজন ব্যক্তির সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। তা মৌলিকভাবে অগণতান্ত্রিক। এর চেয়ে ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা যদি পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির কাছে দায়বদ্ধ থাকতেন, তবে তা অনেক বেশি শ্রেয় হতো।
** লন্ডন উইকএন্ড টেলিভিশনের জন্য সাক্ষাৎকার; উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮০), পৃ. ২
* দলটির আবেদন আরও বিস্তৃত হতে হবে। আমরা দলটিকে কিছুটা সংকীর্ণভাবে কেবল অর্থনৈতিক ও শিল্প নীতির মধ্যে চিন্তা করেছি, যেন একটি 'কোয়াঙ্গো' গঠন করলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমাদের এখন নারী, কৃষ্ণাঙ্গ, বিস্তৃত শান্তি আন্দোলন, পরিবেশবাদী আন্দোলন এবং আঞ্চলিক পর্যায়গুলোর কাছে পৌঁছানোর কথা ভাবতে হবে। আমাদের বিকেন্দ্রীকরণ বা ডেভোলিউশনের সম্পূর্ণ যুক্তিটি নতুন করে ভেবে দেখা প্রয়োজন... আপনি এবং আমি পুরনো ধাঁচের র্যাডিক্যাল লিবারেল পরিবার থেকে এসেছি, আর লিবার্টেরিয়ানবাদই হলো এর মূল ভিত্তি।
** মাইকেল ফুটের প্রতি মন্তব্য (১৮ নভেম্বর ১৯৮০)। উদ্ধৃত: 'দ্য এন্ড অফ অ্যান এরা: ডায়েরিজ ১৯৮০-৯০' (১৯৯২), পৃ. ৪৯
* আমি প্যাট রবার্টসন নামের একজনের কথা শুনছিলাম, যিনি একটি ডানপন্থী 'বর্ন-অগেইন' খ্রিস্টান ইভানজেলিকাল আন্দোলন চালান। এটি এতটাই রোমহর্ষক একটি অনুষ্ঠান ছিল যে, এই কনফারেন্সে আসার পর আমার মনে যেটুকু আশাবাদ তৈরি হয়েছিল তা ধূলিসাৎ হয়ে গেল। প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী একজন বিজনেস এক্সিকিউটিভের মতো দেখতে প্যাট রবার্টসন। যাঁর মুখে আমেরিকানদের মতো ধীর ও মোহনীয় হাসি ছিল। তিনি সেখানে তাঁর এক দীর্ঘকায় কৃষ্ণাঙ্গ সহযোগীকে পাশে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি ক্রমাগত রেগান প্রশাসন, লিবারেলদের পরাজয় এবং ইভানজেলিকাল আন্দোলনের প্রতি রেগানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলছিলেন। তাঁর কাছে একটি ব্ল্যাকবোর্ড ছিল যেখানে দেখানো হচ্ছিল ১৯শ শতাব্দীতে "লিবারেল" মানে কী ছিল। তারপর তিনি সেটি বোর্ড থেকে মুছে দিলেন এবং বললেন যে বর্তমানে লিবারেলরা হলো মার্কসবাদী, ফ্যাসিস্ট, বামপন্থী এবং সমাজতন্ত্রী।<br>এরপর তিনি রেগানের একটি ভিডিও ক্লিপ দেখালেন যেখানে বলা হচ্ছে, "আমরা বড় সরকারকে আমাদের ঘরবাড়ি, স্কুল এবং পারিবারিক জীবন থেকে দূরে রাখতে চাই।" তিনি এভাবে এক ঘণ্টা ধরে বলে চললেন। শেষে তিনি বললেন, "আসুন আমরা প্রার্থনা করি," এবং তাঁর মুখমণ্ডল এক ধরণের ভণ্ড ভক্তিতে বিকৃত করে যিশুর কাছে প্রার্থনা করলেন আমেরিকা অর্থাৎ "আমাদের দেশ"কে রক্ষা করার জন্য।<br>আমি টিভি বন্ধ করতে পারছিলাম না। এটি ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। আমার মনে হচ্ছিল আমরা এখন সেই ধরণের প্রতিক্রিয়াশীল খ্রিস্টধর্ম এবং কমিউনিজমের মধ্যে একটি ধর্মযুদ্ধের যুগে প্রবেশ করছি। এটি খ্রিস্টধর্মের সম্পূর্ণ দুষ্ট ও ক্ষতিকর এক ব্যাখ্যা।
** ডায়েরি (৭ ডিসেম্বর ১৯৮০) উদ্ধৃত: 'দ্য এন্ড অফ অ্যান এরা: ডায়েরিজ ১৯৮০-৯০', পৃ. ৫৭-৫৮
* গত দুই বা তিন বছরে যারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ্যে এনেছেন, ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের কারণে সৃষ্ট ভয় ও সন্দেহের পরিবেশে তারা নিজেদের অরক্ষিত করে ফেলছেন... গোপনীয়তার সংজ্ঞা, সম্মতির বয়স এবং সশস্ত্র বাহিনী ও মার্চেন্ট নেভি থেকে বর্জনের মতো বর্তমান যে বৈষম্যগুলো রয়েছে। সেগুলোর কোনো যুক্তি থাকতে পারে না এবং এগুলো আইনবই থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে হবে।
** ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সিভিল লিবার্টিজের পুস্তিকা 'গে ওয়ার্কার্স: ট্রেড ইউনিয়ন অ্যান্ড দ্য ল' এর উদ্বোধনী ভাষণ (২৭ জানুয়ারি ১৯৮১)।
* ব্রিটেনে যখন সামন্ততন্ত্র ভেঙে পড়ছিল তখন কৃষক বিদ্রোহ ঘটেছিল, ঠিক যেমন আজ পুঁজিবাদ ভেঙে পড়ছে। ব্যাপক বেকারত্ব, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সর্বজনীন শিক্ষার ধ্বংস সাধন আর মেনে নেওয়া হবে না। ঠিক যেমন মেনে নেওয়া হবে না ব্রিটিশ মাটিতে পারমাণবিক অস্ত্র। আয়ারল্যান্ডে বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হব না। হাউস অফ লর্ডসকে আমরা আমাদের কাজ করতে বাধা দিতে দেব না, ব্রাসেলসের ইউরোপীয় সম্প্রদায়কেও নয়, এমনকি পেন্টাগনের আমেরিকান জেনারেলদেরও নয় যারা আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে চায়। আমরা তখনই ব্রিটেন এবং বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারব যখন শ্রমজীবী মানুষ একত্রিত হবে এবং এটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেবে। যখন আমরা এটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেব, তখন পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাদের থামাতে পারবে না।
** ১৩৮১ সালের কৃষক বিদ্রোহের ৬০০তম বার্ষিকী উদযাপনে ব্ল্যাকহিথে দেওয়া ভাষণ (৪ মে ১৯৮১)।
* যারা যুক্তি দেন যে দলীয় গণতন্ত্রের মতো সাংবিধানিক প্রশ্নগুলো মিসেস থ্যাচারের সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক, তারা আমাদের আন্দোলনের সম্পূর্ণ ইতিহাস ভুলভাবে পড়ছেন। সাংবিধানিক ইস্যু যদি অপ্রাসঙ্গিকই হতো, তবে ১৯শ শতাব্দীতে চার্টিস্টদের কেন এত কঠোর লড়াই করতে হয়েছিল? ২০শ শতাব্দীর সাফ্রাজেটরা যখন ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করছিলেন, তখন তাঁরা কি কোনো অপ্রাসঙ্গিক কাজে লিপ্ত ছিলেন? সংসদীয় গণতন্ত্রে সাংবিধানিক প্রশ্নগুলোই হলো ক্ষমতার চাবিকাঠি এবং আমাদের আন্দোলনের বিকাশে এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
** 'আর্গুমেন্টস ফ্রম ডেমোক্রাসি' (১৯৮১) থেকে সংগৃহীত।
* পোল্যান্ডের মানুষের ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস আছে। ব্রিটিশ জনগণের উচিত এখন পেন্টাগনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং এখানকার সব পারমাণবিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়া।
** সিএনডি সমাবেশে দেওয়া ভাষণ (২৪ অক্টোবর ১৯৮১)।
=== ১৯৮৪ ===
* অ্যাজলেফের ওপর সংবাদপত্রের তীব্র আক্রমণ এবং শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি গণমাধ্যমের ক্রমাগত ও তিক্ত বিদ্বেষই মূলত রেলপথে কিছু সংবাদপত্র পরিবহন করতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য দায়ী। ফ্লিট স্ট্রিট দিনের পর দিন শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে, তাদের যুক্তি বিকৃত করে এবং তাদের প্রতিনিধিদের গালিগালাজ করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মরত সাংবাদিকরা এখন আর তাদের সম্পাদকের পেছনে লুকিয়ে থেকে এবং সম্পাদকরা তাদের মালিকদের পেছনে লুকিয়ে থেকে নৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার অজুহাত দেওয়া যাবে না। যারা তাদের চাকরি হারিয়েছেন, জীবনযাত্রার মান অথবা অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবায় কাটছাঁটের শিকার হয়েছেন।
** সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণ (২৬ জানুয়ারি ১৯৮২)। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (২৭ জানুয়ারি ১৯৮২), পৃ. ১
* সাংবাদিকরা আমাকে বলেন: "আমি এই শিরোনামটি লিখিনি। সম্পাদক আমাকে এটি বলতে বলেছিলেন। আমি যদি এটি ভিন্নভাবে লিখতাম তবে আমার চাকরি থাকত না"। কিন্তু সমাজে যা ঘটছে তা থেকে সাংবাদিকরা মুক্ত নন। তাদের ভূমিকাটি অনেকটা ডাখাউ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সেই ইহুদিদের মতো, যারা অন্য ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে দিত।
** সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণ (২৬ জানুয়ারি ১৯৮২) উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (২৭ জানুয়ারি ১৯৮২), পৃ. ১
* কার্ল মার্কসের নামে যা করা হয়েছে তার জন্য তাঁকে দায়ী করা সম্পূর্ণ ভুল, ঠিক যেমন যিশুর নামে যা করা হয়েছে তার জন্য যিশুকে দায়ী করা ভুল।
** ‘দ্য বেন হেরেসি’ (১৯৮২)
* আমার মনে হয় এসডিপি সত্যিই একটি কট্টর ডানপন্থী দল। মজার ব্যাপার হলো, এটি মিসেস থ্যাচারের চেয়েও বেশি ডানপন্থী কারণ মিসেস থ্যাচার হলেন একজন পুরনো ঘরানার লিবারেল। তিনি বাজার ব্যবস্থা এবং ছোট সরকারে বিশ্বাস করেন। কিন্তু এসডিপি সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা হলো যে তারা একটি কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। তারা একটি ফেডারেল ইউরোপে বিশ্বাস করে যেখানে আমরা হব ব্রাসেলসের অধীনে থাকা একটি প্রদেশ মাত্র। তারা আমেরিকান ঘাঁটিগুলো রাখতে চায় এবং তারা একটি বিধিবদ্ধ বেতন নীতি চায় যাতে কোনো যথাযথ দরকষাকষি ছাড়াই তারা সবার মজুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আমি মনে করি তারা একটি কট্টরপন্থী দল এবং লেবার পার্টি। যাদের এখন আমাদের কাজের ফলে একটি মানসম্মত নীতি তৈরি হয়েছে। তারা এই বছর অনেক সমর্থন পাবে।
** আইটিভির 'আফটারনুন প্লাস' অনুষ্ঠানে (২৯ জানুয়ারি ১৯৮২)
* আমি মনে করি না বর্তমানে ব্রিটেনে কোনো স্বাধীন গণমাধ্যম আছে। এমন একটি সংবাদপত্রও নেই যা আমি কিনতে পারি এবং যেটি আমার রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। আর 'দ্য টাইমস' সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয়। এটি সত্যিই অসাধু। এটি সত্য এবং বিশ্বস্ততার সাথে ঘটনা ছাপায় না। এটি কেবল ছোট হরফে ছাপানো হয় বলে ভান করে যে এটি তর্কের ঊর্ধ্বে। কিন্তু এটি 'দ্য সানের' মতোই একটি রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা যন্ত্র, যা কেবল কিছুটা উন্নত মুদ্রণে এবং চতুর ভাষায় পরিবেশিত হয়।
** অ্যাথেন্সে সংবাদ সম্মেলন (১২ মার্চ ১৯৮২); উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (১৩ মার্চ ১৯৮২), পৃ. ৫
* আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলছি যে এটি (ফকল্যান্ড যুদ্ধ) একটি অদূরদর্শী উদ্যোগ এবং এটি যে উদ্দেশ্যে শুরু করা হয়েছে তা অর্জিত হবে না।
** ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (৭ এপ্রিল ১৯৮২)
* যখন সময় আসবে, তখন আমাদের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে হবে। হয় তা জাতিসংঘের হাতে ছেড়ে দিয়ে অথবা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করে... এটিকে যুদ্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করবেন না। আমরা এখন পতাকার জন্য মানুষ মারতে পারি না।
** ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (২৯ এপ্রিল ১৯৮২)
* তিনি (জন বল) মার্কস, স্ট্যালিন বা ব্রেজনেভের অনেক আগে থেকেই সমাজতন্ত্রের প্রচার করছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে যতক্ষণ না সমস্ত সম্পত্তি সাধারণের অধিকারে আসবে, ততক্ষণ ইংল্যান্ডের মঙ্গল হবে না। তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি বের করা হয়েছিল এবং শরীরকে চার খণ্ড করা হয়েছিল। ১৩৮১ সালে তারা 'মিলিট্যান্ট টেনডেন্সি' বা আপসহীনদের সাথে এই আচরণই করেছিল।
** মিচাম ও মরডেন উপ-নির্বাচনের সময় দেওয়া ভাষণ (৩ জুন ১৯৮২)
* হাউস অফ কমন্স আমাদের আইনসভার মাত্র এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের অলিখিত সংবিধান অনুযায়ী এটি 'পার্লামেন্টে রানীর' সমন্বয়ে গঠিত, যেখানে রাজকীয় বিশেষাধিকার এবং হাউস অফ লর্ডসের প্রকৃত ক্ষমতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেবল হাউস অফ কমন্সই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এটিই একমাত্র গণতান্ত্রিক ক্ষেত্র যেখানে লেবার পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে... বাস্তবতা হলো ব্রিটিশ সংবিধান, সংসদীয় ব্যবস্থা এবং সরকারি কলকব্জা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিক থেকেই গণতান্ত্রিক হওয়া থেকে অনেক দূরে এবং যারা গণতান্ত্রিক উপায়ে সংস্কার আনতে চান তাদের জন্য এখানে অনেক বাধা রয়েছে। রাজকীয় বিশেষাধিকার যার অধিকাংশই মন্ত্রীরা প্রয়োগ করেন। বিশাল ক্ষমতা প্রদান করে যা অপব্যবহার করা হলে ভোটারদের ইচ্ছাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে... ব্রিটেনে বিতর্কিতভাবে এই ধরণের ক্ষমতার ব্যবহার রাজতন্ত্রকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসবে।
** ‘নিউ সোশ্যালিস্টের’ প্রবন্ধ থেকে। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (২৭ আগস্ট ১৯৮২)
=== ১৯৮৩–১৯৮৯ ===
* চার্চের এস্টাবলিশমেন্ট বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অনিবার্যভাবেই তার আধ্যাত্মিক সত্তার এক সূক্ষ্ম অবক্ষয় ঘটায়। কারণ এটি সমাজের সেই ক্ষমতাশালী ও সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণির কাঠামোর ভেতরেই নিরাপদে গেঁথে থাকে... যে খ্রিস্টানরা দেখছেন যে বৃদ্ধ, অসুস্থ, গৃহহীন, নারী, কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায় এবং বেকার যুবকদের ওপর ‘মনিটরিবাদ’এত নিষ্ঠুরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাঁরা কীভাবে সেই ক্যাবিনেট এবং পার্লামেন্টারি সংখ্যাগরিষ্ঠতার অধীনে থাকা চার্চের ভেতর থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন, যেখানে সেই ব্যবস্থার সদস্যরাই এই নীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য দায়ী?
** সেন্ট জেমস চার্চে দেওয়া ভাষণ (২ মার্চ ১৯৮৩)। উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (৩ মার্চ ১৯৮৩), পৃ. ১৪
* ১৯৮৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জিত হয়েছে যা সংবাদমাধ্যমে প্রায় কোনো আলোচনাই পায়নি। তা হলো, ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম একটি রাজনৈতিক দল যারা প্রকাশ্য সমাজতান্ত্রিক নীতি নিয়ে লড়েছিল, তারা ৮৫ লক্ষ মানুষের সমর্থন পেয়েছে। এটি যেকোনো বিচারে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা এবং এর বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
* ১৯৮৩ সালের লেবার ইশতেহার লক্ষ লক্ষ ভোটারের আনুগত্য লাভ করেছে এবং জনসমর্থনের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক ভিত্তি স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
** ‘স্পিরিট অফ লেবার রিবর্ন’, ''দ্য গার্ডিয়ান'' (২০ জুন ১৯৮৩), পৃ. ৯
* আমরা সমাজতন্ত্রী কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে পুঁজিবাদের অধীনে কোনো সমাজেই এই অধিকারগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। পুঁজিবাদের অধীনে। যেমনটি বর্তমানে ব্রিটেনে হচ্ছেআইনের মাধ্যমে শ্রমের ওপর পুঁজির ক্ষমতাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ও শান্তিকে বিসর্জন দিয়ে মুনাফার চাহিদাকে মানবিক মূল্যবোধের উর্ধ্বে রাখা হয়েছে।
** ১৯৮৭ সালে লেবার ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিতে জমা দেওয়া খসড়া ইশতেহার থেকে।
* আর্মেনিয়ার ভূমিকম্পের ভয়াবহ খবরের পর মানুষের সহানুভূতি ও সাড়া ছিল বিস্ময়কর। গর্বাচেভের এককভাবে পাঁচ লক্ষ সৈন্য কমানোর ঘোষণা রুশ কূটনীতিকে শীর্ষে নিয়ে গেছে এবং এক নিমেষে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। এটি অত্যন্ত অযৌক্তিক যে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা নীতি সেই বোমাগুলো তৈরির ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে যা এই ভূমিকম্পের চেয়ে দশগুণ বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। অথচ আমরা আর্মেনিয়াকে সাহায্য করার জন্য অর্থ ঢালছি। এটি সম্পূর্ণ স্ববিরোধী। লেবার পার্টি এ বিষয়ে কিছু চিন্তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ক্যারোলিন বলেছিল যে নিরস্ত্রীকরণ পুঁজিবাদের পতন ঘটাবে এবং সমাজতন্ত্রের সমৃদ্ধির পথ দেখাবে আর আমি মনে করি সে ঠিক বলেছে।
** ডায়েরি (৮ ডিসেম্বর ১৯৮৮)
* মানুষ বলে যে আমরা যদি ‘সিঙ্গেল ইউরোপীয় অ্যাক্টের’ জন্য কাজ করি, তবে নারীরা তাদের অধিকার পাবে, পানি বিশুদ্ধ হবে এবং প্রশিক্ষণ আরও উন্নত হবে। এগুলো অর্থহীন কথা। এটি মূলত ইইসি কে শক্তিশালী করার একটি অপপ্রচেষ্টা মাত্র।
** হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯)
* মার্কেট শিপিং অ্যাক্ট ১৯৮৮,যা এই হাউস এবং হাউস অফ লর্ডসে পাস হওয়ার পর রাজকীয় সম্মতি পেয়েছিল। গত শুক্রবার হাইকোর্ট তা বাতিল করে দিয়েছে। এটি উল্লেখ না করে ইস্টার ছুটিতে যাওয়া হাউসের জন্য অকল্পনীয় হবে। হাইকোর্ট মামলাটি ইউরোপীয় আদালতে পাঠিয়েছে... আমি হাউসের কাছে এটি পরিষ্কার করতে চাই যে, আমরা যতক্ষণ না ‘ইউরোপিয়ান কমিউনিটিজ অ্যাক্টের' ধারা ২ বাতিল করছি, ততক্ষণ আমরা সম্পূর্ণ ক্ষমতাহীন। কেবল ‘ভালো ইউরোপীয়’ হওয়ার কথা বলে লাভ নেই। আমরা সবাই ভৌগোলিকভাবে ভালো ইউরোপীয়, এটি কোনো আবেগের বিষয় নয়। আমাদের শাসন ব্যবস্থা কি এমন যে আমরা ভোটার এবং তাদের ওপর প্রযুক্ত আইনের মধ্যকার যোগসূত্রটি ছিঁড়ে ফেলেছি? আমি পার্লামেন্টের একজন পুরনো সদস্য। হয়তো আমি এখানে অনেক বেশি সময় ধরে আছি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে মানুষ যখন নির্বাচনে ভোট দেয়, তখন তাদের এটি জানার অধিকার আছে যে তাদের নির্বাচিত দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তবে তারা তাদের শাসন করার মতো আইন প্রণয়ন করতে পারবে। এটি এখন আর সত্য নয়। কনজারভেটিভ বা লেবার যেকোনো দলই আর ভোটারদের বলতে পারবে না যে, "আমাকে ভোট দিন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে আমি এই আইন পাস করব", কারণ যদি সেই আইন কমন মার্কেট আইনের বিরোধী হয়, তবে ব্রিটিশ বিচারকরা কমন মার্কেট আইনকেই প্রয়োগ করবেন।
** ফ্যাক্টোরটেম মামলা নিয়ে হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১৩ মার্চ ১৯৮৯)
* আমার মনে হয় আমার ভাবনাগুলো লিখে রাখা উচিত। এই দুটি দিন ছিল অসাধারণ। ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি ( সমাজতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং সমাজ পরিবর্তনের ধারণা ত্যাগ করেছে। তারা কেবল পুঁজিবাদের মূল নীতিগুলোই নয় বরং থ্যাচারবাদকেও গ্রহণ করেছে এবং তারা মনে করছে এখন পার্টির ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
** ডায়েরি (৯ মে ১৯৮৯)
* এটি অত্যন্ত যথাযথ যে আজ যখন আমাদের সমাজতন্ত্রের মৃত্যু উদযাপন করতে বলা হচ্ছে, তখন ৪.৫ মিলিয়ন (৪৫ লক্ষ) মানুষের নাম সম্বলিত একটি পিটিশন হাউসে পেশ করা হয়েছে—যা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার প্রকাশ করে। এটি যুদ্ধ-পরবর্তী সরকারের শ্রেষ্ঠ সমাজতান্ত্রিক নিদর্শন। আমি গর্বিত যে অ্যাটলি যখন প্রধানমন্ত্রী এবং অ্যানুরিন বেভান যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন আমি সেই সরকারের একজন ব্যাকবেঞ্চার হিসেবে কাজ করেছি। আজ আমরা সমাজতন্ত্রের নিয়মিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াগুলোর একটির সাক্ষী হলাম। ফ্লিট স্ট্রিট দিয়ে সমাজতন্ত্রের এত কফিন প্রতিদিন যায় যে কেউ ভাবতে পারে কেন সংবাদপত্রগুলোকে বারবার এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজন করতে হয়। তাদের এটি করতে হয় কারণ সমাজতন্ত্র মরে যায়নি।
** হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১৫ ডিসেম্বর ১৯৮৯)
=== ১৯৯০ দশক ===
* ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের কাছে আমার পাঁচটি প্রশ্ন থাকে এবং আমি হাউসের কাছেও সেগুলো সুপারিশ করছি। আমি যখনই কোনো ক্ষমতাশালী ব্যক্তিকে দেখি সে ট্রাফিক সার্জেন্ট হোক, রুপার্ট মারডক হোক, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হোক বা সংসদ সদস্য হোক। আমি নিজেকে এই পাঁচটি প্রশ্ন করি: "আপনার কী ক্ষমতা আছে? আপনি এই ক্ষমতা কোথায় পেয়েছেন? কার স্বার্থে আপনি এটি প্রয়োগ করেন? আপনি কার কাছে জবাবদিহি করেন? এবং কীভাবে আমরা আপনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারি?" এই শেষ প্রশ্নটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জ্যাক ডেলরসকে সরাতে পারি না; আমরা ইউরোপীয় কমিশনকে সরাতে পারি না। আমরা সরকারকে সরাতে পারি, কিন্তু সরকারের মেয়াদে গেঁথে যাওয়া ইউরোপীয় আইনগুলো আমরা সরাতে পারি না।
** হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (২১ মে ১৯৯০)
* লেবার পার্টি সমাজের চিরাচরিত মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। সেই ধারণায় যে আমাদের একে অপরের প্রতি দায়িত্ব আছে এবং আমরা কেবল সবসময় লোভী হয়ে নিজেদের স্বার্থ দেখব না। ব্যক্তিগত আক্রমণ না করেই বলছি, গত ১০ বছরে যে দর্শন প্রচার করা হয়েছে তা ছিল কলুষিত ও মন্দ... মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে, নারীকে নারীর বিরুদ্ধে এবং দেশকে দেশের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া এবং জাতীয়তাবাদ ও বর্ণবাদের ওপর ভিত্তি করে কিছু গড়ে তোলা... এবং কনজারভেটিভরা যে ক্ষতি করেছে তা ন্যাক্কারজনক... আমার কাছে 'মার্গারেট থ্যাচার (গ্লোবাল রিপিল) বিল' নামে একটি প্রস্তাবনা আছে... নীতিগুলো পরিবর্তন করা এবং ব্যক্তিদের প্রতিস্থাপন করা সহজ হবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু গত ১০ বছরে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ক্ষমতার মঞ্চ থেকে যে পচা মূল্যবোধগুলো প্রচার করা হয়েছে তা একটি সংক্রমণের মতো থেকে যাবে।ডানপন্থী পুঁজিবাদী চিন্তাধারার এই প্রকট সংক্রমণ কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।
** মার্গারেট থ্যাচারের পদত্যাগের ঘোষণার দিনে হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (২২ নভেম্বর ১৯৯০)
* সমস্ত যুদ্ধই মূলত কূটনীতির ব্যর্থতার প্রতিনিধিত্ব করে।
** উপসাগরীয় যুদ্ধ নিয়ে হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১)
* আমি ৪১ বছর ধরে পার্লামেন্টে আছি। আমি বহুবার সোভিয়েত ইউনিয়নে গেছি এবং আমি এটি পছন্দ করি। কিন্তু আমি আশা করি আপনি গণতন্ত্রকে পুঁজিবাদের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না, কারণ পুঁজিবাদ মানুষের ওপর চরম দুর্ভোগ চাপিয়ে দেয়। পুঁজিবাদ এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বকে শোষণ করেছে। এবং আমার ভয় হয় যে পুঁজিবাদের একমাত্র যে রূপটি আপনি পেতে পারেন তা হবে চিলির পিনোচেটের মতো একটি সামরিক পুঁজিবাদ।
** মস্কোর প্যাট্রিয়ার্ক দ্বিতীয় আলেক্সেইয়ে সাথে কথোপকথন (২৯ অক্টোবর ১৯৯১)
* ব্রিটেনে যদি গণতন্ত্র ধ্বংস হয় তবে সেটি কমিউনিস্ট, ট্রটস্কিবাদী বা নাশকতাকারীদের দ্বারা হবে না বরং এই হাউসের মাধ্যমেই হবে যারা এটিকে বিসর্জন দিচ্ছে। আমাদের ওপর অর্পিত অধিকারগুলো বিলিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। এমনকি যদি আমি প্রস্তাবিত সবকিছুর সাথে একমত হই, তবুও চেস্টারফিল্ডের জনগণের কাছ থেকে পাঁচ বছরের জন্য ধার নেওয়া ক্ষমতা আমি অন্যকে দিয়ে দিতে পারি না। আমি স্রেফ তা করতে পারি না। এটি হবে জনগণের অধিকারের চুরি।
** মাস্ট্রিক্ট চুক্তি নিয়ে বিতর্কের সময় দেওয়া ভাষণ (২০ নভেম্বর ১৯৯১)
* আমার পোস্টারে 'সমাজতন্ত্র' শব্দটি আমাকে একটি ভোটও হারাতে বাধ্য করেনি। আপনি যদি সিরিয়াস হন তবে মানুষ আপনাকে সমর্থন করবে। লেবার মুভমেন্টের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ হলো যে এটি গত ৪০ বছর ধরে কোনো শিক্ষা দেওয়ার কাজ করেনি। এটি সবসময় রক্ষণাত্মক অবস্থানে ছিল। থ্যাচার সফল ছিলেন কারণ তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন। যদিও তাঁর মূল্যবোধগুলো ছিল পচা।
** সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণার সময় করা মন্তব্য (৩ এপ্রিল ১৯৯২)
* সাধারণ সত্য হলো এই যে, ব্রিটিশ ক্যাবিনেটগুলো যে প্রতিটি নীতি চেষ্টা করেছে তা ব্যর্থ হয়েছে। বিভাজন, স্টরমন্ট, ক্ষমতার অংশীদারিত্ব, সরাসরি শাসন, বিচার ছাড়াই আটক, 'সুপারগ্রাস' ট্রায়াল, সিএস গ্যাস, স্ট্রিপ সার্চিং, এমনকি অ্যাংলো-আইরিশ চুক্তিও। ... আমি দীর্ঘকাল ধরে এই মত পোষণ করি যে, আমরা আয়ারল্যান্ড সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছি না বরং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ব্রিটিশদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছি। ... প্রকৃত সমস্যার মূলে রয়েছে উত্তর আয়ারল্যান্ডে ব্রিটিশদের অব্যাহত উপস্থিতি। ... আমি বিশ্বাস করি এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ ব্রিটেন উত্তর আয়ারল্যান্ড থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবে ঠিক যেভাবে অতীতে তারা অনেক উপনিবেশ থেকে সরে এসেছে।
** ‘দে আর ব্রিটেন’স ট্রাবলস’, ''দ্য টাইমস'' (২৭ অক্টোবর ১৯৯৩)
* চিনা দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি লিয়াও ডংয়ের সাথে দীর্ঘ কথা হলো খুবই চমৎকার মানুষ। আমি বললাম যে আমি মাও সেতুংয়ের কতটা ভক্ত, যিনি বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মানুষ। তিনি বললেন যে মাও-এর প্রতি তাঁর ভক্তি আমার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম বর্তমানে মাও-কে কীভাবে দেখা হয়। তিনি বললেন মাও ৭০ শতাংশ সঠিক এবং ৩০ শতাংশ ভুল ছিলেন; সাংস্কৃতিক বিপ্লব সফল হয়নি।
** ডায়েরি (৬ জুন ১৯৯৬)
* যুদ্ধ নিয়ে কথা বলা সহজ। সেই প্রজন্মের খুব বেশি মানুষ আর বেঁচে নেই যাদের যুদ্ধের স্মৃতি মনে আছে। ওল্ড বেক্সলি এবং সিডকাপের মাননীয় সদস্য এডওয়ার্ড হিথ গত যুদ্ধে সাহসিকতার সাথে সেবা করেছেন। আমি কাউকে হত্যা করিনি কিন্তু ইউনিফর্ম পরেছি। ১৯৪০ সালের ব্লিৎজের সময় আমি লন্ডনে ছিলাম। প্রতি রাতে আমি টেমস হাউসের আশ্রয়ে যেতাম। প্রতিদিন সকালে দেখতাম ডকল্যান্ড জ্বলছে। ওয়েস্টমিনিস্টারে এক রাতে ল্যান্ড মাইনে ৫০০ মানুষ মারা গিয়েছিল। সেটি ছিল ভয়াবহ। আরব এবং ইরাকিরা কি ভীত নয়? আরব এবং ইরাকি মায়েরা কি তাঁদের সন্তানদের মৃত্যুতে কাঁদেন না? বোমাবর্ষণ কি তাঁদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে না? আমরা কত বড় বোকা যে যুদ্ধকে আমাদের সন্তানদের জন্য একটি কম্পিউটার গেম বা চ্যানেল ফোর নিউজের একটি আকর্ষণীয় আইটেম হিসেবে মনে করি। পার্লামেন্টের যে সদস্য সরকারের এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবেন, তিনি যদি যুদ্ধ শুরু হয় তবে নির্দোষ মানুষের মৃত্যুর দায় সচেতনভাবে এবং স্বেচ্ছায় গ্রহণ করবেন। এই সিদ্ধান্ত প্রতিটি মাননীয় সদস্যকে নিতে হবে। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের চার্টার পাস হয়েছিল। সেই চার্টারের শব্দগুলো আমার মনে গেঁথে আছে এবং আমাকে আন্দোলিত করে। সেখানে বলা হয়েছে: "জাতিপুঞ্জের জনগণ আমরা যুদ্ধের অভিশাপ থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করতে সংকল্পবদ্ধ, যা আমাদের জীবনে দুবার মানবজাতির জন্য অবর্ণনীয় দুঃখ বয়ে এনেছে"। সেটি ছিল সেই প্রজন্মের প্রতিশ্রুতি এই প্রজন্মের জন্য, এবং আমরা যদি সেই চার্টার ত্যাগ করে একতরফা ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে ভোট দিই এবং ভান করি যে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নামে এটি করছি৷ তবে সেটি হবে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা।
** ইরাক নিয়ে বিতর্কের সময় হাউস অফ কমন্সে দেওয়া ভাষণ (১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮)
* হাউস অফ কমন্সে প্রায় অর্ধ শতাব্দী সেবা করার পর, আমি এখন রাজনীতিতে আরও বেশি সময় এবং আরও স্বাধীনতা দিতে চাই।
** লেবার পার্টির কাছে লেখা চিঠি (২৮ জুন ১৯৯৯)। এই উক্তি থেকেই তাঁর বিখ্যাত স্লোগান "পার্লামেন্ট ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করা"র উৎপত্তি
* আমি গতকাল জেরেমি করবিনের কাছ থেকে শুনলাম যে বিশ্ব ঋণ বাতিলের যে দাবি করা হচ্ছে তা একটি সম্পূর্ণ জালিয়াতি। কারণ একটি শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যে যেসব দেশের ঋণ বাতিল করা হবে তাদের সম্পদগুলো ব্যক্তিগতকরণ করতে হবে। এভাবেই মূলত তারা টাকা কামাবে। মানে, পুঁজিবাদের ওপর মার্কসবাদী সমালোচনা যদি কখনও সঠিক হয়ে থাকে, তবে তা এখানেই। সেদিন 'নিউ ইয়র্কারে' একজন লিখেছেন, 'মার্ক হয়তো কমিউনিজম নিয়ে ভুল ছিলেন, কিন্তু পুঁজিবাদ নিয়ে তিনি অবশ্যই সঠিক ছিলেন।'
** ডায়েরি (১৯৯৯)
* টনি বেন: আমি আপনাকে সমস্যাটা বলছি। আপনারা কখনও এই মানুষগুলোর সাক্ষাৎকার নেন না। আপনারা কেবল তাদের চিৎকার, মারামারি আর অদ্ভুত টুপি পরা অবস্থায় দেখান, যেন তারা সবাই পাগল।
* জেএস (জনো স্ল্যাভিন): আমরা অনুষ্ঠানের শুরুতে একজনকে নিয়েছিলাম।
* টিবি: আমি সেটি দেখিনি, কিন্তু সাধারণভাবে ‘প্রতিবাদ’ শব্দটি ভুল। এটি একটি রাজনৈতিক প্রচারণার শুরু। এভাবেই বর্ণবাদের অবসান ঘটেছিল, এভাবেই পুরুষরা ভোটের অধিকার পেয়েছিল—পার্লামেন্টের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেই।
* টিবি: এটি পুঁজিবাদ বিরোধী, এটি পুঁজিবাদ বিরোধী।
** সিয়াটল ডব্লিউটিও বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা (১ ডিসেম্বর ১৯৯৯)
=== ২০০০ দশক ===
* সাক্ষাৎকার গ্রহীতা: একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২০ বছরের অর্থনৈতিক ইতিহাস হলো বাজার থেকে সরকারের পিছু হটা এবং মুক্ত বাজারকে রাজত্ব করার সুযোগ করে দেওয়ার গল্প। আপনি কি এটি বিশ্বাস করেন?
* টনি বেন: না। যা ঘটেছে তা হলো বড় কর্পোরেশনগুলো সরকারকে কবজা করে নিয়েছে এবং রাষ্ট্রকে কর্পোরেট অর্থায়নের স্বার্থে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। গ্রেট ব্রিটেনে রাষ্ট্র এখন মার্গারেট থ্যাচার যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি ট্রেড ইউনিয়ন ধ্বংস করেছেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছেন, বাকস্বাধীনতা সীমিত করেছেন এবং দাঙ্গা দমনের জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়োগ করেছেন। তাই বাজার ব্যবস্থা রাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে। এই ধারণাটি একটি বোকামি। বরং রাষ্ট্র আরও শক্তিশালী হয়েছে; যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তারাই রাষ্ট্রকে দখল করে নিয়েছে। এক বছর আগে ওহিওর একজন প্রাক্তন গভর্নরের সাথে আমার দেখা হয়েছিল, তিনি আমাকে বলেছিলেন, "যতক্ষণ বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো উভয় রাজনৈতিক দলকেই কিনে নেবে এবং যেই জিতুক না কেন তার কাছ থেকে সুবিধা পাওয়ার আশা করবে, ততক্ষণ আপনি কখনোই গণতন্ত্র পাবেন না।" আমাদের আর প্রতিনিধিত্ব নেই। বিশ্ব পুঁজিবাদের পক্ষ থেকে আমাদের পরিচালনা করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই সিয়াটল, প্রাগ এবং বিশ্বের সব জায়গায় মানুষ জেগে উঠতে শুরু করেছে, কারণ তারা বুঝতে পেরেছে তাদের এখন শাসন নয়, পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ তাদের প্রতিনিধিত্ব করছে না।
* সাক্ষাৎকার গ্রহীতা: আপনি শিক্ষাবিদ এবং মনিটরিবাদীদের কথা বলেছেন। গ্রেট ব্রিটেনে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ভেঙে দেওয়ার নেতৃত্বে ছিলেন কিথ জোসেফ। তিনি স্বাধীনতার বোধ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। আপনার স্বাধীনতার বোধ এবং তাঁর স্বাধীনতার বোধের মধ্যে পার্থক্য কী?
* টনি বেন: ১৯৪৫ সালের নির্বাচনে আমি একটি লাউডস্পিকার ভ্যান চালিয়ে ক্যাম্পেইন করছিলাম। আমরা কভেন্ট গার্ডেনে গিয়েছিলাম এবং সেখানে নকার ও’কনেল নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে আমার জন্য একটি রাজনৈতিক কবিতা লিখেছিল, যার একটি লাইন ছিল এমন: "এফ' বর্ণটি হলো ফ্রিডম বা স্বাধীনতার প্রতীক, যা নিয়ে ব্রিটেন বড়াই করে। আপনার যদি রাতের খাবার কেনার সামর্থ্য না থাকে, তবে আপনি না খেয়ে থাকার জন্যও স্বাধীন।" পুঁজিবাদীরা এই ধরণের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করত। আপনি যদি ধনী না হন, তবে আপনার না খেয়ে মরারও স্বাধীনতা আছে। মানুষকে দাবিয়ে রাখাই স্বাধীনতার পথ। এই ধারণাটি হাস্যকর; কারণ বিশ্ব এখন বহুজাতিক কর্পোরেশন দ্বারা শাসিত যারা কখনোই নির্বাচিত হয়নি। আপনি তাদের সরাতে পারবেন না। আপনি কীভাবে বিল গেটসকে সরাবেন? পারবেন না। কিন্তু অন্তত আপনি ক্লিনটন, ব্লেয়ার, মেজর বা বুশকে সরাতে পারেন। আপনি কর্পোরেশনগুলোকে সরাতে পারেন না, অথচ তারাই ঠিক করে দিচ্ছে আমরা কেমন পৃথিবীতে বাস করব। আমি মনে করি পুঁজিবাদের সাথে কমিউনিজমের একটি বিষয়ে মিল আছে: তারা উভয়ই গণতন্ত্রকে ঘৃণা করে। আমি যখন মন্ত্রী হিসেবে মস্কো যেতাম, কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল কমিটির সাথে দেখা করতাম। তারা কেউ নির্বাচিত ছিলেন না। আবার আমি যখন ব্রাসেলসে যেতাম, আমি কমিশনারদের সাথে দেখা করতাম। তাঁরাও নির্বাচিত ছিলেন না। আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের সাথে দেখা করতাম। তাঁরাও নির্বাচিত ছিলেন না। কমিউনিজম এবং পুঁজিবাদ উভয়ই সমাজকে উপর থেকে পরিচালনা করতে চায়। আপনাকে কেবল এটি ঠিক করার অনুমতি দেওয়া হয় যে আপনি বুশ না কি গোর, অথবা ব্লেয়ার না কি মেজরকে চান। কিন্তু আপনাকে রাশিয়ায় পুঁজিবাদ বা পশ্চিমে সমাজতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করার অনুমতি দেওয়া হয় না। আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি কী বোঝাতে চাইছি? এটি লক্ষ্য করা খুব কৌতূহলজনক। বাজার ব্যবস্থা ভোটের যন্ত্র বা ব্যালট বক্সের উর্ধ্বে টাকাকে স্থান দিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে।
* সাক্ষাৎকার গ্রহীতা: আপনি কি এটি মানবেন যে ৭০ দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে ব্রিটিশ অর্থনীতি এক বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছিল?
* টনি বেন: আমি মনে করি অনেক সমস্যা ছিল। তেলের সংকট ছিল, এবং আমাদের সামনে আরও একটি আসতে পারে। মনে রাখবেন, আমরা ২০০০ সালের শেষের দিকের কথা বলছি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতি আবারও ধসে পড়তে পারে। কিন্তু যুদ্ধের শেষে সবাইকে কর্মসংস্থান দেওয়ার জন্য আমরা যা করেছিলাম তা ছিল এক অসাধারণ অর্জন। আমরা ৪,০০,০০০ বাড়ি তৈরি করেছিলাম। আমরা একটি স্বাস্থ্য পরিষেবা গড়ে তুলেছিলাম যা প্রয়োজনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যেত। আপনি যখন সুস্থ থাকতেন তখন ট্যাক্স দিতেন, আর অসুস্থ হলে বিনামূল্যে সেবা পেতেন। সবকিছুই চশমা বা ওষুধের প্রেসক্রিপশন, সব বিনামূল্যে ছিল। এটি ছিল মানবিক উন্নতির এক বিশাল পদক্ষেপ। আর এখন তারা ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ব্যক্তিগতকরণ করার চেষ্টা করছে যাতে কেবল ধনীরা সুচিকিৎসা পায় এবং সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়।
* সাক্ষাৎকার গ্রহীতা: কিন্তু জাতীয়করণ করা শিল্পগুলো কি ৭০-এর দশকের শেষে সফল ছিল বলে আপনি মনে করেন?
* টনি বেন: সেগুলো আগে যা ছিল তার চেয়ে অনেক ভালো ছিল এবং বর্তমানে আমাদের যা আছে তার চেয়েও ভালো। খনি শিল্পকে ব্যক্তিগতকরণ করা হয়েছে এবং এখন আর কোনো খনি অবশিষ্ট নেই, অথচ আমাদের মাটির নিচে ১,০০০ বছরের কয়লা মজুদ আছে। আমি যখন জ্বালানি মন্ত্রী ছিলাম, উত্তর সাগরের তেলের এক-চতুর্থংশ সরকারের মালিকানাধীন ছিল (বিএনওসির মাধ্যমে)। থ্যাচার তার সব বিক্রি করে দিয়েছেন। জ্বালানি সংকটের মাঝে আপনি হঠাৎ উপলব্ধি করবেন যে, একটি সমাজতান্ত্রিক সরকার যেসব নীতি অনুসরণ করেছিল তা জনগণের স্বার্থেই ছিল। মানুষ এখন তা বুঝতে শুরু করেছে। কিন্তু স্নায়ুযুদ্ধের সময় তারা বলত যে আপনি যদি পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে হন তবে আপনি নিশ্চয়ই কেজিবির এজেন্ট বা ক্রেমলিনের হয়ে কাজ করছেন। রেড আর্মি আমাদের আক্রমণ করতে যাচ্ছে। এসবই ছিল আবোল-তাবোল কথা। তারা মানুষকে তাদের নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে থাকা নীতিগুলো থেকে ভয় দেখিয়ে দূরে রাখতে এসব কথা ব্যবহার করত।
** ‘কমান্ডিং হাইটস’ সাক্ষাৎকার (১৭ অক্টোবর ২০০০)
* আজ বড় প্রশ্ন হলো, 'বিশ্বায়ন কি গণতন্ত্রকে টিকে থাকতে দেবে?' একদিকে আমাদের আছে বহুজাতিক কোম্পানি, আইএমএফ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আমি অন্য প্রান্তের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে চাই।
** বিবিসি নিউজ সাক্ষাৎকার (১০ মার্চ ২০০১)
* আমিই প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলাম। যখন আমি প্রথম নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে দেখা করি, তিনি ছিলেন একজন 'সন্ত্রাসী'; আর যখন পরের বার দেখা হলো, তিনি ছিলেন একজন নোবেল বিজয়ী এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট।
** বিবিসি নিউজ সাক্ষাৎকার (১০ মার্চ ২০০১)
* রাজা প্রথম চার্লস,যিনি 'রাজাদের ঐশ্বরিক অধিকার' দাবিতে ব্রিটেন শাসন করতে চেয়েছিলেন।এবং পার্লামেন্টের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ব্যবহার ও অপব্যবহার, শাসিতদের মতপ্রকাশের অধিকার এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার স্বরূপ প্রতিফলিত হয়েছিল। এই দ্বন্দ্ব থেকেই লেভেলার্স আন্দোলনের জন্ম। তারা সেই শ্রমজীবী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করত যারা রাজা, জমিদার এবং যাজক শ্রেণির হাতে নির্যাতিত হচ্ছিল। তারা দারিদ্র্য ও বঞ্চনার শিকার মানুষের পক্ষে কথা বলত। তারা গৃহযুদ্ধের একটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সমাধানের জন্য প্রচারণা চালিয়েছিল যা রাজনৈতিক স্বাধীনতার নীতিগুলো ধারণ করত। যা আমেরিকান এবং ফরাসি বিপ্লবের ধারণারও দেড়শ বছর আগের কথা।
** বিবিসি হিস্ট্রি (১ জুন ২০০১)
* আসলে আমি মার্কসকে জীবনের বেশ শেষ দিকে এসে পড়েছি। তাঁকে পড়ার পর আমি দুটি জিনিস উপলব্ধি করলাম: প্রথমত, পুঁজিবাদ সম্পর্কে তিনি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, আমি অনেক পরে সেই একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি এবং আমি কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলাম এই ভেবে যে তিনি আমার আগে এটি চিন্তা করেছেন! দ্বিতীয়ত, আমি মার্কসকে একজন বৃদ্ধ ইহুদি এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের শেষ নবীদের একজন হিসেবে দেখি। সেই দাড়িওয়ালা মানুষটি যিনি ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে বসে পুঁজিবাদ নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর 'দাস ক্যাপিটাল' বইটিও ছিল ব্রিটিশ পুঁজিবাদের একটি ব্যাখ্যা। তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে পুঁজিবাদের অন্যায়ের প্রতি যে তীব্র ঘৃণা ফুটে ওঠে, তা তাঁকে একজন নবীর সমতুল্য করে তোলে।
* শীর্ষস্থানে থাকা মানুষগুলো তাদের ক্ষমতা ভাগ করে নিতে চায় না। তাদের কাছে সবসময়ই কোনো না কোনো চমৎকার অজহুত থাকে: আমি আমার ধর্ম অনুসরণ করছি। আমি অর্থনীতির নিয়ম মেনে চলছি। এমনকি স্ট্যালিনও বলতেন: আমি শ্রমজীবী শ্রেণির অগ্রবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করছি, তাই দয়া করে সমস্যা সৃষ্টি করবেন না। এটি এমন এক লড়াই যা প্রতিটি প্রজন্মকে লড়তে হয়, অথচ আমাদের এ নিয়ে নিরাশ হওয়া চলবে না...
** ‘শেয়ার ইন্টারন্যাশনাল’ সাক্ষাৎকার (জানুয়ারি ২০০৩)
* 'মর্নিং স্টার' পত্রিকায় জর্জ গ্যালোওয়ের একটি নিবন্ধ ছাপা হয়েছিল যেখানে তিনি লিখেছিলেন, "ব্রিটেন বর্তমানে একদল রক্তমাখা, মিথ্যাবাদী, ধূর্ত যুদ্ধাপরাধীদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে।" প্রথমত, আমি মনে করি আপনার বক্তব্য তুলে ধরার জন্য এটি একটি সম্পূর্ণ অকার্যকর পদ্ধতি। দ্বিতীয়ত, গত নভেম্বরেই জর্জ আমার কাছে অনুনয় করেছিলেন যেন আমি ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভকে বুঝিয়ে তাঁকে দলে থাকতে দিই। আমি যদি সফল হতাম, তবে তিনিও সেই দলেরই সদস্য থাকতেন যা তাঁর মতে "একদল রক্তমাখা, মিথ্যাবাদী, ধূর্ত যুদ্ধাপরাধীদের" দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি জর্জ গ্যালোওয়ে সম্পর্কে আমার মোহভঙ্গ ঘটিয়েছে।
** ডায়েরি (৫ জুন ২০০৪)
* আমেরিকানরা ব্রিটেনে কখনোই একটি আমেরিকা-বিরোধী বা পুঁজিবাদ-বিরোধী সমাজতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হতে দেবে না। তাহলে কীভাবে আপনি পরিবর্তন আনবেন, যতক্ষণ না আপনি এমন চাপ সৃষ্টি করছেন যা ব্যবস্থাকে ভেঙে পড়তে বাধ্য করে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষমতা গ্রহণ করে? পার্লামেন্টে সামান্য আলোচনা সব বদলে দেবে। এই ধারণাটি একটি বিভ্রম মাত্র। আমি কোনো রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পক্ষে নই, কারণ স্ট্যালিনের সময় কী ঘটেছিল তা আমরা দেখেছি। কিন্তু আমি মানুষের অধিকার তিলে তিলে বিসর্জন দেওয়ারও পক্ষে নই, কারণ তা করলে সবকিছু গুটিয়ে রাখা ছাড়া আর উপায় থাকে না।
** ডায়েরি (২০০১-২০০৭)
* আমার প্রপিতামহ ছিলেন একজন যাজক এবং মা ছিলেন বাইবেল বিশেষজ্ঞ। আমি বড় হয়েছি বাইবেলের সেই সব গল্প শুনে যেখানে ক্ষমতাশালী রাজা এবং ন্যায়পরায়ণ নবীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চিরন্তন। আমাকে নবীদের ওপর বিশ্বাস রাখতে শেখানো হয়েছিল, যা আমাকে অনেক ঝামেলায় ফেলেছে। আমার বাবা ছোটবেলায় বলতেন, "ড্যানিয়েলের মতো সাহসী হও, একা দাঁড়ানোর সাহস রাখো, সুদৃঢ় উদ্দেশ্য রাখো এবং তা প্রকাশ করার সাহস অর্জন করো।"
** ‘কাউন্টারপাঞ্চ’ সাক্ষাৎকার (১৯ ডিসেম্বর ২০০৫)
* লেবার পার্টি কখনোই একটি সমাজতান্ত্রিক দল ছিল না, তবে এতে সবসময় সমাজতন্ত্রীরা ছিল। ঠিক যেমন চার্চের মধ্যে কিছু খ্রিস্টান থাকে—এটি একটি হুবহু সমান্তরাল বিষয়।
** ‘টুডে’ প্রোগ্রাম (১০ ফেব্রুয়ারি ২০০৬)
* আমি যেখানে বসে আছি সেখান থেকে মাত্র এক কোয়ার্টার মাইল দূরে আমার জন্ম এবং ব্লিৎজ-এর সময় আমি লন্ডনেই ছিলাম। প্রতি রাতে আমি আশ্রয়ে যেতাম। ৫০০ মানুষ মারা গিয়েছিল, আমার ভাই মারা গিয়েছিল, আমার বন্ধুরা মারা গিয়েছিল। আমি যখন সৈন্যবাহী জাহাজে চড়ে বাড়ি ফিরছিলাম তখন সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের চার্টার আমার কাছে পড়া হয়েছিল: ‘জাতিপুঞ্জের জনগণ আমরা যুদ্ধের অভিশাপ থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করতে সংকল্পবদ্ধ...’। সেটি ছিল আমার প্রজন্মের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এবং আপনারা সেটি ছিঁড়ে ফেলেছেন। ইরাকে যা করা হয়েছে তা একটি যুদ্ধাপরাধ, কারণ একজন 'স্টিলথ বোমারু' এবং একজন 'আত্মঘাতী বোমারুর' মধ্যে কোনো নৈতিক পার্থক্য নেই। উভয়েই রাজনৈতিক কারণে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে।
** ‘কোয়েশ্চেন টাইম’ (২২ মার্চ ২০০৭)
* বন্দুকের চেয়ে চিন্তাধারা বা আইডিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী।
** উইকিনিউজ সাক্ষাৎকার (৮ আগস্ট ২০০৭)
* যদি আমরা মানুষকে মারার জন্য টাকা খুঁজে পাই, তবে মানুষকে সাহায্য করার জন্যও আমরা টাকা খুঁজে পেতে পারি।
** ‘সিকো’ সিনেমায় সাক্ষাৎকার (২০০৭)
* একটি শিক্ষিত, সুস্থ এবং আত্মবিশ্বাসী জাতিকে শাসন করা অনেক বেশি কঠিন।
** ‘সিকো’ সিনেমায় সাক্ষাৎকার (২০০৭)
* আমি মনে করি মানুষকে দুটি উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রথমত তাদের ভয় দেখানো এবং দ্বিতীয়ত তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
* ঋণে জর্জরিত মানুষ আশাহীন হয়ে পড়ে এবং আশাহীন মানুষ ভোট দেয় না। সবাই বলে সবার ভোট দেওয়া উচিত, কিন্তু আমি মনে করি ব্রিটেন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গরিব মানুষরা যদি বেরিয়ে এসে তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী কাউকে ভোট দিত, তবে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটত।
* পছন্দ করার সুযোগ নির্ভর করে পছন্দের স্বাধীনতার ওপর। আপনি যদি ঋণের জালে বন্দি থাকেন, তবে সেই স্বাধীনতা আপনার নেই।
* আমি মনে করি গণতন্ত্র হলো বিশ্বের সবচেয়ে বৈপ্লবিক বিষয়। কারণ আপনার হাতে ক্ষমতা থাকলে আপনি তা নিজের এবং আপনার সম্প্রদায়ের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করবেন।
* পরিবর্তন যেভাবে শুরু হয়: আপনি যদি কোনো ভালো আইডিয়া নিয়ে আসেন (যেমন স্বাস্থ্যসেবা), তবে প্রথমে আপনাকে উপেক্ষা করা হবে। আপনি যদি হাল না ছাড়েন, তবে বলা হবে আপনি নিশ্চিতভাবে পাগল। এরপরও চালিয়ে গেলে বলা হবে আপনি বিপজ্জনক। তারপর যদি চাপ অব্যাহত থাকে, তবে কিছুক্ষণ বিরতি আসবে। এবং সবশেষে আপনি ওপরের মহলে এমন কাউকে পাবেন না যিনি দাবি করবেন না যে আইডিয়াটি আসলে তাঁর মাথাতেই প্রথম এসেছিল! এভাবেই প্রগতি বা উন্নতি ঘটে।
* যখন পৃথিবীতে এত মানুষ একে অপরকে ঘৃণা করে, তখন কেন চার্চের ভেতরে দুজন মানুষ একে অপরকে ভালোবাসলে তা নিয়ে বিভক্তি তৈরি হয়?
** চার্চ অফ ইংল্যান্ডে সমলিঙ্গ বিবাহ বিতর্ক প্রসঙ্গে (২০০৮)
* যেকোনো অগ্রগতির চাবিকাঠি হলো সব সময় ‘কেন’ প্রশ্নটি করা। কেন সেই শিশুটি গরিব? কেন যুদ্ধ হয়েছিল? কেন তাকে হত্যা করা হলো? কেন তিনি ক্ষমতায়? সমাজকে যারা চালায় তারা চায় মানুষ সবকিছু মেনে নিক। প্রশ্ন করা ছাড়া আমরা কোনো উন্নতি করতে পারব না।
* আমি কখনোই মাংস পছন্দ করতাম না। আমার ছেলে হিলারি ৩০ বছর আগে বলেছিল, 'পৃথিবী যদি এই শস্যগুলো পশুকে খাইয়ে তাদের হত্যা করার পরিবর্তে নিজেরা খেত, তবে সবার জন্য পর্যাপ্ত খাবার থাকত।'
** বিবিসি নিউজ (৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭)
===অজ্ঞাত বছর===
*লেবার সরকারে থাকার সময় আমরা পুঁজিবাদকে একটি সভ্য উপায়ে কার্যকর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এটি কখনোই সেভাবে কাজ করতে পারে না। পুঁজিবাদ সবসময়ই মানুষকে শোষণ ও নিপীড়ন করবে।
**রব সেওয়েল রচিত ও ১৪ মার্চ ২০১৪ তারিখে প্রকাশিত শোকবার্তা: 'টনি বেন: ব্রিটিশ বামপন্থীদের একজন অসামান্য নেতা' থেকে সংগৃহীত।
{{Disputed begin}}
== বিতর্কিত ==
*আমার মনে হয় না মানুষ বুঝতে পারে যে এই শাসকগোষ্ঠী বা এস্টাবলিশমেন্ট কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা কেবল দরিদ্রদের কাছ থেকে জমি ও সম্পত্তি দখল করেছে। নিজেদের রক্ষার জন্য তারা চারপাশে দুর্বল মানসিকতার চাটুকারদের জড়ো করেছে। তারা নিজেদের বিভিন্ন উপাধি দিয়েছে এবং তখন থেকেই ক্ষমতা দখল করে আছে।
**রয় হুইটেকার রচিত 'দ্য টাইম ইজ আউট অব জয়েন্ট' (২০১৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত, তবে এর কোনো মূল উৎস দেওয়া হয়নি।
{{Disputed end}}
{{Misattributed begin}}
== ভুলভাবে আরোপিত ==
* একটি সরকার শরণার্থীদের সাথে যে আচরণ করে তা অত্যন্ত শিক্ষণীয়। কারণ এটি দেখায় যে সুযোগ পেলে তারা আমাদের সাথেও কেমন আচরণ করত।
** নীল অ্যাশারসন থেকে সংগৃহীত:
{{cite web|url=https://www.independent.co.uk/voices/if-we-teach-children-morality-what-will-we-say-about-the-arms-trade-1325052.html|title=আমরা যদি শিশুদের নৈতিকতা শেখাই, তবে অস্ত্র বাণিজ্য সম্পর্কে আমরা কী বলব?|date=২১ জানুয়ারি ১৯৯৬}}
আল-মাসারি ঘটনাটি সব দিক থেকেই নৈতিক আপেক্ষিকতায় পরিপূর্ণ। আমার ব্যক্তিগত মত হলো, কোনো দেশ ব্রিটেনের সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি বাতিলের হুমকি দিচ্ছে বলে একজন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে বহিষ্কার করা সম্পূর্ণ ভুল। এটি কেবল ভুলই নয়, দীর্ঘমেয়াদে আমাদের সবার জন্যই বিপজ্জনক। এর কারণ হলো রাজনীতির অন্যতম একটি নিয়ম যা আমি অনেক আগে আমার ছোট কালো নোটবইয়ে লিখেছিলাম: "একটি রাষ্ট্র তার ভিনদেশিদের সাথে যেভাবে আচরণ করে, সাহস থাকলে সে তার নিজের নাগরিকদের সাথেও ঠিক সেভাবেই আচরণ করত।"
{{Misattributed end}}
== বেন সম্পর্কে উক্তি ==
=== ১৯৭০ দশক ===
* টনি বেন হলেন একজন ওল্ড টেস্টামেন্ট নবী, যিনি তার কাঙ্ক্ষিত 'নিউ জেরুসালেমের' বাণী প্রচার করছেন।
** হ্যারল্ড উইলসন, উদ্ধৃত: ''দ্য টাইমস'' (১২ মে ১৯৭৫), পৃ. ১৪
* তাহলে পার্টির সাথে তার এই ২৪ বছরে তিনি কার জন্য সময় বের করতে পেরেছিলেন, যদি তিনি সমষ্টিবাদীদের পছন্দ না করেন এবং মধ্যপন্থীদেরও না? একটি বিরতি ছিল। "আচ্ছা, বেন। ওয়েজউড বেন সম্পর্কে আমার উচ্চ ধারণা আছে। তিনি সমষ্টিবাদের একটি রূপের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে অন্তত তিনি সৎ এবং মৌলিক। আমি তাকে লেবার পার্টির নেতৃত্বে দেখতে চাই।"<br/>কথাটা শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি বললাম, বেন লেবার পার্টির নেতৃত্বে আসলে কি দেশটির সমষ্টিবাদের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে না, যার ফলে আমাদের স্বাধীনতার অনিবার্য ক্ষয় ঘটবে। যেটি জনসন তার "ফেয়ারওয়েলে" উল্লেখ করেছিলেন?<br />না, জনসন উত্তর দিলেন। কারণ বেন একজন প্রকৃত গণতন্ত্রী ছিলেন এবং যখন সমষ্টিবাদ ও স্বাধীনতার মধ্যে চূড়ান্ত লড়াই শুরু হবে, তখন তিনি হয়তো স্বাধীনতাকেই বেছে নেবেন। কিন্তু ততক্ষণে তো অনেক দেরি হয়ে যাবে! জনসন বললেন, হয়তো হবে। কিন্তু অন্তত লেবার পার্টিতে বেন এবং টোরি দলে থ্যাচারের নেতৃত্ব দেশকে সমষ্টিবাদ এবং ব্যক্তিবাদের মধ্যে একটি "সঠিক পছন্দ" করার সুযোগ দেবে।<br />আমার কাছে এটি পাগলামি বলে মনে হয়েছিল।
** পল জনসন, সাক্ষাৎকার: [[w:মাইকেল ডেভি |মাইকেল ডেভি]], ''দ্য অবজারভার'' (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭)
=== ১৯৮০ দশক ===
* তিনি খুব ভালো পোস্টমাস্টার জেনারেল ছিলেন, সেই রঙিন স্ট্যাম্পগুলো এখনও চলছে। টনি শপ স্টুয়ার্ডদের নিয়ে আচ্ছন্ন ছিলেন। এ কারণেই তিনি পরিকল্পনা চুক্তি পছন্দ করতেন। কারণ সেগুলো শপ স্টুয়ার্ডরা চালাবে। আমরা শ্যাডো ক্যাবিনেটের একটি মিটিং করছিলাম এবং আমি অন্যান্য আলোচনার জন্য জানতে চাইলাম। সবাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কারণ আমরা জানতাম টনির কাছে কিছু একটা থাকবেই। তিনি বললেন, আমি এইমাত্র ব্রিস্টল অ্যারোস্পেস কর্মীদের একটি সভায় যোগ দিয়েছি এবং তারা একটি প্রস্তাব পাশ করেছে যে এক সপ্তাহের নোটিশে তাদের ম্যানেজমেন্টকে বরখাস্ত করার অধিকার থাকা উচিত। আমি বললাম, এক সপ্তাহ কেন? কেন তাদের শুধু একটি সপ্তাহান্ত দেওয়া হবে না তাদের লকারগুলো খালি করার জন্য? আমি সবসময় টনি সম্পর্কে বলেছি যে তিনি '''বয়সের সাথে সাথে অপরিণত হন।'''
** হ্যারল্ড উইলসন, সাক্ষাৎকার: ''দ্য টাইমস'' (৭ এপ্রিল ১৯৮১), পৃ. ১২
* কিছু সিভিল সার্ভেন্ট টনি বেনের বিরুদ্ধে কাউন্টার-ব্রিফিংয়ে অনেক অবদান রাখতেন, এই ধারণার ভিত্তিতে যে যেহেতু তিনি ইউরোপ-বিরোধী, তাই তার বলা সবকিছুরই বিরোধিতা করা উচিত। আমি এটি তীব্রভাবে অপছন্দ করতাম। এই ধরণের অফিশিয়াল রাজনীতি সিভিল সার্ভিসের অন্যতম কুৎসিত দিক... সেখানে উচ্চপদস্থ সিভিল সার্ভেন্টদের একটি মাফিয়া ছিল। আমি শীঘ্রই আবিষ্কার করলাম যে তারা পদ্ধতিগতভাবে ইউরোপ-পন্থি মন্ত্রীদের একজোট করার চেষ্টা করছিল ইউরোপ-বিরোধী মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে। আমি ফরেন অফিস থেকে ব্রিফিং পেতাম যা শুরু হতো এভাবে: "আমরা আশা করি মিস্টার বেন নিম্নলিখিত কথাগুলো বলবেন..." আমি পরিষ্কার করে দিয়েছিলাম যে মিস্টার বেন কী বলবেন এবং কর্মকর্তাদের মতে তার কী বলা ‘উচিত’, সেই ব্রিফিং এনার্জি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আসা উচিত নয়।
** ডেভিড ওয়েন, ''পার্সোনালি স্পিকিং টু কেনেথ হ্যারিস'' (১৯৮৭), পৃ. ১১০-১১১
* সাফল্যর চেয়ে ব্যর্থতা সবসময়ই অনেক বেশি আকর্ষণীয়, আর টনি বেন অনেক দিক থেকেই আমাদের সময়ের সবচেয়ে মুগ্ধকর বামপন্থী ব্যক্তিত্ব। তার মন্ত্রিত্বের ক্যারিয়ারের শুরু নিয়ে লেখা এই 'ডায়েরি'গুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে তিনি কত কিছু হাতছাড়া করেছেন। এগুলো যা প্রকাশ করে তা হলো একজন উচ্চ সম্ভাবনাময় তরুণ রাজনীতিবিদ, যাঁর পায়ের নিচে এক চতুর্থাংশ শতাব্দী আগে লেবার রাজনীতির জগতটি লুটোপুটি খাচ্ছিল।
* পোস্টমাস্টার জেনারেল এবং রানীর মধ্যকার সেই গল্প এবং ডাকটিকিটে রানীর মাথার ছবি থাকা নিয়ে যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছিল, তা এই বইয়ের সেরা অংশ (যারা এটিকে তুচ্ছ বলে উড়িয়ে দেন তারা আসলে ব্রিটেনের ক্ষমতার কাঠামো সম্পর্কে খুব সামান্যই বোঝেন)। এটি আসলে একটি অত্যন্ত আলোকিত সাংবিধানিক রূপক উপস্থাপন করে। ক্রাউনের রাজনৈতিক প্রভাব, সিভিল সার্ভিসের ষড়যন্ত্র বা রানীর প্রথম মন্ত্রী হিসেবে হ্যারল্ড উইলসনের অত্যন্ত ঐতিহ্যবাদী চরিত্র সম্পর্কে যারা আগ্রহী, তাদের এটি উপেক্ষা করার উপায় নেই।
** অ্যান্থনি হাওয়ার্ড, ''দ্য অবজারভার'' (৪ অক্টোবর ১৯৮৭), পৃ. ২৬। 'আউট অফ দ্য ওয়াইল্ডারনেস ডায়েরি ১৯৬৩-৬৭' পর্যালোচনা থেকে।
=== ১৯৯০ দশক ===
* এটি বিড়ম্বনা যে টনি বেনের মন্ত্রীত্বকাল মাত্র দুটি স্মৃতিস্তম্ভ রেখে গেছে একটি নামিবিয়ার ইউরেনিয়াম খনি যা তিনি এনার্জি সেক্রেটারি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছিলেন, যা বর্ণবাদকে সমর্থন করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত অঞ্চলে অবস্থিত। আর একটি বিমান কনকর্ড যা ধনী ব্যক্তিরা তাদের খরচের হিসেবে ব্যবহার করেন আর যার ভাড়া অনেক দরিদ্র করদাতাদের ভর্তুকি দিয়ে চলে।
** ডেনিস হিলি, ''দ্য টাইম অফ মাই লাইফ'' (১৯৯০), পৃ. ৩৩১
* আরেকজন তারকা ছিলেন টনি বেন, যিনি সেই সময় মাননীয় অ্যান্থনি ওয়েজউড বেন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি এবং তিনি খুব কমই কোনো বিষয়ে একমত হয়েছি। কিন্তু তিনি সবসময়ই একজন মার্জিত এবং কার্যকর তার্কিক, একজন ইংরেজ দেশপ্রেমিক এবং সময় সমাজতন্ত্রকে ক্রমশ অতীতের বিষয়ে পরিণত করায় তিনি একজন ঐতিহ্যবাহী ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন। তবে হয়তো আমাদের ধর্মীয় শিকড়ের ভিত্তিতে আমাদের মধ্যে এক ধরণের সহানুভূতি ছিল। টনি যখন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হলেন, তখন আমাকে একটি উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল যেখানে তার বাবা ভাইকাউন্ট স্ট্যান্সগেট উপস্থিত ছিলেন। টনির নন-কনফর্মিস্ট নীতি অনুযায়ী সেই উৎসবটি ছিল সম্পূর্ণ মদ্যপানমুক্ত।
** মার্গারেট থ্যাচার, ''দ্য পাথ টু পাওয়ার'' (১৯৯৫), পৃ. ৪৩
* গত রাতে টনি বেনের সাথে কথা হলো। উত্তর সাগরের তেল নিয়ে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যিনি অন্তত অর্ধেকটা ঠিক বলেছিলেন। এবং তার সাথে কথা বলা কতটা মুগ্ধকর! তার মন অত্যন্ত ক্ষিপ্র এবং বহুমুখী। তবে সেই পাগলাটে কুসংস্কার (যা মূলত তাকে সক্রিয় রাখার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে) কখনোই উপরিভাগের খুব গভীরে নয়। 'আমরা সিঙ্গাপুরের মতো এশীয় অর্থনীতি চাইয়ের দণ্ডবিধিসহ' ইত্যাদি।
** অ্যালান ক্লার্কের ডায়েরি (৭ জানুয়ারি ১৯৯৬)
=== ২০০০ দশক ===
* যারা টনি বেনের সাথে কখনো দেখা করেনি, তারাই কেবল তাকে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে বর্ণনা করে।
** জেরাল্ড কাউফম্যান, ২০০২ সালে 'আমি কি আপনার জন্য খবর পেয়েছি' অনুষ্ঠানে।
* বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পার্লামেন্টারিয়ান।
** অ্যাডাম টমকিন্স, 'বহু-স্তরযুক্ত সংবিধানে পাবলিক ল' (২০০৩), পৃ. ৫৩
* টনি বেন ১৯৮০ সালে তার জনপ্রিয়তার শিখরে ছিলেন, বামপন্থীদের নায়ক হিসেবে তার আবেদন তাদের ক্ষুদ্র সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। আমার কাছে তিনি ছিলেন এক রহস্য। ব্যক্তিগতভাবে তিনি অত্যন্ত অমায়িক মানুষ ছিলেন, বন্ধু এবং সহকর্মীদের নিয়ে চিন্তিত থাকতেন, সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকতেন, রসিক এবং বিনয়ী ছিলেন। তার সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছিল গভীর, যা কার্ল মার্কস বা লিওন ট্রটস্কির চেয়েও ইংরেজ গৃহযুদ্ধের 'লেভেলার্স'দের কাছে বেশি ঋণী ছিল। তার কাছে আইকনিক নেতা ছিলেন অলিভার ক্রমওয়েলের নিউ মডেল আর্মির কর্নেল রেইনবরো। যিনি পুটনি বিতর্কের সময় ঘোষণা করেছিলেন। "ইংল্যান্ডের দরিদ্রতম ব্যক্তিরও জীবন ধারণের তেমন অধিকার আছে যেমনটি মহান ব্যক্তির আছে।" বেনের কারিশমা তার যুক্তির ওপর আধিপত্য বিস্তার করত এবং তার বাকপটুতা তার লজিককে ধুয়ে দিত যখন তিনি অনুরাগী শ্রোতাদের সামনে কথা বলতেন। আমার এক সাংবাদিক বন্ধু লক্ষ্য করেছিলেন যে, কনফারেন্সে বক্তৃতার সময় হাততালির মধ্যেও টনি থামতেন না। মনে হতো তিনি নিজেই নিজের ওপর সম্মোহন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে, তার নিজের সমর্থকদের মধ্যে কেউ কেউ চিন্তিত হতে শুরু করেছিলেন। তার স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকা চোখ এমনকি তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছিল।
** [[w:শার্লি উইলিয়ামস|শার্লি উইলিয়ামস]], ''ক্লাইম্বিং দ্য বুকশেলভস'' (২০০৯), পৃ. ২৭৬-২৭৭
=== ২০১৪ ===
* বেনের অনেক কিছুই আমাকে মুগ্ধ করত। অটল আদর্শ; সবসময় নতুন ধারণার প্রতি উন্মুক্ত। অসাধারণ রাজনৈতিক বক্তা কিন্তু সদা মার্জিত।
** ডায়ান অ্যাবট, ''দ্য গার্ডিয়ান'' (১৪ মার্চ ২০১৪)
* টনি ছিলেন আইরিশ জনগণের একজন প্রকৃত বন্ধু। একজন নীতিবান রাজনীতিবিদ এবং কর্মী হিসেবে তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের ধারণার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তিনি সারাজীবন আইরিশ স্বাধীনতার একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।
** জেরি অ্যাডামস, ''বেলফাস্ট টেলিগ্রাফ'' (১৪ মার্চ ২০১৪)
* তিনি এক কথায় দুর্দান্ত বক্তা ছিলেন... তার প্রকাশের স্বচ্ছতা ছিল দেখার মতো। তিনি ছিলেন একজন চমৎকার ও ভালো মানুষ। তিনি শত্রু তৈরি করেছিলেন এবং শত্রু বজায় রেখেছিলেন, তবে সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ মানুষ তাকে অনেক ভক্তির সাথে দেখত। তিনি অনেক বছর ধরেই নেতৃত্বের সাথে তাল মেলাতে পারেননি। তিনি মানুষকে চিন্তা করতে বাধ্য করতে চাইতেন এবং এটি ছিল এক প্রশংসনীয় বিষয়।
** [[w:মার্গারেট বেকেট|মার্গারেট বেকেট]], ''দ্য গার্ডিয়ান'' (১৪ মার্চ ২০১৪)
* টনি বেন ছিলেন সেই বিরল ব্যক্তিদের একজন: যিনি সারাজীবন একজন প্রকৃত র্যাডিক্যাল ছিলেন। তিনি ছিলেন লেবার আন্দোলনের একজন নির্ভীক প্রচারক এবং কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। এমনকি যখন আমি তার সাথে একমত হইনি, তখনও ব্রিটেনের এবং বিশ্বের মানুষের প্রতি তার মেধা, তার আবেগ এবং তার প্রতিশ্রুতির জন্য আমার সবসময় গভীর শ্রদ্ধা ছিল।
** টনি ব্লেয়ার, বিবিসি.কো.ইউকে (১৪ মার্চ ২০১৪)
* বেন ছিলেন সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে এক শক্তিশালী, নির্ভীক ও নিরলস প্রবক্তা।
** গর্ডন ব্রাউন, বিবিসি.কো.ইউকে (১৪ মার্চ ২০১৪)
* একটি অসাধারণ রাজনৈতিক জীবনের শেষ দশকে টনি বেন ছিলেন হিউম্যান রাইটস বা মানবাধিকারের একজন মহান বন্ধু। তিনি ইন্টার্নমেন্ট এবং আইডেন্টিটি কার্ডের বিরুদ্ধে এবং আন্তর্জাতিকতা ও মানবতার মূল্যবোধের পক্ষে দেশজুড়ে বিশাল জনসভায় কথা বলেছেন। এবং তিনি প্রায়ই ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের বক্তাদের সাথে মঞ্চ ভাগ করে নিতেন। আমি কখনোই ভুলব না আমার প্রতি তার মহানুভবতার কথা। এমনকি একবার যখন আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, তখন আমার কাঁচা বক্তব্যকে কিছুটা গুছিয়ে শোনানোর জন্য তিনি নিজের তৈরি করা স্ক্রিপ্ট ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। এই কৃত্রিম প্রচারের যুগে তিনি ছিলেন অটল একজন দিকনির্দেশক, কোনো সুবিধাবাদী বাতপতাকা নন।
** [[w:শামি চক্রবর্তী|শামি চক্রবর্তী]], ''দ্য গার্ডিয়ান'' (১৪ মার্চ ২০১৪)
* জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বেন ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক নবীতে পরিণত হয়েছিলেন, যিনি দেশজুড়ে বিশাল জনসমাগম আকর্ষণ করতেন।
** টাম ড্যালিয়েল, ''দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট'' (১৪ মার্চ ২০১৪)
* টনি বেন ছিলেন সমাজতন্ত্রের এক মহারথী যিনি আমাকে ১৯৭৭ সালে লেবারে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন: এক চমৎকার অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা এবং মানুষ। তাকে গভীরভাবে মিস করব।
** পিটার হেইন, ''দ্য গার্ডিয়ান'' (১৪ মার্চ ২০১৪)
* তিনি জীবনে একটি মহান কাজ করেছিলেন। তিনি হাউস অফ লর্ডসের সংবিধান পরিবর্তন করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি সেই ধরণের বামপন্থী উন্মাদনার প্রতীক ছিলেন যা ১৯৭০ দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৮০ দশকের শুরুতে লেবার পার্টিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল।
** জো হেইনস, বিবিসি নিউজ (১৪ মার্চ ২০১৪)
* বেন ছিলেন আমাদের সময়ের এক আইকনিক ব্যক্তিত্ব। তাকে মনে রাখা হবে ক্ষমতাহীনদের চ্যাম্পিয়ন, একজন মহান পার্লামেন্টারিয়ান এবং নীতিবান রাজনীতিবিদ হিসেবে। টনি বেন তার মনের কথা বলতেন এবং তার মূল্যবোধের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। আপনি তার সাথে একমত হোন বা দ্বিমত পোষণ করুন, সবাই জানত তিনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন এবং কিসের পক্ষে লড়ছেন। তিনি আন্দোলনে বিশ্বাস করতেন এবং তার প্রিয় কারণগুলোর জন্য মানুষকে সংগঠিত করতেন। রাজনীতির এই ক্ষুদ্র জগতে তিনি আমাদের দেশ এবং আমাদের পৃথিবী নিয়ে অনেক বড় চিন্তা করতেন।
** এড মিলিব্যান্ড, বিবিসি.কো.ইউকে (১৪ মার্চ ২০১৪)
=== ২০১৭ ===
* আমি টনি বেনের খুব একটা বড় ভক্ত ছিলাম না, আমার মনে হয় তিনি অনেক দিক থেকেই একজন প্রতারক ছিলেন।
** আলেক্সেই সেলে, ''দ্য সানডে টাইমস'' (৬ আগস্ট ২০১৭)
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২৫-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০১৪-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য]]
[[বিষয়শ্রেণী:গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুদ্ধবিরোধী কর্মী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের সক্রিয়কর্মী]]
[[বিষয়শ্রেণী:এলজিবিটি অধিকার কর্মী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের নারীবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাজ্যের আত্মজীবনীকার]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের অকল্পিত সাহিত্য লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:অজ্ঞেয়বাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ডায়েরি লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:বিমানচালক]]
[[বিষয়শ্রেণী:লন্ডনের ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:লেবার পার্টির (যুক্তরাজ্য) রাজনীতিবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
f1s4dl8bi9h0wupyh1rv58t8bjhc820
পেত্র ক্রাপোতকিন
0
13355
83228
82213
2026-05-01T14:11:14Z
SMontaha32
3112
83228
wikitext
text/x-wiki
[[File:Atelier Nadar - Pierre Kropotkine.jpg|thumb|right|[[All|সবই]] সবার জন্য। সব জিনিসই মানবজাতির জন্য... সব সবার জন্য!]]
[[File:Foucault pendulum in the Franklin Institute.jpg|thumb|right|মানুষের চিন্তার ইতিহাস একটি দোলকের দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই দোলনের এক একটি পর্যায় শেষ হতে কয়েক শতাব্দী লেগে যায়। দীর্ঘ সুপ্তাবস্থার পরেই আসে জাগরণের মুহূর্ত।]]
প্রিন্স '''[[w:পিটর ক্রোপোটকিন|পিটর আলেকসেইভিচ ক্রোপোটকিন]]''' (৯ ডিসেম্বর, ১৮৪২ – ৮ ফেব্রুয়ারি,১৯২১) ছিলেন একজন রুশ ভূগোলবিদ ও প্রাণীবিজ্ঞানী। তিনি রাশিয়ার অন্যতম প্রধান [[অ্যানার্কিস্ট|অ্যানার্কিস্ট]] বা নৈরাজ্যবাদী সামাজিক দার্শনিক ছিলেন। তিনি মূলত [[w:অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম|অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম]] বা নৈরাজ্যবাদী সাম্যবাদের ধারণা প্রচারের জন্য পরিচিত।
== উক্তি ==
* '''মানব চিন্তার ইতিহাস পেন্ডুলামের দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয় যা দুলতে শত শত বছর সময় নেয়। দীর্ঘ তন্দ্রার পর আসে জাগরণের মুহূর্ত।''' তখন চিন্তা নিজেকে সেই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে যা শাসকরা, আইনজীবীরা এবং যাজকরা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তার চারপাশে জড়িয়ে রেখেছিল। <br> সে সেই শৃঙ্খল ভেঙে ফেলে। তাকে যা কিছু শেখানো হয়েছিল সে সবকিছুর কঠোর সমালোচনা করে এবং ধর্মীয়, রাজনৈতিক, আইনি ও সামাজিক কুসংস্কারের অসারতা উন্মোচন করে। '''সে নতুন পথে গবেষণা শুরু করে, নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে এবং নতুন বিজ্ঞান সৃষ্টি করে।''' <br> কিন্তু চিন্তার চিরশত্রুরা সরকার, আইনপ্রণেতা এবং যাজক। শীঘ্রই তাদের পরাজয় কাটিয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে তারা তাদের ছত্রভঙ্গ বাহিনীকে একত্রিত করে এবং নতুন প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বিশ্বাস ও আইনকানুন নতুন করে সাজায়।
** [http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_Archives/kropotkin/AM/anarchist_moralitytc.html 'অ্যানার্কিস্ট মরালিটি'] (১৮৯০)
* আমেরিকাই এমন একটি দেশ যা দেখায় যে স্বাধীনতার জন্য বিশ্বের সমস্ত লিখিত গ্যারান্টিও নিকৃষ্টতম ধরনের স্বৈরাচার এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনো সুরক্ষা নয়। সেখানে রাজনীতিবিদদের সমাজের আবর্জনা হিসেবে দেখা শুরু হয়েছে। বিশ্বের মানুষ গভীরভাবে অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছে এবং সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটদের রাষ্ট্রকে নিপীড়নের একটি নতুন ইঞ্জিনে তালি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তারা শান্ত হচ্ছে না।
** ভাষণ (২৬ সেপ্টেম্বর ১৮৯১)। জর্জ উডকক এবং ইভান অ্যাভাকুমোভিচ রচিত 'পিটার ক্রোপোটকিন: ফ্রম প্রিন্স টু রেবেল' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ২৬৯।
* '''অনার্কিজম''' (গ্রিক 'ἅν' এবং 'άρχη' থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ কর্তৃত্বের বিপরীত), '''এমন একটি জীবন ও আচরণের নীতি বা তত্ত্বের নাম যার অধীনে সমাজকে সরকারহীন বলে কল্পনা করা হয়। এই ধরনের সমাজে সামঞ্জস্যতা আইনের কাছে নতি স্বীকার করে বা কোনো কর্তৃত্বের আনুগত্যের মাধ্যমে নয় বরং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও পেশাদার গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পাদিত মুক্ত চুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়। এই গোষ্ঠীগুলো উৎপাদন ও ভোগ এবং একজন সভ্য মানুষের অসীম বৈচিত্র্যময় প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য স্বেচ্ছায় গঠিত হয়।''' এই ধারায় বিকশিত সমাজে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যা ইতিমধ্যেই মানুষের কর্মকাণ্ডের সব ক্ষেত্র দখল করতে শুরু করেছে। আরও বিস্তৃতি লাভ করবে যাতে তারা রাষ্ট্রের সব কার্যাবলীর বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা একটি জালের মতো ছড়িয়ে থাকবে যা উৎপাদন, ভোগ, বিনিময়, যোগাযোগ, স্যানিটেশন, শিক্ষা, পারস্পরিক সুরক্ষা এবং ভূখণ্ড রক্ষার মতো সব সম্ভাব্য উদ্দেশ্যে স্থানীয়, আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র-বৃহৎ নানা দল ও ফেডারেশনের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এছাড়া এটি ক্রমাগত বাড়তে থাকা বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক, সাহিত্যিক এবং সামাজিক চাহিদাগুলোও পূরণ করবে। অধিকন্তু, '''এমন একটি সমাজ কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় হবে না।''' উল্টো যেমনটি জৈব জীবনে দেখা যায়। বহু শক্তি ও প্রভাবের মধ্যে সদা পরিবর্তনশীল ভারসাম্যের ফলেই সামঞ্জস্যতা বজায় থাকবে।
** [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/britanniaanarchy.html এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (১৯১০)-এ ক্রোপোটকিনের "অ্যানার্কিজম" বিষয়ক ভুক্তি]
[[File:Paolo Monti - Servizio fotografico (Napoli, 1969) - BEIC 6353768.jpg|thumb|right|প্রাচীন গ্রিসে অরাজকতাতান্ত্রিক দর্শনের সেরা প্রবক্তা ছিলেন সিটিয়ামের জেনো...]]
* '''প্রাচীন গ্রিসে অরাজকতাতান্ত্রিক দর্শনের সেরা প্রবক্তা ছিলেন সিটিয়ামের জেনো''' (৩৪২-২৬৭ বা ২৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), যিনি স্টোয়িক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি স্পষ্টভাবে প্লেটোর রাষ্ট্র-ইউটোপিয়ার বিপরীতে সরকারহীন একটি মুক্ত সম্প্রদায়ের ধারণা তুলে ধরেন। তিনি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতা এবং এর হস্তক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ব্যক্তির নৈতিক আইনের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় প্রবৃত্তি মানুষকে স্বার্থপরতার দিকে নিয়ে গেলেও প্রকৃতি এর সংশোধন হিসেবে মানুষের মধ্যে আরেকটি প্রবৃত্তি দিয়েছে আর তা হলো সামাজিকতা। '''মানুষ যখন তাদের প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি অনুসরণ করার মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমান হবে, তখন তারা সীমান্তের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হবে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ড গঠন করবে।''' তাদের আইন-আদালত বা পুলিশের প্রয়োজন হবে না, কোনো মন্দির বা পূজা থাকবে না এবং তারা কোনো অর্থ ব্যবহার করবে না। বিনিময়ের জায়গায় মুক্ত উপহার স্থান করে নেবে।
** এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (১৯১০), 'অ্যানার্কিজম' নিবন্ধ।
[[File:Krapotkin in Haparanda.jpg|thumb|right|সামাজিকতা প্রাকৃতিক সংগ্রামের মতোই প্রকৃতির একটি আইন।]]
* আমরা যখন ল্যাবরেটরি বা মিউজিয়ামে নয়, বরং বনে-জঙ্গলে, সমতলে, স্টেপ অঞ্চলে এবং পাহাড়ে প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করি, তখন আমরা উপলব্ধি করি যে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে যুদ্ধ ও ধ্বংসলীলা চললেও, একই প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন, পারস্পরিক সাহায্য এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ঠিক ততটাই বা সম্ভবত তার চেয়েও বেশি বিদ্যমান। '''সামাজিকতা প্রাকৃতিক সংগ্রামের মতোই প্রকৃতির একটি আইন।''' ...আমরা যদি প্রকৃতিকে জিজ্ঞাসা করি: "কারা সবচেয়ে উপযুক্ত। যারা একে অপরের সাথে অবিরাম যুদ্ধ করে, নাকি যারা একে অপরকে সমর্থন করে?" '''আমরা তখনই দেখব যে যেসব প্রাণী পারস্পরিক সহযোগিতার অভ্যাস রপ্ত করেছে তারাই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উপযুক্ত।''' তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি এবং তারা তাদের নিজ নিজ শ্রেণীতে সর্বোচ্চ বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক বিকাশ লাভ করে।
** "মিউচুয়াল এইড অ্যাজ আ ফ্যাক্টর ইন ইভোলিউশন" (১৯১৫)।
[[File:Lenin-poster.jpg|thumb|right|ভ্লাদিমির ইলিচ, আপনার বাস্তব কর্মকাণ্ড সেই সব আদর্শের সম্পূর্ণ অযোগ্য যা আপনি ধারণ করেন বলে দাবি করেন।]]
* '''ভ্লাদিমির ইলিচ, আপনার বাস্তব কর্মকাণ্ড সেই সব আদর্শের সম্পূর্ণ অযোগ্য যা আপনি ধারণ করেন বলে দাবি করেন।''' <br> এটা কি সম্ভব যে আপনি জানেন না জিম্মি হওয়া মানে আসলে কী একজন মানুষকে কারারুদ্ধ করা তার কোনো অপরাধের জন্য নয়, বরং তার শত্রুরা যাতে তার সহযোগীদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারে সেই সুবিধার জন্য? ...'''আপনি যদি এই ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করেন, তবে আগে থেকেই বলে দেওয়া যায় যে একদিন আপনি মধ্যযুগের মতো মানুষকে নির্যাতন করবেন।''' <br> আমি আশা করি আপনি আমাকে এই জবাব দেবেন না যে ক্ষমতা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য একটি পেশাগত দায়িত্ব এবং সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে যেকোনো মূল্যে তা রক্ষা করতে হবে। এমনকি রাজারাও এখন আর এই মত পোষণ করেন না... আপনি কি নিজের স্বৈরাচারী ধ্যান-ধারণায় এতটাই অন্ধ যে বুঝতে পারছেন না ইউরোপীয় কমিউনিজমের প্রধান হয়ে লজ্জাজনক পদ্ধতির মাধ্যমে আপনার আদর্শকে কলঙ্কিত করার কোনো অধিকার আপনার নেই?
** ভ্লাদিমির লেনিনের প্রতি চিঠি (২১ ডিসেম্বর ১৯২০)।
* '''আপনি জানেন আমি সবসময় ভবিষ্যতে বিশ্বাস করি... বিশৃঙ্খলা ছাড়া বিপ্লব অসম্ভব; তা জেনেও আমি আশা হারাইনি এবং এখনও হারাই না।'''
** এক বন্ধুর কাছে চিঠি (নভেম্বর ১৯২০)। উডকক ও অ্যাভাকুমোভিচ, পৃষ্ঠা ৪২৮।
* লেনিন ইতিহাসের কোনো বিপ্লবী চরিত্রের সাথেই তুলনীয় নন। বিপ্লবীদের আদর্শ ছিল। লেনিনের কোনো আদর্শ নেই। তিনি একজন উন্মাদ, একজন বিনাশকারী, যিনি কেবল দহন, হত্যাকাণ্ড এবং উৎসর্গ করতে আগ্রহী।
** উডকক ও অ্যাভাকুমোভিচ (১৯৯০), পৃষ্ঠা ৪০৭।
* '''বর্তমানে যা ঘটছে তার অনেক কিছুর প্রতিই আমার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং আমি সরকারের যারা প্রধান তাদের সরাসরি ও স্পষ্টভাবে তা বলেছি।''' তারা আমার সাথে ভালো আচরণ করেন এবং আমার অনুরোধ করা অনেক কিছু কার্যকর করা হয়েছে। তারা এমনকি আমাকে তাদের সাথে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি। একজন অরাজকতাবাদী হিসেবে আমি কোনো সরকারের সাথে আপস করতে পারি না।
** বলশেভিক বিপ্লব সম্পর্কে। উডকক ও অ্যাভাকুমোভিচ (১৯৯০), পৃষ্ঠা ৪২৮।
* '''আইন হলো প্রথার এক চতুর মিশ্রণ। যার কিছু অংশ সমাজের জন্য উপকারী যা কোনো আইন না থাকলেও মেনে চলা হতো, আর বাকি অংশ শাসক সংখ্যালঘুর সুবিধার্থে তৈরি যা সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর এবং কেবল ত্রাসের মাধ্যমেই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব।'''
** 'ওয়ার্ডস অব আ রেবেল'। চার্লস বুফে রচিত 'দ্য হেরেটিকস হ্যান্ডবুক অব কোটেশনস' (১৯৯২), পৃষ্ঠা ২৬।
* আইন মানুষের শ্রদ্ধার দাবিদার নয়। এর কোনো সভ্য করার লক্ষ্য নেই। এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো শোষণকে রক্ষা করা।
** 'ওয়ার্ডস অব আ রেবেল'। পৃষ্ঠা ২৬।
=== 'অ্যান আপিল টু দ্য ইয়াং' (১৮৮০) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/ANARCHIST_ARCHIVES/kropotkin/appealtoyoung.html পূর্ণাঙ্গ টেক্সট অনলাইন]</small>
* '''মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে বিজ্ঞান সঠিক প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরার পর এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু কতজন সেগুলো আয়ত্ত করতে পেরেছে বা কতজনের মধ্যে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক সমালোচনামূলক চেতনা রয়েছে?''' বড়জোর কয়েক হাজার মানুষ, যারা এখনও লক্ষ লক্ষ কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের ভিড়ে হারিয়ে আছে। যে মানুষগুলো বন্যদের মতো অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে বসে আছে এবং পরিণামে ধর্মীয় ভণ্ডদের হাতের পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
* অথবা, আরেকটু এগিয়ে আমরা যদি দেখি বিজ্ঞান শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যৌক্তিক ভিত্তি স্থাপনের জন্য কী করেছে। বিজ্ঞান আমাদের বলে যে আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য কীভাবে বাঁচা উচিত, জনবহুল জনপদগুলোকে কীভাবে বাসযোগ্য রাখা উচিত। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের এত বিশাল কাজ কি আমাদের বইয়ের পাতায় মৃত অক্ষর হয়ে পড়ে নেই? আমরা জানি যে তা-ই আছে। আর কেন? কারণ বিজ্ঞান আজ কেবল একদল সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের জন্য টিকে আছে। কারণ সামাজিক অসমতা সমাজকে দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করে ফেলেছে। মজুরি-দাস এবং পুঁজি দখলকারী। এই অসমতা মানবজাতির নয়-দশমাংশের কাছে বিজ্ঞানের যৌক্তিক অস্তিত্বের সব শিক্ষাকে এক তিক্ত পরিহাসে পরিণত করেছে।
* আপনাকে যা শেখানো হয়েছে তা কেবল পুনরাবৃত্তি না করে যদি আপনি যুক্তি দিয়ে ভাবেন। আপনি যদি আইনকে বিশ্লেষণ করেন এবং সেই সব ধোঁয়াটে কাল্পনিক আবরণ সরিয়ে দেন যা দিয়ে এর প্রকৃত উৎসকে ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে দেখবেন এর উৎস হলো 'শক্তিশালীরাই সঠিক'। এর মূল সত্তা হলো সেই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের সমস্ত স্বৈরাচারের পবিত্র রূপায়ন। আপনি যখন এটি বুঝতে পারবেন, তখন আইনের প্রতি আপনার ঘৃণা সত্যিই গভীর হবে। '''আপনি বুঝতে পারবেন যে লিখিত আইনের দাস হয়ে থাকা মানে প্রতিদিন আপনার বিবেকের আইনের বিরোধিতা করা এবং ভুল পক্ষ বেছে নেওয়া। আর যেহেতু এই সংগ্রাম চিরকাল চলতে পারে না, তাই হয় আপনি আপনার বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়ে একজন বদমাশে পরিণত হবেন, অথবা আপনি ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন এবং সমস্ত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবিচারের সমূলে বিনাশের জন্য আমাদের সাথে কাজ করবেন।'''
* আর হে তরুণ প্রকৌশলী, আপনি যিনি শিল্পক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন। আপনার জন্য কতই না করুণ হতাশা আর ভয়াবহ মোহভঙ্গ অপেক্ষা করছে! আপনি আপনার মনের সমস্ত শক্তি ঢেলে দিয়ে পাহাড়ের বুক চিরে এক দেশ থেকে অন্য দেশে রেললাইন স্থাপনের পরিকল্পনা তৈরি করেন। কিন্তু যখন কাজ শুরু হয়, আপনি দেখেন অন্ধকার সুড়ঙ্গে অনাহার আর অসুস্থতায় শ্রমিকদের পুরো দল শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনি দেখেন অন্যরা বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে পকেটে সামান্য কয়েক পয়সা আর যক্ষ্মার বীজ নিয়ে। আপনি দেখেন আপনার প্রতিটি গজ রাস্তার পাশে লোভের বলি হওয়া মানুষের লাশ পড়ে আছে এবং যখন রেলপথটি শেষ হয়, পরিশেষে আপনি দেখেন এটি কোনো আক্রমণকারী সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ বাহিনীর যাতায়াতের মহাসড়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে...
* '''যখন আমাদের এটি করার ইচ্ছা জাগ্রত হবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে: সেই মুহূর্তেই পৃথিবীর স্বৈরাচারীরা ধূলিসাৎ হবে।'''
=== 'দ্য স্পিরিট অব রিভোল্ট' (১৮৮০) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/spiritofrevolt.html পূর্ণাঙ্গ টেক্সট অনলাইন]</small>
[[File:Kropotkin young.gif|thumb|right|দেখা যায় যে মানব সমাজ ক্রমশ দুটি শত্রু শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং একই সাথে হাজার হাজার ছোট ছোট গ্রুপে উপবিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্দয় যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে। এই যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট দুর্দশায় ক্লান্ত হয়ে সমাজ একটি নতুন সংগঠনের সন্ধান করছে...]]
* '''মানব সমাজের জীবনে এমন কিছু সময় আসে যখন বিপ্লব এক অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়ায়, যখন এটি নিজেকে অনিবার্য হিসেবে ঘোষণা করে।''' সবখানে নতুন নতুন চিন্তার জন্ম হয়, যা আলোর পথে বেরিয়ে আসতে চায় এবং জীবনে প্রয়োগের পথ খোঁজে। কিন্তু সবখানেই তারা সেই স্বার্থান্বেষী মহলের বাধার সম্মুখীন হয় যারা পুরনো ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায়। প্রচলিত সংস্কার আর ঐতিহ্যের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে সেই চিন্তাগুলো দমবন্ধ হয়ে আসে।
* '''একটি নতুন জীবনের প্রয়োজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতার যে নিয়মগুলো দৈনন্দিন জীবনে বেশিরভাগ মানুষকে পরিচালিত করে, তা আর যথেষ্ট মনে হয় না।''' আগে যা ন্যায়সঙ্গত মনে হতো, এখন তা চরম অবিচার হিসেবে অনুভূত হয়। গতকালের নৈতিকতা আজ জঘন্য অনৈতিকতা হিসেবে স্বীকৃত হয়। নতুন চিন্তা আর পুরনো ঐতিহ্যের এই দ্বন্দ্ব সমাজের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি পরিবেশে, এমনকি পরিবারের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে। ...যারা ন্যায়ের জয় দেখতে চান, যারা নতুন চিন্তাগুলোকে কাজে লাগাতে চান, তারা শীঘ্রই উপলব্ধি করেন যে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এই উদার ও মানবিক চিন্তাগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা একটি বিপ্লবী ঝড়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যা এই সমস্ত পচা-গলা আবর্জনা ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে, অলস হৃদয়ে প্রাণের স্পন্দন জাগাবে এবং মানবজাতির মধ্যে সেই উৎসর্গ ও বীরত্বের চেতনা ফিরিয়ে আনবে। যা ছাড়া সমাজ অধঃপতনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পথে তলিয়ে যায়।
* সম্পদের জন্য উন্মাদনা, তীব্র জল্পনা-কল্পনা এবং সংকটের সময়ে বড় বড় শিল্পের পতন ঘটে। কয়েক বছরে গড়ে ওঠা কলঙ্কিত সম্পদ তত দ্রুতই মিলিয়ে যায়। তখন এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, উৎপাদন ও বিনিময় নিয়ন্ত্রণকারী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজকে সেই সমৃদ্ধি দিতে পারছে না যার গ্যারান্টি দেওয়ার কথা ছিল। বরং তারা ঠিক উল্টো ফল দিচ্ছে। ...'''দেখা যায় যে মানব সমাজ ক্রমশ দুটি শত্রু শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং একই সাথে হাজার হাজার ছোট ছোট গ্রুপে উপবিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্দয় যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে। এই যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট দুর্দশায় ক্লান্ত হয়ে সমাজ একটি নতুন সংগঠনের সন্ধান করছে'''। এটি মালিকানা ব্যবস্থা, উৎপাদন, বিনিময় এবং এর থেকে উদ্ভূত সমস্ত অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের জন্য চিৎকার করছে।
* গতকাল পর্যন্ত যারা নিজেদের ভাগ্য নিয়ে পাইপ ফুঁকতে ফুঁকতে নিঃশব্দে অভিযোগ করত এবং পরের মুহূর্তেই স্থানীয় পাহারাদার বা পুলিশকে বিনীতভাবে স্যালুট দিত। সেই একই মানুষ কীভাবে কয়েক দিন পরে কাস্তে আর বল্লম নিয়ে তাদের সেই প্রভুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যাকে গতকালও তারা প্রচণ্ড ভয় পেত? কোন জাদুমন্ত্রে এই মানুষগুলো যাদের স্ত্রীরা তাদের ভীরু বলত এক দিনেই বীরের মতো কামানের গোলার সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে এগিয়ে যায়? '''কীভাবে সেই কথাগুলো, যা প্রায়ই বলা হতো এবং ঘণ্টার ধ্বনির মতো বাতাসে মিলিয়ে যেত, তা হঠাৎ করে বাস্তবে পরিণত হলো? <br> উত্তরটি সহজ। <br> সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর কাজ, নিরবচ্ছিন্ন এবং বিরামহীন কাজ এই রূপান্তর নিয়ে আসে।''' সাহস, উৎসর্গ এবং আত্মত্যাগের চেতনা ভীরুতা বা আতঙ্কের মতোই ছোঁয়াচে। <br> '''এই কাজের ধরণ কেমন হবে? এটি সব ধরণের হতে পারে। পরিস্থিতি ও মেজাজ অনুযায়ী অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।''' কখনও করুণ, কখনও হাস্যকর, কিন্তু সবসময় সাহসী; কখনও সমষ্টিগত আবার কখনও ব্যক্তিগত। এই কর্মপন্থা হাতের কাছের কোনো উপায় বা জনজীবনের কোনো ঘটনাকেই উপেক্ষা করবে না। যাতে অসন্তোষ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, শোষকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা জাগানো যায়, সরকারকে উপহাস করে তার দুর্বলতা প্রকাশ করা যায় এবং সর্বোপরি প্রকৃত উদাহরণের মাধ্যমে সাহস জাগ্রত করে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে রাখা যায়।
* সাহসী মানুষ যারা কেবল কথায় সন্তুষ্ট নন বরং সবসময় কথাকে কাজে রূপান্তরের উপায় খোঁজেন। সততা যাদের কাছে চিন্তা ও কাজের অভিন্ন রূপ। যাদের কাছে নিজ আদর্শের পরিপন্থী জীবন যাপনের চেয়ে জেল, নির্বাসন আর মৃত্যু শ্রেয়। সেই নির্ভীক আত্মাই হলো সেই একাকী প্রহরী যারা জনতার জেগে ওঠার অনেক আগেই যুদ্ধের ময়দানে প্রবেশ করে।
* '''ইতিহাস সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান আর পরিষ্কার মস্তিষ্ক যাদের আছে তারা শুরু থেকেই ভালো করে জানেন যে, তাত্ত্বিকরা কাজের সময় নির্ধারণ করার অনেক আগেই বিপ্লবের তাত্ত্বিক প্রচারণা অনিবার্যভাবে কাজে রূপ নেবে।''' তা সত্ত্বেও সতর্ক তাত্ত্বিকরা এই 'পাগলদের' ওপর রেগে যান, তাদের সমাজচ্যুত করেন এবং অভিশাপ দেন। কিন্তু সেই পাগলরা মানুষের সহানুভূতি জয় করে, সাধারণ মানুষ গোপনে তাদের সাহসকে তালি দেয় এবং তাদের অনুকরণকারী তৈরি হয়। অগ্রগামীরা যত বেশি জেল আর বন্দিশিবির পূর্ণ করতে থাকে, অন্যরা তাদের কাজ চালিয়ে যায়। বেআইনি প্রতিবাদ, বিদ্রোহ এবং প্রতিশোধের ঘটনা বাড়তে থাকে। <br> '''এই পর্যায় থেকে উদাসীন থাকা অসম্ভব।''' যারা শুরুতে 'পাগলরা' কী চায় তা জিজ্ঞাসাও করত না, তারাও এখন তাদের নিয়ে ভাবতে, তাদের আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করতে এবং পক্ষ বা বিপক্ষ নিতে বাধ্য হয়। '''এমন সব কর্মকাণ্ড যা সাধারণ মানুষের মনোযোগ কাড়তে বাধ্য করে, তার মাধ্যমেই নতুন চিন্তা মানুষের মনে গেঁথে যায় এবং অনুসারী তৈরি করে। কয়েক দিনের এমন একটি কাজ হাজার হাজার পুস্তিকার চেয়েও বেশি প্রচার চালাতে পারে। <br> সর্বোপরি, এটি বিদ্রোহের চেতনা জাগিয়ে তোলে: এটি সাহস জোগায়।''' পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট আর সৈন্যদের দ্বারা সমর্থিত পুরনো ব্যবস্থাটি বাস্তিল দুর্গের মতো অজেয় মনে হতো, কিন্তু শীঘ্রই স্পষ্ট হয়ে যায় যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার সেই শক্তি নেই যা মানুষ ধারণা করেছিল।
* '''একটি সাহসী কাজ কয়েক দিনেই পুরো সরকারি কলকব্জা উল্টে দেওয়ার জন্য এবং দানবকে কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।''' আরেকটি বিদ্রোহ পুরো প্রদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং সেনাবাহিনী।যারা এখন পর্যন্ত অজেয় মনে হতো লাঠি ও পাথর হাতে একদল কৃষকের সামনে পিছু হটে। মানুষ বুঝতে পারে যে দানবটি আসলে তারা যতটা ভেবেছিল ততটা ভয়ানক নয়। '''তাদের হৃদয়ে আশা জন্ম নেয়। আর মনে রাখবেন যে যদি ক্ষোভ মানুষকে প্রায়ই বিদ্রোহের দিকে ঠেলে দেয়, তবে জয়ী হওয়ার আশাই মূলত বিপ্লব ঘটায়।''' <br> সরকার প্রতিরোধ করে। সে নিষ্ঠুরভাবে দমনপীড়ন চালায়। আগে নিপীড়ন শোষিতদের শক্তি নষ্ট করলেও উত্তেজনার এই সময়ে তা উল্টো ফল দেয়। '''এটি ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত নতুন নতুন বিদ্রোহের উসকানি দেয়, বিদ্রোহীদের বীরত্বে উদ্বুদ্ধ করে; এবং দ্রুত এই কাজগুলো ছড়িয়ে পড়ে ও সাধারণ রূপ নেয়। বিপ্লবী দল সেই সব উপাদানের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় যারা এখন পর্যন্ত এর বিরোধী বা উদাসীন ছিল।'''
* '''বিপ্লব কোন দিকে যাবে তা নিঃসন্দেহে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।''' কিন্তু বিপ্লবের দিন সেই দলের কথাই মানুষ শুনবে যারা প্রস্তুতি পর্বে সবচেয়ে বেশি বিপ্লবী প্রচারণা চালিয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি সাহস ও উদ্দীপনা দেখিয়েছে।
* '''যদি বিপ্লবের পরদিন সাধারণ মানুষের হাতে কেবল বুলি ছাড়া আর কিছু না থাকে, যদি তারা স্পষ্ট ও জাজ্বল্যমান তথ্যের মাধ্যমে বুঝতে না পারে যে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে এই উচ্ছেদ কেবল ব্যক্তি বা শ্লোগানের পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই হবে না।''' ...বিপ্লবকে কেবল একটি কথার চেয়ে বেশি কিছু হতে হলে, জয়কে রক্ষা করার মতো মূল্যবান হতে হবে। গতকালের দরিদ্ররা যেন আজকের দিনেই দরিদ্র না থাকে।
** জর্জ উডকক রচিত 'অ্যানার্কিজম: আ হিস্ট্রি অব লিবার্টারিয়ান আইডিয়াস অ্যান্ড মুভমেন্টস' (২০০৪) উদ্ধৃত।
=== 'ল অ্যান্ড অথরিটি' (১৮৮৬) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_Archives/kropotkin/revpamphlets/lawandauthority.htm 'ল অ্যান্ড অথরিটি' (১৮৮৬)]; রজার এন. বল্ডউইন সম্পাদিত 'ক্রোপোটকিনস রেভোলিউশনারি প্যাম্পলেটস' (১৯২৭)-এ অনূদিত।</small>
* '''বর্তমান রাষ্ট্রগুলোতে একটি নতুন আইনকে মন্দের প্রতিকার হিসেবে দেখা হয়। মন্দকে নিজেরা পরিবর্তন করার পরিবর্তে মানুষ তা পরিবর্তনের জন্য আইনের দাবি জানাতে শুরু করে। ...সংক্ষেপে বলতে গেলে, সবখানে এবং সবকিছুর জন্যই আইন!''' ফ্যাশন নিয়ে আইন, পাগল কুকুর নিয়ে আইন, সদ্গুণ নিয়ে আইন, মানুষের অলসতা আর ভীরুতা থেকে উদ্ভূত সমস্ত পাপ আর মন্দকে থামানোর জন্য আইন। <br> আমরা এমন এক শিক্ষার দ্বারা কলুষিত যা শৈশব থেকেই আমাদের ভেতরের বিদ্রোহের চেতনাকে হত্যা করে এবং কর্তৃত্বের প্রতি আনুগত্যের বিকাশ ঘটাতে চায়। আমাদের জন্ম, শিক্ষা, বিকাশ, প্রেম, বন্ধুত্ব জীবনের প্রতিটি ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণকারী আইনের জোয়ালের নিচে থাকতে থাকতে আমরা এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, এই অবস্থা চলতে থাকলে আমরা আমাদের সমস্ত উদ্যোগ এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবো। '''আমাদের সমাজ এখন আর এটা বুঝতে পারে না যে, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার কর্তৃক প্রণীত এবং একমুঠো শাসকের দ্বারা পরিচালিত আইনের শাসন ছাড়াও অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব।''' এমনকি যখনই সমাজ এই দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছে, তার প্রথম কাজই হয়েছে আবার সেই শৃঙ্খল পুনর্গঠন করা। "স্বাধীনতার প্রথম বছর" কখনও এক দিনের বেশি স্থায়ী হয়নি, কারণ এটি ঘোষণার পরদিন সকালেই মানুষ আবার আইন ও কর্তৃত্বের জোয়ালে নিজেদের মাথা সঁপে দিয়েছে।
** ১
* আইনের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করার জন্য শিশুদের ওপর কৃত্রিম বিজ্ঞানের চতুর টুকরোগুলো চাপিয়ে দেওয়া হয়। আইনের প্রতি আনুগত্যকে একটি ধর্মে পরিণত করা হয়। নৈতিক মহত্ত্ব এবং প্রভুর আইনকে একই দেবতার সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়। পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক নায়ক হলো সেই ব্যক্তি যে আইন মেনে চলে এবং বিদ্রোহীদের হাত থেকে তা রক্ষা করে।
** ১
* '''আচরণবিধির সেই বিভ্রান্তিকর নিয়মাবলি যাকে আমরা আইন বলি যা দাসত্ব, সার্ফ প্রথা, সামন্তবাদ এবং রাজতন্ত্র থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি—তা সেই সব পাথরের দানবদের জায়গা দখল করেছে যাদের সামনে একসময় মানুষের বলি দেওয়া হতো। প্রাচীন দাসেরা এমনকি বজ্রপাতের ভয়ে সেই সব দানবদের স্পর্শ করার সাহসও করত না।'''
** ১
* '''মানুষ যারা স্বাধীনতা চায়, তারা তা পাওয়ার চেষ্টা শুরু করে তাদের প্রভুদের কাছে এই অনুরোধ করে যে—প্রভুরা নিজেরা যে আইন তৈরি করেছেন তা সংশোধন করে যেন দয়া করে তাদের রক্ষা করেন! <br> কিন্তু সময় এবং মেজাজ এখন বদলে গেছে।''' সবখানেই এখন এমন বিদ্রোহী খুঁজে পাওয়া যায় যারা আর অন্ধভাবে আইন মানতে চায় না। তারা জানতে চায় আইনের উৎস কী, এর উপযোগিতা কী এবং কেন তারা এটি মানতে বাধ্য। আজকের দিনের বিদ্রোহীরা সমাজের সেই ভিত্তিগুলোকেই ব্যবচ্ছেদ করছে যা এতদিন পবিত্র বলে গণ্য হতো; আর সেই সবকিছুর মধ্যে প্রধান হলো এই 'আইন' নামক কুসংস্কার। <br> সমালোচকরা আইনের উৎস বিশ্লেষণ করে সেখানে হয় একজন ঈশ্বরের সন্ধান পান (যা আদিম মানুষের আতঙ্কের ফসল), অথবা রক্তপাত আর অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়। '''তারা আইনের বৈশিষ্ট্যগুলো অধ্যয়ন করেন এবং মানবজাতির ক্রমবিকাশের সমান্তরালে এর কোনো বিকাশ খুঁজে পাওয়ার বদলে এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে পান নিশ্চলতা; যা প্রতিদিন পরিবর্তিত ও বিকশিত হওয়া উচিত ছিল, তাকে এটি পাথরে পরিণত করতে চায়।'''
** ১
* '''তারা দেখতে পায় একদল আইনপ্রণেতা আইন তৈরি করছেন অথচ তারা নিজেরাই জানেন না সেই আইনের বিষয়বস্তু কী।''' আজ তারা শহরের স্যানিটেশন নিয়ে আইন পাস করছেন অথচ স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তাদের নূন্যতম ধারণা নেই। কাল তারা সেনাবাহিনীর সাজসরঞ্জাম নিয়ে নিয়ম তৈরি করছেন অথচ একটি বন্দুকের কার্যপ্রণালীও বোঝেন না। তারা শিক্ষা ও পাঠদান নিয়ে আইন তৈরি করছেন অথচ নিজেরা কখনও কোনো শিক্ষা দেননি বা নিজেদের সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে পারেননি। তারা সব দিকে লক্ষ্যহীনভাবে আইন তৈরি করেন, কিন্তু ভবঘুরেদের শাস্তি দিতে বা কারাগারে পাঠাতে কখনও ভুল করেন না অথচ তারা নিজেরা সেই সব কয়েদিদের চেয়ে হাজার গুণ বেশি অনৈতিক।
** ১
* '''এই সব আমরা দেখছি, এবং তাই "আইনকে শ্রদ্ধা করো" এই পুরনো ফর্মুলা পুনরাবৃত্তি করার পরিবর্তে আমরা বলি, "আইন এবং এর সমস্ত অনুষঙ্গকে ঘৃণা করো!"''' "আইন মেনে চলো" এই ভীরু বাক্যের পরিবর্তে আমাদের চিৎকার হলো, "সমস্ত আইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করো!"
** ১
* '''আপেক্ষিকভাবে বলতে গেলে, আইন আধুনিক সময়ের সৃষ্টি।''' যুগে যুগে মানুষ কোনো লিখিত আইন ছাড়াই বেঁচে ছিল। সেই সময়ে মানুষের সম্পর্কগুলো কেবল প্রথা, অভ্যাস আর ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো, যা বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে পবিত্র হয়ে উঠেছিল। শৈশব থেকেই মানুষ এগুলো শিখত, ঠিক যেমন করে সে শিকার বা কৃষিকাজ শিখত। <br> '''সমস্ত মানব সমাজ এই আদিম পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গেছে এবং আজ পর্যন্ত মানবজাতির এক বিশাল অংশের কোনো লিখিত আইন নেই।''' প্রতিটি উপজাতির নিজস্ব রীতি ও প্রথা আছে; যেটাকে আইনবিদরা 'প্রথাগত আইন' বলেন। এটিই গ্রামের বাসিন্দা বা উপজাতির সদস্যদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট। '''এমনকি আমাদের মতো "সভ্য" জাতিগুলোর মধ্যেও যখন আমরা বড় শহর ছেড়ে গ্রামে যাই দেখি যে সেখানে বাসিন্দাদের পারস্পরিক সম্পর্কগুলো এখনও আইনপ্রণেতাদের লিখিত আইনের বদলে প্রাচীন ও সর্বজনগৃহীত প্রথার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়।'''
** ২
* '''যেহেতু মানুষ একাকী বাস করে না, তাই তার মধ্যে এমন কিছু অভ্যাস ও অনুভূতি গড়ে ওঠে যা সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য দরকারী। সামাজিক অনুভূতি আর প্রথা ছাড়া একসাথে বসবাস করা অসম্ভব হতো। আইন এগুলো প্রতিষ্ঠা করেনি। এগুলো সব আইনের আগে থেকেই ছিল।''' এমনকি ধর্মও এগুলো নির্ধারণ করে দেয়নি; এগুলো সব ধর্মের আগে থেকেই বিদ্যমান। সমাজবদ্ধ সব প্রাণীর মধ্যেই এটি দেখা যায়। এগুলো বিবর্তনের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকশিত হয়েছে যা সমাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয়।
** ২
* '''আদিম মানুষের আতিথেয়তা, জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক বাধ্যবাধকতা, দুর্বলের প্রতি করুণা, বীরত্ব, এমনকি অন্যের জন্য আত্মত্যাগ। এই সমস্ত গুণাবলী সব আইনের আগে থেকেই মানুষের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল।''' এগুলো সামাজিক জীবনের অনিবার্য ফল। পাতি-পুরোহিত বা অধিবিদ্যক পণ্ডিতরা যা বলেন এগুলো মানুষের ভেতরে জন্মগতভাবে থাকা কিছু নয় বরং একসাথে বসবাসের ফলে অর্জিত গুণ। <br> '''কিন্তু সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় এই সব প্রথার পাশাপাশি মানুষের সাহচর্যে অন্যান্য লালসা, আবেগ এবং নতুন কিছু অভ্যাসেরও জন্ম হয়েছে।''' অন্যকে শাসন করার এবং নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রতিবেশী উপজাতির শ্রমের ফসল কেড়ে নেওয়ার ইচ্ছা। নিজে কিছু উৎপাদন না করেই দাসদের মাধ্যমে বিলাসিতা ভোগ করার ইচ্ছা—'''এই স্বার্থপর আর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাগুলো প্রথা ও অভ্যাসের আরেকটি ধারার জন্ম দিয়েছে।'''
** ২
* '''আইনপ্রণেতারা একটি কোডের (আইনগ্রন্থ) মধ্যে এই দুই বিপরীত ধারার প্রথাকে গুলিয়ে ফেলেছেন। একদিকে আছে নৈতিকতা আর সামাজিক মিলনের নীতি, অন্যদিকে আছে সেই সব আদেশ যা মূলত বৈষম্যকে স্থায়ী করার জন্য তৈরি। <br> সমাজের জন্য অপরিহার্য প্রথাগুলোকে খুব চতুরতার সাথে শাসক শ্রেণির চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে উভয়ের জন্যই সমান শ্রদ্ধা দাবি করা হয়েছে।''' আইন বলে, "হত্যা করো না," আর পরক্ষণেই যোগ করে, "এবং যাজককে কর দাও।" আইন বলে, "চুরি করো না," আর ঠিক তারপরেই বলে, "যে কর দিতে অস্বীকার করবে তার হাত কেটে ফেলা হবে।" <br> '''আইন ছিল এমনই; এবং আজ পর্যন্ত এটি তার এই দ্বিমুখী চরিত্র বজায় রেখেছে।''' এর উৎস হলো শাসক শ্রেণির নিজের সুবিধার জন্য তাদের চাপিয়ে দেওয়া প্রথাগুলোকে স্থায়ী করার ইচ্ছা। '''এর বৈশিষ্ট্য হলো সমাজের জন্য দরকারী প্রথাগুলো (যা মানার জন্য কোনো আইনের প্রয়োজন নেই) খুব সুনিপুণভাবে শাসক শ্রেণির জন্য সুবিধাজনক আর জনগণের জন্য ক্ষতিকর প্রথাগুলোর সাথে মিশিয়ে দেওয়া, যা কেবল শাস্তির ভয়ে মানুষ পালন করে।'''
** ২
* '''আইনের তদন্তে দেখা যায় যে মানুষের জন্য তৈরি লক্ষ লক্ষ আইন প্রধানত তিনটি বিভাগে বিভক্ত: সম্পত্তির সুরক্ষা, ব্যক্তির সুরক্ষা এবং সরকারের সুরক্ষা।''' আর এই তিনটি বিভাগ বিশ্লেষণ করলে আমরা একই যৌক্তিক এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছাই: আইনের অসারতা এবং এর ক্ষতিকর দিক।
** ৪
=== 'অ্যানার্কিজম: ইটস ফিলোসফি অ্যান্ড আইডিয়াল' (১৮৯৬) ===
:<small>১৮৯৬ সালের মার্চের জন্য প্রস্তুতকৃত একটি বক্তৃতা যা ক্রোপোটকিনকে প্রদান করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/philandideal.html 'অ্যানার্কিজম: ইটস ফিলোসফি অ্যান্ড আইডিয়াল'] (১৮৯৮ সংস্করণ)।</small>
[[File:Milky Way from Flickr.jpg|thumb|right|বিগত শতাব্দীর বা আমাদের শতাব্দীর শুরুর দিকের জ্যোতির্বিজ্ঞানের যেকোনো বই খুলে দেখুন। সেখানে আমাদের এই ছোট্ট গ্রহটিকে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে আর খুঁজে পাবেন না।]]
* '''আমি কিছুটা দ্বিধা নিয়েই এই বক্তৃতার বিষয়বস্তু হিসেবে অরাজকতাবাদের দর্শন ও আদর্শকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।''' <br>যারা বিশ্বাস করেন যে অরাজকতাবাদ হলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত কিছু অলীক কল্পনার সমষ্টি এবং বর্তমান সভ্যতা ধ্বংস করার একটি অচেতন প্রচেষ্টা, তাদের সংখ্যা এখনও অনেক এবং আমাদের শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত এই ধরণের কুসংস্কার দূর করতে হলে আমাদের এমন অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রবেশ করতে হবে যা একটি মাত্র বক্তৃতায় তুলে ধরা কঠিন। '''মাত্র দুই বা তিন বছর আগেও কি প্যারিসের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেনি যে, অরাজকতাবাদের পুরো দর্শন কেবল ধ্বংসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং এর একমাত্র যুক্তি হলো সহিংসতা?''' <br>তা সত্ত্বেও ইদানীং অরাজকতাবাদীদের নিয়ে এত বেশি আলোচনা হয়েছে যে, জনসাধারণের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত আমাদের মতবাদ পড়তে ও আলোচনা করতে শুরু করেছে। '''এখন অন্তত একটি বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে: অরাজকতাবাদীদের একটি আদর্শ আছে। এমনকি তাদের সেই আদর্শকে অত্যন্ত সুন্দর ও উন্নত বলে মনে করা হয়। যা এমন এক সমাজের জন্য উপযোগী যা শ্রেষ্ঠ মানবদের নিয়ে গঠিত নয়।'''
* জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন সূর্যের চেয়েও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বস্তুকণা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন যা মহাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে। তারা আবিষ্কার করেছেন যে গ্রহান্তরের মহাশূন্য এমন সব বস্তুকণা বা ধূলিকণা দ্বারা পূর্ণ যা এককভাবে অদৃশ্য ও অসীম ক্ষুদ্র কিন্তু সংখ্যার বিচারে তারা সর্বশক্তিমান।
* '''এই নতুন ধারণার সাথে মহাবিশ্বের পুরো দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যায়।''' বিশ্বকে শাসনকারী কোনো একক শক্তি, পূর্ব-প্রতিষ্ঠিত আইন বা পূর্ব-কল্পিত সামঞ্জস্যের ধারণা বিলুপ্ত হয়ে সেখানে এমন এক সামঞ্জস্যের জায়গা তৈরি হয় যা অসংখ্য বস্তুকণার বিশৃঙ্খল ও অসংলগ্ন চলাচলের ফল। যেখানে প্রতিটি কণা তার নিজের পথে চলে এবং সবাই মিলে একে অপরকে ভারসাম্যে রাখে।
* '''যখন একজন ফিজিওলজিস্ট (শারীরবৃত্তবিদ) এখন কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর জীবন নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি সেটিকে একটি অবিভাজ্য সত্তার চেয়ে লক্ষ লক্ষ পৃথক কোষ বা অণুজীবের একটি উপনিবেশ বা মিলনমেলা হিসেবে দেখেন।''' তিনি পাচনতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র বা ইন্দ্রিয়গত অঙ্গগুলোর একটি ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কথা বলেন, যেখানে সবাই একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। প্রতিটি অঙ্গ আবার স্বাধীন কোষ দ্বারা গঠিত। '''ব্যক্তি নিজে আসলে ফেডারেশনের একটি জগত, তার নিজের ভেতরেই একটি পুরো মহাবিশ্ব।'''
* প্রতিটি ব্যক্তি হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের একটি জগত, প্রতিটি অঙ্গ কোষের একটি জগত, প্রতিটি কোষ আবার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুর জগত এবং এই জটিল জগতে পুরো দেহের ভালো থাকা নির্ভর করে ক্ষুদ্রতম আণুবীক্ষণিক কণাগুলোর সুস্থতার সমষ্টির ওপর। জীবনের দর্শনে এভাবেই একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব সাধিত হয়।
* '''সামঞ্জস্যতা বা সাম্য তাই একটি সাময়িক সমন্বয় হিসেবে আবির্ভূত হয় যা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ক্রিয়াশীল সমস্ত শক্তির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর সেই সমন্বয় কেবল একটি শর্তেই টিকে থাকবে: যদি তা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হতে পারে।''' যদি এই শক্তিগুলোর কোনো একটিকে বাধা দেওয়া হয়, তবে সেই সামঞ্জস্য অদৃশ্য হয়ে যায়। সেই শক্তি তার প্রভাব জমা করতে থাকবে এবং একসময় বর্তমান অবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়ে ধ্বংসের মাধ্যমে নতুন এক ভারসাম্যের রূপ খুঁজে নেবে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও ঠিক এমন। যা ভেতরে জমা হওয়া গ্যাসের চাপে জমাট বাঁধা লাভাকে ভেঙে বেরিয়ে আসে। '''মানবজাতির বিপ্লবগুলোও ঠিক তেমনই।'''
[[File:A monument of working class.JPG|thumb|right|এটি এমনকি সংগ্রাম ও বিবাদের আহ্বান জানায়। কারণ আমরা জানি যে সেই সব বিবাদের সময়গুলোতেই মানুষের প্রতিভা সবচেয়ে উঁচুতে উড়তে পেরেছিল এবং মহৎ লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছিল।]]
* অরাজকতাবাদের নামে অতীত ও বর্তমান সমাজের এক নতুন ব্যাখ্যা উঠে আসছে, যা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো একই ভাবনায় ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দেয়। মানুষের মন যখন ধর্মযাজক, সামরিক প্রধান এবং বিচারকদের চাপিয়ে দেওয়া ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত হবে, তখন এমন এক সমাজের ধারণা জন্ম নেবে যেখানে এই শাসক সংখ্যালঘুদের কোনো জায়গা থাকবে না। '''এমন এক সমাজ যা পূর্ববর্তী প্রজন্মের শ্রম দ্বারা সঞ্চিত সামাজিক পুঁজির দখল নেবে এবং সেই পুঁজি সবার স্বার্থে ব্যবহারের জন্য নিজেকে সংগঠিত করবে। এতে অসীম বৈচিত্র্যময় ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত শক্তির মিলন ঘটবে। এটি কাউকে বাদ দেয় না। এটি এমনকি সংগ্রাম ও বিবাদের আহ্বান জানায়। কারণ আমরা জানি যে মুক্ত সংগ্রামের সময়গুলোতেই মানুষের প্রতিভা সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ফুটে ওঠে।''' এটি শাসিত ও শাসকের বিভেদ স্বীকার করে না এবং সমতার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চায়।
* আইন দ্বারা পাথরে পরিণত হওয়া কোনো পূর্ব-প্রতিষ্ঠিত রূপ এই সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সব ধরণের শক্তি ও প্রভাবের মধ্যে সদা পরিবর্তনশীল ভারসাম্যের মাঝে সামঞ্জস্য খোঁজে।
* অর্থনৈতিক দাসত্ব বজায় থাকা পর্যন্ত স্বাধীনতার কথা বলা নিরর্থক। "স্বাধীনতার কথা বলো না দারিদ্র্যই হলো দাসত্ব!" এটি কেবল একটি ফাঁকা বুলি নয়। এটি শ্রমিক শ্রেণীর চিন্তার গভীরে প্রবেশ করেছে।
* '''শ্রমিক ও কৃষকরা কখনোই অর্থনীতিবিদদের শেখানো চতুর কথায় বিশ্বাস করেনি, যা মূলত শোষকদের অধিকার রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল!''' শ্রমিক বুঝতে পারছে যে সে বঞ্চিত হয়েছে এবং সে বঞ্চিতই থাকবে, যদি না সে ধর্মঘট বা বিদ্রোহের মাধ্যমে তার প্রভুদের কাছ থেকে তার নিজের পরিশ্রমে গড়া সম্পদের সামান্য অংশ ছিনিয়ে নিতে পারে।
* '''অর্থনীতিবিদরা যাকে 'অতিরিক্ত উৎপাদন' বলেন, তা আসলে শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরের উৎপাদন।''' কারণ শ্রমিকদের যে মজুরি দেওয়া হয় তা দিয়ে তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য কিনতে পারে না। বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সারকথা হলো এই যে, শ্রমিক কখনও তার উৎপাদিত প্রাচুর্য নিজে ভোগ করতে পারবে না।
* আলস্যে সময় কাটানো ব্যক্তিরা ইতিহাস তৈরি করে না: তারা কেবল ইতিহাস সহ্য করে!
* সরকারবাদী কমিউনিজম, ধর্মতান্ত্রিক কমিউনিজমের মতোই শ্রমিকের কাছে ঘৃণ্য। কেবল রাষ্ট্রের বিলুপ্তি, ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা এবং মুক্ত ফেডারেশনের মাধ্যমেই আমরা প্রকৃত সাম্যবাদে পৌঁছাতে পারি।
* রাষ্ট্রের বিলুপ্তি এবং এর সমস্ত আইন ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার বিলুপ্তি একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। '''আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা—যা চার্চ এবং রাষ্ট্র উভয়ের স্বার্থে তৈরি হয়েছে। এই ধারণার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কি এই সত্য ঢাকা পড়বে?'''
* '''রাষ্ট্র হলো সামাজিক জীবনের একটি রূপ মাত্র, যা ইউরোপীয় সমাজের জন্য বেশ সাম্প্রতিক বিষয়।''' মানুষ রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার হাজার হাজার বছর আগেও সমাজে বাস করত। আমাদের আধুনিক ইউরোপীয়দের জন্য কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা মাত্র ষোড়শ শতাব্দী থেকে শুরু হয়েছে।
* ইউরোপ এখন হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জালে ঢাকা পড়েছে—শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং বিনোদনের জন্য। এই সংগঠনগুলো রাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে স্পর্শ করছে। তারা রাষ্ট্রের কার্যাবলীতে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করেছে এবং কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের জায়গায় স্বেচ্ছাসেবীদের মুক্ত কর্মকাণ্ড প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করছে।
* শিক্ষিত মানুষেরা এই ভেবে আতঙ্কিত হন যে সমাজ হয়তো কোনোদিন বিচারক, পুলিশ বা জেলখানা ছাড়া চলবে। কিন্তু অভিজ্ঞতা কি সম্প্রতি প্রমাণ করেনি যে লন্ডনের পুলিশের চোখের সামনেই 'জ্যাক দ্য রিপার' তার হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল এবং সে তখনই থমকে গিয়েছিল যখন হোয়াইটচ্যাপেলের সাধারণ মানুষ তাকে ধাওয়া করতে শুরু করেছিল?
* জেলখানা যা মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও চারিত্রিক শক্তিকে মেরে ফেলে তা কি সবসময় অপরাধের বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে থাকেনি? '''আদালত কি নিষ্ঠুরতা শেখার পাঠশালা নয়?'''
* '''যখন আমরা রাষ্ট্র এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বিলুপ্তি চাই, তখন আমাদের বলা হয় যে আমরা এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখছি যেখানে মানুষ বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। কিন্তু না। আমরা কেবল এটাই চাই যে বর্তমানের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা মানুষকে যেন বাস্তবের চেয়েও বেশি খারাপ বানানো না হয়!'''
[[File:Peter Krapotkin 3.PNG|thumb|right|আমরা মানুষদের খুব ভালো করেই চিনি। আমরা জানি যে আমরা নিজেরাও নিখুঁত নই এবং আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানুষটিও ক্ষমতার প্রয়োগ করলে শীঘ্রই কলুষিত হয়ে পড়বে।]]
* '''প্রায়ই বলা হয় যে অরাজকতাবাদীরা স্বপ্নের জগতে বাস করে। আমরা বাস্তবকে খুব ভালো করেই দেখি এবং তার প্রকৃত রূপ চিনি বলেই আমরা কুসংস্কারের বনে কুঠার চালাই।''' আমরা মানুষকে যেমন আছে তেমন রূপেই দেখি। আর তাই আমরা বলি যে ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে শ্রেষ্ঠ মানুষটিও মন্দ হয়ে যায়। "ক্ষমতার ভারসাম্য" বা "কর্তৃত্বের নিয়ন্ত্রণ" হলো এক ধরণের ভণ্ডামি যা ক্ষমতা দখলকারীরা তৈরি করেছে যাতে মানুষ বিশ্বাস করে যে তারাই আসলে শাসন করছে।
* ওহ, কী সুন্দর এক কল্পনা, যদি আমরা মেনে নিতাম যে যারা শাসন করেন তারা এক বিশেষ উচ্চবর্গের মানুষ এবং সাধারণ মর্ত্যের মানুষের মতো তাদের কোনো দুর্বলতা নেই! কিন্তু আমরা মানুষকে খুব ভালো করেই চিনি। '''শাসিত এবং শাসকের গুণের জন্য আমাদের কাছে আলাদা কোনো মাপকাঠি নেই। আমরা মানুষকে যেমন আছে তেমনভাবেই গ্রহণ করি। আর সেই কারণেই আমরা মানুষের দ্বারা মানুষের শাসনকে ঘৃণা করি এবং এর অবসান ঘটাতে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করি।'''
* কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়তে অরাজকতাবাদ যেমন আইন ও কর্তৃত্ব ধ্বংস করতে চায়, তেমনি এটি সেই মূল্যবান সামাজিক প্রথাগুলোকেও টিকিয়ে রাখতে ও বড় করতে চায় যা ছাড়া কোনো মানব বা প্রাণী সমাজ টিকে থাকতে পারে না। তবে এই প্রথাগুলো মুষ্টিমেয় কয়েকজনের কর্তৃত্ব দিয়ে নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রক্ষিত হবে।
* সমাজে নৈতিক স্তর বজায় রাখার তিনটি উপায় আছে: অসামাজিক কাজের দমন, নৈতিক শিক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা। দমনের ব্যর্থতা বর্তমান সমাজের বিশৃঙ্খলা থেকেই প্রমাণিত। দমনের ব্যবস্থা আমাদের অর্থনৈতিক দাসত্ব এবং রাজনৈতিক রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে গেছে।
* '''দমনমূলক ব্যবস্থা কেবল বর্তমানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মন্দই সৃষ্টি করেনি বরং এটি সমাজের নৈতিক মান উন্নত করতেও চরম অক্ষমতা প্রমাণ করেছে।'''
* শতাব্দী ধরে চলে আসা এই দমনমূলক ব্যবস্থা আমাদের এক কানাগলিতে নিয়ে গেছে যেখান থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো কর্তৃত্ববাদী অতীতের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মশাল ও কুঠার চালানো।
* নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব আমরা অস্বীকার করি না, তবে যখন প্রাতিষ্ঠানিক অনৈতিকতা প্রতিনিয়ত এর বিরোধিতা করে, তখন শিক্ষার প্রভাব শূন্য হয়ে যায়। খ্রিস্টান ধর্মের কথাই ধরুন: ক্রুশবিদ্ধ ঈশ্বরের নামে দেওয়া শিক্ষা কি যাজক আর রাষ্ট্রের প্রভাবে পরে শোষণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়নি?
* ইতিহাসের প্রমাণ হলো, অতীতে প্রগতির প্রতিটি উপাদান এবং মানবজাতির নৈতিক ও বৌদ্ধিক উন্নতির প্রতিটি উপকরণ হলো পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা। যখনই এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিকশিত হয়েছে, সমাজের নৈতিক মান, প্রাচুর্য ও স্বাধীনতা এক ধাপ এগিয়ে গেছে। আর উল্টোদিকে, '''যখনই ইতিহাসে শাসক ও শাসিত, শোষক ও শোষিত এই বিভেদ বেড়েছে, তখনই নৈতিক মান নিচে নেমে গেছে এবং সাধারণ মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কেড়ে নিয়ে মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে ধনী করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।'''
=== 'দ্য স্টেট — ইটস হিস্টোরিক রোল' (১৮৯৭) ===
:<small>[http://www.panarchy.org/kropotkin/1897.state.html পূর্ণাঙ্গ টেক্সট অনলাইন]</small>
[[File:Young Kropotkin.png|thumb|right|একদল শ্রেণীকে অন্য দলের শাসনাধীনে রাখার জন্য আইন প্রণয়ন ও পুলিশিংয়ের একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়। এই পার্থক্যটি, যা প্রথম দর্শনে স্পষ্ট মনে নাও হতে পারে, বিশেষ করে রাষ্ট্রের উৎস অধ্যয়ন করলে তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।]]
[[File:Peter Kropotkin circa 1900.jpg|thumb|right|স্কুলে এবং পরবর্তী জীবনে রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই, তা আমাদের মনকে এতটাই বিকৃত করে ফেলেছে যে স্বাধীনতার প্রকৃত ধারণাটিই হারিয়ে যায় এবং তা দাসত্বের ছদ্মবেশ ধারণ করে।]]
* সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে বিভক্তি মূলত রাষ্ট্র নিয়ে প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে। আমাদের মধ্যে বিদ্যমান দলগুলোতে দুটি প্রধান ধারা লক্ষ্য করা যায়, যা মানুষের মেজাজ ও চিন্তা পদ্ধতির পার্থক্যের সাথে মিলে যায়। তবে সর্বোপরি এটি নির্ভর করে কে আসন্ন বিপ্লবে কতটা বিশ্বাস করে তার ওপর। <br> একদিকে তারা আছে, যারা রাষ্ট্রের মাধ্যমেই সামাজিক বিপ্লব অর্জনের আশা করে—বিপ্লবের স্বার্থে তারা রাষ্ট্রের অধিকাংশ ক্ষমতা বজায় রাখতে এবং এমনকি তা প্রসারিত করতে চায়। অন্যদিকে আমাদের মতো যারা আছে, তারা রাষ্ট্রকে তার বর্তমান রূপে, তার নিজস্ব সত্তায় এবং সে যে রূপেই আসুক না কেন, তাকে সামাজিক বিপ্লবের পথে একটি বাধা হিসেবে দেখে। আমরা মনে করি রাষ্ট্র হলো সাম্য ও স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে একটি সমাজ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় এবং এটি ঐতিহাসিকভাবেই এই বিকাশ রোধ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। শেষোক্ত এই গোষ্ঠীটি রাষ্ট্র সংস্কারে নয় বরং রাষ্ট্রের বিলুপ্তিতে বিশ্বাস করে।
** ১
* '''রাষ্ট্র হলো ইতিহাসের পরিক্রমায় সমাজের ধারণকৃত রূপগুলোর মধ্যে একটি মাত্র। তাহলে যা স্থায়ী এবং যা আকস্মিক এই দুটির মধ্যে কেন কোনো পার্থক্য করা হবে না?'''
** ১
* '''রাষ্ট্রের ধারণা সরকারের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।''' এটি কেবল সমাজের উপরে অবস্থিত একটি ক্ষমতার অস্তিত্বকেই বোঝায় না বরং একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রীকরণ এবং সমাজের জীবনের অনেকগুলো কাজ মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়াকেও বোঝায়। রাষ্ট্র গঠনের আগে সমাজের সদস্যদের মধ্যে যে ধরণের সম্পর্ক ছিল না, এটি সেই ধরণের কিছু নতুন সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে। একদল শ্রেণীকে অন্য দলের শাসনাধীনে রাখার জন্য আইন প্রণয়ন ও পুলিশিং-এর একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা এখানে গড়ে তুলতে হয়। <br> এই পার্থক্যটি প্রথম দর্শনে স্পষ্ট মনে নাও হতে পারে, তবে তা বিশেষভাবে ফুটে ওঠে যখন কেউ রাষ্ট্রের উৎস নিয়ে গবেষণা করে।
** ১
* '''রোমান সাম্রাজ্য ছিল শব্দের প্রকৃত অর্থে একটি রাষ্ট্র। আজ পর্যন্ত এটি আইনবিদদের কাছে আদর্শ হয়ে আছে।''' এর অঙ্গসংগঠনগুলো একটি বিশাল এলাকাকে একটি শক্ত জালের মতো ঘিরে রেখেছিল। সবকিছুই রোমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো: অর্থনৈতিক ও সামরিক জীবন, সম্পদ, শিক্ষা, এমনকি ধর্মও। রোম থেকেই আসত আইন, ম্যাজিস্ট্রেট, ভূখণ্ড রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী এবং দেবতারা। সাম্রাজ্যের পুরো জীবন আবর্তিত হতো সেনেটকে ঘিরে—পরবর্তীতে সিজারকে ঘিরে, যিনি ছিলেন সাম্রাজ্যের সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ ঈশ্বর। প্রতিটি প্রদেশ, প্রতিটি জেলা ছিল রোমান সার্বভৌমত্বের ক্ষুদ্র সংস্করণ যা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি দিক শাসন করত। '''রোমের চাপিয়ে দেওয়া একটি মাত্র আইন সেই সাম্রাজ্যকে শাসন করত, যা সমমনা নাগরিকদের কোনো কনফেডারেশন ছিল না বরং ছিল নিছক একপাল প্রজা।''' <br> আজও আইনবিদ এবং স্বৈরাচারীরা সেই সাম্রাজ্যের ঐক্য, আইনের একীভূত চেতনা এবং তাদের ভাষায় সেই সংগঠনের সৌন্দর্য ও সামঞ্জস্যের প্রশংসা করেন। <br> কিন্তু বার্বারদের আক্রমণ, বাহ্যিক আক্রমণ রোধে স্থানীয় জীবনের অক্ষমতা এবং কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির কারণে সাম্রাজ্যটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আর এই ধ্বংসস্তূপের ওপরই গড়ে ওঠে এক নতুন সভ্যতা যা বর্তমানে আমাদের।
** ১
* অতীতে ঘটে যাওয়া যুদ্ধগুলোর কথা ভাবুন এবং স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নিতে বিজিত মানুষদের যে যুদ্ধগুলো করতে হবে তার কথা ভাবুন। বাজারের জন্য যুদ্ধ, ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য গড়ার জন্য যুদ্ধ। ফ্রান্সে আমরা দুর্ভাগ্যবশত খুব ভালো করেই জানি যে প্রতিটি যুদ্ধ—তা বিজয়ী হোক বা না হোক—দাসত্ব বয়ে আনে। <br> এবং পরিশেষে, উপরে যা কিছু বলা হয়েছে তার চেয়েও ভয়ানক সত্য হলো এই যে, '''স্কুলে এবং পরবর্তী জীবনে রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই, তা আমাদের মনকে এতটাই বিকৃত করে ফেলেছে যে স্বাধীনতার প্রকৃত ধারণাটিই হারিয়ে যায় এবং তা দাসত্বের ছদ্মবেশ ধারণ করে। <br> এটা দেখা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, যারা নিজেদের বিপ্লবী বলে বিশ্বাস করেন তারা অরাজকতাবাদীদের ওপর ঘৃণা উগরে দেন কেবল এই কারণে যে অরাজকতাবাদীর স্বাধীনতার ধারণাটি রাষ্ট্রীয় স্কুলে শেখা স্বাধীনতার ক্ষুদ্র ও সংকীর্ণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।''' কিন্তু বাস্তবে এই দৃশ্যই দেখা যায়। সত্য হলো এই যে, তরুণদের মনে স্বেচ্ছায় দাসত্বের চেতনা সবসময় সুকৌশলে গড়ে তোলা হয়েছে এবং এখনও হয়, যাতে রাষ্ট্রের প্রতি ব্যক্তির অধীনতা চিরস্থায়ী করা যায়।
** ৯
* '''আমাদের সভ্যতার ইতিহাস জুড়ে দুটি ঐতিহ্য, দুটি বিপরীতমুখী প্রবণতা একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে''': রোমান বনাম জনপ্রিয়। সাম্রাজ্যবাদী বনাম ফেডারেলিস্ট। কর্তৃত্ববাদী বনাম স্বাধীনতাকামী। সামাজিক বিপ্লবের প্রাক্কালে এটি আবারও দৃশ্যমান। <br> '''এই দুটি ধারার মধ্যে জনগণের ধারা এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আধিপত্যের আকাঙ্ক্ষার ধারা—আমরা আমাদের পছন্দ বেছে নিয়েছি।''' <br> আমরা সেই চেতনাকে পুনরায় ফিরে পেতে চাই যা দ্বাদশ শতাব্দীর মানুষকে মুক্ত চুক্তি এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মুক্ত ফেডারেশনের ভিত্তিতে নিজেদের সংগঠিত করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আর আমরা অন্যদের জন্য সাম্রাজ্যবাদী, রোমান এবং ক্যানোনিকাল ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকার পথ খোলা রেখেছি।
** ১০
* '''হয় রাষ্ট্র চিরকাল থাকবে ব্যক্তিগত ও স্থানীয় জীবনকে পিষে ফেলবে, মানুষের কর্মকাণ্ডের সমস্ত ক্ষেত্র দখল করবে এবং সাথে নিয়ে আসবে যুদ্ধ আর ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ লড়াই। যা কেবল এক স্বৈরাচারের জায়গায় অন্য স্বৈরাচারকে বসাবে এবং অনিবার্যভাবে যার শেষ পরিণতি হলো... মৃত্যু! <br> অথবা রাষ্ট্রের ধ্বংস হবে—হাজার হাজার কেন্দ্রে নতুন জীবনের সূচনা হবে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত উদ্যোগ এবং মুক্ত চুক্তির ভিত্তিতে। <br> পছন্দ আপনার হাতে!'''
** ১০, শেষ উক্তি
=== 'দ্য কনকুয়েস্ট অব ব্রেড' (১৮৯২) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/conquest/toc.html 'অ্যানার্কিস্ট আর্কাইভস'-এ পূর্ণাঙ্গ টেক্সট]</small>
* '''যেহেতু উৎপাদনের মাধ্যমগুলো মানবজাতির সম্মিলিত শ্রমের ফল, তাই উৎপাদিত পণ্যও হওয়া উচিত এই জাতির সম্মিলিত সম্পদ।''' ব্যক্তিগত মালিকানা ন্যায়সঙ্গত নয় এবং এটি কোনো কাজেও আসে না। '''সবকিছুই সবার। সব বস্তু সব মানুষের জন্য, কারণ সব মানুষেরই তা প্রয়োজন। যেহেতু সব মানুষ তাদের সাধ্যমতো উৎপাদনের জন্য শ্রম দিয়েছে এবং যেহেতু বিশ্বের সম্পদে কার অবদান কতটুকু তা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই সবকিছুই সবার জন্য।''' এখানে যন্ত্রপাতির এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। রয়েছে লোহার দাস যাকে আমরা মেশিন বলি। এই মেশিনগুলো আমাদের জন্য কাঠ চেরাই করে, কাপড় বোনে, কাঁচামাল থেকে আমাদের সময়ের বিস্ময়কর সব জিনিস তৈরি করে। মধ্যযুগীয় সামন্ত প্রভুর যেমন কৃষককে বলার অধিকার ছিল না যে "এই পাহাড় বা চারণভূমি আমার," তেমনি আজ কারো অধিকার নেই একটি মেশিনের ওপর দখল নিয়ে বলা যে "এটি আমার। তুমি যদি এটি ব্যবহার করতে চাও, তবে তোমার প্রতিটি পণ্যের ওপর আমাকে কর দিতে হবে।" <br> '''সবই সবার জন্য!''' যদি একজন পুরুষ বা নারী তাদের কাজের ন্যায্য অংশটুকু পালন করেন, তবে সবার দ্বারা উৎপাদিত সম্পদে তাদের ন্যায্য অধিকার রয়েছে; এবং সেই অংশটি তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। "কাজের অধিকার" বা "শ্রমিকের শ্রমের পূর্ণ ফলের" মতো অস্পষ্ট বুলির আর প্রয়োজন নেই। '''আমরা যা ঘোষণা করি তা হলো সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার: সবার জন্য সমৃদ্ধি!'''
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সভ্যতা গড়তে শ্রম দিয়েছে যা নিয়ে আমরা আজ গর্ব করি। আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে থেকে এটি টিকিয়ে রাখতে শ্রম দিচ্ছে। তারা না থাকলে পঞ্চাশ বছরের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকত না।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* এমন কোনো চিন্তা বা উদ্ভাবন নেই যা সাধারণ সম্পদ নয়, যা অতীত এবং বর্তমানের গর্ভে জন্ম নেয়নি। হাজার হাজার জানা-অজানা উদ্ভাবক যারা দারিদ্র্যের মধ্যে মারা গেছেন, তারা এই প্রতিটি মেশিনের উদ্ভাবনে সহযোগিতা করেছেন যা মানুষের প্রতিভাকে ধারণ করে।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* '''আমরা নিজেদের এবং আমাদের সন্তানদের কপটতা আর দ্বিমুখী নৈতিকতা অনুশীলনে অভ্যস্ত করি। আর যেহেতু মস্তিষ্ক মিথ্যার মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না, তাই আমরা কুতর্ক দিয়ে নিজেদের ঠকাই। কপটতা আর কুতর্ক সভ্য মানুষের দ্বিতীয় স্বভাবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একটি সমাজ এভাবে বাঁচতে পারে না। একে সত্যের পথে ফিরতে হবে নতুবা এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।'''
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* জ্ঞান বৃদ্ধি করতে এবং কুসংস্কার দূর করতে হাজার হাজার লেখক, কবি ও পণ্ডিত শ্রম দিয়েছেন। তারা বৈজ্ঞানিক চিন্তার সেই পরিবেশ তৈরি করেছেন যা ছাড়া এই শতাব্দীর বিস্ময়গুলো কখনোই দেখা যেত না। আর এই হাজার হাজার দার্শনিক, কবি ও পণ্ডিতরা নিজেরাও বিগত শতাব্দীগুলোর শ্রমের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছেন।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* এই দানবীয় ব্যবস্থার কারণে একজন শ্রমিকের সন্তান জীবনে প্রবেশ করেই চাষ করার জন্য কোনো জমি পায় না, চালানোর জন্য কোনো মেশিন পায় না, খনন করার জন্য কোনো খনি পায় না—যদি না সে তার উৎপাদনের একটি বড় অংশ একজন প্রভুর হাতে তুলে দিতে রাজি হয়।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* শিক্ষা এখনও একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিশেষ অধিকার হয়ে আছে। যখন একজন শ্রমিকের সন্তান তেরো বছর বয়সে খনিতে নামতে বা খামারে বাবাকে সাহায্য করতে বাধ্য হয়, তখন শিক্ষার কথা বলা নিরর্থক। অমানুষিক পরিশ্রমের পর সন্ধ্যায় ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরা শ্রমিকের কাছে পড়াশোনার কথা বলা বৃথা। সমাজ এভাবে দুটি শত্রু শিবিরে বিভক্ত হয়ে থাকে, আর এমন অবস্থায় 'স্বাধীনতা' কেবল একটি অন্তঃসারশূন্য শব্দ মাত্র।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* '''আমাদের এটা স্বীকার করতে হবে এবং উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করতে হবে যে পুরানো সমাজে কার অবস্থান কী ছিল তা বড় কথা নয়, কেউ সবল বা দুর্বল হোক, সক্ষম বা অক্ষম হোক, সবার আগে তার 'বেঁচে থাকার অধিকার' আছে। সমাজের দায়িত্ব হলো তার হাতে থাকা জীবনধারণের উপকরণগুলো ব্যতিক্রমহীনভাবে সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া।'''
** অধ্যায় ২: সবার জন্য সমৃদ্ধি
* আমরা ইতিমধ্যেই এমন এক বিশ্বের আভাস পাচ্ছি যেখানে ব্যক্তিকে বেঁধে রাখার বন্ধনগুলো আর কোনো আইন নয়, বরং তা হবে সামাজিক অভ্যাস। যা আমাদের প্রত্যেকের প্রতিবেশীর সমর্থন, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা খোঁজার প্রয়োজনীয়তা থেকে জন্ম নেবে। <br /> রাষ্ট্রবিহীন সমাজের ধারণাটি অন্তত ততটাই আপত্তির জন্ম দেবে যতটা ব্যক্তিগত পুঁজিহীন সমাজের অর্থনীতি দেয়। শৈশব থেকেই আমাদের শেখানো হয়েছে রাষ্ট্রকে এক ধরণের 'বিধাতা' হিসেবে দেখতে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো বিভিন্ন বিজ্ঞান আমাদের সরকার এবং রাষ্ট্রের গুণাবলীতে বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত করে। <br /> এই অন্ধবিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে দর্শনের পুরো ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে; সমস্ত রাজনীতি এই নীতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে; এবং প্রতিটি রাজনীতিবিদ মানুষের সামনে এসে বলেন "আমাকে ক্ষমতা দাও, আমি তোমাদের এই সব দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দেব।"
** অধ্যায় ৩: অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম
* দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত আমাদের সমস্ত কাজ এই নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়। সমাজবিজ্ঞান বা আইনশাস্ত্রের যেকোনো বই খুলুন, সেখানে দেখবেন সরকার আর তার সংগঠনগুলো এত বিশাল জায়গা জুড়ে আছে যে আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি যে সরকার আর রাষ্ট্রনায়কদের জগতের বাইরে আর কিছুই নেই।
** অধ্যায় ৩: অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম
* আমরা বুঝতে শুরু করেছি যে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন মানে দেশের সমস্ত বিষয়কে সেই সব মানুষের হাতে সঁপে দেওয়া যাদের নিজস্ব কোনো মতামত নেই।
** অধ্যায় ৩: অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম
* '''জমিদারের সম্পদ কৃষকের দারিদ্র্যের কাছে ঋণী''', এবং পুঁজিবাদীর সম্পদও একই উৎস থেকে আসে।
** অধ্যায় ৪: বাজেয়াপ্তকরণ
* আমরা যা চাই তা হলো এমন এক ব্যবস্থা করা যাতে এই পৃথিবীতে জন্মানো প্রতিটি মানুষ প্রথমেই কোনো দরকারী কাজ শেখার সুযোগ পায়। এরপর সে যেন তার পেশায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে কোনো মালিকের অনুমতি ছাড়া এবং তার উৎপাদনের সিংহভাগ কোনো জমিদার বা পুঁজিবাদীর হাতে তুলে না দিয়ে।
** অধ্যায় ৪: বাজেয়াপ্তকরণ
* '''আমরা যে অলীক কল্পনাবাদী, তা সবাই জানে। আমরা এতটাই কল্পনাপ্রবণ যে আমরা বিশ্বাস করি বিপ্লব সবার জন্য আশ্রয়, খাদ্য এবং পোশাক নিশ্চিত করতে পারে এবং করা উচিত।''' মধ্যবিত্ত নাগরিকদের কাছে এই চিন্তাটি অত্যন্ত অপ্রীতিকর, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে যার পেট ভরা আছে এমন মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়।
** অধ্যায় ৫: খাদ্য
* বাড়িটি তার মালিক তৈরি করেনি। এটি তৈরি করেছে, সাজিয়েছে এবং আসবাবপত্র দিয়ে পূর্ণ করেছে অসংখ্য শ্রমিক। যারা করাত কলে, ইটের ভাটায় এবং কারখানায় নূন্যতম মজুরির বিনিময়ে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছে।
** অধ্যায় ৬: আবাসন
* বুর্জোয়া সমাজের সবচেয়ে বড় ক্ষতি কেবল এটাই নয় যে পুঁজিবাদীরা লাভের বড় অংশ দখল করে বিনা পরিশ্রমে বেঁচে থাকে বরং ক্ষতিটি হলো এই উৎপাদন ব্যবস্থাটি ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। এটি সবার সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না। এই কারণেই আমরা একে প্রত্যাখ্যান করি।
** অধ্যায় ৮: পথ ও পন্থা
* আমাদের কাছে এটি একেবারেই অবোধ্য যে বুদ্ধিমান মানুষগুলো ফ্রান্স, ইংল্যান্ড বা আমেরিকার ইতিহাসের শিক্ষা পাওয়ার পরও কীভাবে জাতীয় বা পৌর পার্লামেন্টের সমর্থক হয়ে থাকতে পারে।
** অধ্যায় ১৩: কালেক্টিভিস্ট মজুরি ব্যবস্থা
* ভবিষ্যতের খনি হবে সুপরিচালিত বাতাস চলাচলের সুবিধাযুক্ত, যার তাপমাত্রা একটি লাইব্রেরির মতোই সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সেখানে মাটির নিচে মরার জন্য কোনো ঘোড়াকে নামানো হবে না। যান্ত্রিক ক্যাবলের সাহায্যে মাটির নিচ দিয়ে পরিবহন কাজ চালানো হবে।
** অধ্যায় ১০: আনন্দদায়ক কাজ
* নারীর মুক্তি মানে কেবল তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা বা আদালতের দুয়ার খুলে দেওয়া নয়। কারণ 'মুক্ত' নারী অনেক সময় ঘরের কাজ অন্য নারীর ওপর চাপিয়ে দেন। নারীর মুক্তি মানে তাকে রান্নাঘর বা ধোপাশালার অমানুষিক খাটুনি থেকে মুক্তি দেওয়া; ঘরকে এমনভাবে সংগঠিত করা যাতে সে তার সন্তান লালন-পালন করার পাশাপাশি সামাজিক জীবনে অংশ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবসর পায়। <br /> এটি ঘটবেই। একটি বিপ্লব যা স্বাধীনতা, সাম্য এবং সংহতির সুন্দর বুলি আওড়ায়, সে কখনোই বিপ্লব হতে পারে না যদি সে ঘরের ভেতর দাসত্ব বজায় রাখে। মানবজাতির অর্ধেক যদি উনুন পাড়ের দাস হয়ে থাকে, তবে তাদের অন্য অর্ধেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেই হবে।
** অধ্যায় ১০: আনন্দদায়ক কাজ
* বংশগত কুসংস্কার এবং ভুল শিক্ষার কারণে আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে পুলিশের নজর সরে গেলেই মানুষ বন্য পশুর মতো একে অপরকে ছিঁড়ে খাবে। কিন্তু আমরা আমাদের চোখ বন্ধ করে রাখি সেই হাজার হাজার মানব গোষ্ঠীর দিক থেকে যারা কোনো আইনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই অবাধে নিজেদের গঠিত করে এবং সরকারের অভিভাবকত্বের চেয়ে অনেক উন্নত ফলাফল অর্জন করে।
** অধ্যায় ১১: মুক্ত চুক্তি
* রাষ্ট্র তার পবিত্র কাজগুলো থেকে ইস্তফা দিচ্ছে এবং ব্যক্তিবর্গের কাছে আবেদন জানাচ্ছে। সবখানেই মুক্ত সংগঠনগুলো রাষ্ট্রের সীমানায় প্রবেশ করছে। যখন রাষ্ট্র থাকবে না, তখন এই মুক্ত চুক্তি আমাদের জন্য ভবিষ্যতে কী নিয়ে আসবে, তার সামান্য আভাস আমরা এখন পাচ্ছি।
** অধ্যায় ১১: মুক্ত চুক্তি
=== 'ফিল্ডস, ফ্যাক্টরিজ অ্যান্ড ওয়ার্কশপস' (১৮৯৯) ===
:<small>''অথবা কৃষি ও কায়িক শ্রমের সাথে শিল্প ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের সমন্বয়''। ১৮৮৮-১৮৯০ সালের মধ্যে প্রকাশিত কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন হিসেবে ১৮৯৯ সালে এটি প্রথম বই আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯১২ সালে লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক থেকে এর পরবর্তী সংস্করণ এবং ১৯৭৪ সালে কলিন ওয়ার্ডের সম্পাদনায় জর্জ অ্যালেন অ্যান্ড আনউইন থেকে আরও একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।</small>
* '''যখন বিজ্ঞান তার প্রধান মনোযোগ শিল্পোৎপাদনের দিকে নিবদ্ধ করেছে, তখন একদল প্রকৃতিপ্রেমী এবং অগণিত কর্মী... ঐতিহাসিকভাবে অজ্ঞাত থেকেই এক সম্পূর্ণ নতুন ধরণের কৃষি ব্যবস্থা তৈরি করেছেন''' যা আধুনিক চাষাবাদের চেয়ে এতটাই উন্নত, যেমন উন্নত ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের তিন-মাঠ পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক চাষাবাদ। বিজ্ঞান খুব কমই তাদের পথ দেখিয়েছে, বরং মাঝে মাঝে ভুল পথে চালিত করেছে... তারা পরীক্ষামূলকভাবে এগিয়েছেন। কিন্তু... তারা উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় গবেষণার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তারা সম্পূর্ণ নতুন এক কৃষি ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। আমরা যখন শস্য পর্যায় পদ্ধতির মাধ্যমে বছরে একটি বা তিন বছরে চারটি ফসল পাওয়ার বড়াই করি, তখন তারা কেবল হাসেন। কারণ '''তাদের লক্ষ্য হলো একই জমিতে বারো মাসে ৬ থেকে ৯টি ফসল ফলানো। তারা আমাদের 'ভালো মাটি' বা 'খারাপ মাটি'র গল্প বোঝেন না, কারণ তারা মাটি নিজেরাই তৈরি করে নেন''' এবং তারা '''এত বেশি পরিমাণে মাটি তৈরি করেন যে প্রতি বছর তাদের কিছু মাটি বিক্রি করে দিতে হয়'''। অন্যথায় প্রতি বছর তাদের বাগানের উচ্চতা আধা ইঞ্চি করে বেড়ে যেত। তারা একর প্রতি ৫ বা ৬ টন ঘাস নয় বরং একই জায়গায় ৫০ থেকে ১০০ টন বিভিন্ন সবজি ফলানোর লক্ষ্য রাখেন; যেখানে ৫ পাউন্ড মূল্যের খড় পাওয়া যেত, সেখানে তারা ১০০ পাউন্ড মূল্যের সাধারণ সবজি (বাঁধাকপি বা গাজর) এবং নিবিড় উদ্যানতত্ত্বের মাধ্যমে ২০০ পাউন্ডের বেশি মূল্যের ফসল ফলান। '''কৃষি এখন এই পথেই এগোচ্ছে।'''
* প্যারিসের প্রচুর সংখ্যক 'মারাইশাঁ' (বাজার বাগান চাষী) তাদের উৎপাদিত ফসলের পুরোটা ইংল্যান্ডে রপ্তানি করেন।
* '''একজন মালিকে বড় শহরের দিকে যা আকর্ষণ করে তা হলো আস্তাবলের সার; আর এটি মাটির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য ততটা প্রয়োজন নয়... যতটা প্রয়োজন মাটির তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে রাখার জন্য।''' আগাম সবজিতে লাভ সবচেয়ে বেশি, আর এই আগাম ফলন পেতে কেবল বাতাস নয়, মাটিও গরম রাখতে হয়... '''মাটির সাথে সঠিক পরিমাণে সারের মিশ্রণ ঘটিয়ে; এর গাঁজন প্রক্রিয়া মাটিকে উত্তপ্ত করে...'''
* বাজার বাগান পদ্ধতিতে মাটি সবসময় 'তৈরি' করা হয়... ফলে প্যারিসের চাষীদের ভাড়ার চুক্তিতে এখন এটি একটি সাধারণ শর্ত যে '''মালি যখন তার ইজারা শেষ করবেন, তখন তিনি একটি নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত তার তৈরি করা মাটি সাথে করে নিয়ে যেতে পারবেন।''' তিনি নিজেই এটি তৈরি করেন এবং '''যখন তিনি অন্য জায়গায় যান, তখন গরুর গাড়িতে করে তার মাটি নিয়ে যান...'''
* উদাহরণস্বরূপ এম. পন্সের ফলের বাগানটি ধরা যাক যা মাত্র ২.৭ একর জুড়ে বিস্তৃত। জলসেচের স্টিম ইঞ্জিনসহ তার পুরো খামারের ব্যয় ছিল ১,১৩৬ পাউন্ড। প্রতি বছর সারের পেছনে খরচ হতো ১০০ পাউন্ড। খাজনা ও ট্যাক্সে ব্যয় হতো আরও ১০০ পাউন্ড। কিন্তু প্রতি বছর সেখান থেকে যা সংগ্রহ করা হতো তার হিসাব দেওয়া কঠিন... ২০,০০০ পাউন্ডের বেশি গাজর... ২০,০০০ পাউন্ড পেঁয়াজ, মূলা এবং অন্যান্য সবজি... ৬,০০০টি বাঁধাকপি। ৩,০০০টি ফুলকপি। ৫,০০০ ঝুড়ি টমেটো, ৫,০০০ ডজন বাছাই করা ফল এবং ১,৫৪,০০০টি সালাদ পাতা। সংক্ষেপে বলতে গেলে মোট ২,৫০,০০০ পাউন্ড সবজি। '''ফোর্সিং বেড থেকে এত বেশি মাটি তৈরি হতো যে প্রতি বছর ২৫০ ঘন গজ মাটি বিক্রি করে দেওয়া হতো।''' এমন ডজন ডজন উদাহরণ দেওয়া যায়... প্যারিসের আশেপাশে ৫,০০০ মানুষ এভাবে ২,১২৫ একর জমি চাষ করেন এবং এভাবেই '''কেবল ২০ লক্ষ প্যারিসবাসীর সবজির চাহিদাই মেটানো হয় না, বরং উদ্বৃত্ত অংশ লন্ডনেও পাঠানো হয়।'''
* উপরের ফলাফলগুলো গরম ফ্রেম এবং হাজার হাজার কাঁচের বেল-জারের সাহায্যে পাওয়া যায়। কিন্তু এই ব্যয়বহুল জিনিসগুলো ছাড়াও, চারা তৈরির জন্য মাত্র ৩৬ গজের ফ্রেম ব্যবহার করে ''খোলা আকাশের নিচে'' একর প্রতি ২০০ পাউন্ড মূল্যের সবজি চাষ করা যায়। ...এই উচ্চ আয় কেবল শীতকালে আগাম সবজির দামের কারণে নয়; এটি মূলত সাধারণ সবজির বিপুল ফলনের কারণে ঘটে।
* এই চমৎকার চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বিকশিত হয়েছে। এর আগে এটি বেশ আদিম ছিল। কিন্তু এখন '''প্যারিসের মালি কেবল মাটিকে তুচ্ছজ্ঞান করে না। সে চাইলে পিচঢালা রাস্তার ওপরও একই ফসল ফলাতে পারে
সে জলবায়ুকেও জয় করেছে।''' তার দেয়ালগুলো তৈরি করা হয়েছে আলো প্রতিফলিত করতে এবং উত্তরের বাতাস থেকে গাছকে বাঁচাতে। সে প্যারিসের শহরতলীতে এক সমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলীয় বাগান তৈরি করেছে। '''সে প্যারিসকে সেই 'দুই ডিগ্রি কম অক্ষাংশ' (উষ্ণতা) উপহার দিয়েছে যার জন্য একজন ফরাসি বিজ্ঞানী আকুল আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন। সে তার শহরকে যেকোনো ঋতুতে পাহাড় সমান আঙুর ও ফল সরবরাহ করে এবং বসন্তের শুরুতে শহরকে সুগন্ধে ভরিয়ে দেয়।''' কিন্তু সে কেবল বিলাসবহুল দ্রব্যই ফলায় না। বড় পরিসরে সাধারণ সবজি চাষের এই পদ্ধতি প্রতি বছর ছড়িয়ে পড়ছে; ফলাফল এতই ভালো যে '''এখন অনেক ব্যবহারিক চাষী দাবি করেন যে সেন ও সেন-এ-ওয়াজ বিভাগের ৪৫ লক্ষ বাসিন্দার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রাণীজ ও উদ্ভিজ্জ খাদ্য (৩,৫২০ বর্গ মাইল এলাকায়) বর্তমানের এই পদ্ধতি ব্যবহার করেই উৎপাদন করা সম্ভব'''এমন পদ্ধতি যা ইতিমধ্যেই বৃহৎ পরিসরে পরীক্ষিত এবং সফল প্রমাণিত হয়েছে।
* '''এতকিছুর পরও প্যারিসের মালি আমাদের কৃষকের আদর্শ নয়।''' সভ্যতার এই কষ্টসাধ্য যাত্রায় সে আমাদের পথ দেখিয়েছে ঠিকই। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার আদর্শ অন্য কোথাও। সে ভোর ৩টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় বিরামহীন কাজ করে। তার কোনো অবসর নেই। একজন মানুষ হিসেবে জীবন কাটানোর সময় তার নেই; তার পৃথিবীটা কেবল তার বাগান। সে আমাদের আদর্শ হতে পারে না। তার কৃষি ব্যবস্থাও নয়। '''আমাদের লক্ষ্য হলো, সে আরও 'বেশি' উৎপাদন করবে... কিন্তু 'কম' পরিশ্রমে, এবং মানুষের জীবনের সমস্ত আনন্দ উপভোগ করবে। আর এটি পুরোপুরি সম্ভব।'''
* ফরাসি চাষীরা কেন সারের বিভিন্ন মিশ্রণ তৈরি করতে এত বুদ্ধি ও শ্রম ব্যয় করেন? কেবল দুটি লক্ষ্যের জন্য: '''একটি পুষ্টিকর মাটি এবং বাতাস ও মাটির একটি কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীল তাপমাত্রা। তার সমস্ত অভিজ্ঞতালব্ধ শিল্প এই দুটি লক্ষ্য অর্জনে নিবেদিত। কিন্তু... মাটি হাত দিয়ে 'উন্নত' করা যায়, কিন্তু এটি হাত দিয়ে 'তৈরি' করার প্রয়োজন নেই। যেকোনো মাটি... যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি করা সম্ভব। ...চাহিদা থাকলেই আমরা অচিরেই দোআঁশ মাটির কারখানা দেখতে পাবো।'''
* '''বিজ্ঞান আজ পর্যন্ত ম্যালথাসের শিক্ষা দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। অর্থনীতি এখনও একটি জাতির উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর অসম্ভাব্যতাকে মৌন স্বীকৃতি দিয়ে তার যুক্তি সাজায়''' এবং এভাবে সবার চাহিদা পূরণের পথ বন্ধ করে রাখে। রাজনৈতিক অর্থনীতি কখনোই ''জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণের সীমিত ও অপর্যাপ্ত সরবরাহের'' অনুকল্প থেকে উপরে উঠতে পারে না। তারা এটিকে ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেয়। এমনকি জীববিজ্ঞানীদের মধ্যেও আমরা দেখেছি যে ডারউইন ও ওয়ালেস প্রজাতির পরিবর্তনের তত্ত্বের ক্ষেত্রে ম্যালথাসের সেই মৌলিক ধারণার সহায়তা নিয়েছেন যে প্রকৃতি দ্রুত বংশবৃদ্ধি করা প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করতে অনিবার্যভাবে ব্যর্থ হবে।
* সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি যে, '''ম্যালথাসের তত্ত্ব সম্পদশালী শ্রেণীর গোপন আকাঙ্ক্ষাগুলোকে একটি ছদ্ম-বৈজ্ঞানিক রূপ দিয়ে দর্শনের এক বিশাল ভিত্তি তৈরি করেছে যা শিক্ষিত ও অশিক্ষিত উভয়ের মনকে প্রভাবিত করে।'''
* '''শিল্পসম্পদ এমন হারে বেড়েছে যা জনসংখ্যার যেকোনো বৃদ্ধিকে হার মানায় এবং এটি আরও দ্রুত বাড়তে পারে। কিন্তু কৃষিকে এখনও ম্যালথাসীয় ছদ্ম-দর্শনের একটি দুর্গ বলে মনে করা হয়। কৃষির সাম্প্রতিক অর্জনগুলো মানুষ যথেষ্ট জানে না। আমাদের মালিরা যখন জলবায়ু ও অক্ষাংশকে জয় করছেন, বছরে একটির বদলে কয়েকটি ফসল ফলাচ্ছেন এবং নিজেরাই মাটি তৈরি করছেন, তখন অর্থনীতিবিদরা এখনও বলছেন যে মাটির উপরিভাগ সীমিত এবং এর উৎপাদন ক্ষমতাও সীমিত; তারা এখনও দাবি করেন যে প্রতি ৩০ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হতে থাকলে শীঘ্রই জীবনধারণের উপকরণের অভাব দেখা দেবে!'''
* যদি আমরা সব কিছু বিবেচনা করি। যদি আমরা বাগান চাষের অগ্রগতি এবং বিজ্ঞানের গচ্ছিত সম্পদ নিয়ে ভাবি, তবে আমাদের বলতেই হবে '''কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড থেকে সর্বোচ্চ কত সংখ্যক মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে বা তারা যেকোনো অক্ষাংশে কত বৈচিত্র্যময় ফসল ফলাতে পারবে, তার কোনো সীমা বর্তমানে কল্পনা করাও অসম্ভব।'''
* আমরা এখন এটুকুই বলতে পারি যে, ''এমনকি বর্তমানেও'', প্রতি বর্গমাইলে ৬০০ জন অনায়াসেই বাস করতে পারে; এবং ১,০০০ একর জমিতে ১,০০০ জন মানুষ অলস নয় এমন কঠোর পরিশ্রম ছাড়াই অত্যন্ত বিলাসবহুল উদ্ভিদ ও প্রাণীজ খাদ্য এবং পোশাকের জন্য প্রয়োজনীয় তন্তু ও চামড়া উৎপাদন করতে পারে।
* এভাবেই আমরা দেখি যে, '''অতিরিক্ত জনসংখ্যার ভ্রান্ত ধারণা নিবিড় পরীক্ষার সামনে টিকতেই পারে না।'''
* যারা প্রতি ১,০০০ সেকেন্ডে এ দেশে একজন করে মানুষ বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত হন, তারা মানুষকে কেবল জগতের সম্পদের অংশীদার হিসেবে দেখেন, অবদানকারী হিসেবে নয়। কিন্তু আমরা, যারা প্রতিটি নবজাতকের মাঝে একজন ভবিষ্যৎ 'কর্মী'কে দেখি যে নিজের ভাগের চেয়েও অনেক বেশি সম্পদ উৎপাদনে সক্ষম আমরা তার আগমনকে স্বাগত জানাই।
=== 'মেমোয়ার্স অব এ রেভোলিউশনিস্ট' (১৮৯৯) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_archives/kropotkin/memoirs/memoirstoc.html অনলাইন টেক্সট]</small>
* একজন ভূমিদাস-মালিকের পরিবারে বড় হওয়ায়, আমি আমার সময়ের অন্য সব যুবকদের মতো আদেশ দেওয়া, শাসন করা, বকাঝকা বা শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর অগাধ আত্মবিশ্বাস নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছিলাম। কিন্তু যখন খুব অল্প বয়সেই আমাকে গুরুতর উদ্যোগ পরিচালনা করতে এবং মানুষের সাথে কাজ করতে হলো যেখানে প্রতিটি ভুল তাৎক্ষণিক ভারী পরিণতি বয়ে আনত'''তখন আমি 'আদেশ ও শৃঙ্খলার নীতি' এবং 'পারস্পরিক সমঝোতার নীতি'র মধ্যে পার্থক্য বুঝতে শুরু করলাম। প্রথমটি সামরিক কুচকাওয়াজে চমৎকার কাজ দেয়, কিন্তু বাস্তব জীবনের ক্ষেত্রে এর কোনো মূল্য নেই। বাস্তব জীবনের লক্ষ্য কেবল অনেকের সম্মিলিত ইচ্ছার কঠোর প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে।'''
** [http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_archives/kropotkin/memoirs/memoirs3_7.html ৩য় খণ্ড, ৭ম পরিচ্ছেদ]
* মধ্য ইউরোপ পর্যন্ত বরফের আস্তরণ পৌঁছানোর তত্ত্বে বিশ্বাস করা সে সময় এক ধরণের ধর্মদ্রোহিতা ছিল। কিন্তু আমার চোখের সামনে একটি বিশাল ছবি ফুটে উঠছিল। আমি হাজার হাজার খুঁটিনাটি সহ সেই ছবিটি আঁকতে চেয়েছিলাম। এটিকে বর্তমানের উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের বিন্যাসের চাবিকাঠি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। ভূবিদ্যা ও ভৌত ভূগোলের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চেয়েছিলাম। <br> কিন্তু এই সর্বোচ্চ আনন্দ উপভোগ করার কী অধিকার আমার আছে, যখন আমার চারপাশে কেবল এক টুকরো পচা রুটির জন্য হাহাকার আর সংগ্রাম? যখন সেই উচ্চতর আবেগের জগতে বাস করার জন্য আমার প্রতিটি ব্যয়িত অর্থ সেই সব মানুষদের মুখ থেকে কেড়ে নেওয়া—যারা গম ফলায় কিন্তু নিজের সন্তানদের জন্য পর্যাপ্ত রুটি জোটাতে পারে না? কারো না কারো মুখ থেকে এটি কেড়ে নিতেই হয়, কারণ মানবজাতির মোট উৎপাদন আজও অত্যন্ত নিম্নপর্যায়ে রয়ে গেছে। <br> জ্ঞান এক বিশাল শক্তি। মানুষের জানা উচিত। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যেই অনেক কিছু জানি! '''যদি সেই জ্ঞান এবং কেবল সেই জ্ঞানই সবার সম্পদে পরিণত হয়? তবে কি বিজ্ঞান নিজে লাফিয়ে লাফিয়ে এগোবে না? এবং তা মানবজাতিকে উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং সামাজিক সৃজনশীলতায় এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে না যার গতি পরিমাপ করার ক্ষমতাও আমাদের এখন নেই?'''
** [http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_archives/kropotkin/memoirs/memoirs4_3.html ৪র্থ খণ্ড, ৩য় পরিচ্ছেদ]
=== 'মিউচুয়াল এইড: এ ফ্যাক্টর অব ইভোলিউশন' (১৯০২) ===
:<small>[http://onlinebooks.library.upenn.edu/webbin/gutbook/lookup?num=4341 অনলাইন টেক্সট]</small>
* '''প্রাণিজগতে আমরা দেখেছি যে অধিকাংশ প্রজাতি সমাজে বাস করে এবং তারা দলবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমেই জীবন সংগ্রামের সেরা অস্ত্র খুঁজে পায়।অবশ্যই ডারউইনীয় অর্থে কেবল টিকে থাকার লড়াই হিসেবে নয়, বরং প্রজাতির জন্য প্রতিকূল সমস্ত প্রাকৃতিক অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম হিসেবে।''' যে সব প্রাণিপ্রজাতি ব্যক্তিগত লড়াইকে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তারাই সংখ্যায় বেশি, সমৃদ্ধ এবং প্রগতির পথে সবচেয়ে অগ্রসর। এই পারস্পরিক সুরক্ষা দীর্ঘজীবী হওয়া, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা এবং উচ্চতর বুদ্ধিগত বিকাশের সুযোগ করে দেয় যা প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা নিশ্চিত করে। '''বিপরীতভাবে, অসামাজিক প্রজাতিগুলো বিলুপ্তির পথে ধাবিত হয়।'''
* আদিম উপজাতি থেকে বর্বর গ্রাম্য সম্প্রদায় গড়ে উঠেছিল; এবং একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের সাধারণ মালিকানা ও সাধারণ প্রতিরক্ষার নীতির অধীনে সামাজিক প্রথা, অভ্যাস এবং প্রতিষ্ঠানের এক নতুন ও বিস্তৃত বলয় তৈরি হয়েছিল। যার অনেকগুলো আজও আমাদের মাঝে টিকে আছে। আর যখন নতুন প্রয়োজন মানুষকে নতুন শুরুর দিকে ধাবিত করল, তারা তা করল শহরে—যা ছিল গ্রাম্য সম্প্রদায় এবং গিল্ড বা বণিক সংঘের একটি দ্বৈত জাল।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|right|একটি মাত্র যুদ্ধ।আমরা সবাই জানি তৎক্ষণাৎ এবং পরবর্তীতে এতটা অনিষ্ট করতে পারে, যা শত বছরের পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির দ্বারা অর্জিত কল্যাণকেও ম্লান করে দেয়।]]
* পারস্পরিক সহযোগিতা বিবর্তনের একটি কারক হলেও তা মানবিক সম্পর্কের একটি দিক মাত্র। এর পাশাপাশি অন্য একটি ধারা সবসময় ছিল ব্যক্তির আত্মপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা। এটি কেবল ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াই নয় বরং উপজাতি, গ্রাম্য সম্প্রদায় বা রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া প্রথাগত বন্ধন ভেঙে ফেলার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। অন্য কথায়, ব্যক্তিকে একটি প্রগতিশীল উপাদান হিসেবে নেওয়া। <br>'''এটি স্পষ্ট যে, বিবর্তনের কোনো পর্যালোচনাই পূর্ণাঙ্গ হবে না যদি না এই দুটি প্রভাবশালী ধারা (সহযোগিতা ও আত্মপ্রতিষ্ঠা) বিশ্লেষণ করা হয়।''' তবে ব্যক্তির আত্মপ্রতিষ্ঠা বা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই আদিকাল থেকেই বর্ণিত এবং মহিমান্বিত হয়ে আসছে। মহাকাব্যিক কবি, ইতিহাসবিদ এবং সমাজবিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত কেবল এই লড়াইয়ের ধারাটিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। এযাবৎকাল পর্যন্ত লিখিত ইতিহাস মূলত ধর্মতন্ত্র, সামরিক শক্তি, স্বৈরতন্ত্র এবং পরবর্তীতে ধনী শ্রেণীর শাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠিত ও বজায় রাখা হয়েছে, তারই বর্ণনা।
[[File:RegenbogenDSCN0352.JPG|thumb|right|শিল্পের অগ্রগতি বা প্রকৃতির ওপর যেকোনো বিজয়ের জন্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অবশ্যই পারস্পরিক লড়াইয়ের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক।]]
* '''একটি মাত্র যুদ্ধ আমরা সবাই জানি তৎক্ষণাৎ এবং পরবর্তীতে এতটা অনিষ্ট করতে পারে, যা শত বছরের পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির দ্বারা অর্জিত কল্যাণকেও ম্লান করে দেয়।'''
* '''আমাদের এই শতাব্দীতে যে হঠাৎ শিল্পোন্নতি হয়েছে এবং যাকে সাধারণত ব্যক্তিবাদ ও প্রতিযোগিতার জয় হিসেবে গণ্য করা হয়, তার উৎস আসলে আরও অনেক গভীরে।''' পঞ্চদশ শতাব্দীর মহান আবিষ্কারগুলো, বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপের আবিষ্কার এবং প্রাকৃতিক দর্শনের ধারাবাহিক অগ্রগতি যা মধ্যযুগীয় শহর সংগঠনের অধীনে সম্পন্ন হয়েছিল। তা একবার হওয়ার পর বাষ্পীয় ইঞ্জিন উদ্ভাবন এবং নতুন শক্তির জয় অনিবার্য ছিল। '''তাই আমাদের শতাব্দীর শিল্পোন্নতিকে 'সবার বিরুদ্ধে সবার লড়াইয়ের' ফল হিসেবে দেখাটা সেই মানুষের মতো যুক্তি দেওয়া যে বৃষ্টির কারণ না জেনে বৃষ্টির দেবতাকে খুশি করার জন্য উৎসর্গ করা বলির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। শিল্পের অগ্রগতি বা প্রকৃতির ওপর যেকোনো বিজয়ের জন্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অবশ্যই পারস্পরিক লড়াইয়ের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক।'''
* '''বিশেষ করে নৈতিকতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে।''' পারস্পরিক সহযোগিতাই যে আমাদের নৈতিক ধারণার প্রকৃত ভিত্তি, তা যথেষ্ট স্পষ্ট। এই অনুভূতির উৎস জৈবিক বা অলৌকিক যাই হোক না কেন, প্রাণিজগতের একদম নিম্নস্তর থেকেই এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় এবং সেখান থেকে মানুষের উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে এটি বিবর্তিত হয়ে বর্তমান সময়ে পৌঁছেছে। এমনকি সময়ে সময়ে জন্ম নেওয়া নতুন ধর্মগুলোও কেবল এই একই নীতিকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। এই ধর্মগুলো সমাজের নিচুতলার মানুষের কাছেই প্রথম গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, কারণ পারস্পরিক সহযোগিতা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য ভিত্তি। <br>'''প্রতিবার যখন এই পুরাতন নীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করা হয়েছে, এর মূল ধারণাটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এটি বংশ থেকে উপজাতিতে, উপজাতি থেকে জাতিতে এবং পরিশেষে অন্তত আদর্শগতভাবে পুরো মানবজাতির মধ্যে বিস্তৃত হয়েছে।'''
* আদিম বৌদ্ধধর্ম, আদিম খ্রিস্টধর্ম, মুসলিম শিক্ষকগণের কিছু লেখা এবং বিশেষ করে গত শতাব্দীর নৈতিক ও দার্শনিক আন্দোলনে প্রতিশোধের ধারণা ত্যাগের কথা জোরালোভাবে বলা হয়েছে। '''"অন্যায়ের প্রতিশোধ না নেওয়া" এবং প্রতিবেশীর কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করা হয় তার চেয়েও বেশি উদারভাবে দেওয়ার উচ্চতর ধারণাটিকে নৈতিকতার প্রকৃত নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।এমন একটি নীতি যা কেবল ন্যায়বিচার বা সমতার চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং সুখের জন্য বেশি সহায়ক। পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চায়, যা বিবর্তনের আদি লগ্ন থেকে খুঁজে পাওয়া যায়, আমরা আমাদের নৈতিক ধারণার এক ইতিবাচক এবং অবিসংবাদিত উৎস খুঁজে পাই এবং আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে মানুষের নৈতিক প্রগতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা পারস্পরিক লড়াই নয়। প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান সময়েও এর ব্যাপক বিস্তার আমাদের জাতির আরও মহত্তর বিবর্তনের সেরা নিশ্চয়তা দেয়।'''
{{Misattributed begin}}
== ভুলভাবে আরোপিত (Misattributed) ==
* '''সমাজতন্ত্রীরা যদি প্রতিটি ব্যক্তির চাহিদাপূরণকে তাদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে স্পষ্টভাবে এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে প্রস্তুত না হন; যদি তারা জনমতকে এই অবস্থানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রস্তুত না হন, তবে নিজেদের মুক্ত করার পরবর্তী প্রচেষ্টায় জনগণ আবারও পরাজয়ের সম্মুখীন হবে।'''
** এই উক্তিটি ১৮৮৭ সালের আগস্টে 'ফ্রিডম' (Freedom, Vol. 1, No. 11) পত্রিকায় "বিপ্লবের প্রথম কাজ" (The First Work of the Revolution) শিরোনামের একটি নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল। নিবন্ধটির লেখক অজ্ঞাত; যদিও সেই একই সংখ্যায় ক্রোপোটকিনের অন্য একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল, যার ফলে এটি প্রায়ই তাঁর নামে চালিয়ে দেওয়া হয়।
{{Misattributed end}}
== ক্রোপোটকিন সম্পর্কে উক্তি ==
[[File:Kustodiev_The_Bolshevik.jpg|thumb|right|সবকিছু বদলে যাবে এবং জনতা একদিন উপলব্ধি করবে যে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সরকারি গোষ্ঠীকে বিপ্লবকে একচেটিয়া করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে বা পরিচালনা করতে দেওয়া যাবে না। কারণ এই ধরনের প্রচেষ্টা অনিবার্যভাবে বিপ্লবেরই মৃত্যু ঘটায়।]]
[[File:Come unto me, ye opprest.jpg|thumb|right|আমাদের অরাজকতাবাদীদের সেই পুরনো ধরাবাঁধা ছবি ঝেড়ে ফেলতে হবে, যেখানে তাদের শহরের রাস্তায় রাতে লুকিয়ে বেড়ানো দাড়িওয়ালা বোমা নিক্ষেপকারী হিসেবে দেখানো হয়। ~ স্টিফেন জে গোল্ড]]
[[File:Kropotkin on Deathbed.jpg|thumb|right|তাঁর অনেক আদর্শিক শত্রু ছিল, কিন্তু তাঁর সময়ের খুব কম বিখ্যাত ব্যক্তিরই এত কম ব্যক্তিগত শত্রু ছিল। এমনকি যারা তাঁর শিক্ষার কট্টর বিরোধী ছিলেন, তারাও তাঁর নম্রতা এবং আন্তরিকতাকে অস্বীকার করতে পারতেন না। ~ জর্জ উডকক]]
* বিপ্লবীদের এই চমৎকার মিছিলে প্রিন্স ক্রোপোটকিন, বা তিনি যেভাবে পরিচিত হতে পছন্দ করেন। পিটার ক্রোপোটকিন, নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বিশিষ্ট ছিলেন। যখন তিনি আমেরিকায় বক্তৃতা দিতে এসেছিলেন, তখন সারা দেশে তাঁকে অত্যন্ত আগ্রহ ও শ্রদ্ধার সাথে শোনা হয়েছিল।
** জেন অ্যাডামস, '২০ ইয়ার্স অ্যাট হাল হাউস' (১৯১০)
* '''রাশিয়া ছিল আমাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। সবাই একমত ছিলেন যে সেখানকার অবস্থা ছিল ভয়াবহ এবং বলশেভিকদের একনায়কতন্ত্র ছিল সবচেয়ে বড় অপরাধ।''' কিন্তু তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন, বিশ্বাস হারানোর কোনো কারণ নেই। বিপ্লব এবং সাধারণ মানুষ যেকোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের চক্রান্তের চেয়ে অনেক বড়। রাজনৈতিক দল সাময়িকভাবে জয়ী হতে পারে কিন্তু রুশ জনগণের হৃদয় কলুষিত নয়; তারা খুব শীঘ্রই একনায়কতন্ত্র এবং বলশেভিক অত্যাচারের মন্দ দিকগুলো বুঝতে পেরে ঐক্যবদ্ধ হবে। '''তিনি বলেন, বর্তমান রুশ জীবন এক কৃত্রিম অবস্থা যা শাসক শ্রেণী জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে। একটি ছোট রাজনৈতিক দলের শাসন মিথ্যা তত্ত্ব, সহিংস পদ্ধতি, ভয়াবহ ভুল এবং অদক্ষতার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। তারা জনগণের ইচ্ছা এবং উদ্যোগকে দমন করছে, যা ছাড়া দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক জীবন পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।''' মিত্রশক্তির নির্বোধ মনোভাব, অবরোধ এবং হস্তক্ষেপকারীদের আক্রমণ বলশেভিক শাসনের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। কিন্তু সবকিছু বদলে যাবে এবং '''জনতা একদিন উপলব্ধি করবে যে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সরকারি গোষ্ঠীকে বিপ্লবকে একচেটিয়া করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে বা পরিচালনা করতে দেওয়া দেওয়া যাবে না। কারণ এই ধরনের প্রচেষ্টা অনিবার্যভাবে বিপ্লবেরই মৃত্যু ঘটায়।''' <br> সেই সময় আমরা বিপ্লবের আরও অনেক দিক নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। ক্রোপোটকিন বিশেষ করে বিপ্লবের গঠনমূলক দিকের ওপর জোর দিয়েছিলেন; বিশেষ করে অর্থনৈতিক জীবনের সংগঠনকে বিপ্লবের প্রথম এবং প্রধান প্রয়োজনীয়তা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, কারণ এটিই বিপ্লবের অস্তিত্ব ও বিকাশের ভিত্তি।
** আলেকজান্ডার বার্কম্যান, [http://dwardmac.pitzer.edu/ANARCHIST_ARCHIVES/bright/berkman/reminiscences/reminiscences.html "সাম রেমিনিসেন্সেস অব ক্রোপোটকিন"]
* ...সেই তরুণ রাজপুত্র ছিলেন পিটার ক্রোপোটকিন। ক্রোপোটকিন তাঁর "মেমোয়ার্স অব আ রেভোলিউশনিস্টে" রুশ কবি নেক্রাসভের কথা উদ্ধৃত করেছেন: "দাসের তৈরি রুটি তিক্ত হয়।" তিনি আরও যোগ করেন: "তরুণ প্রজন্ম আসলে সেই রুটি খেতে এবং তাদের পৈতৃক বাড়িতে দাসের শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ভোগ করতে অস্বীকার করেছিল—শ্রমিকরা প্রকৃত দাস হোক বা বর্তমান শিল্প ব্যবস্থার দাস।"
** ক্যাথরিন ব্রেশকভস্কি, 'দ্য লিটল গ্র্যান্ডমাদার অব দ্য রাশিয়ান রেভোলিউশন', ১৯১৮
* দরিদ্র তরুণদের প্রতি তাঁর আহ্বান আমাকে ব্যক্তিগতভাবে স্পর্শ করেছিল, যেন তিনি আমাদের ব্রঙ্কসের সেই জীর্ণ ফ্ল্যাটে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন: "তোমাকে কি তোমার বাবা-মায়ের মতো ত্রিশ বা চল্লিশ বছর একইভাবে ক্লান্তিকর জীবন অতিবাহিত করতে হবে? তোমাকে কি সারাজীবন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হবে যাতে অন্যরা সুস্থতা, জ্ঞান আর শিল্পের সব আনন্দ ভোগ করতে পারে, আর তোমার নিজের জন্য শুধু কালকের এক টুকরো রুটির অনিশ্চয়তাটুকু পড়ে থাকে?"
** এলিজাবেথ গার্লি ফ্লিন, 'দ্য রেবেল গার্ল: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি', ১৯৫৫
* ...পিটার ক্রোপোটকিনের 'আপিল টু দ্য ইয়াং' (তরুণদের প্রতি আহ্বান) ছিল একটি চমৎকার আহ্বান, যেখানে তিনি এই পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করার জন্য তরুণদের দায়িত্ব পালনের কথা বলেছিলেন।
** এলিজাবেথ গার্লি ফ্লিন, [http://www.sojust.net/speeches/elizabeth_flynn_memories.html "মেমোরিজ অব দ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড"] (৮ নভেম্বর, ১৯৬২)
* ক্রোপোটকিনরা, পেরভস্কায়ারা, ব্রেশকভস্কায়ারা সম্পদ এবং পদমর্যাদা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁরা জনগণের কাছে গিয়েছিলেন তাদের ওপর তুলে ধরার জন্য নয়, বরং নিজেরা তাদের কাছ থেকে শিক্ষা পাওয়ার জন্য এবং নিজেদের সম্পূর্ণভাবে জনগণের কাছে উৎসর্গ করার জন্য।
** এমা গোল্ডম্যান, "ইন্টেলেকচুয়াল প্রলেটারিয়ানস" (১৯১৪)
* '''আমাদের অরাজকতাবাদীদের সেই পুরনো ধরাবাঁধা ছবি ঝেড়ে ফেলতে হবে, যেখানে তাদের শহরের রাস্তায় রাতে লুকিয়ে বেড়ানো দাড়িওয়ালা বোমা নিক্ষেপকারী হিসেবে দেখানো হয়।''' ক্রোপোটকিন ছিলেন একজন অমায়িক মানুষ, অনেকের মতে প্রায় সাধুতুল্য; যিনি এমন এক ক্ষুদ্র সমাজের স্বপ্ন দেখতেন যারা সবার মঙ্গলের জন্য নিজেদের মানদণ্ড নিজেরা ঠিক করবে, যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা বিলুপ্ত হবে।
** [[স্টিফেন জে গোল্ড]], [http://www.marxists.org/subject/science/essays/kropotkin.htm "ক্রোপোটকিন ওয়াজ নো ক্র্যাকপট"], 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি' ১০৬ (জুন ১৯৯৭)
* '''ক্রোপোটকিন সংগ্রামের সাধারণ ধারণার মধ্যে একটি দ্বিবিভাজন তৈরি করেছেন। যার দুটি রূপ বিপরীতমুখী: (১) একই প্রজাতির জীবের মধ্যে সীমিত সম্পদের জন্য লড়াই, যা প্রতিযোগিতার দিকে নিয়ে যায় এবং (২) পরিবেশের বিরুদ্ধে জীবের লড়াই, যা সহযোগিতার দিকে নিয়ে যায়।''' ...আমি মনে করি ক্রোপোটকিনের মূল যুক্তিটি সঠিক। সংগ্রাম অনেকভাবেই ঘটে এবং কিছু সংগ্রাম একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে সহযোগিতার জন্ম দেয়।
** স্টিফেন জে গোল্ড, "ক্রোপোটকিন ওয়াজ নো ক্র্যাকপট", 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি' ১০৬ (জুন ১৯৯৭)
* ওডোনানিজমকে মোটামুটিভাবে অরাজকতাবাদের সাথে শনাক্ত করা যায়। আমি মনে করি এটি ক্রোপোটকিন, এমা গোল্ডম্যান এবং বড় পরিসরে পল গুডম্যানের অরাজকতাতান্ত্রিক ধারার একটি রূপ। এটি শান্তিবাদী অরাজকতাবাদ।
** আরসুলা লে গুইনের সাথে সাক্ষাৎকার, ১৯৮০
* ক্রোপোটকিন নারী ও পুরুষ উভয়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করলেও, তিনি সেই নারীদের প্রতি অধৈর্য প্রকাশ করতেন যারা নারীবাদকে (পুরুষ) শ্রমিক শ্রেণীর প্রতি আনুগত্যের উপরে স্থান দিতেন। তাঁর নিজের পারিবারিক সম্পর্কগুলো ছিল প্রথাগত।
** মার্গারেট এস মার্শ, 'অ্যানার্কিস্ট উইমেন, ১৮৭০-১৯২০' (১৯৮১)
* ক্রোপোটকিনের 'কনকুয়েস্ট অব ব্রেড' দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মলি স্টেইমার ১৯১৭ সালে অরাজকতাবাদী দল 'ফ্রিডমে' যোগ দেন। ক্রোপোটকিনের অনুসারী হিসেবে স্টেইমারের ভবিষ্যতের জন্য একটি বুদ্ধিদীপ্ত এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।
** মার্গারেট এস মার্শ, 'অ্যানার্কিস্ট উইমেন, ১৮৭০-১৯২০' (১৯৮১)
* তিনি সম্ভবত বেঁচে থাকা মহত্তম আত্মাদের একজন ছিলেন। তিনি তাঁর বইতে লিখেছেন... মহিলারা কেবল নিজেদের কথা ভাবছেন না বরং কীভাবে পৃথিবীর সম্পদ অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া যায় তা নিয়েও ভাবছেন।
** গ্রেস পেলির সাথে সাক্ষাৎকার, ১৯৯৩
* বিজ্ঞান এবং দর্শনের আলোয় পিটার ক্রোপোটকিন লিখেছেন: "আমরা যদি প্রকৃতিকে জিজ্ঞাসা করি: 'কারা সবচেয়ে উপযুক্ত: যারা একে অপরের সাথে অবিরাম যুদ্ধ করে, নাকি যারা একে অপরকে সমর্থন করে?' আমরা তখনই দেখব যে যেসব প্রাণী পারস্পরিক সহযোগিতার অভ্যাস রপ্ত করেছে তারাই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উপযুক্ত।"
** বন্দনা শিবা, 'আর্থ ডেমোক্রেসি: জাস্টিস, সাসটেইনেবিলিটি, অ্যান্ড পিস' (২০০৫)
* আমি একবার প্রিন্স ক্রোপোটকিনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বই, কলম, কালি এবং কাগজ ছাড়াই তিনি কীভাবে বছরের পর বছর কারাগারে টিকে ছিলেন। "আহ," তিনি বললেন, "আমি এমন অনেক বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছিলাম যা আমাকে আনন্দ দেয়। কোনো ভাবনার গভীরে থাকলে আমি সময়ের হিসাব রাখতাম না... আমার নিজের এক বিশাল জগত ছিল, যেখানে কোনো রুশ জেলর বা জার হানা দিতে পারত না।"
** এলিজাবেথ ক্যাডি স্ট্যান্টন, মার্কিন প্রতিনিধি সভার বিচার বিভাগীয় কমিটিতে বক্তব্য, ১৮৯২
* বিজ্ঞানী, মানবতাবাদী এবং রাজবংশে জন্ম নেওয়া ক্রোপোটকিন এই যুগের এক উজ্জ্বল প্রতিভা। কেবল তাঁর বিশাল মেধার কারণেই তিনি অনন্য নাহ বরং তাঁর ব্যক্তিত্বের শক্তি ছিল অবর্ণনীয়।
** আনা স্ট্রুনস্কি, 'সান ফ্রান্সিসকো কল', ১১ অক্টোবর ১৯০৪
* '''আমার অভিজ্ঞতায় আমি যে দুটি নিখুঁত জীবনের সন্ধান পেয়েছি তা হলো পল ভার্লেন এবং প্রিন্স ক্রোপোটকিনের জীবন''': উভয়েই বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। ক্রোপোটকিন হলেন এমন এক মানুষ যার আত্মার মধ্যে রাশিয়ার সেই সুন্দর শুভ্র যিশুখ্রিস্টের ছায়া দেখা যায়।
** অস্কার ওয়াইল্ড, 'ডি প্রোফান্ডিস' (১৮৯৭)
* ক্রোপোটকিনকে যারা চিনতেন, তাঁদের কাছে তাঁর কাজের চেয়ে তাঁর ব্যক্তিত্বই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর অনেক আদর্শিক শত্রু ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত শত্রু ছিল খুব কম। এমনকি যারা তাঁর কট্টর বিরোধী ছিলেন, তারাও তাঁর নম্রতা এবং আন্তরিকতাকে অস্বীকার করতে পারতেন না। তিনি সবসময় যা সঠিক মনে করতেন তা-ই বলতেন এবং তার পরিণতি ভোগ করতে প্রস্তুত থাকতেন।
** জর্জ উডকক এবং ইভান অ্যাভাকুমোভিচ, 'পিটার ক্রোপোটকিন: ফ্রম প্রিন্স টু রেবেল' (১৯৯০)
* '''তত্ত্বের সাথে অনুশীলনের সংযোগ স্থাপনের ইচ্ছা ক্রোপোটকিনের প্রায় সব লেখায় স্পষ্ট ছিল।''' তিনি বিপ্লবকে কেবল ধ্বংসলীলা হিসেবে দেখতেন না বরং একটি গঠনমূলক ঘটনা হিসেবে দেখতেন। তিনি বলতেন, বিপ্লব কেবল কথার দ্বারা সম্পন্ন হয় না। এর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা এবং ইচ্ছাশক্তি থাকা প্রয়োজন।
** জর্জ উডকক, 'অ্যানার্কিজম' (১৯৬২)
=== "ক্রোপোটকিনের কমিউনিজম", মেরি গোল্ডস্মিথ (১৯৩১) ===
* ক্রোপোটকিন বিশ্বাস করতেন যে অরাজকতাতান্ত্রিক সাম্যবাদের তত্ত্বের বিকাশই অরাজকতাবাদে তাঁর প্রধান অবদান। ক্রোপোটকিনের সাম্যবাদ দুটি উৎস থেকে এসেছে: এক দিকে অর্থনৈতিক ঘটনার ঐতিহাসিক বিকাশ এবং অন্য দিকে সাম্য ও স্বাধীনতার সামাজিক আদর্শ।
* ক্রোপোটকিনের অরাজকতাতান্ত্রিক সাম্যবাদ বর্তমান সময়ের সামাজিক সংগ্রামের সাথে জড়িত সবার কাছে একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং সফল আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত।
==বহিঃসংযোগ==
{{wikipedia}}
* [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/britanniaanarchy.html 'এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা' (১৯১০)-এ ক্রোপোটকিনের "অ্যানার্কিজম" বিষয়ক ভুক্তি]
* [http://onlinebooks.library.upenn.edu/webbin/book/search?amode=start&author=Kropotkin%2c%20Petr দ্য অনলাইন বুকস পেজ (পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)]
* [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/Kropotkinarchive.html অ্যানার্কিস্ট আর্কাইভে পিটার ক্রোপোটকিন পেজ]
* [http://recollectionbooks.com/bleed/Encyclopedia/KropotkinPeter.htm অ্যানার্কিস্ট এনসাইক্লোপিডিয়াতে ক্রোপোটকিন পেজ]
* [http://libcom.org/library/taxonomy/term/7 লিবার্টারিয়ান কমিউনিস্ট লাইব্রেরিতে ক্রোপোটকিনের লেখাসমূহ]
* [http://www.blackcrayon.com/people/kropotkin/ BlackCrayon.com: ব্যক্তি: পিটার ক্রোপোটকিন]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৪২ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২১ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:সামাজিক কর্মী]]
[[বিষয়শ্রেণী:অ্যানার্কো-কমিউনিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্যাসিবাদ বিরোধী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বিপ্লবী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার অভিযাত্রী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার ইতিহাসবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার প্রাণিবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:সম্পাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার স্মৃতিকথা লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার অভিজাত সম্প্রদায়]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার নাস্তিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মস্কোর ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:রুশ কমিউনিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার অরাজকতাবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার লেখক]]
0bk1x98h8xcqez9t4qc27vjfemey9sg
83229
83228
2026-05-01T14:12:03Z
SMontaha32
3112
83229
wikitext
text/x-wiki
[[File:Atelier Nadar - Pierre Kropotkine.jpg|thumb|right|[[All|সবই]] সবার জন্য। সব জিনিসই মানবজাতির জন্য... সব সবার জন্য!]]
[[File:Foucault pendulum in the Franklin Institute.jpg|thumb|right|মানুষের চিন্তার ইতিহাস একটি দোলকের দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই দোলনের এক একটি পর্যায় শেষ হতে কয়েক শতাব্দী লেগে যায়। দীর্ঘ সুপ্তাবস্থার পরেই আসে জাগরণের মুহূর্ত।]]
প্রিন্স '''[[w:পিটর ক্রোপোটকিন|পিটর আলেকসেইভিচ ক্রোপোটকিন]]''' (৯ ডিসেম্বর, ১৮৪২ – ৮ ফেব্রুয়ারি,১৯২১) ছিলেন একজন রুশ ভূগোলবিদ ও প্রাণীবিজ্ঞানী। তিনি রাশিয়ার অন্যতম প্রধান [[অ্যানার্কিস্ট|অ্যানার্কিস্ট]] বা নৈরাজ্যবাদী সামাজিক দার্শনিক ছিলেন। তিনি মূলত [[w:অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম|অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম]] বা নৈরাজ্যবাদী সাম্যবাদের ধারণা প্রচারের জন্য পরিচিত।
== উক্তি ==
* '''মানব চিন্তার ইতিহাস পেন্ডুলামের দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয় যা দুলতে শত শত বছর সময় নেয়। দীর্ঘ তন্দ্রার পর আসে জাগরণের মুহূর্ত।''' তখন চিন্তা নিজেকে সেই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে যা শাসকরা, আইনজীবীরা এবং যাজকরা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তার চারপাশে জড়িয়ে রেখেছিল। <br> সে সেই শৃঙ্খল ভেঙে ফেলে। তাকে যা কিছু শেখানো হয়েছিল সে সবকিছুর কঠোর সমালোচনা করে এবং ধর্মীয়, রাজনৈতিক, আইনি ও সামাজিক কুসংস্কারের অসারতা উন্মোচন করে। '''সে নতুন পথে গবেষণা শুরু করে, নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে এবং নতুন বিজ্ঞান সৃষ্টি করে।''' <br> কিন্তু চিন্তার চিরশত্রুরা সরকার, আইনপ্রণেতা এবং যাজক। শীঘ্রই তাদের পরাজয় কাটিয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে তারা তাদের ছত্রভঙ্গ বাহিনীকে একত্রিত করে এবং নতুন প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বিশ্বাস ও আইনকানুন নতুন করে সাজায়।
** [http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_Archives/kropotkin/AM/anarchist_moralitytc.html 'অ্যানার্কিস্ট মরালিটি'] (১৮৯০)
* আমেরিকাই এমন একটি দেশ যা দেখায় যে স্বাধীনতার জন্য বিশ্বের সমস্ত লিখিত গ্যারান্টিও নিকৃষ্টতম ধরনের স্বৈরাচার এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনো সুরক্ষা নয়। সেখানে রাজনীতিবিদদের সমাজের আবর্জনা হিসেবে দেখা শুরু হয়েছে। বিশ্বের মানুষ গভীরভাবে অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছে এবং সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটদের রাষ্ট্রকে নিপীড়নের একটি নতুন ইঞ্জিনে তালি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তারা শান্ত হচ্ছে না।
** ভাষণ (২৬ সেপ্টেম্বর ১৮৯১)। জর্জ উডকক এবং ইভান অ্যাভাকুমোভিচ রচিত 'পিটার ক্রোপোটকিন: ফ্রম প্রিন্স টু রেবেল' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ২৬৯।
* '''অনার্কিজম''' (গ্রিক 'ἅν' এবং 'άρχη' থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ কর্তৃত্বের বিপরীত), '''এমন একটি জীবন ও আচরণের নীতি বা তত্ত্বের নাম যার অধীনে সমাজকে সরকারহীন বলে কল্পনা করা হয়। এই ধরনের সমাজে সামঞ্জস্যতা আইনের কাছে নতি স্বীকার করে বা কোনো কর্তৃত্বের আনুগত্যের মাধ্যমে নয় বরং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও পেশাদার গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পাদিত মুক্ত চুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়। এই গোষ্ঠীগুলো উৎপাদন ও ভোগ এবং একজন সভ্য মানুষের অসীম বৈচিত্র্যময় প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য স্বেচ্ছায় গঠিত হয়।''' এই ধারায় বিকশিত সমাজে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যা ইতিমধ্যেই মানুষের কর্মকাণ্ডের সব ক্ষেত্র দখল করতে শুরু করেছে। আরও বিস্তৃতি লাভ করবে যাতে তারা রাষ্ট্রের সব কার্যাবলীর বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা একটি জালের মতো ছড়িয়ে থাকবে যা উৎপাদন, ভোগ, বিনিময়, যোগাযোগ, স্যানিটেশন, শিক্ষা, পারস্পরিক সুরক্ষা এবং ভূখণ্ড রক্ষার মতো সব সম্ভাব্য উদ্দেশ্যে স্থানীয়, আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র-বৃহৎ নানা দল ও ফেডারেশনের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এছাড়া এটি ক্রমাগত বাড়তে থাকা বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক, সাহিত্যিক এবং সামাজিক চাহিদাগুলোও পূরণ করবে। অধিকন্তু, '''এমন একটি সমাজ কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় হবে না।''' উল্টো যেমনটি জৈব জীবনে দেখা যায়। বহু শক্তি ও প্রভাবের মধ্যে সদা পরিবর্তনশীল ভারসাম্যের ফলেই সামঞ্জস্যতা বজায় থাকবে।
** [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/britanniaanarchy.html এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (১৯১০)-এ ক্রোপোটকিনের "অ্যানার্কিজম" বিষয়ক ভুক্তি]
[[File:Paolo Monti - Servizio fotografico (Napoli, 1969) - BEIC 6353768.jpg|thumb|right|প্রাচীন গ্রিসে অরাজকতাতান্ত্রিক দর্শনের সেরা প্রবক্তা ছিলেন সিটিয়ামের জেনো...]]
* '''প্রাচীন গ্রিসে অরাজকতাতান্ত্রিক দর্শনের সেরা প্রবক্তা ছিলেন সিটিয়ামের জেনো''' (৩৪২-২৬৭ বা ২৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), যিনি স্টোয়িক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি স্পষ্টভাবে প্লেটোর রাষ্ট্র-ইউটোপিয়ার বিপরীতে সরকারহীন একটি মুক্ত সম্প্রদায়ের ধারণা তুলে ধরেন। তিনি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতা এবং এর হস্তক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ব্যক্তির নৈতিক আইনের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় প্রবৃত্তি মানুষকে স্বার্থপরতার দিকে নিয়ে গেলেও প্রকৃতি এর সংশোধন হিসেবে মানুষের মধ্যে আরেকটি প্রবৃত্তি দিয়েছে আর তা হলো সামাজিকতা। '''মানুষ যখন তাদের প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি অনুসরণ করার মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমান হবে, তখন তারা সীমান্তের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হবে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ড গঠন করবে।''' তাদের আইন-আদালত বা পুলিশের প্রয়োজন হবে না, কোনো মন্দির বা পূজা থাকবে না এবং তারা কোনো অর্থ ব্যবহার করবে না। বিনিময়ের জায়গায় মুক্ত উপহার স্থান করে নেবে।
** এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (১৯১০), 'অ্যানার্কিজম' নিবন্ধ।
[[File:Krapotkin in Haparanda.jpg|thumb|right|সামাজিকতা প্রাকৃতিক সংগ্রামের মতোই প্রকৃতির একটি আইন।]]
* আমরা যখন ল্যাবরেটরি বা মিউজিয়ামে নয়, বরং বনে-জঙ্গলে, সমতলে, স্টেপ অঞ্চলে এবং পাহাড়ে প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করি, তখন আমরা উপলব্ধি করি যে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে যুদ্ধ ও ধ্বংসলীলা চললেও, একই প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন, পারস্পরিক সাহায্য এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ঠিক ততটাই বা সম্ভবত তার চেয়েও বেশি বিদ্যমান। '''সামাজিকতা প্রাকৃতিক সংগ্রামের মতোই প্রকৃতির একটি আইন।''' ...আমরা যদি প্রকৃতিকে জিজ্ঞাসা করি: "কারা সবচেয়ে উপযুক্ত। যারা একে অপরের সাথে অবিরাম যুদ্ধ করে, নাকি যারা একে অপরকে সমর্থন করে?" '''আমরা তখনই দেখব যে যেসব প্রাণী পারস্পরিক সহযোগিতার অভ্যাস রপ্ত করেছে তারাই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উপযুক্ত।''' তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি এবং তারা তাদের নিজ নিজ শ্রেণীতে সর্বোচ্চ বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক বিকাশ লাভ করে।
** "মিউচুয়াল এইড অ্যাজ আ ফ্যাক্টর ইন ইভোলিউশন" (১৯১৫)।
[[File:Lenin-poster.jpg|thumb|right|ভ্লাদিমির ইলিচ, আপনার বাস্তব কর্মকাণ্ড সেই সব আদর্শের সম্পূর্ণ অযোগ্য যা আপনি ধারণ করেন বলে দাবি করেন।]]
* '''ভ্লাদিমির ইলিচ, আপনার বাস্তব কর্মকাণ্ড সেই সব আদর্শের সম্পূর্ণ অযোগ্য যা আপনি ধারণ করেন বলে দাবি করেন।''' <br> এটা কি সম্ভব যে আপনি জানেন না জিম্মি হওয়া মানে আসলে কী একজন মানুষকে কারারুদ্ধ করা তার কোনো অপরাধের জন্য নয়, বরং তার শত্রুরা যাতে তার সহযোগীদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারে সেই সুবিধার জন্য? ...'''আপনি যদি এই ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করেন, তবে আগে থেকেই বলে দেওয়া যায় যে একদিন আপনি মধ্যযুগের মতো মানুষকে নির্যাতন করবেন।''' <br> আমি আশা করি আপনি আমাকে এই জবাব দেবেন না যে ক্ষমতা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য একটি পেশাগত দায়িত্ব এবং সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে যেকোনো মূল্যে তা রক্ষা করতে হবে। এমনকি রাজারাও এখন আর এই মত পোষণ করেন না... আপনি কি নিজের স্বৈরাচারী ধ্যান-ধারণায় এতটাই অন্ধ যে বুঝতে পারছেন না ইউরোপীয় কমিউনিজমের প্রধান হয়ে লজ্জাজনক পদ্ধতির মাধ্যমে আপনার আদর্শকে কলঙ্কিত করার কোনো অধিকার আপনার নেই?
** ভ্লাদিমির লেনিনের প্রতি চিঠি (২১ ডিসেম্বর ১৯২০)।
* '''আপনি জানেন আমি সবসময় ভবিষ্যতে বিশ্বাস করি... বিশৃঙ্খলা ছাড়া বিপ্লব অসম্ভব; তা জেনেও আমি আশা হারাইনি এবং এখনও হারাই না।'''
** এক বন্ধুর কাছে চিঠি (নভেম্বর ১৯২০)। উডকক ও অ্যাভাকুমোভিচ, পৃষ্ঠা ৪২৮।
* লেনিন ইতিহাসের কোনো বিপ্লবী চরিত্রের সাথেই তুলনীয় নন। বিপ্লবীদের আদর্শ ছিল। লেনিনের কোনো আদর্শ নেই। তিনি একজন উন্মাদ, একজন বিনাশকারী, যিনি কেবল দহন, হত্যাকাণ্ড এবং উৎসর্গ করতে আগ্রহী।
** উডকক ও অ্যাভাকুমোভিচ (১৯৯০), পৃষ্ঠা ৪০৭।
* '''বর্তমানে যা ঘটছে তার অনেক কিছুর প্রতিই আমার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং আমি সরকারের যারা প্রধান তাদের সরাসরি ও স্পষ্টভাবে তা বলেছি।''' তারা আমার সাথে ভালো আচরণ করেন এবং আমার অনুরোধ করা অনেক কিছু কার্যকর করা হয়েছে। তারা এমনকি আমাকে তাদের সাথে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি। একজন অরাজকতাবাদী হিসেবে আমি কোনো সরকারের সাথে আপস করতে পারি না।
** বলশেভিক বিপ্লব সম্পর্কে। উডকক ও অ্যাভাকুমোভিচ (১৯৯০), পৃষ্ঠা ৪২৮।
* '''আইন হলো প্রথার এক চতুর মিশ্রণ। যার কিছু অংশ সমাজের জন্য উপকারী যা কোনো আইন না থাকলেও মেনে চলা হতো, আর বাকি অংশ শাসক সংখ্যালঘুর সুবিধার্থে তৈরি যা সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর এবং কেবল ত্রাসের মাধ্যমেই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব।'''
** 'ওয়ার্ডস অব আ রেবেল'। চার্লস বুফে রচিত 'দ্য হেরেটিকস হ্যান্ডবুক অব কোটেশনস' (১৯৯২), পৃষ্ঠা ২৬।
* আইন মানুষের শ্রদ্ধার দাবিদার নয়। এর কোনো সভ্য করার লক্ষ্য নেই। এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো শোষণকে রক্ষা করা।
** 'ওয়ার্ডস অব আ রেবেল'। পৃষ্ঠা ২৬।
=== 'অ্যান আপিল টু দ্য ইয়াং' (১৮৮০) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/ANARCHIST_ARCHIVES/kropotkin/appealtoyoung.html পূর্ণাঙ্গ টেক্সট অনলাইন]</small>
* '''মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে বিজ্ঞান সঠিক প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরার পর এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু কতজন সেগুলো আয়ত্ত করতে পেরেছে বা কতজনের মধ্যে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক সমালোচনামূলক চেতনা রয়েছে?''' বড়জোর কয়েক হাজার মানুষ, যারা এখনও লক্ষ লক্ষ কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের ভিড়ে হারিয়ে আছে। যে মানুষগুলো বন্যদের মতো অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে বসে আছে এবং পরিণামে ধর্মীয় ভণ্ডদের হাতের পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
* অথবা, আরেকটু এগিয়ে আমরা যদি দেখি বিজ্ঞান শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যৌক্তিক ভিত্তি স্থাপনের জন্য কী করেছে। বিজ্ঞান আমাদের বলে যে আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য কীভাবে বাঁচা উচিত, জনবহুল জনপদগুলোকে কীভাবে বাসযোগ্য রাখা উচিত। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের এত বিশাল কাজ কি আমাদের বইয়ের পাতায় মৃত অক্ষর হয়ে পড়ে নেই? আমরা জানি যে তা-ই আছে। আর কেন? কারণ বিজ্ঞান আজ কেবল একদল সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের জন্য টিকে আছে। কারণ সামাজিক অসমতা সমাজকে দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করে ফেলেছে। মজুরি-দাস এবং পুঁজি দখলকারী। এই অসমতা মানবজাতির নয়-দশমাংশের কাছে বিজ্ঞানের যৌক্তিক অস্তিত্বের সব শিক্ষাকে এক তিক্ত পরিহাসে পরিণত করেছে।
* আপনাকে যা শেখানো হয়েছে তা কেবল পুনরাবৃত্তি না করে যদি আপনি যুক্তি দিয়ে ভাবেন। আপনি যদি আইনকে বিশ্লেষণ করেন এবং সেই সব ধোঁয়াটে কাল্পনিক আবরণ সরিয়ে দেন যা দিয়ে এর প্রকৃত উৎসকে ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে দেখবেন এর উৎস হলো 'শক্তিশালীরাই সঠিক'। এর মূল সত্তা হলো সেই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের সমস্ত স্বৈরাচারের পবিত্র রূপায়ন। আপনি যখন এটি বুঝতে পারবেন, তখন আইনের প্রতি আপনার ঘৃণা সত্যিই গভীর হবে। '''আপনি বুঝতে পারবেন যে লিখিত আইনের দাস হয়ে থাকা মানে প্রতিদিন আপনার বিবেকের আইনের বিরোধিতা করা এবং ভুল পক্ষ বেছে নেওয়া। আর যেহেতু এই সংগ্রাম চিরকাল চলতে পারে না, তাই হয় আপনি আপনার বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়ে একজন বদমাশে পরিণত হবেন, অথবা আপনি ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন এবং সমস্ত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবিচারের সমূলে বিনাশের জন্য আমাদের সাথে কাজ করবেন।'''
* আর হে তরুণ প্রকৌশলী, আপনি যিনি শিল্পক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন। আপনার জন্য কতই না করুণ হতাশা আর ভয়াবহ মোহভঙ্গ অপেক্ষা করছে! আপনি আপনার মনের সমস্ত শক্তি ঢেলে দিয়ে পাহাড়ের বুক চিরে এক দেশ থেকে অন্য দেশে রেললাইন স্থাপনের পরিকল্পনা তৈরি করেন। কিন্তু যখন কাজ শুরু হয়, আপনি দেখেন অন্ধকার সুড়ঙ্গে অনাহার আর অসুস্থতায় শ্রমিকদের পুরো দল শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনি দেখেন অন্যরা বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে পকেটে সামান্য কয়েক পয়সা আর যক্ষ্মার বীজ নিয়ে। আপনি দেখেন আপনার প্রতিটি গজ রাস্তার পাশে লোভের বলি হওয়া মানুষের লাশ পড়ে আছে এবং যখন রেলপথটি শেষ হয়, পরিশেষে আপনি দেখেন এটি কোনো আক্রমণকারী সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ বাহিনীর যাতায়াতের মহাসড়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে...
* '''যখন আমাদের এটি করার ইচ্ছা জাগ্রত হবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে: সেই মুহূর্তেই পৃথিবীর স্বৈরাচারীরা ধূলিসাৎ হবে।'''
=== 'দ্য স্পিরিট অব রিভোল্ট' (১৮৮০) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/spiritofrevolt.html পূর্ণাঙ্গ টেক্সট অনলাইন]</small>
[[File:Kropotkin young.gif|thumb|right|দেখা যায় যে মানব সমাজ ক্রমশ দুটি শত্রু শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং একই সাথে হাজার হাজার ছোট ছোট গ্রুপে উপবিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্দয় যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে। এই যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট দুর্দশায় ক্লান্ত হয়ে সমাজ একটি নতুন সংগঠনের সন্ধান করছে...]]
* '''মানব সমাজের জীবনে এমন কিছু সময় আসে যখন বিপ্লব এক অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়ায়, যখন এটি নিজেকে অনিবার্য হিসেবে ঘোষণা করে।''' সবখানে নতুন নতুন চিন্তার জন্ম হয়, যা আলোর পথে বেরিয়ে আসতে চায় এবং জীবনে প্রয়োগের পথ খোঁজে। কিন্তু সবখানেই তারা সেই স্বার্থান্বেষী মহলের বাধার সম্মুখীন হয় যারা পুরনো ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায়। প্রচলিত সংস্কার আর ঐতিহ্যের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে সেই চিন্তাগুলো দমবন্ধ হয়ে আসে।
* '''একটি নতুন জীবনের প্রয়োজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতার যে নিয়মগুলো দৈনন্দিন জীবনে বেশিরভাগ মানুষকে পরিচালিত করে, তা আর যথেষ্ট মনে হয় না।''' আগে যা ন্যায়সঙ্গত মনে হতো, এখন তা চরম অবিচার হিসেবে অনুভূত হয়। গতকালের নৈতিকতা আজ জঘন্য অনৈতিকতা হিসেবে স্বীকৃত হয়। নতুন চিন্তা আর পুরনো ঐতিহ্যের এই দ্বন্দ্ব সমাজের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি পরিবেশে, এমনকি পরিবারের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে। ...যারা ন্যায়ের জয় দেখতে চান, যারা নতুন চিন্তাগুলোকে কাজে লাগাতে চান, তারা শীঘ্রই উপলব্ধি করেন যে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এই উদার ও মানবিক চিন্তাগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা একটি বিপ্লবী ঝড়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যা এই সমস্ত পচা-গলা আবর্জনা ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে, অলস হৃদয়ে প্রাণের স্পন্দন জাগাবে এবং মানবজাতির মধ্যে সেই উৎসর্গ ও বীরত্বের চেতনা ফিরিয়ে আনবে। যা ছাড়া সমাজ অধঃপতনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পথে তলিয়ে যায়।
* সম্পদের জন্য উন্মাদনা, তীব্র জল্পনা-কল্পনা এবং সংকটের সময়ে বড় বড় শিল্পের পতন ঘটে। কয়েক বছরে গড়ে ওঠা কলঙ্কিত সম্পদ তত দ্রুতই মিলিয়ে যায়। তখন এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, উৎপাদন ও বিনিময় নিয়ন্ত্রণকারী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজকে সেই সমৃদ্ধি দিতে পারছে না যার গ্যারান্টি দেওয়ার কথা ছিল। বরং তারা ঠিক উল্টো ফল দিচ্ছে। ...'''দেখা যায় যে মানব সমাজ ক্রমশ দুটি শত্রু শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং একই সাথে হাজার হাজার ছোট ছোট গ্রুপে উপবিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্দয় যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে। এই যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট দুর্দশায় ক্লান্ত হয়ে সমাজ একটি নতুন সংগঠনের সন্ধান করছে'''। এটি মালিকানা ব্যবস্থা, উৎপাদন, বিনিময় এবং এর থেকে উদ্ভূত সমস্ত অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের জন্য চিৎকার করছে।
* গতকাল পর্যন্ত যারা নিজেদের ভাগ্য নিয়ে পাইপ ফুঁকতে ফুঁকতে নিঃশব্দে অভিযোগ করত এবং পরের মুহূর্তেই স্থানীয় পাহারাদার বা পুলিশকে বিনীতভাবে স্যালুট দিত। সেই একই মানুষ কীভাবে কয়েক দিন পরে কাস্তে আর বল্লম নিয়ে তাদের সেই প্রভুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যাকে গতকালও তারা প্রচণ্ড ভয় পেত? কোন জাদুমন্ত্রে এই মানুষগুলো যাদের স্ত্রীরা তাদের ভীরু বলত এক দিনেই বীরের মতো কামানের গোলার সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে এগিয়ে যায়? '''কীভাবে সেই কথাগুলো, যা প্রায়ই বলা হতো এবং ঘণ্টার ধ্বনির মতো বাতাসে মিলিয়ে যেত, তা হঠাৎ করে বাস্তবে পরিণত হলো? <br> উত্তরটি সহজ। <br> সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর কাজ, নিরবচ্ছিন্ন এবং বিরামহীন কাজ এই রূপান্তর নিয়ে আসে।''' সাহস, উৎসর্গ এবং আত্মত্যাগের চেতনা ভীরুতা বা আতঙ্কের মতোই ছোঁয়াচে। <br> '''এই কাজের ধরণ কেমন হবে? এটি সব ধরণের হতে পারে। পরিস্থিতি ও মেজাজ অনুযায়ী অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।''' কখনও করুণ, কখনও হাস্যকর, কিন্তু সবসময় সাহসী; কখনও সমষ্টিগত আবার কখনও ব্যক্তিগত। এই কর্মপন্থা হাতের কাছের কোনো উপায় বা জনজীবনের কোনো ঘটনাকেই উপেক্ষা করবে না। যাতে অসন্তোষ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, শোষকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা জাগানো যায়, সরকারকে উপহাস করে তার দুর্বলতা প্রকাশ করা যায় এবং সর্বোপরি প্রকৃত উদাহরণের মাধ্যমে সাহস জাগ্রত করে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে রাখা যায়।
* সাহসী মানুষ যারা কেবল কথায় সন্তুষ্ট নন বরং সবসময় কথাকে কাজে রূপান্তরের উপায় খোঁজেন। সততা যাদের কাছে চিন্তা ও কাজের অভিন্ন রূপ। যাদের কাছে নিজ আদর্শের পরিপন্থী জীবন যাপনের চেয়ে জেল, নির্বাসন আর মৃত্যু শ্রেয়। সেই নির্ভীক আত্মাই হলো সেই একাকী প্রহরী যারা জনতার জেগে ওঠার অনেক আগেই যুদ্ধের ময়দানে প্রবেশ করে।
* '''ইতিহাস সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান আর পরিষ্কার মস্তিষ্ক যাদের আছে তারা শুরু থেকেই ভালো করে জানেন যে, তাত্ত্বিকরা কাজের সময় নির্ধারণ করার অনেক আগেই বিপ্লবের তাত্ত্বিক প্রচারণা অনিবার্যভাবে কাজে রূপ নেবে।''' তা সত্ত্বেও সতর্ক তাত্ত্বিকরা এই 'পাগলদের' ওপর রেগে যান, তাদের সমাজচ্যুত করেন এবং অভিশাপ দেন। কিন্তু সেই পাগলরা মানুষের সহানুভূতি জয় করে, সাধারণ মানুষ গোপনে তাদের সাহসকে তালি দেয় এবং তাদের অনুকরণকারী তৈরি হয়। অগ্রগামীরা যত বেশি জেল আর বন্দিশিবির পূর্ণ করতে থাকে, অন্যরা তাদের কাজ চালিয়ে যায়। বেআইনি প্রতিবাদ, বিদ্রোহ এবং প্রতিশোধের ঘটনা বাড়তে থাকে। <br> '''এই পর্যায় থেকে উদাসীন থাকা অসম্ভব।''' যারা শুরুতে 'পাগলরা' কী চায় তা জিজ্ঞাসাও করত না, তারাও এখন তাদের নিয়ে ভাবতে, তাদের আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করতে এবং পক্ষ বা বিপক্ষ নিতে বাধ্য হয়। '''এমন সব কর্মকাণ্ড যা সাধারণ মানুষের মনোযোগ কাড়তে বাধ্য করে, তার মাধ্যমেই নতুন চিন্তা মানুষের মনে গেঁথে যায় এবং অনুসারী তৈরি করে। কয়েক দিনের এমন একটি কাজ হাজার হাজার পুস্তিকার চেয়েও বেশি প্রচার চালাতে পারে। <br> সর্বোপরি, এটি বিদ্রোহের চেতনা জাগিয়ে তোলে: এটি সাহস জোগায়।''' পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট আর সৈন্যদের দ্বারা সমর্থিত পুরনো ব্যবস্থাটি বাস্তিল দুর্গের মতো অজেয় মনে হতো, কিন্তু শীঘ্রই স্পষ্ট হয়ে যায় যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার সেই শক্তি নেই যা মানুষ ধারণা করেছিল।
* '''একটি সাহসী কাজ কয়েক দিনেই পুরো সরকারি কলকব্জা উল্টে দেওয়ার জন্য এবং দানবকে কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।''' আরেকটি বিদ্রোহ পুরো প্রদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং সেনাবাহিনী।যারা এখন পর্যন্ত অজেয় মনে হতো লাঠি ও পাথর হাতে একদল কৃষকের সামনে পিছু হটে। মানুষ বুঝতে পারে যে দানবটি আসলে তারা যতটা ভেবেছিল ততটা ভয়ানক নয়। '''তাদের হৃদয়ে আশা জন্ম নেয়। আর মনে রাখবেন যে যদি ক্ষোভ মানুষকে প্রায়ই বিদ্রোহের দিকে ঠেলে দেয়, তবে জয়ী হওয়ার আশাই মূলত বিপ্লব ঘটায়।''' <br> সরকার প্রতিরোধ করে। সে নিষ্ঠুরভাবে দমনপীড়ন চালায়। আগে নিপীড়ন শোষিতদের শক্তি নষ্ট করলেও উত্তেজনার এই সময়ে তা উল্টো ফল দেয়। '''এটি ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত নতুন নতুন বিদ্রোহের উসকানি দেয়, বিদ্রোহীদের বীরত্বে উদ্বুদ্ধ করে; এবং দ্রুত এই কাজগুলো ছড়িয়ে পড়ে ও সাধারণ রূপ নেয়। বিপ্লবী দল সেই সব উপাদানের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় যারা এখন পর্যন্ত এর বিরোধী বা উদাসীন ছিল।'''
* '''বিপ্লব কোন দিকে যাবে তা নিঃসন্দেহে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।''' কিন্তু বিপ্লবের দিন সেই দলের কথাই মানুষ শুনবে যারা প্রস্তুতি পর্বে সবচেয়ে বেশি বিপ্লবী প্রচারণা চালিয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি সাহস ও উদ্দীপনা দেখিয়েছে।
* '''যদি বিপ্লবের পরদিন সাধারণ মানুষের হাতে কেবল বুলি ছাড়া আর কিছু না থাকে, যদি তারা স্পষ্ট ও জাজ্বল্যমান তথ্যের মাধ্যমে বুঝতে না পারে যে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে এই উচ্ছেদ কেবল ব্যক্তি বা শ্লোগানের পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই হবে না।''' ...বিপ্লবকে কেবল একটি কথার চেয়ে বেশি কিছু হতে হলে, জয়কে রক্ষা করার মতো মূল্যবান হতে হবে। গতকালের দরিদ্ররা যেন আজকের দিনেই দরিদ্র না থাকে।
** জর্জ উডকক রচিত 'অ্যানার্কিজম: আ হিস্ট্রি অব লিবার্টারিয়ান আইডিয়াস অ্যান্ড মুভমেন্টস' (২০০৪) উদ্ধৃত।
=== 'ল অ্যান্ড অথরিটি' (১৮৮৬) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_Archives/kropotkin/revpamphlets/lawandauthority.htm 'ল অ্যান্ড অথরিটি' (১৮৮৬)]; রজার এন. বল্ডউইন সম্পাদিত 'ক্রোপোটকিনস রেভোলিউশনারি প্যাম্পলেটস' (১৯২৭)-এ অনূদিত।</small>
* '''বর্তমান রাষ্ট্রগুলোতে একটি নতুন আইনকে মন্দের প্রতিকার হিসেবে দেখা হয়। মন্দকে নিজেরা পরিবর্তন করার পরিবর্তে মানুষ তা পরিবর্তনের জন্য আইনের দাবি জানাতে শুরু করে। ...সংক্ষেপে বলতে গেলে, সবখানে এবং সবকিছুর জন্যই আইন!''' ফ্যাশন নিয়ে আইন, পাগল কুকুর নিয়ে আইন, সদ্গুণ নিয়ে আইন, মানুষের অলসতা আর ভীরুতা থেকে উদ্ভূত সমস্ত পাপ আর মন্দকে থামানোর জন্য আইন। <br> আমরা এমন এক শিক্ষার দ্বারা কলুষিত যা শৈশব থেকেই আমাদের ভেতরের বিদ্রোহের চেতনাকে হত্যা করে এবং কর্তৃত্বের প্রতি আনুগত্যের বিকাশ ঘটাতে চায়। আমাদের জন্ম, শিক্ষা, বিকাশ, প্রেম, বন্ধুত্ব জীবনের প্রতিটি ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণকারী আইনের জোয়ালের নিচে থাকতে থাকতে আমরা এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, এই অবস্থা চলতে থাকলে আমরা আমাদের সমস্ত উদ্যোগ এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবো। '''আমাদের সমাজ এখন আর এটা বুঝতে পারে না যে, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার কর্তৃক প্রণীত এবং একমুঠো শাসকের দ্বারা পরিচালিত আইনের শাসন ছাড়াও অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব।''' এমনকি যখনই সমাজ এই দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছে, তার প্রথম কাজই হয়েছে আবার সেই শৃঙ্খল পুনর্গঠন করা। "স্বাধীনতার প্রথম বছর" কখনও এক দিনের বেশি স্থায়ী হয়নি, কারণ এটি ঘোষণার পরদিন সকালেই মানুষ আবার আইন ও কর্তৃত্বের জোয়ালে নিজেদের মাথা সঁপে দিয়েছে।
** ১
* আইনের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করার জন্য শিশুদের ওপর কৃত্রিম বিজ্ঞানের চতুর টুকরোগুলো চাপিয়ে দেওয়া হয়। আইনের প্রতি আনুগত্যকে একটি ধর্মে পরিণত করা হয়। নৈতিক মহত্ত্ব এবং প্রভুর আইনকে একই দেবতার সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়। পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক নায়ক হলো সেই ব্যক্তি যে আইন মেনে চলে এবং বিদ্রোহীদের হাত থেকে তা রক্ষা করে।
** ১
* '''আচরণবিধির সেই বিভ্রান্তিকর নিয়মাবলি যাকে আমরা আইন বলি যা দাসত্ব, সার্ফ প্রথা, সামন্তবাদ এবং রাজতন্ত্র থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি—তা সেই সব পাথরের দানবদের জায়গা দখল করেছে যাদের সামনে একসময় মানুষের বলি দেওয়া হতো। প্রাচীন দাসেরা এমনকি বজ্রপাতের ভয়ে সেই সব দানবদের স্পর্শ করার সাহসও করত না।'''
** ১
* '''মানুষ যারা স্বাধীনতা চায়, তারা তা পাওয়ার চেষ্টা শুরু করে তাদের প্রভুদের কাছে এই অনুরোধ করে যে—প্রভুরা নিজেরা যে আইন তৈরি করেছেন তা সংশোধন করে যেন দয়া করে তাদের রক্ষা করেন! <br> কিন্তু সময় এবং মেজাজ এখন বদলে গেছে।''' সবখানেই এখন এমন বিদ্রোহী খুঁজে পাওয়া যায় যারা আর অন্ধভাবে আইন মানতে চায় না। তারা জানতে চায় আইনের উৎস কী, এর উপযোগিতা কী এবং কেন তারা এটি মানতে বাধ্য। আজকের দিনের বিদ্রোহীরা সমাজের সেই ভিত্তিগুলোকেই ব্যবচ্ছেদ করছে যা এতদিন পবিত্র বলে গণ্য হতো; আর সেই সবকিছুর মধ্যে প্রধান হলো এই 'আইন' নামক কুসংস্কার। <br> সমালোচকরা আইনের উৎস বিশ্লেষণ করে সেখানে হয় একজন ঈশ্বরের সন্ধান পান (যা আদিম মানুষের আতঙ্কের ফসল), অথবা রক্তপাত আর অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়। '''তারা আইনের বৈশিষ্ট্যগুলো অধ্যয়ন করেন এবং মানবজাতির ক্রমবিকাশের সমান্তরালে এর কোনো বিকাশ খুঁজে পাওয়ার বদলে এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে পান নিশ্চলতা; যা প্রতিদিন পরিবর্তিত ও বিকশিত হওয়া উচিত ছিল, তাকে এটি পাথরে পরিণত করতে চায়।'''
** ১
* '''তারা দেখতে পায় একদল আইনপ্রণেতা আইন তৈরি করছেন অথচ তারা নিজেরাই জানেন না সেই আইনের বিষয়বস্তু কী।''' আজ তারা শহরের স্যানিটেশন নিয়ে আইন পাস করছেন অথচ স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তাদের নূন্যতম ধারণা নেই। কাল তারা সেনাবাহিনীর সাজসরঞ্জাম নিয়ে নিয়ম তৈরি করছেন অথচ একটি বন্দুকের কার্যপ্রণালীও বোঝেন না। তারা শিক্ষা ও পাঠদান নিয়ে আইন তৈরি করছেন অথচ নিজেরা কখনও কোনো শিক্ষা দেননি বা নিজেদের সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে পারেননি। তারা সব দিকে লক্ষ্যহীনভাবে আইন তৈরি করেন, কিন্তু ভবঘুরেদের শাস্তি দিতে বা কারাগারে পাঠাতে কখনও ভুল করেন না অথচ তারা নিজেরা সেই সব কয়েদিদের চেয়ে হাজার গুণ বেশি অনৈতিক।
** ১
* '''এই সব আমরা দেখছি, এবং তাই "আইনকে শ্রদ্ধা করো" এই পুরনো ফর্মুলা পুনরাবৃত্তি করার পরিবর্তে আমরা বলি, "আইন এবং এর সমস্ত অনুষঙ্গকে ঘৃণা করো!"''' "আইন মেনে চলো" এই ভীরু বাক্যের পরিবর্তে আমাদের চিৎকার হলো, "সমস্ত আইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করো!"
** ১
* '''আপেক্ষিকভাবে বলতে গেলে, আইন আধুনিক সময়ের সৃষ্টি।''' যুগে যুগে মানুষ কোনো লিখিত আইন ছাড়াই বেঁচে ছিল। সেই সময়ে মানুষের সম্পর্কগুলো কেবল প্রথা, অভ্যাস আর ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো, যা বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে পবিত্র হয়ে উঠেছিল। শৈশব থেকেই মানুষ এগুলো শিখত, ঠিক যেমন করে সে শিকার বা কৃষিকাজ শিখত। <br> '''সমস্ত মানব সমাজ এই আদিম পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গেছে এবং আজ পর্যন্ত মানবজাতির এক বিশাল অংশের কোনো লিখিত আইন নেই।''' প্রতিটি উপজাতির নিজস্ব রীতি ও প্রথা আছে; যেটাকে আইনবিদরা 'প্রথাগত আইন' বলেন। এটিই গ্রামের বাসিন্দা বা উপজাতির সদস্যদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট। '''এমনকি আমাদের মতো "সভ্য" জাতিগুলোর মধ্যেও যখন আমরা বড় শহর ছেড়ে গ্রামে যাই দেখি যে সেখানে বাসিন্দাদের পারস্পরিক সম্পর্কগুলো এখনও আইনপ্রণেতাদের লিখিত আইনের বদলে প্রাচীন ও সর্বজনগৃহীত প্রথার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়।'''
** ২
* '''যেহেতু মানুষ একাকী বাস করে না, তাই তার মধ্যে এমন কিছু অভ্যাস ও অনুভূতি গড়ে ওঠে যা সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য দরকারী। সামাজিক অনুভূতি আর প্রথা ছাড়া একসাথে বসবাস করা অসম্ভব হতো। আইন এগুলো প্রতিষ্ঠা করেনি। এগুলো সব আইনের আগে থেকেই ছিল।''' এমনকি ধর্মও এগুলো নির্ধারণ করে দেয়নি; এগুলো সব ধর্মের আগে থেকেই বিদ্যমান। সমাজবদ্ধ সব প্রাণীর মধ্যেই এটি দেখা যায়। এগুলো বিবর্তনের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকশিত হয়েছে যা সমাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয়।
** ২
* '''আদিম মানুষের আতিথেয়তা, জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক বাধ্যবাধকতা, দুর্বলের প্রতি করুণা, বীরত্ব, এমনকি অন্যের জন্য আত্মত্যাগ। এই সমস্ত গুণাবলী সব আইনের আগে থেকেই মানুষের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল।''' এগুলো সামাজিক জীবনের অনিবার্য ফল। পাতি-পুরোহিত বা অধিবিদ্যক পণ্ডিতরা যা বলেন এগুলো মানুষের ভেতরে জন্মগতভাবে থাকা কিছু নয় বরং একসাথে বসবাসের ফলে অর্জিত গুণ। <br> '''কিন্তু সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় এই সব প্রথার পাশাপাশি মানুষের সাহচর্যে অন্যান্য লালসা, আবেগ এবং নতুন কিছু অভ্যাসেরও জন্ম হয়েছে।''' অন্যকে শাসন করার এবং নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রতিবেশী উপজাতির শ্রমের ফসল কেড়ে নেওয়ার ইচ্ছা। নিজে কিছু উৎপাদন না করেই দাসদের মাধ্যমে বিলাসিতা ভোগ করার ইচ্ছা—'''এই স্বার্থপর আর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাগুলো প্রথা ও অভ্যাসের আরেকটি ধারার জন্ম দিয়েছে।'''
** ২
* '''আইনপ্রণেতারা একটি কোডের (আইনগ্রন্থ) মধ্যে এই দুই বিপরীত ধারার প্রথাকে গুলিয়ে ফেলেছেন। একদিকে আছে নৈতিকতা আর সামাজিক মিলনের নীতি, অন্যদিকে আছে সেই সব আদেশ যা মূলত বৈষম্যকে স্থায়ী করার জন্য তৈরি। <br> সমাজের জন্য অপরিহার্য প্রথাগুলোকে খুব চতুরতার সাথে শাসক শ্রেণির চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে উভয়ের জন্যই সমান শ্রদ্ধা দাবি করা হয়েছে।''' আইন বলে, "হত্যা করো না," আর পরক্ষণেই যোগ করে, "এবং যাজককে কর দাও।" আইন বলে, "চুরি করো না," আর ঠিক তারপরেই বলে, "যে কর দিতে অস্বীকার করবে তার হাত কেটে ফেলা হবে।" <br> '''আইন ছিল এমনই; এবং আজ পর্যন্ত এটি তার এই দ্বিমুখী চরিত্র বজায় রেখেছে।''' এর উৎস হলো শাসক শ্রেণির নিজের সুবিধার জন্য তাদের চাপিয়ে দেওয়া প্রথাগুলোকে স্থায়ী করার ইচ্ছা। '''এর বৈশিষ্ট্য হলো সমাজের জন্য দরকারী প্রথাগুলো (যা মানার জন্য কোনো আইনের প্রয়োজন নেই) খুব সুনিপুণভাবে শাসক শ্রেণির জন্য সুবিধাজনক আর জনগণের জন্য ক্ষতিকর প্রথাগুলোর সাথে মিশিয়ে দেওয়া, যা কেবল শাস্তির ভয়ে মানুষ পালন করে।'''
** ২
* '''আইনের তদন্তে দেখা যায় যে মানুষের জন্য তৈরি লক্ষ লক্ষ আইন প্রধানত তিনটি বিভাগে বিভক্ত: সম্পত্তির সুরক্ষা, ব্যক্তির সুরক্ষা এবং সরকারের সুরক্ষা।''' আর এই তিনটি বিভাগ বিশ্লেষণ করলে আমরা একই যৌক্তিক এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছাই: আইনের অসারতা এবং এর ক্ষতিকর দিক।
** ৪
=== 'অ্যানার্কিজম: ইটস ফিলোসফি অ্যান্ড আইডিয়াল' (১৮৯৬) ===
:<small>১৮৯৬ সালের মার্চের জন্য প্রস্তুতকৃত একটি বক্তৃতা যা ক্রোপোটকিনকে প্রদান করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/philandideal.html 'অ্যানার্কিজম: ইটস ফিলোসফি অ্যান্ড আইডিয়াল'] (১৮৯৮ সংস্করণ)।</small>
[[File:Milky Way from Flickr.jpg|thumb|right|বিগত শতাব্দীর বা আমাদের শতাব্দীর শুরুর দিকের জ্যোতির্বিজ্ঞানের যেকোনো বই খুলে দেখুন। সেখানে আমাদের এই ছোট্ট গ্রহটিকে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে আর খুঁজে পাবেন না।]]
* '''আমি কিছুটা দ্বিধা নিয়েই এই বক্তৃতার বিষয়বস্তু হিসেবে অরাজকতাবাদের দর্শন ও আদর্শকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।''' <br>যারা বিশ্বাস করেন যে অরাজকতাবাদ হলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত কিছু অলীক কল্পনার সমষ্টি এবং বর্তমান সভ্যতা ধ্বংস করার একটি অচেতন প্রচেষ্টা, তাদের সংখ্যা এখনও অনেক এবং আমাদের শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত এই ধরণের কুসংস্কার দূর করতে হলে আমাদের এমন অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রবেশ করতে হবে যা একটি মাত্র বক্তৃতায় তুলে ধরা কঠিন। '''মাত্র দুই বা তিন বছর আগেও কি প্যারিসের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেনি যে, অরাজকতাবাদের পুরো দর্শন কেবল ধ্বংসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং এর একমাত্র যুক্তি হলো সহিংসতা?''' <br>তা সত্ত্বেও ইদানীং অরাজকতাবাদীদের নিয়ে এত বেশি আলোচনা হয়েছে যে, জনসাধারণের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত আমাদের মতবাদ পড়তে ও আলোচনা করতে শুরু করেছে। '''এখন অন্তত একটি বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে: অরাজকতাবাদীদের একটি আদর্শ আছে। এমনকি তাদের সেই আদর্শকে অত্যন্ত সুন্দর ও উন্নত বলে মনে করা হয়। যা এমন এক সমাজের জন্য উপযোগী যা শ্রেষ্ঠ মানবদের নিয়ে গঠিত নয়।'''
* জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন সূর্যের চেয়েও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বস্তুকণা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন যা মহাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে। তারা আবিষ্কার করেছেন যে গ্রহান্তরের মহাশূন্য এমন সব বস্তুকণা বা ধূলিকণা দ্বারা পূর্ণ যা এককভাবে অদৃশ্য ও অসীম ক্ষুদ্র কিন্তু সংখ্যার বিচারে তারা সর্বশক্তিমান।
* '''এই নতুন ধারণার সাথে মহাবিশ্বের পুরো দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যায়।''' বিশ্বকে শাসনকারী কোনো একক শক্তি, পূর্ব-প্রতিষ্ঠিত আইন বা পূর্ব-কল্পিত সামঞ্জস্যের ধারণা বিলুপ্ত হয়ে সেখানে এমন এক সামঞ্জস্যের জায়গা তৈরি হয় যা অসংখ্য বস্তুকণার বিশৃঙ্খল ও অসংলগ্ন চলাচলের ফল। যেখানে প্রতিটি কণা তার নিজের পথে চলে এবং সবাই মিলে একে অপরকে ভারসাম্যে রাখে।
* '''যখন একজন ফিজিওলজিস্ট (শারীরবৃত্তবিদ) এখন কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর জীবন নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি সেটিকে একটি অবিভাজ্য সত্তার চেয়ে লক্ষ লক্ষ পৃথক কোষ বা অণুজীবের একটি উপনিবেশ বা মিলনমেলা হিসেবে দেখেন।''' তিনি পাচনতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র বা ইন্দ্রিয়গত অঙ্গগুলোর একটি ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কথা বলেন, যেখানে সবাই একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। প্রতিটি অঙ্গ আবার স্বাধীন কোষ দ্বারা গঠিত। '''ব্যক্তি নিজে আসলে ফেডারেশনের একটি জগত, তার নিজের ভেতরেই একটি পুরো মহাবিশ্ব।'''
* প্রতিটি ব্যক্তি হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের একটি জগত, প্রতিটি অঙ্গ কোষের একটি জগত, প্রতিটি কোষ আবার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুর জগত এবং এই জটিল জগতে পুরো দেহের ভালো থাকা নির্ভর করে ক্ষুদ্রতম আণুবীক্ষণিক কণাগুলোর সুস্থতার সমষ্টির ওপর। জীবনের দর্শনে এভাবেই একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব সাধিত হয়।
* '''সামঞ্জস্যতা বা সাম্য তাই একটি সাময়িক সমন্বয় হিসেবে আবির্ভূত হয় যা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ক্রিয়াশীল সমস্ত শক্তির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর সেই সমন্বয় কেবল একটি শর্তেই টিকে থাকবে: যদি তা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হতে পারে।''' যদি এই শক্তিগুলোর কোনো একটিকে বাধা দেওয়া হয়, তবে সেই সামঞ্জস্য অদৃশ্য হয়ে যায়। সেই শক্তি তার প্রভাব জমা করতে থাকবে এবং একসময় বর্তমান অবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়ে ধ্বংসের মাধ্যমে নতুন এক ভারসাম্যের রূপ খুঁজে নেবে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও ঠিক এমন। যা ভেতরে জমা হওয়া গ্যাসের চাপে জমাট বাঁধা লাভাকে ভেঙে বেরিয়ে আসে। '''মানবজাতির বিপ্লবগুলোও ঠিক তেমনই।'''
[[File:A monument of working class.JPG|thumb|right|এটি এমনকি সংগ্রাম ও বিবাদের আহ্বান জানায়। কারণ আমরা জানি যে সেই সব বিবাদের সময়গুলোতেই মানুষের প্রতিভা সবচেয়ে উঁচুতে উড়তে পেরেছিল এবং মহৎ লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছিল।]]
* অরাজকতাবাদের নামে অতীত ও বর্তমান সমাজের এক নতুন ব্যাখ্যা উঠে আসছে, যা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো একই ভাবনায় ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দেয়। মানুষের মন যখন ধর্মযাজক, সামরিক প্রধান এবং বিচারকদের চাপিয়ে দেওয়া ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত হবে, তখন এমন এক সমাজের ধারণা জন্ম নেবে যেখানে এই শাসক সংখ্যালঘুদের কোনো জায়গা থাকবে না। '''এমন এক সমাজ যা পূর্ববর্তী প্রজন্মের শ্রম দ্বারা সঞ্চিত সামাজিক পুঁজির দখল নেবে এবং সেই পুঁজি সবার স্বার্থে ব্যবহারের জন্য নিজেকে সংগঠিত করবে। এতে অসীম বৈচিত্র্যময় ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত শক্তির মিলন ঘটবে। এটি কাউকে বাদ দেয় না। এটি এমনকি সংগ্রাম ও বিবাদের আহ্বান জানায়। কারণ আমরা জানি যে মুক্ত সংগ্রামের সময়গুলোতেই মানুষের প্রতিভা সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ফুটে ওঠে।''' এটি শাসিত ও শাসকের বিভেদ স্বীকার করে না এবং সমতার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চায়।
* আইন দ্বারা পাথরে পরিণত হওয়া কোনো পূর্ব-প্রতিষ্ঠিত রূপ এই সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সব ধরণের শক্তি ও প্রভাবের মধ্যে সদা পরিবর্তনশীল ভারসাম্যের মাঝে সামঞ্জস্য খোঁজে।
* অর্থনৈতিক দাসত্ব বজায় থাকা পর্যন্ত স্বাধীনতার কথা বলা নিরর্থক। "স্বাধীনতার কথা বলো না দারিদ্র্যই হলো দাসত্ব!" এটি কেবল একটি ফাঁকা বুলি নয়। এটি শ্রমিক শ্রেণীর চিন্তার গভীরে প্রবেশ করেছে।
* '''শ্রমিক ও কৃষকরা কখনোই অর্থনীতিবিদদের শেখানো চতুর কথায় বিশ্বাস করেনি, যা মূলত শোষকদের অধিকার রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল!''' শ্রমিক বুঝতে পারছে যে সে বঞ্চিত হয়েছে এবং সে বঞ্চিতই থাকবে, যদি না সে ধর্মঘট বা বিদ্রোহের মাধ্যমে তার প্রভুদের কাছ থেকে তার নিজের পরিশ্রমে গড়া সম্পদের সামান্য অংশ ছিনিয়ে নিতে পারে।
* '''অর্থনীতিবিদরা যাকে 'অতিরিক্ত উৎপাদন' বলেন, তা আসলে শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরের উৎপাদন।''' কারণ শ্রমিকদের যে মজুরি দেওয়া হয় তা দিয়ে তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য কিনতে পারে না। বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সারকথা হলো এই যে, শ্রমিক কখনও তার উৎপাদিত প্রাচুর্য নিজে ভোগ করতে পারবে না।
* আলস্যে সময় কাটানো ব্যক্তিরা ইতিহাস তৈরি করে না: তারা কেবল ইতিহাস সহ্য করে!
* সরকারবাদী কমিউনিজম, ধর্মতান্ত্রিক কমিউনিজমের মতোই শ্রমিকের কাছে ঘৃণ্য। কেবল রাষ্ট্রের বিলুপ্তি, ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা এবং মুক্ত ফেডারেশনের মাধ্যমেই আমরা প্রকৃত সাম্যবাদে পৌঁছাতে পারি।
* রাষ্ট্রের বিলুপ্তি এবং এর সমস্ত আইন ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার বিলুপ্তি একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। '''আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা—যা চার্চ এবং রাষ্ট্র উভয়ের স্বার্থে তৈরি হয়েছে। এই ধারণার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কি এই সত্য ঢাকা পড়বে?'''
* '''রাষ্ট্র হলো সামাজিক জীবনের একটি রূপ মাত্র, যা ইউরোপীয় সমাজের জন্য বেশ সাম্প্রতিক বিষয়।''' মানুষ রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার হাজার হাজার বছর আগেও সমাজে বাস করত। আমাদের আধুনিক ইউরোপীয়দের জন্য কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা মাত্র ষোড়শ শতাব্দী থেকে শুরু হয়েছে।
* ইউরোপ এখন হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জালে ঢাকা পড়েছে—শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং বিনোদনের জন্য। এই সংগঠনগুলো রাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে স্পর্শ করছে। তারা রাষ্ট্রের কার্যাবলীতে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করেছে এবং কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের জায়গায় স্বেচ্ছাসেবীদের মুক্ত কর্মকাণ্ড প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করছে।
* শিক্ষিত মানুষেরা এই ভেবে আতঙ্কিত হন যে সমাজ হয়তো কোনোদিন বিচারক, পুলিশ বা জেলখানা ছাড়া চলবে। কিন্তু অভিজ্ঞতা কি সম্প্রতি প্রমাণ করেনি যে লন্ডনের পুলিশের চোখের সামনেই 'জ্যাক দ্য রিপার' তার হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল এবং সে তখনই থমকে গিয়েছিল যখন হোয়াইটচ্যাপেলের সাধারণ মানুষ তাকে ধাওয়া করতে শুরু করেছিল?
* জেলখানা যা মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও চারিত্রিক শক্তিকে মেরে ফেলে তা কি সবসময় অপরাধের বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে থাকেনি? '''আদালত কি নিষ্ঠুরতা শেখার পাঠশালা নয়?'''
* '''যখন আমরা রাষ্ট্র এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বিলুপ্তি চাই, তখন আমাদের বলা হয় যে আমরা এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখছি যেখানে মানুষ বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। কিন্তু না। আমরা কেবল এটাই চাই যে বর্তমানের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা মানুষকে যেন বাস্তবের চেয়েও বেশি খারাপ বানানো না হয়!'''
[[File:Peter Krapotkin 3.PNG|thumb|right|আমরা মানুষদের খুব ভালো করেই চিনি। আমরা জানি যে আমরা নিজেরাও নিখুঁত নই এবং আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানুষটিও ক্ষমতার প্রয়োগ করলে শীঘ্রই কলুষিত হয়ে পড়বে।]]
* '''প্রায়ই বলা হয় যে অরাজকতাবাদীরা স্বপ্নের জগতে বাস করে। আমরা বাস্তবকে খুব ভালো করেই দেখি এবং তার প্রকৃত রূপ চিনি বলেই আমরা কুসংস্কারের বনে কুঠার চালাই।''' আমরা মানুষকে যেমন আছে তেমন রূপেই দেখি। আর তাই আমরা বলি যে ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে শ্রেষ্ঠ মানুষটিও মন্দ হয়ে যায়। "ক্ষমতার ভারসাম্য" বা "কর্তৃত্বের নিয়ন্ত্রণ" হলো এক ধরণের ভণ্ডামি যা ক্ষমতা দখলকারীরা তৈরি করেছে যাতে মানুষ বিশ্বাস করে যে তারাই আসলে শাসন করছে।
* ওহ, কী সুন্দর এক কল্পনা, যদি আমরা মেনে নিতাম যে যারা শাসন করেন তারা এক বিশেষ উচ্চবর্গের মানুষ এবং সাধারণ মর্ত্যের মানুষের মতো তাদের কোনো দুর্বলতা নেই! কিন্তু আমরা মানুষকে খুব ভালো করেই চিনি। '''শাসিত এবং শাসকের গুণের জন্য আমাদের কাছে আলাদা কোনো মাপকাঠি নেই। আমরা মানুষকে যেমন আছে তেমনভাবেই গ্রহণ করি। আর সেই কারণেই আমরা মানুষের দ্বারা মানুষের শাসনকে ঘৃণা করি এবং এর অবসান ঘটাতে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করি।'''
* কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়তে অরাজকতাবাদ যেমন আইন ও কর্তৃত্ব ধ্বংস করতে চায়, তেমনি এটি সেই মূল্যবান সামাজিক প্রথাগুলোকেও টিকিয়ে রাখতে ও বড় করতে চায় যা ছাড়া কোনো মানব বা প্রাণী সমাজ টিকে থাকতে পারে না। তবে এই প্রথাগুলো মুষ্টিমেয় কয়েকজনের কর্তৃত্ব দিয়ে নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রক্ষিত হবে।
* সমাজে নৈতিক স্তর বজায় রাখার তিনটি উপায় আছে: অসামাজিক কাজের দমন, নৈতিক শিক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা। দমনের ব্যর্থতা বর্তমান সমাজের বিশৃঙ্খলা থেকেই প্রমাণিত। দমনের ব্যবস্থা আমাদের অর্থনৈতিক দাসত্ব এবং রাজনৈতিক রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে গেছে।
* '''দমনমূলক ব্যবস্থা কেবল বর্তমানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মন্দই সৃষ্টি করেনি বরং এটি সমাজের নৈতিক মান উন্নত করতেও চরম অক্ষমতা প্রমাণ করেছে।'''
* শতাব্দী ধরে চলে আসা এই দমনমূলক ব্যবস্থা আমাদের এক কানাগলিতে নিয়ে গেছে যেখান থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো কর্তৃত্ববাদী অতীতের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মশাল ও কুঠার চালানো।
* নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব আমরা অস্বীকার করি না, তবে যখন প্রাতিষ্ঠানিক অনৈতিকতা প্রতিনিয়ত এর বিরোধিতা করে, তখন শিক্ষার প্রভাব শূন্য হয়ে যায়। খ্রিস্টান ধর্মের কথাই ধরুন: ক্রুশবিদ্ধ ঈশ্বরের নামে দেওয়া শিক্ষা কি যাজক আর রাষ্ট্রের প্রভাবে পরে শোষণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়নি?
* ইতিহাসের প্রমাণ হলো, অতীতে প্রগতির প্রতিটি উপাদান এবং মানবজাতির নৈতিক ও বৌদ্ধিক উন্নতির প্রতিটি উপকরণ হলো পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা। যখনই এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিকশিত হয়েছে, সমাজের নৈতিক মান, প্রাচুর্য ও স্বাধীনতা এক ধাপ এগিয়ে গেছে। আর উল্টোদিকে, '''যখনই ইতিহাসে শাসক ও শাসিত, শোষক ও শোষিত এই বিভেদ বেড়েছে, তখনই নৈতিক মান নিচে নেমে গেছে এবং সাধারণ মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কেড়ে নিয়ে মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে ধনী করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।'''
=== 'দ্য স্টেট — ইটস হিস্টোরিক রোল' (১৮৯৭) ===
:<small>[http://www.panarchy.org/kropotkin/1897.state.html পূর্ণাঙ্গ টেক্সট অনলাইন]</small>
[[File:Young Kropotkin.png|thumb|right|একদল শ্রেণীকে অন্য দলের শাসনাধীনে রাখার জন্য আইন প্রণয়ন ও পুলিশিংয়ের একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়। এই পার্থক্যটি, যা প্রথম দর্শনে স্পষ্ট মনে নাও হতে পারে, বিশেষ করে রাষ্ট্রের উৎস অধ্যয়ন করলে তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।]]
[[File:Peter Kropotkin circa 1900.jpg|thumb|right|স্কুলে এবং পরবর্তী জীবনে রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই, তা আমাদের মনকে এতটাই বিকৃত করে ফেলেছে যে স্বাধীনতার প্রকৃত ধারণাটিই হারিয়ে যায় এবং তা দাসত্বের ছদ্মবেশ ধারণ করে।]]
* সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে বিভক্তি মূলত রাষ্ট্র নিয়ে প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে। আমাদের মধ্যে বিদ্যমান দলগুলোতে দুটি প্রধান ধারা লক্ষ্য করা যায়, যা মানুষের মেজাজ ও চিন্তা পদ্ধতির পার্থক্যের সাথে মিলে যায়। তবে সর্বোপরি এটি নির্ভর করে কে আসন্ন বিপ্লবে কতটা বিশ্বাস করে তার ওপর। <br> একদিকে তারা আছে, যারা রাষ্ট্রের মাধ্যমেই সামাজিক বিপ্লব অর্জনের আশা করে—বিপ্লবের স্বার্থে তারা রাষ্ট্রের অধিকাংশ ক্ষমতা বজায় রাখতে এবং এমনকি তা প্রসারিত করতে চায়। অন্যদিকে আমাদের মতো যারা আছে, তারা রাষ্ট্রকে তার বর্তমান রূপে, তার নিজস্ব সত্তায় এবং সে যে রূপেই আসুক না কেন, তাকে সামাজিক বিপ্লবের পথে একটি বাধা হিসেবে দেখে। আমরা মনে করি রাষ্ট্র হলো সাম্য ও স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে একটি সমাজ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় এবং এটি ঐতিহাসিকভাবেই এই বিকাশ রোধ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। শেষোক্ত এই গোষ্ঠীটি রাষ্ট্র সংস্কারে নয় বরং রাষ্ট্রের বিলুপ্তিতে বিশ্বাস করে।
** ১
* '''রাষ্ট্র হলো ইতিহাসের পরিক্রমায় সমাজের ধারণকৃত রূপগুলোর মধ্যে একটি মাত্র। তাহলে যা স্থায়ী এবং যা আকস্মিক এই দুটির মধ্যে কেন কোনো পার্থক্য করা হবে না?'''
** ১
* '''রাষ্ট্রের ধারণা সরকারের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।''' এটি কেবল সমাজের উপরে অবস্থিত একটি ক্ষমতার অস্তিত্বকেই বোঝায় না বরং একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রীকরণ এবং সমাজের জীবনের অনেকগুলো কাজ মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়াকেও বোঝায়। রাষ্ট্র গঠনের আগে সমাজের সদস্যদের মধ্যে যে ধরণের সম্পর্ক ছিল না, এটি সেই ধরণের কিছু নতুন সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে। একদল শ্রেণীকে অন্য দলের শাসনাধীনে রাখার জন্য আইন প্রণয়ন ও পুলিশিং-এর একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা এখানে গড়ে তুলতে হয়। <br> এই পার্থক্যটি প্রথম দর্শনে স্পষ্ট মনে নাও হতে পারে, তবে তা বিশেষভাবে ফুটে ওঠে যখন কেউ রাষ্ট্রের উৎস নিয়ে গবেষণা করে।
** ১
* '''রোমান সাম্রাজ্য ছিল শব্দের প্রকৃত অর্থে একটি রাষ্ট্র। আজ পর্যন্ত এটি আইনবিদদের কাছে আদর্শ হয়ে আছে।''' এর অঙ্গসংগঠনগুলো একটি বিশাল এলাকাকে একটি শক্ত জালের মতো ঘিরে রেখেছিল। সবকিছুই রোমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো: অর্থনৈতিক ও সামরিক জীবন, সম্পদ, শিক্ষা, এমনকি ধর্মও। রোম থেকেই আসত আইন, ম্যাজিস্ট্রেট, ভূখণ্ড রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী এবং দেবতারা। সাম্রাজ্যের পুরো জীবন আবর্তিত হতো সেনেটকে ঘিরে—পরবর্তীতে সিজারকে ঘিরে, যিনি ছিলেন সাম্রাজ্যের সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ ঈশ্বর। প্রতিটি প্রদেশ, প্রতিটি জেলা ছিল রোমান সার্বভৌমত্বের ক্ষুদ্র সংস্করণ যা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি দিক শাসন করত। '''রোমের চাপিয়ে দেওয়া একটি মাত্র আইন সেই সাম্রাজ্যকে শাসন করত, যা সমমনা নাগরিকদের কোনো কনফেডারেশন ছিল না বরং ছিল নিছক একপাল প্রজা।''' <br> আজও আইনবিদ এবং স্বৈরাচারীরা সেই সাম্রাজ্যের ঐক্য, আইনের একীভূত চেতনা এবং তাদের ভাষায় সেই সংগঠনের সৌন্দর্য ও সামঞ্জস্যের প্রশংসা করেন। <br> কিন্তু বার্বারদের আক্রমণ, বাহ্যিক আক্রমণ রোধে স্থানীয় জীবনের অক্ষমতা এবং কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির কারণে সাম্রাজ্যটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আর এই ধ্বংসস্তূপের ওপরই গড়ে ওঠে এক নতুন সভ্যতা যা বর্তমানে আমাদের।
** ১
* অতীতে ঘটে যাওয়া যুদ্ধগুলোর কথা ভাবুন এবং স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নিতে বিজিত মানুষদের যে যুদ্ধগুলো করতে হবে তার কথা ভাবুন। বাজারের জন্য যুদ্ধ, ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য গড়ার জন্য যুদ্ধ। ফ্রান্সে আমরা দুর্ভাগ্যবশত খুব ভালো করেই জানি যে প্রতিটি যুদ্ধ—তা বিজয়ী হোক বা না হোক—দাসত্ব বয়ে আনে। <br> এবং পরিশেষে, উপরে যা কিছু বলা হয়েছে তার চেয়েও ভয়ানক সত্য হলো এই যে, '''স্কুলে এবং পরবর্তী জীবনে রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই, তা আমাদের মনকে এতটাই বিকৃত করে ফেলেছে যে স্বাধীনতার প্রকৃত ধারণাটিই হারিয়ে যায় এবং তা দাসত্বের ছদ্মবেশ ধারণ করে। <br> এটা দেখা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, যারা নিজেদের বিপ্লবী বলে বিশ্বাস করেন তারা অরাজকতাবাদীদের ওপর ঘৃণা উগরে দেন কেবল এই কারণে যে অরাজকতাবাদীর স্বাধীনতার ধারণাটি রাষ্ট্রীয় স্কুলে শেখা স্বাধীনতার ক্ষুদ্র ও সংকীর্ণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।''' কিন্তু বাস্তবে এই দৃশ্যই দেখা যায়। সত্য হলো এই যে, তরুণদের মনে স্বেচ্ছায় দাসত্বের চেতনা সবসময় সুকৌশলে গড়ে তোলা হয়েছে এবং এখনও হয়, যাতে রাষ্ট্রের প্রতি ব্যক্তির অধীনতা চিরস্থায়ী করা যায়।
** ৯
* '''আমাদের সভ্যতার ইতিহাস জুড়ে দুটি ঐতিহ্য, দুটি বিপরীতমুখী প্রবণতা একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে''': রোমান বনাম জনপ্রিয়। সাম্রাজ্যবাদী বনাম ফেডারেলিস্ট। কর্তৃত্ববাদী বনাম স্বাধীনতাকামী। সামাজিক বিপ্লবের প্রাক্কালে এটি আবারও দৃশ্যমান। <br> '''এই দুটি ধারার মধ্যে জনগণের ধারা এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আধিপত্যের আকাঙ্ক্ষার ধারা—আমরা আমাদের পছন্দ বেছে নিয়েছি।''' <br> আমরা সেই চেতনাকে পুনরায় ফিরে পেতে চাই যা দ্বাদশ শতাব্দীর মানুষকে মুক্ত চুক্তি এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মুক্ত ফেডারেশনের ভিত্তিতে নিজেদের সংগঠিত করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আর আমরা অন্যদের জন্য সাম্রাজ্যবাদী, রোমান এবং ক্যানোনিকাল ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকার পথ খোলা রেখেছি।
** ১০
* '''হয় রাষ্ট্র চিরকাল থাকবে ব্যক্তিগত ও স্থানীয় জীবনকে পিষে ফেলবে, মানুষের কর্মকাণ্ডের সমস্ত ক্ষেত্র দখল করবে এবং সাথে নিয়ে আসবে যুদ্ধ আর ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ লড়াই। যা কেবল এক স্বৈরাচারের জায়গায় অন্য স্বৈরাচারকে বসাবে এবং অনিবার্যভাবে যার শেষ পরিণতি হলো... মৃত্যু! <br> অথবা রাষ্ট্রের ধ্বংস হবে—হাজার হাজার কেন্দ্রে নতুন জীবনের সূচনা হবে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত উদ্যোগ এবং মুক্ত চুক্তির ভিত্তিতে। <br> পছন্দ আপনার হাতে!'''
** ১০, শেষ উক্তি
=== 'দ্য কনকুয়েস্ট অব ব্রেড' (১৮৯২) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/conquest/toc.html 'অ্যানার্কিস্ট আর্কাইভস'-এ পূর্ণাঙ্গ টেক্সট]</small>
* '''যেহেতু উৎপাদনের মাধ্যমগুলো মানবজাতির সম্মিলিত শ্রমের ফল, তাই উৎপাদিত পণ্যও হওয়া উচিত এই জাতির সম্মিলিত সম্পদ।''' ব্যক্তিগত মালিকানা ন্যায়সঙ্গত নয় এবং এটি কোনো কাজেও আসে না। '''সবকিছুই সবার। সব বস্তু সব মানুষের জন্য, কারণ সব মানুষেরই তা প্রয়োজন। যেহেতু সব মানুষ তাদের সাধ্যমতো উৎপাদনের জন্য শ্রম দিয়েছে এবং যেহেতু বিশ্বের সম্পদে কার অবদান কতটুকু তা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই সবকিছুই সবার জন্য।''' এখানে যন্ত্রপাতির এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। রয়েছে লোহার দাস যাকে আমরা মেশিন বলি। এই মেশিনগুলো আমাদের জন্য কাঠ চেরাই করে, কাপড় বোনে, কাঁচামাল থেকে আমাদের সময়ের বিস্ময়কর সব জিনিস তৈরি করে। মধ্যযুগীয় সামন্ত প্রভুর যেমন কৃষককে বলার অধিকার ছিল না যে "এই পাহাড় বা চারণভূমি আমার," তেমনি আজ কারো অধিকার নেই একটি মেশিনের ওপর দখল নিয়ে বলা যে "এটি আমার। তুমি যদি এটি ব্যবহার করতে চাও, তবে তোমার প্রতিটি পণ্যের ওপর আমাকে কর দিতে হবে।" <br> '''সবই সবার জন্য!''' যদি একজন পুরুষ বা নারী তাদের কাজের ন্যায্য অংশটুকু পালন করেন, তবে সবার দ্বারা উৎপাদিত সম্পদে তাদের ন্যায্য অধিকার রয়েছে; এবং সেই অংশটি তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। "কাজের অধিকার" বা "শ্রমিকের শ্রমের পূর্ণ ফলের" মতো অস্পষ্ট বুলির আর প্রয়োজন নেই। '''আমরা যা ঘোষণা করি তা হলো সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার: সবার জন্য সমৃদ্ধি!'''
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সভ্যতা গড়তে শ্রম দিয়েছে যা নিয়ে আমরা আজ গর্ব করি। আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে থেকে এটি টিকিয়ে রাখতে শ্রম দিচ্ছে। তারা না থাকলে পঞ্চাশ বছরের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকত না।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* এমন কোনো চিন্তা বা উদ্ভাবন নেই যা সাধারণ সম্পদ নয়, যা অতীত এবং বর্তমানের গর্ভে জন্ম নেয়নি। হাজার হাজার জানা-অজানা উদ্ভাবক যারা দারিদ্র্যের মধ্যে মারা গেছেন, তারা এই প্রতিটি মেশিনের উদ্ভাবনে সহযোগিতা করেছেন যা মানুষের প্রতিভাকে ধারণ করে।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* '''আমরা নিজেদের এবং আমাদের সন্তানদের কপটতা আর দ্বিমুখী নৈতিকতা অনুশীলনে অভ্যস্ত করি। আর যেহেতু মস্তিষ্ক মিথ্যার মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না, তাই আমরা কুতর্ক দিয়ে নিজেদের ঠকাই। কপটতা আর কুতর্ক সভ্য মানুষের দ্বিতীয় স্বভাবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একটি সমাজ এভাবে বাঁচতে পারে না। একে সত্যের পথে ফিরতে হবে নতুবা এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।'''
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* জ্ঞান বৃদ্ধি করতে এবং কুসংস্কার দূর করতে হাজার হাজার লেখক, কবি ও পণ্ডিত শ্রম দিয়েছেন। তারা বৈজ্ঞানিক চিন্তার সেই পরিবেশ তৈরি করেছেন যা ছাড়া এই শতাব্দীর বিস্ময়গুলো কখনোই দেখা যেত না। আর এই হাজার হাজার দার্শনিক, কবি ও পণ্ডিতরা নিজেরাও বিগত শতাব্দীগুলোর শ্রমের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছেন।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* এই দানবীয় ব্যবস্থার কারণে একজন শ্রমিকের সন্তান জীবনে প্রবেশ করেই চাষ করার জন্য কোনো জমি পায় না, চালানোর জন্য কোনো মেশিন পায় না, খনন করার জন্য কোনো খনি পায় না—যদি না সে তার উৎপাদনের একটি বড় অংশ একজন প্রভুর হাতে তুলে দিতে রাজি হয়।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* শিক্ষা এখনও একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিশেষ অধিকার হয়ে আছে। যখন একজন শ্রমিকের সন্তান তেরো বছর বয়সে খনিতে নামতে বা খামারে বাবাকে সাহায্য করতে বাধ্য হয়, তখন শিক্ষার কথা বলা নিরর্থক। অমানুষিক পরিশ্রমের পর সন্ধ্যায় ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরা শ্রমিকের কাছে পড়াশোনার কথা বলা বৃথা। সমাজ এভাবে দুটি শত্রু শিবিরে বিভক্ত হয়ে থাকে, আর এমন অবস্থায় 'স্বাধীনতা' কেবল একটি অন্তঃসারশূন্য শব্দ মাত্র।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* '''আমাদের এটা স্বীকার করতে হবে এবং উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করতে হবে যে পুরানো সমাজে কার অবস্থান কী ছিল তা বড় কথা নয়, কেউ সবল বা দুর্বল হোক, সক্ষম বা অক্ষম হোক, সবার আগে তার 'বেঁচে থাকার অধিকার' আছে। সমাজের দায়িত্ব হলো তার হাতে থাকা জীবনধারণের উপকরণগুলো ব্যতিক্রমহীনভাবে সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া।'''
** অধ্যায় ২: সবার জন্য সমৃদ্ধি
* আমরা ইতিমধ্যেই এমন এক বিশ্বের আভাস পাচ্ছি যেখানে ব্যক্তিকে বেঁধে রাখার বন্ধনগুলো আর কোনো আইন নয়, বরং তা হবে সামাজিক অভ্যাস। যা আমাদের প্রত্যেকের প্রতিবেশীর সমর্থন, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা খোঁজার প্রয়োজনীয়তা থেকে জন্ম নেবে। <br /> রাষ্ট্রবিহীন সমাজের ধারণাটি অন্তত ততটাই আপত্তির জন্ম দেবে যতটা ব্যক্তিগত পুঁজিহীন সমাজের অর্থনীতি দেয়। শৈশব থেকেই আমাদের শেখানো হয়েছে রাষ্ট্রকে এক ধরণের 'বিধাতা' হিসেবে দেখতে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো বিভিন্ন বিজ্ঞান আমাদের সরকার এবং রাষ্ট্রের গুণাবলীতে বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত করে। <br /> এই অন্ধবিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে দর্শনের পুরো ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে; সমস্ত রাজনীতি এই নীতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে; এবং প্রতিটি রাজনীতিবিদ মানুষের সামনে এসে বলেন "আমাকে ক্ষমতা দাও, আমি তোমাদের এই সব দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দেব।"
** অধ্যায় ৩: অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম
* দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত আমাদের সমস্ত কাজ এই নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়। সমাজবিজ্ঞান বা আইনশাস্ত্রের যেকোনো বই খুলুন, সেখানে দেখবেন সরকার আর তার সংগঠনগুলো এত বিশাল জায়গা জুড়ে আছে যে আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি যে সরকার আর রাষ্ট্রনায়কদের জগতের বাইরে আর কিছুই নেই।
** অধ্যায় ৩: অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম
* আমরা বুঝতে শুরু করেছি যে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন মানে দেশের সমস্ত বিষয়কে সেই সব মানুষের হাতে সঁপে দেওয়া যাদের নিজস্ব কোনো মতামত নেই।
** অধ্যায় ৩: অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম
* '''জমিদারের সম্পদ কৃষকের দারিদ্র্যের কাছে ঋণী''', এবং পুঁজিবাদীর সম্পদও একই উৎস থেকে আসে।
** অধ্যায় ৪: বাজেয়াপ্তকরণ
* আমরা যা চাই তা হলো এমন এক ব্যবস্থা করা যাতে এই পৃথিবীতে জন্মানো প্রতিটি মানুষ প্রথমেই কোনো দরকারী কাজ শেখার সুযোগ পায়। এরপর সে যেন তার পেশায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে কোনো মালিকের অনুমতি ছাড়া এবং তার উৎপাদনের সিংহভাগ কোনো জমিদার বা পুঁজিবাদীর হাতে তুলে না দিয়ে।
** অধ্যায় ৪: বাজেয়াপ্তকরণ
* '''আমরা যে অলীক কল্পনাবাদী, তা সবাই জানে। আমরা এতটাই কল্পনাপ্রবণ যে আমরা বিশ্বাস করি বিপ্লব সবার জন্য আশ্রয়, খাদ্য এবং পোশাক নিশ্চিত করতে পারে এবং করা উচিত।''' মধ্যবিত্ত নাগরিকদের কাছে এই চিন্তাটি অত্যন্ত অপ্রীতিকর, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে যার পেট ভরা আছে এমন মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়।
** অধ্যায় ৫: খাদ্য
* বাড়িটি তার মালিক তৈরি করেনি। এটি তৈরি করেছে, সাজিয়েছে এবং আসবাবপত্র দিয়ে পূর্ণ করেছে অসংখ্য শ্রমিক। যারা করাত কলে, ইটের ভাটায় এবং কারখানায় নূন্যতম মজুরির বিনিময়ে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছে।
** অধ্যায় ৬: আবাসন
* বুর্জোয়া সমাজের সবচেয়ে বড় ক্ষতি কেবল এটাই নয় যে পুঁজিবাদীরা লাভের বড় অংশ দখল করে বিনা পরিশ্রমে বেঁচে থাকে বরং ক্ষতিটি হলো এই উৎপাদন ব্যবস্থাটি ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। এটি সবার সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না। এই কারণেই আমরা একে প্রত্যাখ্যান করি।
** অধ্যায় ৮: পথ ও পন্থা
* আমাদের কাছে এটি একেবারেই অবোধ্য যে বুদ্ধিমান মানুষগুলো ফ্রান্স, ইংল্যান্ড বা আমেরিকার ইতিহাসের শিক্ষা পাওয়ার পরও কীভাবে জাতীয় বা পৌর পার্লামেন্টের সমর্থক হয়ে থাকতে পারে।
** অধ্যায় ১৩: কালেক্টিভিস্ট মজুরি ব্যবস্থা
* ভবিষ্যতের খনি হবে সুপরিচালিত বাতাস চলাচলের সুবিধাযুক্ত, যার তাপমাত্রা একটি লাইব্রেরির মতোই সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সেখানে মাটির নিচে মরার জন্য কোনো ঘোড়াকে নামানো হবে না। যান্ত্রিক ক্যাবলের সাহায্যে মাটির নিচ দিয়ে পরিবহন কাজ চালানো হবে।
** অধ্যায় ১০: আনন্দদায়ক কাজ
* নারীর মুক্তি মানে কেবল তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা বা আদালতের দুয়ার খুলে দেওয়া নয়। কারণ 'মুক্ত' নারী অনেক সময় ঘরের কাজ অন্য নারীর ওপর চাপিয়ে দেন। নারীর মুক্তি মানে তাকে রান্নাঘর বা ধোপাশালার অমানুষিক খাটুনি থেকে মুক্তি দেওয়া; ঘরকে এমনভাবে সংগঠিত করা যাতে সে তার সন্তান লালন-পালন করার পাশাপাশি সামাজিক জীবনে অংশ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবসর পায়। <br /> এটি ঘটবেই। একটি বিপ্লব যা স্বাধীনতা, সাম্য এবং সংহতির সুন্দর বুলি আওড়ায়, সে কখনোই বিপ্লব হতে পারে না যদি সে ঘরের ভেতর দাসত্ব বজায় রাখে। মানবজাতির অর্ধেক যদি উনুন পাড়ের দাস হয়ে থাকে, তবে তাদের অন্য অর্ধেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেই হবে।
** অধ্যায় ১০: আনন্দদায়ক কাজ
* বংশগত কুসংস্কার এবং ভুল শিক্ষার কারণে আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে পুলিশের নজর সরে গেলেই মানুষ বন্য পশুর মতো একে অপরকে ছিঁড়ে খাবে। কিন্তু আমরা আমাদের চোখ বন্ধ করে রাখি সেই হাজার হাজার মানব গোষ্ঠীর দিক থেকে যারা কোনো আইনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই অবাধে নিজেদের গঠিত করে এবং সরকারের অভিভাবকত্বের চেয়ে অনেক উন্নত ফলাফল অর্জন করে।
** অধ্যায় ১১: মুক্ত চুক্তি
* রাষ্ট্র তার পবিত্র কাজগুলো থেকে ইস্তফা দিচ্ছে এবং ব্যক্তিবর্গের কাছে আবেদন জানাচ্ছে। সবখানেই মুক্ত সংগঠনগুলো রাষ্ট্রের সীমানায় প্রবেশ করছে। যখন রাষ্ট্র থাকবে না, তখন এই মুক্ত চুক্তি আমাদের জন্য ভবিষ্যতে কী নিয়ে আসবে, তার সামান্য আভাস আমরা এখন পাচ্ছি।
** অধ্যায় ১১: মুক্ত চুক্তি
=== 'ফিল্ডস, ফ্যাক্টরিজ অ্যান্ড ওয়ার্কশপস' (১৮৯৯) ===
:<small>''অথবা কৃষি ও কায়িক শ্রমের সাথে শিল্প ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের সমন্বয়''। ১৮৮৮-১৮৯০ সালের মধ্যে প্রকাশিত কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন হিসেবে ১৮৯৯ সালে এটি প্রথম বই আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯১২ সালে লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক থেকে এর পরবর্তী সংস্করণ এবং ১৯৭৪ সালে কলিন ওয়ার্ডের সম্পাদনায় জর্জ অ্যালেন অ্যান্ড আনউইন থেকে আরও একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।</small>
* '''যখন বিজ্ঞান তার প্রধান মনোযোগ শিল্পোৎপাদনের দিকে নিবদ্ধ করেছে, তখন একদল প্রকৃতিপ্রেমী এবং অগণিত কর্মী... ঐতিহাসিকভাবে অজ্ঞাত থেকেই এক সম্পূর্ণ নতুন ধরণের কৃষি ব্যবস্থা তৈরি করেছেন''' যা আধুনিক চাষাবাদের চেয়ে এতটাই উন্নত, যেমন উন্নত ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের তিন-মাঠ পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক চাষাবাদ। বিজ্ঞান খুব কমই তাদের পথ দেখিয়েছে, বরং মাঝে মাঝে ভুল পথে চালিত করেছে... তারা পরীক্ষামূলকভাবে এগিয়েছেন। কিন্তু... তারা উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় গবেষণার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তারা সম্পূর্ণ নতুন এক কৃষি ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। আমরা যখন শস্য পর্যায় পদ্ধতির মাধ্যমে বছরে একটি বা তিন বছরে চারটি ফসল পাওয়ার বড়াই করি, তখন তারা কেবল হাসেন। কারণ '''তাদের লক্ষ্য হলো একই জমিতে বারো মাসে ৬ থেকে ৯টি ফসল ফলানো। তারা আমাদের 'ভালো মাটি' বা 'খারাপ মাটি'র গল্প বোঝেন না, কারণ তারা মাটি নিজেরাই তৈরি করে নেন''' এবং তারা '''এত বেশি পরিমাণে মাটি তৈরি করেন যে প্রতি বছর তাদের কিছু মাটি বিক্রি করে দিতে হয়'''। অন্যথায় প্রতি বছর তাদের বাগানের উচ্চতা আধা ইঞ্চি করে বেড়ে যেত। তারা একর প্রতি ৫ বা ৬ টন ঘাস নয় বরং একই জায়গায় ৫০ থেকে ১০০ টন বিভিন্ন সবজি ফলানোর লক্ষ্য রাখেন; যেখানে ৫ পাউন্ড মূল্যের খড় পাওয়া যেত, সেখানে তারা ১০০ পাউন্ড মূল্যের সাধারণ সবজি (বাঁধাকপি বা গাজর) এবং নিবিড় উদ্যানতত্ত্বের মাধ্যমে ২০০ পাউন্ডের বেশি মূল্যের ফসল ফলান। '''কৃষি এখন এই পথেই এগোচ্ছে।'''
* প্যারিসের প্রচুর সংখ্যক 'মারাইশাঁ' (বাজার বাগান চাষী) তাদের উৎপাদিত ফসলের পুরোটা ইংল্যান্ডে রপ্তানি করেন।
* '''একজন মালিকে বড় শহরের দিকে যা আকর্ষণ করে তা হলো আস্তাবলের সার; আর এটি মাটির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য ততটা প্রয়োজন নয়... যতটা প্রয়োজন মাটির তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে রাখার জন্য।''' আগাম সবজিতে লাভ সবচেয়ে বেশি, আর এই আগাম ফলন পেতে কেবল বাতাস নয়, মাটিও গরম রাখতে হয়... '''মাটির সাথে সঠিক পরিমাণে সারের মিশ্রণ ঘটিয়ে; এর গাঁজন প্রক্রিয়া মাটিকে উত্তপ্ত করে...'''
* বাজার বাগান পদ্ধতিতে মাটি সবসময় 'তৈরি' করা হয়... ফলে প্যারিসের চাষীদের ভাড়ার চুক্তিতে এখন এটি একটি সাধারণ শর্ত যে '''মালি যখন তার ইজারা শেষ করবেন, তখন তিনি একটি নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত তার তৈরি করা মাটি সাথে করে নিয়ে যেতে পারবেন।''' তিনি নিজেই এটি তৈরি করেন এবং '''যখন তিনি অন্য জায়গায় যান, তখন গরুর গাড়িতে করে তার মাটি নিয়ে যান...'''
* উদাহরণস্বরূপ এম. পন্সের ফলের বাগানটি ধরা যাক যা মাত্র ২.৭ একর জুড়ে বিস্তৃত। জলসেচের স্টিম ইঞ্জিনসহ তার পুরো খামারের ব্যয় ছিল ১,১৩৬ পাউন্ড। প্রতি বছর সারের পেছনে খরচ হতো ১০০ পাউন্ড। খাজনা ও ট্যাক্সে ব্যয় হতো আরও ১০০ পাউন্ড। কিন্তু প্রতি বছর সেখান থেকে যা সংগ্রহ করা হতো তার হিসাব দেওয়া কঠিন... ২০,০০০ পাউন্ডের বেশি গাজর... ২০,০০০ পাউন্ড পেঁয়াজ, মূলা এবং অন্যান্য সবজি... ৬,০০০টি বাঁধাকপি। ৩,০০০টি ফুলকপি। ৫,০০০ ঝুড়ি টমেটো, ৫,০০০ ডজন বাছাই করা ফল এবং ১,৫৪,০০০টি সালাদ পাতা। সংক্ষেপে বলতে গেলে মোট ২,৫০,০০০ পাউন্ড সবজি। '''ফোর্সিং বেড থেকে এত বেশি মাটি তৈরি হতো যে প্রতি বছর ২৫০ ঘন গজ মাটি বিক্রি করে দেওয়া হতো।''' এমন ডজন ডজন উদাহরণ দেওয়া যায়... প্যারিসের আশেপাশে ৫,০০০ মানুষ এভাবে ২,১২৫ একর জমি চাষ করেন এবং এভাবেই '''কেবল ২০ লক্ষ প্যারিসবাসীর সবজির চাহিদাই মেটানো হয় না, বরং উদ্বৃত্ত অংশ লন্ডনেও পাঠানো হয়।'''
* উপরের ফলাফলগুলো গরম ফ্রেম এবং হাজার হাজার কাঁচের বেল-জারের সাহায্যে পাওয়া যায়। কিন্তু এই ব্যয়বহুল জিনিসগুলো ছাড়াও, চারা তৈরির জন্য মাত্র ৩৬ গজের ফ্রেম ব্যবহার করে ''খোলা আকাশের নিচে'' একর প্রতি ২০০ পাউন্ড মূল্যের সবজি চাষ করা যায়। ...এই উচ্চ আয় কেবল শীতকালে আগাম সবজির দামের কারণে নয়; এটি মূলত সাধারণ সবজির বিপুল ফলনের কারণে ঘটে।
* এই চমৎকার চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বিকশিত হয়েছে। এর আগে এটি বেশ আদিম ছিল। কিন্তু এখন '''প্যারিসের মালি কেবল মাটিকে তুচ্ছজ্ঞান করে না। সে চাইলে পিচঢালা রাস্তার ওপরও একই ফসল ফলাতে পারে
সে জলবায়ুকেও জয় করেছে।''' তার দেয়ালগুলো তৈরি করা হয়েছে আলো প্রতিফলিত করতে এবং উত্তরের বাতাস থেকে গাছকে বাঁচাতে। সে প্যারিসের শহরতলীতে এক সমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলীয় বাগান তৈরি করেছে। '''সে প্যারিসকে সেই 'দুই ডিগ্রি কম অক্ষাংশ' (উষ্ণতা) উপহার দিয়েছে যার জন্য একজন ফরাসি বিজ্ঞানী আকুল আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন। সে তার শহরকে যেকোনো ঋতুতে পাহাড় সমান আঙুর ও ফল সরবরাহ করে এবং বসন্তের শুরুতে শহরকে সুগন্ধে ভরিয়ে দেয়।''' কিন্তু সে কেবল বিলাসবহুল দ্রব্যই ফলায় না। বড় পরিসরে সাধারণ সবজি চাষের এই পদ্ধতি প্রতি বছর ছড়িয়ে পড়ছে; ফলাফল এতই ভালো যে '''এখন অনেক ব্যবহারিক চাষী দাবি করেন যে সেন ও সেন-এ-ওয়াজ বিভাগের ৪৫ লক্ষ বাসিন্দার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রাণীজ ও উদ্ভিজ্জ খাদ্য (৩,৫২০ বর্গ মাইল এলাকায়) বর্তমানের এই পদ্ধতি ব্যবহার করেই উৎপাদন করা সম্ভব'''এমন পদ্ধতি যা ইতিমধ্যেই বৃহৎ পরিসরে পরীক্ষিত এবং সফল প্রমাণিত হয়েছে।
* '''এতকিছুর পরও প্যারিসের মালি আমাদের কৃষকের আদর্শ নয়।''' সভ্যতার এই কষ্টসাধ্য যাত্রায় সে আমাদের পথ দেখিয়েছে ঠিকই। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার আদর্শ অন্য কোথাও। সে ভোর ৩টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় বিরামহীন কাজ করে। তার কোনো অবসর নেই। একজন মানুষ হিসেবে জীবন কাটানোর সময় তার নেই; তার পৃথিবীটা কেবল তার বাগান। সে আমাদের আদর্শ হতে পারে না। তার কৃষি ব্যবস্থাও নয়। '''আমাদের লক্ষ্য হলো, সে আরও 'বেশি' উৎপাদন করবে... কিন্তু 'কম' পরিশ্রমে, এবং মানুষের জীবনের সমস্ত আনন্দ উপভোগ করবে। আর এটি পুরোপুরি সম্ভব।'''
* ফরাসি চাষীরা কেন সারের বিভিন্ন মিশ্রণ তৈরি করতে এত বুদ্ধি ও শ্রম ব্যয় করেন? কেবল দুটি লক্ষ্যের জন্য: '''একটি পুষ্টিকর মাটি এবং বাতাস ও মাটির একটি কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীল তাপমাত্রা। তার সমস্ত অভিজ্ঞতালব্ধ শিল্প এই দুটি লক্ষ্য অর্জনে নিবেদিত। কিন্তু... মাটি হাত দিয়ে 'উন্নত' করা যায়, কিন্তু এটি হাত দিয়ে 'তৈরি' করার প্রয়োজন নেই। যেকোনো মাটি... যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি করা সম্ভব। ...চাহিদা থাকলেই আমরা অচিরেই দোআঁশ মাটির কারখানা দেখতে পাবো।'''
* '''বিজ্ঞান আজ পর্যন্ত ম্যালথাসের শিক্ষা দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। অর্থনীতি এখনও একটি জাতির উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর অসম্ভাব্যতাকে মৌন স্বীকৃতি দিয়ে তার যুক্তি সাজায়''' এবং এভাবে সবার চাহিদা পূরণের পথ বন্ধ করে রাখে। রাজনৈতিক অর্থনীতি কখনোই ''জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণের সীমিত ও অপর্যাপ্ত সরবরাহের'' অনুকল্প থেকে উপরে উঠতে পারে না। তারা এটিকে ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেয়। এমনকি জীববিজ্ঞানীদের মধ্যেও আমরা দেখেছি যে ডারউইন ও ওয়ালেস প্রজাতির পরিবর্তনের তত্ত্বের ক্ষেত্রে ম্যালথাসের সেই মৌলিক ধারণার সহায়তা নিয়েছেন যে প্রকৃতি দ্রুত বংশবৃদ্ধি করা প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করতে অনিবার্যভাবে ব্যর্থ হবে।
* সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি যে, '''ম্যালথাসের তত্ত্ব সম্পদশালী শ্রেণীর গোপন আকাঙ্ক্ষাগুলোকে একটি ছদ্ম-বৈজ্ঞানিক রূপ দিয়ে দর্শনের এক বিশাল ভিত্তি তৈরি করেছে যা শিক্ষিত ও অশিক্ষিত উভয়ের মনকে প্রভাবিত করে।'''
* '''শিল্পসম্পদ এমন হারে বেড়েছে যা জনসংখ্যার যেকোনো বৃদ্ধিকে হার মানায় এবং এটি আরও দ্রুত বাড়তে পারে। কিন্তু কৃষিকে এখনও ম্যালথাসীয় ছদ্ম-দর্শনের একটি দুর্গ বলে মনে করা হয়। কৃষির সাম্প্রতিক অর্জনগুলো মানুষ যথেষ্ট জানে না। আমাদের মালিরা যখন জলবায়ু ও অক্ষাংশকে জয় করছেন, বছরে একটির বদলে কয়েকটি ফসল ফলাচ্ছেন এবং নিজেরাই মাটি তৈরি করছেন, তখন অর্থনীতিবিদরা এখনও বলছেন যে মাটির উপরিভাগ সীমিত এবং এর উৎপাদন ক্ষমতাও সীমিত; তারা এখনও দাবি করেন যে প্রতি ৩০ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হতে থাকলে শীঘ্রই জীবনধারণের উপকরণের অভাব দেখা দেবে!'''
* যদি আমরা সব কিছু বিবেচনা করি। যদি আমরা বাগান চাষের অগ্রগতি এবং বিজ্ঞানের গচ্ছিত সম্পদ নিয়ে ভাবি, তবে আমাদের বলতেই হবে '''কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড থেকে সর্বোচ্চ কত সংখ্যক মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে বা তারা যেকোনো অক্ষাংশে কত বৈচিত্র্যময় ফসল ফলাতে পারবে, তার কোনো সীমা বর্তমানে কল্পনা করাও অসম্ভব।'''
* আমরা এখন এটুকুই বলতে পারি যে, ''এমনকি বর্তমানেও'', প্রতি বর্গমাইলে ৬০০ জন অনায়াসেই বাস করতে পারে; এবং ১,০০০ একর জমিতে ১,০০০ জন মানুষ অলস নয় এমন কঠোর পরিশ্রম ছাড়াই অত্যন্ত বিলাসবহুল উদ্ভিদ ও প্রাণীজ খাদ্য এবং পোশাকের জন্য প্রয়োজনীয় তন্তু ও চামড়া উৎপাদন করতে পারে।
* এভাবেই আমরা দেখি যে, '''অতিরিক্ত জনসংখ্যার ভ্রান্ত ধারণা নিবিড় পরীক্ষার সামনে টিকতেই পারে না।'''
* যারা প্রতি ১,০০০ সেকেন্ডে এ দেশে একজন করে মানুষ বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত হন, তারা মানুষকে কেবল জগতের সম্পদের অংশীদার হিসেবে দেখেন, অবদানকারী হিসেবে নয়। কিন্তু আমরা, যারা প্রতিটি নবজাতকের মাঝে একজন ভবিষ্যৎ 'কর্মী'কে দেখি যে নিজের ভাগের চেয়েও অনেক বেশি সম্পদ উৎপাদনে সক্ষম আমরা তার আগমনকে স্বাগত জানাই।
=== 'মেমোয়ার্স অব এ রেভোলিউশনিস্ট' (১৮৯৯) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_archives/kropotkin/memoirs/memoirstoc.html অনলাইন টেক্সট]</small>
* একজন ভূমিদাস-মালিকের পরিবারে বড় হওয়ায়, আমি আমার সময়ের অন্য সব যুবকদের মতো আদেশ দেওয়া, শাসন করা, বকাঝকা বা শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর অগাধ আত্মবিশ্বাস নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছিলাম। কিন্তু যখন খুব অল্প বয়সেই আমাকে গুরুতর উদ্যোগ পরিচালনা করতে এবং মানুষের সাথে কাজ করতে হলো যেখানে প্রতিটি ভুল তাৎক্ষণিক ভারী পরিণতি বয়ে আনত'''তখন আমি 'আদেশ ও শৃঙ্খলার নীতি' এবং 'পারস্পরিক সমঝোতার নীতি'র মধ্যে পার্থক্য বুঝতে শুরু করলাম। প্রথমটি সামরিক কুচকাওয়াজে চমৎকার কাজ দেয়, কিন্তু বাস্তব জীবনের ক্ষেত্রে এর কোনো মূল্য নেই। বাস্তব জীবনের লক্ষ্য কেবল অনেকের সম্মিলিত ইচ্ছার কঠোর প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে।'''
** [http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_archives/kropotkin/memoirs/memoirs3_7.html ৩য় খণ্ড, ৭ম পরিচ্ছেদ]
* মধ্য ইউরোপ পর্যন্ত বরফের আস্তরণ পৌঁছানোর তত্ত্বে বিশ্বাস করা সে সময় এক ধরণের ধর্মদ্রোহিতা ছিল। কিন্তু আমার চোখের সামনে একটি বিশাল ছবি ফুটে উঠছিল। আমি হাজার হাজার খুঁটিনাটি সহ সেই ছবিটি আঁকতে চেয়েছিলাম। এটিকে বর্তমানের উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের বিন্যাসের চাবিকাঠি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। ভূবিদ্যা ও ভৌত ভূগোলের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চেয়েছিলাম। <br> কিন্তু এই সর্বোচ্চ আনন্দ উপভোগ করার কী অধিকার আমার আছে, যখন আমার চারপাশে কেবল এক টুকরো পচা রুটির জন্য হাহাকার আর সংগ্রাম? যখন সেই উচ্চতর আবেগের জগতে বাস করার জন্য আমার প্রতিটি ব্যয়িত অর্থ সেই সব মানুষদের মুখ থেকে কেড়ে নেওয়া—যারা গম ফলায় কিন্তু নিজের সন্তানদের জন্য পর্যাপ্ত রুটি জোটাতে পারে না? কারো না কারো মুখ থেকে এটি কেড়ে নিতেই হয়, কারণ মানবজাতির মোট উৎপাদন আজও অত্যন্ত নিম্নপর্যায়ে রয়ে গেছে। <br> জ্ঞান এক বিশাল শক্তি। মানুষের জানা উচিত। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যেই অনেক কিছু জানি! '''যদি সেই জ্ঞান এবং কেবল সেই জ্ঞানই সবার সম্পদে পরিণত হয়? তবে কি বিজ্ঞান নিজে লাফিয়ে লাফিয়ে এগোবে না? এবং তা মানবজাতিকে উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং সামাজিক সৃজনশীলতায় এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে না যার গতি পরিমাপ করার ক্ষমতাও আমাদের এখন নেই?'''
** [http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_archives/kropotkin/memoirs/memoirs4_3.html ৪র্থ খণ্ড, ৩য় পরিচ্ছেদ]
=== 'মিউচুয়াল এইড: এ ফ্যাক্টর অব ইভোলিউশন' (১৯০২) ===
:<small>[http://onlinebooks.library.upenn.edu/webbin/gutbook/lookup?num=4341 অনলাইন টেক্সট]</small>
* '''প্রাণিজগতে আমরা দেখেছি যে অধিকাংশ প্রজাতি সমাজে বাস করে এবং তারা দলবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমেই জীবন সংগ্রামের সেরা অস্ত্র খুঁজে পায়।অবশ্যই ডারউইনীয় অর্থে কেবল টিকে থাকার লড়াই হিসেবে নয়, বরং প্রজাতির জন্য প্রতিকূল সমস্ত প্রাকৃতিক অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম হিসেবে।''' যে সব প্রাণিপ্রজাতি ব্যক্তিগত লড়াইকে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তারাই সংখ্যায় বেশি, সমৃদ্ধ এবং প্রগতির পথে সবচেয়ে অগ্রসর। এই পারস্পরিক সুরক্ষা দীর্ঘজীবী হওয়া, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা এবং উচ্চতর বুদ্ধিগত বিকাশের সুযোগ করে দেয় যা প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা নিশ্চিত করে। '''বিপরীতভাবে, অসামাজিক প্রজাতিগুলো বিলুপ্তির পথে ধাবিত হয়।'''
* আদিম উপজাতি থেকে বর্বর গ্রাম্য সম্প্রদায় গড়ে উঠেছিল; এবং একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের সাধারণ মালিকানা ও সাধারণ প্রতিরক্ষার নীতির অধীনে সামাজিক প্রথা, অভ্যাস এবং প্রতিষ্ঠানের এক নতুন ও বিস্তৃত বলয় তৈরি হয়েছিল। যার অনেকগুলো আজও আমাদের মাঝে টিকে আছে। আর যখন নতুন প্রয়োজন মানুষকে নতুন শুরুর দিকে ধাবিত করল, তারা তা করল শহরে—যা ছিল গ্রাম্য সম্প্রদায় এবং গিল্ড বা বণিক সংঘের একটি দ্বৈত জাল।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|right|একটি মাত্র যুদ্ধ।আমরা সবাই জানি তৎক্ষণাৎ এবং পরবর্তীতে এতটা অনিষ্ট করতে পারে, যা শত বছরের পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির দ্বারা অর্জিত কল্যাণকেও ম্লান করে দেয়।]]
* পারস্পরিক সহযোগিতা বিবর্তনের একটি কারক হলেও তা মানবিক সম্পর্কের একটি দিক মাত্র। এর পাশাপাশি অন্য একটি ধারা সবসময় ছিল ব্যক্তির আত্মপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা। এটি কেবল ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াই নয় বরং উপজাতি, গ্রাম্য সম্প্রদায় বা রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া প্রথাগত বন্ধন ভেঙে ফেলার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। অন্য কথায়, ব্যক্তিকে একটি প্রগতিশীল উপাদান হিসেবে নেওয়া। <br>'''এটি স্পষ্ট যে, বিবর্তনের কোনো পর্যালোচনাই পূর্ণাঙ্গ হবে না যদি না এই দুটি প্রভাবশালী ধারা (সহযোগিতা ও আত্মপ্রতিষ্ঠা) বিশ্লেষণ করা হয়।''' তবে ব্যক্তির আত্মপ্রতিষ্ঠা বা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই আদিকাল থেকেই বর্ণিত এবং মহিমান্বিত হয়ে আসছে। মহাকাব্যিক কবি, ইতিহাসবিদ এবং সমাজবিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত কেবল এই লড়াইয়ের ধারাটিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। এযাবৎকাল পর্যন্ত লিখিত ইতিহাস মূলত ধর্মতন্ত্র, সামরিক শক্তি, স্বৈরতন্ত্র এবং পরবর্তীতে ধনী শ্রেণীর শাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠিত ও বজায় রাখা হয়েছে, তারই বর্ণনা।
[[File:RegenbogenDSCN0352.JPG|thumb|right|শিল্পের অগ্রগতি বা প্রকৃতির ওপর যেকোনো বিজয়ের জন্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অবশ্যই পারস্পরিক লড়াইয়ের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক।]]
* '''একটি মাত্র যুদ্ধ আমরা সবাই জানি তৎক্ষণাৎ এবং পরবর্তীতে এতটা অনিষ্ট করতে পারে, যা শত বছরের পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির দ্বারা অর্জিত কল্যাণকেও ম্লান করে দেয়।'''
* '''আমাদের এই শতাব্দীতে যে হঠাৎ শিল্পোন্নতি হয়েছে এবং যাকে সাধারণত ব্যক্তিবাদ ও প্রতিযোগিতার জয় হিসেবে গণ্য করা হয়, তার উৎস আসলে আরও অনেক গভীরে।''' পঞ্চদশ শতাব্দীর মহান আবিষ্কারগুলো, বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপের আবিষ্কার এবং প্রাকৃতিক দর্শনের ধারাবাহিক অগ্রগতি যা মধ্যযুগীয় শহর সংগঠনের অধীনে সম্পন্ন হয়েছিল। তা একবার হওয়ার পর বাষ্পীয় ইঞ্জিন উদ্ভাবন এবং নতুন শক্তির জয় অনিবার্য ছিল। '''তাই আমাদের শতাব্দীর শিল্পোন্নতিকে 'সবার বিরুদ্ধে সবার লড়াইয়ের' ফল হিসেবে দেখাটা সেই মানুষের মতো যুক্তি দেওয়া যে বৃষ্টির কারণ না জেনে বৃষ্টির দেবতাকে খুশি করার জন্য উৎসর্গ করা বলির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। শিল্পের অগ্রগতি বা প্রকৃতির ওপর যেকোনো বিজয়ের জন্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অবশ্যই পারস্পরিক লড়াইয়ের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক।'''
* '''বিশেষ করে নৈতিকতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে।''' পারস্পরিক সহযোগিতাই যে আমাদের নৈতিক ধারণার প্রকৃত ভিত্তি, তা যথেষ্ট স্পষ্ট। এই অনুভূতির উৎস জৈবিক বা অলৌকিক যাই হোক না কেন, প্রাণিজগতের একদম নিম্নস্তর থেকেই এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় এবং সেখান থেকে মানুষের উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে এটি বিবর্তিত হয়ে বর্তমান সময়ে পৌঁছেছে। এমনকি সময়ে সময়ে জন্ম নেওয়া নতুন ধর্মগুলোও কেবল এই একই নীতিকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। এই ধর্মগুলো সমাজের নিচুতলার মানুষের কাছেই প্রথম গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, কারণ পারস্পরিক সহযোগিতা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য ভিত্তি। <br>'''প্রতিবার যখন এই পুরাতন নীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করা হয়েছে, এর মূল ধারণাটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এটি বংশ থেকে উপজাতিতে, উপজাতি থেকে জাতিতে এবং পরিশেষে অন্তত আদর্শগতভাবে পুরো মানবজাতির মধ্যে বিস্তৃত হয়েছে।'''
* আদিম বৌদ্ধধর্ম, আদিম খ্রিস্টধর্ম, মুসলিম শিক্ষকগণের কিছু লেখা এবং বিশেষ করে গত শতাব্দীর নৈতিক ও দার্শনিক আন্দোলনে প্রতিশোধের ধারণা ত্যাগের কথা জোরালোভাবে বলা হয়েছে। '''"অন্যায়ের প্রতিশোধ না নেওয়া" এবং প্রতিবেশীর কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করা হয় তার চেয়েও বেশি উদারভাবে দেওয়ার উচ্চতর ধারণাটিকে নৈতিকতার প্রকৃত নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।এমন একটি নীতি যা কেবল ন্যায়বিচার বা সমতার চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং সুখের জন্য বেশি সহায়ক। পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চায়, যা বিবর্তনের আদি লগ্ন থেকে খুঁজে পাওয়া যায়, আমরা আমাদের নৈতিক ধারণার এক ইতিবাচক এবং অবিসংবাদিত উৎস খুঁজে পাই এবং আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে মানুষের নৈতিক প্রগতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা পারস্পরিক লড়াই নয়। প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান সময়েও এর ব্যাপক বিস্তার আমাদের জাতির আরও মহত্তর বিবর্তনের সেরা নিশ্চয়তা দেয়।'''
{{Misattributed begin}}
== ভুলভাবে আরোপিত (Misattributed) ==
* '''সমাজতন্ত্রীরা যদি প্রতিটি ব্যক্তির চাহিদাপূরণকে তাদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে স্পষ্টভাবে এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে প্রস্তুত না হন; যদি তারা জনমতকে এই অবস্থানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রস্তুত না হন, তবে নিজেদের মুক্ত করার পরবর্তী প্রচেষ্টায় জনগণ আবারও পরাজয়ের সম্মুখীন হবে।'''
** এই উক্তিটি ১৮৮৭ সালের আগস্টে 'ফ্রিডম' (Freedom, Vol. 1, No. 11) পত্রিকায় "বিপ্লবের প্রথম কাজ" (The First Work of the Revolution) শিরোনামের একটি নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল। নিবন্ধটির লেখক অজ্ঞাত; যদিও সেই একই সংখ্যায় ক্রোপোটকিনের অন্য একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল, যার ফলে এটি প্রায়ই তাঁর নামে চালিয়ে দেওয়া হয়।
{{Misattributed end}}
== ক্রোপোটকিন সম্পর্কে উক্তি ==
[[File:Kustodiev_The_Bolshevik.jpg|thumb|right|সবকিছু বদলে যাবে এবং জনতা একদিন উপলব্ধি করবে যে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সরকারি গোষ্ঠীকে বিপ্লবকে একচেটিয়া করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে বা পরিচালনা করতে দেওয়া যাবে না। কারণ এই ধরনের প্রচেষ্টা অনিবার্যভাবে বিপ্লবেরই মৃত্যু ঘটায়।]]
[[File:Come unto me, ye opprest.jpg|thumb|right|আমাদের অরাজকতাবাদীদের সেই পুরনো ধরাবাঁধা ছবি ঝেড়ে ফেলতে হবে, যেখানে তাদের শহরের রাস্তায় রাতে লুকিয়ে বেড়ানো দাড়িওয়ালা বোমা নিক্ষেপকারী হিসেবে দেখানো হয়। ~ স্টিফেন জে গোল্ড]]
[[File:Kropotkin on Deathbed.jpg|thumb|right|তাঁর অনেক আদর্শিক শত্রু ছিল, কিন্তু তাঁর সময়ের খুব কম বিখ্যাত ব্যক্তিরই এত কম ব্যক্তিগত শত্রু ছিল। এমনকি যারা তাঁর শিক্ষার কট্টর বিরোধী ছিলেন, তারাও তাঁর নম্রতা এবং আন্তরিকতাকে অস্বীকার করতে পারতেন না। ~ জর্জ উডকক]]
* বিপ্লবীদের এই চমৎকার মিছিলে প্রিন্স ক্রোপোটকিন, বা তিনি যেভাবে পরিচিত হতে পছন্দ করেন। পিটার ক্রোপোটকিন, নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বিশিষ্ট ছিলেন। যখন তিনি আমেরিকায় বক্তৃতা দিতে এসেছিলেন, তখন সারা দেশে তাঁকে অত্যন্ত আগ্রহ ও শ্রদ্ধার সাথে শোনা হয়েছিল।
** জেন অ্যাডামস, '২০ ইয়ার্স অ্যাট হাল হাউস' (১৯১০)
* '''রাশিয়া ছিল আমাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। সবাই একমত ছিলেন যে সেখানকার অবস্থা ছিল ভয়াবহ এবং বলশেভিকদের একনায়কতন্ত্র ছিল সবচেয়ে বড় অপরাধ।''' কিন্তু তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন, বিশ্বাস হারানোর কোনো কারণ নেই। বিপ্লব এবং সাধারণ মানুষ যেকোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের চক্রান্তের চেয়ে অনেক বড়। রাজনৈতিক দল সাময়িকভাবে জয়ী হতে পারে কিন্তু রুশ জনগণের হৃদয় কলুষিত নয়; তারা খুব শীঘ্রই একনায়কতন্ত্র এবং বলশেভিক অত্যাচারের মন্দ দিকগুলো বুঝতে পেরে ঐক্যবদ্ধ হবে। '''তিনি বলেন, বর্তমান রুশ জীবন এক কৃত্রিম অবস্থা যা শাসক শ্রেণী জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে। একটি ছোট রাজনৈতিক দলের শাসন মিথ্যা তত্ত্ব, সহিংস পদ্ধতি, ভয়াবহ ভুল এবং অদক্ষতার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। তারা জনগণের ইচ্ছা এবং উদ্যোগকে দমন করছে, যা ছাড়া দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক জীবন পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।''' মিত্রশক্তির নির্বোধ মনোভাব, অবরোধ এবং হস্তক্ষেপকারীদের আক্রমণ বলশেভিক শাসনের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। কিন্তু সবকিছু বদলে যাবে এবং '''জনতা একদিন উপলব্ধি করবে যে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সরকারি গোষ্ঠীকে বিপ্লবকে একচেটিয়া করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে বা পরিচালনা করতে দেওয়া দেওয়া যাবে না। কারণ এই ধরনের প্রচেষ্টা অনিবার্যভাবে বিপ্লবেরই মৃত্যু ঘটায়।''' <br> সেই সময় আমরা বিপ্লবের আরও অনেক দিক নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। ক্রোপোটকিন বিশেষ করে বিপ্লবের গঠনমূলক দিকের ওপর জোর দিয়েছিলেন; বিশেষ করে অর্থনৈতিক জীবনের সংগঠনকে বিপ্লবের প্রথম এবং প্রধান প্রয়োজনীয়তা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, কারণ এটিই বিপ্লবের অস্তিত্ব ও বিকাশের ভিত্তি।
** আলেকজান্ডার বার্কম্যান, [http://dwardmac.pitzer.edu/ANARCHIST_ARCHIVES/bright/berkman/reminiscences/reminiscences.html "সাম রেমিনিসেন্সেস অব ক্রোপোটকিন"]
* ...সেই তরুণ রাজপুত্র ছিলেন পিটার ক্রোপোটকিন। ক্রোপোটকিন তাঁর "মেমোয়ার্স অব আ রেভোলিউশনিস্টে" রুশ কবি নেক্রাসভের কথা উদ্ধৃত করেছেন: "দাসের তৈরি রুটি তিক্ত হয়।" তিনি আরও যোগ করেন: "তরুণ প্রজন্ম আসলে সেই রুটি খেতে এবং তাদের পৈতৃক বাড়িতে দাসের শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ভোগ করতে অস্বীকার করেছিল—শ্রমিকরা প্রকৃত দাস হোক বা বর্তমান শিল্প ব্যবস্থার দাস।"
** ক্যাথরিন ব্রেশকভস্কি, 'দ্য লিটল গ্র্যান্ডমাদার অব দ্য রাশিয়ান রেভোলিউশন', ১৯১৮
* দরিদ্র তরুণদের প্রতি তাঁর আহ্বান আমাকে ব্যক্তিগতভাবে স্পর্শ করেছিল, যেন তিনি আমাদের ব্রঙ্কসের সেই জীর্ণ ফ্ল্যাটে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন: "তোমাকে কি তোমার বাবা-মায়ের মতো ত্রিশ বা চল্লিশ বছর একইভাবে ক্লান্তিকর জীবন অতিবাহিত করতে হবে? তোমাকে কি সারাজীবন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হবে যাতে অন্যরা সুস্থতা, জ্ঞান আর শিল্পের সব আনন্দ ভোগ করতে পারে, আর তোমার নিজের জন্য শুধু কালকের এক টুকরো রুটির অনিশ্চয়তাটুকু পড়ে থাকে?"
** এলিজাবেথ গার্লি ফ্লিন, 'দ্য রেবেল গার্ল: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি', ১৯৫৫
* ...পিটার ক্রোপোটকিনের 'আপিল টু দ্য ইয়াং' (তরুণদের প্রতি আহ্বান) ছিল একটি চমৎকার আহ্বান, যেখানে তিনি এই পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করার জন্য তরুণদের দায়িত্ব পালনের কথা বলেছিলেন।
** এলিজাবেথ গার্লি ফ্লিন, [http://www.sojust.net/speeches/elizabeth_flynn_memories.html "মেমোরিজ অব দ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড"] (৮ নভেম্বর, ১৯৬২)
* ক্রোপোটকিনরা, পেরভস্কায়ারা, ব্রেশকভস্কায়ারা সম্পদ এবং পদমর্যাদা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁরা জনগণের কাছে গিয়েছিলেন তাদের ওপর তুলে ধরার জন্য নয়, বরং নিজেরা তাদের কাছ থেকে শিক্ষা পাওয়ার জন্য এবং নিজেদের সম্পূর্ণভাবে জনগণের কাছে উৎসর্গ করার জন্য।
** এমা গোল্ডম্যান, "ইন্টেলেকচুয়াল প্রলেটারিয়ানস" (১৯১৪)
* '''আমাদের অরাজকতাবাদীদের সেই পুরনো ধরাবাঁধা ছবি ঝেড়ে ফেলতে হবে, যেখানে তাদের শহরের রাস্তায় রাতে লুকিয়ে বেড়ানো দাড়িওয়ালা বোমা নিক্ষেপকারী হিসেবে দেখানো হয়।''' ক্রোপোটকিন ছিলেন একজন অমায়িক মানুষ, অনেকের মতে প্রায় সাধুতুল্য; যিনি এমন এক ক্ষুদ্র সমাজের স্বপ্ন দেখতেন যারা সবার মঙ্গলের জন্য নিজেদের মানদণ্ড নিজেরা ঠিক করবে, যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা বিলুপ্ত হবে।
** [[স্টিফেন জে গোল্ড]], [http://www.marxists.org/subject/science/essays/kropotkin.htm "ক্রোপোটকিন ওয়াজ নো ক্র্যাকপট"], 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি' ১০৬ (জুন ১৯৯৭)
* '''ক্রোপোটকিন সংগ্রামের সাধারণ ধারণার মধ্যে একটি দ্বিবিভাজন তৈরি করেছেন। যার দুটি রূপ বিপরীতমুখী: (১) একই প্রজাতির জীবের মধ্যে সীমিত সম্পদের জন্য লড়াই, যা প্রতিযোগিতার দিকে নিয়ে যায় এবং (২) পরিবেশের বিরুদ্ধে জীবের লড়াই, যা সহযোগিতার দিকে নিয়ে যায়।''' ...আমি মনে করি ক্রোপোটকিনের মূল যুক্তিটি সঠিক। সংগ্রাম অনেকভাবেই ঘটে এবং কিছু সংগ্রাম একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে সহযোগিতার জন্ম দেয়।
** স্টিফেন জে গোল্ড, "ক্রোপোটকিন ওয়াজ নো ক্র্যাকপট", 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি' ১০৬ (জুন ১৯৯৭)
* ওডোনানিজমকে মোটামুটিভাবে অরাজকতাবাদের সাথে শনাক্ত করা যায়। আমি মনে করি এটি ক্রোপোটকিন, এমা গোল্ডম্যান এবং বড় পরিসরে পল গুডম্যানের অরাজকতাতান্ত্রিক ধারার একটি রূপ। এটি শান্তিবাদী অরাজকতাবাদ।
** আরসুলা লে গুইনের সাথে সাক্ষাৎকার, ১৯৮০
* ক্রোপোটকিন নারী ও পুরুষ উভয়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করলেও, তিনি সেই নারীদের প্রতি অধৈর্য প্রকাশ করতেন যারা নারীবাদকে (পুরুষ) শ্রমিক শ্রেণীর প্রতি আনুগত্যের উপরে স্থান দিতেন। তাঁর নিজের পারিবারিক সম্পর্কগুলো ছিল প্রথাগত।
** মার্গারেট এস মার্শ, 'অ্যানার্কিস্ট উইমেন, ১৮৭০-১৯২০' (১৯৮১)
* ক্রোপোটকিনের 'কনকুয়েস্ট অব ব্রেড' দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মলি স্টেইমার ১৯১৭ সালে অরাজকতাবাদী দল 'ফ্রিডমে' যোগ দেন। ক্রোপোটকিনের অনুসারী হিসেবে স্টেইমারের ভবিষ্যতের জন্য একটি বুদ্ধিদীপ্ত এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।
** মার্গারেট এস মার্শ, 'অ্যানার্কিস্ট উইমেন, ১৮৭০-১৯২০' (১৯৮১)
* তিনি সম্ভবত বেঁচে থাকা মহত্তম আত্মাদের একজন ছিলেন। তিনি তাঁর বইতে লিখেছেন... মহিলারা কেবল নিজেদের কথা ভাবছেন না বরং কীভাবে পৃথিবীর সম্পদ অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া যায় তা নিয়েও ভাবছেন।
** গ্রেস পেলির সাথে সাক্ষাৎকার, ১৯৯৩
* বিজ্ঞান এবং দর্শনের আলোয় পিটার ক্রোপোটকিন লিখেছেন: "আমরা যদি প্রকৃতিকে জিজ্ঞাসা করি: 'কারা সবচেয়ে উপযুক্ত: যারা একে অপরের সাথে অবিরাম যুদ্ধ করে, নাকি যারা একে অপরকে সমর্থন করে?' আমরা তখনই দেখব যে যেসব প্রাণী পারস্পরিক সহযোগিতার অভ্যাস রপ্ত করেছে তারাই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উপযুক্ত।"
** বন্দনা শিবা, 'আর্থ ডেমোক্রেসি: জাস্টিস, সাসটেইনেবিলিটি, অ্যান্ড পিস' (২০০৫)
* আমি একবার প্রিন্স ক্রোপোটকিনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বই, কলম, কালি এবং কাগজ ছাড়াই তিনি কীভাবে বছরের পর বছর কারাগারে টিকে ছিলেন। "আহ," তিনি বললেন, "আমি এমন অনেক বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছিলাম যা আমাকে আনন্দ দেয়। কোনো ভাবনার গভীরে থাকলে আমি সময়ের হিসাব রাখতাম না... আমার নিজের এক বিশাল জগত ছিল, যেখানে কোনো রুশ জেলর বা জার হানা দিতে পারত না।"
** এলিজাবেথ ক্যাডি স্ট্যান্টন, মার্কিন প্রতিনিধি সভার বিচার বিভাগীয় কমিটিতে বক্তব্য, ১৮৯২
* বিজ্ঞানী, মানবতাবাদী এবং রাজবংশে জন্ম নেওয়া ক্রোপোটকিন এই যুগের এক উজ্জ্বল প্রতিভা। কেবল তাঁর বিশাল মেধার কারণেই তিনি অনন্য নাহ বরং তাঁর ব্যক্তিত্বের শক্তি ছিল অবর্ণনীয়।
** আনা স্ট্রুনস্কি, 'সান ফ্রান্সিসকো কল', ১১ অক্টোবর ১৯০৪
* '''আমার অভিজ্ঞতায় আমি যে দুটি নিখুঁত জীবনের সন্ধান পেয়েছি তা হলো পল ভার্লেন এবং প্রিন্স ক্রোপোটকিনের জীবন''': উভয়েই বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। ক্রোপোটকিন হলেন এমন এক মানুষ যার আত্মার মধ্যে রাশিয়ার সেই সুন্দর শুভ্র যিশুখ্রিস্টের ছায়া দেখা যায়।
** অস্কার ওয়াইল্ড, 'ডি প্রোফান্ডিস' (১৮৯৭)
* ক্রোপোটকিনকে যারা চিনতেন, তাঁদের কাছে তাঁর কাজের চেয়ে তাঁর ব্যক্তিত্বই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর অনেক আদর্শিক শত্রু ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত শত্রু ছিল খুব কম। এমনকি যারা তাঁর কট্টর বিরোধী ছিলেন, তারাও তাঁর নম্রতা এবং আন্তরিকতাকে অস্বীকার করতে পারতেন না। তিনি সবসময় যা সঠিক মনে করতেন তা-ই বলতেন এবং তার পরিণতি ভোগ করতে প্রস্তুত থাকতেন।
** জর্জ উডকক এবং ইভান অ্যাভাকুমোভিচ, 'পিটার ক্রোপোটকিন: ফ্রম প্রিন্স টু রেবেল' (১৯৯০)
* '''তত্ত্বের সাথে অনুশীলনের সংযোগ স্থাপনের ইচ্ছা ক্রোপোটকিনের প্রায় সব লেখায় স্পষ্ট ছিল।''' তিনি বিপ্লবকে কেবল ধ্বংসলীলা হিসেবে দেখতেন না বরং একটি গঠনমূলক ঘটনা হিসেবে দেখতেন। তিনি বলতেন, বিপ্লব কেবল কথার দ্বারা সম্পন্ন হয় না। এর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা এবং ইচ্ছাশক্তি থাকা প্রয়োজন।
** জর্জ উডকক, 'অ্যানার্কিজম' (১৯৬২)
=== "ক্রোপোটকিনের কমিউনিজম", মেরি গোল্ডস্মিথ (১৯৩১) ===
* ক্রোপোটকিন বিশ্বাস করতেন যে অরাজকতাতান্ত্রিক সাম্যবাদের তত্ত্বের বিকাশই অরাজকতাবাদে তাঁর প্রধান অবদান। ক্রোপোটকিনের সাম্যবাদ দুটি উৎস থেকে এসেছে: এক দিকে অর্থনৈতিক ঘটনার ঐতিহাসিক বিকাশ এবং অন্য দিকে সাম্য ও স্বাধীনতার সামাজিক আদর্শ।
* ক্রোপোটকিনের অরাজকতাতান্ত্রিক সাম্যবাদ বর্তমান সময়ের সামাজিক সংগ্রামের সাথে জড়িত সবার কাছে একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং সফল আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত।
==বহিঃসংযোগ==
{{wikipedia}}
* [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/britanniaanarchy.html 'এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা' (১৯১০)-এ ক্রোপোটকিনের "অ্যানার্কিজম" বিষয়ক ভুক্তি]
* [http://onlinebooks.library.upenn.edu/webbin/book/search?amode=start&author=Kropotkin%2c%20Petr দ্য অনলাইন বুকস পেজ (পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)]
* [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/Kropotkinarchive.html অ্যানার্কিস্ট আর্কাইভে পিটার ক্রোপোটকিন পেজ]
* [http://recollectionbooks.com/bleed/Encyclopedia/KropotkinPeter.htm অ্যানার্কিস্ট এনসাইক্লোপিডিয়াতে ক্রোপোটকিন পেজ]
* [http://libcom.org/library/taxonomy/term/7 লিবার্টারিয়ান কমিউনিস্ট লাইব্রেরিতে ক্রোপোটকিনের লেখাসমূহ]
* [http://www.blackcrayon.com/people/kropotkin/ ব্ল্যাকক্রেয়ন.কম: ব্যক্তি: পিটার ক্রোপোটকিন]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৪২ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২১ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:সামাজিক কর্মী]]
[[বিষয়শ্রেণী:অ্যানার্কো-কমিউনিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্যাসিবাদ বিরোধী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বিপ্লবী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার অভিযাত্রী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার ইতিহাসবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার প্রাণিবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:সম্পাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার স্মৃতিকথা লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার অভিজাত সম্প্রদায়]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার নাস্তিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মস্কোর ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:রুশ কমিউনিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার অরাজকতাবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার লেখক]]
tjy0ynjqp43c0e9qy0hsv8y7kwk057i
83251
83229
2026-05-01T18:35:14Z
SMontaha32
3112
/* ভুলভাবে আরোপিত (Misattributed) */
83251
wikitext
text/x-wiki
[[File:Atelier Nadar - Pierre Kropotkine.jpg|thumb|right|[[All|সবই]] সবার জন্য। সব জিনিসই মানবজাতির জন্য... সব সবার জন্য!]]
[[File:Foucault pendulum in the Franklin Institute.jpg|thumb|right|মানুষের চিন্তার ইতিহাস একটি দোলকের দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই দোলনের এক একটি পর্যায় শেষ হতে কয়েক শতাব্দী লেগে যায়। দীর্ঘ সুপ্তাবস্থার পরেই আসে জাগরণের মুহূর্ত।]]
প্রিন্স '''[[w:পিটর ক্রোপোটকিন|পিটর আলেকসেইভিচ ক্রোপোটকিন]]''' (৯ ডিসেম্বর, ১৮৪২ – ৮ ফেব্রুয়ারি,১৯২১) ছিলেন একজন রুশ ভূগোলবিদ ও প্রাণীবিজ্ঞানী। তিনি রাশিয়ার অন্যতম প্রধান [[অ্যানার্কিস্ট|অ্যানার্কিস্ট]] বা নৈরাজ্যবাদী সামাজিক দার্শনিক ছিলেন। তিনি মূলত [[w:অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম|অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম]] বা নৈরাজ্যবাদী সাম্যবাদের ধারণা প্রচারের জন্য পরিচিত।
== উক্তি ==
* '''মানব চিন্তার ইতিহাস পেন্ডুলামের দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয় যা দুলতে শত শত বছর সময় নেয়। দীর্ঘ তন্দ্রার পর আসে জাগরণের মুহূর্ত।''' তখন চিন্তা নিজেকে সেই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে যা শাসকরা, আইনজীবীরা এবং যাজকরা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তার চারপাশে জড়িয়ে রেখেছিল। <br> সে সেই শৃঙ্খল ভেঙে ফেলে। তাকে যা কিছু শেখানো হয়েছিল সে সবকিছুর কঠোর সমালোচনা করে এবং ধর্মীয়, রাজনৈতিক, আইনি ও সামাজিক কুসংস্কারের অসারতা উন্মোচন করে। '''সে নতুন পথে গবেষণা শুরু করে, নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে এবং নতুন বিজ্ঞান সৃষ্টি করে।''' <br> কিন্তু চিন্তার চিরশত্রুরা সরকার, আইনপ্রণেতা এবং যাজক। শীঘ্রই তাদের পরাজয় কাটিয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে তারা তাদের ছত্রভঙ্গ বাহিনীকে একত্রিত করে এবং নতুন প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বিশ্বাস ও আইনকানুন নতুন করে সাজায়।
** [http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_Archives/kropotkin/AM/anarchist_moralitytc.html 'অ্যানার্কিস্ট মরালিটি'] (১৮৯০)
* আমেরিকাই এমন একটি দেশ যা দেখায় যে স্বাধীনতার জন্য বিশ্বের সমস্ত লিখিত গ্যারান্টিও নিকৃষ্টতম ধরনের স্বৈরাচার এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে কোনো সুরক্ষা নয়। সেখানে রাজনীতিবিদদের সমাজের আবর্জনা হিসেবে দেখা শুরু হয়েছে। বিশ্বের মানুষ গভীরভাবে অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছে এবং সোশ্যাল-ডেমোক্র্যাটদের রাষ্ট্রকে নিপীড়নের একটি নতুন ইঞ্জিনে তালি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তারা শান্ত হচ্ছে না।
** ভাষণ (২৬ সেপ্টেম্বর ১৮৯১)। জর্জ উডকক এবং ইভান অ্যাভাকুমোভিচ রচিত 'পিটার ক্রোপোটকিন: ফ্রম প্রিন্স টু রেবেল' (১৯৯০), পৃষ্ঠা ২৬৯।
* '''অনার্কিজম''' (গ্রিক 'ἅν' এবং 'άρχη' থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ কর্তৃত্বের বিপরীত), '''এমন একটি জীবন ও আচরণের নীতি বা তত্ত্বের নাম যার অধীনে সমাজকে সরকারহীন বলে কল্পনা করা হয়। এই ধরনের সমাজে সামঞ্জস্যতা আইনের কাছে নতি স্বীকার করে বা কোনো কর্তৃত্বের আনুগত্যের মাধ্যমে নয় বরং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও পেশাদার গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পাদিত মুক্ত চুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়। এই গোষ্ঠীগুলো উৎপাদন ও ভোগ এবং একজন সভ্য মানুষের অসীম বৈচিত্র্যময় প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য স্বেচ্ছায় গঠিত হয়।''' এই ধারায় বিকশিত সমাজে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যা ইতিমধ্যেই মানুষের কর্মকাণ্ডের সব ক্ষেত্র দখল করতে শুরু করেছে। আরও বিস্তৃতি লাভ করবে যাতে তারা রাষ্ট্রের সব কার্যাবলীর বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা একটি জালের মতো ছড়িয়ে থাকবে যা উৎপাদন, ভোগ, বিনিময়, যোগাযোগ, স্যানিটেশন, শিক্ষা, পারস্পরিক সুরক্ষা এবং ভূখণ্ড রক্ষার মতো সব সম্ভাব্য উদ্দেশ্যে স্থানীয়, আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র-বৃহৎ নানা দল ও ফেডারেশনের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এছাড়া এটি ক্রমাগত বাড়তে থাকা বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক, সাহিত্যিক এবং সামাজিক চাহিদাগুলোও পূরণ করবে। অধিকন্তু, '''এমন একটি সমাজ কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় হবে না।''' উল্টো যেমনটি জৈব জীবনে দেখা যায়। বহু শক্তি ও প্রভাবের মধ্যে সদা পরিবর্তনশীল ভারসাম্যের ফলেই সামঞ্জস্যতা বজায় থাকবে।
** [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/britanniaanarchy.html এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (১৯১০)-এ ক্রোপোটকিনের "অ্যানার্কিজম" বিষয়ক ভুক্তি]
[[File:Paolo Monti - Servizio fotografico (Napoli, 1969) - BEIC 6353768.jpg|thumb|right|প্রাচীন গ্রিসে অরাজকতাতান্ত্রিক দর্শনের সেরা প্রবক্তা ছিলেন সিটিয়ামের জেনো...]]
* '''প্রাচীন গ্রিসে অরাজকতাতান্ত্রিক দর্শনের সেরা প্রবক্তা ছিলেন সিটিয়ামের জেনো''' (৩৪২-২৬৭ বা ২৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), যিনি স্টোয়িক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি স্পষ্টভাবে প্লেটোর রাষ্ট্র-ইউটোপিয়ার বিপরীতে সরকারহীন একটি মুক্ত সম্প্রদায়ের ধারণা তুলে ধরেন। তিনি রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতা এবং এর হস্তক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ব্যক্তির নৈতিক আইনের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় প্রবৃত্তি মানুষকে স্বার্থপরতার দিকে নিয়ে গেলেও প্রকৃতি এর সংশোধন হিসেবে মানুষের মধ্যে আরেকটি প্রবৃত্তি দিয়েছে আর তা হলো সামাজিকতা। '''মানুষ যখন তাদের প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি অনুসরণ করার মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমান হবে, তখন তারা সীমান্তের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হবে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ড গঠন করবে।''' তাদের আইন-আদালত বা পুলিশের প্রয়োজন হবে না, কোনো মন্দির বা পূজা থাকবে না এবং তারা কোনো অর্থ ব্যবহার করবে না। বিনিময়ের জায়গায় মুক্ত উপহার স্থান করে নেবে।
** এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (১৯১০), 'অ্যানার্কিজম' নিবন্ধ।
[[File:Krapotkin in Haparanda.jpg|thumb|right|সামাজিকতা প্রাকৃতিক সংগ্রামের মতোই প্রকৃতির একটি আইন।]]
* আমরা যখন ল্যাবরেটরি বা মিউজিয়ামে নয়, বরং বনে-জঙ্গলে, সমতলে, স্টেপ অঞ্চলে এবং পাহাড়ে প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করি, তখন আমরা উপলব্ধি করি যে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে যুদ্ধ ও ধ্বংসলীলা চললেও, একই প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থন, পারস্পরিক সাহায্য এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ঠিক ততটাই বা সম্ভবত তার চেয়েও বেশি বিদ্যমান। '''সামাজিকতা প্রাকৃতিক সংগ্রামের মতোই প্রকৃতির একটি আইন।''' ...আমরা যদি প্রকৃতিকে জিজ্ঞাসা করি: "কারা সবচেয়ে উপযুক্ত। যারা একে অপরের সাথে অবিরাম যুদ্ধ করে, নাকি যারা একে অপরকে সমর্থন করে?" '''আমরা তখনই দেখব যে যেসব প্রাণী পারস্পরিক সহযোগিতার অভ্যাস রপ্ত করেছে তারাই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উপযুক্ত।''' তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি এবং তারা তাদের নিজ নিজ শ্রেণীতে সর্বোচ্চ বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক বিকাশ লাভ করে।
** "মিউচুয়াল এইড অ্যাজ আ ফ্যাক্টর ইন ইভোলিউশন" (১৯১৫)।
[[File:Lenin-poster.jpg|thumb|right|ভ্লাদিমির ইলিচ, আপনার বাস্তব কর্মকাণ্ড সেই সব আদর্শের সম্পূর্ণ অযোগ্য যা আপনি ধারণ করেন বলে দাবি করেন।]]
* '''ভ্লাদিমির ইলিচ, আপনার বাস্তব কর্মকাণ্ড সেই সব আদর্শের সম্পূর্ণ অযোগ্য যা আপনি ধারণ করেন বলে দাবি করেন।''' <br> এটা কি সম্ভব যে আপনি জানেন না জিম্মি হওয়া মানে আসলে কী একজন মানুষকে কারারুদ্ধ করা তার কোনো অপরাধের জন্য নয়, বরং তার শত্রুরা যাতে তার সহযোগীদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারে সেই সুবিধার জন্য? ...'''আপনি যদি এই ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করেন, তবে আগে থেকেই বলে দেওয়া যায় যে একদিন আপনি মধ্যযুগের মতো মানুষকে নির্যাতন করবেন।''' <br> আমি আশা করি আপনি আমাকে এই জবাব দেবেন না যে ক্ষমতা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য একটি পেশাগত দায়িত্ব এবং সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে যেকোনো মূল্যে তা রক্ষা করতে হবে। এমনকি রাজারাও এখন আর এই মত পোষণ করেন না... আপনি কি নিজের স্বৈরাচারী ধ্যান-ধারণায় এতটাই অন্ধ যে বুঝতে পারছেন না ইউরোপীয় কমিউনিজমের প্রধান হয়ে লজ্জাজনক পদ্ধতির মাধ্যমে আপনার আদর্শকে কলঙ্কিত করার কোনো অধিকার আপনার নেই?
** ভ্লাদিমির লেনিনের প্রতি চিঠি (২১ ডিসেম্বর ১৯২০)।
* '''আপনি জানেন আমি সবসময় ভবিষ্যতে বিশ্বাস করি... বিশৃঙ্খলা ছাড়া বিপ্লব অসম্ভব; তা জেনেও আমি আশা হারাইনি এবং এখনও হারাই না।'''
** এক বন্ধুর কাছে চিঠি (নভেম্বর ১৯২০)। উডকক ও অ্যাভাকুমোভিচ, পৃষ্ঠা ৪২৮।
* লেনিন ইতিহাসের কোনো বিপ্লবী চরিত্রের সাথেই তুলনীয় নন। বিপ্লবীদের আদর্শ ছিল। লেনিনের কোনো আদর্শ নেই। তিনি একজন উন্মাদ, একজন বিনাশকারী, যিনি কেবল দহন, হত্যাকাণ্ড এবং উৎসর্গ করতে আগ্রহী।
** উডকক ও অ্যাভাকুমোভিচ (১৯৯০), পৃষ্ঠা ৪০৭।
* '''বর্তমানে যা ঘটছে তার অনেক কিছুর প্রতিই আমার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং আমি সরকারের যারা প্রধান তাদের সরাসরি ও স্পষ্টভাবে তা বলেছি।''' তারা আমার সাথে ভালো আচরণ করেন এবং আমার অনুরোধ করা অনেক কিছু কার্যকর করা হয়েছে। তারা এমনকি আমাকে তাদের সাথে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি। একজন অরাজকতাবাদী হিসেবে আমি কোনো সরকারের সাথে আপস করতে পারি না।
** বলশেভিক বিপ্লব সম্পর্কে। উডকক ও অ্যাভাকুমোভিচ (১৯৯০), পৃষ্ঠা ৪২৮।
* '''আইন হলো প্রথার এক চতুর মিশ্রণ। যার কিছু অংশ সমাজের জন্য উপকারী যা কোনো আইন না থাকলেও মেনে চলা হতো, আর বাকি অংশ শাসক সংখ্যালঘুর সুবিধার্থে তৈরি যা সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর এবং কেবল ত্রাসের মাধ্যমেই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব।'''
** 'ওয়ার্ডস অব আ রেবেল'। চার্লস বুফে রচিত 'দ্য হেরেটিকস হ্যান্ডবুক অব কোটেশনস' (১৯৯২), পৃষ্ঠা ২৬।
* আইন মানুষের শ্রদ্ধার দাবিদার নয়। এর কোনো সভ্য করার লক্ষ্য নেই। এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো শোষণকে রক্ষা করা।
** 'ওয়ার্ডস অব আ রেবেল'। পৃষ্ঠা ২৬।
=== 'অ্যান আপিল টু দ্য ইয়াং' (১৮৮০) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/ANARCHIST_ARCHIVES/kropotkin/appealtoyoung.html পূর্ণাঙ্গ টেক্সট অনলাইন]</small>
* '''মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে বিজ্ঞান সঠিক প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরার পর এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু কতজন সেগুলো আয়ত্ত করতে পেরেছে বা কতজনের মধ্যে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক সমালোচনামূলক চেতনা রয়েছে?''' বড়জোর কয়েক হাজার মানুষ, যারা এখনও লক্ষ লক্ষ কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের ভিড়ে হারিয়ে আছে। যে মানুষগুলো বন্যদের মতো অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে বসে আছে এবং পরিণামে ধর্মীয় ভণ্ডদের হাতের পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
* অথবা, আরেকটু এগিয়ে আমরা যদি দেখি বিজ্ঞান শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যৌক্তিক ভিত্তি স্থাপনের জন্য কী করেছে। বিজ্ঞান আমাদের বলে যে আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য কীভাবে বাঁচা উচিত, জনবহুল জনপদগুলোকে কীভাবে বাসযোগ্য রাখা উচিত। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের এত বিশাল কাজ কি আমাদের বইয়ের পাতায় মৃত অক্ষর হয়ে পড়ে নেই? আমরা জানি যে তা-ই আছে। আর কেন? কারণ বিজ্ঞান আজ কেবল একদল সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের জন্য টিকে আছে। কারণ সামাজিক অসমতা সমাজকে দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করে ফেলেছে। মজুরি-দাস এবং পুঁজি দখলকারী। এই অসমতা মানবজাতির নয়-দশমাংশের কাছে বিজ্ঞানের যৌক্তিক অস্তিত্বের সব শিক্ষাকে এক তিক্ত পরিহাসে পরিণত করেছে।
* আপনাকে যা শেখানো হয়েছে তা কেবল পুনরাবৃত্তি না করে যদি আপনি যুক্তি দিয়ে ভাবেন। আপনি যদি আইনকে বিশ্লেষণ করেন এবং সেই সব ধোঁয়াটে কাল্পনিক আবরণ সরিয়ে দেন যা দিয়ে এর প্রকৃত উৎসকে ঢেকে রাখা হয়েছে। তবে দেখবেন এর উৎস হলো 'শক্তিশালীরাই সঠিক'। এর মূল সত্তা হলো সেই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের সমস্ত স্বৈরাচারের পবিত্র রূপায়ন। আপনি যখন এটি বুঝতে পারবেন, তখন আইনের প্রতি আপনার ঘৃণা সত্যিই গভীর হবে। '''আপনি বুঝতে পারবেন যে লিখিত আইনের দাস হয়ে থাকা মানে প্রতিদিন আপনার বিবেকের আইনের বিরোধিতা করা এবং ভুল পক্ষ বেছে নেওয়া। আর যেহেতু এই সংগ্রাম চিরকাল চলতে পারে না, তাই হয় আপনি আপনার বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়ে একজন বদমাশে পরিণত হবেন, অথবা আপনি ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন এবং সমস্ত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবিচারের সমূলে বিনাশের জন্য আমাদের সাথে কাজ করবেন।'''
* আর হে তরুণ প্রকৌশলী, আপনি যিনি শিল্পক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন। আপনার জন্য কতই না করুণ হতাশা আর ভয়াবহ মোহভঙ্গ অপেক্ষা করছে! আপনি আপনার মনের সমস্ত শক্তি ঢেলে দিয়ে পাহাড়ের বুক চিরে এক দেশ থেকে অন্য দেশে রেললাইন স্থাপনের পরিকল্পনা তৈরি করেন। কিন্তু যখন কাজ শুরু হয়, আপনি দেখেন অন্ধকার সুড়ঙ্গে অনাহার আর অসুস্থতায় শ্রমিকদের পুরো দল শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনি দেখেন অন্যরা বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে পকেটে সামান্য কয়েক পয়সা আর যক্ষ্মার বীজ নিয়ে। আপনি দেখেন আপনার প্রতিটি গজ রাস্তার পাশে লোভের বলি হওয়া মানুষের লাশ পড়ে আছে এবং যখন রেলপথটি শেষ হয়, পরিশেষে আপনি দেখেন এটি কোনো আক্রমণকারী সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ বাহিনীর যাতায়াতের মহাসড়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে...
* '''যখন আমাদের এটি করার ইচ্ছা জাগ্রত হবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে: সেই মুহূর্তেই পৃথিবীর স্বৈরাচারীরা ধূলিসাৎ হবে।'''
=== 'দ্য স্পিরিট অব রিভোল্ট' (১৮৮০) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/spiritofrevolt.html পূর্ণাঙ্গ টেক্সট অনলাইন]</small>
[[File:Kropotkin young.gif|thumb|right|দেখা যায় যে মানব সমাজ ক্রমশ দুটি শত্রু শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং একই সাথে হাজার হাজার ছোট ছোট গ্রুপে উপবিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্দয় যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে। এই যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট দুর্দশায় ক্লান্ত হয়ে সমাজ একটি নতুন সংগঠনের সন্ধান করছে...]]
* '''মানব সমাজের জীবনে এমন কিছু সময় আসে যখন বিপ্লব এক অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়ায়, যখন এটি নিজেকে অনিবার্য হিসেবে ঘোষণা করে।''' সবখানে নতুন নতুন চিন্তার জন্ম হয়, যা আলোর পথে বেরিয়ে আসতে চায় এবং জীবনে প্রয়োগের পথ খোঁজে। কিন্তু সবখানেই তারা সেই স্বার্থান্বেষী মহলের বাধার সম্মুখীন হয় যারা পুরনো ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায়। প্রচলিত সংস্কার আর ঐতিহ্যের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে সেই চিন্তাগুলো দমবন্ধ হয়ে আসে।
* '''একটি নতুন জীবনের প্রয়োজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতার যে নিয়মগুলো দৈনন্দিন জীবনে বেশিরভাগ মানুষকে পরিচালিত করে, তা আর যথেষ্ট মনে হয় না।''' আগে যা ন্যায়সঙ্গত মনে হতো, এখন তা চরম অবিচার হিসেবে অনুভূত হয়। গতকালের নৈতিকতা আজ জঘন্য অনৈতিকতা হিসেবে স্বীকৃত হয়। নতুন চিন্তা আর পুরনো ঐতিহ্যের এই দ্বন্দ্ব সমাজের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি পরিবেশে, এমনকি পরিবারের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে। ...যারা ন্যায়ের জয় দেখতে চান, যারা নতুন চিন্তাগুলোকে কাজে লাগাতে চান, তারা শীঘ্রই উপলব্ধি করেন যে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এই উদার ও মানবিক চিন্তাগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা একটি বিপ্লবী ঝড়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যা এই সমস্ত পচা-গলা আবর্জনা ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে, অলস হৃদয়ে প্রাণের স্পন্দন জাগাবে এবং মানবজাতির মধ্যে সেই উৎসর্গ ও বীরত্বের চেতনা ফিরিয়ে আনবে। যা ছাড়া সমাজ অধঃপতনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পথে তলিয়ে যায়।
* সম্পদের জন্য উন্মাদনা, তীব্র জল্পনা-কল্পনা এবং সংকটের সময়ে বড় বড় শিল্পের পতন ঘটে। কয়েক বছরে গড়ে ওঠা কলঙ্কিত সম্পদ তত দ্রুতই মিলিয়ে যায়। তখন এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, উৎপাদন ও বিনিময় নিয়ন্ত্রণকারী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজকে সেই সমৃদ্ধি দিতে পারছে না যার গ্যারান্টি দেওয়ার কথা ছিল। বরং তারা ঠিক উল্টো ফল দিচ্ছে। ...'''দেখা যায় যে মানব সমাজ ক্রমশ দুটি শত্রু শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং একই সাথে হাজার হাজার ছোট ছোট গ্রুপে উপবিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্দয় যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে। এই যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট দুর্দশায় ক্লান্ত হয়ে সমাজ একটি নতুন সংগঠনের সন্ধান করছে'''। এটি মালিকানা ব্যবস্থা, উৎপাদন, বিনিময় এবং এর থেকে উদ্ভূত সমস্ত অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের জন্য চিৎকার করছে।
* গতকাল পর্যন্ত যারা নিজেদের ভাগ্য নিয়ে পাইপ ফুঁকতে ফুঁকতে নিঃশব্দে অভিযোগ করত এবং পরের মুহূর্তেই স্থানীয় পাহারাদার বা পুলিশকে বিনীতভাবে স্যালুট দিত। সেই একই মানুষ কীভাবে কয়েক দিন পরে কাস্তে আর বল্লম নিয়ে তাদের সেই প্রভুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যাকে গতকালও তারা প্রচণ্ড ভয় পেত? কোন জাদুমন্ত্রে এই মানুষগুলো যাদের স্ত্রীরা তাদের ভীরু বলত এক দিনেই বীরের মতো কামানের গোলার সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে এগিয়ে যায়? '''কীভাবে সেই কথাগুলো, যা প্রায়ই বলা হতো এবং ঘণ্টার ধ্বনির মতো বাতাসে মিলিয়ে যেত, তা হঠাৎ করে বাস্তবে পরিণত হলো? <br> উত্তরটি সহজ। <br> সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর কাজ, নিরবচ্ছিন্ন এবং বিরামহীন কাজ এই রূপান্তর নিয়ে আসে।''' সাহস, উৎসর্গ এবং আত্মত্যাগের চেতনা ভীরুতা বা আতঙ্কের মতোই ছোঁয়াচে। <br> '''এই কাজের ধরণ কেমন হবে? এটি সব ধরণের হতে পারে। পরিস্থিতি ও মেজাজ অনুযায়ী অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।''' কখনও করুণ, কখনও হাস্যকর, কিন্তু সবসময় সাহসী; কখনও সমষ্টিগত আবার কখনও ব্যক্তিগত। এই কর্মপন্থা হাতের কাছের কোনো উপায় বা জনজীবনের কোনো ঘটনাকেই উপেক্ষা করবে না। যাতে অসন্তোষ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, শোষকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা জাগানো যায়, সরকারকে উপহাস করে তার দুর্বলতা প্রকাশ করা যায় এবং সর্বোপরি প্রকৃত উদাহরণের মাধ্যমে সাহস জাগ্রত করে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে রাখা যায়।
* সাহসী মানুষ যারা কেবল কথায় সন্তুষ্ট নন বরং সবসময় কথাকে কাজে রূপান্তরের উপায় খোঁজেন। সততা যাদের কাছে চিন্তা ও কাজের অভিন্ন রূপ। যাদের কাছে নিজ আদর্শের পরিপন্থী জীবন যাপনের চেয়ে জেল, নির্বাসন আর মৃত্যু শ্রেয়। সেই নির্ভীক আত্মাই হলো সেই একাকী প্রহরী যারা জনতার জেগে ওঠার অনেক আগেই যুদ্ধের ময়দানে প্রবেশ করে।
* '''ইতিহাস সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান আর পরিষ্কার মস্তিষ্ক যাদের আছে তারা শুরু থেকেই ভালো করে জানেন যে, তাত্ত্বিকরা কাজের সময় নির্ধারণ করার অনেক আগেই বিপ্লবের তাত্ত্বিক প্রচারণা অনিবার্যভাবে কাজে রূপ নেবে।''' তা সত্ত্বেও সতর্ক তাত্ত্বিকরা এই 'পাগলদের' ওপর রেগে যান, তাদের সমাজচ্যুত করেন এবং অভিশাপ দেন। কিন্তু সেই পাগলরা মানুষের সহানুভূতি জয় করে, সাধারণ মানুষ গোপনে তাদের সাহসকে তালি দেয় এবং তাদের অনুকরণকারী তৈরি হয়। অগ্রগামীরা যত বেশি জেল আর বন্দিশিবির পূর্ণ করতে থাকে, অন্যরা তাদের কাজ চালিয়ে যায়। বেআইনি প্রতিবাদ, বিদ্রোহ এবং প্রতিশোধের ঘটনা বাড়তে থাকে। <br> '''এই পর্যায় থেকে উদাসীন থাকা অসম্ভব।''' যারা শুরুতে 'পাগলরা' কী চায় তা জিজ্ঞাসাও করত না, তারাও এখন তাদের নিয়ে ভাবতে, তাদের আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করতে এবং পক্ষ বা বিপক্ষ নিতে বাধ্য হয়। '''এমন সব কর্মকাণ্ড যা সাধারণ মানুষের মনোযোগ কাড়তে বাধ্য করে, তার মাধ্যমেই নতুন চিন্তা মানুষের মনে গেঁথে যায় এবং অনুসারী তৈরি করে। কয়েক দিনের এমন একটি কাজ হাজার হাজার পুস্তিকার চেয়েও বেশি প্রচার চালাতে পারে। <br> সর্বোপরি, এটি বিদ্রোহের চেতনা জাগিয়ে তোলে: এটি সাহস জোগায়।''' পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট আর সৈন্যদের দ্বারা সমর্থিত পুরনো ব্যবস্থাটি বাস্তিল দুর্গের মতো অজেয় মনে হতো, কিন্তু শীঘ্রই স্পষ্ট হয়ে যায় যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার সেই শক্তি নেই যা মানুষ ধারণা করেছিল।
* '''একটি সাহসী কাজ কয়েক দিনেই পুরো সরকারি কলকব্জা উল্টে দেওয়ার জন্য এবং দানবকে কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।''' আরেকটি বিদ্রোহ পুরো প্রদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং সেনাবাহিনী।যারা এখন পর্যন্ত অজেয় মনে হতো লাঠি ও পাথর হাতে একদল কৃষকের সামনে পিছু হটে। মানুষ বুঝতে পারে যে দানবটি আসলে তারা যতটা ভেবেছিল ততটা ভয়ানক নয়। '''তাদের হৃদয়ে আশা জন্ম নেয়। আর মনে রাখবেন যে যদি ক্ষোভ মানুষকে প্রায়ই বিদ্রোহের দিকে ঠেলে দেয়, তবে জয়ী হওয়ার আশাই মূলত বিপ্লব ঘটায়।''' <br> সরকার প্রতিরোধ করে। সে নিষ্ঠুরভাবে দমনপীড়ন চালায়। আগে নিপীড়ন শোষিতদের শক্তি নষ্ট করলেও উত্তেজনার এই সময়ে তা উল্টো ফল দেয়। '''এটি ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত নতুন নতুন বিদ্রোহের উসকানি দেয়, বিদ্রোহীদের বীরত্বে উদ্বুদ্ধ করে; এবং দ্রুত এই কাজগুলো ছড়িয়ে পড়ে ও সাধারণ রূপ নেয়। বিপ্লবী দল সেই সব উপাদানের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় যারা এখন পর্যন্ত এর বিরোধী বা উদাসীন ছিল।'''
* '''বিপ্লব কোন দিকে যাবে তা নিঃসন্দেহে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।''' কিন্তু বিপ্লবের দিন সেই দলের কথাই মানুষ শুনবে যারা প্রস্তুতি পর্বে সবচেয়ে বেশি বিপ্লবী প্রচারণা চালিয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি সাহস ও উদ্দীপনা দেখিয়েছে।
* '''যদি বিপ্লবের পরদিন সাধারণ মানুষের হাতে কেবল বুলি ছাড়া আর কিছু না থাকে, যদি তারা স্পষ্ট ও জাজ্বল্যমান তথ্যের মাধ্যমে বুঝতে না পারে যে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে এই উচ্ছেদ কেবল ব্যক্তি বা শ্লোগানের পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই হবে না।''' ...বিপ্লবকে কেবল একটি কথার চেয়ে বেশি কিছু হতে হলে, জয়কে রক্ষা করার মতো মূল্যবান হতে হবে। গতকালের দরিদ্ররা যেন আজকের দিনেই দরিদ্র না থাকে।
** জর্জ উডকক রচিত 'অ্যানার্কিজম: আ হিস্ট্রি অব লিবার্টারিয়ান আইডিয়াস অ্যান্ড মুভমেন্টস' (২০০৪) উদ্ধৃত।
=== 'ল অ্যান্ড অথরিটি' (১৮৮৬) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_Archives/kropotkin/revpamphlets/lawandauthority.htm 'ল অ্যান্ড অথরিটি' (১৮৮৬)]; রজার এন. বল্ডউইন সম্পাদিত 'ক্রোপোটকিনস রেভোলিউশনারি প্যাম্পলেটস' (১৯২৭)-এ অনূদিত।</small>
* '''বর্তমান রাষ্ট্রগুলোতে একটি নতুন আইনকে মন্দের প্রতিকার হিসেবে দেখা হয়। মন্দকে নিজেরা পরিবর্তন করার পরিবর্তে মানুষ তা পরিবর্তনের জন্য আইনের দাবি জানাতে শুরু করে। ...সংক্ষেপে বলতে গেলে, সবখানে এবং সবকিছুর জন্যই আইন!''' ফ্যাশন নিয়ে আইন, পাগল কুকুর নিয়ে আইন, সদ্গুণ নিয়ে আইন, মানুষের অলসতা আর ভীরুতা থেকে উদ্ভূত সমস্ত পাপ আর মন্দকে থামানোর জন্য আইন। <br> আমরা এমন এক শিক্ষার দ্বারা কলুষিত যা শৈশব থেকেই আমাদের ভেতরের বিদ্রোহের চেতনাকে হত্যা করে এবং কর্তৃত্বের প্রতি আনুগত্যের বিকাশ ঘটাতে চায়। আমাদের জন্ম, শিক্ষা, বিকাশ, প্রেম, বন্ধুত্ব জীবনের প্রতিটি ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণকারী আইনের জোয়ালের নিচে থাকতে থাকতে আমরা এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, এই অবস্থা চলতে থাকলে আমরা আমাদের সমস্ত উদ্যোগ এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবো। '''আমাদের সমাজ এখন আর এটা বুঝতে পারে না যে, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার কর্তৃক প্রণীত এবং একমুঠো শাসকের দ্বারা পরিচালিত আইনের শাসন ছাড়াও অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব।''' এমনকি যখনই সমাজ এই দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছে, তার প্রথম কাজই হয়েছে আবার সেই শৃঙ্খল পুনর্গঠন করা। "স্বাধীনতার প্রথম বছর" কখনও এক দিনের বেশি স্থায়ী হয়নি, কারণ এটি ঘোষণার পরদিন সকালেই মানুষ আবার আইন ও কর্তৃত্বের জোয়ালে নিজেদের মাথা সঁপে দিয়েছে।
** ১
* আইনের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করার জন্য শিশুদের ওপর কৃত্রিম বিজ্ঞানের চতুর টুকরোগুলো চাপিয়ে দেওয়া হয়। আইনের প্রতি আনুগত্যকে একটি ধর্মে পরিণত করা হয়। নৈতিক মহত্ত্ব এবং প্রভুর আইনকে একই দেবতার সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়। পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক নায়ক হলো সেই ব্যক্তি যে আইন মেনে চলে এবং বিদ্রোহীদের হাত থেকে তা রক্ষা করে।
** ১
* '''আচরণবিধির সেই বিভ্রান্তিকর নিয়মাবলি যাকে আমরা আইন বলি যা দাসত্ব, সার্ফ প্রথা, সামন্তবাদ এবং রাজতন্ত্র থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি—তা সেই সব পাথরের দানবদের জায়গা দখল করেছে যাদের সামনে একসময় মানুষের বলি দেওয়া হতো। প্রাচীন দাসেরা এমনকি বজ্রপাতের ভয়ে সেই সব দানবদের স্পর্শ করার সাহসও করত না।'''
** ১
* '''মানুষ যারা স্বাধীনতা চায়, তারা তা পাওয়ার চেষ্টা শুরু করে তাদের প্রভুদের কাছে এই অনুরোধ করে যে—প্রভুরা নিজেরা যে আইন তৈরি করেছেন তা সংশোধন করে যেন দয়া করে তাদের রক্ষা করেন! <br> কিন্তু সময় এবং মেজাজ এখন বদলে গেছে।''' সবখানেই এখন এমন বিদ্রোহী খুঁজে পাওয়া যায় যারা আর অন্ধভাবে আইন মানতে চায় না। তারা জানতে চায় আইনের উৎস কী, এর উপযোগিতা কী এবং কেন তারা এটি মানতে বাধ্য। আজকের দিনের বিদ্রোহীরা সমাজের সেই ভিত্তিগুলোকেই ব্যবচ্ছেদ করছে যা এতদিন পবিত্র বলে গণ্য হতো; আর সেই সবকিছুর মধ্যে প্রধান হলো এই 'আইন' নামক কুসংস্কার। <br> সমালোচকরা আইনের উৎস বিশ্লেষণ করে সেখানে হয় একজন ঈশ্বরের সন্ধান পান (যা আদিম মানুষের আতঙ্কের ফসল), অথবা রক্তপাত আর অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়। '''তারা আইনের বৈশিষ্ট্যগুলো অধ্যয়ন করেন এবং মানবজাতির ক্রমবিকাশের সমান্তরালে এর কোনো বিকাশ খুঁজে পাওয়ার বদলে এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে পান নিশ্চলতা; যা প্রতিদিন পরিবর্তিত ও বিকশিত হওয়া উচিত ছিল, তাকে এটি পাথরে পরিণত করতে চায়।'''
** ১
* '''তারা দেখতে পায় একদল আইনপ্রণেতা আইন তৈরি করছেন অথচ তারা নিজেরাই জানেন না সেই আইনের বিষয়বস্তু কী।''' আজ তারা শহরের স্যানিটেশন নিয়ে আইন পাস করছেন অথচ স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তাদের নূন্যতম ধারণা নেই। কাল তারা সেনাবাহিনীর সাজসরঞ্জাম নিয়ে নিয়ম তৈরি করছেন অথচ একটি বন্দুকের কার্যপ্রণালীও বোঝেন না। তারা শিক্ষা ও পাঠদান নিয়ে আইন তৈরি করছেন অথচ নিজেরা কখনও কোনো শিক্ষা দেননি বা নিজেদের সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে পারেননি। তারা সব দিকে লক্ষ্যহীনভাবে আইন তৈরি করেন, কিন্তু ভবঘুরেদের শাস্তি দিতে বা কারাগারে পাঠাতে কখনও ভুল করেন না অথচ তারা নিজেরা সেই সব কয়েদিদের চেয়ে হাজার গুণ বেশি অনৈতিক।
** ১
* '''এই সব আমরা দেখছি, এবং তাই "আইনকে শ্রদ্ধা করো" এই পুরনো ফর্মুলা পুনরাবৃত্তি করার পরিবর্তে আমরা বলি, "আইন এবং এর সমস্ত অনুষঙ্গকে ঘৃণা করো!"''' "আইন মেনে চলো" এই ভীরু বাক্যের পরিবর্তে আমাদের চিৎকার হলো, "সমস্ত আইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করো!"
** ১
* '''আপেক্ষিকভাবে বলতে গেলে, আইন আধুনিক সময়ের সৃষ্টি।''' যুগে যুগে মানুষ কোনো লিখিত আইন ছাড়াই বেঁচে ছিল। সেই সময়ে মানুষের সম্পর্কগুলো কেবল প্রথা, অভ্যাস আর ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো, যা বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে পবিত্র হয়ে উঠেছিল। শৈশব থেকেই মানুষ এগুলো শিখত, ঠিক যেমন করে সে শিকার বা কৃষিকাজ শিখত। <br> '''সমস্ত মানব সমাজ এই আদিম পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গেছে এবং আজ পর্যন্ত মানবজাতির এক বিশাল অংশের কোনো লিখিত আইন নেই।''' প্রতিটি উপজাতির নিজস্ব রীতি ও প্রথা আছে; যেটাকে আইনবিদরা 'প্রথাগত আইন' বলেন। এটিই গ্রামের বাসিন্দা বা উপজাতির সদস্যদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট। '''এমনকি আমাদের মতো "সভ্য" জাতিগুলোর মধ্যেও যখন আমরা বড় শহর ছেড়ে গ্রামে যাই দেখি যে সেখানে বাসিন্দাদের পারস্পরিক সম্পর্কগুলো এখনও আইনপ্রণেতাদের লিখিত আইনের বদলে প্রাচীন ও সর্বজনগৃহীত প্রথার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়।'''
** ২
* '''যেহেতু মানুষ একাকী বাস করে না, তাই তার মধ্যে এমন কিছু অভ্যাস ও অনুভূতি গড়ে ওঠে যা সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য দরকারী। সামাজিক অনুভূতি আর প্রথা ছাড়া একসাথে বসবাস করা অসম্ভব হতো। আইন এগুলো প্রতিষ্ঠা করেনি। এগুলো সব আইনের আগে থেকেই ছিল।''' এমনকি ধর্মও এগুলো নির্ধারণ করে দেয়নি; এগুলো সব ধর্মের আগে থেকেই বিদ্যমান। সমাজবদ্ধ সব প্রাণীর মধ্যেই এটি দেখা যায়। এগুলো বিবর্তনের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকশিত হয়েছে যা সমাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয়।
** ২
* '''আদিম মানুষের আতিথেয়তা, জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক বাধ্যবাধকতা, দুর্বলের প্রতি করুণা, বীরত্ব, এমনকি অন্যের জন্য আত্মত্যাগ। এই সমস্ত গুণাবলী সব আইনের আগে থেকেই মানুষের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল।''' এগুলো সামাজিক জীবনের অনিবার্য ফল। পাতি-পুরোহিত বা অধিবিদ্যক পণ্ডিতরা যা বলেন এগুলো মানুষের ভেতরে জন্মগতভাবে থাকা কিছু নয় বরং একসাথে বসবাসের ফলে অর্জিত গুণ। <br> '''কিন্তু সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় এই সব প্রথার পাশাপাশি মানুষের সাহচর্যে অন্যান্য লালসা, আবেগ এবং নতুন কিছু অভ্যাসেরও জন্ম হয়েছে।''' অন্যকে শাসন করার এবং নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রতিবেশী উপজাতির শ্রমের ফসল কেড়ে নেওয়ার ইচ্ছা। নিজে কিছু উৎপাদন না করেই দাসদের মাধ্যমে বিলাসিতা ভোগ করার ইচ্ছা—'''এই স্বার্থপর আর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাগুলো প্রথা ও অভ্যাসের আরেকটি ধারার জন্ম দিয়েছে।'''
** ২
* '''আইনপ্রণেতারা একটি কোডের (আইনগ্রন্থ) মধ্যে এই দুই বিপরীত ধারার প্রথাকে গুলিয়ে ফেলেছেন। একদিকে আছে নৈতিকতা আর সামাজিক মিলনের নীতি, অন্যদিকে আছে সেই সব আদেশ যা মূলত বৈষম্যকে স্থায়ী করার জন্য তৈরি। <br> সমাজের জন্য অপরিহার্য প্রথাগুলোকে খুব চতুরতার সাথে শাসক শ্রেণির চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে উভয়ের জন্যই সমান শ্রদ্ধা দাবি করা হয়েছে।''' আইন বলে, "হত্যা করো না," আর পরক্ষণেই যোগ করে, "এবং যাজককে কর দাও।" আইন বলে, "চুরি করো না," আর ঠিক তারপরেই বলে, "যে কর দিতে অস্বীকার করবে তার হাত কেটে ফেলা হবে।" <br> '''আইন ছিল এমনই; এবং আজ পর্যন্ত এটি তার এই দ্বিমুখী চরিত্র বজায় রেখেছে।''' এর উৎস হলো শাসক শ্রেণির নিজের সুবিধার জন্য তাদের চাপিয়ে দেওয়া প্রথাগুলোকে স্থায়ী করার ইচ্ছা। '''এর বৈশিষ্ট্য হলো সমাজের জন্য দরকারী প্রথাগুলো (যা মানার জন্য কোনো আইনের প্রয়োজন নেই) খুব সুনিপুণভাবে শাসক শ্রেণির জন্য সুবিধাজনক আর জনগণের জন্য ক্ষতিকর প্রথাগুলোর সাথে মিশিয়ে দেওয়া, যা কেবল শাস্তির ভয়ে মানুষ পালন করে।'''
** ২
* '''আইনের তদন্তে দেখা যায় যে মানুষের জন্য তৈরি লক্ষ লক্ষ আইন প্রধানত তিনটি বিভাগে বিভক্ত: সম্পত্তির সুরক্ষা, ব্যক্তির সুরক্ষা এবং সরকারের সুরক্ষা।''' আর এই তিনটি বিভাগ বিশ্লেষণ করলে আমরা একই যৌক্তিক এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছাই: আইনের অসারতা এবং এর ক্ষতিকর দিক।
** ৪
=== 'অ্যানার্কিজম: ইটস ফিলোসফি অ্যান্ড আইডিয়াল' (১৮৯৬) ===
:<small>১৮৯৬ সালের মার্চের জন্য প্রস্তুতকৃত একটি বক্তৃতা যা ক্রোপোটকিনকে প্রদান করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/philandideal.html 'অ্যানার্কিজম: ইটস ফিলোসফি অ্যান্ড আইডিয়াল'] (১৮৯৮ সংস্করণ)।</small>
[[File:Milky Way from Flickr.jpg|thumb|right|বিগত শতাব্দীর বা আমাদের শতাব্দীর শুরুর দিকের জ্যোতির্বিজ্ঞানের যেকোনো বই খুলে দেখুন। সেখানে আমাদের এই ছোট্ট গ্রহটিকে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে আর খুঁজে পাবেন না।]]
* '''আমি কিছুটা দ্বিধা নিয়েই এই বক্তৃতার বিষয়বস্তু হিসেবে অরাজকতাবাদের দর্শন ও আদর্শকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।''' <br>যারা বিশ্বাস করেন যে অরাজকতাবাদ হলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত কিছু অলীক কল্পনার সমষ্টি এবং বর্তমান সভ্যতা ধ্বংস করার একটি অচেতন প্রচেষ্টা, তাদের সংখ্যা এখনও অনেক এবং আমাদের শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত এই ধরণের কুসংস্কার দূর করতে হলে আমাদের এমন অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রবেশ করতে হবে যা একটি মাত্র বক্তৃতায় তুলে ধরা কঠিন। '''মাত্র দুই বা তিন বছর আগেও কি প্যারিসের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেনি যে, অরাজকতাবাদের পুরো দর্শন কেবল ধ্বংসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং এর একমাত্র যুক্তি হলো সহিংসতা?''' <br>তা সত্ত্বেও ইদানীং অরাজকতাবাদীদের নিয়ে এত বেশি আলোচনা হয়েছে যে, জনসাধারণের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত আমাদের মতবাদ পড়তে ও আলোচনা করতে শুরু করেছে। '''এখন অন্তত একটি বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে: অরাজকতাবাদীদের একটি আদর্শ আছে। এমনকি তাদের সেই আদর্শকে অত্যন্ত সুন্দর ও উন্নত বলে মনে করা হয়। যা এমন এক সমাজের জন্য উপযোগী যা শ্রেষ্ঠ মানবদের নিয়ে গঠিত নয়।'''
* জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন সূর্যের চেয়েও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বস্তুকণা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন যা মহাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে। তারা আবিষ্কার করেছেন যে গ্রহান্তরের মহাশূন্য এমন সব বস্তুকণা বা ধূলিকণা দ্বারা পূর্ণ যা এককভাবে অদৃশ্য ও অসীম ক্ষুদ্র কিন্তু সংখ্যার বিচারে তারা সর্বশক্তিমান।
* '''এই নতুন ধারণার সাথে মহাবিশ্বের পুরো দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যায়।''' বিশ্বকে শাসনকারী কোনো একক শক্তি, পূর্ব-প্রতিষ্ঠিত আইন বা পূর্ব-কল্পিত সামঞ্জস্যের ধারণা বিলুপ্ত হয়ে সেখানে এমন এক সামঞ্জস্যের জায়গা তৈরি হয় যা অসংখ্য বস্তুকণার বিশৃঙ্খল ও অসংলগ্ন চলাচলের ফল। যেখানে প্রতিটি কণা তার নিজের পথে চলে এবং সবাই মিলে একে অপরকে ভারসাম্যে রাখে।
* '''যখন একজন ফিজিওলজিস্ট (শারীরবৃত্তবিদ) এখন কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর জীবন নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি সেটিকে একটি অবিভাজ্য সত্তার চেয়ে লক্ষ লক্ষ পৃথক কোষ বা অণুজীবের একটি উপনিবেশ বা মিলনমেলা হিসেবে দেখেন।''' তিনি পাচনতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র বা ইন্দ্রিয়গত অঙ্গগুলোর একটি ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কথা বলেন, যেখানে সবাই একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। প্রতিটি অঙ্গ আবার স্বাধীন কোষ দ্বারা গঠিত। '''ব্যক্তি নিজে আসলে ফেডারেশনের একটি জগত, তার নিজের ভেতরেই একটি পুরো মহাবিশ্ব।'''
* প্রতিটি ব্যক্তি হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের একটি জগত, প্রতিটি অঙ্গ কোষের একটি জগত, প্রতিটি কোষ আবার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুর জগত এবং এই জটিল জগতে পুরো দেহের ভালো থাকা নির্ভর করে ক্ষুদ্রতম আণুবীক্ষণিক কণাগুলোর সুস্থতার সমষ্টির ওপর। জীবনের দর্শনে এভাবেই একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব সাধিত হয়।
* '''সামঞ্জস্যতা বা সাম্য তাই একটি সাময়িক সমন্বয় হিসেবে আবির্ভূত হয় যা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ক্রিয়াশীল সমস্ত শক্তির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর সেই সমন্বয় কেবল একটি শর্তেই টিকে থাকবে: যদি তা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হতে পারে।''' যদি এই শক্তিগুলোর কোনো একটিকে বাধা দেওয়া হয়, তবে সেই সামঞ্জস্য অদৃশ্য হয়ে যায়। সেই শক্তি তার প্রভাব জমা করতে থাকবে এবং একসময় বর্তমান অবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়ে ধ্বংসের মাধ্যমে নতুন এক ভারসাম্যের রূপ খুঁজে নেবে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও ঠিক এমন। যা ভেতরে জমা হওয়া গ্যাসের চাপে জমাট বাঁধা লাভাকে ভেঙে বেরিয়ে আসে। '''মানবজাতির বিপ্লবগুলোও ঠিক তেমনই।'''
[[File:A monument of working class.JPG|thumb|right|এটি এমনকি সংগ্রাম ও বিবাদের আহ্বান জানায়। কারণ আমরা জানি যে সেই সব বিবাদের সময়গুলোতেই মানুষের প্রতিভা সবচেয়ে উঁচুতে উড়তে পেরেছিল এবং মহৎ লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছিল।]]
* অরাজকতাবাদের নামে অতীত ও বর্তমান সমাজের এক নতুন ব্যাখ্যা উঠে আসছে, যা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো একই ভাবনায় ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দেয়। মানুষের মন যখন ধর্মযাজক, সামরিক প্রধান এবং বিচারকদের চাপিয়ে দেওয়া ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত হবে, তখন এমন এক সমাজের ধারণা জন্ম নেবে যেখানে এই শাসক সংখ্যালঘুদের কোনো জায়গা থাকবে না। '''এমন এক সমাজ যা পূর্ববর্তী প্রজন্মের শ্রম দ্বারা সঞ্চিত সামাজিক পুঁজির দখল নেবে এবং সেই পুঁজি সবার স্বার্থে ব্যবহারের জন্য নিজেকে সংগঠিত করবে। এতে অসীম বৈচিত্র্যময় ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত শক্তির মিলন ঘটবে। এটি কাউকে বাদ দেয় না। এটি এমনকি সংগ্রাম ও বিবাদের আহ্বান জানায়। কারণ আমরা জানি যে মুক্ত সংগ্রামের সময়গুলোতেই মানুষের প্রতিভা সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ফুটে ওঠে।''' এটি শাসিত ও শাসকের বিভেদ স্বীকার করে না এবং সমতার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে চায়।
* আইন দ্বারা পাথরে পরিণত হওয়া কোনো পূর্ব-প্রতিষ্ঠিত রূপ এই সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সব ধরণের শক্তি ও প্রভাবের মধ্যে সদা পরিবর্তনশীল ভারসাম্যের মাঝে সামঞ্জস্য খোঁজে।
* অর্থনৈতিক দাসত্ব বজায় থাকা পর্যন্ত স্বাধীনতার কথা বলা নিরর্থক। "স্বাধীনতার কথা বলো না দারিদ্র্যই হলো দাসত্ব!" এটি কেবল একটি ফাঁকা বুলি নয়। এটি শ্রমিক শ্রেণীর চিন্তার গভীরে প্রবেশ করেছে।
* '''শ্রমিক ও কৃষকরা কখনোই অর্থনীতিবিদদের শেখানো চতুর কথায় বিশ্বাস করেনি, যা মূলত শোষকদের অধিকার রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল!''' শ্রমিক বুঝতে পারছে যে সে বঞ্চিত হয়েছে এবং সে বঞ্চিতই থাকবে, যদি না সে ধর্মঘট বা বিদ্রোহের মাধ্যমে তার প্রভুদের কাছ থেকে তার নিজের পরিশ্রমে গড়া সম্পদের সামান্য অংশ ছিনিয়ে নিতে পারে।
* '''অর্থনীতিবিদরা যাকে 'অতিরিক্ত উৎপাদন' বলেন, তা আসলে শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরের উৎপাদন।''' কারণ শ্রমিকদের যে মজুরি দেওয়া হয় তা দিয়ে তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য কিনতে পারে না। বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সারকথা হলো এই যে, শ্রমিক কখনও তার উৎপাদিত প্রাচুর্য নিজে ভোগ করতে পারবে না।
* আলস্যে সময় কাটানো ব্যক্তিরা ইতিহাস তৈরি করে না: তারা কেবল ইতিহাস সহ্য করে!
* সরকারবাদী কমিউনিজম, ধর্মতান্ত্রিক কমিউনিজমের মতোই শ্রমিকের কাছে ঘৃণ্য। কেবল রাষ্ট্রের বিলুপ্তি, ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা এবং মুক্ত ফেডারেশনের মাধ্যমেই আমরা প্রকৃত সাম্যবাদে পৌঁছাতে পারি।
* রাষ্ট্রের বিলুপ্তি এবং এর সমস্ত আইন ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার বিলুপ্তি একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। '''আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা—যা চার্চ এবং রাষ্ট্র উভয়ের স্বার্থে তৈরি হয়েছে। এই ধারণার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কি এই সত্য ঢাকা পড়বে?'''
* '''রাষ্ট্র হলো সামাজিক জীবনের একটি রূপ মাত্র, যা ইউরোপীয় সমাজের জন্য বেশ সাম্প্রতিক বিষয়।''' মানুষ রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার হাজার হাজার বছর আগেও সমাজে বাস করত। আমাদের আধুনিক ইউরোপীয়দের জন্য কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা মাত্র ষোড়শ শতাব্দী থেকে শুরু হয়েছে।
* ইউরোপ এখন হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জালে ঢাকা পড়েছে—শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং বিনোদনের জন্য। এই সংগঠনগুলো রাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে স্পর্শ করছে। তারা রাষ্ট্রের কার্যাবলীতে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করেছে এবং কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের জায়গায় স্বেচ্ছাসেবীদের মুক্ত কর্মকাণ্ড প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করছে।
* শিক্ষিত মানুষেরা এই ভেবে আতঙ্কিত হন যে সমাজ হয়তো কোনোদিন বিচারক, পুলিশ বা জেলখানা ছাড়া চলবে। কিন্তু অভিজ্ঞতা কি সম্প্রতি প্রমাণ করেনি যে লন্ডনের পুলিশের চোখের সামনেই 'জ্যাক দ্য রিপার' তার হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল এবং সে তখনই থমকে গিয়েছিল যখন হোয়াইটচ্যাপেলের সাধারণ মানুষ তাকে ধাওয়া করতে শুরু করেছিল?
* জেলখানা যা মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও চারিত্রিক শক্তিকে মেরে ফেলে তা কি সবসময় অপরাধের বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে থাকেনি? '''আদালত কি নিষ্ঠুরতা শেখার পাঠশালা নয়?'''
* '''যখন আমরা রাষ্ট্র এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বিলুপ্তি চাই, তখন আমাদের বলা হয় যে আমরা এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখছি যেখানে মানুষ বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। কিন্তু না। আমরা কেবল এটাই চাই যে বর্তমানের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা মানুষকে যেন বাস্তবের চেয়েও বেশি খারাপ বানানো না হয়!'''
[[File:Peter Krapotkin 3.PNG|thumb|right|আমরা মানুষদের খুব ভালো করেই চিনি। আমরা জানি যে আমরা নিজেরাও নিখুঁত নই এবং আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানুষটিও ক্ষমতার প্রয়োগ করলে শীঘ্রই কলুষিত হয়ে পড়বে।]]
* '''প্রায়ই বলা হয় যে অরাজকতাবাদীরা স্বপ্নের জগতে বাস করে। আমরা বাস্তবকে খুব ভালো করেই দেখি এবং তার প্রকৃত রূপ চিনি বলেই আমরা কুসংস্কারের বনে কুঠার চালাই।''' আমরা মানুষকে যেমন আছে তেমন রূপেই দেখি। আর তাই আমরা বলি যে ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে শ্রেষ্ঠ মানুষটিও মন্দ হয়ে যায়। "ক্ষমতার ভারসাম্য" বা "কর্তৃত্বের নিয়ন্ত্রণ" হলো এক ধরণের ভণ্ডামি যা ক্ষমতা দখলকারীরা তৈরি করেছে যাতে মানুষ বিশ্বাস করে যে তারাই আসলে শাসন করছে।
* ওহ, কী সুন্দর এক কল্পনা, যদি আমরা মেনে নিতাম যে যারা শাসন করেন তারা এক বিশেষ উচ্চবর্গের মানুষ এবং সাধারণ মর্ত্যের মানুষের মতো তাদের কোনো দুর্বলতা নেই! কিন্তু আমরা মানুষকে খুব ভালো করেই চিনি। '''শাসিত এবং শাসকের গুণের জন্য আমাদের কাছে আলাদা কোনো মাপকাঠি নেই। আমরা মানুষকে যেমন আছে তেমনভাবেই গ্রহণ করি। আর সেই কারণেই আমরা মানুষের দ্বারা মানুষের শাসনকে ঘৃণা করি এবং এর অবসান ঘটাতে আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করি।'''
* কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়তে অরাজকতাবাদ যেমন আইন ও কর্তৃত্ব ধ্বংস করতে চায়, তেমনি এটি সেই মূল্যবান সামাজিক প্রথাগুলোকেও টিকিয়ে রাখতে ও বড় করতে চায় যা ছাড়া কোনো মানব বা প্রাণী সমাজ টিকে থাকতে পারে না। তবে এই প্রথাগুলো মুষ্টিমেয় কয়েকজনের কর্তৃত্ব দিয়ে নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রক্ষিত হবে।
* সমাজে নৈতিক স্তর বজায় রাখার তিনটি উপায় আছে: অসামাজিক কাজের দমন, নৈতিক শিক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা। দমনের ব্যর্থতা বর্তমান সমাজের বিশৃঙ্খলা থেকেই প্রমাণিত। দমনের ব্যবস্থা আমাদের অর্থনৈতিক দাসত্ব এবং রাজনৈতিক রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে গেছে।
* '''দমনমূলক ব্যবস্থা কেবল বর্তমানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মন্দই সৃষ্টি করেনি বরং এটি সমাজের নৈতিক মান উন্নত করতেও চরম অক্ষমতা প্রমাণ করেছে।'''
* শতাব্দী ধরে চলে আসা এই দমনমূলক ব্যবস্থা আমাদের এক কানাগলিতে নিয়ে গেছে যেখান থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো কর্তৃত্ববাদী অতীতের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মশাল ও কুঠার চালানো।
* নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব আমরা অস্বীকার করি না, তবে যখন প্রাতিষ্ঠানিক অনৈতিকতা প্রতিনিয়ত এর বিরোধিতা করে, তখন শিক্ষার প্রভাব শূন্য হয়ে যায়। খ্রিস্টান ধর্মের কথাই ধরুন: ক্রুশবিদ্ধ ঈশ্বরের নামে দেওয়া শিক্ষা কি যাজক আর রাষ্ট্রের প্রভাবে পরে শোষণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়নি?
* ইতিহাসের প্রমাণ হলো, অতীতে প্রগতির প্রতিটি উপাদান এবং মানবজাতির নৈতিক ও বৌদ্ধিক উন্নতির প্রতিটি উপকরণ হলো পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা। যখনই এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিকশিত হয়েছে, সমাজের নৈতিক মান, প্রাচুর্য ও স্বাধীনতা এক ধাপ এগিয়ে গেছে। আর উল্টোদিকে, '''যখনই ইতিহাসে শাসক ও শাসিত, শোষক ও শোষিত এই বিভেদ বেড়েছে, তখনই নৈতিক মান নিচে নেমে গেছে এবং সাধারণ মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কেড়ে নিয়ে মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে ধনী করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।'''
=== 'দ্য স্টেট — ইটস হিস্টোরিক রোল' (১৮৯৭) ===
:<small>[http://www.panarchy.org/kropotkin/1897.state.html পূর্ণাঙ্গ টেক্সট অনলাইন]</small>
[[File:Young Kropotkin.png|thumb|right|একদল শ্রেণীকে অন্য দলের শাসনাধীনে রাখার জন্য আইন প্রণয়ন ও পুলিশিংয়ের একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়। এই পার্থক্যটি, যা প্রথম দর্শনে স্পষ্ট মনে নাও হতে পারে, বিশেষ করে রাষ্ট্রের উৎস অধ্যয়ন করলে তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।]]
[[File:Peter Kropotkin circa 1900.jpg|thumb|right|স্কুলে এবং পরবর্তী জীবনে রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই, তা আমাদের মনকে এতটাই বিকৃত করে ফেলেছে যে স্বাধীনতার প্রকৃত ধারণাটিই হারিয়ে যায় এবং তা দাসত্বের ছদ্মবেশ ধারণ করে।]]
* সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে বিভক্তি মূলত রাষ্ট্র নিয়ে প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে। আমাদের মধ্যে বিদ্যমান দলগুলোতে দুটি প্রধান ধারা লক্ষ্য করা যায়, যা মানুষের মেজাজ ও চিন্তা পদ্ধতির পার্থক্যের সাথে মিলে যায়। তবে সর্বোপরি এটি নির্ভর করে কে আসন্ন বিপ্লবে কতটা বিশ্বাস করে তার ওপর। <br> একদিকে তারা আছে, যারা রাষ্ট্রের মাধ্যমেই সামাজিক বিপ্লব অর্জনের আশা করে—বিপ্লবের স্বার্থে তারা রাষ্ট্রের অধিকাংশ ক্ষমতা বজায় রাখতে এবং এমনকি তা প্রসারিত করতে চায়। অন্যদিকে আমাদের মতো যারা আছে, তারা রাষ্ট্রকে তার বর্তমান রূপে, তার নিজস্ব সত্তায় এবং সে যে রূপেই আসুক না কেন, তাকে সামাজিক বিপ্লবের পথে একটি বাধা হিসেবে দেখে। আমরা মনে করি রাষ্ট্র হলো সাম্য ও স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে একটি সমাজ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় এবং এটি ঐতিহাসিকভাবেই এই বিকাশ রোধ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। শেষোক্ত এই গোষ্ঠীটি রাষ্ট্র সংস্কারে নয় বরং রাষ্ট্রের বিলুপ্তিতে বিশ্বাস করে।
** ১
* '''রাষ্ট্র হলো ইতিহাসের পরিক্রমায় সমাজের ধারণকৃত রূপগুলোর মধ্যে একটি মাত্র। তাহলে যা স্থায়ী এবং যা আকস্মিক এই দুটির মধ্যে কেন কোনো পার্থক্য করা হবে না?'''
** ১
* '''রাষ্ট্রের ধারণা সরকারের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।''' এটি কেবল সমাজের উপরে অবস্থিত একটি ক্ষমতার অস্তিত্বকেই বোঝায় না বরং একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রীকরণ এবং সমাজের জীবনের অনেকগুলো কাজ মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়াকেও বোঝায়। রাষ্ট্র গঠনের আগে সমাজের সদস্যদের মধ্যে যে ধরণের সম্পর্ক ছিল না, এটি সেই ধরণের কিছু নতুন সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে। একদল শ্রেণীকে অন্য দলের শাসনাধীনে রাখার জন্য আইন প্রণয়ন ও পুলিশিং-এর একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা এখানে গড়ে তুলতে হয়। <br> এই পার্থক্যটি প্রথম দর্শনে স্পষ্ট মনে নাও হতে পারে, তবে তা বিশেষভাবে ফুটে ওঠে যখন কেউ রাষ্ট্রের উৎস নিয়ে গবেষণা করে।
** ১
* '''রোমান সাম্রাজ্য ছিল শব্দের প্রকৃত অর্থে একটি রাষ্ট্র। আজ পর্যন্ত এটি আইনবিদদের কাছে আদর্শ হয়ে আছে।''' এর অঙ্গসংগঠনগুলো একটি বিশাল এলাকাকে একটি শক্ত জালের মতো ঘিরে রেখেছিল। সবকিছুই রোমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো: অর্থনৈতিক ও সামরিক জীবন, সম্পদ, শিক্ষা, এমনকি ধর্মও। রোম থেকেই আসত আইন, ম্যাজিস্ট্রেট, ভূখণ্ড রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী এবং দেবতারা। সাম্রাজ্যের পুরো জীবন আবর্তিত হতো সেনেটকে ঘিরে—পরবর্তীতে সিজারকে ঘিরে, যিনি ছিলেন সাম্রাজ্যের সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ ঈশ্বর। প্রতিটি প্রদেশ, প্রতিটি জেলা ছিল রোমান সার্বভৌমত্বের ক্ষুদ্র সংস্করণ যা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি দিক শাসন করত। '''রোমের চাপিয়ে দেওয়া একটি মাত্র আইন সেই সাম্রাজ্যকে শাসন করত, যা সমমনা নাগরিকদের কোনো কনফেডারেশন ছিল না বরং ছিল নিছক একপাল প্রজা।''' <br> আজও আইনবিদ এবং স্বৈরাচারীরা সেই সাম্রাজ্যের ঐক্য, আইনের একীভূত চেতনা এবং তাদের ভাষায় সেই সংগঠনের সৌন্দর্য ও সামঞ্জস্যের প্রশংসা করেন। <br> কিন্তু বার্বারদের আক্রমণ, বাহ্যিক আক্রমণ রোধে স্থানীয় জীবনের অক্ষমতা এবং কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির কারণে সাম্রাজ্যটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আর এই ধ্বংসস্তূপের ওপরই গড়ে ওঠে এক নতুন সভ্যতা যা বর্তমানে আমাদের।
** ১
* অতীতে ঘটে যাওয়া যুদ্ধগুলোর কথা ভাবুন এবং স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নিতে বিজিত মানুষদের যে যুদ্ধগুলো করতে হবে তার কথা ভাবুন। বাজারের জন্য যুদ্ধ, ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য গড়ার জন্য যুদ্ধ। ফ্রান্সে আমরা দুর্ভাগ্যবশত খুব ভালো করেই জানি যে প্রতিটি যুদ্ধ—তা বিজয়ী হোক বা না হোক—দাসত্ব বয়ে আনে। <br> এবং পরিশেষে, উপরে যা কিছু বলা হয়েছে তার চেয়েও ভয়ানক সত্য হলো এই যে, '''স্কুলে এবং পরবর্তী জীবনে রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই, তা আমাদের মনকে এতটাই বিকৃত করে ফেলেছে যে স্বাধীনতার প্রকৃত ধারণাটিই হারিয়ে যায় এবং তা দাসত্বের ছদ্মবেশ ধারণ করে। <br> এটা দেখা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, যারা নিজেদের বিপ্লবী বলে বিশ্বাস করেন তারা অরাজকতাবাদীদের ওপর ঘৃণা উগরে দেন কেবল এই কারণে যে অরাজকতাবাদীর স্বাধীনতার ধারণাটি রাষ্ট্রীয় স্কুলে শেখা স্বাধীনতার ক্ষুদ্র ও সংকীর্ণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।''' কিন্তু বাস্তবে এই দৃশ্যই দেখা যায়। সত্য হলো এই যে, তরুণদের মনে স্বেচ্ছায় দাসত্বের চেতনা সবসময় সুকৌশলে গড়ে তোলা হয়েছে এবং এখনও হয়, যাতে রাষ্ট্রের প্রতি ব্যক্তির অধীনতা চিরস্থায়ী করা যায়।
** ৯
* '''আমাদের সভ্যতার ইতিহাস জুড়ে দুটি ঐতিহ্য, দুটি বিপরীতমুখী প্রবণতা একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে''': রোমান বনাম জনপ্রিয়। সাম্রাজ্যবাদী বনাম ফেডারেলিস্ট। কর্তৃত্ববাদী বনাম স্বাধীনতাকামী। সামাজিক বিপ্লবের প্রাক্কালে এটি আবারও দৃশ্যমান। <br> '''এই দুটি ধারার মধ্যে জনগণের ধারা এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আধিপত্যের আকাঙ্ক্ষার ধারা—আমরা আমাদের পছন্দ বেছে নিয়েছি।''' <br> আমরা সেই চেতনাকে পুনরায় ফিরে পেতে চাই যা দ্বাদশ শতাব্দীর মানুষকে মুক্ত চুক্তি এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মুক্ত ফেডারেশনের ভিত্তিতে নিজেদের সংগঠিত করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আর আমরা অন্যদের জন্য সাম্রাজ্যবাদী, রোমান এবং ক্যানোনিকাল ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকার পথ খোলা রেখেছি।
** ১০
* '''হয় রাষ্ট্র চিরকাল থাকবে ব্যক্তিগত ও স্থানীয় জীবনকে পিষে ফেলবে, মানুষের কর্মকাণ্ডের সমস্ত ক্ষেত্র দখল করবে এবং সাথে নিয়ে আসবে যুদ্ধ আর ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ লড়াই। যা কেবল এক স্বৈরাচারের জায়গায় অন্য স্বৈরাচারকে বসাবে এবং অনিবার্যভাবে যার শেষ পরিণতি হলো... মৃত্যু! <br> অথবা রাষ্ট্রের ধ্বংস হবে—হাজার হাজার কেন্দ্রে নতুন জীবনের সূচনা হবে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত উদ্যোগ এবং মুক্ত চুক্তির ভিত্তিতে। <br> পছন্দ আপনার হাতে!'''
** ১০, শেষ উক্তি
=== 'দ্য কনকুয়েস্ট অব ব্রেড' (১৮৯২) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/conquest/toc.html 'অ্যানার্কিস্ট আর্কাইভস'-এ পূর্ণাঙ্গ টেক্সট]</small>
* '''যেহেতু উৎপাদনের মাধ্যমগুলো মানবজাতির সম্মিলিত শ্রমের ফল, তাই উৎপাদিত পণ্যও হওয়া উচিত এই জাতির সম্মিলিত সম্পদ।''' ব্যক্তিগত মালিকানা ন্যায়সঙ্গত নয় এবং এটি কোনো কাজেও আসে না। '''সবকিছুই সবার। সব বস্তু সব মানুষের জন্য, কারণ সব মানুষেরই তা প্রয়োজন। যেহেতু সব মানুষ তাদের সাধ্যমতো উৎপাদনের জন্য শ্রম দিয়েছে এবং যেহেতু বিশ্বের সম্পদে কার অবদান কতটুকু তা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই সবকিছুই সবার জন্য।''' এখানে যন্ত্রপাতির এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। রয়েছে লোহার দাস যাকে আমরা মেশিন বলি। এই মেশিনগুলো আমাদের জন্য কাঠ চেরাই করে, কাপড় বোনে, কাঁচামাল থেকে আমাদের সময়ের বিস্ময়কর সব জিনিস তৈরি করে। মধ্যযুগীয় সামন্ত প্রভুর যেমন কৃষককে বলার অধিকার ছিল না যে "এই পাহাড় বা চারণভূমি আমার," তেমনি আজ কারো অধিকার নেই একটি মেশিনের ওপর দখল নিয়ে বলা যে "এটি আমার। তুমি যদি এটি ব্যবহার করতে চাও, তবে তোমার প্রতিটি পণ্যের ওপর আমাকে কর দিতে হবে।" <br> '''সবই সবার জন্য!''' যদি একজন পুরুষ বা নারী তাদের কাজের ন্যায্য অংশটুকু পালন করেন, তবে সবার দ্বারা উৎপাদিত সম্পদে তাদের ন্যায্য অধিকার রয়েছে; এবং সেই অংশটি তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। "কাজের অধিকার" বা "শ্রমিকের শ্রমের পূর্ণ ফলের" মতো অস্পষ্ট বুলির আর প্রয়োজন নেই। '''আমরা যা ঘোষণা করি তা হলো সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার: সবার জন্য সমৃদ্ধি!'''
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সভ্যতা গড়তে শ্রম দিয়েছে যা নিয়ে আমরা আজ গর্ব করি। আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে থেকে এটি টিকিয়ে রাখতে শ্রম দিচ্ছে। তারা না থাকলে পঞ্চাশ বছরের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকত না।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* এমন কোনো চিন্তা বা উদ্ভাবন নেই যা সাধারণ সম্পদ নয়, যা অতীত এবং বর্তমানের গর্ভে জন্ম নেয়নি। হাজার হাজার জানা-অজানা উদ্ভাবক যারা দারিদ্র্যের মধ্যে মারা গেছেন, তারা এই প্রতিটি মেশিনের উদ্ভাবনে সহযোগিতা করেছেন যা মানুষের প্রতিভাকে ধারণ করে।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* '''আমরা নিজেদের এবং আমাদের সন্তানদের কপটতা আর দ্বিমুখী নৈতিকতা অনুশীলনে অভ্যস্ত করি। আর যেহেতু মস্তিষ্ক মিথ্যার মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না, তাই আমরা কুতর্ক দিয়ে নিজেদের ঠকাই। কপটতা আর কুতর্ক সভ্য মানুষের দ্বিতীয় স্বভাবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একটি সমাজ এভাবে বাঁচতে পারে না। একে সত্যের পথে ফিরতে হবে নতুবা এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।'''
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* জ্ঞান বৃদ্ধি করতে এবং কুসংস্কার দূর করতে হাজার হাজার লেখক, কবি ও পণ্ডিত শ্রম দিয়েছেন। তারা বৈজ্ঞানিক চিন্তার সেই পরিবেশ তৈরি করেছেন যা ছাড়া এই শতাব্দীর বিস্ময়গুলো কখনোই দেখা যেত না। আর এই হাজার হাজার দার্শনিক, কবি ও পণ্ডিতরা নিজেরাও বিগত শতাব্দীগুলোর শ্রমের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছেন।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* এই দানবীয় ব্যবস্থার কারণে একজন শ্রমিকের সন্তান জীবনে প্রবেশ করেই চাষ করার জন্য কোনো জমি পায় না, চালানোর জন্য কোনো মেশিন পায় না, খনন করার জন্য কোনো খনি পায় না—যদি না সে তার উৎপাদনের একটি বড় অংশ একজন প্রভুর হাতে তুলে দিতে রাজি হয়।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* শিক্ষা এখনও একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিশেষ অধিকার হয়ে আছে। যখন একজন শ্রমিকের সন্তান তেরো বছর বয়সে খনিতে নামতে বা খামারে বাবাকে সাহায্য করতে বাধ্য হয়, তখন শিক্ষার কথা বলা নিরর্থক। অমানুষিক পরিশ্রমের পর সন্ধ্যায় ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরা শ্রমিকের কাছে পড়াশোনার কথা বলা বৃথা। সমাজ এভাবে দুটি শত্রু শিবিরে বিভক্ত হয়ে থাকে, আর এমন অবস্থায় 'স্বাধীনতা' কেবল একটি অন্তঃসারশূন্য শব্দ মাত্র।
** অধ্যায় ১: আমাদের সম্পদ
* '''আমাদের এটা স্বীকার করতে হবে এবং উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করতে হবে যে পুরানো সমাজে কার অবস্থান কী ছিল তা বড় কথা নয়, কেউ সবল বা দুর্বল হোক, সক্ষম বা অক্ষম হোক, সবার আগে তার 'বেঁচে থাকার অধিকার' আছে। সমাজের দায়িত্ব হলো তার হাতে থাকা জীবনধারণের উপকরণগুলো ব্যতিক্রমহীনভাবে সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া।'''
** অধ্যায় ২: সবার জন্য সমৃদ্ধি
* আমরা ইতিমধ্যেই এমন এক বিশ্বের আভাস পাচ্ছি যেখানে ব্যক্তিকে বেঁধে রাখার বন্ধনগুলো আর কোনো আইন নয়, বরং তা হবে সামাজিক অভ্যাস। যা আমাদের প্রত্যেকের প্রতিবেশীর সমর্থন, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা খোঁজার প্রয়োজনীয়তা থেকে জন্ম নেবে। <br /> রাষ্ট্রবিহীন সমাজের ধারণাটি অন্তত ততটাই আপত্তির জন্ম দেবে যতটা ব্যক্তিগত পুঁজিহীন সমাজের অর্থনীতি দেয়। শৈশব থেকেই আমাদের শেখানো হয়েছে রাষ্ট্রকে এক ধরণের 'বিধাতা' হিসেবে দেখতে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো বিভিন্ন বিজ্ঞান আমাদের সরকার এবং রাষ্ট্রের গুণাবলীতে বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত করে। <br /> এই অন্ধবিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে দর্শনের পুরো ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে; সমস্ত রাজনীতি এই নীতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে; এবং প্রতিটি রাজনীতিবিদ মানুষের সামনে এসে বলেন "আমাকে ক্ষমতা দাও, আমি তোমাদের এই সব দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দেব।"
** অধ্যায় ৩: অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম
* দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত আমাদের সমস্ত কাজ এই নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়। সমাজবিজ্ঞান বা আইনশাস্ত্রের যেকোনো বই খুলুন, সেখানে দেখবেন সরকার আর তার সংগঠনগুলো এত বিশাল জায়গা জুড়ে আছে যে আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি যে সরকার আর রাষ্ট্রনায়কদের জগতের বাইরে আর কিছুই নেই।
** অধ্যায় ৩: অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম
* আমরা বুঝতে শুরু করেছি যে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন মানে দেশের সমস্ত বিষয়কে সেই সব মানুষের হাতে সঁপে দেওয়া যাদের নিজস্ব কোনো মতামত নেই।
** অধ্যায় ৩: অ্যানার্কিস্ট কমিউনিজম
* '''জমিদারের সম্পদ কৃষকের দারিদ্র্যের কাছে ঋণী''', এবং পুঁজিবাদীর সম্পদও একই উৎস থেকে আসে।
** অধ্যায় ৪: বাজেয়াপ্তকরণ
* আমরা যা চাই তা হলো এমন এক ব্যবস্থা করা যাতে এই পৃথিবীতে জন্মানো প্রতিটি মানুষ প্রথমেই কোনো দরকারী কাজ শেখার সুযোগ পায়। এরপর সে যেন তার পেশায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে কোনো মালিকের অনুমতি ছাড়া এবং তার উৎপাদনের সিংহভাগ কোনো জমিদার বা পুঁজিবাদীর হাতে তুলে না দিয়ে।
** অধ্যায় ৪: বাজেয়াপ্তকরণ
* '''আমরা যে অলীক কল্পনাবাদী, তা সবাই জানে। আমরা এতটাই কল্পনাপ্রবণ যে আমরা বিশ্বাস করি বিপ্লব সবার জন্য আশ্রয়, খাদ্য এবং পোশাক নিশ্চিত করতে পারে এবং করা উচিত।''' মধ্যবিত্ত নাগরিকদের কাছে এই চিন্তাটি অত্যন্ত অপ্রীতিকর, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে যার পেট ভরা আছে এমন মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়।
** অধ্যায় ৫: খাদ্য
* বাড়িটি তার মালিক তৈরি করেনি। এটি তৈরি করেছে, সাজিয়েছে এবং আসবাবপত্র দিয়ে পূর্ণ করেছে অসংখ্য শ্রমিক। যারা করাত কলে, ইটের ভাটায় এবং কারখানায় নূন্যতম মজুরির বিনিময়ে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছে।
** অধ্যায় ৬: আবাসন
* বুর্জোয়া সমাজের সবচেয়ে বড় ক্ষতি কেবল এটাই নয় যে পুঁজিবাদীরা লাভের বড় অংশ দখল করে বিনা পরিশ্রমে বেঁচে থাকে বরং ক্ষতিটি হলো এই উৎপাদন ব্যবস্থাটি ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। এটি সবার সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না। এই কারণেই আমরা একে প্রত্যাখ্যান করি।
** অধ্যায় ৮: পথ ও পন্থা
* আমাদের কাছে এটি একেবারেই অবোধ্য যে বুদ্ধিমান মানুষগুলো ফ্রান্স, ইংল্যান্ড বা আমেরিকার ইতিহাসের শিক্ষা পাওয়ার পরও কীভাবে জাতীয় বা পৌর পার্লামেন্টের সমর্থক হয়ে থাকতে পারে।
** অধ্যায় ১৩: কালেক্টিভিস্ট মজুরি ব্যবস্থা
* ভবিষ্যতের খনি হবে সুপরিচালিত বাতাস চলাচলের সুবিধাযুক্ত, যার তাপমাত্রা একটি লাইব্রেরির মতোই সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সেখানে মাটির নিচে মরার জন্য কোনো ঘোড়াকে নামানো হবে না। যান্ত্রিক ক্যাবলের সাহায্যে মাটির নিচ দিয়ে পরিবহন কাজ চালানো হবে।
** অধ্যায় ১০: আনন্দদায়ক কাজ
* নারীর মুক্তি মানে কেবল তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা বা আদালতের দুয়ার খুলে দেওয়া নয়। কারণ 'মুক্ত' নারী অনেক সময় ঘরের কাজ অন্য নারীর ওপর চাপিয়ে দেন। নারীর মুক্তি মানে তাকে রান্নাঘর বা ধোপাশালার অমানুষিক খাটুনি থেকে মুক্তি দেওয়া; ঘরকে এমনভাবে সংগঠিত করা যাতে সে তার সন্তান লালন-পালন করার পাশাপাশি সামাজিক জীবনে অংশ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবসর পায়। <br /> এটি ঘটবেই। একটি বিপ্লব যা স্বাধীনতা, সাম্য এবং সংহতির সুন্দর বুলি আওড়ায়, সে কখনোই বিপ্লব হতে পারে না যদি সে ঘরের ভেতর দাসত্ব বজায় রাখে। মানবজাতির অর্ধেক যদি উনুন পাড়ের দাস হয়ে থাকে, তবে তাদের অন্য অর্ধেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেই হবে।
** অধ্যায় ১০: আনন্দদায়ক কাজ
* বংশগত কুসংস্কার এবং ভুল শিক্ষার কারণে আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে পুলিশের নজর সরে গেলেই মানুষ বন্য পশুর মতো একে অপরকে ছিঁড়ে খাবে। কিন্তু আমরা আমাদের চোখ বন্ধ করে রাখি সেই হাজার হাজার মানব গোষ্ঠীর দিক থেকে যারা কোনো আইনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই অবাধে নিজেদের গঠিত করে এবং সরকারের অভিভাবকত্বের চেয়ে অনেক উন্নত ফলাফল অর্জন করে।
** অধ্যায় ১১: মুক্ত চুক্তি
* রাষ্ট্র তার পবিত্র কাজগুলো থেকে ইস্তফা দিচ্ছে এবং ব্যক্তিবর্গের কাছে আবেদন জানাচ্ছে। সবখানেই মুক্ত সংগঠনগুলো রাষ্ট্রের সীমানায় প্রবেশ করছে। যখন রাষ্ট্র থাকবে না, তখন এই মুক্ত চুক্তি আমাদের জন্য ভবিষ্যতে কী নিয়ে আসবে, তার সামান্য আভাস আমরা এখন পাচ্ছি।
** অধ্যায় ১১: মুক্ত চুক্তি
=== 'ফিল্ডস, ফ্যাক্টরিজ অ্যান্ড ওয়ার্কশপস' (১৮৯৯) ===
:<small>''অথবা কৃষি ও কায়িক শ্রমের সাথে শিল্প ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের সমন্বয়''। ১৮৮৮-১৮৯০ সালের মধ্যে প্রকাশিত কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন হিসেবে ১৮৯৯ সালে এটি প্রথম বই আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯১২ সালে লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক থেকে এর পরবর্তী সংস্করণ এবং ১৯৭৪ সালে কলিন ওয়ার্ডের সম্পাদনায় জর্জ অ্যালেন অ্যান্ড আনউইন থেকে আরও একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।</small>
* '''যখন বিজ্ঞান তার প্রধান মনোযোগ শিল্পোৎপাদনের দিকে নিবদ্ধ করেছে, তখন একদল প্রকৃতিপ্রেমী এবং অগণিত কর্মী... ঐতিহাসিকভাবে অজ্ঞাত থেকেই এক সম্পূর্ণ নতুন ধরণের কৃষি ব্যবস্থা তৈরি করেছেন''' যা আধুনিক চাষাবাদের চেয়ে এতটাই উন্নত, যেমন উন্নত ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের তিন-মাঠ পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক চাষাবাদ। বিজ্ঞান খুব কমই তাদের পথ দেখিয়েছে, বরং মাঝে মাঝে ভুল পথে চালিত করেছে... তারা পরীক্ষামূলকভাবে এগিয়েছেন। কিন্তু... তারা উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় গবেষণার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তারা সম্পূর্ণ নতুন এক কৃষি ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। আমরা যখন শস্য পর্যায় পদ্ধতির মাধ্যমে বছরে একটি বা তিন বছরে চারটি ফসল পাওয়ার বড়াই করি, তখন তারা কেবল হাসেন। কারণ '''তাদের লক্ষ্য হলো একই জমিতে বারো মাসে ৬ থেকে ৯টি ফসল ফলানো। তারা আমাদের 'ভালো মাটি' বা 'খারাপ মাটি'র গল্প বোঝেন না, কারণ তারা মাটি নিজেরাই তৈরি করে নেন''' এবং তারা '''এত বেশি পরিমাণে মাটি তৈরি করেন যে প্রতি বছর তাদের কিছু মাটি বিক্রি করে দিতে হয়'''। অন্যথায় প্রতি বছর তাদের বাগানের উচ্চতা আধা ইঞ্চি করে বেড়ে যেত। তারা একর প্রতি ৫ বা ৬ টন ঘাস নয় বরং একই জায়গায় ৫০ থেকে ১০০ টন বিভিন্ন সবজি ফলানোর লক্ষ্য রাখেন; যেখানে ৫ পাউন্ড মূল্যের খড় পাওয়া যেত, সেখানে তারা ১০০ পাউন্ড মূল্যের সাধারণ সবজি (বাঁধাকপি বা গাজর) এবং নিবিড় উদ্যানতত্ত্বের মাধ্যমে ২০০ পাউন্ডের বেশি মূল্যের ফসল ফলান। '''কৃষি এখন এই পথেই এগোচ্ছে।'''
* প্যারিসের প্রচুর সংখ্যক 'মারাইশাঁ' (বাজার বাগান চাষী) তাদের উৎপাদিত ফসলের পুরোটা ইংল্যান্ডে রপ্তানি করেন।
* '''একজন মালিকে বড় শহরের দিকে যা আকর্ষণ করে তা হলো আস্তাবলের সার; আর এটি মাটির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য ততটা প্রয়োজন নয়... যতটা প্রয়োজন মাটির তাপমাত্রা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে রাখার জন্য।''' আগাম সবজিতে লাভ সবচেয়ে বেশি, আর এই আগাম ফলন পেতে কেবল বাতাস নয়, মাটিও গরম রাখতে হয়... '''মাটির সাথে সঠিক পরিমাণে সারের মিশ্রণ ঘটিয়ে; এর গাঁজন প্রক্রিয়া মাটিকে উত্তপ্ত করে...'''
* বাজার বাগান পদ্ধতিতে মাটি সবসময় 'তৈরি' করা হয়... ফলে প্যারিসের চাষীদের ভাড়ার চুক্তিতে এখন এটি একটি সাধারণ শর্ত যে '''মালি যখন তার ইজারা শেষ করবেন, তখন তিনি একটি নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত তার তৈরি করা মাটি সাথে করে নিয়ে যেতে পারবেন।''' তিনি নিজেই এটি তৈরি করেন এবং '''যখন তিনি অন্য জায়গায় যান, তখন গরুর গাড়িতে করে তার মাটি নিয়ে যান...'''
* উদাহরণস্বরূপ এম. পন্সের ফলের বাগানটি ধরা যাক যা মাত্র ২.৭ একর জুড়ে বিস্তৃত। জলসেচের স্টিম ইঞ্জিনসহ তার পুরো খামারের ব্যয় ছিল ১,১৩৬ পাউন্ড। প্রতি বছর সারের পেছনে খরচ হতো ১০০ পাউন্ড। খাজনা ও ট্যাক্সে ব্যয় হতো আরও ১০০ পাউন্ড। কিন্তু প্রতি বছর সেখান থেকে যা সংগ্রহ করা হতো তার হিসাব দেওয়া কঠিন... ২০,০০০ পাউন্ডের বেশি গাজর... ২০,০০০ পাউন্ড পেঁয়াজ, মূলা এবং অন্যান্য সবজি... ৬,০০০টি বাঁধাকপি। ৩,০০০টি ফুলকপি। ৫,০০০ ঝুড়ি টমেটো, ৫,০০০ ডজন বাছাই করা ফল এবং ১,৫৪,০০০টি সালাদ পাতা। সংক্ষেপে বলতে গেলে মোট ২,৫০,০০০ পাউন্ড সবজি। '''ফোর্সিং বেড থেকে এত বেশি মাটি তৈরি হতো যে প্রতি বছর ২৫০ ঘন গজ মাটি বিক্রি করে দেওয়া হতো।''' এমন ডজন ডজন উদাহরণ দেওয়া যায়... প্যারিসের আশেপাশে ৫,০০০ মানুষ এভাবে ২,১২৫ একর জমি চাষ করেন এবং এভাবেই '''কেবল ২০ লক্ষ প্যারিসবাসীর সবজির চাহিদাই মেটানো হয় না, বরং উদ্বৃত্ত অংশ লন্ডনেও পাঠানো হয়।'''
* উপরের ফলাফলগুলো গরম ফ্রেম এবং হাজার হাজার কাঁচের বেল-জারের সাহায্যে পাওয়া যায়। কিন্তু এই ব্যয়বহুল জিনিসগুলো ছাড়াও, চারা তৈরির জন্য মাত্র ৩৬ গজের ফ্রেম ব্যবহার করে ''খোলা আকাশের নিচে'' একর প্রতি ২০০ পাউন্ড মূল্যের সবজি চাষ করা যায়। ...এই উচ্চ আয় কেবল শীতকালে আগাম সবজির দামের কারণে নয়; এটি মূলত সাধারণ সবজির বিপুল ফলনের কারণে ঘটে।
* এই চমৎকার চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বিকশিত হয়েছে। এর আগে এটি বেশ আদিম ছিল। কিন্তু এখন '''প্যারিসের মালি কেবল মাটিকে তুচ্ছজ্ঞান করে না। সে চাইলে পিচঢালা রাস্তার ওপরও একই ফসল ফলাতে পারে
সে জলবায়ুকেও জয় করেছে।''' তার দেয়ালগুলো তৈরি করা হয়েছে আলো প্রতিফলিত করতে এবং উত্তরের বাতাস থেকে গাছকে বাঁচাতে। সে প্যারিসের শহরতলীতে এক সমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলীয় বাগান তৈরি করেছে। '''সে প্যারিসকে সেই 'দুই ডিগ্রি কম অক্ষাংশ' (উষ্ণতা) উপহার দিয়েছে যার জন্য একজন ফরাসি বিজ্ঞানী আকুল আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন। সে তার শহরকে যেকোনো ঋতুতে পাহাড় সমান আঙুর ও ফল সরবরাহ করে এবং বসন্তের শুরুতে শহরকে সুগন্ধে ভরিয়ে দেয়।''' কিন্তু সে কেবল বিলাসবহুল দ্রব্যই ফলায় না। বড় পরিসরে সাধারণ সবজি চাষের এই পদ্ধতি প্রতি বছর ছড়িয়ে পড়ছে; ফলাফল এতই ভালো যে '''এখন অনেক ব্যবহারিক চাষী দাবি করেন যে সেন ও সেন-এ-ওয়াজ বিভাগের ৪৫ লক্ষ বাসিন্দার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রাণীজ ও উদ্ভিজ্জ খাদ্য (৩,৫২০ বর্গ মাইল এলাকায়) বর্তমানের এই পদ্ধতি ব্যবহার করেই উৎপাদন করা সম্ভব'''এমন পদ্ধতি যা ইতিমধ্যেই বৃহৎ পরিসরে পরীক্ষিত এবং সফল প্রমাণিত হয়েছে।
* '''এতকিছুর পরও প্যারিসের মালি আমাদের কৃষকের আদর্শ নয়।''' সভ্যতার এই কষ্টসাধ্য যাত্রায় সে আমাদের পথ দেখিয়েছে ঠিকই। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার আদর্শ অন্য কোথাও। সে ভোর ৩টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় বিরামহীন কাজ করে। তার কোনো অবসর নেই। একজন মানুষ হিসেবে জীবন কাটানোর সময় তার নেই; তার পৃথিবীটা কেবল তার বাগান। সে আমাদের আদর্শ হতে পারে না। তার কৃষি ব্যবস্থাও নয়। '''আমাদের লক্ষ্য হলো, সে আরও 'বেশি' উৎপাদন করবে... কিন্তু 'কম' পরিশ্রমে, এবং মানুষের জীবনের সমস্ত আনন্দ উপভোগ করবে। আর এটি পুরোপুরি সম্ভব।'''
* ফরাসি চাষীরা কেন সারের বিভিন্ন মিশ্রণ তৈরি করতে এত বুদ্ধি ও শ্রম ব্যয় করেন? কেবল দুটি লক্ষ্যের জন্য: '''একটি পুষ্টিকর মাটি এবং বাতাস ও মাটির একটি কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীল তাপমাত্রা। তার সমস্ত অভিজ্ঞতালব্ধ শিল্প এই দুটি লক্ষ্য অর্জনে নিবেদিত। কিন্তু... মাটি হাত দিয়ে 'উন্নত' করা যায়, কিন্তু এটি হাত দিয়ে 'তৈরি' করার প্রয়োজন নেই। যেকোনো মাটি... যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি করা সম্ভব। ...চাহিদা থাকলেই আমরা অচিরেই দোআঁশ মাটির কারখানা দেখতে পাবো।'''
* '''বিজ্ঞান আজ পর্যন্ত ম্যালথাসের শিক্ষা দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। অর্থনীতি এখনও একটি জাতির উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর অসম্ভাব্যতাকে মৌন স্বীকৃতি দিয়ে তার যুক্তি সাজায়''' এবং এভাবে সবার চাহিদা পূরণের পথ বন্ধ করে রাখে। রাজনৈতিক অর্থনীতি কখনোই ''জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণের সীমিত ও অপর্যাপ্ত সরবরাহের'' অনুকল্প থেকে উপরে উঠতে পারে না। তারা এটিকে ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেয়। এমনকি জীববিজ্ঞানীদের মধ্যেও আমরা দেখেছি যে ডারউইন ও ওয়ালেস প্রজাতির পরিবর্তনের তত্ত্বের ক্ষেত্রে ম্যালথাসের সেই মৌলিক ধারণার সহায়তা নিয়েছেন যে প্রকৃতি দ্রুত বংশবৃদ্ধি করা প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করতে অনিবার্যভাবে ব্যর্থ হবে।
* সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি যে, '''ম্যালথাসের তত্ত্ব সম্পদশালী শ্রেণীর গোপন আকাঙ্ক্ষাগুলোকে একটি ছদ্ম-বৈজ্ঞানিক রূপ দিয়ে দর্শনের এক বিশাল ভিত্তি তৈরি করেছে যা শিক্ষিত ও অশিক্ষিত উভয়ের মনকে প্রভাবিত করে।'''
* '''শিল্পসম্পদ এমন হারে বেড়েছে যা জনসংখ্যার যেকোনো বৃদ্ধিকে হার মানায় এবং এটি আরও দ্রুত বাড়তে পারে। কিন্তু কৃষিকে এখনও ম্যালথাসীয় ছদ্ম-দর্শনের একটি দুর্গ বলে মনে করা হয়। কৃষির সাম্প্রতিক অর্জনগুলো মানুষ যথেষ্ট জানে না। আমাদের মালিরা যখন জলবায়ু ও অক্ষাংশকে জয় করছেন, বছরে একটির বদলে কয়েকটি ফসল ফলাচ্ছেন এবং নিজেরাই মাটি তৈরি করছেন, তখন অর্থনীতিবিদরা এখনও বলছেন যে মাটির উপরিভাগ সীমিত এবং এর উৎপাদন ক্ষমতাও সীমিত; তারা এখনও দাবি করেন যে প্রতি ৩০ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হতে থাকলে শীঘ্রই জীবনধারণের উপকরণের অভাব দেখা দেবে!'''
* যদি আমরা সব কিছু বিবেচনা করি। যদি আমরা বাগান চাষের অগ্রগতি এবং বিজ্ঞানের গচ্ছিত সম্পদ নিয়ে ভাবি, তবে আমাদের বলতেই হবে '''কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড থেকে সর্বোচ্চ কত সংখ্যক মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে বা তারা যেকোনো অক্ষাংশে কত বৈচিত্র্যময় ফসল ফলাতে পারবে, তার কোনো সীমা বর্তমানে কল্পনা করাও অসম্ভব।'''
* আমরা এখন এটুকুই বলতে পারি যে, ''এমনকি বর্তমানেও'', প্রতি বর্গমাইলে ৬০০ জন অনায়াসেই বাস করতে পারে; এবং ১,০০০ একর জমিতে ১,০০০ জন মানুষ অলস নয় এমন কঠোর পরিশ্রম ছাড়াই অত্যন্ত বিলাসবহুল উদ্ভিদ ও প্রাণীজ খাদ্য এবং পোশাকের জন্য প্রয়োজনীয় তন্তু ও চামড়া উৎপাদন করতে পারে।
* এভাবেই আমরা দেখি যে, '''অতিরিক্ত জনসংখ্যার ভ্রান্ত ধারণা নিবিড় পরীক্ষার সামনে টিকতেই পারে না।'''
* যারা প্রতি ১,০০০ সেকেন্ডে এ দেশে একজন করে মানুষ বৃদ্ধিতে আতঙ্কিত হন, তারা মানুষকে কেবল জগতের সম্পদের অংশীদার হিসেবে দেখেন, অবদানকারী হিসেবে নয়। কিন্তু আমরা, যারা প্রতিটি নবজাতকের মাঝে একজন ভবিষ্যৎ 'কর্মী'কে দেখি যে নিজের ভাগের চেয়েও অনেক বেশি সম্পদ উৎপাদনে সক্ষম আমরা তার আগমনকে স্বাগত জানাই।
=== 'মেমোয়ার্স অব এ রেভোলিউশনিস্ট' (১৮৯৯) ===
:<small>[http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_archives/kropotkin/memoirs/memoirstoc.html অনলাইন টেক্সট]</small>
* একজন ভূমিদাস-মালিকের পরিবারে বড় হওয়ায়, আমি আমার সময়ের অন্য সব যুবকদের মতো আদেশ দেওয়া, শাসন করা, বকাঝকা বা শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর অগাধ আত্মবিশ্বাস নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছিলাম। কিন্তু যখন খুব অল্প বয়সেই আমাকে গুরুতর উদ্যোগ পরিচালনা করতে এবং মানুষের সাথে কাজ করতে হলো যেখানে প্রতিটি ভুল তাৎক্ষণিক ভারী পরিণতি বয়ে আনত'''তখন আমি 'আদেশ ও শৃঙ্খলার নীতি' এবং 'পারস্পরিক সমঝোতার নীতি'র মধ্যে পার্থক্য বুঝতে শুরু করলাম। প্রথমটি সামরিক কুচকাওয়াজে চমৎকার কাজ দেয়, কিন্তু বাস্তব জীবনের ক্ষেত্রে এর কোনো মূল্য নেই। বাস্তব জীবনের লক্ষ্য কেবল অনেকের সম্মিলিত ইচ্ছার কঠোর প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে।'''
** [http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_archives/kropotkin/memoirs/memoirs3_7.html ৩য় খণ্ড, ৭ম পরিচ্ছেদ]
* মধ্য ইউরোপ পর্যন্ত বরফের আস্তরণ পৌঁছানোর তত্ত্বে বিশ্বাস করা সে সময় এক ধরণের ধর্মদ্রোহিতা ছিল। কিন্তু আমার চোখের সামনে একটি বিশাল ছবি ফুটে উঠছিল। আমি হাজার হাজার খুঁটিনাটি সহ সেই ছবিটি আঁকতে চেয়েছিলাম। এটিকে বর্তমানের উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের বিন্যাসের চাবিকাঠি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। ভূবিদ্যা ও ভৌত ভূগোলের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চেয়েছিলাম। <br> কিন্তু এই সর্বোচ্চ আনন্দ উপভোগ করার কী অধিকার আমার আছে, যখন আমার চারপাশে কেবল এক টুকরো পচা রুটির জন্য হাহাকার আর সংগ্রাম? যখন সেই উচ্চতর আবেগের জগতে বাস করার জন্য আমার প্রতিটি ব্যয়িত অর্থ সেই সব মানুষদের মুখ থেকে কেড়ে নেওয়া—যারা গম ফলায় কিন্তু নিজের সন্তানদের জন্য পর্যাপ্ত রুটি জোটাতে পারে না? কারো না কারো মুখ থেকে এটি কেড়ে নিতেই হয়, কারণ মানবজাতির মোট উৎপাদন আজও অত্যন্ত নিম্নপর্যায়ে রয়ে গেছে। <br> জ্ঞান এক বিশাল শক্তি। মানুষের জানা উচিত। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যেই অনেক কিছু জানি! '''যদি সেই জ্ঞান এবং কেবল সেই জ্ঞানই সবার সম্পদে পরিণত হয়? তবে কি বিজ্ঞান নিজে লাফিয়ে লাফিয়ে এগোবে না? এবং তা মানবজাতিকে উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং সামাজিক সৃজনশীলতায় এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে না যার গতি পরিমাপ করার ক্ষমতাও আমাদের এখন নেই?'''
** [http://dwardmac.pitzer.edu/anarchist_archives/kropotkin/memoirs/memoirs4_3.html ৪র্থ খণ্ড, ৩য় পরিচ্ছেদ]
=== 'মিউচুয়াল এইড: এ ফ্যাক্টর অব ইভোলিউশন' (১৯০২) ===
:<small>[http://onlinebooks.library.upenn.edu/webbin/gutbook/lookup?num=4341 অনলাইন টেক্সট]</small>
* '''প্রাণিজগতে আমরা দেখেছি যে অধিকাংশ প্রজাতি সমাজে বাস করে এবং তারা দলবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমেই জীবন সংগ্রামের সেরা অস্ত্র খুঁজে পায়।অবশ্যই ডারউইনীয় অর্থে কেবল টিকে থাকার লড়াই হিসেবে নয়, বরং প্রজাতির জন্য প্রতিকূল সমস্ত প্রাকৃতিক অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম হিসেবে।''' যে সব প্রাণিপ্রজাতি ব্যক্তিগত লড়াইকে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তারাই সংখ্যায় বেশি, সমৃদ্ধ এবং প্রগতির পথে সবচেয়ে অগ্রসর। এই পারস্পরিক সুরক্ষা দীর্ঘজীবী হওয়া, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা এবং উচ্চতর বুদ্ধিগত বিকাশের সুযোগ করে দেয় যা প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা নিশ্চিত করে। '''বিপরীতভাবে, অসামাজিক প্রজাতিগুলো বিলুপ্তির পথে ধাবিত হয়।'''
* আদিম উপজাতি থেকে বর্বর গ্রাম্য সম্প্রদায় গড়ে উঠেছিল; এবং একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের সাধারণ মালিকানা ও সাধারণ প্রতিরক্ষার নীতির অধীনে সামাজিক প্রথা, অভ্যাস এবং প্রতিষ্ঠানের এক নতুন ও বিস্তৃত বলয় তৈরি হয়েছিল। যার অনেকগুলো আজও আমাদের মাঝে টিকে আছে। আর যখন নতুন প্রয়োজন মানুষকে নতুন শুরুর দিকে ধাবিত করল, তারা তা করল শহরে—যা ছিল গ্রাম্য সম্প্রদায় এবং গিল্ড বা বণিক সংঘের একটি দ্বৈত জাল।
[[File:Nuclear artillery test Grable Event - Part of Operation Upshot-Knothole.jpg|thumb|right|একটি মাত্র যুদ্ধ।আমরা সবাই জানি তৎক্ষণাৎ এবং পরবর্তীতে এতটা অনিষ্ট করতে পারে, যা শত বছরের পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির দ্বারা অর্জিত কল্যাণকেও ম্লান করে দেয়।]]
* পারস্পরিক সহযোগিতা বিবর্তনের একটি কারক হলেও তা মানবিক সম্পর্কের একটি দিক মাত্র। এর পাশাপাশি অন্য একটি ধারা সবসময় ছিল ব্যক্তির আত্মপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা। এটি কেবল ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াই নয় বরং উপজাতি, গ্রাম্য সম্প্রদায় বা রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া প্রথাগত বন্ধন ভেঙে ফেলার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। অন্য কথায়, ব্যক্তিকে একটি প্রগতিশীল উপাদান হিসেবে নেওয়া। <br>'''এটি স্পষ্ট যে, বিবর্তনের কোনো পর্যালোচনাই পূর্ণাঙ্গ হবে না যদি না এই দুটি প্রভাবশালী ধারা (সহযোগিতা ও আত্মপ্রতিষ্ঠা) বিশ্লেষণ করা হয়।''' তবে ব্যক্তির আত্মপ্রতিষ্ঠা বা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই আদিকাল থেকেই বর্ণিত এবং মহিমান্বিত হয়ে আসছে। মহাকাব্যিক কবি, ইতিহাসবিদ এবং সমাজবিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত কেবল এই লড়াইয়ের ধারাটিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। এযাবৎকাল পর্যন্ত লিখিত ইতিহাস মূলত ধর্মতন্ত্র, সামরিক শক্তি, স্বৈরতন্ত্র এবং পরবর্তীতে ধনী শ্রেণীর শাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠিত ও বজায় রাখা হয়েছে, তারই বর্ণনা।
[[File:RegenbogenDSCN0352.JPG|thumb|right|শিল্পের অগ্রগতি বা প্রকৃতির ওপর যেকোনো বিজয়ের জন্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অবশ্যই পারস্পরিক লড়াইয়ের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক।]]
* '''একটি মাত্র যুদ্ধ আমরা সবাই জানি তৎক্ষণাৎ এবং পরবর্তীতে এতটা অনিষ্ট করতে পারে, যা শত বছরের পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির দ্বারা অর্জিত কল্যাণকেও ম্লান করে দেয়।'''
* '''আমাদের এই শতাব্দীতে যে হঠাৎ শিল্পোন্নতি হয়েছে এবং যাকে সাধারণত ব্যক্তিবাদ ও প্রতিযোগিতার জয় হিসেবে গণ্য করা হয়, তার উৎস আসলে আরও অনেক গভীরে।''' পঞ্চদশ শতাব্দীর মহান আবিষ্কারগুলো, বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপের আবিষ্কার এবং প্রাকৃতিক দর্শনের ধারাবাহিক অগ্রগতি যা মধ্যযুগীয় শহর সংগঠনের অধীনে সম্পন্ন হয়েছিল। তা একবার হওয়ার পর বাষ্পীয় ইঞ্জিন উদ্ভাবন এবং নতুন শক্তির জয় অনিবার্য ছিল। '''তাই আমাদের শতাব্দীর শিল্পোন্নতিকে 'সবার বিরুদ্ধে সবার লড়াইয়ের' ফল হিসেবে দেখাটা সেই মানুষের মতো যুক্তি দেওয়া যে বৃষ্টির কারণ না জেনে বৃষ্টির দেবতাকে খুশি করার জন্য উৎসর্গ করা বলির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। শিল্পের অগ্রগতি বা প্রকৃতির ওপর যেকোনো বিজয়ের জন্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অবশ্যই পারস্পরিক লড়াইয়ের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক।'''
* '''বিশেষ করে নৈতিকতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে।''' পারস্পরিক সহযোগিতাই যে আমাদের নৈতিক ধারণার প্রকৃত ভিত্তি, তা যথেষ্ট স্পষ্ট। এই অনুভূতির উৎস জৈবিক বা অলৌকিক যাই হোক না কেন, প্রাণিজগতের একদম নিম্নস্তর থেকেই এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় এবং সেখান থেকে মানুষের উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে এটি বিবর্তিত হয়ে বর্তমান সময়ে পৌঁছেছে। এমনকি সময়ে সময়ে জন্ম নেওয়া নতুন ধর্মগুলোও কেবল এই একই নীতিকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। এই ধর্মগুলো সমাজের নিচুতলার মানুষের কাছেই প্রথম গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, কারণ পারস্পরিক সহযোগিতা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য ভিত্তি। <br>'''প্রতিবার যখন এই পুরাতন নীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করা হয়েছে, এর মূল ধারণাটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। এটি বংশ থেকে উপজাতিতে, উপজাতি থেকে জাতিতে এবং পরিশেষে অন্তত আদর্শগতভাবে পুরো মানবজাতির মধ্যে বিস্তৃত হয়েছে।'''
* আদিম বৌদ্ধধর্ম, আদিম খ্রিস্টধর্ম, মুসলিম শিক্ষকগণের কিছু লেখা এবং বিশেষ করে গত শতাব্দীর নৈতিক ও দার্শনিক আন্দোলনে প্রতিশোধের ধারণা ত্যাগের কথা জোরালোভাবে বলা হয়েছে। '''"অন্যায়ের প্রতিশোধ না নেওয়া" এবং প্রতিবেশীর কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করা হয় তার চেয়েও বেশি উদারভাবে দেওয়ার উচ্চতর ধারণাটিকে নৈতিকতার প্রকৃত নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।এমন একটি নীতি যা কেবল ন্যায়বিচার বা সমতার চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং সুখের জন্য বেশি সহায়ক। পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চায়, যা বিবর্তনের আদি লগ্ন থেকে খুঁজে পাওয়া যায়, আমরা আমাদের নৈতিক ধারণার এক ইতিবাচক এবং অবিসংবাদিত উৎস খুঁজে পাই এবং আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে মানুষের নৈতিক প্রগতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা পারস্পরিক লড়াই নয়। প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান সময়েও এর ব্যাপক বিস্তার আমাদের জাতির আরও মহত্তর বিবর্তনের সেরা নিশ্চয়তা দেয়।'''
{{Misattributed begin}}
== ভুলভাবে আরোপিত ==
* '''সমাজতন্ত্রীরা যদি প্রতিটি ব্যক্তির চাহিদাপূরণকে তাদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে স্পষ্টভাবে এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে প্রস্তুত না হন; যদি তারা জনমতকে এই অবস্থানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রস্তুত না হন, তবে নিজেদের মুক্ত করার পরবর্তী প্রচেষ্টায় জনগণ আবারও পরাজয়ের সম্মুখীন হবে।'''
** এই উক্তিটি ১৮৮৭ সালের আগস্টে 'ফ্রিডম' (Freedom, Vol. 1, No. 11) পত্রিকায় "বিপ্লবের প্রথম কাজ" (The First Work of the Revolution) শিরোনামের একটি নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল। নিবন্ধটির লেখক অজ্ঞাত; যদিও সেই একই সংখ্যায় ক্রোপোটকিনের অন্য একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল, যার ফলে এটি প্রায়ই তাঁর নামে চালিয়ে দেওয়া হয়।
{{Misattributed end}}
== ক্রোপোটকিন সম্পর্কে উক্তি ==
[[File:Kustodiev_The_Bolshevik.jpg|thumb|right|সবকিছু বদলে যাবে এবং জনতা একদিন উপলব্ধি করবে যে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সরকারি গোষ্ঠীকে বিপ্লবকে একচেটিয়া করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে বা পরিচালনা করতে দেওয়া যাবে না। কারণ এই ধরনের প্রচেষ্টা অনিবার্যভাবে বিপ্লবেরই মৃত্যু ঘটায়।]]
[[File:Come unto me, ye opprest.jpg|thumb|right|আমাদের অরাজকতাবাদীদের সেই পুরনো ধরাবাঁধা ছবি ঝেড়ে ফেলতে হবে, যেখানে তাদের শহরের রাস্তায় রাতে লুকিয়ে বেড়ানো দাড়িওয়ালা বোমা নিক্ষেপকারী হিসেবে দেখানো হয়। ~ স্টিফেন জে গোল্ড]]
[[File:Kropotkin on Deathbed.jpg|thumb|right|তাঁর অনেক আদর্শিক শত্রু ছিল, কিন্তু তাঁর সময়ের খুব কম বিখ্যাত ব্যক্তিরই এত কম ব্যক্তিগত শত্রু ছিল। এমনকি যারা তাঁর শিক্ষার কট্টর বিরোধী ছিলেন, তারাও তাঁর নম্রতা এবং আন্তরিকতাকে অস্বীকার করতে পারতেন না। ~ জর্জ উডকক]]
* বিপ্লবীদের এই চমৎকার মিছিলে প্রিন্স ক্রোপোটকিন, বা তিনি যেভাবে পরিচিত হতে পছন্দ করেন। পিটার ক্রোপোটকিন, নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বিশিষ্ট ছিলেন। যখন তিনি আমেরিকায় বক্তৃতা দিতে এসেছিলেন, তখন সারা দেশে তাঁকে অত্যন্ত আগ্রহ ও শ্রদ্ধার সাথে শোনা হয়েছিল।
** জেন অ্যাডামস, '২০ ইয়ার্স অ্যাট হাল হাউস' (১৯১০)
* '''রাশিয়া ছিল আমাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। সবাই একমত ছিলেন যে সেখানকার অবস্থা ছিল ভয়াবহ এবং বলশেভিকদের একনায়কতন্ত্র ছিল সবচেয়ে বড় অপরাধ।''' কিন্তু তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন, বিশ্বাস হারানোর কোনো কারণ নেই। বিপ্লব এবং সাধারণ মানুষ যেকোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের চক্রান্তের চেয়ে অনেক বড়। রাজনৈতিক দল সাময়িকভাবে জয়ী হতে পারে কিন্তু রুশ জনগণের হৃদয় কলুষিত নয়; তারা খুব শীঘ্রই একনায়কতন্ত্র এবং বলশেভিক অত্যাচারের মন্দ দিকগুলো বুঝতে পেরে ঐক্যবদ্ধ হবে। '''তিনি বলেন, বর্তমান রুশ জীবন এক কৃত্রিম অবস্থা যা শাসক শ্রেণী জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে। একটি ছোট রাজনৈতিক দলের শাসন মিথ্যা তত্ত্ব, সহিংস পদ্ধতি, ভয়াবহ ভুল এবং অদক্ষতার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। তারা জনগণের ইচ্ছা এবং উদ্যোগকে দমন করছে, যা ছাড়া দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক জীবন পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।''' মিত্রশক্তির নির্বোধ মনোভাব, অবরোধ এবং হস্তক্ষেপকারীদের আক্রমণ বলশেভিক শাসনের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। কিন্তু সবকিছু বদলে যাবে এবং '''জনতা একদিন উপলব্ধি করবে যে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সরকারি গোষ্ঠীকে বিপ্লবকে একচেটিয়া করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে বা পরিচালনা করতে দেওয়া দেওয়া যাবে না। কারণ এই ধরনের প্রচেষ্টা অনিবার্যভাবে বিপ্লবেরই মৃত্যু ঘটায়।''' <br> সেই সময় আমরা বিপ্লবের আরও অনেক দিক নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। ক্রোপোটকিন বিশেষ করে বিপ্লবের গঠনমূলক দিকের ওপর জোর দিয়েছিলেন; বিশেষ করে অর্থনৈতিক জীবনের সংগঠনকে বিপ্লবের প্রথম এবং প্রধান প্রয়োজনীয়তা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, কারণ এটিই বিপ্লবের অস্তিত্ব ও বিকাশের ভিত্তি।
** আলেকজান্ডার বার্কম্যান, [http://dwardmac.pitzer.edu/ANARCHIST_ARCHIVES/bright/berkman/reminiscences/reminiscences.html "সাম রেমিনিসেন্সেস অব ক্রোপোটকিন"]
* ...সেই তরুণ রাজপুত্র ছিলেন পিটার ক্রোপোটকিন। ক্রোপোটকিন তাঁর "মেমোয়ার্স অব আ রেভোলিউশনিস্টে" রুশ কবি নেক্রাসভের কথা উদ্ধৃত করেছেন: "দাসের তৈরি রুটি তিক্ত হয়।" তিনি আরও যোগ করেন: "তরুণ প্রজন্ম আসলে সেই রুটি খেতে এবং তাদের পৈতৃক বাড়িতে দাসের শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ভোগ করতে অস্বীকার করেছিল—শ্রমিকরা প্রকৃত দাস হোক বা বর্তমান শিল্প ব্যবস্থার দাস।"
** ক্যাথরিন ব্রেশকভস্কি, 'দ্য লিটল গ্র্যান্ডমাদার অব দ্য রাশিয়ান রেভোলিউশন', ১৯১৮
* দরিদ্র তরুণদের প্রতি তাঁর আহ্বান আমাকে ব্যক্তিগতভাবে স্পর্শ করেছিল, যেন তিনি আমাদের ব্রঙ্কসের সেই জীর্ণ ফ্ল্যাটে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন: "তোমাকে কি তোমার বাবা-মায়ের মতো ত্রিশ বা চল্লিশ বছর একইভাবে ক্লান্তিকর জীবন অতিবাহিত করতে হবে? তোমাকে কি সারাজীবন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হবে যাতে অন্যরা সুস্থতা, জ্ঞান আর শিল্পের সব আনন্দ ভোগ করতে পারে, আর তোমার নিজের জন্য শুধু কালকের এক টুকরো রুটির অনিশ্চয়তাটুকু পড়ে থাকে?"
** এলিজাবেথ গার্লি ফ্লিন, 'দ্য রেবেল গার্ল: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি', ১৯৫৫
* ...পিটার ক্রোপোটকিনের 'আপিল টু দ্য ইয়াং' (তরুণদের প্রতি আহ্বান) ছিল একটি চমৎকার আহ্বান, যেখানে তিনি এই পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করার জন্য তরুণদের দায়িত্ব পালনের কথা বলেছিলেন।
** এলিজাবেথ গার্লি ফ্লিন, [http://www.sojust.net/speeches/elizabeth_flynn_memories.html "মেমোরিজ অব দ্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড"] (৮ নভেম্বর, ১৯৬২)
* ক্রোপোটকিনরা, পেরভস্কায়ারা, ব্রেশকভস্কায়ারা সম্পদ এবং পদমর্যাদা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁরা জনগণের কাছে গিয়েছিলেন তাদের ওপর তুলে ধরার জন্য নয়, বরং নিজেরা তাদের কাছ থেকে শিক্ষা পাওয়ার জন্য এবং নিজেদের সম্পূর্ণভাবে জনগণের কাছে উৎসর্গ করার জন্য।
** এমা গোল্ডম্যান, "ইন্টেলেকচুয়াল প্রলেটারিয়ানস" (১৯১৪)
* '''আমাদের অরাজকতাবাদীদের সেই পুরনো ধরাবাঁধা ছবি ঝেড়ে ফেলতে হবে, যেখানে তাদের শহরের রাস্তায় রাতে লুকিয়ে বেড়ানো দাড়িওয়ালা বোমা নিক্ষেপকারী হিসেবে দেখানো হয়।''' ক্রোপোটকিন ছিলেন একজন অমায়িক মানুষ, অনেকের মতে প্রায় সাধুতুল্য; যিনি এমন এক ক্ষুদ্র সমাজের স্বপ্ন দেখতেন যারা সবার মঙ্গলের জন্য নিজেদের মানদণ্ড নিজেরা ঠিক করবে, যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা বিলুপ্ত হবে।
** [[স্টিফেন জে গোল্ড]], [http://www.marxists.org/subject/science/essays/kropotkin.htm "ক্রোপোটকিন ওয়াজ নো ক্র্যাকপট"], 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি' ১০৬ (জুন ১৯৯৭)
* '''ক্রোপোটকিন সংগ্রামের সাধারণ ধারণার মধ্যে একটি দ্বিবিভাজন তৈরি করেছেন। যার দুটি রূপ বিপরীতমুখী: (১) একই প্রজাতির জীবের মধ্যে সীমিত সম্পদের জন্য লড়াই, যা প্রতিযোগিতার দিকে নিয়ে যায় এবং (২) পরিবেশের বিরুদ্ধে জীবের লড়াই, যা সহযোগিতার দিকে নিয়ে যায়।''' ...আমি মনে করি ক্রোপোটকিনের মূল যুক্তিটি সঠিক। সংগ্রাম অনেকভাবেই ঘটে এবং কিছু সংগ্রাম একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে সহযোগিতার জন্ম দেয়।
** স্টিফেন জে গোল্ড, "ক্রোপোটকিন ওয়াজ নো ক্র্যাকপট", 'ন্যাচারাল হিস্ট্রি' ১০৬ (জুন ১৯৯৭)
* ওডোনানিজমকে মোটামুটিভাবে অরাজকতাবাদের সাথে শনাক্ত করা যায়। আমি মনে করি এটি ক্রোপোটকিন, এমা গোল্ডম্যান এবং বড় পরিসরে পল গুডম্যানের অরাজকতাতান্ত্রিক ধারার একটি রূপ। এটি শান্তিবাদী অরাজকতাবাদ।
** আরসুলা লে গুইনের সাথে সাক্ষাৎকার, ১৯৮০
* ক্রোপোটকিন নারী ও পুরুষ উভয়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করলেও, তিনি সেই নারীদের প্রতি অধৈর্য প্রকাশ করতেন যারা নারীবাদকে (পুরুষ) শ্রমিক শ্রেণীর প্রতি আনুগত্যের উপরে স্থান দিতেন। তাঁর নিজের পারিবারিক সম্পর্কগুলো ছিল প্রথাগত।
** মার্গারেট এস মার্শ, 'অ্যানার্কিস্ট উইমেন, ১৮৭০-১৯২০' (১৯৮১)
* ক্রোপোটকিনের 'কনকুয়েস্ট অব ব্রেড' দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মলি স্টেইমার ১৯১৭ সালে অরাজকতাবাদী দল 'ফ্রিডমে' যোগ দেন। ক্রোপোটকিনের অনুসারী হিসেবে স্টেইমারের ভবিষ্যতের জন্য একটি বুদ্ধিদীপ্ত এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।
** মার্গারেট এস মার্শ, 'অ্যানার্কিস্ট উইমেন, ১৮৭০-১৯২০' (১৯৮১)
* তিনি সম্ভবত বেঁচে থাকা মহত্তম আত্মাদের একজন ছিলেন। তিনি তাঁর বইতে লিখেছেন... মহিলারা কেবল নিজেদের কথা ভাবছেন না বরং কীভাবে পৃথিবীর সম্পদ অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া যায় তা নিয়েও ভাবছেন।
** গ্রেস পেলির সাথে সাক্ষাৎকার, ১৯৯৩
* বিজ্ঞান এবং দর্শনের আলোয় পিটার ক্রোপোটকিন লিখেছেন: "আমরা যদি প্রকৃতিকে জিজ্ঞাসা করি: 'কারা সবচেয়ে উপযুক্ত: যারা একে অপরের সাথে অবিরাম যুদ্ধ করে, নাকি যারা একে অপরকে সমর্থন করে?' আমরা তখনই দেখব যে যেসব প্রাণী পারস্পরিক সহযোগিতার অভ্যাস রপ্ত করেছে তারাই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উপযুক্ত।"
** বন্দনা শিবা, 'আর্থ ডেমোক্রেসি: জাস্টিস, সাসটেইনেবিলিটি, অ্যান্ড পিস' (২০০৫)
* আমি একবার প্রিন্স ক্রোপোটকিনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বই, কলম, কালি এবং কাগজ ছাড়াই তিনি কীভাবে বছরের পর বছর কারাগারে টিকে ছিলেন। "আহ," তিনি বললেন, "আমি এমন অনেক বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছিলাম যা আমাকে আনন্দ দেয়। কোনো ভাবনার গভীরে থাকলে আমি সময়ের হিসাব রাখতাম না... আমার নিজের এক বিশাল জগত ছিল, যেখানে কোনো রুশ জেলর বা জার হানা দিতে পারত না।"
** এলিজাবেথ ক্যাডি স্ট্যান্টন, মার্কিন প্রতিনিধি সভার বিচার বিভাগীয় কমিটিতে বক্তব্য, ১৮৯২
* বিজ্ঞানী, মানবতাবাদী এবং রাজবংশে জন্ম নেওয়া ক্রোপোটকিন এই যুগের এক উজ্জ্বল প্রতিভা। কেবল তাঁর বিশাল মেধার কারণেই তিনি অনন্য নাহ বরং তাঁর ব্যক্তিত্বের শক্তি ছিল অবর্ণনীয়।
** আনা স্ট্রুনস্কি, 'সান ফ্রান্সিসকো কল', ১১ অক্টোবর ১৯০৪
* '''আমার অভিজ্ঞতায় আমি যে দুটি নিখুঁত জীবনের সন্ধান পেয়েছি তা হলো পল ভার্লেন এবং প্রিন্স ক্রোপোটকিনের জীবন''': উভয়েই বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। ক্রোপোটকিন হলেন এমন এক মানুষ যার আত্মার মধ্যে রাশিয়ার সেই সুন্দর শুভ্র যিশুখ্রিস্টের ছায়া দেখা যায়।
** অস্কার ওয়াইল্ড, 'ডি প্রোফান্ডিস' (১৮৯৭)
* ক্রোপোটকিনকে যারা চিনতেন, তাঁদের কাছে তাঁর কাজের চেয়ে তাঁর ব্যক্তিত্বই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর অনেক আদর্শিক শত্রু ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত শত্রু ছিল খুব কম। এমনকি যারা তাঁর কট্টর বিরোধী ছিলেন, তারাও তাঁর নম্রতা এবং আন্তরিকতাকে অস্বীকার করতে পারতেন না। তিনি সবসময় যা সঠিক মনে করতেন তা-ই বলতেন এবং তার পরিণতি ভোগ করতে প্রস্তুত থাকতেন।
** জর্জ উডকক এবং ইভান অ্যাভাকুমোভিচ, 'পিটার ক্রোপোটকিন: ফ্রম প্রিন্স টু রেবেল' (১৯৯০)
* '''তত্ত্বের সাথে অনুশীলনের সংযোগ স্থাপনের ইচ্ছা ক্রোপোটকিনের প্রায় সব লেখায় স্পষ্ট ছিল।''' তিনি বিপ্লবকে কেবল ধ্বংসলীলা হিসেবে দেখতেন না বরং একটি গঠনমূলক ঘটনা হিসেবে দেখতেন। তিনি বলতেন, বিপ্লব কেবল কথার দ্বারা সম্পন্ন হয় না। এর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা এবং ইচ্ছাশক্তি থাকা প্রয়োজন।
** জর্জ উডকক, 'অ্যানার্কিজম' (১৯৬২)
=== "ক্রোপোটকিনের কমিউনিজম", মেরি গোল্ডস্মিথ (১৯৩১) ===
* ক্রোপোটকিন বিশ্বাস করতেন যে অরাজকতাতান্ত্রিক সাম্যবাদের তত্ত্বের বিকাশই অরাজকতাবাদে তাঁর প্রধান অবদান। ক্রোপোটকিনের সাম্যবাদ দুটি উৎস থেকে এসেছে: এক দিকে অর্থনৈতিক ঘটনার ঐতিহাসিক বিকাশ এবং অন্য দিকে সাম্য ও স্বাধীনতার সামাজিক আদর্শ।
* ক্রোপোটকিনের অরাজকতাতান্ত্রিক সাম্যবাদ বর্তমান সময়ের সামাজিক সংগ্রামের সাথে জড়িত সবার কাছে একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং সফল আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত।
==বহিঃসংযোগ==
{{wikipedia}}
* [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/britanniaanarchy.html 'এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা' (১৯১০)-এ ক্রোপোটকিনের "অ্যানার্কিজম" বিষয়ক ভুক্তি]
* [http://onlinebooks.library.upenn.edu/webbin/book/search?amode=start&author=Kropotkin%2c%20Petr দ্য অনলাইন বুকস পেজ (পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)]
* [http://dwardmac.pitzer.edu/Anarchist_Archives/kropotkin/Kropotkinarchive.html অ্যানার্কিস্ট আর্কাইভে পিটার ক্রোপোটকিন পেজ]
* [http://recollectionbooks.com/bleed/Encyclopedia/KropotkinPeter.htm অ্যানার্কিস্ট এনসাইক্লোপিডিয়াতে ক্রোপোটকিন পেজ]
* [http://libcom.org/library/taxonomy/term/7 লিবার্টারিয়ান কমিউনিস্ট লাইব্রেরিতে ক্রোপোটকিনের লেখাসমূহ]
* [http://www.blackcrayon.com/people/kropotkin/ ব্ল্যাকক্রেয়ন.কম: ব্যক্তি: পিটার ক্রোপোটকিন]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৪২ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯২১ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:সামাজিক কর্মী]]
[[বিষয়শ্রেণী:অ্যানার্কো-কমিউনিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:ফ্যাসিবাদ বিরোধী]]
[[বিষয়শ্রেণী:বিপ্লবী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার ভূগোলবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার অভিযাত্রী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার ইতিহাসবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার প্রাণিবিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:সম্পাদক]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার স্মৃতিকথা লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার অভিজাত সম্প্রদায়]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার নাস্তিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মস্কোর ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:রুশ কমিউনিস্ট]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার অরাজকতাবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাশিয়ার লেখক]]
2o5z0sd7dfxtxnj4j5941ihbv95g8ir
রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল
0
13381
83234
83085
2026-05-01T14:22:42Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
83234
wikitext
text/x-wiki
[[File:Robert G. Ingersoll - Brady-Handy.jpg|thumb|right|[[ভালোবাসা]] একটি স্বাভাবিক বিষয়। সব [[অনুষ্ঠান|অনুষ্ঠানের]] পেছনে পবিত্র শিখা জ্বলে। এটি চিরকাল জ্বলবে। পৃথিবীর [[ইতিহাস|ইতিহাসে]] এমন কোনো সময় ছিল না যখন এই মশাল নিভে গিয়েছিল। সব যুগে, সব জলবায়ুতে, সব মানুষের মধ্যে সত্য, খাঁটি ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছিল।]]
'''[[w:রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল|রবার্ট গ্রিন ইঙ্গারসোল]]''' (১১ আগষ্ট ১৮৩৩ – ২১ জুলাই ১৮৯৯) ছিলেন একজন আইনজীবী, [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধ|গৃহযুদ্ধের]] অভিজ্ঞ সৈনিক, রাজনৈতিক নেতা এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] একজন [[w:বক্তা|বক্তা]]। তিনি মুক্তচিন্তার সোনালী যুগে এই ভূমিকা পালন করেন। তিনি তার বিস্তৃত সংস্কৃতি এবং [[w:অজ্ঞেয়বাদ|অজ্ঞেয়বাদের]] পক্ষে বলার জন্য জন্য পরিচিত ছিলেন। তাকে "'''দ্য গ্রেট অ্যাগনোস্টিক'''" ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল।
== উদ্ধৃতি ==
[[File:Paradiso Canto 31 (148200393).jpg|thumb|right|সব ধর্মমতকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা এবং সব ধর্মের সত্যকে অস্বীকার করার পরও আমার [[হৃদয়|হৃদয়ে]] বা ঠোঁটে আশাবাদী, প্রেমময় এবং কোমল [[আত্মা|আত্মাদের]] জন্য কোনো অবজ্ঞা নেই। তারা বিশ্বাস করেন এই সব মতভেদ থেকে একটি নিখুঁত [[সম্প্রীতি]] তৈরি হবে। প্রতিটি [[মন্দের|মন্দ]] কোনো না কোনো রহস্যময় উপায়ে একটি [[ভালো|ভালোতে]] পরিণত হবে। সবার [[উপরে|সবকিছুর]] উপরে এমন একজন আছেন যিনি কোনো না কোনোভাবে মানুষের প্রতিটি [[সন্তান|সন্তানকে]] পুনরুদ্ধার এবং মহিমান্বিত করবেন...]]
[[File:Eugène Delaplanche - La Musique.jpg|thumb|right|[[সঙ্গীত]] হলো ভালোবাসার [[কণ্ঠস্বর]]।]]
[[File:William-Adolphe Bouguereau (1825-1905) - Rest (1879).jpg|thumb|right| [[ন্যায়বিচার]] হলো একমাত্র [[উপাসনা]]।<br>[[ভালোবাসা]] হলো একমাত্র পুরোহিত।<br>[[অজ্ঞতা]] হলো একমাত্র [[দাসত্ব]]।<br>[[সুখ]] হলো একমাত্র [[মঙ্গল]]। <br> সুখী হওয়ার [[সময়]] হলো [[বর্তমান|এখন]],<br>সুখী হওয়ার জায়গা হলো এখানে,<br>সুখী হওয়ার উপায় হলো অন্যদের সুখী করা।]]
[[File:Artist’s impression of the black hole inside NGC 300 X-1 (ESO 1004a).jpg|thumb|right|[[বর্তমান]] হলো সমস্ত [[অতীত|অতীতের]] একটি [[প্রয়োজনীয়]] ফল। এটি সমস্ত [[ভবিষ্যৎ|ভবিষ্যতের]] প্রয়োজনীয় [[কারণ]]।]]
[[File:Blue Marble Western Hemisphere.jpg|thumb|দীর্ঘ সময়কালের তুলনা করে আমরা অগ্রগতি আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি।]]
[[File:Mikuláš Galanda - Mother Galanda.jpg|thumb|right|বর্তমান হলো সন্তান। এটি সমস্ত অতীতের প্রয়োজনীয় সন্তান এবং সমস্ত ভবিষ্যতের মা।]]
[[File:Crepuscular rays in ggp 2.jpg|thumb|right|স্বাধীন হওয়া অনেক ভালো। ভয়ের দুর্গ ও ব্যারিকেড ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়া উচিত। মাঝে মাঝে নিজেকে অবহেলায় সঁপে দেওয়া অনেক ভালো। ঢেউ ও স্রোতের সাথে এবং বিশ্বের অন্ধ শক্তির সাথে ভেসে চলা উচিত...]]
[[File:La Vérité, par Jules Joseph Lefebvre.jpg|thumb|right|আমরা যত বেশি মিথ্যা ধ্বংস করব, সত্যের জন্য তত বেশি জায়গা তৈরি হবে।]]
[[File:Pedro_Berruguete_Saint_Dominic_Presiding_over_an_Auto-da-fe_1495.jpg|thumb|right|মানুষকে [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] উপাসনা করার [[উদ্দেশ্য|উদ্দেশ্যে]] তৈরি সমস্ত [[আইন]] একই আত্মা থেকে জন্ম নিয়েছে। এই আত্মা ''[[w:অটো ডি ফে|অটো দ্য ফে]]''র আগুন জ্বালিয়েছিল এবং ইনকুইজিশনের অন্ধকূপগুলো ভালোবেসে তৈরি করেছিল।]]
[[File:This morning we caught a rainbow.jpg|thumb|right|আমাদের [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] [[ক্ষমা|ক্ষমার]] প্রয়োজন নেই। আমাদের একে অপরের এবং নিজেদের ক্ষমার প্রয়োজন।]]
[[File:LuMaxArt_Golden_Family_With_World_Religions.jpg|thumb|right|প্রতিটি মানুষ সুখী হতে চায়। তারা খাদ্য, ছাদ ও পোশাক দিয়ে শরীরের চাহিদা মেটাতে চায়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালোবাসা, প্রজ্ঞা, দর্শন, শিল্প এবং গান দিয়ে মনের ক্ষুধা মেটাতে চায়।]]
[[File:Caspar David Friedrich - Wanderer above the sea of fog.jpg|thumb|right|আমি মনস্থির করেছি, যদি কোনো [[ঈশ্বর]] থাকেন, তবে তিনি দয়ালুদের প্রতি [[দয়া|দয়ালু]] হবেন। <br/> এই বিশ্বাসের ওপর আমি দাঁড়িয়ে আছি।]]
[[File:Cristo Redentor viewed from the base.jpg|thumb|right|[[প্রকৃতি|প্রকৃতিতে]] কোনো পুরস্কার বা [[শাস্তি]] নেই। এখানে কেবল [[পরিণতি]] রয়েছে। [[যিশু|খ্রিষ্টের]] [[জীবন]] এর উদাহরণ, [[নৈতিক]] [[শক্তি]] এবং পরোপকারের [[বীরত্ব|বীরত্বের]] জন্য মূল্যবান।]]
* নারী-পুরুষ আইনের দ্বারা গুণী হয় না। আইন নিজে কোনো গুণ তৈরি করে না। এটি ভালোবাসার ভিত্তি বা উৎসও নয়। আইনের উচিত গুণকে রক্ষা করা। চুক্তি মেনে চললে স্ত্রীর এবং স্বামী তার দায়িত্ব পালন করলে স্বামীকে আইনের রক্ষা করা উচিত। '''তবে ভালোবাসার মৃত্যু হলো বিয়ের সমাপ্তি। [[ভালোবাসা]] একটি স্বাভাবিক বিষয়। সব [[অনুষ্ঠান|অনুষ্ঠানের]] পেছনে পবিত্র শিখা জ্বলে। এটি চিরকাল জ্বলবে। পৃথিবীর [[ইতিহাস|ইতিহাসে]] এমন কোনো সময় ছিল না যখন এই মশাল নিভে গিয়েছিল। সব যুগে, সব জলবায়ুতে, সব মানুষের মধ্যে সত্য, খাঁটি ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছিল।'''
** ''দ্য রাইটিংস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল'' (১৯০০), ড্রেসডেন সংস্করণ, প্রকাশক: সি.পি. ফ্যারেল, [http://books.google.de/books?id=MOjuNv04TUcC&pg=PA426&lpg=PA426&dq=Love+is+natural.+Back+of+all+ceremony+burns+and+will+forever+burn+the+sacred+flame.+There+has+been+no+time+in+the+world's+history+when+that+torch+was+extinguished.+In+all+ages,+in+all+climes,+among+all+people,+there+has+been+true,+pure,+and+unselfish+love.&source=bl&ots=7Shzo7cSUF&sig=ZHs4Bs7Z_AvZF4UG-emVhGR2gTM&hl=de&sa=X&ei=6rP7UdGNI8iFtAbe64GIDw&ved=0CEAQ6AEwAg#v=onepage&q=Love%20is%20natural.%20Back%20of%20all%20ceremony%20burns%20and%20will%20forever%20burn%20the%20sacred%20flame.%20There%20has%20been%20no%20time%20in%20the%20world's%20history%20when%20that%20torch%20was%20extinguished.%20In%20all%20ages%2C%20in%20all%20climes%2C%20among%20all%20people%2C%20there%20has%20been%20true%2C%20pure%2C%20and%20unselfish%20love.&f=false অধ্যায়: ইজ ডিভোর্স রং (১৮৮৯), পৃষ্ঠা ৪২৬]
* '''আমি ধারণা ধার করি না। আমার নিজস্ব একটি কারখানা আছে।'''
** দ্য লেটারস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল (ফিলোসফিক্যাল লাইব্রেরি, ১৯৫১) পৃষ্ঠা ৫৭৮
* '''একটি সত্য কখনো অলৌকিক ঘটনার সাথে অংশীদারিত্বে যায় না। সত্যের জন্য অলৌকিকতার সাহায্যের প্রয়োজন নেই। একটি সত্য মহাবিশ্বের অন্য প্রতিটি সত্যের সাথে মিলে যাবে। এটি অন্যান্য সমস্ত সত্যের ফসল। একটি মিথ্যা কেবল তার সাথে মানানসই করার উদ্দেশ্যে তৈরি আরেকটি মিথ্যার সাথেই মানানসই হবে।'''
** দ্য ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল, খণ্ড ২ (১২ খণ্ডে): "লেচারস" ; "সাম মিসটেকস অফ মোজেস", ৬ "মানডে", পৃষ্ঠা ৫৯
* '''[[স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র]] এই মহান [[সত্য|সত্যটি]] ঘোষণা করে যে, সমস্ত [[ক্ষমতা]] [[জনগণ|জনগণের]] কাছ থেকে আসে। এটি একটি কুখ্যাত মতবাদের অস্বীকার ছিল। এটি একটি [[জাতি|জাতির]] প্রথম অস্বীকার ছিল। মতবাদটি ছিল যে, [[ঈশ্বর]] একজনকে অন্যদের শাসন করার অধিকার দেন।''' এটি [[মানবতা|মানবজাতির]] [[মর্যাদা|মর্যাদার]] প্রথম মহান দাবি ছিল। এটি শাসিতদের ক্ষমতার উৎস বলে ঘোষণা করেছিল। এটি আসলে যেকোনো এবং সমস্ত [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] [[কর্তৃত্ব|কর্তৃত্বকে]] অস্বীকার করেছিল। দাসত্বের যুগ পেরিয়ে এবং চাবুক ও শেকলের ক্লান্তিকর শতাব্দী ধরে ঈশ্বরকে বিশ্বের স্বীকৃত শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। মানুষকে সিংহাসনে বসানো মানে ঈশ্বরকে সিংহাসনচ্যুত করা।
** ''[http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/individuality.html ইন্ডিভিজুয়ালিটি]'' (১৮৭৩)।
* '''একজন [[সৎ]] [[দেবতা|ঈশ্বর]] হলো [[মানুষ|মানুষের]] সবচেয়ে মহৎ [[কাজ]]।'''
** এটি [[অ্যালেকজান্ডার পোপ|অ্যালেকজান্ডার পোপের]] "অ্যান অনেস্ট ম্যানস দ্য নোবেলেস্ট ওয়ার্ক অফ গড" থেকে নেওয়া হয়েছে। "দ্য গডস" (১৮৭৬) প্রবন্ধের মূলমন্ত্র হিসেবে এটি ''দ্য গডস অ্যান্ড আদার লেকচারস'' (১৮৭৯) এ প্রকাশিত হয়েছিল।
* '''[[দিন|দিনের]] পর দিন ধর্মীয় ধারণাগুলোর তীব্রতা কমে যাচ্ছে। দিন দিন বই এবং ধর্মমত থেকে পুরোনো চেতনা মরে যাচ্ছে।''' আদি [[গির্জা|গির্জার]] জ্বলন্ত উৎসাহ এবং নিভৃতে থাকা উদ্দীপনা চলে গেছে। এগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না। আচার-অনুষ্ঠানগুলো টিকে আছে, কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে প্রাচীন [[বিশ্বাস]] বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জীর্ণ যুক্তিগুলো বিশ্বাস জন্মাতে ব্যর্থ হয়। একসময় যেসব নিন্দা একটি জাতির মুখ ফ্যাকাশে করে দিত, সেগুলো এখন আমাদের মধ্যে কেবল উপহাস ও বিতৃষ্ণার সৃষ্টি করে। [[সময়|সময়]] গড়ানোর সাথে সাথে [[অলৌকিক ঘটনা|অলৌকিক ঘটনাগুলো]] তুচ্ছ ও ছোট হয়ে যায়। আমাদের পূর্বপুরুষরা যেসব প্রমাণ চূড়ান্ত বলে মনে করতেন, সেগুলো আমাদের সন্তুষ্ট করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।
** "দ্য গডস" (১৮৭৬), যা ''দ্য গডস অ্যান্ড আদার লেকচারস'' (১৮৭৯) এ প্রকাশিত হয়েছিল।
* '''সব ধর্মমতকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা এবং সব [[ধর্ম|ধর্মের]] সত্যকে অস্বীকার করার পরও আমার [[হৃদয়|হৃদয়ে]] বা ঠোঁটে আশাবাদী, প্রেমময় এবং কোমল [[আত্মা|আত্মাদের]] জন্য কোনো [[অবজ্ঞা]] নেই। তারা বিশ্বাস করেন এই সব [[মতভেদ]] থেকে একটি [[নিখুঁত]] [[সম্প্রীতি]] তৈরি হবে। প্রতিটি [[মন্দের|মন্দ]] কোনো না কোনো রহস্যময় উপায়ে একটি [[ভালো|ভালোতে]] পরিণত হবে। সবার উপরে এমন একজন আছেন যিনি কোনো না কোনোভাবে মানুষের প্রতিটি [[সন্তান|সন্তানকে]] পুনরুদ্ধার এবং মহিমান্বিত করবেন। কিন্তু যারা হৃদয়হীনভাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে মুক্তি প্রায় অসম্ভব, নরকবাস প্রায় [[নিশ্চিত|নিশ্চিত]], [[মহাবিশ্ব|মহাবিশ্বের]] মহাসড়ক [[নরক|নরকের]] দিকে নিয়ে যায়, যারা [[জীবন|জীবনকে]] [[ভয়]] এবং [[মৃত্যু|মৃত্যুকে]] বিভীষিকা দিয়ে ভরিয়ে তোলেন, যারা দোলনাকে অভিশাপ দেন এবং সমাধিকে উপহাস করেন, তাদের প্রতি [[করুণা]], [[অবজ্ঞা]] এবং [[ঘৃণা|ঘৃণার]] অনুভূতি ছাড়া আর কিছু পোষণ করা অসম্ভব।'''
** "দ্য গডস" (১৮৭৬), যা ''দ্য গডস অ্যান্ড আদার লেকচারস'' (১৮৭৯) এ প্রকাশিত হয়েছিল।
* '''[[যুক্তি]], পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা হলো [[বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] পবিত্র ত্রিত্ব। এগুলো আমাদের শিখিয়েছে যে [[সুখ]] হলো একমাত্র [[মঙ্গল]]। সুখী হওয়ার [[সময়]] হলো [[বর্তমান|এখন]] এবং সুখী হওয়ার উপায় হলো অন্যদের সুখী করা। আমাদের জন্য এটাই যথেষ্ট।''' এই [[বিশ্বাস|বিশ্বাসে]] আমরা বাঁচতে ও মরতে সন্তুষ্ট। যদি কোনোভাবে [[প্রকৃতি|প্রকৃতির]] চেয়ে উচ্চতর এবং স্বাধীন কোনো শক্তির অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়, তবে তখন হাঁটু গেড়ে বসার যথেষ্ট সময় থাকবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আসুন আমরা সোজা হয়ে দাঁড়াই।
** "দ্য গডস" (১৮৭৬), যা ''দ্য গডস অ্যান্ড আদার লেকচারস'' (১৮৭৯) এ প্রকাশিত; এটি তার "ক্রিড" বা মতবাদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ধারণাটির প্রাথমিক সংস্করণগুলোর একটি। কিছু ভিন্নরূপ:
** '''[[ন্যায়বিচার]] হলো একমাত্র [[উপাসনা]]।<br>[[ভালোবাসা]] হলো একমাত্র পুরোহিত।<br>[[অজ্ঞতা]] হলো একমাত্র [[দাসত্ব]]।<br>সুখ হলো একমাত্র মঙ্গল।<br>সুখী হওয়ার সময় হলো এখন,<br>সুখী হওয়ার জায়গা হলো এখানে,<br>সুখী হওয়ার উপায় হলো অন্যদের সুখী করা।'''<br> [[প্রজ্ঞা]] হলো সুখের বিজ্ঞান।
*** ক্রিস্টোফার মর্লি সম্পাদিত ''ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস'' (১৯৩৭), পৃষ্ঠা ৬০৩-এ উদ্ধৃত
** '''সুখ হলো একমাত্র মঙ্গল। <br> সুখী হওয়ার জায়গা হলো এখানে। <br> সুখী হওয়ার সময় হলো এখন। <br> সুখী হওয়ার উপায় হলো অন্যদের সুখী করা।'''
*** ভিন্নরূপ, যা তিনি একজন ভক্তের জন্য একটি পাণ্ডুলিপির কপিতে লিখেছিলেন (২৬ মার্চ ১৮৯৭) * '''একজন সশস্ত্র যোদ্ধার মতো, পালকযুক্ত নাইটের মতো, [[জেমস জি. ব্লেইন]] আমেরিকান কংগ্রেসের হল ধরে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তার দেশের প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতক এবং তার সুনাম ক্ষুণ্নকারী প্রত্যেকের নির্লজ্জ কপালের দিকে তার উজ্জ্বল বর্শা পূর্ণ ও নিখুঁতভাবে নিক্ষেপ করেছিলেন।'''
** [[জেমস জি. ব্লেইন|ব্লেইনকে]] রাষ্ট্রপতির জন্য মনোনীত করার ভাষণ, [[w:১৮৭৬ রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশন|রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে]] (১৫ জুন ১৮৭৬)।{{fix cite}}
* '''তারা বলে আপনার পূর্বপুরুষদের ধর্মই যথেষ্ট ভালো। একজন বাবার কেন তার ছেলের তৈরি করা উন্নত লাঙলে আপত্তি থাকবে? তারা আমাকে বলে, আপনি কি মৃত সব [[ধর্মতত্ত্ববিদ|ধর্মতত্ত্ববিদের]] চেয়ে বেশি জানেন? একজন সম্পূর্ণ বিনয়ী মানুষ হিসেবে আমি বলি, আমার মনে হয় আমি জানি।''' এখন আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে প্রতিটি মানুষের চিন্তা করার অধিকার রয়েছে। [[ঈশ্বর]] কি একটি পাখিকে ডানা দেবেন এবং ওড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করবেন? তিনি কি আমাকে মস্তিষ্ক দেবেন এবং চিন্তাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করবেন? '''যেকোনো ঈশ্বর যিনি তার সন্তানদের সৎ চিন্তার প্রকাশের জন্য অভিশাপ দেবেন, তিনি একজন ভদ্র [[চোর]] হওয়ারও যোগ্য নন। যখন আমি একটি [[বই]] পড়ি এবং তা বিশ্বাস করি না, তখন আমার তা বলা উচিত। আমি তাই করব এবং একজন মানুষের মতো [[পরিণতি|পরিণতিগুলো]] মেনে নেব।'''
** পিটসবার্গ অপেরা হাউসে উপস্থাপিত ''রিলিজিয়াস ইনটলারেন্স'' বিষয়ক ভাষণ (১৪ অক্টোবর ১৮৭৯)।{{fix cite}}
* বিশ্বের [[অগ্রগতি|অগ্রগতিকে]] কে অতিরঞ্জিত করতে পারে, যদি [[কুসংস্কার|কুসংস্কারে]] নষ্ট হওয়া সমস্ত [[অর্থ]] মানবজাতিকে আলোকিত, উন্নত এবং সভ্য করতে ব্যবহার করা যেত?
** [http://www.archive.org/stream/somemistakesmose00ingeuoft/somemistakesmose00ingeuoft_djvu.txt "সাম মিসটেকস অফ মোজেস" (১৮৭৯)] খণ্ড ২, "ফ্রি স্কুলস"।
* '''গির্জাগুলো রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে...''' সম্ভবত এমন দিন আসতে বেশি দেরি নেই যখন গির্জাগুলো ধর্মতাত্ত্বিক প্রশ্নগুলোর মতোই রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোতেও তীব্রভাবে বিভক্ত হবে। যখন সেই দিন আসবে, যদি ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত [[উদারপন্থী|উদারপন্থীরা]] না থাকে, তবে এই সরকার ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষের [[স্বাধীনতা]] কোনো গির্জার হাতে নিরাপদ নয়। যেখানেই বাইবেল এবং [[তলোয়ার]] অংশীদারত্বে থাকে, সেখানেই মানুষ দাস। '''মানুষকে [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] উপাসনা করার [[উদ্দেশ্য|উদ্দেশ্যে]] তৈরি সমস্ত [[আইন]] একই আত্মা থেকে জন্ম নিয়েছে। এই আত্মা ''[[w:অটো ডি ফে|অটো দ্য ফে]]''র আগুন জ্বালিয়েছিল এবং ইনকুইজিশনের অন্ধকূপগুলো ভালোবেসে তৈরি করেছিল।''' [[ব্লাসফেমি|ব্লাসফেমিকে]] সংজ্ঞায়িত এবং শাস্তি প্রদানকারী সমস্ত আইন নির্লজ্জ [[ধর্মান্ধ|ধর্মান্ধদের]] দ্বারা পাস করা হয়েছিল। এগুলো অবিলম্বে [[সৎ]] মানুষদের দ্বারা বাতিল করা উচিত। বাইবেল সম্পর্কে আপনার সৎ ধারণা দেওয়া, প্রাচীন ইহুদিদের [[অজ্ঞতা|অজ্ঞতা]] নিয়ে [[হাসা|হাসাহাসি]] করা, সাবাথ উপভোগ করা, অথবা [[যিহোবা|যিহোবা]] সম্পর্কে আপনার মতামত দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। '''একজন [[অসীম]] [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] উচিত রাজ্য আইনসভার সাথে অংশীদারত্বে না গিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হওয়া।''' অবশ্যই তার এমন কাজ করা উচিত নয় যে তাকে উপহাস করা থেকে বিরত রাখতে আইনের প্রয়োজন হয়। জরিমানা এবং কারাদণ্ডের হুমকি দিয়ে [[উইলিয়াম শেক্সপিয়র|শেক্সপিয়রকে]] উপহাস থেকে রক্ষা করার কথা কেউ ভাবে না। আমার মনে হয় যে ঈশ্বর এমন একটি বই লিখতে পারতেন যা তার সন্তানদের [[হাসি|হাসির]] উদ্রেক করবে না। আসলে, আমার মনে হয় এটা বলা নিরাপদ যে একজন বাস্তব ঈশ্বর এমন একটি কাজ তৈরি করতে পারতেন যা মানবজাতির প্রশংসা অর্জন করতে পারে। ইহুদি ঈশ্বরের সাহিত্যিক সুনাম রক্ষার জন্য আইন পাসের চেয়ে রাজনীতিবিদদের অবশ্যই আরও ভালোভাবে নিয়োগ করা যেত।
** [http://www.positiveatheism.org/hist/ingermm1.htm ''সাম মিসটেকস অফ মোজেস'' (১৮৭৯)] খণ্ড ৩, "দ্য পলিটিশিয়ানস"।
* আর এই একই ঈশ্বর কেন আমাকে শেখান কীভাবে আমার সন্তানদের মানুষ করতে হবে, যখন তাকে তার নিজের সন্তানদের ডুবিয়ে মারতে হয়েছিল?
** [http://www.positiveatheism.org/hist/ingermm2.htm#XVIII ''সাম মিসটেকস অফ মোজেস'' (১৮৭৯)]] খণ্ড ১৮, "ড্যাম্পনেস"।
* আমি বরং একজন ফরাসি কৃষক হতাম এবং কাঠের জুতো পরতাম। আমি বরং দরজার ওপর লতাগুল্ম ঘেরা একটি কুঁড়েঘরে থাকতাম, যেখানে শরতের রোদে আঙুর বড় হতো এবং পাকতো। আমি বরং আমার স্ত্রীর পাশে এবং কোলের ওপর সন্তানদের নিয়ে সেই কৃষক হতাম, যারা আমাকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরত। আমি বরং সেই গরিব ফরাসি কৃষক হতাম এবং শেষে যারা আমাকে ভালোবাসত তাদের অনুসরণ করে ধুলোর চিরন্তন বিশ্রামে হারিয়ে যেতাম। আমি বরং শক্তি এবং হত্যার সেই সাম্রাজ্যবাদী প্রতিমূর্তির চেয়ে হাজার গুণ বেশি সেই ফরাসি কৃষক হতাম। আমি দশ হাজার হাজার গুণ বেশি তা-ই হতে চাইতাম।
** [[নেপোলিয়ন|নেপোলিয়নের]] সমাধিতে স্বগতোক্তি (১৮৮২); এটি ভুলভাবে রিপোর্ট করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে: "আমি বরং বিশ্বের সাথে শান্তিতে বসবাসকারী সবচেয়ে বিনীত কৃষক হতে চাই... সর্বশ্রেষ্ঠ খ্রিষ্টান হওয়ার চেয়ে" বিলি সানডের দ্বারা (২৬ মে ১৯১২), পল এফ. বোয়লার, জুনিয়র এবং জন জর্জের ''দে নেভার সেইড ইট: আ বুক অফ ফেক কোটস, মিসকোটস, অ্যান্ড মিসলিডিং অ্যাট্রিবিউশনস'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৫২-৫৩ এ যেমন রিপোর্ট করা হয়েছে।
* '''[[জীবন|জীবনের]] কালো মেঘে [[ভালোবাসা]] হলো একমাত্র রংধনু। এটি সকাল এবং বিকালের [[তারা]]। এটি শিশুর ওপর আলো ছড়ায় এবং শান্ত সমাধির ওপর তার দীপ্তি ছড়ায়। এটি [[শিল্প|শিল্পের]] জননী, [[কবি]], [[দেশপ্রেমিক]] এবং [[দার্শনিক|দার্শনিকের]] অনুপ্রেরণাদাতা। এটি প্রতিটি হৃদয়ের [[বাতাস]] এবং [[আলো]]। এটি প্রতিটি [[বাড়ি|বাড়ির]] নির্মাতা, প্রতিটি চুলায় প্রতিটি [[আগুন|আগুনের]] প্রজ্বলক।''' এটি প্রথম অমরত্বের [[স্বপ্ন]] দেখেছিল। '''এটি [[বিশ্ব|বিশ্বকে]] সুরে ভরিয়ে দেয়। কারণ [[সঙ্গীত]] হলো ভালোবাসার [[কণ্ঠস্বর]]। ভালোবাসা হলো সেই [[যাদু|জাদুকর]], যে মূল্যহীন জিনিসগুলোকে [[আনন্দ|আনন্দে]] পরিণত করে এবং সাধারণ মাটি দিয়ে রাজকীয় রাজা ও রানি তৈরি করে। এটি সেই বিস্ময়কর [[ফুল|ফুলের]], অর্থাৎ হৃদয়ের সুগন্ধ। সেই পবিত্র [[আবেগ]], সেই ঐশ্বরিক আবেশ ছাড়া আমরা পশুদের চেয়েও অধম। কিন্তু এর উপস্থিতিতে [[পৃথিবী]] হলো [[স্বর্গ]], এবং আমরা হলাম [[দেবতা]]।'''
** ''অর্থোডক্সি'' (১৮৮৪)।
* '''আমরা যত বেশি মিথ্যা ধ্বংস করব, সত্যের জন্য তত বেশি জায়গা তৈরি হবে।'''
** "অর্থোডক্সি" (১৮৮৪)। ''দ্য কমপ্লিট ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল'' (১৯০২) খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৩
* ক্ষমতার ব্যবহারের মতো আর কিছুই মানুষের আসল চরিত্র প্রকাশ করে না। দুর্বলদের জন্য নম্র হওয়া সহজ। বেশিরভাগ মানুষ প্রতিকূলতা সহ্য করতে পারে। কিন্তু আপনি যদি জানতে চান একজন মানুষ আসলে কেমন, তবে তাকে ক্ষমতা দিন। এটি হলো সর্বোচ্চ পরীক্ষা।
** "মোটলি অ্যান্ড মোনার্ক", ''দ্য নর্থ আমেরিকান রিভিউ'', ডিসেম্বর ১৮৮৫
* অতিরিক্ত প্রশংসা মনোযোগ আকর্ষণ করে। এটি প্রায়শই এমন হাজারো ত্রুটি [[আলো|আলোতে]] নিয়ে আসে যা সাধারণ চোখে কখনো ধরা পড়ত না। '''যদি আমাদের অন্যান্য সব বইয়ের মতো বাইবেল পড়ার অনুমতি দেওয়া হতো, তবে আমরা এর [[সৌন্দর্য|সৌন্দর্যের]] প্রশংসা করতাম, এর যোগ্য [[চিন্তা|চিন্তাগুলোকে]] মূল্যায়ন করতাম। আমরা এর সমস্ত [[উদ্ভট]], অদ্ভুত এবং নিষ্ঠুর বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দিতাম এই বলে যে এর লেখকরা অসভ্য ও বর্বর যুগে বাস করতেন।''' কিন্তু আমাদের বলা হয় যে এটি অনুপ্রাণিত পুরুষদের দ্বারা লেখা হয়েছিল। এতে [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] ইচ্ছা রয়েছে। এটি এর সব অংশে নিখুঁত, খাঁটি এবং সত্য। এটি সমস্ত নৈতিক ও ধর্মীয় সত্যের উৎস এবং মানদণ্ড। এটি সমস্ত মানবিক আশার তারা ও নোঙর। এটি মানুষের একমাত্র পথপ্রদর্শক, [[প্রকৃতি|প্রকৃতির]] [[রাত|রাতে]] একমাত্র মশাল। '''এই দাবিগুলো প্রতিটি পরিচিত এবং লিপিবদ্ধ তথ্যের সাথে এত বেশি সাংঘর্ষিক এবং স্পষ্টতই এত উদ্ভট যে প্রতিটি স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন [[আত্মা]] বিদ্রোহের পতাকা তুলতে বাধ্য হয়।'''
** ''[http://www.gutenberg.org/files/38802/38802-h/38802-h.htm সাম মিসটেকস অফ মোজেস (১৮৭৯)]'' মুখবন্ধ
* '''আমি [[গির্জা]] যেভাবে প্রচার করে সেই [[ক্ষমা|ক্ষমায়]] বিশ্বাস করি না। আমাদের [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] ক্ষমার প্রয়োজন নেই। আমাদের একে অপরের এবং নিজেদের ক্ষমার প্রয়োজন।''' যদি আমি মিস্টার স্মিথকে লুণ্ঠন করি এবং ঈশ্বর আমাকে ক্ষমা করে দেন, তবে তা স্মিথকে কীভাবে সাহায্য করবে? আমি যদি অপবাদ দিয়ে কোনো বেচারা মেয়েকে কোনো কল্পিত অপরাধের কুষ্ঠরোগে ঢেকে দিই, এবং সে একটি ঝলসানো ফুলের মতো শুকিয়ে যায় এবং পরে আমি ঈশ্বরের ক্ষমা পাই, তবে তা তাকে কীভাবে সাহায্য করবে? যদি অন্য কোনো বিশ্ব থাকে, তবে আমাদের এই বিশ্বে যাদের প্রতি অন্যায় করেছি তাদের সাথে হিসাব মেটাতে হবে। সেখানে কোনো দেউলিয়া আদালত নেই। প্রতিটি পয়সা পরিশোধ করতে হবে।
** [http://www.gutenberg.org/files/38801/38801-h/38801-h.htm "হোয়াট মাস্ট উই ডু টু বি সেভড?" (১৮৮০)] খণ্ড ১১, "হোয়াট ডু ইউ প্রপোজ?"
* '''আমি বিশ্বাস করতে পারি না যে এই [[মহাবিশ্ব|মহাবিশ্বে]] এমন কোনো সত্তা আছে যে একটি মানব আত্মাকে অনন্ত [[যন্ত্রণা|যন্ত্রণার]] জন্য সৃষ্টি করেছে। আমি বরং চাইব প্রতিটি ঈশ্বর নিজেকে ধ্বংস করে ফেলুক। আমি বরং চাইব আমরা সবাই অনন্ত বিশৃঙ্খলা, অন্ধকার ও তারাহীন রাতে হারিয়ে যাই। তবুও আমি চাই না যে একটি আত্মাও অনন্ত যন্ত্রণা ভোগ করুক।'''
**[http://www.gutenberg.org/files/38801/38801-h/38801-h.htm ''হোয়াট মাস্ট উই ডু টু বি সেভড?'' (১৮৮০)] খণ্ড ১০, "দ্য ইভানজেলিকাল অ্যালায়েন্স।"
*'''আমি মনস্থির করেছি, যদি কোনো [[ঈশ্বর]] থাকেন, তবে তিনি দয়ালুদের প্রতি [[দয়া|দয়ালু]] হবেন। <br> এই বিশ্বাসের ওপর আমি দাঁড়িয়ে আছি।''' <br> তিনি ক্ষমাশীলদের নির্যাতন করবেন না। <br> এই বিশ্বাসের ওপর আমি দাঁড়িয়ে আছি। <br> প্রতিটি মানুষের নিজের প্রতি সত্য হওয়া উচিত। এমন কোনো বিশ্ব বা তারা নেই যেখানে [[সততা]] একটি [[অপরাধ]]। <br> এই বিশ্বাসের ওপর আমি দাঁড়িয়ে আছি। <br> সৎ মানুষ, ভালো নারী এবং সুখী শিশুর এই পৃথিবীতে বা পরকালে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। <br> এই বিশ্বাসের ওপর আমি দাঁড়িয়ে আছি।
**[http://www.gutenberg.org/files/38801/38801-h/38801-h.htm ''হোয়াট মাস্ট উই ডু টু বি সেভড?'' (১৮৮০)] খণ্ড ১১, "হোয়াট ডু ইউ প্রপোজ?"
* "ওহ," কিন্তু তারা আমাকে বলে, "আপনি অমরত্ব কেড়ে নিচ্ছেন।" আমি তা করছি না। '''আমরা যদি অমর হই তবে তা প্রকৃতির একটি সত্য। এর জন্য আমরা পুরোহিত বা বাইবেলের কাছে ঋণী নই। অবিশ্বাস দ্বারা এটি ধ্বংস করা যায় না।'''
**[http://www.gutenberg.org/files/38801/38801-h/38801-h.htm "হোয়াট মাস্ট উই ডু টু বি সেভড?" (১৮৮০)] খণ্ড ১১, "হোয়াট ডু ইউ প্রপোজ?"
* নীরব রাতের ওপারে কি আছে <br> একটি অন্তহীন দিন?<br>[[মৃত্যু]] কি এমন একটি [[দরজা]] যা [[আলো|আলোর]] দিকে নিয়ে যায়?<br> '''আমরা তা বলতে পারি না।'''
**[http://www.gutenberg.org/files/38804/38804-h/38804-h.htm "দ্য ডেভিল" (১৮৯৯)] খণ্ড ৯, "কনক্লুশন: ডিক্ল্যারেশন অফ দ্য ফ্রি" তুলনা করুন: "দ্য ডোর অফ ডার্কনেস", ''দ্য রুবাইয়াত'', স্তবক ৬৪।
* [[জীবন]] হলো দুটি অনন্তকালের ঠান্ডা এবং অনুর্বর চূড়ার মাঝখানের একটি সরু উপত্যকা। আমরা বৃথাই উচ্চতার ওপারে দেখার চেষ্টা করি। আমরা উচ্চস্বরে কাঁদি। একমাত্র উত্তর হলো আমাদের কান্নার প্রতিধ্বনি। নিরুত্তর মৃতদের শব্দহীন ঠোঁট থেকে কোনো কথা আসে না। '''কিন্তু মৃত্যুর রাতে আশা একটি তারা দেখতে পায় এবং শোনার চেষ্টায় থাকা ভালোবাসা ডানা ঝাপটানোর শব্দ শুনতে পায়।'''
**[http://www.gutenberg.org/files/38812/38812-h/38812-h.htm "আ ট্রাইব টু ইবান সি. ইঙ্গারসোল" (১৮৭৯)]
* '''[[প্রকৃতি|প্রকৃতিতে]] কোনো পুরস্কার বা [[শাস্তি]] নেই। এখানে কেবল [[পরিণতি]] রয়েছে।''' [[যিশু|খ্রিষ্টের]] জীবন এর উদাহরণ, [[নৈতিক]] [[শক্তি]] এবং পরোপকারের [[বীরত্ব|বীরত্বের]] জন্য মূল্যবান।
**''"দ্য ক্রিশ্চিয়ান রিলিজিয়ন"'' [[w:নর্থ আমেরিকান রিভিউ|দ্য নর্থ আমেরিকান রিভিউ]], আগষ্ট ১৮৮১[http://books.google.com/books?id=OPmfAAAAMAAJ&q=%22There+are+in+nature+neither+rewards+nor+punishments+there+are+consequences%22&pg=PA14#v=onepage][http://ebooks.library.cornell.edu/cgi/t/text/pageviewer-idx?c=nora&cc=nora&view=image&seq=121&idno=nora0133-2]
** ভিন্নরূপ:
** '''আমাদের মনে রাখতে হবে যে প্রকৃতিতে কোনো পুরস্কার বা শাস্তি নেই, কেবল পরিণতি রয়েছে।''' খ্রিষ্টের জীবন ও মৃত্যু কোনো প্রায়শ্চিত্ত গঠন করে না। এগুলো উদাহরণ, নৈতিক শক্তি এবং পরোপকারের বীরত্বের জন্য মূল্যবান। খ্রিষ্টের জীবন যতটা কল্যাণের দিকে অনুকরণের সৃষ্টি করে, মানবজাতির কাছে এটি ততটাই মূল্যবান।
*** [http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/some_reasons_why.html ''সাম রিজনস হোয়াই'' (১৮৯৫)] এ প্রকাশিত
** '''প্রকৃতিতে কোনো পুরস্কার বা শাস্তি নেই, কেবল পরিণতি রয়েছে।'''
*** ''লেটারস অ্যান্ড এসেজ, ৩য় সিরিজ। সাম রিজনস হোয়াই'', ৮।
* '''প্রতিটি সম্প্রদায় হলো এই কথার প্রমাণ যে [[ঈশ্বর]] মানুষের কাছে তার ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেননি। প্রতিটি পাঠকের কাছে বাইবেল একটি ভিন্ন [[অর্থ]] বহন করে।''' [[ওহী]] নামে পরিচিত এই [[বই|বইটির]] অর্থ নিয়ে যুগে যুগে [[যুদ্ধ]] হয়েছে। শতাব্দী ধরে [[তলোয়ার]] ও আগুনের ব্যবহার হয়েছে। যদি এটি একজন অসীম ঈশ্বরের লেখা হয়, তবে তাকে অবশ্যই জানতে হবে যে এই ফলাফলগুলো অনুসরণ করবে। আর এটি জেনেও তাকে অবশ্যই [[সব|সবকিছুর]] জন্য দায়ী হতে হবে।
**[http://www.gutenberg.org/files/38802/38802-h/38802-h.htm#link0002 সাম মিসটেকস অফ মোজেস (১৮৭৯)]।
* যেসব পুরুষ ঘোষণা করে যে নারী বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পুরুষের চেয়ে নিকৃষ্ট, তারা নিজেদের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের ঘোষণাকে প্রমাণিত করতে পারে না এবং পারবেও না।
** হেলেন হ্যামিল্টন গার্ডনারের ''মেন, উইমেন অ্যান্ড গডস'' (১৮৮৫) এর মুখবন্ধ
* '''প্রতিটি মানুষকে সেই সব অধিকার দিন যা আপনি নিজের জন্য দাবি করেন।'''
** "দ্য লিমিটেশনস অফ টলারেশন" (৮ মে ১৮৮৮), ''দ্য ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল'', খণ্ড ৭ এ প্রকাশিত
* খুব কম ধনী মানুষই তাদের নিজস্ব [[সম্পত্তি|সম্পত্তির]] মালিক। সম্পত্তিই তাদের মালিক।
** ম্যাককিনলে লিগে দেওয়া ভাষণ, নিউইয়র্ক (২৯ অক্টোবর ১৮৯৬){{fix cite}}
* '''বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের [[মতামত|মতামতের]] উত্তরাধিকারী হই।''' আমরা অভ্যাস এবং মানসিক রীতিনীতির উত্তরাধিকারী। আমাদের পোশাকের ফ্যাশনের মতো আমাদের [[বিশ্বাস|বিশ্বাসগুলোও]] নির্ভর করে আমরা কোথায় জন্মগ্রহণ করেছি তার ওপর। আমরা আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা দ্বারা গঠিত এবং আকৃতি পাই।
** [http://www.positiveatheism.org/hist/ingag.htm "হোয়াই আই অ্যাম অ্যান অ্যাগনোস্টিক।" (১৮৯৬)]
* '''[[বর্তমান]] হলো সমস্ত [[অতীত|অতীতের]] একটি [[প্রয়োজনীয়]] ফল। এটি সমস্ত [[ভবিষ্যৎ|ভবিষ্যতের]] প্রয়োজনীয় [[কারণ]]।'''
** [http://www.positiveatheism.org/hist/ingwhatrel.htm হোয়াট ইজ রিলিজিয়ন? (১৮৯৯) ইঙ্গারসোলের শেষ জনসভা ভাষণ, ২ জুন ১৮৯৯ বোস্টনে আমেরিকান [[w:ফ্রি রিলিজিয়াস অ্যাসোসিয়েশন|ফ্রি রিলিজিয়াস অ্যাসোসিয়েশন]] এর সামনে দেওয়া হয়েছিল। সূত্র: দ্য ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল, ড্রেসডেন মেমোরিয়াল সংস্করণ খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৭৭-৫০৮, ক্লিফ ওয়াকার দ্বারা সম্পাদিত।]
* '''ধর্ম কখনো মানবজাতিকে সংস্কার করতে পারে না, কারণ ধর্ম হলো দাসত্ব। স্বাধীন হওয়া অনেক ভালো। ভয়ের দুর্গ ও ব্যারিকেড ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়া উচিত। মাঝে মাঝে নিজেকে অবহেলায় সঁপে দেওয়া অনেক ভালো। ঢেউ ও স্রোতের সাথে এবং বিশ্বের অন্ধ শক্তির সাথে ভেসে চলা উচিত। চিন্তা করা এবং স্বপ্ন দেখা উচিত। শ্বাস নেওয়া জীবনের শৃঙ্খল এবং সীমাবদ্ধতাগুলো ভুলে যাওয়া উচিত। উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য ভুলে যাওয়া উচিত। মস্তিষ্কের চিত্রশালায় বিশ্রাম নেওয়া উচিত। অতীতের আলিঙ্গন এবং চুম্বনগুলো আরও একবার অনুভব করা উচিত। জীবনের সকালকে ফিরিয়ে আনা উচিত। মৃতদের রূপ এবং মুখগুলো আবার দেখা উচিত। আগামী বছরগুলোর জন্য সুন্দর ছবি আঁকা উচিত। সমস্ত ঈশ্বর, তাদের প্রতিশ্রুতি এবং হুমকি ভুলে যাওয়া উচিত। আপনার শিরায় জীবনের আনন্দময় স্রোত অনুভব করা উচিত এবং সামরিক সঙ্গীত, আপনার নির্ভীক হৃদয়ের ছন্দময় স্পন্দন শোনা উচিত। তারপর সমস্ত দরকারী কাজ করার জন্য নিজেকে জাগিয়ে তোলা উচিত। চিন্তা এবং কাজের মাধ্যমে আপনার মস্তিষ্কের আদর্শে পৌঁছানো উচিত। আপনার কল্পনাগুলোকে ডানা দেওয়া উচিত, যাতে তারা রাসায়নিক মৌমাছির মতো সাধারণ জিনিসগুলোর আগাছায় শিল্পের অমৃত খুঁজে পেতে পারে। তথ্যের জন্য প্রশিক্ষিত এবং অবিচল চোখ দিয়ে দেখা উচিত। দূরের সাথে বর্তমানকে যুক্ত করে এমন সূক্ষ্ম সুতোগুলো খুঁজে বের করা উচিত। জ্ঞান বৃদ্ধি করা উচিত। দুর্বলের থেকে বোঝা কমানো উচিত। মস্তিষ্কের বিকাশ করা উচিত। অধিকার রক্ষা করা উচিত। আত্মার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরি করা উচিত। এটাই আসল ধর্ম। এটাই আসল উপাসনা।'''
** [http://www.positiveatheism.org/hist/ingwhatrel.htm হোয়াট ইজ রিলিজিয়ন? (১৮৯৯) ইঙ্গারসোলের শেষ জনসভা ভাষণ, ২ জুন ১৮৯৯ বোস্টনে আমেরিকান ফ্রি রিলিজিয়াস অ্যাসোসিয়েশন এর সামনে দেওয়া হয়েছিল। সূত্র: দ্য ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল, ড্রেসডেন মেমোরিয়াল সংস্করণ খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৭৭-৫০৮, ক্লিফ ওয়াকার দ্বারা সম্পাদিত।]
* '''বর্তমান হলো সন্তান। এটি সমস্ত অতীতের প্রয়োজনীয় সন্তান এবং সমস্ত ভবিষ্যতের মা।'''
** [http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/how_to_reform_mankind.html হাউ টু রিফর্ম ম্যানকাইন্ড (১৮৯৬), অধ্যায় ১।] [http://books.google.de/books/about/How_to_Reform_Mankind.html?id=u-IpAAAACAAJ&redir_esc=y কিসিঞ্জার পাবলিশিং, এলএলসি দ্বারা পুনঃপ্রকাশিত, ২০০৫।]
* '''প্রতিটি মানুষ সুখী হতে চায়। তারা খাদ্য, ছাদ ও পোশাক দিয়ে শরীরের চাহিদা মেটাতে চায়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালোবাসা, প্রজ্ঞা, দর্শন, শিল্প এবং গান দিয়ে মনের ক্ষুধা মেটাতে চায়।'''
** [http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/how_to_reform_mankind.html হাউ টু রিফর্ম ম্যানকাইন্ড (১৮৯৬), অধ্যায় ১।] [http://books.google.de/books/about/How_to_Reform_Mankind.html?id=u-IpAAAACAAJ&redir_esc=y কিসিঞ্জার পাবলিশিং, এলএলসি দ্বারা পুনঃপ্রকাশিত, ২০০৫।]
* শ্রমজীবী মানুষের জন্য এরই মধ্যে এত কিছু অর্জিত হয়েছে যে আমি ভবিষ্যতের জন্য দারুণ আশাবাদী। অনেক দেশে কাজের সময় কমানো হয়েছে এবং তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন মানুষ দিনে পনেরো বা ষোলো ঘণ্টা কাজ করত। এখন সাধারণত দিনের কাজ দশ ঘণ্টার বেশি নয়। কাজের সময় আরও কমানোর প্রবণতা রয়েছে। '''দীর্ঘ সময়কালের তুলনা করে আমরা অগ্রগতি আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি।''' ১৮৬০ সালে শ্রমিক ও কারিগরদের বার্ষিক গড় আয় ছিল প্রায় আড়াইশো পঁচাশি ডলার। এখন তা প্রায় পাঁচশো ডলার। আজকের একটি ডলার দিয়ে ১৮৬০ সালের তুলনায় জীবনের বেশি প্রয়োজনীয় জিনিস, বেশি খাদ্য, পোশাক এবং জ্বালানি কেনা যাবে। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতের জন্য অনেক আশাব্যঞ্জক।
** [[রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল]], [http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/how_to_reform_mankind.html হাউ টু রিফর্ম ম্যানকাইন্ড (১৮৯৬)], অধ্যায় ৬ দ্য লেবার কোয়েশ্চন * '''আমি সেই মহান গির্জার অন্তর্ভুক্ত যা [[বিশ্ব|বিশ্বকে]] তার তারকায় আলোকিত আইলের মধ্যে ধারণ করে। এটি প্রতিটি জাতি এবং জলবায়ুর মহান ও ভালো মানুষদের দাবি করে। এটি [[আনন্দ|আনন্দের]] সাথে প্রতিটি ধর্মমতে সোনার দানা খুঁজে পায় এবং প্রতিটি [[আত্মা|আত্মায়]] [[মঙ্গল|মঙ্গলের]] বীজগুলোকে [[আলো]] ও [[ভালোবাসা|ভালোবাসায়]] ভরিয়ে দেয়।'''
** [[রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল]], ফেইথ অ্যান্ড অ্যাগনোস্টিসিজম বিষয়ে রেভারেন্ড হেনরি এম. ফিল্ডের সাথে আলোচনায় একটি ঘোষণা, তার রচনাগুলোর ফ্যারেল সংস্করণের খণ্ড ৬-এ উদ্ধৃত, এছাড়া কেট লুইস রবার্টস সম্পাদিত ''হয়েটস নিউ সাইক্লোপিডিয়া অফ প্র্যাকটিক্যাল কোটেশনস'' (১৯২২), পৃষ্ঠা ৬৬৩-এ পাওয়া যায়।
* বিদায়, ভদ্রমহোদয়গণ! আমি ইলিনয়ের গভর্নর হতে চাইছি না। আমার গঠনে এমন কিছু আছে যা আমি ধর্ম সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিশ্বের কাছে ঘোষণা করেছি। কোনো পরিস্থিতিতেই, এমনকি আমার জীবনের বিনিময়েও আমি আমার অবস্থান ত্যাগ করতে চাই না। তা করার চেয়ে আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রত্যাখ্যান করব। '''আমার ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পূর্ণ আমার নিজের। এটি আমার, ইলিনয় রাজ্যের নয়। আমি বিশ্বের সম্রাট হওয়ার জন্যও আমার হৃদয়ের একটি অনুভূতিকে দমন করব拨 না।'''
** ইলিনয়ের গভর্নর হিসেবে রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করার সময়, [http://www.positiveatheism.org/hist/lewis/lewing01.htm "ইঙ্গারসোল দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট" (১১ আগষ্ট ১৯৫৪) জোসেফ লুইস দ্বারা] উদ্ধৃত
* '''আমি এমন যেকোনো মানুষের চেয়ে নিকৃষ্ট যার অধিকার আমি পদদলিত করি। জাতি বা বর্ণের দুর্ঘটনার কারণে মানুষ শ্রেষ্ঠ হয় না। তারাই শ্রেষ্ঠ যাদের সবচেয়ে ভালো [[হৃদয়]] এবং সবচেয়ে ভালো [[মস্তিষ্ক]] রয়েছে।'''
** ''লিবার্টি''।
* শ্রেষ্ঠ মানুষ নিকৃষ্টদের জন্য আশীর্বাদ। তিনি অন্ধের চোখ, দুর্বলের শক্তি এবং প্রতিরক্ষাহীনদের ঢাল। তিনি পতিতদের ওপর ঝুঁকে সোজা হয়ে দাঁড়ান। অন্যদের ওপরে তুলেই তিনি ওপরে ওঠেন।
** ''লিবার্টি''।
* ব্রহ্মচর্য হলো অশালীনতার সারাংশ।
** [http://www.archive.org/stream/thegreatcontrove00ingeuoft/thegreatcontrove00ingeuoft_djvu.txt রোম, অর রিজন?, পৃষ্ঠা ৬১]
* অতীতের যুগে আমাদের পূর্বপুরুষরা সত্যিই বিশ্বাস করতেন যে বলপ্রয়োগ করে আপনি একজন মানুষকে বোঝাতে পারবেন। আপনি বলপ্রয়োগ করে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে আমি আপনাকে বলব আপনি বলপ্রয়োগ করে কী করতে পারেন এবং কী করেছেন। আপনি লাখ লাখ কপট মানুষ তৈরি করতে পারেন।
** [https://www.gutenberg.org/files/8389/8389-h/8389-h.htm#liberty ইঙ্গারসোলস লেকচার অন লিবার্টি অফ ম্যান, উইম্যান অ্যান্ড চাইল্ড]
* ব্লাসফেমি হলো একটি তালা যা কপটতা সমস্ত সৎ মানুষের ঠোঁটে লাগানোর চেষ্টা করে।
** ব্রুকলিন, নিউইয়র্কে দেওয়া ''ব্লাসফেমি'' বক্তৃতা, ২২ ফেব্রুয়ারি ১৮৮৫ সালে ইঙ্গারসোলের ইউরোপ যাত্রার আগে (পুনরুৎপাদিত [https://books.google.com/books?id=4O1cDwAAQBAJ&pg=PA105&lpg=PA105&dq=Blasphemy+is+a+padlock+which+hypocrisy+tries+to+put+on+the+lips+of+all+honest+men.&source=bl&ots=I7KMCNvJ0B&sig=xOulmfPwJpuZQWqe8dBvtiJ_lms&hl=en&sa=X&ved=2ahUKEwiiuuaE6ZreAhWyOn0KHdsaAd8Q6AEwAHoECAcQAQ#v=onepage&q=Blasphemy%20is%20a%20padlock%20which%20hypocrisy%20tries%20to%20put%20on%20the%20lips%20of%20all%20honest%20men.&f=false পৃষ্ঠা ১০৫])।
=== হেরেটিকস অ্যান্ড হেরেসিজ (১৮৭৪) ===
:<small>[http://www.positiveatheism.org/hist/ingerh_h.htm অনলাইনে সম্পূর্ণ পাঠ্য]</small>
[[File:William-Adolphe Bouguereau (1825-1905) - Compassion (1897).jpg|thumb|right|যার নিজের কোনো মতামত আছে এবং তা সততার সাথে প্রকাশ করে, সে-ই ধর্মদ্রোহী হওয়ার দোষে দুষ্ট হবে।]]
* '''যার নিজের কোনো [[মতামত]] আছে এবং তা সততার সাথে প্রকাশ করে, সে-ই ধর্মদ্রোহী হওয়ার দোষে দুষ্ট হবে।''' ধর্মদ্রোহিতা হলো সংখ্যালঘুরা যা বিশ্বাস করে। এটি দুর্বলের মতবাদকে শক্তিশালীদের দেওয়া একটি নাম।
* দাবি করা হয় যে [[ঈশ্বর]] [[বাইবেল]] নামে একটি বই লিখেছেন। এটি সাধারণত স্বীকার করা হয় যে এই বইটি বোঝা কিছুটা কঠিন। যে পর্যন্ত গির্জার কাছে এই বইয়ের সমস্ত অনুলিপি ছিল এবং লোকেদের এটি পড়ার অনুমতি ছিল না, সে পর্যন্ত বিশ্বে তুলনামূলকভাবে ধর্মদ্রোহিতা কম ছিল। কিন্তু যখন এটি ছাপা হলো এবং পড়া হলো, তখন লোকেরা সততার সাথে এর অর্থ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে শুরু করল। কয়েকজন স্বাধীন এবং যথেষ্ট সাহসী ছিল বিশ্বকে তাদের আসল চিন্তাভাবনা জানাতে। এই মানুষগুলোকে নির্মূল করার জন্য গির্জা তার সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করেছিল। প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ক্যাথলিকরা মানুষের মনকে দাস করার কাজে একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়েছিল। যুগে যুগে সৎ মানুষদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার কুখ্যাত প্রচেষ্টায় তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।
* যেকোনো গোঁড়া গির্জাকে ক্ষমতা দিন, আর আজ তারা ধর্মদ্রোহিতাকে চাবুক, শেকল এবং আগুন দিয়ে শাস্তি দেবে। যে পর্যন্ত একটি গির্জা মনে করে যে মুক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাস অপরিহার্য, সে পর্যন্ত তার ক্ষমতা থাকলে সে হত্যা করবে এবং পোড়াবে।
* '''প্রতিটি গির্জা ভান করে যে ঈশ্বরের কাছ থেকে তার কাছে ওহী এসেছে। এই ওহী গির্জার মাধ্যমে লোকেদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। গির্জা তার পুরোহিতদের মাধ্যমে কাজ করে এবং সাধারণ মরণশীলদের অবশ্যই ওহী নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এই ওহী ঈশ্বরের কাছ থেকে নয়, বরং গির্জার কাছ থেকে আসে।''' লোকেরা যদি এই অযৌক্তিক দাবির কাছে নতি স্বীকার করত, তবে অবশ্যই কেবল একটি গির্জা থাকত। আর সেই গির্জা কখনো উন্নতি করতে পারত না। এটি পিছিয়ে যেতে পারত, কারণ ভুলে যাওয়ার জন্য চিন্তা করা বা তদন্ত করার প্রয়োজন নেই। '''ধর্মদ্রোহিতা ছাড়া কোনো অগ্রগতি হতে পারত না।'''
* [[ধর্মতত্ত্ববিদ|ধর্মতত্ত্ববিদদের]] মতে আমাদের সবার পিতা ঈশ্বর তার সন্তানদের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। সন্তানরা সবসময় এই চিঠির অর্থ নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেছে। এই সৎ ভিন্নমতগুলোর ফলে এই ভাইয়েরা একে অপরের হৃদয় ছিন্ন করতে শুরু করে। প্রতিটি দেশে, যেখানে ঈশ্বরের এই চিঠি পড়া হয়েছে, যাদের কাছে এবং যাদের জন্য এটি লেখা হয়েছিল, সেই সন্তানরা ঘৃণা এবং বিদ্বেষে পূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা একে অপরকে এবং একে অপরের স্ত্রী ও সন্তানদের কারারুদ্ধ ও হত্যা করেছে। ঈশ্বরের নামে প্রতিটি সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, প্রতিটি কল্পনাযোগ্য ক্ষোভ ঘটানো হয়েছে। সাহসী মানুষ, কোমল ও স্নেহময়ী নারী, সুন্দরী মেয়ে এবং বকবক করা শিশুদের [[যিশু]] [[খ্রিষ্ট|খ্রিষ্টের]] নামে নির্মূল করা হয়েছে।
[[File:Joan_of_arc_burning_at_stake.jpg|thumb|right|ধর্মদ্রোহীরা বৃথা চিন্তা করেনি এবং কষ্টভোগ ও মৃত্যুবরণ করেনি। প্রতিটি ধর্মদ্রোহী হলো [[আলো|আলোর]] এক একটি রশ্মি।]]
* '''আমি বলি না এবং আমি বিশ্বাস করি না যে [[খ্রিষ্টান|খ্রিষ্টানরা]] তাদের ধর্মমতের মতো খারাপ। গির্জা এবং গোঁড়ামির পরও লাখ লাখ নারী-পুরুষ [[মানব]] [[হৃদয়|হৃদয়ের]] সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে উদার প্ররোচনাগুলোর প্রতি সত্য থেকেছে।''' তারা তাদের বিশ্বাসের প্রতি সত্য ছিল। তারা আত্মত্যাগ এবং ধৈর্যের সাথে মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করেছে এবং কষ্ট পেয়েছে। আত্মত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা বিশ্বাস করত যে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা অন্তত কয়েকটি আত্মাকে নরকের অসীম ছায়া থেকে উদ্ধার করতে পারে। তারা হাসিমুখে প্রতিটি কষ্ট সহ্য করেছে এবং প্রতিটি বিপদকে উপহাস করেছে। তারপরও এই সবকিছুর পরও তারা বিশ্বাস করত যে সৎ ভুল একটি অপরাধ। তারা জানত যে বাইবেল এমনটাই ঘোষণা করেছে এবং তারা বিশ্বাস করত যে সমস্ত অবিশ্বাসীরা চিরতরে হারিয়ে যাবে। তারা বিশ্বাস করত যে ধর্ম ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে এবং সমস্ত ধর্মদ্রোহিতা [[শয়তান|শয়তানের]] কাছ থেকে এসেছে। তারা নিজেদের এবং তাদের সন্তানদের আত্মা রক্ষার্থে ধর্মদ্রোহীদের হত্যা করেছিল। তারা তাদের হত্যা করেছিল কারণ তাদের ধারণা অনুযায়ী তারা ঈশ্বরের শত্রু ছিল। আর কারণ বাইবেল শেখায় যে অবিশ্বাসীর রক্ত স্বর্গের কাছে একটি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য বলিদান।
* '''[[প্রকৃতি]] কখনো একজন প্রেমময় মাকে তার সন্তানকে গঙ্গা নদীতে ফেলে দিতে প্ররোচিত করেনি। প্রকৃতি কখনো শিশুদের দীক্ষাস্নান নিয়ে [[মতামত|মতামতের]] পার্থক্যের জন্য একে অপরকে নির্মূল করতে পুরুষদের প্ররোচিত করেনি। এই [[অপরাধ|অপরাধগুলো]] এমন ধর্মগুলোর দ্বারা উৎপাদিত হয়েছে যা সমস্ত অযৌক্তিক, নিষ্ঠুর এবং জঘন্য জিনিসে পূর্ণ।''' এই ধর্মগুলো মূলত [[অজ্ঞতা]], [[স্বৈরাচার]] এবং [[কপটতা]] দ্বারা উৎপাদিত হয়েছিল। মহাবিশ্বের অসীম শাসক এবং স্রষ্টা ধর্মদ্রোহী এবং অবিশ্বাসীদের ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন, এই ধারণার অধীনে গির্জা এই সমস্ত অপরাধ সংঘটিত করেছে:<br> '''কেবল একজন [[ঈশ্বর]] আছেন, এমন চিন্তার জন্য নারী ও পুরুষদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ঈশ্বর বলতে কেউ নেই, এমন চিন্তার জন্যও তাদের পোড়ানো হয়েছে'''; পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের চেয়ে ছোট; ঈশ্বর তার ছেলের চেয়ে কিছুটা বয়স্ক; বিশ্বাস ছাড়াই ভালো কাজ একজন মানুষকে বাঁচাতে পারে, এমন জোর দেওয়ার জন্য; ভালো কাজ ছাড়াই বিশ্বাস কাজ করবে, এমন চিন্তার জন্য; একজন পুরোহিত একটি মিষ্টি শিশুর মাথা না ভেজানোর কারণে সে চিরকাল পুড়বে না, এমন ঘোষণার জন্য; ঈশ্বরের যেন নাক আছে, এমন কথা বলার জন্য; খ্রিষ্ট নিজের বাবা ছিলেন, তা অস্বীকার করার জন্য; সঠিকভাবে যোগ করা তিনজন ব্যক্তি একজনের চেয়ে বেশি হয়, এমন তর্কের জন্য; পার্গাটরিতে বিশ্বাস করার জন্য; নরকের বাস্তবতা অস্বীকার করার জন্য; পুরোহিতরা পাপ ক্ষমা করতে পারেন, এমন ভান করার জন্য; ঈশ্বর একটি সারমর্ম, এমন প্রচারের জন্য; ডাইনিরা লাঠিতে চড়ে বাতাসে ওড়ে, তা অস্বীকার করার জন্য; মানব হৃদয়ের সম্পূর্ণ অবক্ষয় সন্দেহ করার জন্য; অপ্রতিরোধ্য অনুগ্রহ, পূর্বনিয়তি এবং বিশেষ মুক্তি নিয়ে হাসাহাসি করার জন্য; একজন মৃত মানুষের শরীর থেকে ভালো রুটি তৈরি করা যেতে পারে, তা অস্বীকার করার জন্য; পোপ ঈশ্বরের জন্য এবং ঈশ্বরের জায়গায় এই বিশ্ব পরিচালনা করছেন না, এমন ভান করার জন্য; একটি বিকল্প প্রায়শ্চিত্তের কার্যকারিতা নিয়ে বিরোধ করার জন্য; কুমারী মেরি অন্যান্য মানুষের মতো জন্মগ্রহণ করেছিলেন, এমন চিন্তার জন্য; একজন পুরুষের পাঁজর একটি ভালো আকারের নারী তৈরি করার জন্য যথেষ্ট ছিল না, এমন চিন্তার জন্য; ঈশ্বর একটি কলমের জন্য তার আঙুল ব্যবহার করেছিলেন, তা অস্বীকার করার জন্য; প্রার্থনাগুলোর উত্তর দেওয়া হয় না, অবিশ্বাসকে শাস্তি দেওয়ার জন্য রোগ পাঠানো হয় না, এমন দাবি করার জন্য; বাইবেলের কর্তৃত্ব অস্বীকার করার জন্য; তাদের কাছে একটি বাইবেল থাকার জন্য; মাসে যোগ দেওয়ার জন্য এবং যোগ দিতে অস্বীকার করার জন্য; একটি সারপ্লাইস পরার জন্য; একটি ক্রস বহন করার জন্য এবং তা অস্বীকার করার জন্য; একজন ক্যাথলিক হওয়ার জন্য এবং একজন প্রোটেস্ট্যান্ট হওয়ার জন্য; একজন এপিস্কোপ্যালিয়ান, একজন প্রেসবিটারিয়ান, একজন ব্যাপটিস্ট হওয়ার জন্য এবং একজন কোয়েকার হওয়ার জন্য। '''সংক্ষেপে, প্রতিটি পুণ্য একটি অপরাধে পরিণত হয়েছে এবং প্রতিটি অপরাধ একটি পুণ্যে পরিণত হয়েছে। গির্জা সততাকে পুড়িয়েছে এবং কপটতাকে পুরস্কৃত করেছে। আর এই সবকিছু হয়েছে কারণ এটি একটি বই দ্বারা নির্দেশিত হয়েছিল। এটি এমন একটি বই যা পুরুষদের implicitly বিশ্বাস করতে শেখানো হয়েছিল, এর ভেতরের একটি শব্দ জানার অনেক আগে থেকেই। তাদের শেখানো হয়েছিল যে এই বইয়ের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করা, এমনকি এটি পরীক্ষা করাও এত বড় অপরাধ যে এটি এই বিশ্বে বা পরকালেও ক্ষমা করা যাবে না।'''
* মানুষ আর কতকাল একটি বইয়ের উপাসনা করবে? তারা আর কতকাল বর্বর অতীতের অজ্ঞ কিংবদন্তির সামনে ধুলোয় গড়াগড়ি খাবে? মৃত্যুর চেয়েও গভীর অন্ধকারে তারা আর কতকাল ছায়ার পেছনে ছুটবে?
* '''ধর্মদ্রোহীরা বৃথা চিন্তা করেনি এবং কষ্টভোগ ও মৃত্যুবরণ করেনি। প্রতিটি ধর্মদ্রোহী হলো [[আলো|আলোর]] এক একটি রশ্মি।'''
* ধর্মদ্রোহিতা হলো চিরন্তন ভোর, সকালের তারা, দিনের উজ্জ্বল বার্তাবাহক। ধর্মদ্রোহিতা হলো সর্বশেষ এবং সেরা চিন্তা। এটি একটি চিরস্থায়ী নতুন বিশ্ব, অজানা সমুদ্র, যার দিকে সব সাহসী মানুষ যাত্রা করে। এটি অগ্রগতির চিরন্তন দিগন্ত। <br> '''ধর্মদ্রোহিতা একটি নতুন চিন্তার প্রতি মস্তিষ্কের আতিথেয়তা প্রসারিত করে।<br> ধর্মদ্রোহিতা হলো একটি দোলনা; গোঁড়ামি হলো একটি কফিন।'''
* '''মানুষ কেন চিন্তা করতে ভয় পাবে, এবং সে তার চিন্তাভাবনা প্রকাশ করতে কেন ভয় পাবে?'''<br> এটা কি সম্ভব যে একজন অসীম দেবতা চান না মানুষ তার চারপাশের ঘটনাগুলো অনুসন্ধান করুক? এটা কি সম্ভব যে একজন ঈশ্বর মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং ভয় দেখানোর মধ্যে আনন্দ পান? এমন একটি ক্ষেত্রে একজন ঈশ্বর কতটা গৌরব, কতটা সম্মান এবং খ্যাতি অর্জন করতে পারেন! এক ফোঁটা জলের দিকে সমুদ্রের গর্জন; একটি মোমবাতির প্রতি একটি তারার ঈর্ষা; একটি জোনাকির প্রতি [[সূর্য|সূর্যের]] ঈর্ষা।
* '''এত [[সময়|সময়ে]] পুরো [[বিশ্ব|বিশ্বের]] জানা উচিত যে আসল [[বাইবেল]] এখনও লেখা হয়নি, তবে তা লেখা হচ্ছে। আর মানবজাতি তার অধঃপতন শুরু না করা পর্যন্ত বা অস্তিত্বহীন না হওয়া পর্যন্ত এটি কখনোই শেষ হবে না।'''<br> আসল বাইবেল অনুপ্রাণিত পুরুষদের কাজ নয়, নবীদের, প্রেরিতদের, ইভানজেলিস্টদের বা খ্রিষ্টদের কাজও নয়। প্রতিটি মানুষ যিনি একটি [[তথ্য]] খুঁজে পান, তিনি যেন এই বিশাল বইটিতে একটি শব্দ যোগ করেন। এটি [[ভবিষ্যদ্বাণী]], [[অলৌকিক ঘটনা]] বা [[লক্ষণ|লক্ষণগুলোর]] দ্বারা প্রমাণিত নয়। এটি [[বিশ্বাস]], [[অজ্ঞতা]], সহজবিশ্বাস বা [[ভয়|ভয়ের]] কাছে কোনো আবেদন করে না। অবিশ্বাসের জন্য এর কোনো [[শাস্তি]] নেই এবং [[কপটতা|কপটতার]] জন্য কোনো পুরস্কার নেই। এটি প্রদর্শনের নামে মানুষের কাছে আবেদন করে। এর লুকানোর কিছু নেই। এটি পড়া হওয়ার, খণ্ডিত হওয়ার, অনুসন্ধান করা এবং বোঝা যাওয়ার ভয় নেই। এটি পবিত্র বা অলৌকিক হওয়ার ভান করে না। এটি কেবল সত্য বলে দাবি করে। এটি সবার যাচাই-বাছাইকে চ্যালেঞ্জ করে এবং প্রতিটি পাঠককে নিজের জন্য প্রতিটি লাইন যাচাই করতে অনুরোধ করে। এটিকে ব্লাসফেমি করা অসম্ভব। এই বইটি মানুষের চারপাশের সবকিছুর কাছে আবেদন করে। '''বিদ্যমান প্রতিটি জিনিস এর [[নিখুঁত|নিখুঁততার]] সাক্ষ্য দেয়। পৃথিবী, তার আগুনের হৃদয় এবং তুষারের মুকুট নিয়ে; তার বন এবং সমভূমি, তার শিলা এবং সমুদ্র নিয়ে; তার প্রতিটি ঢেউ এবং মেঘ নিয়ে; তার প্রতিটি পাতা এবং কুঁড়ি ও ফুল নিয়ে, এর প্রতিটি শব্দকে নিশ্চিত করে। আর অসীম রসাতলে জ্বলজ্বল করা গম্ভীর তারাগুলো হলো এর [[সত্য|সত্যের]] চিরন্তন সাক্ষী।'''
===[http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/centennial_oration.html সেন্টেনিয়াল ওরেশন (৪ জুলাই ১৮৭৬)]===
*<p>একশো বছর আগে, আমাদের পূর্বপুরুষরা [[রাজনীতি]] থেকে [[দেবতা|দেবতাদের]] বিদায় করেছিলেন।</p><p>'''[[স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র]] হলো সবচেয়ে মহান, সাহসী এবং গভীর রাজনৈতিক দলিল, যা কখনো কোনো [[জনগণ|জনগণের]] প্রতিনিধিদের দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়েছিল।''' এটি শারীরিক ও নৈতিক [[সাহস]] এবং রাজনৈতিক [[প্রজ্ঞা|প্রজ্ঞার]] মূর্ত প্রতীক।</p>
* প্রাচীনকালে কোনো রাজনৈতিক উৎসাহী ব্যক্তি মাঝে মাঝে এমন কথা বলতেন। কিন্তু বিশ্বের [[ইতিহাস|ইতিহাসে]] প্রথমবারের মতো একটি জাতির প্রতিনিধিরা, একটি বাস্তব, জীবন্ত, শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া, আশাবাদী মানুষের প্রতিনিধিরা ঘোষণা করেছিলেন যে সমস্ত মানুষ সমানভাবে সৃষ্ট। এক ধাক্কায়, কলমের এক টানে তারা মানুষ এবং মানুষের মধ্যে আভিজাত্য, পুরোহিততন্ত্র এবং রাজতন্ত্রের তৈরি করা সমস্ত নিষ্ঠুর, হৃদয়হীন বাধা ভেঙে দিয়েছিলেন। তারা এক অমর আঘাতের মাধ্যমে সেই কুখ্যাত জাতপাতের চেতনাকে ধ্বংস করেছিলেন, যা একজন ঈশ্বরকে প্রায় একটি পশুতে এবং একটি পশুকে প্রায় একজন দেবতায় পরিণত করে। এক কথায়, এক আঘাতে তারা শতাব্দীর পর শতাব্দীর [[যুদ্ধ]], শতাব্দীর পর শতাব্দীর [[কপটতা]], শতাব্দীর পর শতাব্দীর অবিচারের দ্বারা করা সমস্ত কিছু মুছে দিয়েছিলেন এবং পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
* আমাদের পূর্বপুরুষরা এই বিশ্বে প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ [[সরকার]] প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেটি মনে রাখবেন। প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সরকার; প্রথম সরকার যা বলেছিল যে প্রতিটি গির্জার ঠিক একই অধিকার রয়েছে, এর বেশি কিছু নয়। প্রতিটি ধর্মের একই অধিকার রয়েছে, এর বেশি কিছু নয়। অন্য কথায়, আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন প্রথম মানুষ, যাদের এই জ্ঞান, এই [[প্রতিভা]] ছিল যে কোনো গির্জাকে [[তলোয়ার]] রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। একে কেবল তার নৈতিক প্রভাব প্রয়োগ করার অনুমতি দেওয়া উচিত।
* '''সবার [[অধিকার]] সমান: চিরন্তন শান্তিতে স্থির এবং ভারসাম্যপূর্ণ ন্যায়বিচার মানুষের কাজের ওজন মাপা সোনার দাঁড়িপাল্লা থেকে [[কুসংস্কার]] এবং জাতপাতের ধুলো ঝেড়ে ফেলবে। কোনো জাতি, কোনো বর্ণ, কোনো পূর্ববর্তী অবস্থা মানুষের অধিকার পরিবর্তন করতে পারে না।'''
===মাই রিভিউয়ার্স রিভিউড (২৭ জুন ১৮৭৭-এর বক্তৃতা, সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া)===
* একশো বছর ধরে নরক ধীরে ধীরে ঠান্ডা হচ্ছে, শিখাগুলো ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে, গন্ধক প্রায় শেষ হয়ে গেছে, আগুন আরও নিচু এবং নিচুতে জ্বলছে এবং জলবায়ু ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। পরিবর্তনটি এরই মধ্যে এত দূর প্রভাব ফেলেছে যে, আমি যদি আজ রাতে সেখানে যেতাম তবে আমি একটি ওভারকোট এবং এক বাক্স দেশলাই নিয়ে যেতাম।
* তারা বলে যে মানুষের অনন্ত ভবিষ্যৎ তার বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। আমি তা অস্বীকার করি। মস্তিষ্কের সততার সাথে পৌঁছানো একটি সিদ্ধান্ত কখনো অপরাধ হতে পারে না। আর যে ব্যক্তি বলে যে এটি অপরাধ, সে নিজে তা মনে করে না। যে ঈশ্বর এটিকে অপরাধ হিসেবে শাস্তি দেন তিনি কেবল একজন কুখ্যাত স্বৈরশাসক। আমার কথা বলতে গেলে, আমি হাজারবার ধ্বংসের দিকে যেতে এবং বিশ্বের সাহসী, মহান চিন্তাবিদদের সাথে এর যন্ত্রণা ভোগ করতে চাইব, একজন ঈশ্বরের সঙ্গ বজায় রেখে স্বর্গে যাওয়ার চেয়ে, যিনি সৎ বিশ্বাসের জন্য তার সন্তানদের অভিশাপ দেবেন।
* আমি নারীর অধিকারের জন্য, স্ত্রীদের অধিকারের জন্য এবং তার চেয়েও বড় কথা, ছোট শিশুদের অধিকারের জন্য আবেদন করেছি। আমি বলেছি যে তাদের স্নেহ, ভালোবাসা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করা যেতে পারে এবং আমার হৃদয় দারিদ্র্য ও অপরাধের সমস্ত সন্তানদের প্রতি ধাবিত হয়। সরু রাস্তায় এবং সাব-সেলারগুলোতে বসবাসকারী শিশুদের প্রতি, একটি নিষ্ঠুর পিতার পায়ের শব্দ শুনলে দৌড়ে পালানো এবং লুকানো শিশুদের প্রতি, এমনকি একজন মায়ের মুখে তাদের নাম উচ্চারিত হলে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া শিশুদের প্রতি। জীবনের বিস্তীর্ণ, রূঢ় সমুদ্রে ভেসে থাকা সমস্ত ছোট শিশুদের প্রতি আমার হৃদয় ধাবিত হয়। আমি বলেছি যে আমার হৃদয় তাদের প্রত্যেকের প্রতি ধাবিত হয়। আমি বাবা-মা'কে তাদের নিজেদের রক্তমাংসে গড়া সন্তানদের প্রহার করা বন্ধ করতে বলেছি। আমি তাদের বলেছি, যখন আপনার সন্তান ভুল করে, তখন তাকে আপনার হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরুন। তাকে আপনার হৃদয়ের স্পন্দন অনুভব করতে দিন। একটি ক্লাবের চেয়ে চুমু দিয়ে আপনার সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ।
* ধর্মীয় সংবাদমাধ্যম এবং তাদের মিম্বরে বসে মন্ত্রীরা আমাকে একজন দানব, শৃঙ্খলার শত্রু, পিশাচ এবং একজন কুখ্যাত মানুষ হিসেবে নিন্দা করেছেন। তবে আমি এর কোনো অভিযোগ করছি না। '''কয়েক বছর আগে তারা আমাকে খুঁটিতে বেঁধে পুড়িয়ে মারত এবং আমাকে শিখা ও ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে তাদের কপট মুখের দিকে তাকাতে বাধ্য করা হতো। তারা এখন তা করতে পারে না, পারলে করত।'''
* আত্মা অমর কি না তা প্রকৃতির একটি সত্য এবং এটি কোনো বই দ্বারা পরিবর্তন করা যায় না। আমি যদি অমর হই, তবে আমি অমর। আমি যদি না হই, কোনো বই আমাকে তা করতে পারবে না। আমার আবার বেঁচে থাকাটা আমার বেঁচে থাকার চেয়ে বেশি আশ্চর্যের কিছু নয়।
* আমি এই কথাগুলো বলা মাত্রই বিভিন্ন ভদ্রলোক আমাকে উত্তর দেওয়ার তাগিদ অনুভব করলেন। '''আমি বলতে চাই যে পৃথিবীতে যদি আমি কোনো কিছু পছন্দ করি, তা হলো ন্যায্যতা। আর এটি আমার এত পছন্দ হওয়ার একটি কারণ হলো আমি এটি খুব কমই পেয়েছি।'''
* আমি চাইলে অত্যন্ত জঘন্য এবং ঘৃণ্য কথা বলতে পারি। আমি অনেক ধর্মীয় পত্রিকা এবং আলোচনা পড়েছি এবং আমার মনে হয় আমি এখন আমাদের ভাষার সব কুখ্যাত শব্দগুলো জানি।
* তবে, অধিবিদ্যার বিজ্ঞান নিয়ে কোনো সময় নষ্ট করার যৌক্তিকতা নেই। '''আমি আপনাকে অধিবিদ্যার আমার সংজ্ঞা দেব: দু'জন বোকা একসাথে হয়; প্রত্যেকে এমন কিছু স্বীকার করে যা কেউই প্রমাণ করতে পারে না, এবং এরপর তারা দুজনেই বলে, "অতএব আমরা অনুমান করি।"''' অধিবিদ্যা বলতে এইটুকুই।
* বিশ্বের প্রতিটি কুসংস্কার যা এখন পবিত্র বলে গণ্য করা হয়, তা মা-বাবা, বাড়ির স্মৃতি দ্বারা পবিত্র করা হয়েছে। আমি জানি যারা ভালোবাসত তাদের স্মৃতি দ্বারা পবিত্র হলেও প্রতিটি কুসংস্কার দূরে ছুঁড়ে ফেলতে মহৎ, সাহসী এবং কোমল মানুষদের কতটা মূল্য দিতে হয়েছে।
* আমি ভলতেয়ারকে পছন্দ করি, কারণ অর্ধ শতাব্দী ধরে তিনি ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্রাট ছিলেন। আমি তাকে পছন্দ করি, কারণ আল্পসের পাদদেশে তার সিংহাসন থেকে তিনি খ্রিষ্টজগতের প্রতিটি কপট মানুষের দিকে অবজ্ঞার আঙুল তুলেছিলেন।
* '''সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এটি নয় যে, কে ঠিকভাবে মারা গেছে, বরং কে ঠিকভাবে বেঁচে ছিল? মরার চেয়ে বেঁচে থাকার মধ্যে অসীম দায়িত্ব রয়েছে'''। মৃত্যুর মুহূর্তটি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বহীন মুহূর্ত। তখন কিছুই করা যায় না। আপনি আপনার উইলে তাকে স্মরণ করা ছাড়া কোনো বন্ধুর জন্যও কোনো উপকার করতে পারবেন না।
* প্রথম প্রেসবিটারিয়ান ছিলেন একজন ধর্মদ্রোহী। প্রথম ব্যাপটিস্ট ছিলেন একজন ধর্মদ্রোহী। প্রথম কংগ্রিগেশনালিস্ট ছিলেন একজন ধর্মদ্রোহী। প্রথম খ্রিষ্টান একজন ব্লাসফেমার হিসেবে নিন্দিত হয়েছিলেন। তারপরও এই ধর্মদ্রোহীরা যখন কোনো এলাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যায় পৌঁছায়, তখনই নিজেদের গোঁড়া বলে ডাকতে শুরু করে। এর চেয়ে চরম কোনো ধৃষ্টতা কি হতে পারে?
* আমি ঘটনাচক্রে ছয় বা সাতজন ব্যাপটিস্ট এল্ডারের সঙ্গে ছিলাম—'''কীভাবে আমি এমন খারাপ সঙ্গে জড়িয়ে পড়লাম, তা জানি না''',—এবং তাদের মধ্যে একজন জিজ্ঞাসা করলেন বাপ্তিস্ম সম্পর্কে আমি কী ভাবি। আসলে, আমি কখনো এটি নিয়ে খুব বেশি ভাবিনি; এ সম্পর্কে খুব বেশি জানিও না; আমি কিছু বলতে চাইনি, কিন্তু তারা জোর করেছিল। আমি বলেছিলাম, "আচ্ছা, আমি আপনাকে আমার মতামত দেব—সাবান দিয়ে বাপ্তিস্ম একটি ভালো জিনিস।"
* পরবর্তী ভদ্রলোক যিনি আমার কথার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তিনি হলেন রেভারেন্ড স্যামুয়েল রবিনসন। '''তিনি তার "গোস্টস অ্যাগেইনস্ট গড অর ইঙ্গারসোল অ্যাগেইনস্ট অনেস্টি" শিরোনামের উপদেশে এই কাজটি করেছেন।''' '''আমি অনুমান করি তিনি উভয় ক্ষেত্রেই নিজেকে আসামী বলে কল্পনা করেন।'''
* অতীতের সাহসী মানুষরা নির্যাতনের যন্ত্রপাতি সহ্য করেছিলেন। তাদের র্যাকে টানটান করা হয়েছিল; তাদের পা লোহার বুটে পিষে ফেলা হয়েছিল; তারা নির্বাসনের তীরে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে বাড়ি এবং জন্মভূমির দিকে তাকিয়েছিলেন। তাদের তাদের চুলা থেকে, তাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে, তাদের সন্তানদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাদের পাবলিক স্কোয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; তাদের খুঁটিতে শেকল দিয়ে বাঁধা হয়েছিল এবং তাদের ছাই অগণিত ঘৃণার হাত দ্বারা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি সন্তুষ্ট। '''ভয়ের শিষ্যরা আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।'''
* এই ভদ্রলোক একজন "বস্তুবাদী দানব" এর সাহায্যে এক পয়সা অবদান রাখতেও ঘৃণা করতেন। '''যখন আমি সেই বিবৃতিটি দেখলাম, তখন আমি আপনাকে বলব আমি কী করেছি। আমি জানতাম লোকটির বিবেক তার বুকে মোচড় দিয়ে উঠছে এই ভেবে যে সে আমার সহায়তার জন্য, একটি ভূতে অবিশ্বাসী "বস্তুবাদী দানবের" সহায়তার জন্য এক ডলার অবদান রেখেছে। আমি তাকে একটি চিঠি লিখেছিলাম এবং আমি বলেছিলাম: "আমার প্রিয় মহাশয়: ভূতে অবিশ্বাসীর সহায়তায় অবদান রাখার অপরাধ থেকে আপনার বিবেককে মুক্তি দেওয়ার জন্য, আপনি আমার বক্তৃতায় অংশ নিতে যে পরিমাণ অর্থ প্রদান করেছিলেন তা আমি এতদ্বারা সংযুক্ত করছি।"''' তারপর আমি তাকে একটু ভালো উপদেশ দিয়েছিলাম। আমি তাকে দয়ালু, সদয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম যে কোনো ব্যক্তি দেড় ঘণ্টা ধরে আমার কথা শুনতে পারে এবং সব মানুষের একই রকম চিন্তা করার অধিকার আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে যেতে পারে না। এই লোকটি টাকা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছিল, কিন্তু খামের একটি দাগের মাধ্যমে তার কাছে এটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।
* সাদা কোয়েকার শিশুদের কারা দাস হিসেবে বিক্রি করেছিল? প্রোটেস্ট্যান্টরা। কোয়েকারদের জিভ কারা কেটেছিল? অসম্ভব অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নারী-পুরুষ ও শিশুদের কারা পুড়িয়ে ধ্বংস করেছিল? প্রোটেস্ট্যান্টরা। '''প্রোটেস্ট্যান্টরা ঠিক তাদের ক্ষমতার সমপরিমাণ নির্যাতন করেছে। ক্যাথলিকরাও একই কাজ করেছে।'''
* '''বিশ্বের ইতিহাসে ওল্ড স্কুল প্রেসবিটারিয়ানিজমের চেয়েও খারাপ কোনো ধর্ম কখনো থেকে থাকতে পারে। তবে নরখাদকতা থেকে সভ্যতা পর্যন্ত যদি এমন কিছু থেকে থাকে, তবে আমি কখনো এর কথা শুনিনি।'''
* ধর্মীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকরা কেন এত বিদ্বেষপরায়ণ, কেন তারা অপবাদ দিয়ে যুক্তির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে, তা আমার কাছে একটি রহস্য। এটা কি এই কারণে যে তারা অনুভব করে রাজদণ্ড ধীরে ধীরে তাদের হাত থেকে পিছলে যাচ্ছে? '''এটি কি শক্তিহীন রাগের ফল? এটি কি এই কারণে যে প্রতিটি গোঁড়া মস্তিষ্কে বুদ্ধিবৃত্তিক হীনমন্যতার একটি সনদ লেখা হচ্ছে?'''
* '''যদি এই "পবিত্র" বইটি মানুষকে তার ভাইকে দাস করতে শেখায়, তবে এটি অনুপ্রাণিত নয়। যে ঈশ্বর দাসত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন, তিনি যেকোনো শয়তানের মতোই নিষ্ঠুর এবং হৃদয়হীন।'''
* এটি সবচেয়ে দয়ালু ঈশ্বরের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এক ধরনের দাসত্ব। এই সবের জন্য দেওয়া কারণ হলো, যাদের তারা দাস বানিয়েছিল তারা ছিল পৌত্তলিক। আপনি তাদের দাস বানাতে পারেন কারণ তারা গোঁড়া নয়। আপনি যদি এমন কাউকে খুঁজে পান যে আমাকে অর্থাৎ ইহুদিদের ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে না, তবে আপনি তার স্ত্রীকে তার বাহু থেকে এবং তার শিশুকে দোলনা থেকে চুরি করতে পারেন। আপনি যদি এমন কোনো নারীকে খুঁজে পান যে হিব্রু যিহোবাকে বিশ্বাস করে না, তবে আপনি তার বুক থেকে তার বকবক করা শিশুকে চুরি করতে পারেন। কেউ কি এর চেয়ে বেশি কুখ্যাত কোনো কিছু কল্পনা করতে পারে? কেউ কি এই বিশ্বের সাহিত্যে একটি শয়তানের প্রতিও আরোপিত এর চেয়ে ভয়ানক শব্দ খুঁজে পেতে পারে?
* “যদি তার মনিব তাকে একজন স্ত্রী দিয়ে থাকে, এবং সে তার পুত্র বা কন্যার জন্ম দেয়; তবে স্ত্রী এবং তার সন্তানরা তার মনিবের হবে, এবং সে একাই চলে যাবে...দাসটিকে তার স্ত্রী এবং সন্তানদের ছেড়ে দিলে স্বাধীনতা দেওয়া হয়। স্ত্রী এবং সন্তানের স্বার্থে তাকে অবশ্যই দাসত্বে থাকতে হবে। এটি সবচেয়ে দয়ালু ঈশ্বরের আরেকটি আইন। এই ঈশ্বর এমনকি ভালোবাসাকেও একটি শিকলে পরিণত করেন। শিশুদের তিনি হাতকড়া এবং শেকল হিসেবে ব্যবহার করেন এবং স্ত্রীরা কারাগারের রক্ষক হয়ে ওঠে। '''যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে এমন জঘন্য আইনগুলো একজন অসীম জ্ঞানী এবং দয়ালু ঈশ্বরের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল, সে আমার বিচারে উন্মাদ বা সম্পূর্ণ অবক্ষয়গ্রস্ত।'''
* '''ঈশ্বরের কাছে একজন মানুষকে বিনামূল্যের জন্য ধৈর্য ধরে কাজ করতে দেখাটা নিশ্চয়ই অনেক আনন্দের বিষয়। একজন দাসকে তার স্ত্রী এবং সন্তানের সাথে নিলামে বিক্রি হতে দেখে পরমেশ্বর অবশ্যই সন্তুষ্ট হন। যদি এই দাসটি দাসত্ব থেকে পালিয়ে যায় এবং তাকে ধাওয়া করা হয়, তবে রক্তপিপাসু কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ এই সবচেয়ে দয়ালু ঈশ্বরের কানে কতটা সুরেলা শোনাবে। এর সবটাই কেবল কুখ্যাত। এই মহাবিশ্বের সিংহাসনে এমন কোনো দানব বসে নেই।'''
* নটরডেম ক্যাথেড্রালে এগুলোর মধ্যে একটির প্রচারিত একটি উপদেশের কথা আমি কোথাও পড়েছি। এই বৃদ্ধ পুরোহিত অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বলেছিলেন যে, একজন ভিক্ষুকের আত্মা ঈশ্বরের কাছে তার সবচেয়ে ধনী মানুষের আত্মার মতোই প্রিয়। এবং যিশু খ্রিষ্ট একজন রাজপুত্রের জন্য যতটা মারা গিয়েছিলেন একজন ভিক্ষুকের জন্যও ততটা মারা গিয়েছিলেন। একজন ফরাসি কৃষক, পরিশ্রমে রুক্ষ হয়ে চিৎকার করে বলেছিল: "আমি যিশু খ্রিষ্টের জন্য তিনটি উল্লাস প্রস্তাব করছি।" আমি এমন জিনিসগুলো পছন্দ করি। আমি এগুলো শুনতে পছন্দ করি। আমি এগুলো পুনরাবৃত্তি করতে পছন্দ করি।
* আমাদের সন্তানদের ভয় দেখাতে এবং নারীদের বুদ্ধিমত্তাকে পঙ্গু করার জন্য পুরোহিতদের অর্থ প্রদান করা হলো অর্থের অপচয়।
* শত শত বছর ধরে সমস্ত খ্রিষ্টানরা দাবি করেছিল যে পৃথিবী ছয় দিনে তৈরি হয়েছিল, প্রতিটি আক্ষরিক চব্বিশ ঘণ্টার দিন। এবং সপ্তম দিনে প্রভু তার শ্রম থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। ভূতাত্ত্বিকরা গির্জাকে এই অবস্থান থেকে বিতাড়িত করেছেন। আর এখন দাবি করা হয় যে বাইবেলে উল্লিখিত দিনগুলো হলো সময়কাল। এটি একটি সাধারণ এড়ানো, যা কোনোভাবেই ধর্মগ্রন্থ দ্বারা সমর্থিত নয়। বাইবেল স্পষ্টভাবে এবং পরিষ্কারভাবে বলে যে বিশ্ব ছয় দিনে তৈরি হয়েছিল। এর মলাটের ভেতরে এর চেয়ে পরিষ্কার কোনো বিবৃতি নেই।
* আর তাদের সাবাথ পালন করার কারণ ছিল যে স্রষ্টা সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছিলেন—কোনো সময়কালে নয়। '''আপনি যদি ছয় দিনের পরিবর্তে ছয় সময়কালের কথা বলেন, তবে আপনার সাবাথের কী হবে?''' বাইবেলে সাবাথ পালনের একমাত্র কারণ দেওয়া হয়েছে যে ঈশ্বর এটি পালন করেছিলেন। তিনি সেদিন তার কাজ থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন এবং সতেজ হয়েছিলেন। এই কারণটি সরিয়ে নিলে, সেই দিনের পবিত্রতার কোনো ভিত্তি ধর্মগ্রন্থে থাকে না।
* যখন সৃষ্টির মোজাইক বর্ণনার চরম অযৌক্তিকতা সমস্ত চিন্তাশীল মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন গির্জা বাইবেলের পাঠ পরিবর্তন করে। তখন ভান করা হয়েছিল যে সৃষ্টির "দিনগুলো" হলো বিশাল সময়কাল। যখন এটা দেখানো হয়েছিল যে পৃথিবীর চারপাশে সূর্যের ঘোরা একেবারেই অসম্ভব, তখন যিহোশূয় কর্তৃক সারা দিন সূর্যের স্থির থাকার বিবরণটিকে একটি রূপক অর্থে পরিবর্তন করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে যিহোশূয় কেবল তার দিনের সাধারণ কথা বলার রীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেছিলেন। এবং যখন তিনি বলেছিলেন যে সূর্য স্থির দাঁড়িয়েছে, তখন তিনি কেবল এই ধারণাটি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে পৃথিবী তার অক্ষের চারপাশে ঘোরা বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বে কি এমন কোনো সংবেদনশীল মানুষ আছেন যিনি এই অজ্ঞতাবশত মিথ্যায় বিশ্বাস করেন?
* প্রতি ঘণ্টায় এক হাজার মাইল বেগে ঘুরতে থাকা পৃথিবী থেমে গিয়েছিল। এই বিশাল গোলকের গতি তাৎক্ষণিকভাবে তাপে পরিণত হতো। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী গণনা করে দেখেছেন যে, পৃথিবীকে থামাতে কঠিন কয়লার তৈরি এই পৃথিবীর সমান একটি বিশ্বকে পুড়িয়ে যে পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করা যায়, সেই পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হবে। '''তারপরও এই সমস্ত শক্তি কেবল কয়েকজন দরিদ্র বর্বরকে পরাজিত করার তুচ্ছ উদ্দেশ্যে ব্যয় করা হয়েছিল। এত সামান্য একটি বস্তু অর্জনের জন্য এত বেশি শক্তির প্রয়োগ, সান ফ্রান্সিসকো শহরের পাদ্রিদের যুক্তির উত্তর দেওয়ার জন্য একজন মহান মানুষের সমস্ত বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর মতোই অর্থহীন হতো।'''
* দাবিকৃত উদ্দেশ্যের জন্য গ্রহগুলোকে তাদের বিশাল গতিপথে থামানোর ক্ষেত্রে সেই অসীম শক্তির অপচয় হতো এমন একটি পোকা ধ্বংস করার জন্য একটি ক্রুপ বন্দুক ব্যবহার করার মতো, যার কাছে এক ফোঁটা জলই হলো "একটি অসীম পৃথিবী।" '''সাধারণ বুদ্ধির মানুষের পক্ষে কেবল এমন অজ্ঞতাপূর্ণ মিথ্যাগুলোকে সমর্থন করাই নয়, বরং যারা তা করে না তাদের কীভাবে বদনাম করা সম্ভব?''' বাইবেলের জ্যোতির্বিদ্যায় বিশ্বাস করার চেয়ে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে অবক্ষয়কারী আর কিছু হতে পারে কি?
* পৃথিবী যে সমতল হতে হবে তা দেখানোর জন্য কসমসের দেওয়া মহান যুক্তিটি হলো এই যে, বাইবেলে বলা হয়েছে যখন খ্রিষ্ট দ্বিতীয়বার মহিমায় আসবেন, তখন পুরো বিশ্ব তাকে দেখবে। '''কসমস বলেছিলেন, "এখন যদি পৃথিবী গোল হয়, তবে প্রভু এলে পৃথিবীর অন্য দিকের লোকেরা কীভাবে তাকে দেখতে পাবে?"''' এটি প্রশ্নটির সমাধান করে দিয়েছিল।
* '''বাইবেলকে কেবল সত্য হিসেবে নয়, সমস্ত সত্যের সেরা হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। সামনে আনা যেকোনো নতুন তত্ত্ব অবিলম্বে ওহীর আলোতে বা বলা যায় অন্ধকারে পরীক্ষা করা হতো। আর যদি সেই পরীক্ষা অনুযায়ী এটি মিথ্যা হয়, তবে এটির নিন্দা করা হতো এবং এটি সামনে আনা ব্যক্তিকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হতো। ধর্মগ্রন্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রমাণিত প্রতিটি তত্ত্ব আবিষ্কার করা অনেক ভালো হতো।'''
* স্যার থমাস মুর বলেছিলেন যে ডাইনিবিদ্যা ছেড়ে দেওয়া মানে বাইবেলকেই ছেড়ে দেওয়া। একশো বছর আগে প্রায় সব বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদরাই এই ধারণা পোষণ করতেন। '''আমার বিচারে, তারা সঠিক ছিলেন। ডাইনিবিদ্যা ছেড়ে দেওয়া মানে, অন্তত অনেকখানি, অতিপ্রাকৃতকে ছেড়ে দেওয়া। ছোট ছোট ভূতগুলোকে কেবল ছুঁড়ে ফেলা মানুষের মনকে বড় ভূতগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে।''' সঠিকভাবে বলা যায় এমন প্রায় সব ধর্মমত ও ধর্মের প্রতিষ্ঠাতারাই ভালো ও মন্দ আত্মার অস্তিত্ব শিখিয়েছেন। তারা অন্ধকারকে শয়তান এবং আলোকে ফেরেশতা দিয়ে ভরিয়ে তুলেছেন। তারা নরককে রাক্ষস এবং স্বর্গকে সরাফ দিয়ে ভিড় করিয়েছেন। যে মুহূর্তে এই ভালো ও মন্দ আত্মাগুলো, এই ফেরেশতা ও পিশাচগুলো মানুষের কল্পনা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং অতিপ্রাকৃত উপায়ের চেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা করা হয়, সে মুহূর্তেই বস্তুবাদের নামে পরিচিত হওয়ার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। '''যে পর্যন্ত গির্জা ডাইনিবিদ্যায় বিশ্বাস করে, সে পর্যন্ত তা একটি পরিবর্তিত রূপে থাকে। মন্দ আত্মাগুলো আগের মতো বেশি নেই এবং আরও বেশি ঘটনা প্রাকৃতিক উপায়ে ব্যাখ্যা করা হয়। আত্মাগুলোর ওপর বিশ্বাস যতটুকু হারিয়েছে, ঠিক ততটুকুই গির্জা তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব হারিয়েছে।''' মানুষ যখন ভালো বা মন্দ আত্মার প্রত্যক্ষ ক্রিয়ার কারণে কোনো ঘটনার সংঘটনকে দায়ী করা বন্ধ করে দেয় এবং পরিচিত প্রাঙ্গণ থেকে যুক্তি দেখাতে শুরু করে, তখন কুসংস্কারের শৃঙ্খল দুর্বল হতে শুরু করে।
* এবং এরপর প্রভু শয়তানকে ইয়োবের সম্পত্তি এবং সন্তানদের ধ্বংস করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। '''কিছুক্ষণ পরে এই উচ্চ চুক্তিকারী পক্ষগুলো আবার মিলিত হয়েছিল। এবং প্রভুকে তার সাফল্যে কিছুটা উচ্ছ্বসিত বলে মনে হয়েছিল এবং তিনি আবার ইয়োবের পাপহীনতার দিকে শয়তানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তারপর শয়তান তাকে তার শরীর স্পর্শ করতে বলেছিল এবং সে তাকে অভিশাপ দেবে। এবং এরপর ইয়োবের শরীরের ওপর শয়তানকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল এবং সে তার শরীর ফোঁড়ায় ঢেকে দিয়েছিল। তারপরও এই সবকিছুর মধ্যে ইয়োব তার ঠোঁট দিয়ে পাপ করেননি। ধৈর্যের উৎকর্ষ দেখানোর জন্য এবং এই প্রমাণ করার জন্য এই বইটি লেখা হয়েছে বলে মনে হয় যে, অবশেষে ঈশ্বর তাদের সবাইকে পুরস্কৃত করবেন যারা সাহসের সাথে এবং কোনো অভিযোগ ছাড়াই স্বর্গের কষ্টগুলো সহ্য করবে।''' ইয়োবের পুত্র ও কন্যাদের হত্যা করা হয়েছিল। এবং তারপর ইয়োবকে পুরস্কৃত করার জন্য প্রভু তাকে অন্যান্য সন্তান, অন্যান্য পুত্র এবং অন্যান্য কন্যা দিয়েছিলেন—যাদের তিনি হারিয়েছিলেন তাদের নয়, বরং অন্যদের। এবং লেখকের মতে, এটি যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ করেছে। '''ভালোবাসা সম্পর্কে আমরা এখন যে ধারণাটি পোষণ করি তা কি এমনই? যদি আমার একটি সন্তান থাকে, সেই সন্তানটি যতই বিকলাঙ্গ হোক না কেন, এবং যদি সে মারা যায়, তবে অন্য একটি আরও সুন্দর সন্তান এনে কেউ আমার ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না। আমি তাকেই চাই যাকে আমি ভালোবাসতাম এবং যাকে আমি হারিয়েছি।'''
* "অতএব, গির্জা যেমন খ্রিষ্টের অধীন, তেমনি স্ত্রীরাও যেন সব বিষয়ে তাদের স্বামীদের অধীন হয়।"— ইফিষীয় ৫। এমনকি ত্রাণকর্তাও নারী-পুরুষকে সমতার জায়গায় রাখেননি। একজন স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারত, কিন্তু স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক দিতে পারত না। প্রতিটি মহৎ নারীর এমন প্রেরিতদের এবং এমন ধারণাগুলোকে অবজ্ঞা করা উচিত। ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী, নারীকে ক্ষমা চাইতে হতো এবং পুত্র-কন্যার জন্ম দেওয়ার অপরাধ থেকে নিজেকে শুদ্ধ করতে হতো। ভালোবাসা এবং মাতৃত্বকে অপরাধ বানানো অত্যন্ত জঘন্য।
* <sup>১০.</sup> “যখন তুমি তোমার শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবে, এবং প্রভু তোমার ঈশ্বর তাদেরকে তোমার হাতে সমর্পণ করবেন, এবং তুমি তাদের বন্দি করবে, <sup>১১.</sup> “এবং বন্দিদের মধ্যে একটি সুন্দর নারী দেখতে পাবে, এবং তার প্রতি তোমার আকাঙ্ক্ষা থাকবে, যে তুমি তাকে তোমার স্ত্রী হিসেবে চাইবে, <sup>১২.</sup> “তখন তুমি তাকে তোমার বাড়িতে নিয়ে আসবে; এবং সে তার মাথা মুণ্ডন করবে, এবং তার নখ কাটবে।”<sup>'''— দ্বিতীয় বিবরণ ২১.'''</sup> '''এটি বর্বরতা, তা স্বর্গ থেকে বা নরক থেকে, কোনো ঈশ্বর থেকে বা কোনো শয়তান থেকে, নতুন জেরুজালেমের সোনার রাস্তা থেকে বা ধ্বংসের একেবারে সদোম থেকে আসুক না কেন। এটি সম্পূর্ণ এবং নিছক বর্বরতা।'''
* <sup>২৩.</sup> “কিন্তু প্রভু তোমার ঈশ্বর তাদের তোমার হাতে সমর্পণ করবেন, এবং তাদের ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এক শক্তিশালী ধ্বংসের সাথে তাদের ধ্বংস করবেন। <sup>২৪.</sup> “এবং তিনি তাদের রাজাদের তোমার হাতে সমর্পণ করবেন, '''এবং তুমি স্বর্গের নিচ থেকে তাদের নাম ধ্বংস করবে; তুমি তাদের ধ্বংস না করা পর্যন্ত কোনো মানুষ তোমার সামনে দাঁড়াতে পারবে না।”<sup>— দ্বিতীয় বিবরণ ৭.</sup>''' '''যদি এই কথাগুলো কোনো শয়তানের মুখ থেকে আসত, যদি এগুলো কোনো ক্রুদ্ধ এবং অসীম বিদ্বেষপরায়ণ পিশাচ দ্বারা বলা হতো, তবে আমি অবাক হতাম না। কিন্তু এই জিনিসগুলো একজন অসীম দয়ালু ঈশ্বরের প্রতি আরোপিত হয়েছে।'''
* '''অনন্ত শাস্তিতে কি দয়া বলে কিছু থাকতে পারে? তারপরও এই একই দেবতা আমাকে বলেন, “মন্দের প্রতিরোধ কোরো না; যারা তোমাকে অবজ্ঞা করে তাদের জন্য প্রার্থনা করো; তোমার শত্রুদের ভালোবাসো, কিন্তু আমি আমার শত্রুদের চিরকাল অভিশাপ দেব।” আমার মনে হয় দেবতাদেরও তারা যা প্রচার করে তা অনুশীলন করা উচিত।'''
=== দ্য লিবার্টি অফ ম্যান, উইম্যান অ্যান্ড চাইল্ড (১৮৭৭) ===
:<small>[http://www.positiveatheism.org/hist/ingermwc.htm অনলাইনে সম্পূর্ণ পাঠ্য]</small>
* '''অজ্ঞতা ছাড়া অন্য কোনো [[দাসত্ব]] নেই। [[স্বাধীনতা]] হলো [[বুদ্ধিমত্তা|বুদ্ধিমত্তার]] সন্তান।''' <br> মানুষের [[ইতিহাস]] কেবল দাসত্ব, অবিচার এবং নিষ্ঠুরতার ইতিহাস। পাশাপাশি এটি সেই উপায়গুলোর ইতিহাস যার মাধ্যমে সে মৃত এবং নির্জন বছরগুলোর মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এবং বেদনাদায়কভাবে অগ্রসর হয়েছে।
* [[স্বাধীনতা|স্বাধীনতার]] শত্রুরা কোনো কিছুই করতে বাকি রাখেনি। মানুষের অধিকার ধ্বংস করার জন্য প্রতিটি কলা ও কৌশল, প্রতিটি নিষ্ঠুরতা এবং ক্ষোভ অনুশীলন ও সংঘটিত করা হয়েছে। এই মহান সংগ্রামে প্রতিটি [[অপরাধ]] পুরস্কৃত হয়েছে এবং প্রতিটি [[পুণ্য|পুণ্যকে]] শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পড়া, লেখা, চিন্তা করা এবং তদন্ত করা সবই অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।<br> প্রতিটি [[বিজ্ঞান]] একঘরে হয়ে গেছে। <br> সমস্ত বেদি এবং সমস্ত সিংহাসন মানবজাতির সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া বন্ধ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। '''রাজা বলেছিলেন যে মানবজাতিকে নিজেদের জন্য কাজ করা উচিত নয়। পুরোহিত বলেছিলেন যে মানবজাতির নিজেদের জন্য চিন্তা করা উচিত নয়। একজন হাতের জন্য শেকল তৈরি করেছিলেন, অন্যজন আত্মার জন্য।'''
* মাত্র কয়েক বছর আগে মানব মনে এক দুর্দান্ত জাগরণ ঘটেছিল। মানুষ জিজ্ঞাসা করতে শুরু করে, কোন অধিকারে একজন মুকুট পরা ডাকাত তাদের দিয়ে নিজের কাজ করায়? যে মানুষটি এই প্রশ্নটি করেছিলেন তাকে দেশদ্রোহী বলা হতো। অন্যরা জিজ্ঞাসা করেছিল, কোন অধিকারে একজন পোশাক পরা কপট আমার চিন্তাভাবনা শাসন করে? এমন লোকেদের নাস্তিক বলা হতো। পুরোহিত এবং রাজা বলেছিলেন, তদন্তের এই চেতনা কোথায় গিয়ে থামবে? তারা তখনও বলেছিল এবং এখনও বলে যে, মানুষের মুক্ত হওয়া বিপজ্জনক। আমি তা অস্বীকার করি। বুদ্ধিবৃত্তিক সমুদ্রে প্রতিটি পালের জন্য যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক বাতাসে প্রতিটি ডানার জন্য যথেষ্ট স্থান রয়েছে। <br> '''যে ব্যক্তি নিজের চিন্তাভাবনা নিজে করে না সে একজন দাস, এবং সে নিজের এবং তার সহকর্মীদের প্রতি একজন দেশদ্রোহী।'''
* '''অজানার উপস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, সবার চিন্তা করার সমান অধিকার রয়েছে, এবং সবাই উৎপত্তি এবং ভাগ্যের মহান প্রশ্নগুলোতে সমানভাবে আগ্রহী। আমি যা দাবি করি, যার জন্য আমি আবেদন করি, তা হলো [[চিন্তা]] এবং প্রকাশের স্বাধীনতা। ব্যস, এইটুকুই। আমি একেবারে সত্য কী তা বলার ভান করি না, বরং আমি যা সত্য বলে মনে করি তা বলি। আমি সমস্ত [[সত্য]] বলার ভান করি না।''' <br> আমি দাবি করি না যে আমি [[চিন্তা|চিন্তার]] উচ্চতার স্তরে ভেসেছি, অথবা আমি জিনিসগুলোর একেবারে গভীরে নেমেছি। '''আমি কেবল দাবি করি যে আমার যে ধারণাগুলো আছে, সেগুলো প্রকাশ করার অধিকার আমার আছে। আর যে ব্যক্তি আমার কাছে সেই অধিকার অস্বীকার করে সে একজন বুদ্ধিবৃত্তিক চোর এবং ডাকাত। ব্যস, এইটুকুই।'''
* '''ভালো পুরুষরা, ভালো নারীরা চিন্তার রাজ্যে চাবুক এবং কশাঘাত নিয়ে ক্লান্ত। তারা শিউরে উঠে শেকল এবং আগুনের কথা মনে করে। তারা মুক্ত, এবং তারা অন্যদের স্বাধীনতা দেয়'''; যে কেউ এমন কোনো অধিকার দাবি করে যা সে তার সহকর্মীদের দিতে ইচ্ছুক নয়, সে অসৎ এবং কুখ্যাত।
* আপনি [[নির্যাতন|নির্যাতনের]] মাধ্যমে [[মস্তিষ্ক|মস্তিষ্কের]] সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন না। সামাজিক একঘরে করার মাধ্যমেও নয়। তবে আমি আপনাকে বলব আপনি এগুলো দিয়ে কী করতে পারেন এবং কী করেছেন। আপনি লাখ লাখ কপট মানুষ তৈরি করতে পারেন। আপনি একজন মানুষকে দিয়ে বলাতে পারেন যে সে তার [[মন]] পরিবর্তন করেছে; কিন্তু সে একই [[মতামত|মতামতে]] স্থির থাকে। তার সারা গায়ে শেকল পরান; লোহার বুটে তার পা পিষে ফেলুন; পবিত্র র্যাকে তাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত টানটান করুন; চাইলে তাকে পুড়িয়ে দিন, কিন্তু তার ছাই একই মতামতেই স্থির থাকবে।
* '''পুরোনো সময়ে যার কথা আমি বলেছি, তারা সব মানুষকে ঠিক একইভাবে চিন্তা করাতে চেয়েছিল। বিশ্বের সমস্ত যান্ত্রিক চাতুর্য দুটি ঘড়িকে ঠিক একইভাবে চালাতে পারে না, আর আপনি কীভাবে কোটি কোটি মানুষকে একইভাবে চিন্তা ও অনুভব করাবেন? তারা মস্তিষ্ক ও স্বভাব, [[শিক্ষা]] ও আকাঙ্ক্ষায়, পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতায় আলাদা। প্রত্যেকেই আবেগপূর্ণ মাংসের একটি জীবন্ত পোশাকে আবৃত—কীভাবে আপনি তাদের একইভাবে চিন্তা ও অনুভব করাবেন?''' যদি কোনো অসীম ঈশ্বর থাকেন, যিনি আমাদের তৈরি করেছেন এবং চান যে আমরা একইভাবে চিন্তা করি, তবে তিনি কেন একজনকে এক চামচ মস্তিষ্ক এবং অন্যজনকে একটি দুর্দান্ত বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ দিলেন? কেন আমাদের গোঁড়ামি থেকে [[প্রতিভা]] পর্যন্ত সমস্ত স্তরের বুদ্ধিমত্তা রয়েছে, যদি এটি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে যে সবাইকে একইভাবে চিন্তা এবং অনুভব করতে হবে?
* '''পৃথিবীতে কখনোই মুক্ত নারী-পুরুষের কোনো প্রজন্ম আসেনি। এখনো একটি ধর্মমত লেখার সময় আসেনি।''' শেকল ভাঙা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন—যে পর্যন্ত অন্ধকূপগুলোকে মন্দির হিসেবে গণ্য না করা হয়। অপেক্ষা করুন যে পর্যন্ত [[গাম্ভীর্য|গাম্ভীর্যকে]] [[প্রজ্ঞা]] হিসেবে ভুল না করা হয়—যে পর্যন্ত মানসিক [[ভয়|ভয়]] শ্রদ্ধা হিসেবে পরিচিত হওয়া বন্ধ না করে। অপেক্ষা করুন যে পর্যন্ত জীবিতদের মৃতদের সমান বলে বিবেচনা না করা হয়—যে পর্যন্ত দোলনা কফিনের চেয়ে অগ্রাধিকার না পায়। অন্যরা কী বিশ্বাস করতে পারে তার তোয়াক্কা না করে আমরা যা জানি তা বলার মতো সময় না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। অপেক্ষা করুন যে পর্যন্ত [[শিক্ষক|শিক্ষকরা]] প্রচারকদের স্থান গ্রহণ না করেন—যে পর্যন্ত অনুসারীরা তদন্তকারী না হন। '''একটি ধর্মমত লেখার আগে [[বিশ্ব|বিশ্বের]] মুক্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।<br> এই ধর্মমতে কেবল একটি শব্দ থাকবে — [[স্বাধীনতা]]।'''
* আমি জানি না বিশ্বের মস্তিষ্ক থেকে কী আবিষ্কার, কী উদ্ভাবন, কী চিন্তাভাবনা লাফিয়ে উঠতে পারে। আমি জানি না আগামী বছরগুলোতে [[গৌরব|গৌরবের]] কী পোশাক বোনা হতে পারে। আমি [[চিন্তা|চিন্তার]] ময়দানে জেতা বিজয়গুলোর [[স্বপ্ন]] দেখতে পারি না। তবে আমি জানি যে, ভবিষ্যতের অসীম সমুদ্র থেকে আসা, মানুষের জন্য, নারীর জন্য এবং শিশুর জন্য স্বাধীনতার চেয়ে সমৃদ্ধ কোনো উপহার, দুর্লভ কোনো আশীর্বাদ এই "সময়ের তীর এবং চরে" কখনো স্পর্শ করবে না।
=== ''শিকাগো টাইমস'' এর সাথে সাক্ষাৎকার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৮৮১। ===
* খ্রিষ্টধর্ম বলতে আমি দান, দয়া, সদয়তা, ক্ষমা বুঝি না। আমি কোনো স্বাভাবিক পুণ্য বুঝি না, কারণ খ্রিষ্টের জন্মের আগে শত শত কোটি কোটি মানুষের দ্বারা সমস্ত স্বাভাবিক পুণ্য বিদ্যমান ছিল এবং অনুশীলন করা হয়েছিল। অবশ্যই যিশুর জন্মের আগে, এমনকি তার মৃত্যুর আগে জেরুজালেমে খ্রিষ্টের দিনে কিছু ভালো মানুষ ছিলেন। খ্রিষ্টধর্ম বলতে আমি মুক্তি, প্রায়শ্চিত্ত, একটি খারাপ মানুষের জন্য একটি ভালো মানুষের মৃত্যু এবং খারাপ মানুষটির সম্পূর্ণ রসিদ পাওয়ার ধারণাগুলো বুঝি। খ্রিষ্টধর্ম বলতে আমি সেই ব্যবস্থাকে বুঝি যা জোর দিয়ে বলে যে পরবর্তী বিশ্বে কয়েকজন চিরকাল সুখী হবে, আর অনেকেই চিরকাল দুঃখী হবে। খ্রিষ্টধর্ম, যেভাবে আমি ব্যাখ্যা করেছি, তা অবশ্যই আইন দ্বারা সুরক্ষিত, সংরক্ষিত এবং টেকসই হতে হবে। এটি তলোয়ার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—বলা যায়, শারীরিক শক্তি দ্বারা—এবং একই উপায়ে এটি সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
* '''খ্রিষ্টধর্ম, নিজেকে রক্ষা করার জন্য, সততার কপালে কুখ্যাতির চিহ্ন লাগিয়ে দেয়। খ্রিষ্টধর্ম এমন প্রতিটি মস্তিষ্ককে একটি "সি" অক্ষর দিয়ে চিহ্নিত করে, যা "দোষী" (কনভিক্ট) বোঝায়, যে মস্তিষ্ক জালিয়াতিগুলো আবিষ্কার করার মতো যথেষ্ট মহান।'''
* তারা ঠিক এমন আচরণই করে, যেমনটা ডেলাওয়্যারে বড় হওয়া যে কেউ চাবুক মারার খুঁটি এবং পিলোরির ছায়ায় করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে ডেলাওয়্যার ছিল একটি দাস রাষ্ট্র। বাইবেল জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছিল কারণ এটি সেই অদ্ভুত প্রথাটিকে সমর্থন করেছিল।
* চাবুক মারার খুঁটির প্রতি আমার আপত্তি হলো এটি এমন একটি শাস্তি যা কোনো ভদ্রলোক দিতে পারেন না। যিনি শাস্তি দেন, তাকে অবশ্যই শাস্তি গ্রহণকারী ব্যক্তির মতোই অবনত হতে হবে।
* এখন সমস্যা হলো বেশিরভাগ স্ত্রীকে মারধর করার ঘটনা চরম দরিদ্রদের মধ্যে ঘটে। তাই স্ত্রী যদি তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তবে সে নিজের মুখ থেকে শেষ রুটির টুকরোটি কেড়ে নেয়।
* স্ত্রী-প্রহারের আরেকটি ভালো প্রতিকার হলো ক্যাথলিক গির্জার বিলুপ্তি।
* আমাদের এই ধারণাটিও বাদ দেওয়া উচিত যে বিয়ে হলো একটি ধর্মীয় সংস্কার, এবং এমন কোনো ঈশ্বর আছেন যিনি একজন স্বামী ও স্ত্রীকে একসাথে বাস করতে দেখে খুশি হন, যদিও স্বামীটি তার স্ত্রীকে মারধর করেই তার বেশিরভাগ পার্থিব আনন্দ পান।
* '''ডেলাওয়্যার সেরা সুযোগগুলো পায়নি। আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে এটি নিউ জার্সির পাশে অবস্থিত, যা অগ্রগতির পথে একটি বেশ বড় বাধা।'''
* এটি ঠিক মেরিল্যান্ডের পরেই, যা আরেকটি বাধা। আমি সেদিন শুনেছিলাম যে ঈশ্বর প্রথমে ঝিনুকগুলোকে পা দিয়ে তৈরি করেছিলেন এবং পরে সেগুলো খুলে নিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন যে ডেলাওয়্যারের লোকেরা কোনো কিছু ধরার জন্য দৌড়ানোর চেয়ে না খেয়ে মরতে বেশি পছন্দ করবে।
* '''কোনো কিছুই আমাকে এই লোকটির প্রতি অবিচার করতে প্ররোচিত করতে পারে না, যদিও সে নিজের যে ক্ষতি করেছে তার চেয়ে বেশি আমি আর কিছু করতে পারব না।'''
=== সাম রিজনস হোয়াই (১৮৮১) ===
* একটি খ্রিষ্টান জাতির কখনো বর্বরদের অধিকারের প্রতি সামান্যতম সম্মান ছিল না। অন্য সম্প্রদায়ের অধিকারের প্রতি কোনো খ্রিষ্টান সম্প্রদায়েরও কোনো সম্মান নেই। প্রাচীনকালে সম্প্রদায়গুলো আগুন এবং তলোয়ার দিয়ে আলোচনা করত। আর এখনো, প্রায় প্রতিদিনই এমন কিছু ঘটে যা দেখায় যে ইনকুইজিশনে যে পুরোনো চেতনা ছিল তা এখনো খ্রিষ্টানদের বুকে ঘুমিয়ে আছে।
* যে ব্যক্তি নিজেকে ঈশ্বরের প্রিয় পাত্র বলে মনে করে, সে অন্য লোকেদের অবজ্ঞার চোখে দেখে। যখন একজন মানুষ বিশ্বাস করে যে সে ঈশ্বরের কাছ থেকে নিখুঁত সত্য পেয়েছে, তখন সেই মানুষের মধ্যে আপসের কোনো মনোভাব থাকে না। মানব প্রকৃতির অসম্পূর্ণতা থেকে জন্ম নেওয়া বিনয় তার নেই। তার মধ্যে ধর্মতাত্ত্বিক নিশ্চিততার ঔদ্ধত্য এবং অজ্ঞ আশ্বাসের কারণে জন্ম নেওয়া স্বৈরতন্ত্র রয়েছে। নিজেকে ঈশ্বরের দাস বলে বিশ্বাস করে, সে তার প্রভুর অনুকরণ করে, এবং সমস্ত স্বৈরশাসকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হলো ক্ষমতায় থাকা একজন দাস।
* যখন একজন মানুষ সত্যিই বিশ্বাস করে যে চিরকাল সুখী হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাজ করা অপরিহার্য, অথবা অনন্ত আনন্দ নিশ্চিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাস অপরিহার্য, তখন সেই মানুষের মধ্যে কোনো ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকে না। সে সমগ্র বিশ্বকে সাধু ও পাপী, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী, ঈশ্বরের ভেড়া ও শয়তানের ছাগল, মহিমান্বিত হবে এমন মানুষ এবং অভিশপ্ত হবে এমন মানুষের মধ্যে ভাগ করে। খ্রিষ্ট যদি সত্যিই বলে থাকেন, "আমি শান্তি আনতে আসিনি, বরং তলোয়ার আনতে এসেছি," তবে এটি নিউ টেস্টামেন্টের একমাত্র ভবিষ্যদ্বাণী যা অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে।
* '''কেউ কেউ আমাদের বলেন যে ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা তার উপাসনা করি। কীসের জন্য? তিনি উপাসনা কেন চান? অন্যরা আমাদের বলেন যে তার জন্য আমাদের কিছু বলিদান করা উচিত। কীসের জন্য? তার কি অভাব আছে? আমরা কি তাকে সাহায্য করতে পারি? তিনি কি অসুখী? তিনি কি সমস্যায় আছেন?'''
* ধরুন, আমি এই বাইবেলটি সততার সাথে, ন্যায্যভাবে পড়ি এবং যখন আমি শেষ করি তখন আমি বলতে বাধ্য হই, "বইটি সত্য নয়।" এটি যদি সৎ ফলাফল হয়, তবে আপনি বলতে বাধ্য হবেন যে, হয় ঈশ্বর আমাকে কোনো ওহী পাঠাননি, অথবা এটি যে সত্য নয়, সেই ওহীটি আমাকে দেওয়া হয়েছে এবং এর দ্বারা আমি বাধ্য। '''যদি বইটি এবং আমার মস্তিষ্ক উভয়ই একই অসীম ঈশ্বরের কাজ হয়, তবে বইটি এবং মস্তিষ্ক একমত না হওয়াটা কার দোষ? হয় ঈশ্বরের এমন একটি বই লেখা উচিত ছিল যা আমার মস্তিষ্কের সাথে মানানসই হয়, অথবা আমার মস্তিষ্কটি এমনভাবে তৈরি করা উচিত ছিল যা তার বইয়ের সাথে মানানসই হয়।'''
* তিনি কয়েকজনকে বেছে নিয়েছিলেন, ইব্রাহিমের বংশধরদের। তিনি একটি নিখুঁত স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—যেখানে কোনো স্কুল ছিল না, কোনো দর্শন ছিল না, কোনো শিল্প ছিল না, কোনো সঙ্গীত ছিল না—কেবল নির্বাক পশুদের বলিদান—কেবল একজন দাসের হীন উপাসনা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। ভূতত্ত্বের ওপর, জ্যোতির্বিদ্যার ওপর কোনো কথা ছিল না। এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপরও কিছু ছিল না। এভাবেই ঈশ্বর সিনাই পর্বতের চূড়ায় মোশির সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন। তিনি কুষ্ঠরোগের উপস্থিতি নিশ্চিত করার এবং এর বিস্তার রোধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু যিহোবার মনে কখনো মোশিকে এটা বলার কথা আসেনি যে এটি কীভাবে নিরাময় করা যায়। তিনি তাদের কী খাওয়া যেতে পারে সে সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলেছিলেন—অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে চার পাওয়ালা পাখি নিষেধ করেছিলেন এবং রান্নার বিষয়ে একটি কথা বলেছিলেন। সিনাই পর্বতের বজ্রপাত এবং বিদ্যুতের ঝলকানি থেকে তিনি এই বিশাল এবং বিস্ময়কর সত্যটি ঘোষণা করেছিলেন: "তুমি কোনো ছাগলছানাকে তার মায়ের দুধে সিদ্ধ করবে না।"
* বাইবেলের অনুপ্রেরণায় বিশ্বাসী ব্যক্তিটি বলতে বাধ্য হয় যে, এমন একটা সময় ছিল যখন দাসত্ব সঠিক ছিল, যখন নারীরা তাদের শিশুদের বিক্রি করতে পারত, যখন বহুবিবাহ ছিল সর্বোচ্চ রূপের পুণ্য, যখন দয়ার তলোয়ার দিয়ে নির্মূল করার যুদ্ধ চালানো হতো, যখন ধর্মীয় সহনশীলতা ছিল একটি অপরাধ, এবং যখন একটি সৎ চিন্তা প্রকাশ করার জন্য মৃত্যু ছিল ন্যায্য শাস্তি। '''তাকে জেদ করতে বাধ্য করা হয় যে যিহোবা তখন যতটা খারাপ ছিলেন এখনও ততটাই খারাপ; তিনি তখন যতটা ভালো ছিলেন এখনও ততটাই ভালো। একসময়, আমি যে অপরাধগুলোর কথা উল্লেখ করেছি সেগুলো ঈশ্বরের নির্দেশ ছিল; এখন সেগুলো নিষিদ্ধ। একসময়, ঈশ্বর এগুলোর পক্ষে ছিলেন; এখন শয়তান তাদের রক্ষক। অন্য কথায়, শয়তান আজ সেই একই মতামত পোষণ করে যা ঈশ্বর চার হাজার বছর আগে পোষণ করতেন। শয়তান এখন ততটাই ভালো যতটা যিহোবা তখন ছিলেন, এবং ঈশ্বর তখন ততটাই খারাপ ছিলেন যতটা শয়তান এখন।'''
* '''বলা যেতে পারে যে বাইবেলের খারাপ জিনিসগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা অন্যায্য। এর জবাবে বলা যেতে পারে যে একজন ঐশ্বরিক সত্তার উচিত নয় তার বইয়ে খারাপ জিনিস রাখা।'''
* ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রতি আমার সবচেয়ে বড় আপত্তি হলো ঈশ্বরের নির্দেশিত নিষ্ঠুরতাগুলো। মৃত্যুর সাথে এই সমস্ত নিষ্ঠুরতা শেষ হয়েছিল। '''যিহোবার প্রতিশোধ সমাধির কাছে গিয়ে থেমে গিয়েছিল। তিনি কখনো মৃতদের শাস্তি দেওয়ার হুমকি দেননি। আদিপুস্তকের প্রথম ভুল থেকে শুরু করে মালাখির শেষ অভিশাপ পর্যন্ত এমন একটি কথাও নেই যেখানে সামান্যতম ইঙ্গিত রয়েছে যে ঈশ্বর অন্য জগতে তার প্রতিশোধ নেবেন। অনন্ত যন্ত্রণার মতবাদটি প্রচার করার জন্য নিউ টেস্টামেন্টকে সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।''' সার্বজনীন পরোপকারের শিক্ষক সময় এবং অনন্তকালের মাঝের পর্দা ছিঁড়ে ফেলেছিলেন এবং মানুষের আতঙ্কিত দৃষ্টিকে নরকের ভয়ঙ্কর খাদের দিকে স্থির করেছিলেন। অহিংসার বুকের ভেতর সেই পোকা কুণ্ডলী পাকিয়ে ছিল যা কখনো মরে না। এর তুলনায় ওল্ড টেস্টামেন্টের দাসত্ব, নির্মূলের যুদ্ধ, অভিশাপ এবং শাস্তির মতবাদগুলো ছিল দয়ালু এবং ন্যায়সঙ্গত।
* এই প্রাণীগুলোকে হত্যার বিষয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি পুরোহিত কসাই হয়ে উঠেছিলেন, প্রতিটি উপাসনালয় কসাইখানায় পরিণত হয়েছিল। একটি পরিশীলিত আত্মার কাছে ক্রমাগত নির্দোষ রক্তপাতের চেয়ে বেশি জঘন্য, হৃদয়কে কঠিন করার জন্য এর চেয়ে ভালোভাবে হিসাব করা আর কিছুই হতে পারে না। এই ভয়ানক ব্যবস্থাটি খ্রিষ্টের বলিদানে শেষ হয়েছিল। তার রক্ত অন্য সবার জায়গা নিয়েছিল। আর রক্তপাতের প্রয়োজন নেই। আইন অবশেষে সন্তুষ্ট, পরিতৃপ্ত এবং পরিপূর্ণ হয়েছে।
* পাপ সংঘটন রোধ করার জন্য মোজাইক ব্যবস্থাটি খ্রিষ্টান ব্যবস্থার চেয়ে বেশি উপযুক্ত ছিল। সেই ব্যবস্থার অধীনে, আপনি যদি কোনো পাপ করেন, তবে আপনাকে একটি বলিদান আনতে হতো—ঘুঘু, ভেড়া বা বলদ। এখন, '''যখন কোনো পাপ সংঘটিত হয়, তখন খ্রিষ্টান বলে, "লিখে রাখুন," "স্লেটে লিখে রাখুন, আমি যদি শোধ না করি তবে ত্রাণকর্তা করবেন।" এভাবেই, বদমায়েশি বাকিতে বিক্রি হয় এবং ধর্মের ঋণ ব্যবস্থা পাপে অপব্যয় বাড়ায়।''' মোজাইক ব্যবস্থাটি অনেক ভালো ব্যবসায়িক নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। ঋণটি পরিশোধ করতে হতো এবং যে মানুষটির ঋণ ছিল তাকেই তা করতে হতো। আমাদের বলা হয় যে পাপী ঈশ্বরের কাছে ঋণী, এবং এই বাধ্যবাধকতা ত্রাণকর্তা দ্বারা মুক্তি পায়। এমন একটি লেনদেন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো যা বলা যেতে পারে তা হলো ঋণটি স্থানান্তরিত হয়, পরিশোধ করা হয় না। আসলে, পাপী সেই ব্যক্তির কাছে ঋণী যার সে ক্ষতি করেছে। আপনি যদি কোনো মানুষের ক্ষতি করেন, তবে কেবল ঈশ্বরের ক্ষমা পাওয়াই যথেষ্ট নয়—আপনাকে মানুষটির ক্ষমা পেতে হবে, আপনাকে নিজের ক্ষমা পেতে হবে। যদি কোনো মানুষ তার হাত আগুনে রাখে এবং ঈশ্বর তাকে ক্ষমা করেন, তবে তার হাতটি ঠিক ততটাই জ্বলবে।
* যখন খ্রিষ্ট ক্যালভারির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন যদি কোনো সাহসী আত্মা তাকে ধর্মপরায়ণ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করত, তবে কেবল তার যন্ত্রণার জন্যই সে অভিশপ্ত হতো না, বরং কোনো মানুষের মুক্তি অসম্ভব করে তুলত। খ্রিষ্টান বিশ্ব প্রায় দুই হাজার বছর ধরে প্রায়শ্চিত্তের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এবং প্রতিটি প্রচেষ্টা একটি স্বীকৃতিতে শেষ হয়েছে যে এটি বোঝা যায় না, এবং একটি ঘোষণায় শেষ হয়েছে যে এটি অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। ক্ষমার প্রতিশ্রুতি এবং আশা কি কখনো পাপ সংঘটন রোধ করেছে? মানুষদের কি এই শিক্ষা দিয়ে আরও ভালো করা যেতে পারে যে পাপ এখানে সুখ দেয়; একটি পুণ্যময় জীবনযাপন করা মানে ক্রস বহন করা; মানুষ শেষ পাপ এবং শেষ নিঃশ্বাসের মাঝখানে অনুতপ্ত হতে পারে; এবং অনুতাপ আত্মার প্রতিটি দাগ ধুয়ে দেয়?
* তারা আমাদের বলে, তিনি একটি ওহী করতে এসেছিলেন, আর তিনি কী ওহী করেছিলেন? "তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসো"? সেটি তো ওল্ড টেস্টামেন্টে ছিল। "তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবাসো"? সেটিও ওল্ড টেস্টামেন্টে ছিল। "মন্দের বদলে ভালো ফিরিয়ে দাও"? খ্রিষ্টের জন্মের সাতশো বছর আগে বুদ্ধ এমনটা বলেছিলেন। "অন্যদের সাথে তেমন আচরণ করো যেমন তুমি চাও যে তারা তোমার সাথে করুক"? সেটি ছিল লাও-ৎসের মতবাদ। তিনি কি কর্মের কোনো নিয়ম দিতে এসেছিলেন? [[জরাথুস্ট্রবাদ|জরাথুস্ত্র]] অনেক আগেই এটি করেছিলেন: "যখনই তুমি সন্দেহ করবে কোনো কাজ ভালো না খারাপ, তখন তা থেকে বিরত থেকো।"
===''দ্য গ্রেট ইনফিডেলস'' (১৮৮১) ===
[[File:Polyptyque de la Vanité terrestre et de la Rédemption céleste-Hans Memling mg 9960.jpg|thumb|right|অসীম [[শাস্তি]] হলো অসীম [[নিষ্ঠুরতা]], অন্তহীন অবিচার এবং চিরস্থায়ী নীচতা। কোনো চিরন্তন কারারক্ষীর উপাসনা করা সবচেয়ে নিকৃষ্ট আত্মাকেও কঠোর, অবদমিত ও কলুষিত করে। [[মহাবিশ্ব|মহাবিশ্বে]] একটি দুঃখিত ও ভগ্ন [[হৃদয়]] থাকা পর্যন্ত কোনো ভালো সত্তা পুরোপুরি সুখী হতে পারে না।]]
[[File:Robert G. Ingersoll - Brady-Handy.jpg|thumb|right|নিয়ম অনুযায়ী শহিদত্ব শহিদের [[আন্তরিকতা]] প্রমাণ করে। এটি কখনোই তার [[চিন্তা|চিন্তার]] সঠিকতা প্রমাণ করে না। বিষয়বস্তু নিজ থেকেই সত্য বা মিথ্যা হয়। [[মতামত]] দ্বারা [[সত্য]] প্রভাবিত হতে পারে না। শহিদত্বের মাধ্যমে একে পরিবর্তন, প্রতিষ্ঠা বা প্রভাবিত করা যায় না। কোনো [[ভুল|ভুলকে]] যতই আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করা হোক না কেন, তা কখনো সত্যে পরিণত হতে পারে না।]]
:<small>[http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/great_infidels.html অনলাইনে সম্পূর্ণ পাঠ্য]</small>
* '''নারী-পুরুষকে সাহসী ও মহিমান্বিত করে তোলার প্রবণতায় আমি বিশ্বাস করি না। বিশেষ করে তাদের যদি বলা হয় যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে তাদের এমন কিছু [[ধারণা]] রয়েছে যা প্রকাশ করা উচিত নয়। তাদের বর্ম হিসেবে ভান করে জীবন কাটাতে হবে। তারা চুপ থাকলে প্রতিবেশীরা তাদের সম্পর্কে অনেক ভালো ভাববে। সর্বোপরি এমন একজন [[ঈশ্বর]] আছেন, যিনি নিজের বিশ্বাস সততার সাথে প্রকাশকারীকে অবজ্ঞা করেন।''' আমার মতে, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত নিজের সৎ মতামত প্রকাশ করার শিক্ষা পেলে মানুষ ব্যবসা, রাজনীতি, শিল্পকলা এবং সুন্দর ও মহৎ সব কিছুতেই আরও সৎ হবে।
* এটি অবিশ্বাস্য যে কেবল নির্বোধরাই পরিত্রাণের বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত থাকে। এটিও অবিশ্বাস্য যে আপনার মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা যত বেশি হবে, আপনার সুযোগ তত কমবে। সৎ চিন্তায় কোনো বিপদ থাকতে পারে না। পৃথিবী যদি আজকের চেয়েও সামনের দিকে অগ্রসর হয়, তবে যারা নিজেদের প্রকৃত মতামত প্রকাশ করেন, তাদেরই এর নেতৃত্ব দিতে হবে।
* গোঁড়া খ্রিষ্টানদের মূল্যায়নে আমি একজন অপরাধী। কারণ আমি প্রেমময় মা, বাবা, ভাই, বোন, স্বামী, স্ত্রী এবং প্রেমিকদের কাছ থেকে অনন্ত শোক ও যন্ত্রণার বিশ্বাস থেকে স্বাভাবিকভাবে উদ্ভূত সান্ত্বনা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। নিষ্পাপ আনন্দের মাঠে যাজকদের প্রতিষ্ঠিত ঈশ্বরকে আমি ছিঁড়ে, ভেঙে এবং বাতাসে ছড়িয়ে দিতে চাই। এই ঈশ্বর মতবাদ নামক লাঠি এবং অতিকথা নামক পুরোনো কাপড় দিয়ে তৈরি। আমি কফিন থেকে তার বিভীষিকা এবং দোলনা থেকে তার অভিশাপ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। এক অসীম দানবের প্রজ্বলিত প্রতিশোধের আগুন নিভিয়ে দেব। <br> নরকের আভা থেকে কি স্বর্গের আলো ধার করা জরুরি? <br> '''অসীম শাস্তি হলো অসীম নিষ্ঠুরতা, অন্তহীন অবিচার এবং চিরস্থায়ী নীচতা। কোনো চিরন্তন কারারক্ষীর উপাসনা করা সবচেয়ে নিকৃষ্ট আত্মাকেও কঠোর, অবদমিত ও কলুষিত করে। মহাবিশ্বে একটি দুঃখিত ও ভগ্ন হৃদয় থাকা পর্যন্ত কোনো ভালো সত্তা পুরোপুরি সুখী হতে পারে না।'''
* [[নরক|নরকের]] ঈশ্বরকে ঘৃণা, অবজ্ঞা এবং তিরস্কার করা উচিত। অনন্ত যন্ত্রণার হুমকি দেওয়া ঈশ্বরকে ভালোবাসা নয়, বরং ঘৃণা করা উচিত। উপাসনা নয়, বরং অভিশাপ দেওয়া উচিত। এমন ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত স্বর্গ অবশ্যই সবচেয়ে নিচু নরকের নিচে হবে। আমি এমন কোনো স্বর্গের অংশ হতে চাই না যেখানে পরিত্রাণপ্রাপ্তরা আনন্দের চিৎকারে নরকের কান্না ও দীর্ঘশ্বাস ডুবিয়ে দেবে। যেখানে সুখ দুঃখকে ভুলে যাবে। যেখানে হারিয়ে যাওয়াদের কান্না কেবল হাসি ও দ্বিগুণ আনন্দ বাড়িয়ে তুলবে।
* '''নরকের [[ধারণা]] জন্ম নিয়েছে [[অজ্ঞতা]], নিষ্ঠুরতা, [[ভয়]], [[ভীরুতা]] এবং [[প্রতিশোধ]] থেকে।''' এই ধারণা প্রমাণ করে যে আমাদের দূরবর্তী পূর্বপুরুষরা সবচেয়ে নিচু স্তরের পশু ছিল। কেবল গুহা, আস্তানা থেকে, কেবল নিষ্ঠুর দাঁত ভরা মুখ থেকে, কেবল ভয় ও ঘৃণার হৃদয় থেকে, কেবল ক্ষুধা ও কামনার বিবেক থেকে এবং কেবল সবচেয়ে নিচু ও অবদমিত অবস্থা থেকেই এই সবচেয়ে নিষ্ঠুর, হৃদয়হীন এবং পাশবিক মতবাদ আসতে পারে।
* প্রথা বা মতবাদকে আক্রমণকারীকে এমন মৃতদের নামের তালিকার মুখোমুখি হতে হবে যারা সেই প্রথাকে সমর্থন করত বা মতবাদে বিশ্বাস করত। তাকে খুব বিজয়ী ও অবজ্ঞাপূর্ণ উপায়ে জিজ্ঞাসা করা হয় যে সে অতীতের সব মহান ও সম্মানিত ব্যক্তির চেয়ে বেশি জানে কি না। প্রতিটি মতবাদের রক্ষকের স্মৃতিতে এমন সব "মহান" ব্যক্তির নাম খোদাই করা থাকে যাদের কাজ বা কথাকে তার মতবাদের প্রমাণ হিসেবে বিকৃত করা যেতে পারে।
* '''সত্য হলো, প্রায় প্রতিটি সম্প্রদায়ের পক্ষে কিছু মহান ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করা যেতে পারে।'''
* বাস্তব বিষয় হলো, খুব কম মানুষই সব বিষয়ে সঠিক হয়।
* '''মহৎ [[গুণাবলি]] ত্রুটিগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারে, তবে সেগুলো পবিত্র করতে পারে না। হীরা দ্বারা বেষ্টিত নুড়ি পাথর সাধারণ পাথরই থেকে যায় এবং নুড়ি দিয়ে বেষ্টিত হীরা সর্বদা রত্নই থাকে।''' যতক্ষণ না কেউ কোনো ব্যক্তির সব ধারণা ও বিশ্বাস গ্রহণ করতে ইচ্ছুক হয়, ততক্ষণ তার নাম উচ্চারণ করে কোনো যুক্তি খণ্ডন করার চেষ্টা করা উচিত নয়। নামের চেয়ে কারণ ও তথ্য দেওয়াই ভালো। কোনো যুক্তির জোর তার রচয়িতার নামের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। তথ্যের কোনো বংশপরিচয়ের প্রয়োজন নেই। যুক্তির কোনো কুলচিহ্ন নেই। মৃতদের ভুল দেখে জীবিতদের ভীত হওয়া উচিত নয়।
* '''পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো খুব কমই জানতেন। অসংখ্য ভুলের সাথে মিশ্রিত কিছু [[তথ্য]] তাদের কাছে ছিল।''' কিছু ক্ষেত্রে তারা তাদের সঙ্গীদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, আবার অন্য ক্ষেত্রে তারা মানবজাতির সাধারণ স্তরের নিচে নেমে গিয়েছিলেন।
* মহান ব্যক্তিদের বোকামি ও দুর্বলতা নিয়ে খণ্ড খণ্ড বই লেখা যেতে পারে। একজন সম্পূর্ণ মানুষ, যাঁর প্রখর বুদ্ধি এবং স্বাভাবিক যুক্তি রয়েছে, তিনি একজন মহান চিত্রশিল্পী, কবি বা ভাস্করের মতোই বিরল। আপনি যদি আপনার বন্ধুকে বলেন যে সে চিত্রশিল্পী নয় এবং কবিতার জন্য তার কোনো প্রতিভা নেই, তবে সে সম্ভবত আপনার কথার সত্যতা স্বীকার করবে। এতে সে বিন্দুমাত্র অপমানিত বোধ করবে না। কিন্তু আপনি যদি তাকে বলেন যে সে [[যুক্তিবিদ]] নয়, তথ্যের মূল্য সম্পর্কে তার তেমন কোনো ধারণা নেই, প্রমাণ কী তা সম্পর্কে তার কোনো বাস্তব ধারণা নেই এবং তার জীবনে কখনো কোনো মৌলিক চিন্তা আসেনি, তবে সে আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
* '''অধিকাংশ মানুষই অনুসারী এবং তারা পরোক্ষভাবে অন্যদের বিচারের ওপর নির্ভর করে।''' তারা [[গাম্ভীর্য|গাম্ভীর্যকে]] [[প্রজ্ঞা]] ভেবে ভুল করে। তারা একটি গম্ভীর মুখমণ্ডলকে সবচেয়ে পণ্ডিত বইয়ের শিরোনাম পৃষ্ঠা এবং ভূমিকা হিসেবে বিবেচনা করে। '''তাই তারা সহজেই বিভিন্ন রূপ, অদ্ভুত পোশাক এবং গম্ভীর অনুষ্ঠান দ্বারা প্রভাবিত হয়।''' পিতা-মাতার শিক্ষা, প্রতিবেশীদের রীতিনীতি এবং সাধারণ মানুষের কথা যখন কোনো [[বিশ্বাস]] বা মতবাদকে অনুমোদন ও সমর্থন করে, তখন তা যতই [[অযৌক্তিক]] হোক না কেন, সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির পক্ষেও তার আত্মার দুর্গ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিটি দেশে প্রতিটি ধর্মের প্রতিরক্ষায় একই যুক্তি উপস্থাপন করা হবে।
[[File:Roma-bruno.jpg|thumb|right|মধ্যযুগের [[রাত]] এক হাজার বছর ধরে স্থায়ী ছিল। এই সর্বজনীন অন্ধকারের দিগন্তকে সমৃদ্ধ করা প্রথম [[তারা]] ছিলেন [[জর্দানো ব্রুনো]]। তিনি ছিলেন ভোরের বার্তাবাহক।]]
* [[বিশ্ব|বিশ্বের]] [[ইতিহাস|ইতিহাসের]] সব শহিদ কোনো [[মতামত|মতামতের]] সঠিকতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। '''নিয়ম অনুযায়ী শহিদত্ব শহিদের [[আন্তরিকতা]] প্রমাণ করে। এটি কখনোই তার [[চিন্তা|চিন্তার]] সঠিকতা প্রমাণ করে না। বিষয়বস্তু নিজ থেকেই সত্য বা মিথ্যা হয়। সত্য মতামত দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে না। শহিদত্বের মাধ্যমে একে পরিবর্তন, প্রতিষ্ঠা বা প্রভাবিত করা যায় না। কোনো ভুলকে যতই আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করা হোক না কেন, তা কখনো সত্যে পরিণত হতে পারে না।'''
* ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়ানো খুনি তার দুই পাশে থাকা যাজকদের নিয়ে হাসিমুখে জনতাকে স্বর্গে তার সাথে দেখা করতে বলে। নিজের বাড়িকে নরকে পরিণত করা মানুষটি বিন্দুমাত্র কাঁপুনি ছাড়াই মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, শর্ত থাকে যে সে খ্রিষ্টের দেবত্ব বা পবিত্র আত্মার চিরন্তন প্রক্রিয়ার বিষয়ে কখনো সন্দেহ প্রকাশ করেনি। যে রাজা নিষ্ঠুর ও অকেজো যুদ্ধ করেছেন, যিনি দেশকে বিধবা ও পিতৃহীন সন্তান, বিকলাঙ্গ ও রোগাক্রান্ত মানুষে ভরিয়ে দিয়েছেন এবং যিনি তার সেরা ও সবচেয়ে সাহসী প্রজাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কাছে উৎসর্গ করতে সফল হয়েছেন, তিনি একজন সন্তের মতো মারা যান।
* সম্রাট [[w:প্রথম কনস্টান্টিন|কনস্টান্টিন]] খ্রিষ্টধর্মকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। ৩২৫ সালে তিনি তাঁর স্ত্রী ফাউস্তা এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র ক্রিসপাসকে খুন করেছিলেন। একই বছর তিনি [[যিশু|যিশুখ্রিষ্ট]] মানুষ নাকি ঈশ্বরের পুত্র তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিসিয়ার কাউন্সিল ডেকেছিলেন। কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয় যে খ্রিষ্ট পিতার সমতুল্য। ত্রাণকর্তার দেবত্ব নিয়ে বিরক্তিকর প্রশ্ন সমাধানের জন্য আমরা একজন স্ত্রী-খুনির কাছে ঋণী।
* '''মধ্যযুগের [[রাত]] এক হাজার বছর ধরে স্থায়ী ছিল। এই সর্বজনীন অন্ধকারের দিগন্তকে সমৃদ্ধ করা প্রথম [[তারা]] ছিলেন [[জর্দানো ব্রুনো]]। তিনি ছিলেন ভোরের বার্তাবাহক।'''
* [[টমাস পেইন]] না থাকলে আমি আজ রাতে এখানে এই বক্তৃতা দিতে পারতাম না। <br> এই মানুষটিকে অপবাদ দেওয়া এখনো ফ্যাশনেবল। তবুও [[উইলিয়াম এলারি চ্যানিং|চ্যানিং]], [[থিওডোর পার্কার]], লংফেলো, এমারসন এবং বস্তুত বিশ্বের সব উদারপন্থী একেশ্বরবাদী ও [[সর্বজনীনতাবাদী|সর্বজনীনতাবাদীরা]] টমাস পেইনের মতামত গ্রহণ করেছেন।
* '''আসুন আমরা সৎ হই। রোমের সব যাজক কি মানুষের মানসিক সম্পদ [[জর্দানো ব্রুনো|ব্রুনোর]] মতো বৃদ্ধি করেছিলেন? ফ্রান্সের সব যাজক কি বিশ্বের সভ্যতার জন্য [[দ্যনি দিদরো|দিদরো]] এবং [[ভলতেয়ার|ভলতেয়ারের]] মতো মহান কাজ করেছিলেন? স্কটল্যান্ডের সব যাজক কি মানবজ্ঞানের ভাণ্ডারে [[ডেভিড হিউম|ডেভিড হিউমের]] মতো অবদান রেখেছিলেন? পেন্টেকস্টের দিন থেকে সর্বশেষ নির্বাচন পর্যন্ত সব ধর্মযাজক, সন্ন্যাসী, বিশপ, কার্ডিনাল এবং পোপ কি মানবস্বাধীনতার জন্য [[টমাস পেইন|টমাস পেইনের]] মতো কাজ করেছেন? কিংবা বিজ্ঞানের জন্য [[চার্লস ডারউইন|চার্লস ডারউইনের]] মতো কাজ করেছেন?'''
* অবিশ্বাসীরা ছিলেন সাহসী ও চিন্তাশীল মানুষ। তারা সমগ্র বিশ্বের [[ফুল]], [[স্বাধীনতা]] ও [[ভালোবাসা|ভালোবাসার]] আশীর্বাদপুষ্ট দিনের পথিকৃৎ এবং বার্তাবাহক। তারা অযোগ্য অতীতের উদার আত্মা, আমাদের জাতির দ্রষ্টা ও নবী। তারা মহান বীর আত্মা, চিন্তার যুদ্ধক্ষেত্রে গর্বিত বিজয়ী এবং অনাগত সব বছরের পাওনাদার।
=== একটি শিশুর কবরে (১৮৮২) ===
[[File:Entrée de cimetière (1825) - Caspar স্বাধীন Friedrich (Galerie Neue Meister, Dresden).jpg |thumb|right|যেখানে [[মৃত্যু]] রাজা, সেখানে [[প্রেম|প্রেমহীন]] অনন্ত জীবন পাওয়ার চেয়ে আমি বরং সেখানে [[বসবাস]] ও প্রেম করতে চাই।]]
:<small>[http://www.positiveatheism.org/hist/ingsabsup.htm#CHILD শোকগাথা (৮ জানুয়ারি ১৮৮২)]</small>
* '''[[শব্দ]] দিয়ে [[শোক|শোককে]] ঢেকে রাখা কতটা বৃথা তা আমি জানি। তবুও আমি প্রতিটি কবর থেকে এর [[ভয়]] দূর করতে চাই।''' এই পৃথিবীতে জীবন ও মৃত্যু সমান রাজা। এখানে মৃতেরা যা কিছুর মুখোমুখি হয়েছে, সবারই সাহসের সাথে তার মুখোমুখি হওয়া উচিত। ভবিষ্যৎ ছিল ভয়ে পরিপূর্ণ, যা হৃদয়হীন অতীত দ্বারা কলঙ্কিত ও কলুষিত হয়েছে।
* যা সবার কাছে আসবে, তাকে আমাদের কেন ভয় পাওয়া উচিত?<br> আমরা বলতে পারি না, আমরা জানি না, কোনটি বৃহত্তর আশীর্বাদ। [[জীবন]] নাকি [[মৃত্যু]]। আমরা জানি না কবর এই জীবনের শেষ, নাকি অন্য কোনো জীবনের দরজা, অথবা এখানের রাত অন্য কোথাও ভোর কি না। শিশুটি কোনো শব্দ শেখার আগেই মায়ের কোলে মারা গেলে সে বেশি ভাগ্যবান, নাকি সে বেশি ভাগ্যবান যে জীবনের অসমান রাস্তার পুরোটা পাড়ি দিয়ে লাঠি ও ক্রাচে ভর করে কষ্ট করে শেষ ধীর পদক্ষেপগুলো নেয়, তাও আমরা বলতে পারি না।
* প্রতিটি দোলনা আমাদের জিজ্ঞাসা করে, "কোথা থেকে?" এবং প্রতিটি কফিন জিজ্ঞাসা করে, "কোথায়?" মৃতদেহের পাশে কাঁদতে থাকা এক দরিদ্র অসভ্য মানুষও এসব প্রশ্নের ঠিক ততটাই বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দিতে পারে, যতটা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ধর্মমতের পোশাক পরিহিত যাজক দিতে পারেন।
* '''যেখানে একটি জীবনের দিগন্ত একটি কবরকে স্পর্শ করেছে, সেখানে দাঁড়িয়ে কোনো মানুষের বেদনা ও কান্নায় ভরা ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণী করার অধিকার নেই।''' এমনও হতে পারে যে মৃত্যুই জীবনকে তার সমস্ত মূল্য দেয়। আমরা যাদের বুকে জড়িয়ে ধরি, তারা যদি কখনো মারা না যেত, তবে হয়তো পৃথিবী থেকে সেই ভালোবাসা শুকিয়ে যেত। হয়তো এই সাধারণ ভাগ্য আমাদের হৃদয়ের মাঝখানের পথ থেকে স্বার্থপরতা ও ঘৃণার আগাছা মাড়িয়ে দেয়। '''যেখানে মৃত্যু রাজা, সেখানে প্রেমহীন অনন্ত জীবন পাওয়ার চেয়ে আমি বরং সেখানে বসবাস ও প্রেম করতে চাই।'''
** পরিমার্জিত রূপ: যেখানে মৃত্যু রাজা, সেখানে প্রেমহীন অনন্ত জীবন পাওয়ার চেয়ে আমি বরং সেখানে বসবাস ও প্রেম করতে চাই।
* '''মৃতেরা কষ্ট পায় না। তারা যদি আবার বাঁচে, তবে তাদের জীবন নিশ্চিতভাবেই আমাদের জীবনের মতো ভালো হবে। আমাদের কোনো ভয় নেই।''' আমরা সবাই একই মায়ের সন্তান এবং একই ভাগ্য আমাদের সবার জন্য অপেক্ষা করছে।<br> '''আমাদেরও ধর্ম আছে এবং তা হলো: জীবিতদের জন্য সাহায্য, মৃতদের জন্য আশা।'''
=== "টু দ্য ইন্ডিয়ানাপোলিস ক্লার্জি।" ''দ্য আইকনোক্রাস্ট'' (ইন্ডিয়ানাপোলিস, ইন্ডিয়ানা) (১৮৮৩) ===
* একইভাবে যখন লেখা হয় যে তিনি মন্দির থেকে অর্থ বিনিময়কারীদের তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তখন এটি এমন একজনের কাজ ছিল, যাঁর মন্দিরের প্রতি সম্মান ছিল, কিন্তু সেখানে শেখানো ধর্মের প্রতি নয়। প্রথমদিকে খ্রিষ্ট তাঁর সময়ের ধর্মে বিশ্বাস করতেন বলে মনে হতো। কিন্তু পরে এর ত্রুটিগুলো দেখে তিনি এটি সংস্কার করতে চেয়েছিলেন। সবশেষে এর ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি এর ধ্বংসসাধনে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
* এখানে একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য রয়েছে: '''পল নতুন নিয়মের কোনো অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ করেননি। তিনি অলৌকিকভাবে জনতাকে খাওয়ানো, লাজারাসের পুনরুত্থান বা বিধবার ছেলের কথা কিছুই বলেননি। তিনি খোঁড়া, বিকলাঙ্গ ও অন্ধদের সুস্থ হওয়ার কথা কখনো শোনেননি। আর যদি শুনেও থাকেন, তবে একটি পত্রে যুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি এগুলোকে মনে করেননি।'''
* প্রথমে বিশ্বাস করা হতো যে খ্রিষ্ট সরাসরি ডেভিডের বংশধর। তখন খ্রিষ্টের শিষ্যরা অবশ্যই ইহুদি ছিলেন। ডেভিডের বংশের মাধ্যমে মসিহের আগমন প্রত্যাশিত ছিল। এ কারণে ডেভিডের বংশধর জোসেফের বংশতালিকা দেওয়া হয়েছিল। অনেক পরে খ্রিষ্টানদের মনে এই ধারণা আসে যে খ্রিষ্ট পবিত্র আত্মার সন্তান। বংশতালিকা দেওয়ার সময় যদি তারা সত্যিই বিশ্বাস করতেন যে খ্রিষ্ট পবিত্র আত্মার সন্তান, তবে খ্রিষ্ট যে ডেভিডের সাথে সম্পর্কিত তা প্রমাণের জন্য কেন তারা জোসেফের বংশতালিকা দেবেন? অন্যকথায়, ঈশ্বরের পুত্র কেন একজন অসভ্য রাজার রক্ত শরীরে থাকার গৌরব নিতে চাইবেন? এর একটাই উত্তর আছে। ইহুদিরা ডেভিডের মাধ্যমে মসিহকে প্রত্যাশা করত। তাই খ্রিষ্ট যে মসিহ, তা প্রমাণের জন্য তারা জোসেফের বংশতালিকা দিয়েছিল। পরে খ্রিষ্ট ঈশ্বরের পুত্র হওয়ার ধারণাটি জনপ্রিয় হয় এবং তখন খ্রিষ্টের বংশতালিকায় "যেমনটি মনে করা হয়েছিল" কথাগুলো যুক্ত করা হয়।
* তিনি পানিকে মদে পরিণত করেছিলেন কি না, তা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি বাস্তবে যা বলেছিলেন এবং যা করেছিলেন, তার তুলনায় তাঁর সব অলৌকিক ঘটনা শুধুই ধুলো ও অন্ধকারের মতো। '''লাজারাস পুনরুত্থিত হয়েছিলেন কি না, তা নির্বিশেষে আমাদের একে অপরের প্রতি সদয় হওয়া উচিত। খ্রিষ্ট বেঁচে ছিলেন কি না, তা নির্বিশেষে আমাদের ন্যায়পরায়ণ ও ক্ষমাশীল হওয়া উচিত। পৃথিবীর সব অলৌকিক ঘটনা পুণ্য, নৈতিকতা বা ন্যায়ের কোনো কাজে আসে না। অলৌকিক ঘটনাগুলো কুসংস্কার, অজ্ঞতা, ভয় এবং বোকামির অন্তর্গত। গসপেল কে লিখেছে তাতেও কিছু যায় আসে না। এগুলোর ভেতরে থাকা সত্যটুকুই কেবল মূল্যবান এবং এর বেশি কিছু নয়।'''
* ...মানুষ খ্রিষ্টের জন্য আমি কেবল প্রশংসা ও শ্রদ্ধা অনুভব করি। আমি মনে করি তিনি অনেক বিষয়ে ভুল ছিলেন। ঈশ্বরের মঙ্গলময়তার ওপর তাঁর নির্ভরতা ছিল নিখুঁত। '''তিনি বিশ্বাস করতেন যে স্বর্গের পিতা তাঁকে রক্ষা করবেন। তিনি ভেবেছিলেন, ঈশ্বর যদি মাঠের লিলি ফুলকে সৌন্দর্যে সাজাতে পারেন এবং চড়ুই পাখির জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে তিনি অবশ্যই একজন নিখুঁত, ন্যায়পরায়ণ ও প্রেমময় মানুষকে রক্ষা করবেন। এই বিষয়ে তিনি ভুল ছিলেন। মৃত্যুর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন: "কেন তুমি আমায় পরিত্যাগ করেছ?"'''
* আমার কাছে এটি সবসময় বিস্ময়ের বিষয় যে খ্রিষ্ট তাঁর দেশের প্রতি মানুষের বাধ্যবাধকতা নিয়ে কিছু বলেননি। রাজাদের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি। তাঁর সময়ে প্রায় সর্বত্র প্রচলিত মানবদাসত্বের ভয়ংকর ব্যবস্থা নিয়ে তিনি কিছু বলেননি। তিনি যা বলেননি তা তাঁর বলা কথার চেয়েও অনেক বেশি আশ্চর্যজনক। এটি বিস্ময়কর যে তিনি মদ্যপান, শিক্ষা, দর্শন, প্রকৃতি বা শিল্পকলা নিয়ে কিছু বলেননি। তিনি বাড়ির পক্ষে কিছু বলেননি, কেবল তাদের পুরস্কৃত করার প্রস্তাব ছাড়া যারা তাদের স্ত্রী ও পরিবার ত্যাগ করবে।
* তিনি যা শিখিয়েছিলেন এবং যা শেখাননি তার ফলস্বরূপ তাঁর অনুসারীরা দাসত্ব বা বহুগামিতায় কোনো ক্ষতি দেখেনি। '''তারা এই পৃথিবীকে ছোট করে দেখেছিল এবং পরকালের গুরুত্বকে অতিরঞ্জিত করেছিল। তারা দাসদের সান্ত্বনা দিয়েছিল এই বলে যে অল্প সময়ের মধ্যেই সে তার শিকলের বদলে ডানা পাবে। তারা বন্দিকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল যে কয়েক দিনের মধ্যেই সে তার অন্ধকার কারাগার ছেড়ে স্বর্গের কুঞ্জে চলে যাবে। তাঁর অনুসারীরা বিশ্বাস করত যে তিনি বলেছিলেন, "যে বিশ্বাস করে না সে অভিশপ্ত হবে।" এই অনুচ্ছেদটি ছিল সেই ক্রুশ যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল।''' খ্রিষ্ট যদি আমাদের স্বাস্থ্যের নিয়ম দিতেন, প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে রোগ নিরাময় করতে হয় তা বলতেন, বন্দিদের মুক্ত করতেন, মানুষকে তাদের ন্যায্য ক্ষমতায় ভূষিত করতেন, চার্চের ওপরে বাড়ি স্থাপন করতেন, সমস্ত মানসিক শৃঙ্খল ভেঙে দিতেন, ভয়ের সমস্ত গুহা ও আস্তানা আলোয় ভরিয়ে দিতেন এবং ভবিষ্যৎকে সাধারণ আনন্দে পূর্ণ করতেন, তবে তিনি সত্যিই এই পৃথিবীর ত্রাণকর্তা হতেন।
* কাগজের আবিষ্কারক সব আদি পিতাদের চেয়ে মানবজাতির জন্য বেশি কাজ করেছেন এবং তিনি কোনো খ্রিষ্টান ছিলেন না। লাঙ্গল, কাস্তে, দোলনা, ফসল কাটার যন্ত্রের আবিষ্কারকেরা, ওয়াগন, কোচ, লোকোমোটিভের আবিষ্কারকেরা, স্কিফ, পাল তোলা জাহাজ, বাষ্পীয় জাহাজের আবিষ্কারকেরা, যারা তাঁত তৈরি করেছেন—সংক্ষেপে, সব প্রয়োজনীয় জিনিসের আবিষ্কারকেরা মহান চিন্তাবিদ, কবি, সুরকার, অভিনেতা, চিত্রশিল্পী এবং ভাস্করদের সাথে যুক্ত হয়ে সভ্যতার স্থপতি। যারা প্রয়োজনীয় জিনিস আবিষ্কার করেছেন এবং যারা প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোকে সুন্দর করেছেন, তারাই মানবজাতির প্রকৃত সভ্যতার রূপকার। যাজকেরা সব যুগেই বাধা এবং হোঁচট খাওয়ার পাথর হিসেবে কাজ করেছেন। তারা মানুষকে তার যুক্তি ব্যবহার করতে বাধা দিয়েছেন। '''তারা সাহসের কাছে ভূতের গল্প বলেছেন, যতক্ষণ না সাহস ভয়ে পরিণত হয়েছে। তারা মানুষকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিকশিত হতে না দেওয়ার জন্য এবং বিশ্বকে শৈশবের অবস্থায় রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন, যাতে তারা নিজেরাই মহান, সৎ এবং জ্ঞানী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তারা সবসময় জানত যে তাদের প্রজ্ঞার খ্যাতি মানুষের অজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে।'''
* আমি আমেরিকার সভ্যতার জন্য আংশিকভাবে এই ঘটনাটিকে দায়ী করি যে আমাদের পূর্বপুরুষেরা চার্চ ও রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ আলাদা করার জন্য যথেষ্ট জ্ঞানী এবং একে অপরের প্রতি যথেষ্ট ঈর্ষাপরায়ণ ছিলেন। তারা চার্চকে একজন বিপজ্জনক কর্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করতেন, যিনি একজন রাষ্ট্রপতিকে শাসন করার উপযুক্ত নন। এই বিচ্ছেদ অর্জন করা হয়েছিল কারণ জেফারসন এবং পেইনের মতো মানুষেরা সে সময় জনগণের কাউন্সিলে বিশিষ্ট ছিলেন। '''আমাদের দেশে একটি বিশেষত্ব রয়েছে। কেবল তাদেরই মানবস্বাধীনতার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে যারা পরকালে ফেরেশতা হতে যাচ্ছে না।''' যতক্ষণ পাপীদের কথা শোনার সুযোগ থাকে, ততক্ষণ স্বাধীনতা নিরাপদ।
* মাঝে মাঝে আমার সন্দেহ হয় যে আমাদের নিজস্ব সভ্যতা পুরোপুরি নিখুঁত নয়। যখন আমি দেখি কারাগারগুলো মানুষে পরিপূর্ণ, অনেক মানুষের সেখানে থাকা উচিত, বড় শহরগুলোর অভাব, ময়লা এবং অবক্ষয়, গ্রেট ব্রিটেন এবং পুরো ইউরোপের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে অনাহার, যখন আমি দেখি নারীরা ভারবাহী পশুর মতো কাজ করছে এবং ছোট শিশুরা কেবল শিক্ষা নয়, বাতাস, আলো ও খাবার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে, তখন আমার মনে সন্দেহ জাগে যে খ্রিষ্টীয় সভ্যতা সম্পূর্ণ এবং অপ্রতিরোধ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
* আমি কুসংস্কারের ওপর নির্ভর করি না, বরং জ্ঞানের ওপর নির্ভর করি। অলৌকিক ঘটনার ওপর নয়, বরং তথ্যের ওপর। মৃতদের ওপর নয়, বরং জীবিতদের ওপর। যখন আমরা পুরোপুরি সভ্য হব, তখন আমরা কেবল অবজ্ঞা নয়, বরং করুণার সাথে বিশ্বের কুসংস্কারগুলোর দিকে ফিরে তাকাব।
* '''যাকে খ্রিষ্টধর্ম বলা হয়, তা সব দেশে এবং সব সময়ে জনশান্তি বিনষ্টকারী ছিল। ধর্ম হিসেবে পরিচিত বিষয়টির মতো আর কোনো কিছুই দেশগুলোকে এত বিচ্ছিন্ন করেনি এবং মানবজাতির স্বাভাবিক ন্যায়বিচারকে ধ্বংস করেনি। এই ধারণা যে সব মানুষকে একই ঈশ্বরের উপাসনা করতে হবে এবং একই মতবাদে বিশ্বাস করতে হবে, তা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের হৃদয় থেকে করুণার ফুলকে রক্তাক্ত হাতে ছিঁড়ে ফেলেছে।'''
* সর্বোপরি, একজন সৃষ্টিকর্তার সন্ধান করে কী লাভ? এতে সমস্যার সমাধান হয় না। আপনি আপনার সৃষ্টিকর্তাকে এমন কিছু হিসেবে ছেড়ে যান, যার নিজেরও একজন সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন আছে। আপনার সিঁড়ির নিচের অংশটি শূন্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং ওপরের অংশটিও শূন্যে হেলান দিয়ে আছে। আপনি কোনো সমাধানে পৌঁছাননি। "ঈশ্বর" শব্দটি কেবল আমাদের অজ্ঞতা থেকে জন্ম নিয়েছে। আমরা যত দূর পারি যাই এবং বলি বাকি পথ হলো "ঈশ্বর"। আমরা যত দূর পারি দেখি এবং দিগন্তের ওপারে যেখানে আমাদের জানা মতে অন্ধত্ব ছাড়া আর কিছুই নেই, সেখানে আমরা আমাদের দেবতাকে স্থাপন করি। আমরা একটি বৃত্তের অতি ক্ষুদ্র অংশ দেখি এবং বলি বাকিটা হলো "ঈশ্বর"।
* জীবন, পদার্থ বা যাকে আমরা মন বলি তার উৎপত্তি কেউ জানে না। কোথা থেকে এবং কোথায়—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো মানুষ দিতে পারে না। এসব প্রশ্নের সামনে সব বুদ্ধিমান মানুষই সমান। একজন অসভ্য মানুষ ঠিক ততটুকুই জানে, যতটুকু একজন বিজ্ঞানী জানেন। একজন বোকা ঠিক ততটুকুই জানে, যতটুকু একজন দার্শনিক জানেন। কেবল যারা মনে করে যে তাদের কাছে কোনো অতিপ্রাকৃত তথ্য আছে, তারাই এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ভান করে। অজানা, অসম্ভব এবং অগাধ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে "অনুপ্রাণিতদের" দখলে থাকে।
* আমি দেখেছি যারা অমরত্বে বিশ্বাস করে বা অন্তত দাবি করে যে তারা বিশ্বাস করে, তারা অন্য যেকোনো মানুষের মতোই মৃত্যুকে ভয় পায়। আমি দেখেছি সবচেয়ে ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টানও তার মৃতদের ওপর ততটাই তিক্তভাবে কাঁদে, যতটা সেই মানুষটি কাঁদে যে বলে মৃত্যুতেই সব শেষ। আপনি দেখেন প্রতিশ্রুতিগুলো অনেক দূরে এবং মৃতেরা অনেক কাছে। তবুও, আমি বলছি না যে মানুষ অমর নয়; কিন্তু আমি বলছি যে বাইবেলে এমন কিছু নেই যা প্রমাণ করে যে সে অমর। আমরা কীভাবে অমরত্ব হারিয়েছি তা দেখানো ছাড়া পুরোনো নিয়মে এ বিষয়ে কোনো শব্দ নেই।
* আমি বুঝতে পারি না কেন আমরা একজন অসীম ঈশ্বরের কাছ থেকে এই জগতের চেয়ে অন্য জগতে ভালো কিছু আশা করব। তিনি যদি এখানে অবিচার চলতে দেন, তবে তিনি আগামী জগতেও কেন একই জিনিস চলতে দেবেন না?
* কিছু মানুষ জোর দিয়ে বলেছে যে এই জীবন আত্মত্যাগী নারী ও পুরুষ তৈরি করার জন্য এক ধরনের স্কুল। অর্থাৎ, চরিত্র গঠনের জন্য। '''পরিসংখ্যান দেখায় যে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পাঁচ বছরের কম বয়সে মারা যায়। আমরা এমন একজন স্কুলশিক্ষক সম্পর্কে কী ভাবব, যিনি প্রথম দিনেই তার অধিকাংশ ছাত্রকে হত্যা করেন?''' যদি এই মতবাদ সত্য হয় এবং স্বর্গে যদি পুরুষত্ব তৈরি করা না যায়, তবে যারা শৈশবে মারা যায় তারা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যবান।
* কিন্তু আমাদের যেসব তত্ত্বই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের বাস্তব তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। '''আমরা এমন এক পৃথিবীতে আছি যেখানে পাপ, বিকৃতি, দুর্বলতা এবং রোগ বংশগত। এই বিশাল এবং গম্ভীর সত্যের উপস্থিতিতে শরীরের ধর্মের উত্থান ঘটে।''' প্রতিটি মানুষের এই পৃথিবীর দুর্দশা বাড়াতে অস্বীকার করা উচিত।
* এখানে বা পরকালে স্বর্গ বা নরক থাকুক বা না থাকুক, এই পৃথিবীকে বর্তমানের চেয়ে একটু ভালো করার জন্য প্রতিটি ভালো মানুষের যথেষ্ট কাজ রয়েছে। জিনিসের উৎপত্তি এবং মানুষের ভাগ্য খোঁজার বৃথা চেষ্টায় লাখ লাখ জীবন নষ্ট হয়েছে। এই পৃথিবীকে অবহেলা করা হয়েছে। আমাদের শেখানো হয়েছে যে জীবন কেবল মৃত্যুর প্রস্তুতির জন্য হওয়া উচিত।
* আমার কাছে এই ধারণার চেয়ে অসীম অযৌক্তিক কোনো মতবাদ নেই যে এই জীবন একটি পরীক্ষামূলক অবস্থা। অর্থাৎ, এখানে কাটানো কয়েকটি মুহূর্ত একটি মানবাত্মার চিরন্তন ভাগ্য নির্ধারণ করে। এর চেয়ে বেশি নির্দয় এবং অবিচারপূর্ণ কোনো কিছুই ভাবা যায় না। আমি সেই মতবাদ ধ্বংস করার জন্য সব চেষ্টা করছি। সম্ভব হলে আমি মানুষের হৃদয় থেকে নরকের ছায়া দূর করতে চাই। কেন এখানে কোনো জীবন ব্যর্থ হয়েছে? ঈশ্বর যদি অসীম প্রজ্ঞা ও দয়ার সত্তা হন, তবে কেন তিনি ব্যর্থতা তৈরি করেন? অসভ্য মানুষ দিয়ে পৃথিবী পূর্ণ করার জন্য অসীম প্রজ্ঞার কী অজুহাত আছে? একটি দুর্বল এবং রোগাক্রান্ত মস্তিষ্ক দিয়ে তৈরি করার জন্য, যক্ষ্মা, স্ক্রোফুলা বা উন্মাদনার উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য কেন একজনকে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ বোধ করতে হবে? দাস হিসেবে বেঁচে থাকা এবং মারা যাওয়া একজনকে কেন ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে হবে?
==="দ্য ব্রুকলিন ডিভাইনস।" ''ব্রুকলিন ইউনিয়ন'' (ব্রুকলিন, নিউ ইয়র্ক), ১৮৮৩।===
* মাত্র কয়েক বছর আগে বিজ্ঞান ছিল কুসংস্কারের ভাড়াটে কর্মী। বিজ্ঞানীরা তাদের আবিষ্কৃত প্রতিটি তথ্যের জন্য ক্ষমা চাইতেন। টুপি হাতে তারা জীবাশ্ম আবিষ্কারের জন্য যাজকদের কাছে এবং প্রকৃতিতে কোনো আবিষ্কারের জন্য ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চাইতেন।
* এখন সবকিছু বদলে গেছে এবং যাজক ছাড়া সবাই তা জানে। এখন ধর্ম বিজ্ঞানের কাছে মাথা নত করছে। ধর্ম পুরোনো পাঠ্যের নতুন অর্থ খুঁজে বের করছে। আমাদের বলা হয় যে ঈশ্বর সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলেছিলেন। তিনি কোনো বিজ্ঞান শেখাচ্ছিলেন না। তিনি কেবল তাঁর সন্তানদের ভুলেই থাকতে দেননি, বরং তাদের সেখানেই রেখেছিলেন। এখন এটি স্বীকার করা হয় যে বাইবেল প্রাকৃতিক তথ্যের কোনো প্রশ্নের জন্য প্রামাণিক নয়; এটি কেবল নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক উপায়ে অনুপ্রাণিত। ব্রুকলিনের যাজক ছাড়া সবাই দেখতে পায় যে বাইবেল আর প্রামাণিক হিসেবে বিবেচিত হয় না। '''কোনো তথ্যের বিরোধ মেটাতে কেউ আর কোনো অনুচ্ছেদের আবেদন করে না।''' বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষেরা অনুপ্রেরণার ধারণা নিয়ে হাসাহাসি করেন।
* আমি দেখতে পাচ্ছি যে রেভারেন্ড ডা. এডি যাজকদের মিম্বর থেকে অবিশ্বাসীদের যুক্তির উত্তর না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং এই চমৎকার কারণটি দেখিয়েছেন: '''শ্রোতারা মূল যুক্তি পড়ার চেয়ে উত্তর থেকে বেশি সন্দেহ পাবে। তাই রেভারেন্ড ডা. হকিন্স স্বীকার করেছেন যে তিনি আরও অবিশ্বাস সৃষ্টি না করে অবিশ্বাসীদের আক্রমণ থেকে খ্রিষ্টধর্মকে রক্ষা করতে পারবেন না।'''
* এই "পার্থিব" মানুষেরা জঙ্গল পরিষ্কার করেছে, জমি চাষ করেছে, শহর, বাষ্পীয় জাহাজ, টেলিগ্রাফ তৈরি করেছে এবং পৃথিবীতে যা কিছু মূল্যবান ও বিস্ময়কর তা তৈরি করেছে। তবুও প্রচারকেরা তাদের নিন্দা করেন। "পার্থিব" মানুষ না থাকলে প্রচারকেরা কীভাবে চলতেন? কে চার্চ বানাত? '''কে অনুদানের বাক্স ও প্লেট পূর্ণ করত এবং (সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন) কে বেতন দিত?'''
* যাজকেরা থিয়েটারকে প্রতিদ্বন্দ্বী আকর্ষণ হিসেবে দেখেন এবং তাদের অধিকাংশ ঘৃণাই ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জন্ম নেয়। তারা মনে করেন অন্যান্য সব জায়গা বন্ধ করে মানুষকে চার্চে নিয়ে যাওয়া উচিত। আমার মতে থিয়েটার ভালো করেছে, আর চার্চ ক্ষতি করেছে। নাটক কখনোই কাউকে পুড়িয়ে মারার ওপর জোর দেয়নি।
* মিম্বরে ভণ্ডদের উপাসনা করা হয়েছে; মঞ্চে তাদের উপহাস এবং ঘৃণার পাত্র করা হয়েছে।
* '''যাজকেরা সব সময় দুর্ভিক্ষ, দুঃখ-কষ্ট ও মহামারির ওপর প্রবল বিশ্বাস রেখেছেন। তারা জানেন যে একজন মানুষ ভোজের চেয়ে এক টুকরো রুটি বা উচ্ছিষ্টের জন্য ঈশ্বরকে হাজার গুণ বেশি ধন্যবাদ জানাতে পারে।'''
* তারা মনে করে আমাদের আরও "আধ্যাত্মিক" হওয়া উচিত; অর্থাৎ, অন্যদের পরিশ্রমে বেঁচে থাকতে ইচ্ছুক হওয়া; ভিক্ষা চাইতে ইচ্ছুক হওয়া এবং '''ততক্ষণে বলা, "পাওয়ার চেয়ে দেওয়াই বেশি আশীর্বাদের।" যদি তাই হয়, তবে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না কেন?'''
* ধনী ব্যক্তি যদি উপদেশকে অনুগ্রহের মাধ্যম মনে করত, জলপ্রপাতের ঠিক ওপরে থাকা কোনো ব্যক্তিকে যাজকের ছুড়ে দেওয়া দড়ির মতো মনে করত; '''সে যদি এটিকে জীবন রক্ষাকারী নৌকা বা বাতিঘর হিসেবে বিবেচনা করত, তবে সে তার গাড়ির চালককে বাইরে থাকতে দিত না।''' সে যদি সত্যিই বিশ্বাস করত যে গাড়ির চালকের একটি অমর আত্মা আছে, যা চিরন্তন আনন্দের অধিকারী এবং চিরস্থায়ী যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে পারে, তবে সে ওই গাড়ির চালকের ডাক ও নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করত। '''বাস্তবে ধনী ব্যক্তি এখন চাকরদের তেমন পরোয়া করে না।''' তাদের পরিত্রাণের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, কেবল একটি কাজের লট হিসেবে ছাড়া। '''চার্চ একটি ক্লাবে পরিণত হয়েছে। এটি একটি সামাজিক ব্যাপার এবং ধনী ব্যক্তিরা চার্চে দেখা হওয়া দরিদ্রদের সাথে সপ্তাহের দিনগুলোতে মিশতে চায় না। যেহেতু তারা চিরকাল স্বর্গে একসাথে থাকার আশা করে, তাই তারা এখানে আলাদা থাকতে পারে। সেখানে পরিচিত হওয়ার জন্য অবশ্যই যথেষ্ট সময় থাকবে।'''
* আরেকটি বিষয় হলো চার্চগুলোর জাঁকজমক। চার্চ সম্পূর্ণভাবে ধনীদের ওপর নির্ভরশীল। '''দরিদ্র মানুষ এমন জাঁকজমকপূর্ণ ভবনে নিজেদের বেমানান মনে করে। তারা কাছের কোনো আসনে বসে পড়ে; দরিদ্র আত্মীয়দের মতো তারা চেয়ারের একেবারে ধারে বসে থাকে। খ্রিষ্টের টেবিলে তারা লবণের নিচে থাকে। তারা প্রতিনিয়ত অপমানিত হয়।''' যখন চাঁদা চাওয়া হয়, তখন তারা কোটিপতিদের দেওয়া হাজার হাজার টাকার সাথে তাদের সামান্য অর্থ তুলনা করতে লজ্জা বোধ করে। অনুদানের প্লেটে রুপার সাথে পয়সা মিশতে লজ্জা পায়। এর ফলে তাদের অধিকাংশই চার্চ এড়িয়ে চলে। '''জনসমক্ষে ঈশ্বরের উপাসনা করতে অনেক খরচ হয়।''' ভালো ও ফ্যাশনেবল পোশাক প্রয়োজন।
* কেবল যখন আমরা কোনো দেবতার ধারণা, প্রকৃতিতে নিষ্ঠুরতা বা মঙ্গলময়তার ধারণা বাতিল করি, তখনই আমরা জীবনের কষ্টগুলো ধৈর্যের সাথে সহ্য করতে সক্ষম হই।
* আমিও বলছি না যে মানুষ অমর নয়। সেই বিষয়ে আমি স্বীকার করি যে আমি জানি না এবং সেই বিষয়ে বিশ্বের সব যাজকের ঘোষণা আমাকে কোনো আলো দেয় না। এমনকি তারা আমার তথ্যে কিছু যোগ করার প্রবণতাও দেখায় না, কারণ আমি জানি যে তারা জানে যে তারা জানে না।
* বিশ্বের বুদ্ধিমান মানুষেরা গোঁড়া খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাস করে না। এটি আজ বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয়ের লক্ষণ। '''রক্ষণশীল যাজকেরা বোকা।'''
* '''গোঁড়া ধর্ম বোয়া কনস্ট্রিক্টর সাপের মতো; যা কিছু এড়িয়ে যেতে পারে না তা সে গিলে ফেলবে।'''
* তারা পুরোনো পাঠ্যের নতুন পড়া খুঁজে পাবে। তারা পুরোনো নিয়মে নতুন করে বিরামচিহ্ন বসাবে এবং বিশ্লেষণ করবে। '''তারা দেখতে পাবে যে "সমতল" মানে "একটু গোলাকার;" "ছয় দিন" মানে "ছয় দীর্ঘ সময়;" "বন্যা" শব্দটির অনুবাদ হওয়া উচিত ছিল "স্যাঁতসেঁতে," "শিশির," বা "হুমকিপূর্ণ বৃষ্টি..."'''
* '''তারা মতবাদের শব্দ পরিবর্তন করবে না; তারা কেবল নতুন অর্থ দেবে এবং আজকের সর্বোচ্চ সমালোচনা হলো তা যা স্বীকার করে ও এড়িয়ে যায়। অন্যকথায়, মানুষ যেমন পরিবর্তিত হবে চার্চগুলোও তেমনি পরিবর্তিত হবে। তারা তা বিক্রির জন্য রাখবে যা বিক্রি করা যায়। এরই মধ্যে পুরোনো পণ্যগুলোর "দাম কমানো" হয়েছে।'''
* এমন একটা সময় ছিল যখন একজন প্রকাশ্য ও ঘোষিত অবিশ্বাসী একটি বিস্ময় ছিল। '''সেই সময় চার্চের প্রচুর ক্ষমতা ছিল; এটি প্রতিশোধ নিতে পারত; এটি ধ্বংস করতে পারত। চার্চ তখনই খুঁটি ছেড়ে দিয়েছিল যখন অনেক মানুষ পুড়িয়ে মারার বিরোধিতা করেছিল।'''
* সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধুনিক আবিষ্কারের ফলে এবং অগণিত প্রভাবের ফলে মানুষের চিন্তা গোঁড়া ধর্মের ভিত্তি অনুসন্ধানের দিকে ঘুরে গেছে। অন্যান্য ধর্মকে সমালোচনার চুল্লিতে রাখা হয়েছিল এবং খাদ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। '''অবশেষে বুদ্ধিমানদের মনে আমাদের নিজেদের ধর্ম পরীক্ষা করার কথা আসে এবং এই পরীক্ষা প্রচুর আগ্রহ ও মন্তব্য তৈরি করেছে।''' মানুষ শুনতে চায় এবং তারা শুনতে চায় কারণ তারা এরই মধ্যে নিজেরাই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে মতবাদগুলো ভুলের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
* খ্রিষ্টধর্ম হলো এটি: শাস্ত্রের অনুপ্রেরণা, প্রায়শ্চিত্ত, খ্রিষ্টের জীবন, মৃত্যু ও পুনরুত্থানে বিশ্বাস, খ্রিষ্টের বিশ্বাসীদের জন্য চিরন্তন পুরস্কার এবং বাকিদের জন্য চিরন্তন শাস্তি। এখন খ্রিষ্টধর্ম থেকে এর অলৌকিক ঘটনা, প্রায়শ্চিত্ত ও মানুষের পতনের অযৌক্তিকতা এবং শাস্ত্রের অনুপ্রেরণা সরিয়ে নিন, আর আমি যেমনটা বুঝি তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি মূলত সেই খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাস করি যা খ্রিষ্ট শিখিয়েছিলেন বলে মনে করি, অর্থাৎ দয়া, ভদ্রতা, ক্ষমা। আমি শত্রুদের ভালোবাসায় বিশ্বাস করি না; আমার বন্ধুদের ভালোবাসতেই বেশ কষ্ট হয়।
* নৈতিকতা মেঘ থেকে আসে না; এটি মানুষের অভাব এবং অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয়। আমাদের কোনো অনুপ্রেরণা বা অনুপ্রাণিত কাজের প্রয়োজন নেই। পরিশ্রমী মানুষ জানে যে অলস ব্যক্তির তার শ্রমের ফসল কেড়ে নেওয়ার কোনো অধিকার নেই এবং অলস ব্যক্তিও জানে যে তার এই কাজ করার অধিকার নেই। আমরা বাইবেলে পেয়েছি বলে এটি ভুল নয়, তবে আমি অনুমান করি এটি বাইবেলে রাখা হয়েছিল কারণ এটি ভুল।
* '''আমার কাছে সবসময় এটি একটু কৌতূহলের বিষয় বলে মনে হয়েছে যে এখানে আনন্দকে এত অবজ্ঞার চোখে দেখা হয় এবং পরকালে চিরন্তন পুরস্কার হিসেবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কেন স্বর্গের মতো এখানেও খুশি হওয়া যায় না? কেন এখানে আনন্দ করা যায় না?''' কেন এখনই—অর্থাৎ আজই স্বর্গে যাওয়া যায় না? কেন এই পৃথিবীর রোদ এবং এর ভেতরের সব ভালো জিনিস উপভোগ করা যায় না? এটি যথেষ্ট খারাপ; এতটাই খারাপ যে আমি বিশ্বাস করি না এটি কোনো কল্যাণময় দেবতা তৈরি করেছেন। তবে এতে যেটুকু ভালো আছে, তা কেন পাব না?
* আমিও বিশ্বাস করি না যে মানুষের শেষ উদ্দেশ্য হলো ঈশ্বরের মহিমা কীর্তন করা। '''কীভাবে অসীমকে মহিমান্বিত করা যায়? তিনি কি খ্যাতি চান?... গড়পড়তা একজন প্রেসবাইটেরিয়ানের চাটুকারিতা তিনি কেন চাইবেন? তাঁর কাজ মেথডিস্ট এপিসকোপাল চার্চ অনুমোদন করেছে জেনে তাঁর কী লাভ হবে? এমনকি তিনি ধর্মীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা বা ধর্মীয় কলেজগুলোর সভাপতিদের সম্পর্কে কী পরোয়া করেন?''' আমি বুঝতে পারি না আমরা কীভাবে ঈশ্বরকে সাহায্য বা আঘাত করতে পারি। যদি কোনো অসীম সত্তা থাকেন, তবে আমরা যা কিছু করি তা নিশ্চিতভাবেই তাঁকে প্রভাবিত করতে পারে না। আমরা একে অপরকে প্রভাবিত করতে পারি এবং তাই মানুষের উচিত মানুষের বিরুদ্ধে পাপ না করার বিষয়ে সতর্ক থাকা।
=== ''অর্থোডক্সি'' (১৮৮৪) ===
* আপনিও মনে করতে পারবেন এবং আমিও পারি, যখন পুরোনো অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকেরা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। মানুষের কোনো সমস্যা হলে তারা রক্ত বের করে দিতেন। রোগীর শয্যাপাশে ডাক পড়লে তারা ল্যান্সেটের ডগায় রোগীকে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যেতেন এবং তারপর তাকে ফিরিয়ে আনতে নিজেদের সব কৌশল প্রয়োগ করতেন। '''কয়েক বছর আগেও একজন চিকিৎসকের আক্রমণ সহ্য করার জন্য কতটা নিখুঁত শারীরিক গঠন প্রয়োজন ছিল, তা কল্পনা করা কঠিন।'''
* ১৪৭৩ সালে কোপার্নিকাস জন্মগ্রহণ করেন। ১৫৪৩ সালে তাঁর মহান কাজ প্রকাশিত হয়। '''১৬১৬ সালে পোপ এবং ক্যাথলিক চার্চ কোপার্নিকাসের ব্যবস্থাকে নিন্দা করেছিল। অন্য যেকোনো বিষয়ের মতো এই বিষয়েও চার্চ প্রায় সঠিক ছিল।''' কোপার্নিকাসের ব্যবস্থা নিন্দিত হয়েছিল। আপনার কী মনে হয়, চার্চ কতদিন এর বিরোধিতা করেছিল? আমি বলছি। ১৮২১ সালে পোপ সপ্তম পায়াস এটি প্রত্যাহার করেছিলেন। '''কোপার্নিকাসের মৃত্যুর পর ২৭৮ বছর ধরে চার্চ জোর দিয়েছিল যে তাঁর ব্যবস্থা মিথ্যা এবং পুরোনো বাইবেলের জ্যোতির্বিজ্ঞানই সত্য।'''
* এই শতাব্দীকে ডারউইনের শতাব্দী বলা হবে। তিনি পৃথিবীতে আসা শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন ছিলেন। তিনি সব ধর্মীয় শিক্ষকের চেয়ে জীবনের ঘটনাগুলোর বেশি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। '''একদিকে চার্লস ডারউইনের নাম লিখুন এবং অন্যদিকে আজ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া সব ধর্মতত্ত্ববিদের নাম লিখুন, আপনি দেখতে পাবেন সেই একটি নাম থেকেই বিশ্বের জন্য এদের সবার চেয়ে বেশি আলো এসেছে।'''
* '''চার্চ শেখায় যে মানুষকে নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং ছয় হাজার বছর ধরে তার অবনতি হয়েছে। ডারউইন এই মতবাদের মিথ্যা প্রমাণ করেছেন। তিনি দেখান যে মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে স্থিরভাবে অগ্রসর হয়েছে; ইডেন গার্ডেন একটি অজ্ঞতাপূর্ণ অতিকথা; আদি পাপের মতবাদের কোনো ভিত্তি নেই; প্রায়শ্চিত্ত একটি অযৌক্তিকতা; সাপ প্রলুব্ধ করেনি এবং মানুষের "পতন" হয়নি। চার্লস ডারউইন গোঁড়া খ্রিষ্টধর্মের ভিত্তি ধ্বংস করে দিয়েছেন।''' আমরা যা জানি যে তা ঘটতে পারত না এবং ঘটেনি, তাতে বিশ্বাস করা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ধর্ম ও বিজ্ঞান শত্রু। একটি কুসংস্কার, অন্যটি তথ্য। একটি মিথ্যার ওপর নির্ভর করে, অন্যটি সত্যের ওপর। একটি ভয় ও বিশ্বাসের ফলাফল, অন্যটি অনুসন্ধান ও যুক্তির।
* তারা এসবের কী উত্তর দেয়? তারা বলে ঈশ্বর এর "অনুমতি" দেন। আমি যদি আপনার পাশে দাঁড়িয়ে দেখি যে একজন গুন্ডা একটি শিশুর মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে এবং আমার কাছে তা ঠেকানোর সম্পূর্ণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমি তা না করি, তবে আপনি আমাকে কী বলবেন? আপনি সত্যি করে বলবেন যে আমি ওই খুনির মতোই খারাপ। এই ঈশ্বরের পক্ষে কি এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব? যদি তিনি না করেন তবে তিনি একজন দানব; তিনি কোনো ঈশ্বর নন। '''কিন্তু তারা বলে তিনি এর "অনুমতি" দেন। কেন? যাতে আমরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। কেন? যাতে ঈশ্বর বুঝতে পারেন যে কারা ভালো আর কারা খারাপ। তিনি যখন আমাদের তৈরি করছিলেন তখন কি তিনি তা জানতেন না? তিনি কী তৈরি করছেন তা কি তিনি ঠিকমতো জানতেন না?'''
* '''বিশ্বে এখন এমন কোনো বুদ্ধিমান নারী বা পুরুষ কি আছেন যিনি ইডেন গার্ডেনের গল্পে বিশ্বাস করেন? যদি আপনি এমন কাউকে পান যে এটি বিশ্বাস করে, তবে তার কপালে আঘাত করুন এবং আপনি একটি প্রতিধ্বনি শুনতে পাবেন। তার ভেতরে কিছু একটা ভাড়ার জন্য খালি পড়ে আছে।'''
* এখন কি কেউ সাপের গল্প বিশ্বাস করে? এই ঊনবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যারা এই শিশুসুলভ কল্পকাহিনিতে বিশ্বাস করে, তাদের জন্য আমার করুণা হয়। অ্যাডাম ও ইভ কেন অমান্য করেছিল? কারণ তারা প্রলুব্ধ হয়েছিল। কার দ্বারা? শয়তান। শয়তানকে কে তৈরি করেছে? ঈশ্বর। ঈশ্বর কেন তাকে তৈরি করেছিলেন? তিনি কেন অ্যাডাম ও ইভকে এই সাপের কথা বলেননি? '''তিনি অ্যাডাম ও ইভকে পাহারা দেওয়ার বদলে শয়তানকে কেন পাহারা দেননি? তাদের বের করে দেওয়ার বদলে তিনি শয়তানকে ভেতরে ঢোকা থেকে কেন আটকালেন না? একজন নারী ও পুরুষ তৈরি করার আগে কেন তিনি বন্যা দিয়ে শয়তানকে ডুবিয়ে মারলেন না? তবুও, যারা নিজেদের বুদ্ধিমান বলে দাবি করে—কলেজের অধ্যাপক এবং প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের সভাপতিরা—তারা শিশু এবং তরুণদের শেখায় যে ইডেন গার্ডেনের গল্প একটি নিখুঁত ঐতিহাসিক সত্য। আমি চ্যালেঞ্জ করছি এর চেয়ে শিশুসুলভ কিছু ভাবার জন্য। এই ঈশ্বর, ইডেনে অপেক্ষা করছিলেন—কী ঘটবে তা সব সময় জানতেন—তা ঘটার জন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের তৈরি করেছিলেন, তারপর তিনি কী করেন? আমাদের সবাইকে দায়ী করেন, অথচ আমরা সেখানে ছিলাম না।'''
* '''নির্বাচকমণ্ডলীর জন্মের আগেই এখানে একজন প্রতিনিধি উপস্থিত। আমি কোনো প্রতিনিধির কাছে দায়বদ্ধ হওয়ার আগে তার পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ চাই। আমি যদি সেখানে থাকতাম এবং সব পরিস্থিতি জানতাম, তবে আমি "না" ভোট দিতাম! তবুও, আমাকে দায়ী করা হচ্ছে।'''
* '''যে ঈশ্বর এমন একটি আত্মা তৈরি করতে পারেন না যা সম্পূর্ণ দূষিত নয়, আমি বিনয়ের সাথে প্রস্তাব করছি, তার এই কাজ থেকে অবসর নেওয়া উচিত। ঈশ্বর যদি আমাদের তৈরি করে থাকেন, এটা জেনেও যে আমরা সম্পূর্ণ দূষিত, তবে "পুনর্জন্ম" নেওয়ার জন্য কেন আমাদের সেই একই সত্তার কাছে যেতে হবে?'''
* চার্চ জোর দেয় যে আমাদের অবশ্যই "পুনর্জন্ম" নিতে হবে এবং যারা এই দ্বিতীয় জন্মের অধীন নয় তারা সবাই অনন্ত আগুনের উত্তরাধিকারী। আরেকটি অ্যাডাম ও ইভ তৈরি করা কি আরও ভালো হতো না? নোয়া এবং তার লোকেদের পরিবর্তন করা কি আরও ভালো হতো না, যাতে এর পরে আর দ্বিতীয় জন্মের প্রয়োজন না হয়? মানবজীবনের সব উৎস শুদ্ধ করা কেন হলো না? কেন পৃথিবীকে দূষিত এবং দানবীয় মানুষ দিয়ে পূর্ণ হতে দেওয়া হলো, যাদের প্রত্যেককে আবার তৈরি করতে হবে, সংস্কার করতে হবে এবং পুনর্জন্ম নিতে হবে?
* শয়তান যদি দাসত্ব নিয়ে কিছু লিখত, তবে সে কোন পক্ষ নিত? প্রতিটি যাজককে উত্তর দিতে দিন। আপনি যদি জানতেন শয়তান মানবদাসত্ব নিয়ে একটি বই লিখেছে, তবে আপনার মতে সে দাসত্বকে সমর্থন করত নাকি এর নিন্দা করত? বইটি দাসত্বকে সমর্থন করলে, এটি কি প্রমাণ হিসেবে ধরবেন যে বইটি শয়তান লিখেছে? '''অথচ আপনার কাছে দাসত্বকে সমর্থনকারী একটি কাজ রয়েছে এবং আপনি বলছেন যে এটি একজন অসীম মঙ্গলময় ঈশ্বর লিখেছেন!'''
* '''একজন খ্রিষ্টান কেন এমন একজন মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধা করবে, যাকে তার ঈশ্বর অভিশাপ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন? একজন খ্রিষ্টান কেন একজন অবিশ্বাসীর প্রতি—যে বাইবেল প্রত্যাখ্যান করেছে—করুণা করবে, যখন সে জানে যে ঈশ্বর চিরকাল নির্দয় থাকবেন?'''
* রোমের কোনো বাইবেল ছিল না। ঈশ্বর রোমান সাম্রাজ্যের পরোয়া করতেন না। তিনি মানুষগুলোকে দৈবক্রমে আসতে দিয়েছিলেন। তাঁর সময় ইহুদিদের নিয়ে ব্যয় হচ্ছিল। তবুও রোম ঈশ্বরের মনোনীত মানুষসহ বিশ্বকে জয় করেছিল। '''যাদের কাছে বাইবেল ছিল তারা এমন লোকেদের কাছে পরাজিত হয়েছিল যাদের কাছে বাইবেল ছিল না।'''
* খ্রিষ্টানরা একটি ঘটনাকে কারণ ভেবে ভুল করে এবং সততার সাথে কল্পনা করে যে বাইবেল আধুনিক স্বাধীনতা ও আইনের ভিত্তি। তারা শারীরিক অবস্থা ভুলে যায়, বাণিজ্যের হিসাব করে না, আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের পরোয়া করে না এবং অজ্ঞতাবশত তাদের অনুপ্রাণিত বইকে কৃতিত্ব দেয়।
* আমি যিশুখ্রিষ্টের অলৌকিক উৎপত্তিতে বিশ্বাস করতে পারি না। আমি বিশ্বাস করি তিনি জোসেফ ও মেরির সন্তান ছিলেন; জোসেফ ও মেরি বৈধভাবে বিবাহিত ছিলেন; তিনি সেই মিলনের বৈধ সন্তান ছিলেন। তিনি অন্তত দেড়শ বছর মৃত থাকার আগ পর্যন্ত কেউ এর বিপরীত বিশ্বাস করেনি। ম্যাথু, মার্ক বা লুক কেউই স্বপ্নেও ভাবেননি যে তিনি ঐশ্বরিক উৎপত্তির অধিকারী। '''তিনি ম্যাথু, মার্ক বা লুককে বা তাদের সামনে উপস্থিত কাউকে বলেননি যে তিনি ঈশ্বরের পুত্র, বা তিনি অলৌকিকভাবে গর্ভে এসেছিলেন। তিনি এমন কিছু বলেননি।'''
* তাছাড়া, ঈশ্বর অনেক বিষয়ে তাঁর মত পরিবর্তন করে থাকতে পারেন; তিনি অন্তত চার্চের মতে দাসত্ব এবং বহুগামিতার বিষয়ে মত পরিবর্তন করেছেন। তবুও তাঁর চার্চ এখন তরবারি দিয়ে উটাহে বহুগামিতা ধ্বংস করতে চায়। তারা কেন পুরোনো নিয়মের কপি দিয়ে সেখানে মিশনারি পাঠায় না?
* পুনরুত্থান। আমি এ বিষয়ে এমনভাবে কথা বলতে চাই যেমনটা আমরা যেকোনো সাধারণ লেনদেনের বিষয়ে বলে থাকি। প্রথমত, আমি বিশ্বাস করি না যে কখনো কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে এবং যদি ঘটেও থাকে, তবে আপনি তা প্রমাণ করতে পারবেন না। কেন? কারণ এটা বিশ্বাস করা আরও বেশি যুক্তিসংগত যে মানুষেরা এই বিষয়ে ভুল করেছিল, এর চেয়ে যে ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছিল। এবং কেন? কারণ, মানব অভিজ্ঞতা অনুসারে আমরা জানি যে মানুষেরা সব সময় সত্য বলবে না, এবং আমরা নিজেরা কখনো কোনো অলৌকিক ঘটনা দেখিনি। আমাদের অভিজ্ঞতার দ্বারাই পরিচালিত হতে হবে। যদি আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিচার করি, তবে আমাদের বলতে হবে যে অলৌকিক ঘটনা কখনো ঘটেনি—সাক্ষীরা ভুল করেছিল।
* মৃত মানুষদের পুনরুত্থান সম্পর্কে একটি আশ্চর্যের বিষয় হলো—'''আমরা আর তাদের কথা শুনতে পাই না'''। তাদের কী হয়েছিল? যদি এই শহরে এমন একজন মানুষ থাকত যাকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করা হয়েছিল, তবে আমি আজ রাতে তাকে দেখতে যেতাম। আমি বলতাম, “যখন তুমি ফিরে আসার খবর পেলে, তখন তুমি কোথায় ছিলে? ওটা কেমন দেশ? সেখানে একজন যুবকের জন্য কেমন সুযোগ আছে? তোমার কেমন লেগেছিল? তুমি কি সেখানে তোমার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সাথে দেখা করেছিলে? সেখানে কি এমন কোনো পৃথিবী আছে যেখানে মৃত্যু নেই, ব্যথা নেই, চোখের জল নেই? সেখানে কি এমন কোনো দেশ আছে যেখানে কোনো কবর নেই এবং যেখানে কখনো বিদায় শব্দটি শোনা যায় না?”
* আসুন আমরা সৎ হই। ধরুন একজন মানুষ এই শহরে এসে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মিছিলের মুখোমুখি হলেন এবং বললেন, “কে মারা গেছে?” এবং তারা উত্তর দিল, “একজন বিধবার ছেলে; তার একমাত্র অবলম্বন।” ধরুন তিনি মিছিলকে বললেন, “থামো!” এবং আন্ডারটেকারকে বললেন, “কফিনটা বের করো, ওই ঢাকনাটা খোলো। যুবক, আমি তোমাকে বলছি, ওঠো!” এবং মৃত যুবকটি কফিন থেকে বেরিয়ে এল এবং কিছুক্ষণ পরেই তার মাকে জড়িয়ে ধরল। ধরুন এই অপরিচিত লোকটি আপনার কবরস্থানে গিয়ে দেখল একজন নারী তার দুই হাতে দুটি ছোট বাচ্চাকে ধরে রেখেছে, আর একটি নতুন কবরে তার চোখের জল পড়ছে, এবং লোকটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, “এখানে কাকে কবর দেওয়া হয়েছে?” এবং নারীটি উত্তর দিল, “আমার স্বামীকে;” এবং লোকটি চিৎকার করে বলল, “আমি তোমাকে বলছি, ওহে কবর, তোমার মৃতকে ছেড়ে দাও!” এবং স্বামী উঠে দাঁড়াল, এবং কিছুক্ষণ পরেই তার স্ত্রীর ঠোঁটে চুমু খেল এবং ছোট বাচ্চারা তার গলা জড়িয়ে ধরল; '''আপনার কি মনে হয় এই শহরের মানুষ তাকে হত্যা করবে? আপনার কি মনে হয় কেউ তাকে ক্রুশবিদ্ধ করতে চাইবে? আপনার কি বরং মনে হয় না যে ওই কবরস্থানে যারাই তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তারা সবাই তার কাছে যাবে, এমনকি হাঁটুর ওপর ভর করে তার কাছে ভিক্ষা চাইবে যেন তাদের মৃতদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়? আপনি কি বিশ্বাস করেন যে মৃত্যুর অধিপতি এমন কোনো মানুষকে কখনো ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল?'''
* যেসব গল্প তখন খ্রিষ্টধর্মকে শক্তিশালী করেছিল, সেগুলো এখন একে দুর্বল করে।
* খ্রিষ্ট যদি অলৌকিক ঘটনা দিয়ে তার সঙ্গীদের বোঝাতে চাইতেন, তবে তিনি কেন এমন কিছু করলেন না যা কোনোভাবেই নকল করা যেত না? '''একটি শুকিয়ে যাওয়া হাত সুস্থ করার বদলে, তিনি কেন এমন একজন মানুষকে খুঁজে বের করলেন না যার হাত কেটে ফেলা হয়েছিল এবং সেখানে একটি নতুন হাত গজালেন না?'''
* অলৌকিক ঘটনাগুলো দূর করুন, এবং খ্রিষ্টের অতিপ্রাকৃত চরিত্র ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি যা ছিলেন তাই হয়ে যান—একজন মানুষ। বিস্ময়কর ঘটনাগুলো দূর করুন, এবং খ্রিষ্টের শিক্ষা আর প্রামাণিক থাকে না। তখন এগুলোর যৌক্তিকতা এবং এগুলোতে থাকা সত্যটুকুই কেবল মূল্যবান হয়, এর বেশি কিছু নয়। অলৌকিক ঘটনাগুলো দূর করুন, এবং তখন আমরা আমাদের যুক্তির মানদণ্ড দিয়ে খ্রিষ্টের কথাগুলো বিচার করতে পারব। আমরা আর বুদ্ধিবৃত্তিক দাস থাকব না, যারা একজন তথাকথিত ঈশ্বরের আদেশের বাধ্য হয়ে অযৌক্তিক কিছু বিশ্বাস করে।
* মার্ক বলেছেন: “কাজেই, প্রভু তাদের সাথে কথা বলার পর স্বর্গে উঠে গেলেন এবং ঈশ্বরের ডানপাশে বসলেন।” '''মানুষের চোখকে বিস্মিত করা সবচেয়ে বিস্ময়কর দৃশ্য সম্পর্কে তিনি কেবল এটুকু বলেছেন। এই অলৌকিক ঘটনা এতটাই বড় যে তা বিশ্বাসযোগ্যতাকে পূর্ণ করে ফেলতে পারত; তবুও আমাদের কাছে কেবল এই একটি, দরিদ্র, সামান্য অনুচ্ছেদই রয়েছে।'''
* '''চার্চকে অবশ্যই শয়তানে বিশ্বাস ত্যাগ করা চলবে না। গোঁড়ামি নরকের আগুন নেভানোর ঝুঁকি নিতে পারে না।''' শয়তানে বিশ্বাস ত্যাগ করুন, এবং নতুন নিয়মের অধিকাংশ অলৌকিক ঘটনা অসম্ভব হয়ে পড়ে, এমনকি যদি আমরা অতিপ্রাকৃতকে স্বীকারও করি। যদি শয়তান না থাকে, তবে ইডেন গার্ডেনে প্রথম প্রলোভনকারী কে ছিল? যদি নরক না থাকে, তবে আমরা কী থেকে রক্ষা পেলাম; প্রায়শ্চিত্তের উদ্দেশ্য কী? খ্রিষ্টীয় ঢালের সামনের দিকে ঈশ্বর, আর পেছনের দিকে শয়তান। '''শয়তান নেই, নরক নেই। নরক নেই, প্রায়শ্চিত্ত নেই। প্রায়শ্চিত্ত নেই, প্রচার নেই, গসপেল নেই।'''
* '''আমাদের বলা হয় “ঈশ্বর পৃথিবীকে এতটা ভালোবেসেছেন” যে তিনি প্রায় সবাইকেই অভিশাপ দিতে যাচ্ছেন।'''
* মাত্র কিছুদিন আগে, ওহাইওতে যখন বিশাল বন্যা এসেছিল, যা সেই ঈশ্বরের পাঠানো যিনি বিশ্ব শাসন করছেন এবং দেশগুলোর বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন, ঠিক ভোরের আলোতে তারা দেখল একটি বাড়ি ভেসে যাচ্ছে এবং তার ওপরে একজন মানুষ। কয়েকজন মানুষ উদ্ধারের জন্য গেল। তারা সেখানে একজন নারী, একজন মাকে দেখতে পেল এবং তারা তার জীবন বাঁচাতে চাইল। সে বলল: “না, আমি যেখানে আছি সেখানেই থাকব। এই বাড়িতে আমার তিন মৃত শিশু রয়েছে; আমি তাদের ছেড়ে যাব না।” '''এমন সীমাহীন ভালোবাসার কথা ভাবুন—যা হতাশা এবং মৃত্যুর চেয়েও শক্তিশালী এবং গভীর! তবুও, খ্রিষ্ট ধর্ম বলে যে, যদি ওই নারী, ওই মা, তাদের মতবাদে বিশ্বাস না করত, তবে ঈশ্বর তার আত্মাকে অনন্ত আগুনে পাঠাতেন!'''
* অনন্ত যন্ত্রণার মতবাদটিই এই খ্রিষ্টধর্ম নিয়ে আমার সমস্যার কারণ। আমি এর অসীম হৃদয়হীনতার কারণে এটি প্রত্যাখ্যান করি। আমি তাদের বারবার বলতে পারি যে, আমাদের সর্বশেষ যুদ্ধের সময় খ্রিষ্টানরা, যারা জানত যে তারা গুলিবিদ্ধ হলে সরাসরি স্বর্গে যাবে, তারা গিয়ে তাদের জায়গায় যুদ্ধ করার জন্য খারাপ লোকদের ভাড়া করেছিল, তারা সম্পূর্ণ রাজি ছিল যে এই লোকগুলো নরকে যাক যদি তারা নিজেরা বাড়িতে থাকতে পারে।
* '''ধর্মতত্ত্ববিদ, ভণ্ড, ভবিষ্যদ্বক্তা, যাজক, পুরোহিত, পোপ, বিশপরা এর সুযোগ নিয়েছে। তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে স্বর্গের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে যন্ত্রণায় ভরা ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। তারা জীবনের রাজপথে তাদের টোল-গেট স্থাপন করেছে এবং ভয়ের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে।'''
=== ধর্ম অবমাননার জন্য [[w:চার্লস বি. রেনল্ডস|চার্লস বি. রেনল্ডসের]] বিচার (১৮৮৭) ===
[[File:THISUserBelievesInFreedom.JPG|thumb|right|আমি এমন একটি পৃথিবীতে থাকতে চাইব না যেখানে আমি আমার সৎ মতামত প্রকাশ করতে পারি না। যারা অন্যদের কথা বলার অধিকার অস্বীকার করে, তারা সৎ মানুষের সাথে বসবাস করার যোগ্য নয়।]]
[[File:Statue of Liberty close.JPG|thumb|right|এই পৃথিবীতে যদি আলোচনা এবং বোঝার মতো কোনো বিষয় থাকে, তবে তা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক [[স্বাধীনতা|স্বাধীনতার]] প্রশ্ন। এটি ছাড়া আমরা কেবল রঙিন কাদা। এটি ছাড়া আমরা দরিদ্র, দুর্দশাগ্রস্ত ভূমিদাস ও [[দাস]]।]]
:<small>[http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/blasphemy_trial.html ধর্ম অবমাননার জন্য সি. বি. রেনল্ডসের বিচারে জুরির কাছে আপিল (মে ১৮৮৭)] [http://www.gutenberg.org/files/38103/38103-h/38103-h.htm প্রজেক্ট গুটেনবার্গে অনলাইনে সম্পূর্ণ পাঠ্য] · অভিযুক্ত সি. বি. রেনল্ডসকে "ধর্ম অবমাননা"র অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং নিউ জার্সির মরিসটাউন জুরির সামনে আনা হয়েছিল। জুরি তাকে "দোষী" সাব্যস্ত করে এবং ২৫ ডলার জরিমানা করে। বিচারক কর্তৃক রেনল্ডসের ওপর আরোপিত জরিমানা এবং খরচ ইনগারসোল নিজেই পরিশোধ করেছিলেন।</small>
[[File:Free-speech-flag.svg|thumb|right|আমি [[বাকস্বাধীনতা|বাকস্বাধীনতাকে]] রক্ষা করব। কেন? কারণ বলপ্রয়োগ করে কোনো আক্রমণের জবাব দেওয়া যায় না। আঘাত, কারাদণ্ড বা জরিমানার মাধ্যমে কোনো যুক্তি খণ্ডন করা যায় না। আপনি মানুষটিকে বন্দি করতে পারেন, কিন্তু যুক্তি স্বাধীন। আপনি মানুষটিকে মাটিতে ফেলে দিতে পারেন, কিন্তু তার বক্তব্য অটল থাকে।]]
[[File:La Vérité, par Jules Joseph Lefebvre.jpg|thumb|right|সত্য ছাড়া আর কিছুই পবিত্র নয়। সত্য বলতে আমি বুঝি যা একজন মানুষ আন্তরিক ও সৎভাবে বিশ্বাস করে।]]
[[File:NYC 14 1 (6628744017).jpg|thumb|right|মানুষের তৈরি আইনের চেয়েও উচ্চতর একটি আইন রয়েছে। এই দরিদ্র পৃথিবীতে বাস্তব সত্যগুলো এবং নির্দিষ্ট কাজের চূড়ান্ত পরিণতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এই উচ্চতর আইন হলো প্রগতির নিশ্বাস এবং সভ্যতার প্রসারিত ডানা, যার অধীনে আমরা আমাদের স্বাধীনতা উপভোগ করি।]]
[[File:Eduardo Zamacois y Zabala - Regreso al convento.jpg|thumb|right|রসবোধ মানবমস্তিষ্কের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। এটি মনের মশাল, যা আলো ছড়ায়। রসবোধ হলো স্বাভাবিকতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সত্য যাচাইয়ের সবচেয়ে সহজ উপায়। একজন মানুষের থেকে সব রসবোধ কেড়ে নিলে সে কেবল একজন গোঁড়া ব্যক্তিতে পরিণত হবে।]]
[[File:Baby love.jpg|thumb|right|পৃথিবীতে বা মানুষের কল্পনায় এমন কোনো নিখুঁত ছবি নেই, যেখানে একজন মা তার ভালোবাসার ফল একটি সন্তানকে রোমাঞ্চিত ও আনন্দিত বাহুতে ধরে রাখেন।]]
[[File:Welcome to the land of freedom 51996u.jpg|thumb|right|আমি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এটাই আমার ধর্ম। আমি নিজের জন্য যেসব অধিকার দাবি করি, অন্য সবার জন্যও তা সমানভাবে নিশ্চিত করতে চাই। আমি অন্য কাউকে অধিকার প্রদান করি না, বরং ঘোষণা করি যে আমার প্রতিটি মতবাদ আক্রমণ করার এবং আমার প্রতিটি যুক্তির জবাব দেওয়ার অধিকার তার রয়েছে। অর্থাৎ, তার নিরঙ্কুশ বাকস্বাধীনতা থাকতে হবে।]]
[[File:Golden statue.jpg|thumb|right|এই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাধীনতা। খাদ্য, পোশাক, সোনা, বাড়ি বা জমির চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। [[শিল্পকলা]] বা [[বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সব ধর্মের চেয়ে মানুষের [[স্বাধীনতা]] বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]]
[[File:Prometheus by Gustave Moreau.jpg|thumb|right|আপনার সৎ সহকর্মীদের জন্য শিকল তৈরি করা এবং অন্ধকূপ নির্মাণ করা হলো [[ধর্ম অবমাননা]]। অনন্ত [[যন্ত্রণা|যন্ত্রণার]] মতবাদ দিয়ে [[শিশু|শিশুদের]] [[আত্মা|আত্মাকে]] কলুষিত করা ধর্ম অবমাননা। নিজের [[বিবেক|বিবেককে]] লঙ্ঘন করাও ধর্ম অবমাননা।]]
[[File:Statue at Rockefeller Centre.jpg|thumb|right|যেকোনো বইয়ের চেয়ে মানুষের স্বাধীনতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের অধিকার যেকোনো ধর্ম বা অনুপ্রাণিত হোক বা না হোক, যেকোনো ধর্মগ্রন্থের চেয়ে বেশি পবিত্র।]]
[[File:Freedom tree, St Helier - geograph.ci - 150.jpg|thumb|right|চোখের জন্য যেমন আলো এবং হৃদয়ের জন্য যেমন ভালোবাসা, তেমনি মানুষের আত্মার জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য। এটি ছাড়া দমবন্ধ অবস্থা, অবক্ষয় এবং মৃত্যু নেমে আসে।]]
[[File:LibertyTreePlanting.jpg|thumb|right|স্বাধীনতা হলো প্রগতির শর্ত। স্বাধীনতা ছাড়া কেবল বর্বরতা অবশিষ্ট থাকে। স্বাধীনতা ছাড়া কোনো সভ্যতা টিকতে পারে ওয়েবসাইটে পারে না।]]
[[File:Double-alaskan-rainbow.jpg|thumb|right|মানুষের ভাষা থেকে [[স্বাধীনতা]] শব্দটি সরিয়ে নিলে বাকি সব শব্দ দরিদ্র, জীর্ণ এবং অর্থহীন ধ্বনিতে পরিণত হয়। কিন্তু এই শব্দটি উপলব্ধি করতে পারলে পৃথিবী একটি [[স্বর্গ|স্বর্গে]] পরিণত হয়।]]
* জুরি হিসেবে আপনাদের যে প্রশ্নটির বিচার করতে হবে তা হলো একজন মানুষের নিজের সৎ [[চিন্তা]] প্রকাশ করার অধিকার আছে কি না। সেই [[কারণ|কারণে]] এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মামলা জুরির কাছে পেশ করা যেতে পারে না। এবং শুরুতেই আমার পক্ষে এটা স্বীকার করে নেওয়া ভালো হতে পারে যে, এর চেয়ে বেশি গভীর আগ্রহ নিয়ে আমি আর কোনো মামলা নিতে পারতাম না। আমার মতে, '''আমি এমন একটি পৃথিবীতে থাকতে চাইব না যেখানে আমি আমার সৎ মতামত প্রকাশ করতে পারি না। যারা অন্যদের কথা বলার অধিকার অস্বীকার করে, তারা সৎ মানুষের সাথে বসবাস করার যোগ্য নয়।''' <br> আমি যেকোনো মানুষ, মানুষের দল, চার্চ বা রাষ্ট্রের মানুষের মুখে তালা দেওয়ার এবং জিহ্বাকে অপরাধী বানানোর অধিকার অস্বীকার করি। আমি মস্তিষ্কের সন্তানদের হত্যা করার জন্য কর্তৃপক্ষের হেরোডের অধিকারকে তীব্রভাবে অস্বীকার করি। <br> '''একজন মানুষের হাত দিয়ে কাজ করার, জমি চাষ করার এবং বীজ বপন করার অধিকার আছে। আর সেই মানুষের ফসল কাটারও অধিকার আছে। আমাদের যদি সেই অধিকার না থাকে, তবে যারা তাদের সহকর্মীদের কাছ থেকে এই অধিকারগুলো কেড়ে নেয় তারা ছাড়া বাকি সবাই দাস।'''
* '''আপনার যদি হাত দিয়ে কাজ করার এবং নিজের ও সন্তানদের জন্য ফসল সংগ্রহ করার অধিকার থাকে, তবে কি আপনার মস্তিষ্ক চাষ করার অধিকার নেই? আপনার কি পড়ার, পর্যবেক্ষণ করার এবং তদন্ত করার অধিকার নেই? আর যখন আপনি সেভাবে পড়বেন এবং তদন্ত করবেন, তখন কি আপনার সেই ফসল কাটার অধিকার নেই? আর সেই ফসল কাটা বলতে কী বোঝায়? এর অর্থ হলো আপনি যা জেনেছেন তা সহজভাবে প্রকাশ করা, অর্থাৎ আপনার সহকর্মীদের কাছে আপনার চিন্তাভাবনা তুলে ধরা।'''
* '''এই পৃথিবীতে যদি আলোচনা এবং বোঝার মতো কোনো বিষয় থাকে, তবে তা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা। এটি ছাড়া আমরা কেবল রঙিন কাদা। এটি ছাড়া আমরা দরিদ্র, দুর্দশাগ্রস্ত ভূমিদাস ও দাস।'''
* মস্তিষ্ক আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চিন্তা করে। '''আপনার কি সেই চিন্তা প্রকাশ করা উচিত? অন্যদের মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকলে আপনারও নিশ্চিতভাবে করা উচিত। আপনারও সম্পূর্ণ একই অধিকার রয়েছে। যে ব্যক্তি আপনার কাছ থেকে এটি কেড়ে নেয়, সে একজন ডাকাত।'''
* '''হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ জোর করে অন্যদের নিজেদের মতো চিন্তা করাতে চেয়েছে। তারা কি সফল হয়েছে? না। তারা কি সফল হবে? না। কেন? কারণ পাশবিক বল কোনো যুক্তি হতে পারে না।'''
* কোনো গোঁড়া চার্চ কখনোই এমন ক্ষমতা পায়নি যা দিয়ে তারা জোর করে এবং আগুন দিয়ে মানুষকে নিজেদের মতো চিন্তা করাতে চায়নি।
* মানুষকে একভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করার জন্য পৃথিবীতে কী করা হয়েছে, তা আমি আপনাদের বোঝাতে চাই। '''আমার মনে হয় যদি এমন কোনো অসীম সত্তা থাকেন যিনি চান আমরা একভাবে চিন্তা করি, তবে তিনি আমাদের একই রকম তৈরি করতেন।''' তিনি কেন তা করলেন না? তিনি কেন আপনার মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি করলেন যাতে আপনি কোনোভাবেই একজন মেথডিস্ট হতে না পারেন? কেন তিনি আপনারটি এমনভাবে তৈরি করলেন যাতে আপনি ক্যাথলিক হতে না পারেন? আর তিনি কেন অন্যজনের মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি করলেন যাতে সে অবিশ্বাসী হয়ে যায়? কেন তিনি অন্যজনের মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি করলেন যাতে সে মুসলমান হয়ে যায়? যদি তিনি চাইতেন যে আমরা সবাই একই রকম বিশ্বাস করি? <br> সর্বোপরি, সম্ভবত '''প্রকৃতি যথেষ্ট ভালো, মহান এবং বিশাল, যা আমাদের স্বাধীনতার জন্ম দেওয়া বৈচিত্র্য প্রদান করে।''' সর্বোপরি, আমাদের সবার জন্য অন্য সবার কথায় সায় দেওয়া হয়তো সবচেয়ে ভালো হতো না। সবাই যদি সবার কথায় হ্যাঁ বলত, তবে পৃথিবীটা কত বোকা হয়ে যেত। <br> '''এই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাধীনতা। খাদ্য, পোশাক, সোনা, বাড়ি বা জমির চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পকলা বা বিজ্ঞানের চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সব ধর্মের চেয়ে মানুষের স্বাধীনতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'''
* '''প্রতিটি যুগে চার্চ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন সে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করেছে? সব সময় ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে, যুক্তির বিরুদ্ধে এবং মুক্তবাকের বিরুদ্ধে আইন তৈরি করে। আর এমন কোনো আইন কখনো ছিল না যা সেই বইটিকে কলঙ্কিত করেনি যেখানে এটি লেখা ছিল এবং যা এটি পাস করা মানুষদের বর্বরতায় প্রত্যয়ন করেনি।'''
* একটি আইন তৈরি করে এবং ধর্ম অবমাননার সংজ্ঞা দিয়ে চার্চ আলোচনা রোধ করতে চেয়েছে, যুক্তি রোধ করতে চেয়েছে এবং মানুষকে তার সৎ মতামত দেওয়া থেকে বিরত রাখতে চেয়েছে। নিশ্চিতভাবেই '''একটি মতবাদ বা ধর্মবিশ্বাস তখনই নিরাপদ থাকে, যখন এটি এমন একটি আইন দ্বারা ঘেরা থাকে যা আপনাকে এর বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধা দেয়। দাসত্বের নীরবতায় এর অস্তিত্ব থাকে। ঠোঁট তালাবদ্ধ থাকে বলেই এটি বেঁচে থাকে।''' মানুষ দাস বলেই এটি বেঁচে থাকে।
* '''আমি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এটাই আমার ধর্ম। আমি নিজের জন্য যেসব অধিকার দাবি করি, অন্য সবার জন্যও তা সমানভাবে নিশ্চিত করতে চাই। আমি অন্য কাউকে অধিকার প্রদান করি না, বরং ঘোষণা করি যে আমার প্রতিটি মতবাদ আক্রমণ করার এবং আমার প্রতিটি যুক্তির জবাব দেওয়ার অধিকার তার রয়েছে। অর্থাৎ, তার নিরঙ্কুশ বাকস্বাধীনতা থাকতে হবে।'''
* আমি যাকে "বুদ্ধিবৃত্তিক আতিথেয়তা" বলি, আমি তাতে বিশ্বাসী। একজন মানুষ আপনার দরজায় এল। আপনি যদি একজন ভদ্রলোক হন এবং তাকে ভালো মানুষ মনে হয়, তবে আপনি হাসিমুখে তাকে গ্রহণ করবেন। আপনি তার স্বাস্থ্যের খবর জিজ্ঞাসা করবেন। আপনি বলবেন: "একটি চেয়ার নিন; আপনি কি তৃষ্ণার্ত, আপনি কি ক্ষুধার্ত, আপনি কি আমার সাথে রুটি খাবেন না?" একজন অতিথিপরায়ণ ভালো মানুষ এটাই করে, সে তার ওপর কুকুর লেলিয়ে দেয় না। এখন, একটি নতুন চিন্তাকে আমাদের কীভাবে গ্রহণ করা উচিত? আমি বলি যে মস্তিষ্ককে অতিথিপরায়ণ হতে হবে এবং নতুন চিন্তাকে বলতে হবে: "ভেতরে এসো; বসো; আমি তোমাকে জেরা করতে চাই; আমি জানতে চাই তুমি ভালো নাকি খারাপ; যদি ভালো হও, থাকো; যদি খারাপ হও, আমি তোমাকে আঘাত করতে চাই না, সম্ভবত তুমি ভাবছ তুমি ঠিক আছ, কিন্তু তোমার সঙ্গের চেয়ে তোমার চলে যাওয়াই ভালো, এবং আমি তোমার জায়গায় অন্য একটি ধারণা গ্রহণ করব।"
* যে মানুষ চিন্তা করেছে, সে কেবল জানে না যে সে কতটা কম জানে, বরং সে এটাও জানে যে অন্য প্রতিটি মানুষ কতটা কম জানে এবং সর্বোপরি, পৃথিবী কতটা অজ্ঞ হতে পারে।
* এখন, ভদ্রমহোদয়গণ, ধর্ম অবমাননা কী? অবশ্যই কেউ জানে না এটি কী, যদি না সে বিবেচনা করে যে সে কোথায় আছে। '''এক দেশে যা ধর্ম অবমাননা, অন্য দেশে তা ধর্মীয় উপদেশ হতে পারে। এটি নির্ভর করে আপনি কোথায় আছেন এবং কারা ক্ষমতায় আছে তার ওপর।''' আমেরিকান খ্রিষ্টানদের ধৃষ্টতা এবং গোঁড়ামির দিকে আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আমরা অন্য দেশগুলোতে মিশনারি পাঠাই। কী কারণে? তাদের ধর্ম মিথ্যা, তাদের দেবতারা পৌরাণিক এবং দানব, তাদের ত্রাণকর্তা এবং প্রেরিতরা ভণ্ড এবং আমাদের ধর্ম সত্য, তা তাদের বলার জন্য। আপনি মরিসটাউন থেকে একজন প্রেসবাইটেরিয়ানকে তুরস্কে পাঠান। সে সেখানে গিয়ে মুসলমানদের বলে এবং তার কাছে এটি একটি প্রচারপত্রে লেখা থাকে এবং সে তা বিতরণ করে যে, কোরান একটি মিথ্যা, মুহাম্মদ ঈশ্বরের নবী ছিলেন না, গ্যাব্রিয়েল ফেরেশতা এত বড় নন যে তার চোখের মধ্যে চারশো লিগ দূরত্ব রয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ভুল, এত বড় ফেরেশতা কখনোই ছিল না। তখন মুসলমানরা কী করবে? ধরুন তুর্কিদের নিউ জার্সির এই আইনের মতো একটি আইন ছিল। তারা মরিসটাউনের মিশনারিকে জেলে ঢোকাচ্ছে এবং সে বাড়িতে খবর পাঠাচ্ছে, তখন মরিসটাউনের মানুষ কী বলবে? সত্যি করে বলুন তো, আপনি কী মনে করেন তারা কী বলবে? তারা বলবে, "দেখো ওই বেচারা, অসভ্য মানুষগুলোকে। আমরা সত্যে সজ্জিত একজন মানুষকে সেখানে পাঠিয়েছি, অথচ তারা তাদের মূর্তিপূজার ধর্মে এতটাই অন্ধ, কুসংস্কারে এতটাই ডুবে আছে যে, তারা সত্যিই ওই লোকটিকে জেলে পাঠিয়েছে।" ভদ্রমহোদয়গণ, এটি কি আরও মিশনারির প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে না? আমি বলব, হ্যাঁ।
* '''যদি আপনি কেবল একটি চিন্তাকে বন্দি করতে পারতেন, তবে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বৈরাচার সফল হতে পারত। আপনি যদি কেবল একটি যুক্তিকে দাগকাটা পোশাক পরাতে পারতেন, আপনি যদি একটি ভালো ও উজ্জ্বল তথ্যকে অজ্ঞতার অন্ধকূপে আটকে রাখতে পারতেন, যাতে তার আলো আর কখনো মানুষের মনে প্রবেশ করতে না পারে, তবে আপনি মানবপ্রগতি থামাতে সফল হতে পারতেন। অন্যথায়, না।'''
* '''"প্রত্যেক ব্যক্তি স্বাধীনভাবে সমস্ত বিষয়ে তার মতামত বলতে, লিখতে বা প্রকাশ করতে পারে এবং সেই অধিকার অপব্যবহারের জন্য দায়ী থাকবে।"''' এটি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি রাজ্যের সংবিধানে রয়েছে। '''এর উদ্দেশ্য হলো মানহানিকর শব্দগুলোকে আওতায় আনা। এমন একটি ক্ষেত্রে আওতায় আনা যেখানে একজন মানুষ বাকস্বাধীনতা উপভোগ করার ভান করে তার প্রতিবেশীকে মিথ্যাভাবে আক্রমণ করে বা অভিযুক্ত করে। অবশ্যই তাকে সেই অপব্যবহারের জন্য দায়ী করা উচিত।'''
* '''যেকোনো আইনের চেয়েও উচ্চতর একটি সংবিধান রয়েছে। যেকোনো সংবিধানের চেয়েও উচ্চতর একটি আইন রয়েছে। এটি মানববিবেকের আইন।''' মানুষের মতো মানুষ কোনো আইনসভার আদেশে তার বিবেককে কলুষিত ও দূষিত করবে না। '''সবকিছুর ঊর্ধ্বে একজনকে তার আত্মসম্মান বজায় রাখতে হবে এবং তা করার একটাই উপায় আছে, তা হলো আপনার সর্বোচ্চ আদর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করা।'''
* '''মানুষের তৈরি আইনের চেয়েও উচ্চতর একটি আইন রয়েছে। এই দরিদ্র পৃথিবীতে বাস্তব সত্যগুলো এবং নির্দিষ্ট কাজের চূড়ান্ত পরিণতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এই উচ্চতর আইন হলো প্রগতির নিশ্বাস এবং সভ্যতার প্রসারিত ডানা, যার অধীনে আমরা আমাদের স্বাধীনতা উপভোগ করি।''' এটি মনে রাখবেন। কখনো কোনো আইনসভা এত মহান হয়নি, '''কখনো কোনো সংবিধান এত পবিত্র হয়নি, যা একজন সভ্য মানুষকে একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ এবং তার স্বাধীনতার মাঝখানে দাঁড়াতে বাধ্য করতে পারে। কখনো কোনো সংবিধান এত মহান হয়নি যা আমাকে কোনো মানুষ এবং তার সৎ চিন্তা প্রকাশ করার অধিকারের মাঝখানে দাঁড়াতে বাধ্য করতে পারে। এমন সংবিধান মানবাত্মার জন্য অপমানজনক।''' আমি একটি বন্য পশুর গর্জনের চেয়ে বেশি একে পরোয়া করব না।
* '''আমি ঠিক এখানে বলতে চাই, অনেক মানুষ অন্য মানুষের ঈশ্বরকে অভিশাপ দিয়েছে।''' ক্যাথলিকরা প্রোটেস্ট্যান্টদের ঈশ্বরকে অভিশাপ দিয়েছে। প্রেসবাইটেরিয়ানরা ক্যাথলিকদের ঈশ্বরকে অভিশাপ দিয়েছে, তাদের মূর্তিপূজার জন্য অভিযুক্ত করেছে, তাদের মূর্তিগুলোকে অভিশাপ দিয়েছে এবং তাদের অনুষ্ঠান নিয়ে হেসেছে। বিশ্বের সব ধর্মের মধ্যেই এই প্রশংসা বিনিময় করা হয়েছে। তবে আমি আজ এখানে বলছি যে '''উন্মাদ ছাড়া কোনো মানুষ কখনো তার বিশ্বাস করা ঈশ্বরকে অভিশাপ দেয়নি। কোনো মানুষ কখনো তার নিজের ঈশ্বরের ধারণাকে অভিশাপ দেয়নি। সে সবসময় অন্য কারও ধারণাকে অভিশাপ দেয়। কোনো মানুষ এখনো তার বিশ্বাস অনুযায়ী অসীম প্রজ্ঞা এবং অসীম মঙ্গলকে অভিশাপ দেয়নি এবং আপনারা তা জানেন।''' এই জুরির প্রতিটি মানুষ তা জানে। সে অনুভব করে যে এটি অবশ্যই একটি পরম নিশ্চিত বিষয়। তাহলে তারা কী অভিশাপ দিয়েছে? এমন কোনো ঈশ্বরকে যা তারা বিশ্বাস করত না। শুধু এতটুকুই। একজন মানুষের কি সেই অধিকার আছে? আমি বলি, হ্যাঁ। জুপিটার সম্পর্কে তার মতামত দেওয়ার অধিকার তার আছে এবং মরিসটাউনে এমন কেউ নেই যে তাকে সেই অধিকার অস্বীকার করবে। কিন্তু কয়েক হাজার বছর আগে জুপিটারকে অভিশাপ দেওয়া তার জন্য খুব বিপজ্জনক হতো। অথচ জুপিটার তখন যতটা শক্তিশালী ছিল, এখনো ঠিক ততটাই শক্তিশালী, কিন্তু রোমানরা এখন শক্তিশালী নয় এবং জুপিটারের ক্ষেত্রে এতটুকুই বলার আছে। রোমানরা। <br> তাই এমন একটা সময় ছিল যখন আপনি গ্রিকদের দেবতা জিউসকে অভিশাপ দিতে পারতেন এবং সক্রেটিসের মতো তারা আপনাকে হেমলক পান করতে বাধ্য করত। অথচ এখন সবাই এই দেবতাকে অভিশাপ দিতে পারে। কেন? দেবতা কি মারা গেছেন? না। তিনি আগের মতোই বেঁচে আছেন। তাহলে কী ঘটেছে? গ্রিকরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। শুধু এতটুকুই। আমাদের এখানকার সব চার্চেও এমনটাই হয়। যখনই কোনো চার্চ সংখ্যালঘুতে থাকে, তখন এটি মুক্তবাকের জন্য সোচ্চার হয়। এটি যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তখন না। আমি বিশ্বাস করি না বিশ্বের ইতিহাস দেখাবে যে কোনো গোঁড়া চার্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার পর বিশ্বের স্বাধীন ঠোঁটের মুখোমুখি হওয়ার সাহস পেয়েছিল। এটি কনস্টেবলের জন্য লোক পাঠায়। আর এটা কি বিস্ময়কর নয় যে তারা সর্বজনীন ক্ষমার বাণী প্রচার করার সময় এমনটা করে? যখন তারা বলে, "যদি কেউ তোমার এক গালে আঘাত করে তবে তাকে অন্য গালটিও বাড়িয়ে দাও। কিন্তু সে যদি তোমার ধর্ম নিয়ে হাসে, তবে তাকে কারাগারে পাঠাও"? এটাই কি মতবাদ? এটাই কি আইন?
* আমি কখনোই এমন কোনো ধর্ম মানব না যা আমি রক্ষা করতে পারব না, অর্থাৎ যা আমি রক্ষা করতে পারব বলে মনে করি না। আমি ভুল হতে পারি, কারণ কোনো মানুষ সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয় যে সে জানে। আমরা সবাই তা বুঝি। '''যে কারও ভুল হতে পারে। প্রতিটি ব্যক্তির দিগন্ত খুব সংকীর্ণ এবং তার দরিদ্র আকাশে তারা খুব কম এবং খুব ছোট।'''
* '''বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আপনি ভণ্ড তৈরি করতে পারেন। এমন মানুষ যারা দাঁত বের করে আপনার সাথে একমত হবে এবং মনে মনে আপনাকে ঘৃণা করবে। আমরা আর ভণ্ড চাই না।''' প্রতিটি সম্প্রদায়েই আমাদের যথেষ্ট ভণ্ড রয়েছে। '''আপনি কীভাবে আরও ভণ্ড হওয়া ঠেকাতে পারবেন? বাতাস মুক্ত রেখে এবং আপনাদের আইনের বই থেকে এর মতো করুণ ও জঘন্য আইনগুলো মুছে ফেলে।'''
* কেন, ভদ্রমহোদয়গণ, '''রসবোধ মানবমস্তিষ্কের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। এটি মনের মশাল, যা আলো ছড়ায়। রসবোধ হলো স্বাভাবিকতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সত্য যাচাইয়ের সবচেয়ে সহজ উপায়। একজন মানুষের থেকে সব রসবোধ কেড়ে নিলে সে কেবল একজন গোঁড়া ব্যক্তিতে পরিণত হবে।'''
* '''যেসব জিনিসকে হেসে এই পৃথিবী থেকে উড়িয়ে দেওয়া যায়, সেগুলো এখানে থাকা উচিত নয়।'''
* '''ধর্মগুলো এক দিনের জন্য। এগুলো মেঘের মতো। মানবতা হলো অনন্ত নীলিমা। ধর্মগুলো হলো সমুদ্রের ঢেউ। এই ঢেউগুলো নির্ভর করে বাতাসের শক্তি এবং দিকের ওপর, অর্থাৎ আবেগের ওপর। কিন্তু মানবতা হলো বিশাল সমুদ্র। আর তাই আমাদের ধর্মগুলো দিন দিন পরিবর্তিত হয় এবং এটা আশীর্বাদ যে তারা তা করে। কেন? কারণ আমরা বড় হচ্ছি এবং আমরা দিন দিন একটু বেশি সভ্য হচ্ছি।''' এবং '''যে মানুষ অন্য মানুষকে তার মতামত প্রকাশ করতে দিতে ইচ্ছুক নয়, সে সভ্য মানুষ নয়''', এবং আপনারা তা জানেন। '''যে মানুষ অন্য সবার জন্য সেই অধিকারগুলো দেয় না যা সে নিজের জন্য দাবি করে, সে সৎ মানুষ নয়।'''
* তাই আমি বলি, '''আসুন আমরা একে অপরকে আমাদের কাজ দিয়ে বিচার করি, তত্ত্ব দিয়ে নয়, আমরা কী বিশ্বাস করি তা দিয়ে নয়, কারণ এটি খুব বেশি নির্ভর করে আমরা কোথায় জন্মগ্রহণ করেছি তার ওপর।'''
* '''আপনি যদি আপনার প্রতিবেশীর মতামত জানতে চান, তবে আপনি তার সৎ মতামত চাইবেন। আপনি প্রতারিত হতে চাইবেন না। আপনি কোনো ভণ্ডের সাথে কথা বলতে চাইবেন না। আপনি সরাসরি তার সৎ মনের কথা জানতে চাইবেন। এবং তারপর আপনি তাকে বিচার করবেন, সে কী বলে তা দিয়ে নয় বরং সে কী করে তা দিয়ে।'''
* '''সংখ্যাগরিষ্ঠের সাথে চলা খুব সহজ। নৌকা যেদিকে যাচ্ছে সেদিকে চলা সহজ। স্রোতের সাথে ভাসা সহজ। কিন্তু যখন আপনি স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে যাবেন এবং তীরের মানুষরা আপনার দিকে পাথর ছুড়বে, তখন আপনি এই পৃথিবীতে প্রচুর ব্যায়াম করার সুযোগ পাবেন।'''
* '''আমাদের এখন জ্যোতির্বিজ্ঞান নামের একটি বিজ্ঞান আছে। সেই বিজ্ঞান অন্য সব কিছুর চেয়ে মানুষের চিন্তার দিগন্তকে প্রসারিত করতে বেশি সাহায্য করেছে।''' আমরা এখন একটি অসীম মহাবিশ্বে বাস করি। আমরা জানি যে সূর্য আমাদের পৃথিবীর চেয়ে দশ লাখ গুণ বড় এবং আমরা জানি যে আমাদের সূর্যের চেয়ে লাখ লাখ গুণ বড় অন্যান্য মহান জ্যোতিষ্ক রয়েছে। আমরা জানি যে এমন গ্রহ আছে যেগুলো এত দূরে যে আলো প্রতি সেকেন্ডে এক লাখ পঁচাশি হাজার মাইল বেগে ভ্রমণ করেও পৃথিবী নামক এই বালুকণা, এই চোখের জলে পৌঁছাতে পনেরো হাজার বছর সময় নেয়। আমরা এখন জানি যে মহাশূন্যের সব মাঠ নক্ষত্রমণ্ডলী দিয়ে ভরা। '''যদি সেই আইন কার্যকর করা হতো, তবে সেই বিজ্ঞান এখন মানুষের মনের সম্পদ হতো না। সেই বিজ্ঞান বাইবেলের পরিপন্থী এবং সত্য দাবি করার জন্য আপনি অপরাধী হয়ে যাবেন।''' কত টাকার বিনিময়ে, কত সম্পদের বিনিময়ে বিশ্ব মানুষের মস্তিষ্ক থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞান মুছে ফেলতে চাইবে? আমরা ওই আইন সত্ত্বেও তারার গল্প জেনেছি।
* আমি বুদ্ধিবৃত্তিক আতিথেয়তায় বিশ্বাস করি। আমি সেই মানুষদের ভালোবাসি যাদের মনে একটু দিগন্ত আছে, একটু আকাশ আছে, একটু সুযোগ আছে। আমি এমন কিছুকে ঘৃণা করি যা সংকীর্ণ এবং সংকুচিত, জীর্ণ এবং নিচু এবং হামাগুড়ি দেওয়া এবং যা ধুলোয় বেঁচে থাকতে ইচ্ছুক। আমি এমন একটি বায়ুমণ্ডল তৈরি করতে বিশ্বাস করি যেখানে সবকিছু প্রস্ফুটিত হবে। আমি শুভকামনা, সুস্বাস্থ্য, ভালো সাহচর্য, ভালো অনুভূতিতে বিশ্বাস করি এবং যদি পৃথিবীতে বা স্বর্গে কোনো ঈশ্বর থাকেন, আসুন আশা করি যে তিনি উদার এবং মহান হবেন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না এর প্রভাব কী হবে? আপনি মেথডিস্ট বলে আমি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছি না, আপনি ক্যাথলিক বলে আমি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছি না, বা আপনি অবিশ্বাসী বলে আমি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছি না। একজন ভালো মানুষ এসবের চেয়েও বড়। '''সবচেয়ে মহৎ কাজ হলো সর্বোচ্চ এবং শ্রেষ্ঠ অর্থে একজন মানুষ হওয়া।'''
* অভিযুক্ত ব্যক্তির এই অভিযোগপত্রে উল্লেখিত প্রতিটি শব্দ বলার অধিকার ছিল। তার নিজের সৎ চিন্তা প্রকাশ করার অধিকার ছিল, তার কথার সাথে অন্য কোনো মানুষ একমত হোক বা না হোক, এবং সে যেভাবে কথাগুলো বলেছে তা অন্য কেউ সমর্থন করুক বা না করুক। আমি তার কথা বলার অধিকার রক্ষা করি, সে যা বলেছে তাতে আমার বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, অথবা তার কথার যৌক্তিকতা থাকুক বা না থাকুক। আমার মতবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা কোনো মানুষকে আমি ঠিক ততটাই আনন্দের সাথে রক্ষা করব, যতটা আমার সময়ের জনপ্রিয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলা কাউকে করতাম। আমার বিশ্বাসের ওপর আক্রমণ কতটা অন্যায্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চতুর ছিল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আর যে বিশ্বাসের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে তা কতটা পবিত্র তাতেও কিছু আসে যায় না, '''আমি বাকস্বাধীনতা রক্ষা করব। আর কেন? কারণ কোনো আক্রমণের জবাব শক্তি প্রয়োগ করে দেওয়া যায় না, কোনো যুক্তিকে আঘাত, কারাবাস বা জরিমানার মাধ্যমে খণ্ডন করা যায় না। আপনি মানুষটিকে বন্দি করতে পারেন, কিন্তু যুক্তি মুক্ত; আপনি মানুষটিকে মাটিতে ফেলে দিতে পারেন, কিন্তু তার বক্তব্য টিকে থাকে।'''
* এই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু বিশ্বাসকে আক্রমণ করেছে, যা খ্রিষ্টান বিশ্ব পবিত্র বলে মনে করে। তবুও, সর্বোপরি, '''সত্য ছাড়া আর কিছুই পবিত্র নয়, এবং সত্য বলতে আমি বুঝি একজন মানুষ যা আন্তরিক ও সততার সাথে বিশ্বাস করে।'''
* '''পৃথিবীতে বা মানুষের কল্পনায় এমন কোনো নিখুঁত চিত্র নেই, যেখানে একজন মা তার রোমাঞ্চিত ও আনন্দিত কোলে ভালোবাসার ফলস্বরূপ একটি সন্তানকে জড়িয়ে ধরে আছেন।'''
* কল্পনা, বসন্তের আবহের মতো, পৃথিবীর প্রতিটি বীজকে স্বর্গের নীলিমা খোঁজার আহ্বান জানায় এবং মুকুল, ফুল ও ফলের ফিসফিসানি শোনায়। '''কল্পনা চিন্তার প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে রসদ সংগ্রহ করে এবং অনেক জীবনের সম্পদ একজনের কোলে ঢেলে দেয়।'''
* সর্বোপরি, '''সহানুভূতি হলো প্রতিভা। যে মানুষটি সত্যিই অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল, সে তাকে বুঝতে পারে। যে মানুষ কোনো ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল, সে তাৎক্ষণিকভাবে তার ভেতরের ভালো দিকটি দেখতে পায়, এবং যে মানুষ সত্যের প্রতি সহানুভূতিশীল, সে একটি মতবাদের ভেতরে থাকা মন্দ দিকটি দেখতে পায়।'''
* '''মানুষের অধিকার সংরক্ষণের জন্য, মানুষের সুরক্ষার জন্য তৈরি কোনো আইন চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার জন্য বেশি দিন ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। কিন্তু যে আইন মানুষের কোনো স্বাভাবিক অধিকার কেড়ে নেয়, সেই আইন যদি ঘুমিয়ে পড়ে তবে তা আর জাগে না, তা মৃত্যুর ঘুমে ঘুমিয়ে থাকে।'''
* যখন কোনো আইন ব্যক্তিগত অধিকারে হস্তক্ষেপ করে, তখন রাষ্ট্রের কখনোই একে নিষ্ক্রিয় হতে দেওয়া উচিত নয়। যখন এটি বৃহত্তর জনসাধারণের অধিকারকে আক্রমণ করে এবং একে সুপ্ত অবস্থায় চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তখন কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে একে আর জাগানো যায় না।
* যাইহোক, এটুকু বলাই যথেষ্ট হতে পারে যে, যেখানেই গির্জার ক্ষমতা ছিল, সেখানেই যেকোনো মানুষের জন্য তার সৎ চিন্তা প্রকাশ করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। কোনো গির্জাই কখনো চায়নি যে কোনো বিরোধী তার মনের কথা প্রকাশ করুক। ক্ষমতায় থাকা প্রতিটি গির্জাই তাদের মতবাদ টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে পাশবিক শক্তি বা তলোয়ারের আশ্রয় নিয়েছে। কারোরই খোলা মাঠে দাঁড়ানোর সাহস ছিল না। গির্জা কেবল নাস্তিক ও অবিশ্বাসীদের ঈশ্বরনিন্দুক বলেই সন্তুষ্ট হয়নি। প্রতিটি গির্জাই প্রায় অন্যান্য সব গির্জাকে ঈশ্বরনিন্দুক হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। প্রতিটি পথপ্রদর্শককে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যাথলিকরা [[মার্টিন লুথার]]কে ঈশ্বরনিন্দুক বলেছিল, এবং মার্টিন লুথার [[কোপার্নিকাস]]কে ঈশ্বরনিন্দুক বলেছিলেন। ধার্মিক অজ্ঞতা সবসময় বুদ্ধিমত্তাকে এক ধরনের ঈশ্বরনিন্দা হিসেবে বিবেচনা করে। বিশ্বের সেরা কয়েকজন মানুষ, সেরা কয়েকজনকে ঈশ্বরনিন্দার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, অর্থাৎ, তাদের সহকর্মী মানুষের উপকার করার চেষ্টার অপরাধে।
* যতদিন গির্জার মানুষের মুখ বন্ধ করার ক্ষমতা থাকবে, ততদিনই এই বিশ্বকে কুসংস্কার শাসন করবে, এর বেশি নয়।
* '''ঈশ্বরনিন্দা হলো সেই শব্দ যা সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের কানে ফিসফিস করে বলে।'''
* '''ঈশ্বরনিন্দা হলো একটি নতুন আবিষ্কৃত সত্য সম্পর্কে একটি পুরনো ভুলের মন্তব্য।''' <br> ঈশ্বরনিন্দা হলো এই বছরের মুকুল সম্পর্কে গত বছরের একটি শুকনো পাতার মন্তব্য। <br> '''ঈশ্বরনিন্দা হলো ধর্মীয় কুসংস্কারের প্রাচীর।''' <br> ঈশ্বরনিন্দা হলো হৃদয়হীনদের বর্ম। <br> এবং এখন আমাকে বলতে দিন যে, এই আইনে ঈশ্বরনিন্দার অপরাধ যেমন উল্লেখ করা হয়েছে তা অসম্ভব। '''কোনো মানুষ একটি বইয়ের ঈশ্বরনিন্দা করতে পারে না। কোনো মানুষ তার সৎ চিন্তার কথা বলে ঈশ্বরনিন্দা করতে পারে না। কোনো মানুষ ঈশ্বর, বা পবিত্র আত্মা, বা ঈশ্বরের পুত্রের ঈশ্বরনিন্দা করতে পারে না। অসীমের ঈশ্বরনিন্দা করা যায় না।'''
* ঈশ্বরনিন্দা কী? আমি আপনাকে একটি সংজ্ঞা দেব; আমি এই বিষয়ে আমার চিন্তা তুলে ধরব। '''প্রকৃত ঈশ্বরনিন্দা কী? <br> অন্য মানুষের অবৈতনিক শ্রমের ওপর বেঁচে থাকা ঈশ্বরনিন্দা। <br> আপনার সহকর্মীকে দাস বানানো, তার শরীরে শিকল পরানো ঈশ্বরনিন্দা। <br> মানুষের মনকে দাস বানানো, মগজে হাতকড়া পরানো, ঠোঁটে তালা লাগানো ঈশ্বরনিন্দা। <br> আপনি যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন তা অস্বীকার করা, যাকে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করেন তা সত্য বলে স্বীকার করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> অজ্ঞ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনতার হাততালি পাওয়ার জন্য দুর্বল ও অরক্ষিতদের আঘাত করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> অজ্ঞ সংখ্যাগরিষ্ঠের নির্দেশে বুদ্ধিমান সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> আপনার সৎ সহকর্মীদের জন্য শিকল তৈরি করা, অন্ধকূপ নির্মাণ করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> চিরন্তন যন্ত্রণার মতবাদ দিয়ে শিশুদের আত্মাকে দূষিত করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> আপনার বিবেক লঙ্ঘন করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> যে জুরি অন্যায় রায় দেয়, এবং যে বিচারক অন্যায় শাস্তি ঘোষণা করে, তারা ঈশ্বরনিন্দুক। <br> যে ব্যক্তি তার ভালো বিচারবোধ এবং সৎ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে জনমতের কাছে মাথানত করে, সে ঈশ্বরনিন্দুক।''' <br> আমাদের সহকর্মীদের কেন ভয় পাওয়া উচিত? চিন্তা ও তার প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের কেন সমগ্র বিশ্বের সমান অধিকার থাকবে না? চিন্তার সৎ আদান-প্রদান থেকে কী ক্ষতি হতে পারে?
* আমি আপনাকে ঈশ্বরনিন্দার সংজ্ঞা দিয়েছি, আর এখন প্রশ্ন ওঠে, উপাসনা কী? '''উপাসক কে? প্রার্থনা কী? প্রকৃত ধর্ম কী? আমাকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে দিন। <br> ভালো, সৎ ও বিশ্বস্ত কাজই হলো উপাসনা।''' যে মানুষ মাঠে লাঙল চাষ করে ও বন কাটে; যে মানুষ খনিতে কাজ করে, যে মানুষ বিশাল সমুদ্রে বাতাস ও ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে বিশ্বের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে; এই মানুষেরা উপাসক। যে মানুষ তার স্ত্রীকে হাত ধরে বনে নিয়ে যায়, যে তার জন্য একটি কুঁড়েঘর বানায়, যে প্রান্তরে একটি বাড়ি তৈরি করে, যে একটি মহাদেশকে জনবহুল, সভ্য ও আবাদ করতে সাহায্য করে, সে একজন উপাসক। <br> '''শ্রমই একমাত্র প্রার্থনা যার উত্তর প্রকৃতি দেয়; এটিই একমাত্র প্রার্থনা যা উত্তরের যোগ্য ভালো, সৎ, মহৎ কাজ।''' যে নারীর স্বামী নর্দমায় নেমে গেছে, অবক্ষয় ও নোংরামিতে নেমে গেছে; যে নারী তাকে অনুসরণ করে এবং কাদা থেকে তুলে এনে তার মহৎ হৃদয়ে জড়িয়ে ধরে, যতক্ষণ না সে পুনরায় মানুষ হয়, এই নারী একজন উপাসক। তার কাজই উপাসনা। <br> যে গরিব মানুষ ও নারী দিনরাত কাজ করে যেন তারা তাদের সন্তানদের শিক্ষা দিতে পারে, যাতে তারা তাদের বাবা-মায়ের চেয়ে ভালো জীবন পায়; যে বাবা-মা জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য থেকে নিজেদের বঞ্চিত করে যেন তারা তাদের সন্তানদের উচ্চতর স্থানে যেতে সাহায্য করার জন্য কিছু জমাতে পারে তারা উপাসক; এবং যে সন্তানরা এই উপাসনার সুফল ভোগ করার পর তাদের বাবা-মায়ের জন্য লজ্জিত হয়, তারা ঈশ্বরনিন্দুক। <br> '''যে মানুষটি তার অসুস্থ স্ত্রীর বিছানার পাশে বসে থাকে, যে স্ত্রী সময়ের আগেই বৃদ্ধ ও ধূসর হয়ে গেছে, যে স্বামী তার বিছানার পাশে বসে তার পাতলা, ফ্যাকাশে হাতটি ঠিক ততটাই স্নেহের সাথে ধরে রাখে এবং ততটাই আনন্দে ও আবেগের সাথে চুম্বন করে যতটা টোলপড়া অবস্থায় করত সেটাই উপাসনা; সেই মানুষটি একজন উপাসক; সেটাই প্রকৃত ধর্ম।'''
* '''যে মানুষের [[আনন্দ]] বাড়ায়, সে একজন উপাসক। যে মানুষের [[দুর্দশা]] বাড়ায়, সে একজন ঈশ্বরনিন্দুক।'''
* '''ভদ্রমহোদয়গণ, আপনারা আমাকে কখনোই বিশ্বাস করাতে পারবেন না কোনো আইনই আমাকে কখনো বোঝাতে পারবে না যে, এই মহাবিশ্বে এমন কোনো অসীম সত্তা আছে যে একজন সৎ মানুষকে ঘৃণা করে। আমার পক্ষে এটি বিশ্বাস করা অসম্ভব যে এমন কোনো ঈশ্বর আছে, বা থাকতে পারে, যে এমন কোনো আত্মাকে ঘৃণা করে যার নিজের চিন্তা প্রকাশ করার সাহস আছে।''' কোনো মানুষের প্রতি সৎ হওয়ার জন্য তাকে এই পৃথিবীতে বা পরকালে শাস্তি দেওয়া উচিত, এই কথাটিও পুরো বিশ্ব আমাকে বোঝাতে পারবে না। '''যদি আপনারা মানুষদের তাদের চিন্তা প্রকাশ করার জন্য, তাদের সঙ্গীদের আলোকিত করার চেষ্টার জন্য কারাগারে পাঠান, তবে কারাগার একটি সম্মানের জায়গা হয়ে উঠবে, এবং শিকার সেখান থেকে দাগী বা কলঙ্কিত হয়ে নয়, বরং গৌরবের পোশাকে আচ্ছাদিত হয়ে বেরিয়ে আসবে।''' <br> আসুন আমরা আরও এক ধাপ এগোই। <br> '''পবিত্র কী? আমি উত্তর দিই যে মানুষের সুখ পবিত্র, মানুষের অধিকার পবিত্র। মানুষের শরীর ও আত্মা এগুলো পবিত্র। মানুষের স্বাধীনতা যেকোনো বইয়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ; মানুষের অধিকার যেকোনো ধর্মের চেয়ে পবিত্র যেকোনো ধর্মগ্রন্থের চেয়ে, তা অনুপ্রাণিত হোক বা না হোক।''' <br> আমরা সত্য চাই, এবং কেউ কি মনে করে যে সমস্ত সত্য একটি বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ পুরো বিশ্বের রহস্য একটি খণ্ডে ব্যাখ্যা করা হয়েছে? <br> যা কিছু আছে যা মানুষকে তথ্য দেয় যা অতীত দ্বারা উৎপাদিত হয়েছে যা এখন বিদ্যমান সবকিছু একজন বুদ্ধিমান মানুষের বিবেচনা করা উচিত। এই বিশ্বের সমস্ত জানা সত্য সমস্ত দর্শন, সমস্ত কবিতা, সমস্ত চিত্রকর্ম, সমস্ত মূর্তি, সমস্ত চিত্তাকর্ষক সংগীত শিশুদের আধো বোল, মায়েদের ঘুমপাড়ানি গান, সৎ মানুষের কথা, কর্তব্যের ডাক এসব মিলিয়ে বিশ্বের বাইবেল তৈরি করে। যা কিছু মহৎ, সত্য এবং মুক্ত, আপনি এই মহান বইটিতে পাবেন। <br> '''যদি আমরা নিজেদের প্রতি সত্য হতে চাই, যদি আমরা আমাদের সহকর্মী মানুষের উপকার করতে চাই যদি আমরা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে চাই তবে আমরা প্রতিটি মানুষকে সেই সমস্ত অধিকার দেব যা আমরা নিজেদের জন্য দাবি করি।'''
* '''যে গির্জা কোনো মানুষকে কেবল এই কারণে কারাবন্দি করে যে সে এর মতবাদের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছে, তা বিশ্বকে কেবল এটাই বোঝাবে যে তারা সেই যুক্তির উত্তর দিতে পারে না।'''
* '''চোখের কাছে যেমন আলো, হৃদয়ের কাছে যেমন ভালোবাসা, মানুষের আত্মার কাছে স্বাধীনতা ঠিক তেমনই। এটি ছাড়া দমবন্ধ অবস্থা, অবক্ষয় এবং মৃত্যু নেমে আসে।'''
* '''স্বাধীনতা হলো অগ্রগতির শর্ত। স্বাধীনতা ছাড়া কেবল অসভ্যতাই অবশিষ্ট থাকে। স্বাধীনতা ছাড়া কোনো সভ্যতা থাকতে পারে না।''' <br> যদি অন্য কোনো মানুষের চিন্তা করার অধিকার না থাকে, তবে সে ভুল চিন্তা করছে এমনটি ভাবার অধিকারও আপনার নেই। যদি প্রত্যেক মানুষের চিন্তা করার অধিকার না থাকে, তবে নিউ জার্সির জনগণের কোনো আইন তৈরি করার বা কোনো সংবিধান গ্রহণ করার অধিকার ছিল না কোনো জুরির রায় দেওয়ার অধিকার নেই, এবং কোনো আদালতের শাস্তি দেওয়ার অধিকার নেই। <br> অন্য কথায়, চিন্তার স্বাধীনতা ছাড়া কোনো মানুষের বিচার করার অধিকার নেই। '''স্বাধীনতা ছাড়া প্রকৃত ধর্ম বলে কিছু থাকা অসম্ভব। স্বাধীনতা ছাড়া বিবেক বলতে কিছু থাকতে পারে না, ন্যায়বিচার নামের কোনো শব্দ থাকতে পারে না। সমস্ত মানবীয় কাজ ভালো ও মন্দ সবকিছুরই ভিত্তি হলো মানব স্বাধীনতার ধারণা, আর স্বাধীনতা ছাড়া কোনো পাপ থাকতে পারে না, এবং কোনো পুণ্যও থাকতে পারে না। <br> স্বাধীনতা ছাড়া কোনো উপাসনা, কোনো ঈশ্বরনিন্দা কোনো ভালোবাসা, কোনো ঘৃণা, কোনো ন্যায়বিচার, কোনো অগ্রগতি থাকতে পারে না। <br> মানুষের ভাষা থেকে স্বাধীনতা শব্দটি সরিয়ে নিন এবং অন্যান্য সমস্ত শব্দ দরিদ্র, শুষ্ক, অর্থহীন শব্দে পরিণত হবে। কিন্তু সেই শব্দটি উপলব্ধি করলে সেই শব্দটি বুঝতে পারলে বিশ্ব একটি স্বর্গে পরিণত হয়।'''
==='রোম, অর রিজন? আ রিপ্লাই টু কার্ডিনাল ম্যানিং। পার্ট ১। ''দ্য নর্থ আমেরিকান রিভিউ'' (১৮৮৮)===
* সংখ্যাগরিষ্ঠরা সবসময় সঠিক হয় না। যদি কিছু জানা যায় যদি কিছু জানা সম্ভব হয় আমরা নিশ্চিত যে মানুষের বিশাল দল অনেক সময় ভুল করেছে।
* মানবজাতির অগ্রগতিতে সংখ্যালঘুরাই সঠিকের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকেছে। এমন অনেক শতাব্দী ছিল যেখানে মনে হতো আলো কেবল মুষ্টিমেয় মানুষের কাছ থেকে আসছে, যখন বাকি বিশ্ব অন্ধকারে ডুবে ছিল। কোনো এক মহান মানুষ পথ দেখান তিনি হয়ে ওঠেন ভোরের তারা, আগত দিনের নবী। পরবর্তীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ তার দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। কিন্তু এর ওপরে এবং বাইরে আরও উচ্চতা রয়েছে; সেখানে অন্যান্য পথপ্রদর্শক রয়েছেন, এবং নতুনের তুলনায় পুরনো দিন রাতে পরিণত হয়। তাই আমরা বলতে পারি না যে সাফল্য ঐশ্বরিক উৎস বা অতিপ্রাকৃত সহায়তা প্রমাণ করে।
* যাইহোক, বাস্তবে কোনো গির্জাই সবকিছু তার বিপক্ষে রেখে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। কিছু একটা এর অনুকূলে থাকে, নয়তো এর অস্তিত্ব থাকত না। যদি এটি সফল হয় এবং বৃদ্ধি পায়, তবে এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে পরিস্থিতি অনুকূল। যদি এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তবে এটি কেবল এটাই দেখায় যে পরিস্থিতি অত্যন্ত অনুকূল, এবং বিরোধী শক্তিগুলো দুর্বল ও সহজে পরাজিত হওয়ার মতো।
* সম্ভবত এটি বলা নিরাপদ যে এক সময়, বা মানুষের বিকাশের একটি পর্যায়ে, সবকিছুই অলৌকিক ছিল। কিছুক্ষণ পর, মন ধীরে ধীরে বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে একই পরিস্থিতিতে ঘটা নির্দিষ্ট কিছু ঘটনাকে 'প্রাকৃতিক' বলা হতো, এবং কেউ কোনো বিশেষ হস্তক্ষেপ সন্দেহ করত না। অলৌকিকতার ক্ষেত্র ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে আর প্রাকৃতিকের ক্ষেত্র বড় হয়; অর্থাৎ, সাধারণ জিনিস প্রাকৃতিক হয়ে যায়, কিন্তু অস্বাভাবিক জিনিসগুলো তখনও অলৌকিক বলে বিবেচিত হতো। সূর্য ওঠা এবং অস্ত যাওয়া মানুষের বিস্ময় জাগানো বন্ধ করে দেয় এতে অলৌকিক কিছু ছিল না; কিন্তু সূর্যগ্রহণ ছিল অলৌকিক। মানুষ তখন জানত না যে গ্রহণ পর্যায়ক্রমিক, সূর্য ওঠার মতোই নির্দিষ্ট নিয়মে এটি ঘটে। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে অনেক প্রজন্মের বহু পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়েছিল। সাধারণ বৃষ্টি 'প্রাকৃতিক' হয়ে ওঠে, বন্যা 'অলৌকিক' থেকে যায়। '''তবে সবকিছু এই কথায় সংক্ষেপ করা যায়: সাধারণ মানুষ যা সচরাচর ঘটে তাকে প্রাকৃতিক এবং যা সচরাচর ঘটে না তাকে অতিপ্রাকৃত মনে করে। শিক্ষিত মানুষ আর শিক্ষিত বলতে আমি উন্নত মানুষকে বুঝি সে নিশ্চিত যে সমস্ত ঘটনাই প্রাকৃতিক, এবং অতিপ্রাকৃত বলে কিছু নেই বা থাকতে পারে না।'''
* সাধারণত, একজন মানুষ কতটা অহংকারী তা তার বুদ্ধিমত্তার অভাবের ওপর নির্ভর করে। জাতি এবং সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। '''অসভ্য মানুষ এতটাই অহংকারী হয় যে সে মনে করে কোনো অসীম সত্তা সারাক্ষণ তার জন্য কিছু করছে বা কিছু করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কিন্তু মানুষ যখন সভ্যতার মাপকাঠিতে ওপরে ওঠে, যখন সে সত্যিই মহান হয়, তখন সে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে প্রকৃতিতে কোনো কিছুই তার জন্য ঘটে না। সে এতটাই মহান নয় যে গ্রহের গতিবিধি ব্যাহত করতে পারে।'''
* ক্যাথলিক গির্জার সাফল্য কি একটি বিস্ময়? যদি এই গির্জার ঐশ্বরিক উৎস থাকে, যদি এটি কোনো অসীম সত্তার বিশেষ যত্ন, সুরক্ষা এবং নির্দেশনায় থাকে, তবে কি এর সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি বিস্ময়কর নয়? আঠারো শতাব্দী ধরে এটি নির্যাতন ও ধর্মপ্রচার করেছে, কিন্তু পৃথিবীর মুক্তি এখনও অনেক দূরে। এটাই হলো ফলাফল, এবং এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে ক্যাথলিক ধর্মে বিশ্বকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করার কোনো মূল্য আছে কি না।
* বাইবেল অনুযায়ী, প্রেরিতদের সমগ্র বিশ্বে গিয়ে সুসমাচার প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবুও তাদের কেউ, বা তাদের ধর্মান্তরিতদের কেউ, বা ঈশ্বরের কোনো প্রতিনিধিও পনেরোশো বছর পর্যন্ত পশ্চিম গোলার্ধের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানত না।
* হাজার হাজার 'সন্ত' মানবজাতির সবচেয়ে বিদ্বেষপূর্ণ মানুষ ছিলেন। বিশ্বের ইতিহাস যদি কিছু প্রমাণ করে, তবে তা প্রমাণ করে যে ক্যাথলিক গির্জা বহু শতাব্দী ধরে মানবজাতির মধ্যে বিদ্যমান সবচেয়ে নির্দয় প্রতিষ্ঠান ছিল।
* ক্যাথলিক ধর্মের বিরুদ্ধে আমার কোনো প্রোটেস্ট্যান্ট কুসংস্কার নেই, আর প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মের বিরুদ্ধেও আমার কোনো ক্যাথলিক কুসংস্কার নেই। আমি সব ধর্মকে হয় কোনো কুসংস্কার ছাড়াই অথবা একই কুসংস্কার নিয়ে বিবেচনা করি। '''আমার বিশ্বাস অনুযায়ী, এগুলো সবই মানুষের তৈরি, এবং সবগুলোরই ভিত্তি হলো এই বিশ্ব সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং পরকাল সম্পর্কে ভয়।''' সমস্ত ঈশ্বর মানুষেরই তৈরি। '''তারা সবাই সমান শক্তিশালী এবং সমান অকেজো।'''
* * এই গির্জা, যা 'সব ভালো জিনিসে ফলপ্রসূ', এমন সব অপরাধ আবিষ্কার করেছে যেন তারা শাস্তি দিতে পারে। এই গির্জা মানুষকে 'ধর্মদ্রোহিতার সন্দেহে' বিচার করেছে সন্দেহভাজন হওয়ার অপরাধে তাদের কারাবন্দি করেছে পৃথিবীতে তাদের যা কিছু ছিল সব কেড়ে নিয়ে অন্ধকূপে পচতে দিয়েছে, কারণ তারা কেবল সন্দেহভাজন হওয়ার অপরাধে দোষী ছিল। এটি ক্যানন লয়ের একটি অংশ ছিল। ক্যাথলিক গির্জার 'অজেয় স্থিতিশীলতা' নিয়ে কথা বলার সময় পার হয়ে গেছে।
* '''মানুষ নিশ্চিত হয়েছিল অজ্ঞ, বোকা এবং বিশ্বাসপ্রবণ হওয়ায় যে গির্জাই স্বর্গ ও নরকের চাবি ধারণ করে। মানুষের মধ্যে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়ংকর মানসিক স্বৈরাচারের ভিত্তি এভাবেই রচিত হয়েছিল।''' '''ক্যাথলিক গির্জা তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত মানুষকে দাসে পরিণত করেছিল।''' এটি সম্ভাব্য সব ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিল; এটি মানব হৃদয়ের প্রতিটি ভালো প্রবৃত্তি বিকৃত করেছিল; এটি প্রতিটি পাপকে পুরস্কৃত করেছিল; ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর জন্য এটি এমন কোনো চাতুরী বাদ দেয়নি যা চতুরতা দিয়ে উদ্ভাবন করা সম্ভব। এটি অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন করত; সাক্ষীদের মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার জন্য নির্যাতন করত; সন্তানদের দিয়ে বাবা-মাকে দোষী সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে শিশুদের নির্যাতন করত; এটি মানুষকে তাদের নিজস্ব নির্দোষতা প্রমাণ করতে বাধ্য করত; এটি সীমাহীন কারাবাস দিত; এটি অপেক্ষা করার মতো বিদ্বেষপূর্ণ ধৈর্য রাখত; এটি অভিযুক্তদের বিচার ছাড়াই ফেলে রাখত, এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের অন্ধকূপেই রেখে দিত। '''এমন কোনো অপরাধ নেই যা ক্যাথলিক গির্জা করেনি, এমন কোনো নিষ্ঠুরতা নেই যা তারা চর্চা করেনি, এমন কোনো বিশ্বাসঘাতকতা নেই যা তারা পুরস্কৃত করেনি, এবং এমন কোনো পুণ্য নেই যাকে তারা নির্যাতন করেনি। এটি ছিল মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী শত্রু। মানুষের সন্তানদের দাস বানানোর জন্য সংগঠন, চাতুর্য, ধার্মিকতা, আত্মত্যাগ, বীরত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, ধর্মান্ধতা এবং পাশবিক শক্তি যা কিছু করতে পারে, তার সবই এটি করেছে। এটি ছিল বুদ্ধিমত্তার শত্রু, স্বাধীনতার আততায়ী এবং অগ্রগতির ধ্বংসকারী।'''
* তবুও, আমি স্বীকার করি যে সবচেয়ে কুখ্যাত পোপ, সবচেয়ে হৃদয়হীন ও পৈশাচিক বিশপ, সন্ন্যাসী এবং যাজকরাও দয়া, দান ও ন্যায়ের আদর্শ ছিলেন যখন তাদের অর্থোডক্স ঈশ্বরের সাথে তাদের উপাস্য ঈশ্বরের সাথে তুলনা করা হয়। এই পোপরা, এই বিশপরা, এই যাজকরা কেবল কয়েক বছরের জন্য নির্যাতন করতে পারতেন তারা কেবল কয়েক মুহূর্তের জন্য পোড়াতে পারতেন কিন্তু তাদের ঈশ্বর চিরকাল বন্দি রাখার এবং পোড়ানোর হুমকি দিয়েছেন; এবং ইনকুইজিশনের চেয়ে নরক যেমন খারাপ, ঠিক তেমনি তারাও যত খারাপ ছিলেন, তাদের ঈশ্বর তার চেয়েও বেশি খারাপ।
* খ্রিষ্টের 'প্রায় দুইশো আটান্নজন' প্রতিনিধির মধ্যে সম্ভবত কিছু ভালো মানুষ ছিলেন। '''এমনকি সব খারাপ মানুষ বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য থাকলেও এমনটি ঘটত, কারণ মানুষ ভালো বা মন্দ কোনোটাতেই নিখুঁত হতে পারে না'''; কিন্তু যদি তাদের স্বয়ং খ্রিষ্ট বেছে নিয়ে থাকেন, যদি তাদের এমন একটি গির্জা বেছে নিয়ে থাকে যার ঐশ্বরিক উৎপত্তি এবং ঐশ্বরিক নির্দেশনা রয়েছে, তবে একজন খারাপ লোক নির্বাচনের কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। যদি একজন ভণ্ড ব্যক্তি যথাযথভাবে পোপ নির্বাচিত হন একজন খুনি, একজন শ্বাসরোধকারী, একজন অনাহারকারী তবে এটি প্রমাণ করে যে সমস্ত পোপ কেবল মানুষের দ্বারাই নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ঐশ্বরিক নির্দেশনার দাবি কেবল ধর্মান্ধতা থেকে জন্ম নিয়েছে এবং অজ্ঞতা থেকে উচ্চারিত হয়েছে।
* দুটি জিনিস একই মহাবিশ্বে অস্তিত্ব রাখতে পারে না একজন অসীম ঈশ্বর এবং একজন শহীদ।
* "যে কেউ মুক্তি পেতে চায়, তাকে সবার আগে ক্যাথলিক বিশ্বাস ধারণ করতে হবে।" সবার আগে তার ভালো, সৎ, দয়ালু, দানশীল এবং ন্যায়পরায়ণ হওয়া জরুরি নয়। আচরণের চেয়ে মতবাদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার ক্যাথলিক বিশ্বাস ধারণ করা। হাজার হাজার বছর ছিল যখন সেই বিশ্বাস ধারণ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ তখন সেই বিশ্বাসের কোনো অস্তিত্বই ছিল না; তবুও সেই সময়টিতে পুণ্য এখনকার মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সবসময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে ঠিক ততটাই। '''মানবজাতির সবচেয়ে মহৎ লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মতবাদের কথা কখনোই শোনেনি। লাখ লাখ সাহসী এবং সেরা মানুষ এটি শুনেছেন, পরীক্ষা করেছেন এবং প্রত্যাখ্যান করেছেন।''' লাখ লাখ সবচেয়ে কুখ্যাত ব্যক্তি এটি বিশ্বাস করেছেন, এবং তাদের বিশ্বাসের কারণে, বা তাদের বিশ্বাস সত্ত্বেও, তারা লাখ লাখ সহকর্মীকে হত্যা করেছেন। '''আমরা জানি মানুষ এই বিশ্বাস নিয়েও ততটাই দুষ্ট হতে পারে, আছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, যতটা এটি ছাড়াও হতে পারে।'''
===ইজ ডিভোর্স রং? (১৮৮৯)===
* পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশই সমাধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, এবং জীবিতরা মৃতদের দ্বারা নির্যাতিত হয়। পুরোনো ধ্যান-ধারণাগুলো যে পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল তা অনেক আগেই পার হয়ে যাওয়ার পরও প্রায়শই টিকে থাকার চেষ্টা করে। অনেকেই প্রাচীনকে উপাসনা করতে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা জিজ্ঞাসা না করে এবং নিজেরা ঠিক কোথায় যেতে চায় তা না জেনেই পুরোনো পথ অনুসরণ করতে আগ্রহী।
* '''নিউ টেস্টামেন্টে প্রেরিতদের পরিবার সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি; পারিবারিক জীবন, বাড়ির পবিত্রতা সম্পর্কে কিছুই নেই; শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, মনের উন্নতি এবং বিকাশ সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।''' এই জিনিসগুলো ভুলে যাওয়া হয়েছিল, কারণ প্রত্যাশিত ঘটনার উপস্থিতিতে সন অব ম্যান কখন আসবে তার জন্য প্রস্তুত থাকা ছাড়া আর কোনো কিছুকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়নি। অনুভূতি এমনই ছিল যে খ্রিষ্ট স্বয়ং তাদের পুরস্কৃত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যারা তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের ত্যাগ করবে। মানুষের ভালোবাসার কথা অবজ্ঞার সাথে বলা হয়েছিল। "মৃতদের তাদের মৃতদের দাফন করতে দাও। এতে তোমার কী? তুমি আমাকে অনুসরণ করো।" তারা কেবল এসব বিশ্বাসই করেনি, সে অনুযায়ী কাজও করেছিল; এবং ফলস্বরূপ, জীবনের সমস্ত সম্পর্ক অস্বীকার বা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো উপেক্ষিত হয়েছিল।
* যাজক বিবাহিত পুরুষটিকে বলেছিলেন: "মনে রেখো তুমি আজীবনের জন্য আটকা পড়েছ। এই দরজা কেবল একবার খোলে। দাম্পত্যের এই গুহার সামনে পায়ের ছাপগুলো কেবল একমুখী।" এটি ছিল বিবাহ করার জন্য এক ধরনের শাস্তি। ধর্মতাত্ত্বিকরা অনুভব করতেন যে বিবাহের চুক্তি, ঈশ্বরের আদেশের পরিপন্থী না হলেও অন্তত তার উপদেশের পরিপন্থী ছিল এবং ন্যায়ের খাতিরে বিবাহিতদের কোনো না কোনোভাবে কষ্ট ভোগ করা উচিত। বিবাহবিচ্ছেদ হতে পারে না, একটি ভুল সংশোধন করা যেতে পারে না এই বাস্তবতাকে সতর্কবাণী হিসেবে তুলে ধরা হতো। প্রতিটি বিয়ের আসরে এই কঙ্কালটি তার মাংসহীন আঙুল দিয়ে বর-কনের দিকে নির্দেশ করত।
* '''বিবাহ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে পবিত্র চুক্তি যা মানুষ করতে পারে। আমরা এটিকে কোনো চুক্তি, বা ধর্মানুষ্ঠান, বা উভয়ই বলি না কেন, এটি ঠিক একই থাকে। এবং এই চুক্তিটি কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা যাজকের সামনে করা হোক না কেন, তা একেবারেই সমান।'''
* পৃথিবীতে কি ঘৃণা বা বিরক্তির সন্তান, কামনা ও ঘৃণার সন্তান থাকা উচিত, নাকি পারস্পরিক ভালোবাসার কাঙ্ক্ষিত শিশু থাকা উচিত? এমন কি সম্ভব যে একজন অসীম জ্ঞানী এবং দয়ালু ঈশ্বর জোর দিয়ে বলেন যে একজন অসহায় নারীকে একজন নিষ্ঠুর পাষণ্ডের স্ত্রী হিসেবেই থাকতে হবে? এটি কি স্বর্গের আনন্দ বাড়াতে পারে, বা কোনো বীণাকে সুরে রাখতে সাহায্য করতে পারে?
* '''বিয়েগুলো পুরুষ ও নারী দ্বারা সম্পন্ন হয়; সমাজ দ্বারা নয়; রাষ্ট্র দ্বারা নয়; গির্জা দ্বারা নয়; অতিপ্রাকৃত সত্তাদের দ্বারা নয়।''' এতদিনে আমাদের জানা উচিত যে এমন কোনো কিছুই নৈতিক নয় যা সংবেদনশীল প্রাণীদের কল্যাণের দিকে পরিচালিত করে না; এমন কোনো কিছুই পুণ্য নয় যার ফলাফল ভালো নয়। '''আমরা এখন জানি, যদি আমরা কিছু জেনে থাকি, তবে সঠিক কাজ করার সমস্ত কারণ এবং ভুল কাজের বিরুদ্ধে সমস্ত কারণ এই পৃথিবীতেই রয়েছে।'''
* আমার কাছে, আমাদের ভাষার সবচেয়ে কোমল শব্দ, আমাদের জ্ঞানের মধ্যে সবচেয়ে মর্মস্পর্শী সত্য হলো মাতৃত্ব। '''এই পবিত্র শব্দের চারপাশে মানবজাতির আনন্দ ও দুঃখ, যন্ত্রণা এবং পরমানন্দ জড়িয়ে আছে। মা মৃত্যুর ছায়ায় হাঁটেন যেন তিনি আরেকটি জীবন দিতে পারেন।''' ভালোবাসার বেদিতে তিনি নিজের জীবন বন্ধক রাখেন। পৃথিবী যখন সভ্য হবে, কোনো স্ত্রী তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মা হবেন না।
=== আ ক্রিসমাস সারমন (১৮৯০) ===
* অর্থোডক্স মতবাদ অনুযায়ী, খ্রিষ্টধর্ম এই বার্তা নিয়ে এসেছিল যে মানবজাতি সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত, সমস্ত মানুষ বিপথগামী, এবং যারা এই নতুন ধর্ম গ্রহণ করতে বা বিশ্বাস করতে ব্যর্থ হবে, তারা অনন্ত আগুনে যন্ত্রণায় ভুগবে। এগুলো "মহা আনন্দের খবর" ছিল না। কোনো বিশাল জাহাজের যাত্রীদের যদি বলা হতো যে জাহাজটি ডুবতে চলেছে, কয়েকজন বাঁচবে এবং প্রায় সবাই তলিয়ে যাবে, তবে কি তারা এটাকে "মহা আনন্দের খবর" বলত?
* যখনই কোনো অর্থোডক্স সম্পাদক কোনো অবিশ্বাসীকে আক্রমণ করেন, তখন দয়া, দানশীলতা এবং ভালোবাসার অভাব দেখা যায়।
* '''অনন্ত শাস্তির মতবাদ হলো সমস্ত কলঙ্কের সেরা কলঙ্ক। আমি যেমন প্রায়ই বলেছি, যে মানুষ অনন্ত যন্ত্রণায়, অন্তহীন ব্যথার ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করে, সে অন্তত দুটি রোগে ভুগছে হৃদয়ের প্রস্তরীভবন এবং মস্তিষ্কের পচন।'''
* যদি এই মতবাদ সত্য হয়, তবে ঈশ্বর কখনোই নরক থেকে কোনো আত্মাকে মুক্তি দেবেন না ক্ষমার ক্ষমতা কখনোই প্রয়োগ করা হবে না। ঈশ্বর কতটা খুশি হবেন এবং বেঁচে যাওয়া সকলে কতটা খুশি হবেন, যখন তারা জানবেন যে কোটি কোটি সন্তান, তাদের বাবা, মা, ভাই, বোন, স্ত্রী এবং সন্তানরা অনন্ত অন্ধকূপে বন্দি রয়েছে, এবং ক্ষমার বাক্য কখনোই উচ্চারিত হবে না!
* '''ডাক্তারের ব্যক্তিগত আক্রমণের ব্যাপারে আমার কী বলার আছে? কিছুই না। একজন মানুষ আমাকে শয়তান বলতে পারে, বা শয়তান বলে ডাকতে পারে, অথবা সে বলতে পারে যে আমি সত্যি বলতে অক্ষম, বা আমি মিথ্যা বলি, তবুও এতে কিছুই প্রমাণ হয় না। আমার যুক্তিগুলো অকাট্য রয়ে যায়। আমি ডক্টর বাকলিকে গালিগালাজ করতে পারি না, আমার ভালো মানসিক আচরণ আছে। আমি যে আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করি তা কোনো অজ্ঞ বা বিদ্বেষপূর্ণ ব্যক্তির দ্বারা কলঙ্কিত হওয়ার মতো নয়, এটি অনেক মহান, অনেক পবিত্র।'''
* একজন যাজক আমাকে বলেন যে আমি নরকে যাচ্ছি আমি চিরকাল শাস্তি পেতে বাধ্য এবং এরপর আমি তাকে বলি: "কোনো নরক নেই আপনি ভুল করছেন; আপনার বাইবেল অনুপ্রাণিত নয়; কোনো মানুষ চিরকাল যন্ত্রণা ভোগ করবে না;" এবং এরপর, '''আহত দৃষ্টিতে তিনি আমাকে এই প্রশ্নটি করেন: "আপনি আমাকে আঘাত দিয়ে কথা বলছেন কেন?"''' এটি তার মনেই আসে না যে আমাকে অনন্ত দুঃখের শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের আপত্তি জানানোর আমার বিন্দুমাত্র অধিকার রয়েছে।
* বিন্দুমাত্র কল্পনাশক্তি থাকা যে কারো পক্ষেই বুঝতে পারা খুব সহজ যে অন্যরা তার থেকে কতটা আলাদা। কোনো মানুষের সাথে আমার মতবিরোধ আছে বলেই আমি তাকে কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে দায়ী করি না।
* এই সমস্ত কুসংস্কারের পেছনে আপনি কিছু স্বার্থ দেখতে পাবেন। '''আমি বলছি না যে এটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য, তবে আমি বলছি যে যাজকরা যদি ভেড়ার মাংস পছন্দ না করত, তবে ঈশ্বরের কাছে কখনোই মেষশাবক উৎসর্গ করা হতো না। মন্দিরে এমন কিছুই নেওয়া হতো না যা যাজক ব্যবহার করতে পারত না, এবং সবসময় এমনটাই হতো যে ঈশ্বরের প্রতিনিধিরা যা পছন্দ করত ঈশ্বর সেটাই চাইতেন।''' এখন, আমি বলব না যে সব যাজকই কেবল "রাজস্বের জন্য" যাজক ছিলেন, তবে আমাকে বলতেই হবে যে পৃথিবীর ইতিহাস দেখায় যে যাজক শ্রেণি রাজস্বহীন ধর্মের চেয়ে ধর্মহীন রাজস্ব বেশি পছন্দ করে।
* গির্জা আঠারোশো বছর ধরে মাঠে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এর বেশিরভাগ সময় ধরে এটি বিশ্বের তলোয়ার ও অর্থের থলি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বহু শতাব্দী ধরে এটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুলগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর হাতে সম্পদ ও সম্মান প্রদানের ক্ষমতা ছিল। এই বিশ্ব সম্পর্কিত স্বর্গ ও নরকের অর্থাৎ, সমৃদ্ধি ও দুর্ভাগ্যের চাবি তাদের কাছেই ছিল। এটি শত্রুদের এমনকি কবর পর্যন্ত তাড়া করেছে। এটি সেরা রক্ত দিয়ে ফাঁসির মঞ্চ লাল করেছে এবং বহু শতাব্দী ধরে নির্যাতনের তলোয়ার ভিজিয়ে রেখেছে। এর অন্ধকূপে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। এর অপবাদের কারণে লাখ লাখ মানুষের সম্মান ধ্বংস হয়েছে। এটি লাখ লাখ বিধবা ও এতিম তৈরি করেছে এবং এটি কেবল এই পৃথিবী শাসনই করেনি, বরং এটি অনন্তকালের চাবি ধরে রাখার ভান করেছে, এবং এই ভানের আড়ালে এটি অগণিত লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনন্ত আগুনের শাস্তি দিয়েছে।
* যখন আমরা বিবেচনা করি যে রেভারেন্ড মিস্টার ডিক্সন একজন যাজক এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি জনগণের কাছে একটি ঐশ্বরিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছেন, তখন তিনি নিচের এই দাবিটি করলে আমি অবাক হই না: "ঈশ্বর যদি একটি ঐশ্বরিক বার্তা বলার জন্য বালামের গাধাকে বেছে নিতে পারেন, তবে তিনি কেন কর্নেলকে কাজে লাগাতে পারবেন না তা আমি বুঝতে পারছি না।" কোনো মানুষের পক্ষে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করা এবং নিজের পেশাকে রক্ষা করাটা স্বাভাবিক। '''তবে মিস্টার ডিক্সন মনে রাখবেন যে ঈশ্বরের নবীর চেয়ে গাধাটি অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ ছিল, এবং যুক্তি পুরোপুরি গাধার পক্ষেই ছিল। এবং তাছাড়া, গাধার আধ্যাত্মিক দূরদৃষ্টি নবীর চেয়ে অনেক বেশি ছিল। গাধাই দেবদূতকে দেখেছিল যখন নবীর দৃষ্টি ঝাপসা ছিল।'''
* আমার কাছে এটি সম্ভব বলে মনে হয় না যে কোনো ঈশ্বর মানুষকে এতটাই ভালোবাসেন যে তারা যেন রক্ষা পায় সে জন্য তিনি মৃত্যুবরণ করেন, আর তারা মারা যাওয়ার পরপরই তিনি তার সন্তানদের পরিত্যাগ করেন। আমার কাছে মনে হয় একজন অসীম ঈশ্বর কোনো আত্মা পরকালে পৌঁছানোর পর তার জন্য কিছু করতে পারেন।
* '''গির্জা কখনোই মিষ্টি কথা এবং দাতব্য কাজের মাধ্যমে শত্রুদের তাড়া করার অভ্যাস করেনি। সত্যি কথা বলতে, এটি সবসময়ই নির্দয় ছিল। এটি ক্ষমার কথা প্রচার করেছে, কিন্তু কখনোই ক্ষমা করেনি। খ্রিষ্টান বিশ্বের ইতিহাসে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই যেখানে গির্জা এমন কোনো ব্যক্তির দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে যে তাদের মতবাদের সত্যতা অস্বীকার করেছে। গির্জায় আপস করার কোনো মনোভাব কোনো পরিবেশ নেই। স্বাভাবিক কারণেই এমন কিছু থাকতে পারে না, কারণ গির্জা দাবি করে যে তারা সম্পূর্ণ সঠিক স্বর্গে যাওয়ার একটাই রাস্তা আছে। এটি শর্তহীন আত্মসমর্পণ দাবি করে। এটি কোনো বিরুদ্ধবাদ সহ্য করবে না। এটি পরম সত্য ধারণ করার দাবি করে। এই কারণগুলোতে এটি ধারাবাহিকভাবে আপস করতে পারে না, ঠিক যেমন কোনো গণিতবিদ এমন কারো সাথে একমত হতে গুণের নামতা পরিবর্তন করতে পারেন না যে অস্বীকার করে যে পাঁচ পাঁচে পঁচিশ হয়।'''
* আমার মনে পড়ে না নিউ টেস্টামেন্টে কোনো একটি বিজ্ঞানের কথাও উল্লেখ আছে। যতদূর আমার মনে পড়ে শিক্ষার বিষয়ে একটি শব্দও নেই কোনো বিজ্ঞান সম্পর্কে কিছু নেই, শিল্পকলা সম্পর্কেও কিছু নেই। '''নিউ টেস্টামেন্টের লেখকরা সম্ভবত মনে করেছিলেন যে পৃথিবীর শেষ ঘনিয়ে এসেছে। এই পৃথিবী সম্পূর্ণভাবে পরকালের জন্য উৎসর্গ করা হবে।''' এই জীবনের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার মতো কিছু ছিল না। সব মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য জীবনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
* নৈতিকতার সাথে খ্রিষ্টধর্ম যা কিছু যোগ করেছে তার সবই মূল্যহীন এবং অকেজো। কেবল তাই নয় এটি ক্ষতিকরও হয়েছে। নৈতিকতা থেকে খ্রিষ্টধর্মকে সরিয়ে নিন, দেখবেন কেবল প্রয়োজনীয় জিনিসই অবশিষ্ট রয়েছে, কিন্তু খ্রিষ্টধর্ম থেকে নৈতিকতা সরিয়ে নিন, দেখবেন কেবল অকেজো জিনিসগুলোই পড়ে আছে।
* আমরা সবাই জানি যে বাইবেল দাসপ্রথাকে এর সবচেয়ে খারাপ এবং সবচেয়ে নিষ্ঠুর রূপে সমর্থন করে; আর দাসপ্রথা সমর্থনকারী বাইবেলের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্ম মানব ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছে এবং তা প্রতিষ্ঠা করেছে, এমন কথা কীভাবে বলা যেতে পারে তা আমার কল্পনারও অতীত।
* আমি সানন্দে স্বীকার করি যে কিছু শিক্ষার জন্য আমরা খ্রিষ্টধর্মের কাছে ঋণী, এবং কুসংস্কারের অযৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করার মাধ্যমেই মানব মন বিকশিত হয়েছে। অবশ্যই লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিক ব্যায়াম করার সুযোগ পেয়েছে, এবং এই অযৌক্তিকতা, বৈপরীত্য এবং অসম্ভব জিনিসগুলো পরীক্ষা করার ফলেও তাদের মন কিছুটা প্রসারিত হয়ে থাকতে পারে।
* শত শত বছর ধরে বাইবেলই ছিল মানদণ্ড, এবং বিজ্ঞানে যখনই বাইবেলের বিপরীত কিছু দাবি করা হতো, গির্জা সাথে সাথে সেই বিজ্ঞানীকে নিন্দা করত। আমি স্বীকার করি মানদণ্ড পরিবর্তন হয়েছে, '''এবং যাজকরা এখন খুব ব্যস্ত''', এটা প্রমাণ করার চেষ্টায় নয় যে বিজ্ঞান বাইবেলের সাথে একমত নয়, বরং বাইবেল যে বিজ্ঞানের সাথে একমত তা প্রমাণ করার চেষ্টায়।
* খ্রিষ্টান কালপঞ্জি প্রথম মানুষের বয়স উল্লেখ করে, এবং তারপর বাবা থেকে ছেলে হয়ে বন্যা পর্যন্ত ধারা বর্ণনা করে, এবং বন্যা থেকে খ্রিষ্টের আগমন পর্যন্ত হিসাব দেয়, যা দেখায় যে মানুষ পৃথিবীতে মাত্র ছয় হাজার বছর ধরে আছে। '''এই কালপঞ্জি চরম অযৌক্তিক, এবং আমি বিশ্বাস করি না বিশ্বে এমন কোনো বুদ্ধিমান, সুশিক্ষিত খ্রিষ্টান আছেন যিনি বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করার পর বলবেন যে খ্রিষ্টান কালপঞ্জি সঠিক।'''
* যদি একজন অসীম ঈশ্বর আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করে থাকেন, তবে তিনি ঠিকই জানতেন আমরা কী করব। তিনি যদি আমাদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে থাকেন তবে তা ফলাফল পরিবর্তন করে না, কারণ তিনি জানতেন আমরা কীভাবে স্বাধীন ইচ্ছা ব্যবহার করব। এখন, তিনি যদি জানতেন যে কোটি কোটি মানুষ প্রতিকার নিতে অস্বীকৃতি জানাবে এবং ফলস্বরূপ অনন্ত যন্ত্রণায় ভুগবে, তবে তাদের সৃষ্টি করলেন কেন? তিনি যদি তাদের ধুলো হিসেবেই রেখে দিতেন তবে পৃথিবীতে অনেক কম দুঃখ-কষ্ট থাকত। একজন ঈশ্বরের ব্যর্থ হওয়ার কী অধিকার আছে? কেন তিনি ধুলোকে একটি সংবেদনশীল প্রাণীতে পরিণত করবেন, যখন তিনি জানতেন যে সেই প্রাণীটি অন্তহীন যন্ত্রণার উত্তরাধিকারী হবে?
* রেভারেন্ড মিস্টার হ্যামিল্টন, কল্পনায় আমার মৃত্যুর যন্ত্রণা উপভোগ করে বলেন: "দুর্দান্ত অহংকারীর হৃদয়ের তন্ত্রীতে মৃত্যুর হিমশীতল আঙুল ছোঁয়ার জন্য বিশ্বকে সর্বোচ্চ কয়েকটা বছর অপেক্ষা করতে দিন, এবং তার মতো যারা তার আগে গেছে তাদের বেশিরভাগই যেমন করেছে, সেও অন্য সুরে গান গাইবে।" এমন একটি বাক্য লেখার প্রেরণা জোগাতে পারে এমন মনোভাবকে আমি কীভাবে বর্ণনা করব? মাননীয় যাজক "তার শত্রুদের ভালোবাসেন", অথচ মৃত্যুর হিমশীতল আঙুল আমার হৃদয়ের তন্ত্রী ছোঁয়ার সময় আমি যে যন্ত্রণা ভোগ করব তার কথা ভেবে তিনি আনন্দে মেতে ওঠেন! অথচ আমি তার কোনো ক্ষতি করিনি।
* গুড সামারিটান কোনো হিব্রু ছিলেন না। তিনি "নির্বাচিত মানুষদের" একজন ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন দরিদ্র, "দুর্দশাগ্রস্ত বিধর্মী", যিনি ওল্ড টেস্টামেন্টের যিহোবা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না, এবং যিনি "পরিত্রাণের পরিকল্পনা" সম্পর্কে কখনোই শোনেননি। আর তবুও, খ্রিষ্টের মতে, তিনি লেভিটদের চেয়ে যিহোবার যাজক, যারা "নির্বাচিত মানুষদের" মধ্যে সর্বোচ্চ তাদের চেয়ে অনেক বেশি দানশীল ছিলেন। এই গল্প থেকে এটা কি পুরোপুরি স্পষ্ট নয় যে খ্রিষ্টধর্ম প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই বিশ্বে দানশীলতা ছিল?
* ডক্টর বাকলি, যিনি, আমার জানামতে, ধর্মতত্ত্বের একজন ডাক্তার এবং আমার মনে হয় এমন ধর্মতত্ত্বের জন্য একজন ডাক্তারেরই প্রয়োজন...
* === হোয়াই আই অ্যাম অ্যান অ্যাগনস্টিক (১৮৯৬) ===
* তারা জানত যে বহু শতাব্দী আগে ঈশ্বর তাঁর সিংহাসন ছেড়ে একটি শিশু হিসেবে এই দরিদ্র পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যেন তিনি মানুষের জন্য কয়েকজনকে বাঁচানোর জন্য মৃত্যুবরণ করে কষ্ট ভোগ করতে পারেন। তারা এটাও জানত যে মানুষের হৃদয় চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল, তাই মানুষ স্বভাবতই অন্যায় ভালোবাসত এবং ঈশ্বরকে সমস্ত শক্তি দিয়ে ঘৃণা করত। একই সাথে তারা জানত যে ঈশ্বর মানুষকে তাঁর নিজস্ব রূপে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তাঁর কাজে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন।
* তারা মহাপ্লাবন সম্পর্কে সব জানত জানত যে ঈশ্বর আটজন ছাড়া তাঁর সমস্ত সন্তানদের বৃদ্ধ এবং শিশু নতজানু পিতৃপুরুষ এবং টোলপড়া শিশু যুবক এবং হাসিখুশি কুমারী প্রেমময়ী মা এবং হাসিখুশি শিশু সবাইকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন কারণ তাঁর দয়া অনন্তকাল স্থায়ী। তারাও জানত যে তিনি পশু ও পাখিদের ডুবিয়ে মেরেছিলেন যা কিছু হাঁটত, হামাগুড়ি দিত বা উড়ত সবকিছুকে কারণ তাঁর কাজের প্রতি তাঁর ভালোবাসা প্রবল।
* যে যাজকরা এসব পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে প্রচার করতেন, তারা আন্তরিক ছিলেন। তারা উদ্যোগী ও সৎ ছিলেন। তারা দার্শনিক ছিলেন না। তাদের কাছে বিজ্ঞান ছিল এক অস্পষ্ট ভয়ের নাম এক বিপজ্জনক শত্রু। '''তারা খুব বেশি কিছু জানত না, তবে তারা অনেক বেশি বিশ্বাস করত।''' তাদের কাছে নরক ছিল এক জ্বলন্ত বাস্তবতা তারা ধোঁয়া ও শিখা দেখতে পেত। শয়তান কোনো মিথ ছিল না। সে ছিল একজন বাস্তব ব্যক্তি, ঈশ্বরের একজন প্রতিদ্বন্দ্বী, মানবজাতির শত্রু। তারা ভেবেছিল এই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের আত্মাকে বাঁচানো প্রত্যেকের উচিত ইন্দ্রিয়সুখকে প্রতিহত করা ও অবজ্ঞা করা, এবং নতুন জেরুজালেমের সোনালি দরজার দিকে স্থির দৃষ্টি রাখা। '''তারা ভারসাম্যহীন, আবেগপ্রবণ, হিস্টেরিক, ধর্মান্ধ, ঘৃণাপূর্ণ, প্রেমময় এবং উন্মাদ ছিল।''' তারা সত্যিই বিশ্বাস করত যে বাইবেল ঈশ্বরের প্রকৃত বাক্য ভুল বা বৈপরীত্য ছাড়া একটি বই। তারা এর নিষ্ঠুরতাকে ন্যায়বিচার, এর অযৌক্তিকতাকে রহস্য, এর অলৌকিক ঘটনাগুলোকে বাস্তব এবং এর নির্বোধ অংশগুলোকে গভীরভাবে আধ্যাত্মিক বলে মনে করত।
* '''সত্যি কথা হলো অনন্ত শাস্তির প্রতি এই বিশ্বাসই প্রকৃত নির্যাতনকারী হিসেবে কাজ করেছে।''' ...এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে অন্ধকার করে দিয়েছে। এটি দোলনাকেও কফিনের মতো ভয়ংকর করে তুলেছে। এটি জাতিগুলোকে দাস বানিয়েছে এবং অগণিত হাজার মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। এটি সবচেয়ে জ্ঞানী, সাহসী এবং সেরাদের আত্মত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। এটি ন্যায়বিচারের ধারণাকে ধ্বংস করেছে, হৃদয় থেকে দয়া দূর করেছে, মানুষকে পিশাচে পরিণত করেছে এবং মস্তিষ্ক থেকে যুক্তি তাড়িয়ে দিয়েছে। বিষাক্ত সাপের মতো এটি প্রতিটি অর্থোডক্স মতবাদে হামাগুড়ি দেয়, কুণ্ডলী পাকায় এবং হিসহিস শব্দ করে। '''এটি মানুষকে চিরন্তন শিকার এবং ঈশ্বরকে চিরন্তন পিশাচে পরিণত করে। এটি এক অসীম ভয়াবহতা। যে গির্জায় এটি শেখানো হয় তা জনজীবনের জন্য একটি অভিশাপ। যে প্রচারক এটি শেখান তিনি মানবজাতির শত্রু। এই খ্রিষ্টান মতবাদের নিচে অসভ্যতা আর নামতে পারে না। এটি চরম বিদ্বেষ, ঘৃণা এবং প্রতিশোধের উদাহরণ। নরকের ভয়াবহতার সাথে এর স্রষ্টা ঈশ্বরের উপস্থিতি ছাড়া আর কিছুই যুক্ত করা সম্ভব নয়।'''
* মিলটনের শেখানো ধর্মতত্ত্ব পিউরিটানদের হৃদয়ের প্রিয় ছিল। এটি নিউ ইংল্যান্ড দ্বারা গৃহীত হয়েছিল, এবং এটি হাজার হাজার মানুষের আত্মাকে বিষাক্ত ও জীবনকে ধ্বংস করেছিল। শেকসপিয়রের প্রতিভাও মিলটনের ধর্মতত্ত্বকে কাব্যিক করতে পারেনি। বিশ্ব সাহিত্যে, '''‘পবিত্র গ্রন্থগুলোর’ বাইরে''', এর চেয়ে নিখুঁত অযৌক্তিক আর কিছুই নেই।
* '''আমরা সবাই সেই সুন্দর স্তোত্রটি জানি যা এই আনন্দদায়ক লাইনটি দিয়ে শুরু হয়: "কবর থেকে শোনো, এক বিষণ্ণ সুর।" শিশুদের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত আর কিছুই হতে পারে না। দোলনা থেকে দেখা যায় এমন জায়গায় কফিন রাখা ভালো। একজন মা যখন তার সন্তানকে দুধ পান করান, তখন তার পায়ের কাছে একটি খোলা কবর থাকা উচিত। এতে শিশুটি গম্ভীর, চিন্তাশীল, ধার্মিক এবং দুঃখী হয়ে উঠবে।'''
* আমি ওল্ড টেস্টামেন্ট ছেড়ে দিয়েছি এর ভুল, এর অযৌক্তিকতা, এর অজ্ঞতা এবং এর নিষ্ঠুরতার কারণে। আমি নিউ টেস্টামেন্ট ছেড়ে দিয়েছি কারণ এটি ওল্ড টেস্টামেন্টের সত্যতা নিশ্চিত করত। আমি এটি ছেড়ে দিয়েছি এর অলৌকিক ঘটনা, এর বৈপরীত্যের কারণে, কারণ খ্রিষ্ট এবং তার শিষ্যরা শয়তানের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন তাদের সাথে কথা বলতেন, চুক্তি করতেন, মানুষ এবং পশুদের শরীর থেকে তাদের তাড়াতেন। কেবল এইটুকুই যথেষ্ট। আমরা জানি, যদি আমরা কিছু জেনে থাকি, যে শয়তান বলতে কিছুর অস্তিত্ব নেই''' খ্রিষ্ট কখনোই তাদের তাড়াননি, এবং যদি তিনি তা করার ভান করে থাকেন, তবে তিনি হয় অজ্ঞ, অসৎ বা উন্মাদ ছিলেন।''' শয়তান সম্পর্কে এই গল্পগুলো নিউ টেস্টামেন্টের মানবিক, অজ্ঞ উৎপত্তি প্রমাণ করে।
* সমস্ত ধর্মতাত্ত্বিক সমস্ত "বিশেষ সৃষ্টির" বিশ্বাসী মানুষ পুরোপুরি ভুল ছিলেন। ইডেনের বাগান বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আদম ও ইভ ধুলোয় মিশে গেছে, সাপ ঘাসে লুকিয়ে পড়েছে, এবং যিহোবা একটি শোচনীয় মিথ হয়ে গেছে।
* যুদ্ধরত একটি পৃথিবীর চেয়ে ভয়ংকর আর কী হতে পারে? প্রতিটি পাতা একটি যুদ্ধক্ষেত্র প্রতিটি ফুল একটি গলগোথা প্রতিটি জলের ফোঁটায় তাড়া করা, ধরা এবং মৃত্যু। গাছের বাকলের নিচে জীবনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে আরেক জীবন। প্রতিটি ঘাসের পাতায় এমন কিছু আছে যা হত্যা করে যা কষ্ট পায়। সবখানেই দুর্বলদের ওপর বেঁচে আছে সবলরা নিকৃষ্টদের ওপর শ্রেষ্ঠরা। সবখানেই দুর্বলরা, নগণ্যরা, সবলদের ওপর বেঁচে আছে নিকৃষ্টরা শ্রেষ্ঠদের ওপর সর্বোচ্চরা সর্বনিম্নদের খাদ্য জীবাণুর জন্য মানুষের আত্মত্যাগ। সর্বত্রই হত্যা। '''সবখানেই ব্যথা, রোগ এবং মৃত্যু যে মৃত্যু বাঁকা শরীর আর সাদা চুলের জন্য অপেক্ষা করে না, বরং শিশু আর সুখী তরুণদের কেড়ে নেয়। যে মৃত্যু অসহায়, টোলপড়া শিশুর কাছ থেকে মাকে কেড়ে নেয় যে মৃত্যু বিশ্বকে দুঃখ আর কান্নায় ভরিয়ে দেয়। অর্থোডক্স খ্রিষ্টানরা কীভাবে এসব ব্যাখ্যা করবে?'''
* '''ধর্মতাত্ত্বিকরা বলেন যে আমরা যাকে খারাপ বলি তা আমাদের উপকারের জন্যই আমরা পাপ ও দুঃখের এই পৃথিবীতে চরিত্র গঠনের জন্য এসেছি। যদি এটি সত্য হয় তবে আমি প্রশ্ন করি শিশু কেন মারা যায়?''' লক্ষ লক্ষ শিশু কয়েকবার শ্বাস নিয়েই মায়ের কোলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তাদের চরিত্র গঠনের কোনো সুযোগই দেওয়া হয় না।
* ধরুন আমাদের দেশে এমন একজন লোক আছেন যিনি বাতাস, বৃষ্টি এবং বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, এবং ধরুন আমরা তাকে এসব নিয়ন্ত্রণের জন্যই নির্বাচিত করেছি, আর ধরুন তিনি পুরো রাজ্যগুলোকে শুকিয়ে এবং মরে যেতে দেন, এবং একই সাথে সমুদ্রে বৃষ্টি নষ্ট করেন। ধরুন তিনি বাতাসকে শহর ধ্বংস করার অনুমতি দেন এবং হাজার হাজার নারী-পুরুষকে পিষে আকারহীন করে দেন, এবং বজ্রপাতকে মা ও শিশুদের জীবন কেড়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। আমরা কী বলব? '''আমরা এমন একজন অসভ্য মানুষ সম্পর্কে কী ভাবব? আর তবুও, ধর্মতাত্ত্বিকদের মতে, ঈশ্বর ঠিক এই পথই অনুসরণ করেছেন।'''
=== দ্য ট্রুথ (১৮৯৬) ===
* প্রোটেস্ট্যান্টরা বলে যে এটি পড়া, বোঝা এবং এই ওহি বিশ্বাস করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য একজন মানুষের উচিত তার যুক্তি ব্যবহার করা; কিন্তু সে যদি সততার সাথে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে বাইবেল ঈশ্বরের কোনো ওহি নয়, এবং এই সিদ্ধান্ত নিয়েই মারা যায়, তবে সে চিরকাল যন্ত্রণায় ভুগবে। তারা বলে: "পড়ো," এবং তারপর যোগ করে: "বিশ্বাস করো, নইলে জাহান্নামে যাও।" "বাইবেল তোমার কাছে যতই অযৌক্তিক মনে হোক না কেন, তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে। অলৌকিক ঘটনাগুলো যতই অসম্ভব মনে হোক না কেন, তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে। আইনগুলো যতই নিষ্ঠুর হোক না কেন, তোমার হৃদয়কে অবশ্যই সেগুলো অনুমোদন করতে হবে!" গির্জা একেই বলে চিন্তার স্বাধীনতা। আমরা ঈশ্বরের ভ্রুকুটি ও হুমকির অধীনে বাইবেল পড়ি। আমরা নরকের আলোয় পড়ি।
* মানুষকে যুক্তির মানদণ্ড ত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য গির্জা পুরোপুরি পরকালে অনন্ত যন্ত্রণার হুমকির ওপর নির্ভর করে না, বরং অনন্ত আনন্দের পুরস্কারও তুলে ধরে। যারা বিশ্বাস করে, তাদের জন্য এটি স্বর্গের অন্তহীন পরমানন্দের প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি যদি ভয় দেখাতে না পারে, তবে ঘুষ দেবে।
* কিন্তু গির্জা বলে ওঠে: "প্রভু যিশু খ্রিষ্টের ওপর বিশ্বাস রাখো, তবেই তুমি রক্ষা পাবে।" এই বিশ্বাস ছাড়া কোনো মুক্তি নেই। মুক্তি হলো বিশ্বাসের পুরস্কার। বিশ্বাস হলো, এবং চিরকাল হতে হবে, প্রমাণের ফলাফল। প্রতিশ্রুত পুরস্কার কোনো প্রমাণ নয়। এটি কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক আলো ছড়ায় না। এটি কোনো সত্য প্রতিষ্ঠা করে না, কোনো আপত্তির উত্তর দেয় না এবং কোনো সন্দেহ দূর করে না। বিশ্বাসের জন্য পুরস্কার দেওয়া কি সৎ কাজ?
* '''যাঁরা বিশ্বাস করবেন তাঁদের পুরস্কৃত করার খ্রিষ্টের প্রতিশ্রুতি হলো একটি ঘুষ।''' এটি প্রমাণের জায়গায় প্রতিশ্রুতি বসানোর একটি চেষ্টা। যে ব্যক্তি বলে যে সে বিশ্বাস করে, এবং কেবল পুরস্কারের আশায় তা করে, সে তার আত্মাকে কলুষিত করে।
* তারা আকাশে একজন দানব একজন প্রভু একজন স্বৈরাচারী বসিয়ে রাখে এবং তাদের সহকর্মীদের দাস বানানোর চেষ্টা করে। তারা ভূমিদাসদের দাসসুলভ গুণাবলি শেখায়। '''তারা পুরুষালি মানুষের সাহসকে ঘৃণা করে। যারা চিন্তা করে, তাদের তারা ঘৃণা করে। তারা প্রতিশোধ নিতে চায়। তারা নরকের কাল্পনিক আগুনে হাত গরম করে।''' আমি তাদের দেখাই যে নরক বলে কিছু নেই এবং তারা তাদের সান্ত্বনা ধ্বংস করার জন্য আমাকে নিন্দা করে।
* কোনো ধর্মতাত্ত্বিক সেমিনারিতে, যদি কোনো অধ্যাপক মতবাদের সাথে অসংগতিপূর্ণ কোনো সত্য খুঁজে পান, তবে তাকে তা গোপন রাখতে হবে, অস্বীকার করতে হবে, অথবা নিজের চাকরি হারাতে হবে। মানসিক সততা একটি অপরাধ, কাপুরুষতা এবং ভণ্ডামি হলো পুণ্য।
* তারা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এমনভাবে আক্রমণ করত যেন তারা অপরাধী ভূতত্ত্ববিদদের আক্রমণ করত যেন তারা আততায়ী। তারা চিকিৎসকদের ঈশ্বরের শত্রু বলে মনে করত এমন মানুষ যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা ব্যর্থ করার চেষ্টা করছিল। জীববিজ্ঞানী, নৃবিজ্ঞানী, প্রত্নতত্ত্ববিদ, প্রাচীন শিলালিপি পাঠকারী, চাপা পড়া শহর খননকারীরা সবাই ধর্মতাত্ত্বিকদের ঘৃণার পাত্র ছিলেন। তাদের ভয় ছিল এই মানুষগুলো বাইবেলের সাথে অসংগতিপূর্ণ কোনো কিছু খুঁজে পেতে পারে।
* '''ধর্মতাত্ত্বিকরা দাবির ওপর নির্ভর করেন। তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তারা দাবি করেন যে তাদের অনুপ্রাণিত বই যুক্তির ঊর্ধ্বে এবং প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়। তারা সম্ভাবনা উপমা অনুমান নিয়ে কথা বলেন কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেন না। তারা বলেন তারা জানেন যে খ্রিষ্ট বেঁচে ছিলেন, ঠিক যেমন তারা জানেন যে সিজার বেঁচে ছিলেন। তারা হয়তো যোগ করতে পারেন যে তারা জানেন মোশি সিনাই পর্বতে যিহোবার সাথে কথা বলেছিলেন ঠিক যেমন তারা জানেন ব্রিগহাম ইয়াং উটায় ঈশ্বরের সাথে কথা বলেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই প্রমাণ একই, কোনোটিতেই কোনো প্রমাণ নেই। তারা কীভাবে প্রমাণ করেন যে খ্রিষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন? তারা বইয়ে একটি বর্ণনা পান। বইটি কে লিখেছে? তারা তা জানেন না। এটা কেমন প্রমাণ? কোনো প্রমাণ নয়, যদি না বইয়ে লেখা সব কথা সত্য হয়।'''
* যাজক যখন সেমিনারি ত্যাগ করেন, '''তখন তিনি সত্যের খোঁজ করেন না। সত্য তার কাছে আছে'''। তার কাছে ঈশ্বরের তরফ থেকে আসা ওহি রয়েছে, এবং সেই ওহির সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি মতবাদ তার কাছে আছে। তার কাজ হলো সেই ওহির পাশে দাঁড়ানো এবং সেই মতবাদকে রক্ষা করা। ওহি ও মতবাদের বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি তিনি পড়বেন না, শুনবেন না। তার ধর্মের বিরুদ্ধে যাওয়া সমস্ত সত্য তিনি অস্বীকার করবেন।
* '''তাই, যাজকরা বলেন যে তারা দানশীলতা শেখান। এটা স্বাভাবিক। তারা ভিক্ষে করে বেঁচে থাকেন। সব ভিক্ষুকই শেখায় যে অন্যদের দান করা উচিত।'''
* তারা আনন্দের শত্রু। তারা নাচকে অন্যতম মারাত্মক পাপ হিসেবে নিন্দা করেন। তারা ওয়াল্টজের দুষ্টামি পোলকার দূষণ দেখে হতবাক হন। তারা থিয়েটারের শত্রু। '''তারা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বদনাম করেন। তারা তাদের ঘৃণা করেন কারণ তারা প্রতিদ্বন্দ্বী।'''
* তারা জোর দিয়ে বলেন যে ঈশ্বরের গৌরবের জন্য, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ঘৃণা করলেও তাদের একসাথে থাকতে বাধ্য করা উচিত। তারা সমস্ত কল্পকাহিনি ঘৃণা করেন এবং বাইবেল ভালোবাসেন।
* এই মানুষগুলো বিজ্ঞানের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির শত্রু। তারা মহান চিন্তাবিদদের নিয়ে উপহাস করেন এবং বদনাম করেন। "পবিত্র শাস্ত্রের" সাথে সাংঘর্ষিক সবকিছু তারা অস্বীকার করেন। তারা এখনও জোশুয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং মোশির ভূতত্ত্বে বিশ্বাস করেন। '''তারা অতীতের অলৌকিক ঘটনাগুলোতে বিশ্বাস করেন এবং বর্তমানের প্রমাণগুলো অস্বীকার করেন'''। তারা সত্যের শত্রু জ্ঞানের শত্রু। এই পৃথিবীতে সুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে তারা দুষ্ট ও জাগতিক মনে করেন কিন্তু পরকালে সুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে পুণ্যবান ও আধ্যাত্মিক মনে করেন।
* '''প্রতিটি অর্থোডক্স গির্জাই ভুল এবং মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতিটি ভালো অর্থোডক্স যাজক যা জানেন না তা দাবি করেন এবং যা জানেন তা অস্বীকার করেন।'''
* খ্রিষ্টানের ঈশ্বর হলেন একজন সিংহাসনে বসা অনুমান একটি হয়তো একটি ধারণা।
=== আ থ্যাংকসগিভিং সারমন (১৮৯৭) ===
* খ্রিষ্ট বা তাঁর কোনো প্রেরিত কি দরকারি জ্ঞানের ভাণ্ডারে কিছু যোগ করেছিলেন? তারা কি কোনো বিজ্ঞান, কোনো শিল্পকলার পক্ষে একটি কথাও বলেছিলেন? তারা কি তাদের সহকর্মীদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়, কীভাবে প্রকৃতির বাধা অতিক্রম করতে হয়, কীভাবে রোগ প্রতিরোধ করতে হয় কীভাবে নিজেদের ব্যথা, দুর্ভিক্ষ, দুর্দশা এবং ছেঁড়া কাপড় থেকে রক্ষা করতে হয়? '''তারা কি প্রকৃতির কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন?''' মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন কোনো সত্যের? তারা কি তদন্ত অধ্যয়ন চিন্তার পক্ষে কিছু বলেছিলেন? তারা কি আত্মনির্ভরশীলতা, শিল্প সৎ প্রচেষ্টার সুসমাচার শিখিয়েছিলেন? '''কোনো কৃষক, মেকানিক বা বিজ্ঞানী কি নিউ টেস্টামেন্টে একটি দরকারী তথ্যও খুঁজে পেতে পারেন?''' পবিত্র বইটিতে এমন কিছু আছে কি যা ভূতত্ত্ববিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, জীববিজ্ঞানী, চিকিৎসক, উদ্ভাবক যেকোনো দরকারী জিনিসের নির্মাতাকে সাহায্য করতে পারে?
* '''এটি শিখিয়েছিল যে এই জীবনের মূল কাজ হলো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়া।''' এটি জোর দিয়েছিল যে মুক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাস প্রয়োজন, এবং যারা বিশ্বাস করতে ব্যর্থ হবে, বা সামান্য সন্দেহ করবে তারা অনন্ত যন্ত্রণায় ভুগবে। গির্জার মতে, মানুষের স্বাভাবিক ইচ্ছা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আবেগ সবই দুষ্ট এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। ঈশ্বরকে ভালোবাসা, আত্মত্যাগ চর্চা করা, ইচ্ছা দমন করা, সম্পদ তুচ্ছ করা, সমৃদ্ধি ঘৃণা করা, স্ত্রী ও সন্তানদের ত্যাগ করা, শিকড় ও বেরি খেয়ে বেঁচে থাকা, প্রার্থনা জপ করা, ছেঁড়া কাপড় পরা, নোংরায় বাস করা এবং হৃদয় থেকে ভালোবাসা তাড়িয়ে দেওয়া বহু শতাব্দী ধরে এগুলো ছিল সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে নিখুঁত পুণ্য, এবং যারা এগুলো চর্চা করত তারা ছিল সাধু। সাধুরা তাদের সহকর্মীদের সাহায্য করতেন না। সহকর্মীরাই তাদের সাহায্য করত। '''তারা অন্যদের জন্য শ্রম দিতেন না। তারা ছিল ভিক্ষুক পরজীবী কীট। তারা উন্মাদ ছিল। তারা খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণ করেছিল। তারা আগামীকালের জন্য কোনো চিন্তা করত না। তারা অন্য জগতে সুখী হওয়ার জন্য নিজেদের শরীর ছিন্নভিন্ন করেছিল নিজেদের শরীর ক্ষতবিক্ষত করেছিল এবং নিজেদের মন ধ্বংস করেছিল। জীবনের যাত্রাপথে তারা তাদের দৃষ্টি কবরের দিকেই রেখেছিল।'''
* রোগ শয়তানের কারণে হতো এবং কেবল যাজক, পচে যাওয়া হাড় এবং পবিত্র জল দিয়েই তা নিরাময় করা যেত। ডাক্তাররা ছিলেন যাজকদের প্রতিদ্বন্দ্বী। তারা রাজস্ব অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেন। গির্জা শারীরবিদ্যার অধ্যয়নের বিরোধিতা করেছিল মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদের বিরুদ্ধে ছিল। রোগ নিরাময়ের কোনো অধিকার মানুষের ছিল না ঈশ্বর তাঁর যাজকদের মাধ্যমেই তা করবেন। রোগ প্রতিরোধের কোনো অধিকার মানুষের ছিল না রোগগুলো ঈশ্বরের বিচার হিসেবে পাঠানো হতো। গির্জা ইনোকুলেশন টিকাদান এবং ক্লোরোফর্ম ও ইথারের ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিল। এটি ঘোষণা করা হয়েছিল যে একজন নারীর পক্ষে মাতৃত্বের যন্ত্রণা কমানো পাপ, অপরাধ। গির্জা ঘোষণা করেছিল যে নারীকে দয়াময় যিহোবার অভিশাপ বহন করতেই হবে। গির্জা কী করেছে? '''এটি শিখিয়েছিল যে উন্মাদদের মধ্যে শয়তান বাস করত। উন্মাদনা কোনো রোগ ছিল না। এটি ভূত দ্বারা সৃষ্ট। এটি প্রার্থনা দিয়ে সারানো যেত''' উপহার, তাবিজ এবং মন্ত্র দিয়ে। এগুলোর সবকিছুর জন্যই টাকা দিতে হতো। এটি গির্জাকে সমৃদ্ধ করেছিল। এই ধারণাগুলো কেবল ক্যাথলিকরাই নয়, প্রোটেস্ট্যান্টরাও সততার সাথে লালন করত লুথার, ক্যালভিন, নক্স এবং ওয়েসলি।
* এটি ডাইনিবিদ্যার ভয়ংকর মতবাদ শিখিয়েছিল। এটি অন্ধকারকে ভূতে বাতাসে শয়তানে এবং পৃথিবীটিকে দুঃখ ও লজ্জায় ভরিয়ে দিয়েছিল। এটি পুরুষ, নারী এবং শিশুদের তাদের সহকর্মীদের ক্ষতি করার জন্য শয়তানের সাথে জোট বাঁধার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল। সমুদ্রে ঝড় তোলা বৃষ্টি থামানো এবং তুষারপাত আনার জন্য বৃদ্ধ নারীদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। নিজেদের নেকড়ে, সাপ এবং ব্যাঙে পরিণত করার জন্য মেয়েদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। রোগ ছড়ানোর জন্য নিজেদের আত্মা বিক্রি করার জন্য এবং বিয়ার টক করার জন্য এই ডাইনিদের পোড়ানো হয়েছিল। এই সব কাজ করা হয়েছিল শয়তানের সাহায্যে যে ঈশ্বরের মেষশাবক, বিশ্বাসীদের নির্যাতন করতে চেয়েছিল। '''শয়তান অনেকভাবেই গির্জাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছিল। সে কখনো কখনো যাজকের রূপ ধরে অপরাধ করত।'''
* '''গির্জা কী করেছে? এটি স্ত্রীকে দাস বানিয়েছিল স্বামীর সম্পত্তি, এবং এটি স্বামীকে স্ত্রীর চেয়ে ঠিক ততটাই উঁচুতে স্থান দিয়েছিল যতটা উঁচুতে খ্রিষ্ট স্বামীর চেয়ে ছিলেন। এটি শিখিয়েছিল যে একজন সন্ন্যাসিনী একজন মায়ের চেয়ে বিশুদ্ধ, মহৎ। এটি লক্ষ লক্ষ পবিত্র এবং বিবেকবান মেয়েকে জীবনের আনন্দ ত্যাগ করতে রাতের ও মৃত্যুর বোনা ঘোমটা পরতে, মৃতদের পোশাক পরতে বাধ্য করেছিল তাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে তারা খ্রিষ্টের কনে। আমার দিক থেকে বলতে গেলে, আঠারোশো বছর ধরে মৃত একজন মানুষের কনে হওয়ার চেয়ে আমি বিধবা হতেই বেশি পছন্দ করব। সেই হতভাগা প্রতারিত মেয়েরা কল্পনা করত যে তারা কোনো এক রহস্যময় উপায়ে ঈশ্বরের সাথে আধ্যাত্মিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। সব পার্থিব আকাঙ্ক্ষা তাদের হৃদয় থেকে দূর করা হয়েছিল। তারা উপবাস প্রার্থনা আত্ম-দোষারোপ দিয়ে তাদের জীবন ভরিয়ে দিয়েছিল। তারা বাবা-মাকে ভুলে গিয়ে অদৃশ্যকে তাদের ভালোবাসা দিয়েছিল। তারা ছিল কুসংস্কারের শিকার, কয়েদি ঈশ্বরের কারাগারের বন্দি। বিবেকবান, ভালো, সৎ উন্মাদ। এই প্রেমময় নারীরা তাদের হৃদয় দিয়েছিল এক কল্পমূর্তিকে, তাদের জীবন দিয়েছিল এক স্বপ্নকে।'''
* যাজকরা, ধর্মতাত্ত্বিকরা নারীদের তাদের ভদ্রতার তাদের প্রশংসা পাওয়ার ভালোবাসার সুযোগ নিয়েছেন। তারা তাদের আশা ও ভয়ের ওপর বেঁচে থেকেছেন। ভ্যাম্পায়ারের মতো তারা তাদের রক্ত শুষে খেয়েছেন। তারা তাদের বিশ্বের পাপের জন্য দায়ী করেছেন। তারা তাদের দাসসুলভ গুণাবলি শিখিয়েছেন নম্রতা, বিনয় অন্ধ আনুগত্য। তারা তাদের মনকে ভুল, রহস্য এবং অযৌক্তিকতা দিয়ে খাইয়েছেন। তারা তাদের মস্তিষ্ককে দুর্বল ও সংকুচিত করার চেষ্টা করেছেন, যতক্ষণ না তাদের কাছে প্রমাণ ও বিশ্বাসের মধ্যে ঘটনা ও আস্থার মধ্যে কোনো সম্ভাব্য সংযোগ না থাকে।
* গির্জা মহামারিগুলোকে ভালো ঈশ্বরের বার্তাবাহক হিসেবে বিবেচনা করত। '''"ব্ল্যাক ডেথ" অনন্ত পিতার দ্বারাই পাঠানো হয়েছিল, যাঁর দয়া কিছু মানুষকে বাঁচিয়েছিল এবং যাঁর ন্যায়বিচার বাকিদের হত্যা করেছিল।''' এই অভিশাপ থামাতে, তারা হাঁটু গেড়ে এবং মাথা নত করে মিছিল এবং প্রার্থনা করে ধূপ জ্বালিয়ে এবং মানত করে ঈশ্বরের মন গলানোর চেষ্টা করেছিল। ''তারা কারণটি দূর করার চেষ্টা করেনি। কারণটি ছিলেন স্বয়ং ঈশ্বর।'' তারা বিশুদ্ধ জল চায়নি, চেয়েছিল পবিত্র জল। বিশ্বাস ও ময়লা একসাথে বেঁচে ছিল বা বরং মারা গিয়েছিল। ধর্ম ও ছেঁড়া কাপড়, ধার্মিকতা ও দূষণ একে অপরের সঙ্গী ছিল। পবিত্রতা তার দুর্গন্ধ ধরে রেখেছিল।
* আমরা জানি যে তারা লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে ব্রহ্মচর্য হলো সবচেয়ে বড় পুণ্য নারীরা হলো চিরন্তন প্রলোভন, প্রকৃত পবিত্রতার শত্রু সন্ন্যাসী ও যাজকরা বাবাদের চেয়ে মহৎ, সন্ন্যাসিনীরা মায়েদের চেয়ে বিশুদ্ধ। আমরা জানি যে তারা ট্রিনিটির পবিত্র অযৌক্তিকতা শিখিয়েছিল যে ঈশ্বর একসময় ফিলিস্তিনে ছুতারের কাজ করতেন। আমরা জানি যে তারা জ্ঞানকে পবিত্র এবং অপবিত্র এই দুই ভাগে ভাগ করেছিল শিখিয়েছিল যে ওহি হলো পবিত্র আর যুক্তি হলো ঈশ্বরনিন্দা বিশ্বাস হলো পবিত্র এবং সত্য হলো মিথ্যা।
* তারা ভেবেছিল পৃথিবীটা সমতল অনেকটা থালার মতো যার বয়স প্রায় পাঁচ হাজার বছর, এবং তারাগুলো হলো রাতের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য তৈরি ছোট ছোট আলোর স্ফুলিঙ্গ। '''আসল কথা হলো খ্রিষ্টান বিশ্বে কোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানী আসার পনেরোশো বছর আগে থেকেই খ্রিষ্টধর্ম বিদ্যমান ছিল'''। খ্রিষ্টের কোনো অনুসারী পৃথিবীর আকার জানতেন না।
* আমি সেই মহান বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানাই যারা ভিত্তিমূলে পৌঁছাতে পেরেছেন, সবচেয়ে নিচু পাথরে যারা সত্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন সেই মহান বিজ্ঞানীরা, যাদের উপস্থিতিতে ধর্মতাত্ত্বিকদের নির্বোধ মনে হয় এবং যারা বিদ্বেষ অনুভব করে। '''বিজ্ঞানীরা কখনোই তাদের সহকর্মীদের নির্যাতন করেননি, কারাবন্দি করেননি।''' তারা কোনো শিকল তৈরি করেননি, কোনো অন্ধকূপ নির্মাণ করেননি, কোনো ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করেননি লাল গরম চিমটা দিয়ে কোনো মাংস ছিঁড়ে নেননি যাতাকলে কোনো হাড় ভাঙেননি লোহার জুতায় কোনো হাড় গুঁড়ো করেননি চোখ উপড়ে ফেলেননি জিভ ছিঁড়ে নেননি এবং কোনো আগুন জ্বালাননি। তারা অনুপ্রাণিত হওয়ার ভান করেননি নবী বা সাধু হওয়ার দাবি করেননি বা পুনর্জন্ম নেওয়ার দাবিও করেননি। তারা কেবল বুদ্ধিমান এবং সৎ মানুষ ছিলেন। তারা বলপ্রয়োগ বা ভয়ের আশ্রয় নেননি। '''তারা মানুষদের নির্যাতন, চাবুক এবং শিকল দিয়ে শাসন করার মতো দাস মনে করেননি, বা শিশুদের মতো বোকা বানানোর জন্য বিভ্রম, বোকা মতবাদের দোলনায় দোলানোর জন্য এবং মিথ্যার ঘুমপাড়ানি গান দিয়ে শান্ত করার মতো কিছু ভাবেননি।''' তারা কাউকে আহত করেননি তারা নিরাময় করেছেন। তারা কাউকে হত্যা করেননি তারা জীবন দীর্ঘায়িত করেছেন। তারা কাউকে দাস বানাননি তারা শিকল ভেঙেছেন এবং মানুষকে স্বাধীন করেছেন। তারা জ্ঞানের বীজ বপন করেছিলেন, এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই ফসল ঘরে তুলেছে, তুলছে এবং ভবিষ্যতেও তুলবে।
=== দ্য চিলড্রেন অফ দ্য স্টেজ (১৮৯৯)===
:<small>[http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/stage_children.html অনলাইনে সম্পূর্ণ পাঠ্য]</small>
* '''যে [[হাত]]গুলো [[সাহায্য]] করে তা প্রার্থনা করা ঠোঁটের চেয়েও পবিত্র।'''
== হোয়াট উড ইউ সাবস্টিটিউট ফর দ্য বাইবেল অ্যাজ আ মোরাল গাইড? (১৯০০) ===
[[File:Sacrifice of Isaac-Caravaggio (Uffizi).jpg |thumb|right|বাইবেলে অনেক [[ভালো]] উপদেশ, অনেক জ্ঞানী কথা এবং অনেক ভালো নিয়ম ও আইন রয়েছে, এবং এগুলো মিশে আছে খারাপ উপদেশ, বোকা কথা, [[অযৌক্তিক]] [[নিয়ম]]গুলো ও নিষ্ঠুর [[আইন]]গুলোর সাথে।]]
[[File:Tissot The Brazen Serpent.jpg|thumb|right|আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে বাইবেল হলো বহু শতাব্দী ব্যবধানে লেখা অনেকগুলো বইয়ের একটি সংকলন, এবং এটি আংশিকভাবে একটি [[জাতি]]র বিকাশ তুলে ধরে এবং আংশিকভাবে তাদের [[ইতিহাস]] বর্ণনা করে।]]
:<small> ''দ্য বোস্টন ইনভেস্টিগেটরে''র জন্য লেখা (অজানা তারিখ), এছাড়াও প্রকাশিত [http://books.google.com/books?id=3g4EAAAAYAAJ& ''দ্য ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল'', ভলিউম ১১ : ''মিসেলেনি'' (১৯০০)], পৃষ্ঠা ৫৩৭ - [http://www.mgvnet.com/troglodyte/ingersoll/substitute_bible.html অনলাইনে সম্পূর্ণ প্রবন্ধ] </small>
[[File:Merson Rest on the Flight into Egypt.jpg|thumb|right|আমরা মানবজাতির অভিজ্ঞতা, মানবজাতির প্রকৃত ইতিহাস চাই। আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ইতিহাস, নৈতিকতার বিকাশ, [[ন্যায়বিচার]]এর ধারণা, [[বিবেক]], [[দানশীলতা]]র এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস চাই। মানুষের [[মন]] যে পথ ও রাস্তাগুলো দিয়ে হেঁটেছে তা আমরা জানতে চাই।]]
* আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন "একটি নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বাইবেলের পরিবর্তে আমি কী বিকল্প দেব।" আমি জানি অনেকেই বাইবেলকে একমাত্র নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করে এবং বিশ্বাস করে যে কেবল সেই বইটিতেই নৈতিকতার প্রকৃত ও নিখুঁত মানদণ্ড পাওয়া যায়। '''বাইবেলে অনেক [[ভালো]] উপদেশ, অনেক জ্ঞানী কথা এবং অনেক ভালো নিয়ম ও আইন রয়েছে, এবং এগুলো মিশে আছে খারাপ উপদেশ, বোকা কথা, অযৌক্তিক নিয়ম ও নিষ্ঠুর আইনের সাথে। <br> কিন্তু আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে বাইবেল হলো বহু শতাব্দী ব্যবধানে লেখা অনেকগুলো বইয়ের একটি সংকলন, এবং এটি আংশিকভাবে একটি জাতির বিকাশ তুলে ধরে এবং আংশিকভাবে তাদের ইতিহাস বর্ণনা করে।''' আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে লেখকরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই লেখকদের অনেকেরই সঠিক বা ভুল, পাপ বা পুণ্য সম্পর্কে কিছু বলার ছিল না।
* [[বুক অফ জব|জবের]] গল্প যেকোনো ভালো মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেয়। এই বইটিতে কিছু কবিতা, কিছু করুণ রস এবং কিছু দর্শন রয়েছে, তবে জব নামের এই নাটকের গল্পটি চরম মাত্রায় হৃদয়হীন। ঈশ্বর এবং শয়তানের মধ্যে একটি ছোট বাজি নিষ্পত্তির জন্য জবের সন্তানদের হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে, জব অবিচল থাকায়, নিহত সন্তানদের পরিবর্তে অন্য সন্তানদের দেওয়া হয়। তবে, নিহত হওয়া সন্তানদের জন্য কিছুই করা হয়নি।
* সব মিলিয়ে, ওল্ড টেস্টামেন্টকে একটি নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। [[যিহোবা]] কোনো নৈতিক ঈশ্বর ছিলেন না। তাঁর মধ্যে সমস্ত দোষ ছিল, এবং সমস্ত গুণের অভাব ছিল। তিনি সাধারণত তাঁর হুমকিগুলো বাস্তবায়ন করতেন, কিন্তু তিনি কখনোই সততার সাথে কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। একই সাথে, আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে ওল্ড টেস্টামেন্ট একটি স্বাভাবিক উৎপাদন, এটি এমন সব অসভ্য মানুষের দ্বারা লেখা হয়েছিল যারা ধীরে ধীরে আলোর দিকে হামাগুড়ি দিচ্ছিল। তাদের বলা মহৎ কথাগুলোর জন্য আমাদের অবশ্যই তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে, এবং আমাদের এতটা দয়ালু হতে হবে যেন তাদের দোষ এমনকি তাদের অপরাধগুলোও ক্ষমা করে দিতে পারি।
* আমি স্বীকার করি যে নিউ টেস্টামেন্টে অনেক ভালো জিনিস রয়েছে, এবং যদি আমরা সেই বইটি থেকে অনন্ত যন্ত্রণার, অসীম প্রতিশোধের, প্রায়শ্চিত্তের, নরবলির, রক্ত ঝরানোর প্রয়োজনীয়তার মতবাদগুলো বাদ দিই; যদি আমরা প্রতিরোধ না করার মতবাদ, শত্রুদের ভালোবাসার মতবাদ, এই ধারণা যে সমৃদ্ধি আসে পাপ থেকে, দারিদ্র্য হলো স্বর্গের প্রস্তুতি এসব ছুড়ে ফেলে দিই এবং আচরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কেবল ভালো, বিবেকসম্পন্ন অংশগুলো নিই, তবে আমরা একটি মোটামুটি ভালো নৈতিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে পারি সংকীর্ণ, কিন্তু নৈতিক। <br> অবশ্য, অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বাদ পড়ে যাবে। আপনার কাছে মানবাধিকার নিয়ে কিছু থাকবে না, পরিবারের পক্ষে কিছু থাকবে না, শিক্ষার জন্য কিছু থাকবে না, তদন্তের জন্য, চিন্তা ও যুক্তির জন্য কিছুই থাকবে না, তবে তারপরও আপনি একটি মোটামুটি ভালো নৈতিক পথপ্রদর্শক পাবেন। অন্যদিকে, আপনি যদি বোকা অংশগুলো, চরম অংশগুলো নেন, তবে আপনি এমন একটি মতবাদ তৈরি করতে পারেন যা একটি পাগলা গারদকে সন্তুষ্ট করবে। '''যদি আপনি নিষ্ঠুর অংশগুলো নেন, সেই পদগুলো যা চিরন্তন ঘৃণা শেখায়, সেই পদগুলো যা সাপের মতো কুণ্ডলী পাকায় ও হিসহিস করে, তবে আপনি এমন একটি মতবাদ তৈরি করতে পারেন যা একটি হায়েনার হৃদয়কেও নাড়া দেবে।''' এমন হতে পারে যে কোনো বইতেই নিউ টেস্টামেন্টের চেয়ে ভালো কোনো অংশ নেই, তবে নিশ্চিতভাবে কোনো বইতেই এর চেয়ে খারাপ অংশও নেই। ভালোবাসার ফুলের নিচে আপনি পাবেন ঘৃণার কাঁটা; যে ঠোঁট চুম্বন করে, সেখানে আপনি পাবেন কোবরার বিষ। বাইবেল কোনো নৈতিক পথপ্রদর্শক নয়। যে কোনো মানুষ বিশ্বস্ততার সাথে এর সমস্ত শিক্ষা অনুসরণ করে সে সমাজের শত্রু এবং সম্ভবত তার শেষ দিনগুলো একটি কারাগার বা পাগলা গারদে কাটাবে।
* '''তাহলে নৈতিক পথপ্রদর্শক কী, বা কাকে বলা যেতে পারে? সবচেয়ে ছোট সম্ভাব্য উত্তর হলো একটি শব্দ: বুদ্ধিমত্তা।''' আমরা মানবজাতির অভিজ্ঞতা, মানবজাতির প্রকৃত ইতিহাস চাই। আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ইতিহাস, নৈতিকতার বিকাশ, ন্যায়বিচারের ধারণা, বিবেক, দানশীলতা এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস চাই। মানুষের মন যে পথ ও রাস্তাগুলো দিয়ে হেঁটেছে তা আমরা জানতে চাই। সাধারণভাবে এই তথ্যগুলো, রূপরেখায় থাকা এই ইতিহাসগুলো, পৌঁছানো ফলাফলগুলো, তৈরি করা সিদ্ধান্তগুলো, বিকশিত হওয়া নীতিগুলো, একত্রে মিলে সম্ভাব্য সেরা নৈতিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে পারে। আমরা "অনুপ্রাণিত বই" বা বিশ্বের ধর্মগুলোর ওপর নির্ভর করতে পারি না। এই ধর্মগুলো অতিপ্রাকৃতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, এবং সেগুলোর মতে আমরা কোনো অতিপ্রাকৃত সত্তা বা সত্তাদের উপাসনা ও আনুগত্য করতে বাধ্য। '''এই সমস্ত ধর্ম বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার সাথে অসংগতিপূর্ণ। এগুলো চিন্তা, তদন্ত এবং মানসিক সততার শত্রু। এগুলো মানুষের পুরুষত্ব নষ্ট করে। এগুলো বিশ্বাস, বিশ্বাসপ্রবণতা, এবং তারা যাকে আস্থা বলে তার জন্য অনন্ত পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি কেবল অযৌক্তিকই নয়, বরং এটি অনৈতিকও।'''
* '''এই ধর্মগুলো দাসসুলভ গুণাবলি শেখায়। এগুলো নির্জীব জিনিসগুলোকে পবিত্র, এবং মিথ্যাকে অলঙ্ঘনীয় করে তোলে। এগুলো কৃত্রিম অপরাধ তৈরি করে।''' শুক্রবারে মাংস খাওয়া, রোববারে আনন্দ করা, উপবাসের দিনে খাওয়া, লেন্টের সময় খুশি থাকা, একজন যাজকের সাথে তর্ক করা, প্রমাণ চাওয়া, কোনো মতবাদ অস্বীকার করা, নিজের সৎ মতামত প্রকাশ করা এসব কাজই হলো পাপ, কোনো ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অপরাধ। [[যিহোবা]], [[মুহাম্মদ]] বা [[যিশু|খ্রিষ্ট]] সম্পর্কে নিজের সৎ মতামত দেওয়া আপনার প্রতিবেশীকে বিদ্বেষপূর্ণভাবে অপবাদ দেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি খারাপ। অলৌকিক ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা সন্দেহ করা জানা তথ্য অস্বীকার করার চেয়ে অনেক বেশি খারাপ। কেবল বাধ্য, বিশ্বাসপ্রবণ, চাটুকার, নতজানু, নম্র, প্রশ্ন না করা এবং প্রকৃত বিশ্বাসীদেরই নৈতিক, পুণ্যবান হিসেবে গণ্য করা হয়। কেবল সৎ, উদার এবং দরকারী হওয়াই যথেষ্ট নয়; প্রমাণ ও তথ্য দ্বারা পরিচালিত হওয়াই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি, আপনাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। '''এগুলো নৈতিকতার শত্রু। এগুলো পুণ্য সম্পর্কে সমস্ত স্বাভাবিক ধারণাকে ধ্বংস করে দেয়।'''
* '''সমস্ত "অনুপ্রাণিত বই" যা শেখায় যে অতিপ্রাকৃত যা আদেশ করে তা-ই সঠিক, এবং সঠিক কারণ তা আদেশ করা হয়েছে, এবং অতিপ্রাকৃত যা নিষেধ করে তা-ই ভুল, এবং ভুল কারণ তা নিষেধ করা হয়েছে এগুলো চরমভাবে অদার্শনিক।''' এবং সমস্ত "অনুপ্রাণিত বই" যা শেখায় যে কেবল তারাই যারা অতিপ্রাকৃতের আদেশ অমান্য করে না তারা সত্যই পুণ্যবান, বা হতে পারে, এবং প্রশ্নহীন বিশ্বাস অনন্ত আনন্দ দিয়ে পুরস্কৃত হবে এগুলো চরমভাবে অনৈতিক। আমি আবারও বলছি: '''[[বুদ্ধিমত্তা]] হলো একমাত্র নৈতিক পথপ্রদর্শক।'''
=== আনসার টু লাইম্যান অ্যাবট (অসমাপ্ত), অ্যাবট, লাইম্যানের প্রতি উত্তর। "ফ্লস ইন ইঙ্গারসোলিজম।" ''দ্য নর্থ আমেরিকান রিভিউ'' ১৫০, নং. ৪০১ (১৮৯০): ৪৪৬-৪৫৭। ===
* আমি মনে করি না মূর্তিপূজা সবচেয়ে খারাপ পাপ। '''নিষ্ঠুরতা হলো সবচেয়ে খারাপ পাপ। আপনার প্রতিবেশীর ক্ষতি করার চেয়ে একজন মিথ্যা ঈশ্বরের উপাসনা করা অনেক ভালো আপনার সহকর্মীদের দাস বানানোর চেয়ে পাথরের কোনো বিকট মূর্তির সামনে মাথা নত করা অনেক ভালো।'''
* আমি আনন্দিত যে আপনি স্বীকার করেছেন যে কোনো ঈশ্বর না থাকার চেয়ে একজন খারাপ ঈশ্বর থাকা আরও খারাপ। যদি তাই হয়, তবে নাস্তিকরা যিহোবার বিশ্বাসীদের চেয়ে অনেক ভালো, এবং যিশু খ্রিষ্টের দেবত্বে বিশ্বাসীদের চেয়ে অনেক ভালো কারণ আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে কোনো খারাপ ঈশ্বর ছাড়া অন্য কেউ কোনো মানব আত্মাকে এই হুমকি দেবে না, "দূর হ, অভিশপ্তরা, অনন্ত আগুনে যা শয়তান এবং তার ফেরেস্তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।" তাই, যেকোনো খ্রিষ্টান একজন নাস্তিকের চেয়ে ভালো হওয়ার আগে তাকে অবশ্যই তার ঈশ্বরকে সংশোধন করতে হবে।
* '''অজ্ঞেয়বাদী কেবল এটাই বলে না, "আমি জানি না।" সে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়, এবং সে খুব জোর দিয়ে বলে যে আপনিও জানেন না। সে জোর দিয়ে বলে যে আপনি অন্যদের অজ্ঞতা নিয়ে এবং অন্যদের ভয় নিয়ে ব্যবসা করছেন। আপনি জানেন না কেবল এটুকু বলেই সে সন্তুষ্ট হয় না, সে প্রমাণ করে যে আপনি জানেন না''', এবং সে আপনাকে সত্যের ক্ষেত্র থেকে তাড়িয়ে দেয় সে আপনাকে যুক্তির রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেয় সে আপনাকে আলো থেকে তাড়িয়ে অনুমানের অন্ধকারে নিয়ে যায় স্বপ্ন এবং ছায়ার জগতে নিয়ে যায়, এবং সে আপনাকে শেষ পর্যন্ত বলতে বাধ্য করে যে আপনার বিশ্বাসের বাস্তবে কোনো ভিত্তি নেই।
* '''গির্জা মানুষের মনকে ন্যায়বিচার, দয়া এবং সত্যের নীতির দিকে ফেরায়নি এটি ন্যায়বিচারের ভিত্তি ধ্বংস করেছে। এটি কফিনের পাশে সান্ত্বনা দেয় না এটি শোকাহতদের ভয়ে ভরিয়ে দেয়। এটি কখনোই "পৃথিবীতে শান্তি"র সুসমাচার প্রচার করেনি এটি কখনোই "মানুষের প্রতি সদিচ্ছা" প্রচার করেনি।'''
* আমি বলছি না যে এই বিশ্বাস সত্য কি না তা আমি জানি না। আমি স্পষ্টভাবে এবং পরিষ্কারভাবে বলছি যে আমি জানি এটি সত্য নয়। আমি স্বীকার করি যে কোনো অসীম ব্যক্তিত্ব আছে কি না তা আমি জানি না, কারণ আমি জানি না যে আমার মন একটি নিখুঁত মানদণ্ড। কিন্তু আমার মন অনুযায়ী, এমন কোনো ব্যক্তিত্ব নেই; এবং আমার মন অনুযায়ী, এমন কোনো অসীম ব্যক্তিত্ব থাকার কথা ভাবা একটি চরম অযৌক্তিকতা। '''কিন্তু আমি মানব প্রকৃতি সম্পর্কে কিছু জানি; আমি মানবজাতির ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা জানি; এবং আমি এটা জানার জন্য যথেষ্ট জানি যে খ্রিষ্টান বিশ্বাস হিসেবে যা পরিচিত তা সত্য নয়। আমি সব সন্দেহের ঊর্ধ্বে পুরোপুরি নিশ্চিত যে সমস্ত অলৌকিক ঘটনা মিথ্যা। আমি ঠিক ততটাই ভালোভাবে জানি যতটা আমি জানি যে আমি বেঁচে আছি অন্যরা বেঁচে আছে যে আপনি যাকে আপনার বিশ্বাস বলেন, তা সত্য নয়।'''
* "স্রষ্টার প্রতি প্রশংসার সেই চমৎকার গীতিনাট্য যা দিয়ে জেনেসিস শুরু হয়" তা চমৎকার সব ভুলে ভরা, এবং এটি পুরোপুরি অযৌক্তিক। '''"প্রথম পাপ এবং এর পরিণতি নিয়ে সেই সুন্দর কিংবদন্তিটি" সম্ভবত এ পর্যন্ত লেখা সবচেয়ে জঘন্য গল্প, এবং যিহোবার দ্বারা সেই প্রথম জুটির প্রতি আচরণ স্বৈরাচারী সরকারগুলোর নিষ্ঠুরতার ইতিহাসেও নজিরবিহীন। এই কুখ্যাত বর্ণনা অনুযায়ী, ঈশ্বর পৃথিবীর মায়েদের অভিশাপ দিয়েছিলেন এবং মাতৃত্বের যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কেবল তাই নয়, তিনি নারীকে দাসে পরিণত করেছিলেন, এবং পুরুষকে করে তুলেছিলেন এমন কিছু, যদি সম্ভব হয়, যা আরও নিচু একজন মনিব।'''
== আরোপিত ==
* '''এই বীরেরা মৃত। তারা স্বাধীনতার জন্য মারা গেছেন তারা আমাদের জন্য মারা গেছেন।''' তারা বিশ্রামে আছেন। তারা সেই দেশে ঘুমাচ্ছেন যাকে তারা স্বাধীন করেছিলেন, সেই পতাকার নিচে যাকে তারা নিষ্কলঙ্ক করেছিলেন, গম্ভীর পাইন গাছের নিচে, বিষণ্ণ হেমলকের নিচে, অশ্রুসিক্ত উইলোর নিচে, জড়িয়ে থাকা লতাগুল্মের নিচে। তারা মেঘের ছায়ায় ঘুমাচ্ছেন, রোদ বা ঝড়ের প্রতি উদাসীন হয়ে, প্রত্যেকেই বিশ্রামের জানালাবিহীন প্রাসাদে। পৃথিবী হয়তো অন্যান্য যুদ্ধের কারণে লাল হয়ে উঠবে তারা শান্তিতে আছেন। যুদ্ধের ডামাডোলে, সংঘাতের গর্জনে, তারা মৃত্যুর প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছেন।
** ''মেমোরিয়াল ডে ভিশন''। ''বারলেটস ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস'', ১০ম সংস্করণ (১৯১৯)-এ উল্লেখিত।
{{Misattributed begin}}
=== ভুলভাবে আরোপিত ===
* আমাদের পূর্বপুরুষরা ঈশ্বরকে রাজনীতি থেকে বিদায় করেছিলেন... স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এই মহৎ সত্যটি ঘোষণা করে যে সমস্ত ক্ষমতা জনগণের কাছ থেকেই আসে। এটি ছিল একটি প্রত্যাখ্যান, এবং একটি জাতির প্রথম প্রত্যাখ্যান, সেই কুখ্যাত মতবাদের যেখানে ঈশ্বর একজনকে অন্যের ওপর শাসন করার অধিকার দেন... আমাদের পিতারা এই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
** [[w:ডেভিড বার্টন (লেখক)|ডেভিড বার্টন]] কর্তৃক ''অরিজিনাল ইনটেন্ট'' (১৯৯৬) বইয়ে ভুলভাবে উদ্ধৃত, ''ইন্ডিভিজুয়ালিটি'' (১৮৭৩)-এর কিছু অংশ ১৮৭৬ সালের সেন্টেনিয়াল ওরেশনের একটি ভুল উদ্ধৃতির সাথে যুক্ত করা হয়েছে (উপরে দেখুন)।
{{Misattributed end}}
== ইঙ্গারসোল সম্পর্কে উক্তি ==*[[রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল]] এবং [[ওয়েন্ডেল ফিলিপস]] তাদের সময়ের সেরা দুই বাগ্মী ছিলেন, এবং সম্ভবত সর্বকালের। তাদের শক্তি এসেছিল স্বাধীনতা, সত্য, ন্যায়বিচার, এবং আলো ও সুখী মানুষে ভরা একটি পৃথিবীর প্রতি তাদের আবেগ থেকে। এই ঐশ্বরিক আবেগ না থাকলে তাদের কেউই অমর অর্জনের মহৎ শিখরে উঠতে পারতেন না। পবিত্র আগুন তাদের ভেতরে জ্বলত এবং যখন তারা জেগে উঠতেন তখন তা তাদের চোখে জ্বলজ্বল করত এবং তাদের অনুপ্রাণিত ঠোঁট থেকে বাগ্মিতার স্রোতে গড়িয়ে পড়ত। ইঙ্গারসোল এবং ফিলিপস যদি অর্থের বিনিময়ে আইন পেশায় তাদের জীবন উৎসর্গ করতেন তবে তাদের ভেতরের সেই ঐশ্বরিক আগুন ছাই হয়ে যেত এবং তারা সাধারণত্বের মাঝেই মারা যেতেন।
**[[ইউজিন ভি. ডেবস]], "দ্য সিক্রেট অফ এফিশিয়েন্ট এক্সপ্রেশন" (১৯১১)
* আমি এইমাত্র আমার ঘরে এসেছি, প্রিয় লিভি, আমার মনে হয় এটি ছিল আমার জীবনের স্মরণীয় রাত। জর্জের শপথ, আমি জন্মের পর থেকে কখনো এতটা আলোড়িত হইনি। আমি চারটি বক্তৃতা শুনেছি যা আমি কখনো ভুলতে পারব না... এর মধ্যে একটি হলো সেই অসাধারণ বৃদ্ধ মানুষ, কর্নেল বব ইঙ্গারসোলের ওহ, পৃথিবীর সৃষ্টির পর থেকে ইংরেজি শব্দের এর চেয়ে নিখুঁত সমন্বয় আর কখনো হয়নি। আমার আত্মা, তিনি দেখতে কতটা সুদর্শন ছিলেন, যখন তিনি সেই টেবিলের ওপর দাঁড়িয়েছিলেন, চিৎকার করা ৫০০ মানুষের মাঝে, এবং তার ঠোঁট থেকে গলিত রূপো ঢেলে দিচ্ছিলেন! '''প্রভু, মানুষের কথা বলার ক্ষমতা কতটা চমৎকার একটি বাদ্যযন্ত্র হতে পারে যখন এটি কোনো মাস্টারের দ্বারা বাজানো হয়! এই সব বক্তৃতা ছাপার অক্ষরে হয়তো নিরস মনে হতে পারে, কিন্তু যখন সেগুলো উচ্চারিত হচ্ছিল তখন তার চারপাশে বিদ্যুৎ কেমন ঝলমলে ছিল, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় জনতা কেমন গর্জন করছিল!''' এটি একটি দুর্দান্ত রাত ছিল, একটি স্মরণীয় রাত।
** [[মার্ক টোয়েন]], তার স্ত্রী "লিভি"-কে লেখা [http://etext.virginia.edu/railton/onstage/babies.html চিঠিতে (১৪ নভেম্বর ১৮৭৯)]।
* রবার্ট ইঙ্গারসোলের ভাঙার জন্য<br>কোনো মূর্তি বা প্রতিমা তৈরি কোরো না।
** [[অ্যামব্রোস বিয়ার্স]], "ডেকালগ", ''দ্য ডেভিলস ডিকশনারি'' (১৯০৬)।
* '''রবার্ট ইঙ্গারসোল ছিলেন একজন [[রম্যরচনাকার]], প্রথা-বিরোধক এবং [[মানবতা]]র [[প্রেমিক]]।''' <br> বলা হয়ে থাকে যে মানুষ এবং নিম্ন স্তরের প্রাণীদের মধ্যে পার্থক্য হলো মানুষের [[হাসি|হাসার]] ক্ষমতা আছে। <br> আপনি যখন হাসেন তখন আপনি শিথিল হন, এবং যখন আপনি শিথিল হন তখন আপনি পেশি, স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোকে [[স্বাধীনতা]] দেন। মানুষের মস্তিষ্ক যখন টানটান থাকে তখন সে খুব কমই তার [[যুক্তি]] ব্যবহার করতে পারে। রসবোধ এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে যুক্তি কাজ করতে পারে। <br> '''ইঙ্গারসোল জানতেন যে তাকে মানুষের [[মস্তিষ্ক]]এর কাছে আবেদন করতে হবে।'''
** [[অ্যালিস মুর হাবার্ড]], ''অ্যান আমেরিকান বাইবেল'' (১৯১২), ভূমিকা।
* '''রবার্ট ইঙ্গারসোল যেকোনো [[রাজনৈতিক]] এবং [[সামাজিক]] [[সম্মান]]এর চেয়ে [[মানবতা]]কে দাসত্ব এবং [[ভয়]] থেকে মুক্ত করার সুযোগকে বেশি পছন্দ করতেন। তিনি [[সত্য]]এর চেয়ে পবিত্র আর কিছুই জানতেন না।''' জনপ্রিয় প্রশংসা বা অনুমোদন পাওয়ার চেয়ে তিনি তার নিজস্ব যুক্তি ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করতেন। তার প্রখর বুদ্ধি, পরিষ্কার মস্তিষ্ক এবং নির্দয় [[ব্যঙ্গ]] [[কুসংস্কার]]এর রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল এবং তাকে যুক্তির আদালতে একটি পুতুলে পরিণত করেছিল।
** [[অ্যালিস মুর হাবার্ড]], ''অ্যান আমেরিকান বাইবেল'' (১৯১২), ভূমিকা।
*আঙ্কেল ড্যানই প্রথম রবার্ট ইঙ্গারসোল পড়ে শুনিয়ে বাইবেলের গল্পের ওপর আমার বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছিলেন। "বাতাস চলাচলের ব্যাপারে নোয়াহর কত বাজে ধারণাই না ছিল!" আমার মনে আছে তিনি বলছিলেন। "আর্ক-এ থাকা এত মানুষ এবং প্রাণী কীভাবে বেঁচে থাকতে পারে যদি কেবল ঘুঘুটিকে উড়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্যই একমাত্র জানালাটি খোলা হয়!" আমি ইঙ্গারসোলের সাবলীল সুন্দর ভাষা এবং তার ধারণাগুলো দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে, আমার হাতে আসা তার লেখা সবকিছুই আমি পড়তে শুরু করি। ইঙ্গারসোল, যিনি "মহান অজ্ঞেয়বাদী" হিসেবে পরিচিত ছিলেন, সারা দেশে অর্থোডক্স যাজকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি গৃহযুদ্ধে একজন কর্নেল ছিলেন এবং একজন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান আইনজীবী হিসেবে তিনি উচ্চ রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত হতে পারতেন। কিন্তু তার নির্ভীক অজ্ঞেয়বাদী বক্তৃতাগুলো তা অসম্ভব করে তুলেছিল। তার লেখাগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যাপকভাবে পঠিত হয়েছে এবং আমেরিকান চিন্তাধারাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। ডেবস ছাড়া আর কোনো বাগ্মী আমাকে ইঙ্গারসোলের মতো আকর্ষণ করেনি। ডেবসের উপমা এবং কল্পনাগুলো ইঙ্গারসোলের মতোই ছিল যে মানুষ মাঝে মাঝে বলত তিনি ইঙ্গারসোলকে অনুকরণ করেছেন। অবশ্যই, এটি সত্য ছিল না, তবে ডেবস কথা বলার আগে ইঙ্গারসোলের লেখায় নিজেকে নিমজ্জিত করতেন এবং প্রায়শই ইঙ্গারসোলকে উদ্ধৃত করতেন। ইঙ্গারসোল, অবশ্যই, শ্রেণি সংগ্রাম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তার প্রধান উদ্বেগ ছিল মানুষের মনকে কুসংস্কার থেকে মুক্ত করা তিনি কেবল ধর্মে একজন বিপ্লবী ছিলেন।
**[[এলা রিভ ব্লুর]] ''উই আর মেনি: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি'' (১৯৪০)
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
{{commonscat}}
* [http://www.secularhumanism.org/index.php?section=ingersoll&page=bio SecularHumanism.org-এ সংক্ষিপ্ত জীবনী]
* [http://www.bigeye.com/rgicreed.htm আর জি ইঙ্গারসোলের ধর্মমত]
* [http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/index.html ইঙ্গারসোলের সম্পূর্ণ কাজ]
* [http://www.positiveatheism.org/tochingr.htm পজিটিভ অ্যাথিজম-এ ইঙ্গারসোল থেকে নির্বাচিত অংশ]
*
[[বিষয়শ্রেণী:মানবতাবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতা]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাজনৈতিক নেতা]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৩৩-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৯৯-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাকস্বাধীনতা কর্মী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ধর্মের সমালোচক]]
[[বিষয়শ্রেণী:রিপাবলিকান পার্টির (যুক্তরাষ্ট্র) সদস্য]]
o3xna0j92v5e49bq20w8nni9xslc1l2
83250
83234
2026-05-01T18:11:41Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
83250
wikitext
text/x-wiki
[[File:Robert G. Ingersoll - Brady-Handy.jpg|thumb|right|[[ভালোবাসা]] একটি স্বাভাবিক বিষয়। সব [[অনুষ্ঠান|অনুষ্ঠানের]] পেছনে পবিত্র শিখা জ্বলে। এটি চিরকাল জ্বলবে। পৃথিবীর [[ইতিহাস|ইতিহাসে]] এমন কোনো সময় ছিল না যখন এই মশাল নিভে গিয়েছিল। সব যুগে, সব জলবায়ুতে, সব মানুষের মধ্যে সত্য, খাঁটি ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছিল।]]
'''[[w:রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল|রবার্ট গ্রিন ইঙ্গারসোল]]''' (১১ আগষ্ট ১৮৩৩ – ২১ জুলাই ১৮৯৯) ছিলেন একজন আইনজীবী, [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধ|গৃহযুদ্ধের]] অভিজ্ঞ সৈনিক, রাজনৈতিক নেতা এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] একজন [[w:বক্তা|বক্তা]]। তিনি মুক্তচিন্তার সোনালী যুগে এই ভূমিকা পালন করেন। তিনি তার বিস্তৃত সংস্কৃতি এবং [[w:অজ্ঞেয়বাদ|অজ্ঞেয়বাদের]] পক্ষে বলার জন্য জন্য পরিচিত ছিলেন। তাকে "'''দ্য গ্রেট অ্যাগনোস্টিক'''" ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল।
== উদ্ধৃতি ==
[[File:Paradiso Canto 31 (148200393).jpg|thumb|right|সব ধর্মমতকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা এবং সব ধর্মের সত্যকে অস্বীকার করার পরও আমার [[হৃদয়|হৃদয়ে]] বা ঠোঁটে আশাবাদী, প্রেমময় এবং কোমল [[আত্মা|আত্মাদের]] জন্য কোনো অবজ্ঞা নেই। তারা বিশ্বাস করেন এই সব মতভেদ থেকে একটি নিখুঁত [[সম্প্রীতি]] তৈরি হবে। প্রতিটি [[মন্দের|মন্দ]] কোনো না কোনো রহস্যময় উপায়ে একটি [[ভালো|ভালোতে]] পরিণত হবে। সবার [[উপরে|সবকিছুর]] উপরে এমন একজন আছেন যিনি কোনো না কোনোভাবে মানুষের প্রতিটি [[সন্তান|সন্তানকে]] পুনরুদ্ধার এবং মহিমান্বিত করবেন...]]
[[File:Eugène Delaplanche - La Musique.jpg|thumb|right|[[সঙ্গীত]] হলো ভালোবাসার [[কণ্ঠস্বর]]।]]
[[File:William-Adolphe Bouguereau (1825-1905) - Rest (1879).jpg|thumb|right| [[ন্যায়বিচার]] হলো একমাত্র [[উপাসনা]]।<br>[[ভালোবাসা]] হলো একমাত্র পুরোহিত।<br>[[অজ্ঞতা]] হলো একমাত্র [[দাসত্ব]]।<br>[[সুখ]] হলো একমাত্র [[মঙ্গল]]। <br> সুখী হওয়ার [[সময়]] হলো [[বর্তমান|এখন]],<br>সুখী হওয়ার জায়গা হলো এখানে,<br>সুখী হওয়ার উপায় হলো অন্যদের সুখী করা।]]
[[File:Artist’s impression of the black hole inside NGC 300 X-1 (ESO 1004a).jpg|thumb|right|[[বর্তমান]] হলো সমস্ত [[অতীত|অতীতের]] একটি [[প্রয়োজনীয়]] ফল। এটি সমস্ত [[ভবিষ্যৎ|ভবিষ্যতের]] প্রয়োজনীয় [[কারণ]]।]]
[[File:Blue Marble Western Hemisphere.jpg|thumb|দীর্ঘ সময়কালের তুলনা করে আমরা অগ্রগতি আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি।]]
[[File:Mikuláš Galanda - Mother Galanda.jpg|thumb|right|বর্তমান হলো সন্তান। এটি সমস্ত অতীতের প্রয়োজনীয় সন্তান এবং সমস্ত ভবিষ্যতের মা।]]
[[File:Crepuscular rays in ggp 2.jpg|thumb|right|স্বাধীন হওয়া অনেক ভালো। ভয়ের দুর্গ ও ব্যারিকেড ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়া উচিত। মাঝে মাঝে নিজেকে অবহেলায় সঁপে দেওয়া অনেক ভালো। ঢেউ ও স্রোতের সাথে এবং বিশ্বের অন্ধ শক্তির সাথে ভেসে চলা উচিত...]]
[[File:La Vérité, par Jules Joseph Lefebvre.jpg|thumb|right|আমরা যত বেশি মিথ্যা ধ্বংস করব, সত্যের জন্য তত বেশি জায়গা তৈরি হবে।]]
[[File:Pedro_Berruguete_Saint_Dominic_Presiding_over_an_Auto-da-fe_1495.jpg|thumb|right|মানুষকে [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] উপাসনা করার [[উদ্দেশ্য|উদ্দেশ্যে]] তৈরি সমস্ত [[আইন]] একই আত্মা থেকে জন্ম নিয়েছে। এই আত্মা ''[[w:অটো ডি ফে|অটো দ্য ফে]]''র আগুন জ্বালিয়েছিল এবং ইনকুইজিশনের অন্ধকূপগুলো ভালোবেসে তৈরি করেছিল।]]
[[File:This morning we caught a rainbow.jpg|thumb|right|আমাদের [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] [[ক্ষমা|ক্ষমার]] প্রয়োজন নেই। আমাদের একে অপরের এবং নিজেদের ক্ষমার প্রয়োজন।]]
[[File:LuMaxArt_Golden_Family_With_World_Religions.jpg|thumb|right|প্রতিটি মানুষ সুখী হতে চায়। তারা খাদ্য, ছাদ ও পোশাক দিয়ে শরীরের চাহিদা মেটাতে চায়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালোবাসা, প্রজ্ঞা, দর্শন, শিল্প এবং গান দিয়ে মনের ক্ষুধা মেটাতে চায়।]]
[[File:Caspar David Friedrich - Wanderer above the sea of fog.jpg|thumb|right|আমি মনস্থির করেছি, যদি কোনো [[ঈশ্বর]] থাকেন, তবে তিনি দয়ালুদের প্রতি [[দয়া|দয়ালু]] হবেন। <br/> এই বিশ্বাসের ওপর আমি দাঁড়িয়ে আছি।]]
[[File:Cristo Redentor viewed from the base.jpg|thumb|right|[[প্রকৃতি|প্রকৃতিতে]] কোনো পুরস্কার বা [[শাস্তি]] নেই। এখানে কেবল [[পরিণতি]] রয়েছে। [[যিশু|খ্রিষ্টের]] [[জীবন]] এর উদাহরণ, [[নৈতিক]] [[শক্তি]] এবং পরোপকারের [[বীরত্ব|বীরত্বের]] জন্য মূল্যবান।]]
* নারী-পুরুষ আইনের দ্বারা গুণী হয় না। আইন নিজে কোনো গুণ তৈরি করে না। এটি ভালোবাসার ভিত্তি বা উৎসও নয়। আইনের উচিত গুণকে রক্ষা করা। চুক্তি মেনে চললে স্ত্রীর ও স্বামী তার দায়িত্ব পালন করলে স্বামীকে আইনের রক্ষা করা উচিত। '''তবে ভালোবাসার মৃত্যু হলো বিয়ের সমাপ্তি। [[ভালোবাসা]] একটি স্বাভাবিক বিষয়। সব [[অনুষ্ঠান|অনুষ্ঠানের]] পেছনে পবিত্র শিখা জ্বলে। এটি চিরকাল জ্বলবে। পৃথিবীর [[ইতিহাস|ইতিহাসে]] এমন কোনো সময় ছিল না যখন এই মশাল নিভে গিয়েছিল। সব যুগে, সব জলবায়ুতে, সব মানুষের মধ্যে সত্য, খাঁটি ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছিল।'''
** ''দ্য রাইটিংস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল'' (১৯০০), ড্রেসডেন সংস্করণ, প্রকাশক: সি.পি. ফ্যারেল, [http://books.google.de/books?id=MOjuNv04TUcC&pg=PA426&lpg=PA426&dq=Love+is+natural.+Back+of+all+ceremony+burns+and+will+forever+burn+the+sacred+flame.+There+has+been+no+time+in+the+world's+history+when+that+torch+was+extinguished.+In+all+ages,+in+all+climes,+among+all+people,+there+has+been+true,+pure,+and+unselfish+love.&source=bl&ots=7Shzo7cSUF&sig=ZHs4Bs7Z_AvZF4UG-emVhGR2gTM&hl=de&sa=X&ei=6rP7UdGNI8iFtAbe64GIDw&ved=0CEAQ6AEwAg#v=onepage&q=Love%20is%20natural.%20Back%20of%20all%20ceremony%20burns%20and%20will%20forever%20burn%20the%20sacred%20flame.%20There%20has%20been%20no%20time%20in%20the%20world's%20history%20when%20that%20torch%20was%20extinguished.%20In%20all%20ages%2C%20in%20all%20climes%2C%20among%20all%20people%2C%20there%20has%20been%20true%2C%20pure%2C%20and%20unselfish%20love.&f=false অধ্যায়: ইজ ডিভোর্স রং (১৮৮৯), পৃষ্ঠা ৪২৬]
* '''আমি ধারণা ধার করি না। আমার নিজস্ব একটি কারখানা আছে।'''
** দ্য লেটারস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল (ফিলোসফিক্যাল লাইব্রেরি, ১৯৫১) পৃষ্ঠা ৫৭৮
* '''একটি সত্য কখনো অলৌকিক ঘটনার সাথে অংশীদারিত্বে যায় না। সত্যের জন্য অলৌকিকতার সাহায্যের প্রয়োজন নেই। একটি সত্য মহাবিশ্বের অন্য প্রতিটি সত্যের সাথে মিলে যাবে। এটি অন্যান্য সমস্ত সত্যের ফসল। একটি মিথ্যা কেবল তার সাথে মানানসই করার উদ্দেশ্যে তৈরি আরেকটি মিথ্যার সাথেই মানানসই হবে।'''
** দ্য ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল, খণ্ড ২ (১২ খণ্ডে): "লেচারস" ; "সাম মিসটেকস অফ মোজেস", ৬ "মানডে", পৃষ্ঠা ৫৯
* '''[[স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র]] এই মহান [[সত্য|সত্যটি]] ঘোষণা করে যে, সমস্ত [[ক্ষমতা]] [[জনগণ|জনগণের]] কাছ থেকে আসে। এটি একটি কুখ্যাত মতবাদের অস্বীকার ছিল। এটি একটি [[জাতি|জাতির]] প্রথম অস্বীকার ছিল। মতবাদটি ছিল যে, [[ঈশ্বর]] একজনকে অন্যদের শাসন করার অধিকার দেন।''' এটি [[মানবতা|মানবজাতির]] [[মর্যাদা|মর্যাদার]] প্রথম মহান দাবি ছিল। এটি শাসিতদের ক্ষমতার উৎস বলে ঘোষণা করেছিল। এটি আসলে যেকোনো এবং সমস্ত [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] [[কর্তৃত্ব|কর্তৃত্বকে]] অস্বীকার করেছিল। দাসত্বের যুগ পেরিয়ে এবং চাবুক ও শেকলের ক্লান্তিকর শতাব্দী ধরে ঈশ্বরকে বিশ্বের স্বীকৃত শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। মানুষকে সিংহাসনে বসানো মানে ঈশ্বরকে সিংহাসনচ্যুত করা।
** ''[http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/individuality.html ইন্ডিভিজুয়ালিটি]'' (১৮৭৩)।
* '''একজন [[সৎ]] [[দেবতা|ঈশ্বর]] হলো [[মানুষ|মানুষের]] সবচেয়ে মহৎ [[কাজ]]।'''
** এটি [[অ্যালেকজান্ডার পোপ|অ্যালেকজান্ডার পোপের]] "অ্যান অনেস্ট ম্যানস দ্য নোবেলেস্ট ওয়ার্ক অফ গড" থেকে নেওয়া হয়েছে। "দ্য গডস" (১৮৭৬) প্রবন্ধের মূলমন্ত্র হিসেবে এটি ''দ্য গডস অ্যান্ড আদার লেকচারস'' (১৮৭৯) এ প্রকাশিত হয়েছিল।
* '''[[দিন|দিনের]] পর দিন ধর্মীয় ধারণাগুলোর তীব্রতা কমে যাচ্ছে। দিন দিন বই ও ধর্মমত থেকে পুরোনো চেতনা মরে যাচ্ছে।''' আদি [[গির্জা|গির্জার]] জ্বলন্ত উৎসাহ এবং নিভৃতে থাকা উদ্দীপনা চলে গেছে। এগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না। আচার-অনুষ্ঠানগুলো টিকে আছে, কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে প্রাচীন [[বিশ্বাস]] বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জীর্ণ যুক্তিগুলো বিশ্বাস জন্মাতে ব্যর্থ হয়। একসময় যেসব নিন্দা একটি জাতির মুখ ফ্যাকাশে করে দিত, সেগুলো এখন আমাদের মধ্যে কেবল উপহাস ও বিতৃষ্ণার সৃষ্টি করে। [[সময়|সময়]] গড়ানোর সাথে সাথে [[অলৌকিক ঘটনা|অলৌকিক ঘটনাগুলো]] তুচ্ছ ও ছোট হয়ে যায়। আমাদের পূর্বপুরুষরা যেসব প্রমাণ চূড়ান্ত বলে মনে করতেন, সেগুলো আমাদের সন্তুষ্ট করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।
** "দ্য গডস" (১৮৭৬), যা ''দ্য গডস অ্যান্ড আদার লেকচারস'' (১৮৭৯) এ প্রকাশিত হয়েছিল।
* '''সব ধর্মমতকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা এবং সব [[ধর্ম|ধর্মের]] সত্যকে অস্বীকার করার পরও আমার [[হৃদয়|হৃদয়ে]] বা ঠোঁটে আশাবাদী, প্রেমময় ও কোমল [[আত্মা|আত্মাদের]] জন্য কোনো [[অবজ্ঞা]] নেই। তারা বিশ্বাস করেন এই সব [[মতভেদ]] থেকে একটি [[নিখুঁত]] [[সম্প্রীতি]] তৈরি হবে। প্রতিটি [[মন্দের|মন্দ]] কোনো না কোনো রহস্যময় উপায়ে একটি [[ভালো|ভালোতে]] পরিণত হবে। সবার উপরে এমন একজন আছেন যিনি কোনো না কোনোভাবে মানুষের প্রতিটি [[সন্তান|সন্তানকে]] পুনরুদ্ধার ও মহিমান্বিত করবেন। কিন্তু যারা হৃদয়হীনভাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে মুক্তি প্রায় অসম্ভব, নরকবাস প্রায় [[নিশ্চিত|নিশ্চিত]], [[মহাবিশ্ব|মহাবিশ্বের]] মহাসড়ক [[নরক|নরকের]] দিকে নিয়ে যায়, যারা [[জীবন|জীবনকে]] [[ভয়]] এবং [[মৃত্যু|মৃত্যুকে]] বিভীষিকা দিয়ে ভরিয়ে তোলেন, যারা দোলনাকে অভিশাপ দেন এবং সমাধিকে উপহাস করেন, তাদের প্রতি [[করুণা]], [[অবজ্ঞা]] ও [[ঘৃণা|ঘৃণার]] অনুভূতি ছাড়া আর কিছু পোষণ করা অসম্ভব।'''
** "দ্য গডস" (১৮৭৬), যা ''দ্য গডস অ্যান্ড আদার লেকচারস'' (১৮৭৯) এ প্রকাশিত হয়েছিল।
* '''[[যুক্তি]], পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা হলো [[বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] পবিত্র ত্রিত্ব। এগুলো আমাদের শিখিয়েছে যে [[সুখ]] হলো একমাত্র [[মঙ্গল]]। সুখী হওয়ার [[সময়]] হলো [[বর্তমান|এখন]] এবং সুখী হওয়ার উপায় হলো অন্যদের সুখী করা। আমাদের জন্য এটাই যথেষ্ট।''' এই [[বিশ্বাস|বিশ্বাসে]] আমরা বাঁচতে ও মরতে সন্তুষ্ট। যদি কোনোভাবে [[প্রকৃতি|প্রকৃতির]] চেয়ে উচ্চতর ও স্বাধীন কোনো শক্তির অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়, তবে তখন হাঁটু গেড়ে বসার যথেষ্ট সময় থাকবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আসুন আমরা সোজা হয়ে দাঁড়াই।
** "দ্য গডস" (১৮৭৬), যা ''দ্য গডস অ্যান্ড আদার লেকচারস'' (১৮৭৯) এ প্রকাশিত; এটি তার "ক্রিড" বা মতবাদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ধারণাটির প্রাথমিক সংস্করণগুলোর একটি। কিছু ভিন্নরূপ:
** '''[[ন্যায়বিচার]] হলো একমাত্র [[উপাসনা]]।<br>[[ভালোবাসা]] হলো একমাত্র পুরোহিত।<br>[[অজ্ঞতা]] হলো একমাত্র [[দাসত্ব]]।<br>সুখ হলো একমাত্র মঙ্গল।<br>সুখী হওয়ার সময় হলো এখন,<br>সুখী হওয়ার জায়গা হলো এখানে,<br>সুখী হওয়ার উপায় হলো অন্যদের সুখী করা।'''<br> [[প্রজ্ঞা]] হলো সুখের বিজ্ঞান।
*** ক্রিস্টোফার মর্লি সম্পাদিত ''ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস'' (১৯৩৭), পৃষ্ঠা ৬০৩-এ উদ্ধৃত
** '''সুখ হলো একমাত্র মঙ্গল। <br> সুখী হওয়ার জায়গা হলো এখানে। <br> সুখী হওয়ার সময় হলো এখন। <br> সুখী হওয়ার উপায় হলো অন্যদের সুখী করা।'''
*** ভিন্নরূপ, যা তিনি একজন ভক্তের জন্য একটি পাণ্ডুলিপির কপিতে লিখেছিলেন (২৬ মার্চ ১৮৯৭) * '''একজন সশস্ত্র যোদ্ধার মতো, পালকযুক্ত নাইটের মতো, [[জেমস জি. ব্লেইন]] আমেরিকান কংগ্রেসের হল ধরে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তার দেশের প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতক এবং তার সুনাম ক্ষুণ্নকারী প্রত্যেকের নির্লজ্জ কপালের দিকে তার উজ্জ্বল বর্শা পূর্ণ ও নিখুঁতভাবে নিক্ষেপ করেছিলেন।'''
** [[জেমস জি. ব্লেইন|ব্লেইনকে]] রাষ্ট্রপতির জন্য মনোনীত করার ভাষণ, [[w:১৮৭৬ রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশন|রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে]] (১৫ জুন ১৮৭৬)।{{fix cite}}
* '''তারা বলে আপনার পূর্বপুরুষদের ধর্মই যথেষ্ট ভালো। একজন বাবার কেন তার ছেলের তৈরি করা উন্নত লাঙলে আপত্তি থাকবে? তারা আমাকে বলে, আপনি কি মৃত সব [[ধর্মতত্ত্ববিদ|ধর্মতত্ত্ববিদের]] চেয়ে বেশি জানেন? একজন সম্পূর্ণ বিনয়ী মানুষ হিসেবে আমি বলি, আমার মনে হয় আমি জানি।''' এখন আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে প্রতিটি মানুষের চিন্তা করার অধিকার রয়েছে। [[ঈশ্বর]] কি একটি পাখিকে ডানা দেবেন এবং ওড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করবেন? তিনি কি আমাকে মস্তিষ্ক দেবেন এবং চিন্তাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করবেন? '''যেকোনো ঈশ্বর যিনি তার সন্তানদের সৎ চিন্তার প্রকাশের জন্য অভিশাপ দেবেন, তিনি একজন ভদ্র [[চোর]] হওয়ারও যোগ্য নন। যখন আমি একটি [[বই]] পড়ি এবং তা বিশ্বাস করি না, তখন আমার তা বলা উচিত। আমি তাই করব এবং একজন মানুষের মতো [[পরিণতি|পরিণতিগুলো]] মেনে নেব।'''
** পিটসবার্গ অপেরা হাউসে উপস্থাপিত ''রিলিজিয়াস ইনটলারেন্স'' বিষয়ক ভাষণ (১৪ অক্টোবর ১৮৭৯)।{{fix cite}}
* বিশ্বের [[অগ্রগতি|অগ্রগতিকে]] কে অতিরঞ্জিত করতে পারে, যদি [[কুসংস্কার|কুসংস্কারে]] নষ্ট হওয়া সমস্ত [[অর্থ]] মানবজাতিকে আলোকিত, উন্নত এবং সভ্য করতে ব্যবহার করা যেত?
** [http://www.archive.org/stream/somemistakesmose00ingeuoft/somemistakesmose00ingeuoft_djvu.txt "সাম মিসটেকস অফ মোজেস" (১৮৭৯)] খণ্ড ২, "ফ্রি স্কুলস"।
* '''গির্জাগুলো রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে...''' সম্ভবত এমন দিন আসতে বেশি দেরি নেই যখন গির্জাগুলো ধর্মতাত্ত্বিক প্রশ্নগুলোর মতোই রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোতেও তীব্রভাবে বিভক্ত হবে। যখন সেই দিন আসবে, যদি ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত [[উদারপন্থী|উদারপন্থীরা]] না থাকে, তবে এই সরকার ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষের [[স্বাধীনতা]] কোনো গির্জার হাতে নিরাপদ নয়। যেখানেই বাইবেল এবং [[তলোয়ার]] অংশীদারত্বে থাকে, সেখানেই মানুষ দাস। '''মানুষকে [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] উপাসনা করার [[উদ্দেশ্য|উদ্দেশ্যে]] তৈরি সমস্ত [[আইন]] একই আত্মা থেকে জন্ম নিয়েছে। এই আত্মা ''[[w:অটো ডি ফে|অটো দ্য ফে]]''র আগুন জ্বালিয়েছিল এবং ইনকুইজিশনের অন্ধকূপগুলো ভালোবেসে তৈরি করেছিল।''' [[ব্লাসফেমি|ব্লাসফেমিকে]] সংজ্ঞায়িত এবং শাস্তি প্রদানকারী সমস্ত আইন নির্লজ্জ [[ধর্মান্ধ|ধর্মান্ধদের]] দ্বারা পাস করা হয়েছিল। এগুলো অবিলম্বে [[সৎ]] মানুষদের দ্বারা বাতিল করা উচিত। বাইবেল সম্পর্কে আপনার সৎ ধারণা দেওয়া, প্রাচীন ইহুদিদের [[অজ্ঞতা|অজ্ঞতা]] নিয়ে [[হাসা|হাসাহাসি]] করা, সাবাথ উপভোগ করা, অথবা [[যিহোবা|যিহোবা]] সম্পর্কে আপনার মতামত দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। '''একজন [[অসীম]] [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] উচিত রাজ্য আইনসভার সাথে অংশীদারত্বে না গিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হওয়া।''' অবশ্যই তার এমন কাজ করা উচিত নয় যে তাকে উপহাস করা থেকে বিরত রাখতে আইনের প্রয়োজন হয়। জরিমানা এবং কারাদণ্ডের হুমকি দিয়ে [[উইলিয়াম শেক্সপিয়র|শেক্সপিয়রকে]] উপহাস থেকে রক্ষা করার কথা কেউ ভাবে না। আমার মনে হয় যে ঈশ্বর এমন একটি বই লিখতে পারতেন যা তার সন্তানদের [[হাসি|হাসির]] উদ্রেক করবে না। আসলে, আমার মনে হয় এটা বলা নিরাপদ যে একজন বাস্তব ঈশ্বর এমন একটি কাজ তৈরি করতে পারতেন যা মানবজাতির প্রশংসা অর্জন করতে পারে। ইহুদি ঈশ্বরের সাহিত্যিক সুনাম রক্ষার জন্য আইন পাসের চেয়ে রাজনীতিবিদদের অবশ্যই আরও ভালোভাবে নিয়োগ করা যেত।
** [http://www.positiveatheism.org/hist/ingermm1.htm ''সাম মিসটেকস অফ মোজেস'' (১৮৭৯)] খণ্ড ৩, "দ্য পলিটিশিয়ানস"।
* আর এই একই ঈশ্বর কেন আমাকে শেখান কীভাবে আমার সন্তানদের মানুষ করতে হবে, যখন তাকে তার নিজের সন্তানদের ডুবিয়ে মারতে হয়েছিল?
** [http://www.positiveatheism.org/hist/ingermm2.htm#XVIII ''সাম মিসটেকস অফ মোজেস'' (১৮৭৯)]] খণ্ড ১৮, "ড্যাম্পনেস"।
* আমি বরং একজন ফরাসি কৃষক হতাম এবং কাঠের জুতো পরতাম। আমি বরং দরজার ওপর লতাগুল্ম ঘেরা একটি কুঁড়েঘরে থাকতাম, যেখানে শরতের রোদে আঙুর বড় হতো এবং পাকতো। আমি বরং আমার স্ত্রীর পাশে এবং কোলের ওপর সন্তানদের নিয়ে সেই কৃষক হতাম, যারা আমাকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরত। আমি বরং সেই গরিব ফরাসি কৃষক হতাম এবং শেষে যারা আমাকে ভালোবাসত তাদের অনুসরণ করে ধুলোর চিরন্তন বিশ্রামে হারিয়ে যেতাম। আমি বরং শক্তি এবং হত্যার সেই সাম্রাজ্যবাদী প্রতিমূর্তির চেয়ে হাজার গুণ বেশি সেই ফরাসি কৃষক হতাম। আমি দশ হাজার হাজার গুণ বেশি তা-ই হতে চাইতাম।
** [[নেপোলিয়ন|নেপোলিয়নের]] সমাধিতে স্বগতোক্তি (১৮৮২); এটি ভুলভাবে রিপোর্ট করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে: "আমি বরং বিশ্বের সাথে শান্তিতে বসবাসকারী সবচেয়ে বিনীত কৃষক হতে চাই... সর্বশ্রেষ্ঠ খ্রিষ্টান হওয়ার চেয়ে" বিলি সানডের দ্বারা (২৬ মে ১৯১২), পল এফ. বোয়লার, জুনিয়র এবং জন জর্জের ''দে নেভার সেইড ইট: আ বুক অফ ফেক কোটস, মিসকোটস, অ্যান্ড মিসলিডিং অ্যাট্রিবিউশনস'' (১৯৮৯), পৃষ্ঠা ৫২-৫৩ এ যেমন রিপোর্ট করা হয়েছে।
* '''[[জীবন|জীবনের]] কালো মেঘে [[ভালোবাসা]] হলো একমাত্র রংধনু। এটি সকাল এবং বিকালের [[তারা]]। এটি শিশুর ওপর আলো ছড়ায় এবং শান্ত সমাধির ওপর তার দীপ্তি ছড়ায়। এটি [[শিল্প|শিল্পের]] জননী, [[কবি]], [[দেশপ্রেমিক]] এবং [[দার্শনিক|দার্শনিকের]] অনুপ্রেরণাদাতা। এটি প্রতিটি হৃদয়ের [[বাতাস]] এবং [[আলো]]। এটি প্রতিটি [[বাড়ি|বাড়ির]] নির্মাতা, প্রতিটি চুলায় প্রতিটি [[আগুন|আগুনের]] প্রজ্বলক।''' এটি প্রথম অমরত্বের [[স্বপ্ন]] দেখেছিল। '''এটি [[বিশ্ব|বিশ্বকে]] সুরে ভরিয়ে দেয়। কারণ [[সঙ্গীত]] হলো ভালোবাসার [[কণ্ঠস্বর]]। ভালোবাসা হলো সেই [[যাদু|জাদুকর]], যে মূল্যহীন জিনিসগুলোকে [[আনন্দ|আনন্দে]] পরিণত করে এবং সাধারণ মাটি দিয়ে রাজকীয় রাজা ও রানি তৈরি করে। এটি সেই বিস্ময়কর [[ফুল|ফুলের]], অর্থাৎ হৃদয়ের সুগন্ধ। সেই পবিত্র [[আবেগ]], সেই ঐশ্বরিক আবেশ ছাড়া আমরা পশুদের চেয়েও অধম। কিন্তু এর উপস্থিতিতে [[পৃথিবী]] হলো [[স্বর্গ]], এবং আমরা হলাম [[দেবতা]]।'''
** ''অর্থোডক্সি'' (১৮৮৪)।
* '''আমরা যত বেশি মিথ্যা ধ্বংস করব, সত্যের জন্য তত বেশি জায়গা তৈরি হবে।'''
** "অর্থোডক্সি" (১৮৮৪)। ''দ্য কমপ্লিট ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল'' (১৯০২) খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৩
* ক্ষমতার ব্যবহারের মতো আর কিছুই মানুষের আসল চরিত্র প্রকাশ করে না। দুর্বলদের জন্য নম্র হওয়া সহজ। বেশিরভাগ মানুষ প্রতিকূলতা সহ্য করতে পারে। কিন্তু আপনি যদি জানতে চান একজন মানুষ আসলে কেমন, তবে তাকে ক্ষমতা দিন। এটি হলো সর্বোচ্চ পরীক্ষা।
** "মোটলি অ্যান্ড মোনার্ক", ''দ্য নর্থ আমেরিকান রিভিউ'', ডিসেম্বর ১৮৮৫
* অতিরিক্ত প্রশংসা মনোযোগ আকর্ষণ করে। এটি প্রায়শই এমন হাজারো ত্রুটি [[আলো|আলোতে]] নিয়ে আসে যা সাধারণ চোখে কখনো ধরা পড়ত না। '''যদি আমাদের অন্যান্য সব বইয়ের মতো বাইবেল পড়ার অনুমতি দেওয়া হতো, তবে আমরা এর [[সৌন্দর্য|সৌন্দর্যের]] প্রশংসা করতাম, এর যোগ্য [[চিন্তা|চিন্তাগুলোকে]] মূল্যায়ন করতাম। আমরা এর সমস্ত [[উদ্ভট]], অদ্ভুত ও নিষ্ঠুর বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দিতাম এই বলে যে এর লেখকরা অসভ্য ও বর্বর যুগে বাস করতেন।''' কিন্তু আমাদের বলা হয় যে এটি অনুপ্রাণিত পুরুষদের দ্বারা লেখা হয়েছিল। এতে [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] ইচ্ছা রয়েছে। এটি এর সব অংশে নিখুঁত, খাঁটি ও সত্য। এটি সমস্ত নৈতিক ও ধর্মীয় সত্যের উৎস ও মানদণ্ড। এটি সমস্ত মানবিক আশার তারা ও নোঙর। এটি মানুষের একমাত্র পথপ্রদর্শক, [[প্রকৃতি|প্রকৃতির]] [[রাত|রাতে]] একমাত্র মশাল। '''এই দাবিগুলো প্রতিটি পরিচিত এবং লিপিবদ্ধ তথ্যের সাথে এত বেশি সাংঘর্ষিক এবং স্পষ্টতই এত উদ্ভট যে প্রতিটি স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন [[আত্মা]] বিদ্রোহের পতাকা তুলতে বাধ্য হয়।'''
** ''[http://www.gutenberg.org/files/38802/38802-h/38802-h.htm সাম মিসটেকস অফ মোজেস (১৮৭৯)]'' মুখবন্ধ
* '''আমি [[গির্জা]] যেভাবে প্রচার করে সেই [[ক্ষমা|ক্ষমায়]] বিশ্বাস করি না। আমাদের [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] ক্ষমার প্রয়োজন নেই। আমাদের একে অপরের এবং নিজেদের ক্ষমার প্রয়োজন।''' যদি আমি মিস্টার স্মিথকে লুণ্ঠন করি এবং ঈশ্বর আমাকে ক্ষমা করে দেন, তবে তা স্মিথকে কীভাবে সাহায্য করবে? আমি যদি অপবাদ দিয়ে কোনো বেচারা মেয়েকে কোনো কল্পিত অপরাধের কুষ্ঠরোগে ঢেকে দিই, এবং সে একটি ঝলসানো ফুলের মতো শুকিয়ে যায় এবং পরে আমি ঈশ্বরের ক্ষমা পাই, তবে তা তাকে কীভাবে সাহায্য করবে? যদি অন্য কোনো বিশ্ব থাকে, তবে আমাদের এই বিশ্বে যাদের প্রতি অন্যায় করেছি তাদের সাথে হিসাব মেটাতে হবে। সেখানে কোনো দেউলিয়া আদালত নেই। প্রতিটি পয়সা পরিশোধ করতে হবে।
** [http://www.gutenberg.org/files/38801/38801-h/38801-h.htm "হোয়াট মাস্ট উই ডু টু বি সেভড?" (১৮৮০)] খণ্ড ১১, "হোয়াট ডু ইউ প্রপোজ?"
* '''আমি বিশ্বাস করতে পারি না যে এই [[মহাবিশ্ব|মহাবিশ্বে]] এমন কোনো সত্তা আছে যে একটি মানব আত্মাকে অনন্ত [[যন্ত্রণা|যন্ত্রণার]] জন্য সৃষ্টি করেছে। আমি বরং চাইব প্রতিটি ঈশ্বর নিজেকে ধ্বংস করে ফেলুক। আমি বরং চাইব আমরা সবাই অনন্ত বিশৃঙ্খলা, অন্ধকার ও তারাহীন রাতে হারিয়ে যাই। তবুও আমি চাই না যে একটি আত্মাও অনন্ত যন্ত্রণা ভোগ করুক।'''
**[http://www.gutenberg.org/files/38801/38801-h/38801-h.htm ''হোয়াট মাস্ট উই ডু টু বি সেভড?'' (১৮৮০)] খণ্ড ১০, "দ্য ইভানজেলিকাল অ্যালায়েন্স।"
*'''আমি মনস্থির করেছি, যদি কোনো [[ঈশ্বর]] থাকেন, তবে তিনি দয়ালুদের প্রতি [[দয়া|দয়ালু]] হবেন। <br> এই বিশ্বাসের ওপর আমি দাঁড়িয়ে আছি।''' <br> তিনি ক্ষমাশীলদের নির্যাতন করবেন না। <br> এই বিশ্বাসের ওপর আমি দাঁড়িয়ে আছি। <br> প্রতিটি মানুষের নিজের প্রতি সত্য হওয়া উচিত। এমন কোনো বিশ্ব বা তারা নেই যেখানে [[সততা]] একটি [[অপরাধ]]। <br> এই বিশ্বাসের ওপর আমি দাঁড়িয়ে আছি। <br> সৎ মানুষ, ভালো নারী ও সুখী শিশুর এই পৃথিবীতে বা পরকালে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। <br> এই বিশ্বাসের ওপর আমি দাঁড়িয়ে আছি।
**[http://www.gutenberg.org/files/38801/38801-h/38801-h.htm ''হোয়াট মাস্ট উই ডু টু বি সেভড?'' (১৮৮০)] খণ্ড ১১, "হোয়াট ডু ইউ প্রপোজ?"
* "ওহ," কিন্তু তারা আমাকে বলে, "আপনি অমরত্ব কেড়ে নিচ্ছেন।" আমি তা করছি না। '''আমরা যদি অমর হই তবে তা প্রকৃতির একটি সত্য। এর জন্য আমরা পুরোহিত বা বাইবেলের কাছে ঋণী নই। অবিশ্বাস দ্বারা এটি ধ্বংস করা যায় না।'''
**[http://www.gutenberg.org/files/38801/38801-h/38801-h.htm "হোয়াট মাস্ট উই ডু টু বি সেভড?" (১৮৮০)] খণ্ড ১১, "হোয়াট ডু ইউ প্রপোজ?"
* নীরব রাতের ওপারে কি আছে <br> একটি অন্তহীন দিন?<br>[[মৃত্যু]] কি এমন একটি [[দরজা]] যা [[আলো|আলোর]] দিকে নিয়ে যায়?<br> '''আমরা তা বলতে পারি না।'''
**[http://www.gutenberg.org/files/38804/38804-h/38804-h.htm "দ্য ডেভিল" (১৮৯৯)] খণ্ড ৯, "কনক্লুশন: ডিক্ল্যারেশন অফ দ্য ফ্রি" তুলনা করুন: "দ্য ডোর অফ ডার্কনেস", ''দ্য রুবাইয়াত'', স্তবক ৬৪।
* [[জীবন]] হলো দুটি অনন্তকালের ঠান্ডা ও অনুর্বর চূড়ার মাঝখানের একটি সরু উপত্যকা। আমরা বৃথাই উচ্চতার ওপারে দেখার চেষ্টা করি। আমরা উচ্চস্বরে কাঁদি। একমাত্র উত্তর হলো আমাদের কান্নার প্রতিধ্বনি। নিরুত্তর মৃতদের শব্দহীন ঠোঁট থেকে কোনো কথা আসে না। '''কিন্তু মৃত্যুর রাতে আশা একটি তারা দেখতে পায় এবং শোনার চেষ্টায় থাকা ভালোবাসা ডানা ঝাপটানোর শব্দ শুনতে পায়।'''
**[http://www.gutenberg.org/files/38812/38812-h/38812-h.htm "আ ট্রাইব টু ইবান সি. ইঙ্গারসোল" (১৮৭৯)]
* '''[[প্রকৃতি|প্রকৃতিতে]] কোনো পুরস্কার বা [[শাস্তি]] নেই। এখানে কেবল [[পরিণতি]] রয়েছে।''' [[যিশু|খ্রিষ্টের]] জীবন এর উদাহরণ, [[নৈতিক]] [[শক্তি]] ও পরোপকারের [[বীরত্ব|বীরত্বের]] জন্য মূল্যবান।
**''"দ্য ক্রিশ্চিয়ান রিলিজিয়ন"'' [[w:নর্থ আমেরিকান রিভিউ|দ্য নর্থ আমেরিকান রিভিউ]], আগষ্ট ১৮৮১[http://books.google.com/books?id=OPmfAAAAMAAJ&q=%22There+are+in+nature+neither+rewards+nor+punishments+there+are+consequences%22&pg=PA14#v=onepage][http://ebooks.library.cornell.edu/cgi/t/text/pageviewer-idx?c=nora&cc=nora&view=image&seq=121&idno=nora0133-2]
** ভিন্নরূপ:
** '''আমাদের মনে রাখতে হবে যে প্রকৃতিতে কোনো পুরস্কার বা শাস্তি নেই, কেবল পরিণতি রয়েছে।''' খ্রিষ্টের জীবন ও মৃত্যু কোনো প্রায়শ্চিত্ত গঠন করে না। এগুলো উদাহরণ, নৈতিক শক্তি ও পরোপকারের বীরত্বের জন্য মূল্যবান। খ্রিষ্টের জীবন যতটা কল্যাণের দিকে অনুকরণের সৃষ্টি করে, মানবজাতির কাছে এটি ততটাই মূল্যবান।
*** [http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/some_reasons_why.html ''সাম রিজনস হোয়াই'' (১৮৯৫)] এ প্রকাশিত
** '''প্রকৃতিতে কোনো পুরস্কার বা শাস্তি নেই, কেবল পরিণতি রয়েছে।'''
*** ''লেটারস অ্যান্ড এসেজ, ৩য় সিরিজ। সাম রিজনস হোয়াই'', ৮।
* '''প্রতিটি সম্প্রদায় হলো এই কথার প্রমাণ যে [[ঈশ্বর]] মানুষের কাছে তার ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেননি। প্রতিটি পাঠকের কাছে বাইবেল একটি ভিন্ন [[অর্থ]] বহন করে।''' [[ওহী]] নামে পরিচিত এই [[বই|বইটির]] অর্থ নিয়ে যুগে যুগে [[যুদ্ধ]] হয়েছে। শতাব্দী ধরে [[তলোয়ার]] ও আগুনের ব্যবহার হয়েছে। যদি এটি একজন অসীম ঈশ্বরের লেখা হয়, তবে তাকে অবশ্যই জানতে হবে যে এই ফলাফলগুলো অনুসরণ করবে। আর এটি জেনেও তাকে অবশ্যই [[সব|সবকিছুর]] জন্য দায়ী হতে হবে।
**[http://www.gutenberg.org/files/38802/38802-h/38802-h.htm#link0002 সাম মিসটেকস অফ মোজেস (১৮৭৯)]।
* যেসব পুরুষ ঘোষণা করে যে নারী বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পুরুষের চেয়ে নিকৃষ্ট, তারা নিজেদের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের ঘোষণাকে প্রমাণিত করতে পারে না এবং পারবেও না।
** হেলেন হ্যামিল্টন গার্ডনারের ''মেন, উইমেন অ্যান্ড গডস'' (১৮৮৫) এর মুখবন্ধ
* '''প্রতিটি মানুষকে সেই সব অধিকার দিন যা আপনি নিজের জন্য দাবি করেন।'''
** "দ্য লিমিটেশনস অফ টলারেশন" (৮ মে ১৮৮৮), ''দ্য ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল'', খণ্ড ৭ এ প্রকাশিত
* খুব কম ধনী মানুষই তাদের নিজস্ব [[সম্পত্তি|সম্পত্তির]] মালিক। সম্পত্তিই তাদের মালিক।
** ম্যাককিনলে লিগে দেওয়া ভাষণ, নিউইয়র্ক (২৯ অক্টোবর ১৮৯৬){{fix cite}}
* '''বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের [[মতামত|মতামতের]] উত্তরাধিকারী হই।''' আমরা অভ্যাস এবং মানসিক রীতিনীতির উত্তরাধিকারী। আমাদের পোশাকের ফ্যাশনের মতো আমাদের [[বিশ্বাস|বিশ্বাসগুলোও]] নির্ভর করে আমরা কোথায় জন্মগ্রহণ করেছি তার ওপর। আমরা আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা দ্বারা গঠিত হই এবং নিজস্ব আকৃতি পাই।
** [http://www.positiveatheism.org/hist/ingag.htm "হোয়াই আই অ্যাম অ্যান অ্যাগনোস্টিক।" (১৮৯৬)]
* '''[[বর্তমান]] হলো সমস্ত [[অতীত|অতীতের]] একটি [[প্রয়োজনীয়]] ফল। এটি সমস্ত [[ভবিষ্যৎ|ভবিষ্যতের]] প্রয়োজনীয় [[কারণ]]।'''
** [http://www.positiveatheism.org/hist/ingwhatrel.htm হোয়াট ইজ রিলিজিয়ন? (১৮৯৯) ইঙ্গারসোলের শেষ জনসভা ভাষণ, ২ জুন ১৮৯৯ বোস্টনে আমেরিকান [[w:ফ্রি রিলিজিয়াস অ্যাসোসিয়েশন|ফ্রি রিলিজিয়াস অ্যাসোসিয়েশন]] এর সামনে দেওয়া হয়েছিল। সূত্র: দ্য ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল, ড্রেসডেন মেমোরিয়াল সংস্করণ খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৭৭-৫০৮, ক্লিফ ওয়াকার দ্বারা সম্পাদিত।]
* '''ধর্ম কখনো মানবজাতিকে সংস্কার করতে পারে না, কারণ ধর্ম হলো দাসত্ব। স্বাধীন হওয়া অনেক ভালো। ভয়ের দুর্গ ও ব্যারিকেড ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়া উচিত। মাঝে মাঝে নিজেকে অবহেলায় সঁপে দেওয়া অনেক ভালো। ঢেউ ও স্রোতের সাথে এবং বিশ্বের অন্ধ শক্তির সাথে ভেসে চলা উচিত। চিন্তা করা এবং স্বপ্ন দেখা উচিত। শ্বাস নেওয়া জীবনের শৃঙ্খলা ও সীমাবদ্ধতাগুলো ভুলে যাওয়া উচিত। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভুলে যাওয়া উচিত। মস্তিষ্কের চিত্রশালায় বিশ্রাম নেওয়া উচিত। অতীতের আলিঙ্গন ও চুম্বনগুলো আরও একবার অনুভব করা উচিত। জীবনের সকালকে ফিরিয়ে আনা উচিত। মৃতদের রূপ ও চেহারা আবার দেখা উচিত। আগামী বছরগুলোর জন্য সুন্দর ছবি আঁকা উচিত। সমস্ত ঈশ্বর, তাদের প্রতিশ্রুতি ও হুমকি ভুলে যাওয়া উচিত। আপনার শিরায় জীবনের আনন্দময় স্রোত অনুভব করা উচিত এবং সামরিক সঙ্গীত, আপনার নির্ভীক হৃদয়ের ছন্দময় স্পন্দন শোনা উচিত। তারপর সমস্ত দরকারী কাজ করার জন্য নিজেকে জাগিয়ে তোলা উচিত। চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমে আপনার মস্তিষ্কের আদর্শে পৌঁছানো উচিত। আপনার কল্পনাগুলোকে ডানা দেওয়া উচিত, যাতে তারা রাসায়নিক মৌমাছির মতো সাধারণ জিনিসগুলোর আগাছায় শিল্পের অমৃত খুঁজে পেতে পারে। তথ্যের জন্য প্রশিক্ষিত এবং অবিচল চোখ দিয়ে দেখা উচিত। দূরের সাথে বর্তমানকে যুক্ত করে এমন সূক্ষ্ম সুতোগুলো খুঁজে বের করা উচিত। জ্ঞান বৃদ্ধি করা উচিত। দুর্বলের থেকে বোঝা কমানো উচিত। মস্তিষ্কের বিকাশ করা উচিত। অধিকার রক্ষা করা উচিত। আত্মার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরি করা উচিত। এটাই আসল ধর্ম। এটাই আসল উপাসনা।'''
** [http://www.positiveatheism.org/hist/ingwhatrel.htm হোয়াট ইজ রিলিজিয়ন? (১৮৯৯) ইঙ্গারসোলের শেষ জনসভা ভাষণ, ২ জুন ১৮৯৯ বোস্টনে আমেরিকান ফ্রি রিলিজিয়াস অ্যাসোসিয়েশন এর সামনে দেওয়া হয়েছিল। সূত্র: দ্য ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল, ড্রেসডেন মেমোরিয়াল সংস্করণ খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৭৭-৫০৮, ক্লিফ ওয়াকার দ্বারা সম্পাদিত।]
* '''বর্তমান হলো সন্তান। এটি সমস্ত অতীতের প্রয়োজনীয় সন্তান এবং সমস্ত ভবিষ্যতের মা।'''
** [http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/how_to_reform_mankind.html হাউ টু রিফর্ম ম্যানকাইন্ড (১৮৯৬), অধ্যায় ১।] [http://books.google.de/books/about/How_to_Reform_Mankind.html?id=u-IpAAAACAAJ&redir_esc=y কিসিঞ্জার পাবলিশিং, এলএলসি দ্বারা পুনঃপ্রকাশিত, ২০০৫।]
* '''প্রতিটি মানুষ সুখী হতে চায়। তারা খাদ্য, ছাদ ও পোশাক দিয়ে শরীরের চাহিদা মেটাতে চায়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালোবাসা, প্রজ্ঞা, দর্শন, শিল্প এবং গান দিয়ে মনের ক্ষুধা মেটাতে চায়।'''
** [http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/how_to_reform_mankind.html হাউ টু রিফর্ম ম্যানকাইন্ড (১৮৯৬), অধ্যায় ১।] [http://books.google.de/books/about/How_to_Reform_Mankind.html?id=u-IpAAAACAAJ&redir_esc=y কিসিঞ্জার পাবলিশিং, এলএলসি দ্বারা পুনঃপ্রকাশিত, ২০০৫।]
* শ্রমজীবী মানুষের জন্য এরই মধ্যে এত কিছু অর্জিত হয়েছে যে আমি ভবিষ্যতের জন্য দারুণ আশাবাদী। অনেক দেশে কাজের সময় কমানো হয়েছে এবং তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন মানুষ দিনে পনেরো বা ষোলো ঘণ্টা কাজ করত। এখন সাধারণত দিনের কাজ দশ ঘণ্টার বেশি নয়। কাজের সময় আরও কমানোর প্রবণতা রয়েছে। '''দীর্ঘ সময়কালের তুলনা করে আমরা অগ্রগতি আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি।''' ১৮৬০ সালে শ্রমিক ও কারিগরদের বার্ষিক গড় আয় ছিল প্রায় আড়াইশো পঁচাশি ডলার। এখন তা প্রায় পাঁচশো ডলার। আজকের একটি ডলার দিয়ে ১৮৬০ সালের তুলনায় জীবনের বেশি প্রয়োজনীয় জিনিস, বেশি [[খাদ্য]], [[পোশাক]] ও [[জ্বালানি]] কেনা যাবে। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতের জন্য অনেক আশাব্যঞ্জক।
** [[রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল]], [https://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/how_to_reform_mankind.html হাউ টু রিফর্ম ম্যানকাইন্ড (১৮৯৬)], অধ্যায় ৬ দ্য লেবার কোয়েশ্চন * '''আমি সেই মহান গির্জার অন্তর্ভুক্ত যা [[বিশ্ব|বিশ্বকে]] তার তারকায় আলোকিত আইলের মধ্যে ধারণ করে। এটি প্রতিটি জাতি এবং জলবায়ুর মহান ও ভালো মানুষদের দাবি করে। এটি [[আনন্দ|আনন্দের]] সাথে প্রতিটি ধর্মমতে সোনার দানা খুঁজে পায় এবং প্রতিটি আত্মায় মঙ্গলের বীজগুলোকে [[আলো]] ও [[ভালোবাসা|ভালোবাসায়]] ভরিয়ে দেয়।'''
** [[রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল]], ফেইথ অ্যান্ড অ্যাগনোস্টিসিজম বিষয়ে রেভারেন্ড হেনরি এম. ফিল্ডের সাথে আলোচনায় একটি ঘোষণা, তার রচনাগুলোর ফ্যারেল সংস্করণের খণ্ড ৬-এ উদ্ধৃত, এছাড়া কেট লুইস রবার্টস সম্পাদিত ''হয়েটস নিউ সাইক্লোপিডিয়া অফ প্র্যাকটিক্যাল কোটেশনস'' (১৯২২), পৃষ্ঠা ৬৬৩-এ পাওয়া যায়।
* বিদায়, ভদ্রমহোদয়গণ! আমি ইলিনয়ের গভর্নর হতে চাইছি না। আমার গঠনে এমন কিছু আছে, যা আমি ধর্ম সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিশ্বের কাছে ঘোষণা করেছি। কোনো পরিস্থিতিতেই, এমনকি আমার জীবনের বিনিময়েও আমি আমার অবস্থান ত্যাগ করতে চাই না। তা করার চেয়ে আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রত্যাখ্যান করব। '''আমার ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পূর্ণ আমার নিজের। এটি আমার, ইলিনয় রাজ্যের নয়। আমি বিশ্বের সম্রাট হওয়ার জন্যও আমার হৃদয়ের একটি অনুভূতিকে দমন করব না।'''
** ইলিনয়ের গভর্নর হিসেবে রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করার সময়, [http://www.positiveatheism.org/hist/lewis/lewing01.htm "ইঙ্গারসোল দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট" (১১ আগষ্ট ১৯৫৪) জোসেফ লুইস দ্বারা] উদ্ধৃত
* '''আমি এমন যেকোনো মানুষের চেয়ে নিকৃষ্ট যার অধিকার আমি পদদলিত করি। জাতি বা বর্ণের দুর্ঘটনার কারণে মানুষ শ্রেষ্ঠ হয় না। তারাই শ্রেষ্ঠ যাদের সবচেয়ে ভালো [[হৃদয়]] এবং সবচেয়ে ভালো [[মস্তিষ্ক]] রয়েছে।'''
** ''লিবার্টি''।
* শ্রেষ্ঠ মানুষ নিকৃষ্টদের জন্য আশীর্বাদ। তিনি অন্ধের চোখ, দুর্বলের শক্তি এবং প্রতিরক্ষাহীনদের ঢাল। তিনি পতিতদের ওপর ঝুঁকে সোজা হয়ে দাঁড়ান। অন্যদের ওপরে তুলেই তিনি ওপরে ওঠেন।
** ''লিবার্টি''।
* ব্রহ্মচর্য হলো অশালীনতার সারাংশ।
** [http://www.archive.org/stream/thegreatcontrove00ingeuoft/thegreatcontrove00ingeuoft_djvu.txt রোম, অর রিজন?, পৃষ্ঠা ৬১]
* অতীতের যুগে আমাদের পূর্বপুরুষরা সত্যিই বিশ্বাস করতেন যে বলপ্রয়োগ করে আপনি একজন মানুষকে বোঝাতে পারবেন। আপনি বলপ্রয়োগ করে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে আমি আপনাকে বলব আপনি বলপ্রয়োগ করে কী করতে পারেন এবং কী করেছেন। আপনি লাখ লাখ কপট মানুষ তৈরি করতে পারেন।
** [https://www.gutenberg.org/files/8389/8389-h/8389-h.htm#liberty ইঙ্গারসোলস লেকচার অন লিবার্টি অফ ম্যান, উইম্যান অ্যান্ড চাইল্ড]
* ব্লাসফেমি হলো একটি তালা যা কপটতা সমস্ত সৎ মানুষের ঠোঁটে লাগানোর চেষ্টা করে।
** ব্রুকলিন, নিউইয়র্কে দেওয়া ''ব্লাসফেমি'' বক্তৃতা, ২২ ফেব্রুয়ারি ১৮৮৫ সালে ইঙ্গারসোলের ইউরোপ যাত্রার আগে (পুনরুৎপাদিত [https://books.google.com/books?id=4O1cDwAAQBAJ&pg=PA105&lpg=PA105&dq=Blasphemy+is+a+padlock+which+hypocrisy+tries+to+put+on+the+lips+of+all+honest+men.&source=bl&ots=I7KMCNvJ0B&sig=xOulmfPwJpuZQWqe8dBvtiJ_lms&hl=en&sa=X&ved=2ahUKEwiiuuaE6ZreAhWyOn0KHdsaAd8Q6AEwAHoECAcQAQ#v=onepage&q=Blasphemy%20is%20a%20padlock%20which%20hypocrisy%20tries%20to%20put%20on%20the%20lips%20of%20all%20honest%20men.&f=false পৃষ্ঠা ১০৫])।
=== হেরেটিকস অ্যান্ড হেরেসিজ (১৮৭৪) ===
:<small>[http://www.positiveatheism.org/hist/ingerh_h.htm অনলাইনে সম্পূর্ণ পাঠ্য]</small>
[[File:William-Adolphe Bouguereau (1825-1905) - Compassion (1897).jpg|thumb|right|যার নিজের কোনো মতামত আছে এবং তা সততার সাথে প্রকাশ করে, সে-ই ধর্মদ্রোহী হওয়ার দোষে দুষ্ট হবে।]]
* '''যার নিজের কোনো [[মতামত]] আছে এবং তা সততার সাথে প্রকাশ করে, সে-ই ধর্মদ্রোহী হওয়ার দোষে দুষ্ট হবে।''' ধর্মদ্রোহিতা হলো সংখ্যালঘুরা যা বিশ্বাস করে। এটি দুর্বলের মতবাদকে শক্তিশালীদের দেওয়া একটি নাম।
* দাবি করা হয় যে [[ঈশ্বর]] [[বাইবেল]] নামে একটি বই লিখেছেন। এটি সাধারণত স্বীকার করা হয় যে এই বইটি বোঝা কিছুটা কঠিন। যে পর্যন্ত গির্জার কাছে এই বইয়ের সমস্ত অনুলিপি ছিল এবং লোকেদের এটি পড়ার অনুমতি ছিল না, সে পর্যন্ত বিশ্বে তুলনামূলকভাবে ধর্মদ্রোহিতা কম ছিল। কিন্তু যখন এটি ছাপা হলো এবং পড়া হলো, তখন লোকেরা সততার সাথে এর অর্থ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে শুরু করল। কয়েকজন স্বাধীন এবং যথেষ্ট সাহসী ছিল বিশ্বকে তাদের আসল চিন্তাভাবনা জানাতে। এই মানুষগুলোকে নির্মূল করার জন্য গির্জা তার সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করেছিল। প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ক্যাথলিকরা মানুষের মনকে দাস করার কাজে একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়েছিল। যুগে যুগে সৎ মানুষদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার কুখ্যাত প্রচেষ্টায় তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।
* যেকোনো গোঁড়া গির্জাকে ক্ষমতা দিন, আর আজ তারা ধর্মদ্রোহিতাকে চাবুক, শেকল এবং আগুন দিয়ে শাস্তি দেবে। যে পর্যন্ত একটি গির্জা মনে করে যে মুক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাস অপরিহার্য, সে পর্যন্ত তার ক্ষমতা থাকলে সে হত্যা করবে এবং পোড়াবে।
* '''প্রতিটি গির্জা ভান করে যে ঈশ্বরের কাছ থেকে তার কাছে ওহী এসেছে। এই ওহী গির্জার মাধ্যমে লোকেদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। গির্জা তার পুরোহিতদের মাধ্যমে কাজ করে এবং সাধারণ মরণশীলদের অবশ্যই ওহী নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এই ওহী ঈশ্বরের কাছ থেকে নয়, বরং গির্জার কাছ থেকে আসে।''' লোকেরা যদি এই অযৌক্তিক দাবির কাছে নতি স্বীকার করত, তবে অবশ্যই কেবল একটি গির্জা থাকত। আর সেই গির্জা কখনো উন্নতি করতে পারত না। এটি পিছিয়ে যেতে পারত, কারণ ভুলে যাওয়ার জন্য চিন্তা করা বা তদন্ত করার প্রয়োজন নেই। '''ধর্মদ্রোহিতা ছাড়া কোনো অগ্রগতি হতে পারত না।'''
* [[ধর্মতত্ত্ববিদ|ধর্মতত্ত্ববিদদের]] মতে আমাদের সবার পিতা ঈশ্বর তার সন্তানদের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। সন্তানরা সবসময় এই চিঠির অর্থ নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেছে। এই সৎ ভিন্নমতগুলোর ফলে এই ভাইয়েরা একে অপরের হৃদয় ছিন্ন করতে শুরু করে। প্রতিটি দেশে, যেখানে ঈশ্বরের এই চিঠি পড়া হয়েছে, যাদের কাছে এবং যাদের জন্য এটি লেখা হয়েছিল, সেই সন্তানরা ঘৃণা ও বিদ্বেষে পূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা একে অপরকে এবং একে অপরের স্ত্রী ও সন্তানদের কারারুদ্ধ ও হত্যা করেছে। ঈশ্বরের নামে প্রতিটি সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, প্রতিটি কল্পনাযোগ্য ক্ষোভ ঘটানো হয়েছে। সাহসী মানুষ, কোমল ও স্নেহময়ী নারী, সুন্দরী মেয়ে এবং বকবক করা শিশুদের [[যিশু]] [[খ্রিষ্ট|খ্রিষ্টের]] নামে নির্মূল করা হয়েছে।
[[File:Joan_of_arc_burning_at_stake.jpg|thumb|right|ধর্মদ্রোহীরা বৃথা চিন্তা করেনি এবং কষ্টভোগ ও মৃত্যুবরণ করেনি। প্রতিটি ধর্মদ্রোহী হলো [[আলো|আলোর]] এক একটি রশ্মি।]]
* '''আমি বলি না এবং আমি বিশ্বাস করি না যে [[খ্রিষ্টান|খ্রিষ্টানরা]] তাদের ধর্মমতের মতো খারাপ। গির্জা এবং গোঁড়ামির পরও লাখ লাখ নারী-পুরুষ [[মানব]] [[হৃদয়|হৃদয়ের]] সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে উদার প্ররোচনাগুলোর প্রতি সত্য থেকেছে।''' তারা তাদের বিশ্বাসের প্রতি সত্য ছিল। তারা আত্মত্যাগ এবং ধৈর্যের সাথে মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করেছে এবং কষ্ট পেয়েছে। আত্মত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা বিশ্বাস করত যে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা অন্তত কয়েকটি আত্মাকে নরকের অসীম ছায়া থেকে উদ্ধার করতে পারে। তারা হাসিমুখে প্রতিটি কষ্ট সহ্য করেছে এবং প্রতিটি বিপদকে উপহাস করেছে। তারপরও এই সবকিছুর পরও তারা বিশ্বাস করত যে সৎ ভুল একটি অপরাধ। তারা জানত যে বাইবেল এমনটাই ঘোষণা করেছে এবং তারা বিশ্বাস করত যে সমস্ত অবিশ্বাসীরা চিরতরে হারিয়ে যাবে। তারা বিশ্বাস করত যে ধর্ম ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে এবং সমস্ত ধর্মদ্রোহিতা [[শয়তান|শয়তানের]] কাছ থেকে এসেছে। তারা নিজেদের এবং তাদের সন্তানদের আত্মা রক্ষার্থে ধর্মদ্রোহীদের হত্যা করেছিল। তারা তাদের হত্যা করেছিল কারণ তাদের ধারণা অনুযায়ী তারা ঈশ্বরের শত্রু ছিল। আর কারণ বাইবেল শেখায় যে অবিশ্বাসীর রক্ত স্বর্গের কাছে একটি অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য বলিদান।
* '''[[প্রকৃতি]] কখনো একজন প্রেমময় মাকে তার সন্তানকে গঙ্গা নদীতে ফেলে দিতে প্ররোচিত করেনি। প্রকৃতি কখনো শিশুদের দীক্ষাস্নান নিয়ে [[মতামত|মতামতের]] পার্থক্যের জন্য একে অপরকে নির্মূল করতে পুরুষদের প্ররোচিত করেনি। এই [[অপরাধ|অপরাধগুলো]] এমন ধর্মগুলোর দ্বারা উৎপাদিত হয়েছে যা সমস্ত অযৌক্তিক, নিষ্ঠুর এবং জঘন্য জিনিসে পূর্ণ।''' এই ধর্মগুলো মূলত অজ্ঞতা, [[স্বৈরাচার]] ও কপটতা দ্বারা উৎপাদিত হয়েছিল। মহাবিশ্বের অসীম শাসক এবং স্রষ্টা ধর্মদ্রোহী এবং অবিশ্বাসীদের ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন, এই ধারণার অধীনে গির্জা এই সমস্ত অপরাধ সংঘটিত করেছে:<br> '''কেবল একজন [[ঈশ্বর]] আছেন, এমন চিন্তার জন্য নারী ও পুরুষদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ঈশ্বর বলতে কেউ নেই, এমন চিন্তার জন্যও তাদের পোড়ানো হয়েছে'''; পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের চেয়ে ছোট; ঈশ্বর তার ছেলের চেয়ে কিছুটা বয়স্ক; বিশ্বাস ছাড়াই ভালো কাজ একজন মানুষকে বাঁচাতে পারে, এমন জোর দেওয়ার জন্য; ভালো কাজ ছাড়াই বিশ্বাস কাজ করবে, এমন চিন্তার জন্য; একজন পুরোহিত একটি মিষ্টি শিশুর মাথা না ভেজানোর কারণে সে চিরকাল পুড়বে না, এমন ঘোষণার জন্য; ঈশ্বরের যেন নাক আছে, এমন কথা বলার জন্য; খ্রিষ্টের নিজের বাবা ছিলেন, তা অস্বীকার করার জন্য; সঠিকভাবে যোগ করা তিনজন ব্যক্তি একজনের চেয়ে বেশি হয়, এমন তর্কের জন্য; পার্গাটরিতে বিশ্বাস করার জন্য; নরকের বাস্তবতা অস্বীকার করার জন্য; পুরোহিতরা পাপ ক্ষমা করতে পারেন, এমন ভান করার জন্য; ঈশ্বর একটি সারমর্ম, এমন প্রচারের জন্য; ডাইনিরা লাঠিতে চড়ে বাতাসে ওড়ে, তা অস্বীকার করার জন্য; মানব হৃদয়ের সম্পূর্ণ অবক্ষয় সন্দেহ করার জন্য; অপ্রতিরোধ্য অনুগ্রহ, পূর্বনিয়তি ও বিশেষ মুক্তি নিয়ে হাসাহাসি করার জন্য; একজন মৃত মানুষের শরীর থেকে ভালো রুটি তৈরি করা যেতে পারে, তা অস্বীকার করার জন্য; পোপ ঈশ্বরের জন্য এবং ঈশ্বরের জায়গায় এই বিশ্ব পরিচালনা করছেন না, এমন ভান করার জন্য; একটি বিকল্প প্রায়শ্চিত্তের কার্যকারিতা নিয়ে বিরোধ করার জন্য; কুমারী মেরি অন্যান্য মানুষের মতো জন্মগ্রহণ করেছিলেন, এমন চিন্তার জন্য; একজন পুরুষের পাঁজর একটি ভালো আকারের নারী তৈরি করার জন্য যথেষ্ট ছিল না, এমন চিন্তার জন্য; ঈশ্বর একটি কলমের জন্য তার আঙুল ব্যবহার করেছিলেন, তা অস্বীকার করার জন্য; প্রার্থনাগুলোর উত্তর দেওয়া হয় না, অবিশ্বাসকে শাস্তি দেওয়ার জন্য রোগ পাঠানো হয় না, এমন দাবি করার জন্য; বাইবেলের কর্তৃত্ব অস্বীকার করার জন্য; তাদের কাছে একটি বাইবেল থাকার জন্য; মাসে যোগ দেওয়ার জন্য এবং যোগ দিতে অস্বীকার করার জন্য; একটি সারপ্লাইস পরার জন্য; একটি ক্রস বহন করার জন্য এবং তা অস্বীকার করার জন্য; একজন ক্যাথলিক হওয়ার জন্য এবং একজন প্রোটেস্ট্যান্ট হওয়ার জন্য; একজন এপিস্কোপ্যালিয়ান, একজন প্রেসবিটারিয়ান, একজন ব্যাপটিস্ট হওয়ার জন্য এবং একজন কোয়েকার হওয়ার জন্য। '''সংক্ষেপে, প্রতিটি পুণ্য একটি অপরাধে পরিণত হয়েছে এবং প্রতিটি অপরাধ একটি পুণ্যে পরিণত হয়েছে। গির্জা সততাকে পুড়িয়েছে এবং কপটতাকে পুরস্কৃত করেছে। আর এই সবকিছু হয়েছে কারণ এটি একটি বই দ্বারা নির্দেশিত হয়েছিল। এটি এমন একটি বই যা পুরুষদের অন্তর্নিহিতভাবে বিশ্বাস করতে শেখানো হয়েছিল, এর ভেতরের একটি শব্দ জানার অনেক আগে থেকেই। তাদের শেখানো হয়েছিল যে এই বইয়ের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করা, এমনকি এটি পরীক্ষা করাও এত বড় অপরাধ যে এটি এই বিশ্বে বা পরকালেও ক্ষমা করা যাবে না।'''
* মানুষ আর কতকাল একটি বইয়ের উপাসনা করবে? তারা আর কতকাল বর্বর অতীতের অজ্ঞ কিংবদন্তির সামনে ধুলোয় গড়াগড়ি খাবে? মৃত্যুর চেয়েও গভীর অন্ধকারে তারা আর কতকাল ছায়ার পেছনে ছুটবে?
* '''ধর্মদ্রোহীরা বৃথা চিন্তা করেনি এবং কষ্টভোগ ও মৃত্যুবরণ করেনি। প্রতিটি ধর্মদ্রোহী হলো [[আলো|আলোর]] এক একটি রশ্মি।'''
* ধর্মদ্রোহিতা হলো চিরন্তন ভোর, সকালের তারা, দিনের উজ্জ্বল বার্তাবাহক। ধর্মদ্রোহিতা হলো সর্বশেষ ও সর্বোত্তম চিন্তা। এটি একটি চিরস্থায়ী নতুন বিশ্ব, অজানা সমুদ্র, যার দিকে সব সাহসী মানুষ যাত্রা করে। এটি অগ্রগতির চিরন্তন দিগন্ত। <br> '''ধর্মদ্রোহিতা একটি নতুন চিন্তার প্রতি মস্তিষ্কের আতিথেয়তা প্রসারিত করে।<br> ধর্মদ্রোহিতা হলো একটি দোলনা; গোঁড়ামি হলো একটি কফিন।'''
* '''মানুষ কেন চিন্তা করতে ভয় পাবে, এবং সে তার চিন্তাভাবনা প্রকাশ করতে কেন ভয় পাবে?'''<br> এটা কি সম্ভব যে একজন অসীম দেবতা চান না মানুষ তার চারপাশের ঘটনাগুলো অনুসন্ধান করুক? এটা কি সম্ভব যে একজন ঈশ্বর মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং ভয় দেখানোর মধ্যে আনন্দ পান? এমন একটি ক্ষেত্রে একজন ঈশ্বর কতটা গৌরব, কতটা সম্মান ও খ্যাতি অর্জন করতে পারেন! এক ফোঁটা জলের দিকে সমুদ্রের গর্জন; একটি মোমবাতির প্রতি একটি তারার ঈর্ষা; একটি জোনাকির প্রতি [[সূর্য|সূর্যের]] ঈর্ষা।
* '''এত [[সময়|সময়ে]] পুরো [[বিশ্ব|বিশ্বের]] জানা উচিত যে আসল [[বাইবেল]] এখনও লেখা হয়নি, তবে তা লেখা হচ্ছে। আর মানবজাতি তার অধঃপতন শুরু না করা পর্যন্ত বা অস্তিত্বহীন না হওয়া পর্যন্ত এটি কখনোই শেষ হবে না।'''<br> আসল বাইবেল অনুপ্রাণিত পুরুষদের কাজ নয়, নবীদের, প্রেরিতদের, ইভানজেলিস্টদের বা খ্রিষ্টদের কাজও নয়। প্রতিটি মানুষ যিনি একটি [[তথ্য]] খুঁজে পান, তিনি যেন এই বিশাল বইটিতে একটি শব্দ যোগ করেন। এটি [[ভবিষ্যদ্বাণী]], [[অলৌকিক ঘটনা]] বা [[লক্ষণ|লক্ষণগুলোর]] দ্বারা প্রমাণিত নয়। এটি [[বিশ্বাস]], [[অজ্ঞতা]], সহজবিশ্বাস বা [[ভয়|ভয়ের]] কাছে কোনো আবেদন করে না। অবিশ্বাসের জন্য এর কোনো [[শাস্তি]] নেই এবং [[কপটতা|কপটতার]] জন্য কোনো পুরস্কার নেই। এটি প্রদর্শনের নামে মানুষের কাছে আবেদন করে। এর লুকানোর কিছু নেই। এটি পড়া হওয়ার, খণ্ডিত হওয়ার, অনুসন্ধান করা এবং বোঝা যাওয়ার ভয় নেই। এটি পবিত্র বা অলৌকিক হওয়ার ভান করে না। এটি কেবল সত্য বলে দাবি করে। এটি সবার যাচাই-বাছাইকে চ্যালেঞ্জ করে এবং প্রতিটি পাঠককে নিজের জন্য প্রতিটি লাইন যাচাই করতে অনুরোধ করে। এটিকে ব্লাসফেমি করা অসম্ভব। এই বইটি মানুষের চারপাশের সবকিছুর কাছে আবেদন করে। '''বিদ্যমান প্রতিটি জিনিস এর [[নিখুঁত|নিখুঁততার]] সাক্ষ্য দেয়। পৃথিবী, তার আগুনের হৃদয় ও তুষারের মুকুট নিয়ে; তার বন ও সমভূমি, তার শিলা ও সমুদ্র নিয়ে; তার প্রতিটি ঢেউ ও মেঘ নিয়ে; তার প্রতিটি পাতা এবং কুঁড়ি ও ফুল নিয়ে, এর প্রতিটি শব্দকে নিশ্চিত করে। আর অসীম রসাতলে জ্বলজ্বল করা গম্ভীর তারাগুলো হলো এর [[সত্য|সত্যের]] চিরন্তন সাক্ষী।'''
===[http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/centennial_oration.html সেন্টেনিয়াল ওরেশন (৪ জুলাই ১৮৭৬)]===
*<p>একশো বছর আগে, আমাদের পূর্বপুরুষরা [[রাজনীতি]] থেকে [[দেবতা|দেবতাদের]] বিদায় করেছিলেন।</p><p>'''[[স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র]] হলো সবচেয়ে মহান, সাহসী এবং গভীর রাজনৈতিক দলিল, যা কখনো কোনো [[জনগণ|জনগণের]] প্রতিনিধিদের দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়েছিল।''' এটি শারীরিক ও নৈতিক [[সাহস]] এবং রাজনৈতিক [[প্রজ্ঞা|প্রজ্ঞার]] মূর্ত প্রতীক।</p>
* প্রাচীনকালে কোনো রাজনৈতিক উৎসাহী ব্যক্তি মাঝে মাঝে এমন কথা বলতেন। কিন্তু বিশ্বের [[ইতিহাস|ইতিহাসে]] প্রথমবারের মতো একটি জাতির প্রতিনিধিরা, একটি বাস্তব, জীবন্ত, শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া, আশাবাদী মানুষের প্রতিনিধিরা ঘোষণা করেছিলেন যে সমস্ত মানুষ সমানভাবে সৃষ্ট। এক ধাক্কায়, কলমের এক টানে তারা মানুষ এবং মানুষের মধ্যে আভিজাত্য, পুরোহিততন্ত্র এবং রাজতন্ত্রের তৈরি করা সমস্ত নিষ্ঠুর, হৃদয়হীন বাধা ভেঙে দিয়েছিলেন। তারা এক অমর আঘাতের মাধ্যমে সেই কুখ্যাত জাতপাতের চেতনাকে ধ্বংস করেছিলেন, যা একজন ঈশ্বরকে প্রায় একটি পশুতে এবং একটি পশুকে প্রায় একজন দেবতায় পরিণত করে। এক কথায়, এক আঘাতে তারা শতাব্দীর পর শতাব্দীর [[যুদ্ধ]], শতাব্দীর পর শতাব্দীর [[কপটতা]], শতাব্দীর পর শতাব্দীর অবিচারের দ্বারা করা সমস্ত কিছু মুছে দিয়েছিলেন এবং পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
* আমাদের পূর্বপুরুষরা এই বিশ্বে প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ [[সরকার]] প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেটি মনে রাখবেন। প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সরকার; প্রথম সরকার যা বলেছিল যে প্রতিটি গির্জার ঠিক একই অধিকার রয়েছে, এর বেশি কিছু নয়। প্রতিটি ধর্মের একই অধিকার রয়েছে, এর বেশি কিছু নয়। অন্য কথায়, আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন প্রথম মানুষ, যাদের এই জ্ঞান, এই [[প্রতিভা]] ছিল যে কোনো গির্জাকে [[তলোয়ার]] রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। একে কেবল তার নৈতিক প্রভাব প্রয়োগ করার অনুমতি দেওয়া উচিত।
* '''সবার [[অধিকার]] সমান: চিরন্তন শান্তিতে স্থির এবং ভারসাম্যপূর্ণ ন্যায়বিচার মানুষের কাজের ওজন মাপা সোনার দাঁড়িপাল্লা থেকে [[কুসংস্কার]] এবং জাতপাতের ধুলো ঝেড়ে ফেলবে। কোনো জাতি, কোনো বর্ণ, কোনো পূর্ববর্তী অবস্থা মানুষের অধিকার পরিবর্তন করতে পারে না।'''
===মাই রিভিউয়ার্স রিভিউড (২৭ জুন ১৮৭৭-এর বক্তৃতা, সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া)===
* একশো বছর ধরে নরক ধীরে ধীরে ঠান্ডা হচ্ছে, শিখাগুলো ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে, গন্ধক প্রায় শেষ হয়ে গেছে, আগুন আরও নিচু এবং নিচুতে জ্বলছে এবং জলবায়ু ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। পরিবর্তনটি এরই মধ্যে এত দূর প্রভাব ফেলেছে যে, আমি যদি আজ রাতে সেখানে যেতাম তবে আমি একটি ওভারকোট এবং এক বাক্স দেশলাই নিয়ে যেতাম।
* তারা বলে যে মানুষের অনন্ত ভবিষ্যৎ তার বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। আমি তা অস্বীকার করি। মস্তিষ্কের সততার সাথে পৌঁছানো একটি সিদ্ধান্ত কখনো অপরাধ হতে পারে না। আর যে ব্যক্তি বলে যে এটি অপরাধ, সে নিজে তা মনে করে না। যে ঈশ্বর এটিকে অপরাধ হিসেবে শাস্তি দেন তিনি কেবল একজন কুখ্যাত স্বৈরশাসক। আমার কথা বলতে গেলে, আমি হাজারবার ধ্বংসের দিকে যেতে এবং বিশ্বের সাহসী, মহান চিন্তাবিদদের সাথে এর যন্ত্রণা ভোগ করতে চাইব, একজন ঈশ্বরের সঙ্গ বজায় রেখে স্বর্গে যাওয়ার চেয়ে, যিনি সৎ বিশ্বাসের জন্য তার সন্তানদের অভিশাপ দেবেন।
* আমি নারীর অধিকারের জন্য, স্ত্রীদের অধিকারের জন্য এবং তার চেয়েও বড় কথা, ছোট শিশুদের অধিকারের জন্য আবেদন করেছি। আমি বলেছি যে তাদের স্নেহ, ভালোবাসা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করা যেতে পারে এবং আমার হৃদয় দারিদ্র্য ও অপরাধের সমস্ত সন্তানদের প্রতি ধাবিত হয়। সরু রাস্তায় এবং সাব-সেলারগুলোতে বসবাসকারী শিশুদের প্রতি, একটি নিষ্ঠুর পিতার পায়ের শব্দ শুনলে দৌড়ে পালানো এবং লুকানো শিশুদের প্রতি, এমনকি একজন মায়ের মুখে তাদের নাম উচ্চারিত হলে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া শিশুদের প্রতি। জীবনের বিস্তীর্ণ, রূঢ় সমুদ্রে ভেসে থাকা সমস্ত ছোট শিশুদের প্রতি আমার হৃদয় ধাবিত হয়। আমি বলেছি যে আমার হৃদয় তাদের প্রত্যেকের প্রতি ধাবিত হয়। আমি বাবা-মা'কে তাদের নিজেদের রক্তমাংসে গড়া সন্তানদের প্রহার করা বন্ধ করতে বলেছি। আমি তাদের বলেছি, যখন আপনার সন্তান ভুল করে, তখন তাকে আপনার হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরুন। তাকে আপনার হৃদয়ের স্পন্দন অনুভব করতে দিন। একটি ক্লাবের চেয়ে চুমু দিয়ে আপনার সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ।
* ধর্মীয় সংবাদমাধ্যম এবং তাদের মিম্বরে বসে মন্ত্রীরা আমাকে একজন দানব, শৃঙ্খলার শত্রু, পিশাচ এবং একজন কুখ্যাত মানুষ হিসেবে নিন্দা করেছেন। তবে আমি এর কোনো অভিযোগ করছি না। '''কয়েক বছর আগে তারা আমাকে খুঁটিতে বেঁধে পুড়িয়ে মারত এবং আমাকে শিখা ও ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে তাদের কপট মুখের দিকে তাকাতে বাধ্য করা হতো। তারা এখন তা করতে পারে না, পারলে করত।'''
* আত্মা অমর কি না তা প্রকৃতির একটি সত্য এবং এটি কোনো বই দ্বারা পরিবর্তন করা যায় না। আমি যদি অমর হই, তবে আমি অমর। আমি যদি না হই, কোনো বই আমাকে তা করতে পারবে না। আমার আবার বেঁচে থাকাটা আমার বেঁচে থাকার চেয়ে বেশি আশ্চর্যের কিছু নয়।
* আমি এই কথাগুলো বলা মাত্রই বিভিন্ন ভদ্রলোক আমাকে উত্তর দেওয়ার তাগিদ অনুভব করলেন। '''আমি বলতে চাই যে পৃথিবীতে যদি আমি কোনো কিছু পছন্দ করি, তা হলো ন্যায্যতা। আর এটি আমার এত পছন্দ হওয়ার একটি কারণ হলো আমি এটি খুব কমই পেয়েছি।'''
* আমি চাইলে অত্যন্ত জঘন্য ও ঘৃণ্য কথা বলতে পারি। আমি অনেক ধর্মীয় পত্রিকা ও আলোচনা পড়েছি এবং আমার মনে হয় আমি এখন আমাদের ভাষার সব কুখ্যাত শব্দগুলো জানি।
* তবে, অধিবিদ্যার বিজ্ঞান নিয়ে কোনো সময় নষ্ট করার যৌক্তিকতা নেই। '''আমি আপনাকে অধিবিদ্যার আমার সংজ্ঞা দেব: দু'জন বোকা একসাথে হয়; প্রত্যেকে এমন কিছু স্বীকার করে যা কেউই প্রমাণ করতে পারে না, এবং এরপর তারা দুজনেই বলে, "অতএব আমরা অনুমান করি।"''' অধিবিদ্যা বলতে এইটুকুই।
* বিশ্বের প্রতিটি কুসংস্কার যা এখন পবিত্র বলে গণ্য করা হয়, তা মা-বাবা, বাড়ির স্মৃতি দ্বারা পবিত্র করা হয়েছে। আমি জানি যারা ভালোবাসত তাদের স্মৃতি দ্বারা পবিত্র হলেও প্রতিটি কুসংস্কার দূরে ছুঁড়ে ফেলতে মহৎ, সাহসী ও কোমল মানুষদের কতটা মূল্য দিতে হয়েছে।
* আমি ভলতেয়ারকে পছন্দ করি, কারণ অর্ধ শতাব্দী ধরে তিনি ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্রাট ছিলেন। আমি তাকে পছন্দ করি, কারণ আল্পসের পাদদেশে তার সিংহাসন থেকে তিনি খ্রিষ্টজগতের প্রতিটি কপট মানুষের দিকে অবজ্ঞার আঙুল তুলেছিলেন।
* '''সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এটি নয় যে, কে ঠিকভাবে মারা গেছে, বরং কে ঠিকভাবে বেঁচে ছিল? মরার চেয়ে বেঁচে থাকার মধ্যে অসীম দায়িত্ব রয়েছে'''। মৃত্যুর মুহূর্তটি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বহীন মুহূর্ত। তখন কিছুই করা যায় না। আপনি আপনার উইলে তাকে স্মরণ করা ছাড়া কোনো বন্ধুর জন্যও কোনো উপকার করতে পারবেন না।
* প্রথম প্রেসবিটারিয়ান ছিলেন একজন ধর্মদ্রোহী। প্রথম ব্যাপটিস্ট ছিলেন একজন ধর্মদ্রোহী। প্রথম কংগ্রিগেশনালিস্ট ছিলেন একজন ধর্মদ্রোহী। প্রথম খ্রিষ্টান একজন ব্লাসফেমার হিসেবে নিন্দিত হয়েছিলেন। তারপরও এই ধর্মদ্রোহীরা যখন কোনো এলাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যায় পৌঁছায়, তখনই নিজেদের গোঁড়া বলে ডাকতে শুরু করে। এর চেয়ে চরম কোনো ধৃষ্টতা কি হতে পারে?
* আমি ঘটনাচক্রে ছয় বা সাতজন ব্যাপটিস্ট এল্ডারের সঙ্গে ছিলাম—'''কীভাবে আমি এমন খারাপ সঙ্গে জড়িয়ে পড়লাম, তা জানি না''',—এবং তাদের মধ্যে একজন জিজ্ঞাসা করলেন বাপ্তিস্ম সম্পর্কে আমি কী ভাবি। আসলে, আমি কখনো এটি নিয়ে খুব বেশি ভাবিনি; এ সম্পর্কে খুব বেশি জানিও না; আমি কিছু বলতে চাইনি, কিন্তু তারা জোর করেছিল। আমি বলেছিলাম, "আচ্ছা, আমি আপনাকে আমার মতামত দেব—সাবান দিয়ে বাপ্তিস্ম একটি ভালো জিনিস।"
* পরবর্তী ভদ্রলোক যিনি আমার কথার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তিনি হলেন রেভারেন্ড স্যামুয়েল রবিনসন। '''তিনি তার "গোস্টস অ্যাগেইনস্ট গড অর ইঙ্গারসোল অ্যাগেইনস্ট অনেস্টি" শিরোনামের উপদেশে এই কাজটি করেছেন।''' '''আমি অনুমান করি তিনি উভয় ক্ষেত্রেই নিজেকে আসামী বলে কল্পনা করেন।'''
* অতীতের সাহসী মানুষরা নির্যাতনের যন্ত্রপাতি সহ্য করেছিলেন। তাদের র্যাকে টানটান করা হয়েছিল; তাদের পা লোহার বুটে পিষে ফেলা হয়েছিল; তারা নির্বাসনের তীরে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে বাড়ি ও জন্মভূমির দিকে তাকিয়েছিলেন। তাদের তাদের চুলা থেকে, তাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে, তাদের সন্তানদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাদের পাবলিক স্কোয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; তাদের খুঁটিতে শেকল দিয়ে বাঁধা হয়েছিল এবং তাদের ছাই অগণিত ঘৃণার হাত দ্বারা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি সন্তুষ্ট। '''ভয়ের শিষ্যরা আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।'''
* এই ভদ্রলোক একজন "বস্তুবাদী দানব" এর সাহায্যে এক পয়সা অবদান রাখতেও ঘৃণা করতেন। '''যখন আমি সেই বিবৃতিটি দেখলাম, তখন আমি আপনাকে বলব আমি কী করেছি। আমি জানতাম লোকটির বিবেক তার বুকে মোচড় দিয়ে উঠছে এই ভেবে যে সে আমার সহায়তার জন্য, একটি ভূতে অবিশ্বাসী "বস্তুবাদী দানবের" সহায়তার জন্য এক ডলার অবদান রেখেছে। আমি তাকে একটি চিঠি লিখেছিলাম এবং আমি বলেছিলাম: "আমার প্রিয় মহাশয়: ভূতে অবিশ্বাসীর সহায়তায় অবদান রাখার অপরাধ থেকে আপনার বিবেককে মুক্তি দেওয়ার জন্য, আপনি আমার বক্তৃতায় অংশ নিতে যে পরিমাণ অর্থ প্রদান করেছিলেন তা আমি এতদ্বারা সংযুক্ত করছি।"''' তারপর আমি তাকে একটু ভালো উপদেশ দিয়েছিলাম। আমি তাকে দয়ালু, সদয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম যে কোনো ব্যক্তি দেড় ঘণ্টা ধরে আমার কথা শুনতে পারে এবং সব মানুষের একই রকম চিন্তা করার অধিকার আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে যেতে পারে না। এই লোকটি টাকা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছিল, কিন্তু খামের একটি দাগের মাধ্যমে তার কাছে এটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।
* সাদা কোয়েকার শিশুদের কারা দাস হিসেবে বিক্রি করেছিল? প্রোটেস্ট্যান্টরা। কোয়েকারদের জিভ কারা কেটেছিল? অসম্ভব অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নারী-পুরুষ ও শিশুদের কারা পুড়িয়ে ধ্বংস করেছিল? প্রোটেস্ট্যান্টরা। '''প্রোটেস্ট্যান্টরা ঠিক তাদের ক্ষমতার সমপরিমাণ নির্যাতন করেছে। ক্যাথলিকরাও একই কাজ করেছে।'''
* '''বিশ্বের ইতিহাসে ওল্ড স্কুল প্রেসবিটারিয়ানিজমের চেয়েও খারাপ কোনো ধর্ম কখনো থেকে থাকতে পারে। তবে নরখাদকতা থেকে সভ্যতা পর্যন্ত যদি এমন কিছু থেকে থাকে, তবে আমি কখনো এর কথা শুনিনি।'''
* ধর্মীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকরা কেন এত বিদ্বেষপরায়ণ, কেন তারা অপবাদ দিয়ে যুক্তির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে, তা আমার কাছে একটি রহস্য। এটা কি এই কারণে যে তারা অনুভব করে রাজদণ্ড ধীরে ধীরে তাদের হাত থেকে পিছলে যাচ্ছে? '''এটি কি শক্তিহীন রাগের ফল? এটি কি এই কারণে যে প্রতিটি গোঁড়া মস্তিষ্কে বুদ্ধিবৃত্তিক হীনমন্যতার একটি সনদ লেখা হচ্ছে?'''
* '''যদি এই "পবিত্র" বইটি মানুষকে তার ভাইকে দাস করতে শেখায়, তবে এটি অনুপ্রাণিত নয়। যে ঈশ্বর দাসত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন, তিনি যেকোনো শয়তানের মতোই নিষ্ঠুর ও নির্দয়।'''
* এটি সবচেয়ে দয়ালু ঈশ্বরের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এক ধরনের দাসত্ব। এই সবের জন্য দেওয়া কারণ হলো, যাদের তারা দাস বানিয়েছিল তারা ছিল পৌত্তলিক। আপনি তাদের দাস বানাতে পারেন কারণ তারা গোঁড়া নয়। আপনি যদি এমন কাউকে খুঁজে পান যে আমাকে অর্থাৎ ইহুদিদের ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে না, তবে আপনি তার স্ত্রীকে তার বাহু থেকে এবং তার শিশুকে দোলনা থেকে চুরি করতে পারেন। আপনি যদি এমন কোনো নারীকে খুঁজে পান যে হিব্রু যিহোবাকে বিশ্বাস করে না, তবে আপনি তার বুক থেকে তার বকবক করা শিশুকে চুরি করতে পারেন। কেউ কি এর চেয়ে বেশি কুখ্যাত কোনো কিছু কল্পনা করতে পারে? কেউ কি এই বিশ্বের সাহিত্যে একটি শয়তানের প্রতিও আরোপিত এর চেয়ে ভয়ানক শব্দ খুঁজে পেতে পারে?
* “যদি তার মনিব তাকে একজন স্ত্রী দিয়ে থাকে, এবং সে তার পুত্র বা কন্যার জন্ম দেয়; তবে স্ত্রী এবং তার সন্তানরা তার মনিবের হবে, এবং সে একাই চলে যাবে...দাসটিকে তার স্ত্রী এবং সন্তানদের ছেড়ে দিলে স্বাধীনতা দেওয়া হয়। স্ত্রী এবং সন্তানের স্বার্থে তাকে অবশ্যই দাসত্বে থাকতে হবে। এটি সবচেয়ে দয়ালু ঈশ্বরের আরেকটি আইন। এই ঈশ্বর এমনকি ভালোবাসাকেও একটি শিকলে পরিণত করেন। শিশুদের তিনি হাতকড়া ও শেকল হিসেবে ব্যবহার করেন এবং স্ত্রীরা কারাগারের রক্ষক হয়ে ওঠে। '''যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে এমন জঘন্য আইনগুলো একজন অসীম জ্ঞানী ও দয়ালু ঈশ্বরের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল, সে আমার বিচারে উন্মাদ বা সম্পূর্ণ অবক্ষয়গ্রস্ত।'''
* '''ঈশ্বরের কাছে একজন মানুষকে বিনামূল্যের জন্য ধৈর্য ধরে কাজ করতে দেখাটা নিশ্চয়ই অনেক আনন্দের বিষয়। একজন দাসকে তার স্ত্রী ও সন্তানের সাথে নিলামে বিক্রি হতে দেখে পরমেশ্বর অবশ্যই সন্তুষ্ট হন। যদি এই দাসটি দাসত্ব থেকে পালিয়ে যায় এবং তাকে ধাওয়া করা হয়, তবে রক্তপিপাসু কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ এই সবচেয়ে দয়ালু ঈশ্বরের কানে কতটা সুরেলা শোনাবে। এর সবটাই কেবল কুখ্যাত। এই মহাবিশ্বের সিংহাসনে এমন কোনো দানব বসে নেই।'''
* নটরডেম ক্যাথেড্রালে এগুলোর মধ্যে একটির প্রচারিত একটি উপদেশের কথা আমি কোথাও পড়েছি। এই বৃদ্ধ পুরোহিত অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বলেছিলেন যে, একজন ভিক্ষুকের আত্মা ঈশ্বরের কাছে তার সবচেয়ে ধনী মানুষের আত্মার মতোই প্রিয়। এবং যিশু খ্রিষ্ট একজন রাজপুত্রের জন্য যতটা মারা গিয়েছিলেন একজন ভিক্ষুকের জন্যও ততটা মারা গিয়েছিলেন। একজন ফরাসি কৃষক, পরিশ্রমে রুক্ষ হয়ে চিৎকার করে বলেছিল: "আমি যিশু খ্রিষ্টের জন্য তিনটি উল্লাস প্রস্তাব করছি।" আমি এমন জিনিসগুলো পছন্দ করি। আমি এগুলো শুনতে পছন্দ করি। আমি এগুলো পুনরাবৃত্তি করতে পছন্দ করি।
* আমাদের সন্তানদের ভয় দেখাতে এবং নারীদের বুদ্ধিমত্তাকে পঙ্গু করার জন্য পুরোহিতদের অর্থ প্রদান করা হলো অর্থের অপচয়।
* শত শত বছর ধরে সমস্ত খ্রিষ্টানরা দাবি করেছিল যে পৃথিবী ছয় দিনে তৈরি হয়েছিল, প্রতিটি আক্ষরিক চব্বিশ ঘণ্টার দিন। এবং সপ্তম দিনে প্রভু তার শ্রম থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। ভূতাত্ত্বিকরা গির্জাকে এই অবস্থান থেকে বিতাড়িত করেছেন। আর এখন দাবি করা হয় যে বাইবেলে উল্লিখিত দিনগুলো হলো সময়কাল। এটি একটি সাধারণ এড়ানো, যা কোনোভাবেই ধর্মগ্রন্থ দ্বারা সমর্থিত নয়। বাইবেল স্পষ্টভাবে এবং পরিষ্কারভাবে বলে যে বিশ্ব ছয় দিনে তৈরি হয়েছিল। এর মলাটের ভেতরে এর চেয়ে পরিষ্কার কোনো বিবৃতি নেই।
* আর তাদের সাবাথ পালন করার কারণ ছিল যে স্রষ্টা সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছিলেন—কোনো সময়কালে নয়। '''আপনি যদি ছয় দিনের পরিবর্তে ছয় সময়কালের কথা বলেন, তবে আপনার সাবাথের কী হবে?''' বাইবেলে সাবাথ পালনের একমাত্র কারণ দেওয়া হয়েছে যে ঈশ্বর এটি পালন করেছিলেন। তিনি সেদিন তার কাজ থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন এবং সতেজ হয়েছিলেন। এই কারণটি সরিয়ে নিলে, সেই দিনের পবিত্রতার কোনো ভিত্তি ধর্মগ্রন্থে থাকে না।
* যখন সৃষ্টির মোজাইক বর্ণনার চরম অযৌক্তিকতা সমস্ত চিন্তাশীল মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন গির্জা বাইবেলের পাঠ পরিবর্তন করে। তখন ভান করা হয়েছিল যে সৃষ্টির "দিনগুলো" হলো বিশাল সময়কাল। যখন এটা দেখানো হয়েছিল যে পৃথিবীর চারপাশে সূর্যের ঘোরা একেবারেই অসম্ভব, তখন যিহোশূয় কর্তৃক সারা দিন সূর্যের স্থির থাকার বিবরণটিকে একটি রূপক অর্থে পরিবর্তন করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে যিহোশূয় কেবল তার দিনের সাধারণ কথা বলার রীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেছিলেন। এবং যখন তিনি বলেছিলেন যে সূর্য স্থির দাঁড়িয়েছে, তখন তিনি কেবল এই ধারণাটি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে পৃথিবী তার অক্ষের চারপাশে ঘোরা বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বে কি এমন কোনো সংবেদনশীল মানুষ আছেন যিনি এই অজ্ঞতাবশত মিথ্যায় বিশ্বাস করেন?
* প্রতি ঘণ্টায় এক হাজার মাইল বেগে ঘুরতে থাকা পৃথিবী থেমে গিয়েছিল। এই বিশাল গোলকের গতি তাৎক্ষণিকভাবে তাপে পরিণত হতো। বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী গণনা করে দেখেছেন যে, পৃথিবীকে থামাতে কঠিন কয়লার তৈরি এই পৃথিবীর সমান একটি বিশ্বকে পুড়িয়ে যে পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করা যায়, সেই পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হবে। '''তারপরও এই সমস্ত শক্তি কেবল কয়েকজন দরিদ্র বর্বরকে পরাজিত করার তুচ্ছ উদ্দেশ্যে ব্যয় করা হয়েছিল। এত সামান্য একটি বস্তু অর্জনের জন্য এত বেশি শক্তির প্রয়োগ, সান ফ্রান্সিসকো শহরের পাদ্রিদের যুক্তির উত্তর দেওয়ার জন্য একজন মহান মানুষের সমস্ত বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর মতোই অর্থহীন হতো।'''
* দাবিকৃত উদ্দেশ্যের জন্য গ্রহগুলোকে তাদের বিশাল গতিপথে থামানোর ক্ষেত্রে সেই অসীম শক্তির অপচয় হতো এমন একটি পোকা ধ্বংস করার জন্য একটি ক্রুপ বন্দুক ব্যবহার করার মতো, যার কাছে এক ফোঁটা জলই হলো "একটি অসীম পৃথিবী।" '''সাধারণ বুদ্ধির মানুষের পক্ষে কেবল এমন অজ্ঞতাপূর্ণ মিথ্যাগুলোকে সমর্থন করাই নয়, বরং যারা তা করে না তাদের কীভাবে বদনাম করা সম্ভব?''' বাইবেলের জ্যোতির্বিদ্যায় বিশ্বাস করার চেয়ে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে অবক্ষয়কারী আর কিছু হতে পারে কি?
* পৃথিবী যে সমতল হতে হবে তা দেখানোর জন্য কসমসের দেওয়া মহান যুক্তিটি হলো এই যে, বাইবেলে বলা হয়েছে যখন খ্রিষ্ট দ্বিতীয়বার মহিমায় আসবেন, তখন পুরো বিশ্ব তাকে দেখবে। '''কসমস বলেছিলেন, "এখন যদি পৃথিবী গোল হয়, তবে প্রভু এলে পৃথিবীর অন্য দিকের লোকেরা কীভাবে তাকে দেখতে পাবে?"''' এটি প্রশ্নটির সমাধান করে দিয়েছিল।
* '''বাইবেলকে কেবল সত্য হিসেবে নয়, সমস্ত সত্যের সেরা হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। সামনে আনা যেকোনো নতুন তত্ত্ব অবিলম্বে ওহীর আলোতে বা বলা যায় অন্ধকারে পরীক্ষা করা হতো। আর যদি সেই পরীক্ষা অনুযায়ী এটি মিথ্যা হয়, তবে এটির নিন্দা করা হতো এবং এটি সামনে আনা ব্যক্তিকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হতো। ধর্মগ্রন্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রমাণিত প্রতিটি তত্ত্ব আবিষ্কার করা অনেক ভালো হতো।'''
* স্যার থমাস মুর বলেছিলেন যে ডাইনিবিদ্যা ছেড়ে দেওয়া মানে বাইবেলকেই ছেড়ে দেওয়া। একশো বছর আগে প্রায় সব বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদরাই এই ধারণা পোষণ করতেন। '''আমার বিচারে, তারা সঠিক ছিলেন। ডাইনিবিদ্যা ছেড়ে দেওয়া মানে, অন্তত অনেকখানি, অতিপ্রাকৃতকে ছেড়ে দেওয়া। ছোট ছোট ভূতগুলোকে কেবল ছুঁড়ে ফেলা মানুষের মনকে বড় ভূতগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে।''' সঠিকভাবে বলা যায় এমন প্রায় সব ধর্মমত ও ধর্মের প্রতিষ্ঠাতারাই ভালো ও মন্দ আত্মার অস্তিত্ব শিখিয়েছেন। তারা অন্ধকারকে শয়তান এবং আলোকে ফেরেশতা দিয়ে ভরিয়ে তুলেছেন। তারা নরককে রাক্ষস এবং স্বর্গকে সরাফ দিয়ে ভিড় করিয়েছেন। যে মুহূর্তে এই ভালো ও মন্দ আত্মাগুলো, এই ফেরেশতা ও পিশাচগুলো মানুষের কল্পনা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং অতিপ্রাকৃত উপায়ের চেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা করা হয়, সে মুহূর্তেই বস্তুবাদের নামে পরিচিত হওয়ার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। '''যে পর্যন্ত গির্জা ডাইনিবিদ্যায় বিশ্বাস করে, সে পর্যন্ত তা একটি পরিবর্তিত রূপে থাকে। মন্দ আত্মাগুলো আগের মতো বেশি নেই এবং আরও বেশি ঘটনা প্রাকৃতিক উপায়ে ব্যাখ্যা করা হয়। আত্মাগুলোর ওপর বিশ্বাস যতটুকু হারিয়েছে, ঠিক ততটুকুই গির্জা তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব হারিয়েছে।''' মানুষ যখন ভালো বা মন্দ আত্মার প্রত্যক্ষ ক্রিয়ার কারণে কোনো ঘটনার সংঘটনকে দায়ী করা বন্ধ করে দেয় এবং পরিচিত প্রাঙ্গণ থেকে যুক্তি দেখাতে শুরু করে, তখন কুসংস্কারের শৃঙ্খল দুর্বল হতে শুরু করে।
* এবং এরপর প্রভু শয়তানকে ইয়োবের সম্পত্তি এবং সন্তানদের ধ্বংস করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। '''কিছুক্ষণ পরে এই উচ্চ চুক্তিকারী পক্ষগুলো আবার মিলিত হয়েছিল। এবং প্রভুকে তার সাফল্যে কিছুটা উচ্ছ্বসিত বলে মনে হয়েছিল এবং তিনি আবার ইয়োবের পাপহীনতার দিকে শয়তানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তারপর শয়তান তাকে তার শরীর স্পর্শ করতে বলেছিল এবং সে তাকে অভিশাপ দেবে। এবং এরপর ইয়োবের শরীরের ওপর শয়তানকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল এবং সে তার শরীর ফোঁড়ায় ঢেকে দিয়েছিল। তারপরও এই সবকিছুর মধ্যে ইয়োব তার ঠোঁট দিয়ে পাপ করেননি। ধৈর্যের উৎকর্ষ দেখানোর জন্য এবং এই প্রমাণ করার জন্য এই বইটি লেখা হয়েছে বলে মনে হয় যে, অবশেষে ঈশ্বর তাদের সবাইকে পুরস্কৃত করবেন যারা সাহসের সাথে এবং কোনো অভিযোগ ছাড়াই স্বর্গের কষ্টগুলো সহ্য করবে।''' ইয়োবের পুত্র ও কন্যাদের হত্যা করা হয়েছিল। এবং তারপর ইয়োবকে পুরস্কৃত করার জন্য প্রভু তাকে অন্যান্য সন্তান, অন্যান্য পুত্র এবং অন্যান্য কন্যা দিয়েছিলেন—যাদের তিনি হারিয়েছিলেন তাদের নয়, বরং অন্যদের। এবং লেখকের মতে, এটি যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ করেছে। '''ভালোবাসা সম্পর্কে আমরা এখন যে ধারণাটি পোষণ করি তা কি এমনই? যদি আমার একটি সন্তান থাকে, সেই সন্তানটি যতই বিকলাঙ্গ হোক না কেন, এবং যদি সে মারা যায়, তবে অন্য একটি আরও সুন্দর সন্তান এনে কেউ আমার ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না। আমি তাকেই চাই যাকে আমি ভালোবাসতাম এবং যাকে আমি হারিয়েছি।'''
* "অতএব, গির্জা যেমন খ্রিষ্টের অধীন, তেমনি স্ত্রীরাও যেন সব বিষয়ে তাদের স্বামীদের অধীন হয়।"— ইফিষীয় ৫। এমনকি ত্রাণকর্তাও নারী-পুরুষকে সমতার জায়গায় রাখেননি। একজন স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারত, কিন্তু স্ত্রী তার স্বামীকে তালাক দিতে পারত না। প্রতিটি মহৎ নারীর এমন প্রেরিতদের এবং এমন ধারণাগুলোকে অবজ্ঞা করা উচিত। ওল্ড টেস্টামেন্ট অনুযায়ী, নারীকে ক্ষমা চাইতে হতো এবং পুত্র-কন্যার জন্ম দেওয়ার অপরাধ থেকে নিজেকে শুদ্ধ করতে হতো। ভালোবাসা এবং মাতৃত্বকে অপরাধ বানানো অত্যন্ত জঘন্য।
* <sup>১০.</sup> “যখন তুমি তোমার শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবে, এবং প্রভু তোমার ঈশ্বর তাদেরকে তোমার হাতে সমর্পণ করবেন, এবং তুমি তাদের বন্দি করবে, <sup>১১.</sup> “এবং বন্দিদের মধ্যে একটি সুন্দর নারী দেখতে পাবে, এবং তার প্রতি তোমার আকাঙ্ক্ষা থাকবে, যে তুমি তাকে তোমার স্ত্রী হিসেবে চাইবে, <sup>১২.</sup> “তখন তুমি তাকে তোমার বাড়িতে নিয়ে আসবে; এবং সে তার মাথা মুণ্ডন করবে, এবং তার নখ কাটবে।”<sup>'''— দ্বিতীয় বিবরণ ২১.'''</sup> '''এটি বর্বরতা, তা স্বর্গ থেকে বা নরক থেকে, কোনো ঈশ্বর থেকে বা কোনো শয়তান থেকে, নতুন জেরুজালেমের সোনার রাস্তা থেকে বা ধ্বংসের একেবারে সদোম থেকে আসুক না কেন। এটি সম্পূর্ণ এবং নিছক বর্বরতা।'''
* <sup>২৩.</sup> “কিন্তু প্রভু তোমার ঈশ্বর তাদের তোমার হাতে সমর্পণ করবেন, এবং তাদের ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এক শক্তিশালী ধ্বংসের সাথে তাদের ধ্বংস করবেন। <sup>২৪.</sup> “এবং তিনি তাদের রাজাদের তোমার হাতে সমর্পণ করবেন, '''এবং তুমি স্বর্গের নিচ থেকে তাদের নাম ধ্বংস করবে; তুমি তাদের ধ্বংস না করা পর্যন্ত কোনো মানুষ তোমার সামনে দাঁড়াতে পারবে না।”<sup>— দ্বিতীয় বিবরণ ৭.</sup>''' '''যদি এই কথাগুলো কোনো শয়তানের মুখ থেকে আসত, যদি এগুলো কোনো ক্রুদ্ধ এবং অসীম বিদ্বেষপরায়ণ পিশাচ দ্বারা বলা হতো, তবে আমি অবাক হতাম না। কিন্তু এই জিনিসগুলো একজন অসীম দয়ালু ঈশ্বরের প্রতি আরোপিত হয়েছে।'''
* '''অনন্ত শাস্তিতে কি দয়া বলে কিছু থাকতে পারে? তারপরও এই একই দেবতা আমাকে বলেন, “মন্দের প্রতিরোধ কোরো না; যারা তোমাকে অবজ্ঞা করে তাদের জন্য প্রার্থনা করো; তোমার শত্রুদের ভালোবাসো, কিন্তু আমি আমার শত্রুদের চিরকাল অভিশাপ দেব।” আমার মনে হয় দেবতাদেরও তারা যা প্রচার করে তা অনুশীলন করা উচিত।'''
=== দ্য লিবার্টি অফ ম্যান, উইম্যান অ্যান্ড চাইল্ড (১৮৭৭) ===
:<small>[http://www.positiveatheism.org/hist/ingermwc.htm অনলাইনে সম্পূর্ণ পাঠ্য]</small>
* '''অজ্ঞতা ছাড়া অন্য কোনো [[দাসত্ব]] নেই। [[স্বাধীনতা]] হলো [[বুদ্ধিমত্তা|বুদ্ধিমত্তার]] সন্তান।''' <br> মানুষের [[ইতিহাস]] কেবল দাসত্ব, অবিচার এবং নিষ্ঠুরতার ইতিহাস। পাশাপাশি এটি সেই উপায়গুলোর ইতিহাস যার মাধ্যমে সে মৃত এবং নির্জন বছরগুলোর মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে এবং বেদনাদায়কভাবে অগ্রসর হয়েছে।
* [[স্বাধীনতা|স্বাধীনতার]] শত্রুরা কোনো কিছুই করতে বাকি রাখেনি। মানুষের অধিকার ধ্বংস করার জন্য প্রতিটি কলা ও কৌশল, প্রতিটি নিষ্ঠুরতা এবং ক্ষোভ অনুশীলন ও সংঘটিত করা হয়েছে। এই মহান সংগ্রামে প্রতিটি [[অপরাধ]] পুরস্কৃত হয়েছে এবং প্রতিটি [[পুণ্য|পুণ্যকে]] শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পড়া, লেখা, চিন্তা করা এবং তদন্ত করা সবই অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।<br> প্রতিটি [[বিজ্ঞান]] একঘরে হয়ে গেছে। <br> সমস্ত বেদি এবং সমস্ত সিংহাসন মানবজাতির সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া বন্ধ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। '''রাজা বলেছিলেন যে মানবজাতিকে নিজেদের জন্য কাজ করা উচিত নয়। পুরোহিত বলেছিলেন যে মানবজাতির নিজেদের জন্য চিন্তা করা উচিত নয়। একজন হাতের জন্য শেকল তৈরি করেছিলেন, অন্যজন আত্মার জন্য।'''
* মাত্র কয়েক বছর আগে মানব মনে এক দুর্দান্ত জাগরণ ঘটেছিল। মানুষ জিজ্ঞাসা করতে শুরু করে, কোন অধিকারে একজন মুকুট পরা ডাকাত তাদের দিয়ে নিজের কাজ করায়? যে মানুষটি এই প্রশ্নটি করেছিলেন তাকে দেশদ্রোহী বলা হতো। অন্যরা জিজ্ঞাসা করেছিল, কোন অধিকারে একজন পোশাক পরা কপট আমার চিন্তাভাবনা শাসন করে? এমন লোকেদের নাস্তিক বলা হতো। পুরোহিত এবং রাজা বলেছিলেন, তদন্তের এই চেতনা কোথায় গিয়ে থামবে? তারা তখনও বলেছিল এবং এখনও বলে যে, মানুষের মুক্ত হওয়া বিপজ্জনক। আমি তা অস্বীকার করি। বুদ্ধিবৃত্তিক সমুদ্রে প্রতিটি পালের জন্য যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক বাতাসে প্রতিটি ডানার জন্য যথেষ্ট স্থান রয়েছে। <br> '''যে ব্যক্তি নিজের চিন্তাভাবনা নিজে করে না সে একজন দাস, এবং সে নিজের এবং তার সহকর্মীদের প্রতি একজন দেশদ্রোহী।'''
* '''অজানার উপস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, সবার চিন্তা করার সমান অধিকার রয়েছে, এবং সবাই উৎপত্তি এবং ভাগ্যের মহান প্রশ্নগুলোতে সমানভাবে আগ্রহী। আমি যা দাবি করি, যার জন্য আমি আবেদন করি, তা হলো [[চিন্তা]] এবং প্রকাশের স্বাধীনতা। ব্যস, এইটুকুই। আমি একেবারে সত্য কী তা বলার ভান করি না, বরং আমি যা সত্য বলে মনে করি তা বলি। আমি সমস্ত [[সত্য]] বলার ভান করি না।''' <br> আমি দাবি করি না যে আমি [[চিন্তা|চিন্তার]] উচ্চতার স্তরে ভেসেছি, অথবা আমি জিনিসগুলোর একেবারে গভীরে নেমেছি। '''আমি কেবল দাবি করি যে আমার যে ধারণাগুলো আছে, সেগুলো প্রকাশ করার অধিকার আমার আছে। আর যে ব্যক্তি আমার কাছে সেই অধিকার অস্বীকার করে সে একজন বুদ্ধিবৃত্তিক চোর এবং ডাকাত। ব্যস, এইটুকুই।'''
* '''ভালো পুরুষরা, ভালো নারীরা চিন্তার রাজ্যে চাবুক এবং কশাঘাত নিয়ে ক্লান্ত। তারা শিউরে উঠে শেকল এবং আগুনের কথা মনে করে। তারা মুক্ত, এবং তারা অন্যদের স্বাধীনতা দেয়'''; যে কেউ এমন কোনো অধিকার দাবি করে যা সে তার সহকর্মীদের দিতে ইচ্ছুক নয়, সে অসৎ এবং কুখ্যাত।
* আপনি [[নির্যাতন|নির্যাতনের]] মাধ্যমে [[মস্তিষ্ক|মস্তিষ্কের]] সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন না। সামাজিক একঘরে করার মাধ্যমেও নয়। তবে আমি আপনাকে বলব আপনি এগুলো দিয়ে কী করতে পারেন এবং কী করেছেন। আপনি লাখ লাখ কপট মানুষ তৈরি করতে পারেন। আপনি একজন মানুষকে দিয়ে বলাতে পারেন যে সে তার [[মন]] পরিবর্তন করেছে; কিন্তু সে একই [[মতামত|মতামতে]] স্থির থাকে। তার সারা গায়ে শেকল পরান; লোহার বুটে তার পা পিষে ফেলুন; পবিত্র র্যাকে তাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত টানটান করুন; চাইলে তাকে পুড়িয়ে দিন, কিন্তু তার ছাই একই মতামতেই স্থির থাকবে।
* '''পুরোনো সময়ে যার কথা আমি বলেছি, তারা সব মানুষকে ঠিক একইভাবে চিন্তা করাতে চেয়েছিল। বিশ্বের সমস্ত যান্ত্রিক চাতুর্য দুটি ঘড়িকে ঠিক একইভাবে চালাতে পারে না, আর আপনি কীভাবে কোটি কোটি মানুষকে একইভাবে চিন্তা ও অনুভব করাবেন? তারা মস্তিষ্ক ও স্বভাব, [[শিক্ষা]] ও আকাঙ্ক্ষায়, পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতায় আলাদা। প্রত্যেকেই আবেগপূর্ণ মাংসের একটি জীবন্ত পোশাকে আবৃত—কীভাবে আপনি তাদের একইভাবে চিন্তা ও অনুভব করাবেন?''' যদি কোনো অসীম ঈশ্বর থাকেন, যিনি আমাদের তৈরি করেছেন এবং চান যে আমরা একইভাবে চিন্তা করি, তবে তিনি কেন একজনকে এক চামচ মস্তিষ্ক এবং অন্যজনকে একটি দুর্দান্ত বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ দিলেন? কেন আমাদের গোঁড়ামি থেকে [[প্রতিভা]] পর্যন্ত সমস্ত স্তরের বুদ্ধিমত্তা রয়েছে, যদি এটি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে যে সবাইকে একইভাবে চিন্তা এবং অনুভব করতে হবে?
* '''পৃথিবীতে কখনোই মুক্ত নারী-পুরুষের কোনো প্রজন্ম আসেনি। এখনো একটি ধর্মমত লেখার সময় আসেনি।''' শেকল ভাঙা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, যে পর্যন্ত অন্ধকূপগুলোকে মন্দির হিসেবে গণ্য না করা হয়। অপেক্ষা করুন যে পর্যন্ত গাম্ভীর্যকে [[প্রজ্ঞা]] হিসেবে ভুল না করা হয়, যে পর্যন্ত মানসিক [[ভয়|ভয়]] শ্রদ্ধা হিসেবে পরিচিত হওয়া বন্ধ না করে। অপেক্ষা করুন যে পর্যন্ত জীবিতদের মৃতদের সমান বলে বিবেচনা না করা হয়, যে পর্যন্ত দোলনা কফিনের চেয়ে অগ্রাধিকার না পায়। অন্যরা কী বিশ্বাস করতে পারে তার তোয়াক্কা না করে আমরা যা জানি তা বলার মতো সময় না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। অপেক্ষা করুন যে পর্যন্ত [[শিক্ষক|শিক্ষকরা]] প্রচারকদের স্থান গ্রহণ না করেন, যে পর্যন্ত অনুসারীরা তদন্তকারী না হন। '''একটি ধর্মমত লেখার আগে [[বিশ্ব|বিশ্বের]] মুক্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।<br> এই ধর্মমতে কেবল একটি শব্দ থাকবে — [[স্বাধীনতা]]।'''
* আমি জানি না বিশ্বের মস্তিষ্ক থেকে কী আবিষ্কার, কী উদ্ভাবন, কী চিন্তাভাবনা লাফিয়ে উঠতে পারে। আমি জানি না আগামী বছরগুলোতে [[গৌরব|গৌরবের]] কী পোশাক বোনা হতে পারে। আমি [[চিন্তা|চিন্তার]] ময়দানে জেতা বিজয়গুলোর [[স্বপ্ন]] দেখতে পারি না। তবে আমি জানি যে, ভবিষ্যতের অসীম সমুদ্র থেকে আসা, মানুষের জন্য, নারীর জন্য এবং শিশুর জন্য স্বাধীনতার চেয়ে সমৃদ্ধ কোনো উপহার, দুর্লভ কোনো আশীর্বাদ এই "সময়ের তীর ও চরে" কখনো স্পর্শ করবে না।
=== ''শিকাগো টাইমস'' এর সাথে সাক্ষাৎকার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৮৮১। ===
* খ্রিষ্টধর্ম বলতে আমি দান, দয়া, সদয়তা, ক্ষমা বুঝি না। আমি কোনো স্বাভাবিক পুণ্য বুঝি না, কারণ খ্রিষ্টের জন্মের আগে শত শত কোটি কোটি মানুষের দ্বারা সমস্ত স্বাভাবিক পুণ্য বিদ্যমান ছিল এবং অনুশীলন করা হয়েছিল। অবশ্যই যিশুর জন্মের আগে, এমনকি তার মৃত্যুর আগে জেরুজালেমে খ্রিষ্টের দিনে কিছু ভালো মানুষ ছিলেন। খ্রিষ্টধর্ম বলতে আমি মুক্তি, প্রায়শ্চিত্ত, একটি খারাপ মানুষের জন্য একটি ভালো মানুষের মৃত্যু এবং খারাপ মানুষটির সম্পূর্ণ রসিদ পাওয়ার ধারণাগুলো বুঝি। খ্রিষ্টধর্ম বলতে আমি সেই ব্যবস্থাকে বুঝি যা জোর দিয়ে বলে যে পরবর্তী বিশ্বে কয়েকজন চিরকাল সুখী হবে, আর অনেকেই চিরকাল দুঃখী হবে। খ্রিষ্টধর্ম, যেভাবে আমি ব্যাখ্যা করেছি, তা অবশ্যই আইন দ্বারা সুরক্ষিত, সংরক্ষিত এবং টেকসই হতে হবে। এটি তলোয়ার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—বলা যায়, শারীরিক শক্তি দ্বারা—এবং একই উপায়ে এটি সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
* '''খ্রিষ্টধর্ম, নিজেকে রক্ষা করার জন্য, সততার কপালে কুখ্যাতির চিহ্ন লাগিয়ে দেয়। খ্রিষ্টধর্ম এমন প্রতিটি মস্তিষ্ককে একটি "সি" অক্ষর দিয়ে চিহ্নিত করে, যা "দোষী" (কনভিক্ট) বোঝায়, যে মস্তিষ্ক জালিয়াতিগুলো আবিষ্কার করার মতো যথেষ্ট মহান।'''
* তারা ঠিক এমন আচরণই করে, যেমনটা ডেলাওয়্যারে বড় হওয়া যে কেউ চাবুক মারার খুঁটি এবং পিলোরির ছায়ায় করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে ডেলাওয়্যার ছিল একটি দাস রাষ্ট্র। বাইবেল জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছিল কারণ এটি সেই অদ্ভুত প্রথাটিকে সমর্থন করেছিল।
* চাবুক মারার খুঁটির প্রতি আমার আপত্তি হলো এটি এমন একটি শাস্তি যা কোনো ভদ্রলোক দিতে পারেন না। যিনি শাস্তি দেন, তাকে অবশ্যই শাস্তি গ্রহণকারী ব্যক্তির মতোই অবনত হতে হবে।
* এখন সমস্যা হলো বেশিরভাগ স্ত্রীকে মারধর করার ঘটনা চরম দরিদ্রদের মধ্যে ঘটে। তাই স্ত্রী যদি তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তবে সে নিজের মুখ থেকে শেষ রুটির টুকরোটি কেড়ে নেয়।
* স্ত্রী-প্রহারের আরেকটি ভালো প্রতিকার হলো ক্যাথলিক গির্জার বিলুপ্তি।
* আমাদের এই ধারণাটিও বাদ দেওয়া উচিত যে বিয়ে হলো একটি ধর্মীয় সংস্কার, এবং এমন কোনো ঈশ্বর আছেন যিনি একজন স্বামী ও স্ত্রীকে একসাথে বাস করতে দেখে খুশি হন, যদিও স্বামীটি তার স্ত্রীকে মারধর করেই তার বেশিরভাগ পার্থিব আনন্দ পান।
* '''ডেলাওয়্যার সেরা সুযোগগুলো পায়নি। আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, এটি নিউ জার্সির পাশে অবস্থিত, যেটি এর অগ্রগতির পথে একটি বেশ বড় বাধা।'''
* এটি ঠিক মেরিল্যান্ডের পরেই, যা আরেকটি বাধা। আমি সেদিন শুনেছিলাম যে ঈশ্বর প্রথমে ঝিনুকগুলোকে পা দিয়ে তৈরি করেছিলেন এবং পরে সেগুলো খুলে নিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন যে ডেলাওয়্যারের লোকেরা কোনো কিছু ধরার জন্য দৌড়ানোর চেয়ে না খেয়ে মরতে বেশি পছন্দ করবে।
* '''কোনো কিছুই আমাকে এই লোকটির প্রতি অবিচার করতে প্ররোচিত করতে পারে না, যদিও সে নিজের যে ক্ষতি করেছে তার চেয়ে বেশি আমি আর কিছু করতে পারব না।'''
=== সাম রিজনস হোয়াই (১৮৮১) ===
* একটি খ্রিষ্টান জাতির কখনো বর্বরদের অধিকারের প্রতি সামান্যতম সম্মান ছিল না। অন্য সম্প্রদায়ের অধিকারের প্রতি কোনো খ্রিষ্টান সম্প্রদায়েরও কোনো সম্মান নেই। প্রাচীনকালে সম্প্রদায়গুলো আগুন এবং তলোয়ার দিয়ে আলোচনা করত। আর এখনো, প্রায় প্রতিদিনই এমন কিছু ঘটে যা দেখায় যে ইনকুইজিশনে যে পুরোনো চেতনা ছিল তা এখনো খ্রিষ্টানদের বুকে ঘুমিয়ে আছে।
* যে ব্যক্তি নিজেকে ঈশ্বরের প্রিয় পাত্র বলে মনে করে, সে অন্য লোকেদের অবজ্ঞার চোখে দেখে। যখন একজন মানুষ বিশ্বাস করে যে সে ঈশ্বরের কাছ থেকে নিখুঁত সত্য পেয়েছে, তখন সেই মানুষের মধ্যে আপসের কোনো মনোভাব থাকে না। মানব প্রকৃতির অসম্পূর্ণতা থেকে জন্ম নেওয়া বিনয় তার নেই। তার মধ্যে ধর্মতাত্ত্বিক নিশ্চিততার ঔদ্ধত্য এবং অজ্ঞ আশ্বাসের কারণে জন্ম নেওয়া স্বৈরতন্ত্র রয়েছে। নিজেকে ঈশ্বরের দাস বলে বিশ্বাস করে, সে তার প্রভুর অনুকরণ করে, এবং সমস্ত স্বৈরশাসকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হলো ক্ষমতায় থাকা একজন দাস।
* যখন একজন মানুষ সত্যিই বিশ্বাস করে যে চিরকাল সুখী হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাজ করা অপরিহার্য, অথবা অনন্ত আনন্দ নিশ্চিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাস অপরিহার্য, তখন সেই মানুষের মধ্যে কোনো ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকে না। সে সমগ্র বিশ্বকে সাধু ও পাপী, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী, ঈশ্বরের ভেড়া ও শয়তানের ছাগল, মহিমান্বিত হবে এমন মানুষ এবং অভিশপ্ত হবে এমন মানুষের মধ্যে ভাগ করে। খ্রিষ্ট যদি সত্যিই বলে থাকেন, "আমি শান্তি আনতে আসিনি, বরং তলোয়ার আনতে এসেছি," তবে এটি নিউ টেস্টামেন্টের একমাত্র ভবিষ্যদ্বাণী যা অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে।
* '''কেউ কেউ আমাদের বলেন যে ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা তার উপাসনা করি। কীসের জন্য? তিনি উপাসনা কেন চান? অন্যরা আমাদের বলেন যে তার জন্য আমাদের কিছু বলিদান করা উচিত। কীসের জন্য? তার কি অভাব আছে? আমরা কি তাকে সাহায্য করতে পারি? তিনি কি অসুখী? তিনি কি সমস্যায় আছেন?'''
* ধরুন, আমি এই বাইবেলটি সততার সাথে, ন্যায্যভাবে পড়ি এবং যখন আমি শেষ করি তখন আমি বলতে বাধ্য হই, "বইটি সত্য নয়।" এটি যদি সৎ ফলাফল হয়, তবে আপনি বলতে বাধ্য হবেন যে, হয় ঈশ্বর আমাকে কোনো ওহী পাঠাননি, অথবা এটি যে সত্য নয়, সেই ওহীটি আমাকে দেওয়া হয়েছে এবং এর দ্বারা আমি বাধ্য। '''যদি বইটি এবং আমার মস্তিষ্ক উভয়ই একই অসীম ঈশ্বরের কাজ হয়, তবে বইটি এবং মস্তিষ্ক একমত না হওয়াটা কার দোষ? হয় ঈশ্বরের এমন একটি বই লেখা উচিত ছিল যা আমার মস্তিষ্কের সাথে মানানসই হয়, অথবা আমার মস্তিষ্কটি এমনভাবে তৈরি করা উচিত ছিল যা তার বইয়ের সাথে মানানসই হয়।'''
* তিনি কয়েকজনকে বেছে নিয়েছিলেন, ইব্রাহিমের বংশধরদের। তিনি একটি নিখুঁত স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—যেখানে কোনো স্কুল ছিল না, কোনো দর্শন ছিল না, কোনো শিল্প ছিল না, কোনো সঙ্গীত ছিল না—কেবল নির্বাক পশুদের বলিদান—কেবল একজন দাসের হীন উপাসনা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। ভূতত্ত্বের ওপর, জ্যোতির্বিদ্যার ওপর কোনো কথা ছিল না। এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপরও কিছু ছিল না। এভাবেই ঈশ্বর সিনাই পর্বতের চূড়ায় মোশির সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন। তিনি কুষ্ঠরোগের উপস্থিতি নিশ্চিত করার এবং এর বিস্তার রোধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু যিহোবার মনে কখনো মোশিকে এটা বলার কথা আসেনি যে এটি কীভাবে নিরাময় করা যায়। তিনি তাদের কী খাওয়া যেতে পারে সে সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলেছিলেন—অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে চার পাওয়ালা পাখি নিষেধ করেছিলেন এবং রান্নার বিষয়ে একটি কথা বলেছিলেন। সিনাই পর্বতের বজ্রপাত এবং বিদ্যুতের ঝলকানি থেকে তিনি এই বিশাল এবং বিস্ময়কর সত্যটি ঘোষণা করেছিলেন: "তুমি কোনো ছাগলছানাকে তার মায়ের দুধে সিদ্ধ করবে না।"
* বাইবেলের অনুপ্রেরণায় বিশ্বাসী ব্যক্তিটি বলতে বাধ্য হয় যে, এমন একটা সময় ছিল যখন দাসত্ব সঠিক ছিল, যখন নারীরা তাদের শিশুদের বিক্রি করতে পারত, যখন বহুবিবাহ ছিল সর্বোচ্চ রূপের পুণ্য, যখন দয়ার তলোয়ার দিয়ে নির্মূল করার যুদ্ধ চালানো হতো, যখন ধর্মীয় সহনশীলতা ছিল একটি অপরাধ, এবং যখন একটি সৎ চিন্তা প্রকাশ করার জন্য মৃত্যু ছিল ন্যায্য শাস্তি। '''তাকে জেদ করতে বাধ্য করা হয় যে যিহোবা তখন যতটা খারাপ ছিলেন এখনও ততটাই খারাপ; তিনি তখন যতটা ভালো ছিলেন এখনও ততটাই ভালো। একসময়, আমি যে অপরাধগুলোর কথা উল্লেখ করেছি সেগুলো ঈশ্বরের নির্দেশ ছিল; এখন সেগুলো নিষিদ্ধ। একসময়, ঈশ্বর এগুলোর পক্ষে ছিলেন; এখন শয়তান তাদের রক্ষক। অন্য কথায়, শয়তান আজ সেই একই মতামত পোষণ করে যা ঈশ্বর চার হাজার বছর আগে পোষণ করতেন। শয়তান এখন ততটাই ভালো যতটা যিহোবা তখন ছিলেন, এবং ঈশ্বর তখন ততটাই খারাপ ছিলেন যতটা শয়তান এখন।'''
* '''বলা যেতে পারে যে বাইবেলের খারাপ জিনিসগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা অন্যায্য। এর জবাবে বলা যেতে পারে যে একজন ঐশ্বরিক সত্তার উচিত নয় তার বইয়ে খারাপ জিনিস রাখা।'''
* ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রতি আমার সবচেয়ে বড় আপত্তি হলো ঈশ্বরের নির্দেশিত নিষ্ঠুরতাগুলো। মৃত্যুর সাথে এই সমস্ত নিষ্ঠুরতা শেষ হয়েছিল। '''যিহোবার প্রতিশোধ সমাধির কাছে গিয়ে থেমে গিয়েছিল। তিনি কখনো মৃতদের শাস্তি দেওয়ার হুমকি দেননি। আদিপুস্তকের প্রথম ভুল থেকে শুরু করে মালাখির শেষ অভিশাপ পর্যন্ত এমন একটি কথাও নেই যেখানে সামান্যতম ইঙ্গিত রয়েছে যে ঈশ্বর অন্য জগতে তার প্রতিশোধ নেবেন। অনন্ত যন্ত্রণার মতবাদটি প্রচার করার জন্য নিউ টেস্টামেন্টকে সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।''' সার্বজনীন পরোপকারের শিক্ষক সময় এবং অনন্তকালের মাঝের পর্দা ছিঁড়ে ফেলেছিলেন এবং মানুষের আতঙ্কিত দৃষ্টিকে নরকের ভয়ঙ্কর খাদের দিকে স্থির করেছিলেন। অহিংসার বুকের ভেতর সেই পোকা কুণ্ডলী পাকিয়ে ছিল যা কখনো মরে না। এর তুলনায় ওল্ড টেস্টামেন্টের দাসত্ব, নির্মূলের যুদ্ধ, অভিশাপ এবং শাস্তির মতবাদগুলো ছিল দয়ালু এবং ন্যায়সঙ্গত।
* এই প্রাণীগুলোকে হত্যার বিষয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি পুরোহিত কসাই হয়ে উঠেছিলেন, প্রতিটি উপাসনালয় কসাইখানায় পরিণত হয়েছিল। একটি পরিশীলিত আত্মার কাছে ক্রমাগত নির্দোষ রক্তপাতের চেয়ে বেশি জঘন্য, হৃদয়কে কঠিন করার জন্য এর চেয়ে ভালোভাবে হিসাব করা আর কিছুই হতে পারে না। এই ভয়ানক ব্যবস্থাটি খ্রিষ্টের বলিদানে শেষ হয়েছিল। তার রক্ত অন্য সবার জায়গা নিয়েছিল। আর রক্তপাতের প্রয়োজন নেই। আইন অবশেষে সন্তুষ্ট, পরিতৃপ্ত এবং পরিপূর্ণ হয়েছে।
* পাপ সংঘটন রোধ করার জন্য মোজাইক ব্যবস্থাটি খ্রিষ্টান ব্যবস্থার চেয়ে বেশি উপযুক্ত ছিল। সেই ব্যবস্থার অধীনে, আপনি যদি কোনো পাপ করেন, তবে আপনাকে একটি বলিদান আনতে হতো—ঘুঘু, ভেড়া বা বলদ। এখন, '''যখন কোনো পাপ সংঘটিত হয়, তখন খ্রিষ্টান বলে, "লিখে রাখুন," "স্লেটে লিখে রাখুন, আমি যদি শোধ না করি তবে ত্রাণকর্তা করবেন।" এভাবেই, বদমায়েশি বাকিতে বিক্রি হয় এবং ধর্মের ঋণ ব্যবস্থা পাপে অপব্যয় বাড়ায়।''' মোজাইক ব্যবস্থাটি অনেক ভালো ব্যবসায়িক নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। ঋণটি পরিশোধ করতে হতো এবং যে মানুষটির ঋণ ছিল তাকেই তা করতে হতো। আমাদের বলা হয় যে পাপী ঈশ্বরের কাছে ঋণী, এবং এই বাধ্যবাধকতা ত্রাণকর্তা দ্বারা মুক্তি পায়। এমন একটি লেনদেন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো যা বলা যেতে পারে তা হলো ঋণটি স্থানান্তরিত হয়, পরিশোধ করা হয় না। আসলে, পাপী সেই ব্যক্তির কাছে ঋণী যার সে ক্ষতি করেছে। আপনি যদি কোনো মানুষের ক্ষতি করেন, তবে কেবল ঈশ্বরের ক্ষমা পাওয়াই যথেষ্ট নয়—আপনাকে মানুষটির ক্ষমা পেতে হবে, আপনাকে নিজের ক্ষমা পেতে হবে। যদি কোনো মানুষ তার হাত আগুনে রাখে এবং ঈশ্বর তাকে ক্ষমা করেন, তবে তার হাতটি ঠিক ততটাই জ্বলবে।
* যখন খ্রিষ্ট ক্যালভারির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন যদি কোনো সাহসী আত্মা তাকে ধর্মপরায়ণ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করত, তবে কেবল তার যন্ত্রণার জন্যই সে অভিশপ্ত হতো না, বরং কোনো মানুষের মুক্তি অসম্ভব করে তুলত। খ্রিষ্টান বিশ্ব প্রায় দুই হাজার বছর ধরে প্রায়শ্চিত্তের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এবং প্রতিটি প্রচেষ্টা একটি স্বীকৃতিতে শেষ হয়েছে যে এটি বোঝা যায় না, এবং একটি ঘোষণায় শেষ হয়েছে যে এটি অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। ক্ষমার প্রতিশ্রুতি এবং আশা কি কখনো পাপ সংঘটন রোধ করেছে? মানুষদের কি এই শিক্ষা দিয়ে আরও ভালো করা যেতে পারে যে পাপ এখানে সুখ দেয়; একটি পুণ্যময় জীবনযাপন করা মানে ক্রস বহন করা; মানুষ শেষ পাপ এবং শেষ নিঃশ্বাসের মাঝখানে অনুতপ্ত হতে পারে; এবং অনুতাপ আত্মার প্রতিটি দাগ ধুয়ে দেয়?
* তারা আমাদের বলে, তিনি একটি ওহী করতে এসেছিলেন, আর তিনি কী ওহী করেছিলেন? "তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসো"? সেটি তো ওল্ড টেস্টামেন্টে ছিল। "তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবাসো"? সেটিও ওল্ড টেস্টামেন্টে ছিল। "মন্দের বদলে ভালো ফিরিয়ে দাও"? খ্রিষ্টের জন্মের সাতশো বছর আগে বুদ্ধ এমনটা বলেছিলেন। "অন্যদের সাথে তেমন আচরণ করো যেমন তুমি চাও যে তারা তোমার সাথে করুক"? সেটি ছিল লাও-ৎসের মতবাদ। তিনি কি কর্মের কোনো নিয়ম দিতে এসেছিলেন? [[জরাথুস্ট্রবাদ|জরাথুস্ত্র]] অনেক আগেই এটি করেছিলেন: "যখনই তুমি সন্দেহ করবে কোনো কাজ ভালো না খারাপ, তখন তা থেকে বিরত থেকো।"
===''দ্য গ্রেট ইনফিডেলস'' (১৮৮১) ===
[[File:Polyptyque de la Vanité terrestre et de la Rédemption céleste-Hans Memling mg 9960.jpg|thumb|right|অসীম [[শাস্তি]] হলো অসীম [[নিষ্ঠুরতা]], অন্তহীন অবিচার এবং চিরস্থায়ী নীচতা। কোনো চিরন্তন কারারক্ষীর উপাসনা করা সবচেয়ে নিকৃষ্ট আত্মাকেও কঠোর, অবদমিত ও কলুষিত করে। [[মহাবিশ্ব|মহাবিশ্বে]] একটি দুঃখিত ও ভগ্ন [[হৃদয়]] থাকা পর্যন্ত কোনো ভালো সত্তা পুরোপুরি সুখী হতে পারে না।]]
[[File:Robert G. Ingersoll - Brady-Handy.jpg|thumb|right|নিয়ম অনুযায়ী শহিদত্ব শহিদের [[আন্তরিকতা]] প্রমাণ করে। এটি কখনোই তার [[চিন্তা|চিন্তার]] সঠিকতা প্রমাণ করে না। বিষয়বস্তু নিজ থেকেই সত্য বা মিথ্যা হয়। [[মতামত]] দ্বারা [[সত্য]] প্রভাবিত হতে পারে না। শহিদত্বের মাধ্যমে একে পরিবর্তন, প্রতিষ্ঠা বা প্রভাবিত করা যায় না। কোনো [[ভুল|ভুলকে]] যতই আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করা হোক না কেন, তা কখনো সত্যে পরিণত হতে পারে না।]]
:<small>[http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/great_infidels.html অনলাইনে সম্পূর্ণ পাঠ্য]</small>
* '''নারী-পুরুষকে সাহসী ও মহিমান্বিত করে তোলার প্রবণতায় আমি বিশ্বাস করি না। বিশেষ করে তাদের যদি বলা হয় যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে তাদের এমন কিছু [[ধারণা]] রয়েছে যা প্রকাশ করা উচিত নয়। তাদের বর্ম হিসেবে ভান করে জীবন কাটাতে হবে। তারা চুপ থাকলে প্রতিবেশীরা তাদের সম্পর্কে অনেক ভালো ভাববে। সর্বোপরি এমন একজন [[ঈশ্বর]] আছেন, যিনি নিজের বিশ্বাস সততার সাথে প্রকাশকারীকে অবজ্ঞা করেন।''' আমার মতে, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত নিজের সৎ মতামত প্রকাশ করার শিক্ষা পেলে মানুষ ব্যবসা, রাজনীতি, শিল্পকলা এবং সুন্দর ও মহৎ সব কিছুতেই আরও সৎ হবে।
* এটি অবিশ্বাস্য যে কেবল নির্বোধরাই পরিত্রাণের বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত থাকে। এটিও অবিশ্বাস্য যে আপনার মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা যত বেশি হবে, আপনার সুযোগ তত কমবে। সৎ চিন্তায় কোনো বিপদ থাকতে পারে না। পৃথিবী যদি আজকের চেয়েও সামনের দিকে অগ্রসর হয়, তবে যারা নিজেদের প্রকৃত মতামত প্রকাশ করেন, তাদেরই এর নেতৃত্ব দিতে হবে।
* গোঁড়া খ্রিষ্টানদের মূল্যায়নে আমি একজন অপরাধী। কারণ আমি প্রেমময় মা, বাবা, ভাই, বোন, স্বামী, স্ত্রী এবং প্রেমিকদের কাছ থেকে অনন্ত শোক ও যন্ত্রণার বিশ্বাস থেকে স্বাভাবিকভাবে উদ্ভূত সান্ত্বনা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। নিষ্পাপ আনন্দের মাঠে যাজকদের প্রতিষ্ঠিত ঈশ্বরকে আমি ছিঁড়ে, ভেঙে এবং বাতাসে ছড়িয়ে দিতে চাই। এই ঈশ্বর মতবাদ নামক লাঠি এবং অতিকথা নামক পুরোনো কাপড় দিয়ে তৈরি। আমি কফিন থেকে তার বিভীষিকা এবং দোলনা থেকে তার অভিশাপ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। এক অসীম দানবের প্রজ্বলিত প্রতিশোধের আগুন নিভিয়ে দেব। <br> নরকের আভা থেকে কি স্বর্গের আলো ধার করা জরুরি? <br> '''অসীম শাস্তি হলো অসীম নিষ্ঠুরতা, অন্তহীন অবিচার এবং চিরস্থায়ী নীচতা। কোনো চিরন্তন কারারক্ষীর উপাসনা করা সবচেয়ে নিকৃষ্ট আত্মাকেও কঠোর, অবদমিত ও কলুষিত করে। মহাবিশ্বে একটি দুঃখিত ও ভগ্ন হৃদয় থাকা পর্যন্ত কোনো ভালো সত্তা পুরোপুরি সুখী হতে পারে না।'''
* [[নরক|নরকের]] ঈশ্বরকে ঘৃণা, অবজ্ঞা এবং তিরস্কার করা উচিত। অনন্ত যন্ত্রণার হুমকি দেওয়া ঈশ্বরকে ভালোবাসা নয়, বরং ঘৃণা করা উচিত। উপাসনা নয়, বরং অভিশাপ দেওয়া উচিত। এমন ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত স্বর্গ অবশ্যই সবচেয়ে নিচু নরকের নিচে হবে। আমি এমন কোনো স্বর্গের অংশ হতে চাই না যেখানে পরিত্রাণপ্রাপ্তরা আনন্দের চিৎকারে নরকের কান্না ও দীর্ঘশ্বাস ডুবিয়ে দেবে। যেখানে সুখ দুঃখকে ভুলে যাবে। যেখানে হারিয়ে যাওয়াদের কান্না কেবল হাসি ও দ্বিগুণ আনন্দ বাড়িয়ে তুলবে।
* '''নরকের [[ধারণা]] জন্ম নিয়েছে [[অজ্ঞতা]], নিষ্ঠুরতা, [[ভয়]], [[ভীরুতা]] এবং [[প্রতিশোধ]] থেকে।''' এই ধারণা প্রমাণ করে যে আমাদের দূরবর্তী পূর্বপুরুষরা সবচেয়ে নিচু স্তরের পশু ছিল। কেবল গুহা, আস্তানা থেকে, কেবল নিষ্ঠুর দাঁত ভরা মুখ থেকে, কেবল ভয় ও ঘৃণার হৃদয় থেকে, কেবল ক্ষুধা ও কামনার বিবেক থেকে এবং কেবল সবচেয়ে নিচু ও অবদমিত অবস্থা থেকেই এই সবচেয়ে নিষ্ঠুর, হৃদয়হীন এবং পাশবিক মতবাদ আসতে পারে।
* প্রথা বা মতবাদকে আক্রমণকারীকে এমন মৃতদের নামের তালিকার মুখোমুখি হতে হবে যারা সেই প্রথাকে সমর্থন করত বা মতবাদে বিশ্বাস করত। তাকে খুব বিজয়ী ও অবজ্ঞাপূর্ণ উপায়ে জিজ্ঞাসা করা হয় যে সে অতীতের সব মহান ও সম্মানিত ব্যক্তির চেয়ে বেশি জানে কি না। প্রতিটি মতবাদের রক্ষকের স্মৃতিতে এমন সব "মহান" ব্যক্তির নাম খোদাই করা থাকে যাদের কাজ বা কথাকে তার মতবাদের প্রমাণ হিসেবে বিকৃত করা যেতে পারে।
* '''সত্য হলো, প্রায় প্রতিটি সম্প্রদায়ের পক্ষে কিছু মহান ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করা যেতে পারে।'''
* বাস্তব বিষয় হলো, খুব কম মানুষই সব বিষয়ে সঠিক হয়।
* '''মহৎ [[গুণাবলি]] ত্রুটিগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারে, তবে সেগুলো পবিত্র করতে পারে না। হীরা দ্বারা বেষ্টিত নুড়ি পাথর সাধারণ পাথরই থেকে যায় এবং নুড়ি দিয়ে বেষ্টিত হীরা সর্বদা রত্নই থাকে।''' যতক্ষণ না কেউ কোনো ব্যক্তির সব ধারণা ও বিশ্বাস গ্রহণ করতে ইচ্ছুক হয়, ততক্ষণ তার নাম উচ্চারণ করে কোনো যুক্তি খণ্ডন করার চেষ্টা করা উচিত নয়। নামের চেয়ে কারণ ও তথ্য দেওয়াই ভালো। কোনো যুক্তির জোর তার রচয়িতার নামের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। তথ্যের কোনো বংশপরিচয়ের প্রয়োজন নেই। যুক্তির কোনো কুলচিহ্ন নেই। মৃতদের ভুল দেখে জীবিতদের ভীত হওয়া উচিত নয়।
* '''পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো খুব কমই জানতেন। অসংখ্য ভুলের সাথে মিশ্রিত কিছু [[তথ্য]] তাদের কাছে ছিল।''' কিছু ক্ষেত্রে তারা তাদের সঙ্গীদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, আবার অন্য ক্ষেত্রে তারা মানবজাতির সাধারণ স্তরের নিচে নেমে গিয়েছিলেন।
* মহান ব্যক্তিদের বোকামি ও দুর্বলতা নিয়ে খণ্ড খণ্ড বই লেখা যেতে পারে। একজন সম্পূর্ণ মানুষ, যাঁর প্রখর বুদ্ধি এবং স্বাভাবিক যুক্তি রয়েছে, তিনি একজন মহান চিত্রশিল্পী, কবি বা ভাস্করের মতোই বিরল। আপনি যদি আপনার বন্ধুকে বলেন যে সে চিত্রশিল্পী নয় এবং কবিতার জন্য তার কোনো প্রতিভা নেই, তবে সে সম্ভবত আপনার কথার সত্যতা স্বীকার করবে। এতে সে বিন্দুমাত্র অপমানিত বোধ করবে না। কিন্তু আপনি যদি তাকে বলেন যে সে [[যুক্তিবিদ]] নয়, তথ্যের মূল্য সম্পর্কে তার তেমন কোনো ধারণা নেই, প্রমাণ কী তা সম্পর্কে তার কোনো বাস্তব ধারণা নেই এবং তার জীবনে কখনো কোনো মৌলিক চিন্তা আসেনি, তবে সে আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
* '''অধিকাংশ মানুষই অনুসারী এবং তারা পরোক্ষভাবে অন্যদের বিচারের ওপর নির্ভর করে।''' তারা [[গাম্ভীর্য|গাম্ভীর্যকে]] [[প্রজ্ঞা]] ভেবে ভুল করে। তারা একটি গম্ভীর মুখমণ্ডলকে সবচেয়ে পণ্ডিত বইয়ের শিরোনাম পৃষ্ঠা এবং ভূমিকা হিসেবে বিবেচনা করে। '''তাই তারা সহজেই বিভিন্ন রূপ, অদ্ভুত পোশাক এবং গম্ভীর অনুষ্ঠান দ্বারা প্রভাবিত হয়।''' পিতা-মাতার শিক্ষা, প্রতিবেশীদের রীতিনীতি এবং সাধারণ মানুষের কথা যখন কোনো [[বিশ্বাস]] বা মতবাদকে অনুমোদন ও সমর্থন করে, তখন তা যতই [[অযৌক্তিক]] হোক না কেন, সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির পক্ষেও তার আত্মার দুর্গ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিটি দেশে প্রতিটি ধর্মের প্রতিরক্ষায় একই যুক্তি উপস্থাপন করা হবে।
[[File:Roma-bruno.jpg|thumb|right|মধ্যযুগের [[রাত]] এক হাজার বছর ধরে স্থায়ী ছিল। এই সর্বজনীন অন্ধকারের দিগন্তকে সমৃদ্ধ করা প্রথম [[তারা]] ছিলেন [[জর্দানো ব্রুনো]]। তিনি ছিলেন ভোরের বার্তাবাহক।]]
* [[বিশ্ব|বিশ্বের]] [[ইতিহাস|ইতিহাসের]] সব শহিদ কোনো [[মতামত|মতামতের]] সঠিকতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। '''নিয়ম অনুযায়ী শহিদত্ব শহিদের [[আন্তরিকতা]] প্রমাণ করে। এটি কখনোই তার [[চিন্তা|চিন্তার]] সঠিকতা প্রমাণ করে না। বিষয়বস্তু নিজ থেকেই সত্য বা মিথ্যা হয়। সত্য মতামত দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে না। শহিদত্বের মাধ্যমে একে পরিবর্তন, প্রতিষ্ঠা বা প্রভাবিত করা যায় না। কোনো ভুলকে যতই আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করা হোক না কেন, তা কখনো সত্যে পরিণত হতে পারে না।'''
* ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়ানো খুনি তার দুই পাশে থাকা যাজকদের নিয়ে হাসিমুখে জনতাকে স্বর্গে তার সাথে দেখা করতে বলে। নিজের বাড়িকে নরকে পরিণত করা মানুষটি বিন্দুমাত্র কাঁপুনি ছাড়াই মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, শর্ত থাকে যে সে খ্রিষ্টের দেবত্ব বা পবিত্র আত্মার চিরন্তন প্রক্রিয়ার বিষয়ে কখনো সন্দেহ প্রকাশ করেনি। যে রাজা নিষ্ঠুর ও অকেজো যুদ্ধ করেছেন, যিনি দেশকে বিধবা ও পিতৃহীন সন্তান, বিকলাঙ্গ ও রোগাক্রান্ত মানুষে ভরিয়ে দিয়েছেন এবং যিনি তার সেরা ও সবচেয়ে সাহসী প্রজাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কাছে উৎসর্গ করতে সফল হয়েছেন, তিনি একজন সন্তের মতো মারা যান।
* সম্রাট [[w:প্রথম কনস্টান্টিন|কনস্টান্টিন]] খ্রিষ্টধর্মকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। ৩২৫ সালে তিনি তাঁর স্ত্রী ফাউস্তা এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র ক্রিসপাসকে খুন করেছিলেন। একই বছর তিনি [[যিশু|যিশুখ্রিষ্ট]] মানুষ নাকি ঈশ্বরের পুত্র তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিসিয়ার কাউন্সিল ডেকেছিলেন। কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয় যে খ্রিষ্ট পিতার সমতুল্য। ত্রাণকর্তার দেবত্ব নিয়ে বিরক্তিকর প্রশ্ন সমাধানের জন্য আমরা একজন স্ত্রী-খুনির কাছে ঋণী।
* '''মধ্যযুগের [[রাত]] এক হাজার বছর ধরে স্থায়ী ছিল। এই সর্বজনীন অন্ধকারের দিগন্তকে সমৃদ্ধ করা প্রথম [[তারা]] ছিলেন [[জর্দানো ব্রুনো]]। তিনি ছিলেন ভোরের বার্তাবাহক।'''
* [[টমাস পেইন]] না থাকলে আমি আজ রাতে এখানে এই বক্তৃতা দিতে পারতাম না। <br> এই মানুষটিকে অপবাদ দেওয়া এখনো ফ্যাশনেবল। তবুও [[উইলিয়াম এলারি চ্যানিং|চ্যানিং]], [[থিওডোর পার্কার]], লংফেলো, এমারসন এবং বস্তুত বিশ্বের সব উদারপন্থী একেশ্বরবাদী ও [[সর্বজনীনতাবাদী|সর্বজনীনতাবাদীরা]] টমাস পেইনের মতামত গ্রহণ করেছেন।
* '''আসুন আমরা সৎ হই। রোমের সব যাজক কি মানুষের মানসিক সম্পদ [[জর্দানো ব্রুনো|ব্রুনোর]] মতো বৃদ্ধি করেছিলেন? ফ্রান্সের সব যাজক কি বিশ্বের সভ্যতার জন্য [[দ্যনি দিদরো|দিদরো]] এবং [[ভলতেয়ার|ভলতেয়ারের]] মতো মহান কাজ করেছিলেন? স্কটল্যান্ডের সব যাজক কি মানবজ্ঞানের ভাণ্ডারে [[ডেভিড হিউম|ডেভিড হিউমের]] মতো অবদান রেখেছিলেন? পেন্টেকস্টের দিন থেকে সর্বশেষ নির্বাচন পর্যন্ত সব ধর্মযাজক, সন্ন্যাসী, বিশপ, কার্ডিনাল এবং পোপ কি মানবস্বাধীনতার জন্য [[টমাস পেইন|টমাস পেইনের]] মতো কাজ করেছেন? কিংবা বিজ্ঞানের জন্য [[চার্লস ডারউইন|চার্লস ডারউইনের]] মতো কাজ করেছেন?'''
* অবিশ্বাসীরা ছিলেন সাহসী ও চিন্তাশীল মানুষ। তারা সমগ্র বিশ্বের [[ফুল]], [[স্বাধীনতা]] ও [[ভালোবাসা|ভালোবাসার]] আশীর্বাদপুষ্ট দিনের পথিকৃৎ এবং বার্তাবাহক। তারা অযোগ্য অতীতের উদার আত্মা, আমাদের জাতির দ্রষ্টা ও নবী। তারা মহান বীর আত্মা, চিন্তার যুদ্ধক্ষেত্রে গর্বিত বিজয়ী এবং অনাগত সব বছরের পাওনাদার।
=== একটি শিশুর কবরে (১৮৮২) ===
[[File:Entrée de cimetière (1825) - Caspar স্বাধীন Friedrich (Galerie Neue Meister, Dresden).jpg |thumb|right|যেখানে [[মৃত্যু]] রাজা, সেখানে [[প্রেম|প্রেমহীন]] অনন্ত জীবন পাওয়ার চেয়ে আমি বরং সেখানে [[বসবাস]] ও প্রেম করতে চাই।]]
:<small>[http://www.positiveatheism.org/hist/ingsabsup.htm#CHILD শোকগাথা (৮ জানুয়ারি ১৮৮২)]</small>
* '''[[শব্দ]] দিয়ে [[শোক|শোককে]] ঢেকে রাখা কতটা বৃথা তা আমি জানি। তবুও আমি প্রতিটি কবর থেকে এর [[ভয়]] দূর করতে চাই।''' এই পৃথিবীতে জীবন ও মৃত্যু সমান রাজা। এখানে মৃতেরা যা কিছুর মুখোমুখি হয়েছে, সবারই সাহসের সাথে তার মুখোমুখি হওয়া উচিত। ভবিষ্যৎ ছিল ভয়ে পরিপূর্ণ, যা হৃদয়হীন অতীত দ্বারা কলঙ্কিত ও কলুষিত হয়েছে।
* যা সবার কাছে আসবে, তাকে আমাদের কেন ভয় পাওয়া উচিত?<br> আমরা বলতে পারি না, আমরা জানি না, কোনটি বৃহত্তর আশীর্বাদ। [[জীবন]] নাকি [[মৃত্যু]]। আমরা জানি না কবর এই জীবনের শেষ, নাকি অন্য কোনো জীবনের দরজা, অথবা এখানের রাত অন্য কোথাও ভোর কি না। শিশুটি কোনো শব্দ শেখার আগেই মায়ের কোলে মারা গেলে সে বেশি ভাগ্যবান, নাকি সে বেশি ভাগ্যবান যে জীবনের অসমান রাস্তার পুরোটা পাড়ি দিয়ে লাঠি ও ক্রাচে ভর করে কষ্ট করে শেষ ধীর পদক্ষেপগুলো নেয়, তাও আমরা বলতে পারি না।
* প্রতিটি দোলনা আমাদের জিজ্ঞাসা করে, "কোথা থেকে?" এবং প্রতিটি কফিন জিজ্ঞাসা করে, "কোথায়?" মৃতদেহের পাশে কাঁদতে থাকা এক দরিদ্র অসভ্য মানুষও এসব প্রশ্নের ঠিক ততটাই বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দিতে পারে, যতটা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ধর্মমতের পোশাক পরিহিত যাজক দিতে পারেন।
* '''যেখানে একটি জীবনের দিগন্ত একটি কবরকে স্পর্শ করেছে, সেখানে দাঁড়িয়ে কোনো মানুষের বেদনা ও কান্নায় ভরা ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণী করার অধিকার নেই।''' এমনও হতে পারে যে মৃত্যুই জীবনকে তার সমস্ত মূল্য দেয়। আমরা যাদের বুকে জড়িয়ে ধরি, তারা যদি কখনো মারা না যেত, তবে হয়তো পৃথিবী থেকে সেই ভালোবাসা শুকিয়ে যেত। হয়তো এই সাধারণ ভাগ্য আমাদের হৃদয়ের মাঝখানের পথ থেকে স্বার্থপরতা ও ঘৃণার আগাছা মাড়িয়ে দেয়। '''যেখানে মৃত্যু রাজা, সেখানে প্রেমহীন অনন্ত জীবন পাওয়ার চেয়ে আমি বরং সেখানে বসবাস ও প্রেম করতে চাই।'''
** পরিমার্জিত রূপ: যেখানে মৃত্যু রাজা, সেখানে প্রেমহীন অনন্ত জীবন পাওয়ার চেয়ে আমি বরং সেখানে বসবাস ও প্রেম করতে চাই।
* '''মৃতেরা কষ্ট পায় না। তারা যদি আবার বাঁচে, তবে তাদের জীবন নিশ্চিতভাবেই আমাদের জীবনের মতো ভালো হবে। আমাদের কোনো ভয় নেই।''' আমরা সবাই একই মায়ের সন্তান এবং একই ভাগ্য আমাদের সবার জন্য অপেক্ষা করছে।<br> '''আমাদেরও ধর্ম আছে এবং তা হলো: জীবিতদের জন্য সাহায্য, মৃতদের জন্য আশা।'''
=== "টু দ্য ইন্ডিয়ানাপোলিস ক্লার্জি।" ''দ্য আইকনোক্রাস্ট'' (ইন্ডিয়ানাপোলিস, ইন্ডিয়ানা) (১৮৮৩) ===
* একইভাবে যখন লেখা হয় যে তিনি মন্দির থেকে অর্থ বিনিময়কারীদের তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তখন এটি এমন একজনের কাজ ছিল, যাঁর মন্দিরের প্রতি সম্মান ছিল, কিন্তু সেখানে শেখানো ধর্মের প্রতি নয়। প্রথমদিকে খ্রিষ্ট তাঁর সময়ের ধর্মে বিশ্বাস করতেন বলে মনে হতো। কিন্তু পরে এর ত্রুটিগুলো দেখে তিনি এটি সংস্কার করতে চেয়েছিলেন। সবশেষে এর ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি এর ধ্বংসসাধনে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
* এখানে একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য রয়েছে: '''পল নতুন নিয়মের কোনো অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ করেননি। তিনি অলৌকিকভাবে জনতাকে খাওয়ানো, লাজারাসের পুনরুত্থান বা বিধবার ছেলের কথা কিছুই বলেননি। তিনি খোঁড়া, বিকলাঙ্গ ও অন্ধদের সুস্থ হওয়ার কথা কখনো শোনেননি। আর যদি শুনেও থাকেন, তবে একটি পত্রে যুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি এগুলোকে মনে করেননি।'''
* প্রথমে বিশ্বাস করা হতো যে খ্রিষ্ট সরাসরি ডেভিডের বংশধর। তখন খ্রিষ্টের শিষ্যরা অবশ্যই ইহুদি ছিলেন। ডেভিডের বংশের মাধ্যমে মসিহের আগমন প্রত্যাশিত ছিল। এ কারণে ডেভিডের বংশধর জোসেফের বংশতালিকা দেওয়া হয়েছিল। অনেক পরে খ্রিষ্টানদের মনে এই ধারণা আসে যে খ্রিষ্ট পবিত্র আত্মার সন্তান। বংশতালিকা দেওয়ার সময় যদি তারা সত্যিই বিশ্বাস করতেন যে খ্রিষ্ট পবিত্র আত্মার সন্তান, তবে খ্রিষ্ট যে ডেভিডের সাথে সম্পর্কিত তা প্রমাণের জন্য কেন তারা জোসেফের বংশতালিকা দেবেন? অন্যকথায়, ঈশ্বরের পুত্র কেন একজন অসভ্য রাজার রক্ত শরীরে থাকার গৌরব নিতে চাইবেন? এর একটাই উত্তর আছে। ইহুদিরা ডেভিডের মাধ্যমে মসিহকে প্রত্যাশা করত। তাই খ্রিষ্ট যে মসিহ, তা প্রমাণের জন্য তারা জোসেফের বংশতালিকা দিয়েছিল। পরে খ্রিষ্ট ঈশ্বরের পুত্র হওয়ার ধারণাটি জনপ্রিয় হয় এবং তখন খ্রিষ্টের বংশতালিকায় "যেমনটি মনে করা হয়েছিল" কথাগুলো যুক্ত করা হয়।
* তিনি পানিকে মদে পরিণত করেছিলেন কি না, তা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি বাস্তবে যা বলেছিলেন এবং যা করেছিলেন, তার তুলনায় তাঁর সব অলৌকিক ঘটনা শুধুই ধুলো ও অন্ধকারের মতো। '''লাজারাস পুনরুত্থিত হয়েছিলেন কি না, তা নির্বিশেষে আমাদের একে অপরের প্রতি সদয় হওয়া উচিত। খ্রিষ্ট বেঁচে ছিলেন কি না, তা নির্বিশেষে আমাদের ন্যায়পরায়ণ ও ক্ষমাশীল হওয়া উচিত। পৃথিবীর সব অলৌকিক ঘটনা পুণ্য, নৈতিকতা বা ন্যায়ের কোনো কাজে আসে না। অলৌকিক ঘটনাগুলো কুসংস্কার, অজ্ঞতা, ভয় এবং বোকামির অন্তর্গত। গসপেল কে লিখেছে তাতেও কিছু যায় আসে না। এগুলোর ভেতরে থাকা সত্যটুকুই কেবল মূল্যবান এবং এর বেশি কিছু নয়।'''
* ...মানুষ খ্রিষ্টের জন্য আমি কেবল প্রশংসা ও শ্রদ্ধা অনুভব করি। আমি মনে করি তিনি অনেক বিষয়ে ভুল ছিলেন। ঈশ্বরের মঙ্গলময়তার ওপর তাঁর নির্ভরতা ছিল নিখুঁত। '''তিনি বিশ্বাস করতেন যে স্বর্গের পিতা তাঁকে রক্ষা করবেন। তিনি ভেবেছিলেন, ঈশ্বর যদি মাঠের লিলি ফুলকে সৌন্দর্যে সাজাতে পারেন এবং চড়ুই পাখির জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে তিনি অবশ্যই একজন নিখুঁত, ন্যায়পরায়ণ ও প্রেমময় মানুষকে রক্ষা করবেন। এই বিষয়ে তিনি ভুল ছিলেন। মৃত্যুর অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন: "কেন তুমি আমায় পরিত্যাগ করেছ?"'''
* আমার কাছে এটি সবসময় বিস্ময়ের বিষয় যে খ্রিষ্ট তাঁর দেশের প্রতি মানুষের বাধ্যবাধকতা নিয়ে কিছু বলেননি। রাজাদের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি। তাঁর সময়ে প্রায় সর্বত্র প্রচলিত মানবদাসত্বের ভয়ংকর ব্যবস্থা নিয়ে তিনি কিছু বলেননি। তিনি যা বলেননি তা তাঁর বলা কথার চেয়েও অনেক বেশি আশ্চর্যজনক। এটি বিস্ময়কর যে তিনি মদ্যপান, শিক্ষা, দর্শন, প্রকৃতি বা শিল্পকলা নিয়ে কিছু বলেননি। তিনি বাড়ির পক্ষে কিছু বলেননি, কেবল তাদের পুরস্কৃত করার প্রস্তাব ছাড়া যারা তাদের স্ত্রী ও পরিবার ত্যাগ করবে।
* তিনি যা শিখিয়েছিলেন এবং যা শেখাননি তার ফলস্বরূপ তাঁর অনুসারীরা দাসত্ব বা বহুগামিতায় কোনো ক্ষতি দেখেনি। '''তারা এই পৃথিবীকে ছোট করে দেখেছিল এবং পরকালের গুরুত্বকে অতিরঞ্জিত করেছিল। তারা দাসদের সান্ত্বনা দিয়েছিল এই বলে যে অল্প সময়ের মধ্যেই সে তার শিকলের বদলে ডানা পাবে। তারা বন্দিকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল যে কয়েক দিনের মধ্যেই সে তার অন্ধকার কারাগার ছেড়ে স্বর্গের কুঞ্জে চলে যাবে। তাঁর অনুসারীরা বিশ্বাস করত যে তিনি বলেছিলেন, "যে বিশ্বাস করে না সে অভিশপ্ত হবে।" এই অনুচ্ছেদটি ছিল সেই ক্রুশ যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল।''' খ্রিষ্ট যদি আমাদের স্বাস্থ্যের নিয়ম দিতেন, প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে রোগ নিরাময় করতে হয় তা বলতেন, বন্দিদের মুক্ত করতেন, মানুষকে তাদের ন্যায্য ক্ষমতায় ভূষিত করতেন, চার্চের ওপরে বাড়ি স্থাপন করতেন, সমস্ত মানসিক শৃঙ্খল ভেঙে দিতেন, ভয়ের সমস্ত গুহা ও আস্তানা আলোয় ভরিয়ে দিতেন এবং ভবিষ্যৎকে সাধারণ আনন্দে পূর্ণ করতেন, তবে তিনি সত্যিই এই পৃথিবীর ত্রাণকর্তা হতেন।
* কাগজের আবিষ্কারক সব আদি পিতাদের চেয়ে মানবজাতির জন্য বেশি কাজ করেছেন এবং তিনি কোনো খ্রিষ্টান ছিলেন না। লাঙ্গল, কাস্তে, দোলনা, ফসল কাটার যন্ত্রের আবিষ্কারকেরা, ওয়াগন, কোচ, লোকোমোটিভের আবিষ্কারকেরা, স্কিফ, পাল তোলা জাহাজ, বাষ্পীয় জাহাজের আবিষ্কারকেরা, যারা তাঁত তৈরি করেছেন—সংক্ষেপে, সব প্রয়োজনীয় জিনিসের আবিষ্কারকেরা মহান চিন্তাবিদ, কবি, সুরকার, অভিনেতা, চিত্রশিল্পী এবং ভাস্করদের সাথে যুক্ত হয়ে সভ্যতার স্থপতি। যারা প্রয়োজনীয় জিনিস আবিষ্কার করেছেন এবং যারা প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোকে সুন্দর করেছেন, তারাই মানবজাতির প্রকৃত সভ্যতার রূপকার। যাজকেরা সব যুগেই বাধা এবং হোঁচট খাওয়ার পাথর হিসেবে কাজ করেছেন। তারা মানুষকে তার যুক্তি ব্যবহার করতে বাধা দিয়েছেন। '''তারা সাহসের কাছে ভূতের গল্প বলেছেন, যতক্ষণ না সাহস ভয়ে পরিণত হয়েছে। তারা মানুষকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিকশিত হতে না দেওয়ার জন্য এবং বিশ্বকে শৈশবের অবস্থায় রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন, যাতে তারা নিজেরাই মহান, সৎ এবং জ্ঞানী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তারা সবসময় জানত যে তাদের প্রজ্ঞার খ্যাতি মানুষের অজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে।'''
* আমি আমেরিকার সভ্যতার জন্য আংশিকভাবে এই ঘটনাটিকে দায়ী করি যে আমাদের পূর্বপুরুষেরা চার্চ ও রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ আলাদা করার জন্য যথেষ্ট জ্ঞানী এবং একে অপরের প্রতি যথেষ্ট ঈর্ষাপরায়ণ ছিলেন। তারা চার্চকে একজন বিপজ্জনক কর্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করতেন, যিনি একজন রাষ্ট্রপতিকে শাসন করার উপযুক্ত নন। এই বিচ্ছেদ অর্জন করা হয়েছিল কারণ জেফারসন এবং পেইনের মতো মানুষেরা সে সময় জনগণের কাউন্সিলে বিশিষ্ট ছিলেন। '''আমাদের দেশে একটি বিশেষত্ব রয়েছে। কেবল তাদেরই মানবস্বাধীনতার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে যারা পরকালে ফেরেশতা হতে যাচ্ছে না।''' যতক্ষণ পাপীদের কথা শোনার সুযোগ থাকে, ততক্ষণ স্বাধীনতা নিরাপদ।
* মাঝে মাঝে আমার সন্দেহ হয় যে আমাদের নিজস্ব সভ্যতা পুরোপুরি নিখুঁত নয়। যখন আমি দেখি কারাগারগুলো মানুষে পরিপূর্ণ, অনেক মানুষের সেখানে থাকা উচিত, বড় শহরগুলোর অভাব, ময়লা এবং অবক্ষয়, গ্রেট ব্রিটেন এবং পুরো ইউরোপের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে অনাহার, যখন আমি দেখি নারীরা ভারবাহী পশুর মতো কাজ করছে এবং ছোট শিশুরা কেবল শিক্ষা নয়, বাতাস, আলো ও খাবার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে, তখন আমার মনে সন্দেহ জাগে যে খ্রিষ্টীয় সভ্যতা সম্পূর্ণ এবং অপ্রতিরোধ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
* আমি কুসংস্কারের ওপর নির্ভর করি না, বরং জ্ঞানের ওপর নির্ভর করি। অলৌকিক ঘটনার ওপর নয়, বরং তথ্যের ওপর। মৃতদের ওপর নয়, বরং জীবিতদের ওপর। যখন আমরা পুরোপুরি সভ্য হব, তখন আমরা কেবল অবজ্ঞা নয়, বরং করুণার সাথে বিশ্বের কুসংস্কারগুলোর দিকে ফিরে তাকাব।
* '''যাকে খ্রিষ্টধর্ম বলা হয়, তা সব দেশে এবং সব সময়ে জনশান্তি বিনষ্টকারী ছিল। ধর্ম হিসেবে পরিচিত বিষয়টির মতো আর কোনো কিছুই দেশগুলোকে এত বিচ্ছিন্ন করেনি এবং মানবজাতির স্বাভাবিক ন্যায়বিচারকে ধ্বংস করেনি। এই ধারণা যে সব মানুষকে একই ঈশ্বরের উপাসনা করতে হবে এবং একই মতবাদে বিশ্বাস করতে হবে, তা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের হৃদয় থেকে করুণার ফুলকে রক্তাক্ত হাতে ছিঁড়ে ফেলেছে।'''
* সর্বোপরি, একজন সৃষ্টিকর্তার সন্ধান করে কী লাভ? এতে সমস্যার সমাধান হয় না। আপনি আপনার সৃষ্টিকর্তাকে এমন কিছু হিসেবে ছেড়ে যান, যার নিজেরও একজন সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন আছে। আপনার সিঁড়ির নিচের অংশটি শূন্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং ওপরের অংশটিও শূন্যে হেলান দিয়ে আছে। আপনি কোনো সমাধানে পৌঁছাননি। "ঈশ্বর" শব্দটি কেবল আমাদের অজ্ঞতা থেকে জন্ম নিয়েছে। আমরা যত দূর পারি যাই এবং বলি বাকি পথ হলো "ঈশ্বর"। আমরা যত দূর পারি দেখি এবং দিগন্তের ওপারে যেখানে আমাদের জানা মতে অন্ধত্ব ছাড়া আর কিছুই নেই, সেখানে আমরা আমাদের দেবতাকে স্থাপন করি। আমরা একটি বৃত্তের অতি ক্ষুদ্র অংশ দেখি এবং বলি বাকিটা হলো "ঈশ্বর"।
* জীবন, পদার্থ বা যাকে আমরা মন বলি তার উৎপত্তি কেউ জানে না। কোথা থেকে এবং কোথায়—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনো মানুষ দিতে পারে না। এসব প্রশ্নের সামনে সব বুদ্ধিমান মানুষই সমান। একজন অসভ্য মানুষ ঠিক ততটুকুই জানে, যতটুকু একজন বিজ্ঞানী জানেন। একজন বোকা ঠিক ততটুকুই জানে, যতটুকু একজন দার্শনিক জানেন। কেবল যারা মনে করে যে তাদের কাছে কোনো অতিপ্রাকৃত তথ্য আছে, তারাই এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ভান করে। অজানা, অসম্ভব ও অগাধ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে "অনুপ্রাণিতদের" দখলে থাকে।
* আমি দেখেছি যারা অমরত্বে বিশ্বাস করে বা অন্তত দাবি করে যে তারা বিশ্বাস করে, তারা অন্য যেকোনো মানুষের মতোই মৃত্যুকে ভয় পায়। আমি দেখেছি সবচেয়ে ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টানও তার মৃতদের ওপর ততটাই তিক্তভাবে কাঁদে, যতটা সেই মানুষটি কাঁদে যে বলে মৃত্যুতেই সব শেষ। আপনি দেখেন প্রতিশ্রুতিগুলো অনেক দূরে এবং মৃতেরা অনেক কাছে। তবুও, আমি বলছি না যে মানুষ অমর নয়; কিন্তু আমি বলছি যে বাইবেলে এমন কিছু নেই যা প্রমাণ করে যে সে অমর। আমরা কীভাবে অমরত্ব হারিয়েছি তা দেখানো ছাড়া পুরোনো নিয়মে এ বিষয়ে কোনো শব্দ নেই।
* আমি বুঝতে পারি না কেন আমরা একজন অসীম ঈশ্বরের কাছ থেকে এই জগতের চেয়ে অন্য জগতে ভালো কিছু আশা করব। তিনি যদি এখানে অবিচার চলতে দেন, তবে তিনি আগামী জগতেও কেন একই জিনিস চলতে দেবেন না?
* কিছু মানুষ জোর দিয়ে বলেছে যে এই জীবন আত্মত্যাগী নারী ও পুরুষ তৈরি করার জন্য এক ধরনের স্কুল। অর্থাৎ, চরিত্র গঠনের জন্য। '''পরিসংখ্যান দেখায় যে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পাঁচ বছরের কম বয়সে মারা যায়। আমরা এমন একজন স্কুলশিক্ষক সম্পর্কে কী ভাবব, যিনি প্রথম দিনেই তার অধিকাংশ ছাত্রকে হত্যা করেন?''' যদি এই মতবাদ সত্য হয় এবং স্বর্গে যদি পুরুষত্ব তৈরি করা না যায়, তবে যারা শৈশবে মারা যায় তারা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যবান।
* কিন্তু আমাদের যেসব তত্ত্বই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের বাস্তব তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। '''আমরা এমন এক পৃথিবীতে আছি যেখানে পাপ, বিকৃতি, দুর্বলতা এবং রোগ বংশগত। এই বিশাল এবং গম্ভীর সত্যের উপস্থিতিতে শরীরের ধর্মের উত্থান ঘটে।''' প্রতিটি মানুষের এই পৃথিবীর দুর্দশা বাড়াতে অস্বীকার করা উচিত।
* এখানে বা পরকালে স্বর্গ বা নরক থাকুক বা না থাকুক, এই পৃথিবীকে বর্তমানের চেয়ে একটু ভালো করার জন্য প্রতিটি ভালো মানুষের যথেষ্ট কাজ রয়েছে। জিনিসের উৎপত্তি এবং মানুষের ভাগ্য খোঁজার বৃথা চেষ্টায় লাখ লাখ জীবন নষ্ট হয়েছে। এই পৃথিবীকে অবহেলা করা হয়েছে। আমাদের শেখানো হয়েছে যে জীবন কেবল মৃত্যুর প্রস্তুতির জন্য হওয়া উচিত।
* আমার কাছে এই ধারণার চেয়ে অসীম অযৌক্তিক কোনো মতবাদ নেই যে এই জীবন একটি পরীক্ষামূলক অবস্থা। অর্থাৎ, এখানে কাটানো কয়েকটি মুহূর্ত একটি মানবাত্মার চিরন্তন ভাগ্য নির্ধারণ করে। এর চেয়ে বেশি নির্দয় এবং অবিচারপূর্ণ কোনো কিছুই ভাবা যায় না। আমি সেই মতবাদ ধ্বংস করার জন্য সব চেষ্টা করছি। সম্ভব হলে আমি মানুষের হৃদয় থেকে নরকের ছায়া দূর করতে চাই। কেন এখানে কোনো জীবন ব্যর্থ হয়েছে? ঈশ্বর যদি অসীম প্রজ্ঞা ও দয়ার সত্তা হন, তবে কেন তিনি ব্যর্থতা তৈরি করেন? অসভ্য মানুষ দিয়ে পৃথিবী পূর্ণ করার জন্য অসীম প্রজ্ঞার কী অজুহাত আছে? একটি দুর্বল এবং রোগাক্রান্ত মস্তিষ্ক দিয়ে তৈরি করার জন্য, যক্ষ্মা, স্ক্রোফুলা বা উন্মাদনার উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য কেন একজনকে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ বোধ করতে হবে? দাস হিসেবে বেঁচে থাকা এবং মারা যাওয়া একজনকে কেন ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে হবে?
==="দ্য ব্রুকলিন ডিভাইনস।" ''ব্রুকলিন ইউনিয়ন'' (ব্রুকলিন, নিউ ইয়র্ক), ১৮৮৩।===
* মাত্র কয়েক বছর আগে বিজ্ঞান ছিল কুসংস্কারের ভাড়াটে কর্মী। বিজ্ঞানীরা তাদের আবিষ্কৃত প্রতিটি তথ্যের জন্য ক্ষমা চাইতেন। টুপি হাতে তারা জীবাশ্ম আবিষ্কারের জন্য যাজকদের কাছে এবং প্রকৃতিতে কোনো আবিষ্কারের জন্য ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চাইতেন।
* এখন সবকিছু বদলে গেছে এবং যাজক ছাড়া সবাই তা জানে। এখন ধর্ম বিজ্ঞানের কাছে মাথা নত করছে। ধর্ম পুরোনো পাঠ্যের নতুন অর্থ খুঁজে বের করছে। আমাদের বলা হয় যে ঈশ্বর সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলেছিলেন। তিনি কোনো বিজ্ঞান শেখাচ্ছিলেন না। তিনি কেবল তাঁর সন্তানদের ভুলেই থাকতে দেননি, বরং তাদের সেখানেই রেখেছিলেন। এখন এটি স্বীকার করা হয় যে বাইবেল প্রাকৃতিক তথ্যের কোনো প্রশ্নের জন্য প্রামাণিক নয়; এটি কেবল নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক উপায়ে অনুপ্রাণিত। ব্রুকলিনের যাজক ছাড়া সবাই দেখতে পায় যে বাইবেল আর প্রামাণিক হিসেবে বিবেচিত হয় না। '''কোনো তথ্যের বিরোধ মেটাতে কেউ আর কোনো অনুচ্ছেদের আবেদন করে না।''' বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষেরা অনুপ্রেরণার ধারণা নিয়ে হাসাহাসি করেন।
* আমি দেখতে পাচ্ছি যে রেভারেন্ড ডা. এডি যাজকদের মিম্বর থেকে অবিশ্বাসীদের যুক্তির উত্তর না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং এই চমৎকার কারণটি দেখিয়েছেন: '''শ্রোতারা মূল যুক্তি পড়ার চেয়ে উত্তর থেকে বেশি সন্দেহ পাবে। তাই রেভারেন্ড ডা. হকিন্স স্বীকার করেছেন যে তিনি আরও অবিশ্বাস সৃষ্টি না করে অবিশ্বাসীদের আক্রমণ থেকে খ্রিষ্টধর্মকে রক্ষা করতে পারবেন না।'''
* এই "পার্থিব" মানুষেরা জঙ্গল পরিষ্কার করেছে, জমি চাষ করেছে, শহর, বাষ্পীয় জাহাজ, টেলিগ্রাফ তৈরি করেছে এবং পৃথিবীতে যা কিছু মূল্যবান ও বিস্ময়কর তা তৈরি করেছে। তবুও প্রচারকেরা তাদের নিন্দা করেন। "পার্থিব" মানুষ না থাকলে প্রচারকেরা কীভাবে চলতেন? কে চার্চ বানাত? '''কে অনুদানের বাক্স ও প্লেট পূর্ণ করত এবং (সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন) কে বেতন দিত?'''
* যাজকেরা থিয়েটারকে প্রতিদ্বন্দ্বী আকর্ষণ হিসেবে দেখেন এবং তাদের অধিকাংশ ঘৃণাই ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জন্ম নেয়। তারা মনে করেন অন্যান্য সব জায়গা বন্ধ করে মানুষকে চার্চে নিয়ে যাওয়া উচিত। আমার মতে থিয়েটার ভালো করেছে, আর চার্চ ক্ষতি করেছে। নাটক কখনোই কাউকে পুড়িয়ে মারার ওপর জোর দেয়নি।
* মিম্বরে ভণ্ডদের উপাসনা করা হয়েছে; মঞ্চে তাদের উপহাস এবং ঘৃণার পাত্র করা হয়েছে।
* '''যাজকেরা সব সময় দুর্ভিক্ষ, দুঃখ-কষ্ট ও মহামারির ওপর প্রবল বিশ্বাস রেখেছেন। তারা জানেন যে একজন মানুষ ভোজের চেয়ে এক টুকরো রুটি বা উচ্ছিষ্টের জন্য ঈশ্বরকে হাজার গুণ বেশি ধন্যবাদ জানাতে পারে।'''
* তারা মনে করে আমাদের আরও "আধ্যাত্মিক" হওয়া উচিত; অর্থাৎ, অন্যদের পরিশ্রমে বেঁচে থাকতে ইচ্ছুক হওয়া; ভিক্ষা চাইতে ইচ্ছুক হওয়া এবং '''ততক্ষণে বলা, "পাওয়ার চেয়ে দেওয়াই বেশি আশীর্বাদের।" যদি তাই হয়, তবে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না কেন?'''
* ধনী ব্যক্তি যদি উপদেশকে অনুগ্রহের মাধ্যম মনে করত, জলপ্রপাতের ঠিক ওপরে থাকা কোনো ব্যক্তিকে যাজকের ছুড়ে দেওয়া দড়ির মতো মনে করত; '''সে যদি এটিকে জীবন রক্ষাকারী নৌকা বা বাতিঘর হিসেবে বিবেচনা করত, তবে সে তার গাড়ির চালককে বাইরে থাকতে দিত না।''' সে যদি সত্যিই বিশ্বাস করত যে গাড়ির চালকের একটি অমর আত্মা আছে, যা চিরন্তন আনন্দের অধিকারী এবং চিরস্থায়ী যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে পারে, তবে সে ওই গাড়ির চালকের ডাক ও নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করত। '''বাস্তবে ধনী ব্যক্তি এখন চাকরদের তেমন পরোয়া করে না।''' তাদের পরিত্রাণের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, কেবল একটি কাজের লট হিসেবে ছাড়া। '''চার্চ একটি ক্লাবে পরিণত হয়েছে। এটি একটি সামাজিক ব্যাপার এবং ধনী ব্যক্তিরা চার্চে দেখা হওয়া দরিদ্রদের সাথে সপ্তাহের দিনগুলোতে মিশতে চায় না। যেহেতু তারা চিরকাল স্বর্গে একসাথে থাকার আশা করে, তাই তারা এখানে আলাদা থাকতে পারে। সেখানে পরিচিত হওয়ার জন্য অবশ্যই যথেষ্ট সময় থাকবে।'''
* আরেকটি বিষয় হলো চার্চগুলোর জাঁকজমক। চার্চ সম্পূর্ণভাবে ধনীদের ওপর নির্ভরশীল। '''দরিদ্র মানুষ এমন জাঁকজমকপূর্ণ ভবনে নিজেদের বেমানান মনে করে। তারা কাছের কোনো আসনে বসে পড়ে; দরিদ্র আত্মীয়দের মতো তারা চেয়ারের একেবারে ধারে বসে থাকে। খ্রিষ্টের টেবিলে তারা লবণের নিচে থাকে। তারা প্রতিনিয়ত অপমানিত হয়।''' যখন চাঁদা চাওয়া হয়, তখন তারা কোটিপতিদের দেওয়া হাজার হাজার টাকার সাথে তাদের সামান্য অর্থ তুলনা করতে লজ্জা বোধ করে। অনুদানের প্লেটে রুপার সাথে পয়সা মিশতে লজ্জা পায়। এর ফলে তাদের অধিকাংশই চার্চ এড়িয়ে চলে। '''জনসমক্ষে ঈশ্বরের উপাসনা করতে অনেক খরচ হয়।''' ভালো ও ফ্যাশনেবল পোশাক প্রয়োজন।
* কেবল যখন আমরা কোনো দেবতার ধারণা, প্রকৃতিতে নিষ্ঠুরতা বা মঙ্গলময়তার ধারণা বাতিল করি, তখনই আমরা জীবনের কষ্টগুলো ধৈর্যের সাথে সহ্য করতে সক্ষম হই।
* আমিও বলছি না যে মানুষ অমর নয়। সেই বিষয়ে আমি স্বীকার করি যে আমি জানি না এবং সেই বিষয়ে বিশ্বের সব যাজকের ঘোষণা আমাকে কোনো আলো দেয় না। এমনকি তারা আমার তথ্যে কিছু যোগ করার প্রবণতাও দেখায় না, কারণ আমি জানি যে তারা জানে যে তারা জানে না।
* বিশ্বের বুদ্ধিমান মানুষেরা গোঁড়া খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাস করে না। এটি আজ বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয়ের লক্ষণ। '''রক্ষণশীল যাজকেরা বোকা।'''
* '''গোঁড়া ধর্ম বোয়া কনস্ট্রিক্টর সাপের মতো; যা কিছু এড়িয়ে যেতে পারে না তা সে গিলে ফেলবে।'''
* তারা পুরোনো পাঠ্যের নতুন পড়া খুঁজে পাবে। তারা পুরোনো নিয়মে নতুন করে বিরামচিহ্ন বসাবে এবং বিশ্লেষণ করবে। '''তারা দেখতে পাবে যে "সমতল" মানে "একটু গোলাকার;" "ছয় দিন" মানে "ছয় দীর্ঘ সময়;" "বন্যা" শব্দটির অনুবাদ হওয়া উচিত ছিল "স্যাঁতসেঁতে," "শিশির," বা "হুমকিপূর্ণ বৃষ্টি..."'''
* '''তারা মতবাদের শব্দ পরিবর্তন করবে না; তারা কেবল নতুন অর্থ দেবে এবং আজকের সর্বোচ্চ সমালোচনা হলো তা যা স্বীকার করে ও এড়িয়ে যায়। অন্যকথায়, মানুষ যেমন পরিবর্তিত হবে চার্চগুলোও তেমনি পরিবর্তিত হবে। তারা তা বিক্রির জন্য রাখবে যা বিক্রি করা যায়। এরই মধ্যে পুরোনো পণ্যগুলোর "দাম কমানো" হয়েছে।'''
* এমন একটা সময় ছিল যখন একজন প্রকাশ্য ও ঘোষিত অবিশ্বাসী একটি বিস্ময় ছিল। '''সেই সময় চার্চের প্রচুর ক্ষমতা ছিল; এটি প্রতিশোধ নিতে পারত; এটি ধ্বংস করতে পারত। চার্চ তখনই খুঁটি ছেড়ে দিয়েছিল যখন অনেক মানুষ পুড়িয়ে মারার বিরোধিতা করেছিল।'''
* সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধুনিক আবিষ্কারের ফলে এবং অগণিত প্রভাবের ফলে মানুষের চিন্তা গোঁড়া ধর্মের ভিত্তি অনুসন্ধানের দিকে ঘুরে গেছে। অন্যান্য ধর্মকে সমালোচনার চুল্লিতে রাখা হয়েছিল এবং খাদ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। '''অবশেষে বুদ্ধিমানদের মনে আমাদের নিজেদের ধর্ম পরীক্ষা করার কথা আসে এবং এই পরীক্ষা প্রচুর আগ্রহ ও মন্তব্য তৈরি করেছে।''' মানুষ শুনতে চায় এবং তারা শুনতে চায় কারণ তারা এরই মধ্যে নিজেরাই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে মতবাদগুলো ভুলের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
* খ্রিষ্টধর্ম হলো এটি: শাস্ত্রের অনুপ্রেরণা, প্রায়শ্চিত্ত, খ্রিষ্টের জীবন, মৃত্যু ও পুনরুত্থানে বিশ্বাস, খ্রিষ্টের বিশ্বাসীদের জন্য চিরন্তন পুরস্কার এবং বাকিদের জন্য চিরন্তন শাস্তি। এখন খ্রিষ্টধর্ম থেকে এর অলৌকিক ঘটনা, প্রায়শ্চিত্ত ও মানুষের পতনের অযৌক্তিকতা এবং শাস্ত্রের অনুপ্রেরণা সরিয়ে নিন, আর আমি যেমনটা বুঝি তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি মূলত সেই খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাস করি যা খ্রিষ্ট শিখিয়েছিলেন বলে মনে করি, অর্থাৎ দয়া, ভদ্রতা, ক্ষমা। আমি শত্রুদের ভালোবাসায় বিশ্বাস করি না; আমার বন্ধুদের ভালোবাসতেই বেশ কষ্ট হয়।
* নৈতিকতা মেঘ থেকে আসে না; এটি মানুষের অভাব এবং অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয়। আমাদের কোনো অনুপ্রেরণা বা অনুপ্রাণিত কাজের প্রয়োজন নেই। পরিশ্রমী মানুষ জানে যে অলস ব্যক্তির তার শ্রমের ফসল কেড়ে নেওয়ার কোনো অধিকার নেই এবং অলস ব্যক্তিও জানে যে তার এই কাজ করার অধিকার নেই। আমরা বাইবেলে পেয়েছি বলে এটি ভুল নয়, তবে আমি অনুমান করি এটি বাইবেলে রাখা হয়েছিল কারণ এটি ভুল।
* '''আমার কাছে সবসময় এটি একটু কৌতূহলের বিষয় বলে মনে হয়েছে যে এখানে আনন্দকে এত অবজ্ঞার চোখে দেখা হয় এবং পরকালে চিরন্তন পুরস্কার হিসেবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কেন স্বর্গের মতো এখানেও খুশি হওয়া যায় না? কেন এখানে আনন্দ করা যায় না?''' কেন এখনই—অর্থাৎ আজই স্বর্গে যাওয়া যায় না? কেন এই পৃথিবীর রোদ এবং এর ভেতরের সব ভালো জিনিস উপভোগ করা যায় না? এটি যথেষ্ট খারাপ; এতটাই খারাপ যে আমি বিশ্বাস করি না এটি কোনো কল্যাণময় দেবতা তৈরি করেছেন। তবে এতে যেটুকু ভালো আছে, তা কেন পাব না?
* আমিও বিশ্বাস করি না যে মানুষের শেষ উদ্দেশ্য হলো ঈশ্বরের মহিমা কীর্তন করা। '''কীভাবে অসীমকে মহিমান্বিত করা যায়? তিনি কি খ্যাতি চান?... গড়পড়তা একজন প্রেসবাইটেরিয়ানের চাটুকারিতা তিনি কেন চাইবেন? তাঁর কাজ মেথডিস্ট এপিসকোপাল চার্চ অনুমোদন করেছে জেনে তাঁর কী লাভ হবে? এমনকি তিনি ধর্মীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা বা ধর্মীয় কলেজগুলোর সভাপতিদের সম্পর্কে কী পরোয়া করেন?''' আমি বুঝতে পারি না আমরা কীভাবে ঈশ্বরকে সাহায্য বা আঘাত করতে পারি। যদি কোনো অসীম সত্তা থাকেন, তবে আমরা যা কিছু করি তা নিশ্চিতভাবেই তাঁকে প্রভাবিত করতে পারে না। আমরা একে অপরকে প্রভাবিত করতে পারি এবং তাই মানুষের উচিত মানুষের বিরুদ্ধে পাপ না করার বিষয়ে সতর্ক থাকা।
=== ''অর্থোডক্সি'' (১৮৮৪) ===
* আপনিও মনে করতে পারবেন এবং আমিও পারি, যখন পুরোনো অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকেরা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। মানুষের কোনো সমস্যা হলে তারা রক্ত বের করে দিতেন। রোগীর শয্যাপাশে ডাক পড়লে তারা ল্যান্সেটের ডগায় রোগীকে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যেতেন এবং তারপর তাকে ফিরিয়ে আনতে নিজেদের সব কৌশল প্রয়োগ করতেন। '''কয়েক বছর আগেও একজন চিকিৎসকের আক্রমণ সহ্য করার জন্য কতটা নিখুঁত শারীরিক গঠন প্রয়োজন ছিল, তা কল্পনা করা কঠিন।'''
* ১৪৭৩ সালে কোপার্নিকাস জন্মগ্রহণ করেন। ১৫৪৩ সালে তাঁর মহান কাজ প্রকাশিত হয়। '''১৬১৬ সালে পোপ এবং ক্যাথলিক চার্চ কোপার্নিকাসের ব্যবস্থাকে নিন্দা করেছিল। অন্য যেকোনো বিষয়ের মতো এই বিষয়েও চার্চ প্রায় সঠিক ছিল।''' কোপার্নিকাসের ব্যবস্থা নিন্দিত হয়েছিল। আপনার কী মনে হয়, চার্চ কতদিন এর বিরোধিতা করেছিল? আমি বলছি। ১৮২১ সালে পোপ সপ্তম পায়াস এটি প্রত্যাহার করেছিলেন। '''কোপার্নিকাসের মৃত্যুর পর ২৭৮ বছর ধরে চার্চ জোর দিয়েছিল যে তাঁর ব্যবস্থা মিথ্যা এবং পুরোনো বাইবেলের জ্যোতির্বিজ্ঞানই সত্য।'''
* এই শতাব্দীকে ডারউইনের শতাব্দী বলা হবে। তিনি পৃথিবীতে আসা শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন ছিলেন। তিনি সব ধর্মীয় শিক্ষকের চেয়ে জীবনের ঘটনাগুলোর বেশি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। '''একদিকে চার্লস ডারউইনের নাম লিখুন এবং অন্যদিকে আজ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া সব ধর্মতত্ত্ববিদের নাম লিখুন, আপনি দেখতে পাবেন সেই একটি নাম থেকেই বিশ্বের জন্য এদের সবার চেয়ে বেশি আলো এসেছে।'''
* '''চার্চ শেখায় যে মানুষকে নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং ছয় হাজার বছর ধরে তার অবনতি হয়েছে। ডারউইন এই মতবাদের মিথ্যা প্রমাণ করেছেন। তিনি দেখান যে মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে স্থিরভাবে অগ্রসর হয়েছে; ইডেন গার্ডেন একটি অজ্ঞতাপূর্ণ অতিকথা; আদি পাপের মতবাদের কোনো ভিত্তি নেই; প্রায়শ্চিত্ত একটি অযৌক্তিকতা; সাপ প্রলুব্ধ করেনি এবং মানুষের "পতন" হয়নি। চার্লস ডারউইন গোঁড়া খ্রিষ্টধর্মের ভিত্তি ধ্বংস করে দিয়েছেন।''' আমরা যা জানি যে তা ঘটতে পারত না এবং ঘটেনি, তাতে বিশ্বাস করা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ধর্ম ও বিজ্ঞান শত্রু। একটি কুসংস্কার, অন্যটি তথ্য। একটি মিথ্যার ওপর নির্ভর করে, অন্যটি সত্যের ওপর। একটি ভয় ও বিশ্বাসের ফলাফল, অন্যটি অনুসন্ধান ও যুক্তির।
* তারা এসবের কী উত্তর দেয়? তারা বলে ঈশ্বর এর "অনুমতি" দেন। আমি যদি আপনার পাশে দাঁড়িয়ে দেখি যে একজন গুন্ডা একটি শিশুর মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে এবং আমার কাছে তা ঠেকানোর সম্পূর্ণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমি তা না করি, তবে আপনি আমাকে কী বলবেন? আপনি সত্যি করে বলবেন যে আমি ওই খুনির মতোই খারাপ। এই ঈশ্বরের পক্ষে কি এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব? যদি তিনি না করেন তবে তিনি একজন দানব; তিনি কোনো ঈশ্বর নন। '''কিন্তু তারা বলে তিনি এর "অনুমতি" দেন। কেন? যাতে আমরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। কেন? যাতে ঈশ্বর বুঝতে পারেন যে কারা ভালো আর কারা খারাপ। তিনি যখন আমাদের তৈরি করছিলেন তখন কি তিনি তা জানতেন না? তিনি কী তৈরি করছেন তা কি তিনি ঠিকমতো জানতেন না?'''
* '''বিশ্বে এখন এমন কোনো বুদ্ধিমান নারী বা পুরুষ কি আছেন যিনি ইডেন গার্ডেনের গল্পে বিশ্বাস করেন? যদি আপনি এমন কাউকে পান যে এটি বিশ্বাস করে, তবে তার কপালে আঘাত করুন এবং আপনি একটি প্রতিধ্বনি শুনতে পাবেন। তার ভেতরে কিছু একটা ভাড়ার জন্য খালি পড়ে আছে।'''
* এখন কি কেউ সাপের গল্প বিশ্বাস করে? এই ঊনবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যারা এই শিশুসুলভ কল্পকাহিনিতে বিশ্বাস করে, তাদের জন্য আমার করুণা হয়। অ্যাডাম ও ইভ কেন অমান্য করেছিল? কারণ তারা প্রলুব্ধ হয়েছিল। কার দ্বারা? শয়তান। শয়তানকে কে তৈরি করেছে? ঈশ্বর। ঈশ্বর কেন তাকে তৈরি করেছিলেন? তিনি কেন অ্যাডাম ও ইভকে এই সাপের কথা বলেননি? '''তিনি অ্যাডাম ও ইভকে পাহারা দেওয়ার বদলে শয়তানকে কেন পাহারা দেননি? তাদের বের করে দেওয়ার বদলে তিনি শয়তানকে ভেতরে ঢোকা থেকে কেন আটকালেন না? একজন নারী ও পুরুষ তৈরি করার আগে কেন তিনি বন্যা দিয়ে শয়তানকে ডুবিয়ে মারলেন না? তবুও, যারা নিজেদের বুদ্ধিমান বলে দাবি করে—কলেজের অধ্যাপক এবং প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের সভাপতিরা—তারা শিশু এবং তরুণদের শেখায় যে ইডেন গার্ডেনের গল্প একটি নিখুঁত ঐতিহাসিক সত্য। আমি চ্যালেঞ্জ করছি এর চেয়ে শিশুসুলভ কিছু ভাবার জন্য। এই ঈশ্বর, ইডেনে অপেক্ষা করছিলেন—কী ঘটবে তা সব সময় জানতেন—তা ঘটার জন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের তৈরি করেছিলেন, তারপর তিনি কী করেন? আমাদের সবাইকে দায়ী করেন, অথচ আমরা সেখানে ছিলাম না।'''
* '''নির্বাচকমণ্ডলীর জন্মের আগেই এখানে একজন প্রতিনিধি উপস্থিত। আমি কোনো প্রতিনিধির কাছে দায়বদ্ধ হওয়ার আগে তার পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ চাই। আমি যদি সেখানে থাকতাম এবং সব পরিস্থিতি জানতাম, তবে আমি "না" ভোট দিতাম! তবুও, আমাকে দায়ী করা হচ্ছে।'''
* '''যে ঈশ্বর এমন একটি আত্মা তৈরি করতে পারেন না যা সম্পূর্ণ দূষিত নয়, আমি বিনয়ের সাথে প্রস্তাব করছি, তার এই কাজ থেকে অবসর নেওয়া উচিত। ঈশ্বর যদি আমাদের তৈরি করে থাকেন, এটা জেনেও যে আমরা সম্পূর্ণ দূষিত, তবে "পুনর্জন্ম" নেওয়ার জন্য কেন আমাদের সেই একই সত্তার কাছে যেতে হবে?'''
* চার্চ জোর দেয় যে আমাদের অবশ্যই "পুনর্জন্ম" নিতে হবে এবং যারা এই দ্বিতীয় জন্মের অধীন নয় তারা সবাই অনন্ত আগুনের উত্তরাধিকারী। আরেকটি অ্যাডাম ও ইভ তৈরি করা কি আরও ভালো হতো না? নোয়া এবং তার লোকেদের পরিবর্তন করা কি আরও ভালো হতো না, যাতে এর পরে আর দ্বিতীয় জন্মের প্রয়োজন না হয়? মানবজীবনের সব উৎস শুদ্ধ করা কেন হলো না? কেন পৃথিবীকে দূষিত এবং দানবীয় মানুষ দিয়ে পূর্ণ হতে দেওয়া হলো, যাদের প্রত্যেককে আবার তৈরি করতে হবে, সংস্কার করতে হবে এবং পুনর্জন্ম নিতে হবে?
* শয়তান যদি দাসত্ব নিয়ে কিছু লিখত, তবে সে কোন পক্ষ নিত? প্রতিটি যাজককে উত্তর দিতে দিন। আপনি যদি জানতেন শয়তান মানবদাসত্ব নিয়ে একটি বই লিখেছে, তবে আপনার মতে সে দাসত্বকে সমর্থন করত নাকি এর নিন্দা করত? বইটি দাসত্বকে সমর্থন করলে, এটি কি প্রমাণ হিসেবে ধরবেন যে বইটি শয়তান লিখেছে? '''অথচ আপনার কাছে দাসত্বকে সমর্থনকারী একটি কাজ রয়েছে এবং আপনি বলছেন যে এটি একজন অসীম মঙ্গলময় ঈশ্বর লিখেছেন!'''
* '''একজন খ্রিষ্টান কেন এমন একজন মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধা করবে, যাকে তার ঈশ্বর অভিশাপ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন? একজন খ্রিষ্টান কেন একজন অবিশ্বাসীর প্রতি—যে বাইবেল প্রত্যাখ্যান করেছে—করুণা করবে, যখন সে জানে যে ঈশ্বর চিরকাল নির্দয় থাকবেন?'''
* রোমের কোনো বাইবেল ছিল না। ঈশ্বর রোমান সাম্রাজ্যের পরোয়া করতেন না। তিনি মানুষগুলোকে দৈবক্রমে আসতে দিয়েছিলেন। তাঁর সময় ইহুদিদের নিয়ে ব্যয় হচ্ছিল। তবুও রোম ঈশ্বরের মনোনীত মানুষসহ বিশ্বকে জয় করেছিল। '''যাদের কাছে বাইবেল ছিল তারা এমন লোকেদের কাছে পরাজিত হয়েছিল যাদের কাছে বাইবেল ছিল না।'''
* খ্রিষ্টানরা একটি ঘটনাকে কারণ ভেবে ভুল করে এবং সততার সাথে কল্পনা করে যে বাইবেল আধুনিক স্বাধীনতা ও আইনের ভিত্তি। তারা শারীরিক অবস্থা ভুলে যায়, বাণিজ্যের হিসাব করে না, আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের পরোয়া করে না এবং অজ্ঞতাবশত তাদের অনুপ্রাণিত বইকে কৃতিত্ব দেয়।
* আমি যিশুখ্রিষ্টের অলৌকিক উৎপত্তিতে বিশ্বাস করতে পারি না। আমি বিশ্বাস করি তিনি জোসেফ ও মেরির সন্তান ছিলেন; জোসেফ ও মেরি বৈধভাবে বিবাহিত ছিলেন; তিনি সেই মিলনের বৈধ সন্তান ছিলেন। তিনি অন্তত দেড়শ বছর মৃত থাকার আগ পর্যন্ত কেউ এর বিপরীত বিশ্বাস করেনি। ম্যাথু, মার্ক বা লুক কেউই স্বপ্নেও ভাবেননি যে তিনি ঐশ্বরিক উৎপত্তির অধিকারী। '''তিনি ম্যাথু, মার্ক বা লুককে বা তাদের সামনে উপস্থিত কাউকে বলেননি যে তিনি ঈশ্বরের পুত্র, বা তিনি অলৌকিকভাবে গর্ভে এসেছিলেন। তিনি এমন কিছু বলেননি।'''
* তাছাড়া, ঈশ্বর অনেক বিষয়ে তাঁর মত পরিবর্তন করে থাকতে পারেন; তিনি অন্তত চার্চের মতে দাসত্ব এবং বহুগামিতার বিষয়ে মত পরিবর্তন করেছেন। তবুও তাঁর চার্চ এখন তরবারি দিয়ে উটাহে বহুগামিতা ধ্বংস করতে চায়। তারা কেন পুরোনো নিয়মের কপি দিয়ে সেখানে মিশনারি পাঠায় না?
* পুনরুত্থান। আমি এ বিষয়ে এমনভাবে কথা বলতে চাই যেমনটা আমরা যেকোনো সাধারণ লেনদেনের বিষয়ে বলে থাকি। প্রথমত, আমি বিশ্বাস করি না যে কখনো কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে এবং যদি ঘটেও থাকে, তবে আপনি তা প্রমাণ করতে পারবেন না। কেন? কারণ এটা বিশ্বাস করা আরও বেশি যুক্তিসংগত যে মানুষেরা এই বিষয়ে ভুল করেছিল, এর চেয়ে যে ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছিল। এবং কেন? কারণ, মানব অভিজ্ঞতা অনুসারে আমরা জানি যে মানুষেরা সব সময় সত্য বলবে না, এবং আমরা নিজেরা কখনো কোনো অলৌকিক ঘটনা দেখিনি। আমাদের অভিজ্ঞতার দ্বারাই পরিচালিত হতে হবে। যদি আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিচার করি, তবে আমাদের বলতে হবে যে অলৌকিক ঘটনা কখনো ঘটেনি—সাক্ষীরা ভুল করেছিল।
* মৃত মানুষদের পুনরুত্থান সম্পর্কে একটি আশ্চর্যের বিষয় হলো—'''আমরা আর তাদের কথা শুনতে পাই না'''। তাদের কী হয়েছিল? যদি এই শহরে এমন একজন মানুষ থাকত যাকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করা হয়েছিল, তবে আমি আজ রাতে তাকে দেখতে যেতাম। আমি বলতাম, “যখন তুমি ফিরে আসার খবর পেলে, তখন তুমি কোথায় ছিলে? ওটা কেমন দেশ? সেখানে একজন যুবকের জন্য কেমন সুযোগ আছে? তোমার কেমন লেগেছিল? তুমি কি সেখানে তোমার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সাথে দেখা করেছিলে? সেখানে কি এমন কোনো পৃথিবী আছে যেখানে মৃত্যু নেই, ব্যথা নেই, চোখের জল নেই? সেখানে কি এমন কোনো দেশ আছে যেখানে কোনো কবর নেই এবং যেখানে কখনো বিদায় শব্দটি শোনা যায় না?”
* আসুন আমরা সৎ হই। ধরুন একজন মানুষ এই শহরে এসে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মিছিলের মুখোমুখি হলেন এবং বললেন, “কে মারা গেছে?” এবং তারা উত্তর দিল, “একজন বিধবার ছেলে; তার একমাত্র অবলম্বন।” ধরুন তিনি মিছিলকে বললেন, “থামো!” এবং আন্ডারটেকারকে বললেন, “কফিনটা বের করো, ওই ঢাকনাটা খোলো। যুবক, আমি তোমাকে বলছি, ওঠো!” এবং মৃত যুবকটি কফিন থেকে বেরিয়ে এল এবং কিছুক্ষণ পরেই তার মাকে জড়িয়ে ধরল। ধরুন এই অপরিচিত লোকটি আপনার কবরস্থানে গিয়ে দেখল একজন নারী তার দুই হাতে দুটি ছোট বাচ্চাকে ধরে রেখেছে, আর একটি নতুন কবরে তার চোখের জল পড়ছে, এবং লোকটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, “এখানে কাকে কবর দেওয়া হয়েছে?” এবং নারীটি উত্তর দিল, “আমার স্বামীকে;” এবং লোকটি চিৎকার করে বলল, “আমি তোমাকে বলছি, ওহে কবর, তোমার মৃতকে ছেড়ে দাও!” এবং স্বামী উঠে দাঁড়াল, এবং কিছুক্ষণ পরেই তার স্ত্রীর ঠোঁটে চুমু খেল এবং ছোট বাচ্চারা তার গলা জড়িয়ে ধরল; '''আপনার কি মনে হয় এই শহরের মানুষ তাকে হত্যা করবে? আপনার কি মনে হয় কেউ তাকে ক্রুশবিদ্ধ করতে চাইবে? আপনার কি বরং মনে হয় না যে ওই কবরস্থানে যারাই তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তারা সবাই তার কাছে যাবে, এমনকি হাঁটুর ওপর ভর করে তার কাছে ভিক্ষা চাইবে যেন তাদের মৃতদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়? আপনি কি বিশ্বাস করেন যে মৃত্যুর অধিপতি এমন কোনো মানুষকে কখনো ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল?'''
* যেসব গল্প তখন খ্রিষ্টধর্মকে শক্তিশালী করেছিল, সেগুলো এখন একে দুর্বল করে।
* খ্রিষ্ট যদি অলৌকিক ঘটনা দিয়ে তার সঙ্গীদের বোঝাতে চাইতেন, তবে তিনি কেন এমন কিছু করলেন না যা কোনোভাবেই নকল করা যেত না? '''একটি শুকিয়ে যাওয়া হাত সুস্থ করার বদলে, তিনি কেন এমন একজন মানুষকে খুঁজে বের করলেন না যার হাত কেটে ফেলা হয়েছিল এবং সেখানে একটি নতুন হাত গজালেন না?'''
* অলৌকিক ঘটনাগুলো দূর করুন, এবং খ্রিষ্টের অতিপ্রাকৃত চরিত্র ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি যা ছিলেন তাই হয়ে যান—একজন মানুষ। বিস্ময়কর ঘটনাগুলো দূর করুন, এবং খ্রিষ্টের শিক্ষা আর প্রামাণিক থাকে না। তখন এগুলোর যৌক্তিকতা এবং এগুলোতে থাকা সত্যটুকুই কেবল মূল্যবান হয়, এর বেশি কিছু নয়। অলৌকিক ঘটনাগুলো দূর করুন, এবং তখন আমরা আমাদের যুক্তির মানদণ্ড দিয়ে খ্রিষ্টের কথাগুলো বিচার করতে পারব। আমরা আর বুদ্ধিবৃত্তিক দাস থাকব না, যারা একজন তথাকথিত ঈশ্বরের আদেশের বাধ্য হয়ে অযৌক্তিক কিছু বিশ্বাস করে।
* মার্ক বলেছেন: “কাজেই, প্রভু তাদের সাথে কথা বলার পর স্বর্গে উঠে গেলেন এবং ঈশ্বরের ডানপাশে বসলেন।” '''মানুষের চোখকে বিস্মিত করা সবচেয়ে বিস্ময়কর দৃশ্য সম্পর্কে তিনি কেবল এটুকু বলেছেন। এই অলৌকিক ঘটনা এতটাই বড় যে তা বিশ্বাসযোগ্যতাকে পূর্ণ করে ফেলতে পারত; তবুও আমাদের কাছে কেবল এই একটি, দরিদ্র, সামান্য অনুচ্ছেদই রয়েছে।'''
* '''চার্চকে অবশ্যই শয়তানে বিশ্বাস ত্যাগ করা চলবে না। গোঁড়ামি নরকের আগুন নেভানোর ঝুঁকি নিতে পারে না।''' শয়তানে বিশ্বাস ত্যাগ করুন, এবং নতুন নিয়মের অধিকাংশ অলৌকিক ঘটনা অসম্ভব হয়ে পড়ে, এমনকি যদি আমরা অতিপ্রাকৃতকে স্বীকারও করি। যদি শয়তান না থাকে, তবে ইডেন গার্ডেনে প্রথম প্রলোভনকারী কে ছিল? যদি নরক না থাকে, তবে আমরা কী থেকে রক্ষা পেলাম; প্রায়শ্চিত্তের উদ্দেশ্য কী? খ্রিষ্টীয় ঢালের সামনের দিকে ঈশ্বর, আর পেছনের দিকে শয়তান। '''শয়তান নেই, নরক নেই। নরক নেই, প্রায়শ্চিত্ত নেই। প্রায়শ্চিত্ত নেই, প্রচার নেই, গসপেল নেই।'''
* '''আমাদের বলা হয় “ঈশ্বর পৃথিবীকে এতটা ভালোবেসেছেন” যে তিনি প্রায় সবাইকেই অভিশাপ দিতে যাচ্ছেন।'''
* মাত্র কিছুদিন আগে, ওহাইওতে যখন বিশাল বন্যা এসেছিল, যা সেই ঈশ্বরের পাঠানো যিনি বিশ্ব শাসন করছেন এবং দেশগুলোর বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন, ঠিক ভোরের আলোতে তারা দেখল একটি বাড়ি ভেসে যাচ্ছে এবং তার ওপরে একজন মানুষ। কয়েকজন মানুষ উদ্ধারের জন্য গেল। তারা সেখানে একজন নারী, একজন মাকে দেখতে পেল এবং তারা তার জীবন বাঁচাতে চাইল। সে বলল: “না, আমি যেখানে আছি সেখানেই থাকব। এই বাড়িতে আমার তিন মৃত শিশু রয়েছে; আমি তাদের ছেড়ে যাব না।” '''এমন সীমাহীন ভালোবাসার কথা ভাবুন—যা হতাশা এবং মৃত্যুর চেয়েও শক্তিশালী এবং গভীর! তবুও, খ্রিষ্ট ধর্ম বলে যে, যদি ওই নারী, ওই মা, তাদের মতবাদে বিশ্বাস না করত, তবে ঈশ্বর তার আত্মাকে অনন্ত আগুনে পাঠাতেন!'''
* অনন্ত যন্ত্রণার মতবাদটিই এই খ্রিষ্টধর্ম নিয়ে আমার সমস্যার কারণ। আমি এর অসীম হৃদয়হীনতার কারণে এটি প্রত্যাখ্যান করি। আমি তাদের বারবার বলতে পারি যে, আমাদের সর্বশেষ যুদ্ধের সময় খ্রিষ্টানরা, যারা জানত যে তারা গুলিবিদ্ধ হলে সরাসরি স্বর্গে যাবে, তারা গিয়ে তাদের জায়গায় যুদ্ধ করার জন্য খারাপ লোকদের ভাড়া করেছিল, তারা সম্পূর্ণ রাজি ছিল যে এই লোকগুলো নরকে যাক যদি তারা নিজেরা বাড়িতে থাকতে পারে।
* '''ধর্মতত্ত্ববিদ, ভণ্ড, ভবিষ্যদ্বক্তা, যাজক, পুরোহিত, পোপ, বিশপরা এর সুযোগ নিয়েছে। তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে স্বর্গের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে যন্ত্রণায় ভরা ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। তারা জীবনের রাজপথে তাদের টোল-গেট স্থাপন করেছে এবং ভয়ের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে।'''
=== ধর্ম অবমাননার জন্য [[w:চার্লস বি. রেনল্ডস|চার্লস বি. রেনল্ডসের]] বিচার (১৮৮৭) ===
[[File:THISUserBelievesInFreedom.JPG|thumb|right|আমি এমন একটি পৃথিবীতে থাকতে চাইব না যেখানে আমি আমার সৎ মতামত প্রকাশ করতে পারি না। যারা অন্যদের কথা বলার অধিকার অস্বীকার করে, তারা সৎ মানুষের সাথে বসবাস করার যোগ্য নয়।]]
[[File:Statue of Liberty close.JPG|thumb|right|এই পৃথিবীতে যদি আলোচনা এবং বোঝার মতো কোনো বিষয় থাকে, তবে তা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক [[স্বাধীনতা|স্বাধীনতার]] প্রশ্ন। এটি ছাড়া আমরা কেবল রঙিন কাদা। এটি ছাড়া আমরা দরিদ্র, দুর্দশাগ্রস্ত ভূমিদাস ও [[দাস]]।]]
:<small>[http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/blasphemy_trial.html ধর্ম অবমাননার জন্য সি. বি. রেনল্ডসের বিচারে জুরির কাছে আপিল (মে ১৮৮৭)] [http://www.gutenberg.org/files/38103/38103-h/38103-h.htm প্রজেক্ট গুটেনবার্গে অনলাইনে সম্পূর্ণ পাঠ্য] · অভিযুক্ত সি. বি. রেনল্ডসকে "ধর্ম অবমাননা"র অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং নিউ জার্সির মরিসটাউন জুরির সামনে আনা হয়েছিল। জুরি তাকে "দোষী" সাব্যস্ত করে এবং ২৫ ডলার জরিমানা করে। বিচারক কর্তৃক রেনল্ডসের ওপর আরোপিত জরিমানা এবং খরচ ইনগারসোল নিজেই পরিশোধ করেছিলেন।</small>
[[File:Free-speech-flag.svg|thumb|right|আমি [[বাকস্বাধীনতা|বাকস্বাধীনতাকে]] রক্ষা করব। কেন? কারণ বলপ্রয়োগ করে কোনো আক্রমণের জবাব দেওয়া যায় না। আঘাত, কারাদণ্ড বা জরিমানার মাধ্যমে কোনো যুক্তি খণ্ডন করা যায় না। আপনি মানুষটিকে বন্দি করতে পারেন, কিন্তু যুক্তি স্বাধীন। আপনি মানুষটিকে মাটিতে ফেলে দিতে পারেন, কিন্তু তার বক্তব্য অটল থাকে।]]
[[File:La Vérité, par Jules Joseph Lefebvre.jpg|thumb|right|সত্য ছাড়া আর কিছুই পবিত্র নয়। সত্য বলতে আমি বুঝি যা একজন মানুষ আন্তরিক ও সৎভাবে বিশ্বাস করে।]]
[[File:NYC 14 1 (6628744017).jpg|thumb|right|মানুষের তৈরি আইনের চেয়েও উচ্চতর একটি আইন রয়েছে। এই দরিদ্র পৃথিবীতে বাস্তব সত্যগুলো এবং নির্দিষ্ট কাজের চূড়ান্ত পরিণতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এই উচ্চতর আইন হলো প্রগতির নিশ্বাস এবং সভ্যতার প্রসারিত ডানা, যার অধীনে আমরা আমাদের স্বাধীনতা উপভোগ করি।]]
[[File:Eduardo Zamacois y Zabala - Regreso al convento.jpg|thumb|right|রসবোধ মানবমস্তিষ্কের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। এটি মনের মশাল, যা আলো ছড়ায়। রসবোধ হলো স্বাভাবিকতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সত্য যাচাইয়ের সবচেয়ে সহজ উপায়। একজন মানুষের থেকে সব রসবোধ কেড়ে নিলে সে কেবল একজন গোঁড়া ব্যক্তিতে পরিণত হবে।]]
[[File:Baby love.jpg|thumb|right|পৃথিবীতে বা মানুষের কল্পনায় এমন কোনো নিখুঁত ছবি নেই, যেখানে একজন মা তার ভালোবাসার ফল একটি সন্তানকে রোমাঞ্চিত ও আনন্দিত বাহুতে ধরে রাখেন।]]
[[File:Welcome to the land of freedom 51996u.jpg|thumb|right|আমি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এটাই আমার ধর্ম। আমি নিজের জন্য যেসব অধিকার দাবি করি, অন্য সবার জন্যও তা সমানভাবে নিশ্চিত করতে চাই। আমি অন্য কাউকে অধিকার প্রদান করি না, বরং ঘোষণা করি যে আমার প্রতিটি মতবাদ আক্রমণ করার এবং আমার প্রতিটি যুক্তির জবাব দেওয়ার অধিকার তার রয়েছে। অর্থাৎ, তার নিরঙ্কুশ বাকস্বাধীনতা থাকতে হবে।]]
[[File:Golden statue.jpg|thumb|right|এই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাধীনতা। খাদ্য, পোশাক, সোনা, বাড়ি বা জমির চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। [[শিল্পকলা]] বা [[বিজ্ঞান|বিজ্ঞানের]] চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সব ধর্মের চেয়ে মানুষের [[স্বাধীনতা]] বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]]
[[File:Prometheus by Gustave Moreau.jpg|thumb|right|আপনার সৎ সহকর্মীদের জন্য শিকল তৈরি করা এবং অন্ধকূপ নির্মাণ করা হলো [[ধর্ম অবমাননা]]। অনন্ত [[যন্ত্রণা|যন্ত্রণার]] মতবাদ দিয়ে [[শিশু|শিশুদের]] [[আত্মা|আত্মাকে]] কলুষিত করা ধর্ম অবমাননা। নিজের [[বিবেক|বিবেককে]] লঙ্ঘন করাও ধর্ম অবমাননা।]]
[[File:Statue at Rockefeller Centre.jpg|thumb|right|যেকোনো বইয়ের চেয়ে মানুষের স্বাধীনতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের অধিকার যেকোনো ধর্ম বা অনুপ্রাণিত হোক বা না হোক, যেকোনো ধর্মগ্রন্থের চেয়ে বেশি পবিত্র।]]
[[File:Freedom tree, St Helier - geograph.ci - 150.jpg|thumb|right|চোখের জন্য যেমন আলো এবং হৃদয়ের জন্য যেমন ভালোবাসা, তেমনি মানুষের আত্মার জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য। এটি ছাড়া দমবন্ধ অবস্থা, অবক্ষয় এবং মৃত্যু নেমে আসে।]]
[[File:LibertyTreePlanting.jpg|thumb|right|স্বাধীনতা হলো প্রগতির শর্ত। স্বাধীনতা ছাড়া কেবল বর্বরতা অবশিষ্ট থাকে। স্বাধীনতা ছাড়া কোনো সভ্যতা টিকতে পারে ওয়েবসাইটে পারে না।]]
[[File:Double-alaskan-rainbow.jpg|thumb|right|মানুষের ভাষা থেকে [[স্বাধীনতা]] শব্দটি সরিয়ে নিলে বাকি সব শব্দ দরিদ্র, জীর্ণ এবং অর্থহীন ধ্বনিতে পরিণত হয়। কিন্তু এই শব্দটি উপলব্ধি করতে পারলে পৃথিবী একটি [[স্বর্গ|স্বর্গে]] পরিণত হয়।]]
* জুরি হিসেবে আপনাদের যে প্রশ্নটির বিচার করতে হবে তা হলো একজন মানুষের নিজের সৎ [[চিন্তা]] প্রকাশ করার অধিকার আছে কি না। সেই [[কারণ|কারণে]] এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মামলা জুরির কাছে পেশ করা যেতে পারে না। এবং শুরুতেই আমার পক্ষে এটা স্বীকার করে নেওয়া ভালো হতে পারে যে, এর চেয়ে বেশি গভীর আগ্রহ নিয়ে আমি আর কোনো মামলা নিতে পারতাম না। আমার মতে, '''আমি এমন একটি পৃথিবীতে থাকতে চাইব না যেখানে আমি আমার সৎ মতামত প্রকাশ করতে পারি না। যারা অন্যদের কথা বলার অধিকার অস্বীকার করে, তারা সৎ মানুষের সাথে বসবাস করার যোগ্য নয়।''' <br> আমি যেকোনো মানুষ, মানুষের দল, চার্চ বা রাষ্ট্রের মানুষের মুখে তালা দেওয়ার এবং জিহ্বাকে অপরাধী বানানোর অধিকার অস্বীকার করি। আমি মস্তিষ্কের সন্তানদের হত্যা করার জন্য কর্তৃপক্ষের হেরোডের অধিকারকে তীব্রভাবে অস্বীকার করি। <br> '''একজন মানুষের হাত দিয়ে কাজ করার, জমি চাষ করার এবং বীজ বপন করার অধিকার আছে। আর সেই মানুষের ফসল কাটারও অধিকার আছে। আমাদের যদি সেই অধিকার না থাকে, তবে যারা তাদের সহকর্মীদের কাছ থেকে এই অধিকারগুলো কেড়ে নেয় তারা ছাড়া বাকি সবাই দাস।'''
* '''আপনার যদি হাত দিয়ে কাজ করার এবং নিজের ও সন্তানদের জন্য ফসল সংগ্রহ করার অধিকার থাকে, তবে কি আপনার মস্তিষ্ক চাষ করার অধিকার নেই? আপনার কি পড়ার, পর্যবেক্ষণ করার এবং তদন্ত করার অধিকার নেই? আর যখন আপনি সেভাবে পড়বেন এবং তদন্ত করবেন, তখন কি আপনার সেই ফসল কাটার অধিকার নেই? আর সেই ফসল কাটা বলতে কী বোঝায়? এর অর্থ হলো আপনি যা জেনেছেন তা সহজভাবে প্রকাশ করা, অর্থাৎ আপনার সহকর্মীদের কাছে আপনার চিন্তাভাবনা তুলে ধরা।'''
* '''এই পৃথিবীতে যদি আলোচনা এবং বোঝার মতো কোনো বিষয় থাকে, তবে তা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা। এটি ছাড়া আমরা কেবল রঙিন কাদা। এটি ছাড়া আমরা দরিদ্র, দুর্দশাগ্রস্ত ভূমিদাস ও দাস।'''
* মস্তিষ্ক আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চিন্তা করে। '''আপনার কি সেই চিন্তা প্রকাশ করা উচিত? অন্যদের মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকলে আপনারও নিশ্চিতভাবে করা উচিত। আপনারও সম্পূর্ণ একই অধিকার রয়েছে। যে ব্যক্তি আপনার কাছ থেকে এটি কেড়ে নেয়, সে একজন ডাকাত।'''
* '''হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ জোর করে অন্যদের নিজেদের মতো চিন্তা করাতে চেয়েছে। তারা কি সফল হয়েছে? না। তারা কি সফল হবে? না। কেন? কারণ পাশবিক বল কোনো যুক্তি হতে পারে না।'''
* কোনো গোঁড়া চার্চ কখনোই এমন ক্ষমতা পায়নি যা দিয়ে তারা জোর করে এবং আগুন দিয়ে মানুষকে নিজেদের মতো চিন্তা করাতে চায়নি।
* মানুষকে একভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করার জন্য পৃথিবীতে কী করা হয়েছে, তা আমি আপনাদের বোঝাতে চাই। '''আমার মনে হয় যদি এমন কোনো অসীম সত্তা থাকেন যিনি চান আমরা একভাবে চিন্তা করি, তবে তিনি আমাদের একই রকম তৈরি করতেন।''' তিনি কেন তা করলেন না? তিনি কেন আপনার মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি করলেন যাতে আপনি কোনোভাবেই একজন মেথডিস্ট হতে না পারেন? কেন তিনি আপনারটি এমনভাবে তৈরি করলেন যাতে আপনি ক্যাথলিক হতে না পারেন? আর তিনি কেন অন্যজনের মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি করলেন যাতে সে অবিশ্বাসী হয়ে যায়? কেন তিনি অন্যজনের মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি করলেন যাতে সে মুসলমান হয়ে যায়? যদি তিনি চাইতেন যে আমরা সবাই একই রকম বিশ্বাস করি? <br> সর্বোপরি, সম্ভবত '''প্রকৃতি যথেষ্ট ভালো, মহান এবং বিশাল, যা আমাদের স্বাধীনতার জন্ম দেওয়া বৈচিত্র্য প্রদান করে।''' সর্বোপরি, আমাদের সবার জন্য অন্য সবার কথায় সায় দেওয়া হয়তো সবচেয়ে ভালো হতো না। সবাই যদি সবার কথায় হ্যাঁ বলত, তবে পৃথিবীটা কত বোকা হয়ে যেত। <br> '''এই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাধীনতা। খাদ্য, পোশাক, সোনা, বাড়ি বা জমির চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পকলা বা বিজ্ঞানের চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সব ধর্মের চেয়ে মানুষের স্বাধীনতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'''
* '''প্রতিটি যুগে চার্চ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন সে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করেছে? সব সময় ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে, যুক্তির বিরুদ্ধে এবং মুক্তবাকের বিরুদ্ধে আইন তৈরি করে। আর এমন কোনো আইন কখনো ছিল না যা সেই বইটিকে কলঙ্কিত করেনি যেখানে এটি লেখা ছিল এবং যা এটি পাস করা মানুষদের বর্বরতায় প্রত্যয়ন করেনি।'''
* একটি আইন তৈরি করে এবং ধর্ম অবমাননার সংজ্ঞা দিয়ে চার্চ আলোচনা রোধ করতে চেয়েছে, যুক্তি রোধ করতে চেয়েছে এবং মানুষকে তার সৎ মতামত দেওয়া থেকে বিরত রাখতে চেয়েছে। নিশ্চিতভাবেই '''একটি মতবাদ বা ধর্মবিশ্বাস তখনই নিরাপদ থাকে, যখন এটি এমন একটি আইন দ্বারা ঘেরা থাকে যা আপনাকে এর বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধা দেয়। দাসত্বের নীরবতায় এর অস্তিত্ব থাকে। ঠোঁট তালাবদ্ধ থাকে বলেই এটি বেঁচে থাকে।''' মানুষ দাস বলেই এটি বেঁচে থাকে।
* '''আমি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এটাই আমার ধর্ম। আমি নিজের জন্য যেসব অধিকার দাবি করি, অন্য সবার জন্যও তা সমানভাবে নিশ্চিত করতে চাই। আমি অন্য কাউকে অধিকার প্রদান করি না, বরং ঘোষণা করি যে আমার প্রতিটি মতবাদ আক্রমণ করার এবং আমার প্রতিটি যুক্তির জবাব দেওয়ার অধিকার তার রয়েছে। অর্থাৎ, তার নিরঙ্কুশ বাকস্বাধীনতা থাকতে হবে।'''
* আমি যাকে "বুদ্ধিবৃত্তিক আতিথেয়তা" বলি, আমি তাতে বিশ্বাসী। একজন মানুষ আপনার দরজায় এল। আপনি যদি একজন ভদ্রলোক হন এবং তাকে ভালো মানুষ মনে হয়, তবে আপনি হাসিমুখে তাকে গ্রহণ করবেন। আপনি তার স্বাস্থ্যের খবর জিজ্ঞাসা করবেন। আপনি বলবেন: "একটি চেয়ার নিন; আপনি কি তৃষ্ণার্ত, আপনি কি ক্ষুধার্ত, আপনি কি আমার সাথে রুটি খাবেন না?" একজন অতিথিপরায়ণ ভালো মানুষ এটাই করে, সে তার ওপর কুকুর লেলিয়ে দেয় না। এখন, একটি নতুন চিন্তাকে আমাদের কীভাবে গ্রহণ করা উচিত? আমি বলি যে মস্তিষ্ককে অতিথিপরায়ণ হতে হবে এবং নতুন চিন্তাকে বলতে হবে: "ভেতরে এসো; বসো; আমি তোমাকে জেরা করতে চাই; আমি জানতে চাই তুমি ভালো নাকি খারাপ; যদি ভালো হও, থাকো; যদি খারাপ হও, আমি তোমাকে আঘাত করতে চাই না, সম্ভবত তুমি ভাবছ তুমি ঠিক আছ, কিন্তু তোমার সঙ্গের চেয়ে তোমার চলে যাওয়াই ভালো, এবং আমি তোমার জায়গায় অন্য একটি ধারণা গ্রহণ করব।"
* যে মানুষ চিন্তা করেছে, সে কেবল জানে না যে সে কতটা কম জানে, বরং সে এটাও জানে যে অন্য প্রতিটি মানুষ কতটা কম জানে এবং সর্বোপরি, পৃথিবী কতটা অজ্ঞ হতে পারে।
* এখন, ভদ্রমহোদয়গণ, ধর্ম অবমাননা কী? অবশ্যই কেউ জানে না এটি কী, যদি না সে বিবেচনা করে যে সে কোথায় আছে। '''এক দেশে যা ধর্ম অবমাননা, অন্য দেশে তা ধর্মীয় উপদেশ হতে পারে। এটি নির্ভর করে আপনি কোথায় আছেন এবং কারা ক্ষমতায় আছে তার ওপর।''' আমেরিকান খ্রিষ্টানদের ধৃষ্টতা এবং গোঁড়ামির দিকে আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আমরা অন্য দেশগুলোতে মিশনারি পাঠাই। কী কারণে? তাদের ধর্ম মিথ্যা, তাদের দেবতারা পৌরাণিক ও দানব, তাদের ত্রাণকর্তা ও প্রেরিতরা ভণ্ড এবং আমাদের ধর্ম সত্য, তা তাদের বলার জন্য। আপনি মরিসটাউন থেকে একজন প্রেসবাইটেরিয়ানকে তুরস্কে পাঠান। সে সেখানে গিয়ে মুসলমানদের বলে, তার কাছে এটি একটি প্রচারপত্রে লেখা থাকে এবং সে তা বিতরণ করে। যাতে লেখা থাকে, কোরান একটি মিথ্যা, মুহাম্মদ ঈশ্বরের নবী ছিলেন না, গ্যাব্রিয়েল ([[জিবরাঈল|জিবরাইল]]) ফেরেশতা এত বড় নন যে তার চোখের মধ্যে চারশো লিগ (ভূমিতে ১,৯৩১ কিমি) দূরত্ব রয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ভুল, এত বড় ফেরেশতা কখনোই ছিল না। তখন মুসলমানরা কী করবে? ধরুন তুর্কিদের নিউ জার্সির এই আইনের মতো একটি আইন ছিল। তারা মরিসটাউনের মিশনারিকে জেলে ঢোকাচ্ছে এবং সে বাড়িতে খবর পাঠাচ্ছে, তখন মরিসটাউনের মানুষ কী বলবে? সত্যি করে বলুন তো, আপনি কী মনে করেন তারা কী বলবে? তারা বলবে, "দেখো ওই বেচারা, অসভ্য মানুষগুলোকে। আমরা সত্যে সজ্জিত একজন মানুষকে সেখানে পাঠিয়েছি, অথচ তারা তাদের মূর্তিপূজার ধর্মে এতটাই অন্ধ, কুসংস্কারে এতটাই ডুবে আছে যে, তারা সত্যিই ওই লোকটিকে জেলে পাঠিয়েছে।" ভদ্রমহোদয়গণ, এটি কি আরও মিশনারির প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে না? আমি বলব, হ্যাঁ।
* '''যদি আপনি কেবল একটি চিন্তাকে বন্দি করতে পারতেন, তবে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বৈরাচার সফল হতে পারত। আপনি যদি কেবল একটি যুক্তিকে দাগকাটা পোশাক পরাতে পারতেন, আপনি যদি একটি ভালো ও উজ্জ্বল তথ্যকে অজ্ঞতার অন্ধকূপে আটকে রাখতে পারতেন, যাতে তার আলো আর কখনো মানুষের মনে প্রবেশ করতে না পারে, তবে আপনি মানবপ্রগতি থামাতে সফল হতে পারতেন। অন্যথায়, না।'''
* '''"প্রত্যেক ব্যক্তি স্বাধীনভাবে সমস্ত বিষয়ে তার মতামত বলতে, লিখতে বা প্রকাশ করতে পারে এবং সেই অধিকার অপব্যবহারের জন্য দায়ী থাকবে।"''' এটি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি রাজ্যের সংবিধানে রয়েছে। '''এর উদ্দেশ্য হলো মানহানিকর শব্দগুলোকে আওতায় আনা। এমন একটি ক্ষেত্রে আওতায় আনা যেখানে একজন মানুষ বাকস্বাধীনতা উপভোগ করার ভান করে তার প্রতিবেশীকে মিথ্যাভাবে আক্রমণ করে বা অভিযুক্ত করে। অবশ্যই তাকে সেই অপব্যবহারের জন্য দায়ী করা উচিত।'''
* '''যেকোনো আইনের চেয়েও উচ্চতর একটি সংবিধান রয়েছে। যেকোনো সংবিধানের চেয়েও উচ্চতর একটি আইন রয়েছে। এটি মানববিবেকের আইন।''' মানুষের মতো মানুষ কোনো আইনসভার আদেশে তার বিবেককে কলুষিত ও দূষিত করবে না। '''সবকিছুর ঊর্ধ্বে একজনকে তার আত্মসম্মান বজায় রাখতে হবে এবং তা করার একটাই উপায় আছে, তা হলো আপনার সর্বোচ্চ আদর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করা।'''
* '''মানুষের তৈরি আইনের চেয়েও উচ্চতর একটি আইন রয়েছে। এই দরিদ্র পৃথিবীতে বাস্তব সত্যগুলো এবং নির্দিষ্ট কাজের চূড়ান্ত পরিণতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এই উচ্চতর আইন হলো প্রগতির নিশ্বাস এবং সভ্যতার প্রসারিত ডানা, যার অধীনে আমরা আমাদের স্বাধীনতা উপভোগ করি।''' এটি মনে রাখবেন। কখনো কোনো আইনসভা এত মহান হয়নি, '''কখনো কোনো সংবিধান এত পবিত্র হয়নি, যা একজন সভ্য মানুষকে একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ এবং তার স্বাধীনতার মাঝখানে দাঁড়াতে বাধ্য করতে পারে। কখনো কোনো সংবিধান এত মহান হয়নি যা আমাকে কোনো মানুষ এবং তার সৎ চিন্তা প্রকাশ করার অধিকারের মাঝখানে দাঁড়াতে বাধ্য করতে পারে। এমন সংবিধান মানবাত্মার জন্য অপমানজনক।''' আমি একটি বন্য পশুর গর্জনের চেয়ে বেশি একে পরোয়া করব না।
* '''আমি ঠিক এখানে বলতে চাই, অনেক মানুষ অন্য মানুষের ঈশ্বরকে অভিশাপ দিয়েছে।''' ক্যাথলিকরা প্রোটেস্ট্যান্টদের ঈশ্বরকে অভিশাপ দিয়েছে। প্রেসবাইটেরিয়ানরা ক্যাথলিকদের ঈশ্বরকে অভিশাপ দিয়েছে, তাদের মূর্তিপূজার জন্য অভিযুক্ত করেছে, তাদের মূর্তিগুলোকে অভিশাপ দিয়েছে এবং তাদের অনুষ্ঠান নিয়ে হেসেছে। বিশ্বের সব ধর্মের মধ্যেই এই প্রশংসা বিনিময় করা হয়েছে। তবে আমি আজ এখানে বলছি যে '''উন্মাদ ছাড়া কোনো মানুষ কখনো তার বিশ্বাস করা ঈশ্বরকে অভিশাপ দেয়নি। কোনো মানুষ কখনো তার নিজের ঈশ্বরের ধারণাকে অভিশাপ দেয়নি। সে সবসময় অন্য কারও ধারণাকে অভিশাপ দেয়। কোনো মানুষ এখনো তার বিশ্বাস অনুযায়ী অসীম প্রজ্ঞা এবং অসীম মঙ্গলকে অভিশাপ দেয়নি এবং আপনারা তা জানেন।''' এই জুরির প্রতিটি মানুষ তা জানে। সে অনুভব করে যে এটি অবশ্যই একটি পরম নিশ্চিত বিষয়। তাহলে তারা কী অভিশাপ দিয়েছে? এমন কোনো ঈশ্বরকে যা তারা বিশ্বাস করত না। শুধু এতটুকুই। একজন মানুষের কি সেই অধিকার আছে? আমি বলি, হ্যাঁ। জুপিটার সম্পর্কে তার মতামত দেওয়ার অধিকার তার আছে এবং মরিসটাউনে এমন কেউ নেই যে তাকে সেই অধিকার অস্বীকার করবে। কিন্তু কয়েক হাজার বছর আগে জুপিটারকে অভিশাপ দেওয়া তার জন্য খুব বিপজ্জনক হতো। অথচ জুপিটার তখন যতটা শক্তিশালী ছিল, এখনো ঠিক ততটাই শক্তিশালী, কিন্তু রোমানরা এখন শক্তিশালী নয় এবং জুপিটারের ক্ষেত্রে এতটুকুই বলার আছে। রোমানরা। <br> তাই এমন একটা সময় ছিল যখন আপনি গ্রিকদের দেবতা জিউসকে অভিশাপ দিতে পারতেন এবং সক্রেটিসের মতো তারা আপনাকে হেমলক পান করতে বাধ্য করত। অথচ এখন সবাই এই দেবতাকে অভিশাপ দিতে পারে। কেন? দেবতা কি মারা গেছেন? না। তিনি আগের মতোই বেঁচে আছেন। তাহলে কী ঘটেছে? গ্রিকরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। শুধু এতটুকুই। আমাদের এখানকার সব চার্চেও এমনটাই হয়। যখনই কোনো চার্চ সংখ্যালঘুতে থাকে, তখন এটি মুক্তবাকের জন্য সোচ্চার হয়। এটি যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তখন না। আমি বিশ্বাস করি না বিশ্বের ইতিহাস দেখাবে যে কোনো গোঁড়া চার্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার পর বিশ্বের স্বাধীন ঠোঁটের মুখোমুখি হওয়ার সাহস পেয়েছিল। এটি কনস্টেবলের জন্য লোক পাঠায়। আর এটা কি বিস্ময়কর নয় যে তারা সর্বজনীন ক্ষমার বাণী প্রচার করার সময় এমনটা করে? যখন তারা বলে, "যদি কেউ তোমার এক গালে আঘাত করে তবে তাকে অন্য গালটিও বাড়িয়ে দাও। কিন্তু সে যদি তোমার ধর্ম নিয়ে হাসে, তবে তাকে কারাগারে পাঠাও"? এটাই কি মতবাদ? এটাই কি আইন?
* আমি কখনোই এমন কোনো ধর্ম মানব না যা আমি রক্ষা করতে পারব না, অর্থাৎ যা আমি রক্ষা করতে পারব বলে মনে করি না। আমি ভুল হতে পারি, কারণ কোনো মানুষ সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয় যে সে জানে। আমরা সবাই তা বুঝি। '''যে কারও ভুল হতে পারে। প্রতিটি ব্যক্তির দিগন্ত খুব সংকীর্ণ এবং তার দরিদ্র আকাশে তারা খুব কম এবং খুব ছোট।'''
* '''বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আপনি ভণ্ড তৈরি করতে পারেন। এমন মানুষ যারা দাঁত বের করে আপনার সাথে একমত হবে এবং মনে মনে আপনাকে ঘৃণা করবে। আমরা আর ভণ্ড চাই না।''' প্রতিটি সম্প্রদায়েই আমাদের যথেষ্ট ভণ্ড রয়েছে। '''আপনি কীভাবে আরও ভণ্ড হওয়া ঠেকাতে পারবেন? বাতাস মুক্ত রেখে এবং আপনাদের আইনের বই থেকে এর মতো করুণ ও জঘন্য আইনগুলো মুছে ফেলে।'''
* কেন, ভদ্রমহোদয়গণ, '''রসবোধ মানবমস্তিষ্কের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। এটি মনের মশাল, যা আলো ছড়ায়। রসবোধ হলো স্বাভাবিকতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সত্য যাচাইয়ের সবচেয়ে সহজ উপায়। একজন মানুষের থেকে সব রসবোধ কেড়ে নিলে সে কেবল একজন গোঁড়া ব্যক্তিতে পরিণত হবে।'''
* '''যেসব জিনিসকে হেসে এই পৃথিবী থেকে উড়িয়ে দেওয়া যায়, সেগুলো এখানে থাকা উচিত নয়।'''
* '''ধর্মগুলো এক দিনের জন্য। এগুলো মেঘের মতো। মানবতা হলো অনন্ত নীলিমা। ধর্মগুলো হলো সমুদ্রের ঢেউ। এই ঢেউগুলো নির্ভর করে বাতাসের শক্তি এবং দিকের ওপর, অর্থাৎ আবেগের ওপর। কিন্তু মানবতা হলো বিশাল সমুদ্র। আর তাই আমাদের ধর্মগুলো দিন দিন পরিবর্তিত হয় এবং এটা আশীর্বাদ যে তারা তা করে। কেন? কারণ আমরা বড় হচ্ছি এবং আমরা দিন দিন একটু বেশি সভ্য হচ্ছি।''' এবং '''যে মানুষ অন্য মানুষকে তার মতামত প্রকাশ করতে দিতে ইচ্ছুক নয়, সে সভ্য মানুষ নয়''', এবং আপনারা তা জানেন। '''যে মানুষ অন্য সবার জন্য সেই অধিকারগুলো দেয় না যা সে নিজের জন্য দাবি করে, সে সৎ মানুষ নয়।'''
* তাই আমি বলি, '''আসুন আমরা একে অপরকে আমাদের কাজ দিয়ে বিচার করি, তত্ত্ব দিয়ে নয়, আমরা কী বিশ্বাস করি তা দিয়ে নয়, কারণ এটি খুব বেশি নির্ভর করে আমরা কোথায় জন্মগ্রহণ করেছি তার ওপর।'''
* '''আপনি যদি আপনার প্রতিবেশীর মতামত জানতে চান, তবে আপনি তার সৎ মতামত চাইবেন। আপনি প্রতারিত হতে চাইবেন না। আপনি কোনো ভণ্ডের সাথে কথা বলতে চাইবেন না। আপনি সরাসরি তার সৎ মনের কথা জানতে চাইবেন। এবং তারপর আপনি তাকে বিচার করবেন, সে কী বলে তা দিয়ে নয় বরং সে কী করে তা দিয়ে।'''
* '''সংখ্যাগরিষ্ঠের সাথে চলা খুব সহজ। নৌকা যেদিকে যাচ্ছে সেদিকে চলা সহজ। স্রোতের সাথে ভাসা সহজ। কিন্তু যখন আপনি স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে যাবেন এবং তীরের মানুষরা আপনার দিকে পাথর ছুড়বে, তখন আপনি এই পৃথিবীতে প্রচুর ব্যায়াম করার সুযোগ পাবেন।'''
* '''আমাদের এখন জ্যোতির্বিজ্ঞান নামের একটি বিজ্ঞান আছে। সেই বিজ্ঞান অন্য সব কিছুর চেয়ে মানুষের চিন্তার দিগন্তকে প্রসারিত করতে বেশি সাহায্য করেছে।''' আমরা এখন একটি অসীম মহাবিশ্বে বাস করি। আমরা জানি যে সূর্য আমাদের পৃথিবীর চেয়ে দশ লাখ গুণ বড় এবং আমরা জানি যে আমাদের সূর্যের চেয়ে লাখ লাখ গুণ বড় অন্যান্য মহান জ্যোতিষ্ক রয়েছে। আমরা জানি যে এমন গ্রহ আছে যেগুলো এত দূরে যে আলো প্রতি সেকেন্ডে এক লাখ পঁচাশি হাজার মাইল বেগে ভ্রমণ করেও পৃথিবী নামক এই বালুকণা, এই চোখের জলে পৌঁছাতে পনেরো হাজার বছর সময় নেয়। আমরা এখন জানি যে মহাশূন্যের সব মাঠ নক্ষত্রমণ্ডলী দিয়ে ভরা। '''যদি সেই আইন কার্যকর করা হতো, তবে সেই বিজ্ঞান এখন মানুষের মনের সম্পদ হতো না। সেই বিজ্ঞান বাইবেলের পরিপন্থী এবং সত্য দাবি করার জন্য আপনি অপরাধী হয়ে যাবেন।''' কত টাকার বিনিময়ে, কত সম্পদের বিনিময়ে বিশ্ব মানুষের মস্তিষ্ক থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞান মুছে ফেলতে চাইবে? আমরা ওই আইন সত্ত্বেও তারার গল্প জেনেছি।
* আমি বুদ্ধিবৃত্তিক আতিথেয়তায় বিশ্বাস করি। আমি সেই মানুষদের ভালোবাসি যাদের মনে একটু দিগন্ত আছে, একটু আকাশ আছে, একটু সুযোগ আছে। আমি এমন কিছুকে ঘৃণা করি যা সংকীর্ণ এবং সংকুচিত, জীর্ণ এবং নিচু এবং হামাগুড়ি দেওয়া এবং যা ধুলোয় বেঁচে থাকতে ইচ্ছুক। আমি এমন একটি বায়ুমণ্ডল তৈরি করতে বিশ্বাস করি যেখানে সবকিছু প্রস্ফুটিত হবে। আমি শুভকামনা, সুস্বাস্থ্য, ভালো সাহচর্য, ভালো অনুভূতিতে বিশ্বাস করি এবং যদি পৃথিবীতে বা স্বর্গে কোনো ঈশ্বর থাকেন, আসুন আশা করি যে তিনি উদার এবং মহান হবেন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না এর প্রভাব কী হবে? আপনি মেথডিস্ট বলে আমি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছি না, আপনি ক্যাথলিক বলে আমি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছি না, বা আপনি অবিশ্বাসী বলে আমি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছি না। একজন ভালো মানুষ এসবের চেয়েও বড়। '''সবচেয়ে মহৎ কাজ হলো সর্বোচ্চ এবং শ্রেষ্ঠ অর্থে একজন মানুষ হওয়া।'''
* অভিযুক্ত ব্যক্তির এই অভিযোগপত্রে উল্লেখিত প্রতিটি শব্দ বলার অধিকার ছিল। তার নিজের সৎ চিন্তা প্রকাশ করার অধিকার ছিল, তার কথার সাথে অন্য কোনো মানুষ একমত হোক বা না হোক, এবং সে যেভাবে কথাগুলো বলেছে তা অন্য কেউ সমর্থন করুক বা না করুক। আমি তার কথা বলার অধিকার রক্ষা করি, সে যা বলেছে তাতে আমার বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, অথবা তার কথার যৌক্তিকতা থাকুক বা না থাকুক। আমার মতবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা কোনো মানুষকে আমি ঠিক ততটাই আনন্দের সাথে রক্ষা করব, যতটা আমার সময়ের জনপ্রিয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলা কাউকে করতাম। আমার বিশ্বাসের ওপর আক্রমণ কতটা অন্যায্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চতুর ছিল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আর যে বিশ্বাসের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে তা কতটা পবিত্র তাতেও কিছু আসে যায় না, '''আমি বাকস্বাধীনতা রক্ষা করব। আর কেন? কারণ কোনো আক্রমণের জবাব শক্তি প্রয়োগ করে দেওয়া যায় না, কোনো যুক্তিকে আঘাত, কারাবাস বা জরিমানার মাধ্যমে খণ্ডন করা যায় না। আপনি মানুষটিকে বন্দি করতে পারেন, কিন্তু যুক্তি মুক্ত; আপনি মানুষটিকে মাটিতে ফেলে দিতে পারেন, কিন্তু তার বক্তব্য টিকে থাকে।'''
* এই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু বিশ্বাসকে আক্রমণ করেছে, যা খ্রিষ্টান বিশ্ব পবিত্র বলে মনে করে। তবুও, সর্বোপরি, '''সত্য ছাড়া আর কিছুই পবিত্র নয়, এবং সত্য বলতে আমি বুঝি একজন মানুষ যা আন্তরিক ও সততার সাথে বিশ্বাস করে।'''
* '''পৃথিবীতে বা মানুষের কল্পনায় এমন কোনো নিখুঁত চিত্র নেই, যেখানে একজন মা তার রোমাঞ্চিত ও আনন্দিত কোলে ভালোবাসার ফলস্বরূপ একটি সন্তানকে জড়িয়ে ধরে আছেন।'''
* কল্পনা, বসন্তের আবহের মতো, পৃথিবীর প্রতিটি বীজকে স্বর্গের নীলিমা খোঁজার আহ্বান জানায় এবং মুকুল, ফুল ও ফলের ফিসফিসানি শোনায়। '''কল্পনা চিন্তার প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে রসদ সংগ্রহ করে এবং অনেক জীবনের সম্পদ একজনের কোলে ঢেলে দেয়।'''
* সর্বোপরি, '''সহানুভূতি হলো প্রতিভা। যে মানুষটি সত্যিই অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল, সে তাকে বুঝতে পারে। যে মানুষ কোনো ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল, সে তাৎক্ষণিকভাবে তার ভেতরের ভালো দিকটি দেখতে পায়, এবং যে মানুষ সত্যের প্রতি সহানুভূতিশীল, সে একটি মতবাদের ভেতরে থাকা মন্দ দিকটি দেখতে পায়।'''
* '''মানুষের অধিকার সংরক্ষণের জন্য, মানুষের সুরক্ষার জন্য তৈরি কোনো আইন চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার জন্য বেশি দিন ঘুমিয়ে থাকতে পারে না। কিন্তু যে আইন মানুষের কোনো স্বাভাবিক অধিকার কেড়ে নেয়, সেই আইন যদি ঘুমিয়ে পড়ে তবে তা আর জাগে না, তা মৃত্যুর ঘুমে ঘুমিয়ে থাকে।'''
* যখন কোনো আইন ব্যক্তিগত অধিকারে হস্তক্ষেপ করে, তখন রাষ্ট্রের কখনোই একে নিষ্ক্রিয় হতে দেওয়া উচিত নয়। যখন এটি বৃহত্তর জনসাধারণের অধিকারকে আক্রমণ করে এবং একে সুপ্ত অবস্থায় চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তখন কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে একে আর জাগানো যায় না।
* যাইহোক, এটুকু বলাই যথেষ্ট হতে পারে যে, যেখানেই গির্জার ক্ষমতা ছিল, সেখানেই যেকোনো মানুষের জন্য তার সৎ চিন্তা প্রকাশ করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। কোনো গির্জাই কখনো চায়নি যে কোনো বিরোধী তার মনের কথা প্রকাশ করুক। ক্ষমতায় থাকা প্রতিটি গির্জাই তাদের মতবাদ টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে পাশবিক শক্তি বা তলোয়ারের আশ্রয় নিয়েছে। কারোরই খোলা মাঠে দাঁড়ানোর সাহস ছিল না। গির্জা কেবল নাস্তিক ও অবিশ্বাসীদের ঈশ্বরনিন্দুক বলেই সন্তুষ্ট হয়নি। প্রতিটি গির্জাই প্রায় অন্যান্য সব গির্জাকে ঈশ্বরনিন্দুক হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। প্রতিটি পথপ্রদর্শককে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যাথলিকরা [[মার্টিন লুথার]]কে ঈশ্বরনিন্দুক বলেছিল, এবং মার্টিন লুথার [[কোপার্নিকাস]]কে ঈশ্বরনিন্দুক বলেছিলেন। ধার্মিক অজ্ঞতা সবসময় বুদ্ধিমত্তাকে এক ধরনের ঈশ্বরনিন্দা হিসেবে বিবেচনা করে। বিশ্বের সেরা কয়েকজন মানুষ, সেরা কয়েকজনকে ঈশ্বরনিন্দার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, অর্থাৎ, তাদের সহকর্মী মানুষের উপকার করার চেষ্টার অপরাধে।
* যতদিন গির্জার মানুষের মুখ বন্ধ করার ক্ষমতা থাকবে, ততদিনই এই বিশ্বকে কুসংস্কার শাসন করবে, এর বেশি নয়।
* '''ঈশ্বরনিন্দা হলো সেই শব্দ যা সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের কানে ফিসফিস করে বলে।'''
* '''ঈশ্বরনিন্দা হলো একটি নতুন আবিষ্কৃত সত্য সম্পর্কে একটি পুরনো ভুলের মন্তব্য।''' <br> ঈশ্বরনিন্দা হলো এই বছরের মুকুল সম্পর্কে গত বছরের একটি শুকনো পাতার মন্তব্য। <br> '''ঈশ্বরনিন্দা হলো ধর্মীয় কুসংস্কারের প্রাচীর।''' <br> ঈশ্বরনিন্দা হলো হৃদয়হীনদের বর্ম। <br> এবং এখন আমাকে বলতে দিন যে, এই আইনে ঈশ্বরনিন্দার অপরাধ যেমন উল্লেখ করা হয়েছে তা অসম্ভব। '''কোনো মানুষ একটি বইয়ের ঈশ্বরনিন্দা করতে পারে না। কোনো মানুষ তার সৎ চিন্তার কথা বলে ঈশ্বরনিন্দা করতে পারে না। কোনো মানুষ ঈশ্বর, বা পবিত্র আত্মা, বা ঈশ্বরের পুত্রের ঈশ্বরনিন্দা করতে পারে না। অসীমের ঈশ্বরনিন্দা করা যায় না।'''
* ঈশ্বরনিন্দা কী? আমি আপনাকে একটি সংজ্ঞা দেব; আমি এই বিষয়ে আমার চিন্তা তুলে ধরব। '''প্রকৃত ঈশ্বরনিন্দা কী? <br> অন্য মানুষের অবৈতনিক শ্রমের ওপর বেঁচে থাকা ঈশ্বরনিন্দা। <br> আপনার সহকর্মীকে দাস বানানো, তার শরীরে শিকল পরানো ঈশ্বরনিন্দা। <br> মানুষের মনকে দাস বানানো, মগজে হাতকড়া পরানো, ঠোঁটে তালা লাগানো ঈশ্বরনিন্দা। <br> আপনি যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন তা অস্বীকার করা, যাকে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করেন তা সত্য বলে স্বীকার করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> অজ্ঞ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনতার হাততালি পাওয়ার জন্য দুর্বল ও অরক্ষিতদের আঘাত করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> অজ্ঞ সংখ্যাগরিষ্ঠের নির্দেশে বুদ্ধিমান সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> আপনার সৎ সহকর্মীদের জন্য শিকল তৈরি করা, অন্ধকূপ নির্মাণ করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> চিরন্তন যন্ত্রণার মতবাদ দিয়ে শিশুদের আত্মাকে দূষিত করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> আপনার বিবেক লঙ্ঘন করা ঈশ্বরনিন্দা। <br> যে জুরি অন্যায় রায় দেয়, এবং যে বিচারক অন্যায় শাস্তি ঘোষণা করে, তারা ঈশ্বরনিন্দুক। <br> যে ব্যক্তি তার ভালো বিচারবোধ এবং সৎ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে জনমতের কাছে মাথানত করে, সে ঈশ্বরনিন্দুক।''' <br> আমাদের সহকর্মীদের কেন ভয় পাওয়া উচিত? চিন্তা ও তার প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের কেন সমগ্র বিশ্বের সমান অধিকার থাকবে না? চিন্তার সৎ আদান-প্রদান থেকে কী ক্ষতি হতে পারে?
* আমি আপনাকে ঈশ্বরনিন্দার সংজ্ঞা দিয়েছি, আর এখন প্রশ্ন ওঠে, উপাসনা কী? '''উপাসক কে? প্রার্থনা কী? প্রকৃত ধর্ম কী? আমাকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে দিন। <br> ভালো, সৎ ও বিশ্বস্ত কাজই হলো উপাসনা।''' যে মানুষ মাঠে লাঙল চাষ করে ও বন কাটে; যে মানুষ খনিতে কাজ করে, যে মানুষ বিশাল সমুদ্রে বাতাস ও ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে বিশ্বের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে; এই মানুষেরা উপাসক। যে মানুষ তার স্ত্রীকে হাত ধরে বনে নিয়ে যায়, যে তার জন্য একটি কুঁড়েঘর বানায়, যে প্রান্তরে একটি বাড়ি তৈরি করে, যে একটি মহাদেশকে জনবহুল, সভ্য ও আবাদ করতে সাহায্য করে, সে একজন উপাসক। <br> '''শ্রমই একমাত্র প্রার্থনা যার উত্তর প্রকৃতি দেয়; এটিই একমাত্র প্রার্থনা যা উত্তরের যোগ্য ভালো, সৎ, মহৎ কাজ।''' যে নারীর স্বামী নর্দমায় নেমে গেছে, অবক্ষয় ও নোংরামিতে নেমে গেছে; যে নারী তাকে অনুসরণ করে এবং কাদা থেকে তুলে এনে তার মহৎ হৃদয়ে জড়িয়ে ধরে, যতক্ষণ না সে পুনরায় মানুষ হয়, এই নারী একজন উপাসক। তার কাজই উপাসনা। <br> যে গরিব মানুষ ও নারী দিনরাত কাজ করে যেন তারা তাদের সন্তানদের শিক্ষা দিতে পারে, যাতে তারা তাদের বাবা-মায়ের চেয়ে ভালো জীবন পায়; যে বাবা-মা জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য থেকে নিজেদের বঞ্চিত করে যেন তারা তাদের সন্তানদের উচ্চতর স্থানে যেতে সাহায্য করার জন্য কিছু জমাতে পারে তারা উপাসক; এবং যে সন্তানরা এই উপাসনার সুফল ভোগ করার পর তাদের বাবা-মায়ের জন্য লজ্জিত হয়, তারা ঈশ্বরনিন্দুক। <br> '''যে মানুষটি তার অসুস্থ স্ত্রীর বিছানার পাশে বসে থাকে, যে স্ত্রী সময়ের আগেই বৃদ্ধ ও ধূসর হয়ে গেছে, যে স্বামী তার বিছানার পাশে বসে তার পাতলা, ফ্যাকাশে হাতটি ঠিক ততটাই স্নেহের সাথে ধরে রাখে এবং ততটাই আনন্দে ও আবেগের সাথে চুম্বন করে যতটা টোলপড়া অবস্থায় করত সেটাই উপাসনা; সেই মানুষটি একজন উপাসক; সেটাই প্রকৃত ধর্ম।'''
* '''যে মানুষের [[আনন্দ]] বাড়ায়, সে একজন উপাসক। যে মানুষের [[দুর্দশা]] বাড়ায়, সে একজন ঈশ্বরনিন্দুক।'''
* '''ভদ্রমহোদয়গণ, আপনারা আমাকে কখনোই বিশ্বাস করাতে পারবেন না কোনো আইনই আমাকে কখনো বোঝাতে পারবে না যে, এই মহাবিশ্বে এমন কোনো অসীম সত্তা আছে যে একজন সৎ মানুষকে ঘৃণা করে। আমার পক্ষে এটি বিশ্বাস করা অসম্ভব যে এমন কোনো ঈশ্বর আছে, বা থাকতে পারে, যে এমন কোনো আত্মাকে ঘৃণা করে যার নিজের চিন্তা প্রকাশ করার সাহস আছে।''' কোনো মানুষের প্রতি সৎ হওয়ার জন্য তাকে এই পৃথিবীতে বা পরকালে শাস্তি দেওয়া উচিত, এই কথাটিও পুরো বিশ্ব আমাকে বোঝাতে পারবে না। '''যদি আপনারা মানুষদের তাদের চিন্তা প্রকাশ করার জন্য, তাদের সঙ্গীদের আলোকিত করার চেষ্টার জন্য কারাগারে পাঠান, তবে কারাগার একটি সম্মানের জায়গা হয়ে উঠবে, এবং শিকার সেখান থেকে দাগী বা কলঙ্কিত হয়ে নয়, বরং গৌরবের পোশাকে আচ্ছাদিত হয়ে বেরিয়ে আসবে।''' <br> আসুন আমরা আরও এক ধাপ এগোই। <br> '''পবিত্র কী? আমি উত্তর দিই যে মানুষের সুখ পবিত্র, মানুষের অধিকার পবিত্র। মানুষের শরীর ও আত্মা এগুলো পবিত্র। মানুষের স্বাধীনতা যেকোনো বইয়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ; মানুষের অধিকার যেকোনো ধর্মের চেয়ে পবিত্র যেকোনো ধর্মগ্রন্থের চেয়ে, তা অনুপ্রাণিত হোক বা না হোক।''' <br> আমরা সত্য চাই, এবং কেউ কি মনে করে যে সমস্ত সত্য একটি বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ পুরো বিশ্বের রহস্য একটি খণ্ডে ব্যাখ্যা করা হয়েছে? <br> যা কিছু আছে যা মানুষকে তথ্য দেয় যা অতীত দ্বারা উৎপাদিত হয়েছে যা এখন বিদ্যমান সবকিছু একজন বুদ্ধিমান মানুষের বিবেচনা করা উচিত। এই বিশ্বের সমস্ত জানা সত্য সমস্ত দর্শন, সমস্ত কবিতা, সমস্ত চিত্রকর্ম, সমস্ত মূর্তি, সমস্ত চিত্তাকর্ষক সংগীত শিশুদের আধো বোল, মায়েদের ঘুমপাড়ানি গান, সৎ মানুষের কথা, কর্তব্যের ডাক এসব মিলিয়ে বিশ্বের বাইবেল তৈরি করে। যা কিছু মহৎ, সত্য এবং মুক্ত, আপনি এই মহান বইটিতে পাবেন। <br> '''যদি আমরা নিজেদের প্রতি সত্য হতে চাই, যদি আমরা আমাদের সহকর্মী মানুষের উপকার করতে চাই যদি আমরা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে চাই তবে আমরা প্রতিটি মানুষকে সেই সমস্ত অধিকার দেব যা আমরা নিজেদের জন্য দাবি করি।'''
* '''যে গির্জা কোনো মানুষকে কেবল এই কারণে কারাবন্দি করে যে সে এর মতবাদের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছে, তা বিশ্বকে কেবল এটাই বোঝাবে যে তারা সেই যুক্তির উত্তর দিতে পারে না।'''
* '''চোখের কাছে যেমন আলো, হৃদয়ের কাছে যেমন ভালোবাসা, মানুষের আত্মার কাছে স্বাধীনতা ঠিক তেমনই। এটি ছাড়া দমবন্ধ অবস্থা, অবক্ষয় এবং মৃত্যু নেমে আসে।'''
* '''স্বাধীনতা হলো অগ্রগতির শর্ত। স্বাধীনতা ছাড়া কেবল অসভ্যতাই অবশিষ্ট থাকে। স্বাধীনতা ছাড়া কোনো সভ্যতা থাকতে পারে না।''' <br> যদি অন্য কোনো মানুষের চিন্তা করার অধিকার না থাকে, তবে সে ভুল চিন্তা করছে এমনটি ভাবার অধিকারও আপনার নেই। যদি প্রত্যেক মানুষের চিন্তা করার অধিকার না থাকে, তবে নিউ জার্সির জনগণের কোনো আইন তৈরি করার বা কোনো সংবিধান গ্রহণ করার অধিকার ছিল না কোনো জুরির রায় দেওয়ার অধিকার নেই, এবং কোনো আদালতের শাস্তি দেওয়ার অধিকার নেই। <br> অন্য কথায়, চিন্তার স্বাধীনতা ছাড়া কোনো মানুষের বিচার করার অধিকার নেই। '''স্বাধীনতা ছাড়া প্রকৃত ধর্ম বলে কিছু থাকা অসম্ভব। স্বাধীনতা ছাড়া বিবেক বলতে কিছু থাকতে পারে না, ন্যায়বিচার নামের কোনো শব্দ থাকতে পারে না। সমস্ত মানবীয় কাজ ভালো ও মন্দ সবকিছুরই ভিত্তি হলো মানব স্বাধীনতার ধারণা, আর স্বাধীনতা ছাড়া কোনো পাপ থাকতে পারে না, এবং কোনো পুণ্যও থাকতে পারে না। <br> স্বাধীনতা ছাড়া কোনো উপাসনা, কোনো ঈশ্বরনিন্দা কোনো ভালোবাসা, কোনো ঘৃণা, কোনো ন্যায়বিচার, কোনো অগ্রগতি থাকতে পারে না। <br> মানুষের ভাষা থেকে স্বাধীনতা শব্দটি সরিয়ে নিন এবং অন্যান্য সমস্ত শব্দ দরিদ্র, শুষ্ক, অর্থহীন শব্দে পরিণত হবে। কিন্তু সেই শব্দটি উপলব্ধি করলে সেই শব্দটি বুঝতে পারলে বিশ্ব একটি স্বর্গে পরিণত হয়।'''
==='রোম, অর রিজন? আ রিপ্লাই টু কার্ডিনাল ম্যানিং। পার্ট ১। ''দ্য নর্থ আমেরিকান রিভিউ'' (১৮৮৮)===
* সংখ্যাগরিষ্ঠরা সবসময় সঠিক হয় না। যদি কিছু জানা যায় যদি কিছু জানা সম্ভব হয় আমরা নিশ্চিত যে মানুষের বিশাল দল অনেক সময় ভুল করেছে।
* মানবজাতির অগ্রগতিতে সংখ্যালঘুরাই সঠিকের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকেছে। এমন অনেক শতাব্দী ছিল যেখানে মনে হতো আলো কেবল মুষ্টিমেয় মানুষের কাছ থেকে আসছে, যখন বাকি বিশ্ব অন্ধকারে ডুবে ছিল। কোনো এক মহান মানুষ পথ দেখান তিনি হয়ে ওঠেন ভোরের তারা, আগত দিনের নবী। পরবর্তীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ তার দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। কিন্তু এর ওপরে এবং বাইরে আরও উচ্চতা রয়েছে; সেখানে অন্যান্য পথপ্রদর্শক রয়েছেন, এবং নতুনের তুলনায় পুরনো দিন রাতে পরিণত হয়। তাই আমরা বলতে পারি না যে সাফল্য ঐশ্বরিক উৎস বা অতিপ্রাকৃত সহায়তা প্রমাণ করে।
* যাইহোক, বাস্তবে কোনো গির্জাই সবকিছু তার বিপক্ষে রেখে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। কিছু একটা এর অনুকূলে থাকে, নয়তো এর অস্তিত্ব থাকত না। যদি এটি সফল হয় এবং বৃদ্ধি পায়, তবে এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে পরিস্থিতি অনুকূল। যদি এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তবে এটি কেবল এটাই দেখায় যে পরিস্থিতি অত্যন্ত অনুকূল, এবং বিরোধী শক্তিগুলো দুর্বল ও সহজে পরাজিত হওয়ার মতো।
* সম্ভবত এটি বলা নিরাপদ যে এক সময়, বা মানুষের বিকাশের একটি পর্যায়ে, সবকিছুই অলৌকিক ছিল। কিছুক্ষণ পর, মন ধীরে ধীরে বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে একই পরিস্থিতিতে ঘটা নির্দিষ্ট কিছু ঘটনাকে 'প্রাকৃতিক' বলা হতো, এবং কেউ কোনো বিশেষ হস্তক্ষেপ সন্দেহ করত না। অলৌকিকতার ক্ষেত্র ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে আর প্রাকৃতিকের ক্ষেত্র বড় হয়; অর্থাৎ, সাধারণ জিনিস প্রাকৃতিক হয়ে যায়, কিন্তু অস্বাভাবিক জিনিসগুলো তখনও অলৌকিক বলে বিবেচিত হতো। সূর্য ওঠা এবং অস্ত যাওয়া মানুষের বিস্ময় জাগানো বন্ধ করে দেয় এতে অলৌকিক কিছু ছিল না; কিন্তু সূর্যগ্রহণ ছিল অলৌকিক। মানুষ তখন জানত না যে গ্রহণ পর্যায়ক্রমিক, সূর্য ওঠার মতোই নির্দিষ্ট নিয়মে এটি ঘটে। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে অনেক প্রজন্মের বহু পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়েছিল। সাধারণ বৃষ্টি 'প্রাকৃতিক' হয়ে ওঠে, বন্যা 'অলৌকিক' থেকে যায়। '''তবে সবকিছু এই কথায় সংক্ষেপ করা যায়: সাধারণ মানুষ যা সচরাচর ঘটে তাকে প্রাকৃতিক এবং যা সচরাচর ঘটে না তাকে অতিপ্রাকৃত মনে করে। শিক্ষিত মানুষ আর শিক্ষিত বলতে আমি উন্নত মানুষকে বুঝি সে নিশ্চিত যে সমস্ত ঘটনাই প্রাকৃতিক, এবং অতিপ্রাকৃত বলে কিছু নেই বা থাকতে পারে না।'''
* সাধারণত, একজন মানুষ কতটা অহংকারী তা তার বুদ্ধিমত্তার অভাবের ওপর নির্ভর করে। জাতি এবং সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। '''অসভ্য মানুষ এতটাই অহংকারী হয় যে সে মনে করে কোনো অসীম সত্তা সারাক্ষণ তার জন্য কিছু করছে বা কিছু করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কিন্তু মানুষ যখন সভ্যতার মাপকাঠিতে ওপরে ওঠে, যখন সে সত্যিই মহান হয়, তখন সে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে প্রকৃতিতে কোনো কিছুই তার জন্য ঘটে না। সে এতটাই মহান নয় যে গ্রহের গতিবিধি ব্যাহত করতে পারে।'''
* ক্যাথলিক গির্জার সাফল্য কি একটি বিস্ময়? যদি এই গির্জার ঐশ্বরিক উৎস থাকে, যদি এটি কোনো অসীম সত্তার বিশেষ যত্ন, সুরক্ষা এবং নির্দেশনায় থাকে, তবে কি এর সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাই বেশি বিস্ময়কর নয়? আঠারো শতাব্দী ধরে এটি নির্যাতন ও ধর্মপ্রচার করেছে, কিন্তু পৃথিবীর মুক্তি এখনও অনেক দূরে। এটাই হলো ফলাফল, এবং এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে ক্যাথলিক ধর্মে বিশ্বকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করার কোনো মূল্য আছে কি না।
* বাইবেল অনুযায়ী, প্রেরিতদের সমগ্র বিশ্বে গিয়ে সুসমাচার প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবুও তাদের কেউ, বা তাদের ধর্মান্তরিতদের কেউ, বা ঈশ্বরের কোনো প্রতিনিধিও পনেরোশো বছর পর্যন্ত পশ্চিম গোলার্ধের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানত না।
* হাজার হাজার 'সন্ত' মানবজাতির সবচেয়ে বিদ্বেষপূর্ণ মানুষ ছিলেন। বিশ্বের ইতিহাস যদি কিছু প্রমাণ করে, তবে তা প্রমাণ করে যে ক্যাথলিক গির্জা বহু শতাব্দী ধরে মানবজাতির মধ্যে বিদ্যমান সবচেয়ে নির্দয় প্রতিষ্ঠান ছিল।
* ক্যাথলিক ধর্মের বিরুদ্ধে আমার কোনো প্রোটেস্ট্যান্ট কুসংস্কার নেই, আর প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মের বিরুদ্ধেও আমার কোনো ক্যাথলিক কুসংস্কার নেই। আমি সব ধর্মকে হয় কোনো কুসংস্কার ছাড়াই অথবা একই কুসংস্কার নিয়ে বিবেচনা করি। '''আমার বিশ্বাস অনুযায়ী, এগুলো সবই মানুষের তৈরি, এবং সবগুলোরই ভিত্তি হলো এই বিশ্ব সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং পরকাল সম্পর্কে ভয়।''' সমস্ত ঈশ্বর মানুষেরই তৈরি। '''তারা সবাই সমান শক্তিশালী এবং সমান অকেজো।'''
* * এই গির্জা, যা 'সব ভালো জিনিসে ফলপ্রসূ', এমন সব অপরাধ আবিষ্কার করেছে যেন তারা শাস্তি দিতে পারে। এই গির্জা মানুষকে 'ধর্মদ্রোহিতার সন্দেহে' বিচার করেছে সন্দেহভাজন হওয়ার অপরাধে তাদের কারাবন্দি করেছে পৃথিবীতে তাদের যা কিছু ছিল সব কেড়ে নিয়ে অন্ধকূপে পচতে দিয়েছে, কারণ তারা কেবল সন্দেহভাজন হওয়ার অপরাধে দোষী ছিল। এটি ক্যানন লয়ের একটি অংশ ছিল। ক্যাথলিক গির্জার 'অজেয় স্থিতিশীলতা' নিয়ে কথা বলার সময় পার হয়ে গেছে।
* '''মানুষ নিশ্চিত হয়েছিল অজ্ঞ, বোকা এবং বিশ্বাসপ্রবণ হওয়ায় যে গির্জাই স্বর্গ ও নরকের চাবি ধারণ করে। মানুষের মধ্যে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়ংকর মানসিক স্বৈরাচারের ভিত্তি এভাবেই রচিত হয়েছিল।''' '''ক্যাথলিক গির্জা তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত মানুষকে দাসে পরিণত করেছিল।''' এটি সম্ভাব্য সব ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিল; এটি মানব হৃদয়ের প্রতিটি ভালো প্রবৃত্তি বিকৃত করেছিল; এটি প্রতিটি পাপকে পুরস্কৃত করেছিল; ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর জন্য এটি এমন কোনো চাতুরী বাদ দেয়নি যা চতুরতা দিয়ে উদ্ভাবন করা সম্ভব। এটি অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন করত; সাক্ষীদের মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার জন্য নির্যাতন করত; সন্তানদের দিয়ে বাবা-মাকে দোষী সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে শিশুদের নির্যাতন করত; এটি মানুষকে তাদের নিজস্ব নির্দোষতা প্রমাণ করতে বাধ্য করত; এটি সীমাহীন কারাবাস দিত; এটি অপেক্ষা করার মতো বিদ্বেষপূর্ণ ধৈর্য রাখত; এটি অভিযুক্তদের বিচার ছাড়াই ফেলে রাখত, এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের অন্ধকূপেই রেখে দিত। '''এমন কোনো অপরাধ নেই যা ক্যাথলিক গির্জা করেনি, এমন কোনো নিষ্ঠুরতা নেই যা তারা চর্চা করেনি, এমন কোনো বিশ্বাসঘাতকতা নেই যা তারা পুরস্কৃত করেনি, এবং এমন কোনো পুণ্য নেই যাকে তারা নির্যাতন করেনি। এটি ছিল মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী শত্রু। মানুষের সন্তানদের দাস বানানোর জন্য সংগঠন, চাতুর্য, ধার্মিকতা, আত্মত্যাগ, বীরত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, ধর্মান্ধতা এবং পাশবিক শক্তি যা কিছু করতে পারে, তার সবই এটি করেছে। এটি ছিল বুদ্ধিমত্তার শত্রু, স্বাধীনতার আততায়ী এবং অগ্রগতির ধ্বংসকারী।'''
* তবুও, আমি স্বীকার করি যে সবচেয়ে কুখ্যাত পোপ, সবচেয়ে হৃদয়হীন ও পৈশাচিক বিশপ, সন্ন্যাসী এবং যাজকরাও দয়া, দান ও ন্যায়ের আদর্শ ছিলেন যখন তাদের অর্থোডক্স ঈশ্বরের সাথে তাদের উপাস্য ঈশ্বরের সাথে তুলনা করা হয়। এই পোপরা, এই বিশপরা, এই যাজকরা কেবল কয়েক বছরের জন্য নির্যাতন করতে পারতেন তারা কেবল কয়েক মুহূর্তের জন্য পোড়াতে পারতেন কিন্তু তাদের ঈশ্বর চিরকাল বন্দি রাখার এবং পোড়ানোর হুমকি দিয়েছেন; এবং ইনকুইজিশনের চেয়ে নরক যেমন খারাপ, ঠিক তেমনি তারাও যত খারাপ ছিলেন, তাদের ঈশ্বর তার চেয়েও বেশি খারাপ।
* খ্রিষ্টের 'প্রায় দুইশো আটান্নজন' প্রতিনিধির মধ্যে সম্ভবত কিছু ভালো মানুষ ছিলেন। '''এমনকি সব খারাপ মানুষ বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য থাকলেও এমনটি ঘটত, কারণ মানুষ ভালো বা মন্দ কোনোটাতেই নিখুঁত হতে পারে না'''; কিন্তু যদি তাদের স্বয়ং খ্রিষ্ট বেছে নিয়ে থাকেন, যদি তাদের এমন একটি গির্জা বেছে নিয়ে থাকে যার ঐশ্বরিক উৎপত্তি এবং ঐশ্বরিক নির্দেশনা রয়েছে, তবে একজন খারাপ লোক নির্বাচনের কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। যদি একজন ভণ্ড ব্যক্তি যথাযথভাবে পোপ নির্বাচিত হন একজন খুনি, একজন শ্বাসরোধকারী, একজন অনাহারকারী তবে এটি প্রমাণ করে যে সমস্ত পোপ কেবল মানুষের দ্বারাই নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ঐশ্বরিক নির্দেশনার দাবি কেবল ধর্মান্ধতা থেকে জন্ম নিয়েছে এবং অজ্ঞতা থেকে উচ্চারিত হয়েছে।
* দুটি জিনিস একই মহাবিশ্বে অস্তিত্ব রাখতে পারে না একজন অসীম ঈশ্বর এবং একজন শহীদ।
* "যে কেউ মুক্তি পেতে চায়, তাকে সবার আগে ক্যাথলিক বিশ্বাস ধারণ করতে হবে।" সবার আগে তার ভালো, সৎ, দয়ালু, দানশীল এবং ন্যায়পরায়ণ হওয়া জরুরি নয়। আচরণের চেয়ে মতবাদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার ক্যাথলিক বিশ্বাস ধারণ করা। হাজার হাজার বছর ছিল যখন সেই বিশ্বাস ধারণ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ তখন সেই বিশ্বাসের কোনো অস্তিত্বই ছিল না; তবুও সেই সময়টিতে পুণ্য এখনকার মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সবসময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে ঠিক ততটাই। '''মানবজাতির সবচেয়ে মহৎ লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মতবাদের কথা কখনোই শোনেনি। লাখ লাখ সাহসী এবং সেরা মানুষ এটি শুনেছেন, পরীক্ষা করেছেন এবং প্রত্যাখ্যান করেছেন।''' লাখ লাখ সবচেয়ে কুখ্যাত ব্যক্তি এটি বিশ্বাস করেছেন, এবং তাদের বিশ্বাসের কারণে, বা তাদের বিশ্বাস সত্ত্বেও, তারা লাখ লাখ সহকর্মীকে হত্যা করেছেন। '''আমরা জানি মানুষ এই বিশ্বাস নিয়েও ততটাই দুষ্ট হতে পারে, আছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, যতটা এটি ছাড়াও হতে পারে।'''
===ইজ ডিভোর্স রং? (১৮৮৯)===
* পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশই সমাধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, এবং জীবিতরা মৃতদের দ্বারা নির্যাতিত হয়। পুরোনো ধ্যান-ধারণাগুলো যে পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল তা অনেক আগেই পার হয়ে যাওয়ার পরও প্রায়শই টিকে থাকার চেষ্টা করে। অনেকেই প্রাচীনকে উপাসনা করতে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা জিজ্ঞাসা না করে এবং নিজেরা ঠিক কোথায় যেতে চায় তা না জেনেই পুরোনো পথ অনুসরণ করতে আগ্রহী।
* '''নিউ টেস্টামেন্টে প্রেরিতদের পরিবার সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি; পারিবারিক জীবন, বাড়ির পবিত্রতা সম্পর্কে কিছুই নেই; শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, মনের উন্নতি এবং বিকাশ সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।''' এই জিনিসগুলো ভুলে যাওয়া হয়েছিল, কারণ প্রত্যাশিত ঘটনার উপস্থিতিতে সন অব ম্যান কখন আসবে তার জন্য প্রস্তুত থাকা ছাড়া আর কোনো কিছুকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়নি। অনুভূতি এমনই ছিল যে খ্রিষ্ট স্বয়ং তাদের পুরস্কৃত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যারা তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের ত্যাগ করবে। মানুষের ভালোবাসার কথা অবজ্ঞার সাথে বলা হয়েছিল। "মৃতদের তাদের মৃতদের দাফন করতে দাও। এতে তোমার কী? তুমি আমাকে অনুসরণ করো।" তারা কেবল এসব বিশ্বাসই করেনি, সে অনুযায়ী কাজও করেছিল; এবং ফলস্বরূপ, জীবনের সমস্ত সম্পর্ক অস্বীকার বা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো উপেক্ষিত হয়েছিল।
* যাজক বিবাহিত পুরুষটিকে বলেছিলেন: "মনে রেখো তুমি আজীবনের জন্য আটকা পড়েছ। এই দরজা কেবল একবার খোলে। দাম্পত্যের এই গুহার সামনে পায়ের ছাপগুলো কেবল একমুখী।" এটি ছিল বিবাহ করার জন্য এক ধরনের শাস্তি। ধর্মতাত্ত্বিকরা অনুভব করতেন যে বিবাহের চুক্তি, ঈশ্বরের আদেশের পরিপন্থী না হলেও অন্তত তার উপদেশের পরিপন্থী ছিল এবং ন্যায়ের খাতিরে বিবাহিতদের কোনো না কোনোভাবে কষ্ট ভোগ করা উচিত। বিবাহবিচ্ছেদ হতে পারে না, একটি ভুল সংশোধন করা যেতে পারে না এই বাস্তবতাকে সতর্কবাণী হিসেবে তুলে ধরা হতো। প্রতিটি বিয়ের আসরে এই কঙ্কালটি তার মাংসহীন আঙুল দিয়ে বর-কনের দিকে নির্দেশ করত।
* '''বিবাহ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে পবিত্র চুক্তি যা মানুষ করতে পারে। আমরা এটিকে কোনো চুক্তি, বা ধর্মানুষ্ঠান, বা উভয়ই বলি না কেন, এটি ঠিক একই থাকে। এবং এই চুক্তিটি কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা যাজকের সামনে করা হোক না কেন, তা একেবারেই সমান।'''
* পৃথিবীতে কি ঘৃণা বা বিরক্তির সন্তান, কামনা ও ঘৃণার সন্তান থাকা উচিত, নাকি পারস্পরিক ভালোবাসার কাঙ্ক্ষিত শিশু থাকা উচিত? এমন কি সম্ভব যে একজন অসীম জ্ঞানী এবং দয়ালু ঈশ্বর জোর দিয়ে বলেন যে একজন অসহায় নারীকে একজন নিষ্ঠুর পাষণ্ডের স্ত্রী হিসেবেই থাকতে হবে? এটি কি স্বর্গের আনন্দ বাড়াতে পারে, বা কোনো বীণাকে সুরে রাখতে সাহায্য করতে পারে?
* '''বিয়েগুলো পুরুষ ও নারী দ্বারা সম্পন্ন হয়; সমাজ দ্বারা নয়; রাষ্ট্র দ্বারা নয়; গির্জা দ্বারা নয়; অতিপ্রাকৃত সত্তাদের দ্বারা নয়।''' এতদিনে আমাদের জানা উচিত যে এমন কোনো কিছুই নৈতিক নয় যা সংবেদনশীল প্রাণীদের কল্যাণের দিকে পরিচালিত করে না; এমন কোনো কিছুই পুণ্য নয় যার ফলাফল ভালো নয়। '''আমরা এখন জানি, যদি আমরা কিছু জেনে থাকি, তবে সঠিক কাজ করার সমস্ত কারণ এবং ভুল কাজের বিরুদ্ধে সমস্ত কারণ এই পৃথিবীতেই রয়েছে।'''
* আমার কাছে, আমাদের ভাষার সবচেয়ে কোমল শব্দ, আমাদের জ্ঞানের মধ্যে সবচেয়ে মর্মস্পর্শী সত্য হলো মাতৃত্ব। '''এই পবিত্র শব্দের চারপাশে মানবজাতির আনন্দ ও দুঃখ, যন্ত্রণা এবং পরমানন্দ জড়িয়ে আছে। মা মৃত্যুর ছায়ায় হাঁটেন যেন তিনি আরেকটি জীবন দিতে পারেন।''' ভালোবাসার বেদিতে তিনি নিজের জীবন বন্ধক রাখেন। পৃথিবী যখন সভ্য হবে, কোনো স্ত্রী তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মা হবেন না।
=== আ ক্রিসমাস সারমন (১৮৯০) ===
* অর্থোডক্স মতবাদ অনুযায়ী, খ্রিষ্টধর্ম এই বার্তা নিয়ে এসেছিল যে মানবজাতি সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত, সমস্ত মানুষ বিপথগামী, এবং যারা এই নতুন ধর্ম গ্রহণ করতে বা বিশ্বাস করতে ব্যর্থ হবে, তারা অনন্ত আগুনে যন্ত্রণায় ভুগবে। এগুলো "মহা আনন্দের খবর" ছিল না। কোনো বিশাল জাহাজের যাত্রীদের যদি বলা হতো যে জাহাজটি ডুবতে চলেছে, কয়েকজন বাঁচবে এবং প্রায় সবাই তলিয়ে যাবে, তবে কি তারা এটাকে "মহা আনন্দের খবর" বলত?
* যখনই কোনো অর্থোডক্স সম্পাদক কোনো অবিশ্বাসীকে আক্রমণ করেন, তখন দয়া, দানশীলতা এবং ভালোবাসার অভাব দেখা যায়।
* '''অনন্ত শাস্তির মতবাদ হলো সমস্ত কলঙ্কের সেরা কলঙ্ক। আমি যেমন প্রায়ই বলেছি, যে মানুষ অনন্ত যন্ত্রণায়, অন্তহীন ব্যথার ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করে, সে অন্তত দুটি রোগে ভুগছে হৃদয়ের প্রস্তরীভবন এবং মস্তিষ্কের পচন।'''
* যদি এই মতবাদ সত্য হয়, তবে ঈশ্বর কখনোই নরক থেকে কোনো আত্মাকে মুক্তি দেবেন না ক্ষমার ক্ষমতা কখনোই প্রয়োগ করা হবে না। ঈশ্বর কতটা খুশি হবেন এবং বেঁচে যাওয়া সকলে কতটা খুশি হবেন, যখন তারা জানবেন যে কোটি কোটি সন্তান, তাদের বাবা, মা, ভাই, বোন, স্ত্রী এবং সন্তানরা অনন্ত অন্ধকূপে বন্দি রয়েছে, এবং ক্ষমার বাক্য কখনোই উচ্চারিত হবে না!
* '''ডাক্তারের ব্যক্তিগত আক্রমণের ব্যাপারে আমার কী বলার আছে? কিছুই না। একজন মানুষ আমাকে শয়তান বলতে পারে, বা শয়তান বলে ডাকতে পারে, অথবা সে বলতে পারে যে আমি সত্যি বলতে অক্ষম, বা আমি মিথ্যা বলি, তবুও এতে কিছুই প্রমাণ হয় না। আমার যুক্তিগুলো অকাট্য রয়ে যায়। আমি ডক্টর বাকলিকে গালিগালাজ করতে পারি না, আমার ভালো মানসিক আচরণ আছে। আমি যে আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করি তা কোনো অজ্ঞ বা বিদ্বেষপূর্ণ ব্যক্তির দ্বারা কলঙ্কিত হওয়ার মতো নয়, এটি অনেক মহান, অনেক পবিত্র।'''
* একজন যাজক আমাকে বলেন যে আমি নরকে যাচ্ছি আমি চিরকাল শাস্তি পেতে বাধ্য এবং এরপর আমি তাকে বলি: "কোনো নরক নেই আপনি ভুল করছেন; আপনার বাইবেল অনুপ্রাণিত নয়; কোনো মানুষ চিরকাল যন্ত্রণা ভোগ করবে না;" এবং এরপর, '''আহত দৃষ্টিতে তিনি আমাকে এই প্রশ্নটি করেন: "আপনি আমাকে আঘাত দিয়ে কথা বলছেন কেন?"''' এটি তার মনেই আসে না যে আমাকে অনন্ত দুঃখের শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের আপত্তি জানানোর আমার বিন্দুমাত্র অধিকার রয়েছে।
* বিন্দুমাত্র কল্পনাশক্তি থাকা যে কারো পক্ষেই বুঝতে পারা খুব সহজ যে অন্যরা তার থেকে কতটা আলাদা। কোনো মানুষের সাথে আমার মতবিরোধ আছে বলেই আমি তাকে কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে দায়ী করি না।
* এই সমস্ত কুসংস্কারের পেছনে আপনি কিছু স্বার্থ দেখতে পাবেন। '''আমি বলছি না যে এটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য, তবে আমি বলছি যে যাজকরা যদি ভেড়ার মাংস পছন্দ না করত, তবে ঈশ্বরের কাছে কখনোই মেষশাবক উৎসর্গ করা হতো না। মন্দিরে এমন কিছুই নেওয়া হতো না যা যাজক ব্যবহার করতে পারত না, এবং সবসময় এমনটাই হতো যে ঈশ্বরের প্রতিনিধিরা যা পছন্দ করত ঈশ্বর সেটাই চাইতেন।''' এখন, আমি বলব না যে সব যাজকই কেবল "রাজস্বের জন্য" যাজক ছিলেন, তবে আমাকে বলতেই হবে যে পৃথিবীর ইতিহাস দেখায় যে যাজক শ্রেণি রাজস্বহীন ধর্মের চেয়ে ধর্মহীন রাজস্ব বেশি পছন্দ করে।
* গির্জা আঠারোশো বছর ধরে মাঠে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এর বেশিরভাগ সময় ধরে এটি বিশ্বের তলোয়ার ও অর্থের থলি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বহু শতাব্দী ধরে এটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুলগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর হাতে সম্পদ ও সম্মান প্রদানের ক্ষমতা ছিল। এই বিশ্ব সম্পর্কিত স্বর্গ ও নরকের অর্থাৎ, সমৃদ্ধি ও দুর্ভাগ্যের চাবি তাদের কাছেই ছিল। এটি শত্রুদের এমনকি কবর পর্যন্ত তাড়া করেছে। এটি সেরা রক্ত দিয়ে ফাঁসির মঞ্চ লাল করেছে এবং বহু শতাব্দী ধরে নির্যাতনের তলোয়ার ভিজিয়ে রেখেছে। এর অন্ধকূপে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। এর অপবাদের কারণে লাখ লাখ মানুষের সম্মান ধ্বংস হয়েছে। এটি লাখ লাখ বিধবা ও এতিম তৈরি করেছে এবং এটি কেবল এই পৃথিবী শাসনই করেনি, বরং এটি অনন্তকালের চাবি ধরে রাখার ভান করেছে, এবং এই ভানের আড়ালে এটি অগণিত লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনন্ত আগুনের শাস্তি দিয়েছে।
* যখন আমরা বিবেচনা করি যে রেভারেন্ড মিস্টার ডিক্সন একজন যাজক এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি জনগণের কাছে একটি ঐশ্বরিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছেন, তখন তিনি নিচের এই দাবিটি করলে আমি অবাক হই না: "ঈশ্বর যদি একটি ঐশ্বরিক বার্তা বলার জন্য বালামের গাধাকে বেছে নিতে পারেন, তবে তিনি কেন কর্নেলকে কাজে লাগাতে পারবেন না তা আমি বুঝতে পারছি না।" কোনো মানুষের পক্ষে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করা এবং নিজের পেশাকে রক্ষা করাটা স্বাভাবিক। '''তবে মিস্টার ডিক্সন মনে রাখবেন যে ঈশ্বরের নবীর চেয়ে গাধাটি অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ ছিল, এবং যুক্তি পুরোপুরি গাধার পক্ষেই ছিল। এবং তাছাড়া, গাধার আধ্যাত্মিক দূরদৃষ্টি নবীর চেয়ে অনেক বেশি ছিল। গাধাই দেবদূতকে দেখেছিল যখন নবীর দৃষ্টি ঝাপসা ছিল।'''
* আমার কাছে এটি সম্ভব বলে মনে হয় না যে কোনো ঈশ্বর মানুষকে এতটাই ভালোবাসেন যে তারা যেন রক্ষা পায় সে জন্য তিনি মৃত্যুবরণ করেন, আর তারা মারা যাওয়ার পরপরই তিনি তার সন্তানদের পরিত্যাগ করেন। আমার কাছে মনে হয় একজন অসীম ঈশ্বর কোনো আত্মা পরকালে পৌঁছানোর পর তার জন্য কিছু করতে পারেন।
* '''গির্জা কখনোই মিষ্টি কথা এবং দাতব্য কাজের মাধ্যমে শত্রুদের তাড়া করার অভ্যাস করেনি। সত্যি কথা বলতে, এটি সবসময়ই নির্দয় ছিল। এটি ক্ষমার কথা প্রচার করেছে, কিন্তু কখনোই ক্ষমা করেনি। খ্রিষ্টান বিশ্বের ইতিহাসে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই যেখানে গির্জা এমন কোনো ব্যক্তির দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে যে তাদের মতবাদের সত্যতা অস্বীকার করেছে। গির্জায় আপস করার কোনো মনোভাব কোনো পরিবেশ নেই। স্বাভাবিক কারণেই এমন কিছু থাকতে পারে না, কারণ গির্জা দাবি করে যে তারা সম্পূর্ণ সঠিক স্বর্গে যাওয়ার একটাই রাস্তা আছে। এটি শর্তহীন আত্মসমর্পণ দাবি করে। এটি কোনো বিরুদ্ধবাদ সহ্য করবে না। এটি পরম সত্য ধারণ করার দাবি করে। এই কারণগুলোতে এটি ধারাবাহিকভাবে আপস করতে পারে না, ঠিক যেমন কোনো গণিতবিদ এমন কারো সাথে একমত হতে গুণের নামতা পরিবর্তন করতে পারেন না যে অস্বীকার করে যে পাঁচ পাঁচে পঁচিশ হয়।'''
* আমার মনে পড়ে না নিউ টেস্টামেন্টে কোনো একটি বিজ্ঞানের কথাও উল্লেখ আছে। যতদূর আমার মনে পড়ে শিক্ষার বিষয়ে একটি শব্দও নেই কোনো বিজ্ঞান সম্পর্কে কিছু নেই, শিল্পকলা সম্পর্কেও কিছু নেই। '''নিউ টেস্টামেন্টের লেখকরা সম্ভবত মনে করেছিলেন যে পৃথিবীর শেষ ঘনিয়ে এসেছে। এই পৃথিবী সম্পূর্ণভাবে পরকালের জন্য উৎসর্গ করা হবে।''' এই জীবনের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার মতো কিছু ছিল না। সব মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য জীবনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
* নৈতিকতার সাথে খ্রিষ্টধর্ম যা কিছু যোগ করেছে তার সবই মূল্যহীন এবং অকেজো। কেবল তাই নয় এটি ক্ষতিকরও হয়েছে। নৈতিকতা থেকে খ্রিষ্টধর্মকে সরিয়ে নিন, দেখবেন কেবল প্রয়োজনীয় জিনিসই অবশিষ্ট রয়েছে, কিন্তু খ্রিষ্টধর্ম থেকে নৈতিকতা সরিয়ে নিন, দেখবেন কেবল অকেজো জিনিসগুলোই পড়ে আছে।
* আমরা সবাই জানি যে বাইবেল দাসপ্রথাকে এর সবচেয়ে খারাপ এবং সবচেয়ে নিষ্ঠুর রূপে সমর্থন করে; আর দাসপ্রথা সমর্থনকারী বাইবেলের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্ম মানব ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছে এবং তা প্রতিষ্ঠা করেছে, এমন কথা কীভাবে বলা যেতে পারে তা আমার কল্পনারও অতীত।
* আমি সানন্দে স্বীকার করি যে কিছু শিক্ষার জন্য আমরা খ্রিষ্টধর্মের কাছে ঋণী, এবং কুসংস্কারের অযৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করার মাধ্যমেই মানব মন বিকশিত হয়েছে। অবশ্যই লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিক ব্যায়াম করার সুযোগ পেয়েছে, এবং এই অযৌক্তিকতা, বৈপরীত্য এবং অসম্ভব জিনিসগুলো পরীক্ষা করার ফলেও তাদের মন কিছুটা প্রসারিত হয়ে থাকতে পারে।
* শত শত বছর ধরে বাইবেলই ছিল মানদণ্ড, এবং বিজ্ঞানে যখনই বাইবেলের বিপরীত কিছু দাবি করা হতো, গির্জা সাথে সাথে সেই বিজ্ঞানীকে নিন্দা করত। আমি স্বীকার করি মানদণ্ড পরিবর্তন হয়েছে, '''এবং যাজকরা এখন খুব ব্যস্ত''', এটা প্রমাণ করার চেষ্টায় নয় যে বিজ্ঞান বাইবেলের সাথে একমত নয়, বরং বাইবেল যে বিজ্ঞানের সাথে একমত তা প্রমাণ করার চেষ্টায়।
* খ্রিষ্টান কালপঞ্জি প্রথম মানুষের বয়স উল্লেখ করে, এবং তারপর বাবা থেকে ছেলে হয়ে বন্যা পর্যন্ত ধারা বর্ণনা করে, এবং বন্যা থেকে খ্রিষ্টের আগমন পর্যন্ত হিসাব দেয়, যা দেখায় যে মানুষ পৃথিবীতে মাত্র ছয় হাজার বছর ধরে আছে। '''এই কালপঞ্জি চরম অযৌক্তিক, এবং আমি বিশ্বাস করি না বিশ্বে এমন কোনো বুদ্ধিমান, সুশিক্ষিত খ্রিষ্টান আছেন যিনি বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করার পর বলবেন যে খ্রিষ্টান কালপঞ্জি সঠিক।'''
* যদি একজন অসীম ঈশ্বর আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করে থাকেন, তবে তিনি ঠিকই জানতেন আমরা কী করব। তিনি যদি আমাদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে থাকেন তবে তা ফলাফল পরিবর্তন করে না, কারণ তিনি জানতেন আমরা কীভাবে স্বাধীন ইচ্ছা ব্যবহার করব। এখন, তিনি যদি জানতেন যে কোটি কোটি মানুষ প্রতিকার নিতে অস্বীকৃতি জানাবে এবং ফলস্বরূপ অনন্ত যন্ত্রণায় ভুগবে, তবে তাদের সৃষ্টি করলেন কেন? তিনি যদি তাদের ধুলো হিসেবেই রেখে দিতেন তবে পৃথিবীতে অনেক কম দুঃখ-কষ্ট থাকত। একজন ঈশ্বরের ব্যর্থ হওয়ার কী অধিকার আছে? কেন তিনি ধুলোকে একটি সংবেদনশীল প্রাণীতে পরিণত করবেন, যখন তিনি জানতেন যে সেই প্রাণীটি অন্তহীন যন্ত্রণার উত্তরাধিকারী হবে?
* রেভারেন্ড মিস্টার হ্যামিল্টন, কল্পনায় আমার মৃত্যুর যন্ত্রণা উপভোগ করে বলেন: "দুর্দান্ত অহংকারীর হৃদয়ের তন্ত্রীতে মৃত্যুর হিমশীতল আঙুল ছোঁয়ার জন্য বিশ্বকে সর্বোচ্চ কয়েকটা বছর অপেক্ষা করতে দিন, এবং তার মতো যারা তার আগে গেছে তাদের বেশিরভাগই যেমন করেছে, সেও অন্য সুরে গান গাইবে।" এমন একটি বাক্য লেখার প্রেরণা জোগাতে পারে এমন মনোভাবকে আমি কীভাবে বর্ণনা করব? মাননীয় যাজক "তার শত্রুদের ভালোবাসেন", অথচ মৃত্যুর হিমশীতল আঙুল আমার হৃদয়ের তন্ত্রী ছোঁয়ার সময় আমি যে যন্ত্রণা ভোগ করব তার কথা ভেবে তিনি আনন্দে মেতে ওঠেন! অথচ আমি তার কোনো ক্ষতি করিনি।
* গুড সামারিটান কোনো হিব্রু ছিলেন না। তিনি "নির্বাচিত মানুষদের" একজন ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন দরিদ্র, "দুর্দশাগ্রস্ত বিধর্মী", যিনি ওল্ড টেস্টামেন্টের যিহোবা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না, এবং যিনি "পরিত্রাণের পরিকল্পনা" সম্পর্কে কখনোই শোনেননি। আর তবুও, খ্রিষ্টের মতে, তিনি লেভিটদের চেয়ে যিহোবার যাজক, যারা "নির্বাচিত মানুষদের" মধ্যে সর্বোচ্চ তাদের চেয়ে অনেক বেশি দানশীল ছিলেন। এই গল্প থেকে এটা কি পুরোপুরি স্পষ্ট নয় যে খ্রিষ্টধর্ম প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই বিশ্বে দানশীলতা ছিল?
* ডক্টর বাকলি, যিনি, আমার জানামতে, ধর্মতত্ত্বের একজন ডাক্তার এবং আমার মনে হয় এমন ধর্মতত্ত্বের জন্য একজন ডাক্তারেরই প্রয়োজন...
* === হোয়াই আই অ্যাম অ্যান অ্যাগনস্টিক (১৮৯৬) ===
* তারা জানত যে বহু শতাব্দী আগে ঈশ্বর তাঁর সিংহাসন ছেড়ে একটি শিশু হিসেবে এই দরিদ্র পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যেন তিনি মানুষের জন্য কয়েকজনকে বাঁচানোর জন্য মৃত্যুবরণ করে কষ্ট ভোগ করতে পারেন। তারা এটাও জানত যে মানুষের হৃদয় চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল, তাই মানুষ স্বভাবতই অন্যায় ভালোবাসত এবং ঈশ্বরকে সমস্ত শক্তি দিয়ে ঘৃণা করত। একই সাথে তারা জানত যে ঈশ্বর মানুষকে তাঁর নিজস্ব রূপে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তাঁর কাজে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন।
* তারা মহাপ্লাবন সম্পর্কে সব জানত জানত যে ঈশ্বর আটজন ছাড়া তাঁর সমস্ত সন্তানদের বৃদ্ধ এবং শিশু নতজানু পিতৃপুরুষ এবং টোলপড়া শিশু যুবক এবং হাসিখুশি কুমারী প্রেমময়ী মা এবং হাসিখুশি শিশু সবাইকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন কারণ তাঁর দয়া অনন্তকাল স্থায়ী। তারাও জানত যে তিনি পশু ও পাখিদের ডুবিয়ে মেরেছিলেন যা কিছু হাঁটত, হামাগুড়ি দিত বা উড়ত সবকিছুকে কারণ তাঁর কাজের প্রতি তাঁর ভালোবাসা প্রবল।
* যে যাজকরা এসব পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে প্রচার করতেন, তারা আন্তরিক ছিলেন। তারা উদ্যোগী ও সৎ ছিলেন। তারা দার্শনিক ছিলেন না। তাদের কাছে বিজ্ঞান ছিল এক অস্পষ্ট ভয়ের নাম এক বিপজ্জনক শত্রু। '''তারা খুব বেশি কিছু জানত না, তবে তারা অনেক বেশি বিশ্বাস করত।''' তাদের কাছে নরক ছিল এক জ্বলন্ত বাস্তবতা তারা ধোঁয়া ও শিখা দেখতে পেত। শয়তান কোনো মিথ ছিল না। সে ছিল একজন বাস্তব ব্যক্তি, ঈশ্বরের একজন প্রতিদ্বন্দ্বী, মানবজাতির শত্রু। তারা ভেবেছিল এই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের আত্মাকে বাঁচানো প্রত্যেকের উচিত ইন্দ্রিয়সুখকে প্রতিহত করা ও অবজ্ঞা করা, এবং নতুন জেরুজালেমের সোনালি দরজার দিকে স্থির দৃষ্টি রাখা। '''তারা ভারসাম্যহীন, আবেগপ্রবণ, হিস্টেরিক, ধর্মান্ধ, ঘৃণাপূর্ণ, প্রেমময় এবং উন্মাদ ছিল।''' তারা সত্যিই বিশ্বাস করত যে বাইবেল ঈশ্বরের প্রকৃত বাক্য ভুল বা বৈপরীত্য ছাড়া একটি বই। তারা এর নিষ্ঠুরতাকে ন্যায়বিচার, এর অযৌক্তিকতাকে রহস্য, এর অলৌকিক ঘটনাগুলোকে বাস্তব এবং এর নির্বোধ অংশগুলোকে গভীরভাবে আধ্যাত্মিক বলে মনে করত।
* '''সত্যি কথা হলো অনন্ত শাস্তির প্রতি এই বিশ্বাসই প্রকৃত নির্যাতনকারী হিসেবে কাজ করেছে।''' ...এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে অন্ধকার করে দিয়েছে। এটি দোলনাকেও কফিনের মতো ভয়ংকর করে তুলেছে। এটি জাতিগুলোকে দাস বানিয়েছে এবং অগণিত হাজার মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। এটি সবচেয়ে জ্ঞানী, সাহসী এবং সেরাদের আত্মত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। এটি ন্যায়বিচারের ধারণাকে ধ্বংস করেছে, হৃদয় থেকে দয়া দূর করেছে, মানুষকে পিশাচে পরিণত করেছে এবং মস্তিষ্ক থেকে যুক্তি তাড়িয়ে দিয়েছে। বিষাক্ত সাপের মতো এটি প্রতিটি অর্থোডক্স মতবাদে হামাগুড়ি দেয়, কুণ্ডলী পাকায় এবং হিসহিস শব্দ করে। '''এটি মানুষকে চিরন্তন শিকার এবং ঈশ্বরকে চিরন্তন পিশাচে পরিণত করে। এটি এক অসীম ভয়াবহতা। যে গির্জায় এটি শেখানো হয় তা জনজীবনের জন্য একটি অভিশাপ। যে প্রচারক এটি শেখান তিনি মানবজাতির শত্রু। এই খ্রিষ্টান মতবাদের নিচে অসভ্যতা আর নামতে পারে না। এটি চরম বিদ্বেষ, ঘৃণা এবং প্রতিশোধের উদাহরণ। নরকের ভয়াবহতার সাথে এর স্রষ্টা ঈশ্বরের উপস্থিতি ছাড়া আর কিছুই যুক্ত করা সম্ভব নয়।'''
* মিলটনের শেখানো ধর্মতত্ত্ব পিউরিটানদের হৃদয়ের প্রিয় ছিল। এটি নিউ ইংল্যান্ড দ্বারা গৃহীত হয়েছিল, এবং এটি হাজার হাজার মানুষের আত্মাকে বিষাক্ত ও জীবনকে ধ্বংস করেছিল। শেকসপিয়রের প্রতিভাও মিলটনের ধর্মতত্ত্বকে কাব্যিক করতে পারেনি। বিশ্ব সাহিত্যে, '''‘পবিত্র গ্রন্থগুলোর’ বাইরে''', এর চেয়ে নিখুঁত অযৌক্তিক আর কিছুই নেই।
* '''আমরা সবাই সেই সুন্দর স্তোত্রটি জানি যা এই আনন্দদায়ক লাইনটি দিয়ে শুরু হয়: "কবর থেকে শোনো, এক বিষণ্ণ সুর।" শিশুদের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত আর কিছুই হতে পারে না। দোলনা থেকে দেখা যায় এমন জায়গায় কফিন রাখা ভালো। একজন মা যখন তার সন্তানকে দুধ পান করান, তখন তার পায়ের কাছে একটি খোলা কবর থাকা উচিত। এতে শিশুটি গম্ভীর, চিন্তাশীল, ধার্মিক এবং দুঃখী হয়ে উঠবে।'''
* আমি ওল্ড টেস্টামেন্ট ছেড়ে দিয়েছি এর ভুল, এর অযৌক্তিকতা, এর অজ্ঞতা এবং এর নিষ্ঠুরতার কারণে। আমি নিউ টেস্টামেন্ট ছেড়ে দিয়েছি কারণ এটি ওল্ড টেস্টামেন্টের সত্যতা নিশ্চিত করত। আমি এটি ছেড়ে দিয়েছি এর অলৌকিক ঘটনা, এর বৈপরীত্যের কারণে, কারণ খ্রিষ্ট এবং তার শিষ্যরা শয়তানের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন তাদের সাথে কথা বলতেন, চুক্তি করতেন, মানুষ এবং পশুদের শরীর থেকে তাদের তাড়াতেন। কেবল এইটুকুই যথেষ্ট। আমরা জানি, যদি আমরা কিছু জেনে থাকি, যে শয়তান বলতে কিছুর অস্তিত্ব নেই''' খ্রিষ্ট কখনোই তাদের তাড়াননি, এবং যদি তিনি তা করার ভান করে থাকেন, তবে তিনি হয় অজ্ঞ, অসৎ বা উন্মাদ ছিলেন।''' শয়তান সম্পর্কে এই গল্পগুলো নিউ টেস্টামেন্টের মানবিক, অজ্ঞ উৎপত্তি প্রমাণ করে।
* সমস্ত ধর্মতাত্ত্বিক সমস্ত "বিশেষ সৃষ্টির" বিশ্বাসী মানুষ পুরোপুরি ভুল ছিলেন। ইডেনের বাগান বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আদম ও ইভ ধুলোয় মিশে গেছে, সাপ ঘাসে লুকিয়ে পড়েছে, এবং যিহোবা একটি শোচনীয় মিথ হয়ে গেছে।
* যুদ্ধরত একটি পৃথিবীর চেয়ে ভয়ংকর আর কী হতে পারে? প্রতিটি পাতা একটি যুদ্ধক্ষেত্র প্রতিটি ফুল একটি গলগোথা প্রতিটি জলের ফোঁটায় তাড়া করা, ধরা এবং মৃত্যু। গাছের বাকলের নিচে জীবনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে আরেক জীবন। প্রতিটি ঘাসের পাতায় এমন কিছু আছে যা হত্যা করে যা কষ্ট পায়। সবখানেই দুর্বলদের ওপর বেঁচে আছে সবলরা নিকৃষ্টদের ওপর শ্রেষ্ঠরা। সবখানেই দুর্বলরা, নগণ্যরা, সবলদের ওপর বেঁচে আছে নিকৃষ্টরা শ্রেষ্ঠদের ওপর সর্বোচ্চরা সর্বনিম্নদের খাদ্য জীবাণুর জন্য মানুষের আত্মত্যাগ। সর্বত্রই হত্যা। '''সবখানেই ব্যথা, রোগ এবং মৃত্যু যে মৃত্যু বাঁকা শরীর আর সাদা চুলের জন্য অপেক্ষা করে না, বরং শিশু আর সুখী তরুণদের কেড়ে নেয়। যে মৃত্যু অসহায়, টোলপড়া শিশুর কাছ থেকে মাকে কেড়ে নেয় যে মৃত্যু বিশ্বকে দুঃখ আর কান্নায় ভরিয়ে দেয়। অর্থোডক্স খ্রিষ্টানরা কীভাবে এসব ব্যাখ্যা করবে?'''
* '''ধর্মতাত্ত্বিকরা বলেন যে আমরা যাকে খারাপ বলি তা আমাদের উপকারের জন্যই আমরা পাপ ও দুঃখের এই পৃথিবীতে চরিত্র গঠনের জন্য এসেছি। যদি এটি সত্য হয় তবে আমি প্রশ্ন করি শিশু কেন মারা যায়?''' লক্ষ লক্ষ শিশু কয়েকবার শ্বাস নিয়েই মায়ের কোলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তাদের চরিত্র গঠনের কোনো সুযোগই দেওয়া হয় না।
* ধরুন আমাদের দেশে এমন একজন লোক আছেন যিনি বাতাস, বৃষ্টি এবং বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, এবং ধরুন আমরা তাকে এসব নিয়ন্ত্রণের জন্যই নির্বাচিত করেছি, আর ধরুন তিনি পুরো রাজ্যগুলোকে শুকিয়ে এবং মরে যেতে দেন, এবং একই সাথে সমুদ্রে বৃষ্টি নষ্ট করেন। ধরুন তিনি বাতাসকে শহর ধ্বংস করার অনুমতি দেন এবং হাজার হাজার নারী-পুরুষকে পিষে আকারহীন করে দেন, এবং বজ্রপাতকে মা ও শিশুদের জীবন কেড়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। আমরা কী বলব? '''আমরা এমন একজন অসভ্য মানুষ সম্পর্কে কী ভাবব? আর তবুও, ধর্মতাত্ত্বিকদের মতে, ঈশ্বর ঠিক এই পথই অনুসরণ করেছেন।'''
=== দ্য ট্রুথ (১৮৯৬) ===
* প্রোটেস্ট্যান্টরা বলে যে এটি পড়া, বোঝা এবং এই ওহি বিশ্বাস করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য একজন মানুষের উচিত তার যুক্তি ব্যবহার করা; কিন্তু সে যদি সততার সাথে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে বাইবেল ঈশ্বরের কোনো ওহি নয়, এবং এই সিদ্ধান্ত নিয়েই মারা যায়, তবে সে চিরকাল যন্ত্রণায় ভুগবে। তারা বলে: "পড়ো," এবং তারপর যোগ করে: "বিশ্বাস করো, নইলে জাহান্নামে যাও।" "বাইবেল তোমার কাছে যতই অযৌক্তিক মনে হোক না কেন, তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে। অলৌকিক ঘটনাগুলো যতই অসম্ভব মনে হোক না কেন, তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে। আইনগুলো যতই নিষ্ঠুর হোক না কেন, তোমার হৃদয়কে অবশ্যই সেগুলো অনুমোদন করতে হবে!" গির্জা একেই বলে চিন্তার স্বাধীনতা। আমরা ঈশ্বরের ভ্রুকুটি ও হুমকির অধীনে বাইবেল পড়ি। আমরা নরকের আলোয় পড়ি।
* মানুষকে যুক্তির মানদণ্ড ত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য গির্জা পুরোপুরি পরকালে অনন্ত যন্ত্রণার হুমকির ওপর নির্ভর করে না, বরং অনন্ত আনন্দের পুরস্কারও তুলে ধরে। যারা বিশ্বাস করে, তাদের জন্য এটি স্বর্গের অন্তহীন পরমানন্দের প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি যদি ভয় দেখাতে না পারে, তবে ঘুষ দেবে।
* কিন্তু গির্জা বলে ওঠে: "প্রভু যিশু খ্রিষ্টের ওপর বিশ্বাস রাখো, তবেই তুমি রক্ষা পাবে।" এই বিশ্বাস ছাড়া কোনো মুক্তি নেই। মুক্তি হলো বিশ্বাসের পুরস্কার। বিশ্বাস হলো, এবং চিরকাল হতে হবে, প্রমাণের ফলাফল। প্রতিশ্রুত পুরস্কার কোনো প্রমাণ নয়। এটি কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক আলো ছড়ায় না। এটি কোনো সত্য প্রতিষ্ঠা করে না, কোনো আপত্তির উত্তর দেয় না এবং কোনো সন্দেহ দূর করে না। বিশ্বাসের জন্য পুরস্কার দেওয়া কি সৎ কাজ?
* '''যাঁরা বিশ্বাস করবেন তাঁদের পুরস্কৃত করার খ্রিষ্টের প্রতিশ্রুতি হলো একটি ঘুষ।''' এটি প্রমাণের জায়গায় প্রতিশ্রুতি বসানোর একটি চেষ্টা। যে ব্যক্তি বলে যে সে বিশ্বাস করে, এবং কেবল পুরস্কারের আশায় তা করে, সে তার আত্মাকে কলুষিত করে।
* তারা আকাশে একজন দানব একজন প্রভু একজন স্বৈরাচারী বসিয়ে রাখে এবং তাদের সহকর্মীদের দাস বানানোর চেষ্টা করে। তারা ভূমিদাসদের দাসসুলভ গুণাবলি শেখায়। '''তারা পুরুষালি মানুষের সাহসকে ঘৃণা করে। যারা চিন্তা করে, তাদের তারা ঘৃণা করে। তারা প্রতিশোধ নিতে চায়। তারা নরকের কাল্পনিক আগুনে হাত গরম করে।''' আমি তাদের দেখাই যে নরক বলে কিছু নেই এবং তারা তাদের সান্ত্বনা ধ্বংস করার জন্য আমাকে নিন্দা করে।
* কোনো ধর্মতাত্ত্বিক সেমিনারিতে, যদি কোনো অধ্যাপক মতবাদের সাথে অসংগতিপূর্ণ কোনো সত্য খুঁজে পান, তবে তাকে তা গোপন রাখতে হবে, অস্বীকার করতে হবে, অথবা নিজের চাকরি হারাতে হবে। মানসিক সততা একটি অপরাধ, কাপুরুষতা এবং ভণ্ডামি হলো পুণ্য।
* তারা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এমনভাবে আক্রমণ করত যেন তারা অপরাধী ভূতত্ত্ববিদদের আক্রমণ করত যেন তারা আততায়ী। তারা চিকিৎসকদের ঈশ্বরের শত্রু বলে মনে করত এমন মানুষ যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা ব্যর্থ করার চেষ্টা করছিল। জীববিজ্ঞানী, নৃবিজ্ঞানী, প্রত্নতত্ত্ববিদ, প্রাচীন শিলালিপি পাঠকারী, চাপা পড়া শহর খননকারীরা সবাই ধর্মতাত্ত্বিকদের ঘৃণার পাত্র ছিলেন। তাদের ভয় ছিল এই মানুষগুলো বাইবেলের সাথে অসংগতিপূর্ণ কোনো কিছু খুঁজে পেতে পারে।
* '''ধর্মতাত্ত্বিকরা দাবির ওপর নির্ভর করেন। তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তারা দাবি করেন যে তাদের অনুপ্রাণিত বই যুক্তির ঊর্ধ্বে এবং প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়। তারা সম্ভাবনা উপমা অনুমান নিয়ে কথা বলেন কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেন না। তারা বলেন তারা জানেন যে খ্রিষ্ট বেঁচে ছিলেন, ঠিক যেমন তারা জানেন যে সিজার বেঁচে ছিলেন। তারা হয়তো যোগ করতে পারেন যে তারা জানেন মোশি সিনাই পর্বতে যিহোবার সাথে কথা বলেছিলেন ঠিক যেমন তারা জানেন ব্রিগহাম ইয়াং উটায় ঈশ্বরের সাথে কথা বলেছিলেন। উভয় ক্ষেত্রেই প্রমাণ একই, কোনোটিতেই কোনো প্রমাণ নেই। তারা কীভাবে প্রমাণ করেন যে খ্রিষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন? তারা বইয়ে একটি বর্ণনা পান। বইটি কে লিখেছে? তারা তা জানেন না। এটা কেমন প্রমাণ? কোনো প্রমাণ নয়, যদি না বইয়ে লেখা সব কথা সত্য হয়।'''
* যাজক যখন সেমিনারি ত্যাগ করেন, '''তখন তিনি সত্যের খোঁজ করেন না। সত্য তার কাছে আছে'''। তার কাছে ঈশ্বরের তরফ থেকে আসা ওহি রয়েছে, এবং সেই ওহির সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি মতবাদ তার কাছে আছে। তার কাজ হলো সেই ওহির পাশে দাঁড়ানো এবং সেই মতবাদকে রক্ষা করা। ওহি ও মতবাদের বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি তিনি পড়বেন না, শুনবেন না। তার ধর্মের বিরুদ্ধে যাওয়া সমস্ত সত্য তিনি অস্বীকার করবেন।
* '''তাই, যাজকরা বলেন যে তারা দানশীলতা শেখান। এটা স্বাভাবিক। তারা ভিক্ষে করে বেঁচে থাকেন। সব ভিক্ষুকই শেখায় যে অন্যদের দান করা উচিত।'''
* তারা আনন্দের শত্রু। তারা নাচকে অন্যতম মারাত্মক পাপ হিসেবে নিন্দা করেন। তারা ওয়াল্টজের দুষ্টামি পোলকার দূষণ দেখে হতবাক হন। তারা থিয়েটারের শত্রু। '''তারা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বদনাম করেন। তারা তাদের ঘৃণা করেন কারণ তারা প্রতিদ্বন্দ্বী।'''
* তারা জোর দিয়ে বলেন যে ঈশ্বরের গৌরবের জন্য, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ঘৃণা করলেও তাদের একসাথে থাকতে বাধ্য করা উচিত। তারা সমস্ত কল্পকাহিনি ঘৃণা করেন এবং বাইবেল ভালোবাসেন।
* এই মানুষগুলো বিজ্ঞানের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির শত্রু। তারা মহান চিন্তাবিদদের নিয়ে উপহাস করেন এবং বদনাম করেন। "পবিত্র শাস্ত্রের" সাথে সাংঘর্ষিক সবকিছু তারা অস্বীকার করেন। তারা এখনও জোশুয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং মোশির ভূতত্ত্বে বিশ্বাস করেন। '''তারা অতীতের অলৌকিক ঘটনাগুলোতে বিশ্বাস করেন এবং বর্তমানের প্রমাণগুলো অস্বীকার করেন'''। তারা সত্যের শত্রু জ্ঞানের শত্রু। এই পৃথিবীতে সুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে তারা দুষ্ট ও জাগতিক মনে করেন কিন্তু পরকালে সুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে পুণ্যবান ও আধ্যাত্মিক মনে করেন।
* '''প্রতিটি অর্থোডক্স গির্জাই ভুল এবং মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতিটি ভালো অর্থোডক্স যাজক যা জানেন না তা দাবি করেন এবং যা জানেন তা অস্বীকার করেন।'''
* খ্রিষ্টানের ঈশ্বর হলেন একজন সিংহাসনে বসা অনুমান একটি হয়তো একটি ধারণা।
=== আ থ্যাংকসগিভিং সারমন (১৮৯৭) ===
* খ্রিষ্ট বা তাঁর কোনো প্রেরিত কি দরকারি জ্ঞানের ভাণ্ডারে কিছু যোগ করেছিলেন? তারা কি কোনো বিজ্ঞান, কোনো শিল্পকলার পক্ষে একটি কথাও বলেছিলেন? তারা কি তাদের সহকর্মীদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়, কীভাবে প্রকৃতির বাধা অতিক্রম করতে হয়, কীভাবে রোগ প্রতিরোধ করতে হয় কীভাবে নিজেদের ব্যথা, দুর্ভিক্ষ, দুর্দশা এবং ছেঁড়া কাপড় থেকে রক্ষা করতে হয়? '''তারা কি প্রকৃতির কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন?''' মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন কোনো সত্যের? তারা কি তদন্ত অধ্যয়ন চিন্তার পক্ষে কিছু বলেছিলেন? তারা কি আত্মনির্ভরশীলতা, শিল্প সৎ প্রচেষ্টার সুসমাচার শিখিয়েছিলেন? '''কোনো কৃষক, মেকানিক বা বিজ্ঞানী কি নিউ টেস্টামেন্টে একটি দরকারী তথ্যও খুঁজে পেতে পারেন?''' পবিত্র বইটিতে এমন কিছু আছে কি যা ভূতত্ত্ববিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, জীববিজ্ঞানী, চিকিৎসক, উদ্ভাবক যেকোনো দরকারী জিনিসের নির্মাতাকে সাহায্য করতে পারে?
* '''এটি শিখিয়েছিল যে এই জীবনের মূল কাজ হলো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়া।''' এটি জোর দিয়েছিল যে মুক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাস প্রয়োজন, এবং যারা বিশ্বাস করতে ব্যর্থ হবে, বা সামান্য সন্দেহ করবে তারা অনন্ত যন্ত্রণায় ভুগবে। গির্জার মতে, মানুষের স্বাভাবিক ইচ্ছা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আবেগ সবই দুষ্ট এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। ঈশ্বরকে ভালোবাসা, আত্মত্যাগ চর্চা করা, ইচ্ছা দমন করা, সম্পদ তুচ্ছ করা, সমৃদ্ধি ঘৃণা করা, স্ত্রী ও সন্তানদের ত্যাগ করা, শিকড় ও বেরি খেয়ে বেঁচে থাকা, প্রার্থনা জপ করা, ছেঁড়া কাপড় পরা, নোংরায় বাস করা এবং হৃদয় থেকে ভালোবাসা তাড়িয়ে দেওয়া বহু শতাব্দী ধরে এগুলো ছিল সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে নিখুঁত পুণ্য, এবং যারা এগুলো চর্চা করত তারা ছিল সাধু। সাধুরা তাদের সহকর্মীদের সাহায্য করতেন না। সহকর্মীরাই তাদের সাহায্য করত। '''তারা অন্যদের জন্য শ্রম দিতেন না। তারা ছিল ভিক্ষুক পরজীবী কীট। তারা উন্মাদ ছিল। তারা খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণ করেছিল। তারা আগামীকালের জন্য কোনো চিন্তা করত না। তারা অন্য জগতে সুখী হওয়ার জন্য নিজেদের শরীর ছিন্নভিন্ন করেছিল নিজেদের শরীর ক্ষতবিক্ষত করেছিল এবং নিজেদের মন ধ্বংস করেছিল। জীবনের যাত্রাপথে তারা তাদের দৃষ্টি কবরের দিকেই রেখেছিল।'''
* রোগ শয়তানের কারণে হতো এবং কেবল যাজক, পচে যাওয়া হাড় এবং পবিত্র জল দিয়েই তা নিরাময় করা যেত। ডাক্তাররা ছিলেন যাজকদের প্রতিদ্বন্দ্বী। তারা রাজস্ব অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেন। গির্জা শারীরবিদ্যার অধ্যয়নের বিরোধিতা করেছিল মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদের বিরুদ্ধে ছিল। রোগ নিরাময়ের কোনো অধিকার মানুষের ছিল না ঈশ্বর তাঁর যাজকদের মাধ্যমেই তা করবেন। রোগ প্রতিরোধের কোনো অধিকার মানুষের ছিল না রোগগুলো ঈশ্বরের বিচার হিসেবে পাঠানো হতো। গির্জা ইনোকুলেশন টিকাদান এবং ক্লোরোফর্ম ও ইথারের ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিল। এটি ঘোষণা করা হয়েছিল যে একজন নারীর পক্ষে মাতৃত্বের যন্ত্রণা কমানো পাপ, অপরাধ। গির্জা ঘোষণা করেছিল যে নারীকে দয়াময় যিহোবার অভিশাপ বহন করতেই হবে। গির্জা কী করেছে? '''এটি শিখিয়েছিল যে উন্মাদদের মধ্যে শয়তান বাস করত। উন্মাদনা কোনো রোগ ছিল না। এটি ভূত দ্বারা সৃষ্ট। এটি প্রার্থনা দিয়ে সারানো যেত''' উপহার, তাবিজ এবং মন্ত্র দিয়ে। এগুলোর সবকিছুর জন্যই টাকা দিতে হতো। এটি গির্জাকে সমৃদ্ধ করেছিল। এই ধারণাগুলো কেবল ক্যাথলিকরাই নয়, প্রোটেস্ট্যান্টরাও সততার সাথে লালন করত লুথার, ক্যালভিন, নক্স এবং ওয়েসলি।
* এটি ডাইনিবিদ্যার ভয়ংকর মতবাদ শিখিয়েছিল। এটি অন্ধকারকে ভূতে বাতাসে শয়তানে এবং পৃথিবীটিকে দুঃখ ও লজ্জায় ভরিয়ে দিয়েছিল। এটি পুরুষ, নারী এবং শিশুদের তাদের সহকর্মীদের ক্ষতি করার জন্য শয়তানের সাথে জোট বাঁধার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল। সমুদ্রে ঝড় তোলা বৃষ্টি থামানো এবং তুষারপাত আনার জন্য বৃদ্ধ নারীদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। নিজেদের নেকড়ে, সাপ এবং ব্যাঙে পরিণত করার জন্য মেয়েদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। রোগ ছড়ানোর জন্য নিজেদের আত্মা বিক্রি করার জন্য এবং বিয়ার টক করার জন্য এই ডাইনিদের পোড়ানো হয়েছিল। এই সব কাজ করা হয়েছিল শয়তানের সাহায্যে যে ঈশ্বরের মেষশাবক, বিশ্বাসীদের নির্যাতন করতে চেয়েছিল। '''শয়তান অনেকভাবেই গির্জাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছিল। সে কখনো কখনো যাজকের রূপ ধরে অপরাধ করত।'''
* '''গির্জা কী করেছে? এটি স্ত্রীকে দাস বানিয়েছিল স্বামীর সম্পত্তি, এবং এটি স্বামীকে স্ত্রীর চেয়ে ঠিক ততটাই উঁচুতে স্থান দিয়েছিল যতটা উঁচুতে খ্রিষ্ট স্বামীর চেয়ে ছিলেন। এটি শিখিয়েছিল যে একজন সন্ন্যাসিনী একজন মায়ের চেয়ে বিশুদ্ধ, মহৎ। এটি লক্ষ লক্ষ পবিত্র এবং বিবেকবান মেয়েকে জীবনের আনন্দ ত্যাগ করতে রাতের ও মৃত্যুর বোনা ঘোমটা পরতে, মৃতদের পোশাক পরতে বাধ্য করেছিল তাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল যে তারা খ্রিষ্টের কনে। আমার দিক থেকে বলতে গেলে, আঠারোশো বছর ধরে মৃত একজন মানুষের কনে হওয়ার চেয়ে আমি বিধবা হতেই বেশি পছন্দ করব। সেই হতভাগা প্রতারিত মেয়েরা কল্পনা করত যে তারা কোনো এক রহস্যময় উপায়ে ঈশ্বরের সাথে আধ্যাত্মিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। সব পার্থিব আকাঙ্ক্ষা তাদের হৃদয় থেকে দূর করা হয়েছিল। তারা উপবাস প্রার্থনা আত্ম-দোষারোপ দিয়ে তাদের জীবন ভরিয়ে দিয়েছিল। তারা বাবা-মাকে ভুলে গিয়ে অদৃশ্যকে তাদের ভালোবাসা দিয়েছিল। তারা ছিল কুসংস্কারের শিকার, কয়েদি ঈশ্বরের কারাগারের বন্দি। বিবেকবান, ভালো, সৎ উন্মাদ। এই প্রেমময় নারীরা তাদের হৃদয় দিয়েছিল এক কল্পমূর্তিকে, তাদের জীবন দিয়েছিল এক স্বপ্নকে।'''
* যাজকরা, ধর্মতাত্ত্বিকরা নারীদের তাদের ভদ্রতার তাদের প্রশংসা পাওয়ার ভালোবাসার সুযোগ নিয়েছেন। তারা তাদের আশা ও ভয়ের ওপর বেঁচে থেকেছেন। ভ্যাম্পায়ারের মতো তারা তাদের রক্ত শুষে খেয়েছেন। তারা তাদের বিশ্বের পাপের জন্য দায়ী করেছেন। তারা তাদের দাসসুলভ গুণাবলি শিখিয়েছেন নম্রতা, বিনয় অন্ধ আনুগত্য। তারা তাদের মনকে ভুল, রহস্য এবং অযৌক্তিকতা দিয়ে খাইয়েছেন। তারা তাদের মস্তিষ্ককে দুর্বল ও সংকুচিত করার চেষ্টা করেছেন, যতক্ষণ না তাদের কাছে প্রমাণ ও বিশ্বাসের মধ্যে ঘটনা ও আস্থার মধ্যে কোনো সম্ভাব্য সংযোগ না থাকে।
* গির্জা মহামারিগুলোকে ভালো ঈশ্বরের বার্তাবাহক হিসেবে বিবেচনা করত। '''"ব্ল্যাক ডেথ" অনন্ত পিতার দ্বারাই পাঠানো হয়েছিল, যাঁর দয়া কিছু মানুষকে বাঁচিয়েছিল এবং যাঁর ন্যায়বিচার বাকিদের হত্যা করেছিল।''' এই অভিশাপ থামাতে, তারা হাঁটু গেড়ে এবং মাথা নত করে মিছিল এবং প্রার্থনা করে ধূপ জ্বালিয়ে এবং মানত করে ঈশ্বরের মন গলানোর চেষ্টা করেছিল। ''তারা কারণটি দূর করার চেষ্টা করেনি। কারণটি ছিলেন স্বয়ং ঈশ্বর।'' তারা বিশুদ্ধ জল চায়নি, চেয়েছিল পবিত্র জল। বিশ্বাস ও ময়লা একসাথে বেঁচে ছিল বা বরং মারা গিয়েছিল। ধর্ম ও ছেঁড়া কাপড়, ধার্মিকতা ও দূষণ একে অপরের সঙ্গী ছিল। পবিত্রতা তার দুর্গন্ধ ধরে রেখেছিল।
* আমরা জানি যে তারা লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে ব্রহ্মচর্য হলো সবচেয়ে বড় পুণ্য নারীরা হলো চিরন্তন প্রলোভন, প্রকৃত পবিত্রতার শত্রু সন্ন্যাসী ও যাজকরা বাবাদের চেয়ে মহৎ, সন্ন্যাসিনীরা মায়েদের চেয়ে বিশুদ্ধ। আমরা জানি যে তারা ট্রিনিটির পবিত্র অযৌক্তিকতা শিখিয়েছিল যে ঈশ্বর একসময় ফিলিস্তিনে ছুতারের কাজ করতেন। আমরা জানি যে তারা জ্ঞানকে পবিত্র এবং অপবিত্র এই দুই ভাগে ভাগ করেছিল শিখিয়েছিল যে ওহি হলো পবিত্র আর যুক্তি হলো ঈশ্বরনিন্দা বিশ্বাস হলো পবিত্র এবং সত্য হলো মিথ্যা।
* তারা ভেবেছিল পৃথিবীটা সমতল অনেকটা থালার মতো যার বয়স প্রায় পাঁচ হাজার বছর, এবং তারাগুলো হলো রাতের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য তৈরি ছোট ছোট আলোর স্ফুলিঙ্গ। '''আসল কথা হলো খ্রিষ্টান বিশ্বে কোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানী আসার পনেরোশো বছর আগে থেকেই খ্রিষ্টধর্ম বিদ্যমান ছিল'''। খ্রিষ্টের কোনো অনুসারী পৃথিবীর আকার জানতেন না।
* আমি সেই মহান বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানাই যারা ভিত্তিমূলে পৌঁছাতে পেরেছেন, সবচেয়ে নিচু পাথরে যারা সত্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন সেই মহান বিজ্ঞানীরা, যাদের উপস্থিতিতে ধর্মতাত্ত্বিকদের নির্বোধ মনে হয় এবং যারা বিদ্বেষ অনুভব করে। '''বিজ্ঞানীরা কখনোই তাদের সহকর্মীদের নির্যাতন করেননি, কারাবন্দি করেননি।''' তারা কোনো শিকল তৈরি করেননি, কোনো অন্ধকূপ নির্মাণ করেননি, কোনো ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করেননি লাল গরম চিমটা দিয়ে কোনো মাংস ছিঁড়ে নেননি যাতাকলে কোনো হাড় ভাঙেননি লোহার জুতায় কোনো হাড় গুঁড়ো করেননি চোখ উপড়ে ফেলেননি জিভ ছিঁড়ে নেননি এবং কোনো আগুন জ্বালাননি। তারা অনুপ্রাণিত হওয়ার ভান করেননি নবী বা সাধু হওয়ার দাবি করেননি বা পুনর্জন্ম নেওয়ার দাবিও করেননি। তারা কেবল বুদ্ধিমান এবং সৎ মানুষ ছিলেন। তারা বলপ্রয়োগ বা ভয়ের আশ্রয় নেননি। '''তারা মানুষদের নির্যাতন, চাবুক এবং শিকল দিয়ে শাসন করার মতো দাস মনে করেননি, বা শিশুদের মতো বোকা বানানোর জন্য বিভ্রম, বোকা মতবাদের দোলনায় দোলানোর জন্য এবং মিথ্যার ঘুমপাড়ানি গান দিয়ে শান্ত করার মতো কিছু ভাবেননি।''' তারা কাউকে আহত করেননি তারা নিরাময় করেছেন। তারা কাউকে হত্যা করেননি তারা জীবন দীর্ঘায়িত করেছেন। তারা কাউকে দাস বানাননি তারা শিকল ভেঙেছেন এবং মানুষকে স্বাধীন করেছেন। তারা জ্ঞানের বীজ বপন করেছিলেন, এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই ফসল ঘরে তুলেছে, তুলছে এবং ভবিষ্যতেও তুলবে।
=== দ্য চিলড্রেন অফ দ্য স্টেজ (১৮৯৯)===
:<small>[http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/stage_children.html অনলাইনে সম্পূর্ণ পাঠ্য]</small>
* '''যে [[হাত]]গুলো [[সাহায্য]] করে তা প্রার্থনা করা ঠোঁটের চেয়েও পবিত্র।'''
== হোয়াট উড ইউ সাবস্টিটিউট ফর দ্য বাইবেল অ্যাজ আ মোরাল গাইড? (১৯০০) ===
[[File:Sacrifice of Isaac-Caravaggio (Uffizi).jpg |thumb|right|বাইবেলে অনেক [[ভালো]] উপদেশ, অনেক জ্ঞানী কথা এবং অনেক ভালো নিয়ম ও আইন রয়েছে, এবং এগুলো মিশে আছে খারাপ উপদেশ, বোকা কথা, [[অযৌক্তিক]] [[নিয়ম]]গুলো ও নিষ্ঠুর [[আইন]]গুলোর সাথে।]]
[[File:Tissot The Brazen Serpent.jpg|thumb|right|আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে বাইবেল হলো বহু শতাব্দী ব্যবধানে লেখা অনেকগুলো বইয়ের একটি সংকলন, এবং এটি আংশিকভাবে একটি [[জাতি]]র বিকাশ তুলে ধরে এবং আংশিকভাবে তাদের [[ইতিহাস]] বর্ণনা করে।]]
:<small> ''দ্য বোস্টন ইনভেস্টিগেটরে''র জন্য লেখা (অজানা তারিখ), এছাড়াও প্রকাশিত [http://books.google.com/books?id=3g4EAAAAYAAJ& ''দ্য ওয়ার্কস অফ রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল'', ভলিউম ১১ : ''মিসেলেনি'' (১৯০০)], পৃষ্ঠা ৫৩৭ - [http://www.mgvnet.com/troglodyte/ingersoll/substitute_bible.html অনলাইনে সম্পূর্ণ প্রবন্ধ] </small>
[[File:Merson Rest on the Flight into Egypt.jpg|thumb|right|আমরা মানবজাতির অভিজ্ঞতা, মানবজাতির প্রকৃত ইতিহাস চাই। আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ইতিহাস, নৈতিকতার বিকাশ, [[ন্যায়বিচার]]এর ধারণা, [[বিবেক]], [[দানশীলতা]]র এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস চাই। মানুষের [[মন]] যে পথ ও রাস্তাগুলো দিয়ে হেঁটেছে তা আমরা জানতে চাই।]]
* আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন "একটি নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বাইবেলের পরিবর্তে আমি কী বিকল্প দেব।" আমি জানি অনেকেই বাইবেলকে একমাত্র নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করে এবং বিশ্বাস করে যে কেবল সেই বইটিতেই নৈতিকতার প্রকৃত ও নিখুঁত মানদণ্ড পাওয়া যায়। '''বাইবেলে অনেক [[ভালো]] উপদেশ, অনেক জ্ঞানী কথা এবং অনেক ভালো নিয়ম ও আইন রয়েছে, এবং এগুলো মিশে আছে খারাপ উপদেশ, বোকা কথা, অযৌক্তিক নিয়ম ও নিষ্ঠুর আইনের সাথে। <br> কিন্তু আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে বাইবেল হলো বহু শতাব্দী ব্যবধানে লেখা অনেকগুলো বইয়ের একটি সংকলন, এবং এটি আংশিকভাবে একটি জাতির বিকাশ তুলে ধরে এবং আংশিকভাবে তাদের ইতিহাস বর্ণনা করে।''' আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে লেখকরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই লেখকদের অনেকেরই সঠিক বা ভুল, পাপ বা পুণ্য সম্পর্কে কিছু বলার ছিল না।
* [[বুক অফ জব|জবের]] গল্প যেকোনো ভালো মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেয়। এই বইটিতে কিছু কবিতা, কিছু করুণ রস এবং কিছু দর্শন রয়েছে, তবে জব নামের এই নাটকের গল্পটি চরম মাত্রায় হৃদয়হীন। ঈশ্বর এবং শয়তানের মধ্যে একটি ছোট বাজি নিষ্পত্তির জন্য জবের সন্তানদের হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে, জব অবিচল থাকায়, নিহত সন্তানদের পরিবর্তে অন্য সন্তানদের দেওয়া হয়। তবে, নিহত হওয়া সন্তানদের জন্য কিছুই করা হয়নি।
* সব মিলিয়ে, ওল্ড টেস্টামেন্টকে একটি নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। [[যিহোবা]] কোনো নৈতিক ঈশ্বর ছিলেন না। তাঁর মধ্যে সমস্ত দোষ ছিল, এবং সমস্ত গুণের অভাব ছিল। তিনি সাধারণত তাঁর হুমকিগুলো বাস্তবায়ন করতেন, কিন্তু তিনি কখনোই সততার সাথে কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। একই সাথে, আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে ওল্ড টেস্টামেন্ট একটি স্বাভাবিক উৎপাদন, এটি এমন সব অসভ্য মানুষের দ্বারা লেখা হয়েছিল যারা ধীরে ধীরে আলোর দিকে হামাগুড়ি দিচ্ছিল। তাদের বলা মহৎ কথাগুলোর জন্য আমাদের অবশ্যই তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে, এবং আমাদের এতটা দয়ালু হতে হবে যেন তাদের দোষ এমনকি তাদের অপরাধগুলোও ক্ষমা করে দিতে পারি।
* আমি স্বীকার করি যে নিউ টেস্টামেন্টে অনেক ভালো জিনিস রয়েছে, এবং যদি আমরা সেই বইটি থেকে অনন্ত যন্ত্রণার, অসীম প্রতিশোধের, প্রায়শ্চিত্তের, নরবলির, রক্ত ঝরানোর প্রয়োজনীয়তার মতবাদগুলো বাদ দিই; যদি আমরা প্রতিরোধ না করার মতবাদ, শত্রুদের ভালোবাসার মতবাদ, এই ধারণা যে সমৃদ্ধি আসে পাপ থেকে, দারিদ্র্য হলো স্বর্গের প্রস্তুতি এসব ছুড়ে ফেলে দিই এবং আচরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কেবল ভালো, বিবেকসম্পন্ন অংশগুলো নিই, তবে আমরা একটি মোটামুটি ভালো নৈতিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে পারি সংকীর্ণ, কিন্তু নৈতিক। <br> অবশ্য, অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বাদ পড়ে যাবে। আপনার কাছে মানবাধিকার নিয়ে কিছু থাকবে না, পরিবারের পক্ষে কিছু থাকবে না, শিক্ষার জন্য কিছু থাকবে না, তদন্তের জন্য, চিন্তা ও যুক্তির জন্য কিছুই থাকবে না, তবে তারপরও আপনি একটি মোটামুটি ভালো নৈতিক পথপ্রদর্শক পাবেন। অন্যদিকে, আপনি যদি বোকা অংশগুলো, চরম অংশগুলো নেন, তবে আপনি এমন একটি মতবাদ তৈরি করতে পারেন যা একটি পাগলা গারদকে সন্তুষ্ট করবে। '''যদি আপনি নিষ্ঠুর অংশগুলো নেন, সেই পদগুলো যা চিরন্তন ঘৃণা শেখায়, সেই পদগুলো যা সাপের মতো কুণ্ডলী পাকায় ও হিসহিস করে, তবে আপনি এমন একটি মতবাদ তৈরি করতে পারেন যা একটি হায়েনার হৃদয়কেও নাড়া দেবে।''' এমন হতে পারে যে কোনো বইতেই নিউ টেস্টামেন্টের চেয়ে ভালো কোনো অংশ নেই, তবে নিশ্চিতভাবে কোনো বইতেই এর চেয়ে খারাপ অংশও নেই। ভালোবাসার ফুলের নিচে আপনি পাবেন ঘৃণার কাঁটা; যে ঠোঁট চুম্বন করে, সেখানে আপনি পাবেন কোবরার বিষ। বাইবেল কোনো নৈতিক পথপ্রদর্শক নয়। যে কোনো মানুষ বিশ্বস্ততার সাথে এর সমস্ত শিক্ষা অনুসরণ করে সে সমাজের শত্রু এবং সম্ভবত তার শেষ দিনগুলো একটি কারাগার বা পাগলা গারদে কাটাবে।
* '''তাহলে নৈতিক পথপ্রদর্শক কী, বা কাকে বলা যেতে পারে? সবচেয়ে ছোট সম্ভাব্য উত্তর হলো একটি শব্দ: বুদ্ধিমত্তা।''' আমরা মানবজাতির অভিজ্ঞতা, মানবজাতির প্রকৃত ইতিহাস চাই। আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ইতিহাস, নৈতিকতার বিকাশ, ন্যায়বিচারের ধারণা, বিবেক, দানশীলতা এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস চাই। মানুষের মন যে পথ ও রাস্তাগুলো দিয়ে হেঁটেছে তা আমরা জানতে চাই। সাধারণভাবে এই তথ্যগুলো, রূপরেখায় থাকা এই ইতিহাসগুলো, পৌঁছানো ফলাফলগুলো, তৈরি করা সিদ্ধান্তগুলো, বিকশিত হওয়া নীতিগুলো, একত্রে মিলে সম্ভাব্য সেরা নৈতিক পথপ্রদর্শক তৈরি করতে পারে। আমরা "অনুপ্রাণিত বই" বা বিশ্বের ধর্মগুলোর ওপর নির্ভর করতে পারি না। এই ধর্মগুলো অতিপ্রাকৃতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, এবং সেগুলোর মতে আমরা কোনো অতিপ্রাকৃত সত্তা বা সত্তাদের উপাসনা ও আনুগত্য করতে বাধ্য। '''এই সমস্ত ধর্ম বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার সাথে অসংগতিপূর্ণ। এগুলো চিন্তা, তদন্ত এবং মানসিক সততার শত্রু। এগুলো মানুষের পুরুষত্ব নষ্ট করে। এগুলো বিশ্বাস, বিশ্বাসপ্রবণতা, এবং তারা যাকে আস্থা বলে তার জন্য অনন্ত পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি কেবল অযৌক্তিকই নয়, বরং এটি অনৈতিকও।'''
* '''এই ধর্মগুলো দাসসুলভ গুণাবলি শেখায়। এগুলো নির্জীব জিনিসগুলোকে পবিত্র, এবং মিথ্যাকে অলঙ্ঘনীয় করে তোলে। এগুলো কৃত্রিম অপরাধ তৈরি করে।''' শুক্রবারে মাংস খাওয়া, রোববারে আনন্দ করা, উপবাসের দিনে খাওয়া, লেন্টের সময় খুশি থাকা, একজন যাজকের সাথে তর্ক করা, প্রমাণ চাওয়া, কোনো মতবাদ অস্বীকার করা, নিজের সৎ মতামত প্রকাশ করা এসব কাজই হলো পাপ, কোনো ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অপরাধ। [[যিহোবা]], [[মুহাম্মদ]] বা [[যিশু|খ্রিষ্ট]] সম্পর্কে নিজের সৎ মতামত দেওয়া আপনার প্রতিবেশীকে বিদ্বেষপূর্ণভাবে অপবাদ দেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি খারাপ। অলৌকিক ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা সন্দেহ করা জানা তথ্য অস্বীকার করার চেয়ে অনেক বেশি খারাপ। কেবল বাধ্য, বিশ্বাসপ্রবণ, চাটুকার, নতজানু, নম্র, প্রশ্ন না করা এবং প্রকৃত বিশ্বাসীদেরই নৈতিক, পুণ্যবান হিসেবে গণ্য করা হয়। কেবল সৎ, উদার এবং দরকারী হওয়াই যথেষ্ট নয়; প্রমাণ ও তথ্য দ্বারা পরিচালিত হওয়াই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি, আপনাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। '''এগুলো নৈতিকতার শত্রু। এগুলো পুণ্য সম্পর্কে সমস্ত স্বাভাবিক ধারণাকে ধ্বংস করে দেয়।'''
* '''সমস্ত "অনুপ্রাণিত বই" যা শেখায় যে অতিপ্রাকৃত যা আদেশ করে তা-ই সঠিক, এবং সঠিক কারণ তা আদেশ করা হয়েছে, এবং অতিপ্রাকৃত যা নিষেধ করে তা-ই ভুল, এবং ভুল কারণ তা নিষেধ করা হয়েছে এগুলো চরমভাবে অদার্শনিক।''' এবং সমস্ত "অনুপ্রাণিত বই" যা শেখায় যে কেবল তারাই যারা অতিপ্রাকৃতের আদেশ অমান্য করে না তারা সত্যই পুণ্যবান, বা হতে পারে, এবং প্রশ্নহীন বিশ্বাস অনন্ত আনন্দ দিয়ে পুরস্কৃত হবে এগুলো চরমভাবে অনৈতিক। আমি আবারও বলছি: '''[[বুদ্ধিমত্তা]] হলো একমাত্র নৈতিক পথপ্রদর্শক।'''
=== আনসার টু লাইম্যান অ্যাবট (অসমাপ্ত), অ্যাবট, লাইম্যানের প্রতি উত্তর। "ফ্লস ইন ইঙ্গারসোলিজম।" ''দ্য নর্থ আমেরিকান রিভিউ'' ১৫০, নং. ৪০১ (১৮৯০): ৪৪৬-৪৫৭। ===
* আমি মনে করি না মূর্তিপূজা সবচেয়ে খারাপ পাপ। '''নিষ্ঠুরতা হলো সবচেয়ে খারাপ পাপ। আপনার প্রতিবেশীর ক্ষতি করার চেয়ে একজন মিথ্যা ঈশ্বরের উপাসনা করা অনেক ভালো আপনার সহকর্মীদের দাস বানানোর চেয়ে পাথরের কোনো বিকট মূর্তির সামনে মাথা নত করা অনেক ভালো।'''
* আমি আনন্দিত যে আপনি স্বীকার করেছেন যে কোনো ঈশ্বর না থাকার চেয়ে একজন খারাপ ঈশ্বর থাকা আরও খারাপ। যদি তাই হয়, তবে নাস্তিকরা যিহোবার বিশ্বাসীদের চেয়ে অনেক ভালো, এবং যিশু খ্রিষ্টের দেবত্বে বিশ্বাসীদের চেয়ে অনেক ভালো কারণ আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে কোনো খারাপ ঈশ্বর ছাড়া অন্য কেউ কোনো মানব আত্মাকে এই হুমকি দেবে না, "দূর হ, অভিশপ্তরা, অনন্ত আগুনে যা শয়তান এবং তার ফেরেস্তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।" তাই, যেকোনো খ্রিষ্টান একজন নাস্তিকের চেয়ে ভালো হওয়ার আগে তাকে অবশ্যই তার ঈশ্বরকে সংশোধন করতে হবে।
* '''অজ্ঞেয়বাদী কেবল এটাই বলে না, "আমি জানি না।" সে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়, এবং সে খুব জোর দিয়ে বলে যে আপনিও জানেন না। সে জোর দিয়ে বলে যে আপনি অন্যদের অজ্ঞতা নিয়ে এবং অন্যদের ভয় নিয়ে ব্যবসা করছেন। আপনি জানেন না কেবল এটুকু বলেই সে সন্তুষ্ট হয় না, সে প্রমাণ করে যে আপনি জানেন না''', এবং সে আপনাকে সত্যের ক্ষেত্র থেকে তাড়িয়ে দেয় সে আপনাকে যুক্তির রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেয় সে আপনাকে আলো থেকে তাড়িয়ে অনুমানের অন্ধকারে নিয়ে যায় স্বপ্ন এবং ছায়ার জগতে নিয়ে যায়, এবং সে আপনাকে শেষ পর্যন্ত বলতে বাধ্য করে যে আপনার বিশ্বাসের বাস্তবে কোনো ভিত্তি নেই।
* '''গির্জা মানুষের মনকে ন্যায়বিচার, দয়া এবং সত্যের নীতির দিকে ফেরায়নি এটি ন্যায়বিচারের ভিত্তি ধ্বংস করেছে। এটি কফিনের পাশে সান্ত্বনা দেয় না এটি শোকাহতদের ভয়ে ভরিয়ে দেয়। এটি কখনোই "পৃথিবীতে শান্তি"র সুসমাচার প্রচার করেনি এটি কখনোই "মানুষের প্রতি সদিচ্ছা" প্রচার করেনি।'''
* আমি বলছি না যে এই বিশ্বাস সত্য কি না তা আমি জানি না। আমি স্পষ্টভাবে এবং পরিষ্কারভাবে বলছি যে আমি জানি এটি সত্য নয়। আমি স্বীকার করি যে কোনো অসীম ব্যক্তিত্ব আছে কি না তা আমি জানি না, কারণ আমি জানি না যে আমার মন একটি নিখুঁত মানদণ্ড। কিন্তু আমার মন অনুযায়ী, এমন কোনো ব্যক্তিত্ব নেই; এবং আমার মন অনুযায়ী, এমন কোনো অসীম ব্যক্তিত্ব থাকার কথা ভাবা একটি চরম অযৌক্তিকতা। '''কিন্তু আমি মানব প্রকৃতি সম্পর্কে কিছু জানি; আমি মানবজাতির ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা জানি; এবং আমি এটা জানার জন্য যথেষ্ট জানি যে খ্রিষ্টান বিশ্বাস হিসেবে যা পরিচিত তা সত্য নয়। আমি সব সন্দেহের ঊর্ধ্বে পুরোপুরি নিশ্চিত যে সমস্ত অলৌকিক ঘটনা মিথ্যা। আমি ঠিক ততটাই ভালোভাবে জানি যতটা আমি জানি যে আমি বেঁচে আছি অন্যরা বেঁচে আছে যে আপনি যাকে আপনার বিশ্বাস বলেন, তা সত্য নয়।'''
* "স্রষ্টার প্রতি প্রশংসার সেই চমৎকার গীতিনাট্য যা দিয়ে জেনেসিস শুরু হয়" তা চমৎকার সব ভুলে ভরা, এবং এটি পুরোপুরি অযৌক্তিক। '''"প্রথম পাপ এবং এর পরিণতি নিয়ে সেই সুন্দর কিংবদন্তিটি" সম্ভবত এ পর্যন্ত লেখা সবচেয়ে জঘন্য গল্প, এবং যিহোবার দ্বারা সেই প্রথম জুটির প্রতি আচরণ স্বৈরাচারী সরকারগুলোর নিষ্ঠুরতার ইতিহাসেও নজিরবিহীন। এই কুখ্যাত বর্ণনা অনুযায়ী, ঈশ্বর পৃথিবীর মায়েদের অভিশাপ দিয়েছিলেন এবং মাতৃত্বের যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কেবল তাই নয়, তিনি নারীকে দাসে পরিণত করেছিলেন, এবং পুরুষকে করে তুলেছিলেন এমন কিছু, যদি সম্ভব হয়, যা আরও নিচু একজন মনিব।'''
== আরোপিত ==
* '''এই বীরেরা মৃত। তারা স্বাধীনতার জন্য মারা গেছেন তারা আমাদের জন্য মারা গেছেন।''' তারা বিশ্রামে আছেন। তারা সেই দেশে ঘুমাচ্ছেন যাকে তারা স্বাধীন করেছিলেন, সেই পতাকার নিচে যাকে তারা নিষ্কলঙ্ক করেছিলেন, গম্ভীর পাইন গাছের নিচে, বিষণ্ণ হেমলকের নিচে, অশ্রুসিক্ত উইলোর নিচে, জড়িয়ে থাকা লতাগুল্মের নিচে। তারা মেঘের ছায়ায় ঘুমাচ্ছেন, রোদ বা ঝড়ের প্রতি উদাসীন হয়ে, প্রত্যেকেই বিশ্রামের জানালাবিহীন প্রাসাদে। পৃথিবী হয়তো অন্যান্য যুদ্ধের কারণে লাল হয়ে উঠবে তারা শান্তিতে আছেন। যুদ্ধের ডামাডোলে, সংঘাতের গর্জনে, তারা মৃত্যুর প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছেন।
** ''মেমোরিয়াল ডে ভিশন''। ''বারলেটস ফ্যামিলিয়ার কোটেশনস'', ১০ম সংস্করণ (১৯১৯)-এ উল্লেখিত।
{{Misattributed begin}}
=== ভুলভাবে আরোপিত ===
* আমাদের পূর্বপুরুষরা ঈশ্বরকে রাজনীতি থেকে বিদায় করেছিলেন... স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এই মহৎ সত্যটি ঘোষণা করে যে সমস্ত ক্ষমতা জনগণের কাছ থেকেই আসে। এটি ছিল একটি প্রত্যাখ্যান, এবং একটি জাতির প্রথম প্রত্যাখ্যান, সেই কুখ্যাত মতবাদের যেখানে ঈশ্বর একজনকে অন্যের ওপর শাসন করার অধিকার দেন... আমাদের পিতারা এই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
** [[w:ডেভিড বার্টন (লেখক)|ডেভিড বার্টন]] কর্তৃক ''অরিজিনাল ইনটেন্ট'' (১৯৯৬) বইয়ে ভুলভাবে উদ্ধৃত, ''ইন্ডিভিজুয়ালিটি'' (১৮৭৩)-এর কিছু অংশ ১৮৭৬ সালের সেন্টেনিয়াল ওরেশনের একটি ভুল উদ্ধৃতির সাথে যুক্ত করা হয়েছে (উপরে দেখুন)।
{{Misattributed end}}
== ইঙ্গারসোল সম্পর্কে উক্তি ==*[[রবার্ট জি. ইঙ্গারসোল]] এবং [[ওয়েন্ডেল ফিলিপস]] তাদের সময়ের সেরা দুই বাগ্মী ছিলেন, এবং সম্ভবত সর্বকালের। তাদের শক্তি এসেছিল স্বাধীনতা, সত্য, ন্যায়বিচার, এবং আলো ও সুখী মানুষে ভরা একটি পৃথিবীর প্রতি তাদের আবেগ থেকে। এই ঐশ্বরিক আবেগ না থাকলে তাদের কেউই অমর অর্জনের মহৎ শিখরে উঠতে পারতেন না। পবিত্র আগুন তাদের ভেতরে জ্বলত এবং যখন তারা জেগে উঠতেন তখন তা তাদের চোখে জ্বলজ্বল করত এবং তাদের অনুপ্রাণিত ঠোঁট থেকে বাগ্মিতার স্রোতে গড়িয়ে পড়ত। ইঙ্গারসোল এবং ফিলিপস যদি অর্থের বিনিময়ে আইন পেশায় তাদের জীবন উৎসর্গ করতেন তবে তাদের ভেতরের সেই ঐশ্বরিক আগুন ছাই হয়ে যেত এবং তারা সাধারণত্বের মাঝেই মারা যেতেন।
**[[ইউজিন ভি. ডেবস]], "দ্য সিক্রেট অফ এফিশিয়েন্ট এক্সপ্রেশন" (১৯১১)
* আমি এইমাত্র আমার ঘরে এসেছি, প্রিয় লিভি, আমার মনে হয় এটি ছিল আমার জীবনের স্মরণীয় রাত। জর্জের শপথ, আমি জন্মের পর থেকে কখনো এতটা আলোড়িত হইনি। আমি চারটি বক্তৃতা শুনেছি যা আমি কখনো ভুলতে পারব না... এর মধ্যে একটি হলো সেই অসাধারণ বৃদ্ধ মানুষ, কর্নেল বব ইঙ্গারসোলের ওহ, পৃথিবীর সৃষ্টির পর থেকে ইংরেজি শব্দের এর চেয়ে নিখুঁত সমন্বয় আর কখনো হয়নি। আমার আত্মা, তিনি দেখতে কতটা সুদর্শন ছিলেন, যখন তিনি সেই টেবিলের ওপর দাঁড়িয়েছিলেন, চিৎকার করা ৫০০ মানুষের মাঝে, এবং তার ঠোঁট থেকে গলিত রূপো ঢেলে দিচ্ছিলেন! '''প্রভু, মানুষের কথা বলার ক্ষমতা কতটা চমৎকার একটি বাদ্যযন্ত্র হতে পারে যখন এটি কোনো মাস্টারের দ্বারা বাজানো হয়! এই সব বক্তৃতা ছাপার অক্ষরে হয়তো নিরস মনে হতে পারে, কিন্তু যখন সেগুলো উচ্চারিত হচ্ছিল তখন তার চারপাশে বিদ্যুৎ কেমন ঝলমলে ছিল, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় জনতা কেমন গর্জন করছিল!''' এটি একটি দুর্দান্ত রাত ছিল, একটি স্মরণীয় রাত।
** [[মার্ক টোয়েন]], তার স্ত্রী "লিভি"-কে লেখা [http://etext.virginia.edu/railton/onstage/babies.html চিঠিতে (১৪ নভেম্বর ১৮৭৯)]।
* রবার্ট ইঙ্গারসোলের ভাঙার জন্য<br>কোনো মূর্তি বা প্রতিমা তৈরি কোরো না।
** [[অ্যামব্রোস বিয়ার্স]], "ডেকালগ", ''দ্য ডেভিলস ডিকশনারি'' (১৯০৬)।
* '''রবার্ট ইঙ্গারসোল ছিলেন একজন [[রম্যরচনাকার]], প্রথা-বিরোধক এবং [[মানবতা]]র [[প্রেমিক]]।''' <br> বলা হয়ে থাকে যে মানুষ এবং নিম্ন স্তরের প্রাণীদের মধ্যে পার্থক্য হলো মানুষের [[হাসি|হাসার]] ক্ষমতা আছে। <br> আপনি যখন হাসেন তখন আপনি শিথিল হন, এবং যখন আপনি শিথিল হন তখন আপনি পেশি, স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের কোষগুলোকে [[স্বাধীনতা]] দেন। মানুষের মস্তিষ্ক যখন টানটান থাকে তখন সে খুব কমই তার [[যুক্তি]] ব্যবহার করতে পারে। রসবোধ এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে যুক্তি কাজ করতে পারে। <br> '''ইঙ্গারসোল জানতেন যে তাকে মানুষের [[মস্তিষ্ক]]এর কাছে আবেদন করতে হবে।'''
** [[অ্যালিস মুর হাবার্ড]], ''অ্যান আমেরিকান বাইবেল'' (১৯১২), ভূমিকা।
* '''রবার্ট ইঙ্গারসোল যেকোনো [[রাজনৈতিক]] এবং [[সামাজিক]] [[সম্মান]]এর চেয়ে [[মানবতা]]কে দাসত্ব এবং [[ভয়]] থেকে মুক্ত করার সুযোগকে বেশি পছন্দ করতেন। তিনি [[সত্য]]এর চেয়ে পবিত্র আর কিছুই জানতেন না।''' জনপ্রিয় প্রশংসা বা অনুমোদন পাওয়ার চেয়ে তিনি তার নিজস্ব যুক্তি ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করতেন। তার প্রখর বুদ্ধি, পরিষ্কার মস্তিষ্ক এবং নির্দয় [[ব্যঙ্গ]] [[কুসংস্কার]]এর রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল এবং তাকে যুক্তির আদালতে একটি পুতুলে পরিণত করেছিল।
** [[অ্যালিস মুর হাবার্ড]], ''অ্যান আমেরিকান বাইবেল'' (১৯১২), ভূমিকা।
*আঙ্কেল ড্যানই প্রথম রবার্ট ইঙ্গারসোল পড়ে শুনিয়ে বাইবেলের গল্পের ওপর আমার বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছিলেন। "বাতাস চলাচলের ব্যাপারে নোয়াহর কত বাজে ধারণাই না ছিল!" আমার মনে আছে তিনি বলছিলেন। "আর্ক-এ থাকা এত মানুষ এবং প্রাণী কীভাবে বেঁচে থাকতে পারে যদি কেবল ঘুঘুটিকে উড়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্যই একমাত্র জানালাটি খোলা হয়!" আমি ইঙ্গারসোলের সাবলীল সুন্দর ভাষা এবং তার ধারণাগুলো দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে, আমার হাতে আসা তার লেখা সবকিছুই আমি পড়তে শুরু করি। ইঙ্গারসোল, যিনি "মহান অজ্ঞেয়বাদী" হিসেবে পরিচিত ছিলেন, সারা দেশে অর্থোডক্স যাজকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি গৃহযুদ্ধে একজন কর্নেল ছিলেন এবং একজন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান আইনজীবী হিসেবে তিনি উচ্চ রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত হতে পারতেন। কিন্তু তার নির্ভীক অজ্ঞেয়বাদী বক্তৃতাগুলো তা অসম্ভব করে তুলেছিল। তার লেখাগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যাপকভাবে পঠিত হয়েছে এবং আমেরিকান চিন্তাধারাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। ডেবস ছাড়া আর কোনো বাগ্মী আমাকে ইঙ্গারসোলের মতো আকর্ষণ করেনি। ডেবসের উপমা এবং কল্পনাগুলো ইঙ্গারসোলের মতোই ছিল যে মানুষ মাঝে মাঝে বলত তিনি ইঙ্গারসোলকে অনুকরণ করেছেন। অবশ্যই, এটি সত্য ছিল না, তবে ডেবস কথা বলার আগে ইঙ্গারসোলের লেখায় নিজেকে নিমজ্জিত করতেন এবং প্রায়শই ইঙ্গারসোলকে উদ্ধৃত করতেন। ইঙ্গারসোল, অবশ্যই, শ্রেণি সংগ্রাম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তার প্রধান উদ্বেগ ছিল মানুষের মনকে কুসংস্কার থেকে মুক্ত করা তিনি কেবল ধর্মে একজন বিপ্লবী ছিলেন।
**[[এলা রিভ ব্লুর]] ''উই আর মেনি: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি'' (১৯৪০)
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
{{commonscat}}
* [http://www.secularhumanism.org/index.php?section=ingersoll&page=bio SecularHumanism.org-এ সংক্ষিপ্ত জীবনী]
* [http://www.bigeye.com/rgicreed.htm আর জি ইঙ্গারসোলের ধর্মমত]
* [http://www.infidels.org/library/historical/robert_ingersoll/index.html ইঙ্গারসোলের সম্পূর্ণ কাজ]
* [http://www.positiveatheism.org/tochingr.htm পজিটিভ অ্যাথিজম-এ ইঙ্গারসোল থেকে নির্বাচিত অংশ]
*
[[বিষয়শ্রেণী:মানবতাবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতা]]
[[বিষয়শ্রেণী:রাজনৈতিক নেতা]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৩৩-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৮৯৯-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাকস্বাধীনতা কর্মী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ধর্মের সমালোচক]]
[[বিষয়শ্রেণী:রিপাবলিকান পার্টির (যুক্তরাষ্ট্র) সদস্য]]
ess0xnbzuxc5vwb6ur1j5hsnqgpzoz5
স্টিফেন জে গুল্ড
0
13703
83236
83181
2026-05-01T14:30:05Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
83236
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:স্টিফেন জে গুল্ড|স্টিফেন জে গুল্ড]]''' (১০ সেপ্টেম্বর ১৯৪১ – ২০ মে ২০০২) ছিলেন একজন মার্কিন [[ভূতাত্ত্বিক]], [[জীবাশ্মবিজ্ঞান|জীবাশ্মবিদ]], বিবর্তনীয় [[জীববিজ্ঞানী]] এবং জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক। তিনি তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে কাটিয়েছেন। এছাড়া তিনি নিউইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে কাজ করতেন। তিনি তার প্রজন্মের জনপ্রিয় বিজ্ঞানের অন্যতম প্রভাবশালী এবং বহুল পঠিত লেখক ছিলেন।
== উক্তি ==
* আইনস্টাইনের মস্তিষ্কের ওজন এবং ভাঁজগুলোর প্রতি আমার আগ্রহ কিছুটা কম। বরং সমপরিমাণ প্রতিভাবান মানুষেরা তুলার ক্ষেত এবং কারখানায় জীবন কাটিয়ে মারা গেছেন, এই প্রায় নিশ্চিত সত্যটি আমাকে বেশি ভাবায়।
** [https://books.google.com/books?id=-lWtVSZoqWkC&pg=PA776 "ওয়াইড হ্যাটস অ্যান্ড ন্যারো মাইন্ডস"] ''নিউ সায়েন্টিস্ট'' ৮ মার্চ ১৯৭৯, পৃষ্ঠা ৭৭৭। ''দ্য পান্ডাস থাম্ব'' বইয়ে পুনর্মুদ্রিত, [https://books.google.com/books?id=z0XY7Rg_lOwC&pg=PA151 পৃষ্ঠা ১৫১]।
* তাই আমাদের উচিত অনুগ্রহ ও আশাবাদের সাথে [[w:নন-ওভারল্যাপিং ম্যাজিস্টিরিয়া|নোমা]]র দৃঢ় দাবীকে গ্রহণ করা। নৈতিকতা এবং অর্থ নিয়ে মানুষের এই সংগ্রামের ব্যক্তিগত চরিত্রকে স্বীকার করতে হবে। প্রকৃতির গঠনের মধ্যে নির্দিষ্ট উত্তরের সন্ধান বন্ধ করতে হবে। অনেক মানুষ প্রকৃতিকে একটি "পরিবর্তনশীল বস্তু" হিসেবে ছেড়ে দিতে পারে না। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের স্বস্তির জন্য শিশুর উষ্ণ কম্বলের মতো। আমরা যখন এটি করব (কারণ আমাদের তা করতেই হবে), প্রকৃতি অবশেষে তার আসল রূপে আবির্ভূত হতে পারবে। এটি আমাদের প্রয়োজনের বিকৃত আয়না হিসেবে নয়, বরং আমাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সঙ্গী হিসেবে দেখা দেবে। কেবল তখনই আমরা আমাদের আলাদা ম্যাজিস্টিরিয়া দ্বারা তৈরি টুকরোগুলোকে প্রজ্ঞা নামক একটি সুন্দর এবং সুসংহত কাঁথায় একত্রিত করতে পারব।
** ''রকস অফ এজেস: সায়েন্স অ্যান্ড রিলিজিয়ন ইন দ্য ফুলনেস অফ লাইফ'' (ব্যালান্টাইন, ১৯৯৯), পৃষ্ঠা ১৭৮
* ঈশ্বর সমস্ত মূল্যবান ছোট উদাহরণ এবং তাদের ধারাবাহিক প্রভাবগুলোকে আশীর্বাদ করুন। ওক গাছের ব্লুপ্রিন্ট বহনকারী এই ছোট অ্যাকর্ন বা রত্নগুলো ছাড়া প্রবন্ধকারদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেত।
** ''কোয়েশ্চেনিং দ্য মিলেনিয়াম'' (দ্বিতীয় সংস্করণ, হারমনি, ১৯৯৯), পৃষ্ঠা ৪২
* মানব বিবর্তনে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। ৪০,০০০ বা ৫০,০০০ বছরে মানুষের মধ্যে কোনো জৈবিক পরিবর্তন হয়নি। আমরা যাকে সংস্কৃতি এবং সভ্যতা বলি, তার সবকিছুই আমরা একই শরীর এবং মস্তিষ্ক দিয়ে তৈরি করেছি।
**"[https://web.archive.org/web/20191103111841/http://www.stephenjaygould.org/library/gould_spice-of-life.pdf দ্য স্পাইস অফ লাইফ]", সাক্ষাৎকার, ''লিডার টু লিডার'' (ইস্যু ১৫, ২০০০), পৃষ্ঠা ১৪ থেকে ১৯
* আমরা যখন জীবনের একইভাবে বিস্তৃত এবং মৌলিক দিকগুলোর সমগ্রতা বিবেচনা করি, তখন আমরা বস্তুনিষ্ঠ শৃঙ্খলার প্রাকৃতিক নীতি হিসেবে দুই ভাগে ভাগ করাকে সমর্থন করতে পারি না। প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্বের "উপাদান" প্রায়শই আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোতে জটিল এবং ছায়াযুক্ত ধারাবাহিকতা হিসেবে আঘাত করে। পথের ধারে দ্রুত এবং ধীর মুহূর্ত এবং বড় ও ছোট পদক্ষেপগুলোর কথা স্বীকার করতেই হয়। প্রকৃতি দ্বৈততা, ত্রিত্ব, চতুর্থাংশ বা মানব শ্রেণিবিন্যাসের জন্য কোনো "উদ্দেশ্যমূলক" ভিত্তি নির্দেশ করে না। আমাদের বেছে নেওয়া বেশিরভাগ স্কিম এবং বিভাগগুলোর নির্ধারিত সংখ্যা স্থান থেকে স্থানে প্রাকৃতিক প্রকরণ দ্বারা দেওয়া সম্ভাবনার প্রাচুর্য থেকে মানুষের পছন্দগুলো রেকর্ড করে। এগুলো আমাদের মানসিক ক্ষমতার নমনীয়তা দ্বারা অনুমোদিত হয়। এক বছরে কয়টি ঋতু থাকে (যদি আমরা ঋতু দ্বারা ভাগ করতে চাই)? মানুষের জীবনে আমরা কয়টি পর্যায় চিনতে পারব?
** ''দ্য হেজহগ, দ্য ফক্স, অ্যান্ড দ্য ম্যাজিস্টারস পক্স: মেন্ডিং দ্য গ্যাপ বিটুইন সায়েন্স অ্যান্ড দ্য হিউম্যানিটিস'' (হারমনি, ২০০৩), পৃষ্ঠা ৮২
* বিতর্ক একটি শিল্প। এটি যুক্তি জেতার বিষয়। সত্য আবিষ্কারের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বিতর্কের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম এবং পদ্ধতি রয়েছে। তথ্য প্রতিষ্ঠার সাথে এগুলোর আসলে কোনো সম্পর্ক নেই। সৃষ্টিবাদীরা এই কৌশলগুলো আয়ত্ত করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি নিয়ম হলো নিজের অবস্থান সম্পর্কে কখনও ইতিবাচক কিছু না বলা। কারণ এটি আক্রান্ত হতে পারে। বরং প্রতিপক্ষের অবস্থানের দুর্বল দিকগুলোর দিকে আঘাত করা উচিত। তারা এতে পারদর্শী। আমি মনে করি না আমি বিতর্কে সৃষ্টিবাদীদের হারাতে পারব। আমি তাদের সাথে ড্র করতে পারি। কিন্তু আদালতে তারা ভয়ানক দুর্বল। কারণ আদালতে আপনি বক্তৃতা দিতে পারবেন না। একটি আদালতে আপনাকে আপনার বিশ্বাসের ইতিবাচক অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আমরা আরকানসাসে তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলাম। দুই সপ্তাহের বিচারের দ্বিতীয় দিনেই আমরা আমাদের বিজয় উদযাপন করেছিলাম!
** ''[[w:ম্যাকলিন বনাম আরকানসাস|ম্যাকলিন বনাম আরকানসাস]]'' সৃষ্টিবাদ বিচারের পর, [http://www.ncseweb.org/resources/rncse_content/vol24/620_then_a_miracle_occurs_12_30_1899.asp ''রিভিউ অফ দ্য ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশন'' ভলিউম ২৪, নম্বর ৬ (নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০০৪)]-এ উদ্ধৃত
* আমি গভীরভাবে রোমান্টিকতা বিরোধী। [[w:রোমান্টিকতা|রোমান্টিকতা]] বিপজ্জনক। বুদ্ধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হলে রোমান্টিকতা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়।
** "স্টিফেন জে গুল্ড: দ্য আনঅ্যান্সারেবল" প্রামাণ্যচিত্র সিরিজের পর্ব, ''[[w:আ গ্লোরিয়াস এক্সিডেন্ট|আ গ্লোরিয়াস এক্সিডেন্ট]]''।
* এটি [[w:দ্য ফরমেশন অফ ভেজিটেবল মোল্ড থ্রু দ্য অ্যাকশন অফ ওয়ার্মস|তার শেষ বই]]। তিনি ১৮৮১ সালে মৃত্যুর আগের বছর এটি লিখেছিলেন। আমরা সাধারণত আশা করি বার্ধক্যে মৃত্যুর ঠিক আগে একজন মহান বিজ্ঞানী বাস্তবতার প্রকৃতি নিয়ে একটি দার্শনিক গ্রন্থ লিখবেন। আর [[চার্লস ডারউইন|ডারউইন]] কেঁচো নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। তিনি কেঁচো নিয়ে আগ্রহী ছিলেন কারণ এগুলো তার বৃহত্তর বিশ্বদর্শনের রূপক ছিল। ইংল্যান্ডের উপরের মাটি ধীরে ধীরে মন্থন করা কেঁচোগুলো আক্ষরিক অর্থেই আমাদের পায়ের নিচে কাজ করে। আমরা এগুলো কখনও লক্ষ্য করি না। আমরা মনে করি এগুলো তাৎপর্যহীন কারণ এগুলো খুব ছোট এবং নিচু। কিন্তু বাস্তবে এগুলো কৃষির ভিত্তি হিসেবে মাটি তৈরি করছে। আর তাই দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত হলে ছোট জিনিসগুলোর গুরুত্ব বোঝাতে ডারউইন এটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বিবর্তন হলো বিশাল সময়কাল ধরে ডারউইনের কাছে ছোট পরিবর্তনের বিস্তৃতি। তাই কেঁচোগুলো বিবর্তন এবং সাময়িক পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়ার রূপক হয়ে ওঠে। এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বই।
** "স্টিফেন জে গুল্ড: দ্য আনঅ্যান্সারেবল" (৩০ আগস্ট ২০১৬) {{w|ভিপিআরও}}, ''আ গ্লোরিয়াস এক্সিডেন্ট'' [https://www.youtube.com/watch?v=litu8JfyS44&list=PLzLGaX_JvmJoIGJFR_1M088pMz68qUtnc&index=6 (৭ এর ৬)] ২২:০১।
=== ''এভার সিন্স ডারউইন'' (১৯৭৭) ===
:<small>উদ্ধৃতিগুলো ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।</small>
* গতকালের খবরের কাগজ আজকের আবর্জনা মুড়িয়ে রাখে। সাংবাদিকদের এই রসিকতা সম্পর্কে আমি অসচেতন নই। অপ্রয়োজনীয় এবং অসংলগ্ন প্রবন্ধের সংগ্রহ প্রকাশ করতে গিয়ে আমাদের বনাঞ্চলের ওপর যে অত্যাচার চালানো হয়, সে বিষয়েও আমি অসচেতন নই। [[ডঃ সিউস]]র লরাক্সের মতো আমি ভাবতে পছন্দ করি আমি গাছের পক্ষে কথা বলি। অহংকার বাদ দিলে এই প্রবন্ধগুলোর সংকলনের জন্য আমার একমাত্র অজুহাত হলো অনেকে এগুলো পছন্দ করেন (এবং অনেকে এগুলো ঘৃণা করেন)। এগুলো একটি সাধারণ বিষয়ের চারপাশে সুসংগত বলে মনে হয়। ডারউইনের বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ আমাদের মহাজাগতিক অহংকারের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
** প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১৪
* আমি যুক্তি দিতে চাই জীবাশ্ম রেকর্ডে প্রজাতির "হঠাৎ" আবির্ভাব ঘটে। এর পরবর্তী বিবর্তনীয় পরিবর্তনগুলো আমরা লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হই। আমি মনে করি এটি আমাদের বোঝামতে বিবর্তনীয় তত্ত্বের একটি সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী। বিবর্তনীয় "পর্যায়গুলো" মইয়ের কোনো ধাপ নয়। বরং এটি একটি গোলকধাঁধার মতো চলমান আঁকাবাঁকা পথের আমাদের পূর্ববর্তী পুনর্গঠন। এটি ঝোপের গোড়া থেকে শাখা থেকে শাখায় বিস্তৃত হয়ে বর্তমানে শীর্ষে টিকে থাকা একটি বংশধারায় পরিণত হয়েছে।
** "বুশেস অ্যান্ড ল্যাডারস ইন হিউম্যান ইভোলিউশন", পৃষ্ঠা ৬১
* যদি বিজ্ঞানের কোনো স্থায়ী শত্রু থাকে, তবে তা ধর্ম নয়, বরং অযৌক্তিকতা।
** "দ্য রেভারেন্ড থমাসেস ডার্টি লিটল প্ল্যানেট", পৃষ্ঠা ১৪১
* আমাদের নিজেদের মহাজাগতিক গুরুত্বের ওপর প্রাথমিক বিশ্বাস থেকে দীর্ঘ পশ্চাদপসরণে প্রতিটি প্রধান বিজ্ঞান একটি অপরিহার্য উপাদান যোগ করেছে। জ্যোতির্বিদ্যা আমাদের বাড়িকে লক্ষ লক্ষ গ্যালাক্সির মধ্যে একটি গড় গ্যালাক্সির এক কোণে লুকিয়ে থাকা একটি ছোট গ্রহ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। জীববিজ্ঞান ঈশ্বরের আদলে তৈরি দৃষ্টান্ত হিসেবে আমাদের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে। ভূতত্ত্ব আমাদের সময়ের বিশালতা দিয়েছে এবং শিখিয়েছে আমাদের নিজস্ব প্রজাতি এর কতটা সামান্য অংশ দখল করে আছে।
** "ইউনিফর্মিটি অ্যান্ড ক্যাটাষ্ট্রফি", পৃষ্ঠা ১৪৭
* কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ছাত্র হিসেবে আমার মনে আছে, মহাদেশীয় সরণের তত্ত্বের একজন সমর্থক, একজন অস্ট্রেলীয় ভ্রমণকারীর প্রতি আমার বিশিষ্ট স্ট্র্যাটিগ্রাফি অধ্যাপকের পূর্বনির্ধারিত উপহাস। আজ আমার নিজের শিক্ষার্থীরা মহাদেশীয় সরণের সুস্পষ্ট সত্য অস্বীকারকারী যে কাউকে আরও বেশি উপহাসের সাথে খারিজ করে দেবে। একজন ভবিষ্যদ্বাণীমূলক পাগল অন্তত মজাদার হয়। কিন্তু একজন সেকেলে বোকা মানুষ কেবলই করুণার পাত্র।
** "দ্য ভ্যালিডেশন অফ কন্টিনেন্টাল ড্রিফট", পৃষ্ঠা ১৬০ থেকে ১৬১
* আমি দাবি করি ''হোমো স্যাপিয়েন্স''র অব্যাহত জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস একটি প্রজাতির মধ্যে পার্থক্যের সাধারণ সমস্যার একটি সেকেলে পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে। অন্য কথায় আমি মানুষের জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস প্রত্যাখ্যান করি। একই কারণে আমি আমার নিজস্ব গবেষণার বিষয়বস্তু গঠনকারী বিস্ময়কর পরিবর্তনশীল ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ল্যান্ড শামুকগুলোকে উপপ্রজাতিতে ভাগ না করতে পছন্দ করি।
** "হোয়াই উই শুড নট নেম হিউম্যান রেসেস—আ বায়োলজিক্যাল ভিউ", পৃষ্ঠা ২৩১
* বুদ্ধিমত্তাকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হোক না কেন, আমি দাবি করি না এর কোনো জেনেটিক ভিত্তি নেই। আমি এটিকে মামুলি সত্য, অরুচিকর এবং গুরুত্বহীন বলে মনে করি। যেকোনো বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ বংশগতি এবং পরিবেশের একটি জটিল মিথস্ক্রিয়াকে তুলে ধরে। আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গদের বুদ্ধিমত্তায় একটি গড় জিনগত ঘাটতি প্রদর্শনের একটি নির্দিষ্ট দাবির কোনো নতুন [[তথ্য]] নেই। এর সমর্থনে কোনো বৈধ ডেটা উল্লেখ করা যায় না। শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গদের জিনগত সুবিধা থাকার সম্ভাবনাও সমান। আর যেভাবেই হোক, এটা কোনো ব্যাপার না। একজন ব্যক্তিকে তার দলের গড়ের ওপর বিচার করা যায় না।
** "রেসিস্ট আর্গুমেন্টস অ্যান্ড আইকিউ", পৃষ্ঠা ২৪৬ থেকে ২৪৭
* [[w:লিনিয়াস|লিনিয়াস]]র কাছে ''হোমো স্যাপিয়েন্স'' বিশেষ এবং অবিশেষ উভয়ই ছিল। বিশেষ এবং অবিশেষ বলতে ননবায়োলজিক্যাল এবং বায়োলজিক্যাল, অথবা লালন-পালন এবং প্রকৃতি বোঝায়। পরবর্তী মেরুকরণগুলো অর্থহীন। মানুষ হলো প্রাণী এবং আমরা যা কিছু করি তা আমাদের জৈবিক সম্ভাবনার মধ্যেই থাকে। মানুষ প্রাণী এই বিবৃতিটি বোঝায় না আমাদের আচরণ এবং সামাজিক ব্যবস্থার নির্দিষ্ট নিদর্শনগুলো কোনোভাবেই সরাসরি আমাদের জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়। ''সম্ভাব্যতা'' এবং ''নির্ধারণ'' ভিন্ন ধারণা।
** "বায়োলজিক্যাল পটেনশিয়ালিটি ''বনাম'' বায়োলজিক্যাল ডিটারমিনিজম", পৃষ্ঠা ২৫১
* তবে আমি এখানেই থামছি। নির্দিষ্ট পরোপকারী বা সুবিধাবাদী জিনের অধিকারী হওয়াকে নির্দিষ্ট আচরণের কারণ হিসেবে দায়ী করে এমন যেকোনো নির্ধারক জল্পনা থেকে দূরে থাকছি। আমাদের জিনগত গঠন আচরণের একটি বিস্তৃত পরিসরের অনুমতি দেয়। এটি আগেকার এবেনেজার স্ক্রুজ থেকে শুরু করে পরের এবেনেজার স্ক্রুজ পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি বিশ্বাস করি না কৃপণ ব্যক্তি সুবিধাবাদী জিনের মাধ্যমে সঞ্চয় করে। অথবা সমাজসেবী দান করেন কারণ প্রকৃতি তাকে স্বাভাবিক পরোপকারী জিনের চেয়ে বেশি কিছু দিয়েছে। লালন-পালন, সংস্কৃতি, শ্রেণি, মর্যাদা এবং "মুক্ত ইচ্ছা" নামক সমস্ত অধরা বিষয়গুলো নির্ধারণ করে কীভাবে আমরা আমাদের জিনগুলো দ্বারা অনুমোদিত চরম পরোপকারিতা থেকে চরম স্বার্থপরতা পর্যন্ত বিস্তৃত বর্ণালী থেকে আমাদের আচরণগুলোকে সীমাবদ্ধ করব।
** "সো ক্লেভারলি কাইন্ড অ্যান অ্যানিম্যাল", পৃষ্ঠা ২৬৬
* আপনি যদি এমন যুক্তি দিয়ে কোনো আচরণের পক্ষে অবস্থান নেন মানুষ এর জন্য সরাসরি প্রোগ্রাম করা হয়েছে, তবে আপনার জল্পনা ভুল প্রমাণিত হলে আপনি কীভাবে এটিকে সমর্থন করা চালিয়ে যাবেন? কারণ তখন আচরণটি অস্বাভাবিক এবং নিন্দার যোগ্য হয়ে ওঠে। মানুষের স্বাধীনতার ওপর একটি দার্শনিক অবস্থানে দৃঢ়ভাবে লেগে থাকা ভালো। স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্করা তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে একে অপরের সাথে যা করে তা কেবলই তাদের ব্যাপার। এটিকে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। এবং একে জেনেটিক অনুমানের দ্বারা নিন্দাও করা উচিত নয়।
** "সো ক্লেভারলি কাইন্ড অ্যান অ্যানিম্যাল", পৃষ্ঠা ২৬৭
=== ''দ্য পান্ডাস থাম্ব'' (১৯৮০) ===
:<small>ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার থেকে পৃষ্ঠা উল্লেখ করা হয়েছে।</small>
* জীবগুলো বিলিয়ার্ড বলের মতো নয়। এগুলো জীবনের পুল টেবিলে সহজ এবং পরিমাপযোগ্য বাহ্যিক শক্তি দ্বারা অনুমেয় নতুন অবস্থানে চালিত হয় না। পর্যাপ্ত জটিল সিস্টেমের সমৃদ্ধি বেশি থাকে। জীবগুলোর একটি ইতিহাস আছে যা তাদের ভবিষ্যৎকে অসংখ্য, সূক্ষ্ম উপায়ে সীমাবদ্ধ করে।
** প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১৬
* ফলাফল খুব কমই তাদের কারণগুলোকে দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্দেশ করে। যদি আমাদের কাছে জীবাশ্ম বা মানুষের ইতিহাসের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ না থাকে, যদি আমরা কেবল আধুনিক ফলাফল থেকে একটি প্রক্রিয়া অনুমান করতে বাধ্য হই, তবে আমরা সাধারণত স্থবির হয়ে পড়ি বা সম্ভাবনার বিষয়ে জল্পনা-কল্পনার স্তরে নেমে আসি। কারণ অনেক পথ প্রায় যেকোনো রোমের দিকেই নিয়ে যায়।
** "সেন্সলেস সাইনস অফ হিস্ট্রি", পৃষ্ঠা ৩৪
* উদাহরণস্বরূপ তার শেষ অর্ধ ডজন বইজুড়ে [[আর্থার কোয়েসলার]] ডারউইনবাদ সম্পর্কে তার নিজস্ব ভুল বোঝাবুঝির বিরুদ্ধে একটি প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি কিছু নির্দেশক শক্তির আশা করেন, যা বিবর্তনকে নির্দিষ্ট দিকে সীমাবদ্ধ করবে এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাবকে অতিক্রম করবে। কোয়েসলার ডারউইনবাদকে খামখেয়ালী পরিবর্তনের তত্ত্ব বলে মনে করলেও তা ঠিক নয়। এলোমেলো প্রকরণ পরিবর্তনের কাঁচামাল হতে পারে। কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচন স্থানীয় পরিবেশের সাথে অভিযোজন উন্নতকারী কয়েকটি প্রকরণকে গ্রহণ এবং সঞ্চয় করে বেশিরভাগ প্রকরণকে প্রত্যাখ্যান করে ভালো নকশা তৈরি করে।
** "ডাবল ট্রাবল", পৃষ্ঠা ৩৮ থেকে ৪০
* মানুষের বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে [[আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস|ওয়ালেস]]র ভুল তার অনমনীয় নির্বাচনবাদের অপ্রতুলতা থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। এটি প্রয়োগে ব্যর্থতার কারণে নয়। তার যুক্তিটি আজও আমাদের অধ্যয়নের দাবি রাখে। কারণ এর ত্রুটি আমাদের বর্তমান সাহিত্যের অনেক "আধুনিক" বিবর্তনীয় অনুমানের দুর্বল লিঙ্ক হিসেবে টিকে আছে। ওয়ালেসের অনমনীয় নির্বাচনবাদ ডারউইনের বহুবচনবাদের চেয়ে আজ আমাদের পছন্দের তত্ত্বে মূর্ত মনোভাবের অনেক কাছাকাছি। বিড়ম্বনার বিষয় হলো এই প্রেক্ষাপটে এটি "নিও-ডারউইনিজম" নামে পরিচিত।
** "ন্যাচারাল সিলেকশন অ্যান্ড দ্য হিউম্যান ব্রেইন: ডারউইন ''বনাম'' ওয়ালেস", পৃষ্ঠা ৫৪
* হাইপার-সিলেকশনিজম আমাদের সাথে বিভিন্ন ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। এটি প্রাকৃতিক সম্প্রীতির রূপকথার ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকের বৈজ্ঞানিক সংস্করণের প্রতিনিধিত্ব করে। সম্ভাব্য সব জগতের মধ্যে সবকিছুই সেরা। এই ক্ষেত্রে সব কাঠামোই একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ভালোভাবে তৈরি। এটি আসলে বোকা ডঃ প্যানগ্লোসের দৃষ্টিভঙ্গি, যা ''[[ক্যান্ডিড]]'' বইয়ে [[ভলতেয়ার]] এত স্পষ্টভাবে ব্যঙ্গ করেছেন। বিশ্ব অপরিহার্যভাবে ভালো নয়। তবে এটি আমাদের সম্ভাব্য সেরা বিশ্ব।
** "ন্যাচারাল সিলেকশন অ্যান্ড দ্য হিউম্যান ব্রেইন: ডারউইন ''বনাম'' ওয়ালেস", পৃষ্ঠা ৫৭
* যদি প্রতিভার কোনো সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকে, তবে আমি আগ্রহের প্রসার এবং ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ফলপ্রসূ উপমা তৈরি করার ক্ষমতার প্রস্তাব করব।
** "ডারউইনস মিডল রোড", পৃষ্ঠা ৬৬
* দুর্ভাগ্যবশত পৃথিবী খুব কমই আমাদের আশার সাথে মেলে এবং ধারাবাহিকভাবে যুক্তিসঙ্গত আচরণ করতে অস্বীকার করে।
** "শেডস অফ [[w:জঁ-বাতিস্ত লামার্ক|লামার্ক]]", পৃষ্ঠা ৭৬
* আপনার বাম হাঁটুর মালাইচাকি বা আপনার আঙুলের নখের মতো অস্পষ্ট অঙ্গসংস্থানের জন্য কোনো জিন নেই। শরীরের বেশিরভাগ অংশ তৈরিতে শত শত জিন অবদান রাখে। এদের ক্রিয়া ভ্রূণীয় এবং প্রসবোত্তর, অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত প্রভাবের মধ্য দিয়ে চালিত হয়। অংশগুলো অনূদিত জিন নয় এবং নির্বাচন সরাসরি অংশগুলোর ওপর কাজ করে না।
** "কেয়ারিং গ্রুপস অ্যান্ড সেলফিশ জিনস", পৃষ্ঠা ৯১
* বেশিরভাগ জীবাশ্ম প্রজাতির ইতিহাসে ধীর পরিবর্তনের সাথে বিশেষভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ দুটি বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১. ''স্থবিরতা।'' বেশিরভাগ প্রজাতি পৃথিবীতে তাদের মেয়াদকালে কোনো নির্দেশমূলক পরিবর্তন প্রদর্শন করে না। জীবাশ্ম রেকর্ডে আবির্ভূত হওয়ার সময় তাদের যেমন দেখায়, হারিয়ে যাওয়ার সময়ও প্রায় একই রকম দেখায়। অঙ্গসংস্থানগত পরিবর্তন সাধারণত সীমিত এবং দিকহীন হয়। ২. ''হঠাৎ আবির্ভাব।'' কোনো স্থানীয় এলাকায় একটি প্রজাতি তার পূর্বপুরুষদের স্থির রূপান্তরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উদ্ভূত হয় না। এটি একেবারে এবং "সম্পূর্ণরূপে গঠিত" অবস্থায় আবির্ভূত হয়।
** "দ্য এপিসোডিক নেচার অফ ইভোলিউশনারি চেঞ্জ", পৃষ্ঠা ১৮২
* বিবর্তন হলো জৈব পরিবর্তনের একটি তত্ত্ব। তবে অনেকের ধারণা অনুযায়ী এটি বোঝায় না অবিরাম প্রবাহ প্রকৃতির হ্রাস অযোগ্য অবস্থা এবং কাঠামো কেবল এই মুহূর্তের একটি অস্থায়ী অবতার। পরিবর্তন হলো ধীর এবং স্থির হারে ক্রমাগত রূপান্তরের চেয়ে স্থিতিশীল অবস্থাগুলোর মধ্যে একটি দ্রুত রূপান্তর। আমরা কাঠামো এবং বৈধ পার্থক্যের পৃথিবীতে বাস করি। প্রজাতি হলো প্রকৃতির অঙ্গসংস্থানের একক।
** "আ কোয়াহগ ইজ আ কোয়াহগ", পৃষ্ঠা ২১৩
* আমি [[w:র্যান্ডলফ কার্কপ্যাট্রিক|কার্কপ্যাট্রিক]]কে তার স্পঞ্জ এবং তার আধ্যাত্মিক নামুলোস্ফিয়ার উভয়ের জন্যই সম্মান করি। একটি পাগলাটে তত্ত্বকে হাসির ছলে উড়িয়ে দেওয়া সহজ। এটি মানুষের অনুপ্রেরণা বোঝার যেকোনো চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে। নামুলোস্ফিয়ার একটি পাগলাটে তত্ত্ব। আমি দেখতে পাই কল্পনাশক্তির অধিকারী এমন খুব কম মানুষই আছেন যারা আমার মনোযোগের দাবিদার নন। তাদের ধারণাগুলো ভুল হতে পারে, এমনকি বোকামিও হতে পারে। কিন্তু তাদের পদ্ধতিগুলো প্রায়ই নিবিড় অধ্যয়নের দাবি রাখে। ভিন্ন ধারার মানুষ প্রায়শই একটি ফলপ্রসূ ছন্দ তৈরি করেন।
** "ক্রেজি ওল্ড র্যান্ডলফ কার্কপ্যাট্রিক", পৃষ্ঠা ২৩৫
* বিজ্ঞানে রক্ষণশীলতা ধর্মের মতোই একগুঁয়ে হতে পারে। আমি জানি না একে কীভাবে নাড়া দিতে হয়। তবে এটি করতে পারে একটি প্রাণবন্ত কল্পনা, যা অপ্রচলিত কাজকে অনুপ্রাণিত করে এবং এর মধ্যে অনুপ্রাণিত ভুলের একটি উন্নত সম্ভাবনা ধারণ করে। মহান ইতালীয় অর্থনীতিবিদ [[ভিলফ্রেদো পারেতো]] লিখেছেন: "আমাকে যেকোনো সময় একটি ফলপ্রসূ ভুল দিন, যা বীজে পূর্ণ, নিজের সংশোধনে ফেটে পড়ছে। আপনি আপনার অনুর্বর সত্য নিজের কাছে রাখতে পারেন।" [[টমাস হেনরি হাক্সলি]] নামের একজন মানুষের কথা উল্লেখ না করলেই নয়, যিনি দুঃখের যন্ত্রণায় বা পার্সন শিকারের যুদ্ধে লিপ্ত না থাকলে যুক্তি দিতেন, "অযৌক্তিকভাবে ধারণ করা সত্য যুক্তিসঙ্গত ভুলের চেয়ে বেশি ক্ষতিকারক হতে পারে।"
** "''বাথিবিয়াস'' অ্যান্ড ''ইওজুন''", পৃষ্ঠা ২৪৩ থেকে ২৪৪
* পৃথিবী এমন অনেক সংকেতে পূর্ণ যা আমরা বুঝতে পারি না। ক্ষুদ্র প্রাণীরা অপরিচিত শক্তির এক ভিন্ন জগতে বাস করে। আমাদের স্কেলের অনেক প্রাণী আমাদের পরিচিত সংবেদনের জন্য আমাদের উপলব্ধির সীমাকে ছাড়িয়ে যায়। আমরা কতটা অসচেতন। প্রকৃতির এতো কিছু, এতো আকর্ষণীয় এবং এতো বাস্তব জিনিসের দ্বারা বেষ্টিত হয়েও আমরা তা দেখি না (শুনি না, গন্ধ পাই না, স্পর্শ করি না, স্বাদ নিই না)। তবুও উপন্যাসের ক্ষমতার দাবিতে আমরা এতোটা বিশ্বাসযোগ্য এবং এতোটাই প্রলুব্ধ হই যে আমরা মাঝারি জাদুকরদের কৌশলগুলোকে আমাদের জানার বাইরের মনস্তাত্ত্বিক জগতের ঝলক বলে ভুল করি। অলৌকিক ঘটনা একটি কল্পনা হতে পারে। এটি অবশ্যই প্রতারকদের আশ্রয়স্থল। কিন্তু উপলব্ধি করার "প্যারাহিউম্যান" ক্ষমতা আমাদের চারপাশে পাখি, মৌমাছি এবং ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে রয়েছে।
** "ন্যাচারাল অ্যাট্রাকশন: ব্যাকটেরিয়া, দ্য বার্ডস, অ্যান্ড দ্য বিস", পৃষ্ঠা ৩১৩
=== ''হেন্স টিথ অ্যান্ড হর্সেস টোস'' (১৯৮৩) ===
:<small>ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি নেওয়া হয়েছে।</small>
* অ-বিজ্ঞানীদের জন্য লেখা সমস্ত সংস্করণে অ্যাংলারফিশের কৌতূহলী গল্প হিসেবে ফিউজড পুরুষদের কথা বলা হয়েছে। ঠিক যেমন আমরা প্রায়শই গাছের ডালপালায় ঝুলে থাকা বানর বা মাটির গর্তে ঢুকে থাকা কেঁচো সম্পর্কে শুনি। কিন্তু প্রকৃতি যদি আমাদের কোনো শিক্ষা দেয়, তবে তা জীবনের বৈচিত্র্যকে জোরালোভাবে ঘোষণা করে। ক্ল্যাম, মাছি বা অ্যাংলারফিশের মতো এমন কোনো বিমূর্ততা নেই। সেরাটিওড অ্যাংলারফিশ প্রায় ১০০ প্রজাতির হয় এবং প্রতিটির নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে।
** "বিগ ফিশ, লিটল ফিশ", পৃষ্ঠা ২৯
* একটি সার্বজনীন ভালো দিক বুঝতে আমাদের ব্যর্থতা অন্তর্দৃষ্টি বা উদ্ভাবনীর কোনো অভাবকে রেকর্ড করে না। বরং এটি প্রদর্শন করে প্রকৃতিতে মানুষের ভাষায় তৈরি কোনো নৈতিক বার্তা নেই। নৈতিকতা হলো দার্শনিক, ধর্মতত্ত্ববিদ, মানবিক শিক্ষার্থীদের এবং সব চিন্তাশীল মানুষের জন্য একটি বিষয়। উত্তরগুলো প্রকৃতি থেকে নিষ্ক্রিয়ভাবে পড়া যাবে না। এগুলো বিজ্ঞানের ডেটা থেকে উদ্ভূত হয় না এবং হতে পারে না। পৃথিবীর বাস্তব অবস্থা আমাদের শেখায় না কীভাবে আমাদের ভালো-মন্দের ক্ষমতা দিয়ে একে সবচেয়ে নৈতিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন বা সংরক্ষণ করতে হবে।
** "ননমোরাল নেচার", পৃষ্ঠা ৪২ থেকে ৪৩
* জীবগুলো তাদের অতীত দ্বারা পরিচালিত এবং সীমাবদ্ধ। তাদের অবশ্যই গঠন এবং কার্যকারিতায় অসম্পূর্ণ থাকতে হবে। সেই পরিমাণে এগুলো অননুমেয় কারণ এগুলো সেরা যন্ত্র নয়। আমরা নিশ্চিতভাবে তাদের ভবিষ্যৎ জানতে পারি না। এর কারণ হলো যেকোনো বৈশিষ্ট্যের ক্ষমতার মধ্যে অনেক অদ্ভুত কার্যকরী পরিবর্তন থাকে, তা বর্তমান ভূমিকার সাথে যতই ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিক না কেন।
** "কুইক লাইভস অ্যান্ড কুইর্কি চেঞ্জেস", পৃষ্ঠা ৬৫
* সুতরাং ডেটার পর্যাপ্ততা বাড়ানোর জন্য আমাদের তিনটি নীতি রয়েছে। যদি আপনাকে একটি একক বস্তু নিয়ে কাজ করতে হয়, তবে ঐতিহাসিক বংশের রেকর্ডকারী অসম্পূর্ণতাগুলো সন্ধান করুন। যদি বেশ কয়েকটি বস্তু পাওয়া যায়, তবে সেগুলোকে একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার পর্যায় হিসেবে রেন্ডার করার চেষ্টা করুন। যদি প্রক্রিয়াগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়, তবে সময়ের সাথে সাথে তাদের প্রভাবগুলোর সারসংক্ষেপ করুন। কেউ এই নীতিগুলো সরাসরি আলোচনা করতে পারেন বা ডারউইন এগুলোকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য "ছোট সমস্যাগুলো" চিনতে পারেন: অর্কিড, প্রবাল প্রাচীর এবং কেঁচো। এগুলো যথাক্রমে তার মাঝখানের বই, প্রথম এবং শেষ বইয়ে রয়েছে।
** "ওয়ার্ম ফর আ সেঞ্চুরি, অ্যান্ড অল সিজনস", পৃষ্ঠা ১৩২
* বিবর্তনের একটি সম্পূর্ণ তত্ত্বকে অবশ্যই স্থানীয় অভিযোজনের জন্য নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া পরিবেশের "বাহ্যিক" শক্তি এবং উত্তরাধিকার ও বিকাশের সীমাবদ্ধতার প্রতিনিধিত্বকারী "অভ্যন্তরীণ" শক্তিগুলোর মধ্যে একটি ভারসাম্য স্বীকার করতে হবে। [[w:নিকোলাই ভাভিলভ|ভাভিলভ]] অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার ওপর খুব বেশি জোর দিয়েছিলেন এবং নির্বাচনের ক্ষমতাকে অবনমিত করেছিলেন। কিন্তু পশ্চিমা ডারউইনবাদীরা কাঠামো এবং বিকাশ দ্বারা নির্বাচনের ওপর রাখা সীমাগুলো কার্যত উপেক্ষা করার (তাত্ত্বিকভাবে স্বীকার করার সময়) ক্ষেত্রে সমানভাবে ভুল করেছেন। ভাভিলভ এবং প্রাচীন জীববিজ্ঞানীরা এটিকে "আকারের নিয়ম" বলতেন।
** "আ হিয়ারিং ফর ভাভিলভ", পৃষ্ঠা ১৪৪
* আমরা কোনো নিখুঁত জগতে বাস করি না যেখানে প্রাকৃতিক নির্বাচন নির্মমভাবে সমস্ত জৈব কাঠামো পরীক্ষা করে এবং তারপর সেগুলোকে সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য ঢালাই করে। জীবগুলো একটি শারীরিক গঠন এবং ভ্রূণীয় বিকাশের একটি শৈলী উত্তরাধিকার সূত্রে পায়। এগুলো ভবিষ্যতের পরিবর্তন এবং অভিযোজনের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। অনেক ক্ষেত্রে বিবর্তনীয় পথগুলো বর্তমান পরিবেশগত চাহিদার চেয়ে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলোকে বেশি প্রতিফলিত করে। এই উত্তরাধিকারগুলো সীমাবদ্ধ করে, কিন্তু এগুলো সুযোগও প্রদান করে। একটি সম্ভাব্য ছোটখাটো জেনেটিক পরিবর্তন অনেক জটিল এবং অ-অভিযোজনমূলক পরিণতি নিয়ে আসে। যদি প্রতিটি কাঠামো একটি সীমিত উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় এবং অন্য কিছুর জন্য ব্যবহার করা না যায় তবে বিবর্তনের কী "ভূমিকা" থাকত? যদি আমাদের মস্তিষ্ক শিকার, সামাজিক সংহতি বা অন্য কোনো কিছুর জন্য বিবর্তিত না হতো এবং এর মূল উদ্দেশ্যের অভিযোজনমূলক সীমানা অতিক্রম করতে না পারত তবে মানুষ কীভাবে লিখতে শিখত?
** "হায়েনা মিথস অ্যান্ড রিয়েলিটিস", পৃষ্ঠা ১৫৬
* [[সমাজজীববিজ্ঞান]] কেবল এমন কোনো বিবৃতি নয় যা বলে জীববিজ্ঞান, জেনেটিক্স এবং বিবর্তনীয় তত্ত্বের সাথে মানুষের আচরণের কিছু সম্পর্ক রয়েছে। সমাজজীববিজ্ঞান মানব আচরণে জিনগত এবং বিবর্তনীয় ইনপুটের প্রকৃতি সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট তত্ত্ব। এটি এই দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে প্রাকৃতিক নির্বাচন হলো একজন কার্যত সর্বশক্তিমান স্থপতি, যিনি স্থানীয় পরিবেশে জীবনের সমস্যাগুলোর সেরা সমাধান হিসেবে জীবের প্রতিটি অংশ তৈরি করেন। এটি জীবগুলোকে "বৈশিষ্ট্যে" বিভক্ত করে, সেরা সমাধানের একটি সেট হিসেবে তাদের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করে। এবং যুক্তি দেয় প্রতিটি বৈশিষ্ট্য প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি পণ্য যা প্রশ্নবিদ্ধ রূপ বা আচরণের "জন্য" কাজ করে। মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার সময় এটিকে অবশ্যই নির্দিষ্ট আচরণগুলোকে (কেবল সাধারণ সম্ভাবনা নয়) জিনগত নির্ধারকগুলোতে নিহিত এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা নির্মিত অভিযোজন হিসেবে দেখতে হবে। কারণ প্রাকৃতিক নির্বাচন জেনেটিক পরিবর্তনের একটি তত্ত্ব। সুতরাং আমাদের কাছে নির্দিষ্ট মানব আচরণের অভিযোজনমূলক এবং জিনগত ভিত্তি সম্পর্কে অপ্রমাণিত এবং প্রমাণ অযোগ্য জল্পনা উপস্থাপন করা হয়: কেন কিছু (বা সব) মানুষ আক্রমণাত্মক, জেনোফোবিক, ধার্মিক, অর্জনশীল বা সমকামী হয়।
** "আওয়ার ন্যাচারাল প্লেস", পৃষ্ঠা ২৪৩
* জুকেন্ট্রিজম হলো মানব সমাজজীববিজ্ঞানের প্রাথমিক ভ্রান্তি। মানব আচরণের এই দৃষ্টিভঙ্গি এই যুক্তির ওপর নির্ভর করে যদি সাধারণ স্নায়ুতন্ত্রের অধিকারী "নিচু" প্রাণীদের ক্রিয়াকলাপ প্রাকৃতিক নির্বাচনের জেনেটিক পণ্য হিসেবে দেখা দেয়, তবে মানব আচরণেরও একই রকম ভিত্তি থাকা উচিত।
** "আওয়ার ন্যাচারাল প্লেস", পৃষ্ঠা ২৪৩
* আমরা প্রকৃতির সাথে আমাদের একতা এবং আমাদের বিপজ্জনক অনন্যতার মধ্যে একটি অপরিহার্য এবং অমীমাংসিত উত্তেজনার মধ্যে বাস করি। যে সিস্টেমগুলো কেবল অনন্যতা বা একতার ওপর একচেটিয়াভাবে ফোকাস করে আমাদের স্থান নির্ধারণ এবং বোঝার চেষ্টা করে, সেগুলো ব্যর্থ হতে বাধ্য। তবে আমাদের জিজ্ঞাসা এবং অনুসন্ধান বন্ধ করা উচিত নয় কারণ উত্তরগুলো জটিল এবং দ্ব্যর্থবোধক।
** "আওয়ার ন্যাচারাল প্লেস", পৃষ্ঠা ২৫০
* বিবর্তন একটি তত্ত্ব। এটি একটি ঘটনাও বটে। আর [[তথ্য]] ও তত্ত্ব ভিন্ন জিনিস, এগুলো নিশ্চিততা বৃদ্ধির অনুক্রমের কোনো ধাপ নয়। ঘটনা হলো পৃথিবীর তথ্য। তত্ত্ব হলো ধারণার কাঠামো যা ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যা করে। বিজ্ঞানীরা যখন ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী তত্ত্ব নিয়ে বিতর্ক করেন, তখন তথ্যগুলো হারিয়ে যায় না। [[আলবার্ট আইনস্টাইন|আইনস্টাইনের]] মহাকর্ষ তত্ত্ব [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনর]] তত্ত্বকে প্রতিস্থাপন করেছে। কিন্তু ফলাফল না আসা পর্যন্ত আপেল বাতাসে ঝুলে থাকেনি। মানুষ বানরজাতীয় পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছে। তা ডারউইনের প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ায় হোক বা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি এমন অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় হোক। বিবর্তনবাদীরা চিরন্তন সত্যের কোনো দাবি করেন না। যদিও সৃষ্টিবাদীরা প্রায়ই এমন দাবি করেন (এবং তারপর আমরা যে যুক্তির ধরন পছন্দ করি তার জন্য আমাদের আক্রমণ করেন)। বিজ্ঞানে "তথ্য" বলতে কেবল বোঝায় "এমন একটি ডিগ্রিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে অস্থায়ী সম্মতি আটকে রাখা বিকৃত হবে।" আমি অনুমান করি আপেল হয়তো কাল ওপরে উঠতে শুরু করবে। তবে এই সম্ভাবনা পদার্থবিজ্ঞানের শ্রেণিকক্ষে সমান সময় পাওয়ার যোগ্য নয়।
** "ইভোলিউশন অ্যাজ ফ্যাক্ট অ্যান্ড থিওরি", পৃষ্ঠা ২৫৪ থেকে ২৫৫ (মূলত মে ১৯৮১ সালের ''ডিসকভার ম্যাগাজিনে'' প্রকাশিত)
* যেহেতু আমরা প্রবণতা ব্যাখ্যা করার জন্য যতিচিহ্নযুক্ত ভারসাম্যের প্রস্তাব করেছি, তাই সৃষ্টিবাদীদের দ্বারা বারবার উদ্ধৃত হওয়াটা বিরক্তিকর। তা নকশা বা বোকামির মাধ্যমেই হোক না কেন। তারা দাবি করেন জীবাশ্ম রেকর্ডে কোনো পরিবর্তনশীল রূপ অন্তর্ভুক্ত নেই। পরিবর্তনশীল রূপগুলো সাধারণত প্রজাতির স্তরে অভাব থাকে। তবে এগুলো বৃহত্তর গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রচুর।
** "ইভোলিউশন অ্যাজ ফ্যাক্ট অ্যান্ড থিওরি", পৃষ্ঠা ২৬০
* শত্রু মৌলবাদ নয়; এটি অসহিষ্ণুতা। এই ক্ষেত্রে অসহিষ্ণুতা বিকৃত। কারণ এটি "সমান সময়ের" "উদার" বাগ্মীতার আড়ালে ছদ্মবেশ ধারণ করে। তবে ভুল করবেন না।
** "আ ভিজিট টু [[w:ডেটন, টেনেসি|ডেটন]]", পৃষ্ঠা ২৭৬
* সম্ভবত এলোমেলোতা জটিল কারণগুলোর জন্য কেবল একটি পর্যাপ্ত বর্ণনা নয় যা আমরা নির্দিষ্ট করতে পারি না। হয়তো বিশ্ব সত্যিই এভাবেই কাজ করে। এবং অনেক ঘটনা শব্দের কোনো প্রচলিত অর্থে অকারণে ঘটে। হয়তো আমাদের সহজাত অনুভূতি এটি প্রতিফলিত করে না। বরং এটি কেবল আমাদের আশা এবং সংস্কার, একটি জটিল এবং বিভ্রান্তিকর বিশ্বকে বোঝার জন্য আমাদের মরিয়া প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে, প্রকৃতির উপায়গুলোকে নয়।
** "চান্স রিচেস", পৃষ্ঠা ৩৪২
=== ''দ্য মিডিয়ান ইজন্ট দ্য মেসেজ'' (১৯৮৫) ===
:<small>''ডিসকভার'' ৬ (জুন): ৪০-৪২-এ প্রকাশিত। [http://www.cancerguide.org/median_not_msg.html ক্যান্সারগাইড.অর্গ]-এ অনুমতি নিয়ে পুনরুত্পাদিত।</small>
* এটি পরিসংখানের একটি ব্যক্তিগত গল্প, যা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করলে গভীরভাবে পুষ্টিকর এবং জীবনদায়ী।
* একজন বুদ্ধিজীবীকে সাহিত্য থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করাটা ঠিক ততটাই কাজ করে, যতটা ''হোমো স্যাপিয়েন্স''-কে ব্রহ্মচর্যের পরামর্শ দেওয়া কাজ করে। এই প্রাইমেটটি সব প্রাইমেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদনময়।
* সমস্যাটি সংক্ষেপে বলা যেতে পারে: আমাদের স্থানীয় ভাষায় "আট মাসের গড় মৃত্যুর হার" কী বোঝায়? আমি সন্দেহ করি পরিসংখ্যানের প্রশিক্ষণ ছাড়াই বেশিরভাগ মানুষ এমন একটি বিবৃতি পড়বেন "আমি সম্ভবত আট মাসের মধ্যে মারা যাব"। এই উপসংহারটি অবশ্যই এড়ানো উচিত। কারণ এটি সত্য নয় এবং মনোভাব অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
* কিন্তু সব বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী জানেন প্রকরণ নিজেই প্রকৃতির একমাত্র হ্রাস অযোগ্য সারমর্ম। প্রকরণ হলো কঠিন বাস্তবতা। এটি কেন্দ্রীয় প্রবণতার জন্য অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার সেট নয়। গড় এবং মধ্যক হলো বিমূর্ততা।
* আমার মতে মৃত্যুর গ্রহণযোগ্যতাকে অন্তর্নিহিত মর্যাদার সমতুল্য কিছু হিসেবে দেখাটা একটু বেশিই ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে। অবশ্যই আমি উপদেশকর প্রচারকের সাথে একমত যে ভালোবাসার একটা সময় আছে এবং মরার একটা সময় আছে। আর আমার সুতো যখন ফুরিয়ে যাবে তখন আমি শান্তভাবে এবং আমার নিজস্ব উপায়ে শেষের মুখোমুখি হওয়ার আশা করি। তবে বেশিরভাগ পরিস্থিতিতে আমি এই বেশি লড়াকু দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ করি যে মৃত্যুই চূড়ান্ত শত্রু। যারা আলোর মৃত্যুর বিরুদ্ধে তীব্রভাবে ক্ষুব্ধ হন, তাদের মধ্যে নিন্দনীয় কিছু পাই না।
=== ''দ্য ফ্লেমিঙ্গোস স্মাইল'' (১৯৮৫) ===
:<small>উদ্ধৃতিগুলো হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।</small>
* আমাদের জগৎ কোনো আদর্শ স্থান নয় যা নির্বাচনের সর্বশক্তিমান শক্তি দ্বারা সূক্ষ্মভাবে সমন্বিত হয়েছে। এটি অসম্পূর্ণতার একটি অদ্ভুত সংগ্রহ। এটি যথেষ্ট ভালোভাবে কাজ করে (প্রায়শই প্রশংসনীয়ভাবে)। এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অতীতের ইতিহাস দ্বারা সহজলভ্য করে তোলা অদ্ভুত অংশ দিয়ে নির্মিত অভিযোজনের একটি জুরি-রিগড সেট। বর্তমান পরিবেশের সাথে অনুকূলভাবে অভিযোজিত জগৎ হলো ইতিহাসবিহীন একটি জগৎ। আর ইতিহাসবিহীন একটি জগৎ হয়তো আমরা যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই সৃষ্টি হতে পারত। ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরিপূর্ণতাকে বিভ্রান্ত করে এবং প্রমাণ করে বর্তমান জীবন তার নিজের অতীতকে রূপান্তরিত করেছে।
** "অনলি হিজ উইংস রিমেইন্ড", পৃষ্ঠা ৫৪
* আমরা একটি জটিল বিশ্বে বাস করি। কিছু সীমানা তীক্ষ্ণ এবং পরিচ্ছন্ন ও সুনির্দিষ্ট পার্থক্যের অনুমতি দেয়। তবে প্রকৃতিতে এমন ধারাবাহিকতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যাকে দ্ব্যর্থহীন হ্যাঁ এবং না এর দুটি স্তূপে সুন্দরভাবে ভাগ করা যায় না। জীববিজ্ঞানীরা গর্ভপাত বিরোধীদের একটি দ্ব্যর্থহীন "জীবনের সূচনা" সংজ্ঞায়িত করার সমস্ত চেষ্টাকে নীতিগতভাবে মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ আমরা খুব ভালো করেই জানি ডিম্বস্ফোটন বা স্পার্মাটোজেনেসিস থেকে জন্ম পর্যন্ত অনুক্রমটি একটি অবিচ্ছেদ্য ধারাবাহিকতা। এবং নিশ্চিতভাবেই কেউ হস্তমৈথুনকে খুন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করবেন না।
** "লিভিং উইথ কানেকশনস", পৃষ্ঠা ৭৬
* [[w:সাইফোনোফোর|সাইফোনোফোর]]গুলো এই বার্তা দেয় না যে প্রকৃতি কেবল একটি বিশাল সমগ্র। এর সমস্ত অংশ নিবিড়ভাবে সংযুক্ত এবং কিছু উচ্চতর, অবর্ণনীয় সম্প্রীতির সাথে মিথস্ক্রিয়া করছে। বিবেচনাহীন রোমান্টিকতার একটি প্রিয় বিষয় হলো এটি। প্রকৃতি সীমানা এবং পার্থক্য প্রকাশ করে। আমরা কাঠামোর একটি মহাবিশ্বে বাস করি। তবে যেহেতু আমাদের কাঠামোর মহাবিশ্ব ঐতিহাসিকভাবে বিবর্তিত হয়েছে, তাই এটি অবশ্যই আমাদের কাছে অস্পষ্ট সীমানা উপস্থাপন করবে, যেখানে এক ধরণের জিনিস অন্যটিতে রূপান্তরিত হয়।
** "আ মোস্ট ইনজেনিয়াস প্যারাডক্স", পৃষ্ঠা ৯৫
* বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য নতুন ডেটার চেয়ে বেশি কিছু প্রয়োজন। এর জন্য নতুন কাঠামো এবং প্রেক্ষাপট প্রয়োজন। আর বিশ্বের এই মৌলিক নতুন দৃষ্টিভঙ্গিগুলো কোথায় দেখা যায়? এগুলো কেবল বিশুদ্ধ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আবিষ্কৃত হয় না। এগুলোর জন্য চিন্তার নতুন মোড প্রয়োজন। এবং যদি পুরানো মোডগুলোতে এমনকি সঠিক রূপকগুলোও অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তবে আমরা সেগুলো কোথায় খুঁজে পাব? প্রকৃত প্রতিভার প্রকৃতি অবশ্যই আপাত অন্ধকার থেকে এই নতুন মোডগুলো তৈরি করার অধরা ক্ষমতার মধ্যে নিহিত। বিজ্ঞানের মৌলিক সুযোগ এবং অননুমানযোগ্যতা অবশ্যই এমন একটি কাজের অন্তর্নিহিত অসুবিধার মধ্যেও থাকতে হবে।
** "ফলস প্রিমাইস, গুড সায়েন্স", পৃষ্ঠা ১৩৮
* আমরা প্রায়শই নির্বোধের মতো ভাবি অনুপস্থিত তথ্যগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির প্রাথমিক বাধা। শুধু সঠিক তথ্যগুলো খুঁজে বের করলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে। কিন্তু বাধাগুলো প্রায়শই চিন্তায় আরও গভীর এবং আরও বিমূর্ত হয়। আমাদের কেবল প্রয়োজনীয় তথ্যের নয়, সঠিক রূপকেরও অ্যাক্সেস থাকতে হবে। বিপ্লবী চিন্তাবিদরা মূলত তথ্য সংগ্রহকারী নন, বরং নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোর বয়নকারী।
** "ফর ওয়ান্ট অফ আ মেটাফোর", পৃষ্ঠা ১৫১
* যদিও প্রজাতিগুলো বিচ্ছিন্ন হতে পারে, তাদের কোনো অপরিবর্তনীয় সারাংশ নেই। প্রকরণ হলো বিবর্তনীয় পরিবর্তনের কাঁচামাল। এটি প্রকৃতির মৌলিক বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে। এটি তৈরি করা আদর্শ সম্পর্কে কোনো দুর্ঘটনা নয়। প্রকরণ হলো প্রাথমিক। সারাংশগুলো হলো বিভ্রান্তিকর। প্রজাতিগুলোকে অবশ্যই অটুট প্রকরণের পরিসর হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত।
** "অফ ওয়াস্পস অ্যান্ড ওয়াস্পস", পৃষ্ঠা ১৬০
* অ্যান্টিএসেনশিয়ালিস্ট চিন্তাভাবনা আমাদের বিশ্বকে ভিন্নভাবে দেখতে বাধ্য করে। আমাদের অবশ্যই শেডিং এবং কন্টিনিউয়াকে মৌলিক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কিছু আদর্শের তুলনায় আমরা বিচারের মাপকাঠি হারিয়ে ফেলি: খাটো মানুষ, প্রতিবন্ধী মানুষ, অন্যান্য বিশ্বাসের, রঙের এবং ধর্মের মানুষেরা পূর্ণ মর্যাদার মানুষ।
** "অফ ওয়াস্পস অ্যান্ড ওয়াস্পস", পৃষ্ঠা ১৬১
* ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কে আমার নিজস্ব উপলব্ধি আমাদের সেরা আধুনিক জীববিজ্ঞানের জ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনেক মানুষ মনে করেন (বা ভয় পান) মানব জাতির সমতা উদার অনুভূতির একটি আশা উপস্থাপন করে যা সম্ভবত ইতিহাসের কঠিন বাস্তবতার দ্বারা পিষ্ট। তারা ভুল। এই প্রবন্ধটি একটি একক বাক্যাংশে সংক্ষিপ্ত করা যেতে পারে, আপনি চাইলে একটি নীতিবাক্য: ''মানবিক সমতা ইতিহাসের একটি আনুষঙ্গিক তথ্য।'' সমতা সংজ্ঞানুসারে সত্য নয়। এটি কোনো নৈতিক নীতি নয় (যদিও সমান আচরণ হতে পারে) বা সামাজিক কর্মের নিয়ম সম্পর্কে কোনো বিবৃতিও নয়। এটি ঠিক এভাবেই কাজ করেছে। মানব ইতিহাসের জন্য একশটি ভিন্ন এবং যুক্তিসঙ্গত দৃশ্যকল্প অন্যান্য ফলাফল (এবং বিশাল মাত্রার নৈতিক দ্বিধা) প্রদান করত। সেগুলো ঘটেনি।
** "হিউম্যান ইকুয়ালিটি ইজ আ কন্টিনজেন্ট ফ্যাক্ট অফ হিস্ট্রি", পৃষ্ঠা ১৮৬
* মানব মন প্যাটার্ন খুঁজে পেতে আনন্দ পায়। এতোটাই যে আমরা প্রায়শই কাকতালীয় বা বাধ্য উপমাগুলোকে গভীর অর্থ বলে ভুল করি। অন্য কোনো চিন্তার অভ্যাস এতো গভীরভাবে একটি ছোট প্রাণীর আত্মার মধ্যে নিহিত থাকে না যা একটি জটিল জগতকে বোঝার চেষ্টা করে, যা তার জন্য তৈরি হয়নি।
** "দ্য রুল অফ ফাইভ", পৃষ্ঠা ১৯৯
* পাঠ্যপুস্তক হিসেবে পরিচিত সাহিত্যের সেই অদ্ভুত ঘরানার জন্য আমাদের সাধারণ এবং বীরত্বপূর্ণ কিংবদন্তির প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইতিহাসবিদদের অবশ্যই বিজ্ঞানে তাদের কিংবদন্তি থেকে মানুষকে উদ্ধার করার জন্য কাজ করতে হবে। কেবল তাই যাতে আমরা বৈজ্ঞানিক চিন্তার প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে বুঝতে পারি।
** "ডারউইন অ্যাট সি—অ্যান্ড দ্য ভার্চুস অফ পোর্ট", পৃষ্ঠা ৩৪৮
* সম্ভাবনার ধারাবাহিকতার কোনো চরম পর্যায়ে সমাধান ছাড়াই জটিল সমস্যাগুলো গ্রহণ করার আমাদের অশ্লীল প্রবণতায় আমি প্রায়শই আনন্দিত হয়েছি। এগুলোকে দ্বৈততায় ভেঙে এক গোষ্ঠীকে এক মেরুতে এবং অন্যটিকে বিপরীত প্রান্তে অর্পণ করা। সূক্ষ্মতা এবং মধ্যবর্তী অবস্থানগুলোর কোনো স্বীকৃতি নেই। এবং প্রায় সব সময়ই বিরোধীদের সাথে নৈতিক অপবাদ যুক্ত থাকে।
** "[[w:আর্নেস্ট এভারেস্ট জাস্ট|জাস্ট]] ইন দ্য মিডল", পৃষ্ঠা ৩৭৮
=== ''টাইমস অ্যারো, টাইমস সাইকেল'' (১৯৮৭) ===
:<small>এই মনোগ্রাফের উদ্ধৃতিগুলো হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের আসল হার্ডকভার সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।</small>
* নাইলস এলড্রেজ এবং আমার প্রস্তাবিত যতিচিহ্নযুক্ত ভারসাম্যের তত্ত্বটি প্রায়শই ভুল বোঝা হয়। এটি সত্যিই আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য কোনো উগ্র দাবি নয়। বরং এটি একটি স্বীকৃতি যে স্পেসিয়েশনের সাধারণ প্রক্রিয়াগুলো, সঠিকভাবে আমাদের নিজস্ব জীবনকালের মান অনুযায়ী হিমবাহের মতো ধীর হিসেবে কল্পনা করা হয়। এগুলো অসংবেদনশীলভাবে গ্রেডেড মধ্যবর্তীদের (ঐতিহ্যগত, বা ধীরে ধীরে, দৃষ্টিভঙ্গি) দীর্ঘ ক্রম হিসেবে ভূতাত্ত্বিক সময়ে সমাধান হয় না, বরং একক বেডিং প্লেনে ভূতাত্ত্বিকভাবে "হঠাৎ" উদ্ভব হিসেবে সমাধান হয়।
** পৃষ্ঠা ২ থেকে ৩
* বিজ্ঞানীরা এমন কোনো রোবোটিক ইনডিউসিং মেশিন নন যারা কেবল প্রাকৃতিক ঘটনায় পর্যবেক্ষণ করা নিয়মিততা থেকে ব্যাখ্যার কাঠামো অনুমান করে (অনুমান করে, যেমনটি আমি সন্দেহ করি, যুক্তির এমন একটি শৈলী নীতিগতভাবে কখনও সাফল্য অর্জন করতে পারে)। বিজ্ঞানীরা হলেন মানুষ, যারা সংস্কৃতিতে নিমজ্জিত, এবং মন যে সমস্ত কৌতূহলী অনুমানের সরঞ্জাম অনুমোদন করে তার সাথে সংগ্রাম করছে। সংস্কৃতি সীমাবদ্ধ করার পাশাপাশি সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। যেমন প্রাকৃতিক নির্বাচনের তত্ত্ব হিসেবে জীববিজ্ঞানে [[অ্যাডাম স্মিথ]]র অবাধ অর্থনৈতিক মডেলগুলোর ডারউইনের অনুবাদ। যাই হোক না কেন, সংস্কৃতির বাইরে উদ্দেশ্যমূলক মনের অস্তিত্ব নেই। তাই আমাদের অবশ্যই আমাদের অদম্য সন্নিবেশের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে।
** পৃষ্ঠা ৬ থেকে ৭
* পরিচিত এবং আরামদায়ক দ্বৈততার কৌশলটি বাদ দিতে মানুষকে রাজি করানোর বিষয়ে আমি হতাশ। এর পরিবর্তে আমরা সম্ভবত প্রচলিত বিভাগগুলোর চেয়ে বেশি উপযুক্ত বা কেবল আলাদা অন্যান্য দ্বৈততা খুঁজে বের করে বিতর্কের কাঠামো প্রসারিত করতে পারি। সমস্ত দ্বৈততা হলো সরলীকরণ। তবে কয়েকটি অরথোগোনাল দ্বৈততার ভিন্ন অক্ষ বরাবর একটি সংঘাতের উপস্থাপনা আমাদের সবচেয়ে আরামদায়ক চিন্তার সরঞ্জামটি ত্যাগ করতে বাধ্য না করেই সঠিক বুদ্ধিবৃত্তিক স্থানের একটি প্রশস্ততা প্রদান করতে পারে।
** পৃষ্ঠা ৮
* যদি পাঠ্যগুলো যুক্তির একটি কেন্দ্রীয় যুক্তি দ্বারা একীভূত হয়, তবে তাদের সচিত্র চিত্রণগুলো একত্রিত করার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো কেবল নান্দনিক বা বাণিজ্যিক মূল্যের জন্য অন্তর্ভুক্ত সুন্দর ছোট তুচ্ছ জিনিস নয়। প্রাইমেটরা হলো দৃশ্যমান প্রাণী এবং (বিশেষ করে বিজ্ঞানে) দৃষ্টান্তের নিজস্ব একটি ভাষা এবং রীতিনীতির সেট রয়েছে।
** পৃষ্ঠা ১৮
* [[বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন|ফ্রাঙ্কলিন]] এবং [[টমাস জেফারসন|জেফারসন]] যখন স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন আমি মানবতার সমস্ত সুবিধা ত্যাগ করে দেয়ালে একটি মাছি হতে চাইতাম। [[ভ্লাদিমির লেনিন|লেনিন]] এবং [[লিওন ট্রটস্কি|ট্রটস্কি]] বিপ্লব নিয়ে, [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটন]] এবং [[w:এডমন্ড হ্যালি|হ্যালি]] মহাবিশ্বের আকৃতি নিয়ে, অথবা ডারউইন যখন ডাউনে [[টমাস হেনরি হাক্সলি|হাক্সলি]] এবং [[চার্লস লায়েল|লায়েল]]কে আপ্যায়ন করছিলেন।
** পৃষ্ঠা ৬৪
* বিবর্তন হলো এমন একটি দৃঢ় বিশ্বাস যে জীবগুলো অবিরাম রূপান্তরের এক বর্ধিত ইতিহাসের মাধ্যমে তাদের বর্তমান রূপগুলো বিকাশ করেছে। এবং বংশলতিকার বন্ধন সমস্ত জীবিত জিনিসকে একটি নেক্সাসে আবদ্ধ করে। প্যানসিলেকশনিজম হলো ইতিহাসের একটি অস্বীকার, কারণ পরিপূর্ণতা সময়ের চিহ্নগুলো ঢেকে দেয়। একটি নিখুঁত ডানা তার বর্তমান অবস্থায় বিবর্তিত হতে পারে। তবে এটি হয়তো ঠিক সেভাবেই সৃষ্টি হয়েছে যেভাবে আমরা এটি পেয়েছি। পরিপূর্ণতা যদি আমাদের একমাত্র প্রমাণ হয় তবে আমরা কেবল বলতে পারি না। ডারউইন নিজেই খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন বিবর্তনের প্রাথমিক প্রমাণ হলো অদ্ভুততা এবং অসম্পূর্ণতা যা অবশ্যই ঐতিহাসিক বংশের পথ রেকর্ড করবে। এগুলো হলো পান্ডার বুড়ো আঙুল এবং ফ্ল্যামিংগোর হাসি যা আমার বইয়ের শিরোনাম (ইতিহাসের এই সর্বশ্রেষ্ঠ নীতিটি বোঝানোর জন্য নির্বাচিত)।
** পৃষ্ঠা ৮৪
* "কেবল ইতিহাসের" সময়ের তীর সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ডের সাথে চিহ্নিত করে। কিন্তু আমরা ইতিহাস বোঝার অনুসন্ধানে কেবল প্রতিটি মুহূর্ত চেনার জন্য একটি চিহ্ন এবং সময়ের ক্রমানুসারে ঘটনাগুলোকে সাজানোর জন্য একটি নির্দেশিকা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারি না। অনন্যতা হলো ইতিহাসের সারমর্ম। তবে আমরা কিছু অন্তর্নিহিত সাধারণতা, মুহূর্তের পার্থক্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আদেশের কিছু নীতিও কামনা করি। পাছে আমরা অবিরাম একটি বইয়ে প্রতি দুই হাজার পৃষ্ঠায় একটি নতুন ছবির [[হোর্হে লুইস বোর্হেস|বোর্হেস]]র দৃষ্টিভঙ্গিতে পাগল হয়ে যাই। সংক্ষেপে আমাদের সময়ের চক্রের অন্তর্নিহিততাও প্রয়োজন।
** পৃষ্ঠা ১৯৬
=== ''অ্যান আর্চিন ইন দ্য স্টর্ম'' (১৯৮৭) ===
:<small>ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি। এই সংকলনের প্রবন্ধগুলো মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুকসে'' প্রকাশিত হয়েছিল।</small>
* শয়তানের চোয়ালে ব্রুটাস এবং জুদাসের মাঝখানে দীর্ঘ ভবিষ্যৎ পার করার জন্য আমি আমার নিজের বইয়ের বেশ কয়েকজন পর্যালোচককে কল্পনা করি।
** ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৯
* সর্বোপরি বেশিরভাগ বইই ক্ষণস্থায়ী। কয়েক বছর পর সেগুলোর নির্দিষ্ট বিষয়গুলো শত বছরের যুদ্ধের প্রতিদিনের যুদ্ধের প্রতিবেদনের মতোই আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।
** ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১০
* মানুষের মানদণ্ডে পান্ডাদের জীবন এতোটা নিস্তেজ বলে আমি আনন্দিত। কারণ আমরা যদি কেবল মানুষের অলঙ্কার হিসেবে প্রাণী সংরক্ষণ করি তবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টার নৈতিক মূল্য খুব কম। আমরা যখন আঁচিলযুক্ত ব্যাঙ এবং পিছলে চলা কৃমিগুলোর জন্য উদ্বেগ দেখাব তখন আমি মুগ্ধ হব।
** "হাউ ডাস আ পান্ডা ফিট?", পৃষ্ঠা ২১
* সাধারণ মানুষের মানদণ্ডে বিজ্ঞানের অগ্রগতি প্রায়শই দাবি করে আমরা যেন সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক প্রশ্নগুলো থেকে পিছিয়ে আসি। অর্ধেক বুদ্ধিসম্পন্ন যে কেউ তার চেয়ারে বসে "বড়" প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাহলে কেন এই মনোরম এবং সাধারণ কাজের জন্য এতো প্রশংসা করা হবে? মহান বিজ্ঞানীদের ফলপ্রসূ এবং করণীয় সম্পর্কে একটি প্রবৃত্তি থাকে। বিশেষ করে ছোটগুলোর জন্য যা এগিয়ে নিয়ে যায় এবং অবশেষে বড় সমস্যাগুলোকে জল্পনা থেকে কর্মে রূপান্তরিত করে। লামার্ক (যদিও অন্যান্য প্রশ্নে একজন মহান অভিজ্ঞতাবাদী) তার বিবর্তনীয় গ্রন্থের উৎস হিসেবে চেয়ার বেছে নিয়েছিলেন। ডারউইন পায়রা বেছে নিয়েছিলেন এবং মানুষের চিন্তাভাবনায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। মহান তত্ত্বগুলোকে অবশ্যই বিস্তারিতভাবে একটি বিশাল নোঙর ফেলতে হবে।
** "কার্ডবোর্ড ডারউইনিজম", পৃষ্ঠা ২৬-২৭
* [[থমাস স্যামুয়েল কুন|কুন]]র আগে বেশিরভাগ বিজ্ঞানী জ্ঞানের উজ্জ্বল মন্দিরে একটি পাথর রাখার ঐতিহ্য অনুসরণ করতেন। এবং আপনাকে বলতেন তারা সত্যের মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার আশা করেছিলেন। এটি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সংযোজনমূলক বা মেলিয়রিস্ট মডেল। এখন দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী বেশিরভাগ বিজ্ঞানী বিপ্লব উসকে দেওয়ার আশা করেন।<br>তাই আমরা বিপ্লবে ভেসে যাচ্ছি, যার বেশিরভাগই স্বঘোষিত।
** "কার্ডবোর্ড ডারউইনিজম", পৃষ্ঠা ২৭
* প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্ক বড় হয়েছে (কে জানে কেন, তবে সম্ভবত সঙ্গত কারণেই)। তবুও নিশ্চয়ই আমাদের মস্তিষ্ক দ্বারা বর্তমানে করা বেশিরভাগ "কাজ", যা আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের বেঁচে থাকার উভয়ের জন্যই অপরিহার্য, এই মেশিনের কম্পিউটিং শক্তির এপিফেনোমেনা, জিনগতভাবে ভিত্তি করে ডারউইনীয় সত্তা নয় যা তাদের বর্তমান কাজের জন্য বিশেষভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা তৈরি করা হয়েছে।
** "কার্ডবোর্ড ডারউইনিজম", পৃষ্ঠা ৪৮ থেকে ৪৯
* বিবর্তনবাদীরা কখনও কখনও শৃঙ্খলার প্রচলিত মইয়ের পরবর্তী স্তরের প্রতি উদ্ধত মনোভাব পোষণ করেন: মানব বিজ্ঞান। তারা তাদের মানববিজ্ঞানী সহকর্মীদের অনুমিত তাত্ত্বিক স্বকীয়তার নিন্দা করেন এবং যুক্তি দেন যদি মানবতার শিক্ষার্থীরা তাদের বিষয়টিকে অন্য একটি প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে এবং ফলস্বরূপ বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের কাছে ব্যাখ্যামূলক নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয় তবে সব ঠিক হয়ে যাবে।
** "দ্য গোস্ট অফ [[প্রোতাগোরাস]]", পৃষ্ঠা ৬৪
* সামাজিক পটভূমির অধ্যয়ন সেখানে একটি বাস্তব জগতের অপ্রাসঙ্গিকতা বা অস্তিত্বহীনতার ইঙ্গিত দেয় না।
** "দ্য পাওয়ার অফ ন্যারেটিভ", পৃষ্ঠা ৮৪
* ব্যস্ত জীবনের বাস্তবতার কাছে মাথা নত করে [[w:মার্টিন রুডউইক|রুডউইক]] স্বীকার করেন সবাই মাংসল দ্বিতীয় অংশের প্রতিটি শব্দ পড়বেন না। এমনকি তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের এড়িয়ে যাওয়ার অনুমতিও দেন যদি আমরা "বর্ণনায় আটকে যাই"। পাঠকদের একেবারেই এমন কিছু করা উচিত নয়। এটা অবৈধ হওয়া উচিত। প্রকাশকের উচিত শেষ ৬০ পৃষ্ঠা আটকে রাখা এবং দুই ও তিন অংশের মাঝে বইটিতে ঢোকানো বহুনির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া কাউকে অ্যাক্সেস দিতে অস্বীকার করা।
** "দ্য পাওয়ার অফ ন্যারেটিভ", পৃষ্ঠা ৮৮
* ভূতত্ত্ব এবং অন্য যেকোনো জায়গায় সৃজনশীল কাজ হলো মিথস্ক্রিয়া এবং সংশ্লেষণ। মদের বারের অর্ধ-বেকড ধারণা, মাঠের পাথর, একাকী হাঁটা থেকে চিন্তার শৃঙ্খল, গবেষণাগারে পাথর থেকে নিংড়ে নেওয়া সংখ্যা, ডেস্কে লাগানো ক্যালকুলেটর থেকে সংখ্যা, দামি জাহাজে সাধারণত বিকল হয়ে যাওয়া অভিনব সরঞ্জাম, মানুষের মাথার খুলিতে সস্তা সরঞ্জাম, রোডকাটের আগে যুক্তি।
** "ডিপ টাইম অ্যান্ড সিসলেস মোশন", পৃষ্ঠা ৯৮
* মহৎ "প্রকৃতি-লালন" বিতর্কে আমাকে একজন "নুরচুরিস্ট" হিসেবে মনে করা হয়। তবে মানুষের আচরণের ওপর জৈবিক প্রভাবের এই ধারণায় আমি হতাশাজনক কিছু পাই না। আমি মনে করি আমাকে অবশ্যই আবারও জোর দিয়ে বলতে হবে, এবং আমরা সবাই যেমন অসংখ্যবার করি, যে বিভাগগুলো অযৌক্তিক এবং "প্রকৃতি-লালন" বিতর্ক বলে কিছু নেই, বাক্যাংশের মনোরম অনুপ্রাস থাকা সত্ত্বেও। প্রত্যেক বিজ্ঞানী, এমনকি প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি জানেন যে মানব সামাজিক আচরণ জৈবিক এবং সামাজিক প্রভাবের একটি জটিল এবং অবিভাজ্য মিশ্রণ। প্রকৃতি নাকি লালন-পালন মানব আচরণ নির্ধারণ করে তা মূল বিষয় নয়। কারণ এই বিষয়গুলো সত্যিই অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু সামাজিক সংগঠনের সম্ভাব্য রূপগুলোর ওপর জীববিজ্ঞান দ্বারা প্রয়োগ করা সীমাবদ্ধতার মাত্রা, তীব্রতা এবং প্রকৃতি মূল বিষয়।
** "জিনস অন দ্য ব্রেইন", পৃষ্ঠা ১১২-১১৩
* জৈবিক সার্বজনীনতার অস্তিত্ব নিয়ে কেউ সন্দেহ করেন না। আমাদের অবশ্যই ঘুমাতে হবে, খেতে হবে এবং বয়স বাড়তে হবে। আমরা সন্তান জন্মদান ছেড়ে দিতে পারি না। আমাদের প্রায় সমস্ত সামাজিক প্রতিষ্ঠান এই বাধ্যবাধকতা দ্বারা প্রভাবিত হয়।
** "জিনস অন দ্য ব্রেইন", পৃষ্ঠা ১১৩
* জীববিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি উভয়ের সঠিক উপলব্ধি মানব আচরণে জীববিজ্ঞানের মহান গুরুত্বকে নিশ্চিত করে এবং জীববিজ্ঞান কেন আমাদের স্বাধীন করে তাও ব্যাখ্যা করে। সীমাবদ্ধতার সাথে জীববিজ্ঞানের পুরানো সমীকরণ প্রকৃতি এবং লালন-পালনের মধ্যে মিথ্যা দ্বৈততার অন্তর্নিহিত (নমনীয়র বিপরীতে) দিকটির সাথে পশ্চিমা সংস্কৃতির মতোই পুরানো চিন্তার ত্রুটিগুলোর ওপর নির্ভর করে। জৈবিক নির্ধারণবাদের সমালোচকরা সমপরিমাণ ভ্রান্ত (এবং সমান নিষ্ঠুর এবং সীমাবদ্ধ) দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করেন না যে মানব সংস্কৃতি জীববিজ্ঞানকে বাতিল করে দেয়। জৈবিক নির্ধারণবাদ লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে সীমাবদ্ধ করেছে তাদের আর্থসামাজিক অসুবিধাগুলোকে জন্মগত ত্রুটি হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করে। কিন্তু সাংস্কৃতিক নির্ধারণবাদ অতিরিক্ত পিতামাতার ভালোবাসা বা খুব কম ভালোবাসার সাইকোব্যাবেলের প্রতি অটিজমের মতো গুরুতর জন্মগত রোগগুলোকে দায়ী করতে সমান নিষ্ঠুর হতে পারে।
** "নার্চারিং নেচার", পৃষ্ঠা ১৪৮
* একটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি একজন বিজ্ঞানীকে নিখুঁতভাবে প্রকৃতি দেখতে বাধা দেয় না। কেবল এই কারণে কোনো সৎ বিজ্ঞানী বা কার্যকর রাজনৈতিক কর্মী আমাদের খুঁজে পাওয়া বিশ্বের সাথে স্পষ্ট মতবিরোধের একটি কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়ার মতো এতো বোকা হবেন না।
** "নার্চারিং নেচার", পৃষ্ঠা ১৫০
* বামপন্থী বিজ্ঞানীদের জৈবিক নির্ধারণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ঠিক যেমন ডানপন্থীরা এটিকে একগুঁয়ে জীববিজ্ঞান হিসেবে স্থিতাবস্থার সর্বোত্তম ন্যায্যতা সমর্থন করতে প্ররোচিত করেন। এই সম্পর্কগুলো আকস্মিক নয়। তবে আসুন আমরা চিন্তার প্রতি এতোটা অসম্মানজনক না হই যে আমরা যুক্তির যুক্তিগুলোকে কেবল পক্ষপাতিত্বের অনিবার্য প্রতিফলন হিসেবে খারিজ করে দিই। আবিষ্কারের প্রেক্ষাপটকে ন্যায্যতার প্রেক্ষাপটের সাথে গুলিয়ে ফেলি।
** "নার্চারিং নেচার", পৃষ্ঠা ১৫১
* মানব আচরণের কোনো গুরুতর শিক্ষার্থী আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনের ওপর বিবর্তিত জীববিজ্ঞানের শক্তিশালী প্রভাব অস্বীকার করেন না। আমাদের সংগ্রাম হলো জীববিজ্ঞান আমাদের কীভাবে প্রভাবিত করে তা বের করা, এটি প্রভাব ফেলে কিনা তা নয়।
** "নার্চারিং নেচার", পৃষ্ঠা ১৫২
* ঠিক যেমন কেউই জীববিজ্ঞানকে পুরোপুরি বাতিল করার মতো এতো বোকা নয়, তেমনি কেউ জটিল আচরণে জিন অনুবাদের কিছুটা নমনীয়তা অস্বীকার করেন না।
** "নার্চারিং নেচার", পৃষ্ঠা ১৫২
* একটি শব্দ হিসেবে বাস্তুসংস্থান সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ব্যবহার দ্বারা এতোটাই অবমূল্যায়িত হয়েছে যে অনেক লোক শহর থেকে দূরে এবং মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ঘটে যাওয়া যেকোনো ভালো জিনিস চিহ্নিত করতে এটি ব্যবহার করেন।
** "এক্সাল্টেশন অ্যান্ড এক্সপ্লানেশন", পৃষ্ঠা ১৮৩
* দরকারি পরিমাপ প্রায়শই ফলপ্রসূ বিজ্ঞানের চাবিকাঠি।
** "এক্সাল্টেশন অ্যান্ড এক্সপ্লানেশন", পৃষ্ঠা ১৮৪
* ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ বিজ্ঞানীরা কেবল এটির পুনরাবৃত্তি করতে অভিশপ্ত নন, বরং বিভ্রান্ত এবং উদ্যমহীন হতেও অভিশপ্ত।
** "এক্সাল্টেশন অ্যান্ড এক্সপ্লানেশন", পৃষ্ঠা ১৮৭
* মহাবিশ্ব যে কারণেই হোক না কেন এখানে ছিল (যদি থাকে) এবং আমরা অনেক পরে এসে মানিয়ে নিয়েছি। মহাবিশ্ব আমাদের জন্য একটি আরামদায়ক বাসস্থান তৈরি করার জন্য কোটি কোটি বছর ধরে তার মতো করেই চলেছে বলে দাবি করা সেকেলে অহংকারের চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে মনে হয়... অবশ্যই আমরা মানিয়ে নিই। আমরা না পারলে এখানে থাকতাম না। কিন্তু পৃথিবী আমাদের জন্য তৈরি হয়নি এবং এটি আমাদের ছাড়াই টিকে থাকবে।
** "প্লেসেন্ট ড্রিমস", পৃষ্ঠা ২০৬ (উপবৃত্ত তিনটি বাক্যের বিলোপকে উপস্থাপন করে)
* এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে জীবাশ্মবিদ্যা জীবাশ্ম রেকর্ডের মৌলিক রূপরেখা প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে আমরা জেনেছি যে জীবনের ইতিহাসের সাথে সত্তার পুরোনো শৃঙ্খল কতটা খারাপভাবে মিলে যায়। রূপক হিসেবে এর অধ্যবসায় এবং এমনকি জ্যাস্ট্রোর ক্ষেত্রে আরোপিত "বাস্তবতা" হিসেবে এটি কেবল প্রমাণের মুখে স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করার প্রতি আমাদের অনীহা প্রতিফলিত করে।
** "দ্য পেরিলস অফ হোপ", পৃষ্ঠা ২১০
* জৈবিক বিবর্তন হলো ত্রুটিযুক্ত প্রজনন এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে শারীরিক বংশলতিকার বন্ধন সম্পর্কে একটি তত্ত্ব। কম্পিউটার বংশবৃদ্ধি করে না। এর ডারউইনীয় প্রক্রিয়া দ্বারা জীববিজ্ঞানে দেওয়া কোনো দিক শিল্প পরিবর্তনের পথে অনুবাদ করে না। একটি জৈবিক অতীত একটি প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের কোনো নিশ্চিত নির্দেশক নয়।
** "দ্য পেরিলস অফ হোপ", পৃষ্ঠা ২১১
* জীবন হলো লক্ষ লক্ষ শাখা বিশিষ্ট একটি প্রসারিত ঝোপ, মই নয়। ডারউইনবাদ পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে স্থানীয় অভিযোজনের একটি তত্ত্ব, অনিবার্য অগ্রগতির গল্প নয়। ডারউইন লিখেছিলেন, "দীর্ঘ চিন্তার পর আমি এই দৃঢ় বিশ্বাস এড়াতে পারি না যে প্রগতিশীল বিকাশের কোনো সহজাত প্রবণতা নেই।"<br>জ্যাস্ট্রো হয়তো যুক্তি দেবেন তিনি জীবনের ঝোপের বিশাল গোলকধাঁধার মধ্য দিয়ে একটি মাত্র পথ বিবেচনা করছেন যা আমাদের দিকে পরিচালিত করেছে। এমনকি এখানে আমি উত্তর দিতে পারি যে এই নির্দিষ্ট পথের প্রতি বিশেষ আগ্রহের (এবং স্নেহের) জন্য আমাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থাকলেও, এটিকে (বা অন্য যেকোনো) জীবনের অপরিহার্য দিক হিসেবে বিবেচনা করার কোনো অধিকার আমাদের নেই। আর্ডভার্ক, অ্যানকোভি বা আর্টিচোকের দিকে নিয়ে যাওয়া পথগুলো সমান দীর্ঘ, জটিল এবং জৈবিকভাবে তথ্যপূর্ণ।
** "দ্য পেরিলস অফ হোপ", পৃষ্ঠা ২১১
* জ্যাস্ট্রো এবং আরও কয়েকজন জ্যোতির্বিদ বিগ ব্যাংকে জেনেসিসের মহাজাগতিক সমতুল্য হিসেবে পড়ে মহাবিশ্বে ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। আমি স্বীকার করছি এই যুক্তিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া আমার পক্ষে কঠিন বলে মনে হয়েছে।
** "দ্য পেরিলস অফ হোপ", পৃষ্ঠা ২১২
* পৃথিবী একটি জটিল জায়গা। আমাদের সরলীকরণ এবং বোঝার লড়াইয়ে আমরা প্রায়শই কিছু সমস্যা চিহ্নিত করি এবং তারপর এটিকে সব মন্দের জন্য দায়ী করি।
** "উটোপিয়া, লিমিটেড", পৃষ্ঠা ২১৮
* মানব নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে পরিবেশন করার জন্য প্রকৃতির কোনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে হস্তান্তরযোগ্য জ্ঞান নেই। প্রকৃতির প্রতি নিষ্ক্রিয় পর্যবেক্ষণ এবং প্রশ্নাতীত শ্রদ্ধা নৈতিক দর্শনের বিকল্প নয়।
** "উটোপিয়া, লিমিটেড", পৃষ্ঠা ২২৫
* আমি বুঝতে পারছি না কেন আমাদের সমস্ত জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রত্যাখ্যান করা উচিত। এর কারণ এর প্রযুক্তি হয়তো একদিন পরবর্তী হিটলারের হাতে শালীনতার এমন বিকৃতির অনুমতি দিতে পারে। আপনি হয়তো মুদ্রণ নিষিদ্ধও করতে পারেন কারণ যে মেশিনটি শেক্সপিয়রের লেখা কম্পোজ করে সেটি ''মেইন ক্যাম্প''-ও সেট করতে পারে। ডোমিনো তত্ত্ব সমস্ত মানুষের অর্জনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যদি আমরা একটি ব্যাকটেরিয়াল জিন প্রতিস্থাপন করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফসলে রোগ বা ঠান্ডা প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করতে পারতাম, তবে অপুষ্টিতে এতো ভয়ানকভাবে ভুগছে এমন একটি পৃথিবীতে কি আমাদের তা করা উচিত নয়? এমন সুবিধার কি এটা বোঝানো উচিত যে আগামীকাল ভুট্টা এবং গম, সামুদ্রিক ঘোড়া এবং অর্কিডকে একটি বিশাল ভ্যাটে ফেলে দেওয়া হবে, জেনেটিক এককগুলোতে ছিঁড়ে ফেলা হবে এবং অভিন্ন মানব ভৃত্যদের সারিতে পুনরায় একত্রিত করা হবে? কিছু বাক্যাংশ পুনরায় একত্রিত করার জন্য চিরন্তন সতর্কতা হলো প্রযুক্তিগত অর্জনের মূল্য।
** "ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড মি. রিফকিন", পৃষ্ঠা ২৩৮
* চিন্তার পরিবর্তে নিষিদ্ধ করার আবেগপূর্ণ আহ্বানের চেয়ে খুব কম প্রচারণাই বেশি বিপজ্জনক।
** "ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড মি. রিফকিন", পৃষ্ঠা ২৩৮
* গতকালের দ্রষ্টা হলেন আজকের বিরক্তি।
** "দ্য কোয়াক ডিটেক্টর", পৃষ্ঠা ২৪৪
* আমরা যেমন ক্র্যাঙ্ক এবং প্রতিভার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম রেখা বুঝতে পারি, তেমনি (এবং দুর্ভাগ্যবশত) আমাদের অবশ্যই ক্র্যাঙ্ক থেকে ডেম্যাগোগ পর্যন্ত একটি সমানভাবে গ্রেডেড পথ স্বীকার করতে হবে। মানুষ যখন বিচারের কোনো সরঞ্জাম শেখে না এবং কেবল তাদের আশা অনুসরণ করে, তখন রাজনৈতিক কারসাজির বীজ রোপণ করা হয়।
** "দ্য কোয়াক ডিটেক্টর", পৃষ্ঠা ২৪৫
=== ''ওয়ান্ডারফুল লাইফ'' (১৯৮৯) ===
:<small>জনপ্রিয় দর্শকদের উদ্দেশ্যে লেখা এই বইটি [[w:বার্জেস শেল|বার্জেস শে]]<nowiki/>লে নরম দেহের জীবাশ্ম আবিষ্কার এবং সত্তর বছর পর তাদের পুনর্গঠনের বর্ণনা দেয়। উদ্ধৃতিগুলো ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।</small>
* প্রকৃতির সৌন্দর্য বিস্তারিত লুকিয়ে আছে। বার্তা রয়েছে সাধারণতার মধ্যে।
** প্রস্তাবনা।
* আমি বিশ্বাস করি আমাদের এখনও পেশাদার এবং আগ্রহী সাধারণ মানুষ উভয়ের জন্যই উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক বইয়ের একটি ধারা থাকতে পারে। বিজ্ঞানের ধারণাগুলো তাদের সমস্ত সমৃদ্ধি এবং অস্পষ্টতায় কোনো আপস ছাড়াই, বিকৃতি হিসেবে বিবেচিত কোনো সরলীকরণ ছাড়াই সব বুদ্ধিমান মানুষের কাছে বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করা যেতে পারে। আমি আশা করি এই বইটি স্নাতক শিক্ষার্থীদের সেমিনারে লাভের সাথে পড়া যেতে পারে। এবং যদি মুভিটি খারাপ হয় এবং আপনি আপনার ঘুমের ওষুধ ভুলে যান, তবে টোকিওতে ব্যবসায়ীর বিশেষ অনুষ্ঠানেও পড়া যেতে পারে।
** প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১৬
* আমি দৃঢ়ভাবে এমন কোনো [[ধারণাগত স্কিম]] প্রত্যাখ্যান করি যা আমাদের বিকল্পগুলোকে একটি রেখায় রাখে। এবং মনে করে চরম অবস্থানের একটি জোড়ার একমাত্র বিকল্প তাদের মাঝখানে কোথাও রয়েছে। আরও ফলপ্রসূ দৃষ্টিভঙ্গির জন্য প্রায়শই আমাদের দ্বৈততার বাইরের কোনো স্থানে লাইন থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।
** পৃষ্ঠা ৫১
* আনুষঙ্গিকতা তার নিজের মধ্যে একটি জিনিস, এলোমেলোতা দ্বারা নির্ধারণবাদের টাইট্রেশন নয়।
** পৃষ্ঠা ৫১
* বার্জেস শেলের প্রাণীগুলো হলো পবিত্র বস্তু। এটি অপ্রচলিত অর্থে, যা কিছু সংস্কৃতিতে এই শব্দটি বহন করে। আমরা তাদের পাদদেশে স্থাপন করে দূর থেকে পূজা করি না। তাদের খুঁজে পেতে আমরা পাহাড়ে আরোহণ করি এবং পাহাড়ের ঢালে ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটাই। আমরা তাদের খনন করি, তাদের বিভক্ত করি, তাদের খোদাই করি, তাদের আঁকি এবং তাদের গোপনীয়তাগুলো জানার জন্য সংগ্রাম করে তাদের ব্যবচ্ছেদ করি। আমরা তাদের জঘন্য অনমনীয়তার জন্য তাদের নিন্দা করি এবং অভিশাপ দিই। এগুলো ৫৩০ মিলিয়ন বছর পুরানো সমুদ্রের তলদেশের ছোট্ট নোংরা প্রাণী। কিন্তু আমরা তাদের বিস্ময়ের সাথে অভ্যর্থনা জানাই কারণ তারা অনেক পুরোনো এবং তারা আমাদের কিছু বলার চেষ্টা করছে।
** পৃষ্ঠা ৫২
* একটি পুরানো জীবাশ্মতাত্ত্বিক কৌতুক ঘোষণা করে স্তন্যপায়ী বিবর্তন হলো একটি গল্প, যা দাঁতের মিলনের মাধ্যমে সামান্য পরিবর্তিত বংশধরের দাঁত তৈরির কথা বলে।
** পৃষ্ঠা ৬০
* মাঠপর্যায়ের কাজের কিংবদন্তিগুলো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে দুর্গম জঙ্গলের গভীরে অবস্থিত করে। সেখানে হিংস্র প্রাণী এবং অস্থির আদিবাসীরা বাস করে। এবং পচনশীল মিয়াজমা এবং সেটসি মাছির ঝাঁক দ্বারা বেষ্টিত থাকে। (বিকল্প মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে সমস্ত উটের মৃত্যুর পরে শততম বালিয়াড়ি, বা সমস্ত স্লেজ কুকুরের মৃত্যুর পরে হাজারতম ফাটল।)
** পৃষ্ঠা ৬৫
* প্রাকৃতিক ইতিহাসের সমস্ত আকর্ষণীয় বিষয় হলো আপেক্ষিক ফ্রিকোয়েন্সির প্রশ্ন, একক উদাহরণ নয়। প্রকৃতির সমৃদ্ধির মধ্যে সবকিছু একবার ঘটে। কিন্তু যখন কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা বারবার ঘটে, এবং শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশায় পরিণত হয়, তখন তত্ত্বগুলো উল্টে যায়।
** পৃষ্ঠা ১৩৬
* ঐতিহাসিক বিজ্ঞান খারাপ, বেশি সীমাবদ্ধ বা দৃঢ় সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কম সক্ষম নয়। কারণ পরীক্ষা, ভবিষ্যদ্বাণী এবং প্রকৃতির অপরিবর্তনীয় আইনের অধীনে সাবজাম্পশন এর স্বাভাবিক কাজের পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে না। ইতিহাসের বিজ্ঞানগুলো ব্যাখ্যার একটি ভিন্ন মোড ব্যবহার করে, যা আমাদের ডেটাতে তুলনামূলক এবং পর্যবেক্ষণমূলক সমৃদ্ধির মধ্যে নিহিত। আমরা অতীতের কোনো ঘটনা সরাসরি দেখতে পারি না। তবে বিজ্ঞান সাধারণত অনুমানের ওপর ভিত্তি করে, অমলীন পর্যবেক্ষণের ওপর নয় (আপনি ইলেকট্রন, মহাকর্ষ বা ব্ল্যাক হোলও দেখতে পান না)।
** পৃষ্ঠা ২৭৯
* ডিভাইন টেপ প্লেয়ার এক মিলিয়ন দৃশ্যকল্প ধারণ করে। এর প্রতিটিই নিখুঁতভাবে বোধগম্য। শুরুতে ছোটখাটো অদ্ভুত ঘটনা, যা বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই ঘটে, ফলাফলের ক্যাসকেডগুলো উন্মোচন করে যা একটি নির্দিষ্ট ভবিষ্যতকে অতীতের দিকে তাকালে অনিবার্য বলে মনে করে। কিন্তু সামান্যতম প্রাথমিক ধাক্কা একটি ভিন্ন খাঁজের সাথে যোগাযোগ করে। এবং ইতিহাস অন্য একটি যুক্তিসঙ্গত চ্যানেলে মোড় নেয়, যা ক্রমাগত তার মূল পথ থেকে বিচ্যুত হয়। শেষ ফলাফলগুলো এতো আলাদা, প্রাথমিক ক্ষোভ এতোটাই তুচ্ছ মনে হয়।
** পৃষ্ঠা ৩২০ থেকে ৩২১
=== ''বুলি ফর ব্রন্টোসরাস'' (১৯৯১) ===
:<small>ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন প্রথম সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি।</small>
* আমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি সংবেদনশীল নই এমন নয়। কিন্তু আমার আবেগপূর্ণ আনন্দগুলো ''হোমো স্যাপিয়েন্স'' নামক সেই ক্ষুদ্র এবং আকস্মিক বিবর্তনীয় ডালের অসম্ভাব্য অথচ কখনও কখনও বিস্ময়কর কাজগুলোকে কেন্দ্র করে। আমি এই কাজগুলোর মধ্যে প্রকৃতি বোঝার আমাদের সংগ্রামের ইতিহাসের চেয়ে মহৎ আর কিছু পাই না। এটি এতো বিশাল স্থানিক এবং অস্থায়ী সুযোগের একটি রাজকীয় সত্তা যে এটি একটি কৌতূহলী বিবর্তনীয় আবিষ্কারের সাথে সামান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর চিন্তার জন্য খুব বেশি যত্ন করতে পারে না। যদিও সেই আবিষ্কারটি পৃথিবীতে জীবনের প্রায় চার বিলিয়ন বছরে প্রথমবারের মতো পুনরাবৃত্তি তৈরি করেছে কারণ একটি প্রাণী তার নিজস্ব উৎপাদন এবং বিবর্তনের দিকে ফিরে তাকায়। তাই আমি প্রথম অঙ্গকে প্রদান করা পাজল এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আনন্দের জন্য প্রকৃতিকে ভালোবাসি, যা এমন কৌতূহলী চিন্তার জন্য সক্ষম।
** প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১৩
* প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য হলো তার প্রশস্ততা। সে আমাদের জন্য বা আমাদের কারণে বিদ্যমান নয়। এবং তার এমন একটি থাকার ক্ষমতা আছে যা আমাদের সমস্ত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার হুমকি দিতে পারে না (যেমন আমরা সহজেই আমাদের নিজেদের ধ্বংস করতে পারি)।
** প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১৬ থেকে ১৭
* বেসবল লেখার সবচেয়ে নির্বোধ এবং উদ্দেশ্যমূলক লেখাটি হলো লাঠি দিয়ে বল আঘাত করা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দৃশ্য থেকে গভীরতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। এটি খেলাধুলা এবং নৈতিকতা, পিতৃত্ব, ইতিহাস, হারানো নির্দোষতা, ভদ্রতা ইত্যাদির গভীর বিষয়গুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের পরামর্শ দিয়ে প্রায় অসীমভাবে করার চেষ্টা করে। (এই প্রচেষ্টাটি বোকামির দুর্গন্ধ ছড়ায় কারণ বেসবল নিজেই গভীর এবং এর কোনো অজুহাতের প্রয়োজন নেই। যারা এটি জানেন না তারা অনুরাগী নন এবং তাই তাদের কাছে পৌঁছানো যায় না।)
** "দ্য ক্রিয়েশন মিথস অফ [[w:কুপারসটাউন, নিউ ইয়র্ক|কুপারসটাউন]]", পৃষ্ঠা ৪৬
* জৈবিক বিবর্তন হলো শাখার পরবর্তী সংযোগ ছাড়া অবিরাম ভিন্নতার একটি সিস্টেম। বংশ একবার স্বতন্ত্র হয়ে গেলে তা চিরতরে আলাদা হয়ে যায়। মানব ইতিহাসে বংশের মাধ্যমে সংক্রমণ হয়তো সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রধান উৎস। ইউরোপীয়রা আদিবাসী আমেরিকানদের কাছ থেকে ভুট্টা এবং আলু সম্পর্কে শিখেছিল এবং বিনিময়ে তাদের গুটিবসন্ত দিয়েছিল।
** "দ্য পান্ডাস থাম্ব অফ টেকনোলজি", পৃষ্ঠা ৬৫
* আমরা পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বাস করি এবং সম্মানজনক আত্মস্বার্থের প্রতি আমার কোনো বিশেষ আপত্তি নেই। আমরা বেতনের নাটকীয় পুনর্গঠন ছাড়া প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রয়োজনীয়, কঠোর উন্নতির আশা করতে পারি না। আমার মতে ছোট বাচ্চাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা প্রতিভার মূল্যের ক্ষতিপূরণ দিতে আপনি একজন ভালো শিক্ষককে পর্যাপ্ত অর্থ প্রদান করতে পারবেন না। আমি সহনীয়ভাবে ভালো আচরণকারী প্রায়-প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে এক বা দুই ঘণ্টা শেখাই এবং আমি ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরি। সম্ভাব্য কোন যুক্তিতে আমার পরিষেবাগুলোর বেতন দিনে ছয়টি ক্লাস নেওয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের চেয়ে বেশি? যার মর্যাদা কম, সমর্থন কম, শৃঙ্খলার বিশাল সমস্যা রয়েছে এবং মন গঠনে মৌলিক ভূমিকা রয়েছে। (তুলনায় আমি কেবল ইতিমধ্যে গঠিত বুদ্ধি নিয়ে কাজ করি।)
** "দ্য ডাইনোসর রিপ-অফ", পৃষ্ঠা ১০১ থেকে ১০২
* স্মৃতি একটি আকর্ষণীয় প্রতারক। শব্দ এবং চিত্রের প্রচুর ক্ষমতা রয়েছে। এবং এগুলো সহজেই বছরের পর বছর ধরে বাস্তব অভিজ্ঞতাকে স্থানচ্যুত করতে পারে।
** "লিটারারি বায়াস অন দ্য স্লিপারি স্লোপ", পৃষ্ঠা ২৪৯
* এই "প্রায় কিছুই না" এর অন্তর্ভুক্ত, গত কয়েক মিলিয়ন বছরের ভূতাত্ত্বিক চিন্তাভাবনার এক ধরণের কারণ হিসেবে এই গ্রহে আত্মসচেতন বুদ্ধিমত্তার প্রথম বিকাশ ঘটেছে। এটি স্তন্যপায়ী বিবর্তনীয় ঝোপের একটি ছোট ডালের একটি অদ্ভুত এবং অননুমেয় আবিষ্কার। এই অনন্যতার যেকোনো সংজ্ঞাকে অবশ্যই আমাদের ভাষার অধিকারের সাথে জড়িত থাকতে হবে। বিশ্বকে গল্প হিসেবে ফ্রেম করা এবং অন্যদের কাছে এই গল্পগুলো প্রেরণ করার আমাদের ক্ষমতা এর সাথে জড়িত। যদি গল্প হিসেবে প্রকৃতিকে উপলব্ধি করার আমাদের প্রবণতা আমাদের উপলব্ধিগুলোকে বিকৃত করে, তবে আমি জ্ঞানের ওপর মানসিকতার এই সীমাটি গ্রহণ করব। কারণ আমরা বাণিজ্যে সাহিত্যের আনন্দ এবং আমাদের সত্তার মূল উভয়ই পাই।
** "লিটারারি বায়াস অন দ্য স্লিপারি স্লোপ", পৃষ্ঠা ২৫২
* বৈজ্ঞানিক উপলব্ধির বেশিরভাগ বাধাই ধারণাগত তালা, বাস্তবতার অভাব নয়। সেই পক্ষপাতিত্বগুলো অপসারণ করা সবচেয়ে কঠিন যা আমাদের যাচাই-বাছাই এড়িয়ে যায় কারণ সেগুলোকে এতোটা স্পষ্ট, এমনকি অনিবার্যভাবে ন্যায়সঙ্গত বলে মনে হয়। আমরা নিজেদের সবচেয়ে ভালোভাবে জানি এবং অন্যান্য প্রাণীকে আমাদের নিজস্ব গঠন এবং সামাজিক ব্যবস্থার আয়না হিসেবে দেখতে প্রবণ। ([[অ্যারিস্টটল]] এবং প্রায় দুই সহস্রাব্দের উত্তরসূরিরা ঝাঁকের নেতৃত্বদানকারী বড় মৌমাছিটিকে রাজা হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।)
** "গ্লো, বিগ গ্লোওয়ার্ম", পৃষ্ঠা ২৫৬
* প্রকৃতির তথ্যগুলো যেমন আছে তেমনই। তবে আমরা কেবল আমাদের মনের চশমার মধ্য দিয়ে সেগুলো দেখতে পারি। আমাদের মন মূলত রূপক এবং তুলনার মাধ্যমে কাজ করে। এটি সর্বদা (বা প্রায়শই) নিরলস যুক্তি দ্বারা কাজ করে না। আমরা যখন ধারণাগত ফাঁদে আটকে যাই, তখন সেরা প্রস্থান প্রায়ই রূপকের পরিবর্তন হয়। রূপকটি প্রকৃতির কাছে সত্য হবে বলে তা নয় (কারণ বনে পুরোনো বা নতুন কোনো রূপকই নেই), তবে রূপকটি প্রায়ই ধারণাগত রূপান্তরের সেরা প্রতিনিধি।
** "গ্লো, বিগ গ্লোওয়ার্ম", পৃষ্ঠা ২৬৪
* নৈতিক অন্তর্দৃষ্টির কোনো শর্টকাট নেই। প্রকৃতি এমন কিছু নয় যা মানুষের ভাষায় সান্ত্বনা দিতে পারে। কারণ আমাদের প্রজাতি আমাদের জন্য তৈরি হয়নি এমন একটি পৃথিবীতে এতোটা তুচ্ছ আগন্তুক। এতোটাই ভালো। নৈতিক দ্বিধাগুলোর উত্তর সেখানে আবিষ্কারের অপেক্ষায় নেই। এগুলো ঈশ্বরের রাজ্যের মতো আমাদের মধ্যে বাস করে। এটি যেকোনো আবিষ্কার বা ঐকমত্যের জন্য সবচেয়ে কঠিন এবং দুর্গম স্থান।
** "ক্রপটকিন ওয়াজ নো ক্র্যাকপট", পৃষ্ঠা ৩৩৯
* "দীর্ঘ দৃষ্টিভঙ্গিের" যুক্তি কিছু অর্থহীন বিমূর্ত অর্থে সঠিক হতে পারে। তবে এটি বিভাগ এবং সময় স্কেলগুলোতে একটি মৌলিক ভুল উপস্থাপন করে। আমাদের একমাত্র বৈধ দীর্ঘ দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সন্তানদের এবং আমাদের সন্তানদের সন্তানদের শিশুদের পর্যন্ত প্রসারিত, যা রাস্তার নিচে শত বা কয়েক হাজার বছর পর্যন্ত বিস্তৃত। আমরা যদি হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যেতে দিই, তবে তারা ইঁদুর, কুকুর, তেলাপোকা, কবুতর এবং মশার সাথে একটি অন্ধকার পৃথিবী ভাগ করবে। কয়েক মিলিয়ন বছর পরের সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের আমাদের উপযুক্ত স্কেলে কোনো অর্থ নেই।
** "দ্য প্যাশন অফ [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]]", পৃষ্ঠা ৩৬৫
* লাভোয়াজিয়ে গভীরতম, প্রায় পবিত্র উপায়ে সঠিক ছিলেন। তার আবেগ যুক্তির সেবায় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়েছিল; অন্য এক ধরনের আবেগ ছিল এর মূল্য। যুক্তি আমাদের বাঁচাতে পারে না এবং এমনকি ভুল হাতে আমাদের তাড়নাও করতে পারে। তবে যুক্তি ছাড়া আমাদের মুক্তির কোনো আশা নেই। পৃথিবী খুব জটিল এবং খুব অনমনীয়। আমরা একে আমাদের সাধারণ ইচ্ছার কাছে নোয়াতে পারি না।
** "দ্য প্যাশন অফ অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে", পৃষ্ঠা ৩৬৬
* ভুল কারণে সঠিক অনুমান করা বৈজ্ঞানিক অমরত্বের যোগ্যতা অর্জন করে না।
** "দ্য গডফাদার অফ ডিজাস্টার", পৃষ্ঠা ৩৭৯
* বিজ্ঞান হলো প্রাকৃতিক বিশ্ব সম্পর্কে দাবিগুলো পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি, নিরঙ্কুশ সত্যের কোনো অপরিবর্তনীয় সংকলন নয়। মৌলবাদীরা শুরু করার আগেই উত্তরগুলো "জেনে" এবং তারপর প্রকৃতিকে তাদের অসম্মানিত কুসংস্কারের স্ট্রেইটজ্যাকেটে বাধ্য করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রের বাইরে অবস্থান করেন, অথবা কোনো সৎ বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধানের বাইরে।
** "অ্যান এসে অন আ পিগ রোস্ট," পৃষ্ঠা ৪৩৭
* যখন আমরা বিজ্ঞানের সঠিক পরিচালনার জন্য একটি পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ খুঁজি, তখন নির্দিষ্ট ভুলের সংশোধন সম্ভাব্য সত্য প্রতিষ্ঠার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিশ্রুতি দেয়। অবশ্যই অসমর্থিত অনুমানের চেয়ে নিশ্চিত হওয়া অনুমানগুলো বেশি আনন্দদায়ক। যেহেতু "জনপ্রিয়" লেখার সবচেয়ে খারাপ ঐতিহ্যগুলো মিথ্যাভাবে নির্দেশিকাকে মিষ্টতা এবং আলোর সাথে তুলনা করে, তাই আমাদের প্রচারমূলক সাহিত্য বীরত্বপূর্ণ মোডে নীরস গল্পে ভরপুর। যদিও হতাশা এবং ক্ষতির কঠিন গল্পগুলো এমন একটি [[পদ্ধতিবিদ্যা]]র গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়, যা বিখ্যাত দার্শনিক [[কার্ল পপার]] একবার "অনুমান এবং খণ্ডন" হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
** "অ্যান এসে অন আ পিগ রোস্ট", পৃষ্ঠা ৪৩৭
* কোনো তত্ত্বের ব্যর্থতার গল্প প্রায়শই পাঠকদের কাছে দুঃখজনক এবং অসন্তোষজনক বলে মনে হয়। যেহেতু বিজ্ঞান স্ব-সংশোধনের ওপর উন্নতি লাভ করে, তাই আমরা যারা মানুষের শিল্পের এই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অনুশীলন করি, তারা এমন অনুভূতি শেয়ার করি না। আমরা হয়তো অসুখী হতে পারি যদি কোনো প্রিয় হাইপোথিসিস হেরে যায়। অথবা আমরা প্রস্তাবিত তত্ত্বগুলো অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হলে বিরক্ত হতে পারি। কিন্তু খণ্ডন প্রায় সবসময়ই ইতিবাচক শিক্ষা ধারণ করে যা হতাশাকে ছাপিয়ে যায়। এমনকি যখন কোনো নতুন এবং ব্যাপক তত্ত্ব শূন্যস্থান পূরণ করেনি, তখনও এমনটা হয়।
** "দ্য ফেস অফ মিরান্ডা", পৃষ্ঠা ৪৯৬
* জ্ঞান এবং বিস্ময় হলো বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাণী হিসেবে আমাদের যোগ্য জীবনের যুগল। ''ভয়েজার'' আমাদের জ্ঞানের জন্য বিস্ময়কর কাজ করেছে। কিন্তু বিস্ময়ের সেবায় ঠিক ততটাই শক্তিশালী পারফর্ম করেছে। এই দুটি উপাদান পরিপূরক, স্বাধীন বা বিরোধী নয়। চিন্তাটি আমাকে বিস্ময়ে পূর্ণ করে। একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে ফিট হতে পারে এমন একটি যান্ত্রিক ব্যবস্থা বারো বছর ধরে মহাকাশের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করছে। চারটি দৈত্যাকার মৃতদেহ এবং তাদের সাথে যুক্ত চাঁদের চারপাশে ঘোরাফেরা করছে। এবং অবশেষে আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহ থেকে চার আলোক ঘণ্টারও বেশি স্থান জুড়ে চমৎকার ছবি পাঠাচ্ছে।
** "দ্য হর্ন অফ ট্রাইটন", পৃষ্ঠা ৫০৮ থেকে ৫০৯
=== ''এইট লিটল পিগিস'' (১৯৯৩) ===
:<small>উদ্ধৃতিগুলো ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।</small>
* বিস্তারিত বিষয়গুলোই সব: ঈশ্বর সেখানে বাস করেন, এবং আপনি যদি সেগুলো সঠিকভাবে পেতে সংগ্রাম না করেন তবে আপনি কখনোই তাকে দেখতে পাবেন না।
** "আ রিফ্লেক্টিভ প্রোলোগ", পৃষ্ঠা ১৪
* ইতিহাসের আনুষঙ্গিকতা (সাধারণভাবে জীবন এবং ''হোমো স্যাপিয়েন্স''র সংস্কৃতি উভয়ের জন্য) এবং মানুষের মুক্ত ইচ্ছা (ধর্মতাত্ত্বিক অর্থের পরিবর্তে বাস্তব অর্থে) সংযুক্ত ধারণা। অভিন্ন পরিবেশে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন সমাধানের "পরীক্ষামূলক" উৎপাদনের চেয়ে ভালো কোনো প্রমাণ তৈরি করা যায় না।
** "আনএনচ্যান্টেড ইভিনিং", পৃষ্ঠা ২৯
* একজন বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানীর পক্ষে মানুষের বোকামির কারণে বিলুপ্তি সম্পর্কে লেখা খুব কঠিন। তাহলে আমাকে একটি অপ্রচলিত আবেদন করতে দিন, যা সাধারণ যুক্তির বিপরীত। ''পারটুলা''র বিলুপ্তি ''পারটুলা''র প্রতি অন্যায়। এটি প্রচলিত যুক্তি এবং আমি এর প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ করি না। কিন্তু আমাদের একটি [[মানবতাবাদ|মানবিক]] [[বাস্তুসংস্থান]]ও প্রয়োজন। এর ব্যবহারিক কারণ হলো মানুষ সবসময় শামুকের চেয়ে মানুষকে বেশি স্পর্শ করবে। এবং নৈতিক কারণ হলো মানুষ বৈধভাবে সব নৈতিক প্রশ্নের পরিমাপক। কারণ এগুলো আমাদের সমস্যা, প্রকৃতির নয়।
** "আনএনচ্যান্টেড ইভিনিং", পৃষ্ঠা ৩৯
* তবুও আমি বুঝতে পারি নিজেদের এবং প্রকৃতির মধ্যে একটি আবেগময় বন্ধন তৈরি না করে আমরা প্রজাতি এবং পরিবেশ বাঁচানোর এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারি না। কারণ আমরা যা ভালোবাসি না তা বাঁচানোর জন্য লড়াই করব না (কেবল কিছু বিমূর্ত অর্থে প্রশংসা করব)। তাই তাদের সবাইকে চালিয়ে যেতে দিন: চলচ্চিত্র, বই, টেলিভিশন প্রোগ্রাম, চিড়িয়াখানা, যেকোনো সম্প্রদায়ের পরিবেশগত সংরক্ষণের সামান্য অর্ধেক একর, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ, জাদুঘরের প্রদর্শনী, এমনকি সকাল ৬:০০ টার বার্ড ওয়াক। তাদের চালিয়ে যেতে দিন এবং প্রসারিত করতে দিন। কারণ ভালোবাসার জন্য আমাদের অবশ্যই অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ থাকতে হবে। আমাদের হৃদয়ে প্রকৃতির জন্য জায়গা তৈরি করতেই হবে।
** "আনএনচ্যান্টেড ইভিনিং", পৃষ্ঠা ৪০
* ঘটনাগুলো তাদের নিজস্ব উপযুক্ত স্থান এবং সময়ের স্কেলে উন্মোচিত হয়। এগুলো মানুষের উচ্চতা এবং মানুষের আয়ু দ্বারা পরিমাপ করা মাত্রার আমাদের মায়োপিক জগতে অদৃশ্য হতে পারে। পৃথিবীর স্কেলে পুঞ্জীভূত গুরুত্বের অনেক কিছুই মানব জীবনের পরিমাপক দণ্ডের দ্বারা অদৃশ্য। মাইক্রোস্কোপিক অণু জগতে কণার জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ তা আমাদের স্কেলে স্থিরতা গড় করে বা কেবল আমাদের উপলব্ধির সীমার নিচে দাঁড়িয়ে থাকে।
** "দ্য গোল্ডেন রুল: আ প্রপার স্কেল ফর আওয়ার এনভায়রনমেন্টাল ক্রাইসিস", পৃষ্ঠা ৪১ থেকে ৪২
* আমি মনে করি না আমরা ব্যবহারিকভাবে বা নৈতিকভাবে জীবের প্রতিটি স্বকীয় স্থানীয় জনসংখ্যা সংরক্ষণের নীতি রক্ষা করতে পারি। আমি প্রজাতি সংরক্ষণের একটি ভালো যুক্তি উল্লেখ করতে পারি। কারণ প্রতিটি প্রজাতি হলো একটি অনন্য এবং পৃথক প্রাকৃতিক বস্তু, যা একবার হারিয়ে গেলে আর কখনও পুনর্গঠন করা যায় না। কিন্তু উপপ্রজাতিগুলো বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিসর বিশিষ্ট প্রজাতির স্বকীয় স্থানীয় জনসংখ্যা। উপপ্রজাতিগুলো গতিশীল, প্রজননযোগ্য এবং ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। তাহলে আমরা তাদের সবাইকে অলঙ্ঘনীয় ঘোষণা করে কী রক্ষা করছি?
** "দ্য গোল্ডেন রুল: আ প্রপার স্কেল ফর আওয়ার এনভায়রনমেন্টাল ক্রাইসিস", পৃষ্ঠা ৪৩
* আনুষঙ্গিকতা সমৃদ্ধ এবং আকর্ষণীয়। এটি ইতিহাস পরিবর্তন করার জন্য ব্যক্তিদের ক্ষমতা এবং প্রকৃতির আইন দ্বারা নির্ধারিত বোধগম্য সীমার মধ্যে একটি চমৎকার উত্তেজনা মূর্ত করে। ব্যক্তি এবং প্রজাতির জীবনের বিস্তারিত বিবরণ কেবল তুচ্ছ জিনিস নয়, যা ঘটনাগুলোর বৃহৎ পরিসরের গতিপথকে রূপ দিতে ক্ষমতাহীন। বরং এগুলো এমন বিবরণ যা সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে এবং চিরতরে পরিবর্তন করতে পারে।
** "এইট লিটল পিগিস", পৃষ্ঠা ৭৭
* ব্যাকটেরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাফল্যের গল্প উপস্থাপন করে। এগুলো আজও পৃথিবীতে আদর্শ জীব হিসেবে আছে এবং চিরকাল থাকবে। এদের নিউক্লিয়ার বোমা মেরে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না এবং এরা আমাদের সবার চেয়ে বেশি দিন বাঁচবে। এই সময়টা তাদের সময়, "স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যুগ" নয়, যেমনটি আমাদের পাঠ্যবইগুলো উগ্রভাবে ঘোষণা করে। কিন্তু এমন সাফল্যের জন্য তাদের মূল্য হলো একটি অণু জগতে স্থায়ী নির্বাসন। এবং তারা চেতনার আনন্দ ও বেদনা জানতে পারে না। আমরা ট্রেড-অফের এক মহাবিশ্বে বাস করি। জটিলতা এবং অধ্যবসায় অংশীদার হিসেবে ভালোভাবে কাজ করে না।
** "অ্যান ইয়ারফুল অফ জ", পৃষ্ঠা ৯৮
* আমাদের ইতিহাসের সত্যিকারের অসাধারণ বুদ্ধিজীবীরা কেবল আবিষ্কারই করেননি; বরং তারা ব্যাপক কভারেজের বৈচিত্র্যময়, অথচ দৃঢ় টেপেস্ট্রি বুনেছেন। এই টেপেস্ট্রিগুলোর বিভিন্ন পরিণতি রয়েছে: বেশিরভাগই সময়ের পদচিহ্ন এবং পরবর্তী আবিষ্কারের আগুনে পুড়ে যায় বা উন্মোচিত হয়। কিন্তু তাদের গৌরব বিশাল জটিলতা এবং বিস্তৃত অনুমানের একীভূত কাঠামো হিসেবে তাদের অখণ্ডতার মধ্যে নিহিত।
** "মেন অফ দ্য থার্টি-থার্ড ডিভিশন: অ্যান এসে অন ইন্টিগ্রিটি", পৃষ্ঠা ১২৫
* [[w:ইউজিন ডুবয়েস|ইউজিন ডুবয়েস]] আমার বইয়ের কোনো নায়ক নন। এর কারণ আমি তার রীতিনীতির মনোভাব শেয়ার করি। কিন্তু আমি তার সংস্করণের সাথে তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করি। তার সহায়ক যুক্তিগুলোকে খুব দুর্বলভাবে গঠিত এবং বিরোধী প্রমাণের প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ধ বলে মনে করি (ভিতরের মতান্ধ সর্বদা বাইরের শত্রুর চেয়ে খারাপ)।
** "মেন অফ দ্য থার্টি-থার্ড ডিভিশন: অ্যান এসে অন ইন্টিগ্রিটি", পৃষ্ঠা ১৩৬
* ভালো পণ্ডিতরা জগতকে সামগ্রিকভাবে বোঝার জন্য সংগ্রাম করেন (পেড্যান্টরা ছোট ছোট টুকরো কামড়ে ধরে চিন্তায় মরে যান)। বাস্তবতার এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো আমাদের সম্মানের দাবিদার। কারণ এগুলো একজন বুদ্ধিজীবীর একমাত্র জন্মগত অধিকার। এগুলো প্রায়শই সম্পূর্ণ ভুল হয় এবং সর্বদা গুরুতর উপায়ে ত্রুটিপূর্ণ হয়। তবে এগুলো অবশ্যই সম্মানজনকভাবে বোঝা উচিত। এবং প্যাচগুলো কেটে ফেলে মেহেমের শিকার হওয়া উচিত নয়।
** "মেন অফ দ্য থার্টি-থার্ড ডিভিশন: অ্যান এসে অন ইন্টিগ্রিটি", পৃষ্ঠা ১৩৬
* মহান তত্ত্বগুলো বিস্তৃত হয়। ব্যর্থতাগুলো আমাদের মতান্ধতা এবং টানেল ভিশনে নিমজ্জিত করে।
** "মোর লাইট অন লিভস", পৃষ্ঠা ১৬৫
* একটি বড় গবেষণা কর্মসূচির গল্পের চেয়ে পুরোনো বা আরও বেশি পুনরাবৃত্তি হওয়া বুদ্ধিবৃত্তিক ঘটনা আর কী হতে পারে, যা সমস্ত অনুশীলনকারীদের দ্বারা গৃহীত একটি মিথ্যা কেন্দ্রীয় অনুমানের ওপর নির্ভর করে? আমরা কি এমন সমস্ত লোককে সম্মানহীন বোকা বলে মনে করি যারা এই ধরনের ঐতিহ্যের মধ্যে কাজ করেছিলেন? সেই বিজ্ঞানীদের কথা কী হবে যারা ধরে নিয়েছিলেন মহাদেশগুলো স্থিতিশীল, বংশগত উপাদান প্রোটিন বা অন্য সমস্ত গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে এর মধ্যে অবস্থিত? এই মিথ্যা এবং পরিত্যক্ত প্রচেষ্টাগুলো উজ্জ্বল এবং সম্মানিত বিজ্ঞানীদের দ্বারা আবেগের সাথে অনুসরণ করা হয়েছিল। মিথ্যা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে পূর্ণ ব্যর্থতা হিসেবে পরে আমাদের সেরা বিজ্ঞানীদের অনেকের সম্পূর্ণ মনোযোগ এবং মিলিয়ন ডলারের গবেষণা তহবিল কমান্ড করা বর্তমান প্রচেষ্টাগুলোর কতগুলো উন্মোচিত হবে?
** "ফল ইন দ্য হাউস অফ [[w:জেমস উশার|উশার]]", পৃষ্ঠা ১৮৭
* বিজ্ঞানকে প্রায়শই মানব উদ্যোগের সবচেয়ে বস্তুনিষ্ঠ এবং সত্য-নির্দেশিত বলে মনে করা হয়। যেহেতু প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণকে বাস্তবতার অনুকূল পথ হিসেবে ধরা হয়, তাই অনেকেই সম্মানজনক বিজ্ঞানকে চাক্ষুষ যাচাই-বাছাইয়ের সাথে সমান বলে মনে করেন। শুধু তথ্যগুলো জানুন, এবং স্পষ্টভাবে আমার চোখের সামনে। তবে বিজ্ঞান হলো পর্যবেক্ষণমূলক এবং অনুমানমূলক পদ্ধতির একটি ব্যাটারি। এগুলো এমন প্রস্তাবনাগুলো পরীক্ষার নির্দেশ দেয় যা নীতিগতভাবে অবশ্যই মিথ্যা প্রমাণিত হতে পারে। ক্ষুদ্রতম থেকে বৃহত্তম, দ্রুততম থেকে ধীরতম সব স্কেলেই বিজ্ঞানের অনেক সু-নথিভুক্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের কঠোরভাবে সীমিত ডোমেনের বাইরে অবস্থান করে। কেউ কখনও একটি
* [[বিজ্ঞান]]কে প্রায়শই মানুষের সবচেয়ে বস্তুনিষ্ঠ এবং সত্য-নির্দেশিত প্রয়াস হিসেবে গণ্য করা হয়। যেহেতু সরাসরি পর্যবেক্ষণকে তথ্যনিষ্ঠ হওয়ার প্রধান পথ মনে করা হয়, তাই অনেকে সম্মানজনক বিজ্ঞানকে চাক্ষুষ পরীক্ষার সমার্থক মনে করেন—অর্থাৎ কেবল তথ্য এবং তা স্পষ্টভাবে চোখের সামনে থাকতে হবে। কিন্তু বিজ্ঞান হলো পর্যবেক্ষণ ও অনুমানের পদ্ধতির একটি সমষ্টি, যা এমন সব প্রস্তাবনা পরীক্ষার দিকে পরিচালিত হয় যেগুলো নীতিগতভাবে নিশ্চিতভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হতে পারে। [...] ক্ষুদ্রতম থেকে বৃহত্তম, দ্রুততম থেকে ধীরতম—সব ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের অনেক সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত সরাসরি পর্যবেক্ষণের কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ সীমানার বাইরে অবস্থান করে। কেউ কখনো একটি ইলেকট্রন বা কৃষ্ণগহ্বর দেখেনি, দেখেনি একটি পিকোসেকেন্ড বা একটি ভূতাত্ত্বিক যুগের ঘটনা।
** "মুলার ব্রোস. মুভিং অ্যান্ড স্টোরেজ", পৃষ্ঠা ২০০–২০১
* আমরা এমন এক ধারণাগত সংকটের মধ্যে বাস করি যা অন্য সময়ের অজানা এবং রোমান্টিক করে তোলা 'সুখকর পরিস্থিতির' জন্য আকাঙ্ক্ষাকে উৎসাহিত করে। ভবিষ্যৎকে আশাব্যঞ্জক মনে হয় না, কারণ আমরা বর্তমানের কিছু উদ্বেগজনক প্রবণতা থেকে আরও অবনতির পূর্বাভাস পেতে পারি: যেমন দূষণ, জাতীয়তাবাদ, পরিবেশ ধ্বংস এবং অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাট। তাই আমরা একটি সোনালী অতীতের আশ্রয় নিতে চাই [...]। আমি মানুষের এই অদ্ভুত অভিযোজনযোগ্য বৈশিষ্ট্যের হিতকর, এমনকি অপরিহার্য গুণের বিষয়ে সন্দেহ করি না, তবে আমাদের এর নেতিবাচক দিকটিও নথিভুক্ত করতে হবে। অতীতের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তিগুলো আমাদের বর্তমান দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিরসনের প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
** "শুমেকার অ্যান্ড মর্নিং স্টার", পৃষ্ঠা ২০৬–২০৭
* আমি যদি অতীতের সমস্ত সামাজিক ব্যাধির জন্য ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করা শুরু করি, তবে আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সময়ের কাউকেই পছন্দ করার মতো অবশিষ্ট থাকবে না। উদাহরণস্বরূপ [...] আমি যদি প্রতিটি ভিক্টোরীয় যুগের ইহুদি-বিদ্বেষীকে আমার মনোযোগের বাইরে রাখি, তবে আমার জন্য উপলব্ধ সঙ্গীত এবং সাহিত্যের পরিধি অত্যন্ত ক্ষুদ্র হয়ে যাবে। যদিও আমি সক্রিয় নিপীড়নের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি পোষণ করি না, তবে যারা একটি মানসম্মত সামাজিক বিচারে নিষ্ক্রিয়ভাবে সায় দিয়েছিলেন, আমি সেই ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করতে পারি না। বরং সেই বিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন এবং ভালো ইচ্ছাসম্পন্ন মানুষদের কী অনুপ্রাণিত করে তা বোঝার চেষ্টা করুন।
** "দ্য মোরাল স্টেট অফ তাহিতি—অ্যান্ড অফ ডারউইন", পৃষ্ঠা ২৬৯
* হ্যাঁ, [[শেকসপিয়র]] সর্বপ্রথম এবং চিরকাল (ডারউইনও)। তবে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর জলবায়ুতে পিগমিদের বনজ কৌশল এবং ফুয়েজিয়ানদের টিকে থাকার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কেও শিক্ষা দিন। মর্যাদা এবং অনুপ্রেরণা অনেক ছদ্মবেশে আসে। পরাজয়ের মুহূর্তে [[চিফ জোসেফ]]ের বাগ্মিতার চেয়ে কেউ কি {{w|জর্জ আর্মস্ট্রং কাস্টার}}-ী সস্তা দেশপ্রেমকে বেছে নেবে?
** "দ্য মোরাল স্টেট অফ তাহিতি—অ্যান্ড অফ ডারউইন", পৃষ্ঠা ২৭৪
* মানব অস্তিত্বের প্রকৃত ট্র্যাজেডি এটি নয় যে আমরা স্বভাবগতভাবে মন্দ, বরং একটি নিষ্ঠুর কাঠামোগত অসামঞ্জস্যতা নীচতার বিরল ঘটনাগুলোকে আমাদের ইতিহাস গঠন করার মতো বিশাল ক্ষমতা প্রদান করে।
** "টেন থাউজেন্ড অ্যাক্টস অফ কাইন্ডনেস", পৃষ্ঠা ২৮২
* আমি এটি দাবি করছি না যে মানুষ জন্মগত জৈবিক প্রয়োজনে দয়ালু বা আক্রমণাত্মক। স্পষ্টতই, দয়া এবং সহিংসতা উভয়ই আমাদের প্রকৃতির সীমার মধ্যে রয়েছে কারণ আমরা উভয়ই প্রচুর পরিমাণে করি। আমি কেবল একটি কাঠামোগত দাবি করছি যে সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রায় সব সময় বজায় থাকে এবং এটি অবশ্যই দয়ালু কাজের অপ্রতিরোধ্য প্রাধান্যযুক্ত (কিন্তু ট্র্যাজিকভাবে উপেক্ষিত) হারের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। আর তাই সৌজন্যই প্রায় সব সময় আমাদের স্বাভাবিক এবং পছন্দসই প্রতিক্রিয়া। [...] মানুষের প্রকৃতির কেন্দ্রটি দশ হাজার সাধারণ দয়ালু কাজের গভীরে প্রোথিত যা আমাদের দিনগুলোকে সংজ্ঞায়িত করে।
** "টেন থাউজেন্ড অ্যাক্টস অফ কাইন্ডনেস", পৃষ্ঠা ২৮২
* যদি গ্যালাক্সি এক্সের কোনো আবাসিক প্রাণীবিদ ৫ মিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্বের জনবসতিপূর্ণ গ্রহগুলোর তালিকা তৈরি করার সময় পৃথিবী ভ্রমণ করতেন, তবে তিনি নিশ্চিতভাবেই তার আগের রিপোর্ট সংশোধন করতেন। তিনি হয়তো আগে লিখেছিলেন, নরবানররা আদি বিশ্বের বানরদের চেয়ে বেশি সম্ভাবনাময়, কিন্তু পরে দেখতেন যে বানররা তাদের প্রাথমিক অসুবিধা কাটিয়ে প্রাইমেটদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করেছে। (আগামী বছর তার সফরের পর তিনি এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করবেন। তবে একটি পাদটীকা যোগ করবেন যে, নরবানরের ঝোপ থেকে একটি প্রজাতি অস্বাভাবিক এবং অপ্রত্যাশিতভাবে বিকশিত হয়েছে, যা নিবিড় পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।)
** "দ্য ডিক্লাইনিং এম্পায়ার অফ এপস", পৃষ্ঠা ২৮৮
* বিবর্তন একটি বাধাযুক্ত পথ, কোনো বাধাহীন মহাসড়ক নয়; দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের সঠিক উপমা হলো দূর থেকে আসা বল ধরা একজন খেলোয়াড় যে লক্ষ্যের দিকে যাওয়ার পথে অদ্ভুত আঁকাবাঁকা পথে অসংখ্য বাধা এড়িয়ে এগিয়ে চলে, সমতল পথে তেজি ঘোড়ার দৌড় নয়।
** "টায়ার্স টু স্যান্ডেলস", পৃষ্ঠা ৩১৮
* সম্ভবত আমি একজন আশাহীন যুক্তিবাদী, কিন্তু মুগ্ধতা কি সান্ত্বনার মতোই আরামদায়ক নয়? প্রকৃতি কি তার জটিলতা এবং আমাদের প্রত্যাশার সাথে তাল না মেলানোর গুণের কারণে অপরিসীম আকর্ষণীয় নয়? কৌতূহল কি করুণার মতোই বিস্ময়করভাবে এবং মৌলিকভাবে মানবিক নয়?
** "টায়ার্স টু স্যান্ডেলস", পৃষ্ঠা ৩২৪
* প্রতিটি বিশ্বদর্শন ছিল একটি সাংস্কৃতিক পণ্য, কিন্তু বিবর্তন সত্য এবং পৃথক সৃষ্টিতত্ত্ব সত্য নয়। [...] বিশ্বদর্শন হলো সামাজিক নির্মাণ, এবং তারা তথ্যের অনুসন্ধানকে পরিচালিত করে। তবে [[তথ্য]] খুঁজে পাওয়া যায় এবং জ্ঞানের অগ্রগতি হয়, যদিও তা অনিয়মিত। তথ্য এবং তত্ত্ব একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এবং সমস্ত মহান বিজ্ঞানীরা এই মিথস্ক্রিয়াটি বোঝেন।
** "শিল্ডস অফ এক্সপেক্টেশন—অ্যান্ড অ্যাকচুয়ালিটি", পৃষ্ঠা ৪২৫
* আইকনোগ্রাফি বা চিত্রকল্প আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে যখন বস্তুর পরিবর্তে প্রক্রিয়া বা ধারণাগুলো চিত্রিত করতে হয়—কারণ একটি নির্দিষ্ট "জিনিসের" সীমাবদ্ধতা সরাসরি কল্পনার কাছে হার মানে। শারীরিক বাস্তবতার চেয়ে মানসিক কাঠামো চিত্রিত না করে আমরা কীভাবে "বিবর্তন" বা "সামাজিক সংগঠন", এমনকি সাধারণ "হজম" বা "স্বার্থপরতা" আঁকতে পারি? আমরা যদি ধারণার ইতিহাস অনুসরণ করতে চাই, তবে আইকনোগ্রাফি পণ্ডিতের মনের ওপর তাক করা একটি স্পষ্টবাদী ক্যামেরায় পরিণত হয়।
** "এ টেল অফ থ্রি পিকচার্স", পৃষ্ঠা ৪২৮
* মহান চিন্তাবিদরা সূক্ষ্ম সামঞ্জস্যের সাথে তাদের চিন্তার কাঠামো গড়ে তোলেন। আমরা যখন আমাদের বৌদ্ধিক পূর্বসূরিদের দর্শনকে খণ্ডবিখণ্ড করি এবং তাদের ব্যবস্থাগুলো কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন "মণিমাণিক্য"—অর্থাৎ যেসব চিন্তা বা দাবি এখনো সত্য বলে গৃহীত—তা খুঁজে বের করার জন্য পরীক্ষা করি, তখন আমরা তাদের প্রতি চরম অবিচার করি। এই বিচ্ছিন্ন অংশগুলোই তখন আমাদের পূর্বপুরুষদের একমাত্র উত্তরাধিকার হয়ে ওঠে। ফলে আমরা পুরোনো ব্যবস্থাগুলোর সৌন্দর্য এবং সংহতি হারিয়ে ফেলি, যা তাদের অপরিচিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে আমাদের ভুলপ্রবণ (এবং আত্মতুষ্ট) আধুনিক বিশ্বকে আলোকিত করতে পারতো।
** "এ টেল অফ থ্রি পিকচার্স", পৃষ্ঠা ৪৩৭–৪৩৮
* আমরা যদি আমাদের বৌদ্ধিক ইতিহাসের মহান অধ্যায়কে আদিম কুসংস্কার থেকে চূড়ান্ত নির্ভুলতার দিকে নিয়ে যাওয়া নতুন তথ্যের একটি সংকলন হিসেবে দেখি, তবে আমরা প্রকৃতি এবং আমাদের নিজস্ব মনের সমৃদ্ধিকে খর্ব করি। আমরা জানি যে সূর্য আমাদের মহাবিশ্বের এই ক্ষুদ্র কোণের কেন্দ্র এবং বংশলতিকার বন্ধন আমাদের গ্রহের সমস্ত জীবন্ত জিনিসকে সংযুক্ত করে। এর কারণ এই তত্ত্বগুলো অনেক ভিন্নধর্মী এবং সম্পর্কহীন তথ্যকে একত্রিত করে ব্যাখ্যা করে—গ্যালিলিও বৃহস্পতির চাঁদের দিকে তার টেলিস্কোপ তাক করেছিলেন বলে বা ডারউইন গ্যালাপাগোস কচ্ছপের পিঠে চড়েছিলেন বলে নয়।
** "এ ফুট সোলজার ফর ইভোলিউশন", পৃষ্ঠা ৪৪১
=== ''ডাইনোসর ইন এ হেস্ট্যাক'' (১৯৯৫) ===
:<small>হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি।</small>
* সম্ভাব্যতা সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বৈজ্ঞানিক সাক্ষরতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সাধারণ বাধা হতে পারে।
** "হ্যাপি থটস অন এ সানি ডে ইন নিউ ইয়র্ক সিটি", পৃষ্ঠা ৯
* সমাধানটি, যা সমস্ত চিন্তাশীল মানুষ স্বীকার করেন, তা অবশ্যই জন্মগত প্রবণতা এবং জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গড়ে ওঠার বিষয়গুলোকে সঠিকভাবে মেলানোর মধ্যে নিহিত থাকতে হবে। এই ফলপ্রসূ মিলনটি ১০০ শতাংশের যোগফলের ভুল আকারে হতে পারে না—যেমন "বুদ্ধিমত্তা ৮০ শতাংশ প্রকৃতি এবং ২০ শতাংশ লালন-পালন," বা "সমকামিতা ৫০ শতাংশ জন্মগত এবং ৫০ শতাংশ অর্জিত," এবং এই নির্বোধ ফরম্যাটে আরও শত শত ক্ষতিকারক বক্তব্য। যখন এই ধরনের বর্ণালীর দুই প্রান্ত মিশ্রিত হয়, তখন ফলাফলটি কোনো পৃথকযোগ্য মিশ্রণ হয় না (যেমন ভিন্ন পিঠের দুই প্যাকেট তাস মিশিয়ে ফেলা), বরং এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং উচ্চতর সত্তা যা খণ্ডন করা যায় না (ঠিক যেমন প্রাপ্তবয়স্কদের তাদের সামগ্রিক সত্তায় মাতৃকুল এবং পিতৃকুলের অবদানে আলাদা করা যায় না)।
** "দ্য মনস্টার'স হিউম্যান নেচার", পৃষ্ঠা ৬০
* আমি অনেকদিন ধরেই এই ধরনের ব্যাপক প্রদর্শনের তত্ত্ব এবং নান্দনিকতাকে স্বীকৃতি দিয়েছি: সবকিছু দেখাও এবং বৈচিত্র্যের মাধ্যমে বিস্ময় জাগিয়ে তোলো। কিন্তু ডাবলিনের [প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের] আসবাবপত্রগুলো সঠিকভাবে সংস্কার করা দেখার আগে আমি কখনও উপলব্ধি করিনি যে একটি ক্যাবিনেট মিউজিয়ামের সাজসজ্জা কত শক্তিশালীভাবে এই লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে পারে। [...] এই উচ্ছ্বাসটি জৈব এবং স্থাপত্যগতভাবে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি ডাবলিন মিউজিয়ামকে তাদের সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে এই প্রবন্ধটি লিখছি—এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা কেবল বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়, বরং নৈতিকভাবেও দৃঢ় এবং সাহসিকতাপূর্ণ। কেবল আধুনিক চিন্তাধারাই সাহসের একমাত্র স্থান নয়; একটি পুনর্গঠিত পুরোনো কাঠামোর পক্ষে নীতিগত অবস্থানে থাকাও সমান উপহাস বয়ে আনতে পারে এবং সমপরিমাণ ধৈর্যের দাবি করতে পারে। জনতা সব সময় প্রশংসনীয় বা সমর্থনযোগ্য দিকে ধাবিত হয় না।
** "ক্যাবিনেট মিউজিয়ামস: অ্যালাইভ, অ্যালাইভ, ও!", পৃষ্ঠা ২৪৪
* টিভি-শাসিত এবং বুদ্ধিবৃত্তিবিরোধী যুগে প্রকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠদের সংক্ষিপ্ত তথ্য এবং ঝলমলে আলোর প্রয়োজন হতে পারে—এবং আমি এই ধরনের আকর্ষণ সরবরাহের বিরুদ্ধে নই যদি তা শিশুদের বিজ্ঞানের প্রতি সামান্যতম আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে একজন <nowiki>[অলিভার]</nowiki> [[অলিভার স্যাক্স|স্যাক্স]], একজন <nowiki>[এরিক]</nowiki> কর্ন বা একজন <nowiki>[জোনাথন]</nowiki> [[জোনাথন মিলার|মিলার]] থাকে, যারা সাধারণত প্রকৃতি সম্পর্কে তীব্র কৌতূহল এবং প্রবল আগ্রহ সম্পন্ন একাকী শিশু এবং যাদের উৎসাহ সামাজিক বাধ্যবাধকতার চাপকে জয় করে। সেই পঞ্চাশ জনের মধ্যে একজন কি তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের দাবি রাখে না—এমন জাদুকরী জায়গা, যেমন ক্যাবিনেট মিউজিয়াম, যা প্রতিভার বিরল শিখা প্রজ্বলিত করতে পারে?
** "ক্যাবিনেট মিউজিয়ামস: অ্যালাইভ, অ্যালাইভ, ও!", পৃষ্ঠা ২৪৬
* জাতি, লিঙ্গ বা সামাজিক শ্রেণীর মতো বাহ্যিক এবং কৃত্রিম সীমাবদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে অভিজাততন্ত্র ঘৃণ্য। ঘৃণ্য এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা—কারণ প্রতিভার সেই শিখা আমাদের সামাজিক কুসংস্কারের সমস্ত নিষ্ঠুর বাধা নির্বিশেষে সবার মধ্যে দৈবভাবে ছড়িয়ে থাকে। তাই আমাদের অবশ্যই সবার জন্য প্রবেশাধিকার এবং উৎসাহ নিশ্চিত করতে হবে; এবং সমস্ত শিশুদের এই ধরনের সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সজাগ এবং অক্লান্ত মনোযোগী হতে হবে। এই ধরনের সমতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ন্যায়বিচার পাব না। কিন্তু যদি কেবল একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু সাড়া দেয় এবং তারা যদি সব জাতি, শ্রেণী ও লিঙ্গের সেরা এবং উজ্জ্বলতম হয়, তবে তাদের সহকর্মীরা নিষ্ক্রিয়তা এবং ঝলমলে আলো পছন্দ করে বলে কি আমরা তাদের আত্মার আকাঙ্ক্ষার শীর্ষস্থান অস্বীকার করব? তাদের বইয়ের পাহাড়ের দিকে তাকাতে দিন, এবং অন্তত কিছু জাদুঘর থাকুক যা প্রকৃতির বৈচিত্র্যের পূর্ণ জাদু প্রদর্শন করে। অভিজাততন্ত্রের এই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপের মধ্যে ভুল কোথায়?
** "ক্যাবিনেট মিউজিয়ামস: অ্যালাইভ, অ্যালাইভ, ও!", পৃষ্ঠা ২৪৬।
* আমি {{w|আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি}}-র জীবাশ্ম স্তন্যপায়ী প্রাণীদের নতুন খোলা হলের প্রশংসা করি। ...পুরো হলটিকে একটি কেন্দ্রীয় কাণ্ড এবং শাখা-প্রশাখার গুচ্ছ হিসেবে সাজিয়ে তারা আমাদের বিবর্তনীয় বৃক্ষ সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছে... আমাদের মস্তিষ্ককে আমাদের পায়ে স্থাপন করে এবং হাঁটার মাধ্যমে আমাদের শেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। ...বিবর্তনীয় সংগঠনের এই নির্বাচিত জ্যামিতি জীবনের ইতিহাসের ঐতিহ্যগত ছবিকে লঙ্ঘন করে, যা বিজ্ঞানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে চিত্রিত করে: আমাদের চিন্তা ভাবনাকে পরিচালিত এবং সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ছবি, গ্রাফ এবং চাক্ষুষ উপস্থাপনার অন্যান্য রূপের কেন্দ্রীয় ভূমিকা। ...শব্দ হলো বিবর্তনের পরবর্তী চিন্তা। ...আমার সহকর্মীরা আসলে এটি করে দেখিয়েছেন। ...তারা সমস্ত জীবাশ্মকে একটি অপ্রথাগত আইকনোগ্রাফিক বৃক্ষে সাজিয়েছেন যা প্রগতির পক্ষপাতিত্বকে চূর্ণ করে। ...যাতে আমরা জীবনের বৃক্ষ বরাবর হাঁটতে পারি এবং হাঁটার মাধ্যমে নতুন পরিকল্পনাটি শারীরিকভাবে অনুভব করতে পারি... তারা [[w:এডুইন এইচ. কোলবার্ট|কোলবার্ট]]ের বৈপ্লবিক ধারণা গ্রহণ করেছেন এবং সমস্ত জীবাশ্মকে তাদের শাখার ক্রম অনুযায়ী সাজিয়েছেন, তাদের পরবর্তী "সাফল্য" বা "উন্নতি" অনুযায়ী নয়। যেসব দল আগে শাখা বিস্তার করেছে তারা হলের শুরুর দিকে উপস্থিত হয়েছে... সমুদ্রের গরু এবং হাতি হলের শেষে, ঘোড়া মাঝখানে এবং প্রাইমেটরা শুরুর দিকে রয়েছে।
** "ইভোলিউশন বাই ওয়াকিং", পৃষ্ঠা ২৪৯-২৫৪।
* আমি রাজতন্ত্রের সময় লেখা পুরোনো বইগুলোর উৎসর্গপত্র পড়তে ভালোবাসি—কারণ তারা অসংলগ্ন এবং চাটুকারিতাপূর্ণ শব্দে কোনো না কোনো (সাধারণত তুচ্ছ) নাইট বা ডিউককে মহাবিশ্বের আলো হিসেবে প্রশংসা করে সম্মান জানায় (নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের কাজের জন্য কিছু অর্থের আশায়); এই পুরোনো অভ্যাসটি আমাকে তুলনামূলকভাবে একজন সৎ এবং ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে অনুভব করায় যখন আমি কোনো অনুদান প্রস্তাবে ইতিবাচক এবং সামান্য অতিরঞ্জিত কিছু লিখি।
** "দ্য রাজুমভস্কি ডুয়েট", পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমার পেশা প্রায়শই বিভিন্ন প্রকৃত এবং কাল্পনিক পাপের জন্য সমালোচিত হয়: অহংকার, অর্থলিপ্সা, জ্ঞানের ব্যবহারের নৈতিক বিষয়ে সংবেদনশীলতার অভাব এবং মানের অবনতির চিন্তা না করে তহবিলের উৎসের তোষামোদ করা। বিজ্ঞানের একজন সমর্থক হিসেবে আমি এই সমস্ত অভিযোগের জন্য মাঝেমধ্যে "সামান্য দোষী" হিসেবে স্বীকারোক্তি দিচ্ছি। বিজ্ঞানীরা সাধারণ জীবনের সমস্ত দুর্বলতা এবং প্রলোভনের অধীন মানুষ। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ নৈতিকভাবে পাথরের মতো দৃঢ়, আবার কেউ কেউ খড়কুটোর মতো। আমি ভাবতে পছন্দ করি (যদিও আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই) যে ভালো বিজ্ঞানের অনুশীলনের জন্য কেন্দ্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে আমরা গড়ে অন্য অনেক পেশার সদস্যদের চেয়ে ভালো: যেমন অস্বস্তিকর তথ্যের সামনে গৃহীত মতামত পরিবর্তনের ইচ্ছা, প্রকৃতির সত্যনিষ্ঠ বিবরণ আবিষ্কার এবং প্রচারের প্রতি উৎসর্গ এবং সহকর্মীদের তাদের পদের ক্ষমতার পরিবর্তে তাদের ধারণার শক্তির ভিত্তিতে বিচার করা।
** "দ্য রাজুমভস্কি ডুয়েট", পৃষ্ঠা ২৭০
* ডারউইনের বিপ্লবের যে বার্তাগুলোকে আমি শ্রেষ্ঠত্ব চূর্ণকারী বলে মনে করি, সেগুলোকে আমি নিচের বক্তব্যের মাধ্যমে সারসংক্ষেপ করতে পছন্দ করি, যা আত্মার গভীরে প্রবেশের জন্য হরে কৃষ্ণ মন্ত্রের মতো দিনে কয়েকবার পাঠ করা যেতে পারে: মানুষ অনুমানযোগ্য বিবর্তনীয় অগ্রগতির শেষ ফলাফল নয়, বরং এটি একটি আকস্মিক মহাজাগতিক চিন্তা, জীবনের বিশাল বৃক্ষের একটি ক্ষুদ্র ডাল মাত্র। যদি বীজ থেকে আবার রোপণ করা হয়, তবে প্রায় নিশ্চিতভাবেই এই ডালটি আর বৃদ্ধি পাবে না, বা সম্ভবত এমন কোনো ডালই হবে না যাকে আমরা চেতনা বলে অভিহিত করতে পারি।
** "ক্যান উই কমপ্লিট ডারউইন'স রেভোলিউশন?", পৃষ্ঠা ৩২৭
* [[আন্তন চেখভ]] লিখেছিলেন যে "মঞ্চে লোড করা রাইফেল রাখা উচিত নয় যদি কেউ এটি চালানোর চিন্তা না করে।" ভালো নাটকের জন্য পরিমিত এবং উদ্দেশ্যমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন, যেখানে সম্ভাব্য কারণের সাথে বাস্তবায়িত ফলাফলের সংবেদনশীল সংযোগ থাকে। জীবন অনেক বেশি অগোছালো; অধিকাংশ সময় কিছুই ঘটে না। লক্ষ লক্ষ আমেরিকান (যাদের মধ্যে অনেকে রাগী) রাইফেলের মালিক (যাদের অনেকগুলো লোড করা), কিন্তু ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় অধিকাংশ সময় সেগুলো চলে না। আমরা বাস্তব জীবনের বেশিরভাগ সময় [[ওয়েটিং ফর গডো|গডো]]-র জন্য অপেক্ষা করে কাটাই, বারবার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি না।
** "স্পিকিং অফ স্নেইলস অ্যান্ড স্কেলস", পৃষ্ঠা ৩৪৫
* প্রকৃতির দুটি সংযুক্ত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আমাদের সান্ত্বনা খোঁজা উচিত: প্রথমত, আমাদের পৃথিবী অবিশ্বাস্যভাবে অদ্ভুত এবং তাই পরম আকর্ষণীয়... দ্বিতীয়ত, আমাদের পৃথিবী যতটাই অদ্ভুত এবং রহস্যময় হোক না কেন, প্রকৃতি মানুষের মনের কাছে সম্ভাব্য বোধগম্যই থাকে।
** "এ স্পেশাল ফন্ডনেস ফর বিটলস", পৃষ্ঠা ৩৮৬-৩৮৭
* পশ্চিমা মাঠ পর্যায়ের কাজ ঘোড়ায় চড়ে সংগ্রামের ছবি ফুটিয়ে তোলে [...]—পাহাড়ে ওঠা-নামার সময় দিনে এক ক্যানটিন পানি দিয়ে টিকে থাকা। একটি স্থানের গুরুত্ব সেখানে পৌঁছানোর অসুবিধার সাথে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করা হয়। এটি অবশ্যই রোমান্টিক বাজে কথা। যাতায়াতের সহজলভ্যতা গুরুত্বের পরিমাপক নয়। বিখ্যাত লা ব্রেয়া আলকাতরার গর্তগুলো সরাসরি [[w:লস অ্যাঞ্জেলেস|লস অ্যাঞ্জেলেস]] শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। ক্লার্কিয়া লেক বেডে পৌঁছানোর জন্য আপনি প্রধান রাস্তা থেকে বুজার্ডস রুস্ট ট্রফি কোম্পানির মোড়ে ঘুরবেন এবং বাকি পঞ্চাশ গজ গাড়ি চালিয়ে সরাসরি সেই স্থানে পৌঁছে যাবেন।
** "ম্যাগনোলিয়াস ফ্রম মস্কো", পৃষ্ঠা ৪০৩
=== ''[[w:ফুল হাউস: দ্য স্প্রেড অব এক্সিলেন্স ফ্রম প্লেটো টু ডারউইন|ফুল হাউস]]'' (১৯৯৬) ===
:<small> হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি (পেপারব্যাক সংস্করণেও পৃষ্ঠা নম্বর একই) </small>
* প্রকৃতি বস্তুনিষ্ঠ এবং প্রকৃতিকে জানা সম্ভব। তবে আমরা তাকে কেবল একটি অস্পষ্ট কাঁচের মধ্য দিয়েই দেখতে পারি। আমাদের দৃষ্টির ওপর থাকা অনেক মেঘ আমাদের নিজেদেরই তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পক্ষপাতিত্ব, মানসিক পছন্দ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা (কেবল ব্যক্তিগত বোকামি নয়, বরং চিন্তার সার্বজনীন ক্ষেত্রে)।
** অধ্যায় ১, “হাক্সলিস চেসবোর্ড” (পৃ. ৮)
* মানব অস্তিত্ব সম্পর্কে বিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সময় আমাদের কুসংস্কারগুলো প্রায়ই আমাদের সীমিত তথ্যকে ছাপিয়ে যায়। প্রশ্নগুলো হলো কীভাবে, কখন এবং কেন আমরা প্রাণের বৃক্ষে আবির্ভূত হলাম এবং আমাদের কি আসার কথা ছিল নাকি আমরা কেবল ভাগ্যবান বলেই এখানে আছি। এই পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনাগুলোর কিছু এতই প্রাচীন, এতই স্বতঃস্ফূর্ত এবং আমাদের স্বভাবের এত বড় একটি অংশ যে, আমরা কখনোই এগুলোকে আমূল বিকল্পসহ সামাজিক সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বীকার করতে থামি না। এর পরিবর্তে আমরা সেগুলোকে প্রদত্ত এবং সুস্পষ্ট সত্য হিসেবেই দেখি।
** অধ্যায় ১, “হাক্সলিস চেসবোর্ড” (পৃ. ৮)
* আমরা প্রগতির খড়কুটো (একটি শুষ্ক আদর্শিক ডালপালা) আঁকড়ে ধরি কারণ আমরা এখনো ডারউইনীয় বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত নই। একটি বিবর্তনীয় বিশ্বে মানুষের অহংকার ধরে রাখার সেরা আশা হিসেবে আমরা প্রগতির আকাঙ্ক্ষা করি। কেবল এই শর্তেই আমি বুঝতে পারি কেন এমন একটি দুর্বলভাবে প্রণীত এবং অসম্ভব যুক্তি আজও আমাদের ওপর এত শক্তিশালী প্রভাব বজায় রেখেছে।
** অধ্যায় ২, “ডারউইন অ্যামিডস্ট দ্য স্পিন ডক্টরস” (পৃ. ২৯)
* বিষয় যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং আমাদের আশা ও প্রয়োজনের যত কাছাকাছি যায়, বিশ্লেষণের কাঠামো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের ভুল করার আশঙ্কা তত বেশি থাকে। আমরা গল্প বলা প্রাণী এবং আমরা নিজেরাই ইতিহাসের ফসল। আমরা প্রবণতা দ্বারা মুগ্ধ হই। এর আংশিক কারণ হলো তারা সময়ের সাথে দিকনির্দেশনা যুক্ত করার প্রাথমিক কৌশলের মাধ্যমে গল্প বলে। আবার আংশিক কারণ হলো তারা প্রায়শই ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যে একটি নৈতিক মাত্রা প্রদান করে।
** অধ্যায় ৩, “ডিফারেন্ট পার্সিংস, ডিফারেন্ট ইমেজেস অব ট্রেন্ডস” (পৃ. ৩০)
* আমাদের প্রবণতা শনাক্ত করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রায়শই আমাদের এমন একটি দিকনির্দেশনা খুঁজে পেতে বাধ্য করে যার কোনো অস্তিত্ব নেই, অথবা এমন সব কারণ অনুমান করতে প্ররোচিত করে যা ধোপে টিকে না। এই প্রবণতার বিষয়টি মানুষের যুক্তিবোধের কিছু ধ্রুপদী ভুল বা ফ্যালাসিকে অনুপ্রাণিত ও চিত্রিত করেছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, মানুষ যেহেতু সম্ভাব্যতা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে বেশ দক্ষ নয় এবং ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে নকশা বা প্যাটার্ন খুঁজতে খুব আগ্রহী, তাই আমরা কোনো কারণ সম্পর্কে অনুমান করার সময় একটি "নিশ্চিত" প্রবণতা খুঁজে পাওয়ার ভুলটি করি, অথচ বাস্তবে আমরা কেবল এলোমেলো কিছু ঘটনার সমষ্টিই পর্যবেক্ষণ করি।
** অধ্যায় ৩, “ডিফারেন্ট পার্সিংস, ডিফারেন্ট ইমেজেস অফ ট্রেন্ডস” (পৃষ্ঠা ৩০-৩১)
* সাধারণ ত্রুটিটি হলো এটি বুঝতে ব্যর্থ হওয়া যে, আপাত প্রবণতাগুলো কোনো সিস্টেমের বৈচিত্র্যের প্রসারণ বা সংকোচনের উপজাত বা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসেবে তৈরি হতে পারে; এটি সরাসরি কোনো কিছুর কোথাও সরে যাওয়ার ফলে ঘটে না।
** অধ্যায় ৩, “ডিফারেন্ট পার্সিংস, ডিফারেন্ট ইমেজেস অফ ট্রেন্ডস” (পৃষ্ঠা ৩৩)
* আমরা অজ্ঞতা দিয়ে কোনো বাধা অতিক্রম করতে পারি না।
** অধ্যায় ৪, “কেস ওয়ান: এ পার্সোনাল স্টোরি” (পৃষ্ঠা ৪৬)
* সাম্প্রতিক সময়ের একটি আলোচিত বিষয়, যা মূলত {{w|বার্নি সিগেল}}ের বহুল বিক্রিত বইগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে, ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছে। আমার সংশয়বাদী এবং যুক্তিবাদী সত্তার গভীর থেকে আমি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে ক্যালিফোর্নিয়ার এই অতি-আবেগপ্রবণতা থেকে রক্ষা করেন।
** অধ্যায় ৪, “কেস ওয়ান: এ পার্সোনাল স্টোরি” (পৃষ্ঠা ৪৭)
* আমরা বহু বছরের পরিশ্রমে আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠন করি এবং আমরা কেবল এর উপযোগিতার কথা ভেবে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারি না; আমাদের হৃদয়ে "ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি" লেখা কোনো বোতাম নেই, আর কোনো আঙুল কেবল একবার ব্যথাহীন চাপের মাধ্যমে ইতিবাচকতাকে অবিলম্বে কার্যকর করতে পারে না।
** অধ্যায় ৪, “কেস ওয়ান: এ পার্সোনাল স্টোরি” (পৃষ্ঠা ৪৭)
* যদি কোনো মানুষ ভয় এবং হতাশায় ক্যান্সারে মারা যান, তবে তার ব্যথার জন্য কাঁদুন এবং তার জীবনকে উদযাপন করুন। অন্য একজন মানুষ, যিনি প্রাণপণে লড়েছিলেন এবং শেষে হেসেছিলেন কিন্তু তিনিও মারা গেছেন, তিনি হয়তো তার শেষ মাসগুলো সহজভাবে কাটিয়েছেন, তবে তিনি অন্যজনের চেয়ে বেশি মানবিকতা নিয়ে বিদায় নেননি।
** অধ্যায় ৪, “কেস ওয়ান: এ পার্সোনাল স্টোরি” (পৃষ্ঠা ৪৭)
* অন্য কথায়, এই বইয়ের মূল সুর—"ফুল হাউস" (পুরো ঘর), অর্থাৎ সম্পূর্ণ সিস্টেমের মধ্যকার বৈচিত্র্যের ওপর আলোকপাত করার প্রয়োজনীয়তা, এবং সর্বদা গড় বা কেন্দ্রীয় প্রবণতার বিমূর্ত পরিমাপের ওপর নির্ভর না করা—আমার চরম প্রয়োজনের সময়ে যথেষ্ট সান্ত্বনা জুগিয়েছিল। কেউ যেন কখনো না বলে যে জ্ঞান এবং শিক্ষা হলো একাডেমিক স্থিতিশীলতার তুচ্ছ অলঙ্কার, এবং কেবল আবেগই ব্যক্তিগত চাপের সময়ে আমাদের সেবা করতে পারে।
** অধ্যায় ৪, “কেস ওয়ান: এ পার্সোনাল স্টোরি” (পৃষ্ঠা ৪৮)
* জীবনের এই ছোট কৌতুকের শেষ পাদটীকা হিসেবে আমি পাঠকদের মনে করিয়ে দিই যে, অন্য একটি বিশিষ্ট (বা অন্তত আমাদের কাছে প্রিয়) স্তন্যপায়ী বংশের বিবর্তনীয় ইতিহাস একইভাবে প্রগতির সিঁড়ি হিসেবে চিত্রিত করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে—অথচ আজ তারাও একসময়ের বিশাল ঝোপের একমাত্র বেঁচে থাকা প্রজাতি হিসেবে টিকে আছে। আয়নায় নিজের মুখ দেখুন, এবং ক্ষণস্থায়ী আধিপত্যকে সহজাত শ্রেষ্ঠত্ব বা দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার সম্ভাবনার সাথে তুলনা করার প্রলোভনে পড়বেন না।
** অধ্যায় ৫, “কেস টু: লাইফ’স লিটল জোক” (পৃষ্ঠা ৭৩)
* এই যুক্তিগুলো ডারউইনকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের "মৌলিক কলাকৌশলের" ফলে প্রগতির ধারণাকে অস্বীকার করতে পরিচালিত করেছিল—কারণ এই প্রক্রিয়াটি কেবল স্থানীয় অভিযোজন তৈরি করে, যা নিশ্চিতভাবেই নিখুঁত হতে পারে, কিন্তু তা সার্বজনীনভাবে অগ্রসরমান নয়। একটি ম্যামথ একটি হাতির মতোই সব দিক থেকে যোগ্য—এবং উল্টোটিও সত্য। আপনি কি মার্লিন মাছকে তার চমৎকার স্পাইকের জন্য পছন্দ করবেন; একটি ফ্লন্ডারকে তার অসাধারণ ছদ্মবেশের জন্য; একটি অ্যাঙ্গলারফিশকে তার পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগে বিকশিত বিশেষ "টোপের" জন্য; নাকি একটি সিহর্সকে তার অদ্ভুত আকৃতির জন্য, যা তার বাসস্থানে ভেসে থাকার জন্য খুব উপযোগী? এই মাছগুলোর মধ্যে কোনোটিকে কি অন্যটির চেয়ে "সেরা" বা "বেশি প্রগতিশীল" হিসেবে বিচার করা সম্ভব? এই প্রশ্নটির কোনো অর্থ হয় না। প্রাকৃতিক নির্বাচন কেবল স্থানীয় অভিযোজনই তৈরি করতে পারে—কিছু ক্ষেত্রে বিস্ময়করভাবে জটিল হলেও, তা সর্বদা স্থানীয় এবং সাধারণ প্রগতি বা জটিলতার ধারায় কোনো একটি ধাপ নয়।
** অধ্যায় ১২, “দ্য বেয়ার বোনস অফ ন্যাচারাল সিলেকশন” (পৃষ্ঠা ১৪০)
* আমাদের পারমাণবিক বা অন্যান্য কর্মকাণ্ড নিকট ভবিষ্যতে আমাদের নিজেদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। আমরা হয়তো আমাদের সাথে বেশিরভাগ বৃহৎ স্থলচর মেরুদণ্ডী প্রাণীকেও নিয়ে যাব—খুব বেশি হলে কয়েক হাজার প্রজাতি। তবে আমরা নিশ্চিতভাবেই ৫,০০,০০০ প্রজাতির বিটল বা গুবরে পোকা নির্মূল করতে পারব না, যদিও আমরা তাদের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য আঘাত করতে পারি। আমার সন্দেহ আছে যে আমরা কখনো ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে স্পর্শ করতে পারব কি না। আমাদের সম্ভাব্য কোনো অঘটন দিয়েই এই আদর্শ জীবদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
** অধ্যায় ১৪, “দ্য পাওয়ার অফ দ্য মোডাল ব্যাক্টার” (পৃষ্ঠা ১৭৮)
* নৈতিকতার সঠিক তত্ত্ব ফলাফল থেকে উদ্দেশ্যকে আলাদা করার ওপর নির্ভর করে।
** অধ্যায় ১৪, “দ্য পাওয়ার অফ দ্য মোডাল ব্যাক্টার” (পৃষ্ঠা ১৯৫)
* খুব কম বুদ্ধিবৃত্তীয় স্বৈরাচারই সেই তথাকথিত সত্যগুলোর চেয়ে বেশি জেদি হতে পারে যা সবাই জানে কিন্তু প্রায় কেউই সঠিক তথ্য দিয়ে সমর্থন করতে পারে না (কারণ এত স্পষ্ট বিষয়ের জন্য প্রমাণের প্রয়োজন কী)। এবং কোনো বুদ্ধিবৃত্তীয় কর্মকাণ্ডই সেই প্রচেষ্টার চেয়ে বেশি হিতকর হতে পারে না যা খুঁজে বের করতে চায় যে তথ্যের হাতুড়ির সামান্য আঘাতেই সেই প্রাচীন পাথরগুলো চূর্ণ হয়ে যায় কি না।
** অধ্যায় ১৪, “দ্য পাওয়ার অফ দ্য মোডাল ব্যাক্টার” (পৃষ্ঠা ২১২-২১৩)
* আক্রমণের মুখে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ প্রায়শই উচিত কাজের উল্টোটি করে: যেখানে মানিয়ে নেওয়া দরকার সেখানে তারা আরও অনড় হয়ে যায়। আমরা এই আচরণকে "অবরুদ্ধ মানসিকতা" বা "সিজ মেন্টালিটি" বলি।
** অধ্যায় ১৪, “দ্য পাওয়ার অফ দ্য মোডাল ব্যাক্টার” (পৃষ্ঠা ২১৩)
* আমি নিজেকে একজন কঠোরমনা বুদ্ধিজীবী হিসেবে ভাবতে পছন্দ করি, ভিনগ্রহী অপহরণ থেকে শুরু করে পূর্বজন্মের স্মৃতিচারণ—সব ধরনের অস্পষ্টতার ঘোর বিরোধী আমি। আমি ভাবতে ঘৃণা করি যে একটি বুদ্ধিবৃত্তীয় অবস্থান, যা এই বইয়ের পাতায় পাতায় আশা করি সুনিপুণভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা আমাদের যুগের অন্যতম বড় অস্পষ্টতা তথা তথাকথিত "রাজনৈতিক শুদ্ধতার" দালালি করে শেষ হতে পারে—এমন একটি মতবাদ যা সমস্ত দেশীয় প্রথাকে উদযাপন করে এবং তাই কোনো পার্থক্য, বিচার বা বিশ্লেষণকে অনুমতি দেয় না।
** অধ্যায় ১৫, “অ্যান এপিলগ অন হিউম্যান কালচার” (পৃষ্ঠা ২২৯)
* তবুও আমি মনে করি যে "ফুল হাউস" মডেল আমাদের বৈচিত্র্যকে তার নিজের গুণেই মূল্যায়ন করতে শেখায়—বিবর্তনীয় তত্ত্ব এবং প্রকৃতির অস্তিত্ববিদ্যার দৃঢ় কারণে, কোনো চিন্তার শোচনীয় ব্যর্থতা থেকে নয় যা এই অযৌক্তিক যুক্তিতে সমস্ত বিশ্বাসকে গ্রহণ করে যে অসম্মতি মানেই অসম্মান। শ্রেষ্ঠত্ব হলো পার্থক্যের একটি পরিসীমা, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দু নয়। এই পরিসীমার প্রতিটি স্থানই একজন শ্রেষ্ঠ বা একজন অযোগ্য প্রতিনিধি দ্বারা দখল হতে পারে—এবং আমাদের এই বৈচিত্র্যময় প্রতিটি স্থানেই শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। একটি সমাজে যা প্রায়ই অবচেতনভাবে একসময়ের সমৃদ্ধ শ্রেষ্ঠত্বের ওপর একটি অভিন্ন মধ্যম মানের অবস্থা চাপিয়ে দিতে চায়—যেখানে ম্যাকডোনাল্ডস স্থানীয় খাবারের দোকানকে হটিয়ে দেয় এবং মেগা-স্টপ অ্যান্ড শপ কোণার ছোট দোকানগুলোকে নির্মূল করে—সেখানে প্রাকৃতিক বাস্তবতা হিসেবে সম্পূর্ণ পরিসীমা বোঝা এবং রক্ষা করা এই ধারাকে রুখতে এবং যেকোনো বিবর্তনীয় সিস্টেমের সমৃদ্ধ কাঁচামাল তথা বৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
** অধ্যায় ১৫, “অ্যান এপিলগ অন হিউম্যান কালচার” (পৃষ্ঠা ২৩০)
=== ''দ্য মিসমেজার অফ ম্যান'' (১৯৯৬) ===
:<small>ডব্লিউ. ডব্লিউ. নর্টন অ্যান্ড কোম্পানি থেকে প্রকাশিত সংশোধিত এবং সম্প্রসারিত সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি।</small>
* ইউরি গেলারের মতো ভণ্ড জাদুকররা সাধারণ স্টেজ ম্যাজিক দিয়ে বিজ্ঞানীদের বোকা বানাতে বিশেষ সাফল্য পেয়েছেন। এর কারণ হলো কেবল বিজ্ঞানীরাই এত অহংকারী যে তারা মনে করেন তারা সব সময় কঠোর এবং বস্তুনিষ্ঠ সূক্ষ্মতার সাথে পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাই তাদের কখনো এভাবে বোকা বানানো সম্ভব নয়—অথচ সাধারণ মানুষ ভালো করেই জানে যে ভালো দক্ষ জাদুকররা সব সময়ই মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার পথ খুঁজে পেতে পারেন।
** পৃষ্ঠা ৩৬
* বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর ওপর কোনো জৈবিক মূল্য নির্ধারণের পুরো প্রচেষ্টাকে আমি যা হিসেবে অভিহিত করতে চাই তা হলো: অপ্রাসঙ্গিক, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং অত্যন্ত ক্ষতিকারক।
** পৃষ্ঠা ১৩৯
* সহ-সম্পর্ক (কো-রিলেশন) মানেই যে কারণ (কজ), এই ভুল ধারণাটি সম্ভবত মানুষের যুক্তিবোধের দুই বা তিনটি সবচেয়ে গুরুতর এবং সাধারণ ত্রুটির মধ্যে একটি।
** পৃষ্ঠা ২৭২
=== ''লিওনার্দো'স মাউন্টেন অফ ক্ল্যামস অ্যান্ড দ্য ডায়েট অফ ওয়ার্মস'' (১৯৯৮) ===
:<small>হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি।</small>
* খুব কম লোকই, এমনকি যারা বই লেখেন তারাও, আসলে মূল উৎসগুলো পড়েন—নিশ্চিতভাবেই প্রয়োজনীয় গভীরতা এবং একাগ্রতার সাথে নয়, এবং প্রায়শই একেবারেই না। [...] লেখকরা যখন পাণ্ডিত্যের নথিপত্র থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন এবং কেবল দেখা বা জিজ্ঞাসার ওপর নির্ভর করেন, তখন তারা চিন্তাবিদ হওয়ার পরিবর্তে কেবল মাধ্যম বা চালনীতে পরিণত হন। অন্যদিকে যখন আপনি একই সংগ্রামের সাথে জড়িত পূর্বসূরিদের মহান কাজগুলো অধ্যয়ন করেন, তখন আপনি মানুষের ইতিহাস এবং আমাদের নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তীয় ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যের সাথে একটি সংলাপে প্রবেশ করেন। আপনি নিজেকে এবং আপনার নিজস্ব সাংগঠনিক ক্ষমতাকে এই ইতিহাসের সাথে যুক্ত করেন—এবং আপনি কেবল একজন "প্রতিবেদক" নন, বরং একজন সক্রিয় প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন।
** ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৬
* আমাদের এই বেচারা প্রজাতি (যেটি সচেতন দর্শন এবং শিল্পের অভিনব বিবর্তনীয় উদ্ভাবন নিয়ে পরীক্ষা করা প্রথম প্রাণী) কোনো কিছুই সহজে পায়নি। এমনকি সবচেয়ে "স্পষ্ট", "নির্ভুল" এবং "স্বাভাবিক" চিন্তা বা অঙ্কনের শৈলীও ইতিহাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে এবং সংগ্রামের মাধ্যমে জয় করতে হবে। তাই সমাধানগুলো অবশ্যই একটি সামাজিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে উদ্ভূত হতে হবে এবং মন ও পরিবেশের জটিল মিথস্ক্রিয়াকে নথিভুক্ত করতে হবে যা মানুষের উন্নতির সম্ভাবনাকে সংজ্ঞায়িত করে।
** "সিয়িং আই টু আই, থ্রু এ গ্লাস ক্লিয়ারলি", পৃষ্ঠা ৭২
* আমি বিশেষভাবে [ [[w:এমানুয়েল মেন্দেস দা কস্তা|এমানুয়েল মেন্দেস দা কস্তা]]-র] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি অফ ফসিলস'' পছন্দ করি কারণ এই গবেষণাপত্রটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বড় ধরনের ভুল শুরুর সংক্ষিপ্ত পর্বকে নথিভুক্ত করেছে—এবং একটি রসালো ভুলের মতো এত বেশি তথ্যপূর্ণ ও শিক্ষণীয় আর কিছুই হতে পারে না।
** "দ্য ক্ল্যাম স্ট্রিপড বেয়ার বাই হার ন্যাচারালিস্টস, ইভেন", পৃষ্ঠা ৯৩
* প্রকৃত মহান এবং শক্তিশালী তত্ত্বগুলো কেবল একটি পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় না এবং হতেও পারে না। বিবর্তন হলো হাজার হাজার স্বাধীন উৎস থেকে পাওয়া একটি অনুমান, একমাত্র [[ধারণাগত কাঠামো]] যা এই সমস্ত ভিন্নধর্মী তথ্যকে একত্রিতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট দাবির ব্যর্থতা সাধারণত একটি স্থানীয় ত্রুটিরই রেকর্ড মাত্র, কোনো কেন্দ্রীয় তত্ত্বের দেউলিয়াত্ব নয়। [...] আমি যদি ভুল করে আপনার চাচার জায়গায় আপনার বাবাকে শনাক্ত করি, তবে আপনি বংশপরিচয়হীন হয়ে যান না। আপনার অবশ্যই একজন বাবা আছেন; আমরা কেবল তাকে সঠিকভাবে খুঁজে পাইনি।
** "মিস্টার সোফিয়া'স পনি", পৃষ্ঠা ১৫৫
* তত্ত্বগুলো খুব কমই জমে থাকা তথ্যের চাপের ফলে ধৈর্যশীল অনুমানের ফল হিসেবে উদ্ভূত হয়। তত্ত্ব হলো জটিল বাহ্যিক উদ্দীপনার দ্বারা শক্তিশালী হওয়া মানসিক নির্মাণ। কিন্তু সেই উদ্দীপনাগুলোর মধ্যে প্রায়শই স্বপ্ন, খেয়াল এবং ত্রুটি অন্তর্ভুক্ত থাকে—ঠিক যেমন আমরা কোনো পুষ্টি বা ওষুধ থেকে শক্তির একটি তীব্র বিস্ফোরণ পেতে পারি যার কোনো স্থায়ী মূল্য নেই। ছোট ভুল থেকে মহান সত্য বেরিয়ে আসতে পারে। বিবর্তন রোমাঞ্চকর, মুক্তচিন্তার সহায়ক এবং সঠিক। আর ''ম্যাক্রোচেনিয়া'' হলো একটি [[w:লিটোপ্টার্ন|লিটোপ্টার্ন]]।
** "মিস্টার সোফিয়া'স পনি", পৃষ্ঠা ১৫৭ - ১৫৮
* প্রতিটি ক্ষতি একেকটি চূড়ান্ত ট্র্যাজেডির উদাহরণ হয়ে ওঠে—যা একসময় ছিল কিন্তু আমাদের কাছে আর কখনো পরিচিত হবে না। বিশাল হরিণের কুঁজ—যেটি শরীরের একটি নরম অঙ্গ হওয়ায় জীবাশ্মীভূত হওয়া সম্ভব নয়—ইতিহাসের মুছে যাওয়া পাতায় হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা এক বিস্ময়কর উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেছেন এবং আমাদের এতে প্রবলভাবে আনন্দিত হওয়া উচিত। প্রতিটি নতুন জিনিস আমাদের শিক্ষা দিতে পারে; প্রতিটি অপ্রত্যাশিত বস্তু তার নিজের গুণেই সুন্দর; ইতিহাসের বিশাল ধ্বংসকারী মেশিন থেকে প্রতিটি উদ্ধারকাজ হলো—আমি আর অন্য কীভাবে বলব জানি না—সমগ্রতার একটি ক্ষুদ্র অংশের জন্য এক পবিত্র কাজ।
** "এ লেসন ফ্রম দ্য ওল্ড মাস্টার্স", পৃষ্ঠা ১৯৫
* আমি ১৯৯৬ সালের মহাকাশ বিষয়ক ব্লকবাস্টার সিনেমা ''[[ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে (চলচ্চিত্র)|ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে]]'' দেখতে সিনেমা হলে গিয়েছিলাম। (এমনকি সবচেয়ে নিবেদিতপ্রাণ বুদ্ধিজীবীও কেবল জেন অস্টেনের পুনর্নির্মাণগুলোর ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারেন না।)
** "দ্য ডোডো ইন দ্য ককাস রেস", পৃষ্ঠা ২৩২
* এই পেশার প্রায় যে কেউ শেষ গর্ভবতী ডোডোটির জন্য নিজের জীবন দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের কি সেই ব্যক্তিকে প্রশংসা করা উচিত নয় যে ব্যক্তিগত দোষ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরের এক চরম দুঃখজনক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও বিলাপ না করে যা কিছু উদ্ধার করা সম্ভব তা উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা করে?
** "দ্য ডোডো ইন দ্য ককাস রেস", পৃষ্ঠা ২৩৪
* একজন অত্যন্ত আন্তরিক এবং সিরিয়াস নবীন ছাত্র একটি প্রশ্ন নিয়ে আমার অফিসে এসেছিল যা স্পষ্টতই তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছিল। সে আমাকে বলল, "আমি একজন ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টান এবং বিবর্তনকে সন্দেহ করার কোনো কারণ কখনো দেখিনি, যা একই সাথে উত্তেজনাপূর্ণ এবং সুপ্রতিষ্ঠিত বলে মনে হয়। কিন্তু আমার রুমমেট একজন প্রচারক ইভাঞ্জেলিক্যাল এবং সে প্রবলভাবে দাবি করছে যে আমি একই সাথে একজন প্রকৃত খ্রিস্টান এবং একজন বিবর্তনবাদী হতে পারি না। তাই আমাকে বলুন, একজন মানুষ কি ঈশ্বর এবং বিবর্তন উভয়তেই বিশ্বাস করতে পারে?" আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম, আমার বুদ্ধিবৃত্তীয় দায়িত্ব পালন করলাম এবং তাকে আশ্বস্ত করলাম যে বিবর্তন সত্য এবং খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ—এটি এমন একটি অবস্থান যা আমি আন্তরিকভাবে ধারণ করি, তবে একজন ইহুদি অজ্ঞেয়বাদীর জন্য এটি এখনও একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি।
** "নন-ওভারল্যাপিং ম্যাজিস্টেরিয়া", পৃষ্ঠা ২৭০
* বিভ্রান্ত হলে মূল দলিলগুলো পড়লে ক্ষতি নেই—এটি একটি সাধারণ এবং স্বতঃসিদ্ধ নীতি যা তবুও আমেরিকান অভিজ্ঞতার একটি বড় অংশ থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে।
** "নন-ওভারল্যাপিং ম্যাজিস্টেরিয়া", পৃষ্ঠা ২৭৩
* ধর্মের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আছে এবং বিষয়টি আমাকে সর্বদা মুগ্ধ করেছে [...]। এই মুগ্ধতার অনেকাংশই নিহিত রয়েছে এক অত্যাশ্চর্য ঐতিহাসিক প্যারাডক্সে যে, সংগঠিত ধর্ম সমগ্র পশ্চিমা ইতিহাস জুড়ে ব্যক্তিগত বিপদের মুখে একই সাথে অকথ্য ভয়াবহতা এবং মানুষের দয়ার সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ তৈরি করেছে। (আমি বিশ্বাস করি মন্দের কারণ হলো জাগতিক ক্ষমতার সাথে ধর্মের মাঝেমধ্যে ঘটে যাওয়া মিলন। ক্যাথলিক চার্চ ইনকুইজিশন থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড—সব ধরনের ভয়াবহতা স্পন্সর করেছে, কিন্তু তার কারণ ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি পশ্চিমা ইতিহাসের অনেকটা সময় জুড়ে বিশাল জাগতিক ক্ষমতা ধরে রেখেছিল। যখন আমার লোকেরা ওল্ড টেস্টামেন্টের সময় আরও সংক্ষিপ্তভাবে এমন ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিল, তখন আমরা একই যুক্তি দিয়ে একই ধরনের নৃশংসতা চালিয়েছিলাম।)
** "নন-ওভারল্যাপিং ম্যাজিস্টেরিয়া", পৃষ্ঠা ২৮১
* আমি এই গল্পগুলো পছন্দ করি কারণ তারা ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার একটি মৌলিক সুরকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে—তা হলো গুরুত্বপূর্ণ পরিণতিগুলো প্রায়শই সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যের উদ্দীপনা থেকে উদ্ভূত হয়। অন্য কথায়, বর্তমান উপযোগিতার সাথে ঐতিহাসিক উৎসের কোনো প্রয়োজনীয় সম্পর্ক নেই।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩০২
* আমরা যখন জিরাফের লম্বা ঘাড়ের বিবর্তনীয় ব্যাখ্যার অনুমিত উৎসের দিকে তাকাই, তখন আমরা হয় কিছুই পাই না, অথবা পাই খুব ছোট কিছু অনুমান। দৈর্ঘ্যের সাথে গুরুত্বের কোনো আবশ্যিক সম্পর্ক নেই। বাচাল বৃদ্ধ [[w:পোলোনিয়াস|পোলোনিয়াস]] মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে "সংক্ষিপ্ততাই হলো বুদ্ধির প্রাণ" (এবং তারপরেই অবিলম্বে তার প্রজ্ঞাপূর্ণ পর্যবেক্ষণকে [[হ্যামলেট]]ের পাগলামি সম্পর্কে এক গাদা নিরর্থক শব্দ দিয়ে নষ্ট করেছিলেন।)
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩০৪
* যদি জিরাফের ঘাড় এক ইঞ্চি করে লম্বা হয়, তবে সহায়ক কাঠামোর সম্পূর্ণ সেট প্রতিটি ধাপে তৈরি হওয়ার প্রয়োজন নেই। সমন্বিত অভিযোজন ধীরে ধীরে গড়ে তোলা যেতে পারে। কিছু প্রাণীর ঘাড় সামান্য লম্বা হতে পারে, অন্যদের পা; আবার কেউ ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে পারে। যৌন প্রজননের মাধ্যমে বিভিন্ন জীবের এই অনুকূল বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী প্রজন্মে একত্রিত হতে পারে।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১০
* যখন বিজ্ঞানীদের তত্ত্বের কঠিন বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়, তখন বিমূর্ততার পরিবর্তে কাল্পনিক উদাহরণ দিয়ে চিত্রায়ন করা একটি অলঙ্করণ পদ্ধতি বা [[w:অলঙ্কার (সাহিত্য)|রেটরিক্যাল ডিভাইস]] হিসেবে ভালো কাজ করে। এই ঘটনাগুলো নেতিবাচক অর্থে নিছক অনুমান নয়—জটিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য কেবল রূপকথা নয়—বরং তত্ত্বের একটি কঠিন বিষয়কে ব্যাখ্যা করার জন্য আদর্শ চিত্রায়ন। (অন্যান্য ক্ষেত্র যেমন দর্শন এবং আইনেও এই ধরনের কাল্পনিক ঘটনাকে একটি আদর্শ পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।)
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১০
* জিরাফের ঘাড় বিবর্তনের কারণ হিসেবে [[w:ল্যামার্কবাদ|ল্যামার্কবাদ]]ের পরিবর্তে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ডারউইন নিজে ব্যবহার বা অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতির ল্যামার্কীয় নীতিকে অস্বীকার করেননি। তিনি ল্যামার্কীয় প্রক্রিয়াকে দুর্বল, বিরল এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের কাছে সম্পূর্ণ গৌণ বলে মনে করতেন, তবে তিনি ব্যবহারের মাধ্যমে বিবর্তনের বৈধতাকে গ্রহণ করেছিলেন। ডারউইন জিরাফের ঘাড়ের অভিযোজনমূলক সুবিধা সম্পর্কে অনুমান করেছিলেন, তবে তিনি ঘাড় লম্বা হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং ল্যামার্কবাদ—উভয়কেই উল্লেখ করেছেন।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১২
* আমরা এই জটিল আঁকাবাঁকা গল্পের মূল ধারাটিকে পরিহাসের একটি তালিকা হিসেবে সারসংক্ষেপ করতে পারি—যেখানে [[পরিহাস]] বা আয়রনির প্রযুক্তিগত সংজ্ঞাকে এমন একটি বক্তব্য হিসেবে ধরা হয় যেখানে হাস্যরস বা ব্যঙ্গাত্মক প্রভাবের জন্য কোনো শব্দের অভিপ্রেত অর্থ তার সাধারণ অর্থের বিপরীত হয়ে যায়...
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৩
* [[হেনরি ফেয়ারফিল্ড অসবর্ন]], তার সময়ের প্রভাবশালী জীবাশ্মবিদ এবং আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি-র দীর্ঘদিনের পরিচালক, তার ১৯১৮ সালের জনপ্রিয় বই ''দ্য অরিজিন অ্যান্ড ইভোলিউশন অফ লাইফে'' একটি "আদর্শ সংস্করণ" দিয়েছিলেন... "[[w:জঁ-বাপ্তিস্ত লামার্ক|ল্যামার্ক]] জিরাফের ঘাড় লম্বা হওয়ার কারণ হিসেবে ঘাড় প্রসারিত করার অভ্যাসের ফলে সৃষ্ট শারীরিক পরিবর্তনের বংশগতিকে দায়ী করেছিলেন। [[চার্লস ডারউইন|ডারউইন]] ঘাড় লম্বা হওয়ার কারণ হিসেবে সেই সব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নিরন্তর নির্বাচনকে দায়ী করেছিলেন যারা লম্বা ঘাড় নিয়ে জন্মেছিল। ডারউইন সম্ভবত সঠিক ছিলেন।" ...সেই সংস্করণটি তখন থেকেই প্রচলিত রয়েছে।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৪
* আমরা যদি একটি দুর্বল এবং নির্বোধ অনুমানকে পাঠ্যপুস্তকের প্রধান চিত্রায়ন হিসেবে বেছে নিই (ভুলভাবে ধরে নিয়ে যে গল্পটির পেছনে শক্তিশালী ইতিহাস এবং প্রমাণের সমর্থন আছে), তবে আমরা সমস্যায় পড়ব—যেহেতু সমালোচকরা সেই নির্দিষ্ট দুর্বলতাটিকে ধরে নেবেন এবং তারপরে ভাববেন যে সমর্থকরা যদি এমন একটি হাস্যকর উদাহরণ বেছে নেন তবে পুরো তত্ত্বটিই হয়তো বিপদে আছে।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৪
* তার ডারউইন-বিরোধী বই... ''দ্য নেক অফ দ্য জিরাফের'' ফ্রান্সিস হিচিং গল্পটি বলেন... "উঁচু থেকে খাবার সংগ্রহের মাধ্যমে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয়তা, এই ধরনের অনেক ডারউইনীয় ব্যাখ্যার মতোই একটি ''[[w:পোস্ট হক এরগো প্রপটার হক|পোস্ট হক]]'' বা ভিত্তিহীন অনুমানের চেয়ে সামান্য বেশি কিছু।" হিচিং বেশ সঠিক, কিন্তু তিনি এমন একটি রূপকথা খণ্ডন করছেন যা ডারউইন বলার মতো এতটা বোকা ছিলেন না—যদিও গল্পটি পরবর্তীতে আমাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে একটি "ধ্রুপদী উদাহরণ" হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৪
* চিরন্তন সতর্কতা হলো স্বাধীনতার মূল্য। এর সাথে বুদ্ধিবৃত্তীয় সততাকেও যোগ করুন।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৫
* জিরাফরা [[w:বাবলা|বাবলা গাছের]] ওপর থেকে পাতা সংগ্রহের জন্য তাদের লম্বা ঘাড় ব্যবহার করে—কিন্তু বর্তমানের এই ক্রিয়াকলাপ, তা যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন, এটি প্রমাণ করে না যে ঘাড়টি মূলত এই উদ্দেশ্যেই বিবর্তিত হয়েছিল। ঘাড়টি হয়তো প্রথমে অন্য কোনো কাজের জন্য লম্বা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জিরাফ যখন খোলা প্রান্তরে চলে আসে তখন খাবারের সুবিধার জন্য এটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে। অথবা ঘাড়টি হয়তো একই সাথে বেশ কয়েকটি কাজ সম্পাদন করার জন্য বিবর্তিত হয়েছে। আমরা কেবল বর্তমান ব্যবহারের তালিকা করে ঐতিহাসিক উৎপত্তির কারণগুলো জানতে পারি না।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৭
* তাহলে কেন আমরা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই এই সাধারণ গল্পটি বিশ্বাস করতে বাধ্য হলাম? আমি দুটি প্রাথমিক কারণ সন্দেহ করি: আমরা একটি বোধগম্য এবং সন্তোষজনক গল্প পছন্দ করি এবং আমরা আপাত কর্তৃত্বকে (যেমন পাঠ্যপুস্তক!) চ্যালেঞ্জ করতে অনিচ্ছুক। তবে মনে রাখবেন যে বেশিরভাগ সন্তোষজনক গল্পই মিথ্যা।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৮
* ডারউইনীয় বিবর্তন সম্ভবত পশ্চিমা বিজ্ঞানের দ্বারা উৎপন্ন সবচেয়ে সত্য এবং শক্তিশালী ধারণা হতে পারে। কিন্তু আমরা যদি একটি অসমর্থিত এবং মূলত হাস্যকর গল্প দিয়ে আমাদের বিশ্বাসকে তুলে ধরা চালিয়ে যাই, তবে আমরা একটি সুন্দর জিনিসকে জরাজীর্ণ পোশাকে সাজাচ্ছি—এবং আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, কারণ "পোশাকই মানুষকে চিনিয়ে দেয়।"
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৮
* যারা [[w:বিবর্তনীয় প্রগতি|বিবর্তনের একমুখী প্রগতির]] সমর্থক, তারা যখন অমেরুদণ্ডী এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীদের আপাত ভিন্ন নকশার মধ্যে একটি মসৃণ সংযোগ খুঁজে পেতে চান, তখন সবচেয়ে বড় বাধার সম্মুখীন হন।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২০
* [[w:অার্থ্রোপড|আর্থ্রোপড]] এবং [[w:মেরুদণ্ডী প্রাণী|মেরুদণ্ডী প্রাণীরা]] সাধারণ সংগঠনের কিছু বিস্তৃত বৈশিষ্ট্য শেয়ার করে—যেমন লম্বা এবং দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম দেহ, সামনের দিকে সংবেদনশীল অঙ্গ, পেছনে রেচন অঙ্গ এবং প্রধান অক্ষ বরাবর কোনো রূপের [[w:খন্ডায়ন (জীববিজ্ঞান)|খন্ডায়ন]]। কিন্তু প্রধান অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর জ্যামিতি এর চেয়ে বেশি ভিন্ন হতে পারত না... আর্থ্রোপডরা তাদের স্নায়ুতন্ত্রকে পেটের দিকে দুটি প্রধান রজ্জু হিসেবে ঘনীভূত করে। মুখটিও পেটের দিকে খোলে, যার খাদ্যনালী দুটি স্নায়ু রজ্জুর মাঝখান দিয়ে যায়। আর পাকস্থলী ও পাচনতন্ত্রের বাকি অংশ স্নায়ু রজ্জুর ''ওপর'' দিয়ে চলে। অন্যদিকে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র পিঠের পৃষ্ঠ বরাবর একটি টিউব হিসেবে চলে যা সামনের প্রান্তে একটি বাল্ব আকৃতির মস্তিষ্কে শেষ হয়। পুরো পাচনতন্ত্র তখন স্নায়ু রজ্জুর ''নিচ'' দিয়ে দেহের অক্ষ বরাবর চলে।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২১
* মেরুদণ্ডী প্রাণীদের উৎপত্তির আলোচনায় [[w:বিপরীতকরণ (বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান)|ইনভার্সন তত্ত্ব]] বা বিপরীতকরণ তত্ত্বের একটি দীর্ঘ এবং আকর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে। এর প্রারম্ভিক সংস্করণটি উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের এবং এটি "ট্রানসেনডেন্টাল বায়োলজি" নামক একটি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল জৈব বৈচিত্র্যকে একটি বা খুব কম সংখ্যক আর্কিটাইপাল বা আদিম ব্লকে নামিয়ে আনা যা পরিবর্তনের যৌক্তিক নিয়মের মাধ্যমে সমস্ত শারীরিক গঠন তৈরি করতে পারে। ইউরোপের অনেক মহান চিন্তাবিদ এই মহৎ কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জার্মানির শ্রেষ্ঠ কবি-বিজ্ঞানী [[জোহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটে]] উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশকে একটি আদিম পাতার বিভিন্ন রূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৫
* ফ্রান্সে [[w:এতিয়েন জফ্রোয়া সাঁ-হিলের|এতিয়েন জফ্রোয়া সাঁ-হিলের]] মেরুদণ্ডী প্রাণীদের কঙ্কালকে একটি আদিম কশেরুকার পরিবর্তনের সমষ্টি হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ১৮২০-এর দশকে জফ্রোয়া তার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় [[w:অ্যানেলিড|অ্যানেলিড]] এবং আর্থ্রোপডদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ...মেরুদণ্ডী প্রাণীরা তাদের নরম অংশগুলোকে অভ্যন্তরীণ কঙ্কাল দিয়ে সমর্থন দেয়, কিন্তু পতঙ্গদের অবশ্যই তাদের [[w:মেরুদণ্ড|কশেরুকার]] ভেতরে বাস করতে হয় (এটি জফ্রোয়ার কাছে কোনো রূপক ছিল না, ছিল বাস্তবতা)। এই তুলনা তাকে এমন একটি দাবিতে পরিচালিত করেছিল যে, মেরুদণ্ডী প্রাণীর পাঁজরের হাড় অবশ্যই আর্থ্রোপডের পায়ের মতো একই অঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করে—এবং তাই পতঙ্গরা আসলে তাদের নিজেদের পাঁজরের ওপর ভর দিয়ে হাঁটে!
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৬
* জফ্রোয়া এটিও উপলব্ধি করেছিলেন যে অন্ত্র এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিপরীত অবস্থান তার দাবির জন্য একটি সমস্যা তৈরি করে যে পতঙ্গ এবং মেরুদণ্ডী প্রাণী একই আদিম প্রাণীর ভিন্ন সংস্করণ—এবং তিনি এই ঐক্যের প্রতি হুমকি দূর করতে বিপরীতকরণ তত্ত্বের প্রথম বিবরণ প্রস্তাব করেছিলেন। ...জফ্রোয়া একটি "টাইপ অফ ইউনিটি" বা ধরনের ঐক্য স্থাপনের লক্ষ্য অনুসরণ করেছিলেন যা একই মৌলিক ব্লুপ্রিন্ট থেকে আর্থ্রোপড এবং মেরুদণ্ডী উভয়ই তৈরি করতে পারে। ...একই মহান নকশায় মাঝখানে একটি অন্ত্র এবং পরিধিতে কোথাও প্রধান স্নায়ু রজ্জু অন্তর্ভুক্ত থাকে।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৬
* রৈখিক প্রগতির পরবর্তী বিবর্তনীয় তাত্ত্বিকরা এই শারীরিক এবং ঐতিহাসিক দাবিটি সামনে এনেছিলেন যে আর্থ্রোপডদের একটি পূর্বপুরুষ বংশ আসলে উল্টে গিয়ে প্রথম মেরুদণ্ডী প্রাণীতে পরিণত হয়েছিল (বিপরীতকরণ তত্ত্বের ধ্রুপদী বিবরণের জন্য উইলিয়াম প্যাটেনের ''দ্য গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি অফ ইভোলিউশন'', ১৯২০ দেখুন)।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৭
* গ্যাসকেল তার প্রিয় রৈখিক প্রগতি তত্ত্বের এই অশোভন সংস্করণ সহ্য করতে পারেননি। তিনি এটি কল্পনা করতে পারেননি যে জেলিফিশ থেকে মানুষ পর্যন্ত যে বিশাল মিছিলটি স্নায়ু টিস্যুর ক্রমাগত বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, তা মেরুদণ্ডী প্রাণীর ঘরে প্রবেশের সেই মহৎ ও চূড়ান্ত মুহূর্তে কেবল একটি উল্টে যাওয়ার জন্য থেমে গিয়েছিল।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৭
* গ্যাসকেলকে তার সৈন্যদের সোজা রাখতে হয়েছিল... একটি আর্থ্রোপড পাচন নালী থেকে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড তৈরি করে, এবং নিচে একটি সম্পূর্ণ নতুন অন্ত্র গঠন করে। ...গ্যাসকেল ভেবেছিলেন যে তার এই পদক্ষেপ রৈখিক প্রগতি তত্ত্বকে পুরানো বিপরীতকরণ তত্ত্বের হাস্যকর অবস্থা থেকে রক্ষা করবে।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৭
* কী পরিহাস। বিপরীতকরণের "পাগলাটে" তত্ত্ব এড়ানোর জন্য গ্যাসকেল মস্তিষ্ক পাকস্থলীতে পরিণত হওয়া এবং নিচে নতুন অন্ত্র তৈরি হওয়ার মতো আরও অদ্ভুত ধারণা উদ্ভাবন করেছিলেন। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে পরবর্তী জীববিজ্ঞানীরা এই উভয় অনুমানকে বাতিল করে সহজ বিকল্পটি বেছে নিয়েছিলেন: আর্থ্রোপড এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীদের শারীরিক পরিকল্পনা মোটেও এক নয়, বরং তারা অনেক সরল সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে অনুরূপ জটিলতার দুটি আলাদা বিবর্তনীয় বিকাশের প্রতিনিধিত্ব করে যার কোনো সুনির্দিষ্ট অন্ত্র বা কেন্দ্রীয় স্নায়ু রজ্জু ছিল না।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৭
* ১৯৩০-এর দশক থেকে ডারউইনবাদের একটি কঠোর সংস্করণের বিজয়ের সাথে এই স্বতন্ত্র উৎসের ধারণাটি চমৎকারভাবে মিলে গিয়েছিল... আর্থ্রোপড এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীরা কার্যগত নকশার কিছু বৈশিষ্ট্য শেয়ার করে। কিন্তু সেই মিলগুলো কেবল প্রাকৃতিক নির্বাচনের সক্ষমতাকেই প্রতিফলিত করে যা সাধারণ সমস্যার সীমিত [[w:জীবযান্ত্রিকতা|বায়োমেকানিক্যাল]] সমাধানের জগতে স্বাধীনভাবে সর্বোত্তম কাঠামো তৈরি করতে পারে—একটি বিবর্তনীয় ঘটনা যাকে [[w:বিসরণধর্মী বিবর্তন|অভিসারী বিবর্তন]] বলা হয়।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৮
* এই নতুন ঐক্যমত্য এতই জোরালো ছিল যে আধুনিক ডারউইনীয়দের প্রধান [[আর্নস্ট মায়ার]] শারীরবৃত্তীয় ঐক্য সম্পর্কে জফ্রোয়ার ধারণাগুলোকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৯
* [[চার্লস ডারউইন|ডারউইন]] নিজে তার শেষ বইতে (''দ্য ফরমেশন অফ ভেজিটেবল মোল্ড থ্রু দ্য অ্যাকশন অফ ওয়ার্মস'') আমাদের বলেছিলেন যে চলমান কৃমির শক্তিকে আমাদের কখনো অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। ...একটি সাধারণ কৃমির উল্টে যাওয়া সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিতে পারে। [[উইলিয়াম শেকসপিয়র|শেকসপিয়র]] আমাদের বলেছিলেন যে "ক্ষুদ্রতম কৃমিও পদদলিত হলে ঘুরে দাঁড়ায়।" আর [[মিগেল দে থের্ভান্তেস]] ''ডন কিহোতে''-র ভূমিকায় লিখেছিলেন যে "এমনকি একটি কৃমিও যখন পায়ের নিচে পড়ে, তখন সে আবার ঘুরে দাঁড়ায়।" ...জফ্রোয়া শেষ পর্যন্ত সঠিক ছিলেন বলেই মনে হয়—সব খুঁটিনাটি বিষয়ে নয় অবশ্যই, কিন্তু অন্তত মৌলিক লক্ষ্য এবং তাত্ত্বিক অর্থের ক্ষেত্রে। আর এই বিস্ময়ের বিজয়, পাগলামির আপাত সত্যে রূপান্তর আমাদের সময়ের বিবর্তনীয় তত্ত্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ উন্নয়নের একটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৯-৩৩০
* আমরা এখন সহজেই এবং তুলনামূলকভাবে সস্তায় জিনের বিস্তারিত রাসায়নিক গঠন নির্ধারণ করতে পারি; এবং আমরা এই জিনগুলোর প্রভাব অনুসরণ করতে পারি যখন তারা [[w:ভ্রূণতত্ত্ব|ভ্রূণতত্ত্বের]] গতিপথকে প্রভাবিত করে। এটি করার মাধ্যমে আমরা এই বিস্ময়কর আবিষ্কার করেছি যে সমস্ত জটিল প্রাণী [[w:পর্ব (জীববিজ্ঞান)|পর্ব]]—বিশেষ করে আর্থ্রোপড এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীরা—তাদের অর্ধ-বিলিয়ন বছরের বিবর্তনীয় স্বাধীনতা সত্ত্বেও শরীর তৈরির জন্য সাধারণ জেনেটিক ব্লুপ্রিন্টের একটি বিশাল সেট ধরে রেখেছে।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩৩০
* প্রাণী পর্বগুলোর মধ্যে মৌলিক নকশার অনেক মিল, যা একসময় অভিসারী বিবর্তনের কারণ হিসেবে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলা হতো, এখন তার বিপরীত ব্যাখ্যার দাবি রাখে যা আর্নস্ট মায়ার অকল্পনীয় বলে মনে করেছিলেন: এই অনুরূপ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো [[w:সমসংস্থ অঙ্গ|হোমোলজি]] বা একই জিনের পণ্য, যা একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে এবং পরবর্তী বিবর্তনে তাদের কাঠামো ও কাজ মুছে ফেলার মতো যথেষ্ট পরিবর্তিত হয়নি। এই মিলগুলো সংরক্ষিত ইতিহাসের সীমাবদ্ধ করার ক্ষমতাকে নথিভুক্ত করে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের স্থাপত্য দক্ষতা নয়। মেরুদণ্ডী প্রাণীরা এক অর্থে কৃমি এবং পতঙ্গদের প্রকৃত ভাই (বা হোমোলগ)—কেবল অ্যানালগ বা সদৃশ নয়।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩৩০-৩১
* বিবর্তিত জীবনকে সম্ভাবনার এক বিশাল পরিসরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা পরিবেশগত ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে এতই অনিশ্চিত যে কোনো বাস্তবায়িত পথকে—উদাহরণস্বরূপ হোমো সেপিয়েন্স বা লিটল গ্রিন মেনের আকারে চেতনার পথ—স্বর্গের মহাসড়ক হিসেবে ভাবা যায় না। বরং একে অজস্র বাধা এবং অসংখ্য বিকল্প শাখায় ভরা একটি আঁকাবাঁকা পথ হিসেবে দেখতে হবে। তাই অন্য কোনো গ্রহে আমাদের পৃথিবীর পথের নির্ভুল পুনরাবৃত্তি এক ট্রিলিয়ন ক্ষেত্রেও অসম্ভব।
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫১
* যেহেতু মহাবিশ্বে অবশ্যই লক্ষ লক্ষ উপযুক্ত গ্রহ রয়েছে, তাই কোনো না কোনো ফর্মে চেতনা প্রায়শই বিবর্তিত হতে পারে। তবে আমরা যে একমাত্র উদাহরণটি জানি যেখানে মস্তিষ্ক নিউরন দিয়ে তৈরি এবং জোড়া চোখ ও অঙ্গ রয়েছে, তা সব জায়গায় না-ও হতে পারে। কিন্তু দশ লাখে কেবল একটি প্রাণের উৎসও যদি চেতনার দিকে নিয়ে যায়, তবে মঙ্গলের ব্যাকটেরিয়ার অর্থ মোটেও লিটল গ্রিন মেন নয়।
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫১
* পৃথিবী সব সময় যেমন ছিল, আমরা এখনো সেই ব্যাকটেরিয়ার যুগে বাস করছি। এই সরলতম জীবগুলো আমাদের গ্রহে আধিপত্য বিস্তার করবে (যদি জীবনের জন্য পরিবেশ অনুকূল থাকে) যতক্ষণ না সূর্য বিস্ফোরিত হয়। আমাদের বর্তমান এবং নিঃসন্দেহে সংক্ষিপ্ত ভূতাত্ত্বিক মুহূর্তে তারা উপযুক্ত কৌতুকের সাথে আমাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে। কারণ আমরা তাদের কাছে সম্ভাব্য শোষণের জন্য উপযুক্ত কেবল কিছু ক্ষণস্থায়ী এবং সুস্বাদু দ্বীপ মাত্র।
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫২
* আমরা যদি ''হোমো সেপিয়েন্স''-কে একটি চূড়ান্ত বিরলতা হিসেবে দেখি এবং ব্যাকটেরিয়া পর্যায়ের জীবনকে একটি মহাজাগতিক ঘটনার সাধারণ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধরি, তবে আমরা মঙ্গলের জীবাশ্ম দ্বারা উত্থাপিত মৌলিক প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করতে পারি। যদি জীবন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জড় মহাবিশ্বের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে উদ্ভূত হয়, তবে জীবনের মৌলিক গঠন এবং গঠনতন্ত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কতটা ভিন্ন হতে পারে?
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫২
* পৃথিবীর সমস্ত জীবন—ব্যাকটেরিয়া থেকে মাশরুম বা জলহস্তী পর্যন্ত—বিস্তারিত জৈব রাসায়নিক মিলের এক বিস্ময়কর পরিসর শেয়ার করে, যার মধ্যে [[ডিএনএ]] ও [[w:আরএনএ|আরএনএ]]-র গঠন এবং শক্তি সঞ্চয়কারী যৌগ হিসেবে [[w:অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট|এটিপি]]-র সার্বজনীন ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। এই নিয়মিততা ব্যাখ্যা করার জন্য দুটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট থাকতে পারে: হয় পৃথিবীর সমস্ত জীবন এই বৈশিষ্ট্যগুলো শেয়ার করে কারণ অন্য কোনো রসায়ন কাজ করতে পারে না, অথবা এই মিলগুলো কেবল একটি একক উৎস থেকে সমস্ত জীবের সাধারণ বংশগতির প্রমাণ দেয় যার রসায়ন অনেক সম্ভাবনার মধ্যে একটি ছিল।
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫২
* দুর্ভাগ্যবশত পৃথিবীর সমস্ত জীবন—একমাত্র জীবন যা আমরা জানি—তার বর্তমান বৈচিত্র্য সত্ত্বেও একটি ''একক পরীক্ষার'' ফলাফলকে প্রতিনিধিত্ব করে, কারণ প্রতিটি পার্থিব প্রজাতি একটি একক উৎসের সাধারণ বংশগতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের এই পরীক্ষার একটি ''পুনরাবৃত্তি'' প্রয়োজন। মঙ্গলের সম্ভাবনা আমাদের একটি ''দ্বিতীয় পরীক্ষার'' প্রথম বাস্তব আশা দেখায়—যা জীবনের মৌলিক প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপরিহার্য।
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫৩
* ডারউইনীয় প্রাকৃতিক নির্বাচন কেবল পরিবর্তনশীল স্থানীয় পরিবেশের সাথে অভিযোজন তৈরি করে। আর কোনো তাৎক্ষণিক বাসস্থানে আরও ভালো কাজ করার ক্ষমতা ক্রমবর্ধমান জটিলতার মতো আকৃতি এবং আচরণের বৃহত্তর সরলতার মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৫৫
* প্রাকৃতিক ইতিহাসের সাধারণ রূপকথাগুলোর একটি মানসম্মত "আক্ষেপ" বা "বিস্ময়কর গল্প" বিবেচনা করুন: [[w:মে ফ্লাই|মে-ফ্লাই]] বা মে-মাছি যা কেবল একদিন বাঁচে। হ্যাঁ, পূর্ণবয়স্ক মাছিটি রোদে কেবল এক মুহূর্ত উপভোগ করতে পারে, তবে আমাদের পুরো জীবনচক্রকে সম্মান করা উচিত এবং উপলব্ধি করা উচিত যে লার্ভা বা কিশোর পর্যায়গুলো কয়েক মাস ধরে বাঁচে এবং বিকশিত হয়। লার্ভা কেবল একটি সংক্ষিপ্ত সাবালকত্বের প্রস্তুতি নয়। আমরা বরং পুরো জীবনচক্রকে একটি [[শ্রম বিভাজন]] হিসেবে দেখতে পারি, যেখানে লার্ভা হলো খাওয়ানো এবং বৃদ্ধির পর্যায় এবং পূর্ণবয়স্ক পর্যায়টি হলো একটি স্বল্পস্থায়ী প্রজনন যন্ত্র। এই অর্থে আমরা পূর্ণবয়স্ক মাছির দিনটিকে লার্ভার এক প্রজন্মের প্রকৃত খাবার সংগ্রহের জন্য একটি চালাক এবং ক্ষণস্থায়ী কৌশল হিসেবে দেখতে পারি।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৫৬
* এই প্রবন্ধটি একটি পূর্ণবয়স্ক পরজীবীর চরম সরলীকরণের সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পটি আলোচনা করে—প্রাকৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের বোঝার পথে বাধা সৃষ্টিকারী দুটি প্রধান পক্ষপাতিত্বকে আলোকিত এবং সমাধান করার উদ্দেশ্যে: বিবর্তনকে প্রগতির সমার্থক মনে করা এবং কোনো জীবকে তার পুরো জীবনচক্র বিবেচনা না করে কেবল তার পূর্ণবয়স্ক রূপ দিয়ে মূল্যায়ন করা।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৫৬
* পূর্ণবয়স্ক পরজীবীর [ [[w:রাইজোসেফালা|রাইজোসেফালা]] ] প্রারম্ভিক অবস্থা কী গঠন করে? ডার্টের হাইপোডার্মিক ডিভাইসের সংকীর্ণ ছিদ্র দিয়ে কী প্রবেশ করানো যেতে পারে? ...নপলিয়াস, সিপ্রিড এবং কেনট্রোগনের মতো জটিলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা কল্পনা করুন—এবং তারপরে পূর্ণবয়স্ক পর্যায়ে দ্রুত এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য নিজেকে কেবল কয়েকটি কোষে নামিয়ে আনা। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে কী এক ন্যূনতম সেতু! ...কিন্তু অন্যান্য প্রজাতি একটি একক কোষে চূড়ান্ত হ্রাস অর্জন করেছে! ডার্টটি পোষকদেহের অভ্যন্তরে ''কেবল একটি কোষ'' প্রবেশ করায়, এবং জীবনচক্রের দুটি অংশ একটি অত্যন্ত ন্যূনতম সংযোগের মাধ্যমে তাদের অপরিহার্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৬৩
* পরজীবীটি কোনোভাবে পোষকদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বন্ধ করতে বিবর্তিত হয়েছে। সম্ভবত কাঁকড়ার ইমিউন সিস্টেমকে কোনো রাসায়নিক চাতুর্য দিয়ে নিরস্ত্র করে এটি পোষককে এটি বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে পরজীবীটি তারই অংশ। ...পূর্ণবয়স্ক পরজীবীটি পোষক কাঁকড়াকে নির্বীর্য করে ফেলে, সরাসরি তার টিস্যু খেয়ে নয়, বরং সম্ভবত কাঁকড়ার স্নায়ুতন্ত্রের চারপাশে এবং ভেতরে পরজীবীর শিকড় প্রবেশের কোনো অজানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৬৭
* ''লার্নেওডিস্কাস পোরসেলানা'' পোষকদেহের নিয়ন্ত্রণকে একটি সূক্ষ্ম শিল্পে পরিণত করে। পরজীবী দ্বারা নির্বীর্য হওয়ার পর পুরুষ কাঁকড়াগুলো গঠন এবং আচরণ উভয় ক্ষেত্রেই স্ত্রী বৈশিষ্ট্য লাভ করে, অন্যদিকে স্ত্রী কাঁকড়াগুলো আরও বেশি স্ত্রী সুলভ হয়ে ওঠে। উদীয়মান এক্সটার্না তখন কাঁকড়ার নিজস্ব ডিমের পুঞ্জীর মতো একই আকার এবং অবস্থান গ্রহণ করে... কাঁকড়াগুলো তখন এক্সটার্নাকে তাদের নিজস্ব সন্তান হিসেবে বিবেচনা করে। অন্য কথায়, পরজীবীটি কাঁকড়ার নিজস্ব বংশধরের জন্য সাধারণত নিয়োজিত সমস্ত জটিল যত্নের অধিকার কেড়ে নেয়।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৬৮
* সংক্ষেপে রাইজোসেফালা বা রুট-হেড কাঁকড়াকে একটি ডারউইনীয় শূন্যে পরিণত করে; এটি একটি ফিডিং মেশিনে পরিণত হয় যা সম্পূর্ণরূপে পরজীবীর সেবায় কাজ করে। নির্বীর্য কাঁকড়াটি তার নিজস্ব বিবর্তনীয় ইতিহাসে কোনো অবদান রাখতে পারে না; তার "ডারউইনীয় যোগ্যতা" শূন্য হয়ে যায়। ...কিন্তু পরজীবীটিকে কাঁকড়াকে নিরন্তর এবং নিখুঁত দাসত্বে বজায় রাখতে হয়—পোষকদেহকে মেরে ফেলার মতো যথেষ্ট নিংড়ে নেওয়া যাবে না, আবার কাঁকড়াকে তার নিজের বিবর্তনীয় সুবিধার জন্য কিছু করতেও দেওয়া যাবে না।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৬৯
* পুরুষ এবং স্ত্রী উভয় রুট-হেডের জটিল ও ভিন্ন জীবনচক্র এবং পোষক কাঁকড়াকে একটি সাপোর্ট সিস্টেম হিসেবে পুনর্গঠিত করার ক্ষেত্রে স্ত্রী পরজীবীর দেখানো দুর্দান্ত আচরণগত সূক্ষ্মতা আমাদের প্রচলিত জ্ঞানের অসারতা প্রমাণ করে যা রাইজোসেফালানদের নিছক অধপতিত পরজীবী মনে করত।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৭১
* আমাদের পরোক্ষ পদ্ধতিগুলো আমাদের ঘোড়া সম্পর্কে অনেক কিছু শিখিয়েছে। কিন্তু আপনি যদি আরও কিছু শিখতে চান তবে কি আপনি দৌড়ের মাঝখানে থাকা ঘোড়া হতে চাইবেন নাকি পরে জকির সাক্ষাৎকার নিতে চাইবেন?
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?"
* আমি কেবল বাইরে থেকে দেখতে পারি (বা ভেতরের অংশ কাটতে পারি, কিন্তু মাংস এবং জিন জৈব সামগ্রিকতাকে প্রকাশ করে না)। আমি কিছু অনির্দেশ্য পরোক্ষ পদ্ধতির সাথে আটকে আছি। আমি পরমাণু বিশ্লেষণ করতে পারি, পরীক্ষা করতে পারি এবং অনুমান করতে পারি। আমি আচরণ এবং প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রচুর তথ্য নথিভুক্ত করতে পারি। কিন্তু আমি যদি সেই এক মূল্যবান মিনিটের জন্য একটি গুবরে পোকা বা একটি ব্যাসিলাস হতে পারতাম এবং নিখুঁত স্মৃতি নিয়ে সেই গল্প বলার জন্য বেঁচে থাকতে পারতাম—তবে আমি ডারউইনের সেই উক্তিটি সত্যিই পূরণ করতে পারতাম যা তিনি তার একটি প্রাথমিক নোটবুকে লিখেছিলেন: "যে বেবুনকে বোঝে সে জন লকের চেয়ে অধিবিদ্যায় বেশি অবদান রাখবে।"
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?", পৃষ্ঠা ৩৭৬
* কেন হোমো সেপিয়েন্সের মতো একটি মার্জিত এবং নৈতিক প্রাণী অন্য প্রজাতিদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং এমনকি তাদের বিলুপ্ত করতে পারে, তার ধ্রুপদী যুক্তিটি একটি ধারাবাহিকতার চরম অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। কার্তেসীয় ঐতিহ্য অনুসারে অন্যান্য প্রাণীরা অনুভূতিহীন যন্ত্রের চেয়ে সামান্য বেশি কিছু, যেখানে কেবল মানুষই "চেতনা" উপভোগ করে।
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?", পৃষ্ঠা ৩৮৯
* আমি বিশ্বাস করতে রাজি যে স্পঞ্জ বা ফ্ল্যাটওয়ার্মের ভেতরে কাটানো আমার সেই অলভ্য ষাট সেকেন্ড হয়তো এমন কোনো মানসিক তীক্ষ্ণতা প্রকাশ করবে না যাকে আমি চেতনা বলতে চাইব। কিন্তু আমি এও আত্মবিশ্বাসী যে শকুনি এবং স্লথ—একই মৌলিক অঙ্গের সেটসহ আমাদের নিকট বিবর্তনীয় আত্মীয় হিসেবে—যেকোনো অর্থপূর্ণ সীমানার আমাদের দিকেই অবস্থান করে। আর তাই আমরা যখন তাদের চোখের দিকে তাকাই এবং আবেগীয় ও ধারণাগত আত্মীয়তার আভাস দেখি, তখন আমরা ভুল করি না।
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?", পৃষ্ঠা ৩৮৯-৩৯০
* পানামা যোজক কয়েক মিলিয়ন বছর আগে জেগে ওঠার আগে দক্ষিণ আমেরিকা দশ মিলিয়ন বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে অনেক বড় এবং অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় একটি দ্বীপ মহাদেশ ছিল। নতুন স্থল সেতু দিয়ে উত্তর আমেরিকার স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্লাবন দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় প্রাণিকুলের ধ্বংসের সাথে সময়ের দিক থেকে মিলে যায়। আসলে বর্তমানে বেশিরভাগ বৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী যাদের স্পষ্টভাবে দক্ষিণ আমেরিকান বলে মনে করা হয়... তারা সবাই উত্তর আমেরিকা থেকে আসা সাম্প্রতিক অভিবাসী।
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?", পৃষ্ঠা ৩৯০
* আমি যদি ''[[w:তিন-আঙুলযুক্ত স্লথ|ব্র্যাডিপাস]]ের'' ভেতরে সেই ষাট সেকেন্ড কাটাতে পারতাম... তবে আমি কি মানুষের কাছে থামার, পুনর্মূল্যায়নের—এবং সর্বোপরি ধীর গতির হওয়ার অনুরোধ পেতাম না?
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?", পৃষ্ঠা ৩৯১
* প্রাকৃতিক ইতিহাসবিদরা এই দার্শনিক মোডে উদ্দেশ্যমূলক প্রচার এড়িয়ে চলেন (যদিও আমি প্রায়শই এই প্রবন্ধগুলোতে এমন প্রলোভনের শিকার হই)। আমাদের সন্দেহের প্রিয় শৈলীটি হলো অভিজ্ঞতামূলক: আমি যদি আপনার প্রস্তাবিত সাধারণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই তবে আমি রক্তমাংসের একটি পাল্টা উদাহরণ খুঁজব। এই ধরনের পাল্টা উদাহরণের প্রাচুর্য রয়েছে কারণ তারা প্রাকৃতিক ইতিহাসের লেখার একটি মানসম্মত ধরন তৈরি করে—যা হলো "অদ্ভুত্বের বিস্ময়"।
** "রিভার্সিং এস্টাবলিশড অর্ডারস", পৃষ্ঠা ৩৯৪
* মাছিরা ব্যাঙ খেতে পারে! (যদিও বিস্ময় কিছুটা কমতে পারে যখন দেখা যায় যে ক্ষুদ্র ব্যাঙগুলো মাছির লার্ভার চেয়ে অনেক ছোট।) অস্বাভাবিকভাবে বড় পতঙ্গ এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীদের দ্বারা খাওয়ার কয়েকটি রেকর্ড করা ক্ষেত্রে ছোট পাখি, এমনকি ইঁদুরকেও প্রেয়িং ম্যান্টিড বা ঘাসফড়িং দ্বারা ভক্ষণ করতে দেখা গেছে।
** "রিভার্সিং এস্টাবলিশড অর্ডারস", পৃষ্ঠা ৩৯৬
* কেউ ভাবেনি যে [[w:ডাইনোফ্ল্যাজেলেট|ডাইনোফ্ল্যাজেলেটরা]] তাদের নিজস্ব সুবিধার জন্য বিবর্তনীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে সক্রিয়ভাবে মাছ মেরে ফেলতে পারে। অথচ ডাইনোফ্ল্যাজেলেটরা সত্যিই মাছ মেরে খাচ্ছে এমনভাবে যা এই বিচিত্র বিপরীতমুখী বিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
** "রিভার্সিং এস্টাবলিশড অর্ডারস", পৃষ্ঠা ৪০০
* জীবনের ইতিহাস বোঝার সংগ্রামে আমাদের অবশ্যই শিখতে হবে কোথায় সেই সীমানা টানতে হবে যা একবার ঘটে যাওয়া অনিশ্চিত ঘটনা এবং বারবার ঘটা আইনানুগ ঘটনার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে যা জীবনের ইতিহাসে সাধারণতা হিসেবে পরিব্যাপ্ত হতে পারে।
** "রিভার্সিং এস্টাবলিশড অর্ডারস", পৃষ্ঠা ৪০২
=== ''দ্য লায়িং স্টোনস অফ মারাকেশ'' (২০০১) ===
:<small>পৃষ্ঠা নম্বরগুলো মূল হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণের রেফারেন্স অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।</small>
* আমরা কি কখনও কোনো প্রকাশ্য বস্তুকে নাগরিক মর্যাদার সাথে দেখতে পাব, যা বাণিজ্যিক বার্তা থেকে মুক্ত থাকবে? শহরের বাসগুলোকে কি পুরোপুরি চলন্ত বিজ্ঞাপনে রূপান্তর করতে হবে, ল্যাম্পপোস্টগুলো ঢেকে দিতে হবে, ট্যাক্সিকে সজ্জিত করতে হবে, এমনকি কনসার্ট হলের আসনগুলোও এক এক করে দাতার কাছে বিক্রি করে রূপালী ফলকে তাদের নাম স্থায়ীভাবে লিখে দিতে হবে?
** "দ্য লায়িং স্টোনস অফ মারাকেশ", পৃ. ২৫
* শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের ধারাবাহিকতার সুতোটি প্রায়ই এমন সূক্ষ্ম (পুরানো ক্লিফোর্ড ক্লিশে অনুযায়ী এক সুতোয় ঝুলে থাকা) হয়ে যেতে পারে, কিন্তু যদি আমি [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]]-র নিজের হাতে লেখা তাঁর নামের কালি স্পর্শ করতে পারি, তবে সেই বৃত্তটি অটুট থাকে। তাঁর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার অক্সিজেনের মাধ্যমে লালিত আলোর মোমবাতি কখনও নিভে যায় না, যদি আমরা যুগের পর যুগ ধরে এমন অবিচ্ছিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে লালন করি। আমরা নিউক্লিক অ্যাসিডের সেই প্রকৃত ভৌত সুতোটি নিয়েও চিন্তা করতে পারি যা আমাদের প্রত্যেককে সমস্ত জীবিত প্রাণীর সাধারণ ব্যাকটেরিয়া পূর্বপুরুষের সাথে যুক্ত করে। লাভোয়াজিয়ে-র ''আঁসিয়ে তের'' (প্রাচীন পৃথিবী)-তে ৩.৫ বিলিয়ন বছরেরও বেশি আগে যার জন্ম হয়েছিল এবং যা একটি মুহূর্তের জন্যও বা একটি প্রজন্মের জন্যও কখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি। আমাদের বোকামির সমস্ত গিলোটিন থেকে এই জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষা করা জরুরি।
** "দ্য প্রুফ অফ লাভোয়াজিয়ে'স প্লেটস", পৃ. ১১৪
* ১৬৬৬ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর লন্ডন পুনর্গঠনের প্রধান স্থপতি [[ক্রিস্টোফার রেন]] তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ভবন সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালের মেঝের নিচে সমাহিত আছেন। কোনো বিশদ সারকোফ্যাগাস বা পাথরের কফিন এই স্থানটিকে অলঙ্কৃত করেনি। পরিবর্তে, আমরা কেবল তাঁর ছেলের লেখা বিখ্যাত এপিটাফটি দেখতে পাই যা এখন মেঝেতে খোদাই করা আছে: “''si monumentum requiris, circumspice''”—অর্থাৎ আপনি যদি তাঁর স্মৃতিস্তম্ভ খোঁজেন, তবে আপনার চারপাশে তাকান। এটি হয়তো কিছুটা আড়ম্বরপূর্ণ শোনায়, তবে প্রতিলিপি, প্রতীক বা অন্য কোনো পরোক্ষ সাদৃশ্যের পরিবর্তে প্রকৃত স্থানের কেন্দ্রীয় গুরুত্ব বা পবিত্রতা সম্পর্কে এর চেয়ে ভালো সাক্ষ্য আমি কখনও পড়িনি।
** "এ টেল অফ টু ওয়ার্ক সাইটস", পৃ. ২৫১
* আমাদের স্বভাব বা মেজাজ নির্ধারণকারী আচরণগত প্রবণতাগুলোর মিশ্রণের ক্ষেত্রে আমরা সবাই সম্পূর্ণ শূন্য বা একই রকম হয়ে জন্মাই না। এই স্পষ্ট সত্যে কারও লজ্জিত বা আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়।
** "দ্য ইন্টারনাল ব্র্যান্ড অফ দ্য স্কারলেট ডাব্লিউ", পৃ. ২৮১
* জিন এনজাইম তৈরি করে এবং এনজাইম রাসায়নিক প্রক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করে। জিন "নতুনত্বের সন্ধান" বা অন্য কোনো জটিল ও প্রকাশ্য আচরণ সরাসরি তৈরি করে না। জীবনের জটিল পরিস্থিতির দীর্ঘ শৃঙ্খলের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী জটিল রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার এই প্রবণতা কোনো পরিচয় বা এমনকি কার্যকারণের সমান নয়।
** "দ্য ইন্টারনাল ব্র্যান্ড অফ দ্য স্কারলেট ডাব্লিউ", পৃ. ২৮২
* [প্রাকৃতিক ইতিহাসে] মহৎ আবিষ্কারের জন্য প্রায়ই একটি লুকানো খনির মানচিত্র প্রয়োজন যা রত্নে পূর্ণ এবং পরে প্রচলিত সরঞ্জামের সাহায্যে সহজেই সংগ্রহ করা যায়। এর জন্য পূর্বে অগম্য বিশ্বে প্রবেশের জন্য কোনো নতুন মহাকাশ-যুগের চকচকে যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।
** "অফ এমব্রায়োস অ্যান্ড অ্যানসেস্টর", পৃ. ৩১৮
* ব্যাপকভাবে ভিন্ন ভিন্ন স্কেলে বা মাত্রায় পারস্পরিক অদৃশ্য জীবনের এই থিমটি “[[w:সংস্কৃতি যুদ্ধ|সংস্কৃতি যুদ্ধের]]” জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে, যা বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এই ভ্রান্ত দ্বিবিভাজনের একপাশে রয়েছে [[উত্তর-আধুনিকতাবাদ|উত্তর-আধুনিক]] [[আপেক্ষিকতাবাদ|আপেক্ষিকতাবাদীরা]] যারা যুক্তি দেখায় যে, সমস্ত সংস্কৃতি-নির্ভর উপলব্ধির পদ্ধতি সমানভাবে বৈধ হতে হবে এবং তাই কোনো বাস্তব সত্যের অস্তিত্ব নেই। অন্যপাশে রয়েছে সেই সেকেলে বাস্তববাদীরা যারা জোর দিয়ে বলে যে মাছির সত্যিই দুটি ডানা আছে এবং [[শেকসপিয়র]] যা ভেবেছিলেন তিনি আসলেই তা বোঝাতে চেয়েছেন। স্কেলিং বা মাত্রার নীতি এই নির্বোধ দ্বিবিভাজনের মিথ্যা অংশগুলোর একটি সমাধান প্রদান করে। তথ্য হলো তথ্য এবং কোনো যুক্তিবাদী সত্তা একে অস্বীকার করতে পারে না। (প্রায়শই, তথ্য নির্ধারণ করা বা নির্দিষ্ট করা সহজ নয়—তবে এই প্রশ্নটি অন্য সময়ের জন্য ভিন্ন সমস্যা উত্থাপন করে।) তবে তথ্য অত্যন্ত মাত্রা-নির্ভর হতে পারে এবং এক জগতের উপলব্ধির অন্য জগতের ডোমেনে কোনো বৈধতা বা অভিব্যক্তি নাও থাকতে পারে। [[মেইন]]ের এক পৃষ্ঠার মানচিত্র [[w:অ্যাকাডিয়া ন্যাশনাল পার্ক|অ্যাকাডিয়া]]-র আলাদা পাথরখণ্ডগুলোকে চিনতে পারে না, তবে উভয়ই একটি বাস্তব উপকূলরেখার সমানভাবে বৈধ উপস্থাপনা প্রদান করে।
** "রুম অফ ওয়ান'স ওন", পৃ. ৩৫৫
=== ''আই হ্যাভ ল্যান্ডেড'' (২০০২) ===
:<small>পৃষ্ঠা নম্বরগুলো মূল হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণের রেফারেন্স অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।</small>
* এই মহান উপহারের বিনিময়ে যা আমি হাজার জন্মেও শোধ করতে পারব না, আমি অন্তত এই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি যে যদিও আমি প্রায়শই ভুল বা এমনকি বোকা যুক্তি দিয়েছি (পরবর্তী আবিষ্কারের আলোকে), অন্তত আমি কখনও অলস ছিলাম না। আমি কখনও ফাঁকি দিয়ে বা অগভীর মাধ্যমিক উৎসের ওপর নির্ভর করে আপনাদের বিশ্বাসের অমর্যাদা করিনি। আমি সবসময় এই প্রবন্ধগুলো মূল ভাষায় তাদের মূল কাজের ওপর ভিত্তি করে লিখেছি (কেবল দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া, যেখানে ফ্রাকাস্টোরোর মার্জিত ল্যাটিন শ্লোক এবং বেরিনজারের ল্যাটিন ছদ্ম-জটিলতা আমার অসম্পূর্ণ জ্ঞানের কারণে বুঝতে কষ্ট হয়েছিল)।
** প্রস্তাবনা, পৃ. ৬
* জীবনের অর্থ বা বাস্তবতার কাঠামো সম্পর্কে গভীরতম অন্তর্দৃষ্টি সবচেয়ে সহজে তখনই উদ্ভূত হয় যখন একটি মুক্ত, অনিয়ন্ত্রিত এবং অগোছালো (পড়ুন অজ্ঞ এবং অশিক্ষিত) মন পার্থিব জ্ঞান এবং উদ্বেগের ঊর্ধ্বে উঠে যায়—এর চেয়ে ক্ষতিকর বাজে কথা আর নেই।
** "নো সায়েন্স উইদাউট ফ্যান্সি, নো আর্ট উইদাউট ফ্যাক্টস", পৃ. ৪৮
* ডারউইন তাঁর চারিত্রিক সাহসিকতার সাথে দার্শনিক শূন্যতাকে উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে আশা এবং নৈতিকতাকে প্রকৃতির কাঠামোর মধ্যে নিষ্ক্রিয়ভাবে পড়া যায় না এবং উচিতও নয়। নান্দনিক এবং নৈতিক সত্যগুলো ''মানবিক'' ধারণা হিসেবে অবশ্যই মানবিক শর্তে গঠন করতে হবে, প্রকৃতিতে "আবিষ্কৃত" হলে চলবে না। আমাদের নিজেদের জন্য এই উত্তরগুলো তৈরি করতে হবে এবং তারপরে প্রকৃতির কাছে এমন এক অংশীদার হিসেবে যেতে হবে যে আমাদের জন্য অন্য ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে—মহাবিশ্বের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন, মানুষের জীবনের অর্থ সম্পর্কে নয়। যদি আমরা প্রকৃতিকে তার নিজস্ব ডোমেনের স্বাধীনতা দেই তবেই আমরা একটি মুক্ত এবং নম্র উপায়ে তার অসাধারণ সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারি। কারণ তখন আমরা আমাদের আশা এবং ভয়কে প্রশমিত করার জন্য নৈতিক বার্তার অনুপযুক্ত এবং অসম্ভব অনুসন্ধান থেকে মুক্ত হতে পারি। আমরা প্রকৃতির স্বাধীনতার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে পারি এবং তার নিজস্ব পথগুলোকে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন শর্তে সৌন্দর্য বা অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।
** "আর্ট মিটস সায়েন্স ইন ''দ্য হার্ট অফ দ্য অ্যান্ডিজ''", পৃ. ১০৯
* জটিল জীবকে কেবল তাদের জিনের সমষ্টি হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কিংবা কেবল জিন একাই শারীরস্থান বা আচরণের বিশেষ উপাদান তৈরি করে না। বেশিরভাগ জিন শারীরস্থান এবং আচরণের বিভিন্ন দিককে প্রভাবিত করে—যেহেতু তারা অন্যান্য জিন এবং তাদের পণ্যের সাথে এবং বিকাশমান জীবের ভেতরে ও বাইরের পরিবেশগত কারণগুলোর সাথে জটিল মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে। যখন আমরা নির্দিষ্ট শারীরস্থান বা আচরণের "জন্য" জিন সম্পর্কে কথা বলি, তখন আমরা কেবল একটি ক্ষতিকর সরলীকরণ করি না, বরং একটি গভীর ভুল করি।
** "দ্য উইদাউট অ্যান্ড উইদিন অফ স্মার্ট মাইস", পৃ. ২৩৪ (মূলত ''টাইম'' ম্যাগাজিনে প্রকাশিত, ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯)
* আমাদের কঠিন এবং ক্রমাগত চাপযুক্ত বিশ্বে জৈব বৈচিত্র্যের টিকে থাকা এবং বিস্তারের পেছনে জীবনের বৃক্ষের শক্তিশালী শাখা-প্রশাখা রয়েছে, অগ্রগতির কোনো পৌরাণিক পদযাত্রার ক্রমবর্ধমান বীরত্ব নয়। আর যদি আমরা ভূতাত্ত্বিক পর্যায় জুড়ে জীবনের পথচলার মূল চাবিকাঠি হিসেবে শাখা-প্রশাখার মৌলিক প্রকৃতি বুঝতে না পারি, তবে আমরা বিবর্তনকে সঠিকভাবে বুঝতে পারব না।
** "টেলস অফ এ ফেদারড টেইল", পৃ. ৩৩১
* আমাদের জীবনে বিপর্যয় এবং ট্র্যাজেডির নিপীড়ক বোঝা মোট কর্মের মধ্যে মন্দের উচ্চ শতাংশ থেকে আসে না, বরং বিপর্যয়কর ক্ষতি করার জন্য অত্যন্ত বিরল ঘটনার অসাধারণ ক্ষমতা থেকে আসে। বিশেষ করে আমাদের প্রযুক্তিগত যুগে যখন বিমানগুলো শক্তিশালী বোমায় পরিণত হতে পারে। (১৪১৫ সালে অ্যাজিনকোর্টের যুদ্ধে কেবল একটি লংবো নিয়ে আরও বেশি দুষ্ট লোকও এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারত না।)
** "দ্য গুড পিপল অফ হ্যালিফ্যাক্স", পৃ. ৩৯০ (মূলত ''দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেই''লে প্রকাশিত, [[২০ সেপ্টেম্বর ২০০১]])
=== ''[[w:দ্য স্ট্রাকচার অফ ইভোলিউশনারি থিওরি|দ্য স্ট্রাকচার অফ ইভোলিউশনারি থিওরি]]'' (২০০২) ===
:<small>পৃষ্ঠা নম্বরগুলো মূল হার্ভার্ড বেলকনাপ সংস্করণের রেফারেন্স অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।</small>
* বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে প্রবর্তিত উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে যা মূল ডারউইনীয় কেন্দ্রের বাইরে বিস্তৃত হয়েছে এবং ম্যাক্রো-বিবর্তনীয় ব্যাখ্যার নতুন নীতিগুলো দ্বারা এতটাই বর্ধিত হয়েছে যে এর পূর্ণ ব্যাখ্যা ডারউইনীয় যুক্তির ডোমেনের মধ্যে থাকলেও এটিকে কেবল বর্ধিত না বলে মূলত ভিন্ন হিসেবে গণ্য করতে হবে।
** পৃ. ৩
* এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থে বিরতিহীন ভারসাম্য বা পাঙ্কচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়াম তত্ত্বটি একটি খুব রক্ষণশীল অবস্থান গ্রহণ করে। এই তত্ত্বটি প্রজাতির উৎপত্তির মোড বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো নতুন দাবি করে না; এটি কেবল একটি আদর্শ মাইক্রো-বিবর্তনীয় মডেল গ্রহণ করে এবং ভূতাত্ত্বিক সময়ে সঠিকভাবে স্কেল করা হলে এর প্রত্যাশিত অভিব্যক্তি ব্যাখ্যা করে।
** পৃ. ৭৭৮
* সাধারণ প্রজাতি গঠন বিরতির কারণ এবং ঘটনাবলি ব্যাখ্যা করার জন্য সম্পূর্ণ পর্যাপ্ত।
** পৃ. ১০০১
* আমি নিন্দিত [[w:রিচার্ড গোল্ডশমিড|রিচার্ড গোল্ডশমিড]]ের কাজ সম্পর্কে বিশদভাবে এবং প্রায়ই বেশ সমালোচনামূলকভাবে কথা বলেছি, বিশেষ করে তাঁর চিন্তাধারার এমন কিছু দিক সম্পর্কে যা পুনরায় শোনার যোগ্য হতে পারে। এই বিষয়গুলো প্রায়ই সেই সব মানুষের দ্বারা বিরতিহীন ভারসাম্যের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে যারা স্কেলিং বা মাত্রার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হন। ফলে তারা যেকোনো স্তরে দ্রুততা সম্পর্কে সমস্ত বক্তব্যকে অবশ্যই একক এবং বিরতিহীন ভারসাম্য থেকে প্রবাহিত হিসেবে মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে, এই বইয়ের ৫ম অধ্যায়ে যেমন স্পষ্ট করা হয়েছে, গোল্ডশমিডের প্রতি আমার আগ্রহের সাথে বিরতিহীন ভারসাম্যের খুব কম সম্পর্ক রয়েছে। বরং এটি সেই বিকাশা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর সাথে যুক্ত যা আমার প্রথম বই ''[[w:অন্টোজেনি অ্যান্ড ফাইলোজেনি (বই)|অন্টোজেনি অ্যান্ড ফাইলোজেনি]]'' লিখতে উৎসাহিত করেছিল। এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা এবং দ্রুততার ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় প্রোথিত।
** পৃ. ১০০৫
* পরিশেষে, আমরা বিরতিহীন ভারসাম্যকে সল্টেশনের সাথে সমান করেছি এমন দাবি আমাদের তত্ত্বের যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে কোনো অর্থ বহন করে না। সুতরাং, যদি আমরা বোকা না হই তবে আমরা কীভাবে এমন একটি প্রস্তাবনা দাবি করতে পারি? আমাদের তত্ত্ব একটি সংজ্ঞায়িত বক্তব্য হিসেবে ধরে রাখে যে মাইক্রো-বিবর্তনীয় স্কেলে ধীরে ধীরে উদ্ভাসিত সাধারণ অ্যালোপ্যাট্রিক প্রজাতি গঠন ভূতাত্ত্বিক সময়ে বিরতিতে রূপান্তরিত হয়।
** পৃ. ১০০৯
* জীব যেমন বিবর্তিত হয়, শব্দের অর্থও তেমনি পরিবর্তিত হয়। আমরা যদি প্রতিটি বোনাসকে একটি পেকিউনারি সুবিধা বা আর্থিক সুবিধা (ল্যাটিন ''পেকাস'' বা গবাদি পশু থেকে আসা একটি মৌখিক [[w:জীবাশ্ম (ভাষাবিজ্ঞান)|জীবাশ্ম]]) হিসেবে চিহ্নিত করার সময় প্রতিবার গবাদি পশুর মাধ্যমে অর্থ প্রদানের জন্য জোর দিতাম, তবে আমরা আমাদের অর্থনীতির ওপর এক বিশাল বোঝা চাপিয়ে দিতাম।
** পৃ. ১০৭০
* আর এই ক্ষেত্রে বিজ্ঞান সাহিত্যিকদের কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ শিখতে পারে—যারা আকস্মিকতা বা কন্টিনজেন্সিকে ভালোবাসেন সেই একই মৌলিক কারণে বিজ্ঞানীরা এই থিমটিকে সন্দেহের চোখে দেখেন। কারণ আকস্মিকতার মধ্যেই প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষমতা নিহিত থাকে যা সম্ভাবনায় ভরপুর এক অবাধ বিশ্বে পরিবর্তন আনতে পারে।
** পৃ. ১৩৪১
* তাহলে সেই নির্দিষ্ট কাজটি কেন একজন উচ্চবিত্ত ইংরেজ ভদ্রলোক করেছিলেন তা নিয়ে কেন আমরা বিচলিত হব? তিনি একজন তেজী যুবক হিসেবে বিশ্বভ্রমণ করেছিলেন, একই সাথে তার প্রিয় কন্যা এবং বিশ্বাস হারিয়েছিলেন, বার্নাকলের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ লিখেছিলেন এবং অবশেষে সাদা দাড়ি রেখে লন্ডনের ঠিক দক্ষিণে একজন গ্রামীণ জমিদার হিসেবে বসবাস করেছিলেন এবং কখনও ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার মতো দূরে ভ্রমণ করেননি। আমরা যত্ন করি সেই একই কারণে যে কারণে আমরা [[w:ওকাপি|ওকাপি]] ভালোবাসি, [[w:ট্রাইলোবাইট|ট্রাইলোবাইট]]ের জীবাশ্ম প্রমাণে আনন্দিত হই এবং [[w:ডোডো|ডোডো]]-র বিলুপ্তিতে শোক করি। আমরা যত্ন করি কারণ যে ব্যাপক ঘটনাগুলো ঘটার কথা ছিল, সেগুলো একটি নির্দিষ্ট উপায়ে ঘটেছে। এবং অবর্ণনীয়ভাবে পবিত্র কিছু আমাদের আবিষ্কার এবং নিশ্চিতকরণের নিচে রয়েছে যা আমাদের বিশ্ব তৈরি করেছে।
** পৃ. ১৩৪২
=== ''ট্রায়াম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি ইন মাডভিল'' (২০০৩) ===
:<small>পৃষ্ঠা নম্বরগুলো ডব্লিউ ডব্লিউ নরটন হার্ডকভার সংস্করণের রেফারেন্স অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।</small>
* আমি আমার নিজের জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোকে বেশিরভাগই ভাগ্যবান আকস্মিকতার একটি সেট হিসেবে দেখি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত মানসিকতা বা পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে আমি জীবাশ্মবিদ হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিলাম না। আমার পূর্ব ইউরোপীয় ইহুদি পটভূমির কোনো পাশেই বৈজ্ঞানিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক পেশার কোনো ঐতিহ্য আমি খুঁজে পাই না। বেসবলের প্রতি আমার আজীবনের প্রতিশ্রুতিকেও আমি ঠিক একইভাবে দেখি: নিছক অসংখ্য দুর্ঘটনার একটি আকস্মিক পরিস্থিতি হিসেবে।
** "সেভেন্থ ইনিং স্ট্রেচ: বেসবল, ফাদার, অ্যান্ড মি", পৃ. ২৯
* আমাদের বিশৃঙ্খল জীবনকে সংখ্যাগত স্থিতিশীলতায় কিছু নোঙর ফেলতে হবে। (সুপারমার্কেটে এক পাউন্ড হ্যামবার্গারের দাম এক ডলারের বেশি হয়ে যাওয়ার ধাক্কা থেকে আমি এখনও সামলে উঠতে পারিনি।)
** "এ টাইম টু লাফ", পৃ. ৮২; মূলত ''দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্না''লে প্রকাশিত (১০ অক্টোবর ২০০১)
* কোনো প্রজাতির ইতিহাস বা কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা যার জন্য সমস্যার বিশ্বে নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা প্রয়োজন, তা ব্যাটিং স্ট্রিকের মতো কাজ করে। জুয়াড়িকে শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া হতে হবে। তার লক্ষ্য কেবল যতক্ষণ সম্ভব টিকে থাকা, কিছু আনন্দ করা এবং সে যদি একজন নৈতিক প্রতিনিধি হয় তবে সম্মানের সাথে পথ চলার চেষ্টা করা।
** "দ্য স্ট্রিক অফ স্ট্রিকস", পৃ. ১৮৬–১৮৭; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত (১৮ আগস্ট ১৯৮৮)
* একটি জাতি হিসেবে আমরা প্রকৃত পৌরাণিক বীর পাওয়ার জন্য খুব ছোট এবং আমাদের অবশ্যই প্রকৃত মানুষদের সেই কাজে নিয়োজিত করতে হবে। কিংবদন্তি লিঙ্কন মানুষ লিঙ্কন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আর তাদের তেমনই হওয়া উচিত। এবং যতক্ষণ তারা স্বতন্ত্র থাকে ততক্ষণ উভয়কেই মূল্যবান মনে করা উচিত। একটি জটিল এবং বিভ্রান্তিকর বিশ্বে খেলাধুলার নিখুঁত স্বচ্ছতা বৈধ এবং দ্ব্যর্থহীন সমর্থন বা অবজ্ঞার জন্য একটি ফোকাস প্রদান করে। ডজার্সরা মন্দ, ইয়াঙ্কিরা ভালো। তারা সত্যিই তাই এবং আমার পরিবারের যে কারও মনে রাখার মতো দীর্ঘ সময় ধরে তারা এমনই আছে।
** "ডায়মন্ডস আর এ ফ্যান'স বেস্ট ফ্রেন্ড", পৃ. ২৪৬–২৪৭; মূলত ''ওয়াশিংটন পোস্ট বুক ওয়ার্ল্ডে'' প্রকাশিত (২১ জুন ১৯৮১)
* পৌরাণিক কাহিনী চমৎকার, আত্মার জন্য মলম স্বরূপ। কিন্তু এর সমস্যাগুলো উপেক্ষা করা যায় না। সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে এটি শারীরিক অসম্ভবতার মূল্যে অনুপ্রেরণা কেনে। সবচেয়ে ভালো ক্ষেত্রে এটি ইতিহাসের সেই একই অদূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে যা এই অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়টিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্রাট এবং যুদ্ধের ধারাবাহিক কাহিনী হিসেবে এত বিরক্তিকর এবং বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিল।
** "বেসবল অ্যান্ড দ্য টু ফেসেস অফ জানুস", পৃ. ২৫৯; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত (১১ অক্টোবর ১৯৯০)
* অন্য কোন জগতে মিথ বা পৌরাণিক কাহিনী এত ক্ষতিকর নয়? মহাযুদ্ধ মানুষকে হত্যা করে এবং পঙ্গু করে; মহান হোমার এবং নো-হিটারগুলো ব্যবহারিক পরিণতি ছাড়াই বিশুদ্ধ আনন্দ বা গভীর ট্র্যাজেডি। জীবন স্বভাবতই অস্পষ্ট; বেসবল খেলা বিশুদ্ধ ভালোর সাথে চরম মন্দের লড়াই ঘটায়। এমনকি সাদ্দাম হোসেনও হয়তো তার জীবনে একটি দয়ার কাজ করেছিলেন, কিন্তু অ্যালুমিনিয়াম ব্যাট বা ডেজিগনেটেড হিটার নিয়মের জন্য কী ভালো কথা বলা যেতে পারে?
** "বেসবল অ্যান্ড দ্য টু ফেসেস অফ জানুস", পৃ. ২৭২; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত ([[১১ অক্টোবর ১৯৯০]])
* আমি এই সত্যটি উপভোগ করি যে আমরা নিউ ইয়র্কবাসীরা মজার ভঙ্গিতে কথা বলি এবং আর্ট ডেকো আকাশচুম্বী ভবনগুলো আমাদের শহরের প্রতীক। তবে বৈচিত্র্যের এই ভালোবাসার সীমা নির্ধারণ করতে হবে। আমি ব্যবহারিক বিষয়ে প্রমিতকরণের প্রয়োজনীয়তা এবং আশীর্বাদ মেনে নেই: আমাদের একটি বিশ্বব্যাপী টেলিফোন ডায়ালিং সিস্টেম এবং জাতীয় মহাসড়কের একটি নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। আমাদের প্রমিতকরণের ডোমেন এবং আঞ্চলিকতার ক্ষেত্র প্রয়োজন, প্রতিটি তার উপযুক্ত স্থানে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতির সাথে যুক্ত। আমি হাইওয়ে ইন্টারচেঞ্জে ম্যাকডোনাল্ডস গ্রহণ করি—কিন্তু আমার জাতিগত রেস্তোরাঁর ছোট পাড়ায় নয়।
** "বেসবল : জয়স অ্যান্ড ল্যামেন্টেশনস", পৃ. ৩০৯; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত ([[৪ নভেম্বর ১৯৯৩]])
* রুচির প্রাক্তন বিচারকরা নিশ্চয়ই অনুভব করেছেন যে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিশুদ্ধ বীরত্বের একটি ধারণা প্রয়োজন। রোল মডেল হিসেবে মনোনীত মানুষদের অবশ্যই সমস্ত গুণের অধিকারী হতে হবে—যার অর্থ ছিল অবশ্যই তাদের প্রকৃত মানব এবং অনিবার্য ত্রুটিপূর্ণ রূপে বর্ণনা করা যাবে না।
** "গুড স্পোর্টস অ্যান্ড ব্যাড", পৃ. ৩২৫; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত ([[২ মার্চ ১৯৯৫]])
* [সাহিত্যে] সাধারণ পরিবর্তনের প্রভাবগুলো সেরা কাজের পরিবর্তনের মাধ্যমে নয় বরং সবচেয়ে সাধারণ দৈনন্দিন বইগুলোর রূপান্তরের মাধ্যমে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে রেকর্ড করা হয়; কারণ যখন সস্তা জনপ্রিয় বইগুলো নতুন শৈলী গ্রহণ করে তখনই বিপ্লব সম্পূর্ণ হয়।
** "গুড স্পোর্টস অ্যান্ড ব্যাড", পৃ. ৩৩৫; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত ([[২ মার্চ ১৯৯৫]])
== গোল্ড সম্পর্কে উক্তি ==
* আমি প্রায়ই পড়তাম, "অমুক আচরণের উদ্দেশ্য হলো তমুক"—অন্য কথায় এই ধারণা যে প্রতিটি আচরণের বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য থাকে। সত্যি কথা বলতে কিছু আচরণের তা থাকে না; যদি সেগুলো জেনেটিকও হয় তবুও টিকে থাকার জন্য সেগুলোকে কেবল বেঁচে থাকার পথের বাইরে থাকতে হয়। তারপর এক বছর বা তারও আগে আমি স্টিফেন জে গোল্ডের একটি বই পড়ি যেখানে তিনি প্রায় একই কথা বলেছেন। একজন জীববিজ্ঞানীকে লিখতে দেখে আমি আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে কিছু জিনিস—শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা আচরণ—আপনাকে মেরে ফেলে না বা বাঁচায় না; সেগুলো হয়তো কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের সাথে চলে আসে যদিও তাদের আসার কোনো প্রয়োজন নেই।
** ১৯৮৮ সালে ''কনভারসেশনস উইথ অক্টাভিয়া বাটলারে'' সাক্ষাৎকার
* স্টিভের সাথে আমার দীর্ঘ বছরের শিক্ষকতা জীবনে আমি তাকে কখনও অপ্রস্তুত হতে বা কথা হারিয়ে ফেলতে দেখিনি—কেবল একবার ছাড়া। "থিঙ্কিং অ্যাবাউট থিঙ্কিং" নামক আমাদের কোর্সে তিনি প্রকৃতির এলোমেলোতা সম্পর্কে একটি বক্তৃতা দিচ্ছিলেন এবং আইনস্টাইনের বিখ্যাত উক্তি "আমি কখনও বিশ্বাস করব না যে ঈশ্বর বিশ্বের সাথে পাশা খেলেন" উল্লেখ করেছিলেন। আমি ব্ল্যাকবোর্ডে গিয়ে লিখেছিলাম, "গোল্ড নাকি ঈশ্বর?" তারপর আমি যুক্তি দিয়েছিলাম যে আইনস্টাইন যেমন বলেছেন যদি ঈশ্বর মহাবিশ্বের সাথে পাশা না খেলেন এবং গোল্ড যেমন বলেছেন মহাবিশ্ব যদি পাশার চালের মতো এলোমেলো হয় তবে কোনো ঈশ্বর থাকতে পারেন না। সুতরাং গোল্ড নাকি ঈশ্বর? (বা অন্তত গোল্ড নাকি আইনস্টাইন?) তারপর আমি বসে পড়লাম স্টিভকে চ্যালেঞ্জের উত্তর দেওয়ার জন্য। তিনি উঠে ব্ল্যাকবোর্ডের শব্দগুলোর দিকে তাকালেন। তিনি দ্বিধা করলেন, চিন্তা গুছিয়ে নিলেন এবং তারপরে ঈশ্বরের পক্ষে এত চমৎকার প্রতিরক্ষা শুরু করলেন যে এমনকি উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ানও গর্বিত হতেন। তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম গোল্ড কত বড় আইনজীবী হতে পারতেন। আর ঈশ্বরের কথা বললে... ?
** [[অ্যালান ডারশোভিৎজ]], [http://www.stephenjaygould.org/library/naturalhistory_sjgould.html "দিস ভিউ অফ স্টিফেন জে গোল্ড"] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি'' '''১০৮''' (নভেম্বর ১৯৯৯): ৫০–৫১।
* কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির জীবাশ্মবিদ্যার স্নাতক প্রোগ্রামে স্টিভ দ্বিতীয় বর্ষের সাত-আটজন ছাত্রের একজন ছিল। আমি কলেজের সিনিয়র ছিলাম এবং তাদের সাথে সময় কাটাতে চাইতাম। আমরা দারুণ সময় কাটিয়েছি এবং পৃথিবীর সবচেয়ে চমৎকার কিছু জীবাশ্ম সংগ্রহ করেছি। কিন্তু স্টিভ আমার চোখে সবার নজর কেড়েছিল: পড়ে থাকা হাজার হাজার শামুকের নমুনার মধ্যে সে একমাত্র অস্বাভাবিক নমুনাটি খুঁজে পেয়েছিল যা তার প্রাথমিক প্রবন্ধগুলোর একটিতে স্থান পেয়েছিল। লোকটির চোখ ছিল অসাধারণ। স্টিভ সম্পর্কে আমার সাধারণ কথা হলো আমি তার মতো পরিশ্রমী এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তি আর কখনও দেখিনি। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকেও এটি সত্য ছিল যখন আমি এবং আমার স্ত্রী কেমব্রিজে গোল্ডদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। রাতের খাবার শেষ হলে আমরা ঘুমাতে গেলাম কিন্তু আমি যখন ঘুমে ঢলে পড়ছিলাম তখন আমি স্টিভের এখনকার বিখ্যাত ম্যানুয়াল টাইপরাইটারের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম কারণ সে একটি পর্যালোচনা লিখছিল। ম্যান, সেই লোকটি প্রচুর সময় দিতে পারত।
** [[নাইলস এলড্রেজ]], [http://www.stephenjaygould.org/library/naturalhistory_sjgould.html "দিস ভিউ অফ স্টিফেন জে গোল্ড"] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি'' '''১০৮''' (নভেম্বর ১৯৯৯): ৫০।
* স্টিভ অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং উদ্ভাবনী। সে জীবাশ্মবিদ্যা এবং বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান পুরোপুরি বোঝে। মানুষকে বিরতিহীন ভারসাম্য সম্পর্কে চিন্তা করানোর ক্ষেত্রে সে এক বিশাল সেবা করেছে। যেহেতু সবসময় মিউটেশন হয় তবে কেন জিনিসগুলো ক্রমাগত পরিবর্তিত হয় না? আপনাকে হয় বলতে হবে যে বিশেষ রূপটি অত্যন্ত অভিযোজিত এবং একটি স্থিতিশীল পরিবেশে বিদ্যমান অথবা আপনাকে খুব বিভ্রান্ত হতে হবে। স্টিভ সেই অর্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টিভের সাথে কথা বলা বা তার বক্তৃতা শোনা অনেকটা আপনার চেয়ে ভালো কারোর সাথে টেনিস খেলার মতো। এটি আপনাকে আপনার ক্ষমতার চেয়ে ভালো খেলা খেলতে বাধ্য করে। বছরের পর বছর ধরে স্টিভ জীববিজ্ঞানের শৃঙ্খলার কারণ খুঁজে পেতে চেয়েছে সবকিছু ব্যাখ্যা করার জন্য নির্বাচনের আশ্রয় না নিয়ে। নির্বাচনের গুরুত্ব আমরা সবাই জানলেও সে নির্বাচনের বাইরে সেই প্রাকৃতিক শৃঙ্খলার উৎস খুঁজে পেতে চেয়েছে।
** [[স্টুয়ার্ট কফম্যান]], জন ব্রকম্যান সম্পাদিত [http://www.edge.org/documents/ThirdCulture/i-Ch.2.html ''দ্য থার্ড কালচার''], নিউ ইয়র্ক: টাচস্টোন, ১৯৯৬, পৃ. ৬৪-৬৫।
* অনেক বিবর্তনীয় বিজ্ঞানী মনে করেন যে গোল্ডের লেখনি ডারউইনীয় চিন্তাধারার জনবোঝাপড়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুতর বাধা।
** রবার্ট রাইট, নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুকস, [https://www.nybooks.com/articles/1997/08/14/darwinian-fundamentalism-an-exchange/ ১৪ আগস্ট ১৯৯৭]
* আপনি যদি বিবর্তন নিয়ে কিছুটা সময় পড়াশোনা করেন তবে এটি খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন নয় যে গোল্ড হলেন তার বিষয়ের [[জন কেনেথ গ্যালব্রেইথ]]। অর্থাৎ তিনি একজন চমৎকার লেখক যাকে সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীরা ভালোবাসেন এবং মিডিয়া তাকে সিংহের মতো মর্যাদা দেয় কারণ তিনি বীজগণিত বা কঠিন পরিভাষা ব্যবহার করেন না। দুর্ভাগ্যবশত মনে হচ্ছে তিনি এই কাজগুলো এড়িয়ে চলেন কারণ তিনি তার সহকর্মীদের ছাড়িয়ে গেছেন তা নয় বরং তারা কী বলতে চায় তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলে মনে হয়; এবং ক্ষেত্রটি কী সম্পর্কে তার নিজস্ব বর্ণনা—কেবল উত্তর নয় এমনকি প্রশ্নগুলোও—ক্রমাগত বিভ্রান্তিকর।
** [[পল ক্রুগম্যান]], [http://www.pkarchive.org/theory/evolute.html হোয়াট ইকোনমিস্টস ক্যান লার্ন ফ্রম ইভোলিউশনারি থিওরিস্টস]
* স্টিভ যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছেন তার বেশিরভাগই ছিল বিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং পণ্যের জটিলতা ও বৈচিত্র্যের দৃষ্টান্ত। তিনি যে বিষয়ে লিখেছেন তার অগাধ বৈচিত্র্য সত্ত্বেও নিচে একটি ঐক্যবদ্ধ থিম ছিল: জীবিত বিশ্বের জটিলতাকে কিছু মহৎ সাধারণ নীতির প্রকাশ হিসেবে দেখা যাবে না, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে শুরু থেকে পরীক্ষা করে কারণের পথ হিসেবে বুঝতে হবে।
** [[রিচার্ড লিওয়ানটিন]] এবং [[w:রিচার্ড লেভিন্স|রিচার্ড লেভিন্স]], [http://www.monthlyreview.org/1102lewontin.htm "স্টিভেন জে গোল্ড: হোয়াট ডাজ ইট মিন টু বি এ র্যাডিকাল?"] (শোকগাথা), ''মান্থলি রিভিউ'', [[অলিভার স্যাক্স]] সম্পাদিত ''দ্য বেস্ট আমেরিকান সায়েন্স রাইটিং ২০০৩''-এ পুনর্মুদ্রিত, পৃ. ২৪৭।
* স্টিভের লেখার মধ্যে যা বিশেষভাবে আনন্দদায়ক তা হলো নিপুণতা যার মাধ্যমে তিনি তার যুক্তিগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন বিষয়গুলোকে সংযুক্ত করেন। সঠিক হোক বা ভুল স্টিভ সবসময় উদ্দীপক এবং এখানেই হয়তো তিনি তার সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন—হাজার হাজার এমনকি লক্ষ লক্ষ পাঠকের মধ্যে আমাদের এই চমৎকার জগতের গোপনীয়তার প্রতি উৎসাহ জাগিয়ে তোলা।
** [[আর্নস্ট মেয়ার]], [http://www.stephenjaygould.org/library/naturalhistory_sjgould.html "দিস ভিউ অফ স্টিফেন জে গোল্ড"] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি'' '''১০৮''' (নভেম্বর ১৯৯৯): ৫৪।
* স্টিফেন জে গোল্ডের সাথে আমার প্রথম দেখা হয় নিউ ইয়র্কের কুইন্সে ষষ্ঠ শ্রেণীতে যখন আমরা স্কুলের একমাত্র দুই জন ছাত্র ছিলাম যারা প্রাকৃতিক ইতিহাস এবং বিশেষ করে ডাইনোসরের প্রতি আগ্রহী ছিলাম। জুনিয়র হাই স্কুলে আমাদের সহপাঠীরা আমার ডাকনাম দিয়েছিল "ডিনো" এবং গোল্ডের নাম দিয়েছিল "ফসিলফেস"। আমরা আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে অনেক বিকেল কাটিয়েছি। পঁচিশ বছর আমাদের যোগাযোগ ছিল না এবং একদিন ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে স্টিভের কলাম দেখে আমি আনন্দিত হয়েছিলাম। স্টিভ আমাকে আমার শৈশবের আগ্রহগুলোতে ফিরে আসতে উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি আমাকে একজন স্বাধীন পণ্ডিত হিসেবে বিজ্ঞানের ইতিহাস চর্চা করতে এবং ইংল্যান্ডে ডারউইনের বাড়িতে তীর্থযাত্রা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি শীর্ষ পণ্ডিতদের কাছে আমার পরিচয়পত্র দিয়েছিলেন। অবশেষে তিনি আমাকে এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইভোলিউশন লিখতে উৎসাহিত করেছিলেন যাতে তিনি উদারভাবে একটি প্রস্তাবনা লিখেছিলেন। ১৯৯০ সালে এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই আমাকে ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মানুষটির সাথে এবং আমরা দুজনেই উপভোগ করি এমন আবেগ ও ধারণার সাথে আমার পুনর্যোগাযোগ আমার জীবনকে অপরিসীম উন্নত করেছে। ধন্যবাদ ফসিলফেস!
** রিচার্ড মিলনার, [http://www.stephenjaygould.org/library/naturalhistory_sjgould.html "দিস ভিউ অফ স্টিফেন জে গোল্ড"] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি'' '''১০৮''' (নভেম্বর ১৯৯৯): ৫৬–৫৭।
* [[নাইলস এলড্রেজ|এলড্রেজ]] এবং গোল্ড এবং তাদের অনেক সহকর্মী বিবর্তনের প্রকৃত কর্মকাণ্ড কোথায় সে সম্পর্কে অবিশ্বাস্য অজ্ঞতা কোডিফাই করার প্রবণতা দেখান কারণ তারা স্বার্থের ক্ষেত্রকে কেবল প্রাণীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন... বিবর্তনীয় দৃশ্যে অনেক দেরিতে আসেন এবং তারা বিবর্তনের সৃজনশীলতার প্রধান উৎস সম্পর্কে আমাদের খুব কম অন্তর্দৃষ্টি দেন।
** [[লিন মারগুলিস]], জন ব্রকম্যান সম্পাদিত ''দ্য থার্ড কালচার: বিয়ন্ড দ্য সাইন্টিফিক রেভোলিউশন'' (১৯৯৫)
* আমি বিজ্ঞানী হিসেবে গোল্ডের শক্তি সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলতে পারি না তবে দীর্ঘ সময় ধরে আমি তাকে বিজ্ঞানের দ্বিতীয় সবচেয়ে প্রভাবশালী ইতিহাসবিদ হিসেবে বিবেচনা করেছি।
** রোনাল্ড নাম্বারস, [[মাইকেল শারমার|মাইকেল শারমারে]] উদ্ধৃত, [http://www.stephenjaygould.org/library/shermer_sjgould.pdf "দিস ভিউ অফ সায়েন্স"] ''সোশ্যাল স্টাডিজ অফ সায়েন্স'' ৩২/৪ (আগস্ট ২০০২): ৪৯২।
* স্টিফেন জে গোল্ডের কাজের সাথে আমার পরিচয় ১৯৭০-এর দশকে যখন আমি আগ্রহের সাথে ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি''-তে তাঁর সমস্ত নিবন্ধ পড়তাম। ১৯৯০ সালে যখন আমাকে একটি লন্ডন সংবাদপত্র থেকে আমার প্রিয় বইয়ের নাম বলতে বলা হয়েছিল তখন আমি ''ওয়ান্ডারফুল লাইফ'' নির্বাচন করেছিলাম; এর ফলে স্টিফেনের কাছ থেকে আমি একটি চিঠি পাই এবং আমাদের মধ্যে ঘন ঘন এবং বিশাল পত্রালাপ শুরু হয়। ১৯৯৩ সালে আমি বিশেষত্বকে সাধারণতার সাথে যুক্ত করার উপায় সম্পর্কে লিখেছিলাম এবং তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: "আমি দীর্ঘকাল ধরে একই উত্তজনা অনুভব করেছি আমার নিবন্ধগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তিগত জিনিসের প্রতি আমার আনন্দ এবং আমার আরও প্রযুক্তিগত লেখার মাধ্যমে সাধারণতার প্রতি আমার আগ্রহকে মেটানোর চেষ্টা করেছি।" স্টিভ এখন একজন ভালো বন্ধুর পাশাপাশি একজন সহকর্মী—আমরা একসাথে ডিনার করি, রাস্তায় হাঁটি, একসাথে যাদুঘর এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাই। তিনি একজন মুগ্ধকর সঙ্গী এবং সেই সাথে একজন প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি এবং তাঁর অনন্য প্রবন্ধে উভয় দিকই ফুটে উঠেছে।
** [[অলিভার স্যাক্স]], [http://www.stephenjaygould.org/library/naturalhistory_sjgould.html "দিস ভিউ অফ স্টিফেন জে গোল্ড"] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি'' '''১০৮''' (নভেম্বর ১৯৯৯): ৫৫–৫৬।
* যদিও [[জে বি এস হ্যালডেন|হ্যালডেন]] জীবাশ্ম রেকর্ডের আগের এবং ভুল জীবাশ্মবিদ্যার ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছিলেন, তবুও বিবর্তনের গতি ধীর এবং অবিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিবর্তে দ্রুত এবং আপাতদৃষ্টিতে বিরতিহীন ছিল এমন সামগ্রিক বিশ্বাসে তিনি তিন দশক আগেই [[w:বিরতিহীন ভারসাম্য|বিরতিহীন ভারসাম্য]] মডেলের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যা নাইলস এলড্রেজ এবং স্টিফেন জে গোল্ড দ্বারা প্রস্তাবিত হয়েছিল।
** [[w:জেফ্রি এইচ সোয়ার্টজ|জেফ্রি এইচ সোয়ার্টজ]], ''সাডেন অরিজিনস: ফসিলস, জিনস, অ্যান্ড দ্য এমারজেন্স অফ স্পিসিস'' (১৯৯৯)
* গোল্ড একটি বরং কৌতূহলী অবস্থানে আছেন। তাঁর প্রবন্ধের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তিনি অ-জীববিজ্ঞানীদের কাছে বিবর্তনীয় তাত্ত্বিক হিসেবে গণ্য হয়েছেন। এর বিপরীতে যেসব বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানীদের সাথে আমি তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা করেছি তারা তাঁকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখেন যাঁর ধারণাগুলো এতটাই বিভ্রান্তিকর যে খুব একটা পাত্তা দেওয়ার মতো নয়। এই সবের কোনো গুরুত্ব থাকত না যদি না তিনি অ-জীববিজ্ঞানীদের বিবর্তনীয় তত্ত্বের অবস্থা সম্পর্কে একটি ভুল চিত্র দিতেন।
** [[জন মেনার্ড স্মিথ]], [http://www.nybooks.com/articles/1703 "জিনস, মেমস, অ্যান্ড মাইন্ডস"], ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুকস'', [[৩০ নভেম্বর ১৯৯৫]]।
* গোল্ড এবং [[নাইলস এলড্রেজ|এলড্রেজ]]ের মতে অনেক লিঙ্ক নিখোঁজ হওয়ার কারণ হলো সেগুলো আসলে নেই। তারা মনে করেন যে জৈবিক বিবর্তন "বিরতিহীন ভারসাম্যের" ধারাবাহিক পর্যায়ে অগ্রসর হয়। জীবন্ত প্রজাতিগুলো অত্যন্ত দীর্ঘ সময়ের জন্য অপরিবর্তিত থাকবে এবং তারপরে তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের মধ্যে গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিবর্তন অনেকটা "[[w:পারমাণবিক ইলেকট্রন রূপান্তর|কোয়ান্টাম জাম্প]]ের" মতো ঘটে। খুব সম্ভবত প্রাণের স্ফুরণ ঘটেছিল প্রথম এমন কোনো একটি জাম্পের সময়।
** [[w:ত্রিন জুয়ান থুয়ান|ত্রিন জুয়ান থুয়ান]], ''কেওস অ্যান্ড হারমনি'' (২০০১)
* আমাদের মধ্যে অনেক তাত্ত্বিক বিজ্ঞানী যারা স্টিফেন জে গোল্ডকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন তারা মনে করতেন তিনি কিছুটা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারক ছিলেন কারণ তাঁর এমন শব্দ তৈরি করার প্রতিভা ছিল যা তাদের ক্ষমতার চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দিত। একটি উদাহরণই যথেষ্ট—"বিরতিহীন ভারসাম্য" বা পাঙ্কচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়ামের ধারণা।
** [[রবার্ট ট্রিভার্স]], [https://www.psychologytoday.com/gb/blog/the-folly-fools/201210/fraud-in-the-imputation-fraud "ফ্রড ইন দ্য ইমপিউটেশন অফ ফ্রড: দ্য মিস-মেজার অফ স্টিফেন জে গোল্ড"], ''সাইকোলজি টুডে'', ৪ অক্টোবর ২০১২।
=== ''[[w:দ্য মিসমেজার অফ ম্যান|দ্য মিসমেজার অফ ম্যান]]'' ===
==== সমালোচনা ====
* এমন একটি বই যা তার নিজস্ব থিসিসের উদাহরণ দেয়। এটি প্রচারণার একটি মাস্টারপিস যা জ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে লেখার পরিবর্তে একটি দৃষ্টিভঙ্গির সেবায় গবেষণা করা হয়েছে।
** [[w:স্টিভ ব্লিঙ্কহর্ন|স্টিভ ব্লিঙ্কহর্ন]], [https://www.nature.com/articles/296506a0 "হোয়াট স্কালডাগারি?"], ''নেচার'' ২৯৬ (৮ এপ্রিল ১৯৮২): ৫০৬।
* প্রতারণার একটি মাস্টারপিস
** রিচার্ড লিন কর্তৃক [[w:ক্রিস ব্র্যান্ড|ক্রিস ব্র্যান্ড]]ের উক্তি হিসেবে উল্লিখিত, [https://www.amren.com/news/2018/12/stephen-jay-gould-scientist-service-ideology-richard-lynn/ ২০০২]
* অপ্রতিরোধ্য প্রমাণকে অবহেলা করার মতো পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিকে কীভাবে বিশ্বাস করা যায়?
** [[w:হ্যান্স আইসেঙ্ক|হ্যান্স জে আইসেঙ্ক]], ''ইন্টেলিজেন্স: এ নিউ লুক''। পৃ. ৯৪
* এস জে গোল্ডের ''মিসমেজার অফ ম্যান'' হলো মনোবিজ্ঞানীরা কী ভাবেন সে সম্পর্কে একজন জীবাশ্মবিদের বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি যা বিজ্ঞানের সবচেয়ে প্রাথমিক তথ্যগুলো সম্পর্কেও অজ্ঞ। গোল্ড হলেন বেশ কিছু রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত বিজ্ঞানীদের একজন যারা মনোবিজ্ঞানীরা বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে কী করছেন সে সম্পর্কে জনগণকে ক্রমাগত বিভ্রান্ত করেছেন। গোল্ড কেবল সেই অনস্বীকার্য তথ্যগুলো উল্লেখ করতে অস্বীকার করেন যা তাঁর রাজনৈতিকভাবে সঠিক সংস্করণের সাথে খাপ খায় না; তিনি নির্লজ্জভাবে সেই বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের সম্মানে আঘাত করেন যাদের তিনি পছন্দ করেন না।
** [[w:হ্যান্স আইসেঙ্ক|হ্যান্স আইসেঙ্ক]]: "ইন্টেলিজেন্স: এ নিউ লুক"
* রিফিকেশন বা বাস্তবায়ন সম্পর্কে গোল্ডের যুক্তি ক্ষেত্রের দার্শনিক ভিত্তিকে আঘাত করার দাবি করে। তিনি দাবি করেন যে সাধারণ বুদ্ধিমত্তা কেবল একটি গাণিতিক বিমূর্ততা; তাই আমরা যদি এটিকে একটি পরিমাপযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করি তবে আমরা এটিকে "বস্তু" বা "জিনিসে" রূপান্তরিত করছি। এখানে তিনি নিজের জন্য একটি গভীর গর্ত খুঁড়েছেন... প্রকৃতপক্ষে এই পুরো যুক্তিটি কাল্পনিক। বিজ্ঞানী "ভৌত জিনিস" পরিমাপ করেন না: তিনি বৈশিষ্ট্য (যেমন দৈর্ঘ্য বা ভর) পরিমাপ করেন। একটি বিশেষ জটিল সংগ্রহ মস্তিকে কিছু বৈশিষ্ট্য (অর্থাৎ নির্দিষ্ট কাজ) সংকীর্ণভাবে স্থানীয় অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া গেছে।
** [[w:বার্নার্ড ডেভিস|বার্নার্ড ডেভিস]], "নিও-লাইসেঙ্কোবাদ, আইকিউ, অ্যান্ড দ্য প্রেস", পৃ. ৭৩
* [গোল্ডের] ঐতিহাসিক বর্ণনা অত্যন্ত সিলেক্টিভ বা বাছাইকৃত; তিনি বিজ্ঞানের অ-বস্তুনিষ্ঠতা দাবি করেন যাতে তিনি নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের মানদণ্ড দ্বারা বৈজ্ঞানিক সত্য পরীক্ষা করতে পারেন। বাস্তবে আমরা এখানে লাইসেঙ্কোবাদের পুনরুত্থান দেখতে পাচ্ছি: একটি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রকে নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা কারণ এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদের সাথে সাংঘর্ষিক।
** [[w:বার্নার্ড ডেভিস|বার্নার্ড ডেভিস]], "নিও-লাইসেঙ্কোবাদ, আইকিউ, অ্যান্ড দ্য প্রেস", পৃ. ৭৩
* আমার নিজের কাজের রেফারেন্সে গোল্ড অন্তত নয়টি [[উদ্ধৃতি]] অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা কেবল গোল্ডের মতামতের প্রকাশ নয়; এই উদ্ধৃতিগুলোতে গোল্ড আমার মতামত ব্যাখ্যা করেছেন। তবুও নয়টি ক্ষেত্রের মধ্যে আটটিতেই গোল্ডের এই মতামতগুলোর উপস্থাপনা মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা স্থূলভাবে ব্যঙ্গাত্মক। বিশেষজ্ঞরা না হলে উদ্ধৃত উৎসগুলো না পড়ে কারও পক্ষে এটি জানার কোনো উপায় নেই। গোল্ডের ব্যাখ্যাগুলো ধারাবাহিকভাবে তাঁর নিজের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তির্যকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
** [[আর্থার জেনসেন]], [http://www.mugu.com/cgi-bin/Upstream/jensen-gould-fossils "দ্য ডিবানিং অফ সাইন্টিফিক ফসিলস অ্যান্ড স্ট্র পারসনস"]
* বইটির সমস্ত রেফারেন্সের মধ্যে ২৭ শতাংশ ১৯০০ সালের আগের। অন্য ৪৪ শতাংশ ১৯০০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে এবং কেবল ২৯ শতাংশ ১৯৫০ সালের পরের। এক শতাব্দীরও বেশি সময় বিস্তৃত সামগ্রিক সাহিত্য থেকে গোল্ডের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কয়েকটি "খারাপ উদাহরণ" হাতে বেছে নেওয়া হয়েছে।
** [[আর্থার জেনসেন]], [http://www.mugu.com/cgi-bin/Upstream/jensen-gould-fossils "দ্য ডিবানিং অফ সাইন্টিফিক ফসিলস অ্যান্ড স্ট্র পারসনস"]
* আমি কেবল গোল্ডকে বিশ্বাস করিনি... আমার মনে হয়েছিল তাঁর আদর্শিক অবস্থানই সর্বোপরি। যখন ১৯৯৬ সালের 'দ্য মিসমেজার অফ ম্যান' সংস্করণটি এল এবং তিনি মাইকেলের [জন এস মাইকেল] গবেষণার কথা উল্লেখ করারও প্রয়োজন বোধ করেননি তখন আমার মনে হয়েছিল তিনি একজন ভণ্ড।
** [[w:র্যালফ হলোওয়ে|র্যালফ এল হলোওয়ে]], [https://www.nytimes.com/2011/06/14/science/14skull.html ২০১১]
* স্টিভের ত্রুটিগুলো অত্যন্ত বিস্তৃত এবং পক্ষপাতিত্ব খুব গুরুতর। একটি সতর্ক পুনবিশ্লেষণ দেখায় যে তাঁর লক্ষ্য অনবদ্য হলেও তাঁর নিজের আক্রমণটি সেই সমস্ত উপায়ে পক্ষপাতদুষ্ট যা গোল্ড তাঁর শিকারের ওপর আরোপ করেছেন।
** [[রবার্ট ট্রিভার্স]], [https://www.psychologytoday.com/gb/blog/the-folly-fools/201210/fraud-in-the-imputation-fraud "ফ্রড ইন দ্য ইমপিউটেশন অফ ফ্রড: দ্য মিস-মেজার অফ স্টিফেন জে গোল্ড"], ৪ অক্টোবর ২০১২।
==== প্রশংসা ====
* ১৯৮১ সালে যখন এটি প্রকাশিত হয় তখন ''দ্য মিসমেজার অফ ম্যান'' অবিলম্বে একটি শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল যা সেই সব লোকদের জন্য একটি দাঁতভাঙ্গা জবাব যারা মানুষকে তাদের তথাকথিত জেনেটিক উপহার এবং সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী শ্রেণীবদ্ধ করতে চায়। স্টিফেন জে গোল্ড এই সংস্করণে ''দ্য বেল কার্ভের'' যুক্তিগুলোকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে খণ্ডন করেছেন। এই বইটিকে আমাদের বর্তমান সামাজিক দুঃখকষ্টের ছদ্ম-জৈবিক ব্যাখ্যাগুলোকে নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে একটি প্রধান অবদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
** ১৯৯৬ সালের পেপারব্যাক সংস্করণের পিছনের কভারে ১৯৮১ সালের সংস্করণের জন্য [[w:লিওন জে কামিন|লিওন জে কামিন]]ের উক্তি
* তিনি পরিমাপকারীদের একটি মৌলিক হাতিয়ার—''ফ্যাক্টর অ্যানালাইসিস'' নামক পরিসংখ্যানগত কৌশল—মোকাবিলা করেন এবং প্ররোচনামূলকভাবে প্রদর্শন করেন যে কীভাবে ফ্যাক্টর অ্যানালাইসিস কারণের সাথে সহ-সম্পর্ককে গুলিয়ে ফেলার প্রধান ত্রুটির দিকে নিয়ে যায়। এই ধরণের পারফরম্যান্সই বইটিকে শক্তিশালী করে তোলে।
** ক্রিস্টোফার লেহম্যান-হাউপট, [http://www.nytimes.com/books/97/11/09/home/gould-mismeasure.html "বুকস অফ দ্য টাইমস"] ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'', [[৯ নভেম্বর ১৯৯৭]], পৃ. C29
* একটি বিরল বই—একই সাথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পড়ার জন্য চমৎকার... গোল্ড বৈজ্ঞানিক বর্ণবাদের একটি আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক অধ্যয়ন উপস্থাপন করেছেন। তিনি প্রতিটি পয়েন্টে তত্ত্বগুলোর যৌক্তিক অসঙ্গতি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের পক্ষপাতদুষ্ট অপব্যবহার চিত্রিত করেছেন... বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে একটি প্রধান সংযোজন।
** ''স্যাটারডে রিভিউ'', লন্ডন
* সাইকোমেট্রিক্সের বিপর্যয়কর ইতিহাসের বিষয়ে স্টিফেন গোল্ডের বর্ণনার মহান গুণ হলো তিনি পরিবেশবাদী এবং বংশগতিবাদীদের মধ্যে একটি নিরর্থক লড়াই থেকে যুক্তিটিকে সরিয়ে নিয়েছেন।
** ''সানডে টাইমস'', লন্ডন
* গোল্ডের বিশ্লেষণের শক্তি তাঁর বিশেষত্বের ওপর ফোকাসের মধ্যে নিহিত। সামাজিক বৈষম্যকে ন্যায়সঙ্গত করার লক্ষ্যে সমস্ত "বৈজ্ঞানিক" প্রচেষ্টার একটি মহৎ সমালোচনার পরিবর্তে গোল্ড তত্ত্ব এবং অভিজ্ঞতামূলক দাবির একটি নির্দিষ্ট সেটের ওপর ভিত্তি করে ত্রুটিগুলোর একটি সুচিন্তিত মূল্যায়ন করেন।
** রিচার্ড ইয়র্ক এবং ব্রেট ক্লার্ক, [http://www.monthlyreview.org/0206yorkclark.htm "ডিবানিং অ্যাজ পজিটিভ সায়েন্স"], ''মান্থলি রিভিউ'' ৫৭:৯, ফেব্রুয়ারি ২০০৬
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
* [http://www.stephenjaygould.org অনানুষ্ঠানিক স্টিফেন জে গোল্ড আর্কাইভ]
* [http://prelectur.stanford.edu/lecturers/gould/ স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গোল্ডের বক্তৃতার অংশবিশেষ]
* [http://www.findarticles.com/p/articles/mi_m1132/is_6_54/ai_94142087 রিচার্ড সি লিওয়ানটিন গোল্ডের কর্মজীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন]
* [http://www.nybooks.com/articles/1151 "ডারউইনিয়ান ফান্ডামেন্টালিজম"] - ড্যানিয়েল ডেনেট এবং অন্যান্য সমালোচকদের প্রতি গোল্ডের প্রতিক্রিয়া
* [http://www.annonline.com/interviews/961009/ গোল্ডের সাথে অনলাইন অডিও সাক্ষাৎকার] (অ্যান অনলাইন)
* [http://www.antievolution.org/projects/mclean/new_site/pf_trans/mva_tt_p_gould.html ম্যাকলিন বনাম আরকানসাস ক্রিয়েশনিজম ট্রায়াল]: গোল্ডের সাক্ষ্যের প্রতিলিপি
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জীবাশ্মবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:সংশয়বাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজ্ঞেয়বাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০০২-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:নিউ ইয়র্ক সিটির ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জীববিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জীবনীকার]]
[[বিষয়শ্রেণী:ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ম্যাকআর্থার ফেলো]]
[[বিষয়শ্রেণী:হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
[[বিষয়শ্রেণী:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
7njuvpqxnioan7ubi351g3r2lhcx0fo
83245
83236
2026-05-01T17:50:46Z
Dr. Mosaddek Khondoker
2987
83245
wikitext
text/x-wiki
'''[[w:স্টিফেন জে গুল্ড|স্টিফেন জে গুল্ড]]''' (১০ সেপ্টেম্বর ১৯৪১ – ২০ মে ২০০২) ছিলেন একজন মার্কিন [[ভূতাত্ত্বিক]], [[জীবাশ্মবিজ্ঞান|জীবাশ্মবিদ]], বিবর্তনীয় [[জীববিজ্ঞানী]] এবং জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক। তিনি তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে কাটিয়েছেন। এছাড়া তিনি নিউইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে কাজ করতেন। তিনি তার প্রজন্মের জনপ্রিয় বিজ্ঞানের অন্যতম প্রভাবশালী এবং বহুল পঠিত লেখক ছিলেন।
== উক্তি ==
* আইনস্টাইনের মস্তিষ্কের ওজন এবং ভাঁজগুলোর প্রতি আমার আগ্রহ কিছুটা কম। বরং সমপরিমাণ প্রতিভাবান মানুষেরা তুলার ক্ষেত এবং কারখানায় জীবন কাটিয়ে মারা গেছেন, এই প্রায় নিশ্চিত সত্যটি আমাকে বেশ ভাবায়।
** [https://books.google.com/books?id=-lWtVSZoqWkC&pg=PA776 "ওয়াইড হ্যাটস অ্যান্ড ন্যারো মাইন্ডস"] ''নিউ সায়েন্টিস্ট'' ৮ মার্চ ১৯৭৯, পৃষ্ঠা ৭৭৭। ''দ্য পান্ডাস থাম্ব'' বইয়ে পুনর্মুদ্রিত, [https://books.google.com/books?id=z0XY7Rg_lOwC&pg=PA151 পৃষ্ঠা ১৫১]।
* তাই আমাদের উচিত অনুগ্রহ ও আশাবাদের সাথে নোমার দৃঢ় দাবীকে গ্রহণ করা। নৈতিকতা ও অর্থ নিয়ে মানুষের এই সংগ্রামের ব্যক্তিগত চরিত্রকে স্বীকার করতে হবে। প্রকৃতির গঠনের মধ্যে নির্দিষ্ট উত্তরের সন্ধান বন্ধ করতে হবে। অনেক মানুষ প্রকৃতিকে একটি "পরিবর্তনশীল বস্তু" হিসেবে ছেড়ে দিতে পারে না। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের স্বস্তির জন্য শিশুর উষ্ণ কম্বলের মতো। আমরা যখন এটি করব (কারণ আমাদের তা করতেই হবে), প্রকৃতি অবশেষে তার আসল রূপে আবির্ভূত হতে পারবে। এটি আমাদের প্রয়োজনের বিকৃত আয়না হিসেবে নয়, বরং আমাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সঙ্গী হিসেবে দেখা দেবে। কেবল তখনই আমরা আমাদের আলাদা ম্যাজিস্টিরিয়া দ্বারা তৈরি টুকরোগুলোকে প্রজ্ঞা নামক একটি সুন্দর এবং সুসংহত কাঁথায় একত্রিত করতে পারব।
** ''রকস অফ এজেস: সায়েন্স অ্যান্ড রিলিজিয়ন ইন দ্য ফুলনেস অফ লাইফ'' (ব্যালান্টাইন, ১৯৯৯), পৃষ্ঠা ১৭৮
* ঈশ্বর সমস্ত মূল্যবান ছোট উদাহরণ এবং তাদের ধারাবাহিক প্রভাবগুলোকে আশীর্বাদ করুন। ওক গাছের ব্লুপ্রিন্ট বহনকারী এই ছোট অ্যাকর্ন বা রত্নগুলো ছাড়া প্রবন্ধকারদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেত।
** ''কোয়েশ্চেনিং দ্য মিলেনিয়াম'' (দ্বিতীয় সংস্করণ, হারমনি, ১৯৯৯), পৃষ্ঠা ৪২
* মানব বিবর্তনে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। ৪০,০০০ বা ৫০,০০০ বছরে মানুষের মধ্যে কোনো জৈবিক পরিবর্তন হয়নি। আমরা যাকে সংস্কৃতি এবং সভ্যতা বলি, তার সবকিছুই আমরা একই শরীর এবং মস্তিষ্ক দিয়ে তৈরি করেছি।
**"[https://web.archive.org/web/20191103111841/http://www.stephenjaygould.org/library/gould_spice-of-life.pdf দ্য স্পাইস অফ লাইফ]", সাক্ষাৎকার, ''লিডার টু লিডার'' (ইস্যু ১৫, ২০০০), পৃষ্ঠা ১৪ থেকে ১৯
* আমরা যখন জীবনের একইভাবে বিস্তৃত ও মৌলিক দিকগুলোর সমগ্রতা বিবেচনা করি, তখন আমরা বস্তুনিষ্ঠ শৃঙ্খলার প্রাকৃতিক নীতি হিসেবে দুই ভাগে ভাগ করাকে সমর্থন করতে পারি না। প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্বের "উপাদান" প্রায়ই আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোতে জটিল এবং ছায়াযুক্ত ধারাবাহিকতা হিসেবে আঘাত করে। পথের ধারে দ্রুত এবং ধীর মুহূর্ত এবং বড় ও ছোট পদক্ষেপগুলোর কথা স্বীকার করতেই হয়। প্রকৃতি দ্বৈততা, ত্রিত্ব, চতুর্থাংশ বা মানব শ্রেণিবিন্যাসের জন্য কোনো "উদ্দেশ্যমূলক" ভিত্তি নির্দেশ করে না। আমাদের বেছে নেওয়া বেশিরভাগ স্কিম এবং বিভাগগুলোর নির্ধারিত সংখ্যা স্থান থেকে স্থানে প্রাকৃতিক প্রকরণ দ্বারা দেওয়া সম্ভাবনার প্রাচুর্য থেকে মানুষের পছন্দগুলো রেকর্ড করে। এগুলো আমাদের মানসিক ক্ষমতার নমনীয়তা দ্বারা অনুমোদিত হয়। এক বছরে কয়টি ঋতু থাকে (যদি আমরা ঋতু দ্বারা ভাগ করতে চাই)? মানুষের জীবনে আমরা কয়টি পর্যায় চিনতে পারব?
** ''দ্য হেজহগ, দ্য ফক্স, অ্যান্ড দ্য ম্যাজিস্টারস পক্স: মেন্ডিং দ্য গ্যাপ বিটুইন সায়েন্স অ্যান্ড দ্য হিউম্যানিটিস'' (হারমনি, ২০০৩), পৃষ্ঠা ৮২
* বিতর্ক একটি শিল্প। এটি যুক্তি জেতার বিষয়। সত্য আবিষ্কারের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বিতর্কের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম এবং পদ্ধতি রয়েছে। তথ্য প্রতিষ্ঠার সাথে এগুলোর আসলে কোনো সম্পর্ক নেই। সৃষ্টিবাদীরা এই কৌশলগুলো আয়ত্ত করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি নিয়ম হলো নিজের অবস্থান সম্পর্কে কখনও ইতিবাচক কিছু না বলা। কারণ এটি আক্রান্ত হতে পারে। বরং প্রতিপক্ষের অবস্থানের দুর্বল দিকগুলোর দিকে আঘাত করা উচিত। তারা এতে পারদর্শী। আমি মনে করি না আমি বিতর্কে সৃষ্টিবাদীদের হারাতে পারব। আমি তাদের সাথে ড্র করতে পারি। কিন্তু আদালতে তারা ভয়ানক দুর্বল। কারণ আদালতে আপনি বক্তৃতা দিতে পারবেন না। একটি আদালতে আপনাকে আপনার বিশ্বাসের ইতিবাচক অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আমরা আরকানসাসে তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলাম। দুই সপ্তাহের বিচারের দ্বিতীয় দিনেই আমরা আমাদের বিজয় উদযাপন করেছিলাম!
** ''[[w:ম্যাকলিন বনাম আরকানসাস|ম্যাকলিন বনাম আরকানসাস]]'' সৃষ্টিবাদ বিচারের পর, [http://www.ncseweb.org/resources/rncse_content/vol24/620_then_a_miracle_occurs_12_30_1899.asp ''রিভিউ অফ দ্য ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশন'' ভলিউম ২৪, নম্বর ৬ (নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০০৪)]-এ উদ্ধৃত
* আমি গভীরভাবে রোমান্টিকতা বিরোধী। [[w:রোমান্টিকতা|রোমান্টিকতা]] বিপজ্জনক। বুদ্ধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হলে রোমান্টিকতা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়।
** "স্টিফেন জে গুল্ড: দ্য আনঅ্যান্সারেবল" প্রামাণ্যচিত্র সিরিজের পর্ব, ''[[w:আ গ্লোরিয়াস এক্সিডেন্ট|আ গ্লোরিয়াস এক্সিডেন্ট]]''।
* এটি [[w:দ্য ফরমেশন অফ ভেজিটেবল মোল্ড থ্রু দ্য অ্যাকশন অফ ওয়ার্মস|তার শেষ বই]]। তিনি ১৮৮১ সালে মৃত্যুর আগের বছর এটি লিখেছিলেন। আমরা সাধারণত আশা করি বার্ধক্যে মৃত্যুর ঠিক আগে একজন মহান বিজ্ঞানী বাস্তবতার প্রকৃতি নিয়ে একটি দার্শনিক গ্রন্থ লিখবেন। আর [[চার্লস ডারউইন|ডারউইন]] কেঁচো নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। তিনি কেঁচো নিয়ে আগ্রহী ছিলেন, কারণ এগুলো তার বৃহত্তর বিশ্ব-দর্শনের রূপক ছিল। ইংল্যান্ডের উপরের মাটি ধীরে ধীরে মন্থন করা কেঁচোগুলো আক্ষরিক অর্থেই আমাদের পায়ের নিচে কাজ করে। আমরা এগুলো কখনও লক্ষ্য করি না। আমরা মনে করি এগুলো তাৎপর্যহীন কারণ এগুলো খুব ছোট ও নিচু। কিন্তু বাস্তবে এগুলো কৃষির ভিত্তি হিসেবে মাটি তৈরি করছে। আর তাই দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত হলে ছোট জিনিসগুলোর গুরুত্ব বোঝাতে ডারউইন এটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বিবর্তন হলো বিশাল সময়কাল ধরে ডারউইনের কাছে ছোট পরিবর্তনের বিস্তৃতি। তাই কেঁচোগুলো বিবর্তন এবং সাময়িক পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়ার রূপক হয়ে ওঠে। এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বই।
** "স্টিফেন জে গুল্ড: দ্য আনঅ্যান্সারেবল" (৩০ আগস্ট ২০১৬) {{w|ভিপিআরও}}, ''আ গ্লোরিয়াস এক্সিডেন্ট'' [https://www.youtube.com/watch?v=litu8JfyS44&list=PLzLGaX_JvmJoIGJFR_1M088pMz68qUtnc&index=6 (৭ এর ৬)] ২২:০১।
=== ''এভার সিন্স ডারউইন'' (১৯৭৭) ===
:<small>উদ্ধৃতিগুলো ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।</small>
* গতকালের খবরের কাগজ আজকের আবর্জনা মুড়িয়ে রাখে। সাংবাদিকদের এই রসিকতা সম্পর্কে আমি অসচেতন নই। অপ্রয়োজনীয় ও অসংলগ্ন প্রবন্ধের সংগ্রহ প্রকাশ করতে গিয়ে আমাদের বনাঞ্চলের ওপর যে অত্যাচার চালানো হয়, সে বিষয়েও আমি অসচেতন নই। [[ডঃ সিউস]]র লরাক্সের মতো আমি ভাবতে পছন্দ করি আমি গাছের পক্ষে কথা বলি। অহংকার বাদ দিলে এই প্রবন্ধগুলোর সংকলনের জন্য আমার একমাত্র অজুহাত হলো অনেকে এগুলো পছন্দ করেন (এবং অনেকে এগুলো ঘৃণা করেন)। এগুলো একটি সাধারণ বিষয়ের চারপাশে সুসংগত বলে মনে হয়। ডারউইনের বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ আমাদের মহাজাগতিক অহংকারের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
** প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১৪
* আমি যুক্তি দিতে চাই জীবাশ্ম রেকর্ডে প্রজাতির "হঠাৎ" আবির্ভাব ঘটে। এর পরবর্তী বিবর্তনীয় পরিবর্তনগুলো আমরা লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হই। আমি মনে করি এটি আমাদের বোঝামতে বিবর্তনীয় তত্ত্বের একটি সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী। বিবর্তনীয় "পর্যায়গুলো" মইয়ের কোনো ধাপ নয়। বরং এটি একটি গোলকধাঁধার মতো চলমান আঁকাবাঁকা পথের আমাদের পূর্ববর্তী পুনর্গঠন। এটি ঝোপের গোড়া থেকে শাখা থেকে শাখায় বিস্তৃত হয়ে বর্তমানে শীর্ষে টিকে থাকা একটি বংশধারায় পরিণত হয়েছে।
** "বুশেস অ্যান্ড ল্যাডারস ইন হিউম্যান ইভোলিউশন", পৃষ্ঠা ৬১
* যদি বিজ্ঞানের কোনো স্থায়ী শত্রু থাকে, তবে তা ধর্ম নয়, বরং অযৌক্তিকতা।
** "দ্য রেভারেন্ড থমাসেস ডার্টি লিটল প্ল্যানেট", পৃষ্ঠা ১৪১
* আমাদের নিজেদের মহাজাগতিক গুরুত্বের ওপর প্রাথমিক বিশ্বাস থেকে দীর্ঘ পশ্চাদপসরণে প্রতিটি প্রধান বিজ্ঞান একটি অপরিহার্য উপাদান যোগ করেছে। জ্যোতির্বিদ্যা আমাদের বাড়িকে লক্ষ লক্ষ গ্যালাক্সির মধ্যে একটি গড় গ্যালাক্সির এক কোণে লুকিয়ে থাকা একটি ছোট গ্রহ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে। জীববিজ্ঞান ঈশ্বরের আদলে তৈরি দৃষ্টান্ত হিসেবে আমাদের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে। ভূতত্ত্ব আমাদের সময়ের বিশালতা দিয়েছে এবং শিখিয়েছে আমাদের নিজস্ব প্রজাতি এর কতটা সামান্য অংশ দখল করে আছে।
** "ইউনিফর্মিটি অ্যান্ড ক্যাটাষ্ট্রফি", পৃষ্ঠা ১৪৭
* কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ছাত্র হিসেবে আমার মনে আছে, মহাদেশীয় সরণের তত্ত্বের একজন সমর্থক, একজন অস্ট্রেলীয় ভ্রমণকারীর প্রতি আমার বিশিষ্ট স্ট্র্যাটিগ্রাফি অধ্যাপকের পূর্বনির্ধারিত উপহাস। আজ আমার নিজের শিক্ষার্থীরা মহাদেশীয় সরণের সুস্পষ্ট সত্য অস্বীকারকারী যে কাউকে আরও বেশি উপহাসের সাথে খারিজ করে দেবে। একজন ভবিষ্যদ্বাণীমূলক পাগল অন্তত মজাদার হয়। কিন্তু একজন সেকেলে বোকা মানুষ কেবলই করুণার পাত্র।
** "দ্য ভ্যালিডেশন অফ কন্টিনেন্টাল ড্রিফট", পৃষ্ঠা ১৬০ থেকে ১৬১
* আমি দাবি করি ''হোমো স্যাপিয়েন্স''র অব্যাহত জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস একটি প্রজাতির মধ্যে পার্থক্যের সাধারণ সমস্যার একটি সেকেলে পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে। অন্য কথায় আমি মানুষের জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস প্রত্যাখ্যান করি। একই কারণে আমি আমার নিজস্ব গবেষণার বিষয়বস্তু গঠনকারী বিস্ময়কর পরিবর্তনশীল ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ল্যান্ড শামুকগুলোকে উপপ্রজাতিতে ভাগ না করতে পছন্দ করি।
** "হোয়াই উই শুড নট নেম হিউম্যান রেসেস—আ বায়োলজিক্যাল ভিউ", পৃষ্ঠা ২৩১
* বুদ্ধিমত্তাকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হোক না কেন, আমি দাবি করি না এর কোনো জেনেটিক ভিত্তি নেই। আমি এটিকে মামুলি সত্য, অরুচিকর ও গুরুত্বহীন বলে মনে করি। যেকোনো বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ বংশগতি ও পরিবেশের একটি জটিল মিথস্ক্রিয়াকে তুলে ধরে। আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গদের বুদ্ধিমত্তায় একটি গড় জিনগত ঘাটতি প্রদর্শনের একটি নির্দিষ্ট দাবির কোনো নতুন [[তথ্য]] নেই। এর সমর্থনে কোনো বৈধ ডেটা উল্লেখ করা যায় না। শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গদের জিনগত সুবিধা থাকার সম্ভাবনাও সমান। আর যেভাবেই হোক, এটা কোনো ব্যাপার না। একজন ব্যক্তিকে তার দলের গড়ের ওপর বিচার করা যায় না।
** "রেসিস্ট আর্গুমেন্টস অ্যান্ড আইকিউ", পৃষ্ঠা ২৪৬ থেকে ২৪৭
* [[w:লিনিয়াস|লিনিয়াস]]র কাছে ''হোমো স্যাপিয়েন্স'' বিশেষ ও অবিশেষ দুটোই ছিল। বিশেষ ও অবিশেষ বলতে ননবায়োলজিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল, অথবা লালন-পালন এবং প্রকৃতি বোঝায়। পরবর্তী মেরুকরণগুলো অর্থহীন। মানুষ হলো প্রাণী এবং আমরা যা কিছু করি তা আমাদের জৈবিক সম্ভাবনার মধ্যেই থাকে। মানুষ প্রাণী এই বিবৃতিটি বোঝায় না আমাদের আচরণ এবং সামাজিক ব্যবস্থার নির্দিষ্ট নিদর্শনগুলো কোনোভাবেই সরাসরি আমাদের জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়। ''সম্ভাব্যতা'' ও ''নির্ধারণ'' ভিন্ন ধারণা।
** "বায়োলজিক্যাল পটেনশিয়ালিটি ''বনাম'' বায়োলজিক্যাল ডিটারমিনিজম", পৃষ্ঠা ২৫১
* তবে আমি এখানেই থামছি। নির্দিষ্ট পরোপকারী বা সুবিধাবাদী জিনের অধিকারী হওয়াকে নির্দিষ্ট আচরণের কারণ হিসেবে দায়ী করে এমন যেকোনো নির্ধারক জল্পনা থেকে দূরে থাকছি। আমাদের জিনগত গঠন আচরণের একটি বিস্তৃত পরিসরের অনুমতি দেয়। এটি আগেকার এবেনেজার স্ক্রুজ থেকে শুরু করে পরের এবেনেজার স্ক্রুজ পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি বিশ্বাস করি না কৃপণ ব্যক্তি সুবিধাবাদী জিনের মাধ্যমে সঞ্চয় করে। অথবা সমাজসেবী দান করেন কারণ প্রকৃতি তাকে স্বাভাবিক পরোপকারী জিনের চেয়ে বেশি কিছু দিয়েছে। লালন-পালন, সংস্কৃতি, শ্রেণি, মর্যাদা ও "মুক্ত ইচ্ছা" নামক সমস্ত অধরা বিষয়গুলো নির্ধারণ করে কীভাবে আমরা আমাদের জিনগুলো দ্বারা অনুমোদিত চরম পরোপকারিতা থেকে চরম স্বার্থপরতা পর্যন্ত বিস্তৃত বর্ণালী থেকে আমাদের আচরণগুলোকে সীমাবদ্ধ করব।
** "সো ক্লেভারলি কাইন্ড অ্যান অ্যানিম্যাল", পৃষ্ঠা ২৬৬
* আপনি যদি এমন যুক্তি দিয়ে কোনো আচরণের পক্ষে অবস্থান নেন মানুষ এর জন্য সরাসরি প্রোগ্রাম করা হয়েছে, তবে আপনার জল্পনা ভুল প্রমাণিত হলে আপনি কীভাবে এটিকে সমর্থন করা চালিয়ে যাবেন? কারণ তখন আচরণটি অস্বাভাবিক এবং নিন্দার যোগ্য হয়ে ওঠে। মানুষের স্বাধীনতার ওপর একটি দার্শনিক অবস্থানে দৃঢ়ভাবে লেগে থাকা ভালো। স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্করা তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে একে অপরের সাথে যা করে তা কেবলই তাদের ব্যাপার। এটিকে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। এবং একে জেনেটিক অনুমানের দ্বারা নিন্দাও করা উচিত নয়।
** "সো ক্লেভারলি কাইন্ড অ্যান অ্যানিম্যাল", পৃষ্ঠা ২৬৭
=== ''দ্য পান্ডাস থাম্ব'' (১৯৮০) ===
:<small>ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার থেকে পৃষ্ঠা উল্লেখ করা হয়েছে।</small>
* জীবগুলো বিলিয়ার্ড বলের মতো নয়। এগুলো জীবনের পুল টেবিলে সহজ এবং পরিমাপযোগ্য বাহ্যিক শক্তি দ্বারা অনুমেয় নতুন অবস্থানে চালিত হয় না। পর্যাপ্ত জটিল সিস্টেমের সমৃদ্ধি বেশি থাকে। জীবগুলোর একটি ইতিহাস আছে যা তাদের ভবিষ্যৎকে অসংখ্য, সূক্ষ্ম উপায়ে সীমাবদ্ধ করে।
** প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১৬
* ফলাফল খুব কমই তাদের কারণগুলোকে দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্দেশ করে। যদি আমাদের কাছে জীবাশ্ম বা মানুষের ইতিহাসের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ না থাকে, যদি আমরা কেবল আধুনিক ফলাফল থেকে একটি প্রক্রিয়া অনুমান করতে বাধ্য হই, তবে আমরা সাধারণত স্থবির হয়ে পড়ি বা সম্ভাবনার বিষয়ে জল্পনা-কল্পনার স্তরে নেমে আসি। কারণ অনেক পথ প্রায় যেকোনো রোমের দিকেই নিয়ে যায়।
** "সেন্সলেস সাইনস অফ হিস্ট্রি", পৃষ্ঠা ৩৪
* উদাহরণস্বরূপ তার শেষ অর্ধ ডজন বইজুড়ে [[আর্থার কোয়েসলার]] ডারউইনবাদ সম্পর্কে তার নিজস্ব ভুল বোঝাবুঝির বিরুদ্ধে একটি প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি কিছু নির্দেশক শক্তির আশা করেন, যা বিবর্তনকে নির্দিষ্ট দিকে সীমাবদ্ধ করবে এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাবকে অতিক্রম করবে। কোয়েসলার ডারউইনবাদকে খামখেয়ালী পরিবর্তনের তত্ত্ব বলে মনে করলেও তা ঠিক নয়। এলোমেলো প্রকরণ পরিবর্তনের কাঁচামাল হতে পারে। কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচন স্থানীয় পরিবেশের সাথে অভিযোজন উন্নতকারী কয়েকটি প্রকরণকে গ্রহণ এবং সঞ্চয় করে বেশিরভাগ প্রকরণকে প্রত্যাখ্যান করে ভালো নকশা তৈরি করে।
** "ডাবল ট্রাবল", পৃষ্ঠা ৩৮ থেকে ৪০
* মানুষের বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে [[আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস|ওয়ালেস]]র ভুল তার অনমনীয় নির্বাচনবাদের অপ্রতুলতা থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। এটি প্রয়োগে ব্যর্থতার কারণে নয়। তার যুক্তিটি আজও আমাদের অধ্যয়নের দাবি রাখে। কারণ এর ত্রুটি আমাদের বর্তমান সাহিত্যের অনেক "আধুনিক" বিবর্তনীয় অনুমানের দুর্বল লিঙ্ক হিসেবে টিকে আছে। ওয়ালেসের অনমনীয় নির্বাচনবাদ ডারউইনের বহুবচনবাদের চেয়ে আজ আমাদের পছন্দের তত্ত্বে মূর্ত মনোভাবের অনেক কাছাকাছি। বিড়ম্বনার বিষয় হলো এই প্রেক্ষাপটে এটি "নিও-ডারউইনিজম" নামে পরিচিত।
** "ন্যাচারাল সিলেকশন অ্যান্ড দ্য হিউম্যান ব্রেইন: ডারউইন ''বনাম'' ওয়ালেস", পৃষ্ঠা ৫৪
* হাইপার-সিলেকশনিজম আমাদের সাথে বিভিন্ন ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। এটি প্রাকৃতিক সম্প্রীতির রূপকথার ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকের বৈজ্ঞানিক সংস্করণের প্রতিনিধিত্ব করে। সম্ভাব্য সব জগতের মধ্যে সবকিছুই সেরা। এই ক্ষেত্রে সব কাঠামোই একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ভালোভাবে তৈরি। এটি আসলে বোকা ডঃ প্যানগ্লোসের দৃষ্টিভঙ্গি, যা ''[[ক্যান্ডিড]]'' বইয়ে [[ভলতেয়ার]] এত স্পষ্টভাবে ব্যঙ্গ করেছেন। বিশ্ব অপরিহার্যভাবে ভালো নয়। তবে এটি আমাদের সম্ভাব্য সেরা বিশ্ব।
** "ন্যাচারাল সিলেকশন অ্যান্ড দ্য হিউম্যান ব্রেইন: ডারউইন ''বনাম'' ওয়ালেস", পৃষ্ঠা ৫৭
* যদি প্রতিভার কোনো সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকে, তবে আমি আগ্রহের প্রসার এবং এর ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ফলপ্রসূ উপমা তৈরি করার ক্ষমতার প্রস্তাব করব।
** "ডারউইনস মিডল রোড", পৃষ্ঠা ৬৬
* দুর্ভাগ্যবশত পৃথিবী খুব কমই আমাদের আশার সাথে মেলে এবং ধারাবাহিকভাবে যুক্তিসঙ্গত আচরণ করতে অস্বীকার করে।
** "শেডস অফ [[w:জঁ-বাতিস্ত লামার্ক|লামার্ক]]", পৃষ্ঠা ৭৬
* আপনার বাম হাঁটুর মালাইচাকি বা আপনার আঙুলের নখের মতো অস্পষ্ট অঙ্গসংস্থানের জন্য কোনো জিন নেই। শরীরের বেশিরভাগ অংশ তৈরিতে শত শত জিন অবদান রাখে। এদের ক্রিয়া ভ্রূণীয় ও প্রসবোত্তর, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত প্রভাবের মধ্য দিয়ে চালিত হয়। অংশগুলো অনূদিত জিন নয় এবং নির্বাচন সরাসরি অংশগুলোর ওপর কাজ করে না।
** "কেয়ারিং গ্রুপস অ্যান্ড সেলফিশ জিনস", পৃষ্ঠা ৯১
* বেশিরভাগ জীবাশ্ম প্রজাতির ইতিহাসে ধীর পরিবর্তনের সাথে বিশেষভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ দুটি বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১. ''স্থবিরতা।'' বেশিরভাগ প্রজাতি পৃথিবীতে তাদের মেয়াদকালে কোনো নির্দেশমূলক পরিবর্তন প্রদর্শন করে না। জীবাশ্ম রেকর্ডে আবির্ভূত হওয়ার সময় তাদের যেমন দেখায়, হারিয়ে যাওয়ার সময়ও প্রায় একই রকম দেখায়। অঙ্গসংস্থানগত পরিবর্তন সাধারণত সীমিত এবং দিকহীন হয়। ২. ''হঠাৎ আবির্ভাব।'' কোনো স্থানীয় এলাকায় একটি প্রজাতি তার পূর্বপুরুষদের স্থির রূপান্তরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উদ্ভূত হয় না। এটি একেবারে এবং "সম্পূর্ণরূপে গঠিত" অবস্থায় আবির্ভূত হয়।
** "দ্য এপিসোডিক নেচার অফ ইভোলিউশনারি চেঞ্জ", পৃষ্ঠা ১৮২
* বিবর্তন হলো জৈব পরিবর্তনের একটি তত্ত্ব। তবে অনেকের ধারণা অনুযায়ী এটি বোঝায় না অবিরাম প্রবাহ প্রকৃতির হ্রাস অযোগ্য অবস্থা এবং কাঠামো কেবল এই মুহূর্তের একটি অস্থায়ী অবতার। পরিবর্তন হলো ধীর োস্থির হারে ক্রমাগত রূপান্তরের চেয়ে স্থিতিশীল অবস্থাগুলোর মধ্যে একটি দ্রুত রূপান্তর। আমরা কাঠামো এবং বৈধ পার্থক্যের পৃথিবীতে বাস করি। প্রজাতি হলো প্রকৃতির অঙ্গসংস্থানের একক।
** "আ কোয়াহগ ইজ আ কোয়াহগ", পৃষ্ঠা ২১৩
* আমি [[w:র্যান্ডলফ কার্কপ্যাট্রিক|কার্কপ্যাট্রিক]]কে তার স্পঞ্জ এবং তার আধ্যাত্মিক নামুলোস্ফিয়ার উভয়ের জন্যই সম্মান করি। একটি পাগলাটে তত্ত্বকে হাসির ছলে উড়িয়ে দেওয়া সহজ। এটি মানুষের অনুপ্রেরণা বোঝার যেকোনো চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে। নামুলোস্ফিয়ার একটি পাগলাটে তত্ত্ব। আমি দেখতে পাই কল্পনাশক্তির অধিকারী এমন খুব কম মানুষই আছেন যারা আমার মনোযোগের দাবিদার নন। তাদের ধারণাগুলো ভুল হতে পারে, এমনকি বোকামিও হতে পারে। কিন্তু তাদের পদ্ধতিগুলো প্রায়ই নিবিড় অধ্যয়নের দাবি রাখে। ভিন্ন ধারার মানুষ প্রায়ই একটি ফলপ্রসূ ছন্দ তৈরি করেন।
** "ক্রেজি ওল্ড র্যান্ডলফ কার্কপ্যাট্রিক", পৃষ্ঠা ২৩৫
* বিজ্ঞানে রক্ষণশীলতা ধর্মের মতোই একগুঁয়ে হতে পারে। আমি জানি না একে কীভাবে নাড়া দিতে হয়। তবে এটি করতে পারে একটি প্রাণবন্ত কল্পনা, যা অপ্রচলিত কাজকে অনুপ্রাণিত করে এবং এর মধ্যে অনুপ্রাণিত ভুলের একটি উন্নত সম্ভাবনা ধারণ করে। মহান ইতালীয় অর্থনীতিবিদ [[ভিলফ্রেদো পারেতো]] লিখেছেন: "আমাকে যেকোনো সময় একটি ফলপ্রসূ ভুল দিন, যা বীজে পূর্ণ, নিজের সংশোধনে ফেটে পড়ছে। আপনি আপনার অনুর্বর সত্য নিজের কাছে রাখতে পারেন।" [[টমাস হেনরি হাক্সলি]] নামের একজন মানুষের কথা উল্লেখ না করলেই নয়, যিনি দুঃখের যন্ত্রণায় বা পার্সন শিকারের যুদ্ধে লিপ্ত না থাকলে যুক্তি দিতেন, "অযৌক্তিকভাবে ধারণ করা সত্য যুক্তিসঙ্গত ভুলের চেয়ে বেশি ক্ষতিকারক হতে পারে।"
** "''বাথিবিয়াস'' অ্যান্ড ''ইওজুন''", পৃষ্ঠা ২৪৩ থেকে ২৪৪
* পৃথিবী এমন অনেক সংকেতে পূর্ণ যা আমরা বুঝতে পারি না। ক্ষুদ্র প্রাণীরা অপরিচিত শক্তির এক ভিন্ন জগতে বাস করে। আমাদের স্কেলের অনেক প্রাণী আমাদের পরিচিত সংবেদনের জন্য আমাদের উপলব্ধির সীমাকে ছাড়িয়ে যায়। আমরা কতটা অসচেতন। প্রকৃতির এতো কিছু, এতো আকর্ষণীয় এবং এতো বাস্তব জিনিসের দ্বারা বেষ্টিত হয়েও আমরা তা দেখি না (শুনি না, গন্ধ পাই না, স্পর্শ করি না, স্বাদ নিই না)। তবুও উপন্যাসের ক্ষমতার দাবিতে আমরা এতোটা বিশ্বাসযোগ্য এবং এতোটাই প্রলুব্ধ হই যে আমরা মাঝারি জাদুকরদের কৌশলগুলোকে আমাদের জানার বাইরের মনস্তাত্ত্বিক জগতের ঝলক বলে ভুল করি। অলৌকিক ঘটনা একটি কল্পনা হতে পারে। এটি অবশ্যই প্রতারকদের আশ্রয়স্থল। কিন্তু উপলব্ধি করার "প্যারাহিউম্যান" ক্ষমতা আমাদের চারপাশে [[পাখি]], [[মৌমাছি]] ও [[ব্যাকটেরিয়া|ব্যাকটেরিয়ার]] মধ্যে রয়েছে।
** "ন্যাচারাল অ্যাট্রাকশন: ব্যাকটেরিয়া, দ্য বার্ডস, অ্যান্ড দ্য বিস", পৃষ্ঠা ৩১৩
=== ''হেন্স টিথ অ্যান্ড হর্সেস টোস'' (১৯৮৩) ===
:<small>ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি নেওয়া হয়েছে।</small>
* অ-বিজ্ঞানীদের জন্য লেখা সমস্ত সংস্করণে অ্যাংলারফিশের কৌতূহলী গল্প হিসেবে ফিউজড পুরুষদের কথা বলা হয়েছে। ঠিক যেমন আমরা প্রায়ই গাছের ডালপালায় ঝুলে থাকা বানর বা মাটির গর্তে ঢুকে থাকা কেঁচো সম্পর্কে শুনি। কিন্তু প্রকৃতি যদি আমাদের কোনো শিক্ষা দেয়, তবে তা জীবনের বৈচিত্র্যকে জোরালোভাবে ঘোষণা করে। ক্ল্যাম, মাছি বা অ্যাংলারফিশের মতো এমন কোনো বিমূর্ততা নেই। সেরাটিওড অ্যাংলারফিশ প্রায় ১০০ প্রজাতির হয় এবং প্রতিটির নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে।
** "বিগ ফিশ, লিটল ফিশ", পৃষ্ঠা ২৯
* একটি সার্বজনীন ভালো দিক বুঝতে আমাদের ব্যর্থতা অন্তর্দৃষ্টি বা উদ্ভাবনীর কোনো অভাবকে রেকর্ড করে না। বরং এটি প্রদর্শন করে প্রকৃতিতে মানুষের ভাষায় তৈরি কোনো নৈতিক বার্তা নেই। নৈতিকতা হলো দার্শনিক, ধর্মতত্ত্ববিদ, মানবিক শিক্ষার্থীদের এবং সব চিন্তাশীল মানুষের জন্য একটি বিষয়। উত্তরগুলো প্রকৃতি থেকে নিষ্ক্রিয়ভাবে পড়া যাবে না। এগুলো বিজ্ঞানের ডেটা থেকে উদ্ভূত হয় না এবং হতে পারে না। পৃথিবীর বাস্তব অবস্থা আমাদের শেখায় না কীভাবে আমাদের ভালো-মন্দের ক্ষমতা দিয়ে একে সবচেয়ে নৈতিক পদ্ধতিতে পরিবর্তন বা সংরক্ষণ করতে হবে।
** "ননমোরাল নেচার", পৃষ্ঠা ৪২ থেকে ৪৩
* জীবগুলো তাদের অতীত দ্বারা পরিচালিত এবং সীমাবদ্ধ। তাদের অবশ্যই গঠন ও কার্যকারিতায় অসম্পূর্ণ থাকতে হবে। সেই পরিমাণে এগুলো অননুমেয় কারণ এগুলো সেরা যন্ত্র নয়। আমরা নিশ্চিতভাবে তাদের ভবিষ্যৎ জানতে পারি না। এর কারণ হলো যেকোনো বৈশিষ্ট্যের ক্ষমতার মধ্যে অনেক অদ্ভুত কার্যকরী পরিবর্তন থাকে, তা বর্তমান ভূমিকার সাথে যতই ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিক না কেন।
** "কুইক লাইভস অ্যান্ড কুইর্কি চেঞ্জেস", পৃষ্ঠা ৬৫
* সুতরাং ডেটার পর্যাপ্ততা বাড়ানোর জন্য আমাদের তিনটি নীতি রয়েছে। যদি আপনাকে একটি একক বস্তু নিয়ে কাজ করতে হয়, তবে ঐতিহাসিক বংশের রেকর্ডকারী অসম্পূর্ণতাগুলো সন্ধান করুন। যদি বেশ কয়েকটি বস্তু পাওয়া যায়, তবে সেগুলোকে একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার পর্যায় হিসেবে রেন্ডার করার চেষ্টা করুন। যদি প্রক্রিয়াগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়, তবে সময়ের সাথে সাথে তাদের প্রভাবগুলোর সারসংক্ষেপ করুন। কেউ এই নীতিগুলো সরাসরি আলোচনা করতে পারেন বা ডারউইন এগুলোকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য "ছোট সমস্যাগুলো" চিনতে পারেন: অর্কিড, [[প্রবাল|প্রবাল প্রাচীর]] ও [[কেঁচো]]। এগুলো যথাক্রমে তার মাঝখানের বই, প্রথম এবং শেষ বইয়ে রয়েছে।
** "ওয়ার্ম ফর আ সেঞ্চুরি, অ্যান্ড অল সিজনস", পৃষ্ঠা ১৩২
* বিবর্তনের একটি সম্পূর্ণ তত্ত্বকে অবশ্যই স্থানীয় অভিযোজনের জন্য নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া পরিবেশের "বাহ্যিক" শক্তি এবং উত্তরাধিকার ও বিকাশের সীমাবদ্ধতার প্রতিনিধিত্বকারী "অভ্যন্তরীণ" শক্তিগুলোর মধ্যে একটি ভারসাম্য স্বীকার করতে হবে। [[w:নিকোলাই ভাভিলভ|ভাভিলভ]] অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার ওপর খুব বেশি জোর দিয়েছিলেন এবং নির্বাচনের ক্ষমতাকে অবনমিত করেছিলেন। কিন্তু পশ্চিমা ডারউইনবাদীরা কাঠামো এবং বিকাশ দ্বারা নির্বাচনের ওপর রাখা সীমাগুলো কার্যত উপেক্ষা করার (তাত্ত্বিকভাবে স্বীকার করার সময়) ক্ষেত্রে সমানভাবে ভুল করেছেন। ভাভিলভ সহ প্রাচীন জীববিজ্ঞানীরা এটিকে "আকারের নিয়ম" বলতেন।
** "আ হিয়ারিং ফর ভাভিলভ", পৃষ্ঠা ১৪৪
* আমরা কোনো নিখুঁত জগতে বাস করি না যেখানে প্রাকৃতিক নির্বাচন নির্মমভাবে সমস্ত জৈব কাঠামো পরীক্ষা করে এবং তারপর সেগুলোকে সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য ঢালাই করে। জীবগুলো একটি শারীরিক গঠন ো ভ্রূণীয় বিকাশের একটি শৈলী উত্তরাধিকার সূত্রে পায়। এগুলো ভবিষ্যতের পরিবর্তন ও অভিযোজনের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। অনেক ক্ষেত্রে বিবর্তনীয় পথগুলো বর্তমান পরিবেশগত চাহিদার চেয়ে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলোকে বেশি প্রতিফলিত করে। এই উত্তরাধিকারগুলো সীমাবদ্ধ করে, কিন্তু এগুলো সুযোগও প্রদান করে। একটি সম্ভাব্য ছোটখাটো জেনেটিক পরিবর্তন অনেক জটিলও অ-অভিযোজনমূলক পরিণতি নিয়ে আসে। যদি প্রতিটি কাঠামো একটি সীমিত উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় এবং অন্য কিছুর জন্য ব্যবহার করা না যায় তবে বিবর্তনের কী "ভূমিকা" থাকত? যদি আমাদের মস্তিষ্ক শিকার, সামাজিক সংহতি বা অন্য কোনো কিছুর জন্য বিবর্তিত না হতো এবং এর মূল উদ্দেশ্যের অভিযোজনমূলক সীমানা অতিক্রম করতে না পারত তবে মানুষ কীভাবে লিখতে শিখত?
** "হায়েনা মিথস অ্যান্ড রিয়েলিটিস", পৃষ্ঠা ১৫৬
* সমাজ-জীববিজ্ঞান কেবল এমন কোনো বিবৃতি নয় যা বলে জীববিজ্ঞান, বংশগতিবিদ্যা ও বিবর্তনীয় তত্ত্বের সাথে মানুষের আচরণের কিছু সম্পর্ক রয়েছে। সমাজজীববিজ্ঞান মানব আচরণে জিনগত ও বিবর্তনীয় সরবরাহের প্রকৃতি সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট তত্ত্ব। এটি এই দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে প্রাকৃতিক নির্বাচন হলো একজন কার্যত সর্বশক্তিমান স্থপতি, যিনি স্থানীয় পরিবেশে জীবনের সমস্যাগুলোর সেরা সমাধান হিসেবে জীবের প্রতিটি অংশ তৈরি করেন। এটি জীবগুলোকে "বৈশিষ্ট্যে" বিভক্ত করে, সেরা সমাধানের একটি সেট হিসেবে তাদের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করে। পাশাপাশি যুক্তি দেয়, প্রতিটি বৈশিষ্ট্য প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি পণ্য যা প্রশ্নবিদ্ধ রূপ বা আচরণের "জন্য" কাজ করে। মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার সময় এটিকে অবশ্যই নির্দিষ্ট আচরণগুলোকে (কেবল সাধারণ সম্ভাবনা নয়) জিনগত নির্ধারকগুলোতে নিহিত এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা নির্মিত অভিযোজন হিসেবে দেখতে হবে। কারণ প্রাকৃতিক নির্বাচন জেনেটিক পরিবর্তনের একটি তত্ত্ব। সুতরাং আমাদের কাছে নির্দিষ্ট মানব আচরণের অভিযোজনমূলক ও জিনগত ভিত্তি সম্পর্কে অপ্রমাণিত এবং প্রমাণ অযোগ্য জল্পনা উপস্থাপন করা হয়: কেন কিছু (বা সব) মানুষ আক্রমণাত্মক, জেনোফোবিক, ধার্মিক, অর্জনশীল বা সমকামী হয়।
** "আওয়ার ন্যাচারাল প্লেস", পৃষ্ঠা ২৪৩
* জুকেন্ট্রিজম হলো মানব সমাজজীববিজ্ঞানের প্রাথমিক ভ্রান্তি। মানব আচরণের এই দৃষ্টিভঙ্গি এই যুক্তির ওপর নির্ভর করে যদি সাধারণ স্নায়ুতন্ত্রের অধিকারী "নিচু" প্রাণীদের ক্রিয়াকলাপ প্রাকৃতিক নির্বাচনের জেনেটিক পণ্য হিসেবে দেখা দেয়, তবে মানব আচরণেরও একই রকম ভিত্তি থাকা উচিত।
** "আওয়ার ন্যাচারাল প্লেস", পৃষ্ঠা ২৪৩
* আমরা প্রকৃতির সাথে আমাদের একতা এবং আমাদের বিপজ্জনক অনন্যতার মধ্যে একটি অপরিহার্য ও অমীমাংসিত উত্তেজনার মধ্যে বাস করি। যে সিস্টেমগুলো কেবল অনন্যতা বা একতার ওপর একচেটিয়াভাবে ফোকাস করে আমাদের স্থান নির্ধারণ ও বোঝার চেষ্টা করে, সেগুলো ব্যর্থ হতে বাধ্য। তবে আমাদের জিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধান বন্ধ করা উচিত নয়, কারণ উত্তরগুলো জটিল ও দ্ব্যর্থবোধক।
** "আওয়ার ন্যাচারাল প্লেস", পৃষ্ঠা ২৫০
* বিবর্তন একটি তত্ত্ব। এটি একটি ঘটনাও বটে। আর [[তথ্য]] ও তত্ত্ব ভিন্ন জিনিস, এগুলো নিশ্চিততা বৃদ্ধির অনুক্রমের কোনো ধাপ নয়। ঘটনা হলো পৃথিবীর তথ্য। তত্ত্ব হলো ধারণার কাঠামো যা ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যা করে। বিজ্ঞানীরা যখন ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী তত্ত্ব নিয়ে বিতর্ক করেন, তখন তথ্যগুলো হারিয়ে যায় না। [[আলবার্ট আইনস্টাইন|আইনস্টাইনের]] মহাকর্ষ তত্ত্ব [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটনর]] তত্ত্বকে প্রতিস্থাপন করেছে। কিন্তু ফলাফল না আসা পর্যন্ত আপেল বাতাসে ঝুলে থাকেনি। মানুষ বানরজাতীয় পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছে। তা ডারউইনের প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ায় হোক বা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি এমন অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় হোক। বিবর্তনবাদীরা চিরন্তন সত্যের কোনো দাবি করেন না। যদিও সৃষ্টিবাদীরা প্রায়ই এমন দাবি করেন (এবং তারপর আমরা যে যুক্তির ধরন পছন্দ করি তার জন্য আমাদের আক্রমণ করেন)। বিজ্ঞানে "তথ্য" বলতে কেবল বোঝায় "এমন একটি ডিগ্রিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে অস্থায়ী সম্মতি আটকে রাখা বিকৃত হবে।" আমি অনুমান করি আপেল হয়তো কাল ওপরে উঠতে শুরু করবে। তবে এই সম্ভাবনা পদার্থবিজ্ঞানের শ্রেণিকক্ষে সমান সময় পাওয়ার যোগ্য নয়।
** "ইভোলিউশন অ্যাজ ফ্যাক্ট অ্যান্ড থিওরি", পৃষ্ঠা ২৫৪ থেকে ২৫৫ (মূলত মে ১৯৮১ সালের ''ডিসকভার ম্যাগাজিনে'' প্রকাশিত)
* যেহেতু আমরা প্রবণতা ব্যাখ্যা করার জন্য যতিচিহ্নযুক্ত ভারসাম্যের প্রস্তাব করেছি, তাই সৃষ্টিবাদীদের দ্বারা বারবার উদ্ধৃত হওয়াটা বিরক্তিকর। তা নকশা বা বোকামির মাধ্যমেই হোক না কেন। তারা দাবি করেন জীবাশ্ম রেকর্ডে কোনো পরিবর্তনশীল রূপ অন্তর্ভুক্ত নেই। পরিবর্তনশীল রূপগুলো সাধারণত প্রজাতির স্তরে অভাব থাকে। তবে এগুলো বৃহত্তর গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রচুর।
** "ইভোলিউশন অ্যাজ ফ্যাক্ট অ্যান্ড থিওরি", পৃষ্ঠা ২৬০
* শত্রু মৌলবাদ নয়; এটি অসহিষ্ণুতা। এই ক্ষেত্রে অসহিষ্ণুতা বিকৃত। কারণ এটি "সমান সময়ের" "উদার" বাগ্মীতার আড়ালে ছদ্মবেশ ধারণ করে। তবে ভুল করবেন না।
** "আ ভিজিট টু [[w:ডেটন, টেনেসি|ডেটন]]", পৃষ্ঠা ২৭৬
* সম্ভবত এলোমেলোতা জটিল কারণগুলোর জন্য কেবল একটি পর্যাপ্ত বর্ণনা নয় যা আমরা নির্দিষ্ট করতে পারি না। হয়তো বিশ্ব সত্যিই এভাবেই কাজ করে। এবং অনেক ঘটনা শব্দের কোনো প্রচলিত অর্থে অকারণে ঘটে। হয়তো আমাদের সহজাত অনুভূতি এটি প্রতিফলিত করে না। বরং এটি কেবল আমাদের আশা ও সংস্কার, একটি জটিল ও বিভ্রান্তিকর বিশ্বকে বোঝার জন্য আমাদের মরিয়া প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে, প্রকৃতির উপায়গুলোকে নয়।
** "চান্স রিচেস", পৃষ্ঠা ৩৪২
=== ''দ্য মিডিয়ান ইজন্ট দ্য মেসেজ'' (১৯৮৫) ===
:<small>''ডিসকভার'' ৬ (জুন): ৪০-৪২-এ প্রকাশিত। [http://www.cancerguide.org/median_not_msg.html ক্যান্সারগাইড.অর্গ]-এ অনুমতি নিয়ে পুনরুত্পাদিত।</small>
* এটি পরিসংখানের একটি ব্যক্তিগত গল্প, যা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করলে গভীরভাবে পুষ্টিকর ও জীবনদায়ী।
* একজন বুদ্ধিজীবীকে সাহিত্য থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করাটা ঠিক ততটাই কাজ করে, যতটা ''হোমো স্যাপিয়েন্স''-কে ব্রহ্মচর্যের পরামর্শ দেওয়া কাজ করে। এই প্রাইমেটটি সব প্রাইমেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদনময়।
* সমস্যাটি সংক্ষেপে বলা যেতে পারে: আমাদের স্থানীয় ভাষায় "আট মাসের গড় মৃত্যুর হার" কী বোঝায়? আমি সন্দেহ করি পরিসংখ্যানের প্রশিক্ষণ ছাড়াই বেশিরভাগ মানুষ এমন একটি বিবৃতি পড়বেন "আমি সম্ভবত আট মাসের মধ্যে মারা যাব"। এই উপসংহারটি অবশ্যই এড়ানো উচিত। কারণ এটি সত্য নয় এবং মনোভাব অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
* কিন্তু সব বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী জানেন প্রকরণ নিজেই প্রকৃতির একমাত্র হ্রাস অযোগ্য সারমর্ম। প্রকরণ হলো কঠিন বাস্তবতা। এটি কেন্দ্রীয় প্রবণতার জন্য অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার সেট নয়। গড় ও মধ্যক হলো বিমূর্ততা।
* আমার মতে মৃত্যুর গ্রহণযোগ্যতাকে অন্তর্নিহিত মর্যাদার সমতুল্য কিছু হিসেবে দেখাটা একটু বেশিই ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে। অবশ্যই আমি উপদেশকর প্রচারকের সাথে একমত যে ভালোবাসার একটা সময় আছে এবং মরার একটা সময় আছে। আর আমার সুতো যখন ফুরিয়ে যাবে তখন আমি শান্তভাবে এবং আমার নিজস্ব উপায়ে শেষের মুখোমুখি হওয়ার আশা করি। তবে বেশিরভাগ পরিস্থিতিতে আমি এই বেশি লড়াকু দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ করি যে মৃত্যুই চূড়ান্ত শত্রু। যারা আলোর মৃত্যুর বিরুদ্ধে তীব্রভাবে ক্ষুব্ধ হন, তাদের মধ্যে নিন্দনীয় কিছু পাই না।
=== ''দ্য ফ্লেমিঙ্গোস স্মাইল'' (১৯৮৫) ===
:<small>উদ্ধৃতিগুলো হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।</small>
* আমাদের জগৎ কোনো আদর্শ স্থান নয় যা নির্বাচনের সর্বশক্তিমান শক্তি দ্বারা সূক্ষ্মভাবে সমন্বিত হয়েছে। এটি অসম্পূর্ণতার একটি অদ্ভুত সংগ্রহ। এটি যথেষ্ট ভালোভাবে কাজ করে (প্রায়ই প্রশংসনীয়ভাবে)। এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অতীতের ইতিহাস দ্বারা সহজলভ্য করে তোলা অদ্ভুত অংশ দিয়ে নির্মিত অভিযোজনের একটি জুরি-রিগড সেট। বর্তমান পরিবেশের সাথে অনুকূলভাবে অভিযোজিত জগৎ হলো ইতিহাসবিহীন একটি জগৎ। আর ইতিহাসবিহীন একটি জগৎ হয়তো আমরা যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই সৃষ্টি হতে পারত। ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরিপূর্ণতাকে বিভ্রান্ত করে এবং প্রমাণ করে বর্তমান জীবন তার নিজের অতীতকে রূপান্তরিত করেছে।
** "অনলি হিজ উইংস রিমেইন্ড", পৃষ্ঠা ৫৪
* আমরা একটি জটিল বিশ্বে বাস করি। কিছু সীমানা তীক্ষ্ণ এবং পরিচ্ছন্ন ও সুনির্দিষ্ট পার্থক্যের অনুমতি দেয়। তবে প্রকৃতিতে এমন ধারাবাহিকতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যাকে দ্ব্যর্থহীন হ্যাঁ এবং না এর দুটি স্তূপে সুন্দরভাবে ভাগ করা যায় না। জীববিজ্ঞানীরা গর্ভপাত বিরোধীদের একটি দ্ব্যর্থহীন "জীবনের সূচনা" সংজ্ঞায়িত করার সমস্ত চেষ্টাকে নীতিগতভাবে মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ আমরা খুব ভালো করেই জানি ডিম্বস্ফোটন বা স্পার্মাটোজেনেসিস থেকে জন্ম পর্যন্ত অনুক্রমটি একটি অবিচ্ছেদ্য ধারাবাহিকতা। এবং নিশ্চিতভাবেই কেউ হস্তমৈথুনকে খুন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করবেন না।
** "লিভিং উইথ কানেকশনস", পৃষ্ঠা ৭৬
* [[w:সাইফোনোফোর|সাইফোনোফোর]]গুলো এই বার্তা দেয় না যে প্রকৃতি কেবল একটি বিশাল সমগ্র। এর সমস্ত অংশ নিবিড়ভাবে সংযুক্ত এবং কিছু উচ্চতর, অবর্ণনীয় সম্প্রীতির সাথে মিথস্ক্রিয়া করছে। বিবেচনাহীন রোমান্টিকতার একটি প্রিয় বিষয় হলো এটি। প্রকৃতি সীমানা এবং পার্থক্য প্রকাশ করে। আমরা কাঠামোর একটি মহাবিশ্বে বাস করি। তবে যেহেতু আমাদের কাঠামোর মহাবিশ্ব ঐতিহাসিকভাবে বিবর্তিত হয়েছে, তাই এটি অবশ্যই আমাদের কাছে অস্পষ্ট সীমানা উপস্থাপন করবে, যেখানে এক ধরণের জিনিস অন্যটিতে রূপান্তরিত হয়।
** "আ মোস্ট ইনজেনিয়াস প্যারাডক্স", পৃষ্ঠা ৯৫
* বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য নতুন ডেটার চেয়ে বেশি কিছু প্রয়োজন। এর জন্য নতুন কাঠামো এবং প্রেক্ষাপট প্রয়োজন। আর বিশ্বের এই মৌলিক নতুন দৃষ্টিভঙ্গিগুলো কোথায় দেখা যায়? এগুলো কেবল বিশুদ্ধ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আবিষ্কৃত হয় না। এগুলোর জন্য চিন্তার নতুন মোড প্রয়োজন। এবং যদি পুরানো মোডগুলোতে এমনকি সঠিক রূপকগুলোও অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তবে আমরা সেগুলো কোথায় খুঁজে পাব? প্রকৃত প্রতিভার প্রকৃতি অবশ্যই আপাত অন্ধকার থেকে এই নতুন মোডগুলো তৈরি করার অধরা ক্ষমতার মধ্যে নিহিত। বিজ্ঞানের মৌলিক সুযোগ এবং অননুমানযোগ্যতা অবশ্যই এমন একটি কাজের অন্তর্নিহিত অসুবিধার মধ্যেও থাকতে হবে।
** "ফলস প্রিমাইস, গুড সায়েন্স", পৃষ্ঠা ১৩৮
* আমরা প্রায়ই নির্বোধের মতো ভাবি অনুপস্থিত তথ্যগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির প্রাথমিক বাধা। শুধু সঠিক তথ্যগুলো খুঁজে বের করলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে। কিন্তু বাধাগুলো প্রায়ই চিন্তায় আরও গভীর এবং আরও বিমূর্ত হয়। আমাদের কেবল প্রয়োজনীয় তথ্যের নয়, সঠিক রূপকেরও অ্যাক্সেস থাকতে হবে। বিপ্লবী চিন্তাবিদরা মূলত তথ্য সংগ্রহকারী নন, বরং নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোর বয়নকারী।
** "ফর ওয়ান্ট অফ আ মেটাফোর", পৃষ্ঠা ১৫১
* যদিও প্রজাতিগুলো বিচ্ছিন্ন হতে পারে, তাদের কোনো অপরিবর্তনীয় সারাংশ নেই। প্রকরণ হলো বিবর্তনীয় পরিবর্তনের কাঁচামাল। এটি প্রকৃতির মৌলিক বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে। এটি তৈরি করা আদর্শ সম্পর্কে কোনো দুর্ঘটনা নয়। প্রকরণ হলো প্রাথমিক। সারাংশগুলো হলো বিভ্রান্তিকর। প্রজাতিগুলোকে অবশ্যই অটুট প্রকরণের পরিসর হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত।
** "অফ ওয়াস্পস অ্যান্ড ওয়াস্পস", পৃষ্ঠা ১৬০
* অ্যান্টিএসেনশিয়ালিস্ট চিন্তাভাবনা আমাদের বিশ্বকে ভিন্নভাবে দেখতে বাধ্য করে। আমাদের অবশ্যই শেডিং এবং কন্টিনিউয়াকে মৌলিক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কিছু আদর্শের তুলনায় আমরা বিচারের মাপকাঠি হারিয়ে ফেলি: খাটো মানুষ, প্রতিবন্ধী মানুষ, অন্যান্য বিশ্বাসের, রঙের এবং ধর্মের মানুষেরা পূর্ণ মর্যাদার মানুষ।
** "অফ ওয়াস্পস অ্যান্ড ওয়াস্পস", পৃষ্ঠা ১৬১
* ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কে আমার নিজস্ব উপলব্ধি আমাদের সেরা আধুনিক জীববিজ্ঞানের জ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনেক মানুষ মনে করেন (বা ভয় পান) মানব জাতির সমতা উদার অনুভূতির একটি আশা উপস্থাপন করে যা সম্ভবত ইতিহাসের কঠিন বাস্তবতার দ্বারা পিষ্ট। তারা ভুল। এই প্রবন্ধটি একটি একক বাক্যাংশে সংক্ষিপ্ত করা যেতে পারে, আপনি চাইলে একটি নীতিবাক্য: ''মানবিক সমতা ইতিহাসের একটি আনুষঙ্গিক তথ্য।'' সমতা সংজ্ঞানুসারে সত্য নয়। এটি কোনো নৈতিক নীতি নয় (যদিও সমান আচরণ হতে পারে) বা সামাজিক কর্মের নিয়ম সম্পর্কে কোনো বিবৃতিও নয়। এটি ঠিক এভাবেই কাজ করেছে। মানব ইতিহাসের জন্য একশটি ভিন্ন এবং যুক্তিসঙ্গত দৃশ্যকল্প অন্যান্য ফলাফল (এবং বিশাল মাত্রার নৈতিক দ্বিধা) প্রদান করত। সেগুলো ঘটেনি।
** "হিউম্যান ইকুয়ালিটি ইজ আ কন্টিনজেন্ট ফ্যাক্ট অফ হিস্ট্রি", পৃষ্ঠা ১৮৬
* মানব মন প্যাটার্ন খুঁজে পেতে আনন্দ পায়। এতোটাই যে আমরা প্রায়ই কাকতালীয় বা বাধ্য উপমাগুলোকে গভীর অর্থ বলে ভুল করি। অন্য কোনো চিন্তার অভ্যাস এতো গভীরভাবে একটি ছোট প্রাণীর আত্মার মধ্যে নিহিত থাকে না যা একটি জটিল জগতকে বোঝার চেষ্টা করে, যা তার জন্য তৈরি হয়নি।
** "দ্য রুল অফ ফাইভ", পৃষ্ঠা ১৯৯
* পাঠ্যপুস্তক হিসেবে পরিচিত সাহিত্যের সেই অদ্ভুত ঘরানার জন্য আমাদের সাধারণ এবং বীরত্বপূর্ণ কিংবদন্তির প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইতিহাসবিদদের অবশ্যই বিজ্ঞানে তাদের কিংবদন্তি থেকে মানুষকে উদ্ধার করার জন্য কাজ করতে হবে। কেবল তাই যাতে আমরা বৈজ্ঞানিক চিন্তার প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে বুঝতে পারি।
** "ডারউইন অ্যাট সি—অ্যান্ড দ্য ভার্চুস অফ পোর্ট", পৃষ্ঠা ৩৪৮
* সম্ভাবনার ধারাবাহিকতার কোনো চরম পর্যায়ে সমাধান ছাড়াই জটিল সমস্যাগুলো গ্রহণ করার আমাদের অশ্লীল প্রবণতায় আমি প্রায়ই আনন্দিত হয়েছি। এগুলোকে দ্বৈততায় ভেঙে এক গোষ্ঠীকে এক মেরুতে এবং অন্যটিকে বিপরীত প্রান্তে অর্পণ করা। সূক্ষ্মতা এবং মধ্যবর্তী অবস্থানগুলোর কোনো স্বীকৃতি নেই। এবং প্রায় সব সময়ই বিরোধীদের সাথে নৈতিক অপবাদ যুক্ত থাকে।
** "[[w:আর্নেস্ট এভারেস্ট জাস্ট|জাস্ট]] ইন দ্য মিডল", পৃষ্ঠা ৩৭৮
=== ''টাইমস অ্যারো, টাইমস সাইকেল'' (১৯৮৭) ===
:<small>এই মনোগ্রাফের উদ্ধৃতিগুলো হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের আসল হার্ডকভার সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।</small>
* নাইলস এলড্রেজ এবং আমার প্রস্তাবিত যতিচিহ্নযুক্ত ভারসাম্যের তত্ত্বটি প্রায়ই ভুল বোঝা হয়। এটি সত্যিই আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য কোনো উগ্র দাবি নয়। বরং এটি একটি স্বীকৃতি যে স্পেসিয়েশনের সাধারণ প্রক্রিয়াগুলো, সঠিকভাবে আমাদের নিজস্ব জীবনকালের মান অনুযায়ী হিমবাহের মতো ধীর হিসেবে কল্পনা করা হয়। এগুলো অসংবেদনশীলভাবে গ্রেডেড মধ্যবর্তীদের (ঐতিহ্যগত, বা ধীরে ধীরে, দৃষ্টিভঙ্গি) দীর্ঘ ক্রম হিসেবে ভূতাত্ত্বিক সময়ে সমাধান হয় না, বরং একক বেডিং প্লেনে ভূতাত্ত্বিকভাবে "হঠাৎ" উদ্ভব হিসেবে সমাধান হয়।
** পৃষ্ঠা ২ থেকে ৩
* বিজ্ঞানীরা এমন কোনো রোবোটিক ইনডিউসিং মেশিন নন যারা কেবল প্রাকৃতিক ঘটনায় পর্যবেক্ষণ করা নিয়মিততা থেকে ব্যাখ্যার কাঠামো অনুমান করে (অনুমান করে, যেমনটি আমি সন্দেহ করি, যুক্তির এমন একটি শৈলী নীতিগতভাবে কখনও সাফল্য অর্জন করতে পারে)। বিজ্ঞানীরা হলেন মানুষ, যারা সংস্কৃতিতে নিমজ্জিত, এবং মন যে সমস্ত কৌতূহলী অনুমানের সরঞ্জাম অনুমোদন করে তার সাথে সংগ্রাম করছে। সংস্কৃতি সীমাবদ্ধ করার পাশাপাশি সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। যেমন প্রাকৃতিক নির্বাচনের তত্ত্ব হিসেবে জীববিজ্ঞানে [[অ্যাডাম স্মিথ]]র অবাধ অর্থনৈতিক মডেলগুলোর ডারউইনের অনুবাদ। যাই হোক না কেন, সংস্কৃতির বাইরে উদ্দেশ্যমূলক মনের অস্তিত্ব নেই। তাই আমাদের অবশ্যই আমাদের অদম্য সন্নিবেশের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে।
** পৃষ্ঠা ৬ থেকে ৭
* পরিচিত এবং আরামদায়ক দ্বৈততার কৌশলটি বাদ দিতে মানুষকে রাজি করানোর বিষয়ে আমি হতাশ। এর পরিবর্তে আমরা সম্ভবত প্রচলিত বিভাগগুলোর চেয়ে বেশি উপযুক্ত বা কেবল আলাদা অন্যান্য দ্বৈততা খুঁজে বের করে বিতর্কের কাঠামো প্রসারিত করতে পারি। সমস্ত দ্বৈততা হলো সরলীকরণ। তবে কয়েকটি অরথোগোনাল দ্বৈততার ভিন্ন অক্ষ বরাবর একটি সংঘাতের উপস্থাপনা আমাদের সবচেয়ে আরামদায়ক চিন্তার সরঞ্জামটি ত্যাগ করতে বাধ্য না করেই সঠিক বুদ্ধিবৃত্তিক স্থানের একটি প্রশস্ততা প্রদান করতে পারে।
** পৃষ্ঠা ৮
* যদি পাঠ্যগুলো যুক্তির একটি কেন্দ্রীয় যুক্তি দ্বারা একীভূত হয়, তবে তাদের সচিত্র চিত্রণগুলো একত্রিত করার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো কেবল নান্দনিক বা বাণিজ্যিক মূল্যের জন্য অন্তর্ভুক্ত সুন্দর ছোট তুচ্ছ জিনিস নয়। প্রাইমেটরা হলো দৃশ্যমান প্রাণী এবং (বিশেষ করে বিজ্ঞানে) দৃষ্টান্তের নিজস্ব একটি ভাষা এবং রীতিনীতির সেট রয়েছে।
** পৃষ্ঠা ১৮
* [[বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন|ফ্রাঙ্কলিন]] এবং [[টমাস জেফারসন|জেফারসন]] যখন স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন আমি মানবতার সমস্ত সুবিধা ত্যাগ করে দেয়ালে একটি মাছি হতে চাইতাম। [[ভ্লাদিমির লেনিন|লেনিন]] এবং [[লিওন ট্রটস্কি|ট্রটস্কি]] বিপ্লব নিয়ে, [[আইজ্যাক নিউটন|নিউটন]] এবং [[w:এডমন্ড হ্যালি|হ্যালি]] মহাবিশ্বের আকৃতি নিয়ে, অথবা ডারউইন যখন ডাউনে [[টমাস হেনরি হাক্সলি|হাক্সলি]] এবং [[চার্লস লায়েল|লায়েল]]কে আপ্যায়ন করছিলেন।
** পৃষ্ঠা ৬৪
* বিবর্তন হলো এমন একটি দৃঢ় বিশ্বাস যে জীবগুলো অবিরাম রূপান্তরের এক বর্ধিত ইতিহাসের মাধ্যমে তাদের বর্তমান রূপগুলো বিকাশ করেছে। এবং বংশলতিকার বন্ধন সমস্ত জীবিত জিনিসকে একটি নেক্সাসে আবদ্ধ করে। প্যানসিলেকশনিজম হলো ইতিহাসের একটি অস্বীকার, কারণ পরিপূর্ণতা সময়ের চিহ্নগুলো ঢেকে দেয়। একটি নিখুঁত ডানা তার বর্তমান অবস্থায় বিবর্তিত হতে পারে। তবে এটি হয়তো ঠিক সেভাবেই সৃষ্টি হয়েছে যেভাবে আমরা এটি পেয়েছি। পরিপূর্ণতা যদি আমাদের একমাত্র প্রমাণ হয় তবে আমরা কেবল বলতে পারি না। ডারউইন নিজেই খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন বিবর্তনের প্রাথমিক প্রমাণ হলো অদ্ভুততা এবং অসম্পূর্ণতা যা অবশ্যই ঐতিহাসিক বংশের পথ রেকর্ড করবে। এগুলো হলো পান্ডার বুড়ো আঙুল এবং ফ্ল্যামিংগোর হাসি যা আমার বইয়ের শিরোনাম (ইতিহাসের এই সর্বশ্রেষ্ঠ নীতিটি বোঝানোর জন্য নির্বাচিত)।
** পৃষ্ঠা ৮৪
* "কেবল ইতিহাসের" সময়ের তীর সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ডের সাথে চিহ্নিত করে। কিন্তু আমরা ইতিহাস বোঝার অনুসন্ধানে কেবল প্রতিটি মুহূর্ত চেনার জন্য একটি চিহ্ন এবং সময়ের ক্রমানুসারে ঘটনাগুলোকে সাজানোর জন্য একটি নির্দেশিকা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারি না। অনন্যতা হলো ইতিহাসের সারমর্ম। তবে আমরা কিছু অন্তর্নিহিত সাধারণতা, মুহূর্তের পার্থক্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আদেশের কিছু নীতিও কামনা করি। পাছে আমরা অবিরাম একটি বইয়ে প্রতি দুই হাজার পৃষ্ঠায় একটি নতুন ছবির [[হোর্হে লুইস বোর্হেস|বোর্হেস]]র দৃষ্টিভঙ্গিতে পাগল হয়ে যাই। সংক্ষেপে আমাদের সময়ের চক্রের অন্তর্নিহিততাও প্রয়োজন।
** পৃষ্ঠা ১৯৬
=== ''অ্যান আর্চিন ইন দ্য স্টর্ম'' (১৯৮৭) ===
:<small>ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি। এই সংকলনের প্রবন্ধগুলো মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুকসে'' প্রকাশিত হয়েছিল।</small>
* শয়তানের চোয়ালে ব্রুটাস এবং জুদাসের মাঝখানে দীর্ঘ ভবিষ্যৎ পার করার জন্য আমি আমার নিজের বইয়ের বেশ কয়েকজন পর্যালোচককে কল্পনা করি।
** ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৯
* সর্বোপরি বেশিরভাগ বইই ক্ষণস্থায়ী। কয়েক বছর পর সেগুলোর নির্দিষ্ট বিষয়গুলো শত বছরের যুদ্ধের প্রতিদিনের যুদ্ধের প্রতিবেদনের মতোই আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।
** ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১০
* মানুষের মানদণ্ডে পান্ডাদের জীবন এতোটা নিস্তেজ বলে আমি আনন্দিত। কারণ আমরা যদি কেবল মানুষের অলঙ্কার হিসেবে প্রাণী সংরক্ষণ করি তবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টার নৈতিক মূল্য খুব কম। আমরা যখন আঁচিলযুক্ত ব্যাঙ এবং পিছলে চলা কৃমিগুলোর জন্য উদ্বেগ দেখাব তখন আমি মুগ্ধ হব।
** "হাউ ডাস আ পান্ডা ফিট?", পৃষ্ঠা ২১
* সাধারণ মানুষের মানদণ্ডে বিজ্ঞানের অগ্রগতি প্রায়ই দাবি করে আমরা যেন সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক প্রশ্নগুলো থেকে পিছিয়ে আসি। অর্ধেক বুদ্ধিসম্পন্ন যে কেউ তার চেয়ারে বসে "বড়" প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাহলে কেন এই মনোরম এবং সাধারণ কাজের জন্য এতো প্রশংসা করা হবে? মহান বিজ্ঞানীদের ফলপ্রসূ এবং করণীয় সম্পর্কে একটি প্রবৃত্তি থাকে। বিশেষ করে ছোটগুলোর জন্য যা এগিয়ে নিয়ে যায় এবং অবশেষে বড় সমস্যাগুলোকে জল্পনা থেকে কর্মে রূপান্তরিত করে। লামার্ক (যদিও অন্যান্য প্রশ্নে একজন মহান অভিজ্ঞতাবাদী) তার বিবর্তনীয় গ্রন্থের উৎস হিসেবে চেয়ার বেছে নিয়েছিলেন। ডারউইন পায়রা বেছে নিয়েছিলেন এবং মানুষের চিন্তাভাবনায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। মহান তত্ত্বগুলোকে অবশ্যই বিস্তারিতভাবে একটি বিশাল নোঙর ফেলতে হবে।
** "কার্ডবোর্ড ডারউইনিজম", পৃষ্ঠা ২৬-২৭
* [[থমাস স্যামুয়েল কুন|কুন]]র আগে বেশিরভাগ বিজ্ঞানী জ্ঞানের উজ্জ্বল মন্দিরে একটি পাথর রাখার ঐতিহ্য অনুসরণ করতেন। এবং আপনাকে বলতেন তারা সত্যের মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার আশা করেছিলেন। এটি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সংযোজনমূলক বা মেলিয়রিস্ট মডেল। এখন দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী বেশিরভাগ বিজ্ঞানী বিপ্লব উসকে দেওয়ার আশা করেন।<br>তাই আমরা বিপ্লবে ভেসে যাচ্ছি, যার বেশিরভাগই স্বঘোষিত।
** "কার্ডবোর্ড ডারউইনিজম", পৃষ্ঠা ২৭
* প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্ক বড় হয়েছে (কে জানে কেন, তবে সম্ভবত সঙ্গত কারণেই)। তবুও নিশ্চয়ই আমাদের মস্তিষ্ক দ্বারা বর্তমানে করা বেশিরভাগ "কাজ", যা আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের বেঁচে থাকার উভয়ের জন্যই অপরিহার্য, এই মেশিনের কম্পিউটিং শক্তির এপিফেনোমেনা, জিনগতভাবে ভিত্তি করে ডারউইনীয় সত্তা নয় যা তাদের বর্তমান কাজের জন্য বিশেষভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা তৈরি করা হয়েছে।
** "কার্ডবোর্ড ডারউইনিজম", পৃষ্ঠা ৪৮ থেকে ৪৯
* বিবর্তনবাদীরা কখনও কখনও শৃঙ্খলার প্রচলিত মইয়ের পরবর্তী স্তরের প্রতি উদ্ধত মনোভাব পোষণ করেন: মানব বিজ্ঞান। তারা তাদের মানববিজ্ঞানী সহকর্মীদের অনুমিত তাত্ত্বিক স্বকীয়তার নিন্দা করেন এবং যুক্তি দেন যদি মানবতার শিক্ষার্থীরা তাদের বিষয়টিকে অন্য একটি প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে এবং ফলস্বরূপ বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের কাছে ব্যাখ্যামূলক নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয় তবে সব ঠিক হয়ে যাবে।
** "দ্য গোস্ট অফ [[প্রোতাগোরাস]]", পৃষ্ঠা ৬৪
* সামাজিক পটভূমির অধ্যয়ন সেখানে একটি বাস্তব জগতের অপ্রাসঙ্গিকতা বা অস্তিত্বহীনতার ইঙ্গিত দেয় না।
** "দ্য পাওয়ার অফ ন্যারেটিভ", পৃষ্ঠা ৮৪
* ব্যস্ত জীবনের বাস্তবতার কাছে মাথা নত করে [[w:মার্টিন রুডউইক|রুডউইক]] স্বীকার করেন সবাই মাংসল দ্বিতীয় অংশের প্রতিটি শব্দ পড়বেন না। এমনকি তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের এড়িয়ে যাওয়ার অনুমতিও দেন যদি আমরা "বর্ণনায় আটকে যাই"। পাঠকদের একেবারেই এমন কিছু করা উচিত নয়। এটা অবৈধ হওয়া উচিত। প্রকাশকের উচিত শেষ ৬০ পৃষ্ঠা আটকে রাখা এবং দুই ও তিন অংশের মাঝে বইটিতে ঢোকানো বহুনির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া কাউকে অ্যাক্সেস দিতে অস্বীকার করা।
** "দ্য পাওয়ার অফ ন্যারেটিভ", পৃষ্ঠা ৮৮
* ভূতত্ত্ব এবং অন্য যেকোনো জায়গায় সৃজনশীল কাজ হলো মিথস্ক্রিয়া এবং সংশ্লেষণ। মদের বারের অর্ধ-বেকড ধারণা, মাঠের পাথর, একাকী হাঁটা থেকে চিন্তার শৃঙ্খল, গবেষণাগারে পাথর থেকে নিংড়ে নেওয়া সংখ্যা, ডেস্কে লাগানো ক্যালকুলেটর থেকে সংখ্যা, দামি জাহাজে সাধারণত বিকল হয়ে যাওয়া অভিনব সরঞ্জাম, মানুষের মাথার খুলিতে সস্তা সরঞ্জাম, রোডকাটের আগে যুক্তি।
** "ডিপ টাইম অ্যান্ড সিসলেস মোশন", পৃষ্ঠা ৯৮
* মহৎ "প্রকৃতি-লালন" বিতর্কে আমাকে একজন "নুরচুরিস্ট" হিসেবে মনে করা হয়। তবে মানুষের আচরণের ওপর জৈবিক প্রভাবের এই ধারণায় আমি হতাশাজনক কিছু পাই না। আমি মনে করি আমাকে অবশ্যই আবারও জোর দিয়ে বলতে হবে, এবং আমরা সবাই যেমন অসংখ্যবার করি, যে বিভাগগুলো অযৌক্তিক এবং "প্রকৃতি-লালন" বিতর্ক বলে কিছু নেই, বাক্যাংশের মনোরম অনুপ্রাস থাকা সত্ত্বেও। প্রত্যেক বিজ্ঞানী, এমনকি প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি জানেন যে মানব সামাজিক আচরণ জৈবিক এবং সামাজিক প্রভাবের একটি জটিল এবং অবিভাজ্য মিশ্রণ। প্রকৃতি নাকি লালন-পালন মানব আচরণ নির্ধারণ করে তা মূল বিষয় নয়। কারণ এই বিষয়গুলো সত্যিই অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু সামাজিক সংগঠনের সম্ভাব্য রূপগুলোর ওপর জীববিজ্ঞান দ্বারা প্রয়োগ করা সীমাবদ্ধতার মাত্রা, তীব্রতা এবং প্রকৃতি মূল বিষয়।
** "জিনস অন দ্য ব্রেইন", পৃষ্ঠা ১১২-১১৩
* জৈবিক সার্বজনীনতার অস্তিত্ব নিয়ে কেউ সন্দেহ করেন না। আমাদের অবশ্যই ঘুমাতে হবে, খেতে হবে এবং বয়স বাড়তে হবে। আমরা সন্তান জন্মদান ছেড়ে দিতে পারি না। আমাদের প্রায় সমস্ত সামাজিক প্রতিষ্ঠান এই বাধ্যবাধকতা দ্বারা প্রভাবিত হয়।
** "জিনস অন দ্য ব্রেইন", পৃষ্ঠা ১১৩
* জীববিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি উভয়ের সঠিক উপলব্ধি মানব আচরণে জীববিজ্ঞানের মহান গুরুত্বকে নিশ্চিত করে এবং জীববিজ্ঞান কেন আমাদের স্বাধীন করে তাও ব্যাখ্যা করে। সীমাবদ্ধতার সাথে জীববিজ্ঞানের পুরানো সমীকরণ প্রকৃতি এবং লালন-পালনের মধ্যে মিথ্যা দ্বৈততার অন্তর্নিহিত (নমনীয়র বিপরীতে) দিকটির সাথে পশ্চিমা সংস্কৃতির মতোই পুরানো চিন্তার ত্রুটিগুলোর ওপর নির্ভর করে। জৈবিক নির্ধারণবাদের সমালোচকরা সমপরিমাণ ভ্রান্ত (এবং সমান নিষ্ঠুর এবং সীমাবদ্ধ) দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করেন না যে মানব সংস্কৃতি জীববিজ্ঞানকে বাতিল করে দেয়। জৈবিক নির্ধারণবাদ লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে সীমাবদ্ধ করেছে তাদের আর্থসামাজিক অসুবিধাগুলোকে জন্মগত ত্রুটি হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করে। কিন্তু সাংস্কৃতিক নির্ধারণবাদ অতিরিক্ত পিতামাতার ভালোবাসা বা খুব কম ভালোবাসার সাইকোব্যাবেলের প্রতি অটিজমের মতো গুরুতর জন্মগত রোগগুলোকে দায়ী করতে সমান নিষ্ঠুর হতে পারে।
** "নার্চারিং নেচার", পৃষ্ঠা ১৪৮
* একটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি একজন বিজ্ঞানীকে নিখুঁতভাবে প্রকৃতি দেখতে বাধা দেয় না। কেবল এই কারণে কোনো সৎ বিজ্ঞানী বা কার্যকর রাজনৈতিক কর্মী আমাদের খুঁজে পাওয়া বিশ্বের সাথে স্পষ্ট মতবিরোধের একটি কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়ার মতো এতো বোকা হবেন না।
** "নার্চারিং নেচার", পৃষ্ঠা ১৫০
* বামপন্থী বিজ্ঞানীদের জৈবিক নির্ধারণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ঠিক যেমন ডানপন্থীরা এটিকে একগুঁয়ে জীববিজ্ঞান হিসেবে স্থিতাবস্থার সর্বোত্তম ন্যায্যতা সমর্থন করতে প্ররোচিত করেন। এই সম্পর্কগুলো আকস্মিক নয়। তবে আসুন আমরা চিন্তার প্রতি এতোটা অসম্মানজনক না হই যে আমরা যুক্তির যুক্তিগুলোকে কেবল পক্ষপাতিত্বের অনিবার্য প্রতিফলন হিসেবে খারিজ করে দিই। আবিষ্কারের প্রেক্ষাপটকে ন্যায্যতার প্রেক্ষাপটের সাথে গুলিয়ে ফেলি।
** "নার্চারিং নেচার", পৃষ্ঠা ১৫১
* মানব আচরণের কোনো গুরুতর শিক্ষার্থী আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনের ওপর বিবর্তিত জীববিজ্ঞানের শক্তিশালী প্রভাব অস্বীকার করেন না। আমাদের সংগ্রাম হলো জীববিজ্ঞান আমাদের কীভাবে প্রভাবিত করে তা বের করা, এটি প্রভাব ফেলে কিনা তা নয়।
** "নার্চারিং নেচার", পৃষ্ঠা ১৫২
* ঠিক যেমন কেউই জীববিজ্ঞানকে পুরোপুরি বাতিল করার মতো এতো বোকা নয়, তেমনি কেউ জটিল আচরণে জিন অনুবাদের কিছুটা নমনীয়তা অস্বীকার করেন না।
** "নার্চারিং নেচার", পৃষ্ঠা ১৫২
* একটি শব্দ হিসেবে বাস্তুসংস্থান সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ব্যবহার দ্বারা এতোটাই অবমূল্যায়িত হয়েছে যে অনেক লোক শহর থেকে দূরে এবং মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ঘটে যাওয়া যেকোনো ভালো জিনিস চিহ্নিত করতে এটি ব্যবহার করেন।
** "এক্সাল্টেশন অ্যান্ড এক্সপ্লানেশন", পৃষ্ঠা ১৮৩
* দরকারি পরিমাপ প্রায়ই ফলপ্রসূ বিজ্ঞানের চাবিকাঠি।
** "এক্সাল্টেশন অ্যান্ড এক্সপ্লানেশন", পৃষ্ঠা ১৮৪
* ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ বিজ্ঞানীরা কেবল এটির পুনরাবৃত্তি করতে অভিশপ্ত নন, বরং বিভ্রান্ত এবং উদ্যমহীন হতেও অভিশপ্ত।
** "এক্সাল্টেশন অ্যান্ড এক্সপ্লানেশন", পৃষ্ঠা ১৮৭
* মহাবিশ্ব যে কারণেই হোক না কেন এখানে ছিল (যদি থাকে) এবং আমরা অনেক পরে এসে মানিয়ে নিয়েছি। মহাবিশ্ব আমাদের জন্য একটি আরামদায়ক বাসস্থান তৈরি করার জন্য কোটি কোটি বছর ধরে তার মতো করেই চলেছে বলে দাবি করা সেকেলে অহংকারের চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে মনে হয়... অবশ্যই আমরা মানিয়ে নিই। আমরা না পারলে এখানে থাকতাম না। কিন্তু পৃথিবী আমাদের জন্য তৈরি হয়নি এবং এটি আমাদের ছাড়াই টিকে থাকবে।
** "প্লেসেন্ট ড্রিমস", পৃষ্ঠা ২০৬ (উপবৃত্ত তিনটি বাক্যের বিলোপকে উপস্থাপন করে)
* এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে জীবাশ্মবিদ্যা জীবাশ্ম রেকর্ডের মৌলিক রূপরেখা প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে আমরা জেনেছি যে জীবনের ইতিহাসের সাথে সত্তার পুরোনো শৃঙ্খল কতটা খারাপভাবে মিলে যায়। রূপক হিসেবে এর অধ্যবসায় এবং এমনকি জ্যাস্ট্রোর ক্ষেত্রে আরোপিত "বাস্তবতা" হিসেবে এটি কেবল প্রমাণের মুখে স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করার প্রতি আমাদের অনীহা প্রতিফলিত করে।
** "দ্য পেরিলস অফ হোপ", পৃষ্ঠা ২১০
* জৈবিক বিবর্তন হলো ত্রুটিযুক্ত প্রজনন এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে শারীরিক বংশলতিকার বন্ধন সম্পর্কে একটি তত্ত্ব। কম্পিউটার বংশবৃদ্ধি করে না। এর ডারউইনীয় প্রক্রিয়া দ্বারা জীববিজ্ঞানে দেওয়া কোনো দিক শিল্প পরিবর্তনের পথে অনুবাদ করে না। একটি জৈবিক অতীত একটি প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের কোনো নিশ্চিত নির্দেশক নয়।
** "দ্য পেরিলস অফ হোপ", পৃষ্ঠা ২১১
* জীবন হলো লক্ষ লক্ষ শাখা বিশিষ্ট একটি প্রসারিত ঝোপ, মই নয়। ডারউইনবাদ পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে স্থানীয় অভিযোজনের একটি তত্ত্ব, অনিবার্য অগ্রগতির গল্প নয়। ডারউইন লিখেছিলেন, "দীর্ঘ চিন্তার পর আমি এই দৃঢ় বিশ্বাস এড়াতে পারি না যে প্রগতিশীল বিকাশের কোনো সহজাত প্রবণতা নেই।"<br>জ্যাস্ট্রো হয়তো যুক্তি দেবেন তিনি জীবনের ঝোপের বিশাল গোলকধাঁধার মধ্য দিয়ে একটি মাত্র পথ বিবেচনা করছেন যা আমাদের দিকে পরিচালিত করেছে। এমনকি এখানে আমি উত্তর দিতে পারি যে এই নির্দিষ্ট পথের প্রতি বিশেষ আগ্রহের (এবং স্নেহের) জন্য আমাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থাকলেও, এটিকে (বা অন্য যেকোনো) জীবনের অপরিহার্য দিক হিসেবে বিবেচনা করার কোনো অধিকার আমাদের নেই। আর্ডভার্ক, অ্যানকোভি বা আর্টিচোকের দিকে নিয়ে যাওয়া পথগুলো সমান দীর্ঘ, জটিল এবং জৈবিকভাবে তথ্যপূর্ণ।
** "দ্য পেরিলস অফ হোপ", পৃষ্ঠা ২১১
* জ্যাস্ট্রো এবং আরও কয়েকজন জ্যোতির্বিদ বিগ ব্যাংকে জেনেসিসের মহাজাগতিক সমতুল্য হিসেবে পড়ে মহাবিশ্বে ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। আমি স্বীকার করছি এই যুক্তিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া আমার পক্ষে কঠিন বলে মনে হয়েছে।
** "দ্য পেরিলস অফ হোপ", পৃষ্ঠা ২১২
* পৃথিবী একটি জটিল জায়গা। আমাদের সরলীকরণ এবং বোঝার লড়াইয়ে আমরা প্রায়ই কিছু সমস্যা চিহ্নিত করি এবং তারপর এটিকে সব মন্দের জন্য দায়ী করি।
** "উটোপিয়া, লিমিটেড", পৃষ্ঠা ২১৮
* মানব নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে পরিবেশন করার জন্য প্রকৃতির কোনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে হস্তান্তরযোগ্য জ্ঞান নেই। প্রকৃতির প্রতি নিষ্ক্রিয় পর্যবেক্ষণ এবং প্রশ্নাতীত শ্রদ্ধা নৈতিক দর্শনের বিকল্প নয়।
** "উটোপিয়া, লিমিটেড", পৃষ্ঠা ২২৫
* আমি বুঝতে পারছি না কেন আমাদের সমস্ত জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রত্যাখ্যান করা উচিত। এর কারণ এর প্রযুক্তি হয়তো একদিন পরবর্তী হিটলারের হাতে শালীনতার এমন বিকৃতির অনুমতি দিতে পারে। আপনি হয়তো মুদ্রণ নিষিদ্ধও করতে পারেন কারণ যে মেশিনটি শেক্সপিয়রের লেখা কম্পোজ করে সেটি ''মেইন ক্যাম্প''-ও সেট করতে পারে। ডোমিনো তত্ত্ব সমস্ত মানুষের অর্জনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যদি আমরা একটি ব্যাকটেরিয়াল জিন প্রতিস্থাপন করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফসলে রোগ বা ঠান্ডা প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করতে পারতাম, তবে অপুষ্টিতে এতো ভয়ানকভাবে ভুগছে এমন একটি পৃথিবীতে কি আমাদের তা করা উচিত নয়? এমন সুবিধার কি এটা বোঝানো উচিত যে আগামীকাল ভুট্টা এবং গম, সামুদ্রিক ঘোড়া এবং অর্কিডকে একটি বিশাল ভ্যাটে ফেলে দেওয়া হবে, জেনেটিক এককগুলোতে ছিঁড়ে ফেলা হবে এবং অভিন্ন মানব ভৃত্যদের সারিতে পুনরায় একত্রিত করা হবে? কিছু বাক্যাংশ পুনরায় একত্রিত করার জন্য চিরন্তন সতর্কতা হলো প্রযুক্তিগত অর্জনের মূল্য।
** "ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড মি. রিফকিন", পৃষ্ঠা ২৩৮
* চিন্তার পরিবর্তে নিষিদ্ধ করার আবেগপূর্ণ আহ্বানের চেয়ে খুব কম প্রচারণাই বেশি বিপজ্জনক।
** "ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড মি. রিফকিন", পৃষ্ঠা ২৩৮
* গতকালের দ্রষ্টা হলেন আজকের বিরক্তি।
** "দ্য কোয়াক ডিটেক্টর", পৃষ্ঠা ২৪৪
* আমরা যেমন ক্র্যাঙ্ক এবং প্রতিভার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম রেখা বুঝতে পারি, তেমনি (এবং দুর্ভাগ্যবশত) আমাদের অবশ্যই ক্র্যাঙ্ক থেকে ডেম্যাগোগ পর্যন্ত একটি সমানভাবে গ্রেডেড পথ স্বীকার করতে হবে। মানুষ যখন বিচারের কোনো সরঞ্জাম শেখে না এবং কেবল তাদের আশা অনুসরণ করে, তখন রাজনৈতিক কারসাজির বীজ রোপণ করা হয়।
** "দ্য কোয়াক ডিটেক্টর", পৃষ্ঠা ২৪৫
=== ''ওয়ান্ডারফুল লাইফ'' (১৯৮৯) ===
:<small>জনপ্রিয় দর্শকদের উদ্দেশ্যে লেখা এই বইটি [[w:বার্জেস শেল|বার্জেস শে]]<nowiki/>লে নরম দেহের জীবাশ্ম আবিষ্কার এবং সত্তর বছর পর তাদের পুনর্গঠনের বর্ণনা দেয়। উদ্ধৃতিগুলো ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।</small>
* প্রকৃতির সৌন্দর্য বিস্তারিত লুকিয়ে আছে। বার্তা রয়েছে সাধারণতার মধ্যে।
** প্রস্তাবনা।
* আমি বিশ্বাস করি আমাদের এখনও পেশাদার এবং আগ্রহী সাধারণ মানুষ উভয়ের জন্যই উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক বইয়ের একটি ধারা থাকতে পারে। বিজ্ঞানের ধারণাগুলো তাদের সমস্ত সমৃদ্ধি এবং অস্পষ্টতায় কোনো আপস ছাড়াই, বিকৃতি হিসেবে বিবেচিত কোনো সরলীকরণ ছাড়াই সব বুদ্ধিমান মানুষের কাছে বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করা যেতে পারে। আমি আশা করি এই বইটি স্নাতক শিক্ষার্থীদের সেমিনারে লাভের সাথে পড়া যেতে পারে। এবং যদি মুভিটি খারাপ হয় এবং আপনি আপনার ঘুমের ওষুধ ভুলে যান, তবে টোকিওতে ব্যবসায়ীর বিশেষ অনুষ্ঠানেও পড়া যেতে পারে।
** প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১৬
* আমি দৃঢ়ভাবে এমন কোনো [[ধারণাগত স্কিম]] প্রত্যাখ্যান করি যা আমাদের বিকল্পগুলোকে একটি রেখায় রাখে। এবং মনে করে চরম অবস্থানের একটি জোড়ার একমাত্র বিকল্প তাদের মাঝখানে কোথাও রয়েছে। আরও ফলপ্রসূ দৃষ্টিভঙ্গির জন্য প্রায়ই আমাদের দ্বৈততার বাইরের কোনো স্থানে লাইন থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।
** পৃষ্ঠা ৫১
* আনুষঙ্গিকতা তার নিজের মধ্যে একটি জিনিস, এলোমেলোতা দ্বারা নির্ধারণবাদের টাইট্রেশন নয়।
** পৃষ্ঠা ৫১
* বার্জেস শেলের প্রাণীগুলো হলো পবিত্র বস্তু। এটি অপ্রচলিত অর্থে, যা কিছু সংস্কৃতিতে এই শব্দটি বহন করে। আমরা তাদের পাদদেশে স্থাপন করে দূর থেকে পূজা করি না। তাদের খুঁজে পেতে আমরা পাহাড়ে আরোহণ করি এবং পাহাড়ের ঢালে ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটাই। আমরা তাদের খনন করি, তাদের বিভক্ত করি, তাদের খোদাই করি, তাদের আঁকি এবং তাদের গোপনীয়তাগুলো জানার জন্য সংগ্রাম করে তাদের ব্যবচ্ছেদ করি। আমরা তাদের জঘন্য অনমনীয়তার জন্য তাদের নিন্দা করি এবং অভিশাপ দিই। এগুলো ৫৩০ মিলিয়ন বছর পুরানো সমুদ্রের তলদেশের ছোট্ট নোংরা প্রাণী। কিন্তু আমরা তাদের বিস্ময়ের সাথে অভ্যর্থনা জানাই কারণ তারা অনেক পুরোনো এবং তারা আমাদের কিছু বলার চেষ্টা করছে।
** পৃষ্ঠা ৫২
* একটি পুরানো জীবাশ্মতাত্ত্বিক কৌতুক ঘোষণা করে স্তন্যপায়ী বিবর্তন হলো একটি গল্প, যা দাঁতের মিলনের মাধ্যমে সামান্য পরিবর্তিত বংশধরের দাঁত তৈরির কথা বলে।
** পৃষ্ঠা ৬০
* মাঠপর্যায়ের কাজের কিংবদন্তিগুলো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে দুর্গম জঙ্গলের গভীরে অবস্থিত করে। সেখানে হিংস্র প্রাণী এবং অস্থির আদিবাসীরা বাস করে। এবং পচনশীল মিয়াজমা এবং সেটসি মাছির ঝাঁক দ্বারা বেষ্টিত থাকে। (বিকল্প মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে সমস্ত উটের মৃত্যুর পরে শততম বালিয়াড়ি, বা সমস্ত স্লেজ কুকুরের মৃত্যুর পরে হাজারতম ফাটল।)
** পৃষ্ঠা ৬৫
* প্রাকৃতিক ইতিহাসের সমস্ত আকর্ষণীয় বিষয় হলো আপেক্ষিক ফ্রিকোয়েন্সির প্রশ্ন, একক উদাহরণ নয়। প্রকৃতির সমৃদ্ধির মধ্যে সবকিছু একবার ঘটে। কিন্তু যখন কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা বারবার ঘটে, এবং শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশায় পরিণত হয়, তখন তত্ত্বগুলো উল্টে যায়।
** পৃষ্ঠা ১৩৬
* ঐতিহাসিক বিজ্ঞান খারাপ, বেশি সীমাবদ্ধ বা দৃঢ় সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কম সক্ষম নয়। কারণ পরীক্ষা, ভবিষ্যদ্বাণী এবং প্রকৃতির অপরিবর্তনীয় আইনের অধীনে সাবজাম্পশন এর স্বাভাবিক কাজের পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে না। ইতিহাসের বিজ্ঞানগুলো ব্যাখ্যার একটি ভিন্ন মোড ব্যবহার করে, যা আমাদের ডেটাতে তুলনামূলক এবং পর্যবেক্ষণমূলক সমৃদ্ধির মধ্যে নিহিত। আমরা অতীতের কোনো ঘটনা সরাসরি দেখতে পারি না। তবে বিজ্ঞান সাধারণত অনুমানের ওপর ভিত্তি করে, অমলীন পর্যবেক্ষণের ওপর নয় (আপনি ইলেকট্রন, মহাকর্ষ বা ব্ল্যাক হোলও দেখতে পান না)।
** পৃষ্ঠা ২৭৯
* ডিভাইন টেপ প্লেয়ার এক মিলিয়ন দৃশ্যকল্প ধারণ করে। এর প্রতিটিই নিখুঁতভাবে বোধগম্য। শুরুতে ছোটখাটো অদ্ভুত ঘটনা, যা বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই ঘটে, ফলাফলের ক্যাসকেডগুলো উন্মোচন করে যা একটি নির্দিষ্ট ভবিষ্যতকে অতীতের দিকে তাকালে অনিবার্য বলে মনে করে। কিন্তু সামান্যতম প্রাথমিক ধাক্কা একটি ভিন্ন খাঁজের সাথে যোগাযোগ করে। এবং ইতিহাস অন্য একটি যুক্তিসঙ্গত চ্যানেলে মোড় নেয়, যা ক্রমাগত তার মূল পথ থেকে বিচ্যুত হয়। শেষ ফলাফলগুলো এতো আলাদা, প্রাথমিক ক্ষোভ এতোটাই তুচ্ছ মনে হয়।
** পৃষ্ঠা ৩২০ থেকে ৩২১
=== ''বুলি ফর ব্রন্টোসরাস'' (১৯৯১) ===
:<small>ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন প্রথম সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি।</small>
* আমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি সংবেদনশীল নই এমন নয়। কিন্তু আমার আবেগপূর্ণ আনন্দগুলো ''হোমো স্যাপিয়েন্স'' নামক সেই ক্ষুদ্র এবং আকস্মিক বিবর্তনীয় ডালের অসম্ভাব্য অথচ কখনও কখনও বিস্ময়কর কাজগুলোকে কেন্দ্র করে। আমি এই কাজগুলোর মধ্যে প্রকৃতি বোঝার আমাদের সংগ্রামের ইতিহাসের চেয়ে মহৎ আর কিছু পাই না। এটি এতো বিশাল স্থানিক এবং অস্থায়ী সুযোগের একটি রাজকীয় সত্তা যে এটি একটি কৌতূহলী বিবর্তনীয় আবিষ্কারের সাথে সামান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর চিন্তার জন্য খুব বেশি যত্ন করতে পারে না। যদিও সেই আবিষ্কারটি পৃথিবীতে জীবনের প্রায় চার বিলিয়ন বছরে প্রথমবারের মতো পুনরাবৃত্তি তৈরি করেছে কারণ একটি প্রাণী তার নিজস্ব উৎপাদন এবং বিবর্তনের দিকে ফিরে তাকায়। তাই আমি প্রথম অঙ্গকে প্রদান করা পাজল এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আনন্দের জন্য প্রকৃতিকে ভালোবাসি, যা এমন কৌতূহলী চিন্তার জন্য সক্ষম।
** প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১৩
* প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য হলো তার প্রশস্ততা। সে আমাদের জন্য বা আমাদের কারণে বিদ্যমান নয়। এবং তার এমন একটি থাকার ক্ষমতা আছে যা আমাদের সমস্ত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার হুমকি দিতে পারে না (যেমন আমরা সহজেই আমাদের নিজেদের ধ্বংস করতে পারি)।
** প্রস্তাবনা, পৃষ্ঠা ১৬ থেকে ১৭
* বেসবল লেখার সবচেয়ে নির্বোধ এবং উদ্দেশ্যমূলক লেখাটি হলো লাঠি দিয়ে বল আঘাত করা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দৃশ্য থেকে গভীরতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। এটি খেলাধুলা এবং নৈতিকতা, পিতৃত্ব, ইতিহাস, হারানো নির্দোষতা, ভদ্রতা ইত্যাদির গভীর বিষয়গুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের পরামর্শ দিয়ে প্রায় অসীমভাবে করার চেষ্টা করে। (এই প্রচেষ্টাটি বোকামির দুর্গন্ধ ছড়ায় কারণ বেসবল নিজেই গভীর এবং এর কোনো অজুহাতের প্রয়োজন নেই। যারা এটি জানেন না তারা অনুরাগী নন এবং তাই তাদের কাছে পৌঁছানো যায় না।)
** "দ্য ক্রিয়েশন মিথস অফ [[w:কুপারসটাউন, নিউ ইয়র্ক|কুপারসটাউন]]", পৃষ্ঠা ৪৬
* জৈবিক বিবর্তন হলো শাখার পরবর্তী সংযোগ ছাড়া অবিরাম ভিন্নতার একটি সিস্টেম। বংশ একবার স্বতন্ত্র হয়ে গেলে তা চিরতরে আলাদা হয়ে যায়। মানব ইতিহাসে বংশের মাধ্যমে সংক্রমণ হয়তো সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রধান উৎস। ইউরোপীয়রা আদিবাসী আমেরিকানদের কাছ থেকে ভুট্টা এবং আলু সম্পর্কে শিখেছিল এবং বিনিময়ে তাদের গুটিবসন্ত দিয়েছিল।
** "দ্য পান্ডাস থাম্ব অফ টেকনোলজি", পৃষ্ঠা ৬৫
* আমরা পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বাস করি এবং সম্মানজনক আত্মস্বার্থের প্রতি আমার কোনো বিশেষ আপত্তি নেই। আমরা বেতনের নাটকীয় পুনর্গঠন ছাড়া প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রয়োজনীয়, কঠোর উন্নতির আশা করতে পারি না। আমার মতে ছোট বাচ্চাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা প্রতিভার মূল্যের ক্ষতিপূরণ দিতে আপনি একজন ভালো শিক্ষককে পর্যাপ্ত অর্থ প্রদান করতে পারবেন না। আমি সহনীয়ভাবে ভালো আচরণকারী প্রায়-প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে এক বা দুই ঘণ্টা শেখাই এবং আমি ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরি। সম্ভাব্য কোন যুক্তিতে আমার পরিষেবাগুলোর বেতন দিনে ছয়টি ক্লাস নেওয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের চেয়ে বেশি? যার মর্যাদা কম, সমর্থন কম, শৃঙ্খলার বিশাল সমস্যা রয়েছে এবং মন গঠনে মৌলিক ভূমিকা রয়েছে। (তুলনায় আমি কেবল ইতিমধ্যে গঠিত বুদ্ধি নিয়ে কাজ করি।)
** "দ্য ডাইনোসর রিপ-অফ", পৃষ্ঠা ১০১ থেকে ১০২
* স্মৃতি একটি আকর্ষণীয় প্রতারক। শব্দ এবং চিত্রের প্রচুর ক্ষমতা রয়েছে। এবং এগুলো সহজেই বছরের পর বছর ধরে বাস্তব অভিজ্ঞতাকে স্থানচ্যুত করতে পারে।
** "লিটারারি বায়াস অন দ্য স্লিপারি স্লোপ", পৃষ্ঠা ২৪৯
* এই "প্রায় কিছুই না" এর অন্তর্ভুক্ত, গত কয়েক মিলিয়ন বছরের ভূতাত্ত্বিক চিন্তাভাবনার এক ধরণের কারণ হিসেবে এই গ্রহে আত্মসচেতন বুদ্ধিমত্তার প্রথম বিকাশ ঘটেছে। এটি স্তন্যপায়ী বিবর্তনীয় ঝোপের একটি ছোট ডালের একটি অদ্ভুত এবং অননুমেয় আবিষ্কার। এই অনন্যতার যেকোনো সংজ্ঞাকে অবশ্যই আমাদের ভাষার অধিকারের সাথে জড়িত থাকতে হবে। বিশ্বকে গল্প হিসেবে ফ্রেম করা এবং অন্যদের কাছে এই গল্পগুলো প্রেরণ করার আমাদের ক্ষমতা এর সাথে জড়িত। যদি গল্প হিসেবে প্রকৃতিকে উপলব্ধি করার আমাদের প্রবণতা আমাদের উপলব্ধিগুলোকে বিকৃত করে, তবে আমি জ্ঞানের ওপর মানসিকতার এই সীমাটি গ্রহণ করব। কারণ আমরা বাণিজ্যে সাহিত্যের আনন্দ এবং আমাদের সত্তার মূল উভয়ই পাই।
** "লিটারারি বায়াস অন দ্য স্লিপারি স্লোপ", পৃষ্ঠা ২৫২
* বৈজ্ঞানিক উপলব্ধির বেশিরভাগ বাধাই ধারণাগত তালা, বাস্তবতার অভাব নয়। সেই পক্ষপাতিত্বগুলো অপসারণ করা সবচেয়ে কঠিন যা আমাদের যাচাই-বাছাই এড়িয়ে যায় কারণ সেগুলোকে এতোটা স্পষ্ট, এমনকি অনিবার্যভাবে ন্যায়সঙ্গত বলে মনে হয়। আমরা নিজেদের সবচেয়ে ভালোভাবে জানি এবং অন্যান্য প্রাণীকে আমাদের নিজস্ব গঠন এবং সামাজিক ব্যবস্থার আয়না হিসেবে দেখতে প্রবণ। ([[অ্যারিস্টটল]] এবং প্রায় দুই সহস্রাব্দের উত্তরসূরিরা ঝাঁকের নেতৃত্বদানকারী বড় মৌমাছিটিকে রাজা হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।)
** "গ্লো, বিগ গ্লোওয়ার্ম", পৃষ্ঠা ২৫৬
* প্রকৃতির তথ্যগুলো যেমন আছে তেমনই। তবে আমরা কেবল আমাদের মনের চশমার মধ্য দিয়ে সেগুলো দেখতে পারি। আমাদের মন মূলত রূপক এবং তুলনার মাধ্যমে কাজ করে। এটি সর্বদা (বা প্রায়ই) নিরলস যুক্তি দ্বারা কাজ করে না। আমরা যখন ধারণাগত ফাঁদে আটকে যাই, তখন সেরা প্রস্থান প্রায়ই রূপকের পরিবর্তন হয়। রূপকটি প্রকৃতির কাছে সত্য হবে বলে তা নয় (কারণ বনে পুরোনো বা নতুন কোনো রূপকই নেই), তবে রূপকটি প্রায়ই ধারণাগত রূপান্তরের সেরা প্রতিনিধি।
** "গ্লো, বিগ গ্লোওয়ার্ম", পৃষ্ঠা ২৬৪
* নৈতিক অন্তর্দৃষ্টির কোনো শর্টকাট নেই। প্রকৃতি এমন কিছু নয় যা মানুষের ভাষায় সান্ত্বনা দিতে পারে। কারণ আমাদের প্রজাতি আমাদের জন্য তৈরি হয়নি এমন একটি পৃথিবীতে এতোটা তুচ্ছ আগন্তুক। এতোটাই ভালো। নৈতিক দ্বিধাগুলোর উত্তর সেখানে আবিষ্কারের অপেক্ষায় নেই। এগুলো ঈশ্বরের রাজ্যের মতো আমাদের মধ্যে বাস করে। এটি যেকোনো আবিষ্কার বা ঐকমত্যের জন্য সবচেয়ে কঠিন এবং দুর্গম স্থান।
** "ক্রপটকিন ওয়াজ নো ক্র্যাকপট", পৃষ্ঠা ৩৩৯
* "দীর্ঘ দৃষ্টিভঙ্গিের" যুক্তি কিছু অর্থহীন বিমূর্ত অর্থে সঠিক হতে পারে। তবে এটি বিভাগ এবং সময় স্কেলগুলোতে একটি মৌলিক ভুল উপস্থাপন করে। আমাদের একমাত্র বৈধ দীর্ঘ দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সন্তানদের এবং আমাদের সন্তানদের সন্তানদের শিশুদের পর্যন্ত প্রসারিত, যা রাস্তার নিচে শত বা কয়েক হাজার বছর পর্যন্ত বিস্তৃত। আমরা যদি হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যেতে দিই, তবে তারা ইঁদুর, কুকুর, তেলাপোকা, কবুতর এবং মশার সাথে একটি অন্ধকার পৃথিবী ভাগ করবে। কয়েক মিলিয়ন বছর পরের সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের আমাদের উপযুক্ত স্কেলে কোনো অর্থ নেই।
** "দ্য প্যাশন অফ [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]]", পৃষ্ঠা ৩৬৫
* লাভোয়াজিয়ে গভীরতম, প্রায় পবিত্র উপায়ে সঠিক ছিলেন। তার আবেগ যুক্তির সেবায় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়েছিল; অন্য এক ধরনের আবেগ ছিল এর মূল্য। যুক্তি আমাদের বাঁচাতে পারে না এবং এমনকি ভুল হাতে আমাদের তাড়নাও করতে পারে। তবে যুক্তি ছাড়া আমাদের মুক্তির কোনো আশা নেই। পৃথিবী খুব জটিল এবং খুব অনমনীয়। আমরা একে আমাদের সাধারণ ইচ্ছার কাছে নোয়াতে পারি না।
** "দ্য প্যাশন অফ অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে", পৃষ্ঠা ৩৬৬
* ভুল কারণে সঠিক অনুমান করা বৈজ্ঞানিক অমরত্বের যোগ্যতা অর্জন করে না।
** "দ্য গডফাদার অফ ডিজাস্টার", পৃষ্ঠা ৩৭৯
* বিজ্ঞান হলো প্রাকৃতিক বিশ্ব সম্পর্কে দাবিগুলো পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি, নিরঙ্কুশ সত্যের কোনো অপরিবর্তনীয় সংকলন নয়। মৌলবাদীরা শুরু করার আগেই উত্তরগুলো "জেনে" এবং তারপর প্রকৃতিকে তাদের অসম্মানিত কুসংস্কারের স্ট্রেইটজ্যাকেটে বাধ্য করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রের বাইরে অবস্থান করেন, অথবা কোনো সৎ বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধানের বাইরে।
** "অ্যান এসে অন আ পিগ রোস্ট," পৃষ্ঠা ৪৩৭
* যখন আমরা বিজ্ঞানের সঠিক পরিচালনার জন্য একটি পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ খুঁজি, তখন নির্দিষ্ট ভুলের সংশোধন সম্ভাব্য সত্য প্রতিষ্ঠার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিশ্রুতি দেয়। অবশ্যই অসমর্থিত অনুমানের চেয়ে নিশ্চিত হওয়া অনুমানগুলো বেশি আনন্দদায়ক। যেহেতু "জনপ্রিয়" লেখার সবচেয়ে খারাপ ঐতিহ্যগুলো মিথ্যাভাবে নির্দেশিকাকে মিষ্টতা এবং আলোর সাথে তুলনা করে, তাই আমাদের প্রচারমূলক সাহিত্য বীরত্বপূর্ণ মোডে নীরস গল্পে ভরপুর। যদিও হতাশা এবং ক্ষতির কঠিন গল্পগুলো এমন একটি [[পদ্ধতিবিদ্যা]]র গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়, যা বিখ্যাত দার্শনিক [[কার্ল পপার]] একবার "অনুমান এবং খণ্ডন" হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
** "অ্যান এসে অন আ পিগ রোস্ট", পৃষ্ঠা ৪৩৭
* কোনো তত্ত্বের ব্যর্থতার গল্প প্রায়ই পাঠকদের কাছে দুঃখজনক এবং অসন্তোষজনক বলে মনে হয়। যেহেতু বিজ্ঞান স্ব-সংশোধনের ওপর উন্নতি লাভ করে, তাই আমরা যারা মানুষের শিল্পের এই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অনুশীলন করি, তারা এমন অনুভূতি শেয়ার করি না। আমরা হয়তো অসুখী হতে পারি যদি কোনো প্রিয় হাইপোথিসিস হেরে যায়। অথবা আমরা প্রস্তাবিত তত্ত্বগুলো অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হলে বিরক্ত হতে পারি। কিন্তু খণ্ডন প্রায় সবসময়ই ইতিবাচক শিক্ষা ধারণ করে যা হতাশাকে ছাপিয়ে যায়। এমনকি যখন কোনো নতুন এবং ব্যাপক তত্ত্ব শূন্যস্থান পূরণ করেনি, তখনও এমনটা হয়।
** "দ্য ফেস অফ মিরান্ডা", পৃষ্ঠা ৪৯৬
* জ্ঞান এবং বিস্ময় হলো বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাণী হিসেবে আমাদের যোগ্য জীবনের যুগল। ''ভয়েজার'' আমাদের জ্ঞানের জন্য বিস্ময়কর কাজ করেছে। কিন্তু বিস্ময়ের সেবায় ঠিক ততটাই শক্তিশালী পারফর্ম করেছে। এই দুটি উপাদান পরিপূরক, স্বাধীন বা বিরোধী নয়। চিন্তাটি আমাকে বিস্ময়ে পূর্ণ করে। একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে ফিট হতে পারে এমন একটি যান্ত্রিক ব্যবস্থা বারো বছর ধরে মহাকাশের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করছে। চারটি দৈত্যাকার মৃতদেহ এবং তাদের সাথে যুক্ত চাঁদের চারপাশে ঘোরাফেরা করছে। এবং অবশেষে আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহ থেকে চার আলোক ঘণ্টারও বেশি স্থান জুড়ে চমৎকার ছবি পাঠাচ্ছে।
** "দ্য হর্ন অফ ট্রাইটন", পৃষ্ঠা ৫০৮ থেকে ৫০৯
=== ''এইট লিটল পিগিস'' (১৯৯৩) ===
:<small>উদ্ধৃতিগুলো ডাব্লিউ.ডাব্লিউ. নর্টন হার্ডকভার সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।</small>
* বিস্তারিত বিষয়গুলোই সব: ঈশ্বর সেখানে বাস করেন, এবং আপনি যদি সেগুলো সঠিকভাবে পেতে সংগ্রাম না করেন তবে আপনি কখনোই তাকে দেখতে পাবেন না।
** "আ রিফ্লেক্টিভ প্রোলোগ", পৃষ্ঠা ১৪
* ইতিহাসের আনুষঙ্গিকতা (সাধারণভাবে জীবন এবং ''হোমো স্যাপিয়েন্স''র সংস্কৃতি উভয়ের জন্য) এবং মানুষের মুক্ত ইচ্ছা (ধর্মতাত্ত্বিক অর্থের পরিবর্তে বাস্তব অর্থে) সংযুক্ত ধারণা। অভিন্ন পরিবেশে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন সমাধানের "পরীক্ষামূলক" উৎপাদনের চেয়ে ভালো কোনো প্রমাণ তৈরি করা যায় না।
** "আনএনচ্যান্টেড ইভিনিং", পৃষ্ঠা ২৯
* একজন বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানীর পক্ষে মানুষের বোকামির কারণে বিলুপ্তি সম্পর্কে লেখা খুব কঠিন। তাহলে আমাকে একটি অপ্রচলিত আবেদন করতে দিন, যা সাধারণ যুক্তির বিপরীত। ''পারটুলা''র বিলুপ্তি ''পারটুলা''র প্রতি অন্যায়। এটি প্রচলিত যুক্তি এবং আমি এর প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ করি না। কিন্তু আমাদের একটি [[মানবতাবাদ|মানবিক]] [[বাস্তুসংস্থান]]ও প্রয়োজন। এর ব্যবহারিক কারণ হলো মানুষ সবসময় শামুকের চেয়ে মানুষকে বেশি স্পর্শ করবে। এবং নৈতিক কারণ হলো মানুষ বৈধভাবে সব নৈতিক প্রশ্নের পরিমাপক। কারণ এগুলো আমাদের সমস্যা, প্রকৃতির নয়।
** "আনএনচ্যান্টেড ইভিনিং", পৃষ্ঠা ৩৯
* তবুও আমি বুঝতে পারি নিজেদের এবং প্রকৃতির মধ্যে একটি আবেগময় বন্ধন তৈরি না করে আমরা প্রজাতি এবং পরিবেশ বাঁচানোর এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারি না। কারণ আমরা যা ভালোবাসি না তা বাঁচানোর জন্য লড়াই করব না (কেবল কিছু বিমূর্ত অর্থে প্রশংসা করব)। তাই তাদের সবাইকে চালিয়ে যেতে দিন: চলচ্চিত্র, বই, টেলিভিশন প্রোগ্রাম, চিড়িয়াখানা, যেকোনো সম্প্রদায়ের পরিবেশগত সংরক্ষণের সামান্য অর্ধেক একর, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ, জাদুঘরের প্রদর্শনী, এমনকি সকাল ৬:০০ টার বার্ড ওয়াক। তাদের চালিয়ে যেতে দিন এবং প্রসারিত করতে দিন। কারণ ভালোবাসার জন্য আমাদের অবশ্যই অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ থাকতে হবে। আমাদের হৃদয়ে প্রকৃতির জন্য জায়গা তৈরি করতেই হবে।
** "আনএনচ্যান্টেড ইভিনিং", পৃষ্ঠা ৪০
* ঘটনাগুলো তাদের নিজস্ব উপযুক্ত স্থান এবং সময়ের স্কেলে উন্মোচিত হয়। এগুলো মানুষের উচ্চতা এবং মানুষের আয়ু দ্বারা পরিমাপ করা মাত্রার আমাদের মায়োপিক জগতে অদৃশ্য হতে পারে। পৃথিবীর স্কেলে পুঞ্জীভূত গুরুত্বের অনেক কিছুই মানব জীবনের পরিমাপক দণ্ডের দ্বারা অদৃশ্য। মাইক্রোস্কোপিক অণু জগতে কণার জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ তা আমাদের স্কেলে স্থিরতা গড় করে বা কেবল আমাদের উপলব্ধির সীমার নিচে দাঁড়িয়ে থাকে।
** "দ্য গোল্ডেন রুল: আ প্রপার স্কেল ফর আওয়ার এনভায়রনমেন্টাল ক্রাইসিস", পৃষ্ঠা ৪১ থেকে ৪২
* আমি মনে করি না আমরা ব্যবহারিকভাবে বা নৈতিকভাবে জীবের প্রতিটি স্বকীয় স্থানীয় জনসংখ্যা সংরক্ষণের নীতি রক্ষা করতে পারি। আমি প্রজাতি সংরক্ষণের একটি ভালো যুক্তি উল্লেখ করতে পারি। কারণ প্রতিটি প্রজাতি হলো একটি অনন্য এবং পৃথক প্রাকৃতিক বস্তু, যা একবার হারিয়ে গেলে আর কখনও পুনর্গঠন করা যায় না। কিন্তু উপপ্রজাতিগুলো বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিসর বিশিষ্ট প্রজাতির স্বকীয় স্থানীয় জনসংখ্যা। উপপ্রজাতিগুলো গতিশীল, প্রজননযোগ্য এবং ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। তাহলে আমরা তাদের সবাইকে অলঙ্ঘনীয় ঘোষণা করে কী রক্ষা করছি?
** "দ্য গোল্ডেন রুল: আ প্রপার স্কেল ফর আওয়ার এনভায়রনমেন্টাল ক্রাইসিস", পৃষ্ঠা ৪৩
* আনুষঙ্গিকতা সমৃদ্ধ এবং আকর্ষণীয়। এটি ইতিহাস পরিবর্তন করার জন্য ব্যক্তিদের ক্ষমতা এবং প্রকৃতির আইন দ্বারা নির্ধারিত বোধগম্য সীমার মধ্যে একটি চমৎকার উত্তেজনা মূর্ত করে। ব্যক্তি এবং প্রজাতির জীবনের বিস্তারিত বিবরণ কেবল তুচ্ছ জিনিস নয়, যা ঘটনাগুলোর বৃহৎ পরিসরের গতিপথকে রূপ দিতে ক্ষমতাহীন। বরং এগুলো এমন বিবরণ যা সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে এবং চিরতরে পরিবর্তন করতে পারে।
** "এইট লিটল পিগিস", পৃষ্ঠা ৭৭
* ব্যাকটেরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাফল্যের গল্প উপস্থাপন করে। এগুলো আজও পৃথিবীতে আদর্শ জীব হিসেবে আছে এবং চিরকাল থাকবে। এদের নিউক্লিয়ার বোমা মেরে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না এবং এরা আমাদের সবার চেয়ে বেশি দিন বাঁচবে। এই সময়টা তাদের সময়, "স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যুগ" নয়, যেমনটি আমাদের পাঠ্যবইগুলো উগ্রভাবে ঘোষণা করে। কিন্তু এমন সাফল্যের জন্য তাদের মূল্য হলো একটি অণু জগতে স্থায়ী নির্বাসন। এবং তারা চেতনার আনন্দ ও বেদনা জানতে পারে না। আমরা ট্রেড-অফের এক মহাবিশ্বে বাস করি। জটিলতা এবং অধ্যবসায় অংশীদার হিসেবে ভালোভাবে কাজ করে না।
** "অ্যান ইয়ারফুল অফ জ", পৃষ্ঠা ৯৮
* আমাদের ইতিহাসের সত্যিকারের অসাধারণ বুদ্ধিজীবীরা কেবল আবিষ্কারই করেননি; বরং তারা ব্যাপক কভারেজের বৈচিত্র্যময়, অথচ দৃঢ় টেপেস্ট্রি বুনেছেন। এই টেপেস্ট্রিগুলোর বিভিন্ন পরিণতি রয়েছে: বেশিরভাগই সময়ের পদচিহ্ন এবং পরবর্তী আবিষ্কারের আগুনে পুড়ে যায় বা উন্মোচিত হয়। কিন্তু তাদের গৌরব বিশাল জটিলতা এবং বিস্তৃত অনুমানের একীভূত কাঠামো হিসেবে তাদের অখণ্ডতার মধ্যে নিহিত।
** "মেন অফ দ্য থার্টি-থার্ড ডিভিশন: অ্যান এসে অন ইন্টিগ্রিটি", পৃষ্ঠা ১২৫
* [[w:ইউজিন ডুবয়েস|ইউজিন ডুবয়েস]] আমার বইয়ের কোনো নায়ক নন। এর কারণ আমি তার রীতিনীতির মনোভাব শেয়ার করি। কিন্তু আমি তার সংস্করণের সাথে তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করি। তার সহায়ক যুক্তিগুলোকে খুব দুর্বলভাবে গঠিত এবং বিরোধী প্রমাণের প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ধ বলে মনে করি (ভিতরের মতান্ধ সর্বদা বাইরের শত্রুর চেয়ে খারাপ)।
** "মেন অফ দ্য থার্টি-থার্ড ডিভিশন: অ্যান এসে অন ইন্টিগ্রিটি", পৃষ্ঠা ১৩৬
* ভালো পণ্ডিতরা জগতকে সামগ্রিকভাবে বোঝার জন্য সংগ্রাম করেন (পেড্যান্টরা ছোট ছোট টুকরো কামড়ে ধরে চিন্তায় মরে যান)। বাস্তবতার এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো আমাদের সম্মানের দাবিদার। কারণ এগুলো একজন বুদ্ধিজীবীর একমাত্র জন্মগত অধিকার। এগুলো প্রায়ই সম্পূর্ণ ভুল হয় এবং সর্বদা গুরুতর উপায়ে ত্রুটিপূর্ণ হয়। তবে এগুলো অবশ্যই সম্মানজনকভাবে বোঝা উচিত। এবং প্যাচগুলো কেটে ফেলে মেহেমের শিকার হওয়া উচিত নয়।
** "মেন অফ দ্য থার্টি-থার্ড ডিভিশন: অ্যান এসে অন ইন্টিগ্রিটি", পৃষ্ঠা ১৩৬
* মহান তত্ত্বগুলো বিস্তৃত হয়। ব্যর্থতাগুলো আমাদের মতান্ধতা এবং টানেল ভিশনে নিমজ্জিত করে।
** "মোর লাইট অন লিভস", পৃষ্ঠা ১৬৫
* একটি বড় গবেষণা কর্মসূচির গল্পের চেয়ে পুরোনো বা আরও বেশি পুনরাবৃত্তি হওয়া বুদ্ধিবৃত্তিক ঘটনা আর কী হতে পারে, যা সমস্ত অনুশীলনকারীদের দ্বারা গৃহীত একটি মিথ্যা কেন্দ্রীয় অনুমানের ওপর নির্ভর করে? আমরা কি এমন সমস্ত লোককে সম্মানহীন বোকা বলে মনে করি যারা এই ধরনের ঐতিহ্যের মধ্যে কাজ করেছিলেন? সেই বিজ্ঞানীদের কথা কী হবে যারা ধরে নিয়েছিলেন মহাদেশগুলো স্থিতিশীল, বংশগত উপাদান প্রোটিন বা অন্য সমস্ত গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে এর মধ্যে অবস্থিত? এই মিথ্যা এবং পরিত্যক্ত প্রচেষ্টাগুলো উজ্জ্বল এবং সম্মানিত বিজ্ঞানীদের দ্বারা আবেগের সাথে অনুসরণ করা হয়েছিল। মিথ্যা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে পূর্ণ ব্যর্থতা হিসেবে পরে আমাদের সেরা বিজ্ঞানীদের অনেকের সম্পূর্ণ মনোযোগ এবং মিলিয়ন ডলারের গবেষণা তহবিল কমান্ড করা বর্তমান প্রচেষ্টাগুলোর কতগুলো উন্মোচিত হবে?
** "ফল ইন দ্য হাউস অফ [[w:জেমস উশার|উশার]]", পৃষ্ঠা ১৮৭
* বিজ্ঞানকে প্রায়ই মানব উদ্যোগের সবচেয়ে বস্তুনিষ্ঠ এবং সত্য-নির্দেশিত বলে মনে করা হয়। যেহেতু প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণকে বাস্তবতার অনুকূল পথ হিসেবে ধরা হয়, তাই অনেকেই সম্মানজনক বিজ্ঞানকে চাক্ষুষ যাচাই-বাছাইয়ের সাথে সমান বলে মনে করেন। শুধু তথ্যগুলো জানুন, এবং স্পষ্টভাবে আমার চোখের সামনে। তবে বিজ্ঞান হলো পর্যবেক্ষণমূলক এবং অনুমানমূলক পদ্ধতির একটি ব্যাটারি। এগুলো এমন প্রস্তাবনাগুলো পরীক্ষার নির্দেশ দেয় যা নীতিগতভাবে অবশ্যই মিথ্যা প্রমাণিত হতে পারে। ক্ষুদ্রতম থেকে বৃহত্তম, দ্রুততম থেকে ধীরতম সব স্কেলেই বিজ্ঞানের অনেক সু-নথিভুক্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের কঠোরভাবে সীমিত ডোমেনের বাইরে অবস্থান করে। কেউ কখনও একটি
* [[বিজ্ঞান]]কে প্রায়ই মানুষের সবচেয়ে বস্তুনিষ্ঠ এবং সত্য-নির্দেশিত প্রয়াস হিসেবে গণ্য করা হয়। যেহেতু সরাসরি পর্যবেক্ষণকে তথ্যনিষ্ঠ হওয়ার প্রধান পথ মনে করা হয়, তাই অনেকে সম্মানজনক বিজ্ঞানকে চাক্ষুষ পরীক্ষার সমার্থক মনে করেন—অর্থাৎ কেবল তথ্য এবং তা স্পষ্টভাবে চোখের সামনে থাকতে হবে। কিন্তু বিজ্ঞান হলো পর্যবেক্ষণ ও অনুমানের পদ্ধতির একটি সমষ্টি, যা এমন সব প্রস্তাবনা পরীক্ষার দিকে পরিচালিত হয় যেগুলো নীতিগতভাবে নিশ্চিতভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হতে পারে। [...] ক্ষুদ্রতম থেকে বৃহত্তম, দ্রুততম থেকে ধীরতম—সব ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের অনেক সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত সরাসরি পর্যবেক্ষণের কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ সীমানার বাইরে অবস্থান করে। কেউ কখনো একটি ইলেকট্রন বা কৃষ্ণগহ্বর দেখেনি, দেখেনি একটি পিকোসেকেন্ড বা একটি ভূতাত্ত্বিক যুগের ঘটনা।
** "মুলার ব্রোস. মুভিং অ্যান্ড স্টোরেজ", পৃষ্ঠা ২০০–২০১
* আমরা এমন এক ধারণাগত সংকটের মধ্যে বাস করি যা অন্য সময়ের অজানা এবং রোমান্টিক করে তোলা 'সুখকর পরিস্থিতির' জন্য আকাঙ্ক্ষাকে উৎসাহিত করে। ভবিষ্যৎকে আশাব্যঞ্জক মনে হয় না, কারণ আমরা বর্তমানের কিছু উদ্বেগজনক প্রবণতা থেকে আরও অবনতির পূর্বাভাস পেতে পারি: যেমন দূষণ, জাতীয়তাবাদ, পরিবেশ ধ্বংস এবং অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাট। তাই আমরা একটি সোনালী অতীতের আশ্রয় নিতে চাই [...]। আমি মানুষের এই অদ্ভুত অভিযোজনযোগ্য বৈশিষ্ট্যের হিতকর, এমনকি অপরিহার্য গুণের বিষয়ে সন্দেহ করি না, তবে আমাদের এর নেতিবাচক দিকটিও নথিভুক্ত করতে হবে। অতীতের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তিগুলো আমাদের বর্তমান দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিরসনের প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
** "শুমেকার অ্যান্ড মর্নিং স্টার", পৃষ্ঠা ২০৬–২০৭
* আমি যদি অতীতের সমস্ত সামাজিক ব্যাধির জন্য ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করা শুরু করি, তবে আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সময়ের কাউকেই পছন্দ করার মতো অবশিষ্ট থাকবে না। উদাহরণস্বরূপ [...] আমি যদি প্রতিটি ভিক্টোরীয় যুগের ইহুদি-বিদ্বেষীকে আমার মনোযোগের বাইরে রাখি, তবে আমার জন্য উপলব্ধ সঙ্গীত এবং সাহিত্যের পরিধি অত্যন্ত ক্ষুদ্র হয়ে যাবে। যদিও আমি সক্রিয় নিপীড়নের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি পোষণ করি না, তবে যারা একটি মানসম্মত সামাজিক বিচারে নিষ্ক্রিয়ভাবে সায় দিয়েছিলেন, আমি সেই ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করতে পারি না। বরং সেই বিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন এবং ভালো ইচ্ছাসম্পন্ন মানুষদের কী অনুপ্রাণিত করে তা বোঝার চেষ্টা করুন।
** "দ্য মোরাল স্টেট অফ তাহিতি—অ্যান্ড অফ ডারউইন", পৃষ্ঠা ২৬৯
* হ্যাঁ, [[শেকসপিয়র]] সর্বপ্রথম এবং চিরকাল (ডারউইনও)। তবে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর জলবায়ুতে পিগমিদের বনজ কৌশল এবং ফুয়েজিয়ানদের টিকে থাকার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কেও শিক্ষা দিন। মর্যাদা এবং অনুপ্রেরণা অনেক ছদ্মবেশে আসে। পরাজয়ের মুহূর্তে [[চিফ জোসেফ]]ের বাগ্মিতার চেয়ে কেউ কি {{w|জর্জ আর্মস্ট্রং কাস্টার}}-ী সস্তা দেশপ্রেমকে বেছে নেবে?
** "দ্য মোরাল স্টেট অফ তাহিতি—অ্যান্ড অফ ডারউইন", পৃষ্ঠা ২৭৪
* মানব অস্তিত্বের প্রকৃত ট্র্যাজেডি এটি নয় যে আমরা স্বভাবগতভাবে মন্দ, বরং একটি নিষ্ঠুর কাঠামোগত অসামঞ্জস্যতা নীচতার বিরল ঘটনাগুলোকে আমাদের ইতিহাস গঠন করার মতো বিশাল ক্ষমতা প্রদান করে।
** "টেন থাউজেন্ড অ্যাক্টস অফ কাইন্ডনেস", পৃষ্ঠা ২৮২
* আমি এটি দাবি করছি না যে মানুষ জন্মগত জৈবিক প্রয়োজনে দয়ালু বা আক্রমণাত্মক। স্পষ্টতই, দয়া এবং সহিংসতা উভয়ই আমাদের প্রকৃতির সীমার মধ্যে রয়েছে কারণ আমরা উভয়ই প্রচুর পরিমাণে করি। আমি কেবল একটি কাঠামোগত দাবি করছি যে সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রায় সব সময় বজায় থাকে এবং এটি অবশ্যই দয়ালু কাজের অপ্রতিরোধ্য প্রাধান্যযুক্ত (কিন্তু ট্র্যাজিকভাবে উপেক্ষিত) হারের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। আর তাই সৌজন্যই প্রায় সব সময় আমাদের স্বাভাবিক এবং পছন্দসই প্রতিক্রিয়া। [...] মানুষের প্রকৃতির কেন্দ্রটি দশ হাজার সাধারণ দয়ালু কাজের গভীরে প্রোথিত যা আমাদের দিনগুলোকে সংজ্ঞায়িত করে।
** "টেন থাউজেন্ড অ্যাক্টস অফ কাইন্ডনেস", পৃষ্ঠা ২৮২
* যদি গ্যালাক্সি এক্সের কোনো আবাসিক প্রাণীবিদ ৫ মিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্বের জনবসতিপূর্ণ গ্রহগুলোর তালিকা তৈরি করার সময় পৃথিবী ভ্রমণ করতেন, তবে তিনি নিশ্চিতভাবেই তার আগের রিপোর্ট সংশোধন করতেন। তিনি হয়তো আগে লিখেছিলেন, নরবানররা আদি বিশ্বের বানরদের চেয়ে বেশি সম্ভাবনাময়, কিন্তু পরে দেখতেন যে বানররা তাদের প্রাথমিক অসুবিধা কাটিয়ে প্রাইমেটদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করেছে। (আগামী বছর তার সফরের পর তিনি এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করবেন। তবে একটি পাদটীকা যোগ করবেন যে, নরবানরের ঝোপ থেকে একটি প্রজাতি অস্বাভাবিক এবং অপ্রত্যাশিতভাবে বিকশিত হয়েছে, যা নিবিড় পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।)
** "দ্য ডিক্লাইনিং এম্পায়ার অফ এপস", পৃষ্ঠা ২৮৮
* বিবর্তন একটি বাধাযুক্ত পথ, কোনো বাধাহীন মহাসড়ক নয়; দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের সঠিক উপমা হলো দূর থেকে আসা বল ধরা একজন খেলোয়াড় যে লক্ষ্যের দিকে যাওয়ার পথে অদ্ভুত আঁকাবাঁকা পথে অসংখ্য বাধা এড়িয়ে এগিয়ে চলে, সমতল পথে তেজি ঘোড়ার দৌড় নয়।
** "টায়ার্স টু স্যান্ডেলস", পৃষ্ঠা ৩১৮
* সম্ভবত আমি একজন আশাহীন যুক্তিবাদী, কিন্তু মুগ্ধতা কি সান্ত্বনার মতোই আরামদায়ক নয়? প্রকৃতি কি তার জটিলতা এবং আমাদের প্রত্যাশার সাথে তাল না মেলানোর গুণের কারণে অপরিসীম আকর্ষণীয় নয়? কৌতূহল কি করুণার মতোই বিস্ময়করভাবে এবং মৌলিকভাবে মানবিক নয়?
** "টায়ার্স টু স্যান্ডেলস", পৃষ্ঠা ৩২৪
* প্রতিটি বিশ্বদর্শন ছিল একটি সাংস্কৃতিক পণ্য, কিন্তু বিবর্তন সত্য এবং পৃথক সৃষ্টিতত্ত্ব সত্য নয়। [...] বিশ্বদর্শন হলো সামাজিক নির্মাণ, এবং তারা তথ্যের অনুসন্ধানকে পরিচালিত করে। তবে [[তথ্য]] খুঁজে পাওয়া যায় এবং জ্ঞানের অগ্রগতি হয়, যদিও তা অনিয়মিত। তথ্য এবং তত্ত্ব একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এবং সমস্ত মহান বিজ্ঞানীরা এই মিথস্ক্রিয়াটি বোঝেন।
** "শিল্ডস অফ এক্সপেক্টেশন—অ্যান্ড অ্যাকচুয়ালিটি", পৃষ্ঠা ৪২৫
* আইকনোগ্রাফি বা চিত্রকল্প আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে যখন বস্তুর পরিবর্তে প্রক্রিয়া বা ধারণাগুলো চিত্রিত করতে হয়—কারণ একটি নির্দিষ্ট "জিনিসের" সীমাবদ্ধতা সরাসরি কল্পনার কাছে হার মানে। শারীরিক বাস্তবতার চেয়ে মানসিক কাঠামো চিত্রিত না করে আমরা কীভাবে "বিবর্তন" বা "সামাজিক সংগঠন", এমনকি সাধারণ "হজম" বা "স্বার্থপরতা" আঁকতে পারি? আমরা যদি ধারণার ইতিহাস অনুসরণ করতে চাই, তবে আইকনোগ্রাফি পণ্ডিতের মনের ওপর তাক করা একটি স্পষ্টবাদী ক্যামেরায় পরিণত হয়।
** "এ টেল অফ থ্রি পিকচার্স", পৃষ্ঠা ৪২৮
* মহান চিন্তাবিদরা সূক্ষ্ম সামঞ্জস্যের সাথে তাদের চিন্তার কাঠামো গড়ে তোলেন। আমরা যখন আমাদের বৌদ্ধিক পূর্বসূরিদের দর্শনকে খণ্ডবিখণ্ড করি এবং তাদের ব্যবস্থাগুলো কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন "মণিমাণিক্য"—অর্থাৎ যেসব চিন্তা বা দাবি এখনো সত্য বলে গৃহীত—তা খুঁজে বের করার জন্য পরীক্ষা করি, তখন আমরা তাদের প্রতি চরম অবিচার করি। এই বিচ্ছিন্ন অংশগুলোই তখন আমাদের পূর্বপুরুষদের একমাত্র উত্তরাধিকার হয়ে ওঠে। ফলে আমরা পুরোনো ব্যবস্থাগুলোর সৌন্দর্য এবং সংহতি হারিয়ে ফেলি, যা তাদের অপরিচিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে আমাদের ভুলপ্রবণ (এবং আত্মতুষ্ট) আধুনিক বিশ্বকে আলোকিত করতে পারতো।
** "এ টেল অফ থ্রি পিকচার্স", পৃষ্ঠা ৪৩৭–৪৩৮
* আমরা যদি আমাদের বৌদ্ধিক ইতিহাসের মহান অধ্যায়কে আদিম কুসংস্কার থেকে চূড়ান্ত নির্ভুলতার দিকে নিয়ে যাওয়া নতুন তথ্যের একটি সংকলন হিসেবে দেখি, তবে আমরা প্রকৃতি এবং আমাদের নিজস্ব মনের সমৃদ্ধিকে খর্ব করি। আমরা জানি যে সূর্য আমাদের মহাবিশ্বের এই ক্ষুদ্র কোণের কেন্দ্র এবং বংশলতিকার বন্ধন আমাদের গ্রহের সমস্ত জীবন্ত জিনিসকে সংযুক্ত করে। এর কারণ এই তত্ত্বগুলো অনেক ভিন্নধর্মী এবং সম্পর্কহীন তথ্যকে একত্রিত করে ব্যাখ্যা করে—গ্যালিলিও বৃহস্পতির চাঁদের দিকে তার টেলিস্কোপ তাক করেছিলেন বলে বা ডারউইন গ্যালাপাগোস কচ্ছপের পিঠে চড়েছিলেন বলে নয়।
** "এ ফুট সোলজার ফর ইভোলিউশন", পৃষ্ঠা ৪৪১
=== ''ডাইনোসর ইন এ হেস্ট্যাক'' (১৯৯৫) ===
:<small>হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি।</small>
* সম্ভাব্যতা সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বৈজ্ঞানিক সাক্ষরতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সাধারণ বাধা হতে পারে।
** "হ্যাপি থটস অন এ সানি ডে ইন নিউ ইয়র্ক সিটি", পৃষ্ঠা ৯
* সমাধানটি, যা সমস্ত চিন্তাশীল মানুষ স্বীকার করেন, তা অবশ্যই জন্মগত প্রবণতা এবং জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গড়ে ওঠার বিষয়গুলোকে সঠিকভাবে মেলানোর মধ্যে নিহিত থাকতে হবে। এই ফলপ্রসূ মিলনটি ১০০ শতাংশের যোগফলের ভুল আকারে হতে পারে না—যেমন "বুদ্ধিমত্তা ৮০ শতাংশ প্রকৃতি এবং ২০ শতাংশ লালন-পালন," বা "সমকামিতা ৫০ শতাংশ জন্মগত এবং ৫০ শতাংশ অর্জিত," এবং এই নির্বোধ ফরম্যাটে আরও শত শত ক্ষতিকারক বক্তব্য। যখন এই ধরনের বর্ণালীর দুই প্রান্ত মিশ্রিত হয়, তখন ফলাফলটি কোনো পৃথকযোগ্য মিশ্রণ হয় না (যেমন ভিন্ন পিঠের দুই প্যাকেট তাস মিশিয়ে ফেলা), বরং এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং উচ্চতর সত্তা যা খণ্ডন করা যায় না (ঠিক যেমন প্রাপ্তবয়স্কদের তাদের সামগ্রিক সত্তায় মাতৃকুল এবং পিতৃকুলের অবদানে আলাদা করা যায় না)।
** "দ্য মনস্টার'স হিউম্যান নেচার", পৃষ্ঠা ৬০
* আমি অনেকদিন ধরেই এই ধরনের ব্যাপক প্রদর্শনের তত্ত্ব এবং নান্দনিকতাকে স্বীকৃতি দিয়েছি: সবকিছু দেখাও এবং বৈচিত্র্যের মাধ্যমে বিস্ময় জাগিয়ে তোলো। কিন্তু ডাবলিনের [প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের] আসবাবপত্রগুলো সঠিকভাবে সংস্কার করা দেখার আগে আমি কখনও উপলব্ধি করিনি যে একটি ক্যাবিনেট মিউজিয়ামের সাজসজ্জা কত শক্তিশালীভাবে এই লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে পারে। [...] এই উচ্ছ্বাসটি জৈব এবং স্থাপত্যগতভাবে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি ডাবলিন মিউজিয়ামকে তাদের সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে এই প্রবন্ধটি লিখছি—এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা কেবল বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়, বরং নৈতিকভাবেও দৃঢ় এবং সাহসিকতাপূর্ণ। কেবল আধুনিক চিন্তাধারাই সাহসের একমাত্র স্থান নয়; একটি পুনর্গঠিত পুরোনো কাঠামোর পক্ষে নীতিগত অবস্থানে থাকাও সমান উপহাস বয়ে আনতে পারে এবং সমপরিমাণ ধৈর্যের দাবি করতে পারে। জনতা সব সময় প্রশংসনীয় বা সমর্থনযোগ্য দিকে ধাবিত হয় না।
** "ক্যাবিনেট মিউজিয়ামস: অ্যালাইভ, অ্যালাইভ, ও!", পৃষ্ঠা ২৪৪
* টিভি-শাসিত এবং বুদ্ধিবৃত্তিবিরোধী যুগে প্রকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠদের সংক্ষিপ্ত তথ্য এবং ঝলমলে আলোর প্রয়োজন হতে পারে—এবং আমি এই ধরনের আকর্ষণ সরবরাহের বিরুদ্ধে নই যদি তা শিশুদের বিজ্ঞানের প্রতি সামান্যতম আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে একজন <nowiki>[অলিভার]</nowiki> [[অলিভার স্যাক্স|স্যাক্স]], একজন <nowiki>[এরিক]</nowiki> কর্ন বা একজন <nowiki>[জোনাথন]</nowiki> [[জোনাথন মিলার|মিলার]] থাকে, যারা সাধারণত প্রকৃতি সম্পর্কে তীব্র কৌতূহল এবং প্রবল আগ্রহ সম্পন্ন একাকী শিশু এবং যাদের উৎসাহ সামাজিক বাধ্যবাধকতার চাপকে জয় করে। সেই পঞ্চাশ জনের মধ্যে একজন কি তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের দাবি রাখে না—এমন জাদুকরী জায়গা, যেমন ক্যাবিনেট মিউজিয়াম, যা প্রতিভার বিরল শিখা প্রজ্বলিত করতে পারে?
** "ক্যাবিনেট মিউজিয়ামস: অ্যালাইভ, অ্যালাইভ, ও!", পৃষ্ঠা ২৪৬
* জাতি, লিঙ্গ বা সামাজিক শ্রেণীর মতো বাহ্যিক এবং কৃত্রিম সীমাবদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে অভিজাততন্ত্র ঘৃণ্য। ঘৃণ্য এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা—কারণ প্রতিভার সেই শিখা আমাদের সামাজিক কুসংস্কারের সমস্ত নিষ্ঠুর বাধা নির্বিশেষে সবার মধ্যে দৈবভাবে ছড়িয়ে থাকে। তাই আমাদের অবশ্যই সবার জন্য প্রবেশাধিকার এবং উৎসাহ নিশ্চিত করতে হবে; এবং সমস্ত শিশুদের এই ধরনের সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সজাগ এবং অক্লান্ত মনোযোগী হতে হবে। এই ধরনের সমতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ন্যায়বিচার পাব না। কিন্তু যদি কেবল একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু সাড়া দেয় এবং তারা যদি সব জাতি, শ্রেণী ও লিঙ্গের সেরা এবং উজ্জ্বলতম হয়, তবে তাদের সহকর্মীরা নিষ্ক্রিয়তা এবং ঝলমলে আলো পছন্দ করে বলে কি আমরা তাদের আত্মার আকাঙ্ক্ষার শীর্ষস্থান অস্বীকার করব? তাদের বইয়ের পাহাড়ের দিকে তাকাতে দিন, এবং অন্তত কিছু জাদুঘর থাকুক যা প্রকৃতির বৈচিত্র্যের পূর্ণ জাদু প্রদর্শন করে। অভিজাততন্ত্রের এই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপের মধ্যে ভুল কোথায়?
** "ক্যাবিনেট মিউজিয়ামস: অ্যালাইভ, অ্যালাইভ, ও!", পৃষ্ঠা ২৪৬।
* আমি {{w|আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি}}-র জীবাশ্ম স্তন্যপায়ী প্রাণীদের নতুন খোলা হলের প্রশংসা করি। ...পুরো হলটিকে একটি কেন্দ্রীয় কাণ্ড এবং শাখা-প্রশাখার গুচ্ছ হিসেবে সাজিয়ে তারা আমাদের বিবর্তনীয় বৃক্ষ সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছে... আমাদের মস্তিষ্ককে আমাদের পায়ে স্থাপন করে এবং হাঁটার মাধ্যমে আমাদের শেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। ...বিবর্তনীয় সংগঠনের এই নির্বাচিত জ্যামিতি জীবনের ইতিহাসের ঐতিহ্যগত ছবিকে লঙ্ঘন করে, যা বিজ্ঞানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে চিত্রিত করে: আমাদের চিন্তা ভাবনাকে পরিচালিত এবং সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ছবি, গ্রাফ এবং চাক্ষুষ উপস্থাপনার অন্যান্য রূপের কেন্দ্রীয় ভূমিকা। ...শব্দ হলো বিবর্তনের পরবর্তী চিন্তা। ...আমার সহকর্মীরা আসলে এটি করে দেখিয়েছেন। ...তারা সমস্ত জীবাশ্মকে একটি অপ্রথাগত আইকনোগ্রাফিক বৃক্ষে সাজিয়েছেন যা প্রগতির পক্ষপাতিত্বকে চূর্ণ করে। ...যাতে আমরা জীবনের বৃক্ষ বরাবর হাঁটতে পারি এবং হাঁটার মাধ্যমে নতুন পরিকল্পনাটি শারীরিকভাবে অনুভব করতে পারি... তারা [[w:এডুইন এইচ. কোলবার্ট|কোলবার্ট]]ের বৈপ্লবিক ধারণা গ্রহণ করেছেন এবং সমস্ত জীবাশ্মকে তাদের শাখার ক্রম অনুযায়ী সাজিয়েছেন, তাদের পরবর্তী "সাফল্য" বা "উন্নতি" অনুযায়ী নয়। যেসব দল আগে শাখা বিস্তার করেছে তারা হলের শুরুর দিকে উপস্থিত হয়েছে... সমুদ্রের গরু এবং হাতি হলের শেষে, ঘোড়া মাঝখানে এবং প্রাইমেটরা শুরুর দিকে রয়েছে।
** "ইভোলিউশন বাই ওয়াকিং", পৃষ্ঠা ২৪৯-২৫৪।
* আমি রাজতন্ত্রের সময় লেখা পুরোনো বইগুলোর উৎসর্গপত্র পড়তে ভালোবাসি—কারণ তারা অসংলগ্ন এবং চাটুকারিতাপূর্ণ শব্দে কোনো না কোনো (সাধারণত তুচ্ছ) নাইট বা ডিউককে মহাবিশ্বের আলো হিসেবে প্রশংসা করে সম্মান জানায় (নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের কাজের জন্য কিছু অর্থের আশায়); এই পুরোনো অভ্যাসটি আমাকে তুলনামূলকভাবে একজন সৎ এবং ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে অনুভব করায় যখন আমি কোনো অনুদান প্রস্তাবে ইতিবাচক এবং সামান্য অতিরঞ্জিত কিছু লিখি।
** "দ্য রাজুমভস্কি ডুয়েট", পৃষ্ঠা ২৬৩
* আমার পেশা প্রায়ই বিভিন্ন প্রকৃত এবং কাল্পনিক পাপের জন্য সমালোচিত হয়: অহংকার, অর্থলিপ্সা, জ্ঞানের ব্যবহারের নৈতিক বিষয়ে সংবেদনশীলতার অভাব এবং মানের অবনতির চিন্তা না করে তহবিলের উৎসের তোষামোদ করা। বিজ্ঞানের একজন সমর্থক হিসেবে আমি এই সমস্ত অভিযোগের জন্য মাঝেমধ্যে "সামান্য দোষী" হিসেবে স্বীকারোক্তি দিচ্ছি। বিজ্ঞানীরা সাধারণ জীবনের সমস্ত দুর্বলতা এবং প্রলোভনের অধীন মানুষ। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ নৈতিকভাবে পাথরের মতো দৃঢ়, আবার কেউ কেউ খড়কুটোর মতো। আমি ভাবতে পছন্দ করি (যদিও আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই) যে ভালো বিজ্ঞানের অনুশীলনের জন্য কেন্দ্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে আমরা গড়ে অন্য অনেক পেশার সদস্যদের চেয়ে ভালো: যেমন অস্বস্তিকর তথ্যের সামনে গৃহীত মতামত পরিবর্তনের ইচ্ছা, প্রকৃতির সত্যনিষ্ঠ বিবরণ আবিষ্কার এবং প্রচারের প্রতি উৎসর্গ এবং সহকর্মীদের তাদের পদের ক্ষমতার পরিবর্তে তাদের ধারণার শক্তির ভিত্তিতে বিচার করা।
** "দ্য রাজুমভস্কি ডুয়েট", পৃষ্ঠা ২৭০
* ডারউইনের বিপ্লবের যে বার্তাগুলোকে আমি শ্রেষ্ঠত্ব চূর্ণকারী বলে মনে করি, সেগুলোকে আমি নিচের বক্তব্যের মাধ্যমে সারসংক্ষেপ করতে পছন্দ করি, যা আত্মার গভীরে প্রবেশের জন্য হরে কৃষ্ণ মন্ত্রের মতো দিনে কয়েকবার পাঠ করা যেতে পারে: মানুষ অনুমানযোগ্য বিবর্তনীয় অগ্রগতির শেষ ফলাফল নয়, বরং এটি একটি আকস্মিক মহাজাগতিক চিন্তা, জীবনের বিশাল বৃক্ষের একটি ক্ষুদ্র ডাল মাত্র। যদি বীজ থেকে আবার রোপণ করা হয়, তবে প্রায় নিশ্চিতভাবেই এই ডালটি আর বৃদ্ধি পাবে না, বা সম্ভবত এমন কোনো ডালই হবে না যাকে আমরা চেতনা বলে অভিহিত করতে পারি।
** "ক্যান উই কমপ্লিট ডারউইন'স রেভোলিউশন?", পৃষ্ঠা ৩২৭
* [[আন্তন চেখভ]] লিখেছিলেন যে "মঞ্চে লোড করা রাইফেল রাখা উচিত নয় যদি কেউ এটি চালানোর চিন্তা না করে।" ভালো নাটকের জন্য পরিমিত এবং উদ্দেশ্যমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন, যেখানে সম্ভাব্য কারণের সাথে বাস্তবায়িত ফলাফলের সংবেদনশীল সংযোগ থাকে। জীবন অনেক বেশি অগোছালো; অধিকাংশ সময় কিছুই ঘটে না। লক্ষ লক্ষ আমেরিকান (যাদের মধ্যে অনেকে রাগী) রাইফেলের মালিক (যাদের অনেকগুলো লোড করা), কিন্তু ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় অধিকাংশ সময় সেগুলো চলে না। আমরা বাস্তব জীবনের বেশিরভাগ সময় [[ওয়েটিং ফর গডো|গডো]]-র জন্য অপেক্ষা করে কাটাই, বারবার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি না।
** "স্পিকিং অফ স্নেইলস অ্যান্ড স্কেলস", পৃষ্ঠা ৩৪৫
* প্রকৃতির দুটি সংযুক্ত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আমাদের সান্ত্বনা খোঁজা উচিত: প্রথমত, আমাদের পৃথিবী অবিশ্বাস্যভাবে অদ্ভুত এবং তাই পরম আকর্ষণীয়... দ্বিতীয়ত, আমাদের পৃথিবী যতটাই অদ্ভুত এবং রহস্যময় হোক না কেন, প্রকৃতি মানুষের মনের কাছে সম্ভাব্য বোধগম্যই থাকে।
** "এ স্পেশাল ফন্ডনেস ফর বিটলস", পৃষ্ঠা ৩৮৬-৩৮৭
* পশ্চিমা মাঠ পর্যায়ের কাজ ঘোড়ায় চড়ে সংগ্রামের ছবি ফুটিয়ে তোলে [...]—পাহাড়ে ওঠা-নামার সময় দিনে এক ক্যানটিন পানি দিয়ে টিকে থাকা। একটি স্থানের গুরুত্ব সেখানে পৌঁছানোর অসুবিধার সাথে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করা হয়। এটি অবশ্যই রোমান্টিক বাজে কথা। যাতায়াতের সহজলভ্যতা গুরুত্বের পরিমাপক নয়। বিখ্যাত লা ব্রেয়া আলকাতরার গর্তগুলো সরাসরি [[w:লস অ্যাঞ্জেলেস|লস অ্যাঞ্জেলেস]] শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। ক্লার্কিয়া লেক বেডে পৌঁছানোর জন্য আপনি প্রধান রাস্তা থেকে বুজার্ডস রুস্ট ট্রফি কোম্পানির মোড়ে ঘুরবেন এবং বাকি পঞ্চাশ গজ গাড়ি চালিয়ে সরাসরি সেই স্থানে পৌঁছে যাবেন।
** "ম্যাগনোলিয়াস ফ্রম মস্কো", পৃষ্ঠা ৪০৩
=== ''[[w:ফুল হাউস: দ্য স্প্রেড অব এক্সিলেন্স ফ্রম প্লেটো টু ডারউইন|ফুল হাউস]]'' (১৯৯৬) ===
:<small> হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি (পেপারব্যাক সংস্করণেও পৃষ্ঠা নম্বর একই) </small>
* প্রকৃতি বস্তুনিষ্ঠ এবং প্রকৃতিকে জানা সম্ভব। তবে আমরা তাকে কেবল একটি অস্পষ্ট কাঁচের মধ্য দিয়েই দেখতে পারি। আমাদের দৃষ্টির ওপর থাকা অনেক মেঘ আমাদের নিজেদেরই তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পক্ষপাতিত্ব, মানসিক পছন্দ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা (কেবল ব্যক্তিগত বোকামি নয়, বরং চিন্তার সার্বজনীন ক্ষেত্রে)।
** অধ্যায় ১, “হাক্সলিস চেসবোর্ড” (পৃ. ৮)
* মানব অস্তিত্ব সম্পর্কে বিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সময় আমাদের কুসংস্কারগুলো প্রায়ই আমাদের সীমিত তথ্যকে ছাপিয়ে যায়। প্রশ্নগুলো হলো কীভাবে, কখন এবং কেন আমরা প্রাণের বৃক্ষে আবির্ভূত হলাম এবং আমাদের কি আসার কথা ছিল নাকি আমরা কেবল ভাগ্যবান বলেই এখানে আছি। এই পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনাগুলোর কিছু এতই প্রাচীন, এতই স্বতঃস্ফূর্ত এবং আমাদের স্বভাবের এত বড় একটি অংশ যে, আমরা কখনোই এগুলোকে আমূল বিকল্পসহ সামাজিক সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বীকার করতে থামি না। এর পরিবর্তে আমরা সেগুলোকে প্রদত্ত এবং সুস্পষ্ট সত্য হিসেবেই দেখি।
** অধ্যায় ১, “হাক্সলিস চেসবোর্ড” (পৃ. ৮)
* আমরা প্রগতির খড়কুটো (একটি শুষ্ক আদর্শিক ডালপালা) আঁকড়ে ধরি কারণ আমরা এখনো ডারউইনীয় বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত নই। একটি বিবর্তনীয় বিশ্বে মানুষের অহংকার ধরে রাখার সেরা আশা হিসেবে আমরা প্রগতির আকাঙ্ক্ষা করি। কেবল এই শর্তেই আমি বুঝতে পারি কেন এমন একটি দুর্বলভাবে প্রণীত এবং অসম্ভব যুক্তি আজও আমাদের ওপর এত শক্তিশালী প্রভাব বজায় রেখেছে।
** অধ্যায় ২, “ডারউইন অ্যামিডস্ট দ্য স্পিন ডক্টরস” (পৃ. ২৯)
* বিষয় যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং আমাদের আশা ও প্রয়োজনের যত কাছাকাছি যায়, বিশ্লেষণের কাঠামো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের ভুল করার আশঙ্কা তত বেশি থাকে। আমরা গল্প বলা প্রাণী এবং আমরা নিজেরাই ইতিহাসের ফসল। আমরা প্রবণতা দ্বারা মুগ্ধ হই। এর আংশিক কারণ হলো তারা সময়ের সাথে দিকনির্দেশনা যুক্ত করার প্রাথমিক কৌশলের মাধ্যমে গল্প বলে। আবার আংশিক কারণ হলো তারা প্রায়ই ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যে একটি নৈতিক মাত্রা প্রদান করে।
** অধ্যায় ৩, “ডিফারেন্ট পার্সিংস, ডিফারেন্ট ইমেজেস অব ট্রেন্ডস” (পৃ. ৩০)
* আমাদের প্রবণতা শনাক্ত করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রায়ই আমাদের এমন একটি দিকনির্দেশনা খুঁজে পেতে বাধ্য করে যার কোনো অস্তিত্ব নেই, অথবা এমন সব কারণ অনুমান করতে প্ররোচিত করে যা ধোপে টিকে না। এই প্রবণতার বিষয়টি মানুষের যুক্তিবোধের কিছু ধ্রুপদী ভুল বা ফ্যালাসিকে অনুপ্রাণিত ও চিত্রিত করেছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, মানুষ যেহেতু সম্ভাব্যতা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে বেশ দক্ষ নয় এবং ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে নকশা বা প্যাটার্ন খুঁজতে খুব আগ্রহী, তাই আমরা কোনো কারণ সম্পর্কে অনুমান করার সময় একটি "নিশ্চিত" প্রবণতা খুঁজে পাওয়ার ভুলটি করি, অথচ বাস্তবে আমরা কেবল এলোমেলো কিছু ঘটনার সমষ্টিই পর্যবেক্ষণ করি।
** অধ্যায় ৩, “ডিফারেন্ট পার্সিংস, ডিফারেন্ট ইমেজেস অফ ট্রেন্ডস” (পৃষ্ঠা ৩০-৩১)
* সাধারণ ত্রুটিটি হলো এটি বুঝতে ব্যর্থ হওয়া যে, আপাত প্রবণতাগুলো কোনো সিস্টেমের বৈচিত্র্যের প্রসারণ বা সংকোচনের উপজাত বা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসেবে তৈরি হতে পারে; এটি সরাসরি কোনো কিছুর কোথাও সরে যাওয়ার ফলে ঘটে না।
** অধ্যায় ৩, “ডিফারেন্ট পার্সিংস, ডিফারেন্ট ইমেজেস অফ ট্রেন্ডস” (পৃষ্ঠা ৩৩)
* আমরা অজ্ঞতা দিয়ে কোনো বাধা অতিক্রম করতে পারি না।
** অধ্যায় ৪, “কেস ওয়ান: এ পার্সোনাল স্টোরি” (পৃষ্ঠা ৪৬)
* সাম্প্রতিক সময়ের একটি আলোচিত বিষয়, যা মূলত {{w|বার্নি সিগেল}}ের বহুল বিক্রিত বইগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে, ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছে। আমার সংশয়বাদী এবং যুক্তিবাদী সত্তার গভীর থেকে আমি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে ক্যালিফোর্নিয়ার এই অতি-আবেগপ্রবণতা থেকে রক্ষা করেন।
** অধ্যায় ৪, “কেস ওয়ান: এ পার্সোনাল স্টোরি” (পৃষ্ঠা ৪৭)
* আমরা বহু বছরের পরিশ্রমে আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠন করি এবং আমরা কেবল এর উপযোগিতার কথা ভেবে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারি না; আমাদের হৃদয়ে "ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি" লেখা কোনো বোতাম নেই, আর কোনো আঙুল কেবল একবার ব্যথাহীন চাপের মাধ্যমে ইতিবাচকতাকে অবিলম্বে কার্যকর করতে পারে না।
** অধ্যায় ৪, “কেস ওয়ান: এ পার্সোনাল স্টোরি” (পৃষ্ঠা ৪৭)
* যদি কোনো মানুষ ভয় এবং হতাশায় ক্যান্সারে মারা যান, তবে তার ব্যথার জন্য কাঁদুন এবং তার জীবনকে উদযাপন করুন। অন্য একজন মানুষ, যিনি প্রাণপণে লড়েছিলেন এবং শেষে হেসেছিলেন কিন্তু তিনিও মারা গেছেন, তিনি হয়তো তার শেষ মাসগুলো সহজভাবে কাটিয়েছেন, তবে তিনি অন্যজনের চেয়ে বেশি মানবিকতা নিয়ে বিদায় নেননি।
** অধ্যায় ৪, “কেস ওয়ান: এ পার্সোনাল স্টোরি” (পৃষ্ঠা ৪৭)
* অন্য কথায়, এই বইয়ের মূল সুর—"ফুল হাউস" (পুরো ঘর), অর্থাৎ সম্পূর্ণ সিস্টেমের মধ্যকার বৈচিত্র্যের ওপর আলোকপাত করার প্রয়োজনীয়তা, এবং সর্বদা গড় বা কেন্দ্রীয় প্রবণতার বিমূর্ত পরিমাপের ওপর নির্ভর না করা—আমার চরম প্রয়োজনের সময়ে যথেষ্ট সান্ত্বনা জুগিয়েছিল। কেউ যেন কখনো না বলে যে জ্ঞান এবং শিক্ষা হলো একাডেমিক স্থিতিশীলতার তুচ্ছ অলঙ্কার, এবং কেবল আবেগই ব্যক্তিগত চাপের সময়ে আমাদের সেবা করতে পারে।
** অধ্যায় ৪, “কেস ওয়ান: এ পার্সোনাল স্টোরি” (পৃষ্ঠা ৪৮)
* জীবনের এই ছোট কৌতুকের শেষ পাদটীকা হিসেবে আমি পাঠকদের মনে করিয়ে দিই যে, অন্য একটি বিশিষ্ট (বা অন্তত আমাদের কাছে প্রিয়) স্তন্যপায়ী বংশের বিবর্তনীয় ইতিহাস একইভাবে প্রগতির সিঁড়ি হিসেবে চিত্রিত করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে—অথচ আজ তারাও একসময়ের বিশাল ঝোপের একমাত্র বেঁচে থাকা প্রজাতি হিসেবে টিকে আছে। আয়নায় নিজের মুখ দেখুন, এবং ক্ষণস্থায়ী আধিপত্যকে সহজাত শ্রেষ্ঠত্ব বা দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার সম্ভাবনার সাথে তুলনা করার প্রলোভনে পড়বেন না।
** অধ্যায় ৫, “কেস টু: লাইফ’স লিটল জোক” (পৃষ্ঠা ৭৩)
* এই যুক্তিগুলো ডারউইনকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের "মৌলিক কলাকৌশলের" ফলে প্রগতির ধারণাকে অস্বীকার করতে পরিচালিত করেছিল—কারণ এই প্রক্রিয়াটি কেবল স্থানীয় অভিযোজন তৈরি করে, যা নিশ্চিতভাবেই নিখুঁত হতে পারে, কিন্তু তা সার্বজনীনভাবে অগ্রসরমান নয়। একটি ম্যামথ একটি হাতির মতোই সব দিক থেকে যোগ্য—এবং উল্টোটিও সত্য। আপনি কি মার্লিন মাছকে তার চমৎকার স্পাইকের জন্য পছন্দ করবেন; একটি ফ্লন্ডারকে তার অসাধারণ ছদ্মবেশের জন্য; একটি অ্যাঙ্গলারফিশকে তার পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগে বিকশিত বিশেষ "টোপের" জন্য; নাকি একটি সিহর্সকে তার অদ্ভুত আকৃতির জন্য, যা তার বাসস্থানে ভেসে থাকার জন্য খুব উপযোগী? এই মাছগুলোর মধ্যে কোনোটিকে কি অন্যটির চেয়ে "সেরা" বা "বেশি প্রগতিশীল" হিসেবে বিচার করা সম্ভব? এই প্রশ্নটির কোনো অর্থ হয় না। প্রাকৃতিক নির্বাচন কেবল স্থানীয় অভিযোজনই তৈরি করতে পারে—কিছু ক্ষেত্রে বিস্ময়করভাবে জটিল হলেও, তা সর্বদা স্থানীয় এবং সাধারণ প্রগতি বা জটিলতার ধারায় কোনো একটি ধাপ নয়।
** অধ্যায় ১২, “দ্য বেয়ার বোনস অফ ন্যাচারাল সিলেকশন” (পৃষ্ঠা ১৪০)
* আমাদের পারমাণবিক বা অন্যান্য কর্মকাণ্ড নিকট ভবিষ্যতে আমাদের নিজেদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। আমরা হয়তো আমাদের সাথে বেশিরভাগ বৃহৎ স্থলচর মেরুদণ্ডী প্রাণীকেও নিয়ে যাব—খুব বেশি হলে কয়েক হাজার প্রজাতি। তবে আমরা নিশ্চিতভাবেই ৫,০০,০০০ প্রজাতির বিটল বা গুবরে পোকা নির্মূল করতে পারব না, যদিও আমরা তাদের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য আঘাত করতে পারি। আমার সন্দেহ আছে যে আমরা কখনো ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে স্পর্শ করতে পারব কি না। আমাদের সম্ভাব্য কোনো অঘটন দিয়েই এই আদর্শ জীবদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
** অধ্যায় ১৪, “দ্য পাওয়ার অফ দ্য মোডাল ব্যাক্টার” (পৃষ্ঠা ১৭৮)
* নৈতিকতার সঠিক তত্ত্ব ফলাফল থেকে উদ্দেশ্যকে আলাদা করার ওপর নির্ভর করে।
** অধ্যায় ১৪, “দ্য পাওয়ার অফ দ্য মোডাল ব্যাক্টার” (পৃষ্ঠা ১৯৫)
* খুব কম বুদ্ধিবৃত্তীয় স্বৈরাচারই সেই তথাকথিত সত্যগুলোর চেয়ে বেশি জেদি হতে পারে যা সবাই জানে কিন্তু প্রায় কেউই সঠিক তথ্য দিয়ে সমর্থন করতে পারে না (কারণ এত স্পষ্ট বিষয়ের জন্য প্রমাণের প্রয়োজন কী)। এবং কোনো বুদ্ধিবৃত্তীয় কর্মকাণ্ডই সেই প্রচেষ্টার চেয়ে বেশি হিতকর হতে পারে না যা খুঁজে বের করতে চায় যে তথ্যের হাতুড়ির সামান্য আঘাতেই সেই প্রাচীন পাথরগুলো চূর্ণ হয়ে যায় কি না।
** অধ্যায় ১৪, “দ্য পাওয়ার অফ দ্য মোডাল ব্যাক্টার” (পৃষ্ঠা ২১২-২১৩)
* আক্রমণের মুখে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ প্রায়ই উচিত কাজের উল্টোটি করে: যেখানে মানিয়ে নেওয়া দরকার সেখানে তারা আরও অনড় হয়ে যায়। আমরা এই আচরণকে "অবরুদ্ধ মানসিকতা" বা "সিজ মেন্টালিটি" বলি।
** অধ্যায় ১৪, “দ্য পাওয়ার অফ দ্য মোডাল ব্যাক্টার” (পৃষ্ঠা ২১৩)
* আমি নিজেকে একজন কঠোরমনা বুদ্ধিজীবী হিসেবে ভাবতে পছন্দ করি, ভিনগ্রহী অপহরণ থেকে শুরু করে পূর্বজন্মের স্মৃতিচারণ—সব ধরনের অস্পষ্টতার ঘোর বিরোধী আমি। আমি ভাবতে ঘৃণা করি যে একটি বুদ্ধিবৃত্তীয় অবস্থান, যা এই বইয়ের পাতায় পাতায় আশা করি সুনিপুণভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা আমাদের যুগের অন্যতম বড় অস্পষ্টতা তথা তথাকথিত "রাজনৈতিক শুদ্ধতার" দালালি করে শেষ হতে পারে—এমন একটি মতবাদ যা সমস্ত দেশীয় প্রথাকে উদযাপন করে এবং তাই কোনো পার্থক্য, বিচার বা বিশ্লেষণকে অনুমতি দেয় না।
** অধ্যায় ১৫, “অ্যান এপিলগ অন হিউম্যান কালচার” (পৃষ্ঠা ২২৯)
* তবুও আমি মনে করি যে "ফুল হাউস" মডেল আমাদের বৈচিত্র্যকে তার নিজের গুণেই মূল্যায়ন করতে শেখায়—বিবর্তনীয় তত্ত্ব এবং প্রকৃতির অস্তিত্ববিদ্যার দৃঢ় কারণে, কোনো চিন্তার শোচনীয় ব্যর্থতা থেকে নয় যা এই অযৌক্তিক যুক্তিতে সমস্ত বিশ্বাসকে গ্রহণ করে যে অসম্মতি মানেই অসম্মান। শ্রেষ্ঠত্ব হলো পার্থক্যের একটি পরিসীমা, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দু নয়। এই পরিসীমার প্রতিটি স্থানই একজন শ্রেষ্ঠ বা একজন অযোগ্য প্রতিনিধি দ্বারা দখল হতে পারে—এবং আমাদের এই বৈচিত্র্যময় প্রতিটি স্থানেই শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। একটি সমাজে যা প্রায়ই অবচেতনভাবে একসময়ের সমৃদ্ধ শ্রেষ্ঠত্বের ওপর একটি অভিন্ন মধ্যম মানের অবস্থা চাপিয়ে দিতে চায়—যেখানে ম্যাকডোনাল্ডস স্থানীয় খাবারের দোকানকে হটিয়ে দেয় এবং মেগা-স্টপ অ্যান্ড শপ কোণার ছোট দোকানগুলোকে নির্মূল করে—সেখানে প্রাকৃতিক বাস্তবতা হিসেবে সম্পূর্ণ পরিসীমা বোঝা এবং রক্ষা করা এই ধারাকে রুখতে এবং যেকোনো বিবর্তনীয় সিস্টেমের সমৃদ্ধ কাঁচামাল তথা বৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
** অধ্যায় ১৫, “অ্যান এপিলগ অন হিউম্যান কালচার” (পৃষ্ঠা ২৩০)
=== ''দ্য মিসমেজার অফ ম্যান'' (১৯৯৬) ===
:<small>ডব্লিউ. ডব্লিউ. নর্টন অ্যান্ড কোম্পানি থেকে প্রকাশিত সংশোধিত এবং সম্প্রসারিত সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি।</small>
* ইউরি গেলারের মতো ভণ্ড জাদুকররা সাধারণ স্টেজ ম্যাজিক দিয়ে বিজ্ঞানীদের বোকা বানাতে বিশেষ সাফল্য পেয়েছেন। এর কারণ হলো কেবল বিজ্ঞানীরাই এত অহংকারী যে তারা মনে করেন তারা সব সময় কঠোর এবং বস্তুনিষ্ঠ সূক্ষ্মতার সাথে পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাই তাদের কখনো এভাবে বোকা বানানো সম্ভব নয়—অথচ সাধারণ মানুষ ভালো করেই জানে যে ভালো দক্ষ জাদুকররা সব সময়ই মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার পথ খুঁজে পেতে পারেন।
** পৃষ্ঠা ৩৬
* বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর ওপর কোনো জৈবিক মূল্য নির্ধারণের পুরো প্রচেষ্টাকে আমি যা হিসেবে অভিহিত করতে চাই তা হলো: অপ্রাসঙ্গিক, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং অত্যন্ত ক্ষতিকারক।
** পৃষ্ঠা ১৩৯
* সহ-সম্পর্ক (কো-রিলেশন) মানেই যে কারণ (কজ), এই ভুল ধারণাটি সম্ভবত মানুষের যুক্তিবোধের দুই বা তিনটি সবচেয়ে গুরুতর এবং সাধারণ ত্রুটির মধ্যে একটি।
** পৃষ্ঠা ২৭২
=== ''লিওনার্দো'স মাউন্টেন অফ ক্ল্যামস অ্যান্ড দ্য ডায়েট অফ ওয়ার্মস'' (১৯৯৮) ===
:<small>হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি।</small>
* খুব কম লোকই, এমনকি যারা বই লেখেন তারাও, আসলে মূল উৎসগুলো পড়েন—নিশ্চিতভাবেই প্রয়োজনীয় গভীরতা এবং একাগ্রতার সাথে নয়, এবং প্রায়ই একেবারেই না। [...] লেখকরা যখন পাণ্ডিত্যের নথিপত্র থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন এবং কেবল দেখা বা জিজ্ঞাসার ওপর নির্ভর করেন, তখন তারা চিন্তাবিদ হওয়ার পরিবর্তে কেবল মাধ্যম বা চালনীতে পরিণত হন। অন্যদিকে যখন আপনি একই সংগ্রামের সাথে জড়িত পূর্বসূরিদের মহান কাজগুলো অধ্যয়ন করেন, তখন আপনি মানুষের ইতিহাস এবং আমাদের নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তীয় ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যের সাথে একটি সংলাপে প্রবেশ করেন। আপনি নিজেকে এবং আপনার নিজস্ব সাংগঠনিক ক্ষমতাকে এই ইতিহাসের সাথে যুক্ত করেন—এবং আপনি কেবল একজন "প্রতিবেদক" নন, বরং একজন সক্রিয় প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন।
** ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৬
* আমাদের এই বেচারা প্রজাতি (যেটি সচেতন দর্শন এবং শিল্পের অভিনব বিবর্তনীয় উদ্ভাবন নিয়ে পরীক্ষা করা প্রথম প্রাণী) কোনো কিছুই সহজে পায়নি। এমনকি সবচেয়ে "স্পষ্ট", "নির্ভুল" এবং "স্বাভাবিক" চিন্তা বা অঙ্কনের শৈলীও ইতিহাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে এবং সংগ্রামের মাধ্যমে জয় করতে হবে। তাই সমাধানগুলো অবশ্যই একটি সামাজিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে উদ্ভূত হতে হবে এবং মন ও পরিবেশের জটিল মিথস্ক্রিয়াকে নথিভুক্ত করতে হবে যা মানুষের উন্নতির সম্ভাবনাকে সংজ্ঞায়িত করে।
** "সিয়িং আই টু আই, থ্রু এ গ্লাস ক্লিয়ারলি", পৃষ্ঠা ৭২
* আমি বিশেষভাবে [ [[w:এমানুয়েল মেন্দেস দা কস্তা|এমানুয়েল মেন্দেস দা কস্তা]]-র] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি অফ ফসিলস'' পছন্দ করি কারণ এই গবেষণাপত্রটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বড় ধরনের ভুল শুরুর সংক্ষিপ্ত পর্বকে নথিভুক্ত করেছে—এবং একটি রসালো ভুলের মতো এত বেশি তথ্যপূর্ণ ও শিক্ষণীয় আর কিছুই হতে পারে না।
** "দ্য ক্ল্যাম স্ট্রিপড বেয়ার বাই হার ন্যাচারালিস্টস, ইভেন", পৃষ্ঠা ৯৩
* প্রকৃত মহান এবং শক্তিশালী তত্ত্বগুলো কেবল একটি পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় না এবং হতেও পারে না। বিবর্তন হলো হাজার হাজার স্বাধীন উৎস থেকে পাওয়া একটি অনুমান, একমাত্র [[ধারণাগত কাঠামো]] যা এই সমস্ত ভিন্নধর্মী তথ্যকে একত্রিতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট দাবির ব্যর্থতা সাধারণত একটি স্থানীয় ত্রুটিরই রেকর্ড মাত্র, কোনো কেন্দ্রীয় তত্ত্বের দেউলিয়াত্ব নয়। [...] আমি যদি ভুল করে আপনার চাচার জায়গায় আপনার বাবাকে শনাক্ত করি, তবে আপনি বংশপরিচয়হীন হয়ে যান না। আপনার অবশ্যই একজন বাবা আছেন; আমরা কেবল তাকে সঠিকভাবে খুঁজে পাইনি।
** "মিস্টার সোফিয়া'স পনি", পৃষ্ঠা ১৫৫
* তত্ত্বগুলো খুব কমই জমে থাকা তথ্যের চাপের ফলে ধৈর্যশীল অনুমানের ফল হিসেবে উদ্ভূত হয়। তত্ত্ব হলো জটিল বাহ্যিক উদ্দীপনার দ্বারা শক্তিশালী হওয়া মানসিক নির্মাণ। কিন্তু সেই উদ্দীপনাগুলোর মধ্যে প্রায়ই স্বপ্ন, খেয়াল এবং ত্রুটি অন্তর্ভুক্ত থাকে—ঠিক যেমন আমরা কোনো পুষ্টি বা ওষুধ থেকে শক্তির একটি তীব্র বিস্ফোরণ পেতে পারি যার কোনো স্থায়ী মূল্য নেই। ছোট ভুল থেকে মহান সত্য বেরিয়ে আসতে পারে। বিবর্তন রোমাঞ্চকর, মুক্তচিন্তার সহায়ক এবং সঠিক। আর ''ম্যাক্রোচেনিয়া'' হলো একটি [[w:লিটোপ্টার্ন|লিটোপ্টার্ন]]।
** "মিস্টার সোফিয়া'স পনি", পৃষ্ঠা ১৫৭ - ১৫৮
* প্রতিটি ক্ষতি একেকটি চূড়ান্ত ট্র্যাজেডির উদাহরণ হয়ে ওঠে—যা একসময় ছিল কিন্তু আমাদের কাছে আর কখনো পরিচিত হবে না। বিশাল হরিণের কুঁজ—যেটি শরীরের একটি নরম অঙ্গ হওয়ায় জীবাশ্মীভূত হওয়া সম্ভব নয়—ইতিহাসের মুছে যাওয়া পাতায় হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা এক বিস্ময়কর উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেছেন এবং আমাদের এতে প্রবলভাবে আনন্দিত হওয়া উচিত। প্রতিটি নতুন জিনিস আমাদের শিক্ষা দিতে পারে; প্রতিটি অপ্রত্যাশিত বস্তু তার নিজের গুণেই সুন্দর; ইতিহাসের বিশাল ধ্বংসকারী মেশিন থেকে প্রতিটি উদ্ধারকাজ হলো—আমি আর অন্য কীভাবে বলব জানি না—সমগ্রতার একটি ক্ষুদ্র অংশের জন্য এক পবিত্র কাজ।
** "এ লেসন ফ্রম দ্য ওল্ড মাস্টার্স", পৃষ্ঠা ১৯৫
* আমি ১৯৯৬ সালের মহাকাশ বিষয়ক ব্লকবাস্টার সিনেমা ''[[ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে (চলচ্চিত্র)|ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে]]'' দেখতে সিনেমা হলে গিয়েছিলাম। (এমনকি সবচেয়ে নিবেদিতপ্রাণ বুদ্ধিজীবীও কেবল জেন অস্টেনের পুনর্নির্মাণগুলোর ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারেন না।)
** "দ্য ডোডো ইন দ্য ককাস রেস", পৃষ্ঠা ২৩২
* এই পেশার প্রায় যে কেউ শেষ গর্ভবতী ডোডোটির জন্য নিজের জীবন দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের কি সেই ব্যক্তিকে প্রশংসা করা উচিত নয় যে ব্যক্তিগত দোষ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরের এক চরম দুঃখজনক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও বিলাপ না করে যা কিছু উদ্ধার করা সম্ভব তা উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা করে?
** "দ্য ডোডো ইন দ্য ককাস রেস", পৃষ্ঠা ২৩৪
* একজন অত্যন্ত আন্তরিক এবং সিরিয়াস নবীন ছাত্র একটি প্রশ্ন নিয়ে আমার অফিসে এসেছিল যা স্পষ্টতই তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছিল। সে আমাকে বলল, "আমি একজন ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টান এবং বিবর্তনকে সন্দেহ করার কোনো কারণ কখনো দেখিনি, যা একই সাথে উত্তেজনাপূর্ণ এবং সুপ্রতিষ্ঠিত বলে মনে হয়। কিন্তু আমার রুমমেট একজন প্রচারক ইভাঞ্জেলিক্যাল এবং সে প্রবলভাবে দাবি করছে যে আমি একই সাথে একজন প্রকৃত খ্রিস্টান এবং একজন বিবর্তনবাদী হতে পারি না। তাই আমাকে বলুন, একজন মানুষ কি ঈশ্বর এবং বিবর্তন উভয়তেই বিশ্বাস করতে পারে?" আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম, আমার বুদ্ধিবৃত্তীয় দায়িত্ব পালন করলাম এবং তাকে আশ্বস্ত করলাম যে বিবর্তন সত্য এবং খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ—এটি এমন একটি অবস্থান যা আমি আন্তরিকভাবে ধারণ করি, তবে একজন ইহুদি অজ্ঞেয়বাদীর জন্য এটি এখনও একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি।
** "নন-ওভারল্যাপিং ম্যাজিস্টেরিয়া", পৃষ্ঠা ২৭০
* বিভ্রান্ত হলে মূল দলিলগুলো পড়লে ক্ষতি নেই—এটি একটি সাধারণ এবং স্বতঃসিদ্ধ নীতি যা তবুও আমেরিকান অভিজ্ঞতার একটি বড় অংশ থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে।
** "নন-ওভারল্যাপিং ম্যাজিস্টেরিয়া", পৃষ্ঠা ২৭৩
* ধর্মের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আছে এবং বিষয়টি আমাকে সর্বদা মুগ্ধ করেছে [...]। এই মুগ্ধতার অনেকাংশই নিহিত রয়েছে এক অত্যাশ্চর্য ঐতিহাসিক প্যারাডক্সে যে, সংগঠিত ধর্ম সমগ্র পশ্চিমা ইতিহাস জুড়ে ব্যক্তিগত বিপদের মুখে একই সাথে অকথ্য ভয়াবহতা এবং মানুষের দয়ার সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ তৈরি করেছে। (আমি বিশ্বাস করি মন্দের কারণ হলো জাগতিক ক্ষমতার সাথে ধর্মের মাঝেমধ্যে ঘটে যাওয়া মিলন। ক্যাথলিক চার্চ ইনকুইজিশন থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড—সব ধরনের ভয়াবহতা স্পন্সর করেছে, কিন্তু তার কারণ ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি পশ্চিমা ইতিহাসের অনেকটা সময় জুড়ে বিশাল জাগতিক ক্ষমতা ধরে রেখেছিল। যখন আমার লোকেরা ওল্ড টেস্টামেন্টের সময় আরও সংক্ষিপ্তভাবে এমন ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিল, তখন আমরা একই যুক্তি দিয়ে একই ধরনের নৃশংসতা চালিয়েছিলাম।)
** "নন-ওভারল্যাপিং ম্যাজিস্টেরিয়া", পৃষ্ঠা ২৮১
* আমি এই গল্পগুলো পছন্দ করি কারণ তারা ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার একটি মৌলিক সুরকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে—তা হলো গুরুত্বপূর্ণ পরিণতিগুলো প্রায়ই সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যের উদ্দীপনা থেকে উদ্ভূত হয়। অন্য কথায়, বর্তমান উপযোগিতার সাথে ঐতিহাসিক উৎসের কোনো প্রয়োজনীয় সম্পর্ক নেই।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩০২
* আমরা যখন জিরাফের লম্বা ঘাড়ের বিবর্তনীয় ব্যাখ্যার অনুমিত উৎসের দিকে তাকাই, তখন আমরা হয় কিছুই পাই না, অথবা পাই খুব ছোট কিছু অনুমান। দৈর্ঘ্যের সাথে গুরুত্বের কোনো আবশ্যিক সম্পর্ক নেই। বাচাল বৃদ্ধ [[w:পোলোনিয়াস|পোলোনিয়াস]] মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে "সংক্ষিপ্ততাই হলো বুদ্ধির প্রাণ" (এবং তারপরেই অবিলম্বে তার প্রজ্ঞাপূর্ণ পর্যবেক্ষণকে [[হ্যামলেট]]ের পাগলামি সম্পর্কে এক গাদা নিরর্থক শব্দ দিয়ে নষ্ট করেছিলেন।)
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩০৪
* যদি জিরাফের ঘাড় এক ইঞ্চি করে লম্বা হয়, তবে সহায়ক কাঠামোর সম্পূর্ণ সেট প্রতিটি ধাপে তৈরি হওয়ার প্রয়োজন নেই। সমন্বিত অভিযোজন ধীরে ধীরে গড়ে তোলা যেতে পারে। কিছু প্রাণীর ঘাড় সামান্য লম্বা হতে পারে, অন্যদের পা; আবার কেউ ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে পারে। যৌন প্রজননের মাধ্যমে বিভিন্ন জীবের এই অনুকূল বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী প্রজন্মে একত্রিত হতে পারে।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১০
* যখন বিজ্ঞানীদের তত্ত্বের কঠিন বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়, তখন বিমূর্ততার পরিবর্তে কাল্পনিক উদাহরণ দিয়ে চিত্রায়ন করা একটি অলঙ্করণ পদ্ধতি বা [[w:অলঙ্কার (সাহিত্য)|রেটরিক্যাল ডিভাইস]] হিসেবে ভালো কাজ করে। এই ঘটনাগুলো নেতিবাচক অর্থে নিছক অনুমান নয়—জটিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য কেবল রূপকথা নয়—বরং তত্ত্বের একটি কঠিন বিষয়কে ব্যাখ্যা করার জন্য আদর্শ চিত্রায়ন। (অন্যান্য ক্ষেত্র যেমন দর্শন এবং আইনেও এই ধরনের কাল্পনিক ঘটনাকে একটি আদর্শ পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।)
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১০
* জিরাফের ঘাড় বিবর্তনের কারণ হিসেবে [[w:ল্যামার্কবাদ|ল্যামার্কবাদ]]ের পরিবর্তে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ডারউইন নিজে ব্যবহার বা অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতির ল্যামার্কীয় নীতিকে অস্বীকার করেননি। তিনি ল্যামার্কীয় প্রক্রিয়াকে দুর্বল, বিরল এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের কাছে সম্পূর্ণ গৌণ বলে মনে করতেন, তবে তিনি ব্যবহারের মাধ্যমে বিবর্তনের বৈধতাকে গ্রহণ করেছিলেন। ডারউইন জিরাফের ঘাড়ের অভিযোজনমূলক সুবিধা সম্পর্কে অনুমান করেছিলেন, তবে তিনি ঘাড় লম্বা হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং ল্যামার্কবাদ—উভয়কেই উল্লেখ করেছেন।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১২
* আমরা এই জটিল আঁকাবাঁকা গল্পের মূল ধারাটিকে পরিহাসের একটি তালিকা হিসেবে সারসংক্ষেপ করতে পারি—যেখানে [[পরিহাস]] বা আয়রনির প্রযুক্তিগত সংজ্ঞাকে এমন একটি বক্তব্য হিসেবে ধরা হয় যেখানে হাস্যরস বা ব্যঙ্গাত্মক প্রভাবের জন্য কোনো শব্দের অভিপ্রেত অর্থ তার সাধারণ অর্থের বিপরীত হয়ে যায়...
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৩
* [[হেনরি ফেয়ারফিল্ড অসবর্ন]], তার সময়ের প্রভাবশালী জীবাশ্মবিদ এবং আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি-র দীর্ঘদিনের পরিচালক, তার ১৯১৮ সালের জনপ্রিয় বই ''দ্য অরিজিন অ্যান্ড ইভোলিউশন অফ লাইফে'' একটি "আদর্শ সংস্করণ" দিয়েছিলেন... "[[w:জঁ-বাপ্তিস্ত লামার্ক|ল্যামার্ক]] জিরাফের ঘাড় লম্বা হওয়ার কারণ হিসেবে ঘাড় প্রসারিত করার অভ্যাসের ফলে সৃষ্ট শারীরিক পরিবর্তনের বংশগতিকে দায়ী করেছিলেন। [[চার্লস ডারউইন|ডারউইন]] ঘাড় লম্বা হওয়ার কারণ হিসেবে সেই সব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নিরন্তর নির্বাচনকে দায়ী করেছিলেন যারা লম্বা ঘাড় নিয়ে জন্মেছিল। ডারউইন সম্ভবত সঠিক ছিলেন।" ...সেই সংস্করণটি তখন থেকেই প্রচলিত রয়েছে।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৪
* আমরা যদি একটি দুর্বল এবং নির্বোধ অনুমানকে পাঠ্যপুস্তকের প্রধান চিত্রায়ন হিসেবে বেছে নিই (ভুলভাবে ধরে নিয়ে যে গল্পটির পেছনে শক্তিশালী ইতিহাস এবং প্রমাণের সমর্থন আছে), তবে আমরা সমস্যায় পড়ব—যেহেতু সমালোচকরা সেই নির্দিষ্ট দুর্বলতাটিকে ধরে নেবেন এবং তারপরে ভাববেন যে সমর্থকরা যদি এমন একটি হাস্যকর উদাহরণ বেছে নেন তবে পুরো তত্ত্বটিই হয়তো বিপদে আছে।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৪
* তার ডারউইন-বিরোধী বই... ''দ্য নেক অফ দ্য জিরাফের'' ফ্রান্সিস হিচিং গল্পটি বলেন... "উঁচু থেকে খাবার সংগ্রহের মাধ্যমে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয়তা, এই ধরনের অনেক ডারউইনীয় ব্যাখ্যার মতোই একটি ''[[w:পোস্ট হক এরগো প্রপটার হক|পোস্ট হক]]'' বা ভিত্তিহীন অনুমানের চেয়ে সামান্য বেশি কিছু।" হিচিং বেশ সঠিক, কিন্তু তিনি এমন একটি রূপকথা খণ্ডন করছেন যা ডারউইন বলার মতো এতটা বোকা ছিলেন না—যদিও গল্পটি পরবর্তীতে আমাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে একটি "ধ্রুপদী উদাহরণ" হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৪
* চিরন্তন সতর্কতা হলো স্বাধীনতার মূল্য। এর সাথে বুদ্ধিবৃত্তীয় সততাকেও যোগ করুন।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৫
* জিরাফরা [[w:বাবলা|বাবলা গাছের]] ওপর থেকে পাতা সংগ্রহের জন্য তাদের লম্বা ঘাড় ব্যবহার করে—কিন্তু বর্তমানের এই ক্রিয়াকলাপ, তা যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন, এটি প্রমাণ করে না যে ঘাড়টি মূলত এই উদ্দেশ্যেই বিবর্তিত হয়েছিল। ঘাড়টি হয়তো প্রথমে অন্য কোনো কাজের জন্য লম্বা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জিরাফ যখন খোলা প্রান্তরে চলে আসে তখন খাবারের সুবিধার জন্য এটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে। অথবা ঘাড়টি হয়তো একই সাথে বেশ কয়েকটি কাজ সম্পাদন করার জন্য বিবর্তিত হয়েছে। আমরা কেবল বর্তমান ব্যবহারের তালিকা করে ঐতিহাসিক উৎপত্তির কারণগুলো জানতে পারি না।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৭
* তাহলে কেন আমরা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই এই সাধারণ গল্পটি বিশ্বাস করতে বাধ্য হলাম? আমি দুটি প্রাথমিক কারণ সন্দেহ করি: আমরা একটি বোধগম্য এবং সন্তোষজনক গল্প পছন্দ করি এবং আমরা আপাত কর্তৃত্বকে (যেমন পাঠ্যপুস্তক!) চ্যালেঞ্জ করতে অনিচ্ছুক। তবে মনে রাখবেন যে বেশিরভাগ সন্তোষজনক গল্পই মিথ্যা।
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৮
* ডারউইনীয় বিবর্তন সম্ভবত পশ্চিমা বিজ্ঞানের দ্বারা উৎপন্ন সবচেয়ে সত্য এবং শক্তিশালী ধারণা হতে পারে। কিন্তু আমরা যদি একটি অসমর্থিত এবং মূলত হাস্যকর গল্প দিয়ে আমাদের বিশ্বাসকে তুলে ধরা চালিয়ে যাই, তবে আমরা একটি সুন্দর জিনিসকে জরাজীর্ণ পোশাকে সাজাচ্ছি—এবং আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, কারণ "পোশাকই মানুষকে চিনিয়ে দেয়।"
** "দ্য টলেস্ট টেল", পৃষ্ঠা ৩১৮
* যারা [[w:বিবর্তনীয় প্রগতি|বিবর্তনের একমুখী প্রগতির]] সমর্থক, তারা যখন অমেরুদণ্ডী এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীদের আপাত ভিন্ন নকশার মধ্যে একটি মসৃণ সংযোগ খুঁজে পেতে চান, তখন সবচেয়ে বড় বাধার সম্মুখীন হন।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২০
* [[w:অার্থ্রোপড|আর্থ্রোপড]] এবং [[w:মেরুদণ্ডী প্রাণী|মেরুদণ্ডী প্রাণীরা]] সাধারণ সংগঠনের কিছু বিস্তৃত বৈশিষ্ট্য শেয়ার করে—যেমন লম্বা এবং দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম দেহ, সামনের দিকে সংবেদনশীল অঙ্গ, পেছনে রেচন অঙ্গ এবং প্রধান অক্ষ বরাবর কোনো রূপের [[w:খন্ডায়ন (জীববিজ্ঞান)|খন্ডায়ন]]। কিন্তু প্রধান অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর জ্যামিতি এর চেয়ে বেশি ভিন্ন হতে পারত না... আর্থ্রোপডরা তাদের স্নায়ুতন্ত্রকে পেটের দিকে দুটি প্রধান রজ্জু হিসেবে ঘনীভূত করে। মুখটিও পেটের দিকে খোলে, যার খাদ্যনালী দুটি স্নায়ু রজ্জুর মাঝখান দিয়ে যায়। আর পাকস্থলী ও পাচনতন্ত্রের বাকি অংশ স্নায়ু রজ্জুর ''ওপর'' দিয়ে চলে। অন্যদিকে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র পিঠের পৃষ্ঠ বরাবর একটি টিউব হিসেবে চলে যা সামনের প্রান্তে একটি বাল্ব আকৃতির মস্তিষ্কে শেষ হয়। পুরো পাচনতন্ত্র তখন স্নায়ু রজ্জুর ''নিচ'' দিয়ে দেহের অক্ষ বরাবর চলে।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২১
* মেরুদণ্ডী প্রাণীদের উৎপত্তির আলোচনায় [[w:বিপরীতকরণ (বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান)|ইনভার্সন তত্ত্ব]] বা বিপরীতকরণ তত্ত্বের একটি দীর্ঘ এবং আকর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে। এর প্রারম্ভিক সংস্করণটি উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের এবং এটি "ট্রানসেনডেন্টাল বায়োলজি" নামক একটি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল জৈব বৈচিত্র্যকে একটি বা খুব কম সংখ্যক আর্কিটাইপাল বা আদিম ব্লকে নামিয়ে আনা যা পরিবর্তনের যৌক্তিক নিয়মের মাধ্যমে সমস্ত শারীরিক গঠন তৈরি করতে পারে। ইউরোপের অনেক মহান চিন্তাবিদ এই মহৎ কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জার্মানির শ্রেষ্ঠ কবি-বিজ্ঞানী [[জোহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটে]] উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশকে একটি আদিম পাতার বিভিন্ন রূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৫
* ফ্রান্সে [[w:এতিয়েন জফ্রোয়া সাঁ-হিলের|এতিয়েন জফ্রোয়া সাঁ-হিলের]] মেরুদণ্ডী প্রাণীদের কঙ্কালকে একটি আদিম কশেরুকার পরিবর্তনের সমষ্টি হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ১৮২০-এর দশকে জফ্রোয়া তার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় [[w:অ্যানেলিড|অ্যানেলিড]] এবং আর্থ্রোপডদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ...মেরুদণ্ডী প্রাণীরা তাদের নরম অংশগুলোকে অভ্যন্তরীণ কঙ্কাল দিয়ে সমর্থন দেয়, কিন্তু পতঙ্গদের অবশ্যই তাদের [[w:মেরুদণ্ড|কশেরুকার]] ভেতরে বাস করতে হয় (এটি জফ্রোয়ার কাছে কোনো রূপক ছিল না, ছিল বাস্তবতা)। এই তুলনা তাকে এমন একটি দাবিতে পরিচালিত করেছিল যে, মেরুদণ্ডী প্রাণীর পাঁজরের হাড় অবশ্যই আর্থ্রোপডের পায়ের মতো একই অঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করে—এবং তাই পতঙ্গরা আসলে তাদের নিজেদের পাঁজরের ওপর ভর দিয়ে হাঁটে!
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৬
* জফ্রোয়া এটিও উপলব্ধি করেছিলেন যে অন্ত্র এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিপরীত অবস্থান তার দাবির জন্য একটি সমস্যা তৈরি করে যে পতঙ্গ এবং মেরুদণ্ডী প্রাণী একই আদিম প্রাণীর ভিন্ন সংস্করণ—এবং তিনি এই ঐক্যের প্রতি হুমকি দূর করতে বিপরীতকরণ তত্ত্বের প্রথম বিবরণ প্রস্তাব করেছিলেন। ...জফ্রোয়া একটি "টাইপ অফ ইউনিটি" বা ধরনের ঐক্য স্থাপনের লক্ষ্য অনুসরণ করেছিলেন যা একই মৌলিক ব্লুপ্রিন্ট থেকে আর্থ্রোপড এবং মেরুদণ্ডী উভয়ই তৈরি করতে পারে। ...একই মহান নকশায় মাঝখানে একটি অন্ত্র এবং পরিধিতে কোথাও প্রধান স্নায়ু রজ্জু অন্তর্ভুক্ত থাকে।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৬
* রৈখিক প্রগতির পরবর্তী বিবর্তনীয় তাত্ত্বিকরা এই শারীরিক এবং ঐতিহাসিক দাবিটি সামনে এনেছিলেন যে আর্থ্রোপডদের একটি পূর্বপুরুষ বংশ আসলে উল্টে গিয়ে প্রথম মেরুদণ্ডী প্রাণীতে পরিণত হয়েছিল (বিপরীতকরণ তত্ত্বের ধ্রুপদী বিবরণের জন্য উইলিয়াম প্যাটেনের ''দ্য গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি অফ ইভোলিউশন'', ১৯২০ দেখুন)।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৭
* গ্যাসকেল তার প্রিয় রৈখিক প্রগতি তত্ত্বের এই অশোভন সংস্করণ সহ্য করতে পারেননি। তিনি এটি কল্পনা করতে পারেননি যে জেলিফিশ থেকে মানুষ পর্যন্ত যে বিশাল মিছিলটি স্নায়ু টিস্যুর ক্রমাগত বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, তা মেরুদণ্ডী প্রাণীর ঘরে প্রবেশের সেই মহৎ ও চূড়ান্ত মুহূর্তে কেবল একটি উল্টে যাওয়ার জন্য থেমে গিয়েছিল।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৭
* গ্যাসকেলকে তার সৈন্যদের সোজা রাখতে হয়েছিল... একটি আর্থ্রোপড পাচন নালী থেকে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড তৈরি করে, এবং নিচে একটি সম্পূর্ণ নতুন অন্ত্র গঠন করে। ...গ্যাসকেল ভেবেছিলেন যে তার এই পদক্ষেপ রৈখিক প্রগতি তত্ত্বকে পুরানো বিপরীতকরণ তত্ত্বের হাস্যকর অবস্থা থেকে রক্ষা করবে।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৭
* কী পরিহাস। বিপরীতকরণের "পাগলাটে" তত্ত্ব এড়ানোর জন্য গ্যাসকেল মস্তিষ্ক পাকস্থলীতে পরিণত হওয়া এবং নিচে নতুন অন্ত্র তৈরি হওয়ার মতো আরও অদ্ভুত ধারণা উদ্ভাবন করেছিলেন। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে পরবর্তী জীববিজ্ঞানীরা এই উভয় অনুমানকে বাতিল করে সহজ বিকল্পটি বেছে নিয়েছিলেন: আর্থ্রোপড এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীদের শারীরিক পরিকল্পনা মোটেও এক নয়, বরং তারা অনেক সরল সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে অনুরূপ জটিলতার দুটি আলাদা বিবর্তনীয় বিকাশের প্রতিনিধিত্ব করে যার কোনো সুনির্দিষ্ট অন্ত্র বা কেন্দ্রীয় স্নায়ু রজ্জু ছিল না।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৭
* ১৯৩০-এর দশক থেকে ডারউইনবাদের একটি কঠোর সংস্করণের বিজয়ের সাথে এই স্বতন্ত্র উৎসের ধারণাটি চমৎকারভাবে মিলে গিয়েছিল... আর্থ্রোপড এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীরা কার্যগত নকশার কিছু বৈশিষ্ট্য শেয়ার করে। কিন্তু সেই মিলগুলো কেবল প্রাকৃতিক নির্বাচনের সক্ষমতাকেই প্রতিফলিত করে যা সাধারণ সমস্যার সীমিত [[w:জীবযান্ত্রিকতা|বায়োমেকানিক্যাল]] সমাধানের জগতে স্বাধীনভাবে সর্বোত্তম কাঠামো তৈরি করতে পারে—একটি বিবর্তনীয় ঘটনা যাকে [[w:বিসরণধর্মী বিবর্তন|অভিসারী বিবর্তন]] বলা হয়।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৮
* এই নতুন ঐক্যমত্য এতই জোরালো ছিল যে আধুনিক ডারউইনীয়দের প্রধান [[আর্নস্ট মায়ার]] শারীরবৃত্তীয় ঐক্য সম্পর্কে জফ্রোয়ার ধারণাগুলোকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৯
* [[চার্লস ডারউইন|ডারউইন]] নিজে তার শেষ বইতে (''দ্য ফরমেশন অফ ভেজিটেবল মোল্ড থ্রু দ্য অ্যাকশন অফ ওয়ার্মস'') আমাদের বলেছিলেন যে চলমান কৃমির শক্তিকে আমাদের কখনো অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। ...একটি সাধারণ কৃমির উল্টে যাওয়া সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিতে পারে। [[উইলিয়াম শেকসপিয়র|শেকসপিয়র]] আমাদের বলেছিলেন যে "ক্ষুদ্রতম কৃমিও পদদলিত হলে ঘুরে দাঁড়ায়।" আর [[মিগেল দে থের্ভান্তেস]] ''ডন কিহোতে''-র ভূমিকায় লিখেছিলেন যে "এমনকি একটি কৃমিও যখন পায়ের নিচে পড়ে, তখন সে আবার ঘুরে দাঁড়ায়।" ...জফ্রোয়া শেষ পর্যন্ত সঠিক ছিলেন বলেই মনে হয়—সব খুঁটিনাটি বিষয়ে নয় অবশ্যই, কিন্তু অন্তত মৌলিক লক্ষ্য এবং তাত্ত্বিক অর্থের ক্ষেত্রে। আর এই বিস্ময়ের বিজয়, পাগলামির আপাত সত্যে রূপান্তর আমাদের সময়ের বিবর্তনীয় তত্ত্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ উন্নয়নের একটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩২৯-৩৩০
* আমরা এখন সহজেই এবং তুলনামূলকভাবে সস্তায় জিনের বিস্তারিত রাসায়নিক গঠন নির্ধারণ করতে পারি; এবং আমরা এই জিনগুলোর প্রভাব অনুসরণ করতে পারি যখন তারা [[w:ভ্রূণতত্ত্ব|ভ্রূণতত্ত্বের]] গতিপথকে প্রভাবিত করে। এটি করার মাধ্যমে আমরা এই বিস্ময়কর আবিষ্কার করেছি যে সমস্ত জটিল প্রাণী [[w:পর্ব (জীববিজ্ঞান)|পর্ব]]—বিশেষ করে আর্থ্রোপড এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীরা—তাদের অর্ধ-বিলিয়ন বছরের বিবর্তনীয় স্বাধীনতা সত্ত্বেও শরীর তৈরির জন্য সাধারণ জেনেটিক ব্লুপ্রিন্টের একটি বিশাল সেট ধরে রেখেছে।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩৩০
* প্রাণী পর্বগুলোর মধ্যে মৌলিক নকশার অনেক মিল, যা একসময় অভিসারী বিবর্তনের কারণ হিসেবে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলা হতো, এখন তার বিপরীত ব্যাখ্যার দাবি রাখে যা আর্নস্ট মায়ার অকল্পনীয় বলে মনে করেছিলেন: এই অনুরূপ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো [[w:সমসংস্থ অঙ্গ|হোমোলজি]] বা একই জিনের পণ্য, যা একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে এবং পরবর্তী বিবর্তনে তাদের কাঠামো ও কাজ মুছে ফেলার মতো যথেষ্ট পরিবর্তিত হয়নি। এই মিলগুলো সংরক্ষিত ইতিহাসের সীমাবদ্ধ করার ক্ষমতাকে নথিভুক্ত করে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের স্থাপত্য দক্ষতা নয়। মেরুদণ্ডী প্রাণীরা এক অর্থে কৃমি এবং পতঙ্গদের প্রকৃত ভাই (বা হোমোলগ)—কেবল অ্যানালগ বা সদৃশ নয়।
** "ব্রাদারহুড বাই ইনভার্সন", পৃষ্ঠা ৩৩০-৩১
* বিবর্তিত জীবনকে সম্ভাবনার এক বিশাল পরিসরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা পরিবেশগত ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে এতই অনিশ্চিত যে কোনো বাস্তবায়িত পথকে—উদাহরণস্বরূপ হোমো সেপিয়েন্স বা লিটল গ্রিন মেনের আকারে চেতনার পথ—স্বর্গের মহাসড়ক হিসেবে ভাবা যায় না। বরং একে অজস্র বাধা এবং অসংখ্য বিকল্প শাখায় ভরা একটি আঁকাবাঁকা পথ হিসেবে দেখতে হবে। তাই অন্য কোনো গ্রহে আমাদের পৃথিবীর পথের নির্ভুল পুনরাবৃত্তি এক ট্রিলিয়ন ক্ষেত্রেও অসম্ভব।
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫১
* যেহেতু মহাবিশ্বে অবশ্যই লক্ষ লক্ষ উপযুক্ত গ্রহ রয়েছে, তাই কোনো না কোনো ফর্মে চেতনা প্রায়ই বিবর্তিত হতে পারে। তবে আমরা যে একমাত্র উদাহরণটি জানি যেখানে মস্তিষ্ক নিউরন দিয়ে তৈরি এবং জোড়া চোখ ও অঙ্গ রয়েছে, তা সব জায়গায় না-ও হতে পারে। কিন্তু দশ লাখে কেবল একটি প্রাণের উৎসও যদি চেতনার দিকে নিয়ে যায়, তবে মঙ্গলের ব্যাকটেরিয়ার অর্থ মোটেও লিটল গ্রিন মেন নয়।
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫১
* পৃথিবী সব সময় যেমন ছিল, আমরা এখনো সেই ব্যাকটেরিয়ার যুগে বাস করছি। এই সরলতম জীবগুলো আমাদের গ্রহে আধিপত্য বিস্তার করবে (যদি জীবনের জন্য পরিবেশ অনুকূল থাকে) যতক্ষণ না সূর্য বিস্ফোরিত হয়। আমাদের বর্তমান এবং নিঃসন্দেহে সংক্ষিপ্ত ভূতাত্ত্বিক মুহূর্তে তারা উপযুক্ত কৌতুকের সাথে আমাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে। কারণ আমরা তাদের কাছে সম্ভাব্য শোষণের জন্য উপযুক্ত কেবল কিছু ক্ষণস্থায়ী এবং সুস্বাদু দ্বীপ মাত্র।
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫২
* আমরা যদি ''হোমো সেপিয়েন্স''-কে একটি চূড়ান্ত বিরলতা হিসেবে দেখি এবং ব্যাকটেরিয়া পর্যায়ের জীবনকে একটি মহাজাগতিক ঘটনার সাধারণ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধরি, তবে আমরা মঙ্গলের জীবাশ্ম দ্বারা উত্থাপিত মৌলিক প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করতে পারি। যদি জীবন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জড় মহাবিশ্বের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে উদ্ভূত হয়, তবে জীবনের মৌলিক গঠন এবং গঠনতন্ত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কতটা ভিন্ন হতে পারে?
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫২
* পৃথিবীর সমস্ত জীবন—ব্যাকটেরিয়া থেকে মাশরুম বা জলহস্তী পর্যন্ত—বিস্তারিত জৈব রাসায়নিক মিলের এক বিস্ময়কর পরিসর শেয়ার করে, যার মধ্যে [[ডিএনএ]] ও [[w:আরএনএ|আরএনএ]]-র গঠন এবং শক্তি সঞ্চয়কারী যৌগ হিসেবে [[w:অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট|এটিপি]]-র সার্বজনীন ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। এই নিয়মিততা ব্যাখ্যা করার জন্য দুটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট থাকতে পারে: হয় পৃথিবীর সমস্ত জীবন এই বৈশিষ্ট্যগুলো শেয়ার করে কারণ অন্য কোনো রসায়ন কাজ করতে পারে না, অথবা এই মিলগুলো কেবল একটি একক উৎস থেকে সমস্ত জীবের সাধারণ বংশগতির প্রমাণ দেয় যার রসায়ন অনেক সম্ভাবনার মধ্যে একটি ছিল।
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫২
* দুর্ভাগ্যবশত পৃথিবীর সমস্ত জীবন—একমাত্র জীবন যা আমরা জানি—তার বর্তমান বৈচিত্র্য সত্ত্বেও একটি ''একক পরীক্ষার'' ফলাফলকে প্রতিনিধিত্ব করে, কারণ প্রতিটি পার্থিব প্রজাতি একটি একক উৎসের সাধারণ বংশগতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের এই পরীক্ষার একটি ''পুনরাবৃত্তি'' প্রয়োজন। মঙ্গলের সম্ভাবনা আমাদের একটি ''দ্বিতীয় পরীক্ষার'' প্রথম বাস্তব আশা দেখায়—যা জীবনের মৌলিক প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপরিহার্য।
** "ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডভিউস", পৃষ্ঠা ৩৫৩
* ডারউইনীয় প্রাকৃতিক নির্বাচন কেবল পরিবর্তনশীল স্থানীয় পরিবেশের সাথে অভিযোজন তৈরি করে। আর কোনো তাৎক্ষণিক বাসস্থানে আরও ভালো কাজ করার ক্ষমতা ক্রমবর্ধমান জটিলতার মতো আকৃতি এবং আচরণের বৃহত্তর সরলতার মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৫৫
* প্রাকৃতিক ইতিহাসের সাধারণ রূপকথাগুলোর একটি মানসম্মত "আক্ষেপ" বা "বিস্ময়কর গল্প" বিবেচনা করুন: [[w:মে ফ্লাই|মে-ফ্লাই]] বা মে-মাছি যা কেবল একদিন বাঁচে। হ্যাঁ, পূর্ণবয়স্ক মাছিটি রোদে কেবল এক মুহূর্ত উপভোগ করতে পারে, তবে আমাদের পুরো জীবনচক্রকে সম্মান করা উচিত এবং উপলব্ধি করা উচিত যে লার্ভা বা কিশোর পর্যায়গুলো কয়েক মাস ধরে বাঁচে এবং বিকশিত হয়। লার্ভা কেবল একটি সংক্ষিপ্ত সাবালকত্বের প্রস্তুতি নয়। আমরা বরং পুরো জীবনচক্রকে একটি [[শ্রম বিভাজন]] হিসেবে দেখতে পারি, যেখানে লার্ভা হলো খাওয়ানো এবং বৃদ্ধির পর্যায় এবং পূর্ণবয়স্ক পর্যায়টি হলো একটি স্বল্পস্থায়ী প্রজনন যন্ত্র। এই অর্থে আমরা পূর্ণবয়স্ক মাছির দিনটিকে লার্ভার এক প্রজন্মের প্রকৃত খাবার সংগ্রহের জন্য একটি চালাক এবং ক্ষণস্থায়ী কৌশল হিসেবে দেখতে পারি।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৫৬
* এই প্রবন্ধটি একটি পূর্ণবয়স্ক পরজীবীর চরম সরলীকরণের সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পটি আলোচনা করে—প্রাকৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের বোঝার পথে বাধা সৃষ্টিকারী দুটি প্রধান পক্ষপাতিত্বকে আলোকিত এবং সমাধান করার উদ্দেশ্যে: বিবর্তনকে প্রগতির সমার্থক মনে করা এবং কোনো জীবকে তার পুরো জীবনচক্র বিবেচনা না করে কেবল তার পূর্ণবয়স্ক রূপ দিয়ে মূল্যায়ন করা।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৫৬
* পূর্ণবয়স্ক পরজীবীর [ [[w:রাইজোসেফালা|রাইজোসেফালা]] ] প্রারম্ভিক অবস্থা কী গঠন করে? ডার্টের হাইপোডার্মিক ডিভাইসের সংকীর্ণ ছিদ্র দিয়ে কী প্রবেশ করানো যেতে পারে? ...নপলিয়াস, সিপ্রিড এবং কেনট্রোগনের মতো জটিলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা কল্পনা করুন—এবং তারপরে পূর্ণবয়স্ক পর্যায়ে দ্রুত এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য নিজেকে কেবল কয়েকটি কোষে নামিয়ে আনা। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে কী এক ন্যূনতম সেতু! ...কিন্তু অন্যান্য প্রজাতি একটি একক কোষে চূড়ান্ত হ্রাস অর্জন করেছে! ডার্টটি পোষকদেহের অভ্যন্তরে ''কেবল একটি কোষ'' প্রবেশ করায়, এবং জীবনচক্রের দুটি অংশ একটি অত্যন্ত ন্যূনতম সংযোগের মাধ্যমে তাদের অপরিহার্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৬৩
* পরজীবীটি কোনোভাবে পোষকদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বন্ধ করতে বিবর্তিত হয়েছে। সম্ভবত কাঁকড়ার ইমিউন সিস্টেমকে কোনো রাসায়নিক চাতুর্য দিয়ে নিরস্ত্র করে এটি পোষককে এটি বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে পরজীবীটি তারই অংশ। ...পূর্ণবয়স্ক পরজীবীটি পোষক কাঁকড়াকে নির্বীর্য করে ফেলে, সরাসরি তার টিস্যু খেয়ে নয়, বরং সম্ভবত কাঁকড়ার স্নায়ুতন্ত্রের চারপাশে এবং ভেতরে পরজীবীর শিকড় প্রবেশের কোনো অজানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৬৭
* ''লার্নেওডিস্কাস পোরসেলানা'' পোষকদেহের নিয়ন্ত্রণকে একটি সূক্ষ্ম শিল্পে পরিণত করে। পরজীবী দ্বারা নির্বীর্য হওয়ার পর পুরুষ কাঁকড়াগুলো গঠন এবং আচরণ উভয় ক্ষেত্রেই স্ত্রী বৈশিষ্ট্য লাভ করে, অন্যদিকে স্ত্রী কাঁকড়াগুলো আরও বেশি স্ত্রী সুলভ হয়ে ওঠে। উদীয়মান এক্সটার্না তখন কাঁকড়ার নিজস্ব ডিমের পুঞ্জীর মতো একই আকার এবং অবস্থান গ্রহণ করে... কাঁকড়াগুলো তখন এক্সটার্নাকে তাদের নিজস্ব সন্তান হিসেবে বিবেচনা করে। অন্য কথায়, পরজীবীটি কাঁকড়ার নিজস্ব বংশধরের জন্য সাধারণত নিয়োজিত সমস্ত জটিল যত্নের অধিকার কেড়ে নেয়।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৬৮
* সংক্ষেপে রাইজোসেফালা বা রুট-হেড কাঁকড়াকে একটি ডারউইনীয় শূন্যে পরিণত করে; এটি একটি ফিডিং মেশিনে পরিণত হয় যা সম্পূর্ণরূপে পরজীবীর সেবায় কাজ করে। নির্বীর্য কাঁকড়াটি তার নিজস্ব বিবর্তনীয় ইতিহাসে কোনো অবদান রাখতে পারে না; তার "ডারউইনীয় যোগ্যতা" শূন্য হয়ে যায়। ...কিন্তু পরজীবীটিকে কাঁকড়াকে নিরন্তর এবং নিখুঁত দাসত্বে বজায় রাখতে হয়—পোষকদেহকে মেরে ফেলার মতো যথেষ্ট নিংড়ে নেওয়া যাবে না, আবার কাঁকড়াকে তার নিজের বিবর্তনীয় সুবিধার জন্য কিছু করতেও দেওয়া যাবে না।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৬৯
* পুরুষ এবং স্ত্রী উভয় রুট-হেডের জটিল ও ভিন্ন জীবনচক্র এবং পোষক কাঁকড়াকে একটি সাপোর্ট সিস্টেম হিসেবে পুনর্গঠিত করার ক্ষেত্রে স্ত্রী পরজীবীর দেখানো দুর্দান্ত আচরণগত সূক্ষ্মতা আমাদের প্রচলিত জ্ঞানের অসারতা প্রমাণ করে যা রাইজোসেফালানদের নিছক অধপতিত পরজীবী মনে করত।
** ট্রায়াম্ফ অফ দ্য রুট-হেডস, পৃষ্ঠা ৩৭১
* আমাদের পরোক্ষ পদ্ধতিগুলো আমাদের ঘোড়া সম্পর্কে অনেক কিছু শিখিয়েছে। কিন্তু আপনি যদি আরও কিছু শিখতে চান তবে কি আপনি দৌড়ের মাঝখানে থাকা ঘোড়া হতে চাইবেন নাকি পরে জকির সাক্ষাৎকার নিতে চাইবেন?
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?"
* আমি কেবল বাইরে থেকে দেখতে পারি (বা ভেতরের অংশ কাটতে পারি, কিন্তু মাংস এবং জিন জৈব সামগ্রিকতাকে প্রকাশ করে না)। আমি কিছু অনির্দেশ্য পরোক্ষ পদ্ধতির সাথে আটকে আছি। আমি পরমাণু বিশ্লেষণ করতে পারি, পরীক্ষা করতে পারি এবং অনুমান করতে পারি। আমি আচরণ এবং প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রচুর তথ্য নথিভুক্ত করতে পারি। কিন্তু আমি যদি সেই এক মূল্যবান মিনিটের জন্য একটি গুবরে পোকা বা একটি ব্যাসিলাস হতে পারতাম এবং নিখুঁত স্মৃতি নিয়ে সেই গল্প বলার জন্য বেঁচে থাকতে পারতাম—তবে আমি ডারউইনের সেই উক্তিটি সত্যিই পূরণ করতে পারতাম যা তিনি তার একটি প্রাথমিক নোটবুকে লিখেছিলেন: "যে বেবুনকে বোঝে সে জন লকের চেয়ে অধিবিদ্যায় বেশি অবদান রাখবে।"
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?", পৃষ্ঠা ৩৭৬
* কেন হোমো সেপিয়েন্সের মতো একটি মার্জিত এবং নৈতিক প্রাণী অন্য প্রজাতিদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং এমনকি তাদের বিলুপ্ত করতে পারে, তার ধ্রুপদী যুক্তিটি একটি ধারাবাহিকতার চরম অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। কার্তেসীয় ঐতিহ্য অনুসারে অন্যান্য প্রাণীরা অনুভূতিহীন যন্ত্রের চেয়ে সামান্য বেশি কিছু, যেখানে কেবল মানুষই "চেতনা" উপভোগ করে।
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?", পৃষ্ঠা ৩৮৯
* আমি বিশ্বাস করতে রাজি যে স্পঞ্জ বা ফ্ল্যাটওয়ার্মের ভেতরে কাটানো আমার সেই অলভ্য ষাট সেকেন্ড হয়তো এমন কোনো মানসিক তীক্ষ্ণতা প্রকাশ করবে না যাকে আমি চেতনা বলতে চাইব। কিন্তু আমি এও আত্মবিশ্বাসী যে শকুনি এবং স্লথ—একই মৌলিক অঙ্গের সেটসহ আমাদের নিকট বিবর্তনীয় আত্মীয় হিসেবে—যেকোনো অর্থপূর্ণ সীমানার আমাদের দিকেই অবস্থান করে। আর তাই আমরা যখন তাদের চোখের দিকে তাকাই এবং আবেগীয় ও ধারণাগত আত্মীয়তার আভাস দেখি, তখন আমরা ভুল করি না।
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?", পৃষ্ঠা ৩৮৯-৩৯০
* পানামা যোজক কয়েক মিলিয়ন বছর আগে জেগে ওঠার আগে দক্ষিণ আমেরিকা দশ মিলিয়ন বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে অনেক বড় এবং অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় একটি দ্বীপ মহাদেশ ছিল। নতুন স্থল সেতু দিয়ে উত্তর আমেরিকার স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্লাবন দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় প্রাণিকুলের ধ্বংসের সাথে সময়ের দিক থেকে মিলে যায়। আসলে বর্তমানে বেশিরভাগ বৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী যাদের স্পষ্টভাবে দক্ষিণ আমেরিকান বলে মনে করা হয়... তারা সবাই উত্তর আমেরিকা থেকে আসা সাম্প্রতিক অভিবাসী।
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?", পৃষ্ঠা ৩৯০
* আমি যদি ''[[w:তিন-আঙুলযুক্ত স্লথ|ব্র্যাডিপাস]]ের'' ভেতরে সেই ষাট সেকেন্ড কাটাতে পারতাম... তবে আমি কি মানুষের কাছে থামার, পুনর্মূল্যায়নের—এবং সর্বোপরি ধীর গতির হওয়ার অনুরোধ পেতাম না?
** "ক্যান উই ট্রুলি নো স্লোথ অ্যান্ড র্যাপাসিটি?", পৃষ্ঠা ৩৯১
* প্রাকৃতিক ইতিহাসবিদরা এই দার্শনিক মোডে উদ্দেশ্যমূলক প্রচার এড়িয়ে চলেন (যদিও আমি প্রায়ই এই প্রবন্ধগুলোতে এমন প্রলোভনের শিকার হই)। আমাদের সন্দেহের প্রিয় শৈলীটি হলো অভিজ্ঞতামূলক: আমি যদি আপনার প্রস্তাবিত সাধারণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই তবে আমি রক্তমাংসের একটি পাল্টা উদাহরণ খুঁজব। এই ধরনের পাল্টা উদাহরণের প্রাচুর্য রয়েছে কারণ তারা প্রাকৃতিক ইতিহাসের লেখার একটি মানসম্মত ধরন তৈরি করে—যা হলো "অদ্ভুত্বের বিস্ময়"।
** "রিভার্সিং এস্টাবলিশড অর্ডারস", পৃষ্ঠা ৩৯৪
* মাছিরা ব্যাঙ খেতে পারে! (যদিও বিস্ময় কিছুটা কমতে পারে যখন দেখা যায় যে ক্ষুদ্র ব্যাঙগুলো মাছির লার্ভার চেয়ে অনেক ছোট।) অস্বাভাবিকভাবে বড় পতঙ্গ এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীদের দ্বারা খাওয়ার কয়েকটি রেকর্ড করা ক্ষেত্রে ছোট পাখি, এমনকি ইঁদুরকেও প্রেয়িং ম্যান্টিড বা ঘাসফড়িং দ্বারা ভক্ষণ করতে দেখা গেছে।
** "রিভার্সিং এস্টাবলিশড অর্ডারস", পৃষ্ঠা ৩৯৬
* কেউ ভাবেনি যে [[w:ডাইনোফ্ল্যাজেলেট|ডাইনোফ্ল্যাজেলেটরা]] তাদের নিজস্ব সুবিধার জন্য বিবর্তনীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে সক্রিয়ভাবে মাছ মেরে ফেলতে পারে। অথচ ডাইনোফ্ল্যাজেলেটরা সত্যিই মাছ মেরে খাচ্ছে এমনভাবে যা এই বিচিত্র বিপরীতমুখী বিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
** "রিভার্সিং এস্টাবলিশড অর্ডারস", পৃষ্ঠা ৪০০
* জীবনের ইতিহাস বোঝার সংগ্রামে আমাদের অবশ্যই শিখতে হবে কোথায় সেই সীমানা টানতে হবে যা একবার ঘটে যাওয়া অনিশ্চিত ঘটনা এবং বারবার ঘটা আইনানুগ ঘটনার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে যা জীবনের ইতিহাসে সাধারণতা হিসেবে পরিব্যাপ্ত হতে পারে।
** "রিভার্সিং এস্টাবলিশড অর্ডারস", পৃষ্ঠা ৪০২
=== ''দ্য লায়িং স্টোনস অফ মারাকেশ'' (২০০১) ===
:<small>পৃষ্ঠা নম্বরগুলো মূল হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণের রেফারেন্স অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।</small>
* আমরা কি কখনও কোনো প্রকাশ্য বস্তুকে নাগরিক মর্যাদার সাথে দেখতে পাব, যা বাণিজ্যিক বার্তা থেকে মুক্ত থাকবে? শহরের বাসগুলোকে কি পুরোপুরি চলন্ত বিজ্ঞাপনে রূপান্তর করতে হবে, ল্যাম্পপোস্টগুলো ঢেকে দিতে হবে, ট্যাক্সিকে সজ্জিত করতে হবে, এমনকি কনসার্ট হলের আসনগুলোও এক এক করে দাতার কাছে বিক্রি করে রূপালী ফলকে তাদের নাম স্থায়ীভাবে লিখে দিতে হবে?
** "দ্য লায়িং স্টোনস অফ মারাকেশ", পৃ. ২৫
* শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের ধারাবাহিকতার সুতোটি প্রায়ই এমন সূক্ষ্ম (পুরানো ক্লিফোর্ড ক্লিশে অনুযায়ী এক সুতোয় ঝুলে থাকা) হয়ে যেতে পারে, কিন্তু যদি আমি [[অঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে|লাভোয়াজিয়ে]]-র নিজের হাতে লেখা তাঁর নামের কালি স্পর্শ করতে পারি, তবে সেই বৃত্তটি অটুট থাকে। তাঁর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার অক্সিজেনের মাধ্যমে লালিত আলোর মোমবাতি কখনও নিভে যায় না, যদি আমরা যুগের পর যুগ ধরে এমন অবিচ্ছিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে লালন করি। আমরা নিউক্লিক অ্যাসিডের সেই প্রকৃত ভৌত সুতোটি নিয়েও চিন্তা করতে পারি যা আমাদের প্রত্যেককে সমস্ত জীবিত প্রাণীর সাধারণ ব্যাকটেরিয়া পূর্বপুরুষের সাথে যুক্ত করে। লাভোয়াজিয়ে-র ''আঁসিয়ে তের'' (প্রাচীন পৃথিবী)-তে ৩.৫ বিলিয়ন বছরেরও বেশি আগে যার জন্ম হয়েছিল এবং যা একটি মুহূর্তের জন্যও বা একটি প্রজন্মের জন্যও কখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি। আমাদের বোকামির সমস্ত গিলোটিন থেকে এই জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষা করা জরুরি।
** "দ্য প্রুফ অফ লাভোয়াজিয়ে'স প্লেটস", পৃ. ১১৪
* ১৬৬৬ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর লন্ডন পুনর্গঠনের প্রধান স্থপতি [[ক্রিস্টোফার রেন]] তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ভবন সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালের মেঝের নিচে সমাহিত আছেন। কোনো বিশদ সারকোফ্যাগাস বা পাথরের কফিন এই স্থানটিকে অলঙ্কৃত করেনি। পরিবর্তে, আমরা কেবল তাঁর ছেলের লেখা বিখ্যাত এপিটাফটি দেখতে পাই যা এখন মেঝেতে খোদাই করা আছে: “''si monumentum requiris, circumspice''”—অর্থাৎ আপনি যদি তাঁর স্মৃতিস্তম্ভ খোঁজেন, তবে আপনার চারপাশে তাকান। এটি হয়তো কিছুটা আড়ম্বরপূর্ণ শোনায়, তবে প্রতিলিপি, প্রতীক বা অন্য কোনো পরোক্ষ সাদৃশ্যের পরিবর্তে প্রকৃত স্থানের কেন্দ্রীয় গুরুত্ব বা পবিত্রতা সম্পর্কে এর চেয়ে ভালো সাক্ষ্য আমি কখনও পড়িনি।
** "এ টেল অফ টু ওয়ার্ক সাইটস", পৃ. ২৫১
* আমাদের স্বভাব বা মেজাজ নির্ধারণকারী আচরণগত প্রবণতাগুলোর মিশ্রণের ক্ষেত্রে আমরা সবাই সম্পূর্ণ শূন্য বা একই রকম হয়ে জন্মাই না। এই স্পষ্ট সত্যে কারও লজ্জিত বা আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়।
** "দ্য ইন্টারনাল ব্র্যান্ড অফ দ্য স্কারলেট ডাব্লিউ", পৃ. ২৮১
* জিন এনজাইম তৈরি করে এবং এনজাইম রাসায়নিক প্রক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করে। জিন "নতুনত্বের সন্ধান" বা অন্য কোনো জটিল ও প্রকাশ্য আচরণ সরাসরি তৈরি করে না। জীবনের জটিল পরিস্থিতির দীর্ঘ শৃঙ্খলের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী জটিল রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার এই প্রবণতা কোনো পরিচয় বা এমনকি কার্যকারণের সমান নয়।
** "দ্য ইন্টারনাল ব্র্যান্ড অফ দ্য স্কারলেট ডাব্লিউ", পৃ. ২৮২
* [প্রাকৃতিক ইতিহাসে] মহৎ আবিষ্কারের জন্য প্রায়ই একটি লুকানো খনির মানচিত্র প্রয়োজন যা রত্নে পূর্ণ এবং পরে প্রচলিত সরঞ্জামের সাহায্যে সহজেই সংগ্রহ করা যায়। এর জন্য পূর্বে অগম্য বিশ্বে প্রবেশের জন্য কোনো নতুন মহাকাশ-যুগের চকচকে যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।
** "অফ এমব্রায়োস অ্যান্ড অ্যানসেস্টর", পৃ. ৩১৮
* ব্যাপকভাবে ভিন্ন ভিন্ন স্কেলে বা মাত্রায় পারস্পরিক অদৃশ্য জীবনের এই থিমটি “[[w:সংস্কৃতি যুদ্ধ|সংস্কৃতি যুদ্ধের]]” জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে, যা বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এই ভ্রান্ত দ্বিবিভাজনের একপাশে রয়েছে [[উত্তর-আধুনিকতাবাদ|উত্তর-আধুনিক]] [[আপেক্ষিকতাবাদ|আপেক্ষিকতাবাদীরা]] যারা যুক্তি দেখায় যে, সমস্ত সংস্কৃতি-নির্ভর উপলব্ধির পদ্ধতি সমানভাবে বৈধ হতে হবে এবং তাই কোনো বাস্তব সত্যের অস্তিত্ব নেই। অন্যপাশে রয়েছে সেই সেকেলে বাস্তববাদীরা যারা জোর দিয়ে বলে যে মাছির সত্যিই দুটি ডানা আছে এবং [[শেকসপিয়র]] যা ভেবেছিলেন তিনি আসলেই তা বোঝাতে চেয়েছেন। স্কেলিং বা মাত্রার নীতি এই নির্বোধ দ্বিবিভাজনের মিথ্যা অংশগুলোর একটি সমাধান প্রদান করে। তথ্য হলো তথ্য এবং কোনো যুক্তিবাদী সত্তা একে অস্বীকার করতে পারে না। (প্রায়ই, তথ্য নির্ধারণ করা বা নির্দিষ্ট করা সহজ নয়—তবে এই প্রশ্নটি অন্য সময়ের জন্য ভিন্ন সমস্যা উত্থাপন করে।) তবে তথ্য অত্যন্ত মাত্রা-নির্ভর হতে পারে এবং এক জগতের উপলব্ধির অন্য জগতের ডোমেনে কোনো বৈধতা বা অভিব্যক্তি নাও থাকতে পারে। [[মেইন]]ের এক পৃষ্ঠার মানচিত্র [[w:অ্যাকাডিয়া ন্যাশনাল পার্ক|অ্যাকাডিয়া]]-র আলাদা পাথরখণ্ডগুলোকে চিনতে পারে না, তবে উভয়ই একটি বাস্তব উপকূলরেখার সমানভাবে বৈধ উপস্থাপনা প্রদান করে।
** "রুম অফ ওয়ান'স ওন", পৃ. ৩৫৫
=== ''আই হ্যাভ ল্যান্ডেড'' (২০০২) ===
:<small>পৃষ্ঠা নম্বরগুলো মূল হারমনি বুকস হার্ডকভার সংস্করণের রেফারেন্স অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।</small>
* এই মহান উপহারের বিনিময়ে যা আমি হাজার জন্মেও শোধ করতে পারব না, আমি অন্তত এই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি যে যদিও আমি প্রায়ই ভুল বা এমনকি বোকা যুক্তি দিয়েছি (পরবর্তী আবিষ্কারের আলোকে), অন্তত আমি কখনও অলস ছিলাম না। আমি কখনও ফাঁকি দিয়ে বা অগভীর মাধ্যমিক উৎসের ওপর নির্ভর করে আপনাদের বিশ্বাসের অমর্যাদা করিনি। আমি সবসময় এই প্রবন্ধগুলো মূল ভাষায় তাদের মূল কাজের ওপর ভিত্তি করে লিখেছি (কেবল দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া, যেখানে ফ্রাকাস্টোরোর মার্জিত ল্যাটিন শ্লোক এবং বেরিনজারের ল্যাটিন ছদ্ম-জটিলতা আমার অসম্পূর্ণ জ্ঞানের কারণে বুঝতে কষ্ট হয়েছিল)।
** প্রস্তাবনা, পৃ. ৬
* জীবনের অর্থ বা বাস্তবতার কাঠামো সম্পর্কে গভীরতম অন্তর্দৃষ্টি সবচেয়ে সহজে তখনই উদ্ভূত হয় যখন একটি মুক্ত, অনিয়ন্ত্রিত এবং অগোছালো (পড়ুন অজ্ঞ এবং অশিক্ষিত) মন পার্থিব জ্ঞান এবং উদ্বেগের ঊর্ধ্বে উঠে যায়—এর চেয়ে ক্ষতিকর বাজে কথা আর নেই।
** "নো সায়েন্স উইদাউট ফ্যান্সি, নো আর্ট উইদাউট ফ্যাক্টস", পৃ. ৪৮
* ডারউইন তাঁর চারিত্রিক সাহসিকতার সাথে দার্শনিক শূন্যতাকে উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে আশা এবং নৈতিকতাকে প্রকৃতির কাঠামোর মধ্যে নিষ্ক্রিয়ভাবে পড়া যায় না এবং উচিতও নয়। নান্দনিক এবং নৈতিক সত্যগুলো ''মানবিক'' ধারণা হিসেবে অবশ্যই মানবিক শর্তে গঠন করতে হবে, প্রকৃতিতে "আবিষ্কৃত" হলে চলবে না। আমাদের নিজেদের জন্য এই উত্তরগুলো তৈরি করতে হবে এবং তারপরে প্রকৃতির কাছে এমন এক অংশীদার হিসেবে যেতে হবে যে আমাদের জন্য অন্য ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে—মহাবিশ্বের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন, মানুষের জীবনের অর্থ সম্পর্কে নয়। যদি আমরা প্রকৃতিকে তার নিজস্ব ডোমেনের স্বাধীনতা দেই তবেই আমরা একটি মুক্ত এবং নম্র উপায়ে তার অসাধারণ সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারি। কারণ তখন আমরা আমাদের আশা এবং ভয়কে প্রশমিত করার জন্য নৈতিক বার্তার অনুপযুক্ত এবং অসম্ভব অনুসন্ধান থেকে মুক্ত হতে পারি। আমরা প্রকৃতির স্বাধীনতার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে পারি এবং তার নিজস্ব পথগুলোকে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন শর্তে সৌন্দর্য বা অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।
** "আর্ট মিটস সায়েন্স ইন ''দ্য হার্ট অফ দ্য অ্যান্ডিজ''", পৃ. ১০৯
* জটিল জীবকে কেবল তাদের জিনের সমষ্টি হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কিংবা কেবল জিন একাই শারীরস্থান বা আচরণের বিশেষ উপাদান তৈরি করে না। বেশিরভাগ জিন শারীরস্থান এবং আচরণের বিভিন্ন দিককে প্রভাবিত করে—যেহেতু তারা অন্যান্য জিন এবং তাদের পণ্যের সাথে এবং বিকাশমান জীবের ভেতরে ও বাইরের পরিবেশগত কারণগুলোর সাথে জটিল মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে। যখন আমরা নির্দিষ্ট শারীরস্থান বা আচরণের "জন্য" জিন সম্পর্কে কথা বলি, তখন আমরা কেবল একটি ক্ষতিকর সরলীকরণ করি না, বরং একটি গভীর ভুল করি।
** "দ্য উইদাউট অ্যান্ড উইদিন অফ স্মার্ট মাইস", পৃ. ২৩৪ (মূলত ''টাইম'' ম্যাগাজিনে প্রকাশিত, ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯)
* আমাদের কঠিন এবং ক্রমাগত চাপযুক্ত বিশ্বে জৈব বৈচিত্র্যের টিকে থাকা এবং বিস্তারের পেছনে জীবনের বৃক্ষের শক্তিশালী শাখা-প্রশাখা রয়েছে, অগ্রগতির কোনো পৌরাণিক পদযাত্রার ক্রমবর্ধমান বীরত্ব নয়। আর যদি আমরা ভূতাত্ত্বিক পর্যায় জুড়ে জীবনের পথচলার মূল চাবিকাঠি হিসেবে শাখা-প্রশাখার মৌলিক প্রকৃতি বুঝতে না পারি, তবে আমরা বিবর্তনকে সঠিকভাবে বুঝতে পারব না।
** "টেলস অফ এ ফেদারড টেইল", পৃ. ৩৩১
* আমাদের জীবনে বিপর্যয় এবং ট্র্যাজেডির নিপীড়ক বোঝা মোট কর্মের মধ্যে মন্দের উচ্চ শতাংশ থেকে আসে না, বরং বিপর্যয়কর ক্ষতি করার জন্য অত্যন্ত বিরল ঘটনার অসাধারণ ক্ষমতা থেকে আসে। বিশেষ করে আমাদের প্রযুক্তিগত যুগে যখন বিমানগুলো শক্তিশালী বোমায় পরিণত হতে পারে। (১৪১৫ সালে অ্যাজিনকোর্টের যুদ্ধে কেবল একটি লংবো নিয়ে আরও বেশি দুষ্ট লোকও এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারত না।)
** "দ্য গুড পিপল অফ হ্যালিফ্যাক্স", পৃ. ৩৯০ (মূলত ''দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেই''লে প্রকাশিত, [[২০ সেপ্টেম্বর ২০০১]])
=== ''[[w:দ্য স্ট্রাকচার অফ ইভোলিউশনারি থিওরি|দ্য স্ট্রাকচার অফ ইভোলিউশনারি থিওরি]]'' (২০০২) ===
:<small>পৃষ্ঠা নম্বরগুলো মূল হার্ভার্ড বেলকনাপ সংস্করণের রেফারেন্স অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।</small>
* বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে প্রবর্তিত উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে যা মূল ডারউইনীয় কেন্দ্রের বাইরে বিস্তৃত হয়েছে এবং ম্যাক্রো-বিবর্তনীয় ব্যাখ্যার নতুন নীতিগুলো দ্বারা এতটাই বর্ধিত হয়েছে যে এর পূর্ণ ব্যাখ্যা ডারউইনীয় যুক্তির ডোমেনের মধ্যে থাকলেও এটিকে কেবল বর্ধিত না বলে মূলত ভিন্ন হিসেবে গণ্য করতে হবে।
** পৃ. ৩
* এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থে বিরতিহীন ভারসাম্য বা পাঙ্কচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়াম তত্ত্বটি একটি খুব রক্ষণশীল অবস্থান গ্রহণ করে। এই তত্ত্বটি প্রজাতির উৎপত্তির মোড বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো নতুন দাবি করে না; এটি কেবল একটি আদর্শ মাইক্রো-বিবর্তনীয় মডেল গ্রহণ করে এবং ভূতাত্ত্বিক সময়ে সঠিকভাবে স্কেল করা হলে এর প্রত্যাশিত অভিব্যক্তি ব্যাখ্যা করে।
** পৃ. ৭৭৮
* সাধারণ প্রজাতি গঠন বিরতির কারণ এবং ঘটনাবলি ব্যাখ্যা করার জন্য সম্পূর্ণ পর্যাপ্ত।
** পৃ. ১০০১
* আমি নিন্দিত [[w:রিচার্ড গোল্ডশমিড|রিচার্ড গোল্ডশমিড]]ের কাজ সম্পর্কে বিশদভাবে এবং প্রায়ই বেশ সমালোচনামূলকভাবে কথা বলেছি, বিশেষ করে তাঁর চিন্তাধারার এমন কিছু দিক সম্পর্কে যা পুনরায় শোনার যোগ্য হতে পারে। এই বিষয়গুলো প্রায়ই সেই সব মানুষের দ্বারা বিরতিহীন ভারসাম্যের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে যারা স্কেলিং বা মাত্রার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হন। ফলে তারা যেকোনো স্তরে দ্রুততা সম্পর্কে সমস্ত বক্তব্যকে অবশ্যই একক এবং বিরতিহীন ভারসাম্য থেকে প্রবাহিত হিসেবে মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে, এই বইয়ের ৫ম অধ্যায়ে যেমন স্পষ্ট করা হয়েছে, গোল্ডশমিডের প্রতি আমার আগ্রহের সাথে বিরতিহীন ভারসাম্যের খুব কম সম্পর্ক রয়েছে। বরং এটি সেই বিকাশা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর সাথে যুক্ত যা আমার প্রথম বই ''[[w:অন্টোজেনি অ্যান্ড ফাইলোজেনি (বই)|অন্টোজেনি অ্যান্ড ফাইলোজেনি]]'' লিখতে উৎসাহিত করেছিল। এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা এবং দ্রুততার ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় প্রোথিত।
** পৃ. ১০০৫
* পরিশেষে, আমরা বিরতিহীন ভারসাম্যকে সল্টেশনের সাথে সমান করেছি এমন দাবি আমাদের তত্ত্বের যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে কোনো অর্থ বহন করে না। সুতরাং, যদি আমরা বোকা না হই তবে আমরা কীভাবে এমন একটি প্রস্তাবনা দাবি করতে পারি? আমাদের তত্ত্ব একটি সংজ্ঞায়িত বক্তব্য হিসেবে ধরে রাখে যে মাইক্রো-বিবর্তনীয় স্কেলে ধীরে ধীরে উদ্ভাসিত সাধারণ অ্যালোপ্যাট্রিক প্রজাতি গঠন ভূতাত্ত্বিক সময়ে বিরতিতে রূপান্তরিত হয়।
** পৃ. ১০০৯
* জীব যেমন বিবর্তিত হয়, শব্দের অর্থও তেমনি পরিবর্তিত হয়। আমরা যদি প্রতিটি বোনাসকে একটি পেকিউনারি সুবিধা বা আর্থিক সুবিধা (ল্যাটিন ''পেকাস'' বা গবাদি পশু থেকে আসা একটি মৌখিক [[w:জীবাশ্ম (ভাষাবিজ্ঞান)|জীবাশ্ম]]) হিসেবে চিহ্নিত করার সময় প্রতিবার গবাদি পশুর মাধ্যমে অর্থ প্রদানের জন্য জোর দিতাম, তবে আমরা আমাদের অর্থনীতির ওপর এক বিশাল বোঝা চাপিয়ে দিতাম।
** পৃ. ১০৭০
* আর এই ক্ষেত্রে বিজ্ঞান সাহিত্যিকদের কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ শিখতে পারে—যারা আকস্মিকতা বা কন্টিনজেন্সিকে ভালোবাসেন সেই একই মৌলিক কারণে বিজ্ঞানীরা এই থিমটিকে সন্দেহের চোখে দেখেন। কারণ আকস্মিকতার মধ্যেই প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষমতা নিহিত থাকে যা সম্ভাবনায় ভরপুর এক অবাধ বিশ্বে পরিবর্তন আনতে পারে।
** পৃ. ১৩৪১
* তাহলে সেই নির্দিষ্ট কাজটি কেন একজন উচ্চবিত্ত ইংরেজ ভদ্রলোক করেছিলেন তা নিয়ে কেন আমরা বিচলিত হব? তিনি একজন তেজী যুবক হিসেবে বিশ্বভ্রমণ করেছিলেন, একই সাথে তার প্রিয় কন্যা এবং বিশ্বাস হারিয়েছিলেন, বার্নাকলের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ লিখেছিলেন এবং অবশেষে সাদা দাড়ি রেখে লন্ডনের ঠিক দক্ষিণে একজন গ্রামীণ জমিদার হিসেবে বসবাস করেছিলেন এবং কখনও ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার মতো দূরে ভ্রমণ করেননি। আমরা যত্ন করি সেই একই কারণে যে কারণে আমরা [[w:ওকাপি|ওকাপি]] ভালোবাসি, [[w:ট্রাইলোবাইট|ট্রাইলোবাইট]]ের জীবাশ্ম প্রমাণে আনন্দিত হই এবং [[w:ডোডো|ডোডো]]-র বিলুপ্তিতে শোক করি। আমরা যত্ন করি কারণ যে ব্যাপক ঘটনাগুলো ঘটার কথা ছিল, সেগুলো একটি নির্দিষ্ট উপায়ে ঘটেছে। এবং অবর্ণনীয়ভাবে পবিত্র কিছু আমাদের আবিষ্কার এবং নিশ্চিতকরণের নিচে রয়েছে যা আমাদের বিশ্ব তৈরি করেছে।
** পৃ. ১৩৪২
=== ''ট্রায়াম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি ইন মাডভিল'' (২০০৩) ===
:<small>পৃষ্ঠা নম্বরগুলো ডব্লিউ ডব্লিউ নরটন হার্ডকভার সংস্করণের রেফারেন্স অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে।</small>
* আমি আমার নিজের জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোকে বেশিরভাগই ভাগ্যবান আকস্মিকতার একটি সেট হিসেবে দেখি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত মানসিকতা বা পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে আমি জীবাশ্মবিদ হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিলাম না। আমার পূর্ব ইউরোপীয় ইহুদি পটভূমির কোনো পাশেই বৈজ্ঞানিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক পেশার কোনো ঐতিহ্য আমি খুঁজে পাই না। বেসবলের প্রতি আমার আজীবনের প্রতিশ্রুতিকেও আমি ঠিক একইভাবে দেখি: নিছক অসংখ্য দুর্ঘটনার একটি আকস্মিক পরিস্থিতি হিসেবে।
** "সেভেন্থ ইনিং স্ট্রেচ: বেসবল, ফাদার, অ্যান্ড মি", পৃ. ২৯
* আমাদের বিশৃঙ্খল জীবনকে সংখ্যাগত স্থিতিশীলতায় কিছু নোঙর ফেলতে হবে। (সুপারমার্কেটে এক পাউন্ড হ্যামবার্গারের দাম এক ডলারের বেশি হয়ে যাওয়ার ধাক্কা থেকে আমি এখনও সামলে উঠতে পারিনি।)
** "এ টাইম টু লাফ", পৃ. ৮২; মূলত ''দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্না''লে প্রকাশিত (১০ অক্টোবর ২০০১)
* কোনো প্রজাতির ইতিহাস বা কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা যার জন্য সমস্যার বিশ্বে নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা প্রয়োজন, তা ব্যাটিং স্ট্রিকের মতো কাজ করে। জুয়াড়িকে শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া হতে হবে। তার লক্ষ্য কেবল যতক্ষণ সম্ভব টিকে থাকা, কিছু আনন্দ করা এবং সে যদি একজন নৈতিক প্রতিনিধি হয় তবে সম্মানের সাথে পথ চলার চেষ্টা করা।
** "দ্য স্ট্রিক অফ স্ট্রিকস", পৃ. ১৮৬–১৮৭; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত (১৮ আগস্ট ১৯৮৮)
* একটি জাতি হিসেবে আমরা প্রকৃত পৌরাণিক বীর পাওয়ার জন্য খুব ছোট এবং আমাদের অবশ্যই প্রকৃত মানুষদের সেই কাজে নিয়োজিত করতে হবে। কিংবদন্তি লিঙ্কন মানুষ লিঙ্কন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আর তাদের তেমনই হওয়া উচিত। এবং যতক্ষণ তারা স্বতন্ত্র থাকে ততক্ষণ উভয়কেই মূল্যবান মনে করা উচিত। একটি জটিল এবং বিভ্রান্তিকর বিশ্বে খেলাধুলার নিখুঁত স্বচ্ছতা বৈধ এবং দ্ব্যর্থহীন সমর্থন বা অবজ্ঞার জন্য একটি ফোকাস প্রদান করে। ডজার্সরা মন্দ, ইয়াঙ্কিরা ভালো। তারা সত্যিই তাই এবং আমার পরিবারের যে কারও মনে রাখার মতো দীর্ঘ সময় ধরে তারা এমনই আছে।
** "ডায়মন্ডস আর এ ফ্যান'স বেস্ট ফ্রেন্ড", পৃ. ২৪৬–২৪৭; মূলত ''ওয়াশিংটন পোস্ট বুক ওয়ার্ল্ডে'' প্রকাশিত (২১ জুন ১৯৮১)
* পৌরাণিক কাহিনী চমৎকার, আত্মার জন্য মলম স্বরূপ। কিন্তু এর সমস্যাগুলো উপেক্ষা করা যায় না। সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে এটি শারীরিক অসম্ভবতার মূল্যে অনুপ্রেরণা কেনে। সবচেয়ে ভালো ক্ষেত্রে এটি ইতিহাসের সেই একই অদূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে যা এই অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়টিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্রাট এবং যুদ্ধের ধারাবাহিক কাহিনী হিসেবে এত বিরক্তিকর এবং বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিল।
** "বেসবল অ্যান্ড দ্য টু ফেসেস অফ জানুস", পৃ. ২৫৯; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত (১১ অক্টোবর ১৯৯০)
* অন্য কোন জগতে মিথ বা পৌরাণিক কাহিনী এত ক্ষতিকর নয়? মহাযুদ্ধ মানুষকে হত্যা করে এবং পঙ্গু করে; মহান হোমার এবং নো-হিটারগুলো ব্যবহারিক পরিণতি ছাড়াই বিশুদ্ধ আনন্দ বা গভীর ট্র্যাজেডি। জীবন স্বভাবতই অস্পষ্ট; বেসবল খেলা বিশুদ্ধ ভালোর সাথে চরম মন্দের লড়াই ঘটায়। এমনকি সাদ্দাম হোসেনও হয়তো তার জীবনে একটি দয়ার কাজ করেছিলেন, কিন্তু অ্যালুমিনিয়াম ব্যাট বা ডেজিগনেটেড হিটার নিয়মের জন্য কী ভালো কথা বলা যেতে পারে?
** "বেসবল অ্যান্ড দ্য টু ফেসেস অফ জানুস", পৃ. ২৭২; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত ([[১১ অক্টোবর ১৯৯০]])
* আমি এই সত্যটি উপভোগ করি যে আমরা নিউ ইয়র্কবাসীরা মজার ভঙ্গিতে কথা বলি এবং আর্ট ডেকো আকাশচুম্বী ভবনগুলো আমাদের শহরের প্রতীক। তবে বৈচিত্র্যের এই ভালোবাসার সীমা নির্ধারণ করতে হবে। আমি ব্যবহারিক বিষয়ে প্রমিতকরণের প্রয়োজনীয়তা এবং আশীর্বাদ মেনে নেই: আমাদের একটি বিশ্বব্যাপী টেলিফোন ডায়ালিং সিস্টেম এবং জাতীয় মহাসড়কের একটি নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। আমাদের প্রমিতকরণের ডোমেন এবং আঞ্চলিকতার ক্ষেত্র প্রয়োজন, প্রতিটি তার উপযুক্ত স্থানে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতির সাথে যুক্ত। আমি হাইওয়ে ইন্টারচেঞ্জে ম্যাকডোনাল্ডস গ্রহণ করি—কিন্তু আমার জাতিগত রেস্তোরাঁর ছোট পাড়ায় নয়।
** "বেসবল : জয়স অ্যান্ড ল্যামেন্টেশনস", পৃ. ৩০৯; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত ([[৪ নভেম্বর ১৯৯৩]])
* রুচির প্রাক্তন বিচারকরা নিশ্চয়ই অনুভব করেছেন যে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিশুদ্ধ বীরত্বের একটি ধারণা প্রয়োজন। রোল মডেল হিসেবে মনোনীত মানুষদের অবশ্যই সমস্ত গুণের অধিকারী হতে হবে—যার অর্থ ছিল অবশ্যই তাদের প্রকৃত মানব এবং অনিবার্য ত্রুটিপূর্ণ রূপে বর্ণনা করা যাবে না।
** "গুড স্পোর্টস অ্যান্ড ব্যাড", পৃ. ৩২৫; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত ([[২ মার্চ ১৯৯৫]])
* [সাহিত্যে] সাধারণ পরিবর্তনের প্রভাবগুলো সেরা কাজের পরিবর্তনের মাধ্যমে নয় বরং সবচেয়ে সাধারণ দৈনন্দিন বইগুলোর রূপান্তরের মাধ্যমে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে রেকর্ড করা হয়; কারণ যখন সস্তা জনপ্রিয় বইগুলো নতুন শৈলী গ্রহণ করে তখনই বিপ্লব সম্পূর্ণ হয়।
** "গুড স্পোর্টস অ্যান্ড ব্যাড", পৃ. ৩৩৫; মূলত ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক''সে প্রকাশিত ([[২ মার্চ ১৯৯৫]])
== গোল্ড সম্পর্কে উক্তি ==
* আমি প্রায়ই পড়তাম, "অমুক আচরণের উদ্দেশ্য হলো তমুক"—অন্য কথায় এই ধারণা যে প্রতিটি আচরণের বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য থাকে। সত্যি কথা বলতে কিছু আচরণের তা থাকে না; যদি সেগুলো জেনেটিকও হয় তবুও টিকে থাকার জন্য সেগুলোকে কেবল বেঁচে থাকার পথের বাইরে থাকতে হয়। তারপর এক বছর বা তারও আগে আমি স্টিফেন জে গোল্ডের একটি বই পড়ি যেখানে তিনি প্রায় একই কথা বলেছেন। একজন জীববিজ্ঞানীকে লিখতে দেখে আমি আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে কিছু জিনিস—শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা আচরণ—আপনাকে মেরে ফেলে না বা বাঁচায় না; সেগুলো হয়তো কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের সাথে চলে আসে যদিও তাদের আসার কোনো প্রয়োজন নেই।
** ১৯৮৮ সালে ''কনভারসেশনস উইথ অক্টাভিয়া বাটলারে'' সাক্ষাৎকার
* স্টিভের সাথে আমার দীর্ঘ বছরের শিক্ষকতা জীবনে আমি তাকে কখনও অপ্রস্তুত হতে বা কথা হারিয়ে ফেলতে দেখিনি—কেবল একবার ছাড়া। "থিঙ্কিং অ্যাবাউট থিঙ্কিং" নামক আমাদের কোর্সে তিনি প্রকৃতির এলোমেলোতা সম্পর্কে একটি বক্তৃতা দিচ্ছিলেন এবং আইনস্টাইনের বিখ্যাত উক্তি "আমি কখনও বিশ্বাস করব না যে ঈশ্বর বিশ্বের সাথে পাশা খেলেন" উল্লেখ করেছিলেন। আমি ব্ল্যাকবোর্ডে গিয়ে লিখেছিলাম, "গোল্ড নাকি ঈশ্বর?" তারপর আমি যুক্তি দিয়েছিলাম যে আইনস্টাইন যেমন বলেছেন যদি ঈশ্বর মহাবিশ্বের সাথে পাশা না খেলেন এবং গোল্ড যেমন বলেছেন মহাবিশ্ব যদি পাশার চালের মতো এলোমেলো হয় তবে কোনো ঈশ্বর থাকতে পারেন না। সুতরাং গোল্ড নাকি ঈশ্বর? (বা অন্তত গোল্ড নাকি আইনস্টাইন?) তারপর আমি বসে পড়লাম স্টিভকে চ্যালেঞ্জের উত্তর দেওয়ার জন্য। তিনি উঠে ব্ল্যাকবোর্ডের শব্দগুলোর দিকে তাকালেন। তিনি দ্বিধা করলেন, চিন্তা গুছিয়ে নিলেন এবং তারপরে ঈশ্বরের পক্ষে এত চমৎকার প্রতিরক্ষা শুরু করলেন যে এমনকি উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ানও গর্বিত হতেন। তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম গোল্ড কত বড় আইনজীবী হতে পারতেন। আর ঈশ্বরের কথা বললে... ?
** [[অ্যালান ডারশোভিৎজ]], [http://www.stephenjaygould.org/library/naturalhistory_sjgould.html "দিস ভিউ অফ স্টিফেন জে গোল্ড"] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি'' '''১০৮''' (নভেম্বর ১৯৯৯): ৫০–৫১।
* কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির জীবাশ্মবিদ্যার স্নাতক প্রোগ্রামে স্টিভ দ্বিতীয় বর্ষের সাত-আটজন ছাত্রের একজন ছিল। আমি কলেজের সিনিয়র ছিলাম এবং তাদের সাথে সময় কাটাতে চাইতাম। আমরা দারুণ সময় কাটিয়েছি এবং পৃথিবীর সবচেয়ে চমৎকার কিছু জীবাশ্ম সংগ্রহ করেছি। কিন্তু স্টিভ আমার চোখে সবার নজর কেড়েছিল: পড়ে থাকা হাজার হাজার শামুকের নমুনার মধ্যে সে একমাত্র অস্বাভাবিক নমুনাটি খুঁজে পেয়েছিল যা তার প্রাথমিক প্রবন্ধগুলোর একটিতে স্থান পেয়েছিল। লোকটির চোখ ছিল অসাধারণ। স্টিভ সম্পর্কে আমার সাধারণ কথা হলো আমি তার মতো পরিশ্রমী এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তি আর কখনও দেখিনি। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকেও এটি সত্য ছিল যখন আমি এবং আমার স্ত্রী কেমব্রিজে গোল্ডদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। রাতের খাবার শেষ হলে আমরা ঘুমাতে গেলাম কিন্তু আমি যখন ঘুমে ঢলে পড়ছিলাম তখন আমি স্টিভের এখনকার বিখ্যাত ম্যানুয়াল টাইপরাইটারের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম কারণ সে একটি পর্যালোচনা লিখছিল। ম্যান, সেই লোকটি প্রচুর সময় দিতে পারত।
** [[নাইলস এলড্রেজ]], [http://www.stephenjaygould.org/library/naturalhistory_sjgould.html "দিস ভিউ অফ স্টিফেন জে গোল্ড"] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি'' '''১০৮''' (নভেম্বর ১৯৯৯): ৫০।
* স্টিভ অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং উদ্ভাবনী। সে জীবাশ্মবিদ্যা এবং বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান পুরোপুরি বোঝে। মানুষকে বিরতিহীন ভারসাম্য সম্পর্কে চিন্তা করানোর ক্ষেত্রে সে এক বিশাল সেবা করেছে। যেহেতু সবসময় মিউটেশন হয় তবে কেন জিনিসগুলো ক্রমাগত পরিবর্তিত হয় না? আপনাকে হয় বলতে হবে যে বিশেষ রূপটি অত্যন্ত অভিযোজিত এবং একটি স্থিতিশীল পরিবেশে বিদ্যমান অথবা আপনাকে খুব বিভ্রান্ত হতে হবে। স্টিভ সেই অর্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টিভের সাথে কথা বলা বা তার বক্তৃতা শোনা অনেকটা আপনার চেয়ে ভালো কারোর সাথে টেনিস খেলার মতো। এটি আপনাকে আপনার ক্ষমতার চেয়ে ভালো খেলা খেলতে বাধ্য করে। বছরের পর বছর ধরে স্টিভ জীববিজ্ঞানের শৃঙ্খলার কারণ খুঁজে পেতে চেয়েছে সবকিছু ব্যাখ্যা করার জন্য নির্বাচনের আশ্রয় না নিয়ে। নির্বাচনের গুরুত্ব আমরা সবাই জানলেও সে নির্বাচনের বাইরে সেই প্রাকৃতিক শৃঙ্খলার উৎস খুঁজে পেতে চেয়েছে।
** [[স্টুয়ার্ট কফম্যান]], জন ব্রকম্যান সম্পাদিত [http://www.edge.org/documents/ThirdCulture/i-Ch.2.html ''দ্য থার্ড কালচার''], নিউ ইয়র্ক: টাচস্টোন, ১৯৯৬, পৃ. ৬৪-৬৫।
* অনেক বিবর্তনীয় বিজ্ঞানী মনে করেন যে গোল্ডের লেখনি ডারউইনীয় চিন্তাধারার জনবোঝাপড়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুতর বাধা।
** রবার্ট রাইট, নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুকস, [https://www.nybooks.com/articles/1997/08/14/darwinian-fundamentalism-an-exchange/ ১৪ আগস্ট ১৯৯৭]
* আপনি যদি বিবর্তন নিয়ে কিছুটা সময় পড়াশোনা করেন তবে এটি খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন নয় যে গোল্ড হলেন তার বিষয়ের [[জন কেনেথ গ্যালব্রেইথ]]। অর্থাৎ তিনি একজন চমৎকার লেখক যাকে সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীরা ভালোবাসেন এবং মিডিয়া তাকে সিংহের মতো মর্যাদা দেয় কারণ তিনি বীজগণিত বা কঠিন পরিভাষা ব্যবহার করেন না। দুর্ভাগ্যবশত মনে হচ্ছে তিনি এই কাজগুলো এড়িয়ে চলেন কারণ তিনি তার সহকর্মীদের ছাড়িয়ে গেছেন তা নয় বরং তারা কী বলতে চায় তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলে মনে হয়; এবং ক্ষেত্রটি কী সম্পর্কে তার নিজস্ব বর্ণনা—কেবল উত্তর নয় এমনকি প্রশ্নগুলোও—ক্রমাগত বিভ্রান্তিকর।
** [[পল ক্রুগম্যান]], [http://www.pkarchive.org/theory/evolute.html হোয়াট ইকোনমিস্টস ক্যান লার্ন ফ্রম ইভোলিউশনারি থিওরিস্টস]
* স্টিভ যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছেন তার বেশিরভাগই ছিল বিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং পণ্যের জটিলতা ও বৈচিত্র্যের দৃষ্টান্ত। তিনি যে বিষয়ে লিখেছেন তার অগাধ বৈচিত্র্য সত্ত্বেও নিচে একটি ঐক্যবদ্ধ থিম ছিল: জীবিত বিশ্বের জটিলতাকে কিছু মহৎ সাধারণ নীতির প্রকাশ হিসেবে দেখা যাবে না, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে শুরু থেকে পরীক্ষা করে কারণের পথ হিসেবে বুঝতে হবে।
** [[রিচার্ড লিওয়ানটিন]] এবং [[w:রিচার্ড লেভিন্স|রিচার্ড লেভিন্স]], [http://www.monthlyreview.org/1102lewontin.htm "স্টিভেন জে গোল্ড: হোয়াট ডাজ ইট মিন টু বি এ র্যাডিকাল?"] (শোকগাথা), ''মান্থলি রিভিউ'', [[অলিভার স্যাক্স]] সম্পাদিত ''দ্য বেস্ট আমেরিকান সায়েন্স রাইটিং ২০০৩''-এ পুনর্মুদ্রিত, পৃ. ২৪৭।
* স্টিভের লেখার মধ্যে যা বিশেষভাবে আনন্দদায়ক তা হলো নিপুণতা যার মাধ্যমে তিনি তার যুক্তিগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন বিষয়গুলোকে সংযুক্ত করেন। সঠিক হোক বা ভুল স্টিভ সবসময় উদ্দীপক এবং এখানেই হয়তো তিনি তার সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন—হাজার হাজার এমনকি লক্ষ লক্ষ পাঠকের মধ্যে আমাদের এই চমৎকার জগতের গোপনীয়তার প্রতি উৎসাহ জাগিয়ে তোলা।
** [[আর্নস্ট মেয়ার]], [http://www.stephenjaygould.org/library/naturalhistory_sjgould.html "দিস ভিউ অফ স্টিফেন জে গোল্ড"] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি'' '''১০৮''' (নভেম্বর ১৯৯৯): ৫৪।
* স্টিফেন জে গোল্ডের সাথে আমার প্রথম দেখা হয় নিউ ইয়র্কের কুইন্সে ষষ্ঠ শ্রেণীতে যখন আমরা স্কুলের একমাত্র দুই জন ছাত্র ছিলাম যারা প্রাকৃতিক ইতিহাস এবং বিশেষ করে ডাইনোসরের প্রতি আগ্রহী ছিলাম। জুনিয়র হাই স্কুলে আমাদের সহপাঠীরা আমার ডাকনাম দিয়েছিল "ডিনো" এবং গোল্ডের নাম দিয়েছিল "ফসিলফেস"। আমরা আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে অনেক বিকেল কাটিয়েছি। পঁচিশ বছর আমাদের যোগাযোগ ছিল না এবং একদিন ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে স্টিভের কলাম দেখে আমি আনন্দিত হয়েছিলাম। স্টিভ আমাকে আমার শৈশবের আগ্রহগুলোতে ফিরে আসতে উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি আমাকে একজন স্বাধীন পণ্ডিত হিসেবে বিজ্ঞানের ইতিহাস চর্চা করতে এবং ইংল্যান্ডে ডারউইনের বাড়িতে তীর্থযাত্রা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি শীর্ষ পণ্ডিতদের কাছে আমার পরিচয়পত্র দিয়েছিলেন। অবশেষে তিনি আমাকে এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইভোলিউশন লিখতে উৎসাহিত করেছিলেন যাতে তিনি উদারভাবে একটি প্রস্তাবনা লিখেছিলেন। ১৯৯০ সালে এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই আমাকে ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মানুষটির সাথে এবং আমরা দুজনেই উপভোগ করি এমন আবেগ ও ধারণার সাথে আমার পুনর্যোগাযোগ আমার জীবনকে অপরিসীম উন্নত করেছে। ধন্যবাদ ফসিলফেস!
** রিচার্ড মিলনার, [http://www.stephenjaygould.org/library/naturalhistory_sjgould.html "দিস ভিউ অফ স্টিফেন জে গোল্ড"] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি'' '''১০৮''' (নভেম্বর ১৯৯৯): ৫৬–৫৭।
* [[নাইলস এলড্রেজ|এলড্রেজ]] এবং গোল্ড এবং তাদের অনেক সহকর্মী বিবর্তনের প্রকৃত কর্মকাণ্ড কোথায় সে সম্পর্কে অবিশ্বাস্য অজ্ঞতা কোডিফাই করার প্রবণতা দেখান কারণ তারা স্বার্থের ক্ষেত্রকে কেবল প্রাণীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন... বিবর্তনীয় দৃশ্যে অনেক দেরিতে আসেন এবং তারা বিবর্তনের সৃজনশীলতার প্রধান উৎস সম্পর্কে আমাদের খুব কম অন্তর্দৃষ্টি দেন।
** [[লিন মারগুলিস]], জন ব্রকম্যান সম্পাদিত ''দ্য থার্ড কালচার: বিয়ন্ড দ্য সাইন্টিফিক রেভোলিউশন'' (১৯৯৫)
* আমি বিজ্ঞানী হিসেবে গোল্ডের শক্তি সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলতে পারি না তবে দীর্ঘ সময় ধরে আমি তাকে বিজ্ঞানের দ্বিতীয় সবচেয়ে প্রভাবশালী ইতিহাসবিদ হিসেবে বিবেচনা করেছি।
** রোনাল্ড নাম্বারস, [[মাইকেল শারমার|মাইকেল শারমারে]] উদ্ধৃত, [http://www.stephenjaygould.org/library/shermer_sjgould.pdf "দিস ভিউ অফ সায়েন্স"] ''সোশ্যাল স্টাডিজ অফ সায়েন্স'' ৩২/৪ (আগস্ট ২০০২): ৪৯২।
* স্টিফেন জে গোল্ডের কাজের সাথে আমার পরিচয় ১৯৭০-এর দশকে যখন আমি আগ্রহের সাথে ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি''-তে তাঁর সমস্ত নিবন্ধ পড়তাম। ১৯৯০ সালে যখন আমাকে একটি লন্ডন সংবাদপত্র থেকে আমার প্রিয় বইয়ের নাম বলতে বলা হয়েছিল তখন আমি ''ওয়ান্ডারফুল লাইফ'' নির্বাচন করেছিলাম; এর ফলে স্টিফেনের কাছ থেকে আমি একটি চিঠি পাই এবং আমাদের মধ্যে ঘন ঘন এবং বিশাল পত্রালাপ শুরু হয়। ১৯৯৩ সালে আমি বিশেষত্বকে সাধারণতার সাথে যুক্ত করার উপায় সম্পর্কে লিখেছিলাম এবং তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: "আমি দীর্ঘকাল ধরে একই উত্তজনা অনুভব করেছি আমার নিবন্ধগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তিগত জিনিসের প্রতি আমার আনন্দ এবং আমার আরও প্রযুক্তিগত লেখার মাধ্যমে সাধারণতার প্রতি আমার আগ্রহকে মেটানোর চেষ্টা করেছি।" স্টিভ এখন একজন ভালো বন্ধুর পাশাপাশি একজন সহকর্মী—আমরা একসাথে ডিনার করি, রাস্তায় হাঁটি, একসাথে যাদুঘর এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাই। তিনি একজন মুগ্ধকর সঙ্গী এবং সেই সাথে একজন প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি এবং তাঁর অনন্য প্রবন্ধে উভয় দিকই ফুটে উঠেছে।
** [[অলিভার স্যাক্স]], [http://www.stephenjaygould.org/library/naturalhistory_sjgould.html "দিস ভিউ অফ স্টিফেন জে গোল্ড"] ''ন্যাচারাল হিস্ট্রি'' '''১০৮''' (নভেম্বর ১৯৯৯): ৫৫–৫৬।
* যদিও [[জে বি এস হ্যালডেন|হ্যালডেন]] জীবাশ্ম রেকর্ডের আগের এবং ভুল জীবাশ্মবিদ্যার ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছিলেন, তবুও বিবর্তনের গতি ধীর এবং অবিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিবর্তে দ্রুত এবং আপাতদৃষ্টিতে বিরতিহীন ছিল এমন সামগ্রিক বিশ্বাসে তিনি তিন দশক আগেই [[w:বিরতিহীন ভারসাম্য|বিরতিহীন ভারসাম্য]] মডেলের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যা নাইলস এলড্রেজ এবং স্টিফেন জে গোল্ড দ্বারা প্রস্তাবিত হয়েছিল।
** [[w:জেফ্রি এইচ সোয়ার্টজ|জেফ্রি এইচ সোয়ার্টজ]], ''সাডেন অরিজিনস: ফসিলস, জিনস, অ্যান্ড দ্য এমারজেন্স অফ স্পিসিস'' (১৯৯৯)
* গোল্ড একটি বরং কৌতূহলী অবস্থানে আছেন। তাঁর প্রবন্ধের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তিনি অ-জীববিজ্ঞানীদের কাছে বিবর্তনীয় তাত্ত্বিক হিসেবে গণ্য হয়েছেন। এর বিপরীতে যেসব বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানীদের সাথে আমি তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা করেছি তারা তাঁকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখেন যাঁর ধারণাগুলো এতটাই বিভ্রান্তিকর যে খুব একটা পাত্তা দেওয়ার মতো নয়। এই সবের কোনো গুরুত্ব থাকত না যদি না তিনি অ-জীববিজ্ঞানীদের বিবর্তনীয় তত্ত্বের অবস্থা সম্পর্কে একটি ভুল চিত্র দিতেন।
** [[জন মেনার্ড স্মিথ]], [http://www.nybooks.com/articles/1703 "জিনস, মেমস, অ্যান্ড মাইন্ডস"], ''দ্য নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুকস'', [[৩০ নভেম্বর ১৯৯৫]]।
* গোল্ড এবং [[নাইলস এলড্রেজ|এলড্রেজ]]ের মতে অনেক লিঙ্ক নিখোঁজ হওয়ার কারণ হলো সেগুলো আসলে নেই। তারা মনে করেন যে জৈবিক বিবর্তন "বিরতিহীন ভারসাম্যের" ধারাবাহিক পর্যায়ে অগ্রসর হয়। জীবন্ত প্রজাতিগুলো অত্যন্ত দীর্ঘ সময়ের জন্য অপরিবর্তিত থাকবে এবং তারপরে তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের মধ্যে গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। বিবর্তন অনেকটা "[[w:পারমাণবিক ইলেকট্রন রূপান্তর|কোয়ান্টাম জাম্প]]ের" মতো ঘটে। খুব সম্ভবত প্রাণের স্ফুরণ ঘটেছিল প্রথম এমন কোনো একটি জাম্পের সময়।
** [[w:ত্রিন জুয়ান থুয়ান|ত্রিন জুয়ান থুয়ান]], ''কেওস অ্যান্ড হারমনি'' (২০০১)
* আমাদের মধ্যে অনেক তাত্ত্বিক বিজ্ঞানী যারা স্টিফেন জে গোল্ডকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন তারা মনে করতেন তিনি কিছুটা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারক ছিলেন কারণ তাঁর এমন শব্দ তৈরি করার প্রতিভা ছিল যা তাদের ক্ষমতার চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দিত। একটি উদাহরণই যথেষ্ট—"বিরতিহীন ভারসাম্য" বা পাঙ্কচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়ামের ধারণা।
** [[রবার্ট ট্রিভার্স]], [https://www.psychologytoday.com/gb/blog/the-folly-fools/201210/fraud-in-the-imputation-fraud "ফ্রড ইন দ্য ইমপিউটেশন অফ ফ্রড: দ্য মিস-মেজার অফ স্টিফেন জে গোল্ড"], ''সাইকোলজি টুডে'', ৪ অক্টোবর ২০১২।
=== ''[[w:দ্য মিসমেজার অফ ম্যান|দ্য মিসমেজার অফ ম্যান]]'' ===
==== সমালোচনা ====
* এমন একটি বই যা তার নিজস্ব থিসিসের উদাহরণ দেয়। এটি প্রচারণার একটি মাস্টারপিস যা জ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে লেখার পরিবর্তে একটি দৃষ্টিভঙ্গির সেবায় গবেষণা করা হয়েছে।
** [[w:স্টিভ ব্লিঙ্কহর্ন|স্টিভ ব্লিঙ্কহর্ন]], [https://www.nature.com/articles/296506a0 "হোয়াট স্কালডাগারি?"], ''নেচার'' ২৯৬ (৮ এপ্রিল ১৯৮২): ৫০৬।
* প্রতারণার একটি মাস্টারপিস
** রিচার্ড লিন কর্তৃক [[w:ক্রিস ব্র্যান্ড|ক্রিস ব্র্যান্ড]]ের উক্তি হিসেবে উল্লিখিত, [https://www.amren.com/news/2018/12/stephen-jay-gould-scientist-service-ideology-richard-lynn/ ২০০২]
* অপ্রতিরোধ্য প্রমাণকে অবহেলা করার মতো পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিকে কীভাবে বিশ্বাস করা যায়?
** [[w:হ্যান্স আইসেঙ্ক|হ্যান্স জে আইসেঙ্ক]], ''ইন্টেলিজেন্স: এ নিউ লুক''। পৃ. ৯৪
* এস জে গোল্ডের ''মিসমেজার অফ ম্যান'' হলো মনোবিজ্ঞানীরা কী ভাবেন সে সম্পর্কে একজন জীবাশ্মবিদের বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি যা বিজ্ঞানের সবচেয়ে প্রাথমিক তথ্যগুলো সম্পর্কেও অজ্ঞ। গোল্ড হলেন বেশ কিছু রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত বিজ্ঞানীদের একজন যারা মনোবিজ্ঞানীরা বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে কী করছেন সে সম্পর্কে জনগণকে ক্রমাগত বিভ্রান্ত করেছেন। গোল্ড কেবল সেই অনস্বীকার্য তথ্যগুলো উল্লেখ করতে অস্বীকার করেন যা তাঁর রাজনৈতিকভাবে সঠিক সংস্করণের সাথে খাপ খায় না; তিনি নির্লজ্জভাবে সেই বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের সম্মানে আঘাত করেন যাদের তিনি পছন্দ করেন না।
** [[w:হ্যান্স আইসেঙ্ক|হ্যান্স আইসেঙ্ক]]: "ইন্টেলিজেন্স: এ নিউ লুক"
* রিফিকেশন বা বাস্তবায়ন সম্পর্কে গোল্ডের যুক্তি ক্ষেত্রের দার্শনিক ভিত্তিকে আঘাত করার দাবি করে। তিনি দাবি করেন যে সাধারণ বুদ্ধিমত্তা কেবল একটি গাণিতিক বিমূর্ততা; তাই আমরা যদি এটিকে একটি পরিমাপযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করি তবে আমরা এটিকে "বস্তু" বা "জিনিসে" রূপান্তরিত করছি। এখানে তিনি নিজের জন্য একটি গভীর গর্ত খুঁড়েছেন... প্রকৃতপক্ষে এই পুরো যুক্তিটি কাল্পনিক। বিজ্ঞানী "ভৌত জিনিস" পরিমাপ করেন না: তিনি বৈশিষ্ট্য (যেমন দৈর্ঘ্য বা ভর) পরিমাপ করেন। একটি বিশেষ জটিল সংগ্রহ মস্তিকে কিছু বৈশিষ্ট্য (অর্থাৎ নির্দিষ্ট কাজ) সংকীর্ণভাবে স্থানীয় অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া গেছে।
** [[w:বার্নার্ড ডেভিস|বার্নার্ড ডেভিস]], "নিও-লাইসেঙ্কোবাদ, আইকিউ, অ্যান্ড দ্য প্রেস", পৃ. ৭৩
* [গোল্ডের] ঐতিহাসিক বর্ণনা অত্যন্ত সিলেক্টিভ বা বাছাইকৃত; তিনি বিজ্ঞানের অ-বস্তুনিষ্ঠতা দাবি করেন যাতে তিনি নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের মানদণ্ড দ্বারা বৈজ্ঞানিক সত্য পরীক্ষা করতে পারেন। বাস্তবে আমরা এখানে লাইসেঙ্কোবাদের পুনরুত্থান দেখতে পাচ্ছি: একটি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রকে নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা কারণ এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদের সাথে সাংঘর্ষিক।
** [[w:বার্নার্ড ডেভিস|বার্নার্ড ডেভিস]], "নিও-লাইসেঙ্কোবাদ, আইকিউ, অ্যান্ড দ্য প্রেস", পৃ. ৭৩
* আমার নিজের কাজের রেফারেন্সে গোল্ড অন্তত নয়টি [[উদ্ধৃতি]] অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা কেবল গোল্ডের মতামতের প্রকাশ নয়; এই উদ্ধৃতিগুলোতে গোল্ড আমার মতামত ব্যাখ্যা করেছেন। তবুও নয়টি ক্ষেত্রের মধ্যে আটটিতেই গোল্ডের এই মতামতগুলোর উপস্থাপনা মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা স্থূলভাবে ব্যঙ্গাত্মক। বিশেষজ্ঞরা না হলে উদ্ধৃত উৎসগুলো না পড়ে কারও পক্ষে এটি জানার কোনো উপায় নেই। গোল্ডের ব্যাখ্যাগুলো ধারাবাহিকভাবে তাঁর নিজের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তির্যকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
** [[আর্থার জেনসেন]], [http://www.mugu.com/cgi-bin/Upstream/jensen-gould-fossils "দ্য ডিবানিং অফ সাইন্টিফিক ফসিলস অ্যান্ড স্ট্র পারসনস"]
* বইটির সমস্ত রেফারেন্সের মধ্যে ২৭ শতাংশ ১৯০০ সালের আগের। অন্য ৪৪ শতাংশ ১৯০০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে এবং কেবল ২৯ শতাংশ ১৯৫০ সালের পরের। এক শতাব্দীরও বেশি সময় বিস্তৃত সামগ্রিক সাহিত্য থেকে গোল্ডের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কয়েকটি "খারাপ উদাহরণ" হাতে বেছে নেওয়া হয়েছে।
** [[আর্থার জেনসেন]], [http://www.mugu.com/cgi-bin/Upstream/jensen-gould-fossils "দ্য ডিবানিং অফ সাইন্টিফিক ফসিলস অ্যান্ড স্ট্র পারসনস"]
* আমি কেবল গোল্ডকে বিশ্বাস করিনি... আমার মনে হয়েছিল তাঁর আদর্শিক অবস্থানই সর্বোপরি। যখন ১৯৯৬ সালের 'দ্য মিসমেজার অফ ম্যান' সংস্করণটি এল এবং তিনি মাইকেলের [জন এস মাইকেল] গবেষণার কথা উল্লেখ করারও প্রয়োজন বোধ করেননি তখন আমার মনে হয়েছিল তিনি একজন ভণ্ড।
** [[w:র্যালফ হলোওয়ে|র্যালফ এল হলোওয়ে]], [https://www.nytimes.com/2011/06/14/science/14skull.html ২০১১]
* স্টিভের ত্রুটিগুলো অত্যন্ত বিস্তৃত এবং পক্ষপাতিত্ব খুব গুরুতর। একটি সতর্ক পুনবিশ্লেষণ দেখায় যে তাঁর লক্ষ্য অনবদ্য হলেও তাঁর নিজের আক্রমণটি সেই সমস্ত উপায়ে পক্ষপাতদুষ্ট যা গোল্ড তাঁর শিকারের ওপর আরোপ করেছেন।
** [[রবার্ট ট্রিভার্স]], [https://www.psychologytoday.com/gb/blog/the-folly-fools/201210/fraud-in-the-imputation-fraud "ফ্রড ইন দ্য ইমপিউটেশন অফ ফ্রড: দ্য মিস-মেজার অফ স্টিফেন জে গোল্ড"], ৪ অক্টোবর ২০১২।
==== প্রশংসা ====
* ১৯৮১ সালে যখন এটি প্রকাশিত হয় তখন ''দ্য মিসমেজার অফ ম্যান'' অবিলম্বে একটি শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল যা সেই সব লোকদের জন্য একটি দাঁতভাঙ্গা জবাব যারা মানুষকে তাদের তথাকথিত জেনেটিক উপহার এবং সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী শ্রেণীবদ্ধ করতে চায়। স্টিফেন জে গোল্ড এই সংস্করণে ''দ্য বেল কার্ভের'' যুক্তিগুলোকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে খণ্ডন করেছেন। এই বইটিকে আমাদের বর্তমান সামাজিক দুঃখকষ্টের ছদ্ম-জৈবিক ব্যাখ্যাগুলোকে নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে একটি প্রধান অবদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
** ১৯৯৬ সালের পেপারব্যাক সংস্করণের পিছনের কভারে ১৯৮১ সালের সংস্করণের জন্য [[w:লিওন জে কামিন|লিওন জে কামিন]]ের উক্তি
* তিনি পরিমাপকারীদের একটি মৌলিক হাতিয়ার—''ফ্যাক্টর অ্যানালাইসিস'' নামক পরিসংখ্যানগত কৌশল—মোকাবিলা করেন এবং প্ররোচনামূলকভাবে প্রদর্শন করেন যে কীভাবে ফ্যাক্টর অ্যানালাইসিস কারণের সাথে সহ-সম্পর্ককে গুলিয়ে ফেলার প্রধান ত্রুটির দিকে নিয়ে যায়। এই ধরণের পারফরম্যান্সই বইটিকে শক্তিশালী করে তোলে।
** ক্রিস্টোফার লেহম্যান-হাউপট, [http://www.nytimes.com/books/97/11/09/home/gould-mismeasure.html "বুকস অফ দ্য টাইমস"] ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'', [[৯ নভেম্বর ১৯৯৭]], পৃ. C29
* একটি বিরল বই—একই সাথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পড়ার জন্য চমৎকার... গোল্ড বৈজ্ঞানিক বর্ণবাদের একটি আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক অধ্যয়ন উপস্থাপন করেছেন। তিনি প্রতিটি পয়েন্টে তত্ত্বগুলোর যৌক্তিক অসঙ্গতি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্যের পক্ষপাতদুষ্ট অপব্যবহার চিত্রিত করেছেন... বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে একটি প্রধান সংযোজন।
** ''স্যাটারডে রিভিউ'', লন্ডন
* সাইকোমেট্রিক্সের বিপর্যয়কর ইতিহাসের বিষয়ে স্টিফেন গোল্ডের বর্ণনার মহান গুণ হলো তিনি পরিবেশবাদী এবং বংশগতিবাদীদের মধ্যে একটি নিরর্থক লড়াই থেকে যুক্তিটিকে সরিয়ে নিয়েছেন।
** ''সানডে টাইমস'', লন্ডন
* গোল্ডের বিশ্লেষণের শক্তি তাঁর বিশেষত্বের ওপর ফোকাসের মধ্যে নিহিত। সামাজিক বৈষম্যকে ন্যায়সঙ্গত করার লক্ষ্যে সমস্ত "বৈজ্ঞানিক" প্রচেষ্টার একটি মহৎ সমালোচনার পরিবর্তে গোল্ড তত্ত্ব এবং অভিজ্ঞতামূলক দাবির একটি নির্দিষ্ট সেটের ওপর ভিত্তি করে ত্রুটিগুলোর একটি সুচিন্তিত মূল্যায়ন করেন।
** রিচার্ড ইয়র্ক এবং ব্রেট ক্লার্ক, [http://www.monthlyreview.org/0206yorkclark.htm "ডিবানিং অ্যাজ পজিটিভ সায়েন্স"], ''মান্থলি রিভিউ'' ৫৭:৯, ফেব্রুয়ারি ২০০৬
== বহিঃসংযোগ ==
{{Wikipedia}}
* [http://www.stephenjaygould.org অনানুষ্ঠানিক স্টিফেন জে গোল্ড আর্কাইভ]
* [http://prelectur.stanford.edu/lecturers/gould/ স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গোল্ডের বক্তৃতার অংশবিশেষ]
* [http://www.findarticles.com/p/articles/mi_m1132/is_6_54/ai_94142087 রিচার্ড সি লিওয়ানটিন গোল্ডের কর্মজীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন]
* [http://www.nybooks.com/articles/1151 "ডারউইনিয়ান ফান্ডামেন্টালিজম"] - ড্যানিয়েল ডেনেট এবং অন্যান্য সমালোচকদের প্রতি গোল্ডের প্রতিক্রিয়া
* [http://www.annonline.com/interviews/961009/ গোল্ডের সাথে অনলাইন অডিও সাক্ষাৎকার] (অ্যান অনলাইন)
* [http://www.antievolution.org/projects/mclean/new_site/pf_trans/mva_tt_p_gould.html ম্যাকলিন বনাম আরকানসাস ক্রিয়েশনিজম ট্রায়াল]: গোল্ডের সাক্ষ্যের প্রতিলিপি
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জীবাশ্মবিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:সংশয়বাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজ্ঞেয়বাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৪১-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০০২-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:নিউ ইয়র্ক সিটির ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জীববিজ্ঞানী]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জীবনীকার]]
[[বিষয়শ্রেণী:ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ম্যাকআর্থার ফেলো]]
[[বিষয়শ্রেণী:হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
[[বিষয়শ্রেণী:কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী]]
hgej050mqvk21yxup0xkzq1piwmyoqh
নরউইচের জুলিয়ান
0
13961
83225
83213
2026-05-01T14:04:05Z
SMontaha32
3112
83225
wikitext
text/x-wiki
[[File:Julian of Norwich.jpg|thumb|right|আমাদের প্রভু ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে একটি কাজ সম্পন্ন হবে, এবং তিনি নিজেই তা করবেন, আর আমি কিছুই করব না কিন্তু পাপ করব, এবং আমার পাপ তাঁর [[মঙ্গলময়তা]] প্রকাশের পথে বাধা হবে না।]]
'''[[:w:নরিচের অফ জুলিয়ান|নরিচের জুলিয়ান]]''' (আনুমানিক ৮ নভেম্বর ১৩৪২ – আনুমানিক ১৪১৬) ছিলেন একজন ইংরেজ [[খ্রিস্টধর্ম|খ্রিস্টান]] রহস্যবাদী এবং ধর্মতত্ত্ববিদ। তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব সামান্যই জানা যায়। এমনকি তাঁর নামটিও নিশ্চিত নয়। "জুলিয়ান" নামটি সম্ভবত নরিচের সেন্ট জুলিয়ান গির্জা থেকে এসেছে, যেখানে তিনি একজন [[w:অ্যাঙ্কোরেস|অ্যাঙ্কোরেস]] (ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী) হিসেবে বসবাস করতেন।
[[File:Orvieto Pozzo San Patrizio 5.JPG|thumb|পাপ থাকাটা অপরিহার্য ছিল। কিন্তু সব ভালো হবে, এবং সব ভালো হবে এবং সব ধরণের জিনিসই ভালো হবে।]]
== ''[[w:ঐশ্বরিক ভালোবাসার প্রকাশ|ঐশ্বরিক ভালোবাসার প্রকাশ]]'' (আনুমানিক ১৩৯৩) ==
:<small>'''''"যিনি অক্ষর পড়তে পারতেন না, তাঁর প্রতি প্রকাশ, আনো ডম. ১৩৭৩"''''' : এই কর্মটি জুলিয়ান সম্পর্কে জানা প্রায় সমস্ত তথ্য প্রদান করে। এটি মূলত ১৩৭৩ সালের ১৩ এবং ১৪ই মে সংঘটিত বিভিন্ন দর্শনের একটি বিবরণ; যখন তিনি ত্রিশ বছর বয়সে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। প্রায় বিশ বছর পর একজন লেখকের মাধ্যমে এটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। প্রাচীন ইংরেজি থেকে এই কর্মটির বহু অনুবাদ হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন সংস্করণে এর বক্তব্যের বৈচিত্র্য এবং অর্থের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত হয়।</small>
=== অধ্যায় ১ ===
[[File:Emanation.png|thumb|এটি প্রেমের একটি প্রকাশ যা আমাদের অন্তহীন পরমানন্দ, যিশু খ্রিস্ট ষোলটি 'শিউইং' বা বিশেষ প্রকাশের মাধ্যমে ঘটিয়েছেন।]]
[[File:Goe Platz der Synagoge Detail 2.jpg|thumb|[[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] মঙ্গলময়তা দ্বারা আমরা দুঃখে ও সুখে সমানভাবে প্রেমে সুরক্ষিত।]]
* '''এটি প্রেমের একটি প্রকাশ যা আমাদের অন্তহীন পরমানন্দ, যিশু [[w:Christ|খ্রিস্ট]] ষোলটি 'শিউইং' (বা বিশেষ প্রকাশ) এর মাধ্যমে ঘটিয়েছেন।''' যার প্রথমটি হলো তাঁর কাঁটার মুকুট পরিধান এবং এর সাথেই ত্রিত্ববাদ, অবতারবাদ এবং ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যবর্তী ঐক্যকে অন্তর্ভুক্ত ও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যা অনন্ত প্রজ্ঞা এবং প্রেমের শিক্ষার সুন্দর প্রকাশ: যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সমস্ত প্রকাশগুলো প্রতিষ্ঠিত এবং একীভূত।
** শুরুর লাইনসমূহ
* আমাদের প্রভু ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান প্রজ্ঞা, সর্ব-প্রেম, তিনি যেমন সত্যই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তেমনই সত্যই তিনি প্রতিটি কাজ করেন ও সম্পন্ন করেন।
* '''আমরা ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা দ্বারা দুঃখে ও সুখে সমানভাবে প্রেমে সুরক্ষিত।'''
* আমাদের প্রভু যিশু প্রেমে তাঁর পরমানন্দময় হৃদয়কে আনন্দ সহকারে দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় প্রদর্শন করেন।
* আমাদের প্রভু ঈশ্বর চান যেন আমরা তাঁর করা সমস্ত কাজের প্রতি গভীর মনোযোগী হই: সবকিছুর সৃষ্টির মহান মহিমা এবং মানুষের সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব, যা তাঁর সমস্ত কাজের ঊর্ধ্বে এবং মানুষের পাপের জন্য তাঁর করা মূল্যবান প্রায়শ্চিত্ত, যা আমাদের সমস্ত অপরাধকে অন্তহীন উপাসনায় রূপান্তরিত করেছে। এই প্রকাশে আমাদের প্রভু আরও বলেন: '''"তাকাও এবং দেখো! কারণ যে শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মঙ্গলময়তা দিয়ে আমি এই সবকিছু করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মঙ্গলময়তা দিয়ে আমি সেই সবকিছুকেও ভালো করে তুলব যা ভালো নয়; এবং তুমি তা দেখতে পাবে।"''' এবং এতে তিনি চান যেন আমরা পবিত্র চার্চের বিশ্বাস ও সত্যে অবিচল থাকি, এখন তাঁর গোপন বিষয়গুলো দেখতে না চাই, কেবল ততটুকুই যা এই জীবনে আমাদের জন্য প্রযোজ্য।
* আমাদের প্রভু আমাদের প্রার্থনার ভিত্তি। এখানে দুটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়: একটি হলো ন্যায়পরায়ণ প্রার্থনা, অন্যটি হলো অটল বিশ্বাস। তিনি চান উভয়ই সমানভাবে বিস্তৃত হোক এবং এভাবেই আমাদের প্রার্থনা তাঁকে আনন্দিত করে এবং তিনি তাঁর মঙ্গলময়তা দিয়ে তা পূরণ করেন।
* আমরা হঠাৎ আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা এবং কষ্ট থেকে মুক্ত হব, এবং তাঁর মঙ্গলময়তা দিয়ে আমরা উপরে উঠে যাব, যেখানে আমরা আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের পুরস্কার হিসেবে পাব এবং স্বর্গে আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ হব।
=== অধ্যায় ২ ===
[[File:Statue of Dame Julian.JPG|thumb|আমি তোমার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাই না।]]
* '''এই প্রকাশগুলো ১৩৭৩ সালের ১৩ই মে, এক সাধারণ অক্ষরজ্ঞানহীন প্রাণীর কাছে প্রকাশিত হয়েছিল।''' যে প্রাণীটি পূর্বে ঈশ্বরের কাছে তিনটি বর চেয়েছিল। প্রথমটি ছিল তাঁর কষ্টের কথা স্মরণ; দ্বিতীয়টি ছিল যৌবনে, ত্রিশ বছর বয়সে শারীরিক অসুস্থতা; তৃতীয়টি ছিল ঈশ্বরের উপহার হিসেবে তিনটি ক্ষত লাভ করা।
* প্রথমটির ক্ষেত্রে, আমার মনে হয়েছিল খ্রিস্টের কষ্টের কিছুটা অনুভূতি আমার আছে, তবুও আমি ঈশ্বরের কৃপায় আরও বেশি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম। মনে হয়েছিল সেই সময়ে আমি যদি মেরি ম্যাগডালিন এবং খ্রিস্টের অন্যান্য প্রেমিকদের সাথে থাকতাম, তবে ভালো হতো। তাই আমি একটি শারীরিক দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলাম যাতে আমাদের পরিত্রাতার শারীরিক যন্ত্রণা এবং আমাদের লেডি (মেরি) ও তাঁর অন্যান্য সত্যিকারে প্রেমিকদের সহমর্মিতা সম্পর্কে আরও জ্ঞান লাভ করতে পারি। কারণ আমি তাদের একজন হতে এবং তাঁর সাথে কষ্ট ভোগ করতে চেয়েছিলাম। আত্মা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে অন্য কোনো দৃশ্য বা প্রকাশ চাইনি। এই আবেদনের কারণ ছিল যেন এই প্রকাশের পর খ্রিস্টের কষ্টের কথা আরও স্পষ্টভাবে মনে রাখতে পারি।
* দ্বিতীয়টি অনুশোচনার সাথে আমার মনে এসেছিল। মৃত্যুর মতো কঠিন অসুস্থতা কামনা করেছিলাম, যাতে সেই অসুস্থতায় আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করতে পারি। আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাব এবং যারা আমাকে দেখছিল তারাও একই ধারণা করেছিল: কারণ আমি জাগতিক জীবনের কোনো আরাম চাইনি। এই অসুস্থতায় আমি সব ধরণের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক যন্ত্রণা পেতে চেয়েছিলাম, যা একজন মানুষের মৃত্যুকালে হয় (শয়তানের সমস্ত ভয় ও ঝড়সহ), কেবল আত্মার বিচ্ছেদ ছাড়া। আমি এটা চেয়েছিলাম কারণ আমি ঈশ্বরের দয়ায় পবিত্র হতে চেয়েছিলাম এবং পরে সেই অসুস্থতার কারণে ঈশ্বরের উপাসনায় আরও বেশি জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম।
* কষ্টের এবং অসুস্থতার এই দুটি ইচ্ছা আমি একটি শর্তের সাথে চেয়েছিলাম, এভাবে বলে: '''"প্রভু, তুমি জানো আমি কী চাই, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে আমি তা পাব এবং যদি তোমার ইচ্ছা না হয়, ভালো প্রভু, অসন্তুষ্ট হইও না: কারণ আমি তোমার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাই না।"'''
* তৃতীয়টির জন্য, ঈশ্বরের কৃপা এবং পবিত্র চার্চের শিক্ষার মাধ্যমে আমি আমার জীবনে তিনটি ক্ষত লাভের প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম: অর্থাৎ, গভীর অনুশোচনার ক্ষত, সদয় সহমর্মিতার ক্ষত এবং ঈশ্বরের প্রতি অটল আকাঙ্ক্ষার ক্ষত। এবং এই শেষ আবেদনটি আমি কোনো শর্ত ছাড়াই চেয়েছিলাম। <br> '''এই পূর্বোক্ত দুটি ইচ্ছা আমার মন থেকে চলে গেলেও, তৃতীয়টি আমার সাথে ক্রমাগত থেকে গিয়েছিল।'''
=== অধ্যায় ৩ ===
[[File:Waldmüller - Die letzte Ölung.jpeg|thumb|যখন আমার বয়স সাড়ে ত্রিশ, ঈশ্বর আমাকে শারীরিক অসুস্থতা দিলেন, যাতে আমি তিন দিন তিন রাত পড়েছিলাম; এবং চতুর্থ রাতে আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করেছিলাম এবং বেঁচে থাকার আশা করিনি।]]
[[File:The church of SS Andrew and Mary - St Julian of Norwich - geograph.org.uk - 1547398.jpg|thumb|আমি আমার বিচারবুদ্ধি এবং যন্ত্রণার অনুভূতি দ্বারা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার মৃত্যু হবে এবং আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্মত হয়েছিলাম।]]
* '''যখন আমার বয়স সাড়ে ত্রিশ, ঈশ্বর আমাকে শারীরিক অসুস্থতা দিলেন, যাতে আমি তিন দিন তিন রাত পড়েছিলাম এবং চতুর্থ রাতে আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করেছিলাম এবং বেঁচে থাকার আশা করিনি।''' এর পরে আমি আরও দুই দিন দুই রাত অসুস্থ ছিলাম, এবং তৃতীয় রাতে আমি প্রায়শই ভেবেছি যে আমি চলে যাব; এবং যারা আমার সাথে ছিল তারাও তা-ই ভেবেছিল। <br> যৌবনের কারণে, আমার মৃত্যুতে খুব দুঃখ হয়েছিল।কিন্তু পৃথিবীর কোনো কিছুর জন্য নয় যা আমাকে বেঁচে থাকতে প্ররোচিত করত, বা কোনো যন্ত্রণার ভয়ে নয়: কারণ আমি ঈশ্বরের দয়ায় বিশ্বাসী ছিলাম। বরং আমি চেয়েছিলাম যেন আমি আরও ভালোভাবে এবং আরও দীর্ঘ সময় ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারি, যেন স্বর্গের পরমানন্দে ঈশ্বরের জ্ঞান ও ভালোবাসা বেশি পেতে পারি। কারণ আমি এখানে যেটুকু সময় বেঁচেছিলাম, তা সেই অনন্ত পরমানন্দের তুলনায় কিছুই না আমি তা কিছুই ভাবিনি।
* আমি আমার বিচারবুদ্ধি এবং যন্ত্রণার অনুভূতি দ্বারা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার মৃত্যু হবে এবং আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্মত হয়েছিলাম। <br> এভাবে আমি দিন পর্যন্ত বেঁচে ছিলাম, এবং ততক্ষণে আমার শরীরের নিচের অংশ অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছিল। তখন আমি স্থির করেছিলাম যেন আমাকে সাহায্য নিয়ে সোজা করে বসানো হয়, যাতে আমার হৃদয়ের স্বাধীনতা থাকে ঈশ্বরের ইচ্ছায় থাকার জন্য, এবং যতক্ষণ জীবন আছে ঈশ্বরের কথা চিন্তা করার জন্য।
* আমার দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করল এবং ঘরের চারপাশ অন্ধকার হয়ে এল, যেন রাত হয়ে গেছে, কেবল ক্রুশবিদ্ধ মূর্তিতে আমি একটি সাধারণ আলো দেখতে পাচ্ছিলাম এবং আমি জানতাম না কীভাবে। ক্রুশের বাইরের সবকিছু আমার কাছে ভয়ানক মনে হচ্ছিল, যেন তা শয়তানদের দ্বারা দখল করা হয়েছে। <br> এরপর আমার শরীরের উপরের অংশ মরতে শুরু করল, এতটাই যে প্রায় কোনো অনুভূতি ছিল না, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এবং তখন আমি সত্যই ভেবেছিলাম যে আমি চলে যাচ্ছি। <br> এবং হঠাৎ আমার সমস্ত যন্ত্রণা দূর হয়ে গেল, এবং আমি (বিশেষ করে আমার শরীরের উপরের অংশে) আগের মতোই সুস্থ হয়ে উঠলাম। <br> এই আকস্মিক পরিবর্তনে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। কারণ মনে হয়েছিল এটি ঈশ্বরের গোপন কাজ, প্রকৃতির নয়। তবুও এই আরামের অনুভূতিতে আমি বেঁচে থাকার আশা করিনি বা এই আরাম আমার কাছে পূর্ণ আরাম ছিল না: কারণ আমি চেয়েছিলাম এই জগত থেকে মুক্তি পেতে।
* তখন হঠাৎ আমার মনে এল যে আমার প্রভুর কৃপায় দ্বিতীয় ক্ষতটি কামনা করা উচিত: যেন আমার শরীর তাঁর পবিত্র কষ্টের চিন্তা ও অনুভূতিতে পূর্ণ হয়। কারণ আমি চেয়েছিলাম তাঁর যন্ত্রণা যেন আমার যন্ত্রণা হয়, সহমর্মিতা এবং পরে ঈশ্বরের প্রতি আকাঙ্ক্ষার সাথে। কিন্তু এতে আমি কোনো শারীরিক দৃশ্য বা ঈশ্বরের প্রকাশ চাইনি, বরং এমন সহমর্মিতা চেয়েছিলাম যা একজন দয়ালু আত্মা আমাদের প্রভু যিশুর সাথে রাখতে পারে, যিনি প্রেমের জন্য মানুষ হতে চেয়েছিলেন: এবং তাই আমি তাঁর সাথে কষ্ট ভোগ করতে চেয়েছিলাম।
== প্রথম প্রকাশ (দ্য ফার্স্ট রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ৪ ===
[[File:Leonardo da Vinci 058.jpg|thumb|আমি তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে, শারীরিক সাদৃশ্যে দেখেছিলাম: এক সাধারণ কুমারী ও নম্র, অল্পবয়সী ও বালিকার চেয়ে সামান্য বড়, সেই উচ্চতায় যা তিনি ধারণ করেছিলেন যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন।]]
* হঠাৎ আমি দেখলাম কাঁটার মুকুটের নিচ থেকে তপ্ত ও তাজা রক্ত প্রচুর পরিমাণে গড়িয়ে পড়ছে, যেমনটা তাঁর কষ্টের সময়ে হয়েছিল যখন সেই কাঁটার মুকুট তাঁর পবিত্র মাথায় চেপে বসানো হয়েছিল। যিনি ঈশ্বর ও মানব উভয়ই, যিনি আমার জন্য এমন কষ্ট সহ্য করেছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে ও প্রবলভাবে অনুভব করলাম যে এটি তিনিই আমাকে দেখাচ্ছেন, কোনো মাধ্যম ছাড়াই। <br> এবং সেই একই প্রকাশে হঠাৎ ত্রিত্ববাদ আমার হৃদয়কে আনন্দে পূর্ণ করে দিল। এবং আমি বুঝতে পারলাম, যারা স্বর্গে আসবে, তাদের জন্য এটি অনন্তকাল ধরে থাকবে। কারণ ত্রিত্ববাদই ঈশ্বর: ঈশ্বরই ত্রিত্ববাদ। ত্রিত্ববাদ আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও রক্ষক, ত্রিত্ববাদ আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে আমাদের চিরন্তন প্রেম এবং চিরন্তন আনন্দ ও পরমানন্দ। এবং এটি প্রথম এবং সমস্ত প্রকাশেই দেখানো হয়েছিল: কারণ যেখানে যিশু উপস্থিত, সেখানে আমার দৃষ্টিতে পবিত্র ত্রিত্ববাদ অনুভূত হয়।
* পবিত্র কষ্টের এই দর্শনের মাধ্যমে, আমার উপলব্ধিতে দেখা ঈশ্বরত্বের সাথে, আমি ভালোভাবেই জানতাম যে, এটি আমার জন্য হ্যাঁ, এবং সমস্ত জীবিত প্রাণীর জন্য নরকের সমস্ত শয়তান ও আধ্যাত্মিক প্রলোভনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্তি।
* তিনি আমাদের পবিত্র লেডিকে (ম্যারি) আমার উপলব্ধিতে নিয়ে এলেন। '''আমি তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে, শারীরিক সাদৃশ্যে দেখেছিলাম: এক সাধারণ কুমারী ও নম্র, অল্পবয়সী ও বালিকার চেয়ে সামান্য বড়, সেই উচ্চতায় যা তিনি ধারণ করেছিলেন যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন।'''
=== অধ্যায় ৫ ===
[[File:JUL Iris Soul Palm.png|thumb|এই ক্ষুদ্র বস্তুতে আমি তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি। প্রথমটি হলো ঈশ্বর এটি তৈরি করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো ঈশ্বর একে ভালোবাসেন, তৃতীয়টি হলো, ঈশ্বর একে রক্ষা করেন।]]
* '''আমি দেখেছি যে তিনি আমাদের জন্য সবকিছুই যা ভালো এবং আরামদায়ক: তিনি আমাদের পোশাক যা প্রেমের জন্য আমাদের আবৃত করে, জড়িয়ে ধরে এবং কোমল ভালোবাসায় আমাদের সম্পূর্ণ ঘিরে রাখে, যেন তিনি আমাদের কখনও ত্যাগ করতে না পারেন। আমার উপলব্ধিতে তিনি আমাদের জন্য ভালো সবকিছুই।'''
* '''তিনি আমাকে আমার হাতের তালুতে একটি ক্ষুদ্র বস্তু দেখালেন, একটি হেজেল-নাটের মতো; এবং এটি বলের মতো গোলাকার ছিল। আমি আমার উপলব্ধির চোখ দিয়ে সেটির দিকে তাকালাম এবং ভাবলাম: "এটি কী হতে পারে?" এবং সাধারণত উত্তর পেলাম: "এটি তা-ই যা সৃষ্টি হয়েছে।"''' আমি অবাক হয়েছিলাম কীভাবে এটি টিকে আছে, কারণ মনে হচ্ছিল সামান্য কারণেই এটি হঠাৎ শূন্যে বিলীন হয়ে যেতে পারত। এবং আমার উপলব্ধিতে উত্তর পেলাম: '''"এটি টিকে আছে এবং সর্বদা টিকে থাকবে কারণ ঈশ্বর একে ভালোবাসেন।" এবং এভাবেই ঈশ্বরের ভালোবাসার মাধ্যমে সবকিছুর অস্তিত্ব রয়েছে।'''
* '''এই ক্ষুদ্র বস্তুতে আমি তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি। প্রথমটি হলো ঈশ্বর এটি তৈরি করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো ঈশ্বর একে ভালোবাসেন, তৃতীয়টি হলো, ঈশ্বর একে রক্ষা করেন।''' কিন্তু আমার জন্য প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা, রক্ষক এবং প্রেমিক কে তা আমি বলতে পারি না; কারণ যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে মৌলিকভাবে একীভূত হচ্ছি, ততক্ষণ আমি পূর্ণ বিশ্রাম বা সত্যিকারের পরমানন্দ পেতে পারি না: অর্থাৎ, যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে এমনভাবে আবদ্ধ হচ্ছি যে, আমার ঈশ্বর এবং আমার মাঝে সৃষ্ট আর কিছুই নেই।
* '''আমাদের প্রাণীদের ক্ষুদ্রতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা প্রয়োজন এবং যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তাকে তুচ্ছ মনে করা প্রয়োজন, যাতে আমরা অ-সৃষ্ট ঈশ্বরকে ভালোবাসতে ও পেতে পারি।''' কারণ এই কারণেই আমাদের হৃদয় ও আত্মায় শান্তি নেই: আমরা এখানে এমন জিনিসের মধ্যে শান্তি খুঁজি যা এতই ক্ষুদ্র, যেখানে কোনো বিশ্রাম নেই, এবং আমাদের সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বগুণী ঈশ্বরকে জানি না। কারণ তিনিই প্রকৃত বিশ্রাম। '''ঈশ্বর চান যেন তাঁকে জানা হোক এবং তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁর মধ্যে বিশ্রাম নিই। কারণ তাঁর নিচের কোনো কিছুই আমাদের সন্তুষ্ট করে না। এবং এই কারণেই কোনো আত্মা ততক্ষণ শান্ত হয় না যতক্ষণ না সৃষ্ট সমস্ত জিনিসের প্রতি সে নিজেকে শূন্য করে। যখন সে প্রেমের জন্য স্বেচ্ছায় নিজেকে শূন্য করে, যাতে সে তাঁকে পেতে পারে যিনিই সবকিছু, তখনই সে আধ্যাত্মিক বিশ্রাম পাওয়ার যোগ্য হয়।'''
=== অধ্যায় ৬ ===
[[File:St Annes Church Manchester England TETRAGRAMMATON.jpg|thumb|তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁকে খুঁজি এবং মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে উপাসনা করি, এই উপলব্ধি নিয়ে যে তিনিই সবকিছুর মঙ্গলময়তা।]]
* তখন আমি সত্যই দেখলাম যে, ঈশ্বরের উপাসনা এবং প্রকৃত আনন্দ তখনই বেশি হয় যখন আমরা তাঁর মঙ্গলময়তার জন্য বিশ্বস্ততার সাথে তাঁর কাছেই প্রার্থনা করি এবং সঠিক উপলব্ধি ও প্রেমের দ্বারা অটল থেকে তাঁর কৃপা আঁকড়ে ধরি, যেন আমরা হৃদয়ের চিন্তার সমস্ত মাধ্যম ব্যবহার করছি। কারণ যদি আমরা এই সমস্ত মাধ্যম গ্রহণ করি, তাও তা খুব সামান্য এবং ঈশ্বরের পূর্ণ উপাসনা নয়: কিন্তু তাঁর মঙ্গলময়তার মধ্যেই সবকিছু পূর্ণ এবং সেখানে কিছুই অভাব নেই।
* '''তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁকে খুঁজি এবং মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে উপাসনা করি, এই উপলব্ধি নিয়ে যে তিনিই সবকিছুর মঙ্গলময়তা।''' <br> কারণ ঈশ্বরের মঙ্গলময়তাই সর্বোচ্চ প্রার্থনা, এবং তা আমাদের প্রয়োজনের সর্বনিম্ন অংশে নেমে আসে। এটি আমাদের আত্মাকে জীবিত করে, কৃপা ও পুণ্যে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। এটি প্রকৃতিতে সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং কৃপায় সবচেয়ে সহজলভ্য: কারণ এটি সেই একই কৃপা যা আত্মা খোঁজে এবং সর্বদা খুঁজবে যতক্ষণ না আমরা সত্যই জানি যে তিনি আমাদের সবাইকে নিজের মধ্যে আবদ্ধ রেখেছেন। <br> কারণ তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি তাঁর কোনো ঘৃণা নেই এবং আমাদের শরীরে প্রকৃতিগতভাবে যে সামান্যতম কাজগুলো থাকে তা করতেও তিনি ইতস্তত করেন না, কারণ তিনি সেই আত্মাকে ভালোবাসেন যা তিনি নিজের সাদৃশ্যে তৈরি করেছেন।
* '''শরীর যেমন পোশাকে ঢাকা, মাংস যেমন চামড়ায় ঢাকা, হাড় যেমন মাংসে ঢাকা, এবং হৃদয় যেমন পুরো শরীরে ঢাকা, ঠিক তেমনই আমরা, আত্মা ও শরীর, ঈশ্বরের মঙ্গলময়তায় আবৃত এবং আবদ্ধ। হ্যাঁ, এবং আরও আপনভাবে: কারণ এই সমস্ত কিছু নষ্ট হয়ে যেতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা সর্বদা পূর্ণ এবং কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী;''' কারণ আমাদের প্রেমিক সত্যই চান যেন আমাদের আত্মা তাঁর সাথে সমস্ত শক্তি দিয়ে লেগে থাকে এবং আমরা যেন সর্বদা তাঁর মঙ্গলময়তাকে আঁকড়ে থাকি। কারণ হৃদয়ে যা কিছু চিন্তা করা যায়, তার মধ্যে এটিই ঈশ্বরকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয় এবং দ্রুততম ফল দেয়।
=== অধ্যায় ৭ ===
[[File:Love heart.jpg|thumb|যিনি ভালোবাসার জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই একই ভালোবাসায় তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং অন্তহীনভাবে রক্ষা করবেন।]]
* '''এই প্রকাশটি ছিল দ্রুত এবং প্রাণবন্ত, এবং ভীতিকর ও ভয়ংকর, মিষ্টি ও মনোরম।''' এবং সমস্ত দৃশ্যের মধ্যে আমার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক ছিল এটি যে, আমাদের ঈশ্বর ও প্রভু, যিনি এত শ্রদ্ধেয় ও ভয়ংকর, তিনি এত আপন এবং সৌজন্যপূর্ণ: এবং এটি আমাকে আত্মা ও নিশ্চিততার শান্তিতে পূর্ণ করেছিল।
* সত্যই এটিই সবচেয়ে বড় আনন্দ যা হতে পারে, আমার দৃষ্টিতে, যে তিনি যিনি সর্বোচ্চ ও সর্বশক্তিমান, সবচেয়ে মহৎ ও যোগ্য, তিনিই সবচেয়ে বিনম্র ও নম্র, সবচেয়ে আপন ও সৌজন্যপূর্ণ: এবং সত্যই এই বিস্ময়কর আনন্দ আমাদের সবাইকে দেখানো হবে যখন আমরা তাঁকে দেখব।
* এই বিস্ময়কর আপনভাব কোনো মানুষই জীবনের এই সময়ে পুরোপুরি দেখতে পায় না, যদি না সে আমাদের প্রভুর বিশেষ প্রকাশ বা পবিত্র আত্মার কাছ থেকে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাপ্ত কৃপা না পায়। কিন্তু বিশ্বাস ও ভক্তি এই পুরস্কারের যোগ্য করে তোলে: এবং কৃপার মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়। কারণ বিশ্বাস, আশা এবং ভালোবাসার ওপরই আমাদের জীবন প্রতিষ্ঠিত।
=== অধ্যায় ৮ ===
[[File:Roerich_symbol.svg|thumb|আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং প্রতিটি জিনিসের যে মঙ্গলময়তা আছে, তা তিনিই।]]
* আমি জানি যে স্বর্গ ও পৃথিবী এবং যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তা মহান ও বিশাল, সুন্দর ও ভালো। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এটি এত ক্ষুদ্র দেখানোর কারণ হলো আমি এটি তাঁর উপস্থিতিতে দেখেছি যিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা: কারণ যে আত্মা সবকিছুর সৃষ্টিকর্তাকে দেখে, তার কাছে সৃষ্ট সবকিছুই খুব ক্ষুদ্র মনে হয়।
* '''যিনি ভালোবাসার জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই একই ভালোবাসায় তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং অন্তহীনভাবে রক্ষা করবেন।'''
* '''আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং প্রতিটি জিনিসের যে মঙ্গলময়তা আছে, তা তিনিই।'''
* আমাদের প্রভু প্রথম দর্শনে এই সবকিছুই আমাকে দেখিয়েছিলেন, এটি দেখার জন্য সময় ও সুযোগ দিয়েছিলেন। এবং শারীরিক দৃষ্টি থেমে গিয়েছিল, কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টি আমার উপলব্ধিতে থেকে গিয়েছিল এবং আমি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ে অপেক্ষা করছিলাম, যা দেখেছিলাম তাতে আনন্দিত হয়েছিলাম। এবং আমি সাহস করে আরও দেখতে চেয়েছিলাম, যদি তা তাঁর ইচ্ছা হতো, অথবা অন্যথায় দীর্ঘ সময় ধরে একই দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলাম।
* এই সবকিছুর মধ্যে আমি আমার সম-খ্রিস্টানদের প্রতি ভালোবাসায় অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম, যেন তারা দেখতে এবং জানতে পারে যা আমি দেখেছি: কারণ আমি চেয়েছিলাম এটি তাদের জন্য সান্ত্বনা হোক। কারণ এই সমস্ত দৃশ্য সাধারণের জন্য দেখানো হয়েছিল। তখন আমি আমার চারপাশের লোকদের বললাম: "আজ আমার জন্য বিচার দিবস।" এবং এটি আমি বলেছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাচ্ছি।
* আমি আপনাদের সবাইকে ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করি এবং আপনার নিজের কল্যাণের জন্য উপদেশ দিই, যে আপনারা সেই দরিদ্র প্রাণীর প্রতি তাকানো বন্ধ করুন যার কাছে এটি দেখানো হয়েছিল, এবং শক্তিশালী, জ্ঞানী ও বিনম্রভাবে ঈশ্বরকে দেখুন, যিনি তাঁর সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসা ও অন্তহীন মঙ্গলময়তার মাধ্যমে আমাদের সবার সান্ত্বনার জন্য এটি সাধারণভাবে দেখাতে চেয়েছেন। কারণ ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আপনারা এটি মহান আনন্দ ও তুষ্টির সাথে গ্রহণ করুন, যেন যিশু এটি আপনাদের সবাইকে দেখিয়েছেন।
=== অধ্যায় ৯ ===
[[File:Saula Kopf 2517m Panorama 2.jpg|thumb|আধ্যাত্মিক দৃষ্টিটি আমি যতটা চাই ততটা খোলাখুলি বা পূর্ণভাবে দেখাতে পারি না।]]
* '''প্রকাশের কারণে আমি ভালো নই যদি না আমি ঈশ্বরকে আরও বেশি ভালোবাসি: এবং আপনারা ঈশ্বরকে যতটা বেশি ভালোবাসেন, এটি আমার চেয়ে আপনাদের জন্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।''' আমি এটি জ্ঞানী ব্যক্তিদের বলছি না, কারণ তারা এটি ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু আমি এটি আপনাদের বলছি যারা সহজ-সরল, সান্ত্বনা ও আরামের জন্য: কারণ আমরা সবাই সান্ত্বনায় এক। কারণ সত্যই আমাকে এটি দেখানো হয়নি যে ঈশ্বর আমাকে কৃপাপ্রাপ্ত সর্বনিম্ন আত্মার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। কারণ আমি নিশ্চিত যে এমন অনেকেই আছেন যারা কখনো পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষার বাইরে কোনো প্রকাশ বা দর্শন পাননি, কিন্তু তারা ঈশ্বরকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। '''কারণ যদি আমি এককভাবে নিজের দিকে তাকাই, তবে আমি কিছুই নই।''' কিন্তু সাধারণভাবে, আমি আশা করি, আমার সমস্ত সম-খ্রিস্টানদের সাথে ভালোবাসার একতায় আমি আছি।
* '''এই একতার মধ্যেই সমস্ত মানবজাতির জীবন নিহিত, যারা পরিত্রাণ পাবে।''' কারণ আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং ঈশ্বর যা সৃষ্টি করেছেন তা তিনি তৈরি করেছেন, এবং ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টি করা সবকিছুকেই ভালোবাসেন: এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের জন্য তার সমস্ত সম-খ্রিস্টানকে সাধারণভাবে ভালোবাসে, সে সবকিছুকেই ভালোবাসে। কারণ যারা পরিত্রাণ পাবে, সেই মানবজাতির মধ্যে সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত: অর্থাৎ, যা সৃষ্টি হয়েছে এবং সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। কারণ মানুষের মধ্যে ঈশ্বর আছেন এবং ঈশ্বর সবকিছুর মধ্যে আছেন। এবং আমি আশা করি ঈশ্বরের কৃপায় যে ব্যক্তি এটি এভাবে দেখবে, সে সত্যই শিক্ষিত হবে এবং গভীরভাবে সান্ত্বনা পাবে, যদি তার সান্ত্বনার প্রয়োজন হয়।
* আমি তাদের কথা বলছি যারা পরিত্রাণ পাবে, কারণ এই সময়ে ঈশ্বর আমাকে অন্য কিছু দেখাননি। তবে সবকিছুর ক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি যা পবিত্র চার্চ বিশ্বাস করে, প্রচার করে এবং শিক্ষা দেয়। কারণ পবিত্র চার্চের বিশ্বাস, যা আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম এবং আমি আশা করি, ঈশ্বরের কৃপায় আন্তরিকভাবে ব্যবহার ও অভ্যাসে রেখেছিলাম, তা ক্রমাগত আমার দৃষ্টিতে ছিল: এর বিপরীত কিছু গ্রহণ করার ইচ্ছা বা অর্থ আমার ছিল না। এবং এই উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আমার সমস্ত নিষ্ঠার সাথে প্রকাশটি দেখেছি: কারণ এই সমস্ত পবিত্র প্রকাশের মধ্যে আমি একে ঈশ্বরের অর্থের সাথে এক হিসেবে দেখেছি।
* এই সবকিছু তিনভাবে দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, শারীরিক দৃষ্টি দ্বারা, আমার উপলব্ধিতে গঠিত শব্দ দ্বারা, এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টি দ্বারা। কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টিটি আমি যতটা চাই ততটা খোলাখুলি বা পূর্ণভাবে দেখাতে পারি না বা পারি না। কিন্তু আমি আমাদের সর্বশক্তিমান ঈশ্বর প্রভুর ওপর ভরসা করি যে তিনি তাঁর মঙ্গলময়তার জন্য, এবং আপনাদের ভালোবাসার জন্য, আপনাদের এটি আরও আধ্যাত্মিকভাবে এবং আরও মিষ্টিভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করবেন, যা আমি বলতে পারি বা পারি না তার চেয়েও বেশি।
== দ্বিতীয় প্রকাশ (দ্য সেকেন্ড রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১০ ===
[[File:Cristo degli abissi.jpg|thumb|যদি কোনো মানুষ বা নারী বিশাল জলের নিচে থাকত, যদি সে ঈশ্বরের দৃষ্টি লাভ করত। যেমনটি ঈশ্বর ক্রমাগত একজন মানুষের সাথে থাকেন। তবে সে শরীর ও আত্মায় নিরাপদ থাকত এবং কোনো ক্ষতি হতো না: এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সে এই পৃথিবীর সমস্ত বর্ণনার চেয়েও বেশি শান্তি ও সান্ত্বনা পেত।]]
* '''ঈশ্বর চান যেন তাঁকে দেখা হোক এবং খোঁজা হোক: যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করা হয় এবং তাঁকে বিশ্বাস করা হয়।'''
* এটি আমি শারীরিকভাবে, কিছুটা অস্পষ্ট ও ঝাপসাভাবে দেখেছিলাম; এবং আমি আরও স্পষ্টভাবে দেখার জন্য শারীরিক দৃষ্টি কামনা করেছিলাম। আমার বিচারবুদ্ধিতে উত্তর পেলাম: "যদি ঈশ্বর তোমাকে আরও দেখাতে চান, তবে তিনিই হবেন তোমার আলো: তাঁর ছাড়া তোমার আর কিছুর প্রয়োজন নেই।" কারণ আমি তাঁকে খুঁজতে দেখেছি। <br> কারণ আমরা এখন এতটাই অন্ধ ও অবিবেচক যে, ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তায় নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ না করা পর্যন্ত আমরা তাঁকে খুঁজি না। এবং যখন আমরা কৃপাবশত তাঁর কিছুটা দর্শন পাই, তখন সেই একই কৃপা আমাদের আরও পরমানন্দময় দর্শনের জন্য প্রবল আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত করে। <br> এবং এভাবেই আমি তাঁকে দেখেছি এবং খুঁজেছি এবং আমি তাঁকে পেয়েছি, আমি তাঁকে চেয়েছি। এবং আমার দৃষ্টিতে এটিই আমাদের সাধারণ কাজ হওয়া উচিত।
* একবার আমার উপলব্ধি সমুদ্রের তলদেশের গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এবং সেখানে আমি সবুজ পাহাড় ও উপত্যকা দেখেছিলাম, যা শৈবাল ও নুড়ি পাথরে আবৃত বলে মনে হচ্ছিল। '''তখন আমি বুঝলাম: যদি কোনো মানুষ বা নারী বিশাল জলের নিচে থাকত, যদি সে ঈশ্বরের দৃষ্টি লাভ করত। যেমনটি ঈশ্বর ক্রমাগত একজন মানুষের সাথে থাকেন। তবে সে শরীর ও আত্মায় নিরাপদ থাকত এবং কোনো ক্ষতি হতো না: এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সে এই পৃথিবীর সমস্ত বর্ণনার চেয়েও বেশি শান্তি ও সান্ত্বনা পেত।''' কারণ তিনি চান যেন আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা তাঁকে ক্রমাগত দেখছি, যদিও আমাদের কাছে তা সামান্যই মনে হয়; এবং এই বিশ্বাসে তিনি আমাদের সর্বদা কৃপা লাভে সাহায্য করেন। কারণ তিনি চান যেন তাঁকে দেখা হোক এবং তাঁকে খোঁজা হোক। তিনি চান যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করা হোক এবং তাঁকে বিশ্বাস করা হোক।
* এবং এই দর্শনটি আমার উপলব্ধির জন্য একটি শিক্ষা ছিল যে, আত্মার ক্রমাগত অনুসন্ধান ঈশ্বরকে অত্যন্ত আনন্দিত করে। কারণ আত্মার পক্ষে খোঁজা, সহ্য করা এবং বিশ্বাস করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। এবং এটি সেই আত্মায় পবিত্র আত্মার দ্বারা সম্পন্ন হয় এবং খুঁজে পাওয়ার স্বচ্ছতা তাঁর বিশেষ কৃপা, যখন তা তাঁর ইচ্ছা। বিশ্বাস, আশা ও প্রেমের সাথে অনুসন্ধান আমাদের প্রভুকে আনন্দিত করে, এবং খুঁজে পাওয়া আত্মাকে আনন্দিত করে ও পরমানন্দে পূর্ণ করে। এবং এভাবেই আমি আমার উপলব্ধিতে শিখেছিলাম যে, যতক্ষণ তিনি আত্মাকে কষ্টে থাকতে দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসন্ধান করা দর্শন করার মতোই ভালো। ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা তাঁকে খুঁজি, তাঁকে দেখার জন্য, কারণ এর মাধ্যমেই তিনি যখন ইচ্ছা তাঁর বিশেষ কৃপায় নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ করবেন।
* এই দর্শনে দুটি কাজ দেখা যায়: একটি হলো অনুসন্ধান, অন্যটি হলো দর্শন বা অবলোকন।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমাদের অনুসন্ধানে তিনটি জিনিস থাকুক: প্রথমটি হলো, আমরা যেন অলসতা ছাড়াই আন্তরিকভাবে ও নিষ্ঠার সাথে খুঁজি, এবং তাঁর কৃপায় অযৌক্তিক বিষণ্ণতা ও বৃথা শোক ছাড়াই খুঁজি।''' দ্বিতীয়টি হলো, আমরা যেন তাঁর প্রেমের জন্য জীবনের শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে অটলভাবে অপেক্ষা করি, কোনো বিড়বিড় করা বা তাঁর বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছাড়াই। কারণ এটি মাত্র অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হবে। তৃতীয়টি হলো, আমরা যেন পূর্ণ নিশ্চিত বিশ্বাসে তাঁর ওপর দৃঢ়ভাবে নির্ভর করি। কারণ এটি তাঁর ইচ্ছা যে আমরা জানি, '''যারা তাঁকে ভালোবাসে তাদের সবার কাছে তিনি হঠাৎ ও পরমানন্দময়ভাবে আবির্ভূত হবেন।''' <br> কারণ তাঁর কাজ গোপনীয় এবং '''তিনি চান যেন তাঁকে অনুভব করা হয় এবং তাঁর আবির্ভাব হবে দ্রুত ও আকস্মিক এবং তিনি চান যেন তাঁকে বিশ্বাস করা হয়। কারণ তিনি অত্যন্ত কৃপাময় ও আপনজন। তিনি ধন্য হোন!'''
== তৃতীয় প্রকাশ (দ্য থার্ড রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১১ ===
[[File:Electricsheep-18467.jpg|thumb|পাপ কোনো কাজ নয়।]]
[[File:Universeglass.JPG|thumb|আমি দেখলাম যে তিনি সবকিছুর মধ্যে আছেন।]]
[[File:A Young Pulsar Shows its Hand.jpg|thumb|আমি আমার কাজ থেকে আমার হাত কখনও সরিয়ে নিই না এবং কখনও সরিয়ে নেব না, অন্তহীনভাবে: দেখো! আমি সবকিছুর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে পরিণতির জন্য নির্ধারণ করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রেম দিয়ে আমি সবকিছুর পরিচালনা করছি, যা দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টি করেছি।]]
* '''যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়: কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বরই সব করেন।'''
* '''পাপ কোনো কাজ নয়।'''
* এর পরে আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখলাম, অর্থাৎ আমার উপলব্ধিতে। যে দর্শনের মাধ্যমে আমি দেখলাম যে তিনি সবকিছুর মধ্যে বিদ্যমান।
* আমি শান্ত ভয়ের সাথে অবলোকন করলাম এবং বিবেচনা করলাম, দেখে ও জেনে ভাবলাম: "পাপ কী?" কারণ আমি সত্যই দেখলাম যে ঈশ্বর সব কাজই করেন, তা যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন। এবং আমি সত্যই দেখলাম যে কোনো কিছুই দৈবক্রমে বা আকস্মিকভাবে ঘটে না বরং সবকিছুই ঈশ্বরের পূর্বনির্ধারিত প্রজ্ঞা অনুযায়ী হয়। যদি মানুষের দৃষ্টিতে তা দৈবক্রিয়া বা আকস্মিক মনে হয়, তবে আমাদের অন্ধত্ব এবং অদূরদর্শিতাই তার কারণ। কারণ যে বিষয়গুলো সৃষ্টির আদি থেকে ঈশ্বরের দূরদর্শী প্রজ্ঞায় রয়েছে (যা তিনি ন্যায়পরায়ণতা, মহিমা ও ধারাবাহিকতার সাথে সর্বোত্তম পরিণতির দিকে নিয়ে যান), সেগুলো যখন আমাদের সামনে হঠাৎ উপস্থিত হয়, আমরা তা বুঝতে পারি না এবং '''এইভাবে আমাদের অন্ধত্ব ও অদূরদর্শিতার কারণে আমরা বলি: এগুলো দৈবক্রিয়া ও আকস্মিক ঘটনা। কিন্তু আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে তা নয়। <br> তাই আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে, যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়: কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বরই সব করেন।''' কারণ এই সময়ে প্রাণীদের কাজ দেখানো হয়নি বরং প্রাণীর মধ্যে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাজ দেখানো হয়েছে: কারণ তিনি সবকিছুর কেন্দ্রে আছেন এবং তিনি সবই করেন। এবং আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তিনি কোনো পাপ করেন না।
* '''এখানে আমি সত্যই দেখলাম যে পাপ কোনো কাজ নয়। কারণ এই সমস্ত কিছুর মধ্যে পাপ দেখানো হয়নি। এবং আমি এতে আর বিস্ময় প্রকাশ করতে চাইলাম না, বরং আমাদের প্রভুর দিকে তাকালাম যে তিনি কী দেখাতে চান। <br> এবং এভাবেই, সেই সময়ের জন্য যতটুকু সম্ভব ছিল, ঈশ্বরের কাজের ন্যায়পরায়ণতা আত্মার কাছে প্রকাশিত হয়েছিল।'''
* '''ন্যায়পরায়ণতার দুটি সুন্দর বৈশিষ্ট্য আছে: এটি সঠিক এবং এটি পূর্ণ।''' এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সমস্ত কাজ ঠিক তেমনই: এর জন্য দয়া বা কৃপার কাজের প্রয়োজন হয় না: কারণ সেগুলো সবই ন্যায়পরায়ণ। যার মধ্যে কোনো কিছুরই অভাব নেই।
* অন্য সময়ে তিনি পাপকে নগ্নভাবে দেখার জন্য একটি প্রকাশ দিয়েছিলেন, যেমনটা আমি বলব: যেখানে তিনি দয়া ও কৃপার কাজ ব্যবহার করেন। <br> এবং আমার উপলব্ধির জন্য এই দর্শনটি দেখানো হয়েছিল, কারণ আমাদের প্রভু চেয়েছিলেন যেন আত্মা সত্যভাবে তাঁর দর্শনের দিকে এবং সাধারণভাবে তাঁর সমস্ত কাজের দিকে ফিরে আসে। কারণ সেগুলো অত্যন্ত ভালো এবং তাঁর সমস্ত কাজ সহজ ও মধুর, এবং যে আত্মা মানুষের অন্ধ বিচার থেকে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সুন্দর ও মধুর বিচারের দিকে ফিরে আসে, তাকে তিনি পরম স্বস্তি দান করেন। '''কারণ মানুষ কিছু কাজকে ভালো এবং কিছু কাজকে মন্দ বলে গণ্য করে কিন্তু আমাদের প্রভু সেগুলোকে সেভাবে দেখেন না: কারণ প্রকৃতিতে যার অস্তিত্ব আছে তা যেমন ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্ট, তেমনি যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ঈশ্বরের কাজেরই বৈশিষ্ট্য।'''
* '''এটি বোঝা সহজ যে সর্বোত্তম কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয় এবং সর্বোত্তম কাজটি সবচেয়ে উচ্চতর কাজটি। যতটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়, ক্ষুদ্রতম কাজটিও ততটাই ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। এবং প্রতিটি জিনিস তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও শৃঙ্খলায় থাকে যা আমাদের প্রভু সৃষ্টির আদি থেকেই নির্ধারণ করেছেন। কারণ তিনি ছাড়া আর কোনো কর্তা নেই।''' <br> আমি নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে তিনি কোনো কিছুর উদ্দেশ্য কখনও পরিবর্তন করেন না, এবং অন্তহীনভাবে কখনও করবেনও না। কারণ সৃষ্টির আদি থেকে তাঁর ন্যায়পরায়ণ ব্যবস্থায় তাঁর কাছে অজানা কিছুই ছিল না। এবং তাই কোনো কিছু সৃষ্টির পূর্বেই সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে নির্ধারিত ছিল, যেভাবে তা অনন্তকাল ধরে টিকে থাকবে এবং কোনো কিছুই সেই বিন্দু থেকে বিচ্যুত হবে না।
* এই সবকিছু তিনি পরম পরমানন্দের সাথে দেখিয়েছিলেন, এভাবে ইঙ্গিত করে: '''''"দেখো! আমিই ঈশ্বর: দেখো! আমি সবকিছুর মধ্যে আছি: দেখো! আমিই সব কাজ করি: দেখো! আমি আমার কাজ থেকে আমার হাত কখনও সরিয়ে নিই না এবং অন্তহীনভাবে কখনও সরিয়ে নেব না: দেখো! আমি সবকিছুর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে পরিণতির জন্য নির্ধারণ করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রেম দিয়ে আমি সবকিছুর পরিচালনা করছি, যা দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টি করেছি। কোনো কিছু কীভাবে ভুল হতে পারে?"''''' <br> এই দর্শনে আত্মাকে অত্যন্ত শক্তিশালী, জ্ঞানী ও প্রেমময়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তখন আমি স্পষ্টভাবে দেখলাম যে, ঈশ্বরের প্রতি মহান শ্রদ্ধা ও আনন্দের সাথে সম্মতি জানানো আমার জন্য অপরিহার্য।
== চতুর্থ প্রকাশ (দ্য ফোর্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১২ ===
[[File:Кошелев Н. А. Сошествие во ад.jpg|thumb|দেখো এবং লক্ষ্য করো! তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য নরকের গভীরে নেমে গিয়েছিল, এর শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছিল এবং স্বর্গীয় দরবারের অন্তর্গত সেখানে থাকা সমস্ত আত্মাকে মুক্ত করেছিল।]]
* এর পরে আমি দেখতে পেলাম, চাবুক মারার দৃশ্যের মতো শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্ত ঝরছে, এইভাবে ধারালো আঘাতে মিষ্টি শরীরের চারপাশ থেকে কোমল মাংসে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এত প্রচুর পরিমাণে তপ্ত রক্ত ঝরছিল যে চামড়া বা ক্ষত কিছুই দেখা যাচ্ছিল না, যেন সবকিছুই কেবল রক্ত। এবং যখন এটি নিচে পড়ে যাওয়ার কথা ছিল, তখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল। <br> তা সত্ত্বেও, রক্তক্ষরণ কিছুক্ষণ অব্যাহত ছিল: যতক্ষণ তা দেখা এবং বিবেচনা করা সম্ভব ছিল।
* দেখো এবং লক্ষ্য করো! তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য নরকের গভীরে নেমে গিয়েছিল, এর শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছিল এবং স্বর্গীয় দরবারের অন্তর্গত সেখানে থাকা সমস্ত আত্মাকে মুক্ত করেছিল। তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য সমস্ত পৃথিবীকে প্লাবিত করেছে, এবং সদিচ্ছাসম্পন্ন সমস্ত প্রাণীকে পাপ থেকে ধৌত করার জন্য প্রস্তুত আছে—যারা অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতে আসবে। তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র শরীরে স্বর্গে আরোহণ করেছে, এবং সেখানে তিনি আমাদের জন্য পিতার কাছে রক্ত ঝরাচ্ছেন ও প্রার্থনা করছেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তিনি তা করবেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তা সর্বদা থাকবে।
== পঞ্চম প্রকাশ (দ্য ফিফথ রিভেলেশন) ==
[[File:Passion of Christ.jpg|thumb|আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র কষ্ট এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শত্রুকে পরাভূত করা হয়েছে।]]
=== অধ্যায় ১৩ ===
* '''আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র কষ্ট এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শত্রুকে পরাভূত করা হয়েছে।'''
* তিনি কোনো কণ্ঠস্বর বা ঠোঁট খোলা ছাড়াই আমার আত্মায় এই শব্দগুলো গঠন করলেন: "এর দ্বারাই শয়তান পরাভূত হলো।" আমাদের প্রভু এই কথাগুলো বলেছেন, তাঁর পবিত্র কষ্ট বা প্যাশনের কথা বুঝিয়ে, যা তিনি আগেই প্রদর্শন করেছিলেন। <br> এতে আমাদের প্রভু দেখালেন যে, তাঁর কষ্টই শয়তানের পরাজয়। ঈশ্বর দেখালেন যে, অবতার গ্রহণের আগে শয়তানের যে বিদ্বেষ ছিল, এখনও তার একই বিদ্বেষ রয়েছে। সে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে, কিন্তু সে দেখতে পায় যে পরিত্রাণপ্রাপ্ত সমস্ত আত্মা খ্রিস্টের মূল্যবান কষ্টের গুণের মাধ্যমে তার হাত থেকে গৌরবময়ভাবে মুক্তি পাচ্ছে। এটিই তার দুঃখ, এবং সে অত্যন্ত লজ্জিত। কারণ ঈশ্বর তাকে যা কিছু করার অনুমতি দেন, তার সবই আমাদের জন্য আনন্দে এবং তার জন্য লজ্জায় ও কষ্টে রূপান্তরিত হয়। ঈশ্বর যখন তাকে কাজ করার অনুমতি দেন, তখন সে যতটা কষ্ট পায়, কাজ না করলেও ততটাই পায়: কারণ সে কখনোই তার ইচ্ছামতো মন্দ কাজ করতে পারে না, কেননা তার সমস্ত শক্তি ঈশ্বরের হাতে ন্যস্ত।
* '''আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ক্রোধ থাকতে পারে না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু সর্বদা তাঁর নিজের মহিমা এবং পরিত্রাণপ্রাপ্ত সকলের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।''' শক্তি ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে তিনি তাদের প্রতিহত করেন, যারা বিদ্বেষ ও দুষ্টতা থেকে ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করার ষড়যন্ত্র করে। আমি আরও দেখেছি আমাদের প্রভু তার বিদ্বেষকে উপহাস করেন এবং তার শক্তিহীনতাকে তুচ্ছ করেন এবং তিনি চান যেন আমরাও তাই করি। এই দৃশ্য দেখে আমি উচ্চস্বরে হেসেছিলাম, আর আমার হাসির কারণে আমার চারপাশের লোকেরাও হেসেছিল, এবং তাদের সেই হাসি আমার জন্য আনন্দের কারণ হয়েছিল।
* কিন্তু আমি খ্রিস্টকে হাসতে দেখিনি। কারণ আমি বুঝেছিলাম যে, শয়তান পরাজিত হয়েছে। এই আনন্দে এবং ঈশ্বরকে কেন্দ্র করে আমরা নিজেদের সান্ত্বনার জন্য হাসতে পারি। আর যখন আমি তাঁকে শয়তানের বিদ্বেষকে উপহাস করতে দেখেছি, তা ছিল আমার উপলব্ধিকে আমাদের প্রভুর দিকে পরিচালিত করার মাধ্যমে অর্থাৎ, এটি ছিল সত্যের একটি অভ্যন্তরীণ প্রকাশ, যা তাঁর চেহারায় কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়েই হয়েছিল। কারণ, আমার দৃষ্টিতে, এটি ঈশ্বরের একটি গৌরবময় বৈশিষ্ট্য যা সর্বদা একই থাকে।
* এর পরে আমি এক গম্ভীরতায় নিমগ্ন হলাম এবং বললাম: "আমি তিনটি জিনিস দেখতে পাচ্ছি। আমি খেলা, উপহাস এবং গাম্ভীর্য দেখছি। আমি খেলা দেখছি, কারণ শয়তান পরাজিত। আমি উপহাস দেখছি, কারণ ঈশ্বর তাকে উপহাস করছেন এবং তাকে উপহাস করা হবে এবং আমি গাম্ভীর্য দেখছি, কারণ সে আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পরমানন্দময় কষ্ট ও মৃত্যুর মাধ্যমে পরাজিত হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল।"
== ষষ্ঠ প্রকাশ (দ্য সিক্সথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৪ ===
[[File:Langenzenn Stadtkirche - Fenster Wilhelm II 5.jpg|thumb|স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স তাঁর সামনে স্বীকৃত হবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।]]
* '''স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স তাঁর সামনে স্বীকৃত হবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।'''
* আমার উপলব্ধিকে স্বর্গের দিকে উন্নীত করা হয়েছিল, যেখানে আমি আমাদের প্রভুকে তাঁর নিজের বাড়ির একজন প্রভু হিসেবে দেখলাম, যিনি তাঁর সমস্ত প্রিয় সেবক ও বন্ধুদের এক রাজকীয় ভোজসভায় আহ্বান করেছেন। তখন আমি দেখলাম প্রভু তাঁর নিজের বাড়িতে কোনো নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করেননি বরং আমি দেখলাম তিনি তাঁর বাড়িতে রাজকীয়ভাবে রাজত্ব করছেন, আনন্দ ও উল্লাসে পূর্ণ করছেন, নিজেকে অন্তহীনভাবে আনন্দিত করছেন এবং তাঁর প্রিয় বন্ধুদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন, অত্যন্ত আপনভাবে ও সৌজন্যের সাথে, অন্তহীন প্রেমের বিস্ময়কর সুরের মাধ্যমে, তাঁর নিজস্ব সুন্দর ও আশীর্বাদপুষ্ট মুখমণ্ডলে। ঈশ্বরত্বের এই মহিমান্বিত মুখমণ্ডল স্বর্গকে আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ করে।
* ঈশ্বর স্বর্গে প্রত্যেক আত্মার জন্য আনন্দের তিনটি স্তর দেখিয়েছেন, যারা পৃথিবীতে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে সেবা করেছে। প্রথমটি হলো আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ, যা সে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পাবে। এই ধন্যবাদ এত উচ্চ এবং এত মহিমান্বিত যে আত্মার মনে হয় এটিই তাকে পূর্ণ করে দিয়েছে, যদিও আর কিছুই না থাকত। কারণ আমার মনে হয়েছিল, জীবিত সমস্ত মানুষের সহ্য করা সমস্ত যন্ত্রণা ও কষ্টও সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য নয়, যা একজন মানুষ পাবে যে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে সেবা করেছে। দ্বিতীয়টি হলো, স্বর্গে থাকা সমস্ত আশীর্বাদপুষ্ট সত্তা সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ দেখতে পাবে এবং তিনি স্বর্গের সবাইকে তার সেবার কথা জানিয়ে দেবেন। এখানে এই উদাহরণটি দেখানো হয়েছিল। একজন রাজা, যদি তিনি তাঁর সেবকদের ধন্যবাদ জানান, তবে তা তাদের জন্য অনেক সম্মানের এবং যদি তিনি তা পুরো রাজ্যে ঘোষণা করেন, তবে সেই সম্মান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তৃতীয়টি হলো, সেই সময়ে তা যেমন নতুন ও আনন্দদায়ক হিসেবে গৃহীত হয়, ঠিক তেমনই তা অন্তহীনভাবে স্থায়ী হবে।
* আমি দেখলাম যে এটি অত্যন্ত আপনভাবে ও মধুরভাবে দেখানো হয়েছিল এবং স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স জানা যাবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে। এবং বিশেষ করে যারা স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে তাদের যৌবন ঈশ্বরকে উৎসর্গ করে, তাদের অসামান্যভাবে পুরস্কৃত করা হয় এবং বিস্ময়করভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়। <br> কারণ আমি দেখেছি যে, যে কোনো সময় একজন পুরুষ বা নারী সত্যভাবে ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসে। এক দিনের সেবার জন্য এবং তার অটল ইচ্ছার জন্য সে এই তিন স্তরের আনন্দই লাভ করবে। এবং প্রেমময় আত্মা ঈশ্বরের এই সৌজন্য যত বেশি দেখতে পায়, সে তার জীবনের সমস্ত দিন তাঁকে সেবা করার জন্য তত বেশি আগ্রহী হয়।
== সপ্তম প্রকাশ (দ্য সেভেন্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৫ ===
* এর পরে তিনি আমার আত্মায় এক পরম আধ্যাত্মিক তুষ্টি দেখালেন। আমি চিরন্তন নিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ হয়েছিলাম, কোনো বেদনাদায়ক ভয় ছাড়াই প্রবলভাবে টিকে ছিলাম। এই অনুভূতিটি এতটাই আনন্দময় ও আধ্যাত্মিক ছিল যে আমি পূর্ণ শান্তি ও বিশ্রামে ছিলাম, পৃথিবীর কোনো কিছুই আমাকে দুঃখ দিতে পারত না। <br> এটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এবং আমি আবার আমার নিজের মধ্যে ফিরে এলাম জীবন সম্পর্কে ক্লান্তি, নিজের প্রতি বিতৃষ্ণায় পূর্ণ হলাম, বেঁচে থাকার ধৈর্য প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম। বিশ্বাস, আশা ও প্রেম ছাড়া আমার কোনো আরাম ছিল না এগুলো আমার সত্যই ছিল, কিন্তু উপলব্ধিতে ছিল খুব সামান্য। <br> এবং এর পরপরই আমাদের প্রভু আমাকে পুনরায় আত্মার আরাম ও বিশ্রাম দিলেন, এমন তৃপ্তি ও নিশ্চয়তা যা এতই পরমানন্দময় ও শক্তিশালী যে কোনো ভয়, দুঃখ বা শারীরিক যন্ত্রণা আমাকে বিচলিত করতে পারেনি। এবং তখন বেদনা আবার আমার উপলব্ধিতে ফিরে এল, তারপর আনন্দ ও তৃপ্তি। এইভাবে কয়েকবার আমার মনে হয় প্রায় বিশবার। আনন্দের সময়ে আমি সন্ত পলের সাথে বলতে পারতাম। "খ্রিস্টের প্রেম থেকে কিছুই আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না" এবং বেদনার সময়ে আমি পিতরের সাথে বলতে পারতাম: "প্রভু, আমাকে বাঁচাও: আমি বিনষ্ট হচ্ছি!"
* এই দর্শনটি আমার উপলব্ধিতে দেখাল যে, কিছু আত্মার জন্য এই অভিজ্ঞতাটি উপকারী। কখনো শান্তিতে থাকা, আবার কখনো ব্যর্থ হয়ে নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হওয়া। ঈশ্বর চান যেন আমরা জানি যে, তিনি আমাদের সুখে ও দুঃখে একইভাবে সুরক্ষিত রাখেন। মানুষের আত্মার মঙ্গলের জন্য, মানুষ কখনো কখনো নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়; যদিও পাপ সবসময় এর কারণ নয়। কারণ এই সময়ে আমি এমন কোনো পাপ করিনি যার জন্য আমাকে নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে—এটি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক। এই আশীর্বাদপূর্ণ অনুভূতি পাওয়ার মতো যোগ্যতাও আমার ছিল না। কিন্তু আমাদের প্রভু যখন ইচ্ছা করেন তখন মুক্তহস্তে দান করেন এবং কখনো কখনো আমাদের কষ্টের মধ্যে রাখেন। এবং উভয়ই একই প্রেমের প্রকাশ।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আরাম ও শান্তিতে থাকি। কারণ আনন্দ হলো অন্তহীন স্থায়ী, এবং বেদনা হলো ক্ষণস্থায়ী, যা পরিত্রাণপ্রাপ্তদের জন্য বিলীন হয়ে যাবে। তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা নয় যে আমরা বেদনার অনুভূতিগুলো অনুসরণ করে শোক ও বিলাপ করি বরং আমরা যেন হঠাৎ তা অতিক্রম করে চিরন্তন আনন্দে নিমগ্ন থাকি।'''
== অষ্টম প্রকাশ (দ্য এইটথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৬ ===
* এর পরে খ্রিস্ট তাঁর মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ের কষ্টের একটি অংশ দেখালেন। <br> আমি তাঁর মিষ্টি মুখমণ্ডল দেখলাম যা মৃত্যুপথযাত্রী ফ্যাকাশে রঙে শুষ্ক ও রক্তহীন হয়ে গিয়েছিল এবং পরে, আরও ফ্যাকাশে, মৃত, অবসন্ন এবং তারপর নীলচে মৃত রঙে পরিবর্তিত হলো এবং মাংস যখন আরও গভীরভাবে মৃত হয়ে গেল তখন তা আরও কালচে-নীল হলো। কারণ তাঁর কষ্ট আমার কাছে তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলে (বিশেষ করে ঠোঁটে) সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল। সেখানে আমি এই চারটি রঙ দেখেছি, যদিও আমার দৃষ্টিতে তা আগে সতেজ, লাল ও মনোরম ছিল। এই গভীর মৃত্যু দেখা এক করুণ পরিবর্তন ছিল।
=== অধ্যায় ১৭ ===
* এবং এই মৃত্যুর সময়ে খ্রিস্টের কথাগুলো আমার মনে এল: "আমি তৃষ্ণার্ত।" <br> কারণ আমি খ্রিস্টের মধ্যে দ্বৈত তৃষ্ণা দেখলাম: একটি শারীরিক। অন্যটি আধ্যাত্মিক...
* আমি চার ধরণের শুষ্কতা দেখলাম। প্রথমটি ছিল রক্তহীনতা; দ্বিতীয়টি ছিল তার পরবর্তী যন্ত্রণা। তৃতীয়টি বাতাসে ঝুলে থাকা, যেমন মানুষ কাপড় শুকানোর জন্য ঝুলায়। চতুর্থটি ছিল এই যে, শারীরিক সত্তা তরল চেয়েছিল কিন্তু তার সমস্ত কষ্ট ও দুর্দশায় তাঁকে কোনো সান্ত্বনা দেওয়া হয়নি। আহ! তাঁর যন্ত্রণা ছিল কঠিন ও কষ্টদায়ক, কিন্তু যখন আর্দ্রতা শেষ হয়ে গেল এবং শরীর শুষ্ক হতে শুরু করল, কুঁকড়ে গেল, তখন তা আরও বেশি কঠিন ও কষ্টদায়ক মনে হলো। <br> এই যন্ত্রণাগুলো তাঁর পবিত্র মাথায় দেখা গিয়েছিল: প্রথমটি মৃত্যুর দিকে নিয়ে গিয়েছিল, যখন কিছু আর্দ্রতা ছিল এবং অন্যটি, ধীর, কুঁকড়ে যাওয়া শুষ্কতা, বাইরের বাতাসের ঝাপটায়। যা আমাকে ভাবতে কষ্ট দেয় তার চেয়েও বেশি ঠান্ডায় তাঁকে শুকিয়েছিল ও কষ্ট দিয়েছিল। <br> এবং অন্যান্য যন্ত্রণা। যার জন্য আমি দেখলাম যে আমার বলা সব কথাই খুব সামান্য। কারণ তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। খ্রিস্টের যন্ত্রণার এই প্রকাশ আমাকে বেদনায় পূর্ণ করে দিয়েছিল। কারণ আমি জানতাম তিনি কেবল একবারই কষ্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা আমাকে দেখাতে চেয়েছিলেন এবং আমার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমাকে তা দিয়ে পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। এবং খ্রিস্টের যন্ত্রণার এই সময়ে তাঁর যন্ত্রণা ছাড়া আমি আর কিছুই অনুভব করিনি। তখন ভাবলাম। "আমি জানতাম না আমি কতটা কষ্ট চেয়েছিলাম।" এবং, এক হতভাগার মতো, অনুশোচনা করলাম, ভাবলাম। "যদি জানতাম তা কী হবে, তবে আমি তা চাইতাম না।" কারণ আমার মনে হয়েছিল আমার যন্ত্রণা শারীরিক মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। <br> আমি ভাবলাম "এর মতো আর কোনো যন্ত্রণা আছে কি?" এবং আমার উপলব্ধিতে উত্তর পেলাম "নরক হলো অন্য যন্ত্রণা। কারণ সেখানে হতাশা আছে। কিন্তু পরিত্রাণের দিকে নিয়ে যাওয়া সমস্ত যন্ত্রণার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা, তোমার প্রেমকে কষ্ট পেতে দেখা। আমার জীবন, আমার পরমানন্দ, আমার আনন্দ। তাঁকে কষ্ট পেতে দেখার চেয়ে বড় যন্ত্রণা আমার জন্য আর কী হতে পারে?" এখানে আমি সত্যই অনুভব করলাম যে আমি নিজেকে ছাড়িয়ে খ্রিস্টকে এতটাই বেশি ভালোবাসতাম যে, সেই শোকে যন্ত্রণার চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা সহ্য করা সম্ভব ছিল না।
=== অধ্যায় ১৮ ===
* এখানে আমি আমাদের লেডি, সেন্ট মেরির সহমর্মিতার একটি অংশ দেখলাম। কারণ খ্রিস্ট এবং তিনি প্রেমে এতটাই একীভূত ছিলেন যে তাঁর ভালোবাসার গভীরতাই তাঁর যন্ত্রণার গভীরতার কারণ ছিল। কারণ এতে আমি প্রকৃতির প্রেমের একটি সত্তা দেখেছি, যা কৃপা দ্বারা অব্যাহত থাকে। যা প্রাণীদের তাঁর প্রতি থাকে। এই প্রাকৃতিক ভালোবাসা তাঁর মিষ্টি মায়ের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। কারণ তিনি তাঁকে সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তাঁর যন্ত্রণা সবার চেয়ে বেশি ছিল। কারণ ভালোবাসা যত উচ্চ, শক্তিশালী ও মধুর হয়, ভালোবাসার পাত্রকে কষ্টে থাকতে দেখলে প্রেমিকের দুঃখ তত বেশি হয়। <br> এবং তাঁর সমস্ত শিষ্য ও প্রকৃত প্রেমিকরা তাদের নিজস্ব শারীরিক মৃত্যুর চেয়েও বেশি যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন। কারণ আমি আমার নিজস্ব অনুভূতির মাধ্যমে নিশ্চিত যে, তাদের মধ্যে অন্ততপক্ষে যে ছিল, সেও নিজেকে ছাড়িয়ে তাঁকে এতটা ভালোবাসত যা আমার বলা সমস্ত কথাকে অতিক্রম করে যায়।
* '''এখানে আমি আমার উপলব্ধিতে খ্রিস্ট এবং আমাদের মধ্যে এক মহান ঐক্য দেখলাম। কারণ যখন তিনি কষ্টে ছিলেন, আমরা কষ্টে ছিলাম।''' <br> এবং সমস্ত প্রাণী যারা যন্ত্রণা সহ্য করতে পারত, তারা তাঁর সাথে সহ্য করেছিল। অর্থাৎ, ঈশ্বর আমাদের সেবার জন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছেন। খ্রিস্টের মৃত্যুর সময়ে গ্রহ-নক্ষত্র ও পৃথিবী তাদের প্রকৃতিতে দুঃখের কারণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারণ তাদের প্রকৃতির সহজাত বৈশিষ্ট্যই ছিল তাঁকে তাদের ঈশ্বর হিসেবে জানা, যার ওপর তাদের সমস্ত গুণ দাঁড়িয়ে ছিল। যখন তিনি ব্যর্থ হলেন, তখন দয়া ও কৃতজ্ঞতার কারণে, তাঁর যন্ত্রণার শোকে তাদেরও তাঁর সাথে ব্যর্থ হতে হয়েছিল।
* ঈশ্বর, যিনি তাঁর মঙ্গলময়তার মাধ্যমে গ্রহ ও উপাদানগুলোকে আশীর্বাদপুষ্ট ও অভিশপ্ত মানুষের জন্য কাজ করান, সেই সময়ে তিনি উভয় থেকেই তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। একারণেই যারা তাঁকে চিনত না তারাও সেই সময়ে শোকে ছিল। <br> এইভাবে আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের জন্য তুচ্ছ করা হয়েছিল এবং আমরা সবাই তাঁর সাথে এইভাবে তুচ্ছ হয়ে আছি এবং থাকব যতক্ষণ না আমরা তাঁর পরমানন্দে পৌঁছাই: যেমনটি আমি পরে বলব।
=== অধ্যায় ১৯ ===
* আমি ক্রুশ থেকে মুখ ফেরাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সাহস করিনি। কারণ আমি ভালো করেই জানতাম যে যতক্ষণ আমি ক্রুশের দিকে তাকিয়ে আছি, ততক্ষণ আমি নিশ্চিতভাবে নিরাপদ। তাই আমি আমার আত্মাকে বিপদে ফেলতে রাজি হইনি। কারণ ক্রুশের বাইরে কোনো নিশ্চয়তা নেই, শয়তানের ভয়ে।
* এটি আমার কাছে সর্বদা একটি সান্ত্বনা ছিল যে, আমি তাঁর কৃপায়, এই সমস্ত কষ্ট ও দুঃখের সময়েও যিশুকে আমার স্বর্গ হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম এবং এটি আমার জন্য একটি শিক্ষা ছিল যে আমি যেন সর্বদা তাই করি: সুখে ও দুঃখে কেবল যিশুকে আমার স্বর্গ হিসেবে বেছে নিই।
* আমি সত্যই দেখলাম যে অভ্যন্তরীণ সত্তা বাহ্যিক সত্তার প্রভু ও অধিপতি এবং সে তার ইচ্ছার দ্বারা চালিত হয় না বা মনোযোগ দেয় না। বরং সমস্ত উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা আমাদের প্রভু যিশুর সাথে একীভূত হওয়ার জন্য নির্ধারিত। বাহ্যিক সত্তা যেন অভ্যন্তরীণ সত্তাকে সম্মতি জানাতে টানে, তা আমাকে দেখানো হয়নি বরং কৃপার দ্বারা অভ্যন্তরীণ সত্তা বাহ্যিককে টানে, এবং খ্রিস্টের গুণের মাধ্যমে উভয়ই অন্তহীন পরমানন্দে একীভূত হবে,এটিই দেখানো হয়েছিল।
=== অধ্যায় ২০ ===
* এইভাবে আমি আমাদের প্রভু যিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে অবসন্ন থাকতে দেখলাম। কারণ ঈশ্বরত্বের সাথে একীভূত হওয়া মানবসত্ত্বাকে ভালোবাসার জন্য সহ্য করার শক্তি দিয়েছিল, যা সমস্ত মানুষের সহ্যক্ষমতার চেয়েও বেশি। আমার মানে এই নয় যে তিনি মানুষের চেয়ে বেশি যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন বরং তিনি এমন যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন যা পরিত্রাণপ্রাপ্ত কোনো মানুষ শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত কল্পনাও করতে পারবে না, সর্বোচ্চ মহিমান্বিত রাজা হওয়া সত্ত্বেও লজ্জাজনক, অবজ্ঞাত ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু বরণ করার কারণে। কারণ '''যিনি সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে যোগ্য, তাঁকেই সবচেয়ে বেশি তুচ্ছ ও অত্যন্ত অবজ্ঞাত করা হয়েছিল।'''
* তিনি যতটা কোমল ও পবিত্র ছিলেন, ঠিক ততটাই তিনি সহ্য করার জন্য শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান ছিলেন। <br> এবং পরিত্রাণপ্রাপ্ত প্রতিটি মানুষের পাপের জন্য তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন এবং প্রতিটি মানুষের দুঃখ ও একাকীত্ব তিনি দেখেছিলেন, এবং প্রকৃতির নিয়ম ও ভালোবাসার কারণে তিনি দুঃখ পেয়েছিলেন। <br> কারণ যতদিন তিনি কষ্টভোগী ছিলেন ততদিন তিনি আমাদের জন্য দুঃখ পেয়েছেন এবং এখন তিনি পুনরুত্থিত এবং আর কষ্টভোগী নন, তবুও তিনি আমাদের সাথে কষ্ট সহ্য করেন।
=== অধ্যায় ২১ ===
* আমার উপলব্ধিতে ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো, আমরা যেন তাঁর পবিত্র কষ্টকে তিনভাবে দেখি। প্রথমটি হলো: ''তিনি যে কঠিন যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন,''অনুশোচনা ও সহমর্মিতার সাথে। এবং আমাদের প্রভু সেই সময়ে তা দেখিয়েছিলেন এবং তা দেখার জন্য আমাকে শক্তি ও কৃপা দিয়েছিলেন।
* তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলের পরিবর্তন আমার মুখকেও পরিবর্তন করল, এবং আমি যতটা সম্ভব আনন্দিত ও প্রফুল্ল ছিলাম। তখন আমাদের প্রভু আনন্দের সাথে আমার মনে করিয়ে দিলেন। "এখন তোমার কষ্ট বা দুঃখের কোনো চিহ্ন কি আছে?" এবং আমি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম।
* এখানে আমি সত্যই দেখলাম যে, যদি তিনি আমাদের তাঁর পরমানন্দময় চেহারা দেখান, তবে পৃথিবী বা অন্য কোনো স্থানে এমন কোনো যন্ত্রণা নেই যা আমাদের দুঃখিত করতে পারে বরং সবকিছুই আমাদের জন্য আনন্দ ও পরমানন্দ হবে।
* তিনি যে কষ্ট সহ্য করেন তার কারণ হলো, তিনি তাঁর মঙ্গলময়তার মাধ্যমে আমাদের তাঁর পরমানন্দে তাঁর চেয়েও উন্নত করতে চান এবং আমরা এখানে যেটুকু কষ্ট সহ্য করি, তার বিনিময়ে আমরা ঈশ্বরে এমন এক উচ্চ ও অন্তহীন জ্ঞান লাভ করব যা এই যন্ত্রণা ছাড়া আমাদের পক্ষে লাভ করা কখনোই সম্ভব ছিল না।
== নবম প্রকাশ (দ্য নাইনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২২ ===
* তখন আমাদের ভালো প্রভু যিশু খ্রিস্ট বললেন: "আমি তোমার জন্য কষ্ট পেয়েছি বলে তুমি কি খুব খুশি?" আমি বললাম: "হ্যাঁ, ভালো প্রভু, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই; হ্যাঁ, ভালো প্রভু, তুমি ধন্য হও।" <br> তখন যিশু, আমাদের দয়ালু প্রভু, বললেন: "যদি তুমি খুশি হও, তবে আমিও খুশি: এটি আমার কাছে এক আনন্দ, এক পরমানন্দ, এক অন্তহীন তৃপ্তি যে আমি তোমার জন্য কষ্ট সহ্য করেছি; এবং যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম।"
* আমার উপলব্ধি স্বর্গের দিকে উন্নীত হয়েছিল, এবং সেখানে আমি তিনটি স্বর্গ দেখলাম। এই দৃশ্য দেখে আমি অত্যন্ত বিস্মিত হলাম। এবং যদিও আমি তিনটি স্বর্গ দেখলাম এবং সবই খ্রিস্টের পবিত্র মানবসত্তার মধ্যে কোনোটাই বড় নয়, কোনোটাই ছোট নয়, কোনোটাই উঁচু নয়, কোনোটাই নিচু নয়, বরং পরমানন্দে সবই সমান।
* আমি যা বলছি তা যিশুর কাছে এতটাই বড় আনন্দ যে তিনি তাঁর সমস্ত কষ্ট, তাঁর কঠিন যন্ত্রণা এবং তাঁর নিষ্ঠুর ও লজ্জাজনক মৃত্যুকে তুচ্ছ মনে করেন। <br> এবং এই কথাগুলোতে: "যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম" আমি সত্যই দেখলাম যে, তিনি যতবার মরতে "পারতেন", ততবারই তিনি মরতে "চাইতেন" এবং তাঁর ভালোবাসা তাঁকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে দিত না যতক্ষণ না তিনি তা করতেন। এবং তিনি কতবার মরতে চাইতেন তা জানার জন্য আমি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করলাম। এবং সত্যই সেই সংখ্যা আমার বোধগম্যতা ও বুদ্ধিকে এতদূর ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে আমার যুক্তি তা বুঝতে পারেনি, বা পারতও না। এবং যখন তিনি এইভাবে বহুবার মারা গিয়েছিলেন, বা মারা যেতেন, তবুও তিনি প্রেমের খাতিরে তা তুচ্ছ করতেন। কারণ তাঁর ভালোবাসার তুলনায় সবকিছুই তাঁর কাছে সামান্য মনে হয়।
* কারণ খ্রিস্টের মিষ্টি মানবসত্তা মাত্র একবার কষ্ট সহ্য করতে পারলেও, তাঁর মধ্যকার মঙ্গলময়তা দানের ইচ্ছায় কখনও ক্ষান্ত হতে পারে না। প্রতিদিন তিনি একই কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকেন, যদি তা সম্ভব হতো। কারণ তিনি যদি বলতেন যে তিনি আমার ভালোবাসার জন্য নতুন স্বর্গ ও নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করবেন, তবে তা তুলনামূলকভাবে সামান্যই হতো। কারণ এটি প্রতিদিন করা যেত, কোনো কষ্ট ছাড়াই। কিন্তু আমার ভালোবাসার জন্য এতবার মরা যে যার সংখ্যা প্রাণীর যুক্তিকে ছাড়িয়ে যায়, আমার দৃষ্টিতে এটিই সর্বোচ্চ উপহার যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর মানুষের আত্মাকে দিতে পারেন। তখন তিনি বোঝাতে চান: "তোমার ভালোবাসার জন্য আমি যে সমস্ত কাজ সহজেই করতে পারি তা কেন করব না, যেহেতু তোমার ভালোবাসার জন্য আমি আমার কঠিন যন্ত্রণার তোয়াক্কা না করেই এতবার মরতে প্রস্তুত ছিলাম?"
* '''যে ভালোবাসা তাঁকে কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য করেছে, তা তাঁর সমস্ত যন্ত্রণাকে ছাড়িয়ে গেছে, যেমন স্বর্গ পৃথিবীকে ছাড়িয়ে থাকে।'''
* '''ভালোবাসার কোনো শুরু ছিল না, আছে, এবং শেষও থাকবে না।''' এই প্রেমের জন্যই তিনি খুব মিষ্টিভাবে এই কথাগুলো বলেছিলেন: "যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম।"
=== অধ্যায় ২৩ ===
* এই তিনটি শব্দে: "এটি একটি আনন্দ, একটি পরমানন্দ, আমার জন্য এক অন্তহীন তৃপ্তি" তিনটি স্বর্গ দেখানো হয়েছিল। এইভাবে: আনন্দের জন্য, আমি পিতার সন্তুষ্টি বুঝেছি। পরমানন্দের জন্য, পুত্রের মহিমা এবং অন্তহীন তৃপ্তির জন্য, পবিত্র আত্মা। পিতা সন্তুষ্ট, পুত্র মহিমান্বিত, পবিত্র আত্মা তৃপ্ত।
* '''খ্রিস্ট বললেন:''' "যদি তুমি সন্তুষ্ট হও, তবে আমিও সন্তুষ্ট। " যেন তিনি বললেন: "এটিই আমার জন্য যথেষ্ট আনন্দ ও তৃপ্তি, এবং আমার কষ্টের বিনিময়ে আমি তোমার কাছে আর কিছুই চাই না, কেবল এই যে আমি যেন তোমাকে পুরোপুরি খুশি করতে পারি।" <br> এবং এর মাধ্যমে তিনি এক আনন্দিত দাতার বৈশিষ্ট্য মনে করিয়ে দিলেন। একজন আনন্দিত দাতা তিনি যা দান করেন তার দিকে খুব কম মনোযোগ দেন বরং তাঁর সমস্ত ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য থাকে তাঁকে খুশি করা ও সান্ত্বনা দেওয়া, যাকে তিনি তা দান করছেন। এবং গ্রহীতা যদি সেই উপহারটিকে মহান ও কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করে, তবে সেই সৌজন্যপূর্ণ দাতা তাঁর সমস্ত ব্যয় ও কষ্টকে তুচ্ছ মনে করেন, কারণ তিনি তাঁর ভালোবাসার পাত্রকে খুশি ও সান্ত্বনা দিতে পেরেছেন।এই আনন্দ ও তৃপ্তির জন্য। এটি প্রাচুর্যের সাথে এবং পূর্ণভাবে দেখানো হয়েছিল।
== দশম প্রকাশ (দ্য টেনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৪ ===
* তখন এক আনন্দিত চেহারায় আমাদের প্রভু তাঁর পার্শ্বদেশের (যেখানে বর্শা বিদ্ধ হয়েছিল) দিকে তাকালেন এবং আনন্দ সহকারে অবলোকন করলেন। তাঁর মিষ্টি দৃষ্টি দিয়ে তিনি তাঁর সৃষ্টির উপলব্ধিকে সেই একই ক্ষতের মধ্য দিয়ে তাঁর পার্শ্বদেশের ভেতরে নিয়ে গেলেন। এবং তখন তিনি একটি সুন্দর, মনোরম এবং শান্তিতে ও প্রেমে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্ত মানবজাতির জন্য পর্যাপ্ত প্রশস্ত একটি স্থান দেখালেন। এবং তার সাথে তিনি তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্ত ও পবিত্র জলের কথা মনে করিয়ে দিলেন যা তিনি ভালোবাসার জন্য পুরোপুরি ঢেলে দিয়েছিলেন। এবং সেই মিষ্টি দৃষ্টির সাথে তিনি তাঁর পবিত্র হৃদয় দেখালেন যা দ্বিখণ্ডিত।
* এছাড়াও, আরও ভালো উপলব্ধির জন্য, এই পবিত্র শব্দটি বলা হয়েছিল: "দেখো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি! তাকাও এবং দেখো যে তোমার জন্য মরার আগেই আমি তোমাকে এতটাই ভালোবাসতাম যে আমি তোমার জন্য মরতে প্রস্তুত ছিলাম এবং এখন আমি তোমার জন্য মারা গেছি এবং যা আমি সহ্য করতে পারি তা স্বেচ্ছায় সহ্য করেছি। এবং এখন আমার সমস্ত তিক্ত যন্ত্রণা ও কঠিন কষ্ট আমার ও তোমার জন্য অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দে পরিণত হয়েছে। এখন কি এমন হতে পারে যে তুমি এমন কিছু প্রার্থনা করবে যা আমাকে খুশি করে, কিন্তু আমি তা তোমাকে সানন্দে দান করব না? কারণ আমার খুশি হলো তোমার পবিত্রতা এবং আমার সাথে তোমার অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দ।" <br> এই পবিত্র শব্দের অর্থ, আমি যতটা সহজভাবে বলতে পারি, তা হলো: "দেখো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।" আমাদের ভালো প্রভু আমাদের আনন্দিত ও প্রফুল্ল করার জন্যই এটি দেখিয়েছিলেন।
== একাদশ প্রকাশ (দ্য ইলেভেন্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৫ ===
* আনন্দ ও উল্লাসের সেই একই চেহারায় আমাদের ভালো প্রভু যিশু খ্রিস্ট ডান দিকে তাকালেন এবং আমার মনে করিয়ে দিলেন যে, তাঁর কষ্টের সময়ে আমাদের লেডি (মেরি) কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন এবং বললেন: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?"
* মোশির পরেই তিনিই সবচেয়ে পরমানন্দময় দৃশ্য। <br> কিন্তু এখানে আমি তাঁর শারীরিক উপস্থিতি দেখার জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে শিখিনি বরং তাঁর পবিত্র আত্মার গুণাবলী তাঁর সত্য, তাঁর প্রজ্ঞা, তাঁর দানশীলতা দেখতে শিখেছি। যার মাধ্যমে আমি নিজেকে চিনতে এবং শ্রদ্ধার সাথে আমার ঈশ্বরকে ভয় করতে পারি। এবং যখন আমাদের ভালো প্রভু এটি দেখালেন এবং বললেন: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?" আমি উত্তর দিলাম: "হ্যাঁ, ভালো প্রভু, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই। হ্যাঁ, ভালো প্রভু, যদি তোমার ইচ্ছা হয়।" আমি প্রায়শই এর জন্য প্রার্থনা করেছি এবং আমি ভেবেছিলাম আমি তাঁকে শারীরিক উপস্থিতিতে দেখব, কিন্তু আমি তাঁকে সেভাবে দেখিনি। এবং যিশু সেই কথায় আমাকে তাঁর আধ্যাত্মিক রূপ দেখিয়েছেন: আমি আগে তাঁকে যেমন ছোট ও সাধারণ হিসেবে দেখেছিলাম, তিনি তখন তাঁকে উচ্চ, মহৎ, গৌরবময় এবং সমস্ত প্রাণীর ঊর্ধ্বে তাঁর কাছে প্রিয় হিসেবে দেখালেন। <br> এবং তিনি চান যেন এটি জানা থাকে। যে সবাই যারা তাঁর মধ্যে আনন্দ পায়, তারা যেন তাঁর মধ্যেও আনন্দ পায় এবং সেই সন্তুষ্টিতে যা তাঁর মধ্যে আছে এবং যা তাঁর মধ্যে তাঁর আছে।
* এবং যিশুর এই কথায়: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?" আমার মনে হয়েছিল এটিই সবচেয়ে আনন্দদায়ক শব্দ যা তিনি তাঁর সম্পর্কে আমাকে বলতে পারতেন, সেই আধ্যাত্মিক দর্শনের সাথে যা তিনি আমাকে তাঁর সম্পর্কে দিয়েছিলেন। কারণ আমাদের প্রভু আমাদের লেডি সেন্ট মেরি ছাড়া বিশেষ কিছুই দেখাননি এবং তাঁকে তিনি তিনবার দেখিয়েছেন। প্রথমটি হলো যখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। দ্বিতীয়টি হলো যখন তিনি ক্রুশের নিচে কষ্টে ছিলেন। তৃতীয়টি হলো এখন যেমন তিনি সন্তুষ্টি, শ্রদ্ধা এবং আনন্দে আছেন।
== দ্বাদশ প্রকাশ (দ্য টুয়েলভথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৬ ===
[[File:Collage Auge im Himmel byLöser.jpg|thumb|আমিই সেই, যে এখানে তোমাকে নিজেকে দেখালাম।]]
* এর পরে আমাদের প্রভু নিজেকে আমার দৃষ্টিতে আগের চেয়ে বেশি মহিমান্বিত হিসেবে দেখালেন, যার মাধ্যমে আমি শিখলাম যে আমাদের আত্মা কখনোই বিশ্রাম পাবে না যতক্ষণ না তা তাঁর কাছে পৌঁছায়, এটা জেনে যে তিনিই আনন্দের পূর্ণতা, আপন ও সৌজন্যপূর্ণ, পরমানন্দময় এবং প্রকৃত জীবন। <br> আমাদের প্রভু যিশু বারবার বললেন: '''''আমিই সেই, আমিই সেই: আমিই সেই যে সর্বোচ্চ, আমিই সেই যাকে তুমি ভালোবাসো, আমিই সেই যাকে তুমি উপভোগ করো, আমিই সেই যার তুমি সেবা করো, আমিই সেই যার জন্য তুমি তৃষ্ণার্ত, আমিই সেই যাকে তুমি আকাঙ্ক্ষা করো, আমিই সেই যা তুমি বোঝো, আমিই সেই যা সবকিছু। আমিই সেই যা পবিত্র চার্চ তোমার কাছে প্রচার করে ও শিক্ষা দেয়, আমিই সেই যে এখানে তোমাকে নিজেকে দেখালাম।''''' শব্দগুলোর সংখ্যা আমার বুদ্ধি, সমস্ত উপলব্ধি এবং ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। এবং আমার দৃষ্টিতে এগুলোই সর্বোচ্চ। কারণ এর মধ্যে নিহিত আছে আমি বলে বোঝাতে পারব না কিন্তু তাদের প্রকাশের মধ্যে আমি যে আনন্দ দেখেছি, তা হৃদয় যা চাইতে পারে এবং আত্মা যা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে, তার সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই শব্দগুলো এখানে বিস্তারিত বলা হলো না। কিন্তু ঈশ্বর মানুষকে বোঝার ও ভালোবাসার যে কৃপা দেন, সেই অনুযায়ী প্রত্যেকে আমাদের প্রভুর অর্থে তা গ্রহণ করুক।
== ত্রয়োদশ প্রকাশ (দ্য থার্টিনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৭ ===
* '''পাপ প্রয়োজনীয়, কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে।'''
* এই সময়ের আগে আমার বোকামিতে আমি প্রায়শই ভাবতাম, ঈশ্বরের মহান দূরদর্শী প্রজ্ঞা দ্বারা কেন পাপের শুরুকে বাধা দেওয়া হয়নি। কারণ তখন, আমার মনে হয়েছিল, সবকিছুই ভালো হতো। এই অস্থিরতা অনেক বর্জনীয় ছিল কিন্তু তবুও আমি এর জন্য শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম, কোনো কারণ ও বিচার-বিবেচনা ছাড়াই। <br> কিন্তু যিশু, যিনি এই দর্শনে আমার প্রয়োজনীয় সবকিছু সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছিলেন, তিনি এই শব্দের দ্বারা উত্তর দিয়ে বললেন: '''''পাপ হওয়া প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে, এবং সবকিছুই ভালো হবে এবং সব ধরনের জিনিসই ভালো হবে।'''''
* এই নগ্ন শব্দ 'পাপে', আমাদের প্রভু আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, সাধারণভাবে, 'যা কিছু ভালো নয়' এবং সেই লজ্জাজনক অপমান ও সম্পূর্ণ তুচ্ছতা যা তিনি এই জীবনে আমাদের জন্য সহ্য করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যু এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির সমস্ত বেদনা ও কষ্ট, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক। কারণ আমরা সবাই আংশিকভাবে তুচ্ছ হয়েছি এবং আমাদের প্রভু যিশুকে অনুসরণ করে আমরা তুচ্ছ হব, যতক্ষণ না আমরা পুরোপুরি পবিত্র হই, অর্থাৎ, যতক্ষণ না আমরা আমাদের নশ্বর দেহ থেকে এবং আমাদের সমস্ত অভ্যন্তরীণ আসক্তি থেকে পুরোপুরি তুচ্ছ হই যা খুব একটা ভালো নয় এবং এর দর্শন, সমস্ত বেদনা যা কখনো ছিল বা কখনো থাকবে তার সাথে—এবং এই সমস্ত কিছুর সাথে আমি খ্রিস্টের প্যাশন বা কষ্টকে সবচেয়ে বড় এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে বেদনা হিসেবে বুঝি। '''এই সবকিছু একটি স্পর্শে দেখানো হয়েছিল এবং দ্রুত সান্ত্বনায় পরিণত হয়েছিল। কারণ আমাদের ভালো প্রভু চাননি যে আত্মা এই ভয়ানক দৃশ্য দেখে ভীত হোক। <br> কিন্তু আমি 'পাপ' দেখতে পাইনি: কারণ আমি বিশ্বাস করি এর কোনো ''সত্তা'' নেই এবং কোনো অস্তিত্বের অংশ নেই, কিংবা ব্যথার কারণ হওয়া ছাড়া এটি জানা সম্ভব নয়।''' <br> এবং এইভাবে বেদনা, ''এটি'' আমার দৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য কিছু একটা। কারণ এটি পবিত্র করে, এবং আমাদের নিজেদের চিনতে ও দয়া চাইতে বাধ্য করে। কারণ আমাদের প্রভুর প্যাশন এই সবকিছুর বিরুদ্ধে আমাদের সান্ত্বনা এবং তাঁর পবিত্র ইচ্ছাও তাই।
* এবং সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্তদের প্রতি আমাদের ভালো প্রভুর কোমল ভালোবাসার কারণে, তিনি তৎক্ষণাৎ ও মিষ্টিভাবে সান্ত্বনা দিয়ে ইঙ্গিত করেন। ''এটা সত্য যে পাপই এই সমস্ত যন্ত্রণার কারণ। কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে, এবং সবকিছুই ভালো হবে, এবং সব ধরনের জিনিসই ভালো হবে।'' <br> '''এই শব্দগুলো খুব কোমলভাবে বলা হয়েছিল, আমার প্রতি বা পরিত্রাণপ্রাপ্ত কারো প্রতি কোনো দোষারোপ না দেখিয়ে। তাহলে আমার পাপের জন্য ঈশ্বরকে দোষারোপ করা বা অবাক হওয়া হবে এক চরম অকৃতজ্ঞতা, যেহেতু তিনি আমাকে পাপের জন্য দোষারোপ করেন না। <br> এবং এই শব্দগুলোতে আমি ঈশ্বরের মধ্যে লুকানো একটি বিস্ময়কর উচ্চ রহস্য দেখেছি, যে রহস্য তিনি স্বর্গে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবেন: যা জানার পর আমরা সত্যই সেই কারণটি দেখতে পাব কেন তিনি পাপকে আসতে দিয়েছিলেন। সেই দর্শনে আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মধ্যে অন্তহীন আনন্দিত হব।'''
=== অধ্যায় ২৮ ===
* এইভাবে আমি দেখলাম কীভাবে খ্রিস্ট পাপের কারণের জন্য আমাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখান।
* এর উত্তরে আমাদের প্রভু এই ভাবে বললেন: '''''এর দ্বারা আমি স্বর্গে অন্তহীন পূজা এবং চিরন্তন আনন্দের একটি মহান জিনিস তৈরি করব।'''''
* হ্যাঁ, আমি এতদূর দেখলাম যে, আমাদের প্রভু তাঁর সেবকদের যন্ত্রণার জন্য আনন্দিত হন, দয়া ও সহমর্মিতার সাথে। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে তাঁর পরমানন্দে আনার জন্য, তিনি তার ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেন যা তাঁর দৃষ্টিতে কোনো দোষ নয়, যার মাধ্যমে তারা এই পৃথিবীতে দোষী ও ঘৃণিত হয়, উপহাসিত, বিদ্রূপিত এবং পরিত্যক্ত হয়। এবং তিনি এটি করেন সেই ক্ষতি রোধ করার জন্য যা তারা এই জঘন্য জীবনের জাঁকজমক ও বৃথা গৌরব থেকে পেতে পারত, এবং তাদের স্বর্গে আসার পথ প্রস্তুত করতে, এবং তাঁর অনন্ত পরমানন্দে তাদের উন্নীত করতে। কারণ তিনি বলেন: ''আমি আপনাদের বৃথা আসক্তি ও আপনাদের দুষ্ট অহংকার থেকে পুরোপুরি মুক্ত করব এবং এর পরে আমি আপনাদের একত্রিত করব, এবং আমাকে একীভূত করার মাধ্যমে আপনাদের নম্র, মৃদু, পবিত্র ও নিষ্পাপ করব।''
* '''প্রতিটি ভ্রাতৃত্বসুলভ সহমর্মিতা যা মানুষের তার সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি থাকে, প্রেমের সাথে, তা হলো তার মধ্যে খ্রিস্ট।'''
** পাঠান্তর: ''প্রতিটি দয়ালু সহমর্মিতা যা মানুষের তার সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি প্রেমের সাথে থাকে, তা হলো তার মধ্যে খ্রিস্ট।''
* '''সেই একই তুচ্ছতা যা [[খ্রিস্টের প্যাশন|তাঁর প্যাশনে]] দেখানো হয়েছিল, তা আবার এখানে এই সহমর্মিতায় দেখানো হয়েছে।''' যার মধ্যে আমাদের প্রভুর অর্থে দুই ধরনের উপলব্ধি ছিল। একটি ছিল সেই পরমানন্দ যেখানে আমাদের আনা হয়েছে, যাতে তিনি চান আমরা আনন্দিত হই। অন্যটি আমাদের যন্ত্রণায় সান্ত্বনার জন্য: কারণ তিনি চান আমরা যেন বুঝতে পারি যে তাঁর প্যাশনের গুণের মাধ্যমে সবকিছুই পূজা ও উপকারে পরিণত হবে, আমরা যেন বুঝতে পারি যে আমরা একা কষ্ট সহ্য করি না বরং তাঁর সাথে করি এবং তাঁকে আমাদের ভিত্তি হিসেবে দেখি এবং আমরা দেখি যে তাঁর যন্ত্রণা ও তাঁর তুচ্ছতা আমাদের সহ্য করার সমস্ত কিছুর চেয়ে অনেক বেশি, যা পুরোপুরি ভাবাও যায় না। <br> এর দর্শন আমাদের যন্ত্রণার অনুভূতিতে বিড়বিড় করা ও হতাশা থেকে বাঁচাবে। '''এবং যদি আমরা সত্যই দেখি যে আমাদের পাপ এর যোগ্য, তবুও তাঁর ভালোবাসা আমাদের ক্ষমা করে এবং তাঁর মহান সৌজন্যে তিনি আমাদের সমস্ত দোষ দূর করে দেন, এবং নিষ্পাপ ও নিষ্কলঙ্ক শিশুদের মতো করুণা ও দয়ার সাথে আমাদের দিকে তাকান।'''
=== অধ্যায় ২৯ ===
* কিন্তু এতে আমি সাধারণভাবে, অশান্তি ও শোকে জিনিসগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আমার অর্থে আমাদের প্রভুকে পূর্ণ ভয়ের সাথে এইভাবে বললাম: ''আহ! ভালো প্রভু, সবকিছু কীভাবে ভালো হতে পারে, পাপের কারণে সৃষ্টির যে মহান ক্ষতি হয়েছে তার জন্য?'' এবং এখানে আমি, যতটা সাহস করতাম, আরও খোলাখুলি ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম যাতে আমি এই বিষয়ে স্বস্তি পেতে পারি।
* তিনি শিখিয়েছিলেন যে আমার গৌরবময় সন্তুষ্টির দিকে তাকানো উচিত: কারণ এই সংশোধন ঈশ্বরের কাছে আদম্যের পাপের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দদায়ক এবং অতুলনীয়ভাবে বেশি পূজনীয়। তখন আমাদের পবিত্র প্রভু এই শিক্ষায় এইভাবে ইঙ্গিত করেন যে, আমাদের এই দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত: ''যেহেতু আমি সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভালো করেছি, তাই আমার ইচ্ছা যে তুমি এর দ্বারা জানো যে আমি যা কিছু কম, তা-ও ভালো করব।''
=== অধ্যায় ৩০ ===
* তিনি আমাকে দুটি অংশের উপলব্ধি দিয়েছিলেন। একটি অংশ হলো আমাদের ত্রাণকর্তা এবং আমাদের পরিত্রাণ। এই পবিত্র অংশটি উন্মুক্ত এবং পরিষ্কার এবং সুন্দর এবং উজ্জ্বল, এবং প্রাচুর্যময়,কারণ সমস্ত মানবজাতি যারা সদিচ্ছাসম্পন্ন, এবং যারা থাকবে, তারা এই অংশে অন্তর্ভুক্ত।
* এতে আমাদের প্রভুর ইচ্ছা যে আমরা ব্যস্ত থাকি, তাঁর মধ্যে আনন্দিত হয়ে। কারণ তিনি আমাদের মধ্যে আনন্দিত হন। আমরা যত বেশি প্রাচুর্যের সাথে এটি গ্রহণ করি, শ্রদ্ধা ও নম্রতার সাথে, আমরা তাঁর কাছ থেকে তত বেশি ধন্যবাদ অর্জন করি এবং নিজের জন্য তত বেশি গতি বৃদ্ধি করি, এইভাবে আমরা বলতে পারি। আমাদের প্রভুর 'আমাদের' অংশে আনন্দিত হয়ে। অন্যটি আমাদের থেকে লুকানো এবং বন্ধ করা: অর্থাৎ, আমাদের পরিত্রাণের বাইরের সবকিছু।
* '''স্বর্গে যে সাধুরা আছেন, তারা আমাদের প্রভুর ইচ্ছার বাইরে কিছু জানতে চান না এবং তাদের ভালোবাসা ও ইচ্ছা আমাদের প্রভুর ইচ্ছা অনুযায়ী শাসিত হয় এবং এইভাবে আমাদের ইচ্ছা করা উচিত, তাদের মতো। তখন আমরা আমাদের প্রভুর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাইব না বা আকাঙ্ক্ষা করব না, যেমন তারা করে। কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা সবাই এক।'''
=== অধ্যায় ৩১ ===
* এবং এইভাবে আমাদের ভালো প্রভু আমার সমস্ত প্রশ্ন এবং সন্দেহের উত্তর দিয়েছিলেন, খুব সান্ত্বনাদায়কভাবে বলে। '''''আমি সবকিছু ভালো করতে পারি, আমি সবকিছু ভালো করতে জানি, আমি চাই সবকিছু ভালো করতে, এবং আমি সবকিছু ভালো করব এবং তুমি নিজেই দেখবে যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'''''
* এইভাবে খ্রিস্টের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার অবসান ঘটবে। কারণ এটিই খ্রিস্টের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা: সেই ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা যা স্থায়ী হয়, এবং চিরকাল থাকবে, যতক্ষণ না আমরা বিচার দিবসে সেই দর্শন দেখি। কারণ আমরা যারা পরিত্রাণ পাব এবং যারা হব খ্রিস্টের আনন্দ ও তাঁর পরমানন্দ, কেউ কেউ এখনো এখানে আছি এবং কেউ কেউ আসার অপেক্ষায়, এবং সেই দিন পর্যন্ত কেউ কেউ থাকবে। অতএব এটি তাঁর তৃষ্ণা ও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, আমাদের সবাইকে তাঁর পরমানন্দে তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পাওয়ার জন্য,আমার দৃষ্টিতে। কারণ এখন আমরা তাঁর মধ্যে ততটা সম্পূর্ণ নই যতটা আমরা তখন হব।
* সত্যই যেমন ঈশ্বরের মধ্যে করুণা ও দয়ার একটি বৈশিষ্ট্য আছে, তেমনই সত্যই ঈশ্বরের মধ্যে তৃষ্ণা ও আকাঙ্ক্ষার একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এবং খ্রিস্টের এই আকাঙ্ক্ষার গুণের থেকে, 'আমাদের' তাঁর প্রতি আবার আকাঙ্ক্ষা করতে হবে: যা ছাড়া কোনো আত্মা স্বর্গে আসে না। এবং আকাঙ্ক্ষা ও তৃষ্ণার এই বৈশিষ্ট্য ঈশ্বরের অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আসে, ঠিক যেমন করুণার বৈশিষ্ট্য তাঁর অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আসে। এবং যদিও আমার দৃষ্টিতে আকাঙ্ক্ষা ও করুণা দুটি আলাদা বৈশিষ্ট্য, তবুও এটি আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার মূল বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে: যা হলো 'যতদিন আমরা প্রয়োজনে থাকি তাঁর মধ্যে ইচ্ছা থাকা', আমাদের তাঁর পরমানন্দের দিকে টেনে নেওয়া। এবং এই সবকিছু সহমর্মিতার প্রদর্শনীতে দেখা গিয়েছিল: কারণ তা বিচার দিবসে শেষ হবে। <br> এইভাবে তিনি আমাদের প্রতি করুণা ও সহমর্মিতা রাখেন, এবং আমাদের পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাঁর আছে; কিন্তু তাঁর প্রজ্ঞা ও তাঁর ভালোবাসা সেরা সময় পর্যন্ত শেষ হতে দেয় না।
=== অধ্যায় ৩২ ===
* একবার আমাদের ভালো প্রভু বলেছিলেন: ''সবকিছু ভালো হবে'' এবং অন্য সময় তিনি বলেছিলেন: ''তুমি নিজেই দেখবে যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে''এবং এই দুটিতে আত্মা আলাদা আলাদা উপলব্ধি নিয়েছিল। একটি ছিল যে, তিনি চান আমরা জানি যে তিনি কেবল মহৎ ও মহান জিনিসের দিকেই মনোযোগ দেন না বরং ছোট ও সামান্য, নিচু ও সাধারণ, একের ও অপরের দিকেও। এবং তাই তিনি বোঝান যখন তিনি বলেন: ''সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' কারণ তিনি চান আমরা জানি যে ক্ষুদ্রতম জিনিসটিও বিস্মৃত হবে না।
* আরেকটি উপলব্ধি হলো এই যে, আমাদের দৃষ্টিতে এমন খারাপ কাজ করা হয়, এবং এত বড় ক্ষতি হয় যে আমাদের কাছে মনে হয় যে ভালো পরিণামে আসা অসম্ভব। এবং এর দিকে আমরা তাকাই, শোক ও দুঃখ করি, যাতে আমরা ঈশ্বরের পরমানন্দময় দর্শনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে পারি না যেমন আমাদের করা উচিত। এবং এর কারণ হলো আমাদের যুক্তির ব্যবহার এখন এতটাই অন্ধ, এতটাই নিচু, এবং এতটাই সাধারণ যে আমরা সেই মহান বিস্ময়কর প্রজ্ঞা, পরমানন্দময় ত্রিত্বের শক্তি ও মঙ্গলময়তাকে জানতে পারি না। এবং এইভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন যখন তিনি বলেন: ''তুমি নিজেই দেখবে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' যেন তিনি বললেন: ''এখন বিশ্বাস ও আস্থার সাথে মনোযোগ দাও এবং শেষ মুহূর্তে তুমি সত্যই তা আনন্দের পূর্ণতায় দেখতে পাবে।''
* এইভাবে এই একই পাঁচটি শব্দে: ''আমি সবকিছু ভালো করতে পারি'', ইত্যাদি, আমি আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সমস্ত কাজের একটি শক্তিশালী সান্ত্বনা বুঝি যা এখনো আসা বাকি। একটি কাজ আছে যা পবিত্র ত্রিত্ব শেষ দিনে করবে, আমার দৃষ্টিতে, এবং কখন সেই কাজ হবে, এবং কীভাবে তা করা হবে, তা খ্রিস্টের নিচের সমস্ত সৃষ্টির অজানা, এবং তা না হওয়া পর্যন্ত অজানা থাকবে।
* তিনি যে চান আমরা জানি, তার কারণ হলো তিনি চান আমাদের আত্মায় আরও স্বস্তি আসুক এবং প্রেমে শান্তিতে স্থাপন করা হোক সমস্ত অশান্ত জিনিসের দর্শন ছেড়ে যা আমাদের তাঁর প্রকৃত উপভোগ থেকে বিরত রাখতে পারে। এটিই সেই মহান কাজ যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর সৃষ্টির আদি থেকেই নির্ধারণ করেছেন, তাঁর পবিত্র বক্ষে সংরক্ষিত ও লুকানো, কেবল তাঁরই পরিচিত: যার দ্বারা তিনি সবকিছু ভালো করবেন। <br> কারণ যেমন পবিত্র ত্রিত্ব শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, ঠিক তেমনই সেই একই পবিত্র ত্রিত্ব যা ভালো নয় তা ভালো করবেন।
* আমাদের বিশ্বাস ঈশ্বরের কথার ওপর ভিত্তি করে, এবং এটি আমাদের বিশ্বাসের অংশ যে আমরা বিশ্বাস করি ঈশ্বরের কথা সব বিষয়ে রক্ষিত হবে। এবং আমাদের বিশ্বাসের একটি বিন্দু হলো যে অনেক সৃষ্টি দণ্ডিত হবে: যেমন দেবদূত যারা অহংকারের জন্য স্বর্গ থেকে পড়ে গিয়েছিল, যারা এখন শয়তান এবং পৃথিবীতে মানুষ যারা পবিত্র চার্চের বিশ্বাস ছাড়া মারা যায়: অর্থাৎ, তারা যারা বিধর্মী মানুষ এবং মানুষ যারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছে কিন্তু অখ্রিস্টীয় জীবন যাপন করে এবং এভাবে প্রেমহীন হয়ে মারা যায়: এদের সবাই নরকে চিরকাল দণ্ডিত হবে, যেমন পবিত্র চার্চ আমাকে বিশ্বাস করতে শেখায়। এবং এই সবকিছু দাঁড়িয়ে, আমার মনে হয়েছিল এটা অসম্ভব যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে, যেমন আমাদের প্রভু একই সময়ে দেখিয়েছিলেন। <br> এবং এর উত্তরে আমার প্রভু ঈশ্বরের প্রদর্শনীতে অন্য কোনো উত্তর ছিল না কিন্তু এটি: '''''যা তোমার কাছে অসম্ভব তা আমার কাছে অসম্ভব নয়: আমি সব বিষয়ে আমার কথা রক্ষা করব এবং আমি সবকিছু ভালো করব।''''' এইভাবে আমি শিক্ষিত হয়েছিলাম, ঈশ্বরের কৃপায়, যে আমি অটলভাবে বিশ্বাসের মধ্যে নিজেকে ধরে রাখব যেমনটি আমি আগে বুঝেছিলাম, তার সাথে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করব যে সবকিছু ভালো হবে, যেমন আমাদের প্রভু একই সময়ে দেখিয়েছিলেন। <br> '''কারণ এটিই সেই মহান কাজ যা আমাদের প্রভু করবেন, যে কাজে তিনি তাঁর কথা রক্ষা করবেন এবং তিনি যা ভালো নয় তা ভালো করবেন। কীভাবে তা করা হবে তা খ্রিস্টের নিচে কোনো সৃষ্টির জানা নেই, কিংবা তা না হওয়া পর্যন্ত জানবে না। এই সময়ে আমাদের প্রভুর অর্থের যে উপলব্ধি আমি নিয়েছিলাম তার অনুযায়ী।'''
=== অধ্যায় ৩৩ ===
* এবং তবুও এতে আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম, যতটা সাহস করতাম, যে আমি নরক ও পবিত্র স্থানের পূর্ণ দর্শন পেতে পারি। কিন্তু বিশ্বাসের অন্তর্গত কোনো কিছুর প্রমাণ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না: কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতাম যে নরক ও পবিত্র স্থান সেই একই উদ্দেশ্যে যার জন্য পবিত্র চার্চ শেখায়, কিন্তু আমার উদ্দেশ্য ছিল আমি যেন দেখতে পারি, আমার বিশ্বাসের অন্তর্গত সমস্ত বিষয়ে শেখার জন্য: যার দ্বারা আমি ঈশ্বরের উপাসনায় এবং আমার লাভের জন্য আরও বেশি বাঁচতে পারি। <br> কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষার জন্য, আমি এর কিছুই করতে পারিনি, কেবল প্রথম প্রদর্শনীতে যা আগে বলা হয়েছে, যেখানে আমি দেখেছিলাম যে শয়তান ঈশ্বর কর্তৃক তিরস্কৃত এবং চিরকাল দণ্ডিত। সেই দর্শনে আমি সমস্ত সৃষ্টির জন্য বুঝেছিলাম যারা এই জীবনে শয়তানের অবস্থার এবং তাতে শেষ করে, তাদের বিষয়ে ঈশ্বর ও তাঁর সমস্ত পবিত্রদের সামনে শয়তানের চেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয় না, যদিও তারা মানবজাতির,তারা খ্রিস্টান হোক বা না হোক।
* ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা তাঁর করা সমস্ত কাজের প্রতি মহান দৃষ্টি রাখি, কিন্তু সর্বদা আমাদের কী কাজ হবে তার দর্শন ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন।
* '''আসুন আমরা আমাদের ভাইদের মতো হতে আকাঙ্ক্ষা করি যারা স্বর্গে সাধু, যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চায় না এবং যারা লুকানো ও দেখানো উভয় বিষয়েই সন্তুষ্ট। কারণ আমি আমাদের প্রভুর শিক্ষায় সত্যই দেখেছি, এই বিষয়ে বা অন্য যেকোনো বিষয়ে তাঁর গোপন পরামর্শ জানার জন্য আমরা যত বেশি ব্যস্ত হব, ততই আমরা তা জানার থেকে দূরে থাকব।'''
=== অধ্যায় ৩৪ ===
[[File:VY Canis Majoris.jpg|thumb|এই গোপন জিনিসগুলো তিনি চান আমরা 'লুকানো' হিসেবে জানি যতক্ষণ না সেই সময় আসে যখন তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে সেগুলো দেখাবেন।]]
[[File:Cross on Mount Royal.JPG|thumb|কারণ যা কিছু আমাদের শেখা এবং জানা দরকারী, খুব সৌজন্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রভু আমাদের দেখাবেন।]]
* '''আমাদের প্রভু ঈশ্বর দুই ধরনের গোপন জিনিস দেখিয়েছেন। একটি হলো এই মহান গোপনীয়তা এর সাথে যুক্ত সমস্ত গোপন বিন্দুর সাথে: এবং এই গোপন জিনিসগুলো তিনি চান আমরা 'লুকানো' হিসেবে জানি যতক্ষণ না সেই সময় আসে যখন তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে সেগুলো দেখাবেন।''' অন্যগুলো হলো গোপন জিনিস যা তিনি উন্মুক্ত এবং আমাদের কাছে জ্ঞাত করতে চান। কারণ তিনি চেয়েছিলেন আমরা যেন বুঝতে পারি যে এটি তাঁর ইচ্ছা যে আমাদের তা জানা উচিত। সেগুলো আমাদের কাছে গোপন কেবল এই জন্য নয় যে তিনি চান সেগুলো আমাদের কাছে গোপন থাকুক বরং সেগুলো আমাদের অন্ধত্ব এবং আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমাদের কাছে গোপন। এবং তার জন্য '''তিনি মহান করুণা অনুভব করেন, এবং তাই তিনি নিজেই সেগুলো আমাদের কাছে আরও উন্মুক্ত করবেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পারি এবং ভালোবাসতে পারি এবং তাঁর সাথে লেগে থাকতে পারি। কারণ যা কিছু আমাদের শেখা এবং জানা দরকারী, খুব সৌজন্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রভু আমাদের দেখাবেন।'''
* '''তিনিই ভিত্তি, তিনিই সত্তা, তিনিই শিক্ষা, তিনিই শিক্ষক, তিনিই শেষ, তিনিই সেই পুরস্কার যার জন্য প্রতিটি দয়ালু আত্মা পরিশ্রম করে।''' <br> এবং ''এটি'' জানা যায়, এবং প্রতিটি আত্মার কাছে জানা যাবে যার কাছে পবিত্র আত্মা এটি ঘোষণা করে। এবং আমি সত্যই আশা করি যে তারা যারা এটি খোঁজে, তাদের তিনি সফল করবেন: কারণ তারা ঈশ্বরকে খোঁজে। <br> এই সবকিছু যা আমি এখন বলেছি, এবং আরও যা আমি পরে বলব, পাপের বিরুদ্ধে সান্ত্বনাদায়ক। '''কারণ তৃতীয় প্রদর্শনীতে যখন আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বর যা করা হয় তা সবই করেন, আমি কোনো পাপ দেখিনি: এবং তখন আমি দেখেছিলাম যে সবকিছু ভালো ''আছে''। কিন্তু যখন ঈশ্বর আমাকে পাপের জন্য দেখিয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''
=== অধ্যায় ৩৫ ===
* যখন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান তাঁর মঙ্গলময়তা সম্পর্কে এত প্রাচুর্যপূর্ণভাবে এবং আনন্দের সাথে দেখিয়েছিলেন, আমি নির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছিলাম একটি নির্দিষ্ট সৃষ্টি সম্পর্কে যাকে আমি ভালোবাসতাম, যদি তা ভালো জীবনে অব্যাহত থাকে, যা আমি ঈশ্বরের কৃপায় আশা করেছিলাম শুরু হয়েছে। এবং একটি 'বিশেষ' প্রদর্শনীর এই আকাঙ্ক্ষায়, মনে হয়েছিল যে আমি নিজেকে বাধা দিয়েছি: কারণ এই সময়ে আমি শিক্ষিত ছিলাম না। এবং তখন আমার যুক্তিতে আমাকে উত্তর দেওয়া হয়েছিল, যেন একজন বন্ধুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর দ্বারা: ''এটি সাধারণভাবে গ্রহণ করো, এবং প্রভু ঈশ্বরের করুণার দিকে তাকাও যেমন তিনি তোমাকে দেখান: কারণ ঈশ্বরের মধ্যে তাঁকে দেখা যেকোনো বিশেষ জিনিসের চেয়ে বেশি পূজাযোগ্য।'' এবং তার সাথে আমি শিখেছিলাম যে কোনো বিশেষ জিনিসের আনন্দ নেওয়ার চেয়ে সাধারণভাবে সবকিছু জানা ঈশ্বরের কাছে বেশি পূজাযোগ্য। এবং যদি আমি এই শিক্ষা অনুযায়ী বিজ্ঞতার সাথে কাজ করি, তবে আমার কেবল কোনো বিশেষ জিনিসের জন্য আনন্দিত হওয়া উচিত নয়, বরং আমার কোনো ধরনের জিনিসের জন্য খুব বেশি কষ্ট পাওয়া উচিত নয়: কারণ ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''কারণ আনন্দের পূর্ণতা হলো ঈশ্বরকে সবকিছুর মধ্যে দেখা: কারণ একই পবিত্র শক্তি, প্রজ্ঞা এবং ভালোবাসা দিয়ে, যা দিয়ে তিনি সবকিছু তৈরি করেছেন, সেই একই উদ্দেশ্যে আমাদের ভালো প্রভু এটি ক্রমাগত পরিচালনা করেন, এবং তার দিকে তিনি নিজেই এটি আনবেন এবং যখন সময় হবে আমরা তা দেখতে পাব।'''
* '''আমাদের প্রভু যা কিছু করেন তা ন্যায়পরায়ণ এবং যা তিনি সহ্য করেন তা পূজাযোগ্য এবং এই দুটির মধ্যে ভালো ও মন্দ অন্তর্ভুক্ত কারণ যা ভালো আমাদের প্রভু তা করেন, এবং যা মন্দ আমাদের প্রভু তা সহ্য করেন। আমি বলছি না যে কোনো মন্দ পূজাযোগ্য, কিন্তু আমি বলছি আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সহনশীলতা পূজাযোগ্য। যার দ্বারা তাঁর মঙ্গলময়তা জানা যাবে, অন্তহীনভাবে, তাঁর বিস্ময়কর নম্রতা ও মৃদুতাতে, দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা।'''
* 'ন্যায়পরায়ণতা' হলো সেই জিনিস যা এতটাই ভালো যে তা তার চেয়ে ভালো হতে পারে না। কারণ ঈশ্বর নিজেই প্রকৃত ন্যায়পরায়ণতা, এবং তাঁর সমস্ত কাজ ন্যায়পরায়ণভাবে করা হয় যেমন সেগুলো সৃষ্টির আদি থেকে তাঁর মহান শক্তি, তাঁর মহান প্রজ্ঞা, তাঁর মহান মঙ্গলময়তা দ্বারা নির্ধারিত। এবং ঠিক যেমন তিনি সেরাটির জন্য নির্ধারণ করেছেন, ঠিক তেমন তিনি ক্রমাগত কাজ করেন, এবং এটিকে সেই একই পরিণতির দিকে নিয়ে যান এবং তিনি সর্বদা নিজের সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে পূর্ণ সন্তুষ্ট। <br> এবং এই পরমানন্দময় চুক্তির দর্শন সেই আত্মার জন্য খুব মিষ্টি যে কৃপার দ্বারা দেখে।
* 'করুণা' হলো এমন একটি কাজ যা ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা থেকে আসে, এবং এটি কাজ করার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হবে, যেমন পাপকে ন্যায়পরায়ণ আত্মাকে অনুসরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এবং যখন পাপের অনুসরণ করার আর কোনো অনুমতি থাকে না, তখন করুণার কাজ শেষ হবে, এবং তখন সবকিছু ন্যায়পরায়ণতায় আনা হবে এবং তাতে চিরকাল দাঁড়াবে। <br> এবং তাঁর সহনশীলতায় আমরা পড়ে যাই এবং তাঁর শক্তি ও প্রজ্ঞা সহ তাঁর পরমানন্দময় ভালোবাসায় আমরা সংরক্ষিত থাকি; এবং দয়া ও কৃপার দ্বারা আমরা বহুবিধ আনন্দের দিকে উন্নীত হই। <br> এইভাবে ন্যায়পরায়ণতা ও করুণায় তিনি পরিচিত ও ভালোবাসার পাত্র হতে চান, এখন এবং চিরকাল। এবং যে আত্মা কৃপার মধ্যে বিজ্ঞতার সাথে এটির দিকে তাকায়, তা উভয়ের সাথে খুব সন্তুষ্ট থাকে এবং অন্তহীনভাবে আনন্দিত হয়।
=== অধ্যায় ৩৬ ===
* '''আমাদের প্রভু ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে একটি কাজ করা হবে, এবং তিনি নিজেই তা করবেন, এবং আমি পাপ ছাড়া কিছুই করব না এবং আমার পাপ তাঁর মঙ্গলময় কাজকে বাধা দেবে না।'''
* এই কাজটি এখানে শুরু হবে, এবং এটি ঈশ্বরের কাছে পূজাযোগ্য এবং পৃথিবীতে তাঁর প্রেমীদের কাছে প্রাচুর্যপূর্ণভাবে লাভজনক হবে; এবং আমরা যখন স্বর্গে পৌঁছাব তখন আমরা এটি বিস্ময়কর আনন্দে দেখব, এবং এটি শেষ দিন পর্যন্ত এইভাবে কাজ করবে এবং এর পূজা ও পরমানন্দ ঈশ্বরের সামনে এবং তাঁর সমস্ত পবিত্রদের সামনে চিরকাল থাকবে। <br> এইভাবে আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে এই কাজটি দেখা ও বোঝা গিয়েছিল। এবং তিনি কেন এটি দেখিয়েছিলেন তার কারণ হলো আমাদের তাঁর মধ্যে এবং তাঁর সমস্ত কাজের মধ্যে আনন্দিত করা।
* কিন্তু এই কাজটি কী হবে তা আমার থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। <br> এবং এতে আমি দেখলাম যে তিনি চান না যে আমরা যে জিনিসগুলো তিনি দেখান তা জানার জন্য ভয় করি: তিনি সেগুলো দেখান কারণ তিনি চান আমরা সেগুলো জানি। যে জানার মাধ্যমে তিনি চান আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁর মধ্যে আনন্দ পাই এবং অন্তহীনভাবে উপভোগ করি। আমাদের প্রতি তাঁর মহান ভালোবাসার জন্য তিনি আমাদের জন্য সেই সময়ের জন্য পূজাযোগ্য ও লাভজনক সবকিছু দেখান।
* এই শব্দের অর্থ হলো,এটি আমার জন্য করা হবে, এর মানে হলো এটি সাধারণ মানুষের জন্য করা হবে: অর্থাৎ, যারা পরিত্রাণ পাবে তাদের সবার জন্য। এটি হবে পূজাযোগ্য এবং বিস্ময়কর এবং প্রাচুর্যপূর্ণ, এবং ঈশ্বর নিজেই এটি করবেন; এবং এটি হবে সর্বোচ্চ আনন্দ যা হতে পারে, সেই কাজের দিকে তাকানো যা ঈশ্বর নিজেই করবেন, এবং মানুষ পাপ ছাড়া কিছুই করবে না। তখন আমাদের প্রভু ঈশ্বর এইভাবে ইঙ্গিত করেন, যেন তিনি বললেন: ''তাকাও এবং দেখো! এখানে তোমার বিনম্রতার বিষয় আছে, এখানে তোমার ভালোবাসার বিষয় আছে, এখানে তোমার নিজেকে তুচ্ছ করার বিষয় আছে, এখানে তোমার আমার মধ্যে আনন্দিত হওয়ার বিষয় আছে এবং আমার ভালোবাসার জন্য, আমার মধ্যে আনন্দিত হও। কারণ সবকিছুর মধ্যে, এর দ্বারাই তুমি আমাকে সবচেয়ে বেশি খুশি করতে পারবে।''
* যতদিন আমরা এই জীবনে আছি, যখন আমরা আমাদের বোকামির দ্বারা পরিত্যক্তদের দর্শনের দিকে ঘুরে যাই, খুব কোমলভাবে আমাদের প্রভু ঈশ্বর আমাদের স্পর্শ করেন এবং পরমানন্দময়ভাবে আমাদের ডাকেন, আমাদের আত্মায় বলে। আমার প্রিয় সন্তান, তোমার সমস্ত ভালোবাসা ত্যাগ করো। আমার দিকে ফিরে এসো আমি তোমার জন্য যথেষ্ট এবং তোমার ত্রাণকর্তার মধ্যে এবং তোমার পরিত্রাণে আনন্দিত হও। এবং যে এটি আমাদের মধ্যে আমাদের প্রভুর কাজ, আমি নিশ্চিত যে যে আত্মার কৃপার দ্বারা এতে উপলব্ধি আছে সে তা দেখবে এবং অনুভব করবে।
* যদিও এটি এমন যে এই কাজটি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যই নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি বিশেষটিকে বাদ দেয় না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু তাঁর দরিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে কী করবেন, তা এখন আমার অজানা। <br> কিন্তু এই কাজ এবং পূর্বোক্ত অন্যটি, তারা উভয়ই এক নয় বরং দুটি ভিন্ন। এই কাজটি শীঘ্রই করা হবে এবং তা হবে যখন আমরা স্বর্গে পৌঁছাব, এবং আমাদের প্রভু যাকে এটি দেন, তা এখানে আংশিকভাবে জানা যেতে পারে। কিন্তু সেই মহান কাজ যা আগে বলা হয়েছে তা স্বর্গে বা পৃথিবীতে জানার সুযোগ নেই যতক্ষণ না তা করা হয়।
* তিনি অলৌকিক কাজ করার বিশেষ উপলব্ধি ও শিক্ষা দিয়েছিলেন, এইভাবে''এটি জানা যে আমি আগে অলৌকিক কাজ করেছি, অনেক এবং বিভিন্ন, উচ্চ এবং বিস্ময়কর, পূজাযোগ্য এবং মহান। এবং যেমন আমি করেছি, আমি এখন ক্রমাগত করছি এবং সময়ের আগমনে করব।''
* এটি জানা যে অলৌকিক কাজের আগে দুঃখ এবং যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ আসে। এবং তা এই জন্য যে আমাদের নিজেদের দুর্বলতা এবং আমাদের দুষ্টতা জানা উচিত যা আমরা পাপের দ্বারা পতিত হয়েছি, আমাদের বিনম্র করতে এবং আমাদের ঈশ্বরকে ভয় করতে ও সাহায্য ও কৃপার জন্য চিৎকার করতে বাধ্য করতে। অলৌকিক কাজ তার পরে আসে, এবং সেগুলো ঈশ্বরের মহান শক্তি, প্রজ্ঞা ও মঙ্গলময়তা থেকে আসে, তাঁর গুণ এবং স্বর্গের আনন্দগুলো প্রদর্শন করে যতটা এই নশ্বর জীবনে সম্ভব: এবং তা আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের আশা বাড়াতে, প্রেমের সাথে। তাই তিনি অলৌকিক কাজের মাধ্যমে পরিচিত ও পূজিত হতে আনন্দিত হন। তখন তিনি এইভাবে ইঙ্গিত করেন: তিনি চান না যে আমাদের দুঃখ ও ঝড়ের জন্য খুব নিচে নামিয়ে দেওয়া হোক যা আমাদের ওপর আসে: কারণ অলৌকিক কাজ আসার আগে সর্বদা এমনই হয়েছে।
* “আমার পাপ তাঁর মঙ্গলময় কাজকে বাধা দেবে না। . . . একটি কাজ করা হবে,যেমন আমরা স্বর্গে পৌঁছাব এবং এটি এখানে আংশিকভাবে জানা যেতে পারে। যদিও এটি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যই নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি বিশেষটিকে বাদ দেয় না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু তাঁর দরিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে কী করবেন, তা এখন আমার অজানা”
=== অধ্যায় ৩৭ ===
* ঈশ্বর আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে আমার পাপ করা উচিত। এবং তাঁর দর্শনে আমার যে সন্তুষ্টি ছিল তার জন্য, আমি সেই প্রদর্শনীতে মনোযোগ দিইনি; এবং আমাদের প্রভু খুব করুণাময়ভাবে অপেক্ষা করেছিলেন, এবং আমাকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য কৃপা দিয়েছিলেন। এবং এই প্রদর্শনীটি আমি বিশেষভাবে নিজের জন্য নিয়েছিলাম; কিন্তু সমস্ত কৃপাময় সান্ত্বনা যা অনুসরণ করে, যেমনটি তোমরা দেখবে, আমি আমার সমস্ত সহ-খ্রিস্টানদের জন্য নিতে শিখেছিলাম: ''সবকিছু সাধারণভাবে এবং বিশেষ কিছুই নয়'': যদিও আমাদের প্রভু আমাকে দেখিয়েছিলেন যে আমার পাপ করা উচিত, আমার একার দ্বারা সবাইকে বোঝানো হয়। <br> এবং এতে আমি একটি মৃদু ভয় অনুভব করলাম। এবং এর উত্তরে আমাদের প্রভু বললেন: ''আমি তোমাকে খুব নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।'' এই শব্দটি প্রেমের সাথে এবং নিরাপত্তার সাথে এবং আধ্যাত্মিক সুরক্ষার সাথে বলা হয়েছিল যা আমি বলতে পারি না বা সক্ষম নই।
* ঈশ্বর যা পরিত্রাণ পাবে এমন সবাইকে ভালোবাসেন, যেমন তা একটি আত্মা তা দেখার চেয়ে আমাকে আমার সহ-খ্রিস্টানদের ভালোবাসার জন্য আর কী করতে পারে? <br> '''কারণ প্রতিটি আত্মায় যা পরিত্রাণ পাবে একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে যা কখনো পাপকে সমর্থন করেনি, এবং কখনো করবে না।''' ঠিক যেমন নিচের অংশে একটি পশুসুলভ ইচ্ছা আছে যা কোনো ভালো চাইতে পারে না, ঠিক তেমনই উপরের অংশে একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে, যে ইচ্ছা এতটাই ভালো যে তা কখনো মন্দ চাইতে পারে না, কেবল ভালো। এবং তাই আমরা তাই যা তিনি ভালোবাসেন এবং অন্তহীনভাবে আমরা তা করি যা তাঁকে খুশি করে।
* এটি আমাদের প্রভু সেই ভালোবাসার সম্পূর্ণতায় দেখিয়েছিলেন যাতে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, তাঁর দৃষ্টিতে: হ্যাঁ, তিনি আমাদের এখন ততটাই ভালোবাসেন যখন আমরা এখানে আছি, যেমন তিনি করবেন যখন আমরা তাঁর পবিত্র মুখের সামনে সেখানে থাকব। '''কিন্তু আমাদের অংশে ভালোবাসার ব্যর্থতার জন্য, তাই আমাদের সমস্ত পরিশ্রম।'''''
=== অধ্যায় ৩৮ ===
* এছাড়াও ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে পাপ মানুষের জন্য লজ্জা হবে না, বরং পূজা। কারণ ঠিক যেমন প্রতিটি পাপের জন্য সত্যের দ্বারা একটি বেদনা উত্তর দেয়, ঠিক তেমনই প্রতিটি পাপের জন্য, সেই একই আত্মাকে ভালোবাসার দ্বারা একটি পরমানন্দ দেওয়া হয়: ঠিক যেমন বিভিন্ন পাপ বিভিন্ন বেদনার সাথে দণ্ডিত হয় যেমন সেগুলো কষ্টদায়ক, ঠিক তেমনই সেগুলো স্বর্গে বিভিন্ন আনন্দের সাথে পুরস্কৃত হবে যেমন সেগুলো পৃথিবীতে আত্মার জন্য কষ্টদায়ক ও দুঃখজনক ছিল। কারণ যে আত্মা স্বর্গে আসবে তা ঈশ্বরের কাছে মূল্যবান, এবং স্থানটি এতটাই পূজাযোগ্য যে ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা সেই আত্মাকে কখনো পাপ করতে দেয় না যে সেখানে আসবে যা ছাড়া সেই পাপ পুরস্কৃত হবে এবং তা অন্তহীনভাবে জানা যায়, এবং পূজা অতিক্রম করে পরমানন্দময়ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়।
* এই দর্শনে আমার উপলব্ধি স্বর্গে উন্নীত হয়েছিল, এবং তখন ঈশ্বর আনন্দিতভাবে আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন ডেভিডকে, এবং পুরাতন আইনে সংখ্যাতীত অন্যদের এবং নতুন আইনে তিনি আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন প্রথমে মেরি ম্যাগডালিন, পিটার এবং পল এবং ভারতেরদের এবং বেভারলির সেন্ট জন এবং অন্যদেরও সংখ্যাতীত। কীভাবে তারা পৃথিবীতে চার্চে তাদের পাপের সাথে পরিচিত, এবং তা তাদের জন্য লজ্জা নয় বরং সবকিছু তাদের পূজায় পরিণত হয়েছে। এবং তাই আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু তাদের জন্য এখানে আংশিকভাবে দেখান যেমনটি সেখানে পূর্ণতায় আছে: কারণ সেখানে পাপের চিহ্ন পূজায় পরিণত হয়েছে।
* এই সবকিছুই আমাদের প্রেমে আনন্দিত ও প্রফুল্ল করার জন্য ছিল।
=== অধ্যায় ৩৯ ===
* পাপ হলো সবচেয়ে ধারালো চাবুক যা যেকোনো নির্বাচিত আত্মাকে আঘাত করা যেতে পারে। যা চাবুকটি পুরুষ ও নারীকে পুরোপুরি প্রহার করে, এবং তাকে তার নিজের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য করে তোলে, এতদূর যে কিছু সময়ের পরে সে মনে করে সে নরকে ডুবে যাওয়া ছাড়া আর যোগ্য নয়, যতক্ষণ না অনুশোচনা তাকে পবিত্র আত্মার স্পর্শে ধরে, এবং তিক্ততাকে ঈশ্বরের করুণার আশায় পরিণত করে।
* খুব মূল্যবানভাবে আমাদের প্রভু আমাদের রক্ষা করেন যখন আমাদের কাছে মনে হয় যে আমরা প্রায় পরিত্যক্ত এবং আমাদের পাপের জন্য এবং কারণ আমরা এর যোগ্য, তার জন্য দূরে নিক্ষিপ্ত। এবং নম্রতার কারণে যা আমরা এর দ্বারা পাই, আমরা তাঁর কৃপায় ঈশ্বরের দৃষ্টিতে খুব উঁচুতে উন্নীত হই, খুব মহান অনুশোচনার সাথে, এবং সহমর্মিতার সাথে, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার সাথে। তখন তারা হঠাৎ পাপ থেকে এবং বেদনা থেকে মুক্তি পায় এবং পরমানন্দে উন্নীত হয়। এবং সমান উচ্চ সাধু হয়।
* '''অনুশোচনার দ্বারা আমরা পরিষ্কার হই, সহমর্মিতার দ্বারা আমরা প্রস্তুত হই, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার দ্বারা আমরা যোগ্য হই।''' এগুলো তিনটি উপায়, যেমন আমি বুঝি, যার দ্বারা সমস্ত আত্মা স্বর্গে আসে। অর্থাৎ, যারা পৃথিবীতে পাপী ছিল এবং পরিত্রাণ পাবে। কারণ এই তিনটি ঔষধের দ্বারা প্রতিটি আত্মাকে নিরাময় করা প্রয়োজন।
* যেমন আমরা এখানে দুঃখ ও তপস্যার সাথে দণ্ডিত হই, আমরা স্বর্গে আমাদের মহান প্রভু ঈশ্বরের সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসার দ্বারা পুরস্কৃত হব, যিনি চান যে কেউ সেখানে এসে তার পরিশ্রম কোনো ডিগ্রিতে হারাক। কারণ তিনি পাপকে তাঁর প্রেমীদের জন্য দুঃখ ও বেদনা হিসেবে ধরেন, যাদের তিনি কোনো দোষ দেন না, ভালোবাসার জন্য। আমরা যে পুরস্কার পাব তা সামান্য হবে না, বরং তা হবে মহান, গৌরবময় এবং পূজাযোগ্য। এবং এভাবেই লজ্জা পূজায় ও আরও আনন্দে পরিণত হবে।
* '''আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু চান না যে তাঁর সেবকরা হতাশ হোক, বারবার বা গুরুতর পতনের জন্য: কারণ আমাদের পতন তাঁকে আমাদের ভালোবাসতে বাধা দেয় না। শান্তি ও ভালোবাসা সর্বদা আমাদের মধ্যে আছে, বিদ্যমান ও কাজ করছে। কিন্তু আমরা সর্বদা শান্তিতে ও প্রেমে নেই।''' কিন্তু তিনি চান যে আমরা এইভাবে মনোযোগ দিই যে তিনি ভালোবাসায় আমাদের সমস্ত জীবনের ভিত্তি এবং অধিকন্তু তিনি আমাদের চিরন্তন রক্ষক এবং শক্তিশালীভাবে আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে রক্ষা করেন, যারা আমাদের ওপর খুব নিষ্ঠুর ও হিংস্র এবং আমাদের প্রয়োজন তত বেশি কারণ আমরা আমাদের পতনের দ্বারা তাদের সুযোগ দিই।
=== অধ্যায় ৪০ ===
* '''ঈশ্বর চান যে আমরা অন্তহীনভাবে পাপকে ঘৃণা করি এবং অন্তহীনভাবে আত্মাকে ভালোবাসি, যেমন ঈশ্বর তাকে ভালোবাসেন।'''
* '''এখানে আমি সত্যই বুঝি যে ঈশ্বরের মহান মঙ্গলময়তার দ্বারা আমাদের জন্য সব ধরনের জিনিস প্রস্তুত করা হয়েছে, এতদূর যে যখন আমরা নিজেদের মধ্যে শান্তিতে ও দানে আছি, আমরা সত্যই পরিত্রাণ পাব।'''
* কিন্তু এখন যদি কোনো পুরুষ বা নারী এই সমস্ত আধ্যাত্মিক সান্ত্বনার কারণে যা আগে বলা হয়েছে, বোকামির দ্বারা উত্তেজিত হয়ে বলে বা ভাবে। ''যদি এটি সত্য হয়, তবে পাপ করা ভালো যাতে বেশি পুরস্কার পাওয়া যায়''অথবা পাপ করার বিষয়ে কম গুরুত্ব দেয়,এই উত্তেজনার বিষয়ে সাবধান: কারণ সত্যই যদি এটি আসে তবে এটি অসত্য এবং সেই একই প্রকৃত ভালোবাসার শত্রুর কাছ থেকে যা আমাদের শেখায় যে আমাদের কেবল ভালোবাসার জন্য পাপকে ঘৃণা করা উচিত। আমি আমার নিজের অনুভূতির মাধ্যমে নিশ্চিত, যেকোনো দয়ালু আত্মা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসায় এটি যত বেশি দেখে, সে তত বেশি পাপ করতে অনিচ্ছুক হয় এবং সে তত বেশি লজ্জিত হয়। কারণ যদি আমাদের সামনে নরকের এবং পবিত্র স্থানের এবং পৃথিবীর সমস্ত বেদনা রাখা হতো—মৃত্যু এবং অন্যান্য এবং পাপ, আমরা সেই সমস্ত বেদনা বেছে নিতাম পাপের চেয়ে। '''কারণ পাপ এতটাই জঘন্য এবং এত বেশি ঘৃণা করার যোগ্য যে তা কোনো বেদনার সাথে তুলনা করা যায় না যা পাপ নয়। এবং আমার কাছে পাপের চেয়ে কঠিন কোনো নরক দেখানো হয়নি। কারণ একটি দয়ালু আত্মার পাপ ছাড়া আর কোনো নরক নেই।'''
* আমরা দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা ভালোবাসা ও নম্রতার দিকে আমাদের উদ্দেশ্য দিই, আমরা সবাই সুন্দর ও পরিষ্কার হই।
* ঈশ্বর মানুষকে বাঁচাতে যতটা শক্তিশালী ও বিজ্ঞ, তিনি ততটাই ইচ্ছুক। কারণ খ্রিস্ট নিজেই খ্রিস্টানদের সমস্ত আইনের ভিত্তি এবং '''তিনি আমাদের শিখিয়েছেন মন্দের বিপরীতে ভালো করতে: এখানে আমরা দেখতে পারি যে তিনি নিজেই এই প্রেম, এবং আমাদের সাথে তাই করেন যেমন তিনি আমাদের করতে শিখিয়েছেন।''' কারণ তিনি চান যে আমরা নিজের প্রতি এবং আমাদের সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি অন্তহীন ভালোবাসার পূর্ণতায় তাঁর মতো হই। আমাদের পাপের জন্য আমাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা যেমন নষ্ট হয় না, তেমনই তিনি চান না যে আমাদের ভালোবাসা আমাদের নিজের প্রতি এবং আমাদের সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি নষ্ট হোক বরং '''অন্তহীনভাবে পাপকে ঘৃণা করি এবং আত্মাকে ভালোবাসি, যেমন ঈশ্বর তাকে ভালোবাসেন। তখন আমরা পাপকে ঘৃণা করব যেমন ঈশ্বর ঘৃণা করেন, এবং আত্মাকে ভালোবাসব যেমন ঈশ্বর ভালোবাসেন। এবং এই শব্দ যা তিনি বলেছিলেন তা এক অন্তহীন সান্ত্বনা: ''আমি তোমাকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।'' '''
== চতুর্দশ প্রকাশ (দ্য ফোর্টিনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ৪১ ===
[[File:Brocken-tanzawa2.JPG|thumb|''আমিই ভিত্তি।'' — এবং আমাদের [[ভালো]] প্রভু চান যেন তাঁর [[প্রেমিকরা]] [[পৃথিবীতে]] এটি [[জানুক]]; এবং আমরা যত বেশি জানি ততই আমাদের অনুনয় করা উচিত, যদি তা [[বিজ্ঞতার]] সাথে গ্রহণ করা হয়; এবং এমনই আমাদের প্রভুর [[অর্থ]]।]]
* আমাদের প্রভু প্রার্থনার বিষয়ে দেখিয়েছিলেন। সেই প্রদর্শনীতে আমি আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে দুটি শর্ত দেখি: একটি হলো ন্যায়পরায়ণতা, অন্যটি হলো নিশ্চিত বিশ্বাস। <br> কিন্তু তবুও প্রায়শই আমাদের বিশ্বাস পূর্ণ হয় না: কারণ আমরা নিশ্চিত নই যে ঈশ্বর আমাদের শোনেন, যেমনটি আমরা মনে করি আমাদের অযোগ্যতার কারণে, এবং কারণ আমরা কিছুই অনুভব করি না, (কারণ প্রার্থনার পরেও আমরা প্রায়শই আগের মতোই অনুর্বর ও শুষ্ক থাকি); এবং এটি, আমাদের বোকামির উপলব্ধিতে, আমাদের দুর্বলতার কারণ। কারণ আমি নিজের মধ্যে এটি অনুভব করেছি। <br> এবং এই সমস্ত কিছু আমাদের প্রভু হঠাৎ আমার মনে করিয়ে দিলেন, এবং এই শব্দগুলো দেখালেন, এবং বললেন: '''''আমি তোমার অনুনয়ের ভিত্তি: প্রথমত এটি আমার ইচ্ছা যে তুমি এটি পাও; এবং পরে, আমি তোমাকে এটি চাইতে বাধ্য করি; এবং পরে, আমি তোমাকে এটি অনুনয় করতে বাধ্য করি এবং তুমি অনুনয় করো। তাহলে কীভাবে এমন হতে পারে যে তুমি তোমার অনুনয় পাবে না?'''''
* '''এটি সবচেয়ে অসম্ভব যে আমরা দয়া ও কৃপা অনুনয় করব, এবং তা পাব না।''' কারণ আমাদের ভালো প্রভু আমাদের যা কিছু অনুনয় করতে বাধ্য করেন, তিনি নিজেই তা সৃষ্টির আদি থেকে আমাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। এখানে আমরা দেখতে পারি যে আমাদের অনুনয় ঈশ্বরের মঙ্গলময়তার কারণ নয়; এবং তা তিনি এই সমস্ত মিষ্টি শব্দে সত্যই দেখিয়েছিলেন যখন তিনি বলেন: ''আমিই ভিত্তি।''—এবং আমাদের ভালো প্রভু চান যেন তাঁর প্রেমিকরা পৃথিবীতে এটি জানুক; এবং আমরা যত বেশি জানি ততই আমাদের অনুনয় করা উচিত, যদি তা বিজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হয়; এবং এমনই আমাদের প্রভুর অর্থ।
* অনুনয় হলো আত্মার একটি সত্য, কৃপাময়, স্থায়ী ইচ্ছা, যা পবিত্র আত্মার মিষ্টি অভ্যন্তরীণ কাজের দ্বারা আমাদের প্রভুর ইচ্ছার সাথে একীভূত ও আবদ্ধ।
* আমাদের প্রভু আমাদের প্রার্থনায় খুব আনন্দিত ও প্রফুল্ল; এবং তিনি তার অপেক্ষায় থাকেন এবং তিনি তা পেতে চান কারণ তাঁর কৃপায় তিনি আমাদের তাঁর মতো করে তৈরি করেন—যেমনটি আমরা প্রকৃতিতে আছি: এবং এমনই তাঁর পরমানন্দময় ইচ্ছা। তাই তিনি এইভাবে বলেন: ''অন্তরের সাথে প্রার্থনা করো, যদিও তোমার মনে হয় তা তোমাকে তৃপ্তি দিচ্ছে না: কারণ এটি লাভজনক, যদিও তুমি অনুভব করো না, যদিও তুমি কিছুই দেখছো না; হ্যাঁ, যদিও তুমি মনে করো তুমি পারো না। কারণ শুষ্কতা ও অনুর্বরতায়, অসুস্থতা ও দুর্বলতায়, তখন তোমার প্রার্থনা আমার কাছে খুব সন্তোষজনক, যদিও তোমার মনে হয় তা তোমাকে কিছুই তৃপ্তি দিচ্ছে না। এবং আমার দৃষ্টিতে তোমার সমস্ত বিশ্বাসী প্রার্থনা এমনই।''
* এছাড়াও প্রার্থনার সাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন যুক্ত। ধন্যবাদ হলো একটি সত্য অভ্যন্তরীণ জ্ঞান, মহান শ্রদ্ধা ও প্রেমময় ভয়ের সাথে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে সেই কাজের দিকে নিজেদের ঘুরিয়ে নিই যা আমাদের ভালো প্রভু আমাদের উদ্দীপিত করেন, অভ্যন্তরীণভাবে আনন্দ ও ধন্যবাদ প্রকাশ করে।
=== অধ্যায় ৪২ ===
[[File:Rainbow1.svg|thumb|সবকিছু যা আমাদের প্রভু করার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা যে আমরা তার জন্য [[প্রার্থনা]] করি, হয় বিশেষভাবে বা সাধারণভাবে।]]
* '''এটিই আমাদের প্রভুর ইচ্ছা, যে আমাদের প্রার্থনা এবং আমাদের বিশ্বাস উভয়ই সমানভাবে বিস্তৃত হোক।''' কারণ আমরা যদি প্রার্থনার মতো বিশ্বাস না করি, তবে আমরা আমাদের প্রার্থনায় আমাদের প্রভুর প্রতি পূর্ণ পূজা করি না, এবং এছাড়াও আমরা আমাদের নিজেদের দেরি করাই এবং কষ্ট দিই। এর কারণ, আমি বিশ্বাস করি, আমরা সত্যই জানি না যে আমাদের প্রভু সেই ভিত্তি যার ওপর আমাদের প্রার্থনা উদয় হয়; এবং আমরা এও জানি না যে এটি তাঁর ভালোবাসার কৃপায় আমাদের দেওয়া হয়েছে। কারণ যদি আমরা এটি জানতাম, তবে তা আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করত যে আমরা আমাদের প্রভুর উপহার থেকে যা আকাঙ্ক্ষা করি তা পাব। কারণ '''আমি নিশ্চিত যে কেউ সত্য অর্থ ছাড়া দয়া ও কৃপা চায় না, যদি না দয়া ও কৃপা প্রথমে তাকে দেওয়া হয়।'''
* কখনো কখনো আমাদের মনে হয় যে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রার্থনা করেছি, এবং তবুও আমরা নিজেদের ভাবি যে আমরা আমাদের চাওয়া পাইনি। কিন্তু এর জন্য আমাদের শোকের মধ্যে থাকা উচিত নয়। কারণ আমি নিশ্চিত, আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতের মাধ্যমে, যে আমরা হয় একটি ভালো সময়ের, বা আরও কৃপার, বা আরও ভালো উপহারের অপেক্ষা করছি।
* '''তিনি যে তা করছেন তা দেখা, এবং অবিলম্বে প্রার্থনা করা,—এভাবেই তিনি পূজিত হন এবং আমরা উপকৃত হই। সবকিছু যা আমাদের প্রভু করার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা যে আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি, হয় বিশেষভাবে বা সাধারণভাবে।''' এবং যে আনন্দ ও পরমানন্দ তা তাঁর কাছে, এবং যে ধন্যবাদ ও পূজা আমরা এর জন্য পাব, তা সৃষ্টির উপলব্ধিকে ছাড়িয়ে যায়, আমার দৃষ্টিতে। কারণ প্রার্থনা হলো ভবিষ্যতে যে আনন্দের পূর্ণতা আসবে তার একটি সঠিক উপলব্ধি, অটল আকাঙ্ক্ষা ও নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে।
* এইভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন যেখানে তিনি বলেন: '''''আমি তোমার অনুনয়ের ভিত্তি।''''' এবং এইভাবে এই পবিত্র শব্দে, প্রদর্শনীর সাথে, আমি আমাদের সমস্ত দুর্বলতা এবং সমস্ত সন্দেহজনক ভয়ের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণ বিজয় দেখেছি।
=== অধ্যায় ৪৩ ===
[[File:Rainbow droplet 630x441.jpg|thumb|[[প্রার্থনা]] [[আত্মাকে]] [[ঈশ্বরের]] সাথে [[একীভূত করে]]।]]
[[File:This morning we caught a rainbow.jpg|thumb|যখন তিনি তাঁর বিশেষ [[কৃপার]] দ্বারা এখানে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি সৃষ্টিকে তার [[নিজের]] ঊর্ধ্বে [[শক্তিমান]] করেন, এবং তিনি প্রদর্শনীর পরিমাপ করেন, তাঁর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী, যেমনটি সেই [[সময়ের]] জন্য লাভজনক।]]
* '''[[প্রার্থনা]] [[আত্মাকে]] [[ঈশ্বরের]] সাথে [[একীভূত করে]]।'''
* '''প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।''' কারণ যদিও আত্মা প্রকৃতি ও [[সত্তায়]] সর্বদা ঈশ্বরের মতো, কৃপায় পুনরুদ্ধার করা, মানুষের অংশে পাপের দ্বারা এটি প্রায়শই শর্তে ভিন্ন হয়। তখন প্রার্থনা একটি সাক্ষী যে আত্মা তাই চায় যা ঈশ্বর চান; এবং এটি বিবেককে সান্ত্বনা দেয় এবং মানুষকে কৃপার যোগ্য করে তোলে। এবং এইভাবে তিনি আমাদের প্রার্থনা করতে শেখান, এবং শক্তিমানভাবে বিশ্বাস করতে শেখান যে আমরা তা পাব। কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসায় দেখেন এবং আমাদের তাঁর ভালো কাজের অংশীদার করতে চান, এবং তাই তিনি আমাদের সেই জিনিসের জন্য প্রার্থনা করতে উদ্দীপিত করেন যা তিনি করতে আনন্দ পান। যে প্রার্থনা ও সদিচ্ছার জন্য, যা আমরা তাঁর উপহার থেকে পাই, তিনি আমাদের পুরস্কৃত করবেন এবং আমাদের অন্তহীন পুরস্কার দেবেন।
* যখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু তাঁর কৃপায় নিজেকে আমাদের আত্মার কাছে দেখান, তখন আমাদের যা আকাঙ্ক্ষা তা আমরা পাই। এবং তখন আমরা দেখি না, সেই সময়ের জন্য, আমাদের আরও কী প্রার্থনা করা উচিত, কিন্তু আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাদের সমস্ত উদ্দেশ্য পুরোপুরি তাঁর দর্শনের দিকে সেট করা হয়। এবং এটি একটি উচ্চ অদৃশ্য প্রার্থনা, আমার দৃষ্টিতে: কারণ আমরা যার জন্য প্রার্থনা করি তার সমস্ত কারণ, তা সেই ব্যক্তির দর্শন ও দর্শনের মধ্যে একীভূত হয় যার কাছে আমরা প্রার্থনা করি; শ্রদ্ধাশীল ভয়ের সাথে বিস্ময়করভাবে উপভোগ করে, এবং তাঁর মধ্যে এত মহান মাধুর্য ও আনন্দের সাথে যে আমরা প্রার্থনা করতে পারি না কিন্তু যেমন তিনি আমাদের উদ্দীপিত করেন, সেই সময়ের জন্য। এবং আমি ভালো করেই জানি, আত্মা ঈশ্বরকে যত বেশি দেখে, তাঁর কৃপায় সে তত বেশি তাঁকে আকাঙ্ক্ষা করে।
* এবং এটি আমি দেখেছি: যে সময় আমরা প্রার্থনা করার কারণগুলো দেখি, তখন ''আমাদের ভালো প্রভু আমাদের অনুসরণ করেন'', আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে সাহায্য করে; এবং যখন আমরা তাঁর বিশেষ কৃপায় স্পষ্টভাবে তাঁর দিকে তাকাই, অন্য কোনো প্রয়োজনের দিকে না তাকিয়ে, তখন ''আমরা তাঁকে অনুসরণ করি'' এবং তিনি ভালোবাসার দ্বারা আমাদের তাঁর দিকে টেনে নেন।
* তখন আমরা ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখব, আপনভাবে ও পুরোপুরি। যে সৃষ্টি তৈরি হয়েছে সে ঈশ্বরকে দেখবে এবং অন্তহীনভাবে পর্যবেক্ষণ করবে যিনি স্রষ্টা। কারণ এইভাবে কোনো মানুষ ঈশ্বরকে দেখে বাঁচতে পারে না, অর্থাৎ, এই নশ্বর জীবনে। '''কিন্তু যখন তিনি তাঁর বিশেষ কৃপার দ্বারা এখানে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি সৃষ্টিকে তার নিজের ঊর্ধ্বে শক্তিমান করেন, এবং তিনি প্রদর্শনীর পরিমাপ করেন, তাঁর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী, যেমনটি সেই সময়ের জন্য লাভজনক।'''
==সারসংক্ষেপ==
পূর্বোক্ত চৌদ্দটি প্রত্যাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর
=== অধ্যায় ৪৪ ===
[[File:Quaker Star JUL.png|thumb|[[সত্য]] ঈশ্বরকে দেখে, এবং [[প্রজ্ঞা]] ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে, এবং এই দুটির মিলন থেকে তৃতীয়টির উদ্ভব হয়: সেটি হলো ঈশ্বরকে নিয়ে একটি পবিত্র বিস্ময়কর আনন্দ; যা হলো [[প্রেম]]।]]
* '''সত্য ঈশ্বরকে দেখে, এবং প্রজ্ঞা ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে, এবং এই দুটির মিলন থেকে তৃতীয়টির উদ্ভব হয়: সেটি হলো ঈশ্বরকে নিয়ে একটি পবিত্র বিস্ময়কর আনন্দ; যা হলো প্রেম।''' যেখানে সত্য ও প্রজ্ঞা বিদ্যমান, সেখানে প্রেমও বিদ্যমান, যা এই উভয়ের থেকেই আসে। এবং সবকিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি: কারণ তিনি অন্তহীন সার্বভৌম সত্য, অন্তহীন সার্বভৌম প্রজ্ঞা, অন্তহীন সার্বভৌম প্রেম—অনির্মিত; এবং মানুষের আত্মা ঈশ্বরের মধ্যে এমন একটি সৃষ্টি যার একই বৈশিষ্ট্যগুলো 'সৃষ্টি' করা হয়েছে, এবং তা সর্বদা সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে যার জন্য এটি সৃষ্টি হয়েছে: এটি ঈশ্বরকে দেখে, এটি ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে এবং এটি ঈশ্বরকে ভালোবাসে। যার জন্য ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে আনন্দিত হন; এবং সৃষ্টি ঈশ্বরের মধ্যে, অন্তহীন বিস্ময়ের সাথে। <br> এই বিস্ময়ের মধ্যে সে তার ঈশ্বরকে, তার প্রভুকে, তার নির্মাতাকে এত উচ্চ, এত মহান এবং এত ভালো দেখে, তার নিজের সৃষ্টির তুলনায়, যে সৃষ্টি নিজেকে তুচ্ছ মনে করে। কিন্তু সত্য ও প্রজ্ঞার স্বচ্ছতা তাকে দেখতে ও সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করে যে সে প্রেমের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে ঈশ্বর তাকে অন্তহীনভাবে রক্ষা করেন।
=== অধ্যায় ৪৫ ===
* '''ঈশ্বর আমাদের প্রকৃতি-সত্তা অনুযায়ী বিচার করেন, যা সর্বদা তাঁর মধ্যে এক, অখণ্ড এবং [[অন্তহীন]] নিরাপদে রক্ষিত: এবং ''এই'' [[বিচার]] তাঁর ন্যায়পরায়ণতার।''' এবং মানুষ আমাদের [[পরিবর্তনশীল]] অনুভূতি-আত্মা অনুযায়ী বিচার করে, যা এখন এমন, এখন তেমন—অংশ অনুযায়ী—এবং বাইরে প্রকাশিত হয়। এবং ''এই'' [[প্রজ্ঞা]] ''মিশ্রিত''। কারণ কখনো তা [[ভালো]] ও সহজ, আবার কখনো কঠিন ও দুঃখজনক। এবং যতটা তা ভালো ও সহজ, তা ন্যায়পরায়ণতার অন্তর্ভুক্ত; এবং যতটা তা কঠিন ও দুঃখজনক, আমাদের ভালো প্রভু যিশু তাঁর পবিত্র প্যাশন বা কষ্টের গুণাবলীর মাধ্যমে দয়া ও কৃপার দ্বারা তা সংস্কার করেন, এবং এইভাবে একে ন্যায়পরায়ণতায় ফিরিয়ে আনেন। <br> এবং যদিও এই দুটি এভাবে সম্মত ও একীভূত, তবুও স্বর্গে উভয়ই অন্তহীনভাবে জানা যাবে। প্রথম বিচার, যা ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতার, তা তাঁর উচ্চ অন্তহীন জীবনের; এবং এটিই সেই সুন্দর মিষ্টি বিচার যা সমস্ত সুন্দর প্রকাশে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি তাঁকে আমাদের কোনো দোষ দিতে দেখিনি। কিন্তু যদিও এটি মিষ্টি ও আনন্দদায়ক ছিল, তবুও কেবল এর পর্যবেক্ষণে আমি পুরোপুরি শান্ত হতে পারিনি: এবং তার কারণ হলো পবিত্র চার্চের বিচার, যা আমি আগেই বুঝেছিলাম এবং যা ক্রমাগত আমার দৃষ্টিতে ছিল। এবং তাই ''এই'' বিচারের দ্বারা আমার মনে হয়েছিল আমি বুঝেছিলাম যে পাপীরা কোনো এক সময়ে দোষ ও ক্রোধের যোগ্য; কিন্তু আমি ঈশ্বরের মধ্যে এই দুটি দেখতে পাইনি; এবং তাই আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যতটা আমি বলতে পারি বা পারি তার চেয়ে অনেক বেশি। কারণ উচ্চতর বিচার সেই একই সময়ে ঈশ্বর নিজেই দেখিয়েছিলেন, এবং তাই আমাকে তা গ্রহণ করতেই হতো; এবং নিম্নতর বিচার আমি আগে পবিত্র চার্চে শিখেছিলাম, এবং তাই আমি কোনোভাবেই নিম্নতর বিচার ত্যাগ করতে পারিনি। তখন আমার এই ইচ্ছা ছিল: আমি যেন ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে পাই যে পবিত্র চার্চের বিচার যা শেখায় তা কীভাবে তাঁর দৃষ্টিতে সত্য, এবং কীভাবে তা জানা আমার জন্য যথার্থ; যার মাধ্যমে উভয় বিচারই রক্ষা পেতে পারে, যেমনটি ঈশ্বরের জন্য পূজনীয় এবং আমার জন্য সঠিক পথ। <br> এবং এই সবকিছুর জন্য আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না, কেবল একজন প্রভু ও একজন ভৃত্যের একটি বিস্ময়কর উদাহরণ ছাড়া, যা আমি পরে বলব:—এবং তা খুব অস্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল। এবং তবুও আমি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, এবং আমার শেষ পর্যন্ত থাকব, যেন আমি কৃপার দ্বারা এই দুটি বিচার জানতে পারি যেমনটি আমার জন্য যথার্থ। '''কারণ স্বর্গীয় এবং স্বর্গীয় বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত সমস্ত পার্থিব জিনিস এই দুটি বিচারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এবং পবিত্র আত্মার কৃপাময় নির্দেশনায় এই দুটি বিচার সম্পর্কে আমাদের যত বেশি বোধগম্য হবে, আমরা আমাদের ব্যর্থতাগুলো তত বেশি দেখতে ও জানতে পারব। এবং আমরা যত বেশি সেগুলো দেখব, তত বেশি, স্বভাবত, কৃপার দ্বারা, আমরা অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করব। কারণ আমরা তার জন্যই সৃষ্টি হয়েছি, এবং আমাদের প্রকৃতি-সত্তা এখন ঈশ্বরের মধ্যে পরমানন্দময়, এবং এটি তৈরির পর থেকেই তা ছিল, এবং অন্তহীনভাবে থাকবে।'''
=== অধ্যায় ৪৬ ===
* '''আমাদের অনুভূতি-আত্মায় এখানে যে নশ্বর জীবন আমরা পাই, তা জানে না আমাদের 'নিজ' কী।''' তখন আমরা সত্যই ও স্পষ্টভাবে আনন্দ ও পরমানন্দের পূর্ণতায় আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে দেখতে ও জানতে পারব। এবং তাই এটি অনিবার্য যে আমরা আমাদের পরমানন্দের যত কাছাকাছি থাকব, তত বেশি আমরা আকাঙ্ক্ষা করব; এবং তা স্বভাব ও কৃপা উভয় দ্বারাই। আমরা আমাদের উচ্চ প্রকৃতির ক্রমাগত সাহায্য ও গুণের মাধ্যমে এই জীবনে আমাদের 'নিজের' জ্ঞান পেতে পারি। যে জ্ঞানে আমরা দয়ায় এবং কৃপার সাহায্যে অগ্রসর হতে পারি; কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের 'নিজ'-কে পুরোপুরি জানতে পারব না: যে মুহূর্তে এই নশ্বর জীবনের এবং দুঃখ ও যন্ত্রণার এই ধরনের এক অন্তিম পরিণতি ঘটবে। এবং তাই, স্বভাব ও কৃপা উভয় দ্বারাই, অন্তহীন আনন্দের পূর্ণতায় আমাদের 'নিজ'-কে জানার জন্য আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আকাঙ্ক্ষা করা আমাদের জন্য যথার্থ।
* তবুও এই পুরো সময়ে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, আমার দুটি দৃষ্টি ছিল। একটি ছিল অন্তহীন ক্রমাগত প্রেম, সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং পরমানন্দময় পরিত্রাণের সাথে—কারণ এর জন্যই ছিল ''পুরো প্রকাশ''। অন্যটি ছিল পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষার, যেখানে আমি আগে অবহিত ও ভিত্তিমূল পেয়েছিলাম—এবং আমার সমস্ত ইচ্ছার সাথে তা ব্যবহার ও বুঝতাম। এবং ''এর'' পর্যবেক্ষণ আমার থেকে দূরে যায়নি: কারণ প্রকাশের দ্বারা আমি কোনো পয়েন্টেই সেখান থেকে বিচ্যুত হইনি, বরং আমি সেখানে এটি ভালোবাসার ও ভালো মনে করার শিক্ষা পেয়েছিলাম: যার দ্বারা আমি, আমাদের প্রভু ও তাঁর কৃপার সাহায্যে, আরও স্বর্গীয় জ্ঞান ও উচ্চতর প্রেমে বৃদ্ধি পেতে পারি।
* '''পুরো পর্যবেক্ষণে আমার মনে হয়েছিল যে আমাদের পাপী হওয়া এবং অনেক মন্দ কাজ করা যা আমাদের ত্যাগ করা উচিত, এবং অনেক ভালো কাজ না করা যা আমাদের করা উচিত, তা দেখা ও জানা প্রয়োজন: যার জন্য আমরা যন্ত্রণা ও ক্রোধের যোগ্য। এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি সত্যই দেখেছিলাম যে আমাদের প্রভু কখনোই ক্রুদ্ধ ছিলেন না, বা কখনোই হবেন না।''' কারণ তিনি ঈশ্বর: ভালো, জীবন, সত্য, প্রেম, শান্তি; তাঁর স্বচ্ছতা ও তাঁর ঐক্য তাঁকে ক্রুদ্ধ হতে দেয় না। কারণ আমি সত্যই দেখেছিলাম যে ক্রুদ্ধ হওয়া তাঁর শক্তির বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে, এবং তাঁর প্রজ্ঞার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে, এবং তাঁর মঙ্গলময়তার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে। ঈশ্বর সেই মঙ্গলময়তা যা ক্রুদ্ধ হতে পারে না, কারণ তিনি কেবল মঙ্গলময়তা ছাড়া আর কিছুই নন: আমাদের আত্মা তাঁর সাথে একীভূত, অপরিবর্তনীয় মঙ্গলময়তা, এবং ঈশ্বর ও আমাদের আত্মার মধ্যে তাঁর দৃষ্টিতে না আছে ক্রোধ না আছে ক্ষমা। কারণ আমাদের আত্মা তাঁর নিজস্ব মঙ্গলময়তার দ্বারা ঈশ্বরের সাথে এতটাই পূর্ণভাবে একীভূত যে ঈশ্বর ও আমাদের আত্মার মধ্যে ঠিক কিছুই নেই। <br> এবং এই উপলব্ধিতে আত্মা প্রেমের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল এবং প্রতিটি প্রকাশে শক্তির দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিল: যে এটিই আমাদের ভালো প্রভু দেখিয়েছিলেন, এবং ''কীভাবে এটি তাঁর মহান মঙ্গলময়তার সত্যে এমন।'' এবং তিনি চান যে আমরা তা শিখতে আকাঙ্ক্ষা করি—অর্থাৎ, যতটা তাঁর সৃষ্টির জন্য তা শেখা যথার্থ। কারণ সমস্ত জিনিস যা সাধারণ আত্মা বুঝেছে, ঈশ্বর চান যে সেগুলো দেখানো ও জানা হোক। কারণ যে জিনিসগুলো তিনি গোপন রাখতে চান, তিনি নিজেই খুব শক্তিশালী ও বিজ্ঞতার সাথে সেগুলো গোপন রাখেন, প্রেমের জন্য। কারণ আমি একই প্রকাশে দেখেছিলাম যে অনেক গোপনীয়তা লুকিয়ে আছে, যা সেই সময় পর্যন্ত জানা সম্ভব নয় যতক্ষণ না ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তায় আমাদের তা দেখার যোগ্য করে তোলেন; এবং তাতে আমি খুব সন্তুষ্ট, এই মহান বিস্ময়ে আমাদের প্রভুর ইচ্ছার অপেক্ষায়। এবং এখন আমি আমার মা, পবিত্র চার্চের কাছে নিজেকে সমর্পণ করছি, যেমন একটি সাধারণ শিশু করে।
=== অধ্যায় ৪৭ ===
* '''দুটি জিনিস আমাদের আত্মার জন্য কর্তব্য: একটি হলো যে আমরা শ্রদ্ধার সাথে বিস্ময়বোধ করি, অন্যটি হলো যে আমরা নম্রভাবে সহ্য করি, সর্বদা ঈশ্বরের মধ্যে আনন্দিত থেকে। কারণ তিনি চান যেন আমরা বুঝি যে আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখতে পাব যা আমরা আকাঙ্ক্ষা করি।''' <br> এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি পর্যবেক্ষণ করলাম এবং গভীরভাবে বিস্ময়বোধ করলাম: ''ঈশ্বরের দয়া ও ক্ষমা কী?'' কারণ আমার পূর্বের শিক্ষা দ্বারা, আমি বুঝেছিলাম যে ঈশ্বরের দয়া হবে আমাদের পাপ করার পরের সময়ে তাঁর ক্রোধের ক্ষমা। কারণ আমার মনে হয়েছিল যে একটি আত্মার জন্য যার অর্থ ও আকাঙ্ক্ষা হলো ভালোবাসা, ঈশ্বরের ক্রোধ যেকোনো যন্ত্রণার চেয়ে বেশি কঠিন ছিল, এবং তাই আমি ধরে নিয়েছিলাম যে তাঁর ক্রোধের ক্ষমা তাঁর দয়ার অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়া উচিত। '''কিন্তু আমি যতই পর্যবেক্ষণ করি বা আকাঙ্ক্ষা করি না কেন, আমি কোনোভাবেই পুরো প্রকাশে এই পয়েন্টটি দেখতে পাইনি। <br> কিন্তু আমি দয়ার কাজ সম্পর্কে কীভাবে বুঝেছিলাম এবং দেখেছিলাম, তা আমি কিছুটা বলব, যেমন ঈশ্বর আমাকে কৃপা দেবেন। আমি এটি বুঝেছিলাম: মানুষ এই জীবনে পরিবর্তনশীল, এবং দুর্বলতা ও জয়ের দ্বারা পাপের মধ্যে পড়ে যায়: সে নিজের থেকে দুর্বল ও অবিবেচক, এবং তার ইচ্ছাও চাপা পড়ে। এবং এই সময়ে সে ঝড়, দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্যে থাকে; এবং এর কারণ হলো অন্ধত্ব: কারণ সে ঈশ্বরকে দেখে না। কারণ যদি সে ক্রমাগত ঈশ্বরকে দেখত, তবে তার কোনো ক্ষতিকারক অনুভূতি থাকত না, বা কোনো ধরনের গতি বা আকাঙ্ক্ষা থাকত না যা পাপের দিকে নিয়ে যায়। <br> এইভাবে আমি দেখেছি, এবং একই সময়ে অনুভব করেছি; এবং আমার মনে হয়েছিল যে এই দেখা ও অনুভব করা আমাদের জীবনের সাধারণ অনুভূতির তুলনায় উচ্চ, প্রাচুর্যময় ও কৃপাময়; কিন্তু তবুও আমার মনে হয়েছিল এটি ছোট ও নিচু ছিল সেই মহান আকাঙ্ক্ষার তুলনায় যা আত্মা ঈশ্বরকে দেখার জন্য রাখে।'''
* '''আমি আমার মধ্যে পাঁচ ধরনের কাজ অনুভব করেছি, যা হলো এই: আনন্দ, শোক, আকাঙ্ক্ষা, ভয় এবং নিশ্চিত আশা।''' আনন্দ: কারণ ঈশ্বর আমাকে উপলব্ধি ও জ্ঞান দিয়েছেন যে তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে আমি দেখেছি; শোক: এবং তা ছিল ব্যর্থতার জন্য; আকাঙ্ক্ষা: এবং তা ছিল যেন আমি তাঁকে আরও বেশি বেশি দেখতে পারি, এই উপলব্ধি ও জ্ঞান নিয়ে যে আমরা যতক্ষণ না তাঁকে স্বর্গে সত্যই ও স্পষ্টভাবে দেখছি ততক্ষণ আমরা কখনোই পূর্ণ বিশ্রাম পাব না; ভয় ছিল: কারণ আমার মনে হয়েছিল যে সেই সময়ে সেই দেখা ব্যর্থ হবে, এবং আমি নিজের মধ্যে পরিত্যক্ত হব; নিশ্চিত আশা ছিল অন্তহীন প্রেমে: যে আমি দেখেছি আমি তাঁর দয়ার দ্বারা রক্ষিত হব এবং তাঁর পরমানন্দে আনা হব। এবং এই নিশ্চিত আশার সাথে তাঁর দর্শনে আনন্দ করা আমাকে এমন অনুভূতি ও সান্ত্বনা দিয়েছিল যে শোক ও ভয় খুব বেশি বেদনাদায়ক ছিল না। এবং তবুও এই সবকিছুর মধ্যে আমি ঈশ্বরের প্রকাশে পর্যবেক্ষণ করেছি যে এই ধরনের দেখা এই জীবনে ক্রমাগত হতে পারে না,—এবং তা তাঁর নিজস্ব পূজার জন্য এবং আমাদের অন্তহীন আনন্দের বৃদ্ধির জন্য। এবং তাই আমরা প্রায়শই তাঁর দর্শন থেকে ব্যর্থ হই, এবং অবিলম্বে আমরা আমাদের নিজের মধ্যে পতিত হই, এবং তখন আমরা কোনো সঠিক অনুভূতি পাই না,—আমাদের নিজের মধ্যে যা আছে তা ছাড়া অন্য কোনো বিপরীততা নয়; এবং তা আমাদের প্রথম পাপের পুরোনো শিকড় থেকে, আমাদের নিজেদের দ্বারা অনুসরণ করা সমস্ত পাপের সাথে। এবং এর মধ্যে আমরা পাপের অনুভূতি, এবং আধ্যাত্মিক ও শারীরিক বহু বৈচিত্র্যময় যন্ত্রণার সাথে পরিশ্রমে ও ঝড়ে থাকি, যেমনটি আমাদের এই জীবনে জানা আছে।
=== অধ্যায় ৪৮ ===
[[File:Arco iris circular.JPG|thumb|আমি [[দয়া]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম, এবং আমি [[কৃপা]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম: যেগুলোর একটি [[প্রেমের]] মধ্যে দুই ধরনের কাজ আছে।]]
* '''আমাদের ভালো প্রভু পবিত্র আত্মা, যিনি আমাদের আত্মায় বসবাসকারী অন্তহীন জীবন, আমাদের খুব নিরাপদে রক্ষা করেন; এবং এর মধ্যে একটি শান্তি কাজ করেন এবং কৃপার দ্বারা একে স্বস্তিতে নিয়ে আসেন, এবং ঈশ্বরের সাথে সামঞ্জস্য করেন এবং একে নমনীয় করে তোলেন।''' এবং এটিই দয়া ও পথ যা আমাদের প্রভু ক্রমাগত আমাদের নিয়ে যান যতদিন আমরা এই জীবনে আছি যা পরিবর্তনশীল। <br> '''কারণ আমি মানুষের অংশে ক্রোধ ছাড়া আর কিছু দেখিনি; এবং তিনি আমাদের মধ্যে তা ক্ষমা করেন। কারণ ক্রোধ হলো শান্তি ও প্রেমের প্রতি এক ধরনের বিমুখতা ও বিপরীততা; এবং এটি হয় শক্তির ব্যর্থতা থেকে, অথবা প্রজ্ঞার ব্যর্থতা থেকে, অথবা মঙ্গলময়তার ব্যর্থতা থেকে আসে: যা ঈশ্বরের মধ্যে নেই, কিন্তু আমাদের অংশে। কারণ আমরা পাপ ও দুর্দশার দ্বারা আমাদের মধ্যে শান্তি ও প্রেমের প্রতি এক দুঃখজনক ও ক্রমাগত বিপরীততা বহন করি।''' এবং তা তিনি খুব প্রায়ই তাঁর করুণা ও সহানুভূতির প্রেমময় দৃষ্টিতে দেখিয়েছিলেন। কারণ দয়ার ভিত্তি হলো প্রেম, এবং দয়ার কাজ হলো ভালোবাসায় আমাদের রক্ষা করা। এবং এটি এমনভাবে দেখানো হয়েছিল যে আমি দয়ার অংশটি প্রেম ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে বুঝতে পারিনি; অর্থাৎ, আমার দৃষ্টিতে।
* '''দয়া হলো প্রেমের এক মিষ্টি কৃপাময় কাজ, প্রাচুর্যপূর্ণ সহানুভূতির সাথে মিশ্রিত: কারণ দয়া আমাদের রক্ষা করার কাজ করে, এবং দয়া আমাদের জন্য সবকিছুকে ভালোতে পরিণত করার কাজ করে।''' দয়া, প্রেমের দ্বারা, আমাদের পরিমাপের মধ্যে ব্যর্থ হতে দেয় এবং যতটা আমরা ব্যর্থ হই, ততটাই আমরা পড়ি; এবং যতটা আমরা পড়ি, ততটাই আমরা মরি: কারণ এটি অনিবার্য যে আমরা ততটাই মরি যতটা আমরা ঈশ্বরকে দেখা ও অনুভব করা থেকে ব্যর্থ হই যিনি আমাদের জীবন। আমাদের ব্যর্থতা ভয়ানক, আমাদের পতন লজ্জাজনক, এবং আমাদের মৃত্যু দুঃখজনক: কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যে সহানুভূতির মিষ্টি চোখ কখনো আমাদের থেকে সরে যায় না, বা দয়ার কাজও থেমে যায় না। <br> '''কারণ আমি [[দয়া]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম, এবং আমি [[কৃপা]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম: যেগুলোর একটি [[প্রেম]]ের মধ্যে দুই ধরনের কাজ আছে।''' দয়া হলো একটি করুণাময় বৈশিষ্ট্য যা কোমল প্রেমে মাতৃত্বের অন্তর্গত; এবং কৃপা হলো একটি পূজনীয় বৈশিষ্ট্য যা একই প্রেমে রাজকীয় প্রভুর অন্তর্গত। দয়া কাজ করে: রক্ষা করা, সহ্য করা, জীবিত করা এবং নিরাময় করা; এবং সবই প্রেমের কোমলতা। এবং কৃপা কাজ করে: উন্নীত করা, পুরস্কৃত করা, আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও পরিশ্রম যা অর্জন করে তার চেয়ে অন্তহীনভাবে অতিক্রম করা, ঈশ্বরের রাজকীয় প্রভুর মহান প্রাচুর্যপূর্ণ উদারতা তাঁর বিস্ময়কর সৌজন্যে ছড়িয়ে দেওয়া ও প্রদর্শন করা; এবং এটি প্রেমের প্রাচুর্য থেকে আসে। '''কারণ কৃপা আমাদের ভয়ানক ব্যর্থতাকে প্রাচুর্যপূর্ণ, অন্তহীন সান্ত্বনায় রূপান্তরিত করে; এবং কৃপা আমাদের লজ্জাজনক পতনকে উচ্চ, পূজনীয় উত্থানে রূপান্তরিত করে; এবং কৃপা আমাদের দুঃখজনক মৃত্যুকে পবিত্র, পরমানন্দময় জীবনে রূপান্তরিত করে।''' <br> কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের বিপরীততা যেমন আমাদের এখানে পৃথিবীতে যন্ত্রণা, লজ্জা ও দুঃখ দেয়, ঠিক তেমনই বিপরীত দিক থেকে, কৃপা আমাদের স্বর্গে সান্ত্বনা, পূজা ও পরমানন্দ দেয়; এবং অতিক্রম করে। এবং এতটা পর্যন্ত যে, যখন আমরা উপরে উঠি এবং সেই মিষ্টি পুরস্কার গ্রহণ করি যা কৃপা আমাদের জন্য তৈরি করেছে, তখন আমরা আমাদের প্রভুকে ধন্যবাদ ও আশীর্বাদ করব, অন্তহীনভাবে আনন্দিত হয়ে যে আমরা কখনো দুঃখ সহ্য করেছি। এবং এটি হবে পরমানন্দময় প্রেমের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য যা আমরা ঈশ্বরকে জানব যা দুঃখ ছাড়া আমরা কখনোই জানতে পারতাম না। <br> '''এবং যখন আমি এই সব দেখলাম, আমাকে স্বীকার করতেই হলো যে ঈশ্বরের দয়া ও ক্ষমা আমাদের ক্রোধকে শিথিল ও নষ্ট করার জন্য।'''
=== অধ্যায় ৪৯ ===
[[File:LuMaxArt_Golden_Family_With_World_Religions.jpg|thumb|অবিলম্বে আত্মা [[ঈশ্বরের]] সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে [[শান্তি]] স্থাপন করে।]]
[[File:Quaker Peace Star.png|thumb|আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে যেখানে আমাদের প্রভু উপস্থিত হন, সেখানে [[শান্তি]] আসে এবং [[ক্রোধ]]ের কোনো স্থান থাকে না। কারণ আমি ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ধরনের ক্রোধ দেখিনি, অল্প [[সময়ের]] জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য; — কারণ সত্যই, আমার দৃষ্টিতে, যদি [[ঈশ্বর]] এক মুহূর্তের জন্যও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে আমাদের কখনোই [[জীবন]] বা স্থান বা অস্তিত্ব থাকত না।]]
* '''অবিলম্বে আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে।'''
* '''এটি ছিল আত্মার জন্য এক উচ্চ বিস্ময় যা ক্রমাগত সমস্ত প্রকাশে দেখানো হয়েছিল, এবং খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল, যে আমাদের প্রভু ঈশ্বর, নিজের প্রতি ক্ষমা করতে পারেন না, কারণ তিনি ক্রুদ্ধ হতে পারেন না: এটি অসম্ভব হবে। কারণ এটি দেখানো হয়েছিল: যে আমাদের জীবন সম্পূর্ণভাবে প্রেমে ভিত্তি ও মূলিত, এবং প্রেম ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না;''' এবং তাই সেই আত্মার জন্য যে তাঁর বিশেষ কৃপায় ঈশ্বরের উচ্চ, বিস্ময়কর মঙ্গলময়তার গভীরে এতদূর দেখে, এবং দেখে যে আমরা প্রেমে তাঁর সাথে অন্তহীনভাবে একীভূত, এটি সবচেয়ে অসম্ভব যা হতে পারে যে ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হবেন। কারণ ক্রোধ ও বন্ধুত্ব দুটি বিপরীত। কারণ তিনি যিনি আমাদের ক্রোধ নষ্ট ও ধ্বংস করেন এবং আমাদের নম্র ও মৃদু করেন,—এটি অনিবার্য যে তাঁকে সর্বদা প্রেমে এক, নম্র ও মৃদু হতে হবে: যা ক্রোধের বিপরীত। <br> '''কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে যেখানে আমাদের প্রভু উপস্থিত হন, সেখানে শান্তি আসে এবং ক্রোধের কোনো স্থান থাকে না। কারণ আমি ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ধরনের ক্রোধ দেখিনি, অল্প সময়ের জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য;—কারণ সত্যই, আমার দৃষ্টিতে, যদি ঈশ্বর এক মুহূর্তের জন্যও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে আমাদের কখনোই জীবন বা স্থান বা অস্তিত্ব থাকত না।''' কারণ আমরা যেমন ঈশ্বরের অন্তহীন শক্তি এবং অন্তহীন প্রজ্ঞা এবং অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আমাদের অস্তিত্ব পাই, ঠিক তেমনই আমরা ঈশ্বরের অন্তহীন শক্তিতে, অন্তহীন প্রজ্ঞায় এবং অন্তহীন মঙ্গলময়তায় আমাদের সুরক্ষা পাই। কারণ যদিও আমরা নিজেদের মধ্যে, দুঃখী মানুষ, বিতর্ক ও কলহ অনুভব করি, তবুও আমরা ঈশ্বরের মৃদুতা ও তাঁর নম্রতায়, তাঁর দয়া ও তাঁর কৃপায় পুরোপুরি আবদ্ধ। কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের সমস্ত অন্তহীন বন্ধুত্ব, আমাদের স্থান, আমাদের জীবন এবং আমাদের অস্তিত্ব ঈশ্বরের মধ্যে।
* '''যদিও আমরা, আমাদের মধ্যে থাকা ক্রোধ ও বিপরীততার কারণে, এখন দুর্দশা, কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্যে আছি, যেমন আমাদের অন্ধত্ব ও দুর্বলতার কারণে ঘটে, তবুও আমরা ঈশ্বরের দয়াময় সুরক্ষার দ্বারা নিরাপদে আছি, যাতে আমরা ধ্বংস না হই। কিন্তু আমরা আমাদের অন্তহীন আনন্দের অধিকারী হয়ে ''পরমানন্দময়ভাবে'' নিরাপদ নই, যতক্ষণ না আমরা সবাই শান্তিতে ও প্রেমে থাকি: অর্থাৎ, ঈশ্বরের সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে এবং তাঁর সমস্ত বিচারের সাথে পূর্ণ সন্তুষ্ট, এবং আমাদের নিজেদের সাথে এবং আমাদের সম-খ্রিস্টানদের সাথে এবং ঈশ্বর যা ভালোবাসেন তার সবার সাথে প্রেমময় ও শান্তিপূর্ণ, যেমন প্রেম শোভা পায়।''' এবং এটি ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা আমাদের মধ্যে করে।
* '''এইভাবে আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বরই আমাদের প্রকৃত শান্তি, এবং আমরা যখন নিজেরাই অশান্তিতে থাকি তখন তিনিই আমাদের নিশ্চিত রক্ষক, এবং তিনি ক্রমাগত আমাদের অন্তহীন শান্তিতে আনার জন্য কাজ করেন।''' এবং এইভাবে যখন আমরা, দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা, নম্র ও মৃদু হই, আমরা পুরোপুরি নিরাপদ; হঠাৎ আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তিতে থাকে: কারণ তাঁর মধ্যে কোনো ক্রোধ পাওয়া যায় না। এবং এইভাবে আমি দেখেছিলাম যখন আমরা সবাই শান্তিতে ও প্রেমে থাকি, আমরা কোনো বিপরীততা খুঁজে পাই না, বা সেই বিপরীততার মাধ্যমে কোনো ধরনের বাধা পাই না যা এখন আমাদের মধ্যে আছে; আমাদের প্রভু তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে একে আমাদের জন্য খুব লাভজনক করে তোলেন। কারণ সেই বিপরীততাই আমাদের দুর্দশা ও আমাদের সমস্ত যন্ত্রণার কারণ, এবং আমাদের প্রভু যিশু সেগুলো গ্রহণ করেন এবং স্বর্গে পাঠান, এবং সেখানে সেগুলো হৃদয়ে চিন্তা বা জিহ্বায় বলার চেয়েও বেশি মিষ্টি ও আনন্দদায়ক করা হয়। এবং যখন আমরা সেখানে পৌঁছাব তখন আমরা সেগুলোকে প্রস্তুত পাব, সব খুব সুন্দর ও অন্তহীন পূজায় রূপান্তরিত।
=== অধ্যায় ৫০ ===
* '''এই জীবনে দয়া ও ক্ষমা আমাদের পথ এবং সর্বদা আমাদের কৃপার দিকে নিয়ে যায়। এবং যে ঝড় ও দুঃখের মধ্যে আমরা আমাদের অংশে পতিত হই, তাতে আমরা পৃথিবীতে মানুষের বিচারের অনুযায়ী প্রায়শই মৃত; কিন্তু ঈশ্বরের দৃষ্টিতে যে আত্মা রক্ষা পাবে সে কখনোই মৃত ছিল না, বা কখনোই হবে না।'''
* তবুও এখানে আমি আমার আত্মার সমস্ত মনোযোগ দিয়ে বিস্মিত ও বিস্ময়বোধ করলাম, আমার নিজের মধ্যে এইভাবে বলে: ''' ''ভালো প্রভু, আমি তোমাকে দেখি যিনি প্রকৃত সত্য; এবং আমি সত্যে জানি যে আমরা প্রতিদিন গুরুতরভাবে পাপ করি এবং অনেক বেশি দোষী; এবং আমি তোমার সত্যের জ্ঞান ত্যাগ করতে পারি না, বা আমি তোমাকে কোনো ধরনের দোষ দেখাতে দেখছি না। এটি কীভাবে সম্ভব?'' <br> কারণ আমি পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষা এবং আমার নিজের অনুভূতি দ্বারা জানতাম যে আমাদের পাপের দোষ ক্রমাগত আমাদের ওপর ঝুলে থাকে, প্রথম মানুষ থেকে শুরু করে আমরা স্বর্গে পৌঁছানো পর্যন্ত: তখন এটিই আমার বিস্ময় ছিল যে আমি আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে আমাদের প্রতি আর কোনো দোষ দেখাতে দেখিনি যেন আমরা স্বর্গে ফেরেশতাদের মতো পরিষ্কার ও পবিত্র।''' এবং এই দুটি বিপরীতের মধ্যে আমার যুক্তি আমার অন্ধত্বের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল, এবং এর ভয়ে কোনো বিশ্রাম পেতে পারিনি যে তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ উপস্থিতি আমার দৃষ্টি থেকে সরে যাবে এবং আমি না জেনে থেকে যাব যে তিনি আমাদের পাপে আমাদের কীভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কারণ হয় আমাকে ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে হতো যে পাপ পুরোপুরি দূর হয়েছে, অথবা আমাকে ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে হতো কীভাবে তিনি তা দেখেন, যার মাধ্যমে আমি সত্যই জানতে পারতাম কীভাবে আমার পাপ দেখা উচিত, এবং আমাদের দোষের ধরন। আমার আকাঙ্ক্ষা স্থায়ী ছিল, তাঁকে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করে;—এবং তবুও মহান সংকট ও বিভ্রান্তির জন্য আমি ধৈর্য ধরতে পারিনি, চিন্তা করে: ''যদি আমি এইভাবে ধরি যে আমরা পাপী নই এবং দোষী নই, তবে মনে হয় আমি ভুল করছি এবং এই সত্যের জ্ঞান থেকে ব্যর্থ হচ্ছি; এবং যদি এমন হয় যে আমরা পাপী ও দোষী,—ভালো প্রভু, তবে এটি কীভাবে সম্ভব যে আমি তোমার মধ্যে এই সত্য জিনিসটি দেখতে পাচ্ছি না, যিনি আমার ঈশ্বর, আমার নির্মাতা, যার মধ্যে আমি সমস্ত সত্য দেখতে আকাঙ্ক্ষা করি?''
* তিনটি পয়েন্ট আমাকে এটি জিজ্ঞাসা করার জন্য সাহসী করে তোলে। প্রথমটি হলো, কারণ এটি খুব ছোট একটি জিনিস: কারণ যদি এটি একটি উচ্চ জিনিস হতো তবে আমি ভীত হতাম। দ্বিতীয়টি হলো, যে এটি খুব সাধারণ: কারণ যদি এটি বিশেষ ও গোপন হতো, তবে আমি ভীত হতাম। তৃতীয়টি হলো, যে এটি জানা আমার প্রয়োজন (যেমন আমার মনে হয়) যদি আমি এখানে ভালো ও মন্দের জ্ঞান লাভের জন্য বাঁচি, যার মাধ্যমে আমি, যুক্তি ও কৃপার দ্বারা, সেগুলোকে আরও আলাদা করতে পারি, এবং মঙ্গলময়তাকে ভালোবাসতে পারি ও মন্দকে ঘৃণা করতে পারি, যেমন পবিত্র চার্চ শেখায়। আমি অন্তরের সাথে চিৎকার করলাম, আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করে, এইভাবে বলে: ''আহ! প্রভু যিশু, পরমানন্দের রাজা, আমি কীভাবে শান্ত হব? কে আমাকে শেখাবে এবং বলবে যে আমার কী জানা প্রয়োজন, যদি আমি এই সময়ে তোমার মধ্যে তা দেখতে না পাই?''
=== অধ্যায় ৫১ ===
* তখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু খুব অস্পষ্টভাবে একজন প্রভুর একটি বিস্ময়কর উদাহরণ দেখিয়ে উত্তর দিলেন যার একজন ভৃত্য আছে: এবং তিনি আমাকে উভয়ের প্রতি আমার বোঝার দৃষ্টি দিলেন। যে দৃষ্টি প্রভুর মধ্যে দ্বিগুণভাবে এবং ভৃত্যের মধ্যে দ্বিগুণভাবে দেখানো হয়েছিল: একটি অংশ শারীরিক সাদৃশ্যে আধ্যাত্মিকভাবে দেখানো হয়েছিল, এবং অন্য অংশটি আরও আধ্যাত্মিকভাবে দেখানো হয়েছিল, শারীরিক সাদৃশ্য ছাড়াই।
* আমি শারীরিক সাদৃশ্যে দুটি ব্যক্তিকে দেখলাম: অর্থাৎ, একজন প্রভু ও একজন ভৃত্য; এবং তার সাথে ঈশ্বর আমাকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান দিলেন। প্রভু শান্তিতে ও বিশ্রামে মহিমান্বিত হয়ে বসে আছেন; ভৃত্য তার প্রভুর সামনে শ্রদ্ধার সাথে দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রভুর ইচ্ছা পূরণ করতে প্রস্তুত। প্রভু তাঁর ভৃত্যের দিকে খুব ভালোবাসার সাথে ও মিষ্টিভাবে তাকান, এবং নম্রভাবে তিনি তাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠান তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে। ভৃত্য কেবল যায় না, বরং হঠাৎ সে শুরু করে, এবং প্রভুর ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রেমের সাথে খুব তাড়াহুড়ো করে দৌড়ায়। এবং অবিলম্বে সে একটি খাদে পড়ে যায়, এবং খুব মহান আঘাত পায়। এবং তখন সে আর্তনাদ করে ও বিলাপ করে ও শোক করে ও সংগ্রাম করে, কিন্তু সে কোনোভাবেই উঠতে পারে না বা নিজেকে সাহায্য করতে পারে না। <br> এবং এই সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যা আমি তাকে দেখেছি তা ছিল সান্ত্বনার ব্যর্থতা: কারণ সে তার ভালোবাসার প্রভুর দিকে তাকাতে মুখ ঘুরাতে পারেনি, যিনি তার খুব কাছাকাছি ছিলেন,—যাঁর মধ্যে পূর্ণ সান্ত্বনা আছে;—কিন্তু একজন মানুষের মতো যে সেই সময়ের জন্য দুর্বল ও অবিবেচক, সে তার মন তার অনুভূতির দিকে ঘুরাল এবং যন্ত্রণার মধ্যে স্থায়ী হলো।
* আমি বিস্মিত হলাম কীভাবে এই ভৃত্য সেখানে এই সমস্ত যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে, এবং আমি খুব সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করলাম যদি আমি তার মধ্যে কোনো দোষ বুঝতে পারি, অথবা প্রভু যদি তাকে কোনো দোষ দেন। এবং সত্যই সেখানে কিছুই দেখা যায়নি: কারণ কেবল তার সদিচ্ছা এবং তার মহান আকাঙ্ক্ষাই ছিল তার পতনের কারণ; এবং সে অনিচ্ছুক ছিল না, এবং ভেতরে ততটাই ভালো ছিল যেমনটি সে তার প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে প্রস্তুত। এবং ঠিক এভাবেই ক্রমাগত তার ভালোবাসার প্রভু খুব কোমলভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছেন।
* '''আমি দেখলাম ও বুঝলাম যে প্রতিটি প্রকাশ গোপন জিনিসে পূর্ণ।''' <br> এবং তাই আমাকে এখন তিনটি বৈশিষ্ট্য বলতে হবে যার মধ্যে আমি কিছুটা শান্ত হয়েছি। প্রথমটি হলো শিক্ষার শুরু যা আমি সেই সময়ে এতে বুঝেছিলাম; দ্বিতীয়টি হলো অভ্যন্তরীণ শিক্ষা যা আমি পরে এতে বুঝেছি; তৃতীয়টি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রকাশ (অর্থাৎ এই বইয়ের) যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে প্রায়শই মুক্তভাবে আমার বোঝার দৃষ্টিতে আনেন। এবং এই তিনটি আমার বোঝার অনুযায়ী এতটাই একীভূত যে আমি সেগুলোকে আলাদা করতে পারি না, বা করব না। এবং এই তিনটির দ্বারা, একটি হিসেবে, আমার কাছে শিক্ষা আছে যার মাধ্যমে আমার আমাদের প্রভু ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখা উচিত, যে একই মঙ্গলময়তা থেকে যা দিয়ে তিনি এটি দেখিয়েছেন, এবং একই উদ্দেশ্যের জন্য, ঠিক তেমনই, একই মঙ্গলময়তা থেকে এবং একই উদ্দেশ্যের জন্য তিনি আমাদের কাছে তা প্রকাশ করবেন যখন তাঁর ইচ্ছা হবে।
* কারণ, প্রকাশের সময়ের বিশ বছর পর, তিন মাস কম, আমি অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষা পেয়েছিলাম, যেমন আমি বলব: ''উদাহরণে যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য ও শর্ত দেখানো হয়েছিল তার প্রতি মনোযোগ দেওয়া তোমার কর্তব্য, যদিও তুমি মনে করো সেগুলো অস্পষ্ট এবং তোমার দৃষ্টিতে নির্বিশেষে।''
* প্রভু যিনি শান্তিতে ও বিশ্রামে মহিমান্বিত হয়ে বসে ছিলেন, আমি বুঝলাম যে তিনি ঈশ্বর। ভৃত্য যিনি প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমি বুঝলাম যে এটি আদমের জন্য দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, একজন মানুষকে দেখানো হয়েছিল, সেই সময়ে, এবং তার পতন, যাতে এটি বোঝা যায় কীভাবে ঈশ্বর সমস্ত-মানুষ এবং তার পতনকে পর্যবেক্ষণ করেন। '''কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সমস্ত মানুষ একজন মানুষ, এবং একজন মানুষ সমস্ত মানুষ। এই মানুষটি তার শক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল এবং খুব দুর্বল হয়েছিল; এবং সে তার বোঝাপড়ায় স্তব্ধ হয়েছিল যাতে সে তার প্রভুর পর্যবেক্ষণ থেকে ফিরে এসেছিল। কিন্তু তার ইচ্ছা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে অখণ্ড ছিল;—কারণ তার ইচ্ছা আমি আমাদের প্রভুকে প্রশংসা ও অনুমোদন করতে দেখেছি। কিন্তু সে নিজেই এই ইচ্ছা জানার থেকে বাধাগ্রস্ত ও অন্ধ ছিল; এবং এটি তার জন্য মহান শোক ও দুঃখজনক কষ্ট: কারণ সে না স্পষ্টভাবে দেখে তার ভালোবাসার প্রভুকে, যিনি তার প্রতি খুব নম্র ও মৃদু, না সে সত্যই দেখে সে তার ভালোবাসার প্রভুর দৃষ্টিতে কী। এবং আমি ভালো করেই জানি যখন এই দুটি বিজ্ঞতার সাথে ও সত্যভাবে দেখা হবে, আমরা এখানে আংশিকভাবে বিশ্রাম ও শান্তি পাব, এবং স্বর্গের পরমানন্দের পূর্ণতা পাব, তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায়। <br> এবং এটি ছিল শিক্ষার একটি শুরু যা আমি সেই সময়ে দেখেছিলাম, যার মাধ্যমে আমি জানতে পারতাম তিনি কীভাবে আমাদের পাপে আমাদের পর্যবেক্ষণ করেন।''' এবং তখন আমি দেখলাম যে কেবল যন্ত্রণা দোষ দেয় ও শাস্তি দেয়, এবং আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু সান্ত্বনা দেন ও শোক করেন; এবং সর্বদা তিনি আত্মার কাছে আনন্দদায়ক মেজাজে আছেন, ভালোবাসছেন, এবং আমাদের তাঁর পরমানন্দে আনতে আকাঙ্ক্ষা করছেন।
* প্রভু যে স্থানে বসে ছিলেন তা ছিল সরল, পৃথিবীতে, অনুর্বর ও মরুভূমি, প্রান্তরে একা; তাঁর পোশাক ছিল প্রশস্ত ও খুব মানানসই, যেমন একজন প্রভুর জন্য শোভা পায়; তাঁর পোশাকের রঙ ছিল নীলাভ, খুব বিষণ্ণ ও সুন্দর। তাঁর মেজাজ ছিল দয়াময়; তাঁর মুখের রঙ ছিল সুন্দর-বাদামী,—খুব মানানসই বৈশিষ্ট্যের সাথে; তাঁর চোখ ছিল কালো, খুব সুন্দর ও মানানসই, খুব ভালোবাসার ''সহানুভূতি'' দিয়ে পূর্ণ, এবং, তাঁর ''ভেতরে'', একটি উচ্চ পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ ও প্রশস্ত, সমস্ত অন্তহীন স্বর্গে পূর্ণ। এবং ভালোবাসার দৃষ্টি যা দিয়ে তিনি ক্রমাগত তাঁর ভৃত্যের দিকে তাকিয়েছিলেন,—এবং বিশেষ করে তার পতনে,—আমার মনে হয়েছিল তা প্রেমের জন্য আমাদের হৃদয় গলাতে পারে এবং আনন্দের জন্য সেগুলোকে দুই ভাগে ফাটাতে পারে। সুন্দর দৃষ্টি একটি মানানসই মিশ্রণ দেখিয়েছিল যা পর্যবেক্ষণ করা বিস্ময়কর ছিল: একটি ছিল করুণা ও সহানুভূতি, অন্যটি ছিল আনন্দ ও পরমানন্দ। আনন্দ ও পরমানন্দ করুণা ও সহানুভূতিকে ততটাই ছাড়িয়ে যায় যতটা স্বর্গ পৃথিবীর উপরে: সহানুভূতি ছিল পার্থিব এবং পরমানন্দ ছিল স্বর্গীয়।
* তাঁর প্রেমের চেহারার দয়াময় পর্যবেক্ষণ সমস্ত পৃথিবীকে পূর্ণ করেছিল এবং আদমের সাথে নরকে নেমে এসেছিল, যে ক্রমাগত সহানুভূতিতে আদমকে অন্তহীন মৃত্যু থেকে রক্ষা করা হয়েছিল। এবং এইভাবে দয়া ও সহানুভূতি মানবজাতির সাথে থাকে যতক্ষণ না আমরা স্বর্গে উপরে উঠি।
* মানুষ এই জীবনে অন্ধ এবং তাই আমরা আমাদের পিতা, ঈশ্বরকে দেখতে পারি না, যেমন তিনি আছেন। এবং যখন তিনি তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে মানুষের কাছে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি নিজেকে আপনভাবে দেখান, মানুষ হিসেবে। তবুও, আমি যুক্তি দিই, সত্যে আমাদের জানা ও বিশ্বাস করা উচিত যে পিতা মানুষ নন।
* পোশাকের নীলাভতা তাঁর স্থিরতা বোঝায়; তাঁর সুন্দর মুখের বাদামীতা, চোখের মানানসই কালোর সাথে, তাঁর পবিত্র স্থিরতা দেখানোর জন্য সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তাঁর পোশাকের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, যা সুন্দর ছিল, চারপাশে জ্বলজ্বল করছিল, বোঝায় যে তাঁর মধ্যে আছে, সমস্ত স্বর্গ, এবং সমস্ত আনন্দ ও পরমানন্দ: এবং এটি একটি স্পর্শে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি বলেছি: ''আমার বোঝাপড়া প্রভুর মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল''; যার মধ্যে আমি তাঁকে উচ্চতর আনন্দিত হতে দেখেছি সেই পূজনীয় পুনরুদ্ধারের জন্য যা তিনি তাঁর ভৃত্যকে তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায় আনবেন ও আনবেন।
* পৃথিবীতে একটি ধন ছিল যা প্রভু ভালোবাসতেন। আমি বিস্মিত হলাম এবং ভাবলাম এটি কী হতে পারে, এবং আমার বোঝাপড়ায় উত্তর পেলাম: ''এটি একটি খাদ্য যা প্রভুর কাছে আনন্দদায়ক ও মনোরম।''
* তবুও আমি বিস্মিত হলাম ভৃত্য কোথা থেকে এসেছিল। কারণ আমি প্রভুর মধ্যে দেখলাম যে তাঁর নিজের ভেতরে অন্তহীন জীবন আছে, এবং সমস্ত ধরনের মঙ্গলময়তা, পৃথিবীতে থাকা সেই ধন ছাড়া। এবং ''তা'' অন্তহীন প্রেমের বিস্ময়কর গভীরতায় প্রভুর মধ্যে ভিত্তি ছিল, কিন্তু এটি তাঁর পূজার জন্য পুরোপুরি ছিল না যতক্ষণ না ভৃত্য একে এইভাবে মহিমান্বিতভাবে প্রস্তুত করেছিল, এবং তার নিজের উপস্থিতিতে প্রভুর সামনে এনেছিল। এবং প্রভুর বাইরে প্রান্তর ছাড়া কিছুই ছিল না। এবং আমি সব বুঝতে পারিনি এই উদাহরণটির অর্থ কী, এবং তাই আমি বিস্মিত হলাম ভৃত্য কোথা থেকে এসেছিল।
* ভৃত্যের মধ্যে ত্রিত্বের দ্বিতীয় ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; এবং ভৃত্যের মধ্যে আদমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: অর্থাৎ, সমস্ত-মানুষ। এবং তাই যখন আমি 'পুত্র' বলি, তার অর্থ [[দেবত্ব]] যা পিতার সাথে সমান; এবং যখন আমি 'ভৃত্য' বলি, তার অর্থ খ্রিস্টের মানবতা, যা প্রকৃত আদম। ভৃত্যের নৈকট্য দ্বারা পুত্রকে বোঝা যায়, এবং বাম দিকে দাঁড়ানো দ্বারা আদমকে বোঝা যায়। প্রভু হলেন পিতা, ঈশ্বর; ভৃত্য হলেন পুত্র, খ্রিস্ট যিশু; পবিত্র আত্মা হলেন সমান প্রেম যা তাদের উভয়ের মধ্যে আছে।
* এই সবকিছুর মধ্যে আমাদের ভালো প্রভু তাঁর নিজের পুত্র এবং আদমকে কেবল একজন মানুষ হিসেবে দেখিয়েছেন। আমাদের মধ্যে যে গুণ ও মঙ্গলময়তা আছে তা যিশু খ্রিস্টের থেকে: আমাদের মধ্যে যে দুর্বলতা ও অন্ধত্ব আছে তা আদমের থেকে: যা দুটি ভৃত্যের মধ্যে দেখানো হয়েছিল।<br> এবং এইভাবে আমাদের ভালো প্রভু যিশু আমাদের সমস্ত দোষ নিজের ওপর নিয়েছেন, এবং তাই আমাদের পিতা খ্রিস্টপ্রিয় খ্রিস্টের চেয়ে আমাদের আর কোনো দোষ দিতে পারেন না বা দেবেন না।
* কারণ সমস্ত মানবজাতি যারা খ্রিস্টের মিষ্টি অবতার ও পরমানন্দময় প্যাশনের দ্বারা রক্ষা পাবে, সবই খ্রিস্টের মানবতা: কারণ তিনি হলেন প্রধান এবং আমরা তাঁর অঙ্গ। যে অঙ্গগুলোর জন্য দিন ও সময় অজানা যখন প্রতিটি দুঃখ ও শোকের শেষ হবে, এবং চিরস্থায়ী আনন্দ ও পরমানন্দ পূর্ণ হবে; যে দিন ও সময় দেখার জন্য, স্বর্গের সমস্ত কোম্পানি আকাঙ্ক্ষা করে। এবং স্বর্গের নিচে যারা আছে যারা সেখানে আসবে, তাদের পথ হলো আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার দ্বারা।
* এছাড়াও এই বিস্ময়কর উদাহরণে আমার সাথে শিক্ষা আছে যেমনটি এটি একটি এ.বি.সি.র শুরু, যার দ্বারা আমি আমাদের প্রভুর অর্থের কিছু বোঝাপড়া পেয়েছি। কারণ প্রকাশের গোপন জিনিসগুলো এতে লুকিয়ে আছে;—যদিও ''সমস্ত'' প্রকাশই গোপন জিনিসে পূর্ণ।
=== অধ্যায় ৫২ ===
* '''আমি দেখলাম যে ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের পিতা, এবং ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের মাতা, এবং ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের প্রকৃত জীবনসঙ্গী এবং আমাদের আত্মা তাঁর প্রিয় স্ত্রী। এবং খ্রিস্ট আনন্দিত যে তিনি আমাদের ভাই, এবং যিশু আনন্দিত যে তিনি আমাদের ত্রাণকর্তা। এগুলো পাঁচটি উচ্চ আনন্দ, যেমন আমি বুঝি, যার মধ্যে তিনি চান যে আমরা আনন্দ করি; তাঁর প্রশংসা করে, তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে, তাঁকে ভালোবেসে, তাঁকে অন্তহীনভাবে আশীর্বাদ করে।'''
* '''আমাদের উদ্দেশ্যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে বাস করি, এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে দয়া ও কৃপা পাওয়ার আস্থা রাখি; এবং এটি আমাদের মধ্যে তাঁর নিজস্ব কাজ। এবং তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে তিনি আমাদের বোঝার চোখ খুলে দেন, যার দ্বারা আমরা দৃষ্টি পাই, কখনো বেশি এবং কখনো কম, যেমন ঈশ্বর গ্রহণ করার ক্ষমতা দেন। এবং এখন আমরা একীভূত হই, এবং এখন আমরা অন্যটিতে পতিত হই।''' <br> এবং এইভাবে আমাদের মধ্যে এই মিশ্রণটি এত বিস্ময়কর যে আমরা খুব কমই আমাদের নিজের বা আমাদের সম-খ্রিস্টানের কথা জানি যে আমরা কোন পথে দাঁড়িয়ে আছি, এই বিভিন্ন অনুভূতির বিস্ময়করতার কারণে।
* এইভাবে আমরা আমাদের জীবনের সমস্ত দিন এই মিশ্রণে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু তিনি চান যে আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি আমাদের সাথে স্থায়ীভাবে আছেন। এবং তা তিন প্রকারে।—তিনি স্বর্গে আমাদের সাথে আছেন, প্রকৃত মানুষ, তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিতে, আমাদের উপরে টেনে নিচ্ছেন; এবং তা আধ্যাত্মিক তৃষ্ণায় দেখানো হয়েছিল। এবং তিনি পৃথিবীতে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের পরিচালিত করছেন; এবং তা তৃতীয়টিতে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখেছি। এবং তিনি আমাদের আত্মায় আমাদের সাথে আছেন, অন্তহীনভাবে বসবাস করছেন, আমাদের শাসন ও রক্ষা করছেন; এবং তা ষোড়শটিতে দেখানো হয়েছিল, যেমন আমি বলব।
* আমাদের কাছে, এখন, শোকের বিষয় আছে: কারণ আমাদের পাপ খ্রিস্টের যন্ত্রণার কারণ; এবং আমাদের কাছে, স্থায়ীভাবে, আনন্দের বিষয় আছে: কারণ অন্তহীন প্রেম তাঁকে সহ্য করতে বাধ্য করেছিল। এবং তাই '''যে সৃষ্টি কৃপার দ্বারা প্রেমের কাজ দেখে ও অনুভব করে, সে পাপ ছাড়া কিছুই ঘৃণা করে না: কারণ সমস্ত জিনিসের মধ্যে, আমার দৃষ্টিতে, প্রেম ও ঘৃণা সবচেয়ে কঠিন ও সবচেয়ে পরিমাপহীন বিপরীত।''' এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি আমাদের প্রভুর অর্থে দেখেছিলাম ও বুঝেছিলাম যে আমরা এই জীবনে পাপ থেকে এতটা অখণ্ডভাবে পরিষ্কার থাকতে পারি না যতটা আমরা স্বর্গে থাকব। কিন্তু আমরা অবশ্যই কৃপার দ্বারা সেই পাপগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি যা আমাদের অন্তহীন যন্ত্রণার দিকে নিয়ে যেত, যেমন পবিত্র চার্চ আমাদের শেখায়; এবং আমাদের সাধ্যমতো ভেনিয়াল পাপ এড়িয়ে চলতে পারি। এবং যদি আমরা আমাদের অন্ধত্ব ও আমাদের দুর্দশার কারণে কোনো সময় পড়ে যাই, তবে আমাদের তৎক্ষণাৎ ওঠা উচিত, কৃপার মিষ্টি স্পর্শ জেনে, এবং আমাদের সমস্ত ইচ্ছার সাথে পবিত্র চার্চের শিক্ষার ওপর নিজেদের সংশোধন করা উচিত, যেমন পাপ গুরুতর, এবং ভালোবাসায় অবিলম্বে ঈশ্বরের কাছে যাওয়া উচিত; এবং একদিকে, খুব নিচে পতিত হয়ে হতাশায় ঝুঁকে পড়া উচিত নয়, বা অন্যদিকে, খুব বেপরোয়া হওয়া উচিত নয়, যেন আমরা এর কোনো গুরুত্ব দিইনি; বরং আমাদের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে স্বীকার করা উচিত, এই জেনে যে আমরা কৃপার সুরক্ষা ছাড়া এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারি না, এবং শ্রদ্ধার সাথে ঈশ্বরের সাথে লেগে থাকা উচিত, কেবল তাঁর ওপর আস্থা রেখে। <br> কারণ ঈশ্বরের পর্যবেক্ষণ একরকম, এবং মানুষের পর্যবেক্ষণ অন্যরকম। কারণ মানুষের জন্য নিজেকে নম্রভাবে অভিযুক্ত করা যথার্থ, এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সঠিক মঙ্গলময়তার জন্য মানুষকে সৌজন্যের সাথে ক্ষমা করা যথার্থ।
* অন্য ধরনের পর্যবেক্ষণ দেখানো হয়েছিল ''অভ্যন্তরীণ'': এবং তা ছিল আরও উচ্চতর এবং পুরোপুরি ''এক''। '''কারণ জীবন ও গুণ যা আমরা নিম্ন অংশে পাই তা উচ্চতর থেকে, এবং তা কৃপার দ্বারা নিজের প্রাকৃতিক প্রেম থেকে আমাদের কাছে আসে। এক এবং অন্যটির মধ্যে ঠিক কিছুই নেই: কারণ এটি সবই এক প্রেম।''' যে এক আশীর্বাদপূর্ণ প্রেমের এখন, আমাদের মধ্যে, দ্বিগুণ কাজ আছে: কারণ নিম্ন অংশে যন্ত্রণা ও আবেগ, দয়া ও ক্ষমা আছে, এবং অন্যান্য বিষয় যা লাভজনক; কিন্তু উচ্চ অংশে এগুলোর কোনোটিই নেই, বরং সবই এক উচ্চ প্রেম ও বিস্ময়কর আনন্দ: যে আনন্দে সমস্ত যন্ত্রণা উচ্চতরভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়। এবং এতে আমাদের প্রভু কেবল আমাদের ক্ষমা প্রদর্শন করেননি, বরং সেই পূজনীয় মহৎতাও দেখিয়েছেন যা তিনি আমাদের আনবেন, আমাদের সমস্ত দোষকে অন্তহীন পূজায় রূপান্তরিত করে।
=== অধ্যায় ৫৩ ===
* আমি দেখলাম যে তিনি চান যেন আমরা বুঝি যে তিনি কোনো সৃষ্টির পতনকে যা রক্ষা পাবে তাকে আদমের পতনের চেয়ে বেশি কঠিনভাবে নেন না, যা, আমরা জানি, আদমের সমস্ত প্রয়োজনের সময়ে অন্তহীনভাবে ভালোবাসা ও নিরাপদে রক্ষিত ছিল, এবং এখন উচ্চতর অতিক্রমকারী আনন্দে পরমানন্দময়ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
* এতে যা আমি এখন বলেছি আমার আকাঙ্ক্ষা আংশিকভাবে উত্তর পেয়েছে, এবং আমার মহান অসুবিধা কিছুটা শান্ত হয়েছে, আমাদের ভালো প্রভুর প্রেমময়, কৃপাময় প্রকাশের দ্বারা। যে প্রকাশে '''আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম ও বুঝেছিলাম যে প্রতিটি আত্মায় যা রক্ষা পাবে এমন একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে যা কখনোই পাপকে সমর্থন করেনি, বা কখনোই করবে না: যা ইচ্ছা এতটাই ভালো যে তা কখনোই মন্দ চাইতে পারে না, বরং সর্বদা ক্রমাগত ভালো চায়; এবং ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ভালো কাজ করে।'''
* কিন্তু এই ন্যায়পরায়ণ বুনন এবং এই অন্তহীন একীভূত হওয়া সত্ত্বেও, মানবজাতির মুক্তি ও পুনরায়-ক্রয় প্রতিটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত, যেমনটি একই উদ্দেশ্যে ও একই লক্ষ্যের জন্য করা হয়েছে যা পবিত্র চার্চ আমাদের বিশ্বাসে শেখায়।
* '''তিনি আমাদের তৈরি করার আগে তিনি আমাদের ভালোবাসতেন, এবং যখন আমরা তৈরি হয়েছিলাম আমরা তাঁকে ভালোবাসতাম।''' এবং এটি একটি প্রেম যা ''তৈরি'' হয়েছে, পবিত্র আত্মার সদয় সারমর্মীয় ''মঙ্গলময়তা''র; শক্তিশালী, যুক্তিতে, পিতার ''শক্তির''; এবং জ্ঞানী, মনে, পুত্রের ''প্রজ্ঞার''। এবং এইভাবে মানুষের আত্মা ঈশ্বর দ্বারা তৈরি এবং একই বিন্দুতে ঈশ্বরের সাথে বুনন করা হয়েছে। <br> '''এবং এইভাবে আমি বুঝি যে মানুষের আত্মা শূন্য থেকে তৈরি: অর্থাৎ, এটি তৈরি হয়েছে, কিন্তু তৈরি হওয়া কিছু থেকে নয়।''' এবং এইভাবে:—যখন ঈশ্বর মানুষের শরীর তৈরি করবেন, তখন তিনি পৃথিবীর কাদামাটি নিলেন, যা সমস্ত শারীরিক জিনিসের মিশ্রণ ও সংগ্রহ; এবং তা থেকে তিনি মানুষের শরীর তৈরি করলেন। কিন্তু মানুষের আত্মা তৈরির জন্য তিনি ঠিক কিছুই নিতে চাননি, বরং একে তৈরি করলেন। এবং এইভাবে প্রকৃতি-তৈরি ন্যায়পরায়ণভাবে নির্মাতার সাথে একীভূত, যা হলো সারমর্মীয় প্রকৃতি-অনির্মিত: অর্থাৎ, ঈশ্বর। এবং '''তাই এটিই যে ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যে ঠিক কিছুই নেই বা থাকবে না।''' <br> এবং এই অন্তহীন প্রেমে মানুষের আত্মা অখণ্ড রাখা হয়েছে, যেমন প্রকাশের বিষয়বস্তু নির্দেশ করে ও দেখায়: যে অন্তহীন প্রেমে আমরা ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত ও রক্ষিত এবং কখনোই হারিয়ে যাব না। '''কারণ তিনি চান আমরা সচেতন হই যে আমাদের আত্মা একটি জীবন, যা জীবন তাঁর মঙ্গলময়তা ও তাঁর কৃপায় স্বর্গে অন্তহীনভাবে স্থায়ী হবে, তাঁকে ভালোবেসে, তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে, তাঁর প্রশংসা করে। এবং ঠিক একই যা আমরা অন্তহীনভাবে হব, একই যা আমরা ঈশ্বরের মধ্যে সঞ্চিত ও লুকানো ছিলাম, সৃষ্টির আদি থেকে জানা ও ভালোবাসা।''' <br> তাই তিনি চান আমরা বুঝি যে তিনি তৈরি করা সবচেয়ে মহৎ জিনিস হলো মানবজাতি: এবং সবচেয়ে পূর্ণ [[সারমর্ম]] এবং সবচেয়ে উচ্চ [[গুণ]] হলো খ্রিস্টের আশীর্বাদপূর্ণ আত্মা। এবং অধিকন্তু তিনি চান আমরা বুঝি যে তাঁর প্রিয় আত্মা তৈরির সময়ে তাঁর সাথে মূল্যবানভাবে বুনন করা হয়েছিল যা গ্রন্থিটি এতটাই সূক্ষ্ম ও শক্তিশালী যে এটি—ঈশ্বরের মধ্যে একীভূত: যে একীভূতকরণে এটি অন্তহীনভাবে পবিত্র হয়েছে। অধিকন্তু তিনি চান আমরা জানি যে সমস্ত আত্মা যা স্বর্গে অন্তহীনভাবে রক্ষা পাবে, এই একীভূতকরণে বুনন ও একীভূত এবং এই পবিত্রতায় পবিত্র হয়েছে।
=== অধ্যায় ৫৪ ===
* ঈশ্বরের সমস্ত মানবজাতির প্রতি এই মহান, অন্তহীন প্রেমের কারণে, তিনি খ্রিস্টের আশীর্বাদপূর্ণ আত্মা এবং যে ক্ষুদ্রতম আত্মা রক্ষা পাবে তার মধ্যে প্রেমের কোনো বিচ্ছিন্নতা করেন না।
* '''আমাদের খুব বেশি আনন্দ করা উচিত যে ঈশ্বর আমাদের আত্মায় বাস করেন, এবং আমাদের আরও বেশি আনন্দ করা উচিত যে আমাদের আত্মা ঈশ্বরে বাস করে। আমাদের আত্মা ঈশ্বরের আবাসস্থল হিসেবে ''তৈরি'' হয়েছে; এবং আত্মার আবাসস্থল হলো ঈশ্বর, যিনি ''অনির্মিত''। এবং এটি একটি উচ্চ বোঝাপড়া, অভ্যন্তরীণভাবে দেখা ও জানা যে ঈশ্বর, যিনি আমাদের নির্মাতা, আমাদের আত্মায় বাস করেন; এবং এটি একটি উচ্চতর বোঝাপড়া, অভ্যন্তরীণভাবে দেখা ও জানা যে আমাদের আত্মা, যা তৈরি হয়েছে, ঈশ্বরের [[সারমর্মে]] বাস করে: যে সারমর্ম, ঈশ্বর, আমরা তাই যা আমরা। <br> এবং আমি ঈশ্বর ও আমাদের সারমর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখিনি: কিন্তু যেমন এটি পুরোপুরি ঈশ্বর; এবং তবুও আমার বোঝাপড়া নিয়েছিল যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে: অর্থাৎ, ঈশ্বর ঈশ্বর, এবং আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে একটি সৃষ্টি।'''
* ত্রিত্বের সর্বশক্তিমান সত্য আমাদের পিতা: কারণ তিনি আমাদের তৈরি করেছেন এবং তাঁর মধ্যে আমাদের রক্ষা করেছেন; এবং ত্রিত্বের গভীর প্রজ্ঞা আমাদের মাতা, যাঁর মধ্যে আমরা সবাই আবদ্ধ; ত্রিত্বের উচ্চ মঙ্গলময়তা আমাদের প্রভু, এবং তাঁর মধ্যে আমরা আবদ্ধ, এবং তিনি আমাদের মধ্যে। আমরা পিতার মধ্যে আবদ্ধ, এবং আমরা পুত্রের মধ্যে আবদ্ধ, এবং আমরা পবিত্র আত্মার মধ্যে আবদ্ধ। এবং পিতা আমাদের মধ্যে আবদ্ধ, এবং পুত্র আমাদের মধ্যে আবদ্ধ, এবং পবিত্র আত্মা আমাদের মধ্যে আবদ্ধ: সর্বশক্তিমানতা, সমস্ত-প্রজ্ঞা, সমস্ত-মঙ্গলময়তা: এক ঈশ্বর, এক প্রভু।
* '''আমাদের [[বিশ্বাস]] একটি [[গুণ]] যা আমাদের প্রকৃতি-সারমর্ম থেকে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমাদের অনুভূতি-আত্মায় আসে; যার মধ্যে আমাদের সমস্ত গুণ আমাদের কাছে আসে: কারণ তা ছাড়া, কোনো মানুষ গুণ গ্রহণ করতে পারে না। কারণ এটি আমাদের অস্তিত্বের একটি সঠিক বোঝাপড়া, সত্য বিশ্বাসের সাথে এবং নিশ্চিত আস্থার সাথে, ছাড়া আর কিছুই নয়: যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে আছি, এবং ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন, যাঁকে আমরা দেখি না।''' এবং এই গুণ, যা ঈশ্বর আমাদের জন্য তৈরি করেছেন তাতে আসার সাথে, আমাদের মধ্যে মহান জিনিস কাজ করে। কারণ খ্রিস্টের দয়াময় কাজ আমাদের মধ্যে আছে, এবং আমরা পবিত্র আত্মার উপহার ও গুণের মাধ্যমে তাঁর সাথে কৃপাময়ভাবে সম্মত হই। এই কাজ আমাদের খ্রিস্টের সন্তান করে তোলে, এবং জীবদ্দশায় খ্রিস্টান।
** পাঠান্তর: ''বিশ্বাস আমাদের অস্তিত্বের একটি সঠিক বোঝাপড়া, সত্য বিশ্বাস ও নিশ্চিত আস্থার সাথে, ছাড়া আর কিছুই নয়: যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে আছি, এবং ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন: যাঁকে আমরা দেখি না।''
=== অধ্যায় ৫৫ ===
* এইভাবে খ্রিস্ট আমাদের পথ, তাঁর আইনে আমাদের নিশ্চিতভাবে পরিচালিত করছেন, এবং খ্রিস্ট তাঁর দেহে আমাদের শক্তভাবে স্বর্গে বহন করেন।
* আমাদের বিশ্বাস আমাদের আত্মার প্রাকৃতিক প্রেম থেকে, এবং আমাদের যুক্তির পরিষ্কার আলো থেকে, এবং স্থির মন থেকে আসে যা আমরা আমাদের প্রথম সৃষ্টিতে ঈশ্বর থেকে পেয়েছি। এবং সেই সময়ে যখন আমাদের আত্মা আমাদের শরীরে অনুপ্রাণিত হয়, যার মধ্যে আমরা ইন্দ্রিয়পরায়ণ হই, খুব শীঘ্রই দয়া ও কৃপা কাজ শুরু করে, করুণা ও প্রেমের সাথে আমাদের যত্ন ও সুরক্ষা নিয়ে: যে কাজে পবিত্র আত্মা আমাদের বিশ্বাসে ''আশা'' গঠন করেন যে আমরা আবার আমাদের [[সারমর্মে]] উপরে আসব, খ্রিস্টের গুণে, পবিত্র আত্মার মাধ্যমে বর্ধিত ও পূর্ণ হয়ে। এইভাবে আমি বুঝেছিলাম যে অনুভূতি-আত্মা প্রকৃতি, দয়া ও কৃপায় ভিত্তিযুক্ত: যে ভিত্তি আমাদের এমন উপহার গ্রহণ করতে সক্ষম করে যা আমাদের অন্তহীন জীবনের দিকে নিয়ে যায়। <br> কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে, এবং আমি আরও দেখেছিলাম যে আমাদের অনুভূতি-আত্মায় ঈশ্বর আছেন: কারণ সেই একই বিন্দুতে যেখানে আমাদের আত্মা ইন্দ্রিয়পরায়ণ হয়, সেই একই বিন্দুতে ঈশ্বরের শহর সৃষ্টির আদি থেকেই তাঁর জন্য নির্ধারিত; যে আসনে তিনি আসেন, এবং কখনোই তা অপসারণ করবেন না। কারণ '''ঈশ্বর কখনোই আত্মার বাইরে নন: যার মধ্যে তিনি অন্তহীনভাবে পরমানন্দময়ভাবে বসবাস করেন।'''
=== অধ্যায় ৫৬ ===
[[File:Anna Sahlstén - Passage.jpg|thumb|আমরা ঈশ্বরের পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।]]
* এইভাবে আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে ঈশ্বরকে জানার দিকে আসা আমাদের জন্য নিজের আত্মাকে জানার চেয়ে বেশি সহজ। কারণ আমাদের আত্মা ঈশ্বরের মধ্যে এত গভীরভাবে ভিত্তিযুক্ত, এবং এত অন্তহীনভাবে সঞ্চিত, যে আমরা তার জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমাদের প্রথমে ঈশ্বরের জ্ঞান হয়, যিনি নির্মাতা, যার সাথে এটি একীভূত। কিন্তু, এই সব সত্ত্বেও, আমি দেখলাম যে আমাদের পূর্ণতার জন্য, বিজ্ঞতার সাথে ও সত্যভাবে আমাদের নিজের আত্মাকে জানার আকাঙ্ক্ষা করতে হবে: যার মাধ্যমে আমরা শিখি একে সেখানে খুঁজতে যেখানে এটি আছে, এবং তা হলো, ঈশ্বরের মধ্যে। এবং এইভাবে পবিত্র আত্মার কৃপাময় নির্দেশনায়, আমাদের উভয়কেই এক হিসেবে জানা উচিত: আমরা ঈশ্বরকে জানার জন্য বা আমাদের আত্মাকে জানার জন্য উৎসাহিত হই না কেন, উভয়ই ভালো ও সত্য।
* '''ঈশ্বর আমাদের নিজের আত্মার চেয়ে আমাদের কাছাকাছি: কারণ তিনিই ভিত্তি যার ওপর আমাদের আত্মা দাঁড়িয়ে আছে, এবং তিনিই মাধ্যম যা [[সারমর্ম]] ও ইন্দ্রিয়-প্রকৃতিকে একসাথে রাখে যাতে তারা কখনোই বিচ্ছিন্ন না হয়।''' কারণ আমাদের আত্মা প্রকৃত বিশ্রামে ঈশ্বরের মধ্যে বসে, এবং আমাদের আত্মা প্রকৃত শক্তিতে ঈশ্বরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, এবং আমাদের আত্মা অন্তহীন প্রেমে ঈশ্বরের মধ্যে সদয়ভাবে মূলিত: এবং তাই যদি আমরা আমাদের আত্মা সম্পর্কে জ্ঞান পেতে চাই, এবং তার সাথে যোগাযোগ ও কথোপকথন করতে চাই, তবে আমাদের আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে খুঁজতে হবে যার মধ্যে এটি আবদ্ধ।
* আমাদের সারমর্ম ও আমাদের ইন্দ্রিয়-অংশ, উভয়কেই একসাথে আমাদের আত্মা বলা যেতে পারে: এবং এটি ঈশ্বরের মধ্যে তাদের একীভূত হওয়ার কারণে।
* '''আমরা ঈশ্বরের পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।'''
** পাঠান্তর: ''আমরা ঈশ্বরকে পূর্ণভাবে জানতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।''
* ঈশ্বর চান যে আমরা বুঝি, আমাদের সমস্ত হৃদয়ের সাথে আকাঙ্ক্ষা করে তাদের সম্পর্কে জ্ঞান পেতে বেশি বেশি যতক্ষণ না আমরা পূর্ণ হই: কারণ তাদের পূর্ণভাবে জানা আর কিছুই নয় বরং অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দ যা আমরা স্বর্গে পাব, যা ঈশ্বর চান এখানে তাঁর প্রেমের জ্ঞানে শুরু হোক। <br> কারণ কেবল আমাদের যুক্তির দ্বারা আমরা লাভবান হতে পারি না, যদি না আমাদের সাথে একইভাবে মন ও প্রেম থাকে: বা আমাদের প্রকৃতি-ভিত্তিতে যা আমরা ঈশ্বর থেকে পেয়েছি আমরা রক্ষা পেতে পারি না যদি না আমাদের থাকে, একই ভিত্তি থেকে আসা, দয়া ও কৃপা। কারণ এই তিনটি একসাথে কাজ করে আমরা আমাদের সমস্ত মঙ্গলময়তা গ্রহণ করি।
=== অধ্যায় ৫৭ ===
* '''আমি দেখলাম যে আমাদের [[প্রকৃতি]] [[ঈশ্বরের]] মধ্যে [[অখণ্ড]]: যার মধ্যে তিনি তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর থেকে প্রবাহিত [[বৈচিত্র্য]] তৈরি করেন: যাকে প্রকৃতি রক্ষা করে, এবং [[দয়া]] ও [[কৃপা]] পুনরুদ্ধার করে ও পূর্ণ করে।''' এবং এগুলোর কোনোটিই ধ্বংস হবে না: কারণ আমাদের প্রকৃতি যা উচ্চতর অংশ তা তৈরির সময়ে ঈশ্বরের সাথে বুনন করা হয়েছে; এবং ঈশ্বর আমাদের প্রকৃতির সাথে বুনন করা হয়েছে যা নিম্নতর অংশ, আমাদের মাংস-গ্রহণে: এবং এইভাবে [[খ্রিস্টে]] আমাদের দুটি প্রকৃতি একীভূত হয়েছে।
** পাঠান্তর: ''খ্রিস্টে আমাদের দুটি প্রকৃতি একীভূত হয়েছে।''
* আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে ঈশ্বর যে সমস্ত কাজ করেছেন, বা করবেন, সেগুলো তাঁর কাছে পুরোপুরি জানা এবং সৃষ্টির আদি থেকেই আগে দেখা ছিল। এবং প্রেমের জন্য তিনি মানবজাতি তৈরি করেছিলেন, এবং একই প্রেমের জন্য মানুষ হতে চেয়েছিলেন।
*''' ''তিনি আমাদের [[আত্মায়]] বসেন।''''' <br> কারণ এটি তাঁর ভালো-আনন্দ আমাদের বোঝাপড়ায় পরমানন্দময়ভাবে শাসন করা, এবং আমাদের আত্মায় শান্তিতে বসা, এবং আমাদের আত্মায় অন্তহীনভাবে বসবাস করা, আমাদের সবাইকে তাঁর মধ্যে কাজ করানো: যে কাজে তিনি চান আমরা তাঁর সাহায্যকারী হই, আমাদের সমস্ত মনোযোগ তাঁকে দিয়ে, তাঁর শিক্ষা শিখে, তাঁর আইন মেনে, আকাঙ্ক্ষা করে যে সব করা হোক যা তিনি করেন; সত্যই তাঁর ওপর আস্থা রেখে। <br> কারণ সত্যই '''আমি দেখেছিলাম যে আমাদের [[সারমর্ম]] ঈশ্বরের মধ্যে আছে।'''
=== অধ্যায় ৫৮ ===
[[File:Kazimirowski Eugeniusz, Divine Mercy, 1934.jpg|thumb|আমাদের সমস্ত জীবন ''তিন''-এ আছে: প্রথমটিতে আমাদের অস্তিত্ব আছে, দ্বিতীয়টিতে আমাদের বৃদ্ধি আছে, এবং তৃতীয়টিতে আমাদের পূর্ণতা আছে: প্রথমটি প্রকৃতি, দ্বিতীয়টি [[দয়া]], এবং তৃতীয়টি [[কৃপা]]।]]
* '''আমাদের তৈরির সময়ে, [[ঈশ্বর]], সর্বশক্তিমান, আমাদের [[প্রকৃতি]]র [[পিতা]]; এবং ঈশ্বর, [[সর্ব]]-[[প্রজ্ঞা]], আমাদের প্রকৃতির [[মাতা]]; [[পবিত্র আত্মা]]র [[প্রেম]] ও [[মঙ্গলময়তা]]র সাথে: যা সবই এক ঈশ্বর, এক প্রভু। এবং বুনন ও একীভূতকরণে তিনি আমাদের প্রকৃত, সত্য জীবনসঙ্গী, এবং আমরা তাঁর প্রিয় স্ত্রী, তাঁর সুন্দর কুমারী: যে স্ত্রীর সাথে তিনি কখনোই অসন্তুষ্ট হন না। কারণ তিনি বলেন: আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং তুমি আমাকে ভালোবাসো, এবং আমাদের প্রেম কখনোই দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হবে না।'''
* আমি সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ ত্রিত্বের কাজ পর্যবেক্ষণ করলাম: যে পর্যবেক্ষণে আমি এই তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখলাম ও বুঝলাম: পিতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, এবং প্রভুত্বের বৈশিষ্ট্য, এক ঈশ্বরের মধ্যে।
* '''তিনি আমাদের মাতা, ভাই, এবং ত্রাণকর্তা।''' এবং আমাদের ভালো প্রভু, পবিত্র আত্মার মধ্যে, আমরা আমাদের জীবন ও আমাদের পরিশ্রমের জন্য আমাদের পুরস্কার ও আমাদের প্রতিদান পাই, এবং আমাদের সমস্ত আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন অতিক্রম, তাঁর বিস্ময়কর সৌজন্যে, তাঁর উচ্চ প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায়।
* '''সমস্ত জীবন ''তিন''-এ আছে: প্রথমটিতে আমাদের অস্তিত্ব আছে, দ্বিতীয়টিতে আমাদের বৃদ্ধি আছে, এবং তৃতীয়টিতে আমাদের পূর্ণতা আছে: প্রথমটি হলো প্রকৃতি, দ্বিতীয়টি হলো [[দয়া]], এবং তৃতীয়টি হলো [[কৃপা]]।'''
* ত্রিত্বের উচ্চ শক্তি আমাদের পিতা, এবং ত্রিত্বের গভীর প্রজ্ঞা আমাদের মাতা, এবং ত্রিত্বের মহান প্রেম আমাদের প্রভু: এবং এই সবই আমরা প্রকৃতিতে এবং আমাদের সারমর্মের তৈরিতে পেয়েছি।
* আমাদের মাতা আমাদের সাথে বিভিন্নভাবে কাজ করছেন: যার মধ্যে আমাদের অংশগুলো অখণ্ড রাখা হয়েছে। কারণ আমাদের মাতা খ্রিস্টে আমরা লাভবান হই ও বৃদ্ধি পাই, এবং দয়ায় তিনি আমাদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার করেন, এবং, তাঁর প্যাশন ও মৃত্যু ও উত্থানের গুণের দ্বারা, আমাদের আমাদের সারমর্মের সাথে একীভূত করেন। এইভাবে আমাদের মাতা দয়া করে তাঁর সমস্ত সন্তানের জন্য কাজ করেন যারা তাঁর প্রতি নমনীয় ও বাধ্য।
* কৃপা দয়ার সাথে কাজ করে, এবং বিশেষ করে দুটি বৈশিষ্ট্যে, যেমনটি দেখানো হয়েছিল: যা কাজ তৃতীয় ব্যক্তির, পবিত্র আত্মার অন্তর্গত। তিনি ''পুরস্কৃত'' করা এবং ''দান'' করার কাজ করেন।
* পুরস্কার দেওয়া হলো সত্যের একটি বিশাল দান যা প্রভু তাকে করেন যে পরিশ্রম করেছে; এবং দান করা হলো একটি সৌজন্যপূর্ণ কাজ যা তিনি কৃপা থেকে মুক্তভাবে করেন, সৃষ্টির প্রাপ্য সমস্ত কিছু পূর্ণ ও অতিক্রম করে।
* আমাদের পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের মধ্যে, আমাদের অস্তিত্ব আছে; এবং দয়ার মাতার মধ্যে আমাদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার আছে: যার মধ্যে আমাদের অংশগুলো একীভূত এবং সব তৈরি হয়েছে নিখুঁত মানুষ; এবং পবিত্র আত্মার কৃপায় নমনীয়তা ও দানের দ্বারা, আমরা পূর্ণ হই।
* '''আমাদের [[সারমর্ম]] আমাদের পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, এবং আমাদের সারমর্ম আমাদের মাতা, ঈশ্বর, সর্ব-প্রজ্ঞা; এবং আমাদের সারমর্ম আমাদের প্রভু পবিত্র আত্মা, ঈশ্বর সর্ব-মঙ্গলময়তার মধ্যে আছে।''' কারণ আমাদের সারমর্ম ত্রিত্বের প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে অখণ্ড, যা হলো এক ঈশ্বর। এবং আমাদের অনুভূতি-আত্মা কেবল দ্বিতীয় ব্যক্তি খ্রিস্ট যিশুতে; যাঁর মধ্যে পিতা ও পবিত্র আত্মা আছেন: এবং তাঁর মধ্যে ও তাঁর দ্বারা আমরা শক্তিশালীভাবে নরক থেকে নেওয়া হই, এবং পৃথিবীতে থাকা দুর্দশা থেকে পূজনীয়ভাবে স্বর্গে উপরে আনা হই এবং পরমানন্দময়ভাবে আমাদের সারমর্মের সাথে একীভূত হই: খ্রিস্টের সমস্ত গুণ দ্বারা, এবং পবিত্র আত্মার কৃপা ও কাজের দ্বারা সমৃদ্ধি ও মহৎতায় বৃদ্ধি পাই।
=== অধ্যায় ৫৯ ===
* '''খ্রিস্ট যিনি মন্দের বিপরীতে ভালো করেন তিনি আমাদের প্রকৃত মাতা: তাঁর থেকে আমরা আমাদের অস্তিত্ব পাই যেখানে মাতৃত্বের ভিত্তি শুরু হয়,—প্রেমের সাথে মিষ্টি সুরক্ষার সাথে, যা অন্তহীনভাবে অনুসরণ করে।'''
* এই সমস্ত পরমানন্দ আমরা দয়া ও কৃপার দ্বারা পাই: যে ধরনের পরমানন্দ আমরা কখনোই পেতাম না বা জানতাম না যদি না মঙ্গলময়তার সেই বৈশিষ্ট্য যা ঈশ্বর তা বিপরীত হতো: যার দ্বারা আমরা এই পরমানন্দ পাই। কারণ মঙ্গলময়তার বিপরীত হিসেবে মন্দকে উঠতে দেওয়া হয়েছে, এবং দয়া ও কৃপার মঙ্গলময়তা মন্দের বিপরীতে কাজ করেছে এবং সবকিছুকে মঙ্গলময়তায় ও পূজায় পরিণত করেছে, তাদের সবার জন্য যারা রক্ষা পাবে। কারণ এটি ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য যা মন্দের বিপরীতে ভালো কাজ করে। এইভাবে যিশু খ্রিস্ট যিনি মন্দের বিপরীতে ভালো করেন তিনি আমাদের প্রকৃত মাতা: তাঁর থেকে আমরা আমাদের অস্তিত্ব পাই,—যেখানে মাতৃত্বের ভিত্তি শুরু হয়,—প্রেমের মিষ্টি সুরক্ষার সাথে যা অন্তহীনভাবে অনুসরণ করে।
* '''ঈশ্বর যেমন সত্যই আমাদের পিতা, তেমনই সত্যই ঈশ্বর আমাদের মাতা; এবং তা তিনি সবকিছুর মধ্যে দেখিয়েছিলেন, এবং বিশেষ করে এই মিষ্টি শব্দগুলোতে যেখানে তিনি বলেন: ''আমিই''। তা হলো, ''আমিই, পিতৃত্বের শক্তি ও মঙ্গলময়তা; আমিই, মাতৃত্বের প্রজ্ঞা; আমিই, আলো ও কৃপা যা সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম: আমিই, ত্রিত্ব, আমিই, ঐক্য: আমি সব ধরনের জিনিসের সার্বভৌম মঙ্গলময়তা। আমিই সেই যা তোমাকে ভালোবাসতে বাধ্য করে: আমিই সেই যা তোমাকে আকাঙ্ক্ষা করতে বাধ্য করে: আমিই, সমস্ত সত্য আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন পূর্ণতা।'' <br> কারণ সেখানে আত্মা সবচেয়ে উচ্চ, সবচেয়ে মহৎ, এবং সবচেয়ে যোগ্য, যেখানে এটি সবচেয়ে নিচু, সবচেয়ে নম্র, এবং সবচেয়ে মৃদু: এবং এই ''সারমর্মীয় ভিত্তি'' থেকে আমরা আমাদের অনুভূতি-অংশে প্রকৃতির উপহার, দয়া ও কৃপার সাহায্য ও গতি দ্বারা আমাদের সমস্ত গুণ পাই: যা ছাড়া আমরা লাভবান হতে পারি না।'''
* আমাদের উচ্চ পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, যিনি অস্তিত্ব, তিনি কোনো সময়ের আগেই আমাদের জানতেন ও ভালোবাসতেন: যে জ্ঞান থেকে, তাঁর বিস্ময়কর গভীর দাতব্যে এবং সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ ত্রিত্বের আগে দেখা পরামর্শে, তিনি ইচ্ছা করেছিলেন যে দ্বিতীয় ব্যক্তি আমাদের মাতা হবেন। আমাদের পিতা, আমাদের মাতা কাজ করেন, আমাদের ভালো প্রভু পবিত্র আত্মা নিশ্চিত করেন: এবং তাই আমাদের ঈশ্বরকে ভালোবাসা আমাদের জন্য যথার্থ যাঁর মধ্যে আমাদের অস্তিত্ব আছে: তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ধন্যবাদ জানিয়ে ও প্রশংসা করে আমাদের তৈরির জন্য, আমাদের মাতার কাছে দয়া ও সহানুভূতির জন্য শক্তিশালীভাবে প্রার্থনা করে, এবং আমাদের প্রভু পবিত্র আত্মার কাছে সাহায্য ও কৃপার জন্য। <br> কারণ এই তিনটির মধ্যে আমাদের সমস্ত জীবন: প্রকৃতি, দয়া, কৃপা: যার থেকে আমরা নম্রতা ও মৃদুতা পাই; ধৈর্য ও সহানুভূতি; এবং পাপ ও মন্দের ঘৃণা,—কারণ পাপ ও মন্দের ঘৃণা করা গুণের জন্য যথাযথভাবে অন্তর্গত। এবং এইভাবে যিশু আমাদের প্রথম তৈরির প্রকৃতিতে আমাদের প্রকৃত মাতা; এবং তিনি কৃপায় আমাদের প্রকৃত মাতা, আমাদের তৈরি প্রকৃতি গ্রহণ করে। সমস্ত সুন্দর কাজ, এবং প্রিয় মাতৃত্বের সমস্ত মিষ্টি প্রাকৃতিক অফিস দ্বিতীয় ব্যক্তির সাথে মিশে আছে: কারণ তাঁর মধ্যে আমরা এই ঐশ্বরিক ইচ্ছা অখণ্ড ও নিরাপদে অন্তহীনভাবে পাই, প্রকৃতি ও কৃপা উভয়টিতেই, তাঁর নিজস্ব প্রকৃত মঙ্গলময়তা থেকে।
* '''আমি ঈশ্বরের মধ্যে মাতৃত্ব পর্যবেক্ষণের তিনটি প্রকার বুঝেছিলাম: প্রথমটি আমাদের প্রকৃতির ''তৈরির'' উপর ভিত্তি করে; দ্বিতীয়টি হলো আমাদের প্রকৃতির ''গ্রহণ''—এবং সেখানে কৃপার মাতৃত্ব শুরু হয়; তৃতীয়টি হলো ''কাজের'' মাতৃত্ব—এবং এর মধ্যে একই কৃপার দ্বারা অন্তহীনভাবে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ও উচ্চতা ও গভীরতায় একটি বিস্তার আছে। এবং সবই এক প্রেম।'''
=== অধ্যায় ৬০ ===
* এখন এই বিস্তার সম্পর্কে আরও একটু বলা প্রয়োজন, যেমনটি আমি আমাদের প্রভুর অর্থে বুঝি: কীভাবে আমরা দয়া ও কৃপার মাতৃত্বের দ্বারা আমাদের প্রকৃতির স্থানে ফিরে আসি, যেখানে আমরা প্রকৃতি-প্রেমের মাতৃত্বের দ্বারা তৈরি হয়েছিলাম: যে সদয়-প্রেম, তা কখনোই আমাদের ত্যাগ করে না। <br> আমাদের সদয় মাতা, আমাদের কৃপাময় মাতা, কারণ তিনি সবকিছুতেই আমাদের মাতা হতে চেয়েছিলেন, তিনি কুমারীর গর্ভে খুব নিচুভাবে ও খুব মৃদুভাবে তাঁর কাজের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
* আমাদের উচ্চ ঈশ্বর সকলের সার্বভৌম প্রজ্ঞা: এই নিচু স্থানে তিনি আমাদের দরিদ্র মাংসে নিজেকে খুব প্রস্তুত ও সজ্জিত করেছিলেন, নিজেই মাতৃত্বের সেবা ও অফিস সব কিছুতে পূরণ করতে।
* '''এই সুন্দর মিষ্টি শব্দ ''মাতা'', তা প্রকৃতির মধ্যে নিজেই এতটাই মিষ্টি ও ঘনিষ্ঠ যে এটি সত্যই ''তাঁর'' ছাড়া আর কারো দ্বারা বলা সম্ভব নয়; এবং তাঁর কাছে যিনি সত্যই তাঁর এবং সবার মাতা।''' মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত হলো প্রাকৃতিক প্রেম, প্রজ্ঞা, ও জ্ঞান; এবং এটি ভালো: কারণ যদিও এটি এমন যে আমাদের শারীরিক জন্মদান আমাদের আধ্যাত্মিক জন্মদানের তুলনায় খুব ছোট, নিচু, ও সাধারণ, তবুও তিনিই তা করেন যে সৃষ্টির মধ্যে যার দ্বারা তা করা হয়। সদয়, ভালোবাসার মাতা যিনি তাঁর শিশুর প্রয়োজন বোঝেন ও জানেন, তিনি একে খুব কোমলভাবে রক্ষা করেন, যেমন মাতৃত্বের প্রকৃতি ও অবস্থা চায়। এবং যখন এটি বয়সে বৃদ্ধি পায়, তিনি তার কাজ পরিবর্তন করেন, কিন্তু তার প্রেম নয়। এবং যখন এটি আরও বয়সে বৃদ্ধি পায়, তিনি সহ্য করেন যে একে vices বা দোষ ভাঙার জন্য মারপিট করা হোক, শিশুকে গুণ ও কৃপা গ্রহণ করতে বাধ্য করতে। '''এই কাজ, সমস্ত সুন্দর ও ভালোর সাথে, আমাদের প্রভু তাদের মধ্যে করেন যার দ্বারা তা করা হয়: এইভাবে তিনি কৃপার কাজের দ্বারা নিম্ন অংশে উচ্চতর অংশের প্রেমের জন্য প্রকৃতিতে আমাদের মাতা। এবং তিনি চান যেন আমরা এটি জানি: কারণ তিনি চান আমাদের সমস্ত প্রেম তাঁর সাথে আবদ্ধ হোক। এবং এতে আমি দেখলাম যে আমাদের সমস্ত কর্তব্য যা আমরা পিতার মাতৃত্ব ও মাতৃত্বের প্রতি ঈশ্বরের আদেশের দ্বারা ঋণী, কারণ ঈশ্বরের পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব ঈশ্বরের প্রতি সত্য ভালোবাসায় পূর্ণ হয়; যা আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম খ্রিস্ট আমাদের মধ্যে কাজ করেন।''' এবং এটি সবকিছুর মধ্যে এবং বিশেষ করে উচ্চ প্রাচুর্যপূর্ণ শব্দগুলোতে দেখানো হয়েছিল যেখানে তিনি বলেন: ''আমিই যাকে তুমি ভালোবাসো।''
=== অধ্যায় ৬১ ===
* আমাদের আধ্যাত্মিক জন্মদানে তিনি সুরক্ষা ও কোমলতা বেশি ব্যবহার করেন, কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই: যতটা আমাদের আত্মা তাঁর দৃষ্টিতে বেশি মূল্যবান। তিনি আমাদের বোঝাপড়া প্রজ্বলিত করেন, তিনি আমাদের পথ নির্দেশ করেন, তিনি আমাদের বিবেক শান্ত করেন, তিনি আমাদের আত্মাকে সান্ত্বনা দেন, তিনি আমাদের হৃদয় আলোকিত করেন, এবং আমাদের দেন, আংশিকভাবে, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ [[দেবত্বের]] জ্ঞান ও বিশ্বাস, তাঁর মিষ্টি মানবতা ও তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্যাশনের প্রতি কৃপাময় মন নিয়ে, তাঁর উচ্চ, অতিক্রমকারী মঙ্গলময়তায় শ্রদ্ধাশীল বিস্ময়ের সাথে; এবং আমাদের ভালোবাসতে বাধ্য করেন যা তিনি ভালোবাসেন, তাঁর প্রেমের জন্য, এবং তাঁর ও তাঁর সমস্ত কাজের সাথে সন্তুষ্ট হতে। এবং যখন আমরা পতিত হই, দ্রুত তিনি আমাদের তাঁর সুন্দর ডাক ও কৃপাময় স্পর্শের দ্বারা উত্থাপন করেন। এবং যখন আমরা তাঁর মিষ্টি কাজের দ্বারা শক্তিশালী হই, তখন আমরা আমাদের সমস্ত ইচ্ছার সাথে তাঁকে বেছে নিই, তাঁর মিষ্টি কৃপার দ্বারা, তাঁর ভৃত্য ও তাঁর প্রেমিক হতে স্থায়ীভাবে অন্তহীনভাবে।
* যদি আমরা কখনোই পতিত না হতাম, তবে আমরা জানতাম না আমরা নিজের থেকে কতটা দুর্বল ও কতটা দুঃখী, এবং এছাড়াও আমরা আমাদের নির্মাতার সেই বিস্ময়কর প্রেম পুরোপুরি জানতাম না। কারণ আমরা স্বর্গে সত্যই দেখতে পাব, অন্তহীনভাবে, যে আমরা এই জীবনে গুরুতরভাবে পাপ করেছি, এবং এটি সত্ত্বেও, আমরা দেখতে পাব যে আমরা তাঁর প্রেমে কখনোই আঘাতপ্রাপ্ত হইনি, তাঁর দৃষ্টিতে আমরা কখনোই কম মূল্যবান ছিলাম না। এবং এই পতনের পরীক্ষার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের প্রেমের একটি উচ্চ, বিস্ময়কর জ্ঞান পাব, অন্তহীনভাবে। কারণ শক্তিশালী ও বিস্ময়কর হলো সেই প্রেম যা ভাঙতে পারে না, বা ভাঙবে না, অপরাধের জন্য।
* '''মাতা কখনো কখনো শিশুকে পতিত হতে দিতে পারেন, এবং নিজের লাভের জন্য বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারেন, কিন্তু তিনি কখনোই সহ্য করতে পারেন না যে প্রেমের জন্য শিশুর কোনো ধরনের বিপদ আসুক।''' এবং যদিও আমাদের পার্থিব মাতা তাঁর শিশুকে ধ্বংস হতে দিতে পারেন, আমাদের স্বর্গীয় মাতা, যিশু, আমাদের সহ্য করতে পারেন না যাঁরা তাঁর সন্তানরা ধ্বংস হোক: কারণ তিনি সর্ব-শক্তিমান, সর্ব-প্রজ্ঞা, এবং সর্ব-প্রেম; এবং তাই তিনি ছাড়া আর কেউ নন,—তিনি আশীর্বাদপূর্ণ হোন!
* প্রায়শই যখন আমাদের পতন ও আমাদের দুর্দশা আমাদের দেখানো হয়, আমরা খুব দুঃখিত হই, এবং নিজেদের নিয়ে খুব বেশি লজ্জিত হই, যে খুব কমই আমরা খুঁজে পাই কোথায় আমরা নিজেদের ধরতে পারি। কিন্তু তখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ মাতা চান না যে আমরা দূরে পালিয়ে যাই, কারণ তাঁর কাছে এর চেয়ে ঘৃণা করার মতো আর কিছুই ছিল না।
* একজন একক ব্যক্তি প্রায়শই ভেঙে যেতে পারেন, যেমনটি তার নিজের মনে হয়, কিন্তু পবিত্র চার্চের পুরো শরীর কখনোই ভেঙে যায়নি, বা কখনোই হবে না, অন্তহীনভাবে।
* তিনি এই সমস্ত কাজের মধ্যে একজন সদয় সেবিকার অফিস ব্যবহার করেন যার নিজের কাজ ছাড়া আর কিছুই নেই কিন্তু তার সন্তানের পরিত্রাণের দিকে মনোযোগ দেওয়া।
* তিনি চান যে আমরা তাঁকে মিষ্টিভাবে ভালোবাসি এবং তাঁর ওপর নম্রভাবে ও শক্তিশালীভাবে আস্থা রাখি। এবং এটি তিনি এই কৃপাময় শব্দগুলোতে দেখিয়েছিলেন: ''আমি তোমাকে খুব নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।''
=== অধ্যায় ৬২ ===
* কারণ সেই সময়ে তিনি আমাদের দুর্বলতা এবং আমাদের পতন, আমাদের কষ্ট এবং আমাদের তুচ্ছতা, আমাদের অবজ্ঞা এবং আমাদের বর্জন, এবং আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা ততদূর দেখিয়েছিলেন যতটা আমার মনে হয়েছিল এই জীবনে ঘটতে পারে। এবং তার সাথে তিনি তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ শক্তি, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্রজ্ঞা, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম দেখিয়েছিলেন: যে তিনি আমাদের এই সময়ে তাঁর পূজার জন্য ততটা কোমলভাবে ও মিষ্টিভাবে রক্ষা করেন, এবং আমাদের পরিত্রাণের জন্য ততটা নিশ্চিতভাবে, যতটা তিনি করেন যখন আমরা সবচেয়ে বেশি সান্ত্বনা ও আরামে থাকি।
* '''ঈশ্বর তাঁর অস্তিত্বে প্রকৃতি: অর্থাৎ, সেই মঙ্গলময়তা যা প্রকৃতি, তা হলো ঈশ্বর। তিনি ভিত্তি, তিনি [[সারমর্ম]], তিনি একই জিনিস যা প্রকৃতি-ত্ব। এবং তিনি প্রকৃতির প্রকৃত পিতা ও প্রকৃত মাতা: এবং সমস্ত প্রকৃতি যা তিনি তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর থেকে প্রবাহিত হতে তৈরি করেছেন তা উদ্ধার হবে এবং মানুষের পরিত্রাণের দ্বারা কৃপার কাজের মাধ্যমে তাঁর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।'''
* সমস্ত প্রকৃতির মধ্যে যা তিনি বিভিন্ন সৃষ্টিতে অংশে স্থাপন করেছেন, মানুষের মধ্যে সবকিছু অখণ্ড; পূর্ণতা ও গুণে, সৌন্দর্যে ও মঙ্গলময়তায়, রাজকীয়তায় ও মহৎতায়, সমস্ত ধরনের মহিমা, মূল্যবানতা ও পূজায়। এখানে আমরা দেখতে পারি যে আমরা প্রকৃতির জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী, এবং আমরা কৃপার জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী।
=== অধ্যায় ৬৩ ===
* '''এখানে আমরা দেখতে পারি যে পাপ ঘৃণা করার জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি থেকে পাই, এবং পাপ ঘৃণা করার জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে কৃপা থেকে পাই। কারণ প্রকৃতি নিজেই সব ভালো ও সুন্দর, এবং কৃপা প্রকৃতিকে রক্ষা করতে ও পাপ ধ্বংস করতে পাঠানো হয়েছিল, এবং সুন্দর প্রকৃতিকে সেই আশীর্বাদপূর্ণ বিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে যেখান থেকে এটি এসেছিল: যা ঈশ্বর; কৃপার গুণের কাজের দ্বারা আরও মহৎতা ও পূজার সাথে। কারণ এটি ঈশ্বরের সামনে তাঁর সমস্ত পবিত্রদের দ্বারা স্বর্গে অন্তহীন আনন্দে দেখা যাবে যে প্রকৃতি যন্ত্রণার আগুনে পরীক্ষিত হয়েছে এবং সেখানে কোনো ত্রুটি, কোনো দোষ পাওয়া যায়নি। এইভাবে প্রকৃতি ও কৃপা একমত: কারণ কৃপা ঈশ্বর, যেমন প্রকৃতি ঈশ্বর: তিনি কাজ করার পদ্ধতিতে দুটি এবং প্রেমে এক; এবং এগুলোর কোনোটিই অন্যটি ছাড়া কাজ করে না: সেগুলো বিচ্ছিন্ন নয়।'''
* যখন আমরা ঈশ্বরের দয়া দ্বারা এবং তাঁর সাহায্যে আমাদের প্রকৃতির সাথে ও কৃপার সাথে সম্মত হই, তখন আমরা সত্যই দেখতে পাব যে পাপ প্রকৃতপক্ষে নরকের চেয়ে বেশি কুৎসিত ও যন্ত্রণাদায়ক, কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই: কারণ এটি আমাদের সুন্দর প্রকৃতির বিপরীত। কারণ যেমন পাপ সত্যই অপবিত্র, তেমন সত্যই এটি অস্বাভাবিক, এবং তাই এটি দেখতে একটি ভয়ানক জিনিস সেই প্রিয় আত্মার জন্য যে ঈশ্বরের দৃষ্টিতে পুরোপুরি সুন্দর ও উজ্জ্বল হতে চায়, যেমন প্রকৃতি ও কৃপা শেখায়।
* আমাদের আত্মার দৃষ্টিতে আমাদের স্বর্গীয় মাতা সুন্দর ও মিষ্টি; আমাদের স্বর্গীয় মাতার দৃষ্টিতে কৃপাময় শিশুরা মূল্যবান ও প্রেমময়, মৃদুতা ও নম্রতা নিয়ে, এবং সমস্ত সুন্দর গুণ নিয়ে যা প্রকৃতিতে শিশুদের অন্তর্গত। কারণ স্বভাবত শিশু মাতার প্রেম থেকে হতাশ হয় না, স্বভাবত শিশু নিজেকে অনুমান করে না, স্বভাবত শিশু মাতাকে এবং একে অপরকে ভালোবাসে। এগুলো হলো সুন্দর গুণ, অন্য সবকিছুর সাথে যা একই রকম, যা দ্বারা আমাদের স্বর্গীয় মাতা সেবা ও সন্তুষ্ট হন।
* আমি এই জীবনে শৈশবের চেয়ে উচ্চতর কোনো উচ্চতা বুঝিনি, দুর্বলতায় এবং শক্তি ও বুদ্ধির ব্যর্থতায়, যতক্ষণ না আমাদের কৃপাময় মাতা আমাদের পিতার পরমানন্দে আমাদের উপরে নিয়ে এসেছেন। এবং তখন তাঁর অর্থ আমাদের কাছে সত্যই জানা যাবে সেই মিষ্টি শব্দগুলোতে যেখানে তিনি বলেন: ''সবকিছু ভালো হবে: এবং তুমি নিজেই দেখবে, যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' এবং তখন আমাদের মাতার পরমানন্দ, খ্রিস্টে, নতুন করে শুরু হবে আমাদের ঈশ্বরের আনন্দে: যে নতুন শুরু অন্তহীনভাবে চলবে, নতুন শুরু। <br> '''এইভাবে আমি বুঝেছিলাম যে তাঁর সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ সন্তানরা যারা প্রকৃতি থেকে তাঁর থেকে এসেছে তারা কৃপার দ্বারা তাঁর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।'''
== পঞ্চদশ প্রকাশ ==
=== অধ্যায় ৬৩ ===
* এই সময়ের আগে ঈশ্বরের উপহার পাওয়ার জন্য আমার মনে এই জগত এবং জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা ছিল। কারণ আমি প্রায়শই এখানকার দুঃখ এবং সেখানে যে আনন্দ ও সুখ রয়েছে তার তুলনা করতাম। (যদি আমাদের প্রভুর অনুপস্থিতি ছাড়া এই জীবনে অন্য কোনো ব্যথা না-ও থাকত, তবে আমার মনে হতো তা মাঝে মাঝে সহ্য করার ক্ষমতার বাইরে ছিল;) এটি আমাকে শোকাতুর এবং অধীর করে তুলেছিল। এছাড়াও আমার নিজের দীনতা, জড়তা এবং দুর্বলতার কারণে আমি বাঁচতে বা পরিশ্রম করতে আগ্রহী ছিলাম না, যা আমার কাজ ছিল। <br> আমাদের দয়ালু প্রভু সান্ত্বনা ও ধৈর্যের সাথে এই সমস্ত কিছুর উত্তর দিয়েছিলেন এবং এই কথাগুলো বলেছিলেন: ''তুমি হঠাৎ তোমার সমস্ত ব্যথা, অসুস্থতা, যন্ত্রণা এবং দুঃখ থেকে মুক্তি পাবে। তুমি ওপরে আমার কাছে আসবে এবং আমিই হবে তোমার পুরস্কার; তুমি ভালোবাসা ও আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠবে। তোমার আর কোনো ব্যথা, অসন্তোষ বা ইচ্ছার অপূর্ণতা থাকবে না; বরং থাকবে অন্তহীন আনন্দ ও সুখ। আমার ইচ্ছা ও আরাধনা অনুযায়ী যদি তোমাকে কিছুকাল কষ্ট সহ্য করতে হয়, তবে তাতে তোমার দুঃখ কী?''
* এই কথাটির মাধ্যমে: ''হঠাৎ তুমি মুক্ত হবে'' — আমি দেখেছি যে ঈশ্বর মানুষের ধৈর্যকে পুরস্কৃত করেন, যা সে তাঁর ইচ্ছাকে মেনে চলার জন্য প্রদর্শন করে। মানুষের জীবনের সময়ের চেয়েও সে তার ধৈর্যকে দীর্ঘায়িত করে। তার প্রস্থানের সময়টি সে জানে না, যা তার জন্য বড় প্রাপ্তি: কারণ একজন মানুষ যদি তার সময় জানত, তবে সে ধৈর্য ধরতে পারত না। ঈশ্বরের ইচ্ছায়, আত্মা যখন শরীরে থাকে, তখন তার মনে হয় সে যেকোনো মুহূর্তেই বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কারণ আমাদের এই জীবন এবং যন্ত্রণা কেবল একটি বিন্দু মাত্র। যখন আমরা হঠাৎ ব্যথা থেকে আনন্দে উন্নীত হই, তখন ব্যথার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।
* সেই সময়ে আমি মাটিতে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি, যা ভারী এবং বীভৎস দেখাচ্ছিল—কোনো আকার বা আকৃতিহীন, যেন দুর্গন্ধযুক্ত কাদার একটি ফোলা স্তূপ। হঠাৎ সেই দেহ থেকে একটি অতি সুন্দর প্রাণী, একটি ছোট শিশু বেরিয়ে এল—সুগঠিত, চটপটে, প্রাণবন্ত এবং লিলির চেয়েও সাদা; যা দ্রুত স্বর্গের দিকে ভেসে গেল। দেহের সেই ফোলা ভাব আমাদের নশ্বর মাংসের চরম দীনতা বোঝায়, আর শিশুটির ক্ষুদ্রতা আত্মার পবিত্রতা প্রকাশ করে। আমার মনে হলো: ''এই দেহের সাথে শিশুটির কোনো সৌন্দর্যের মিল নেই, আবার শিশুটির ওপর দেহের কোনো কলঙ্কও নেই।''
* '''মানুষের থেকে ব্যথা দূর হওয়ার চেয়ে ব্যথা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া অনেক বেশি আনন্দদায়ক। কারণ ব্যথা যদি আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তা আবার ফিরে আসতে পারে। তাই প্রেমময় আত্মার জন্য এটি এক পরম সান্ত্বনা ও আনন্দের বিষয় যে আমাদের ব্যথা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।''' কারণ এই আদেশে আমি এক বিস্ময়কর করুণা দেখেছি যা আমাদের দুঃখের জন্য প্রভু অনুভব করেন এবং পরিত্রাণের এক দয়ালু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি চান আমরা এই উত্তরণের মাধ্যমে সান্ত্বনা পাই; আর তা তিনি এই কথায় প্রকাশ করেছেন: ''এবং তুমি ওপরে আসবে, আমিই হবে তোমার পুরস্কার এবং তুমি আনন্দ ও সুখে পূর্ণ হয়ে উঠবে।''
* ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা যেন আমাদের চিন্তাকে যতটা সম্ভব এই আনন্দময় দর্শনের মধ্যে নিবদ্ধ রাখি—এবং তাঁর কৃপায় যত দীর্ঘ সময় পারি এর মধ্যে থাকি। কারণ ঈশ্বরের দ্বারা পরিচালিত আত্মার জন্য এটি এক আশীর্বাদপুষ্ট ধ্যান এবং যতদিন এটি স্থায়ী হয়, তা তাঁর আরাধনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
* ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা যেন তাঁর আদেশ ও সান্ত্বনাকে যতটা সম্ভব বড় করে ও শক্তিমত্তার সাথে গ্রহণ করি। তিনি এও চান যেন আমরা আমাদের ধৈর্য ও কষ্টকে যতটা সম্ভব হালকাভাবে নিই এবং সেগুলোকে তুচ্ছ করি। কারণ প্রেমের কারণে আমরা সেগুলোকে যত হালকাভাবে নেব এবং সেগুলোকে যত কম গুরুত্ব দেব, সেগুলো অনুভব করার সময় আমাদের ব্যথা তত কম হবে এবং তার জন্য আমরা তত বেশি কৃতজ্ঞতা ও প্রতিদান পাব।
=== অধ্যায় ৬৫ ===
* '''এভাবে আমি বুঝতে পারলাম যে, যে নারী বা পুরুষ এই জীবনে দৃঢ় ইচ্ছার সাথে ভালোবাসার খাতিরে ঈশ্বরকে বেছে নেয়, সে নিশ্চিত থাকতে পারে যে সে চিরকাল ভালোবাসার পাত্র হয়ে থাকবে। এই অন্তহীন ভালোবাসা তার মধ্যে সেই কৃপা কাজ করায়। কারণ তিনি চান যেন আমরা পৃথিবীতে থাকাকালীন স্বর্গের আনন্দের প্রত্যাশায় ততটাই নিশ্চিত থাকি, যতটা নিশ্চিত আমরা সেখানে গিয়ে হব।''' আর আমরা যদি পবিত্রতা ও নম্রতার সাথে এই নিশ্চিতবোধে আনন্দ ও তৃপ্তি পাই, তবে তিনি ততই সন্তুষ্ট হন। আমি যে পবিত্রতার কথা বলছি তা হলো আমাদের প্রভুর প্রতি এক পবিত্র ও দয়ালু ভয়, যার সাথে নম্রতা যুক্ত থাকে। এর মানে হলো, সৃষ্টি তার প্রভুকে বিস্ময়করভাবে মহান এবং নিজেকে বিস্ময়করভাবে ক্ষুদ্র দেখে।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমি নিজেকে তাঁর ভালোবাসার কাছে ততটাই আবদ্ধ দেখব, যেন তিনি আমার জন্য যা যা করেছেন তা সব আমার একার জন্যই করেছেন; প্রতিটি আত্মারই তার প্রেমাস্পদ সম্পর্কে এমনটি ভাবা উচিত। অর্থাৎ, ঈশ্বরের দয়া আমাদের মধ্যে এমন এক ঐক্য তৈরি করে যে, তা সঠিকভাবে বুঝতে পারলে কেউ নিজেকে অন্য কারো থেকে আলাদা করতে পারে না।'''
* এখন আমি তোমাদের পনেরোটি প্রকাশের কথা বলেছি, যেমনটা ঈশ্বর মনে করিয়ে দিয়েছেন—তাঁর পবিত্র আত্মার আলোকচ্ছটা ও স্পর্শে, যা এই প্রকাশগুলোকে দেখিয়েছে। <br> এই পনেরোটি দর্শনের প্রথমটি শুরু হয়েছিল ভোরবেলা, প্রায় চারটার দিকে; আর সেগুলো সুন্দর ও স্থির প্রক্রিয়ায় একের পর এক চলতে থাকে, দিনের নটা পর্যন্ত।
=== অধ্যায় ৬৬ ===
* এরপর ভালো প্রভু পরের রাতে ষোড়শ প্রকাশটি দেখিয়েছিলেন, যা আমি পরে বলব: এই ষোড়শটি ছিল আগের পনেরোটির উপসংহার ও নিশ্চয়তা।
* তবে প্রথমে আমার দুর্বলতা, দীনতা ও অন্ধত্বের কথা তোমাদের বলা প্রয়োজন। — আমি শুরুতেই বলেছি: ''এবং এতেই আমার সমস্ত ব্যথা হঠাৎ দূর হয়ে গেল'': এই ব্যথার কারণে আমি পনেরোটি দর্শনের সময় কোনো কষ্ট বা যন্ত্রণা অনুভব করিনি। শেষে সবকিছু স্তিমিত হয়ে এল এবং আমি আর কিছু দেখতে পেলাম না। শীঘ্রই আমি অনুভব করলাম যে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে এবং ভুগতে হবে; এবং হঠাৎ আমার অসুস্থতা ফিরে এল: প্রথমে মাথায় শব্দ ও গুঞ্জন দিয়ে এবং হঠাৎ আমার পুরো শরীর আগের মতোই অসুস্থতায় ভরে গেল। আমি এতটাই বন্ধ্যা ও শুষ্ক ছিলাম যে মনে হচ্ছিল আমি কখনও খুব সামান্য সান্ত্বনাও পাইনি। একজন হতভাগা প্রাণীর মতো আমি আমার শারীরিক ব্যথার অনুভূতিতে এবং আধ্যাত্মিক ও শারীরিক সান্ত্বনার অভাবে বিলাপ ও চিৎকার করছিলাম।
* তখন একজন ধার্মিক ব্যক্তি আমার কাছে এলেন এবং জানতে চাইলেন আমি কেমন আছি। আমি বললাম, আমি আজ প্রলাপ বকেছি। তিনি উচ্চস্বরে ও মন খুলে হাসলেন। আমি বললাম: ''আমার মুখের সামনে যে ক্রুশটি দাঁড়িয়ে ছিল, আমার মনে হয়েছে সেটি দ্রুত রক্তক্ষরণ করছিল।'' এই কথা শুনে যে ব্যক্তির সাথে আমি কথা বলছিলাম তিনি অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে গেলেন এবং বিস্মিত হলেন। আমি আমার অবহেলার জন্য অত্যন্ত লজ্জিত ও বিস্মিত হলাম এবং ভাবলাম: ''এই মানুষটি আমার বলা ছোট ছোট কথাগুলোও কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।'' এরপর আমি আর কোনো কথা বললাম না।
== ষোড়শ প্রকাশ ==
=== অধ্যায় ৬৭ ===
[[File:William Blake - Christ in the Sepulchre, Guarded by Angels.jpg|thumb||আমাদের [[আত্মা]] কখনোই নিজের নিচের কোনো বস্তুতে শান্তি পেতে পারে না।]]
* '''এরপর আমাদের প্রভু আমার আধ্যাত্মিক চোখ খুলে দিলেন এবং আমার হৃদয়ের মাঝে আমার আত্মাকে দেখালেন। আমি দেখলাম আত্মাটি এত বিশাল যেন তা এক অন্তহীন জগত, এক পরম আনন্দময় রাজ্য। সেখানে আমি যা কিছু দেখলাম, তা থেকে আমি বুঝতে পারলাম এটি একটি মহিমান্বিত [[নগরী]]।''' সেই নগরীর মাঝে উপবিষ্ট আছেন আমাদের প্রভু যিশু, ঈশ্বর ও মানব, বিশাল দেহের অধিকারী এক সুদর্শন ব্যক্তি, পরম যাজক, অতি মহিমান্বিত রাজা ও পরম পূজনীয় প্রভু; আমি তাঁকে মহিমান্বিত পোশাকে দেখলাম। তিনি পরম শ্রদ্ধার সাথে আত্মার মাঝে শান্তিতে ও বিশ্রামে উপবিষ্ট আছেন। এবং [[ঈশ্বরত্ব]] স্বর্গ, পৃথিবী এবং যা কিছু আছে, তা শাসন ও ধারণ করে আছেন—পরম শক্তি, পরম প্রজ্ঞা ও পরম কল্যাণ। যিশু আমাদের ''আত্মার'' মাঝে যে স্থানটি নিয়েছেন, আমার দৃষ্টিতে তিনি তা থেকে চিরকাল সরবেন না; কারণ আমাদের মধ্যেই তাঁর ''সবচেয়ে আপন'' নিবাস ও ''অন্তহীন'' বসতি। এর মাধ্যমে তিনি দেখালেন যে, মানুষের আত্মা সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কতটা সন্তুষ্ট। পিতা যেমন একটি প্রাণ সৃষ্টি করতে পারতেন, পুত্রও যেমন তা করতে পারতেন, পবিত্র আত্মা ঠিক সেভাবেই চেয়েছিলেন যেন মানুষের আত্মা সৃষ্টি হয়: এবং তা-ই করা হয়েছিল। আর এই কারণেই ধন্য ত্রিত্ববাদ মানুষের আত্মা সৃষ্টির আনন্দে চিরকাল বিভোর; কারণ শুরু থেকেই তিনি দেখেছিলেন যা কিছু তাঁকে চিরকাল আনন্দ দেবে।
* '''আমাদের আত্মা কখনোই নিজের নিচের কোনো বস্তুতে শান্তি পেতে পারে না।''' যখন এটি সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে উঠে নিজের সত্তায় আসে, তখনও এটি কেবল নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে না। সমস্ত দৃষ্টি আনন্দের সাথে ঈশ্বরে নিবদ্ধ থাকে, যিনি এর স্রষ্টা এবং এর ভেতরেই বাস করেন। কারণ মানুষের আত্মাই তাঁর প্রকৃত নিবাস; এবং আমার দৃষ্টিতে এই নগরীর সর্বোচ্চ আলো ও উজ্জ্বলতম আভা হলো আমাদের প্রভুর গৌরবময় ভালোবাসা।
* '''ঈশ্বরের সৃষ্টিগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মাঝে তিনি আনন্দ পান—এটি দেখার চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে? কারণ একই দর্শনে আমি দেখেছি, যদি ধন্য ত্রিত্ববাদ মানুষের আত্মাকে এর চেয়ে ভালো, সুন্দর বা মহৎ করে সৃষ্টি করতে পারতেন, তবে তিনি মানুষের আত্মা সৃষ্টির কাজে পূর্ণ সন্তুষ্ট হতেন না।''' এবং তিনি চান আমাদের হৃদয় যেন পৃথিবীর গভীরতা ও সমস্ত তুচ্ছ দুঃখের ঊর্ধ্বে ওঠে এবং তাঁতেই আনন্দ পায়।
=== অধ্যায় ৬৮ ===
* এটি ছিল এক আনন্দদায়ক দৃশ্য ও প্রশান্তিময় প্রত্যাদেশ, যা ''চিরকাল'' থাকবে। আমরা এখানে থাকাকালীন এর দিকে তাকিয়ে থাকা ঈশ্বরের কাছে অত্যন্ত প্রীতিকর এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক; যে আত্মা এভাবে দেখে, তা সেই দর্শনকারী সত্তার মতো হয়ে ওঠে এবং তাঁর কৃপায় শান্তিতে ও বিশ্রামে একীভূত হয়। এবং এটি আমার জন্য ছিল এক অনন্য আনন্দ ও পরম সুখ যে, আমি তাঁকে ''উপবিষ্ট'' দেখলাম: কারণ উপবিষ্ট থাকার নিশ্চয়তা অন্তহীন বসতির ইঙ্গিত দেয়।
* তিনি আমাকে নিশ্চিতভাবে জানতে দিলেন যে, তিনিই আমাকে আগে সবকিছু দেখিয়েছেন। আমি যখন মনোযোগ দিয়ে এটি দেখলাম, তখন আমাদের ভালো প্রভু কোনো কণ্ঠস্বর বা ঠোঁট নাড়ান ছাড়াই অত্যন্ত নম্রভাবে আমাকে বললেন, ঠিক যেমন তিনি আগে করেছিলেন, এবং অতি মধুরভাবে বললেন: ''এখন ভালো করে জেনে নাও যে, আজ তুমি যা দেখেছ তা কোনো প্রলাপ ছিল না। বরং এটি গ্রহণ করো, বিশ্বাস করো, এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো; তুমি কখনোই পরাজিত হবে না।''
* '''এই শেষ কথাগুলো বলা হয়েছিল বিশ্বাস ও সত্য নিশ্চিত করার জন্য যে, আমাদের প্রভু যিশুই আমাকে সবকিছু দেখিয়েছেন। আমাদের ভালো প্রভু প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন, যা তাঁর পরম আনন্দময় দুঃখভোগকে নির্দেশ করে—'এর মাধ্যমেই শয়তান পরাজিত', ঠিক একইভাবে তিনি শেষ কথায় অত্যন্ত সত্য ও নিশ্চিতভাবে আমাদের সবার উদ্দেশ্যে বললেন: 'তুমি পরাজিত হবে না।' '''
* '''এই কথাটি: 'তুমি পরাজিত হবে না', অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও জোরালোভাবে বলা হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে আসা সব বিপদে আমরা নিশ্চিত ও সান্ত্বনা পাই। তিনি বলেননি: 'তুমি ঝড়ঝঞ্ঝার কবলে পড়বে না, তুমি শ্রান্ত হবে না, তুমি দুঃখিত হবে না'; বরং তিনি বলেছেন: 'তুমি পরাজিত হবে না।' ঈশ্বর চান যেন আমরা এই কথাগুলোর প্রতি মনোযোগ দিই এবং ভালো ও মন্দ উভয় সময়েই দৃঢ় বিশ্বাসে অটল থাকি। কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসেন ও আমাদের মাঝে আনন্দ পান, এবং তিনিও চান যেন আমরা তাঁকে ভালোবাসি, তাঁর মাঝে আনন্দ পাই এবং শক্তভাবে তাঁকে বিশ্বাস করি; এবং ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''<br> এবং শীঘ্রই সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল এবং আমি আর কিছুই দেখতে পেলাম না।
=== অধ্যায় ৬৯ ===
* এরপর শয়তান তার উত্তাপ ও দুর্গন্ধ নিয়ে আবার ফিরে এল এবং আমাকে খুব জ্বালাতন করল। দুর্গন্ধটি ছিল অত্যন্ত জঘন্য, বেদনাদায়ক, ভয়াবহ ও কষ্টকর। এছাড়া আমি শারীরিক কথোপকথনের মতো শব্দ শুনতে পেলাম, যেন দুইজন ব্যক্তি কথা বলছে; আমার মনে হলো তারা দুজনেই একই সময়ে খুব ব্যস্ততার সাথে কোনো সভা করছে; কিন্তু সবকিছু ছিল অস্পষ্ট গুঞ্জন, তাই তারা কী বলছে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। আমার মনে হলো, এটি সবই আমাকে নিরাশ করার জন্য ছিল—যেন তারা প্রার্থনা করার সময় আমাদের অভদ্রভাবে মুখ দিয়ে করা প্রার্থনার উপহাস করছিল, যেখানে ভক্তিময় মনোযোগ ও জ্ঞানপূর্ণ পরিশ্রমের অভাব থাকে: যা আমাদের প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।
* আমি মনে মনে বললাম: ''শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে বিশ্বাসে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে তোমাকে এখন অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তুমি যদি এখন থেকে সবসময় নিজেকে পাপ থেকে দূরে রাখতে এতটা ব্যস্ত থাকতে পারতে, তবে তা হতো এক মহান ও শ্রেষ্ঠ কাজ!'' কারণ আমি মনে মনে ভাবলাম, যদি আমি পাপ থেকে নিরাপদ থাকি, তবে আমি নরকের সব শয়তান ও আমার আত্মার শত্রু থেকেও নিরাপদ থাকব।
* এভাবে সে আমাকে সারা রাত ব্যস্ত রাখল এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত। এরপর তারা সবাই চলে গেল; তারা শুধু দুর্গন্ধ রেখে গেল, যা কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল; আর আমি তাকে ঘৃণাভরে অবজ্ঞা করলাম। <br> এবং এভাবে খ্রিষ্টের দুঃখভোগের গুণের মাধ্যমে আমি তার হাত থেকে মুক্তি পেলাম: কারণ ''এর মাধ্যমেই শয়তান পরাজিত'', যেমন আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্ট আগে বলেছিলেন।
=== অধ্যায় ৭০ ===
* '''এই সমস্ত ধন্য প্রত্যাদেশে আমাদের ভালো প্রভু এই বোধ দিলেন যে, এই দর্শনটি সাময়িক: কিন্তু এই ধন্য দর্শনটিকে বিশ্বাসই ধরে রাখে, তাঁর নিজস্ব সদিচ্ছা ও কৃপায়।''' কারণ তিনি আমাকে কোনো চিহ্ন বা লক্ষণ রেখে যাননি যার মাধ্যমে আমি তা চিনতে পারি, কিন্তু তিনি আমাকে সত্য উপলব্ধিতে তাঁর নিজস্ব ধন্য বাণী রেখে গেছেন, আমাকে খুব জোরালোভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তা বিশ্বাস করি। এবং আমি তা-ই করি—তিনি ধন্য হোন!—আমি বিশ্বাস করি যে, তিনিই আমাদের ত্রাণকর্তা যিনি এটি দেখিয়েছেন এবং এটিই সেই বিশ্বাস যা তিনি দেখিয়েছেন: এবং তাই আমি আনন্দচিত্তে এটি বিশ্বাস করি। এবং আমি তাঁর নিজের প্রতিটি অর্থের সাথে আবদ্ধ, পরবর্তী কথাগুলোর মাধ্যমে: ''এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো।''
* এভাবে আমি তা আমার বিশ্বাসে ধরে রাখতে বাধ্য। কারণ যে দিন এটি দেখানো হয়েছিল, যখন দর্শনটি শেষ হয়ে গেল, আমি হতভাগার মতো তা ত্যাগ করলাম এবং প্রকাশ্যে বললাম যে আমি প্রলাপ বকেছি। তখন আমাদের প্রভু যিশু তাঁর দয়ায় এটি হারিয়ে যেতে দিলেন না, বরং তিনি এটি ''আমার আত্মার ভেতরে'' পূর্ণরূপে দেখালেন, তাঁর মূল্যবান ভালোবাসার ধন্য আলোতে: অত্যন্ত জোরালো ও নম্রভাবে এই কথাগুলো বলে: ''এখন ভালো করে জেনে নাও: আজ তুমি যা দেখেছ তা কোনো প্রলাপ ছিল না।'' যেন তিনি বলেছেন: ''দর্শনটি তোমার থেকে দূরে সরে যাওয়ায় তুমি তা হারিয়েছিলে এবং তা ধরে রাখার সামর্থ্য তোমার ছিল না। কিন্তু এখন জেনে নাও''; অর্থাৎ, ''এখন যখন তুমি তা দেখতে পাচ্ছ''। এটি শুধু সেই সময়ের জন্য বলা হয়নি, বরং আমার বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপনের জন্যও বলা হয়েছে, যখন তিনি সাথে সাথে বললেন: ''কিন্তু এটি গ্রহণ করো, বিশ্বাস করো এবং এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো; তুমি পরাজিত হবে না।''
* তাঁর অর্থ হলো এটি যেন আমাদের হৃদয়ে বিশ্বস্তভাবে গেঁথে থাকে: কারণ তিনি চান এটি যেন আমাদের জীবনের শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসে আমাদের সাথে থাকে এবং এরপর পরম আনন্দে। তিনি চান যেন আমরা তাঁর আনন্দময় আদেশের ওপর সবসময় অবিচল বিশ্বাস রাখি—তাঁর কল্যাণকে জেনে। <br> কারণ আমাদের নিজস্ব অন্ধত্ব এবং আমাদের আধ্যাত্মিক শত্রু, ভেতরে ও বাইরে, বিভিন্নভাবে আমাদের বিশ্বাসকে বাধা দেয়; এবং সেইজন্য আমাদের মূল্যবান প্রেমিক আমাদের আধ্যাত্মিক দর্শন ও সত্য শিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পারি। এবং তাই, তিনি আমাদের যেভাবেই শিক্ষা দিন না কেন, তিনি চান যেন আমরা তাঁকে বুদ্ধিমত্তার সাথে উপলব্ধি করি, মধুরভাবে গ্রহণ করি এবং বিশ্বস্তভাবে তাঁর মাঝে থাকি। কারণ আমার দৃষ্টিতে, এই জীবনে বিশ্বাসের চেয়ে বড় কোনো কল্যাণ নেই এবং বিশ্বাসের নিচে আত্মার কোনো সাহায্য নেই; বরং বিশ্বাসের মধ্যেই প্রভু চান যেন আমরা নিজেদের ধরে রাখি। কারণ বিশ্বাসের মধ্যে আমাদের টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের তাঁর কল্যাণ ও তাঁর নিজস্ব কাজের ওপর নির্ভর করতে হবে; এবং তাঁর অনুমতিতে আধ্যাত্মিক শত্রুর মাধ্যমে আমরা বিশ্বাসে পরীক্ষিত হই এবং শক্তিশালী হই। কারণ আমাদের বিশ্বাসের যদি কোনো শত্রুতা না থাকত, তবে তা কোনো পুরস্কারের যোগ্য হতো না, আমাদের প্রভুর সমস্ত শিক্ষায় আমার যে বোধ আছে তা অনুযায়ী।
=== অধ্যায় ৭১ ===
* আমাদের আত্মার প্রতি আমাদের প্রভুর আনন্দময়, মনোরম ও মধুর চাহনি অত্যন্ত আনন্দদায়ক।
* আমি আমাদের প্রভুর তিন ধরণের চাহনির ইঙ্গিত পেয়েছি। প্রথমটি হলো তাঁর দুঃখভোগের চাহনি, যেমনটা তিনি এই জীবনে থাকাকালীন দেখিয়েছেন, যখন তিনি মৃত্যুবরণ করছিলেন। যদিও এই দর্শন শোকাবহ ও উদ্বিগ্ন, তবুও এটি আনন্দময়: কারণ তিনি ঈশ্বর।—দ্বিতীয় ধরণের চাহনি হলো মমতা ও করুণা: এবং তিনি তাঁর সমস্ত প্রেমিকদের, যারা তাঁর দয়ার ওপর নির্ভর করে, তাদের রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে এটি দেখান। তৃতীয়টি হলো আনন্দময় চাহনি, যা চিরকাল থাকবে: এবং এটিই সবচেয়ে বেশি ও দীর্ঘ সময় ধরে ছিল।
* এভাবে আমাদের ব্যথা ও কষ্টের সময়ে তিনি আমাদের তাঁর দুঃখভোগ ও ক্রুশের চাহনি দেখান, তাঁর নিজস্ব ধন্য গুণের মাধ্যমে তা বহন করতে আমাদের সাহায্য করেন। এবং আমাদের পাপের সময়ে তিনি আমাদের মমতা ও করুণার চাহনি দেখান, আমাদের সমস্ত শত্রুর হাত থেকে আমাদের শক্তভাবে রক্ষা করেন ও প্রতিরক্ষা দেন। এবং এই হলো সাধারণ চাহনি যা তিনি আমাদের এই জীবনে দেখান; এর সাথে তৃতীয়টি মিশিয়ে: এবং তা হলো তাঁর আনন্দময় চাহনি, অনেকটা স্বর্গের মতো। এবং তা আধ্যাত্মিক জীবনের মধুর স্পর্শ ও উজ্জ্বল আলোর মাধ্যমে, যার দ্বারা আমরা নিশ্চিত বিশ্বাস, আশা ও দাতব্য কাজে অটল থাকি, অনুতাপ ও ভক্তির সাথে এবং আধ্যাত্মিক চিন্তা ও সব ধরণের প্রকৃত শান্তি ও মধুর সান্ত্বনার সাথে।
=== অধ্যায় ৭২ ===
* এখন আমাকে বলতে হবে যে, আমি কীভাবে সেই প্রাণীদের মাঝে পাপকে প্রাণঘাতী হিসেবে দেখেছি, যারা পাপের জন্য মরবে না, বরং চিরকাল ঈশ্বরের আনন্দে বেঁচে থাকবে।
* '''আমি দেখলাম যে দুটি বিপরীত জিনিস কখনোই এক জায়গায় থাকতে পারে না। সবচেয়ে বিপরীত হলো সর্বোচ্চ আনন্দ এবং গভীরতম বেদনা।''' সর্বোচ্চ আনন্দ হলো অনন্ত জীবনের স্বচ্ছতায় তাঁকে পাওয়া, তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখা, তাঁকে মধুরভাবে অনুভব করা, পরম আনন্দে পূর্ণরূপে পাওয়া। এবং এভাবেই আমাদের প্রভুর আনন্দময় চাহনি করুণায় দেখানো হয়েছিল: যে দর্শনে আমি দেখলাম যে পাপই সবচেয়ে বেশি বিপরীত—এতটাই যে, যতক্ষণ আমরা পাপের কোনো অংশের সাথে জড়িত থাকি, ততক্ষণ আমরা আমাদের প্রভুর আনন্দময় চাহনি স্পষ্টভাবে দেখতে পাব না। এবং আমাদের পাপ যত ভয়াবহ ও গুরুতর, সেই সময়ের জন্য আমরা এই আনন্দময় দর্শন থেকে তত বেশি দূরে থাকি। এবং তাই অনেক সময় আমাদের মনে হয় আমরা মৃত্যুর বিপদে আছি, নরকের এক অংশে আছি, পাপ আমাদের জন্য যে শোক ও বেদনা দেয় তার কারণে। এবং এভাবেই আমরা আমাদের আনন্দময় জীবনের প্রকৃত দর্শন থেকে সাময়িকভাবে মৃত। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝে আমি নিশ্চিতভাবে দেখেছি যে, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা মৃত নই, আর তিনিও আমাদের থেকে কখনোই দূরে সরে যান না। কিন্তু আমাদের মাঝে তিনি পূর্ণ আনন্দ পাবেন না যতক্ষণ না আমরা তাঁর মাঝে পূর্ণ আনন্দ পাই, তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনি সত্যভাবে দেখে। কারণ প্রকৃতিগতভাবে আমরা তার জন্য নিযুক্ত, এবং কৃপার মাধ্যমে তা অর্জন করি। এভাবেই আমি দেখলাম কীভাবে চিরন্তন জীবনের ধন্য প্রাণীদের মাঝে পাপ অল্প সময়ের জন্য প্রাণঘাতী।
* '''আত্মা ভালোবাসার কৃপায় এই আনন্দময় চাহনি যত স্পষ্টভাবে দেখে, তা পূর্ণরূপে দেখার জন্য তত বেশি আকাঙ্ক্ষা করে।''' কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বর আমাদের মাঝে বাস করেন এবং এখানে আমাদের সাথে আছেন, এবং যদিও তিনি কোমল ভালোবাসার কারণে আমাদের জড়িয়ে রাখেন ও ঘিরে রাখেন যাতে তিনি কখনোই আমাদের ছেড়ে না যান, এবং আমাদের জিহ্বা যতটা বলতে পারে বা হৃদয় ভাবতে পারে তার চেয়েও তিনি আমাদের বেশি কাছে আছেন, তবুও আমরা যতক্ষণ না তাঁকে তাঁর আনন্দময় অভিব্যক্তিতে স্পষ্টভাবে দেখি, ততক্ষণ আমরা আর্তনাদ, কান্না বা আকাঙ্ক্ষা থেকে থামতে পারি না। কারণ সেই মূল্যবান আনন্দময় দর্শনে কোনো দুঃখ থাকতে পারে না, আর কোনো সুখও শেষ হতে পারে না।
* এর মধ্যে আমি আনন্দের বিষয় এবং শোকের বিষয় দেখলাম: আনন্দের বিষয়: কারণ আমাদের প্রভু, আমাদের স্রষ্টা, আমাদের এত কাছে এবং আমাদের মাঝে আছেন, এবং আমরা তাঁর মাঝে আছি, তাঁর মহান কল্যাণের মাধ্যমে সুরক্ষার নিশ্চয়তায়; শোকের বিষয়: কারণ আমাদের আধ্যাত্মিক চোখ এতই অন্ধ এবং আমাদের নশ্বর শরীরের ভার ও পাপের অন্ধকারে আমরা এতটাই নিমজ্জিত যে, আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনিতে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই না। না; এবং এই ঝাপসা ভাবের কারণে আমরা খুব কষ্টে তাঁর মহান ভালোবাসায় এবং আমাদের সুরক্ষার নিশ্চয়তায় বিশ্বাস ও ভরসা করতে পারি। এবং সেই কারণেই আমি বলি যে আমরা কখনোই আর্তনাদ বা কান্না থেকে থামতে পারি না। এই "কান্না" মানে সবটা আমাদের শারীরিক চোখের অশ্রু ঝরানো নয়, বরং এর আরও আধ্যাত্মিক অর্থ আছে। কারণ আমাদের আত্মার স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা এতই মহান ও অসীম যে, যদি আমাদের সান্ত্বনার জন্য এবং আমাদের আরামের জন্য সেই সমস্ত মহৎ জিনিস দেওয়া হতো যা ঈশ্বর স্বর্গ ও পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন, এবং আমরা যদি তাঁর নিজস্ব সুন্দর আনন্দময় চাহনি না দেখতাম, তবুও আমরা আর্তনাদ বা আধ্যাত্মিক কান্না থেকে থামতাম না, অর্থাৎ, যন্ত্রণাদায়ক আকাঙ্ক্ষা থেকে, যতক্ষণ না আমরা আমাদের স্রষ্টার সুন্দর আনন্দময় চাহনি সত্যভাবে দেখি। এবং যদি আমরা হৃদয়ে যা ভাবতে পারি ও জিহ্বায় যা বলা যায় এমন সমস্ত বেদনার মাঝেও থাকতাম, তবুও যদি সেই সময়ে আমরা তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনি দেখতে পেতাম, তবে এই বেদনা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারত না।
* '''এভাবেই সেই আনন্দময় দর্শন প্রেমময় আত্মার সমস্ত ধরণের বেদনার অবসান এবং সমস্ত ধরণের আনন্দ ও সুখের পূর্ণতা।''' এবং তা তিনি সেই মহান, চমৎকার কথাগুলোর মাধ্যমে দেখালেন যেখানে তিনি বললেন: '''''আমিই সেই, যে সর্বোচ্চ; আমিই সেই, যে সর্বনিম্ন; আমিই সেই, যে সর্বস্ব।'''''
* আমাদের তিন ধরণের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন: প্রথমটি হলো আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে জানি; দ্বিতীয়টি হলো আমরা নিজেদের জানি: প্রকৃতি ও কৃপায় আমরা তাঁর দ্বারা কী; তৃতীয়টি হলো আমরা নম্রভাবে জানি আমাদের পাপ ও দুর্বলতা সম্পর্কে আমাদের নিজেদের স্বরূপ কী। এবং আমার বোধগম্যতায় এই তিনটির জন্যই সমস্ত প্রত্যাদেশ তৈরি করা হয়েছিল।
=== অধ্যায় ৭৩ ===
* আমাদের প্রভুর সমস্ত ধন্য শিক্ষা তিনটি অংশের মাধ্যমে দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, শারীরিক দর্শন, আমার উপলব্ধিতে তৈরি শব্দ এবং আধ্যাত্মিক দর্শন। শারীরিক দর্শনের জন্য, আমি যেমন দেখেছি তা বলেছি, যতটা সত্যভাবে পারি; এবং শব্দের জন্য, আমি সেগুলো ঠিক সেভাবেই বলেছি যেভাবে আমাদের প্রভু আমাকে দেখিয়েছেন; এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের জন্য, আমি কিছু অংশ বলেছি, কিন্তু আমি তা কখনোই পুরোপুরি বলতে পারব না: এবং তাই এই দর্শনের বিষয়ে আমি আরও বলার জন্য অনুপ্রাণিত, যেমন ঈশ্বর কৃপা দেবেন।
* ''সাধারণত'', তিনি ''পাপ'' দেখালেন, যার মধ্যে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু বিশেষভাবে তিনি কেবল এই দুটি দেখালেন। এবং এই দুটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় ও উদ্বিগ্ন করে, আমাদের প্রভু আমাকে যা দেখিয়েছেন তা অনুযায়ী; এবং তিনি চান যেন আমরা এদের থেকে সংশোধিত হই। আমি এমন পুরুষ ও নারীদের কথা বলছি যারা ঈশ্বরের ভালোবাসার জন্য পাপকে ঘৃণা করে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে: তখন আমাদের আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব ও শারীরিক ভারীত্বের কারণে আমরা এগুলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকি। এবং তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা যে এগুলো জানা হোক, কারণ তখন আমরা অন্য পাপের মতো এগুলোকেও প্রত্যাখ্যান করব।
* এর সাহায্যের জন্য, আমাদের প্রভু অত্যন্ত নম্রভাবে তাঁর কঠিন দুঃখভোগে তাঁর ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন; এবং ভালোবাসার জন্য সেই দুঃখভোগের আনন্দ ও সন্তুষ্টিও তিনি দেখিয়েছেন। এবং তিনি উদাহরণস্বরূপ এটি দেখালেন যে, আমাদের কষ্টগুলো আনন্দ ও প্রজ্ঞার সাথে বহন করা উচিত, কারণ তা তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রীতিকর এবং আমাদের জন্য চিরন্তন লাভজনক। '''এবং আমরা যে এদের দ্বারা কষ্ট পাই তার কারণ হলো ভালোবাসার জ্ঞানের অভাব।''' যদিও ত্রিত্ববাদের তিনটি ব্যক্তি নিজ নিজ স্থানে সমান, তবুও আত্মা ভালোবাসার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করেছে; হ্যাঁ, এবং '''তিনি চান যেন সব কিছুতে আমরা আমাদের দৃষ্টি ও আনন্দ ভালোবাসায় রাখি। এবং এই জ্ঞান সম্পর্কে আমরা সবচেয়ে বেশি অন্ধ। কারণ আমাদের কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান এবং সব করতে পারেন, এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং সব জানেন; কিন্তু তিনি সর্ব-ভালোবাসা এবং সব করবেন, সেখানে আমরা থেমে যাই। এবং আমার দৃষ্টিতে, এই না-জানাটাই ঈশ্বরের প্রেমিকদের সবচেয়ে বেশি বাধা দেয়।'''
* যখন আমরা পাপকে ঘৃণা করতে শুরু করি এবং পবিত্র গির্জার বিধান অনুযায়ী নিজেদের সংশোধন করি, তখনও একটি ভয় থেকে যায় যা আমাদের বাধা দেয়, কারণ আমাদের নিজেদের এবং আমাদের পূর্বের পাপগুলোর দিকে তাকালে। এবং আমাদের কেউ কেউ প্রতিদিনের পাপের কারণে: কারণ আমরা আমাদের অঙ্গীকার পালন করি না, বা আমাদের প্রভু আমাদের যে পবিত্রতায় রেখেছেন তা রক্ষা করি না, বরং বারবার এত জঘন্যতায় পড়ি যে তা দেখা লজ্জাজনক। এবং এই দিকে তাকানো আমাদের এতটাই দুঃখিত ও ভারাক্রান্ত করে যে, আমরা খুব কষ্টে কোনো সান্ত্বনা পাই। <br> '''এবং এই ভয়টিকে আমরা অনেক সময় নম্রতা বলে মনে করি, কিন্তু এটি একটি জঘন্য অন্ধত্ব ও দুর্বলতা। এবং আমরা এটিকে অন্য পাপের মতো ঘৃণা করতে পারি না, যা আমরা জানি: কারণ এটি শত্রুতা থেকে আসে, এবং এটি সত্যের বিরুদ্ধে। কারণ এটি ঈশ্বরের ইচ্ছা যে ধন্য ত্রিত্ববাদের সমস্ত গুণের মধ্যে আমরা ভালোবাসায় সবচেয়ে বেশি নিশ্চয়তা ও সান্ত্বনা পাব: কারণ ভালোবাসা শক্তি ও প্রজ্ঞাকে আমাদের কাছে অত্যন্ত নম্র করে তোলে। কারণ ঈশ্বরের সৌজন্যে তিনি আমাদের পাপ ক্ষমা করে দেন যখন আমরা অনুতাপ করি, ঠিক সেভাবেই তিনি চান যেন ''আমরা'' আমাদের পাপ ক্ষমা করি, আমাদের অবাধ্য ভারীত্ব ও সন্দেহজনক ভয়ের বিষয়ে।'''
=== অধ্যায় ৭৪ ===
* আমি চার ধরণের ভয় বুঝি। একটি হলো এমন ভয়ের আতঙ্ক যা দুর্বলতার কারণে হঠাৎ মানুষের মধ্যে আসে। এই ভয় ভালো কাজ করে, কারণ এটি মানুষকে শুদ্ধ করতে সাহায্য করে, যেমন শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো বেদনা যা পাপ নয়। কারণ এই সমস্ত বেদনা মানুষকে সাহায্য করে যদি তা ধৈর্য সহকারে গ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয়টি হলো বেদনার ভয়, যার মাধ্যমে মানুষ পাপের ঘুম থেকে জেগে ওঠে। যতক্ষণ না সে এই বেদনার ভয়, শারীরিক মৃত্যু, আধ্যাত্মিক শত্রুদের সম্পর্কে বোধ পায়, ততক্ষণ সে পবিত্র আত্মার মৃদু সান্ত্বনা বুঝতে পারে না; এবং এই ভয় আমাদের ঈশ্বরের সান্ত্বনা ও দয়া খুঁজতে উৎসাহিত করে, এবং এভাবেই এই ভয় আমাদের সাহায্য করে, এবং পবিত্র আত্মার ধন্য স্পর্শের মাধ্যমে অনুতাপ করতে সক্ষম করে। তৃতীয়টি হলো সন্দেহজনক ভয়। সন্দেহজনক ভয় যেহেতু হতাশায় টেনে নেয়, ঈশ্বর চান যেন ভালোবাসার জ্ঞানের মাধ্যমে তা আমাদের মধ্যে ভালোবাসায় পরিণত হয়: অর্থাৎ, সন্দেহের তিক্ততা যেন কৃপার মাধ্যমে স্বাভাবিক ভালোবাসার মাধুর্যে পরিণত হয়। কারণ ঈশ্বরের সেবকরা তাঁর কল্যাণে সন্দেহ করে, তা কখনোই আমাদের প্রভুর কাছে প্রীতিকর হতে পারে না। চতুর্থটি হলো শ্রদ্ধাশীল ভয়: কারণ আমাদের মধ্যে শ্রদ্ধাশীল ভয় ছাড়া অন্য কোনো ভয় ঈশ্বরকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারে না। এবং তা অত্যন্ত মৃদু, কারণ এটি যত বেশি থাকে, ভালোবাসার মাধুর্যের জন্য তত কম অনুভূত হয়।'''
* '''ভালোবাসা ও ভয় ভাই-বোন, এবং তারা আমাদের স্রষ্টার কল্যাণে আমাদের মধ্যে প্রোথিত, এবং তারা কখনোই আমাদের থেকে চিরকাল দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে না। আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে ভালোবাসার এবং কৃপা দ্বারা ভালোবাসার ক্ষমতা আছে: এবং আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে ভয়ের এবং কৃপা দ্বারা ভয়ের ক্ষমতা আছে।''' প্রভুত্ব ও পিতৃত্বের জন্য ভয় পাওয়া উচিত, যেমন কল্যাণের জন্য ভালোবাসা পাওয়া উচিত: এবং আমাদের জন্য, যারা তাঁর সেবক ও সন্তান, তাঁর প্রভুত্ব ও পিতৃত্বের জন্য তাঁকে ভয় করা উচিত, যেমন কল্যাণের জন্য তাঁকে ভালোবাসা উচিত।
* '''যদিও এই শ্রদ্ধাশীল-ভয় ও ভালোবাসা আলাদা নয়, তবুও তারা উভয়ই এক নয়, বরং তারা বৈশিষ্ট্য ও কাজে দুটি, এবং তাদের একটি ছাড়া অন্যটি পাওয়া যায় না। তাই আমি নিশ্চিত, যে ভালোবাসে, সে ভয়ও পায়, যদিও সে তা খুব কম অনুভব করে।'''
* শ্রদ্ধাশীল ভয় ছাড়া অন্য সব ভয় যা আমাদের সামনে আসে, যদিও তারা পবিত্রতার ছদ্মবেশে আসে তবুও তা তেমন সত্য নয়, এবং এর মাধ্যমে তারা আলাদাভাবে চেনা যায়। — যে ভয় আমাদের তাড়াহুড়ো করে যা ভালো নয় তা থেকে পালাতে এবং আমাদের প্রভুর বুকে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে, যেমন শিশু মায়ের কোলে যায়, আমাদের সমস্ত উদ্দেশ্য ও মন নিয়ে, আমাদের দুর্বলতা ও মহান প্রয়োজন জেনে, তাঁর চিরন্তন কল্যাণ ও ধন্য ভালোবাসা জেনে, কেবল তাঁর কাছে পরিত্রাণ চেয়ে, নিশ্চিত ভরসার সাথে লেগে থাকা: যে ভয় আমাদের এই কাজে নিয়ে আসে, তা স্বাভাবিক, কৃপাপূর্ণ, ভালো ও সত্য। এবং যা এর বিপরীত, তা হয় ভুল, অথবা ভুলের সাথে মিশ্রিত। তখন প্রতিকার হলো এই দুটিকে চেনা এবং ভুলটিকে প্রত্যাখ্যান করা।
* পবিত্র আত্মার কৃপাপূর্ণ কাজের মাধ্যমে এই জীবনে আমাদের যে ভয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য আছে, স্বর্গে ঈশ্বরের সামনেও তা একই থাকবে, ভদ্র, বিনয়ী ও পরম আনন্দদায়ক। এবং এভাবেই আমরা ভালোবাসায় ঈশ্বরের প্রতি আপন ও নিকটবর্তী হব, এবং আমরা ভয়ে ঈশ্বরের প্রতি ভদ্র ও বিনয়ী হব: এবং উভয়ই সমান।
* আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে আমরা প্রার্থনা করি যেন আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ভয় করি, নম্রভাবে ভালোবাসি, শক্তভাবে বিশ্বাস করি; কারণ যখন আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ভয় করি এবং নম্রভাবে ভালোবাসি, তখন আমাদের বিশ্বাস কখনোই বৃথা যায় না। কারণ আমরা যত বেশি এবং যত শক্তভাবে বিশ্বাস করি, আমরা আমাদের প্রভুকে তত বেশি সন্তুষ্ট ও পূজা করি যাঁকে আমরা বিশ্বাস করি। এবং যদি আমরা এই শ্রদ্ধাশীল ভয় ও নম্র ভালোবাসায় ব্যর্থ হই (ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন!), তবে আমাদের বিশ্বাস সাময়িকভাবে ভুল পথে পরিচালিত হবে। এবং তাই আমাদের প্রভুর কাছে কৃপার জন্য প্রার্থনা করা খুব প্রয়োজন যেন আমরা তাঁর উপহার হিসেবে, হৃদয়ে ও কাজে এই শ্রদ্ধাশীল ভয় ও নম্র ভালোবাসা পাই। কারণ এটি ছাড়া, কেউ ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে না।
=== অধ্যায় ৭৫ ===
* আমি দেখলাম যে ঈশ্বর আমাদের যা প্রয়োজন তা করতে পারেন। এবং এই তিনটি যা আমি বলব আমাদের প্রয়োজন: ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা, মমতা। ভালোবাসায় মমতা আমাদের প্রয়োজনের সময়ে আমাদের রক্ষা করে; এবং একই ভালোবাসায় আকাঙ্ক্ষা আমাদের স্বর্গে টেনে নেয়। কারণ ঈশ্বরের তৃষ্ণা হলো সাধারণ মানুষকে তাঁর কাছে পাওয়া: এই তৃষ্ণায় তিনি তাঁর পবিত্রদের টেনে নিয়েছেন যারা এখন আনন্দে আছে; এবং তাঁর জীবন্ত সদস্যদের পেয়ে, তিনি সবসময় টেনে নেন ও পান করেন, এবং তবুও তিনি তৃষ্ণার্ত ও আকাঙ্ক্ষী থাকেন।
* আমি ঈশ্বরের মধ্যে তিন ধরণের আকাঙ্ক্ষা দেখলাম, এবং সবই এক লক্ষ্যের দিকে; যার একই রূপ আমাদের মধ্যেও আছে, এবং একই গুণের দ্বারা ও একই লক্ষ্যের জন্য। <br> প্রথমটি হলো, তিনি আমাদের শেখানোর জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন যেন আমরা তাঁকে জানি এবং তাঁকে চিরকাল ভালোবাসি, যেমনটি আমাদের জন্য সুবিধাজনক ও কল্যাণকর। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি আমাদের তাঁর আনন্দে টেনে নেওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন, যেমন আত্মা যখন বেদনা থেকে স্বর্গে নেওয়া হয়। তৃতীয়টি হলো আমাদের আনন্দে পূর্ণ করা; এবং তা শেষ বিচারের দিনে হবে, চিরস্থায়ীভাবে পূর্ণ হবে। কারণ আমি দেখেছি, যেমন আমাদের বিশ্বাসে জানা আছে, যে যারা রক্ষা পাবে তাদের সবার বেদনা ও দুঃখ শেষ হবে। এবং আমরা কেবল সেই আনন্দই পাব না যা আত্মারা আগে স্বর্গে পেয়েছে, বরং আমরা একটি নতুন আনন্দও পাব, যা প্রচুরভাবে ঈশ্বর থেকে আমাদের মধ্যে প্রবাহিত হবে এবং আমাদের পূর্ণ করবে; এবং এগুলোই সেই সামগ্রী যা তিনি শুরু থেকেই আমাদের দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করেছেন। এই সামগ্রীগুলো তাঁর নিজের মধ্যেই সঞ্চিত ও লুকানো আছে; কারণ সেই সময় পর্যন্ত প্রাণী তা পাওয়ার মতো শক্তিশালী বা যোগ্য নয়।
* এতে আমরা সত্যভাবে সেই সব জিনিসের কারণ দেখতে পাব যা তিনি করেছেন; এবং সবসময় আমরা সেই সব জিনিসের কারণ দেখব যা তিনি সহ্য করেছেন। এবং আনন্দ ও পূর্ণতা এতটাই গভীর ও উচ্চ হবে যে, বিস্ময় ও আশ্চর্যের কারণে, সমস্ত প্রাণীর ঈশ্বরের প্রতি এত মহান শ্রদ্ধাশীল ভয় থাকবে, যা আগে দেখা ও অনুভূত হয়েছে তা ছাড়িয়ে, যে স্বর্গের স্তম্ভগুলো কাঁপবে। কিন্তু এই ধরণের কম্পন ও ভয়ের কোনো বেদনা থাকবে না; বরং ঈশ্বরের যোগ্য শক্তির জন্যই প্রাণীদের দ্বারা এভাবে দেখা, মহান ভয়ে নম্রতার জন্য কাঁপতে কাঁপতে, স্রষ্টা ঈশ্বরের মহানতা এবং যা সৃষ্টি হয়েছে তার ক্ষুদ্রতার প্রতি বিস্মিত হতে হয়। কারণ এটি দেখা প্রাণীটিকে চমৎকারভাবে নম্র ও মৃদু করে তোলে। <br> তাই ঈশ্বর চান — এবং এটি আমাদের প্রকৃতি ও কৃপা উভয় দিক থেকেই উচিত — যেন আমরা এটি সম্পর্কে জানি ও বুঝি, এই দর্শন ও কাজ কামনা করি; কারণ এটি আমাদের সঠিক পথে নিয়ে যায়, এবং সত্য জীবনে আমাদের রাখে, এবং ঈশ্বরের সাথে আমাদের একীভূত করে। এবং ঈশ্বর যতটা ভালো, তিনি ততটাই মহান; এবং তাঁর কল্যাণকে ভালোবাসা যতটা উচিত, তাঁর মহানতাকে ভয় করাও ততটাই উচিত। কারণ এই শ্রদ্ধাশীল ভয়ই হলো সেই সুন্দর সৌজন্য যা স্বর্গে ঈশ্বরের মুখের সামনে আছে। এবং তিনি এখন যতটা পরিচিত ও সমাদৃত, তখন তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি পরিচিত ও সমাদৃত হবেন, যতটা তিনি এখন, তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি ভয় পাবেন। <br> তাই স্তম্ভগুলো কাঁপলে আকাশ ও পৃথিবী যে কাঁপবে, তা হওয়া অনিবার্য।
=== অধ্যায় ৭৬ ===
[[File:Bischheim Temple38.JPG|thumb|আমি [[মমতা]]র দর্শনে বুঝেছিলাম।]]
* '''আমি শ্রদ্ধাশীল [[ভয়]] সম্পর্কে খুব কম বলি, কারণ আমার [[আশা]] আছে এটি উপরের এই বিষয়ে দেখা যেতে পারে। কিন্তু আমি জানি আমাদের প্রভু আমাকে এমন কোনো আত্মা দেখাননি যারা তাঁকে ভয় পায় না। কারণ আমি জানি যে আত্মা সত্যিকার অর্থে পবিত্র আত্মার শিক্ষা গ্রহণ করে, তা পাপকে তার জঘন্যতা ও ভয়াবহতার জন্য নরকে থাকা সমস্ত [[বেদনা]]র চেয়েও বেশি ঘৃণা করে।''' কারণ যে আত্মা আমাদের প্রভু যিশুর সুন্দর প্রকৃতির দিকে তাকায়, আমার দৃষ্টিতে সে পাপ ছাড়া কোনো নরক ঘৃণা করে না। এবং তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা পাপকে জানি, এবং ব্যস্তভাবে প্রার্থনা করি ও আন্তরিকভাবে পরিশ্রম করি এবং নম্রভাবে শিক্ষা খুঁজি যেন আমরা অন্ধভাবে তার মধ্যে না পড়ি; এবং যদি আমরা পড়ি, তবে আমরা যেন দ্রুত উঠে পড়ি। কারণ পাপের দ্বারা কোনো সময় ঈশ্বর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আত্মার জন্য সবচেয়ে বড় বেদনা।
* '''যে আত্মা বিশ্রামে থাকতে চায় যখন অন্য মানুষের পাপ মনে পড়ে, সে তাকে নরকের বেদনার মতো পালাবে, প্রতিকারের জন্য ঈশ্বরের কাছে খুঁজবে, এর বিরুদ্ধে সাহায্যের জন্য।''' কারণ অন্য মানুষের পাপের দিকে তাকানো আত্মার চোখের সামনে একটি ঘন কুয়াশার মতো তৈরি করে, এবং আমরা সেই সময়ের জন্য ঈশ্বরের সৌন্দর্য দেখতে পাই না, যদি না আমরা তার সাথে অনুতাপের সাথে, তার প্রতি মমতার সাথে এবং তার জন্য ঈশ্বরের প্রতি পবিত্র আকাঙ্ক্ষার সাথে তাদের দেখতে পাই। কারণ এটি ছাড়া, যে তাদের দেখে সেই আত্মাকে তা ক্ষতি করে, উদ্বিগ্ন করে ও বাধা দেয়। কারণ আমি মমতার দর্শনে এটি বুঝেছিলাম।
* '''আমাদের প্রভুর এই আনন্দময় দর্শনে আমি দুটি বিপরীত জিনিসের বোধ পেয়েছি: একটি হলো এই জীবনে কোনো প্রাণীর সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা, অন্যটি হলো সবচেয়ে বড় মূর্খতা।''' সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা হলো একটি প্রাণীর তার সর্বোচ্চ সার্বভৌম [[বন্ধু]]র ইচ্ছা ও পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা। এই ধন্য বন্ধু হলেন [[যিশু]], এবং এটি তাঁর ইচ্ছা ও তাঁর পরামর্শ যে আমরা তাঁর সাথে থাকি, এবং তাঁর সাথে আপন হয়ে লেগে থাকি—চিরকাল, আমরা যে অবস্থাতেই থাকি না কেন; কারণ আমরা অপরিষ্কার বা পরিষ্কার যাই হই না কেন, তাঁর ভালোবাসায় আমরা সবাই এক। সুখ বা দুঃখের জন্য তিনি কখনোই চান না যেন আমরা তাঁর থেকে পালাই। কিন্তু আমাদের নিজেদের যে পরিবর্তনশীলতা আছে তার কারণে, আমরা প্রায়শই পাপে পড়ি। তখন আমাদের শত্রুর তাড়নায় এবং আমাদের নিজস্ব মূর্খতা ও অন্ধত্বের কারণে এটি ঘটে: কারণ তারা এভাবে বলে: ''তুমি দেখছ যে তুমি একজন জঘন্য প্রাণী, একজন পাপী, এবং অবিশ্বস্তও। কারণ তুমি আদেশ পালন করছ না; তুমি বারবার আমাদের প্রভুর কাছে প্রতিজ্ঞা করছ যে তুমি ভালো হবে, এবং তারপরেই, তুমি আবার একই পাপে পড়ছ, বিশেষ করে অলসতা ও [[সময়]] নষ্ট করায়।'' (কারণ আমার দৃষ্টিতে এটিই পাপের [[শুরু]], — এবং বিশেষ করে সেই প্রাণীদের জন্য যারা তাদের ধন্য কল্যাণের অভ্যন্তরীণ দর্শনের সাথে আমাদের প্রভুর সেবা করতে নিজেদের দিয়েছে।) এবং এটি আমাদের আমাদের সৌজন্যশীল প্রভুর সামনে উপস্থিত হতে ভয় দেখায়। '''এভাবেই আমাদের [[শত্রু]] আমাদের তার [[মিথ্যা]] ভয় দিয়ে, আমাদের জঘন্যতার, সেই [[বেদনা]] দিয়ে যা সে আমাদের হুমকি দেয়, পিছিয়ে দিতে চায়। কারণ তার অর্থ হলো আমাদের এত ভারাক্রান্ত ও ক্লান্ত করা, যেন আমাদের [[চিরন্তন]] বন্ধুর সুন্দর, আনন্দময় দর্শন মন থেকে মুছে ফেলি।'''
=== অধ্যায় ৭৭ ===
* '''আমাদের ভালো প্রভু শয়তানের শত্রুতা দেখালেন: যে দর্শনে আমি বুঝলাম যে ভালোবাসা ও শান্তির বিপরীত সবকিছুই শয়তানের ও তার অংশের।''' এবং আমাদের, আমাদের দুর্বলতা ও মূর্খতার কারণে, পড়ার প্রবণতা আছে; এবং আমাদের, পবিত্র আত্মার দয়া ও কৃপার কারণে, আরও আনন্দে ওঠার সুযোগ আছে।
* আসুন আমাদের চিন্তায় এভাবে বলি: ''আমি জানি আমার তীব্র বেদনা আছে; কিন্তু আমাদের প্রভু সর্বশক্তিমান এবং আমাকে শক্তভাবে শাস্তি দিতে পারেন; এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং আমাকে বুঝেশুনে শাস্তি দিতে পারেন; এবং তিনি সর্ব-কল্যাণ এবং আমাকে খুব কোমলভাবে ভালোবাসেন।'' এবং এই দর্শনে আমাদের অবস্থান করা প্রয়োজন; কারণ এটি একটি পাপী আত্মার প্রেমময় নম্রতা, যা পবিত্র আত্মার দয়া ও কৃপায় তৈরি, যখন আমরা স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে আমাদের প্রভুর চাবুক ও শাসন গ্রহণ করি যা তিনি নিজে আমাদের দেবেন। এবং এটি খুব কোমল ও সহজ হবে, যদি আমরা কেবল তাঁর সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে সন্তুষ্ট থাকি।
* মানুষ নিজে যে প্রায়শ্চিত্ত গ্রহণ করে তা আমাকে দেখানো হয়নি: অর্থাৎ, তা নির্দিষ্ট করে দেখানো হয়নি। কিন্তু বিশেষভাবে ও উঁচুমানে এবং খুব প্রেমময় দৃষ্টিতে এটি দেখানো হয়েছিল যে, আমাদের নম্রভাবে বহন করতে হবে ও সহ্য করতে হবে সেই প্রায়শ্চিত্ত যা ঈশ্বর নিজে আমাদের দেন, তাঁর ধন্য দুঃখভোগের স্মরণের সাথে।
* তিনি বলেন:''' ''নিজেকে খুব বেশি দোষ দিও না, এই ভেবে যে তোমার কষ্ট ও তোমার শোক সব তোমার দোষের জন্য; কারণ আমি চাই না তুমি অবিবেচকের মতো ভারাক্রান্ত বা শোকাহত হও। কারণ আমি তোমাকে বলি, তুমি যা-ই করো না কেন, তোমার দুঃখ থাকবেই। এবং তাই আমি চাই তুমি বুদ্ধিমত্তার সাথে তোমার প্রায়শ্চিত্ত জানো; এবং সত্যে দেখবে যে তোমার সমস্ত জীবনই লাভজনক প্রায়শ্চিত্ত।'' '''
* এই স্থানটি কারাগার এবং এই জীবনটি প্রায়শ্চিত্ত, এবং প্রতিকারে তিনি চান যেন আমরা আনন্দ করি। প্রতিকার হলো আমাদের প্রভু আমাদের সাথে আছেন, রক্ষা করছেন এবং আনন্দের পূর্ণতায় নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে এটি আমাদের জন্য এক অন্তহীন আনন্দ, যে তিনি, যিনি আমাদের সুখ হবেন যখন আমরা সেখানে থাকব, তিনিই আমাদের রক্ষক যখন আমরা এখানে আছি। আমাদের পথ ও আমাদের স্বর্গ হলো প্রকৃত ভালোবাসা ও নিশ্চিত ভরসা; এবং এর সবকিছুর বিষয়ে তিনি বোধ দিয়েছেন এবং বিশেষ করে দুঃখভোগের দর্শনে যেখানে তিনি আমাকে আমার স্বর্গ হিসেবে তাঁকে বেছে নিতে শক্তভাবে উৎসাহিত করেছেন।
* আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু চান যেন আমরা তাঁর সাথে এতটাই আপন হই যতটা হৃদয় ভাবতে পারে বা আত্মা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে। কিন্তু সাবধান, আমরা যেন এই আপনতাকে এত বেপরোয়াভাবে না নিই যে সৌজন্য হারিয়ে ফেলি। কারণ আমাদের প্রভু নিজে পরম আপনতা, এবং তিনি যতটা আপন, ততটাই সৌজন্যশীল: কারণ তিনি সত্যই সৌজন্যশীল। এবং ধন্য প্রাণীরা যারা চিরকাল তাঁর সাথে স্বর্গে থাকবে, তিনি চান তারা যেন সব কিছুতে তাঁর মতো হয়। এবং আমাদের প্রভুর মতো পুরোপুরি হওয়া, তা-ই আমাদের প্রকৃত পরিত্রাণ ও আমাদের পূর্ণ আনন্দ।
=== অধ্যায় ৭৮ ===
* আমাদের প্রভু তাঁর দয়া ও কৃপার মিষ্টি আলোতে আমাদের পাপ ও দুর্বলতা দেখান; কারণ আমাদের পাপ এতটাই জঘন্য ও ভয়াবহ যে তিনি তাঁর সৌজন্যে তা আমাদের সামনে দেখাবেন না যদি না তাঁর কৃপা ও দয়ার আলোতে।
* তাই চারটি জিনিসের জ্ঞান তাঁর ইচ্ছা: প্রথমটি হলো, তিনি আমাদের ভিত্তি যার থেকে আমরা আমাদের সমস্ত জীবন ও অস্তিত্ব পাই। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি আমাদের পাপের সময়ে এবং আমাদের সমস্ত শত্রুদের মাঝে, যারা আমাদের ওপর খুব ক্রুদ্ধ, আমাদের শক্তভাবে ও দয়াপূর্বক রক্ষা করেন; এবং আমরা এতটাই বেশি বিপদে আছি কারণ আমরা তাদের সুযোগ দিই, এবং আমাদের নিজস্ব প্রয়োজন জানি না। তৃতীয়টি হলো, তিনি কত সৌজন্যের সাথে আমাদের রক্ষা করেন, এবং ''আমাদের জানতে সাহায্য করেন'' যে আমরা ভুল পথে চলছি। চতুর্থটি হলো, তিনি কত অটলভাবে আমাদের জন্য অপেক্ষা করেন এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেন না: কারণ তিনি চান যেন আমরা পরিবর্তিত হই, এবং ভালোবাসায় তাঁর সাথে একীভূত হই যেমন তিনি আমাদের সাথে।
* এভাবেই এই কৃপাপূর্ণ জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা হতাশ না হয়ে লাভজনকভাবে আমাদের পাপ দেখতে পারি।
* আমাদের প্রভু আমাদের যা দেখান তার কম দর্শনের মাধ্যমে, যা আমরা দেখি না তা আরও বেশি গণনা করা হয়। কারণ তিনি তাঁর সৌজন্যে আমাদের দর্শন পরিমাপ করেন; কারণ এটি এতটাই জঘন্য ও ভয়াবহ যে আমরা তা যেভাবে আছে সেভাবে সহ্য করতে পারতাম না।
* আমি শিখলাম যে যদিও আমরা আমাদের প্রভুর বিশেষ উপহার দ্বারা ধ্যানের জন্য উঁচুতে উত্তোলিত হই, তবুও আমাদের পাপ ও দুর্বলতার জ্ঞান ও দর্শন থাকা প্রয়োজন। কারণ এই জ্ঞান ছাড়া আমাদের প্রকৃত নম্রতা থাকতে পারে না, এবং এটি ছাড়া আমরা রক্ষা পেতে পারি না। <br> এবং পরে, আমি আরও দেখলাম যে আমরা এই জ্ঞান আমাদের নিজেদের থেকে পেতে পারি না; আমাদের কোনো আধ্যাত্মিক শত্রুর থেকেও না: কারণ তারা আমাদের এত বড় মঙ্গল চায় না। কারণ যদি তা তাদের ইচ্ছা হতো, তবে আমাদের শেষ দিন পর্যন্ত আমরা তা দেখতাম না। তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছে বড়ই ঋণী যে তিনি নিজে, ভালোবাসার জন্য, দয়া ও কৃপার সময়ে এটি আমাদের দেখাবেন।
=== অধ্যায় ৭৯ ===
* তিনি যে আমাকে দেখালেন যে আমি পাপ করব, আমি তা কেবল আমার নিজের একক ব্যক্তির জন্য নিলাম, কারণ সেই সময়ে আমি অন্য কিছু দেখানো হয়নি। কিন্তু আমাদের প্রভুর মহান, কৃপাপূর্ণ সান্ত্বনার দ্বারা যা পরে এসেছিল, আমি দেখলাম যে তাঁর অর্থ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য: অর্থাৎ, সব-মানুষ; যে পাপী এবং শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে। যার আমি একজন সদস্য, যেমন আমি আশা করি, ঈশ্বরের দয়ায়। কারণ আমি যে ধন্য সান্ত্বনা দেখেছি, তা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট। '''এবং এখানে আমি শিখলাম যে আমার নিজের পাপ দেখা উচিত, এবং অন্য মানুষের পাপ নয় যদি না তা আমার সহ-খ্রিষ্টানদের সান্ত্বনা ও সাহায্যের জন্য হয়।'''
* এছাড়া একই দর্শনে যেখানে আমি দেখলাম যে আমি পাপ করব, সেখানে আমি নিজেকে অনিশ্চয়তার জন্য ভয় পেতে শিখলাম। কারণ আমি জানি না আমি কীভাবে পড়ব, বা আমি পাপের পরিমাণ বা মহানতা জানি না; কারণ আমি তা ভয়ের সাথে জানতে চেয়েছিলাম, এবং তার জন্য আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না। <br> এছাড়া আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু একই সময়ে তাঁর ভালোবাসার অন্তহীনতা ও অপরিবর্তনীয়তা খুব নিশ্চিতভাবে ও শক্তভাবে দেখালেন; এবং, পরে, যে তাঁর মহান কল্যাণ ও তাঁর কৃপা অভ্যন্তরীণভাবে রক্ষা করায়, তাঁর ভালোবাসা ও আমাদের আত্মা কখনোই দুই ভাগে বিভক্ত হবে না, চিরকাল। <br> এবং এভাবেই এই ভয়ে আমার নম্রতার সামগ্রী আছে যা আমাকে অহংকার থেকে বাঁচায়, এবং ভালোবাসার ধন্য দর্শনে আমার প্রকৃত সান্ত্বনা ও আনন্দের সামগ্রী আছে যা আমাকে হতাশা থেকে বাঁচায়।
* তিনি চান যেন আমরা তাঁর মাধুর্য ও আপন ভালোবাসার মাধ্যমে জানি যে, আমরা ভেতরে বা বাইরে যা কিছু দেখি বা অনুভব করি, যা এর বিপরীত তা শত্রুর এবং ঈশ্বরের নয়। এবং এভাবেই — যদি আমরা আমাদের জীবন বা আমাদের হৃদয়ের রক্ষার ব্যাপারে আরও বেপরোয়া হতে অনুপ্রাণিত হই কারণ আমরা এই প্রচুর ভালোবাসার জ্ঞান পেয়েছি — তবে আমাদের খুব সাবধান হতে হবে। কারণ এই অনুপ্রেরণা, যদি আসে, তা সত্য নয়; এবং আমাদের এটিকে ঘৃণা করা উচিত, কারণ এর সবকিছুর ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে কোনো মিল নেই। এবং যখন আমরা পড়ি, দুর্বলতা বা অন্ধত্বে, তখন আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আমাদের স্পর্শ করেন ও অনুপ্রাণিত করেন ও ডাকেন; এবং তখন তিনি চান যেন আমরা আমাদের জঘন্যতা দেখি এবং নম্রভাবে তা সচেতন হই। কিন্তু তিনি চান না যে আমরা এভাবে থাকি, না তিনি চান যে আমরা আমাদের অভিযোগের ব্যাপারে খুব ব্যস্ত থাকি, না তিনি চান যে আমরা নিজেদের নিয়ে জঘন্য হই; কিন্তু তিনি চান যেন আমরা দ্রুত নিজেদের তাঁর দিকে ফেরাই। কারণ তিনি সব দূরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং শোকাতুর ও দুঃখিত হয়ে অপেক্ষা করেন যতক্ষণ না আমরা আসি, এবং আমাদের তাঁর কাছে পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেন। কারণ আমরাই তাঁর আনন্দ ও তাঁর সুখ, এবং তিনি আমাদের মলম ও আমাদের জীবন।
=== অধ্যায় ৮০ ===
* তিনটি জিনিসের মাধ্যমে মানুষ এই জীবনে দাঁড়িয়ে থাকে; যার মাধ্যমে তিনটি ঈশ্বর পূজিত হন, এবং আমরা দ্রুতগতিতে, সংরক্ষিত ও রক্ষিত হই। <br> প্রথমটি হলো মানুষের স্বাভাবিক যুক্তির ব্যবহার; দ্বিতীয়টি হলো পবিত্র গির্জার সাধারণ শিক্ষা; তৃতীয়টি হলো পবিত্র আত্মার অভ্যন্তরীণ কৃপাপূর্ণ কাজ। এবং এই তিনটিই এক ঈশ্বরের: ঈশ্বর আমাদের স্বাভাবিক যুক্তির ভিত্তি; এবং ঈশ্বর, পবিত্র গির্জার শিক্ষা; এবং ঈশ্বর হলেন পবিত্র আত্মা। এবং সব ভিন্ন ভিন্ন উপহার যার প্রতি তিনি চান যেন আমরা বড় মনোযোগ দিই, এবং তার প্রতি মনোযোগী হই। কারণ এগুলো আমাদের মধ্যে অবিরাম একসাথে কাজ করে; এবং এগুলো মহান জিনিস।
* তিনি এখানে আমাদের সাথে বাস করেন, এবং এই জীবনে আমাদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করেন, এবং তাঁর আনন্দে নিয়ে আসেন। এবং তিনি তা করবেন যতদিন পৃথিবীতে কোনো আত্মা থাকবে যে স্বর্গে আসবে, — এবং এতটাই যে যদি এমন কোনো আত্মা না থাকত কিন্তু একজন, তবে তিনি তার সাথে একা থাকতেন যতক্ষণ না তাকে তাঁর আনন্দে নিয়ে আসতেন।
* '''আমি ফেরেশতাদের পরিচর্যায় বিশ্বাস করি ও বুঝি, যেমন যাজকরা আমাদের বলেন: কিন্তু তা আমাকে দেখানো হয়নি। কারণ তিনি নিজেই নিকটতম ও নম্রতম, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন, এবং সব করেন।''' এবং কেবল আমাদের যা প্রয়োজন তা-ই নয়, বরং তিনি সব করেন যা পূজনীয়, স্বর্গে আমাদের আনন্দের জন্য।
* যেখানে আমি বলি যে তিনি শোকাতুর ও আর্তনাদ করে অপেক্ষা করেন, তার অর্থ হলো সেই সমস্ত প্রকৃত অনুভূতি যা ''আমাদের'' নিজেদের মধ্যে আছে, অনুতাপ ও মমতায়, এবং সমস্ত শোক ও আর্তনাদ যে আমরা আমাদের প্রভুর সাথে একীভূত নই। এবং এই সমস্ত যা দ্রুতগতিতে কাজ করে, তা আমাদের মধ্যে খ্রিষ্ট। এবং যদিও আমাদের কেউ কেউ তা খুব কম অনুভব করে, তা খ্রিষ্ট থেকে কখনোই দূরে সরে যায় না যতক্ষণ না তিনি আমাদের সমস্ত বেদনা থেকে বের করে আনেন। '''কারণ ভালোবাসা কখনোই মমতা ছাড়া থাকতে পারে না।'''
=== অধ্যায় ৮১ ===
[[File:Image of Julian of Norwich.jpg|thumb|আমাদের [[ভালো]] [[ঈশ্বর|প্রভু]] নিজেকে [[বিভিন্ন]] ভাবে দেখিয়েছেন স্বর্গে ও [[পৃথিবী]]তে, কিন্তু আমি দেখলাম তিনি মানুষের [[আত্মা]] ছাড়া আর কোনো [[স্থান]] নেননি।]]
* '''আমাদের ভালো প্রভু নিজেকে বিভিন্ন ভাবে দেখিয়েছেন স্বর্গে ও পৃথিবীতে, কিন্তু আমি দেখলাম তিনি মানুষের আত্মায় ছাড়া আর কোনো স্থান নেননি।''' <br> তিনি পৃথিবীতে নিজেকে দেখিয়েছেন মিষ্টি অবতাররূপে এবং তাঁর ধন্য দুঃখভোগে। এবং অন্য ভাবে তিনি নিজেকে পৃথিবীতে দেখিয়েছেন যেখানে আমি বলি: ''আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখলাম''। এবং অন্য ভাবে তিনি নিজেকে পৃথিবীতে দেখিয়েছেন এইভাবে যেন তীর্থযাত্রায়: অর্থাৎ, '''তিনি এখানে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এবং থাকবেন যতক্ষণ না তিনি আমাদের সবাইকে স্বর্গে তাঁর আনন্দে নিয়ে আসছেন।''' তিনি নিজেকে বিভিন্ন সময়ে রাজত্ব করতে দেখিয়েছেন, যেমনটি উপরে বলা হয়েছে; কিন্তু প্রধানত মানুষের আত্মায়। তিনি সেখানে তাঁর বিশ্রামের স্থান ও তাঁর পূজনীয় নগরী নিয়েছেন: যে পূজনীয় আসন থেকে তিনি কখনোই উঠবেন না বা সরবেন না চিরকাল।
* চমৎকার ও রাজকীয় সেই স্থান যেখানে প্রভু বাস করেন, এবং তাই তিনি চান যেন আমরা তাঁর কৃপাপূর্ণ স্পর্শে দ্রুত সাড়া দিই, আমাদের ঘন ঘন পতনে শোক করার চেয়ে তাঁর অখণ্ড ভালোবাসায় বেশি আনন্দ করি। কারণ এটি তাঁর কাছে আমাদের যেকোনো কাজের চেয়ে সবচেয়ে বড় পূজা যে, আমরা আমাদের প্রায়শ্চিত্তে, তাঁর ভালোবাসার জন্য, আনন্দ ও খুশিতে বেঁচে থাকি। '''কারণ তিনি আমাদের এতটাই কোমলভাবে দেখেন যে তিনি আমাদের সমস্ত জীবনকে একটি প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে দেখেন:''' কারণ আমাদের মধ্যে প্রকৃতির আকাঙ্ক্ষা তাঁর কাছে আমাদের মধ্যে চিরস্থায়ী প্রায়শ্চিত্ত: যে প্রায়শ্চিত্ত তিনি আমাদের মধ্যে কাজ করেন এবং দয়াপূর্বক তিনি তা বহন করতে আমাদের সাহায্য করেন। কারণ তাঁর ভালোবাসা ''তাঁকে'' আকাঙ্ক্ষা করতে বাধ্য করে; তাঁর প্রজ্ঞা ও তাঁর সত্য তাঁর ন্যায্যতার সাথে ''তাঁকে'' আমাদের এখানে সহ্য করতে বাধ্য করে: এবং একই ভাবে তিনি আমাদের মধ্যে তা দেখতে চান।
* '''তিনি চান যেন আমরা আমাদের হৃদয়গুলোকে অতিক্রমের ওপর স্থাপন করি: অর্থাৎ, আমরা যে বেদনা অনুভব করি তা থেকে আমরা যে আনন্দের ওপর ভরসা করি তাতে।'''
=== অধ্যায় ৮২ ===
[[File:Taijitu polarity.PNG|thumb|এখানে আমি [[বুঝেছিলাম]] যে প্রভু সেবককে [[মমতা]]র সাথে দেখেন এবং দোষের সাথে নয়।]]
[[File:Blake jacobsladder.jpg|thumb|যদি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রেমিক থাকে যে পতনের হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষা পায়, তবে আমি তা [[জানি]] না: কারণ তা আমাকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এটি দেখানো হয়েছিল: যে পতনে ও উত্থানে আমরা চিরকাল এক [[ভালোবাসা]]য় মূল্যবানভাবে সংরক্ষিত।]]
* '''কিন্তু এখানে আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আত্মার আর্তনাদ ও শোক দেখালেন, এইভাবে নির্দেশ করে: আমি ভালো জানি তুমি আমার ভালোবাসার জন্য বাঁচতে চাও, আনন্দের সাথে ও খুশিতে সেই সমস্ত প্রায়শ্চিত্ত সহ্য করে যা তোমার কাছে আসতে পারে; কিন্তু যেহেতু তুমি পাপ ছাড়া বাঁচো না, তুমি আমার ভালোবাসার জন্য সহ্য করতে চাইতে, সমস্ত দুঃখ, সমস্ত কষ্ট ও দুর্দশা যা তোমার কাছে আসতে পারে। এবং তা সত্য।''' কিন্তু তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে পাপ তোমার ওপর পড়ে তা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হয়ো না। <br> '''এবং এখানে আমি বুঝলাম যে প্রভু সেবককে মমতার সাথে দেখেন এবং দোষের সাথে নয়।''' কারণ এই ক্ষণস্থায়ী জীবন সব দোষ ও পাপ ছাড়া বাঁচার দাবি করে না।
* '''যদি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রেমিক থাকে যে পতনের হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষা পায়, তবে আমি তা জানি না: কারণ তা আমাকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এটি দেখানো হয়েছিল: যে পতনে ও উত্থানে আমরা চিরকাল এক ভালোবাসায় মূল্যবানভাবে সংরক্ষিত।''' কারণ ঈশ্বরের দর্শনে আমরা পড়ি না, এবং নিজেদের দর্শনে আমরা দাঁড়াই না; এবং আমার দৃষ্টিতে এই উভয়ই সত্য। কিন্তু আমাদের প্রভু ঈশ্বরের দর্শন হলো সর্বোচ্চ সত্য। তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছে খুব ঋণী যে তিনি এই জীবনে আমাদের এই উচ্চ সত্য দেখাতে চান। এবং আমি বুঝলাম যে আমরা যখন এই জীবনে থাকি, আমাদের জন্য খুব দ্রুতগতিতে কাজ করে যে আমরা একই সাথে এই দুটি দেখি। কারণ উচ্চতর দর্শন আমাদের আধ্যাত্মিক শান্তি ও ঈশ্বরে প্রকৃত আনন্দে রাখে; অন্যটি যা নিম্নতর দর্শন তা আমাদের ভয়ে রাখে এবং নিজেদের নিয়ে লজ্জিত করে। কিন্তু আমাদের ভালো প্রভু সবসময় চান যেন আমরা উচ্চতর দর্শনে নিজেদের অনেক বেশি রাখি, এবং নিম্নতর দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান ত্যাগ না করি, যতক্ষণ না আমরা ওপরে উঠে আসি, যেখানে আমরা আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের পুরস্কার হিসেবে পাব এবং চিরকাল আনন্দ ও সুখে পূর্ণ হব।
=== অধ্যায় ৮৩ ===
* আমি ঈশ্বরের তিনটি বৈশিষ্ট্যের স্পর্শ, দর্শন ও অনুভূতি কিছুটা পেয়েছিলাম, যার মধ্যে সমস্ত প্রত্যাদেশের শক্তি ও প্রভাব দাঁড়িয়ে আছে: এবং তারা প্রতিটি দর্শনে দেখা গিয়েছিল, এবং দ্বাদশ দর্শনে সবচেয়ে যথাযথভাবে, যেখানে এটি বারবার বলে: '''বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: জীবন, ভালোবাসা এবং আলো।''' জীবনে আছে চমৎকার আপনতা, এবং ভালোবাসায় আছে ভদ্র সৌজন্য, এবং আলোতে আছে অন্তহীন প্রকৃতি-সত্তা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি কল্যাণে ছিল: যে কল্যাণের সাথে আমার যুক্তি একীভূত হতে চাইত, এবং তার সমস্ত শক্তি দিয়ে তা আঁকড়ে ধরতে চাইত।
* আমি শ্রদ্ধাশীল ভয়ে তাকালাম, এবং মিষ্টি ঐক্যের দর্শন ও অনুভূতির মধ্যে খুব বিস্মিত হলাম, যে আমাদের যুক্তি ঈশ্বরের মধ্যে আছে; বুঝে যে এটি আমাদের পাওয়া সর্বোচ্চ উপহার; এবং এটি প্রকৃতিতে ভিত্তি করা।
* আমাদের বিশ্বাস আমাদের অন্তহীন দিন থেকে প্রকৃতিগতভাবে আসা একটি আলো, যিনি আমাদের পিতা, ঈশ্বর। যে আলোতে আমাদের মা, খ্রিষ্ট, এবং আমাদের ভালো প্রভু, পবিত্র আত্মা, আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে নেতৃত্ব দেন। '''এই আলোটি বিচক্ষণতার সাথে পরিমাপ করা হয়, রাতে আমাদের জন্য প্রয়োজনের সাথে দাঁড়িয়ে। আলো আমাদের জীবনের কারণ; রাত আমাদের বেদনা ও আমাদের সমস্ত দুঃখের কারণ: যে রাতে আমরা ঈশ্বরের পুরস্কার ও ধন্যবাদ অর্জন করি।''' কারণ আমরা, দয়া ও কৃপার সাথে, অটলভাবে আমাদের আলোকে জানি ও বিশ্বাস করি, তাতে বুদ্ধিমত্তার সাথে ও শক্তভাবে চলি।
* এভাবেই আমি দেখলাম ও বুঝলাম যে আমাদের বিশ্বাস আমাদের রাতে আমাদের আলো: যে আলো হলো ঈশ্বর, আমাদের অন্তহীন দিন।
=== অধ্যায় ৮৪ ===
* '''আলো হলো দাতব্য, এবং এই আলোর পরিমাপ আমাদের জন্য ঈশ্বরের প্রজ্ঞা দ্বারা লাভজনকভাবে করা হয়।''' কারণ আলো এত বড় নয় যে আমরা আমাদের আনন্দময় দিন দেখতে পাই, আবার এটি আমাদের থেকে বন্ধও নয়; বরং এটি এমন একটি আলো যাতে আমরা পুরস্কারের যোগ্যভাবে বাঁচতে পারি, পরিশ্রমের সাথে ঈশ্বরের অন্তহীন পূজার যোগ্য হয়ে।
* '''দাতব্য আমাদের বিশ্বাস ও আশায় রাখে, এবং আশা আমাদের দাতব্য কাজে নেতৃত্ব দেয়। এবং শেষে সবকিছুই হবে দাতব্য।'''
* আমি এই আলো, দাতব্যের তিন ধরণের বোধ পেয়েছিলাম। প্রথমটি হলো অনির্মিত দাতব্য; দ্বিতীয়টি হলো নির্মিত দাতব্য; তৃতীয়টি হলো প্রদত্ত দাতব্য। অনির্মিত দাতব্য হলো ঈশ্বর; নির্মিত দাতব্য হলো ঈশ্বরে আমাদের আত্মা; প্রদত্ত দাতব্য হলো গুণ। এবং তা কাজের এক মূল্যবান উপহার যাতে আমরা ঈশ্বরকে ভালোবাসি, তাঁর নিজের জন্য; এবং নিজেদের, ঈশ্বরের মধ্যে; এবং যা ঈশ্বর ভালোবাসেন, ঈশ্বরের জন্য।
=== অধ্যায় ৮৫ ===
* এই দর্শনে আমি খুব বিস্মিত হলাম। কারণ আমাদের সহজ জীবন ও আমাদের অন্ধত্ব থাকা সত্ত্বেও, চিরকাল আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আমাদের এই কাজে দেখেন, আনন্দে; এবং সবকিছুর মধ্যে, আমরা তাঁকে বিশ্বাস করতে এবং তাঁর সাথে ও তাঁর মধ্যে আনন্দ করতে সবচেয়ে ভালো প্রজ্ঞার সাথে ও সত্যভাবে সন্তুষ্ট করতে পারি। কারণ আমরা যেমন চিরকাল ঈশ্বরের আনন্দে থাকব, তাঁকে প্রশংসা ও ধন্যবাদ দিয়ে, ঠিক তেমনই আমরা ঈশ্বরের দূরদৃষ্টিতে আছি, তাঁর অন্তহীন উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই পরিচিত ও সমাদৃত। যে অনাদি ভালোবাসায় তিনি আমাদের তৈরি করেছেন; এবং একই ভালোবাসায় তিনি আমাদের রক্ষা করেন এবং কখনোই আমাদের আঘাত পেতে দেন না যার দ্বারা আমাদের আনন্দ হারিয়ে যেতে পারে। '''এবং তাই যখন বিচার দেওয়া হয় এবং আমরা সবাই ওপরে উঠে আসি, তখন আমরা স্পষ্টভাবে ঈশ্বরের মধ্যে গোপন জিনিসগুলো দেখতে পাব যা এখন আমাদের কাছে লুকানো আছে।''' তখন আমাদের কেউই কোনোভাবে বলতে অনুপ্রাণিত হব না: ''প্রভু, যদি এমন হতো, তবে তা খুব ভালো হতো''; বরং আমরা সবাই এক স্বরে বলব: ''প্রভু, তুমি ধন্য হও, কারণ এটি এমন: এটি ভালো; এবং এখন আমরা সত্যভাবে দেখছি যে সবকিছুই করা হয়েছে যেমনটি তখন নির্ধারিত ছিল কোনো কিছু তৈরি হওয়ার আগে।''
=== অধ্যায় ৮৬ ===
[[File:Double-alaskan-rainbow.jpg|thumb|তুমি কি এই বিষয়ে তোমার প্রভুর অর্থ জানতে চাও? ভালো করে জানো: ভালোবাসা ছিল তাঁর অর্থ। কে তোমাকে এটি দেখিয়েছে? ভালোবাসা। তিনি তোমাকে কী দেখিয়েছেন? ভালোবাসা। কেন তিনি এটি দেখিয়েছেন? ভালোবাসার জন্য। এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো এবং তুমি একই বিষয়ে আরও শিখবে ও জানবে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্য কিছু জানবে না বা শিখবে না। এভাবেই আমি শিখলাম যে ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রভুর অর্থ।]]
* এই বইটি ঈশ্বরের উপহার ও তাঁর কৃপা দ্বারা শুরু হয়েছে, কিন্তু তা এখনও সম্পন্ন হয়নি, আমার দৃষ্টিতে।
* '''দাতব্যের জন্য আমরা সবাই প্রার্থনা করি'''। ঈশ্বরের কাজের সাথে, ধন্যবাদ দিয়ে, ভরসা করে, আনন্দ করে। কারণ এভাবেই আমাদের ভালো প্রভু প্রার্থনা পেতে চান, আমার নেওয়া তাঁর নিজস্ব অর্থ ও মিষ্টি শব্দগুলোর বোধ অনুযায়ী যেখানে তিনি খুব আনন্দের সাথে বলেন: '''''আমিই তোমার প্রার্থনার ভিত্তি।'''''' কারণ আমি সত্যই আমাদের প্রভুর অর্থে দেখলাম ও বুঝলাম যে তিনি এটি দেখালেন কারণ তিনি চান যেন তা পরিচিত হোক যতটা এখন আছে তার চেয়ে বেশি: যে জ্ঞানে তিনি আমাদের কৃপা দেবেন যেন আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁকে আঁকড়ে ধরি। কারণ তিনি তাঁর স্বর্গীয় সম্পদকে পৃথিবীতে এত মহান ভালোবাসার সাথে দেখেন যে তিনি চান যেন আমাদের আরও আলো ও স্বর্গীয় আনন্দে সান্ত্বনা দেন, আমাদের হৃদয় গুলোকে তাঁর দিকে টেনে নেওয়ার জন্য, যে দুঃখ ও অন্ধকারের মধ্যে আমরা আছি।
* সেই সময় থেকে যখন এটি দেখানো হয়েছিল, আমি অনেকবার জানতে চেয়েছিলাম আমাদের প্রভুর অর্থ কী ছিল। এবং পনেরো বছর পর, এবং আরও বেশি, আমাকে আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে উত্তর দেওয়া হয়েছিল, এভাবে বলে: ''তুমি কি এই বিষয়ে তোমার প্রভুর অর্থ জানতে চাও? ভালো করে জানো: '''ভালোবাসা ছিল তাঁর অর্থ'''। কে তোমাকে এটি দেখিয়েছে? '''ভালোবাসা'''। তিনি তোমাকে কী দেখিয়েছেন? '''ভালোবাসা'''। কেন তিনি এটি দেখিয়েছেন? '''ভালোবাসার জন্য'''। এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো এবং তুমি একই বিষয়ে আরও শিখবে ও জানবে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্য কিছু জানবে না বা শিখবে না।'' '''এভাবেই আমি শিখলাম যে ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রভুর অর্থ।'''
* '''আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে ঈশ্বর আমাদের তৈরি করার আগে তিনি আমাদের ভালোবাসতেন; যে ভালোবাসা কখনোই কমে যায়নি, বা কখনোই যাবে না। এবং এই ভালোবাসায় তিনি তাঁর সমস্ত কাজ করেছেন; এবং এই ভালোবাসায় তিনি আমাদের জন্য সমস্ত কিছু লাভজনক করেছেন এবং এই ভালোবাসায় আমাদের জীবন চিরন্তন। আমাদের তৈরির মধ্যে আমাদের শুরু ছিল; কিন্তু যে ভালোবাসায় তিনি আমাদের তৈরি করেছেন তা তাঁর মধ্যে ছিল শুরু ছাড়াই: যে ভালোবাসায় আমাদের শুরু আছে। এবং এই সবকিছু আমরা ঈশ্বরে দেখব, শেষ ছাড়াই।'''
== নরিচের জুলিয়ান সম্পর্কে উক্তি ==
* '''নরিচের ঘণ্টা বাজে জোরে, মানুষ আসে আর যায়। <br /> জুলিয়ানের এই মিনারের পাশে, যা জানি তা বলি তাই।'''
** সিডনি কার্টার, "জুলিয়ান অফ নরিচ" (১৯৮৩) গানে। এটি "দ্য বেলস অফ নরিচ" নামেও পরিচিত।
*** [https://www.youtube.com/watch?v=I-irwWT3oYg গর্ডন বক, অ্যান মায়ো মুইর ও এড ট্রিকিটের রেকর্ড করা সংস্করণ]
*** [https://www.youtube.com/watch?v=I8vK2jK-UsI সং-আ-ডে প্রজেক্ট (১৯ জুলাই, ২০১১) - বেলস অফ নরিচ]
*** [https://www.youtube.com/watch?v=s-sTbvkY_l4 অ্যালবিয়ন ক্রিসমাস ব্যান্ডের পরিবেশনায়, কার্টার ও জুলিয়ানকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত ভূমিকা সহ]
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia|জুলিয়ান অফ নরিচ}}
{{commonscat|Julian of Norwich}}
* [http://www.umilta.net/julian.html দ্য জুলিয়ান সাইট]
* [http://www.luminarium.org/medlit/julian.htm লুমিনারিয়াম: জুলিয়ান অফ নরিচ]
* [http://www.newadvent.org/cathen/08557a.htm ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়ায় নরিচের জুলিয়ান বিষয়ক নিবন্ধ]
* ''[http://www.ccel.org/j/julian/revelations/index.html রিভেলেশন্স অব ডিভাইন লাভ]'', বিভিন্ন ফরম্যাটে
* ''[http://www.umilta.net/hertexts.html জুলিয়ান অফ নরিচ, টেক্সটস]'', 'জুলিয়ান অফ নরিচ, হার টেক্সটস অ্যান্ড কনটেক্সট' ওয়েবসাইটের একটি অংশ
* [http://www.poetseers.org/spiritual_and_devotional_poets/christian/julian মাদার জুলিয়ান অফ নরিচ] - নির্বাচিত প্রার্থনা ও কবিতা
[[বিষয়শ্রেণী:অকাল্পনিক সাহিত্য লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ধন্য ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের ক্যাথলিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের ধর্মতত্ত্ববিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খ্রিস্টীয় নেতৃবৃন্দ]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৩৪০-এর দশকে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৪১০-এর দশকে মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:রহস্যবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:নরিচের অধিবাসী]]
4wxjrtfwqrcqr2ispeestozordck3pm
83227
83225
2026-05-01T14:07:37Z
SMontaha32
3112
83227
wikitext
text/x-wiki
[[File:Julian of Norwich.jpg|thumb|right|আমাদের প্রভু ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে একটি কাজ সম্পন্ন হবে, এবং তিনি নিজেই তা করবেন, আর আমি কিছুই করব না কিন্তু পাপ করব, এবং আমার পাপ তাঁর [[মঙ্গলময়তা]] প্রকাশের পথে বাধা হবে না।]]
'''[[:w:নরিচের অফ জুলিয়ান|নরিচের জুলিয়ান]]''' (আনুমানিক ৮ নভেম্বর ১৩৪২ – আনুমানিক ১৪১৬) ছিলেন একজন ইংরেজ [[খ্রিস্টধর্ম|খ্রিস্টান]] রহস্যবাদী এবং ধর্মতত্ত্ববিদ। তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব সামান্যই জানা যায়। এমনকি তাঁর নামটিও নিশ্চিত নয়। "জুলিয়ান" নামটি সম্ভবত নরিচের সেন্ট জুলিয়ান গির্জা থেকে এসেছে, যেখানে তিনি একজন [[w:অ্যাঙ্কোরেস|অ্যাঙ্কোরেস]] (ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী) হিসেবে বসবাস করতেন।
[[File:Orvieto Pozzo San Patrizio 5.JPG|thumb|পাপ থাকাটা অপরিহার্য ছিল। কিন্তু সব ভালো হবে, এবং সব ভালো হবে এবং সব ধরণের জিনিসই ভালো হবে।]]
== ''[[w:ঐশ্বরিক ভালোবাসার প্রকাশ|ঐশ্বরিক ভালোবাসার প্রকাশ]]'' (আনুমানিক ১৩৯৩) ==
:<small>'''''"যিনি অক্ষর পড়তে পারতেন না, তাঁর প্রতি প্রকাশ, আনো ডম. ১৩৭৩"''''' : এই কর্মটি জুলিয়ান সম্পর্কে জানা প্রায় সমস্ত তথ্য প্রদান করে। এটি মূলত ১৩৭৩ সালের ১৩ এবং ১৪ই মে সংঘটিত বিভিন্ন দর্শনের একটি বিবরণ; যখন তিনি ত্রিশ বছর বয়সে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। প্রায় বিশ বছর পর একজন লেখকের মাধ্যমে এটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। প্রাচীন ইংরেজি থেকে এই কর্মটির বহু অনুবাদ হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন সংস্করণে এর বক্তব্যের বৈচিত্র্য এবং অর্থের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত হয়।</small>
=== অধ্যায় ১ ===
[[File:Emanation.png|thumb|এটি প্রেমের একটি প্রকাশ যা আমাদের অন্তহীন পরমানন্দ, যিশু খ্রিস্ট ষোলটি 'শিউইং' বা বিশেষ প্রকাশের মাধ্যমে ঘটিয়েছেন।]]
[[File:Goe Platz der Synagoge Detail 2.jpg|thumb|[[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] মঙ্গলময়তা দ্বারা আমরা দুঃখে ও সুখে সমানভাবে প্রেমে সুরক্ষিত।]]
* '''এটি প্রেমের একটি প্রকাশ যা আমাদের অন্তহীন পরমানন্দ, যিশু [[w:Christ|খ্রিস্ট]] ষোলটি 'শিউইং' (বা বিশেষ প্রকাশ) এর মাধ্যমে ঘটিয়েছেন।''' যার প্রথমটি হলো তাঁর কাঁটার মুকুট পরিধান এবং এর সাথেই ত্রিত্ববাদ, অবতারবাদ এবং ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যবর্তী ঐক্যকে অন্তর্ভুক্ত ও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যা অনন্ত প্রজ্ঞা এবং প্রেমের শিক্ষার সুন্দর প্রকাশ: যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সমস্ত প্রকাশগুলো প্রতিষ্ঠিত এবং একীভূত।
** শুরুর লাইনসমূহ
* আমাদের প্রভু ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান প্রজ্ঞা, সর্ব-প্রেম, তিনি যেমন সত্যই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তেমনই সত্যই তিনি প্রতিটি কাজ করেন ও সম্পন্ন করেন।
* '''আমরা ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা দ্বারা দুঃখে ও সুখে সমানভাবে প্রেমে সুরক্ষিত।'''
* আমাদের প্রভু যিশু প্রেমে তাঁর পরমানন্দময় হৃদয়কে আনন্দ সহকারে দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় প্রদর্শন করেন।
* আমাদের প্রভু ঈশ্বর চান যেন আমরা তাঁর করা সমস্ত কাজের প্রতি গভীর মনোযোগী হই: সবকিছুর সৃষ্টির মহান মহিমা এবং মানুষের সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব, যা তাঁর সমস্ত কাজের ঊর্ধ্বে এবং মানুষের পাপের জন্য তাঁর করা মূল্যবান প্রায়শ্চিত্ত, যা আমাদের সমস্ত অপরাধকে অন্তহীন উপাসনায় রূপান্তরিত করেছে। এই প্রকাশে আমাদের প্রভু আরও বলেন: '''"তাকাও এবং দেখো! কারণ যে শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মঙ্গলময়তা দিয়ে আমি এই সবকিছু করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মঙ্গলময়তা দিয়ে আমি সেই সবকিছুকেও ভালো করে তুলব যা ভালো নয়; এবং তুমি তা দেখতে পাবে।"''' এবং এতে তিনি চান যেন আমরা পবিত্র চার্চের বিশ্বাস ও সত্যে অবিচল থাকি, এখন তাঁর গোপন বিষয়গুলো দেখতে না চাই, কেবল ততটুকুই যা এই জীবনে আমাদের জন্য প্রযোজ্য।
* আমাদের প্রভু আমাদের প্রার্থনার ভিত্তি। এখানে দুটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়: একটি হলো ন্যায়পরায়ণ প্রার্থনা, অন্যটি হলো অটল বিশ্বাস। তিনি চান উভয়ই সমানভাবে বিস্তৃত হোক এবং এভাবেই আমাদের প্রার্থনা তাঁকে আনন্দিত করে এবং তিনি তাঁর মঙ্গলময়তা দিয়ে তা পূরণ করেন।
* আমরা হঠাৎ আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা এবং কষ্ট থেকে মুক্ত হব, এবং তাঁর মঙ্গলময়তা দিয়ে আমরা উপরে উঠে যাব, যেখানে আমরা আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের পুরস্কার হিসেবে পাব এবং স্বর্গে আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ হব।
=== অধ্যায় ২ ===
[[File:Statue of Dame Julian.JPG|thumb|আমি তোমার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাই না।]]
* '''এই প্রকাশগুলো ১৩৭৩ সালের ১৩ই মে, এক সাধারণ অক্ষরজ্ঞানহীন প্রাণীর কাছে প্রকাশিত হয়েছিল।''' যে প্রাণীটি পূর্বে ঈশ্বরের কাছে তিনটি বর চেয়েছিল। প্রথমটি ছিল তাঁর কষ্টের কথা স্মরণ; দ্বিতীয়টি ছিল যৌবনে, ত্রিশ বছর বয়সে শারীরিক অসুস্থতা; তৃতীয়টি ছিল ঈশ্বরের উপহার হিসেবে তিনটি ক্ষত লাভ করা।
* প্রথমটির ক্ষেত্রে, আমার মনে হয়েছিল খ্রিস্টের কষ্টের কিছুটা অনুভূতি আমার আছে, তবুও আমি ঈশ্বরের কৃপায় আরও বেশি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম। মনে হয়েছিল সেই সময়ে আমি যদি মেরি ম্যাগডালিন এবং খ্রিস্টের অন্যান্য প্রেমিকদের সাথে থাকতাম, তবে ভালো হতো। তাই আমি একটি শারীরিক দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলাম যাতে আমাদের পরিত্রাতার শারীরিক যন্ত্রণা এবং আমাদের লেডি (মেরি) ও তাঁর অন্যান্য সত্যিকারে প্রেমিকদের সহমর্মিতা সম্পর্কে আরও জ্ঞান লাভ করতে পারি। কারণ আমি তাদের একজন হতে এবং তাঁর সাথে কষ্ট ভোগ করতে চেয়েছিলাম। আত্মা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে অন্য কোনো দৃশ্য বা প্রকাশ চাইনি। এই আবেদনের কারণ ছিল যেন এই প্রকাশের পর খ্রিস্টের কষ্টের কথা আরও স্পষ্টভাবে মনে রাখতে পারি।
* দ্বিতীয়টি অনুশোচনার সাথে আমার মনে এসেছিল। মৃত্যুর মতো কঠিন অসুস্থতা কামনা করেছিলাম, যাতে সেই অসুস্থতায় আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করতে পারি। আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাব এবং যারা আমাকে দেখছিল তারাও একই ধারণা করেছিল: কারণ আমি জাগতিক জীবনের কোনো আরাম চাইনি। এই অসুস্থতায় আমি সব ধরণের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক যন্ত্রণা পেতে চেয়েছিলাম, যা একজন মানুষের মৃত্যুকালে হয় (শয়তানের সমস্ত ভয় ও ঝড়সহ), কেবল আত্মার বিচ্ছেদ ছাড়া। আমি এটা চেয়েছিলাম কারণ আমি ঈশ্বরের দয়ায় পবিত্র হতে চেয়েছিলাম এবং পরে সেই অসুস্থতার কারণে ঈশ্বরের উপাসনায় আরও বেশি জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম।
* কষ্টের এবং অসুস্থতার এই দুটি ইচ্ছা আমি একটি শর্তের সাথে চেয়েছিলাম, এভাবে বলে: '''"প্রভু, তুমি জানো আমি কী চাই, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে আমি তা পাব এবং যদি তোমার ইচ্ছা না হয়, ভালো প্রভু, অসন্তুষ্ট হইও না: কারণ আমি তোমার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাই না।"'''
* তৃতীয়টির জন্য, ঈশ্বরের কৃপা এবং পবিত্র চার্চের শিক্ষার মাধ্যমে আমি আমার জীবনে তিনটি ক্ষত লাভের প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম: অর্থাৎ, গভীর অনুশোচনার ক্ষত, সদয় সহমর্মিতার ক্ষত এবং ঈশ্বরের প্রতি অটল আকাঙ্ক্ষার ক্ষত। এবং এই শেষ আবেদনটি আমি কোনো শর্ত ছাড়াই চেয়েছিলাম। <br> '''এই পূর্বোক্ত দুটি ইচ্ছা আমার মন থেকে চলে গেলেও, তৃতীয়টি আমার সাথে ক্রমাগত থেকে গিয়েছিল।'''
=== অধ্যায় ৩ ===
[[File:Waldmüller - Die letzte Ölung.jpeg|thumb|যখন আমার বয়স সাড়ে ত্রিশ, ঈশ্বর আমাকে শারীরিক অসুস্থতা দিলেন, যাতে আমি তিন দিন তিন রাত পড়েছিলাম; এবং চতুর্থ রাতে আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করেছিলাম এবং বেঁচে থাকার আশা করিনি।]]
[[File:The church of SS Andrew and Mary - St Julian of Norwich - geograph.org.uk - 1547398.jpg|thumb|আমি আমার বিচারবুদ্ধি এবং যন্ত্রণার অনুভূতি দ্বারা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার মৃত্যু হবে এবং আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্মত হয়েছিলাম।]]
* '''যখন আমার বয়স সাড়ে ত্রিশ, ঈশ্বর আমাকে শারীরিক অসুস্থতা দিলেন, যাতে আমি তিন দিন তিন রাত পড়েছিলাম এবং চতুর্থ রাতে আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করেছিলাম এবং বেঁচে থাকার আশা করিনি।''' এর পরে আমি আরও দুই দিন দুই রাত অসুস্থ ছিলাম, এবং তৃতীয় রাতে আমি প্রায়শই ভেবেছি যে আমি চলে যাব; এবং যারা আমার সাথে ছিল তারাও তা-ই ভেবেছিল। <br> যৌবনের কারণে, আমার মৃত্যুতে খুব দুঃখ হয়েছিল।কিন্তু পৃথিবীর কোনো কিছুর জন্য নয় যা আমাকে বেঁচে থাকতে প্ররোচিত করত, বা কোনো যন্ত্রণার ভয়ে নয়: কারণ আমি ঈশ্বরের দয়ায় বিশ্বাসী ছিলাম। বরং আমি চেয়েছিলাম যেন আমি আরও ভালোভাবে এবং আরও দীর্ঘ সময় ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারি, যেন স্বর্গের পরমানন্দে ঈশ্বরের জ্ঞান ও ভালোবাসা বেশি পেতে পারি। কারণ আমি এখানে যেটুকু সময় বেঁচেছিলাম, তা সেই অনন্ত পরমানন্দের তুলনায় কিছুই না আমি তা কিছুই ভাবিনি।
* আমি আমার বিচারবুদ্ধি এবং যন্ত্রণার অনুভূতি দ্বারা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার মৃত্যু হবে এবং আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্মত হয়েছিলাম। <br> এভাবে আমি দিন পর্যন্ত বেঁচে ছিলাম, এবং ততক্ষণে আমার শরীরের নিচের অংশ অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছিল। তখন আমি স্থির করেছিলাম যেন আমাকে সাহায্য নিয়ে সোজা করে বসানো হয়, যাতে আমার হৃদয়ের স্বাধীনতা থাকে ঈশ্বরের ইচ্ছায় থাকার জন্য, এবং যতক্ষণ জীবন আছে ঈশ্বরের কথা চিন্তা করার জন্য।
* আমার দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করল এবং ঘরের চারপাশ অন্ধকার হয়ে এল, যেন রাত হয়ে গেছে, কেবল ক্রুশবিদ্ধ মূর্তিতে আমি একটি সাধারণ আলো দেখতে পাচ্ছিলাম এবং আমি জানতাম না কীভাবে। ক্রুশের বাইরের সবকিছু আমার কাছে ভয়ানক মনে হচ্ছিল, যেন তা শয়তানদের দ্বারা দখল করা হয়েছে। <br> এরপর আমার শরীরের উপরের অংশ মরতে শুরু করল, এতটাই যে প্রায় কোনো অনুভূতি ছিল না, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এবং তখন আমি সত্যই ভেবেছিলাম যে আমি চলে যাচ্ছি। <br> এবং হঠাৎ আমার সমস্ত যন্ত্রণা দূর হয়ে গেল, এবং আমি (বিশেষ করে আমার শরীরের উপরের অংশে) আগের মতোই সুস্থ হয়ে উঠলাম। <br> এই আকস্মিক পরিবর্তনে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। কারণ মনে হয়েছিল এটি ঈশ্বরের গোপন কাজ, প্রকৃতির নয়। তবুও এই আরামের অনুভূতিতে আমি বেঁচে থাকার আশা করিনি বা এই আরাম আমার কাছে পূর্ণ আরাম ছিল না: কারণ আমি চেয়েছিলাম এই জগত থেকে মুক্তি পেতে।
* তখন হঠাৎ আমার মনে এল যে আমার প্রভুর কৃপায় দ্বিতীয় ক্ষতটি কামনা করা উচিত: যেন আমার শরীর তাঁর পবিত্র কষ্টের চিন্তা ও অনুভূতিতে পূর্ণ হয়। কারণ আমি চেয়েছিলাম তাঁর যন্ত্রণা যেন আমার যন্ত্রণা হয়, সহমর্মিতা এবং পরে ঈশ্বরের প্রতি আকাঙ্ক্ষার সাথে। কিন্তু এতে আমি কোনো শারীরিক দৃশ্য বা ঈশ্বরের প্রকাশ চাইনি, বরং এমন সহমর্মিতা চেয়েছিলাম যা একজন দয়ালু আত্মা আমাদের প্রভু যিশুর সাথে রাখতে পারে, যিনি প্রেমের জন্য মানুষ হতে চেয়েছিলেন: এবং তাই আমি তাঁর সাথে কষ্ট ভোগ করতে চেয়েছিলাম।
== প্রথম প্রকাশ (দ্য ফার্স্ট রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ৪ ===
[[File:Leonardo da Vinci 058.jpg|thumb|আমি তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে, শারীরিক সাদৃশ্যে দেখেছিলাম: এক সাধারণ কুমারী ও নম্র, অল্পবয়সী ও বালিকার চেয়ে সামান্য বড়, সেই উচ্চতায় যা তিনি ধারণ করেছিলেন যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন।]]
* হঠাৎ আমি দেখলাম কাঁটার মুকুটের নিচ থেকে তপ্ত ও তাজা রক্ত প্রচুর পরিমাণে গড়িয়ে পড়ছে, যেমনটা তাঁর কষ্টের সময়ে হয়েছিল যখন সেই কাঁটার মুকুট তাঁর পবিত্র মাথায় চেপে বসানো হয়েছিল। যিনি ঈশ্বর ও মানব উভয়ই, যিনি আমার জন্য এমন কষ্ট সহ্য করেছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে ও প্রবলভাবে অনুভব করলাম যে এটি তিনিই আমাকে দেখাচ্ছেন, কোনো মাধ্যম ছাড়াই। <br> এবং সেই একই প্রকাশে হঠাৎ ত্রিত্ববাদ আমার হৃদয়কে আনন্দে পূর্ণ করে দিল। এবং আমি বুঝতে পারলাম, যারা স্বর্গে আসবে, তাদের জন্য এটি অনন্তকাল ধরে থাকবে। কারণ ত্রিত্ববাদই ঈশ্বর: ঈশ্বরই ত্রিত্ববাদ। ত্রিত্ববাদ আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও রক্ষক, ত্রিত্ববাদ আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে আমাদের চিরন্তন প্রেম এবং চিরন্তন আনন্দ ও পরমানন্দ। এবং এটি প্রথম এবং সমস্ত প্রকাশেই দেখানো হয়েছিল: কারণ যেখানে যিশু উপস্থিত, সেখানে আমার দৃষ্টিতে পবিত্র ত্রিত্ববাদ অনুভূত হয়।
* পবিত্র কষ্টের এই দর্শনের মাধ্যমে, আমার উপলব্ধিতে দেখা ঈশ্বরত্বের সাথে, আমি ভালোভাবেই জানতাম যে, এটি আমার জন্য হ্যাঁ, এবং সমস্ত জীবিত প্রাণীর জন্য নরকের সমস্ত শয়তান ও আধ্যাত্মিক প্রলোভনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্তি।
* তিনি আমাদের পবিত্র লেডিকে (ম্যারি) আমার উপলব্ধিতে নিয়ে এলেন। '''আমি তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে, শারীরিক সাদৃশ্যে দেখেছিলাম: এক সাধারণ কুমারী ও নম্র, অল্পবয়সী ও বালিকার চেয়ে সামান্য বড়, সেই উচ্চতায় যা তিনি ধারণ করেছিলেন যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন।'''
=== অধ্যায় ৫ ===
[[File:JUL Iris Soul Palm.png|thumb|এই ক্ষুদ্র বস্তুতে আমি তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি। প্রথমটি হলো ঈশ্বর এটি তৈরি করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো ঈশ্বর একে ভালোবাসেন, তৃতীয়টি হলো, ঈশ্বর একে রক্ষা করেন।]]
* '''আমি দেখেছি যে তিনি আমাদের জন্য সবকিছুই যা ভালো এবং আরামদায়ক: তিনি আমাদের পোশাক যা প্রেমের জন্য আমাদের আবৃত করে, জড়িয়ে ধরে এবং কোমল ভালোবাসায় আমাদের সম্পূর্ণ ঘিরে রাখে, যেন তিনি আমাদের কখনও ত্যাগ করতে না পারেন। আমার উপলব্ধিতে তিনি আমাদের জন্য ভালো সবকিছুই।'''
* '''তিনি আমাকে আমার হাতের তালুতে একটি ক্ষুদ্র বস্তু দেখালেন, একটি হেজেল-নাটের মতো; এবং এটি বলের মতো গোলাকার ছিল। আমি আমার উপলব্ধির চোখ দিয়ে সেটির দিকে তাকালাম এবং ভাবলাম: "এটি কী হতে পারে?" এবং সাধারণত উত্তর পেলাম: "এটি তা-ই যা সৃষ্টি হয়েছে।"''' আমি অবাক হয়েছিলাম কীভাবে এটি টিকে আছে, কারণ মনে হচ্ছিল সামান্য কারণেই এটি হঠাৎ শূন্যে বিলীন হয়ে যেতে পারত। এবং আমার উপলব্ধিতে উত্তর পেলাম: '''"এটি টিকে আছে এবং সর্বদা টিকে থাকবে কারণ ঈশ্বর একে ভালোবাসেন।" এবং এভাবেই ঈশ্বরের ভালোবাসার মাধ্যমে সবকিছুর অস্তিত্ব রয়েছে।'''
* '''এই ক্ষুদ্র বস্তুতে আমি তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি। প্রথমটি হলো ঈশ্বর এটি তৈরি করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো ঈশ্বর একে ভালোবাসেন, তৃতীয়টি হলো, ঈশ্বর একে রক্ষা করেন।''' কিন্তু আমার জন্য প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা, রক্ষক এবং প্রেমিক কে তা আমি বলতে পারি না; কারণ যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে মৌলিকভাবে একীভূত হচ্ছি, ততক্ষণ আমি পূর্ণ বিশ্রাম বা সত্যিকারের পরমানন্দ পেতে পারি না: অর্থাৎ, যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে এমনভাবে আবদ্ধ হচ্ছি যে, আমার ঈশ্বর এবং আমার মাঝে সৃষ্ট আর কিছুই নেই।
* '''আমাদের প্রাণীদের ক্ষুদ্রতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা প্রয়োজন এবং যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তাকে তুচ্ছ মনে করা প্রয়োজন, যাতে আমরা অ-সৃষ্ট ঈশ্বরকে ভালোবাসতে ও পেতে পারি।''' কারণ এই কারণেই আমাদের হৃদয় ও আত্মায় শান্তি নেই: আমরা এখানে এমন জিনিসের মধ্যে শান্তি খুঁজি যা এতই ক্ষুদ্র, যেখানে কোনো বিশ্রাম নেই, এবং আমাদের সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বগুণী ঈশ্বরকে জানি না। কারণ তিনিই প্রকৃত বিশ্রাম। '''ঈশ্বর চান যেন তাঁকে জানা হোক এবং তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁর মধ্যে বিশ্রাম নিই। কারণ তাঁর নিচের কোনো কিছুই আমাদের সন্তুষ্ট করে না। এবং এই কারণেই কোনো আত্মা ততক্ষণ শান্ত হয় না যতক্ষণ না সৃষ্ট সমস্ত জিনিসের প্রতি সে নিজেকে শূন্য করে। যখন সে প্রেমের জন্য স্বেচ্ছায় নিজেকে শূন্য করে, যাতে সে তাঁকে পেতে পারে যিনিই সবকিছু, তখনই সে আধ্যাত্মিক বিশ্রাম পাওয়ার যোগ্য হয়।'''
=== অধ্যায় ৬ ===
[[File:St Annes Church Manchester England TETRAGRAMMATON.jpg|thumb|তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁকে খুঁজি এবং মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে উপাসনা করি, এই উপলব্ধি নিয়ে যে তিনিই সবকিছুর মঙ্গলময়তা।]]
* তখন আমি সত্যই দেখলাম যে, ঈশ্বরের উপাসনা এবং প্রকৃত আনন্দ তখনই বেশি হয় যখন আমরা তাঁর মঙ্গলময়তার জন্য বিশ্বস্ততার সাথে তাঁর কাছেই প্রার্থনা করি এবং সঠিক উপলব্ধি ও প্রেমের দ্বারা অটল থেকে তাঁর কৃপা আঁকড়ে ধরি, যেন আমরা হৃদয়ের চিন্তার সমস্ত মাধ্যম ব্যবহার করছি। কারণ যদি আমরা এই সমস্ত মাধ্যম গ্রহণ করি, তাও তা খুব সামান্য এবং ঈশ্বরের পূর্ণ উপাসনা নয়: কিন্তু তাঁর মঙ্গলময়তার মধ্যেই সবকিছু পূর্ণ এবং সেখানে কিছুই অভাব নেই।
* '''তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁকে খুঁজি এবং মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে উপাসনা করি, এই উপলব্ধি নিয়ে যে তিনিই সবকিছুর মঙ্গলময়তা।''' <br> কারণ ঈশ্বরের মঙ্গলময়তাই সর্বোচ্চ প্রার্থনা, এবং তা আমাদের প্রয়োজনের সর্বনিম্ন অংশে নেমে আসে। এটি আমাদের আত্মাকে জীবিত করে, কৃপা ও পুণ্যে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। এটি প্রকৃতিতে সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং কৃপায় সবচেয়ে সহজলভ্য: কারণ এটি সেই একই কৃপা যা আত্মা খোঁজে এবং সর্বদা খুঁজবে যতক্ষণ না আমরা সত্যই জানি যে তিনি আমাদের সবাইকে নিজের মধ্যে আবদ্ধ রেখেছেন। <br> কারণ তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি তাঁর কোনো ঘৃণা নেই এবং আমাদের শরীরে প্রকৃতিগতভাবে যে সামান্যতম কাজগুলো থাকে তা করতেও তিনি ইতস্তত করেন না, কারণ তিনি সেই আত্মাকে ভালোবাসেন যা তিনি নিজের সাদৃশ্যে তৈরি করেছেন।
* '''শরীর যেমন পোশাকে ঢাকা, মাংস যেমন চামড়ায় ঢাকা, হাড় যেমন মাংসে ঢাকা, এবং হৃদয় যেমন পুরো শরীরে ঢাকা, ঠিক তেমনই আমরা, আত্মা ও শরীর, ঈশ্বরের মঙ্গলময়তায় আবৃত এবং আবদ্ধ। হ্যাঁ, এবং আরও আপনভাবে: কারণ এই সমস্ত কিছু নষ্ট হয়ে যেতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা সর্বদা পূর্ণ এবং কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী;''' কারণ আমাদের প্রেমিক সত্যই চান যেন আমাদের আত্মা তাঁর সাথে সমস্ত শক্তি দিয়ে লেগে থাকে এবং আমরা যেন সর্বদা তাঁর মঙ্গলময়তাকে আঁকড়ে থাকি। কারণ হৃদয়ে যা কিছু চিন্তা করা যায়, তার মধ্যে এটিই ঈশ্বরকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয় এবং দ্রুততম ফল দেয়।
=== অধ্যায় ৭ ===
[[File:Love heart.jpg|thumb|যিনি ভালোবাসার জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই একই ভালোবাসায় তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং অন্তহীনভাবে রক্ষা করবেন।]]
* '''এই প্রকাশটি ছিল দ্রুত এবং প্রাণবন্ত, এবং ভীতিকর ও ভয়ংকর, মিষ্টি ও মনোরম।''' এবং সমস্ত দৃশ্যের মধ্যে আমার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক ছিল এটি যে, আমাদের ঈশ্বর ও প্রভু, যিনি এত শ্রদ্ধেয় ও ভয়ংকর, তিনি এত আপন এবং সৌজন্যপূর্ণ: এবং এটি আমাকে আত্মা ও নিশ্চিততার শান্তিতে পূর্ণ করেছিল।
* সত্যই এটিই সবচেয়ে বড় আনন্দ যা হতে পারে, আমার দৃষ্টিতে, যে তিনি যিনি সর্বোচ্চ ও সর্বশক্তিমান, সবচেয়ে মহৎ ও যোগ্য, তিনিই সবচেয়ে বিনম্র ও নম্র, সবচেয়ে আপন ও সৌজন্যপূর্ণ: এবং সত্যই এই বিস্ময়কর আনন্দ আমাদের সবাইকে দেখানো হবে যখন আমরা তাঁকে দেখব।
* এই বিস্ময়কর আপনভাব কোনো মানুষই জীবনের এই সময়ে পুরোপুরি দেখতে পায় না, যদি না সে আমাদের প্রভুর বিশেষ প্রকাশ বা পবিত্র আত্মার কাছ থেকে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাপ্ত কৃপা না পায়। কিন্তু বিশ্বাস ও ভক্তি এই পুরস্কারের যোগ্য করে তোলে: এবং কৃপার মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়। কারণ বিশ্বাস, আশা এবং ভালোবাসার ওপরই আমাদের জীবন প্রতিষ্ঠিত।
=== অধ্যায় ৮ ===
[[File:Roerich_symbol.svg|thumb|আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং প্রতিটি জিনিসের যে মঙ্গলময়তা আছে, তা তিনিই।]]
* আমি জানি যে স্বর্গ ও পৃথিবী এবং যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তা মহান ও বিশাল, সুন্দর ও ভালো। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এটি এত ক্ষুদ্র দেখানোর কারণ হলো আমি এটি তাঁর উপস্থিতিতে দেখেছি যিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা: কারণ যে আত্মা সবকিছুর সৃষ্টিকর্তাকে দেখে, তার কাছে সৃষ্ট সবকিছুই খুব ক্ষুদ্র মনে হয়।
* '''যিনি ভালোবাসার জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই একই ভালোবাসায় তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং অন্তহীনভাবে রক্ষা করবেন।'''
* '''আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং প্রতিটি জিনিসের যে মঙ্গলময়তা আছে, তা তিনিই।'''
* আমাদের প্রভু প্রথম দর্শনে এই সবকিছুই আমাকে দেখিয়েছিলেন, এটি দেখার জন্য সময় ও সুযোগ দিয়েছিলেন। এবং শারীরিক দৃষ্টি থেমে গিয়েছিল, কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টি আমার উপলব্ধিতে থেকে গিয়েছিল এবং আমি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ে অপেক্ষা করছিলাম, যা দেখেছিলাম তাতে আনন্দিত হয়েছিলাম। এবং আমি সাহস করে আরও দেখতে চেয়েছিলাম, যদি তা তাঁর ইচ্ছা হতো, অথবা অন্যথায় দীর্ঘ সময় ধরে একই দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলাম।
* এই সবকিছুর মধ্যে আমি আমার সম-খ্রিস্টানদের প্রতি ভালোবাসায় অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম, যেন তারা দেখতে এবং জানতে পারে যা আমি দেখেছি: কারণ আমি চেয়েছিলাম এটি তাদের জন্য সান্ত্বনা হোক। কারণ এই সমস্ত দৃশ্য সাধারণের জন্য দেখানো হয়েছিল। তখন আমি আমার চারপাশের লোকদের বললাম: "আজ আমার জন্য বিচার দিবস।" এবং এটি আমি বলেছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাচ্ছি।
* আমি আপনাদের সবাইকে ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করি এবং আপনার নিজের কল্যাণের জন্য উপদেশ দিই, যে আপনারা সেই দরিদ্র প্রাণীর প্রতি তাকানো বন্ধ করুন যার কাছে এটি দেখানো হয়েছিল, এবং শক্তিশালী, জ্ঞানী ও বিনম্রভাবে ঈশ্বরকে দেখুন, যিনি তাঁর সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসা ও অন্তহীন মঙ্গলময়তার মাধ্যমে আমাদের সবার সান্ত্বনার জন্য এটি সাধারণভাবে দেখাতে চেয়েছেন। কারণ ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আপনারা এটি মহান আনন্দ ও তুষ্টির সাথে গ্রহণ করুন, যেন যিশু এটি আপনাদের সবাইকে দেখিয়েছেন।
=== অধ্যায় ৯ ===
[[File:Saula Kopf 2517m Panorama 2.jpg|thumb|আধ্যাত্মিক দৃষ্টিটি আমি যতটা চাই ততটা খোলাখুলি বা পূর্ণভাবে দেখাতে পারি না।]]
* '''প্রকাশের কারণে আমি ভালো নই যদি না আমি ঈশ্বরকে আরও বেশি ভালোবাসি: এবং আপনারা ঈশ্বরকে যতটা বেশি ভালোবাসেন, এটি আমার চেয়ে আপনাদের জন্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।''' আমি এটি জ্ঞানী ব্যক্তিদের বলছি না, কারণ তারা এটি ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু আমি এটি আপনাদের বলছি যারা সহজ-সরল, সান্ত্বনা ও আরামের জন্য: কারণ আমরা সবাই সান্ত্বনায় এক। কারণ সত্যই আমাকে এটি দেখানো হয়নি যে ঈশ্বর আমাকে কৃপাপ্রাপ্ত সর্বনিম্ন আত্মার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। কারণ আমি নিশ্চিত যে এমন অনেকেই আছেন যারা কখনো পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষার বাইরে কোনো প্রকাশ বা দর্শন পাননি, কিন্তু তারা ঈশ্বরকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। '''কারণ যদি আমি এককভাবে নিজের দিকে তাকাই, তবে আমি কিছুই নই।''' কিন্তু সাধারণভাবে, আমি আশা করি, আমার সমস্ত সম-খ্রিস্টানদের সাথে ভালোবাসার একতায় আমি আছি।
* '''এই একতার মধ্যেই সমস্ত মানবজাতির জীবন নিহিত, যারা পরিত্রাণ পাবে।''' কারণ আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং ঈশ্বর যা সৃষ্টি করেছেন তা তিনি তৈরি করেছেন, এবং ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টি করা সবকিছুকেই ভালোবাসেন: এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের জন্য তার সমস্ত সম-খ্রিস্টানকে সাধারণভাবে ভালোবাসে, সে সবকিছুকেই ভালোবাসে। কারণ যারা পরিত্রাণ পাবে, সেই মানবজাতির মধ্যে সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত: অর্থাৎ, যা সৃষ্টি হয়েছে এবং সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। কারণ মানুষের মধ্যে ঈশ্বর আছেন এবং ঈশ্বর সবকিছুর মধ্যে আছেন। এবং আমি আশা করি ঈশ্বরের কৃপায় যে ব্যক্তি এটি এভাবে দেখবে, সে সত্যই শিক্ষিত হবে এবং গভীরভাবে সান্ত্বনা পাবে, যদি তার সান্ত্বনার প্রয়োজন হয়।
* আমি তাদের কথা বলছি যারা পরিত্রাণ পাবে, কারণ এই সময়ে ঈশ্বর আমাকে অন্য কিছু দেখাননি। তবে সবকিছুর ক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি যা পবিত্র চার্চ বিশ্বাস করে, প্রচার করে এবং শিক্ষা দেয়। কারণ পবিত্র চার্চের বিশ্বাস, যা আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম এবং আমি আশা করি, ঈশ্বরের কৃপায় আন্তরিকভাবে ব্যবহার ও অভ্যাসে রেখেছিলাম, তা ক্রমাগত আমার দৃষ্টিতে ছিল: এর বিপরীত কিছু গ্রহণ করার ইচ্ছা বা অর্থ আমার ছিল না। এবং এই উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আমার সমস্ত নিষ্ঠার সাথে প্রকাশটি দেখেছি: কারণ এই সমস্ত পবিত্র প্রকাশের মধ্যে আমি একে ঈশ্বরের অর্থের সাথে এক হিসেবে দেখেছি।
* এই সবকিছু তিনভাবে দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, শারীরিক দৃষ্টি দ্বারা, আমার উপলব্ধিতে গঠিত শব্দ দ্বারা, এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টি দ্বারা। কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টিটি আমি যতটা চাই ততটা খোলাখুলি বা পূর্ণভাবে দেখাতে পারি না বা পারি না। কিন্তু আমি আমাদের সর্বশক্তিমান ঈশ্বর প্রভুর ওপর ভরসা করি যে তিনি তাঁর মঙ্গলময়তার জন্য, এবং আপনাদের ভালোবাসার জন্য, আপনাদের এটি আরও আধ্যাত্মিকভাবে এবং আরও মিষ্টিভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করবেন, যা আমি বলতে পারি বা পারি না তার চেয়েও বেশি।
== দ্বিতীয় প্রকাশ (দ্য সেকেন্ড রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১০ ===
[[File:Cristo degli abissi.jpg|thumb|যদি কোনো মানুষ বা নারী বিশাল জলের নিচে থাকত, যদি সে ঈশ্বরের দৃষ্টি লাভ করত। যেমনটি ঈশ্বর ক্রমাগত একজন মানুষের সাথে থাকেন। তবে সে শরীর ও আত্মায় নিরাপদ থাকত এবং কোনো ক্ষতি হতো না: এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সে এই পৃথিবীর সমস্ত বর্ণনার চেয়েও বেশি শান্তি ও সান্ত্বনা পেত।]]
* '''ঈশ্বর চান যেন তাঁকে দেখা হোক এবং খোঁজা হোক: যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করা হয় এবং তাঁকে বিশ্বাস করা হয়।'''
* এটি আমি শারীরিকভাবে, কিছুটা অস্পষ্ট ও ঝাপসাভাবে দেখেছিলাম; এবং আমি আরও স্পষ্টভাবে দেখার জন্য শারীরিক দৃষ্টি কামনা করেছিলাম। আমার বিচারবুদ্ধিতে উত্তর পেলাম: "যদি ঈশ্বর তোমাকে আরও দেখাতে চান, তবে তিনিই হবেন তোমার আলো: তাঁর ছাড়া তোমার আর কিছুর প্রয়োজন নেই।" কারণ আমি তাঁকে খুঁজতে দেখেছি। <br> কারণ আমরা এখন এতটাই অন্ধ ও অবিবেচক যে, ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তায় নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ না করা পর্যন্ত আমরা তাঁকে খুঁজি না। এবং যখন আমরা কৃপাবশত তাঁর কিছুটা দর্শন পাই, তখন সেই একই কৃপা আমাদের আরও পরমানন্দময় দর্শনের জন্য প্রবল আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত করে। <br> এবং এভাবেই আমি তাঁকে দেখেছি এবং খুঁজেছি এবং আমি তাঁকে পেয়েছি, আমি তাঁকে চেয়েছি। এবং আমার দৃষ্টিতে এটিই আমাদের সাধারণ কাজ হওয়া উচিত।
* একবার আমার উপলব্ধি সমুদ্রের তলদেশের গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এবং সেখানে আমি সবুজ পাহাড় ও উপত্যকা দেখেছিলাম, যা শৈবাল ও নুড়ি পাথরে আবৃত বলে মনে হচ্ছিল। '''তখন আমি বুঝলাম: যদি কোনো মানুষ বা নারী বিশাল জলের নিচে থাকত, যদি সে ঈশ্বরের দৃষ্টি লাভ করত। যেমনটি ঈশ্বর ক্রমাগত একজন মানুষের সাথে থাকেন। তবে সে শরীর ও আত্মায় নিরাপদ থাকত এবং কোনো ক্ষতি হতো না: এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সে এই পৃথিবীর সমস্ত বর্ণনার চেয়েও বেশি শান্তি ও সান্ত্বনা পেত।''' কারণ তিনি চান যেন আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা তাঁকে ক্রমাগত দেখছি, যদিও আমাদের কাছে তা সামান্যই মনে হয়; এবং এই বিশ্বাসে তিনি আমাদের সর্বদা কৃপা লাভে সাহায্য করেন। কারণ তিনি চান যেন তাঁকে দেখা হোক এবং তাঁকে খোঁজা হোক। তিনি চান যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করা হোক এবং তাঁকে বিশ্বাস করা হোক।
* এবং এই দর্শনটি আমার উপলব্ধির জন্য একটি শিক্ষা ছিল যে, আত্মার ক্রমাগত অনুসন্ধান ঈশ্বরকে অত্যন্ত আনন্দিত করে। কারণ আত্মার পক্ষে খোঁজা, সহ্য করা এবং বিশ্বাস করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। এবং এটি সেই আত্মায় পবিত্র আত্মার দ্বারা সম্পন্ন হয় এবং খুঁজে পাওয়ার স্বচ্ছতা তাঁর বিশেষ কৃপা, যখন তা তাঁর ইচ্ছা। বিশ্বাস, আশা ও প্রেমের সাথে অনুসন্ধান আমাদের প্রভুকে আনন্দিত করে, এবং খুঁজে পাওয়া আত্মাকে আনন্দিত করে ও পরমানন্দে পূর্ণ করে। এবং এভাবেই আমি আমার উপলব্ধিতে শিখেছিলাম যে, যতক্ষণ তিনি আত্মাকে কষ্টে থাকতে দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসন্ধান করা দর্শন করার মতোই ভালো। ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা তাঁকে খুঁজি, তাঁকে দেখার জন্য, কারণ এর মাধ্যমেই তিনি যখন ইচ্ছা তাঁর বিশেষ কৃপায় নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ করবেন।
* এই দর্শনে দুটি কাজ দেখা যায়: একটি হলো অনুসন্ধান, অন্যটি হলো দর্শন বা অবলোকন।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমাদের অনুসন্ধানে তিনটি জিনিস থাকুক: প্রথমটি হলো, আমরা যেন অলসতা ছাড়াই আন্তরিকভাবে ও নিষ্ঠার সাথে খুঁজি, এবং তাঁর কৃপায় অযৌক্তিক বিষণ্ণতা ও বৃথা শোক ছাড়াই খুঁজি।''' দ্বিতীয়টি হলো, আমরা যেন তাঁর প্রেমের জন্য জীবনের শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে অটলভাবে অপেক্ষা করি, কোনো বিড়বিড় করা বা তাঁর বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছাড়াই। কারণ এটি মাত্র অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হবে। তৃতীয়টি হলো, আমরা যেন পূর্ণ নিশ্চিত বিশ্বাসে তাঁর ওপর দৃঢ়ভাবে নির্ভর করি। কারণ এটি তাঁর ইচ্ছা যে আমরা জানি, '''যারা তাঁকে ভালোবাসে তাদের সবার কাছে তিনি হঠাৎ ও পরমানন্দময়ভাবে আবির্ভূত হবেন।''' <br> কারণ তাঁর কাজ গোপনীয় এবং '''তিনি চান যেন তাঁকে অনুভব করা হয় এবং তাঁর আবির্ভাব হবে দ্রুত ও আকস্মিক এবং তিনি চান যেন তাঁকে বিশ্বাস করা হয়। কারণ তিনি অত্যন্ত কৃপাময় ও আপনজন। তিনি ধন্য হোন!'''
== তৃতীয় প্রকাশ (দ্য থার্ড রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১১ ===
[[File:Electricsheep-18467.jpg|thumb|পাপ কোনো কাজ নয়।]]
[[File:Universeglass.JPG|thumb|আমি দেখলাম যে তিনি সবকিছুর মধ্যে আছেন।]]
[[File:A Young Pulsar Shows its Hand.jpg|thumb|আমি আমার কাজ থেকে আমার হাত কখনও সরিয়ে নিই না এবং কখনও সরিয়ে নেব না, অন্তহীনভাবে: দেখো! আমি সবকিছুর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে পরিণতির জন্য নির্ধারণ করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রেম দিয়ে আমি সবকিছুর পরিচালনা করছি, যা দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টি করেছি।]]
* '''যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়: কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বরই সব করেন।'''
* '''পাপ কোনো কাজ নয়।'''
* এর পরে আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখলাম, অর্থাৎ আমার উপলব্ধিতে। যে দর্শনের মাধ্যমে আমি দেখলাম যে তিনি সবকিছুর মধ্যে বিদ্যমান।
* আমি শান্ত ভয়ের সাথে অবলোকন করলাম এবং বিবেচনা করলাম, দেখে ও জেনে ভাবলাম: "পাপ কী?" কারণ আমি সত্যই দেখলাম যে ঈশ্বর সব কাজই করেন, তা যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন। এবং আমি সত্যই দেখলাম যে কোনো কিছুই দৈবক্রমে বা আকস্মিকভাবে ঘটে না বরং সবকিছুই ঈশ্বরের পূর্বনির্ধারিত প্রজ্ঞা অনুযায়ী হয়। যদি মানুষের দৃষ্টিতে তা দৈবক্রিয়া বা আকস্মিক মনে হয়, তবে আমাদের অন্ধত্ব এবং অদূরদর্শিতাই তার কারণ। কারণ যে বিষয়গুলো সৃষ্টির আদি থেকে ঈশ্বরের দূরদর্শী প্রজ্ঞায় রয়েছে (যা তিনি ন্যায়পরায়ণতা, মহিমা ও ধারাবাহিকতার সাথে সর্বোত্তম পরিণতির দিকে নিয়ে যান), সেগুলো যখন আমাদের সামনে হঠাৎ উপস্থিত হয়, আমরা তা বুঝতে পারি না এবং '''এইভাবে আমাদের অন্ধত্ব ও অদূরদর্শিতার কারণে আমরা বলি: এগুলো দৈবক্রিয়া ও আকস্মিক ঘটনা। কিন্তু আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে তা নয়। <br> তাই আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে, যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়: কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বরই সব করেন।''' কারণ এই সময়ে প্রাণীদের কাজ দেখানো হয়নি বরং প্রাণীর মধ্যে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাজ দেখানো হয়েছে: কারণ তিনি সবকিছুর কেন্দ্রে আছেন এবং তিনি সবই করেন। এবং আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তিনি কোনো পাপ করেন না।
* '''এখানে আমি সত্যই দেখলাম যে পাপ কোনো কাজ নয়। কারণ এই সমস্ত কিছুর মধ্যে পাপ দেখানো হয়নি। এবং আমি এতে আর বিস্ময় প্রকাশ করতে চাইলাম না, বরং আমাদের প্রভুর দিকে তাকালাম যে তিনি কী দেখাতে চান। <br> এবং এভাবেই, সেই সময়ের জন্য যতটুকু সম্ভব ছিল, ঈশ্বরের কাজের ন্যায়পরায়ণতা আত্মার কাছে প্রকাশিত হয়েছিল।'''
* '''ন্যায়পরায়ণতার দুটি সুন্দর বৈশিষ্ট্য আছে: এটি সঠিক এবং এটি পূর্ণ।''' এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সমস্ত কাজ ঠিক তেমনই: এর জন্য দয়া বা কৃপার কাজের প্রয়োজন হয় না: কারণ সেগুলো সবই ন্যায়পরায়ণ। যার মধ্যে কোনো কিছুরই অভাব নেই।
* অন্য সময়ে তিনি পাপকে নগ্নভাবে দেখার জন্য একটি প্রকাশ দিয়েছিলেন, যেমনটা আমি বলব: যেখানে তিনি দয়া ও কৃপার কাজ ব্যবহার করেন। <br> এবং আমার উপলব্ধির জন্য এই দর্শনটি দেখানো হয়েছিল, কারণ আমাদের প্রভু চেয়েছিলেন যেন আত্মা সত্যভাবে তাঁর দর্শনের দিকে এবং সাধারণভাবে তাঁর সমস্ত কাজের দিকে ফিরে আসে। কারণ সেগুলো অত্যন্ত ভালো এবং তাঁর সমস্ত কাজ সহজ ও মধুর, এবং যে আত্মা মানুষের অন্ধ বিচার থেকে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সুন্দর ও মধুর বিচারের দিকে ফিরে আসে, তাকে তিনি পরম স্বস্তি দান করেন। '''কারণ মানুষ কিছু কাজকে ভালো এবং কিছু কাজকে মন্দ বলে গণ্য করে কিন্তু আমাদের প্রভু সেগুলোকে সেভাবে দেখেন না: কারণ প্রকৃতিতে যার অস্তিত্ব আছে তা যেমন ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্ট, তেমনি যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ঈশ্বরের কাজেরই বৈশিষ্ট্য।'''
* '''এটি বোঝা সহজ যে সর্বোত্তম কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয় এবং সর্বোত্তম কাজটি সবচেয়ে উচ্চতর কাজটি। যতটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়, ক্ষুদ্রতম কাজটিও ততটাই ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। এবং প্রতিটি জিনিস তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও শৃঙ্খলায় থাকে যা আমাদের প্রভু সৃষ্টির আদি থেকেই নির্ধারণ করেছেন। কারণ তিনি ছাড়া আর কোনো কর্তা নেই।''' <br> আমি নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে তিনি কোনো কিছুর উদ্দেশ্য কখনও পরিবর্তন করেন না, এবং অন্তহীনভাবে কখনও করবেনও না। কারণ সৃষ্টির আদি থেকে তাঁর ন্যায়পরায়ণ ব্যবস্থায় তাঁর কাছে অজানা কিছুই ছিল না। এবং তাই কোনো কিছু সৃষ্টির পূর্বেই সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে নির্ধারিত ছিল, যেভাবে তা অনন্তকাল ধরে টিকে থাকবে এবং কোনো কিছুই সেই বিন্দু থেকে বিচ্যুত হবে না।
* এই সবকিছু তিনি পরম পরমানন্দের সাথে দেখিয়েছিলেন, এভাবে ইঙ্গিত করে: '''''"দেখো! আমিই ঈশ্বর: দেখো! আমি সবকিছুর মধ্যে আছি: দেখো! আমিই সব কাজ করি: দেখো! আমি আমার কাজ থেকে আমার হাত কখনও সরিয়ে নিই না এবং অন্তহীনভাবে কখনও সরিয়ে নেব না: দেখো! আমি সবকিছুর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে পরিণতির জন্য নির্ধারণ করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রেম দিয়ে আমি সবকিছুর পরিচালনা করছি, যা দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টি করেছি। কোনো কিছু কীভাবে ভুল হতে পারে?"''''' <br> এই দর্শনে আত্মাকে অত্যন্ত শক্তিশালী, জ্ঞানী ও প্রেমময়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তখন আমি স্পষ্টভাবে দেখলাম যে, ঈশ্বরের প্রতি মহান শ্রদ্ধা ও আনন্দের সাথে সম্মতি জানানো আমার জন্য অপরিহার্য।
== চতুর্থ প্রকাশ (দ্য ফোর্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১২ ===
[[File:Кошелев Н. А. Сошествие во ад.jpg|thumb|দেখো এবং লক্ষ্য করো! তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য নরকের গভীরে নেমে গিয়েছিল, এর শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছিল এবং স্বর্গীয় দরবারের অন্তর্গত সেখানে থাকা সমস্ত আত্মাকে মুক্ত করেছিল।]]
* এর পরে আমি দেখতে পেলাম, চাবুক মারার দৃশ্যের মতো শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্ত ঝরছে, এইভাবে ধারালো আঘাতে মিষ্টি শরীরের চারপাশ থেকে কোমল মাংসে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এত প্রচুর পরিমাণে তপ্ত রক্ত ঝরছিল যে চামড়া বা ক্ষত কিছুই দেখা যাচ্ছিল না, যেন সবকিছুই কেবল রক্ত। এবং যখন এটি নিচে পড়ে যাওয়ার কথা ছিল, তখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল। <br> তা সত্ত্বেও, রক্তক্ষরণ কিছুক্ষণ অব্যাহত ছিল: যতক্ষণ তা দেখা এবং বিবেচনা করা সম্ভব ছিল।
* দেখো এবং লক্ষ্য করো! তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য নরকের গভীরে নেমে গিয়েছিল, এর শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছিল এবং স্বর্গীয় দরবারের অন্তর্গত সেখানে থাকা সমস্ত আত্মাকে মুক্ত করেছিল। তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য সমস্ত পৃথিবীকে প্লাবিত করেছে, এবং সদিচ্ছাসম্পন্ন সমস্ত প্রাণীকে পাপ থেকে ধৌত করার জন্য প্রস্তুত আছে—যারা অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতে আসবে। তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র শরীরে স্বর্গে আরোহণ করেছে, এবং সেখানে তিনি আমাদের জন্য পিতার কাছে রক্ত ঝরাচ্ছেন ও প্রার্থনা করছেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তিনি তা করবেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তা সর্বদা থাকবে।
== পঞ্চম প্রকাশ (দ্য ফিফথ রিভেলেশন) ==
[[File:Passion of Christ.jpg|thumb|আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র কষ্ট এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শত্রুকে পরাভূত করা হয়েছে।]]
=== অধ্যায় ১৩ ===
* '''আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র কষ্ট এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শত্রুকে পরাভূত করা হয়েছে।'''
* তিনি কোনো কণ্ঠস্বর বা ঠোঁট খোলা ছাড়াই আমার আত্মায় এই শব্দগুলো গঠন করলেন: "এর দ্বারাই শয়তান পরাভূত হলো।" আমাদের প্রভু এই কথাগুলো বলেছেন, তাঁর পবিত্র কষ্ট বা প্যাশনের কথা বুঝিয়ে, যা তিনি আগেই প্রদর্শন করেছিলেন। <br> এতে আমাদের প্রভু দেখালেন যে, তাঁর কষ্টই শয়তানের পরাজয়। ঈশ্বর দেখালেন যে, অবতার গ্রহণের আগে শয়তানের যে বিদ্বেষ ছিল, এখনও তার একই বিদ্বেষ রয়েছে। সে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে, কিন্তু সে দেখতে পায় যে পরিত্রাণপ্রাপ্ত সমস্ত আত্মা খ্রিস্টের মূল্যবান কষ্টের গুণের মাধ্যমে তার হাত থেকে গৌরবময়ভাবে মুক্তি পাচ্ছে। এটিই তার দুঃখ, এবং সে অত্যন্ত লজ্জিত। কারণ ঈশ্বর তাকে যা কিছু করার অনুমতি দেন, তার সবই আমাদের জন্য আনন্দে এবং তার জন্য লজ্জায় ও কষ্টে রূপান্তরিত হয়। ঈশ্বর যখন তাকে কাজ করার অনুমতি দেন, তখন সে যতটা কষ্ট পায়, কাজ না করলেও ততটাই পায়: কারণ সে কখনোই তার ইচ্ছামতো মন্দ কাজ করতে পারে না, কেননা তার সমস্ত শক্তি ঈশ্বরের হাতে ন্যস্ত।
* '''আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ক্রোধ থাকতে পারে না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু সর্বদা তাঁর নিজের মহিমা এবং পরিত্রাণপ্রাপ্ত সকলের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।''' শক্তি ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে তিনি তাদের প্রতিহত করেন, যারা বিদ্বেষ ও দুষ্টতা থেকে ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করার ষড়যন্ত্র করে। আমি আরও দেখেছি আমাদের প্রভু তার বিদ্বেষকে উপহাস করেন এবং তার শক্তিহীনতাকে তুচ্ছ করেন এবং তিনি চান যেন আমরাও তাই করি। এই দৃশ্য দেখে আমি উচ্চস্বরে হেসেছিলাম, আর আমার হাসির কারণে আমার চারপাশের লোকেরাও হেসেছিল, এবং তাদের সেই হাসি আমার জন্য আনন্দের কারণ হয়েছিল।
* কিন্তু আমি খ্রিস্টকে হাসতে দেখিনি। কারণ আমি বুঝেছিলাম যে, শয়তান পরাজিত হয়েছে। এই আনন্দে এবং ঈশ্বরকে কেন্দ্র করে আমরা নিজেদের সান্ত্বনার জন্য হাসতে পারি। আর যখন আমি তাঁকে শয়তানের বিদ্বেষকে উপহাস করতে দেখেছি, তা ছিল আমার উপলব্ধিকে আমাদের প্রভুর দিকে পরিচালিত করার মাধ্যমে অর্থাৎ, এটি ছিল সত্যের একটি অভ্যন্তরীণ প্রকাশ, যা তাঁর চেহারায় কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়েই হয়েছিল। কারণ, আমার দৃষ্টিতে, এটি ঈশ্বরের একটি গৌরবময় বৈশিষ্ট্য যা সর্বদা একই থাকে।
* এর পরে আমি এক গম্ভীরতায় নিমগ্ন হলাম এবং বললাম: "আমি তিনটি জিনিস দেখতে পাচ্ছি। আমি খেলা, উপহাস এবং গাম্ভীর্য দেখছি। আমি খেলা দেখছি, কারণ শয়তান পরাজিত। আমি উপহাস দেখছি, কারণ ঈশ্বর তাকে উপহাস করছেন এবং তাকে উপহাস করা হবে এবং আমি গাম্ভীর্য দেখছি, কারণ সে আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পরমানন্দময় কষ্ট ও মৃত্যুর মাধ্যমে পরাজিত হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল।"
== ষষ্ঠ প্রকাশ (দ্য সিক্সথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৪ ===
[[File:Langenzenn Stadtkirche - Fenster Wilhelm II 5.jpg|thumb|স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স তাঁর সামনে স্বীকৃত হবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।]]
* '''স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স তাঁর সামনে স্বীকৃত হবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।'''
* আমার উপলব্ধিকে স্বর্গের দিকে উন্নীত করা হয়েছিল, যেখানে আমি আমাদের প্রভুকে তাঁর নিজের বাড়ির একজন প্রভু হিসেবে দেখলাম, যিনি তাঁর সমস্ত প্রিয় সেবক ও বন্ধুদের এক রাজকীয় ভোজসভায় আহ্বান করেছেন। তখন আমি দেখলাম প্রভু তাঁর নিজের বাড়িতে কোনো নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করেননি বরং আমি দেখলাম তিনি তাঁর বাড়িতে রাজকীয়ভাবে রাজত্ব করছেন, আনন্দ ও উল্লাসে পূর্ণ করছেন, নিজেকে অন্তহীনভাবে আনন্দিত করছেন এবং তাঁর প্রিয় বন্ধুদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন, অত্যন্ত আপনভাবে ও সৌজন্যের সাথে, অন্তহীন প্রেমের বিস্ময়কর সুরের মাধ্যমে, তাঁর নিজস্ব সুন্দর ও আশীর্বাদপুষ্ট মুখমণ্ডলে। ঈশ্বরত্বের এই মহিমান্বিত মুখমণ্ডল স্বর্গকে আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ করে।
* ঈশ্বর স্বর্গে প্রত্যেক আত্মার জন্য আনন্দের তিনটি স্তর দেখিয়েছেন, যারা পৃথিবীতে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে সেবা করেছে। প্রথমটি হলো আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ, যা সে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পাবে। এই ধন্যবাদ এত উচ্চ এবং এত মহিমান্বিত যে আত্মার মনে হয় এটিই তাকে পূর্ণ করে দিয়েছে, যদিও আর কিছুই না থাকত। কারণ আমার মনে হয়েছিল, জীবিত সমস্ত মানুষের সহ্য করা সমস্ত যন্ত্রণা ও কষ্টও সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য নয়, যা একজন মানুষ পাবে যে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে সেবা করেছে। দ্বিতীয়টি হলো, স্বর্গে থাকা সমস্ত আশীর্বাদপুষ্ট সত্তা সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ দেখতে পাবে এবং তিনি স্বর্গের সবাইকে তার সেবার কথা জানিয়ে দেবেন। এখানে এই উদাহরণটি দেখানো হয়েছিল। একজন রাজা, যদি তিনি তাঁর সেবকদের ধন্যবাদ জানান, তবে তা তাদের জন্য অনেক সম্মানের এবং যদি তিনি তা পুরো রাজ্যে ঘোষণা করেন, তবে সেই সম্মান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তৃতীয়টি হলো, সেই সময়ে তা যেমন নতুন ও আনন্দদায়ক হিসেবে গৃহীত হয়, ঠিক তেমনই তা অন্তহীনভাবে স্থায়ী হবে।
* আমি দেখলাম যে এটি অত্যন্ত আপনভাবে ও মধুরভাবে দেখানো হয়েছিল এবং স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স জানা যাবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে। এবং বিশেষ করে যারা স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে তাদের যৌবন ঈশ্বরকে উৎসর্গ করে, তাদের অসামান্যভাবে পুরস্কৃত করা হয় এবং বিস্ময়করভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়। <br> কারণ আমি দেখেছি যে, যে কোনো সময় একজন পুরুষ বা নারী সত্যভাবে ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসে। এক দিনের সেবার জন্য এবং তার অটল ইচ্ছার জন্য সে এই তিন স্তরের আনন্দই লাভ করবে। এবং প্রেমময় আত্মা ঈশ্বরের এই সৌজন্য যত বেশি দেখতে পায়, সে তার জীবনের সমস্ত দিন তাঁকে সেবা করার জন্য তত বেশি আগ্রহী হয়।
== সপ্তম প্রকাশ (দ্য সেভেন্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৫ ===
* এর পরে তিনি আমার আত্মায় এক পরম আধ্যাত্মিক তুষ্টি দেখালেন। আমি চিরন্তন নিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ হয়েছিলাম, কোনো বেদনাদায়ক ভয় ছাড়াই প্রবলভাবে টিকে ছিলাম। এই অনুভূতিটি এতটাই আনন্দময় ও আধ্যাত্মিক ছিল যে আমি পূর্ণ শান্তি ও বিশ্রামে ছিলাম, পৃথিবীর কোনো কিছুই আমাকে দুঃখ দিতে পারত না। <br> এটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এবং আমি আবার আমার নিজের মধ্যে ফিরে এলাম জীবন সম্পর্কে ক্লান্তি, নিজের প্রতি বিতৃষ্ণায় পূর্ণ হলাম, বেঁচে থাকার ধৈর্য প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম। বিশ্বাস, আশা ও প্রেম ছাড়া আমার কোনো আরাম ছিল না এগুলো আমার সত্যই ছিল, কিন্তু উপলব্ধিতে ছিল খুব সামান্য। <br> এবং এর পরপরই আমাদের প্রভু আমাকে পুনরায় আত্মার আরাম ও বিশ্রাম দিলেন, এমন তৃপ্তি ও নিশ্চয়তা যা এতই পরমানন্দময় ও শক্তিশালী যে কোনো ভয়, দুঃখ বা শারীরিক যন্ত্রণা আমাকে বিচলিত করতে পারেনি। এবং তখন বেদনা আবার আমার উপলব্ধিতে ফিরে এল, তারপর আনন্দ ও তৃপ্তি। এইভাবে কয়েকবার আমার মনে হয় প্রায় বিশবার। আনন্দের সময়ে আমি সন্ত পলের সাথে বলতে পারতাম। "খ্রিস্টের প্রেম থেকে কিছুই আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না" এবং বেদনার সময়ে আমি পিতরের সাথে বলতে পারতাম: "প্রভু, আমাকে বাঁচাও: আমি বিনষ্ট হচ্ছি!"
* এই দর্শনটি আমার উপলব্ধিতে দেখাল যে, কিছু আত্মার জন্য এই অভিজ্ঞতাটি উপকারী। কখনো শান্তিতে থাকা, আবার কখনো ব্যর্থ হয়ে নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হওয়া। ঈশ্বর চান যেন আমরা জানি যে, তিনি আমাদের সুখে ও দুঃখে একইভাবে সুরক্ষিত রাখেন। মানুষের আত্মার মঙ্গলের জন্য, মানুষ কখনো কখনো নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়; যদিও পাপ সবসময় এর কারণ নয়। কারণ এই সময়ে আমি এমন কোনো পাপ করিনি যার জন্য আমাকে নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে—এটি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক। এই আশীর্বাদপূর্ণ অনুভূতি পাওয়ার মতো যোগ্যতাও আমার ছিল না। কিন্তু আমাদের প্রভু যখন ইচ্ছা করেন তখন মুক্তহস্তে দান করেন এবং কখনো কখনো আমাদের কষ্টের মধ্যে রাখেন। এবং উভয়ই একই প্রেমের প্রকাশ।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আরাম ও শান্তিতে থাকি। কারণ আনন্দ হলো অন্তহীন স্থায়ী, এবং বেদনা হলো ক্ষণস্থায়ী, যা পরিত্রাণপ্রাপ্তদের জন্য বিলীন হয়ে যাবে। তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা নয় যে আমরা বেদনার অনুভূতিগুলো অনুসরণ করে শোক ও বিলাপ করি বরং আমরা যেন হঠাৎ তা অতিক্রম করে চিরন্তন আনন্দে নিমগ্ন থাকি।'''
== অষ্টম প্রকাশ (দ্য এইটথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৬ ===
* এর পরে খ্রিস্ট তাঁর মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ের কষ্টের একটি অংশ দেখালেন। <br> আমি তাঁর মিষ্টি মুখমণ্ডল দেখলাম যা মৃত্যুপথযাত্রী ফ্যাকাশে রঙে শুষ্ক ও রক্তহীন হয়ে গিয়েছিল এবং পরে, আরও ফ্যাকাশে, মৃত, অবসন্ন এবং তারপর নীলচে মৃত রঙে পরিবর্তিত হলো এবং মাংস যখন আরও গভীরভাবে মৃত হয়ে গেল তখন তা আরও কালচে-নীল হলো। কারণ তাঁর কষ্ট আমার কাছে তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলে (বিশেষ করে ঠোঁটে) সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল। সেখানে আমি এই চারটি রঙ দেখেছি, যদিও আমার দৃষ্টিতে তা আগে সতেজ, লাল ও মনোরম ছিল। এই গভীর মৃত্যু দেখা এক করুণ পরিবর্তন ছিল।
=== অধ্যায় ১৭ ===
* এবং এই মৃত্যুর সময়ে খ্রিস্টের কথাগুলো আমার মনে এল: "আমি তৃষ্ণার্ত।" <br> কারণ আমি খ্রিস্টের মধ্যে দ্বৈত তৃষ্ণা দেখলাম: একটি শারীরিক। অন্যটি আধ্যাত্মিক...
* আমি চার ধরণের শুষ্কতা দেখলাম। প্রথমটি ছিল রক্তহীনতা; দ্বিতীয়টি ছিল তার পরবর্তী যন্ত্রণা। তৃতীয়টি বাতাসে ঝুলে থাকা, যেমন মানুষ কাপড় শুকানোর জন্য ঝুলায়। চতুর্থটি ছিল এই যে, শারীরিক সত্তা তরল চেয়েছিল কিন্তু তার সমস্ত কষ্ট ও দুর্দশায় তাঁকে কোনো সান্ত্বনা দেওয়া হয়নি। আহ! তাঁর যন্ত্রণা ছিল কঠিন ও কষ্টদায়ক, কিন্তু যখন আর্দ্রতা শেষ হয়ে গেল এবং শরীর শুষ্ক হতে শুরু করল, কুঁকড়ে গেল, তখন তা আরও বেশি কঠিন ও কষ্টদায়ক মনে হলো। <br> এই যন্ত্রণাগুলো তাঁর পবিত্র মাথায় দেখা গিয়েছিল: প্রথমটি মৃত্যুর দিকে নিয়ে গিয়েছিল, যখন কিছু আর্দ্রতা ছিল এবং অন্যটি, ধীর, কুঁকড়ে যাওয়া শুষ্কতা, বাইরের বাতাসের ঝাপটায়। যা আমাকে ভাবতে কষ্ট দেয় তার চেয়েও বেশি ঠান্ডায় তাঁকে শুকিয়েছিল ও কষ্ট দিয়েছিল। <br> এবং অন্যান্য যন্ত্রণা। যার জন্য আমি দেখলাম যে আমার বলা সব কথাই খুব সামান্য। কারণ তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। খ্রিস্টের যন্ত্রণার এই প্রকাশ আমাকে বেদনায় পূর্ণ করে দিয়েছিল। কারণ আমি জানতাম তিনি কেবল একবারই কষ্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা আমাকে দেখাতে চেয়েছিলেন এবং আমার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমাকে তা দিয়ে পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। এবং খ্রিস্টের যন্ত্রণার এই সময়ে তাঁর যন্ত্রণা ছাড়া আমি আর কিছুই অনুভব করিনি। তখন ভাবলাম। "আমি জানতাম না আমি কতটা কষ্ট চেয়েছিলাম।" এবং, এক হতভাগার মতো, অনুশোচনা করলাম, ভাবলাম। "যদি জানতাম তা কী হবে, তবে আমি তা চাইতাম না।" কারণ আমার মনে হয়েছিল আমার যন্ত্রণা শারীরিক মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। <br> আমি ভাবলাম "এর মতো আর কোনো যন্ত্রণা আছে কি?" এবং আমার উপলব্ধিতে উত্তর পেলাম "নরক হলো অন্য যন্ত্রণা। কারণ সেখানে হতাশা আছে। কিন্তু পরিত্রাণের দিকে নিয়ে যাওয়া সমস্ত যন্ত্রণার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা, তোমার প্রেমকে কষ্ট পেতে দেখা। আমার জীবন, আমার পরমানন্দ, আমার আনন্দ। তাঁকে কষ্ট পেতে দেখার চেয়ে বড় যন্ত্রণা আমার জন্য আর কী হতে পারে?" এখানে আমি সত্যই অনুভব করলাম যে আমি নিজেকে ছাড়িয়ে খ্রিস্টকে এতটাই বেশি ভালোবাসতাম যে, সেই শোকে যন্ত্রণার চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা সহ্য করা সম্ভব ছিল না।
=== অধ্যায় ১৮ ===
* এখানে আমি আমাদের লেডি, সেন্ট মেরির সহমর্মিতার একটি অংশ দেখলাম। কারণ খ্রিস্ট এবং তিনি প্রেমে এতটাই একীভূত ছিলেন যে তাঁর ভালোবাসার গভীরতাই তাঁর যন্ত্রণার গভীরতার কারণ ছিল। কারণ এতে আমি প্রকৃতির প্রেমের একটি সত্তা দেখেছি, যা কৃপা দ্বারা অব্যাহত থাকে। যা প্রাণীদের তাঁর প্রতি থাকে। এই প্রাকৃতিক ভালোবাসা তাঁর মিষ্টি মায়ের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। কারণ তিনি তাঁকে সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তাঁর যন্ত্রণা সবার চেয়ে বেশি ছিল। কারণ ভালোবাসা যত উচ্চ, শক্তিশালী ও মধুর হয়, ভালোবাসার পাত্রকে কষ্টে থাকতে দেখলে প্রেমিকের দুঃখ তত বেশি হয়। <br> এবং তাঁর সমস্ত শিষ্য ও প্রকৃত প্রেমিকরা তাদের নিজস্ব শারীরিক মৃত্যুর চেয়েও বেশি যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন। কারণ আমি আমার নিজস্ব অনুভূতির মাধ্যমে নিশ্চিত যে, তাদের মধ্যে অন্ততপক্ষে যে ছিল, সেও নিজেকে ছাড়িয়ে তাঁকে এতটা ভালোবাসত যা আমার বলা সমস্ত কথাকে অতিক্রম করে যায়।
* '''এখানে আমি আমার উপলব্ধিতে খ্রিস্ট এবং আমাদের মধ্যে এক মহান ঐক্য দেখলাম। কারণ যখন তিনি কষ্টে ছিলেন, আমরা কষ্টে ছিলাম।''' <br> এবং সমস্ত প্রাণী যারা যন্ত্রণা সহ্য করতে পারত, তারা তাঁর সাথে সহ্য করেছিল। অর্থাৎ, ঈশ্বর আমাদের সেবার জন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছেন। খ্রিস্টের মৃত্যুর সময়ে গ্রহ-নক্ষত্র ও পৃথিবী তাদের প্রকৃতিতে দুঃখের কারণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারণ তাদের প্রকৃতির সহজাত বৈশিষ্ট্যই ছিল তাঁকে তাদের ঈশ্বর হিসেবে জানা, যার ওপর তাদের সমস্ত গুণ দাঁড়িয়ে ছিল। যখন তিনি ব্যর্থ হলেন, তখন দয়া ও কৃতজ্ঞতার কারণে, তাঁর যন্ত্রণার শোকে তাদেরও তাঁর সাথে ব্যর্থ হতে হয়েছিল।
* ঈশ্বর, যিনি তাঁর মঙ্গলময়তার মাধ্যমে গ্রহ ও উপাদানগুলোকে আশীর্বাদপুষ্ট ও অভিশপ্ত মানুষের জন্য কাজ করান, সেই সময়ে তিনি উভয় থেকেই তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। একারণেই যারা তাঁকে চিনত না তারাও সেই সময়ে শোকে ছিল। <br> এইভাবে আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের জন্য তুচ্ছ করা হয়েছিল এবং আমরা সবাই তাঁর সাথে এইভাবে তুচ্ছ হয়ে আছি এবং থাকব যতক্ষণ না আমরা তাঁর পরমানন্দে পৌঁছাই: যেমনটি আমি পরে বলব।
=== অধ্যায় ১৯ ===
* আমি ক্রুশ থেকে মুখ ফেরাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সাহস করিনি। কারণ আমি ভালো করেই জানতাম যে যতক্ষণ আমি ক্রুশের দিকে তাকিয়ে আছি, ততক্ষণ আমি নিশ্চিতভাবে নিরাপদ। তাই আমি আমার আত্মাকে বিপদে ফেলতে রাজি হইনি। কারণ ক্রুশের বাইরে কোনো নিশ্চয়তা নেই, শয়তানের ভয়ে।
* এটি আমার কাছে সর্বদা একটি সান্ত্বনা ছিল যে, আমি তাঁর কৃপায়, এই সমস্ত কষ্ট ও দুঃখের সময়েও যিশুকে আমার স্বর্গ হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম এবং এটি আমার জন্য একটি শিক্ষা ছিল যে আমি যেন সর্বদা তাই করি: সুখে ও দুঃখে কেবল যিশুকে আমার স্বর্গ হিসেবে বেছে নিই।
* আমি সত্যই দেখলাম যে অভ্যন্তরীণ সত্তা বাহ্যিক সত্তার প্রভু ও অধিপতি এবং সে তার ইচ্ছার দ্বারা চালিত হয় না বা মনোযোগ দেয় না। বরং সমস্ত উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা আমাদের প্রভু যিশুর সাথে একীভূত হওয়ার জন্য নির্ধারিত। বাহ্যিক সত্তা যেন অভ্যন্তরীণ সত্তাকে সম্মতি জানাতে টানে, তা আমাকে দেখানো হয়নি বরং কৃপার দ্বারা অভ্যন্তরীণ সত্তা বাহ্যিককে টানে, এবং খ্রিস্টের গুণের মাধ্যমে উভয়ই অন্তহীন পরমানন্দে একীভূত হবে,এটিই দেখানো হয়েছিল।
=== অধ্যায় ২০ ===
* এইভাবে আমি আমাদের প্রভু যিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে অবসন্ন থাকতে দেখলাম। কারণ ঈশ্বরত্বের সাথে একীভূত হওয়া মানবসত্ত্বাকে ভালোবাসার জন্য সহ্য করার শক্তি দিয়েছিল, যা সমস্ত মানুষের সহ্যক্ষমতার চেয়েও বেশি। আমার মানে এই নয় যে তিনি মানুষের চেয়ে বেশি যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন বরং তিনি এমন যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন যা পরিত্রাণপ্রাপ্ত কোনো মানুষ শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত কল্পনাও করতে পারবে না, সর্বোচ্চ মহিমান্বিত রাজা হওয়া সত্ত্বেও লজ্জাজনক, অবজ্ঞাত ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু বরণ করার কারণে। কারণ '''যিনি সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে যোগ্য, তাঁকেই সবচেয়ে বেশি তুচ্ছ ও অত্যন্ত অবজ্ঞাত করা হয়েছিল।'''
* তিনি যতটা কোমল ও পবিত্র ছিলেন, ঠিক ততটাই তিনি সহ্য করার জন্য শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান ছিলেন। <br> এবং পরিত্রাণপ্রাপ্ত প্রতিটি মানুষের পাপের জন্য তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন এবং প্রতিটি মানুষের দুঃখ ও একাকীত্ব তিনি দেখেছিলেন, এবং প্রকৃতির নিয়ম ও ভালোবাসার কারণে তিনি দুঃখ পেয়েছিলেন। <br> কারণ যতদিন তিনি কষ্টভোগী ছিলেন ততদিন তিনি আমাদের জন্য দুঃখ পেয়েছেন এবং এখন তিনি পুনরুত্থিত এবং আর কষ্টভোগী নন, তবুও তিনি আমাদের সাথে কষ্ট সহ্য করেন।
=== অধ্যায় ২১ ===
* আমার উপলব্ধিতে ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো, আমরা যেন তাঁর পবিত্র কষ্টকে তিনভাবে দেখি। প্রথমটি হলো: ''তিনি যে কঠিন যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন,''অনুশোচনা ও সহমর্মিতার সাথে। এবং আমাদের প্রভু সেই সময়ে তা দেখিয়েছিলেন এবং তা দেখার জন্য আমাকে শক্তি ও কৃপা দিয়েছিলেন।
* তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলের পরিবর্তন আমার মুখকেও পরিবর্তন করল, এবং আমি যতটা সম্ভব আনন্দিত ও প্রফুল্ল ছিলাম। তখন আমাদের প্রভু আনন্দের সাথে আমার মনে করিয়ে দিলেন। "এখন তোমার কষ্ট বা দুঃখের কোনো চিহ্ন কি আছে?" এবং আমি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম।
* এখানে আমি সত্যই দেখলাম যে, যদি তিনি আমাদের তাঁর পরমানন্দময় চেহারা দেখান, তবে পৃথিবী বা অন্য কোনো স্থানে এমন কোনো যন্ত্রণা নেই যা আমাদের দুঃখিত করতে পারে বরং সবকিছুই আমাদের জন্য আনন্দ ও পরমানন্দ হবে।
* তিনি যে কষ্ট সহ্য করেন তার কারণ হলো, তিনি তাঁর মঙ্গলময়তার মাধ্যমে আমাদের তাঁর পরমানন্দে তাঁর চেয়েও উন্নত করতে চান এবং আমরা এখানে যেটুকু কষ্ট সহ্য করি, তার বিনিময়ে আমরা ঈশ্বরে এমন এক উচ্চ ও অন্তহীন জ্ঞান লাভ করব যা এই যন্ত্রণা ছাড়া আমাদের পক্ষে লাভ করা কখনোই সম্ভব ছিল না।
== নবম প্রকাশ (দ্য নাইনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২২ ===
* তখন আমাদের ভালো প্রভু যিশু খ্রিস্ট বললেন: "আমি তোমার জন্য কষ্ট পেয়েছি বলে তুমি কি খুব খুশি?" আমি বললাম: "হ্যাঁ, ভালো প্রভু, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই; হ্যাঁ, ভালো প্রভু, তুমি ধন্য হও।" <br> তখন যিশু, আমাদের দয়ালু প্রভু, বললেন: "যদি তুমি খুশি হও, তবে আমিও খুশি: এটি আমার কাছে এক আনন্দ, এক পরমানন্দ, এক অন্তহীন তৃপ্তি যে আমি তোমার জন্য কষ্ট সহ্য করেছি; এবং যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম।"
* আমার উপলব্ধি স্বর্গের দিকে উন্নীত হয়েছিল, এবং সেখানে আমি তিনটি স্বর্গ দেখলাম। এই দৃশ্য দেখে আমি অত্যন্ত বিস্মিত হলাম। এবং যদিও আমি তিনটি স্বর্গ দেখলাম এবং সবই খ্রিস্টের পবিত্র মানবসত্তার মধ্যে কোনোটাই বড় নয়, কোনোটাই ছোট নয়, কোনোটাই উঁচু নয়, কোনোটাই নিচু নয়, বরং পরমানন্দে সবই সমান।
* আমি যা বলছি তা যিশুর কাছে এতটাই বড় আনন্দ যে তিনি তাঁর সমস্ত কষ্ট, তাঁর কঠিন যন্ত্রণা এবং তাঁর নিষ্ঠুর ও লজ্জাজনক মৃত্যুকে তুচ্ছ মনে করেন। <br> এবং এই কথাগুলোতে: "যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম" আমি সত্যই দেখলাম যে, তিনি যতবার মরতে "পারতেন", ততবারই তিনি মরতে "চাইতেন" এবং তাঁর ভালোবাসা তাঁকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে দিত না যতক্ষণ না তিনি তা করতেন। এবং তিনি কতবার মরতে চাইতেন তা জানার জন্য আমি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করলাম। এবং সত্যই সেই সংখ্যা আমার বোধগম্যতা ও বুদ্ধিকে এতদূর ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে আমার যুক্তি তা বুঝতে পারেনি, বা পারতও না। এবং যখন তিনি এইভাবে বহুবার মারা গিয়েছিলেন, বা মারা যেতেন, তবুও তিনি প্রেমের খাতিরে তা তুচ্ছ করতেন। কারণ তাঁর ভালোবাসার তুলনায় সবকিছুই তাঁর কাছে সামান্য মনে হয়।
* কারণ খ্রিস্টের মিষ্টি মানবসত্তা মাত্র একবার কষ্ট সহ্য করতে পারলেও, তাঁর মধ্যকার মঙ্গলময়তা দানের ইচ্ছায় কখনও ক্ষান্ত হতে পারে না। প্রতিদিন তিনি একই কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকেন, যদি তা সম্ভব হতো। কারণ তিনি যদি বলতেন যে তিনি আমার ভালোবাসার জন্য নতুন স্বর্গ ও নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করবেন, তবে তা তুলনামূলকভাবে সামান্যই হতো। কারণ এটি প্রতিদিন করা যেত, কোনো কষ্ট ছাড়াই। কিন্তু আমার ভালোবাসার জন্য এতবার মরা যে যার সংখ্যা প্রাণীর যুক্তিকে ছাড়িয়ে যায়, আমার দৃষ্টিতে এটিই সর্বোচ্চ উপহার যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর মানুষের আত্মাকে দিতে পারেন। তখন তিনি বোঝাতে চান: "তোমার ভালোবাসার জন্য আমি যে সমস্ত কাজ সহজেই করতে পারি তা কেন করব না, যেহেতু তোমার ভালোবাসার জন্য আমি আমার কঠিন যন্ত্রণার তোয়াক্কা না করেই এতবার মরতে প্রস্তুত ছিলাম?"
* '''যে ভালোবাসা তাঁকে কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য করেছে, তা তাঁর সমস্ত যন্ত্রণাকে ছাড়িয়ে গেছে, যেমন স্বর্গ পৃথিবীকে ছাড়িয়ে থাকে।'''
* '''ভালোবাসার কোনো শুরু ছিল না, আছে, এবং শেষও থাকবে না।''' এই প্রেমের জন্যই তিনি খুব মিষ্টিভাবে এই কথাগুলো বলেছিলেন: "যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম।"
=== অধ্যায় ২৩ ===
* এই তিনটি শব্দে: "এটি একটি আনন্দ, একটি পরমানন্দ, আমার জন্য এক অন্তহীন তৃপ্তি" তিনটি স্বর্গ দেখানো হয়েছিল। এইভাবে: আনন্দের জন্য, আমি পিতার সন্তুষ্টি বুঝেছি। পরমানন্দের জন্য, পুত্রের মহিমা এবং অন্তহীন তৃপ্তির জন্য, পবিত্র আত্মা। পিতা সন্তুষ্ট, পুত্র মহিমান্বিত, পবিত্র আত্মা তৃপ্ত।
* '''খ্রিস্ট বললেন:''' "যদি তুমি সন্তুষ্ট হও, তবে আমিও সন্তুষ্ট। " যেন তিনি বললেন: "এটিই আমার জন্য যথেষ্ট আনন্দ ও তৃপ্তি, এবং আমার কষ্টের বিনিময়ে আমি তোমার কাছে আর কিছুই চাই না, কেবল এই যে আমি যেন তোমাকে পুরোপুরি খুশি করতে পারি।" <br> এবং এর মাধ্যমে তিনি এক আনন্দিত দাতার বৈশিষ্ট্য মনে করিয়ে দিলেন। একজন আনন্দিত দাতা তিনি যা দান করেন তার দিকে খুব কম মনোযোগ দেন বরং তাঁর সমস্ত ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য থাকে তাঁকে খুশি করা ও সান্ত্বনা দেওয়া, যাকে তিনি তা দান করছেন। এবং গ্রহীতা যদি সেই উপহারটিকে মহান ও কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করে, তবে সেই সৌজন্যপূর্ণ দাতা তাঁর সমস্ত ব্যয় ও কষ্টকে তুচ্ছ মনে করেন, কারণ তিনি তাঁর ভালোবাসার পাত্রকে খুশি ও সান্ত্বনা দিতে পেরেছেন।এই আনন্দ ও তৃপ্তির জন্য। এটি প্রাচুর্যের সাথে এবং পূর্ণভাবে দেখানো হয়েছিল।
== দশম প্রকাশ (দ্য টেনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৪ ===
* তখন এক আনন্দিত চেহারায় আমাদের প্রভু তাঁর পার্শ্বদেশের (যেখানে বর্শা বিদ্ধ হয়েছিল) দিকে তাকালেন এবং আনন্দ সহকারে অবলোকন করলেন। তাঁর মিষ্টি দৃষ্টি দিয়ে তিনি তাঁর সৃষ্টির উপলব্ধিকে সেই একই ক্ষতের মধ্য দিয়ে তাঁর পার্শ্বদেশের ভেতরে নিয়ে গেলেন। এবং তখন তিনি একটি সুন্দর, মনোরম এবং শান্তিতে ও প্রেমে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্ত মানবজাতির জন্য পর্যাপ্ত প্রশস্ত একটি স্থান দেখালেন। এবং তার সাথে তিনি তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্ত ও পবিত্র জলের কথা মনে করিয়ে দিলেন যা তিনি ভালোবাসার জন্য পুরোপুরি ঢেলে দিয়েছিলেন। এবং সেই মিষ্টি দৃষ্টির সাথে তিনি তাঁর পবিত্র হৃদয় দেখালেন যা দ্বিখণ্ডিত।
* এছাড়াও, আরও ভালো উপলব্ধির জন্য, এই পবিত্র শব্দটি বলা হয়েছিল: "দেখো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি! তাকাও এবং দেখো যে তোমার জন্য মরার আগেই আমি তোমাকে এতটাই ভালোবাসতাম যে আমি তোমার জন্য মরতে প্রস্তুত ছিলাম এবং এখন আমি তোমার জন্য মারা গেছি এবং যা আমি সহ্য করতে পারি তা স্বেচ্ছায় সহ্য করেছি। এবং এখন আমার সমস্ত তিক্ত যন্ত্রণা ও কঠিন কষ্ট আমার ও তোমার জন্য অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দে পরিণত হয়েছে। এখন কি এমন হতে পারে যে তুমি এমন কিছু প্রার্থনা করবে যা আমাকে খুশি করে, কিন্তু আমি তা তোমাকে সানন্দে দান করব না? কারণ আমার খুশি হলো তোমার পবিত্রতা এবং আমার সাথে তোমার অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দ।" <br> এই পবিত্র শব্দের অর্থ, আমি যতটা সহজভাবে বলতে পারি, তা হলো: "দেখো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।" আমাদের ভালো প্রভু আমাদের আনন্দিত ও প্রফুল্ল করার জন্যই এটি দেখিয়েছিলেন।
== একাদশ প্রকাশ (দ্য ইলেভেন্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৫ ===
* আনন্দ ও উল্লাসের সেই একই চেহারায় আমাদের ভালো প্রভু যিশু খ্রিস্ট ডান দিকে তাকালেন এবং আমার মনে করিয়ে দিলেন যে, তাঁর কষ্টের সময়ে আমাদের লেডি (মেরি) কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন এবং বললেন: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?"
* মোশির পরেই তিনিই সবচেয়ে পরমানন্দময় দৃশ্য। <br> কিন্তু এখানে আমি তাঁর শারীরিক উপস্থিতি দেখার জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে শিখিনি বরং তাঁর পবিত্র আত্মার গুণাবলী তাঁর সত্য, তাঁর প্রজ্ঞা, তাঁর দানশীলতা দেখতে শিখেছি। যার মাধ্যমে আমি নিজেকে চিনতে এবং শ্রদ্ধার সাথে আমার ঈশ্বরকে ভয় করতে পারি। এবং যখন আমাদের ভালো প্রভু এটি দেখালেন এবং বললেন: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?" আমি উত্তর দিলাম: "হ্যাঁ, ভালো প্রভু, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই। হ্যাঁ, ভালো প্রভু, যদি তোমার ইচ্ছা হয়।" আমি প্রায়শই এর জন্য প্রার্থনা করেছি এবং আমি ভেবেছিলাম আমি তাঁকে শারীরিক উপস্থিতিতে দেখব, কিন্তু আমি তাঁকে সেভাবে দেখিনি। এবং যিশু সেই কথায় আমাকে তাঁর আধ্যাত্মিক রূপ দেখিয়েছেন: আমি আগে তাঁকে যেমন ছোট ও সাধারণ হিসেবে দেখেছিলাম, তিনি তখন তাঁকে উচ্চ, মহৎ, গৌরবময় এবং সমস্ত প্রাণীর ঊর্ধ্বে তাঁর কাছে প্রিয় হিসেবে দেখালেন। <br> এবং তিনি চান যেন এটি জানা থাকে। যে সবাই যারা তাঁর মধ্যে আনন্দ পায়, তারা যেন তাঁর মধ্যেও আনন্দ পায় এবং সেই সন্তুষ্টিতে যা তাঁর মধ্যে আছে এবং যা তাঁর মধ্যে তাঁর আছে।
* এবং যিশুর এই কথায়: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?" আমার মনে হয়েছিল এটিই সবচেয়ে আনন্দদায়ক শব্দ যা তিনি তাঁর সম্পর্কে আমাকে বলতে পারতেন, সেই আধ্যাত্মিক দর্শনের সাথে যা তিনি আমাকে তাঁর সম্পর্কে দিয়েছিলেন। কারণ আমাদের প্রভু আমাদের লেডি সেন্ট মেরি ছাড়া বিশেষ কিছুই দেখাননি এবং তাঁকে তিনি তিনবার দেখিয়েছেন। প্রথমটি হলো যখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। দ্বিতীয়টি হলো যখন তিনি ক্রুশের নিচে কষ্টে ছিলেন। তৃতীয়টি হলো এখন যেমন তিনি সন্তুষ্টি, শ্রদ্ধা এবং আনন্দে আছেন।
== দ্বাদশ প্রকাশ (দ্য টুয়েলভথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৬ ===
[[File:Collage Auge im Himmel byLöser.jpg|thumb|আমিই সেই, যে এখানে তোমাকে নিজেকে দেখালাম।]]
* এর পরে আমাদের প্রভু নিজেকে আমার দৃষ্টিতে আগের চেয়ে বেশি মহিমান্বিত হিসেবে দেখালেন, যার মাধ্যমে আমি শিখলাম যে আমাদের আত্মা কখনোই বিশ্রাম পাবে না যতক্ষণ না তা তাঁর কাছে পৌঁছায়, এটা জেনে যে তিনিই আনন্দের পূর্ণতা, আপন ও সৌজন্যপূর্ণ, পরমানন্দময় এবং প্রকৃত জীবন। <br> আমাদের প্রভু যিশু বারবার বললেন: '''''আমিই সেই, আমিই সেই: আমিই সেই যে সর্বোচ্চ, আমিই সেই যাকে তুমি ভালোবাসো, আমিই সেই যাকে তুমি উপভোগ করো, আমিই সেই যার তুমি সেবা করো, আমিই সেই যার জন্য তুমি তৃষ্ণার্ত, আমিই সেই যাকে তুমি আকাঙ্ক্ষা করো, আমিই সেই যা তুমি বোঝো, আমিই সেই যা সবকিছু। আমিই সেই যা পবিত্র চার্চ তোমার কাছে প্রচার করে ও শিক্ষা দেয়, আমিই সেই যে এখানে তোমাকে নিজেকে দেখালাম।''''' শব্দগুলোর সংখ্যা আমার বুদ্ধি, সমস্ত উপলব্ধি এবং ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। এবং আমার দৃষ্টিতে এগুলোই সর্বোচ্চ। কারণ এর মধ্যে নিহিত আছে আমি বলে বোঝাতে পারব না কিন্তু তাদের প্রকাশের মধ্যে আমি যে আনন্দ দেখেছি, তা হৃদয় যা চাইতে পারে এবং আত্মা যা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে, তার সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই শব্দগুলো এখানে বিস্তারিত বলা হলো না। কিন্তু ঈশ্বর মানুষকে বোঝার ও ভালোবাসার যে কৃপা দেন, সেই অনুযায়ী প্রত্যেকে আমাদের প্রভুর অর্থে তা গ্রহণ করুক।
== ত্রয়োদশ প্রকাশ (দ্য থার্টিনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৭ ===
* '''পাপ প্রয়োজনীয়, কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে।'''
* এই সময়ের আগে আমার বোকামিতে আমি প্রায়শই ভাবতাম, ঈশ্বরের মহান দূরদর্শী প্রজ্ঞা দ্বারা কেন পাপের শুরুকে বাধা দেওয়া হয়নি। কারণ তখন, আমার মনে হয়েছিল, সবকিছুই ভালো হতো। এই অস্থিরতা অনেক বর্জনীয় ছিল কিন্তু তবুও আমি এর জন্য শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম, কোনো কারণ ও বিচার-বিবেচনা ছাড়াই। <br> কিন্তু যিশু, যিনি এই দর্শনে আমার প্রয়োজনীয় সবকিছু সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছিলেন, তিনি এই শব্দের দ্বারা উত্তর দিয়ে বললেন: '''''পাপ হওয়া প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে, এবং সবকিছুই ভালো হবে এবং সব ধরনের জিনিসই ভালো হবে।'''''
* এই নগ্ন শব্দ 'পাপে', আমাদের প্রভু আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, সাধারণভাবে, 'যা কিছু ভালো নয়' এবং সেই লজ্জাজনক অপমান ও সম্পূর্ণ তুচ্ছতা যা তিনি এই জীবনে আমাদের জন্য সহ্য করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যু এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির সমস্ত বেদনা ও কষ্ট, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক। কারণ আমরা সবাই আংশিকভাবে তুচ্ছ হয়েছি এবং আমাদের প্রভু যিশুকে অনুসরণ করে আমরা তুচ্ছ হব, যতক্ষণ না আমরা পুরোপুরি পবিত্র হই, অর্থাৎ, যতক্ষণ না আমরা আমাদের নশ্বর দেহ থেকে এবং আমাদের সমস্ত অভ্যন্তরীণ আসক্তি থেকে পুরোপুরি তুচ্ছ হই যা খুব একটা ভালো নয় এবং এর দর্শন, সমস্ত বেদনা যা কখনো ছিল বা কখনো থাকবে তার সাথে—এবং এই সমস্ত কিছুর সাথে আমি খ্রিস্টের প্যাশন বা কষ্টকে সবচেয়ে বড় এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে বেদনা হিসেবে বুঝি। '''এই সবকিছু একটি স্পর্শে দেখানো হয়েছিল এবং দ্রুত সান্ত্বনায় পরিণত হয়েছিল। কারণ আমাদের ভালো প্রভু চাননি যে আত্মা এই ভয়ানক দৃশ্য দেখে ভীত হোক। <br> কিন্তু আমি 'পাপ' দেখতে পাইনি: কারণ আমি বিশ্বাস করি এর কোনো ''সত্তা'' নেই এবং কোনো অস্তিত্বের অংশ নেই, কিংবা ব্যথার কারণ হওয়া ছাড়া এটি জানা সম্ভব নয়।''' <br> এবং এইভাবে বেদনা, ''এটি'' আমার দৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য কিছু একটা। কারণ এটি পবিত্র করে, এবং আমাদের নিজেদের চিনতে ও দয়া চাইতে বাধ্য করে। কারণ আমাদের প্রভুর প্যাশন এই সবকিছুর বিরুদ্ধে আমাদের সান্ত্বনা এবং তাঁর পবিত্র ইচ্ছাও তাই।
* এবং সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্তদের প্রতি আমাদের ভালো প্রভুর কোমল ভালোবাসার কারণে, তিনি তৎক্ষণাৎ ও মিষ্টিভাবে সান্ত্বনা দিয়ে ইঙ্গিত করেন। ''এটা সত্য যে পাপই এই সমস্ত যন্ত্রণার কারণ। কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে, এবং সবকিছুই ভালো হবে, এবং সব ধরনের জিনিসই ভালো হবে।'' <br> '''এই শব্দগুলো খুব কোমলভাবে বলা হয়েছিল, আমার প্রতি বা পরিত্রাণপ্রাপ্ত কারো প্রতি কোনো দোষারোপ না দেখিয়ে। তাহলে আমার পাপের জন্য ঈশ্বরকে দোষারোপ করা বা অবাক হওয়া হবে এক চরম অকৃতজ্ঞতা, যেহেতু তিনি আমাকে পাপের জন্য দোষারোপ করেন না। <br> এবং এই শব্দগুলোতে আমি ঈশ্বরের মধ্যে লুকানো একটি বিস্ময়কর উচ্চ রহস্য দেখেছি, যে রহস্য তিনি স্বর্গে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবেন: যা জানার পর আমরা সত্যই সেই কারণটি দেখতে পাব কেন তিনি পাপকে আসতে দিয়েছিলেন। সেই দর্শনে আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মধ্যে অন্তহীন আনন্দিত হব।'''
=== অধ্যায় ২৮ ===
* এইভাবে আমি দেখলাম কীভাবে খ্রিস্ট পাপের কারণের জন্য আমাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখান।
* এর উত্তরে আমাদের প্রভু এই ভাবে বললেন: '''''এর দ্বারা আমি স্বর্গে অন্তহীন পূজা এবং চিরন্তন আনন্দের একটি মহান জিনিস তৈরি করব।'''''
* হ্যাঁ, আমি এতদূর দেখলাম যে, আমাদের প্রভু তাঁর সেবকদের যন্ত্রণার জন্য আনন্দিত হন, দয়া ও সহমর্মিতার সাথে। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে তাঁর পরমানন্দে আনার জন্য, তিনি তার ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেন যা তাঁর দৃষ্টিতে কোনো দোষ নয়, যার মাধ্যমে তারা এই পৃথিবীতে দোষী ও ঘৃণিত হয়, উপহাসিত, বিদ্রূপিত এবং পরিত্যক্ত হয়। এবং তিনি এটি করেন সেই ক্ষতি রোধ করার জন্য যা তারা এই জঘন্য জীবনের জাঁকজমক ও বৃথা গৌরব থেকে পেতে পারত, এবং তাদের স্বর্গে আসার পথ প্রস্তুত করতে, এবং তাঁর অনন্ত পরমানন্দে তাদের উন্নীত করতে। কারণ তিনি বলেন: ''আমি আপনাদের বৃথা আসক্তি ও আপনাদের দুষ্ট অহংকার থেকে পুরোপুরি মুক্ত করব এবং এর পরে আমি আপনাদের একত্রিত করব, এবং আমাকে একীভূত করার মাধ্যমে আপনাদের নম্র, মৃদু, পবিত্র ও নিষ্পাপ করব।''
* '''প্রতিটি ভ্রাতৃত্বসুলভ সহমর্মিতা যা মানুষের তার সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি থাকে, প্রেমের সাথে, তা হলো তার মধ্যে খ্রিস্ট।'''
** পাঠান্তর: ''প্রতিটি দয়ালু সহমর্মিতা যা মানুষের তার সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি প্রেমের সাথে থাকে, তা হলো তার মধ্যে খ্রিস্ট।''
* '''সেই একই তুচ্ছতা যা [[খ্রিস্টের প্যাশন|তাঁর প্যাশনে]] দেখানো হয়েছিল, তা আবার এখানে এই সহমর্মিতায় দেখানো হয়েছে।''' যার মধ্যে আমাদের প্রভুর অর্থে দুই ধরনের উপলব্ধি ছিল। একটি ছিল সেই পরমানন্দ যেখানে আমাদের আনা হয়েছে, যাতে তিনি চান আমরা আনন্দিত হই। অন্যটি আমাদের যন্ত্রণায় সান্ত্বনার জন্য: কারণ তিনি চান আমরা যেন বুঝতে পারি যে তাঁর প্যাশনের গুণের মাধ্যমে সবকিছুই পূজা ও উপকারে পরিণত হবে, আমরা যেন বুঝতে পারি যে আমরা একা কষ্ট সহ্য করি না বরং তাঁর সাথে করি এবং তাঁকে আমাদের ভিত্তি হিসেবে দেখি এবং আমরা দেখি যে তাঁর যন্ত্রণা ও তাঁর তুচ্ছতা আমাদের সহ্য করার সমস্ত কিছুর চেয়ে অনেক বেশি, যা পুরোপুরি ভাবাও যায় না। <br> এর দর্শন আমাদের যন্ত্রণার অনুভূতিতে বিড়বিড় করা ও হতাশা থেকে বাঁচাবে। '''এবং যদি আমরা সত্যই দেখি যে আমাদের পাপ এর যোগ্য, তবুও তাঁর ভালোবাসা আমাদের ক্ষমা করে এবং তাঁর মহান সৌজন্যে তিনি আমাদের সমস্ত দোষ দূর করে দেন, এবং নিষ্পাপ ও নিষ্কলঙ্ক শিশুদের মতো করুণা ও দয়ার সাথে আমাদের দিকে তাকান।'''
=== অধ্যায় ২৯ ===
* কিন্তু এতে আমি সাধারণভাবে, অশান্তি ও শোকে জিনিসগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আমার অর্থে আমাদের প্রভুকে পূর্ণ ভয়ের সাথে এইভাবে বললাম: ''আহ! ভালো প্রভু, সবকিছু কীভাবে ভালো হতে পারে, পাপের কারণে সৃষ্টির যে মহান ক্ষতি হয়েছে তার জন্য?'' এবং এখানে আমি, যতটা সাহস করতাম, আরও খোলাখুলি ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম যাতে আমি এই বিষয়ে স্বস্তি পেতে পারি।
* তিনি শিখিয়েছিলেন যে আমার গৌরবময় সন্তুষ্টির দিকে তাকানো উচিত: কারণ এই সংশোধন ঈশ্বরের কাছে আদম্যের পাপের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দদায়ক এবং অতুলনীয়ভাবে বেশি পূজনীয়। তখন আমাদের পবিত্র প্রভু এই শিক্ষায় এইভাবে ইঙ্গিত করেন যে, আমাদের এই দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত: ''যেহেতু আমি সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভালো করেছি, তাই আমার ইচ্ছা যে তুমি এর দ্বারা জানো যে আমি যা কিছু কম, তা-ও ভালো করব।''
=== অধ্যায় ৩০ ===
* তিনি আমাকে দুটি অংশের উপলব্ধি দিয়েছিলেন। একটি অংশ হলো আমাদের ত্রাণকর্তা এবং আমাদের পরিত্রাণ। এই পবিত্র অংশটি উন্মুক্ত এবং পরিষ্কার এবং সুন্দর এবং উজ্জ্বল, এবং প্রাচুর্যময়,কারণ সমস্ত মানবজাতি যারা সদিচ্ছাসম্পন্ন, এবং যারা থাকবে, তারা এই অংশে অন্তর্ভুক্ত।
* এতে আমাদের প্রভুর ইচ্ছা যে আমরা ব্যস্ত থাকি, তাঁর মধ্যে আনন্দিত হয়ে। কারণ তিনি আমাদের মধ্যে আনন্দিত হন। আমরা যত বেশি প্রাচুর্যের সাথে এটি গ্রহণ করি, শ্রদ্ধা ও নম্রতার সাথে, আমরা তাঁর কাছ থেকে তত বেশি ধন্যবাদ অর্জন করি এবং নিজের জন্য তত বেশি গতি বৃদ্ধি করি, এইভাবে আমরা বলতে পারি। আমাদের প্রভুর 'আমাদের' অংশে আনন্দিত হয়ে। অন্যটি আমাদের থেকে লুকানো এবং বন্ধ করা: অর্থাৎ, আমাদের পরিত্রাণের বাইরের সবকিছু।
* '''স্বর্গে যে সাধুরা আছেন, তারা আমাদের প্রভুর ইচ্ছার বাইরে কিছু জানতে চান না এবং তাদের ভালোবাসা ও ইচ্ছা আমাদের প্রভুর ইচ্ছা অনুযায়ী শাসিত হয় এবং এইভাবে আমাদের ইচ্ছা করা উচিত, তাদের মতো। তখন আমরা আমাদের প্রভুর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাইব না বা আকাঙ্ক্ষা করব না, যেমন তারা করে। কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা সবাই এক।'''
=== অধ্যায় ৩১ ===
* এবং এইভাবে আমাদের ভালো প্রভু আমার সমস্ত প্রশ্ন এবং সন্দেহের উত্তর দিয়েছিলেন, খুব সান্ত্বনাদায়কভাবে বলে। '''''আমি সবকিছু ভালো করতে পারি, আমি সবকিছু ভালো করতে জানি, আমি চাই সবকিছু ভালো করতে, এবং আমি সবকিছু ভালো করব এবং তুমি নিজেই দেখবে যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'''''
* এইভাবে খ্রিস্টের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার অবসান ঘটবে। কারণ এটিই খ্রিস্টের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা: সেই ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা যা স্থায়ী হয়, এবং চিরকাল থাকবে, যতক্ষণ না আমরা বিচার দিবসে সেই দর্শন দেখি। কারণ আমরা যারা পরিত্রাণ পাব এবং যারা হব খ্রিস্টের আনন্দ ও তাঁর পরমানন্দ, কেউ কেউ এখনো এখানে আছি এবং কেউ কেউ আসার অপেক্ষায়, এবং সেই দিন পর্যন্ত কেউ কেউ থাকবে। অতএব এটি তাঁর তৃষ্ণা ও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, আমাদের সবাইকে তাঁর পরমানন্দে তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পাওয়ার জন্য,আমার দৃষ্টিতে। কারণ এখন আমরা তাঁর মধ্যে ততটা সম্পূর্ণ নই যতটা আমরা তখন হব।
* সত্যই যেমন ঈশ্বরের মধ্যে করুণা ও দয়ার একটি বৈশিষ্ট্য আছে, তেমনই সত্যই ঈশ্বরের মধ্যে তৃষ্ণা ও আকাঙ্ক্ষার একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এবং খ্রিস্টের এই আকাঙ্ক্ষার গুণের থেকে, 'আমাদের' তাঁর প্রতি আবার আকাঙ্ক্ষা করতে হবে: যা ছাড়া কোনো আত্মা স্বর্গে আসে না। এবং আকাঙ্ক্ষা ও তৃষ্ণার এই বৈশিষ্ট্য ঈশ্বরের অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আসে, ঠিক যেমন করুণার বৈশিষ্ট্য তাঁর অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আসে। এবং যদিও আমার দৃষ্টিতে আকাঙ্ক্ষা ও করুণা দুটি আলাদা বৈশিষ্ট্য, তবুও এটি আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার মূল বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে: যা হলো 'যতদিন আমরা প্রয়োজনে থাকি তাঁর মধ্যে ইচ্ছা থাকা', আমাদের তাঁর পরমানন্দের দিকে টেনে নেওয়া। এবং এই সবকিছু সহমর্মিতার প্রদর্শনীতে দেখা গিয়েছিল: কারণ তা বিচার দিবসে শেষ হবে। <br> এইভাবে তিনি আমাদের প্রতি করুণা ও সহমর্মিতা রাখেন, এবং আমাদের পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাঁর আছে; কিন্তু তাঁর প্রজ্ঞা ও তাঁর ভালোবাসা সেরা সময় পর্যন্ত শেষ হতে দেয় না।
=== অধ্যায় ৩২ ===
* একবার আমাদের ভালো প্রভু বলেছিলেন: ''সবকিছু ভালো হবে'' এবং অন্য সময় তিনি বলেছিলেন: ''তুমি নিজেই দেখবে যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে''এবং এই দুটিতে আত্মা আলাদা আলাদা উপলব্ধি নিয়েছিল। একটি ছিল যে, তিনি চান আমরা জানি যে তিনি কেবল মহৎ ও মহান জিনিসের দিকেই মনোযোগ দেন না বরং ছোট ও সামান্য, নিচু ও সাধারণ, একের ও অপরের দিকেও। এবং তাই তিনি বোঝান যখন তিনি বলেন: ''সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' কারণ তিনি চান আমরা জানি যে ক্ষুদ্রতম জিনিসটিও বিস্মৃত হবে না।
* আরেকটি উপলব্ধি হলো এই যে, আমাদের দৃষ্টিতে এমন খারাপ কাজ করা হয়, এবং এত বড় ক্ষতি হয় যে আমাদের কাছে মনে হয় যে ভালো পরিণামে আসা অসম্ভব। এবং এর দিকে আমরা তাকাই, শোক ও দুঃখ করি, যাতে আমরা ঈশ্বরের পরমানন্দময় দর্শনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে পারি না যেমন আমাদের করা উচিত। এবং এর কারণ হলো আমাদের যুক্তির ব্যবহার এখন এতটাই অন্ধ, এতটাই নিচু, এবং এতটাই সাধারণ যে আমরা সেই মহান বিস্ময়কর প্রজ্ঞা, পরমানন্দময় ত্রিত্বের শক্তি ও মঙ্গলময়তাকে জানতে পারি না। এবং এইভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন যখন তিনি বলেন: ''তুমি নিজেই দেখবে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' যেন তিনি বললেন: ''এখন বিশ্বাস ও আস্থার সাথে মনোযোগ দাও এবং শেষ মুহূর্তে তুমি সত্যই তা আনন্দের পূর্ণতায় দেখতে পাবে।''
* এইভাবে এই একই পাঁচটি শব্দে: ''আমি সবকিছু ভালো করতে পারি'', ইত্যাদি, আমি আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সমস্ত কাজের একটি শক্তিশালী সান্ত্বনা বুঝি যা এখনো আসা বাকি। একটি কাজ আছে যা পবিত্র ত্রিত্ব শেষ দিনে করবে, আমার দৃষ্টিতে, এবং কখন সেই কাজ হবে, এবং কীভাবে তা করা হবে, তা খ্রিস্টের নিচের সমস্ত সৃষ্টির অজানা, এবং তা না হওয়া পর্যন্ত অজানা থাকবে।
* তিনি যে চান আমরা জানি, তার কারণ হলো তিনি চান আমাদের আত্মায় আরও স্বস্তি আসুক এবং প্রেমে শান্তিতে স্থাপন করা হোক সমস্ত অশান্ত জিনিসের দর্শন ছেড়ে যা আমাদের তাঁর প্রকৃত উপভোগ থেকে বিরত রাখতে পারে। এটিই সেই মহান কাজ যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর সৃষ্টির আদি থেকেই নির্ধারণ করেছেন, তাঁর পবিত্র বক্ষে সংরক্ষিত ও লুকানো, কেবল তাঁরই পরিচিত: যার দ্বারা তিনি সবকিছু ভালো করবেন। <br> কারণ যেমন পবিত্র ত্রিত্ব শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, ঠিক তেমনই সেই একই পবিত্র ত্রিত্ব যা ভালো নয় তা ভালো করবেন।
* আমাদের বিশ্বাস ঈশ্বরের কথার ওপর ভিত্তি করে, এবং এটি আমাদের বিশ্বাসের অংশ যে আমরা বিশ্বাস করি ঈশ্বরের কথা সব বিষয়ে রক্ষিত হবে। এবং আমাদের বিশ্বাসের একটি বিন্দু হলো যে অনেক সৃষ্টি দণ্ডিত হবে: যেমন দেবদূত যারা অহংকারের জন্য স্বর্গ থেকে পড়ে গিয়েছিল, যারা এখন শয়তান এবং পৃথিবীতে মানুষ যারা পবিত্র চার্চের বিশ্বাস ছাড়া মারা যায়: অর্থাৎ, তারা যারা বিধর্মী মানুষ এবং মানুষ যারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছে কিন্তু অখ্রিস্টীয় জীবন যাপন করে এবং এভাবে প্রেমহীন হয়ে মারা যায়: এদের সবাই নরকে চিরকাল দণ্ডিত হবে, যেমন পবিত্র চার্চ আমাকে বিশ্বাস করতে শেখায়। এবং এই সবকিছু দাঁড়িয়ে, আমার মনে হয়েছিল এটা অসম্ভব যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে, যেমন আমাদের প্রভু একই সময়ে দেখিয়েছিলেন। <br> এবং এর উত্তরে আমার প্রভু ঈশ্বরের প্রদর্শনীতে অন্য কোনো উত্তর ছিল না কিন্তু এটি: '''''যা তোমার কাছে অসম্ভব তা আমার কাছে অসম্ভব নয়: আমি সব বিষয়ে আমার কথা রক্ষা করব এবং আমি সবকিছু ভালো করব।''''' এইভাবে আমি শিক্ষিত হয়েছিলাম, ঈশ্বরের কৃপায়, যে আমি অটলভাবে বিশ্বাসের মধ্যে নিজেকে ধরে রাখব যেমনটি আমি আগে বুঝেছিলাম, তার সাথে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করব যে সবকিছু ভালো হবে, যেমন আমাদের প্রভু একই সময়ে দেখিয়েছিলেন। <br> '''কারণ এটিই সেই মহান কাজ যা আমাদের প্রভু করবেন, যে কাজে তিনি তাঁর কথা রক্ষা করবেন এবং তিনি যা ভালো নয় তা ভালো করবেন। কীভাবে তা করা হবে তা খ্রিস্টের নিচে কোনো সৃষ্টির জানা নেই, কিংবা তা না হওয়া পর্যন্ত জানবে না। এই সময়ে আমাদের প্রভুর অর্থের যে উপলব্ধি আমি নিয়েছিলাম তার অনুযায়ী।'''
=== অধ্যায় ৩৩ ===
* এবং তবুও এতে আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম, যতটা সাহস করতাম, যে আমি নরক ও পবিত্র স্থানের পূর্ণ দর্শন পেতে পারি। কিন্তু বিশ্বাসের অন্তর্গত কোনো কিছুর প্রমাণ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না: কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতাম যে নরক ও পবিত্র স্থান সেই একই উদ্দেশ্যে যার জন্য পবিত্র চার্চ শেখায়, কিন্তু আমার উদ্দেশ্য ছিল আমি যেন দেখতে পারি, আমার বিশ্বাসের অন্তর্গত সমস্ত বিষয়ে শেখার জন্য: যার দ্বারা আমি ঈশ্বরের উপাসনায় এবং আমার লাভের জন্য আরও বেশি বাঁচতে পারি। <br> কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষার জন্য, আমি এর কিছুই করতে পারিনি, কেবল প্রথম প্রদর্শনীতে যা আগে বলা হয়েছে, যেখানে আমি দেখেছিলাম যে শয়তান ঈশ্বর কর্তৃক তিরস্কৃত এবং চিরকাল দণ্ডিত। সেই দর্শনে আমি সমস্ত সৃষ্টির জন্য বুঝেছিলাম যারা এই জীবনে শয়তানের অবস্থার এবং তাতে শেষ করে, তাদের বিষয়ে ঈশ্বর ও তাঁর সমস্ত পবিত্রদের সামনে শয়তানের চেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয় না, যদিও তারা মানবজাতির,তারা খ্রিস্টান হোক বা না হোক।
* ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা তাঁর করা সমস্ত কাজের প্রতি মহান দৃষ্টি রাখি, কিন্তু সর্বদা আমাদের কী কাজ হবে তার দর্শন ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন।
* '''আসুন আমরা আমাদের ভাইদের মতো হতে আকাঙ্ক্ষা করি যারা স্বর্গে সাধু, যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চায় না এবং যারা লুকানো ও দেখানো উভয় বিষয়েই সন্তুষ্ট। কারণ আমি আমাদের প্রভুর শিক্ষায় সত্যই দেখেছি, এই বিষয়ে বা অন্য যেকোনো বিষয়ে তাঁর গোপন পরামর্শ জানার জন্য আমরা যত বেশি ব্যস্ত হব, ততই আমরা তা জানার থেকে দূরে থাকব।'''
=== অধ্যায় ৩৪ ===
[[File:VY Canis Majoris.jpg|thumb|এই গোপন জিনিসগুলো তিনি চান আমরা 'লুকানো' হিসেবে জানি যতক্ষণ না সেই সময় আসে যখন তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে সেগুলো দেখাবেন।]]
[[File:Cross on Mount Royal.JPG|thumb|কারণ যা কিছু আমাদের শেখা এবং জানা দরকারী, খুব সৌজন্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রভু আমাদের দেখাবেন।]]
* '''আমাদের প্রভু ঈশ্বর দুই ধরনের গোপন জিনিস দেখিয়েছেন। একটি হলো এই মহান গোপনীয়তা এর সাথে যুক্ত সমস্ত গোপন বিন্দুর সাথে: এবং এই গোপন জিনিসগুলো তিনি চান আমরা 'লুকানো' হিসেবে জানি যতক্ষণ না সেই সময় আসে যখন তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে সেগুলো দেখাবেন।''' অন্যগুলো হলো গোপন জিনিস যা তিনি উন্মুক্ত এবং আমাদের কাছে জ্ঞাত করতে চান। কারণ তিনি চেয়েছিলেন আমরা যেন বুঝতে পারি যে এটি তাঁর ইচ্ছা যে আমাদের তা জানা উচিত। সেগুলো আমাদের কাছে গোপন কেবল এই জন্য নয় যে তিনি চান সেগুলো আমাদের কাছে গোপন থাকুক বরং সেগুলো আমাদের অন্ধত্ব এবং আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমাদের কাছে গোপন। এবং তার জন্য '''তিনি মহান করুণা অনুভব করেন, এবং তাই তিনি নিজেই সেগুলো আমাদের কাছে আরও উন্মুক্ত করবেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পারি এবং ভালোবাসতে পারি এবং তাঁর সাথে লেগে থাকতে পারি। কারণ যা কিছু আমাদের শেখা এবং জানা দরকারী, খুব সৌজন্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রভু আমাদের দেখাবেন।'''
* '''তিনিই ভিত্তি, তিনিই সত্তা, তিনিই শিক্ষা, তিনিই শিক্ষক, তিনিই শেষ, তিনিই সেই পুরস্কার যার জন্য প্রতিটি দয়ালু আত্মা পরিশ্রম করে।''' <br> এবং ''এটি'' জানা যায়, এবং প্রতিটি আত্মার কাছে জানা যাবে যার কাছে পবিত্র আত্মা এটি ঘোষণা করে। এবং আমি সত্যই আশা করি যে তারা যারা এটি খোঁজে, তাদের তিনি সফল করবেন: কারণ তারা ঈশ্বরকে খোঁজে। <br> এই সবকিছু যা আমি এখন বলেছি, এবং আরও যা আমি পরে বলব, পাপের বিরুদ্ধে সান্ত্বনাদায়ক। '''কারণ তৃতীয় প্রদর্শনীতে যখন আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বর যা করা হয় তা সবই করেন, আমি কোনো পাপ দেখিনি: এবং তখন আমি দেখেছিলাম যে সবকিছু ভালো ''আছে''। কিন্তু যখন ঈশ্বর আমাকে পাপের জন্য দেখিয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''
=== অধ্যায় ৩৫ ===
* যখন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান তাঁর মঙ্গলময়তা সম্পর্কে এত প্রাচুর্যপূর্ণভাবে এবং আনন্দের সাথে দেখিয়েছিলেন, আমি নির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছিলাম একটি নির্দিষ্ট সৃষ্টি সম্পর্কে যাকে আমি ভালোবাসতাম, যদি তা ভালো জীবনে অব্যাহত থাকে, যা আমি ঈশ্বরের কৃপায় আশা করেছিলাম শুরু হয়েছে। এবং একটি 'বিশেষ' প্রদর্শনীর এই আকাঙ্ক্ষায়, মনে হয়েছিল যে আমি নিজেকে বাধা দিয়েছি: কারণ এই সময়ে আমি শিক্ষিত ছিলাম না। এবং তখন আমার যুক্তিতে আমাকে উত্তর দেওয়া হয়েছিল, যেন একজন বন্ধুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর দ্বারা: ''এটি সাধারণভাবে গ্রহণ করো, এবং প্রভু ঈশ্বরের করুণার দিকে তাকাও যেমন তিনি তোমাকে দেখান: কারণ ঈশ্বরের মধ্যে তাঁকে দেখা যেকোনো বিশেষ জিনিসের চেয়ে বেশি পূজাযোগ্য।'' এবং তার সাথে আমি শিখেছিলাম যে কোনো বিশেষ জিনিসের আনন্দ নেওয়ার চেয়ে সাধারণভাবে সবকিছু জানা ঈশ্বরের কাছে বেশি পূজাযোগ্য। এবং যদি আমি এই শিক্ষা অনুযায়ী বিজ্ঞতার সাথে কাজ করি, তবে আমার কেবল কোনো বিশেষ জিনিসের জন্য আনন্দিত হওয়া উচিত নয়, বরং আমার কোনো ধরনের জিনিসের জন্য খুব বেশি কষ্ট পাওয়া উচিত নয়: কারণ ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''কারণ আনন্দের পূর্ণতা হলো ঈশ্বরকে সবকিছুর মধ্যে দেখা: কারণ একই পবিত্র শক্তি, প্রজ্ঞা এবং ভালোবাসা দিয়ে, যা দিয়ে তিনি সবকিছু তৈরি করেছেন, সেই একই উদ্দেশ্যে আমাদের ভালো প্রভু এটি ক্রমাগত পরিচালনা করেন, এবং তার দিকে তিনি নিজেই এটি আনবেন এবং যখন সময় হবে আমরা তা দেখতে পাব।'''
* '''আমাদের প্রভু যা কিছু করেন তা ন্যায়পরায়ণ এবং যা তিনি সহ্য করেন তা পূজাযোগ্য এবং এই দুটির মধ্যে ভালো ও মন্দ অন্তর্ভুক্ত কারণ যা ভালো আমাদের প্রভু তা করেন, এবং যা মন্দ আমাদের প্রভু তা সহ্য করেন। আমি বলছি না যে কোনো মন্দ পূজাযোগ্য, কিন্তু আমি বলছি আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সহনশীলতা পূজাযোগ্য। যার দ্বারা তাঁর মঙ্গলময়তা জানা যাবে, অন্তহীনভাবে, তাঁর বিস্ময়কর নম্রতা ও মৃদুতাতে, দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা।'''
* 'ন্যায়পরায়ণতা' হলো সেই জিনিস যা এতটাই ভালো যে তা তার চেয়ে ভালো হতে পারে না। কারণ ঈশ্বর নিজেই প্রকৃত ন্যায়পরায়ণতা, এবং তাঁর সমস্ত কাজ ন্যায়পরায়ণভাবে করা হয় যেমন সেগুলো সৃষ্টির আদি থেকে তাঁর মহান শক্তি, তাঁর মহান প্রজ্ঞা, তাঁর মহান মঙ্গলময়তা দ্বারা নির্ধারিত। এবং ঠিক যেমন তিনি সেরাটির জন্য নির্ধারণ করেছেন, ঠিক তেমন তিনি ক্রমাগত কাজ করেন, এবং এটিকে সেই একই পরিণতির দিকে নিয়ে যান এবং তিনি সর্বদা নিজের সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে পূর্ণ সন্তুষ্ট। <br> এবং এই পরমানন্দময় চুক্তির দর্শন সেই আত্মার জন্য খুব মিষ্টি যে কৃপার দ্বারা দেখে।
* 'করুণা' হলো এমন একটি কাজ যা ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা থেকে আসে, এবং এটি কাজ করার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হবে, যেমন পাপকে ন্যায়পরায়ণ আত্মাকে অনুসরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এবং যখন পাপের অনুসরণ করার আর কোনো অনুমতি থাকে না, তখন করুণার কাজ শেষ হবে, এবং তখন সবকিছু ন্যায়পরায়ণতায় আনা হবে এবং তাতে চিরকাল দাঁড়াবে। <br> এবং তাঁর সহনশীলতায় আমরা পড়ে যাই এবং তাঁর শক্তি ও প্রজ্ঞা সহ তাঁর পরমানন্দময় ভালোবাসায় আমরা সংরক্ষিত থাকি; এবং দয়া ও কৃপার দ্বারা আমরা বহুবিধ আনন্দের দিকে উন্নীত হই। <br> এইভাবে ন্যায়পরায়ণতা ও করুণায় তিনি পরিচিত ও ভালোবাসার পাত্র হতে চান, এখন এবং চিরকাল। এবং যে আত্মা কৃপার মধ্যে বিজ্ঞতার সাথে এটির দিকে তাকায়, তা উভয়ের সাথে খুব সন্তুষ্ট থাকে এবং অন্তহীনভাবে আনন্দিত হয়।
=== অধ্যায় ৩৬ ===
* '''আমাদের প্রভু ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে একটি কাজ করা হবে, এবং তিনি নিজেই তা করবেন, এবং আমি পাপ ছাড়া কিছুই করব না এবং আমার পাপ তাঁর মঙ্গলময় কাজকে বাধা দেবে না।'''
* এই কাজটি এখানে শুরু হবে, এবং এটি ঈশ্বরের কাছে পূজাযোগ্য এবং পৃথিবীতে তাঁর প্রেমীদের কাছে প্রাচুর্যপূর্ণভাবে লাভজনক হবে; এবং আমরা যখন স্বর্গে পৌঁছাব তখন আমরা এটি বিস্ময়কর আনন্দে দেখব, এবং এটি শেষ দিন পর্যন্ত এইভাবে কাজ করবে এবং এর পূজা ও পরমানন্দ ঈশ্বরের সামনে এবং তাঁর সমস্ত পবিত্রদের সামনে চিরকাল থাকবে। <br> এইভাবে আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে এই কাজটি দেখা ও বোঝা গিয়েছিল। এবং তিনি কেন এটি দেখিয়েছিলেন তার কারণ হলো আমাদের তাঁর মধ্যে এবং তাঁর সমস্ত কাজের মধ্যে আনন্দিত করা।
* কিন্তু এই কাজটি কী হবে তা আমার থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। <br> এবং এতে আমি দেখলাম যে তিনি চান না যে আমরা যে জিনিসগুলো তিনি দেখান তা জানার জন্য ভয় করি: তিনি সেগুলো দেখান কারণ তিনি চান আমরা সেগুলো জানি। যে জানার মাধ্যমে তিনি চান আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁর মধ্যে আনন্দ পাই এবং অন্তহীনভাবে উপভোগ করি। আমাদের প্রতি তাঁর মহান ভালোবাসার জন্য তিনি আমাদের জন্য সেই সময়ের জন্য পূজাযোগ্য ও লাভজনক সবকিছু দেখান।
* এই শব্দের অর্থ হলো,এটি আমার জন্য করা হবে, এর মানে হলো এটি সাধারণ মানুষের জন্য করা হবে: অর্থাৎ, যারা পরিত্রাণ পাবে তাদের সবার জন্য। এটি হবে পূজাযোগ্য এবং বিস্ময়কর এবং প্রাচুর্যপূর্ণ, এবং ঈশ্বর নিজেই এটি করবেন; এবং এটি হবে সর্বোচ্চ আনন্দ যা হতে পারে, সেই কাজের দিকে তাকানো যা ঈশ্বর নিজেই করবেন, এবং মানুষ পাপ ছাড়া কিছুই করবে না। তখন আমাদের প্রভু ঈশ্বর এইভাবে ইঙ্গিত করেন, যেন তিনি বললেন: ''তাকাও এবং দেখো! এখানে তোমার বিনম্রতার বিষয় আছে, এখানে তোমার ভালোবাসার বিষয় আছে, এখানে তোমার নিজেকে তুচ্ছ করার বিষয় আছে, এখানে তোমার আমার মধ্যে আনন্দিত হওয়ার বিষয় আছে এবং আমার ভালোবাসার জন্য, আমার মধ্যে আনন্দিত হও। কারণ সবকিছুর মধ্যে, এর দ্বারাই তুমি আমাকে সবচেয়ে বেশি খুশি করতে পারবে।''
* যতদিন আমরা এই জীবনে আছি, যখন আমরা আমাদের বোকামির দ্বারা পরিত্যক্তদের দর্শনের দিকে ঘুরে যাই, খুব কোমলভাবে আমাদের প্রভু ঈশ্বর আমাদের স্পর্শ করেন এবং পরমানন্দময়ভাবে আমাদের ডাকেন, আমাদের আত্মায় বলে। আমার প্রিয় সন্তান, তোমার সমস্ত ভালোবাসা ত্যাগ করো। আমার দিকে ফিরে এসো আমি তোমার জন্য যথেষ্ট এবং তোমার ত্রাণকর্তার মধ্যে এবং তোমার পরিত্রাণে আনন্দিত হও। এবং যে এটি আমাদের মধ্যে আমাদের প্রভুর কাজ, আমি নিশ্চিত যে যে আত্মার কৃপার দ্বারা এতে উপলব্ধি আছে সে তা দেখবে এবং অনুভব করবে।
* যদিও এটি এমন যে এই কাজটি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যই নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি বিশেষটিকে বাদ দেয় না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু তাঁর দরিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে কী করবেন, তা এখন আমার অজানা। <br> কিন্তু এই কাজ এবং পূর্বোক্ত অন্যটি, তারা উভয়ই এক নয় বরং দুটি ভিন্ন। এই কাজটি শীঘ্রই করা হবে এবং তা হবে যখন আমরা স্বর্গে পৌঁছাব, এবং আমাদের প্রভু যাকে এটি দেন, তা এখানে আংশিকভাবে জানা যেতে পারে। কিন্তু সেই মহান কাজ যা আগে বলা হয়েছে তা স্বর্গে বা পৃথিবীতে জানার সুযোগ নেই যতক্ষণ না তা করা হয়।
* তিনি অলৌকিক কাজ করার বিশেষ উপলব্ধি ও শিক্ষা দিয়েছিলেন, এইভাবে''এটি জানা যে আমি আগে অলৌকিক কাজ করেছি, অনেক এবং বিভিন্ন, উচ্চ এবং বিস্ময়কর, পূজাযোগ্য এবং মহান। এবং যেমন আমি করেছি, আমি এখন ক্রমাগত করছি এবং সময়ের আগমনে করব।''
* এটি জানা যে অলৌকিক কাজের আগে দুঃখ এবং যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ আসে। এবং তা এই জন্য যে আমাদের নিজেদের দুর্বলতা এবং আমাদের দুষ্টতা জানা উচিত যা আমরা পাপের দ্বারা পতিত হয়েছি, আমাদের বিনম্র করতে এবং আমাদের ঈশ্বরকে ভয় করতে ও সাহায্য ও কৃপার জন্য চিৎকার করতে বাধ্য করতে। অলৌকিক কাজ তার পরে আসে, এবং সেগুলো ঈশ্বরের মহান শক্তি, প্রজ্ঞা ও মঙ্গলময়তা থেকে আসে, তাঁর গুণ এবং স্বর্গের আনন্দগুলো প্রদর্শন করে যতটা এই নশ্বর জীবনে সম্ভব: এবং তা আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের আশা বাড়াতে, প্রেমের সাথে। তাই তিনি অলৌকিক কাজের মাধ্যমে পরিচিত ও পূজিত হতে আনন্দিত হন। তখন তিনি এইভাবে ইঙ্গিত করেন: তিনি চান না যে আমাদের দুঃখ ও ঝড়ের জন্য খুব নিচে নামিয়ে দেওয়া হোক যা আমাদের ওপর আসে: কারণ অলৌকিক কাজ আসার আগে সর্বদা এমনই হয়েছে।
* “আমার পাপ তাঁর মঙ্গলময় কাজকে বাধা দেবে না। . . . একটি কাজ করা হবে,যেমন আমরা স্বর্গে পৌঁছাব এবং এটি এখানে আংশিকভাবে জানা যেতে পারে। যদিও এটি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যই নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি বিশেষটিকে বাদ দেয় না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু তাঁর দরিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে কী করবেন, তা এখন আমার অজানা”
=== অধ্যায় ৩৭ ===
* ঈশ্বর আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে আমার পাপ করা উচিত। এবং তাঁর দর্শনে আমার যে সন্তুষ্টি ছিল তার জন্য, আমি সেই প্রদর্শনীতে মনোযোগ দিইনি; এবং আমাদের প্রভু খুব করুণাময়ভাবে অপেক্ষা করেছিলেন, এবং আমাকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য কৃপা দিয়েছিলেন। এবং এই প্রদর্শনীটি আমি বিশেষভাবে নিজের জন্য নিয়েছিলাম; কিন্তু সমস্ত কৃপাময় সান্ত্বনা যা অনুসরণ করে, যেমনটি তোমরা দেখবে, আমি আমার সমস্ত সহ-খ্রিস্টানদের জন্য নিতে শিখেছিলাম: ''সবকিছু সাধারণভাবে এবং বিশেষ কিছুই নয়'': যদিও আমাদের প্রভু আমাকে দেখিয়েছিলেন যে আমার পাপ করা উচিত, আমার একার দ্বারা সবাইকে বোঝানো হয়। <br> এবং এতে আমি একটি মৃদু ভয় অনুভব করলাম। এবং এর উত্তরে আমাদের প্রভু বললেন: ''আমি তোমাকে খুব নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।'' এই শব্দটি প্রেমের সাথে এবং নিরাপত্তার সাথে এবং আধ্যাত্মিক সুরক্ষার সাথে বলা হয়েছিল যা আমি বলতে পারি না বা সক্ষম নই।
* ঈশ্বর যা পরিত্রাণ পাবে এমন সবাইকে ভালোবাসেন, যেমন তা একটি আত্মা তা দেখার চেয়ে আমাকে আমার সহ-খ্রিস্টানদের ভালোবাসার জন্য আর কী করতে পারে? <br> '''কারণ প্রতিটি আত্মায় যা পরিত্রাণ পাবে একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে যা কখনো পাপকে সমর্থন করেনি, এবং কখনো করবে না।''' ঠিক যেমন নিচের অংশে একটি পশুসুলভ ইচ্ছা আছে যা কোনো ভালো চাইতে পারে না, ঠিক তেমনই উপরের অংশে একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে, যে ইচ্ছা এতটাই ভালো যে তা কখনো মন্দ চাইতে পারে না, কেবল ভালো। এবং তাই আমরা তাই যা তিনি ভালোবাসেন এবং অন্তহীনভাবে আমরা তা করি যা তাঁকে খুশি করে।
* এটি আমাদের প্রভু সেই ভালোবাসার সম্পূর্ণতায় দেখিয়েছিলেন যাতে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, তাঁর দৃষ্টিতে: হ্যাঁ, তিনি আমাদের এখন ততটাই ভালোবাসেন যখন আমরা এখানে আছি, যেমন তিনি করবেন যখন আমরা তাঁর পবিত্র মুখের সামনে সেখানে থাকব। '''কিন্তু আমাদের অংশে ভালোবাসার ব্যর্থতার জন্য, তাই আমাদের সমস্ত পরিশ্রম।'''''
=== অধ্যায় ৩৮ ===
* এছাড়াও ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে পাপ মানুষের জন্য লজ্জা হবে না, বরং পূজা। কারণ ঠিক যেমন প্রতিটি পাপের জন্য সত্যের দ্বারা একটি বেদনা উত্তর দেয়, ঠিক তেমনই প্রতিটি পাপের জন্য, সেই একই আত্মাকে ভালোবাসার দ্বারা একটি পরমানন্দ দেওয়া হয়: ঠিক যেমন বিভিন্ন পাপ বিভিন্ন বেদনার সাথে দণ্ডিত হয় যেমন সেগুলো কষ্টদায়ক, ঠিক তেমনই সেগুলো স্বর্গে বিভিন্ন আনন্দের সাথে পুরস্কৃত হবে যেমন সেগুলো পৃথিবীতে আত্মার জন্য কষ্টদায়ক ও দুঃখজনক ছিল। কারণ যে আত্মা স্বর্গে আসবে তা ঈশ্বরের কাছে মূল্যবান, এবং স্থানটি এতটাই পূজাযোগ্য যে ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা সেই আত্মাকে কখনো পাপ করতে দেয় না যে সেখানে আসবে যা ছাড়া সেই পাপ পুরস্কৃত হবে এবং তা অন্তহীনভাবে জানা যায়, এবং পূজা অতিক্রম করে পরমানন্দময়ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়।
* এই দর্শনে আমার উপলব্ধি স্বর্গে উন্নীত হয়েছিল, এবং তখন ঈশ্বর আনন্দিতভাবে আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন ডেভিডকে, এবং পুরাতন আইনে সংখ্যাতীত অন্যদের এবং নতুন আইনে তিনি আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন প্রথমে মেরি ম্যাগডালিন, পিটার এবং পল এবং ভারতেরদের এবং বেভারলির সেন্ট জন এবং অন্যদেরও সংখ্যাতীত। কীভাবে তারা পৃথিবীতে চার্চে তাদের পাপের সাথে পরিচিত, এবং তা তাদের জন্য লজ্জা নয় বরং সবকিছু তাদের পূজায় পরিণত হয়েছে। এবং তাই আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু তাদের জন্য এখানে আংশিকভাবে দেখান যেমনটি সেখানে পূর্ণতায় আছে: কারণ সেখানে পাপের চিহ্ন পূজায় পরিণত হয়েছে।
* এই সবকিছুই আমাদের প্রেমে আনন্দিত ও প্রফুল্ল করার জন্য ছিল।
=== অধ্যায় ৩৯ ===
* পাপ হলো সবচেয়ে ধারালো চাবুক যা যেকোনো নির্বাচিত আত্মাকে আঘাত করা যেতে পারে। যা চাবুকটি পুরুষ ও নারীকে পুরোপুরি প্রহার করে, এবং তাকে তার নিজের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য করে তোলে, এতদূর যে কিছু সময়ের পরে সে মনে করে সে নরকে ডুবে যাওয়া ছাড়া আর যোগ্য নয়, যতক্ষণ না অনুশোচনা তাকে পবিত্র আত্মার স্পর্শে ধরে, এবং তিক্ততাকে ঈশ্বরের করুণার আশায় পরিণত করে।
* খুব মূল্যবানভাবে আমাদের প্রভু আমাদের রক্ষা করেন যখন আমাদের কাছে মনে হয় যে আমরা প্রায় পরিত্যক্ত এবং আমাদের পাপের জন্য এবং কারণ আমরা এর যোগ্য, তার জন্য দূরে নিক্ষিপ্ত। এবং নম্রতার কারণে যা আমরা এর দ্বারা পাই, আমরা তাঁর কৃপায় ঈশ্বরের দৃষ্টিতে খুব উঁচুতে উন্নীত হই, খুব মহান অনুশোচনার সাথে, এবং সহমর্মিতার সাথে, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার সাথে। তখন তারা হঠাৎ পাপ থেকে এবং বেদনা থেকে মুক্তি পায় এবং পরমানন্দে উন্নীত হয়। এবং সমান উচ্চ সাধু হয়।
* '''অনুশোচনার দ্বারা আমরা পরিষ্কার হই, সহমর্মিতার দ্বারা আমরা প্রস্তুত হই, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার দ্বারা আমরা যোগ্য হই।''' এগুলো তিনটি উপায়, যেমন আমি বুঝি, যার দ্বারা সমস্ত আত্মা স্বর্গে আসে। অর্থাৎ, যারা পৃথিবীতে পাপী ছিল এবং পরিত্রাণ পাবে। কারণ এই তিনটি ঔষধের দ্বারা প্রতিটি আত্মাকে নিরাময় করা প্রয়োজন।
* যেমন আমরা এখানে দুঃখ ও তপস্যার সাথে দণ্ডিত হই, আমরা স্বর্গে আমাদের মহান প্রভু ঈশ্বরের সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসার দ্বারা পুরস্কৃত হব, যিনি চান যে কেউ সেখানে এসে তার পরিশ্রম কোনো ডিগ্রিতে হারাক। কারণ তিনি পাপকে তাঁর প্রেমীদের জন্য দুঃখ ও বেদনা হিসেবে ধরেন, যাদের তিনি কোনো দোষ দেন না, ভালোবাসার জন্য। আমরা যে পুরস্কার পাব তা সামান্য হবে না, বরং তা হবে মহান, গৌরবময় এবং পূজাযোগ্য। এবং এভাবেই লজ্জা পূজায় ও আরও আনন্দে পরিণত হবে।
* '''আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু চান না যে তাঁর সেবকরা হতাশ হোক, বারবার বা গুরুতর পতনের জন্য: কারণ আমাদের পতন তাঁকে আমাদের ভালোবাসতে বাধা দেয় না। শান্তি ও ভালোবাসা সর্বদা আমাদের মধ্যে আছে, বিদ্যমান ও কাজ করছে। কিন্তু আমরা সর্বদা শান্তিতে ও প্রেমে নেই।''' কিন্তু তিনি চান যে আমরা এইভাবে মনোযোগ দিই যে তিনি ভালোবাসায় আমাদের সমস্ত জীবনের ভিত্তি এবং অধিকন্তু তিনি আমাদের চিরন্তন রক্ষক এবং শক্তিশালীভাবে আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে রক্ষা করেন, যারা আমাদের ওপর খুব নিষ্ঠুর ও হিংস্র এবং আমাদের প্রয়োজন তত বেশি কারণ আমরা আমাদের পতনের দ্বারা তাদের সুযোগ দিই।
=== অধ্যায় ৪০ ===
* '''ঈশ্বর চান যে আমরা অন্তহীনভাবে পাপকে ঘৃণা করি এবং অন্তহীনভাবে আত্মাকে ভালোবাসি, যেমন ঈশ্বর তাকে ভালোবাসেন।'''
* '''এখানে আমি সত্যই বুঝি যে ঈশ্বরের মহান মঙ্গলময়তার দ্বারা আমাদের জন্য সব ধরনের জিনিস প্রস্তুত করা হয়েছে, এতদূর যে যখন আমরা নিজেদের মধ্যে শান্তিতে ও দানে আছি, আমরা সত্যই পরিত্রাণ পাব।'''
* কিন্তু এখন যদি কোনো পুরুষ বা নারী এই সমস্ত আধ্যাত্মিক সান্ত্বনার কারণে যা আগে বলা হয়েছে, বোকামির দ্বারা উত্তেজিত হয়ে বলে বা ভাবে। ''যদি এটি সত্য হয়, তবে পাপ করা ভালো যাতে বেশি পুরস্কার পাওয়া যায়''অথবা পাপ করার বিষয়ে কম গুরুত্ব দেয়,এই উত্তেজনার বিষয়ে সাবধান: কারণ সত্যই যদি এটি আসে তবে এটি অসত্য এবং সেই একই প্রকৃত ভালোবাসার শত্রুর কাছ থেকে যা আমাদের শেখায় যে আমাদের কেবল ভালোবাসার জন্য পাপকে ঘৃণা করা উচিত। আমি আমার নিজের অনুভূতির মাধ্যমে নিশ্চিত, যেকোনো দয়ালু আত্মা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসায় এটি যত বেশি দেখে, সে তত বেশি পাপ করতে অনিচ্ছুক হয় এবং সে তত বেশি লজ্জিত হয়। কারণ যদি আমাদের সামনে নরকের এবং পবিত্র স্থানের এবং পৃথিবীর সমস্ত বেদনা রাখা হতো—মৃত্যু এবং অন্যান্য এবং পাপ, আমরা সেই সমস্ত বেদনা বেছে নিতাম পাপের চেয়ে। '''কারণ পাপ এতটাই জঘন্য এবং এত বেশি ঘৃণা করার যোগ্য যে তা কোনো বেদনার সাথে তুলনা করা যায় না যা পাপ নয়। এবং আমার কাছে পাপের চেয়ে কঠিন কোনো নরক দেখানো হয়নি। কারণ একটি দয়ালু আত্মার পাপ ছাড়া আর কোনো নরক নেই।'''
* আমরা দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা ভালোবাসা ও নম্রতার দিকে আমাদের উদ্দেশ্য দিই, আমরা সবাই সুন্দর ও পরিষ্কার হই।
* ঈশ্বর মানুষকে বাঁচাতে যতটা শক্তিশালী ও বিজ্ঞ, তিনি ততটাই ইচ্ছুক। কারণ খ্রিস্ট নিজেই খ্রিস্টানদের সমস্ত আইনের ভিত্তি এবং '''তিনি আমাদের শিখিয়েছেন মন্দের বিপরীতে ভালো করতে: এখানে আমরা দেখতে পারি যে তিনি নিজেই এই প্রেম, এবং আমাদের সাথে তাই করেন যেমন তিনি আমাদের করতে শিখিয়েছেন।''' কারণ তিনি চান যে আমরা নিজের প্রতি এবং আমাদের সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি অন্তহীন ভালোবাসার পূর্ণতায় তাঁর মতো হই। আমাদের পাপের জন্য আমাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা যেমন নষ্ট হয় না, তেমনই তিনি চান না যে আমাদের ভালোবাসা আমাদের নিজের প্রতি এবং আমাদের সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি নষ্ট হোক বরং '''অন্তহীনভাবে পাপকে ঘৃণা করি এবং আত্মাকে ভালোবাসি, যেমন ঈশ্বর তাকে ভালোবাসেন। তখন আমরা পাপকে ঘৃণা করব যেমন ঈশ্বর ঘৃণা করেন, এবং আত্মাকে ভালোবাসব যেমন ঈশ্বর ভালোবাসেন। এবং এই শব্দ যা তিনি বলেছিলেন তা এক অন্তহীন সান্ত্বনা: ''আমি তোমাকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।'' '''
== চতুর্দশ প্রকাশ (দ্য ফোর্টিনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ৪১ ===
[[File:Brocken-tanzawa2.JPG|thumb|''আমিই ভিত্তি।''এবং আমাদের ভালো প্রভু চান যেন তাঁর প্রেমিকরা পৃথিবীতে এটি জানুক এবং আমরা যত বেশি জানি ততই আমাদের অনুনয় করা উচিত, যদি তা বিজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হয় এবং এমনই আমাদের প্রভুর অর্থ।]]
* আমাদের প্রভু প্রার্থনার বিষয়ে দেখিয়েছিলেন। সেই প্রদর্শনীতে আমি আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে দুটি শর্ত দেখি। একটি হলো ন্যায়পরায়ণতা, অন্যটি হলো নিশ্চিত বিশ্বাস। <br> কিন্তু তবুও প্রায়শই আমাদের বিশ্বাস পূর্ণ হয় না। কারণ আমরা নিশ্চিত নই যে ঈশ্বর আমাদের শোনেন, যেমনটি আমরা মনে করি আমাদের অযোগ্যতার কারণে, এবং কারণ আমরা কিছুই অনুভব করি না, (কারণ প্রার্থনার পরেও আমরা প্রায়শই আগের মতোই অনুর্বর ও শুষ্ক থাকি) এবং এটি, আমাদের বোকামির উপলব্ধিতে, আমাদের দুর্বলতার কারণ। কারণ আমি নিজের মধ্যে এটি অনুভব করেছি। <br> এবং এই সমস্ত কিছু আমাদের প্রভু হঠাৎ আমার মনে করিয়ে দিলেন, এবং এই শব্দগুলো দেখালেন, এবং বললেন '''''আমি তোমার অনুনয়ের ভিত্তি। প্রথমত এটি আমার ইচ্ছা যে তুমি এটি পাও এবং পরে, আমি তোমাকে এটি চাইতে বাধ্য করি এবং পরে, আমি তোমাকে এটি অনুনয় করতে বাধ্য করি এবং তুমি অনুনয় করো। তাহলে কীভাবে এমন হতে পারে যে তুমি তোমার অনুনয় পাবে না?'''''
* '''এটি সবচেয়ে অসম্ভব যে আমরা দয়া ও কৃপা অনুনয় করব এবং তা পাব না।''' কারণ আমাদের ভালো প্রভু আমাদের যা কিছু অনুনয় করতে বাধ্য করেন, তিনি নিজেই তা সৃষ্টির আদি থেকে আমাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। এখানে আমরা দেখতে পারি যে আমাদের অনুনয় ঈশ্বরের মঙ্গলময়তার কারণ নয় এবং তা তিনি এই সমস্ত মিষ্টি শব্দে সত্যই দেখিয়েছিলেন যখন তিনি বলেন: ''আমিই ভিত্তি।''এবং আমাদের ভালো প্রভু চান যেন তাঁর প্রেমিকরা পৃথিবীতে এটি জানুক এবং আমরা যত বেশি জানি ততই আমাদের অনুনয় করা উচিত, যদি তা বিজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হয় এবং এমনই আমাদের প্রভুর অর্থ।
* অনুনয় হলো আত্মার একটি সত্য, কৃপাময়, স্থায়ী ইচ্ছা, যা পবিত্র আত্মার মিষ্টি অভ্যন্তরীণ কাজের দ্বারা আমাদের প্রভুর ইচ্ছার সাথে একীভূত ও আবদ্ধ।
* আমাদের প্রভু আমাদের প্রার্থনায় খুব আনন্দিত ও প্রফুল্ল এবং তিনি তার অপেক্ষায় থাকেন এবং তিনি তা পেতে চান কারণ তাঁর কৃপায় তিনি আমাদের তাঁর মতো করে তৈরি করেন। যেমনটি আমরা প্রকৃতিতে আছি এবং এমনই তাঁর পরমানন্দময় ইচ্ছা। তাই তিনি এইভাবে বলেন: ''অন্তরের সাথে প্রার্থনা করো, যদিও তোমার মনে হয় তা তোমাকে তৃপ্তি দিচ্ছে না। কারণ এটি লাভজনক, যদিও তুমি অনুভব করো না, যদিও তুমি কিছুই দেখছো না; হ্যাঁ, যদিও তুমি মনে করো তুমি পারো না। কারণ শুষ্কতা ও অনুর্বরতায়, অসুস্থতা ও দুর্বলতায়, তখন তোমার প্রার্থনা আমার কাছে খুব সন্তোষজনক, যদিও তোমার মনে হয় তা তোমাকে কিছুই তৃপ্তি দিচ্ছে না। এবং আমার দৃষ্টিতে তোমার সমস্ত বিশ্বাসী প্রার্থনা এমনই।''
* এছাড়াও প্রার্থনার সাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন যুক্ত। ধন্যবাদ হলো একটি সত্য অভ্যন্তরীণ জ্ঞান, মহান শ্রদ্ধা ও প্রেমময় ভয়ের সাথে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে সেই কাজের দিকে নিজেদের ঘুরিয়ে নিই যা আমাদের ভালো প্রভু আমাদের উদ্দীপিত করেন, অভ্যন্তরীণভাবে আনন্দ ও ধন্যবাদ প্রকাশ করে।
=== অধ্যায় ৪২ ===
[[File:Rainbow1.svg|thumb|সবকিছু যা আমাদের প্রভু করার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা যে আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি, হয় বিশেষভাবে বা সাধারণভাবে।]]
* '''এটিই আমাদের প্রভুর ইচ্ছা, যে আমাদের প্রার্থনা এবং আমাদের বিশ্বাস উভয়ই সমানভাবে বিস্তৃত হোক।''' কারণ আমরা যদি প্রার্থনার মতো বিশ্বাস না করি, তবে আমরা আমাদের প্রার্থনায় আমাদের প্রভুর প্রতি পূর্ণ পূজা করি না, এবং এছাড়াও আমরা আমাদের নিজেদের দেরি করাই এবং কষ্ট দিই। এর কারণ, আমি বিশ্বাস করি, আমরা সত্যই জানি না যে আমাদের প্রভু সেই ভিত্তি যার ওপর আমাদের প্রার্থনা উদয় হয়; এবং আমরা এও জানি না যে এটি তাঁর ভালোবাসার কৃপায় আমাদের দেওয়া হয়েছে। কারণ যদি আমরা এটি জানতাম, তবে তা আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করত যে আমরা আমাদের প্রভুর উপহার থেকে যা আকাঙ্ক্ষা করি তা পাব। কারণ '''আমি নিশ্চিত যে কেউ সত্য অর্থ ছাড়া দয়া ও কৃপা চায় না, যদি না দয়া ও কৃপা প্রথমে তাকে দেওয়া হয়।'''
* কখনো কখনো আমাদের মনে হয় যে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রার্থনা করেছি, এবং তবুও আমরা নিজেদের ভাবি যে আমরা আমাদের চাওয়া পাইনি। কিন্তু এর জন্য আমাদের শোকের মধ্যে থাকা উচিত নয়। কারণ আমি নিশ্চিত, আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতের মাধ্যমে, যে আমরা হয় একটি ভালো সময়ের, বা আরও কৃপার, বা আরও ভালো উপহারের অপেক্ষা করছি।
* '''তিনি যে তা করছেন তা দেখা, এবং অবিলম্বে প্রার্থনা করা,এভাবেই তিনি পূজিত হন এবং আমরা উপকৃত হই। সবকিছু যা আমাদের প্রভু করার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা যে আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি, হয় বিশেষভাবে বা সাধারণভাবে।''' এবং যে আনন্দ ও পরমানন্দ তা তাঁর কাছে, এবং যে ধন্যবাদ ও পূজা আমরা এর জন্য পাব, তা সৃষ্টির উপলব্ধিকে ছাড়িয়ে যায়, আমার দৃষ্টিতে। কারণ প্রার্থনা হলো ভবিষ্যতে যে আনন্দের পূর্ণতা আসবে তার একটি সঠিক উপলব্ধি, অটল আকাঙ্ক্ষা ও নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে।
* এইভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন যেখানে তিনি বলেন: '''''আমি তোমার অনুনয়ের ভিত্তি।''''' এবং এইভাবে এই পবিত্র শব্দে, প্রদর্শনীর সাথে, আমি আমাদের সমস্ত দুর্বলতা এবং সমস্ত সন্দেহজনক ভয়ের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণ বিজয় দেখেছি।
=== অধ্যায় ৪৩ ===
[[File:Rainbow droplet 630x441.jpg|thumb|প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।]]
[[File:This morning we caught a rainbow.jpg|thumb|যখন তিনি তাঁর বিশেষ কৃপার দ্বারা এখানে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি সৃষ্টিকে তার নিজের ঊর্ধ্বে শক্তিমান করেন, এবং তিনি প্রদর্শনীর পরিমাপ করেন, তাঁর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী, যেমনটি সেই সময়ের জন্য লাভজনক।]]
* '''প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।'''
* '''প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।''' কারণ যদিও আত্মা প্রকৃতি ও সত্তায় সর্বদা ঈশ্বরের মতো, কৃপায় পুনরুদ্ধার করা, মানুষের অংশে পাপের দ্বারা এটি প্রায়শই শর্তে ভিন্ন হয়। তখন প্রার্থনা একটি সাক্ষী যে আত্মা তাই চায় যা ঈশ্বর চান এবং এটি বিবেককে সান্ত্বনা দেয় এবং মানুষকে কৃপার যোগ্য করে তোলে। এবং এইভাবে তিনি আমাদের প্রার্থনা করতে শেখান এবং শক্তিমানভাবে বিশ্বাস করতে শেখান যে আমরা তা পাব। কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসায় দেখেন এবং আমাদের তাঁর ভালো কাজের অংশীদার করতে চান, এবং তাই তিনি আমাদের সেই জিনিসের জন্য প্রার্থনা করতে উদ্দীপিত করেন যা তিনি করতে আনন্দ পান। যে প্রার্থনা ও সদিচ্ছার জন্য, যা আমরা তাঁর উপহার থেকে পাই, তিনি আমাদের পুরস্কৃত করবেন এবং আমাদের অন্তহীন পুরস্কার দেবেন।
* যখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু তাঁর কৃপায় নিজেকে আমাদের আত্মার কাছে দেখান, তখন আমাদের যা আকাঙ্ক্ষা তা আমরা পাই। এবং তখন আমরা দেখি না, সেই সময়ের জন্য, আমাদের আরও কী প্রার্থনা করা উচিত, কিন্তু আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাদের সমস্ত উদ্দেশ্য পুরোপুরি তাঁর দর্শনের দিকে সেট করা হয়। এবং এটি একটি উচ্চ অদৃশ্য প্রার্থনা, আমার দৃষ্টিতে। কারণ আমরা যার জন্য প্রার্থনা করি তার সমস্ত কারণ, তা সেই ব্যক্তির দর্শন ও দর্শনের মধ্যে একীভূত হয় যার কাছে আমরা প্রার্থনা করি। শ্রদ্ধাশীল ভয়ের সাথে বিস্ময়করভাবে উপভোগ করে এবং তাঁর মধ্যে এত মহান মাধুর্য ও আনন্দের সাথে যে আমরা প্রার্থনা করতে পারি না কিন্তু যেমন তিনি আমাদের উদ্দীপিত করেন, সেই সময়ের জন্য। এবং আমি ভালো করেই জানি, আত্মা ঈশ্বরকে যত বেশি দেখে, তাঁর কৃপায় সে তত বেশি তাঁকে আকাঙ্ক্ষা করে।
* এবং এটি আমি দেখেছি: যে সময় আমরা প্রার্থনা করার কারণগুলো দেখি, তখন ''আমাদের ভালো প্রভু আমাদের অনুসরণ করেন'', আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে সাহায্য করে এবং যখন আমরা তাঁর বিশেষ কৃপায় স্পষ্টভাবে তাঁর দিকে তাকাই, অন্য কোনো প্রয়োজনের দিকে না তাকিয়ে, তখন ''আমরা তাঁকে অনুসরণ করি'' এবং তিনি ভালোবাসার দ্বারা আমাদের তাঁর দিকে টেনে নেন।
* তখন আমরা ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখব, আপনভাবে ও পুরোপুরি। যে সৃষ্টি তৈরি হয়েছে সে ঈশ্বরকে দেখবে এবং অন্তহীনভাবে পর্যবেক্ষণ করবে যিনি স্রষ্টা। কারণ এইভাবে কোনো মানুষ ঈশ্বরকে দেখে বাঁচতে পারে না অর্থাৎ, এই নশ্বর জীবনে। '''কিন্তু যখন তিনি তাঁর বিশেষ কৃপার দ্বারা এখানে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি সৃষ্টিকে তার নিজের ঊর্ধ্বে শক্তিমান করেন এবং তিনি প্রদর্শনীর পরিমাপ করেন, তাঁর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী, যেমনটি সেই সময়ের জন্য লাভজনক।'''
==সারসংক্ষেপ==
পূর্বোক্ত চৌদ্দটি প্রত্যাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর
=== অধ্যায় ৪৪ ===
[[File:Quaker Star JUL.png|thumb|[[সত্য]] ঈশ্বরকে দেখে, এবং [[প্রজ্ঞা]] ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে, এবং এই দুটির মিলন থেকে তৃতীয়টির উদ্ভব হয়: সেটি হলো ঈশ্বরকে নিয়ে একটি পবিত্র বিস্ময়কর আনন্দ; যা হলো [[প্রেম]]।]]
* '''সত্য ঈশ্বরকে দেখে, এবং প্রজ্ঞা ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে, এবং এই দুটির মিলন থেকে তৃতীয়টির উদ্ভব হয়: সেটি হলো ঈশ্বরকে নিয়ে একটি পবিত্র বিস্ময়কর আনন্দ; যা হলো প্রেম।''' যেখানে সত্য ও প্রজ্ঞা বিদ্যমান, সেখানে প্রেমও বিদ্যমান, যা এই উভয়ের থেকেই আসে। এবং সবকিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি: কারণ তিনি অন্তহীন সার্বভৌম সত্য, অন্তহীন সার্বভৌম প্রজ্ঞা, অন্তহীন সার্বভৌম প্রেম—অনির্মিত; এবং মানুষের আত্মা ঈশ্বরের মধ্যে এমন একটি সৃষ্টি যার একই বৈশিষ্ট্যগুলো 'সৃষ্টি' করা হয়েছে, এবং তা সর্বদা সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে যার জন্য এটি সৃষ্টি হয়েছে: এটি ঈশ্বরকে দেখে, এটি ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে এবং এটি ঈশ্বরকে ভালোবাসে। যার জন্য ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে আনন্দিত হন; এবং সৃষ্টি ঈশ্বরের মধ্যে, অন্তহীন বিস্ময়ের সাথে। <br> এই বিস্ময়ের মধ্যে সে তার ঈশ্বরকে, তার প্রভুকে, তার নির্মাতাকে এত উচ্চ, এত মহান এবং এত ভালো দেখে, তার নিজের সৃষ্টির তুলনায়, যে সৃষ্টি নিজেকে তুচ্ছ মনে করে। কিন্তু সত্য ও প্রজ্ঞার স্বচ্ছতা তাকে দেখতে ও সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করে যে সে প্রেমের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে ঈশ্বর তাকে অন্তহীনভাবে রক্ষা করেন।
=== অধ্যায় ৪৫ ===
* '''ঈশ্বর আমাদের প্রকৃতি-সত্তা অনুযায়ী বিচার করেন, যা সর্বদা তাঁর মধ্যে এক, অখণ্ড এবং [[অন্তহীন]] নিরাপদে রক্ষিত: এবং ''এই'' [[বিচার]] তাঁর ন্যায়পরায়ণতার।''' এবং মানুষ আমাদের [[পরিবর্তনশীল]] অনুভূতি-আত্মা অনুযায়ী বিচার করে, যা এখন এমন, এখন তেমন—অংশ অনুযায়ী—এবং বাইরে প্রকাশিত হয়। এবং ''এই'' [[প্রজ্ঞা]] ''মিশ্রিত''। কারণ কখনো তা [[ভালো]] ও সহজ, আবার কখনো কঠিন ও দুঃখজনক। এবং যতটা তা ভালো ও সহজ, তা ন্যায়পরায়ণতার অন্তর্ভুক্ত; এবং যতটা তা কঠিন ও দুঃখজনক, আমাদের ভালো প্রভু যিশু তাঁর পবিত্র প্যাশন বা কষ্টের গুণাবলীর মাধ্যমে দয়া ও কৃপার দ্বারা তা সংস্কার করেন, এবং এইভাবে একে ন্যায়পরায়ণতায় ফিরিয়ে আনেন। <br> এবং যদিও এই দুটি এভাবে সম্মত ও একীভূত, তবুও স্বর্গে উভয়ই অন্তহীনভাবে জানা যাবে। প্রথম বিচার, যা ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতার, তা তাঁর উচ্চ অন্তহীন জীবনের; এবং এটিই সেই সুন্দর মিষ্টি বিচার যা সমস্ত সুন্দর প্রকাশে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি তাঁকে আমাদের কোনো দোষ দিতে দেখিনি। কিন্তু যদিও এটি মিষ্টি ও আনন্দদায়ক ছিল, তবুও কেবল এর পর্যবেক্ষণে আমি পুরোপুরি শান্ত হতে পারিনি: এবং তার কারণ হলো পবিত্র চার্চের বিচার, যা আমি আগেই বুঝেছিলাম এবং যা ক্রমাগত আমার দৃষ্টিতে ছিল। এবং তাই ''এই'' বিচারের দ্বারা আমার মনে হয়েছিল আমি বুঝেছিলাম যে পাপীরা কোনো এক সময়ে দোষ ও ক্রোধের যোগ্য; কিন্তু আমি ঈশ্বরের মধ্যে এই দুটি দেখতে পাইনি; এবং তাই আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যতটা আমি বলতে পারি বা পারি তার চেয়ে অনেক বেশি। কারণ উচ্চতর বিচার সেই একই সময়ে ঈশ্বর নিজেই দেখিয়েছিলেন, এবং তাই আমাকে তা গ্রহণ করতেই হতো; এবং নিম্নতর বিচার আমি আগে পবিত্র চার্চে শিখেছিলাম, এবং তাই আমি কোনোভাবেই নিম্নতর বিচার ত্যাগ করতে পারিনি। তখন আমার এই ইচ্ছা ছিল: আমি যেন ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে পাই যে পবিত্র চার্চের বিচার যা শেখায় তা কীভাবে তাঁর দৃষ্টিতে সত্য, এবং কীভাবে তা জানা আমার জন্য যথার্থ; যার মাধ্যমে উভয় বিচারই রক্ষা পেতে পারে, যেমনটি ঈশ্বরের জন্য পূজনীয় এবং আমার জন্য সঠিক পথ। <br> এবং এই সবকিছুর জন্য আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না, কেবল একজন প্রভু ও একজন ভৃত্যের একটি বিস্ময়কর উদাহরণ ছাড়া, যা আমি পরে বলব:—এবং তা খুব অস্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল। এবং তবুও আমি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, এবং আমার শেষ পর্যন্ত থাকব, যেন আমি কৃপার দ্বারা এই দুটি বিচার জানতে পারি যেমনটি আমার জন্য যথার্থ। '''কারণ স্বর্গীয় এবং স্বর্গীয় বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত সমস্ত পার্থিব জিনিস এই দুটি বিচারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এবং পবিত্র আত্মার কৃপাময় নির্দেশনায় এই দুটি বিচার সম্পর্কে আমাদের যত বেশি বোধগম্য হবে, আমরা আমাদের ব্যর্থতাগুলো তত বেশি দেখতে ও জানতে পারব। এবং আমরা যত বেশি সেগুলো দেখব, তত বেশি, স্বভাবত, কৃপার দ্বারা, আমরা অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করব। কারণ আমরা তার জন্যই সৃষ্টি হয়েছি, এবং আমাদের প্রকৃতি-সত্তা এখন ঈশ্বরের মধ্যে পরমানন্দময়, এবং এটি তৈরির পর থেকেই তা ছিল, এবং অন্তহীনভাবে থাকবে।'''
=== অধ্যায় ৪৬ ===
* '''আমাদের অনুভূতি-আত্মায় এখানে যে নশ্বর জীবন আমরা পাই, তা জানে না আমাদের 'নিজ' কী।''' তখন আমরা সত্যই ও স্পষ্টভাবে আনন্দ ও পরমানন্দের পূর্ণতায় আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে দেখতে ও জানতে পারব। এবং তাই এটি অনিবার্য যে আমরা আমাদের পরমানন্দের যত কাছাকাছি থাকব, তত বেশি আমরা আকাঙ্ক্ষা করব; এবং তা স্বভাব ও কৃপা উভয় দ্বারাই। আমরা আমাদের উচ্চ প্রকৃতির ক্রমাগত সাহায্য ও গুণের মাধ্যমে এই জীবনে আমাদের 'নিজের' জ্ঞান পেতে পারি। যে জ্ঞানে আমরা দয়ায় এবং কৃপার সাহায্যে অগ্রসর হতে পারি; কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের 'নিজ'-কে পুরোপুরি জানতে পারব না: যে মুহূর্তে এই নশ্বর জীবনের এবং দুঃখ ও যন্ত্রণার এই ধরনের এক অন্তিম পরিণতি ঘটবে। এবং তাই, স্বভাব ও কৃপা উভয় দ্বারাই, অন্তহীন আনন্দের পূর্ণতায় আমাদের 'নিজ'-কে জানার জন্য আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আকাঙ্ক্ষা করা আমাদের জন্য যথার্থ।
* তবুও এই পুরো সময়ে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, আমার দুটি দৃষ্টি ছিল। একটি ছিল অন্তহীন ক্রমাগত প্রেম, সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং পরমানন্দময় পরিত্রাণের সাথে—কারণ এর জন্যই ছিল ''পুরো প্রকাশ''। অন্যটি ছিল পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষার, যেখানে আমি আগে অবহিত ও ভিত্তিমূল পেয়েছিলাম—এবং আমার সমস্ত ইচ্ছার সাথে তা ব্যবহার ও বুঝতাম। এবং ''এর'' পর্যবেক্ষণ আমার থেকে দূরে যায়নি: কারণ প্রকাশের দ্বারা আমি কোনো পয়েন্টেই সেখান থেকে বিচ্যুত হইনি, বরং আমি সেখানে এটি ভালোবাসার ও ভালো মনে করার শিক্ষা পেয়েছিলাম: যার দ্বারা আমি, আমাদের প্রভু ও তাঁর কৃপার সাহায্যে, আরও স্বর্গীয় জ্ঞান ও উচ্চতর প্রেমে বৃদ্ধি পেতে পারি।
* '''পুরো পর্যবেক্ষণে আমার মনে হয়েছিল যে আমাদের পাপী হওয়া এবং অনেক মন্দ কাজ করা যা আমাদের ত্যাগ করা উচিত, এবং অনেক ভালো কাজ না করা যা আমাদের করা উচিত, তা দেখা ও জানা প্রয়োজন: যার জন্য আমরা যন্ত্রণা ও ক্রোধের যোগ্য। এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি সত্যই দেখেছিলাম যে আমাদের প্রভু কখনোই ক্রুদ্ধ ছিলেন না, বা কখনোই হবেন না।''' কারণ তিনি ঈশ্বর: ভালো, জীবন, সত্য, প্রেম, শান্তি; তাঁর স্বচ্ছতা ও তাঁর ঐক্য তাঁকে ক্রুদ্ধ হতে দেয় না। কারণ আমি সত্যই দেখেছিলাম যে ক্রুদ্ধ হওয়া তাঁর শক্তির বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে, এবং তাঁর প্রজ্ঞার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে, এবং তাঁর মঙ্গলময়তার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে। ঈশ্বর সেই মঙ্গলময়তা যা ক্রুদ্ধ হতে পারে না, কারণ তিনি কেবল মঙ্গলময়তা ছাড়া আর কিছুই নন: আমাদের আত্মা তাঁর সাথে একীভূত, অপরিবর্তনীয় মঙ্গলময়তা, এবং ঈশ্বর ও আমাদের আত্মার মধ্যে তাঁর দৃষ্টিতে না আছে ক্রোধ না আছে ক্ষমা। কারণ আমাদের আত্মা তাঁর নিজস্ব মঙ্গলময়তার দ্বারা ঈশ্বরের সাথে এতটাই পূর্ণভাবে একীভূত যে ঈশ্বর ও আমাদের আত্মার মধ্যে ঠিক কিছুই নেই। <br> এবং এই উপলব্ধিতে আত্মা প্রেমের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল এবং প্রতিটি প্রকাশে শক্তির দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিল: যে এটিই আমাদের ভালো প্রভু দেখিয়েছিলেন, এবং ''কীভাবে এটি তাঁর মহান মঙ্গলময়তার সত্যে এমন।'' এবং তিনি চান যে আমরা তা শিখতে আকাঙ্ক্ষা করি—অর্থাৎ, যতটা তাঁর সৃষ্টির জন্য তা শেখা যথার্থ। কারণ সমস্ত জিনিস যা সাধারণ আত্মা বুঝেছে, ঈশ্বর চান যে সেগুলো দেখানো ও জানা হোক। কারণ যে জিনিসগুলো তিনি গোপন রাখতে চান, তিনি নিজেই খুব শক্তিশালী ও বিজ্ঞতার সাথে সেগুলো গোপন রাখেন, প্রেমের জন্য। কারণ আমি একই প্রকাশে দেখেছিলাম যে অনেক গোপনীয়তা লুকিয়ে আছে, যা সেই সময় পর্যন্ত জানা সম্ভব নয় যতক্ষণ না ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তায় আমাদের তা দেখার যোগ্য করে তোলেন; এবং তাতে আমি খুব সন্তুষ্ট, এই মহান বিস্ময়ে আমাদের প্রভুর ইচ্ছার অপেক্ষায়। এবং এখন আমি আমার মা, পবিত্র চার্চের কাছে নিজেকে সমর্পণ করছি, যেমন একটি সাধারণ শিশু করে।
=== অধ্যায় ৪৭ ===
* '''দুটি জিনিস আমাদের আত্মার জন্য কর্তব্য: একটি হলো যে আমরা শ্রদ্ধার সাথে বিস্ময়বোধ করি, অন্যটি হলো যে আমরা নম্রভাবে সহ্য করি, সর্বদা ঈশ্বরের মধ্যে আনন্দিত থেকে। কারণ তিনি চান যেন আমরা বুঝি যে আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখতে পাব যা আমরা আকাঙ্ক্ষা করি।''' <br> এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি পর্যবেক্ষণ করলাম এবং গভীরভাবে বিস্ময়বোধ করলাম: ''ঈশ্বরের দয়া ও ক্ষমা কী?'' কারণ আমার পূর্বের শিক্ষা দ্বারা, আমি বুঝেছিলাম যে ঈশ্বরের দয়া হবে আমাদের পাপ করার পরের সময়ে তাঁর ক্রোধের ক্ষমা। কারণ আমার মনে হয়েছিল যে একটি আত্মার জন্য যার অর্থ ও আকাঙ্ক্ষা হলো ভালোবাসা, ঈশ্বরের ক্রোধ যেকোনো যন্ত্রণার চেয়ে বেশি কঠিন ছিল, এবং তাই আমি ধরে নিয়েছিলাম যে তাঁর ক্রোধের ক্ষমা তাঁর দয়ার অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়া উচিত। '''কিন্তু আমি যতই পর্যবেক্ষণ করি বা আকাঙ্ক্ষা করি না কেন, আমি কোনোভাবেই পুরো প্রকাশে এই পয়েন্টটি দেখতে পাইনি। <br> কিন্তু আমি দয়ার কাজ সম্পর্কে কীভাবে বুঝেছিলাম এবং দেখেছিলাম, তা আমি কিছুটা বলব, যেমন ঈশ্বর আমাকে কৃপা দেবেন। আমি এটি বুঝেছিলাম: মানুষ এই জীবনে পরিবর্তনশীল, এবং দুর্বলতা ও জয়ের দ্বারা পাপের মধ্যে পড়ে যায়: সে নিজের থেকে দুর্বল ও অবিবেচক, এবং তার ইচ্ছাও চাপা পড়ে। এবং এই সময়ে সে ঝড়, দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্যে থাকে; এবং এর কারণ হলো অন্ধত্ব: কারণ সে ঈশ্বরকে দেখে না। কারণ যদি সে ক্রমাগত ঈশ্বরকে দেখত, তবে তার কোনো ক্ষতিকারক অনুভূতি থাকত না, বা কোনো ধরনের গতি বা আকাঙ্ক্ষা থাকত না যা পাপের দিকে নিয়ে যায়। <br> এইভাবে আমি দেখেছি, এবং একই সময়ে অনুভব করেছি; এবং আমার মনে হয়েছিল যে এই দেখা ও অনুভব করা আমাদের জীবনের সাধারণ অনুভূতির তুলনায় উচ্চ, প্রাচুর্যময় ও কৃপাময়; কিন্তু তবুও আমার মনে হয়েছিল এটি ছোট ও নিচু ছিল সেই মহান আকাঙ্ক্ষার তুলনায় যা আত্মা ঈশ্বরকে দেখার জন্য রাখে।'''
* '''আমি আমার মধ্যে পাঁচ ধরনের কাজ অনুভব করেছি, যা হলো এই: আনন্দ, শোক, আকাঙ্ক্ষা, ভয় এবং নিশ্চিত আশা।''' আনন্দ: কারণ ঈশ্বর আমাকে উপলব্ধি ও জ্ঞান দিয়েছেন যে তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে আমি দেখেছি; শোক: এবং তা ছিল ব্যর্থতার জন্য; আকাঙ্ক্ষা: এবং তা ছিল যেন আমি তাঁকে আরও বেশি বেশি দেখতে পারি, এই উপলব্ধি ও জ্ঞান নিয়ে যে আমরা যতক্ষণ না তাঁকে স্বর্গে সত্যই ও স্পষ্টভাবে দেখছি ততক্ষণ আমরা কখনোই পূর্ণ বিশ্রাম পাব না; ভয় ছিল: কারণ আমার মনে হয়েছিল যে সেই সময়ে সেই দেখা ব্যর্থ হবে, এবং আমি নিজের মধ্যে পরিত্যক্ত হব; নিশ্চিত আশা ছিল অন্তহীন প্রেমে: যে আমি দেখেছি আমি তাঁর দয়ার দ্বারা রক্ষিত হব এবং তাঁর পরমানন্দে আনা হব। এবং এই নিশ্চিত আশার সাথে তাঁর দর্শনে আনন্দ করা আমাকে এমন অনুভূতি ও সান্ত্বনা দিয়েছিল যে শোক ও ভয় খুব বেশি বেদনাদায়ক ছিল না। এবং তবুও এই সবকিছুর মধ্যে আমি ঈশ্বরের প্রকাশে পর্যবেক্ষণ করেছি যে এই ধরনের দেখা এই জীবনে ক্রমাগত হতে পারে না,—এবং তা তাঁর নিজস্ব পূজার জন্য এবং আমাদের অন্তহীন আনন্দের বৃদ্ধির জন্য। এবং তাই আমরা প্রায়শই তাঁর দর্শন থেকে ব্যর্থ হই, এবং অবিলম্বে আমরা আমাদের নিজের মধ্যে পতিত হই, এবং তখন আমরা কোনো সঠিক অনুভূতি পাই না,—আমাদের নিজের মধ্যে যা আছে তা ছাড়া অন্য কোনো বিপরীততা নয়; এবং তা আমাদের প্রথম পাপের পুরোনো শিকড় থেকে, আমাদের নিজেদের দ্বারা অনুসরণ করা সমস্ত পাপের সাথে। এবং এর মধ্যে আমরা পাপের অনুভূতি, এবং আধ্যাত্মিক ও শারীরিক বহু বৈচিত্র্যময় যন্ত্রণার সাথে পরিশ্রমে ও ঝড়ে থাকি, যেমনটি আমাদের এই জীবনে জানা আছে।
=== অধ্যায় ৪৮ ===
[[File:Arco iris circular.JPG|thumb|আমি [[দয়া]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম, এবং আমি [[কৃপা]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম: যেগুলোর একটি [[প্রেমের]] মধ্যে দুই ধরনের কাজ আছে।]]
* '''আমাদের ভালো প্রভু পবিত্র আত্মা, যিনি আমাদের আত্মায় বসবাসকারী অন্তহীন জীবন, আমাদের খুব নিরাপদে রক্ষা করেন; এবং এর মধ্যে একটি শান্তি কাজ করেন এবং কৃপার দ্বারা একে স্বস্তিতে নিয়ে আসেন, এবং ঈশ্বরের সাথে সামঞ্জস্য করেন এবং একে নমনীয় করে তোলেন।''' এবং এটিই দয়া ও পথ যা আমাদের প্রভু ক্রমাগত আমাদের নিয়ে যান যতদিন আমরা এই জীবনে আছি যা পরিবর্তনশীল। <br> '''কারণ আমি মানুষের অংশে ক্রোধ ছাড়া আর কিছু দেখিনি; এবং তিনি আমাদের মধ্যে তা ক্ষমা করেন। কারণ ক্রোধ হলো শান্তি ও প্রেমের প্রতি এক ধরনের বিমুখতা ও বিপরীততা; এবং এটি হয় শক্তির ব্যর্থতা থেকে, অথবা প্রজ্ঞার ব্যর্থতা থেকে, অথবা মঙ্গলময়তার ব্যর্থতা থেকে আসে: যা ঈশ্বরের মধ্যে নেই, কিন্তু আমাদের অংশে। কারণ আমরা পাপ ও দুর্দশার দ্বারা আমাদের মধ্যে শান্তি ও প্রেমের প্রতি এক দুঃখজনক ও ক্রমাগত বিপরীততা বহন করি।''' এবং তা তিনি খুব প্রায়ই তাঁর করুণা ও সহানুভূতির প্রেমময় দৃষ্টিতে দেখিয়েছিলেন। কারণ দয়ার ভিত্তি হলো প্রেম, এবং দয়ার কাজ হলো ভালোবাসায় আমাদের রক্ষা করা। এবং এটি এমনভাবে দেখানো হয়েছিল যে আমি দয়ার অংশটি প্রেম ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে বুঝতে পারিনি; অর্থাৎ, আমার দৃষ্টিতে।
* '''দয়া হলো প্রেমের এক মিষ্টি কৃপাময় কাজ, প্রাচুর্যপূর্ণ সহানুভূতির সাথে মিশ্রিত: কারণ দয়া আমাদের রক্ষা করার কাজ করে, এবং দয়া আমাদের জন্য সবকিছুকে ভালোতে পরিণত করার কাজ করে।''' দয়া, প্রেমের দ্বারা, আমাদের পরিমাপের মধ্যে ব্যর্থ হতে দেয় এবং যতটা আমরা ব্যর্থ হই, ততটাই আমরা পড়ি; এবং যতটা আমরা পড়ি, ততটাই আমরা মরি: কারণ এটি অনিবার্য যে আমরা ততটাই মরি যতটা আমরা ঈশ্বরকে দেখা ও অনুভব করা থেকে ব্যর্থ হই যিনি আমাদের জীবন। আমাদের ব্যর্থতা ভয়ানক, আমাদের পতন লজ্জাজনক, এবং আমাদের মৃত্যু দুঃখজনক: কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যে সহানুভূতির মিষ্টি চোখ কখনো আমাদের থেকে সরে যায় না, বা দয়ার কাজও থেমে যায় না। <br> '''কারণ আমি [[দয়া]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম, এবং আমি [[কৃপা]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম: যেগুলোর একটি [[প্রেম]]ের মধ্যে দুই ধরনের কাজ আছে।''' দয়া হলো একটি করুণাময় বৈশিষ্ট্য যা কোমল প্রেমে মাতৃত্বের অন্তর্গত; এবং কৃপা হলো একটি পূজনীয় বৈশিষ্ট্য যা একই প্রেমে রাজকীয় প্রভুর অন্তর্গত। দয়া কাজ করে: রক্ষা করা, সহ্য করা, জীবিত করা এবং নিরাময় করা; এবং সবই প্রেমের কোমলতা। এবং কৃপা কাজ করে: উন্নীত করা, পুরস্কৃত করা, আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও পরিশ্রম যা অর্জন করে তার চেয়ে অন্তহীনভাবে অতিক্রম করা, ঈশ্বরের রাজকীয় প্রভুর মহান প্রাচুর্যপূর্ণ উদারতা তাঁর বিস্ময়কর সৌজন্যে ছড়িয়ে দেওয়া ও প্রদর্শন করা; এবং এটি প্রেমের প্রাচুর্য থেকে আসে। '''কারণ কৃপা আমাদের ভয়ানক ব্যর্থতাকে প্রাচুর্যপূর্ণ, অন্তহীন সান্ত্বনায় রূপান্তরিত করে; এবং কৃপা আমাদের লজ্জাজনক পতনকে উচ্চ, পূজনীয় উত্থানে রূপান্তরিত করে; এবং কৃপা আমাদের দুঃখজনক মৃত্যুকে পবিত্র, পরমানন্দময় জীবনে রূপান্তরিত করে।''' <br> কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের বিপরীততা যেমন আমাদের এখানে পৃথিবীতে যন্ত্রণা, লজ্জা ও দুঃখ দেয়, ঠিক তেমনই বিপরীত দিক থেকে, কৃপা আমাদের স্বর্গে সান্ত্বনা, পূজা ও পরমানন্দ দেয়; এবং অতিক্রম করে। এবং এতটা পর্যন্ত যে, যখন আমরা উপরে উঠি এবং সেই মিষ্টি পুরস্কার গ্রহণ করি যা কৃপা আমাদের জন্য তৈরি করেছে, তখন আমরা আমাদের প্রভুকে ধন্যবাদ ও আশীর্বাদ করব, অন্তহীনভাবে আনন্দিত হয়ে যে আমরা কখনো দুঃখ সহ্য করেছি। এবং এটি হবে পরমানন্দময় প্রেমের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য যা আমরা ঈশ্বরকে জানব যা দুঃখ ছাড়া আমরা কখনোই জানতে পারতাম না। <br> '''এবং যখন আমি এই সব দেখলাম, আমাকে স্বীকার করতেই হলো যে ঈশ্বরের দয়া ও ক্ষমা আমাদের ক্রোধকে শিথিল ও নষ্ট করার জন্য।'''
=== অধ্যায় ৪৯ ===
[[File:LuMaxArt_Golden_Family_With_World_Religions.jpg|thumb|অবিলম্বে আত্মা [[ঈশ্বরের]] সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে [[শান্তি]] স্থাপন করে।]]
[[File:Quaker Peace Star.png|thumb|আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে যেখানে আমাদের প্রভু উপস্থিত হন, সেখানে [[শান্তি]] আসে এবং [[ক্রোধ]]ের কোনো স্থান থাকে না। কারণ আমি ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ধরনের ক্রোধ দেখিনি, অল্প [[সময়ের]] জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য; — কারণ সত্যই, আমার দৃষ্টিতে, যদি [[ঈশ্বর]] এক মুহূর্তের জন্যও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে আমাদের কখনোই [[জীবন]] বা স্থান বা অস্তিত্ব থাকত না।]]
* '''অবিলম্বে আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে।'''
* '''এটি ছিল আত্মার জন্য এক উচ্চ বিস্ময় যা ক্রমাগত সমস্ত প্রকাশে দেখানো হয়েছিল, এবং খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল, যে আমাদের প্রভু ঈশ্বর, নিজের প্রতি ক্ষমা করতে পারেন না, কারণ তিনি ক্রুদ্ধ হতে পারেন না: এটি অসম্ভব হবে। কারণ এটি দেখানো হয়েছিল: যে আমাদের জীবন সম্পূর্ণভাবে প্রেমে ভিত্তি ও মূলিত, এবং প্রেম ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না;''' এবং তাই সেই আত্মার জন্য যে তাঁর বিশেষ কৃপায় ঈশ্বরের উচ্চ, বিস্ময়কর মঙ্গলময়তার গভীরে এতদূর দেখে, এবং দেখে যে আমরা প্রেমে তাঁর সাথে অন্তহীনভাবে একীভূত, এটি সবচেয়ে অসম্ভব যা হতে পারে যে ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হবেন। কারণ ক্রোধ ও বন্ধুত্ব দুটি বিপরীত। কারণ তিনি যিনি আমাদের ক্রোধ নষ্ট ও ধ্বংস করেন এবং আমাদের নম্র ও মৃদু করেন,—এটি অনিবার্য যে তাঁকে সর্বদা প্রেমে এক, নম্র ও মৃদু হতে হবে: যা ক্রোধের বিপরীত। <br> '''কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে যেখানে আমাদের প্রভু উপস্থিত হন, সেখানে শান্তি আসে এবং ক্রোধের কোনো স্থান থাকে না। কারণ আমি ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ধরনের ক্রোধ দেখিনি, অল্প সময়ের জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য;—কারণ সত্যই, আমার দৃষ্টিতে, যদি ঈশ্বর এক মুহূর্তের জন্যও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে আমাদের কখনোই জীবন বা স্থান বা অস্তিত্ব থাকত না।''' কারণ আমরা যেমন ঈশ্বরের অন্তহীন শক্তি এবং অন্তহীন প্রজ্ঞা এবং অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আমাদের অস্তিত্ব পাই, ঠিক তেমনই আমরা ঈশ্বরের অন্তহীন শক্তিতে, অন্তহীন প্রজ্ঞায় এবং অন্তহীন মঙ্গলময়তায় আমাদের সুরক্ষা পাই। কারণ যদিও আমরা নিজেদের মধ্যে, দুঃখী মানুষ, বিতর্ক ও কলহ অনুভব করি, তবুও আমরা ঈশ্বরের মৃদুতা ও তাঁর নম্রতায়, তাঁর দয়া ও তাঁর কৃপায় পুরোপুরি আবদ্ধ। কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের সমস্ত অন্তহীন বন্ধুত্ব, আমাদের স্থান, আমাদের জীবন এবং আমাদের অস্তিত্ব ঈশ্বরের মধ্যে।
* '''যদিও আমরা, আমাদের মধ্যে থাকা ক্রোধ ও বিপরীততার কারণে, এখন দুর্দশা, কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্যে আছি, যেমন আমাদের অন্ধত্ব ও দুর্বলতার কারণে ঘটে, তবুও আমরা ঈশ্বরের দয়াময় সুরক্ষার দ্বারা নিরাপদে আছি, যাতে আমরা ধ্বংস না হই। কিন্তু আমরা আমাদের অন্তহীন আনন্দের অধিকারী হয়ে ''পরমানন্দময়ভাবে'' নিরাপদ নই, যতক্ষণ না আমরা সবাই শান্তিতে ও প্রেমে থাকি: অর্থাৎ, ঈশ্বরের সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে এবং তাঁর সমস্ত বিচারের সাথে পূর্ণ সন্তুষ্ট, এবং আমাদের নিজেদের সাথে এবং আমাদের সম-খ্রিস্টানদের সাথে এবং ঈশ্বর যা ভালোবাসেন তার সবার সাথে প্রেমময় ও শান্তিপূর্ণ, যেমন প্রেম শোভা পায়।''' এবং এটি ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা আমাদের মধ্যে করে।
* '''এইভাবে আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বরই আমাদের প্রকৃত শান্তি, এবং আমরা যখন নিজেরাই অশান্তিতে থাকি তখন তিনিই আমাদের নিশ্চিত রক্ষক, এবং তিনি ক্রমাগত আমাদের অন্তহীন শান্তিতে আনার জন্য কাজ করেন।''' এবং এইভাবে যখন আমরা, দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা, নম্র ও মৃদু হই, আমরা পুরোপুরি নিরাপদ; হঠাৎ আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তিতে থাকে: কারণ তাঁর মধ্যে কোনো ক্রোধ পাওয়া যায় না। এবং এইভাবে আমি দেখেছিলাম যখন আমরা সবাই শান্তিতে ও প্রেমে থাকি, আমরা কোনো বিপরীততা খুঁজে পাই না, বা সেই বিপরীততার মাধ্যমে কোনো ধরনের বাধা পাই না যা এখন আমাদের মধ্যে আছে; আমাদের প্রভু তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে একে আমাদের জন্য খুব লাভজনক করে তোলেন। কারণ সেই বিপরীততাই আমাদের দুর্দশা ও আমাদের সমস্ত যন্ত্রণার কারণ, এবং আমাদের প্রভু যিশু সেগুলো গ্রহণ করেন এবং স্বর্গে পাঠান, এবং সেখানে সেগুলো হৃদয়ে চিন্তা বা জিহ্বায় বলার চেয়েও বেশি মিষ্টি ও আনন্দদায়ক করা হয়। এবং যখন আমরা সেখানে পৌঁছাব তখন আমরা সেগুলোকে প্রস্তুত পাব, সব খুব সুন্দর ও অন্তহীন পূজায় রূপান্তরিত।
=== অধ্যায় ৫০ ===
* '''এই জীবনে দয়া ও ক্ষমা আমাদের পথ এবং সর্বদা আমাদের কৃপার দিকে নিয়ে যায়। এবং যে ঝড় ও দুঃখের মধ্যে আমরা আমাদের অংশে পতিত হই, তাতে আমরা পৃথিবীতে মানুষের বিচারের অনুযায়ী প্রায়শই মৃত; কিন্তু ঈশ্বরের দৃষ্টিতে যে আত্মা রক্ষা পাবে সে কখনোই মৃত ছিল না, বা কখনোই হবে না।'''
* তবুও এখানে আমি আমার আত্মার সমস্ত মনোযোগ দিয়ে বিস্মিত ও বিস্ময়বোধ করলাম, আমার নিজের মধ্যে এইভাবে বলে: ''' ''ভালো প্রভু, আমি তোমাকে দেখি যিনি প্রকৃত সত্য; এবং আমি সত্যে জানি যে আমরা প্রতিদিন গুরুতরভাবে পাপ করি এবং অনেক বেশি দোষী; এবং আমি তোমার সত্যের জ্ঞান ত্যাগ করতে পারি না, বা আমি তোমাকে কোনো ধরনের দোষ দেখাতে দেখছি না। এটি কীভাবে সম্ভব?'' <br> কারণ আমি পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষা এবং আমার নিজের অনুভূতি দ্বারা জানতাম যে আমাদের পাপের দোষ ক্রমাগত আমাদের ওপর ঝুলে থাকে, প্রথম মানুষ থেকে শুরু করে আমরা স্বর্গে পৌঁছানো পর্যন্ত: তখন এটিই আমার বিস্ময় ছিল যে আমি আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে আমাদের প্রতি আর কোনো দোষ দেখাতে দেখিনি যেন আমরা স্বর্গে ফেরেশতাদের মতো পরিষ্কার ও পবিত্র।''' এবং এই দুটি বিপরীতের মধ্যে আমার যুক্তি আমার অন্ধত্বের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল, এবং এর ভয়ে কোনো বিশ্রাম পেতে পারিনি যে তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ উপস্থিতি আমার দৃষ্টি থেকে সরে যাবে এবং আমি না জেনে থেকে যাব যে তিনি আমাদের পাপে আমাদের কীভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কারণ হয় আমাকে ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে হতো যে পাপ পুরোপুরি দূর হয়েছে, অথবা আমাকে ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে হতো কীভাবে তিনি তা দেখেন, যার মাধ্যমে আমি সত্যই জানতে পারতাম কীভাবে আমার পাপ দেখা উচিত, এবং আমাদের দোষের ধরন। আমার আকাঙ্ক্ষা স্থায়ী ছিল, তাঁকে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করে;—এবং তবুও মহান সংকট ও বিভ্রান্তির জন্য আমি ধৈর্য ধরতে পারিনি, চিন্তা করে: ''যদি আমি এইভাবে ধরি যে আমরা পাপী নই এবং দোষী নই, তবে মনে হয় আমি ভুল করছি এবং এই সত্যের জ্ঞান থেকে ব্যর্থ হচ্ছি; এবং যদি এমন হয় যে আমরা পাপী ও দোষী,—ভালো প্রভু, তবে এটি কীভাবে সম্ভব যে আমি তোমার মধ্যে এই সত্য জিনিসটি দেখতে পাচ্ছি না, যিনি আমার ঈশ্বর, আমার নির্মাতা, যার মধ্যে আমি সমস্ত সত্য দেখতে আকাঙ্ক্ষা করি?''
* তিনটি পয়েন্ট আমাকে এটি জিজ্ঞাসা করার জন্য সাহসী করে তোলে। প্রথমটি হলো, কারণ এটি খুব ছোট একটি জিনিস: কারণ যদি এটি একটি উচ্চ জিনিস হতো তবে আমি ভীত হতাম। দ্বিতীয়টি হলো, যে এটি খুব সাধারণ: কারণ যদি এটি বিশেষ ও গোপন হতো, তবে আমি ভীত হতাম। তৃতীয়টি হলো, যে এটি জানা আমার প্রয়োজন (যেমন আমার মনে হয়) যদি আমি এখানে ভালো ও মন্দের জ্ঞান লাভের জন্য বাঁচি, যার মাধ্যমে আমি, যুক্তি ও কৃপার দ্বারা, সেগুলোকে আরও আলাদা করতে পারি, এবং মঙ্গলময়তাকে ভালোবাসতে পারি ও মন্দকে ঘৃণা করতে পারি, যেমন পবিত্র চার্চ শেখায়। আমি অন্তরের সাথে চিৎকার করলাম, আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করে, এইভাবে বলে: ''আহ! প্রভু যিশু, পরমানন্দের রাজা, আমি কীভাবে শান্ত হব? কে আমাকে শেখাবে এবং বলবে যে আমার কী জানা প্রয়োজন, যদি আমি এই সময়ে তোমার মধ্যে তা দেখতে না পাই?''
=== অধ্যায় ৫১ ===
* তখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু খুব অস্পষ্টভাবে একজন প্রভুর একটি বিস্ময়কর উদাহরণ দেখিয়ে উত্তর দিলেন যার একজন ভৃত্য আছে: এবং তিনি আমাকে উভয়ের প্রতি আমার বোঝার দৃষ্টি দিলেন। যে দৃষ্টি প্রভুর মধ্যে দ্বিগুণভাবে এবং ভৃত্যের মধ্যে দ্বিগুণভাবে দেখানো হয়েছিল: একটি অংশ শারীরিক সাদৃশ্যে আধ্যাত্মিকভাবে দেখানো হয়েছিল, এবং অন্য অংশটি আরও আধ্যাত্মিকভাবে দেখানো হয়েছিল, শারীরিক সাদৃশ্য ছাড়াই।
* আমি শারীরিক সাদৃশ্যে দুটি ব্যক্তিকে দেখলাম: অর্থাৎ, একজন প্রভু ও একজন ভৃত্য; এবং তার সাথে ঈশ্বর আমাকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান দিলেন। প্রভু শান্তিতে ও বিশ্রামে মহিমান্বিত হয়ে বসে আছেন; ভৃত্য তার প্রভুর সামনে শ্রদ্ধার সাথে দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রভুর ইচ্ছা পূরণ করতে প্রস্তুত। প্রভু তাঁর ভৃত্যের দিকে খুব ভালোবাসার সাথে ও মিষ্টিভাবে তাকান, এবং নম্রভাবে তিনি তাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠান তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে। ভৃত্য কেবল যায় না, বরং হঠাৎ সে শুরু করে, এবং প্রভুর ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রেমের সাথে খুব তাড়াহুড়ো করে দৌড়ায়। এবং অবিলম্বে সে একটি খাদে পড়ে যায়, এবং খুব মহান আঘাত পায়। এবং তখন সে আর্তনাদ করে ও বিলাপ করে ও শোক করে ও সংগ্রাম করে, কিন্তু সে কোনোভাবেই উঠতে পারে না বা নিজেকে সাহায্য করতে পারে না। <br> এবং এই সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যা আমি তাকে দেখেছি তা ছিল সান্ত্বনার ব্যর্থতা: কারণ সে তার ভালোবাসার প্রভুর দিকে তাকাতে মুখ ঘুরাতে পারেনি, যিনি তার খুব কাছাকাছি ছিলেন,—যাঁর মধ্যে পূর্ণ সান্ত্বনা আছে;—কিন্তু একজন মানুষের মতো যে সেই সময়ের জন্য দুর্বল ও অবিবেচক, সে তার মন তার অনুভূতির দিকে ঘুরাল এবং যন্ত্রণার মধ্যে স্থায়ী হলো।
* আমি বিস্মিত হলাম কীভাবে এই ভৃত্য সেখানে এই সমস্ত যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে, এবং আমি খুব সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করলাম যদি আমি তার মধ্যে কোনো দোষ বুঝতে পারি, অথবা প্রভু যদি তাকে কোনো দোষ দেন। এবং সত্যই সেখানে কিছুই দেখা যায়নি: কারণ কেবল তার সদিচ্ছা এবং তার মহান আকাঙ্ক্ষাই ছিল তার পতনের কারণ; এবং সে অনিচ্ছুক ছিল না, এবং ভেতরে ততটাই ভালো ছিল যেমনটি সে তার প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে প্রস্তুত। এবং ঠিক এভাবেই ক্রমাগত তার ভালোবাসার প্রভু খুব কোমলভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছেন।
* '''আমি দেখলাম ও বুঝলাম যে প্রতিটি প্রকাশ গোপন জিনিসে পূর্ণ।''' <br> এবং তাই আমাকে এখন তিনটি বৈশিষ্ট্য বলতে হবে যার মধ্যে আমি কিছুটা শান্ত হয়েছি। প্রথমটি হলো শিক্ষার শুরু যা আমি সেই সময়ে এতে বুঝেছিলাম; দ্বিতীয়টি হলো অভ্যন্তরীণ শিক্ষা যা আমি পরে এতে বুঝেছি; তৃতীয়টি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রকাশ (অর্থাৎ এই বইয়ের) যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে প্রায়শই মুক্তভাবে আমার বোঝার দৃষ্টিতে আনেন। এবং এই তিনটি আমার বোঝার অনুযায়ী এতটাই একীভূত যে আমি সেগুলোকে আলাদা করতে পারি না, বা করব না। এবং এই তিনটির দ্বারা, একটি হিসেবে, আমার কাছে শিক্ষা আছে যার মাধ্যমে আমার আমাদের প্রভু ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখা উচিত, যে একই মঙ্গলময়তা থেকে যা দিয়ে তিনি এটি দেখিয়েছেন, এবং একই উদ্দেশ্যের জন্য, ঠিক তেমনই, একই মঙ্গলময়তা থেকে এবং একই উদ্দেশ্যের জন্য তিনি আমাদের কাছে তা প্রকাশ করবেন যখন তাঁর ইচ্ছা হবে।
* কারণ, প্রকাশের সময়ের বিশ বছর পর, তিন মাস কম, আমি অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষা পেয়েছিলাম, যেমন আমি বলব: ''উদাহরণে যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য ও শর্ত দেখানো হয়েছিল তার প্রতি মনোযোগ দেওয়া তোমার কর্তব্য, যদিও তুমি মনে করো সেগুলো অস্পষ্ট এবং তোমার দৃষ্টিতে নির্বিশেষে।''
* প্রভু যিনি শান্তিতে ও বিশ্রামে মহিমান্বিত হয়ে বসে ছিলেন, আমি বুঝলাম যে তিনি ঈশ্বর। ভৃত্য যিনি প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমি বুঝলাম যে এটি আদমের জন্য দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, একজন মানুষকে দেখানো হয়েছিল, সেই সময়ে, এবং তার পতন, যাতে এটি বোঝা যায় কীভাবে ঈশ্বর সমস্ত-মানুষ এবং তার পতনকে পর্যবেক্ষণ করেন। '''কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সমস্ত মানুষ একজন মানুষ, এবং একজন মানুষ সমস্ত মানুষ। এই মানুষটি তার শক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল এবং খুব দুর্বল হয়েছিল; এবং সে তার বোঝাপড়ায় স্তব্ধ হয়েছিল যাতে সে তার প্রভুর পর্যবেক্ষণ থেকে ফিরে এসেছিল। কিন্তু তার ইচ্ছা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে অখণ্ড ছিল;—কারণ তার ইচ্ছা আমি আমাদের প্রভুকে প্রশংসা ও অনুমোদন করতে দেখেছি। কিন্তু সে নিজেই এই ইচ্ছা জানার থেকে বাধাগ্রস্ত ও অন্ধ ছিল; এবং এটি তার জন্য মহান শোক ও দুঃখজনক কষ্ট: কারণ সে না স্পষ্টভাবে দেখে তার ভালোবাসার প্রভুকে, যিনি তার প্রতি খুব নম্র ও মৃদু, না সে সত্যই দেখে সে তার ভালোবাসার প্রভুর দৃষ্টিতে কী। এবং আমি ভালো করেই জানি যখন এই দুটি বিজ্ঞতার সাথে ও সত্যভাবে দেখা হবে, আমরা এখানে আংশিকভাবে বিশ্রাম ও শান্তি পাব, এবং স্বর্গের পরমানন্দের পূর্ণতা পাব, তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায়। <br> এবং এটি ছিল শিক্ষার একটি শুরু যা আমি সেই সময়ে দেখেছিলাম, যার মাধ্যমে আমি জানতে পারতাম তিনি কীভাবে আমাদের পাপে আমাদের পর্যবেক্ষণ করেন।''' এবং তখন আমি দেখলাম যে কেবল যন্ত্রণা দোষ দেয় ও শাস্তি দেয়, এবং আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু সান্ত্বনা দেন ও শোক করেন; এবং সর্বদা তিনি আত্মার কাছে আনন্দদায়ক মেজাজে আছেন, ভালোবাসছেন, এবং আমাদের তাঁর পরমানন্দে আনতে আকাঙ্ক্ষা করছেন।
* প্রভু যে স্থানে বসে ছিলেন তা ছিল সরল, পৃথিবীতে, অনুর্বর ও মরুভূমি, প্রান্তরে একা; তাঁর পোশাক ছিল প্রশস্ত ও খুব মানানসই, যেমন একজন প্রভুর জন্য শোভা পায়; তাঁর পোশাকের রঙ ছিল নীলাভ, খুব বিষণ্ণ ও সুন্দর। তাঁর মেজাজ ছিল দয়াময়; তাঁর মুখের রঙ ছিল সুন্দর-বাদামী,—খুব মানানসই বৈশিষ্ট্যের সাথে; তাঁর চোখ ছিল কালো, খুব সুন্দর ও মানানসই, খুব ভালোবাসার ''সহানুভূতি'' দিয়ে পূর্ণ, এবং, তাঁর ''ভেতরে'', একটি উচ্চ পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ ও প্রশস্ত, সমস্ত অন্তহীন স্বর্গে পূর্ণ। এবং ভালোবাসার দৃষ্টি যা দিয়ে তিনি ক্রমাগত তাঁর ভৃত্যের দিকে তাকিয়েছিলেন,—এবং বিশেষ করে তার পতনে,—আমার মনে হয়েছিল তা প্রেমের জন্য আমাদের হৃদয় গলাতে পারে এবং আনন্দের জন্য সেগুলোকে দুই ভাগে ফাটাতে পারে। সুন্দর দৃষ্টি একটি মানানসই মিশ্রণ দেখিয়েছিল যা পর্যবেক্ষণ করা বিস্ময়কর ছিল: একটি ছিল করুণা ও সহানুভূতি, অন্যটি ছিল আনন্দ ও পরমানন্দ। আনন্দ ও পরমানন্দ করুণা ও সহানুভূতিকে ততটাই ছাড়িয়ে যায় যতটা স্বর্গ পৃথিবীর উপরে: সহানুভূতি ছিল পার্থিব এবং পরমানন্দ ছিল স্বর্গীয়।
* তাঁর প্রেমের চেহারার দয়াময় পর্যবেক্ষণ সমস্ত পৃথিবীকে পূর্ণ করেছিল এবং আদমের সাথে নরকে নেমে এসেছিল, যে ক্রমাগত সহানুভূতিতে আদমকে অন্তহীন মৃত্যু থেকে রক্ষা করা হয়েছিল। এবং এইভাবে দয়া ও সহানুভূতি মানবজাতির সাথে থাকে যতক্ষণ না আমরা স্বর্গে উপরে উঠি।
* মানুষ এই জীবনে অন্ধ এবং তাই আমরা আমাদের পিতা, ঈশ্বরকে দেখতে পারি না, যেমন তিনি আছেন। এবং যখন তিনি তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে মানুষের কাছে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি নিজেকে আপনভাবে দেখান, মানুষ হিসেবে। তবুও, আমি যুক্তি দিই, সত্যে আমাদের জানা ও বিশ্বাস করা উচিত যে পিতা মানুষ নন।
* পোশাকের নীলাভতা তাঁর স্থিরতা বোঝায়; তাঁর সুন্দর মুখের বাদামীতা, চোখের মানানসই কালোর সাথে, তাঁর পবিত্র স্থিরতা দেখানোর জন্য সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তাঁর পোশাকের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, যা সুন্দর ছিল, চারপাশে জ্বলজ্বল করছিল, বোঝায় যে তাঁর মধ্যে আছে, সমস্ত স্বর্গ, এবং সমস্ত আনন্দ ও পরমানন্দ: এবং এটি একটি স্পর্শে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি বলেছি: ''আমার বোঝাপড়া প্রভুর মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল''; যার মধ্যে আমি তাঁকে উচ্চতর আনন্দিত হতে দেখেছি সেই পূজনীয় পুনরুদ্ধারের জন্য যা তিনি তাঁর ভৃত্যকে তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায় আনবেন ও আনবেন।
* পৃথিবীতে একটি ধন ছিল যা প্রভু ভালোবাসতেন। আমি বিস্মিত হলাম এবং ভাবলাম এটি কী হতে পারে, এবং আমার বোঝাপড়ায় উত্তর পেলাম: ''এটি একটি খাদ্য যা প্রভুর কাছে আনন্দদায়ক ও মনোরম।''
* তবুও আমি বিস্মিত হলাম ভৃত্য কোথা থেকে এসেছিল। কারণ আমি প্রভুর মধ্যে দেখলাম যে তাঁর নিজের ভেতরে অন্তহীন জীবন আছে, এবং সমস্ত ধরনের মঙ্গলময়তা, পৃথিবীতে থাকা সেই ধন ছাড়া। এবং ''তা'' অন্তহীন প্রেমের বিস্ময়কর গভীরতায় প্রভুর মধ্যে ভিত্তি ছিল, কিন্তু এটি তাঁর পূজার জন্য পুরোপুরি ছিল না যতক্ষণ না ভৃত্য একে এইভাবে মহিমান্বিতভাবে প্রস্তুত করেছিল, এবং তার নিজের উপস্থিতিতে প্রভুর সামনে এনেছিল। এবং প্রভুর বাইরে প্রান্তর ছাড়া কিছুই ছিল না। এবং আমি সব বুঝতে পারিনি এই উদাহরণটির অর্থ কী, এবং তাই আমি বিস্মিত হলাম ভৃত্য কোথা থেকে এসেছিল।
* ভৃত্যের মধ্যে ত্রিত্বের দ্বিতীয় ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; এবং ভৃত্যের মধ্যে আদমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: অর্থাৎ, সমস্ত-মানুষ। এবং তাই যখন আমি 'পুত্র' বলি, তার অর্থ [[দেবত্ব]] যা পিতার সাথে সমান; এবং যখন আমি 'ভৃত্য' বলি, তার অর্থ খ্রিস্টের মানবতা, যা প্রকৃত আদম। ভৃত্যের নৈকট্য দ্বারা পুত্রকে বোঝা যায়, এবং বাম দিকে দাঁড়ানো দ্বারা আদমকে বোঝা যায়। প্রভু হলেন পিতা, ঈশ্বর; ভৃত্য হলেন পুত্র, খ্রিস্ট যিশু; পবিত্র আত্মা হলেন সমান প্রেম যা তাদের উভয়ের মধ্যে আছে।
* এই সবকিছুর মধ্যে আমাদের ভালো প্রভু তাঁর নিজের পুত্র এবং আদমকে কেবল একজন মানুষ হিসেবে দেখিয়েছেন। আমাদের মধ্যে যে গুণ ও মঙ্গলময়তা আছে তা যিশু খ্রিস্টের থেকে: আমাদের মধ্যে যে দুর্বলতা ও অন্ধত্ব আছে তা আদমের থেকে: যা দুটি ভৃত্যের মধ্যে দেখানো হয়েছিল।<br> এবং এইভাবে আমাদের ভালো প্রভু যিশু আমাদের সমস্ত দোষ নিজের ওপর নিয়েছেন, এবং তাই আমাদের পিতা খ্রিস্টপ্রিয় খ্রিস্টের চেয়ে আমাদের আর কোনো দোষ দিতে পারেন না বা দেবেন না।
* কারণ সমস্ত মানবজাতি যারা খ্রিস্টের মিষ্টি অবতার ও পরমানন্দময় প্যাশনের দ্বারা রক্ষা পাবে, সবই খ্রিস্টের মানবতা: কারণ তিনি হলেন প্রধান এবং আমরা তাঁর অঙ্গ। যে অঙ্গগুলোর জন্য দিন ও সময় অজানা যখন প্রতিটি দুঃখ ও শোকের শেষ হবে, এবং চিরস্থায়ী আনন্দ ও পরমানন্দ পূর্ণ হবে; যে দিন ও সময় দেখার জন্য, স্বর্গের সমস্ত কোম্পানি আকাঙ্ক্ষা করে। এবং স্বর্গের নিচে যারা আছে যারা সেখানে আসবে, তাদের পথ হলো আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার দ্বারা।
* এছাড়াও এই বিস্ময়কর উদাহরণে আমার সাথে শিক্ষা আছে যেমনটি এটি একটি এ.বি.সি.র শুরু, যার দ্বারা আমি আমাদের প্রভুর অর্থের কিছু বোঝাপড়া পেয়েছি। কারণ প্রকাশের গোপন জিনিসগুলো এতে লুকিয়ে আছে;—যদিও ''সমস্ত'' প্রকাশই গোপন জিনিসে পূর্ণ।
=== অধ্যায় ৫২ ===
* '''আমি দেখলাম যে ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের পিতা, এবং ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের মাতা, এবং ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের প্রকৃত জীবনসঙ্গী এবং আমাদের আত্মা তাঁর প্রিয় স্ত্রী। এবং খ্রিস্ট আনন্দিত যে তিনি আমাদের ভাই, এবং যিশু আনন্দিত যে তিনি আমাদের ত্রাণকর্তা। এগুলো পাঁচটি উচ্চ আনন্দ, যেমন আমি বুঝি, যার মধ্যে তিনি চান যে আমরা আনন্দ করি; তাঁর প্রশংসা করে, তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে, তাঁকে ভালোবেসে, তাঁকে অন্তহীনভাবে আশীর্বাদ করে।'''
* '''আমাদের উদ্দেশ্যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে বাস করি, এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে দয়া ও কৃপা পাওয়ার আস্থা রাখি; এবং এটি আমাদের মধ্যে তাঁর নিজস্ব কাজ। এবং তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে তিনি আমাদের বোঝার চোখ খুলে দেন, যার দ্বারা আমরা দৃষ্টি পাই, কখনো বেশি এবং কখনো কম, যেমন ঈশ্বর গ্রহণ করার ক্ষমতা দেন। এবং এখন আমরা একীভূত হই, এবং এখন আমরা অন্যটিতে পতিত হই।''' <br> এবং এইভাবে আমাদের মধ্যে এই মিশ্রণটি এত বিস্ময়কর যে আমরা খুব কমই আমাদের নিজের বা আমাদের সম-খ্রিস্টানের কথা জানি যে আমরা কোন পথে দাঁড়িয়ে আছি, এই বিভিন্ন অনুভূতির বিস্ময়করতার কারণে।
* এইভাবে আমরা আমাদের জীবনের সমস্ত দিন এই মিশ্রণে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু তিনি চান যে আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি আমাদের সাথে স্থায়ীভাবে আছেন। এবং তা তিন প্রকারে।—তিনি স্বর্গে আমাদের সাথে আছেন, প্রকৃত মানুষ, তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিতে, আমাদের উপরে টেনে নিচ্ছেন; এবং তা আধ্যাত্মিক তৃষ্ণায় দেখানো হয়েছিল। এবং তিনি পৃথিবীতে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের পরিচালিত করছেন; এবং তা তৃতীয়টিতে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখেছি। এবং তিনি আমাদের আত্মায় আমাদের সাথে আছেন, অন্তহীনভাবে বসবাস করছেন, আমাদের শাসন ও রক্ষা করছেন; এবং তা ষোড়শটিতে দেখানো হয়েছিল, যেমন আমি বলব।
* আমাদের কাছে, এখন, শোকের বিষয় আছে: কারণ আমাদের পাপ খ্রিস্টের যন্ত্রণার কারণ; এবং আমাদের কাছে, স্থায়ীভাবে, আনন্দের বিষয় আছে: কারণ অন্তহীন প্রেম তাঁকে সহ্য করতে বাধ্য করেছিল। এবং তাই '''যে সৃষ্টি কৃপার দ্বারা প্রেমের কাজ দেখে ও অনুভব করে, সে পাপ ছাড়া কিছুই ঘৃণা করে না: কারণ সমস্ত জিনিসের মধ্যে, আমার দৃষ্টিতে, প্রেম ও ঘৃণা সবচেয়ে কঠিন ও সবচেয়ে পরিমাপহীন বিপরীত।''' এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি আমাদের প্রভুর অর্থে দেখেছিলাম ও বুঝেছিলাম যে আমরা এই জীবনে পাপ থেকে এতটা অখণ্ডভাবে পরিষ্কার থাকতে পারি না যতটা আমরা স্বর্গে থাকব। কিন্তু আমরা অবশ্যই কৃপার দ্বারা সেই পাপগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি যা আমাদের অন্তহীন যন্ত্রণার দিকে নিয়ে যেত, যেমন পবিত্র চার্চ আমাদের শেখায়; এবং আমাদের সাধ্যমতো ভেনিয়াল পাপ এড়িয়ে চলতে পারি। এবং যদি আমরা আমাদের অন্ধত্ব ও আমাদের দুর্দশার কারণে কোনো সময় পড়ে যাই, তবে আমাদের তৎক্ষণাৎ ওঠা উচিত, কৃপার মিষ্টি স্পর্শ জেনে, এবং আমাদের সমস্ত ইচ্ছার সাথে পবিত্র চার্চের শিক্ষার ওপর নিজেদের সংশোধন করা উচিত, যেমন পাপ গুরুতর, এবং ভালোবাসায় অবিলম্বে ঈশ্বরের কাছে যাওয়া উচিত; এবং একদিকে, খুব নিচে পতিত হয়ে হতাশায় ঝুঁকে পড়া উচিত নয়, বা অন্যদিকে, খুব বেপরোয়া হওয়া উচিত নয়, যেন আমরা এর কোনো গুরুত্ব দিইনি; বরং আমাদের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে স্বীকার করা উচিত, এই জেনে যে আমরা কৃপার সুরক্ষা ছাড়া এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারি না, এবং শ্রদ্ধার সাথে ঈশ্বরের সাথে লেগে থাকা উচিত, কেবল তাঁর ওপর আস্থা রেখে। <br> কারণ ঈশ্বরের পর্যবেক্ষণ একরকম, এবং মানুষের পর্যবেক্ষণ অন্যরকম। কারণ মানুষের জন্য নিজেকে নম্রভাবে অভিযুক্ত করা যথার্থ, এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সঠিক মঙ্গলময়তার জন্য মানুষকে সৌজন্যের সাথে ক্ষমা করা যথার্থ।
* অন্য ধরনের পর্যবেক্ষণ দেখানো হয়েছিল ''অভ্যন্তরীণ'': এবং তা ছিল আরও উচ্চতর এবং পুরোপুরি ''এক''। '''কারণ জীবন ও গুণ যা আমরা নিম্ন অংশে পাই তা উচ্চতর থেকে, এবং তা কৃপার দ্বারা নিজের প্রাকৃতিক প্রেম থেকে আমাদের কাছে আসে। এক এবং অন্যটির মধ্যে ঠিক কিছুই নেই: কারণ এটি সবই এক প্রেম।''' যে এক আশীর্বাদপূর্ণ প্রেমের এখন, আমাদের মধ্যে, দ্বিগুণ কাজ আছে: কারণ নিম্ন অংশে যন্ত্রণা ও আবেগ, দয়া ও ক্ষমা আছে, এবং অন্যান্য বিষয় যা লাভজনক; কিন্তু উচ্চ অংশে এগুলোর কোনোটিই নেই, বরং সবই এক উচ্চ প্রেম ও বিস্ময়কর আনন্দ: যে আনন্দে সমস্ত যন্ত্রণা উচ্চতরভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়। এবং এতে আমাদের প্রভু কেবল আমাদের ক্ষমা প্রদর্শন করেননি, বরং সেই পূজনীয় মহৎতাও দেখিয়েছেন যা তিনি আমাদের আনবেন, আমাদের সমস্ত দোষকে অন্তহীন পূজায় রূপান্তরিত করে।
=== অধ্যায় ৫৩ ===
* আমি দেখলাম যে তিনি চান যেন আমরা বুঝি যে তিনি কোনো সৃষ্টির পতনকে যা রক্ষা পাবে তাকে আদমের পতনের চেয়ে বেশি কঠিনভাবে নেন না, যা, আমরা জানি, আদমের সমস্ত প্রয়োজনের সময়ে অন্তহীনভাবে ভালোবাসা ও নিরাপদে রক্ষিত ছিল, এবং এখন উচ্চতর অতিক্রমকারী আনন্দে পরমানন্দময়ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
* এতে যা আমি এখন বলেছি আমার আকাঙ্ক্ষা আংশিকভাবে উত্তর পেয়েছে, এবং আমার মহান অসুবিধা কিছুটা শান্ত হয়েছে, আমাদের ভালো প্রভুর প্রেমময়, কৃপাময় প্রকাশের দ্বারা। যে প্রকাশে '''আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম ও বুঝেছিলাম যে প্রতিটি আত্মায় যা রক্ষা পাবে এমন একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে যা কখনোই পাপকে সমর্থন করেনি, বা কখনোই করবে না: যা ইচ্ছা এতটাই ভালো যে তা কখনোই মন্দ চাইতে পারে না, বরং সর্বদা ক্রমাগত ভালো চায়; এবং ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ভালো কাজ করে।'''
* কিন্তু এই ন্যায়পরায়ণ বুনন এবং এই অন্তহীন একীভূত হওয়া সত্ত্বেও, মানবজাতির মুক্তি ও পুনরায়-ক্রয় প্রতিটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত, যেমনটি একই উদ্দেশ্যে ও একই লক্ষ্যের জন্য করা হয়েছে যা পবিত্র চার্চ আমাদের বিশ্বাসে শেখায়।
* '''তিনি আমাদের তৈরি করার আগে তিনি আমাদের ভালোবাসতেন, এবং যখন আমরা তৈরি হয়েছিলাম আমরা তাঁকে ভালোবাসতাম।''' এবং এটি একটি প্রেম যা ''তৈরি'' হয়েছে, পবিত্র আত্মার সদয় সারমর্মীয় ''মঙ্গলময়তা''র; শক্তিশালী, যুক্তিতে, পিতার ''শক্তির''; এবং জ্ঞানী, মনে, পুত্রের ''প্রজ্ঞার''। এবং এইভাবে মানুষের আত্মা ঈশ্বর দ্বারা তৈরি এবং একই বিন্দুতে ঈশ্বরের সাথে বুনন করা হয়েছে। <br> '''এবং এইভাবে আমি বুঝি যে মানুষের আত্মা শূন্য থেকে তৈরি: অর্থাৎ, এটি তৈরি হয়েছে, কিন্তু তৈরি হওয়া কিছু থেকে নয়।''' এবং এইভাবে:—যখন ঈশ্বর মানুষের শরীর তৈরি করবেন, তখন তিনি পৃথিবীর কাদামাটি নিলেন, যা সমস্ত শারীরিক জিনিসের মিশ্রণ ও সংগ্রহ; এবং তা থেকে তিনি মানুষের শরীর তৈরি করলেন। কিন্তু মানুষের আত্মা তৈরির জন্য তিনি ঠিক কিছুই নিতে চাননি, বরং একে তৈরি করলেন। এবং এইভাবে প্রকৃতি-তৈরি ন্যায়পরায়ণভাবে নির্মাতার সাথে একীভূত, যা হলো সারমর্মীয় প্রকৃতি-অনির্মিত: অর্থাৎ, ঈশ্বর। এবং '''তাই এটিই যে ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যে ঠিক কিছুই নেই বা থাকবে না।''' <br> এবং এই অন্তহীন প্রেমে মানুষের আত্মা অখণ্ড রাখা হয়েছে, যেমন প্রকাশের বিষয়বস্তু নির্দেশ করে ও দেখায়: যে অন্তহীন প্রেমে আমরা ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত ও রক্ষিত এবং কখনোই হারিয়ে যাব না। '''কারণ তিনি চান আমরা সচেতন হই যে আমাদের আত্মা একটি জীবন, যা জীবন তাঁর মঙ্গলময়তা ও তাঁর কৃপায় স্বর্গে অন্তহীনভাবে স্থায়ী হবে, তাঁকে ভালোবেসে, তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে, তাঁর প্রশংসা করে। এবং ঠিক একই যা আমরা অন্তহীনভাবে হব, একই যা আমরা ঈশ্বরের মধ্যে সঞ্চিত ও লুকানো ছিলাম, সৃষ্টির আদি থেকে জানা ও ভালোবাসা।''' <br> তাই তিনি চান আমরা বুঝি যে তিনি তৈরি করা সবচেয়ে মহৎ জিনিস হলো মানবজাতি: এবং সবচেয়ে পূর্ণ [[সারমর্ম]] এবং সবচেয়ে উচ্চ [[গুণ]] হলো খ্রিস্টের আশীর্বাদপূর্ণ আত্মা। এবং অধিকন্তু তিনি চান আমরা বুঝি যে তাঁর প্রিয় আত্মা তৈরির সময়ে তাঁর সাথে মূল্যবানভাবে বুনন করা হয়েছিল যা গ্রন্থিটি এতটাই সূক্ষ্ম ও শক্তিশালী যে এটি—ঈশ্বরের মধ্যে একীভূত: যে একীভূতকরণে এটি অন্তহীনভাবে পবিত্র হয়েছে। অধিকন্তু তিনি চান আমরা জানি যে সমস্ত আত্মা যা স্বর্গে অন্তহীনভাবে রক্ষা পাবে, এই একীভূতকরণে বুনন ও একীভূত এবং এই পবিত্রতায় পবিত্র হয়েছে।
=== অধ্যায় ৫৪ ===
* ঈশ্বরের সমস্ত মানবজাতির প্রতি এই মহান, অন্তহীন প্রেমের কারণে, তিনি খ্রিস্টের আশীর্বাদপূর্ণ আত্মা এবং যে ক্ষুদ্রতম আত্মা রক্ষা পাবে তার মধ্যে প্রেমের কোনো বিচ্ছিন্নতা করেন না।
* '''আমাদের খুব বেশি আনন্দ করা উচিত যে ঈশ্বর আমাদের আত্মায় বাস করেন, এবং আমাদের আরও বেশি আনন্দ করা উচিত যে আমাদের আত্মা ঈশ্বরে বাস করে। আমাদের আত্মা ঈশ্বরের আবাসস্থল হিসেবে ''তৈরি'' হয়েছে; এবং আত্মার আবাসস্থল হলো ঈশ্বর, যিনি ''অনির্মিত''। এবং এটি একটি উচ্চ বোঝাপড়া, অভ্যন্তরীণভাবে দেখা ও জানা যে ঈশ্বর, যিনি আমাদের নির্মাতা, আমাদের আত্মায় বাস করেন; এবং এটি একটি উচ্চতর বোঝাপড়া, অভ্যন্তরীণভাবে দেখা ও জানা যে আমাদের আত্মা, যা তৈরি হয়েছে, ঈশ্বরের [[সারমর্মে]] বাস করে: যে সারমর্ম, ঈশ্বর, আমরা তাই যা আমরা। <br> এবং আমি ঈশ্বর ও আমাদের সারমর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখিনি: কিন্তু যেমন এটি পুরোপুরি ঈশ্বর; এবং তবুও আমার বোঝাপড়া নিয়েছিল যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে: অর্থাৎ, ঈশ্বর ঈশ্বর, এবং আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে একটি সৃষ্টি।'''
* ত্রিত্বের সর্বশক্তিমান সত্য আমাদের পিতা: কারণ তিনি আমাদের তৈরি করেছেন এবং তাঁর মধ্যে আমাদের রক্ষা করেছেন; এবং ত্রিত্বের গভীর প্রজ্ঞা আমাদের মাতা, যাঁর মধ্যে আমরা সবাই আবদ্ধ; ত্রিত্বের উচ্চ মঙ্গলময়তা আমাদের প্রভু, এবং তাঁর মধ্যে আমরা আবদ্ধ, এবং তিনি আমাদের মধ্যে। আমরা পিতার মধ্যে আবদ্ধ, এবং আমরা পুত্রের মধ্যে আবদ্ধ, এবং আমরা পবিত্র আত্মার মধ্যে আবদ্ধ। এবং পিতা আমাদের মধ্যে আবদ্ধ, এবং পুত্র আমাদের মধ্যে আবদ্ধ, এবং পবিত্র আত্মা আমাদের মধ্যে আবদ্ধ: সর্বশক্তিমানতা, সমস্ত-প্রজ্ঞা, সমস্ত-মঙ্গলময়তা: এক ঈশ্বর, এক প্রভু।
* '''আমাদের [[বিশ্বাস]] একটি [[গুণ]] যা আমাদের প্রকৃতি-সারমর্ম থেকে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমাদের অনুভূতি-আত্মায় আসে; যার মধ্যে আমাদের সমস্ত গুণ আমাদের কাছে আসে: কারণ তা ছাড়া, কোনো মানুষ গুণ গ্রহণ করতে পারে না। কারণ এটি আমাদের অস্তিত্বের একটি সঠিক বোঝাপড়া, সত্য বিশ্বাসের সাথে এবং নিশ্চিত আস্থার সাথে, ছাড়া আর কিছুই নয়: যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে আছি, এবং ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন, যাঁকে আমরা দেখি না।''' এবং এই গুণ, যা ঈশ্বর আমাদের জন্য তৈরি করেছেন তাতে আসার সাথে, আমাদের মধ্যে মহান জিনিস কাজ করে। কারণ খ্রিস্টের দয়াময় কাজ আমাদের মধ্যে আছে, এবং আমরা পবিত্র আত্মার উপহার ও গুণের মাধ্যমে তাঁর সাথে কৃপাময়ভাবে সম্মত হই। এই কাজ আমাদের খ্রিস্টের সন্তান করে তোলে, এবং জীবদ্দশায় খ্রিস্টান।
** পাঠান্তর: ''বিশ্বাস আমাদের অস্তিত্বের একটি সঠিক বোঝাপড়া, সত্য বিশ্বাস ও নিশ্চিত আস্থার সাথে, ছাড়া আর কিছুই নয়: যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে আছি, এবং ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন: যাঁকে আমরা দেখি না।''
=== অধ্যায় ৫৫ ===
* এইভাবে খ্রিস্ট আমাদের পথ, তাঁর আইনে আমাদের নিশ্চিতভাবে পরিচালিত করছেন, এবং খ্রিস্ট তাঁর দেহে আমাদের শক্তভাবে স্বর্গে বহন করেন।
* আমাদের বিশ্বাস আমাদের আত্মার প্রাকৃতিক প্রেম থেকে, এবং আমাদের যুক্তির পরিষ্কার আলো থেকে, এবং স্থির মন থেকে আসে যা আমরা আমাদের প্রথম সৃষ্টিতে ঈশ্বর থেকে পেয়েছি। এবং সেই সময়ে যখন আমাদের আত্মা আমাদের শরীরে অনুপ্রাণিত হয়, যার মধ্যে আমরা ইন্দ্রিয়পরায়ণ হই, খুব শীঘ্রই দয়া ও কৃপা কাজ শুরু করে, করুণা ও প্রেমের সাথে আমাদের যত্ন ও সুরক্ষা নিয়ে: যে কাজে পবিত্র আত্মা আমাদের বিশ্বাসে ''আশা'' গঠন করেন যে আমরা আবার আমাদের [[সারমর্মে]] উপরে আসব, খ্রিস্টের গুণে, পবিত্র আত্মার মাধ্যমে বর্ধিত ও পূর্ণ হয়ে। এইভাবে আমি বুঝেছিলাম যে অনুভূতি-আত্মা প্রকৃতি, দয়া ও কৃপায় ভিত্তিযুক্ত: যে ভিত্তি আমাদের এমন উপহার গ্রহণ করতে সক্ষম করে যা আমাদের অন্তহীন জীবনের দিকে নিয়ে যায়। <br> কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে, এবং আমি আরও দেখেছিলাম যে আমাদের অনুভূতি-আত্মায় ঈশ্বর আছেন: কারণ সেই একই বিন্দুতে যেখানে আমাদের আত্মা ইন্দ্রিয়পরায়ণ হয়, সেই একই বিন্দুতে ঈশ্বরের শহর সৃষ্টির আদি থেকেই তাঁর জন্য নির্ধারিত; যে আসনে তিনি আসেন, এবং কখনোই তা অপসারণ করবেন না। কারণ '''ঈশ্বর কখনোই আত্মার বাইরে নন: যার মধ্যে তিনি অন্তহীনভাবে পরমানন্দময়ভাবে বসবাস করেন।'''
=== অধ্যায় ৫৬ ===
[[File:Anna Sahlstén - Passage.jpg|thumb|আমরা ঈশ্বরের পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।]]
* এইভাবে আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে ঈশ্বরকে জানার দিকে আসা আমাদের জন্য নিজের আত্মাকে জানার চেয়ে বেশি সহজ। কারণ আমাদের আত্মা ঈশ্বরের মধ্যে এত গভীরভাবে ভিত্তিযুক্ত, এবং এত অন্তহীনভাবে সঞ্চিত, যে আমরা তার জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমাদের প্রথমে ঈশ্বরের জ্ঞান হয়, যিনি নির্মাতা, যার সাথে এটি একীভূত। কিন্তু, এই সব সত্ত্বেও, আমি দেখলাম যে আমাদের পূর্ণতার জন্য, বিজ্ঞতার সাথে ও সত্যভাবে আমাদের নিজের আত্মাকে জানার আকাঙ্ক্ষা করতে হবে: যার মাধ্যমে আমরা শিখি একে সেখানে খুঁজতে যেখানে এটি আছে, এবং তা হলো, ঈশ্বরের মধ্যে। এবং এইভাবে পবিত্র আত্মার কৃপাময় নির্দেশনায়, আমাদের উভয়কেই এক হিসেবে জানা উচিত: আমরা ঈশ্বরকে জানার জন্য বা আমাদের আত্মাকে জানার জন্য উৎসাহিত হই না কেন, উভয়ই ভালো ও সত্য।
* '''ঈশ্বর আমাদের নিজের আত্মার চেয়ে আমাদের কাছাকাছি: কারণ তিনিই ভিত্তি যার ওপর আমাদের আত্মা দাঁড়িয়ে আছে, এবং তিনিই মাধ্যম যা [[সারমর্ম]] ও ইন্দ্রিয়-প্রকৃতিকে একসাথে রাখে যাতে তারা কখনোই বিচ্ছিন্ন না হয়।''' কারণ আমাদের আত্মা প্রকৃত বিশ্রামে ঈশ্বরের মধ্যে বসে, এবং আমাদের আত্মা প্রকৃত শক্তিতে ঈশ্বরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, এবং আমাদের আত্মা অন্তহীন প্রেমে ঈশ্বরের মধ্যে সদয়ভাবে মূলিত: এবং তাই যদি আমরা আমাদের আত্মা সম্পর্কে জ্ঞান পেতে চাই, এবং তার সাথে যোগাযোগ ও কথোপকথন করতে চাই, তবে আমাদের আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে খুঁজতে হবে যার মধ্যে এটি আবদ্ধ।
* আমাদের সারমর্ম ও আমাদের ইন্দ্রিয়-অংশ, উভয়কেই একসাথে আমাদের আত্মা বলা যেতে পারে: এবং এটি ঈশ্বরের মধ্যে তাদের একীভূত হওয়ার কারণে।
* '''আমরা ঈশ্বরের পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।'''
** পাঠান্তর: ''আমরা ঈশ্বরকে পূর্ণভাবে জানতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।''
* ঈশ্বর চান যে আমরা বুঝি, আমাদের সমস্ত হৃদয়ের সাথে আকাঙ্ক্ষা করে তাদের সম্পর্কে জ্ঞান পেতে বেশি বেশি যতক্ষণ না আমরা পূর্ণ হই: কারণ তাদের পূর্ণভাবে জানা আর কিছুই নয় বরং অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দ যা আমরা স্বর্গে পাব, যা ঈশ্বর চান এখানে তাঁর প্রেমের জ্ঞানে শুরু হোক। <br> কারণ কেবল আমাদের যুক্তির দ্বারা আমরা লাভবান হতে পারি না, যদি না আমাদের সাথে একইভাবে মন ও প্রেম থাকে: বা আমাদের প্রকৃতি-ভিত্তিতে যা আমরা ঈশ্বর থেকে পেয়েছি আমরা রক্ষা পেতে পারি না যদি না আমাদের থাকে, একই ভিত্তি থেকে আসা, দয়া ও কৃপা। কারণ এই তিনটি একসাথে কাজ করে আমরা আমাদের সমস্ত মঙ্গলময়তা গ্রহণ করি।
=== অধ্যায় ৫৭ ===
* '''আমি দেখলাম যে আমাদের [[প্রকৃতি]] [[ঈশ্বরের]] মধ্যে [[অখণ্ড]]: যার মধ্যে তিনি তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর থেকে প্রবাহিত [[বৈচিত্র্য]] তৈরি করেন: যাকে প্রকৃতি রক্ষা করে, এবং [[দয়া]] ও [[কৃপা]] পুনরুদ্ধার করে ও পূর্ণ করে।''' এবং এগুলোর কোনোটিই ধ্বংস হবে না: কারণ আমাদের প্রকৃতি যা উচ্চতর অংশ তা তৈরির সময়ে ঈশ্বরের সাথে বুনন করা হয়েছে; এবং ঈশ্বর আমাদের প্রকৃতির সাথে বুনন করা হয়েছে যা নিম্নতর অংশ, আমাদের মাংস-গ্রহণে: এবং এইভাবে [[খ্রিস্টে]] আমাদের দুটি প্রকৃতি একীভূত হয়েছে।
** পাঠান্তর: ''খ্রিস্টে আমাদের দুটি প্রকৃতি একীভূত হয়েছে।''
* আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে ঈশ্বর যে সমস্ত কাজ করেছেন, বা করবেন, সেগুলো তাঁর কাছে পুরোপুরি জানা এবং সৃষ্টির আদি থেকেই আগে দেখা ছিল। এবং প্রেমের জন্য তিনি মানবজাতি তৈরি করেছিলেন, এবং একই প্রেমের জন্য মানুষ হতে চেয়েছিলেন।
*''' ''তিনি আমাদের [[আত্মায়]] বসেন।''''' <br> কারণ এটি তাঁর ভালো-আনন্দ আমাদের বোঝাপড়ায় পরমানন্দময়ভাবে শাসন করা, এবং আমাদের আত্মায় শান্তিতে বসা, এবং আমাদের আত্মায় অন্তহীনভাবে বসবাস করা, আমাদের সবাইকে তাঁর মধ্যে কাজ করানো: যে কাজে তিনি চান আমরা তাঁর সাহায্যকারী হই, আমাদের সমস্ত মনোযোগ তাঁকে দিয়ে, তাঁর শিক্ষা শিখে, তাঁর আইন মেনে, আকাঙ্ক্ষা করে যে সব করা হোক যা তিনি করেন; সত্যই তাঁর ওপর আস্থা রেখে। <br> কারণ সত্যই '''আমি দেখেছিলাম যে আমাদের [[সারমর্ম]] ঈশ্বরের মধ্যে আছে।'''
=== অধ্যায় ৫৮ ===
[[File:Kazimirowski Eugeniusz, Divine Mercy, 1934.jpg|thumb|আমাদের সমস্ত জীবন ''তিন''-এ আছে: প্রথমটিতে আমাদের অস্তিত্ব আছে, দ্বিতীয়টিতে আমাদের বৃদ্ধি আছে, এবং তৃতীয়টিতে আমাদের পূর্ণতা আছে: প্রথমটি প্রকৃতি, দ্বিতীয়টি [[দয়া]], এবং তৃতীয়টি [[কৃপা]]।]]
* '''আমাদের তৈরির সময়ে, [[ঈশ্বর]], সর্বশক্তিমান, আমাদের [[প্রকৃতি]]র [[পিতা]]; এবং ঈশ্বর, [[সর্ব]]-[[প্রজ্ঞা]], আমাদের প্রকৃতির [[মাতা]]; [[পবিত্র আত্মা]]র [[প্রেম]] ও [[মঙ্গলময়তা]]র সাথে: যা সবই এক ঈশ্বর, এক প্রভু। এবং বুনন ও একীভূতকরণে তিনি আমাদের প্রকৃত, সত্য জীবনসঙ্গী, এবং আমরা তাঁর প্রিয় স্ত্রী, তাঁর সুন্দর কুমারী: যে স্ত্রীর সাথে তিনি কখনোই অসন্তুষ্ট হন না। কারণ তিনি বলেন: আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং তুমি আমাকে ভালোবাসো, এবং আমাদের প্রেম কখনোই দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হবে না।'''
* আমি সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ ত্রিত্বের কাজ পর্যবেক্ষণ করলাম: যে পর্যবেক্ষণে আমি এই তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখলাম ও বুঝলাম: পিতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, এবং প্রভুত্বের বৈশিষ্ট্য, এক ঈশ্বরের মধ্যে।
* '''তিনি আমাদের মাতা, ভাই, এবং ত্রাণকর্তা।''' এবং আমাদের ভালো প্রভু, পবিত্র আত্মার মধ্যে, আমরা আমাদের জীবন ও আমাদের পরিশ্রমের জন্য আমাদের পুরস্কার ও আমাদের প্রতিদান পাই, এবং আমাদের সমস্ত আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন অতিক্রম, তাঁর বিস্ময়কর সৌজন্যে, তাঁর উচ্চ প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায়।
* '''সমস্ত জীবন ''তিন''-এ আছে: প্রথমটিতে আমাদের অস্তিত্ব আছে, দ্বিতীয়টিতে আমাদের বৃদ্ধি আছে, এবং তৃতীয়টিতে আমাদের পূর্ণতা আছে: প্রথমটি হলো প্রকৃতি, দ্বিতীয়টি হলো [[দয়া]], এবং তৃতীয়টি হলো [[কৃপা]]।'''
* ত্রিত্বের উচ্চ শক্তি আমাদের পিতা, এবং ত্রিত্বের গভীর প্রজ্ঞা আমাদের মাতা, এবং ত্রিত্বের মহান প্রেম আমাদের প্রভু: এবং এই সবই আমরা প্রকৃতিতে এবং আমাদের সারমর্মের তৈরিতে পেয়েছি।
* আমাদের মাতা আমাদের সাথে বিভিন্নভাবে কাজ করছেন: যার মধ্যে আমাদের অংশগুলো অখণ্ড রাখা হয়েছে। কারণ আমাদের মাতা খ্রিস্টে আমরা লাভবান হই ও বৃদ্ধি পাই, এবং দয়ায় তিনি আমাদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার করেন, এবং, তাঁর প্যাশন ও মৃত্যু ও উত্থানের গুণের দ্বারা, আমাদের আমাদের সারমর্মের সাথে একীভূত করেন। এইভাবে আমাদের মাতা দয়া করে তাঁর সমস্ত সন্তানের জন্য কাজ করেন যারা তাঁর প্রতি নমনীয় ও বাধ্য।
* কৃপা দয়ার সাথে কাজ করে, এবং বিশেষ করে দুটি বৈশিষ্ট্যে, যেমনটি দেখানো হয়েছিল: যা কাজ তৃতীয় ব্যক্তির, পবিত্র আত্মার অন্তর্গত। তিনি ''পুরস্কৃত'' করা এবং ''দান'' করার কাজ করেন।
* পুরস্কার দেওয়া হলো সত্যের একটি বিশাল দান যা প্রভু তাকে করেন যে পরিশ্রম করেছে; এবং দান করা হলো একটি সৌজন্যপূর্ণ কাজ যা তিনি কৃপা থেকে মুক্তভাবে করেন, সৃষ্টির প্রাপ্য সমস্ত কিছু পূর্ণ ও অতিক্রম করে।
* আমাদের পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের মধ্যে, আমাদের অস্তিত্ব আছে; এবং দয়ার মাতার মধ্যে আমাদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার আছে: যার মধ্যে আমাদের অংশগুলো একীভূত এবং সব তৈরি হয়েছে নিখুঁত মানুষ; এবং পবিত্র আত্মার কৃপায় নমনীয়তা ও দানের দ্বারা, আমরা পূর্ণ হই।
* '''আমাদের [[সারমর্ম]] আমাদের পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, এবং আমাদের সারমর্ম আমাদের মাতা, ঈশ্বর, সর্ব-প্রজ্ঞা; এবং আমাদের সারমর্ম আমাদের প্রভু পবিত্র আত্মা, ঈশ্বর সর্ব-মঙ্গলময়তার মধ্যে আছে।''' কারণ আমাদের সারমর্ম ত্রিত্বের প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে অখণ্ড, যা হলো এক ঈশ্বর। এবং আমাদের অনুভূতি-আত্মা কেবল দ্বিতীয় ব্যক্তি খ্রিস্ট যিশুতে; যাঁর মধ্যে পিতা ও পবিত্র আত্মা আছেন: এবং তাঁর মধ্যে ও তাঁর দ্বারা আমরা শক্তিশালীভাবে নরক থেকে নেওয়া হই, এবং পৃথিবীতে থাকা দুর্দশা থেকে পূজনীয়ভাবে স্বর্গে উপরে আনা হই এবং পরমানন্দময়ভাবে আমাদের সারমর্মের সাথে একীভূত হই: খ্রিস্টের সমস্ত গুণ দ্বারা, এবং পবিত্র আত্মার কৃপা ও কাজের দ্বারা সমৃদ্ধি ও মহৎতায় বৃদ্ধি পাই।
=== অধ্যায় ৫৯ ===
* '''খ্রিস্ট যিনি মন্দের বিপরীতে ভালো করেন তিনি আমাদের প্রকৃত মাতা: তাঁর থেকে আমরা আমাদের অস্তিত্ব পাই যেখানে মাতৃত্বের ভিত্তি শুরু হয়,—প্রেমের সাথে মিষ্টি সুরক্ষার সাথে, যা অন্তহীনভাবে অনুসরণ করে।'''
* এই সমস্ত পরমানন্দ আমরা দয়া ও কৃপার দ্বারা পাই: যে ধরনের পরমানন্দ আমরা কখনোই পেতাম না বা জানতাম না যদি না মঙ্গলময়তার সেই বৈশিষ্ট্য যা ঈশ্বর তা বিপরীত হতো: যার দ্বারা আমরা এই পরমানন্দ পাই। কারণ মঙ্গলময়তার বিপরীত হিসেবে মন্দকে উঠতে দেওয়া হয়েছে, এবং দয়া ও কৃপার মঙ্গলময়তা মন্দের বিপরীতে কাজ করেছে এবং সবকিছুকে মঙ্গলময়তায় ও পূজায় পরিণত করেছে, তাদের সবার জন্য যারা রক্ষা পাবে। কারণ এটি ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য যা মন্দের বিপরীতে ভালো কাজ করে। এইভাবে যিশু খ্রিস্ট যিনি মন্দের বিপরীতে ভালো করেন তিনি আমাদের প্রকৃত মাতা: তাঁর থেকে আমরা আমাদের অস্তিত্ব পাই,—যেখানে মাতৃত্বের ভিত্তি শুরু হয়,—প্রেমের মিষ্টি সুরক্ষার সাথে যা অন্তহীনভাবে অনুসরণ করে।
* '''ঈশ্বর যেমন সত্যই আমাদের পিতা, তেমনই সত্যই ঈশ্বর আমাদের মাতা; এবং তা তিনি সবকিছুর মধ্যে দেখিয়েছিলেন, এবং বিশেষ করে এই মিষ্টি শব্দগুলোতে যেখানে তিনি বলেন: ''আমিই''। তা হলো, ''আমিই, পিতৃত্বের শক্তি ও মঙ্গলময়তা; আমিই, মাতৃত্বের প্রজ্ঞা; আমিই, আলো ও কৃপা যা সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম: আমিই, ত্রিত্ব, আমিই, ঐক্য: আমি সব ধরনের জিনিসের সার্বভৌম মঙ্গলময়তা। আমিই সেই যা তোমাকে ভালোবাসতে বাধ্য করে: আমিই সেই যা তোমাকে আকাঙ্ক্ষা করতে বাধ্য করে: আমিই, সমস্ত সত্য আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন পূর্ণতা।'' <br> কারণ সেখানে আত্মা সবচেয়ে উচ্চ, সবচেয়ে মহৎ, এবং সবচেয়ে যোগ্য, যেখানে এটি সবচেয়ে নিচু, সবচেয়ে নম্র, এবং সবচেয়ে মৃদু: এবং এই ''সারমর্মীয় ভিত্তি'' থেকে আমরা আমাদের অনুভূতি-অংশে প্রকৃতির উপহার, দয়া ও কৃপার সাহায্য ও গতি দ্বারা আমাদের সমস্ত গুণ পাই: যা ছাড়া আমরা লাভবান হতে পারি না।'''
* আমাদের উচ্চ পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, যিনি অস্তিত্ব, তিনি কোনো সময়ের আগেই আমাদের জানতেন ও ভালোবাসতেন: যে জ্ঞান থেকে, তাঁর বিস্ময়কর গভীর দাতব্যে এবং সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ ত্রিত্বের আগে দেখা পরামর্শে, তিনি ইচ্ছা করেছিলেন যে দ্বিতীয় ব্যক্তি আমাদের মাতা হবেন। আমাদের পিতা, আমাদের মাতা কাজ করেন, আমাদের ভালো প্রভু পবিত্র আত্মা নিশ্চিত করেন: এবং তাই আমাদের ঈশ্বরকে ভালোবাসা আমাদের জন্য যথার্থ যাঁর মধ্যে আমাদের অস্তিত্ব আছে: তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ধন্যবাদ জানিয়ে ও প্রশংসা করে আমাদের তৈরির জন্য, আমাদের মাতার কাছে দয়া ও সহানুভূতির জন্য শক্তিশালীভাবে প্রার্থনা করে, এবং আমাদের প্রভু পবিত্র আত্মার কাছে সাহায্য ও কৃপার জন্য। <br> কারণ এই তিনটির মধ্যে আমাদের সমস্ত জীবন: প্রকৃতি, দয়া, কৃপা: যার থেকে আমরা নম্রতা ও মৃদুতা পাই; ধৈর্য ও সহানুভূতি; এবং পাপ ও মন্দের ঘৃণা,—কারণ পাপ ও মন্দের ঘৃণা করা গুণের জন্য যথাযথভাবে অন্তর্গত। এবং এইভাবে যিশু আমাদের প্রথম তৈরির প্রকৃতিতে আমাদের প্রকৃত মাতা; এবং তিনি কৃপায় আমাদের প্রকৃত মাতা, আমাদের তৈরি প্রকৃতি গ্রহণ করে। সমস্ত সুন্দর কাজ, এবং প্রিয় মাতৃত্বের সমস্ত মিষ্টি প্রাকৃতিক অফিস দ্বিতীয় ব্যক্তির সাথে মিশে আছে: কারণ তাঁর মধ্যে আমরা এই ঐশ্বরিক ইচ্ছা অখণ্ড ও নিরাপদে অন্তহীনভাবে পাই, প্রকৃতি ও কৃপা উভয়টিতেই, তাঁর নিজস্ব প্রকৃত মঙ্গলময়তা থেকে।
* '''আমি ঈশ্বরের মধ্যে মাতৃত্ব পর্যবেক্ষণের তিনটি প্রকার বুঝেছিলাম: প্রথমটি আমাদের প্রকৃতির ''তৈরির'' উপর ভিত্তি করে; দ্বিতীয়টি হলো আমাদের প্রকৃতির ''গ্রহণ''—এবং সেখানে কৃপার মাতৃত্ব শুরু হয়; তৃতীয়টি হলো ''কাজের'' মাতৃত্ব—এবং এর মধ্যে একই কৃপার দ্বারা অন্তহীনভাবে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ও উচ্চতা ও গভীরতায় একটি বিস্তার আছে। এবং সবই এক প্রেম।'''
=== অধ্যায় ৬০ ===
* এখন এই বিস্তার সম্পর্কে আরও একটু বলা প্রয়োজন, যেমনটি আমি আমাদের প্রভুর অর্থে বুঝি: কীভাবে আমরা দয়া ও কৃপার মাতৃত্বের দ্বারা আমাদের প্রকৃতির স্থানে ফিরে আসি, যেখানে আমরা প্রকৃতি-প্রেমের মাতৃত্বের দ্বারা তৈরি হয়েছিলাম: যে সদয়-প্রেম, তা কখনোই আমাদের ত্যাগ করে না। <br> আমাদের সদয় মাতা, আমাদের কৃপাময় মাতা, কারণ তিনি সবকিছুতেই আমাদের মাতা হতে চেয়েছিলেন, তিনি কুমারীর গর্ভে খুব নিচুভাবে ও খুব মৃদুভাবে তাঁর কাজের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
* আমাদের উচ্চ ঈশ্বর সকলের সার্বভৌম প্রজ্ঞা: এই নিচু স্থানে তিনি আমাদের দরিদ্র মাংসে নিজেকে খুব প্রস্তুত ও সজ্জিত করেছিলেন, নিজেই মাতৃত্বের সেবা ও অফিস সব কিছুতে পূরণ করতে।
* '''এই সুন্দর মিষ্টি শব্দ ''মাতা'', তা প্রকৃতির মধ্যে নিজেই এতটাই মিষ্টি ও ঘনিষ্ঠ যে এটি সত্যই ''তাঁর'' ছাড়া আর কারো দ্বারা বলা সম্ভব নয়; এবং তাঁর কাছে যিনি সত্যই তাঁর এবং সবার মাতা।''' মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত হলো প্রাকৃতিক প্রেম, প্রজ্ঞা, ও জ্ঞান; এবং এটি ভালো: কারণ যদিও এটি এমন যে আমাদের শারীরিক জন্মদান আমাদের আধ্যাত্মিক জন্মদানের তুলনায় খুব ছোট, নিচু, ও সাধারণ, তবুও তিনিই তা করেন যে সৃষ্টির মধ্যে যার দ্বারা তা করা হয়। সদয়, ভালোবাসার মাতা যিনি তাঁর শিশুর প্রয়োজন বোঝেন ও জানেন, তিনি একে খুব কোমলভাবে রক্ষা করেন, যেমন মাতৃত্বের প্রকৃতি ও অবস্থা চায়। এবং যখন এটি বয়সে বৃদ্ধি পায়, তিনি তার কাজ পরিবর্তন করেন, কিন্তু তার প্রেম নয়। এবং যখন এটি আরও বয়সে বৃদ্ধি পায়, তিনি সহ্য করেন যে একে vices বা দোষ ভাঙার জন্য মারপিট করা হোক, শিশুকে গুণ ও কৃপা গ্রহণ করতে বাধ্য করতে। '''এই কাজ, সমস্ত সুন্দর ও ভালোর সাথে, আমাদের প্রভু তাদের মধ্যে করেন যার দ্বারা তা করা হয়: এইভাবে তিনি কৃপার কাজের দ্বারা নিম্ন অংশে উচ্চতর অংশের প্রেমের জন্য প্রকৃতিতে আমাদের মাতা। এবং তিনি চান যেন আমরা এটি জানি: কারণ তিনি চান আমাদের সমস্ত প্রেম তাঁর সাথে আবদ্ধ হোক। এবং এতে আমি দেখলাম যে আমাদের সমস্ত কর্তব্য যা আমরা পিতার মাতৃত্ব ও মাতৃত্বের প্রতি ঈশ্বরের আদেশের দ্বারা ঋণী, কারণ ঈশ্বরের পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব ঈশ্বরের প্রতি সত্য ভালোবাসায় পূর্ণ হয়; যা আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম খ্রিস্ট আমাদের মধ্যে কাজ করেন।''' এবং এটি সবকিছুর মধ্যে এবং বিশেষ করে উচ্চ প্রাচুর্যপূর্ণ শব্দগুলোতে দেখানো হয়েছিল যেখানে তিনি বলেন: ''আমিই যাকে তুমি ভালোবাসো।''
=== অধ্যায় ৬১ ===
* আমাদের আধ্যাত্মিক জন্মদানে তিনি সুরক্ষা ও কোমলতা বেশি ব্যবহার করেন, কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই: যতটা আমাদের আত্মা তাঁর দৃষ্টিতে বেশি মূল্যবান। তিনি আমাদের বোঝাপড়া প্রজ্বলিত করেন, তিনি আমাদের পথ নির্দেশ করেন, তিনি আমাদের বিবেক শান্ত করেন, তিনি আমাদের আত্মাকে সান্ত্বনা দেন, তিনি আমাদের হৃদয় আলোকিত করেন, এবং আমাদের দেন, আংশিকভাবে, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ [[দেবত্বের]] জ্ঞান ও বিশ্বাস, তাঁর মিষ্টি মানবতা ও তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্যাশনের প্রতি কৃপাময় মন নিয়ে, তাঁর উচ্চ, অতিক্রমকারী মঙ্গলময়তায় শ্রদ্ধাশীল বিস্ময়ের সাথে; এবং আমাদের ভালোবাসতে বাধ্য করেন যা তিনি ভালোবাসেন, তাঁর প্রেমের জন্য, এবং তাঁর ও তাঁর সমস্ত কাজের সাথে সন্তুষ্ট হতে। এবং যখন আমরা পতিত হই, দ্রুত তিনি আমাদের তাঁর সুন্দর ডাক ও কৃপাময় স্পর্শের দ্বারা উত্থাপন করেন। এবং যখন আমরা তাঁর মিষ্টি কাজের দ্বারা শক্তিশালী হই, তখন আমরা আমাদের সমস্ত ইচ্ছার সাথে তাঁকে বেছে নিই, তাঁর মিষ্টি কৃপার দ্বারা, তাঁর ভৃত্য ও তাঁর প্রেমিক হতে স্থায়ীভাবে অন্তহীনভাবে।
* যদি আমরা কখনোই পতিত না হতাম, তবে আমরা জানতাম না আমরা নিজের থেকে কতটা দুর্বল ও কতটা দুঃখী, এবং এছাড়াও আমরা আমাদের নির্মাতার সেই বিস্ময়কর প্রেম পুরোপুরি জানতাম না। কারণ আমরা স্বর্গে সত্যই দেখতে পাব, অন্তহীনভাবে, যে আমরা এই জীবনে গুরুতরভাবে পাপ করেছি, এবং এটি সত্ত্বেও, আমরা দেখতে পাব যে আমরা তাঁর প্রেমে কখনোই আঘাতপ্রাপ্ত হইনি, তাঁর দৃষ্টিতে আমরা কখনোই কম মূল্যবান ছিলাম না। এবং এই পতনের পরীক্ষার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের প্রেমের একটি উচ্চ, বিস্ময়কর জ্ঞান পাব, অন্তহীনভাবে। কারণ শক্তিশালী ও বিস্ময়কর হলো সেই প্রেম যা ভাঙতে পারে না, বা ভাঙবে না, অপরাধের জন্য।
* '''মাতা কখনো কখনো শিশুকে পতিত হতে দিতে পারেন, এবং নিজের লাভের জন্য বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারেন, কিন্তু তিনি কখনোই সহ্য করতে পারেন না যে প্রেমের জন্য শিশুর কোনো ধরনের বিপদ আসুক।''' এবং যদিও আমাদের পার্থিব মাতা তাঁর শিশুকে ধ্বংস হতে দিতে পারেন, আমাদের স্বর্গীয় মাতা, যিশু, আমাদের সহ্য করতে পারেন না যাঁরা তাঁর সন্তানরা ধ্বংস হোক: কারণ তিনি সর্ব-শক্তিমান, সর্ব-প্রজ্ঞা, এবং সর্ব-প্রেম; এবং তাই তিনি ছাড়া আর কেউ নন,—তিনি আশীর্বাদপূর্ণ হোন!
* প্রায়শই যখন আমাদের পতন ও আমাদের দুর্দশা আমাদের দেখানো হয়, আমরা খুব দুঃখিত হই, এবং নিজেদের নিয়ে খুব বেশি লজ্জিত হই, যে খুব কমই আমরা খুঁজে পাই কোথায় আমরা নিজেদের ধরতে পারি। কিন্তু তখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ মাতা চান না যে আমরা দূরে পালিয়ে যাই, কারণ তাঁর কাছে এর চেয়ে ঘৃণা করার মতো আর কিছুই ছিল না।
* একজন একক ব্যক্তি প্রায়শই ভেঙে যেতে পারেন, যেমনটি তার নিজের মনে হয়, কিন্তু পবিত্র চার্চের পুরো শরীর কখনোই ভেঙে যায়নি, বা কখনোই হবে না, অন্তহীনভাবে।
* তিনি এই সমস্ত কাজের মধ্যে একজন সদয় সেবিকার অফিস ব্যবহার করেন যার নিজের কাজ ছাড়া আর কিছুই নেই কিন্তু তার সন্তানের পরিত্রাণের দিকে মনোযোগ দেওয়া।
* তিনি চান যে আমরা তাঁকে মিষ্টিভাবে ভালোবাসি এবং তাঁর ওপর নম্রভাবে ও শক্তিশালীভাবে আস্থা রাখি। এবং এটি তিনি এই কৃপাময় শব্দগুলোতে দেখিয়েছিলেন: ''আমি তোমাকে খুব নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।''
=== অধ্যায় ৬২ ===
* কারণ সেই সময়ে তিনি আমাদের দুর্বলতা এবং আমাদের পতন, আমাদের কষ্ট এবং আমাদের তুচ্ছতা, আমাদের অবজ্ঞা এবং আমাদের বর্জন, এবং আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা ততদূর দেখিয়েছিলেন যতটা আমার মনে হয়েছিল এই জীবনে ঘটতে পারে। এবং তার সাথে তিনি তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ শক্তি, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্রজ্ঞা, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম দেখিয়েছিলেন: যে তিনি আমাদের এই সময়ে তাঁর পূজার জন্য ততটা কোমলভাবে ও মিষ্টিভাবে রক্ষা করেন, এবং আমাদের পরিত্রাণের জন্য ততটা নিশ্চিতভাবে, যতটা তিনি করেন যখন আমরা সবচেয়ে বেশি সান্ত্বনা ও আরামে থাকি।
* '''ঈশ্বর তাঁর অস্তিত্বে প্রকৃতি: অর্থাৎ, সেই মঙ্গলময়তা যা প্রকৃতি, তা হলো ঈশ্বর। তিনি ভিত্তি, তিনি [[সারমর্ম]], তিনি একই জিনিস যা প্রকৃতি-ত্ব। এবং তিনি প্রকৃতির প্রকৃত পিতা ও প্রকৃত মাতা: এবং সমস্ত প্রকৃতি যা তিনি তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর থেকে প্রবাহিত হতে তৈরি করেছেন তা উদ্ধার হবে এবং মানুষের পরিত্রাণের দ্বারা কৃপার কাজের মাধ্যমে তাঁর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।'''
* সমস্ত প্রকৃতির মধ্যে যা তিনি বিভিন্ন সৃষ্টিতে অংশে স্থাপন করেছেন, মানুষের মধ্যে সবকিছু অখণ্ড; পূর্ণতা ও গুণে, সৌন্দর্যে ও মঙ্গলময়তায়, রাজকীয়তায় ও মহৎতায়, সমস্ত ধরনের মহিমা, মূল্যবানতা ও পূজায়। এখানে আমরা দেখতে পারি যে আমরা প্রকৃতির জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী, এবং আমরা কৃপার জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী।
=== অধ্যায় ৬৩ ===
* '''এখানে আমরা দেখতে পারি যে পাপ ঘৃণা করার জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি থেকে পাই, এবং পাপ ঘৃণা করার জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে কৃপা থেকে পাই। কারণ প্রকৃতি নিজেই সব ভালো ও সুন্দর, এবং কৃপা প্রকৃতিকে রক্ষা করতে ও পাপ ধ্বংস করতে পাঠানো হয়েছিল, এবং সুন্দর প্রকৃতিকে সেই আশীর্বাদপূর্ণ বিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে যেখান থেকে এটি এসেছিল: যা ঈশ্বর; কৃপার গুণের কাজের দ্বারা আরও মহৎতা ও পূজার সাথে। কারণ এটি ঈশ্বরের সামনে তাঁর সমস্ত পবিত্রদের দ্বারা স্বর্গে অন্তহীন আনন্দে দেখা যাবে যে প্রকৃতি যন্ত্রণার আগুনে পরীক্ষিত হয়েছে এবং সেখানে কোনো ত্রুটি, কোনো দোষ পাওয়া যায়নি। এইভাবে প্রকৃতি ও কৃপা একমত: কারণ কৃপা ঈশ্বর, যেমন প্রকৃতি ঈশ্বর: তিনি কাজ করার পদ্ধতিতে দুটি এবং প্রেমে এক; এবং এগুলোর কোনোটিই অন্যটি ছাড়া কাজ করে না: সেগুলো বিচ্ছিন্ন নয়।'''
* যখন আমরা ঈশ্বরের দয়া দ্বারা এবং তাঁর সাহায্যে আমাদের প্রকৃতির সাথে ও কৃপার সাথে সম্মত হই, তখন আমরা সত্যই দেখতে পাব যে পাপ প্রকৃতপক্ষে নরকের চেয়ে বেশি কুৎসিত ও যন্ত্রণাদায়ক, কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই: কারণ এটি আমাদের সুন্দর প্রকৃতির বিপরীত। কারণ যেমন পাপ সত্যই অপবিত্র, তেমন সত্যই এটি অস্বাভাবিক, এবং তাই এটি দেখতে একটি ভয়ানক জিনিস সেই প্রিয় আত্মার জন্য যে ঈশ্বরের দৃষ্টিতে পুরোপুরি সুন্দর ও উজ্জ্বল হতে চায়, যেমন প্রকৃতি ও কৃপা শেখায়।
* আমাদের আত্মার দৃষ্টিতে আমাদের স্বর্গীয় মাতা সুন্দর ও মিষ্টি; আমাদের স্বর্গীয় মাতার দৃষ্টিতে কৃপাময় শিশুরা মূল্যবান ও প্রেমময়, মৃদুতা ও নম্রতা নিয়ে, এবং সমস্ত সুন্দর গুণ নিয়ে যা প্রকৃতিতে শিশুদের অন্তর্গত। কারণ স্বভাবত শিশু মাতার প্রেম থেকে হতাশ হয় না, স্বভাবত শিশু নিজেকে অনুমান করে না, স্বভাবত শিশু মাতাকে এবং একে অপরকে ভালোবাসে। এগুলো হলো সুন্দর গুণ, অন্য সবকিছুর সাথে যা একই রকম, যা দ্বারা আমাদের স্বর্গীয় মাতা সেবা ও সন্তুষ্ট হন।
* আমি এই জীবনে শৈশবের চেয়ে উচ্চতর কোনো উচ্চতা বুঝিনি, দুর্বলতায় এবং শক্তি ও বুদ্ধির ব্যর্থতায়, যতক্ষণ না আমাদের কৃপাময় মাতা আমাদের পিতার পরমানন্দে আমাদের উপরে নিয়ে এসেছেন। এবং তখন তাঁর অর্থ আমাদের কাছে সত্যই জানা যাবে সেই মিষ্টি শব্দগুলোতে যেখানে তিনি বলেন: ''সবকিছু ভালো হবে: এবং তুমি নিজেই দেখবে, যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' এবং তখন আমাদের মাতার পরমানন্দ, খ্রিস্টে, নতুন করে শুরু হবে আমাদের ঈশ্বরের আনন্দে: যে নতুন শুরু অন্তহীনভাবে চলবে, নতুন শুরু। <br> '''এইভাবে আমি বুঝেছিলাম যে তাঁর সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ সন্তানরা যারা প্রকৃতি থেকে তাঁর থেকে এসেছে তারা কৃপার দ্বারা তাঁর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।'''
== পঞ্চদশ প্রকাশ ==
=== অধ্যায় ৬৩ ===
* এই সময়ের আগে ঈশ্বরের উপহার পাওয়ার জন্য আমার মনে এই জগত এবং জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা ছিল। কারণ আমি প্রায়শই এখানকার দুঃখ এবং সেখানে যে আনন্দ ও সুখ রয়েছে তার তুলনা করতাম। (যদি আমাদের প্রভুর অনুপস্থিতি ছাড়া এই জীবনে অন্য কোনো ব্যথা না-ও থাকত, তবে আমার মনে হতো তা মাঝে মাঝে সহ্য করার ক্ষমতার বাইরে ছিল;) এটি আমাকে শোকাতুর এবং অধীর করে তুলেছিল। এছাড়াও আমার নিজের দীনতা, জড়তা এবং দুর্বলতার কারণে আমি বাঁচতে বা পরিশ্রম করতে আগ্রহী ছিলাম না, যা আমার কাজ ছিল। <br> আমাদের দয়ালু প্রভু সান্ত্বনা ও ধৈর্যের সাথে এই সমস্ত কিছুর উত্তর দিয়েছিলেন এবং এই কথাগুলো বলেছিলেন: ''তুমি হঠাৎ তোমার সমস্ত ব্যথা, অসুস্থতা, যন্ত্রণা এবং দুঃখ থেকে মুক্তি পাবে। তুমি ওপরে আমার কাছে আসবে এবং আমিই হবে তোমার পুরস্কার; তুমি ভালোবাসা ও আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠবে। তোমার আর কোনো ব্যথা, অসন্তোষ বা ইচ্ছার অপূর্ণতা থাকবে না; বরং থাকবে অন্তহীন আনন্দ ও সুখ। আমার ইচ্ছা ও আরাধনা অনুযায়ী যদি তোমাকে কিছুকাল কষ্ট সহ্য করতে হয়, তবে তাতে তোমার দুঃখ কী?''
* এই কথাটির মাধ্যমে: ''হঠাৎ তুমি মুক্ত হবে'' — আমি দেখেছি যে ঈশ্বর মানুষের ধৈর্যকে পুরস্কৃত করেন, যা সে তাঁর ইচ্ছাকে মেনে চলার জন্য প্রদর্শন করে। মানুষের জীবনের সময়ের চেয়েও সে তার ধৈর্যকে দীর্ঘায়িত করে। তার প্রস্থানের সময়টি সে জানে না, যা তার জন্য বড় প্রাপ্তি: কারণ একজন মানুষ যদি তার সময় জানত, তবে সে ধৈর্য ধরতে পারত না। ঈশ্বরের ইচ্ছায়, আত্মা যখন শরীরে থাকে, তখন তার মনে হয় সে যেকোনো মুহূর্তেই বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কারণ আমাদের এই জীবন এবং যন্ত্রণা কেবল একটি বিন্দু মাত্র। যখন আমরা হঠাৎ ব্যথা থেকে আনন্দে উন্নীত হই, তখন ব্যথার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।
* সেই সময়ে আমি মাটিতে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি, যা ভারী এবং বীভৎস দেখাচ্ছিল—কোনো আকার বা আকৃতিহীন, যেন দুর্গন্ধযুক্ত কাদার একটি ফোলা স্তূপ। হঠাৎ সেই দেহ থেকে একটি অতি সুন্দর প্রাণী, একটি ছোট শিশু বেরিয়ে এল—সুগঠিত, চটপটে, প্রাণবন্ত এবং লিলির চেয়েও সাদা; যা দ্রুত স্বর্গের দিকে ভেসে গেল। দেহের সেই ফোলা ভাব আমাদের নশ্বর মাংসের চরম দীনতা বোঝায়, আর শিশুটির ক্ষুদ্রতা আত্মার পবিত্রতা প্রকাশ করে। আমার মনে হলো: ''এই দেহের সাথে শিশুটির কোনো সৌন্দর্যের মিল নেই, আবার শিশুটির ওপর দেহের কোনো কলঙ্কও নেই।''
* '''মানুষের থেকে ব্যথা দূর হওয়ার চেয়ে ব্যথা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া অনেক বেশি আনন্দদায়ক। কারণ ব্যথা যদি আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তা আবার ফিরে আসতে পারে। তাই প্রেমময় আত্মার জন্য এটি এক পরম সান্ত্বনা ও আনন্দের বিষয় যে আমাদের ব্যথা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।''' কারণ এই আদেশে আমি এক বিস্ময়কর করুণা দেখেছি যা আমাদের দুঃখের জন্য প্রভু অনুভব করেন এবং পরিত্রাণের এক দয়ালু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি চান আমরা এই উত্তরণের মাধ্যমে সান্ত্বনা পাই; আর তা তিনি এই কথায় প্রকাশ করেছেন: ''এবং তুমি ওপরে আসবে, আমিই হবে তোমার পুরস্কার এবং তুমি আনন্দ ও সুখে পূর্ণ হয়ে উঠবে।''
* ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা যেন আমাদের চিন্তাকে যতটা সম্ভব এই আনন্দময় দর্শনের মধ্যে নিবদ্ধ রাখি—এবং তাঁর কৃপায় যত দীর্ঘ সময় পারি এর মধ্যে থাকি। কারণ ঈশ্বরের দ্বারা পরিচালিত আত্মার জন্য এটি এক আশীর্বাদপুষ্ট ধ্যান এবং যতদিন এটি স্থায়ী হয়, তা তাঁর আরাধনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
* ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা যেন তাঁর আদেশ ও সান্ত্বনাকে যতটা সম্ভব বড় করে ও শক্তিমত্তার সাথে গ্রহণ করি। তিনি এও চান যেন আমরা আমাদের ধৈর্য ও কষ্টকে যতটা সম্ভব হালকাভাবে নিই এবং সেগুলোকে তুচ্ছ করি। কারণ প্রেমের কারণে আমরা সেগুলোকে যত হালকাভাবে নেব এবং সেগুলোকে যত কম গুরুত্ব দেব, সেগুলো অনুভব করার সময় আমাদের ব্যথা তত কম হবে এবং তার জন্য আমরা তত বেশি কৃতজ্ঞতা ও প্রতিদান পাব।
=== অধ্যায় ৬৫ ===
* '''এভাবে আমি বুঝতে পারলাম যে, যে নারী বা পুরুষ এই জীবনে দৃঢ় ইচ্ছার সাথে ভালোবাসার খাতিরে ঈশ্বরকে বেছে নেয়, সে নিশ্চিত থাকতে পারে যে সে চিরকাল ভালোবাসার পাত্র হয়ে থাকবে। এই অন্তহীন ভালোবাসা তার মধ্যে সেই কৃপা কাজ করায়। কারণ তিনি চান যেন আমরা পৃথিবীতে থাকাকালীন স্বর্গের আনন্দের প্রত্যাশায় ততটাই নিশ্চিত থাকি, যতটা নিশ্চিত আমরা সেখানে গিয়ে হব।''' আর আমরা যদি পবিত্রতা ও নম্রতার সাথে এই নিশ্চিতবোধে আনন্দ ও তৃপ্তি পাই, তবে তিনি ততই সন্তুষ্ট হন। আমি যে পবিত্রতার কথা বলছি তা হলো আমাদের প্রভুর প্রতি এক পবিত্র ও দয়ালু ভয়, যার সাথে নম্রতা যুক্ত থাকে। এর মানে হলো, সৃষ্টি তার প্রভুকে বিস্ময়করভাবে মহান এবং নিজেকে বিস্ময়করভাবে ক্ষুদ্র দেখে।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমি নিজেকে তাঁর ভালোবাসার কাছে ততটাই আবদ্ধ দেখব, যেন তিনি আমার জন্য যা যা করেছেন তা সব আমার একার জন্যই করেছেন; প্রতিটি আত্মারই তার প্রেমাস্পদ সম্পর্কে এমনটি ভাবা উচিত। অর্থাৎ, ঈশ্বরের দয়া আমাদের মধ্যে এমন এক ঐক্য তৈরি করে যে, তা সঠিকভাবে বুঝতে পারলে কেউ নিজেকে অন্য কারো থেকে আলাদা করতে পারে না।'''
* এখন আমি তোমাদের পনেরোটি প্রকাশের কথা বলেছি, যেমনটা ঈশ্বর মনে করিয়ে দিয়েছেন—তাঁর পবিত্র আত্মার আলোকচ্ছটা ও স্পর্শে, যা এই প্রকাশগুলোকে দেখিয়েছে। <br> এই পনেরোটি দর্শনের প্রথমটি শুরু হয়েছিল ভোরবেলা, প্রায় চারটার দিকে; আর সেগুলো সুন্দর ও স্থির প্রক্রিয়ায় একের পর এক চলতে থাকে, দিনের নটা পর্যন্ত।
=== অধ্যায় ৬৬ ===
* এরপর ভালো প্রভু পরের রাতে ষোড়শ প্রকাশটি দেখিয়েছিলেন, যা আমি পরে বলব: এই ষোড়শটি ছিল আগের পনেরোটির উপসংহার ও নিশ্চয়তা।
* তবে প্রথমে আমার দুর্বলতা, দীনতা ও অন্ধত্বের কথা তোমাদের বলা প্রয়োজন। — আমি শুরুতেই বলেছি: ''এবং এতেই আমার সমস্ত ব্যথা হঠাৎ দূর হয়ে গেল'': এই ব্যথার কারণে আমি পনেরোটি দর্শনের সময় কোনো কষ্ট বা যন্ত্রণা অনুভব করিনি। শেষে সবকিছু স্তিমিত হয়ে এল এবং আমি আর কিছু দেখতে পেলাম না। শীঘ্রই আমি অনুভব করলাম যে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে এবং ভুগতে হবে; এবং হঠাৎ আমার অসুস্থতা ফিরে এল: প্রথমে মাথায় শব্দ ও গুঞ্জন দিয়ে এবং হঠাৎ আমার পুরো শরীর আগের মতোই অসুস্থতায় ভরে গেল। আমি এতটাই বন্ধ্যা ও শুষ্ক ছিলাম যে মনে হচ্ছিল আমি কখনও খুব সামান্য সান্ত্বনাও পাইনি। একজন হতভাগা প্রাণীর মতো আমি আমার শারীরিক ব্যথার অনুভূতিতে এবং আধ্যাত্মিক ও শারীরিক সান্ত্বনার অভাবে বিলাপ ও চিৎকার করছিলাম।
* তখন একজন ধার্মিক ব্যক্তি আমার কাছে এলেন এবং জানতে চাইলেন আমি কেমন আছি। আমি বললাম, আমি আজ প্রলাপ বকেছি। তিনি উচ্চস্বরে ও মন খুলে হাসলেন। আমি বললাম: ''আমার মুখের সামনে যে ক্রুশটি দাঁড়িয়ে ছিল, আমার মনে হয়েছে সেটি দ্রুত রক্তক্ষরণ করছিল।'' এই কথা শুনে যে ব্যক্তির সাথে আমি কথা বলছিলাম তিনি অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে গেলেন এবং বিস্মিত হলেন। আমি আমার অবহেলার জন্য অত্যন্ত লজ্জিত ও বিস্মিত হলাম এবং ভাবলাম: ''এই মানুষটি আমার বলা ছোট ছোট কথাগুলোও কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।'' এরপর আমি আর কোনো কথা বললাম না।
== ষোড়শ প্রকাশ ==
=== অধ্যায় ৬৭ ===
[[File:William Blake - Christ in the Sepulchre, Guarded by Angels.jpg|thumb||আমাদের [[আত্মা]] কখনোই নিজের নিচের কোনো বস্তুতে শান্তি পেতে পারে না।]]
* '''এরপর আমাদের প্রভু আমার আধ্যাত্মিক চোখ খুলে দিলেন এবং আমার হৃদয়ের মাঝে আমার আত্মাকে দেখালেন। আমি দেখলাম আত্মাটি এত বিশাল যেন তা এক অন্তহীন জগত, এক পরম আনন্দময় রাজ্য। সেখানে আমি যা কিছু দেখলাম, তা থেকে আমি বুঝতে পারলাম এটি একটি মহিমান্বিত [[নগরী]]।''' সেই নগরীর মাঝে উপবিষ্ট আছেন আমাদের প্রভু যিশু, ঈশ্বর ও মানব, বিশাল দেহের অধিকারী এক সুদর্শন ব্যক্তি, পরম যাজক, অতি মহিমান্বিত রাজা ও পরম পূজনীয় প্রভু; আমি তাঁকে মহিমান্বিত পোশাকে দেখলাম। তিনি পরম শ্রদ্ধার সাথে আত্মার মাঝে শান্তিতে ও বিশ্রামে উপবিষ্ট আছেন। এবং [[ঈশ্বরত্ব]] স্বর্গ, পৃথিবী এবং যা কিছু আছে, তা শাসন ও ধারণ করে আছেন—পরম শক্তি, পরম প্রজ্ঞা ও পরম কল্যাণ। যিশু আমাদের ''আত্মার'' মাঝে যে স্থানটি নিয়েছেন, আমার দৃষ্টিতে তিনি তা থেকে চিরকাল সরবেন না; কারণ আমাদের মধ্যেই তাঁর ''সবচেয়ে আপন'' নিবাস ও ''অন্তহীন'' বসতি। এর মাধ্যমে তিনি দেখালেন যে, মানুষের আত্মা সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কতটা সন্তুষ্ট। পিতা যেমন একটি প্রাণ সৃষ্টি করতে পারতেন, পুত্রও যেমন তা করতে পারতেন, পবিত্র আত্মা ঠিক সেভাবেই চেয়েছিলেন যেন মানুষের আত্মা সৃষ্টি হয়: এবং তা-ই করা হয়েছিল। আর এই কারণেই ধন্য ত্রিত্ববাদ মানুষের আত্মা সৃষ্টির আনন্দে চিরকাল বিভোর; কারণ শুরু থেকেই তিনি দেখেছিলেন যা কিছু তাঁকে চিরকাল আনন্দ দেবে।
* '''আমাদের আত্মা কখনোই নিজের নিচের কোনো বস্তুতে শান্তি পেতে পারে না।''' যখন এটি সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে উঠে নিজের সত্তায় আসে, তখনও এটি কেবল নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে না। সমস্ত দৃষ্টি আনন্দের সাথে ঈশ্বরে নিবদ্ধ থাকে, যিনি এর স্রষ্টা এবং এর ভেতরেই বাস করেন। কারণ মানুষের আত্মাই তাঁর প্রকৃত নিবাস; এবং আমার দৃষ্টিতে এই নগরীর সর্বোচ্চ আলো ও উজ্জ্বলতম আভা হলো আমাদের প্রভুর গৌরবময় ভালোবাসা।
* '''ঈশ্বরের সৃষ্টিগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মাঝে তিনি আনন্দ পান—এটি দেখার চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে? কারণ একই দর্শনে আমি দেখেছি, যদি ধন্য ত্রিত্ববাদ মানুষের আত্মাকে এর চেয়ে ভালো, সুন্দর বা মহৎ করে সৃষ্টি করতে পারতেন, তবে তিনি মানুষের আত্মা সৃষ্টির কাজে পূর্ণ সন্তুষ্ট হতেন না।''' এবং তিনি চান আমাদের হৃদয় যেন পৃথিবীর গভীরতা ও সমস্ত তুচ্ছ দুঃখের ঊর্ধ্বে ওঠে এবং তাঁতেই আনন্দ পায়।
=== অধ্যায় ৬৮ ===
* এটি ছিল এক আনন্দদায়ক দৃশ্য ও প্রশান্তিময় প্রত্যাদেশ, যা ''চিরকাল'' থাকবে। আমরা এখানে থাকাকালীন এর দিকে তাকিয়ে থাকা ঈশ্বরের কাছে অত্যন্ত প্রীতিকর এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক; যে আত্মা এভাবে দেখে, তা সেই দর্শনকারী সত্তার মতো হয়ে ওঠে এবং তাঁর কৃপায় শান্তিতে ও বিশ্রামে একীভূত হয়। এবং এটি আমার জন্য ছিল এক অনন্য আনন্দ ও পরম সুখ যে, আমি তাঁকে ''উপবিষ্ট'' দেখলাম: কারণ উপবিষ্ট থাকার নিশ্চয়তা অন্তহীন বসতির ইঙ্গিত দেয়।
* তিনি আমাকে নিশ্চিতভাবে জানতে দিলেন যে, তিনিই আমাকে আগে সবকিছু দেখিয়েছেন। আমি যখন মনোযোগ দিয়ে এটি দেখলাম, তখন আমাদের ভালো প্রভু কোনো কণ্ঠস্বর বা ঠোঁট নাড়ান ছাড়াই অত্যন্ত নম্রভাবে আমাকে বললেন, ঠিক যেমন তিনি আগে করেছিলেন, এবং অতি মধুরভাবে বললেন: ''এখন ভালো করে জেনে নাও যে, আজ তুমি যা দেখেছ তা কোনো প্রলাপ ছিল না। বরং এটি গ্রহণ করো, বিশ্বাস করো, এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো; তুমি কখনোই পরাজিত হবে না।''
* '''এই শেষ কথাগুলো বলা হয়েছিল বিশ্বাস ও সত্য নিশ্চিত করার জন্য যে, আমাদের প্রভু যিশুই আমাকে সবকিছু দেখিয়েছেন। আমাদের ভালো প্রভু প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন, যা তাঁর পরম আনন্দময় দুঃখভোগকে নির্দেশ করে—'এর মাধ্যমেই শয়তান পরাজিত', ঠিক একইভাবে তিনি শেষ কথায় অত্যন্ত সত্য ও নিশ্চিতভাবে আমাদের সবার উদ্দেশ্যে বললেন: 'তুমি পরাজিত হবে না।' '''
* '''এই কথাটি: 'তুমি পরাজিত হবে না', অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও জোরালোভাবে বলা হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে আসা সব বিপদে আমরা নিশ্চিত ও সান্ত্বনা পাই। তিনি বলেননি: 'তুমি ঝড়ঝঞ্ঝার কবলে পড়বে না, তুমি শ্রান্ত হবে না, তুমি দুঃখিত হবে না'; বরং তিনি বলেছেন: 'তুমি পরাজিত হবে না।' ঈশ্বর চান যেন আমরা এই কথাগুলোর প্রতি মনোযোগ দিই এবং ভালো ও মন্দ উভয় সময়েই দৃঢ় বিশ্বাসে অটল থাকি। কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসেন ও আমাদের মাঝে আনন্দ পান, এবং তিনিও চান যেন আমরা তাঁকে ভালোবাসি, তাঁর মাঝে আনন্দ পাই এবং শক্তভাবে তাঁকে বিশ্বাস করি; এবং ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''<br> এবং শীঘ্রই সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল এবং আমি আর কিছুই দেখতে পেলাম না।
=== অধ্যায় ৬৯ ===
* এরপর শয়তান তার উত্তাপ ও দুর্গন্ধ নিয়ে আবার ফিরে এল এবং আমাকে খুব জ্বালাতন করল। দুর্গন্ধটি ছিল অত্যন্ত জঘন্য, বেদনাদায়ক, ভয়াবহ ও কষ্টকর। এছাড়া আমি শারীরিক কথোপকথনের মতো শব্দ শুনতে পেলাম, যেন দুইজন ব্যক্তি কথা বলছে; আমার মনে হলো তারা দুজনেই একই সময়ে খুব ব্যস্ততার সাথে কোনো সভা করছে; কিন্তু সবকিছু ছিল অস্পষ্ট গুঞ্জন, তাই তারা কী বলছে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। আমার মনে হলো, এটি সবই আমাকে নিরাশ করার জন্য ছিল—যেন তারা প্রার্থনা করার সময় আমাদের অভদ্রভাবে মুখ দিয়ে করা প্রার্থনার উপহাস করছিল, যেখানে ভক্তিময় মনোযোগ ও জ্ঞানপূর্ণ পরিশ্রমের অভাব থাকে: যা আমাদের প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।
* আমি মনে মনে বললাম: ''শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে বিশ্বাসে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে তোমাকে এখন অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তুমি যদি এখন থেকে সবসময় নিজেকে পাপ থেকে দূরে রাখতে এতটা ব্যস্ত থাকতে পারতে, তবে তা হতো এক মহান ও শ্রেষ্ঠ কাজ!'' কারণ আমি মনে মনে ভাবলাম, যদি আমি পাপ থেকে নিরাপদ থাকি, তবে আমি নরকের সব শয়তান ও আমার আত্মার শত্রু থেকেও নিরাপদ থাকব।
* এভাবে সে আমাকে সারা রাত ব্যস্ত রাখল এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত। এরপর তারা সবাই চলে গেল; তারা শুধু দুর্গন্ধ রেখে গেল, যা কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল; আর আমি তাকে ঘৃণাভরে অবজ্ঞা করলাম। <br> এবং এভাবে খ্রিষ্টের দুঃখভোগের গুণের মাধ্যমে আমি তার হাত থেকে মুক্তি পেলাম: কারণ ''এর মাধ্যমেই শয়তান পরাজিত'', যেমন আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্ট আগে বলেছিলেন।
=== অধ্যায় ৭০ ===
* '''এই সমস্ত ধন্য প্রত্যাদেশে আমাদের ভালো প্রভু এই বোধ দিলেন যে, এই দর্শনটি সাময়িক: কিন্তু এই ধন্য দর্শনটিকে বিশ্বাসই ধরে রাখে, তাঁর নিজস্ব সদিচ্ছা ও কৃপায়।''' কারণ তিনি আমাকে কোনো চিহ্ন বা লক্ষণ রেখে যাননি যার মাধ্যমে আমি তা চিনতে পারি, কিন্তু তিনি আমাকে সত্য উপলব্ধিতে তাঁর নিজস্ব ধন্য বাণী রেখে গেছেন, আমাকে খুব জোরালোভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তা বিশ্বাস করি। এবং আমি তা-ই করি—তিনি ধন্য হোন!—আমি বিশ্বাস করি যে, তিনিই আমাদের ত্রাণকর্তা যিনি এটি দেখিয়েছেন এবং এটিই সেই বিশ্বাস যা তিনি দেখিয়েছেন: এবং তাই আমি আনন্দচিত্তে এটি বিশ্বাস করি। এবং আমি তাঁর নিজের প্রতিটি অর্থের সাথে আবদ্ধ, পরবর্তী কথাগুলোর মাধ্যমে: ''এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো।''
* এভাবে আমি তা আমার বিশ্বাসে ধরে রাখতে বাধ্য। কারণ যে দিন এটি দেখানো হয়েছিল, যখন দর্শনটি শেষ হয়ে গেল, আমি হতভাগার মতো তা ত্যাগ করলাম এবং প্রকাশ্যে বললাম যে আমি প্রলাপ বকেছি। তখন আমাদের প্রভু যিশু তাঁর দয়ায় এটি হারিয়ে যেতে দিলেন না, বরং তিনি এটি ''আমার আত্মার ভেতরে'' পূর্ণরূপে দেখালেন, তাঁর মূল্যবান ভালোবাসার ধন্য আলোতে: অত্যন্ত জোরালো ও নম্রভাবে এই কথাগুলো বলে: ''এখন ভালো করে জেনে নাও: আজ তুমি যা দেখেছ তা কোনো প্রলাপ ছিল না।'' যেন তিনি বলেছেন: ''দর্শনটি তোমার থেকে দূরে সরে যাওয়ায় তুমি তা হারিয়েছিলে এবং তা ধরে রাখার সামর্থ্য তোমার ছিল না। কিন্তু এখন জেনে নাও''; অর্থাৎ, ''এখন যখন তুমি তা দেখতে পাচ্ছ''। এটি শুধু সেই সময়ের জন্য বলা হয়নি, বরং আমার বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপনের জন্যও বলা হয়েছে, যখন তিনি সাথে সাথে বললেন: ''কিন্তু এটি গ্রহণ করো, বিশ্বাস করো এবং এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো; তুমি পরাজিত হবে না।''
* তাঁর অর্থ হলো এটি যেন আমাদের হৃদয়ে বিশ্বস্তভাবে গেঁথে থাকে: কারণ তিনি চান এটি যেন আমাদের জীবনের শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসে আমাদের সাথে থাকে এবং এরপর পরম আনন্দে। তিনি চান যেন আমরা তাঁর আনন্দময় আদেশের ওপর সবসময় অবিচল বিশ্বাস রাখি—তাঁর কল্যাণকে জেনে। <br> কারণ আমাদের নিজস্ব অন্ধত্ব এবং আমাদের আধ্যাত্মিক শত্রু, ভেতরে ও বাইরে, বিভিন্নভাবে আমাদের বিশ্বাসকে বাধা দেয়; এবং সেইজন্য আমাদের মূল্যবান প্রেমিক আমাদের আধ্যাত্মিক দর্শন ও সত্য শিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পারি। এবং তাই, তিনি আমাদের যেভাবেই শিক্ষা দিন না কেন, তিনি চান যেন আমরা তাঁকে বুদ্ধিমত্তার সাথে উপলব্ধি করি, মধুরভাবে গ্রহণ করি এবং বিশ্বস্তভাবে তাঁর মাঝে থাকি। কারণ আমার দৃষ্টিতে, এই জীবনে বিশ্বাসের চেয়ে বড় কোনো কল্যাণ নেই এবং বিশ্বাসের নিচে আত্মার কোনো সাহায্য নেই; বরং বিশ্বাসের মধ্যেই প্রভু চান যেন আমরা নিজেদের ধরে রাখি। কারণ বিশ্বাসের মধ্যে আমাদের টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের তাঁর কল্যাণ ও তাঁর নিজস্ব কাজের ওপর নির্ভর করতে হবে; এবং তাঁর অনুমতিতে আধ্যাত্মিক শত্রুর মাধ্যমে আমরা বিশ্বাসে পরীক্ষিত হই এবং শক্তিশালী হই। কারণ আমাদের বিশ্বাসের যদি কোনো শত্রুতা না থাকত, তবে তা কোনো পুরস্কারের যোগ্য হতো না, আমাদের প্রভুর সমস্ত শিক্ষায় আমার যে বোধ আছে তা অনুযায়ী।
=== অধ্যায় ৭১ ===
* আমাদের আত্মার প্রতি আমাদের প্রভুর আনন্দময়, মনোরম ও মধুর চাহনি অত্যন্ত আনন্দদায়ক।
* আমি আমাদের প্রভুর তিন ধরণের চাহনির ইঙ্গিত পেয়েছি। প্রথমটি হলো তাঁর দুঃখভোগের চাহনি, যেমনটা তিনি এই জীবনে থাকাকালীন দেখিয়েছেন, যখন তিনি মৃত্যুবরণ করছিলেন। যদিও এই দর্শন শোকাবহ ও উদ্বিগ্ন, তবুও এটি আনন্দময়: কারণ তিনি ঈশ্বর।—দ্বিতীয় ধরণের চাহনি হলো মমতা ও করুণা: এবং তিনি তাঁর সমস্ত প্রেমিকদের, যারা তাঁর দয়ার ওপর নির্ভর করে, তাদের রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে এটি দেখান। তৃতীয়টি হলো আনন্দময় চাহনি, যা চিরকাল থাকবে: এবং এটিই সবচেয়ে বেশি ও দীর্ঘ সময় ধরে ছিল।
* এভাবে আমাদের ব্যথা ও কষ্টের সময়ে তিনি আমাদের তাঁর দুঃখভোগ ও ক্রুশের চাহনি দেখান, তাঁর নিজস্ব ধন্য গুণের মাধ্যমে তা বহন করতে আমাদের সাহায্য করেন। এবং আমাদের পাপের সময়ে তিনি আমাদের মমতা ও করুণার চাহনি দেখান, আমাদের সমস্ত শত্রুর হাত থেকে আমাদের শক্তভাবে রক্ষা করেন ও প্রতিরক্ষা দেন। এবং এই হলো সাধারণ চাহনি যা তিনি আমাদের এই জীবনে দেখান; এর সাথে তৃতীয়টি মিশিয়ে: এবং তা হলো তাঁর আনন্দময় চাহনি, অনেকটা স্বর্গের মতো। এবং তা আধ্যাত্মিক জীবনের মধুর স্পর্শ ও উজ্জ্বল আলোর মাধ্যমে, যার দ্বারা আমরা নিশ্চিত বিশ্বাস, আশা ও দাতব্য কাজে অটল থাকি, অনুতাপ ও ভক্তির সাথে এবং আধ্যাত্মিক চিন্তা ও সব ধরণের প্রকৃত শান্তি ও মধুর সান্ত্বনার সাথে।
=== অধ্যায় ৭২ ===
* এখন আমাকে বলতে হবে যে, আমি কীভাবে সেই প্রাণীদের মাঝে পাপকে প্রাণঘাতী হিসেবে দেখেছি, যারা পাপের জন্য মরবে না, বরং চিরকাল ঈশ্বরের আনন্দে বেঁচে থাকবে।
* '''আমি দেখলাম যে দুটি বিপরীত জিনিস কখনোই এক জায়গায় থাকতে পারে না। সবচেয়ে বিপরীত হলো সর্বোচ্চ আনন্দ এবং গভীরতম বেদনা।''' সর্বোচ্চ আনন্দ হলো অনন্ত জীবনের স্বচ্ছতায় তাঁকে পাওয়া, তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখা, তাঁকে মধুরভাবে অনুভব করা, পরম আনন্দে পূর্ণরূপে পাওয়া। এবং এভাবেই আমাদের প্রভুর আনন্দময় চাহনি করুণায় দেখানো হয়েছিল: যে দর্শনে আমি দেখলাম যে পাপই সবচেয়ে বেশি বিপরীত—এতটাই যে, যতক্ষণ আমরা পাপের কোনো অংশের সাথে জড়িত থাকি, ততক্ষণ আমরা আমাদের প্রভুর আনন্দময় চাহনি স্পষ্টভাবে দেখতে পাব না। এবং আমাদের পাপ যত ভয়াবহ ও গুরুতর, সেই সময়ের জন্য আমরা এই আনন্দময় দর্শন থেকে তত বেশি দূরে থাকি। এবং তাই অনেক সময় আমাদের মনে হয় আমরা মৃত্যুর বিপদে আছি, নরকের এক অংশে আছি, পাপ আমাদের জন্য যে শোক ও বেদনা দেয় তার কারণে। এবং এভাবেই আমরা আমাদের আনন্দময় জীবনের প্রকৃত দর্শন থেকে সাময়িকভাবে মৃত। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝে আমি নিশ্চিতভাবে দেখেছি যে, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা মৃত নই, আর তিনিও আমাদের থেকে কখনোই দূরে সরে যান না। কিন্তু আমাদের মাঝে তিনি পূর্ণ আনন্দ পাবেন না যতক্ষণ না আমরা তাঁর মাঝে পূর্ণ আনন্দ পাই, তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনি সত্যভাবে দেখে। কারণ প্রকৃতিগতভাবে আমরা তার জন্য নিযুক্ত, এবং কৃপার মাধ্যমে তা অর্জন করি। এভাবেই আমি দেখলাম কীভাবে চিরন্তন জীবনের ধন্য প্রাণীদের মাঝে পাপ অল্প সময়ের জন্য প্রাণঘাতী।
* '''আত্মা ভালোবাসার কৃপায় এই আনন্দময় চাহনি যত স্পষ্টভাবে দেখে, তা পূর্ণরূপে দেখার জন্য তত বেশি আকাঙ্ক্ষা করে।''' কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বর আমাদের মাঝে বাস করেন এবং এখানে আমাদের সাথে আছেন, এবং যদিও তিনি কোমল ভালোবাসার কারণে আমাদের জড়িয়ে রাখেন ও ঘিরে রাখেন যাতে তিনি কখনোই আমাদের ছেড়ে না যান, এবং আমাদের জিহ্বা যতটা বলতে পারে বা হৃদয় ভাবতে পারে তার চেয়েও তিনি আমাদের বেশি কাছে আছেন, তবুও আমরা যতক্ষণ না তাঁকে তাঁর আনন্দময় অভিব্যক্তিতে স্পষ্টভাবে দেখি, ততক্ষণ আমরা আর্তনাদ, কান্না বা আকাঙ্ক্ষা থেকে থামতে পারি না। কারণ সেই মূল্যবান আনন্দময় দর্শনে কোনো দুঃখ থাকতে পারে না, আর কোনো সুখও শেষ হতে পারে না।
* এর মধ্যে আমি আনন্দের বিষয় এবং শোকের বিষয় দেখলাম: আনন্দের বিষয়: কারণ আমাদের প্রভু, আমাদের স্রষ্টা, আমাদের এত কাছে এবং আমাদের মাঝে আছেন, এবং আমরা তাঁর মাঝে আছি, তাঁর মহান কল্যাণের মাধ্যমে সুরক্ষার নিশ্চয়তায়; শোকের বিষয়: কারণ আমাদের আধ্যাত্মিক চোখ এতই অন্ধ এবং আমাদের নশ্বর শরীরের ভার ও পাপের অন্ধকারে আমরা এতটাই নিমজ্জিত যে, আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনিতে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই না। না; এবং এই ঝাপসা ভাবের কারণে আমরা খুব কষ্টে তাঁর মহান ভালোবাসায় এবং আমাদের সুরক্ষার নিশ্চয়তায় বিশ্বাস ও ভরসা করতে পারি। এবং সেই কারণেই আমি বলি যে আমরা কখনোই আর্তনাদ বা কান্না থেকে থামতে পারি না। এই "কান্না" মানে সবটা আমাদের শারীরিক চোখের অশ্রু ঝরানো নয়, বরং এর আরও আধ্যাত্মিক অর্থ আছে। কারণ আমাদের আত্মার স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা এতই মহান ও অসীম যে, যদি আমাদের সান্ত্বনার জন্য এবং আমাদের আরামের জন্য সেই সমস্ত মহৎ জিনিস দেওয়া হতো যা ঈশ্বর স্বর্গ ও পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন, এবং আমরা যদি তাঁর নিজস্ব সুন্দর আনন্দময় চাহনি না দেখতাম, তবুও আমরা আর্তনাদ বা আধ্যাত্মিক কান্না থেকে থামতাম না, অর্থাৎ, যন্ত্রণাদায়ক আকাঙ্ক্ষা থেকে, যতক্ষণ না আমরা আমাদের স্রষ্টার সুন্দর আনন্দময় চাহনি সত্যভাবে দেখি। এবং যদি আমরা হৃদয়ে যা ভাবতে পারি ও জিহ্বায় যা বলা যায় এমন সমস্ত বেদনার মাঝেও থাকতাম, তবুও যদি সেই সময়ে আমরা তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনি দেখতে পেতাম, তবে এই বেদনা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারত না।
* '''এভাবেই সেই আনন্দময় দর্শন প্রেমময় আত্মার সমস্ত ধরণের বেদনার অবসান এবং সমস্ত ধরণের আনন্দ ও সুখের পূর্ণতা।''' এবং তা তিনি সেই মহান, চমৎকার কথাগুলোর মাধ্যমে দেখালেন যেখানে তিনি বললেন: '''''আমিই সেই, যে সর্বোচ্চ; আমিই সেই, যে সর্বনিম্ন; আমিই সেই, যে সর্বস্ব।'''''
* আমাদের তিন ধরণের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন: প্রথমটি হলো আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে জানি; দ্বিতীয়টি হলো আমরা নিজেদের জানি: প্রকৃতি ও কৃপায় আমরা তাঁর দ্বারা কী; তৃতীয়টি হলো আমরা নম্রভাবে জানি আমাদের পাপ ও দুর্বলতা সম্পর্কে আমাদের নিজেদের স্বরূপ কী। এবং আমার বোধগম্যতায় এই তিনটির জন্যই সমস্ত প্রত্যাদেশ তৈরি করা হয়েছিল।
=== অধ্যায় ৭৩ ===
* আমাদের প্রভুর সমস্ত ধন্য শিক্ষা তিনটি অংশের মাধ্যমে দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, শারীরিক দর্শন, আমার উপলব্ধিতে তৈরি শব্দ এবং আধ্যাত্মিক দর্শন। শারীরিক দর্শনের জন্য, আমি যেমন দেখেছি তা বলেছি, যতটা সত্যভাবে পারি; এবং শব্দের জন্য, আমি সেগুলো ঠিক সেভাবেই বলেছি যেভাবে আমাদের প্রভু আমাকে দেখিয়েছেন; এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের জন্য, আমি কিছু অংশ বলেছি, কিন্তু আমি তা কখনোই পুরোপুরি বলতে পারব না: এবং তাই এই দর্শনের বিষয়ে আমি আরও বলার জন্য অনুপ্রাণিত, যেমন ঈশ্বর কৃপা দেবেন।
* ''সাধারণত'', তিনি ''পাপ'' দেখালেন, যার মধ্যে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু বিশেষভাবে তিনি কেবল এই দুটি দেখালেন। এবং এই দুটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় ও উদ্বিগ্ন করে, আমাদের প্রভু আমাকে যা দেখিয়েছেন তা অনুযায়ী; এবং তিনি চান যেন আমরা এদের থেকে সংশোধিত হই। আমি এমন পুরুষ ও নারীদের কথা বলছি যারা ঈশ্বরের ভালোবাসার জন্য পাপকে ঘৃণা করে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে: তখন আমাদের আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব ও শারীরিক ভারীত্বের কারণে আমরা এগুলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকি। এবং তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা যে এগুলো জানা হোক, কারণ তখন আমরা অন্য পাপের মতো এগুলোকেও প্রত্যাখ্যান করব।
* এর সাহায্যের জন্য, আমাদের প্রভু অত্যন্ত নম্রভাবে তাঁর কঠিন দুঃখভোগে তাঁর ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন; এবং ভালোবাসার জন্য সেই দুঃখভোগের আনন্দ ও সন্তুষ্টিও তিনি দেখিয়েছেন। এবং তিনি উদাহরণস্বরূপ এটি দেখালেন যে, আমাদের কষ্টগুলো আনন্দ ও প্রজ্ঞার সাথে বহন করা উচিত, কারণ তা তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রীতিকর এবং আমাদের জন্য চিরন্তন লাভজনক। '''এবং আমরা যে এদের দ্বারা কষ্ট পাই তার কারণ হলো ভালোবাসার জ্ঞানের অভাব।''' যদিও ত্রিত্ববাদের তিনটি ব্যক্তি নিজ নিজ স্থানে সমান, তবুও আত্মা ভালোবাসার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করেছে; হ্যাঁ, এবং '''তিনি চান যেন সব কিছুতে আমরা আমাদের দৃষ্টি ও আনন্দ ভালোবাসায় রাখি। এবং এই জ্ঞান সম্পর্কে আমরা সবচেয়ে বেশি অন্ধ। কারণ আমাদের কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান এবং সব করতে পারেন, এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং সব জানেন; কিন্তু তিনি সর্ব-ভালোবাসা এবং সব করবেন, সেখানে আমরা থেমে যাই। এবং আমার দৃষ্টিতে, এই না-জানাটাই ঈশ্বরের প্রেমিকদের সবচেয়ে বেশি বাধা দেয়।'''
* যখন আমরা পাপকে ঘৃণা করতে শুরু করি এবং পবিত্র গির্জার বিধান অনুযায়ী নিজেদের সংশোধন করি, তখনও একটি ভয় থেকে যায় যা আমাদের বাধা দেয়, কারণ আমাদের নিজেদের এবং আমাদের পূর্বের পাপগুলোর দিকে তাকালে। এবং আমাদের কেউ কেউ প্রতিদিনের পাপের কারণে: কারণ আমরা আমাদের অঙ্গীকার পালন করি না, বা আমাদের প্রভু আমাদের যে পবিত্রতায় রেখেছেন তা রক্ষা করি না, বরং বারবার এত জঘন্যতায় পড়ি যে তা দেখা লজ্জাজনক। এবং এই দিকে তাকানো আমাদের এতটাই দুঃখিত ও ভারাক্রান্ত করে যে, আমরা খুব কষ্টে কোনো সান্ত্বনা পাই। <br> '''এবং এই ভয়টিকে আমরা অনেক সময় নম্রতা বলে মনে করি, কিন্তু এটি একটি জঘন্য অন্ধত্ব ও দুর্বলতা। এবং আমরা এটিকে অন্য পাপের মতো ঘৃণা করতে পারি না, যা আমরা জানি: কারণ এটি শত্রুতা থেকে আসে, এবং এটি সত্যের বিরুদ্ধে। কারণ এটি ঈশ্বরের ইচ্ছা যে ধন্য ত্রিত্ববাদের সমস্ত গুণের মধ্যে আমরা ভালোবাসায় সবচেয়ে বেশি নিশ্চয়তা ও সান্ত্বনা পাব: কারণ ভালোবাসা শক্তি ও প্রজ্ঞাকে আমাদের কাছে অত্যন্ত নম্র করে তোলে। কারণ ঈশ্বরের সৌজন্যে তিনি আমাদের পাপ ক্ষমা করে দেন যখন আমরা অনুতাপ করি, ঠিক সেভাবেই তিনি চান যেন ''আমরা'' আমাদের পাপ ক্ষমা করি, আমাদের অবাধ্য ভারীত্ব ও সন্দেহজনক ভয়ের বিষয়ে।'''
=== অধ্যায় ৭৪ ===
* আমি চার ধরণের ভয় বুঝি। একটি হলো এমন ভয়ের আতঙ্ক যা দুর্বলতার কারণে হঠাৎ মানুষের মধ্যে আসে। এই ভয় ভালো কাজ করে, কারণ এটি মানুষকে শুদ্ধ করতে সাহায্য করে, যেমন শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো বেদনা যা পাপ নয়। কারণ এই সমস্ত বেদনা মানুষকে সাহায্য করে যদি তা ধৈর্য সহকারে গ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয়টি হলো বেদনার ভয়, যার মাধ্যমে মানুষ পাপের ঘুম থেকে জেগে ওঠে। যতক্ষণ না সে এই বেদনার ভয়, শারীরিক মৃত্যু, আধ্যাত্মিক শত্রুদের সম্পর্কে বোধ পায়, ততক্ষণ সে পবিত্র আত্মার মৃদু সান্ত্বনা বুঝতে পারে না; এবং এই ভয় আমাদের ঈশ্বরের সান্ত্বনা ও দয়া খুঁজতে উৎসাহিত করে, এবং এভাবেই এই ভয় আমাদের সাহায্য করে, এবং পবিত্র আত্মার ধন্য স্পর্শের মাধ্যমে অনুতাপ করতে সক্ষম করে। তৃতীয়টি হলো সন্দেহজনক ভয়। সন্দেহজনক ভয় যেহেতু হতাশায় টেনে নেয়, ঈশ্বর চান যেন ভালোবাসার জ্ঞানের মাধ্যমে তা আমাদের মধ্যে ভালোবাসায় পরিণত হয়: অর্থাৎ, সন্দেহের তিক্ততা যেন কৃপার মাধ্যমে স্বাভাবিক ভালোবাসার মাধুর্যে পরিণত হয়। কারণ ঈশ্বরের সেবকরা তাঁর কল্যাণে সন্দেহ করে, তা কখনোই আমাদের প্রভুর কাছে প্রীতিকর হতে পারে না। চতুর্থটি হলো শ্রদ্ধাশীল ভয়: কারণ আমাদের মধ্যে শ্রদ্ধাশীল ভয় ছাড়া অন্য কোনো ভয় ঈশ্বরকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারে না। এবং তা অত্যন্ত মৃদু, কারণ এটি যত বেশি থাকে, ভালোবাসার মাধুর্যের জন্য তত কম অনুভূত হয়।'''
* '''ভালোবাসা ও ভয় ভাই-বোন, এবং তারা আমাদের স্রষ্টার কল্যাণে আমাদের মধ্যে প্রোথিত, এবং তারা কখনোই আমাদের থেকে চিরকাল দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে না। আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে ভালোবাসার এবং কৃপা দ্বারা ভালোবাসার ক্ষমতা আছে: এবং আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে ভয়ের এবং কৃপা দ্বারা ভয়ের ক্ষমতা আছে।''' প্রভুত্ব ও পিতৃত্বের জন্য ভয় পাওয়া উচিত, যেমন কল্যাণের জন্য ভালোবাসা পাওয়া উচিত: এবং আমাদের জন্য, যারা তাঁর সেবক ও সন্তান, তাঁর প্রভুত্ব ও পিতৃত্বের জন্য তাঁকে ভয় করা উচিত, যেমন কল্যাণের জন্য তাঁকে ভালোবাসা উচিত।
* '''যদিও এই শ্রদ্ধাশীল-ভয় ও ভালোবাসা আলাদা নয়, তবুও তারা উভয়ই এক নয়, বরং তারা বৈশিষ্ট্য ও কাজে দুটি, এবং তাদের একটি ছাড়া অন্যটি পাওয়া যায় না। তাই আমি নিশ্চিত, যে ভালোবাসে, সে ভয়ও পায়, যদিও সে তা খুব কম অনুভব করে।'''
* শ্রদ্ধাশীল ভয় ছাড়া অন্য সব ভয় যা আমাদের সামনে আসে, যদিও তারা পবিত্রতার ছদ্মবেশে আসে তবুও তা তেমন সত্য নয়, এবং এর মাধ্যমে তারা আলাদাভাবে চেনা যায়। — যে ভয় আমাদের তাড়াহুড়ো করে যা ভালো নয় তা থেকে পালাতে এবং আমাদের প্রভুর বুকে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে, যেমন শিশু মায়ের কোলে যায়, আমাদের সমস্ত উদ্দেশ্য ও মন নিয়ে, আমাদের দুর্বলতা ও মহান প্রয়োজন জেনে, তাঁর চিরন্তন কল্যাণ ও ধন্য ভালোবাসা জেনে, কেবল তাঁর কাছে পরিত্রাণ চেয়ে, নিশ্চিত ভরসার সাথে লেগে থাকা: যে ভয় আমাদের এই কাজে নিয়ে আসে, তা স্বাভাবিক, কৃপাপূর্ণ, ভালো ও সত্য। এবং যা এর বিপরীত, তা হয় ভুল, অথবা ভুলের সাথে মিশ্রিত। তখন প্রতিকার হলো এই দুটিকে চেনা এবং ভুলটিকে প্রত্যাখ্যান করা।
* পবিত্র আত্মার কৃপাপূর্ণ কাজের মাধ্যমে এই জীবনে আমাদের যে ভয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য আছে, স্বর্গে ঈশ্বরের সামনেও তা একই থাকবে, ভদ্র, বিনয়ী ও পরম আনন্দদায়ক। এবং এভাবেই আমরা ভালোবাসায় ঈশ্বরের প্রতি আপন ও নিকটবর্তী হব, এবং আমরা ভয়ে ঈশ্বরের প্রতি ভদ্র ও বিনয়ী হব: এবং উভয়ই সমান।
* আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে আমরা প্রার্থনা করি যেন আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ভয় করি, নম্রভাবে ভালোবাসি, শক্তভাবে বিশ্বাস করি; কারণ যখন আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ভয় করি এবং নম্রভাবে ভালোবাসি, তখন আমাদের বিশ্বাস কখনোই বৃথা যায় না। কারণ আমরা যত বেশি এবং যত শক্তভাবে বিশ্বাস করি, আমরা আমাদের প্রভুকে তত বেশি সন্তুষ্ট ও পূজা করি যাঁকে আমরা বিশ্বাস করি। এবং যদি আমরা এই শ্রদ্ধাশীল ভয় ও নম্র ভালোবাসায় ব্যর্থ হই (ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন!), তবে আমাদের বিশ্বাস সাময়িকভাবে ভুল পথে পরিচালিত হবে। এবং তাই আমাদের প্রভুর কাছে কৃপার জন্য প্রার্থনা করা খুব প্রয়োজন যেন আমরা তাঁর উপহার হিসেবে, হৃদয়ে ও কাজে এই শ্রদ্ধাশীল ভয় ও নম্র ভালোবাসা পাই। কারণ এটি ছাড়া, কেউ ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে না।
=== অধ্যায় ৭৫ ===
* আমি দেখলাম যে ঈশ্বর আমাদের যা প্রয়োজন তা করতে পারেন। এবং এই তিনটি যা আমি বলব আমাদের প্রয়োজন: ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা, মমতা। ভালোবাসায় মমতা আমাদের প্রয়োজনের সময়ে আমাদের রক্ষা করে; এবং একই ভালোবাসায় আকাঙ্ক্ষা আমাদের স্বর্গে টেনে নেয়। কারণ ঈশ্বরের তৃষ্ণা হলো সাধারণ মানুষকে তাঁর কাছে পাওয়া: এই তৃষ্ণায় তিনি তাঁর পবিত্রদের টেনে নিয়েছেন যারা এখন আনন্দে আছে; এবং তাঁর জীবন্ত সদস্যদের পেয়ে, তিনি সবসময় টেনে নেন ও পান করেন, এবং তবুও তিনি তৃষ্ণার্ত ও আকাঙ্ক্ষী থাকেন।
* আমি ঈশ্বরের মধ্যে তিন ধরণের আকাঙ্ক্ষা দেখলাম, এবং সবই এক লক্ষ্যের দিকে; যার একই রূপ আমাদের মধ্যেও আছে, এবং একই গুণের দ্বারা ও একই লক্ষ্যের জন্য। <br> প্রথমটি হলো, তিনি আমাদের শেখানোর জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন যেন আমরা তাঁকে জানি এবং তাঁকে চিরকাল ভালোবাসি, যেমনটি আমাদের জন্য সুবিধাজনক ও কল্যাণকর। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি আমাদের তাঁর আনন্দে টেনে নেওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন, যেমন আত্মা যখন বেদনা থেকে স্বর্গে নেওয়া হয়। তৃতীয়টি হলো আমাদের আনন্দে পূর্ণ করা; এবং তা শেষ বিচারের দিনে হবে, চিরস্থায়ীভাবে পূর্ণ হবে। কারণ আমি দেখেছি, যেমন আমাদের বিশ্বাসে জানা আছে, যে যারা রক্ষা পাবে তাদের সবার বেদনা ও দুঃখ শেষ হবে। এবং আমরা কেবল সেই আনন্দই পাব না যা আত্মারা আগে স্বর্গে পেয়েছে, বরং আমরা একটি নতুন আনন্দও পাব, যা প্রচুরভাবে ঈশ্বর থেকে আমাদের মধ্যে প্রবাহিত হবে এবং আমাদের পূর্ণ করবে; এবং এগুলোই সেই সামগ্রী যা তিনি শুরু থেকেই আমাদের দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করেছেন। এই সামগ্রীগুলো তাঁর নিজের মধ্যেই সঞ্চিত ও লুকানো আছে; কারণ সেই সময় পর্যন্ত প্রাণী তা পাওয়ার মতো শক্তিশালী বা যোগ্য নয়।
* এতে আমরা সত্যভাবে সেই সব জিনিসের কারণ দেখতে পাব যা তিনি করেছেন; এবং সবসময় আমরা সেই সব জিনিসের কারণ দেখব যা তিনি সহ্য করেছেন। এবং আনন্দ ও পূর্ণতা এতটাই গভীর ও উচ্চ হবে যে, বিস্ময় ও আশ্চর্যের কারণে, সমস্ত প্রাণীর ঈশ্বরের প্রতি এত মহান শ্রদ্ধাশীল ভয় থাকবে, যা আগে দেখা ও অনুভূত হয়েছে তা ছাড়িয়ে, যে স্বর্গের স্তম্ভগুলো কাঁপবে। কিন্তু এই ধরণের কম্পন ও ভয়ের কোনো বেদনা থাকবে না; বরং ঈশ্বরের যোগ্য শক্তির জন্যই প্রাণীদের দ্বারা এভাবে দেখা, মহান ভয়ে নম্রতার জন্য কাঁপতে কাঁপতে, স্রষ্টা ঈশ্বরের মহানতা এবং যা সৃষ্টি হয়েছে তার ক্ষুদ্রতার প্রতি বিস্মিত হতে হয়। কারণ এটি দেখা প্রাণীটিকে চমৎকারভাবে নম্র ও মৃদু করে তোলে। <br> তাই ঈশ্বর চান — এবং এটি আমাদের প্রকৃতি ও কৃপা উভয় দিক থেকেই উচিত — যেন আমরা এটি সম্পর্কে জানি ও বুঝি, এই দর্শন ও কাজ কামনা করি; কারণ এটি আমাদের সঠিক পথে নিয়ে যায়, এবং সত্য জীবনে আমাদের রাখে, এবং ঈশ্বরের সাথে আমাদের একীভূত করে। এবং ঈশ্বর যতটা ভালো, তিনি ততটাই মহান; এবং তাঁর কল্যাণকে ভালোবাসা যতটা উচিত, তাঁর মহানতাকে ভয় করাও ততটাই উচিত। কারণ এই শ্রদ্ধাশীল ভয়ই হলো সেই সুন্দর সৌজন্য যা স্বর্গে ঈশ্বরের মুখের সামনে আছে। এবং তিনি এখন যতটা পরিচিত ও সমাদৃত, তখন তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি পরিচিত ও সমাদৃত হবেন, যতটা তিনি এখন, তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি ভয় পাবেন। <br> তাই স্তম্ভগুলো কাঁপলে আকাশ ও পৃথিবী যে কাঁপবে, তা হওয়া অনিবার্য।
=== অধ্যায় ৭৬ ===
[[File:Bischheim Temple38.JPG|thumb|আমি [[মমতা]]র দর্শনে বুঝেছিলাম।]]
* '''আমি শ্রদ্ধাশীল [[ভয়]] সম্পর্কে খুব কম বলি, কারণ আমার [[আশা]] আছে এটি উপরের এই বিষয়ে দেখা যেতে পারে। কিন্তু আমি জানি আমাদের প্রভু আমাকে এমন কোনো আত্মা দেখাননি যারা তাঁকে ভয় পায় না। কারণ আমি জানি যে আত্মা সত্যিকার অর্থে পবিত্র আত্মার শিক্ষা গ্রহণ করে, তা পাপকে তার জঘন্যতা ও ভয়াবহতার জন্য নরকে থাকা সমস্ত [[বেদনা]]র চেয়েও বেশি ঘৃণা করে।''' কারণ যে আত্মা আমাদের প্রভু যিশুর সুন্দর প্রকৃতির দিকে তাকায়, আমার দৃষ্টিতে সে পাপ ছাড়া কোনো নরক ঘৃণা করে না। এবং তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা পাপকে জানি, এবং ব্যস্তভাবে প্রার্থনা করি ও আন্তরিকভাবে পরিশ্রম করি এবং নম্রভাবে শিক্ষা খুঁজি যেন আমরা অন্ধভাবে তার মধ্যে না পড়ি; এবং যদি আমরা পড়ি, তবে আমরা যেন দ্রুত উঠে পড়ি। কারণ পাপের দ্বারা কোনো সময় ঈশ্বর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আত্মার জন্য সবচেয়ে বড় বেদনা।
* '''যে আত্মা বিশ্রামে থাকতে চায় যখন অন্য মানুষের পাপ মনে পড়ে, সে তাকে নরকের বেদনার মতো পালাবে, প্রতিকারের জন্য ঈশ্বরের কাছে খুঁজবে, এর বিরুদ্ধে সাহায্যের জন্য।''' কারণ অন্য মানুষের পাপের দিকে তাকানো আত্মার চোখের সামনে একটি ঘন কুয়াশার মতো তৈরি করে, এবং আমরা সেই সময়ের জন্য ঈশ্বরের সৌন্দর্য দেখতে পাই না, যদি না আমরা তার সাথে অনুতাপের সাথে, তার প্রতি মমতার সাথে এবং তার জন্য ঈশ্বরের প্রতি পবিত্র আকাঙ্ক্ষার সাথে তাদের দেখতে পাই। কারণ এটি ছাড়া, যে তাদের দেখে সেই আত্মাকে তা ক্ষতি করে, উদ্বিগ্ন করে ও বাধা দেয়। কারণ আমি মমতার দর্শনে এটি বুঝেছিলাম।
* '''আমাদের প্রভুর এই আনন্দময় দর্শনে আমি দুটি বিপরীত জিনিসের বোধ পেয়েছি: একটি হলো এই জীবনে কোনো প্রাণীর সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা, অন্যটি হলো সবচেয়ে বড় মূর্খতা।''' সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা হলো একটি প্রাণীর তার সর্বোচ্চ সার্বভৌম [[বন্ধু]]র ইচ্ছা ও পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা। এই ধন্য বন্ধু হলেন [[যিশু]], এবং এটি তাঁর ইচ্ছা ও তাঁর পরামর্শ যে আমরা তাঁর সাথে থাকি, এবং তাঁর সাথে আপন হয়ে লেগে থাকি—চিরকাল, আমরা যে অবস্থাতেই থাকি না কেন; কারণ আমরা অপরিষ্কার বা পরিষ্কার যাই হই না কেন, তাঁর ভালোবাসায় আমরা সবাই এক। সুখ বা দুঃখের জন্য তিনি কখনোই চান না যেন আমরা তাঁর থেকে পালাই। কিন্তু আমাদের নিজেদের যে পরিবর্তনশীলতা আছে তার কারণে, আমরা প্রায়শই পাপে পড়ি। তখন আমাদের শত্রুর তাড়নায় এবং আমাদের নিজস্ব মূর্খতা ও অন্ধত্বের কারণে এটি ঘটে: কারণ তারা এভাবে বলে: ''তুমি দেখছ যে তুমি একজন জঘন্য প্রাণী, একজন পাপী, এবং অবিশ্বস্তও। কারণ তুমি আদেশ পালন করছ না; তুমি বারবার আমাদের প্রভুর কাছে প্রতিজ্ঞা করছ যে তুমি ভালো হবে, এবং তারপরেই, তুমি আবার একই পাপে পড়ছ, বিশেষ করে অলসতা ও [[সময়]] নষ্ট করায়।'' (কারণ আমার দৃষ্টিতে এটিই পাপের [[শুরু]], — এবং বিশেষ করে সেই প্রাণীদের জন্য যারা তাদের ধন্য কল্যাণের অভ্যন্তরীণ দর্শনের সাথে আমাদের প্রভুর সেবা করতে নিজেদের দিয়েছে।) এবং এটি আমাদের আমাদের সৌজন্যশীল প্রভুর সামনে উপস্থিত হতে ভয় দেখায়। '''এভাবেই আমাদের [[শত্রু]] আমাদের তার [[মিথ্যা]] ভয় দিয়ে, আমাদের জঘন্যতার, সেই [[বেদনা]] দিয়ে যা সে আমাদের হুমকি দেয়, পিছিয়ে দিতে চায়। কারণ তার অর্থ হলো আমাদের এত ভারাক্রান্ত ও ক্লান্ত করা, যেন আমাদের [[চিরন্তন]] বন্ধুর সুন্দর, আনন্দময় দর্শন মন থেকে মুছে ফেলি।'''
=== অধ্যায় ৭৭ ===
* '''আমাদের ভালো প্রভু শয়তানের শত্রুতা দেখালেন: যে দর্শনে আমি বুঝলাম যে ভালোবাসা ও শান্তির বিপরীত সবকিছুই শয়তানের ও তার অংশের।''' এবং আমাদের, আমাদের দুর্বলতা ও মূর্খতার কারণে, পড়ার প্রবণতা আছে; এবং আমাদের, পবিত্র আত্মার দয়া ও কৃপার কারণে, আরও আনন্দে ওঠার সুযোগ আছে।
* আসুন আমাদের চিন্তায় এভাবে বলি: ''আমি জানি আমার তীব্র বেদনা আছে; কিন্তু আমাদের প্রভু সর্বশক্তিমান এবং আমাকে শক্তভাবে শাস্তি দিতে পারেন; এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং আমাকে বুঝেশুনে শাস্তি দিতে পারেন; এবং তিনি সর্ব-কল্যাণ এবং আমাকে খুব কোমলভাবে ভালোবাসেন।'' এবং এই দর্শনে আমাদের অবস্থান করা প্রয়োজন; কারণ এটি একটি পাপী আত্মার প্রেমময় নম্রতা, যা পবিত্র আত্মার দয়া ও কৃপায় তৈরি, যখন আমরা স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে আমাদের প্রভুর চাবুক ও শাসন গ্রহণ করি যা তিনি নিজে আমাদের দেবেন। এবং এটি খুব কোমল ও সহজ হবে, যদি আমরা কেবল তাঁর সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে সন্তুষ্ট থাকি।
* মানুষ নিজে যে প্রায়শ্চিত্ত গ্রহণ করে তা আমাকে দেখানো হয়নি: অর্থাৎ, তা নির্দিষ্ট করে দেখানো হয়নি। কিন্তু বিশেষভাবে ও উঁচুমানে এবং খুব প্রেমময় দৃষ্টিতে এটি দেখানো হয়েছিল যে, আমাদের নম্রভাবে বহন করতে হবে ও সহ্য করতে হবে সেই প্রায়শ্চিত্ত যা ঈশ্বর নিজে আমাদের দেন, তাঁর ধন্য দুঃখভোগের স্মরণের সাথে।
* তিনি বলেন:''' ''নিজেকে খুব বেশি দোষ দিও না, এই ভেবে যে তোমার কষ্ট ও তোমার শোক সব তোমার দোষের জন্য; কারণ আমি চাই না তুমি অবিবেচকের মতো ভারাক্রান্ত বা শোকাহত হও। কারণ আমি তোমাকে বলি, তুমি যা-ই করো না কেন, তোমার দুঃখ থাকবেই। এবং তাই আমি চাই তুমি বুদ্ধিমত্তার সাথে তোমার প্রায়শ্চিত্ত জানো; এবং সত্যে দেখবে যে তোমার সমস্ত জীবনই লাভজনক প্রায়শ্চিত্ত।'' '''
* এই স্থানটি কারাগার এবং এই জীবনটি প্রায়শ্চিত্ত, এবং প্রতিকারে তিনি চান যেন আমরা আনন্দ করি। প্রতিকার হলো আমাদের প্রভু আমাদের সাথে আছেন, রক্ষা করছেন এবং আনন্দের পূর্ণতায় নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে এটি আমাদের জন্য এক অন্তহীন আনন্দ, যে তিনি, যিনি আমাদের সুখ হবেন যখন আমরা সেখানে থাকব, তিনিই আমাদের রক্ষক যখন আমরা এখানে আছি। আমাদের পথ ও আমাদের স্বর্গ হলো প্রকৃত ভালোবাসা ও নিশ্চিত ভরসা; এবং এর সবকিছুর বিষয়ে তিনি বোধ দিয়েছেন এবং বিশেষ করে দুঃখভোগের দর্শনে যেখানে তিনি আমাকে আমার স্বর্গ হিসেবে তাঁকে বেছে নিতে শক্তভাবে উৎসাহিত করেছেন।
* আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু চান যেন আমরা তাঁর সাথে এতটাই আপন হই যতটা হৃদয় ভাবতে পারে বা আত্মা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে। কিন্তু সাবধান, আমরা যেন এই আপনতাকে এত বেপরোয়াভাবে না নিই যে সৌজন্য হারিয়ে ফেলি। কারণ আমাদের প্রভু নিজে পরম আপনতা, এবং তিনি যতটা আপন, ততটাই সৌজন্যশীল: কারণ তিনি সত্যই সৌজন্যশীল। এবং ধন্য প্রাণীরা যারা চিরকাল তাঁর সাথে স্বর্গে থাকবে, তিনি চান তারা যেন সব কিছুতে তাঁর মতো হয়। এবং আমাদের প্রভুর মতো পুরোপুরি হওয়া, তা-ই আমাদের প্রকৃত পরিত্রাণ ও আমাদের পূর্ণ আনন্দ।
=== অধ্যায় ৭৮ ===
* আমাদের প্রভু তাঁর দয়া ও কৃপার মিষ্টি আলোতে আমাদের পাপ ও দুর্বলতা দেখান; কারণ আমাদের পাপ এতটাই জঘন্য ও ভয়াবহ যে তিনি তাঁর সৌজন্যে তা আমাদের সামনে দেখাবেন না যদি না তাঁর কৃপা ও দয়ার আলোতে।
* তাই চারটি জিনিসের জ্ঞান তাঁর ইচ্ছা: প্রথমটি হলো, তিনি আমাদের ভিত্তি যার থেকে আমরা আমাদের সমস্ত জীবন ও অস্তিত্ব পাই। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি আমাদের পাপের সময়ে এবং আমাদের সমস্ত শত্রুদের মাঝে, যারা আমাদের ওপর খুব ক্রুদ্ধ, আমাদের শক্তভাবে ও দয়াপূর্বক রক্ষা করেন; এবং আমরা এতটাই বেশি বিপদে আছি কারণ আমরা তাদের সুযোগ দিই, এবং আমাদের নিজস্ব প্রয়োজন জানি না। তৃতীয়টি হলো, তিনি কত সৌজন্যের সাথে আমাদের রক্ষা করেন, এবং ''আমাদের জানতে সাহায্য করেন'' যে আমরা ভুল পথে চলছি। চতুর্থটি হলো, তিনি কত অটলভাবে আমাদের জন্য অপেক্ষা করেন এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেন না: কারণ তিনি চান যেন আমরা পরিবর্তিত হই, এবং ভালোবাসায় তাঁর সাথে একীভূত হই যেমন তিনি আমাদের সাথে।
* এভাবেই এই কৃপাপূর্ণ জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা হতাশ না হয়ে লাভজনকভাবে আমাদের পাপ দেখতে পারি।
* আমাদের প্রভু আমাদের যা দেখান তার কম দর্শনের মাধ্যমে, যা আমরা দেখি না তা আরও বেশি গণনা করা হয়। কারণ তিনি তাঁর সৌজন্যে আমাদের দর্শন পরিমাপ করেন; কারণ এটি এতটাই জঘন্য ও ভয়াবহ যে আমরা তা যেভাবে আছে সেভাবে সহ্য করতে পারতাম না।
* আমি শিখলাম যে যদিও আমরা আমাদের প্রভুর বিশেষ উপহার দ্বারা ধ্যানের জন্য উঁচুতে উত্তোলিত হই, তবুও আমাদের পাপ ও দুর্বলতার জ্ঞান ও দর্শন থাকা প্রয়োজন। কারণ এই জ্ঞান ছাড়া আমাদের প্রকৃত নম্রতা থাকতে পারে না, এবং এটি ছাড়া আমরা রক্ষা পেতে পারি না। <br> এবং পরে, আমি আরও দেখলাম যে আমরা এই জ্ঞান আমাদের নিজেদের থেকে পেতে পারি না; আমাদের কোনো আধ্যাত্মিক শত্রুর থেকেও না: কারণ তারা আমাদের এত বড় মঙ্গল চায় না। কারণ যদি তা তাদের ইচ্ছা হতো, তবে আমাদের শেষ দিন পর্যন্ত আমরা তা দেখতাম না। তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছে বড়ই ঋণী যে তিনি নিজে, ভালোবাসার জন্য, দয়া ও কৃপার সময়ে এটি আমাদের দেখাবেন।
=== অধ্যায় ৭৯ ===
* তিনি যে আমাকে দেখালেন যে আমি পাপ করব, আমি তা কেবল আমার নিজের একক ব্যক্তির জন্য নিলাম, কারণ সেই সময়ে আমি অন্য কিছু দেখানো হয়নি। কিন্তু আমাদের প্রভুর মহান, কৃপাপূর্ণ সান্ত্বনার দ্বারা যা পরে এসেছিল, আমি দেখলাম যে তাঁর অর্থ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য: অর্থাৎ, সব-মানুষ; যে পাপী এবং শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে। যার আমি একজন সদস্য, যেমন আমি আশা করি, ঈশ্বরের দয়ায়। কারণ আমি যে ধন্য সান্ত্বনা দেখেছি, তা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট। '''এবং এখানে আমি শিখলাম যে আমার নিজের পাপ দেখা উচিত, এবং অন্য মানুষের পাপ নয় যদি না তা আমার সহ-খ্রিষ্টানদের সান্ত্বনা ও সাহায্যের জন্য হয়।'''
* এছাড়া একই দর্শনে যেখানে আমি দেখলাম যে আমি পাপ করব, সেখানে আমি নিজেকে অনিশ্চয়তার জন্য ভয় পেতে শিখলাম। কারণ আমি জানি না আমি কীভাবে পড়ব, বা আমি পাপের পরিমাণ বা মহানতা জানি না; কারণ আমি তা ভয়ের সাথে জানতে চেয়েছিলাম, এবং তার জন্য আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না। <br> এছাড়া আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু একই সময়ে তাঁর ভালোবাসার অন্তহীনতা ও অপরিবর্তনীয়তা খুব নিশ্চিতভাবে ও শক্তভাবে দেখালেন; এবং, পরে, যে তাঁর মহান কল্যাণ ও তাঁর কৃপা অভ্যন্তরীণভাবে রক্ষা করায়, তাঁর ভালোবাসা ও আমাদের আত্মা কখনোই দুই ভাগে বিভক্ত হবে না, চিরকাল। <br> এবং এভাবেই এই ভয়ে আমার নম্রতার সামগ্রী আছে যা আমাকে অহংকার থেকে বাঁচায়, এবং ভালোবাসার ধন্য দর্শনে আমার প্রকৃত সান্ত্বনা ও আনন্দের সামগ্রী আছে যা আমাকে হতাশা থেকে বাঁচায়।
* তিনি চান যেন আমরা তাঁর মাধুর্য ও আপন ভালোবাসার মাধ্যমে জানি যে, আমরা ভেতরে বা বাইরে যা কিছু দেখি বা অনুভব করি, যা এর বিপরীত তা শত্রুর এবং ঈশ্বরের নয়। এবং এভাবেই — যদি আমরা আমাদের জীবন বা আমাদের হৃদয়ের রক্ষার ব্যাপারে আরও বেপরোয়া হতে অনুপ্রাণিত হই কারণ আমরা এই প্রচুর ভালোবাসার জ্ঞান পেয়েছি — তবে আমাদের খুব সাবধান হতে হবে। কারণ এই অনুপ্রেরণা, যদি আসে, তা সত্য নয়; এবং আমাদের এটিকে ঘৃণা করা উচিত, কারণ এর সবকিছুর ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে কোনো মিল নেই। এবং যখন আমরা পড়ি, দুর্বলতা বা অন্ধত্বে, তখন আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আমাদের স্পর্শ করেন ও অনুপ্রাণিত করেন ও ডাকেন; এবং তখন তিনি চান যেন আমরা আমাদের জঘন্যতা দেখি এবং নম্রভাবে তা সচেতন হই। কিন্তু তিনি চান না যে আমরা এভাবে থাকি, না তিনি চান যে আমরা আমাদের অভিযোগের ব্যাপারে খুব ব্যস্ত থাকি, না তিনি চান যে আমরা নিজেদের নিয়ে জঘন্য হই; কিন্তু তিনি চান যেন আমরা দ্রুত নিজেদের তাঁর দিকে ফেরাই। কারণ তিনি সব দূরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং শোকাতুর ও দুঃখিত হয়ে অপেক্ষা করেন যতক্ষণ না আমরা আসি, এবং আমাদের তাঁর কাছে পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেন। কারণ আমরাই তাঁর আনন্দ ও তাঁর সুখ, এবং তিনি আমাদের মলম ও আমাদের জীবন।
=== অধ্যায় ৮০ ===
* তিনটি জিনিসের মাধ্যমে মানুষ এই জীবনে দাঁড়িয়ে থাকে; যার মাধ্যমে তিনটি ঈশ্বর পূজিত হন, এবং আমরা দ্রুতগতিতে, সংরক্ষিত ও রক্ষিত হই। <br> প্রথমটি হলো মানুষের স্বাভাবিক যুক্তির ব্যবহার; দ্বিতীয়টি হলো পবিত্র গির্জার সাধারণ শিক্ষা; তৃতীয়টি হলো পবিত্র আত্মার অভ্যন্তরীণ কৃপাপূর্ণ কাজ। এবং এই তিনটিই এক ঈশ্বরের: ঈশ্বর আমাদের স্বাভাবিক যুক্তির ভিত্তি; এবং ঈশ্বর, পবিত্র গির্জার শিক্ষা; এবং ঈশ্বর হলেন পবিত্র আত্মা। এবং সব ভিন্ন ভিন্ন উপহার যার প্রতি তিনি চান যেন আমরা বড় মনোযোগ দিই, এবং তার প্রতি মনোযোগী হই। কারণ এগুলো আমাদের মধ্যে অবিরাম একসাথে কাজ করে; এবং এগুলো মহান জিনিস।
* তিনি এখানে আমাদের সাথে বাস করেন, এবং এই জীবনে আমাদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করেন, এবং তাঁর আনন্দে নিয়ে আসেন। এবং তিনি তা করবেন যতদিন পৃথিবীতে কোনো আত্মা থাকবে যে স্বর্গে আসবে, — এবং এতটাই যে যদি এমন কোনো আত্মা না থাকত কিন্তু একজন, তবে তিনি তার সাথে একা থাকতেন যতক্ষণ না তাকে তাঁর আনন্দে নিয়ে আসতেন।
* '''আমি ফেরেশতাদের পরিচর্যায় বিশ্বাস করি ও বুঝি, যেমন যাজকরা আমাদের বলেন: কিন্তু তা আমাকে দেখানো হয়নি। কারণ তিনি নিজেই নিকটতম ও নম্রতম, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন, এবং সব করেন।''' এবং কেবল আমাদের যা প্রয়োজন তা-ই নয়, বরং তিনি সব করেন যা পূজনীয়, স্বর্গে আমাদের আনন্দের জন্য।
* যেখানে আমি বলি যে তিনি শোকাতুর ও আর্তনাদ করে অপেক্ষা করেন, তার অর্থ হলো সেই সমস্ত প্রকৃত অনুভূতি যা ''আমাদের'' নিজেদের মধ্যে আছে, অনুতাপ ও মমতায়, এবং সমস্ত শোক ও আর্তনাদ যে আমরা আমাদের প্রভুর সাথে একীভূত নই। এবং এই সমস্ত যা দ্রুতগতিতে কাজ করে, তা আমাদের মধ্যে খ্রিষ্ট। এবং যদিও আমাদের কেউ কেউ তা খুব কম অনুভব করে, তা খ্রিষ্ট থেকে কখনোই দূরে সরে যায় না যতক্ষণ না তিনি আমাদের সমস্ত বেদনা থেকে বের করে আনেন। '''কারণ ভালোবাসা কখনোই মমতা ছাড়া থাকতে পারে না।'''
=== অধ্যায় ৮১ ===
[[File:Image of Julian of Norwich.jpg|thumb|আমাদের [[ভালো]] [[ঈশ্বর|প্রভু]] নিজেকে [[বিভিন্ন]] ভাবে দেখিয়েছেন স্বর্গে ও [[পৃথিবী]]তে, কিন্তু আমি দেখলাম তিনি মানুষের [[আত্মা]] ছাড়া আর কোনো [[স্থান]] নেননি।]]
* '''আমাদের ভালো প্রভু নিজেকে বিভিন্ন ভাবে দেখিয়েছেন স্বর্গে ও পৃথিবীতে, কিন্তু আমি দেখলাম তিনি মানুষের আত্মায় ছাড়া আর কোনো স্থান নেননি।''' <br> তিনি পৃথিবীতে নিজেকে দেখিয়েছেন মিষ্টি অবতাররূপে এবং তাঁর ধন্য দুঃখভোগে। এবং অন্য ভাবে তিনি নিজেকে পৃথিবীতে দেখিয়েছেন যেখানে আমি বলি: ''আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখলাম''। এবং অন্য ভাবে তিনি নিজেকে পৃথিবীতে দেখিয়েছেন এইভাবে যেন তীর্থযাত্রায়: অর্থাৎ, '''তিনি এখানে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এবং থাকবেন যতক্ষণ না তিনি আমাদের সবাইকে স্বর্গে তাঁর আনন্দে নিয়ে আসছেন।''' তিনি নিজেকে বিভিন্ন সময়ে রাজত্ব করতে দেখিয়েছেন, যেমনটি উপরে বলা হয়েছে; কিন্তু প্রধানত মানুষের আত্মায়। তিনি সেখানে তাঁর বিশ্রামের স্থান ও তাঁর পূজনীয় নগরী নিয়েছেন: যে পূজনীয় আসন থেকে তিনি কখনোই উঠবেন না বা সরবেন না চিরকাল।
* চমৎকার ও রাজকীয় সেই স্থান যেখানে প্রভু বাস করেন, এবং তাই তিনি চান যেন আমরা তাঁর কৃপাপূর্ণ স্পর্শে দ্রুত সাড়া দিই, আমাদের ঘন ঘন পতনে শোক করার চেয়ে তাঁর অখণ্ড ভালোবাসায় বেশি আনন্দ করি। কারণ এটি তাঁর কাছে আমাদের যেকোনো কাজের চেয়ে সবচেয়ে বড় পূজা যে, আমরা আমাদের প্রায়শ্চিত্তে, তাঁর ভালোবাসার জন্য, আনন্দ ও খুশিতে বেঁচে থাকি। '''কারণ তিনি আমাদের এতটাই কোমলভাবে দেখেন যে তিনি আমাদের সমস্ত জীবনকে একটি প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে দেখেন:''' কারণ আমাদের মধ্যে প্রকৃতির আকাঙ্ক্ষা তাঁর কাছে আমাদের মধ্যে চিরস্থায়ী প্রায়শ্চিত্ত: যে প্রায়শ্চিত্ত তিনি আমাদের মধ্যে কাজ করেন এবং দয়াপূর্বক তিনি তা বহন করতে আমাদের সাহায্য করেন। কারণ তাঁর ভালোবাসা ''তাঁকে'' আকাঙ্ক্ষা করতে বাধ্য করে; তাঁর প্রজ্ঞা ও তাঁর সত্য তাঁর ন্যায্যতার সাথে ''তাঁকে'' আমাদের এখানে সহ্য করতে বাধ্য করে: এবং একই ভাবে তিনি আমাদের মধ্যে তা দেখতে চান।
* '''তিনি চান যেন আমরা আমাদের হৃদয়গুলোকে অতিক্রমের ওপর স্থাপন করি: অর্থাৎ, আমরা যে বেদনা অনুভব করি তা থেকে আমরা যে আনন্দের ওপর ভরসা করি তাতে।'''
=== অধ্যায় ৮২ ===
[[File:Taijitu polarity.PNG|thumb|এখানে আমি [[বুঝেছিলাম]] যে প্রভু সেবককে [[মমতা]]র সাথে দেখেন এবং দোষের সাথে নয়।]]
[[File:Blake jacobsladder.jpg|thumb|যদি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রেমিক থাকে যে পতনের হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষা পায়, তবে আমি তা [[জানি]] না: কারণ তা আমাকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এটি দেখানো হয়েছিল: যে পতনে ও উত্থানে আমরা চিরকাল এক [[ভালোবাসা]]য় মূল্যবানভাবে সংরক্ষিত।]]
* '''কিন্তু এখানে আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আত্মার আর্তনাদ ও শোক দেখালেন, এইভাবে নির্দেশ করে: আমি ভালো জানি তুমি আমার ভালোবাসার জন্য বাঁচতে চাও, আনন্দের সাথে ও খুশিতে সেই সমস্ত প্রায়শ্চিত্ত সহ্য করে যা তোমার কাছে আসতে পারে; কিন্তু যেহেতু তুমি পাপ ছাড়া বাঁচো না, তুমি আমার ভালোবাসার জন্য সহ্য করতে চাইতে, সমস্ত দুঃখ, সমস্ত কষ্ট ও দুর্দশা যা তোমার কাছে আসতে পারে। এবং তা সত্য।''' কিন্তু তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে পাপ তোমার ওপর পড়ে তা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হয়ো না। <br> '''এবং এখানে আমি বুঝলাম যে প্রভু সেবককে মমতার সাথে দেখেন এবং দোষের সাথে নয়।''' কারণ এই ক্ষণস্থায়ী জীবন সব দোষ ও পাপ ছাড়া বাঁচার দাবি করে না।
* '''যদি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রেমিক থাকে যে পতনের হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষা পায়, তবে আমি তা জানি না: কারণ তা আমাকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এটি দেখানো হয়েছিল: যে পতনে ও উত্থানে আমরা চিরকাল এক ভালোবাসায় মূল্যবানভাবে সংরক্ষিত।''' কারণ ঈশ্বরের দর্শনে আমরা পড়ি না, এবং নিজেদের দর্শনে আমরা দাঁড়াই না; এবং আমার দৃষ্টিতে এই উভয়ই সত্য। কিন্তু আমাদের প্রভু ঈশ্বরের দর্শন হলো সর্বোচ্চ সত্য। তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছে খুব ঋণী যে তিনি এই জীবনে আমাদের এই উচ্চ সত্য দেখাতে চান। এবং আমি বুঝলাম যে আমরা যখন এই জীবনে থাকি, আমাদের জন্য খুব দ্রুতগতিতে কাজ করে যে আমরা একই সাথে এই দুটি দেখি। কারণ উচ্চতর দর্শন আমাদের আধ্যাত্মিক শান্তি ও ঈশ্বরে প্রকৃত আনন্দে রাখে; অন্যটি যা নিম্নতর দর্শন তা আমাদের ভয়ে রাখে এবং নিজেদের নিয়ে লজ্জিত করে। কিন্তু আমাদের ভালো প্রভু সবসময় চান যেন আমরা উচ্চতর দর্শনে নিজেদের অনেক বেশি রাখি, এবং নিম্নতর দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান ত্যাগ না করি, যতক্ষণ না আমরা ওপরে উঠে আসি, যেখানে আমরা আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের পুরস্কার হিসেবে পাব এবং চিরকাল আনন্দ ও সুখে পূর্ণ হব।
=== অধ্যায় ৮৩ ===
* আমি ঈশ্বরের তিনটি বৈশিষ্ট্যের স্পর্শ, দর্শন ও অনুভূতি কিছুটা পেয়েছিলাম, যার মধ্যে সমস্ত প্রত্যাদেশের শক্তি ও প্রভাব দাঁড়িয়ে আছে: এবং তারা প্রতিটি দর্শনে দেখা গিয়েছিল, এবং দ্বাদশ দর্শনে সবচেয়ে যথাযথভাবে, যেখানে এটি বারবার বলে: '''বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: জীবন, ভালোবাসা এবং আলো।''' জীবনে আছে চমৎকার আপনতা, এবং ভালোবাসায় আছে ভদ্র সৌজন্য, এবং আলোতে আছে অন্তহীন প্রকৃতি-সত্তা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি কল্যাণে ছিল: যে কল্যাণের সাথে আমার যুক্তি একীভূত হতে চাইত, এবং তার সমস্ত শক্তি দিয়ে তা আঁকড়ে ধরতে চাইত।
* আমি শ্রদ্ধাশীল ভয়ে তাকালাম, এবং মিষ্টি ঐক্যের দর্শন ও অনুভূতির মধ্যে খুব বিস্মিত হলাম, যে আমাদের যুক্তি ঈশ্বরের মধ্যে আছে; বুঝে যে এটি আমাদের পাওয়া সর্বোচ্চ উপহার; এবং এটি প্রকৃতিতে ভিত্তি করা।
* আমাদের বিশ্বাস আমাদের অন্তহীন দিন থেকে প্রকৃতিগতভাবে আসা একটি আলো, যিনি আমাদের পিতা, ঈশ্বর। যে আলোতে আমাদের মা, খ্রিষ্ট, এবং আমাদের ভালো প্রভু, পবিত্র আত্মা, আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে নেতৃত্ব দেন। '''এই আলোটি বিচক্ষণতার সাথে পরিমাপ করা হয়, রাতে আমাদের জন্য প্রয়োজনের সাথে দাঁড়িয়ে। আলো আমাদের জীবনের কারণ; রাত আমাদের বেদনা ও আমাদের সমস্ত দুঃখের কারণ: যে রাতে আমরা ঈশ্বরের পুরস্কার ও ধন্যবাদ অর্জন করি।''' কারণ আমরা, দয়া ও কৃপার সাথে, অটলভাবে আমাদের আলোকে জানি ও বিশ্বাস করি, তাতে বুদ্ধিমত্তার সাথে ও শক্তভাবে চলি।
* এভাবেই আমি দেখলাম ও বুঝলাম যে আমাদের বিশ্বাস আমাদের রাতে আমাদের আলো: যে আলো হলো ঈশ্বর, আমাদের অন্তহীন দিন।
=== অধ্যায় ৮৪ ===
* '''আলো হলো দাতব্য, এবং এই আলোর পরিমাপ আমাদের জন্য ঈশ্বরের প্রজ্ঞা দ্বারা লাভজনকভাবে করা হয়।''' কারণ আলো এত বড় নয় যে আমরা আমাদের আনন্দময় দিন দেখতে পাই, আবার এটি আমাদের থেকে বন্ধও নয়; বরং এটি এমন একটি আলো যাতে আমরা পুরস্কারের যোগ্যভাবে বাঁচতে পারি, পরিশ্রমের সাথে ঈশ্বরের অন্তহীন পূজার যোগ্য হয়ে।
* '''দাতব্য আমাদের বিশ্বাস ও আশায় রাখে, এবং আশা আমাদের দাতব্য কাজে নেতৃত্ব দেয়। এবং শেষে সবকিছুই হবে দাতব্য।'''
* আমি এই আলো, দাতব্যের তিন ধরণের বোধ পেয়েছিলাম। প্রথমটি হলো অনির্মিত দাতব্য; দ্বিতীয়টি হলো নির্মিত দাতব্য; তৃতীয়টি হলো প্রদত্ত দাতব্য। অনির্মিত দাতব্য হলো ঈশ্বর; নির্মিত দাতব্য হলো ঈশ্বরে আমাদের আত্মা; প্রদত্ত দাতব্য হলো গুণ। এবং তা কাজের এক মূল্যবান উপহার যাতে আমরা ঈশ্বরকে ভালোবাসি, তাঁর নিজের জন্য; এবং নিজেদের, ঈশ্বরের মধ্যে; এবং যা ঈশ্বর ভালোবাসেন, ঈশ্বরের জন্য।
=== অধ্যায় ৮৫ ===
* এই দর্শনে আমি খুব বিস্মিত হলাম। কারণ আমাদের সহজ জীবন ও আমাদের অন্ধত্ব থাকা সত্ত্বেও, চিরকাল আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আমাদের এই কাজে দেখেন, আনন্দে; এবং সবকিছুর মধ্যে, আমরা তাঁকে বিশ্বাস করতে এবং তাঁর সাথে ও তাঁর মধ্যে আনন্দ করতে সবচেয়ে ভালো প্রজ্ঞার সাথে ও সত্যভাবে সন্তুষ্ট করতে পারি। কারণ আমরা যেমন চিরকাল ঈশ্বরের আনন্দে থাকব, তাঁকে প্রশংসা ও ধন্যবাদ দিয়ে, ঠিক তেমনই আমরা ঈশ্বরের দূরদৃষ্টিতে আছি, তাঁর অন্তহীন উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই পরিচিত ও সমাদৃত। যে অনাদি ভালোবাসায় তিনি আমাদের তৈরি করেছেন; এবং একই ভালোবাসায় তিনি আমাদের রক্ষা করেন এবং কখনোই আমাদের আঘাত পেতে দেন না যার দ্বারা আমাদের আনন্দ হারিয়ে যেতে পারে। '''এবং তাই যখন বিচার দেওয়া হয় এবং আমরা সবাই ওপরে উঠে আসি, তখন আমরা স্পষ্টভাবে ঈশ্বরের মধ্যে গোপন জিনিসগুলো দেখতে পাব যা এখন আমাদের কাছে লুকানো আছে।''' তখন আমাদের কেউই কোনোভাবে বলতে অনুপ্রাণিত হব না: ''প্রভু, যদি এমন হতো, তবে তা খুব ভালো হতো''; বরং আমরা সবাই এক স্বরে বলব: ''প্রভু, তুমি ধন্য হও, কারণ এটি এমন: এটি ভালো; এবং এখন আমরা সত্যভাবে দেখছি যে সবকিছুই করা হয়েছে যেমনটি তখন নির্ধারিত ছিল কোনো কিছু তৈরি হওয়ার আগে।''
=== অধ্যায় ৮৬ ===
[[File:Double-alaskan-rainbow.jpg|thumb|তুমি কি এই বিষয়ে তোমার প্রভুর অর্থ জানতে চাও? ভালো করে জানো: ভালোবাসা ছিল তাঁর অর্থ। কে তোমাকে এটি দেখিয়েছে? ভালোবাসা। তিনি তোমাকে কী দেখিয়েছেন? ভালোবাসা। কেন তিনি এটি দেখিয়েছেন? ভালোবাসার জন্য। এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো এবং তুমি একই বিষয়ে আরও শিখবে ও জানবে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্য কিছু জানবে না বা শিখবে না। এভাবেই আমি শিখলাম যে ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রভুর অর্থ।]]
* এই বইটি ঈশ্বরের উপহার ও তাঁর কৃপা দ্বারা শুরু হয়েছে, কিন্তু তা এখনও সম্পন্ন হয়নি, আমার দৃষ্টিতে।
* '''দাতব্যের জন্য আমরা সবাই প্রার্থনা করি'''। ঈশ্বরের কাজের সাথে, ধন্যবাদ দিয়ে, ভরসা করে, আনন্দ করে। কারণ এভাবেই আমাদের ভালো প্রভু প্রার্থনা পেতে চান, আমার নেওয়া তাঁর নিজস্ব অর্থ ও মিষ্টি শব্দগুলোর বোধ অনুযায়ী যেখানে তিনি খুব আনন্দের সাথে বলেন: '''''আমিই তোমার প্রার্থনার ভিত্তি।'''''' কারণ আমি সত্যই আমাদের প্রভুর অর্থে দেখলাম ও বুঝলাম যে তিনি এটি দেখালেন কারণ তিনি চান যেন তা পরিচিত হোক যতটা এখন আছে তার চেয়ে বেশি: যে জ্ঞানে তিনি আমাদের কৃপা দেবেন যেন আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁকে আঁকড়ে ধরি। কারণ তিনি তাঁর স্বর্গীয় সম্পদকে পৃথিবীতে এত মহান ভালোবাসার সাথে দেখেন যে তিনি চান যেন আমাদের আরও আলো ও স্বর্গীয় আনন্দে সান্ত্বনা দেন, আমাদের হৃদয় গুলোকে তাঁর দিকে টেনে নেওয়ার জন্য, যে দুঃখ ও অন্ধকারের মধ্যে আমরা আছি।
* সেই সময় থেকে যখন এটি দেখানো হয়েছিল, আমি অনেকবার জানতে চেয়েছিলাম আমাদের প্রভুর অর্থ কী ছিল। এবং পনেরো বছর পর, এবং আরও বেশি, আমাকে আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে উত্তর দেওয়া হয়েছিল, এভাবে বলে: ''তুমি কি এই বিষয়ে তোমার প্রভুর অর্থ জানতে চাও? ভালো করে জানো: '''ভালোবাসা ছিল তাঁর অর্থ'''। কে তোমাকে এটি দেখিয়েছে? '''ভালোবাসা'''। তিনি তোমাকে কী দেখিয়েছেন? '''ভালোবাসা'''। কেন তিনি এটি দেখিয়েছেন? '''ভালোবাসার জন্য'''। এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো এবং তুমি একই বিষয়ে আরও শিখবে ও জানবে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্য কিছু জানবে না বা শিখবে না।'' '''এভাবেই আমি শিখলাম যে ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রভুর অর্থ।'''
* '''আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে ঈশ্বর আমাদের তৈরি করার আগে তিনি আমাদের ভালোবাসতেন; যে ভালোবাসা কখনোই কমে যায়নি, বা কখনোই যাবে না। এবং এই ভালোবাসায় তিনি তাঁর সমস্ত কাজ করেছেন; এবং এই ভালোবাসায় তিনি আমাদের জন্য সমস্ত কিছু লাভজনক করেছেন এবং এই ভালোবাসায় আমাদের জীবন চিরন্তন। আমাদের তৈরির মধ্যে আমাদের শুরু ছিল; কিন্তু যে ভালোবাসায় তিনি আমাদের তৈরি করেছেন তা তাঁর মধ্যে ছিল শুরু ছাড়াই: যে ভালোবাসায় আমাদের শুরু আছে। এবং এই সবকিছু আমরা ঈশ্বরে দেখব, শেষ ছাড়াই।'''
== নরিচের জুলিয়ান সম্পর্কে উক্তি ==
* '''নরিচের ঘণ্টা বাজে জোরে, মানুষ আসে আর যায়। <br /> জুলিয়ানের এই মিনারের পাশে, যা জানি তা বলি তাই।'''
** সিডনি কার্টার, "জুলিয়ান অফ নরিচ" (১৯৮৩) গানে। এটি "দ্য বেলস অফ নরিচ" নামেও পরিচিত।
*** [https://www.youtube.com/watch?v=I-irwWT3oYg গর্ডন বক, অ্যান মায়ো মুইর ও এড ট্রিকিটের রেকর্ড করা সংস্করণ]
*** [https://www.youtube.com/watch?v=I8vK2jK-UsI সং-আ-ডে প্রজেক্ট (১৯ জুলাই, ২০১১) - বেলস অফ নরিচ]
*** [https://www.youtube.com/watch?v=s-sTbvkY_l4 অ্যালবিয়ন ক্রিসমাস ব্যান্ডের পরিবেশনায়, কার্টার ও জুলিয়ানকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত ভূমিকা সহ]
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia|জুলিয়ান অফ নরিচ}}
{{commonscat|Julian of Norwich}}
* [http://www.umilta.net/julian.html দ্য জুলিয়ান সাইট]
* [http://www.luminarium.org/medlit/julian.htm লুমিনারিয়াম: জুলিয়ান অফ নরিচ]
* [http://www.newadvent.org/cathen/08557a.htm ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়ায় নরিচের জুলিয়ান বিষয়ক নিবন্ধ]
* ''[http://www.ccel.org/j/julian/revelations/index.html রিভেলেশন্স অব ডিভাইন লাভ]'', বিভিন্ন ফরম্যাটে
* ''[http://www.umilta.net/hertexts.html জুলিয়ান অফ নরিচ, টেক্সটস]'', 'জুলিয়ান অফ নরিচ, হার টেক্সটস অ্যান্ড কনটেক্সট' ওয়েবসাইটের একটি অংশ
* [http://www.poetseers.org/spiritual_and_devotional_poets/christian/julian মাদার জুলিয়ান অফ নরিচ] - নির্বাচিত প্রার্থনা ও কবিতা
[[বিষয়শ্রেণী:অকাল্পনিক সাহিত্য লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ধন্য ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের ক্যাথলিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের ধর্মতত্ত্ববিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খ্রিস্টীয় নেতৃবৃন্দ]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৩৪০-এর দশকে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৪১০-এর দশকে মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:রহস্যবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:নরিচের অধিবাসী]]
cjef8rjr5bvhk0b0u2qrigko26degeu
83238
83227
2026-05-01T14:34:17Z
SMontaha32
3112
83238
wikitext
text/x-wiki
[[File:Julian of Norwich.jpg|thumb|right|আমাদের প্রভু ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে একটি কাজ সম্পন্ন হবে, এবং তিনি নিজেই তা করবেন, আর আমি কিছুই করব না কিন্তু পাপ করব, এবং আমার পাপ তাঁর [[মঙ্গলময়তা]] প্রকাশের পথে বাধা হবে না।]]
'''[[:w:নরিচের অফ জুলিয়ান|নরিচের জুলিয়ান]]''' (আনুমানিক ৮ নভেম্বর ১৩৪২ – আনুমানিক ১৪১৬) ছিলেন একজন ইংরেজ [[খ্রিস্টধর্ম|খ্রিস্টান]] রহস্যবাদী এবং ধর্মতত্ত্ববিদ। তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব সামান্যই জানা যায়। এমনকি তাঁর নামটিও নিশ্চিত নয়। "জুলিয়ান" নামটি সম্ভবত নরিচের সেন্ট জুলিয়ান গির্জা থেকে এসেছে, যেখানে তিনি একজন [[w:অ্যাঙ্কোরেস|অ্যাঙ্কোরেস]] (ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী) হিসেবে বসবাস করতেন।
[[File:Orvieto Pozzo San Patrizio 5.JPG|thumb|পাপ থাকাটা অপরিহার্য ছিল। কিন্তু সব ভালো হবে, এবং সব ভালো হবে এবং সব ধরণের জিনিসই ভালো হবে।]]
== ''[[w:ঐশ্বরিক ভালোবাসার প্রকাশ|ঐশ্বরিক ভালোবাসার প্রকাশ]]'' (আনুমানিক ১৩৯৩) ==
:<small>'''''"যিনি অক্ষর পড়তে পারতেন না, তাঁর প্রতি প্রকাশ, আনো ডম. ১৩৭৩"''''' : এই কর্মটি জুলিয়ান সম্পর্কে জানা প্রায় সমস্ত তথ্য প্রদান করে। এটি মূলত ১৩৭৩ সালের ১৩ এবং ১৪ই মে সংঘটিত বিভিন্ন দর্শনের একটি বিবরণ; যখন তিনি ত্রিশ বছর বয়সে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। প্রায় বিশ বছর পর একজন লেখকের মাধ্যমে এটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। প্রাচীন ইংরেজি থেকে এই কর্মটির বহু অনুবাদ হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন সংস্করণে এর বক্তব্যের বৈচিত্র্য এবং অর্থের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত হয়।</small>
=== অধ্যায় ১ ===
[[File:Emanation.png|thumb|এটি প্রেমের একটি প্রকাশ যা আমাদের অন্তহীন পরমানন্দ, যিশু খ্রিস্ট ষোলটি 'শিউইং' বা বিশেষ প্রকাশের মাধ্যমে ঘটিয়েছেন।]]
[[File:Goe Platz der Synagoge Detail 2.jpg|thumb|[[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] মঙ্গলময়তা দ্বারা আমরা দুঃখে ও সুখে সমানভাবে প্রেমে সুরক্ষিত।]]
* '''এটি প্রেমের একটি প্রকাশ যা আমাদের অন্তহীন পরমানন্দ, যিশু [[w:Christ|খ্রিস্ট]] ষোলটি 'শিউইং' (বা বিশেষ প্রকাশ) এর মাধ্যমে ঘটিয়েছেন।''' যার প্রথমটি হলো তাঁর কাঁটার মুকুট পরিধান এবং এর সাথেই ত্রিত্ববাদ, অবতারবাদ এবং ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যবর্তী ঐক্যকে অন্তর্ভুক্ত ও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যা অনন্ত প্রজ্ঞা এবং প্রেমের শিক্ষার সুন্দর প্রকাশ: যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সমস্ত প্রকাশগুলো প্রতিষ্ঠিত এবং একীভূত।
** শুরুর লাইনসমূহ
* আমাদের প্রভু ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান প্রজ্ঞা, সর্ব-প্রেম, তিনি যেমন সত্যই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তেমনই সত্যই তিনি প্রতিটি কাজ করেন ও সম্পন্ন করেন।
* '''আমরা ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা দ্বারা দুঃখে ও সুখে সমানভাবে প্রেমে সুরক্ষিত।'''
* আমাদের প্রভু যিশু প্রেমে তাঁর পরমানন্দময় হৃদয়কে আনন্দ সহকারে দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় প্রদর্শন করেন।
* আমাদের প্রভু ঈশ্বর চান যেন আমরা তাঁর করা সমস্ত কাজের প্রতি গভীর মনোযোগী হই: সবকিছুর সৃষ্টির মহান মহিমা এবং মানুষের সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব, যা তাঁর সমস্ত কাজের ঊর্ধ্বে এবং মানুষের পাপের জন্য তাঁর করা মূল্যবান প্রায়শ্চিত্ত, যা আমাদের সমস্ত অপরাধকে অন্তহীন উপাসনায় রূপান্তরিত করেছে। এই প্রকাশে আমাদের প্রভু আরও বলেন: '''"তাকাও এবং দেখো! কারণ যে শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মঙ্গলময়তা দিয়ে আমি এই সবকিছু করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মঙ্গলময়তা দিয়ে আমি সেই সবকিছুকেও ভালো করে তুলব যা ভালো নয়; এবং তুমি তা দেখতে পাবে।"''' এবং এতে তিনি চান যেন আমরা পবিত্র চার্চের বিশ্বাস ও সত্যে অবিচল থাকি, এখন তাঁর গোপন বিষয়গুলো দেখতে না চাই, কেবল ততটুকুই যা এই জীবনে আমাদের জন্য প্রযোজ্য।
* আমাদের প্রভু আমাদের প্রার্থনার ভিত্তি। এখানে দুটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়: একটি হলো ন্যায়পরায়ণ প্রার্থনা, অন্যটি হলো অটল বিশ্বাস। তিনি চান উভয়ই সমানভাবে বিস্তৃত হোক এবং এভাবেই আমাদের প্রার্থনা তাঁকে আনন্দিত করে এবং তিনি তাঁর মঙ্গলময়তা দিয়ে তা পূরণ করেন।
* আমরা হঠাৎ আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা এবং কষ্ট থেকে মুক্ত হব, এবং তাঁর মঙ্গলময়তা দিয়ে আমরা উপরে উঠে যাব, যেখানে আমরা আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের পুরস্কার হিসেবে পাব এবং স্বর্গে আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ হব।
=== অধ্যায় ২ ===
[[File:Statue of Dame Julian.JPG|thumb|আমি তোমার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাই না।]]
* '''এই প্রকাশগুলো ১৩৭৩ সালের ১৩ই মে, এক সাধারণ অক্ষরজ্ঞানহীন প্রাণীর কাছে প্রকাশিত হয়েছিল।''' যে প্রাণীটি পূর্বে ঈশ্বরের কাছে তিনটি বর চেয়েছিল। প্রথমটি ছিল তাঁর কষ্টের কথা স্মরণ; দ্বিতীয়টি ছিল যৌবনে, ত্রিশ বছর বয়সে শারীরিক অসুস্থতা; তৃতীয়টি ছিল ঈশ্বরের উপহার হিসেবে তিনটি ক্ষত লাভ করা।
* প্রথমটির ক্ষেত্রে, আমার মনে হয়েছিল খ্রিস্টের কষ্টের কিছুটা অনুভূতি আমার আছে, তবুও আমি ঈশ্বরের কৃপায় আরও বেশি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম। মনে হয়েছিল সেই সময়ে আমি যদি মেরি ম্যাগডালিন এবং খ্রিস্টের অন্যান্য প্রেমিকদের সাথে থাকতাম, তবে ভালো হতো। তাই আমি একটি শারীরিক দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলাম যাতে আমাদের পরিত্রাতার শারীরিক যন্ত্রণা এবং আমাদের লেডি (মেরি) ও তাঁর অন্যান্য সত্যিকারে প্রেমিকদের সহমর্মিতা সম্পর্কে আরও জ্ঞান লাভ করতে পারি। কারণ আমি তাদের একজন হতে এবং তাঁর সাথে কষ্ট ভোগ করতে চেয়েছিলাম। আত্মা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে অন্য কোনো দৃশ্য বা প্রকাশ চাইনি। এই আবেদনের কারণ ছিল যেন এই প্রকাশের পর খ্রিস্টের কষ্টের কথা আরও স্পষ্টভাবে মনে রাখতে পারি।
* দ্বিতীয়টি অনুশোচনার সাথে আমার মনে এসেছিল। মৃত্যুর মতো কঠিন অসুস্থতা কামনা করেছিলাম, যাতে সেই অসুস্থতায় আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করতে পারি। আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাব এবং যারা আমাকে দেখছিল তারাও একই ধারণা করেছিল: কারণ আমি জাগতিক জীবনের কোনো আরাম চাইনি। এই অসুস্থতায় আমি সব ধরণের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক যন্ত্রণা পেতে চেয়েছিলাম, যা একজন মানুষের মৃত্যুকালে হয় (শয়তানের সমস্ত ভয় ও ঝড়সহ), কেবল আত্মার বিচ্ছেদ ছাড়া। আমি এটা চেয়েছিলাম কারণ আমি ঈশ্বরের দয়ায় পবিত্র হতে চেয়েছিলাম এবং পরে সেই অসুস্থতার কারণে ঈশ্বরের উপাসনায় আরও বেশি জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম।
* কষ্টের এবং অসুস্থতার এই দুটি ইচ্ছা আমি একটি শর্তের সাথে চেয়েছিলাম, এভাবে বলে: '''"প্রভু, তুমি জানো আমি কী চাই, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে আমি তা পাব এবং যদি তোমার ইচ্ছা না হয়, ভালো প্রভু, অসন্তুষ্ট হইও না: কারণ আমি তোমার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাই না।"'''
* তৃতীয়টির জন্য, ঈশ্বরের কৃপা এবং পবিত্র চার্চের শিক্ষার মাধ্যমে আমি আমার জীবনে তিনটি ক্ষত লাভের প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম: অর্থাৎ, গভীর অনুশোচনার ক্ষত, সদয় সহমর্মিতার ক্ষত এবং ঈশ্বরের প্রতি অটল আকাঙ্ক্ষার ক্ষত। এবং এই শেষ আবেদনটি আমি কোনো শর্ত ছাড়াই চেয়েছিলাম। <br> '''এই পূর্বোক্ত দুটি ইচ্ছা আমার মন থেকে চলে গেলেও, তৃতীয়টি আমার সাথে ক্রমাগত থেকে গিয়েছিল।'''
=== অধ্যায় ৩ ===
[[File:Waldmüller - Die letzte Ölung.jpeg|thumb|যখন আমার বয়স সাড়ে ত্রিশ, ঈশ্বর আমাকে শারীরিক অসুস্থতা দিলেন, যাতে আমি তিন দিন তিন রাত পড়েছিলাম; এবং চতুর্থ রাতে আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করেছিলাম এবং বেঁচে থাকার আশা করিনি।]]
[[File:The church of SS Andrew and Mary - St Julian of Norwich - geograph.org.uk - 1547398.jpg|thumb|আমি আমার বিচারবুদ্ধি এবং যন্ত্রণার অনুভূতি দ্বারা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার মৃত্যু হবে এবং আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্মত হয়েছিলাম।]]
* '''যখন আমার বয়স সাড়ে ত্রিশ, ঈশ্বর আমাকে শারীরিক অসুস্থতা দিলেন, যাতে আমি তিন দিন তিন রাত পড়েছিলাম এবং চতুর্থ রাতে আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করেছিলাম এবং বেঁচে থাকার আশা করিনি।''' এর পরে আমি আরও দুই দিন দুই রাত অসুস্থ ছিলাম, এবং তৃতীয় রাতে আমি প্রায়শই ভেবেছি যে আমি চলে যাব; এবং যারা আমার সাথে ছিল তারাও তা-ই ভেবেছিল। <br> যৌবনের কারণে, আমার মৃত্যুতে খুব দুঃখ হয়েছিল।কিন্তু পৃথিবীর কোনো কিছুর জন্য নয় যা আমাকে বেঁচে থাকতে প্ররোচিত করত, বা কোনো যন্ত্রণার ভয়ে নয়: কারণ আমি ঈশ্বরের দয়ায় বিশ্বাসী ছিলাম। বরং আমি চেয়েছিলাম যেন আমি আরও ভালোভাবে এবং আরও দীর্ঘ সময় ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারি, যেন স্বর্গের পরমানন্দে ঈশ্বরের জ্ঞান ও ভালোবাসা বেশি পেতে পারি। কারণ আমি এখানে যেটুকু সময় বেঁচেছিলাম, তা সেই অনন্ত পরমানন্দের তুলনায় কিছুই না আমি তা কিছুই ভাবিনি।
* আমি আমার বিচারবুদ্ধি এবং যন্ত্রণার অনুভূতি দ্বারা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার মৃত্যু হবে এবং আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্মত হয়েছিলাম। <br> এভাবে আমি দিন পর্যন্ত বেঁচে ছিলাম, এবং ততক্ষণে আমার শরীরের নিচের অংশ অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছিল। তখন আমি স্থির করেছিলাম যেন আমাকে সাহায্য নিয়ে সোজা করে বসানো হয়, যাতে আমার হৃদয়ের স্বাধীনতা থাকে ঈশ্বরের ইচ্ছায় থাকার জন্য, এবং যতক্ষণ জীবন আছে ঈশ্বরের কথা চিন্তা করার জন্য।
* আমার দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করল এবং ঘরের চারপাশ অন্ধকার হয়ে এল, যেন রাত হয়ে গেছে, কেবল ক্রুশবিদ্ধ মূর্তিতে আমি একটি সাধারণ আলো দেখতে পাচ্ছিলাম এবং আমি জানতাম না কীভাবে। ক্রুশের বাইরের সবকিছু আমার কাছে ভয়ানক মনে হচ্ছিল, যেন তা শয়তানদের দ্বারা দখল করা হয়েছে। <br> এরপর আমার শরীরের উপরের অংশ মরতে শুরু করল, এতটাই যে প্রায় কোনো অনুভূতি ছিল না, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এবং তখন আমি সত্যই ভেবেছিলাম যে আমি চলে যাচ্ছি। <br> এবং হঠাৎ আমার সমস্ত যন্ত্রণা দূর হয়ে গেল, এবং আমি (বিশেষ করে আমার শরীরের উপরের অংশে) আগের মতোই সুস্থ হয়ে উঠলাম। <br> এই আকস্মিক পরিবর্তনে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। কারণ মনে হয়েছিল এটি ঈশ্বরের গোপন কাজ, প্রকৃতির নয়। তবুও এই আরামের অনুভূতিতে আমি বেঁচে থাকার আশা করিনি বা এই আরাম আমার কাছে পূর্ণ আরাম ছিল না: কারণ আমি চেয়েছিলাম এই জগত থেকে মুক্তি পেতে।
* তখন হঠাৎ আমার মনে এল যে আমার প্রভুর কৃপায় দ্বিতীয় ক্ষতটি কামনা করা উচিত: যেন আমার শরীর তাঁর পবিত্র কষ্টের চিন্তা ও অনুভূতিতে পূর্ণ হয়। কারণ আমি চেয়েছিলাম তাঁর যন্ত্রণা যেন আমার যন্ত্রণা হয়, সহমর্মিতা এবং পরে ঈশ্বরের প্রতি আকাঙ্ক্ষার সাথে। কিন্তু এতে আমি কোনো শারীরিক দৃশ্য বা ঈশ্বরের প্রকাশ চাইনি, বরং এমন সহমর্মিতা চেয়েছিলাম যা একজন দয়ালু আত্মা আমাদের প্রভু যিশুর সাথে রাখতে পারে, যিনি প্রেমের জন্য মানুষ হতে চেয়েছিলেন: এবং তাই আমি তাঁর সাথে কষ্ট ভোগ করতে চেয়েছিলাম।
== প্রথম প্রকাশ (দ্য ফার্স্ট রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ৪ ===
[[File:Leonardo da Vinci 058.jpg|thumb|আমি তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে, শারীরিক সাদৃশ্যে দেখেছিলাম: এক সাধারণ কুমারী ও নম্র, অল্পবয়সী ও বালিকার চেয়ে সামান্য বড়, সেই উচ্চতায় যা তিনি ধারণ করেছিলেন যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন।]]
* হঠাৎ আমি দেখলাম কাঁটার মুকুটের নিচ থেকে তপ্ত ও তাজা রক্ত প্রচুর পরিমাণে গড়িয়ে পড়ছে, যেমনটা তাঁর কষ্টের সময়ে হয়েছিল যখন সেই কাঁটার মুকুট তাঁর পবিত্র মাথায় চেপে বসানো হয়েছিল। যিনি ঈশ্বর ও মানব উভয়ই, যিনি আমার জন্য এমন কষ্ট সহ্য করেছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে ও প্রবলভাবে অনুভব করলাম যে এটি তিনিই আমাকে দেখাচ্ছেন, কোনো মাধ্যম ছাড়াই। <br> এবং সেই একই প্রকাশে হঠাৎ ত্রিত্ববাদ আমার হৃদয়কে আনন্দে পূর্ণ করে দিল। এবং আমি বুঝতে পারলাম, যারা স্বর্গে আসবে, তাদের জন্য এটি অনন্তকাল ধরে থাকবে। কারণ ত্রিত্ববাদই ঈশ্বর: ঈশ্বরই ত্রিত্ববাদ। ত্রিত্ববাদ আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও রক্ষক, ত্রিত্ববাদ আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে আমাদের চিরন্তন প্রেম এবং চিরন্তন আনন্দ ও পরমানন্দ। এবং এটি প্রথম এবং সমস্ত প্রকাশেই দেখানো হয়েছিল: কারণ যেখানে যিশু উপস্থিত, সেখানে আমার দৃষ্টিতে পবিত্র ত্রিত্ববাদ অনুভূত হয়।
* পবিত্র কষ্টের এই দর্শনের মাধ্যমে, আমার উপলব্ধিতে দেখা ঈশ্বরত্বের সাথে, আমি ভালোভাবেই জানতাম যে, এটি আমার জন্য হ্যাঁ, এবং সমস্ত জীবিত প্রাণীর জন্য নরকের সমস্ত শয়তান ও আধ্যাত্মিক প্রলোভনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্তি।
* তিনি আমাদের পবিত্র লেডিকে (ম্যারি) আমার উপলব্ধিতে নিয়ে এলেন। '''আমি তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে, শারীরিক সাদৃশ্যে দেখেছিলাম: এক সাধারণ কুমারী ও নম্র, অল্পবয়সী ও বালিকার চেয়ে সামান্য বড়, সেই উচ্চতায় যা তিনি ধারণ করেছিলেন যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন।'''
=== অধ্যায় ৫ ===
[[File:JUL Iris Soul Palm.png|thumb|এই ক্ষুদ্র বস্তুতে আমি তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি। প্রথমটি হলো ঈশ্বর এটি তৈরি করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো ঈশ্বর একে ভালোবাসেন, তৃতীয়টি হলো, ঈশ্বর একে রক্ষা করেন।]]
* '''আমি দেখেছি যে তিনি আমাদের জন্য সবকিছুই যা ভালো এবং আরামদায়ক: তিনি আমাদের পোশাক যা প্রেমের জন্য আমাদের আবৃত করে, জড়িয়ে ধরে এবং কোমল ভালোবাসায় আমাদের সম্পূর্ণ ঘিরে রাখে, যেন তিনি আমাদের কখনও ত্যাগ করতে না পারেন। আমার উপলব্ধিতে তিনি আমাদের জন্য ভালো সবকিছুই।'''
* '''তিনি আমাকে আমার হাতের তালুতে একটি ক্ষুদ্র বস্তু দেখালেন, একটি হেজেল-নাটের মতো; এবং এটি বলের মতো গোলাকার ছিল। আমি আমার উপলব্ধির চোখ দিয়ে সেটির দিকে তাকালাম এবং ভাবলাম: "এটি কী হতে পারে?" এবং সাধারণত উত্তর পেলাম: "এটি তা-ই যা সৃষ্টি হয়েছে।"''' আমি অবাক হয়েছিলাম কীভাবে এটি টিকে আছে, কারণ মনে হচ্ছিল সামান্য কারণেই এটি হঠাৎ শূন্যে বিলীন হয়ে যেতে পারত। এবং আমার উপলব্ধিতে উত্তর পেলাম: '''"এটি টিকে আছে এবং সর্বদা টিকে থাকবে কারণ ঈশ্বর একে ভালোবাসেন।" এবং এভাবেই ঈশ্বরের ভালোবাসার মাধ্যমে সবকিছুর অস্তিত্ব রয়েছে।'''
* '''এই ক্ষুদ্র বস্তুতে আমি তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি। প্রথমটি হলো ঈশ্বর এটি তৈরি করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো ঈশ্বর একে ভালোবাসেন, তৃতীয়টি হলো, ঈশ্বর একে রক্ষা করেন।''' কিন্তু আমার জন্য প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা, রক্ষক এবং প্রেমিক কে তা আমি বলতে পারি না; কারণ যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে মৌলিকভাবে একীভূত হচ্ছি, ততক্ষণ আমি পূর্ণ বিশ্রাম বা সত্যিকারের পরমানন্দ পেতে পারি না: অর্থাৎ, যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে এমনভাবে আবদ্ধ হচ্ছি যে, আমার ঈশ্বর এবং আমার মাঝে সৃষ্ট আর কিছুই নেই।
* '''আমাদের প্রাণীদের ক্ষুদ্রতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা প্রয়োজন এবং যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তাকে তুচ্ছ মনে করা প্রয়োজন, যাতে আমরা অ-সৃষ্ট ঈশ্বরকে ভালোবাসতে ও পেতে পারি।''' কারণ এই কারণেই আমাদের হৃদয় ও আত্মায় শান্তি নেই: আমরা এখানে এমন জিনিসের মধ্যে শান্তি খুঁজি যা এতই ক্ষুদ্র, যেখানে কোনো বিশ্রাম নেই, এবং আমাদের সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বগুণী ঈশ্বরকে জানি না। কারণ তিনিই প্রকৃত বিশ্রাম। '''ঈশ্বর চান যেন তাঁকে জানা হোক এবং তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁর মধ্যে বিশ্রাম নিই। কারণ তাঁর নিচের কোনো কিছুই আমাদের সন্তুষ্ট করে না। এবং এই কারণেই কোনো আত্মা ততক্ষণ শান্ত হয় না যতক্ষণ না সৃষ্ট সমস্ত জিনিসের প্রতি সে নিজেকে শূন্য করে। যখন সে প্রেমের জন্য স্বেচ্ছায় নিজেকে শূন্য করে, যাতে সে তাঁকে পেতে পারে যিনিই সবকিছু, তখনই সে আধ্যাত্মিক বিশ্রাম পাওয়ার যোগ্য হয়।'''
=== অধ্যায় ৬ ===
[[File:St Annes Church Manchester England TETRAGRAMMATON.jpg|thumb|তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁকে খুঁজি এবং মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে উপাসনা করি, এই উপলব্ধি নিয়ে যে তিনিই সবকিছুর মঙ্গলময়তা।]]
* তখন আমি সত্যই দেখলাম যে, ঈশ্বরের উপাসনা এবং প্রকৃত আনন্দ তখনই বেশি হয় যখন আমরা তাঁর মঙ্গলময়তার জন্য বিশ্বস্ততার সাথে তাঁর কাছেই প্রার্থনা করি এবং সঠিক উপলব্ধি ও প্রেমের দ্বারা অটল থেকে তাঁর কৃপা আঁকড়ে ধরি, যেন আমরা হৃদয়ের চিন্তার সমস্ত মাধ্যম ব্যবহার করছি। কারণ যদি আমরা এই সমস্ত মাধ্যম গ্রহণ করি, তাও তা খুব সামান্য এবং ঈশ্বরের পূর্ণ উপাসনা নয়: কিন্তু তাঁর মঙ্গলময়তার মধ্যেই সবকিছু পূর্ণ এবং সেখানে কিছুই অভাব নেই।
* '''তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁকে খুঁজি এবং মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে উপাসনা করি, এই উপলব্ধি নিয়ে যে তিনিই সবকিছুর মঙ্গলময়তা।''' <br> কারণ ঈশ্বরের মঙ্গলময়তাই সর্বোচ্চ প্রার্থনা, এবং তা আমাদের প্রয়োজনের সর্বনিম্ন অংশে নেমে আসে। এটি আমাদের আত্মাকে জীবিত করে, কৃপা ও পুণ্যে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। এটি প্রকৃতিতে সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং কৃপায় সবচেয়ে সহজলভ্য: কারণ এটি সেই একই কৃপা যা আত্মা খোঁজে এবং সর্বদা খুঁজবে যতক্ষণ না আমরা সত্যই জানি যে তিনি আমাদের সবাইকে নিজের মধ্যে আবদ্ধ রেখেছেন। <br> কারণ তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি তাঁর কোনো ঘৃণা নেই এবং আমাদের শরীরে প্রকৃতিগতভাবে যে সামান্যতম কাজগুলো থাকে তা করতেও তিনি ইতস্তত করেন না, কারণ তিনি সেই আত্মাকে ভালোবাসেন যা তিনি নিজের সাদৃশ্যে তৈরি করেছেন।
* '''শরীর যেমন পোশাকে ঢাকা, মাংস যেমন চামড়ায় ঢাকা, হাড় যেমন মাংসে ঢাকা, এবং হৃদয় যেমন পুরো শরীরে ঢাকা, ঠিক তেমনই আমরা, আত্মা ও শরীর, ঈশ্বরের মঙ্গলময়তায় আবৃত এবং আবদ্ধ। হ্যাঁ, এবং আরও আপনভাবে: কারণ এই সমস্ত কিছু নষ্ট হয়ে যেতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা সর্বদা পূর্ণ এবং কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী;''' কারণ আমাদের প্রেমিক সত্যই চান যেন আমাদের আত্মা তাঁর সাথে সমস্ত শক্তি দিয়ে লেগে থাকে এবং আমরা যেন সর্বদা তাঁর মঙ্গলময়তাকে আঁকড়ে থাকি। কারণ হৃদয়ে যা কিছু চিন্তা করা যায়, তার মধ্যে এটিই ঈশ্বরকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয় এবং দ্রুততম ফল দেয়।
=== অধ্যায় ৭ ===
[[File:Love heart.jpg|thumb|যিনি ভালোবাসার জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই একই ভালোবাসায় তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং অন্তহীনভাবে রক্ষা করবেন।]]
* '''এই প্রকাশটি ছিল দ্রুত এবং প্রাণবন্ত, এবং ভীতিকর ও ভয়ংকর, মিষ্টি ও মনোরম।''' এবং সমস্ত দৃশ্যের মধ্যে আমার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক ছিল এটি যে, আমাদের ঈশ্বর ও প্রভু, যিনি এত শ্রদ্ধেয় ও ভয়ংকর, তিনি এত আপন এবং সৌজন্যপূর্ণ: এবং এটি আমাকে আত্মা ও নিশ্চিততার শান্তিতে পূর্ণ করেছিল।
* সত্যই এটিই সবচেয়ে বড় আনন্দ যা হতে পারে, আমার দৃষ্টিতে, যে তিনি যিনি সর্বোচ্চ ও সর্বশক্তিমান, সবচেয়ে মহৎ ও যোগ্য, তিনিই সবচেয়ে বিনম্র ও নম্র, সবচেয়ে আপন ও সৌজন্যপূর্ণ: এবং সত্যই এই বিস্ময়কর আনন্দ আমাদের সবাইকে দেখানো হবে যখন আমরা তাঁকে দেখব।
* এই বিস্ময়কর আপনভাব কোনো মানুষই জীবনের এই সময়ে পুরোপুরি দেখতে পায় না, যদি না সে আমাদের প্রভুর বিশেষ প্রকাশ বা পবিত্র আত্মার কাছ থেকে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাপ্ত কৃপা না পায়। কিন্তু বিশ্বাস ও ভক্তি এই পুরস্কারের যোগ্য করে তোলে: এবং কৃপার মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়। কারণ বিশ্বাস, আশা এবং ভালোবাসার ওপরই আমাদের জীবন প্রতিষ্ঠিত।
=== অধ্যায় ৮ ===
[[File:Roerich_symbol.svg|thumb|আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং প্রতিটি জিনিসের যে মঙ্গলময়তা আছে, তা তিনিই।]]
* আমি জানি যে স্বর্গ ও পৃথিবী এবং যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তা মহান ও বিশাল, সুন্দর ও ভালো। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এটি এত ক্ষুদ্র দেখানোর কারণ হলো আমি এটি তাঁর উপস্থিতিতে দেখেছি যিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা: কারণ যে আত্মা সবকিছুর সৃষ্টিকর্তাকে দেখে, তার কাছে সৃষ্ট সবকিছুই খুব ক্ষুদ্র মনে হয়।
* '''যিনি ভালোবাসার জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই একই ভালোবাসায় তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং অন্তহীনভাবে রক্ষা করবেন।'''
* '''আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং প্রতিটি জিনিসের যে মঙ্গলময়তা আছে, তা তিনিই।'''
* আমাদের প্রভু প্রথম দর্শনে এই সবকিছুই আমাকে দেখিয়েছিলেন, এটি দেখার জন্য সময় ও সুযোগ দিয়েছিলেন। এবং শারীরিক দৃষ্টি থেমে গিয়েছিল, কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টি আমার উপলব্ধিতে থেকে গিয়েছিল এবং আমি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ে অপেক্ষা করছিলাম, যা দেখেছিলাম তাতে আনন্দিত হয়েছিলাম। এবং আমি সাহস করে আরও দেখতে চেয়েছিলাম, যদি তা তাঁর ইচ্ছা হতো, অথবা অন্যথায় দীর্ঘ সময় ধরে একই দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলাম।
* এই সবকিছুর মধ্যে আমি আমার সম-খ্রিস্টানদের প্রতি ভালোবাসায় অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম, যেন তারা দেখতে এবং জানতে পারে যা আমি দেখেছি: কারণ আমি চেয়েছিলাম এটি তাদের জন্য সান্ত্বনা হোক। কারণ এই সমস্ত দৃশ্য সাধারণের জন্য দেখানো হয়েছিল। তখন আমি আমার চারপাশের লোকদের বললাম: "আজ আমার জন্য বিচার দিবস।" এবং এটি আমি বলেছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাচ্ছি।
* আমি আপনাদের সবাইকে ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করি এবং আপনার নিজের কল্যাণের জন্য উপদেশ দিই, যে আপনারা সেই দরিদ্র প্রাণীর প্রতি তাকানো বন্ধ করুন যার কাছে এটি দেখানো হয়েছিল, এবং শক্তিশালী, জ্ঞানী ও বিনম্রভাবে ঈশ্বরকে দেখুন, যিনি তাঁর সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসা ও অন্তহীন মঙ্গলময়তার মাধ্যমে আমাদের সবার সান্ত্বনার জন্য এটি সাধারণভাবে দেখাতে চেয়েছেন। কারণ ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আপনারা এটি মহান আনন্দ ও তুষ্টির সাথে গ্রহণ করুন, যেন যিশু এটি আপনাদের সবাইকে দেখিয়েছেন।
=== অধ্যায় ৯ ===
[[File:Saula Kopf 2517m Panorama 2.jpg|thumb|আধ্যাত্মিক দৃষ্টিটি আমি যতটা চাই ততটা খোলাখুলি বা পূর্ণভাবে দেখাতে পারি না।]]
* '''প্রকাশের কারণে আমি ভালো নই যদি না আমি ঈশ্বরকে আরও বেশি ভালোবাসি: এবং আপনারা ঈশ্বরকে যতটা বেশি ভালোবাসেন, এটি আমার চেয়ে আপনাদের জন্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।''' আমি এটি জ্ঞানী ব্যক্তিদের বলছি না, কারণ তারা এটি ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু আমি এটি আপনাদের বলছি যারা সহজ-সরল, সান্ত্বনা ও আরামের জন্য: কারণ আমরা সবাই সান্ত্বনায় এক। কারণ সত্যই আমাকে এটি দেখানো হয়নি যে ঈশ্বর আমাকে কৃপাপ্রাপ্ত সর্বনিম্ন আত্মার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। কারণ আমি নিশ্চিত যে এমন অনেকেই আছেন যারা কখনো পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষার বাইরে কোনো প্রকাশ বা দর্শন পাননি, কিন্তু তারা ঈশ্বরকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। '''কারণ যদি আমি এককভাবে নিজের দিকে তাকাই, তবে আমি কিছুই নই।''' কিন্তু সাধারণভাবে, আমি আশা করি, আমার সমস্ত সম-খ্রিস্টানদের সাথে ভালোবাসার একতায় আমি আছি।
* '''এই একতার মধ্যেই সমস্ত মানবজাতির জীবন নিহিত, যারা পরিত্রাণ পাবে।''' কারণ আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং ঈশ্বর যা সৃষ্টি করেছেন তা তিনি তৈরি করেছেন, এবং ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টি করা সবকিছুকেই ভালোবাসেন: এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের জন্য তার সমস্ত সম-খ্রিস্টানকে সাধারণভাবে ভালোবাসে, সে সবকিছুকেই ভালোবাসে। কারণ যারা পরিত্রাণ পাবে, সেই মানবজাতির মধ্যে সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত: অর্থাৎ, যা সৃষ্টি হয়েছে এবং সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। কারণ মানুষের মধ্যে ঈশ্বর আছেন এবং ঈশ্বর সবকিছুর মধ্যে আছেন। এবং আমি আশা করি ঈশ্বরের কৃপায় যে ব্যক্তি এটি এভাবে দেখবে, সে সত্যই শিক্ষিত হবে এবং গভীরভাবে সান্ত্বনা পাবে, যদি তার সান্ত্বনার প্রয়োজন হয়।
* আমি তাদের কথা বলছি যারা পরিত্রাণ পাবে, কারণ এই সময়ে ঈশ্বর আমাকে অন্য কিছু দেখাননি। তবে সবকিছুর ক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি যা পবিত্র চার্চ বিশ্বাস করে, প্রচার করে এবং শিক্ষা দেয়। কারণ পবিত্র চার্চের বিশ্বাস, যা আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম এবং আমি আশা করি, ঈশ্বরের কৃপায় আন্তরিকভাবে ব্যবহার ও অভ্যাসে রেখেছিলাম, তা ক্রমাগত আমার দৃষ্টিতে ছিল: এর বিপরীত কিছু গ্রহণ করার ইচ্ছা বা অর্থ আমার ছিল না। এবং এই উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আমার সমস্ত নিষ্ঠার সাথে প্রকাশটি দেখেছি: কারণ এই সমস্ত পবিত্র প্রকাশের মধ্যে আমি একে ঈশ্বরের অর্থের সাথে এক হিসেবে দেখেছি।
* এই সবকিছু তিনভাবে দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, শারীরিক দৃষ্টি দ্বারা, আমার উপলব্ধিতে গঠিত শব্দ দ্বারা, এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টি দ্বারা। কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টিটি আমি যতটা চাই ততটা খোলাখুলি বা পূর্ণভাবে দেখাতে পারি না বা পারি না। কিন্তু আমি আমাদের সর্বশক্তিমান ঈশ্বর প্রভুর ওপর ভরসা করি যে তিনি তাঁর মঙ্গলময়তার জন্য, এবং আপনাদের ভালোবাসার জন্য, আপনাদের এটি আরও আধ্যাত্মিকভাবে এবং আরও মিষ্টিভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করবেন, যা আমি বলতে পারি বা পারি না তার চেয়েও বেশি।
== দ্বিতীয় প্রকাশ (দ্য সেকেন্ড রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১০ ===
[[File:Cristo degli abissi.jpg|thumb|যদি কোনো মানুষ বা নারী বিশাল জলের নিচে থাকত, যদি সে ঈশ্বরের দৃষ্টি লাভ করত। যেমনটি ঈশ্বর ক্রমাগত একজন মানুষের সাথে থাকেন। তবে সে শরীর ও আত্মায় নিরাপদ থাকত এবং কোনো ক্ষতি হতো না: এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সে এই পৃথিবীর সমস্ত বর্ণনার চেয়েও বেশি শান্তি ও সান্ত্বনা পেত।]]
* '''ঈশ্বর চান যেন তাঁকে দেখা হোক এবং খোঁজা হোক: যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করা হয় এবং তাঁকে বিশ্বাস করা হয়।'''
* এটি আমি শারীরিকভাবে, কিছুটা অস্পষ্ট ও ঝাপসাভাবে দেখেছিলাম; এবং আমি আরও স্পষ্টভাবে দেখার জন্য শারীরিক দৃষ্টি কামনা করেছিলাম। আমার বিচারবুদ্ধিতে উত্তর পেলাম: "যদি ঈশ্বর তোমাকে আরও দেখাতে চান, তবে তিনিই হবেন তোমার আলো: তাঁর ছাড়া তোমার আর কিছুর প্রয়োজন নেই।" কারণ আমি তাঁকে খুঁজতে দেখেছি। <br> কারণ আমরা এখন এতটাই অন্ধ ও অবিবেচক যে, ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তায় নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ না করা পর্যন্ত আমরা তাঁকে খুঁজি না। এবং যখন আমরা কৃপাবশত তাঁর কিছুটা দর্শন পাই, তখন সেই একই কৃপা আমাদের আরও পরমানন্দময় দর্শনের জন্য প্রবল আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত করে। <br> এবং এভাবেই আমি তাঁকে দেখেছি এবং খুঁজেছি এবং আমি তাঁকে পেয়েছি, আমি তাঁকে চেয়েছি। এবং আমার দৃষ্টিতে এটিই আমাদের সাধারণ কাজ হওয়া উচিত।
* একবার আমার উপলব্ধি সমুদ্রের তলদেশের গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এবং সেখানে আমি সবুজ পাহাড় ও উপত্যকা দেখেছিলাম, যা শৈবাল ও নুড়ি পাথরে আবৃত বলে মনে হচ্ছিল। '''তখন আমি বুঝলাম: যদি কোনো মানুষ বা নারী বিশাল জলের নিচে থাকত, যদি সে ঈশ্বরের দৃষ্টি লাভ করত। যেমনটি ঈশ্বর ক্রমাগত একজন মানুষের সাথে থাকেন। তবে সে শরীর ও আত্মায় নিরাপদ থাকত এবং কোনো ক্ষতি হতো না: এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সে এই পৃথিবীর সমস্ত বর্ণনার চেয়েও বেশি শান্তি ও সান্ত্বনা পেত।''' কারণ তিনি চান যেন আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা তাঁকে ক্রমাগত দেখছি, যদিও আমাদের কাছে তা সামান্যই মনে হয়; এবং এই বিশ্বাসে তিনি আমাদের সর্বদা কৃপা লাভে সাহায্য করেন। কারণ তিনি চান যেন তাঁকে দেখা হোক এবং তাঁকে খোঁজা হোক। তিনি চান যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করা হোক এবং তাঁকে বিশ্বাস করা হোক।
* এবং এই দর্শনটি আমার উপলব্ধির জন্য একটি শিক্ষা ছিল যে, আত্মার ক্রমাগত অনুসন্ধান ঈশ্বরকে অত্যন্ত আনন্দিত করে। কারণ আত্মার পক্ষে খোঁজা, সহ্য করা এবং বিশ্বাস করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। এবং এটি সেই আত্মায় পবিত্র আত্মার দ্বারা সম্পন্ন হয় এবং খুঁজে পাওয়ার স্বচ্ছতা তাঁর বিশেষ কৃপা, যখন তা তাঁর ইচ্ছা। বিশ্বাস, আশা ও প্রেমের সাথে অনুসন্ধান আমাদের প্রভুকে আনন্দিত করে, এবং খুঁজে পাওয়া আত্মাকে আনন্দিত করে ও পরমানন্দে পূর্ণ করে। এবং এভাবেই আমি আমার উপলব্ধিতে শিখেছিলাম যে, যতক্ষণ তিনি আত্মাকে কষ্টে থাকতে দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসন্ধান করা দর্শন করার মতোই ভালো। ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা তাঁকে খুঁজি, তাঁকে দেখার জন্য, কারণ এর মাধ্যমেই তিনি যখন ইচ্ছা তাঁর বিশেষ কৃপায় নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ করবেন।
* এই দর্শনে দুটি কাজ দেখা যায়: একটি হলো অনুসন্ধান, অন্যটি হলো দর্শন বা অবলোকন।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমাদের অনুসন্ধানে তিনটি জিনিস থাকুক: প্রথমটি হলো, আমরা যেন অলসতা ছাড়াই আন্তরিকভাবে ও নিষ্ঠার সাথে খুঁজি, এবং তাঁর কৃপায় অযৌক্তিক বিষণ্ণতা ও বৃথা শোক ছাড়াই খুঁজি।''' দ্বিতীয়টি হলো, আমরা যেন তাঁর প্রেমের জন্য জীবনের শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে অটলভাবে অপেক্ষা করি, কোনো বিড়বিড় করা বা তাঁর বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছাড়াই। কারণ এটি মাত্র অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হবে। তৃতীয়টি হলো, আমরা যেন পূর্ণ নিশ্চিত বিশ্বাসে তাঁর ওপর দৃঢ়ভাবে নির্ভর করি। কারণ এটি তাঁর ইচ্ছা যে আমরা জানি, '''যারা তাঁকে ভালোবাসে তাদের সবার কাছে তিনি হঠাৎ ও পরমানন্দময়ভাবে আবির্ভূত হবেন।''' <br> কারণ তাঁর কাজ গোপনীয় এবং '''তিনি চান যেন তাঁকে অনুভব করা হয় এবং তাঁর আবির্ভাব হবে দ্রুত ও আকস্মিক এবং তিনি চান যেন তাঁকে বিশ্বাস করা হয়। কারণ তিনি অত্যন্ত কৃপাময় ও আপনজন। তিনি ধন্য হোন!'''
== তৃতীয় প্রকাশ (দ্য থার্ড রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১১ ===
[[File:Electricsheep-18467.jpg|thumb|পাপ কোনো কাজ নয়।]]
[[File:Universeglass.JPG|thumb|আমি দেখলাম যে তিনি সবকিছুর মধ্যে আছেন।]]
[[File:A Young Pulsar Shows its Hand.jpg|thumb|আমি আমার কাজ থেকে আমার হাত কখনও সরিয়ে নিই না এবং কখনও সরিয়ে নেব না, অন্তহীনভাবে: দেখো! আমি সবকিছুর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে পরিণতির জন্য নির্ধারণ করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রেম দিয়ে আমি সবকিছুর পরিচালনা করছি, যা দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টি করেছি।]]
* '''যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়: কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বরই সব করেন।'''
* '''পাপ কোনো কাজ নয়।'''
* এর পরে আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখলাম, অর্থাৎ আমার উপলব্ধিতে। যে দর্শনের মাধ্যমে আমি দেখলাম যে তিনি সবকিছুর মধ্যে বিদ্যমান।
* আমি শান্ত ভয়ের সাথে অবলোকন করলাম এবং বিবেচনা করলাম, দেখে ও জেনে ভাবলাম: "পাপ কী?" কারণ আমি সত্যই দেখলাম যে ঈশ্বর সব কাজই করেন, তা যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন। এবং আমি সত্যই দেখলাম যে কোনো কিছুই দৈবক্রমে বা আকস্মিকভাবে ঘটে না বরং সবকিছুই ঈশ্বরের পূর্বনির্ধারিত প্রজ্ঞা অনুযায়ী হয়। যদি মানুষের দৃষ্টিতে তা দৈবক্রিয়া বা আকস্মিক মনে হয়, তবে আমাদের অন্ধত্ব এবং অদূরদর্শিতাই তার কারণ। কারণ যে বিষয়গুলো সৃষ্টির আদি থেকে ঈশ্বরের দূরদর্শী প্রজ্ঞায় রয়েছে (যা তিনি ন্যায়পরায়ণতা, মহিমা ও ধারাবাহিকতার সাথে সর্বোত্তম পরিণতির দিকে নিয়ে যান), সেগুলো যখন আমাদের সামনে হঠাৎ উপস্থিত হয়, আমরা তা বুঝতে পারি না এবং '''এইভাবে আমাদের অন্ধত্ব ও অদূরদর্শিতার কারণে আমরা বলি: এগুলো দৈবক্রিয়া ও আকস্মিক ঘটনা। কিন্তু আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে তা নয়। <br> তাই আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে, যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়: কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বরই সব করেন।''' কারণ এই সময়ে প্রাণীদের কাজ দেখানো হয়নি বরং প্রাণীর মধ্যে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাজ দেখানো হয়েছে: কারণ তিনি সবকিছুর কেন্দ্রে আছেন এবং তিনি সবই করেন। এবং আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তিনি কোনো পাপ করেন না।
* '''এখানে আমি সত্যই দেখলাম যে পাপ কোনো কাজ নয়। কারণ এই সমস্ত কিছুর মধ্যে পাপ দেখানো হয়নি। এবং আমি এতে আর বিস্ময় প্রকাশ করতে চাইলাম না, বরং আমাদের প্রভুর দিকে তাকালাম যে তিনি কী দেখাতে চান। <br> এবং এভাবেই, সেই সময়ের জন্য যতটুকু সম্ভব ছিল, ঈশ্বরের কাজের ন্যায়পরায়ণতা আত্মার কাছে প্রকাশিত হয়েছিল।'''
* '''ন্যায়পরায়ণতার দুটি সুন্দর বৈশিষ্ট্য আছে: এটি সঠিক এবং এটি পূর্ণ।''' এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সমস্ত কাজ ঠিক তেমনই: এর জন্য দয়া বা কৃপার কাজের প্রয়োজন হয় না: কারণ সেগুলো সবই ন্যায়পরায়ণ। যার মধ্যে কোনো কিছুরই অভাব নেই।
* অন্য সময়ে তিনি পাপকে নগ্নভাবে দেখার জন্য একটি প্রকাশ দিয়েছিলেন, যেমনটা আমি বলব: যেখানে তিনি দয়া ও কৃপার কাজ ব্যবহার করেন। <br> এবং আমার উপলব্ধির জন্য এই দর্শনটি দেখানো হয়েছিল, কারণ আমাদের প্রভু চেয়েছিলেন যেন আত্মা সত্যভাবে তাঁর দর্শনের দিকে এবং সাধারণভাবে তাঁর সমস্ত কাজের দিকে ফিরে আসে। কারণ সেগুলো অত্যন্ত ভালো এবং তাঁর সমস্ত কাজ সহজ ও মধুর, এবং যে আত্মা মানুষের অন্ধ বিচার থেকে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সুন্দর ও মধুর বিচারের দিকে ফিরে আসে, তাকে তিনি পরম স্বস্তি দান করেন। '''কারণ মানুষ কিছু কাজকে ভালো এবং কিছু কাজকে মন্দ বলে গণ্য করে কিন্তু আমাদের প্রভু সেগুলোকে সেভাবে দেখেন না: কারণ প্রকৃতিতে যার অস্তিত্ব আছে তা যেমন ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্ট, তেমনি যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ঈশ্বরের কাজেরই বৈশিষ্ট্য।'''
* '''এটি বোঝা সহজ যে সর্বোত্তম কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয় এবং সর্বোত্তম কাজটি সবচেয়ে উচ্চতর কাজটি। যতটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়, ক্ষুদ্রতম কাজটিও ততটাই ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। এবং প্রতিটি জিনিস তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও শৃঙ্খলায় থাকে যা আমাদের প্রভু সৃষ্টির আদি থেকেই নির্ধারণ করেছেন। কারণ তিনি ছাড়া আর কোনো কর্তা নেই।''' <br> আমি নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে তিনি কোনো কিছুর উদ্দেশ্য কখনও পরিবর্তন করেন না, এবং অন্তহীনভাবে কখনও করবেনও না। কারণ সৃষ্টির আদি থেকে তাঁর ন্যায়পরায়ণ ব্যবস্থায় তাঁর কাছে অজানা কিছুই ছিল না। এবং তাই কোনো কিছু সৃষ্টির পূর্বেই সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে নির্ধারিত ছিল, যেভাবে তা অনন্তকাল ধরে টিকে থাকবে এবং কোনো কিছুই সেই বিন্দু থেকে বিচ্যুত হবে না।
* এই সবকিছু তিনি পরম পরমানন্দের সাথে দেখিয়েছিলেন, এভাবে ইঙ্গিত করে: '''''"দেখো! আমিই ঈশ্বর: দেখো! আমি সবকিছুর মধ্যে আছি: দেখো! আমিই সব কাজ করি: দেখো! আমি আমার কাজ থেকে আমার হাত কখনও সরিয়ে নিই না এবং অন্তহীনভাবে কখনও সরিয়ে নেব না: দেখো! আমি সবকিছুর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে পরিণতির জন্য নির্ধারণ করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রেম দিয়ে আমি সবকিছুর পরিচালনা করছি, যা দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টি করেছি। কোনো কিছু কীভাবে ভুল হতে পারে?"''''' <br> এই দর্শনে আত্মাকে অত্যন্ত শক্তিশালী, জ্ঞানী ও প্রেমময়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তখন আমি স্পষ্টভাবে দেখলাম যে, ঈশ্বরের প্রতি মহান শ্রদ্ধা ও আনন্দের সাথে সম্মতি জানানো আমার জন্য অপরিহার্য।
== চতুর্থ প্রকাশ (দ্য ফোর্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১২ ===
[[File:Кошелев Н. А. Сошествие во ад.jpg|thumb|দেখো এবং লক্ষ্য করো! তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য নরকের গভীরে নেমে গিয়েছিল, এর শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছিল এবং স্বর্গীয় দরবারের অন্তর্গত সেখানে থাকা সমস্ত আত্মাকে মুক্ত করেছিল।]]
* এর পরে আমি দেখতে পেলাম, চাবুক মারার দৃশ্যের মতো শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্ত ঝরছে, এইভাবে ধারালো আঘাতে মিষ্টি শরীরের চারপাশ থেকে কোমল মাংসে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এত প্রচুর পরিমাণে তপ্ত রক্ত ঝরছিল যে চামড়া বা ক্ষত কিছুই দেখা যাচ্ছিল না, যেন সবকিছুই কেবল রক্ত। এবং যখন এটি নিচে পড়ে যাওয়ার কথা ছিল, তখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল। <br> তা সত্ত্বেও, রক্তক্ষরণ কিছুক্ষণ অব্যাহত ছিল: যতক্ষণ তা দেখা এবং বিবেচনা করা সম্ভব ছিল।
* দেখো এবং লক্ষ্য করো! তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য নরকের গভীরে নেমে গিয়েছিল, এর শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছিল এবং স্বর্গীয় দরবারের অন্তর্গত সেখানে থাকা সমস্ত আত্মাকে মুক্ত করেছিল। তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য সমস্ত পৃথিবীকে প্লাবিত করেছে, এবং সদিচ্ছাসম্পন্ন সমস্ত প্রাণীকে পাপ থেকে ধৌত করার জন্য প্রস্তুত আছে—যারা অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতে আসবে। তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র শরীরে স্বর্গে আরোহণ করেছে, এবং সেখানে তিনি আমাদের জন্য পিতার কাছে রক্ত ঝরাচ্ছেন ও প্রার্থনা করছেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তিনি তা করবেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তা সর্বদা থাকবে।
== পঞ্চম প্রকাশ (দ্য ফিফথ রিভেলেশন) ==
[[File:Passion of Christ.jpg|thumb|আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র কষ্ট এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শত্রুকে পরাভূত করা হয়েছে।]]
=== অধ্যায় ১৩ ===
* '''আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র কষ্ট এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শত্রুকে পরাভূত করা হয়েছে।'''
* তিনি কোনো কণ্ঠস্বর বা ঠোঁট খোলা ছাড়াই আমার আত্মায় এই শব্দগুলো গঠন করলেন: "এর দ্বারাই শয়তান পরাভূত হলো।" আমাদের প্রভু এই কথাগুলো বলেছেন, তাঁর পবিত্র কষ্ট বা প্যাশনের কথা বুঝিয়ে, যা তিনি আগেই প্রদর্শন করেছিলেন। <br> এতে আমাদের প্রভু দেখালেন যে, তাঁর কষ্টই শয়তানের পরাজয়। ঈশ্বর দেখালেন যে, অবতার গ্রহণের আগে শয়তানের যে বিদ্বেষ ছিল, এখনও তার একই বিদ্বেষ রয়েছে। সে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে, কিন্তু সে দেখতে পায় যে পরিত্রাণপ্রাপ্ত সমস্ত আত্মা খ্রিস্টের মূল্যবান কষ্টের গুণের মাধ্যমে তার হাত থেকে গৌরবময়ভাবে মুক্তি পাচ্ছে। এটিই তার দুঃখ, এবং সে অত্যন্ত লজ্জিত। কারণ ঈশ্বর তাকে যা কিছু করার অনুমতি দেন, তার সবই আমাদের জন্য আনন্দে এবং তার জন্য লজ্জায় ও কষ্টে রূপান্তরিত হয়। ঈশ্বর যখন তাকে কাজ করার অনুমতি দেন, তখন সে যতটা কষ্ট পায়, কাজ না করলেও ততটাই পায়: কারণ সে কখনোই তার ইচ্ছামতো মন্দ কাজ করতে পারে না, কেননা তার সমস্ত শক্তি ঈশ্বরের হাতে ন্যস্ত।
* '''আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ক্রোধ থাকতে পারে না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু সর্বদা তাঁর নিজের মহিমা এবং পরিত্রাণপ্রাপ্ত সকলের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।''' শক্তি ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে তিনি তাদের প্রতিহত করেন, যারা বিদ্বেষ ও দুষ্টতা থেকে ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করার ষড়যন্ত্র করে। আমি আরও দেখেছি আমাদের প্রভু তার বিদ্বেষকে উপহাস করেন এবং তার শক্তিহীনতাকে তুচ্ছ করেন এবং তিনি চান যেন আমরাও তাই করি। এই দৃশ্য দেখে আমি উচ্চস্বরে হেসেছিলাম, আর আমার হাসির কারণে আমার চারপাশের লোকেরাও হেসেছিল, এবং তাদের সেই হাসি আমার জন্য আনন্দের কারণ হয়েছিল।
* কিন্তু আমি খ্রিস্টকে হাসতে দেখিনি। কারণ আমি বুঝেছিলাম যে, শয়তান পরাজিত হয়েছে। এই আনন্দে এবং ঈশ্বরকে কেন্দ্র করে আমরা নিজেদের সান্ত্বনার জন্য হাসতে পারি। আর যখন আমি তাঁকে শয়তানের বিদ্বেষকে উপহাস করতে দেখেছি, তা ছিল আমার উপলব্ধিকে আমাদের প্রভুর দিকে পরিচালিত করার মাধ্যমে অর্থাৎ, এটি ছিল সত্যের একটি অভ্যন্তরীণ প্রকাশ, যা তাঁর চেহারায় কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়েই হয়েছিল। কারণ, আমার দৃষ্টিতে, এটি ঈশ্বরের একটি গৌরবময় বৈশিষ্ট্য যা সর্বদা একই থাকে।
* এর পরে আমি এক গম্ভীরতায় নিমগ্ন হলাম এবং বললাম: "আমি তিনটি জিনিস দেখতে পাচ্ছি। আমি খেলা, উপহাস এবং গাম্ভীর্য দেখছি। আমি খেলা দেখছি, কারণ শয়তান পরাজিত। আমি উপহাস দেখছি, কারণ ঈশ্বর তাকে উপহাস করছেন এবং তাকে উপহাস করা হবে এবং আমি গাম্ভীর্য দেখছি, কারণ সে আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পরমানন্দময় কষ্ট ও মৃত্যুর মাধ্যমে পরাজিত হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল।"
== ষষ্ঠ প্রকাশ (দ্য সিক্সথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৪ ===
[[File:Langenzenn Stadtkirche - Fenster Wilhelm II 5.jpg|thumb|স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স তাঁর সামনে স্বীকৃত হবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।]]
* '''স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স তাঁর সামনে স্বীকৃত হবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।'''
* আমার উপলব্ধিকে স্বর্গের দিকে উন্নীত করা হয়েছিল, যেখানে আমি আমাদের প্রভুকে তাঁর নিজের বাড়ির একজন প্রভু হিসেবে দেখলাম, যিনি তাঁর সমস্ত প্রিয় সেবক ও বন্ধুদের এক রাজকীয় ভোজসভায় আহ্বান করেছেন। তখন আমি দেখলাম প্রভু তাঁর নিজের বাড়িতে কোনো নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করেননি বরং আমি দেখলাম তিনি তাঁর বাড়িতে রাজকীয়ভাবে রাজত্ব করছেন, আনন্দ ও উল্লাসে পূর্ণ করছেন, নিজেকে অন্তহীনভাবে আনন্দিত করছেন এবং তাঁর প্রিয় বন্ধুদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন, অত্যন্ত আপনভাবে ও সৌজন্যের সাথে, অন্তহীন প্রেমের বিস্ময়কর সুরের মাধ্যমে, তাঁর নিজস্ব সুন্দর ও আশীর্বাদপুষ্ট মুখমণ্ডলে। ঈশ্বরত্বের এই মহিমান্বিত মুখমণ্ডল স্বর্গকে আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ করে।
* ঈশ্বর স্বর্গে প্রত্যেক আত্মার জন্য আনন্দের তিনটি স্তর দেখিয়েছেন, যারা পৃথিবীতে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে সেবা করেছে। প্রথমটি হলো আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ, যা সে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পাবে। এই ধন্যবাদ এত উচ্চ এবং এত মহিমান্বিত যে আত্মার মনে হয় এটিই তাকে পূর্ণ করে দিয়েছে, যদিও আর কিছুই না থাকত। কারণ আমার মনে হয়েছিল, জীবিত সমস্ত মানুষের সহ্য করা সমস্ত যন্ত্রণা ও কষ্টও সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য নয়, যা একজন মানুষ পাবে যে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে সেবা করেছে। দ্বিতীয়টি হলো, স্বর্গে থাকা সমস্ত আশীর্বাদপুষ্ট সত্তা সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ দেখতে পাবে এবং তিনি স্বর্গের সবাইকে তার সেবার কথা জানিয়ে দেবেন। এখানে এই উদাহরণটি দেখানো হয়েছিল। একজন রাজা, যদি তিনি তাঁর সেবকদের ধন্যবাদ জানান, তবে তা তাদের জন্য অনেক সম্মানের এবং যদি তিনি তা পুরো রাজ্যে ঘোষণা করেন, তবে সেই সম্মান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তৃতীয়টি হলো, সেই সময়ে তা যেমন নতুন ও আনন্দদায়ক হিসেবে গৃহীত হয়, ঠিক তেমনই তা অন্তহীনভাবে স্থায়ী হবে।
* আমি দেখলাম যে এটি অত্যন্ত আপনভাবে ও মধুরভাবে দেখানো হয়েছিল এবং স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স জানা যাবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে। এবং বিশেষ করে যারা স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে তাদের যৌবন ঈশ্বরকে উৎসর্গ করে, তাদের অসামান্যভাবে পুরস্কৃত করা হয় এবং বিস্ময়করভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়। <br> কারণ আমি দেখেছি যে, যে কোনো সময় একজন পুরুষ বা নারী সত্যভাবে ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসে। এক দিনের সেবার জন্য এবং তার অটল ইচ্ছার জন্য সে এই তিন স্তরের আনন্দই লাভ করবে। এবং প্রেমময় আত্মা ঈশ্বরের এই সৌজন্য যত বেশি দেখতে পায়, সে তার জীবনের সমস্ত দিন তাঁকে সেবা করার জন্য তত বেশি আগ্রহী হয়।
== সপ্তম প্রকাশ (দ্য সেভেন্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৫ ===
* এর পরে তিনি আমার আত্মায় এক পরম আধ্যাত্মিক তুষ্টি দেখালেন। আমি চিরন্তন নিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ হয়েছিলাম, কোনো বেদনাদায়ক ভয় ছাড়াই প্রবলভাবে টিকে ছিলাম। এই অনুভূতিটি এতটাই আনন্দময় ও আধ্যাত্মিক ছিল যে আমি পূর্ণ শান্তি ও বিশ্রামে ছিলাম, পৃথিবীর কোনো কিছুই আমাকে দুঃখ দিতে পারত না। <br> এটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এবং আমি আবার আমার নিজের মধ্যে ফিরে এলাম জীবন সম্পর্কে ক্লান্তি, নিজের প্রতি বিতৃষ্ণায় পূর্ণ হলাম, বেঁচে থাকার ধৈর্য প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম। বিশ্বাস, আশা ও প্রেম ছাড়া আমার কোনো আরাম ছিল না এগুলো আমার সত্যই ছিল, কিন্তু উপলব্ধিতে ছিল খুব সামান্য। <br> এবং এর পরপরই আমাদের প্রভু আমাকে পুনরায় আত্মার আরাম ও বিশ্রাম দিলেন, এমন তৃপ্তি ও নিশ্চয়তা যা এতই পরমানন্দময় ও শক্তিশালী যে কোনো ভয়, দুঃখ বা শারীরিক যন্ত্রণা আমাকে বিচলিত করতে পারেনি। এবং তখন বেদনা আবার আমার উপলব্ধিতে ফিরে এল, তারপর আনন্দ ও তৃপ্তি। এইভাবে কয়েকবার আমার মনে হয় প্রায় বিশবার। আনন্দের সময়ে আমি সন্ত পলের সাথে বলতে পারতাম। "খ্রিস্টের প্রেম থেকে কিছুই আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না" এবং বেদনার সময়ে আমি পিতরের সাথে বলতে পারতাম: "প্রভু, আমাকে বাঁচাও: আমি বিনষ্ট হচ্ছি!"
* এই দর্শনটি আমার উপলব্ধিতে দেখাল যে, কিছু আত্মার জন্য এই অভিজ্ঞতাটি উপকারী। কখনো শান্তিতে থাকা, আবার কখনো ব্যর্থ হয়ে নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হওয়া। ঈশ্বর চান যেন আমরা জানি যে, তিনি আমাদের সুখে ও দুঃখে একইভাবে সুরক্ষিত রাখেন। মানুষের আত্মার মঙ্গলের জন্য, মানুষ কখনো কখনো নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়; যদিও পাপ সবসময় এর কারণ নয়। কারণ এই সময়ে আমি এমন কোনো পাপ করিনি যার জন্য আমাকে নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে—এটি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক। এই আশীর্বাদপূর্ণ অনুভূতি পাওয়ার মতো যোগ্যতাও আমার ছিল না। কিন্তু আমাদের প্রভু যখন ইচ্ছা করেন তখন মুক্তহস্তে দান করেন এবং কখনো কখনো আমাদের কষ্টের মধ্যে রাখেন। এবং উভয়ই একই প্রেমের প্রকাশ।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আরাম ও শান্তিতে থাকি। কারণ আনন্দ হলো অন্তহীন স্থায়ী, এবং বেদনা হলো ক্ষণস্থায়ী, যা পরিত্রাণপ্রাপ্তদের জন্য বিলীন হয়ে যাবে। তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা নয় যে আমরা বেদনার অনুভূতিগুলো অনুসরণ করে শোক ও বিলাপ করি বরং আমরা যেন হঠাৎ তা অতিক্রম করে চিরন্তন আনন্দে নিমগ্ন থাকি।'''
== অষ্টম প্রকাশ (দ্য এইটথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৬ ===
* এর পরে খ্রিস্ট তাঁর মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ের কষ্টের একটি অংশ দেখালেন। <br> আমি তাঁর মিষ্টি মুখমণ্ডল দেখলাম যা মৃত্যুপথযাত্রী ফ্যাকাশে রঙে শুষ্ক ও রক্তহীন হয়ে গিয়েছিল এবং পরে, আরও ফ্যাকাশে, মৃত, অবসন্ন এবং তারপর নীলচে মৃত রঙে পরিবর্তিত হলো এবং মাংস যখন আরও গভীরভাবে মৃত হয়ে গেল তখন তা আরও কালচে-নীল হলো। কারণ তাঁর কষ্ট আমার কাছে তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলে (বিশেষ করে ঠোঁটে) সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল। সেখানে আমি এই চারটি রঙ দেখেছি, যদিও আমার দৃষ্টিতে তা আগে সতেজ, লাল ও মনোরম ছিল। এই গভীর মৃত্যু দেখা এক করুণ পরিবর্তন ছিল।
=== অধ্যায় ১৭ ===
* এবং এই মৃত্যুর সময়ে খ্রিস্টের কথাগুলো আমার মনে এল: "আমি তৃষ্ণার্ত।" <br> কারণ আমি খ্রিস্টের মধ্যে দ্বৈত তৃষ্ণা দেখলাম: একটি শারীরিক। অন্যটি আধ্যাত্মিক...
* আমি চার ধরণের শুষ্কতা দেখলাম। প্রথমটি ছিল রক্তহীনতা; দ্বিতীয়টি ছিল তার পরবর্তী যন্ত্রণা। তৃতীয়টি বাতাসে ঝুলে থাকা, যেমন মানুষ কাপড় শুকানোর জন্য ঝুলায়। চতুর্থটি ছিল এই যে, শারীরিক সত্তা তরল চেয়েছিল কিন্তু তার সমস্ত কষ্ট ও দুর্দশায় তাঁকে কোনো সান্ত্বনা দেওয়া হয়নি। আহ! তাঁর যন্ত্রণা ছিল কঠিন ও কষ্টদায়ক, কিন্তু যখন আর্দ্রতা শেষ হয়ে গেল এবং শরীর শুষ্ক হতে শুরু করল, কুঁকড়ে গেল, তখন তা আরও বেশি কঠিন ও কষ্টদায়ক মনে হলো। <br> এই যন্ত্রণাগুলো তাঁর পবিত্র মাথায় দেখা গিয়েছিল: প্রথমটি মৃত্যুর দিকে নিয়ে গিয়েছিল, যখন কিছু আর্দ্রতা ছিল এবং অন্যটি, ধীর, কুঁকড়ে যাওয়া শুষ্কতা, বাইরের বাতাসের ঝাপটায়। যা আমাকে ভাবতে কষ্ট দেয় তার চেয়েও বেশি ঠান্ডায় তাঁকে শুকিয়েছিল ও কষ্ট দিয়েছিল। <br> এবং অন্যান্য যন্ত্রণা। যার জন্য আমি দেখলাম যে আমার বলা সব কথাই খুব সামান্য। কারণ তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। খ্রিস্টের যন্ত্রণার এই প্রকাশ আমাকে বেদনায় পূর্ণ করে দিয়েছিল। কারণ আমি জানতাম তিনি কেবল একবারই কষ্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা আমাকে দেখাতে চেয়েছিলেন এবং আমার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমাকে তা দিয়ে পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। এবং খ্রিস্টের যন্ত্রণার এই সময়ে তাঁর যন্ত্রণা ছাড়া আমি আর কিছুই অনুভব করিনি। তখন ভাবলাম। "আমি জানতাম না আমি কতটা কষ্ট চেয়েছিলাম।" এবং, এক হতভাগার মতো, অনুশোচনা করলাম, ভাবলাম। "যদি জানতাম তা কী হবে, তবে আমি তা চাইতাম না।" কারণ আমার মনে হয়েছিল আমার যন্ত্রণা শারীরিক মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। <br> আমি ভাবলাম "এর মতো আর কোনো যন্ত্রণা আছে কি?" এবং আমার উপলব্ধিতে উত্তর পেলাম "নরক হলো অন্য যন্ত্রণা। কারণ সেখানে হতাশা আছে। কিন্তু পরিত্রাণের দিকে নিয়ে যাওয়া সমস্ত যন্ত্রণার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা, তোমার প্রেমকে কষ্ট পেতে দেখা। আমার জীবন, আমার পরমানন্দ, আমার আনন্দ। তাঁকে কষ্ট পেতে দেখার চেয়ে বড় যন্ত্রণা আমার জন্য আর কী হতে পারে?" এখানে আমি সত্যই অনুভব করলাম যে আমি নিজেকে ছাড়িয়ে খ্রিস্টকে এতটাই বেশি ভালোবাসতাম যে, সেই শোকে যন্ত্রণার চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা সহ্য করা সম্ভব ছিল না।
=== অধ্যায় ১৮ ===
* এখানে আমি আমাদের লেডি, সেন্ট মেরির সহমর্মিতার একটি অংশ দেখলাম। কারণ খ্রিস্ট এবং তিনি প্রেমে এতটাই একীভূত ছিলেন যে তাঁর ভালোবাসার গভীরতাই তাঁর যন্ত্রণার গভীরতার কারণ ছিল। কারণ এতে আমি প্রকৃতির প্রেমের একটি সত্তা দেখেছি, যা কৃপা দ্বারা অব্যাহত থাকে। যা প্রাণীদের তাঁর প্রতি থাকে। এই প্রাকৃতিক ভালোবাসা তাঁর মিষ্টি মায়ের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। কারণ তিনি তাঁকে সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তাঁর যন্ত্রণা সবার চেয়ে বেশি ছিল। কারণ ভালোবাসা যত উচ্চ, শক্তিশালী ও মধুর হয়, ভালোবাসার পাত্রকে কষ্টে থাকতে দেখলে প্রেমিকের দুঃখ তত বেশি হয়। <br> এবং তাঁর সমস্ত শিষ্য ও প্রকৃত প্রেমিকরা তাদের নিজস্ব শারীরিক মৃত্যুর চেয়েও বেশি যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন। কারণ আমি আমার নিজস্ব অনুভূতির মাধ্যমে নিশ্চিত যে, তাদের মধ্যে অন্ততপক্ষে যে ছিল, সেও নিজেকে ছাড়িয়ে তাঁকে এতটা ভালোবাসত যা আমার বলা সমস্ত কথাকে অতিক্রম করে যায়।
* '''এখানে আমি আমার উপলব্ধিতে খ্রিস্ট এবং আমাদের মধ্যে এক মহান ঐক্য দেখলাম। কারণ যখন তিনি কষ্টে ছিলেন, আমরা কষ্টে ছিলাম।''' <br> এবং সমস্ত প্রাণী যারা যন্ত্রণা সহ্য করতে পারত, তারা তাঁর সাথে সহ্য করেছিল। অর্থাৎ, ঈশ্বর আমাদের সেবার জন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছেন। খ্রিস্টের মৃত্যুর সময়ে গ্রহ-নক্ষত্র ও পৃথিবী তাদের প্রকৃতিতে দুঃখের কারণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারণ তাদের প্রকৃতির সহজাত বৈশিষ্ট্যই ছিল তাঁকে তাদের ঈশ্বর হিসেবে জানা, যার ওপর তাদের সমস্ত গুণ দাঁড়িয়ে ছিল। যখন তিনি ব্যর্থ হলেন, তখন দয়া ও কৃতজ্ঞতার কারণে, তাঁর যন্ত্রণার শোকে তাদেরও তাঁর সাথে ব্যর্থ হতে হয়েছিল।
* ঈশ্বর, যিনি তাঁর মঙ্গলময়তার মাধ্যমে গ্রহ ও উপাদানগুলোকে আশীর্বাদপুষ্ট ও অভিশপ্ত মানুষের জন্য কাজ করান, সেই সময়ে তিনি উভয় থেকেই তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। একারণেই যারা তাঁকে চিনত না তারাও সেই সময়ে শোকে ছিল। <br> এইভাবে আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের জন্য তুচ্ছ করা হয়েছিল এবং আমরা সবাই তাঁর সাথে এইভাবে তুচ্ছ হয়ে আছি এবং থাকব যতক্ষণ না আমরা তাঁর পরমানন্দে পৌঁছাই: যেমনটি আমি পরে বলব।
=== অধ্যায় ১৯ ===
* আমি ক্রুশ থেকে মুখ ফেরাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সাহস করিনি। কারণ আমি ভালো করেই জানতাম যে যতক্ষণ আমি ক্রুশের দিকে তাকিয়ে আছি, ততক্ষণ আমি নিশ্চিতভাবে নিরাপদ। তাই আমি আমার আত্মাকে বিপদে ফেলতে রাজি হইনি। কারণ ক্রুশের বাইরে কোনো নিশ্চয়তা নেই, শয়তানের ভয়ে।
* এটি আমার কাছে সর্বদা একটি সান্ত্বনা ছিল যে, আমি তাঁর কৃপায়, এই সমস্ত কষ্ট ও দুঃখের সময়েও যিশুকে আমার স্বর্গ হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম এবং এটি আমার জন্য একটি শিক্ষা ছিল যে আমি যেন সর্বদা তাই করি: সুখে ও দুঃখে কেবল যিশুকে আমার স্বর্গ হিসেবে বেছে নিই।
* আমি সত্যই দেখলাম যে অভ্যন্তরীণ সত্তা বাহ্যিক সত্তার প্রভু ও অধিপতি এবং সে তার ইচ্ছার দ্বারা চালিত হয় না বা মনোযোগ দেয় না। বরং সমস্ত উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা আমাদের প্রভু যিশুর সাথে একীভূত হওয়ার জন্য নির্ধারিত। বাহ্যিক সত্তা যেন অভ্যন্তরীণ সত্তাকে সম্মতি জানাতে টানে, তা আমাকে দেখানো হয়নি বরং কৃপার দ্বারা অভ্যন্তরীণ সত্তা বাহ্যিককে টানে, এবং খ্রিস্টের গুণের মাধ্যমে উভয়ই অন্তহীন পরমানন্দে একীভূত হবে,এটিই দেখানো হয়েছিল।
=== অধ্যায় ২০ ===
* এইভাবে আমি আমাদের প্রভু যিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে অবসন্ন থাকতে দেখলাম। কারণ ঈশ্বরত্বের সাথে একীভূত হওয়া মানবসত্ত্বাকে ভালোবাসার জন্য সহ্য করার শক্তি দিয়েছিল, যা সমস্ত মানুষের সহ্যক্ষমতার চেয়েও বেশি। আমার মানে এই নয় যে তিনি মানুষের চেয়ে বেশি যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন বরং তিনি এমন যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন যা পরিত্রাণপ্রাপ্ত কোনো মানুষ শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত কল্পনাও করতে পারবে না, সর্বোচ্চ মহিমান্বিত রাজা হওয়া সত্ত্বেও লজ্জাজনক, অবজ্ঞাত ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু বরণ করার কারণে। কারণ '''যিনি সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে যোগ্য, তাঁকেই সবচেয়ে বেশি তুচ্ছ ও অত্যন্ত অবজ্ঞাত করা হয়েছিল।'''
* তিনি যতটা কোমল ও পবিত্র ছিলেন, ঠিক ততটাই তিনি সহ্য করার জন্য শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান ছিলেন। <br> এবং পরিত্রাণপ্রাপ্ত প্রতিটি মানুষের পাপের জন্য তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন এবং প্রতিটি মানুষের দুঃখ ও একাকীত্ব তিনি দেখেছিলেন, এবং প্রকৃতির নিয়ম ও ভালোবাসার কারণে তিনি দুঃখ পেয়েছিলেন। <br> কারণ যতদিন তিনি কষ্টভোগী ছিলেন ততদিন তিনি আমাদের জন্য দুঃখ পেয়েছেন এবং এখন তিনি পুনরুত্থিত এবং আর কষ্টভোগী নন, তবুও তিনি আমাদের সাথে কষ্ট সহ্য করেন।
=== অধ্যায় ২১ ===
* আমার উপলব্ধিতে ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো, আমরা যেন তাঁর পবিত্র কষ্টকে তিনভাবে দেখি। প্রথমটি হলো: ''তিনি যে কঠিন যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন,''অনুশোচনা ও সহমর্মিতার সাথে। এবং আমাদের প্রভু সেই সময়ে তা দেখিয়েছিলেন এবং তা দেখার জন্য আমাকে শক্তি ও কৃপা দিয়েছিলেন।
* তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলের পরিবর্তন আমার মুখকেও পরিবর্তন করল, এবং আমি যতটা সম্ভব আনন্দিত ও প্রফুল্ল ছিলাম। তখন আমাদের প্রভু আনন্দের সাথে আমার মনে করিয়ে দিলেন। "এখন তোমার কষ্ট বা দুঃখের কোনো চিহ্ন কি আছে?" এবং আমি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম।
* এখানে আমি সত্যই দেখলাম যে, যদি তিনি আমাদের তাঁর পরমানন্দময় চেহারা দেখান, তবে পৃথিবী বা অন্য কোনো স্থানে এমন কোনো যন্ত্রণা নেই যা আমাদের দুঃখিত করতে পারে বরং সবকিছুই আমাদের জন্য আনন্দ ও পরমানন্দ হবে।
* তিনি যে কষ্ট সহ্য করেন তার কারণ হলো, তিনি তাঁর মঙ্গলময়তার মাধ্যমে আমাদের তাঁর পরমানন্দে তাঁর চেয়েও উন্নত করতে চান এবং আমরা এখানে যেটুকু কষ্ট সহ্য করি, তার বিনিময়ে আমরা ঈশ্বরে এমন এক উচ্চ ও অন্তহীন জ্ঞান লাভ করব যা এই যন্ত্রণা ছাড়া আমাদের পক্ষে লাভ করা কখনোই সম্ভব ছিল না।
== নবম প্রকাশ (দ্য নাইনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২২ ===
* তখন আমাদের ভালো প্রভু যিশু খ্রিস্ট বললেন: "আমি তোমার জন্য কষ্ট পেয়েছি বলে তুমি কি খুব খুশি?" আমি বললাম: "হ্যাঁ, ভালো প্রভু, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই; হ্যাঁ, ভালো প্রভু, তুমি ধন্য হও।" <br> তখন যিশু, আমাদের দয়ালু প্রভু, বললেন: "যদি তুমি খুশি হও, তবে আমিও খুশি: এটি আমার কাছে এক আনন্দ, এক পরমানন্দ, এক অন্তহীন তৃপ্তি যে আমি তোমার জন্য কষ্ট সহ্য করেছি; এবং যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম।"
* আমার উপলব্ধি স্বর্গের দিকে উন্নীত হয়েছিল, এবং সেখানে আমি তিনটি স্বর্গ দেখলাম। এই দৃশ্য দেখে আমি অত্যন্ত বিস্মিত হলাম। এবং যদিও আমি তিনটি স্বর্গ দেখলাম এবং সবই খ্রিস্টের পবিত্র মানবসত্তার মধ্যে কোনোটাই বড় নয়, কোনোটাই ছোট নয়, কোনোটাই উঁচু নয়, কোনোটাই নিচু নয়, বরং পরমানন্দে সবই সমান।
* আমি যা বলছি তা যিশুর কাছে এতটাই বড় আনন্দ যে তিনি তাঁর সমস্ত কষ্ট, তাঁর কঠিন যন্ত্রণা এবং তাঁর নিষ্ঠুর ও লজ্জাজনক মৃত্যুকে তুচ্ছ মনে করেন। <br> এবং এই কথাগুলোতে: "যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম" আমি সত্যই দেখলাম যে, তিনি যতবার মরতে "পারতেন", ততবারই তিনি মরতে "চাইতেন" এবং তাঁর ভালোবাসা তাঁকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে দিত না যতক্ষণ না তিনি তা করতেন। এবং তিনি কতবার মরতে চাইতেন তা জানার জন্য আমি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করলাম। এবং সত্যই সেই সংখ্যা আমার বোধগম্যতা ও বুদ্ধিকে এতদূর ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে আমার যুক্তি তা বুঝতে পারেনি, বা পারতও না। এবং যখন তিনি এইভাবে বহুবার মারা গিয়েছিলেন, বা মারা যেতেন, তবুও তিনি প্রেমের খাতিরে তা তুচ্ছ করতেন। কারণ তাঁর ভালোবাসার তুলনায় সবকিছুই তাঁর কাছে সামান্য মনে হয়।
* কারণ খ্রিস্টের মিষ্টি মানবসত্তা মাত্র একবার কষ্ট সহ্য করতে পারলেও, তাঁর মধ্যকার মঙ্গলময়তা দানের ইচ্ছায় কখনও ক্ষান্ত হতে পারে না। প্রতিদিন তিনি একই কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকেন, যদি তা সম্ভব হতো। কারণ তিনি যদি বলতেন যে তিনি আমার ভালোবাসার জন্য নতুন স্বর্গ ও নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করবেন, তবে তা তুলনামূলকভাবে সামান্যই হতো। কারণ এটি প্রতিদিন করা যেত, কোনো কষ্ট ছাড়াই। কিন্তু আমার ভালোবাসার জন্য এতবার মরা যে যার সংখ্যা প্রাণীর যুক্তিকে ছাড়িয়ে যায়, আমার দৃষ্টিতে এটিই সর্বোচ্চ উপহার যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর মানুষের আত্মাকে দিতে পারেন। তখন তিনি বোঝাতে চান: "তোমার ভালোবাসার জন্য আমি যে সমস্ত কাজ সহজেই করতে পারি তা কেন করব না, যেহেতু তোমার ভালোবাসার জন্য আমি আমার কঠিন যন্ত্রণার তোয়াক্কা না করেই এতবার মরতে প্রস্তুত ছিলাম?"
* '''যে ভালোবাসা তাঁকে কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য করেছে, তা তাঁর সমস্ত যন্ত্রণাকে ছাড়িয়ে গেছে, যেমন স্বর্গ পৃথিবীকে ছাড়িয়ে থাকে।'''
* '''ভালোবাসার কোনো শুরু ছিল না, আছে, এবং শেষও থাকবে না।''' এই প্রেমের জন্যই তিনি খুব মিষ্টিভাবে এই কথাগুলো বলেছিলেন: "যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম।"
=== অধ্যায় ২৩ ===
* এই তিনটি শব্দে: "এটি একটি আনন্দ, একটি পরমানন্দ, আমার জন্য এক অন্তহীন তৃপ্তি" তিনটি স্বর্গ দেখানো হয়েছিল। এইভাবে: আনন্দের জন্য, আমি পিতার সন্তুষ্টি বুঝেছি। পরমানন্দের জন্য, পুত্রের মহিমা এবং অন্তহীন তৃপ্তির জন্য, পবিত্র আত্মা। পিতা সন্তুষ্ট, পুত্র মহিমান্বিত, পবিত্র আত্মা তৃপ্ত।
* '''খ্রিস্ট বললেন:''' "যদি তুমি সন্তুষ্ট হও, তবে আমিও সন্তুষ্ট। " যেন তিনি বললেন: "এটিই আমার জন্য যথেষ্ট আনন্দ ও তৃপ্তি, এবং আমার কষ্টের বিনিময়ে আমি তোমার কাছে আর কিছুই চাই না, কেবল এই যে আমি যেন তোমাকে পুরোপুরি খুশি করতে পারি।" <br> এবং এর মাধ্যমে তিনি এক আনন্দিত দাতার বৈশিষ্ট্য মনে করিয়ে দিলেন। একজন আনন্দিত দাতা তিনি যা দান করেন তার দিকে খুব কম মনোযোগ দেন বরং তাঁর সমস্ত ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য থাকে তাঁকে খুশি করা ও সান্ত্বনা দেওয়া, যাকে তিনি তা দান করছেন। এবং গ্রহীতা যদি সেই উপহারটিকে মহান ও কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করে, তবে সেই সৌজন্যপূর্ণ দাতা তাঁর সমস্ত ব্যয় ও কষ্টকে তুচ্ছ মনে করেন, কারণ তিনি তাঁর ভালোবাসার পাত্রকে খুশি ও সান্ত্বনা দিতে পেরেছেন।এই আনন্দ ও তৃপ্তির জন্য। এটি প্রাচুর্যের সাথে এবং পূর্ণভাবে দেখানো হয়েছিল।
== দশম প্রকাশ (দ্য টেনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৪ ===
* তখন এক আনন্দিত চেহারায় আমাদের প্রভু তাঁর পার্শ্বদেশের (যেখানে বর্শা বিদ্ধ হয়েছিল) দিকে তাকালেন এবং আনন্দ সহকারে অবলোকন করলেন। তাঁর মিষ্টি দৃষ্টি দিয়ে তিনি তাঁর সৃষ্টির উপলব্ধিকে সেই একই ক্ষতের মধ্য দিয়ে তাঁর পার্শ্বদেশের ভেতরে নিয়ে গেলেন। এবং তখন তিনি একটি সুন্দর, মনোরম এবং শান্তিতে ও প্রেমে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্ত মানবজাতির জন্য পর্যাপ্ত প্রশস্ত একটি স্থান দেখালেন। এবং তার সাথে তিনি তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্ত ও পবিত্র জলের কথা মনে করিয়ে দিলেন যা তিনি ভালোবাসার জন্য পুরোপুরি ঢেলে দিয়েছিলেন। এবং সেই মিষ্টি দৃষ্টির সাথে তিনি তাঁর পবিত্র হৃদয় দেখালেন যা দ্বিখণ্ডিত।
* এছাড়াও, আরও ভালো উপলব্ধির জন্য, এই পবিত্র শব্দটি বলা হয়েছিল: "দেখো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি! তাকাও এবং দেখো যে তোমার জন্য মরার আগেই আমি তোমাকে এতটাই ভালোবাসতাম যে আমি তোমার জন্য মরতে প্রস্তুত ছিলাম এবং এখন আমি তোমার জন্য মারা গেছি এবং যা আমি সহ্য করতে পারি তা স্বেচ্ছায় সহ্য করেছি। এবং এখন আমার সমস্ত তিক্ত যন্ত্রণা ও কঠিন কষ্ট আমার ও তোমার জন্য অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দে পরিণত হয়েছে। এখন কি এমন হতে পারে যে তুমি এমন কিছু প্রার্থনা করবে যা আমাকে খুশি করে, কিন্তু আমি তা তোমাকে সানন্দে দান করব না? কারণ আমার খুশি হলো তোমার পবিত্রতা এবং আমার সাথে তোমার অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দ।" <br> এই পবিত্র শব্দের অর্থ, আমি যতটা সহজভাবে বলতে পারি, তা হলো: "দেখো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।" আমাদের ভালো প্রভু আমাদের আনন্দিত ও প্রফুল্ল করার জন্যই এটি দেখিয়েছিলেন।
== একাদশ প্রকাশ (দ্য ইলেভেন্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৫ ===
* আনন্দ ও উল্লাসের সেই একই চেহারায় আমাদের ভালো প্রভু যিশু খ্রিস্ট ডান দিকে তাকালেন এবং আমার মনে করিয়ে দিলেন যে, তাঁর কষ্টের সময়ে আমাদের লেডি (মেরি) কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন এবং বললেন: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?"
* মোশির পরেই তিনিই সবচেয়ে পরমানন্দময় দৃশ্য। <br> কিন্তু এখানে আমি তাঁর শারীরিক উপস্থিতি দেখার জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে শিখিনি বরং তাঁর পবিত্র আত্মার গুণাবলী তাঁর সত্য, তাঁর প্রজ্ঞা, তাঁর দানশীলতা দেখতে শিখেছি। যার মাধ্যমে আমি নিজেকে চিনতে এবং শ্রদ্ধার সাথে আমার ঈশ্বরকে ভয় করতে পারি। এবং যখন আমাদের ভালো প্রভু এটি দেখালেন এবং বললেন: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?" আমি উত্তর দিলাম: "হ্যাঁ, ভালো প্রভু, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই। হ্যাঁ, ভালো প্রভু, যদি তোমার ইচ্ছা হয়।" আমি প্রায়শই এর জন্য প্রার্থনা করেছি এবং আমি ভেবেছিলাম আমি তাঁকে শারীরিক উপস্থিতিতে দেখব, কিন্তু আমি তাঁকে সেভাবে দেখিনি। এবং যিশু সেই কথায় আমাকে তাঁর আধ্যাত্মিক রূপ দেখিয়েছেন: আমি আগে তাঁকে যেমন ছোট ও সাধারণ হিসেবে দেখেছিলাম, তিনি তখন তাঁকে উচ্চ, মহৎ, গৌরবময় এবং সমস্ত প্রাণীর ঊর্ধ্বে তাঁর কাছে প্রিয় হিসেবে দেখালেন। <br> এবং তিনি চান যেন এটি জানা থাকে। যে সবাই যারা তাঁর মধ্যে আনন্দ পায়, তারা যেন তাঁর মধ্যেও আনন্দ পায় এবং সেই সন্তুষ্টিতে যা তাঁর মধ্যে আছে এবং যা তাঁর মধ্যে তাঁর আছে।
* এবং যিশুর এই কথায়: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?" আমার মনে হয়েছিল এটিই সবচেয়ে আনন্দদায়ক শব্দ যা তিনি তাঁর সম্পর্কে আমাকে বলতে পারতেন, সেই আধ্যাত্মিক দর্শনের সাথে যা তিনি আমাকে তাঁর সম্পর্কে দিয়েছিলেন। কারণ আমাদের প্রভু আমাদের লেডি সেন্ট মেরি ছাড়া বিশেষ কিছুই দেখাননি এবং তাঁকে তিনি তিনবার দেখিয়েছেন। প্রথমটি হলো যখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। দ্বিতীয়টি হলো যখন তিনি ক্রুশের নিচে কষ্টে ছিলেন। তৃতীয়টি হলো এখন যেমন তিনি সন্তুষ্টি, শ্রদ্ধা এবং আনন্দে আছেন।
== দ্বাদশ প্রকাশ (দ্য টুয়েলভথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৬ ===
[[File:Collage Auge im Himmel byLöser.jpg|thumb|আমিই সেই, যে এখানে তোমাকে নিজেকে দেখালাম।]]
* এর পরে আমাদের প্রভু নিজেকে আমার দৃষ্টিতে আগের চেয়ে বেশি মহিমান্বিত হিসেবে দেখালেন, যার মাধ্যমে আমি শিখলাম যে আমাদের আত্মা কখনোই বিশ্রাম পাবে না যতক্ষণ না তা তাঁর কাছে পৌঁছায়, এটা জেনে যে তিনিই আনন্দের পূর্ণতা, আপন ও সৌজন্যপূর্ণ, পরমানন্দময় এবং প্রকৃত জীবন। <br> আমাদের প্রভু যিশু বারবার বললেন: '''''আমিই সেই, আমিই সেই: আমিই সেই যে সর্বোচ্চ, আমিই সেই যাকে তুমি ভালোবাসো, আমিই সেই যাকে তুমি উপভোগ করো, আমিই সেই যার তুমি সেবা করো, আমিই সেই যার জন্য তুমি তৃষ্ণার্ত, আমিই সেই যাকে তুমি আকাঙ্ক্ষা করো, আমিই সেই যা তুমি বোঝো, আমিই সেই যা সবকিছু। আমিই সেই যা পবিত্র চার্চ তোমার কাছে প্রচার করে ও শিক্ষা দেয়, আমিই সেই যে এখানে তোমাকে নিজেকে দেখালাম।''''' শব্দগুলোর সংখ্যা আমার বুদ্ধি, সমস্ত উপলব্ধি এবং ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। এবং আমার দৃষ্টিতে এগুলোই সর্বোচ্চ। কারণ এর মধ্যে নিহিত আছে আমি বলে বোঝাতে পারব না কিন্তু তাদের প্রকাশের মধ্যে আমি যে আনন্দ দেখেছি, তা হৃদয় যা চাইতে পারে এবং আত্মা যা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে, তার সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই শব্দগুলো এখানে বিস্তারিত বলা হলো না। কিন্তু ঈশ্বর মানুষকে বোঝার ও ভালোবাসার যে কৃপা দেন, সেই অনুযায়ী প্রত্যেকে আমাদের প্রভুর অর্থে তা গ্রহণ করুক।
== ত্রয়োদশ প্রকাশ (দ্য থার্টিনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৭ ===
* '''পাপ প্রয়োজনীয়, কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে।'''
* এই সময়ের আগে আমার বোকামিতে আমি প্রায়শই ভাবতাম, ঈশ্বরের মহান দূরদর্শী প্রজ্ঞা দ্বারা কেন পাপের শুরুকে বাধা দেওয়া হয়নি। কারণ তখন, আমার মনে হয়েছিল, সবকিছুই ভালো হতো। এই অস্থিরতা অনেক বর্জনীয় ছিল কিন্তু তবুও আমি এর জন্য শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম, কোনো কারণ ও বিচার-বিবেচনা ছাড়াই। <br> কিন্তু যিশু, যিনি এই দর্শনে আমার প্রয়োজনীয় সবকিছু সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছিলেন, তিনি এই শব্দের দ্বারা উত্তর দিয়ে বললেন: '''''পাপ হওয়া প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে, এবং সবকিছুই ভালো হবে এবং সব ধরনের জিনিসই ভালো হবে।'''''
* এই নগ্ন শব্দ 'পাপে', আমাদের প্রভু আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, সাধারণভাবে, 'যা কিছু ভালো নয়' এবং সেই লজ্জাজনক অপমান ও সম্পূর্ণ তুচ্ছতা যা তিনি এই জীবনে আমাদের জন্য সহ্য করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যু এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির সমস্ত বেদনা ও কষ্ট, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক। কারণ আমরা সবাই আংশিকভাবে তুচ্ছ হয়েছি এবং আমাদের প্রভু যিশুকে অনুসরণ করে আমরা তুচ্ছ হব, যতক্ষণ না আমরা পুরোপুরি পবিত্র হই, অর্থাৎ, যতক্ষণ না আমরা আমাদের নশ্বর দেহ থেকে এবং আমাদের সমস্ত অভ্যন্তরীণ আসক্তি থেকে পুরোপুরি তুচ্ছ হই যা খুব একটা ভালো নয় এবং এর দর্শন, সমস্ত বেদনা যা কখনো ছিল বা কখনো থাকবে তার সাথে—এবং এই সমস্ত কিছুর সাথে আমি খ্রিস্টের প্যাশন বা কষ্টকে সবচেয়ে বড় এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে বেদনা হিসেবে বুঝি। '''এই সবকিছু একটি স্পর্শে দেখানো হয়েছিল এবং দ্রুত সান্ত্বনায় পরিণত হয়েছিল। কারণ আমাদের ভালো প্রভু চাননি যে আত্মা এই ভয়ানক দৃশ্য দেখে ভীত হোক। <br> কিন্তু আমি 'পাপ' দেখতে পাইনি: কারণ আমি বিশ্বাস করি এর কোনো ''সত্তা'' নেই এবং কোনো অস্তিত্বের অংশ নেই, কিংবা ব্যথার কারণ হওয়া ছাড়া এটি জানা সম্ভব নয়।''' <br> এবং এইভাবে বেদনা, ''এটি'' আমার দৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য কিছু একটা। কারণ এটি পবিত্র করে, এবং আমাদের নিজেদের চিনতে ও দয়া চাইতে বাধ্য করে। কারণ আমাদের প্রভুর প্যাশন এই সবকিছুর বিরুদ্ধে আমাদের সান্ত্বনা এবং তাঁর পবিত্র ইচ্ছাও তাই।
* এবং সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্তদের প্রতি আমাদের ভালো প্রভুর কোমল ভালোবাসার কারণে, তিনি তৎক্ষণাৎ ও মিষ্টিভাবে সান্ত্বনা দিয়ে ইঙ্গিত করেন। ''এটা সত্য যে পাপই এই সমস্ত যন্ত্রণার কারণ। কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে, এবং সবকিছুই ভালো হবে, এবং সব ধরনের জিনিসই ভালো হবে।'' <br> '''এই শব্দগুলো খুব কোমলভাবে বলা হয়েছিল, আমার প্রতি বা পরিত্রাণপ্রাপ্ত কারো প্রতি কোনো দোষারোপ না দেখিয়ে। তাহলে আমার পাপের জন্য ঈশ্বরকে দোষারোপ করা বা অবাক হওয়া হবে এক চরম অকৃতজ্ঞতা, যেহেতু তিনি আমাকে পাপের জন্য দোষারোপ করেন না। <br> এবং এই শব্দগুলোতে আমি ঈশ্বরের মধ্যে লুকানো একটি বিস্ময়কর উচ্চ রহস্য দেখেছি, যে রহস্য তিনি স্বর্গে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবেন: যা জানার পর আমরা সত্যই সেই কারণটি দেখতে পাব কেন তিনি পাপকে আসতে দিয়েছিলেন। সেই দর্শনে আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মধ্যে অন্তহীন আনন্দিত হব।'''
=== অধ্যায় ২৮ ===
* এইভাবে আমি দেখলাম কীভাবে খ্রিস্ট পাপের কারণের জন্য আমাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখান।
* এর উত্তরে আমাদের প্রভু এই ভাবে বললেন: '''''এর দ্বারা আমি স্বর্গে অন্তহীন পূজা এবং চিরন্তন আনন্দের একটি মহান জিনিস তৈরি করব।'''''
* হ্যাঁ, আমি এতদূর দেখলাম যে, আমাদের প্রভু তাঁর সেবকদের যন্ত্রণার জন্য আনন্দিত হন, দয়া ও সহমর্মিতার সাথে। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে তাঁর পরমানন্দে আনার জন্য, তিনি তার ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেন যা তাঁর দৃষ্টিতে কোনো দোষ নয়, যার মাধ্যমে তারা এই পৃথিবীতে দোষী ও ঘৃণিত হয়, উপহাসিত, বিদ্রূপিত এবং পরিত্যক্ত হয়। এবং তিনি এটি করেন সেই ক্ষতি রোধ করার জন্য যা তারা এই জঘন্য জীবনের জাঁকজমক ও বৃথা গৌরব থেকে পেতে পারত, এবং তাদের স্বর্গে আসার পথ প্রস্তুত করতে, এবং তাঁর অনন্ত পরমানন্দে তাদের উন্নীত করতে। কারণ তিনি বলেন: ''আমি আপনাদের বৃথা আসক্তি ও আপনাদের দুষ্ট অহংকার থেকে পুরোপুরি মুক্ত করব এবং এর পরে আমি আপনাদের একত্রিত করব, এবং আমাকে একীভূত করার মাধ্যমে আপনাদের নম্র, মৃদু, পবিত্র ও নিষ্পাপ করব।''
* '''প্রতিটি ভ্রাতৃত্বসুলভ সহমর্মিতা যা মানুষের তার সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি থাকে, প্রেমের সাথে, তা হলো তার মধ্যে খ্রিস্ট।'''
** পাঠান্তর: ''প্রতিটি দয়ালু সহমর্মিতা যা মানুষের তার সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি প্রেমের সাথে থাকে, তা হলো তার মধ্যে খ্রিস্ট।''
* '''সেই একই তুচ্ছতা যা [[খ্রিস্টের প্যাশন|তাঁর প্যাশনে]] দেখানো হয়েছিল, তা আবার এখানে এই সহমর্মিতায় দেখানো হয়েছে।''' যার মধ্যে আমাদের প্রভুর অর্থে দুই ধরনের উপলব্ধি ছিল। একটি ছিল সেই পরমানন্দ যেখানে আমাদের আনা হয়েছে, যাতে তিনি চান আমরা আনন্দিত হই। অন্যটি আমাদের যন্ত্রণায় সান্ত্বনার জন্য: কারণ তিনি চান আমরা যেন বুঝতে পারি যে তাঁর প্যাশনের গুণের মাধ্যমে সবকিছুই পূজা ও উপকারে পরিণত হবে, আমরা যেন বুঝতে পারি যে আমরা একা কষ্ট সহ্য করি না বরং তাঁর সাথে করি এবং তাঁকে আমাদের ভিত্তি হিসেবে দেখি এবং আমরা দেখি যে তাঁর যন্ত্রণা ও তাঁর তুচ্ছতা আমাদের সহ্য করার সমস্ত কিছুর চেয়ে অনেক বেশি, যা পুরোপুরি ভাবাও যায় না। <br> এর দর্শন আমাদের যন্ত্রণার অনুভূতিতে বিড়বিড় করা ও হতাশা থেকে বাঁচাবে। '''এবং যদি আমরা সত্যই দেখি যে আমাদের পাপ এর যোগ্য, তবুও তাঁর ভালোবাসা আমাদের ক্ষমা করে এবং তাঁর মহান সৌজন্যে তিনি আমাদের সমস্ত দোষ দূর করে দেন, এবং নিষ্পাপ ও নিষ্কলঙ্ক শিশুদের মতো করুণা ও দয়ার সাথে আমাদের দিকে তাকান।'''
=== অধ্যায় ২৯ ===
* কিন্তু এতে আমি সাধারণভাবে, অশান্তি ও শোকে জিনিসগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আমার অর্থে আমাদের প্রভুকে পূর্ণ ভয়ের সাথে এইভাবে বললাম: ''আহ! ভালো প্রভু, সবকিছু কীভাবে ভালো হতে পারে, পাপের কারণে সৃষ্টির যে মহান ক্ষতি হয়েছে তার জন্য?'' এবং এখানে আমি, যতটা সাহস করতাম, আরও খোলাখুলি ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম যাতে আমি এই বিষয়ে স্বস্তি পেতে পারি।
* তিনি শিখিয়েছিলেন যে আমার গৌরবময় সন্তুষ্টির দিকে তাকানো উচিত: কারণ এই সংশোধন ঈশ্বরের কাছে আদম্যের পাপের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দদায়ক এবং অতুলনীয়ভাবে বেশি পূজনীয়। তখন আমাদের পবিত্র প্রভু এই শিক্ষায় এইভাবে ইঙ্গিত করেন যে, আমাদের এই দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত: ''যেহেতু আমি সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভালো করেছি, তাই আমার ইচ্ছা যে তুমি এর দ্বারা জানো যে আমি যা কিছু কম, তা-ও ভালো করব।''
=== অধ্যায় ৩০ ===
* তিনি আমাকে দুটি অংশের উপলব্ধি দিয়েছিলেন। একটি অংশ হলো আমাদের ত্রাণকর্তা এবং আমাদের পরিত্রাণ। এই পবিত্র অংশটি উন্মুক্ত এবং পরিষ্কার এবং সুন্দর এবং উজ্জ্বল, এবং প্রাচুর্যময়,কারণ সমস্ত মানবজাতি যারা সদিচ্ছাসম্পন্ন, এবং যারা থাকবে, তারা এই অংশে অন্তর্ভুক্ত।
* এতে আমাদের প্রভুর ইচ্ছা যে আমরা ব্যস্ত থাকি, তাঁর মধ্যে আনন্দিত হয়ে। কারণ তিনি আমাদের মধ্যে আনন্দিত হন। আমরা যত বেশি প্রাচুর্যের সাথে এটি গ্রহণ করি, শ্রদ্ধা ও নম্রতার সাথে, আমরা তাঁর কাছ থেকে তত বেশি ধন্যবাদ অর্জন করি এবং নিজের জন্য তত বেশি গতি বৃদ্ধি করি, এইভাবে আমরা বলতে পারি। আমাদের প্রভুর 'আমাদের' অংশে আনন্দিত হয়ে। অন্যটি আমাদের থেকে লুকানো এবং বন্ধ করা: অর্থাৎ, আমাদের পরিত্রাণের বাইরের সবকিছু।
* '''স্বর্গে যে সাধুরা আছেন, তারা আমাদের প্রভুর ইচ্ছার বাইরে কিছু জানতে চান না এবং তাদের ভালোবাসা ও ইচ্ছা আমাদের প্রভুর ইচ্ছা অনুযায়ী শাসিত হয় এবং এইভাবে আমাদের ইচ্ছা করা উচিত, তাদের মতো। তখন আমরা আমাদের প্রভুর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাইব না বা আকাঙ্ক্ষা করব না, যেমন তারা করে। কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা সবাই এক।'''
=== অধ্যায় ৩১ ===
* এবং এইভাবে আমাদের ভালো প্রভু আমার সমস্ত প্রশ্ন এবং সন্দেহের উত্তর দিয়েছিলেন, খুব সান্ত্বনাদায়কভাবে বলে। '''''আমি সবকিছু ভালো করতে পারি, আমি সবকিছু ভালো করতে জানি, আমি চাই সবকিছু ভালো করতে, এবং আমি সবকিছু ভালো করব এবং তুমি নিজেই দেখবে যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'''''
* এইভাবে খ্রিস্টের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার অবসান ঘটবে। কারণ এটিই খ্রিস্টের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা: সেই ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা যা স্থায়ী হয়, এবং চিরকাল থাকবে, যতক্ষণ না আমরা বিচার দিবসে সেই দর্শন দেখি। কারণ আমরা যারা পরিত্রাণ পাব এবং যারা হব খ্রিস্টের আনন্দ ও তাঁর পরমানন্দ, কেউ কেউ এখনো এখানে আছি এবং কেউ কেউ আসার অপেক্ষায়, এবং সেই দিন পর্যন্ত কেউ কেউ থাকবে। অতএব এটি তাঁর তৃষ্ণা ও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, আমাদের সবাইকে তাঁর পরমানন্দে তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পাওয়ার জন্য,আমার দৃষ্টিতে। কারণ এখন আমরা তাঁর মধ্যে ততটা সম্পূর্ণ নই যতটা আমরা তখন হব।
* সত্যই যেমন ঈশ্বরের মধ্যে করুণা ও দয়ার একটি বৈশিষ্ট্য আছে, তেমনই সত্যই ঈশ্বরের মধ্যে তৃষ্ণা ও আকাঙ্ক্ষার একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এবং খ্রিস্টের এই আকাঙ্ক্ষার গুণের থেকে, 'আমাদের' তাঁর প্রতি আবার আকাঙ্ক্ষা করতে হবে: যা ছাড়া কোনো আত্মা স্বর্গে আসে না। এবং আকাঙ্ক্ষা ও তৃষ্ণার এই বৈশিষ্ট্য ঈশ্বরের অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আসে, ঠিক যেমন করুণার বৈশিষ্ট্য তাঁর অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আসে। এবং যদিও আমার দৃষ্টিতে আকাঙ্ক্ষা ও করুণা দুটি আলাদা বৈশিষ্ট্য, তবুও এটি আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার মূল বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে: যা হলো 'যতদিন আমরা প্রয়োজনে থাকি তাঁর মধ্যে ইচ্ছা থাকা', আমাদের তাঁর পরমানন্দের দিকে টেনে নেওয়া। এবং এই সবকিছু সহমর্মিতার প্রদর্শনীতে দেখা গিয়েছিল: কারণ তা বিচার দিবসে শেষ হবে। <br> এইভাবে তিনি আমাদের প্রতি করুণা ও সহমর্মিতা রাখেন, এবং আমাদের পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাঁর আছে; কিন্তু তাঁর প্রজ্ঞা ও তাঁর ভালোবাসা সেরা সময় পর্যন্ত শেষ হতে দেয় না।
=== অধ্যায় ৩২ ===
* একবার আমাদের ভালো প্রভু বলেছিলেন: ''সবকিছু ভালো হবে'' এবং অন্য সময় তিনি বলেছিলেন: ''তুমি নিজেই দেখবে যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে''এবং এই দুটিতে আত্মা আলাদা আলাদা উপলব্ধি নিয়েছিল। একটি ছিল যে, তিনি চান আমরা জানি যে তিনি কেবল মহৎ ও মহান জিনিসের দিকেই মনোযোগ দেন না বরং ছোট ও সামান্য, নিচু ও সাধারণ, একের ও অপরের দিকেও। এবং তাই তিনি বোঝান যখন তিনি বলেন: ''সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' কারণ তিনি চান আমরা জানি যে ক্ষুদ্রতম জিনিসটিও বিস্মৃত হবে না।
* আরেকটি উপলব্ধি হলো এই যে, আমাদের দৃষ্টিতে এমন খারাপ কাজ করা হয়, এবং এত বড় ক্ষতি হয় যে আমাদের কাছে মনে হয় যে ভালো পরিণামে আসা অসম্ভব। এবং এর দিকে আমরা তাকাই, শোক ও দুঃখ করি, যাতে আমরা ঈশ্বরের পরমানন্দময় দর্শনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে পারি না যেমন আমাদের করা উচিত। এবং এর কারণ হলো আমাদের যুক্তির ব্যবহার এখন এতটাই অন্ধ, এতটাই নিচু, এবং এতটাই সাধারণ যে আমরা সেই মহান বিস্ময়কর প্রজ্ঞা, পরমানন্দময় ত্রিত্বের শক্তি ও মঙ্গলময়তাকে জানতে পারি না। এবং এইভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন যখন তিনি বলেন: ''তুমি নিজেই দেখবে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' যেন তিনি বললেন: ''এখন বিশ্বাস ও আস্থার সাথে মনোযোগ দাও এবং শেষ মুহূর্তে তুমি সত্যই তা আনন্দের পূর্ণতায় দেখতে পাবে।''
* এইভাবে এই একই পাঁচটি শব্দে: ''আমি সবকিছু ভালো করতে পারি'', ইত্যাদি, আমি আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সমস্ত কাজের একটি শক্তিশালী সান্ত্বনা বুঝি যা এখনো আসা বাকি। একটি কাজ আছে যা পবিত্র ত্রিত্ব শেষ দিনে করবে, আমার দৃষ্টিতে, এবং কখন সেই কাজ হবে, এবং কীভাবে তা করা হবে, তা খ্রিস্টের নিচের সমস্ত সৃষ্টির অজানা, এবং তা না হওয়া পর্যন্ত অজানা থাকবে।
* তিনি যে চান আমরা জানি, তার কারণ হলো তিনি চান আমাদের আত্মায় আরও স্বস্তি আসুক এবং প্রেমে শান্তিতে স্থাপন করা হোক সমস্ত অশান্ত জিনিসের দর্শন ছেড়ে যা আমাদের তাঁর প্রকৃত উপভোগ থেকে বিরত রাখতে পারে। এটিই সেই মহান কাজ যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর সৃষ্টির আদি থেকেই নির্ধারণ করেছেন, তাঁর পবিত্র বক্ষে সংরক্ষিত ও লুকানো, কেবল তাঁরই পরিচিত: যার দ্বারা তিনি সবকিছু ভালো করবেন। <br> কারণ যেমন পবিত্র ত্রিত্ব শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, ঠিক তেমনই সেই একই পবিত্র ত্রিত্ব যা ভালো নয় তা ভালো করবেন।
* আমাদের বিশ্বাস ঈশ্বরের কথার ওপর ভিত্তি করে, এবং এটি আমাদের বিশ্বাসের অংশ যে আমরা বিশ্বাস করি ঈশ্বরের কথা সব বিষয়ে রক্ষিত হবে। এবং আমাদের বিশ্বাসের একটি বিন্দু হলো যে অনেক সৃষ্টি দণ্ডিত হবে: যেমন দেবদূত যারা অহংকারের জন্য স্বর্গ থেকে পড়ে গিয়েছিল, যারা এখন শয়তান এবং পৃথিবীতে মানুষ যারা পবিত্র চার্চের বিশ্বাস ছাড়া মারা যায়: অর্থাৎ, তারা যারা বিধর্মী মানুষ এবং মানুষ যারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছে কিন্তু অখ্রিস্টীয় জীবন যাপন করে এবং এভাবে প্রেমহীন হয়ে মারা যায়: এদের সবাই নরকে চিরকাল দণ্ডিত হবে, যেমন পবিত্র চার্চ আমাকে বিশ্বাস করতে শেখায়। এবং এই সবকিছু দাঁড়িয়ে, আমার মনে হয়েছিল এটা অসম্ভব যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে, যেমন আমাদের প্রভু একই সময়ে দেখিয়েছিলেন। <br> এবং এর উত্তরে আমার প্রভু ঈশ্বরের প্রদর্শনীতে অন্য কোনো উত্তর ছিল না কিন্তু এটি: '''''যা তোমার কাছে অসম্ভব তা আমার কাছে অসম্ভব নয়: আমি সব বিষয়ে আমার কথা রক্ষা করব এবং আমি সবকিছু ভালো করব।''''' এইভাবে আমি শিক্ষিত হয়েছিলাম, ঈশ্বরের কৃপায়, যে আমি অটলভাবে বিশ্বাসের মধ্যে নিজেকে ধরে রাখব যেমনটি আমি আগে বুঝেছিলাম, তার সাথে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করব যে সবকিছু ভালো হবে, যেমন আমাদের প্রভু একই সময়ে দেখিয়েছিলেন। <br> '''কারণ এটিই সেই মহান কাজ যা আমাদের প্রভু করবেন, যে কাজে তিনি তাঁর কথা রক্ষা করবেন এবং তিনি যা ভালো নয় তা ভালো করবেন। কীভাবে তা করা হবে তা খ্রিস্টের নিচে কোনো সৃষ্টির জানা নেই, কিংবা তা না হওয়া পর্যন্ত জানবে না। এই সময়ে আমাদের প্রভুর অর্থের যে উপলব্ধি আমি নিয়েছিলাম তার অনুযায়ী।'''
=== অধ্যায় ৩৩ ===
* এবং তবুও এতে আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম, যতটা সাহস করতাম, যে আমি নরক ও পবিত্র স্থানের পূর্ণ দর্শন পেতে পারি। কিন্তু বিশ্বাসের অন্তর্গত কোনো কিছুর প্রমাণ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না: কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতাম যে নরক ও পবিত্র স্থান সেই একই উদ্দেশ্যে যার জন্য পবিত্র চার্চ শেখায়, কিন্তু আমার উদ্দেশ্য ছিল আমি যেন দেখতে পারি, আমার বিশ্বাসের অন্তর্গত সমস্ত বিষয়ে শেখার জন্য: যার দ্বারা আমি ঈশ্বরের উপাসনায় এবং আমার লাভের জন্য আরও বেশি বাঁচতে পারি। <br> কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষার জন্য, আমি এর কিছুই করতে পারিনি, কেবল প্রথম প্রদর্শনীতে যা আগে বলা হয়েছে, যেখানে আমি দেখেছিলাম যে শয়তান ঈশ্বর কর্তৃক তিরস্কৃত এবং চিরকাল দণ্ডিত। সেই দর্শনে আমি সমস্ত সৃষ্টির জন্য বুঝেছিলাম যারা এই জীবনে শয়তানের অবস্থার এবং তাতে শেষ করে, তাদের বিষয়ে ঈশ্বর ও তাঁর সমস্ত পবিত্রদের সামনে শয়তানের চেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয় না, যদিও তারা মানবজাতির,তারা খ্রিস্টান হোক বা না হোক।
* ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা তাঁর করা সমস্ত কাজের প্রতি মহান দৃষ্টি রাখি, কিন্তু সর্বদা আমাদের কী কাজ হবে তার দর্শন ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন।
* '''আসুন আমরা আমাদের ভাইদের মতো হতে আকাঙ্ক্ষা করি যারা স্বর্গে সাধু, যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চায় না এবং যারা লুকানো ও দেখানো উভয় বিষয়েই সন্তুষ্ট। কারণ আমি আমাদের প্রভুর শিক্ষায় সত্যই দেখেছি, এই বিষয়ে বা অন্য যেকোনো বিষয়ে তাঁর গোপন পরামর্শ জানার জন্য আমরা যত বেশি ব্যস্ত হব, ততই আমরা তা জানার থেকে দূরে থাকব।'''
=== অধ্যায় ৩৪ ===
[[File:VY Canis Majoris.jpg|thumb|এই গোপন জিনিসগুলো তিনি চান আমরা 'লুকানো' হিসেবে জানি যতক্ষণ না সেই সময় আসে যখন তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে সেগুলো দেখাবেন।]]
[[File:Cross on Mount Royal.JPG|thumb|কারণ যা কিছু আমাদের শেখা এবং জানা দরকারী, খুব সৌজন্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রভু আমাদের দেখাবেন।]]
* '''আমাদের প্রভু ঈশ্বর দুই ধরনের গোপন জিনিস দেখিয়েছেন। একটি হলো এই মহান গোপনীয়তা এর সাথে যুক্ত সমস্ত গোপন বিন্দুর সাথে: এবং এই গোপন জিনিসগুলো তিনি চান আমরা 'লুকানো' হিসেবে জানি যতক্ষণ না সেই সময় আসে যখন তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে সেগুলো দেখাবেন।''' অন্যগুলো হলো গোপন জিনিস যা তিনি উন্মুক্ত এবং আমাদের কাছে জ্ঞাত করতে চান। কারণ তিনি চেয়েছিলেন আমরা যেন বুঝতে পারি যে এটি তাঁর ইচ্ছা যে আমাদের তা জানা উচিত। সেগুলো আমাদের কাছে গোপন কেবল এই জন্য নয় যে তিনি চান সেগুলো আমাদের কাছে গোপন থাকুক বরং সেগুলো আমাদের অন্ধত্ব এবং আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমাদের কাছে গোপন। এবং তার জন্য '''তিনি মহান করুণা অনুভব করেন, এবং তাই তিনি নিজেই সেগুলো আমাদের কাছে আরও উন্মুক্ত করবেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পারি এবং ভালোবাসতে পারি এবং তাঁর সাথে লেগে থাকতে পারি। কারণ যা কিছু আমাদের শেখা এবং জানা দরকারী, খুব সৌজন্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রভু আমাদের দেখাবেন।'''
* '''তিনিই ভিত্তি, তিনিই সত্তা, তিনিই শিক্ষা, তিনিই শিক্ষক, তিনিই শেষ, তিনিই সেই পুরস্কার যার জন্য প্রতিটি দয়ালু আত্মা পরিশ্রম করে।''' <br> এবং ''এটি'' জানা যায়, এবং প্রতিটি আত্মার কাছে জানা যাবে যার কাছে পবিত্র আত্মা এটি ঘোষণা করে। এবং আমি সত্যই আশা করি যে তারা যারা এটি খোঁজে, তাদের তিনি সফল করবেন: কারণ তারা ঈশ্বরকে খোঁজে। <br> এই সবকিছু যা আমি এখন বলেছি, এবং আরও যা আমি পরে বলব, পাপের বিরুদ্ধে সান্ত্বনাদায়ক। '''কারণ তৃতীয় প্রদর্শনীতে যখন আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বর যা করা হয় তা সবই করেন, আমি কোনো পাপ দেখিনি: এবং তখন আমি দেখেছিলাম যে সবকিছু ভালো ''আছে''। কিন্তু যখন ঈশ্বর আমাকে পাপের জন্য দেখিয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''
=== অধ্যায় ৩৫ ===
* যখন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান তাঁর মঙ্গলময়তা সম্পর্কে এত প্রাচুর্যপূর্ণভাবে এবং আনন্দের সাথে দেখিয়েছিলেন, আমি নির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছিলাম একটি নির্দিষ্ট সৃষ্টি সম্পর্কে যাকে আমি ভালোবাসতাম, যদি তা ভালো জীবনে অব্যাহত থাকে, যা আমি ঈশ্বরের কৃপায় আশা করেছিলাম শুরু হয়েছে। এবং একটি 'বিশেষ' প্রদর্শনীর এই আকাঙ্ক্ষায়, মনে হয়েছিল যে আমি নিজেকে বাধা দিয়েছি: কারণ এই সময়ে আমি শিক্ষিত ছিলাম না। এবং তখন আমার যুক্তিতে আমাকে উত্তর দেওয়া হয়েছিল, যেন একজন বন্ধুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর দ্বারা: ''এটি সাধারণভাবে গ্রহণ করো, এবং প্রভু ঈশ্বরের করুণার দিকে তাকাও যেমন তিনি তোমাকে দেখান: কারণ ঈশ্বরের মধ্যে তাঁকে দেখা যেকোনো বিশেষ জিনিসের চেয়ে বেশি পূজাযোগ্য।'' এবং তার সাথে আমি শিখেছিলাম যে কোনো বিশেষ জিনিসের আনন্দ নেওয়ার চেয়ে সাধারণভাবে সবকিছু জানা ঈশ্বরের কাছে বেশি পূজাযোগ্য। এবং যদি আমি এই শিক্ষা অনুযায়ী বিজ্ঞতার সাথে কাজ করি, তবে আমার কেবল কোনো বিশেষ জিনিসের জন্য আনন্দিত হওয়া উচিত নয়, বরং আমার কোনো ধরনের জিনিসের জন্য খুব বেশি কষ্ট পাওয়া উচিত নয়: কারণ ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''কারণ আনন্দের পূর্ণতা হলো ঈশ্বরকে সবকিছুর মধ্যে দেখা: কারণ একই পবিত্র শক্তি, প্রজ্ঞা এবং ভালোবাসা দিয়ে, যা দিয়ে তিনি সবকিছু তৈরি করেছেন, সেই একই উদ্দেশ্যে আমাদের ভালো প্রভু এটি ক্রমাগত পরিচালনা করেন, এবং তার দিকে তিনি নিজেই এটি আনবেন এবং যখন সময় হবে আমরা তা দেখতে পাব।'''
* '''আমাদের প্রভু যা কিছু করেন তা ন্যায়পরায়ণ এবং যা তিনি সহ্য করেন তা পূজাযোগ্য এবং এই দুটির মধ্যে ভালো ও মন্দ অন্তর্ভুক্ত কারণ যা ভালো আমাদের প্রভু তা করেন, এবং যা মন্দ আমাদের প্রভু তা সহ্য করেন। আমি বলছি না যে কোনো মন্দ পূজাযোগ্য, কিন্তু আমি বলছি আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সহনশীলতা পূজাযোগ্য। যার দ্বারা তাঁর মঙ্গলময়তা জানা যাবে, অন্তহীনভাবে, তাঁর বিস্ময়কর নম্রতা ও মৃদুতাতে, দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা।'''
* 'ন্যায়পরায়ণতা' হলো সেই জিনিস যা এতটাই ভালো যে তা তার চেয়ে ভালো হতে পারে না। কারণ ঈশ্বর নিজেই প্রকৃত ন্যায়পরায়ণতা, এবং তাঁর সমস্ত কাজ ন্যায়পরায়ণভাবে করা হয় যেমন সেগুলো সৃষ্টির আদি থেকে তাঁর মহান শক্তি, তাঁর মহান প্রজ্ঞা, তাঁর মহান মঙ্গলময়তা দ্বারা নির্ধারিত। এবং ঠিক যেমন তিনি সেরাটির জন্য নির্ধারণ করেছেন, ঠিক তেমন তিনি ক্রমাগত কাজ করেন, এবং এটিকে সেই একই পরিণতির দিকে নিয়ে যান এবং তিনি সর্বদা নিজের সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে পূর্ণ সন্তুষ্ট। <br> এবং এই পরমানন্দময় চুক্তির দর্শন সেই আত্মার জন্য খুব মিষ্টি যে কৃপার দ্বারা দেখে।
* 'করুণা' হলো এমন একটি কাজ যা ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা থেকে আসে, এবং এটি কাজ করার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হবে, যেমন পাপকে ন্যায়পরায়ণ আত্মাকে অনুসরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এবং যখন পাপের অনুসরণ করার আর কোনো অনুমতি থাকে না, তখন করুণার কাজ শেষ হবে, এবং তখন সবকিছু ন্যায়পরায়ণতায় আনা হবে এবং তাতে চিরকাল দাঁড়াবে। <br> এবং তাঁর সহনশীলতায় আমরা পড়ে যাই এবং তাঁর শক্তি ও প্রজ্ঞা সহ তাঁর পরমানন্দময় ভালোবাসায় আমরা সংরক্ষিত থাকি; এবং দয়া ও কৃপার দ্বারা আমরা বহুবিধ আনন্দের দিকে উন্নীত হই। <br> এইভাবে ন্যায়পরায়ণতা ও করুণায় তিনি পরিচিত ও ভালোবাসার পাত্র হতে চান, এখন এবং চিরকাল। এবং যে আত্মা কৃপার মধ্যে বিজ্ঞতার সাথে এটির দিকে তাকায়, তা উভয়ের সাথে খুব সন্তুষ্ট থাকে এবং অন্তহীনভাবে আনন্দিত হয়।
=== অধ্যায় ৩৬ ===
* '''আমাদের প্রভু ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে একটি কাজ করা হবে, এবং তিনি নিজেই তা করবেন, এবং আমি পাপ ছাড়া কিছুই করব না এবং আমার পাপ তাঁর মঙ্গলময় কাজকে বাধা দেবে না।'''
* এই কাজটি এখানে শুরু হবে, এবং এটি ঈশ্বরের কাছে পূজাযোগ্য এবং পৃথিবীতে তাঁর প্রেমীদের কাছে প্রাচুর্যপূর্ণভাবে লাভজনক হবে; এবং আমরা যখন স্বর্গে পৌঁছাব তখন আমরা এটি বিস্ময়কর আনন্দে দেখব, এবং এটি শেষ দিন পর্যন্ত এইভাবে কাজ করবে এবং এর পূজা ও পরমানন্দ ঈশ্বরের সামনে এবং তাঁর সমস্ত পবিত্রদের সামনে চিরকাল থাকবে। <br> এইভাবে আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে এই কাজটি দেখা ও বোঝা গিয়েছিল। এবং তিনি কেন এটি দেখিয়েছিলেন তার কারণ হলো আমাদের তাঁর মধ্যে এবং তাঁর সমস্ত কাজের মধ্যে আনন্দিত করা।
* কিন্তু এই কাজটি কী হবে তা আমার থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। <br> এবং এতে আমি দেখলাম যে তিনি চান না যে আমরা যে জিনিসগুলো তিনি দেখান তা জানার জন্য ভয় করি: তিনি সেগুলো দেখান কারণ তিনি চান আমরা সেগুলো জানি। যে জানার মাধ্যমে তিনি চান আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁর মধ্যে আনন্দ পাই এবং অন্তহীনভাবে উপভোগ করি। আমাদের প্রতি তাঁর মহান ভালোবাসার জন্য তিনি আমাদের জন্য সেই সময়ের জন্য পূজাযোগ্য ও লাভজনক সবকিছু দেখান।
* এই শব্দের অর্থ হলো,এটি আমার জন্য করা হবে, এর মানে হলো এটি সাধারণ মানুষের জন্য করা হবে: অর্থাৎ, যারা পরিত্রাণ পাবে তাদের সবার জন্য। এটি হবে পূজাযোগ্য এবং বিস্ময়কর এবং প্রাচুর্যপূর্ণ, এবং ঈশ্বর নিজেই এটি করবেন; এবং এটি হবে সর্বোচ্চ আনন্দ যা হতে পারে, সেই কাজের দিকে তাকানো যা ঈশ্বর নিজেই করবেন, এবং মানুষ পাপ ছাড়া কিছুই করবে না। তখন আমাদের প্রভু ঈশ্বর এইভাবে ইঙ্গিত করেন, যেন তিনি বললেন: ''তাকাও এবং দেখো! এখানে তোমার বিনম্রতার বিষয় আছে, এখানে তোমার ভালোবাসার বিষয় আছে, এখানে তোমার নিজেকে তুচ্ছ করার বিষয় আছে, এখানে তোমার আমার মধ্যে আনন্দিত হওয়ার বিষয় আছে এবং আমার ভালোবাসার জন্য, আমার মধ্যে আনন্দিত হও। কারণ সবকিছুর মধ্যে, এর দ্বারাই তুমি আমাকে সবচেয়ে বেশি খুশি করতে পারবে।''
* যতদিন আমরা এই জীবনে আছি, যখন আমরা আমাদের বোকামির দ্বারা পরিত্যক্তদের দর্শনের দিকে ঘুরে যাই, খুব কোমলভাবে আমাদের প্রভু ঈশ্বর আমাদের স্পর্শ করেন এবং পরমানন্দময়ভাবে আমাদের ডাকেন, আমাদের আত্মায় বলে। আমার প্রিয় সন্তান, তোমার সমস্ত ভালোবাসা ত্যাগ করো। আমার দিকে ফিরে এসো আমি তোমার জন্য যথেষ্ট এবং তোমার ত্রাণকর্তার মধ্যে এবং তোমার পরিত্রাণে আনন্দিত হও। এবং যে এটি আমাদের মধ্যে আমাদের প্রভুর কাজ, আমি নিশ্চিত যে যে আত্মার কৃপার দ্বারা এতে উপলব্ধি আছে সে তা দেখবে এবং অনুভব করবে।
* যদিও এটি এমন যে এই কাজটি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যই নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি বিশেষটিকে বাদ দেয় না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু তাঁর দরিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে কী করবেন, তা এখন আমার অজানা। <br> কিন্তু এই কাজ এবং পূর্বোক্ত অন্যটি, তারা উভয়ই এক নয় বরং দুটি ভিন্ন। এই কাজটি শীঘ্রই করা হবে এবং তা হবে যখন আমরা স্বর্গে পৌঁছাব, এবং আমাদের প্রভু যাকে এটি দেন, তা এখানে আংশিকভাবে জানা যেতে পারে। কিন্তু সেই মহান কাজ যা আগে বলা হয়েছে তা স্বর্গে বা পৃথিবীতে জানার সুযোগ নেই যতক্ষণ না তা করা হয়।
* তিনি অলৌকিক কাজ করার বিশেষ উপলব্ধি ও শিক্ষা দিয়েছিলেন, এইভাবে''এটি জানা যে আমি আগে অলৌকিক কাজ করেছি, অনেক এবং বিভিন্ন, উচ্চ এবং বিস্ময়কর, পূজাযোগ্য এবং মহান। এবং যেমন আমি করেছি, আমি এখন ক্রমাগত করছি এবং সময়ের আগমনে করব।''
* এটি জানা যে অলৌকিক কাজের আগে দুঃখ এবং যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ আসে। এবং তা এই জন্য যে আমাদের নিজেদের দুর্বলতা এবং আমাদের দুষ্টতা জানা উচিত যা আমরা পাপের দ্বারা পতিত হয়েছি, আমাদের বিনম্র করতে এবং আমাদের ঈশ্বরকে ভয় করতে ও সাহায্য ও কৃপার জন্য চিৎকার করতে বাধ্য করতে। অলৌকিক কাজ তার পরে আসে, এবং সেগুলো ঈশ্বরের মহান শক্তি, প্রজ্ঞা ও মঙ্গলময়তা থেকে আসে, তাঁর গুণ এবং স্বর্গের আনন্দগুলো প্রদর্শন করে যতটা এই নশ্বর জীবনে সম্ভব: এবং তা আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের আশা বাড়াতে, প্রেমের সাথে। তাই তিনি অলৌকিক কাজের মাধ্যমে পরিচিত ও পূজিত হতে আনন্দিত হন। তখন তিনি এইভাবে ইঙ্গিত করেন: তিনি চান না যে আমাদের দুঃখ ও ঝড়ের জন্য খুব নিচে নামিয়ে দেওয়া হোক যা আমাদের ওপর আসে: কারণ অলৌকিক কাজ আসার আগে সর্বদা এমনই হয়েছে।
* “আমার পাপ তাঁর মঙ্গলময় কাজকে বাধা দেবে না। . . . একটি কাজ করা হবে,যেমন আমরা স্বর্গে পৌঁছাব এবং এটি এখানে আংশিকভাবে জানা যেতে পারে। যদিও এটি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যই নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি বিশেষটিকে বাদ দেয় না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু তাঁর দরিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে কী করবেন, তা এখন আমার অজানা”
=== অধ্যায় ৩৭ ===
* ঈশ্বর আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে আমার পাপ করা উচিত। এবং তাঁর দর্শনে আমার যে সন্তুষ্টি ছিল তার জন্য, আমি সেই প্রদর্শনীতে মনোযোগ দিইনি; এবং আমাদের প্রভু খুব করুণাময়ভাবে অপেক্ষা করেছিলেন, এবং আমাকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য কৃপা দিয়েছিলেন। এবং এই প্রদর্শনীটি আমি বিশেষভাবে নিজের জন্য নিয়েছিলাম; কিন্তু সমস্ত কৃপাময় সান্ত্বনা যা অনুসরণ করে, যেমনটি তোমরা দেখবে, আমি আমার সমস্ত সহ-খ্রিস্টানদের জন্য নিতে শিখেছিলাম: ''সবকিছু সাধারণভাবে এবং বিশেষ কিছুই নয়'': যদিও আমাদের প্রভু আমাকে দেখিয়েছিলেন যে আমার পাপ করা উচিত, আমার একার দ্বারা সবাইকে বোঝানো হয়। <br> এবং এতে আমি একটি মৃদু ভয় অনুভব করলাম। এবং এর উত্তরে আমাদের প্রভু বললেন: ''আমি তোমাকে খুব নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।'' এই শব্দটি প্রেমের সাথে এবং নিরাপত্তার সাথে এবং আধ্যাত্মিক সুরক্ষার সাথে বলা হয়েছিল যা আমি বলতে পারি না বা সক্ষম নই।
* ঈশ্বর যা পরিত্রাণ পাবে এমন সবাইকে ভালোবাসেন, যেমন তা একটি আত্মা তা দেখার চেয়ে আমাকে আমার সহ-খ্রিস্টানদের ভালোবাসার জন্য আর কী করতে পারে? <br> '''কারণ প্রতিটি আত্মায় যা পরিত্রাণ পাবে একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে যা কখনো পাপকে সমর্থন করেনি, এবং কখনো করবে না।''' ঠিক যেমন নিচের অংশে একটি পশুসুলভ ইচ্ছা আছে যা কোনো ভালো চাইতে পারে না, ঠিক তেমনই উপরের অংশে একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে, যে ইচ্ছা এতটাই ভালো যে তা কখনো মন্দ চাইতে পারে না, কেবল ভালো। এবং তাই আমরা তাই যা তিনি ভালোবাসেন এবং অন্তহীনভাবে আমরা তা করি যা তাঁকে খুশি করে।
* এটি আমাদের প্রভু সেই ভালোবাসার সম্পূর্ণতায় দেখিয়েছিলেন যাতে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, তাঁর দৃষ্টিতে: হ্যাঁ, তিনি আমাদের এখন ততটাই ভালোবাসেন যখন আমরা এখানে আছি, যেমন তিনি করবেন যখন আমরা তাঁর পবিত্র মুখের সামনে সেখানে থাকব। '''কিন্তু আমাদের অংশে ভালোবাসার ব্যর্থতার জন্য, তাই আমাদের সমস্ত পরিশ্রম।'''''
=== অধ্যায় ৩৮ ===
* এছাড়াও ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে পাপ মানুষের জন্য লজ্জা হবে না, বরং পূজা। কারণ ঠিক যেমন প্রতিটি পাপের জন্য সত্যের দ্বারা একটি বেদনা উত্তর দেয়, ঠিক তেমনই প্রতিটি পাপের জন্য, সেই একই আত্মাকে ভালোবাসার দ্বারা একটি পরমানন্দ দেওয়া হয়: ঠিক যেমন বিভিন্ন পাপ বিভিন্ন বেদনার সাথে দণ্ডিত হয় যেমন সেগুলো কষ্টদায়ক, ঠিক তেমনই সেগুলো স্বর্গে বিভিন্ন আনন্দের সাথে পুরস্কৃত হবে যেমন সেগুলো পৃথিবীতে আত্মার জন্য কষ্টদায়ক ও দুঃখজনক ছিল। কারণ যে আত্মা স্বর্গে আসবে তা ঈশ্বরের কাছে মূল্যবান, এবং স্থানটি এতটাই পূজাযোগ্য যে ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা সেই আত্মাকে কখনো পাপ করতে দেয় না যে সেখানে আসবে যা ছাড়া সেই পাপ পুরস্কৃত হবে এবং তা অন্তহীনভাবে জানা যায়, এবং পূজা অতিক্রম করে পরমানন্দময়ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়।
* এই দর্শনে আমার উপলব্ধি স্বর্গে উন্নীত হয়েছিল, এবং তখন ঈশ্বর আনন্দিতভাবে আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন ডেভিডকে, এবং পুরাতন আইনে সংখ্যাতীত অন্যদের এবং নতুন আইনে তিনি আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন প্রথমে মেরি ম্যাগডালিন, পিটার এবং পল এবং ভারতেরদের এবং বেভারলির সেন্ট জন এবং অন্যদেরও সংখ্যাতীত। কীভাবে তারা পৃথিবীতে চার্চে তাদের পাপের সাথে পরিচিত, এবং তা তাদের জন্য লজ্জা নয় বরং সবকিছু তাদের পূজায় পরিণত হয়েছে। এবং তাই আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু তাদের জন্য এখানে আংশিকভাবে দেখান যেমনটি সেখানে পূর্ণতায় আছে: কারণ সেখানে পাপের চিহ্ন পূজায় পরিণত হয়েছে।
* এই সবকিছুই আমাদের প্রেমে আনন্দিত ও প্রফুল্ল করার জন্য ছিল।
=== অধ্যায় ৩৯ ===
* পাপ হলো সবচেয়ে ধারালো চাবুক যা যেকোনো নির্বাচিত আত্মাকে আঘাত করা যেতে পারে। যা চাবুকটি পুরুষ ও নারীকে পুরোপুরি প্রহার করে, এবং তাকে তার নিজের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য করে তোলে, এতদূর যে কিছু সময়ের পরে সে মনে করে সে নরকে ডুবে যাওয়া ছাড়া আর যোগ্য নয়, যতক্ষণ না অনুশোচনা তাকে পবিত্র আত্মার স্পর্শে ধরে, এবং তিক্ততাকে ঈশ্বরের করুণার আশায় পরিণত করে।
* খুব মূল্যবানভাবে আমাদের প্রভু আমাদের রক্ষা করেন যখন আমাদের কাছে মনে হয় যে আমরা প্রায় পরিত্যক্ত এবং আমাদের পাপের জন্য এবং কারণ আমরা এর যোগ্য, তার জন্য দূরে নিক্ষিপ্ত। এবং নম্রতার কারণে যা আমরা এর দ্বারা পাই, আমরা তাঁর কৃপায় ঈশ্বরের দৃষ্টিতে খুব উঁচুতে উন্নীত হই, খুব মহান অনুশোচনার সাথে, এবং সহমর্মিতার সাথে, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার সাথে। তখন তারা হঠাৎ পাপ থেকে এবং বেদনা থেকে মুক্তি পায় এবং পরমানন্দে উন্নীত হয়। এবং সমান উচ্চ সাধু হয়।
* '''অনুশোচনার দ্বারা আমরা পরিষ্কার হই, সহমর্মিতার দ্বারা আমরা প্রস্তুত হই, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার দ্বারা আমরা যোগ্য হই।''' এগুলো তিনটি উপায়, যেমন আমি বুঝি, যার দ্বারা সমস্ত আত্মা স্বর্গে আসে। অর্থাৎ, যারা পৃথিবীতে পাপী ছিল এবং পরিত্রাণ পাবে। কারণ এই তিনটি ঔষধের দ্বারা প্রতিটি আত্মাকে নিরাময় করা প্রয়োজন।
* যেমন আমরা এখানে দুঃখ ও তপস্যার সাথে দণ্ডিত হই, আমরা স্বর্গে আমাদের মহান প্রভু ঈশ্বরের সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসার দ্বারা পুরস্কৃত হব, যিনি চান যে কেউ সেখানে এসে তার পরিশ্রম কোনো ডিগ্রিতে হারাক। কারণ তিনি পাপকে তাঁর প্রেমীদের জন্য দুঃখ ও বেদনা হিসেবে ধরেন, যাদের তিনি কোনো দোষ দেন না, ভালোবাসার জন্য। আমরা যে পুরস্কার পাব তা সামান্য হবে না, বরং তা হবে মহান, গৌরবময় এবং পূজাযোগ্য। এবং এভাবেই লজ্জা পূজায় ও আরও আনন্দে পরিণত হবে।
* '''আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু চান না যে তাঁর সেবকরা হতাশ হোক, বারবার বা গুরুতর পতনের জন্য: কারণ আমাদের পতন তাঁকে আমাদের ভালোবাসতে বাধা দেয় না। শান্তি ও ভালোবাসা সর্বদা আমাদের মধ্যে আছে, বিদ্যমান ও কাজ করছে। কিন্তু আমরা সর্বদা শান্তিতে ও প্রেমে নেই।''' কিন্তু তিনি চান যে আমরা এইভাবে মনোযোগ দিই যে তিনি ভালোবাসায় আমাদের সমস্ত জীবনের ভিত্তি এবং অধিকন্তু তিনি আমাদের চিরন্তন রক্ষক এবং শক্তিশালীভাবে আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে রক্ষা করেন, যারা আমাদের ওপর খুব নিষ্ঠুর ও হিংস্র এবং আমাদের প্রয়োজন তত বেশি কারণ আমরা আমাদের পতনের দ্বারা তাদের সুযোগ দিই।
=== অধ্যায় ৪০ ===
* '''ঈশ্বর চান যে আমরা অন্তহীনভাবে পাপকে ঘৃণা করি এবং অন্তহীনভাবে আত্মাকে ভালোবাসি, যেমন ঈশ্বর তাকে ভালোবাসেন।'''
* '''এখানে আমি সত্যই বুঝি যে ঈশ্বরের মহান মঙ্গলময়তার দ্বারা আমাদের জন্য সব ধরনের জিনিস প্রস্তুত করা হয়েছে, এতদূর যে যখন আমরা নিজেদের মধ্যে শান্তিতে ও দানে আছি, আমরা সত্যই পরিত্রাণ পাব।'''
* কিন্তু এখন যদি কোনো পুরুষ বা নারী এই সমস্ত আধ্যাত্মিক সান্ত্বনার কারণে যা আগে বলা হয়েছে, বোকামির দ্বারা উত্তেজিত হয়ে বলে বা ভাবে। ''যদি এটি সত্য হয়, তবে পাপ করা ভালো যাতে বেশি পুরস্কার পাওয়া যায়''অথবা পাপ করার বিষয়ে কম গুরুত্ব দেয়,এই উত্তেজনার বিষয়ে সাবধান: কারণ সত্যই যদি এটি আসে তবে এটি অসত্য এবং সেই একই প্রকৃত ভালোবাসার শত্রুর কাছ থেকে যা আমাদের শেখায় যে আমাদের কেবল ভালোবাসার জন্য পাপকে ঘৃণা করা উচিত। আমি আমার নিজের অনুভূতির মাধ্যমে নিশ্চিত, যেকোনো দয়ালু আত্মা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসায় এটি যত বেশি দেখে, সে তত বেশি পাপ করতে অনিচ্ছুক হয় এবং সে তত বেশি লজ্জিত হয়। কারণ যদি আমাদের সামনে নরকের এবং পবিত্র স্থানের এবং পৃথিবীর সমস্ত বেদনা রাখা হতো—মৃত্যু এবং অন্যান্য এবং পাপ, আমরা সেই সমস্ত বেদনা বেছে নিতাম পাপের চেয়ে। '''কারণ পাপ এতটাই জঘন্য এবং এত বেশি ঘৃণা করার যোগ্য যে তা কোনো বেদনার সাথে তুলনা করা যায় না যা পাপ নয়। এবং আমার কাছে পাপের চেয়ে কঠিন কোনো নরক দেখানো হয়নি। কারণ একটি দয়ালু আত্মার পাপ ছাড়া আর কোনো নরক নেই।'''
* আমরা দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা ভালোবাসা ও নম্রতার দিকে আমাদের উদ্দেশ্য দিই, আমরা সবাই সুন্দর ও পরিষ্কার হই।
* ঈশ্বর মানুষকে বাঁচাতে যতটা শক্তিশালী ও বিজ্ঞ, তিনি ততটাই ইচ্ছুক। কারণ খ্রিস্ট নিজেই খ্রিস্টানদের সমস্ত আইনের ভিত্তি এবং '''তিনি আমাদের শিখিয়েছেন মন্দের বিপরীতে ভালো করতে: এখানে আমরা দেখতে পারি যে তিনি নিজেই এই প্রেম, এবং আমাদের সাথে তাই করেন যেমন তিনি আমাদের করতে শিখিয়েছেন।''' কারণ তিনি চান যে আমরা নিজের প্রতি এবং আমাদের সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি অন্তহীন ভালোবাসার পূর্ণতায় তাঁর মতো হই। আমাদের পাপের জন্য আমাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা যেমন নষ্ট হয় না, তেমনই তিনি চান না যে আমাদের ভালোবাসা আমাদের নিজের প্রতি এবং আমাদের সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি নষ্ট হোক বরং '''অন্তহীনভাবে পাপকে ঘৃণা করি এবং আত্মাকে ভালোবাসি, যেমন ঈশ্বর তাকে ভালোবাসেন। তখন আমরা পাপকে ঘৃণা করব যেমন ঈশ্বর ঘৃণা করেন, এবং আত্মাকে ভালোবাসব যেমন ঈশ্বর ভালোবাসেন। এবং এই শব্দ যা তিনি বলেছিলেন তা এক অন্তহীন সান্ত্বনা: ''আমি তোমাকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।'' '''
== চতুর্দশ প্রকাশ (দ্য ফোর্টিনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ৪১ ===
[[File:Brocken-tanzawa2.JPG|thumb|''আমিই ভিত্তি।''এবং আমাদের ভালো প্রভু চান যেন তাঁর প্রেমিকরা পৃথিবীতে এটি জানুক এবং আমরা যত বেশি জানি ততই আমাদের অনুনয় করা উচিত, যদি তা বিজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হয় এবং এমনই আমাদের প্রভুর অর্থ।]]
* আমাদের প্রভু প্রার্থনার বিষয়ে দেখিয়েছিলেন। সেই প্রদর্শনীতে আমি আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে দুটি শর্ত দেখি। একটি হলো ন্যায়পরায়ণতা, অন্যটি হলো নিশ্চিত বিশ্বাস। <br> কিন্তু তবুও প্রায়শই আমাদের বিশ্বাস পূর্ণ হয় না। কারণ আমরা নিশ্চিত নই যে ঈশ্বর আমাদের শোনেন, যেমনটি আমরা মনে করি আমাদের অযোগ্যতার কারণে, এবং কারণ আমরা কিছুই অনুভব করি না, (কারণ প্রার্থনার পরেও আমরা প্রায়শই আগের মতোই অনুর্বর ও শুষ্ক থাকি) এবং এটি, আমাদের বোকামির উপলব্ধিতে, আমাদের দুর্বলতার কারণ। কারণ আমি নিজের মধ্যে এটি অনুভব করেছি। <br> এবং এই সমস্ত কিছু আমাদের প্রভু হঠাৎ আমার মনে করিয়ে দিলেন, এবং এই শব্দগুলো দেখালেন, এবং বললেন '''''আমি তোমার অনুনয়ের ভিত্তি। প্রথমত এটি আমার ইচ্ছা যে তুমি এটি পাও এবং পরে, আমি তোমাকে এটি চাইতে বাধ্য করি এবং পরে, আমি তোমাকে এটি অনুনয় করতে বাধ্য করি এবং তুমি অনুনয় করো। তাহলে কীভাবে এমন হতে পারে যে তুমি তোমার অনুনয় পাবে না?'''''
* '''এটি সবচেয়ে অসম্ভব যে আমরা দয়া ও কৃপা অনুনয় করব এবং তা পাব না।''' কারণ আমাদের ভালো প্রভু আমাদের যা কিছু অনুনয় করতে বাধ্য করেন, তিনি নিজেই তা সৃষ্টির আদি থেকে আমাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। এখানে আমরা দেখতে পারি যে আমাদের অনুনয় ঈশ্বরের মঙ্গলময়তার কারণ নয় এবং তা তিনি এই সমস্ত মিষ্টি শব্দে সত্যই দেখিয়েছিলেন যখন তিনি বলেন: ''আমিই ভিত্তি।''এবং আমাদের ভালো প্রভু চান যেন তাঁর প্রেমিকরা পৃথিবীতে এটি জানুক এবং আমরা যত বেশি জানি ততই আমাদের অনুনয় করা উচিত, যদি তা বিজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হয় এবং এমনই আমাদের প্রভুর অর্থ।
* অনুনয় হলো আত্মার একটি সত্য, কৃপাময়, স্থায়ী ইচ্ছা, যা পবিত্র আত্মার মিষ্টি অভ্যন্তরীণ কাজের দ্বারা আমাদের প্রভুর ইচ্ছার সাথে একীভূত ও আবদ্ধ।
* আমাদের প্রভু আমাদের প্রার্থনায় খুব আনন্দিত ও প্রফুল্ল এবং তিনি তার অপেক্ষায় থাকেন এবং তিনি তা পেতে চান কারণ তাঁর কৃপায় তিনি আমাদের তাঁর মতো করে তৈরি করেন। যেমনটি আমরা প্রকৃতিতে আছি এবং এমনই তাঁর পরমানন্দময় ইচ্ছা। তাই তিনি এইভাবে বলেন: ''অন্তরের সাথে প্রার্থনা করো, যদিও তোমার মনে হয় তা তোমাকে তৃপ্তি দিচ্ছে না। কারণ এটি লাভজনক, যদিও তুমি অনুভব করো না, যদিও তুমি কিছুই দেখছো না; হ্যাঁ, যদিও তুমি মনে করো তুমি পারো না। কারণ শুষ্কতা ও অনুর্বরতায়, অসুস্থতা ও দুর্বলতায়, তখন তোমার প্রার্থনা আমার কাছে খুব সন্তোষজনক, যদিও তোমার মনে হয় তা তোমাকে কিছুই তৃপ্তি দিচ্ছে না। এবং আমার দৃষ্টিতে তোমার সমস্ত বিশ্বাসী প্রার্থনা এমনই।''
* এছাড়াও প্রার্থনার সাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন যুক্ত। ধন্যবাদ হলো একটি সত্য অভ্যন্তরীণ জ্ঞান, মহান শ্রদ্ধা ও প্রেমময় ভয়ের সাথে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে সেই কাজের দিকে নিজেদের ঘুরিয়ে নিই যা আমাদের ভালো প্রভু আমাদের উদ্দীপিত করেন, অভ্যন্তরীণভাবে আনন্দ ও ধন্যবাদ প্রকাশ করে।
=== অধ্যায় ৪২ ===
[[File:Rainbow1.svg|thumb|সবকিছু যা আমাদের প্রভু করার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা যে আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি, হয় বিশেষভাবে বা সাধারণভাবে।]]
* '''এটিই আমাদের প্রভুর ইচ্ছা, যে আমাদের প্রার্থনা এবং আমাদের বিশ্বাস উভয়ই সমানভাবে বিস্তৃত হোক।''' কারণ আমরা যদি প্রার্থনার মতো বিশ্বাস না করি, তবে আমরা আমাদের প্রার্থনায় আমাদের প্রভুর প্রতি পূর্ণ পূজা করি না, এবং এছাড়াও আমরা আমাদের নিজেদের দেরি করাই এবং কষ্ট দিই। এর কারণ, আমি বিশ্বাস করি, আমরা সত্যই জানি না যে আমাদের প্রভু সেই ভিত্তি যার ওপর আমাদের প্রার্থনা উদয় হয়; এবং আমরা এও জানি না যে এটি তাঁর ভালোবাসার কৃপায় আমাদের দেওয়া হয়েছে। কারণ যদি আমরা এটি জানতাম, তবে তা আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করত যে আমরা আমাদের প্রভুর উপহার থেকে যা আকাঙ্ক্ষা করি তা পাব। কারণ '''আমি নিশ্চিত যে কেউ সত্য অর্থ ছাড়া দয়া ও কৃপা চায় না, যদি না দয়া ও কৃপা প্রথমে তাকে দেওয়া হয়।'''
* কখনো কখনো আমাদের মনে হয় যে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রার্থনা করেছি, এবং তবুও আমরা নিজেদের ভাবি যে আমরা আমাদের চাওয়া পাইনি। কিন্তু এর জন্য আমাদের শোকের মধ্যে থাকা উচিত নয়। কারণ আমি নিশ্চিত, আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতের মাধ্যমে, যে আমরা হয় একটি ভালো সময়ের, বা আরও কৃপার, বা আরও ভালো উপহারের অপেক্ষা করছি।
* '''তিনি যে তা করছেন তা দেখা, এবং অবিলম্বে প্রার্থনা করা,এভাবেই তিনি পূজিত হন এবং আমরা উপকৃত হই। সবকিছু যা আমাদের প্রভু করার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা যে আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি, হয় বিশেষভাবে বা সাধারণভাবে।''' এবং যে আনন্দ ও পরমানন্দ তা তাঁর কাছে, এবং যে ধন্যবাদ ও পূজা আমরা এর জন্য পাব, তা সৃষ্টির উপলব্ধিকে ছাড়িয়ে যায়, আমার দৃষ্টিতে। কারণ প্রার্থনা হলো ভবিষ্যতে যে আনন্দের পূর্ণতা আসবে তার একটি সঠিক উপলব্ধি, অটল আকাঙ্ক্ষা ও নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে।
* এইভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন যেখানে তিনি বলেন: '''''আমি তোমার অনুনয়ের ভিত্তি।''''' এবং এইভাবে এই পবিত্র শব্দে, প্রদর্শনীর সাথে, আমি আমাদের সমস্ত দুর্বলতা এবং সমস্ত সন্দেহজনক ভয়ের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণ বিজয় দেখেছি।
=== অধ্যায় ৪৩ ===
[[File:Rainbow droplet 630x441.jpg|thumb|প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।]]
[[File:This morning we caught a rainbow.jpg|thumb|যখন তিনি তাঁর বিশেষ কৃপার দ্বারা এখানে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি সৃষ্টিকে তার নিজের ঊর্ধ্বে শক্তিমান করেন, এবং তিনি প্রদর্শনীর পরিমাপ করেন, তাঁর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী, যেমনটি সেই সময়ের জন্য লাভজনক।]]
* '''প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।'''
* '''প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।''' কারণ যদিও আত্মা প্রকৃতি ও সত্তায় সর্বদা ঈশ্বরের মতো, কৃপায় পুনরুদ্ধার করা, মানুষের অংশে পাপের দ্বারা এটি প্রায়শই শর্তে ভিন্ন হয়। তখন প্রার্থনা একটি সাক্ষী যে আত্মা তাই চায় যা ঈশ্বর চান এবং এটি বিবেককে সান্ত্বনা দেয় এবং মানুষকে কৃপার যোগ্য করে তোলে। এবং এইভাবে তিনি আমাদের প্রার্থনা করতে শেখান এবং শক্তিমানভাবে বিশ্বাস করতে শেখান যে আমরা তা পাব। কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসায় দেখেন এবং আমাদের তাঁর ভালো কাজের অংশীদার করতে চান, এবং তাই তিনি আমাদের সেই জিনিসের জন্য প্রার্থনা করতে উদ্দীপিত করেন যা তিনি করতে আনন্দ পান। যে প্রার্থনা ও সদিচ্ছার জন্য, যা আমরা তাঁর উপহার থেকে পাই, তিনি আমাদের পুরস্কৃত করবেন এবং আমাদের অন্তহীন পুরস্কার দেবেন।
* যখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু তাঁর কৃপায় নিজেকে আমাদের আত্মার কাছে দেখান, তখন আমাদের যা আকাঙ্ক্ষা তা আমরা পাই। এবং তখন আমরা দেখি না, সেই সময়ের জন্য, আমাদের আরও কী প্রার্থনা করা উচিত, কিন্তু আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাদের সমস্ত উদ্দেশ্য পুরোপুরি তাঁর দর্শনের দিকে সেট করা হয়। এবং এটি একটি উচ্চ অদৃশ্য প্রার্থনা, আমার দৃষ্টিতে। কারণ আমরা যার জন্য প্রার্থনা করি তার সমস্ত কারণ, তা সেই ব্যক্তির দর্শন ও দর্শনের মধ্যে একীভূত হয় যার কাছে আমরা প্রার্থনা করি। শ্রদ্ধাশীল ভয়ের সাথে বিস্ময়করভাবে উপভোগ করে এবং তাঁর মধ্যে এত মহান মাধুর্য ও আনন্দের সাথে যে আমরা প্রার্থনা করতে পারি না কিন্তু যেমন তিনি আমাদের উদ্দীপিত করেন, সেই সময়ের জন্য। এবং আমি ভালো করেই জানি, আত্মা ঈশ্বরকে যত বেশি দেখে, তাঁর কৃপায় সে তত বেশি তাঁকে আকাঙ্ক্ষা করে।
* এবং এটি আমি দেখেছি: যে সময় আমরা প্রার্থনা করার কারণগুলো দেখি, তখন ''আমাদের ভালো প্রভু আমাদের অনুসরণ করেন'', আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে সাহায্য করে এবং যখন আমরা তাঁর বিশেষ কৃপায় স্পষ্টভাবে তাঁর দিকে তাকাই, অন্য কোনো প্রয়োজনের দিকে না তাকিয়ে, তখন ''আমরা তাঁকে অনুসরণ করি'' এবং তিনি ভালোবাসার দ্বারা আমাদের তাঁর দিকে টেনে নেন।
* তখন আমরা ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখব, আপনভাবে ও পুরোপুরি। যে সৃষ্টি তৈরি হয়েছে সে ঈশ্বরকে দেখবে এবং অন্তহীনভাবে পর্যবেক্ষণ করবে যিনি স্রষ্টা। কারণ এইভাবে কোনো মানুষ ঈশ্বরকে দেখে বাঁচতে পারে না অর্থাৎ, এই নশ্বর জীবনে। '''কিন্তু যখন তিনি তাঁর বিশেষ কৃপার দ্বারা এখানে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি সৃষ্টিকে তার নিজের ঊর্ধ্বে শক্তিমান করেন এবং তিনি প্রদর্শনীর পরিমাপ করেন, তাঁর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী, যেমনটি সেই সময়ের জন্য লাভজনক।'''
==সারসংক্ষেপ==
পূর্বোক্ত চৌদ্দটি প্রত্যাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর
=== অধ্যায় ৪৪ ===
[[File:Quaker Star JUL.png|thumb|[[সত্য]] ঈশ্বরকে দেখে, এবং [[প্রজ্ঞা]] ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে, এবং এই দুটির মিলন থেকে তৃতীয়টির উদ্ভব হয়: সেটি হলো ঈশ্বরকে নিয়ে একটি পবিত্র বিস্ময়কর আনন্দ; যা হলো [[প্রেম]]।]]
* '''সত্য ঈশ্বরকে দেখে, এবং প্রজ্ঞা ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে, এবং এই দুটির মিলন থেকে তৃতীয়টির উদ্ভব হয়: সেটি হলো ঈশ্বরকে নিয়ে একটি পবিত্র বিস্ময়কর আনন্দ; যা হলো প্রেম।''' যেখানে সত্য ও প্রজ্ঞা বিদ্যমান, সেখানে প্রেমও বিদ্যমান, যা এই উভয়ের থেকেই আসে। এবং সবকিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি: কারণ তিনি অন্তহীন সার্বভৌম সত্য, অন্তহীন সার্বভৌম প্রজ্ঞা, অন্তহীন সার্বভৌম প্রেম—অনির্মিত; এবং মানুষের আত্মা ঈশ্বরের মধ্যে এমন একটি সৃষ্টি যার একই বৈশিষ্ট্যগুলো 'সৃষ্টি' করা হয়েছে, এবং তা সর্বদা সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে যার জন্য এটি সৃষ্টি হয়েছে: এটি ঈশ্বরকে দেখে, এটি ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে এবং এটি ঈশ্বরকে ভালোবাসে। যার জন্য ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে আনন্দিত হন; এবং সৃষ্টি ঈশ্বরের মধ্যে, অন্তহীন বিস্ময়ের সাথে। <br> এই বিস্ময়ের মধ্যে সে তার ঈশ্বরকে, তার প্রভুকে, তার নির্মাতাকে এত উচ্চ, এত মহান এবং এত ভালো দেখে, তার নিজের সৃষ্টির তুলনায়, যে সৃষ্টি নিজেকে তুচ্ছ মনে করে। কিন্তু সত্য ও প্রজ্ঞার স্বচ্ছতা তাকে দেখতে ও সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করে যে সে প্রেমের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে ঈশ্বর তাকে অন্তহীনভাবে রক্ষা করেন।
=== অধ্যায় ৪৫ ===
* '''ঈশ্বর আমাদের প্রকৃতি-সত্তা অনুযায়ী বিচার করেন, যা সর্বদা তাঁর মধ্যে এক, অখণ্ড এবং [[অন্তহীন]] নিরাপদে রক্ষিত: এবং ''এই'' [[বিচার]] তাঁর ন্যায়পরায়ণতার।''' এবং মানুষ আমাদের [[পরিবর্তনশীল]] অনুভূতি-আত্মা অনুযায়ী বিচার করে, যা এখন এমন, এখন তেমন—অংশ অনুযায়ী—এবং বাইরে প্রকাশিত হয়। এবং ''এই'' [[প্রজ্ঞা]] ''মিশ্রিত''। কারণ কখনো তা [[ভালো]] ও সহজ, আবার কখনো কঠিন ও দুঃখজনক। এবং যতটা তা ভালো ও সহজ, তা ন্যায়পরায়ণতার অন্তর্ভুক্ত; এবং যতটা তা কঠিন ও দুঃখজনক, আমাদের ভালো প্রভু যিশু তাঁর পবিত্র প্যাশন বা কষ্টের গুণাবলীর মাধ্যমে দয়া ও কৃপার দ্বারা তা সংস্কার করেন, এবং এইভাবে একে ন্যায়পরায়ণতায় ফিরিয়ে আনেন। <br> এবং যদিও এই দুটি এভাবে সম্মত ও একীভূত, তবুও স্বর্গে উভয়ই অন্তহীনভাবে জানা যাবে। প্রথম বিচার, যা ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতার, তা তাঁর উচ্চ অন্তহীন জীবনের; এবং এটিই সেই সুন্দর মিষ্টি বিচার যা সমস্ত সুন্দর প্রকাশে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি তাঁকে আমাদের কোনো দোষ দিতে দেখিনি। কিন্তু যদিও এটি মিষ্টি ও আনন্দদায়ক ছিল, তবুও কেবল এর পর্যবেক্ষণে আমি পুরোপুরি শান্ত হতে পারিনি: এবং তার কারণ হলো পবিত্র চার্চের বিচার, যা আমি আগেই বুঝেছিলাম এবং যা ক্রমাগত আমার দৃষ্টিতে ছিল। এবং তাই ''এই'' বিচারের দ্বারা আমার মনে হয়েছিল আমি বুঝেছিলাম যে পাপীরা কোনো এক সময়ে দোষ ও ক্রোধের যোগ্য; কিন্তু আমি ঈশ্বরের মধ্যে এই দুটি দেখতে পাইনি; এবং তাই আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যতটা আমি বলতে পারি বা পারি তার চেয়ে অনেক বেশি। কারণ উচ্চতর বিচার সেই একই সময়ে ঈশ্বর নিজেই দেখিয়েছিলেন, এবং তাই আমাকে তা গ্রহণ করতেই হতো; এবং নিম্নতর বিচার আমি আগে পবিত্র চার্চে শিখেছিলাম, এবং তাই আমি কোনোভাবেই নিম্নতর বিচার ত্যাগ করতে পারিনি। তখন আমার এই ইচ্ছা ছিল: আমি যেন ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে পাই যে পবিত্র চার্চের বিচার যা শেখায় তা কীভাবে তাঁর দৃষ্টিতে সত্য, এবং কীভাবে তা জানা আমার জন্য যথার্থ; যার মাধ্যমে উভয় বিচারই রক্ষা পেতে পারে, যেমনটি ঈশ্বরের জন্য পূজনীয় এবং আমার জন্য সঠিক পথ। <br> এবং এই সবকিছুর জন্য আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না, কেবল একজন প্রভু ও একজন ভৃত্যের একটি বিস্ময়কর উদাহরণ ছাড়া, যা আমি পরে বলব:—এবং তা খুব অস্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল। এবং তবুও আমি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, এবং আমার শেষ পর্যন্ত থাকব, যেন আমি কৃপার দ্বারা এই দুটি বিচার জানতে পারি যেমনটি আমার জন্য যথার্থ। '''কারণ স্বর্গীয় এবং স্বর্গীয় বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত সমস্ত পার্থিব জিনিস এই দুটি বিচারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এবং পবিত্র আত্মার কৃপাময় নির্দেশনায় এই দুটি বিচার সম্পর্কে আমাদের যত বেশি বোধগম্য হবে, আমরা আমাদের ব্যর্থতাগুলো তত বেশি দেখতে ও জানতে পারব। এবং আমরা যত বেশি সেগুলো দেখব, তত বেশি, স্বভাবত, কৃপার দ্বারা, আমরা অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করব। কারণ আমরা তার জন্যই সৃষ্টি হয়েছি, এবং আমাদের প্রকৃতি-সত্তা এখন ঈশ্বরের মধ্যে পরমানন্দময়, এবং এটি তৈরির পর থেকেই তা ছিল, এবং অন্তহীনভাবে থাকবে।'''
=== অধ্যায় ৪৬ ===
* '''আমাদের অনুভূতি-আত্মায় এখানে যে নশ্বর জীবন আমরা পাই, তা জানে না আমাদের 'নিজ' কী।''' তখন আমরা সত্যই ও স্পষ্টভাবে আনন্দ ও পরমানন্দের পূর্ণতায় আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে দেখতে ও জানতে পারব। এবং তাই এটি অনিবার্য যে আমরা আমাদের পরমানন্দের যত কাছাকাছি থাকব, তত বেশি আমরা আকাঙ্ক্ষা করব; এবং তা স্বভাব ও কৃপা উভয় দ্বারাই। আমরা আমাদের উচ্চ প্রকৃতির ক্রমাগত সাহায্য ও গুণের মাধ্যমে এই জীবনে আমাদের 'নিজের' জ্ঞান পেতে পারি। যে জ্ঞানে আমরা দয়ায় এবং কৃপার সাহায্যে অগ্রসর হতে পারি; কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের 'নিজ'-কে পুরোপুরি জানতে পারব না: যে মুহূর্তে এই নশ্বর জীবনের এবং দুঃখ ও যন্ত্রণার এই ধরনের এক অন্তিম পরিণতি ঘটবে। এবং তাই, স্বভাব ও কৃপা উভয় দ্বারাই, অন্তহীন আনন্দের পূর্ণতায় আমাদের 'নিজ'-কে জানার জন্য আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আকাঙ্ক্ষা করা আমাদের জন্য যথার্থ।
* তবুও এই পুরো সময়ে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, আমার দুটি দৃষ্টি ছিল। একটি ছিল অন্তহীন ক্রমাগত প্রেম, সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং পরমানন্দময় পরিত্রাণের সাথে—কারণ এর জন্যই ছিল ''পুরো প্রকাশ''। অন্যটি ছিল পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষার, যেখানে আমি আগে অবহিত ও ভিত্তিমূল পেয়েছিলাম—এবং আমার সমস্ত ইচ্ছার সাথে তা ব্যবহার ও বুঝতাম। এবং ''এর'' পর্যবেক্ষণ আমার থেকে দূরে যায়নি: কারণ প্রকাশের দ্বারা আমি কোনো পয়েন্টেই সেখান থেকে বিচ্যুত হইনি, বরং আমি সেখানে এটি ভালোবাসার ও ভালো মনে করার শিক্ষা পেয়েছিলাম: যার দ্বারা আমি, আমাদের প্রভু ও তাঁর কৃপার সাহায্যে, আরও স্বর্গীয় জ্ঞান ও উচ্চতর প্রেমে বৃদ্ধি পেতে পারি।
* '''পুরো পর্যবেক্ষণে আমার মনে হয়েছিল যে আমাদের পাপী হওয়া এবং অনেক মন্দ কাজ করা যা আমাদের ত্যাগ করা উচিত, এবং অনেক ভালো কাজ না করা যা আমাদের করা উচিত, তা দেখা ও জানা প্রয়োজন: যার জন্য আমরা যন্ত্রণা ও ক্রোধের যোগ্য। এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি সত্যই দেখেছিলাম যে আমাদের প্রভু কখনোই ক্রুদ্ধ ছিলেন না, বা কখনোই হবেন না।''' কারণ তিনি ঈশ্বর: ভালো, জীবন, সত্য, প্রেম, শান্তি; তাঁর স্বচ্ছতা ও তাঁর ঐক্য তাঁকে ক্রুদ্ধ হতে দেয় না। কারণ আমি সত্যই দেখেছিলাম যে ক্রুদ্ধ হওয়া তাঁর শক্তির বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে, এবং তাঁর প্রজ্ঞার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে, এবং তাঁর মঙ্গলময়তার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে। ঈশ্বর সেই মঙ্গলময়তা যা ক্রুদ্ধ হতে পারে না, কারণ তিনি কেবল মঙ্গলময়তা ছাড়া আর কিছুই নন: আমাদের আত্মা তাঁর সাথে একীভূত, অপরিবর্তনীয় মঙ্গলময়তা, এবং ঈশ্বর ও আমাদের আত্মার মধ্যে তাঁর দৃষ্টিতে না আছে ক্রোধ না আছে ক্ষমা। কারণ আমাদের আত্মা তাঁর নিজস্ব মঙ্গলময়তার দ্বারা ঈশ্বরের সাথে এতটাই পূর্ণভাবে একীভূত যে ঈশ্বর ও আমাদের আত্মার মধ্যে ঠিক কিছুই নেই। <br> এবং এই উপলব্ধিতে আত্মা প্রেমের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল এবং প্রতিটি প্রকাশে শক্তির দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিল: যে এটিই আমাদের ভালো প্রভু দেখিয়েছিলেন, এবং ''কীভাবে এটি তাঁর মহান মঙ্গলময়তার সত্যে এমন।'' এবং তিনি চান যে আমরা তা শিখতে আকাঙ্ক্ষা করি—অর্থাৎ, যতটা তাঁর সৃষ্টির জন্য তা শেখা যথার্থ। কারণ সমস্ত জিনিস যা সাধারণ আত্মা বুঝেছে, ঈশ্বর চান যে সেগুলো দেখানো ও জানা হোক। কারণ যে জিনিসগুলো তিনি গোপন রাখতে চান, তিনি নিজেই খুব শক্তিশালী ও বিজ্ঞতার সাথে সেগুলো গোপন রাখেন, প্রেমের জন্য। কারণ আমি একই প্রকাশে দেখেছিলাম যে অনেক গোপনীয়তা লুকিয়ে আছে, যা সেই সময় পর্যন্ত জানা সম্ভব নয় যতক্ষণ না ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তায় আমাদের তা দেখার যোগ্য করে তোলেন; এবং তাতে আমি খুব সন্তুষ্ট, এই মহান বিস্ময়ে আমাদের প্রভুর ইচ্ছার অপেক্ষায়। এবং এখন আমি আমার মা, পবিত্র চার্চের কাছে নিজেকে সমর্পণ করছি, যেমন একটি সাধারণ শিশু করে।
=== অধ্যায় ৪৭ ===
* '''দুটি জিনিস আমাদের আত্মার জন্য কর্তব্য: একটি হলো যে আমরা শ্রদ্ধার সাথে বিস্ময়বোধ করি, অন্যটি হলো যে আমরা নম্রভাবে সহ্য করি, সর্বদা ঈশ্বরের মধ্যে আনন্দিত থেকে। কারণ তিনি চান যেন আমরা বুঝি যে আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখতে পাব যা আমরা আকাঙ্ক্ষা করি।''' <br> এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি পর্যবেক্ষণ করলাম এবং গভীরভাবে বিস্ময়বোধ করলাম: ''ঈশ্বরের দয়া ও ক্ষমা কী?'' কারণ আমার পূর্বের শিক্ষা দ্বারা, আমি বুঝেছিলাম যে ঈশ্বরের দয়া হবে আমাদের পাপ করার পরের সময়ে তাঁর ক্রোধের ক্ষমা। কারণ আমার মনে হয়েছিল যে একটি আত্মার জন্য যার অর্থ ও আকাঙ্ক্ষা হলো ভালোবাসা, ঈশ্বরের ক্রোধ যেকোনো যন্ত্রণার চেয়ে বেশি কঠিন ছিল, এবং তাই আমি ধরে নিয়েছিলাম যে তাঁর ক্রোধের ক্ষমা তাঁর দয়ার অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়া উচিত। '''কিন্তু আমি যতই পর্যবেক্ষণ করি বা আকাঙ্ক্ষা করি না কেন, আমি কোনোভাবেই পুরো প্রকাশে এই পয়েন্টটি দেখতে পাইনি। <br> কিন্তু আমি দয়ার কাজ সম্পর্কে কীভাবে বুঝেছিলাম এবং দেখেছিলাম, তা আমি কিছুটা বলব, যেমন ঈশ্বর আমাকে কৃপা দেবেন। আমি এটি বুঝেছিলাম: মানুষ এই জীবনে পরিবর্তনশীল, এবং দুর্বলতা ও জয়ের দ্বারা পাপের মধ্যে পড়ে যায়: সে নিজের থেকে দুর্বল ও অবিবেচক, এবং তার ইচ্ছাও চাপা পড়ে। এবং এই সময়ে সে ঝড়, দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্যে থাকে; এবং এর কারণ হলো অন্ধত্ব: কারণ সে ঈশ্বরকে দেখে না। কারণ যদি সে ক্রমাগত ঈশ্বরকে দেখত, তবে তার কোনো ক্ষতিকারক অনুভূতি থাকত না, বা কোনো ধরনের গতি বা আকাঙ্ক্ষা থাকত না যা পাপের দিকে নিয়ে যায়। <br> এইভাবে আমি দেখেছি, এবং একই সময়ে অনুভব করেছি; এবং আমার মনে হয়েছিল যে এই দেখা ও অনুভব করা আমাদের জীবনের সাধারণ অনুভূতির তুলনায় উচ্চ, প্রাচুর্যময় ও কৃপাময়; কিন্তু তবুও আমার মনে হয়েছিল এটি ছোট ও নিচু ছিল সেই মহান আকাঙ্ক্ষার তুলনায় যা আত্মা ঈশ্বরকে দেখার জন্য রাখে।'''
* '''আমি আমার মধ্যে পাঁচ ধরনের কাজ অনুভব করেছি, যা হলো এই: আনন্দ, শোক, আকাঙ্ক্ষা, ভয় এবং নিশ্চিত আশা।''' আনন্দ: কারণ ঈশ্বর আমাকে উপলব্ধি ও জ্ঞান দিয়েছেন যে তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে আমি দেখেছি; শোক: এবং তা ছিল ব্যর্থতার জন্য; আকাঙ্ক্ষা: এবং তা ছিল যেন আমি তাঁকে আরও বেশি বেশি দেখতে পারি, এই উপলব্ধি ও জ্ঞান নিয়ে যে আমরা যতক্ষণ না তাঁকে স্বর্গে সত্যই ও স্পষ্টভাবে দেখছি ততক্ষণ আমরা কখনোই পূর্ণ বিশ্রাম পাব না; ভয় ছিল: কারণ আমার মনে হয়েছিল যে সেই সময়ে সেই দেখা ব্যর্থ হবে, এবং আমি নিজের মধ্যে পরিত্যক্ত হব; নিশ্চিত আশা ছিল অন্তহীন প্রেমে: যে আমি দেখেছি আমি তাঁর দয়ার দ্বারা রক্ষিত হব এবং তাঁর পরমানন্দে আনা হব। এবং এই নিশ্চিত আশার সাথে তাঁর দর্শনে আনন্দ করা আমাকে এমন অনুভূতি ও সান্ত্বনা দিয়েছিল যে শোক ও ভয় খুব বেশি বেদনাদায়ক ছিল না। এবং তবুও এই সবকিছুর মধ্যে আমি ঈশ্বরের প্রকাশে পর্যবেক্ষণ করেছি যে এই ধরনের দেখা এই জীবনে ক্রমাগত হতে পারে না,—এবং তা তাঁর নিজস্ব পূজার জন্য এবং আমাদের অন্তহীন আনন্দের বৃদ্ধির জন্য। এবং তাই আমরা প্রায়শই তাঁর দর্শন থেকে ব্যর্থ হই, এবং অবিলম্বে আমরা আমাদের নিজের মধ্যে পতিত হই, এবং তখন আমরা কোনো সঠিক অনুভূতি পাই না,—আমাদের নিজের মধ্যে যা আছে তা ছাড়া অন্য কোনো বিপরীততা নয়; এবং তা আমাদের প্রথম পাপের পুরোনো শিকড় থেকে, আমাদের নিজেদের দ্বারা অনুসরণ করা সমস্ত পাপের সাথে। এবং এর মধ্যে আমরা পাপের অনুভূতি, এবং আধ্যাত্মিক ও শারীরিক বহু বৈচিত্র্যময় যন্ত্রণার সাথে পরিশ্রমে ও ঝড়ে থাকি, যেমনটি আমাদের এই জীবনে জানা আছে।
=== অধ্যায় ৪৮ ===
[[File:Arco iris circular.JPG|thumb|আমি [[দয়া]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম, এবং আমি [[কৃপা]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম: যেগুলোর একটি [[প্রেমের]] মধ্যে দুই ধরনের কাজ আছে।]]
* '''আমাদের ভালো প্রভু পবিত্র আত্মা, যিনি আমাদের আত্মায় বসবাসকারী অন্তহীন জীবন, আমাদের খুব নিরাপদে রক্ষা করেন; এবং এর মধ্যে একটি শান্তি কাজ করেন এবং কৃপার দ্বারা একে স্বস্তিতে নিয়ে আসেন, এবং ঈশ্বরের সাথে সামঞ্জস্য করেন এবং একে নমনীয় করে তোলেন।''' এবং এটিই দয়া ও পথ যা আমাদের প্রভু ক্রমাগত আমাদের নিয়ে যান যতদিন আমরা এই জীবনে আছি যা পরিবর্তনশীল। <br> '''কারণ আমি মানুষের অংশে ক্রোধ ছাড়া আর কিছু দেখিনি; এবং তিনি আমাদের মধ্যে তা ক্ষমা করেন। কারণ ক্রোধ হলো শান্তি ও প্রেমের প্রতি এক ধরনের বিমুখতা ও বিপরীততা; এবং এটি হয় শক্তির ব্যর্থতা থেকে, অথবা প্রজ্ঞার ব্যর্থতা থেকে, অথবা মঙ্গলময়তার ব্যর্থতা থেকে আসে: যা ঈশ্বরের মধ্যে নেই, কিন্তু আমাদের অংশে। কারণ আমরা পাপ ও দুর্দশার দ্বারা আমাদের মধ্যে শান্তি ও প্রেমের প্রতি এক দুঃখজনক ও ক্রমাগত বিপরীততা বহন করি।''' এবং তা তিনি খুব প্রায়ই তাঁর করুণা ও সহানুভূতির প্রেমময় দৃষ্টিতে দেখিয়েছিলেন। কারণ দয়ার ভিত্তি হলো প্রেম, এবং দয়ার কাজ হলো ভালোবাসায় আমাদের রক্ষা করা। এবং এটি এমনভাবে দেখানো হয়েছিল যে আমি দয়ার অংশটি প্রেম ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে বুঝতে পারিনি; অর্থাৎ, আমার দৃষ্টিতে।
* '''দয়া হলো প্রেমের এক মিষ্টি কৃপাময় কাজ, প্রাচুর্যপূর্ণ সহানুভূতির সাথে মিশ্রিত: কারণ দয়া আমাদের রক্ষা করার কাজ করে, এবং দয়া আমাদের জন্য সবকিছুকে ভালোতে পরিণত করার কাজ করে।''' দয়া, প্রেমের দ্বারা, আমাদের পরিমাপের মধ্যে ব্যর্থ হতে দেয় এবং যতটা আমরা ব্যর্থ হই, ততটাই আমরা পড়ি; এবং যতটা আমরা পড়ি, ততটাই আমরা মরি: কারণ এটি অনিবার্য যে আমরা ততটাই মরি যতটা আমরা ঈশ্বরকে দেখা ও অনুভব করা থেকে ব্যর্থ হই যিনি আমাদের জীবন। আমাদের ব্যর্থতা ভয়ানক, আমাদের পতন লজ্জাজনক, এবং আমাদের মৃত্যু দুঃখজনক: কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যে সহানুভূতির মিষ্টি চোখ কখনো আমাদের থেকে সরে যায় না, বা দয়ার কাজও থেমে যায় না। <br> '''কারণ আমি [[দয়া]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম, এবং আমি [[কৃপা]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম: যেগুলোর একটি [[প্রেম]]ের মধ্যে দুই ধরনের কাজ আছে।''' দয়া হলো একটি করুণাময় বৈশিষ্ট্য যা কোমল প্রেমে মাতৃত্বের অন্তর্গত; এবং কৃপা হলো একটি পূজনীয় বৈশিষ্ট্য যা একই প্রেমে রাজকীয় প্রভুর অন্তর্গত। দয়া কাজ করে: রক্ষা করা, সহ্য করা, জীবিত করা এবং নিরাময় করা; এবং সবই প্রেমের কোমলতা। এবং কৃপা কাজ করে: উন্নীত করা, পুরস্কৃত করা, আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও পরিশ্রম যা অর্জন করে তার চেয়ে অন্তহীনভাবে অতিক্রম করা, ঈশ্বরের রাজকীয় প্রভুর মহান প্রাচুর্যপূর্ণ উদারতা তাঁর বিস্ময়কর সৌজন্যে ছড়িয়ে দেওয়া ও প্রদর্শন করা; এবং এটি প্রেমের প্রাচুর্য থেকে আসে। '''কারণ কৃপা আমাদের ভয়ানক ব্যর্থতাকে প্রাচুর্যপূর্ণ, অন্তহীন সান্ত্বনায় রূপান্তরিত করে; এবং কৃপা আমাদের লজ্জাজনক পতনকে উচ্চ, পূজনীয় উত্থানে রূপান্তরিত করে; এবং কৃপা আমাদের দুঃখজনক মৃত্যুকে পবিত্র, পরমানন্দময় জীবনে রূপান্তরিত করে।''' <br> কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের বিপরীততা যেমন আমাদের এখানে পৃথিবীতে যন্ত্রণা, লজ্জা ও দুঃখ দেয়, ঠিক তেমনই বিপরীত দিক থেকে, কৃপা আমাদের স্বর্গে সান্ত্বনা, পূজা ও পরমানন্দ দেয়; এবং অতিক্রম করে। এবং এতটা পর্যন্ত যে, যখন আমরা উপরে উঠি এবং সেই মিষ্টি পুরস্কার গ্রহণ করি যা কৃপা আমাদের জন্য তৈরি করেছে, তখন আমরা আমাদের প্রভুকে ধন্যবাদ ও আশীর্বাদ করব, অন্তহীনভাবে আনন্দিত হয়ে যে আমরা কখনো দুঃখ সহ্য করেছি। এবং এটি হবে পরমানন্দময় প্রেমের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য যা আমরা ঈশ্বরকে জানব যা দুঃখ ছাড়া আমরা কখনোই জানতে পারতাম না। <br> '''এবং যখন আমি এই সব দেখলাম, আমাকে স্বীকার করতেই হলো যে ঈশ্বরের দয়া ও ক্ষমা আমাদের ক্রোধকে শিথিল ও নষ্ট করার জন্য।'''
=== অধ্যায় ৪৯ ===
[[File:LuMaxArt_Golden_Family_With_World_Religions.jpg|thumb|অবিলম্বে আত্মা [[ঈশ্বরের]] সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে [[শান্তি]] স্থাপন করে।]]
[[File:Quaker Peace Star.png|thumb|আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে যেখানে আমাদের প্রভু উপস্থিত হন, সেখানে [[শান্তি]] আসে এবং [[ক্রোধ]]ের কোনো স্থান থাকে না। কারণ আমি ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ধরনের ক্রোধ দেখিনি, অল্প [[সময়ের]] জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য; — কারণ সত্যই, আমার দৃষ্টিতে, যদি [[ঈশ্বর]] এক মুহূর্তের জন্যও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে আমাদের কখনোই [[জীবন]] বা স্থান বা অস্তিত্ব থাকত না।]]
* '''অবিলম্বে আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে।'''
* '''এটি ছিল আত্মার জন্য এক উচ্চ বিস্ময় যা ক্রমাগত সমস্ত প্রকাশে দেখানো হয়েছিল, এবং খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল, যে আমাদের প্রভু ঈশ্বর, নিজের প্রতি ক্ষমা করতে পারেন না, কারণ তিনি ক্রুদ্ধ হতে পারেন না: এটি অসম্ভব হবে। কারণ এটি দেখানো হয়েছিল: যে আমাদের জীবন সম্পূর্ণভাবে প্রেমে ভিত্তি ও মূলিত, এবং প্রেম ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না;''' এবং তাই সেই আত্মার জন্য যে তাঁর বিশেষ কৃপায় ঈশ্বরের উচ্চ, বিস্ময়কর মঙ্গলময়তার গভীরে এতদূর দেখে, এবং দেখে যে আমরা প্রেমে তাঁর সাথে অন্তহীনভাবে একীভূত, এটি সবচেয়ে অসম্ভব যা হতে পারে যে ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হবেন। কারণ ক্রোধ ও বন্ধুত্ব দুটি বিপরীত। কারণ তিনি যিনি আমাদের ক্রোধ নষ্ট ও ধ্বংস করেন এবং আমাদের নম্র ও মৃদু করেন,—এটি অনিবার্য যে তাঁকে সর্বদা প্রেমে এক, নম্র ও মৃদু হতে হবে: যা ক্রোধের বিপরীত। <br> '''কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে যেখানে আমাদের প্রভু উপস্থিত হন, সেখানে শান্তি আসে এবং ক্রোধের কোনো স্থান থাকে না। কারণ আমি ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ধরনের ক্রোধ দেখিনি, অল্প সময়ের জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য;—কারণ সত্যই, আমার দৃষ্টিতে, যদি ঈশ্বর এক মুহূর্তের জন্যও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে আমাদের কখনোই জীবন বা স্থান বা অস্তিত্ব থাকত না।''' কারণ আমরা যেমন ঈশ্বরের অন্তহীন শক্তি এবং অন্তহীন প্রজ্ঞা এবং অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আমাদের অস্তিত্ব পাই, ঠিক তেমনই আমরা ঈশ্বরের অন্তহীন শক্তিতে, অন্তহীন প্রজ্ঞায় এবং অন্তহীন মঙ্গলময়তায় আমাদের সুরক্ষা পাই। কারণ যদিও আমরা নিজেদের মধ্যে, দুঃখী মানুষ, বিতর্ক ও কলহ অনুভব করি, তবুও আমরা ঈশ্বরের মৃদুতা ও তাঁর নম্রতায়, তাঁর দয়া ও তাঁর কৃপায় পুরোপুরি আবদ্ধ। কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের সমস্ত অন্তহীন বন্ধুত্ব, আমাদের স্থান, আমাদের জীবন এবং আমাদের অস্তিত্ব ঈশ্বরের মধ্যে।
* '''যদিও আমরা, আমাদের মধ্যে থাকা ক্রোধ ও বিপরীততার কারণে, এখন দুর্দশা, কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্যে আছি, যেমন আমাদের অন্ধত্ব ও দুর্বলতার কারণে ঘটে, তবুও আমরা ঈশ্বরের দয়াময় সুরক্ষার দ্বারা নিরাপদে আছি, যাতে আমরা ধ্বংস না হই। কিন্তু আমরা আমাদের অন্তহীন আনন্দের অধিকারী হয়ে ''পরমানন্দময়ভাবে'' নিরাপদ নই, যতক্ষণ না আমরা সবাই শান্তিতে ও প্রেমে থাকি: অর্থাৎ, ঈশ্বরের সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে এবং তাঁর সমস্ত বিচারের সাথে পূর্ণ সন্তুষ্ট, এবং আমাদের নিজেদের সাথে এবং আমাদের সম-খ্রিস্টানদের সাথে এবং ঈশ্বর যা ভালোবাসেন তার সবার সাথে প্রেমময় ও শান্তিপূর্ণ, যেমন প্রেম শোভা পায়।''' এবং এটি ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা আমাদের মধ্যে করে।
* '''এইভাবে আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বরই আমাদের প্রকৃত শান্তি, এবং আমরা যখন নিজেরাই অশান্তিতে থাকি তখন তিনিই আমাদের নিশ্চিত রক্ষক, এবং তিনি ক্রমাগত আমাদের অন্তহীন শান্তিতে আনার জন্য কাজ করেন।''' এবং এইভাবে যখন আমরা, দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা, নম্র ও মৃদু হই, আমরা পুরোপুরি নিরাপদ; হঠাৎ আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তিতে থাকে: কারণ তাঁর মধ্যে কোনো ক্রোধ পাওয়া যায় না। এবং এইভাবে আমি দেখেছিলাম যখন আমরা সবাই শান্তিতে ও প্রেমে থাকি, আমরা কোনো বিপরীততা খুঁজে পাই না, বা সেই বিপরীততার মাধ্যমে কোনো ধরনের বাধা পাই না যা এখন আমাদের মধ্যে আছে; আমাদের প্রভু তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে একে আমাদের জন্য খুব লাভজনক করে তোলেন। কারণ সেই বিপরীততাই আমাদের দুর্দশা ও আমাদের সমস্ত যন্ত্রণার কারণ, এবং আমাদের প্রভু যিশু সেগুলো গ্রহণ করেন এবং স্বর্গে পাঠান, এবং সেখানে সেগুলো হৃদয়ে চিন্তা বা জিহ্বায় বলার চেয়েও বেশি মিষ্টি ও আনন্দদায়ক করা হয়। এবং যখন আমরা সেখানে পৌঁছাব তখন আমরা সেগুলোকে প্রস্তুত পাব, সব খুব সুন্দর ও অন্তহীন পূজায় রূপান্তরিত।
=== অধ্যায় ৫০ ===
* '''এই জীবনে দয়া ও ক্ষমা আমাদের পথ এবং সর্বদা আমাদের কৃপার দিকে নিয়ে যায়। এবং যে ঝড় ও দুঃখের মধ্যে আমরা আমাদের অংশে পতিত হই, তাতে আমরা পৃথিবীতে মানুষের বিচারের অনুযায়ী প্রায়শই মৃত; কিন্তু ঈশ্বরের দৃষ্টিতে যে আত্মা রক্ষা পাবে সে কখনোই মৃত ছিল না, বা কখনোই হবে না।'''
* তবুও এখানে আমি আমার আত্মার সমস্ত মনোযোগ দিয়ে বিস্মিত ও বিস্ময়বোধ করলাম, আমার নিজের মধ্যে এইভাবে বলে: ''' ''ভালো প্রভু, আমি তোমাকে দেখি যিনি প্রকৃত সত্য; এবং আমি সত্যে জানি যে আমরা প্রতিদিন গুরুতরভাবে পাপ করি এবং অনেক বেশি দোষী; এবং আমি তোমার সত্যের জ্ঞান ত্যাগ করতে পারি না, বা আমি তোমাকে কোনো ধরনের দোষ দেখাতে দেখছি না। এটি কীভাবে সম্ভব?'' <br> কারণ আমি পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষা এবং আমার নিজের অনুভূতি দ্বারা জানতাম যে আমাদের পাপের দোষ ক্রমাগত আমাদের ওপর ঝুলে থাকে, প্রথম মানুষ থেকে শুরু করে আমরা স্বর্গে পৌঁছানো পর্যন্ত: তখন এটিই আমার বিস্ময় ছিল যে আমি আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে আমাদের প্রতি আর কোনো দোষ দেখাতে দেখিনি যেন আমরা স্বর্গে ফেরেশতাদের মতো পরিষ্কার ও পবিত্র।''' এবং এই দুটি বিপরীতের মধ্যে আমার যুক্তি আমার অন্ধত্বের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল, এবং এর ভয়ে কোনো বিশ্রাম পেতে পারিনি যে তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ উপস্থিতি আমার দৃষ্টি থেকে সরে যাবে এবং আমি না জেনে থেকে যাব যে তিনি আমাদের পাপে আমাদের কীভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কারণ হয় আমাকে ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে হতো যে পাপ পুরোপুরি দূর হয়েছে, অথবা আমাকে ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে হতো কীভাবে তিনি তা দেখেন, যার মাধ্যমে আমি সত্যই জানতে পারতাম কীভাবে আমার পাপ দেখা উচিত, এবং আমাদের দোষের ধরন। আমার আকাঙ্ক্ষা স্থায়ী ছিল, তাঁকে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করে;—এবং তবুও মহান সংকট ও বিভ্রান্তির জন্য আমি ধৈর্য ধরতে পারিনি, চিন্তা করে: ''যদি আমি এইভাবে ধরি যে আমরা পাপী নই এবং দোষী নই, তবে মনে হয় আমি ভুল করছি এবং এই সত্যের জ্ঞান থেকে ব্যর্থ হচ্ছি; এবং যদি এমন হয় যে আমরা পাপী ও দোষী,—ভালো প্রভু, তবে এটি কীভাবে সম্ভব যে আমি তোমার মধ্যে এই সত্য জিনিসটি দেখতে পাচ্ছি না, যিনি আমার ঈশ্বর, আমার নির্মাতা, যার মধ্যে আমি সমস্ত সত্য দেখতে আকাঙ্ক্ষা করি?''
* তিনটি পয়েন্ট আমাকে এটি জিজ্ঞাসা করার জন্য সাহসী করে তোলে। প্রথমটি হলো, কারণ এটি খুব ছোট একটি জিনিস: কারণ যদি এটি একটি উচ্চ জিনিস হতো তবে আমি ভীত হতাম। দ্বিতীয়টি হলো, যে এটি খুব সাধারণ: কারণ যদি এটি বিশেষ ও গোপন হতো, তবে আমি ভীত হতাম। তৃতীয়টি হলো, যে এটি জানা আমার প্রয়োজন (যেমন আমার মনে হয়) যদি আমি এখানে ভালো ও মন্দের জ্ঞান লাভের জন্য বাঁচি, যার মাধ্যমে আমি, যুক্তি ও কৃপার দ্বারা, সেগুলোকে আরও আলাদা করতে পারি, এবং মঙ্গলময়তাকে ভালোবাসতে পারি ও মন্দকে ঘৃণা করতে পারি, যেমন পবিত্র চার্চ শেখায়। আমি অন্তরের সাথে চিৎকার করলাম, আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করে, এইভাবে বলে: ''আহ! প্রভু যিশু, পরমানন্দের রাজা, আমি কীভাবে শান্ত হব? কে আমাকে শেখাবে এবং বলবে যে আমার কী জানা প্রয়োজন, যদি আমি এই সময়ে তোমার মধ্যে তা দেখতে না পাই?''
=== অধ্যায় ৫১ ===
* তখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু খুব অস্পষ্টভাবে একজন প্রভুর একটি বিস্ময়কর উদাহরণ দেখিয়ে উত্তর দিলেন যার একজন ভৃত্য আছে: এবং তিনি আমাকে উভয়ের প্রতি আমার বোঝার দৃষ্টি দিলেন। যে দৃষ্টি প্রভুর মধ্যে দ্বিগুণভাবে এবং ভৃত্যের মধ্যে দ্বিগুণভাবে দেখানো হয়েছিল: একটি অংশ শারীরিক সাদৃশ্যে আধ্যাত্মিকভাবে দেখানো হয়েছিল, এবং অন্য অংশটি আরও আধ্যাত্মিকভাবে দেখানো হয়েছিল, শারীরিক সাদৃশ্য ছাড়াই।
* আমি শারীরিক সাদৃশ্যে দুটি ব্যক্তিকে দেখলাম: অর্থাৎ, একজন প্রভু ও একজন ভৃত্য; এবং তার সাথে ঈশ্বর আমাকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান দিলেন। প্রভু শান্তিতে ও বিশ্রামে মহিমান্বিত হয়ে বসে আছেন; ভৃত্য তার প্রভুর সামনে শ্রদ্ধার সাথে দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রভুর ইচ্ছা পূরণ করতে প্রস্তুত। প্রভু তাঁর ভৃত্যের দিকে খুব ভালোবাসার সাথে ও মিষ্টিভাবে তাকান, এবং নম্রভাবে তিনি তাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠান তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে। ভৃত্য কেবল যায় না, বরং হঠাৎ সে শুরু করে, এবং প্রভুর ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রেমের সাথে খুব তাড়াহুড়ো করে দৌড়ায়। এবং অবিলম্বে সে একটি খাদে পড়ে যায়, এবং খুব মহান আঘাত পায়। এবং তখন সে আর্তনাদ করে ও বিলাপ করে ও শোক করে ও সংগ্রাম করে, কিন্তু সে কোনোভাবেই উঠতে পারে না বা নিজেকে সাহায্য করতে পারে না। <br> এবং এই সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যা আমি তাকে দেখেছি তা ছিল সান্ত্বনার ব্যর্থতা: কারণ সে তার ভালোবাসার প্রভুর দিকে তাকাতে মুখ ঘুরাতে পারেনি, যিনি তার খুব কাছাকাছি ছিলেন,—যাঁর মধ্যে পূর্ণ সান্ত্বনা আছে;—কিন্তু একজন মানুষের মতো যে সেই সময়ের জন্য দুর্বল ও অবিবেচক, সে তার মন তার অনুভূতির দিকে ঘুরাল এবং যন্ত্রণার মধ্যে স্থায়ী হলো।
* আমি বিস্মিত হলাম কীভাবে এই ভৃত্য সেখানে এই সমস্ত যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে, এবং আমি খুব সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করলাম যদি আমি তার মধ্যে কোনো দোষ বুঝতে পারি, অথবা প্রভু যদি তাকে কোনো দোষ দেন। এবং সত্যই সেখানে কিছুই দেখা যায়নি: কারণ কেবল তার সদিচ্ছা এবং তার মহান আকাঙ্ক্ষাই ছিল তার পতনের কারণ; এবং সে অনিচ্ছুক ছিল না, এবং ভেতরে ততটাই ভালো ছিল যেমনটি সে তার প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে প্রস্তুত। এবং ঠিক এভাবেই ক্রমাগত তার ভালোবাসার প্রভু খুব কোমলভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছেন।
* '''আমি দেখলাম ও বুঝলাম যে প্রতিটি প্রকাশ গোপন জিনিসে পূর্ণ।''' <br> এবং তাই আমাকে এখন তিনটি বৈশিষ্ট্য বলতে হবে যার মধ্যে আমি কিছুটা শান্ত হয়েছি। প্রথমটি হলো শিক্ষার শুরু যা আমি সেই সময়ে এতে বুঝেছিলাম; দ্বিতীয়টি হলো অভ্যন্তরীণ শিক্ষা যা আমি পরে এতে বুঝেছি; তৃতীয়টি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রকাশ (অর্থাৎ এই বইয়ের) যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে প্রায়শই মুক্তভাবে আমার বোঝার দৃষ্টিতে আনেন। এবং এই তিনটি আমার বোঝার অনুযায়ী এতটাই একীভূত যে আমি সেগুলোকে আলাদা করতে পারি না, বা করব না। এবং এই তিনটির দ্বারা, একটি হিসেবে, আমার কাছে শিক্ষা আছে যার মাধ্যমে আমার আমাদের প্রভু ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখা উচিত, যে একই মঙ্গলময়তা থেকে যা দিয়ে তিনি এটি দেখিয়েছেন, এবং একই উদ্দেশ্যের জন্য, ঠিক তেমনই, একই মঙ্গলময়তা থেকে এবং একই উদ্দেশ্যের জন্য তিনি আমাদের কাছে তা প্রকাশ করবেন যখন তাঁর ইচ্ছা হবে।
* কারণ, প্রকাশের সময়ের বিশ বছর পর, তিন মাস কম, আমি অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষা পেয়েছিলাম, যেমন আমি বলব: ''উদাহরণে যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য ও শর্ত দেখানো হয়েছিল তার প্রতি মনোযোগ দেওয়া তোমার কর্তব্য, যদিও তুমি মনে করো সেগুলো অস্পষ্ট এবং তোমার দৃষ্টিতে নির্বিশেষে।''
* প্রভু যিনি শান্তিতে ও বিশ্রামে মহিমান্বিত হয়ে বসে ছিলেন, আমি বুঝলাম যে তিনি ঈশ্বর। ভৃত্য যিনি প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমি বুঝলাম যে এটি আদমের জন্য দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, একজন মানুষকে দেখানো হয়েছিল, সেই সময়ে, এবং তার পতন, যাতে এটি বোঝা যায় কীভাবে ঈশ্বর সমস্ত-মানুষ এবং তার পতনকে পর্যবেক্ষণ করেন। '''কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সমস্ত মানুষ একজন মানুষ, এবং একজন মানুষ সমস্ত মানুষ। এই মানুষটি তার শক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল এবং খুব দুর্বল হয়েছিল; এবং সে তার বোঝাপড়ায় স্তব্ধ হয়েছিল যাতে সে তার প্রভুর পর্যবেক্ষণ থেকে ফিরে এসেছিল। কিন্তু তার ইচ্ছা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে অখণ্ড ছিল;—কারণ তার ইচ্ছা আমি আমাদের প্রভুকে প্রশংসা ও অনুমোদন করতে দেখেছি। কিন্তু সে নিজেই এই ইচ্ছা জানার থেকে বাধাগ্রস্ত ও অন্ধ ছিল; এবং এটি তার জন্য মহান শোক ও দুঃখজনক কষ্ট: কারণ সে না স্পষ্টভাবে দেখে তার ভালোবাসার প্রভুকে, যিনি তার প্রতি খুব নম্র ও মৃদু, না সে সত্যই দেখে সে তার ভালোবাসার প্রভুর দৃষ্টিতে কী। এবং আমি ভালো করেই জানি যখন এই দুটি বিজ্ঞতার সাথে ও সত্যভাবে দেখা হবে, আমরা এখানে আংশিকভাবে বিশ্রাম ও শান্তি পাব, এবং স্বর্গের পরমানন্দের পূর্ণতা পাব, তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায়। <br> এবং এটি ছিল শিক্ষার একটি শুরু যা আমি সেই সময়ে দেখেছিলাম, যার মাধ্যমে আমি জানতে পারতাম তিনি কীভাবে আমাদের পাপে আমাদের পর্যবেক্ষণ করেন।''' এবং তখন আমি দেখলাম যে কেবল যন্ত্রণা দোষ দেয় ও শাস্তি দেয়, এবং আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু সান্ত্বনা দেন ও শোক করেন; এবং সর্বদা তিনি আত্মার কাছে আনন্দদায়ক মেজাজে আছেন, ভালোবাসছেন, এবং আমাদের তাঁর পরমানন্দে আনতে আকাঙ্ক্ষা করছেন।
* প্রভু যে স্থানে বসে ছিলেন তা ছিল সরল, পৃথিবীতে, অনুর্বর ও মরুভূমি, প্রান্তরে একা; তাঁর পোশাক ছিল প্রশস্ত ও খুব মানানসই, যেমন একজন প্রভুর জন্য শোভা পায়; তাঁর পোশাকের রঙ ছিল নীলাভ, খুব বিষণ্ণ ও সুন্দর। তাঁর মেজাজ ছিল দয়াময়; তাঁর মুখের রঙ ছিল সুন্দর-বাদামী,—খুব মানানসই বৈশিষ্ট্যের সাথে; তাঁর চোখ ছিল কালো, খুব সুন্দর ও মানানসই, খুব ভালোবাসার ''সহানুভূতি'' দিয়ে পূর্ণ, এবং, তাঁর ''ভেতরে'', একটি উচ্চ পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ ও প্রশস্ত, সমস্ত অন্তহীন স্বর্গে পূর্ণ। এবং ভালোবাসার দৃষ্টি যা দিয়ে তিনি ক্রমাগত তাঁর ভৃত্যের দিকে তাকিয়েছিলেন,—এবং বিশেষ করে তার পতনে,—আমার মনে হয়েছিল তা প্রেমের জন্য আমাদের হৃদয় গলাতে পারে এবং আনন্দের জন্য সেগুলোকে দুই ভাগে ফাটাতে পারে। সুন্দর দৃষ্টি একটি মানানসই মিশ্রণ দেখিয়েছিল যা পর্যবেক্ষণ করা বিস্ময়কর ছিল: একটি ছিল করুণা ও সহানুভূতি, অন্যটি ছিল আনন্দ ও পরমানন্দ। আনন্দ ও পরমানন্দ করুণা ও সহানুভূতিকে ততটাই ছাড়িয়ে যায় যতটা স্বর্গ পৃথিবীর উপরে: সহানুভূতি ছিল পার্থিব এবং পরমানন্দ ছিল স্বর্গীয়।
* তাঁর প্রেমের চেহারার দয়াময় পর্যবেক্ষণ সমস্ত পৃথিবীকে পূর্ণ করেছিল এবং আদমের সাথে নরকে নেমে এসেছিল, যে ক্রমাগত সহানুভূতিতে আদমকে অন্তহীন মৃত্যু থেকে রক্ষা করা হয়েছিল। এবং এইভাবে দয়া ও সহানুভূতি মানবজাতির সাথে থাকে যতক্ষণ না আমরা স্বর্গে উপরে উঠি।
* মানুষ এই জীবনে অন্ধ এবং তাই আমরা আমাদের পিতা, ঈশ্বরকে দেখতে পারি না, যেমন তিনি আছেন। এবং যখন তিনি তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে মানুষের কাছে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি নিজেকে আপনভাবে দেখান, মানুষ হিসেবে। তবুও, আমি যুক্তি দিই, সত্যে আমাদের জানা ও বিশ্বাস করা উচিত যে পিতা মানুষ নন।
* পোশাকের নীলাভতা তাঁর স্থিরতা বোঝায়; তাঁর সুন্দর মুখের বাদামীতা, চোখের মানানসই কালোর সাথে, তাঁর পবিত্র স্থিরতা দেখানোর জন্য সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তাঁর পোশাকের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, যা সুন্দর ছিল, চারপাশে জ্বলজ্বল করছিল, বোঝায় যে তাঁর মধ্যে আছে, সমস্ত স্বর্গ, এবং সমস্ত আনন্দ ও পরমানন্দ: এবং এটি একটি স্পর্শে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি বলেছি: ''আমার বোঝাপড়া প্রভুর মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল''; যার মধ্যে আমি তাঁকে উচ্চতর আনন্দিত হতে দেখেছি সেই পূজনীয় পুনরুদ্ধারের জন্য যা তিনি তাঁর ভৃত্যকে তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায় আনবেন ও আনবেন।
* পৃথিবীতে একটি ধন ছিল যা প্রভু ভালোবাসতেন। আমি বিস্মিত হলাম এবং ভাবলাম এটি কী হতে পারে, এবং আমার বোঝাপড়ায় উত্তর পেলাম: ''এটি একটি খাদ্য যা প্রভুর কাছে আনন্দদায়ক ও মনোরম।''
* তবুও আমি বিস্মিত হলাম ভৃত্য কোথা থেকে এসেছিল। কারণ আমি প্রভুর মধ্যে দেখলাম যে তাঁর নিজের ভেতরে অন্তহীন জীবন আছে, এবং সমস্ত ধরনের মঙ্গলময়তা, পৃথিবীতে থাকা সেই ধন ছাড়া। এবং ''তা'' অন্তহীন প্রেমের বিস্ময়কর গভীরতায় প্রভুর মধ্যে ভিত্তি ছিল, কিন্তু এটি তাঁর পূজার জন্য পুরোপুরি ছিল না যতক্ষণ না ভৃত্য একে এইভাবে মহিমান্বিতভাবে প্রস্তুত করেছিল, এবং তার নিজের উপস্থিতিতে প্রভুর সামনে এনেছিল। এবং প্রভুর বাইরে প্রান্তর ছাড়া কিছুই ছিল না। এবং আমি সব বুঝতে পারিনি এই উদাহরণটির অর্থ কী, এবং তাই আমি বিস্মিত হলাম ভৃত্য কোথা থেকে এসেছিল।
* ভৃত্যের মধ্যে ত্রিত্বের দ্বিতীয় ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; এবং ভৃত্যের মধ্যে আদমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: অর্থাৎ, সমস্ত-মানুষ। এবং তাই যখন আমি 'পুত্র' বলি, তার অর্থ [[দেবত্ব]] যা পিতার সাথে সমান; এবং যখন আমি 'ভৃত্য' বলি, তার অর্থ খ্রিস্টের মানবতা, যা প্রকৃত আদম। ভৃত্যের নৈকট্য দ্বারা পুত্রকে বোঝা যায়, এবং বাম দিকে দাঁড়ানো দ্বারা আদমকে বোঝা যায়। প্রভু হলেন পিতা, ঈশ্বর; ভৃত্য হলেন পুত্র, খ্রিস্ট যিশু; পবিত্র আত্মা হলেন সমান প্রেম যা তাদের উভয়ের মধ্যে আছে।
* এই সবকিছুর মধ্যে আমাদের ভালো প্রভু তাঁর নিজের পুত্র এবং আদমকে কেবল একজন মানুষ হিসেবে দেখিয়েছেন। আমাদের মধ্যে যে গুণ ও মঙ্গলময়তা আছে তা যিশু খ্রিস্টের থেকে: আমাদের মধ্যে যে দুর্বলতা ও অন্ধত্ব আছে তা আদমের থেকে: যা দুটি ভৃত্যের মধ্যে দেখানো হয়েছিল।<br> এবং এইভাবে আমাদের ভালো প্রভু যিশু আমাদের সমস্ত দোষ নিজের ওপর নিয়েছেন, এবং তাই আমাদের পিতা খ্রিস্টপ্রিয় খ্রিস্টের চেয়ে আমাদের আর কোনো দোষ দিতে পারেন না বা দেবেন না।
* কারণ সমস্ত মানবজাতি যারা খ্রিস্টের মিষ্টি অবতার ও পরমানন্দময় প্যাশনের দ্বারা রক্ষা পাবে, সবই খ্রিস্টের মানবতা: কারণ তিনি হলেন প্রধান এবং আমরা তাঁর অঙ্গ। যে অঙ্গগুলোর জন্য দিন ও সময় অজানা যখন প্রতিটি দুঃখ ও শোকের শেষ হবে, এবং চিরস্থায়ী আনন্দ ও পরমানন্দ পূর্ণ হবে; যে দিন ও সময় দেখার জন্য, স্বর্গের সমস্ত কোম্পানি আকাঙ্ক্ষা করে। এবং স্বর্গের নিচে যারা আছে যারা সেখানে আসবে, তাদের পথ হলো আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার দ্বারা।
* এছাড়াও এই বিস্ময়কর উদাহরণে আমার সাথে শিক্ষা আছে যেমনটি এটি একটি এ.বি.সি.র শুরু, যার দ্বারা আমি আমাদের প্রভুর অর্থের কিছু বোঝাপড়া পেয়েছি। কারণ প্রকাশের গোপন জিনিসগুলো এতে লুকিয়ে আছে;—যদিও ''সমস্ত'' প্রকাশই গোপন জিনিসে পূর্ণ।
=== অধ্যায় ৫২ ===
* '''আমি দেখলাম যে ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের পিতা, এবং ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের মাতা, এবং ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের প্রকৃত জীবনসঙ্গী এবং আমাদের আত্মা তাঁর প্রিয় স্ত্রী। এবং খ্রিস্ট আনন্দিত যে তিনি আমাদের ভাই, এবং যিশু আনন্দিত যে তিনি আমাদের ত্রাণকর্তা। এগুলো পাঁচটি উচ্চ আনন্দ, যেমন আমি বুঝি, যার মধ্যে তিনি চান যে আমরা আনন্দ করি; তাঁর প্রশংসা করে, তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে, তাঁকে ভালোবেসে, তাঁকে অন্তহীনভাবে আশীর্বাদ করে।'''
* '''আমাদের উদ্দেশ্যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে বাস করি, এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে দয়া ও কৃপা পাওয়ার আস্থা রাখি; এবং এটি আমাদের মধ্যে তাঁর নিজস্ব কাজ। এবং তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে তিনি আমাদের বোঝার চোখ খুলে দেন, যার দ্বারা আমরা দৃষ্টি পাই, কখনো বেশি এবং কখনো কম, যেমন ঈশ্বর গ্রহণ করার ক্ষমতা দেন। এবং এখন আমরা একীভূত হই, এবং এখন আমরা অন্যটিতে পতিত হই।''' <br> এবং এইভাবে আমাদের মধ্যে এই মিশ্রণটি এত বিস্ময়কর যে আমরা খুব কমই আমাদের নিজের বা আমাদের সম-খ্রিস্টানের কথা জানি যে আমরা কোন পথে দাঁড়িয়ে আছি, এই বিভিন্ন অনুভূতির বিস্ময়করতার কারণে।
* এইভাবে আমরা আমাদের জীবনের সমস্ত দিন এই মিশ্রণে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু তিনি চান যে আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি আমাদের সাথে স্থায়ীভাবে আছেন। এবং তা তিন প্রকারে।—তিনি স্বর্গে আমাদের সাথে আছেন, প্রকৃত মানুষ, তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিতে, আমাদের উপরে টেনে নিচ্ছেন; এবং তা আধ্যাত্মিক তৃষ্ণায় দেখানো হয়েছিল। এবং তিনি পৃথিবীতে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের পরিচালিত করছেন; এবং তা তৃতীয়টিতে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখেছি। এবং তিনি আমাদের আত্মায় আমাদের সাথে আছেন, অন্তহীনভাবে বসবাস করছেন, আমাদের শাসন ও রক্ষা করছেন; এবং তা ষোড়শটিতে দেখানো হয়েছিল, যেমন আমি বলব।
* আমাদের কাছে, এখন, শোকের বিষয় আছে: কারণ আমাদের পাপ খ্রিস্টের যন্ত্রণার কারণ; এবং আমাদের কাছে, স্থায়ীভাবে, আনন্দের বিষয় আছে: কারণ অন্তহীন প্রেম তাঁকে সহ্য করতে বাধ্য করেছিল। এবং তাই '''যে সৃষ্টি কৃপার দ্বারা প্রেমের কাজ দেখে ও অনুভব করে, সে পাপ ছাড়া কিছুই ঘৃণা করে না: কারণ সমস্ত জিনিসের মধ্যে, আমার দৃষ্টিতে, প্রেম ও ঘৃণা সবচেয়ে কঠিন ও সবচেয়ে পরিমাপহীন বিপরীত।''' এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি আমাদের প্রভুর অর্থে দেখেছিলাম ও বুঝেছিলাম যে আমরা এই জীবনে পাপ থেকে এতটা অখণ্ডভাবে পরিষ্কার থাকতে পারি না যতটা আমরা স্বর্গে থাকব। কিন্তু আমরা অবশ্যই কৃপার দ্বারা সেই পাপগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি যা আমাদের অন্তহীন যন্ত্রণার দিকে নিয়ে যেত, যেমন পবিত্র চার্চ আমাদের শেখায়; এবং আমাদের সাধ্যমতো ভেনিয়াল পাপ এড়িয়ে চলতে পারি। এবং যদি আমরা আমাদের অন্ধত্ব ও আমাদের দুর্দশার কারণে কোনো সময় পড়ে যাই, তবে আমাদের তৎক্ষণাৎ ওঠা উচিত, কৃপার মিষ্টি স্পর্শ জেনে, এবং আমাদের সমস্ত ইচ্ছার সাথে পবিত্র চার্চের শিক্ষার ওপর নিজেদের সংশোধন করা উচিত, যেমন পাপ গুরুতর, এবং ভালোবাসায় অবিলম্বে ঈশ্বরের কাছে যাওয়া উচিত; এবং একদিকে, খুব নিচে পতিত হয়ে হতাশায় ঝুঁকে পড়া উচিত নয়, বা অন্যদিকে, খুব বেপরোয়া হওয়া উচিত নয়, যেন আমরা এর কোনো গুরুত্ব দিইনি; বরং আমাদের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে স্বীকার করা উচিত, এই জেনে যে আমরা কৃপার সুরক্ষা ছাড়া এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারি না, এবং শ্রদ্ধার সাথে ঈশ্বরের সাথে লেগে থাকা উচিত, কেবল তাঁর ওপর আস্থা রেখে। <br> কারণ ঈশ্বরের পর্যবেক্ষণ একরকম, এবং মানুষের পর্যবেক্ষণ অন্যরকম। কারণ মানুষের জন্য নিজেকে নম্রভাবে অভিযুক্ত করা যথার্থ, এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সঠিক মঙ্গলময়তার জন্য মানুষকে সৌজন্যের সাথে ক্ষমা করা যথার্থ।
* অন্য ধরনের পর্যবেক্ষণ দেখানো হয়েছিল ''অভ্যন্তরীণ'': এবং তা ছিল আরও উচ্চতর এবং পুরোপুরি ''এক''। '''কারণ জীবন ও গুণ যা আমরা নিম্ন অংশে পাই তা উচ্চতর থেকে, এবং তা কৃপার দ্বারা নিজের প্রাকৃতিক প্রেম থেকে আমাদের কাছে আসে। এক এবং অন্যটির মধ্যে ঠিক কিছুই নেই: কারণ এটি সবই এক প্রেম।''' যে এক আশীর্বাদপূর্ণ প্রেমের এখন, আমাদের মধ্যে, দ্বিগুণ কাজ আছে: কারণ নিম্ন অংশে যন্ত্রণা ও আবেগ, দয়া ও ক্ষমা আছে, এবং অন্যান্য বিষয় যা লাভজনক; কিন্তু উচ্চ অংশে এগুলোর কোনোটিই নেই, বরং সবই এক উচ্চ প্রেম ও বিস্ময়কর আনন্দ: যে আনন্দে সমস্ত যন্ত্রণা উচ্চতরভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়। এবং এতে আমাদের প্রভু কেবল আমাদের ক্ষমা প্রদর্শন করেননি, বরং সেই পূজনীয় মহৎতাও দেখিয়েছেন যা তিনি আমাদের আনবেন, আমাদের সমস্ত দোষকে অন্তহীন পূজায় রূপান্তরিত করে।
=== অধ্যায় ৫৩ ===
* আমি দেখলাম যে তিনি চান যেন আমরা বুঝি যে তিনি কোনো সৃষ্টির পতনকে যা রক্ষা পাবে তাকে আদমের পতনের চেয়ে বেশি কঠিনভাবে নেন না, যা, আমরা জানি, আদমের সমস্ত প্রয়োজনের সময়ে অন্তহীনভাবে ভালোবাসা ও নিরাপদে রক্ষিত ছিল, এবং এখন উচ্চতর অতিক্রমকারী আনন্দে পরমানন্দময়ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
* এতে যা আমি এখন বলেছি আমার আকাঙ্ক্ষা আংশিকভাবে উত্তর পেয়েছে, এবং আমার মহান অসুবিধা কিছুটা শান্ত হয়েছে, আমাদের ভালো প্রভুর প্রেমময়, কৃপাময় প্রকাশের দ্বারা। যে প্রকাশে '''আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম ও বুঝেছিলাম যে প্রতিটি আত্মায় যা রক্ষা পাবে এমন একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে যা কখনোই পাপকে সমর্থন করেনি, বা কখনোই করবে না: যা ইচ্ছা এতটাই ভালো যে তা কখনোই মন্দ চাইতে পারে না, বরং সর্বদা ক্রমাগত ভালো চায়; এবং ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ভালো কাজ করে।'''
* কিন্তু এই ন্যায়পরায়ণ বুনন এবং এই অন্তহীন একীভূত হওয়া সত্ত্বেও, মানবজাতির মুক্তি ও পুনরায়-ক্রয় প্রতিটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত, যেমনটি একই উদ্দেশ্যে ও একই লক্ষ্যের জন্য করা হয়েছে যা পবিত্র চার্চ আমাদের বিশ্বাসে শেখায়।
* '''তিনি আমাদের তৈরি করার আগে তিনি আমাদের ভালোবাসতেন, এবং যখন আমরা তৈরি হয়েছিলাম আমরা তাঁকে ভালোবাসতাম।''' এবং এটি একটি প্রেম যা ''তৈরি'' হয়েছে, পবিত্র আত্মার সদয় সারমর্মীয় ''মঙ্গলময়তা''র; শক্তিশালী, যুক্তিতে, পিতার ''শক্তির''; এবং জ্ঞানী, মনে, পুত্রের ''প্রজ্ঞার''। এবং এইভাবে মানুষের আত্মা ঈশ্বর দ্বারা তৈরি এবং একই বিন্দুতে ঈশ্বরের সাথে বুনন করা হয়েছে। <br> '''এবং এইভাবে আমি বুঝি যে মানুষের আত্মা শূন্য থেকে তৈরি: অর্থাৎ, এটি তৈরি হয়েছে, কিন্তু তৈরি হওয়া কিছু থেকে নয়।''' এবং এইভাবে:—যখন ঈশ্বর মানুষের শরীর তৈরি করবেন, তখন তিনি পৃথিবীর কাদামাটি নিলেন, যা সমস্ত শারীরিক জিনিসের মিশ্রণ ও সংগ্রহ; এবং তা থেকে তিনি মানুষের শরীর তৈরি করলেন। কিন্তু মানুষের আত্মা তৈরির জন্য তিনি ঠিক কিছুই নিতে চাননি, বরং একে তৈরি করলেন। এবং এইভাবে প্রকৃতি-তৈরি ন্যায়পরায়ণভাবে নির্মাতার সাথে একীভূত, যা হলো সারমর্মীয় প্রকৃতি-অনির্মিত: অর্থাৎ, ঈশ্বর। এবং '''তাই এটিই যে ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যে ঠিক কিছুই নেই বা থাকবে না।''' <br> এবং এই অন্তহীন প্রেমে মানুষের আত্মা অখণ্ড রাখা হয়েছে, যেমন প্রকাশের বিষয়বস্তু নির্দেশ করে ও দেখায়: যে অন্তহীন প্রেমে আমরা ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত ও রক্ষিত এবং কখনোই হারিয়ে যাব না। '''কারণ তিনি চান আমরা সচেতন হই যে আমাদের আত্মা একটি জীবন, যা জীবন তাঁর মঙ্গলময়তা ও তাঁর কৃপায় স্বর্গে অন্তহীনভাবে স্থায়ী হবে, তাঁকে ভালোবেসে, তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে, তাঁর প্রশংসা করে। এবং ঠিক একই যা আমরা অন্তহীনভাবে হব, একই যা আমরা ঈশ্বরের মধ্যে সঞ্চিত ও লুকানো ছিলাম, সৃষ্টির আদি থেকে জানা ও ভালোবাসা।''' <br> তাই তিনি চান আমরা বুঝি যে তিনি তৈরি করা সবচেয়ে মহৎ জিনিস হলো মানবজাতি: এবং সবচেয়ে পূর্ণ [[সারমর্ম]] এবং সবচেয়ে উচ্চ [[গুণ]] হলো খ্রিস্টের আশীর্বাদপূর্ণ আত্মা। এবং অধিকন্তু তিনি চান আমরা বুঝি যে তাঁর প্রিয় আত্মা তৈরির সময়ে তাঁর সাথে মূল্যবানভাবে বুনন করা হয়েছিল যা গ্রন্থিটি এতটাই সূক্ষ্ম ও শক্তিশালী যে এটি—ঈশ্বরের মধ্যে একীভূত: যে একীভূতকরণে এটি অন্তহীনভাবে পবিত্র হয়েছে। অধিকন্তু তিনি চান আমরা জানি যে সমস্ত আত্মা যা স্বর্গে অন্তহীনভাবে রক্ষা পাবে, এই একীভূতকরণে বুনন ও একীভূত এবং এই পবিত্রতায় পবিত্র হয়েছে।
=== অধ্যায় ৫৪ ===
* ঈশ্বরের সমস্ত মানবজাতির প্রতি এই মহান, অন্তহীন প্রেমের কারণে, তিনি খ্রিস্টের আশীর্বাদপূর্ণ আত্মা এবং যে ক্ষুদ্রতম আত্মা রক্ষা পাবে তার মধ্যে প্রেমের কোনো বিচ্ছিন্নতা করেন না।
* '''আমাদের খুব বেশি আনন্দ করা উচিত যে ঈশ্বর আমাদের আত্মায় বাস করেন, এবং আমাদের আরও বেশি আনন্দ করা উচিত যে আমাদের আত্মা ঈশ্বরে বাস করে। আমাদের আত্মা ঈশ্বরের আবাসস্থল হিসেবে ''তৈরি'' হয়েছে; এবং আত্মার আবাসস্থল হলো ঈশ্বর, যিনি ''অনির্মিত''। এবং এটি একটি উচ্চ বোঝাপড়া, অভ্যন্তরীণভাবে দেখা ও জানা যে ঈশ্বর, যিনি আমাদের নির্মাতা, আমাদের আত্মায় বাস করেন; এবং এটি একটি উচ্চতর বোঝাপড়া, অভ্যন্তরীণভাবে দেখা ও জানা যে আমাদের আত্মা, যা তৈরি হয়েছে, ঈশ্বরের [[সারমর্মে]] বাস করে: যে সারমর্ম, ঈশ্বর, আমরা তাই যা আমরা। <br> এবং আমি ঈশ্বর ও আমাদের সারমর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখিনি: কিন্তু যেমন এটি পুরোপুরি ঈশ্বর; এবং তবুও আমার বোঝাপড়া নিয়েছিল যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে: অর্থাৎ, ঈশ্বর ঈশ্বর, এবং আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে একটি সৃষ্টি।'''
* ত্রিত্বের সর্বশক্তিমান সত্য আমাদের পিতা: কারণ তিনি আমাদের তৈরি করেছেন এবং তাঁর মধ্যে আমাদের রক্ষা করেছেন; এবং ত্রিত্বের গভীর প্রজ্ঞা আমাদের মাতা, যাঁর মধ্যে আমরা সবাই আবদ্ধ; ত্রিত্বের উচ্চ মঙ্গলময়তা আমাদের প্রভু, এবং তাঁর মধ্যে আমরা আবদ্ধ, এবং তিনি আমাদের মধ্যে। আমরা পিতার মধ্যে আবদ্ধ, এবং আমরা পুত্রের মধ্যে আবদ্ধ, এবং আমরা পবিত্র আত্মার মধ্যে আবদ্ধ। এবং পিতা আমাদের মধ্যে আবদ্ধ, এবং পুত্র আমাদের মধ্যে আবদ্ধ, এবং পবিত্র আত্মা আমাদের মধ্যে আবদ্ধ: সর্বশক্তিমানতা, সমস্ত-প্রজ্ঞা, সমস্ত-মঙ্গলময়তা: এক ঈশ্বর, এক প্রভু।
* '''আমাদের [[বিশ্বাস]] একটি [[গুণ]] যা আমাদের প্রকৃতি-সারমর্ম থেকে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমাদের অনুভূতি-আত্মায় আসে; যার মধ্যে আমাদের সমস্ত গুণ আমাদের কাছে আসে: কারণ তা ছাড়া, কোনো মানুষ গুণ গ্রহণ করতে পারে না। কারণ এটি আমাদের অস্তিত্বের একটি সঠিক বোঝাপড়া, সত্য বিশ্বাসের সাথে এবং নিশ্চিত আস্থার সাথে, ছাড়া আর কিছুই নয়: যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে আছি, এবং ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন, যাঁকে আমরা দেখি না।''' এবং এই গুণ, যা ঈশ্বর আমাদের জন্য তৈরি করেছেন তাতে আসার সাথে, আমাদের মধ্যে মহান জিনিস কাজ করে। কারণ খ্রিস্টের দয়াময় কাজ আমাদের মধ্যে আছে, এবং আমরা পবিত্র আত্মার উপহার ও গুণের মাধ্যমে তাঁর সাথে কৃপাময়ভাবে সম্মত হই। এই কাজ আমাদের খ্রিস্টের সন্তান করে তোলে, এবং জীবদ্দশায় খ্রিস্টান।
** পাঠান্তর: ''বিশ্বাস আমাদের অস্তিত্বের একটি সঠিক বোঝাপড়া, সত্য বিশ্বাস ও নিশ্চিত আস্থার সাথে, ছাড়া আর কিছুই নয়: যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে আছি, এবং ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন: যাঁকে আমরা দেখি না।''
=== অধ্যায় ৫৫ ===
* এইভাবে খ্রিস্ট আমাদের পথ, তাঁর আইনে আমাদের নিশ্চিতভাবে পরিচালিত করছেন, এবং খ্রিস্ট তাঁর দেহে আমাদের শক্তভাবে স্বর্গে বহন করেন।
* আমাদের বিশ্বাস আমাদের আত্মার প্রাকৃতিক প্রেম থেকে, এবং আমাদের যুক্তির পরিষ্কার আলো থেকে, এবং স্থির মন থেকে আসে যা আমরা আমাদের প্রথম সৃষ্টিতে ঈশ্বর থেকে পেয়েছি। এবং সেই সময়ে যখন আমাদের আত্মা আমাদের শরীরে অনুপ্রাণিত হয়, যার মধ্যে আমরা ইন্দ্রিয়পরায়ণ হই, খুব শীঘ্রই দয়া ও কৃপা কাজ শুরু করে, করুণা ও প্রেমের সাথে আমাদের যত্ন ও সুরক্ষা নিয়ে: যে কাজে পবিত্র আত্মা আমাদের বিশ্বাসে ''আশা'' গঠন করেন যে আমরা আবার আমাদের [[সারমর্মে]] উপরে আসব, খ্রিস্টের গুণে, পবিত্র আত্মার মাধ্যমে বর্ধিত ও পূর্ণ হয়ে। এইভাবে আমি বুঝেছিলাম যে অনুভূতি-আত্মা প্রকৃতি, দয়া ও কৃপায় ভিত্তিযুক্ত: যে ভিত্তি আমাদের এমন উপহার গ্রহণ করতে সক্ষম করে যা আমাদের অন্তহীন জীবনের দিকে নিয়ে যায়। <br> কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে, এবং আমি আরও দেখেছিলাম যে আমাদের অনুভূতি-আত্মায় ঈশ্বর আছেন: কারণ সেই একই বিন্দুতে যেখানে আমাদের আত্মা ইন্দ্রিয়পরায়ণ হয়, সেই একই বিন্দুতে ঈশ্বরের শহর সৃষ্টির আদি থেকেই তাঁর জন্য নির্ধারিত; যে আসনে তিনি আসেন, এবং কখনোই তা অপসারণ করবেন না। কারণ '''ঈশ্বর কখনোই আত্মার বাইরে নন: যার মধ্যে তিনি অন্তহীনভাবে পরমানন্দময়ভাবে বসবাস করেন।'''
=== অধ্যায় ৫৬ ===
[[File:Anna Sahlstén - Passage.jpg|thumb|আমরা ঈশ্বরের পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।]]
* এইভাবে আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে ঈশ্বরকে জানার দিকে আসা আমাদের জন্য নিজের আত্মাকে জানার চেয়ে বেশি সহজ। কারণ আমাদের আত্মা ঈশ্বরের মধ্যে এত গভীরভাবে ভিত্তিযুক্ত, এবং এত অন্তহীনভাবে সঞ্চিত, যে আমরা তার জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমাদের প্রথমে ঈশ্বরের জ্ঞান হয়, যিনি নির্মাতা, যার সাথে এটি একীভূত। কিন্তু, এই সব সত্ত্বেও, আমি দেখলাম যে আমাদের পূর্ণতার জন্য, বিজ্ঞতার সাথে ও সত্যভাবে আমাদের নিজের আত্মাকে জানার আকাঙ্ক্ষা করতে হবে: যার মাধ্যমে আমরা শিখি একে সেখানে খুঁজতে যেখানে এটি আছে, এবং তা হলো, ঈশ্বরের মধ্যে। এবং এইভাবে পবিত্র আত্মার কৃপাময় নির্দেশনায়, আমাদের উভয়কেই এক হিসেবে জানা উচিত: আমরা ঈশ্বরকে জানার জন্য বা আমাদের আত্মাকে জানার জন্য উৎসাহিত হই না কেন, উভয়ই ভালো ও সত্য।
* '''ঈশ্বর আমাদের নিজের আত্মার চেয়ে আমাদের কাছাকাছি: কারণ তিনিই ভিত্তি যার ওপর আমাদের আত্মা দাঁড়িয়ে আছে, এবং তিনিই মাধ্যম যা [[সারমর্ম]] ও ইন্দ্রিয়-প্রকৃতিকে একসাথে রাখে যাতে তারা কখনোই বিচ্ছিন্ন না হয়।''' কারণ আমাদের আত্মা প্রকৃত বিশ্রামে ঈশ্বরের মধ্যে বসে, এবং আমাদের আত্মা প্রকৃত শক্তিতে ঈশ্বরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, এবং আমাদের আত্মা অন্তহীন প্রেমে ঈশ্বরের মধ্যে সদয়ভাবে মূলিত: এবং তাই যদি আমরা আমাদের আত্মা সম্পর্কে জ্ঞান পেতে চাই, এবং তার সাথে যোগাযোগ ও কথোপকথন করতে চাই, তবে আমাদের আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে খুঁজতে হবে যার মধ্যে এটি আবদ্ধ।
* আমাদের সারমর্ম ও আমাদের ইন্দ্রিয়-অংশ, উভয়কেই একসাথে আমাদের আত্মা বলা যেতে পারে: এবং এটি ঈশ্বরের মধ্যে তাদের একীভূত হওয়ার কারণে।
* '''আমরা ঈশ্বরের পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।'''
** পাঠান্তর: ''আমরা ঈশ্বরকে পূর্ণভাবে জানতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।''
* ঈশ্বর চান যে আমরা বুঝি, আমাদের সমস্ত হৃদয়ের সাথে আকাঙ্ক্ষা করে তাদের সম্পর্কে জ্ঞান পেতে বেশি বেশি যতক্ষণ না আমরা পূর্ণ হই: কারণ তাদের পূর্ণভাবে জানা আর কিছুই নয় বরং অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দ যা আমরা স্বর্গে পাব, যা ঈশ্বর চান এখানে তাঁর প্রেমের জ্ঞানে শুরু হোক। <br> কারণ কেবল আমাদের যুক্তির দ্বারা আমরা লাভবান হতে পারি না, যদি না আমাদের সাথে একইভাবে মন ও প্রেম থাকে: বা আমাদের প্রকৃতি-ভিত্তিতে যা আমরা ঈশ্বর থেকে পেয়েছি আমরা রক্ষা পেতে পারি না যদি না আমাদের থাকে, একই ভিত্তি থেকে আসা, দয়া ও কৃপা। কারণ এই তিনটি একসাথে কাজ করে আমরা আমাদের সমস্ত মঙ্গলময়তা গ্রহণ করি।
=== অধ্যায় ৫৭ ===
* '''আমি দেখলাম যে আমাদের [[প্রকৃতি]] [[ঈশ্বরের]] মধ্যে [[অখণ্ড]]: যার মধ্যে তিনি তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর থেকে প্রবাহিত [[বৈচিত্র্য]] তৈরি করেন: যাকে প্রকৃতি রক্ষা করে, এবং [[দয়া]] ও [[কৃপা]] পুনরুদ্ধার করে ও পূর্ণ করে।''' এবং এগুলোর কোনোটিই ধ্বংস হবে না: কারণ আমাদের প্রকৃতি যা উচ্চতর অংশ তা তৈরির সময়ে ঈশ্বরের সাথে বুনন করা হয়েছে; এবং ঈশ্বর আমাদের প্রকৃতির সাথে বুনন করা হয়েছে যা নিম্নতর অংশ, আমাদের মাংস-গ্রহণে: এবং এইভাবে [[খ্রিস্টে]] আমাদের দুটি প্রকৃতি একীভূত হয়েছে।
** পাঠান্তর: ''খ্রিস্টে আমাদের দুটি প্রকৃতি একীভূত হয়েছে।''
* আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে ঈশ্বর যে সমস্ত কাজ করেছেন, বা করবেন, সেগুলো তাঁর কাছে পুরোপুরি জানা এবং সৃষ্টির আদি থেকেই আগে দেখা ছিল। এবং প্রেমের জন্য তিনি মানবজাতি তৈরি করেছিলেন, এবং একই প্রেমের জন্য মানুষ হতে চেয়েছিলেন।
*''' ''তিনি আমাদের [[আত্মায়]] বসেন।''''' <br> কারণ এটি তাঁর ভালো-আনন্দ আমাদের বোঝাপড়ায় পরমানন্দময়ভাবে শাসন করা, এবং আমাদের আত্মায় শান্তিতে বসা, এবং আমাদের আত্মায় অন্তহীনভাবে বসবাস করা, আমাদের সবাইকে তাঁর মধ্যে কাজ করানো: যে কাজে তিনি চান আমরা তাঁর সাহায্যকারী হই, আমাদের সমস্ত মনোযোগ তাঁকে দিয়ে, তাঁর শিক্ষা শিখে, তাঁর আইন মেনে, আকাঙ্ক্ষা করে যে সব করা হোক যা তিনি করেন; সত্যই তাঁর ওপর আস্থা রেখে। <br> কারণ সত্যই '''আমি দেখেছিলাম যে আমাদের [[সারমর্ম]] ঈশ্বরের মধ্যে আছে।'''
=== অধ্যায় ৫৮ ===
[[File:Kazimirowski Eugeniusz, Divine Mercy, 1934.jpg|thumb|আমাদের সমস্ত জীবন ''তিন''-এ আছে: প্রথমটিতে আমাদের অস্তিত্ব আছে, দ্বিতীয়টিতে আমাদের বৃদ্ধি আছে, এবং তৃতীয়টিতে আমাদের পূর্ণতা আছে: প্রথমটি প্রকৃতি, দ্বিতীয়টি [[দয়া]], এবং তৃতীয়টি [[কৃপা]]।]]
* '''আমাদের তৈরির সময়ে, [[ঈশ্বর]], সর্বশক্তিমান, আমাদের [[প্রকৃতি]]র [[পিতা]]; এবং ঈশ্বর, [[সর্ব]]-[[প্রজ্ঞা]], আমাদের প্রকৃতির [[মাতা]]; [[পবিত্র আত্মা]]র [[প্রেম]] ও [[মঙ্গলময়তা]]র সাথে: যা সবই এক ঈশ্বর, এক প্রভু। এবং বুনন ও একীভূতকরণে তিনি আমাদের প্রকৃত, সত্য জীবনসঙ্গী, এবং আমরা তাঁর প্রিয় স্ত্রী, তাঁর সুন্দর কুমারী: যে স্ত্রীর সাথে তিনি কখনোই অসন্তুষ্ট হন না। কারণ তিনি বলেন: আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং তুমি আমাকে ভালোবাসো, এবং আমাদের প্রেম কখনোই দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হবে না।'''
* আমি সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ ত্রিত্বের কাজ পর্যবেক্ষণ করলাম: যে পর্যবেক্ষণে আমি এই তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখলাম ও বুঝলাম: পিতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, এবং প্রভুত্বের বৈশিষ্ট্য, এক ঈশ্বরের মধ্যে।
* '''তিনি আমাদের মাতা, ভাই, এবং ত্রাণকর্তা।''' এবং আমাদের ভালো প্রভু, পবিত্র আত্মার মধ্যে, আমরা আমাদের জীবন ও আমাদের পরিশ্রমের জন্য আমাদের পুরস্কার ও আমাদের প্রতিদান পাই, এবং আমাদের সমস্ত আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন অতিক্রম, তাঁর বিস্ময়কর সৌজন্যে, তাঁর উচ্চ প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায়।
* '''সমস্ত জীবন ''তিন''-এ আছে: প্রথমটিতে আমাদের অস্তিত্ব আছে, দ্বিতীয়টিতে আমাদের বৃদ্ধি আছে, এবং তৃতীয়টিতে আমাদের পূর্ণতা আছে: প্রথমটি হলো প্রকৃতি, দ্বিতীয়টি হলো [[দয়া]], এবং তৃতীয়টি হলো [[কৃপা]]।'''
* ত্রিত্বের উচ্চ শক্তি আমাদের পিতা, এবং ত্রিত্বের গভীর প্রজ্ঞা আমাদের মাতা, এবং ত্রিত্বের মহান প্রেম আমাদের প্রভু: এবং এই সবই আমরা প্রকৃতিতে এবং আমাদের সারমর্মের তৈরিতে পেয়েছি।
* আমাদের মাতা আমাদের সাথে বিভিন্নভাবে কাজ করছেন: যার মধ্যে আমাদের অংশগুলো অখণ্ড রাখা হয়েছে। কারণ আমাদের মাতা খ্রিস্টে আমরা লাভবান হই ও বৃদ্ধি পাই, এবং দয়ায় তিনি আমাদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার করেন, এবং, তাঁর প্যাশন ও মৃত্যু ও উত্থানের গুণের দ্বারা, আমাদের আমাদের সারমর্মের সাথে একীভূত করেন। এইভাবে আমাদের মাতা দয়া করে তাঁর সমস্ত সন্তানের জন্য কাজ করেন যারা তাঁর প্রতি নমনীয় ও বাধ্য।
* কৃপা দয়ার সাথে কাজ করে, এবং বিশেষ করে দুটি বৈশিষ্ট্যে, যেমনটি দেখানো হয়েছিল: যা কাজ তৃতীয় ব্যক্তির, পবিত্র আত্মার অন্তর্গত। তিনি ''পুরস্কৃত'' করা এবং ''দান'' করার কাজ করেন।
* পুরস্কার দেওয়া হলো সত্যের একটি বিশাল দান যা প্রভু তাকে করেন যে পরিশ্রম করেছে; এবং দান করা হলো একটি সৌজন্যপূর্ণ কাজ যা তিনি কৃপা থেকে মুক্তভাবে করেন, সৃষ্টির প্রাপ্য সমস্ত কিছু পূর্ণ ও অতিক্রম করে।
* আমাদের পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের মধ্যে, আমাদের অস্তিত্ব আছে; এবং দয়ার মাতার মধ্যে আমাদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার আছে: যার মধ্যে আমাদের অংশগুলো একীভূত এবং সব তৈরি হয়েছে নিখুঁত মানুষ; এবং পবিত্র আত্মার কৃপায় নমনীয়তা ও দানের দ্বারা, আমরা পূর্ণ হই।
* '''আমাদের [[সারমর্ম]] আমাদের পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, এবং আমাদের সারমর্ম আমাদের মাতা, ঈশ্বর, সর্ব-প্রজ্ঞা; এবং আমাদের সারমর্ম আমাদের প্রভু পবিত্র আত্মা, ঈশ্বর সর্ব-মঙ্গলময়তার মধ্যে আছে।''' কারণ আমাদের সারমর্ম ত্রিত্বের প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে অখণ্ড, যা হলো এক ঈশ্বর। এবং আমাদের অনুভূতি-আত্মা কেবল দ্বিতীয় ব্যক্তি খ্রিস্ট যিশুতে; যাঁর মধ্যে পিতা ও পবিত্র আত্মা আছেন: এবং তাঁর মধ্যে ও তাঁর দ্বারা আমরা শক্তিশালীভাবে নরক থেকে নেওয়া হই, এবং পৃথিবীতে থাকা দুর্দশা থেকে পূজনীয়ভাবে স্বর্গে উপরে আনা হই এবং পরমানন্দময়ভাবে আমাদের সারমর্মের সাথে একীভূত হই: খ্রিস্টের সমস্ত গুণ দ্বারা, এবং পবিত্র আত্মার কৃপা ও কাজের দ্বারা সমৃদ্ধি ও মহৎতায় বৃদ্ধি পাই।
=== অধ্যায় ৫৯ ===
* '''খ্রিস্ট যিনি মন্দের বিপরীতে ভালো করেন তিনি আমাদের প্রকৃত মাতা: তাঁর থেকে আমরা আমাদের অস্তিত্ব পাই যেখানে মাতৃত্বের ভিত্তি শুরু হয়,—প্রেমের সাথে মিষ্টি সুরক্ষার সাথে, যা অন্তহীনভাবে অনুসরণ করে।'''
* এই সমস্ত পরমানন্দ আমরা দয়া ও কৃপার দ্বারা পাই: যে ধরনের পরমানন্দ আমরা কখনোই পেতাম না বা জানতাম না যদি না মঙ্গলময়তার সেই বৈশিষ্ট্য যা ঈশ্বর তা বিপরীত হতো: যার দ্বারা আমরা এই পরমানন্দ পাই। কারণ মঙ্গলময়তার বিপরীত হিসেবে মন্দকে উঠতে দেওয়া হয়েছে, এবং দয়া ও কৃপার মঙ্গলময়তা মন্দের বিপরীতে কাজ করেছে এবং সবকিছুকে মঙ্গলময়তায় ও পূজায় পরিণত করেছে, তাদের সবার জন্য যারা রক্ষা পাবে। কারণ এটি ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য যা মন্দের বিপরীতে ভালো কাজ করে। এইভাবে যিশু খ্রিস্ট যিনি মন্দের বিপরীতে ভালো করেন তিনি আমাদের প্রকৃত মাতা: তাঁর থেকে আমরা আমাদের অস্তিত্ব পাই,—যেখানে মাতৃত্বের ভিত্তি শুরু হয়,—প্রেমের মিষ্টি সুরক্ষার সাথে যা অন্তহীনভাবে অনুসরণ করে।
* '''ঈশ্বর যেমন সত্যই আমাদের পিতা, তেমনই সত্যই ঈশ্বর আমাদের মাতা; এবং তা তিনি সবকিছুর মধ্যে দেখিয়েছিলেন, এবং বিশেষ করে এই মিষ্টি শব্দগুলোতে যেখানে তিনি বলেন: ''আমিই''। তা হলো, ''আমিই, পিতৃত্বের শক্তি ও মঙ্গলময়তা; আমিই, মাতৃত্বের প্রজ্ঞা; আমিই, আলো ও কৃপা যা সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম: আমিই, ত্রিত্ব, আমিই, ঐক্য: আমি সব ধরনের জিনিসের সার্বভৌম মঙ্গলময়তা। আমিই সেই যা তোমাকে ভালোবাসতে বাধ্য করে: আমিই সেই যা তোমাকে আকাঙ্ক্ষা করতে বাধ্য করে: আমিই, সমস্ত সত্য আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন পূর্ণতা।'' <br> কারণ সেখানে আত্মা সবচেয়ে উচ্চ, সবচেয়ে মহৎ, এবং সবচেয়ে যোগ্য, যেখানে এটি সবচেয়ে নিচু, সবচেয়ে নম্র, এবং সবচেয়ে মৃদু: এবং এই ''সারমর্মীয় ভিত্তি'' থেকে আমরা আমাদের অনুভূতি-অংশে প্রকৃতির উপহার, দয়া ও কৃপার সাহায্য ও গতি দ্বারা আমাদের সমস্ত গুণ পাই: যা ছাড়া আমরা লাভবান হতে পারি না।'''
* আমাদের উচ্চ পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, যিনি অস্তিত্ব, তিনি কোনো সময়ের আগেই আমাদের জানতেন ও ভালোবাসতেন: যে জ্ঞান থেকে, তাঁর বিস্ময়কর গভীর দাতব্যে এবং সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ ত্রিত্বের আগে দেখা পরামর্শে, তিনি ইচ্ছা করেছিলেন যে দ্বিতীয় ব্যক্তি আমাদের মাতা হবেন। আমাদের পিতা, আমাদের মাতা কাজ করেন, আমাদের ভালো প্রভু পবিত্র আত্মা নিশ্চিত করেন: এবং তাই আমাদের ঈশ্বরকে ভালোবাসা আমাদের জন্য যথার্থ যাঁর মধ্যে আমাদের অস্তিত্ব আছে: তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ধন্যবাদ জানিয়ে ও প্রশংসা করে আমাদের তৈরির জন্য, আমাদের মাতার কাছে দয়া ও সহানুভূতির জন্য শক্তিশালীভাবে প্রার্থনা করে, এবং আমাদের প্রভু পবিত্র আত্মার কাছে সাহায্য ও কৃপার জন্য। <br> কারণ এই তিনটির মধ্যে আমাদের সমস্ত জীবন: প্রকৃতি, দয়া, কৃপা: যার থেকে আমরা নম্রতা ও মৃদুতা পাই; ধৈর্য ও সহানুভূতি; এবং পাপ ও মন্দের ঘৃণা,—কারণ পাপ ও মন্দের ঘৃণা করা গুণের জন্য যথাযথভাবে অন্তর্গত। এবং এইভাবে যিশু আমাদের প্রথম তৈরির প্রকৃতিতে আমাদের প্রকৃত মাতা; এবং তিনি কৃপায় আমাদের প্রকৃত মাতা, আমাদের তৈরি প্রকৃতি গ্রহণ করে। সমস্ত সুন্দর কাজ, এবং প্রিয় মাতৃত্বের সমস্ত মিষ্টি প্রাকৃতিক অফিস দ্বিতীয় ব্যক্তির সাথে মিশে আছে: কারণ তাঁর মধ্যে আমরা এই ঐশ্বরিক ইচ্ছা অখণ্ড ও নিরাপদে অন্তহীনভাবে পাই, প্রকৃতি ও কৃপা উভয়টিতেই, তাঁর নিজস্ব প্রকৃত মঙ্গলময়তা থেকে।
* '''আমি ঈশ্বরের মধ্যে মাতৃত্ব পর্যবেক্ষণের তিনটি প্রকার বুঝেছিলাম: প্রথমটি আমাদের প্রকৃতির ''তৈরির'' উপর ভিত্তি করে; দ্বিতীয়টি হলো আমাদের প্রকৃতির ''গ্রহণ''—এবং সেখানে কৃপার মাতৃত্ব শুরু হয়; তৃতীয়টি হলো ''কাজের'' মাতৃত্ব—এবং এর মধ্যে একই কৃপার দ্বারা অন্তহীনভাবে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ও উচ্চতা ও গভীরতায় একটি বিস্তার আছে। এবং সবই এক প্রেম।'''
=== অধ্যায় ৬০ ===
* এখন এই বিস্তার সম্পর্কে আরও একটু বলা প্রয়োজন, যেমনটি আমি আমাদের প্রভুর অর্থে বুঝি: কীভাবে আমরা দয়া ও কৃপার মাতৃত্বের দ্বারা আমাদের প্রকৃতির স্থানে ফিরে আসি, যেখানে আমরা প্রকৃতি-প্রেমের মাতৃত্বের দ্বারা তৈরি হয়েছিলাম: যে সদয়-প্রেম, তা কখনোই আমাদের ত্যাগ করে না। <br> আমাদের সদয় মাতা, আমাদের কৃপাময় মাতা, কারণ তিনি সবকিছুতেই আমাদের মাতা হতে চেয়েছিলেন, তিনি কুমারীর গর্ভে খুব নিচুভাবে ও খুব মৃদুভাবে তাঁর কাজের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
* আমাদের উচ্চ ঈশ্বর সকলের সার্বভৌম প্রজ্ঞা: এই নিচু স্থানে তিনি আমাদের দরিদ্র মাংসে নিজেকে খুব প্রস্তুত ও সজ্জিত করেছিলেন, নিজেই মাতৃত্বের সেবা ও অফিস সব কিছুতে পূরণ করতে।
* '''এই সুন্দর মিষ্টি শব্দ ''মাতা'', তা প্রকৃতির মধ্যে নিজেই এতটাই মিষ্টি ও ঘনিষ্ঠ যে এটি সত্যই ''তাঁর'' ছাড়া আর কারো দ্বারা বলা সম্ভব নয়; এবং তাঁর কাছে যিনি সত্যই তাঁর এবং সবার মাতা।''' মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত হলো প্রাকৃতিক প্রেম, প্রজ্ঞা, ও জ্ঞান; এবং এটি ভালো: কারণ যদিও এটি এমন যে আমাদের শারীরিক জন্মদান আমাদের আধ্যাত্মিক জন্মদানের তুলনায় খুব ছোট, নিচু, ও সাধারণ, তবুও তিনিই তা করেন যে সৃষ্টির মধ্যে যার দ্বারা তা করা হয়। সদয়, ভালোবাসার মাতা যিনি তাঁর শিশুর প্রয়োজন বোঝেন ও জানেন, তিনি একে খুব কোমলভাবে রক্ষা করেন, যেমন মাতৃত্বের প্রকৃতি ও অবস্থা চায়। এবং যখন এটি বয়সে বৃদ্ধি পায়, তিনি তার কাজ পরিবর্তন করেন, কিন্তু তার প্রেম নয়। এবং যখন এটি আরও বয়সে বৃদ্ধি পায়, তিনি সহ্য করেন যে একে vices বা দোষ ভাঙার জন্য মারপিট করা হোক, শিশুকে গুণ ও কৃপা গ্রহণ করতে বাধ্য করতে। '''এই কাজ, সমস্ত সুন্দর ও ভালোর সাথে, আমাদের প্রভু তাদের মধ্যে করেন যার দ্বারা তা করা হয়: এইভাবে তিনি কৃপার কাজের দ্বারা নিম্ন অংশে উচ্চতর অংশের প্রেমের জন্য প্রকৃতিতে আমাদের মাতা। এবং তিনি চান যেন আমরা এটি জানি: কারণ তিনি চান আমাদের সমস্ত প্রেম তাঁর সাথে আবদ্ধ হোক। এবং এতে আমি দেখলাম যে আমাদের সমস্ত কর্তব্য যা আমরা পিতার মাতৃত্ব ও মাতৃত্বের প্রতি ঈশ্বরের আদেশের দ্বারা ঋণী, কারণ ঈশ্বরের পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব ঈশ্বরের প্রতি সত্য ভালোবাসায় পূর্ণ হয়; যা আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম খ্রিস্ট আমাদের মধ্যে কাজ করেন।''' এবং এটি সবকিছুর মধ্যে এবং বিশেষ করে উচ্চ প্রাচুর্যপূর্ণ শব্দগুলোতে দেখানো হয়েছিল যেখানে তিনি বলেন: ''আমিই যাকে তুমি ভালোবাসো।''
=== অধ্যায় ৬১ ===
* আমাদের আধ্যাত্মিক জন্মদানে তিনি সুরক্ষা ও কোমলতা বেশি ব্যবহার করেন, কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই: যতটা আমাদের আত্মা তাঁর দৃষ্টিতে বেশি মূল্যবান। তিনি আমাদের বোঝাপড়া প্রজ্বলিত করেন, তিনি আমাদের পথ নির্দেশ করেন, তিনি আমাদের বিবেক শান্ত করেন, তিনি আমাদের আত্মাকে সান্ত্বনা দেন, তিনি আমাদের হৃদয় আলোকিত করেন, এবং আমাদের দেন, আংশিকভাবে, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ [[দেবত্বের]] জ্ঞান ও বিশ্বাস, তাঁর মিষ্টি মানবতা ও তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্যাশনের প্রতি কৃপাময় মন নিয়ে, তাঁর উচ্চ, অতিক্রমকারী মঙ্গলময়তায় শ্রদ্ধাশীল বিস্ময়ের সাথে; এবং আমাদের ভালোবাসতে বাধ্য করেন যা তিনি ভালোবাসেন, তাঁর প্রেমের জন্য, এবং তাঁর ও তাঁর সমস্ত কাজের সাথে সন্তুষ্ট হতে। এবং যখন আমরা পতিত হই, দ্রুত তিনি আমাদের তাঁর সুন্দর ডাক ও কৃপাময় স্পর্শের দ্বারা উত্থাপন করেন। এবং যখন আমরা তাঁর মিষ্টি কাজের দ্বারা শক্তিশালী হই, তখন আমরা আমাদের সমস্ত ইচ্ছার সাথে তাঁকে বেছে নিই, তাঁর মিষ্টি কৃপার দ্বারা, তাঁর ভৃত্য ও তাঁর প্রেমিক হতে স্থায়ীভাবে অন্তহীনভাবে।
* যদি আমরা কখনোই পতিত না হতাম, তবে আমরা জানতাম না আমরা নিজের থেকে কতটা দুর্বল ও কতটা দুঃখী, এবং এছাড়াও আমরা আমাদের নির্মাতার সেই বিস্ময়কর প্রেম পুরোপুরি জানতাম না। কারণ আমরা স্বর্গে সত্যই দেখতে পাব, অন্তহীনভাবে, যে আমরা এই জীবনে গুরুতরভাবে পাপ করেছি, এবং এটি সত্ত্বেও, আমরা দেখতে পাব যে আমরা তাঁর প্রেমে কখনোই আঘাতপ্রাপ্ত হইনি, তাঁর দৃষ্টিতে আমরা কখনোই কম মূল্যবান ছিলাম না। এবং এই পতনের পরীক্ষার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের প্রেমের একটি উচ্চ, বিস্ময়কর জ্ঞান পাব, অন্তহীনভাবে। কারণ শক্তিশালী ও বিস্ময়কর হলো সেই প্রেম যা ভাঙতে পারে না, বা ভাঙবে না, অপরাধের জন্য।
* '''মাতা কখনো কখনো শিশুকে পতিত হতে দিতে পারেন, এবং নিজের লাভের জন্য বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারেন, কিন্তু তিনি কখনোই সহ্য করতে পারেন না যে প্রেমের জন্য শিশুর কোনো ধরনের বিপদ আসুক।''' এবং যদিও আমাদের পার্থিব মাতা তাঁর শিশুকে ধ্বংস হতে দিতে পারেন, আমাদের স্বর্গীয় মাতা, যিশু, আমাদের সহ্য করতে পারেন না যাঁরা তাঁর সন্তানরা ধ্বংস হোক: কারণ তিনি সর্ব-শক্তিমান, সর্ব-প্রজ্ঞা, এবং সর্ব-প্রেম; এবং তাই তিনি ছাড়া আর কেউ নন,—তিনি আশীর্বাদপূর্ণ হোন!
* প্রায়শই যখন আমাদের পতন ও আমাদের দুর্দশা আমাদের দেখানো হয়, আমরা খুব দুঃখিত হই, এবং নিজেদের নিয়ে খুব বেশি লজ্জিত হই, যে খুব কমই আমরা খুঁজে পাই কোথায় আমরা নিজেদের ধরতে পারি। কিন্তু তখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ মাতা চান না যে আমরা দূরে পালিয়ে যাই, কারণ তাঁর কাছে এর চেয়ে ঘৃণা করার মতো আর কিছুই ছিল না।
* একজন একক ব্যক্তি প্রায়শই ভেঙে যেতে পারেন, যেমনটি তার নিজের মনে হয়, কিন্তু পবিত্র চার্চের পুরো শরীর কখনোই ভেঙে যায়নি, বা কখনোই হবে না, অন্তহীনভাবে।
* তিনি এই সমস্ত কাজের মধ্যে একজন সদয় সেবিকার অফিস ব্যবহার করেন যার নিজের কাজ ছাড়া আর কিছুই নেই কিন্তু তার সন্তানের পরিত্রাণের দিকে মনোযোগ দেওয়া।
* তিনি চান যে আমরা তাঁকে মিষ্টিভাবে ভালোবাসি এবং তাঁর ওপর নম্রভাবে ও শক্তিশালীভাবে আস্থা রাখি। এবং এটি তিনি এই কৃপাময় শব্দগুলোতে দেখিয়েছিলেন: ''আমি তোমাকে খুব নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।''
=== অধ্যায় ৬২ ===
* কারণ সেই সময়ে তিনি আমাদের দুর্বলতা এবং আমাদের পতন, আমাদের কষ্ট এবং আমাদের তুচ্ছতা, আমাদের অবজ্ঞা এবং আমাদের বর্জন, এবং আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা ততদূর দেখিয়েছিলেন যতটা আমার মনে হয়েছিল এই জীবনে ঘটতে পারে। এবং তার সাথে তিনি তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ শক্তি, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্রজ্ঞা, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম দেখিয়েছিলেন: যে তিনি আমাদের এই সময়ে তাঁর পূজার জন্য ততটা কোমলভাবে ও মিষ্টিভাবে রক্ষা করেন, এবং আমাদের পরিত্রাণের জন্য ততটা নিশ্চিতভাবে, যতটা তিনি করেন যখন আমরা সবচেয়ে বেশি সান্ত্বনা ও আরামে থাকি।
* '''ঈশ্বর তাঁর অস্তিত্বে প্রকৃতি: অর্থাৎ, সেই মঙ্গলময়তা যা প্রকৃতি, তা হলো ঈশ্বর। তিনি ভিত্তি, তিনি [[সারমর্ম]], তিনি একই জিনিস যা প্রকৃতি-ত্ব। এবং তিনি প্রকৃতির প্রকৃত পিতা ও প্রকৃত মাতা: এবং সমস্ত প্রকৃতি যা তিনি তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর থেকে প্রবাহিত হতে তৈরি করেছেন তা উদ্ধার হবে এবং মানুষের পরিত্রাণের দ্বারা কৃপার কাজের মাধ্যমে তাঁর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।'''
* সমস্ত প্রকৃতির মধ্যে যা তিনি বিভিন্ন সৃষ্টিতে অংশে স্থাপন করেছেন, মানুষের মধ্যে সবকিছু অখণ্ড; পূর্ণতা ও গুণে, সৌন্দর্যে ও মঙ্গলময়তায়, রাজকীয়তায় ও মহৎতায়, সমস্ত ধরনের মহিমা, মূল্যবানতা ও পূজায়। এখানে আমরা দেখতে পারি যে আমরা প্রকৃতির জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী, এবং আমরা কৃপার জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী।
=== অধ্যায় ৬৩ ===
* '''এখানে আমরা দেখতে পারি যে পাপ ঘৃণা করার জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি থেকে পাই, এবং পাপ ঘৃণা করার জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে কৃপা থেকে পাই। কারণ প্রকৃতি নিজেই সব ভালো ও সুন্দর, এবং কৃপা প্রকৃতিকে রক্ষা করতে ও পাপ ধ্বংস করতে পাঠানো হয়েছিল, এবং সুন্দর প্রকৃতিকে সেই আশীর্বাদপূর্ণ বিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে যেখান থেকে এটি এসেছিল: যা ঈশ্বর; কৃপার গুণের কাজের দ্বারা আরও মহৎতা ও পূজার সাথে। কারণ এটি ঈশ্বরের সামনে তাঁর সমস্ত পবিত্রদের দ্বারা স্বর্গে অন্তহীন আনন্দে দেখা যাবে যে প্রকৃতি যন্ত্রণার আগুনে পরীক্ষিত হয়েছে এবং সেখানে কোনো ত্রুটি, কোনো দোষ পাওয়া যায়নি। এইভাবে প্রকৃতি ও কৃপা একমত: কারণ কৃপা ঈশ্বর, যেমন প্রকৃতি ঈশ্বর: তিনি কাজ করার পদ্ধতিতে দুটি এবং প্রেমে এক; এবং এগুলোর কোনোটিই অন্যটি ছাড়া কাজ করে না: সেগুলো বিচ্ছিন্ন নয়।'''
* যখন আমরা ঈশ্বরের দয়া দ্বারা এবং তাঁর সাহায্যে আমাদের প্রকৃতির সাথে ও কৃপার সাথে সম্মত হই, তখন আমরা সত্যই দেখতে পাব যে পাপ প্রকৃতপক্ষে নরকের চেয়ে বেশি কুৎসিত ও যন্ত্রণাদায়ক, কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই: কারণ এটি আমাদের সুন্দর প্রকৃতির বিপরীত। কারণ যেমন পাপ সত্যই অপবিত্র, তেমন সত্যই এটি অস্বাভাবিক, এবং তাই এটি দেখতে একটি ভয়ানক জিনিস সেই প্রিয় আত্মার জন্য যে ঈশ্বরের দৃষ্টিতে পুরোপুরি সুন্দর ও উজ্জ্বল হতে চায়, যেমন প্রকৃতি ও কৃপা শেখায়।
* আমাদের আত্মার দৃষ্টিতে আমাদের স্বর্গীয় মাতা সুন্দর ও মিষ্টি; আমাদের স্বর্গীয় মাতার দৃষ্টিতে কৃপাময় শিশুরা মূল্যবান ও প্রেমময়, মৃদুতা ও নম্রতা নিয়ে, এবং সমস্ত সুন্দর গুণ নিয়ে যা প্রকৃতিতে শিশুদের অন্তর্গত। কারণ স্বভাবত শিশু মাতার প্রেম থেকে হতাশ হয় না, স্বভাবত শিশু নিজেকে অনুমান করে না, স্বভাবত শিশু মাতাকে এবং একে অপরকে ভালোবাসে। এগুলো হলো সুন্দর গুণ, অন্য সবকিছুর সাথে যা একই রকম, যা দ্বারা আমাদের স্বর্গীয় মাতা সেবা ও সন্তুষ্ট হন।
* আমি এই জীবনে শৈশবের চেয়ে উচ্চতর কোনো উচ্চতা বুঝিনি, দুর্বলতায় এবং শক্তি ও বুদ্ধির ব্যর্থতায়, যতক্ষণ না আমাদের কৃপাময় মাতা আমাদের পিতার পরমানন্দে আমাদের উপরে নিয়ে এসেছেন। এবং তখন তাঁর অর্থ আমাদের কাছে সত্যই জানা যাবে সেই মিষ্টি শব্দগুলোতে যেখানে তিনি বলেন: ''সবকিছু ভালো হবে: এবং তুমি নিজেই দেখবে, যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' এবং তখন আমাদের মাতার পরমানন্দ, খ্রিস্টে, নতুন করে শুরু হবে আমাদের ঈশ্বরের আনন্দে: যে নতুন শুরু অন্তহীনভাবে চলবে, নতুন শুরু। <br> '''এইভাবে আমি বুঝেছিলাম যে তাঁর সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ সন্তানরা যারা প্রকৃতি থেকে তাঁর থেকে এসেছে তারা কৃপার দ্বারা তাঁর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।'''
== পঞ্চদশ প্রকাশ ==
=== অধ্যায় ৬৩ ===
* এই সময়ের আগে ঈশ্বরের উপহার পাওয়ার জন্য আমার মনে এই জগত এবং জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা ছিল। কারণ আমি প্রায়শই এখানকার দুঃখ এবং সেখানে যে আনন্দ ও সুখ রয়েছে তার তুলনা করতাম। (যদি আমাদের প্রভুর অনুপস্থিতি ছাড়া এই জীবনে অন্য কোনো ব্যথা না-ও থাকত, তবে আমার মনে হতো তা মাঝে মাঝে সহ্য করার ক্ষমতার বাইরে ছিল;) এটি আমাকে শোকাতুর এবং অধীর করে তুলেছিল। এছাড়াও আমার নিজের দীনতা, জড়তা এবং দুর্বলতার কারণে আমি বাঁচতে বা পরিশ্রম করতে আগ্রহী ছিলাম না, যা আমার কাজ ছিল। <br> আমাদের দয়ালু প্রভু সান্ত্বনা ও ধৈর্যের সাথে এই সমস্ত কিছুর উত্তর দিয়েছিলেন এবং এই কথাগুলো বলেছিলেন: ''তুমি হঠাৎ তোমার সমস্ত ব্যথা, অসুস্থতা, যন্ত্রণা এবং দুঃখ থেকে মুক্তি পাবে। তুমি ওপরে আমার কাছে আসবে এবং আমিই হবে তোমার পুরস্কার; তুমি ভালোবাসা ও আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠবে। তোমার আর কোনো ব্যথা, অসন্তোষ বা ইচ্ছার অপূর্ণতা থাকবে না; বরং থাকবে অন্তহীন আনন্দ ও সুখ। আমার ইচ্ছা ও আরাধনা অনুযায়ী যদি তোমাকে কিছুকাল কষ্ট সহ্য করতে হয়, তবে তাতে তোমার দুঃখ কী?''
* এই কথাটির মাধ্যমে: ''হঠাৎ তুমি মুক্ত হবে'' — আমি দেখেছি যে ঈশ্বর মানুষের ধৈর্যকে পুরস্কৃত করেন, যা সে তাঁর ইচ্ছাকে মেনে চলার জন্য প্রদর্শন করে। মানুষের জীবনের সময়ের চেয়েও সে তার ধৈর্যকে দীর্ঘায়িত করে। তার প্রস্থানের সময়টি সে জানে না, যা তার জন্য বড় প্রাপ্তি: কারণ একজন মানুষ যদি তার সময় জানত, তবে সে ধৈর্য ধরতে পারত না। ঈশ্বরের ইচ্ছায়, আত্মা যখন শরীরে থাকে, তখন তার মনে হয় সে যেকোনো মুহূর্তেই বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কারণ আমাদের এই জীবন এবং যন্ত্রণা কেবল একটি বিন্দু মাত্র। যখন আমরা হঠাৎ ব্যথা থেকে আনন্দে উন্নীত হই, তখন ব্যথার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।
* সেই সময়ে আমি মাটিতে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি, যা ভারী এবং বীভৎস দেখাচ্ছিল—কোনো আকার বা আকৃতিহীন, যেন দুর্গন্ধযুক্ত কাদার একটি ফোলা স্তূপ। হঠাৎ সেই দেহ থেকে একটি অতি সুন্দর প্রাণী, একটি ছোট শিশু বেরিয়ে এল—সুগঠিত, চটপটে, প্রাণবন্ত এবং লিলির চেয়েও সাদা; যা দ্রুত স্বর্গের দিকে ভেসে গেল। দেহের সেই ফোলা ভাব আমাদের নশ্বর মাংসের চরম দীনতা বোঝায়, আর শিশুটির ক্ষুদ্রতা আত্মার পবিত্রতা প্রকাশ করে। আমার মনে হলো: ''এই দেহের সাথে শিশুটির কোনো সৌন্দর্যের মিল নেই, আবার শিশুটির ওপর দেহের কোনো কলঙ্কও নেই।''
* '''মানুষের থেকে ব্যথা দূর হওয়ার চেয়ে ব্যথা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া অনেক বেশি আনন্দদায়ক। কারণ ব্যথা যদি আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তা আবার ফিরে আসতে পারে। তাই প্রেমময় আত্মার জন্য এটি এক পরম সান্ত্বনা ও আনন্দের বিষয় যে আমাদের ব্যথা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।''' কারণ এই আদেশে আমি এক বিস্ময়কর করুণা দেখেছি যা আমাদের দুঃখের জন্য প্রভু অনুভব করেন এবং পরিত্রাণের এক দয়ালু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি চান আমরা এই উত্তরণের মাধ্যমে সান্ত্বনা পাই; আর তা তিনি এই কথায় প্রকাশ করেছেন: ''এবং তুমি ওপরে আসবে, আমিই হবে তোমার পুরস্কার এবং তুমি আনন্দ ও সুখে পূর্ণ হয়ে উঠবে।''
* ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা যেন আমাদের চিন্তাকে যতটা সম্ভব এই আনন্দময় দর্শনের মধ্যে নিবদ্ধ রাখি—এবং তাঁর কৃপায় যত দীর্ঘ সময় পারি এর মধ্যে থাকি। কারণ ঈশ্বরের দ্বারা পরিচালিত আত্মার জন্য এটি এক আশীর্বাদপুষ্ট ধ্যান এবং যতদিন এটি স্থায়ী হয়, তা তাঁর আরাধনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
* ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা যেন তাঁর আদেশ ও সান্ত্বনাকে যতটা সম্ভব বড় করে ও শক্তিমত্তার সাথে গ্রহণ করি। তিনি এও চান যেন আমরা আমাদের ধৈর্য ও কষ্টকে যতটা সম্ভব হালকাভাবে নিই এবং সেগুলোকে তুচ্ছ করি। কারণ প্রেমের কারণে আমরা সেগুলোকে যত হালকাভাবে নেব এবং সেগুলোকে যত কম গুরুত্ব দেব, সেগুলো অনুভব করার সময় আমাদের ব্যথা তত কম হবে এবং তার জন্য আমরা তত বেশি কৃতজ্ঞতা ও প্রতিদান পাব।
=== অধ্যায় ৬৫ ===
* '''এভাবে আমি বুঝতে পারলাম যে, যে নারী বা পুরুষ এই জীবনে দৃঢ় ইচ্ছার সাথে ভালোবাসার খাতিরে ঈশ্বরকে বেছে নেয়, সে নিশ্চিত থাকতে পারে যে সে চিরকাল ভালোবাসার পাত্র হয়ে থাকবে। এই অন্তহীন ভালোবাসা তার মধ্যে সেই কৃপা কাজ করায়। কারণ তিনি চান যেন আমরা পৃথিবীতে থাকাকালীন স্বর্গের আনন্দের প্রত্যাশায় ততটাই নিশ্চিত থাকি, যতটা নিশ্চিত আমরা সেখানে গিয়ে হব।''' আর আমরা যদি পবিত্রতা ও নম্রতার সাথে এই নিশ্চিতবোধে আনন্দ ও তৃপ্তি পাই, তবে তিনি ততই সন্তুষ্ট হন। আমি যে পবিত্রতার কথা বলছি তা হলো আমাদের প্রভুর প্রতি এক পবিত্র ও দয়ালু ভয়, যার সাথে নম্রতা যুক্ত থাকে। এর মানে হলো, সৃষ্টি তার প্রভুকে বিস্ময়করভাবে মহান এবং নিজেকে বিস্ময়করভাবে ক্ষুদ্র দেখে।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমি নিজেকে তাঁর ভালোবাসার কাছে ততটাই আবদ্ধ দেখব, যেন তিনি আমার জন্য যা যা করেছেন তা সব আমার একার জন্যই করেছেন; প্রতিটি আত্মারই তার প্রেমাস্পদ সম্পর্কে এমনটি ভাবা উচিত। অর্থাৎ, ঈশ্বরের দয়া আমাদের মধ্যে এমন এক ঐক্য তৈরি করে যে, তা সঠিকভাবে বুঝতে পারলে কেউ নিজেকে অন্য কারো থেকে আলাদা করতে পারে না।'''
* এখন আমি তোমাদের পনেরোটি প্রকাশের কথা বলেছি, যেমনটা ঈশ্বর মনে করিয়ে দিয়েছেন—তাঁর পবিত্র আত্মার আলোকচ্ছটা ও স্পর্শে, যা এই প্রকাশগুলোকে দেখিয়েছে। <br> এই পনেরোটি দর্শনের প্রথমটি শুরু হয়েছিল ভোরবেলা, প্রায় চারটার দিকে; আর সেগুলো সুন্দর ও স্থির প্রক্রিয়ায় একের পর এক চলতে থাকে, দিনের নটা পর্যন্ত।
=== অধ্যায় ৬৬ ===
* এরপর ভালো প্রভু পরের রাতে ষোড়শ প্রকাশটি দেখিয়েছিলেন, যা আমি পরে বলব: এই ষোড়শটি ছিল আগের পনেরোটির উপসংহার ও নিশ্চয়তা।
* তবে প্রথমে আমার দুর্বলতা, দীনতা ও অন্ধত্বের কথা তোমাদের বলা প্রয়োজন। — আমি শুরুতেই বলেছি: ''এবং এতেই আমার সমস্ত ব্যথা হঠাৎ দূর হয়ে গেল'': এই ব্যথার কারণে আমি পনেরোটি দর্শনের সময় কোনো কষ্ট বা যন্ত্রণা অনুভব করিনি। শেষে সবকিছু স্তিমিত হয়ে এল এবং আমি আর কিছু দেখতে পেলাম না। শীঘ্রই আমি অনুভব করলাম যে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে এবং ভুগতে হবে; এবং হঠাৎ আমার অসুস্থতা ফিরে এল: প্রথমে মাথায় শব্দ ও গুঞ্জন দিয়ে এবং হঠাৎ আমার পুরো শরীর আগের মতোই অসুস্থতায় ভরে গেল। আমি এতটাই বন্ধ্যা ও শুষ্ক ছিলাম যে মনে হচ্ছিল আমি কখনও খুব সামান্য সান্ত্বনাও পাইনি। একজন হতভাগা প্রাণীর মতো আমি আমার শারীরিক ব্যথার অনুভূতিতে এবং আধ্যাত্মিক ও শারীরিক সান্ত্বনার অভাবে বিলাপ ও চিৎকার করছিলাম।
* তখন একজন ধার্মিক ব্যক্তি আমার কাছে এলেন এবং জানতে চাইলেন আমি কেমন আছি। আমি বললাম, আমি আজ প্রলাপ বকেছি। তিনি উচ্চস্বরে ও মন খুলে হাসলেন। আমি বললাম: ''আমার মুখের সামনে যে ক্রুশটি দাঁড়িয়ে ছিল, আমার মনে হয়েছে সেটি দ্রুত রক্তক্ষরণ করছিল।'' এই কথা শুনে যে ব্যক্তির সাথে আমি কথা বলছিলাম তিনি অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে গেলেন এবং বিস্মিত হলেন। আমি আমার অবহেলার জন্য অত্যন্ত লজ্জিত ও বিস্মিত হলাম এবং ভাবলাম: ''এই মানুষটি আমার বলা ছোট ছোট কথাগুলোও কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।'' এরপর আমি আর কোনো কথা বললাম না।
== ষোড়শ প্রকাশ ==
=== অধ্যায় ৬৭ ===
[[File:William Blake - Christ in the Sepulchre, Guarded by Angels.jpg|thumb||আমাদের আত্মা কখনোই নিজের নিচের কোনো বস্তুতে শান্তি পেতে পারে না।]]
* '''এরপর আমাদের প্রভু আমার আধ্যাত্মিক চোখ খুলে দিলেন এবং আমার হৃদয়ের মাঝে আমার আত্মাকে দেখালেন। আমি দেখলাম আত্মাটি এত বিশাল যেন তা এক অন্তহীন জগত, এক পরম আনন্দময় রাজ্য। সেখানে আমি যা কিছু দেখলাম, তা থেকে আমি বুঝতে পারলাম এটি একটি মহিমান্বিত নগরী।''' সেই নগরীর মাঝে উপবিষ্ট আছেন আমাদের প্রভু যিশু, ঈশ্বর ও মানব, বিশাল দেহের অধিকারী এক সুদর্শন ব্যক্তি, পরম যাজক, অতি মহিমান্বিত রাজা ও পরম পূজনীয় প্রভু; আমি তাঁকে মহিমান্বিত পোশাকে দেখলাম। তিনি পরম শ্রদ্ধার সাথে আত্মার মাঝে শান্তিতে ও বিশ্রামে উপবিষ্ট আছেন। এবং ঈশ্বরত্ব স্বর্গ, পৃথিবী এবং যা কিছু আছে, তা শাসন ও ধারণ করে আছেন। পরম শক্তি, পরম প্রজ্ঞা ও পরম কল্যাণ। যিশু আমাদের ''আত্মার'' মাঝে যে স্থানটি নিয়েছেন, আমার দৃষ্টিতে তিনি তা থেকে চিরকাল সরবেন না। কারণ আমাদের মধ্যেই তাঁর ''সবচেয়ে আপন'' নিবাস ও ''অন্তহীন'' বসতি। এর মাধ্যমে তিনি দেখালেন যে, মানুষের আত্মা সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কতটা সন্তুষ্ট। পিতা যেমন একটি প্রাণ সৃষ্টি করতে পারতেন, পুত্রও যেমন তা করতে পারতেন, পবিত্র আত্মা ঠিক সেভাবেই চেয়েছিলেন যেন মানুষের আত্মা সৃষ্টি হয়: এবং তা-ই করা হয়েছিল। আর এই কারণেই ধন্য ত্রিত্ববাদ মানুষের আত্মা সৃষ্টির আনন্দে চিরকাল বিভোর। কারণ শুরু থেকেই তিনি দেখেছিলেন যা কিছু তাঁকে চিরকাল আনন্দ দেবে।
* '''আমাদের আত্মা কখনোই নিজের নিচের কোনো বস্তুতে শান্তি পেতে পারে না।''' যখন এটি সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে উঠে নিজের সত্তায় আসে, তখনও এটি কেবল নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে না। সমস্ত দৃষ্টি আনন্দের সাথে ঈশ্বরে নিবদ্ধ থাকে, যিনি এর স্রষ্টা এবং এর ভেতরেই বাস করেন। কারণ মানুষের আত্মাই তাঁর প্রকৃত নিবাস এবং আমার দৃষ্টিতে এই নগরীর সর্বোচ্চ আলো ও উজ্জ্বলতম আভা হলো আমাদের প্রভুর গৌরবময় ভালোবাসা।
* '''ঈশ্বরের সৃষ্টিগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মাঝে তিনি আনন্দ পান। এটি দেখার চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে? কারণ একই দর্শনে আমি দেখেছি, যদি ধন্য ত্রিত্ববাদ মানুষের আত্মাকে এর চেয়ে ভালো, সুন্দর বা মহৎ করে সৃষ্টি করতে পারতেন, তবে তিনি মানুষের আত্মা সৃষ্টির কাজে পূর্ণ সন্তুষ্ট হতেন না।''' এবং তিনি চান আমাদের হৃদয় যেন পৃথিবীর গভীরতা ও সমস্ত তুচ্ছ দুঃখের ঊর্ধ্বে ওঠে এবং তাঁতেই আনন্দ পায়।
=== অধ্যায় ৬৮ ===
* এটি ছিল এক আনন্দদায়ক দৃশ্য ও প্রশান্তিময় প্রত্যাদেশ, যা ''চিরকাল'' থাকবে। আমরা এখানে থাকাকালীন এর দিকে তাকিয়ে থাকা ঈশ্বরের কাছে অত্যন্ত প্রীতিকর এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। যে আত্মা এভাবে দেখে, তা সেই দর্শনকারী সত্তার মতো হয়ে ওঠে এবং তাঁর কৃপায় শান্তিতে ও বিশ্রামে একীভূত হয়। এবং এটি আমার জন্য ছিল এক অনন্য আনন্দ ও পরম সুখ যে, আমি তাঁকে ''উপবিষ্ট'' দেখলাম: কারণ উপবিষ্ট থাকার নিশ্চয়তা অন্তহীন বসতির ইঙ্গিত দেয়।
* তিনি আমাকে নিশ্চিতভাবে জানতে দিলেন যে, তিনিই আমাকে আগে সবকিছু দেখিয়েছেন। আমি যখন মনোযোগ দিয়ে এটি দেখলাম, তখন আমাদের ভালো প্রভু কোনো কণ্ঠস্বর বা ঠোঁট নাড়ান ছাড়াই অত্যন্ত নম্রভাবে আমাকে বললেন, ঠিক যেমন তিনি আগে করেছিলেন এবং অতি মধুরভাবে বললেন: ''এখন ভালো করে জেনে নাও যে, আজ তুমি যা দেখেছ তা কোনো প্রলাপ ছিল না। বরং এটি গ্রহণ করো, বিশ্বাস করো, এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো। তুমি কখনোই পরাজিত হবে না।''
* '''এই শেষ কথাগুলো বলা হয়েছিল বিশ্বাস ও সত্য নিশ্চিত করার জন্য যে, আমাদের প্রভু যিশুই আমাকে সবকিছু দেখিয়েছেন। আমাদের ভালো প্রভু প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন, যা তাঁর পরম আনন্দময় দুঃখভোগকে নির্দেশ করে। 'এর মাধ্যমেই শয়তান পরাজিত', ঠিক একইভাবে তিনি শেষ কথায় অত্যন্ত সত্য ও নিশ্চিতভাবে আমাদের সবার উদ্দেশ্যে বললেন: 'তুমি পরাজিত হবে না।' '''
* '''এই কথাটি: 'তুমি পরাজিত হবে না', অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও জোরালোভাবে বলা হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে আসা সব বিপদে আমরা নিশ্চিত ও সান্ত্বনা পাই। তিনি বলেননি: 'তুমি ঝড়ঝঞ্ঝার কবলে পড়বে না, তুমি শ্রান্ত হবে না, তুমি দুঃখিত হবে না' বরং তিনি বলেছেন: 'তুমি পরাজিত হবে না।' ঈশ্বর চান যেন আমরা এই কথাগুলোর প্রতি মনোযোগ দিই এবং ভালো ও মন্দ উভয় সময়েই দৃঢ় বিশ্বাসে অটল থাকি। কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসেন ও আমাদের মাঝে আনন্দ পান, এবং তিনিও চান যেন আমরা তাঁকে ভালোবাসি, তাঁর মাঝে আনন্দ পাই এবং শক্তভাবে তাঁকে বিশ্বাস করি এবং ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''<br> এবং শীঘ্রই সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল এবং আমি আর কিছুই দেখতে পেলাম না।
=== অধ্যায় ৬৯ ===
* এরপর শয়তান তার উত্তাপ ও দুর্গন্ধ নিয়ে আবার ফিরে এল এবং আমাকে খুব জ্বালাতন করল। দুর্গন্ধটি ছিল অত্যন্ত জঘন্য, বেদনাদায়ক, ভয়াবহ ও কষ্টকর। এছাড়া আমি শারীরিক কথোপকথনের মতো শব্দ শুনতে পেলাম, যেন দুইজন ব্যক্তি কথা বলছে। আমার মনে হলো তারা দুজনেই একই সময়ে খুব ব্যস্ততার সাথে কোনো সভা করছে। কিন্তু সবকিছু ছিল অস্পষ্ট গুঞ্জন, তাই তারা কী বলছে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। আমার মনে হলো, এটি সবই আমাকে নিরাশ করার জন্য ছিল। যেন তারা প্রার্থনা করার সময় আমাদের অভদ্রভাবে মুখ দিয়ে করা প্রার্থনার উপহাস করছিল, যেখানে ভক্তিময় মনোযোগ ও জ্ঞানপূর্ণ পরিশ্রমের অভাব থাকে। যা আমাদের প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।
* আমি মনে মনে বললাম: ''শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে বিশ্বাসে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে তোমাকে এখন অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তুমি যদি এখন থেকে সবসময় নিজেকে পাপ থেকে দূরে রাখতে এতটা ব্যস্ত থাকতে পারতে, তবে তা হতো এক মহান ও শ্রেষ্ঠ কাজ!'' কারণ আমি মনে মনে ভাবলাম, যদি আমি পাপ থেকে নিরাপদ থাকি, তবে আমি নরকের সব শয়তান ও আমার আত্মার শত্রু থেকেও নিরাপদ থাকব।
* এভাবে সে আমাকে সারা রাত ব্যস্ত রাখল এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত। এরপর তারা সবাই চলে গেল। তারা শুধু দুর্গন্ধ রেখে গেল, যা কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল। আর আমি তাকে ঘৃণাভরে অবজ্ঞা করলাম। <br> এবং এভাবে খ্রিষ্টের দুঃখভোগের গুণের মাধ্যমে আমি তার হাত থেকে মুক্তি পেলাম: কারণ ''এর মাধ্যমেই শয়তান পরাজিত'', যেমন আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্ট আগে বলেছিলেন।
=== অধ্যায় ৭০ ===
* '''এই সমস্ত ধন্য প্রত্যাদেশে আমাদের ভালো প্রভু এই বোধ দিলেন যে, এই দর্শনটি সাময়িক: কিন্তু এই ধন্য দর্শনটিকে বিশ্বাসই ধরে রাখে, তাঁর নিজস্ব সদিচ্ছা ও কৃপায়।''' কারণ তিনি আমাকে কোনো চিহ্ন বা লক্ষণ রেখে যাননি যার মাধ্যমে আমি তা চিনতে পারি, কিন্তু তিনি আমাকে সত্য উপলব্ধিতে তাঁর নিজস্ব ধন্য বাণী রেখে গেছেন, আমাকে খুব জোরালোভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তা বিশ্বাস করি। এবং আমি তা-ই করি। তিনি ধন্য হোন! আমি বিশ্বাস করি যে, তিনিই আমাদের ত্রাণকর্তা যিনি এটি দেখিয়েছেন এবং এটিই সেই বিশ্বাস যা তিনি দেখিয়েছেন এবং তাই আমি আনন্দচিত্তে এটি বিশ্বাস করি। এবং আমি তাঁর নিজের প্রতিটি অর্থের সাথে আবদ্ধ, পরবর্তী কথাগুলোর মাধ্যমে: ''এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো।''
* এভাবে আমি তা আমার বিশ্বাসে ধরে রাখতে বাধ্য। কারণ যে দিন এটি দেখানো হয়েছিল, যখন দর্শনটি শেষ হয়ে গেল, আমি হতভাগার মতো তা ত্যাগ করলাম এবং প্রকাশ্যে বললাম যে আমি প্রলাপ বকেছি। তখন আমাদের প্রভু যিশু তাঁর দয়ায় এটি হারিয়ে যেতে দিলেন না বরং তিনি এটি ''আমার আত্মার ভেতরে'' পূর্ণরূপে দেখালেন, তাঁর মূল্যবান ভালোবাসার ধন্য আলোতে: অত্যন্ত জোরালো ও নম্রভাবে এই কথাগুলো বলে: ''এখন ভালো করে জেনে নাও: আজ তুমি যা দেখেছ তা কোনো প্রলাপ ছিল না।'' যেন তিনি বলেছেন: ''দর্শনটি তোমার থেকে দূরে সরে যাওয়ায় তুমি তা হারিয়েছিলে এবং তা ধরে রাখার সামর্থ্য তোমার ছিল না। কিন্তু এখন জেনে নাও'' অর্থাৎ, ''এখন যখন তুমি তা দেখতে পাচ্ছ''। এটি শুধু সেই সময়ের জন্য বলা হয়নি, বরং আমার বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপনের জন্যও বলা হয়েছে, যখন তিনি সাথে সাথে বললেন: ''কিন্তু এটি গ্রহণ করো, বিশ্বাস করো এবং এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো। তুমি পরাজিত হবে না।''
* তাঁর অর্থ হলো এটি যেন আমাদের হৃদয়ে বিশ্বস্তভাবে গেঁথে থাকে। কারণ তিনি চান এটি যেন আমাদের জীবনের শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসে আমাদের সাথে থাকে এবং এরপর পরম আনন্দে। তিনি চান যেন আমরা তাঁর আনন্দময় আদেশের ওপর সবসময় অবিচল বিশ্বাস রাখি। তাঁর কল্যাণকে জেনে। <br> কারণ আমাদের নিজস্ব অন্ধত্ব এবং আমাদের আধ্যাত্মিক শত্রু, ভেতরে ও বাইরে, বিভিন্নভাবে আমাদের বিশ্বাসকে বাধা দেয় এবং সেইজন্য আমাদের মূল্যবান প্রেমিক আমাদের আধ্যাত্মিক দর্শন ও সত্য শিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পারি। এবং তাই, তিনি আমাদের যেভাবেই শিক্ষা দিন না কেন, তিনি চান যেন আমরা তাঁকে বুদ্ধিমত্তার সাথে উপলব্ধি করি, মধুরভাবে গ্রহণ করি এবং বিশ্বস্তভাবে তাঁর মাঝে থাকি। কারণ আমার দৃষ্টিতে, এই জীবনে বিশ্বাসের চেয়ে বড় কোনো কল্যাণ নেই এবং বিশ্বাসের নিচে আত্মার কোনো সাহায্য নেই বরং বিশ্বাসের মধ্যেই প্রভু চান যেন আমরা নিজেদের ধরে রাখি। কারণ বিশ্বাসের মধ্যে আমাদের টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের তাঁর কল্যাণ ও তাঁর নিজস্ব কাজের ওপর নির্ভর করতে হবে এবং তাঁর অনুমতিতে আধ্যাত্মিক শত্রুর মাধ্যমে আমরা বিশ্বাসে পরীক্ষিত হই এবং শক্তিশালী হই। কারণ আমাদের বিশ্বাসের যদি কোনো শত্রুতা না থাকত, তবে তা কোনো পুরস্কারের যোগ্য হতো না, আমাদের প্রভুর সমস্ত শিক্ষায় আমার যে বোধ আছে তা অনুযায়ী।
=== অধ্যায় ৭১ ===
* আমাদের আত্মার প্রতি আমাদের প্রভুর আনন্দময়, মনোরম ও মধুর চাহনি অত্যন্ত আনন্দদায়ক।
* আমি আমাদের প্রভুর তিন ধরণের চাহনির ইঙ্গিত পেয়েছি। প্রথমটি হলো তাঁর দুঃখভোগের চাহনি, যেমনটা তিনি এই জীবনে থাকাকালীন দেখিয়েছেন, যখন তিনি মৃত্যুবরণ করছিলেন। যদিও এই দর্শন শোকাবহ ও উদ্বিগ্ন, তবুও এটি আনন্দময়: কারণ তিনি ঈশ্বর। দ্বিতীয় ধরণের চাহনি হলো মমতা ও করুণা এবং তিনি তাঁর সমস্ত প্রেমিকদের, যারা তাঁর দয়ার ওপর নির্ভর করে, তাদের রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে এটি দেখান। তৃতীয়টি হলো আনন্দময় চাহনি, যা চিরকাল থাকবে: এবং এটিই সবচেয়ে বেশি ও দীর্ঘ সময় ধরে ছিল।
* এভাবে আমাদের ব্যথা ও কষ্টের সময়ে তিনি আমাদের তাঁর দুঃখভোগ ও ক্রুশের চাহনি দেখান, তাঁর নিজস্ব ধন্য গুণের মাধ্যমে তা বহন করতে আমাদের সাহায্য করেন। এবং আমাদের পাপের সময়ে তিনি আমাদের মমতা ও করুণার চাহনি দেখান, আমাদের সমস্ত শত্রুর হাত থেকে আমাদের শক্তভাবে রক্ষা করেন ও প্রতিরক্ষা দেন। এবং এই হলো সাধারণ চাহনি যা তিনি আমাদের এই জীবনে দেখান; এর সাথে তৃতীয়টি মিশিয়ে এবং তা হলো তাঁর আনন্দময় চাহনি, অনেকটা স্বর্গের মতো। এবং তা আধ্যাত্মিক জীবনের মধুর স্পর্শ ও উজ্জ্বল আলোর মাধ্যমে, যার দ্বারা আমরা নিশ্চিত বিশ্বাস, আশা ও দাতব্য কাজে অটল থাকি, অনুতাপ ও ভক্তির সাথে এবং আধ্যাত্মিক চিন্তা ও সব ধরণের প্রকৃত শান্তি ও মধুর সান্ত্বনার সাথে।
=== অধ্যায় ৭২ ===
* এখন আমাকে বলতে হবে যে, আমি কীভাবে সেই প্রাণীদের মাঝে পাপকে প্রাণঘাতী হিসেবে দেখেছি, যারা পাপের জন্য মরবে না বরং চিরকাল ঈশ্বরের আনন্দে বেঁচে থাকবে।
* '''আমি দেখলাম যে দুটি বিপরীত জিনিস কখনোই এক জায়গায় থাকতে পারে না। সবচেয়ে বিপরীত হলো সর্বোচ্চ আনন্দ এবং গভীরতম বেদনা।''' সর্বোচ্চ আনন্দ হলো অনন্ত জীবনের স্বচ্ছতায় তাঁকে পাওয়া, তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখা, তাঁকে মধুরভাবে অনুভব করা, পরম আনন্দে পূর্ণরূপে পাওয়া। এবং এভাবেই আমাদের প্রভুর আনন্দময় চাহনি করুণায় দেখানো হয়েছিল: যে দর্শনে আমি দেখলাম যে পাপই সবচেয়ে বেশি বিপরীত এতটাই যে, যতক্ষণ আমরা পাপের কোনো অংশের সাথে জড়িত থাকি, ততক্ষণ আমরা আমাদের প্রভুর আনন্দময় চাহনি স্পষ্টভাবে দেখতে পাব না। এবং আমাদের পাপ যত ভয়াবহ ও গুরুতর, সেই সময়ের জন্য আমরা এই আনন্দময় দর্শন থেকে তত বেশি দূরে থাকি। এবং তাই অনেক সময় আমাদের মনে হয় আমরা মৃত্যুর বিপদে আছি, নরকের এক অংশে আছি, পাপ আমাদের জন্য যে শোক ও বেদনা দেয় তার কারণে। এবং এভাবেই আমরা আমাদের আনন্দময় জীবনের প্রকৃত দর্শন থেকে সাময়িকভাবে মৃত। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝে আমি নিশ্চিতভাবে দেখেছি যে, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা মৃত নই, আর তিনিও আমাদের থেকে কখনোই দূরে সরে যান না। কিন্তু আমাদের মাঝে তিনি পূর্ণ আনন্দ পাবেন না যতক্ষণ না আমরা তাঁর মাঝে পূর্ণ আনন্দ পাই, তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনি সত্যভাবে দেখে। কারণ প্রকৃতিগতভাবে আমরা তার জন্য নিযুক্ত, এবং কৃপার মাধ্যমে তা অর্জন করি। এভাবেই আমি দেখলাম কীভাবে চিরন্তন জীবনের ধন্য প্রাণীদের মাঝে পাপ অল্প সময়ের জন্য প্রাণঘাতী।
* '''আত্মা ভালোবাসার কৃপায় এই আনন্দময় চাহনি যত স্পষ্টভাবে দেখে, তা পূর্ণরূপে দেখার জন্য তত বেশি আকাঙ্ক্ষা করে।''' কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বর আমাদের মাঝে বাস করেন এবং এখানে আমাদের সাথে আছেন, এবং যদিও তিনি কোমল ভালোবাসার কারণে আমাদের জড়িয়ে রাখেন ও ঘিরে রাখেন যাতে তিনি কখনোই আমাদের ছেড়ে না যান, এবং আমাদের জিহ্বা যতটা বলতে পারে বা হৃদয় ভাবতে পারে তার চেয়েও তিনি আমাদের বেশি কাছে আছেন, তবুও আমরা যতক্ষণ না তাঁকে তাঁর আনন্দময় অভিব্যক্তিতে স্পষ্টভাবে দেখি, ততক্ষণ আমরা আর্তনাদ, কান্না বা আকাঙ্ক্ষা থেকে থামতে পারি না। কারণ সেই মূল্যবান আনন্দময় দর্শনে কোনো দুঃখ থাকতে পারে না, আর কোনো সুখও শেষ হতে পারে না।
* এর মধ্যে আমি আনন্দের বিষয় এবং শোকের বিষয় দেখলাম। আনন্দের বিষয়: কারণ আমাদের প্রভু, আমাদের স্রষ্টা, আমাদের এত কাছে এবং আমাদের মাঝে আছেন, এবং আমরা তাঁর মাঝে আছি, তাঁর মহান কল্যাণের মাধ্যমে সুরক্ষার নিশ্চয়তায়; শোকের বিষয়: কারণ আমাদের আধ্যাত্মিক চোখ এতই অন্ধ এবং আমাদের নশ্বর শরীরের ভার ও পাপের অন্ধকারে আমরা এতটাই নিমজ্জিত যে, আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনিতে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই না। না এবং এই ঝাপসা ভাবের কারণে আমরা খুব কষ্টে তাঁর মহান ভালোবাসায় এবং আমাদের সুরক্ষার নিশ্চয়তায় বিশ্বাস ও ভরসা করতে পারি। এবং সেই কারণেই আমি বলি যে আমরা কখনোই আর্তনাদ বা কান্না থেকে থামতে পারি না। এই "কান্না" মানে সবটা আমাদের শারীরিক চোখের অশ্রু ঝরানো নয়, বরং এর আরও আধ্যাত্মিক অর্থ আছে। কারণ আমাদের আত্মার স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা এতই মহান ও অসীম যে, যদি আমাদের সান্ত্বনার জন্য এবং আমাদের আরামের জন্য সেই সমস্ত মহৎ জিনিস দেওয়া হতো যা ঈশ্বর স্বর্গ ও পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন, এবং আমরা যদি তাঁর নিজস্ব সুন্দর আনন্দময় চাহনি না দেখতাম, তবুও আমরা আর্তনাদ বা আধ্যাত্মিক কান্না থেকে থামতাম না, অর্থাৎ, যন্ত্রণাদায়ক আকাঙ্ক্ষা থেকে, যতক্ষণ না আমরা আমাদের স্রষ্টার সুন্দর আনন্দময় চাহনি সত্যভাবে দেখি। এবং যদি আমরা হৃদয়ে যা ভাবতে পারি ও জিহ্বায় যা বলা যায় এমন সমস্ত বেদনার মাঝেও থাকতাম, তবুও যদি সেই সময়ে আমরা তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনি দেখতে পেতাম, তবে এই বেদনা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারত না।
* '''এভাবেই সেই আনন্দময় দর্শন প্রেমময় আত্মার সমস্ত ধরণের বেদনার অবসান এবং সমস্ত ধরণের আনন্দ ও সুখের পূর্ণতা।''' এবং তা তিনি সেই মহান, চমৎকার কথাগুলোর মাধ্যমে দেখালেন যেখানে তিনি বললেন: '''''আমিই সেই, যে সর্বোচ্চ; আমিই সেই, যে সর্বনিম্ন। আমিই সেই, যে সর্বস্ব।'''''
* আমাদের তিন ধরণের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন: প্রথমটি হলো আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে জানি; দ্বিতীয়টি হলো আমরা নিজেদের জানি: প্রকৃতি ও কৃপায় আমরা তাঁর দ্বারা কী। তৃতীয়টি হলো আমরা নম্রভাবে জানি আমাদের পাপ ও দুর্বলতা সম্পর্কে আমাদের নিজেদের স্বরূপ কী। এবং আমার বোধগম্যতায় এই তিনটির জন্যই সমস্ত প্রত্যাদেশ তৈরি করা হয়েছিল।
=== অধ্যায় ৭৩ ===
* আমাদের প্রভুর সমস্ত ধন্য শিক্ষা তিনটি অংশের মাধ্যমে দেখানো হয়েছিল। অর্থাৎ, শারীরিক দর্শন, আমার উপলব্ধিতে তৈরি শব্দ এবং আধ্যাত্মিক দর্শন। শারীরিক দর্শনের জন্য, আমি যেমন দেখেছি তা বলেছি, যতটা সত্যভাবে পারি এবং শব্দের জন্য, আমি সেগুলো ঠিক সেভাবেই বলেছি যেভাবে আমাদের প্রভু আমাকে দেখিয়েছেন এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের জন্য, আমি কিছু অংশ বলেছি, কিন্তু আমি তা কখনোই পুরোপুরি বলতে পারব না: এবং তাই এই দর্শনের বিষয়ে আমি আরও বলার জন্য অনুপ্রাণিত, যেমন ঈশ্বর কৃপা দেবেন।
* ''সাধারণত'', তিনি ''পাপ'' দেখালেন, যার মধ্যে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু বিশেষভাবে তিনি কেবল এই দুটি দেখালেন। এবং এই দুটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় ও উদ্বিগ্ন করে, আমাদের প্রভু আমাকে যা দেখিয়েছেন তা অনুযায়ী এবং তিনি চান যেন আমরা এদের থেকে সংশোধিত হই। আমি এমন পুরুষ ও নারীদের কথা বলছি যারা ঈশ্বরের ভালোবাসার জন্য পাপকে ঘৃণা করে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে: তখন আমাদের আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব ও শারীরিক ভারীত্বের কারণে আমরা এগুলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকি। এবং তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা যে এগুলো জানা হোক, কারণ তখন আমরা অন্য পাপের মতো এগুলোকেও প্রত্যাখ্যান করব।
* এর সাহায্যের জন্য, আমাদের প্রভু অত্যন্ত নম্রভাবে তাঁর কঠিন দুঃখভোগে তাঁর ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন; এবং ভালোবাসার জন্য সেই দুঃখভোগের আনন্দ ও সন্তুষ্টিও তিনি দেখিয়েছেন। এবং তিনি উদাহরণস্বরূপ এটি দেখালেন যে, আমাদের কষ্টগুলো আনন্দ ও প্রজ্ঞার সাথে বহন করা উচিত, কারণ তা তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রীতিকর এবং আমাদের জন্য চিরন্তন লাভজনক। '''এবং আমরা যে এদের দ্বারা কষ্ট পাই তার কারণ হলো ভালোবাসার জ্ঞানের অভাব।''' যদিও ত্রিত্ববাদের তিনটি ব্যক্তি নিজ নিজ স্থানে সমান, তবুও আত্মা ভালোবাসার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করেছে; হ্যাঁ, এবং '''তিনি চান যেন সব কিছুতে আমরা আমাদের দৃষ্টি ও আনন্দ ভালোবাসায় রাখি। এবং এই জ্ঞান সম্পর্কে আমরা সবচেয়ে বেশি অন্ধ। কারণ আমাদের কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান এবং সব করতে পারেন, এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং সব জানেন; কিন্তু তিনি সর্ব-ভালোবাসা এবং সব করবেন, সেখানে আমরা থেমে যাই। এবং আমার দৃষ্টিতে, এই না-জানাটাই ঈশ্বরের প্রেমিকদের সবচেয়ে বেশি বাধা দেয়।'''
* যখন আমরা পাপকে ঘৃণা করতে শুরু করি এবং পবিত্র গির্জার বিধান অনুযায়ী নিজেদের সংশোধন করি, তখনও একটি ভয় থেকে যায় যা আমাদের বাধা দেয়, কারণ আমাদের নিজেদের এবং আমাদের পূর্বের পাপগুলোর দিকে তাকালে। এবং আমাদের কেউ কেউ প্রতিদিনের পাপের কারণে: কারণ আমরা আমাদের অঙ্গীকার পালন করি না, বা আমাদের প্রভু আমাদের যে পবিত্রতায় রেখেছেন তা রক্ষা করি না, বরং বারবার এত জঘন্যতায় পড়ি যে তা দেখা লজ্জাজনক। এবং এই দিকে তাকানো আমাদের এতটাই দুঃখিত ও ভারাক্রান্ত করে যে, আমরা খুব কষ্টে কোনো সান্ত্বনা পাই। <br> '''এবং এই ভয়টিকে আমরা অনেক সময় নম্রতা বলে মনে করি, কিন্তু এটি একটি জঘন্য অন্ধত্ব ও দুর্বলতা। এবং আমরা এটিকে অন্য পাপের মতো ঘৃণা করতে পারি না, যা আমরা জানি: কারণ এটি শত্রুতা থেকে আসে এবং এটি সত্যের বিরুদ্ধে। কারণ এটি ঈশ্বরের ইচ্ছা যে ধন্য ত্রিত্ববাদের সমস্ত গুণের মধ্যে আমরা ভালোবাসায় সবচেয়ে বেশি নিশ্চয়তা ও সান্ত্বনা পাব: কারণ ভালোবাসা শক্তি ও প্রজ্ঞাকে আমাদের কাছে অত্যন্ত নম্র করে তোলে। কারণ ঈশ্বরের সৌজন্যে তিনি আমাদের পাপ ক্ষমা করে দেন যখন আমরা অনুতাপ করি, ঠিক সেভাবেই তিনি চান যেন ''আমরা'' আমাদের পাপ ক্ষমা করি, আমাদের অবাধ্য ভারীত্ব ও সন্দেহজনক ভয়ের বিষয়ে।'''
=== অধ্যায় ৭৪ ===
* আমি চার ধরণের ভয় বুঝি। একটি হলো এমন ভয়ের আতঙ্ক যা দুর্বলতার কারণে হঠাৎ মানুষের মধ্যে আসে। এই ভয় ভালো কাজ করে, কারণ এটি মানুষকে শুদ্ধ করতে সাহায্য করে, যেমন শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো বেদনা যা পাপ নয়। কারণ এই সমস্ত বেদনা মানুষকে সাহায্য করে যদি তা ধৈর্য সহকারে গ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয়টি হলো বেদনার ভয়, যার মাধ্যমে মানুষ পাপের ঘুম থেকে জেগে ওঠে। যতক্ষণ না সে এই বেদনার ভয়, শারীরিক মৃত্যু, আধ্যাত্মিক শত্রুদের সম্পর্কে বোধ পায়, ততক্ষণ সে পবিত্র আত্মার মৃদু সান্ত্বনা বুঝতে পারে না এবং এই ভয় আমাদের ঈশ্বরের সান্ত্বনা ও দয়া খুঁজতে উৎসাহিত করে এবং এভাবেই এই ভয় আমাদের সাহায্য করে, এবং পবিত্র আত্মার ধন্য স্পর্শের মাধ্যমে অনুতাপ করতে সক্ষম করে। তৃতীয়টি হলো সন্দেহজনক ভয়। সন্দেহজনক ভয় যেহেতু হতাশায় টেনে নেয়, ঈশ্বর চান যেন ভালোবাসার জ্ঞানের মাধ্যমে তা আমাদের মধ্যে ভালোবাসায় পরিণত হয়: অর্থাৎ, সন্দেহের তিক্ততা যেন কৃপার মাধ্যমে স্বাভাবিক ভালোবাসার মাধুর্যে পরিণত হয়। কারণ ঈশ্বরের সেবকরা তাঁর কল্যাণে সন্দেহ করে, তা কখনোই আমাদের প্রভুর কাছে প্রীতিকর হতে পারে না। চতুর্থটি হলো শ্রদ্ধাশীল ভয়: কারণ আমাদের মধ্যে শ্রদ্ধাশীল ভয় ছাড়া অন্য কোনো ভয় ঈশ্বরকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারে না। এবং তা অত্যন্ত মৃদু, কারণ এটি যত বেশি থাকে, ভালোবাসার মাধুর্যের জন্য তত কম অনুভূত হয়।'''
* '''ভালোবাসা ও ভয় ভাই-বোন এবং তারা আমাদের স্রষ্টার কল্যাণে আমাদের মধ্যে প্রোথিত, এবং তারা কখনোই আমাদের থেকে চিরকাল দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে না। আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে ভালোবাসার এবং কৃপা দ্বারা ভালোবাসার ক্ষমতা আছে এবং আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে ভয়ের এবং কৃপা দ্বারা ভয়ের ক্ষমতা আছে।''' প্রভুত্ব ও পিতৃত্বের জন্য ভয় পাওয়া উচিত, যেমন কল্যাণের জন্য ভালোবাসা পাওয়া উচিত: এবং আমাদের জন্য, যারা তাঁর সেবক ও সন্তান, তাঁর প্রভুত্ব ও পিতৃত্বের জন্য তাঁকে ভয় করা উচিত, যেমন কল্যাণের জন্য তাঁকে ভালোবাসা উচিত।
* '''যদিও এই শ্রদ্ধাশীল-ভয় ও ভালোবাসা আলাদা নয়, তবুও তারা উভয়ই এক নয়, বরং তারা বৈশিষ্ট্য ও কাজে দুটি, এবং তাদের একটি ছাড়া অন্যটি পাওয়া যায় না। তাই আমি নিশ্চিত, যে ভালোবাসে, সে ভয়ও পায়, যদিও সে তা খুব কম অনুভব করে।'''
* শ্রদ্ধাশীল ভয় ছাড়া অন্য সব ভয় যা আমাদের সামনে আসে, যদিও তারা পবিত্রতার ছদ্মবেশে আসে তবুও তা তেমন সত্য নয়, এবং এর মাধ্যমে তারা আলাদাভাবে চেনা যায়। যে ভয় আমাদের তাড়াহুড়ো করে যা ভালো নয় তা থেকে পালাতে এবং আমাদের প্রভুর বুকে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে, যেমন শিশু মায়ের কোলে যায়, আমাদের সমস্ত উদ্দেশ্য ও মন নিয়ে, আমাদের দুর্বলতা ও মহান প্রয়োজন জেনে, তাঁর চিরন্তন কল্যাণ ও ধন্য ভালোবাসা জেনে, কেবল তাঁর কাছে পরিত্রাণ চেয়ে, নিশ্চিত ভরসার সাথে লেগে থাকা: যে ভয় আমাদের এই কাজে নিয়ে আসে, তা স্বাভাবিক, কৃপাপূর্ণ, ভালো ও সত্য। এবং যা এর বিপরীত, তা হয় ভুল, অথবা ভুলের সাথে মিশ্রিত। তখন প্রতিকার হলো এই দুটিকে চেনা এবং ভুলটিকে প্রত্যাখ্যান করা।
* পবিত্র আত্মার কৃপাপূর্ণ কাজের মাধ্যমে এই জীবনে আমাদের যে ভয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য আছে, স্বর্গে ঈশ্বরের সামনেও তা একই থাকবে, ভদ্র, বিনয়ী ও পরম আনন্দদায়ক। এবং এভাবেই আমরা ভালোবাসায় ঈশ্বরের প্রতি আপন ও নিকটবর্তী হব, এবং আমরা ভয়ে ঈশ্বরের প্রতি ভদ্র ও বিনয়ী হব। এবং উভয়ই সমান।
* আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে আমরা প্রার্থনা করি যেন আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ভয় করি, নম্রভাবে ভালোবাসি, শক্তভাবে বিশ্বাস করি। কারণ যখন আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ভয় করি এবং নম্রভাবে ভালোবাসি, তখন আমাদের বিশ্বাস কখনোই বৃথা যায় না। কারণ আমরা যত বেশি এবং যত শক্তভাবে বিশ্বাস করি, আমরা আমাদের প্রভুকে তত বেশি সন্তুষ্ট ও পূজা করি যাঁকে আমরা বিশ্বাস করি। এবং যদি আমরা এই শ্রদ্ধাশীল ভয় ও নম্র ভালোবাসায় ব্যর্থ হই (ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন!), তবে আমাদের বিশ্বাস সাময়িকভাবে ভুল পথে পরিচালিত হবে। এবং তাই আমাদের প্রভুর কাছে কৃপার জন্য প্রার্থনা করা খুব প্রয়োজন যেন আমরা তাঁর উপহার হিসেবে, হৃদয়ে ও কাজে এই শ্রদ্ধাশীল ভয় ও নম্র ভালোবাসা পাই। কারণ এটি ছাড়া, কেউ ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে না।
=== অধ্যায় ৭৫ ===
* আমি দেখলাম যে ঈশ্বর আমাদের যা প্রয়োজন তা করতে পারেন। এবং এই তিনটি যা আমি বলব আমাদের প্রয়োজন: ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা, মমতা। ভালোবাসায় মমতা আমাদের প্রয়োজনের সময়ে আমাদের রক্ষা করে এবং একই ভালোবাসায় আকাঙ্ক্ষা আমাদের স্বর্গে টেনে নেয়। কারণ ঈশ্বরের তৃষ্ণা হলো সাধারণ মানুষকে তাঁর কাছে পাওয়া। এই তৃষ্ণায় তিনি তাঁর পবিত্রদের টেনে নিয়েছেন যারা এখন আনন্দে আছে এবং তাঁর জীবন্ত সদস্যদের পেয়ে, তিনি সবসময় টেনে নেন ও পান করেন, এবং তবুও তিনি তৃষ্ণার্ত ও আকাঙ্ক্ষী থাকেন।
* আমি ঈশ্বরের মধ্যে তিন ধরণের আকাঙ্ক্ষা দেখলাম, এবং সবই এক লক্ষ্যের দিকে। যার একই রূপ আমাদের মধ্যেও আছে, এবং একই গুণের দ্বারা ও একই লক্ষ্যের জন্য। <br> প্রথমটি হলো, তিনি আমাদের শেখানোর জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন যেন আমরা তাঁকে জানি এবং তাঁকে চিরকাল ভালোবাসি, যেমনটি আমাদের জন্য সুবিধাজনক ও কল্যাণকর। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি আমাদের তাঁর আনন্দে টেনে নেওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন, যেমন আত্মা যখন বেদনা থেকে স্বর্গে নেওয়া হয়। তৃতীয়টি হলো আমাদের আনন্দে পূর্ণ করা এবং তা শেষ বিচারের দিনে হবে, চিরস্থায়ীভাবে পূর্ণ হবে। কারণ আমি দেখেছি, যেমন আমাদের বিশ্বাসে জানা আছে, যে যারা রক্ষা পাবে তাদের সবার বেদনা ও দুঃখ শেষ হবে। এবং আমরা কেবল সেই আনন্দই পাব না যা আত্মারা আগে স্বর্গে পেয়েছে, বরং আমরা একটি নতুন আনন্দও পাব, যা প্রচুরভাবে ঈশ্বর থেকে আমাদের মধ্যে প্রবাহিত হবে এবং আমাদের পূর্ণ করবে এবং এগুলোই সেই সামগ্রী যা তিনি শুরু থেকেই আমাদের দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করেছেন। এই সামগ্রীগুলো তাঁর নিজের মধ্যেই সঞ্চিত ও লুকানো আছে। কারণ সেই সময় পর্যন্ত প্রাণী তা পাওয়ার মতো শক্তিশালী বা যোগ্য নয়।
* এতে আমরা সত্যভাবে সেই সব জিনিসের কারণ দেখতে পাব যা তিনি করেছেন এবং সবসময় আমরা সেই সব জিনিসের কারণ দেখব যা তিনি সহ্য করেছেন। এবং আনন্দ ও পূর্ণতা এতটাই গভীর ও উচ্চ হবে যে, বিস্ময় ও আশ্চর্যের কারণে, সমস্ত প্রাণীর ঈশ্বরের প্রতি এত মহান শ্রদ্ধাশীল ভয় থাকবে, যা আগে দেখা ও অনুভূত হয়েছে তা ছাড়িয়ে, যে স্বর্গের স্তম্ভগুলো কাঁপবে। কিন্তু এই ধরণের কম্পন ও ভয়ের কোনো বেদনা থাকবে না। বরং ঈশ্বরের যোগ্য শক্তির জন্যই প্রাণীদের দ্বারা এভাবে দেখা, মহান ভয়ে নম্রতার জন্য কাঁপতে কাঁপতে, স্রষ্টা ঈশ্বরের মহানতা এবং যা সৃষ্টি হয়েছে তার ক্ষুদ্রতার প্রতি বিস্মিত হতে হয়। কারণ এটি দেখা প্রাণীটিকে চমৎকারভাবে নম্র ও মৃদু করে তোলে। <br> তাই ঈশ্বর চান এবং এটি আমাদের প্রকৃতি ও কৃপা উভয় দিক থেকেই উচিত। যেন আমরা এটি সম্পর্কে জানি ও বুঝি, এই দর্শন ও কাজ কামনা করি। কারণ এটি আমাদের সঠিক পথে নিয়ে যায়, এবং সত্য জীবনে আমাদের রাখে, এবং ঈশ্বরের সাথে আমাদের একীভূত করে। এবং ঈশ্বর যতটা ভালো, তিনি ততটাই মহান এবং তাঁর কল্যাণকে ভালোবাসা যতটা উচিত, তাঁর মহানতাকে ভয় করাও ততটাই উচিত। কারণ এই শ্রদ্ধাশীল ভয়ই হলো সেই সুন্দর সৌজন্য যা স্বর্গে ঈশ্বরের মুখের সামনে আছে। এবং তিনি এখন যতটা পরিচিত ও সমাদৃত, তখন তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি পরিচিত ও সমাদৃত হবেন, যতটা তিনি এখন, তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি ভয় পাবেন। <br> তাই স্তম্ভগুলো কাঁপলে আকাশ ও পৃথিবী যে কাঁপবে, তা হওয়া অনিবার্য।
=== অধ্যায় ৭৬ ===
[[File:Bischheim Temple38.JPG|thumb|আমি মমতার দর্শনে বুঝেছিলাম।]]
* '''আমি শ্রদ্ধাশীল ভয় সম্পর্কে খুব কম বলি, কারণ আমার আশা আছে এটি উপরের এই বিষয়ে দেখা যেতে পারে। কিন্তু আমি জানি আমাদের প্রভু আমাকে এমন কোনো আত্মা দেখাননি যারা তাঁকে ভয় পায় না। কারণ আমি জানি যে আত্মা সত্যিকার অর্থে পবিত্র আত্মার শিক্ষা গ্রহণ করে, তা পাপকে তার জঘন্যতা ও ভয়াবহতার জন্য নরকে থাকা সমস্ত বেদনার চেয়েও বেশি ঘৃণা করে।''' কারণ যে আত্মা আমাদের প্রভু যিশুর সুন্দর প্রকৃতির দিকে তাকায়, আমার দৃষ্টিতে সে পাপ ছাড়া কোনো নরক ঘৃণা করে না। এবং তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা পাপকে জানি, এবং ব্যস্তভাবে প্রার্থনা করি ও আন্তরিকভাবে পরিশ্রম করি এবং নম্রভাবে শিক্ষা খুঁজি যেন আমরা অন্ধভাবে তার মধ্যে না পড়ি। এবং যদি আমরা পড়ি, তবে আমরা যেন দ্রুত উঠে পড়ি। কারণ পাপের দ্বারা কোনো সময় ঈশ্বর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আত্মার জন্য সবচেয়ে বড় বেদনা।
* '''যে আত্মা বিশ্রামে থাকতে চায় যখন অন্য মানুষের পাপ মনে পড়ে, সে তাকে নরকের বেদনার মতো পালাবে, প্রতিকারের জন্য ঈশ্বরের কাছে খুঁজবে, এর বিরুদ্ধে সাহায্যের জন্য।''' কারণ অন্য মানুষের পাপের দিকে তাকানো আত্মার চোখের সামনে একটি ঘন কুয়াশার মতো তৈরি করে, এবং আমরা সেই সময়ের জন্য ঈশ্বরের সৌন্দর্য দেখতে পাই না, যদি না আমরা তার সাথে অনুতাপের সাথে, তার প্রতি মমতার সাথে এবং তার জন্য ঈশ্বরের প্রতি পবিত্র আকাঙ্ক্ষার সাথে তাদের দেখতে পাই। কারণ এটি ছাড়া, যে তাদের দেখে সেই আত্মাকে তা ক্ষতি করে, উদ্বিগ্ন করে ও বাধা দেয়। কারণ আমি মমতার দর্শনে এটি বুঝেছিলাম।
* '''আমাদের প্রভুর এই আনন্দময় দর্শনে আমি দুটি বিপরীত জিনিসের বোধ পেয়েছি: একটি হলো এই জীবনে কোনো প্রাণীর সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা, অন্যটি হলো সবচেয়ে বড় মূর্খতা।''' সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা হলো একটি প্রাণীর তার সর্বোচ্চ সার্বভৌম বন্ধুর ইচ্ছা ও পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা। এই ধন্য বন্ধু হলেন যিশু, এবং এটি তাঁর ইচ্ছা ও তাঁর পরামর্শ যে আমরা তাঁর সাথে থাকি, এবং তাঁর সাথে আপন হয়ে লেগে থাকি। চিরকাল, আমরা যে অবস্থাতেই থাকি না কেন। কারণ আমরা অপরিষ্কার বা পরিষ্কার যাই হই না কেন, তাঁর ভালোবাসায় আমরা সবাই এক। সুখ বা দুঃখের জন্য তিনি কখনোই চান না যেন আমরা তাঁর থেকে পালাই। কিন্তু আমাদের নিজেদের যে পরিবর্তনশীলতা আছে তার কারণে, আমরা প্রায়শই পাপে পড়ি। তখন আমাদের শত্রুর তাড়নায় এবং আমাদের নিজস্ব মূর্খতা ও অন্ধত্বের কারণে এটি ঘটে: কারণ তারা এভাবে বলে: ''তুমি দেখছ যে তুমি একজন জঘন্য প্রাণী, একজন পাপী, এবং অবিশ্বস্তও। কারণ তুমি আদেশ পালন করছ না; তুমি বারবার আমাদের প্রভুর কাছে প্রতিজ্ঞা করছ যে তুমি ভালো হবে, এবং তারপরেই, তুমি আবার একই পাপে পড়ছ, বিশেষ করে অলসতা ও সময় নষ্ট করায়।'' কারণ আমার দৃষ্টিতে এটিই পাপের শুরু এবং বিশেষ করে সেই প্রাণীদের জন্য যারা তাদের ধন্য কল্যাণের অভ্যন্তরীণ দর্শনের সাথে আমাদের প্রভুর সেবা করতে নিজেদের দিয়েছে। এবং এটি আমাদের আমাদের সৌজন্যশীল প্রভুর সামনে উপস্থিত হতে ভয় দেখায়। '''এভাবেই আমাদের শত্রু আমাদের তার মিথ্যা ভয় দিয়ে, আমাদের জঘন্যতার, সেই বেদনা দিয়ে যা সে আমাদের হুমকি দেয়, পিছিয়ে দিতে চায়। কারণ তার অর্থ হলো আমাদের এত ভারাক্রান্ত ও ক্লান্ত করা, যেন আমাদের চিরন্তন বন্ধুর সুন্দর, আনন্দময় দর্শন মন থেকে মুছে ফেলি।'''
=== অধ্যায় ৭৭ ===
* '''আমাদের ভালো প্রভু শয়তানের শত্রুতা দেখালেন: যে দর্শনে আমি বুঝলাম যে ভালোবাসা ও শান্তির বিপরীত সবকিছুই শয়তানের ও তার অংশের।''' এবং আমাদের, আমাদের দুর্বলতা ও মূর্খতার কারণে, পড়ার প্রবণতা আছে। এবং আমাদের, পবিত্র আত্মার দয়া ও কৃপার কারণে, আরও আনন্দে ওঠার সুযোগ আছে।
* আসুন আমাদের চিন্তায় এভাবে বলি: ''আমি জানি আমার তীব্র বেদনা আছে। কিন্তু আমাদের প্রভু সর্বশক্তিমান এবং আমাকে শক্তভাবে শাস্তি দিতে পারেন এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং আমাকে বুঝেশুনে শাস্তি দিতে পারেন; এবং তিনি সর্ব-কল্যাণ এবং আমাকে খুব কোমলভাবে ভালোবাসেন।'' এবং এই দর্শনে আমাদের অবস্থান করা প্রয়োজন। কারণ এটি একটি পাপী আত্মার প্রেমময় নম্রতা, যা পবিত্র আত্মার দয়া ও কৃপায় তৈরি, যখন আমরা স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে আমাদের প্রভুর চাবুক ও শাসন গ্রহণ করি যা তিনি নিজে আমাদের দেবেন। এবং এটি খুব কোমল ও সহজ হবে, যদি আমরা কেবল তাঁর সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে সন্তুষ্ট থাকি।
* মানুষ নিজে যে প্রায়শ্চিত্ত গ্রহণ করে তা আমাকে দেখানো হয়নি: অর্থাৎ, তা নির্দিষ্ট করে দেখানো হয়নি। কিন্তু বিশেষভাবে ও উঁচুমানে এবং খুব প্রেমময় দৃষ্টিতে এটি দেখানো হয়েছিল যে, আমাদের নম্রভাবে বহন করতে হবে ও সহ্য করতে হবে সেই প্রায়শ্চিত্ত যা ঈশ্বর নিজে আমাদের দেন, তাঁর ধন্য দুঃখভোগের স্মরণের সাথে।
* তিনি বলেন:''' ''নিজেকে খুব বেশি দোষ দিও না, এই ভেবে যে তোমার কষ্ট ও তোমার শোক সব তোমার দোষের জন্য। কারণ আমি চাই না তুমি অবিবেচকের মতো ভারাক্রান্ত বা শোকাহত হও। কারণ আমি তোমাকে বলি, তুমি যা-ই করো না কেন, তোমার দুঃখ থাকবেই। এবং তাই আমি চাই তুমি বুদ্ধিমত্তার সাথে তোমার প্রায়শ্চিত্ত জানো; এবং সত্যে দেখবে যে তোমার সমস্ত জীবনই লাভজনক প্রায়শ্চিত্ত।'' '''
* এই স্থানটি কারাগার এবং এই জীবনটি প্রায়শ্চিত্ত, এবং প্রতিকারে তিনি চান যেন আমরা আনন্দ করি। প্রতিকার হলো আমাদের প্রভু আমাদের সাথে আছেন, রক্ষা করছেন এবং আনন্দের পূর্ণতায় নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে এটি আমাদের জন্য এক অন্তহীন আনন্দ, যে তিনি, যিনি আমাদের সুখ হবেন যখন আমরা সেখানে থাকব, তিনিই আমাদের রক্ষক যখন আমরা এখানে আছি। আমাদের পথ ও আমাদের স্বর্গ হলো প্রকৃত ভালোবাসা ও নিশ্চিত ভরসা এবং এর সবকিছুর বিষয়ে তিনি বোধ দিয়েছেন এবং বিশেষ করে দুঃখভোগের দর্শনে যেখানে তিনি আমাকে আমার স্বর্গ হিসেবে তাঁকে বেছে নিতে শক্তভাবে উৎসাহিত করেছেন।
* আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু চান যেন আমরা তাঁর সাথে এতটাই আপন হই যতটা হৃদয় ভাবতে পারে বা আত্মা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে। কিন্তু সাবধান, আমরা যেন এই আপনতাকে এত বেপরোয়াভাবে না নিই যে সৌজন্য হারিয়ে ফেলি। কারণ আমাদের প্রভু নিজে পরম আপনতা, এবং তিনি যতটা আপন, ততটাই সৌজন্যশীল: কারণ তিনি সত্যই সৌজন্যশীল। এবং ধন্য প্রাণীরা যারা চিরকাল তাঁর সাথে স্বর্গে থাকবে, তিনি চান তারা যেন সব কিছুতে তাঁর মতো হয়। এবং আমাদের প্রভুর মতো পুরোপুরি হওয়া, তা-ই আমাদের প্রকৃত পরিত্রাণ ও আমাদের পূর্ণ আনন্দ।
=== অধ্যায় ৭৮ ===
* আমাদের প্রভু তাঁর দয়া ও কৃপার মিষ্টি আলোতে আমাদের পাপ ও দুর্বলতা দেখান। কারণ আমাদের পাপ এতটাই জঘন্য ও ভয়াবহ যে তিনি তাঁর সৌজন্যে তা আমাদের সামনে দেখাবেন না যদি না তাঁর কৃপা ও দয়ার আলোতে।
* তাই চারটি জিনিসের জ্ঞান তাঁর ইচ্ছা: প্রথমটি হলো, তিনি আমাদের ভিত্তি যার থেকে আমরা আমাদের সমস্ত জীবন ও অস্তিত্ব পাই। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি আমাদের পাপের সময়ে এবং আমাদের সমস্ত শত্রুদের মাঝে, যারা আমাদের ওপর খুব ক্রুদ্ধ, আমাদের শক্তভাবে ও দয়াপূর্বক রক্ষা করেন; এবং আমরা এতটাই বেশি বিপদে আছি কারণ আমরা তাদের সুযোগ দিই, এবং আমাদের নিজস্ব প্রয়োজন জানি না। তৃতীয়টি হলো, তিনি কত সৌজন্যের সাথে আমাদের রক্ষা করেন, এবং ''আমাদের জানতে সাহায্য করেন'' যে আমরা ভুল পথে চলছি। চতুর্থটি হলো, তিনি কত অটলভাবে আমাদের জন্য অপেক্ষা করেন এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেন না। কারণ তিনি চান যেন আমরা পরিবর্তিত হই এবং ভালোবাসায় তাঁর সাথে একীভূত হই যেমন তিনি আমাদের সাথে।
* এভাবেই এই কৃপাপূর্ণ জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা হতাশ না হয়ে লাভজনকভাবে আমাদের পাপ দেখতে পারি।
* আমাদের প্রভু আমাদের যা দেখান তার কম দর্শনের মাধ্যমে, যা আমরা দেখি না তা আরও বেশি গণনা করা হয়। কারণ তিনি তাঁর সৌজন্যে আমাদের দর্শন পরিমাপ করেন। কারণ এটি এতটাই জঘন্য ও ভয়াবহ যে আমরা তা যেভাবে আছে সেভাবে সহ্য করতে পারতাম না।
* আমি শিখলাম যে যদিও আমরা আমাদের প্রভুর বিশেষ উপহার দ্বারা ধ্যানের জন্য উঁচুতে উত্তোলিত হই, তবুও আমাদের পাপ ও দুর্বলতার জ্ঞান ও দর্শন থাকা প্রয়োজন। কারণ এই জ্ঞান ছাড়া আমাদের প্রকৃত নম্রতা থাকতে পারে না, এবং এটি ছাড়া আমরা রক্ষা পেতে পারি না। <br> এবং পরে, আমি আরও দেখলাম যে আমরা এই জ্ঞান আমাদের নিজেদের থেকে পেতে পারি না। আমাদের কোনো আধ্যাত্মিক শত্রুর থেকেও না। কারণ তারা আমাদের এত বড় মঙ্গল চায় না। কারণ যদি তা তাদের ইচ্ছা হতো, তবে আমাদের শেষ দিন পর্যন্ত আমরা তা দেখতাম না। তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছে বড়ই ঋণী যে তিনি নিজে, ভালোবাসার জন্য, দয়া ও কৃপার সময়ে এটি আমাদের দেখাবেন।
=== অধ্যায় ৭৯ ===
* তিনি যে আমাকে দেখালেন যে আমি পাপ করব, আমি তা কেবল আমার নিজের একক ব্যক্তির জন্য নিলাম, কারণ সেই সময়ে আমি অন্য কিছু দেখানো হয়নি। কিন্তু আমাদের প্রভুর মহান, কৃপাপূর্ণ সান্ত্বনার দ্বারা যা পরে এসেছিল, আমি দেখলাম যে তাঁর অর্থ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য: অর্থাৎ, সব-মানুষ; যে পাপী এবং শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে। যার আমি একজন সদস্য, যেমন আমি আশা করি, ঈশ্বরের দয়ায়। কারণ আমি যে ধন্য সান্ত্বনা দেখেছি, তা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট। '''এবং এখানে আমি শিখলাম যে আমার নিজের পাপ দেখা উচিত, এবং অন্য মানুষের পাপ নয় যদি না তা আমার সহ-খ্রিষ্টানদের সান্ত্বনা ও সাহায্যের জন্য হয়।'''
* এছাড়া একই দর্শনে যেখানে আমি দেখলাম যে আমি পাপ করব, সেখানে আমি নিজেকে অনিশ্চয়তার জন্য ভয় পেতে শিখলাম। কারণ আমি জানি না আমি কীভাবে পড়ব, বা আমি পাপের পরিমাণ বা মহানতা জানি না। কারণ আমি তা ভয়ের সাথে জানতে চেয়েছিলাম, এবং তার জন্য আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না। <br> এছাড়া আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু একই সময়ে তাঁর ভালোবাসার অন্তহীনতা ও অপরিবর্তনীয়তা খুব নিশ্চিতভাবে ও শক্তভাবে দেখালেন; এবং, পরে, যে তাঁর মহান কল্যাণ ও তাঁর কৃপা অভ্যন্তরীণভাবে রক্ষা করায়, তাঁর ভালোবাসা ও আমাদের আত্মা কখনোই দুই ভাগে বিভক্ত হবে না, চিরকাল। <br> এবং এভাবেই এই ভয়ে আমার নম্রতার সামগ্রী আছে যা আমাকে অহংকার থেকে বাঁচায়, এবং ভালোবাসার ধন্য দর্শনে আমার প্রকৃত সান্ত্বনা ও আনন্দের সামগ্রী আছে যা আমাকে হতাশা থেকে বাঁচায়।
* তিনি চান যেন আমরা তাঁর মাধুর্য ও আপন ভালোবাসার মাধ্যমে জানি যে, আমরা ভেতরে বা বাইরে যা কিছু দেখি বা অনুভব করি, যা এর বিপরীত তা শত্রুর এবং ঈশ্বরের নয়। এবং এভাবেই যদি আমরা আমাদের জীবন বা আমাদের হৃদয়ের রক্ষার ব্যাপারে আরও বেপরোয়া হতে অনুপ্রাণিত হই কারণ আমরা এই প্রচুর ভালোবাসার জ্ঞান পেয়েছি। তবে আমাদের খুব সাবধান হতে হবে। কারণ এই অনুপ্রেরণা, যদি আসে, তা সত্য নয় এবং আমাদের এটিকে ঘৃণা করা উচিত, কারণ এর সবকিছুর ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে কোনো মিল নেই। এবং যখন আমরা পড়ি, দুর্বলতা বা অন্ধত্বে, তখন আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আমাদের স্পর্শ করেন ও অনুপ্রাণিত করেন ও ডাকেন এবং তখন তিনি চান যেন আমরা আমাদের জঘন্যতা দেখি এবং নম্রভাবে তা সচেতন হই। কিন্তু তিনি চান না যে আমরা এভাবে থাকি, না তিনি চান যে আমরা আমাদের অভিযোগের ব্যাপারে খুব ব্যস্ত থাকি, না তিনি চান যে আমরা নিজেদের নিয়ে জঘন্য হই। কিন্তু তিনি চান যেন আমরা দ্রুত নিজেদের তাঁর দিকে ফেরাই। কারণ তিনি সব দূরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং শোকাতুর ও দুঃখিত হয়ে অপেক্ষা করেন যতক্ষণ না আমরা আসি এবং আমাদের তাঁর কাছে পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেন। কারণ আমরাই তাঁর আনন্দ ও তাঁর সুখ এবং তিনি আমাদের মলম ও আমাদের জীবন।
=== অধ্যায় ৮০ ===
* তিনটি জিনিসের মাধ্যমে মানুষ এই জীবনে দাঁড়িয়ে থাকে। যার মাধ্যমে তিনটি ঈশ্বর পূজিত হন, এবং আমরা দ্রুতগতিতে, সংরক্ষিত ও রক্ষিত হই। <br> প্রথমটি হলো মানুষের স্বাভাবিক যুক্তির ব্যবহার। দ্বিতীয়টি হলো পবিত্র গির্জার সাধারণ শিক্ষা। তৃতীয়টি হলো পবিত্র আত্মার অভ্যন্তরীণ কৃপাপূর্ণ কাজ। এবং এই তিনটিই এক ঈশ্বরের: ঈশ্বর আমাদের স্বাভাবিক যুক্তির ভিত্তি এবং ঈশ্বর, পবিত্র গির্জার শিক্ষা এবং ঈশ্বর হলেন পবিত্র আত্মা। এবং সব ভিন্ন ভিন্ন উপহার যার প্রতি তিনি চান যেন আমরা বড় মনোযোগ দিই, এবং তার প্রতি মনোযোগী হই। কারণ এগুলো আমাদের মধ্যে অবিরাম একসাথে কাজ করে এবং এগুলো মহান জিনিস।
* তিনি এখানে আমাদের সাথে বাস করেন এবং এই জীবনে আমাদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তাঁর আনন্দে নিয়ে আসেন। এবং তিনি তা করবেন যতদিন পৃথিবীতে কোনো আত্মা থাকবে যে স্বর্গে আসবে এবং এতটাই যে যদি এমন কোনো আত্মা না থাকত কিন্তু একজন, তবে তিনি তার সাথে একা থাকতেন যতক্ষণ না তাকে তাঁর আনন্দে নিয়ে আসতেন।
* '''আমি ফেরেশতাদের পরিচর্যায় বিশ্বাস করি ও বুঝি, যেমন যাজকরা আমাদের বলেন: কিন্তু তা আমাকে দেখানো হয়নি। কারণ তিনি নিজেই নিকটতম ও নম্রতম, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন, এবং সব করেন।''' এবং কেবল আমাদের যা প্রয়োজন তা-ই নয় বরং তিনি সব করেন যা পূজনীয়, স্বর্গে আমাদের আনন্দের জন্য।
* যেখানে আমি বলি যে তিনি শোকাতুর ও আর্তনাদ করে অপেক্ষা করেন, তার অর্থ হলো সেই সমস্ত প্রকৃত অনুভূতি যা ''আমাদের'' নিজেদের মধ্যে আছে, অনুতাপ ও মমতায়, এবং সমস্ত শোক ও আর্তনাদ যে আমরা আমাদের প্রভুর সাথে একীভূত নই। এবং এই সমস্ত যা দ্রুতগতিতে কাজ করে, তা আমাদের মধ্যে খ্রিষ্ট। এবং যদিও আমাদের কেউ কেউ তা খুব কম অনুভব করে, তা খ্রিষ্ট থেকে কখনোই দূরে সরে যায় না যতক্ষণ না তিনি আমাদের সমস্ত বেদনা থেকে বের করে আনেন। '''কারণ ভালোবাসা কখনোই মমতা ছাড়া থাকতে পারে না।'''
=== অধ্যায় ৮১ ===
[[File:Image of Julian of Norwich.jpg|thumb|আমাদের ভালো ঈশ্বর নিজেকে বিভিন্ন ভাবে দেখিয়েছেন স্বর্গে ও পৃথিবীতে, কিন্তু আমি দেখলাম তিনি মানুষের আত্মা ছাড়া আর কোনো স্থান নেননি।]]
* '''আমাদের ভালো প্রভু নিজেকে বিভিন্ন ভাবে দেখিয়েছেন স্বর্গে ও পৃথিবীতে, কিন্তু আমি দেখলাম তিনি মানুষের আত্মায় ছাড়া আর কোনো স্থান নেননি।''' <br> তিনি পৃথিবীতে নিজেকে দেখিয়েছেন মিষ্টি অবতাররূপে এবং তাঁর ধন্য দুঃখভোগে। এবং অন্য ভাবে তিনি নিজেকে পৃথিবীতে দেখিয়েছেন যেখানে আমি বলি: ''আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখলাম''। এবং অন্য ভাবে তিনি নিজেকে পৃথিবীতে দেখিয়েছেন এইভাবে যেন তীর্থযাত্রায়: অর্থাৎ, '''তিনি এখানে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এবং থাকবেন যতক্ষণ না তিনি আমাদের সবাইকে স্বর্গে তাঁর আনন্দে নিয়ে আসছেন।''' তিনি নিজেকে বিভিন্ন সময়ে রাজত্ব করতে দেখিয়েছেন, যেমনটি উপরে বলা হয়েছে; কিন্তু প্রধানত মানুষের আত্মায়। তিনি সেখানে তাঁর বিশ্রামের স্থান ও তাঁর পূজনীয় নগরী নিয়েছেন: যে পূজনীয় আসন থেকে তিনি কখনোই উঠবেন না বা সরবেন না চিরকাল।
* চমৎকার ও রাজকীয় সেই স্থান যেখানে প্রভু বাস করেন, এবং তাই তিনি চান যেন আমরা তাঁর কৃপাপূর্ণ স্পর্শে দ্রুত সাড়া দিই, আমাদের ঘন ঘন পতনে শোক করার চেয়ে তাঁর অখণ্ড ভালোবাসায় বেশি আনন্দ করি। কারণ এটি তাঁর কাছে আমাদের যেকোনো কাজের চেয়ে সবচেয়ে বড় পূজা যে, আমরা আমাদের প্রায়শ্চিত্তে, তাঁর ভালোবাসার জন্য, আনন্দ ও খুশিতে বেঁচে থাকি। '''কারণ তিনি আমাদের এতটাই কোমলভাবে দেখেন যে তিনি আমাদের সমস্ত জীবনকে একটি প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে দেখেন:''' কারণ আমাদের মধ্যে প্রকৃতির আকাঙ্ক্ষা তাঁর কাছে আমাদের মধ্যে চিরস্থায়ী প্রায়শ্চিত্ত: যে প্রায়শ্চিত্ত তিনি আমাদের মধ্যে কাজ করেন এবং দয়াপূর্বক তিনি তা বহন করতে আমাদের সাহায্য করেন। কারণ তাঁর ভালোবাসা ''তাঁকে'' আকাঙ্ক্ষা করতে বাধ্য করে; তাঁর প্রজ্ঞা ও তাঁর সত্য তাঁর ন্যায্যতার সাথে ''তাঁকে'' আমাদের এখানে সহ্য করতে বাধ্য করে: এবং একই ভাবে তিনি আমাদের মধ্যে তা দেখতে চান।
* '''তিনি চান যেন আমরা আমাদের হৃদয়গুলোকে অতিক্রমের ওপর স্থাপন করি: অর্থাৎ, আমরা যে বেদনা অনুভব করি তা থেকে আমরা যে আনন্দের ওপর ভরসা করি তাতে।'''
=== অধ্যায় ৮২ ===
[[File:Taijitu polarity.PNG|thumb|এখানে আমি বুঝেছিলাম যে প্রভু সেবককে মমতার সাথে দেখেন এবং দোষের সাথে নয়।]]
[[File:Blake jacobsladder.jpg|thumb|যদি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রেমিক থাকে যে পতনের হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষা পায়, তবে আমি তা জানি না। কারণ তা আমাকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এটি দেখানো হয়েছিল: যে পতনে ও উত্থানে আমরা চিরকাল এক ভালোবাসায় মূল্যবানভাবে সংরক্ষিত।]]
* '''কিন্তু এখানে আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আত্মার আর্তনাদ ও শোক দেখালেন, এইভাবে নির্দেশ করে: আমি ভালো জানি তুমি আমার ভালোবাসার জন্য বাঁচতে চাও, আনন্দের সাথে ও খুশিতে সেই সমস্ত প্রায়শ্চিত্ত সহ্য করে যা তোমার কাছে আসতে পারে; কিন্তু যেহেতু তুমি পাপ ছাড়া বাঁচো না, তুমি আমার ভালোবাসার জন্য সহ্য করতে চাইতে, সমস্ত দুঃখ, সমস্ত কষ্ট ও দুর্দশা যা তোমার কাছে আসতে পারে। এবং তা সত্য।''' কিন্তু তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে পাপ তোমার ওপর পড়ে তা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হয়ো না। <br> '''এবং এখানে আমি বুঝলাম যে প্রভু সেবককে মমতার সাথে দেখেন এবং দোষের সাথে নয়।''' কারণ এই ক্ষণস্থায়ী জীবন সব দোষ ও পাপ ছাড়া বাঁচার দাবি করে না।
* '''যদি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রেমিক থাকে যে পতনের হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষা পায়, তবে আমি তা জানি না। কারণ তা আমাকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এটি দেখানো হয়েছিল। যে পতনে ও উত্থানে আমরা চিরকাল এক ভালোবাসায় মূল্যবানভাবে সংরক্ষিত।''' কারণ ঈশ্বরের দর্শনে আমরা পড়ি না, এবং নিজেদের দর্শনে আমরা দাঁড়াই না এবং আমার দৃষ্টিতে এই উভয়ই সত্য। কিন্তু আমাদের প্রভু ঈশ্বরের দর্শন হলো সর্বোচ্চ সত্য। তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছে খুব ঋণী যে তিনি এই জীবনে আমাদের এই উচ্চ সত্য দেখাতে চান। এবং আমি বুঝলাম যে আমরা যখন এই জীবনে থাকি, আমাদের জন্য খুব দ্রুতগতিতে কাজ করে যে আমরা একই সাথে এই দুটি দেখি। কারণ উচ্চতর দর্শন আমাদের আধ্যাত্মিক শান্তি ও ঈশ্বরে প্রকৃত আনন্দে রাখে। অন্যটি যা নিম্নতর দর্শন তা আমাদের ভয়ে রাখে এবং নিজেদের নিয়ে লজ্জিত করে। কিন্তু আমাদের ভালো প্রভু সবসময় চান যেন আমরা উচ্চতর দর্শনে নিজেদের অনেক বেশি রাখি, এবং নিম্নতর দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান ত্যাগ না করি, যতক্ষণ না আমরা ওপরে উঠে আসি, যেখানে আমরা আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের পুরস্কার হিসেবে পাব এবং চিরকাল আনন্দ ও সুখে পূর্ণ হব।
=== অধ্যায় ৮৩ ===
* আমি ঈশ্বরের তিনটি বৈশিষ্ট্যের স্পর্শ, দর্শন ও অনুভূতি কিছুটা পেয়েছিলাম, যার মধ্যে সমস্ত প্রত্যাদেশের শক্তি ও প্রভাব দাঁড়িয়ে আছে: এবং তারা প্রতিটি দর্শনে দেখা গিয়েছিল, এবং দ্বাদশ দর্শনে সবচেয়ে যথাযথভাবে, যেখানে এটি বারবার বলে: '''বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: জীবন, ভালোবাসা এবং আলো।''' জীবনে আছে চমৎকার আপনতা, এবং ভালোবাসায় আছে ভদ্র সৌজন্য, এবং আলোতে আছে অন্তহীন প্রকৃতি-সত্তা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি কল্যাণে ছিল: যে কল্যাণের সাথে আমার যুক্তি একীভূত হতে চাইত, এবং তার সমস্ত শক্তি দিয়ে তা আঁকড়ে ধরতে চাইত।
* আমি শ্রদ্ধাশীল ভয়ে তাকালাম, এবং মিষ্টি ঐক্যের দর্শন ও অনুভূতির মধ্যে খুব বিস্মিত হলাম, যে আমাদের যুক্তি ঈশ্বরের মধ্যে আছে; বুঝে যে এটি আমাদের পাওয়া সর্বোচ্চ উপহার; এবং এটি প্রকৃতিতে ভিত্তি করা।
* আমাদের বিশ্বাস আমাদের অন্তহীন দিন থেকে প্রকৃতিগতভাবে আসা একটি আলো, যিনি আমাদের পিতা, ঈশ্বর। যে আলোতে আমাদের মা, খ্রিষ্ট, এবং আমাদের ভালো প্রভু, পবিত্র আত্মা, আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে নেতৃত্ব দেন। '''এই আলোটি বিচক্ষণতার সাথে পরিমাপ করা হয়, রাতে আমাদের জন্য প্রয়োজনের সাথে দাঁড়িয়ে। আলো আমাদের জীবনের কারণ৷ রাত আমাদের বেদনা ও আমাদের সমস্ত দুঃখের কারণ: যে রাতে আমরা ঈশ্বরের পুরস্কার ও ধন্যবাদ অর্জন করি।''' কারণ আমরা, দয়া ও কৃপার সাথে, অটলভাবে আমাদের আলোকে জানি ও বিশ্বাস করি, তাতে বুদ্ধিমত্তার সাথে ও শক্তভাবে চলি।
* এভাবেই আমি দেখলাম ও বুঝলাম যে আমাদের বিশ্বাস আমাদের রাতে আমাদের আলো: যে আলো হলো ঈশ্বর, আমাদের অন্তহীন দিন।
=== অধ্যায় ৮৪ ===
* '''আলো হলো দাতব্য, এবং এই আলোর পরিমাপ আমাদের জন্য ঈশ্বরের প্রজ্ঞা দ্বারা লাভজনকভাবে করা হয়।''' কারণ আলো এত বড় নয় যে আমরা আমাদের আনন্দময় দিন দেখতে পাই, আবার এটি আমাদের থেকে বন্ধও নয়; বরং এটি এমন একটি আলো যাতে আমরা পুরস্কারের যোগ্যভাবে বাঁচতে পারি, পরিশ্রমের সাথে ঈশ্বরের অন্তহীন পূজার যোগ্য হয়ে।
* '''দাতব্য আমাদের বিশ্বাস ও আশায় রাখে, এবং আশা আমাদের দাতব্য কাজে নেতৃত্ব দেয়। এবং শেষে সবকিছুই হবে দাতব্য।'''
* আমি এই আলো, দাতব্যের তিন ধরণের বোধ পেয়েছিলাম। প্রথমটি হলো অনির্মিত দাতব্য; দ্বিতীয়টি হলো নির্মিত দাতব্য। তৃতীয়টি হলো প্রদত্ত দাতব্য। অনির্মিত দাতব্য হলো ঈশ্বর। নির্মিত দাতব্য হলো ঈশ্বরে আমাদের আত্মা। প্রদত্ত দাতব্য হলো গুণ। এবং তা কাজের এক মূল্যবান উপহার যাতে আমরা ঈশ্বরকে ভালোবাসি, তাঁর নিজের জন্য; এবং নিজেদের, ঈশ্বরের মধ্যে এবং যা ঈশ্বর ভালোবাসেন, ঈশ্বরের জন্য।
=== অধ্যায় ৮৫ ===
* এই দর্শনে আমি খুব বিস্মিত হলাম। কারণ আমাদের সহজ জীবন ও আমাদের অন্ধত্ব থাকা সত্ত্বেও, চিরকাল আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আমাদের এই কাজে দেখেন, আনন্দে এবং সবকিছুর মধ্যে, আমরা তাঁকে বিশ্বাস করতে এবং তাঁর সাথে ও তাঁর মধ্যে আনন্দ করতে সবচেয়ে ভালো প্রজ্ঞার সাথে ও সত্যভাবে সন্তুষ্ট করতে পারি। কারণ আমরা যেমন চিরকাল ঈশ্বরের আনন্দে থাকব, তাঁকে প্রশংসা ও ধন্যবাদ দিয়ে, ঠিক তেমনই আমরা ঈশ্বরের দূরদৃষ্টিতে আছি, তাঁর অন্তহীন উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই পরিচিত ও সমাদৃত। যে অনাদি ভালোবাসায় তিনি আমাদের তৈরি করেছেন এবং একই ভালোবাসায় তিনি আমাদের রক্ষা করেন এবং কখনোই আমাদের আঘাত পেতে দেন না যার দ্বারা আমাদের আনন্দ হারিয়ে যেতে পারে। '''এবং তাই যখন বিচার দেওয়া হয় এবং আমরা সবাই ওপরে উঠে আসি, তখন আমরা স্পষ্টভাবে ঈশ্বরের মধ্যে গোপন জিনিসগুলো দেখতে পাব যা এখন আমাদের কাছে লুকানো আছে।''' তখন আমাদের কেউই কোনোভাবে বলতে অনুপ্রাণিত হব না: ''প্রভু, যদি এমন হতো, তবে তা খুব ভালো হতো'' বরং আমরা সবাই এক স্বরে বলব: ''প্রভু, তুমি ধন্য হও, কারণ এটি এমন: এটি ভালো; এবং এখন আমরা সত্যভাবে দেখছি যে সবকিছুই করা হয়েছে যেমনটি তখন নির্ধারিত ছিল কোনো কিছু তৈরি হওয়ার আগে।''
=== অধ্যায় ৮৬ ===
[[File:Double-alaskan-rainbow.jpg|thumb|তুমি কি এই বিষয়ে তোমার প্রভুর অর্থ জানতে চাও? ভালো করে জানো: ভালোবাসা ছিল তাঁর অর্থ। কে তোমাকে এটি দেখিয়েছে? ভালোবাসা। তিনি তোমাকে কী দেখিয়েছেন? ভালোবাসা। কেন তিনি এটি দেখিয়েছেন? ভালোবাসার জন্য। এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো এবং তুমি একই বিষয়ে আরও শিখবে ও জানবে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্য কিছু জানবে না বা শিখবে না। এভাবেই আমি শিখলাম যে ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রভুর অর্থ।]]
* এই বইটি ঈশ্বরের উপহার ও তাঁর কৃপা দ্বারা শুরু হয়েছে, কিন্তু তা এখনও সম্পন্ন হয়নি, আমার দৃষ্টিতে।
* '''দাতব্যের জন্য আমরা সবাই প্রার্থনা করি'''। ঈশ্বরের কাজের সাথে, ধন্যবাদ দিয়ে, ভরসা করে, আনন্দ করে। কারণ এভাবেই আমাদের ভালো প্রভু প্রার্থনা পেতে চান, আমার নেওয়া তাঁর নিজস্ব অর্থ ও মিষ্টি শব্দগুলোর বোধ অনুযায়ী যেখানে তিনি খুব আনন্দের সাথে বলেন: '''''আমিই তোমার প্রার্থনার ভিত্তি।'''''' কারণ আমি সত্যই আমাদের প্রভুর অর্থে দেখলাম ও বুঝলাম যে তিনি এটি দেখালেন কারণ তিনি চান যেন তা পরিচিত হোক যতটা এখন আছে তার চেয়ে বেশি: যে জ্ঞানে তিনি আমাদের কৃপা দেবেন যেন আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁকে আঁকড়ে ধরি। কারণ তিনি তাঁর স্বর্গীয় সম্পদকে পৃথিবীতে এত মহান ভালোবাসার সাথে দেখেন যে তিনি চান যেন আমাদের আরও আলো ও স্বর্গীয় আনন্দে সান্ত্বনা দেন, আমাদের হৃদয় গুলোকে তাঁর দিকে টেনে নেওয়ার জন্য, যে দুঃখ ও অন্ধকারের মধ্যে আমরা আছি।
* সেই সময় থেকে যখন এটি দেখানো হয়েছিল, আমি অনেকবার জানতে চেয়েছিলাম আমাদের প্রভুর অর্থ কী ছিল। এবং পনেরো বছর পর, এবং আরও বেশি, আমাকে আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে উত্তর দেওয়া হয়েছিল, এভাবে বলে: ''তুমি কি এই বিষয়ে তোমার প্রভুর অর্থ জানতে চাও? ভালো করে জানো: '''ভালোবাসা ছিল তাঁর অর্থ'''। কে তোমাকে এটি দেখিয়েছে? '''ভালোবাসা'''। তিনি তোমাকে কী দেখিয়েছেন? '''ভালোবাসা'''। কেন তিনি এটি দেখিয়েছেন? '''ভালোবাসার জন্য'''। এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো এবং তুমি একই বিষয়ে আরও শিখবে ও জানবে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্য কিছু জানবে না বা শিখবে না।'' '''এভাবেই আমি শিখলাম যে ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রভুর অর্থ।'''
* '''আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে ঈশ্বর আমাদের তৈরি করার আগে তিনি আমাদের ভালোবাসতেন। যে ভালোবাসা কখনোই কমে যায়নি, বা কখনোই যাবে না। এবং এই ভালোবাসায় তিনি তাঁর সমস্ত কাজ করেছেন এবং এই ভালোবাসায় তিনি আমাদের জন্য সমস্ত কিছু লাভজনক করেছেন এবং এই ভালোবাসায় আমাদের জীবন চিরন্তন। আমাদের তৈরির মধ্যে আমাদের শুরু ছিল। কিন্তু যে ভালোবাসায় তিনি আমাদের তৈরি করেছেন তা তাঁর মধ্যে ছিল শুরু ছাড়াই: যে ভালোবাসায় আমাদের শুরু আছে। এবং এই সবকিছু আমরা ঈশ্বরে দেখব, শেষ ছাড়াই।'''
== নরিচের জুলিয়ান সম্পর্কে উক্তি ==
* '''নরিচের ঘণ্টা বাজে জোরে, মানুষ আসে আর যায়। <br /> জুলিয়ানের এই মিনারের পাশে, যা জানি তা বলি তাই।'''
** সিডনি কার্টার, "জুলিয়ান অফ নরিচ" (১৯৮৩) গানে। এটি "দ্য বেলস অফ নরিচ" নামেও পরিচিত।
*** [https://www.youtube.com/watch?v=I-irwWT3oYg গর্ডন বক, অ্যান মায়ো মুইর ও এড ট্রিকিটের রেকর্ড করা সংস্করণ]
*** [https://www.youtube.com/watch?v=I8vK2jK-UsI সং-আ-ডে প্রজেক্ট (১৯ জুলাই, ২০১১) - বেলস অফ নরিচ]
*** [https://www.youtube.com/watch?v=s-sTbvkY_l4 অ্যালবিয়ন ক্রিসমাস ব্যান্ডের পরিবেশনায়, কার্টার ও জুলিয়ানকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত ভূমিকা সহ]
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia|জুলিয়ান অফ নরিচ}}
{{commonscat|Julian of Norwich}}
* [http://www.umilta.net/julian.html দ্য জুলিয়ান সাইট]
* [http://www.luminarium.org/medlit/julian.htm লুমিনারিয়াম: জুলিয়ান অফ নরিচ]
* [http://www.newadvent.org/cathen/08557a.htm ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়ায় নরিচের জুলিয়ান বিষয়ক নিবন্ধ]
* ''[http://www.ccel.org/j/julian/revelations/index.html রিভেলেশন্স অব ডিভাইন লাভ]'', বিভিন্ন ফরম্যাটে
* ''[http://www.umilta.net/hertexts.html জুলিয়ান অফ নরিচ, টেক্সটস]'', 'জুলিয়ান অফ নরিচ, হার টেক্সটস অ্যান্ড কনটেক্সট' ওয়েবসাইটের একটি অংশ
* [http://www.poetseers.org/spiritual_and_devotional_poets/christian/julian মাদার জুলিয়ান অফ নরিচ] - নির্বাচিত প্রার্থনা ও কবিতা
[[বিষয়শ্রেণী:অকাল্পনিক সাহিত্য লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ধন্য ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের ক্যাথলিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের ধর্মতত্ত্ববিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খ্রিস্টীয় নেতৃবৃন্দ]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৩৪০-এর দশকে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৪১০-এর দশকে মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:রহস্যবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:নরিচের অধিবাসী]]
05w5po4envnouja2bipnavhfyiy17rz
83239
83238
2026-05-01T14:35:31Z
SMontaha32
3112
83239
wikitext
text/x-wiki
[[File:Julian of Norwich.jpg|thumb|right|আমাদের প্রভু ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে একটি কাজ সম্পন্ন হবে, এবং তিনি নিজেই তা করবেন, আর আমি কিছুই করব না কিন্তু পাপ করব, এবং আমার পাপ তাঁর [[মঙ্গলময়তা]] প্রকাশের পথে বাধা হবে না।]]
'''[[:w:নরিচের অফ জুলিয়ান|নরিচের জুলিয়ান]]''' (আনুমানিক ৮ নভেম্বর ১৩৪২ – আনুমানিক ১৪১৬) ছিলেন একজন ইংরেজ [[খ্রিস্টধর্ম|খ্রিস্টান]] রহস্যবাদী এবং ধর্মতত্ত্ববিদ। তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব সামান্যই জানা যায়। এমনকি তাঁর নামটিও নিশ্চিত নয়। "জুলিয়ান" নামটি সম্ভবত নরিচের সেন্ট জুলিয়ান গির্জা থেকে এসেছে, যেখানে তিনি একজন [[w:অ্যাঙ্কোরেস|অ্যাঙ্কোরেস]] (ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী) হিসেবে বসবাস করতেন।
[[File:Orvieto Pozzo San Patrizio 5.JPG|thumb|পাপ থাকাটা অপরিহার্য ছিল। কিন্তু সব ভালো হবে, এবং সব ভালো হবে এবং সব ধরণের জিনিসই ভালো হবে।]]
== ''[[w:ঐশ্বরিক ভালোবাসার প্রকাশ|ঐশ্বরিক ভালোবাসার প্রকাশ]]'' (আনুমানিক ১৩৯৩) ==
:<small>'''''"যিনি অক্ষর পড়তে পারতেন না, তাঁর প্রতি প্রকাশ, আনো ডম. ১৩৭৩"''''' : এই কর্মটি জুলিয়ান সম্পর্কে জানা প্রায় সমস্ত তথ্য প্রদান করে। এটি মূলত ১৩৭৩ সালের ১৩ এবং ১৪ই মে সংঘটিত বিভিন্ন দর্শনের একটি বিবরণ; যখন তিনি ত্রিশ বছর বয়সে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। প্রায় বিশ বছর পর একজন লেখকের মাধ্যমে এটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। প্রাচীন ইংরেজি থেকে এই কর্মটির বহু অনুবাদ হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন সংস্করণে এর বক্তব্যের বৈচিত্র্য এবং অর্থের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত হয়।</small>
=== অধ্যায় ১ ===
[[File:Emanation.png|thumb|এটি প্রেমের একটি প্রকাশ যা আমাদের অন্তহীন পরমানন্দ, যিশু খ্রিস্ট ষোলটি 'শিউইং' বা বিশেষ প্রকাশের মাধ্যমে ঘটিয়েছেন।]]
[[File:Goe Platz der Synagoge Detail 2.jpg|thumb|[[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] মঙ্গলময়তা দ্বারা আমরা দুঃখে ও সুখে সমানভাবে প্রেমে সুরক্ষিত।]]
* '''এটি প্রেমের একটি প্রকাশ যা আমাদের অন্তহীন পরমানন্দ, যিশু [[w:Christ|খ্রিস্ট]] ষোলটি 'শিউইং' (বা বিশেষ প্রকাশ) এর মাধ্যমে ঘটিয়েছেন।''' যার প্রথমটি হলো তাঁর কাঁটার মুকুট পরিধান এবং এর সাথেই ত্রিত্ববাদ, অবতারবাদ এবং ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যবর্তী ঐক্যকে অন্তর্ভুক্ত ও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যা অনন্ত প্রজ্ঞা এবং প্রেমের শিক্ষার সুন্দর প্রকাশ: যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সমস্ত প্রকাশগুলো প্রতিষ্ঠিত এবং একীভূত।
** শুরুর লাইনসমূহ
* আমাদের প্রভু ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান প্রজ্ঞা, সর্ব-প্রেম, তিনি যেমন সত্যই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তেমনই সত্যই তিনি প্রতিটি কাজ করেন ও সম্পন্ন করেন।
* '''আমরা ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা দ্বারা দুঃখে ও সুখে সমানভাবে প্রেমে সুরক্ষিত।'''
* আমাদের প্রভু যিশু প্রেমে তাঁর পরমানন্দময় হৃদয়কে আনন্দ সহকারে দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় প্রদর্শন করেন।
* আমাদের প্রভু ঈশ্বর চান যেন আমরা তাঁর করা সমস্ত কাজের প্রতি গভীর মনোযোগী হই: সবকিছুর সৃষ্টির মহান মহিমা এবং মানুষের সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব, যা তাঁর সমস্ত কাজের ঊর্ধ্বে এবং মানুষের পাপের জন্য তাঁর করা মূল্যবান প্রায়শ্চিত্ত, যা আমাদের সমস্ত অপরাধকে অন্তহীন উপাসনায় রূপান্তরিত করেছে। এই প্রকাশে আমাদের প্রভু আরও বলেন: '''"তাকাও এবং দেখো! কারণ যে শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মঙ্গলময়তা দিয়ে আমি এই সবকিছু করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মঙ্গলময়তা দিয়ে আমি সেই সবকিছুকেও ভালো করে তুলব যা ভালো নয়; এবং তুমি তা দেখতে পাবে।"''' এবং এতে তিনি চান যেন আমরা পবিত্র চার্চের বিশ্বাস ও সত্যে অবিচল থাকি, এখন তাঁর গোপন বিষয়গুলো দেখতে না চাই, কেবল ততটুকুই যা এই জীবনে আমাদের জন্য প্রযোজ্য।
* আমাদের প্রভু আমাদের প্রার্থনার ভিত্তি। এখানে দুটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়: একটি হলো ন্যায়পরায়ণ প্রার্থনা, অন্যটি হলো অটল বিশ্বাস। তিনি চান উভয়ই সমানভাবে বিস্তৃত হোক এবং এভাবেই আমাদের প্রার্থনা তাঁকে আনন্দিত করে এবং তিনি তাঁর মঙ্গলময়তা দিয়ে তা পূরণ করেন।
* আমরা হঠাৎ আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা এবং কষ্ট থেকে মুক্ত হব, এবং তাঁর মঙ্গলময়তা দিয়ে আমরা উপরে উঠে যাব, যেখানে আমরা আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের পুরস্কার হিসেবে পাব এবং স্বর্গে আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ হব।
=== অধ্যায় ২ ===
[[File:Statue of Dame Julian.JPG|thumb|আমি তোমার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাই না।]]
* '''এই প্রকাশগুলো ১৩৭৩ সালের ১৩ই মে, এক সাধারণ অক্ষরজ্ঞানহীন প্রাণীর কাছে প্রকাশিত হয়েছিল।''' যে প্রাণীটি পূর্বে ঈশ্বরের কাছে তিনটি বর চেয়েছিল। প্রথমটি ছিল তাঁর কষ্টের কথা স্মরণ; দ্বিতীয়টি ছিল যৌবনে, ত্রিশ বছর বয়সে শারীরিক অসুস্থতা; তৃতীয়টি ছিল ঈশ্বরের উপহার হিসেবে তিনটি ক্ষত লাভ করা।
* প্রথমটির ক্ষেত্রে, আমার মনে হয়েছিল খ্রিস্টের কষ্টের কিছুটা অনুভূতি আমার আছে, তবুও আমি ঈশ্বরের কৃপায় আরও বেশি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম। মনে হয়েছিল সেই সময়ে আমি যদি মেরি ম্যাগডালিন এবং খ্রিস্টের অন্যান্য প্রেমিকদের সাথে থাকতাম, তবে ভালো হতো। তাই আমি একটি শারীরিক দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলাম যাতে আমাদের পরিত্রাতার শারীরিক যন্ত্রণা এবং আমাদের লেডি (মেরি) ও তাঁর অন্যান্য সত্যিকারে প্রেমিকদের সহমর্মিতা সম্পর্কে আরও জ্ঞান লাভ করতে পারি। কারণ আমি তাদের একজন হতে এবং তাঁর সাথে কষ্ট ভোগ করতে চেয়েছিলাম। আত্মা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে অন্য কোনো দৃশ্য বা প্রকাশ চাইনি। এই আবেদনের কারণ ছিল যেন এই প্রকাশের পর খ্রিস্টের কষ্টের কথা আরও স্পষ্টভাবে মনে রাখতে পারি।
* দ্বিতীয়টি অনুশোচনার সাথে আমার মনে এসেছিল। মৃত্যুর মতো কঠিন অসুস্থতা কামনা করেছিলাম, যাতে সেই অসুস্থতায় আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করতে পারি। আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাব এবং যারা আমাকে দেখছিল তারাও একই ধারণা করেছিল: কারণ আমি জাগতিক জীবনের কোনো আরাম চাইনি। এই অসুস্থতায় আমি সব ধরণের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক যন্ত্রণা পেতে চেয়েছিলাম, যা একজন মানুষের মৃত্যুকালে হয় (শয়তানের সমস্ত ভয় ও ঝড়সহ), কেবল আত্মার বিচ্ছেদ ছাড়া। আমি এটা চেয়েছিলাম কারণ আমি ঈশ্বরের দয়ায় পবিত্র হতে চেয়েছিলাম এবং পরে সেই অসুস্থতার কারণে ঈশ্বরের উপাসনায় আরও বেশি জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম।
* কষ্টের এবং অসুস্থতার এই দুটি ইচ্ছা আমি একটি শর্তের সাথে চেয়েছিলাম, এভাবে বলে: '''"প্রভু, তুমি জানো আমি কী চাই, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে আমি তা পাব এবং যদি তোমার ইচ্ছা না হয়, ভালো প্রভু, অসন্তুষ্ট হইও না: কারণ আমি তোমার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাই না।"'''
* তৃতীয়টির জন্য, ঈশ্বরের কৃপা এবং পবিত্র চার্চের শিক্ষার মাধ্যমে আমি আমার জীবনে তিনটি ক্ষত লাভের প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম: অর্থাৎ, গভীর অনুশোচনার ক্ষত, সদয় সহমর্মিতার ক্ষত এবং ঈশ্বরের প্রতি অটল আকাঙ্ক্ষার ক্ষত। এবং এই শেষ আবেদনটি আমি কোনো শর্ত ছাড়াই চেয়েছিলাম। <br> '''এই পূর্বোক্ত দুটি ইচ্ছা আমার মন থেকে চলে গেলেও, তৃতীয়টি আমার সাথে ক্রমাগত থেকে গিয়েছিল।'''
=== অধ্যায় ৩ ===
[[File:Waldmüller - Die letzte Ölung.jpeg|thumb|যখন আমার বয়স সাড়ে ত্রিশ, ঈশ্বর আমাকে শারীরিক অসুস্থতা দিলেন, যাতে আমি তিন দিন তিন রাত পড়েছিলাম; এবং চতুর্থ রাতে আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করেছিলাম এবং বেঁচে থাকার আশা করিনি।]]
[[File:The church of SS Andrew and Mary - St Julian of Norwich - geograph.org.uk - 1547398.jpg|thumb|আমি আমার বিচারবুদ্ধি এবং যন্ত্রণার অনুভূতি দ্বারা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার মৃত্যু হবে এবং আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্মত হয়েছিলাম।]]
* '''যখন আমার বয়স সাড়ে ত্রিশ, ঈশ্বর আমাকে শারীরিক অসুস্থতা দিলেন, যাতে আমি তিন দিন তিন রাত পড়েছিলাম এবং চতুর্থ রাতে আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করেছিলাম এবং বেঁচে থাকার আশা করিনি।''' এর পরে আমি আরও দুই দিন দুই রাত অসুস্থ ছিলাম, এবং তৃতীয় রাতে আমি প্রায়শই ভেবেছি যে আমি চলে যাব; এবং যারা আমার সাথে ছিল তারাও তা-ই ভেবেছিল। <br> যৌবনের কারণে, আমার মৃত্যুতে খুব দুঃখ হয়েছিল।কিন্তু পৃথিবীর কোনো কিছুর জন্য নয় যা আমাকে বেঁচে থাকতে প্ররোচিত করত, বা কোনো যন্ত্রণার ভয়ে নয়: কারণ আমি ঈশ্বরের দয়ায় বিশ্বাসী ছিলাম। বরং আমি চেয়েছিলাম যেন আমি আরও ভালোভাবে এবং আরও দীর্ঘ সময় ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারি, যেন স্বর্গের পরমানন্দে ঈশ্বরের জ্ঞান ও ভালোবাসা বেশি পেতে পারি। কারণ আমি এখানে যেটুকু সময় বেঁচেছিলাম, তা সেই অনন্ত পরমানন্দের তুলনায় কিছুই না আমি তা কিছুই ভাবিনি।
* আমি আমার বিচারবুদ্ধি এবং যন্ত্রণার অনুভূতি দ্বারা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার মৃত্যু হবে এবং আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্মত হয়েছিলাম। <br> এভাবে আমি দিন পর্যন্ত বেঁচে ছিলাম, এবং ততক্ষণে আমার শরীরের নিচের অংশ অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছিল। তখন আমি স্থির করেছিলাম যেন আমাকে সাহায্য নিয়ে সোজা করে বসানো হয়, যাতে আমার হৃদয়ের স্বাধীনতা থাকে ঈশ্বরের ইচ্ছায় থাকার জন্য, এবং যতক্ষণ জীবন আছে ঈশ্বরের কথা চিন্তা করার জন্য।
* আমার দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করল এবং ঘরের চারপাশ অন্ধকার হয়ে এল, যেন রাত হয়ে গেছে, কেবল ক্রুশবিদ্ধ মূর্তিতে আমি একটি সাধারণ আলো দেখতে পাচ্ছিলাম এবং আমি জানতাম না কীভাবে। ক্রুশের বাইরের সবকিছু আমার কাছে ভয়ানক মনে হচ্ছিল, যেন তা শয়তানদের দ্বারা দখল করা হয়েছে। <br> এরপর আমার শরীরের উপরের অংশ মরতে শুরু করল, এতটাই যে প্রায় কোনো অনুভূতি ছিল না, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এবং তখন আমি সত্যই ভেবেছিলাম যে আমি চলে যাচ্ছি। <br> এবং হঠাৎ আমার সমস্ত যন্ত্রণা দূর হয়ে গেল, এবং আমি (বিশেষ করে আমার শরীরের উপরের অংশে) আগের মতোই সুস্থ হয়ে উঠলাম। <br> এই আকস্মিক পরিবর্তনে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। কারণ মনে হয়েছিল এটি ঈশ্বরের গোপন কাজ, প্রকৃতির নয়। তবুও এই আরামের অনুভূতিতে আমি বেঁচে থাকার আশা করিনি বা এই আরাম আমার কাছে পূর্ণ আরাম ছিল না: কারণ আমি চেয়েছিলাম এই জগত থেকে মুক্তি পেতে।
* তখন হঠাৎ আমার মনে এল যে আমার প্রভুর কৃপায় দ্বিতীয় ক্ষতটি কামনা করা উচিত: যেন আমার শরীর তাঁর পবিত্র কষ্টের চিন্তা ও অনুভূতিতে পূর্ণ হয়। কারণ আমি চেয়েছিলাম তাঁর যন্ত্রণা যেন আমার যন্ত্রণা হয়, সহমর্মিতা এবং পরে ঈশ্বরের প্রতি আকাঙ্ক্ষার সাথে। কিন্তু এতে আমি কোনো শারীরিক দৃশ্য বা ঈশ্বরের প্রকাশ চাইনি, বরং এমন সহমর্মিতা চেয়েছিলাম যা একজন দয়ালু আত্মা আমাদের প্রভু যিশুর সাথে রাখতে পারে, যিনি প্রেমের জন্য মানুষ হতে চেয়েছিলেন: এবং তাই আমি তাঁর সাথে কষ্ট ভোগ করতে চেয়েছিলাম।
== প্রথম প্রকাশ (দ্য ফার্স্ট রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ৪ ===
[[File:Leonardo da Vinci 058.jpg|thumb|আমি তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে, শারীরিক সাদৃশ্যে দেখেছিলাম: এক সাধারণ কুমারী ও নম্র, অল্পবয়সী ও বালিকার চেয়ে সামান্য বড়, সেই উচ্চতায় যা তিনি ধারণ করেছিলেন যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন।]]
* হঠাৎ আমি দেখলাম কাঁটার মুকুটের নিচ থেকে তপ্ত ও তাজা রক্ত প্রচুর পরিমাণে গড়িয়ে পড়ছে, যেমনটা তাঁর কষ্টের সময়ে হয়েছিল যখন সেই কাঁটার মুকুট তাঁর পবিত্র মাথায় চেপে বসানো হয়েছিল। যিনি ঈশ্বর ও মানব উভয়ই, যিনি আমার জন্য এমন কষ্ট সহ্য করেছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে ও প্রবলভাবে অনুভব করলাম যে এটি তিনিই আমাকে দেখাচ্ছেন, কোনো মাধ্যম ছাড়াই। <br> এবং সেই একই প্রকাশে হঠাৎ ত্রিত্ববাদ আমার হৃদয়কে আনন্দে পূর্ণ করে দিল। এবং আমি বুঝতে পারলাম, যারা স্বর্গে আসবে, তাদের জন্য এটি অনন্তকাল ধরে থাকবে। কারণ ত্রিত্ববাদই ঈশ্বর: ঈশ্বরই ত্রিত্ববাদ। ত্রিত্ববাদ আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও রক্ষক, ত্রিত্ববাদ আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে আমাদের চিরন্তন প্রেম এবং চিরন্তন আনন্দ ও পরমানন্দ। এবং এটি প্রথম এবং সমস্ত প্রকাশেই দেখানো হয়েছিল: কারণ যেখানে যিশু উপস্থিত, সেখানে আমার দৃষ্টিতে পবিত্র ত্রিত্ববাদ অনুভূত হয়।
* পবিত্র কষ্টের এই দর্শনের মাধ্যমে, আমার উপলব্ধিতে দেখা ঈশ্বরত্বের সাথে, আমি ভালোভাবেই জানতাম যে, এটি আমার জন্য হ্যাঁ, এবং সমস্ত জীবিত প্রাণীর জন্য নরকের সমস্ত শয়তান ও আধ্যাত্মিক প্রলোভনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্তি।
* তিনি আমাদের পবিত্র লেডিকে (ম্যারি) আমার উপলব্ধিতে নিয়ে এলেন। '''আমি তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে, শারীরিক সাদৃশ্যে দেখেছিলাম: এক সাধারণ কুমারী ও নম্র, অল্পবয়সী ও বালিকার চেয়ে সামান্য বড়, সেই উচ্চতায় যা তিনি ধারণ করেছিলেন যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন।'''
=== অধ্যায় ৫ ===
[[File:JUL Iris Soul Palm.png|thumb|এই ক্ষুদ্র বস্তুতে আমি তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি। প্রথমটি হলো ঈশ্বর এটি তৈরি করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো ঈশ্বর একে ভালোবাসেন, তৃতীয়টি হলো, ঈশ্বর একে রক্ষা করেন।]]
* '''আমি দেখেছি যে তিনি আমাদের জন্য সবকিছুই যা ভালো এবং আরামদায়ক: তিনি আমাদের পোশাক যা প্রেমের জন্য আমাদের আবৃত করে, জড়িয়ে ধরে এবং কোমল ভালোবাসায় আমাদের সম্পূর্ণ ঘিরে রাখে, যেন তিনি আমাদের কখনও ত্যাগ করতে না পারেন। আমার উপলব্ধিতে তিনি আমাদের জন্য ভালো সবকিছুই।'''
* '''তিনি আমাকে আমার হাতের তালুতে একটি ক্ষুদ্র বস্তু দেখালেন, একটি হেজেল-নাটের মতো; এবং এটি বলের মতো গোলাকার ছিল। আমি আমার উপলব্ধির চোখ দিয়ে সেটির দিকে তাকালাম এবং ভাবলাম: "এটি কী হতে পারে?" এবং সাধারণত উত্তর পেলাম: "এটি তা-ই যা সৃষ্টি হয়েছে।"''' আমি অবাক হয়েছিলাম কীভাবে এটি টিকে আছে, কারণ মনে হচ্ছিল সামান্য কারণেই এটি হঠাৎ শূন্যে বিলীন হয়ে যেতে পারত। এবং আমার উপলব্ধিতে উত্তর পেলাম: '''"এটি টিকে আছে এবং সর্বদা টিকে থাকবে কারণ ঈশ্বর একে ভালোবাসেন।" এবং এভাবেই ঈশ্বরের ভালোবাসার মাধ্যমে সবকিছুর অস্তিত্ব রয়েছে।'''
* '''এই ক্ষুদ্র বস্তুতে আমি তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি। প্রথমটি হলো ঈশ্বর এটি তৈরি করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো ঈশ্বর একে ভালোবাসেন, তৃতীয়টি হলো, ঈশ্বর একে রক্ষা করেন।''' কিন্তু আমার জন্য প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা, রক্ষক এবং প্রেমিক কে তা আমি বলতে পারি না; কারণ যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে মৌলিকভাবে একীভূত হচ্ছি, ততক্ষণ আমি পূর্ণ বিশ্রাম বা সত্যিকারের পরমানন্দ পেতে পারি না: অর্থাৎ, যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে এমনভাবে আবদ্ধ হচ্ছি যে, আমার ঈশ্বর এবং আমার মাঝে সৃষ্ট আর কিছুই নেই।
* '''আমাদের প্রাণীদের ক্ষুদ্রতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা প্রয়োজন এবং যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তাকে তুচ্ছ মনে করা প্রয়োজন, যাতে আমরা অ-সৃষ্ট ঈশ্বরকে ভালোবাসতে ও পেতে পারি।''' কারণ এই কারণেই আমাদের হৃদয় ও আত্মায় শান্তি নেই: আমরা এখানে এমন জিনিসের মধ্যে শান্তি খুঁজি যা এতই ক্ষুদ্র, যেখানে কোনো বিশ্রাম নেই, এবং আমাদের সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বগুণী ঈশ্বরকে জানি না। কারণ তিনিই প্রকৃত বিশ্রাম। '''ঈশ্বর চান যেন তাঁকে জানা হোক এবং তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁর মধ্যে বিশ্রাম নিই। কারণ তাঁর নিচের কোনো কিছুই আমাদের সন্তুষ্ট করে না। এবং এই কারণেই কোনো আত্মা ততক্ষণ শান্ত হয় না যতক্ষণ না সৃষ্ট সমস্ত জিনিসের প্রতি সে নিজেকে শূন্য করে। যখন সে প্রেমের জন্য স্বেচ্ছায় নিজেকে শূন্য করে, যাতে সে তাঁকে পেতে পারে যিনিই সবকিছু, তখনই সে আধ্যাত্মিক বিশ্রাম পাওয়ার যোগ্য হয়।'''
=== অধ্যায় ৬ ===
[[File:St Annes Church Manchester England TETRAGRAMMATON.jpg|thumb|তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁকে খুঁজি এবং মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে উপাসনা করি, এই উপলব্ধি নিয়ে যে তিনিই সবকিছুর মঙ্গলময়তা।]]
* তখন আমি সত্যই দেখলাম যে, ঈশ্বরের উপাসনা এবং প্রকৃত আনন্দ তখনই বেশি হয় যখন আমরা তাঁর মঙ্গলময়তার জন্য বিশ্বস্ততার সাথে তাঁর কাছেই প্রার্থনা করি এবং সঠিক উপলব্ধি ও প্রেমের দ্বারা অটল থেকে তাঁর কৃপা আঁকড়ে ধরি, যেন আমরা হৃদয়ের চিন্তার সমস্ত মাধ্যম ব্যবহার করছি। কারণ যদি আমরা এই সমস্ত মাধ্যম গ্রহণ করি, তাও তা খুব সামান্য এবং ঈশ্বরের পূর্ণ উপাসনা নয়: কিন্তু তাঁর মঙ্গলময়তার মধ্যেই সবকিছু পূর্ণ এবং সেখানে কিছুই অভাব নেই।
* '''তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁকে খুঁজি এবং মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে উপাসনা করি, এই উপলব্ধি নিয়ে যে তিনিই সবকিছুর মঙ্গলময়তা।''' <br> কারণ ঈশ্বরের মঙ্গলময়তাই সর্বোচ্চ প্রার্থনা, এবং তা আমাদের প্রয়োজনের সর্বনিম্ন অংশে নেমে আসে। এটি আমাদের আত্মাকে জীবিত করে, কৃপা ও পুণ্যে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। এটি প্রকৃতিতে সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং কৃপায় সবচেয়ে সহজলভ্য: কারণ এটি সেই একই কৃপা যা আত্মা খোঁজে এবং সর্বদা খুঁজবে যতক্ষণ না আমরা সত্যই জানি যে তিনি আমাদের সবাইকে নিজের মধ্যে আবদ্ধ রেখেছেন। <br> কারণ তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি তাঁর কোনো ঘৃণা নেই এবং আমাদের শরীরে প্রকৃতিগতভাবে যে সামান্যতম কাজগুলো থাকে তা করতেও তিনি ইতস্তত করেন না, কারণ তিনি সেই আত্মাকে ভালোবাসেন যা তিনি নিজের সাদৃশ্যে তৈরি করেছেন।
* '''শরীর যেমন পোশাকে ঢাকা, মাংস যেমন চামড়ায় ঢাকা, হাড় যেমন মাংসে ঢাকা, এবং হৃদয় যেমন পুরো শরীরে ঢাকা, ঠিক তেমনই আমরা, আত্মা ও শরীর, ঈশ্বরের মঙ্গলময়তায় আবৃত এবং আবদ্ধ। হ্যাঁ, এবং আরও আপনভাবে: কারণ এই সমস্ত কিছু নষ্ট হয়ে যেতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা সর্বদা পূর্ণ এবং কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী;''' কারণ আমাদের প্রেমিক সত্যই চান যেন আমাদের আত্মা তাঁর সাথে সমস্ত শক্তি দিয়ে লেগে থাকে এবং আমরা যেন সর্বদা তাঁর মঙ্গলময়তাকে আঁকড়ে থাকি। কারণ হৃদয়ে যা কিছু চিন্তা করা যায়, তার মধ্যে এটিই ঈশ্বরকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয় এবং দ্রুততম ফল দেয়।
=== অধ্যায় ৭ ===
[[File:Love heart.jpg|thumb|যিনি ভালোবাসার জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই একই ভালোবাসায় তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং অন্তহীনভাবে রক্ষা করবেন।]]
* '''এই প্রকাশটি ছিল দ্রুত এবং প্রাণবন্ত, এবং ভীতিকর ও ভয়ংকর, মিষ্টি ও মনোরম।''' এবং সমস্ত দৃশ্যের মধ্যে আমার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক ছিল এটি যে, আমাদের ঈশ্বর ও প্রভু, যিনি এত শ্রদ্ধেয় ও ভয়ংকর, তিনি এত আপন এবং সৌজন্যপূর্ণ: এবং এটি আমাকে আত্মা ও নিশ্চিততার শান্তিতে পূর্ণ করেছিল।
* সত্যই এটিই সবচেয়ে বড় আনন্দ যা হতে পারে, আমার দৃষ্টিতে, যে তিনি যিনি সর্বোচ্চ ও সর্বশক্তিমান, সবচেয়ে মহৎ ও যোগ্য, তিনিই সবচেয়ে বিনম্র ও নম্র, সবচেয়ে আপন ও সৌজন্যপূর্ণ: এবং সত্যই এই বিস্ময়কর আনন্দ আমাদের সবাইকে দেখানো হবে যখন আমরা তাঁকে দেখব।
* এই বিস্ময়কর আপনভাব কোনো মানুষই জীবনের এই সময়ে পুরোপুরি দেখতে পায় না, যদি না সে আমাদের প্রভুর বিশেষ প্রকাশ বা পবিত্র আত্মার কাছ থেকে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাপ্ত কৃপা না পায়। কিন্তু বিশ্বাস ও ভক্তি এই পুরস্কারের যোগ্য করে তোলে: এবং কৃপার মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়। কারণ বিশ্বাস, আশা এবং ভালোবাসার ওপরই আমাদের জীবন প্রতিষ্ঠিত।
=== অধ্যায় ৮ ===
[[File:Roerich_symbol.svg|thumb|আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং প্রতিটি জিনিসের যে মঙ্গলময়তা আছে, তা তিনিই।]]
* আমি জানি যে স্বর্গ ও পৃথিবী এবং যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তা মহান ও বিশাল, সুন্দর ও ভালো। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এটি এত ক্ষুদ্র দেখানোর কারণ হলো আমি এটি তাঁর উপস্থিতিতে দেখেছি যিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা: কারণ যে আত্মা সবকিছুর সৃষ্টিকর্তাকে দেখে, তার কাছে সৃষ্ট সবকিছুই খুব ক্ষুদ্র মনে হয়।
* '''যিনি ভালোবাসার জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই একই ভালোবাসায় তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং অন্তহীনভাবে রক্ষা করবেন।'''
* '''আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং প্রতিটি জিনিসের যে মঙ্গলময়তা আছে, তা তিনিই।'''
* আমাদের প্রভু প্রথম দর্শনে এই সবকিছুই আমাকে দেখিয়েছিলেন, এটি দেখার জন্য সময় ও সুযোগ দিয়েছিলেন। এবং শারীরিক দৃষ্টি থেমে গিয়েছিল, কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টি আমার উপলব্ধিতে থেকে গিয়েছিল এবং আমি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ে অপেক্ষা করছিলাম, যা দেখেছিলাম তাতে আনন্দিত হয়েছিলাম। এবং আমি সাহস করে আরও দেখতে চেয়েছিলাম, যদি তা তাঁর ইচ্ছা হতো, অথবা অন্যথায় দীর্ঘ সময় ধরে একই দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলাম।
* এই সবকিছুর মধ্যে আমি আমার সম-খ্রিস্টানদের প্রতি ভালোবাসায় অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম, যেন তারা দেখতে এবং জানতে পারে যা আমি দেখেছি: কারণ আমি চেয়েছিলাম এটি তাদের জন্য সান্ত্বনা হোক। কারণ এই সমস্ত দৃশ্য সাধারণের জন্য দেখানো হয়েছিল। তখন আমি আমার চারপাশের লোকদের বললাম: "আজ আমার জন্য বিচার দিবস।" এবং এটি আমি বলেছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাচ্ছি।
* আমি আপনাদের সবাইকে ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করি এবং আপনার নিজের কল্যাণের জন্য উপদেশ দিই, যে আপনারা সেই দরিদ্র প্রাণীর প্রতি তাকানো বন্ধ করুন যার কাছে এটি দেখানো হয়েছিল, এবং শক্তিশালী, জ্ঞানী ও বিনম্রভাবে ঈশ্বরকে দেখুন, যিনি তাঁর সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসা ও অন্তহীন মঙ্গলময়তার মাধ্যমে আমাদের সবার সান্ত্বনার জন্য এটি সাধারণভাবে দেখাতে চেয়েছেন। কারণ ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আপনারা এটি মহান আনন্দ ও তুষ্টির সাথে গ্রহণ করুন, যেন যিশু এটি আপনাদের সবাইকে দেখিয়েছেন।
=== অধ্যায় ৯ ===
[[File:Saula Kopf 2517m Panorama 2.jpg|thumb|আধ্যাত্মিক দৃষ্টিটি আমি যতটা চাই ততটা খোলাখুলি বা পূর্ণভাবে দেখাতে পারি না।]]
* '''প্রকাশের কারণে আমি ভালো নই যদি না আমি ঈশ্বরকে আরও বেশি ভালোবাসি: এবং আপনারা ঈশ্বরকে যতটা বেশি ভালোবাসেন, এটি আমার চেয়ে আপনাদের জন্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।''' আমি এটি জ্ঞানী ব্যক্তিদের বলছি না, কারণ তারা এটি ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু আমি এটি আপনাদের বলছি যারা সহজ-সরল, সান্ত্বনা ও আরামের জন্য: কারণ আমরা সবাই সান্ত্বনায় এক। কারণ সত্যই আমাকে এটি দেখানো হয়নি যে ঈশ্বর আমাকে কৃপাপ্রাপ্ত সর্বনিম্ন আত্মার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। কারণ আমি নিশ্চিত যে এমন অনেকেই আছেন যারা কখনো পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষার বাইরে কোনো প্রকাশ বা দর্শন পাননি, কিন্তু তারা ঈশ্বরকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। '''কারণ যদি আমি এককভাবে নিজের দিকে তাকাই, তবে আমি কিছুই নই।''' কিন্তু সাধারণভাবে, আমি আশা করি, আমার সমস্ত সম-খ্রিস্টানদের সাথে ভালোবাসার একতায় আমি আছি।
* '''এই একতার মধ্যেই সমস্ত মানবজাতির জীবন নিহিত, যারা পরিত্রাণ পাবে।''' কারণ আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং ঈশ্বর যা সৃষ্টি করেছেন তা তিনি তৈরি করেছেন, এবং ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টি করা সবকিছুকেই ভালোবাসেন: এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের জন্য তার সমস্ত সম-খ্রিস্টানকে সাধারণভাবে ভালোবাসে, সে সবকিছুকেই ভালোবাসে। কারণ যারা পরিত্রাণ পাবে, সেই মানবজাতির মধ্যে সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত: অর্থাৎ, যা সৃষ্টি হয়েছে এবং সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। কারণ মানুষের মধ্যে ঈশ্বর আছেন এবং ঈশ্বর সবকিছুর মধ্যে আছেন। এবং আমি আশা করি ঈশ্বরের কৃপায় যে ব্যক্তি এটি এভাবে দেখবে, সে সত্যই শিক্ষিত হবে এবং গভীরভাবে সান্ত্বনা পাবে, যদি তার সান্ত্বনার প্রয়োজন হয়।
* আমি তাদের কথা বলছি যারা পরিত্রাণ পাবে, কারণ এই সময়ে ঈশ্বর আমাকে অন্য কিছু দেখাননি। তবে সবকিছুর ক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি যা পবিত্র চার্চ বিশ্বাস করে, প্রচার করে এবং শিক্ষা দেয়। কারণ পবিত্র চার্চের বিশ্বাস, যা আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম এবং আমি আশা করি, ঈশ্বরের কৃপায় আন্তরিকভাবে ব্যবহার ও অভ্যাসে রেখেছিলাম, তা ক্রমাগত আমার দৃষ্টিতে ছিল: এর বিপরীত কিছু গ্রহণ করার ইচ্ছা বা অর্থ আমার ছিল না। এবং এই উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আমার সমস্ত নিষ্ঠার সাথে প্রকাশটি দেখেছি: কারণ এই সমস্ত পবিত্র প্রকাশের মধ্যে আমি একে ঈশ্বরের অর্থের সাথে এক হিসেবে দেখেছি।
* এই সবকিছু তিনভাবে দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, শারীরিক দৃষ্টি দ্বারা, আমার উপলব্ধিতে গঠিত শব্দ দ্বারা, এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টি দ্বারা। কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টিটি আমি যতটা চাই ততটা খোলাখুলি বা পূর্ণভাবে দেখাতে পারি না বা পারি না। কিন্তু আমি আমাদের সর্বশক্তিমান ঈশ্বর প্রভুর ওপর ভরসা করি যে তিনি তাঁর মঙ্গলময়তার জন্য, এবং আপনাদের ভালোবাসার জন্য, আপনাদের এটি আরও আধ্যাত্মিকভাবে এবং আরও মিষ্টিভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করবেন, যা আমি বলতে পারি বা পারি না তার চেয়েও বেশি।
== দ্বিতীয় প্রকাশ (দ্য সেকেন্ড রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১০ ===
[[File:Cristo degli abissi.jpg|thumb|যদি কোনো মানুষ বা নারী বিশাল জলের নিচে থাকত, যদি সে ঈশ্বরের দৃষ্টি লাভ করত। যেমনটি ঈশ্বর ক্রমাগত একজন মানুষের সাথে থাকেন। তবে সে শরীর ও আত্মায় নিরাপদ থাকত এবং কোনো ক্ষতি হতো না: এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সে এই পৃথিবীর সমস্ত বর্ণনার চেয়েও বেশি শান্তি ও সান্ত্বনা পেত।]]
* '''ঈশ্বর চান যেন তাঁকে দেখা হোক এবং খোঁজা হোক: যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করা হয় এবং তাঁকে বিশ্বাস করা হয়।'''
* এটি আমি শারীরিকভাবে, কিছুটা অস্পষ্ট ও ঝাপসাভাবে দেখেছিলাম; এবং আমি আরও স্পষ্টভাবে দেখার জন্য শারীরিক দৃষ্টি কামনা করেছিলাম। আমার বিচারবুদ্ধিতে উত্তর পেলাম: "যদি ঈশ্বর তোমাকে আরও দেখাতে চান, তবে তিনিই হবেন তোমার আলো: তাঁর ছাড়া তোমার আর কিছুর প্রয়োজন নেই।" কারণ আমি তাঁকে খুঁজতে দেখেছি। <br> কারণ আমরা এখন এতটাই অন্ধ ও অবিবেচক যে, ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তায় নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ না করা পর্যন্ত আমরা তাঁকে খুঁজি না। এবং যখন আমরা কৃপাবশত তাঁর কিছুটা দর্শন পাই, তখন সেই একই কৃপা আমাদের আরও পরমানন্দময় দর্শনের জন্য প্রবল আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত করে। <br> এবং এভাবেই আমি তাঁকে দেখেছি এবং খুঁজেছি এবং আমি তাঁকে পেয়েছি, আমি তাঁকে চেয়েছি। এবং আমার দৃষ্টিতে এটিই আমাদের সাধারণ কাজ হওয়া উচিত।
* একবার আমার উপলব্ধি সমুদ্রের তলদেশের গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এবং সেখানে আমি সবুজ পাহাড় ও উপত্যকা দেখেছিলাম, যা শৈবাল ও নুড়ি পাথরে আবৃত বলে মনে হচ্ছিল। '''তখন আমি বুঝলাম: যদি কোনো মানুষ বা নারী বিশাল জলের নিচে থাকত, যদি সে ঈশ্বরের দৃষ্টি লাভ করত। যেমনটি ঈশ্বর ক্রমাগত একজন মানুষের সাথে থাকেন। তবে সে শরীর ও আত্মায় নিরাপদ থাকত এবং কোনো ক্ষতি হতো না: এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সে এই পৃথিবীর সমস্ত বর্ণনার চেয়েও বেশি শান্তি ও সান্ত্বনা পেত।''' কারণ তিনি চান যেন আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা তাঁকে ক্রমাগত দেখছি, যদিও আমাদের কাছে তা সামান্যই মনে হয়; এবং এই বিশ্বাসে তিনি আমাদের সর্বদা কৃপা লাভে সাহায্য করেন। কারণ তিনি চান যেন তাঁকে দেখা হোক এবং তাঁকে খোঁজা হোক। তিনি চান যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করা হোক এবং তাঁকে বিশ্বাস করা হোক।
* এবং এই দর্শনটি আমার উপলব্ধির জন্য একটি শিক্ষা ছিল যে, আত্মার ক্রমাগত অনুসন্ধান ঈশ্বরকে অত্যন্ত আনন্দিত করে। কারণ আত্মার পক্ষে খোঁজা, সহ্য করা এবং বিশ্বাস করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। এবং এটি সেই আত্মায় পবিত্র আত্মার দ্বারা সম্পন্ন হয় এবং খুঁজে পাওয়ার স্বচ্ছতা তাঁর বিশেষ কৃপা, যখন তা তাঁর ইচ্ছা। বিশ্বাস, আশা ও প্রেমের সাথে অনুসন্ধান আমাদের প্রভুকে আনন্দিত করে, এবং খুঁজে পাওয়া আত্মাকে আনন্দিত করে ও পরমানন্দে পূর্ণ করে। এবং এভাবেই আমি আমার উপলব্ধিতে শিখেছিলাম যে, যতক্ষণ তিনি আত্মাকে কষ্টে থাকতে দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসন্ধান করা দর্শন করার মতোই ভালো। ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা তাঁকে খুঁজি, তাঁকে দেখার জন্য, কারণ এর মাধ্যমেই তিনি যখন ইচ্ছা তাঁর বিশেষ কৃপায় নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ করবেন।
* এই দর্শনে দুটি কাজ দেখা যায়: একটি হলো অনুসন্ধান, অন্যটি হলো দর্শন বা অবলোকন।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমাদের অনুসন্ধানে তিনটি জিনিস থাকুক: প্রথমটি হলো, আমরা যেন অলসতা ছাড়াই আন্তরিকভাবে ও নিষ্ঠার সাথে খুঁজি, এবং তাঁর কৃপায় অযৌক্তিক বিষণ্ণতা ও বৃথা শোক ছাড়াই খুঁজি।''' দ্বিতীয়টি হলো, আমরা যেন তাঁর প্রেমের জন্য জীবনের শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে অটলভাবে অপেক্ষা করি, কোনো বিড়বিড় করা বা তাঁর বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছাড়াই। কারণ এটি মাত্র অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হবে। তৃতীয়টি হলো, আমরা যেন পূর্ণ নিশ্চিত বিশ্বাসে তাঁর ওপর দৃঢ়ভাবে নির্ভর করি। কারণ এটি তাঁর ইচ্ছা যে আমরা জানি, '''যারা তাঁকে ভালোবাসে তাদের সবার কাছে তিনি হঠাৎ ও পরমানন্দময়ভাবে আবির্ভূত হবেন।''' <br> কারণ তাঁর কাজ গোপনীয় এবং '''তিনি চান যেন তাঁকে অনুভব করা হয় এবং তাঁর আবির্ভাব হবে দ্রুত ও আকস্মিক এবং তিনি চান যেন তাঁকে বিশ্বাস করা হয়। কারণ তিনি অত্যন্ত কৃপাময় ও আপনজন। তিনি ধন্য হোন!'''
== তৃতীয় প্রকাশ (দ্য থার্ড রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১১ ===
[[File:Electricsheep-18467.jpg|thumb|পাপ কোনো কাজ নয়।]]
[[File:Universeglass.JPG|thumb|আমি দেখলাম যে তিনি সবকিছুর মধ্যে আছেন।]]
[[File:A Young Pulsar Shows its Hand.jpg|thumb|আমি আমার কাজ থেকে আমার হাত কখনও সরিয়ে নিই না এবং কখনও সরিয়ে নেব না, অন্তহীনভাবে: দেখো! আমি সবকিছুর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে পরিণতির জন্য নির্ধারণ করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রেম দিয়ে আমি সবকিছুর পরিচালনা করছি, যা দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টি করেছি।]]
* '''যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়: কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বরই সব করেন।'''
* '''পাপ কোনো কাজ নয়।'''
* এর পরে আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখলাম, অর্থাৎ আমার উপলব্ধিতে। যে দর্শনের মাধ্যমে আমি দেখলাম যে তিনি সবকিছুর মধ্যে বিদ্যমান।
* আমি শান্ত ভয়ের সাথে অবলোকন করলাম এবং বিবেচনা করলাম, দেখে ও জেনে ভাবলাম: "পাপ কী?" কারণ আমি সত্যই দেখলাম যে ঈশ্বর সব কাজই করেন, তা যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন। এবং আমি সত্যই দেখলাম যে কোনো কিছুই দৈবক্রমে বা আকস্মিকভাবে ঘটে না বরং সবকিছুই ঈশ্বরের পূর্বনির্ধারিত প্রজ্ঞা অনুযায়ী হয়। যদি মানুষের দৃষ্টিতে তা দৈবক্রিয়া বা আকস্মিক মনে হয়, তবে আমাদের অন্ধত্ব এবং অদূরদর্শিতাই তার কারণ। কারণ যে বিষয়গুলো সৃষ্টির আদি থেকে ঈশ্বরের দূরদর্শী প্রজ্ঞায় রয়েছে (যা তিনি ন্যায়পরায়ণতা, মহিমা ও ধারাবাহিকতার সাথে সর্বোত্তম পরিণতির দিকে নিয়ে যান), সেগুলো যখন আমাদের সামনে হঠাৎ উপস্থিত হয়, আমরা তা বুঝতে পারি না এবং '''এইভাবে আমাদের অন্ধত্ব ও অদূরদর্শিতার কারণে আমরা বলি: এগুলো দৈবক্রিয়া ও আকস্মিক ঘটনা। কিন্তু আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে তা নয়। <br> তাই আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে, যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়: কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বরই সব করেন।''' কারণ এই সময়ে প্রাণীদের কাজ দেখানো হয়নি বরং প্রাণীর মধ্যে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাজ দেখানো হয়েছে: কারণ তিনি সবকিছুর কেন্দ্রে আছেন এবং তিনি সবই করেন। এবং আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তিনি কোনো পাপ করেন না।
* '''এখানে আমি সত্যই দেখলাম যে পাপ কোনো কাজ নয়। কারণ এই সমস্ত কিছুর মধ্যে পাপ দেখানো হয়নি। এবং আমি এতে আর বিস্ময় প্রকাশ করতে চাইলাম না, বরং আমাদের প্রভুর দিকে তাকালাম যে তিনি কী দেখাতে চান। <br> এবং এভাবেই, সেই সময়ের জন্য যতটুকু সম্ভব ছিল, ঈশ্বরের কাজের ন্যায়পরায়ণতা আত্মার কাছে প্রকাশিত হয়েছিল।'''
* '''ন্যায়পরায়ণতার দুটি সুন্দর বৈশিষ্ট্য আছে: এটি সঠিক এবং এটি পূর্ণ।''' এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সমস্ত কাজ ঠিক তেমনই: এর জন্য দয়া বা কৃপার কাজের প্রয়োজন হয় না: কারণ সেগুলো সবই ন্যায়পরায়ণ। যার মধ্যে কোনো কিছুরই অভাব নেই।
* অন্য সময়ে তিনি পাপকে নগ্নভাবে দেখার জন্য একটি প্রকাশ দিয়েছিলেন, যেমনটা আমি বলব: যেখানে তিনি দয়া ও কৃপার কাজ ব্যবহার করেন। <br> এবং আমার উপলব্ধির জন্য এই দর্শনটি দেখানো হয়েছিল, কারণ আমাদের প্রভু চেয়েছিলেন যেন আত্মা সত্যভাবে তাঁর দর্শনের দিকে এবং সাধারণভাবে তাঁর সমস্ত কাজের দিকে ফিরে আসে। কারণ সেগুলো অত্যন্ত ভালো এবং তাঁর সমস্ত কাজ সহজ ও মধুর, এবং যে আত্মা মানুষের অন্ধ বিচার থেকে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সুন্দর ও মধুর বিচারের দিকে ফিরে আসে, তাকে তিনি পরম স্বস্তি দান করেন। '''কারণ মানুষ কিছু কাজকে ভালো এবং কিছু কাজকে মন্দ বলে গণ্য করে কিন্তু আমাদের প্রভু সেগুলোকে সেভাবে দেখেন না: কারণ প্রকৃতিতে যার অস্তিত্ব আছে তা যেমন ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্ট, তেমনি যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ঈশ্বরের কাজেরই বৈশিষ্ট্য।'''
* '''এটি বোঝা সহজ যে সর্বোত্তম কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয় এবং সর্বোত্তম কাজটি সবচেয়ে উচ্চতর কাজটি। যতটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়, ক্ষুদ্রতম কাজটিও ততটাই ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। এবং প্রতিটি জিনিস তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও শৃঙ্খলায় থাকে যা আমাদের প্রভু সৃষ্টির আদি থেকেই নির্ধারণ করেছেন। কারণ তিনি ছাড়া আর কোনো কর্তা নেই।''' <br> আমি নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে তিনি কোনো কিছুর উদ্দেশ্য কখনও পরিবর্তন করেন না, এবং অন্তহীনভাবে কখনও করবেনও না। কারণ সৃষ্টির আদি থেকে তাঁর ন্যায়পরায়ণ ব্যবস্থায় তাঁর কাছে অজানা কিছুই ছিল না। এবং তাই কোনো কিছু সৃষ্টির পূর্বেই সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে নির্ধারিত ছিল, যেভাবে তা অনন্তকাল ধরে টিকে থাকবে এবং কোনো কিছুই সেই বিন্দু থেকে বিচ্যুত হবে না।
* এই সবকিছু তিনি পরম পরমানন্দের সাথে দেখিয়েছিলেন, এভাবে ইঙ্গিত করে: '''''"দেখো! আমিই ঈশ্বর: দেখো! আমি সবকিছুর মধ্যে আছি: দেখো! আমিই সব কাজ করি: দেখো! আমি আমার কাজ থেকে আমার হাত কখনও সরিয়ে নিই না এবং অন্তহীনভাবে কখনও সরিয়ে নেব না: দেখো! আমি সবকিছুর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে পরিণতির জন্য নির্ধারণ করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রেম দিয়ে আমি সবকিছুর পরিচালনা করছি, যা দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টি করেছি। কোনো কিছু কীভাবে ভুল হতে পারে?"''''' <br> এই দর্শনে আত্মাকে অত্যন্ত শক্তিশালী, জ্ঞানী ও প্রেমময়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তখন আমি স্পষ্টভাবে দেখলাম যে, ঈশ্বরের প্রতি মহান শ্রদ্ধা ও আনন্দের সাথে সম্মতি জানানো আমার জন্য অপরিহার্য।
== চতুর্থ প্রকাশ (দ্য ফোর্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১২ ===
[[File:Кошелев Н. А. Сошествие во ад.jpg|thumb|দেখো এবং লক্ষ্য করো! তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য নরকের গভীরে নেমে গিয়েছিল, এর শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছিল এবং স্বর্গীয় দরবারের অন্তর্গত সেখানে থাকা সমস্ত আত্মাকে মুক্ত করেছিল।]]
* এর পরে আমি দেখতে পেলাম, চাবুক মারার দৃশ্যের মতো শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্ত ঝরছে, এইভাবে ধারালো আঘাতে মিষ্টি শরীরের চারপাশ থেকে কোমল মাংসে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এত প্রচুর পরিমাণে তপ্ত রক্ত ঝরছিল যে চামড়া বা ক্ষত কিছুই দেখা যাচ্ছিল না, যেন সবকিছুই কেবল রক্ত। এবং যখন এটি নিচে পড়ে যাওয়ার কথা ছিল, তখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল। <br> তা সত্ত্বেও, রক্তক্ষরণ কিছুক্ষণ অব্যাহত ছিল: যতক্ষণ তা দেখা এবং বিবেচনা করা সম্ভব ছিল।
* দেখো এবং লক্ষ্য করো! তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য নরকের গভীরে নেমে গিয়েছিল, এর শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছিল এবং স্বর্গীয় দরবারের অন্তর্গত সেখানে থাকা সমস্ত আত্মাকে মুক্ত করেছিল। তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য সমস্ত পৃথিবীকে প্লাবিত করেছে, এবং সদিচ্ছাসম্পন্ন সমস্ত প্রাণীকে পাপ থেকে ধৌত করার জন্য প্রস্তুত আছে—যারা অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতে আসবে। তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র শরীরে স্বর্গে আরোহণ করেছে, এবং সেখানে তিনি আমাদের জন্য পিতার কাছে রক্ত ঝরাচ্ছেন ও প্রার্থনা করছেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তিনি তা করবেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তা সর্বদা থাকবে।
== পঞ্চম প্রকাশ (দ্য ফিফথ রিভেলেশন) ==
[[File:Passion of Christ.jpg|thumb|আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র কষ্ট এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শত্রুকে পরাভূত করা হয়েছে।]]
=== অধ্যায় ১৩ ===
* '''আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র কষ্ট এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শত্রুকে পরাভূত করা হয়েছে।'''
* তিনি কোনো কণ্ঠস্বর বা ঠোঁট খোলা ছাড়াই আমার আত্মায় এই শব্দগুলো গঠন করলেন: "এর দ্বারাই শয়তান পরাভূত হলো।" আমাদের প্রভু এই কথাগুলো বলেছেন, তাঁর পবিত্র কষ্ট বা প্যাশনের কথা বুঝিয়ে, যা তিনি আগেই প্রদর্শন করেছিলেন। <br> এতে আমাদের প্রভু দেখালেন যে, তাঁর কষ্টই শয়তানের পরাজয়। ঈশ্বর দেখালেন যে, অবতার গ্রহণের আগে শয়তানের যে বিদ্বেষ ছিল, এখনও তার একই বিদ্বেষ রয়েছে। সে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে, কিন্তু সে দেখতে পায় যে পরিত্রাণপ্রাপ্ত সমস্ত আত্মা খ্রিস্টের মূল্যবান কষ্টের গুণের মাধ্যমে তার হাত থেকে গৌরবময়ভাবে মুক্তি পাচ্ছে। এটিই তার দুঃখ, এবং সে অত্যন্ত লজ্জিত। কারণ ঈশ্বর তাকে যা কিছু করার অনুমতি দেন, তার সবই আমাদের জন্য আনন্দে এবং তার জন্য লজ্জায় ও কষ্টে রূপান্তরিত হয়। ঈশ্বর যখন তাকে কাজ করার অনুমতি দেন, তখন সে যতটা কষ্ট পায়, কাজ না করলেও ততটাই পায়: কারণ সে কখনোই তার ইচ্ছামতো মন্দ কাজ করতে পারে না, কেননা তার সমস্ত শক্তি ঈশ্বরের হাতে ন্যস্ত।
* '''আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ক্রোধ থাকতে পারে না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু সর্বদা তাঁর নিজের মহিমা এবং পরিত্রাণপ্রাপ্ত সকলের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।''' শক্তি ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে তিনি তাদের প্রতিহত করেন, যারা বিদ্বেষ ও দুষ্টতা থেকে ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করার ষড়যন্ত্র করে। আমি আরও দেখেছি আমাদের প্রভু তার বিদ্বেষকে উপহাস করেন এবং তার শক্তিহীনতাকে তুচ্ছ করেন এবং তিনি চান যেন আমরাও তাই করি। এই দৃশ্য দেখে আমি উচ্চস্বরে হেসেছিলাম, আর আমার হাসির কারণে আমার চারপাশের লোকেরাও হেসেছিল, এবং তাদের সেই হাসি আমার জন্য আনন্দের কারণ হয়েছিল।
* কিন্তু আমি খ্রিস্টকে হাসতে দেখিনি। কারণ আমি বুঝেছিলাম যে, শয়তান পরাজিত হয়েছে। এই আনন্দে এবং ঈশ্বরকে কেন্দ্র করে আমরা নিজেদের সান্ত্বনার জন্য হাসতে পারি। আর যখন আমি তাঁকে শয়তানের বিদ্বেষকে উপহাস করতে দেখেছি, তা ছিল আমার উপলব্ধিকে আমাদের প্রভুর দিকে পরিচালিত করার মাধ্যমে অর্থাৎ, এটি ছিল সত্যের একটি অভ্যন্তরীণ প্রকাশ, যা তাঁর চেহারায় কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়েই হয়েছিল। কারণ, আমার দৃষ্টিতে, এটি ঈশ্বরের একটি গৌরবময় বৈশিষ্ট্য যা সর্বদা একই থাকে।
* এর পরে আমি এক গম্ভীরতায় নিমগ্ন হলাম এবং বললাম: "আমি তিনটি জিনিস দেখতে পাচ্ছি। আমি খেলা, উপহাস এবং গাম্ভীর্য দেখছি। আমি খেলা দেখছি, কারণ শয়তান পরাজিত। আমি উপহাস দেখছি, কারণ ঈশ্বর তাকে উপহাস করছেন এবং তাকে উপহাস করা হবে এবং আমি গাম্ভীর্য দেখছি, কারণ সে আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পরমানন্দময় কষ্ট ও মৃত্যুর মাধ্যমে পরাজিত হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল।"
== ষষ্ঠ প্রকাশ (দ্য সিক্সথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৪ ===
[[File:Langenzenn Stadtkirche - Fenster Wilhelm II 5.jpg|thumb|স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স তাঁর সামনে স্বীকৃত হবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।]]
* '''স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স তাঁর সামনে স্বীকৃত হবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।'''
* আমার উপলব্ধিকে স্বর্গের দিকে উন্নীত করা হয়েছিল, যেখানে আমি আমাদের প্রভুকে তাঁর নিজের বাড়ির একজন প্রভু হিসেবে দেখলাম, যিনি তাঁর সমস্ত প্রিয় সেবক ও বন্ধুদের এক রাজকীয় ভোজসভায় আহ্বান করেছেন। তখন আমি দেখলাম প্রভু তাঁর নিজের বাড়িতে কোনো নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করেননি বরং আমি দেখলাম তিনি তাঁর বাড়িতে রাজকীয়ভাবে রাজত্ব করছেন, আনন্দ ও উল্লাসে পূর্ণ করছেন, নিজেকে অন্তহীনভাবে আনন্দিত করছেন এবং তাঁর প্রিয় বন্ধুদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন, অত্যন্ত আপনভাবে ও সৌজন্যের সাথে, অন্তহীন প্রেমের বিস্ময়কর সুরের মাধ্যমে, তাঁর নিজস্ব সুন্দর ও আশীর্বাদপুষ্ট মুখমণ্ডলে। ঈশ্বরত্বের এই মহিমান্বিত মুখমণ্ডল স্বর্গকে আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ করে।
* ঈশ্বর স্বর্গে প্রত্যেক আত্মার জন্য আনন্দের তিনটি স্তর দেখিয়েছেন, যারা পৃথিবীতে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে সেবা করেছে। প্রথমটি হলো আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ, যা সে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পাবে। এই ধন্যবাদ এত উচ্চ এবং এত মহিমান্বিত যে আত্মার মনে হয় এটিই তাকে পূর্ণ করে দিয়েছে, যদিও আর কিছুই না থাকত। কারণ আমার মনে হয়েছিল, জীবিত সমস্ত মানুষের সহ্য করা সমস্ত যন্ত্রণা ও কষ্টও সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য নয়, যা একজন মানুষ পাবে যে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে সেবা করেছে। দ্বিতীয়টি হলো, স্বর্গে থাকা সমস্ত আশীর্বাদপুষ্ট সত্তা সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ দেখতে পাবে এবং তিনি স্বর্গের সবাইকে তার সেবার কথা জানিয়ে দেবেন। এখানে এই উদাহরণটি দেখানো হয়েছিল। একজন রাজা, যদি তিনি তাঁর সেবকদের ধন্যবাদ জানান, তবে তা তাদের জন্য অনেক সম্মানের এবং যদি তিনি তা পুরো রাজ্যে ঘোষণা করেন, তবে সেই সম্মান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তৃতীয়টি হলো, সেই সময়ে তা যেমন নতুন ও আনন্দদায়ক হিসেবে গৃহীত হয়, ঠিক তেমনই তা অন্তহীনভাবে স্থায়ী হবে।
* আমি দেখলাম যে এটি অত্যন্ত আপনভাবে ও মধুরভাবে দেখানো হয়েছিল এবং স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স জানা যাবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে। এবং বিশেষ করে যারা স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে তাদের যৌবন ঈশ্বরকে উৎসর্গ করে, তাদের অসামান্যভাবে পুরস্কৃত করা হয় এবং বিস্ময়করভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়। <br> কারণ আমি দেখেছি যে, যে কোনো সময় একজন পুরুষ বা নারী সত্যভাবে ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসে। এক দিনের সেবার জন্য এবং তার অটল ইচ্ছার জন্য সে এই তিন স্তরের আনন্দই লাভ করবে। এবং প্রেমময় আত্মা ঈশ্বরের এই সৌজন্য যত বেশি দেখতে পায়, সে তার জীবনের সমস্ত দিন তাঁকে সেবা করার জন্য তত বেশি আগ্রহী হয়।
== সপ্তম প্রকাশ (দ্য সেভেন্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৫ ===
* এর পরে তিনি আমার আত্মায় এক পরম আধ্যাত্মিক তুষ্টি দেখালেন। আমি চিরন্তন নিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ হয়েছিলাম, কোনো বেদনাদায়ক ভয় ছাড়াই প্রবলভাবে টিকে ছিলাম। এই অনুভূতিটি এতটাই আনন্দময় ও আধ্যাত্মিক ছিল যে আমি পূর্ণ শান্তি ও বিশ্রামে ছিলাম, পৃথিবীর কোনো কিছুই আমাকে দুঃখ দিতে পারত না। <br> এটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এবং আমি আবার আমার নিজের মধ্যে ফিরে এলাম জীবন সম্পর্কে ক্লান্তি, নিজের প্রতি বিতৃষ্ণায় পূর্ণ হলাম, বেঁচে থাকার ধৈর্য প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম। বিশ্বাস, আশা ও প্রেম ছাড়া আমার কোনো আরাম ছিল না এগুলো আমার সত্যই ছিল, কিন্তু উপলব্ধিতে ছিল খুব সামান্য। <br> এবং এর পরপরই আমাদের প্রভু আমাকে পুনরায় আত্মার আরাম ও বিশ্রাম দিলেন, এমন তৃপ্তি ও নিশ্চয়তা যা এতই পরমানন্দময় ও শক্তিশালী যে কোনো ভয়, দুঃখ বা শারীরিক যন্ত্রণা আমাকে বিচলিত করতে পারেনি। এবং তখন বেদনা আবার আমার উপলব্ধিতে ফিরে এল, তারপর আনন্দ ও তৃপ্তি। এইভাবে কয়েকবার আমার মনে হয় প্রায় বিশবার। আনন্দের সময়ে আমি সন্ত পলের সাথে বলতে পারতাম। "খ্রিস্টের প্রেম থেকে কিছুই আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না" এবং বেদনার সময়ে আমি পিতরের সাথে বলতে পারতাম: "প্রভু, আমাকে বাঁচাও: আমি বিনষ্ট হচ্ছি!"
* এই দর্শনটি আমার উপলব্ধিতে দেখাল যে, কিছু আত্মার জন্য এই অভিজ্ঞতাটি উপকারী। কখনো শান্তিতে থাকা, আবার কখনো ব্যর্থ হয়ে নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হওয়া। ঈশ্বর চান যেন আমরা জানি যে, তিনি আমাদের সুখে ও দুঃখে একইভাবে সুরক্ষিত রাখেন। মানুষের আত্মার মঙ্গলের জন্য, মানুষ কখনো কখনো নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়; যদিও পাপ সবসময় এর কারণ নয়। কারণ এই সময়ে আমি এমন কোনো পাপ করিনি যার জন্য আমাকে নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে—এটি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক। এই আশীর্বাদপূর্ণ অনুভূতি পাওয়ার মতো যোগ্যতাও আমার ছিল না। কিন্তু আমাদের প্রভু যখন ইচ্ছা করেন তখন মুক্তহস্তে দান করেন এবং কখনো কখনো আমাদের কষ্টের মধ্যে রাখেন। এবং উভয়ই একই প্রেমের প্রকাশ।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আরাম ও শান্তিতে থাকি। কারণ আনন্দ হলো অন্তহীন স্থায়ী, এবং বেদনা হলো ক্ষণস্থায়ী, যা পরিত্রাণপ্রাপ্তদের জন্য বিলীন হয়ে যাবে। তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা নয় যে আমরা বেদনার অনুভূতিগুলো অনুসরণ করে শোক ও বিলাপ করি বরং আমরা যেন হঠাৎ তা অতিক্রম করে চিরন্তন আনন্দে নিমগ্ন থাকি।'''
== অষ্টম প্রকাশ (দ্য এইটথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৬ ===
* এর পরে খ্রিস্ট তাঁর মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ের কষ্টের একটি অংশ দেখালেন। <br> আমি তাঁর মিষ্টি মুখমণ্ডল দেখলাম যা মৃত্যুপথযাত্রী ফ্যাকাশে রঙে শুষ্ক ও রক্তহীন হয়ে গিয়েছিল এবং পরে, আরও ফ্যাকাশে, মৃত, অবসন্ন এবং তারপর নীলচে মৃত রঙে পরিবর্তিত হলো এবং মাংস যখন আরও গভীরভাবে মৃত হয়ে গেল তখন তা আরও কালচে-নীল হলো। কারণ তাঁর কষ্ট আমার কাছে তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলে (বিশেষ করে ঠোঁটে) সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল। সেখানে আমি এই চারটি রঙ দেখেছি, যদিও আমার দৃষ্টিতে তা আগে সতেজ, লাল ও মনোরম ছিল। এই গভীর মৃত্যু দেখা এক করুণ পরিবর্তন ছিল।
=== অধ্যায় ১৭ ===
* এবং এই মৃত্যুর সময়ে খ্রিস্টের কথাগুলো আমার মনে এল: "আমি তৃষ্ণার্ত।" <br> কারণ আমি খ্রিস্টের মধ্যে দ্বৈত তৃষ্ণা দেখলাম: একটি শারীরিক। অন্যটি আধ্যাত্মিক...
* আমি চার ধরণের শুষ্কতা দেখলাম। প্রথমটি ছিল রক্তহীনতা; দ্বিতীয়টি ছিল তার পরবর্তী যন্ত্রণা। তৃতীয়টি বাতাসে ঝুলে থাকা, যেমন মানুষ কাপড় শুকানোর জন্য ঝুলায়। চতুর্থটি ছিল এই যে, শারীরিক সত্তা তরল চেয়েছিল কিন্তু তার সমস্ত কষ্ট ও দুর্দশায় তাঁকে কোনো সান্ত্বনা দেওয়া হয়নি। আহ! তাঁর যন্ত্রণা ছিল কঠিন ও কষ্টদায়ক, কিন্তু যখন আর্দ্রতা শেষ হয়ে গেল এবং শরীর শুষ্ক হতে শুরু করল, কুঁকড়ে গেল, তখন তা আরও বেশি কঠিন ও কষ্টদায়ক মনে হলো। <br> এই যন্ত্রণাগুলো তাঁর পবিত্র মাথায় দেখা গিয়েছিল: প্রথমটি মৃত্যুর দিকে নিয়ে গিয়েছিল, যখন কিছু আর্দ্রতা ছিল এবং অন্যটি, ধীর, কুঁকড়ে যাওয়া শুষ্কতা, বাইরের বাতাসের ঝাপটায়। যা আমাকে ভাবতে কষ্ট দেয় তার চেয়েও বেশি ঠান্ডায় তাঁকে শুকিয়েছিল ও কষ্ট দিয়েছিল। <br> এবং অন্যান্য যন্ত্রণা। যার জন্য আমি দেখলাম যে আমার বলা সব কথাই খুব সামান্য। কারণ তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। খ্রিস্টের যন্ত্রণার এই প্রকাশ আমাকে বেদনায় পূর্ণ করে দিয়েছিল। কারণ আমি জানতাম তিনি কেবল একবারই কষ্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা আমাকে দেখাতে চেয়েছিলেন এবং আমার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমাকে তা দিয়ে পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। এবং খ্রিস্টের যন্ত্রণার এই সময়ে তাঁর যন্ত্রণা ছাড়া আমি আর কিছুই অনুভব করিনি। তখন ভাবলাম। "আমি জানতাম না আমি কতটা কষ্ট চেয়েছিলাম।" এবং, এক হতভাগার মতো, অনুশোচনা করলাম, ভাবলাম। "যদি জানতাম তা কী হবে, তবে আমি তা চাইতাম না।" কারণ আমার মনে হয়েছিল আমার যন্ত্রণা শারীরিক মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। <br> আমি ভাবলাম "এর মতো আর কোনো যন্ত্রণা আছে কি?" এবং আমার উপলব্ধিতে উত্তর পেলাম "নরক হলো অন্য যন্ত্রণা। কারণ সেখানে হতাশা আছে। কিন্তু পরিত্রাণের দিকে নিয়ে যাওয়া সমস্ত যন্ত্রণার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা, তোমার প্রেমকে কষ্ট পেতে দেখা। আমার জীবন, আমার পরমানন্দ, আমার আনন্দ। তাঁকে কষ্ট পেতে দেখার চেয়ে বড় যন্ত্রণা আমার জন্য আর কী হতে পারে?" এখানে আমি সত্যই অনুভব করলাম যে আমি নিজেকে ছাড়িয়ে খ্রিস্টকে এতটাই বেশি ভালোবাসতাম যে, সেই শোকে যন্ত্রণার চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা সহ্য করা সম্ভব ছিল না।
=== অধ্যায় ১৮ ===
* এখানে আমি আমাদের লেডি, সেন্ট মেরির সহমর্মিতার একটি অংশ দেখলাম। কারণ খ্রিস্ট এবং তিনি প্রেমে এতটাই একীভূত ছিলেন যে তাঁর ভালোবাসার গভীরতাই তাঁর যন্ত্রণার গভীরতার কারণ ছিল। কারণ এতে আমি প্রকৃতির প্রেমের একটি সত্তা দেখেছি, যা কৃপা দ্বারা অব্যাহত থাকে। যা প্রাণীদের তাঁর প্রতি থাকে। এই প্রাকৃতিক ভালোবাসা তাঁর মিষ্টি মায়ের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। কারণ তিনি তাঁকে সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তাঁর যন্ত্রণা সবার চেয়ে বেশি ছিল। কারণ ভালোবাসা যত উচ্চ, শক্তিশালী ও মধুর হয়, ভালোবাসার পাত্রকে কষ্টে থাকতে দেখলে প্রেমিকের দুঃখ তত বেশি হয়। <br> এবং তাঁর সমস্ত শিষ্য ও প্রকৃত প্রেমিকরা তাদের নিজস্ব শারীরিক মৃত্যুর চেয়েও বেশি যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন। কারণ আমি আমার নিজস্ব অনুভূতির মাধ্যমে নিশ্চিত যে, তাদের মধ্যে অন্ততপক্ষে যে ছিল, সেও নিজেকে ছাড়িয়ে তাঁকে এতটা ভালোবাসত যা আমার বলা সমস্ত কথাকে অতিক্রম করে যায়।
* '''এখানে আমি আমার উপলব্ধিতে খ্রিস্ট এবং আমাদের মধ্যে এক মহান ঐক্য দেখলাম। কারণ যখন তিনি কষ্টে ছিলেন, আমরা কষ্টে ছিলাম।''' <br> এবং সমস্ত প্রাণী যারা যন্ত্রণা সহ্য করতে পারত, তারা তাঁর সাথে সহ্য করেছিল। অর্থাৎ, ঈশ্বর আমাদের সেবার জন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছেন। খ্রিস্টের মৃত্যুর সময়ে গ্রহ-নক্ষত্র ও পৃথিবী তাদের প্রকৃতিতে দুঃখের কারণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারণ তাদের প্রকৃতির সহজাত বৈশিষ্ট্যই ছিল তাঁকে তাদের ঈশ্বর হিসেবে জানা, যার ওপর তাদের সমস্ত গুণ দাঁড়িয়ে ছিল। যখন তিনি ব্যর্থ হলেন, তখন দয়া ও কৃতজ্ঞতার কারণে, তাঁর যন্ত্রণার শোকে তাদেরও তাঁর সাথে ব্যর্থ হতে হয়েছিল।
* ঈশ্বর, যিনি তাঁর মঙ্গলময়তার মাধ্যমে গ্রহ ও উপাদানগুলোকে আশীর্বাদপুষ্ট ও অভিশপ্ত মানুষের জন্য কাজ করান, সেই সময়ে তিনি উভয় থেকেই তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। একারণেই যারা তাঁকে চিনত না তারাও সেই সময়ে শোকে ছিল। <br> এইভাবে আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের জন্য তুচ্ছ করা হয়েছিল এবং আমরা সবাই তাঁর সাথে এইভাবে তুচ্ছ হয়ে আছি এবং থাকব যতক্ষণ না আমরা তাঁর পরমানন্দে পৌঁছাই: যেমনটি আমি পরে বলব।
=== অধ্যায় ১৯ ===
* আমি ক্রুশ থেকে মুখ ফেরাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সাহস করিনি। কারণ আমি ভালো করেই জানতাম যে যতক্ষণ আমি ক্রুশের দিকে তাকিয়ে আছি, ততক্ষণ আমি নিশ্চিতভাবে নিরাপদ। তাই আমি আমার আত্মাকে বিপদে ফেলতে রাজি হইনি। কারণ ক্রুশের বাইরে কোনো নিশ্চয়তা নেই, শয়তানের ভয়ে।
* এটি আমার কাছে সর্বদা একটি সান্ত্বনা ছিল যে, আমি তাঁর কৃপায়, এই সমস্ত কষ্ট ও দুঃখের সময়েও যিশুকে আমার স্বর্গ হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম এবং এটি আমার জন্য একটি শিক্ষা ছিল যে আমি যেন সর্বদা তাই করি: সুখে ও দুঃখে কেবল যিশুকে আমার স্বর্গ হিসেবে বেছে নিই।
* আমি সত্যই দেখলাম যে অভ্যন্তরীণ সত্তা বাহ্যিক সত্তার প্রভু ও অধিপতি এবং সে তার ইচ্ছার দ্বারা চালিত হয় না বা মনোযোগ দেয় না। বরং সমস্ত উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা আমাদের প্রভু যিশুর সাথে একীভূত হওয়ার জন্য নির্ধারিত। বাহ্যিক সত্তা যেন অভ্যন্তরীণ সত্তাকে সম্মতি জানাতে টানে, তা আমাকে দেখানো হয়নি বরং কৃপার দ্বারা অভ্যন্তরীণ সত্তা বাহ্যিককে টানে, এবং খ্রিস্টের গুণের মাধ্যমে উভয়ই অন্তহীন পরমানন্দে একীভূত হবে,এটিই দেখানো হয়েছিল।
=== অধ্যায় ২০ ===
* এইভাবে আমি আমাদের প্রভু যিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে অবসন্ন থাকতে দেখলাম। কারণ ঈশ্বরত্বের সাথে একীভূত হওয়া মানবসত্ত্বাকে ভালোবাসার জন্য সহ্য করার শক্তি দিয়েছিল, যা সমস্ত মানুষের সহ্যক্ষমতার চেয়েও বেশি। আমার মানে এই নয় যে তিনি মানুষের চেয়ে বেশি যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন বরং তিনি এমন যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন যা পরিত্রাণপ্রাপ্ত কোনো মানুষ শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত কল্পনাও করতে পারবে না, সর্বোচ্চ মহিমান্বিত রাজা হওয়া সত্ত্বেও লজ্জাজনক, অবজ্ঞাত ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু বরণ করার কারণে। কারণ '''যিনি সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে যোগ্য, তাঁকেই সবচেয়ে বেশি তুচ্ছ ও অত্যন্ত অবজ্ঞাত করা হয়েছিল।'''
* তিনি যতটা কোমল ও পবিত্র ছিলেন, ঠিক ততটাই তিনি সহ্য করার জন্য শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান ছিলেন। <br> এবং পরিত্রাণপ্রাপ্ত প্রতিটি মানুষের পাপের জন্য তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন এবং প্রতিটি মানুষের দুঃখ ও একাকীত্ব তিনি দেখেছিলেন, এবং প্রকৃতির নিয়ম ও ভালোবাসার কারণে তিনি দুঃখ পেয়েছিলেন। <br> কারণ যতদিন তিনি কষ্টভোগী ছিলেন ততদিন তিনি আমাদের জন্য দুঃখ পেয়েছেন এবং এখন তিনি পুনরুত্থিত এবং আর কষ্টভোগী নন, তবুও তিনি আমাদের সাথে কষ্ট সহ্য করেন।
=== অধ্যায় ২১ ===
* আমার উপলব্ধিতে ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো, আমরা যেন তাঁর পবিত্র কষ্টকে তিনভাবে দেখি। প্রথমটি হলো: ''তিনি যে কঠিন যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন,''অনুশোচনা ও সহমর্মিতার সাথে। এবং আমাদের প্রভু সেই সময়ে তা দেখিয়েছিলেন এবং তা দেখার জন্য আমাকে শক্তি ও কৃপা দিয়েছিলেন।
* তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলের পরিবর্তন আমার মুখকেও পরিবর্তন করল, এবং আমি যতটা সম্ভব আনন্দিত ও প্রফুল্ল ছিলাম। তখন আমাদের প্রভু আনন্দের সাথে আমার মনে করিয়ে দিলেন। "এখন তোমার কষ্ট বা দুঃখের কোনো চিহ্ন কি আছে?" এবং আমি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম।
* এখানে আমি সত্যই দেখলাম যে, যদি তিনি আমাদের তাঁর পরমানন্দময় চেহারা দেখান, তবে পৃথিবী বা অন্য কোনো স্থানে এমন কোনো যন্ত্রণা নেই যা আমাদের দুঃখিত করতে পারে বরং সবকিছুই আমাদের জন্য আনন্দ ও পরমানন্দ হবে।
* তিনি যে কষ্ট সহ্য করেন তার কারণ হলো, তিনি তাঁর মঙ্গলময়তার মাধ্যমে আমাদের তাঁর পরমানন্দে তাঁর চেয়েও উন্নত করতে চান এবং আমরা এখানে যেটুকু কষ্ট সহ্য করি, তার বিনিময়ে আমরা ঈশ্বরে এমন এক উচ্চ ও অন্তহীন জ্ঞান লাভ করব যা এই যন্ত্রণা ছাড়া আমাদের পক্ষে লাভ করা কখনোই সম্ভব ছিল না।
== নবম প্রকাশ (দ্য নাইনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২২ ===
* তখন আমাদের ভালো প্রভু যিশু খ্রিস্ট বললেন: "আমি তোমার জন্য কষ্ট পেয়েছি বলে তুমি কি খুব খুশি?" আমি বললাম: "হ্যাঁ, ভালো প্রভু, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই; হ্যাঁ, ভালো প্রভু, তুমি ধন্য হও।" <br> তখন যিশু, আমাদের দয়ালু প্রভু, বললেন: "যদি তুমি খুশি হও, তবে আমিও খুশি: এটি আমার কাছে এক আনন্দ, এক পরমানন্দ, এক অন্তহীন তৃপ্তি যে আমি তোমার জন্য কষ্ট সহ্য করেছি; এবং যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম।"
* আমার উপলব্ধি স্বর্গের দিকে উন্নীত হয়েছিল, এবং সেখানে আমি তিনটি স্বর্গ দেখলাম। এই দৃশ্য দেখে আমি অত্যন্ত বিস্মিত হলাম। এবং যদিও আমি তিনটি স্বর্গ দেখলাম এবং সবই খ্রিস্টের পবিত্র মানবসত্তার মধ্যে কোনোটাই বড় নয়, কোনোটাই ছোট নয়, কোনোটাই উঁচু নয়, কোনোটাই নিচু নয়, বরং পরমানন্দে সবই সমান।
* আমি যা বলছি তা যিশুর কাছে এতটাই বড় আনন্দ যে তিনি তাঁর সমস্ত কষ্ট, তাঁর কঠিন যন্ত্রণা এবং তাঁর নিষ্ঠুর ও লজ্জাজনক মৃত্যুকে তুচ্ছ মনে করেন। <br> এবং এই কথাগুলোতে: "যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম" আমি সত্যই দেখলাম যে, তিনি যতবার মরতে "পারতেন", ততবারই তিনি মরতে "চাইতেন" এবং তাঁর ভালোবাসা তাঁকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে দিত না যতক্ষণ না তিনি তা করতেন। এবং তিনি কতবার মরতে চাইতেন তা জানার জন্য আমি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করলাম। এবং সত্যই সেই সংখ্যা আমার বোধগম্যতা ও বুদ্ধিকে এতদূর ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে আমার যুক্তি তা বুঝতে পারেনি, বা পারতও না। এবং যখন তিনি এইভাবে বহুবার মারা গিয়েছিলেন, বা মারা যেতেন, তবুও তিনি প্রেমের খাতিরে তা তুচ্ছ করতেন। কারণ তাঁর ভালোবাসার তুলনায় সবকিছুই তাঁর কাছে সামান্য মনে হয়।
* কারণ খ্রিস্টের মিষ্টি মানবসত্তা মাত্র একবার কষ্ট সহ্য করতে পারলেও, তাঁর মধ্যকার মঙ্গলময়তা দানের ইচ্ছায় কখনও ক্ষান্ত হতে পারে না। প্রতিদিন তিনি একই কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকেন, যদি তা সম্ভব হতো। কারণ তিনি যদি বলতেন যে তিনি আমার ভালোবাসার জন্য নতুন স্বর্গ ও নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করবেন, তবে তা তুলনামূলকভাবে সামান্যই হতো। কারণ এটি প্রতিদিন করা যেত, কোনো কষ্ট ছাড়াই। কিন্তু আমার ভালোবাসার জন্য এতবার মরা যে যার সংখ্যা প্রাণীর যুক্তিকে ছাড়িয়ে যায়, আমার দৃষ্টিতে এটিই সর্বোচ্চ উপহার যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর মানুষের আত্মাকে দিতে পারেন। তখন তিনি বোঝাতে চান: "তোমার ভালোবাসার জন্য আমি যে সমস্ত কাজ সহজেই করতে পারি তা কেন করব না, যেহেতু তোমার ভালোবাসার জন্য আমি আমার কঠিন যন্ত্রণার তোয়াক্কা না করেই এতবার মরতে প্রস্তুত ছিলাম?"
* '''যে ভালোবাসা তাঁকে কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য করেছে, তা তাঁর সমস্ত যন্ত্রণাকে ছাড়িয়ে গেছে, যেমন স্বর্গ পৃথিবীকে ছাড়িয়ে থাকে।'''
* '''ভালোবাসার কোনো শুরু ছিল না, আছে, এবং শেষও থাকবে না।''' এই প্রেমের জন্যই তিনি খুব মিষ্টিভাবে এই কথাগুলো বলেছিলেন: "যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম।"
=== অধ্যায় ২৩ ===
* এই তিনটি শব্দে: "এটি একটি আনন্দ, একটি পরমানন্দ, আমার জন্য এক অন্তহীন তৃপ্তি" তিনটি স্বর্গ দেখানো হয়েছিল। এইভাবে: আনন্দের জন্য, আমি পিতার সন্তুষ্টি বুঝেছি। পরমানন্দের জন্য, পুত্রের মহিমা এবং অন্তহীন তৃপ্তির জন্য, পবিত্র আত্মা। পিতা সন্তুষ্ট, পুত্র মহিমান্বিত, পবিত্র আত্মা তৃপ্ত।
* '''খ্রিস্ট বললেন:''' "যদি তুমি সন্তুষ্ট হও, তবে আমিও সন্তুষ্ট। " যেন তিনি বললেন: "এটিই আমার জন্য যথেষ্ট আনন্দ ও তৃপ্তি, এবং আমার কষ্টের বিনিময়ে আমি তোমার কাছে আর কিছুই চাই না, কেবল এই যে আমি যেন তোমাকে পুরোপুরি খুশি করতে পারি।" <br> এবং এর মাধ্যমে তিনি এক আনন্দিত দাতার বৈশিষ্ট্য মনে করিয়ে দিলেন। একজন আনন্দিত দাতা তিনি যা দান করেন তার দিকে খুব কম মনোযোগ দেন বরং তাঁর সমস্ত ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য থাকে তাঁকে খুশি করা ও সান্ত্বনা দেওয়া, যাকে তিনি তা দান করছেন। এবং গ্রহীতা যদি সেই উপহারটিকে মহান ও কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করে, তবে সেই সৌজন্যপূর্ণ দাতা তাঁর সমস্ত ব্যয় ও কষ্টকে তুচ্ছ মনে করেন, কারণ তিনি তাঁর ভালোবাসার পাত্রকে খুশি ও সান্ত্বনা দিতে পেরেছেন।এই আনন্দ ও তৃপ্তির জন্য। এটি প্রাচুর্যের সাথে এবং পূর্ণভাবে দেখানো হয়েছিল।
== দশম প্রকাশ (দ্য টেনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৪ ===
* তখন এক আনন্দিত চেহারায় আমাদের প্রভু তাঁর পার্শ্বদেশের (যেখানে বর্শা বিদ্ধ হয়েছিল) দিকে তাকালেন এবং আনন্দ সহকারে অবলোকন করলেন। তাঁর মিষ্টি দৃষ্টি দিয়ে তিনি তাঁর সৃষ্টির উপলব্ধিকে সেই একই ক্ষতের মধ্য দিয়ে তাঁর পার্শ্বদেশের ভেতরে নিয়ে গেলেন। এবং তখন তিনি একটি সুন্দর, মনোরম এবং শান্তিতে ও প্রেমে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্ত মানবজাতির জন্য পর্যাপ্ত প্রশস্ত একটি স্থান দেখালেন। এবং তার সাথে তিনি তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্ত ও পবিত্র জলের কথা মনে করিয়ে দিলেন যা তিনি ভালোবাসার জন্য পুরোপুরি ঢেলে দিয়েছিলেন। এবং সেই মিষ্টি দৃষ্টির সাথে তিনি তাঁর পবিত্র হৃদয় দেখালেন যা দ্বিখণ্ডিত।
* এছাড়াও, আরও ভালো উপলব্ধির জন্য, এই পবিত্র শব্দটি বলা হয়েছিল: "দেখো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি! তাকাও এবং দেখো যে তোমার জন্য মরার আগেই আমি তোমাকে এতটাই ভালোবাসতাম যে আমি তোমার জন্য মরতে প্রস্তুত ছিলাম এবং এখন আমি তোমার জন্য মারা গেছি এবং যা আমি সহ্য করতে পারি তা স্বেচ্ছায় সহ্য করেছি। এবং এখন আমার সমস্ত তিক্ত যন্ত্রণা ও কঠিন কষ্ট আমার ও তোমার জন্য অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দে পরিণত হয়েছে। এখন কি এমন হতে পারে যে তুমি এমন কিছু প্রার্থনা করবে যা আমাকে খুশি করে, কিন্তু আমি তা তোমাকে সানন্দে দান করব না? কারণ আমার খুশি হলো তোমার পবিত্রতা এবং আমার সাথে তোমার অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দ।" <br> এই পবিত্র শব্দের অর্থ, আমি যতটা সহজভাবে বলতে পারি, তা হলো: "দেখো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।" আমাদের ভালো প্রভু আমাদের আনন্দিত ও প্রফুল্ল করার জন্যই এটি দেখিয়েছিলেন।
== একাদশ প্রকাশ (দ্য ইলেভেন্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৫ ===
* আনন্দ ও উল্লাসের সেই একই চেহারায় আমাদের ভালো প্রভু যিশু খ্রিস্ট ডান দিকে তাকালেন এবং আমার মনে করিয়ে দিলেন যে, তাঁর কষ্টের সময়ে আমাদের লেডি (মেরি) কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন এবং বললেন: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?"
* মোশির পরেই তিনিই সবচেয়ে পরমানন্দময় দৃশ্য। <br> কিন্তু এখানে আমি তাঁর শারীরিক উপস্থিতি দেখার জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে শিখিনি বরং তাঁর পবিত্র আত্মার গুণাবলী তাঁর সত্য, তাঁর প্রজ্ঞা, তাঁর দানশীলতা দেখতে শিখেছি। যার মাধ্যমে আমি নিজেকে চিনতে এবং শ্রদ্ধার সাথে আমার ঈশ্বরকে ভয় করতে পারি। এবং যখন আমাদের ভালো প্রভু এটি দেখালেন এবং বললেন: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?" আমি উত্তর দিলাম: "হ্যাঁ, ভালো প্রভু, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই। হ্যাঁ, ভালো প্রভু, যদি তোমার ইচ্ছা হয়।" আমি প্রায়শই এর জন্য প্রার্থনা করেছি এবং আমি ভেবেছিলাম আমি তাঁকে শারীরিক উপস্থিতিতে দেখব, কিন্তু আমি তাঁকে সেভাবে দেখিনি। এবং যিশু সেই কথায় আমাকে তাঁর আধ্যাত্মিক রূপ দেখিয়েছেন: আমি আগে তাঁকে যেমন ছোট ও সাধারণ হিসেবে দেখেছিলাম, তিনি তখন তাঁকে উচ্চ, মহৎ, গৌরবময় এবং সমস্ত প্রাণীর ঊর্ধ্বে তাঁর কাছে প্রিয় হিসেবে দেখালেন। <br> এবং তিনি চান যেন এটি জানা থাকে। যে সবাই যারা তাঁর মধ্যে আনন্দ পায়, তারা যেন তাঁর মধ্যেও আনন্দ পায় এবং সেই সন্তুষ্টিতে যা তাঁর মধ্যে আছে এবং যা তাঁর মধ্যে তাঁর আছে।
* এবং যিশুর এই কথায়: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?" আমার মনে হয়েছিল এটিই সবচেয়ে আনন্দদায়ক শব্দ যা তিনি তাঁর সম্পর্কে আমাকে বলতে পারতেন, সেই আধ্যাত্মিক দর্শনের সাথে যা তিনি আমাকে তাঁর সম্পর্কে দিয়েছিলেন। কারণ আমাদের প্রভু আমাদের লেডি সেন্ট মেরি ছাড়া বিশেষ কিছুই দেখাননি এবং তাঁকে তিনি তিনবার দেখিয়েছেন। প্রথমটি হলো যখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। দ্বিতীয়টি হলো যখন তিনি ক্রুশের নিচে কষ্টে ছিলেন। তৃতীয়টি হলো এখন যেমন তিনি সন্তুষ্টি, শ্রদ্ধা এবং আনন্দে আছেন।
== দ্বাদশ প্রকাশ (দ্য টুয়েলভথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৬ ===
[[File:Collage Auge im Himmel byLöser.jpg|thumb|আমিই সেই, যে এখানে তোমাকে নিজেকে দেখালাম।]]
* এর পরে আমাদের প্রভু নিজেকে আমার দৃষ্টিতে আগের চেয়ে বেশি মহিমান্বিত হিসেবে দেখালেন, যার মাধ্যমে আমি শিখলাম যে আমাদের আত্মা কখনোই বিশ্রাম পাবে না যতক্ষণ না তা তাঁর কাছে পৌঁছায়, এটা জেনে যে তিনিই আনন্দের পূর্ণতা, আপন ও সৌজন্যপূর্ণ, পরমানন্দময় এবং প্রকৃত জীবন। <br> আমাদের প্রভু যিশু বারবার বললেন: '''''আমিই সেই, আমিই সেই: আমিই সেই যে সর্বোচ্চ, আমিই সেই যাকে তুমি ভালোবাসো, আমিই সেই যাকে তুমি উপভোগ করো, আমিই সেই যার তুমি সেবা করো, আমিই সেই যার জন্য তুমি তৃষ্ণার্ত, আমিই সেই যাকে তুমি আকাঙ্ক্ষা করো, আমিই সেই যা তুমি বোঝো, আমিই সেই যা সবকিছু। আমিই সেই যা পবিত্র চার্চ তোমার কাছে প্রচার করে ও শিক্ষা দেয়, আমিই সেই যে এখানে তোমাকে নিজেকে দেখালাম।''''' শব্দগুলোর সংখ্যা আমার বুদ্ধি, সমস্ত উপলব্ধি এবং ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। এবং আমার দৃষ্টিতে এগুলোই সর্বোচ্চ। কারণ এর মধ্যে নিহিত আছে আমি বলে বোঝাতে পারব না কিন্তু তাদের প্রকাশের মধ্যে আমি যে আনন্দ দেখেছি, তা হৃদয় যা চাইতে পারে এবং আত্মা যা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে, তার সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই শব্দগুলো এখানে বিস্তারিত বলা হলো না। কিন্তু ঈশ্বর মানুষকে বোঝার ও ভালোবাসার যে কৃপা দেন, সেই অনুযায়ী প্রত্যেকে আমাদের প্রভুর অর্থে তা গ্রহণ করুক।
== ত্রয়োদশ প্রকাশ (দ্য থার্টিনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৭ ===
* '''পাপ প্রয়োজনীয়, কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে।'''
* এই সময়ের আগে আমার বোকামিতে আমি প্রায়শই ভাবতাম, ঈশ্বরের মহান দূরদর্শী প্রজ্ঞা দ্বারা কেন পাপের শুরুকে বাধা দেওয়া হয়নি। কারণ তখন, আমার মনে হয়েছিল, সবকিছুই ভালো হতো। এই অস্থিরতা অনেক বর্জনীয় ছিল কিন্তু তবুও আমি এর জন্য শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম, কোনো কারণ ও বিচার-বিবেচনা ছাড়াই। <br> কিন্তু যিশু, যিনি এই দর্শনে আমার প্রয়োজনীয় সবকিছু সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছিলেন, তিনি এই শব্দের দ্বারা উত্তর দিয়ে বললেন: '''''পাপ হওয়া প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে, এবং সবকিছুই ভালো হবে এবং সব ধরনের জিনিসই ভালো হবে।'''''
* এই নগ্ন শব্দ 'পাপে', আমাদের প্রভু আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, সাধারণভাবে, 'যা কিছু ভালো নয়' এবং সেই লজ্জাজনক অপমান ও সম্পূর্ণ তুচ্ছতা যা তিনি এই জীবনে আমাদের জন্য সহ্য করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যু এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির সমস্ত বেদনা ও কষ্ট, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক। কারণ আমরা সবাই আংশিকভাবে তুচ্ছ হয়েছি এবং আমাদের প্রভু যিশুকে অনুসরণ করে আমরা তুচ্ছ হব, যতক্ষণ না আমরা পুরোপুরি পবিত্র হই, অর্থাৎ, যতক্ষণ না আমরা আমাদের নশ্বর দেহ থেকে এবং আমাদের সমস্ত অভ্যন্তরীণ আসক্তি থেকে পুরোপুরি তুচ্ছ হই যা খুব একটা ভালো নয় এবং এর দর্শন, সমস্ত বেদনা যা কখনো ছিল বা কখনো থাকবে তার সাথে—এবং এই সমস্ত কিছুর সাথে আমি খ্রিস্টের প্যাশন বা কষ্টকে সবচেয়ে বড় এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে বেদনা হিসেবে বুঝি। '''এই সবকিছু একটি স্পর্শে দেখানো হয়েছিল এবং দ্রুত সান্ত্বনায় পরিণত হয়েছিল। কারণ আমাদের ভালো প্রভু চাননি যে আত্মা এই ভয়ানক দৃশ্য দেখে ভীত হোক। <br> কিন্তু আমি 'পাপ' দেখতে পাইনি: কারণ আমি বিশ্বাস করি এর কোনো ''সত্তা'' নেই এবং কোনো অস্তিত্বের অংশ নেই, কিংবা ব্যথার কারণ হওয়া ছাড়া এটি জানা সম্ভব নয়।''' <br> এবং এইভাবে বেদনা, ''এটি'' আমার দৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য কিছু একটা। কারণ এটি পবিত্র করে, এবং আমাদের নিজেদের চিনতে ও দয়া চাইতে বাধ্য করে। কারণ আমাদের প্রভুর প্যাশন এই সবকিছুর বিরুদ্ধে আমাদের সান্ত্বনা এবং তাঁর পবিত্র ইচ্ছাও তাই।
* এবং সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্তদের প্রতি আমাদের ভালো প্রভুর কোমল ভালোবাসার কারণে, তিনি তৎক্ষণাৎ ও মিষ্টিভাবে সান্ত্বনা দিয়ে ইঙ্গিত করেন। ''এটা সত্য যে পাপই এই সমস্ত যন্ত্রণার কারণ। কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে, এবং সবকিছুই ভালো হবে, এবং সব ধরনের জিনিসই ভালো হবে।'' <br> '''এই শব্দগুলো খুব কোমলভাবে বলা হয়েছিল, আমার প্রতি বা পরিত্রাণপ্রাপ্ত কারো প্রতি কোনো দোষারোপ না দেখিয়ে। তাহলে আমার পাপের জন্য ঈশ্বরকে দোষারোপ করা বা অবাক হওয়া হবে এক চরম অকৃতজ্ঞতা, যেহেতু তিনি আমাকে পাপের জন্য দোষারোপ করেন না। <br> এবং এই শব্দগুলোতে আমি ঈশ্বরের মধ্যে লুকানো একটি বিস্ময়কর উচ্চ রহস্য দেখেছি, যে রহস্য তিনি স্বর্গে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবেন: যা জানার পর আমরা সত্যই সেই কারণটি দেখতে পাব কেন তিনি পাপকে আসতে দিয়েছিলেন। সেই দর্শনে আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মধ্যে অন্তহীন আনন্দিত হব।'''
=== অধ্যায় ২৮ ===
* এইভাবে আমি দেখলাম কীভাবে খ্রিস্ট পাপের কারণের জন্য আমাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখান।
* এর উত্তরে আমাদের প্রভু এই ভাবে বললেন: '''''এর দ্বারা আমি স্বর্গে অন্তহীন পূজা এবং চিরন্তন আনন্দের একটি মহান জিনিস তৈরি করব।'''''
* হ্যাঁ, আমি এতদূর দেখলাম যে, আমাদের প্রভু তাঁর সেবকদের যন্ত্রণার জন্য আনন্দিত হন, দয়া ও সহমর্মিতার সাথে। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে তাঁর পরমানন্দে আনার জন্য, তিনি তার ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেন যা তাঁর দৃষ্টিতে কোনো দোষ নয়, যার মাধ্যমে তারা এই পৃথিবীতে দোষী ও ঘৃণিত হয়, উপহাসিত, বিদ্রূপিত এবং পরিত্যক্ত হয়। এবং তিনি এটি করেন সেই ক্ষতি রোধ করার জন্য যা তারা এই জঘন্য জীবনের জাঁকজমক ও বৃথা গৌরব থেকে পেতে পারত, এবং তাদের স্বর্গে আসার পথ প্রস্তুত করতে, এবং তাঁর অনন্ত পরমানন্দে তাদের উন্নীত করতে। কারণ তিনি বলেন: ''আমি আপনাদের বৃথা আসক্তি ও আপনাদের দুষ্ট অহংকার থেকে পুরোপুরি মুক্ত করব এবং এর পরে আমি আপনাদের একত্রিত করব, এবং আমাকে একীভূত করার মাধ্যমে আপনাদের নম্র, মৃদু, পবিত্র ও নিষ্পাপ করব।''
* '''প্রতিটি ভ্রাতৃত্বসুলভ সহমর্মিতা যা মানুষের তার সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি থাকে, প্রেমের সাথে, তা হলো তার মধ্যে খ্রিস্ট।'''
** পাঠান্তর: ''প্রতিটি দয়ালু সহমর্মিতা যা মানুষের তার সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি প্রেমের সাথে থাকে, তা হলো তার মধ্যে খ্রিস্ট।''
* '''সেই একই তুচ্ছতা যা [[খ্রিস্টের প্যাশন|তাঁর প্যাশনে]] দেখানো হয়েছিল, তা আবার এখানে এই সহমর্মিতায় দেখানো হয়েছে।''' যার মধ্যে আমাদের প্রভুর অর্থে দুই ধরনের উপলব্ধি ছিল। একটি ছিল সেই পরমানন্দ যেখানে আমাদের আনা হয়েছে, যাতে তিনি চান আমরা আনন্দিত হই। অন্যটি আমাদের যন্ত্রণায় সান্ত্বনার জন্য: কারণ তিনি চান আমরা যেন বুঝতে পারি যে তাঁর প্যাশনের গুণের মাধ্যমে সবকিছুই পূজা ও উপকারে পরিণত হবে, আমরা যেন বুঝতে পারি যে আমরা একা কষ্ট সহ্য করি না বরং তাঁর সাথে করি এবং তাঁকে আমাদের ভিত্তি হিসেবে দেখি এবং আমরা দেখি যে তাঁর যন্ত্রণা ও তাঁর তুচ্ছতা আমাদের সহ্য করার সমস্ত কিছুর চেয়ে অনেক বেশি, যা পুরোপুরি ভাবাও যায় না। <br> এর দর্শন আমাদের যন্ত্রণার অনুভূতিতে বিড়বিড় করা ও হতাশা থেকে বাঁচাবে। '''এবং যদি আমরা সত্যই দেখি যে আমাদের পাপ এর যোগ্য, তবুও তাঁর ভালোবাসা আমাদের ক্ষমা করে এবং তাঁর মহান সৌজন্যে তিনি আমাদের সমস্ত দোষ দূর করে দেন, এবং নিষ্পাপ ও নিষ্কলঙ্ক শিশুদের মতো করুণা ও দয়ার সাথে আমাদের দিকে তাকান।'''
=== অধ্যায় ২৯ ===
* কিন্তু এতে আমি সাধারণভাবে, অশান্তি ও শোকে জিনিসগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আমার অর্থে আমাদের প্রভুকে পূর্ণ ভয়ের সাথে এইভাবে বললাম: ''আহ! ভালো প্রভু, সবকিছু কীভাবে ভালো হতে পারে, পাপের কারণে সৃষ্টির যে মহান ক্ষতি হয়েছে তার জন্য?'' এবং এখানে আমি, যতটা সাহস করতাম, আরও খোলাখুলি ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম যাতে আমি এই বিষয়ে স্বস্তি পেতে পারি।
* তিনি শিখিয়েছিলেন যে আমার গৌরবময় সন্তুষ্টির দিকে তাকানো উচিত: কারণ এই সংশোধন ঈশ্বরের কাছে আদম্যের পাপের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দদায়ক এবং অতুলনীয়ভাবে বেশি পূজনীয়। তখন আমাদের পবিত্র প্রভু এই শিক্ষায় এইভাবে ইঙ্গিত করেন যে, আমাদের এই দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত: ''যেহেতু আমি সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভালো করেছি, তাই আমার ইচ্ছা যে তুমি এর দ্বারা জানো যে আমি যা কিছু কম, তা-ও ভালো করব।''
=== অধ্যায় ৩০ ===
* তিনি আমাকে দুটি অংশের উপলব্ধি দিয়েছিলেন। একটি অংশ হলো আমাদের ত্রাণকর্তা এবং আমাদের পরিত্রাণ। এই পবিত্র অংশটি উন্মুক্ত এবং পরিষ্কার এবং সুন্দর এবং উজ্জ্বল, এবং প্রাচুর্যময়,কারণ সমস্ত মানবজাতি যারা সদিচ্ছাসম্পন্ন, এবং যারা থাকবে, তারা এই অংশে অন্তর্ভুক্ত।
* এতে আমাদের প্রভুর ইচ্ছা যে আমরা ব্যস্ত থাকি, তাঁর মধ্যে আনন্দিত হয়ে। কারণ তিনি আমাদের মধ্যে আনন্দিত হন। আমরা যত বেশি প্রাচুর্যের সাথে এটি গ্রহণ করি, শ্রদ্ধা ও নম্রতার সাথে, আমরা তাঁর কাছ থেকে তত বেশি ধন্যবাদ অর্জন করি এবং নিজের জন্য তত বেশি গতি বৃদ্ধি করি, এইভাবে আমরা বলতে পারি। আমাদের প্রভুর 'আমাদের' অংশে আনন্দিত হয়ে। অন্যটি আমাদের থেকে লুকানো এবং বন্ধ করা: অর্থাৎ, আমাদের পরিত্রাণের বাইরের সবকিছু।
* '''স্বর্গে যে সাধুরা আছেন, তারা আমাদের প্রভুর ইচ্ছার বাইরে কিছু জানতে চান না এবং তাদের ভালোবাসা ও ইচ্ছা আমাদের প্রভুর ইচ্ছা অনুযায়ী শাসিত হয় এবং এইভাবে আমাদের ইচ্ছা করা উচিত, তাদের মতো। তখন আমরা আমাদের প্রভুর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাইব না বা আকাঙ্ক্ষা করব না, যেমন তারা করে। কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা সবাই এক।'''
=== অধ্যায় ৩১ ===
* এবং এইভাবে আমাদের ভালো প্রভু আমার সমস্ত প্রশ্ন এবং সন্দেহের উত্তর দিয়েছিলেন, খুব সান্ত্বনাদায়কভাবে বলে। '''''আমি সবকিছু ভালো করতে পারি, আমি সবকিছু ভালো করতে জানি, আমি চাই সবকিছু ভালো করতে, এবং আমি সবকিছু ভালো করব এবং তুমি নিজেই দেখবে যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'''''
* এইভাবে খ্রিস্টের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার অবসান ঘটবে। কারণ এটিই খ্রিস্টের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা: সেই ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা যা স্থায়ী হয়, এবং চিরকাল থাকবে, যতক্ষণ না আমরা বিচার দিবসে সেই দর্শন দেখি। কারণ আমরা যারা পরিত্রাণ পাব এবং যারা হব খ্রিস্টের আনন্দ ও তাঁর পরমানন্দ, কেউ কেউ এখনো এখানে আছি এবং কেউ কেউ আসার অপেক্ষায়, এবং সেই দিন পর্যন্ত কেউ কেউ থাকবে। অতএব এটি তাঁর তৃষ্ণা ও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, আমাদের সবাইকে তাঁর পরমানন্দে তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পাওয়ার জন্য,আমার দৃষ্টিতে। কারণ এখন আমরা তাঁর মধ্যে ততটা সম্পূর্ণ নই যতটা আমরা তখন হব।
* সত্যই যেমন ঈশ্বরের মধ্যে করুণা ও দয়ার একটি বৈশিষ্ট্য আছে, তেমনই সত্যই ঈশ্বরের মধ্যে তৃষ্ণা ও আকাঙ্ক্ষার একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এবং খ্রিস্টের এই আকাঙ্ক্ষার গুণের থেকে, 'আমাদের' তাঁর প্রতি আবার আকাঙ্ক্ষা করতে হবে: যা ছাড়া কোনো আত্মা স্বর্গে আসে না। এবং আকাঙ্ক্ষা ও তৃষ্ণার এই বৈশিষ্ট্য ঈশ্বরের অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আসে, ঠিক যেমন করুণার বৈশিষ্ট্য তাঁর অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আসে। এবং যদিও আমার দৃষ্টিতে আকাঙ্ক্ষা ও করুণা দুটি আলাদা বৈশিষ্ট্য, তবুও এটি আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার মূল বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে: যা হলো 'যতদিন আমরা প্রয়োজনে থাকি তাঁর মধ্যে ইচ্ছা থাকা', আমাদের তাঁর পরমানন্দের দিকে টেনে নেওয়া। এবং এই সবকিছু সহমর্মিতার প্রদর্শনীতে দেখা গিয়েছিল: কারণ তা বিচার দিবসে শেষ হবে। <br> এইভাবে তিনি আমাদের প্রতি করুণা ও সহমর্মিতা রাখেন, এবং আমাদের পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাঁর আছে; কিন্তু তাঁর প্রজ্ঞা ও তাঁর ভালোবাসা সেরা সময় পর্যন্ত শেষ হতে দেয় না।
=== অধ্যায় ৩২ ===
* একবার আমাদের ভালো প্রভু বলেছিলেন: ''সবকিছু ভালো হবে'' এবং অন্য সময় তিনি বলেছিলেন: ''তুমি নিজেই দেখবে যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে''এবং এই দুটিতে আত্মা আলাদা আলাদা উপলব্ধি নিয়েছিল। একটি ছিল যে, তিনি চান আমরা জানি যে তিনি কেবল মহৎ ও মহান জিনিসের দিকেই মনোযোগ দেন না বরং ছোট ও সামান্য, নিচু ও সাধারণ, একের ও অপরের দিকেও। এবং তাই তিনি বোঝান যখন তিনি বলেন: ''সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' কারণ তিনি চান আমরা জানি যে ক্ষুদ্রতম জিনিসটিও বিস্মৃত হবে না।
* আরেকটি উপলব্ধি হলো এই যে, আমাদের দৃষ্টিতে এমন খারাপ কাজ করা হয়, এবং এত বড় ক্ষতি হয় যে আমাদের কাছে মনে হয় যে ভালো পরিণামে আসা অসম্ভব। এবং এর দিকে আমরা তাকাই, শোক ও দুঃখ করি, যাতে আমরা ঈশ্বরের পরমানন্দময় দর্শনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে পারি না যেমন আমাদের করা উচিত। এবং এর কারণ হলো আমাদের যুক্তির ব্যবহার এখন এতটাই অন্ধ, এতটাই নিচু, এবং এতটাই সাধারণ যে আমরা সেই মহান বিস্ময়কর প্রজ্ঞা, পরমানন্দময় ত্রিত্বের শক্তি ও মঙ্গলময়তাকে জানতে পারি না। এবং এইভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন যখন তিনি বলেন: ''তুমি নিজেই দেখবে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' যেন তিনি বললেন: ''এখন বিশ্বাস ও আস্থার সাথে মনোযোগ দাও এবং শেষ মুহূর্তে তুমি সত্যই তা আনন্দের পূর্ণতায় দেখতে পাবে।''
* এইভাবে এই একই পাঁচটি শব্দে: ''আমি সবকিছু ভালো করতে পারি'', ইত্যাদি, আমি আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সমস্ত কাজের একটি শক্তিশালী সান্ত্বনা বুঝি যা এখনো আসা বাকি। একটি কাজ আছে যা পবিত্র ত্রিত্ব শেষ দিনে করবে, আমার দৃষ্টিতে, এবং কখন সেই কাজ হবে, এবং কীভাবে তা করা হবে, তা খ্রিস্টের নিচের সমস্ত সৃষ্টির অজানা, এবং তা না হওয়া পর্যন্ত অজানা থাকবে।
* তিনি যে চান আমরা জানি, তার কারণ হলো তিনি চান আমাদের আত্মায় আরও স্বস্তি আসুক এবং প্রেমে শান্তিতে স্থাপন করা হোক সমস্ত অশান্ত জিনিসের দর্শন ছেড়ে যা আমাদের তাঁর প্রকৃত উপভোগ থেকে বিরত রাখতে পারে। এটিই সেই মহান কাজ যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর সৃষ্টির আদি থেকেই নির্ধারণ করেছেন, তাঁর পবিত্র বক্ষে সংরক্ষিত ও লুকানো, কেবল তাঁরই পরিচিত: যার দ্বারা তিনি সবকিছু ভালো করবেন। <br> কারণ যেমন পবিত্র ত্রিত্ব শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, ঠিক তেমনই সেই একই পবিত্র ত্রিত্ব যা ভালো নয় তা ভালো করবেন।
* আমাদের বিশ্বাস ঈশ্বরের কথার ওপর ভিত্তি করে, এবং এটি আমাদের বিশ্বাসের অংশ যে আমরা বিশ্বাস করি ঈশ্বরের কথা সব বিষয়ে রক্ষিত হবে। এবং আমাদের বিশ্বাসের একটি বিন্দু হলো যে অনেক সৃষ্টি দণ্ডিত হবে: যেমন দেবদূত যারা অহংকারের জন্য স্বর্গ থেকে পড়ে গিয়েছিল, যারা এখন শয়তান এবং পৃথিবীতে মানুষ যারা পবিত্র চার্চের বিশ্বাস ছাড়া মারা যায়: অর্থাৎ, তারা যারা বিধর্মী মানুষ এবং মানুষ যারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছে কিন্তু অখ্রিস্টীয় জীবন যাপন করে এবং এভাবে প্রেমহীন হয়ে মারা যায়: এদের সবাই নরকে চিরকাল দণ্ডিত হবে, যেমন পবিত্র চার্চ আমাকে বিশ্বাস করতে শেখায়। এবং এই সবকিছু দাঁড়িয়ে, আমার মনে হয়েছিল এটা অসম্ভব যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে, যেমন আমাদের প্রভু একই সময়ে দেখিয়েছিলেন। <br> এবং এর উত্তরে আমার প্রভু ঈশ্বরের প্রদর্শনীতে অন্য কোনো উত্তর ছিল না কিন্তু এটি: '''''যা তোমার কাছে অসম্ভব তা আমার কাছে অসম্ভব নয়: আমি সব বিষয়ে আমার কথা রক্ষা করব এবং আমি সবকিছু ভালো করব।''''' এইভাবে আমি শিক্ষিত হয়েছিলাম, ঈশ্বরের কৃপায়, যে আমি অটলভাবে বিশ্বাসের মধ্যে নিজেকে ধরে রাখব যেমনটি আমি আগে বুঝেছিলাম, তার সাথে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করব যে সবকিছু ভালো হবে, যেমন আমাদের প্রভু একই সময়ে দেখিয়েছিলেন। <br> '''কারণ এটিই সেই মহান কাজ যা আমাদের প্রভু করবেন, যে কাজে তিনি তাঁর কথা রক্ষা করবেন এবং তিনি যা ভালো নয় তা ভালো করবেন। কীভাবে তা করা হবে তা খ্রিস্টের নিচে কোনো সৃষ্টির জানা নেই, কিংবা তা না হওয়া পর্যন্ত জানবে না। এই সময়ে আমাদের প্রভুর অর্থের যে উপলব্ধি আমি নিয়েছিলাম তার অনুযায়ী।'''
=== অধ্যায় ৩৩ ===
* এবং তবুও এতে আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম, যতটা সাহস করতাম, যে আমি নরক ও পবিত্র স্থানের পূর্ণ দর্শন পেতে পারি। কিন্তু বিশ্বাসের অন্তর্গত কোনো কিছুর প্রমাণ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না: কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতাম যে নরক ও পবিত্র স্থান সেই একই উদ্দেশ্যে যার জন্য পবিত্র চার্চ শেখায়, কিন্তু আমার উদ্দেশ্য ছিল আমি যেন দেখতে পারি, আমার বিশ্বাসের অন্তর্গত সমস্ত বিষয়ে শেখার জন্য: যার দ্বারা আমি ঈশ্বরের উপাসনায় এবং আমার লাভের জন্য আরও বেশি বাঁচতে পারি। <br> কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষার জন্য, আমি এর কিছুই করতে পারিনি, কেবল প্রথম প্রদর্শনীতে যা আগে বলা হয়েছে, যেখানে আমি দেখেছিলাম যে শয়তান ঈশ্বর কর্তৃক তিরস্কৃত এবং চিরকাল দণ্ডিত। সেই দর্শনে আমি সমস্ত সৃষ্টির জন্য বুঝেছিলাম যারা এই জীবনে শয়তানের অবস্থার এবং তাতে শেষ করে, তাদের বিষয়ে ঈশ্বর ও তাঁর সমস্ত পবিত্রদের সামনে শয়তানের চেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয় না, যদিও তারা মানবজাতির,তারা খ্রিস্টান হোক বা না হোক।
* ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা তাঁর করা সমস্ত কাজের প্রতি মহান দৃষ্টি রাখি, কিন্তু সর্বদা আমাদের কী কাজ হবে তার দর্শন ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন।
* '''আসুন আমরা আমাদের ভাইদের মতো হতে আকাঙ্ক্ষা করি যারা স্বর্গে সাধু, যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চায় না এবং যারা লুকানো ও দেখানো উভয় বিষয়েই সন্তুষ্ট। কারণ আমি আমাদের প্রভুর শিক্ষায় সত্যই দেখেছি, এই বিষয়ে বা অন্য যেকোনো বিষয়ে তাঁর গোপন পরামর্শ জানার জন্য আমরা যত বেশি ব্যস্ত হব, ততই আমরা তা জানার থেকে দূরে থাকব।'''
=== অধ্যায় ৩৪ ===
[[File:VY Canis Majoris.jpg|thumb|এই গোপন জিনিসগুলো তিনি চান আমরা 'লুকানো' হিসেবে জানি যতক্ষণ না সেই সময় আসে যখন তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে সেগুলো দেখাবেন।]]
[[File:Cross on Mount Royal.JPG|thumb|কারণ যা কিছু আমাদের শেখা এবং জানা দরকারী, খুব সৌজন্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রভু আমাদের দেখাবেন।]]
* '''আমাদের প্রভু ঈশ্বর দুই ধরনের গোপন জিনিস দেখিয়েছেন। একটি হলো এই মহান গোপনীয়তা এর সাথে যুক্ত সমস্ত গোপন বিন্দুর সাথে: এবং এই গোপন জিনিসগুলো তিনি চান আমরা 'লুকানো' হিসেবে জানি যতক্ষণ না সেই সময় আসে যখন তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে সেগুলো দেখাবেন।''' অন্যগুলো হলো গোপন জিনিস যা তিনি উন্মুক্ত এবং আমাদের কাছে জ্ঞাত করতে চান। কারণ তিনি চেয়েছিলেন আমরা যেন বুঝতে পারি যে এটি তাঁর ইচ্ছা যে আমাদের তা জানা উচিত। সেগুলো আমাদের কাছে গোপন কেবল এই জন্য নয় যে তিনি চান সেগুলো আমাদের কাছে গোপন থাকুক বরং সেগুলো আমাদের অন্ধত্ব এবং আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমাদের কাছে গোপন। এবং তার জন্য '''তিনি মহান করুণা অনুভব করেন, এবং তাই তিনি নিজেই সেগুলো আমাদের কাছে আরও উন্মুক্ত করবেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পারি এবং ভালোবাসতে পারি এবং তাঁর সাথে লেগে থাকতে পারি। কারণ যা কিছু আমাদের শেখা এবং জানা দরকারী, খুব সৌজন্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রভু আমাদের দেখাবেন।'''
* '''তিনিই ভিত্তি, তিনিই সত্তা, তিনিই শিক্ষা, তিনিই শিক্ষক, তিনিই শেষ, তিনিই সেই পুরস্কার যার জন্য প্রতিটি দয়ালু আত্মা পরিশ্রম করে।''' <br> এবং ''এটি'' জানা যায়, এবং প্রতিটি আত্মার কাছে জানা যাবে যার কাছে পবিত্র আত্মা এটি ঘোষণা করে। এবং আমি সত্যই আশা করি যে তারা যারা এটি খোঁজে, তাদের তিনি সফল করবেন: কারণ তারা ঈশ্বরকে খোঁজে। <br> এই সবকিছু যা আমি এখন বলেছি, এবং আরও যা আমি পরে বলব, পাপের বিরুদ্ধে সান্ত্বনাদায়ক। '''কারণ তৃতীয় প্রদর্শনীতে যখন আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বর যা করা হয় তা সবই করেন, আমি কোনো পাপ দেখিনি: এবং তখন আমি দেখেছিলাম যে সবকিছু ভালো ''আছে''। কিন্তু যখন ঈশ্বর আমাকে পাপের জন্য দেখিয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''
=== অধ্যায় ৩৫ ===
* যখন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান তাঁর মঙ্গলময়তা সম্পর্কে এত প্রাচুর্যপূর্ণভাবে এবং আনন্দের সাথে দেখিয়েছিলেন, আমি নির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছিলাম একটি নির্দিষ্ট সৃষ্টি সম্পর্কে যাকে আমি ভালোবাসতাম, যদি তা ভালো জীবনে অব্যাহত থাকে, যা আমি ঈশ্বরের কৃপায় আশা করেছিলাম শুরু হয়েছে। এবং একটি 'বিশেষ' প্রদর্শনীর এই আকাঙ্ক্ষায়, মনে হয়েছিল যে আমি নিজেকে বাধা দিয়েছি: কারণ এই সময়ে আমি শিক্ষিত ছিলাম না। এবং তখন আমার যুক্তিতে আমাকে উত্তর দেওয়া হয়েছিল, যেন একজন বন্ধুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর দ্বারা: ''এটি সাধারণভাবে গ্রহণ করো, এবং প্রভু ঈশ্বরের করুণার দিকে তাকাও যেমন তিনি তোমাকে দেখান: কারণ ঈশ্বরের মধ্যে তাঁকে দেখা যেকোনো বিশেষ জিনিসের চেয়ে বেশি পূজাযোগ্য।'' এবং তার সাথে আমি শিখেছিলাম যে কোনো বিশেষ জিনিসের আনন্দ নেওয়ার চেয়ে সাধারণভাবে সবকিছু জানা ঈশ্বরের কাছে বেশি পূজাযোগ্য। এবং যদি আমি এই শিক্ষা অনুযায়ী বিজ্ঞতার সাথে কাজ করি, তবে আমার কেবল কোনো বিশেষ জিনিসের জন্য আনন্দিত হওয়া উচিত নয়, বরং আমার কোনো ধরনের জিনিসের জন্য খুব বেশি কষ্ট পাওয়া উচিত নয়: কারণ ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''কারণ আনন্দের পূর্ণতা হলো ঈশ্বরকে সবকিছুর মধ্যে দেখা: কারণ একই পবিত্র শক্তি, প্রজ্ঞা এবং ভালোবাসা দিয়ে, যা দিয়ে তিনি সবকিছু তৈরি করেছেন, সেই একই উদ্দেশ্যে আমাদের ভালো প্রভু এটি ক্রমাগত পরিচালনা করেন, এবং তার দিকে তিনি নিজেই এটি আনবেন এবং যখন সময় হবে আমরা তা দেখতে পাব।'''
* '''আমাদের প্রভু যা কিছু করেন তা ন্যায়পরায়ণ এবং যা তিনি সহ্য করেন তা পূজাযোগ্য এবং এই দুটির মধ্যে ভালো ও মন্দ অন্তর্ভুক্ত কারণ যা ভালো আমাদের প্রভু তা করেন, এবং যা মন্দ আমাদের প্রভু তা সহ্য করেন। আমি বলছি না যে কোনো মন্দ পূজাযোগ্য, কিন্তু আমি বলছি আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সহনশীলতা পূজাযোগ্য। যার দ্বারা তাঁর মঙ্গলময়তা জানা যাবে, অন্তহীনভাবে, তাঁর বিস্ময়কর নম্রতা ও মৃদুতাতে, দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা।'''
* 'ন্যায়পরায়ণতা' হলো সেই জিনিস যা এতটাই ভালো যে তা তার চেয়ে ভালো হতে পারে না। কারণ ঈশ্বর নিজেই প্রকৃত ন্যায়পরায়ণতা, এবং তাঁর সমস্ত কাজ ন্যায়পরায়ণভাবে করা হয় যেমন সেগুলো সৃষ্টির আদি থেকে তাঁর মহান শক্তি, তাঁর মহান প্রজ্ঞা, তাঁর মহান মঙ্গলময়তা দ্বারা নির্ধারিত। এবং ঠিক যেমন তিনি সেরাটির জন্য নির্ধারণ করেছেন, ঠিক তেমন তিনি ক্রমাগত কাজ করেন, এবং এটিকে সেই একই পরিণতির দিকে নিয়ে যান এবং তিনি সর্বদা নিজের সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে পূর্ণ সন্তুষ্ট। <br> এবং এই পরমানন্দময় চুক্তির দর্শন সেই আত্মার জন্য খুব মিষ্টি যে কৃপার দ্বারা দেখে।
* 'করুণা' হলো এমন একটি কাজ যা ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা থেকে আসে, এবং এটি কাজ করার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হবে, যেমন পাপকে ন্যায়পরায়ণ আত্মাকে অনুসরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এবং যখন পাপের অনুসরণ করার আর কোনো অনুমতি থাকে না, তখন করুণার কাজ শেষ হবে, এবং তখন সবকিছু ন্যায়পরায়ণতায় আনা হবে এবং তাতে চিরকাল দাঁড়াবে। <br> এবং তাঁর সহনশীলতায় আমরা পড়ে যাই এবং তাঁর শক্তি ও প্রজ্ঞা সহ তাঁর পরমানন্দময় ভালোবাসায় আমরা সংরক্ষিত থাকি; এবং দয়া ও কৃপার দ্বারা আমরা বহুবিধ আনন্দের দিকে উন্নীত হই। <br> এইভাবে ন্যায়পরায়ণতা ও করুণায় তিনি পরিচিত ও ভালোবাসার পাত্র হতে চান, এখন এবং চিরকাল। এবং যে আত্মা কৃপার মধ্যে বিজ্ঞতার সাথে এটির দিকে তাকায়, তা উভয়ের সাথে খুব সন্তুষ্ট থাকে এবং অন্তহীনভাবে আনন্দিত হয়।
=== অধ্যায় ৩৬ ===
* '''আমাদের প্রভু ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে একটি কাজ করা হবে, এবং তিনি নিজেই তা করবেন, এবং আমি পাপ ছাড়া কিছুই করব না এবং আমার পাপ তাঁর মঙ্গলময় কাজকে বাধা দেবে না।'''
* এই কাজটি এখানে শুরু হবে, এবং এটি ঈশ্বরের কাছে পূজাযোগ্য এবং পৃথিবীতে তাঁর প্রেমীদের কাছে প্রাচুর্যপূর্ণভাবে লাভজনক হবে; এবং আমরা যখন স্বর্গে পৌঁছাব তখন আমরা এটি বিস্ময়কর আনন্দে দেখব, এবং এটি শেষ দিন পর্যন্ত এইভাবে কাজ করবে এবং এর পূজা ও পরমানন্দ ঈশ্বরের সামনে এবং তাঁর সমস্ত পবিত্রদের সামনে চিরকাল থাকবে। <br> এইভাবে আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে এই কাজটি দেখা ও বোঝা গিয়েছিল। এবং তিনি কেন এটি দেখিয়েছিলেন তার কারণ হলো আমাদের তাঁর মধ্যে এবং তাঁর সমস্ত কাজের মধ্যে আনন্দিত করা।
* কিন্তু এই কাজটি কী হবে তা আমার থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। <br> এবং এতে আমি দেখলাম যে তিনি চান না যে আমরা যে জিনিসগুলো তিনি দেখান তা জানার জন্য ভয় করি: তিনি সেগুলো দেখান কারণ তিনি চান আমরা সেগুলো জানি। যে জানার মাধ্যমে তিনি চান আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁর মধ্যে আনন্দ পাই এবং অন্তহীনভাবে উপভোগ করি। আমাদের প্রতি তাঁর মহান ভালোবাসার জন্য তিনি আমাদের জন্য সেই সময়ের জন্য পূজাযোগ্য ও লাভজনক সবকিছু দেখান।
* এই শব্দের অর্থ হলো,এটি আমার জন্য করা হবে, এর মানে হলো এটি সাধারণ মানুষের জন্য করা হবে: অর্থাৎ, যারা পরিত্রাণ পাবে তাদের সবার জন্য। এটি হবে পূজাযোগ্য এবং বিস্ময়কর এবং প্রাচুর্যপূর্ণ, এবং ঈশ্বর নিজেই এটি করবেন; এবং এটি হবে সর্বোচ্চ আনন্দ যা হতে পারে, সেই কাজের দিকে তাকানো যা ঈশ্বর নিজেই করবেন, এবং মানুষ পাপ ছাড়া কিছুই করবে না। তখন আমাদের প্রভু ঈশ্বর এইভাবে ইঙ্গিত করেন, যেন তিনি বললেন: ''তাকাও এবং দেখো! এখানে তোমার বিনম্রতার বিষয় আছে, এখানে তোমার ভালোবাসার বিষয় আছে, এখানে তোমার নিজেকে তুচ্ছ করার বিষয় আছে, এখানে তোমার আমার মধ্যে আনন্দিত হওয়ার বিষয় আছে এবং আমার ভালোবাসার জন্য, আমার মধ্যে আনন্দিত হও। কারণ সবকিছুর মধ্যে, এর দ্বারাই তুমি আমাকে সবচেয়ে বেশি খুশি করতে পারবে।''
* যতদিন আমরা এই জীবনে আছি, যখন আমরা আমাদের বোকামির দ্বারা পরিত্যক্তদের দর্শনের দিকে ঘুরে যাই, খুব কোমলভাবে আমাদের প্রভু ঈশ্বর আমাদের স্পর্শ করেন এবং পরমানন্দময়ভাবে আমাদের ডাকেন, আমাদের আত্মায় বলে। আমার প্রিয় সন্তান, তোমার সমস্ত ভালোবাসা ত্যাগ করো। আমার দিকে ফিরে এসো আমি তোমার জন্য যথেষ্ট এবং তোমার ত্রাণকর্তার মধ্যে এবং তোমার পরিত্রাণে আনন্দিত হও। এবং যে এটি আমাদের মধ্যে আমাদের প্রভুর কাজ, আমি নিশ্চিত যে যে আত্মার কৃপার দ্বারা এতে উপলব্ধি আছে সে তা দেখবে এবং অনুভব করবে।
* যদিও এটি এমন যে এই কাজটি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যই নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি বিশেষটিকে বাদ দেয় না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু তাঁর দরিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে কী করবেন, তা এখন আমার অজানা। <br> কিন্তু এই কাজ এবং পূর্বোক্ত অন্যটি, তারা উভয়ই এক নয় বরং দুটি ভিন্ন। এই কাজটি শীঘ্রই করা হবে এবং তা হবে যখন আমরা স্বর্গে পৌঁছাব, এবং আমাদের প্রভু যাকে এটি দেন, তা এখানে আংশিকভাবে জানা যেতে পারে। কিন্তু সেই মহান কাজ যা আগে বলা হয়েছে তা স্বর্গে বা পৃথিবীতে জানার সুযোগ নেই যতক্ষণ না তা করা হয়।
* তিনি অলৌকিক কাজ করার বিশেষ উপলব্ধি ও শিক্ষা দিয়েছিলেন, এইভাবে''এটি জানা যে আমি আগে অলৌকিক কাজ করেছি, অনেক এবং বিভিন্ন, উচ্চ এবং বিস্ময়কর, পূজাযোগ্য এবং মহান। এবং যেমন আমি করেছি, আমি এখন ক্রমাগত করছি এবং সময়ের আগমনে করব।''
* এটি জানা যে অলৌকিক কাজের আগে দুঃখ এবং যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ আসে। এবং তা এই জন্য যে আমাদের নিজেদের দুর্বলতা এবং আমাদের দুষ্টতা জানা উচিত যা আমরা পাপের দ্বারা পতিত হয়েছি, আমাদের বিনম্র করতে এবং আমাদের ঈশ্বরকে ভয় করতে ও সাহায্য ও কৃপার জন্য চিৎকার করতে বাধ্য করতে। অলৌকিক কাজ তার পরে আসে, এবং সেগুলো ঈশ্বরের মহান শক্তি, প্রজ্ঞা ও মঙ্গলময়তা থেকে আসে, তাঁর গুণ এবং স্বর্গের আনন্দগুলো প্রদর্শন করে যতটা এই নশ্বর জীবনে সম্ভব: এবং তা আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের আশা বাড়াতে, প্রেমের সাথে। তাই তিনি অলৌকিক কাজের মাধ্যমে পরিচিত ও পূজিত হতে আনন্দিত হন। তখন তিনি এইভাবে ইঙ্গিত করেন: তিনি চান না যে আমাদের দুঃখ ও ঝড়ের জন্য খুব নিচে নামিয়ে দেওয়া হোক যা আমাদের ওপর আসে: কারণ অলৌকিক কাজ আসার আগে সর্বদা এমনই হয়েছে।
* “আমার পাপ তাঁর মঙ্গলময় কাজকে বাধা দেবে না। . . . একটি কাজ করা হবে,যেমন আমরা স্বর্গে পৌঁছাব এবং এটি এখানে আংশিকভাবে জানা যেতে পারে। যদিও এটি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যই নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি বিশেষটিকে বাদ দেয় না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু তাঁর দরিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে কী করবেন, তা এখন আমার অজানা”
=== অধ্যায় ৩৭ ===
* ঈশ্বর আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে আমার পাপ করা উচিত। এবং তাঁর দর্শনে আমার যে সন্তুষ্টি ছিল তার জন্য, আমি সেই প্রদর্শনীতে মনোযোগ দিইনি; এবং আমাদের প্রভু খুব করুণাময়ভাবে অপেক্ষা করেছিলেন, এবং আমাকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য কৃপা দিয়েছিলেন। এবং এই প্রদর্শনীটি আমি বিশেষভাবে নিজের জন্য নিয়েছিলাম; কিন্তু সমস্ত কৃপাময় সান্ত্বনা যা অনুসরণ করে, যেমনটি তোমরা দেখবে, আমি আমার সমস্ত সহ-খ্রিস্টানদের জন্য নিতে শিখেছিলাম: ''সবকিছু সাধারণভাবে এবং বিশেষ কিছুই নয়'': যদিও আমাদের প্রভু আমাকে দেখিয়েছিলেন যে আমার পাপ করা উচিত, আমার একার দ্বারা সবাইকে বোঝানো হয়। <br> এবং এতে আমি একটি মৃদু ভয় অনুভব করলাম। এবং এর উত্তরে আমাদের প্রভু বললেন: ''আমি তোমাকে খুব নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।'' এই শব্দটি প্রেমের সাথে এবং নিরাপত্তার সাথে এবং আধ্যাত্মিক সুরক্ষার সাথে বলা হয়েছিল যা আমি বলতে পারি না বা সক্ষম নই।
* ঈশ্বর যা পরিত্রাণ পাবে এমন সবাইকে ভালোবাসেন, যেমন তা একটি আত্মা তা দেখার চেয়ে আমাকে আমার সহ-খ্রিস্টানদের ভালোবাসার জন্য আর কী করতে পারে? <br> '''কারণ প্রতিটি আত্মায় যা পরিত্রাণ পাবে একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে যা কখনো পাপকে সমর্থন করেনি, এবং কখনো করবে না।''' ঠিক যেমন নিচের অংশে একটি পশুসুলভ ইচ্ছা আছে যা কোনো ভালো চাইতে পারে না, ঠিক তেমনই উপরের অংশে একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে, যে ইচ্ছা এতটাই ভালো যে তা কখনো মন্দ চাইতে পারে না, কেবল ভালো। এবং তাই আমরা তাই যা তিনি ভালোবাসেন এবং অন্তহীনভাবে আমরা তা করি যা তাঁকে খুশি করে।
* এটি আমাদের প্রভু সেই ভালোবাসার সম্পূর্ণতায় দেখিয়েছিলেন যাতে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, তাঁর দৃষ্টিতে: হ্যাঁ, তিনি আমাদের এখন ততটাই ভালোবাসেন যখন আমরা এখানে আছি, যেমন তিনি করবেন যখন আমরা তাঁর পবিত্র মুখের সামনে সেখানে থাকব। '''কিন্তু আমাদের অংশে ভালোবাসার ব্যর্থতার জন্য, তাই আমাদের সমস্ত পরিশ্রম।'''''
=== অধ্যায় ৩৮ ===
* এছাড়াও ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে পাপ মানুষের জন্য লজ্জা হবে না, বরং পূজা। কারণ ঠিক যেমন প্রতিটি পাপের জন্য সত্যের দ্বারা একটি বেদনা উত্তর দেয়, ঠিক তেমনই প্রতিটি পাপের জন্য, সেই একই আত্মাকে ভালোবাসার দ্বারা একটি পরমানন্দ দেওয়া হয়: ঠিক যেমন বিভিন্ন পাপ বিভিন্ন বেদনার সাথে দণ্ডিত হয় যেমন সেগুলো কষ্টদায়ক, ঠিক তেমনই সেগুলো স্বর্গে বিভিন্ন আনন্দের সাথে পুরস্কৃত হবে যেমন সেগুলো পৃথিবীতে আত্মার জন্য কষ্টদায়ক ও দুঃখজনক ছিল। কারণ যে আত্মা স্বর্গে আসবে তা ঈশ্বরের কাছে মূল্যবান, এবং স্থানটি এতটাই পূজাযোগ্য যে ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা সেই আত্মাকে কখনো পাপ করতে দেয় না যে সেখানে আসবে যা ছাড়া সেই পাপ পুরস্কৃত হবে এবং তা অন্তহীনভাবে জানা যায়, এবং পূজা অতিক্রম করে পরমানন্দময়ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়।
* এই দর্শনে আমার উপলব্ধি স্বর্গে উন্নীত হয়েছিল, এবং তখন ঈশ্বর আনন্দিতভাবে আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন ডেভিডকে, এবং পুরাতন আইনে সংখ্যাতীত অন্যদের এবং নতুন আইনে তিনি আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন প্রথমে মেরি ম্যাগডালিন, পিটার এবং পল এবং ভারতেরদের এবং বেভারলির সেন্ট জন এবং অন্যদেরও সংখ্যাতীত। কীভাবে তারা পৃথিবীতে চার্চে তাদের পাপের সাথে পরিচিত, এবং তা তাদের জন্য লজ্জা নয় বরং সবকিছু তাদের পূজায় পরিণত হয়েছে। এবং তাই আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু তাদের জন্য এখানে আংশিকভাবে দেখান যেমনটি সেখানে পূর্ণতায় আছে: কারণ সেখানে পাপের চিহ্ন পূজায় পরিণত হয়েছে।
* এই সবকিছুই আমাদের প্রেমে আনন্দিত ও প্রফুল্ল করার জন্য ছিল।
=== অধ্যায় ৩৯ ===
* পাপ হলো সবচেয়ে ধারালো চাবুক যা যেকোনো নির্বাচিত আত্মাকে আঘাত করা যেতে পারে। যা চাবুকটি পুরুষ ও নারীকে পুরোপুরি প্রহার করে, এবং তাকে তার নিজের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য করে তোলে, এতদূর যে কিছু সময়ের পরে সে মনে করে সে নরকে ডুবে যাওয়া ছাড়া আর যোগ্য নয়, যতক্ষণ না অনুশোচনা তাকে পবিত্র আত্মার স্পর্শে ধরে, এবং তিক্ততাকে ঈশ্বরের করুণার আশায় পরিণত করে।
* খুব মূল্যবানভাবে আমাদের প্রভু আমাদের রক্ষা করেন যখন আমাদের কাছে মনে হয় যে আমরা প্রায় পরিত্যক্ত এবং আমাদের পাপের জন্য এবং কারণ আমরা এর যোগ্য, তার জন্য দূরে নিক্ষিপ্ত। এবং নম্রতার কারণে যা আমরা এর দ্বারা পাই, আমরা তাঁর কৃপায় ঈশ্বরের দৃষ্টিতে খুব উঁচুতে উন্নীত হই, খুব মহান অনুশোচনার সাথে, এবং সহমর্মিতার সাথে, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার সাথে। তখন তারা হঠাৎ পাপ থেকে এবং বেদনা থেকে মুক্তি পায় এবং পরমানন্দে উন্নীত হয়। এবং সমান উচ্চ সাধু হয়।
* '''অনুশোচনার দ্বারা আমরা পরিষ্কার হই, সহমর্মিতার দ্বারা আমরা প্রস্তুত হই, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার দ্বারা আমরা যোগ্য হই।''' এগুলো তিনটি উপায়, যেমন আমি বুঝি, যার দ্বারা সমস্ত আত্মা স্বর্গে আসে। অর্থাৎ, যারা পৃথিবীতে পাপী ছিল এবং পরিত্রাণ পাবে। কারণ এই তিনটি ঔষধের দ্বারা প্রতিটি আত্মাকে নিরাময় করা প্রয়োজন।
* যেমন আমরা এখানে দুঃখ ও তপস্যার সাথে দণ্ডিত হই, আমরা স্বর্গে আমাদের মহান প্রভু ঈশ্বরের সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসার দ্বারা পুরস্কৃত হব, যিনি চান যে কেউ সেখানে এসে তার পরিশ্রম কোনো ডিগ্রিতে হারাক। কারণ তিনি পাপকে তাঁর প্রেমীদের জন্য দুঃখ ও বেদনা হিসেবে ধরেন, যাদের তিনি কোনো দোষ দেন না, ভালোবাসার জন্য। আমরা যে পুরস্কার পাব তা সামান্য হবে না, বরং তা হবে মহান, গৌরবময় এবং পূজাযোগ্য। এবং এভাবেই লজ্জা পূজায় ও আরও আনন্দে পরিণত হবে।
* '''আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু চান না যে তাঁর সেবকরা হতাশ হোক, বারবার বা গুরুতর পতনের জন্য: কারণ আমাদের পতন তাঁকে আমাদের ভালোবাসতে বাধা দেয় না। শান্তি ও ভালোবাসা সর্বদা আমাদের মধ্যে আছে, বিদ্যমান ও কাজ করছে। কিন্তু আমরা সর্বদা শান্তিতে ও প্রেমে নেই।''' কিন্তু তিনি চান যে আমরা এইভাবে মনোযোগ দিই যে তিনি ভালোবাসায় আমাদের সমস্ত জীবনের ভিত্তি এবং অধিকন্তু তিনি আমাদের চিরন্তন রক্ষক এবং শক্তিশালীভাবে আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে রক্ষা করেন, যারা আমাদের ওপর খুব নিষ্ঠুর ও হিংস্র এবং আমাদের প্রয়োজন তত বেশি কারণ আমরা আমাদের পতনের দ্বারা তাদের সুযোগ দিই।
=== অধ্যায় ৪০ ===
* '''ঈশ্বর চান যে আমরা অন্তহীনভাবে পাপকে ঘৃণা করি এবং অন্তহীনভাবে আত্মাকে ভালোবাসি, যেমন ঈশ্বর তাকে ভালোবাসেন।'''
* '''এখানে আমি সত্যই বুঝি যে ঈশ্বরের মহান মঙ্গলময়তার দ্বারা আমাদের জন্য সব ধরনের জিনিস প্রস্তুত করা হয়েছে, এতদূর যে যখন আমরা নিজেদের মধ্যে শান্তিতে ও দানে আছি, আমরা সত্যই পরিত্রাণ পাব।'''
* কিন্তু এখন যদি কোনো পুরুষ বা নারী এই সমস্ত আধ্যাত্মিক সান্ত্বনার কারণে যা আগে বলা হয়েছে, বোকামির দ্বারা উত্তেজিত হয়ে বলে বা ভাবে। ''যদি এটি সত্য হয়, তবে পাপ করা ভালো যাতে বেশি পুরস্কার পাওয়া যায়''অথবা পাপ করার বিষয়ে কম গুরুত্ব দেয়,এই উত্তেজনার বিষয়ে সাবধান: কারণ সত্যই যদি এটি আসে তবে এটি অসত্য এবং সেই একই প্রকৃত ভালোবাসার শত্রুর কাছ থেকে যা আমাদের শেখায় যে আমাদের কেবল ভালোবাসার জন্য পাপকে ঘৃণা করা উচিত। আমি আমার নিজের অনুভূতির মাধ্যমে নিশ্চিত, যেকোনো দয়ালু আত্মা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসায় এটি যত বেশি দেখে, সে তত বেশি পাপ করতে অনিচ্ছুক হয় এবং সে তত বেশি লজ্জিত হয়। কারণ যদি আমাদের সামনে নরকের এবং পবিত্র স্থানের এবং পৃথিবীর সমস্ত বেদনা রাখা হতো—মৃত্যু এবং অন্যান্য এবং পাপ, আমরা সেই সমস্ত বেদনা বেছে নিতাম পাপের চেয়ে। '''কারণ পাপ এতটাই জঘন্য এবং এত বেশি ঘৃণা করার যোগ্য যে তা কোনো বেদনার সাথে তুলনা করা যায় না যা পাপ নয়। এবং আমার কাছে পাপের চেয়ে কঠিন কোনো নরক দেখানো হয়নি। কারণ একটি দয়ালু আত্মার পাপ ছাড়া আর কোনো নরক নেই।'''
* আমরা দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা ভালোবাসা ও নম্রতার দিকে আমাদের উদ্দেশ্য দিই, আমরা সবাই সুন্দর ও পরিষ্কার হই।
* ঈশ্বর মানুষকে বাঁচাতে যতটা শক্তিশালী ও বিজ্ঞ, তিনি ততটাই ইচ্ছুক। কারণ খ্রিস্ট নিজেই খ্রিস্টানদের সমস্ত আইনের ভিত্তি এবং '''তিনি আমাদের শিখিয়েছেন মন্দের বিপরীতে ভালো করতে: এখানে আমরা দেখতে পারি যে তিনি নিজেই এই প্রেম, এবং আমাদের সাথে তাই করেন যেমন তিনি আমাদের করতে শিখিয়েছেন।''' কারণ তিনি চান যে আমরা নিজের প্রতি এবং আমাদের সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি অন্তহীন ভালোবাসার পূর্ণতায় তাঁর মতো হই। আমাদের পাপের জন্য আমাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা যেমন নষ্ট হয় না, তেমনই তিনি চান না যে আমাদের ভালোবাসা আমাদের নিজের প্রতি এবং আমাদের সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি নষ্ট হোক বরং '''অন্তহীনভাবে পাপকে ঘৃণা করি এবং আত্মাকে ভালোবাসি, যেমন ঈশ্বর তাকে ভালোবাসেন। তখন আমরা পাপকে ঘৃণা করব যেমন ঈশ্বর ঘৃণা করেন, এবং আত্মাকে ভালোবাসব যেমন ঈশ্বর ভালোবাসেন। এবং এই শব্দ যা তিনি বলেছিলেন তা এক অন্তহীন সান্ত্বনা: ''আমি তোমাকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।'' '''
== চতুর্দশ প্রকাশ (দ্য ফোর্টিনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ৪১ ===
[[File:Brocken-tanzawa2.JPG|thumb|''আমিই ভিত্তি।''এবং আমাদের ভালো প্রভু চান যেন তাঁর প্রেমিকরা পৃথিবীতে এটি জানুক এবং আমরা যত বেশি জানি ততই আমাদের অনুনয় করা উচিত, যদি তা বিজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হয় এবং এমনই আমাদের প্রভুর অর্থ।]]
* আমাদের প্রভু প্রার্থনার বিষয়ে দেখিয়েছিলেন। সেই প্রদর্শনীতে আমি আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে দুটি শর্ত দেখি। একটি হলো ন্যায়পরায়ণতা, অন্যটি হলো নিশ্চিত বিশ্বাস। <br> কিন্তু তবুও প্রায়শই আমাদের বিশ্বাস পূর্ণ হয় না। কারণ আমরা নিশ্চিত নই যে ঈশ্বর আমাদের শোনেন, যেমনটি আমরা মনে করি আমাদের অযোগ্যতার কারণে, এবং কারণ আমরা কিছুই অনুভব করি না, (কারণ প্রার্থনার পরেও আমরা প্রায়শই আগের মতোই অনুর্বর ও শুষ্ক থাকি) এবং এটি, আমাদের বোকামির উপলব্ধিতে, আমাদের দুর্বলতার কারণ। কারণ আমি নিজের মধ্যে এটি অনুভব করেছি। <br> এবং এই সমস্ত কিছু আমাদের প্রভু হঠাৎ আমার মনে করিয়ে দিলেন, এবং এই শব্দগুলো দেখালেন, এবং বললেন '''''আমি তোমার অনুনয়ের ভিত্তি। প্রথমত এটি আমার ইচ্ছা যে তুমি এটি পাও এবং পরে, আমি তোমাকে এটি চাইতে বাধ্য করি এবং পরে, আমি তোমাকে এটি অনুনয় করতে বাধ্য করি এবং তুমি অনুনয় করো। তাহলে কীভাবে এমন হতে পারে যে তুমি তোমার অনুনয় পাবে না?'''''
* '''এটি সবচেয়ে অসম্ভব যে আমরা দয়া ও কৃপা অনুনয় করব এবং তা পাব না।''' কারণ আমাদের ভালো প্রভু আমাদের যা কিছু অনুনয় করতে বাধ্য করেন, তিনি নিজেই তা সৃষ্টির আদি থেকে আমাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। এখানে আমরা দেখতে পারি যে আমাদের অনুনয় ঈশ্বরের মঙ্গলময়তার কারণ নয় এবং তা তিনি এই সমস্ত মিষ্টি শব্দে সত্যই দেখিয়েছিলেন যখন তিনি বলেন: ''আমিই ভিত্তি।''এবং আমাদের ভালো প্রভু চান যেন তাঁর প্রেমিকরা পৃথিবীতে এটি জানুক এবং আমরা যত বেশি জানি ততই আমাদের অনুনয় করা উচিত, যদি তা বিজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হয় এবং এমনই আমাদের প্রভুর অর্থ।
* অনুনয় হলো আত্মার একটি সত্য, কৃপাময়, স্থায়ী ইচ্ছা, যা পবিত্র আত্মার মিষ্টি অভ্যন্তরীণ কাজের দ্বারা আমাদের প্রভুর ইচ্ছার সাথে একীভূত ও আবদ্ধ।
* আমাদের প্রভু আমাদের প্রার্থনায় খুব আনন্দিত ও প্রফুল্ল এবং তিনি তার অপেক্ষায় থাকেন এবং তিনি তা পেতে চান কারণ তাঁর কৃপায় তিনি আমাদের তাঁর মতো করে তৈরি করেন। যেমনটি আমরা প্রকৃতিতে আছি এবং এমনই তাঁর পরমানন্দময় ইচ্ছা। তাই তিনি এইভাবে বলেন: ''অন্তরের সাথে প্রার্থনা করো, যদিও তোমার মনে হয় তা তোমাকে তৃপ্তি দিচ্ছে না। কারণ এটি লাভজনক, যদিও তুমি অনুভব করো না, যদিও তুমি কিছুই দেখছো না; হ্যাঁ, যদিও তুমি মনে করো তুমি পারো না। কারণ শুষ্কতা ও অনুর্বরতায়, অসুস্থতা ও দুর্বলতায়, তখন তোমার প্রার্থনা আমার কাছে খুব সন্তোষজনক, যদিও তোমার মনে হয় তা তোমাকে কিছুই তৃপ্তি দিচ্ছে না। এবং আমার দৃষ্টিতে তোমার সমস্ত বিশ্বাসী প্রার্থনা এমনই।''
* এছাড়াও প্রার্থনার সাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন যুক্ত। ধন্যবাদ হলো একটি সত্য অভ্যন্তরীণ জ্ঞান, মহান শ্রদ্ধা ও প্রেমময় ভয়ের সাথে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে সেই কাজের দিকে নিজেদের ঘুরিয়ে নিই যা আমাদের ভালো প্রভু আমাদের উদ্দীপিত করেন, অভ্যন্তরীণভাবে আনন্দ ও ধন্যবাদ প্রকাশ করে।
=== অধ্যায় ৪২ ===
[[File:Rainbow1.svg|thumb|সবকিছু যা আমাদের প্রভু করার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা যে আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি, হয় বিশেষভাবে বা সাধারণভাবে।]]
* '''এটিই আমাদের প্রভুর ইচ্ছা, যে আমাদের প্রার্থনা এবং আমাদের বিশ্বাস উভয়ই সমানভাবে বিস্তৃত হোক।''' কারণ আমরা যদি প্রার্থনার মতো বিশ্বাস না করি, তবে আমরা আমাদের প্রার্থনায় আমাদের প্রভুর প্রতি পূর্ণ পূজা করি না, এবং এছাড়াও আমরা আমাদের নিজেদের দেরি করাই এবং কষ্ট দিই। এর কারণ, আমি বিশ্বাস করি, আমরা সত্যই জানি না যে আমাদের প্রভু সেই ভিত্তি যার ওপর আমাদের প্রার্থনা উদয় হয়; এবং আমরা এও জানি না যে এটি তাঁর ভালোবাসার কৃপায় আমাদের দেওয়া হয়েছে। কারণ যদি আমরা এটি জানতাম, তবে তা আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করত যে আমরা আমাদের প্রভুর উপহার থেকে যা আকাঙ্ক্ষা করি তা পাব। কারণ '''আমি নিশ্চিত যে কেউ সত্য অর্থ ছাড়া দয়া ও কৃপা চায় না, যদি না দয়া ও কৃপা প্রথমে তাকে দেওয়া হয়।'''
* কখনো কখনো আমাদের মনে হয় যে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রার্থনা করেছি, এবং তবুও আমরা নিজেদের ভাবি যে আমরা আমাদের চাওয়া পাইনি। কিন্তু এর জন্য আমাদের শোকের মধ্যে থাকা উচিত নয়। কারণ আমি নিশ্চিত, আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতের মাধ্যমে, যে আমরা হয় একটি ভালো সময়ের, বা আরও কৃপার, বা আরও ভালো উপহারের অপেক্ষা করছি।
* '''তিনি যে তা করছেন তা দেখা, এবং অবিলম্বে প্রার্থনা করা,এভাবেই তিনি পূজিত হন এবং আমরা উপকৃত হই। সবকিছু যা আমাদের প্রভু করার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা যে আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি, হয় বিশেষভাবে বা সাধারণভাবে।''' এবং যে আনন্দ ও পরমানন্দ তা তাঁর কাছে, এবং যে ধন্যবাদ ও পূজা আমরা এর জন্য পাব, তা সৃষ্টির উপলব্ধিকে ছাড়িয়ে যায়, আমার দৃষ্টিতে। কারণ প্রার্থনা হলো ভবিষ্যতে যে আনন্দের পূর্ণতা আসবে তার একটি সঠিক উপলব্ধি, অটল আকাঙ্ক্ষা ও নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে।
* এইভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন যেখানে তিনি বলেন: '''''আমি তোমার অনুনয়ের ভিত্তি।''''' এবং এইভাবে এই পবিত্র শব্দে, প্রদর্শনীর সাথে, আমি আমাদের সমস্ত দুর্বলতা এবং সমস্ত সন্দেহজনক ভয়ের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণ বিজয় দেখেছি।
=== অধ্যায় ৪৩ ===
[[File:Rainbow droplet 630x441.jpg|thumb|প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।]]
[[File:This morning we caught a rainbow.jpg|thumb|যখন তিনি তাঁর বিশেষ কৃপার দ্বারা এখানে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি সৃষ্টিকে তার নিজের ঊর্ধ্বে শক্তিমান করেন, এবং তিনি প্রদর্শনীর পরিমাপ করেন, তাঁর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী, যেমনটি সেই সময়ের জন্য লাভজনক।]]
* '''প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।'''
* '''প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।''' কারণ যদিও আত্মা প্রকৃতি ও সত্তায় সর্বদা ঈশ্বরের মতো, কৃপায় পুনরুদ্ধার করা, মানুষের অংশে পাপের দ্বারা এটি প্রায়শই শর্তে ভিন্ন হয়। তখন প্রার্থনা একটি সাক্ষী যে আত্মা তাই চায় যা ঈশ্বর চান এবং এটি বিবেককে সান্ত্বনা দেয় এবং মানুষকে কৃপার যোগ্য করে তোলে। এবং এইভাবে তিনি আমাদের প্রার্থনা করতে শেখান এবং শক্তিমানভাবে বিশ্বাস করতে শেখান যে আমরা তা পাব। কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসায় দেখেন এবং আমাদের তাঁর ভালো কাজের অংশীদার করতে চান, এবং তাই তিনি আমাদের সেই জিনিসের জন্য প্রার্থনা করতে উদ্দীপিত করেন যা তিনি করতে আনন্দ পান। যে প্রার্থনা ও সদিচ্ছার জন্য, যা আমরা তাঁর উপহার থেকে পাই, তিনি আমাদের পুরস্কৃত করবেন এবং আমাদের অন্তহীন পুরস্কার দেবেন।
* যখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু তাঁর কৃপায় নিজেকে আমাদের আত্মার কাছে দেখান, তখন আমাদের যা আকাঙ্ক্ষা তা আমরা পাই। এবং তখন আমরা দেখি না, সেই সময়ের জন্য, আমাদের আরও কী প্রার্থনা করা উচিত, কিন্তু আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাদের সমস্ত উদ্দেশ্য পুরোপুরি তাঁর দর্শনের দিকে সেট করা হয়। এবং এটি একটি উচ্চ অদৃশ্য প্রার্থনা, আমার দৃষ্টিতে। কারণ আমরা যার জন্য প্রার্থনা করি তার সমস্ত কারণ, তা সেই ব্যক্তির দর্শন ও দর্শনের মধ্যে একীভূত হয় যার কাছে আমরা প্রার্থনা করি। শ্রদ্ধাশীল ভয়ের সাথে বিস্ময়করভাবে উপভোগ করে এবং তাঁর মধ্যে এত মহান মাধুর্য ও আনন্দের সাথে যে আমরা প্রার্থনা করতে পারি না কিন্তু যেমন তিনি আমাদের উদ্দীপিত করেন, সেই সময়ের জন্য। এবং আমি ভালো করেই জানি, আত্মা ঈশ্বরকে যত বেশি দেখে, তাঁর কৃপায় সে তত বেশি তাঁকে আকাঙ্ক্ষা করে।
* এবং এটি আমি দেখেছি: যে সময় আমরা প্রার্থনা করার কারণগুলো দেখি, তখন ''আমাদের ভালো প্রভু আমাদের অনুসরণ করেন'', আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে সাহায্য করে এবং যখন আমরা তাঁর বিশেষ কৃপায় স্পষ্টভাবে তাঁর দিকে তাকাই, অন্য কোনো প্রয়োজনের দিকে না তাকিয়ে, তখন ''আমরা তাঁকে অনুসরণ করি'' এবং তিনি ভালোবাসার দ্বারা আমাদের তাঁর দিকে টেনে নেন।
* তখন আমরা ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখব, আপনভাবে ও পুরোপুরি। যে সৃষ্টি তৈরি হয়েছে সে ঈশ্বরকে দেখবে এবং অন্তহীনভাবে পর্যবেক্ষণ করবে যিনি স্রষ্টা। কারণ এইভাবে কোনো মানুষ ঈশ্বরকে দেখে বাঁচতে পারে না অর্থাৎ, এই নশ্বর জীবনে। '''কিন্তু যখন তিনি তাঁর বিশেষ কৃপার দ্বারা এখানে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি সৃষ্টিকে তার নিজের ঊর্ধ্বে শক্তিমান করেন এবং তিনি প্রদর্শনীর পরিমাপ করেন, তাঁর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী, যেমনটি সেই সময়ের জন্য লাভজনক।'''
==সারসংক্ষেপ==
পূর্বোক্ত চৌদ্দটি প্রত্যাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর
=== অধ্যায় ৪৪ ===
[[File:Quaker Star JUL.png|thumb|[[সত্য]] ঈশ্বরকে দেখে, এবং [[প্রজ্ঞা]] ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে, এবং এই দুটির মিলন থেকে তৃতীয়টির উদ্ভব হয়: সেটি হলো ঈশ্বরকে নিয়ে একটি পবিত্র বিস্ময়কর আনন্দ; যা হলো [[প্রেম]]।]]
* '''সত্য ঈশ্বরকে দেখে, এবং প্রজ্ঞা ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে, এবং এই দুটির মিলন থেকে তৃতীয়টির উদ্ভব হয়: সেটি হলো ঈশ্বরকে নিয়ে একটি পবিত্র বিস্ময়কর আনন্দ; যা হলো প্রেম।''' যেখানে সত্য ও প্রজ্ঞা বিদ্যমান, সেখানে প্রেমও বিদ্যমান, যা এই উভয়ের থেকেই আসে। এবং সবকিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি: কারণ তিনি অন্তহীন সার্বভৌম সত্য, অন্তহীন সার্বভৌম প্রজ্ঞা, অন্তহীন সার্বভৌম প্রেম—অনির্মিত; এবং মানুষের আত্মা ঈশ্বরের মধ্যে এমন একটি সৃষ্টি যার একই বৈশিষ্ট্যগুলো 'সৃষ্টি' করা হয়েছে, এবং তা সর্বদা সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে যার জন্য এটি সৃষ্টি হয়েছে: এটি ঈশ্বরকে দেখে, এটি ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে এবং এটি ঈশ্বরকে ভালোবাসে। যার জন্য ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে আনন্দিত হন; এবং সৃষ্টি ঈশ্বরের মধ্যে, অন্তহীন বিস্ময়ের সাথে। <br> এই বিস্ময়ের মধ্যে সে তার ঈশ্বরকে, তার প্রভুকে, তার নির্মাতাকে এত উচ্চ, এত মহান এবং এত ভালো দেখে, তার নিজের সৃষ্টির তুলনায়, যে সৃষ্টি নিজেকে তুচ্ছ মনে করে। কিন্তু সত্য ও প্রজ্ঞার স্বচ্ছতা তাকে দেখতে ও সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করে যে সে প্রেমের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে ঈশ্বর তাকে অন্তহীনভাবে রক্ষা করেন।
=== অধ্যায় ৪৫ ===
* '''ঈশ্বর আমাদের প্রকৃতি-সত্তা অনুযায়ী বিচার করেন, যা সর্বদা তাঁর মধ্যে এক, অখণ্ড এবং [[অন্তহীন]] নিরাপদে রক্ষিত: এবং ''এই'' [[বিচার]] তাঁর ন্যায়পরায়ণতার।''' এবং মানুষ আমাদের [[পরিবর্তনশীল]] অনুভূতি-আত্মা অনুযায়ী বিচার করে, যা এখন এমন, এখন তেমন—অংশ অনুযায়ী—এবং বাইরে প্রকাশিত হয়। এবং ''এই'' [[প্রজ্ঞা]] ''মিশ্রিত''। কারণ কখনো তা [[ভালো]] ও সহজ, আবার কখনো কঠিন ও দুঃখজনক। এবং যতটা তা ভালো ও সহজ, তা ন্যায়পরায়ণতার অন্তর্ভুক্ত; এবং যতটা তা কঠিন ও দুঃখজনক, আমাদের ভালো প্রভু যিশু তাঁর পবিত্র প্যাশন বা কষ্টের গুণাবলীর মাধ্যমে দয়া ও কৃপার দ্বারা তা সংস্কার করেন, এবং এইভাবে একে ন্যায়পরায়ণতায় ফিরিয়ে আনেন। <br> এবং যদিও এই দুটি এভাবে সম্মত ও একীভূত, তবুও স্বর্গে উভয়ই অন্তহীনভাবে জানা যাবে। প্রথম বিচার, যা ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতার, তা তাঁর উচ্চ অন্তহীন জীবনের; এবং এটিই সেই সুন্দর মিষ্টি বিচার যা সমস্ত সুন্দর প্রকাশে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি তাঁকে আমাদের কোনো দোষ দিতে দেখিনি। কিন্তু যদিও এটি মিষ্টি ও আনন্দদায়ক ছিল, তবুও কেবল এর পর্যবেক্ষণে আমি পুরোপুরি শান্ত হতে পারিনি: এবং তার কারণ হলো পবিত্র চার্চের বিচার, যা আমি আগেই বুঝেছিলাম এবং যা ক্রমাগত আমার দৃষ্টিতে ছিল। এবং তাই ''এই'' বিচারের দ্বারা আমার মনে হয়েছিল আমি বুঝেছিলাম যে পাপীরা কোনো এক সময়ে দোষ ও ক্রোধের যোগ্য; কিন্তু আমি ঈশ্বরের মধ্যে এই দুটি দেখতে পাইনি; এবং তাই আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যতটা আমি বলতে পারি বা পারি তার চেয়ে অনেক বেশি। কারণ উচ্চতর বিচার সেই একই সময়ে ঈশ্বর নিজেই দেখিয়েছিলেন, এবং তাই আমাকে তা গ্রহণ করতেই হতো; এবং নিম্নতর বিচার আমি আগে পবিত্র চার্চে শিখেছিলাম, এবং তাই আমি কোনোভাবেই নিম্নতর বিচার ত্যাগ করতে পারিনি। তখন আমার এই ইচ্ছা ছিল: আমি যেন ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে পাই যে পবিত্র চার্চের বিচার যা শেখায় তা কীভাবে তাঁর দৃষ্টিতে সত্য, এবং কীভাবে তা জানা আমার জন্য যথার্থ; যার মাধ্যমে উভয় বিচারই রক্ষা পেতে পারে, যেমনটি ঈশ্বরের জন্য পূজনীয় এবং আমার জন্য সঠিক পথ। <br> এবং এই সবকিছুর জন্য আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না, কেবল একজন প্রভু ও একজন ভৃত্যের একটি বিস্ময়কর উদাহরণ ছাড়া, যা আমি পরে বলব:—এবং তা খুব অস্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল। এবং তবুও আমি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, এবং আমার শেষ পর্যন্ত থাকব, যেন আমি কৃপার দ্বারা এই দুটি বিচার জানতে পারি যেমনটি আমার জন্য যথার্থ। '''কারণ স্বর্গীয় এবং স্বর্গীয় বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত সমস্ত পার্থিব জিনিস এই দুটি বিচারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এবং পবিত্র আত্মার কৃপাময় নির্দেশনায় এই দুটি বিচার সম্পর্কে আমাদের যত বেশি বোধগম্য হবে, আমরা আমাদের ব্যর্থতাগুলো তত বেশি দেখতে ও জানতে পারব। এবং আমরা যত বেশি সেগুলো দেখব, তত বেশি, স্বভাবত, কৃপার দ্বারা, আমরা অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করব। কারণ আমরা তার জন্যই সৃষ্টি হয়েছি, এবং আমাদের প্রকৃতি-সত্তা এখন ঈশ্বরের মধ্যে পরমানন্দময়, এবং এটি তৈরির পর থেকেই তা ছিল, এবং অন্তহীনভাবে থাকবে।'''
=== অধ্যায় ৪৬ ===
* '''আমাদের অনুভূতি-আত্মায় এখানে যে নশ্বর জীবন আমরা পাই, তা জানে না আমাদের 'নিজ' কী।''' তখন আমরা সত্যই ও স্পষ্টভাবে আনন্দ ও পরমানন্দের পূর্ণতায় আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে দেখতে ও জানতে পারব। এবং তাই এটি অনিবার্য যে আমরা আমাদের পরমানন্দের যত কাছাকাছি থাকব, তত বেশি আমরা আকাঙ্ক্ষা করব; এবং তা স্বভাব ও কৃপা উভয় দ্বারাই। আমরা আমাদের উচ্চ প্রকৃতির ক্রমাগত সাহায্য ও গুণের মাধ্যমে এই জীবনে আমাদের 'নিজের' জ্ঞান পেতে পারি। যে জ্ঞানে আমরা দয়ায় এবং কৃপার সাহায্যে অগ্রসর হতে পারি; কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের 'নিজ'-কে পুরোপুরি জানতে পারব না: যে মুহূর্তে এই নশ্বর জীবনের এবং দুঃখ ও যন্ত্রণার এই ধরনের এক অন্তিম পরিণতি ঘটবে। এবং তাই, স্বভাব ও কৃপা উভয় দ্বারাই, অন্তহীন আনন্দের পূর্ণতায় আমাদের 'নিজ'-কে জানার জন্য আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আকাঙ্ক্ষা করা আমাদের জন্য যথার্থ।
* তবুও এই পুরো সময়ে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, আমার দুটি দৃষ্টি ছিল। একটি ছিল অন্তহীন ক্রমাগত প্রেম, সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং পরমানন্দময় পরিত্রাণের সাথে—কারণ এর জন্যই ছিল ''পুরো প্রকাশ''। অন্যটি ছিল পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষার, যেখানে আমি আগে অবহিত ও ভিত্তিমূল পেয়েছিলাম—এবং আমার সমস্ত ইচ্ছার সাথে তা ব্যবহার ও বুঝতাম। এবং ''এর'' পর্যবেক্ষণ আমার থেকে দূরে যায়নি: কারণ প্রকাশের দ্বারা আমি কোনো পয়েন্টেই সেখান থেকে বিচ্যুত হইনি, বরং আমি সেখানে এটি ভালোবাসার ও ভালো মনে করার শিক্ষা পেয়েছিলাম: যার দ্বারা আমি, আমাদের প্রভু ও তাঁর কৃপার সাহায্যে, আরও স্বর্গীয় জ্ঞান ও উচ্চতর প্রেমে বৃদ্ধি পেতে পারি।
* '''পুরো পর্যবেক্ষণে আমার মনে হয়েছিল যে আমাদের পাপী হওয়া এবং অনেক মন্দ কাজ করা যা আমাদের ত্যাগ করা উচিত, এবং অনেক ভালো কাজ না করা যা আমাদের করা উচিত, তা দেখা ও জানা প্রয়োজন: যার জন্য আমরা যন্ত্রণা ও ক্রোধের যোগ্য। এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি সত্যই দেখেছিলাম যে আমাদের প্রভু কখনোই ক্রুদ্ধ ছিলেন না, বা কখনোই হবেন না।''' কারণ তিনি ঈশ্বর: ভালো, জীবন, সত্য, প্রেম, শান্তি; তাঁর স্বচ্ছতা ও তাঁর ঐক্য তাঁকে ক্রুদ্ধ হতে দেয় না। কারণ আমি সত্যই দেখেছিলাম যে ক্রুদ্ধ হওয়া তাঁর শক্তির বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে, এবং তাঁর প্রজ্ঞার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে, এবং তাঁর মঙ্গলময়তার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে। ঈশ্বর সেই মঙ্গলময়তা যা ক্রুদ্ধ হতে পারে না, কারণ তিনি কেবল মঙ্গলময়তা ছাড়া আর কিছুই নন: আমাদের আত্মা তাঁর সাথে একীভূত, অপরিবর্তনীয় মঙ্গলময়তা, এবং ঈশ্বর ও আমাদের আত্মার মধ্যে তাঁর দৃষ্টিতে না আছে ক্রোধ না আছে ক্ষমা। কারণ আমাদের আত্মা তাঁর নিজস্ব মঙ্গলময়তার দ্বারা ঈশ্বরের সাথে এতটাই পূর্ণভাবে একীভূত যে ঈশ্বর ও আমাদের আত্মার মধ্যে ঠিক কিছুই নেই। <br> এবং এই উপলব্ধিতে আত্মা প্রেমের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল এবং প্রতিটি প্রকাশে শক্তির দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিল: যে এটিই আমাদের ভালো প্রভু দেখিয়েছিলেন, এবং ''কীভাবে এটি তাঁর মহান মঙ্গলময়তার সত্যে এমন।'' এবং তিনি চান যে আমরা তা শিখতে আকাঙ্ক্ষা করি—অর্থাৎ, যতটা তাঁর সৃষ্টির জন্য তা শেখা যথার্থ। কারণ সমস্ত জিনিস যা সাধারণ আত্মা বুঝেছে, ঈশ্বর চান যে সেগুলো দেখানো ও জানা হোক। কারণ যে জিনিসগুলো তিনি গোপন রাখতে চান, তিনি নিজেই খুব শক্তিশালী ও বিজ্ঞতার সাথে সেগুলো গোপন রাখেন, প্রেমের জন্য। কারণ আমি একই প্রকাশে দেখেছিলাম যে অনেক গোপনীয়তা লুকিয়ে আছে, যা সেই সময় পর্যন্ত জানা সম্ভব নয় যতক্ষণ না ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তায় আমাদের তা দেখার যোগ্য করে তোলেন; এবং তাতে আমি খুব সন্তুষ্ট, এই মহান বিস্ময়ে আমাদের প্রভুর ইচ্ছার অপেক্ষায়। এবং এখন আমি আমার মা, পবিত্র চার্চের কাছে নিজেকে সমর্পণ করছি, যেমন একটি সাধারণ শিশু করে।
=== অধ্যায় ৪৭ ===
* '''দুটি জিনিস আমাদের আত্মার জন্য কর্তব্য: একটি হলো যে আমরা শ্রদ্ধার সাথে বিস্ময়বোধ করি, অন্যটি হলো যে আমরা নম্রভাবে সহ্য করি, সর্বদা ঈশ্বরের মধ্যে আনন্দিত থেকে। কারণ তিনি চান যেন আমরা বুঝি যে আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখতে পাব যা আমরা আকাঙ্ক্ষা করি।''' <br> এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি পর্যবেক্ষণ করলাম এবং গভীরভাবে বিস্ময়বোধ করলাম: ''ঈশ্বরের দয়া ও ক্ষমা কী?'' কারণ আমার পূর্বের শিক্ষা দ্বারা, আমি বুঝেছিলাম যে ঈশ্বরের দয়া হবে আমাদের পাপ করার পরের সময়ে তাঁর ক্রোধের ক্ষমা। কারণ আমার মনে হয়েছিল যে একটি আত্মার জন্য যার অর্থ ও আকাঙ্ক্ষা হলো ভালোবাসা, ঈশ্বরের ক্রোধ যেকোনো যন্ত্রণার চেয়ে বেশি কঠিন ছিল, এবং তাই আমি ধরে নিয়েছিলাম যে তাঁর ক্রোধের ক্ষমা তাঁর দয়ার অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়া উচিত। '''কিন্তু আমি যতই পর্যবেক্ষণ করি বা আকাঙ্ক্ষা করি না কেন, আমি কোনোভাবেই পুরো প্রকাশে এই পয়েন্টটি দেখতে পাইনি। <br> কিন্তু আমি দয়ার কাজ সম্পর্কে কীভাবে বুঝেছিলাম এবং দেখেছিলাম, তা আমি কিছুটা বলব, যেমন ঈশ্বর আমাকে কৃপা দেবেন। আমি এটি বুঝেছিলাম: মানুষ এই জীবনে পরিবর্তনশীল, এবং দুর্বলতা ও জয়ের দ্বারা পাপের মধ্যে পড়ে যায়: সে নিজের থেকে দুর্বল ও অবিবেচক, এবং তার ইচ্ছাও চাপা পড়ে। এবং এই সময়ে সে ঝড়, দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্যে থাকে; এবং এর কারণ হলো অন্ধত্ব: কারণ সে ঈশ্বরকে দেখে না। কারণ যদি সে ক্রমাগত ঈশ্বরকে দেখত, তবে তার কোনো ক্ষতিকারক অনুভূতি থাকত না, বা কোনো ধরনের গতি বা আকাঙ্ক্ষা থাকত না যা পাপের দিকে নিয়ে যায়। <br> এইভাবে আমি দেখেছি, এবং একই সময়ে অনুভব করেছি; এবং আমার মনে হয়েছিল যে এই দেখা ও অনুভব করা আমাদের জীবনের সাধারণ অনুভূতির তুলনায় উচ্চ, প্রাচুর্যময় ও কৃপাময়; কিন্তু তবুও আমার মনে হয়েছিল এটি ছোট ও নিচু ছিল সেই মহান আকাঙ্ক্ষার তুলনায় যা আত্মা ঈশ্বরকে দেখার জন্য রাখে।'''
* '''আমি আমার মধ্যে পাঁচ ধরনের কাজ অনুভব করেছি, যা হলো এই: আনন্দ, শোক, আকাঙ্ক্ষা, ভয় এবং নিশ্চিত আশা।''' আনন্দ: কারণ ঈশ্বর আমাকে উপলব্ধি ও জ্ঞান দিয়েছেন যে তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে আমি দেখেছি; শোক: এবং তা ছিল ব্যর্থতার জন্য; আকাঙ্ক্ষা: এবং তা ছিল যেন আমি তাঁকে আরও বেশি বেশি দেখতে পারি, এই উপলব্ধি ও জ্ঞান নিয়ে যে আমরা যতক্ষণ না তাঁকে স্বর্গে সত্যই ও স্পষ্টভাবে দেখছি ততক্ষণ আমরা কখনোই পূর্ণ বিশ্রাম পাব না; ভয় ছিল: কারণ আমার মনে হয়েছিল যে সেই সময়ে সেই দেখা ব্যর্থ হবে, এবং আমি নিজের মধ্যে পরিত্যক্ত হব; নিশ্চিত আশা ছিল অন্তহীন প্রেমে: যে আমি দেখেছি আমি তাঁর দয়ার দ্বারা রক্ষিত হব এবং তাঁর পরমানন্দে আনা হব। এবং এই নিশ্চিত আশার সাথে তাঁর দর্শনে আনন্দ করা আমাকে এমন অনুভূতি ও সান্ত্বনা দিয়েছিল যে শোক ও ভয় খুব বেশি বেদনাদায়ক ছিল না। এবং তবুও এই সবকিছুর মধ্যে আমি ঈশ্বরের প্রকাশে পর্যবেক্ষণ করেছি যে এই ধরনের দেখা এই জীবনে ক্রমাগত হতে পারে না,—এবং তা তাঁর নিজস্ব পূজার জন্য এবং আমাদের অন্তহীন আনন্দের বৃদ্ধির জন্য। এবং তাই আমরা প্রায়শই তাঁর দর্শন থেকে ব্যর্থ হই, এবং অবিলম্বে আমরা আমাদের নিজের মধ্যে পতিত হই, এবং তখন আমরা কোনো সঠিক অনুভূতি পাই না,—আমাদের নিজের মধ্যে যা আছে তা ছাড়া অন্য কোনো বিপরীততা নয়; এবং তা আমাদের প্রথম পাপের পুরোনো শিকড় থেকে, আমাদের নিজেদের দ্বারা অনুসরণ করা সমস্ত পাপের সাথে। এবং এর মধ্যে আমরা পাপের অনুভূতি, এবং আধ্যাত্মিক ও শারীরিক বহু বৈচিত্র্যময় যন্ত্রণার সাথে পরিশ্রমে ও ঝড়ে থাকি, যেমনটি আমাদের এই জীবনে জানা আছে।
=== অধ্যায় ৪৮ ===
[[File:Arco iris circular.JPG|thumb|আমি [[দয়া]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম, এবং আমি [[কৃপা]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম: যেগুলোর একটি [[প্রেমের]] মধ্যে দুই ধরনের কাজ আছে।]]
* '''আমাদের ভালো প্রভু পবিত্র আত্মা, যিনি আমাদের আত্মায় বসবাসকারী অন্তহীন জীবন, আমাদের খুব নিরাপদে রক্ষা করেন; এবং এর মধ্যে একটি শান্তি কাজ করেন এবং কৃপার দ্বারা একে স্বস্তিতে নিয়ে আসেন, এবং ঈশ্বরের সাথে সামঞ্জস্য করেন এবং একে নমনীয় করে তোলেন।''' এবং এটিই দয়া ও পথ যা আমাদের প্রভু ক্রমাগত আমাদের নিয়ে যান যতদিন আমরা এই জীবনে আছি যা পরিবর্তনশীল। <br> '''কারণ আমি মানুষের অংশে ক্রোধ ছাড়া আর কিছু দেখিনি; এবং তিনি আমাদের মধ্যে তা ক্ষমা করেন। কারণ ক্রোধ হলো শান্তি ও প্রেমের প্রতি এক ধরনের বিমুখতা ও বিপরীততা; এবং এটি হয় শক্তির ব্যর্থতা থেকে, অথবা প্রজ্ঞার ব্যর্থতা থেকে, অথবা মঙ্গলময়তার ব্যর্থতা থেকে আসে: যা ঈশ্বরের মধ্যে নেই, কিন্তু আমাদের অংশে। কারণ আমরা পাপ ও দুর্দশার দ্বারা আমাদের মধ্যে শান্তি ও প্রেমের প্রতি এক দুঃখজনক ও ক্রমাগত বিপরীততা বহন করি।''' এবং তা তিনি খুব প্রায়ই তাঁর করুণা ও সহানুভূতির প্রেমময় দৃষ্টিতে দেখিয়েছিলেন। কারণ দয়ার ভিত্তি হলো প্রেম, এবং দয়ার কাজ হলো ভালোবাসায় আমাদের রক্ষা করা। এবং এটি এমনভাবে দেখানো হয়েছিল যে আমি দয়ার অংশটি প্রেম ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে বুঝতে পারিনি; অর্থাৎ, আমার দৃষ্টিতে।
* '''দয়া হলো প্রেমের এক মিষ্টি কৃপাময় কাজ, প্রাচুর্যপূর্ণ সহানুভূতির সাথে মিশ্রিত: কারণ দয়া আমাদের রক্ষা করার কাজ করে, এবং দয়া আমাদের জন্য সবকিছুকে ভালোতে পরিণত করার কাজ করে।''' দয়া, প্রেমের দ্বারা, আমাদের পরিমাপের মধ্যে ব্যর্থ হতে দেয় এবং যতটা আমরা ব্যর্থ হই, ততটাই আমরা পড়ি; এবং যতটা আমরা পড়ি, ততটাই আমরা মরি: কারণ এটি অনিবার্য যে আমরা ততটাই মরি যতটা আমরা ঈশ্বরকে দেখা ও অনুভব করা থেকে ব্যর্থ হই যিনি আমাদের জীবন। আমাদের ব্যর্থতা ভয়ানক, আমাদের পতন লজ্জাজনক, এবং আমাদের মৃত্যু দুঃখজনক: কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যে সহানুভূতির মিষ্টি চোখ কখনো আমাদের থেকে সরে যায় না, বা দয়ার কাজও থেমে যায় না। <br> '''কারণ আমি [[দয়া]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম, এবং আমি [[কৃপা]]র বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম: যেগুলোর একটি [[প্রেম]]ের মধ্যে দুই ধরনের কাজ আছে।''' দয়া হলো একটি করুণাময় বৈশিষ্ট্য যা কোমল প্রেমে মাতৃত্বের অন্তর্গত; এবং কৃপা হলো একটি পূজনীয় বৈশিষ্ট্য যা একই প্রেমে রাজকীয় প্রভুর অন্তর্গত। দয়া কাজ করে: রক্ষা করা, সহ্য করা, জীবিত করা এবং নিরাময় করা; এবং সবই প্রেমের কোমলতা। এবং কৃপা কাজ করে: উন্নীত করা, পুরস্কৃত করা, আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও পরিশ্রম যা অর্জন করে তার চেয়ে অন্তহীনভাবে অতিক্রম করা, ঈশ্বরের রাজকীয় প্রভুর মহান প্রাচুর্যপূর্ণ উদারতা তাঁর বিস্ময়কর সৌজন্যে ছড়িয়ে দেওয়া ও প্রদর্শন করা; এবং এটি প্রেমের প্রাচুর্য থেকে আসে। '''কারণ কৃপা আমাদের ভয়ানক ব্যর্থতাকে প্রাচুর্যপূর্ণ, অন্তহীন সান্ত্বনায় রূপান্তরিত করে; এবং কৃপা আমাদের লজ্জাজনক পতনকে উচ্চ, পূজনীয় উত্থানে রূপান্তরিত করে; এবং কৃপা আমাদের দুঃখজনক মৃত্যুকে পবিত্র, পরমানন্দময় জীবনে রূপান্তরিত করে।''' <br> কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের বিপরীততা যেমন আমাদের এখানে পৃথিবীতে যন্ত্রণা, লজ্জা ও দুঃখ দেয়, ঠিক তেমনই বিপরীত দিক থেকে, কৃপা আমাদের স্বর্গে সান্ত্বনা, পূজা ও পরমানন্দ দেয়; এবং অতিক্রম করে। এবং এতটা পর্যন্ত যে, যখন আমরা উপরে উঠি এবং সেই মিষ্টি পুরস্কার গ্রহণ করি যা কৃপা আমাদের জন্য তৈরি করেছে, তখন আমরা আমাদের প্রভুকে ধন্যবাদ ও আশীর্বাদ করব, অন্তহীনভাবে আনন্দিত হয়ে যে আমরা কখনো দুঃখ সহ্য করেছি। এবং এটি হবে পরমানন্দময় প্রেমের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য যা আমরা ঈশ্বরকে জানব যা দুঃখ ছাড়া আমরা কখনোই জানতে পারতাম না। <br> '''এবং যখন আমি এই সব দেখলাম, আমাকে স্বীকার করতেই হলো যে ঈশ্বরের দয়া ও ক্ষমা আমাদের ক্রোধকে শিথিল ও নষ্ট করার জন্য।'''
=== অধ্যায় ৪৯ ===
[[File:LuMaxArt_Golden_Family_With_World_Religions.jpg|thumb|অবিলম্বে আত্মা [[ঈশ্বরের]] সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে [[শান্তি]] স্থাপন করে।]]
[[File:Quaker Peace Star.png|thumb|আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে যেখানে আমাদের প্রভু উপস্থিত হন, সেখানে [[শান্তি]] আসে এবং [[ক্রোধ]]ের কোনো স্থান থাকে না। কারণ আমি ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ধরনের ক্রোধ দেখিনি, অল্প [[সময়ের]] জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য; — কারণ সত্যই, আমার দৃষ্টিতে, যদি [[ঈশ্বর]] এক মুহূর্তের জন্যও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে আমাদের কখনোই [[জীবন]] বা স্থান বা অস্তিত্ব থাকত না।]]
* '''অবিলম্বে আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে।'''
* '''এটি ছিল আত্মার জন্য এক উচ্চ বিস্ময় যা ক্রমাগত সমস্ত প্রকাশে দেখানো হয়েছিল, এবং খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল, যে আমাদের প্রভু ঈশ্বর, নিজের প্রতি ক্ষমা করতে পারেন না, কারণ তিনি ক্রুদ্ধ হতে পারেন না: এটি অসম্ভব হবে। কারণ এটি দেখানো হয়েছিল: যে আমাদের জীবন সম্পূর্ণভাবে প্রেমে ভিত্তি ও মূলিত, এবং প্রেম ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না;''' এবং তাই সেই আত্মার জন্য যে তাঁর বিশেষ কৃপায় ঈশ্বরের উচ্চ, বিস্ময়কর মঙ্গলময়তার গভীরে এতদূর দেখে, এবং দেখে যে আমরা প্রেমে তাঁর সাথে অন্তহীনভাবে একীভূত, এটি সবচেয়ে অসম্ভব যা হতে পারে যে ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হবেন। কারণ ক্রোধ ও বন্ধুত্ব দুটি বিপরীত। কারণ তিনি যিনি আমাদের ক্রোধ নষ্ট ও ধ্বংস করেন এবং আমাদের নম্র ও মৃদু করেন,—এটি অনিবার্য যে তাঁকে সর্বদা প্রেমে এক, নম্র ও মৃদু হতে হবে: যা ক্রোধের বিপরীত। <br> '''কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে যেখানে আমাদের প্রভু উপস্থিত হন, সেখানে শান্তি আসে এবং ক্রোধের কোনো স্থান থাকে না। কারণ আমি ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ধরনের ক্রোধ দেখিনি, অল্প সময়ের জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য;—কারণ সত্যই, আমার দৃষ্টিতে, যদি ঈশ্বর এক মুহূর্তের জন্যও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে আমাদের কখনোই জীবন বা স্থান বা অস্তিত্ব থাকত না।''' কারণ আমরা যেমন ঈশ্বরের অন্তহীন শক্তি এবং অন্তহীন প্রজ্ঞা এবং অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আমাদের অস্তিত্ব পাই, ঠিক তেমনই আমরা ঈশ্বরের অন্তহীন শক্তিতে, অন্তহীন প্রজ্ঞায় এবং অন্তহীন মঙ্গলময়তায় আমাদের সুরক্ষা পাই। কারণ যদিও আমরা নিজেদের মধ্যে, দুঃখী মানুষ, বিতর্ক ও কলহ অনুভব করি, তবুও আমরা ঈশ্বরের মৃদুতা ও তাঁর নম্রতায়, তাঁর দয়া ও তাঁর কৃপায় পুরোপুরি আবদ্ধ। কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের সমস্ত অন্তহীন বন্ধুত্ব, আমাদের স্থান, আমাদের জীবন এবং আমাদের অস্তিত্ব ঈশ্বরের মধ্যে।
* '''যদিও আমরা, আমাদের মধ্যে থাকা ক্রোধ ও বিপরীততার কারণে, এখন দুর্দশা, কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্যে আছি, যেমন আমাদের অন্ধত্ব ও দুর্বলতার কারণে ঘটে, তবুও আমরা ঈশ্বরের দয়াময় সুরক্ষার দ্বারা নিরাপদে আছি, যাতে আমরা ধ্বংস না হই। কিন্তু আমরা আমাদের অন্তহীন আনন্দের অধিকারী হয়ে ''পরমানন্দময়ভাবে'' নিরাপদ নই, যতক্ষণ না আমরা সবাই শান্তিতে ও প্রেমে থাকি: অর্থাৎ, ঈশ্বরের সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে এবং তাঁর সমস্ত বিচারের সাথে পূর্ণ সন্তুষ্ট, এবং আমাদের নিজেদের সাথে এবং আমাদের সম-খ্রিস্টানদের সাথে এবং ঈশ্বর যা ভালোবাসেন তার সবার সাথে প্রেমময় ও শান্তিপূর্ণ, যেমন প্রেম শোভা পায়।''' এবং এটি ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা আমাদের মধ্যে করে।
* '''এইভাবে আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বরই আমাদের প্রকৃত শান্তি, এবং আমরা যখন নিজেরাই অশান্তিতে থাকি তখন তিনিই আমাদের নিশ্চিত রক্ষক, এবং তিনি ক্রমাগত আমাদের অন্তহীন শান্তিতে আনার জন্য কাজ করেন।''' এবং এইভাবে যখন আমরা, দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা, নম্র ও মৃদু হই, আমরা পুরোপুরি নিরাপদ; হঠাৎ আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তিতে থাকে: কারণ তাঁর মধ্যে কোনো ক্রোধ পাওয়া যায় না। এবং এইভাবে আমি দেখেছিলাম যখন আমরা সবাই শান্তিতে ও প্রেমে থাকি, আমরা কোনো বিপরীততা খুঁজে পাই না, বা সেই বিপরীততার মাধ্যমে কোনো ধরনের বাধা পাই না যা এখন আমাদের মধ্যে আছে; আমাদের প্রভু তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে একে আমাদের জন্য খুব লাভজনক করে তোলেন। কারণ সেই বিপরীততাই আমাদের দুর্দশা ও আমাদের সমস্ত যন্ত্রণার কারণ, এবং আমাদের প্রভু যিশু সেগুলো গ্রহণ করেন এবং স্বর্গে পাঠান, এবং সেখানে সেগুলো হৃদয়ে চিন্তা বা জিহ্বায় বলার চেয়েও বেশি মিষ্টি ও আনন্দদায়ক করা হয়। এবং যখন আমরা সেখানে পৌঁছাব তখন আমরা সেগুলোকে প্রস্তুত পাব, সব খুব সুন্দর ও অন্তহীন পূজায় রূপান্তরিত।
=== অধ্যায় ৫০ ===
* '''এই জীবনে দয়া ও ক্ষমা আমাদের পথ এবং সর্বদা আমাদের কৃপার দিকে নিয়ে যায়। এবং যে ঝড় ও দুঃখের মধ্যে আমরা আমাদের অংশে পতিত হই, তাতে আমরা পৃথিবীতে মানুষের বিচারের অনুযায়ী প্রায়শই মৃত; কিন্তু ঈশ্বরের দৃষ্টিতে যে আত্মা রক্ষা পাবে সে কখনোই মৃত ছিল না, বা কখনোই হবে না।'''
* তবুও এখানে আমি আমার আত্মার সমস্ত মনোযোগ দিয়ে বিস্মিত ও বিস্ময়বোধ করলাম, আমার নিজের মধ্যে এইভাবে বলে: ''' ''ভালো প্রভু, আমি তোমাকে দেখি যিনি প্রকৃত সত্য; এবং আমি সত্যে জানি যে আমরা প্রতিদিন গুরুতরভাবে পাপ করি এবং অনেক বেশি দোষী; এবং আমি তোমার সত্যের জ্ঞান ত্যাগ করতে পারি না, বা আমি তোমাকে কোনো ধরনের দোষ দেখাতে দেখছি না। এটি কীভাবে সম্ভব?'' <br> কারণ আমি পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষা এবং আমার নিজের অনুভূতি দ্বারা জানতাম যে আমাদের পাপের দোষ ক্রমাগত আমাদের ওপর ঝুলে থাকে, প্রথম মানুষ থেকে শুরু করে আমরা স্বর্গে পৌঁছানো পর্যন্ত: তখন এটিই আমার বিস্ময় ছিল যে আমি আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে আমাদের প্রতি আর কোনো দোষ দেখাতে দেখিনি যেন আমরা স্বর্গে ফেরেশতাদের মতো পরিষ্কার ও পবিত্র।''' এবং এই দুটি বিপরীতের মধ্যে আমার যুক্তি আমার অন্ধত্বের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল, এবং এর ভয়ে কোনো বিশ্রাম পেতে পারিনি যে তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ উপস্থিতি আমার দৃষ্টি থেকে সরে যাবে এবং আমি না জেনে থেকে যাব যে তিনি আমাদের পাপে আমাদের কীভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কারণ হয় আমাকে ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে হতো যে পাপ পুরোপুরি দূর হয়েছে, অথবা আমাকে ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে হতো কীভাবে তিনি তা দেখেন, যার মাধ্যমে আমি সত্যই জানতে পারতাম কীভাবে আমার পাপ দেখা উচিত, এবং আমাদের দোষের ধরন। আমার আকাঙ্ক্ষা স্থায়ী ছিল, তাঁকে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করে;—এবং তবুও মহান সংকট ও বিভ্রান্তির জন্য আমি ধৈর্য ধরতে পারিনি, চিন্তা করে: ''যদি আমি এইভাবে ধরি যে আমরা পাপী নই এবং দোষী নই, তবে মনে হয় আমি ভুল করছি এবং এই সত্যের জ্ঞান থেকে ব্যর্থ হচ্ছি; এবং যদি এমন হয় যে আমরা পাপী ও দোষী,—ভালো প্রভু, তবে এটি কীভাবে সম্ভব যে আমি তোমার মধ্যে এই সত্য জিনিসটি দেখতে পাচ্ছি না, যিনি আমার ঈশ্বর, আমার নির্মাতা, যার মধ্যে আমি সমস্ত সত্য দেখতে আকাঙ্ক্ষা করি?''
* তিনটি পয়েন্ট আমাকে এটি জিজ্ঞাসা করার জন্য সাহসী করে তোলে। প্রথমটি হলো, কারণ এটি খুব ছোট একটি জিনিস: কারণ যদি এটি একটি উচ্চ জিনিস হতো তবে আমি ভীত হতাম। দ্বিতীয়টি হলো, যে এটি খুব সাধারণ: কারণ যদি এটি বিশেষ ও গোপন হতো, তবে আমি ভীত হতাম। তৃতীয়টি হলো, যে এটি জানা আমার প্রয়োজন (যেমন আমার মনে হয়) যদি আমি এখানে ভালো ও মন্দের জ্ঞান লাভের জন্য বাঁচি, যার মাধ্যমে আমি, যুক্তি ও কৃপার দ্বারা, সেগুলোকে আরও আলাদা করতে পারি, এবং মঙ্গলময়তাকে ভালোবাসতে পারি ও মন্দকে ঘৃণা করতে পারি, যেমন পবিত্র চার্চ শেখায়। আমি অন্তরের সাথে চিৎকার করলাম, আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করে, এইভাবে বলে: ''আহ! প্রভু যিশু, পরমানন্দের রাজা, আমি কীভাবে শান্ত হব? কে আমাকে শেখাবে এবং বলবে যে আমার কী জানা প্রয়োজন, যদি আমি এই সময়ে তোমার মধ্যে তা দেখতে না পাই?''
=== অধ্যায় ৫১ ===
* তখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু খুব অস্পষ্টভাবে একজন প্রভুর একটি বিস্ময়কর উদাহরণ দেখিয়ে উত্তর দিলেন যার একজন ভৃত্য আছে: এবং তিনি আমাকে উভয়ের প্রতি আমার বোঝার দৃষ্টি দিলেন। যে দৃষ্টি প্রভুর মধ্যে দ্বিগুণভাবে এবং ভৃত্যের মধ্যে দ্বিগুণভাবে দেখানো হয়েছিল: একটি অংশ শারীরিক সাদৃশ্যে আধ্যাত্মিকভাবে দেখানো হয়েছিল, এবং অন্য অংশটি আরও আধ্যাত্মিকভাবে দেখানো হয়েছিল, শারীরিক সাদৃশ্য ছাড়াই।
* আমি শারীরিক সাদৃশ্যে দুটি ব্যক্তিকে দেখলাম: অর্থাৎ, একজন প্রভু ও একজন ভৃত্য; এবং তার সাথে ঈশ্বর আমাকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান দিলেন। প্রভু শান্তিতে ও বিশ্রামে মহিমান্বিত হয়ে বসে আছেন; ভৃত্য তার প্রভুর সামনে শ্রদ্ধার সাথে দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রভুর ইচ্ছা পূরণ করতে প্রস্তুত। প্রভু তাঁর ভৃত্যের দিকে খুব ভালোবাসার সাথে ও মিষ্টিভাবে তাকান, এবং নম্রভাবে তিনি তাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠান তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে। ভৃত্য কেবল যায় না, বরং হঠাৎ সে শুরু করে, এবং প্রভুর ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রেমের সাথে খুব তাড়াহুড়ো করে দৌড়ায়। এবং অবিলম্বে সে একটি খাদে পড়ে যায়, এবং খুব মহান আঘাত পায়। এবং তখন সে আর্তনাদ করে ও বিলাপ করে ও শোক করে ও সংগ্রাম করে, কিন্তু সে কোনোভাবেই উঠতে পারে না বা নিজেকে সাহায্য করতে পারে না। <br> এবং এই সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যা আমি তাকে দেখেছি তা ছিল সান্ত্বনার ব্যর্থতা: কারণ সে তার ভালোবাসার প্রভুর দিকে তাকাতে মুখ ঘুরাতে পারেনি, যিনি তার খুব কাছাকাছি ছিলেন,—যাঁর মধ্যে পূর্ণ সান্ত্বনা আছে;—কিন্তু একজন মানুষের মতো যে সেই সময়ের জন্য দুর্বল ও অবিবেচক, সে তার মন তার অনুভূতির দিকে ঘুরাল এবং যন্ত্রণার মধ্যে স্থায়ী হলো।
* আমি বিস্মিত হলাম কীভাবে এই ভৃত্য সেখানে এই সমস্ত যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে, এবং আমি খুব সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করলাম যদি আমি তার মধ্যে কোনো দোষ বুঝতে পারি, অথবা প্রভু যদি তাকে কোনো দোষ দেন। এবং সত্যই সেখানে কিছুই দেখা যায়নি: কারণ কেবল তার সদিচ্ছা এবং তার মহান আকাঙ্ক্ষাই ছিল তার পতনের কারণ; এবং সে অনিচ্ছুক ছিল না, এবং ভেতরে ততটাই ভালো ছিল যেমনটি সে তার প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে প্রস্তুত। এবং ঠিক এভাবেই ক্রমাগত তার ভালোবাসার প্রভু খুব কোমলভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছেন।
* '''আমি দেখলাম ও বুঝলাম যে প্রতিটি প্রকাশ গোপন জিনিসে পূর্ণ।''' <br> এবং তাই আমাকে এখন তিনটি বৈশিষ্ট্য বলতে হবে যার মধ্যে আমি কিছুটা শান্ত হয়েছি। প্রথমটি হলো শিক্ষার শুরু যা আমি সেই সময়ে এতে বুঝেছিলাম; দ্বিতীয়টি হলো অভ্যন্তরীণ শিক্ষা যা আমি পরে এতে বুঝেছি; তৃতীয়টি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রকাশ (অর্থাৎ এই বইয়ের) যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে প্রায়শই মুক্তভাবে আমার বোঝার দৃষ্টিতে আনেন। এবং এই তিনটি আমার বোঝার অনুযায়ী এতটাই একীভূত যে আমি সেগুলোকে আলাদা করতে পারি না, বা করব না। এবং এই তিনটির দ্বারা, একটি হিসেবে, আমার কাছে শিক্ষা আছে যার মাধ্যমে আমার আমাদের প্রভু ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখা উচিত, যে একই মঙ্গলময়তা থেকে যা দিয়ে তিনি এটি দেখিয়েছেন, এবং একই উদ্দেশ্যের জন্য, ঠিক তেমনই, একই মঙ্গলময়তা থেকে এবং একই উদ্দেশ্যের জন্য তিনি আমাদের কাছে তা প্রকাশ করবেন যখন তাঁর ইচ্ছা হবে।
* কারণ, প্রকাশের সময়ের বিশ বছর পর, তিন মাস কম, আমি অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষা পেয়েছিলাম, যেমন আমি বলব: ''উদাহরণে যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য ও শর্ত দেখানো হয়েছিল তার প্রতি মনোযোগ দেওয়া তোমার কর্তব্য, যদিও তুমি মনে করো সেগুলো অস্পষ্ট এবং তোমার দৃষ্টিতে নির্বিশেষে।''
* প্রভু যিনি শান্তিতে ও বিশ্রামে মহিমান্বিত হয়ে বসে ছিলেন, আমি বুঝলাম যে তিনি ঈশ্বর। ভৃত্য যিনি প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমি বুঝলাম যে এটি আদমের জন্য দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, একজন মানুষকে দেখানো হয়েছিল, সেই সময়ে, এবং তার পতন, যাতে এটি বোঝা যায় কীভাবে ঈশ্বর সমস্ত-মানুষ এবং তার পতনকে পর্যবেক্ষণ করেন। '''কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সমস্ত মানুষ একজন মানুষ, এবং একজন মানুষ সমস্ত মানুষ। এই মানুষটি তার শক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল এবং খুব দুর্বল হয়েছিল; এবং সে তার বোঝাপড়ায় স্তব্ধ হয়েছিল যাতে সে তার প্রভুর পর্যবেক্ষণ থেকে ফিরে এসেছিল। কিন্তু তার ইচ্ছা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে অখণ্ড ছিল;—কারণ তার ইচ্ছা আমি আমাদের প্রভুকে প্রশংসা ও অনুমোদন করতে দেখেছি। কিন্তু সে নিজেই এই ইচ্ছা জানার থেকে বাধাগ্রস্ত ও অন্ধ ছিল; এবং এটি তার জন্য মহান শোক ও দুঃখজনক কষ্ট: কারণ সে না স্পষ্টভাবে দেখে তার ভালোবাসার প্রভুকে, যিনি তার প্রতি খুব নম্র ও মৃদু, না সে সত্যই দেখে সে তার ভালোবাসার প্রভুর দৃষ্টিতে কী। এবং আমি ভালো করেই জানি যখন এই দুটি বিজ্ঞতার সাথে ও সত্যভাবে দেখা হবে, আমরা এখানে আংশিকভাবে বিশ্রাম ও শান্তি পাব, এবং স্বর্গের পরমানন্দের পূর্ণতা পাব, তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায়। <br> এবং এটি ছিল শিক্ষার একটি শুরু যা আমি সেই সময়ে দেখেছিলাম, যার মাধ্যমে আমি জানতে পারতাম তিনি কীভাবে আমাদের পাপে আমাদের পর্যবেক্ষণ করেন।''' এবং তখন আমি দেখলাম যে কেবল যন্ত্রণা দোষ দেয় ও শাস্তি দেয়, এবং আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু সান্ত্বনা দেন ও শোক করেন; এবং সর্বদা তিনি আত্মার কাছে আনন্দদায়ক মেজাজে আছেন, ভালোবাসছেন, এবং আমাদের তাঁর পরমানন্দে আনতে আকাঙ্ক্ষা করছেন।
* প্রভু যে স্থানে বসে ছিলেন তা ছিল সরল, পৃথিবীতে, অনুর্বর ও মরুভূমি, প্রান্তরে একা; তাঁর পোশাক ছিল প্রশস্ত ও খুব মানানসই, যেমন একজন প্রভুর জন্য শোভা পায়; তাঁর পোশাকের রঙ ছিল নীলাভ, খুব বিষণ্ণ ও সুন্দর। তাঁর মেজাজ ছিল দয়াময়; তাঁর মুখের রঙ ছিল সুন্দর-বাদামী,—খুব মানানসই বৈশিষ্ট্যের সাথে; তাঁর চোখ ছিল কালো, খুব সুন্দর ও মানানসই, খুব ভালোবাসার ''সহানুভূতি'' দিয়ে পূর্ণ, এবং, তাঁর ''ভেতরে'', একটি উচ্চ পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ ও প্রশস্ত, সমস্ত অন্তহীন স্বর্গে পূর্ণ। এবং ভালোবাসার দৃষ্টি যা দিয়ে তিনি ক্রমাগত তাঁর ভৃত্যের দিকে তাকিয়েছিলেন,—এবং বিশেষ করে তার পতনে,—আমার মনে হয়েছিল তা প্রেমের জন্য আমাদের হৃদয় গলাতে পারে এবং আনন্দের জন্য সেগুলোকে দুই ভাগে ফাটাতে পারে। সুন্দর দৃষ্টি একটি মানানসই মিশ্রণ দেখিয়েছিল যা পর্যবেক্ষণ করা বিস্ময়কর ছিল: একটি ছিল করুণা ও সহানুভূতি, অন্যটি ছিল আনন্দ ও পরমানন্দ। আনন্দ ও পরমানন্দ করুণা ও সহানুভূতিকে ততটাই ছাড়িয়ে যায় যতটা স্বর্গ পৃথিবীর উপরে: সহানুভূতি ছিল পার্থিব এবং পরমানন্দ ছিল স্বর্গীয়।
* তাঁর প্রেমের চেহারার দয়াময় পর্যবেক্ষণ সমস্ত পৃথিবীকে পূর্ণ করেছিল এবং আদমের সাথে নরকে নেমে এসেছিল, যে ক্রমাগত সহানুভূতিতে আদমকে অন্তহীন মৃত্যু থেকে রক্ষা করা হয়েছিল। এবং এইভাবে দয়া ও সহানুভূতি মানবজাতির সাথে থাকে যতক্ষণ না আমরা স্বর্গে উপরে উঠি।
* মানুষ এই জীবনে অন্ধ এবং তাই আমরা আমাদের পিতা, ঈশ্বরকে দেখতে পারি না, যেমন তিনি আছেন। এবং যখন তিনি তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে মানুষের কাছে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি নিজেকে আপনভাবে দেখান, মানুষ হিসেবে। তবুও, আমি যুক্তি দিই, সত্যে আমাদের জানা ও বিশ্বাস করা উচিত যে পিতা মানুষ নন।
* পোশাকের নীলাভতা তাঁর স্থিরতা বোঝায়; তাঁর সুন্দর মুখের বাদামীতা, চোখের মানানসই কালোর সাথে, তাঁর পবিত্র স্থিরতা দেখানোর জন্য সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তাঁর পোশাকের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, যা সুন্দর ছিল, চারপাশে জ্বলজ্বল করছিল, বোঝায় যে তাঁর মধ্যে আছে, সমস্ত স্বর্গ, এবং সমস্ত আনন্দ ও পরমানন্দ: এবং এটি একটি স্পর্শে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি বলেছি: ''আমার বোঝাপড়া প্রভুর মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল''; যার মধ্যে আমি তাঁকে উচ্চতর আনন্দিত হতে দেখেছি সেই পূজনীয় পুনরুদ্ধারের জন্য যা তিনি তাঁর ভৃত্যকে তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায় আনবেন ও আনবেন।
* পৃথিবীতে একটি ধন ছিল যা প্রভু ভালোবাসতেন। আমি বিস্মিত হলাম এবং ভাবলাম এটি কী হতে পারে, এবং আমার বোঝাপড়ায় উত্তর পেলাম: ''এটি একটি খাদ্য যা প্রভুর কাছে আনন্দদায়ক ও মনোরম।''
* তবুও আমি বিস্মিত হলাম ভৃত্য কোথা থেকে এসেছিল। কারণ আমি প্রভুর মধ্যে দেখলাম যে তাঁর নিজের ভেতরে অন্তহীন জীবন আছে, এবং সমস্ত ধরনের মঙ্গলময়তা, পৃথিবীতে থাকা সেই ধন ছাড়া। এবং ''তা'' অন্তহীন প্রেমের বিস্ময়কর গভীরতায় প্রভুর মধ্যে ভিত্তি ছিল, কিন্তু এটি তাঁর পূজার জন্য পুরোপুরি ছিল না যতক্ষণ না ভৃত্য একে এইভাবে মহিমান্বিতভাবে প্রস্তুত করেছিল, এবং তার নিজের উপস্থিতিতে প্রভুর সামনে এনেছিল। এবং প্রভুর বাইরে প্রান্তর ছাড়া কিছুই ছিল না। এবং আমি সব বুঝতে পারিনি এই উদাহরণটির অর্থ কী, এবং তাই আমি বিস্মিত হলাম ভৃত্য কোথা থেকে এসেছিল।
* ভৃত্যের মধ্যে ত্রিত্বের দ্বিতীয় ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; এবং ভৃত্যের মধ্যে আদমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: অর্থাৎ, সমস্ত-মানুষ। এবং তাই যখন আমি 'পুত্র' বলি, তার অর্থ [[দেবত্ব]] যা পিতার সাথে সমান; এবং যখন আমি 'ভৃত্য' বলি, তার অর্থ খ্রিস্টের মানবতা, যা প্রকৃত আদম। ভৃত্যের নৈকট্য দ্বারা পুত্রকে বোঝা যায়, এবং বাম দিকে দাঁড়ানো দ্বারা আদমকে বোঝা যায়। প্রভু হলেন পিতা, ঈশ্বর; ভৃত্য হলেন পুত্র, খ্রিস্ট যিশু; পবিত্র আত্মা হলেন সমান প্রেম যা তাদের উভয়ের মধ্যে আছে।
* এই সবকিছুর মধ্যে আমাদের ভালো প্রভু তাঁর নিজের পুত্র এবং আদমকে কেবল একজন মানুষ হিসেবে দেখিয়েছেন। আমাদের মধ্যে যে গুণ ও মঙ্গলময়তা আছে তা যিশু খ্রিস্টের থেকে: আমাদের মধ্যে যে দুর্বলতা ও অন্ধত্ব আছে তা আদমের থেকে: যা দুটি ভৃত্যের মধ্যে দেখানো হয়েছিল।<br> এবং এইভাবে আমাদের ভালো প্রভু যিশু আমাদের সমস্ত দোষ নিজের ওপর নিয়েছেন, এবং তাই আমাদের পিতা খ্রিস্টপ্রিয় খ্রিস্টের চেয়ে আমাদের আর কোনো দোষ দিতে পারেন না বা দেবেন না।
* কারণ সমস্ত মানবজাতি যারা খ্রিস্টের মিষ্টি অবতার ও পরমানন্দময় প্যাশনের দ্বারা রক্ষা পাবে, সবই খ্রিস্টের মানবতা: কারণ তিনি হলেন প্রধান এবং আমরা তাঁর অঙ্গ। যে অঙ্গগুলোর জন্য দিন ও সময় অজানা যখন প্রতিটি দুঃখ ও শোকের শেষ হবে, এবং চিরস্থায়ী আনন্দ ও পরমানন্দ পূর্ণ হবে; যে দিন ও সময় দেখার জন্য, স্বর্গের সমস্ত কোম্পানি আকাঙ্ক্ষা করে। এবং স্বর্গের নিচে যারা আছে যারা সেখানে আসবে, তাদের পথ হলো আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার দ্বারা।
* এছাড়াও এই বিস্ময়কর উদাহরণে আমার সাথে শিক্ষা আছে যেমনটি এটি একটি এ.বি.সি.র শুরু, যার দ্বারা আমি আমাদের প্রভুর অর্থের কিছু বোঝাপড়া পেয়েছি। কারণ প্রকাশের গোপন জিনিসগুলো এতে লুকিয়ে আছে;—যদিও ''সমস্ত'' প্রকাশই গোপন জিনিসে পূর্ণ।
=== অধ্যায় ৫২ ===
* '''আমি দেখলাম যে ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের পিতা, এবং ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের মাতা, এবং ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের প্রকৃত জীবনসঙ্গী এবং আমাদের আত্মা তাঁর প্রিয় স্ত্রী। এবং খ্রিস্ট আনন্দিত যে তিনি আমাদের ভাই, এবং যিশু আনন্দিত যে তিনি আমাদের ত্রাণকর্তা। এগুলো পাঁচটি উচ্চ আনন্দ, যেমন আমি বুঝি, যার মধ্যে তিনি চান যে আমরা আনন্দ করি; তাঁর প্রশংসা করে, তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে, তাঁকে ভালোবেসে, তাঁকে অন্তহীনভাবে আশীর্বাদ করে।'''
* '''আমাদের উদ্দেশ্যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে বাস করি, এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে দয়া ও কৃপা পাওয়ার আস্থা রাখি; এবং এটি আমাদের মধ্যে তাঁর নিজস্ব কাজ। এবং তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে তিনি আমাদের বোঝার চোখ খুলে দেন, যার দ্বারা আমরা দৃষ্টি পাই, কখনো বেশি এবং কখনো কম, যেমন ঈশ্বর গ্রহণ করার ক্ষমতা দেন। এবং এখন আমরা একীভূত হই, এবং এখন আমরা অন্যটিতে পতিত হই।''' <br> এবং এইভাবে আমাদের মধ্যে এই মিশ্রণটি এত বিস্ময়কর যে আমরা খুব কমই আমাদের নিজের বা আমাদের সম-খ্রিস্টানের কথা জানি যে আমরা কোন পথে দাঁড়িয়ে আছি, এই বিভিন্ন অনুভূতির বিস্ময়করতার কারণে।
* এইভাবে আমরা আমাদের জীবনের সমস্ত দিন এই মিশ্রণে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু তিনি চান যে আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি আমাদের সাথে স্থায়ীভাবে আছেন। এবং তা তিন প্রকারে।—তিনি স্বর্গে আমাদের সাথে আছেন, প্রকৃত মানুষ, তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিতে, আমাদের উপরে টেনে নিচ্ছেন; এবং তা আধ্যাত্মিক তৃষ্ণায় দেখানো হয়েছিল। এবং তিনি পৃথিবীতে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের পরিচালিত করছেন; এবং তা তৃতীয়টিতে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখেছি। এবং তিনি আমাদের আত্মায় আমাদের সাথে আছেন, অন্তহীনভাবে বসবাস করছেন, আমাদের শাসন ও রক্ষা করছেন; এবং তা ষোড়শটিতে দেখানো হয়েছিল, যেমন আমি বলব।
* আমাদের কাছে, এখন, শোকের বিষয় আছে: কারণ আমাদের পাপ খ্রিস্টের যন্ত্রণার কারণ; এবং আমাদের কাছে, স্থায়ীভাবে, আনন্দের বিষয় আছে: কারণ অন্তহীন প্রেম তাঁকে সহ্য করতে বাধ্য করেছিল। এবং তাই '''যে সৃষ্টি কৃপার দ্বারা প্রেমের কাজ দেখে ও অনুভব করে, সে পাপ ছাড়া কিছুই ঘৃণা করে না: কারণ সমস্ত জিনিসের মধ্যে, আমার দৃষ্টিতে, প্রেম ও ঘৃণা সবচেয়ে কঠিন ও সবচেয়ে পরিমাপহীন বিপরীত।''' এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি আমাদের প্রভুর অর্থে দেখেছিলাম ও বুঝেছিলাম যে আমরা এই জীবনে পাপ থেকে এতটা অখণ্ডভাবে পরিষ্কার থাকতে পারি না যতটা আমরা স্বর্গে থাকব। কিন্তু আমরা অবশ্যই কৃপার দ্বারা সেই পাপগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি যা আমাদের অন্তহীন যন্ত্রণার দিকে নিয়ে যেত, যেমন পবিত্র চার্চ আমাদের শেখায়; এবং আমাদের সাধ্যমতো ভেনিয়াল পাপ এড়িয়ে চলতে পারি। এবং যদি আমরা আমাদের অন্ধত্ব ও আমাদের দুর্দশার কারণে কোনো সময় পড়ে যাই, তবে আমাদের তৎক্ষণাৎ ওঠা উচিত, কৃপার মিষ্টি স্পর্শ জেনে, এবং আমাদের সমস্ত ইচ্ছার সাথে পবিত্র চার্চের শিক্ষার ওপর নিজেদের সংশোধন করা উচিত, যেমন পাপ গুরুতর, এবং ভালোবাসায় অবিলম্বে ঈশ্বরের কাছে যাওয়া উচিত; এবং একদিকে, খুব নিচে পতিত হয়ে হতাশায় ঝুঁকে পড়া উচিত নয়, বা অন্যদিকে, খুব বেপরোয়া হওয়া উচিত নয়, যেন আমরা এর কোনো গুরুত্ব দিইনি; বরং আমাদের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে স্বীকার করা উচিত, এই জেনে যে আমরা কৃপার সুরক্ষা ছাড়া এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারি না, এবং শ্রদ্ধার সাথে ঈশ্বরের সাথে লেগে থাকা উচিত, কেবল তাঁর ওপর আস্থা রেখে। <br> কারণ ঈশ্বরের পর্যবেক্ষণ একরকম, এবং মানুষের পর্যবেক্ষণ অন্যরকম। কারণ মানুষের জন্য নিজেকে নম্রভাবে অভিযুক্ত করা যথার্থ, এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সঠিক মঙ্গলময়তার জন্য মানুষকে সৌজন্যের সাথে ক্ষমা করা যথার্থ।
* অন্য ধরনের পর্যবেক্ষণ দেখানো হয়েছিল ''অভ্যন্তরীণ'': এবং তা ছিল আরও উচ্চতর এবং পুরোপুরি ''এক''। '''কারণ জীবন ও গুণ যা আমরা নিম্ন অংশে পাই তা উচ্চতর থেকে, এবং তা কৃপার দ্বারা নিজের প্রাকৃতিক প্রেম থেকে আমাদের কাছে আসে। এক এবং অন্যটির মধ্যে ঠিক কিছুই নেই: কারণ এটি সবই এক প্রেম।''' যে এক আশীর্বাদপূর্ণ প্রেমের এখন, আমাদের মধ্যে, দ্বিগুণ কাজ আছে: কারণ নিম্ন অংশে যন্ত্রণা ও আবেগ, দয়া ও ক্ষমা আছে, এবং অন্যান্য বিষয় যা লাভজনক; কিন্তু উচ্চ অংশে এগুলোর কোনোটিই নেই, বরং সবই এক উচ্চ প্রেম ও বিস্ময়কর আনন্দ: যে আনন্দে সমস্ত যন্ত্রণা উচ্চতরভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়। এবং এতে আমাদের প্রভু কেবল আমাদের ক্ষমা প্রদর্শন করেননি, বরং সেই পূজনীয় মহৎতাও দেখিয়েছেন যা তিনি আমাদের আনবেন, আমাদের সমস্ত দোষকে অন্তহীন পূজায় রূপান্তরিত করে।
=== অধ্যায় ৫৩ ===
* আমি দেখলাম যে তিনি চান যেন আমরা বুঝি যে তিনি কোনো সৃষ্টির পতনকে যা রক্ষা পাবে তাকে আদমের পতনের চেয়ে বেশি কঠিনভাবে নেন না, যা, আমরা জানি, আদমের সমস্ত প্রয়োজনের সময়ে অন্তহীনভাবে ভালোবাসা ও নিরাপদে রক্ষিত ছিল, এবং এখন উচ্চতর অতিক্রমকারী আনন্দে পরমানন্দময়ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
* এতে যা আমি এখন বলেছি আমার আকাঙ্ক্ষা আংশিকভাবে উত্তর পেয়েছে, এবং আমার মহান অসুবিধা কিছুটা শান্ত হয়েছে, আমাদের ভালো প্রভুর প্রেমময়, কৃপাময় প্রকাশের দ্বারা। যে প্রকাশে '''আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম ও বুঝেছিলাম যে প্রতিটি আত্মায় যা রক্ষা পাবে এমন একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে যা কখনোই পাপকে সমর্থন করেনি, বা কখনোই করবে না: যা ইচ্ছা এতটাই ভালো যে তা কখনোই মন্দ চাইতে পারে না, বরং সর্বদা ক্রমাগত ভালো চায়; এবং ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ভালো কাজ করে।'''
* কিন্তু এই ন্যায়পরায়ণ বুনন এবং এই অন্তহীন একীভূত হওয়া সত্ত্বেও, মানবজাতির মুক্তি ও পুনরায়-ক্রয় প্রতিটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত, যেমনটি একই উদ্দেশ্যে ও একই লক্ষ্যের জন্য করা হয়েছে যা পবিত্র চার্চ আমাদের বিশ্বাসে শেখায়।
* '''তিনি আমাদের তৈরি করার আগে তিনি আমাদের ভালোবাসতেন, এবং যখন আমরা তৈরি হয়েছিলাম আমরা তাঁকে ভালোবাসতাম।''' এবং এটি একটি প্রেম যা ''তৈরি'' হয়েছে, পবিত্র আত্মার সদয় সারমর্মীয় ''মঙ্গলময়তা''র; শক্তিশালী, যুক্তিতে, পিতার ''শক্তির''; এবং জ্ঞানী, মনে, পুত্রের ''প্রজ্ঞার''। এবং এইভাবে মানুষের আত্মা ঈশ্বর দ্বারা তৈরি এবং একই বিন্দুতে ঈশ্বরের সাথে বুনন করা হয়েছে। <br> '''এবং এইভাবে আমি বুঝি যে মানুষের আত্মা শূন্য থেকে তৈরি: অর্থাৎ, এটি তৈরি হয়েছে, কিন্তু তৈরি হওয়া কিছু থেকে নয়।''' এবং এইভাবে:—যখন ঈশ্বর মানুষের শরীর তৈরি করবেন, তখন তিনি পৃথিবীর কাদামাটি নিলেন, যা সমস্ত শারীরিক জিনিসের মিশ্রণ ও সংগ্রহ; এবং তা থেকে তিনি মানুষের শরীর তৈরি করলেন। কিন্তু মানুষের আত্মা তৈরির জন্য তিনি ঠিক কিছুই নিতে চাননি, বরং একে তৈরি করলেন। এবং এইভাবে প্রকৃতি-তৈরি ন্যায়পরায়ণভাবে নির্মাতার সাথে একীভূত, যা হলো সারমর্মীয় প্রকৃতি-অনির্মিত: অর্থাৎ, ঈশ্বর। এবং '''তাই এটিই যে ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যে ঠিক কিছুই নেই বা থাকবে না।''' <br> এবং এই অন্তহীন প্রেমে মানুষের আত্মা অখণ্ড রাখা হয়েছে, যেমন প্রকাশের বিষয়বস্তু নির্দেশ করে ও দেখায়: যে অন্তহীন প্রেমে আমরা ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত ও রক্ষিত এবং কখনোই হারিয়ে যাব না। '''কারণ তিনি চান আমরা সচেতন হই যে আমাদের আত্মা একটি জীবন, যা জীবন তাঁর মঙ্গলময়তা ও তাঁর কৃপায় স্বর্গে অন্তহীনভাবে স্থায়ী হবে, তাঁকে ভালোবেসে, তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে, তাঁর প্রশংসা করে। এবং ঠিক একই যা আমরা অন্তহীনভাবে হব, একই যা আমরা ঈশ্বরের মধ্যে সঞ্চিত ও লুকানো ছিলাম, সৃষ্টির আদি থেকে জানা ও ভালোবাসা।''' <br> তাই তিনি চান আমরা বুঝি যে তিনি তৈরি করা সবচেয়ে মহৎ জিনিস হলো মানবজাতি: এবং সবচেয়ে পূর্ণ [[সারমর্ম]] এবং সবচেয়ে উচ্চ [[গুণ]] হলো খ্রিস্টের আশীর্বাদপূর্ণ আত্মা। এবং অধিকন্তু তিনি চান আমরা বুঝি যে তাঁর প্রিয় আত্মা তৈরির সময়ে তাঁর সাথে মূল্যবানভাবে বুনন করা হয়েছিল যা গ্রন্থিটি এতটাই সূক্ষ্ম ও শক্তিশালী যে এটি—ঈশ্বরের মধ্যে একীভূত: যে একীভূতকরণে এটি অন্তহীনভাবে পবিত্র হয়েছে। অধিকন্তু তিনি চান আমরা জানি যে সমস্ত আত্মা যা স্বর্গে অন্তহীনভাবে রক্ষা পাবে, এই একীভূতকরণে বুনন ও একীভূত এবং এই পবিত্রতায় পবিত্র হয়েছে।
=== অধ্যায় ৫৪ ===
* ঈশ্বরের সমস্ত মানবজাতির প্রতি এই মহান, অন্তহীন প্রেমের কারণে, তিনি খ্রিস্টের আশীর্বাদপূর্ণ আত্মা এবং যে ক্ষুদ্রতম আত্মা রক্ষা পাবে তার মধ্যে প্রেমের কোনো বিচ্ছিন্নতা করেন না।
* '''আমাদের খুব বেশি আনন্দ করা উচিত যে ঈশ্বর আমাদের আত্মায় বাস করেন, এবং আমাদের আরও বেশি আনন্দ করা উচিত যে আমাদের আত্মা ঈশ্বরে বাস করে। আমাদের আত্মা ঈশ্বরের আবাসস্থল হিসেবে ''তৈরি'' হয়েছে; এবং আত্মার আবাসস্থল হলো ঈশ্বর, যিনি ''অনির্মিত''। এবং এটি একটি উচ্চ বোঝাপড়া, অভ্যন্তরীণভাবে দেখা ও জানা যে ঈশ্বর, যিনি আমাদের নির্মাতা, আমাদের আত্মায় বাস করেন; এবং এটি একটি উচ্চতর বোঝাপড়া, অভ্যন্তরীণভাবে দেখা ও জানা যে আমাদের আত্মা, যা তৈরি হয়েছে, ঈশ্বরের [[সারমর্মে]] বাস করে: যে সারমর্ম, ঈশ্বর, আমরা তাই যা আমরা। <br> এবং আমি ঈশ্বর ও আমাদের সারমর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখিনি: কিন্তু যেমন এটি পুরোপুরি ঈশ্বর; এবং তবুও আমার বোঝাপড়া নিয়েছিল যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে: অর্থাৎ, ঈশ্বর ঈশ্বর, এবং আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে একটি সৃষ্টি।'''
* ত্রিত্বের সর্বশক্তিমান সত্য আমাদের পিতা: কারণ তিনি আমাদের তৈরি করেছেন এবং তাঁর মধ্যে আমাদের রক্ষা করেছেন; এবং ত্রিত্বের গভীর প্রজ্ঞা আমাদের মাতা, যাঁর মধ্যে আমরা সবাই আবদ্ধ; ত্রিত্বের উচ্চ মঙ্গলময়তা আমাদের প্রভু, এবং তাঁর মধ্যে আমরা আবদ্ধ, এবং তিনি আমাদের মধ্যে। আমরা পিতার মধ্যে আবদ্ধ, এবং আমরা পুত্রের মধ্যে আবদ্ধ, এবং আমরা পবিত্র আত্মার মধ্যে আবদ্ধ। এবং পিতা আমাদের মধ্যে আবদ্ধ, এবং পুত্র আমাদের মধ্যে আবদ্ধ, এবং পবিত্র আত্মা আমাদের মধ্যে আবদ্ধ: সর্বশক্তিমানতা, সমস্ত-প্রজ্ঞা, সমস্ত-মঙ্গলময়তা: এক ঈশ্বর, এক প্রভু।
* '''আমাদের [[বিশ্বাস]] একটি [[গুণ]] যা আমাদের প্রকৃতি-সারমর্ম থেকে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমাদের অনুভূতি-আত্মায় আসে; যার মধ্যে আমাদের সমস্ত গুণ আমাদের কাছে আসে: কারণ তা ছাড়া, কোনো মানুষ গুণ গ্রহণ করতে পারে না। কারণ এটি আমাদের অস্তিত্বের একটি সঠিক বোঝাপড়া, সত্য বিশ্বাসের সাথে এবং নিশ্চিত আস্থার সাথে, ছাড়া আর কিছুই নয়: যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে আছি, এবং ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন, যাঁকে আমরা দেখি না।''' এবং এই গুণ, যা ঈশ্বর আমাদের জন্য তৈরি করেছেন তাতে আসার সাথে, আমাদের মধ্যে মহান জিনিস কাজ করে। কারণ খ্রিস্টের দয়াময় কাজ আমাদের মধ্যে আছে, এবং আমরা পবিত্র আত্মার উপহার ও গুণের মাধ্যমে তাঁর সাথে কৃপাময়ভাবে সম্মত হই। এই কাজ আমাদের খ্রিস্টের সন্তান করে তোলে, এবং জীবদ্দশায় খ্রিস্টান।
** পাঠান্তর: ''বিশ্বাস আমাদের অস্তিত্বের একটি সঠিক বোঝাপড়া, সত্য বিশ্বাস ও নিশ্চিত আস্থার সাথে, ছাড়া আর কিছুই নয়: যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে আছি, এবং ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন: যাঁকে আমরা দেখি না।''
=== অধ্যায় ৫৫ ===
* এইভাবে খ্রিস্ট আমাদের পথ, তাঁর আইনে আমাদের নিশ্চিতভাবে পরিচালিত করছেন, এবং খ্রিস্ট তাঁর দেহে আমাদের শক্তভাবে স্বর্গে বহন করেন।
* আমাদের বিশ্বাস আমাদের আত্মার প্রাকৃতিক প্রেম থেকে, এবং আমাদের যুক্তির পরিষ্কার আলো থেকে, এবং স্থির মন থেকে আসে যা আমরা আমাদের প্রথম সৃষ্টিতে ঈশ্বর থেকে পেয়েছি। এবং সেই সময়ে যখন আমাদের আত্মা আমাদের শরীরে অনুপ্রাণিত হয়, যার মধ্যে আমরা ইন্দ্রিয়পরায়ণ হই, খুব শীঘ্রই দয়া ও কৃপা কাজ শুরু করে, করুণা ও প্রেমের সাথে আমাদের যত্ন ও সুরক্ষা নিয়ে: যে কাজে পবিত্র আত্মা আমাদের বিশ্বাসে ''আশা'' গঠন করেন যে আমরা আবার আমাদের [[সারমর্মে]] উপরে আসব, খ্রিস্টের গুণে, পবিত্র আত্মার মাধ্যমে বর্ধিত ও পূর্ণ হয়ে। এইভাবে আমি বুঝেছিলাম যে অনুভূতি-আত্মা প্রকৃতি, দয়া ও কৃপায় ভিত্তিযুক্ত: যে ভিত্তি আমাদের এমন উপহার গ্রহণ করতে সক্ষম করে যা আমাদের অন্তহীন জীবনের দিকে নিয়ে যায়। <br> কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে, এবং আমি আরও দেখেছিলাম যে আমাদের অনুভূতি-আত্মায় ঈশ্বর আছেন: কারণ সেই একই বিন্দুতে যেখানে আমাদের আত্মা ইন্দ্রিয়পরায়ণ হয়, সেই একই বিন্দুতে ঈশ্বরের শহর সৃষ্টির আদি থেকেই তাঁর জন্য নির্ধারিত; যে আসনে তিনি আসেন, এবং কখনোই তা অপসারণ করবেন না। কারণ '''ঈশ্বর কখনোই আত্মার বাইরে নন: যার মধ্যে তিনি অন্তহীনভাবে পরমানন্দময়ভাবে বসবাস করেন।'''
=== অধ্যায় ৫৬ ===
[[File:Anna Sahlstén - Passage.jpg|thumb|আমরা ঈশ্বরের পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।]]
* এইভাবে আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে ঈশ্বরকে জানার দিকে আসা আমাদের জন্য নিজের আত্মাকে জানার চেয়ে বেশি সহজ। কারণ আমাদের আত্মা ঈশ্বরের মধ্যে এত গভীরভাবে ভিত্তিযুক্ত, এবং এত অন্তহীনভাবে সঞ্চিত, যে আমরা তার জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমাদের প্রথমে ঈশ্বরের জ্ঞান হয়, যিনি নির্মাতা, যার সাথে এটি একীভূত। কিন্তু, এই সব সত্ত্বেও, আমি দেখলাম যে আমাদের পূর্ণতার জন্য, বিজ্ঞতার সাথে ও সত্যভাবে আমাদের নিজের আত্মাকে জানার আকাঙ্ক্ষা করতে হবে: যার মাধ্যমে আমরা শিখি একে সেখানে খুঁজতে যেখানে এটি আছে, এবং তা হলো, ঈশ্বরের মধ্যে। এবং এইভাবে পবিত্র আত্মার কৃপাময় নির্দেশনায়, আমাদের উভয়কেই এক হিসেবে জানা উচিত: আমরা ঈশ্বরকে জানার জন্য বা আমাদের আত্মাকে জানার জন্য উৎসাহিত হই না কেন, উভয়ই ভালো ও সত্য।
* '''ঈশ্বর আমাদের নিজের আত্মার চেয়ে আমাদের কাছাকাছি: কারণ তিনিই ভিত্তি যার ওপর আমাদের আত্মা দাঁড়িয়ে আছে, এবং তিনিই মাধ্যম যা [[সারমর্ম]] ও ইন্দ্রিয়-প্রকৃতিকে একসাথে রাখে যাতে তারা কখনোই বিচ্ছিন্ন না হয়।''' কারণ আমাদের আত্মা প্রকৃত বিশ্রামে ঈশ্বরের মধ্যে বসে, এবং আমাদের আত্মা প্রকৃত শক্তিতে ঈশ্বরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, এবং আমাদের আত্মা অন্তহীন প্রেমে ঈশ্বরের মধ্যে সদয়ভাবে মূলিত: এবং তাই যদি আমরা আমাদের আত্মা সম্পর্কে জ্ঞান পেতে চাই, এবং তার সাথে যোগাযোগ ও কথোপকথন করতে চাই, তবে আমাদের আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে খুঁজতে হবে যার মধ্যে এটি আবদ্ধ।
* আমাদের সারমর্ম ও আমাদের ইন্দ্রিয়-অংশ, উভয়কেই একসাথে আমাদের আত্মা বলা যেতে পারে: এবং এটি ঈশ্বরের মধ্যে তাদের একীভূত হওয়ার কারণে।
* '''আমরা ঈশ্বরের পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।'''
** পাঠান্তর: ''আমরা ঈশ্বরকে পূর্ণভাবে জানতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।''
* ঈশ্বর চান যে আমরা বুঝি, আমাদের সমস্ত হৃদয়ের সাথে আকাঙ্ক্ষা করে তাদের সম্পর্কে জ্ঞান পেতে বেশি বেশি যতক্ষণ না আমরা পূর্ণ হই: কারণ তাদের পূর্ণভাবে জানা আর কিছুই নয় বরং অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দ যা আমরা স্বর্গে পাব, যা ঈশ্বর চান এখানে তাঁর প্রেমের জ্ঞানে শুরু হোক। <br> কারণ কেবল আমাদের যুক্তির দ্বারা আমরা লাভবান হতে পারি না, যদি না আমাদের সাথে একইভাবে মন ও প্রেম থাকে: বা আমাদের প্রকৃতি-ভিত্তিতে যা আমরা ঈশ্বর থেকে পেয়েছি আমরা রক্ষা পেতে পারি না যদি না আমাদের থাকে, একই ভিত্তি থেকে আসা, দয়া ও কৃপা। কারণ এই তিনটি একসাথে কাজ করে আমরা আমাদের সমস্ত মঙ্গলময়তা গ্রহণ করি।
=== অধ্যায় ৫৭ ===
* '''আমি দেখলাম যে আমাদের [[প্রকৃতি]] [[ঈশ্বরের]] মধ্যে [[অখণ্ড]]: যার মধ্যে তিনি তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর থেকে প্রবাহিত [[বৈচিত্র্য]] তৈরি করেন: যাকে প্রকৃতি রক্ষা করে, এবং [[দয়া]] ও [[কৃপা]] পুনরুদ্ধার করে ও পূর্ণ করে।''' এবং এগুলোর কোনোটিই ধ্বংস হবে না: কারণ আমাদের প্রকৃতি যা উচ্চতর অংশ তা তৈরির সময়ে ঈশ্বরের সাথে বুনন করা হয়েছে; এবং ঈশ্বর আমাদের প্রকৃতির সাথে বুনন করা হয়েছে যা নিম্নতর অংশ, আমাদের মাংস-গ্রহণে: এবং এইভাবে [[খ্রিস্টে]] আমাদের দুটি প্রকৃতি একীভূত হয়েছে।
** পাঠান্তর: ''খ্রিস্টে আমাদের দুটি প্রকৃতি একীভূত হয়েছে।''
* আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে ঈশ্বর যে সমস্ত কাজ করেছেন, বা করবেন, সেগুলো তাঁর কাছে পুরোপুরি জানা এবং সৃষ্টির আদি থেকেই আগে দেখা ছিল। এবং প্রেমের জন্য তিনি মানবজাতি তৈরি করেছিলেন, এবং একই প্রেমের জন্য মানুষ হতে চেয়েছিলেন।
*''' ''তিনি আমাদের [[আত্মায়]] বসেন।''''' <br> কারণ এটি তাঁর ভালো-আনন্দ আমাদের বোঝাপড়ায় পরমানন্দময়ভাবে শাসন করা, এবং আমাদের আত্মায় শান্তিতে বসা, এবং আমাদের আত্মায় অন্তহীনভাবে বসবাস করা, আমাদের সবাইকে তাঁর মধ্যে কাজ করানো: যে কাজে তিনি চান আমরা তাঁর সাহায্যকারী হই, আমাদের সমস্ত মনোযোগ তাঁকে দিয়ে, তাঁর শিক্ষা শিখে, তাঁর আইন মেনে, আকাঙ্ক্ষা করে যে সব করা হোক যা তিনি করেন; সত্যই তাঁর ওপর আস্থা রেখে। <br> কারণ সত্যই '''আমি দেখেছিলাম যে আমাদের [[সারমর্ম]] ঈশ্বরের মধ্যে আছে।'''
=== অধ্যায় ৫৮ ===
[[File:Kazimirowski Eugeniusz, Divine Mercy, 1934.jpg|thumb|আমাদের সমস্ত জীবন ''তিন''-এ আছে: প্রথমটিতে আমাদের অস্তিত্ব আছে, দ্বিতীয়টিতে আমাদের বৃদ্ধি আছে, এবং তৃতীয়টিতে আমাদের পূর্ণতা আছে: প্রথমটি প্রকৃতি, দ্বিতীয়টি [[দয়া]], এবং তৃতীয়টি [[কৃপা]]।]]
* '''আমাদের তৈরির সময়ে, [[ঈশ্বর]], সর্বশক্তিমান, আমাদের [[প্রকৃতি]]র [[পিতা]]; এবং ঈশ্বর, [[সর্ব]]-[[প্রজ্ঞা]], আমাদের প্রকৃতির [[মাতা]]; [[পবিত্র আত্মা]]র [[প্রেম]] ও [[মঙ্গলময়তা]]র সাথে: যা সবই এক ঈশ্বর, এক প্রভু। এবং বুনন ও একীভূতকরণে তিনি আমাদের প্রকৃত, সত্য জীবনসঙ্গী, এবং আমরা তাঁর প্রিয় স্ত্রী, তাঁর সুন্দর কুমারী: যে স্ত্রীর সাথে তিনি কখনোই অসন্তুষ্ট হন না। কারণ তিনি বলেন: আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং তুমি আমাকে ভালোবাসো, এবং আমাদের প্রেম কখনোই দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হবে না।'''
* আমি সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ ত্রিত্বের কাজ পর্যবেক্ষণ করলাম: যে পর্যবেক্ষণে আমি এই তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখলাম ও বুঝলাম: পিতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, এবং প্রভুত্বের বৈশিষ্ট্য, এক ঈশ্বরের মধ্যে।
* '''তিনি আমাদের মাতা, ভাই, এবং ত্রাণকর্তা।''' এবং আমাদের ভালো প্রভু, পবিত্র আত্মার মধ্যে, আমরা আমাদের জীবন ও আমাদের পরিশ্রমের জন্য আমাদের পুরস্কার ও আমাদের প্রতিদান পাই, এবং আমাদের সমস্ত আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন অতিক্রম, তাঁর বিস্ময়কর সৌজন্যে, তাঁর উচ্চ প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায়।
* '''সমস্ত জীবন ''তিন''-এ আছে: প্রথমটিতে আমাদের অস্তিত্ব আছে, দ্বিতীয়টিতে আমাদের বৃদ্ধি আছে, এবং তৃতীয়টিতে আমাদের পূর্ণতা আছে: প্রথমটি হলো প্রকৃতি, দ্বিতীয়টি হলো [[দয়া]], এবং তৃতীয়টি হলো [[কৃপা]]।'''
* ত্রিত্বের উচ্চ শক্তি আমাদের পিতা, এবং ত্রিত্বের গভীর প্রজ্ঞা আমাদের মাতা, এবং ত্রিত্বের মহান প্রেম আমাদের প্রভু: এবং এই সবই আমরা প্রকৃতিতে এবং আমাদের সারমর্মের তৈরিতে পেয়েছি।
* আমাদের মাতা আমাদের সাথে বিভিন্নভাবে কাজ করছেন: যার মধ্যে আমাদের অংশগুলো অখণ্ড রাখা হয়েছে। কারণ আমাদের মাতা খ্রিস্টে আমরা লাভবান হই ও বৃদ্ধি পাই, এবং দয়ায় তিনি আমাদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার করেন, এবং, তাঁর প্যাশন ও মৃত্যু ও উত্থানের গুণের দ্বারা, আমাদের আমাদের সারমর্মের সাথে একীভূত করেন। এইভাবে আমাদের মাতা দয়া করে তাঁর সমস্ত সন্তানের জন্য কাজ করেন যারা তাঁর প্রতি নমনীয় ও বাধ্য।
* কৃপা দয়ার সাথে কাজ করে, এবং বিশেষ করে দুটি বৈশিষ্ট্যে, যেমনটি দেখানো হয়েছিল: যা কাজ তৃতীয় ব্যক্তির, পবিত্র আত্মার অন্তর্গত। তিনি ''পুরস্কৃত'' করা এবং ''দান'' করার কাজ করেন।
* পুরস্কার দেওয়া হলো সত্যের একটি বিশাল দান যা প্রভু তাকে করেন যে পরিশ্রম করেছে; এবং দান করা হলো একটি সৌজন্যপূর্ণ কাজ যা তিনি কৃপা থেকে মুক্তভাবে করেন, সৃষ্টির প্রাপ্য সমস্ত কিছু পূর্ণ ও অতিক্রম করে।
* আমাদের পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের মধ্যে, আমাদের অস্তিত্ব আছে; এবং দয়ার মাতার মধ্যে আমাদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার আছে: যার মধ্যে আমাদের অংশগুলো একীভূত এবং সব তৈরি হয়েছে নিখুঁত মানুষ; এবং পবিত্র আত্মার কৃপায় নমনীয়তা ও দানের দ্বারা, আমরা পূর্ণ হই।
* '''আমাদের [[সারমর্ম]] আমাদের পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, এবং আমাদের সারমর্ম আমাদের মাতা, ঈশ্বর, সর্ব-প্রজ্ঞা; এবং আমাদের সারমর্ম আমাদের প্রভু পবিত্র আত্মা, ঈশ্বর সর্ব-মঙ্গলময়তার মধ্যে আছে।''' কারণ আমাদের সারমর্ম ত্রিত্বের প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে অখণ্ড, যা হলো এক ঈশ্বর। এবং আমাদের অনুভূতি-আত্মা কেবল দ্বিতীয় ব্যক্তি খ্রিস্ট যিশুতে; যাঁর মধ্যে পিতা ও পবিত্র আত্মা আছেন: এবং তাঁর মধ্যে ও তাঁর দ্বারা আমরা শক্তিশালীভাবে নরক থেকে নেওয়া হই, এবং পৃথিবীতে থাকা দুর্দশা থেকে পূজনীয়ভাবে স্বর্গে উপরে আনা হই এবং পরমানন্দময়ভাবে আমাদের সারমর্মের সাথে একীভূত হই: খ্রিস্টের সমস্ত গুণ দ্বারা, এবং পবিত্র আত্মার কৃপা ও কাজের দ্বারা সমৃদ্ধি ও মহৎতায় বৃদ্ধি পাই।
=== অধ্যায় ৫৯ ===
* '''খ্রিস্ট যিনি মন্দের বিপরীতে ভালো করেন তিনি আমাদের প্রকৃত মাতা: তাঁর থেকে আমরা আমাদের অস্তিত্ব পাই যেখানে মাতৃত্বের ভিত্তি শুরু হয়,—প্রেমের সাথে মিষ্টি সুরক্ষার সাথে, যা অন্তহীনভাবে অনুসরণ করে।'''
* এই সমস্ত পরমানন্দ আমরা দয়া ও কৃপার দ্বারা পাই: যে ধরনের পরমানন্দ আমরা কখনোই পেতাম না বা জানতাম না যদি না মঙ্গলময়তার সেই বৈশিষ্ট্য যা ঈশ্বর তা বিপরীত হতো: যার দ্বারা আমরা এই পরমানন্দ পাই। কারণ মঙ্গলময়তার বিপরীত হিসেবে মন্দকে উঠতে দেওয়া হয়েছে, এবং দয়া ও কৃপার মঙ্গলময়তা মন্দের বিপরীতে কাজ করেছে এবং সবকিছুকে মঙ্গলময়তায় ও পূজায় পরিণত করেছে, তাদের সবার জন্য যারা রক্ষা পাবে। কারণ এটি ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য যা মন্দের বিপরীতে ভালো কাজ করে। এইভাবে যিশু খ্রিস্ট যিনি মন্দের বিপরীতে ভালো করেন তিনি আমাদের প্রকৃত মাতা: তাঁর থেকে আমরা আমাদের অস্তিত্ব পাই,—যেখানে মাতৃত্বের ভিত্তি শুরু হয়,—প্রেমের মিষ্টি সুরক্ষার সাথে যা অন্তহীনভাবে অনুসরণ করে।
* '''ঈশ্বর যেমন সত্যই আমাদের পিতা, তেমনই সত্যই ঈশ্বর আমাদের মাতা; এবং তা তিনি সবকিছুর মধ্যে দেখিয়েছিলেন, এবং বিশেষ করে এই মিষ্টি শব্দগুলোতে যেখানে তিনি বলেন: ''আমিই''। তা হলো, ''আমিই, পিতৃত্বের শক্তি ও মঙ্গলময়তা; আমিই, মাতৃত্বের প্রজ্ঞা; আমিই, আলো ও কৃপা যা সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম: আমিই, ত্রিত্ব, আমিই, ঐক্য: আমি সব ধরনের জিনিসের সার্বভৌম মঙ্গলময়তা। আমিই সেই যা তোমাকে ভালোবাসতে বাধ্য করে: আমিই সেই যা তোমাকে আকাঙ্ক্ষা করতে বাধ্য করে: আমিই, সমস্ত সত্য আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন পূর্ণতা।'' <br> কারণ সেখানে আত্মা সবচেয়ে উচ্চ, সবচেয়ে মহৎ, এবং সবচেয়ে যোগ্য, যেখানে এটি সবচেয়ে নিচু, সবচেয়ে নম্র, এবং সবচেয়ে মৃদু: এবং এই ''সারমর্মীয় ভিত্তি'' থেকে আমরা আমাদের অনুভূতি-অংশে প্রকৃতির উপহার, দয়া ও কৃপার সাহায্য ও গতি দ্বারা আমাদের সমস্ত গুণ পাই: যা ছাড়া আমরা লাভবান হতে পারি না।'''
* আমাদের উচ্চ পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, যিনি অস্তিত্ব, তিনি কোনো সময়ের আগেই আমাদের জানতেন ও ভালোবাসতেন: যে জ্ঞান থেকে, তাঁর বিস্ময়কর গভীর দাতব্যে এবং সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ ত্রিত্বের আগে দেখা পরামর্শে, তিনি ইচ্ছা করেছিলেন যে দ্বিতীয় ব্যক্তি আমাদের মাতা হবেন। আমাদের পিতা, আমাদের মাতা কাজ করেন, আমাদের ভালো প্রভু পবিত্র আত্মা নিশ্চিত করেন: এবং তাই আমাদের ঈশ্বরকে ভালোবাসা আমাদের জন্য যথার্থ যাঁর মধ্যে আমাদের অস্তিত্ব আছে: তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ধন্যবাদ জানিয়ে ও প্রশংসা করে আমাদের তৈরির জন্য, আমাদের মাতার কাছে দয়া ও সহানুভূতির জন্য শক্তিশালীভাবে প্রার্থনা করে, এবং আমাদের প্রভু পবিত্র আত্মার কাছে সাহায্য ও কৃপার জন্য। <br> কারণ এই তিনটির মধ্যে আমাদের সমস্ত জীবন: প্রকৃতি, দয়া, কৃপা: যার থেকে আমরা নম্রতা ও মৃদুতা পাই; ধৈর্য ও সহানুভূতি; এবং পাপ ও মন্দের ঘৃণা,—কারণ পাপ ও মন্দের ঘৃণা করা গুণের জন্য যথাযথভাবে অন্তর্গত। এবং এইভাবে যিশু আমাদের প্রথম তৈরির প্রকৃতিতে আমাদের প্রকৃত মাতা; এবং তিনি কৃপায় আমাদের প্রকৃত মাতা, আমাদের তৈরি প্রকৃতি গ্রহণ করে। সমস্ত সুন্দর কাজ, এবং প্রিয় মাতৃত্বের সমস্ত মিষ্টি প্রাকৃতিক অফিস দ্বিতীয় ব্যক্তির সাথে মিশে আছে: কারণ তাঁর মধ্যে আমরা এই ঐশ্বরিক ইচ্ছা অখণ্ড ও নিরাপদে অন্তহীনভাবে পাই, প্রকৃতি ও কৃপা উভয়টিতেই, তাঁর নিজস্ব প্রকৃত মঙ্গলময়তা থেকে।
* '''আমি ঈশ্বরের মধ্যে মাতৃত্ব পর্যবেক্ষণের তিনটি প্রকার বুঝেছিলাম: প্রথমটি আমাদের প্রকৃতির ''তৈরির'' উপর ভিত্তি করে; দ্বিতীয়টি হলো আমাদের প্রকৃতির ''গ্রহণ''—এবং সেখানে কৃপার মাতৃত্ব শুরু হয়; তৃতীয়টি হলো ''কাজের'' মাতৃত্ব—এবং এর মধ্যে একই কৃপার দ্বারা অন্তহীনভাবে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ও উচ্চতা ও গভীরতায় একটি বিস্তার আছে। এবং সবই এক প্রেম।'''
=== অধ্যায় ৬০ ===
* এখন এই বিস্তার সম্পর্কে আরও একটু বলা প্রয়োজন, যেমনটি আমি আমাদের প্রভুর অর্থে বুঝি: কীভাবে আমরা দয়া ও কৃপার মাতৃত্বের দ্বারা আমাদের প্রকৃতির স্থানে ফিরে আসি, যেখানে আমরা প্রকৃতি-প্রেমের মাতৃত্বের দ্বারা তৈরি হয়েছিলাম: যে সদয়-প্রেম, তা কখনোই আমাদের ত্যাগ করে না। <br> আমাদের সদয় মাতা, আমাদের কৃপাময় মাতা, কারণ তিনি সবকিছুতেই আমাদের মাতা হতে চেয়েছিলেন, তিনি কুমারীর গর্ভে খুব নিচুভাবে ও খুব মৃদুভাবে তাঁর কাজের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
* আমাদের উচ্চ ঈশ্বর সকলের সার্বভৌম প্রজ্ঞা: এই নিচু স্থানে তিনি আমাদের দরিদ্র মাংসে নিজেকে খুব প্রস্তুত ও সজ্জিত করেছিলেন, নিজেই মাতৃত্বের সেবা ও অফিস সব কিছুতে পূরণ করতে।
* '''এই সুন্দর মিষ্টি শব্দ ''মাতা'', তা প্রকৃতির মধ্যে নিজেই এতটাই মিষ্টি ও ঘনিষ্ঠ যে এটি সত্যই ''তাঁর'' ছাড়া আর কারো দ্বারা বলা সম্ভব নয়; এবং তাঁর কাছে যিনি সত্যই তাঁর এবং সবার মাতা।''' মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত হলো প্রাকৃতিক প্রেম, প্রজ্ঞা, ও জ্ঞান; এবং এটি ভালো: কারণ যদিও এটি এমন যে আমাদের শারীরিক জন্মদান আমাদের আধ্যাত্মিক জন্মদানের তুলনায় খুব ছোট, নিচু, ও সাধারণ, তবুও তিনিই তা করেন যে সৃষ্টির মধ্যে যার দ্বারা তা করা হয়। সদয়, ভালোবাসার মাতা যিনি তাঁর শিশুর প্রয়োজন বোঝেন ও জানেন, তিনি একে খুব কোমলভাবে রক্ষা করেন, যেমন মাতৃত্বের প্রকৃতি ও অবস্থা চায়। এবং যখন এটি বয়সে বৃদ্ধি পায়, তিনি তার কাজ পরিবর্তন করেন, কিন্তু তার প্রেম নয়। এবং যখন এটি আরও বয়সে বৃদ্ধি পায়, তিনি সহ্য করেন যে একে vices বা দোষ ভাঙার জন্য মারপিট করা হোক, শিশুকে গুণ ও কৃপা গ্রহণ করতে বাধ্য করতে। '''এই কাজ, সমস্ত সুন্দর ও ভালোর সাথে, আমাদের প্রভু তাদের মধ্যে করেন যার দ্বারা তা করা হয়: এইভাবে তিনি কৃপার কাজের দ্বারা নিম্ন অংশে উচ্চতর অংশের প্রেমের জন্য প্রকৃতিতে আমাদের মাতা। এবং তিনি চান যেন আমরা এটি জানি: কারণ তিনি চান আমাদের সমস্ত প্রেম তাঁর সাথে আবদ্ধ হোক। এবং এতে আমি দেখলাম যে আমাদের সমস্ত কর্তব্য যা আমরা পিতার মাতৃত্ব ও মাতৃত্বের প্রতি ঈশ্বরের আদেশের দ্বারা ঋণী, কারণ ঈশ্বরের পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব ঈশ্বরের প্রতি সত্য ভালোবাসায় পূর্ণ হয়; যা আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম খ্রিস্ট আমাদের মধ্যে কাজ করেন।''' এবং এটি সবকিছুর মধ্যে এবং বিশেষ করে উচ্চ প্রাচুর্যপূর্ণ শব্দগুলোতে দেখানো হয়েছিল যেখানে তিনি বলেন: ''আমিই যাকে তুমি ভালোবাসো।''
=== অধ্যায় ৬১ ===
* আমাদের আধ্যাত্মিক জন্মদানে তিনি সুরক্ষা ও কোমলতা বেশি ব্যবহার করেন, কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই: যতটা আমাদের আত্মা তাঁর দৃষ্টিতে বেশি মূল্যবান। তিনি আমাদের বোঝাপড়া প্রজ্বলিত করেন, তিনি আমাদের পথ নির্দেশ করেন, তিনি আমাদের বিবেক শান্ত করেন, তিনি আমাদের আত্মাকে সান্ত্বনা দেন, তিনি আমাদের হৃদয় আলোকিত করেন, এবং আমাদের দেন, আংশিকভাবে, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ [[দেবত্বের]] জ্ঞান ও বিশ্বাস, তাঁর মিষ্টি মানবতা ও তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্যাশনের প্রতি কৃপাময় মন নিয়ে, তাঁর উচ্চ, অতিক্রমকারী মঙ্গলময়তায় শ্রদ্ধাশীল বিস্ময়ের সাথে; এবং আমাদের ভালোবাসতে বাধ্য করেন যা তিনি ভালোবাসেন, তাঁর প্রেমের জন্য, এবং তাঁর ও তাঁর সমস্ত কাজের সাথে সন্তুষ্ট হতে। এবং যখন আমরা পতিত হই, দ্রুত তিনি আমাদের তাঁর সুন্দর ডাক ও কৃপাময় স্পর্শের দ্বারা উত্থাপন করেন। এবং যখন আমরা তাঁর মিষ্টি কাজের দ্বারা শক্তিশালী হই, তখন আমরা আমাদের সমস্ত ইচ্ছার সাথে তাঁকে বেছে নিই, তাঁর মিষ্টি কৃপার দ্বারা, তাঁর ভৃত্য ও তাঁর প্রেমিক হতে স্থায়ীভাবে অন্তহীনভাবে।
* যদি আমরা কখনোই পতিত না হতাম, তবে আমরা জানতাম না আমরা নিজের থেকে কতটা দুর্বল ও কতটা দুঃখী, এবং এছাড়াও আমরা আমাদের নির্মাতার সেই বিস্ময়কর প্রেম পুরোপুরি জানতাম না। কারণ আমরা স্বর্গে সত্যই দেখতে পাব, অন্তহীনভাবে, যে আমরা এই জীবনে গুরুতরভাবে পাপ করেছি, এবং এটি সত্ত্বেও, আমরা দেখতে পাব যে আমরা তাঁর প্রেমে কখনোই আঘাতপ্রাপ্ত হইনি, তাঁর দৃষ্টিতে আমরা কখনোই কম মূল্যবান ছিলাম না। এবং এই পতনের পরীক্ষার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের প্রেমের একটি উচ্চ, বিস্ময়কর জ্ঞান পাব, অন্তহীনভাবে। কারণ শক্তিশালী ও বিস্ময়কর হলো সেই প্রেম যা ভাঙতে পারে না, বা ভাঙবে না, অপরাধের জন্য।
* '''মাতা কখনো কখনো শিশুকে পতিত হতে দিতে পারেন, এবং নিজের লাভের জন্য বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারেন, কিন্তু তিনি কখনোই সহ্য করতে পারেন না যে প্রেমের জন্য শিশুর কোনো ধরনের বিপদ আসুক।''' এবং যদিও আমাদের পার্থিব মাতা তাঁর শিশুকে ধ্বংস হতে দিতে পারেন, আমাদের স্বর্গীয় মাতা, যিশু, আমাদের সহ্য করতে পারেন না যাঁরা তাঁর সন্তানরা ধ্বংস হোক: কারণ তিনি সর্ব-শক্তিমান, সর্ব-প্রজ্ঞা, এবং সর্ব-প্রেম; এবং তাই তিনি ছাড়া আর কেউ নন,—তিনি আশীর্বাদপূর্ণ হোন!
* প্রায়শই যখন আমাদের পতন ও আমাদের দুর্দশা আমাদের দেখানো হয়, আমরা খুব দুঃখিত হই, এবং নিজেদের নিয়ে খুব বেশি লজ্জিত হই, যে খুব কমই আমরা খুঁজে পাই কোথায় আমরা নিজেদের ধরতে পারি। কিন্তু তখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ মাতা চান না যে আমরা দূরে পালিয়ে যাই, কারণ তাঁর কাছে এর চেয়ে ঘৃণা করার মতো আর কিছুই ছিল না।
* একজন একক ব্যক্তি প্রায়শই ভেঙে যেতে পারেন, যেমনটি তার নিজের মনে হয়, কিন্তু পবিত্র চার্চের পুরো শরীর কখনোই ভেঙে যায়নি, বা কখনোই হবে না, অন্তহীনভাবে।
* তিনি এই সমস্ত কাজের মধ্যে একজন সদয় সেবিকার অফিস ব্যবহার করেন যার নিজের কাজ ছাড়া আর কিছুই নেই কিন্তু তার সন্তানের পরিত্রাণের দিকে মনোযোগ দেওয়া।
* তিনি চান যে আমরা তাঁকে মিষ্টিভাবে ভালোবাসি এবং তাঁর ওপর নম্রভাবে ও শক্তিশালীভাবে আস্থা রাখি। এবং এটি তিনি এই কৃপাময় শব্দগুলোতে দেখিয়েছিলেন: ''আমি তোমাকে খুব নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।''
=== অধ্যায় ৬২ ===
* কারণ সেই সময়ে তিনি আমাদের দুর্বলতা এবং আমাদের পতন, আমাদের কষ্ট এবং আমাদের তুচ্ছতা, আমাদের অবজ্ঞা এবং আমাদের বর্জন, এবং আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা ততদূর দেখিয়েছিলেন যতটা আমার মনে হয়েছিল এই জীবনে ঘটতে পারে। এবং তার সাথে তিনি তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ শক্তি, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্রজ্ঞা, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম দেখিয়েছিলেন: যে তিনি আমাদের এই সময়ে তাঁর পূজার জন্য ততটা কোমলভাবে ও মিষ্টিভাবে রক্ষা করেন, এবং আমাদের পরিত্রাণের জন্য ততটা নিশ্চিতভাবে, যতটা তিনি করেন যখন আমরা সবচেয়ে বেশি সান্ত্বনা ও আরামে থাকি।
* '''ঈশ্বর তাঁর অস্তিত্বে প্রকৃতি: অর্থাৎ, সেই মঙ্গলময়তা যা প্রকৃতি, তা হলো ঈশ্বর। তিনি ভিত্তি, তিনি [[সারমর্ম]], তিনি একই জিনিস যা প্রকৃতি-ত্ব। এবং তিনি প্রকৃতির প্রকৃত পিতা ও প্রকৃত মাতা: এবং সমস্ত প্রকৃতি যা তিনি তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর থেকে প্রবাহিত হতে তৈরি করেছেন তা উদ্ধার হবে এবং মানুষের পরিত্রাণের দ্বারা কৃপার কাজের মাধ্যমে তাঁর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।'''
* সমস্ত প্রকৃতির মধ্যে যা তিনি বিভিন্ন সৃষ্টিতে অংশে স্থাপন করেছেন, মানুষের মধ্যে সবকিছু অখণ্ড; পূর্ণতা ও গুণে, সৌন্দর্যে ও মঙ্গলময়তায়, রাজকীয়তায় ও মহৎতায়, সমস্ত ধরনের মহিমা, মূল্যবানতা ও পূজায়। এখানে আমরা দেখতে পারি যে আমরা প্রকৃতির জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী, এবং আমরা কৃপার জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী।
=== অধ্যায় ৬৩ ===
* '''এখানে আমরা দেখতে পারি যে পাপ ঘৃণা করার জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি থেকে পাই, এবং পাপ ঘৃণা করার জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে কৃপা থেকে পাই। কারণ প্রকৃতি নিজেই সব ভালো ও সুন্দর, এবং কৃপা প্রকৃতিকে রক্ষা করতে ও পাপ ধ্বংস করতে পাঠানো হয়েছিল, এবং সুন্দর প্রকৃতিকে সেই আশীর্বাদপূর্ণ বিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে যেখান থেকে এটি এসেছিল: যা ঈশ্বর; কৃপার গুণের কাজের দ্বারা আরও মহৎতা ও পূজার সাথে। কারণ এটি ঈশ্বরের সামনে তাঁর সমস্ত পবিত্রদের দ্বারা স্বর্গে অন্তহীন আনন্দে দেখা যাবে যে প্রকৃতি যন্ত্রণার আগুনে পরীক্ষিত হয়েছে এবং সেখানে কোনো ত্রুটি, কোনো দোষ পাওয়া যায়নি। এইভাবে প্রকৃতি ও কৃপা একমত: কারণ কৃপা ঈশ্বর, যেমন প্রকৃতি ঈশ্বর: তিনি কাজ করার পদ্ধতিতে দুটি এবং প্রেমে এক; এবং এগুলোর কোনোটিই অন্যটি ছাড়া কাজ করে না: সেগুলো বিচ্ছিন্ন নয়।'''
* যখন আমরা ঈশ্বরের দয়া দ্বারা এবং তাঁর সাহায্যে আমাদের প্রকৃতির সাথে ও কৃপার সাথে সম্মত হই, তখন আমরা সত্যই দেখতে পাব যে পাপ প্রকৃতপক্ষে নরকের চেয়ে বেশি কুৎসিত ও যন্ত্রণাদায়ক, কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই: কারণ এটি আমাদের সুন্দর প্রকৃতির বিপরীত। কারণ যেমন পাপ সত্যই অপবিত্র, তেমন সত্যই এটি অস্বাভাবিক, এবং তাই এটি দেখতে একটি ভয়ানক জিনিস সেই প্রিয় আত্মার জন্য যে ঈশ্বরের দৃষ্টিতে পুরোপুরি সুন্দর ও উজ্জ্বল হতে চায়, যেমন প্রকৃতি ও কৃপা শেখায়।
* আমাদের আত্মার দৃষ্টিতে আমাদের স্বর্গীয় মাতা সুন্দর ও মিষ্টি; আমাদের স্বর্গীয় মাতার দৃষ্টিতে কৃপাময় শিশুরা মূল্যবান ও প্রেমময়, মৃদুতা ও নম্রতা নিয়ে, এবং সমস্ত সুন্দর গুণ নিয়ে যা প্রকৃতিতে শিশুদের অন্তর্গত। কারণ স্বভাবত শিশু মাতার প্রেম থেকে হতাশ হয় না, স্বভাবত শিশু নিজেকে অনুমান করে না, স্বভাবত শিশু মাতাকে এবং একে অপরকে ভালোবাসে। এগুলো হলো সুন্দর গুণ, অন্য সবকিছুর সাথে যা একই রকম, যা দ্বারা আমাদের স্বর্গীয় মাতা সেবা ও সন্তুষ্ট হন।
* আমি এই জীবনে শৈশবের চেয়ে উচ্চতর কোনো উচ্চতা বুঝিনি, দুর্বলতায় এবং শক্তি ও বুদ্ধির ব্যর্থতায়, যতক্ষণ না আমাদের কৃপাময় মাতা আমাদের পিতার পরমানন্দে আমাদের উপরে নিয়ে এসেছেন। এবং তখন তাঁর অর্থ আমাদের কাছে সত্যই জানা যাবে সেই মিষ্টি শব্দগুলোতে যেখানে তিনি বলেন: ''সবকিছু ভালো হবে: এবং তুমি নিজেই দেখবে, যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' এবং তখন আমাদের মাতার পরমানন্দ, খ্রিস্টে, নতুন করে শুরু হবে আমাদের ঈশ্বরের আনন্দে: যে নতুন শুরু অন্তহীনভাবে চলবে, নতুন শুরু। <br> '''এইভাবে আমি বুঝেছিলাম যে তাঁর সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ সন্তানরা যারা প্রকৃতি থেকে তাঁর থেকে এসেছে তারা কৃপার দ্বারা তাঁর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।'''
== পঞ্চদশ প্রকাশ ==
=== অধ্যায় ৬৩ ===
* এই সময়ের আগে ঈশ্বরের উপহার পাওয়ার জন্য আমার মনে এই জগত এবং জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা ছিল। কারণ আমি প্রায়শই এখানকার দুঃখ এবং সেখানে যে আনন্দ ও সুখ রয়েছে তার তুলনা করতাম। যদি আমাদের প্রভুর অনুপস্থিতি ছাড়া এই জীবনে অন্য কোনো ব্যথা না-ও থাকত, তবে আমার মনে হতো তা মাঝে মাঝে সহ্য করার ক্ষমতার বাইরে ছিল। এটি আমাকে শোকাতুর এবং অধীর করে তুলেছিল। এছাড়াও আমার নিজের দীনতা, জড়তা এবং দুর্বলতার কারণে আমি বাঁচতে বা পরিশ্রম করতে আগ্রহী ছিলাম না, যা আমার কাজ ছিল। <br> আমাদের দয়ালু প্রভু সান্ত্বনা ও ধৈর্যের সাথে এই সমস্ত কিছুর উত্তর দিয়েছিলেন এবং এই কথাগুলো বলেছিলেন: ''তুমি হঠাৎ তোমার সমস্ত ব্যথা, অসুস্থতা, যন্ত্রণা এবং দুঃখ থেকে মুক্তি পাবে। তুমি ওপরে আমার কাছে আসবে এবং আমিই হবে তোমার পুরস্কার। তুমি ভালোবাসা ও আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠবে। তোমার আর কোনো ব্যথা, অসন্তোষ বা ইচ্ছার অপূর্ণতা থাকবে না বরং থাকবে অন্তহীন আনন্দ ও সুখ। আমার ইচ্ছা ও আরাধনা অনুযায়ী যদি তোমাকে কিছুকাল কষ্ট সহ্য করতে হয়, তবে তাতে তোমার দুঃখ কী?''
* এই কথাটির মাধ্যমে: ''হঠাৎ তুমি মুক্ত হবে'' আমি দেখেছি যে ঈশ্বর মানুষের ধৈর্যকে পুরস্কৃত করেন, যা সে তাঁর ইচ্ছাকে মেনে চলার জন্য প্রদর্শন করে। মানুষের জীবনের সময়ের চেয়েও সে তার ধৈর্যকে দীর্ঘায়িত করে। তার প্রস্থানের সময়টি সে জানে না, যা তার জন্য বড় প্রাপ্তি: কারণ একজন মানুষ যদি তার সময় জানত, তবে সে ধৈর্য ধরতে পারত না। ঈশ্বরের ইচ্ছায়, আত্মা যখন শরীরে থাকে, তখন তার মনে হয় সে যেকোনো মুহূর্তেই বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কারণ আমাদের এই জীবন এবং যন্ত্রণা কেবল একটি বিন্দু মাত্র। যখন আমরা হঠাৎ ব্যথা থেকে আনন্দে উন্নীত হই, তখন ব্যথার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।
* সেই সময়ে আমি মাটিতে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি, যা ভারী এবং বীভৎস দেখাচ্ছিল। কোনো আকার বা আকৃতিহীন, যেন দুর্গন্ধযুক্ত কাদার একটি ফোলা স্তূপ। হঠাৎ সেই দেহ থেকে একটি অতি সুন্দর প্রাণী, একটি ছোট শিশু বেরিয়ে এল। সুগঠিত, চটপটে, প্রাণবন্ত এবং লিলির চেয়েও সাদা। যা দ্রুত স্বর্গের দিকে ভেসে গেল। দেহের সেই ফোলা ভাব আমাদের নশ্বর মাংসের চরম দীনতা বোঝায়, আর শিশুটির ক্ষুদ্রতা আত্মার পবিত্রতা প্রকাশ করে। আমার মনে হলো: ''এই দেহের সাথে শিশুটির কোনো সৌন্দর্যের মিল নেই, আবার শিশুটির ওপর দেহের কোনো কলঙ্কও নেই।''
* '''মানুষের থেকে ব্যথা দূর হওয়ার চেয়ে ব্যথা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া অনেক বেশি আনন্দদায়ক। কারণ ব্যথা যদি আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তা আবার ফিরে আসতে পারে। তাই প্রেমময় আত্মার জন্য এটি এক পরম সান্ত্বনা ও আনন্দের বিষয় যে আমাদের ব্যথা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।''' কারণ এই আদেশে আমি এক বিস্ময়কর করুণা দেখেছি যা আমাদের দুঃখের জন্য প্রভু অনুভব করেন এবং পরিত্রাণের এক দয়ালু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি চান আমরা এই উত্তরণের মাধ্যমে সান্ত্বনা পাই; আর তা তিনি এই কথায় প্রকাশ করেছেন: ''এবং তুমি ওপরে আসবে, আমিই হবে তোমার পুরস্কার এবং তুমি আনন্দ ও সুখে পূর্ণ হয়ে উঠবে।''
* ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা যেন আমাদের চিন্তাকে যতটা সম্ভব এই আনন্দময় দর্শনের মধ্যে নিবদ্ধ রাখি এবং তাঁর কৃপায় যত দীর্ঘ সময় পারি এর মধ্যে থাকি। কারণ ঈশ্বরের দ্বারা পরিচালিত আত্মার জন্য এটি এক আশীর্বাদপুষ্ট ধ্যান এবং যতদিন এটি স্থায়ী হয়, তা তাঁর আরাধনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
* ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা যেন তাঁর আদেশ ও সান্ত্বনাকে যতটা সম্ভব বড় করে ও শক্তিমত্তার সাথে গ্রহণ করি। তিনি এও চান যেন আমরা আমাদের ধৈর্য ও কষ্টকে যতটা সম্ভব হালকাভাবে নিই এবং সেগুলোকে তুচ্ছ করি। কারণ প্রেমের কারণে আমরা সেগুলোকে যত হালকাভাবে নেব এবং সেগুলোকে যত কম গুরুত্ব দেব, সেগুলো অনুভব করার সময় আমাদের ব্যথা তত কম হবে এবং তার জন্য আমরা তত বেশি কৃতজ্ঞতা ও প্রতিদান পাব।
=== অধ্যায় ৬৫ ===
* '''এভাবে আমি বুঝতে পারলাম যে, যে নারী বা পুরুষ এই জীবনে দৃঢ় ইচ্ছার সাথে ভালোবাসার খাতিরে ঈশ্বরকে বেছে নেয়, সে নিশ্চিত থাকতে পারে যে সে চিরকাল ভালোবাসার পাত্র হয়ে থাকবে। এই অন্তহীন ভালোবাসা তার মধ্যে সেই কৃপা কাজ করায়। কারণ তিনি চান যেন আমরা পৃথিবীতে থাকাকালীন স্বর্গের আনন্দের প্রত্যাশায় ততটাই নিশ্চিত থাকি, যতটা নিশ্চিত আমরা সেখানে গিয়ে হব।''' আর আমরা যদি পবিত্রতা ও নম্রতার সাথে এই নিশ্চিতবোধে আনন্দ ও তৃপ্তি পাই, তবে তিনি ততই সন্তুষ্ট হন। আমি যে পবিত্রতার কথা বলছি তা হলো আমাদের প্রভুর প্রতি এক পবিত্র ও দয়ালু ভয়, যার সাথে নম্রতা যুক্ত থাকে। এর মানে হলো, সৃষ্টি তার প্রভুকে বিস্ময়করভাবে মহান এবং নিজেকে বিস্ময়করভাবে ক্ষুদ্র দেখে।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমি নিজেকে তাঁর ভালোবাসার কাছে ততটাই আবদ্ধ দেখব, যেন তিনি আমার জন্য যা যা করেছেন তা সব আমার একার জন্যই করেছেন; প্রতিটি আত্মারই তার প্রেমাস্পদ সম্পর্কে এমনটি ভাবা উচিত। অর্থাৎ, ঈশ্বরের দয়া আমাদের মধ্যে এমন এক ঐক্য তৈরি করে যে, তা সঠিকভাবে বুঝতে পারলে কেউ নিজেকে অন্য কারো থেকে আলাদা করতে পারে না।'''
* এখন আমি তোমাদের পনেরোটি প্রকাশের কথা বলেছি, যেমনটা ঈশ্বর মনে করিয়ে দিয়েছেন—তাঁর পবিত্র আত্মার আলোকচ্ছটা ও স্পর্শে, যা এই প্রকাশগুলোকে দেখিয়েছে। <br> এই পনেরোটি দর্শনের প্রথমটি শুরু হয়েছিল ভোরবেলা, প্রায় চারটার দিকে; আর সেগুলো সুন্দর ও স্থির প্রক্রিয়ায় একের পর এক চলতে থাকে, দিনের নটা পর্যন্ত।
=== অধ্যায় ৬৬ ===
* এরপর ভালো প্রভু পরের রাতে ষোড়শ প্রকাশটি দেখিয়েছিলেন, যা আমি পরে বলব: এই ষোড়শটি ছিল আগের পনেরোটির উপসংহার ও নিশ্চয়তা।
* তবে প্রথমে আমার দুর্বলতা, দীনতা ও অন্ধত্বের কথা তোমাদের বলা প্রয়োজন। আমি শুরুতেই বলেছি: ''এবং এতেই আমার সমস্ত ব্যথা হঠাৎ দূর হয়ে গেল'': এই ব্যথার কারণে আমি পনেরোটি দর্শনের সময় কোনো কষ্ট বা যন্ত্রণা অনুভব করিনি। শেষে সবকিছু স্তিমিত হয়ে এল এবং আমি আর কিছু দেখতে পেলাম না। শীঘ্রই আমি অনুভব করলাম যে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে এবং ভুগতে হবে এবং হঠাৎ আমার অসুস্থতা ফিরে এল। প্রথমে মাথায় শব্দ ও গুঞ্জন দিয়ে এবং হঠাৎ আমার পুরো শরীর আগের মতোই অসুস্থতায় ভরে গেল। আমি এতটাই বন্ধ্যা ও শুষ্ক ছিলাম যে মনে হচ্ছিল আমি কখনও খুব সামান্য সান্ত্বনাও পাইনি। একজন হতভাগা প্রাণীর মতো আমি আমার শারীরিক ব্যথার অনুভূতিতে এবং আধ্যাত্মিক ও শারীরিক সান্ত্বনার অভাবে বিলাপ ও চিৎকার করছিলাম।
* তখন একজন ধার্মিক ব্যক্তি আমার কাছে এলেন এবং জানতে চাইলেন আমি কেমন আছি। আমি বললাম, আমি আজ প্রলাপ বকেছি। তিনি উচ্চস্বরে ও মন খুলে হাসলেন। আমি বললাম: ''আমার মুখের সামনে যে ক্রুশটি দাঁড়িয়ে ছিল, আমার মনে হয়েছে সেটি দ্রুত রক্তক্ষরণ করছিল।'' এই কথা শুনে যে ব্যক্তির সাথে আমি কথা বলছিলাম তিনি অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে গেলেন এবং বিস্মিত হলেন। আমি আমার অবহেলার জন্য অত্যন্ত লজ্জিত ও বিস্মিত হলাম এবং ভাবলাম: ''এই মানুষটি আমার বলা ছোট ছোট কথাগুলোও কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।'' এরপর আমি আর কোনো কথা বললাম না।
== ষোড়শ প্রকাশ ==
=== অধ্যায় ৬৭ ===
[[File:William Blake - Christ in the Sepulchre, Guarded by Angels.jpg|thumb||আমাদের আত্মা কখনোই নিজের নিচের কোনো বস্তুতে শান্তি পেতে পারে না।]]
* '''এরপর আমাদের প্রভু আমার আধ্যাত্মিক চোখ খুলে দিলেন এবং আমার হৃদয়ের মাঝে আমার আত্মাকে দেখালেন। আমি দেখলাম আত্মাটি এত বিশাল যেন তা এক অন্তহীন জগত, এক পরম আনন্দময় রাজ্য। সেখানে আমি যা কিছু দেখলাম, তা থেকে আমি বুঝতে পারলাম এটি একটি মহিমান্বিত নগরী।''' সেই নগরীর মাঝে উপবিষ্ট আছেন আমাদের প্রভু যিশু, ঈশ্বর ও মানব, বিশাল দেহের অধিকারী এক সুদর্শন ব্যক্তি, পরম যাজক, অতি মহিমান্বিত রাজা ও পরম পূজনীয় প্রভু; আমি তাঁকে মহিমান্বিত পোশাকে দেখলাম। তিনি পরম শ্রদ্ধার সাথে আত্মার মাঝে শান্তিতে ও বিশ্রামে উপবিষ্ট আছেন। এবং ঈশ্বরত্ব স্বর্গ, পৃথিবী এবং যা কিছু আছে, তা শাসন ও ধারণ করে আছেন। পরম শক্তি, পরম প্রজ্ঞা ও পরম কল্যাণ। যিশু আমাদের ''আত্মার'' মাঝে যে স্থানটি নিয়েছেন, আমার দৃষ্টিতে তিনি তা থেকে চিরকাল সরবেন না। কারণ আমাদের মধ্যেই তাঁর ''সবচেয়ে আপন'' নিবাস ও ''অন্তহীন'' বসতি। এর মাধ্যমে তিনি দেখালেন যে, মানুষের আত্মা সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কতটা সন্তুষ্ট। পিতা যেমন একটি প্রাণ সৃষ্টি করতে পারতেন, পুত্রও যেমন তা করতে পারতেন, পবিত্র আত্মা ঠিক সেভাবেই চেয়েছিলেন যেন মানুষের আত্মা সৃষ্টি হয়: এবং তা-ই করা হয়েছিল। আর এই কারণেই ধন্য ত্রিত্ববাদ মানুষের আত্মা সৃষ্টির আনন্দে চিরকাল বিভোর। কারণ শুরু থেকেই তিনি দেখেছিলেন যা কিছু তাঁকে চিরকাল আনন্দ দেবে।
* '''আমাদের আত্মা কখনোই নিজের নিচের কোনো বস্তুতে শান্তি পেতে পারে না।''' যখন এটি সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে উঠে নিজের সত্তায় আসে, তখনও এটি কেবল নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে না। সমস্ত দৃষ্টি আনন্দের সাথে ঈশ্বরে নিবদ্ধ থাকে, যিনি এর স্রষ্টা এবং এর ভেতরেই বাস করেন। কারণ মানুষের আত্মাই তাঁর প্রকৃত নিবাস এবং আমার দৃষ্টিতে এই নগরীর সর্বোচ্চ আলো ও উজ্জ্বলতম আভা হলো আমাদের প্রভুর গৌরবময় ভালোবাসা।
* '''ঈশ্বরের সৃষ্টিগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মাঝে তিনি আনন্দ পান। এটি দেখার চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে? কারণ একই দর্শনে আমি দেখেছি, যদি ধন্য ত্রিত্ববাদ মানুষের আত্মাকে এর চেয়ে ভালো, সুন্দর বা মহৎ করে সৃষ্টি করতে পারতেন, তবে তিনি মানুষের আত্মা সৃষ্টির কাজে পূর্ণ সন্তুষ্ট হতেন না।''' এবং তিনি চান আমাদের হৃদয় যেন পৃথিবীর গভীরতা ও সমস্ত তুচ্ছ দুঃখের ঊর্ধ্বে ওঠে এবং তাঁতেই আনন্দ পায়।
=== অধ্যায় ৬৮ ===
* এটি ছিল এক আনন্দদায়ক দৃশ্য ও প্রশান্তিময় প্রত্যাদেশ, যা ''চিরকাল'' থাকবে। আমরা এখানে থাকাকালীন এর দিকে তাকিয়ে থাকা ঈশ্বরের কাছে অত্যন্ত প্রীতিকর এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। যে আত্মা এভাবে দেখে, তা সেই দর্শনকারী সত্তার মতো হয়ে ওঠে এবং তাঁর কৃপায় শান্তিতে ও বিশ্রামে একীভূত হয়। এবং এটি আমার জন্য ছিল এক অনন্য আনন্দ ও পরম সুখ যে, আমি তাঁকে ''উপবিষ্ট'' দেখলাম: কারণ উপবিষ্ট থাকার নিশ্চয়তা অন্তহীন বসতির ইঙ্গিত দেয়।
* তিনি আমাকে নিশ্চিতভাবে জানতে দিলেন যে, তিনিই আমাকে আগে সবকিছু দেখিয়েছেন। আমি যখন মনোযোগ দিয়ে এটি দেখলাম, তখন আমাদের ভালো প্রভু কোনো কণ্ঠস্বর বা ঠোঁট নাড়ান ছাড়াই অত্যন্ত নম্রভাবে আমাকে বললেন, ঠিক যেমন তিনি আগে করেছিলেন এবং অতি মধুরভাবে বললেন: ''এখন ভালো করে জেনে নাও যে, আজ তুমি যা দেখেছ তা কোনো প্রলাপ ছিল না। বরং এটি গ্রহণ করো, বিশ্বাস করো, এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো। তুমি কখনোই পরাজিত হবে না।''
* '''এই শেষ কথাগুলো বলা হয়েছিল বিশ্বাস ও সত্য নিশ্চিত করার জন্য যে, আমাদের প্রভু যিশুই আমাকে সবকিছু দেখিয়েছেন। আমাদের ভালো প্রভু প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন, যা তাঁর পরম আনন্দময় দুঃখভোগকে নির্দেশ করে। 'এর মাধ্যমেই শয়তান পরাজিত', ঠিক একইভাবে তিনি শেষ কথায় অত্যন্ত সত্য ও নিশ্চিতভাবে আমাদের সবার উদ্দেশ্যে বললেন: 'তুমি পরাজিত হবে না।' '''
* '''এই কথাটি: 'তুমি পরাজিত হবে না', অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও জোরালোভাবে বলা হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে আসা সব বিপদে আমরা নিশ্চিত ও সান্ত্বনা পাই। তিনি বলেননি: 'তুমি ঝড়ঝঞ্ঝার কবলে পড়বে না, তুমি শ্রান্ত হবে না, তুমি দুঃখিত হবে না' বরং তিনি বলেছেন: 'তুমি পরাজিত হবে না।' ঈশ্বর চান যেন আমরা এই কথাগুলোর প্রতি মনোযোগ দিই এবং ভালো ও মন্দ উভয় সময়েই দৃঢ় বিশ্বাসে অটল থাকি। কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসেন ও আমাদের মাঝে আনন্দ পান, এবং তিনিও চান যেন আমরা তাঁকে ভালোবাসি, তাঁর মাঝে আনন্দ পাই এবং শক্তভাবে তাঁকে বিশ্বাস করি এবং ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''<br> এবং শীঘ্রই সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল এবং আমি আর কিছুই দেখতে পেলাম না।
=== অধ্যায় ৬৯ ===
* এরপর শয়তান তার উত্তাপ ও দুর্গন্ধ নিয়ে আবার ফিরে এল এবং আমাকে খুব জ্বালাতন করল। দুর্গন্ধটি ছিল অত্যন্ত জঘন্য, বেদনাদায়ক, ভয়াবহ ও কষ্টকর। এছাড়া আমি শারীরিক কথোপকথনের মতো শব্দ শুনতে পেলাম, যেন দুইজন ব্যক্তি কথা বলছে। আমার মনে হলো তারা দুজনেই একই সময়ে খুব ব্যস্ততার সাথে কোনো সভা করছে। কিন্তু সবকিছু ছিল অস্পষ্ট গুঞ্জন, তাই তারা কী বলছে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। আমার মনে হলো, এটি সবই আমাকে নিরাশ করার জন্য ছিল। যেন তারা প্রার্থনা করার সময় আমাদের অভদ্রভাবে মুখ দিয়ে করা প্রার্থনার উপহাস করছিল, যেখানে ভক্তিময় মনোযোগ ও জ্ঞানপূর্ণ পরিশ্রমের অভাব থাকে। যা আমাদের প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।
* আমি মনে মনে বললাম: ''শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে বিশ্বাসে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে তোমাকে এখন অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তুমি যদি এখন থেকে সবসময় নিজেকে পাপ থেকে দূরে রাখতে এতটা ব্যস্ত থাকতে পারতে, তবে তা হতো এক মহান ও শ্রেষ্ঠ কাজ!'' কারণ আমি মনে মনে ভাবলাম, যদি আমি পাপ থেকে নিরাপদ থাকি, তবে আমি নরকের সব শয়তান ও আমার আত্মার শত্রু থেকেও নিরাপদ থাকব।
* এভাবে সে আমাকে সারা রাত ব্যস্ত রাখল এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত। এরপর তারা সবাই চলে গেল। তারা শুধু দুর্গন্ধ রেখে গেল, যা কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল। আর আমি তাকে ঘৃণাভরে অবজ্ঞা করলাম। <br> এবং এভাবে খ্রিষ্টের দুঃখভোগের গুণের মাধ্যমে আমি তার হাত থেকে মুক্তি পেলাম: কারণ ''এর মাধ্যমেই শয়তান পরাজিত'', যেমন আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্ট আগে বলেছিলেন।
=== অধ্যায় ৭০ ===
* '''এই সমস্ত ধন্য প্রত্যাদেশে আমাদের ভালো প্রভু এই বোধ দিলেন যে, এই দর্শনটি সাময়িক: কিন্তু এই ধন্য দর্শনটিকে বিশ্বাসই ধরে রাখে, তাঁর নিজস্ব সদিচ্ছা ও কৃপায়।''' কারণ তিনি আমাকে কোনো চিহ্ন বা লক্ষণ রেখে যাননি যার মাধ্যমে আমি তা চিনতে পারি, কিন্তু তিনি আমাকে সত্য উপলব্ধিতে তাঁর নিজস্ব ধন্য বাণী রেখে গেছেন, আমাকে খুব জোরালোভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তা বিশ্বাস করি। এবং আমি তা-ই করি। তিনি ধন্য হোন! আমি বিশ্বাস করি যে, তিনিই আমাদের ত্রাণকর্তা যিনি এটি দেখিয়েছেন এবং এটিই সেই বিশ্বাস যা তিনি দেখিয়েছেন এবং তাই আমি আনন্দচিত্তে এটি বিশ্বাস করি। এবং আমি তাঁর নিজের প্রতিটি অর্থের সাথে আবদ্ধ, পরবর্তী কথাগুলোর মাধ্যমে: ''এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো।''
* এভাবে আমি তা আমার বিশ্বাসে ধরে রাখতে বাধ্য। কারণ যে দিন এটি দেখানো হয়েছিল, যখন দর্শনটি শেষ হয়ে গেল, আমি হতভাগার মতো তা ত্যাগ করলাম এবং প্রকাশ্যে বললাম যে আমি প্রলাপ বকেছি। তখন আমাদের প্রভু যিশু তাঁর দয়ায় এটি হারিয়ে যেতে দিলেন না বরং তিনি এটি ''আমার আত্মার ভেতরে'' পূর্ণরূপে দেখালেন, তাঁর মূল্যবান ভালোবাসার ধন্য আলোতে: অত্যন্ত জোরালো ও নম্রভাবে এই কথাগুলো বলে: ''এখন ভালো করে জেনে নাও: আজ তুমি যা দেখেছ তা কোনো প্রলাপ ছিল না।'' যেন তিনি বলেছেন: ''দর্শনটি তোমার থেকে দূরে সরে যাওয়ায় তুমি তা হারিয়েছিলে এবং তা ধরে রাখার সামর্থ্য তোমার ছিল না। কিন্তু এখন জেনে নাও'' অর্থাৎ, ''এখন যখন তুমি তা দেখতে পাচ্ছ''। এটি শুধু সেই সময়ের জন্য বলা হয়নি, বরং আমার বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপনের জন্যও বলা হয়েছে, যখন তিনি সাথে সাথে বললেন: ''কিন্তু এটি গ্রহণ করো, বিশ্বাস করো এবং এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো। তুমি পরাজিত হবে না।''
* তাঁর অর্থ হলো এটি যেন আমাদের হৃদয়ে বিশ্বস্তভাবে গেঁথে থাকে। কারণ তিনি চান এটি যেন আমাদের জীবনের শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসে আমাদের সাথে থাকে এবং এরপর পরম আনন্দে। তিনি চান যেন আমরা তাঁর আনন্দময় আদেশের ওপর সবসময় অবিচল বিশ্বাস রাখি। তাঁর কল্যাণকে জেনে। <br> কারণ আমাদের নিজস্ব অন্ধত্ব এবং আমাদের আধ্যাত্মিক শত্রু, ভেতরে ও বাইরে, বিভিন্নভাবে আমাদের বিশ্বাসকে বাধা দেয় এবং সেইজন্য আমাদের মূল্যবান প্রেমিক আমাদের আধ্যাত্মিক দর্শন ও সত্য শিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পারি। এবং তাই, তিনি আমাদের যেভাবেই শিক্ষা দিন না কেন, তিনি চান যেন আমরা তাঁকে বুদ্ধিমত্তার সাথে উপলব্ধি করি, মধুরভাবে গ্রহণ করি এবং বিশ্বস্তভাবে তাঁর মাঝে থাকি। কারণ আমার দৃষ্টিতে, এই জীবনে বিশ্বাসের চেয়ে বড় কোনো কল্যাণ নেই এবং বিশ্বাসের নিচে আত্মার কোনো সাহায্য নেই বরং বিশ্বাসের মধ্যেই প্রভু চান যেন আমরা নিজেদের ধরে রাখি। কারণ বিশ্বাসের মধ্যে আমাদের টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের তাঁর কল্যাণ ও তাঁর নিজস্ব কাজের ওপর নির্ভর করতে হবে এবং তাঁর অনুমতিতে আধ্যাত্মিক শত্রুর মাধ্যমে আমরা বিশ্বাসে পরীক্ষিত হই এবং শক্তিশালী হই। কারণ আমাদের বিশ্বাসের যদি কোনো শত্রুতা না থাকত, তবে তা কোনো পুরস্কারের যোগ্য হতো না, আমাদের প্রভুর সমস্ত শিক্ষায় আমার যে বোধ আছে তা অনুযায়ী।
=== অধ্যায় ৭১ ===
* আমাদের আত্মার প্রতি আমাদের প্রভুর আনন্দময়, মনোরম ও মধুর চাহনি অত্যন্ত আনন্দদায়ক।
* আমি আমাদের প্রভুর তিন ধরণের চাহনির ইঙ্গিত পেয়েছি। প্রথমটি হলো তাঁর দুঃখভোগের চাহনি, যেমনটা তিনি এই জীবনে থাকাকালীন দেখিয়েছেন, যখন তিনি মৃত্যুবরণ করছিলেন। যদিও এই দর্শন শোকাবহ ও উদ্বিগ্ন, তবুও এটি আনন্দময়: কারণ তিনি ঈশ্বর। দ্বিতীয় ধরণের চাহনি হলো মমতা ও করুণা এবং তিনি তাঁর সমস্ত প্রেমিকদের, যারা তাঁর দয়ার ওপর নির্ভর করে, তাদের রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে এটি দেখান। তৃতীয়টি হলো আনন্দময় চাহনি, যা চিরকাল থাকবে: এবং এটিই সবচেয়ে বেশি ও দীর্ঘ সময় ধরে ছিল।
* এভাবে আমাদের ব্যথা ও কষ্টের সময়ে তিনি আমাদের তাঁর দুঃখভোগ ও ক্রুশের চাহনি দেখান, তাঁর নিজস্ব ধন্য গুণের মাধ্যমে তা বহন করতে আমাদের সাহায্য করেন। এবং আমাদের পাপের সময়ে তিনি আমাদের মমতা ও করুণার চাহনি দেখান, আমাদের সমস্ত শত্রুর হাত থেকে আমাদের শক্তভাবে রক্ষা করেন ও প্রতিরক্ষা দেন। এবং এই হলো সাধারণ চাহনি যা তিনি আমাদের এই জীবনে দেখান; এর সাথে তৃতীয়টি মিশিয়ে এবং তা হলো তাঁর আনন্দময় চাহনি, অনেকটা স্বর্গের মতো। এবং তা আধ্যাত্মিক জীবনের মধুর স্পর্শ ও উজ্জ্বল আলোর মাধ্যমে, যার দ্বারা আমরা নিশ্চিত বিশ্বাস, আশা ও দাতব্য কাজে অটল থাকি, অনুতাপ ও ভক্তির সাথে এবং আধ্যাত্মিক চিন্তা ও সব ধরণের প্রকৃত শান্তি ও মধুর সান্ত্বনার সাথে।
=== অধ্যায় ৭২ ===
* এখন আমাকে বলতে হবে যে, আমি কীভাবে সেই প্রাণীদের মাঝে পাপকে প্রাণঘাতী হিসেবে দেখেছি, যারা পাপের জন্য মরবে না বরং চিরকাল ঈশ্বরের আনন্দে বেঁচে থাকবে।
* '''আমি দেখলাম যে দুটি বিপরীত জিনিস কখনোই এক জায়গায় থাকতে পারে না। সবচেয়ে বিপরীত হলো সর্বোচ্চ আনন্দ এবং গভীরতম বেদনা।''' সর্বোচ্চ আনন্দ হলো অনন্ত জীবনের স্বচ্ছতায় তাঁকে পাওয়া, তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখা, তাঁকে মধুরভাবে অনুভব করা, পরম আনন্দে পূর্ণরূপে পাওয়া। এবং এভাবেই আমাদের প্রভুর আনন্দময় চাহনি করুণায় দেখানো হয়েছিল: যে দর্শনে আমি দেখলাম যে পাপই সবচেয়ে বেশি বিপরীত এতটাই যে, যতক্ষণ আমরা পাপের কোনো অংশের সাথে জড়িত থাকি, ততক্ষণ আমরা আমাদের প্রভুর আনন্দময় চাহনি স্পষ্টভাবে দেখতে পাব না। এবং আমাদের পাপ যত ভয়াবহ ও গুরুতর, সেই সময়ের জন্য আমরা এই আনন্দময় দর্শন থেকে তত বেশি দূরে থাকি। এবং তাই অনেক সময় আমাদের মনে হয় আমরা মৃত্যুর বিপদে আছি, নরকের এক অংশে আছি, পাপ আমাদের জন্য যে শোক ও বেদনা দেয় তার কারণে। এবং এভাবেই আমরা আমাদের আনন্দময় জীবনের প্রকৃত দর্শন থেকে সাময়িকভাবে মৃত। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝে আমি নিশ্চিতভাবে দেখেছি যে, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা মৃত নই, আর তিনিও আমাদের থেকে কখনোই দূরে সরে যান না। কিন্তু আমাদের মাঝে তিনি পূর্ণ আনন্দ পাবেন না যতক্ষণ না আমরা তাঁর মাঝে পূর্ণ আনন্দ পাই, তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনি সত্যভাবে দেখে। কারণ প্রকৃতিগতভাবে আমরা তার জন্য নিযুক্ত, এবং কৃপার মাধ্যমে তা অর্জন করি। এভাবেই আমি দেখলাম কীভাবে চিরন্তন জীবনের ধন্য প্রাণীদের মাঝে পাপ অল্প সময়ের জন্য প্রাণঘাতী।
* '''আত্মা ভালোবাসার কৃপায় এই আনন্দময় চাহনি যত স্পষ্টভাবে দেখে, তা পূর্ণরূপে দেখার জন্য তত বেশি আকাঙ্ক্ষা করে।''' কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বর আমাদের মাঝে বাস করেন এবং এখানে আমাদের সাথে আছেন, এবং যদিও তিনি কোমল ভালোবাসার কারণে আমাদের জড়িয়ে রাখেন ও ঘিরে রাখেন যাতে তিনি কখনোই আমাদের ছেড়ে না যান, এবং আমাদের জিহ্বা যতটা বলতে পারে বা হৃদয় ভাবতে পারে তার চেয়েও তিনি আমাদের বেশি কাছে আছেন, তবুও আমরা যতক্ষণ না তাঁকে তাঁর আনন্দময় অভিব্যক্তিতে স্পষ্টভাবে দেখি, ততক্ষণ আমরা আর্তনাদ, কান্না বা আকাঙ্ক্ষা থেকে থামতে পারি না। কারণ সেই মূল্যবান আনন্দময় দর্শনে কোনো দুঃখ থাকতে পারে না, আর কোনো সুখও শেষ হতে পারে না।
* এর মধ্যে আমি আনন্দের বিষয় এবং শোকের বিষয় দেখলাম। আনন্দের বিষয়: কারণ আমাদের প্রভু, আমাদের স্রষ্টা, আমাদের এত কাছে এবং আমাদের মাঝে আছেন, এবং আমরা তাঁর মাঝে আছি, তাঁর মহান কল্যাণের মাধ্যমে সুরক্ষার নিশ্চয়তায়; শোকের বিষয়: কারণ আমাদের আধ্যাত্মিক চোখ এতই অন্ধ এবং আমাদের নশ্বর শরীরের ভার ও পাপের অন্ধকারে আমরা এতটাই নিমজ্জিত যে, আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনিতে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই না। না এবং এই ঝাপসা ভাবের কারণে আমরা খুব কষ্টে তাঁর মহান ভালোবাসায় এবং আমাদের সুরক্ষার নিশ্চয়তায় বিশ্বাস ও ভরসা করতে পারি। এবং সেই কারণেই আমি বলি যে আমরা কখনোই আর্তনাদ বা কান্না থেকে থামতে পারি না। এই "কান্না" মানে সবটা আমাদের শারীরিক চোখের অশ্রু ঝরানো নয়, বরং এর আরও আধ্যাত্মিক অর্থ আছে। কারণ আমাদের আত্মার স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা এতই মহান ও অসীম যে, যদি আমাদের সান্ত্বনার জন্য এবং আমাদের আরামের জন্য সেই সমস্ত মহৎ জিনিস দেওয়া হতো যা ঈশ্বর স্বর্গ ও পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন, এবং আমরা যদি তাঁর নিজস্ব সুন্দর আনন্দময় চাহনি না দেখতাম, তবুও আমরা আর্তনাদ বা আধ্যাত্মিক কান্না থেকে থামতাম না, অর্থাৎ, যন্ত্রণাদায়ক আকাঙ্ক্ষা থেকে, যতক্ষণ না আমরা আমাদের স্রষ্টার সুন্দর আনন্দময় চাহনি সত্যভাবে দেখি। এবং যদি আমরা হৃদয়ে যা ভাবতে পারি ও জিহ্বায় যা বলা যায় এমন সমস্ত বেদনার মাঝেও থাকতাম, তবুও যদি সেই সময়ে আমরা তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনি দেখতে পেতাম, তবে এই বেদনা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারত না।
* '''এভাবেই সেই আনন্দময় দর্শন প্রেমময় আত্মার সমস্ত ধরণের বেদনার অবসান এবং সমস্ত ধরণের আনন্দ ও সুখের পূর্ণতা।''' এবং তা তিনি সেই মহান, চমৎকার কথাগুলোর মাধ্যমে দেখালেন যেখানে তিনি বললেন: '''''আমিই সেই, যে সর্বোচ্চ; আমিই সেই, যে সর্বনিম্ন। আমিই সেই, যে সর্বস্ব।'''''
* আমাদের তিন ধরণের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন: প্রথমটি হলো আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে জানি; দ্বিতীয়টি হলো আমরা নিজেদের জানি: প্রকৃতি ও কৃপায় আমরা তাঁর দ্বারা কী। তৃতীয়টি হলো আমরা নম্রভাবে জানি আমাদের পাপ ও দুর্বলতা সম্পর্কে আমাদের নিজেদের স্বরূপ কী। এবং আমার বোধগম্যতায় এই তিনটির জন্যই সমস্ত প্রত্যাদেশ তৈরি করা হয়েছিল।
=== অধ্যায় ৭৩ ===
* আমাদের প্রভুর সমস্ত ধন্য শিক্ষা তিনটি অংশের মাধ্যমে দেখানো হয়েছিল। অর্থাৎ, শারীরিক দর্শন, আমার উপলব্ধিতে তৈরি শব্দ এবং আধ্যাত্মিক দর্শন। শারীরিক দর্শনের জন্য, আমি যেমন দেখেছি তা বলেছি, যতটা সত্যভাবে পারি এবং শব্দের জন্য, আমি সেগুলো ঠিক সেভাবেই বলেছি যেভাবে আমাদের প্রভু আমাকে দেখিয়েছেন এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের জন্য, আমি কিছু অংশ বলেছি, কিন্তু আমি তা কখনোই পুরোপুরি বলতে পারব না: এবং তাই এই দর্শনের বিষয়ে আমি আরও বলার জন্য অনুপ্রাণিত, যেমন ঈশ্বর কৃপা দেবেন।
* ''সাধারণত'', তিনি ''পাপ'' দেখালেন, যার মধ্যে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু বিশেষভাবে তিনি কেবল এই দুটি দেখালেন। এবং এই দুটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় ও উদ্বিগ্ন করে, আমাদের প্রভু আমাকে যা দেখিয়েছেন তা অনুযায়ী এবং তিনি চান যেন আমরা এদের থেকে সংশোধিত হই। আমি এমন পুরুষ ও নারীদের কথা বলছি যারা ঈশ্বরের ভালোবাসার জন্য পাপকে ঘৃণা করে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে: তখন আমাদের আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব ও শারীরিক ভারীত্বের কারণে আমরা এগুলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকি। এবং তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা যে এগুলো জানা হোক, কারণ তখন আমরা অন্য পাপের মতো এগুলোকেও প্রত্যাখ্যান করব।
* এর সাহায্যের জন্য, আমাদের প্রভু অত্যন্ত নম্রভাবে তাঁর কঠিন দুঃখভোগে তাঁর ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন; এবং ভালোবাসার জন্য সেই দুঃখভোগের আনন্দ ও সন্তুষ্টিও তিনি দেখিয়েছেন। এবং তিনি উদাহরণস্বরূপ এটি দেখালেন যে, আমাদের কষ্টগুলো আনন্দ ও প্রজ্ঞার সাথে বহন করা উচিত, কারণ তা তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রীতিকর এবং আমাদের জন্য চিরন্তন লাভজনক। '''এবং আমরা যে এদের দ্বারা কষ্ট পাই তার কারণ হলো ভালোবাসার জ্ঞানের অভাব।''' যদিও ত্রিত্ববাদের তিনটি ব্যক্তি নিজ নিজ স্থানে সমান, তবুও আত্মা ভালোবাসার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করেছে; হ্যাঁ, এবং '''তিনি চান যেন সব কিছুতে আমরা আমাদের দৃষ্টি ও আনন্দ ভালোবাসায় রাখি। এবং এই জ্ঞান সম্পর্কে আমরা সবচেয়ে বেশি অন্ধ। কারণ আমাদের কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান এবং সব করতে পারেন, এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং সব জানেন; কিন্তু তিনি সর্ব-ভালোবাসা এবং সব করবেন, সেখানে আমরা থেমে যাই। এবং আমার দৃষ্টিতে, এই না-জানাটাই ঈশ্বরের প্রেমিকদের সবচেয়ে বেশি বাধা দেয়।'''
* যখন আমরা পাপকে ঘৃণা করতে শুরু করি এবং পবিত্র গির্জার বিধান অনুযায়ী নিজেদের সংশোধন করি, তখনও একটি ভয় থেকে যায় যা আমাদের বাধা দেয়, কারণ আমাদের নিজেদের এবং আমাদের পূর্বের পাপগুলোর দিকে তাকালে। এবং আমাদের কেউ কেউ প্রতিদিনের পাপের কারণে: কারণ আমরা আমাদের অঙ্গীকার পালন করি না, বা আমাদের প্রভু আমাদের যে পবিত্রতায় রেখেছেন তা রক্ষা করি না, বরং বারবার এত জঘন্যতায় পড়ি যে তা দেখা লজ্জাজনক। এবং এই দিকে তাকানো আমাদের এতটাই দুঃখিত ও ভারাক্রান্ত করে যে, আমরা খুব কষ্টে কোনো সান্ত্বনা পাই। <br> '''এবং এই ভয়টিকে আমরা অনেক সময় নম্রতা বলে মনে করি, কিন্তু এটি একটি জঘন্য অন্ধত্ব ও দুর্বলতা। এবং আমরা এটিকে অন্য পাপের মতো ঘৃণা করতে পারি না, যা আমরা জানি: কারণ এটি শত্রুতা থেকে আসে এবং এটি সত্যের বিরুদ্ধে। কারণ এটি ঈশ্বরের ইচ্ছা যে ধন্য ত্রিত্ববাদের সমস্ত গুণের মধ্যে আমরা ভালোবাসায় সবচেয়ে বেশি নিশ্চয়তা ও সান্ত্বনা পাব: কারণ ভালোবাসা শক্তি ও প্রজ্ঞাকে আমাদের কাছে অত্যন্ত নম্র করে তোলে। কারণ ঈশ্বরের সৌজন্যে তিনি আমাদের পাপ ক্ষমা করে দেন যখন আমরা অনুতাপ করি, ঠিক সেভাবেই তিনি চান যেন ''আমরা'' আমাদের পাপ ক্ষমা করি, আমাদের অবাধ্য ভারীত্ব ও সন্দেহজনক ভয়ের বিষয়ে।'''
=== অধ্যায় ৭৪ ===
* আমি চার ধরণের ভয় বুঝি। একটি হলো এমন ভয়ের আতঙ্ক যা দুর্বলতার কারণে হঠাৎ মানুষের মধ্যে আসে। এই ভয় ভালো কাজ করে, কারণ এটি মানুষকে শুদ্ধ করতে সাহায্য করে, যেমন শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো বেদনা যা পাপ নয়। কারণ এই সমস্ত বেদনা মানুষকে সাহায্য করে যদি তা ধৈর্য সহকারে গ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয়টি হলো বেদনার ভয়, যার মাধ্যমে মানুষ পাপের ঘুম থেকে জেগে ওঠে। যতক্ষণ না সে এই বেদনার ভয়, শারীরিক মৃত্যু, আধ্যাত্মিক শত্রুদের সম্পর্কে বোধ পায়, ততক্ষণ সে পবিত্র আত্মার মৃদু সান্ত্বনা বুঝতে পারে না এবং এই ভয় আমাদের ঈশ্বরের সান্ত্বনা ও দয়া খুঁজতে উৎসাহিত করে এবং এভাবেই এই ভয় আমাদের সাহায্য করে, এবং পবিত্র আত্মার ধন্য স্পর্শের মাধ্যমে অনুতাপ করতে সক্ষম করে। তৃতীয়টি হলো সন্দেহজনক ভয়। সন্দেহজনক ভয় যেহেতু হতাশায় টেনে নেয়, ঈশ্বর চান যেন ভালোবাসার জ্ঞানের মাধ্যমে তা আমাদের মধ্যে ভালোবাসায় পরিণত হয়: অর্থাৎ, সন্দেহের তিক্ততা যেন কৃপার মাধ্যমে স্বাভাবিক ভালোবাসার মাধুর্যে পরিণত হয়। কারণ ঈশ্বরের সেবকরা তাঁর কল্যাণে সন্দেহ করে, তা কখনোই আমাদের প্রভুর কাছে প্রীতিকর হতে পারে না। চতুর্থটি হলো শ্রদ্ধাশীল ভয়: কারণ আমাদের মধ্যে শ্রদ্ধাশীল ভয় ছাড়া অন্য কোনো ভয় ঈশ্বরকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারে না। এবং তা অত্যন্ত মৃদু, কারণ এটি যত বেশি থাকে, ভালোবাসার মাধুর্যের জন্য তত কম অনুভূত হয়।'''
* '''ভালোবাসা ও ভয় ভাই-বোন এবং তারা আমাদের স্রষ্টার কল্যাণে আমাদের মধ্যে প্রোথিত, এবং তারা কখনোই আমাদের থেকে চিরকাল দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে না। আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে ভালোবাসার এবং কৃপা দ্বারা ভালোবাসার ক্ষমতা আছে এবং আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে ভয়ের এবং কৃপা দ্বারা ভয়ের ক্ষমতা আছে।''' প্রভুত্ব ও পিতৃত্বের জন্য ভয় পাওয়া উচিত, যেমন কল্যাণের জন্য ভালোবাসা পাওয়া উচিত: এবং আমাদের জন্য, যারা তাঁর সেবক ও সন্তান, তাঁর প্রভুত্ব ও পিতৃত্বের জন্য তাঁকে ভয় করা উচিত, যেমন কল্যাণের জন্য তাঁকে ভালোবাসা উচিত।
* '''যদিও এই শ্রদ্ধাশীল-ভয় ও ভালোবাসা আলাদা নয়, তবুও তারা উভয়ই এক নয়, বরং তারা বৈশিষ্ট্য ও কাজে দুটি, এবং তাদের একটি ছাড়া অন্যটি পাওয়া যায় না। তাই আমি নিশ্চিত, যে ভালোবাসে, সে ভয়ও পায়, যদিও সে তা খুব কম অনুভব করে।'''
* শ্রদ্ধাশীল ভয় ছাড়া অন্য সব ভয় যা আমাদের সামনে আসে, যদিও তারা পবিত্রতার ছদ্মবেশে আসে তবুও তা তেমন সত্য নয়, এবং এর মাধ্যমে তারা আলাদাভাবে চেনা যায়। যে ভয় আমাদের তাড়াহুড়ো করে যা ভালো নয় তা থেকে পালাতে এবং আমাদের প্রভুর বুকে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে, যেমন শিশু মায়ের কোলে যায়, আমাদের সমস্ত উদ্দেশ্য ও মন নিয়ে, আমাদের দুর্বলতা ও মহান প্রয়োজন জেনে, তাঁর চিরন্তন কল্যাণ ও ধন্য ভালোবাসা জেনে, কেবল তাঁর কাছে পরিত্রাণ চেয়ে, নিশ্চিত ভরসার সাথে লেগে থাকা: যে ভয় আমাদের এই কাজে নিয়ে আসে, তা স্বাভাবিক, কৃপাপূর্ণ, ভালো ও সত্য। এবং যা এর বিপরীত, তা হয় ভুল, অথবা ভুলের সাথে মিশ্রিত। তখন প্রতিকার হলো এই দুটিকে চেনা এবং ভুলটিকে প্রত্যাখ্যান করা।
* পবিত্র আত্মার কৃপাপূর্ণ কাজের মাধ্যমে এই জীবনে আমাদের যে ভয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য আছে, স্বর্গে ঈশ্বরের সামনেও তা একই থাকবে, ভদ্র, বিনয়ী ও পরম আনন্দদায়ক। এবং এভাবেই আমরা ভালোবাসায় ঈশ্বরের প্রতি আপন ও নিকটবর্তী হব, এবং আমরা ভয়ে ঈশ্বরের প্রতি ভদ্র ও বিনয়ী হব। এবং উভয়ই সমান।
* আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে আমরা প্রার্থনা করি যেন আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ভয় করি, নম্রভাবে ভালোবাসি, শক্তভাবে বিশ্বাস করি। কারণ যখন আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ভয় করি এবং নম্রভাবে ভালোবাসি, তখন আমাদের বিশ্বাস কখনোই বৃথা যায় না। কারণ আমরা যত বেশি এবং যত শক্তভাবে বিশ্বাস করি, আমরা আমাদের প্রভুকে তত বেশি সন্তুষ্ট ও পূজা করি যাঁকে আমরা বিশ্বাস করি। এবং যদি আমরা এই শ্রদ্ধাশীল ভয় ও নম্র ভালোবাসায় ব্যর্থ হই (ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন!), তবে আমাদের বিশ্বাস সাময়িকভাবে ভুল পথে পরিচালিত হবে। এবং তাই আমাদের প্রভুর কাছে কৃপার জন্য প্রার্থনা করা খুব প্রয়োজন যেন আমরা তাঁর উপহার হিসেবে, হৃদয়ে ও কাজে এই শ্রদ্ধাশীল ভয় ও নম্র ভালোবাসা পাই। কারণ এটি ছাড়া, কেউ ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে না।
=== অধ্যায় ৭৫ ===
* আমি দেখলাম যে ঈশ্বর আমাদের যা প্রয়োজন তা করতে পারেন। এবং এই তিনটি যা আমি বলব আমাদের প্রয়োজন: ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা, মমতা। ভালোবাসায় মমতা আমাদের প্রয়োজনের সময়ে আমাদের রক্ষা করে এবং একই ভালোবাসায় আকাঙ্ক্ষা আমাদের স্বর্গে টেনে নেয়। কারণ ঈশ্বরের তৃষ্ণা হলো সাধারণ মানুষকে তাঁর কাছে পাওয়া। এই তৃষ্ণায় তিনি তাঁর পবিত্রদের টেনে নিয়েছেন যারা এখন আনন্দে আছে এবং তাঁর জীবন্ত সদস্যদের পেয়ে, তিনি সবসময় টেনে নেন ও পান করেন, এবং তবুও তিনি তৃষ্ণার্ত ও আকাঙ্ক্ষী থাকেন।
* আমি ঈশ্বরের মধ্যে তিন ধরণের আকাঙ্ক্ষা দেখলাম, এবং সবই এক লক্ষ্যের দিকে। যার একই রূপ আমাদের মধ্যেও আছে, এবং একই গুণের দ্বারা ও একই লক্ষ্যের জন্য। <br> প্রথমটি হলো, তিনি আমাদের শেখানোর জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন যেন আমরা তাঁকে জানি এবং তাঁকে চিরকাল ভালোবাসি, যেমনটি আমাদের জন্য সুবিধাজনক ও কল্যাণকর। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি আমাদের তাঁর আনন্দে টেনে নেওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন, যেমন আত্মা যখন বেদনা থেকে স্বর্গে নেওয়া হয়। তৃতীয়টি হলো আমাদের আনন্দে পূর্ণ করা এবং তা শেষ বিচারের দিনে হবে, চিরস্থায়ীভাবে পূর্ণ হবে। কারণ আমি দেখেছি, যেমন আমাদের বিশ্বাসে জানা আছে, যে যারা রক্ষা পাবে তাদের সবার বেদনা ও দুঃখ শেষ হবে। এবং আমরা কেবল সেই আনন্দই পাব না যা আত্মারা আগে স্বর্গে পেয়েছে, বরং আমরা একটি নতুন আনন্দও পাব, যা প্রচুরভাবে ঈশ্বর থেকে আমাদের মধ্যে প্রবাহিত হবে এবং আমাদের পূর্ণ করবে এবং এগুলোই সেই সামগ্রী যা তিনি শুরু থেকেই আমাদের দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করেছেন। এই সামগ্রীগুলো তাঁর নিজের মধ্যেই সঞ্চিত ও লুকানো আছে। কারণ সেই সময় পর্যন্ত প্রাণী তা পাওয়ার মতো শক্তিশালী বা যোগ্য নয়।
* এতে আমরা সত্যভাবে সেই সব জিনিসের কারণ দেখতে পাব যা তিনি করেছেন এবং সবসময় আমরা সেই সব জিনিসের কারণ দেখব যা তিনি সহ্য করেছেন। এবং আনন্দ ও পূর্ণতা এতটাই গভীর ও উচ্চ হবে যে, বিস্ময় ও আশ্চর্যের কারণে, সমস্ত প্রাণীর ঈশ্বরের প্রতি এত মহান শ্রদ্ধাশীল ভয় থাকবে, যা আগে দেখা ও অনুভূত হয়েছে তা ছাড়িয়ে, যে স্বর্গের স্তম্ভগুলো কাঁপবে। কিন্তু এই ধরণের কম্পন ও ভয়ের কোনো বেদনা থাকবে না। বরং ঈশ্বরের যোগ্য শক্তির জন্যই প্রাণীদের দ্বারা এভাবে দেখা, মহান ভয়ে নম্রতার জন্য কাঁপতে কাঁপতে, স্রষ্টা ঈশ্বরের মহানতা এবং যা সৃষ্টি হয়েছে তার ক্ষুদ্রতার প্রতি বিস্মিত হতে হয়। কারণ এটি দেখা প্রাণীটিকে চমৎকারভাবে নম্র ও মৃদু করে তোলে। <br> তাই ঈশ্বর চান এবং এটি আমাদের প্রকৃতি ও কৃপা উভয় দিক থেকেই উচিত। যেন আমরা এটি সম্পর্কে জানি ও বুঝি, এই দর্শন ও কাজ কামনা করি। কারণ এটি আমাদের সঠিক পথে নিয়ে যায়, এবং সত্য জীবনে আমাদের রাখে, এবং ঈশ্বরের সাথে আমাদের একীভূত করে। এবং ঈশ্বর যতটা ভালো, তিনি ততটাই মহান এবং তাঁর কল্যাণকে ভালোবাসা যতটা উচিত, তাঁর মহানতাকে ভয় করাও ততটাই উচিত। কারণ এই শ্রদ্ধাশীল ভয়ই হলো সেই সুন্দর সৌজন্য যা স্বর্গে ঈশ্বরের মুখের সামনে আছে। এবং তিনি এখন যতটা পরিচিত ও সমাদৃত, তখন তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি পরিচিত ও সমাদৃত হবেন, যতটা তিনি এখন, তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি ভয় পাবেন। <br> তাই স্তম্ভগুলো কাঁপলে আকাশ ও পৃথিবী যে কাঁপবে, তা হওয়া অনিবার্য।
=== অধ্যায় ৭৬ ===
[[File:Bischheim Temple38.JPG|thumb|আমি মমতার দর্শনে বুঝেছিলাম।]]
* '''আমি শ্রদ্ধাশীল ভয় সম্পর্কে খুব কম বলি, কারণ আমার আশা আছে এটি উপরের এই বিষয়ে দেখা যেতে পারে। কিন্তু আমি জানি আমাদের প্রভু আমাকে এমন কোনো আত্মা দেখাননি যারা তাঁকে ভয় পায় না। কারণ আমি জানি যে আত্মা সত্যিকার অর্থে পবিত্র আত্মার শিক্ষা গ্রহণ করে, তা পাপকে তার জঘন্যতা ও ভয়াবহতার জন্য নরকে থাকা সমস্ত বেদনার চেয়েও বেশি ঘৃণা করে।''' কারণ যে আত্মা আমাদের প্রভু যিশুর সুন্দর প্রকৃতির দিকে তাকায়, আমার দৃষ্টিতে সে পাপ ছাড়া কোনো নরক ঘৃণা করে না। এবং তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা পাপকে জানি, এবং ব্যস্তভাবে প্রার্থনা করি ও আন্তরিকভাবে পরিশ্রম করি এবং নম্রভাবে শিক্ষা খুঁজি যেন আমরা অন্ধভাবে তার মধ্যে না পড়ি। এবং যদি আমরা পড়ি, তবে আমরা যেন দ্রুত উঠে পড়ি। কারণ পাপের দ্বারা কোনো সময় ঈশ্বর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আত্মার জন্য সবচেয়ে বড় বেদনা।
* '''যে আত্মা বিশ্রামে থাকতে চায় যখন অন্য মানুষের পাপ মনে পড়ে, সে তাকে নরকের বেদনার মতো পালাবে, প্রতিকারের জন্য ঈশ্বরের কাছে খুঁজবে, এর বিরুদ্ধে সাহায্যের জন্য।''' কারণ অন্য মানুষের পাপের দিকে তাকানো আত্মার চোখের সামনে একটি ঘন কুয়াশার মতো তৈরি করে, এবং আমরা সেই সময়ের জন্য ঈশ্বরের সৌন্দর্য দেখতে পাই না, যদি না আমরা তার সাথে অনুতাপের সাথে, তার প্রতি মমতার সাথে এবং তার জন্য ঈশ্বরের প্রতি পবিত্র আকাঙ্ক্ষার সাথে তাদের দেখতে পাই। কারণ এটি ছাড়া, যে তাদের দেখে সেই আত্মাকে তা ক্ষতি করে, উদ্বিগ্ন করে ও বাধা দেয়। কারণ আমি মমতার দর্শনে এটি বুঝেছিলাম।
* '''আমাদের প্রভুর এই আনন্দময় দর্শনে আমি দুটি বিপরীত জিনিসের বোধ পেয়েছি: একটি হলো এই জীবনে কোনো প্রাণীর সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা, অন্যটি হলো সবচেয়ে বড় মূর্খতা।''' সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা হলো একটি প্রাণীর তার সর্বোচ্চ সার্বভৌম বন্ধুর ইচ্ছা ও পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা। এই ধন্য বন্ধু হলেন যিশু, এবং এটি তাঁর ইচ্ছা ও তাঁর পরামর্শ যে আমরা তাঁর সাথে থাকি, এবং তাঁর সাথে আপন হয়ে লেগে থাকি। চিরকাল, আমরা যে অবস্থাতেই থাকি না কেন। কারণ আমরা অপরিষ্কার বা পরিষ্কার যাই হই না কেন, তাঁর ভালোবাসায় আমরা সবাই এক। সুখ বা দুঃখের জন্য তিনি কখনোই চান না যেন আমরা তাঁর থেকে পালাই। কিন্তু আমাদের নিজেদের যে পরিবর্তনশীলতা আছে তার কারণে, আমরা প্রায়শই পাপে পড়ি। তখন আমাদের শত্রুর তাড়নায় এবং আমাদের নিজস্ব মূর্খতা ও অন্ধত্বের কারণে এটি ঘটে: কারণ তারা এভাবে বলে: ''তুমি দেখছ যে তুমি একজন জঘন্য প্রাণী, একজন পাপী, এবং অবিশ্বস্তও। কারণ তুমি আদেশ পালন করছ না; তুমি বারবার আমাদের প্রভুর কাছে প্রতিজ্ঞা করছ যে তুমি ভালো হবে, এবং তারপরেই, তুমি আবার একই পাপে পড়ছ, বিশেষ করে অলসতা ও সময় নষ্ট করায়।'' কারণ আমার দৃষ্টিতে এটিই পাপের শুরু এবং বিশেষ করে সেই প্রাণীদের জন্য যারা তাদের ধন্য কল্যাণের অভ্যন্তরীণ দর্শনের সাথে আমাদের প্রভুর সেবা করতে নিজেদের দিয়েছে। এবং এটি আমাদের আমাদের সৌজন্যশীল প্রভুর সামনে উপস্থিত হতে ভয় দেখায়। '''এভাবেই আমাদের শত্রু আমাদের তার মিথ্যা ভয় দিয়ে, আমাদের জঘন্যতার, সেই বেদনা দিয়ে যা সে আমাদের হুমকি দেয়, পিছিয়ে দিতে চায়। কারণ তার অর্থ হলো আমাদের এত ভারাক্রান্ত ও ক্লান্ত করা, যেন আমাদের চিরন্তন বন্ধুর সুন্দর, আনন্দময় দর্শন মন থেকে মুছে ফেলি।'''
=== অধ্যায় ৭৭ ===
* '''আমাদের ভালো প্রভু শয়তানের শত্রুতা দেখালেন: যে দর্শনে আমি বুঝলাম যে ভালোবাসা ও শান্তির বিপরীত সবকিছুই শয়তানের ও তার অংশের।''' এবং আমাদের, আমাদের দুর্বলতা ও মূর্খতার কারণে, পড়ার প্রবণতা আছে। এবং আমাদের, পবিত্র আত্মার দয়া ও কৃপার কারণে, আরও আনন্দে ওঠার সুযোগ আছে।
* আসুন আমাদের চিন্তায় এভাবে বলি: ''আমি জানি আমার তীব্র বেদনা আছে। কিন্তু আমাদের প্রভু সর্বশক্তিমান এবং আমাকে শক্তভাবে শাস্তি দিতে পারেন এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং আমাকে বুঝেশুনে শাস্তি দিতে পারেন; এবং তিনি সর্ব-কল্যাণ এবং আমাকে খুব কোমলভাবে ভালোবাসেন।'' এবং এই দর্শনে আমাদের অবস্থান করা প্রয়োজন। কারণ এটি একটি পাপী আত্মার প্রেমময় নম্রতা, যা পবিত্র আত্মার দয়া ও কৃপায় তৈরি, যখন আমরা স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে আমাদের প্রভুর চাবুক ও শাসন গ্রহণ করি যা তিনি নিজে আমাদের দেবেন। এবং এটি খুব কোমল ও সহজ হবে, যদি আমরা কেবল তাঁর সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে সন্তুষ্ট থাকি।
* মানুষ নিজে যে প্রায়শ্চিত্ত গ্রহণ করে তা আমাকে দেখানো হয়নি: অর্থাৎ, তা নির্দিষ্ট করে দেখানো হয়নি। কিন্তু বিশেষভাবে ও উঁচুমানে এবং খুব প্রেমময় দৃষ্টিতে এটি দেখানো হয়েছিল যে, আমাদের নম্রভাবে বহন করতে হবে ও সহ্য করতে হবে সেই প্রায়শ্চিত্ত যা ঈশ্বর নিজে আমাদের দেন, তাঁর ধন্য দুঃখভোগের স্মরণের সাথে।
* তিনি বলেন:''' ''নিজেকে খুব বেশি দোষ দিও না, এই ভেবে যে তোমার কষ্ট ও তোমার শোক সব তোমার দোষের জন্য। কারণ আমি চাই না তুমি অবিবেচকের মতো ভারাক্রান্ত বা শোকাহত হও। কারণ আমি তোমাকে বলি, তুমি যা-ই করো না কেন, তোমার দুঃখ থাকবেই। এবং তাই আমি চাই তুমি বুদ্ধিমত্তার সাথে তোমার প্রায়শ্চিত্ত জানো; এবং সত্যে দেখবে যে তোমার সমস্ত জীবনই লাভজনক প্রায়শ্চিত্ত।'' '''
* এই স্থানটি কারাগার এবং এই জীবনটি প্রায়শ্চিত্ত, এবং প্রতিকারে তিনি চান যেন আমরা আনন্দ করি। প্রতিকার হলো আমাদের প্রভু আমাদের সাথে আছেন, রক্ষা করছেন এবং আনন্দের পূর্ণতায় নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে এটি আমাদের জন্য এক অন্তহীন আনন্দ, যে তিনি, যিনি আমাদের সুখ হবেন যখন আমরা সেখানে থাকব, তিনিই আমাদের রক্ষক যখন আমরা এখানে আছি। আমাদের পথ ও আমাদের স্বর্গ হলো প্রকৃত ভালোবাসা ও নিশ্চিত ভরসা এবং এর সবকিছুর বিষয়ে তিনি বোধ দিয়েছেন এবং বিশেষ করে দুঃখভোগের দর্শনে যেখানে তিনি আমাকে আমার স্বর্গ হিসেবে তাঁকে বেছে নিতে শক্তভাবে উৎসাহিত করেছেন।
* আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু চান যেন আমরা তাঁর সাথে এতটাই আপন হই যতটা হৃদয় ভাবতে পারে বা আত্মা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে। কিন্তু সাবধান, আমরা যেন এই আপনতাকে এত বেপরোয়াভাবে না নিই যে সৌজন্য হারিয়ে ফেলি। কারণ আমাদের প্রভু নিজে পরম আপনতা, এবং তিনি যতটা আপন, ততটাই সৌজন্যশীল: কারণ তিনি সত্যই সৌজন্যশীল। এবং ধন্য প্রাণীরা যারা চিরকাল তাঁর সাথে স্বর্গে থাকবে, তিনি চান তারা যেন সব কিছুতে তাঁর মতো হয়। এবং আমাদের প্রভুর মতো পুরোপুরি হওয়া, তা-ই আমাদের প্রকৃত পরিত্রাণ ও আমাদের পূর্ণ আনন্দ।
=== অধ্যায় ৭৮ ===
* আমাদের প্রভু তাঁর দয়া ও কৃপার মিষ্টি আলোতে আমাদের পাপ ও দুর্বলতা দেখান। কারণ আমাদের পাপ এতটাই জঘন্য ও ভয়াবহ যে তিনি তাঁর সৌজন্যে তা আমাদের সামনে দেখাবেন না যদি না তাঁর কৃপা ও দয়ার আলোতে।
* তাই চারটি জিনিসের জ্ঞান তাঁর ইচ্ছা: প্রথমটি হলো, তিনি আমাদের ভিত্তি যার থেকে আমরা আমাদের সমস্ত জীবন ও অস্তিত্ব পাই। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি আমাদের পাপের সময়ে এবং আমাদের সমস্ত শত্রুদের মাঝে, যারা আমাদের ওপর খুব ক্রুদ্ধ, আমাদের শক্তভাবে ও দয়াপূর্বক রক্ষা করেন; এবং আমরা এতটাই বেশি বিপদে আছি কারণ আমরা তাদের সুযোগ দিই, এবং আমাদের নিজস্ব প্রয়োজন জানি না। তৃতীয়টি হলো, তিনি কত সৌজন্যের সাথে আমাদের রক্ষা করেন, এবং ''আমাদের জানতে সাহায্য করেন'' যে আমরা ভুল পথে চলছি। চতুর্থটি হলো, তিনি কত অটলভাবে আমাদের জন্য অপেক্ষা করেন এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেন না। কারণ তিনি চান যেন আমরা পরিবর্তিত হই এবং ভালোবাসায় তাঁর সাথে একীভূত হই যেমন তিনি আমাদের সাথে।
* এভাবেই এই কৃপাপূর্ণ জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা হতাশ না হয়ে লাভজনকভাবে আমাদের পাপ দেখতে পারি।
* আমাদের প্রভু আমাদের যা দেখান তার কম দর্শনের মাধ্যমে, যা আমরা দেখি না তা আরও বেশি গণনা করা হয়। কারণ তিনি তাঁর সৌজন্যে আমাদের দর্শন পরিমাপ করেন। কারণ এটি এতটাই জঘন্য ও ভয়াবহ যে আমরা তা যেভাবে আছে সেভাবে সহ্য করতে পারতাম না।
* আমি শিখলাম যে যদিও আমরা আমাদের প্রভুর বিশেষ উপহার দ্বারা ধ্যানের জন্য উঁচুতে উত্তোলিত হই, তবুও আমাদের পাপ ও দুর্বলতার জ্ঞান ও দর্শন থাকা প্রয়োজন। কারণ এই জ্ঞান ছাড়া আমাদের প্রকৃত নম্রতা থাকতে পারে না, এবং এটি ছাড়া আমরা রক্ষা পেতে পারি না। <br> এবং পরে, আমি আরও দেখলাম যে আমরা এই জ্ঞান আমাদের নিজেদের থেকে পেতে পারি না। আমাদের কোনো আধ্যাত্মিক শত্রুর থেকেও না। কারণ তারা আমাদের এত বড় মঙ্গল চায় না। কারণ যদি তা তাদের ইচ্ছা হতো, তবে আমাদের শেষ দিন পর্যন্ত আমরা তা দেখতাম না। তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছে বড়ই ঋণী যে তিনি নিজে, ভালোবাসার জন্য, দয়া ও কৃপার সময়ে এটি আমাদের দেখাবেন।
=== অধ্যায় ৭৯ ===
* তিনি যে আমাকে দেখালেন যে আমি পাপ করব, আমি তা কেবল আমার নিজের একক ব্যক্তির জন্য নিলাম, কারণ সেই সময়ে আমি অন্য কিছু দেখানো হয়নি। কিন্তু আমাদের প্রভুর মহান, কৃপাপূর্ণ সান্ত্বনার দ্বারা যা পরে এসেছিল, আমি দেখলাম যে তাঁর অর্থ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য: অর্থাৎ, সব-মানুষ; যে পাপী এবং শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে। যার আমি একজন সদস্য, যেমন আমি আশা করি, ঈশ্বরের দয়ায়। কারণ আমি যে ধন্য সান্ত্বনা দেখেছি, তা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট। '''এবং এখানে আমি শিখলাম যে আমার নিজের পাপ দেখা উচিত, এবং অন্য মানুষের পাপ নয় যদি না তা আমার সহ-খ্রিষ্টানদের সান্ত্বনা ও সাহায্যের জন্য হয়।'''
* এছাড়া একই দর্শনে যেখানে আমি দেখলাম যে আমি পাপ করব, সেখানে আমি নিজেকে অনিশ্চয়তার জন্য ভয় পেতে শিখলাম। কারণ আমি জানি না আমি কীভাবে পড়ব, বা আমি পাপের পরিমাণ বা মহানতা জানি না। কারণ আমি তা ভয়ের সাথে জানতে চেয়েছিলাম, এবং তার জন্য আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না। <br> এছাড়া আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু একই সময়ে তাঁর ভালোবাসার অন্তহীনতা ও অপরিবর্তনীয়তা খুব নিশ্চিতভাবে ও শক্তভাবে দেখালেন; এবং, পরে, যে তাঁর মহান কল্যাণ ও তাঁর কৃপা অভ্যন্তরীণভাবে রক্ষা করায়, তাঁর ভালোবাসা ও আমাদের আত্মা কখনোই দুই ভাগে বিভক্ত হবে না, চিরকাল। <br> এবং এভাবেই এই ভয়ে আমার নম্রতার সামগ্রী আছে যা আমাকে অহংকার থেকে বাঁচায়, এবং ভালোবাসার ধন্য দর্শনে আমার প্রকৃত সান্ত্বনা ও আনন্দের সামগ্রী আছে যা আমাকে হতাশা থেকে বাঁচায়।
* তিনি চান যেন আমরা তাঁর মাধুর্য ও আপন ভালোবাসার মাধ্যমে জানি যে, আমরা ভেতরে বা বাইরে যা কিছু দেখি বা অনুভব করি, যা এর বিপরীত তা শত্রুর এবং ঈশ্বরের নয়। এবং এভাবেই যদি আমরা আমাদের জীবন বা আমাদের হৃদয়ের রক্ষার ব্যাপারে আরও বেপরোয়া হতে অনুপ্রাণিত হই কারণ আমরা এই প্রচুর ভালোবাসার জ্ঞান পেয়েছি। তবে আমাদের খুব সাবধান হতে হবে। কারণ এই অনুপ্রেরণা, যদি আসে, তা সত্য নয় এবং আমাদের এটিকে ঘৃণা করা উচিত, কারণ এর সবকিছুর ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে কোনো মিল নেই। এবং যখন আমরা পড়ি, দুর্বলতা বা অন্ধত্বে, তখন আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আমাদের স্পর্শ করেন ও অনুপ্রাণিত করেন ও ডাকেন এবং তখন তিনি চান যেন আমরা আমাদের জঘন্যতা দেখি এবং নম্রভাবে তা সচেতন হই। কিন্তু তিনি চান না যে আমরা এভাবে থাকি, না তিনি চান যে আমরা আমাদের অভিযোগের ব্যাপারে খুব ব্যস্ত থাকি, না তিনি চান যে আমরা নিজেদের নিয়ে জঘন্য হই। কিন্তু তিনি চান যেন আমরা দ্রুত নিজেদের তাঁর দিকে ফেরাই। কারণ তিনি সব দূরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং শোকাতুর ও দুঃখিত হয়ে অপেক্ষা করেন যতক্ষণ না আমরা আসি এবং আমাদের তাঁর কাছে পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেন। কারণ আমরাই তাঁর আনন্দ ও তাঁর সুখ এবং তিনি আমাদের মলম ও আমাদের জীবন।
=== অধ্যায় ৮০ ===
* তিনটি জিনিসের মাধ্যমে মানুষ এই জীবনে দাঁড়িয়ে থাকে। যার মাধ্যমে তিনটি ঈশ্বর পূজিত হন, এবং আমরা দ্রুতগতিতে, সংরক্ষিত ও রক্ষিত হই। <br> প্রথমটি হলো মানুষের স্বাভাবিক যুক্তির ব্যবহার। দ্বিতীয়টি হলো পবিত্র গির্জার সাধারণ শিক্ষা। তৃতীয়টি হলো পবিত্র আত্মার অভ্যন্তরীণ কৃপাপূর্ণ কাজ। এবং এই তিনটিই এক ঈশ্বরের: ঈশ্বর আমাদের স্বাভাবিক যুক্তির ভিত্তি এবং ঈশ্বর, পবিত্র গির্জার শিক্ষা এবং ঈশ্বর হলেন পবিত্র আত্মা। এবং সব ভিন্ন ভিন্ন উপহার যার প্রতি তিনি চান যেন আমরা বড় মনোযোগ দিই, এবং তার প্রতি মনোযোগী হই। কারণ এগুলো আমাদের মধ্যে অবিরাম একসাথে কাজ করে এবং এগুলো মহান জিনিস।
* তিনি এখানে আমাদের সাথে বাস করেন এবং এই জীবনে আমাদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তাঁর আনন্দে নিয়ে আসেন। এবং তিনি তা করবেন যতদিন পৃথিবীতে কোনো আত্মা থাকবে যে স্বর্গে আসবে এবং এতটাই যে যদি এমন কোনো আত্মা না থাকত কিন্তু একজন, তবে তিনি তার সাথে একা থাকতেন যতক্ষণ না তাকে তাঁর আনন্দে নিয়ে আসতেন।
* '''আমি ফেরেশতাদের পরিচর্যায় বিশ্বাস করি ও বুঝি, যেমন যাজকরা আমাদের বলেন: কিন্তু তা আমাকে দেখানো হয়নি। কারণ তিনি নিজেই নিকটতম ও নম্রতম, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন, এবং সব করেন।''' এবং কেবল আমাদের যা প্রয়োজন তা-ই নয় বরং তিনি সব করেন যা পূজনীয়, স্বর্গে আমাদের আনন্দের জন্য।
* যেখানে আমি বলি যে তিনি শোকাতুর ও আর্তনাদ করে অপেক্ষা করেন, তার অর্থ হলো সেই সমস্ত প্রকৃত অনুভূতি যা ''আমাদের'' নিজেদের মধ্যে আছে, অনুতাপ ও মমতায়, এবং সমস্ত শোক ও আর্তনাদ যে আমরা আমাদের প্রভুর সাথে একীভূত নই। এবং এই সমস্ত যা দ্রুতগতিতে কাজ করে, তা আমাদের মধ্যে খ্রিষ্ট। এবং যদিও আমাদের কেউ কেউ তা খুব কম অনুভব করে, তা খ্রিষ্ট থেকে কখনোই দূরে সরে যায় না যতক্ষণ না তিনি আমাদের সমস্ত বেদনা থেকে বের করে আনেন। '''কারণ ভালোবাসা কখনোই মমতা ছাড়া থাকতে পারে না।'''
=== অধ্যায় ৮১ ===
[[File:Image of Julian of Norwich.jpg|thumb|আমাদের ভালো ঈশ্বর নিজেকে বিভিন্ন ভাবে দেখিয়েছেন স্বর্গে ও পৃথিবীতে, কিন্তু আমি দেখলাম তিনি মানুষের আত্মা ছাড়া আর কোনো স্থান নেননি।]]
* '''আমাদের ভালো প্রভু নিজেকে বিভিন্ন ভাবে দেখিয়েছেন স্বর্গে ও পৃথিবীতে, কিন্তু আমি দেখলাম তিনি মানুষের আত্মায় ছাড়া আর কোনো স্থান নেননি।''' <br> তিনি পৃথিবীতে নিজেকে দেখিয়েছেন মিষ্টি অবতাররূপে এবং তাঁর ধন্য দুঃখভোগে। এবং অন্য ভাবে তিনি নিজেকে পৃথিবীতে দেখিয়েছেন যেখানে আমি বলি: ''আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখলাম''। এবং অন্য ভাবে তিনি নিজেকে পৃথিবীতে দেখিয়েছেন এইভাবে যেন তীর্থযাত্রায়: অর্থাৎ, '''তিনি এখানে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এবং থাকবেন যতক্ষণ না তিনি আমাদের সবাইকে স্বর্গে তাঁর আনন্দে নিয়ে আসছেন।''' তিনি নিজেকে বিভিন্ন সময়ে রাজত্ব করতে দেখিয়েছেন, যেমনটি উপরে বলা হয়েছে; কিন্তু প্রধানত মানুষের আত্মায়। তিনি সেখানে তাঁর বিশ্রামের স্থান ও তাঁর পূজনীয় নগরী নিয়েছেন: যে পূজনীয় আসন থেকে তিনি কখনোই উঠবেন না বা সরবেন না চিরকাল।
* চমৎকার ও রাজকীয় সেই স্থান যেখানে প্রভু বাস করেন, এবং তাই তিনি চান যেন আমরা তাঁর কৃপাপূর্ণ স্পর্শে দ্রুত সাড়া দিই, আমাদের ঘন ঘন পতনে শোক করার চেয়ে তাঁর অখণ্ড ভালোবাসায় বেশি আনন্দ করি। কারণ এটি তাঁর কাছে আমাদের যেকোনো কাজের চেয়ে সবচেয়ে বড় পূজা যে, আমরা আমাদের প্রায়শ্চিত্তে, তাঁর ভালোবাসার জন্য, আনন্দ ও খুশিতে বেঁচে থাকি। '''কারণ তিনি আমাদের এতটাই কোমলভাবে দেখেন যে তিনি আমাদের সমস্ত জীবনকে একটি প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে দেখেন:''' কারণ আমাদের মধ্যে প্রকৃতির আকাঙ্ক্ষা তাঁর কাছে আমাদের মধ্যে চিরস্থায়ী প্রায়শ্চিত্ত: যে প্রায়শ্চিত্ত তিনি আমাদের মধ্যে কাজ করেন এবং দয়াপূর্বক তিনি তা বহন করতে আমাদের সাহায্য করেন। কারণ তাঁর ভালোবাসা ''তাঁকে'' আকাঙ্ক্ষা করতে বাধ্য করে; তাঁর প্রজ্ঞা ও তাঁর সত্য তাঁর ন্যায্যতার সাথে ''তাঁকে'' আমাদের এখানে সহ্য করতে বাধ্য করে: এবং একই ভাবে তিনি আমাদের মধ্যে তা দেখতে চান।
* '''তিনি চান যেন আমরা আমাদের হৃদয়গুলোকে অতিক্রমের ওপর স্থাপন করি: অর্থাৎ, আমরা যে বেদনা অনুভব করি তা থেকে আমরা যে আনন্দের ওপর ভরসা করি তাতে।'''
=== অধ্যায় ৮২ ===
[[File:Taijitu polarity.PNG|thumb|এখানে আমি বুঝেছিলাম যে প্রভু সেবককে মমতার সাথে দেখেন এবং দোষের সাথে নয়।]]
[[File:Blake jacobsladder.jpg|thumb|যদি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রেমিক থাকে যে পতনের হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষা পায়, তবে আমি তা জানি না। কারণ তা আমাকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এটি দেখানো হয়েছিল: যে পতনে ও উত্থানে আমরা চিরকাল এক ভালোবাসায় মূল্যবানভাবে সংরক্ষিত।]]
* '''কিন্তু এখানে আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আত্মার আর্তনাদ ও শোক দেখালেন, এইভাবে নির্দেশ করে: আমি ভালো জানি তুমি আমার ভালোবাসার জন্য বাঁচতে চাও, আনন্দের সাথে ও খুশিতে সেই সমস্ত প্রায়শ্চিত্ত সহ্য করে যা তোমার কাছে আসতে পারে; কিন্তু যেহেতু তুমি পাপ ছাড়া বাঁচো না, তুমি আমার ভালোবাসার জন্য সহ্য করতে চাইতে, সমস্ত দুঃখ, সমস্ত কষ্ট ও দুর্দশা যা তোমার কাছে আসতে পারে। এবং তা সত্য।''' কিন্তু তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে পাপ তোমার ওপর পড়ে তা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হয়ো না। <br> '''এবং এখানে আমি বুঝলাম যে প্রভু সেবককে মমতার সাথে দেখেন এবং দোষের সাথে নয়।''' কারণ এই ক্ষণস্থায়ী জীবন সব দোষ ও পাপ ছাড়া বাঁচার দাবি করে না।
* '''যদি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রেমিক থাকে যে পতনের হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষা পায়, তবে আমি তা জানি না। কারণ তা আমাকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এটি দেখানো হয়েছিল। যে পতনে ও উত্থানে আমরা চিরকাল এক ভালোবাসায় মূল্যবানভাবে সংরক্ষিত।''' কারণ ঈশ্বরের দর্শনে আমরা পড়ি না, এবং নিজেদের দর্শনে আমরা দাঁড়াই না এবং আমার দৃষ্টিতে এই উভয়ই সত্য। কিন্তু আমাদের প্রভু ঈশ্বরের দর্শন হলো সর্বোচ্চ সত্য। তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছে খুব ঋণী যে তিনি এই জীবনে আমাদের এই উচ্চ সত্য দেখাতে চান। এবং আমি বুঝলাম যে আমরা যখন এই জীবনে থাকি, আমাদের জন্য খুব দ্রুতগতিতে কাজ করে যে আমরা একই সাথে এই দুটি দেখি। কারণ উচ্চতর দর্শন আমাদের আধ্যাত্মিক শান্তি ও ঈশ্বরে প্রকৃত আনন্দে রাখে। অন্যটি যা নিম্নতর দর্শন তা আমাদের ভয়ে রাখে এবং নিজেদের নিয়ে লজ্জিত করে। কিন্তু আমাদের ভালো প্রভু সবসময় চান যেন আমরা উচ্চতর দর্শনে নিজেদের অনেক বেশি রাখি, এবং নিম্নতর দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান ত্যাগ না করি, যতক্ষণ না আমরা ওপরে উঠে আসি, যেখানে আমরা আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের পুরস্কার হিসেবে পাব এবং চিরকাল আনন্দ ও সুখে পূর্ণ হব।
=== অধ্যায় ৮৩ ===
* আমি ঈশ্বরের তিনটি বৈশিষ্ট্যের স্পর্শ, দর্শন ও অনুভূতি কিছুটা পেয়েছিলাম, যার মধ্যে সমস্ত প্রত্যাদেশের শক্তি ও প্রভাব দাঁড়িয়ে আছে: এবং তারা প্রতিটি দর্শনে দেখা গিয়েছিল, এবং দ্বাদশ দর্শনে সবচেয়ে যথাযথভাবে, যেখানে এটি বারবার বলে: '''বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: জীবন, ভালোবাসা এবং আলো।''' জীবনে আছে চমৎকার আপনতা, এবং ভালোবাসায় আছে ভদ্র সৌজন্য, এবং আলোতে আছে অন্তহীন প্রকৃতি-সত্তা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি কল্যাণে ছিল: যে কল্যাণের সাথে আমার যুক্তি একীভূত হতে চাইত, এবং তার সমস্ত শক্তি দিয়ে তা আঁকড়ে ধরতে চাইত।
* আমি শ্রদ্ধাশীল ভয়ে তাকালাম, এবং মিষ্টি ঐক্যের দর্শন ও অনুভূতির মধ্যে খুব বিস্মিত হলাম, যে আমাদের যুক্তি ঈশ্বরের মধ্যে আছে; বুঝে যে এটি আমাদের পাওয়া সর্বোচ্চ উপহার; এবং এটি প্রকৃতিতে ভিত্তি করা।
* আমাদের বিশ্বাস আমাদের অন্তহীন দিন থেকে প্রকৃতিগতভাবে আসা একটি আলো, যিনি আমাদের পিতা, ঈশ্বর। যে আলোতে আমাদের মা, খ্রিষ্ট, এবং আমাদের ভালো প্রভু, পবিত্র আত্মা, আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে নেতৃত্ব দেন। '''এই আলোটি বিচক্ষণতার সাথে পরিমাপ করা হয়, রাতে আমাদের জন্য প্রয়োজনের সাথে দাঁড়িয়ে। আলো আমাদের জীবনের কারণ৷ রাত আমাদের বেদনা ও আমাদের সমস্ত দুঃখের কারণ: যে রাতে আমরা ঈশ্বরের পুরস্কার ও ধন্যবাদ অর্জন করি।''' কারণ আমরা, দয়া ও কৃপার সাথে, অটলভাবে আমাদের আলোকে জানি ও বিশ্বাস করি, তাতে বুদ্ধিমত্তার সাথে ও শক্তভাবে চলি।
* এভাবেই আমি দেখলাম ও বুঝলাম যে আমাদের বিশ্বাস আমাদের রাতে আমাদের আলো: যে আলো হলো ঈশ্বর, আমাদের অন্তহীন দিন।
=== অধ্যায় ৮৪ ===
* '''আলো হলো দাতব্য, এবং এই আলোর পরিমাপ আমাদের জন্য ঈশ্বরের প্রজ্ঞা দ্বারা লাভজনকভাবে করা হয়।''' কারণ আলো এত বড় নয় যে আমরা আমাদের আনন্দময় দিন দেখতে পাই, আবার এটি আমাদের থেকে বন্ধও নয়; বরং এটি এমন একটি আলো যাতে আমরা পুরস্কারের যোগ্যভাবে বাঁচতে পারি, পরিশ্রমের সাথে ঈশ্বরের অন্তহীন পূজার যোগ্য হয়ে।
* '''দাতব্য আমাদের বিশ্বাস ও আশায় রাখে, এবং আশা আমাদের দাতব্য কাজে নেতৃত্ব দেয়। এবং শেষে সবকিছুই হবে দাতব্য।'''
* আমি এই আলো, দাতব্যের তিন ধরণের বোধ পেয়েছিলাম। প্রথমটি হলো অনির্মিত দাতব্য; দ্বিতীয়টি হলো নির্মিত দাতব্য। তৃতীয়টি হলো প্রদত্ত দাতব্য। অনির্মিত দাতব্য হলো ঈশ্বর। নির্মিত দাতব্য হলো ঈশ্বরে আমাদের আত্মা। প্রদত্ত দাতব্য হলো গুণ। এবং তা কাজের এক মূল্যবান উপহার যাতে আমরা ঈশ্বরকে ভালোবাসি, তাঁর নিজের জন্য; এবং নিজেদের, ঈশ্বরের মধ্যে এবং যা ঈশ্বর ভালোবাসেন, ঈশ্বরের জন্য।
=== অধ্যায় ৮৫ ===
* এই দর্শনে আমি খুব বিস্মিত হলাম। কারণ আমাদের সহজ জীবন ও আমাদের অন্ধত্ব থাকা সত্ত্বেও, চিরকাল আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আমাদের এই কাজে দেখেন, আনন্দে এবং সবকিছুর মধ্যে, আমরা তাঁকে বিশ্বাস করতে এবং তাঁর সাথে ও তাঁর মধ্যে আনন্দ করতে সবচেয়ে ভালো প্রজ্ঞার সাথে ও সত্যভাবে সন্তুষ্ট করতে পারি। কারণ আমরা যেমন চিরকাল ঈশ্বরের আনন্দে থাকব, তাঁকে প্রশংসা ও ধন্যবাদ দিয়ে, ঠিক তেমনই আমরা ঈশ্বরের দূরদৃষ্টিতে আছি, তাঁর অন্তহীন উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই পরিচিত ও সমাদৃত। যে অনাদি ভালোবাসায় তিনি আমাদের তৈরি করেছেন এবং একই ভালোবাসায় তিনি আমাদের রক্ষা করেন এবং কখনোই আমাদের আঘাত পেতে দেন না যার দ্বারা আমাদের আনন্দ হারিয়ে যেতে পারে। '''এবং তাই যখন বিচার দেওয়া হয় এবং আমরা সবাই ওপরে উঠে আসি, তখন আমরা স্পষ্টভাবে ঈশ্বরের মধ্যে গোপন জিনিসগুলো দেখতে পাব যা এখন আমাদের কাছে লুকানো আছে।''' তখন আমাদের কেউই কোনোভাবে বলতে অনুপ্রাণিত হব না: ''প্রভু, যদি এমন হতো, তবে তা খুব ভালো হতো'' বরং আমরা সবাই এক স্বরে বলব: ''প্রভু, তুমি ধন্য হও, কারণ এটি এমন: এটি ভালো; এবং এখন আমরা সত্যভাবে দেখছি যে সবকিছুই করা হয়েছে যেমনটি তখন নির্ধারিত ছিল কোনো কিছু তৈরি হওয়ার আগে।''
=== অধ্যায় ৮৬ ===
[[File:Double-alaskan-rainbow.jpg|thumb|তুমি কি এই বিষয়ে তোমার প্রভুর অর্থ জানতে চাও? ভালো করে জানো: ভালোবাসা ছিল তাঁর অর্থ। কে তোমাকে এটি দেখিয়েছে? ভালোবাসা। তিনি তোমাকে কী দেখিয়েছেন? ভালোবাসা। কেন তিনি এটি দেখিয়েছেন? ভালোবাসার জন্য। এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো এবং তুমি একই বিষয়ে আরও শিখবে ও জানবে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্য কিছু জানবে না বা শিখবে না। এভাবেই আমি শিখলাম যে ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রভুর অর্থ।]]
* এই বইটি ঈশ্বরের উপহার ও তাঁর কৃপা দ্বারা শুরু হয়েছে, কিন্তু তা এখনও সম্পন্ন হয়নি, আমার দৃষ্টিতে।
* '''দাতব্যের জন্য আমরা সবাই প্রার্থনা করি'''। ঈশ্বরের কাজের সাথে, ধন্যবাদ দিয়ে, ভরসা করে, আনন্দ করে। কারণ এভাবেই আমাদের ভালো প্রভু প্রার্থনা পেতে চান, আমার নেওয়া তাঁর নিজস্ব অর্থ ও মিষ্টি শব্দগুলোর বোধ অনুযায়ী যেখানে তিনি খুব আনন্দের সাথে বলেন: '''''আমিই তোমার প্রার্থনার ভিত্তি।'''''' কারণ আমি সত্যই আমাদের প্রভুর অর্থে দেখলাম ও বুঝলাম যে তিনি এটি দেখালেন কারণ তিনি চান যেন তা পরিচিত হোক যতটা এখন আছে তার চেয়ে বেশি: যে জ্ঞানে তিনি আমাদের কৃপা দেবেন যেন আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁকে আঁকড়ে ধরি। কারণ তিনি তাঁর স্বর্গীয় সম্পদকে পৃথিবীতে এত মহান ভালোবাসার সাথে দেখেন যে তিনি চান যেন আমাদের আরও আলো ও স্বর্গীয় আনন্দে সান্ত্বনা দেন, আমাদের হৃদয় গুলোকে তাঁর দিকে টেনে নেওয়ার জন্য, যে দুঃখ ও অন্ধকারের মধ্যে আমরা আছি।
* সেই সময় থেকে যখন এটি দেখানো হয়েছিল, আমি অনেকবার জানতে চেয়েছিলাম আমাদের প্রভুর অর্থ কী ছিল। এবং পনেরো বছর পর, এবং আরও বেশি, আমাকে আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে উত্তর দেওয়া হয়েছিল, এভাবে বলে: ''তুমি কি এই বিষয়ে তোমার প্রভুর অর্থ জানতে চাও? ভালো করে জানো: '''ভালোবাসা ছিল তাঁর অর্থ'''। কে তোমাকে এটি দেখিয়েছে? '''ভালোবাসা'''। তিনি তোমাকে কী দেখিয়েছেন? '''ভালোবাসা'''। কেন তিনি এটি দেখিয়েছেন? '''ভালোবাসার জন্য'''। এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো এবং তুমি একই বিষয়ে আরও শিখবে ও জানবে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্য কিছু জানবে না বা শিখবে না।'' '''এভাবেই আমি শিখলাম যে ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রভুর অর্থ।'''
* '''আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে ঈশ্বর আমাদের তৈরি করার আগে তিনি আমাদের ভালোবাসতেন। যে ভালোবাসা কখনোই কমে যায়নি, বা কখনোই যাবে না। এবং এই ভালোবাসায় তিনি তাঁর সমস্ত কাজ করেছেন এবং এই ভালোবাসায় তিনি আমাদের জন্য সমস্ত কিছু লাভজনক করেছেন এবং এই ভালোবাসায় আমাদের জীবন চিরন্তন। আমাদের তৈরির মধ্যে আমাদের শুরু ছিল। কিন্তু যে ভালোবাসায় তিনি আমাদের তৈরি করেছেন তা তাঁর মধ্যে ছিল শুরু ছাড়াই: যে ভালোবাসায় আমাদের শুরু আছে। এবং এই সবকিছু আমরা ঈশ্বরে দেখব, শেষ ছাড়াই।'''
== নরিচের জুলিয়ান সম্পর্কে উক্তি ==
* '''নরিচের ঘণ্টা বাজে জোরে, মানুষ আসে আর যায়। <br /> জুলিয়ানের এই মিনারের পাশে, যা জানি তা বলি তাই।'''
** সিডনি কার্টার, "জুলিয়ান অফ নরিচ" (১৯৮৩) গানে। এটি "দ্য বেলস অফ নরিচ" নামেও পরিচিত।
*** [https://www.youtube.com/watch?v=I-irwWT3oYg গর্ডন বক, অ্যান মায়ো মুইর ও এড ট্রিকিটের রেকর্ড করা সংস্করণ]
*** [https://www.youtube.com/watch?v=I8vK2jK-UsI সং-আ-ডে প্রজেক্ট (১৯ জুলাই, ২০১১) - বেলস অফ নরিচ]
*** [https://www.youtube.com/watch?v=s-sTbvkY_l4 অ্যালবিয়ন ক্রিসমাস ব্যান্ডের পরিবেশনায়, কার্টার ও জুলিয়ানকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত ভূমিকা সহ]
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia|জুলিয়ান অফ নরিচ}}
{{commonscat|Julian of Norwich}}
* [http://www.umilta.net/julian.html দ্য জুলিয়ান সাইট]
* [http://www.luminarium.org/medlit/julian.htm লুমিনারিয়াম: জুলিয়ান অফ নরিচ]
* [http://www.newadvent.org/cathen/08557a.htm ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়ায় নরিচের জুলিয়ান বিষয়ক নিবন্ধ]
* ''[http://www.ccel.org/j/julian/revelations/index.html রিভেলেশন্স অব ডিভাইন লাভ]'', বিভিন্ন ফরম্যাটে
* ''[http://www.umilta.net/hertexts.html জুলিয়ান অফ নরিচ, টেক্সটস]'', 'জুলিয়ান অফ নরিচ, হার টেক্সটস অ্যান্ড কনটেক্সট' ওয়েবসাইটের একটি অংশ
* [http://www.poetseers.org/spiritual_and_devotional_poets/christian/julian মাদার জুলিয়ান অফ নরিচ] - নির্বাচিত প্রার্থনা ও কবিতা
[[বিষয়শ্রেণী:অকাল্পনিক সাহিত্য লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ধন্য ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের ক্যাথলিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের ধর্মতত্ত্ববিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খ্রিস্টীয় নেতৃবৃন্দ]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৩৪০-এর দশকে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৪১০-এর দশকে মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:রহস্যবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:নরিচের অধিবাসী]]
j8pc6qhce98tfbqwmuaelrcprqadlaz
83240
83239
2026-05-01T14:45:09Z
SMontaha32
3112
83240
wikitext
text/x-wiki
[[File:Julian of Norwich.jpg|thumb|right|আমাদের প্রভু ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে একটি কাজ সম্পন্ন হবে, এবং তিনি নিজেই তা করবেন, আর আমি কিছুই করব না কিন্তু পাপ করব, এবং আমার পাপ তাঁর [[মঙ্গলময়তা]] প্রকাশের পথে বাধা হবে না।]]
'''[[:w:নরিচের অফ জুলিয়ান|নরিচের জুলিয়ান]]''' (আনুমানিক ৮ নভেম্বর ১৩৪২ – আনুমানিক ১৪১৬) ছিলেন একজন ইংরেজ [[খ্রিস্টধর্ম|খ্রিস্টান]] রহস্যবাদী এবং ধর্মতত্ত্ববিদ। তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব সামান্যই জানা যায়। এমনকি তাঁর নামটিও নিশ্চিত নয়। "জুলিয়ান" নামটি সম্ভবত নরিচের সেন্ট জুলিয়ান গির্জা থেকে এসেছে, যেখানে তিনি একজন [[w:অ্যাঙ্কোরেস|অ্যাঙ্কোরেস]] (ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী) হিসেবে বসবাস করতেন।
[[File:Orvieto Pozzo San Patrizio 5.JPG|thumb|পাপ থাকাটা অপরিহার্য ছিল। কিন্তু সব ভালো হবে, এবং সব ভালো হবে এবং সব ধরণের জিনিসই ভালো হবে।]]
== ''[[w:ঐশ্বরিক ভালোবাসার প্রকাশ|ঐশ্বরিক ভালোবাসার প্রকাশ]]'' (আনুমানিক ১৩৯৩) ==
:<small>'''''"যিনি অক্ষর পড়তে পারতেন না, তাঁর প্রতি প্রকাশ, আনো ডম. ১৩৭৩"''''' : এই কর্মটি জুলিয়ান সম্পর্কে জানা প্রায় সমস্ত তথ্য প্রদান করে। এটি মূলত ১৩৭৩ সালের ১৩ এবং ১৪ই মে সংঘটিত বিভিন্ন দর্শনের একটি বিবরণ; যখন তিনি ত্রিশ বছর বয়সে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। প্রায় বিশ বছর পর একজন লেখকের মাধ্যমে এটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। প্রাচীন ইংরেজি থেকে এই কর্মটির বহু অনুবাদ হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন সংস্করণে এর বক্তব্যের বৈচিত্র্য এবং অর্থের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত হয়।</small>
=== অধ্যায় ১ ===
[[File:Emanation.png|thumb|এটি প্রেমের একটি প্রকাশ যা আমাদের অন্তহীন পরমানন্দ, যিশু খ্রিস্ট ষোলটি 'শিউইং' বা বিশেষ প্রকাশের মাধ্যমে ঘটিয়েছেন।]]
[[File:Goe Platz der Synagoge Detail 2.jpg|thumb|[[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] মঙ্গলময়তা দ্বারা আমরা দুঃখে ও সুখে সমানভাবে প্রেমে সুরক্ষিত।]]
* '''এটি প্রেমের একটি প্রকাশ যা আমাদের অন্তহীন পরমানন্দ, যিশু [[w:Christ|খ্রিস্ট]] ষোলটি 'শিউইং' (বা বিশেষ প্রকাশ) এর মাধ্যমে ঘটিয়েছেন।''' যার প্রথমটি হলো তাঁর কাঁটার মুকুট পরিধান এবং এর সাথেই ত্রিত্ববাদ, অবতারবাদ এবং ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যবর্তী ঐক্যকে অন্তর্ভুক্ত ও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যা অনন্ত প্রজ্ঞা এবং প্রেমের শিক্ষার সুন্দর প্রকাশ: যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সমস্ত প্রকাশগুলো প্রতিষ্ঠিত এবং একীভূত।
** শুরুর লাইনসমূহ
* আমাদের প্রভু ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান প্রজ্ঞা, সর্ব-প্রেম, তিনি যেমন সত্যই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তেমনই সত্যই তিনি প্রতিটি কাজ করেন ও সম্পন্ন করেন।
* '''আমরা ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা দ্বারা দুঃখে ও সুখে সমানভাবে প্রেমে সুরক্ষিত।'''
* আমাদের প্রভু যিশু প্রেমে তাঁর পরমানন্দময় হৃদয়কে আনন্দ সহকারে দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় প্রদর্শন করেন।
* আমাদের প্রভু ঈশ্বর চান যেন আমরা তাঁর করা সমস্ত কাজের প্রতি গভীর মনোযোগী হই: সবকিছুর সৃষ্টির মহান মহিমা এবং মানুষের সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব, যা তাঁর সমস্ত কাজের ঊর্ধ্বে এবং মানুষের পাপের জন্য তাঁর করা মূল্যবান প্রায়শ্চিত্ত, যা আমাদের সমস্ত অপরাধকে অন্তহীন উপাসনায় রূপান্তরিত করেছে। এই প্রকাশে আমাদের প্রভু আরও বলেন: '''"তাকাও এবং দেখো! কারণ যে শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মঙ্গলময়তা দিয়ে আমি এই সবকিছু করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মঙ্গলময়তা দিয়ে আমি সেই সবকিছুকেও ভালো করে তুলব যা ভালো নয়; এবং তুমি তা দেখতে পাবে।"''' এবং এতে তিনি চান যেন আমরা পবিত্র চার্চের বিশ্বাস ও সত্যে অবিচল থাকি, এখন তাঁর গোপন বিষয়গুলো দেখতে না চাই, কেবল ততটুকুই যা এই জীবনে আমাদের জন্য প্রযোজ্য।
* আমাদের প্রভু আমাদের প্রার্থনার ভিত্তি। এখানে দুটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়: একটি হলো ন্যায়পরায়ণ প্রার্থনা, অন্যটি হলো অটল বিশ্বাস। তিনি চান উভয়ই সমানভাবে বিস্তৃত হোক এবং এভাবেই আমাদের প্রার্থনা তাঁকে আনন্দিত করে এবং তিনি তাঁর মঙ্গলময়তা দিয়ে তা পূরণ করেন।
* আমরা হঠাৎ আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা এবং কষ্ট থেকে মুক্ত হব, এবং তাঁর মঙ্গলময়তা দিয়ে আমরা উপরে উঠে যাব, যেখানে আমরা আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের পুরস্কার হিসেবে পাব এবং স্বর্গে আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ হব।
=== অধ্যায় ২ ===
[[File:Statue of Dame Julian.JPG|thumb|আমি তোমার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাই না।]]
* '''এই প্রকাশগুলো ১৩৭৩ সালের ১৩ই মে, এক সাধারণ অক্ষরজ্ঞানহীন প্রাণীর কাছে প্রকাশিত হয়েছিল।''' যে প্রাণীটি পূর্বে ঈশ্বরের কাছে তিনটি বর চেয়েছিল। প্রথমটি ছিল তাঁর কষ্টের কথা স্মরণ; দ্বিতীয়টি ছিল যৌবনে, ত্রিশ বছর বয়সে শারীরিক অসুস্থতা; তৃতীয়টি ছিল ঈশ্বরের উপহার হিসেবে তিনটি ক্ষত লাভ করা।
* প্রথমটির ক্ষেত্রে, আমার মনে হয়েছিল খ্রিস্টের কষ্টের কিছুটা অনুভূতি আমার আছে, তবুও আমি ঈশ্বরের কৃপায় আরও বেশি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম। মনে হয়েছিল সেই সময়ে আমি যদি মেরি ম্যাগডালিন এবং খ্রিস্টের অন্যান্য প্রেমিকদের সাথে থাকতাম, তবে ভালো হতো। তাই আমি একটি শারীরিক দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলাম যাতে আমাদের পরিত্রাতার শারীরিক যন্ত্রণা এবং আমাদের লেডি (মেরি) ও তাঁর অন্যান্য সত্যিকারে প্রেমিকদের সহমর্মিতা সম্পর্কে আরও জ্ঞান লাভ করতে পারি। কারণ আমি তাদের একজন হতে এবং তাঁর সাথে কষ্ট ভোগ করতে চেয়েছিলাম। আত্মা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে অন্য কোনো দৃশ্য বা প্রকাশ চাইনি। এই আবেদনের কারণ ছিল যেন এই প্রকাশের পর খ্রিস্টের কষ্টের কথা আরও স্পষ্টভাবে মনে রাখতে পারি।
* দ্বিতীয়টি অনুশোচনার সাথে আমার মনে এসেছিল। মৃত্যুর মতো কঠিন অসুস্থতা কামনা করেছিলাম, যাতে সেই অসুস্থতায় আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করতে পারি। আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাব এবং যারা আমাকে দেখছিল তারাও একই ধারণা করেছিল: কারণ আমি জাগতিক জীবনের কোনো আরাম চাইনি। এই অসুস্থতায় আমি সব ধরণের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক যন্ত্রণা পেতে চেয়েছিলাম, যা একজন মানুষের মৃত্যুকালে হয় (শয়তানের সমস্ত ভয় ও ঝড়সহ), কেবল আত্মার বিচ্ছেদ ছাড়া। আমি এটা চেয়েছিলাম কারণ আমি ঈশ্বরের দয়ায় পবিত্র হতে চেয়েছিলাম এবং পরে সেই অসুস্থতার কারণে ঈশ্বরের উপাসনায় আরও বেশি জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম।
* কষ্টের এবং অসুস্থতার এই দুটি ইচ্ছা আমি একটি শর্তের সাথে চেয়েছিলাম, এভাবে বলে: '''"প্রভু, তুমি জানো আমি কী চাই, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে আমি তা পাব এবং যদি তোমার ইচ্ছা না হয়, ভালো প্রভু, অসন্তুষ্ট হইও না: কারণ আমি তোমার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাই না।"'''
* তৃতীয়টির জন্য, ঈশ্বরের কৃপা এবং পবিত্র চার্চের শিক্ষার মাধ্যমে আমি আমার জীবনে তিনটি ক্ষত লাভের প্রবল ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম: অর্থাৎ, গভীর অনুশোচনার ক্ষত, সদয় সহমর্মিতার ক্ষত এবং ঈশ্বরের প্রতি অটল আকাঙ্ক্ষার ক্ষত। এবং এই শেষ আবেদনটি আমি কোনো শর্ত ছাড়াই চেয়েছিলাম। <br> '''এই পূর্বোক্ত দুটি ইচ্ছা আমার মন থেকে চলে গেলেও, তৃতীয়টি আমার সাথে ক্রমাগত থেকে গিয়েছিল।'''
=== অধ্যায় ৩ ===
[[File:Waldmüller - Die letzte Ölung.jpeg|thumb|যখন আমার বয়স সাড়ে ত্রিশ, ঈশ্বর আমাকে শারীরিক অসুস্থতা দিলেন, যাতে আমি তিন দিন তিন রাত পড়েছিলাম; এবং চতুর্থ রাতে আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করেছিলাম এবং বেঁচে থাকার আশা করিনি।]]
[[File:The church of SS Andrew and Mary - St Julian of Norwich - geograph.org.uk - 1547398.jpg|thumb|আমি আমার বিচারবুদ্ধি এবং যন্ত্রণার অনুভূতি দ্বারা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার মৃত্যু হবে এবং আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্মত হয়েছিলাম।]]
* '''যখন আমার বয়স সাড়ে ত্রিশ, ঈশ্বর আমাকে শারীরিক অসুস্থতা দিলেন, যাতে আমি তিন দিন তিন রাত পড়েছিলাম এবং চতুর্থ রাতে আমি পবিত্র চার্চের সমস্ত বিধান পালন করেছিলাম এবং বেঁচে থাকার আশা করিনি।''' এর পরে আমি আরও দুই দিন দুই রাত অসুস্থ ছিলাম, এবং তৃতীয় রাতে আমি প্রায়শই ভেবেছি যে আমি চলে যাব; এবং যারা আমার সাথে ছিল তারাও তা-ই ভেবেছিল। <br> যৌবনের কারণে, আমার মৃত্যুতে খুব দুঃখ হয়েছিল।কিন্তু পৃথিবীর কোনো কিছুর জন্য নয় যা আমাকে বেঁচে থাকতে প্ররোচিত করত, বা কোনো যন্ত্রণার ভয়ে নয়: কারণ আমি ঈশ্বরের দয়ায় বিশ্বাসী ছিলাম। বরং আমি চেয়েছিলাম যেন আমি আরও ভালোভাবে এবং আরও দীর্ঘ সময় ঈশ্বরকে ভালোবাসতে পারি, যেন স্বর্গের পরমানন্দে ঈশ্বরের জ্ঞান ও ভালোবাসা বেশি পেতে পারি। কারণ আমি এখানে যেটুকু সময় বেঁচেছিলাম, তা সেই অনন্ত পরমানন্দের তুলনায় কিছুই না আমি তা কিছুই ভাবিনি।
* আমি আমার বিচারবুদ্ধি এবং যন্ত্রণার অনুভূতি দ্বারা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার মৃত্যু হবে এবং আমি আমার হৃদয়ের সমস্ত ইচ্ছায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্মত হয়েছিলাম। <br> এভাবে আমি দিন পর্যন্ত বেঁচে ছিলাম, এবং ততক্ষণে আমার শরীরের নিচের অংশ অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছিল। তখন আমি স্থির করেছিলাম যেন আমাকে সাহায্য নিয়ে সোজা করে বসানো হয়, যাতে আমার হৃদয়ের স্বাধীনতা থাকে ঈশ্বরের ইচ্ছায় থাকার জন্য, এবং যতক্ষণ জীবন আছে ঈশ্বরের কথা চিন্তা করার জন্য।
* আমার দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করল এবং ঘরের চারপাশ অন্ধকার হয়ে এল, যেন রাত হয়ে গেছে, কেবল ক্রুশবিদ্ধ মূর্তিতে আমি একটি সাধারণ আলো দেখতে পাচ্ছিলাম এবং আমি জানতাম না কীভাবে। ক্রুশের বাইরের সবকিছু আমার কাছে ভয়ানক মনে হচ্ছিল, যেন তা শয়তানদের দ্বারা দখল করা হয়েছে। <br> এরপর আমার শরীরের উপরের অংশ মরতে শুরু করল, এতটাই যে প্রায় কোনো অনুভূতি ছিল না, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এবং তখন আমি সত্যই ভেবেছিলাম যে আমি চলে যাচ্ছি। <br> এবং হঠাৎ আমার সমস্ত যন্ত্রণা দূর হয়ে গেল, এবং আমি (বিশেষ করে আমার শরীরের উপরের অংশে) আগের মতোই সুস্থ হয়ে উঠলাম। <br> এই আকস্মিক পরিবর্তনে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। কারণ মনে হয়েছিল এটি ঈশ্বরের গোপন কাজ, প্রকৃতির নয়। তবুও এই আরামের অনুভূতিতে আমি বেঁচে থাকার আশা করিনি বা এই আরাম আমার কাছে পূর্ণ আরাম ছিল না: কারণ আমি চেয়েছিলাম এই জগত থেকে মুক্তি পেতে।
* তখন হঠাৎ আমার মনে এল যে আমার প্রভুর কৃপায় দ্বিতীয় ক্ষতটি কামনা করা উচিত: যেন আমার শরীর তাঁর পবিত্র কষ্টের চিন্তা ও অনুভূতিতে পূর্ণ হয়। কারণ আমি চেয়েছিলাম তাঁর যন্ত্রণা যেন আমার যন্ত্রণা হয়, সহমর্মিতা এবং পরে ঈশ্বরের প্রতি আকাঙ্ক্ষার সাথে। কিন্তু এতে আমি কোনো শারীরিক দৃশ্য বা ঈশ্বরের প্রকাশ চাইনি, বরং এমন সহমর্মিতা চেয়েছিলাম যা একজন দয়ালু আত্মা আমাদের প্রভু যিশুর সাথে রাখতে পারে, যিনি প্রেমের জন্য মানুষ হতে চেয়েছিলেন: এবং তাই আমি তাঁর সাথে কষ্ট ভোগ করতে চেয়েছিলাম।
== প্রথম প্রকাশ (দ্য ফার্স্ট রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ৪ ===
[[File:Leonardo da Vinci 058.jpg|thumb|আমি তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে, শারীরিক সাদৃশ্যে দেখেছিলাম: এক সাধারণ কুমারী ও নম্র, অল্পবয়সী ও বালিকার চেয়ে সামান্য বড়, সেই উচ্চতায় যা তিনি ধারণ করেছিলেন যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন।]]
* হঠাৎ আমি দেখলাম কাঁটার মুকুটের নিচ থেকে তপ্ত ও তাজা রক্ত প্রচুর পরিমাণে গড়িয়ে পড়ছে, যেমনটা তাঁর কষ্টের সময়ে হয়েছিল যখন সেই কাঁটার মুকুট তাঁর পবিত্র মাথায় চেপে বসানো হয়েছিল। যিনি ঈশ্বর ও মানব উভয়ই, যিনি আমার জন্য এমন কষ্ট সহ্য করেছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে ও প্রবলভাবে অনুভব করলাম যে এটি তিনিই আমাকে দেখাচ্ছেন, কোনো মাধ্যম ছাড়াই। <br> এবং সেই একই প্রকাশে হঠাৎ ত্রিত্ববাদ আমার হৃদয়কে আনন্দে পূর্ণ করে দিল। এবং আমি বুঝতে পারলাম, যারা স্বর্গে আসবে, তাদের জন্য এটি অনন্তকাল ধরে থাকবে। কারণ ত্রিত্ববাদই ঈশ্বর: ঈশ্বরই ত্রিত্ববাদ। ত্রিত্ববাদ আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও রক্ষক, ত্রিত্ববাদ আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের মাধ্যমে আমাদের চিরন্তন প্রেম এবং চিরন্তন আনন্দ ও পরমানন্দ। এবং এটি প্রথম এবং সমস্ত প্রকাশেই দেখানো হয়েছিল: কারণ যেখানে যিশু উপস্থিত, সেখানে আমার দৃষ্টিতে পবিত্র ত্রিত্ববাদ অনুভূত হয়।
* পবিত্র কষ্টের এই দর্শনের মাধ্যমে, আমার উপলব্ধিতে দেখা ঈশ্বরত্বের সাথে, আমি ভালোভাবেই জানতাম যে, এটি আমার জন্য হ্যাঁ, এবং সমস্ত জীবিত প্রাণীর জন্য নরকের সমস্ত শয়তান ও আধ্যাত্মিক প্রলোভনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্তি।
* তিনি আমাদের পবিত্র লেডিকে (ম্যারি) আমার উপলব্ধিতে নিয়ে এলেন। '''আমি তাঁকে আধ্যাত্মিকভাবে, শারীরিক সাদৃশ্যে দেখেছিলাম: এক সাধারণ কুমারী ও নম্র, অল্পবয়সী ও বালিকার চেয়ে সামান্য বড়, সেই উচ্চতায় যা তিনি ধারণ করেছিলেন যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন।'''
=== অধ্যায় ৫ ===
[[File:JUL Iris Soul Palm.png|thumb|এই ক্ষুদ্র বস্তুতে আমি তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি। প্রথমটি হলো ঈশ্বর এটি তৈরি করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো ঈশ্বর একে ভালোবাসেন, তৃতীয়টি হলো, ঈশ্বর একে রক্ষা করেন।]]
* '''আমি দেখেছি যে তিনি আমাদের জন্য সবকিছুই যা ভালো এবং আরামদায়ক: তিনি আমাদের পোশাক যা প্রেমের জন্য আমাদের আবৃত করে, জড়িয়ে ধরে এবং কোমল ভালোবাসায় আমাদের সম্পূর্ণ ঘিরে রাখে, যেন তিনি আমাদের কখনও ত্যাগ করতে না পারেন। আমার উপলব্ধিতে তিনি আমাদের জন্য ভালো সবকিছুই।'''
* '''তিনি আমাকে আমার হাতের তালুতে একটি ক্ষুদ্র বস্তু দেখালেন, একটি হেজেল-নাটের মতো; এবং এটি বলের মতো গোলাকার ছিল। আমি আমার উপলব্ধির চোখ দিয়ে সেটির দিকে তাকালাম এবং ভাবলাম: "এটি কী হতে পারে?" এবং সাধারণত উত্তর পেলাম: "এটি তা-ই যা সৃষ্টি হয়েছে।"''' আমি অবাক হয়েছিলাম কীভাবে এটি টিকে আছে, কারণ মনে হচ্ছিল সামান্য কারণেই এটি হঠাৎ শূন্যে বিলীন হয়ে যেতে পারত। এবং আমার উপলব্ধিতে উত্তর পেলাম: '''"এটি টিকে আছে এবং সর্বদা টিকে থাকবে কারণ ঈশ্বর একে ভালোবাসেন।" এবং এভাবেই ঈশ্বরের ভালোবাসার মাধ্যমে সবকিছুর অস্তিত্ব রয়েছে।'''
* '''এই ক্ষুদ্র বস্তুতে আমি তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখেছি। প্রথমটি হলো ঈশ্বর এটি তৈরি করেছেন, দ্বিতীয়টি হলো ঈশ্বর একে ভালোবাসেন, তৃতীয়টি হলো, ঈশ্বর একে রক্ষা করেন।''' কিন্তু আমার জন্য প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা, রক্ষক এবং প্রেমিক কে তা আমি বলতে পারি না; কারণ যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে মৌলিকভাবে একীভূত হচ্ছি, ততক্ষণ আমি পূর্ণ বিশ্রাম বা সত্যিকারের পরমানন্দ পেতে পারি না: অর্থাৎ, যতক্ষণ না আমি তাঁর সাথে এমনভাবে আবদ্ধ হচ্ছি যে, আমার ঈশ্বর এবং আমার মাঝে সৃষ্ট আর কিছুই নেই।
* '''আমাদের প্রাণীদের ক্ষুদ্রতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা প্রয়োজন এবং যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তাকে তুচ্ছ মনে করা প্রয়োজন, যাতে আমরা অ-সৃষ্ট ঈশ্বরকে ভালোবাসতে ও পেতে পারি।''' কারণ এই কারণেই আমাদের হৃদয় ও আত্মায় শান্তি নেই: আমরা এখানে এমন জিনিসের মধ্যে শান্তি খুঁজি যা এতই ক্ষুদ্র, যেখানে কোনো বিশ্রাম নেই, এবং আমাদের সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বগুণী ঈশ্বরকে জানি না। কারণ তিনিই প্রকৃত বিশ্রাম। '''ঈশ্বর চান যেন তাঁকে জানা হোক এবং তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁর মধ্যে বিশ্রাম নিই। কারণ তাঁর নিচের কোনো কিছুই আমাদের সন্তুষ্ট করে না। এবং এই কারণেই কোনো আত্মা ততক্ষণ শান্ত হয় না যতক্ষণ না সৃষ্ট সমস্ত জিনিসের প্রতি সে নিজেকে শূন্য করে। যখন সে প্রেমের জন্য স্বেচ্ছায় নিজেকে শূন্য করে, যাতে সে তাঁকে পেতে পারে যিনিই সবকিছু, তখনই সে আধ্যাত্মিক বিশ্রাম পাওয়ার যোগ্য হয়।'''
=== অধ্যায় ৬ ===
[[File:St Annes Church Manchester England TETRAGRAMMATON.jpg|thumb|তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁকে খুঁজি এবং মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে উপাসনা করি, এই উপলব্ধি নিয়ে যে তিনিই সবকিছুর মঙ্গলময়তা।]]
* তখন আমি সত্যই দেখলাম যে, ঈশ্বরের উপাসনা এবং প্রকৃত আনন্দ তখনই বেশি হয় যখন আমরা তাঁর মঙ্গলময়তার জন্য বিশ্বস্ততার সাথে তাঁর কাছেই প্রার্থনা করি এবং সঠিক উপলব্ধি ও প্রেমের দ্বারা অটল থেকে তাঁর কৃপা আঁকড়ে ধরি, যেন আমরা হৃদয়ের চিন্তার সমস্ত মাধ্যম ব্যবহার করছি। কারণ যদি আমরা এই সমস্ত মাধ্যম গ্রহণ করি, তাও তা খুব সামান্য এবং ঈশ্বরের পূর্ণ উপাসনা নয়: কিন্তু তাঁর মঙ্গলময়তার মধ্যেই সবকিছু পূর্ণ এবং সেখানে কিছুই অভাব নেই।
* '''তিনি খুশি হন যখন আমরা তাঁকে খুঁজি এবং মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে উপাসনা করি, এই উপলব্ধি নিয়ে যে তিনিই সবকিছুর মঙ্গলময়তা।''' <br> কারণ ঈশ্বরের মঙ্গলময়তাই সর্বোচ্চ প্রার্থনা, এবং তা আমাদের প্রয়োজনের সর্বনিম্ন অংশে নেমে আসে। এটি আমাদের আত্মাকে জীবিত করে, কৃপা ও পুণ্যে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। এটি প্রকৃতিতে সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং কৃপায় সবচেয়ে সহজলভ্য: কারণ এটি সেই একই কৃপা যা আত্মা খোঁজে এবং সর্বদা খুঁজবে যতক্ষণ না আমরা সত্যই জানি যে তিনি আমাদের সবাইকে নিজের মধ্যে আবদ্ধ রেখেছেন। <br> কারণ তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি তাঁর কোনো ঘৃণা নেই এবং আমাদের শরীরে প্রকৃতিগতভাবে যে সামান্যতম কাজগুলো থাকে তা করতেও তিনি ইতস্তত করেন না, কারণ তিনি সেই আত্মাকে ভালোবাসেন যা তিনি নিজের সাদৃশ্যে তৈরি করেছেন।
* '''শরীর যেমন পোশাকে ঢাকা, মাংস যেমন চামড়ায় ঢাকা, হাড় যেমন মাংসে ঢাকা, এবং হৃদয় যেমন পুরো শরীরে ঢাকা, ঠিক তেমনই আমরা, আত্মা ও শরীর, ঈশ্বরের মঙ্গলময়তায় আবৃত এবং আবদ্ধ। হ্যাঁ, এবং আরও আপনভাবে: কারণ এই সমস্ত কিছু নষ্ট হয়ে যেতে পারে, কিন্তু ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা সর্বদা পূর্ণ এবং কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী;''' কারণ আমাদের প্রেমিক সত্যই চান যেন আমাদের আত্মা তাঁর সাথে সমস্ত শক্তি দিয়ে লেগে থাকে এবং আমরা যেন সর্বদা তাঁর মঙ্গলময়তাকে আঁকড়ে থাকি। কারণ হৃদয়ে যা কিছু চিন্তা করা যায়, তার মধ্যে এটিই ঈশ্বরকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয় এবং দ্রুততম ফল দেয়।
=== অধ্যায় ৭ ===
[[File:Love heart.jpg|thumb|যিনি ভালোবাসার জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই একই ভালোবাসায় তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং অন্তহীনভাবে রক্ষা করবেন।]]
* '''এই প্রকাশটি ছিল দ্রুত এবং প্রাণবন্ত, এবং ভীতিকর ও ভয়ংকর, মিষ্টি ও মনোরম।''' এবং সমস্ত দৃশ্যের মধ্যে আমার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক ছিল এটি যে, আমাদের ঈশ্বর ও প্রভু, যিনি এত শ্রদ্ধেয় ও ভয়ংকর, তিনি এত আপন এবং সৌজন্যপূর্ণ: এবং এটি আমাকে আত্মা ও নিশ্চিততার শান্তিতে পূর্ণ করেছিল।
* সত্যই এটিই সবচেয়ে বড় আনন্দ যা হতে পারে, আমার দৃষ্টিতে, যে তিনি যিনি সর্বোচ্চ ও সর্বশক্তিমান, সবচেয়ে মহৎ ও যোগ্য, তিনিই সবচেয়ে বিনম্র ও নম্র, সবচেয়ে আপন ও সৌজন্যপূর্ণ: এবং সত্যই এই বিস্ময়কর আনন্দ আমাদের সবাইকে দেখানো হবে যখন আমরা তাঁকে দেখব।
* এই বিস্ময়কর আপনভাব কোনো মানুষই জীবনের এই সময়ে পুরোপুরি দেখতে পায় না, যদি না সে আমাদের প্রভুর বিশেষ প্রকাশ বা পবিত্র আত্মার কাছ থেকে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাপ্ত কৃপা না পায়। কিন্তু বিশ্বাস ও ভক্তি এই পুরস্কারের যোগ্য করে তোলে: এবং কৃপার মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়। কারণ বিশ্বাস, আশা এবং ভালোবাসার ওপরই আমাদের জীবন প্রতিষ্ঠিত।
=== অধ্যায় ৮ ===
[[File:Roerich_symbol.svg|thumb|আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং প্রতিটি জিনিসের যে মঙ্গলময়তা আছে, তা তিনিই।]]
* আমি জানি যে স্বর্গ ও পৃথিবী এবং যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে তা মহান ও বিশাল, সুন্দর ও ভালো। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এটি এত ক্ষুদ্র দেখানোর কারণ হলো আমি এটি তাঁর উপস্থিতিতে দেখেছি যিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা: কারণ যে আত্মা সবকিছুর সৃষ্টিকর্তাকে দেখে, তার কাছে সৃষ্ট সবকিছুই খুব ক্ষুদ্র মনে হয়।
* '''যিনি ভালোবাসার জন্য সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সেই একই ভালোবাসায় তিনি তাদের রক্ষা করেন এবং অন্তহীনভাবে রক্ষা করবেন।'''
* '''আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং প্রতিটি জিনিসের যে মঙ্গলময়তা আছে, তা তিনিই।'''
* আমাদের প্রভু প্রথম দর্শনে এই সবকিছুই আমাকে দেখিয়েছিলেন, এটি দেখার জন্য সময় ও সুযোগ দিয়েছিলেন। এবং শারীরিক দৃষ্টি থেমে গিয়েছিল, কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টি আমার উপলব্ধিতে থেকে গিয়েছিল এবং আমি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয়ে অপেক্ষা করছিলাম, যা দেখেছিলাম তাতে আনন্দিত হয়েছিলাম। এবং আমি সাহস করে আরও দেখতে চেয়েছিলাম, যদি তা তাঁর ইচ্ছা হতো, অথবা অন্যথায় দীর্ঘ সময় ধরে একই দৃশ্য দেখতে চেয়েছিলাম।
* এই সবকিছুর মধ্যে আমি আমার সম-খ্রিস্টানদের প্রতি ভালোবাসায় অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম, যেন তারা দেখতে এবং জানতে পারে যা আমি দেখেছি: কারণ আমি চেয়েছিলাম এটি তাদের জন্য সান্ত্বনা হোক। কারণ এই সমস্ত দৃশ্য সাধারণের জন্য দেখানো হয়েছিল। তখন আমি আমার চারপাশের লোকদের বললাম: "আজ আমার জন্য বিচার দিবস।" এবং এটি আমি বলেছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাচ্ছি।
* আমি আপনাদের সবাইকে ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করি এবং আপনার নিজের কল্যাণের জন্য উপদেশ দিই, যে আপনারা সেই দরিদ্র প্রাণীর প্রতি তাকানো বন্ধ করুন যার কাছে এটি দেখানো হয়েছিল, এবং শক্তিশালী, জ্ঞানী ও বিনম্রভাবে ঈশ্বরকে দেখুন, যিনি তাঁর সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসা ও অন্তহীন মঙ্গলময়তার মাধ্যমে আমাদের সবার সান্ত্বনার জন্য এটি সাধারণভাবে দেখাতে চেয়েছেন। কারণ ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আপনারা এটি মহান আনন্দ ও তুষ্টির সাথে গ্রহণ করুন, যেন যিশু এটি আপনাদের সবাইকে দেখিয়েছেন।
=== অধ্যায় ৯ ===
[[File:Saula Kopf 2517m Panorama 2.jpg|thumb|আধ্যাত্মিক দৃষ্টিটি আমি যতটা চাই ততটা খোলাখুলি বা পূর্ণভাবে দেখাতে পারি না।]]
* '''প্রকাশের কারণে আমি ভালো নই যদি না আমি ঈশ্বরকে আরও বেশি ভালোবাসি: এবং আপনারা ঈশ্বরকে যতটা বেশি ভালোবাসেন, এটি আমার চেয়ে আপনাদের জন্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।''' আমি এটি জ্ঞানী ব্যক্তিদের বলছি না, কারণ তারা এটি ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু আমি এটি আপনাদের বলছি যারা সহজ-সরল, সান্ত্বনা ও আরামের জন্য: কারণ আমরা সবাই সান্ত্বনায় এক। কারণ সত্যই আমাকে এটি দেখানো হয়নি যে ঈশ্বর আমাকে কৃপাপ্রাপ্ত সর্বনিম্ন আত্মার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। কারণ আমি নিশ্চিত যে এমন অনেকেই আছেন যারা কখনো পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষার বাইরে কোনো প্রকাশ বা দর্শন পাননি, কিন্তু তারা ঈশ্বরকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। '''কারণ যদি আমি এককভাবে নিজের দিকে তাকাই, তবে আমি কিছুই নই।''' কিন্তু সাধারণভাবে, আমি আশা করি, আমার সমস্ত সম-খ্রিস্টানদের সাথে ভালোবাসার একতায় আমি আছি।
* '''এই একতার মধ্যেই সমস্ত মানবজাতির জীবন নিহিত, যারা পরিত্রাণ পাবে।''' কারণ আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরই সব যা ভালো, এবং ঈশ্বর যা সৃষ্টি করেছেন তা তিনি তৈরি করেছেন, এবং ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টি করা সবকিছুকেই ভালোবাসেন: এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের জন্য তার সমস্ত সম-খ্রিস্টানকে সাধারণভাবে ভালোবাসে, সে সবকিছুকেই ভালোবাসে। কারণ যারা পরিত্রাণ পাবে, সেই মানবজাতির মধ্যে সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত: অর্থাৎ, যা সৃষ্টি হয়েছে এবং সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। কারণ মানুষের মধ্যে ঈশ্বর আছেন এবং ঈশ্বর সবকিছুর মধ্যে আছেন। এবং আমি আশা করি ঈশ্বরের কৃপায় যে ব্যক্তি এটি এভাবে দেখবে, সে সত্যই শিক্ষিত হবে এবং গভীরভাবে সান্ত্বনা পাবে, যদি তার সান্ত্বনার প্রয়োজন হয়।
* আমি তাদের কথা বলছি যারা পরিত্রাণ পাবে, কারণ এই সময়ে ঈশ্বর আমাকে অন্য কিছু দেখাননি। তবে সবকিছুর ক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি যা পবিত্র চার্চ বিশ্বাস করে, প্রচার করে এবং শিক্ষা দেয়। কারণ পবিত্র চার্চের বিশ্বাস, যা আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম এবং আমি আশা করি, ঈশ্বরের কৃপায় আন্তরিকভাবে ব্যবহার ও অভ্যাসে রেখেছিলাম, তা ক্রমাগত আমার দৃষ্টিতে ছিল: এর বিপরীত কিছু গ্রহণ করার ইচ্ছা বা অর্থ আমার ছিল না। এবং এই উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আমার সমস্ত নিষ্ঠার সাথে প্রকাশটি দেখেছি: কারণ এই সমস্ত পবিত্র প্রকাশের মধ্যে আমি একে ঈশ্বরের অর্থের সাথে এক হিসেবে দেখেছি।
* এই সবকিছু তিনভাবে দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, শারীরিক দৃষ্টি দ্বারা, আমার উপলব্ধিতে গঠিত শব্দ দ্বারা, এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টি দ্বারা। কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টিটি আমি যতটা চাই ততটা খোলাখুলি বা পূর্ণভাবে দেখাতে পারি না বা পারি না। কিন্তু আমি আমাদের সর্বশক্তিমান ঈশ্বর প্রভুর ওপর ভরসা করি যে তিনি তাঁর মঙ্গলময়তার জন্য, এবং আপনাদের ভালোবাসার জন্য, আপনাদের এটি আরও আধ্যাত্মিকভাবে এবং আরও মিষ্টিভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করবেন, যা আমি বলতে পারি বা পারি না তার চেয়েও বেশি।
== দ্বিতীয় প্রকাশ (দ্য সেকেন্ড রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১০ ===
[[File:Cristo degli abissi.jpg|thumb|যদি কোনো মানুষ বা নারী বিশাল জলের নিচে থাকত, যদি সে ঈশ্বরের দৃষ্টি লাভ করত। যেমনটি ঈশ্বর ক্রমাগত একজন মানুষের সাথে থাকেন। তবে সে শরীর ও আত্মায় নিরাপদ থাকত এবং কোনো ক্ষতি হতো না: এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সে এই পৃথিবীর সমস্ত বর্ণনার চেয়েও বেশি শান্তি ও সান্ত্বনা পেত।]]
* '''ঈশ্বর চান যেন তাঁকে দেখা হোক এবং খোঁজা হোক: যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করা হয় এবং তাঁকে বিশ্বাস করা হয়।'''
* এটি আমি শারীরিকভাবে, কিছুটা অস্পষ্ট ও ঝাপসাভাবে দেখেছিলাম; এবং আমি আরও স্পষ্টভাবে দেখার জন্য শারীরিক দৃষ্টি কামনা করেছিলাম। আমার বিচারবুদ্ধিতে উত্তর পেলাম: "যদি ঈশ্বর তোমাকে আরও দেখাতে চান, তবে তিনিই হবেন তোমার আলো: তাঁর ছাড়া তোমার আর কিছুর প্রয়োজন নেই।" কারণ আমি তাঁকে খুঁজতে দেখেছি। <br> কারণ আমরা এখন এতটাই অন্ধ ও অবিবেচক যে, ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তায় নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ না করা পর্যন্ত আমরা তাঁকে খুঁজি না। এবং যখন আমরা কৃপাবশত তাঁর কিছুটা দর্শন পাই, তখন সেই একই কৃপা আমাদের আরও পরমানন্দময় দর্শনের জন্য প্রবল আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত করে। <br> এবং এভাবেই আমি তাঁকে দেখেছি এবং খুঁজেছি এবং আমি তাঁকে পেয়েছি, আমি তাঁকে চেয়েছি। এবং আমার দৃষ্টিতে এটিই আমাদের সাধারণ কাজ হওয়া উচিত।
* একবার আমার উপলব্ধি সমুদ্রের তলদেশের গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এবং সেখানে আমি সবুজ পাহাড় ও উপত্যকা দেখেছিলাম, যা শৈবাল ও নুড়ি পাথরে আবৃত বলে মনে হচ্ছিল। '''তখন আমি বুঝলাম: যদি কোনো মানুষ বা নারী বিশাল জলের নিচে থাকত, যদি সে ঈশ্বরের দৃষ্টি লাভ করত। যেমনটি ঈশ্বর ক্রমাগত একজন মানুষের সাথে থাকেন। তবে সে শরীর ও আত্মায় নিরাপদ থাকত এবং কোনো ক্ষতি হতো না: এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সে এই পৃথিবীর সমস্ত বর্ণনার চেয়েও বেশি শান্তি ও সান্ত্বনা পেত।''' কারণ তিনি চান যেন আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা তাঁকে ক্রমাগত দেখছি, যদিও আমাদের কাছে তা সামান্যই মনে হয়; এবং এই বিশ্বাসে তিনি আমাদের সর্বদা কৃপা লাভে সাহায্য করেন। কারণ তিনি চান যেন তাঁকে দেখা হোক এবং তাঁকে খোঁজা হোক। তিনি চান যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করা হোক এবং তাঁকে বিশ্বাস করা হোক।
* এবং এই দর্শনটি আমার উপলব্ধির জন্য একটি শিক্ষা ছিল যে, আত্মার ক্রমাগত অনুসন্ধান ঈশ্বরকে অত্যন্ত আনন্দিত করে। কারণ আত্মার পক্ষে খোঁজা, সহ্য করা এবং বিশ্বাস করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। এবং এটি সেই আত্মায় পবিত্র আত্মার দ্বারা সম্পন্ন হয় এবং খুঁজে পাওয়ার স্বচ্ছতা তাঁর বিশেষ কৃপা, যখন তা তাঁর ইচ্ছা। বিশ্বাস, আশা ও প্রেমের সাথে অনুসন্ধান আমাদের প্রভুকে আনন্দিত করে, এবং খুঁজে পাওয়া আত্মাকে আনন্দিত করে ও পরমানন্দে পূর্ণ করে। এবং এভাবেই আমি আমার উপলব্ধিতে শিখেছিলাম যে, যতক্ষণ তিনি আত্মাকে কষ্টে থাকতে দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসন্ধান করা দর্শন করার মতোই ভালো। ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা তাঁকে খুঁজি, তাঁকে দেখার জন্য, কারণ এর মাধ্যমেই তিনি যখন ইচ্ছা তাঁর বিশেষ কৃপায় নিজেকে আমাদের কাছে প্রকাশ করবেন।
* এই দর্শনে দুটি কাজ দেখা যায়: একটি হলো অনুসন্ধান, অন্যটি হলো দর্শন বা অবলোকন।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমাদের অনুসন্ধানে তিনটি জিনিস থাকুক: প্রথমটি হলো, আমরা যেন অলসতা ছাড়াই আন্তরিকভাবে ও নিষ্ঠার সাথে খুঁজি, এবং তাঁর কৃপায় অযৌক্তিক বিষণ্ণতা ও বৃথা শোক ছাড়াই খুঁজি।''' দ্বিতীয়টি হলো, আমরা যেন তাঁর প্রেমের জন্য জীবনের শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে অটলভাবে অপেক্ষা করি, কোনো বিড়বিড় করা বা তাঁর বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছাড়াই। কারণ এটি মাত্র অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হবে। তৃতীয়টি হলো, আমরা যেন পূর্ণ নিশ্চিত বিশ্বাসে তাঁর ওপর দৃঢ়ভাবে নির্ভর করি। কারণ এটি তাঁর ইচ্ছা যে আমরা জানি, '''যারা তাঁকে ভালোবাসে তাদের সবার কাছে তিনি হঠাৎ ও পরমানন্দময়ভাবে আবির্ভূত হবেন।''' <br> কারণ তাঁর কাজ গোপনীয় এবং '''তিনি চান যেন তাঁকে অনুভব করা হয় এবং তাঁর আবির্ভাব হবে দ্রুত ও আকস্মিক এবং তিনি চান যেন তাঁকে বিশ্বাস করা হয়। কারণ তিনি অত্যন্ত কৃপাময় ও আপনজন। তিনি ধন্য হোন!'''
== তৃতীয় প্রকাশ (দ্য থার্ড রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১১ ===
[[File:Electricsheep-18467.jpg|thumb|পাপ কোনো কাজ নয়।]]
[[File:Universeglass.JPG|thumb|আমি দেখলাম যে তিনি সবকিছুর মধ্যে আছেন।]]
[[File:A Young Pulsar Shows its Hand.jpg|thumb|আমি আমার কাজ থেকে আমার হাত কখনও সরিয়ে নিই না এবং কখনও সরিয়ে নেব না, অন্তহীনভাবে: দেখো! আমি সবকিছুর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে পরিণতির জন্য নির্ধারণ করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রেম দিয়ে আমি সবকিছুর পরিচালনা করছি, যা দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টি করেছি।]]
* '''যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়: কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বরই সব করেন।'''
* '''পাপ কোনো কাজ নয়।'''
* এর পরে আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখলাম, অর্থাৎ আমার উপলব্ধিতে। যে দর্শনের মাধ্যমে আমি দেখলাম যে তিনি সবকিছুর মধ্যে বিদ্যমান।
* আমি শান্ত ভয়ের সাথে অবলোকন করলাম এবং বিবেচনা করলাম, দেখে ও জেনে ভাবলাম: "পাপ কী?" কারণ আমি সত্যই দেখলাম যে ঈশ্বর সব কাজই করেন, তা যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন। এবং আমি সত্যই দেখলাম যে কোনো কিছুই দৈবক্রমে বা আকস্মিকভাবে ঘটে না বরং সবকিছুই ঈশ্বরের পূর্বনির্ধারিত প্রজ্ঞা অনুযায়ী হয়। যদি মানুষের দৃষ্টিতে তা দৈবক্রিয়া বা আকস্মিক মনে হয়, তবে আমাদের অন্ধত্ব এবং অদূরদর্শিতাই তার কারণ। কারণ যে বিষয়গুলো সৃষ্টির আদি থেকে ঈশ্বরের দূরদর্শী প্রজ্ঞায় রয়েছে (যা তিনি ন্যায়পরায়ণতা, মহিমা ও ধারাবাহিকতার সাথে সর্বোত্তম পরিণতির দিকে নিয়ে যান), সেগুলো যখন আমাদের সামনে হঠাৎ উপস্থিত হয়, আমরা তা বুঝতে পারি না এবং '''এইভাবে আমাদের অন্ধত্ব ও অদূরদর্শিতার কারণে আমরা বলি: এগুলো দৈবক্রিয়া ও আকস্মিক ঘটনা। কিন্তু আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে তা নয়। <br> তাই আমাকে স্বীকার করতেই হবে যে, যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়: কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বরই সব করেন।''' কারণ এই সময়ে প্রাণীদের কাজ দেখানো হয়নি বরং প্রাণীর মধ্যে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাজ দেখানো হয়েছে: কারণ তিনি সবকিছুর কেন্দ্রে আছেন এবং তিনি সবই করেন। এবং আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তিনি কোনো পাপ করেন না।
* '''এখানে আমি সত্যই দেখলাম যে পাপ কোনো কাজ নয়। কারণ এই সমস্ত কিছুর মধ্যে পাপ দেখানো হয়নি। এবং আমি এতে আর বিস্ময় প্রকাশ করতে চাইলাম না, বরং আমাদের প্রভুর দিকে তাকালাম যে তিনি কী দেখাতে চান। <br> এবং এভাবেই, সেই সময়ের জন্য যতটুকু সম্ভব ছিল, ঈশ্বরের কাজের ন্যায়পরায়ণতা আত্মার কাছে প্রকাশিত হয়েছিল।'''
* '''ন্যায়পরায়ণতার দুটি সুন্দর বৈশিষ্ট্য আছে: এটি সঠিক এবং এটি পূর্ণ।''' এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সমস্ত কাজ ঠিক তেমনই: এর জন্য দয়া বা কৃপার কাজের প্রয়োজন হয় না: কারণ সেগুলো সবই ন্যায়পরায়ণ। যার মধ্যে কোনো কিছুরই অভাব নেই।
* অন্য সময়ে তিনি পাপকে নগ্নভাবে দেখার জন্য একটি প্রকাশ দিয়েছিলেন, যেমনটা আমি বলব: যেখানে তিনি দয়া ও কৃপার কাজ ব্যবহার করেন। <br> এবং আমার উপলব্ধির জন্য এই দর্শনটি দেখানো হয়েছিল, কারণ আমাদের প্রভু চেয়েছিলেন যেন আত্মা সত্যভাবে তাঁর দর্শনের দিকে এবং সাধারণভাবে তাঁর সমস্ত কাজের দিকে ফিরে আসে। কারণ সেগুলো অত্যন্ত ভালো এবং তাঁর সমস্ত কাজ সহজ ও মধুর, এবং যে আত্মা মানুষের অন্ধ বিচার থেকে আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সুন্দর ও মধুর বিচারের দিকে ফিরে আসে, তাকে তিনি পরম স্বস্তি দান করেন। '''কারণ মানুষ কিছু কাজকে ভালো এবং কিছু কাজকে মন্দ বলে গণ্য করে কিন্তু আমাদের প্রভু সেগুলোকে সেভাবে দেখেন না: কারণ প্রকৃতিতে যার অস্তিত্ব আছে তা যেমন ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্ট, তেমনি যা কিছু সম্পন্ন হয়, তা ঈশ্বরের কাজেরই বৈশিষ্ট্য।'''
* '''এটি বোঝা সহজ যে সর্বোত্তম কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয় এবং সর্বোত্তম কাজটি সবচেয়ে উচ্চতর কাজটি। যতটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়, ক্ষুদ্রতম কাজটিও ততটাই ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। এবং প্রতিটি জিনিস তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও শৃঙ্খলায় থাকে যা আমাদের প্রভু সৃষ্টির আদি থেকেই নির্ধারণ করেছেন। কারণ তিনি ছাড়া আর কোনো কর্তা নেই।''' <br> আমি নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে তিনি কোনো কিছুর উদ্দেশ্য কখনও পরিবর্তন করেন না, এবং অন্তহীনভাবে কখনও করবেনও না। কারণ সৃষ্টির আদি থেকে তাঁর ন্যায়পরায়ণ ব্যবস্থায় তাঁর কাছে অজানা কিছুই ছিল না। এবং তাই কোনো কিছু সৃষ্টির পূর্বেই সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে নির্ধারিত ছিল, যেভাবে তা অনন্তকাল ধরে টিকে থাকবে এবং কোনো কিছুই সেই বিন্দু থেকে বিচ্যুত হবে না।
* এই সবকিছু তিনি পরম পরমানন্দের সাথে দেখিয়েছিলেন, এভাবে ইঙ্গিত করে: '''''"দেখো! আমিই ঈশ্বর: দেখো! আমি সবকিছুর মধ্যে আছি: দেখো! আমিই সব কাজ করি: দেখো! আমি আমার কাজ থেকে আমার হাত কখনও সরিয়ে নিই না এবং অন্তহীনভাবে কখনও সরিয়ে নেব না: দেখো! আমি সবকিছুর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যে পরিণতির জন্য নির্ধারণ করেছি, সেই একই শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রেম দিয়ে আমি সবকিছুর পরিচালনা করছি, যা দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টি করেছি। কোনো কিছু কীভাবে ভুল হতে পারে?"''''' <br> এই দর্শনে আত্মাকে অত্যন্ত শক্তিশালী, জ্ঞানী ও প্রেমময়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তখন আমি স্পষ্টভাবে দেখলাম যে, ঈশ্বরের প্রতি মহান শ্রদ্ধা ও আনন্দের সাথে সম্মতি জানানো আমার জন্য অপরিহার্য।
== চতুর্থ প্রকাশ (দ্য ফোর্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১২ ===
[[File:Кошелев Н. А. Сошествие во ад.jpg|thumb|দেখো এবং লক্ষ্য করো! তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য নরকের গভীরে নেমে গিয়েছিল, এর শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছিল এবং স্বর্গীয় দরবারের অন্তর্গত সেখানে থাকা সমস্ত আত্মাকে মুক্ত করেছিল।]]
* এর পরে আমি দেখতে পেলাম, চাবুক মারার দৃশ্যের মতো শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্ত ঝরছে, এইভাবে ধারালো আঘাতে মিষ্টি শরীরের চারপাশ থেকে কোমল মাংসে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এত প্রচুর পরিমাণে তপ্ত রক্ত ঝরছিল যে চামড়া বা ক্ষত কিছুই দেখা যাচ্ছিল না, যেন সবকিছুই কেবল রক্ত। এবং যখন এটি নিচে পড়ে যাওয়ার কথা ছিল, তখন তা অদৃশ্য হয়ে গেল। <br> তা সত্ত্বেও, রক্তক্ষরণ কিছুক্ষণ অব্যাহত ছিল: যতক্ষণ তা দেখা এবং বিবেচনা করা সম্ভব ছিল।
* দেখো এবং লক্ষ্য করো! তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য নরকের গভীরে নেমে গিয়েছিল, এর শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছিল এবং স্বর্গীয় দরবারের অন্তর্গত সেখানে থাকা সমস্ত আত্মাকে মুক্ত করেছিল। তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য সমস্ত পৃথিবীকে প্লাবিত করেছে, এবং সদিচ্ছাসম্পন্ন সমস্ত প্রাণীকে পাপ থেকে ধৌত করার জন্য প্রস্তুত আছে—যারা অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতে আসবে। তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্তের প্রাচুর্য আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র শরীরে স্বর্গে আরোহণ করেছে, এবং সেখানে তিনি আমাদের জন্য পিতার কাছে রক্ত ঝরাচ্ছেন ও প্রার্থনা করছেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তিনি তা করবেন এবং যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তা সর্বদা থাকবে।
== পঞ্চম প্রকাশ (দ্য ফিফথ রিভেলেশন) ==
[[File:Passion of Christ.jpg|thumb|আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র কষ্ট এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শত্রুকে পরাভূত করা হয়েছে।]]
=== অধ্যায় ১৩ ===
* '''আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পবিত্র কষ্ট এবং মৃত্যুর মাধ্যমে শত্রুকে পরাভূত করা হয়েছে।'''
* তিনি কোনো কণ্ঠস্বর বা ঠোঁট খোলা ছাড়াই আমার আত্মায় এই শব্দগুলো গঠন করলেন: "এর দ্বারাই শয়তান পরাভূত হলো।" আমাদের প্রভু এই কথাগুলো বলেছেন, তাঁর পবিত্র কষ্ট বা প্যাশনের কথা বুঝিয়ে, যা তিনি আগেই প্রদর্শন করেছিলেন। <br> এতে আমাদের প্রভু দেখালেন যে, তাঁর কষ্টই শয়তানের পরাজয়। ঈশ্বর দেখালেন যে, অবতার গ্রহণের আগে শয়তানের যে বিদ্বেষ ছিল, এখনও তার একই বিদ্বেষ রয়েছে। সে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে, কিন্তু সে দেখতে পায় যে পরিত্রাণপ্রাপ্ত সমস্ত আত্মা খ্রিস্টের মূল্যবান কষ্টের গুণের মাধ্যমে তার হাত থেকে গৌরবময়ভাবে মুক্তি পাচ্ছে। এটিই তার দুঃখ, এবং সে অত্যন্ত লজ্জিত। কারণ ঈশ্বর তাকে যা কিছু করার অনুমতি দেন, তার সবই আমাদের জন্য আনন্দে এবং তার জন্য লজ্জায় ও কষ্টে রূপান্তরিত হয়। ঈশ্বর যখন তাকে কাজ করার অনুমতি দেন, তখন সে যতটা কষ্ট পায়, কাজ না করলেও ততটাই পায়: কারণ সে কখনোই তার ইচ্ছামতো মন্দ কাজ করতে পারে না, কেননা তার সমস্ত শক্তি ঈশ্বরের হাতে ন্যস্ত।
* '''আমার দৃষ্টিতে ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ক্রোধ থাকতে পারে না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু সর্বদা তাঁর নিজের মহিমা এবং পরিত্রাণপ্রাপ্ত সকলের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।''' শক্তি ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে তিনি তাদের প্রতিহত করেন, যারা বিদ্বেষ ও দুষ্টতা থেকে ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করার ষড়যন্ত্র করে। আমি আরও দেখেছি আমাদের প্রভু তার বিদ্বেষকে উপহাস করেন এবং তার শক্তিহীনতাকে তুচ্ছ করেন এবং তিনি চান যেন আমরাও তাই করি। এই দৃশ্য দেখে আমি উচ্চস্বরে হেসেছিলাম, আর আমার হাসির কারণে আমার চারপাশের লোকেরাও হেসেছিল, এবং তাদের সেই হাসি আমার জন্য আনন্দের কারণ হয়েছিল।
* কিন্তু আমি খ্রিস্টকে হাসতে দেখিনি। কারণ আমি বুঝেছিলাম যে, শয়তান পরাজিত হয়েছে। এই আনন্দে এবং ঈশ্বরকে কেন্দ্র করে আমরা নিজেদের সান্ত্বনার জন্য হাসতে পারি। আর যখন আমি তাঁকে শয়তানের বিদ্বেষকে উপহাস করতে দেখেছি, তা ছিল আমার উপলব্ধিকে আমাদের প্রভুর দিকে পরিচালিত করার মাধ্যমে অর্থাৎ, এটি ছিল সত্যের একটি অভ্যন্তরীণ প্রকাশ, যা তাঁর চেহারায় কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়েই হয়েছিল। কারণ, আমার দৃষ্টিতে, এটি ঈশ্বরের একটি গৌরবময় বৈশিষ্ট্য যা সর্বদা একই থাকে।
* এর পরে আমি এক গম্ভীরতায় নিমগ্ন হলাম এবং বললাম: "আমি তিনটি জিনিস দেখতে পাচ্ছি। আমি খেলা, উপহাস এবং গাম্ভীর্য দেখছি। আমি খেলা দেখছি, কারণ শয়তান পরাজিত। আমি উপহাস দেখছি, কারণ ঈশ্বর তাকে উপহাস করছেন এবং তাকে উপহাস করা হবে এবং আমি গাম্ভীর্য দেখছি, কারণ সে আমাদের প্রভু যিশু খ্রিস্টের পরমানন্দময় কষ্ট ও মৃত্যুর মাধ্যমে পরাজিত হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল।"
== ষষ্ঠ প্রকাশ (দ্য সিক্সথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৪ ===
[[File:Langenzenn Stadtkirche - Fenster Wilhelm II 5.jpg|thumb|স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স তাঁর সামনে স্বীকৃত হবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।]]
* '''স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স তাঁর সামনে স্বীকৃত হবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে।'''
* আমার উপলব্ধিকে স্বর্গের দিকে উন্নীত করা হয়েছিল, যেখানে আমি আমাদের প্রভুকে তাঁর নিজের বাড়ির একজন প্রভু হিসেবে দেখলাম, যিনি তাঁর সমস্ত প্রিয় সেবক ও বন্ধুদের এক রাজকীয় ভোজসভায় আহ্বান করেছেন। তখন আমি দেখলাম প্রভু তাঁর নিজের বাড়িতে কোনো নির্দিষ্ট আসন গ্রহণ করেননি বরং আমি দেখলাম তিনি তাঁর বাড়িতে রাজকীয়ভাবে রাজত্ব করছেন, আনন্দ ও উল্লাসে পূর্ণ করছেন, নিজেকে অন্তহীনভাবে আনন্দিত করছেন এবং তাঁর প্রিয় বন্ধুদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন, অত্যন্ত আপনভাবে ও সৌজন্যের সাথে, অন্তহীন প্রেমের বিস্ময়কর সুরের মাধ্যমে, তাঁর নিজস্ব সুন্দর ও আশীর্বাদপুষ্ট মুখমণ্ডলে। ঈশ্বরত্বের এই মহিমান্বিত মুখমণ্ডল স্বর্গকে আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ করে।
* ঈশ্বর স্বর্গে প্রত্যেক আত্মার জন্য আনন্দের তিনটি স্তর দেখিয়েছেন, যারা পৃথিবীতে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে সেবা করেছে। প্রথমটি হলো আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ, যা সে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পাবে। এই ধন্যবাদ এত উচ্চ এবং এত মহিমান্বিত যে আত্মার মনে হয় এটিই তাকে পূর্ণ করে দিয়েছে, যদিও আর কিছুই না থাকত। কারণ আমার মনে হয়েছিল, জীবিত সমস্ত মানুষের সহ্য করা সমস্ত যন্ত্রণা ও কষ্টও সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য নয়, যা একজন মানুষ পাবে যে স্বেচ্ছায় ঈশ্বরকে সেবা করেছে। দ্বিতীয়টি হলো, স্বর্গে থাকা সমস্ত আশীর্বাদপুষ্ট সত্তা সেই মহিমান্বিত ধন্যবাদ দেখতে পাবে এবং তিনি স্বর্গের সবাইকে তার সেবার কথা জানিয়ে দেবেন। এখানে এই উদাহরণটি দেখানো হয়েছিল। একজন রাজা, যদি তিনি তাঁর সেবকদের ধন্যবাদ জানান, তবে তা তাদের জন্য অনেক সম্মানের এবং যদি তিনি তা পুরো রাজ্যে ঘোষণা করেন, তবে সেই সম্মান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তৃতীয়টি হলো, সেই সময়ে তা যেমন নতুন ও আনন্দদায়ক হিসেবে গৃহীত হয়, ঠিক তেমনই তা অন্তহীনভাবে স্থায়ী হবে।
* আমি দেখলাম যে এটি অত্যন্ত আপনভাবে ও মধুরভাবে দেখানো হয়েছিল এবং স্বর্গে প্রত্যেক মানুষের বয়স জানা যাবে এবং প্রত্যেককে তাদের স্বেচ্ছায় করা সেবা ও সময়ের জন্য পুরস্কৃত করা হবে। এবং বিশেষ করে যারা স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে তাদের যৌবন ঈশ্বরকে উৎসর্গ করে, তাদের অসামান্যভাবে পুরস্কৃত করা হয় এবং বিস্ময়করভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়। <br> কারণ আমি দেখেছি যে, যে কোনো সময় একজন পুরুষ বা নারী সত্যভাবে ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসে। এক দিনের সেবার জন্য এবং তার অটল ইচ্ছার জন্য সে এই তিন স্তরের আনন্দই লাভ করবে। এবং প্রেমময় আত্মা ঈশ্বরের এই সৌজন্য যত বেশি দেখতে পায়, সে তার জীবনের সমস্ত দিন তাঁকে সেবা করার জন্য তত বেশি আগ্রহী হয়।
== সপ্তম প্রকাশ (দ্য সেভেন্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৫ ===
* এর পরে তিনি আমার আত্মায় এক পরম আধ্যাত্মিক তুষ্টি দেখালেন। আমি চিরন্তন নিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ হয়েছিলাম, কোনো বেদনাদায়ক ভয় ছাড়াই প্রবলভাবে টিকে ছিলাম। এই অনুভূতিটি এতটাই আনন্দময় ও আধ্যাত্মিক ছিল যে আমি পূর্ণ শান্তি ও বিশ্রামে ছিলাম, পৃথিবীর কোনো কিছুই আমাকে দুঃখ দিতে পারত না। <br> এটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এবং আমি আবার আমার নিজের মধ্যে ফিরে এলাম জীবন সম্পর্কে ক্লান্তি, নিজের প্রতি বিতৃষ্ণায় পূর্ণ হলাম, বেঁচে থাকার ধৈর্য প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম। বিশ্বাস, আশা ও প্রেম ছাড়া আমার কোনো আরাম ছিল না এগুলো আমার সত্যই ছিল, কিন্তু উপলব্ধিতে ছিল খুব সামান্য। <br> এবং এর পরপরই আমাদের প্রভু আমাকে পুনরায় আত্মার আরাম ও বিশ্রাম দিলেন, এমন তৃপ্তি ও নিশ্চয়তা যা এতই পরমানন্দময় ও শক্তিশালী যে কোনো ভয়, দুঃখ বা শারীরিক যন্ত্রণা আমাকে বিচলিত করতে পারেনি। এবং তখন বেদনা আবার আমার উপলব্ধিতে ফিরে এল, তারপর আনন্দ ও তৃপ্তি। এইভাবে কয়েকবার আমার মনে হয় প্রায় বিশবার। আনন্দের সময়ে আমি সন্ত পলের সাথে বলতে পারতাম। "খ্রিস্টের প্রেম থেকে কিছুই আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না" এবং বেদনার সময়ে আমি পিতরের সাথে বলতে পারতাম: "প্রভু, আমাকে বাঁচাও: আমি বিনষ্ট হচ্ছি!"
* এই দর্শনটি আমার উপলব্ধিতে দেখাল যে, কিছু আত্মার জন্য এই অভিজ্ঞতাটি উপকারী। কখনো শান্তিতে থাকা, আবার কখনো ব্যর্থ হয়ে নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হওয়া। ঈশ্বর চান যেন আমরা জানি যে, তিনি আমাদের সুখে ও দুঃখে একইভাবে সুরক্ষিত রাখেন। মানুষের আত্মার মঙ্গলের জন্য, মানুষ কখনো কখনো নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়; যদিও পাপ সবসময় এর কারণ নয়। কারণ এই সময়ে আমি এমন কোনো পাপ করিনি যার জন্য আমাকে নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে—এটি ছিল অত্যন্ত আকস্মিক। এই আশীর্বাদপূর্ণ অনুভূতি পাওয়ার মতো যোগ্যতাও আমার ছিল না। কিন্তু আমাদের প্রভু যখন ইচ্ছা করেন তখন মুক্তহস্তে দান করেন এবং কখনো কখনো আমাদের কষ্টের মধ্যে রাখেন। এবং উভয়ই একই প্রেমের প্রকাশ।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আরাম ও শান্তিতে থাকি। কারণ আনন্দ হলো অন্তহীন স্থায়ী, এবং বেদনা হলো ক্ষণস্থায়ী, যা পরিত্রাণপ্রাপ্তদের জন্য বিলীন হয়ে যাবে। তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা নয় যে আমরা বেদনার অনুভূতিগুলো অনুসরণ করে শোক ও বিলাপ করি বরং আমরা যেন হঠাৎ তা অতিক্রম করে চিরন্তন আনন্দে নিমগ্ন থাকি।'''
== অষ্টম প্রকাশ (দ্য এইটথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ১৬ ===
* এর পরে খ্রিস্ট তাঁর মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ের কষ্টের একটি অংশ দেখালেন। <br> আমি তাঁর মিষ্টি মুখমণ্ডল দেখলাম যা মৃত্যুপথযাত্রী ফ্যাকাশে রঙে শুষ্ক ও রক্তহীন হয়ে গিয়েছিল এবং পরে, আরও ফ্যাকাশে, মৃত, অবসন্ন এবং তারপর নীলচে মৃত রঙে পরিবর্তিত হলো এবং মাংস যখন আরও গভীরভাবে মৃত হয়ে গেল তখন তা আরও কালচে-নীল হলো। কারণ তাঁর কষ্ট আমার কাছে তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলে (বিশেষ করে ঠোঁটে) সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল। সেখানে আমি এই চারটি রঙ দেখেছি, যদিও আমার দৃষ্টিতে তা আগে সতেজ, লাল ও মনোরম ছিল। এই গভীর মৃত্যু দেখা এক করুণ পরিবর্তন ছিল।
=== অধ্যায় ১৭ ===
* এবং এই মৃত্যুর সময়ে খ্রিস্টের কথাগুলো আমার মনে এল: "আমি তৃষ্ণার্ত।" <br> কারণ আমি খ্রিস্টের মধ্যে দ্বৈত তৃষ্ণা দেখলাম: একটি শারীরিক। অন্যটি আধ্যাত্মিক...
* আমি চার ধরণের শুষ্কতা দেখলাম। প্রথমটি ছিল রক্তহীনতা; দ্বিতীয়টি ছিল তার পরবর্তী যন্ত্রণা। তৃতীয়টি বাতাসে ঝুলে থাকা, যেমন মানুষ কাপড় শুকানোর জন্য ঝুলায়। চতুর্থটি ছিল এই যে, শারীরিক সত্তা তরল চেয়েছিল কিন্তু তার সমস্ত কষ্ট ও দুর্দশায় তাঁকে কোনো সান্ত্বনা দেওয়া হয়নি। আহ! তাঁর যন্ত্রণা ছিল কঠিন ও কষ্টদায়ক, কিন্তু যখন আর্দ্রতা শেষ হয়ে গেল এবং শরীর শুষ্ক হতে শুরু করল, কুঁকড়ে গেল, তখন তা আরও বেশি কঠিন ও কষ্টদায়ক মনে হলো। <br> এই যন্ত্রণাগুলো তাঁর পবিত্র মাথায় দেখা গিয়েছিল: প্রথমটি মৃত্যুর দিকে নিয়ে গিয়েছিল, যখন কিছু আর্দ্রতা ছিল এবং অন্যটি, ধীর, কুঁকড়ে যাওয়া শুষ্কতা, বাইরের বাতাসের ঝাপটায়। যা আমাকে ভাবতে কষ্ট দেয় তার চেয়েও বেশি ঠান্ডায় তাঁকে শুকিয়েছিল ও কষ্ট দিয়েছিল। <br> এবং অন্যান্য যন্ত্রণা। যার জন্য আমি দেখলাম যে আমার বলা সব কথাই খুব সামান্য। কারণ তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। খ্রিস্টের যন্ত্রণার এই প্রকাশ আমাকে বেদনায় পূর্ণ করে দিয়েছিল। কারণ আমি জানতাম তিনি কেবল একবারই কষ্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা আমাকে দেখাতে চেয়েছিলেন এবং আমার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমাকে তা দিয়ে পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। এবং খ্রিস্টের যন্ত্রণার এই সময়ে তাঁর যন্ত্রণা ছাড়া আমি আর কিছুই অনুভব করিনি। তখন ভাবলাম। "আমি জানতাম না আমি কতটা কষ্ট চেয়েছিলাম।" এবং, এক হতভাগার মতো, অনুশোচনা করলাম, ভাবলাম। "যদি জানতাম তা কী হবে, তবে আমি তা চাইতাম না।" কারণ আমার মনে হয়েছিল আমার যন্ত্রণা শারীরিক মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। <br> আমি ভাবলাম "এর মতো আর কোনো যন্ত্রণা আছে কি?" এবং আমার উপলব্ধিতে উত্তর পেলাম "নরক হলো অন্য যন্ত্রণা। কারণ সেখানে হতাশা আছে। কিন্তু পরিত্রাণের দিকে নিয়ে যাওয়া সমস্ত যন্ত্রণার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা, তোমার প্রেমকে কষ্ট পেতে দেখা। আমার জীবন, আমার পরমানন্দ, আমার আনন্দ। তাঁকে কষ্ট পেতে দেখার চেয়ে বড় যন্ত্রণা আমার জন্য আর কী হতে পারে?" এখানে আমি সত্যই অনুভব করলাম যে আমি নিজেকে ছাড়িয়ে খ্রিস্টকে এতটাই বেশি ভালোবাসতাম যে, সেই শোকে যন্ত্রণার চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা সহ্য করা সম্ভব ছিল না।
=== অধ্যায় ১৮ ===
* এখানে আমি আমাদের লেডি, সেন্ট মেরির সহমর্মিতার একটি অংশ দেখলাম। কারণ খ্রিস্ট এবং তিনি প্রেমে এতটাই একীভূত ছিলেন যে তাঁর ভালোবাসার গভীরতাই তাঁর যন্ত্রণার গভীরতার কারণ ছিল। কারণ এতে আমি প্রকৃতির প্রেমের একটি সত্তা দেখেছি, যা কৃপা দ্বারা অব্যাহত থাকে। যা প্রাণীদের তাঁর প্রতি থাকে। এই প্রাকৃতিক ভালোবাসা তাঁর মিষ্টি মায়ের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। কারণ তিনি তাঁকে সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তাঁর যন্ত্রণা সবার চেয়ে বেশি ছিল। কারণ ভালোবাসা যত উচ্চ, শক্তিশালী ও মধুর হয়, ভালোবাসার পাত্রকে কষ্টে থাকতে দেখলে প্রেমিকের দুঃখ তত বেশি হয়। <br> এবং তাঁর সমস্ত শিষ্য ও প্রকৃত প্রেমিকরা তাদের নিজস্ব শারীরিক মৃত্যুর চেয়েও বেশি যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন। কারণ আমি আমার নিজস্ব অনুভূতির মাধ্যমে নিশ্চিত যে, তাদের মধ্যে অন্ততপক্ষে যে ছিল, সেও নিজেকে ছাড়িয়ে তাঁকে এতটা ভালোবাসত যা আমার বলা সমস্ত কথাকে অতিক্রম করে যায়।
* '''এখানে আমি আমার উপলব্ধিতে খ্রিস্ট এবং আমাদের মধ্যে এক মহান ঐক্য দেখলাম। কারণ যখন তিনি কষ্টে ছিলেন, আমরা কষ্টে ছিলাম।''' <br> এবং সমস্ত প্রাণী যারা যন্ত্রণা সহ্য করতে পারত, তারা তাঁর সাথে সহ্য করেছিল। অর্থাৎ, ঈশ্বর আমাদের সেবার জন্য যা কিছু সৃষ্টি করেছেন। খ্রিস্টের মৃত্যুর সময়ে গ্রহ-নক্ষত্র ও পৃথিবী তাদের প্রকৃতিতে দুঃখের কারণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারণ তাদের প্রকৃতির সহজাত বৈশিষ্ট্যই ছিল তাঁকে তাদের ঈশ্বর হিসেবে জানা, যার ওপর তাদের সমস্ত গুণ দাঁড়িয়ে ছিল। যখন তিনি ব্যর্থ হলেন, তখন দয়া ও কৃতজ্ঞতার কারণে, তাঁর যন্ত্রণার শোকে তাদেরও তাঁর সাথে ব্যর্থ হতে হয়েছিল।
* ঈশ্বর, যিনি তাঁর মঙ্গলময়তার মাধ্যমে গ্রহ ও উপাদানগুলোকে আশীর্বাদপুষ্ট ও অভিশপ্ত মানুষের জন্য কাজ করান, সেই সময়ে তিনি উভয় থেকেই তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। একারণেই যারা তাঁকে চিনত না তারাও সেই সময়ে শোকে ছিল। <br> এইভাবে আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের জন্য তুচ্ছ করা হয়েছিল এবং আমরা সবাই তাঁর সাথে এইভাবে তুচ্ছ হয়ে আছি এবং থাকব যতক্ষণ না আমরা তাঁর পরমানন্দে পৌঁছাই: যেমনটি আমি পরে বলব।
=== অধ্যায় ১৯ ===
* আমি ক্রুশ থেকে মুখ ফেরাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সাহস করিনি। কারণ আমি ভালো করেই জানতাম যে যতক্ষণ আমি ক্রুশের দিকে তাকিয়ে আছি, ততক্ষণ আমি নিশ্চিতভাবে নিরাপদ। তাই আমি আমার আত্মাকে বিপদে ফেলতে রাজি হইনি। কারণ ক্রুশের বাইরে কোনো নিশ্চয়তা নেই, শয়তানের ভয়ে।
* এটি আমার কাছে সর্বদা একটি সান্ত্বনা ছিল যে, আমি তাঁর কৃপায়, এই সমস্ত কষ্ট ও দুঃখের সময়েও যিশুকে আমার স্বর্গ হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম এবং এটি আমার জন্য একটি শিক্ষা ছিল যে আমি যেন সর্বদা তাই করি: সুখে ও দুঃখে কেবল যিশুকে আমার স্বর্গ হিসেবে বেছে নিই।
* আমি সত্যই দেখলাম যে অভ্যন্তরীণ সত্তা বাহ্যিক সত্তার প্রভু ও অধিপতি এবং সে তার ইচ্ছার দ্বারা চালিত হয় না বা মনোযোগ দেয় না। বরং সমস্ত উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা আমাদের প্রভু যিশুর সাথে একীভূত হওয়ার জন্য নির্ধারিত। বাহ্যিক সত্তা যেন অভ্যন্তরীণ সত্তাকে সম্মতি জানাতে টানে, তা আমাকে দেখানো হয়নি বরং কৃপার দ্বারা অভ্যন্তরীণ সত্তা বাহ্যিককে টানে, এবং খ্রিস্টের গুণের মাধ্যমে উভয়ই অন্তহীন পরমানন্দে একীভূত হবে,এটিই দেখানো হয়েছিল।
=== অধ্যায় ২০ ===
* এইভাবে আমি আমাদের প্রভু যিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে অবসন্ন থাকতে দেখলাম। কারণ ঈশ্বরত্বের সাথে একীভূত হওয়া মানবসত্ত্বাকে ভালোবাসার জন্য সহ্য করার শক্তি দিয়েছিল, যা সমস্ত মানুষের সহ্যক্ষমতার চেয়েও বেশি। আমার মানে এই নয় যে তিনি মানুষের চেয়ে বেশি যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন বরং তিনি এমন যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন যা পরিত্রাণপ্রাপ্ত কোনো মানুষ শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত কল্পনাও করতে পারবে না, সর্বোচ্চ মহিমান্বিত রাজা হওয়া সত্ত্বেও লজ্জাজনক, অবজ্ঞাত ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু বরণ করার কারণে। কারণ '''যিনি সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে যোগ্য, তাঁকেই সবচেয়ে বেশি তুচ্ছ ও অত্যন্ত অবজ্ঞাত করা হয়েছিল।'''
* তিনি যতটা কোমল ও পবিত্র ছিলেন, ঠিক ততটাই তিনি সহ্য করার জন্য শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান ছিলেন। <br> এবং পরিত্রাণপ্রাপ্ত প্রতিটি মানুষের পাপের জন্য তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন এবং প্রতিটি মানুষের দুঃখ ও একাকীত্ব তিনি দেখেছিলেন, এবং প্রকৃতির নিয়ম ও ভালোবাসার কারণে তিনি দুঃখ পেয়েছিলেন। <br> কারণ যতদিন তিনি কষ্টভোগী ছিলেন ততদিন তিনি আমাদের জন্য দুঃখ পেয়েছেন এবং এখন তিনি পুনরুত্থিত এবং আর কষ্টভোগী নন, তবুও তিনি আমাদের সাথে কষ্ট সহ্য করেন।
=== অধ্যায় ২১ ===
* আমার উপলব্ধিতে ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো, আমরা যেন তাঁর পবিত্র কষ্টকে তিনভাবে দেখি। প্রথমটি হলো: ''তিনি যে কঠিন যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন,''অনুশোচনা ও সহমর্মিতার সাথে। এবং আমাদের প্রভু সেই সময়ে তা দেখিয়েছিলেন এবং তা দেখার জন্য আমাকে শক্তি ও কৃপা দিয়েছিলেন।
* তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডলের পরিবর্তন আমার মুখকেও পরিবর্তন করল, এবং আমি যতটা সম্ভব আনন্দিত ও প্রফুল্ল ছিলাম। তখন আমাদের প্রভু আনন্দের সাথে আমার মনে করিয়ে দিলেন। "এখন তোমার কষ্ট বা দুঃখের কোনো চিহ্ন কি আছে?" এবং আমি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম।
* এখানে আমি সত্যই দেখলাম যে, যদি তিনি আমাদের তাঁর পরমানন্দময় চেহারা দেখান, তবে পৃথিবী বা অন্য কোনো স্থানে এমন কোনো যন্ত্রণা নেই যা আমাদের দুঃখিত করতে পারে বরং সবকিছুই আমাদের জন্য আনন্দ ও পরমানন্দ হবে।
* তিনি যে কষ্ট সহ্য করেন তার কারণ হলো, তিনি তাঁর মঙ্গলময়তার মাধ্যমে আমাদের তাঁর পরমানন্দে তাঁর চেয়েও উন্নত করতে চান এবং আমরা এখানে যেটুকু কষ্ট সহ্য করি, তার বিনিময়ে আমরা ঈশ্বরে এমন এক উচ্চ ও অন্তহীন জ্ঞান লাভ করব যা এই যন্ত্রণা ছাড়া আমাদের পক্ষে লাভ করা কখনোই সম্ভব ছিল না।
== নবম প্রকাশ (দ্য নাইনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২২ ===
* তখন আমাদের ভালো প্রভু যিশু খ্রিস্ট বললেন: "আমি তোমার জন্য কষ্ট পেয়েছি বলে তুমি কি খুব খুশি?" আমি বললাম: "হ্যাঁ, ভালো প্রভু, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই; হ্যাঁ, ভালো প্রভু, তুমি ধন্য হও।" <br> তখন যিশু, আমাদের দয়ালু প্রভু, বললেন: "যদি তুমি খুশি হও, তবে আমিও খুশি: এটি আমার কাছে এক আনন্দ, এক পরমানন্দ, এক অন্তহীন তৃপ্তি যে আমি তোমার জন্য কষ্ট সহ্য করেছি; এবং যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম।"
* আমার উপলব্ধি স্বর্গের দিকে উন্নীত হয়েছিল, এবং সেখানে আমি তিনটি স্বর্গ দেখলাম। এই দৃশ্য দেখে আমি অত্যন্ত বিস্মিত হলাম। এবং যদিও আমি তিনটি স্বর্গ দেখলাম এবং সবই খ্রিস্টের পবিত্র মানবসত্তার মধ্যে কোনোটাই বড় নয়, কোনোটাই ছোট নয়, কোনোটাই উঁচু নয়, কোনোটাই নিচু নয়, বরং পরমানন্দে সবই সমান।
* আমি যা বলছি তা যিশুর কাছে এতটাই বড় আনন্দ যে তিনি তাঁর সমস্ত কষ্ট, তাঁর কঠিন যন্ত্রণা এবং তাঁর নিষ্ঠুর ও লজ্জাজনক মৃত্যুকে তুচ্ছ মনে করেন। <br> এবং এই কথাগুলোতে: "যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম" আমি সত্যই দেখলাম যে, তিনি যতবার মরতে "পারতেন", ততবারই তিনি মরতে "চাইতেন" এবং তাঁর ভালোবাসা তাঁকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে দিত না যতক্ষণ না তিনি তা করতেন। এবং তিনি কতবার মরতে চাইতেন তা জানার জন্য আমি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করলাম। এবং সত্যই সেই সংখ্যা আমার বোধগম্যতা ও বুদ্ধিকে এতদূর ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে আমার যুক্তি তা বুঝতে পারেনি, বা পারতও না। এবং যখন তিনি এইভাবে বহুবার মারা গিয়েছিলেন, বা মারা যেতেন, তবুও তিনি প্রেমের খাতিরে তা তুচ্ছ করতেন। কারণ তাঁর ভালোবাসার তুলনায় সবকিছুই তাঁর কাছে সামান্য মনে হয়।
* কারণ খ্রিস্টের মিষ্টি মানবসত্তা মাত্র একবার কষ্ট সহ্য করতে পারলেও, তাঁর মধ্যকার মঙ্গলময়তা দানের ইচ্ছায় কখনও ক্ষান্ত হতে পারে না। প্রতিদিন তিনি একই কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকেন, যদি তা সম্ভব হতো। কারণ তিনি যদি বলতেন যে তিনি আমার ভালোবাসার জন্য নতুন স্বর্গ ও নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করবেন, তবে তা তুলনামূলকভাবে সামান্যই হতো। কারণ এটি প্রতিদিন করা যেত, কোনো কষ্ট ছাড়াই। কিন্তু আমার ভালোবাসার জন্য এতবার মরা যে যার সংখ্যা প্রাণীর যুক্তিকে ছাড়িয়ে যায়, আমার দৃষ্টিতে এটিই সর্বোচ্চ উপহার যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর মানুষের আত্মাকে দিতে পারেন। তখন তিনি বোঝাতে চান: "তোমার ভালোবাসার জন্য আমি যে সমস্ত কাজ সহজেই করতে পারি তা কেন করব না, যেহেতু তোমার ভালোবাসার জন্য আমি আমার কঠিন যন্ত্রণার তোয়াক্কা না করেই এতবার মরতে প্রস্তুত ছিলাম?"
* '''যে ভালোবাসা তাঁকে কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য করেছে, তা তাঁর সমস্ত যন্ত্রণাকে ছাড়িয়ে গেছে, যেমন স্বর্গ পৃথিবীকে ছাড়িয়ে থাকে।'''
* '''ভালোবাসার কোনো শুরু ছিল না, আছে, এবং শেষও থাকবে না।''' এই প্রেমের জন্যই তিনি খুব মিষ্টিভাবে এই কথাগুলো বলেছিলেন: "যদি আমি আরও কষ্ট সহ্য করতে পারতাম, তবে আমি আরও সহ্য করতাম।"
=== অধ্যায় ২৩ ===
* এই তিনটি শব্দে: "এটি একটি আনন্দ, একটি পরমানন্দ, আমার জন্য এক অন্তহীন তৃপ্তি" তিনটি স্বর্গ দেখানো হয়েছিল। এইভাবে: আনন্দের জন্য, আমি পিতার সন্তুষ্টি বুঝেছি। পরমানন্দের জন্য, পুত্রের মহিমা এবং অন্তহীন তৃপ্তির জন্য, পবিত্র আত্মা। পিতা সন্তুষ্ট, পুত্র মহিমান্বিত, পবিত্র আত্মা তৃপ্ত।
* '''খ্রিস্ট বললেন:''' "যদি তুমি সন্তুষ্ট হও, তবে আমিও সন্তুষ্ট। " যেন তিনি বললেন: "এটিই আমার জন্য যথেষ্ট আনন্দ ও তৃপ্তি, এবং আমার কষ্টের বিনিময়ে আমি তোমার কাছে আর কিছুই চাই না, কেবল এই যে আমি যেন তোমাকে পুরোপুরি খুশি করতে পারি।" <br> এবং এর মাধ্যমে তিনি এক আনন্দিত দাতার বৈশিষ্ট্য মনে করিয়ে দিলেন। একজন আনন্দিত দাতা তিনি যা দান করেন তার দিকে খুব কম মনোযোগ দেন বরং তাঁর সমস্ত ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য থাকে তাঁকে খুশি করা ও সান্ত্বনা দেওয়া, যাকে তিনি তা দান করছেন। এবং গ্রহীতা যদি সেই উপহারটিকে মহান ও কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করে, তবে সেই সৌজন্যপূর্ণ দাতা তাঁর সমস্ত ব্যয় ও কষ্টকে তুচ্ছ মনে করেন, কারণ তিনি তাঁর ভালোবাসার পাত্রকে খুশি ও সান্ত্বনা দিতে পেরেছেন।এই আনন্দ ও তৃপ্তির জন্য। এটি প্রাচুর্যের সাথে এবং পূর্ণভাবে দেখানো হয়েছিল।
== দশম প্রকাশ (দ্য টেনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৪ ===
* তখন এক আনন্দিত চেহারায় আমাদের প্রভু তাঁর পার্শ্বদেশের (যেখানে বর্শা বিদ্ধ হয়েছিল) দিকে তাকালেন এবং আনন্দ সহকারে অবলোকন করলেন। তাঁর মিষ্টি দৃষ্টি দিয়ে তিনি তাঁর সৃষ্টির উপলব্ধিকে সেই একই ক্ষতের মধ্য দিয়ে তাঁর পার্শ্বদেশের ভেতরে নিয়ে গেলেন। এবং তখন তিনি একটি সুন্দর, মনোরম এবং শান্তিতে ও প্রেমে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্ত মানবজাতির জন্য পর্যাপ্ত প্রশস্ত একটি স্থান দেখালেন। এবং তার সাথে তিনি তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান রক্ত ও পবিত্র জলের কথা মনে করিয়ে দিলেন যা তিনি ভালোবাসার জন্য পুরোপুরি ঢেলে দিয়েছিলেন। এবং সেই মিষ্টি দৃষ্টির সাথে তিনি তাঁর পবিত্র হৃদয় দেখালেন যা দ্বিখণ্ডিত।
* এছাড়াও, আরও ভালো উপলব্ধির জন্য, এই পবিত্র শব্দটি বলা হয়েছিল: "দেখো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি! তাকাও এবং দেখো যে তোমার জন্য মরার আগেই আমি তোমাকে এতটাই ভালোবাসতাম যে আমি তোমার জন্য মরতে প্রস্তুত ছিলাম এবং এখন আমি তোমার জন্য মারা গেছি এবং যা আমি সহ্য করতে পারি তা স্বেচ্ছায় সহ্য করেছি। এবং এখন আমার সমস্ত তিক্ত যন্ত্রণা ও কঠিন কষ্ট আমার ও তোমার জন্য অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দে পরিণত হয়েছে। এখন কি এমন হতে পারে যে তুমি এমন কিছু প্রার্থনা করবে যা আমাকে খুশি করে, কিন্তু আমি তা তোমাকে সানন্দে দান করব না? কারণ আমার খুশি হলো তোমার পবিত্রতা এবং আমার সাথে তোমার অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দ।" <br> এই পবিত্র শব্দের অর্থ, আমি যতটা সহজভাবে বলতে পারি, তা হলো: "দেখো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।" আমাদের ভালো প্রভু আমাদের আনন্দিত ও প্রফুল্ল করার জন্যই এটি দেখিয়েছিলেন।
== একাদশ প্রকাশ (দ্য ইলেভেন্থ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৫ ===
* আনন্দ ও উল্লাসের সেই একই চেহারায় আমাদের ভালো প্রভু যিশু খ্রিস্ট ডান দিকে তাকালেন এবং আমার মনে করিয়ে দিলেন যে, তাঁর কষ্টের সময়ে আমাদের লেডি (মেরি) কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন এবং বললেন: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?"
* মোশির পরেই তিনিই সবচেয়ে পরমানন্দময় দৃশ্য। <br> কিন্তু এখানে আমি তাঁর শারীরিক উপস্থিতি দেখার জন্য আকাঙ্ক্ষা করতে শিখিনি বরং তাঁর পবিত্র আত্মার গুণাবলী তাঁর সত্য, তাঁর প্রজ্ঞা, তাঁর দানশীলতা দেখতে শিখেছি। যার মাধ্যমে আমি নিজেকে চিনতে এবং শ্রদ্ধার সাথে আমার ঈশ্বরকে ভয় করতে পারি। এবং যখন আমাদের ভালো প্রভু এটি দেখালেন এবং বললেন: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?" আমি উত্তর দিলাম: "হ্যাঁ, ভালো প্রভু, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই। হ্যাঁ, ভালো প্রভু, যদি তোমার ইচ্ছা হয়।" আমি প্রায়শই এর জন্য প্রার্থনা করেছি এবং আমি ভেবেছিলাম আমি তাঁকে শারীরিক উপস্থিতিতে দেখব, কিন্তু আমি তাঁকে সেভাবে দেখিনি। এবং যিশু সেই কথায় আমাকে তাঁর আধ্যাত্মিক রূপ দেখিয়েছেন: আমি আগে তাঁকে যেমন ছোট ও সাধারণ হিসেবে দেখেছিলাম, তিনি তখন তাঁকে উচ্চ, মহৎ, গৌরবময় এবং সমস্ত প্রাণীর ঊর্ধ্বে তাঁর কাছে প্রিয় হিসেবে দেখালেন। <br> এবং তিনি চান যেন এটি জানা থাকে। যে সবাই যারা তাঁর মধ্যে আনন্দ পায়, তারা যেন তাঁর মধ্যেও আনন্দ পায় এবং সেই সন্তুষ্টিতে যা তাঁর মধ্যে আছে এবং যা তাঁর মধ্যে তাঁর আছে।
* এবং যিশুর এই কথায়: "তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও?" আমার মনে হয়েছিল এটিই সবচেয়ে আনন্দদায়ক শব্দ যা তিনি তাঁর সম্পর্কে আমাকে বলতে পারতেন, সেই আধ্যাত্মিক দর্শনের সাথে যা তিনি আমাকে তাঁর সম্পর্কে দিয়েছিলেন। কারণ আমাদের প্রভু আমাদের লেডি সেন্ট মেরি ছাড়া বিশেষ কিছুই দেখাননি এবং তাঁকে তিনি তিনবার দেখিয়েছেন। প্রথমটি হলো যখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। দ্বিতীয়টি হলো যখন তিনি ক্রুশের নিচে কষ্টে ছিলেন। তৃতীয়টি হলো এখন যেমন তিনি সন্তুষ্টি, শ্রদ্ধা এবং আনন্দে আছেন।
== দ্বাদশ প্রকাশ (দ্য টুয়েলভথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৬ ===
[[File:Collage Auge im Himmel byLöser.jpg|thumb|আমিই সেই, যে এখানে তোমাকে নিজেকে দেখালাম।]]
* এর পরে আমাদের প্রভু নিজেকে আমার দৃষ্টিতে আগের চেয়ে বেশি মহিমান্বিত হিসেবে দেখালেন, যার মাধ্যমে আমি শিখলাম যে আমাদের আত্মা কখনোই বিশ্রাম পাবে না যতক্ষণ না তা তাঁর কাছে পৌঁছায়, এটা জেনে যে তিনিই আনন্দের পূর্ণতা, আপন ও সৌজন্যপূর্ণ, পরমানন্দময় এবং প্রকৃত জীবন। <br> আমাদের প্রভু যিশু বারবার বললেন: '''''আমিই সেই, আমিই সেই: আমিই সেই যে সর্বোচ্চ, আমিই সেই যাকে তুমি ভালোবাসো, আমিই সেই যাকে তুমি উপভোগ করো, আমিই সেই যার তুমি সেবা করো, আমিই সেই যার জন্য তুমি তৃষ্ণার্ত, আমিই সেই যাকে তুমি আকাঙ্ক্ষা করো, আমিই সেই যা তুমি বোঝো, আমিই সেই যা সবকিছু। আমিই সেই যা পবিত্র চার্চ তোমার কাছে প্রচার করে ও শিক্ষা দেয়, আমিই সেই যে এখানে তোমাকে নিজেকে দেখালাম।''''' শব্দগুলোর সংখ্যা আমার বুদ্ধি, সমস্ত উপলব্ধি এবং ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। এবং আমার দৃষ্টিতে এগুলোই সর্বোচ্চ। কারণ এর মধ্যে নিহিত আছে আমি বলে বোঝাতে পারব না কিন্তু তাদের প্রকাশের মধ্যে আমি যে আনন্দ দেখেছি, তা হৃদয় যা চাইতে পারে এবং আত্মা যা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে, তার সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাই শব্দগুলো এখানে বিস্তারিত বলা হলো না। কিন্তু ঈশ্বর মানুষকে বোঝার ও ভালোবাসার যে কৃপা দেন, সেই অনুযায়ী প্রত্যেকে আমাদের প্রভুর অর্থে তা গ্রহণ করুক।
== ত্রয়োদশ প্রকাশ (দ্য থার্টিনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ২৭ ===
* '''পাপ প্রয়োজনীয়, কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে।'''
* এই সময়ের আগে আমার বোকামিতে আমি প্রায়শই ভাবতাম, ঈশ্বরের মহান দূরদর্শী প্রজ্ঞা দ্বারা কেন পাপের শুরুকে বাধা দেওয়া হয়নি। কারণ তখন, আমার মনে হয়েছিল, সবকিছুই ভালো হতো। এই অস্থিরতা অনেক বর্জনীয় ছিল কিন্তু তবুও আমি এর জন্য শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম, কোনো কারণ ও বিচার-বিবেচনা ছাড়াই। <br> কিন্তু যিশু, যিনি এই দর্শনে আমার প্রয়োজনীয় সবকিছু সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছিলেন, তিনি এই শব্দের দ্বারা উত্তর দিয়ে বললেন: '''''পাপ হওয়া প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে, এবং সবকিছুই ভালো হবে এবং সব ধরনের জিনিসই ভালো হবে।'''''
* এই নগ্ন শব্দ 'পাপে', আমাদের প্রভু আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, সাধারণভাবে, 'যা কিছু ভালো নয়' এবং সেই লজ্জাজনক অপমান ও সম্পূর্ণ তুচ্ছতা যা তিনি এই জীবনে আমাদের জন্য সহ্য করেছিলেন এবং তাঁর মৃত্যু এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির সমস্ত বেদনা ও কষ্ট, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক। কারণ আমরা সবাই আংশিকভাবে তুচ্ছ হয়েছি এবং আমাদের প্রভু যিশুকে অনুসরণ করে আমরা তুচ্ছ হব, যতক্ষণ না আমরা পুরোপুরি পবিত্র হই, অর্থাৎ, যতক্ষণ না আমরা আমাদের নশ্বর দেহ থেকে এবং আমাদের সমস্ত অভ্যন্তরীণ আসক্তি থেকে পুরোপুরি তুচ্ছ হই যা খুব একটা ভালো নয় এবং এর দর্শন, সমস্ত বেদনা যা কখনো ছিল বা কখনো থাকবে তার সাথে—এবং এই সমস্ত কিছুর সাথে আমি খ্রিস্টের প্যাশন বা কষ্টকে সবচেয়ে বড় এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে বেদনা হিসেবে বুঝি। '''এই সবকিছু একটি স্পর্শে দেখানো হয়েছিল এবং দ্রুত সান্ত্বনায় পরিণত হয়েছিল। কারণ আমাদের ভালো প্রভু চাননি যে আত্মা এই ভয়ানক দৃশ্য দেখে ভীত হোক। <br> কিন্তু আমি 'পাপ' দেখতে পাইনি: কারণ আমি বিশ্বাস করি এর কোনো ''সত্তা'' নেই এবং কোনো অস্তিত্বের অংশ নেই, কিংবা ব্যথার কারণ হওয়া ছাড়া এটি জানা সম্ভব নয়।''' <br> এবং এইভাবে বেদনা, ''এটি'' আমার দৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য কিছু একটা। কারণ এটি পবিত্র করে, এবং আমাদের নিজেদের চিনতে ও দয়া চাইতে বাধ্য করে। কারণ আমাদের প্রভুর প্যাশন এই সবকিছুর বিরুদ্ধে আমাদের সান্ত্বনা এবং তাঁর পবিত্র ইচ্ছাও তাই।
* এবং সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্তদের প্রতি আমাদের ভালো প্রভুর কোমল ভালোবাসার কারণে, তিনি তৎক্ষণাৎ ও মিষ্টিভাবে সান্ত্বনা দিয়ে ইঙ্গিত করেন। ''এটা সত্য যে পাপই এই সমস্ত যন্ত্রণার কারণ। কিন্তু সবকিছুই ভালো হবে, এবং সবকিছুই ভালো হবে, এবং সব ধরনের জিনিসই ভালো হবে।'' <br> '''এই শব্দগুলো খুব কোমলভাবে বলা হয়েছিল, আমার প্রতি বা পরিত্রাণপ্রাপ্ত কারো প্রতি কোনো দোষারোপ না দেখিয়ে। তাহলে আমার পাপের জন্য ঈশ্বরকে দোষারোপ করা বা অবাক হওয়া হবে এক চরম অকৃতজ্ঞতা, যেহেতু তিনি আমাকে পাপের জন্য দোষারোপ করেন না। <br> এবং এই শব্দগুলোতে আমি ঈশ্বরের মধ্যে লুকানো একটি বিস্ময়কর উচ্চ রহস্য দেখেছি, যে রহস্য তিনি স্বর্গে আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবেন: যা জানার পর আমরা সত্যই সেই কারণটি দেখতে পাব কেন তিনি পাপকে আসতে দিয়েছিলেন। সেই দর্শনে আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের মধ্যে অন্তহীন আনন্দিত হব।'''
=== অধ্যায় ২৮ ===
* এইভাবে আমি দেখলাম কীভাবে খ্রিস্ট পাপের কারণের জন্য আমাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখান।
* এর উত্তরে আমাদের প্রভু এই ভাবে বললেন: '''''এর দ্বারা আমি স্বর্গে অন্তহীন পূজা এবং চিরন্তন আনন্দের একটি মহান জিনিস তৈরি করব।'''''
* হ্যাঁ, আমি এতদূর দেখলাম যে, আমাদের প্রভু তাঁর সেবকদের যন্ত্রণার জন্য আনন্দিত হন, দয়া ও সহমর্মিতার সাথে। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে তাঁর পরমানন্দে আনার জন্য, তিনি তার ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেন যা তাঁর দৃষ্টিতে কোনো দোষ নয়, যার মাধ্যমে তারা এই পৃথিবীতে দোষী ও ঘৃণিত হয়, উপহাসিত, বিদ্রূপিত এবং পরিত্যক্ত হয়। এবং তিনি এটি করেন সেই ক্ষতি রোধ করার জন্য যা তারা এই জঘন্য জীবনের জাঁকজমক ও বৃথা গৌরব থেকে পেতে পারত, এবং তাদের স্বর্গে আসার পথ প্রস্তুত করতে, এবং তাঁর অনন্ত পরমানন্দে তাদের উন্নীত করতে। কারণ তিনি বলেন: ''আমি আপনাদের বৃথা আসক্তি ও আপনাদের দুষ্ট অহংকার থেকে পুরোপুরি মুক্ত করব এবং এর পরে আমি আপনাদের একত্রিত করব, এবং আমাকে একীভূত করার মাধ্যমে আপনাদের নম্র, মৃদু, পবিত্র ও নিষ্পাপ করব।''
* '''প্রতিটি ভ্রাতৃত্বসুলভ সহমর্মিতা যা মানুষের তার সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি থাকে, প্রেমের সাথে, তা হলো তার মধ্যে খ্রিস্ট।'''
** পাঠান্তর: ''প্রতিটি দয়ালু সহমর্মিতা যা মানুষের তার সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি প্রেমের সাথে থাকে, তা হলো তার মধ্যে খ্রিস্ট।''
* '''সেই একই তুচ্ছতা যা [[খ্রিস্টের প্যাশন|তাঁর প্যাশনে]] দেখানো হয়েছিল, তা আবার এখানে এই সহমর্মিতায় দেখানো হয়েছে।''' যার মধ্যে আমাদের প্রভুর অর্থে দুই ধরনের উপলব্ধি ছিল। একটি ছিল সেই পরমানন্দ যেখানে আমাদের আনা হয়েছে, যাতে তিনি চান আমরা আনন্দিত হই। অন্যটি আমাদের যন্ত্রণায় সান্ত্বনার জন্য: কারণ তিনি চান আমরা যেন বুঝতে পারি যে তাঁর প্যাশনের গুণের মাধ্যমে সবকিছুই পূজা ও উপকারে পরিণত হবে, আমরা যেন বুঝতে পারি যে আমরা একা কষ্ট সহ্য করি না বরং তাঁর সাথে করি এবং তাঁকে আমাদের ভিত্তি হিসেবে দেখি এবং আমরা দেখি যে তাঁর যন্ত্রণা ও তাঁর তুচ্ছতা আমাদের সহ্য করার সমস্ত কিছুর চেয়ে অনেক বেশি, যা পুরোপুরি ভাবাও যায় না। <br> এর দর্শন আমাদের যন্ত্রণার অনুভূতিতে বিড়বিড় করা ও হতাশা থেকে বাঁচাবে। '''এবং যদি আমরা সত্যই দেখি যে আমাদের পাপ এর যোগ্য, তবুও তাঁর ভালোবাসা আমাদের ক্ষমা করে এবং তাঁর মহান সৌজন্যে তিনি আমাদের সমস্ত দোষ দূর করে দেন, এবং নিষ্পাপ ও নিষ্কলঙ্ক শিশুদের মতো করুণা ও দয়ার সাথে আমাদের দিকে তাকান।'''
=== অধ্যায় ২৯ ===
* কিন্তু এতে আমি সাধারণভাবে, অশান্তি ও শোকে জিনিসগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আমার অর্থে আমাদের প্রভুকে পূর্ণ ভয়ের সাথে এইভাবে বললাম: ''আহ! ভালো প্রভু, সবকিছু কীভাবে ভালো হতে পারে, পাপের কারণে সৃষ্টির যে মহান ক্ষতি হয়েছে তার জন্য?'' এবং এখানে আমি, যতটা সাহস করতাম, আরও খোলাখুলি ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম যাতে আমি এই বিষয়ে স্বস্তি পেতে পারি।
* তিনি শিখিয়েছিলেন যে আমার গৌরবময় সন্তুষ্টির দিকে তাকানো উচিত: কারণ এই সংশোধন ঈশ্বরের কাছে আদম্যের পাপের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দদায়ক এবং অতুলনীয়ভাবে বেশি পূজনীয়। তখন আমাদের পবিত্র প্রভু এই শিক্ষায় এইভাবে ইঙ্গিত করেন যে, আমাদের এই দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত: ''যেহেতু আমি সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভালো করেছি, তাই আমার ইচ্ছা যে তুমি এর দ্বারা জানো যে আমি যা কিছু কম, তা-ও ভালো করব।''
=== অধ্যায় ৩০ ===
* তিনি আমাকে দুটি অংশের উপলব্ধি দিয়েছিলেন। একটি অংশ হলো আমাদের ত্রাণকর্তা এবং আমাদের পরিত্রাণ। এই পবিত্র অংশটি উন্মুক্ত এবং পরিষ্কার এবং সুন্দর এবং উজ্জ্বল, এবং প্রাচুর্যময়,কারণ সমস্ত মানবজাতি যারা সদিচ্ছাসম্পন্ন, এবং যারা থাকবে, তারা এই অংশে অন্তর্ভুক্ত।
* এতে আমাদের প্রভুর ইচ্ছা যে আমরা ব্যস্ত থাকি, তাঁর মধ্যে আনন্দিত হয়ে। কারণ তিনি আমাদের মধ্যে আনন্দিত হন। আমরা যত বেশি প্রাচুর্যের সাথে এটি গ্রহণ করি, শ্রদ্ধা ও নম্রতার সাথে, আমরা তাঁর কাছ থেকে তত বেশি ধন্যবাদ অর্জন করি এবং নিজের জন্য তত বেশি গতি বৃদ্ধি করি, এইভাবে আমরা বলতে পারি। আমাদের প্রভুর 'আমাদের' অংশে আনন্দিত হয়ে। অন্যটি আমাদের থেকে লুকানো এবং বন্ধ করা: অর্থাৎ, আমাদের পরিত্রাণের বাইরের সবকিছু।
* '''স্বর্গে যে সাধুরা আছেন, তারা আমাদের প্রভুর ইচ্ছার বাইরে কিছু জানতে চান না এবং তাদের ভালোবাসা ও ইচ্ছা আমাদের প্রভুর ইচ্ছা অনুযায়ী শাসিত হয় এবং এইভাবে আমাদের ইচ্ছা করা উচিত, তাদের মতো। তখন আমরা আমাদের প্রভুর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চাইব না বা আকাঙ্ক্ষা করব না, যেমন তারা করে। কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা সবাই এক।'''
=== অধ্যায় ৩১ ===
* এবং এইভাবে আমাদের ভালো প্রভু আমার সমস্ত প্রশ্ন এবং সন্দেহের উত্তর দিয়েছিলেন, খুব সান্ত্বনাদায়কভাবে বলে। '''''আমি সবকিছু ভালো করতে পারি, আমি সবকিছু ভালো করতে জানি, আমি চাই সবকিছু ভালো করতে, এবং আমি সবকিছু ভালো করব এবং তুমি নিজেই দেখবে যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'''''
* এইভাবে খ্রিস্টের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার অবসান ঘটবে। কারণ এটিই খ্রিস্টের আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা: সেই ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা যা স্থায়ী হয়, এবং চিরকাল থাকবে, যতক্ষণ না আমরা বিচার দিবসে সেই দর্শন দেখি। কারণ আমরা যারা পরিত্রাণ পাব এবং যারা হব খ্রিস্টের আনন্দ ও তাঁর পরমানন্দ, কেউ কেউ এখনো এখানে আছি এবং কেউ কেউ আসার অপেক্ষায়, এবং সেই দিন পর্যন্ত কেউ কেউ থাকবে। অতএব এটি তাঁর তৃষ্ণা ও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, আমাদের সবাইকে তাঁর পরমানন্দে তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পাওয়ার জন্য,আমার দৃষ্টিতে। কারণ এখন আমরা তাঁর মধ্যে ততটা সম্পূর্ণ নই যতটা আমরা তখন হব।
* সত্যই যেমন ঈশ্বরের মধ্যে করুণা ও দয়ার একটি বৈশিষ্ট্য আছে, তেমনই সত্যই ঈশ্বরের মধ্যে তৃষ্ণা ও আকাঙ্ক্ষার একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এবং খ্রিস্টের এই আকাঙ্ক্ষার গুণের থেকে, 'আমাদের' তাঁর প্রতি আবার আকাঙ্ক্ষা করতে হবে: যা ছাড়া কোনো আত্মা স্বর্গে আসে না। এবং আকাঙ্ক্ষা ও তৃষ্ণার এই বৈশিষ্ট্য ঈশ্বরের অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আসে, ঠিক যেমন করুণার বৈশিষ্ট্য তাঁর অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আসে। এবং যদিও আমার দৃষ্টিতে আকাঙ্ক্ষা ও করুণা দুটি আলাদা বৈশিষ্ট্য, তবুও এটি আধ্যাত্মিক তৃষ্ণার মূল বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে: যা হলো 'যতদিন আমরা প্রয়োজনে থাকি তাঁর মধ্যে ইচ্ছা থাকা', আমাদের তাঁর পরমানন্দের দিকে টেনে নেওয়া। এবং এই সবকিছু সহমর্মিতার প্রদর্শনীতে দেখা গিয়েছিল: কারণ তা বিচার দিবসে শেষ হবে। <br> এইভাবে তিনি আমাদের প্রতি করুণা ও সহমর্মিতা রাখেন, এবং আমাদের পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাঁর আছে; কিন্তু তাঁর প্রজ্ঞা ও তাঁর ভালোবাসা সেরা সময় পর্যন্ত শেষ হতে দেয় না।
=== অধ্যায় ৩২ ===
* একবার আমাদের ভালো প্রভু বলেছিলেন: ''সবকিছু ভালো হবে'' এবং অন্য সময় তিনি বলেছিলেন: ''তুমি নিজেই দেখবে যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে''এবং এই দুটিতে আত্মা আলাদা আলাদা উপলব্ধি নিয়েছিল। একটি ছিল যে, তিনি চান আমরা জানি যে তিনি কেবল মহৎ ও মহান জিনিসের দিকেই মনোযোগ দেন না বরং ছোট ও সামান্য, নিচু ও সাধারণ, একের ও অপরের দিকেও। এবং তাই তিনি বোঝান যখন তিনি বলেন: ''সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' কারণ তিনি চান আমরা জানি যে ক্ষুদ্রতম জিনিসটিও বিস্মৃত হবে না।
* আরেকটি উপলব্ধি হলো এই যে, আমাদের দৃষ্টিতে এমন খারাপ কাজ করা হয়, এবং এত বড় ক্ষতি হয় যে আমাদের কাছে মনে হয় যে ভালো পরিণামে আসা অসম্ভব। এবং এর দিকে আমরা তাকাই, শোক ও দুঃখ করি, যাতে আমরা ঈশ্বরের পরমানন্দময় দর্শনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে পারি না যেমন আমাদের করা উচিত। এবং এর কারণ হলো আমাদের যুক্তির ব্যবহার এখন এতটাই অন্ধ, এতটাই নিচু, এবং এতটাই সাধারণ যে আমরা সেই মহান বিস্ময়কর প্রজ্ঞা, পরমানন্দময় ত্রিত্বের শক্তি ও মঙ্গলময়তাকে জানতে পারি না। এবং এইভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন যখন তিনি বলেন: ''তুমি নিজেই দেখবে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' যেন তিনি বললেন: ''এখন বিশ্বাস ও আস্থার সাথে মনোযোগ দাও এবং শেষ মুহূর্তে তুমি সত্যই তা আনন্দের পূর্ণতায় দেখতে পাবে।''
* এইভাবে এই একই পাঁচটি শব্দে: ''আমি সবকিছু ভালো করতে পারি'', ইত্যাদি, আমি আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সমস্ত কাজের একটি শক্তিশালী সান্ত্বনা বুঝি যা এখনো আসা বাকি। একটি কাজ আছে যা পবিত্র ত্রিত্ব শেষ দিনে করবে, আমার দৃষ্টিতে, এবং কখন সেই কাজ হবে, এবং কীভাবে তা করা হবে, তা খ্রিস্টের নিচের সমস্ত সৃষ্টির অজানা, এবং তা না হওয়া পর্যন্ত অজানা থাকবে।
* তিনি যে চান আমরা জানি, তার কারণ হলো তিনি চান আমাদের আত্মায় আরও স্বস্তি আসুক এবং প্রেমে শান্তিতে স্থাপন করা হোক সমস্ত অশান্ত জিনিসের দর্শন ছেড়ে যা আমাদের তাঁর প্রকৃত উপভোগ থেকে বিরত রাখতে পারে। এটিই সেই মহান কাজ যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর সৃষ্টির আদি থেকেই নির্ধারণ করেছেন, তাঁর পবিত্র বক্ষে সংরক্ষিত ও লুকানো, কেবল তাঁরই পরিচিত: যার দ্বারা তিনি সবকিছু ভালো করবেন। <br> কারণ যেমন পবিত্র ত্রিত্ব শূন্য থেকে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, ঠিক তেমনই সেই একই পবিত্র ত্রিত্ব যা ভালো নয় তা ভালো করবেন।
* আমাদের বিশ্বাস ঈশ্বরের কথার ওপর ভিত্তি করে, এবং এটি আমাদের বিশ্বাসের অংশ যে আমরা বিশ্বাস করি ঈশ্বরের কথা সব বিষয়ে রক্ষিত হবে। এবং আমাদের বিশ্বাসের একটি বিন্দু হলো যে অনেক সৃষ্টি দণ্ডিত হবে: যেমন দেবদূত যারা অহংকারের জন্য স্বর্গ থেকে পড়ে গিয়েছিল, যারা এখন শয়তান এবং পৃথিবীতে মানুষ যারা পবিত্র চার্চের বিশ্বাস ছাড়া মারা যায়: অর্থাৎ, তারা যারা বিধর্মী মানুষ এবং মানুষ যারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছে কিন্তু অখ্রিস্টীয় জীবন যাপন করে এবং এভাবে প্রেমহীন হয়ে মারা যায়: এদের সবাই নরকে চিরকাল দণ্ডিত হবে, যেমন পবিত্র চার্চ আমাকে বিশ্বাস করতে শেখায়। এবং এই সবকিছু দাঁড়িয়ে, আমার মনে হয়েছিল এটা অসম্ভব যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে, যেমন আমাদের প্রভু একই সময়ে দেখিয়েছিলেন। <br> এবং এর উত্তরে আমার প্রভু ঈশ্বরের প্রদর্শনীতে অন্য কোনো উত্তর ছিল না কিন্তু এটি: '''''যা তোমার কাছে অসম্ভব তা আমার কাছে অসম্ভব নয়: আমি সব বিষয়ে আমার কথা রক্ষা করব এবং আমি সবকিছু ভালো করব।''''' এইভাবে আমি শিক্ষিত হয়েছিলাম, ঈশ্বরের কৃপায়, যে আমি অটলভাবে বিশ্বাসের মধ্যে নিজেকে ধরে রাখব যেমনটি আমি আগে বুঝেছিলাম, তার সাথে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করব যে সবকিছু ভালো হবে, যেমন আমাদের প্রভু একই সময়ে দেখিয়েছিলেন। <br> '''কারণ এটিই সেই মহান কাজ যা আমাদের প্রভু করবেন, যে কাজে তিনি তাঁর কথা রক্ষা করবেন এবং তিনি যা ভালো নয় তা ভালো করবেন। কীভাবে তা করা হবে তা খ্রিস্টের নিচে কোনো সৃষ্টির জানা নেই, কিংবা তা না হওয়া পর্যন্ত জানবে না। এই সময়ে আমাদের প্রভুর অর্থের যে উপলব্ধি আমি নিয়েছিলাম তার অনুযায়ী।'''
=== অধ্যায় ৩৩ ===
* এবং তবুও এতে আমি আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম, যতটা সাহস করতাম, যে আমি নরক ও পবিত্র স্থানের পূর্ণ দর্শন পেতে পারি। কিন্তু বিশ্বাসের অন্তর্গত কোনো কিছুর প্রমাণ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না: কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতাম যে নরক ও পবিত্র স্থান সেই একই উদ্দেশ্যে যার জন্য পবিত্র চার্চ শেখায়, কিন্তু আমার উদ্দেশ্য ছিল আমি যেন দেখতে পারি, আমার বিশ্বাসের অন্তর্গত সমস্ত বিষয়ে শেখার জন্য: যার দ্বারা আমি ঈশ্বরের উপাসনায় এবং আমার লাভের জন্য আরও বেশি বাঁচতে পারি। <br> কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষার জন্য, আমি এর কিছুই করতে পারিনি, কেবল প্রথম প্রদর্শনীতে যা আগে বলা হয়েছে, যেখানে আমি দেখেছিলাম যে শয়তান ঈশ্বর কর্তৃক তিরস্কৃত এবং চিরকাল দণ্ডিত। সেই দর্শনে আমি সমস্ত সৃষ্টির জন্য বুঝেছিলাম যারা এই জীবনে শয়তানের অবস্থার এবং তাতে শেষ করে, তাদের বিষয়ে ঈশ্বর ও তাঁর সমস্ত পবিত্রদের সামনে শয়তানের চেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয় না, যদিও তারা মানবজাতির,তারা খ্রিস্টান হোক বা না হোক।
* ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা তাঁর করা সমস্ত কাজের প্রতি মহান দৃষ্টি রাখি, কিন্তু সর্বদা আমাদের কী কাজ হবে তার দর্শন ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন।
* '''আসুন আমরা আমাদের ভাইদের মতো হতে আকাঙ্ক্ষা করি যারা স্বর্গে সাধু, যারা ঈশ্বরের ইচ্ছা ছাড়া কিছুই চায় না এবং যারা লুকানো ও দেখানো উভয় বিষয়েই সন্তুষ্ট। কারণ আমি আমাদের প্রভুর শিক্ষায় সত্যই দেখেছি, এই বিষয়ে বা অন্য যেকোনো বিষয়ে তাঁর গোপন পরামর্শ জানার জন্য আমরা যত বেশি ব্যস্ত হব, ততই আমরা তা জানার থেকে দূরে থাকব।'''
=== অধ্যায় ৩৪ ===
[[File:VY Canis Majoris.jpg|thumb|এই গোপন জিনিসগুলো তিনি চান আমরা 'লুকানো' হিসেবে জানি যতক্ষণ না সেই সময় আসে যখন তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে সেগুলো দেখাবেন।]]
[[File:Cross on Mount Royal.JPG|thumb|কারণ যা কিছু আমাদের শেখা এবং জানা দরকারী, খুব সৌজন্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রভু আমাদের দেখাবেন।]]
* '''আমাদের প্রভু ঈশ্বর দুই ধরনের গোপন জিনিস দেখিয়েছেন। একটি হলো এই মহান গোপনীয়তা এর সাথে যুক্ত সমস্ত গোপন বিন্দুর সাথে: এবং এই গোপন জিনিসগুলো তিনি চান আমরা 'লুকানো' হিসেবে জানি যতক্ষণ না সেই সময় আসে যখন তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের কাছে সেগুলো দেখাবেন।''' অন্যগুলো হলো গোপন জিনিস যা তিনি উন্মুক্ত এবং আমাদের কাছে জ্ঞাত করতে চান। কারণ তিনি চেয়েছিলেন আমরা যেন বুঝতে পারি যে এটি তাঁর ইচ্ছা যে আমাদের তা জানা উচিত। সেগুলো আমাদের কাছে গোপন কেবল এই জন্য নয় যে তিনি চান সেগুলো আমাদের কাছে গোপন থাকুক বরং সেগুলো আমাদের অন্ধত্ব এবং আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমাদের কাছে গোপন। এবং তার জন্য '''তিনি মহান করুণা অনুভব করেন, এবং তাই তিনি নিজেই সেগুলো আমাদের কাছে আরও উন্মুক্ত করবেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পারি এবং ভালোবাসতে পারি এবং তাঁর সাথে লেগে থাকতে পারি। কারণ যা কিছু আমাদের শেখা এবং জানা দরকারী, খুব সৌজন্যপূর্ণভাবে আমাদের প্রভু আমাদের দেখাবেন।'''
* '''তিনিই ভিত্তি, তিনিই সত্তা, তিনিই শিক্ষা, তিনিই শিক্ষক, তিনিই শেষ, তিনিই সেই পুরস্কার যার জন্য প্রতিটি দয়ালু আত্মা পরিশ্রম করে।''' <br> এবং ''এটি'' জানা যায়, এবং প্রতিটি আত্মার কাছে জানা যাবে যার কাছে পবিত্র আত্মা এটি ঘোষণা করে। এবং আমি সত্যই আশা করি যে তারা যারা এটি খোঁজে, তাদের তিনি সফল করবেন: কারণ তারা ঈশ্বরকে খোঁজে। <br> এই সবকিছু যা আমি এখন বলেছি, এবং আরও যা আমি পরে বলব, পাপের বিরুদ্ধে সান্ত্বনাদায়ক। '''কারণ তৃতীয় প্রদর্শনীতে যখন আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বর যা করা হয় তা সবই করেন, আমি কোনো পাপ দেখিনি: এবং তখন আমি দেখেছিলাম যে সবকিছু ভালো ''আছে''। কিন্তু যখন ঈশ্বর আমাকে পাপের জন্য দেখিয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''
=== অধ্যায় ৩৫ ===
* যখন ঈশ্বর সর্বশক্তিমান তাঁর মঙ্গলময়তা সম্পর্কে এত প্রাচুর্যপূর্ণভাবে এবং আনন্দের সাথে দেখিয়েছিলেন, আমি নির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছিলাম একটি নির্দিষ্ট সৃষ্টি সম্পর্কে যাকে আমি ভালোবাসতাম, যদি তা ভালো জীবনে অব্যাহত থাকে, যা আমি ঈশ্বরের কৃপায় আশা করেছিলাম শুরু হয়েছে। এবং একটি 'বিশেষ' প্রদর্শনীর এই আকাঙ্ক্ষায়, মনে হয়েছিল যে আমি নিজেকে বাধা দিয়েছি: কারণ এই সময়ে আমি শিক্ষিত ছিলাম না। এবং তখন আমার যুক্তিতে আমাকে উত্তর দেওয়া হয়েছিল, যেন একজন বন্ধুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর দ্বারা: ''এটি সাধারণভাবে গ্রহণ করো, এবং প্রভু ঈশ্বরের করুণার দিকে তাকাও যেমন তিনি তোমাকে দেখান: কারণ ঈশ্বরের মধ্যে তাঁকে দেখা যেকোনো বিশেষ জিনিসের চেয়ে বেশি পূজাযোগ্য।'' এবং তার সাথে আমি শিখেছিলাম যে কোনো বিশেষ জিনিসের আনন্দ নেওয়ার চেয়ে সাধারণভাবে সবকিছু জানা ঈশ্বরের কাছে বেশি পূজাযোগ্য। এবং যদি আমি এই শিক্ষা অনুযায়ী বিজ্ঞতার সাথে কাজ করি, তবে আমার কেবল কোনো বিশেষ জিনিসের জন্য আনন্দিত হওয়া উচিত নয়, বরং আমার কোনো ধরনের জিনিসের জন্য খুব বেশি কষ্ট পাওয়া উচিত নয়: কারণ ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''কারণ আনন্দের পূর্ণতা হলো ঈশ্বরকে সবকিছুর মধ্যে দেখা: কারণ একই পবিত্র শক্তি, প্রজ্ঞা এবং ভালোবাসা দিয়ে, যা দিয়ে তিনি সবকিছু তৈরি করেছেন, সেই একই উদ্দেশ্যে আমাদের ভালো প্রভু এটি ক্রমাগত পরিচালনা করেন, এবং তার দিকে তিনি নিজেই এটি আনবেন এবং যখন সময় হবে আমরা তা দেখতে পাব।'''
* '''আমাদের প্রভু যা কিছু করেন তা ন্যায়পরায়ণ এবং যা তিনি সহ্য করেন তা পূজাযোগ্য এবং এই দুটির মধ্যে ভালো ও মন্দ অন্তর্ভুক্ত কারণ যা ভালো আমাদের প্রভু তা করেন, এবং যা মন্দ আমাদের প্রভু তা সহ্য করেন। আমি বলছি না যে কোনো মন্দ পূজাযোগ্য, কিন্তু আমি বলছি আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সহনশীলতা পূজাযোগ্য। যার দ্বারা তাঁর মঙ্গলময়তা জানা যাবে, অন্তহীনভাবে, তাঁর বিস্ময়কর নম্রতা ও মৃদুতাতে, দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা।'''
* 'ন্যায়পরায়ণতা' হলো সেই জিনিস যা এতটাই ভালো যে তা তার চেয়ে ভালো হতে পারে না। কারণ ঈশ্বর নিজেই প্রকৃত ন্যায়পরায়ণতা, এবং তাঁর সমস্ত কাজ ন্যায়পরায়ণভাবে করা হয় যেমন সেগুলো সৃষ্টির আদি থেকে তাঁর মহান শক্তি, তাঁর মহান প্রজ্ঞা, তাঁর মহান মঙ্গলময়তা দ্বারা নির্ধারিত। এবং ঠিক যেমন তিনি সেরাটির জন্য নির্ধারণ করেছেন, ঠিক তেমন তিনি ক্রমাগত কাজ করেন, এবং এটিকে সেই একই পরিণতির দিকে নিয়ে যান এবং তিনি সর্বদা নিজের সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে পূর্ণ সন্তুষ্ট। <br> এবং এই পরমানন্দময় চুক্তির দর্শন সেই আত্মার জন্য খুব মিষ্টি যে কৃপার দ্বারা দেখে।
* 'করুণা' হলো এমন একটি কাজ যা ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা থেকে আসে, এবং এটি কাজ করার ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হবে, যেমন পাপকে ন্যায়পরায়ণ আত্মাকে অনুসরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এবং যখন পাপের অনুসরণ করার আর কোনো অনুমতি থাকে না, তখন করুণার কাজ শেষ হবে, এবং তখন সবকিছু ন্যায়পরায়ণতায় আনা হবে এবং তাতে চিরকাল দাঁড়াবে। <br> এবং তাঁর সহনশীলতায় আমরা পড়ে যাই এবং তাঁর শক্তি ও প্রজ্ঞা সহ তাঁর পরমানন্দময় ভালোবাসায় আমরা সংরক্ষিত থাকি; এবং দয়া ও কৃপার দ্বারা আমরা বহুবিধ আনন্দের দিকে উন্নীত হই। <br> এইভাবে ন্যায়পরায়ণতা ও করুণায় তিনি পরিচিত ও ভালোবাসার পাত্র হতে চান, এখন এবং চিরকাল। এবং যে আত্মা কৃপার মধ্যে বিজ্ঞতার সাথে এটির দিকে তাকায়, তা উভয়ের সাথে খুব সন্তুষ্ট থাকে এবং অন্তহীনভাবে আনন্দিত হয়।
=== অধ্যায় ৩৬ ===
* '''আমাদের প্রভু ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে একটি কাজ করা হবে, এবং তিনি নিজেই তা করবেন, এবং আমি পাপ ছাড়া কিছুই করব না এবং আমার পাপ তাঁর মঙ্গলময় কাজকে বাধা দেবে না।'''
* এই কাজটি এখানে শুরু হবে, এবং এটি ঈশ্বরের কাছে পূজাযোগ্য এবং পৃথিবীতে তাঁর প্রেমীদের কাছে প্রাচুর্যপূর্ণভাবে লাভজনক হবে; এবং আমরা যখন স্বর্গে পৌঁছাব তখন আমরা এটি বিস্ময়কর আনন্দে দেখব, এবং এটি শেষ দিন পর্যন্ত এইভাবে কাজ করবে এবং এর পূজা ও পরমানন্দ ঈশ্বরের সামনে এবং তাঁর সমস্ত পবিত্রদের সামনে চিরকাল থাকবে। <br> এইভাবে আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে এই কাজটি দেখা ও বোঝা গিয়েছিল। এবং তিনি কেন এটি দেখিয়েছিলেন তার কারণ হলো আমাদের তাঁর মধ্যে এবং তাঁর সমস্ত কাজের মধ্যে আনন্দিত করা।
* কিন্তু এই কাজটি কী হবে তা আমার থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। <br> এবং এতে আমি দেখলাম যে তিনি চান না যে আমরা যে জিনিসগুলো তিনি দেখান তা জানার জন্য ভয় করি: তিনি সেগুলো দেখান কারণ তিনি চান আমরা সেগুলো জানি। যে জানার মাধ্যমে তিনি চান আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁর মধ্যে আনন্দ পাই এবং অন্তহীনভাবে উপভোগ করি। আমাদের প্রতি তাঁর মহান ভালোবাসার জন্য তিনি আমাদের জন্য সেই সময়ের জন্য পূজাযোগ্য ও লাভজনক সবকিছু দেখান।
* এই শব্দের অর্থ হলো,এটি আমার জন্য করা হবে, এর মানে হলো এটি সাধারণ মানুষের জন্য করা হবে: অর্থাৎ, যারা পরিত্রাণ পাবে তাদের সবার জন্য। এটি হবে পূজাযোগ্য এবং বিস্ময়কর এবং প্রাচুর্যপূর্ণ, এবং ঈশ্বর নিজেই এটি করবেন; এবং এটি হবে সর্বোচ্চ আনন্দ যা হতে পারে, সেই কাজের দিকে তাকানো যা ঈশ্বর নিজেই করবেন, এবং মানুষ পাপ ছাড়া কিছুই করবে না। তখন আমাদের প্রভু ঈশ্বর এইভাবে ইঙ্গিত করেন, যেন তিনি বললেন: ''তাকাও এবং দেখো! এখানে তোমার বিনম্রতার বিষয় আছে, এখানে তোমার ভালোবাসার বিষয় আছে, এখানে তোমার নিজেকে তুচ্ছ করার বিষয় আছে, এখানে তোমার আমার মধ্যে আনন্দিত হওয়ার বিষয় আছে এবং আমার ভালোবাসার জন্য, আমার মধ্যে আনন্দিত হও। কারণ সবকিছুর মধ্যে, এর দ্বারাই তুমি আমাকে সবচেয়ে বেশি খুশি করতে পারবে।''
* যতদিন আমরা এই জীবনে আছি, যখন আমরা আমাদের বোকামির দ্বারা পরিত্যক্তদের দর্শনের দিকে ঘুরে যাই, খুব কোমলভাবে আমাদের প্রভু ঈশ্বর আমাদের স্পর্শ করেন এবং পরমানন্দময়ভাবে আমাদের ডাকেন, আমাদের আত্মায় বলে। আমার প্রিয় সন্তান, তোমার সমস্ত ভালোবাসা ত্যাগ করো। আমার দিকে ফিরে এসো আমি তোমার জন্য যথেষ্ট এবং তোমার ত্রাণকর্তার মধ্যে এবং তোমার পরিত্রাণে আনন্দিত হও। এবং যে এটি আমাদের মধ্যে আমাদের প্রভুর কাজ, আমি নিশ্চিত যে যে আত্মার কৃপার দ্বারা এতে উপলব্ধি আছে সে তা দেখবে এবং অনুভব করবে।
* যদিও এটি এমন যে এই কাজটি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যই নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি বিশেষটিকে বাদ দেয় না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু তাঁর দরিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে কী করবেন, তা এখন আমার অজানা। <br> কিন্তু এই কাজ এবং পূর্বোক্ত অন্যটি, তারা উভয়ই এক নয় বরং দুটি ভিন্ন। এই কাজটি শীঘ্রই করা হবে এবং তা হবে যখন আমরা স্বর্গে পৌঁছাব, এবং আমাদের প্রভু যাকে এটি দেন, তা এখানে আংশিকভাবে জানা যেতে পারে। কিন্তু সেই মহান কাজ যা আগে বলা হয়েছে তা স্বর্গে বা পৃথিবীতে জানার সুযোগ নেই যতক্ষণ না তা করা হয়।
* তিনি অলৌকিক কাজ করার বিশেষ উপলব্ধি ও শিক্ষা দিয়েছিলেন, এইভাবে''এটি জানা যে আমি আগে অলৌকিক কাজ করেছি, অনেক এবং বিভিন্ন, উচ্চ এবং বিস্ময়কর, পূজাযোগ্য এবং মহান। এবং যেমন আমি করেছি, আমি এখন ক্রমাগত করছি এবং সময়ের আগমনে করব।''
* এটি জানা যে অলৌকিক কাজের আগে দুঃখ এবং যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ আসে। এবং তা এই জন্য যে আমাদের নিজেদের দুর্বলতা এবং আমাদের দুষ্টতা জানা উচিত যা আমরা পাপের দ্বারা পতিত হয়েছি, আমাদের বিনম্র করতে এবং আমাদের ঈশ্বরকে ভয় করতে ও সাহায্য ও কৃপার জন্য চিৎকার করতে বাধ্য করতে। অলৌকিক কাজ তার পরে আসে, এবং সেগুলো ঈশ্বরের মহান শক্তি, প্রজ্ঞা ও মঙ্গলময়তা থেকে আসে, তাঁর গুণ এবং স্বর্গের আনন্দগুলো প্রদর্শন করে যতটা এই নশ্বর জীবনে সম্ভব: এবং তা আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের আশা বাড়াতে, প্রেমের সাথে। তাই তিনি অলৌকিক কাজের মাধ্যমে পরিচিত ও পূজিত হতে আনন্দিত হন। তখন তিনি এইভাবে ইঙ্গিত করেন: তিনি চান না যে আমাদের দুঃখ ও ঝড়ের জন্য খুব নিচে নামিয়ে দেওয়া হোক যা আমাদের ওপর আসে: কারণ অলৌকিক কাজ আসার আগে সর্বদা এমনই হয়েছে।
* “আমার পাপ তাঁর মঙ্গলময় কাজকে বাধা দেবে না। . . . একটি কাজ করা হবে,যেমন আমরা স্বর্গে পৌঁছাব এবং এটি এখানে আংশিকভাবে জানা যেতে পারে। যদিও এটি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যই নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি বিশেষটিকে বাদ দেয় না। কারণ আমাদের ভালো প্রভু তাঁর দরিদ্র সৃষ্টির মাধ্যমে কী করবেন, তা এখন আমার অজানা”
=== অধ্যায় ৩৭ ===
* ঈশ্বর আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে আমার পাপ করা উচিত। এবং তাঁর দর্শনে আমার যে সন্তুষ্টি ছিল তার জন্য, আমি সেই প্রদর্শনীতে মনোযোগ দিইনি; এবং আমাদের প্রভু খুব করুণাময়ভাবে অপেক্ষা করেছিলেন, এবং আমাকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য কৃপা দিয়েছিলেন। এবং এই প্রদর্শনীটি আমি বিশেষভাবে নিজের জন্য নিয়েছিলাম; কিন্তু সমস্ত কৃপাময় সান্ত্বনা যা অনুসরণ করে, যেমনটি তোমরা দেখবে, আমি আমার সমস্ত সহ-খ্রিস্টানদের জন্য নিতে শিখেছিলাম: ''সবকিছু সাধারণভাবে এবং বিশেষ কিছুই নয়'': যদিও আমাদের প্রভু আমাকে দেখিয়েছিলেন যে আমার পাপ করা উচিত, আমার একার দ্বারা সবাইকে বোঝানো হয়। <br> এবং এতে আমি একটি মৃদু ভয় অনুভব করলাম। এবং এর উত্তরে আমাদের প্রভু বললেন: ''আমি তোমাকে খুব নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।'' এই শব্দটি প্রেমের সাথে এবং নিরাপত্তার সাথে এবং আধ্যাত্মিক সুরক্ষার সাথে বলা হয়েছিল যা আমি বলতে পারি না বা সক্ষম নই।
* ঈশ্বর যা পরিত্রাণ পাবে এমন সবাইকে ভালোবাসেন, যেমন তা একটি আত্মা তা দেখার চেয়ে আমাকে আমার সহ-খ্রিস্টানদের ভালোবাসার জন্য আর কী করতে পারে? <br> '''কারণ প্রতিটি আত্মায় যা পরিত্রাণ পাবে একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে যা কখনো পাপকে সমর্থন করেনি, এবং কখনো করবে না।''' ঠিক যেমন নিচের অংশে একটি পশুসুলভ ইচ্ছা আছে যা কোনো ভালো চাইতে পারে না, ঠিক তেমনই উপরের অংশে একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে, যে ইচ্ছা এতটাই ভালো যে তা কখনো মন্দ চাইতে পারে না, কেবল ভালো। এবং তাই আমরা তাই যা তিনি ভালোবাসেন এবং অন্তহীনভাবে আমরা তা করি যা তাঁকে খুশি করে।
* এটি আমাদের প্রভু সেই ভালোবাসার সম্পূর্ণতায় দেখিয়েছিলেন যাতে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, তাঁর দৃষ্টিতে: হ্যাঁ, তিনি আমাদের এখন ততটাই ভালোবাসেন যখন আমরা এখানে আছি, যেমন তিনি করবেন যখন আমরা তাঁর পবিত্র মুখের সামনে সেখানে থাকব। '''কিন্তু আমাদের অংশে ভালোবাসার ব্যর্থতার জন্য, তাই আমাদের সমস্ত পরিশ্রম।'''''
=== অধ্যায় ৩৮ ===
* এছাড়াও ঈশ্বর দেখিয়েছেন যে পাপ মানুষের জন্য লজ্জা হবে না, বরং পূজা। কারণ ঠিক যেমন প্রতিটি পাপের জন্য সত্যের দ্বারা একটি বেদনা উত্তর দেয়, ঠিক তেমনই প্রতিটি পাপের জন্য, সেই একই আত্মাকে ভালোবাসার দ্বারা একটি পরমানন্দ দেওয়া হয়: ঠিক যেমন বিভিন্ন পাপ বিভিন্ন বেদনার সাথে দণ্ডিত হয় যেমন সেগুলো কষ্টদায়ক, ঠিক তেমনই সেগুলো স্বর্গে বিভিন্ন আনন্দের সাথে পুরস্কৃত হবে যেমন সেগুলো পৃথিবীতে আত্মার জন্য কষ্টদায়ক ও দুঃখজনক ছিল। কারণ যে আত্মা স্বর্গে আসবে তা ঈশ্বরের কাছে মূল্যবান, এবং স্থানটি এতটাই পূজাযোগ্য যে ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা সেই আত্মাকে কখনো পাপ করতে দেয় না যে সেখানে আসবে যা ছাড়া সেই পাপ পুরস্কৃত হবে এবং তা অন্তহীনভাবে জানা যায়, এবং পূজা অতিক্রম করে পরমানন্দময়ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়।
* এই দর্শনে আমার উপলব্ধি স্বর্গে উন্নীত হয়েছিল, এবং তখন ঈশ্বর আনন্দিতভাবে আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন ডেভিডকে, এবং পুরাতন আইনে সংখ্যাতীত অন্যদের এবং নতুন আইনে তিনি আমার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন প্রথমে মেরি ম্যাগডালিন, পিটার এবং পল এবং ভারতেরদের এবং বেভারলির সেন্ট জন এবং অন্যদেরও সংখ্যাতীত। কীভাবে তারা পৃথিবীতে চার্চে তাদের পাপের সাথে পরিচিত, এবং তা তাদের জন্য লজ্জা নয় বরং সবকিছু তাদের পূজায় পরিণত হয়েছে। এবং তাই আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু তাদের জন্য এখানে আংশিকভাবে দেখান যেমনটি সেখানে পূর্ণতায় আছে: কারণ সেখানে পাপের চিহ্ন পূজায় পরিণত হয়েছে।
* এই সবকিছুই আমাদের প্রেমে আনন্দিত ও প্রফুল্ল করার জন্য ছিল।
=== অধ্যায় ৩৯ ===
* পাপ হলো সবচেয়ে ধারালো চাবুক যা যেকোনো নির্বাচিত আত্মাকে আঘাত করা যেতে পারে। যা চাবুকটি পুরুষ ও নারীকে পুরোপুরি প্রহার করে, এবং তাকে তার নিজের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য করে তোলে, এতদূর যে কিছু সময়ের পরে সে মনে করে সে নরকে ডুবে যাওয়া ছাড়া আর যোগ্য নয়, যতক্ষণ না অনুশোচনা তাকে পবিত্র আত্মার স্পর্শে ধরে, এবং তিক্ততাকে ঈশ্বরের করুণার আশায় পরিণত করে।
* খুব মূল্যবানভাবে আমাদের প্রভু আমাদের রক্ষা করেন যখন আমাদের কাছে মনে হয় যে আমরা প্রায় পরিত্যক্ত এবং আমাদের পাপের জন্য এবং কারণ আমরা এর যোগ্য, তার জন্য দূরে নিক্ষিপ্ত। এবং নম্রতার কারণে যা আমরা এর দ্বারা পাই, আমরা তাঁর কৃপায় ঈশ্বরের দৃষ্টিতে খুব উঁচুতে উন্নীত হই, খুব মহান অনুশোচনার সাথে, এবং সহমর্মিতার সাথে, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার সাথে। তখন তারা হঠাৎ পাপ থেকে এবং বেদনা থেকে মুক্তি পায় এবং পরমানন্দে উন্নীত হয়। এবং সমান উচ্চ সাধু হয়।
* '''অনুশোচনার দ্বারা আমরা পরিষ্কার হই, সহমর্মিতার দ্বারা আমরা প্রস্তুত হই, এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার দ্বারা আমরা যোগ্য হই।''' এগুলো তিনটি উপায়, যেমন আমি বুঝি, যার দ্বারা সমস্ত আত্মা স্বর্গে আসে। অর্থাৎ, যারা পৃথিবীতে পাপী ছিল এবং পরিত্রাণ পাবে। কারণ এই তিনটি ঔষধের দ্বারা প্রতিটি আত্মাকে নিরাময় করা প্রয়োজন।
* যেমন আমরা এখানে দুঃখ ও তপস্যার সাথে দণ্ডিত হই, আমরা স্বর্গে আমাদের মহান প্রভু ঈশ্বরের সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসার দ্বারা পুরস্কৃত হব, যিনি চান যে কেউ সেখানে এসে তার পরিশ্রম কোনো ডিগ্রিতে হারাক। কারণ তিনি পাপকে তাঁর প্রেমীদের জন্য দুঃখ ও বেদনা হিসেবে ধরেন, যাদের তিনি কোনো দোষ দেন না, ভালোবাসার জন্য। আমরা যে পুরস্কার পাব তা সামান্য হবে না, বরং তা হবে মহান, গৌরবময় এবং পূজাযোগ্য। এবং এভাবেই লজ্জা পূজায় ও আরও আনন্দে পরিণত হবে।
* '''আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু চান না যে তাঁর সেবকরা হতাশ হোক, বারবার বা গুরুতর পতনের জন্য: কারণ আমাদের পতন তাঁকে আমাদের ভালোবাসতে বাধা দেয় না। শান্তি ও ভালোবাসা সর্বদা আমাদের মধ্যে আছে, বিদ্যমান ও কাজ করছে। কিন্তু আমরা সর্বদা শান্তিতে ও প্রেমে নেই।''' কিন্তু তিনি চান যে আমরা এইভাবে মনোযোগ দিই যে তিনি ভালোবাসায় আমাদের সমস্ত জীবনের ভিত্তি এবং অধিকন্তু তিনি আমাদের চিরন্তন রক্ষক এবং শক্তিশালীভাবে আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে রক্ষা করেন, যারা আমাদের ওপর খুব নিষ্ঠুর ও হিংস্র এবং আমাদের প্রয়োজন তত বেশি কারণ আমরা আমাদের পতনের দ্বারা তাদের সুযোগ দিই।
=== অধ্যায় ৪০ ===
* '''ঈশ্বর চান যে আমরা অন্তহীনভাবে পাপকে ঘৃণা করি এবং অন্তহীনভাবে আত্মাকে ভালোবাসি, যেমন ঈশ্বর তাকে ভালোবাসেন।'''
* '''এখানে আমি সত্যই বুঝি যে ঈশ্বরের মহান মঙ্গলময়তার দ্বারা আমাদের জন্য সব ধরনের জিনিস প্রস্তুত করা হয়েছে, এতদূর যে যখন আমরা নিজেদের মধ্যে শান্তিতে ও দানে আছি, আমরা সত্যই পরিত্রাণ পাব।'''
* কিন্তু এখন যদি কোনো পুরুষ বা নারী এই সমস্ত আধ্যাত্মিক সান্ত্বনার কারণে যা আগে বলা হয়েছে, বোকামির দ্বারা উত্তেজিত হয়ে বলে বা ভাবে। ''যদি এটি সত্য হয়, তবে পাপ করা ভালো যাতে বেশি পুরস্কার পাওয়া যায়''অথবা পাপ করার বিষয়ে কম গুরুত্ব দেয়,এই উত্তেজনার বিষয়ে সাবধান: কারণ সত্যই যদি এটি আসে তবে এটি অসত্য এবং সেই একই প্রকৃত ভালোবাসার শত্রুর কাছ থেকে যা আমাদের শেখায় যে আমাদের কেবল ভালোবাসার জন্য পাপকে ঘৃণা করা উচিত। আমি আমার নিজের অনুভূতির মাধ্যমে নিশ্চিত, যেকোনো দয়ালু আত্মা আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সৌজন্যপূর্ণ ভালোবাসায় এটি যত বেশি দেখে, সে তত বেশি পাপ করতে অনিচ্ছুক হয় এবং সে তত বেশি লজ্জিত হয়। কারণ যদি আমাদের সামনে নরকের এবং পবিত্র স্থানের এবং পৃথিবীর সমস্ত বেদনা রাখা হতো—মৃত্যু এবং অন্যান্য এবং পাপ, আমরা সেই সমস্ত বেদনা বেছে নিতাম পাপের চেয়ে। '''কারণ পাপ এতটাই জঘন্য এবং এত বেশি ঘৃণা করার যোগ্য যে তা কোনো বেদনার সাথে তুলনা করা যায় না যা পাপ নয়। এবং আমার কাছে পাপের চেয়ে কঠিন কোনো নরক দেখানো হয়নি। কারণ একটি দয়ালু আত্মার পাপ ছাড়া আর কোনো নরক নেই।'''
* আমরা দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা ভালোবাসা ও নম্রতার দিকে আমাদের উদ্দেশ্য দিই, আমরা সবাই সুন্দর ও পরিষ্কার হই।
* ঈশ্বর মানুষকে বাঁচাতে যতটা শক্তিশালী ও বিজ্ঞ, তিনি ততটাই ইচ্ছুক। কারণ খ্রিস্ট নিজেই খ্রিস্টানদের সমস্ত আইনের ভিত্তি এবং '''তিনি আমাদের শিখিয়েছেন মন্দের বিপরীতে ভালো করতে: এখানে আমরা দেখতে পারি যে তিনি নিজেই এই প্রেম, এবং আমাদের সাথে তাই করেন যেমন তিনি আমাদের করতে শিখিয়েছেন।''' কারণ তিনি চান যে আমরা নিজের প্রতি এবং আমাদের সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি অন্তহীন ভালোবাসার পূর্ণতায় তাঁর মতো হই। আমাদের পাপের জন্য আমাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা যেমন নষ্ট হয় না, তেমনই তিনি চান না যে আমাদের ভালোবাসা আমাদের নিজের প্রতি এবং আমাদের সহ-খ্রিস্টানদের প্রতি নষ্ট হোক বরং '''অন্তহীনভাবে পাপকে ঘৃণা করি এবং আত্মাকে ভালোবাসি, যেমন ঈশ্বর তাকে ভালোবাসেন। তখন আমরা পাপকে ঘৃণা করব যেমন ঈশ্বর ঘৃণা করেন, এবং আত্মাকে ভালোবাসব যেমন ঈশ্বর ভালোবাসেন। এবং এই শব্দ যা তিনি বলেছিলেন তা এক অন্তহীন সান্ত্বনা: ''আমি তোমাকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।'' '''
== চতুর্দশ প্রকাশ (দ্য ফোর্টিনথ রিভেলেশন) ==
=== অধ্যায় ৪১ ===
[[File:Brocken-tanzawa2.JPG|thumb|''আমিই ভিত্তি।''এবং আমাদের ভালো প্রভু চান যেন তাঁর প্রেমিকরা পৃথিবীতে এটি জানুক এবং আমরা যত বেশি জানি ততই আমাদের অনুনয় করা উচিত, যদি তা বিজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হয় এবং এমনই আমাদের প্রভুর অর্থ।]]
* আমাদের প্রভু প্রার্থনার বিষয়ে দেখিয়েছিলেন। সেই প্রদর্শনীতে আমি আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে দুটি শর্ত দেখি। একটি হলো ন্যায়পরায়ণতা, অন্যটি হলো নিশ্চিত বিশ্বাস। <br> কিন্তু তবুও প্রায়শই আমাদের বিশ্বাস পূর্ণ হয় না। কারণ আমরা নিশ্চিত নই যে ঈশ্বর আমাদের শোনেন, যেমনটি আমরা মনে করি আমাদের অযোগ্যতার কারণে, এবং কারণ আমরা কিছুই অনুভব করি না, (কারণ প্রার্থনার পরেও আমরা প্রায়শই আগের মতোই অনুর্বর ও শুষ্ক থাকি) এবং এটি, আমাদের বোকামির উপলব্ধিতে, আমাদের দুর্বলতার কারণ। কারণ আমি নিজের মধ্যে এটি অনুভব করেছি। <br> এবং এই সমস্ত কিছু আমাদের প্রভু হঠাৎ আমার মনে করিয়ে দিলেন, এবং এই শব্দগুলো দেখালেন, এবং বললেন '''''আমি তোমার অনুনয়ের ভিত্তি। প্রথমত এটি আমার ইচ্ছা যে তুমি এটি পাও এবং পরে, আমি তোমাকে এটি চাইতে বাধ্য করি এবং পরে, আমি তোমাকে এটি অনুনয় করতে বাধ্য করি এবং তুমি অনুনয় করো। তাহলে কীভাবে এমন হতে পারে যে তুমি তোমার অনুনয় পাবে না?'''''
* '''এটি সবচেয়ে অসম্ভব যে আমরা দয়া ও কৃপা অনুনয় করব এবং তা পাব না।''' কারণ আমাদের ভালো প্রভু আমাদের যা কিছু অনুনয় করতে বাধ্য করেন, তিনি নিজেই তা সৃষ্টির আদি থেকে আমাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। এখানে আমরা দেখতে পারি যে আমাদের অনুনয় ঈশ্বরের মঙ্গলময়তার কারণ নয় এবং তা তিনি এই সমস্ত মিষ্টি শব্দে সত্যই দেখিয়েছিলেন যখন তিনি বলেন: ''আমিই ভিত্তি।''এবং আমাদের ভালো প্রভু চান যেন তাঁর প্রেমিকরা পৃথিবীতে এটি জানুক এবং আমরা যত বেশি জানি ততই আমাদের অনুনয় করা উচিত, যদি তা বিজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করা হয় এবং এমনই আমাদের প্রভুর অর্থ।
* অনুনয় হলো আত্মার একটি সত্য, কৃপাময়, স্থায়ী ইচ্ছা, যা পবিত্র আত্মার মিষ্টি অভ্যন্তরীণ কাজের দ্বারা আমাদের প্রভুর ইচ্ছার সাথে একীভূত ও আবদ্ধ।
* আমাদের প্রভু আমাদের প্রার্থনায় খুব আনন্দিত ও প্রফুল্ল এবং তিনি তার অপেক্ষায় থাকেন এবং তিনি তা পেতে চান কারণ তাঁর কৃপায় তিনি আমাদের তাঁর মতো করে তৈরি করেন। যেমনটি আমরা প্রকৃতিতে আছি এবং এমনই তাঁর পরমানন্দময় ইচ্ছা। তাই তিনি এইভাবে বলেন: ''অন্তরের সাথে প্রার্থনা করো, যদিও তোমার মনে হয় তা তোমাকে তৃপ্তি দিচ্ছে না। কারণ এটি লাভজনক, যদিও তুমি অনুভব করো না, যদিও তুমি কিছুই দেখছো না; হ্যাঁ, যদিও তুমি মনে করো তুমি পারো না। কারণ শুষ্কতা ও অনুর্বরতায়, অসুস্থতা ও দুর্বলতায়, তখন তোমার প্রার্থনা আমার কাছে খুব সন্তোষজনক, যদিও তোমার মনে হয় তা তোমাকে কিছুই তৃপ্তি দিচ্ছে না। এবং আমার দৃষ্টিতে তোমার সমস্ত বিশ্বাসী প্রার্থনা এমনই।''
* এছাড়াও প্রার্থনার সাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন যুক্ত। ধন্যবাদ হলো একটি সত্য অভ্যন্তরীণ জ্ঞান, মহান শ্রদ্ধা ও প্রেমময় ভয়ের সাথে আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে সেই কাজের দিকে নিজেদের ঘুরিয়ে নিই যা আমাদের ভালো প্রভু আমাদের উদ্দীপিত করেন, অভ্যন্তরীণভাবে আনন্দ ও ধন্যবাদ প্রকাশ করে।
=== অধ্যায় ৪২ ===
[[File:Rainbow1.svg|thumb|সবকিছু যা আমাদের প্রভু করার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা যে আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি, হয় বিশেষভাবে বা সাধারণভাবে।]]
* '''এটিই আমাদের প্রভুর ইচ্ছা, যে আমাদের প্রার্থনা এবং আমাদের বিশ্বাস উভয়ই সমানভাবে বিস্তৃত হোক।''' কারণ আমরা যদি প্রার্থনার মতো বিশ্বাস না করি, তবে আমরা আমাদের প্রার্থনায় আমাদের প্রভুর প্রতি পূর্ণ পূজা করি না, এবং এছাড়াও আমরা আমাদের নিজেদের দেরি করাই এবং কষ্ট দিই। এর কারণ, আমি বিশ্বাস করি, আমরা সত্যই জানি না যে আমাদের প্রভু সেই ভিত্তি যার ওপর আমাদের প্রার্থনা উদয় হয়; এবং আমরা এও জানি না যে এটি তাঁর ভালোবাসার কৃপায় আমাদের দেওয়া হয়েছে। কারণ যদি আমরা এটি জানতাম, তবে তা আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করত যে আমরা আমাদের প্রভুর উপহার থেকে যা আকাঙ্ক্ষা করি তা পাব। কারণ '''আমি নিশ্চিত যে কেউ সত্য অর্থ ছাড়া দয়া ও কৃপা চায় না, যদি না দয়া ও কৃপা প্রথমে তাকে দেওয়া হয়।'''
* কখনো কখনো আমাদের মনে হয় যে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রার্থনা করেছি, এবং তবুও আমরা নিজেদের ভাবি যে আমরা আমাদের চাওয়া পাইনি। কিন্তু এর জন্য আমাদের শোকের মধ্যে থাকা উচিত নয়। কারণ আমি নিশ্চিত, আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতের মাধ্যমে, যে আমরা হয় একটি ভালো সময়ের, বা আরও কৃপার, বা আরও ভালো উপহারের অপেক্ষা করছি।
* '''তিনি যে তা করছেন তা দেখা, এবং অবিলম্বে প্রার্থনা করা,এভাবেই তিনি পূজিত হন এবং আমরা উপকৃত হই। সবকিছু যা আমাদের প্রভু করার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা যে আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি, হয় বিশেষভাবে বা সাধারণভাবে।''' এবং যে আনন্দ ও পরমানন্দ তা তাঁর কাছে, এবং যে ধন্যবাদ ও পূজা আমরা এর জন্য পাব, তা সৃষ্টির উপলব্ধিকে ছাড়িয়ে যায়, আমার দৃষ্টিতে। কারণ প্রার্থনা হলো ভবিষ্যতে যে আনন্দের পূর্ণতা আসবে তার একটি সঠিক উপলব্ধি, অটল আকাঙ্ক্ষা ও নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে।
* এইভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন যেখানে তিনি বলেন: '''''আমি তোমার অনুনয়ের ভিত্তি।''''' এবং এইভাবে এই পবিত্র শব্দে, প্রদর্শনীর সাথে, আমি আমাদের সমস্ত দুর্বলতা এবং সমস্ত সন্দেহজনক ভয়ের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণ বিজয় দেখেছি।
=== অধ্যায় ৪৩ ===
[[File:Rainbow droplet 630x441.jpg|thumb|প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।]]
[[File:This morning we caught a rainbow.jpg|thumb|যখন তিনি তাঁর বিশেষ কৃপার দ্বারা এখানে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি সৃষ্টিকে তার নিজের ঊর্ধ্বে শক্তিমান করেন, এবং তিনি প্রদর্শনীর পরিমাপ করেন, তাঁর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী, যেমনটি সেই সময়ের জন্য লাভজনক।]]
* '''প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।'''
* '''প্রার্থনা আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে একীভূত করে।''' কারণ যদিও আত্মা প্রকৃতি ও সত্তায় সর্বদা ঈশ্বরের মতো, কৃপায় পুনরুদ্ধার করা, মানুষের অংশে পাপের দ্বারা এটি প্রায়শই শর্তে ভিন্ন হয়। তখন প্রার্থনা একটি সাক্ষী যে আত্মা তাই চায় যা ঈশ্বর চান এবং এটি বিবেককে সান্ত্বনা দেয় এবং মানুষকে কৃপার যোগ্য করে তোলে। এবং এইভাবে তিনি আমাদের প্রার্থনা করতে শেখান এবং শক্তিমানভাবে বিশ্বাস করতে শেখান যে আমরা তা পাব। কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসায় দেখেন এবং আমাদের তাঁর ভালো কাজের অংশীদার করতে চান, এবং তাই তিনি আমাদের সেই জিনিসের জন্য প্রার্থনা করতে উদ্দীপিত করেন যা তিনি করতে আনন্দ পান। যে প্রার্থনা ও সদিচ্ছার জন্য, যা আমরা তাঁর উপহার থেকে পাই, তিনি আমাদের পুরস্কৃত করবেন এবং আমাদের অন্তহীন পুরস্কার দেবেন।
* যখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু তাঁর কৃপায় নিজেকে আমাদের আত্মার কাছে দেখান, তখন আমাদের যা আকাঙ্ক্ষা তা আমরা পাই। এবং তখন আমরা দেখি না, সেই সময়ের জন্য, আমাদের আরও কী প্রার্থনা করা উচিত, কিন্তু আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আমাদের সমস্ত উদ্দেশ্য পুরোপুরি তাঁর দর্শনের দিকে সেট করা হয়। এবং এটি একটি উচ্চ অদৃশ্য প্রার্থনা, আমার দৃষ্টিতে। কারণ আমরা যার জন্য প্রার্থনা করি তার সমস্ত কারণ, তা সেই ব্যক্তির দর্শন ও দর্শনের মধ্যে একীভূত হয় যার কাছে আমরা প্রার্থনা করি। শ্রদ্ধাশীল ভয়ের সাথে বিস্ময়করভাবে উপভোগ করে এবং তাঁর মধ্যে এত মহান মাধুর্য ও আনন্দের সাথে যে আমরা প্রার্থনা করতে পারি না কিন্তু যেমন তিনি আমাদের উদ্দীপিত করেন, সেই সময়ের জন্য। এবং আমি ভালো করেই জানি, আত্মা ঈশ্বরকে যত বেশি দেখে, তাঁর কৃপায় সে তত বেশি তাঁকে আকাঙ্ক্ষা করে।
* এবং এটি আমি দেখেছি: যে সময় আমরা প্রার্থনা করার কারণগুলো দেখি, তখন ''আমাদের ভালো প্রভু আমাদের অনুসরণ করেন'', আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে সাহায্য করে এবং যখন আমরা তাঁর বিশেষ কৃপায় স্পষ্টভাবে তাঁর দিকে তাকাই, অন্য কোনো প্রয়োজনের দিকে না তাকিয়ে, তখন ''আমরা তাঁকে অনুসরণ করি'' এবং তিনি ভালোবাসার দ্বারা আমাদের তাঁর দিকে টেনে নেন।
* তখন আমরা ঈশ্বরকে মুখোমুখি দেখব, আপনভাবে ও পুরোপুরি। যে সৃষ্টি তৈরি হয়েছে সে ঈশ্বরকে দেখবে এবং অন্তহীনভাবে পর্যবেক্ষণ করবে যিনি স্রষ্টা। কারণ এইভাবে কোনো মানুষ ঈশ্বরকে দেখে বাঁচতে পারে না অর্থাৎ, এই নশ্বর জীবনে। '''কিন্তু যখন তিনি তাঁর বিশেষ কৃপার দ্বারা এখানে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি সৃষ্টিকে তার নিজের ঊর্ধ্বে শক্তিমান করেন এবং তিনি প্রদর্শনীর পরিমাপ করেন, তাঁর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী, যেমনটি সেই সময়ের জন্য লাভজনক।'''
==সারসংক্ষেপ==
পূর্বোক্ত চৌদ্দটি প্রত্যাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর
=== অধ্যায় ৪৪ ===
[[File:Quaker Star JUL.png|thumb|সত্য ঈশ্বরকে দেখে, এবং প্রজ্ঞা ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে, এবং এই দুটির মিলন থেকে তৃতীয়টির উদ্ভব হয়: সেটি হলো ঈশ্বরকে নিয়ে একটি পবিত্র বিস্ময়কর আনন্দ; যা হলো প্রেম।]]
* '''সত্য ঈশ্বরকে দেখে, এবং প্রজ্ঞা ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে, এবং এই দুটির মিলন থেকে তৃতীয়টির উদ্ভব হয়: সেটি হলো ঈশ্বরকে নিয়ে একটি পবিত্র বিস্ময়কর আনন্দ; যা হলো প্রেম।''' যেখানে সত্য ও প্রজ্ঞা বিদ্যমান, সেখানে প্রেমও বিদ্যমান, যা এই উভয়ের থেকেই আসে। এবং সবকিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি: কারণ তিনি অন্তহীন সার্বভৌম সত্য, অন্তহীন সার্বভৌম প্রজ্ঞা, অন্তহীন সার্বভৌম প্রেম অনির্মিত এবং মানুষের আত্মা ঈশ্বরের মধ্যে এমন একটি সৃষ্টি যার একই বৈশিষ্ট্যগুলো 'সৃষ্টি' করা হয়েছে, এবং তা সর্বদা সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে যার জন্য এটি সৃষ্টি হয়েছে: এটি ঈশ্বরকে দেখে, এটি ঈশ্বরকে পর্যবেক্ষণ করে এবং এটি ঈশ্বরকে ভালোবাসে। যার জন্য ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টির মধ্যে আনন্দিত হন এবং সৃষ্টি ঈশ্বরের মধ্যে, অন্তহীন বিস্ময়ের সাথে। <br> এই বিস্ময়ের মধ্যে সে তার ঈশ্বরকে, তার প্রভুকে, তার নির্মাতাকে এত উচ্চ, এত মহান এবং এত ভালো দেখে, তার নিজের সৃষ্টির তুলনায়, যে সৃষ্টি নিজেকে তুচ্ছ মনে করে। কিন্তু সত্য ও প্রজ্ঞার স্বচ্ছতা তাকে দেখতে ও সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করে যে সে প্রেমের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে ঈশ্বর তাকে অন্তহীনভাবে রক্ষা করেন।
=== অধ্যায় ৪৫ ===
* '''ঈশ্বর আমাদের প্রকৃতি-সত্তা অনুযায়ী বিচার করেন, যা সর্বদা তাঁর মধ্যে এক, অখণ্ড এবং অন্তহীন নিরাপদে রক্ষিত: এবং ''এই'' বিচার তাঁর ন্যায়পরায়ণতার।''' এবং মানুষ আমাদের পরিবর্তনশীল অনুভূতি-আত্মা অনুযায়ী বিচার করে, যা এখন এমন, এখন তেমন অংশ অনুযায়ী এবং বাইরে প্রকাশিত হয়। এবং ''এই'' প্রজ্ঞা''মিশ্রিত''। কারণ কখনো তা ভালো ও সহজ, আবার কখনো কঠিন ও দুঃখজনক। এবং যতটা তা ভালো ও সহজ, তা ন্যায়পরায়ণতার অন্তর্ভুক্ত; এবং যতটা তা কঠিন ও দুঃখজনক, আমাদের ভালো প্রভু যিশু তাঁর পবিত্র প্যাশন বা কষ্টের গুণাবলীর মাধ্যমে দয়া ও কৃপার দ্বারা তা সংস্কার করেন, এবং এইভাবে একে ন্যায়পরায়ণতায় ফিরিয়ে আনেন। <br> এবং যদিও এই দুটি এভাবে সম্মত ও একীভূত, তবুও স্বর্গে উভয়ই অন্তহীনভাবে জানা যাবে। প্রথম বিচার, যা ঈশ্বরের ন্যায়পরায়ণতার, তা তাঁর উচ্চ অন্তহীন জীবনের; এবং এটিই সেই সুন্দর মিষ্টি বিচার যা সমস্ত সুন্দর প্রকাশে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি তাঁকে আমাদের কোনো দোষ দিতে দেখিনি। কিন্তু যদিও এটি মিষ্টি ও আনন্দদায়ক ছিল, তবুও কেবল এর পর্যবেক্ষণে আমি পুরোপুরি শান্ত হতে পারিনি: এবং তার কারণ হলো পবিত্র চার্চের বিচার, যা আমি আগেই বুঝেছিলাম এবং যা ক্রমাগত আমার দৃষ্টিতে ছিল। এবং তাই ''এই'' বিচারের দ্বারা আমার মনে হয়েছিল আমি বুঝেছিলাম যে পাপীরা কোনো এক সময়ে দোষ ও ক্রোধের যোগ্য; কিন্তু আমি ঈশ্বরের মধ্যে এই দুটি দেখতে পাইনি; এবং তাই আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যতটা আমি বলতে পারি বা পারি তার চেয়ে অনেক বেশি। কারণ উচ্চতর বিচার সেই একই সময়ে ঈশ্বর নিজেই দেখিয়েছিলেন, এবং তাই আমাকে তা গ্রহণ করতেই হতো; এবং নিম্নতর বিচার আমি আগে পবিত্র চার্চে শিখেছিলাম, এবং তাই আমি কোনোভাবেই নিম্নতর বিচার ত্যাগ করতে পারিনি। তখন আমার এই ইচ্ছা ছিল: আমি যেন ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে পাই যে পবিত্র চার্চের বিচার যা শেখায় তা কীভাবে তাঁর দৃষ্টিতে সত্য, এবং কীভাবে তা জানা আমার জন্য যথার্থ; যার মাধ্যমে উভয় বিচারই রক্ষা পেতে পারে, যেমনটি ঈশ্বরের জন্য পূজনীয় এবং আমার জন্য সঠিক পথ। <br> এবং এই সবকিছুর জন্য আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না, কেবল একজন প্রভু ও একজন ভৃত্যের একটি বিস্ময়কর উদাহরণ ছাড়া, যা আমি পরে বলব:—এবং তা খুব অস্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল। এবং তবুও আমি আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, এবং আমার শেষ পর্যন্ত থাকব, যেন আমি কৃপার দ্বারা এই দুটি বিচার জানতে পারি যেমনটি আমার জন্য যথার্থ। '''কারণ স্বর্গীয় এবং স্বর্গীয় বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত সমস্ত পার্থিব জিনিস এই দুটি বিচারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এবং পবিত্র আত্মার কৃপাময় নির্দেশনায় এই দুটি বিচার সম্পর্কে আমাদের যত বেশি বোধগম্য হবে, আমরা আমাদের ব্যর্থতাগুলো তত বেশি দেখতে ও জানতে পারব। এবং আমরা যত বেশি সেগুলো দেখব, তত বেশি, স্বভাবত, কৃপার দ্বারা, আমরা অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দে পূর্ণ হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করব। কারণ আমরা তার জন্যই সৃষ্টি হয়েছি, এবং আমাদের প্রকৃতি-সত্তা এখন ঈশ্বরের মধ্যে পরমানন্দময়, এবং এটি তৈরির পর থেকেই তা ছিল, এবং অন্তহীনভাবে থাকবে।'''
=== অধ্যায় ৪৬ ===
* '''আমাদের অনুভূতি-আত্মায় এখানে যে নশ্বর জীবন আমরা পাই, তা জানে না আমাদের 'নিজ' কী।''' তখন আমরা সত্যই ও স্পষ্টভাবে আনন্দ ও পরমানন্দের পূর্ণতায় আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে দেখতে ও জানতে পারব। এবং তাই এটি অনিবার্য যে আমরা আমাদের পরমানন্দের যত কাছাকাছি থাকব, তত বেশি আমরা আকাঙ্ক্ষা করব; এবং তা স্বভাব ও কৃপা উভয় দ্বারাই। আমরা আমাদের উচ্চ প্রকৃতির ক্রমাগত সাহায্য ও গুণের মাধ্যমে এই জীবনে আমাদের 'নিজের' জ্ঞান পেতে পারি। যে জ্ঞানে আমরা দয়ায় এবং কৃপার সাহায্যে অগ্রসর হতে পারি; কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের 'নিজ'-কে পুরোপুরি জানতে পারব না: যে মুহূর্তে এই নশ্বর জীবনের এবং দুঃখ ও যন্ত্রণার এই ধরনের এক অন্তিম পরিণতি ঘটবে। এবং তাই, স্বভাব ও কৃপা উভয় দ্বারাই, অন্তহীন আনন্দের পূর্ণতায় আমাদের 'নিজ'-কে জানার জন্য আমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে আকাঙ্ক্ষা করা আমাদের জন্য যথার্থ।
* তবুও এই পুরো সময়ে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, আমার দুটি দৃষ্টি ছিল। একটি ছিল অন্তহীন ক্রমাগত প্রেম, সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং পরমানন্দময় পরিত্রাণের সাথে। কারণ এর জন্যই ছিল ''পুরো প্রকাশ''। অন্যটি ছিল পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষার, যেখানে আমি আগে অবহিত ও ভিত্তিমূল পেয়েছিলাম—এবং আমার সমস্ত ইচ্ছার সাথে তা ব্যবহার ও বুঝতাম। এবং ''এর'' পর্যবেক্ষণ আমার থেকে দূরে যায়নি: কারণ প্রকাশের দ্বারা আমি কোনো পয়েন্টেই সেখান থেকে বিচ্যুত হইনি, বরং আমি সেখানে এটি ভালোবাসার ও ভালো মনে করার শিক্ষা পেয়েছিলাম: যার দ্বারা আমি, আমাদের প্রভু ও তাঁর কৃপার সাহায্যে, আরও স্বর্গীয় জ্ঞান ও উচ্চতর প্রেমে বৃদ্ধি পেতে পারি।
* '''পুরো পর্যবেক্ষণে আমার মনে হয়েছিল যে আমাদের পাপী হওয়া এবং অনেক মন্দ কাজ করা যা আমাদের ত্যাগ করা উচিত, এবং অনেক ভালো কাজ না করা যা আমাদের করা উচিত, তা দেখা ও জানা প্রয়োজন: যার জন্য আমরা যন্ত্রণা ও ক্রোধের যোগ্য। এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি সত্যই দেখেছিলাম যে আমাদের প্রভু কখনোই ক্রুদ্ধ ছিলেন না, বা কখনোই হবেন না।''' কারণ তিনি ঈশ্বর: ভালো, জীবন, সত্য, প্রেম, শান্তি; তাঁর স্বচ্ছতা ও তাঁর ঐক্য তাঁকে ক্রুদ্ধ হতে দেয় না। কারণ আমি সত্যই দেখেছিলাম যে ক্রুদ্ধ হওয়া তাঁর শক্তির বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে, এবং তাঁর প্রজ্ঞার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে, এবং তাঁর মঙ্গলময়তার বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে। ঈশ্বর সেই মঙ্গলময়তা যা ক্রুদ্ধ হতে পারে না, কারণ তিনি কেবল মঙ্গলময়তা ছাড়া আর কিছুই নন: আমাদের আত্মা তাঁর সাথে একীভূত, অপরিবর্তনীয় মঙ্গলময়তা, এবং ঈশ্বর ও আমাদের আত্মার মধ্যে তাঁর দৃষ্টিতে না আছে ক্রোধ না আছে ক্ষমা। কারণ আমাদের আত্মা তাঁর নিজস্ব মঙ্গলময়তার দ্বারা ঈশ্বরের সাথে এতটাই পূর্ণভাবে একীভূত যে ঈশ্বর ও আমাদের আত্মার মধ্যে ঠিক কিছুই নেই। <br> এবং এই উপলব্ধিতে আত্মা প্রেমের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল এবং প্রতিটি প্রকাশে শক্তির দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিল: যে এটিই আমাদের ভালো প্রভু দেখিয়েছিলেন, এবং ''কীভাবে এটি তাঁর মহান মঙ্গলময়তার সত্যে এমন।'' এবং তিনি চান যে আমরা তা শিখতে আকাঙ্ক্ষা করি অর্থাৎ যতটা তাঁর সৃষ্টির জন্য তা শেখা যথার্থ। কারণ সমস্ত জিনিস যা সাধারণ আত্মা বুঝেছে, ঈশ্বর চান যে সেগুলো দেখানো ও জানা হোক। কারণ যে জিনিসগুলো তিনি গোপন রাখতে চান, তিনি নিজেই খুব শক্তিশালী ও বিজ্ঞতার সাথে সেগুলো গোপন রাখেন, প্রেমের জন্য। কারণ আমি একই প্রকাশে দেখেছিলাম যে অনেক গোপনীয়তা লুকিয়ে আছে, যা সেই সময় পর্যন্ত জানা সম্ভব নয় যতক্ষণ না ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তায় আমাদের তা দেখার যোগ্য করে তোলেন; এবং তাতে আমি খুব সন্তুষ্ট, এই মহান বিস্ময়ে আমাদের প্রভুর ইচ্ছার অপেক্ষায়। এবং এখন আমি আমার মা, পবিত্র চার্চের কাছে নিজেকে সমর্পণ করছি, যেমন একটি সাধারণ শিশু করে।
=== অধ্যায় ৪৭ ===
* '''দুটি জিনিস আমাদের আত্মার জন্য কর্তব্য: একটি হলো যে আমরা শ্রদ্ধার সাথে বিস্ময়বোধ করি, অন্যটি হলো যে আমরা নম্রভাবে সহ্য করি, সর্বদা ঈশ্বরের মধ্যে আনন্দিত থেকে। কারণ তিনি চান যেন আমরা বুঝি যে আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখতে পাব যা আমরা আকাঙ্ক্ষা করি।''' <br> এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি পর্যবেক্ষণ করলাম এবং গভীরভাবে বিস্ময়বোধ করলাম: ''ঈশ্বরের দয়া ও ক্ষমা কী?'' কারণ আমার পূর্বের শিক্ষা দ্বারা, আমি বুঝেছিলাম যে ঈশ্বরের দয়া হবে আমাদের পাপ করার পরের সময়ে তাঁর ক্রোধের ক্ষমা। কারণ আমার মনে হয়েছিল যে একটি আত্মার জন্য যার অর্থ ও আকাঙ্ক্ষা হলো ভালোবাসা, ঈশ্বরের ক্রোধ যেকোনো যন্ত্রণার চেয়ে বেশি কঠিন ছিল, এবং তাই আমি ধরে নিয়েছিলাম যে তাঁর ক্রোধের ক্ষমা তাঁর দয়ার অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়া উচিত। '''কিন্তু আমি যতই পর্যবেক্ষণ করি বা আকাঙ্ক্ষা করি না কেন, আমি কোনোভাবেই পুরো প্রকাশে এই পয়েন্টটি দেখতে পাইনি। <br> কিন্তু আমি দয়ার কাজ সম্পর্কে কীভাবে বুঝেছিলাম এবং দেখেছিলাম, তা আমি কিছুটা বলব, যেমন ঈশ্বর আমাকে কৃপা দেবেন। আমি এটি বুঝেছিলাম। মানুষ এই জীবনে পরিবর্তনশীল, এবং দুর্বলতা ও জয়ের দ্বারা পাপের মধ্যে পড়ে যায়। সে নিজের থেকে দুর্বল ও অবিবেচক, এবং তার ইচ্ছাও চাপা পড়ে। এবং এই সময়ে সে ঝড়, দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্যে থাকে; এবং এর কারণ হলো অন্ধত্ব। কারণ সে ঈশ্বরকে দেখে না। কারণ যদি সে ক্রমাগত ঈশ্বরকে দেখত, তবে তার কোনো ক্ষতিকারক অনুভূতি থাকত না, বা কোনো ধরনের গতি বা আকাঙ্ক্ষা থাকত না যা পাপের দিকে নিয়ে যায়। <br> এইভাবে আমি দেখেছি, এবং একই সময়ে অনুভব করেছি; এবং আমার মনে হয়েছিল যে এই দেখা ও অনুভব করা আমাদের জীবনের সাধারণ অনুভূতির তুলনায় উচ্চ, প্রাচুর্যময় ও কৃপাময়। কিন্তু তবুও আমার মনে হয়েছিল এটি ছোট ও নিচু ছিল সেই মহান আকাঙ্ক্ষার তুলনায় যা আত্মা ঈশ্বরকে দেখার জন্য রাখে।'''
* '''আমি আমার মধ্যে পাঁচ ধরনের কাজ অনুভব করেছি, যা হলো এই: আনন্দ, শোক, আকাঙ্ক্ষা, ভয় এবং নিশ্চিত আশা।''' আনন্দ: কারণ ঈশ্বর আমাকে উপলব্ধি ও জ্ঞান দিয়েছেন যে তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে আমি দেখেছি; শোক: এবং তা ছিল ব্যর্থতার জন্য। আকাঙ্ক্ষা: এবং তা ছিল যেন আমি তাঁকে আরও বেশি বেশি দেখতে পারি, এই উপলব্ধি ও জ্ঞান নিয়ে যে আমরা যতক্ষণ না তাঁকে স্বর্গে সত্যই ও স্পষ্টভাবে দেখছি ততক্ষণ আমরা কখনোই পূর্ণ বিশ্রাম পাব না ভয় ছিল: কারণ আমার মনে হয়েছিল যে সেই সময়ে সেই দেখা ব্যর্থ হবে, এবং আমি নিজের মধ্যে পরিত্যক্ত হব। নিশ্চিত আশা ছিল অন্তহীন প্রেমে: যে আমি দেখেছি আমি তাঁর দয়ার দ্বারা রক্ষিত হব এবং তাঁর পরমানন্দে আনা হব। এবং এই নিশ্চিত আশার সাথে তাঁর দর্শনে আনন্দ করা আমাকে এমন অনুভূতি ও সান্ত্বনা দিয়েছিল যে শোক ও ভয় খুব বেশি বেদনাদায়ক ছিল না। এবং তবুও এই সবকিছুর মধ্যে আমি ঈশ্বরের প্রকাশে পর্যবেক্ষণ করেছি যে এই ধরনের দেখা এই জীবনে ক্রমাগত হতে পারে না, এবং তা তাঁর নিজস্ব পূজার জন্য এবং আমাদের অন্তহীন আনন্দের বৃদ্ধির জন্য। এবং তাই আমরা প্রায়শই তাঁর দর্শন থেকে ব্যর্থ হই, এবং অবিলম্বে আমরা আমাদের নিজের মধ্যে পতিত হই, এবং তখন আমরা কোনো সঠিক অনুভূতি পাই না, আমাদের নিজের মধ্যে যা আছে তা ছাড়া অন্য কোনো বিপরীততা নয় এবং তা আমাদের প্রথম পাপের পুরোনো শিকড় থেকে, আমাদের নিজেদের দ্বারা অনুসরণ করা সমস্ত পাপের সাথে। এবং এর মধ্যে আমরা পাপের অনুভূতি, এবং আধ্যাত্মিক ও শারীরিক বহু বৈচিত্র্যময় যন্ত্রণার সাথে পরিশ্রমে ও ঝড়ে থাকি, যেমনটি আমাদের এই জীবনে জানা আছে।
=== অধ্যায় ৪৮ ===
[[File:Arco iris circular.JPG|thumb|আমি দয়ার বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম, এবং আমি কৃপার বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম: যেগুলোর একটি প্রেমের মধ্যে দুই ধরনের কাজ আছে।]]
* '''আমাদের ভালো প্রভু পবিত্র আত্মা, যিনি আমাদের আত্মায় বসবাসকারী অন্তহীন জীবন, আমাদের খুব নিরাপদে রক্ষা করেন এবং এর মধ্যে একটি শান্তি কাজ করেন এবং কৃপার দ্বারা একে স্বস্তিতে নিয়ে আসেন, এবং ঈশ্বরের সাথে সামঞ্জস্য করেন এবং একে নমনীয় করে তোলেন।''' এবং এটিই দয়া ও পথ যা আমাদের প্রভু ক্রমাগত আমাদের নিয়ে যান যতদিন আমরা এই জীবনে আছি যা পরিবর্তনশীল। <br> '''কারণ আমি মানুষের অংশে ক্রোধ ছাড়া আর কিছু দেখিনি; এবং তিনি আমাদের মধ্যে তা ক্ষমা করেন। কারণ ক্রোধ হলো শান্তি ও প্রেমের প্রতি এক ধরনের বিমুখতা ও বিপরীততা এবং এটি হয় শক্তির ব্যর্থতা থেকে, অথবা প্রজ্ঞার ব্যর্থতা থেকে, অথবা মঙ্গলময়তার ব্যর্থতা থেকে আসে: যা ঈশ্বরের মধ্যে নেই, কিন্তু আমাদের অংশে। কারণ আমরা পাপ ও দুর্দশার দ্বারা আমাদের মধ্যে শান্তি ও প্রেমের প্রতি এক দুঃখজনক ও ক্রমাগত বিপরীততা বহন করি।''' এবং তা তিনি খুব প্রায়ই তাঁর করুণা ও সহানুভূতির প্রেমময় দৃষ্টিতে দেখিয়েছিলেন। কারণ দয়ার ভিত্তি হলো প্রেম, এবং দয়ার কাজ হলো ভালোবাসায় আমাদের রক্ষা করা। এবং এটি এমনভাবে দেখানো হয়েছিল যে আমি দয়ার অংশটি প্রেম ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে বুঝতে পারিনি। অর্থাৎ, আমার দৃষ্টিতে।
* '''দয়া হলো প্রেমের এক মিষ্টি কৃপাময় কাজ, প্রাচুর্যপূর্ণ সহানুভূতির সাথে মিশ্রিত: কারণ দয়া আমাদের রক্ষা করার কাজ করে এবং দয়া আমাদের জন্য সবকিছুকে ভালোতে পরিণত করার কাজ করে।''' দয়া, প্রেমের দ্বারা, আমাদের পরিমাপের মধ্যে ব্যর্থ হতে দেয় এবং যতটা আমরা ব্যর্থ হই, ততটাই আমরা পড়ি এবং যতটা আমরা পড়ি, ততটাই আমরা মরি: কারণ এটি অনিবার্য যে আমরা ততটাই মরি যতটা আমরা ঈশ্বরকে দেখা ও অনুভব করা থেকে ব্যর্থ হই যিনি আমাদের জীবন। আমাদের ব্যর্থতা ভয়ানক, আমাদের পতন লজ্জাজনক, এবং আমাদের মৃত্যু দুঃখজনক: কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যে সহানুভূতির মিষ্টি চোখ কখনো আমাদের থেকে সরে যায় না, বা দয়ার কাজও থেমে যায় না। <br> '''কারণ আমি দয়ার বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম, এবং আমি কৃপার বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলাম: যেগুলোর একটি প্রেমের মধ্যে দুই ধরনের কাজ আছে।''' দয়া হলো একটি করুণাময় বৈশিষ্ট্য যা কোমল প্রেমে মাতৃত্বের অন্তর্গত এবং কৃপা হলো একটি পূজনীয় বৈশিষ্ট্য যা একই প্রেমে রাজকীয় প্রভুর অন্তর্গত। দয়া কাজ করে: রক্ষা করা, সহ্য করা, জীবিত করা এবং নিরাময় করা; এবং সবই প্রেমের কোমলতা। এবং কৃপা কাজ করে: উন্নীত করা, পুরস্কৃত করা, আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও পরিশ্রম যা অর্জন করে তার চেয়ে অন্তহীনভাবে অতিক্রম করা, ঈশ্বরের রাজকীয় প্রভুর মহান প্রাচুর্যপূর্ণ উদারতা তাঁর বিস্ময়কর সৌজন্যে ছড়িয়ে দেওয়া ও প্রদর্শন করা; এবং এটি প্রেমের প্রাচুর্য থেকে আসে। '''কারণ কৃপা আমাদের ভয়ানক ব্যর্থতাকে প্রাচুর্যপূর্ণ, অন্তহীন সান্ত্বনায় রূপান্তরিত করে; এবং কৃপা আমাদের লজ্জাজনক পতনকে উচ্চ, পূজনীয় উত্থানে রূপান্তরিত করে এবং কৃপা আমাদের দুঃখজনক মৃত্যুকে পবিত্র, পরমানন্দময় জীবনে রূপান্তরিত করে।''' <br> কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের বিপরীততা যেমন আমাদের এখানে পৃথিবীতে যন্ত্রণা, লজ্জা ও দুঃখ দেয়, ঠিক তেমনই বিপরীত দিক থেকে, কৃপা আমাদের স্বর্গে সান্ত্বনা, পূজা ও পরমানন্দ দেয়। এবং অতিক্রম করে। এবং এতটা পর্যন্ত যে, যখন আমরা উপরে উঠি এবং সেই মিষ্টি পুরস্কার গ্রহণ করি যা কৃপা আমাদের জন্য তৈরি করেছে, তখন আমরা আমাদের প্রভুকে ধন্যবাদ ও আশীর্বাদ করব, অন্তহীনভাবে আনন্দিত হয়ে যে আমরা কখনো দুঃখ সহ্য করেছি। এবং এটি হবে পরমানন্দময় প্রেমের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য যা আমরা ঈশ্বরকে জানব যা দুঃখ ছাড়া আমরা কখনোই জানতে পারতাম না। <br> '''এবং যখন আমি এই সব দেখলাম, আমাকে স্বীকার করতেই হলো যে ঈশ্বরের দয়া ও ক্ষমা আমাদের ক্রোধকে শিথিল ও নষ্ট করার জন্য।'''
=== অধ্যায় ৪৯ ===
[[File:LuMaxArt_Golden_Family_With_World_Religions.jpg|thumb|অবিলম্বে আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে।]]
[[File:Quaker Peace Star.png|thumb|আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে যেখানে আমাদের প্রভু উপস্থিত হন, সেখানে শান্তি আসে এবং ক্রোধের কোনো স্থান থাকে না। কারণ আমি ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ধরনের ক্রোধ দেখিনি, অল্প সময়ের জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য। কারণ সত্যই, আমার দৃষ্টিতে, যদি ঈশ্বর এক মুহূর্তের জন্যও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে আমাদের কখনোই জীবন বা স্থান বা অস্তিত্ব থাকত না।]]
* '''অবিলম্বে আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তি স্থাপন করে।'''
* '''এটি ছিল আত্মার জন্য এক উচ্চ বিস্ময় যা ক্রমাগত সমস্ত প্রকাশে দেখানো হয়েছিল এবং খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল, যে আমাদের প্রভু ঈশ্বর, নিজের প্রতি ক্ষমা করতে পারেন না, কারণ তিনি ক্রুদ্ধ হতে পারেন না। এটি অসম্ভব হবে। কারণ এটি দেখানো হয়েছিল। যে আমাদের জীবন সম্পূর্ণভাবে প্রেমে ভিত্তি ও মূলিত, এবং প্রেম ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না''' এবং তাই সেই আত্মার জন্য যে তাঁর বিশেষ কৃপায় ঈশ্বরের উচ্চ, বিস্ময়কর মঙ্গলময়তার গভীরে এতদূর দেখে, এবং দেখে যে আমরা প্রেমে তাঁর সাথে অন্তহীনভাবে একীভূত, এটি সবচেয়ে অসম্ভব যা হতে পারে যে ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হবেন। কারণ ক্রোধ ও বন্ধুত্ব দুটি বিপরীত। কারণ তিনি যিনি আমাদের ক্রোধ নষ্ট ও ধ্বংস করেন এবং আমাদের নম্র ও মৃদু করেন, এটি অনিবার্য যে তাঁকে সর্বদা প্রেমে এক, নম্র ও মৃদু হতে হবে। যা ক্রোধের বিপরীত। <br> '''কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে যেখানে আমাদের প্রভু উপস্থিত হন, সেখানে শান্তি আসে এবং ক্রোধের কোনো স্থান থাকে না। কারণ আমি ঈশ্বরের মধ্যে কোনো ধরনের ক্রোধ দেখিনি, অল্প সময়ের জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য। কারণ সত্যই, আমার দৃষ্টিতে, যদি ঈশ্বর এক মুহূর্তের জন্যও ক্রুদ্ধ হতেন, তবে আমাদের কখনোই জীবন বা স্থান বা অস্তিত্ব থাকত না।''' কারণ আমরা যেমন ঈশ্বরের অন্তহীন শক্তি এবং অন্তহীন প্রজ্ঞা এবং অন্তহীন মঙ্গলময়তা থেকে আমাদের অস্তিত্ব পাই, ঠিক তেমনই আমরা ঈশ্বরের অন্তহীন শক্তিতে, অন্তহীন প্রজ্ঞায় এবং অন্তহীন মঙ্গলময়তায় আমাদের সুরক্ষা পাই। কারণ যদিও আমরা নিজেদের মধ্যে, দুঃখী মানুষ, বিতর্ক ও কলহ অনুভব করি, তবুও আমরা ঈশ্বরের মৃদুতা ও তাঁর নম্রতায়, তাঁর দয়া ও তাঁর কৃপায় পুরোপুরি আবদ্ধ। কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের সমস্ত অন্তহীন বন্ধুত্ব, আমাদের স্থান, আমাদের জীবন এবং আমাদের অস্তিত্ব ঈশ্বরের মধ্যে।
* '''যদিও আমরা, আমাদের মধ্যে থাকা ক্রোধ ও বিপরীততার কারণে, এখন দুর্দশা, কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্যে আছি, যেমন আমাদের অন্ধত্ব ও দুর্বলতার কারণে ঘটে, তবুও আমরা ঈশ্বরের দয়াময় সুরক্ষার দ্বারা নিরাপদে আছি, যাতে আমরা ধ্বংস না হই। কিন্তু আমরা আমাদের অন্তহীন আনন্দের অধিকারী হয়ে ''পরমানন্দময়ভাবে'' নিরাপদ নই, যতক্ষণ না আমরা সবাই শান্তিতে ও প্রেমে থাকি। অর্থাৎ, ঈশ্বরের সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে এবং তাঁর সমস্ত বিচারের সাথে পূর্ণ সন্তুষ্ট, এবং আমাদের নিজেদের সাথে এবং আমাদের সম-খ্রিস্টানদের সাথে এবং ঈশ্বর যা ভালোবাসেন তার সবার সাথে প্রেমময় ও শান্তিপূর্ণ, যেমন প্রেম শোভা পায়।''' এবং এটি ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা আমাদের মধ্যে করে।
* '''এইভাবে আমি দেখেছিলাম যে ঈশ্বরই আমাদের প্রকৃত শান্তি, এবং আমরা যখন নিজেরাই অশান্তিতে থাকি তখন তিনিই আমাদের নিশ্চিত রক্ষক, এবং তিনি ক্রমাগত আমাদের অন্তহীন শান্তিতে আনার জন্য কাজ করেন।''' এবং এইভাবে যখন আমরা, দয়া ও কৃপার কাজের দ্বারা, নম্র ও মৃদু হই, আমরা পুরোপুরি নিরাপদ; হঠাৎ আত্মা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয় যখন এটি সত্যই নিজের মধ্যে শান্তিতে থাকে: কারণ তাঁর মধ্যে কোনো ক্রোধ পাওয়া যায় না। এবং এইভাবে আমি দেখেছিলাম যখন আমরা সবাই শান্তিতে ও প্রেমে থাকি, আমরা কোনো বিপরীততা খুঁজে পাই না, বা সেই বিপরীততার মাধ্যমে কোনো ধরনের বাধা পাই না যা এখন আমাদের মধ্যে আছে। আমাদের প্রভু তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে একে আমাদের জন্য খুব লাভজনক করে তোলেন। কারণ সেই বিপরীততাই আমাদের দুর্দশা ও আমাদের সমস্ত যন্ত্রণার কারণ, এবং আমাদের প্রভু যিশু সেগুলো গ্রহণ করেন এবং স্বর্গে পাঠান, এবং সেখানে সেগুলো হৃদয়ে চিন্তা বা জিহ্বায় বলার চেয়েও বেশি মিষ্টি ও আনন্দদায়ক করা হয়। এবং যখন আমরা সেখানে পৌঁছাব তখন আমরা সেগুলোকে প্রস্তুত পাব, সব খুব সুন্দর ও অন্তহীন পূজায় রূপান্তরিত।
=== অধ্যায় ৫০ ===
* '''এই জীবনে দয়া ও ক্ষমা আমাদের পথ এবং সর্বদা আমাদের কৃপার দিকে নিয়ে যায়। এবং যে ঝড় ও দুঃখের মধ্যে আমরা আমাদের অংশে পতিত হই, তাতে আমরা পৃথিবীতে মানুষের বিচারের অনুযায়ী প্রায়শই মৃত। কিন্তু ঈশ্বরের দৃষ্টিতে যে আত্মা রক্ষা পাবে সে কখনোই মৃত ছিল না, বা কখনোই হবে না।'''
* তবুও এখানে আমি আমার আত্মার সমস্ত মনোযোগ দিয়ে বিস্মিত ও বিস্ময়বোধ করলাম, আমার নিজের মধ্যে এইভাবে বলে: ''' ''ভালো প্রভু, আমি তোমাকে দেখি যিনি প্রকৃত সত্য; এবং আমি সত্যে জানি যে আমরা প্রতিদিন গুরুতরভাবে পাপ করি এবং অনেক বেশি দোষী এবং আমি তোমার সত্যের জ্ঞান ত্যাগ করতে পারি না, বা আমি তোমাকে কোনো ধরনের দোষ দেখাতে দেখছি না। এটি কীভাবে সম্ভব?'' <br> কারণ আমি পবিত্র চার্চের সাধারণ শিক্ষা এবং আমার নিজের অনুভূতি দ্বারা জানতাম যে আমাদের পাপের দোষ ক্রমাগত আমাদের ওপর ঝুলে থাকে, প্রথম মানুষ থেকে শুরু করে আমরা স্বর্গে পৌঁছানো পর্যন্ত। তখন এটিই আমার বিস্ময় ছিল যে আমি আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে আমাদের প্রতি আর কোনো দোষ দেখাতে দেখিনি যেন আমরা স্বর্গে ফেরেশতাদের মতো পরিষ্কার ও পবিত্র।''' এবং এই দুটি বিপরীতের মধ্যে আমার যুক্তি আমার অন্ধত্বের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল, এবং এর ভয়ে কোনো বিশ্রাম পেতে পারিনি যে তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ উপস্থিতি আমার দৃষ্টি থেকে সরে যাবে এবং আমি না জেনে থেকে যাব যে তিনি আমাদের পাপে আমাদের কীভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কারণ হয় আমাকে ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে হতো যে পাপ পুরোপুরি দূর হয়েছে, অথবা আমাকে ঈশ্বরের মধ্যে দেখতে হতো কীভাবে তিনি তা দেখেন, যার মাধ্যমে আমি সত্যই জানতে পারতাম কীভাবে আমার পাপ দেখা উচিত, এবং আমাদের দোষের ধরন। আমার আকাঙ্ক্ষা স্থায়ী ছিল, তাঁকে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করে এবং তবুও মহান সংকট ও বিভ্রান্তির জন্য আমি ধৈর্য ধরতে পারিনি, চিন্তা করে: ''যদি আমি এইভাবে ধরি যে আমরা পাপী নই এবং দোষী নই, তবে মনে হয় আমি ভুল করছি এবং এই সত্যের জ্ঞান থেকে ব্যর্থ হচ্ছি এবং যদি এমন হয় যে আমরা পাপী ও দোষী, ভালো প্রভু, তবে এটি কীভাবে সম্ভব যে আমি তোমার মধ্যে এই সত্য জিনিসটি দেখতে পাচ্ছি না, যিনি আমার ঈশ্বর, আমার নির্মাতা, যার মধ্যে আমি সমস্ত সত্য দেখতে আকাঙ্ক্ষা করি?''
* তিনটি পয়েন্ট আমাকে এটি জিজ্ঞাসা করার জন্য সাহসী করে তোলে। প্রথমটি হলো, কারণ এটি খুব ছোট একটি জিনিস: কারণ যদি এটি একটি উচ্চ জিনিস হতো তবে আমি ভীত হতাম। দ্বিতীয়টি হলো, যে এটি খুব সাধারণ: কারণ যদি এটি বিশেষ ও গোপন হতো, তবে আমি ভীত হতাম। তৃতীয়টি হলো, যে এটি জানা আমার প্রয়োজন যেমন আমার মনে হয় যদি আমি এখানে ভালো ও মন্দের জ্ঞান লাভের জন্য বাঁচি, যার মাধ্যমে আমি, যুক্তি ও কৃপার দ্বারা, সেগুলোকে আরও আলাদা করতে পারি, এবং মঙ্গলময়তাকে ভালোবাসতে পারি ও মন্দকে ঘৃণা করতে পারি, যেমন পবিত্র চার্চ শেখায়। আমি অন্তরের সাথে চিৎকার করলাম, আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ঈশ্বরের কাছে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করে, এইভাবে বলে: ''আহ! প্রভু যিশু, পরমানন্দের রাজা, আমি কীভাবে শান্ত হব? কে আমাকে শেখাবে এবং বলবে যে আমার কী জানা প্রয়োজন, যদি আমি এই সময়ে তোমার মধ্যে তা দেখতে না পাই?''
=== অধ্যায় ৫১ ===
* তখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু খুব অস্পষ্টভাবে একজন প্রভুর একটি বিস্ময়কর উদাহরণ দেখিয়ে উত্তর দিলেন যার একজন ভৃত্য আছে: এবং তিনি আমাকে উভয়ের প্রতি আমার বোঝার দৃষ্টি দিলেন। যে দৃষ্টি প্রভুর মধ্যে দ্বিগুণভাবে এবং ভৃত্যের মধ্যে দ্বিগুণভাবে দেখানো হয়েছিল: একটি অংশ শারীরিক সাদৃশ্যে আধ্যাত্মিকভাবে দেখানো হয়েছিল, এবং অন্য অংশটি আরও আধ্যাত্মিকভাবে দেখানো হয়েছিল, শারীরিক সাদৃশ্য ছাড়াই।
* আমি শারীরিক সাদৃশ্যে দুটি ব্যক্তিকে দেখলাম: অর্থাৎ, একজন প্রভু ও একজন ভৃত্য; এবং তার সাথে ঈশ্বর আমাকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান দিলেন। প্রভু শান্তিতে ও বিশ্রামে মহিমান্বিত হয়ে বসে আছেন; ভৃত্য তার প্রভুর সামনে শ্রদ্ধার সাথে দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রভুর ইচ্ছা পূরণ করতে প্রস্তুত। প্রভু তাঁর ভৃত্যের দিকে খুব ভালোবাসার সাথে ও মিষ্টিভাবে তাকান, এবং নম্রভাবে তিনি তাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠান তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে। ভৃত্য কেবল যায় না, বরং হঠাৎ সে শুরু করে, এবং প্রভুর ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রেমের সাথে খুব তাড়াহুড়ো করে দৌড়ায়। এবং অবিলম্বে সে একটি খাদে পড়ে যায়, এবং খুব মহান আঘাত পায়। এবং তখন সে আর্তনাদ করে ও বিলাপ করে ও শোক করে ও সংগ্রাম করে, কিন্তু সে কোনোভাবেই উঠতে পারে না বা নিজেকে সাহায্য করতে পারে না। <br> এবং এই সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যা আমি তাকে দেখেছি তা ছিল সান্ত্বনার ব্যর্থতা: কারণ সে তার ভালোবাসার প্রভুর দিকে তাকাতে মুখ ঘুরাতে পারেনি, যিনি তার খুব কাছাকাছি ছিলেন,—যাঁর মধ্যে পূর্ণ সান্ত্বনা আছে। কিন্তু একজন মানুষের মতো যে সেই সময়ের জন্য দুর্বল ও অবিবেচক, সে তার মন তার অনুভূতির দিকে ঘুরাল এবং যন্ত্রণার মধ্যে স্থায়ী হলো।
* আমি বিস্মিত হলাম কীভাবে এই ভৃত্য সেখানে এই সমস্ত যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে, এবং আমি খুব সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করলাম যদি আমি তার মধ্যে কোনো দোষ বুঝতে পারি, অথবা প্রভু যদি তাকে কোনো দোষ দেন। এবং সত্যই সেখানে কিছুই দেখা যায়নি: কারণ কেবল তার সদিচ্ছা এবং তার মহান আকাঙ্ক্ষাই ছিল তার পতনের কারণ; এবং সে অনিচ্ছুক ছিল না, এবং ভেতরে ততটাই ভালো ছিল যেমনটি সে তার প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে প্রস্তুত। এবং ঠিক এভাবেই ক্রমাগত তার ভালোবাসার প্রভু খুব কোমলভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছেন।
* '''আমি দেখলাম ও বুঝলাম যে প্রতিটি প্রকাশ গোপন জিনিসে পূর্ণ।''' <br> এবং তাই আমাকে এখন তিনটি বৈশিষ্ট্য বলতে হবে যার মধ্যে আমি কিছুটা শান্ত হয়েছি। প্রথমটি হলো শিক্ষার শুরু যা আমি সেই সময়ে এতে বুঝেছিলাম; দ্বিতীয়টি হলো অভ্যন্তরীণ শিক্ষা যা আমি পরে এতে বুঝেছি; তৃতীয়টি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রকাশ (অর্থাৎ এই বইয়ের) যা আমাদের প্রভু ঈশ্বর তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে প্রায়শই মুক্তভাবে আমার বোঝার দৃষ্টিতে আনেন। এবং এই তিনটি আমার বোঝার অনুযায়ী এতটাই একীভূত যে আমি সেগুলোকে আলাদা করতে পারি না, বা করব না। এবং এই তিনটির দ্বারা, একটি হিসেবে, আমার কাছে শিক্ষা আছে যার মাধ্যমে আমার আমাদের প্রভু ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখা উচিত, যে একই মঙ্গলময়তা থেকে যা দিয়ে তিনি এটি দেখিয়েছেন, এবং একই উদ্দেশ্যের জন্য, ঠিক তেমনই, একই মঙ্গলময়তা থেকে এবং একই উদ্দেশ্যের জন্য তিনি আমাদের কাছে তা প্রকাশ করবেন যখন তাঁর ইচ্ছা হবে।
* কারণ, প্রকাশের সময়ের বিশ বছর পর, তিন মাস কম, আমি অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষা পেয়েছিলাম, যেমন আমি বলব: ''উদাহরণে যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য ও শর্ত দেখানো হয়েছিল তার প্রতি মনোযোগ দেওয়া তোমার কর্তব্য, যদিও তুমি মনে করো সেগুলো অস্পষ্ট এবং তোমার দৃষ্টিতে নির্বিশেষে।''
* প্রভু যিনি শান্তিতে ও বিশ্রামে মহিমান্বিত হয়ে বসে ছিলেন, আমি বুঝলাম যে তিনি ঈশ্বর। ভৃত্য যিনি প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আমি বুঝলাম যে এটি আদমের জন্য দেখানো হয়েছিল: অর্থাৎ, একজন মানুষকে দেখানো হয়েছিল, সেই সময়ে, এবং তার পতন, যাতে এটি বোঝা যায় কীভাবে ঈশ্বর সমস্ত-মানুষ এবং তার পতনকে পর্যবেক্ষণ করেন। '''কারণ ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সমস্ত মানুষ একজন মানুষ, এবং একজন মানুষ সমস্ত মানুষ। এই মানুষটি তার শক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল এবং খুব দুর্বল হয়েছিল এবং সে তার বোঝাপড়ায় স্তব্ধ হয়েছিল যাতে সে তার প্রভুর পর্যবেক্ষণ থেকে ফিরে এসেছিল। কিন্তু তার ইচ্ছা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে অখণ্ড ছিল। কারণ তার ইচ্ছা আমি আমাদের প্রভুকে প্রশংসা ও অনুমোদন করতে দেখেছি। কিন্তু সে নিজেই এই ইচ্ছা জানার থেকে বাধাগ্রস্ত ও অন্ধ ছিল এবং এটি তার জন্য মহান শোক ও দুঃখজনক কষ্ট: কারণ সে না স্পষ্টভাবে দেখে তার ভালোবাসার প্রভুকে, যিনি তার প্রতি খুব নম্র ও মৃদু, না সে সত্যই দেখে সে তার ভালোবাসার প্রভুর দৃষ্টিতে কী। এবং আমি ভালো করেই জানি যখন এই দুটি বিজ্ঞতার সাথে ও সত্যভাবে দেখা হবে, আমরা এখানে আংশিকভাবে বিশ্রাম ও শান্তি পাব, এবং স্বর্গের পরমানন্দের পূর্ণতা পাব, তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায়। <br> এবং এটি ছিল শিক্ষার একটি শুরু যা আমি সেই সময়ে দেখেছিলাম, যার মাধ্যমে আমি জানতে পারতাম তিনি কীভাবে আমাদের পাপে আমাদের পর্যবেক্ষণ করেন।''' এবং তখন আমি দেখলাম যে কেবল যন্ত্রণা দোষ দেয় ও শাস্তি দেয়, এবং আমাদের সৌজন্যপূর্ণ প্রভু সান্ত্বনা দেন ও শোক করেন; এবং সর্বদা তিনি আত্মার কাছে আনন্দদায়ক মেজাজে আছেন, ভালোবাসছেন, এবং আমাদের তাঁর পরমানন্দে আনতে আকাঙ্ক্ষা করছেন।
* প্রভু যে স্থানে বসে ছিলেন তা ছিল সরল, পৃথিবীতে, অনুর্বর ও মরুভূমি, প্রান্তরে একা; তাঁর পোশাক ছিল প্রশস্ত ও খুব মানানসই, যেমন একজন প্রভুর জন্য শোভা পায়; তাঁর পোশাকের রঙ ছিল নীলাভ, খুব বিষণ্ণ ও সুন্দর। তাঁর মেজাজ ছিল দয়াময়; তাঁর মুখের রঙ ছিল সুন্দর-বাদামী,খুব মানানসই বৈশিষ্ট্যের সাথে; তাঁর চোখ ছিল কালো, খুব সুন্দর ও মানানসই, খুব ভালোবাসার ''সহানুভূতি'' দিয়ে পূর্ণ, এবং, তাঁর ''ভেতরে'', একটি উচ্চ পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘ ও প্রশস্ত, সমস্ত অন্তহীন স্বর্গে পূর্ণ। এবং ভালোবাসার দৃষ্টি যা দিয়ে তিনি ক্রমাগত তাঁর ভৃত্যের দিকে তাকিয়েছিলেন,এবং বিশেষ করে তার পতনে,আমার মনে হয়েছিল তা প্রেমের জন্য আমাদের হৃদয় গলাতে পারে এবং আনন্দের জন্য সেগুলোকে দুই ভাগে ফাটাতে পারে। সুন্দর দৃষ্টি একটি মানানসই মিশ্রণ দেখিয়েছিল যা পর্যবেক্ষণ করা বিস্ময়কর ছিল: একটি ছিল করুণা ও সহানুভূতি, অন্যটি ছিল আনন্দ ও পরমানন্দ। আনন্দ ও পরমানন্দ করুণা ও সহানুভূতিকে ততটাই ছাড়িয়ে যায় যতটা স্বর্গ পৃথিবীর উপরে: সহানুভূতি ছিল পার্থিব এবং পরমানন্দ ছিল স্বর্গীয়।
* তাঁর প্রেমের চেহারার দয়াময় পর্যবেক্ষণ সমস্ত পৃথিবীকে পূর্ণ করেছিল এবং আদমের সাথে নরকে নেমে এসেছিল, যে ক্রমাগত সহানুভূতিতে আদমকে অন্তহীন মৃত্যু থেকে রক্ষা করা হয়েছিল। এবং এইভাবে দয়া ও সহানুভূতি মানবজাতির সাথে থাকে যতক্ষণ না আমরা স্বর্গে উপরে উঠি।
* মানুষ এই জীবনে অন্ধ এবং তাই আমরা আমাদের পিতা, ঈশ্বরকে দেখতে পারি না, যেমন তিনি আছেন। এবং যখন তিনি তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে মানুষের কাছে নিজেকে দেখাতে চান, তখন তিনি নিজেকে আপনভাবে দেখান, মানুষ হিসেবে। তবুও, আমি যুক্তি দিই, সত্যে আমাদের জানা ও বিশ্বাস করা উচিত যে পিতা মানুষ নন।
* পোশাকের নীলাভতা তাঁর স্থিরতা বোঝায়। তাঁর সুন্দর মুখের বাদামীতা, চোখের মানানসই কালোর সাথে, তাঁর পবিত্র স্থিরতা দেখানোর জন্য সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তাঁর পোশাকের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, যা সুন্দর ছিল, চারপাশে জ্বলজ্বল করছিল, বোঝায় যে তাঁর মধ্যে আছে, সমস্ত স্বর্গ, এবং সমস্ত আনন্দ ও পরমানন্দ: এবং এটি একটি স্পর্শে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি বলেছি: ''আমার বোঝাপড়া প্রভুর মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল''। যার মধ্যে আমি তাঁকে উচ্চতর আনন্দিত হতে দেখেছি সেই পূজনীয় পুনরুদ্ধারের জন্য যা তিনি তাঁর ভৃত্যকে তাঁর প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায় আনবেন ও আনবেন।
* পৃথিবীতে একটি ধন ছিল যা প্রভু ভালোবাসতেন। আমি বিস্মিত হলাম এবং ভাবলাম এটি কী হতে পারে, এবং আমার বোঝাপড়ায় উত্তর পেলাম: ''এটি একটি খাদ্য যা প্রভুর কাছে আনন্দদায়ক ও মনোরম।''
* তবুও আমি বিস্মিত হলাম ভৃত্য কোথা থেকে এসেছিল। কারণ আমি প্রভুর মধ্যে দেখলাম যে তাঁর নিজের ভেতরে অন্তহীন জীবন আছে, এবং সমস্ত ধরনের মঙ্গলময়তা, পৃথিবীতে থাকা সেই ধন ছাড়া। এবং ''তা'' অন্তহীন প্রেমের বিস্ময়কর গভীরতায় প্রভুর মধ্যে ভিত্তি ছিল, কিন্তু এটি তাঁর পূজার জন্য পুরোপুরি ছিল না যতক্ষণ না ভৃত্য একে এইভাবে মহিমান্বিতভাবে প্রস্তুত করেছিল, এবং তার নিজের উপস্থিতিতে প্রভুর সামনে এনেছিল। এবং প্রভুর বাইরে প্রান্তর ছাড়া কিছুই ছিল না। এবং আমি সব বুঝতে পারিনি এই উদাহরণটির অর্থ কী, এবং তাই আমি বিস্মিত হলাম ভৃত্য কোথা থেকে এসেছিল।
* ভৃত্যের মধ্যে ত্রিত্বের দ্বিতীয় ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; এবং ভৃত্যের মধ্যে আদমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: অর্থাৎ, সমস্ত-মানুষ। এবং তাই যখন আমি 'পুত্র' বলি, তার অর্থ দেবত্ব যা পিতার সাথে সমান; এবং যখন আমি 'ভৃত্য' বলি, তার অর্থ খ্রিস্টের মানবতা, যা প্রকৃত আদম। ভৃত্যের নৈকট্য দ্বারা পুত্রকে বোঝা যায়, এবং বাম দিকে দাঁড়ানো দ্বারা আদমকে বোঝা যায়। প্রভু হলেন পিতা, ঈশ্বর। ভৃত্য হলেন পুত্র, খ্রিস্ট যিশু। পবিত্র আত্মা হলেন সমান প্রেম যা তাদের উভয়ের মধ্যে আছে।
* এই সবকিছুর মধ্যে আমাদের ভালো প্রভু তাঁর নিজের পুত্র এবং আদমকে কেবল একজন মানুষ হিসেবে দেখিয়েছেন। আমাদের মধ্যে যে গুণ ও মঙ্গলময়তা আছে তা যিশু খ্রিস্টের থেকে: আমাদের মধ্যে যে দুর্বলতা ও অন্ধত্ব আছে তা আদমের থেকে: যা দুটি ভৃত্যের মধ্যে দেখানো হয়েছিল।<br> এবং এইভাবে আমাদের ভালো প্রভু যিশু আমাদের সমস্ত দোষ নিজের ওপর নিয়েছেন, এবং তাই আমাদের পিতা খ্রিস্টপ্রিয় খ্রিস্টের চেয়ে আমাদের আর কোনো দোষ দিতে পারেন না বা দেবেন না।
* কারণ সমস্ত মানবজাতি যারা খ্রিস্টের মিষ্টি অবতার ও পরমানন্দময় প্যাশনের দ্বারা রক্ষা পাবে, সবই খ্রিস্টের মানবতা। কারণ তিনি হলেন প্রধান এবং আমরা তাঁর অঙ্গ। যে অঙ্গগুলোর জন্য দিন ও সময় অজানা যখন প্রতিটি দুঃখ ও শোকের শেষ হবে, এবং চিরস্থায়ী আনন্দ ও পরমানন্দ পূর্ণ হবে; যে দিন ও সময় দেখার জন্য, স্বর্গের সমস্ত কোম্পানি আকাঙ্ক্ষা করে। এবং স্বর্গের নিচে যারা আছে যারা সেখানে আসবে, তাদের পথ হলো আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার দ্বারা।
* এছাড়াও এই বিস্ময়কর উদাহরণে আমার সাথে শিক্ষা আছে যেমনটি এটি একটি এ.বি.সি.র শুরু, যার দ্বারা আমি আমাদের প্রভুর অর্থের কিছু বোঝাপড়া পেয়েছি। কারণ প্রকাশের গোপন জিনিসগুলো এতে লুকিয়ে আছে। যদিও ''সমস্ত'' প্রকাশই গোপন জিনিসে পূর্ণ।
=== অধ্যায় ৫২ ===
* '''আমি দেখলাম যে ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের পিতা, এবং ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের মাতা, এবং ঈশ্বর আনন্দিত যে তিনি আমাদের প্রকৃত জীবনসঙ্গী এবং আমাদের আত্মা তাঁর প্রিয় স্ত্রী। এবং খ্রিস্ট আনন্দিত যে তিনি আমাদের ভাই, এবং যিশু আনন্দিত যে তিনি আমাদের ত্রাণকর্তা। এগুলো পাঁচটি উচ্চ আনন্দ, যেমন আমি বুঝি, যার মধ্যে তিনি চান যে আমরা আনন্দ করি; তাঁর প্রশংসা করে, তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে, তাঁকে ভালোবেসে, তাঁকে অন্তহীনভাবে আশীর্বাদ করে।'''
* '''আমাদের উদ্দেশ্যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে বাস করি, এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে দয়া ও কৃপা পাওয়ার আস্থা রাখি; এবং এটি আমাদের মধ্যে তাঁর নিজস্ব কাজ। এবং তাঁর মঙ্গলময়তা থেকে তিনি আমাদের বোঝার চোখ খুলে দেন, যার দ্বারা আমরা দৃষ্টি পাই, কখনো বেশি এবং কখনো কম, যেমন ঈশ্বর গ্রহণ করার ক্ষমতা দেন। এবং এখন আমরা একীভূত হই, এবং এখন আমরা অন্যটিতে পতিত হই।''' <br> এবং এইভাবে আমাদের মধ্যে এই মিশ্রণটি এত বিস্ময়কর যে আমরা খুব কমই আমাদের নিজের বা আমাদের সম-খ্রিস্টানের কথা জানি যে আমরা কোন পথে দাঁড়িয়ে আছি, এই বিভিন্ন অনুভূতির বিস্ময়করতার কারণে।
* এইভাবে আমরা আমাদের জীবনের সমস্ত দিন এই মিশ্রণে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু তিনি চান যে আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি আমাদের সাথে স্থায়ীভাবে আছেন। এবং তা তিন প্রকারে। তিনি স্বর্গে আমাদের সাথে আছেন, প্রকৃত মানুষ, তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিতে, আমাদের উপরে টেনে নিচ্ছেন এবং তা আধ্যাত্মিক তৃষ্ণায় দেখানো হয়েছিল। এবং তিনি পৃথিবীতে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের পরিচালিত করছেন এবং তা তৃতীয়টিতে দেখানো হয়েছিল, যেখানে আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখেছি। এবং তিনি আমাদের আত্মায় আমাদের সাথে আছেন, অন্তহীনভাবে বসবাস করছেন, আমাদের শাসন ও রক্ষা করছেন এবং তা ষোড়শটিতে দেখানো হয়েছিল, যেমন আমি বলব।
* আমাদের কাছে, এখন, শোকের বিষয় আছে: কারণ আমাদের পাপ খ্রিস্টের যন্ত্রণার কারণ; এবং আমাদের কাছে, স্থায়ীভাবে, আনন্দের বিষয় আছে: কারণ অন্তহীন প্রেম তাঁকে সহ্য করতে বাধ্য করেছিল। এবং তাই '''যে সৃষ্টি কৃপার দ্বারা প্রেমের কাজ দেখে ও অনুভব করে, সে পাপ ছাড়া কিছুই ঘৃণা করে না: কারণ সমস্ত জিনিসের মধ্যে, আমার দৃষ্টিতে, প্রেম ও ঘৃণা সবচেয়ে কঠিন ও সবচেয়ে পরিমাপহীন বিপরীত।''' এবং এই সব সত্ত্বেও, আমি আমাদের প্রভুর অর্থে দেখেছিলাম ও বুঝেছিলাম যে আমরা এই জীবনে পাপ থেকে এতটা অখণ্ডভাবে পরিষ্কার থাকতে পারি না যতটা আমরা স্বর্গে থাকব। কিন্তু আমরা অবশ্যই কৃপার দ্বারা সেই পাপগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি যা আমাদের অন্তহীন যন্ত্রণার দিকে নিয়ে যেত, যেমন পবিত্র চার্চ আমাদের শেখায়; এবং আমাদের সাধ্যমতো ভেনিয়াল পাপ এড়িয়ে চলতে পারি। এবং যদি আমরা আমাদের অন্ধত্ব ও আমাদের দুর্দশার কারণে কোনো সময় পড়ে যাই, তবে আমাদের তৎক্ষণাৎ ওঠা উচিত, কৃপার মিষ্টি স্পর্শ জেনে, এবং আমাদের সমস্ত ইচ্ছার সাথে পবিত্র চার্চের শিক্ষার ওপর নিজেদের সংশোধন করা উচিত, যেমন পাপ গুরুতর, এবং ভালোবাসায় অবিলম্বে ঈশ্বরের কাছে যাওয়া উচিত এবং একদিকে, খুব নিচে পতিত হয়ে হতাশায় ঝুঁকে পড়া উচিত নয়, বা অন্যদিকে, খুব বেপরোয়া হওয়া উচিত নয়, যেন আমরা এর কোনো গুরুত্ব দিইনি বরং আমাদের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে স্বীকার করা উচিত, এই জেনে যে আমরা কৃপার সুরক্ষা ছাড়া এক মুহূর্তও দাঁড়াতে পারি না, এবং শ্রদ্ধার সাথে ঈশ্বরের সাথে লেগে থাকা উচিত, কেবল তাঁর ওপর আস্থা রেখে। <br> কারণ ঈশ্বরের পর্যবেক্ষণ একরকম, এবং মানুষের পর্যবেক্ষণ অন্যরকম। কারণ মানুষের জন্য নিজেকে নম্রভাবে অভিযুক্ত করা যথার্থ, এবং আমাদের প্রভু ঈশ্বরের সঠিক মঙ্গলময়তার জন্য মানুষকে সৌজন্যের সাথে ক্ষমা করা যথার্থ।
* অন্য ধরনের পর্যবেক্ষণ দেখানো হয়েছিল ''অভ্যন্তরীণ'': এবং তা ছিল আরও উচ্চতর এবং পুরোপুরি ''এক''। '''কারণ জীবন ও গুণ যা আমরা নিম্ন অংশে পাই তা উচ্চতর থেকে, এবং তা কৃপার দ্বারা নিজের প্রাকৃতিক প্রেম থেকে আমাদের কাছে আসে। এক এবং অন্যটির মধ্যে ঠিক কিছুই নেই: কারণ এটি সবই এক প্রেম।''' যে এক আশীর্বাদপূর্ণ প্রেমের এখন, আমাদের মধ্যে, দ্বিগুণ কাজ আছে: কারণ নিম্ন অংশে যন্ত্রণা ও আবেগ, দয়া ও ক্ষমা আছে, এবং অন্যান্য বিষয় যা লাভজনক। কিন্তু উচ্চ অংশে এগুলোর কোনোটিই নেই বরং সবই এক উচ্চ প্রেম ও বিস্ময়কর আনন্দ: যে আনন্দে সমস্ত যন্ত্রণা উচ্চতরভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়। এবং এতে আমাদের প্রভু কেবল আমাদের ক্ষমা প্রদর্শন করেননি, বরং সেই পূজনীয় মহৎতাও দেখিয়েছেন যা তিনি আমাদের আনবেন, আমাদের সমস্ত দোষকে অন্তহীন পূজায় রূপান্তরিত করে।
=== অধ্যায় ৫৩ ===
* আমি দেখলাম যে তিনি চান যেন আমরা বুঝি যে তিনি কোনো সৃষ্টির পতনকে যা রক্ষা পাবে তাকে আদমের পতনের চেয়ে বেশি কঠিনভাবে নেন না, যা, আমরা জানি, আদমের সমস্ত প্রয়োজনের সময়ে অন্তহীনভাবে ভালোবাসা ও নিরাপদে রক্ষিত ছিল, এবং এখন উচ্চতর অতিক্রমকারী আনন্দে পরমানন্দময়ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
* এতে যা আমি এখন বলেছি আমার আকাঙ্ক্ষা আংশিকভাবে উত্তর পেয়েছে, এবং আমার মহান অসুবিধা কিছুটা শান্ত হয়েছে, আমাদের ভালো প্রভুর প্রেমময়, কৃপাময় প্রকাশের দ্বারা। যে প্রকাশে '''আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম ও বুঝেছিলাম যে প্রতিটি আত্মায় যা রক্ষা পাবে এমন একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছা আছে যা কখনোই পাপকে সমর্থন করেনি, বা কখনোই করবে না। যা ইচ্ছা এতটাই ভালো যে তা কখনোই মন্দ চাইতে পারে না বরং সর্বদা ক্রমাগত ভালো চায় এবং ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ভালো কাজ করে।'''
* কিন্তু এই ন্যায়পরায়ণ বুনন এবং এই অন্তহীন একীভূত হওয়া সত্ত্বেও, মানবজাতির মুক্তি ও পুনরায়-ক্রয় প্রতিটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুত, যেমনটি একই উদ্দেশ্যে ও একই লক্ষ্যের জন্য করা হয়েছে যা পবিত্র চার্চ আমাদের বিশ্বাসে শেখায়।
* '''তিনি আমাদের তৈরি করার আগে তিনি আমাদের ভালোবাসতেন, এবং যখন আমরা তৈরি হয়েছিলাম আমরা তাঁকে ভালোবাসতাম।''' এবং এটি একটি প্রেম যা ''তৈরি'' হয়েছে, পবিত্র আত্মার সদয় সারমর্মীয় ''মঙ্গলময়তা''র; শক্তিশালী, যুক্তিতে, পিতার ''শক্তির''; এবং জ্ঞানী, মনে, পুত্রের ''প্রজ্ঞার''। এবং এইভাবে মানুষের আত্মা ঈশ্বর দ্বারা তৈরি এবং একই বিন্দুতে ঈশ্বরের সাথে বুনন করা হয়েছে। <br> '''এবং এইভাবে আমি বুঝি যে মানুষের আত্মা শূন্য থেকে তৈরি: অর্থাৎ, এটি তৈরি হয়েছে, কিন্তু তৈরি হওয়া কিছু থেকে নয়।''' এবং এইভাবে:—যখন ঈশ্বর মানুষের শরীর তৈরি করবেন, তখন তিনি পৃথিবীর কাদামাটি নিলেন, যা সমস্ত শারীরিক জিনিসের মিশ্রণ ও সংগ্রহ এবং তা থেকে তিনি মানুষের শরীর তৈরি করলেন। কিন্তু মানুষের আত্মা তৈরির জন্য তিনি ঠিক কিছুই নিতে চাননি, বরং একে তৈরি করলেন। এবং এইভাবে প্রকৃতি-তৈরি ন্যায়পরায়ণভাবে নির্মাতার সাথে একীভূত, যা হলো সারমর্মীয় প্রকৃতি-অনির্মিত: অর্থাৎ, ঈশ্বর। এবং '''তাই এটিই যে ঈশ্বর ও মানুষের আত্মার মধ্যে ঠিক কিছুই নেই বা থাকবে না।''' <br> এবং এই অন্তহীন প্রেমে মানুষের আত্মা অখণ্ড রাখা হয়েছে, যেমন প্রকাশের বিষয়বস্তু নির্দেশ করে ও দেখায়: যে অন্তহীন প্রেমে আমরা ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত ও রক্ষিত এবং কখনোই হারিয়ে যাব না। '''কারণ তিনি চান আমরা সচেতন হই যে আমাদের আত্মা একটি জীবন, যা জীবন তাঁর মঙ্গলময়তা ও তাঁর কৃপায় স্বর্গে অন্তহীনভাবে স্থায়ী হবে, তাঁকে ভালোবেসে, তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে, তাঁর প্রশংসা করে। এবং ঠিক একই যা আমরা অন্তহীনভাবে হব, একই যা আমরা ঈশ্বরের মধ্যে সঞ্চিত ও লুকানো ছিলাম, সৃষ্টির আদি থেকে জানা ও ভালোবাসা।''' <br> তাই তিনি চান আমরা বুঝি যে তিনি তৈরি করা সবচেয়ে মহৎ জিনিস হলো মানবজাতি: এবং সবচেয়ে পূর্ণ সারমর্ম এবং সবচেয়ে উচ্চ গুণ হলো খ্রিস্টের আশীর্বাদপূর্ণ আত্মা। এবং অধিকন্তু তিনি চান আমরা বুঝি যে তাঁর প্রিয় আত্মা তৈরির সময়ে তাঁর সাথে মূল্যবানভাবে বুনন করা হয়েছিল যা গ্রন্থিটি এতটাই সূক্ষ্ম ও শক্তিশালী যে এটি ঈশ্বরের মধ্যে একীভূত। যে একীভূতকরণে এটি অন্তহীনভাবে পবিত্র হয়েছে। অধিকন্তু তিনি চান আমরা জানি যে সমস্ত আত্মা যা স্বর্গে অন্তহীনভাবে রক্ষা পাবে, এই একীভূতকরণে বুনন ও একীভূত এবং এই পবিত্রতায় পবিত্র হয়েছে।
=== অধ্যায় ৫৪ ===
* ঈশ্বরের সমস্ত মানবজাতির প্রতি এই মহান, অন্তহীন প্রেমের কারণে, তিনি খ্রিস্টের আশীর্বাদপূর্ণ আত্মা এবং যে ক্ষুদ্রতম আত্মা রক্ষা পাবে তার মধ্যে প্রেমের কোনো বিচ্ছিন্নতা করেন না।
* '''আমাদের খুব বেশি আনন্দ করা উচিত যে ঈশ্বর আমাদের আত্মায় বাস করেন, এবং আমাদের আরও বেশি আনন্দ করা উচিত যে আমাদের আত্মা ঈশ্বরে বাস করে। আমাদের আত্মা ঈশ্বরের আবাসস্থল হিসেবে ''তৈরি'' হয়েছে; এবং আত্মার আবাসস্থল হলো ঈশ্বর, যিনি ''অনির্মিত''। এবং এটি একটি উচ্চ বোঝাপড়া, অভ্যন্তরীণভাবে দেখা ও জানা যে ঈশ্বর, যিনি আমাদের নির্মাতা, আমাদের আত্মায় বাস করেন; এবং এটি একটি উচ্চতর বোঝাপড়া, অভ্যন্তরীণভাবে দেখা ও জানা যে আমাদের আত্মা, যা তৈরি হয়েছে, ঈশ্বরের সারমর্মে বাস করে: যে সারমর্ম, ঈশ্বর, আমরা তাই যা আমরা। <br> এবং আমি ঈশ্বর ও আমাদের সারমর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখিনি: কিন্তু যেমন এটি পুরোপুরি ঈশ্বর; এবং তবুও আমার বোঝাপড়া নিয়েছিল যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে: অর্থাৎ, ঈশ্বর ঈশ্বর, এবং আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে একটি সৃষ্টি।'''
* ত্রিত্বের সর্বশক্তিমান সত্য আমাদের পিতা: কারণ তিনি আমাদের তৈরি করেছেন এবং তাঁর মধ্যে আমাদের রক্ষা করেছেন এবং ত্রিত্বের গভীর প্রজ্ঞা আমাদের মাতা, যাঁর মধ্যে আমরা সবাই আবদ্ধ; ত্রিত্বের উচ্চ মঙ্গলময়তা আমাদের প্রভু, এবং তাঁর মধ্যে আমরা আবদ্ধ, এবং তিনি আমাদের মধ্যে। আমরা পিতার মধ্যে আবদ্ধ, এবং আমরা পুত্রের মধ্যে আবদ্ধ, এবং আমরা পবিত্র আত্মার মধ্যে আবদ্ধ। এবং পিতা আমাদের মধ্যে আবদ্ধ, এবং পুত্র আমাদের মধ্যে আবদ্ধ, এবং পবিত্র আত্মা আমাদের মধ্যে আবদ্ধ: সর্বশক্তিমানতা, সমস্ত-প্রজ্ঞা, সমস্ত-মঙ্গলময়তা: এক ঈশ্বর, এক প্রভু।
* '''আমাদের বিশ্বাস একটি গুণ যা আমাদের প্রকৃতি-সারমর্ম থেকে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমাদের অনুভূতি-আত্মায় আসে। যার মধ্যে আমাদের সমস্ত গুণ আমাদের কাছে আসে কারণ তা ছাড়া, কোনো মানুষ গুণ গ্রহণ করতে পারে না। কারণ এটি আমাদের অস্তিত্বের একটি সঠিক বোঝাপড়া, সত্য বিশ্বাসের সাথে এবং নিশ্চিত আস্থার সাথে, ছাড়া আর কিছুই নয়। যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে আছি, এবং ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন, যাঁকে আমরা দেখি না।''' এবং এই গুণ, যা ঈশ্বর আমাদের জন্য তৈরি করেছেন তাতে আসার সাথে, আমাদের মধ্যে মহান জিনিস কাজ করে। কারণ খ্রিস্টের দয়াময় কাজ আমাদের মধ্যে আছে, এবং আমরা পবিত্র আত্মার উপহার ও গুণের মাধ্যমে তাঁর সাথে কৃপাময়ভাবে সম্মত হই। এই কাজ আমাদের খ্রিস্টের সন্তান করে তোলে, এবং জীবদ্দশায় খ্রিস্টান।
** পাঠান্তর: ''বিশ্বাস আমাদের অস্তিত্বের একটি সঠিক বোঝাপড়া, সত্য বিশ্বাস ও নিশ্চিত আস্থার সাথে, ছাড়া আর কিছুই নয়: যে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে আছি, এবং ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আছেন: যাঁকে আমরা দেখি না।''
=== অধ্যায় ৫৫ ===
* এইভাবে খ্রিস্ট আমাদের পথ, তাঁর আইনে আমাদের নিশ্চিতভাবে পরিচালিত করছেন, এবং খ্রিস্ট তাঁর দেহে আমাদের শক্তভাবে স্বর্গে বহন করেন।
* আমাদের বিশ্বাস আমাদের আত্মার প্রাকৃতিক প্রেম থেকে, এবং আমাদের যুক্তির পরিষ্কার আলো থেকে, এবং স্থির মন থেকে আসে যা আমরা আমাদের প্রথম সৃষ্টিতে ঈশ্বর থেকে পেয়েছি। এবং সেই সময়ে যখন আমাদের আত্মা আমাদের শরীরে অনুপ্রাণিত হয়, যার মধ্যে আমরা ইন্দ্রিয়পরায়ণ হই, খুব শীঘ্রই দয়া ও কৃপা কাজ শুরু করে, করুণা ও প্রেমের সাথে আমাদের যত্ন ও সুরক্ষা নিয়ে: যে কাজে পবিত্র আত্মা আমাদের বিশ্বাসে ''আশা'' গঠন করেন যে আমরা আবার আমাদের সারমর্মে উপরে আসব, খ্রিস্টের গুণে, পবিত্র আত্মার মাধ্যমে বর্ধিত ও পূর্ণ হয়ে। এইভাবে আমি বুঝেছিলাম যে অনুভূতি-আত্মা প্রকৃতি, দয়া ও কৃপায় ভিত্তিযুক্ত: যে ভিত্তি আমাদের এমন উপহার গ্রহণ করতে সক্ষম করে যা আমাদের অন্তহীন জীবনের দিকে নিয়ে যায়। <br> কারণ আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে, এবং আমি আরও দেখেছিলাম যে আমাদের অনুভূতি-আত্মায় ঈশ্বর আছেন: কারণ সেই একই বিন্দুতে যেখানে আমাদের আত্মা ইন্দ্রিয়পরায়ণ হয়, সেই একই বিন্দুতে ঈশ্বরের শহর সৃষ্টির আদি থেকেই তাঁর জন্য নির্ধারিত; যে আসনে তিনি আসেন, এবং কখনোই তা অপসারণ করবেন না। কারণ '''ঈশ্বর কখনোই আত্মার বাইরে নন: যার মধ্যে তিনি অন্তহীনভাবে পরমানন্দময়ভাবে বসবাস করেন।'''
=== অধ্যায় ৫৬ ===
[[File:Anna Sahlstén - Passage.jpg|thumb|আমরা ঈশ্বরের পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।]]
* এইভাবে আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে ঈশ্বরকে জানার দিকে আসা আমাদের জন্য নিজের আত্মাকে জানার চেয়ে বেশি সহজ। কারণ আমাদের আত্মা ঈশ্বরের মধ্যে এত গভীরভাবে ভিত্তিযুক্ত, এবং এত অন্তহীনভাবে সঞ্চিত, যে আমরা তার জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমাদের প্রথমে ঈশ্বরের জ্ঞান হয়, যিনি নির্মাতা, যার সাথে এটি একীভূত। কিন্তু, এই সব সত্ত্বেও, আমি দেখলাম যে আমাদের পূর্ণতার জন্য, বিজ্ঞতার সাথে ও সত্যভাবে আমাদের নিজের আত্মাকে জানার আকাঙ্ক্ষা করতে হবে: যার মাধ্যমে আমরা শিখি একে সেখানে খুঁজতে যেখানে এটি আছে, এবং তা হলো, ঈশ্বরের মধ্যে। এবং এইভাবে পবিত্র আত্মার কৃপাময় নির্দেশনায়, আমাদের উভয়কেই এক হিসেবে জানা উচিত: আমরা ঈশ্বরকে জানার জন্য বা আমাদের আত্মাকে জানার জন্য উৎসাহিত হই না কেন, উভয়ই ভালো ও সত্য।
* '''ঈশ্বর আমাদের নিজের আত্মার চেয়ে আমাদের কাছাকাছি: কারণ তিনিই ভিত্তি যার ওপর আমাদের আত্মা দাঁড়িয়ে আছে, এবং তিনিই মাধ্যম যা সারমর্ম ও ইন্দ্রিয়-প্রকৃতিকে একসাথে রাখে যাতে তারা কখনোই বিচ্ছিন্ন না হয়।''' কারণ আমাদের আত্মা প্রকৃত বিশ্রামে ঈশ্বরের মধ্যে বসে, এবং আমাদের আত্মা প্রকৃত শক্তিতে ঈশ্বরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, এবং আমাদের আত্মা অন্তহীন প্রেমে ঈশ্বরের মধ্যে সদয়ভাবে মূলিত: এবং তাই যদি আমরা আমাদের আত্মা সম্পর্কে জ্ঞান পেতে চাই, এবং তার সাথে যোগাযোগ ও কথোপকথন করতে চাই, তবে আমাদের আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে খুঁজতে হবে যার মধ্যে এটি আবদ্ধ।
* আমাদের সারমর্ম ও আমাদের ইন্দ্রিয়-অংশ, উভয়কেই একসাথে আমাদের আত্মা বলা যেতে পারে: এবং এটি ঈশ্বরের মধ্যে তাদের একীভূত হওয়ার কারণে।
* '''আমরা ঈশ্বরের পূর্ণ জ্ঞান পেতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।'''
** পাঠান্তর: ''আমরা ঈশ্বরকে পূর্ণভাবে জানতে পারি না যতক্ষণ না আমরা প্রথমে আমাদের নিজের আত্মাকে স্পষ্টভাবে জানি।''
* ঈশ্বর চান যে আমরা বুঝি, আমাদের সমস্ত হৃদয়ের সাথে আকাঙ্ক্ষা করে তাদের সম্পর্কে জ্ঞান পেতে বেশি বেশি যতক্ষণ না আমরা পূর্ণ হই: কারণ তাদের পূর্ণভাবে জানা আর কিছুই নয় বরং অন্তহীন আনন্দ ও পরমানন্দ যা আমরা স্বর্গে পাব, যা ঈশ্বর চান এখানে তাঁর প্রেমের জ্ঞানে শুরু হোক। <br> কারণ কেবল আমাদের যুক্তির দ্বারা আমরা লাভবান হতে পারি না, যদি না আমাদের সাথে একইভাবে মন ও প্রেম থাকে: বা আমাদের প্রকৃতি-ভিত্তিতে যা আমরা ঈশ্বর থেকে পেয়েছি আমরা রক্ষা পেতে পারি না যদি না আমাদের থাকে, একই ভিত্তি থেকে আসা, দয়া ও কৃপা। কারণ এই তিনটি একসাথে কাজ করে আমরা আমাদের সমস্ত মঙ্গলময়তা গ্রহণ করি।
=== অধ্যায় ৫৭ ===
* '''আমি দেখলাম যে আমাদের প্রকৃতি ঈশ্বরের মধ্যে অখণ্ড। যার মধ্যে তিনি তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর থেকে প্রবাহিত বৈচিত্র্য তৈরি করেন: যাকে প্রকৃতি রক্ষা করে, এবং দয়া ও কৃপা পুনরুদ্ধার করে ও পূর্ণ করে।''' এবং এগুলোর কোনোটিই ধ্বংস হবে না: কারণ আমাদের প্রকৃতি যা উচ্চতর অংশ তা তৈরির সময়ে ঈশ্বরের সাথে বুনন করা হয়েছে; এবং ঈশ্বর আমাদের প্রকৃতির সাথে বুনন করা হয়েছে যা নিম্নতর অংশ, আমাদের মাংস-গ্রহণে: এবং এইভাবে খ্রিস্টে আমাদের দুটি প্রকৃতি একীভূত হয়েছে।
** পাঠান্তর: ''খ্রিস্টে আমাদের দুটি প্রকৃতি একীভূত হয়েছে।''
* আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখেছিলাম যে ঈশ্বর যে সমস্ত কাজ করেছেন, বা করবেন, সেগুলো তাঁর কাছে পুরোপুরি জানা এবং সৃষ্টির আদি থেকেই আগে দেখা ছিল। এবং প্রেমের জন্য তিনি মানবজাতি তৈরি করেছিলেন, এবং একই প্রেমের জন্য মানুষ হতে চেয়েছিলেন।
*''' ''তিনি আমাদের আত্মায় বসেন।''''' <br> কারণ এটি তাঁর ভালো-আনন্দ আমাদের বোঝাপড়ায় পরমানন্দময়ভাবে শাসন করা, এবং আমাদের আত্মায় শান্তিতে বসা, এবং আমাদের আত্মায় অন্তহীনভাবে বসবাস করা, আমাদের সবাইকে তাঁর মধ্যে কাজ করানো। যে কাজে তিনি চান আমরা তাঁর সাহায্যকারী হই, আমাদের সমস্ত মনোযোগ তাঁকে দিয়ে, তাঁর শিক্ষা শিখে, তাঁর আইন মেনে, আকাঙ্ক্ষা করে যে সব করা হোক যা তিনি করেন; সত্যই তাঁর ওপর আস্থা রেখে। <br> কারণ সত্যই '''আমি দেখেছিলাম যে আমাদের সারমর্ম ঈশ্বরের মধ্যে আছে।'''
=== অধ্যায় ৫৮ ===
[[File:Kazimirowski Eugeniusz, Divine Mercy, 1934.jpg|thumb|আমাদের সমস্ত জীবন ''তিনে'' আছে: প্রথমটিতে আমাদের অস্তিত্ব আছে, দ্বিতীয়টিতে আমাদের বৃদ্ধি আছে, এবং তৃতীয়টিতে আমাদের পূর্ণতা আছে: প্রথমটি প্রকৃতি, দ্বিতীয়টি দয়া, এবং তৃতীয়টি কৃপা।]]
* '''আমাদের তৈরির সময়ে, ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান, আমাদের প্রকৃতির পিতা এবং ঈশ্বর, সর্ব প্রজ্ঞা, আমাদের প্রকৃতির মাতা। পবিত্র আত্মার প্রেম ও মঙ্গলময়তার সাথে। যা সবই এক ঈশ্বর, এক প্রভু। এবং বুনন ও একীভূতকরণে তিনি আমাদের প্রকৃত, সত্য জীবনসঙ্গী, এবং আমরা তাঁর প্রিয় স্ত্রী, তাঁর সুন্দর কুমারী: যে স্ত্রীর সাথে তিনি কখনোই অসন্তুষ্ট হন না। কারণ তিনি বলেন: আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং তুমি আমাকে ভালোবাসো, এবং আমাদের প্রেম কখনোই দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হবে না।'''
* আমি সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ ত্রিত্বের কাজ পর্যবেক্ষণ করলাম: যে পর্যবেক্ষণে আমি এই তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখলাম ও বুঝলাম: পিতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, এবং প্রভুত্বের বৈশিষ্ট্য, এক ঈশ্বরের মধ্যে।
* '''তিনি আমাদের মাতা, ভাই, এবং ত্রাণকর্তা।''' এবং আমাদের ভালো প্রভু, পবিত্র আত্মার মধ্যে, আমরা আমাদের জীবন ও আমাদের পরিশ্রমের জন্য আমাদের পুরস্কার ও আমাদের প্রতিদান পাই, এবং আমাদের সমস্ত আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন অতিক্রম, তাঁর বিস্ময়কর সৌজন্যে, তাঁর উচ্চ প্রাচুর্যপূর্ণ কৃপায়।
* '''সমস্ত জীবন ''তিন''-এ আছে: প্রথমটিতে আমাদের অস্তিত্ব আছে, দ্বিতীয়টিতে আমাদের বৃদ্ধি আছে, এবং তৃতীয়টিতে আমাদের পূর্ণতা আছে: প্রথমটি হলো প্রকৃতি, দ্বিতীয়টি হলো দয়া, এবং তৃতীয়টি হলো কৃপা।'''
* ত্রিত্বের উচ্চ শক্তি আমাদের পিতা, এবং ত্রিত্বের গভীর প্রজ্ঞা আমাদের মাতা, এবং ত্রিত্বের মহান প্রেম আমাদের প্রভু: এবং এই সবই আমরা প্রকৃতিতে এবং আমাদের সারমর্মের তৈরিতে পেয়েছি।
* আমাদের মাতা আমাদের সাথে বিভিন্নভাবে কাজ করছেন: যার মধ্যে আমাদের অংশগুলো অখণ্ড রাখা হয়েছে। কারণ আমাদের মাতা খ্রিস্টে আমরা লাভবান হই ও বৃদ্ধি পাই, এবং দয়ায় তিনি আমাদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার করেন, এবং, তাঁর প্যাশন ও মৃত্যু ও উত্থানের গুণের দ্বারা, আমাদের আমাদের সারমর্মের সাথে একীভূত করেন। এইভাবে আমাদের মাতা দয়া করে তাঁর সমস্ত সন্তানের জন্য কাজ করেন যারা তাঁর প্রতি নমনীয় ও বাধ্য।
* কৃপা দয়ার সাথে কাজ করে, এবং বিশেষ করে দুটি বৈশিষ্ট্যে, যেমনটি দেখানো হয়েছিল: যা কাজ তৃতীয় ব্যক্তির, পবিত্র আত্মার অন্তর্গত। তিনি ''পুরস্কৃত'' করা এবং ''দান'' করার কাজ করেন।
* পুরস্কার দেওয়া হলো সত্যের একটি বিশাল দান যা প্রভু তাকে করেন যে পরিশ্রম করেছে; এবং দান করা হলো একটি সৌজন্যপূর্ণ কাজ যা তিনি কৃপা থেকে মুক্তভাবে করেন, সৃষ্টির প্রাপ্য সমস্ত কিছু পূর্ণ ও অতিক্রম করে।
* আমাদের পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমানের মধ্যে, আমাদের অস্তিত্ব আছে; এবং দয়ার মাতার মধ্যে আমাদের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার আছে: যার মধ্যে আমাদের অংশগুলো একীভূত এবং সব তৈরি হয়েছে নিখুঁত মানুষ; এবং পবিত্র আত্মার কৃপায় নমনীয়তা ও দানের দ্বারা, আমরা পূর্ণ হই।
* '''আমাদের সারমর্ম আমাদের পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, এবং আমাদের সারমর্ম আমাদের মাতা, ঈশ্বর, সর্ব-প্রজ্ঞা এবং আমাদের সারমর্ম আমাদের প্রভু পবিত্র আত্মা, ঈশ্বর সর্ব-মঙ্গলময়তার মধ্যে আছে।''' কারণ আমাদের সারমর্ম ত্রিত্বের প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে অখণ্ড, যা হলো এক ঈশ্বর। এবং আমাদের অনুভূতি-আত্মা কেবল দ্বিতীয় ব্যক্তি খ্রিস্ট যিশুতে; যাঁর মধ্যে পিতা ও পবিত্র আত্মা আছেন: এবং তাঁর মধ্যে ও তাঁর দ্বারা আমরা শক্তিশালীভাবে নরক থেকে নেওয়া হই, এবং পৃথিবীতে থাকা দুর্দশা থেকে পূজনীয়ভাবে স্বর্গে উপরে আনা হই এবং পরমানন্দময়ভাবে আমাদের সারমর্মের সাথে একীভূত হই: খ্রিস্টের সমস্ত গুণ দ্বারা, এবং পবিত্র আত্মার কৃপা ও কাজের দ্বারা সমৃদ্ধি ও মহৎতায় বৃদ্ধি পাই।
=== অধ্যায় ৫৯ ===
* '''খ্রিস্ট যিনি মন্দের বিপরীতে ভালো করেন তিনি আমাদের প্রকৃত মাতা: তাঁর থেকে আমরা আমাদের অস্তিত্ব পাই যেখানে মাতৃত্বের ভিত্তি শুরু হয়,প্রেমের সাথে মিষ্টি সুরক্ষার সাথে, যা অন্তহীনভাবে অনুসরণ করে।'''
* এই সমস্ত পরমানন্দ আমরা দয়া ও কৃপার দ্বারা পাই: যে ধরনের পরমানন্দ আমরা কখনোই পেতাম না বা জানতাম না যদি না মঙ্গলময়তার সেই বৈশিষ্ট্য যা ঈশ্বর তা বিপরীত হতো: যার দ্বারা আমরা এই পরমানন্দ পাই। কারণ মঙ্গলময়তার বিপরীত হিসেবে মন্দকে উঠতে দেওয়া হয়েছে, এবং দয়া ও কৃপার মঙ্গলময়তা মন্দের বিপরীতে কাজ করেছে এবং সবকিছুকে মঙ্গলময়তায় ও পূজায় পরিণত করেছে, তাদের সবার জন্য যারা রক্ষা পাবে। কারণ এটি ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য যা মন্দের বিপরীতে ভালো কাজ করে। এইভাবে যিশু খ্রিস্ট যিনি মন্দের বিপরীতে ভালো করেন তিনি আমাদের প্রকৃত মাতা: তাঁর থেকে আমরা আমাদের অস্তিত্ব পাই,—যেখানে মাতৃত্বের ভিত্তি শুরু হয়,প্রেমের মিষ্টি সুরক্ষার সাথে যা অন্তহীনভাবে অনুসরণ করে।
* '''ঈশ্বর যেমন সত্যই আমাদের পিতা, তেমনই সত্যই ঈশ্বর আমাদের মাতা এবং তা তিনি সবকিছুর মধ্যে দেখিয়েছিলেন, এবং বিশেষ করে এই মিষ্টি শব্দগুলোতে যেখানে তিনি বলেন: ''আমিই''। তা হলো, ''আমিই, পিতৃত্বের শক্তি ও মঙ্গলময়তা; আমিই, মাতৃত্বের প্রজ্ঞা; আমিই, আলো ও কৃপা যা সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম: আমিই, ত্রিত্ব, আমিই, ঐক্য: আমি সব ধরনের জিনিসের সার্বভৌম মঙ্গলময়তা। আমিই সেই যা তোমাকে ভালোবাসতে বাধ্য করে: আমিই সেই যা তোমাকে আকাঙ্ক্ষা করতে বাধ্য করে: আমিই, সমস্ত সত্য আকাঙ্ক্ষার অন্তহীন পূর্ণতা।'' <br> কারণ সেখানে আত্মা সবচেয়ে উচ্চ, সবচেয়ে মহৎ, এবং সবচেয়ে যোগ্য, যেখানে এটি সবচেয়ে নিচু, সবচেয়ে নম্র, এবং সবচেয়ে মৃদু: এবং এই ''সারমর্মীয় ভিত্তি'' থেকে আমরা আমাদের অনুভূতি-অংশে প্রকৃতির উপহার, দয়া ও কৃপার সাহায্য ও গতি দ্বারা আমাদের সমস্ত গুণ পাই: যা ছাড়া আমরা লাভবান হতে পারি না।'''
* আমাদের উচ্চ পিতা, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, যিনি অস্তিত্ব, তিনি কোনো সময়ের আগেই আমাদের জানতেন ও ভালোবাসতেন: যে জ্ঞান থেকে, তাঁর বিস্ময়কর গভীর দাতব্যে এবং সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ ত্রিত্বের আগে দেখা পরামর্শে, তিনি ইচ্ছা করেছিলেন যে দ্বিতীয় ব্যক্তি আমাদের মাতা হবেন। আমাদের পিতা, আমাদের মাতা কাজ করেন, আমাদের ভালো প্রভু পবিত্র আত্মা নিশ্চিত করেন: এবং তাই আমাদের ঈশ্বরকে ভালোবাসা আমাদের জন্য যথার্থ যাঁর মধ্যে আমাদের অস্তিত্ব আছে: তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ধন্যবাদ জানিয়ে ও প্রশংসা করে আমাদের তৈরির জন্য, আমাদের মাতার কাছে দয়া ও সহানুভূতির জন্য শক্তিশালীভাবে প্রার্থনা করে, এবং আমাদের প্রভু পবিত্র আত্মার কাছে সাহায্য ও কৃপার জন্য। <br> কারণ এই তিনটির মধ্যে আমাদের সমস্ত জীবন: প্রকৃতি, দয়া, কৃপা: যার থেকে আমরা নম্রতা ও মৃদুতা পাই; ধৈর্য ও সহানুভূতি; এবং পাপ ও মন্দের ঘৃণা,কারণ পাপ ও মন্দের ঘৃণা করা গুণের জন্য যথাযথভাবে অন্তর্গত। এবং এইভাবে যিশু আমাদের প্রথম তৈরির প্রকৃতিতে আমাদের প্রকৃত মাতা; এবং তিনি কৃপায় আমাদের প্রকৃত মাতা, আমাদের তৈরি প্রকৃতি গ্রহণ করে। সমস্ত সুন্দর কাজ, এবং প্রিয় মাতৃত্বের সমস্ত মিষ্টি প্রাকৃতিক অফিস দ্বিতীয় ব্যক্তির সাথে মিশে আছে: কারণ তাঁর মধ্যে আমরা এই ঐশ্বরিক ইচ্ছা অখণ্ড ও নিরাপদে অন্তহীনভাবে পাই, প্রকৃতি ও কৃপা উভয়টিতেই, তাঁর নিজস্ব প্রকৃত মঙ্গলময়তা থেকে।
* '''আমি ঈশ্বরের মধ্যে মাতৃত্ব পর্যবেক্ষণের তিনটি প্রকার বুঝেছিলাম: প্রথমটি আমাদের প্রকৃতির ''তৈরির'' উপর ভিত্তি করে; দ্বিতীয়টি হলো আমাদের প্রকৃতির ''গ্রহণ''এবং সেখানে কৃপার মাতৃত্ব শুরু হয়; তৃতীয়টি হলো ''কাজের'' মাতৃত্ব এবং এর মধ্যে একই কৃপার দ্বারা অন্তহীনভাবে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ও উচ্চতা ও গভীরতায় একটি বিস্তার আছে। এবং সবই এক প্রেম।'''
=== অধ্যায় ৬০ ===
* এখন এই বিস্তার সম্পর্কে আরও একটু বলা প্রয়োজন, যেমনটি আমি আমাদের প্রভুর অর্থে বুঝি: কীভাবে আমরা দয়া ও কৃপার মাতৃত্বের দ্বারা আমাদের প্রকৃতির স্থানে ফিরে আসি, যেখানে আমরা প্রকৃতি-প্রেমের মাতৃত্বের দ্বারা তৈরি হয়েছিলাম: যে সদয়-প্রেম, তা কখনোই আমাদের ত্যাগ করে না। <br> আমাদের সদয় মাতা, আমাদের কৃপাময় মাতা, কারণ তিনি সবকিছুতেই আমাদের মাতা হতে চেয়েছিলেন, তিনি কুমারীর গর্ভে খুব নিচুভাবে ও খুব মৃদুভাবে তাঁর কাজের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
* আমাদের উচ্চ ঈশ্বর সকলের সার্বভৌম প্রজ্ঞা: এই নিচু স্থানে তিনি আমাদের দরিদ্র মাংসে নিজেকে খুব প্রস্তুত ও সজ্জিত করেছিলেন, নিজেই মাতৃত্বের সেবা ও অফিস সব কিছুতে পূরণ করতে।
* '''এই সুন্দর মিষ্টি শব্দ ''মাতা'', তা প্রকৃতির মধ্যে নিজেই এতটাই মিষ্টি ও ঘনিষ্ঠ যে এটি সত্যই ''তাঁর'' ছাড়া আর কারো দ্বারা বলা সম্ভব নয়; এবং তাঁর কাছে যিনি সত্যই তাঁর এবং সবার মাতা।''' মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত হলো প্রাকৃতিক প্রেম, প্রজ্ঞা, ও জ্ঞান এবং এটি ভালো: কারণ যদিও এটি এমন যে আমাদের শারীরিক জন্মদান আমাদের আধ্যাত্মিক জন্মদানের তুলনায় খুব ছোট, নিচু, ও সাধারণ, তবুও তিনিই তা করেন যে সৃষ্টির মধ্যে যার দ্বারা তা করা হয়। সদয়, ভালোবাসার মাতা যিনি তাঁর শিশুর প্রয়োজন বোঝেন ও জানেন, তিনি একে খুব কোমলভাবে রক্ষা করেন, যেমন মাতৃত্বের প্রকৃতি ও অবস্থা চায়। এবং যখন এটি বয়সে বৃদ্ধি পায়, তিনি তার কাজ পরিবর্তন করেন, কিন্তু তার প্রেম নয়। এবং যখন এটি আরও বয়সে বৃদ্ধি পায়, তিনি সহ্য করেন যে একে দোষ ভাঙার জন্য মারপিট করা হোক, শিশুকে গুণ ও কৃপা গ্রহণ করতে বাধ্য করতে। '''এই কাজ, সমস্ত সুন্দর ও ভালোর সাথে, আমাদের প্রভু তাদের মধ্যে করেন যার দ্বারা তা করা হয়: এইভাবে তিনি কৃপার কাজের দ্বারা নিম্ন অংশে উচ্চতর অংশের প্রেমের জন্য প্রকৃতিতে আমাদের মাতা। এবং তিনি চান যেন আমরা এটি জানি: কারণ তিনি চান আমাদের সমস্ত প্রেম তাঁর সাথে আবদ্ধ হোক। এবং এতে আমি দেখলাম যে আমাদের সমস্ত কর্তব্য যা আমরা পিতার মাতৃত্ব ও মাতৃত্বের প্রতি ঈশ্বরের আদেশের দ্বারা ঋণী, কারণ ঈশ্বরের পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব ঈশ্বরের প্রতি সত্য ভালোবাসায় পূর্ণ হয়। যা আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম খ্রিস্ট আমাদের মধ্যে কাজ করেন।''' এবং এটি সবকিছুর মধ্যে এবং বিশেষ করে উচ্চ প্রাচুর্যপূর্ণ শব্দগুলোতে দেখানো হয়েছিল যেখানে তিনি বলেন: ''আমিই যাকে তুমি ভালোবাসো।''
=== অধ্যায় ৬১ ===
* আমাদের আধ্যাত্মিক জন্মদানে তিনি সুরক্ষা ও কোমলতা বেশি ব্যবহার করেন, কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই: যতটা আমাদের আত্মা তাঁর দৃষ্টিতে বেশি মূল্যবান। তিনি আমাদের বোঝাপড়া প্রজ্বলিত করেন, তিনি আমাদের পথ নির্দেশ করেন, তিনি আমাদের বিবেক শান্ত করেন, তিনি আমাদের আত্মাকে সান্ত্বনা দেন, তিনি আমাদের হৃদয় আলোকিত করেন, এবং আমাদের দেন, আংশিকভাবে, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ দেবত্বের জ্ঞান ও বিশ্বাস, তাঁর মিষ্টি মানবতা ও তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্যাশনের প্রতি কৃপাময় মন নিয়ে, তাঁর উচ্চ, অতিক্রমকারী মঙ্গলময়তায় শ্রদ্ধাশীল বিস্ময়ের সাথে; এবং আমাদের ভালোবাসতে বাধ্য করেন যা তিনি ভালোবাসেন, তাঁর প্রেমের জন্য, এবং তাঁর ও তাঁর সমস্ত কাজের সাথে সন্তুষ্ট হতে। এবং যখন আমরা পতিত হই, দ্রুত তিনি আমাদের তাঁর সুন্দর ডাক ও কৃপাময় স্পর্শের দ্বারা উত্থাপন করেন। এবং যখন আমরা তাঁর মিষ্টি কাজের দ্বারা শক্তিশালী হই, তখন আমরা আমাদের সমস্ত ইচ্ছার সাথে তাঁকে বেছে নিই, তাঁর মিষ্টি কৃপার দ্বারা, তাঁর ভৃত্য ও তাঁর প্রেমিক হতে স্থায়ীভাবে অন্তহীনভাবে।
* যদি আমরা কখনোই পতিত না হতাম, তবে আমরা জানতাম না আমরা নিজের থেকে কতটা দুর্বল ও কতটা দুঃখী, এবং এছাড়াও আমরা আমাদের নির্মাতার সেই বিস্ময়কর প্রেম পুরোপুরি জানতাম না। কারণ আমরা স্বর্গে সত্যই দেখতে পাব, অন্তহীনভাবে, যে আমরা এই জীবনে গুরুতরভাবে পাপ করেছি, এবং এটি সত্ত্বেও, আমরা দেখতে পাব যে আমরা তাঁর প্রেমে কখনোই আঘাতপ্রাপ্ত হইনি, তাঁর দৃষ্টিতে আমরা কখনোই কম মূল্যবান ছিলাম না। এবং এই পতনের পরীক্ষার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের প্রেমের একটি উচ্চ, বিস্ময়কর জ্ঞান পাব, অন্তহীনভাবে। কারণ শক্তিশালী ও বিস্ময়কর হলো সেই প্রেম যা ভাঙতে পারে না, বা ভাঙবে না, অপরাধের জন্য।
* '''মাতা কখনো কখনো শিশুকে পতিত হতে দিতে পারেন, এবং নিজের লাভের জন্য বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারেন, কিন্তু তিনি কখনোই সহ্য করতে পারেন না যে প্রেমের জন্য শিশুর কোনো ধরনের বিপদ আসুক।''' এবং যদিও আমাদের পার্থিব মাতা তাঁর শিশুকে ধ্বংস হতে দিতে পারেন, আমাদের স্বর্গীয় মাতা, যিশু, আমাদের সহ্য করতে পারেন না যাঁরা তাঁর সন্তানরা ধ্বংস হোক: কারণ তিনি সর্ব-শক্তিমান, সর্ব-প্রজ্ঞা, এবং সর্ব-প্রেম; এবং তাই তিনি ছাড়া আর কেউ নন,—তিনি আশীর্বাদপূর্ণ হোন!
* প্রায়শই যখন আমাদের পতন ও আমাদের দুর্দশা আমাদের দেখানো হয়, আমরা খুব দুঃখিত হই, এবং নিজেদের নিয়ে খুব বেশি লজ্জিত হই, যে খুব কমই আমরা খুঁজে পাই কোথায় আমরা নিজেদের ধরতে পারি। কিন্তু তখন আমাদের সৌজন্যপূর্ণ মাতা চান না যে আমরা দূরে পালিয়ে যাই, কারণ তাঁর কাছে এর চেয়ে ঘৃণা করার মতো আর কিছুই ছিল না।
* একজন একক ব্যক্তি প্রায়শই ভেঙে যেতে পারেন, যেমনটি তার নিজের মনে হয়, কিন্তু পবিত্র চার্চের পুরো শরীর কখনোই ভেঙে যায়নি, বা কখনোই হবে না, অন্তহীনভাবে।
* তিনি এই সমস্ত কাজের মধ্যে একজন সদয় সেবিকার অফিস ব্যবহার করেন যার নিজের কাজ ছাড়া আর কিছুই নেই কিন্তু তার সন্তানের পরিত্রাণের দিকে মনোযোগ দেওয়া।
* তিনি চান যে আমরা তাঁকে মিষ্টিভাবে ভালোবাসি এবং তাঁর ওপর নম্রভাবে ও শক্তিশালীভাবে আস্থা রাখি। এবং এটি তিনি এই কৃপাময় শব্দগুলোতে দেখিয়েছিলেন: ''আমি তোমাকে খুব নিশ্চিতভাবে রক্ষা করছি।''
=== অধ্যায় ৬২ ===
* কারণ সেই সময়ে তিনি আমাদের দুর্বলতা এবং আমাদের পতন, আমাদের কষ্ট এবং আমাদের তুচ্ছতা, আমাদের অবজ্ঞা এবং আমাদের বর্জন, এবং আমাদের সমস্ত যন্ত্রণা ততদূর দেখিয়েছিলেন যতটা আমার মনে হয়েছিল এই জীবনে ঘটতে পারে। এবং তার সাথে তিনি তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ শক্তি, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্রজ্ঞা, তাঁর আশীর্বাদপূর্ণ প্রেম দেখিয়েছিলেন: যে তিনি আমাদের এই সময়ে তাঁর পূজার জন্য ততটা কোমলভাবে ও মিষ্টিভাবে রক্ষা করেন, এবং আমাদের পরিত্রাণের জন্য ততটা নিশ্চিতভাবে, যতটা তিনি করেন যখন আমরা সবচেয়ে বেশি সান্ত্বনা ও আরামে থাকি।
* '''ঈশ্বর তাঁর অস্তিত্বে প্রকৃতি: অর্থাৎ, সেই মঙ্গলময়তা যা প্রকৃতি, তা হলো ঈশ্বর। তিনি ভিত্তি, তিনি সারমর্ম, তিনি একই জিনিস যা প্রকৃতি-ত্ব। এবং তিনি প্রকৃতির প্রকৃত পিতা ও প্রকৃত মাতা: এবং সমস্ত প্রকৃতি যা তিনি তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁর থেকে প্রবাহিত হতে তৈরি করেছেন তা উদ্ধার হবে এবং মানুষের পরিত্রাণের দ্বারা কৃপার কাজের মাধ্যমে তাঁর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।'''
* সমস্ত প্রকৃতির মধ্যে যা তিনি বিভিন্ন সৃষ্টিতে অংশে স্থাপন করেছেন, মানুষের মধ্যে সবকিছু অখণ্ড; পূর্ণতা ও গুণে, সৌন্দর্যে ও মঙ্গলময়তায়, রাজকীয়তায় ও মহৎতায়, সমস্ত ধরনের মহিমা, মূল্যবানতা ও পূজায়। এখানে আমরা দেখতে পারি যে আমরা প্রকৃতির জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী, এবং আমরা কৃপার জন্য ঈশ্বরের কাছে ঋণী।
=== অধ্যায় ৬৩ ===
* '''এখানে আমরা দেখতে পারি যে পাপ ঘৃণা করার জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি থেকে পাই, এবং পাপ ঘৃণা করার জন্য আমরা প্রকৃতপক্ষে কৃপা থেকে পাই। কারণ প্রকৃতি নিজেই সব ভালো ও সুন্দর, এবং কৃপা প্রকৃতিকে রক্ষা করতে ও পাপ ধ্বংস করতে পাঠানো হয়েছিল, এবং সুন্দর প্রকৃতিকে সেই আশীর্বাদপূর্ণ বিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে যেখান থেকে এটি এসেছিল: যা ঈশ্বর; কৃপার গুণের কাজের দ্বারা আরও মহৎতা ও পূজার সাথে। কারণ এটি ঈশ্বরের সামনে তাঁর সমস্ত পবিত্রদের দ্বারা স্বর্গে অন্তহীন আনন্দে দেখা যাবে যে প্রকৃতি যন্ত্রণার আগুনে পরীক্ষিত হয়েছে এবং সেখানে কোনো ত্রুটি, কোনো দোষ পাওয়া যায়নি। এইভাবে প্রকৃতি ও কৃপা একমত: কারণ কৃপা ঈশ্বর, যেমন প্রকৃতি ঈশ্বর: তিনি কাজ করার পদ্ধতিতে দুটি এবং প্রেমে এক; এবং এগুলোর কোনোটিই অন্যটি ছাড়া কাজ করে না: সেগুলো বিচ্ছিন্ন নয়।'''
* যখন আমরা ঈশ্বরের দয়া দ্বারা এবং তাঁর সাহায্যে আমাদের প্রকৃতির সাথে ও কৃপার সাথে সম্মত হই, তখন আমরা সত্যই দেখতে পাব যে পাপ প্রকৃতপক্ষে নরকের চেয়ে বেশি কুৎসিত ও যন্ত্রণাদায়ক, কোনো সাদৃশ্য ছাড়াই: কারণ এটি আমাদের সুন্দর প্রকৃতির বিপরীত। কারণ যেমন পাপ সত্যই অপবিত্র, তেমন সত্যই এটি অস্বাভাবিক, এবং তাই এটি দেখতে একটি ভয়ানক জিনিস সেই প্রিয় আত্মার জন্য যে ঈশ্বরের দৃষ্টিতে পুরোপুরি সুন্দর ও উজ্জ্বল হতে চায়, যেমন প্রকৃতি ও কৃপা শেখায়।
* আমাদের আত্মার দৃষ্টিতে আমাদের স্বর্গীয় মাতা সুন্দর ও মিষ্টি; আমাদের স্বর্গীয় মাতার দৃষ্টিতে কৃপাময় শিশুরা মূল্যবান ও প্রেমময়, মৃদুতা ও নম্রতা নিয়ে, এবং সমস্ত সুন্দর গুণ নিয়ে যা প্রকৃতিতে শিশুদের অন্তর্গত। কারণ স্বভাবত শিশু মাতার প্রেম থেকে হতাশ হয় না, স্বভাবত শিশু নিজেকে অনুমান করে না, স্বভাবত শিশু মাতাকে এবং একে অপরকে ভালোবাসে। এগুলো হলো সুন্দর গুণ, অন্য সবকিছুর সাথে যা একই রকম, যা দ্বারা আমাদের স্বর্গীয় মাতা সেবা ও সন্তুষ্ট হন।
* আমি এই জীবনে শৈশবের চেয়ে উচ্চতর কোনো উচ্চতা বুঝিনি, দুর্বলতায় এবং শক্তি ও বুদ্ধির ব্যর্থতায়, যতক্ষণ না আমাদের কৃপাময় মাতা আমাদের পিতার পরমানন্দে আমাদের উপরে নিয়ে এসেছেন। এবং তখন তাঁর অর্থ আমাদের কাছে সত্যই জানা যাবে সেই মিষ্টি শব্দগুলোতে যেখানে তিনি বলেন: ''সবকিছু ভালো হবে: এবং তুমি নিজেই দেখবে, যে সব ধরনের জিনিস ভালো হবে।'' এবং তখন আমাদের মাতার পরমানন্দ, খ্রিস্টে, নতুন করে শুরু হবে আমাদের ঈশ্বরের আনন্দে: যে নতুন শুরু অন্তহীনভাবে চলবে, নতুন শুরু। <br> '''এইভাবে আমি বুঝেছিলাম যে তাঁর সমস্ত আশীর্বাদপূর্ণ সন্তানরা যারা প্রকৃতি থেকে তাঁর থেকে এসেছে তারা কৃপার দ্বারা তাঁর মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।'''
== পঞ্চদশ প্রকাশ ==
=== অধ্যায় ৬৩ ===
* এই সময়ের আগে ঈশ্বরের উপহার পাওয়ার জন্য আমার মনে এই জগত এবং জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা ছিল। কারণ আমি প্রায়শই এখানকার দুঃখ এবং সেখানে যে আনন্দ ও সুখ রয়েছে তার তুলনা করতাম। যদি আমাদের প্রভুর অনুপস্থিতি ছাড়া এই জীবনে অন্য কোনো ব্যথা না-ও থাকত, তবে আমার মনে হতো তা মাঝে মাঝে সহ্য করার ক্ষমতার বাইরে ছিল। এটি আমাকে শোকাতুর এবং অধীর করে তুলেছিল। এছাড়াও আমার নিজের দীনতা, জড়তা এবং দুর্বলতার কারণে আমি বাঁচতে বা পরিশ্রম করতে আগ্রহী ছিলাম না, যা আমার কাজ ছিল। <br> আমাদের দয়ালু প্রভু সান্ত্বনা ও ধৈর্যের সাথে এই সমস্ত কিছুর উত্তর দিয়েছিলেন এবং এই কথাগুলো বলেছিলেন: ''তুমি হঠাৎ তোমার সমস্ত ব্যথা, অসুস্থতা, যন্ত্রণা এবং দুঃখ থেকে মুক্তি পাবে। তুমি ওপরে আমার কাছে আসবে এবং আমিই হবে তোমার পুরস্কার। তুমি ভালোবাসা ও আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠবে। তোমার আর কোনো ব্যথা, অসন্তোষ বা ইচ্ছার অপূর্ণতা থাকবে না বরং থাকবে অন্তহীন আনন্দ ও সুখ। আমার ইচ্ছা ও আরাধনা অনুযায়ী যদি তোমাকে কিছুকাল কষ্ট সহ্য করতে হয়, তবে তাতে তোমার দুঃখ কী?''
* এই কথাটির মাধ্যমে: ''হঠাৎ তুমি মুক্ত হবে'' আমি দেখেছি যে ঈশ্বর মানুষের ধৈর্যকে পুরস্কৃত করেন, যা সে তাঁর ইচ্ছাকে মেনে চলার জন্য প্রদর্শন করে। মানুষের জীবনের সময়ের চেয়েও সে তার ধৈর্যকে দীর্ঘায়িত করে। তার প্রস্থানের সময়টি সে জানে না, যা তার জন্য বড় প্রাপ্তি: কারণ একজন মানুষ যদি তার সময় জানত, তবে সে ধৈর্য ধরতে পারত না। ঈশ্বরের ইচ্ছায়, আত্মা যখন শরীরে থাকে, তখন তার মনে হয় সে যেকোনো মুহূর্তেই বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কারণ আমাদের এই জীবন এবং যন্ত্রণা কেবল একটি বিন্দু মাত্র। যখন আমরা হঠাৎ ব্যথা থেকে আনন্দে উন্নীত হই, তখন ব্যথার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।
* সেই সময়ে আমি মাটিতে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি, যা ভারী এবং বীভৎস দেখাচ্ছিল। কোনো আকার বা আকৃতিহীন, যেন দুর্গন্ধযুক্ত কাদার একটি ফোলা স্তূপ। হঠাৎ সেই দেহ থেকে একটি অতি সুন্দর প্রাণী, একটি ছোট শিশু বেরিয়ে এল। সুগঠিত, চটপটে, প্রাণবন্ত এবং লিলির চেয়েও সাদা। যা দ্রুত স্বর্গের দিকে ভেসে গেল। দেহের সেই ফোলা ভাব আমাদের নশ্বর মাংসের চরম দীনতা বোঝায়, আর শিশুটির ক্ষুদ্রতা আত্মার পবিত্রতা প্রকাশ করে। আমার মনে হলো: ''এই দেহের সাথে শিশুটির কোনো সৌন্দর্যের মিল নেই, আবার শিশুটির ওপর দেহের কোনো কলঙ্কও নেই।''
* '''মানুষের থেকে ব্যথা দূর হওয়ার চেয়ে ব্যথা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া অনেক বেশি আনন্দদায়ক। কারণ ব্যথা যদি আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তা আবার ফিরে আসতে পারে। তাই প্রেমময় আত্মার জন্য এটি এক পরম সান্ত্বনা ও আনন্দের বিষয় যে আমাদের ব্যথা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।''' কারণ এই আদেশে আমি এক বিস্ময়কর করুণা দেখেছি যা আমাদের দুঃখের জন্য প্রভু অনুভব করেন এবং পরিত্রাণের এক দয়ালু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি চান আমরা এই উত্তরণের মাধ্যমে সান্ত্বনা পাই; আর তা তিনি এই কথায় প্রকাশ করেছেন: ''এবং তুমি ওপরে আসবে, আমিই হবে তোমার পুরস্কার এবং তুমি আনন্দ ও সুখে পূর্ণ হয়ে উঠবে।''
* ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা যেন আমাদের চিন্তাকে যতটা সম্ভব এই আনন্দময় দর্শনের মধ্যে নিবদ্ধ রাখি এবং তাঁর কৃপায় যত দীর্ঘ সময় পারি এর মধ্যে থাকি। কারণ ঈশ্বরের দ্বারা পরিচালিত আত্মার জন্য এটি এক আশীর্বাদপুষ্ট ধ্যান এবং যতদিন এটি স্থায়ী হয়, তা তাঁর আরাধনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
* ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমরা যেন তাঁর আদেশ ও সান্ত্বনাকে যতটা সম্ভব বড় করে ও শক্তিমত্তার সাথে গ্রহণ করি। তিনি এও চান যেন আমরা আমাদের ধৈর্য ও কষ্টকে যতটা সম্ভব হালকাভাবে নিই এবং সেগুলোকে তুচ্ছ করি। কারণ প্রেমের কারণে আমরা সেগুলোকে যত হালকাভাবে নেব এবং সেগুলোকে যত কম গুরুত্ব দেব, সেগুলো অনুভব করার সময় আমাদের ব্যথা তত কম হবে এবং তার জন্য আমরা তত বেশি কৃতজ্ঞতা ও প্রতিদান পাব।
=== অধ্যায় ৬৫ ===
* '''এভাবে আমি বুঝতে পারলাম যে, যে নারী বা পুরুষ এই জীবনে দৃঢ় ইচ্ছার সাথে ভালোবাসার খাতিরে ঈশ্বরকে বেছে নেয়, সে নিশ্চিত থাকতে পারে যে সে চিরকাল ভালোবাসার পাত্র হয়ে থাকবে। এই অন্তহীন ভালোবাসা তার মধ্যে সেই কৃপা কাজ করায়। কারণ তিনি চান যেন আমরা পৃথিবীতে থাকাকালীন স্বর্গের আনন্দের প্রত্যাশায় ততটাই নিশ্চিত থাকি, যতটা নিশ্চিত আমরা সেখানে গিয়ে হব।''' আর আমরা যদি পবিত্রতা ও নম্রতার সাথে এই নিশ্চিতবোধে আনন্দ ও তৃপ্তি পাই, তবে তিনি ততই সন্তুষ্ট হন। আমি যে পবিত্রতার কথা বলছি তা হলো আমাদের প্রভুর প্রতি এক পবিত্র ও দয়ালু ভয়, যার সাথে নম্রতা যুক্ত থাকে। এর মানে হলো, সৃষ্টি তার প্রভুকে বিস্ময়করভাবে মহান এবং নিজেকে বিস্ময়করভাবে ক্ষুদ্র দেখে।
* '''ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো আমি নিজেকে তাঁর ভালোবাসার কাছে ততটাই আবদ্ধ দেখব, যেন তিনি আমার জন্য যা যা করেছেন তা সব আমার একার জন্যই করেছেন; প্রতিটি আত্মারই তার প্রেমাস্পদ সম্পর্কে এমনটি ভাবা উচিত। অর্থাৎ, ঈশ্বরের দয়া আমাদের মধ্যে এমন এক ঐক্য তৈরি করে যে, তা সঠিকভাবে বুঝতে পারলে কেউ নিজেকে অন্য কারো থেকে আলাদা করতে পারে না।'''
* এখন আমি তোমাদের পনেরোটি প্রকাশের কথা বলেছি, যেমনটা ঈশ্বর মনে করিয়ে দিয়েছেন—তাঁর পবিত্র আত্মার আলোকচ্ছটা ও স্পর্শে, যা এই প্রকাশগুলোকে দেখিয়েছে। <br> এই পনেরোটি দর্শনের প্রথমটি শুরু হয়েছিল ভোরবেলা, প্রায় চারটার দিকে; আর সেগুলো সুন্দর ও স্থির প্রক্রিয়ায় একের পর এক চলতে থাকে, দিনের নটা পর্যন্ত।
=== অধ্যায় ৬৬ ===
* এরপর ভালো প্রভু পরের রাতে ষোড়শ প্রকাশটি দেখিয়েছিলেন, যা আমি পরে বলব: এই ষোড়শটি ছিল আগের পনেরোটির উপসংহার ও নিশ্চয়তা।
* তবে প্রথমে আমার দুর্বলতা, দীনতা ও অন্ধত্বের কথা তোমাদের বলা প্রয়োজন। আমি শুরুতেই বলেছি: ''এবং এতেই আমার সমস্ত ব্যথা হঠাৎ দূর হয়ে গেল'': এই ব্যথার কারণে আমি পনেরোটি দর্শনের সময় কোনো কষ্ট বা যন্ত্রণা অনুভব করিনি। শেষে সবকিছু স্তিমিত হয়ে এল এবং আমি আর কিছু দেখতে পেলাম না। শীঘ্রই আমি অনুভব করলাম যে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে এবং ভুগতে হবে এবং হঠাৎ আমার অসুস্থতা ফিরে এল। প্রথমে মাথায় শব্দ ও গুঞ্জন দিয়ে এবং হঠাৎ আমার পুরো শরীর আগের মতোই অসুস্থতায় ভরে গেল। আমি এতটাই বন্ধ্যা ও শুষ্ক ছিলাম যে মনে হচ্ছিল আমি কখনও খুব সামান্য সান্ত্বনাও পাইনি। একজন হতভাগা প্রাণীর মতো আমি আমার শারীরিক ব্যথার অনুভূতিতে এবং আধ্যাত্মিক ও শারীরিক সান্ত্বনার অভাবে বিলাপ ও চিৎকার করছিলাম।
* তখন একজন ধার্মিক ব্যক্তি আমার কাছে এলেন এবং জানতে চাইলেন আমি কেমন আছি। আমি বললাম, আমি আজ প্রলাপ বকেছি। তিনি উচ্চস্বরে ও মন খুলে হাসলেন। আমি বললাম: ''আমার মুখের সামনে যে ক্রুশটি দাঁড়িয়ে ছিল, আমার মনে হয়েছে সেটি দ্রুত রক্তক্ষরণ করছিল।'' এই কথা শুনে যে ব্যক্তির সাথে আমি কথা বলছিলাম তিনি অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে গেলেন এবং বিস্মিত হলেন। আমি আমার অবহেলার জন্য অত্যন্ত লজ্জিত ও বিস্মিত হলাম এবং ভাবলাম: ''এই মানুষটি আমার বলা ছোট ছোট কথাগুলোও কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।'' এরপর আমি আর কোনো কথা বললাম না।
== ষোড়শ প্রকাশ ==
=== অধ্যায় ৬৭ ===
[[File:William Blake - Christ in the Sepulchre, Guarded by Angels.jpg|thumb||আমাদের আত্মা কখনোই নিজের নিচের কোনো বস্তুতে শান্তি পেতে পারে না।]]
* '''এরপর আমাদের প্রভু আমার আধ্যাত্মিক চোখ খুলে দিলেন এবং আমার হৃদয়ের মাঝে আমার আত্মাকে দেখালেন। আমি দেখলাম আত্মাটি এত বিশাল যেন তা এক অন্তহীন জগত, এক পরম আনন্দময় রাজ্য। সেখানে আমি যা কিছু দেখলাম, তা থেকে আমি বুঝতে পারলাম এটি একটি মহিমান্বিত নগরী।''' সেই নগরীর মাঝে উপবিষ্ট আছেন আমাদের প্রভু যিশু, ঈশ্বর ও মানব, বিশাল দেহের অধিকারী এক সুদর্শন ব্যক্তি, পরম যাজক, অতি মহিমান্বিত রাজা ও পরম পূজনীয় প্রভু; আমি তাঁকে মহিমান্বিত পোশাকে দেখলাম। তিনি পরম শ্রদ্ধার সাথে আত্মার মাঝে শান্তিতে ও বিশ্রামে উপবিষ্ট আছেন। এবং ঈশ্বরত্ব স্বর্গ, পৃথিবী এবং যা কিছু আছে, তা শাসন ও ধারণ করে আছেন। পরম শক্তি, পরম প্রজ্ঞা ও পরম কল্যাণ। যিশু আমাদের ''আত্মার'' মাঝে যে স্থানটি নিয়েছেন, আমার দৃষ্টিতে তিনি তা থেকে চিরকাল সরবেন না। কারণ আমাদের মধ্যেই তাঁর ''সবচেয়ে আপন'' নিবাস ও ''অন্তহীন'' বসতি। এর মাধ্যমে তিনি দেখালেন যে, মানুষের আত্মা সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কতটা সন্তুষ্ট। পিতা যেমন একটি প্রাণ সৃষ্টি করতে পারতেন, পুত্রও যেমন তা করতে পারতেন, পবিত্র আত্মা ঠিক সেভাবেই চেয়েছিলেন যেন মানুষের আত্মা সৃষ্টি হয়: এবং তা-ই করা হয়েছিল। আর এই কারণেই ধন্য ত্রিত্ববাদ মানুষের আত্মা সৃষ্টির আনন্দে চিরকাল বিভোর। কারণ শুরু থেকেই তিনি দেখেছিলেন যা কিছু তাঁকে চিরকাল আনন্দ দেবে।
* '''আমাদের আত্মা কখনোই নিজের নিচের কোনো বস্তুতে শান্তি পেতে পারে না।''' যখন এটি সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে উঠে নিজের সত্তায় আসে, তখনও এটি কেবল নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে না। সমস্ত দৃষ্টি আনন্দের সাথে ঈশ্বরে নিবদ্ধ থাকে, যিনি এর স্রষ্টা এবং এর ভেতরেই বাস করেন। কারণ মানুষের আত্মাই তাঁর প্রকৃত নিবাস এবং আমার দৃষ্টিতে এই নগরীর সর্বোচ্চ আলো ও উজ্জ্বলতম আভা হলো আমাদের প্রভুর গৌরবময় ভালোবাসা।
* '''ঈশ্বরের সৃষ্টিগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মাঝে তিনি আনন্দ পান। এটি দেখার চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে? কারণ একই দর্শনে আমি দেখেছি, যদি ধন্য ত্রিত্ববাদ মানুষের আত্মাকে এর চেয়ে ভালো, সুন্দর বা মহৎ করে সৃষ্টি করতে পারতেন, তবে তিনি মানুষের আত্মা সৃষ্টির কাজে পূর্ণ সন্তুষ্ট হতেন না।''' এবং তিনি চান আমাদের হৃদয় যেন পৃথিবীর গভীরতা ও সমস্ত তুচ্ছ দুঃখের ঊর্ধ্বে ওঠে এবং তাঁতেই আনন্দ পায়।
=== অধ্যায় ৬৮ ===
* এটি ছিল এক আনন্দদায়ক দৃশ্য ও প্রশান্তিময় প্রত্যাদেশ, যা ''চিরকাল'' থাকবে। আমরা এখানে থাকাকালীন এর দিকে তাকিয়ে থাকা ঈশ্বরের কাছে অত্যন্ত প্রীতিকর এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। যে আত্মা এভাবে দেখে, তা সেই দর্শনকারী সত্তার মতো হয়ে ওঠে এবং তাঁর কৃপায় শান্তিতে ও বিশ্রামে একীভূত হয়। এবং এটি আমার জন্য ছিল এক অনন্য আনন্দ ও পরম সুখ যে, আমি তাঁকে ''উপবিষ্ট'' দেখলাম: কারণ উপবিষ্ট থাকার নিশ্চয়তা অন্তহীন বসতির ইঙ্গিত দেয়।
* তিনি আমাকে নিশ্চিতভাবে জানতে দিলেন যে, তিনিই আমাকে আগে সবকিছু দেখিয়েছেন। আমি যখন মনোযোগ দিয়ে এটি দেখলাম, তখন আমাদের ভালো প্রভু কোনো কণ্ঠস্বর বা ঠোঁট নাড়ান ছাড়াই অত্যন্ত নম্রভাবে আমাকে বললেন, ঠিক যেমন তিনি আগে করেছিলেন এবং অতি মধুরভাবে বললেন: ''এখন ভালো করে জেনে নাও যে, আজ তুমি যা দেখেছ তা কোনো প্রলাপ ছিল না। বরং এটি গ্রহণ করো, বিশ্বাস করো, এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো। তুমি কখনোই পরাজিত হবে না।''
* '''এই শেষ কথাগুলো বলা হয়েছিল বিশ্বাস ও সত্য নিশ্চিত করার জন্য যে, আমাদের প্রভু যিশুই আমাকে সবকিছু দেখিয়েছেন। আমাদের ভালো প্রভু প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন, যা তাঁর পরম আনন্দময় দুঃখভোগকে নির্দেশ করে। 'এর মাধ্যমেই শয়তান পরাজিত', ঠিক একইভাবে তিনি শেষ কথায় অত্যন্ত সত্য ও নিশ্চিতভাবে আমাদের সবার উদ্দেশ্যে বললেন: 'তুমি পরাজিত হবে না।' '''
* '''এই কথাটি: 'তুমি পরাজিত হবে না', অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও জোরালোভাবে বলা হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে আসা সব বিপদে আমরা নিশ্চিত ও সান্ত্বনা পাই। তিনি বলেননি: 'তুমি ঝড়ঝঞ্ঝার কবলে পড়বে না, তুমি শ্রান্ত হবে না, তুমি দুঃখিত হবে না' বরং তিনি বলেছেন: 'তুমি পরাজিত হবে না।' ঈশ্বর চান যেন আমরা এই কথাগুলোর প্রতি মনোযোগ দিই এবং ভালো ও মন্দ উভয় সময়েই দৃঢ় বিশ্বাসে অটল থাকি। কারণ তিনি আমাদের ভালোবাসেন ও আমাদের মাঝে আনন্দ পান, এবং তিনিও চান যেন আমরা তাঁকে ভালোবাসি, তাঁর মাঝে আনন্দ পাই এবং শক্তভাবে তাঁকে বিশ্বাস করি এবং ''সবকিছু ভালো হবে।'' '''<br> এবং শীঘ্রই সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল এবং আমি আর কিছুই দেখতে পেলাম না।
=== অধ্যায় ৬৯ ===
* এরপর শয়তান তার উত্তাপ ও দুর্গন্ধ নিয়ে আবার ফিরে এল এবং আমাকে খুব জ্বালাতন করল। দুর্গন্ধটি ছিল অত্যন্ত জঘন্য, বেদনাদায়ক, ভয়াবহ ও কষ্টকর। এছাড়া আমি শারীরিক কথোপকথনের মতো শব্দ শুনতে পেলাম, যেন দুইজন ব্যক্তি কথা বলছে। আমার মনে হলো তারা দুজনেই একই সময়ে খুব ব্যস্ততার সাথে কোনো সভা করছে। কিন্তু সবকিছু ছিল অস্পষ্ট গুঞ্জন, তাই তারা কী বলছে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। আমার মনে হলো, এটি সবই আমাকে নিরাশ করার জন্য ছিল। যেন তারা প্রার্থনা করার সময় আমাদের অভদ্রভাবে মুখ দিয়ে করা প্রার্থনার উপহাস করছিল, যেখানে ভক্তিময় মনোযোগ ও জ্ঞানপূর্ণ পরিশ্রমের অভাব থাকে। যা আমাদের প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।
* আমি মনে মনে বললাম: ''শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে বিশ্বাসে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে তোমাকে এখন অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তুমি যদি এখন থেকে সবসময় নিজেকে পাপ থেকে দূরে রাখতে এতটা ব্যস্ত থাকতে পারতে, তবে তা হতো এক মহান ও শ্রেষ্ঠ কাজ!'' কারণ আমি মনে মনে ভাবলাম, যদি আমি পাপ থেকে নিরাপদ থাকি, তবে আমি নরকের সব শয়তান ও আমার আত্মার শত্রু থেকেও নিরাপদ থাকব।
* এভাবে সে আমাকে সারা রাত ব্যস্ত রাখল এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত। এরপর তারা সবাই চলে গেল। তারা শুধু দুর্গন্ধ রেখে গেল, যা কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল। আর আমি তাকে ঘৃণাভরে অবজ্ঞা করলাম। <br> এবং এভাবে খ্রিষ্টের দুঃখভোগের গুণের মাধ্যমে আমি তার হাত থেকে মুক্তি পেলাম: কারণ ''এর মাধ্যমেই শয়তান পরাজিত'', যেমন আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্ট আগে বলেছিলেন।
=== অধ্যায় ৭০ ===
* '''এই সমস্ত ধন্য প্রত্যাদেশে আমাদের ভালো প্রভু এই বোধ দিলেন যে, এই দর্শনটি সাময়িক: কিন্তু এই ধন্য দর্শনটিকে বিশ্বাসই ধরে রাখে, তাঁর নিজস্ব সদিচ্ছা ও কৃপায়।''' কারণ তিনি আমাকে কোনো চিহ্ন বা লক্ষণ রেখে যাননি যার মাধ্যমে আমি তা চিনতে পারি, কিন্তু তিনি আমাকে সত্য উপলব্ধিতে তাঁর নিজস্ব ধন্য বাণী রেখে গেছেন, আমাকে খুব জোরালোভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তা বিশ্বাস করি। এবং আমি তা-ই করি। তিনি ধন্য হোন! আমি বিশ্বাস করি যে, তিনিই আমাদের ত্রাণকর্তা যিনি এটি দেখিয়েছেন এবং এটিই সেই বিশ্বাস যা তিনি দেখিয়েছেন এবং তাই আমি আনন্দচিত্তে এটি বিশ্বাস করি। এবং আমি তাঁর নিজের প্রতিটি অর্থের সাথে আবদ্ধ, পরবর্তী কথাগুলোর মাধ্যমে: ''এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো।''
* এভাবে আমি তা আমার বিশ্বাসে ধরে রাখতে বাধ্য। কারণ যে দিন এটি দেখানো হয়েছিল, যখন দর্শনটি শেষ হয়ে গেল, আমি হতভাগার মতো তা ত্যাগ করলাম এবং প্রকাশ্যে বললাম যে আমি প্রলাপ বকেছি। তখন আমাদের প্রভু যিশু তাঁর দয়ায় এটি হারিয়ে যেতে দিলেন না বরং তিনি এটি ''আমার আত্মার ভেতরে'' পূর্ণরূপে দেখালেন, তাঁর মূল্যবান ভালোবাসার ধন্য আলোতে: অত্যন্ত জোরালো ও নম্রভাবে এই কথাগুলো বলে: ''এখন ভালো করে জেনে নাও: আজ তুমি যা দেখেছ তা কোনো প্রলাপ ছিল না।'' যেন তিনি বলেছেন: ''দর্শনটি তোমার থেকে দূরে সরে যাওয়ায় তুমি তা হারিয়েছিলে এবং তা ধরে রাখার সামর্থ্য তোমার ছিল না। কিন্তু এখন জেনে নাও'' অর্থাৎ, ''এখন যখন তুমি তা দেখতে পাচ্ছ''। এটি শুধু সেই সময়ের জন্য বলা হয়নি, বরং আমার বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপনের জন্যও বলা হয়েছে, যখন তিনি সাথে সাথে বললেন: ''কিন্তু এটি গ্রহণ করো, বিশ্বাস করো এবং এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো, এর দ্বারা সান্ত্বনা পাও এবং এর ওপর ভরসা রাখো। তুমি পরাজিত হবে না।''
* তাঁর অর্থ হলো এটি যেন আমাদের হৃদয়ে বিশ্বস্তভাবে গেঁথে থাকে। কারণ তিনি চান এটি যেন আমাদের জীবনের শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসে আমাদের সাথে থাকে এবং এরপর পরম আনন্দে। তিনি চান যেন আমরা তাঁর আনন্দময় আদেশের ওপর সবসময় অবিচল বিশ্বাস রাখি। তাঁর কল্যাণকে জেনে। <br> কারণ আমাদের নিজস্ব অন্ধত্ব এবং আমাদের আধ্যাত্মিক শত্রু, ভেতরে ও বাইরে, বিভিন্নভাবে আমাদের বিশ্বাসকে বাধা দেয় এবং সেইজন্য আমাদের মূল্যবান প্রেমিক আমাদের আধ্যাত্মিক দর্শন ও সত্য শিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন, যার মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পারি। এবং তাই, তিনি আমাদের যেভাবেই শিক্ষা দিন না কেন, তিনি চান যেন আমরা তাঁকে বুদ্ধিমত্তার সাথে উপলব্ধি করি, মধুরভাবে গ্রহণ করি এবং বিশ্বস্তভাবে তাঁর মাঝে থাকি। কারণ আমার দৃষ্টিতে, এই জীবনে বিশ্বাসের চেয়ে বড় কোনো কল্যাণ নেই এবং বিশ্বাসের নিচে আত্মার কোনো সাহায্য নেই বরং বিশ্বাসের মধ্যেই প্রভু চান যেন আমরা নিজেদের ধরে রাখি। কারণ বিশ্বাসের মধ্যে আমাদের টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের তাঁর কল্যাণ ও তাঁর নিজস্ব কাজের ওপর নির্ভর করতে হবে এবং তাঁর অনুমতিতে আধ্যাত্মিক শত্রুর মাধ্যমে আমরা বিশ্বাসে পরীক্ষিত হই এবং শক্তিশালী হই। কারণ আমাদের বিশ্বাসের যদি কোনো শত্রুতা না থাকত, তবে তা কোনো পুরস্কারের যোগ্য হতো না, আমাদের প্রভুর সমস্ত শিক্ষায় আমার যে বোধ আছে তা অনুযায়ী।
=== অধ্যায় ৭১ ===
* আমাদের আত্মার প্রতি আমাদের প্রভুর আনন্দময়, মনোরম ও মধুর চাহনি অত্যন্ত আনন্দদায়ক।
* আমি আমাদের প্রভুর তিন ধরণের চাহনির ইঙ্গিত পেয়েছি। প্রথমটি হলো তাঁর দুঃখভোগের চাহনি, যেমনটা তিনি এই জীবনে থাকাকালীন দেখিয়েছেন, যখন তিনি মৃত্যুবরণ করছিলেন। যদিও এই দর্শন শোকাবহ ও উদ্বিগ্ন, তবুও এটি আনন্দময়: কারণ তিনি ঈশ্বর। দ্বিতীয় ধরণের চাহনি হলো মমতা ও করুণা এবং তিনি তাঁর সমস্ত প্রেমিকদের, যারা তাঁর দয়ার ওপর নির্ভর করে, তাদের রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে এটি দেখান। তৃতীয়টি হলো আনন্দময় চাহনি, যা চিরকাল থাকবে: এবং এটিই সবচেয়ে বেশি ও দীর্ঘ সময় ধরে ছিল।
* এভাবে আমাদের ব্যথা ও কষ্টের সময়ে তিনি আমাদের তাঁর দুঃখভোগ ও ক্রুশের চাহনি দেখান, তাঁর নিজস্ব ধন্য গুণের মাধ্যমে তা বহন করতে আমাদের সাহায্য করেন। এবং আমাদের পাপের সময়ে তিনি আমাদের মমতা ও করুণার চাহনি দেখান, আমাদের সমস্ত শত্রুর হাত থেকে আমাদের শক্তভাবে রক্ষা করেন ও প্রতিরক্ষা দেন। এবং এই হলো সাধারণ চাহনি যা তিনি আমাদের এই জীবনে দেখান; এর সাথে তৃতীয়টি মিশিয়ে এবং তা হলো তাঁর আনন্দময় চাহনি, অনেকটা স্বর্গের মতো। এবং তা আধ্যাত্মিক জীবনের মধুর স্পর্শ ও উজ্জ্বল আলোর মাধ্যমে, যার দ্বারা আমরা নিশ্চিত বিশ্বাস, আশা ও দাতব্য কাজে অটল থাকি, অনুতাপ ও ভক্তির সাথে এবং আধ্যাত্মিক চিন্তা ও সব ধরণের প্রকৃত শান্তি ও মধুর সান্ত্বনার সাথে।
=== অধ্যায় ৭২ ===
* এখন আমাকে বলতে হবে যে, আমি কীভাবে সেই প্রাণীদের মাঝে পাপকে প্রাণঘাতী হিসেবে দেখেছি, যারা পাপের জন্য মরবে না বরং চিরকাল ঈশ্বরের আনন্দে বেঁচে থাকবে।
* '''আমি দেখলাম যে দুটি বিপরীত জিনিস কখনোই এক জায়গায় থাকতে পারে না। সবচেয়ে বিপরীত হলো সর্বোচ্চ আনন্দ এবং গভীরতম বেদনা।''' সর্বোচ্চ আনন্দ হলো অনন্ত জীবনের স্বচ্ছতায় তাঁকে পাওয়া, তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখা, তাঁকে মধুরভাবে অনুভব করা, পরম আনন্দে পূর্ণরূপে পাওয়া। এবং এভাবেই আমাদের প্রভুর আনন্দময় চাহনি করুণায় দেখানো হয়েছিল: যে দর্শনে আমি দেখলাম যে পাপই সবচেয়ে বেশি বিপরীত এতটাই যে, যতক্ষণ আমরা পাপের কোনো অংশের সাথে জড়িত থাকি, ততক্ষণ আমরা আমাদের প্রভুর আনন্দময় চাহনি স্পষ্টভাবে দেখতে পাব না। এবং আমাদের পাপ যত ভয়াবহ ও গুরুতর, সেই সময়ের জন্য আমরা এই আনন্দময় দর্শন থেকে তত বেশি দূরে থাকি। এবং তাই অনেক সময় আমাদের মনে হয় আমরা মৃত্যুর বিপদে আছি, নরকের এক অংশে আছি, পাপ আমাদের জন্য যে শোক ও বেদনা দেয় তার কারণে। এবং এভাবেই আমরা আমাদের আনন্দময় জীবনের প্রকৃত দর্শন থেকে সাময়িকভাবে মৃত। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝে আমি নিশ্চিতভাবে দেখেছি যে, ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমরা মৃত নই, আর তিনিও আমাদের থেকে কখনোই দূরে সরে যান না। কিন্তু আমাদের মাঝে তিনি পূর্ণ আনন্দ পাবেন না যতক্ষণ না আমরা তাঁর মাঝে পূর্ণ আনন্দ পাই, তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনি সত্যভাবে দেখে। কারণ প্রকৃতিগতভাবে আমরা তার জন্য নিযুক্ত, এবং কৃপার মাধ্যমে তা অর্জন করি। এভাবেই আমি দেখলাম কীভাবে চিরন্তন জীবনের ধন্য প্রাণীদের মাঝে পাপ অল্প সময়ের জন্য প্রাণঘাতী।
* '''আত্মা ভালোবাসার কৃপায় এই আনন্দময় চাহনি যত স্পষ্টভাবে দেখে, তা পূর্ণরূপে দেখার জন্য তত বেশি আকাঙ্ক্ষা করে।''' কারণ আমাদের প্রভু ঈশ্বর আমাদের মাঝে বাস করেন এবং এখানে আমাদের সাথে আছেন, এবং যদিও তিনি কোমল ভালোবাসার কারণে আমাদের জড়িয়ে রাখেন ও ঘিরে রাখেন যাতে তিনি কখনোই আমাদের ছেড়ে না যান, এবং আমাদের জিহ্বা যতটা বলতে পারে বা হৃদয় ভাবতে পারে তার চেয়েও তিনি আমাদের বেশি কাছে আছেন, তবুও আমরা যতক্ষণ না তাঁকে তাঁর আনন্দময় অভিব্যক্তিতে স্পষ্টভাবে দেখি, ততক্ষণ আমরা আর্তনাদ, কান্না বা আকাঙ্ক্ষা থেকে থামতে পারি না। কারণ সেই মূল্যবান আনন্দময় দর্শনে কোনো দুঃখ থাকতে পারে না, আর কোনো সুখও শেষ হতে পারে না।
* এর মধ্যে আমি আনন্দের বিষয় এবং শোকের বিষয় দেখলাম। আনন্দের বিষয়: কারণ আমাদের প্রভু, আমাদের স্রষ্টা, আমাদের এত কাছে এবং আমাদের মাঝে আছেন, এবং আমরা তাঁর মাঝে আছি, তাঁর মহান কল্যাণের মাধ্যমে সুরক্ষার নিশ্চয়তায়; শোকের বিষয়: কারণ আমাদের আধ্যাত্মিক চোখ এতই অন্ধ এবং আমাদের নশ্বর শরীরের ভার ও পাপের অন্ধকারে আমরা এতটাই নিমজ্জিত যে, আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনিতে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই না। না এবং এই ঝাপসা ভাবের কারণে আমরা খুব কষ্টে তাঁর মহান ভালোবাসায় এবং আমাদের সুরক্ষার নিশ্চয়তায় বিশ্বাস ও ভরসা করতে পারি। এবং সেই কারণেই আমি বলি যে আমরা কখনোই আর্তনাদ বা কান্না থেকে থামতে পারি না। এই "কান্না" মানে সবটা আমাদের শারীরিক চোখের অশ্রু ঝরানো নয়, বরং এর আরও আধ্যাত্মিক অর্থ আছে। কারণ আমাদের আত্মার স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা এতই মহান ও অসীম যে, যদি আমাদের সান্ত্বনার জন্য এবং আমাদের আরামের জন্য সেই সমস্ত মহৎ জিনিস দেওয়া হতো যা ঈশ্বর স্বর্গ ও পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন, এবং আমরা যদি তাঁর নিজস্ব সুন্দর আনন্দময় চাহনি না দেখতাম, তবুও আমরা আর্তনাদ বা আধ্যাত্মিক কান্না থেকে থামতাম না, অর্থাৎ, যন্ত্রণাদায়ক আকাঙ্ক্ষা থেকে, যতক্ষণ না আমরা আমাদের স্রষ্টার সুন্দর আনন্দময় চাহনি সত্যভাবে দেখি। এবং যদি আমরা হৃদয়ে যা ভাবতে পারি ও জিহ্বায় যা বলা যায় এমন সমস্ত বেদনার মাঝেও থাকতাম, তবুও যদি সেই সময়ে আমরা তাঁর সুন্দর আনন্দময় চাহনি দেখতে পেতাম, তবে এই বেদনা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারত না।
* '''এভাবেই সেই আনন্দময় দর্শন প্রেমময় আত্মার সমস্ত ধরণের বেদনার অবসান এবং সমস্ত ধরণের আনন্দ ও সুখের পূর্ণতা।''' এবং তা তিনি সেই মহান, চমৎকার কথাগুলোর মাধ্যমে দেখালেন যেখানে তিনি বললেন: '''''আমিই সেই, যে সর্বোচ্চ; আমিই সেই, যে সর্বনিম্ন। আমিই সেই, যে সর্বস্ব।'''''
* আমাদের তিন ধরণের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন: প্রথমটি হলো আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে জানি; দ্বিতীয়টি হলো আমরা নিজেদের জানি: প্রকৃতি ও কৃপায় আমরা তাঁর দ্বারা কী। তৃতীয়টি হলো আমরা নম্রভাবে জানি আমাদের পাপ ও দুর্বলতা সম্পর্কে আমাদের নিজেদের স্বরূপ কী। এবং আমার বোধগম্যতায় এই তিনটির জন্যই সমস্ত প্রত্যাদেশ তৈরি করা হয়েছিল।
=== অধ্যায় ৭৩ ===
* আমাদের প্রভুর সমস্ত ধন্য শিক্ষা তিনটি অংশের মাধ্যমে দেখানো হয়েছিল। অর্থাৎ, শারীরিক দর্শন, আমার উপলব্ধিতে তৈরি শব্দ এবং আধ্যাত্মিক দর্শন। শারীরিক দর্শনের জন্য, আমি যেমন দেখেছি তা বলেছি, যতটা সত্যভাবে পারি এবং শব্দের জন্য, আমি সেগুলো ঠিক সেভাবেই বলেছি যেভাবে আমাদের প্রভু আমাকে দেখিয়েছেন এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের জন্য, আমি কিছু অংশ বলেছি, কিন্তু আমি তা কখনোই পুরোপুরি বলতে পারব না: এবং তাই এই দর্শনের বিষয়ে আমি আরও বলার জন্য অনুপ্রাণিত, যেমন ঈশ্বর কৃপা দেবেন।
* ''সাধারণত'', তিনি ''পাপ'' দেখালেন, যার মধ্যে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু বিশেষভাবে তিনি কেবল এই দুটি দেখালেন। এবং এই দুটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় ও উদ্বিগ্ন করে, আমাদের প্রভু আমাকে যা দেখিয়েছেন তা অনুযায়ী এবং তিনি চান যেন আমরা এদের থেকে সংশোধিত হই। আমি এমন পুরুষ ও নারীদের কথা বলছি যারা ঈশ্বরের ভালোবাসার জন্য পাপকে ঘৃণা করে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে: তখন আমাদের আধ্যাত্মিক অন্ধত্ব ও শারীরিক ভারীত্বের কারণে আমরা এগুলোর প্রতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকি। এবং তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা যে এগুলো জানা হোক, কারণ তখন আমরা অন্য পাপের মতো এগুলোকেও প্রত্যাখ্যান করব।
* এর সাহায্যের জন্য, আমাদের প্রভু অত্যন্ত নম্রভাবে তাঁর কঠিন দুঃখভোগে তাঁর ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন; এবং ভালোবাসার জন্য সেই দুঃখভোগের আনন্দ ও সন্তুষ্টিও তিনি দেখিয়েছেন। এবং তিনি উদাহরণস্বরূপ এটি দেখালেন যে, আমাদের কষ্টগুলো আনন্দ ও প্রজ্ঞার সাথে বহন করা উচিত, কারণ তা তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রীতিকর এবং আমাদের জন্য চিরন্তন লাভজনক। '''এবং আমরা যে এদের দ্বারা কষ্ট পাই তার কারণ হলো ভালোবাসার জ্ঞানের অভাব।''' যদিও ত্রিত্ববাদের তিনটি ব্যক্তি নিজ নিজ স্থানে সমান, তবুও আত্মা ভালোবাসার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করেছে; হ্যাঁ, এবং '''তিনি চান যেন সব কিছুতে আমরা আমাদের দৃষ্টি ও আনন্দ ভালোবাসায় রাখি। এবং এই জ্ঞান সম্পর্কে আমরা সবচেয়ে বেশি অন্ধ। কারণ আমাদের কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান এবং সব করতে পারেন, এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং সব জানেন; কিন্তু তিনি সর্ব-ভালোবাসা এবং সব করবেন, সেখানে আমরা থেমে যাই। এবং আমার দৃষ্টিতে, এই না-জানাটাই ঈশ্বরের প্রেমিকদের সবচেয়ে বেশি বাধা দেয়।'''
* যখন আমরা পাপকে ঘৃণা করতে শুরু করি এবং পবিত্র গির্জার বিধান অনুযায়ী নিজেদের সংশোধন করি, তখনও একটি ভয় থেকে যায় যা আমাদের বাধা দেয়, কারণ আমাদের নিজেদের এবং আমাদের পূর্বের পাপগুলোর দিকে তাকালে। এবং আমাদের কেউ কেউ প্রতিদিনের পাপের কারণে: কারণ আমরা আমাদের অঙ্গীকার পালন করি না, বা আমাদের প্রভু আমাদের যে পবিত্রতায় রেখেছেন তা রক্ষা করি না, বরং বারবার এত জঘন্যতায় পড়ি যে তা দেখা লজ্জাজনক। এবং এই দিকে তাকানো আমাদের এতটাই দুঃখিত ও ভারাক্রান্ত করে যে, আমরা খুব কষ্টে কোনো সান্ত্বনা পাই। <br> '''এবং এই ভয়টিকে আমরা অনেক সময় নম্রতা বলে মনে করি, কিন্তু এটি একটি জঘন্য অন্ধত্ব ও দুর্বলতা। এবং আমরা এটিকে অন্য পাপের মতো ঘৃণা করতে পারি না, যা আমরা জানি: কারণ এটি শত্রুতা থেকে আসে এবং এটি সত্যের বিরুদ্ধে। কারণ এটি ঈশ্বরের ইচ্ছা যে ধন্য ত্রিত্ববাদের সমস্ত গুণের মধ্যে আমরা ভালোবাসায় সবচেয়ে বেশি নিশ্চয়তা ও সান্ত্বনা পাব: কারণ ভালোবাসা শক্তি ও প্রজ্ঞাকে আমাদের কাছে অত্যন্ত নম্র করে তোলে। কারণ ঈশ্বরের সৌজন্যে তিনি আমাদের পাপ ক্ষমা করে দেন যখন আমরা অনুতাপ করি, ঠিক সেভাবেই তিনি চান যেন ''আমরা'' আমাদের পাপ ক্ষমা করি, আমাদের অবাধ্য ভারীত্ব ও সন্দেহজনক ভয়ের বিষয়ে।'''
=== অধ্যায় ৭৪ ===
* আমি চার ধরণের ভয় বুঝি। একটি হলো এমন ভয়ের আতঙ্ক যা দুর্বলতার কারণে হঠাৎ মানুষের মধ্যে আসে। এই ভয় ভালো কাজ করে, কারণ এটি মানুষকে শুদ্ধ করতে সাহায্য করে, যেমন শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো বেদনা যা পাপ নয়। কারণ এই সমস্ত বেদনা মানুষকে সাহায্য করে যদি তা ধৈর্য সহকারে গ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয়টি হলো বেদনার ভয়, যার মাধ্যমে মানুষ পাপের ঘুম থেকে জেগে ওঠে। যতক্ষণ না সে এই বেদনার ভয়, শারীরিক মৃত্যু, আধ্যাত্মিক শত্রুদের সম্পর্কে বোধ পায়, ততক্ষণ সে পবিত্র আত্মার মৃদু সান্ত্বনা বুঝতে পারে না এবং এই ভয় আমাদের ঈশ্বরের সান্ত্বনা ও দয়া খুঁজতে উৎসাহিত করে এবং এভাবেই এই ভয় আমাদের সাহায্য করে, এবং পবিত্র আত্মার ধন্য স্পর্শের মাধ্যমে অনুতাপ করতে সক্ষম করে। তৃতীয়টি হলো সন্দেহজনক ভয়। সন্দেহজনক ভয় যেহেতু হতাশায় টেনে নেয়, ঈশ্বর চান যেন ভালোবাসার জ্ঞানের মাধ্যমে তা আমাদের মধ্যে ভালোবাসায় পরিণত হয়: অর্থাৎ, সন্দেহের তিক্ততা যেন কৃপার মাধ্যমে স্বাভাবিক ভালোবাসার মাধুর্যে পরিণত হয়। কারণ ঈশ্বরের সেবকরা তাঁর কল্যাণে সন্দেহ করে, তা কখনোই আমাদের প্রভুর কাছে প্রীতিকর হতে পারে না। চতুর্থটি হলো শ্রদ্ধাশীল ভয়: কারণ আমাদের মধ্যে শ্রদ্ধাশীল ভয় ছাড়া অন্য কোনো ভয় ঈশ্বরকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারে না। এবং তা অত্যন্ত মৃদু, কারণ এটি যত বেশি থাকে, ভালোবাসার মাধুর্যের জন্য তত কম অনুভূত হয়।'''
* '''ভালোবাসা ও ভয় ভাই-বোন এবং তারা আমাদের স্রষ্টার কল্যাণে আমাদের মধ্যে প্রোথিত, এবং তারা কখনোই আমাদের থেকে চিরকাল দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে না। আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে ভালোবাসার এবং কৃপা দ্বারা ভালোবাসার ক্ষমতা আছে এবং আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে ভয়ের এবং কৃপা দ্বারা ভয়ের ক্ষমতা আছে।''' প্রভুত্ব ও পিতৃত্বের জন্য ভয় পাওয়া উচিত, যেমন কল্যাণের জন্য ভালোবাসা পাওয়া উচিত: এবং আমাদের জন্য, যারা তাঁর সেবক ও সন্তান, তাঁর প্রভুত্ব ও পিতৃত্বের জন্য তাঁকে ভয় করা উচিত, যেমন কল্যাণের জন্য তাঁকে ভালোবাসা উচিত।
* '''যদিও এই শ্রদ্ধাশীল-ভয় ও ভালোবাসা আলাদা নয়, তবুও তারা উভয়ই এক নয়, বরং তারা বৈশিষ্ট্য ও কাজে দুটি, এবং তাদের একটি ছাড়া অন্যটি পাওয়া যায় না। তাই আমি নিশ্চিত, যে ভালোবাসে, সে ভয়ও পায়, যদিও সে তা খুব কম অনুভব করে।'''
* শ্রদ্ধাশীল ভয় ছাড়া অন্য সব ভয় যা আমাদের সামনে আসে, যদিও তারা পবিত্রতার ছদ্মবেশে আসে তবুও তা তেমন সত্য নয়, এবং এর মাধ্যমে তারা আলাদাভাবে চেনা যায়। যে ভয় আমাদের তাড়াহুড়ো করে যা ভালো নয় তা থেকে পালাতে এবং আমাদের প্রভুর বুকে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে, যেমন শিশু মায়ের কোলে যায়, আমাদের সমস্ত উদ্দেশ্য ও মন নিয়ে, আমাদের দুর্বলতা ও মহান প্রয়োজন জেনে, তাঁর চিরন্তন কল্যাণ ও ধন্য ভালোবাসা জেনে, কেবল তাঁর কাছে পরিত্রাণ চেয়ে, নিশ্চিত ভরসার সাথে লেগে থাকা: যে ভয় আমাদের এই কাজে নিয়ে আসে, তা স্বাভাবিক, কৃপাপূর্ণ, ভালো ও সত্য। এবং যা এর বিপরীত, তা হয় ভুল, অথবা ভুলের সাথে মিশ্রিত। তখন প্রতিকার হলো এই দুটিকে চেনা এবং ভুলটিকে প্রত্যাখ্যান করা।
* পবিত্র আত্মার কৃপাপূর্ণ কাজের মাধ্যমে এই জীবনে আমাদের যে ভয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য আছে, স্বর্গে ঈশ্বরের সামনেও তা একই থাকবে, ভদ্র, বিনয়ী ও পরম আনন্দদায়ক। এবং এভাবেই আমরা ভালোবাসায় ঈশ্বরের প্রতি আপন ও নিকটবর্তী হব, এবং আমরা ভয়ে ঈশ্বরের প্রতি ভদ্র ও বিনয়ী হব। এবং উভয়ই সমান।
* আমাদের প্রভু ঈশ্বরের কাছে আমরা প্রার্থনা করি যেন আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ভয় করি, নম্রভাবে ভালোবাসি, শক্তভাবে বিশ্বাস করি। কারণ যখন আমরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ভয় করি এবং নম্রভাবে ভালোবাসি, তখন আমাদের বিশ্বাস কখনোই বৃথা যায় না। কারণ আমরা যত বেশি এবং যত শক্তভাবে বিশ্বাস করি, আমরা আমাদের প্রভুকে তত বেশি সন্তুষ্ট ও পূজা করি যাঁকে আমরা বিশ্বাস করি। এবং যদি আমরা এই শ্রদ্ধাশীল ভয় ও নম্র ভালোবাসায় ব্যর্থ হই (ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন!), তবে আমাদের বিশ্বাস সাময়িকভাবে ভুল পথে পরিচালিত হবে। এবং তাই আমাদের প্রভুর কাছে কৃপার জন্য প্রার্থনা করা খুব প্রয়োজন যেন আমরা তাঁর উপহার হিসেবে, হৃদয়ে ও কাজে এই শ্রদ্ধাশীল ভয় ও নম্র ভালোবাসা পাই। কারণ এটি ছাড়া, কেউ ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে না।
=== অধ্যায় ৭৫ ===
* আমি দেখলাম যে ঈশ্বর আমাদের যা প্রয়োজন তা করতে পারেন। এবং এই তিনটি যা আমি বলব আমাদের প্রয়োজন: ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা, মমতা। ভালোবাসায় মমতা আমাদের প্রয়োজনের সময়ে আমাদের রক্ষা করে এবং একই ভালোবাসায় আকাঙ্ক্ষা আমাদের স্বর্গে টেনে নেয়। কারণ ঈশ্বরের তৃষ্ণা হলো সাধারণ মানুষকে তাঁর কাছে পাওয়া। এই তৃষ্ণায় তিনি তাঁর পবিত্রদের টেনে নিয়েছেন যারা এখন আনন্দে আছে এবং তাঁর জীবন্ত সদস্যদের পেয়ে, তিনি সবসময় টেনে নেন ও পান করেন, এবং তবুও তিনি তৃষ্ণার্ত ও আকাঙ্ক্ষী থাকেন।
* আমি ঈশ্বরের মধ্যে তিন ধরণের আকাঙ্ক্ষা দেখলাম, এবং সবই এক লক্ষ্যের দিকে। যার একই রূপ আমাদের মধ্যেও আছে, এবং একই গুণের দ্বারা ও একই লক্ষ্যের জন্য। <br> প্রথমটি হলো, তিনি আমাদের শেখানোর জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন যেন আমরা তাঁকে জানি এবং তাঁকে চিরকাল ভালোবাসি, যেমনটি আমাদের জন্য সুবিধাজনক ও কল্যাণকর। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি আমাদের তাঁর আনন্দে টেনে নেওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন, যেমন আত্মা যখন বেদনা থেকে স্বর্গে নেওয়া হয়। তৃতীয়টি হলো আমাদের আনন্দে পূর্ণ করা এবং তা শেষ বিচারের দিনে হবে, চিরস্থায়ীভাবে পূর্ণ হবে। কারণ আমি দেখেছি, যেমন আমাদের বিশ্বাসে জানা আছে, যে যারা রক্ষা পাবে তাদের সবার বেদনা ও দুঃখ শেষ হবে। এবং আমরা কেবল সেই আনন্দই পাব না যা আত্মারা আগে স্বর্গে পেয়েছে, বরং আমরা একটি নতুন আনন্দও পাব, যা প্রচুরভাবে ঈশ্বর থেকে আমাদের মধ্যে প্রবাহিত হবে এবং আমাদের পূর্ণ করবে এবং এগুলোই সেই সামগ্রী যা তিনি শুরু থেকেই আমাদের দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করেছেন। এই সামগ্রীগুলো তাঁর নিজের মধ্যেই সঞ্চিত ও লুকানো আছে। কারণ সেই সময় পর্যন্ত প্রাণী তা পাওয়ার মতো শক্তিশালী বা যোগ্য নয়।
* এতে আমরা সত্যভাবে সেই সব জিনিসের কারণ দেখতে পাব যা তিনি করেছেন এবং সবসময় আমরা সেই সব জিনিসের কারণ দেখব যা তিনি সহ্য করেছেন। এবং আনন্দ ও পূর্ণতা এতটাই গভীর ও উচ্চ হবে যে, বিস্ময় ও আশ্চর্যের কারণে, সমস্ত প্রাণীর ঈশ্বরের প্রতি এত মহান শ্রদ্ধাশীল ভয় থাকবে, যা আগে দেখা ও অনুভূত হয়েছে তা ছাড়িয়ে, যে স্বর্গের স্তম্ভগুলো কাঁপবে। কিন্তু এই ধরণের কম্পন ও ভয়ের কোনো বেদনা থাকবে না। বরং ঈশ্বরের যোগ্য শক্তির জন্যই প্রাণীদের দ্বারা এভাবে দেখা, মহান ভয়ে নম্রতার জন্য কাঁপতে কাঁপতে, স্রষ্টা ঈশ্বরের মহানতা এবং যা সৃষ্টি হয়েছে তার ক্ষুদ্রতার প্রতি বিস্মিত হতে হয়। কারণ এটি দেখা প্রাণীটিকে চমৎকারভাবে নম্র ও মৃদু করে তোলে। <br> তাই ঈশ্বর চান এবং এটি আমাদের প্রকৃতি ও কৃপা উভয় দিক থেকেই উচিত। যেন আমরা এটি সম্পর্কে জানি ও বুঝি, এই দর্শন ও কাজ কামনা করি। কারণ এটি আমাদের সঠিক পথে নিয়ে যায়, এবং সত্য জীবনে আমাদের রাখে, এবং ঈশ্বরের সাথে আমাদের একীভূত করে। এবং ঈশ্বর যতটা ভালো, তিনি ততটাই মহান এবং তাঁর কল্যাণকে ভালোবাসা যতটা উচিত, তাঁর মহানতাকে ভয় করাও ততটাই উচিত। কারণ এই শ্রদ্ধাশীল ভয়ই হলো সেই সুন্দর সৌজন্য যা স্বর্গে ঈশ্বরের মুখের সামনে আছে। এবং তিনি এখন যতটা পরিচিত ও সমাদৃত, তখন তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি পরিচিত ও সমাদৃত হবেন, যতটা তিনি এখন, তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি ভয় পাবেন। <br> তাই স্তম্ভগুলো কাঁপলে আকাশ ও পৃথিবী যে কাঁপবে, তা হওয়া অনিবার্য।
=== অধ্যায় ৭৬ ===
[[File:Bischheim Temple38.JPG|thumb|আমি মমতার দর্শনে বুঝেছিলাম।]]
* '''আমি শ্রদ্ধাশীল ভয় সম্পর্কে খুব কম বলি, কারণ আমার আশা আছে এটি উপরের এই বিষয়ে দেখা যেতে পারে। কিন্তু আমি জানি আমাদের প্রভু আমাকে এমন কোনো আত্মা দেখাননি যারা তাঁকে ভয় পায় না। কারণ আমি জানি যে আত্মা সত্যিকার অর্থে পবিত্র আত্মার শিক্ষা গ্রহণ করে, তা পাপকে তার জঘন্যতা ও ভয়াবহতার জন্য নরকে থাকা সমস্ত বেদনার চেয়েও বেশি ঘৃণা করে।''' কারণ যে আত্মা আমাদের প্রভু যিশুর সুন্দর প্রকৃতির দিকে তাকায়, আমার দৃষ্টিতে সে পাপ ছাড়া কোনো নরক ঘৃণা করে না। এবং তাই ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আমরা পাপকে জানি, এবং ব্যস্তভাবে প্রার্থনা করি ও আন্তরিকভাবে পরিশ্রম করি এবং নম্রভাবে শিক্ষা খুঁজি যেন আমরা অন্ধভাবে তার মধ্যে না পড়ি। এবং যদি আমরা পড়ি, তবে আমরা যেন দ্রুত উঠে পড়ি। কারণ পাপের দ্বারা কোনো সময় ঈশ্বর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া আত্মার জন্য সবচেয়ে বড় বেদনা।
* '''যে আত্মা বিশ্রামে থাকতে চায় যখন অন্য মানুষের পাপ মনে পড়ে, সে তাকে নরকের বেদনার মতো পালাবে, প্রতিকারের জন্য ঈশ্বরের কাছে খুঁজবে, এর বিরুদ্ধে সাহায্যের জন্য।''' কারণ অন্য মানুষের পাপের দিকে তাকানো আত্মার চোখের সামনে একটি ঘন কুয়াশার মতো তৈরি করে, এবং আমরা সেই সময়ের জন্য ঈশ্বরের সৌন্দর্য দেখতে পাই না, যদি না আমরা তার সাথে অনুতাপের সাথে, তার প্রতি মমতার সাথে এবং তার জন্য ঈশ্বরের প্রতি পবিত্র আকাঙ্ক্ষার সাথে তাদের দেখতে পাই। কারণ এটি ছাড়া, যে তাদের দেখে সেই আত্মাকে তা ক্ষতি করে, উদ্বিগ্ন করে ও বাধা দেয়। কারণ আমি মমতার দর্শনে এটি বুঝেছিলাম।
* '''আমাদের প্রভুর এই আনন্দময় দর্শনে আমি দুটি বিপরীত জিনিসের বোধ পেয়েছি: একটি হলো এই জীবনে কোনো প্রাণীর সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা, অন্যটি হলো সবচেয়ে বড় মূর্খতা।''' সবচেয়ে বড় প্রজ্ঞা হলো একটি প্রাণীর তার সর্বোচ্চ সার্বভৌম বন্ধুর ইচ্ছা ও পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা। এই ধন্য বন্ধু হলেন যিশু, এবং এটি তাঁর ইচ্ছা ও তাঁর পরামর্শ যে আমরা তাঁর সাথে থাকি, এবং তাঁর সাথে আপন হয়ে লেগে থাকি। চিরকাল, আমরা যে অবস্থাতেই থাকি না কেন। কারণ আমরা অপরিষ্কার বা পরিষ্কার যাই হই না কেন, তাঁর ভালোবাসায় আমরা সবাই এক। সুখ বা দুঃখের জন্য তিনি কখনোই চান না যেন আমরা তাঁর থেকে পালাই। কিন্তু আমাদের নিজেদের যে পরিবর্তনশীলতা আছে তার কারণে, আমরা প্রায়শই পাপে পড়ি। তখন আমাদের শত্রুর তাড়নায় এবং আমাদের নিজস্ব মূর্খতা ও অন্ধত্বের কারণে এটি ঘটে: কারণ তারা এভাবে বলে: ''তুমি দেখছ যে তুমি একজন জঘন্য প্রাণী, একজন পাপী, এবং অবিশ্বস্তও। কারণ তুমি আদেশ পালন করছ না; তুমি বারবার আমাদের প্রভুর কাছে প্রতিজ্ঞা করছ যে তুমি ভালো হবে, এবং তারপরেই, তুমি আবার একই পাপে পড়ছ, বিশেষ করে অলসতা ও সময় নষ্ট করায়।'' কারণ আমার দৃষ্টিতে এটিই পাপের শুরু এবং বিশেষ করে সেই প্রাণীদের জন্য যারা তাদের ধন্য কল্যাণের অভ্যন্তরীণ দর্শনের সাথে আমাদের প্রভুর সেবা করতে নিজেদের দিয়েছে। এবং এটি আমাদের আমাদের সৌজন্যশীল প্রভুর সামনে উপস্থিত হতে ভয় দেখায়। '''এভাবেই আমাদের শত্রু আমাদের তার মিথ্যা ভয় দিয়ে, আমাদের জঘন্যতার, সেই বেদনা দিয়ে যা সে আমাদের হুমকি দেয়, পিছিয়ে দিতে চায়। কারণ তার অর্থ হলো আমাদের এত ভারাক্রান্ত ও ক্লান্ত করা, যেন আমাদের চিরন্তন বন্ধুর সুন্দর, আনন্দময় দর্শন মন থেকে মুছে ফেলি।'''
=== অধ্যায় ৭৭ ===
* '''আমাদের ভালো প্রভু শয়তানের শত্রুতা দেখালেন: যে দর্শনে আমি বুঝলাম যে ভালোবাসা ও শান্তির বিপরীত সবকিছুই শয়তানের ও তার অংশের।''' এবং আমাদের, আমাদের দুর্বলতা ও মূর্খতার কারণে, পড়ার প্রবণতা আছে। এবং আমাদের, পবিত্র আত্মার দয়া ও কৃপার কারণে, আরও আনন্দে ওঠার সুযোগ আছে।
* আসুন আমাদের চিন্তায় এভাবে বলি: ''আমি জানি আমার তীব্র বেদনা আছে। কিন্তু আমাদের প্রভু সর্বশক্তিমান এবং আমাকে শক্তভাবে শাস্তি দিতে পারেন এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং আমাকে বুঝেশুনে শাস্তি দিতে পারেন; এবং তিনি সর্ব-কল্যাণ এবং আমাকে খুব কোমলভাবে ভালোবাসেন।'' এবং এই দর্শনে আমাদের অবস্থান করা প্রয়োজন। কারণ এটি একটি পাপী আত্মার প্রেমময় নম্রতা, যা পবিত্র আত্মার দয়া ও কৃপায় তৈরি, যখন আমরা স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে আমাদের প্রভুর চাবুক ও শাসন গ্রহণ করি যা তিনি নিজে আমাদের দেবেন। এবং এটি খুব কোমল ও সহজ হবে, যদি আমরা কেবল তাঁর সাথে এবং তাঁর সমস্ত কাজের সাথে সন্তুষ্ট থাকি।
* মানুষ নিজে যে প্রায়শ্চিত্ত গ্রহণ করে তা আমাকে দেখানো হয়নি: অর্থাৎ, তা নির্দিষ্ট করে দেখানো হয়নি। কিন্তু বিশেষভাবে ও উঁচুমানে এবং খুব প্রেমময় দৃষ্টিতে এটি দেখানো হয়েছিল যে, আমাদের নম্রভাবে বহন করতে হবে ও সহ্য করতে হবে সেই প্রায়শ্চিত্ত যা ঈশ্বর নিজে আমাদের দেন, তাঁর ধন্য দুঃখভোগের স্মরণের সাথে।
* তিনি বলেন:''' ''নিজেকে খুব বেশি দোষ দিও না, এই ভেবে যে তোমার কষ্ট ও তোমার শোক সব তোমার দোষের জন্য। কারণ আমি চাই না তুমি অবিবেচকের মতো ভারাক্রান্ত বা শোকাহত হও। কারণ আমি তোমাকে বলি, তুমি যা-ই করো না কেন, তোমার দুঃখ থাকবেই। এবং তাই আমি চাই তুমি বুদ্ধিমত্তার সাথে তোমার প্রায়শ্চিত্ত জানো; এবং সত্যে দেখবে যে তোমার সমস্ত জীবনই লাভজনক প্রায়শ্চিত্ত।'' '''
* এই স্থানটি কারাগার এবং এই জীবনটি প্রায়শ্চিত্ত, এবং প্রতিকারে তিনি চান যেন আমরা আনন্দ করি। প্রতিকার হলো আমাদের প্রভু আমাদের সাথে আছেন, রক্ষা করছেন এবং আনন্দের পূর্ণতায় নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ আমাদের প্রভুর ইঙ্গিতে এটি আমাদের জন্য এক অন্তহীন আনন্দ, যে তিনি, যিনি আমাদের সুখ হবেন যখন আমরা সেখানে থাকব, তিনিই আমাদের রক্ষক যখন আমরা এখানে আছি। আমাদের পথ ও আমাদের স্বর্গ হলো প্রকৃত ভালোবাসা ও নিশ্চিত ভরসা এবং এর সবকিছুর বিষয়ে তিনি বোধ দিয়েছেন এবং বিশেষ করে দুঃখভোগের দর্শনে যেখানে তিনি আমাকে আমার স্বর্গ হিসেবে তাঁকে বেছে নিতে শক্তভাবে উৎসাহিত করেছেন।
* আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু চান যেন আমরা তাঁর সাথে এতটাই আপন হই যতটা হৃদয় ভাবতে পারে বা আত্মা আকাঙ্ক্ষা করতে পারে। কিন্তু সাবধান, আমরা যেন এই আপনতাকে এত বেপরোয়াভাবে না নিই যে সৌজন্য হারিয়ে ফেলি। কারণ আমাদের প্রভু নিজে পরম আপনতা, এবং তিনি যতটা আপন, ততটাই সৌজন্যশীল: কারণ তিনি সত্যই সৌজন্যশীল। এবং ধন্য প্রাণীরা যারা চিরকাল তাঁর সাথে স্বর্গে থাকবে, তিনি চান তারা যেন সব কিছুতে তাঁর মতো হয়। এবং আমাদের প্রভুর মতো পুরোপুরি হওয়া, তা-ই আমাদের প্রকৃত পরিত্রাণ ও আমাদের পূর্ণ আনন্দ।
=== অধ্যায় ৭৮ ===
* আমাদের প্রভু তাঁর দয়া ও কৃপার মিষ্টি আলোতে আমাদের পাপ ও দুর্বলতা দেখান। কারণ আমাদের পাপ এতটাই জঘন্য ও ভয়াবহ যে তিনি তাঁর সৌজন্যে তা আমাদের সামনে দেখাবেন না যদি না তাঁর কৃপা ও দয়ার আলোতে।
* তাই চারটি জিনিসের জ্ঞান তাঁর ইচ্ছা: প্রথমটি হলো, তিনি আমাদের ভিত্তি যার থেকে আমরা আমাদের সমস্ত জীবন ও অস্তিত্ব পাই। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি আমাদের পাপের সময়ে এবং আমাদের সমস্ত শত্রুদের মাঝে, যারা আমাদের ওপর খুব ক্রুদ্ধ, আমাদের শক্তভাবে ও দয়াপূর্বক রক্ষা করেন; এবং আমরা এতটাই বেশি বিপদে আছি কারণ আমরা তাদের সুযোগ দিই, এবং আমাদের নিজস্ব প্রয়োজন জানি না। তৃতীয়টি হলো, তিনি কত সৌজন্যের সাথে আমাদের রক্ষা করেন, এবং ''আমাদের জানতে সাহায্য করেন'' যে আমরা ভুল পথে চলছি। চতুর্থটি হলো, তিনি কত অটলভাবে আমাদের জন্য অপেক্ষা করেন এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেন না। কারণ তিনি চান যেন আমরা পরিবর্তিত হই এবং ভালোবাসায় তাঁর সাথে একীভূত হই যেমন তিনি আমাদের সাথে।
* এভাবেই এই কৃপাপূর্ণ জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা হতাশ না হয়ে লাভজনকভাবে আমাদের পাপ দেখতে পারি।
* আমাদের প্রভু আমাদের যা দেখান তার কম দর্শনের মাধ্যমে, যা আমরা দেখি না তা আরও বেশি গণনা করা হয়। কারণ তিনি তাঁর সৌজন্যে আমাদের দর্শন পরিমাপ করেন। কারণ এটি এতটাই জঘন্য ও ভয়াবহ যে আমরা তা যেভাবে আছে সেভাবে সহ্য করতে পারতাম না।
* আমি শিখলাম যে যদিও আমরা আমাদের প্রভুর বিশেষ উপহার দ্বারা ধ্যানের জন্য উঁচুতে উত্তোলিত হই, তবুও আমাদের পাপ ও দুর্বলতার জ্ঞান ও দর্শন থাকা প্রয়োজন। কারণ এই জ্ঞান ছাড়া আমাদের প্রকৃত নম্রতা থাকতে পারে না, এবং এটি ছাড়া আমরা রক্ষা পেতে পারি না। <br> এবং পরে, আমি আরও দেখলাম যে আমরা এই জ্ঞান আমাদের নিজেদের থেকে পেতে পারি না। আমাদের কোনো আধ্যাত্মিক শত্রুর থেকেও না। কারণ তারা আমাদের এত বড় মঙ্গল চায় না। কারণ যদি তা তাদের ইচ্ছা হতো, তবে আমাদের শেষ দিন পর্যন্ত আমরা তা দেখতাম না। তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছে বড়ই ঋণী যে তিনি নিজে, ভালোবাসার জন্য, দয়া ও কৃপার সময়ে এটি আমাদের দেখাবেন।
=== অধ্যায় ৭৯ ===
* তিনি যে আমাকে দেখালেন যে আমি পাপ করব, আমি তা কেবল আমার নিজের একক ব্যক্তির জন্য নিলাম, কারণ সেই সময়ে আমি অন্য কিছু দেখানো হয়নি। কিন্তু আমাদের প্রভুর মহান, কৃপাপূর্ণ সান্ত্বনার দ্বারা যা পরে এসেছিল, আমি দেখলাম যে তাঁর অর্থ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য: অর্থাৎ, সব-মানুষ; যে পাপী এবং শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে। যার আমি একজন সদস্য, যেমন আমি আশা করি, ঈশ্বরের দয়ায়। কারণ আমি যে ধন্য সান্ত্বনা দেখেছি, তা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট। '''এবং এখানে আমি শিখলাম যে আমার নিজের পাপ দেখা উচিত, এবং অন্য মানুষের পাপ নয় যদি না তা আমার সহ-খ্রিষ্টানদের সান্ত্বনা ও সাহায্যের জন্য হয়।'''
* এছাড়া একই দর্শনে যেখানে আমি দেখলাম যে আমি পাপ করব, সেখানে আমি নিজেকে অনিশ্চয়তার জন্য ভয় পেতে শিখলাম। কারণ আমি জানি না আমি কীভাবে পড়ব, বা আমি পাপের পরিমাণ বা মহানতা জানি না। কারণ আমি তা ভয়ের সাথে জানতে চেয়েছিলাম, এবং তার জন্য আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না। <br> এছাড়া আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু একই সময়ে তাঁর ভালোবাসার অন্তহীনতা ও অপরিবর্তনীয়তা খুব নিশ্চিতভাবে ও শক্তভাবে দেখালেন; এবং, পরে, যে তাঁর মহান কল্যাণ ও তাঁর কৃপা অভ্যন্তরীণভাবে রক্ষা করায়, তাঁর ভালোবাসা ও আমাদের আত্মা কখনোই দুই ভাগে বিভক্ত হবে না, চিরকাল। <br> এবং এভাবেই এই ভয়ে আমার নম্রতার সামগ্রী আছে যা আমাকে অহংকার থেকে বাঁচায়, এবং ভালোবাসার ধন্য দর্শনে আমার প্রকৃত সান্ত্বনা ও আনন্দের সামগ্রী আছে যা আমাকে হতাশা থেকে বাঁচায়।
* তিনি চান যেন আমরা তাঁর মাধুর্য ও আপন ভালোবাসার মাধ্যমে জানি যে, আমরা ভেতরে বা বাইরে যা কিছু দেখি বা অনুভব করি, যা এর বিপরীত তা শত্রুর এবং ঈশ্বরের নয়। এবং এভাবেই যদি আমরা আমাদের জীবন বা আমাদের হৃদয়ের রক্ষার ব্যাপারে আরও বেপরোয়া হতে অনুপ্রাণিত হই কারণ আমরা এই প্রচুর ভালোবাসার জ্ঞান পেয়েছি। তবে আমাদের খুব সাবধান হতে হবে। কারণ এই অনুপ্রেরণা, যদি আসে, তা সত্য নয় এবং আমাদের এটিকে ঘৃণা করা উচিত, কারণ এর সবকিছুর ঈশ্বরের ইচ্ছার সাথে কোনো মিল নেই। এবং যখন আমরা পড়ি, দুর্বলতা বা অন্ধত্বে, তখন আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আমাদের স্পর্শ করেন ও অনুপ্রাণিত করেন ও ডাকেন এবং তখন তিনি চান যেন আমরা আমাদের জঘন্যতা দেখি এবং নম্রভাবে তা সচেতন হই। কিন্তু তিনি চান না যে আমরা এভাবে থাকি, না তিনি চান যে আমরা আমাদের অভিযোগের ব্যাপারে খুব ব্যস্ত থাকি, না তিনি চান যে আমরা নিজেদের নিয়ে জঘন্য হই। কিন্তু তিনি চান যেন আমরা দ্রুত নিজেদের তাঁর দিকে ফেরাই। কারণ তিনি সব দূরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং শোকাতুর ও দুঃখিত হয়ে অপেক্ষা করেন যতক্ষণ না আমরা আসি এবং আমাদের তাঁর কাছে পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেন। কারণ আমরাই তাঁর আনন্দ ও তাঁর সুখ এবং তিনি আমাদের মলম ও আমাদের জীবন।
=== অধ্যায় ৮০ ===
* তিনটি জিনিসের মাধ্যমে মানুষ এই জীবনে দাঁড়িয়ে থাকে। যার মাধ্যমে তিনটি ঈশ্বর পূজিত হন, এবং আমরা দ্রুতগতিতে, সংরক্ষিত ও রক্ষিত হই। <br> প্রথমটি হলো মানুষের স্বাভাবিক যুক্তির ব্যবহার। দ্বিতীয়টি হলো পবিত্র গির্জার সাধারণ শিক্ষা। তৃতীয়টি হলো পবিত্র আত্মার অভ্যন্তরীণ কৃপাপূর্ণ কাজ। এবং এই তিনটিই এক ঈশ্বরের: ঈশ্বর আমাদের স্বাভাবিক যুক্তির ভিত্তি এবং ঈশ্বর, পবিত্র গির্জার শিক্ষা এবং ঈশ্বর হলেন পবিত্র আত্মা। এবং সব ভিন্ন ভিন্ন উপহার যার প্রতি তিনি চান যেন আমরা বড় মনোযোগ দিই, এবং তার প্রতি মনোযোগী হই। কারণ এগুলো আমাদের মধ্যে অবিরাম একসাথে কাজ করে এবং এগুলো মহান জিনিস।
* তিনি এখানে আমাদের সাথে বাস করেন এবং এই জীবনে আমাদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তাঁর আনন্দে নিয়ে আসেন। এবং তিনি তা করবেন যতদিন পৃথিবীতে কোনো আত্মা থাকবে যে স্বর্গে আসবে এবং এতটাই যে যদি এমন কোনো আত্মা না থাকত কিন্তু একজন, তবে তিনি তার সাথে একা থাকতেন যতক্ষণ না তাকে তাঁর আনন্দে নিয়ে আসতেন।
* '''আমি ফেরেশতাদের পরিচর্যায় বিশ্বাস করি ও বুঝি, যেমন যাজকরা আমাদের বলেন: কিন্তু তা আমাকে দেখানো হয়নি। কারণ তিনি নিজেই নিকটতম ও নম্রতম, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন, এবং সব করেন।''' এবং কেবল আমাদের যা প্রয়োজন তা-ই নয় বরং তিনি সব করেন যা পূজনীয়, স্বর্গে আমাদের আনন্দের জন্য।
* যেখানে আমি বলি যে তিনি শোকাতুর ও আর্তনাদ করে অপেক্ষা করেন, তার অর্থ হলো সেই সমস্ত প্রকৃত অনুভূতি যা ''আমাদের'' নিজেদের মধ্যে আছে, অনুতাপ ও মমতায়, এবং সমস্ত শোক ও আর্তনাদ যে আমরা আমাদের প্রভুর সাথে একীভূত নই। এবং এই সমস্ত যা দ্রুতগতিতে কাজ করে, তা আমাদের মধ্যে খ্রিষ্ট। এবং যদিও আমাদের কেউ কেউ তা খুব কম অনুভব করে, তা খ্রিষ্ট থেকে কখনোই দূরে সরে যায় না যতক্ষণ না তিনি আমাদের সমস্ত বেদনা থেকে বের করে আনেন। '''কারণ ভালোবাসা কখনোই মমতা ছাড়া থাকতে পারে না।'''
=== অধ্যায় ৮১ ===
[[File:Image of Julian of Norwich.jpg|thumb|আমাদের ভালো ঈশ্বর নিজেকে বিভিন্ন ভাবে দেখিয়েছেন স্বর্গে ও পৃথিবীতে, কিন্তু আমি দেখলাম তিনি মানুষের আত্মা ছাড়া আর কোনো স্থান নেননি।]]
* '''আমাদের ভালো প্রভু নিজেকে বিভিন্ন ভাবে দেখিয়েছেন স্বর্গে ও পৃথিবীতে, কিন্তু আমি দেখলাম তিনি মানুষের আত্মায় ছাড়া আর কোনো স্থান নেননি।''' <br> তিনি পৃথিবীতে নিজেকে দেখিয়েছেন মিষ্টি অবতাররূপে এবং তাঁর ধন্য দুঃখভোগে। এবং অন্য ভাবে তিনি নিজেকে পৃথিবীতে দেখিয়েছেন যেখানে আমি বলি: ''আমি ঈশ্বরকে একটি বিন্দুতে দেখলাম''। এবং অন্য ভাবে তিনি নিজেকে পৃথিবীতে দেখিয়েছেন এইভাবে যেন তীর্থযাত্রায়: অর্থাৎ, '''তিনি এখানে আমাদের সাথে আছেন, আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এবং থাকবেন যতক্ষণ না তিনি আমাদের সবাইকে স্বর্গে তাঁর আনন্দে নিয়ে আসছেন।''' তিনি নিজেকে বিভিন্ন সময়ে রাজত্ব করতে দেখিয়েছেন, যেমনটি উপরে বলা হয়েছে; কিন্তু প্রধানত মানুষের আত্মায়। তিনি সেখানে তাঁর বিশ্রামের স্থান ও তাঁর পূজনীয় নগরী নিয়েছেন: যে পূজনীয় আসন থেকে তিনি কখনোই উঠবেন না বা সরবেন না চিরকাল।
* চমৎকার ও রাজকীয় সেই স্থান যেখানে প্রভু বাস করেন, এবং তাই তিনি চান যেন আমরা তাঁর কৃপাপূর্ণ স্পর্শে দ্রুত সাড়া দিই, আমাদের ঘন ঘন পতনে শোক করার চেয়ে তাঁর অখণ্ড ভালোবাসায় বেশি আনন্দ করি। কারণ এটি তাঁর কাছে আমাদের যেকোনো কাজের চেয়ে সবচেয়ে বড় পূজা যে, আমরা আমাদের প্রায়শ্চিত্তে, তাঁর ভালোবাসার জন্য, আনন্দ ও খুশিতে বেঁচে থাকি। '''কারণ তিনি আমাদের এতটাই কোমলভাবে দেখেন যে তিনি আমাদের সমস্ত জীবনকে একটি প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে দেখেন:''' কারণ আমাদের মধ্যে প্রকৃতির আকাঙ্ক্ষা তাঁর কাছে আমাদের মধ্যে চিরস্থায়ী প্রায়শ্চিত্ত: যে প্রায়শ্চিত্ত তিনি আমাদের মধ্যে কাজ করেন এবং দয়াপূর্বক তিনি তা বহন করতে আমাদের সাহায্য করেন। কারণ তাঁর ভালোবাসা ''তাঁকে'' আকাঙ্ক্ষা করতে বাধ্য করে; তাঁর প্রজ্ঞা ও তাঁর সত্য তাঁর ন্যায্যতার সাথে ''তাঁকে'' আমাদের এখানে সহ্য করতে বাধ্য করে: এবং একই ভাবে তিনি আমাদের মধ্যে তা দেখতে চান।
* '''তিনি চান যেন আমরা আমাদের হৃদয়গুলোকে অতিক্রমের ওপর স্থাপন করি: অর্থাৎ, আমরা যে বেদনা অনুভব করি তা থেকে আমরা যে আনন্দের ওপর ভরসা করি তাতে।'''
=== অধ্যায় ৮২ ===
[[File:Taijitu polarity.PNG|thumb|এখানে আমি বুঝেছিলাম যে প্রভু সেবককে মমতার সাথে দেখেন এবং দোষের সাথে নয়।]]
[[File:Blake jacobsladder.jpg|thumb|যদি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রেমিক থাকে যে পতনের হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষা পায়, তবে আমি তা জানি না। কারণ তা আমাকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এটি দেখানো হয়েছিল: যে পতনে ও উত্থানে আমরা চিরকাল এক ভালোবাসায় মূল্যবানভাবে সংরক্ষিত।]]
* '''কিন্তু এখানে আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আত্মার আর্তনাদ ও শোক দেখালেন, এইভাবে নির্দেশ করে: আমি ভালো জানি তুমি আমার ভালোবাসার জন্য বাঁচতে চাও, আনন্দের সাথে ও খুশিতে সেই সমস্ত প্রায়শ্চিত্ত সহ্য করে যা তোমার কাছে আসতে পারে; কিন্তু যেহেতু তুমি পাপ ছাড়া বাঁচো না, তুমি আমার ভালোবাসার জন্য সহ্য করতে চাইতে, সমস্ত দুঃখ, সমস্ত কষ্ট ও দুর্দশা যা তোমার কাছে আসতে পারে। এবং তা সত্য।''' কিন্তু তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে পাপ তোমার ওপর পড়ে তা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হয়ো না। <br> '''এবং এখানে আমি বুঝলাম যে প্রভু সেবককে মমতার সাথে দেখেন এবং দোষের সাথে নয়।''' কারণ এই ক্ষণস্থায়ী জীবন সব দোষ ও পাপ ছাড়া বাঁচার দাবি করে না।
* '''যদি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রেমিক থাকে যে পতনের হাত থেকে ক্রমাগত রক্ষা পায়, তবে আমি তা জানি না। কারণ তা আমাকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এটি দেখানো হয়েছিল। যে পতনে ও উত্থানে আমরা চিরকাল এক ভালোবাসায় মূল্যবানভাবে সংরক্ষিত।''' কারণ ঈশ্বরের দর্শনে আমরা পড়ি না, এবং নিজেদের দর্শনে আমরা দাঁড়াই না এবং আমার দৃষ্টিতে এই উভয়ই সত্য। কিন্তু আমাদের প্রভু ঈশ্বরের দর্শন হলো সর্বোচ্চ সত্য। তাহলে আমরা ঈশ্বরের কাছে খুব ঋণী যে তিনি এই জীবনে আমাদের এই উচ্চ সত্য দেখাতে চান। এবং আমি বুঝলাম যে আমরা যখন এই জীবনে থাকি, আমাদের জন্য খুব দ্রুতগতিতে কাজ করে যে আমরা একই সাথে এই দুটি দেখি। কারণ উচ্চতর দর্শন আমাদের আধ্যাত্মিক শান্তি ও ঈশ্বরে প্রকৃত আনন্দে রাখে। অন্যটি যা নিম্নতর দর্শন তা আমাদের ভয়ে রাখে এবং নিজেদের নিয়ে লজ্জিত করে। কিন্তু আমাদের ভালো প্রভু সবসময় চান যেন আমরা উচ্চতর দর্শনে নিজেদের অনেক বেশি রাখি, এবং নিম্নতর দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান ত্যাগ না করি, যতক্ষণ না আমরা ওপরে উঠে আসি, যেখানে আমরা আমাদের প্রভু যিশুকে আমাদের পুরস্কার হিসেবে পাব এবং চিরকাল আনন্দ ও সুখে পূর্ণ হব।
=== অধ্যায় ৮৩ ===
* আমি ঈশ্বরের তিনটি বৈশিষ্ট্যের স্পর্শ, দর্শন ও অনুভূতি কিছুটা পেয়েছিলাম, যার মধ্যে সমস্ত প্রত্যাদেশের শক্তি ও প্রভাব দাঁড়িয়ে আছে: এবং তারা প্রতিটি দর্শনে দেখা গিয়েছিল, এবং দ্বাদশ দর্শনে সবচেয়ে যথাযথভাবে, যেখানে এটি বারবার বলে: '''বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: জীবন, ভালোবাসা এবং আলো।''' জীবনে আছে চমৎকার আপনতা, এবং ভালোবাসায় আছে ভদ্র সৌজন্য, এবং আলোতে আছে অন্তহীন প্রকৃতি-সত্তা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি কল্যাণে ছিল: যে কল্যাণের সাথে আমার যুক্তি একীভূত হতে চাইত, এবং তার সমস্ত শক্তি দিয়ে তা আঁকড়ে ধরতে চাইত।
* আমি শ্রদ্ধাশীল ভয়ে তাকালাম, এবং মিষ্টি ঐক্যের দর্শন ও অনুভূতির মধ্যে খুব বিস্মিত হলাম, যে আমাদের যুক্তি ঈশ্বরের মধ্যে আছে; বুঝে যে এটি আমাদের পাওয়া সর্বোচ্চ উপহার; এবং এটি প্রকৃতিতে ভিত্তি করা।
* আমাদের বিশ্বাস আমাদের অন্তহীন দিন থেকে প্রকৃতিগতভাবে আসা একটি আলো, যিনি আমাদের পিতা, ঈশ্বর। যে আলোতে আমাদের মা, খ্রিষ্ট, এবং আমাদের ভালো প্রভু, পবিত্র আত্মা, আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে নেতৃত্ব দেন। '''এই আলোটি বিচক্ষণতার সাথে পরিমাপ করা হয়, রাতে আমাদের জন্য প্রয়োজনের সাথে দাঁড়িয়ে। আলো আমাদের জীবনের কারণ৷ রাত আমাদের বেদনা ও আমাদের সমস্ত দুঃখের কারণ: যে রাতে আমরা ঈশ্বরের পুরস্কার ও ধন্যবাদ অর্জন করি।''' কারণ আমরা, দয়া ও কৃপার সাথে, অটলভাবে আমাদের আলোকে জানি ও বিশ্বাস করি, তাতে বুদ্ধিমত্তার সাথে ও শক্তভাবে চলি।
* এভাবেই আমি দেখলাম ও বুঝলাম যে আমাদের বিশ্বাস আমাদের রাতে আমাদের আলো: যে আলো হলো ঈশ্বর, আমাদের অন্তহীন দিন।
=== অধ্যায় ৮৪ ===
* '''আলো হলো দাতব্য, এবং এই আলোর পরিমাপ আমাদের জন্য ঈশ্বরের প্রজ্ঞা দ্বারা লাভজনকভাবে করা হয়।''' কারণ আলো এত বড় নয় যে আমরা আমাদের আনন্দময় দিন দেখতে পাই, আবার এটি আমাদের থেকে বন্ধও নয়; বরং এটি এমন একটি আলো যাতে আমরা পুরস্কারের যোগ্যভাবে বাঁচতে পারি, পরিশ্রমের সাথে ঈশ্বরের অন্তহীন পূজার যোগ্য হয়ে।
* '''দাতব্য আমাদের বিশ্বাস ও আশায় রাখে, এবং আশা আমাদের দাতব্য কাজে নেতৃত্ব দেয়। এবং শেষে সবকিছুই হবে দাতব্য।'''
* আমি এই আলো, দাতব্যের তিন ধরণের বোধ পেয়েছিলাম। প্রথমটি হলো অনির্মিত দাতব্য; দ্বিতীয়টি হলো নির্মিত দাতব্য। তৃতীয়টি হলো প্রদত্ত দাতব্য। অনির্মিত দাতব্য হলো ঈশ্বর। নির্মিত দাতব্য হলো ঈশ্বরে আমাদের আত্মা। প্রদত্ত দাতব্য হলো গুণ। এবং তা কাজের এক মূল্যবান উপহার যাতে আমরা ঈশ্বরকে ভালোবাসি, তাঁর নিজের জন্য; এবং নিজেদের, ঈশ্বরের মধ্যে এবং যা ঈশ্বর ভালোবাসেন, ঈশ্বরের জন্য।
=== অধ্যায় ৮৫ ===
* এই দর্শনে আমি খুব বিস্মিত হলাম। কারণ আমাদের সহজ জীবন ও আমাদের অন্ধত্ব থাকা সত্ত্বেও, চিরকাল আমাদের সৌজন্যশীল প্রভু আমাদের এই কাজে দেখেন, আনন্দে এবং সবকিছুর মধ্যে, আমরা তাঁকে বিশ্বাস করতে এবং তাঁর সাথে ও তাঁর মধ্যে আনন্দ করতে সবচেয়ে ভালো প্রজ্ঞার সাথে ও সত্যভাবে সন্তুষ্ট করতে পারি। কারণ আমরা যেমন চিরকাল ঈশ্বরের আনন্দে থাকব, তাঁকে প্রশংসা ও ধন্যবাদ দিয়ে, ঠিক তেমনই আমরা ঈশ্বরের দূরদৃষ্টিতে আছি, তাঁর অন্তহীন উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই পরিচিত ও সমাদৃত। যে অনাদি ভালোবাসায় তিনি আমাদের তৈরি করেছেন এবং একই ভালোবাসায় তিনি আমাদের রক্ষা করেন এবং কখনোই আমাদের আঘাত পেতে দেন না যার দ্বারা আমাদের আনন্দ হারিয়ে যেতে পারে। '''এবং তাই যখন বিচার দেওয়া হয় এবং আমরা সবাই ওপরে উঠে আসি, তখন আমরা স্পষ্টভাবে ঈশ্বরের মধ্যে গোপন জিনিসগুলো দেখতে পাব যা এখন আমাদের কাছে লুকানো আছে।''' তখন আমাদের কেউই কোনোভাবে বলতে অনুপ্রাণিত হব না: ''প্রভু, যদি এমন হতো, তবে তা খুব ভালো হতো'' বরং আমরা সবাই এক স্বরে বলব: ''প্রভু, তুমি ধন্য হও, কারণ এটি এমন: এটি ভালো; এবং এখন আমরা সত্যভাবে দেখছি যে সবকিছুই করা হয়েছে যেমনটি তখন নির্ধারিত ছিল কোনো কিছু তৈরি হওয়ার আগে।''
=== অধ্যায় ৮৬ ===
[[File:Double-alaskan-rainbow.jpg|thumb|তুমি কি এই বিষয়ে তোমার প্রভুর অর্থ জানতে চাও? ভালো করে জানো: ভালোবাসা ছিল তাঁর অর্থ। কে তোমাকে এটি দেখিয়েছে? ভালোবাসা। তিনি তোমাকে কী দেখিয়েছেন? ভালোবাসা। কেন তিনি এটি দেখিয়েছেন? ভালোবাসার জন্য। এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো এবং তুমি একই বিষয়ে আরও শিখবে ও জানবে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্য কিছু জানবে না বা শিখবে না। এভাবেই আমি শিখলাম যে ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রভুর অর্থ।]]
* এই বইটি ঈশ্বরের উপহার ও তাঁর কৃপা দ্বারা শুরু হয়েছে, কিন্তু তা এখনও সম্পন্ন হয়নি, আমার দৃষ্টিতে।
* '''দাতব্যের জন্য আমরা সবাই প্রার্থনা করি'''। ঈশ্বরের কাজের সাথে, ধন্যবাদ দিয়ে, ভরসা করে, আনন্দ করে। কারণ এভাবেই আমাদের ভালো প্রভু প্রার্থনা পেতে চান, আমার নেওয়া তাঁর নিজস্ব অর্থ ও মিষ্টি শব্দগুলোর বোধ অনুযায়ী যেখানে তিনি খুব আনন্দের সাথে বলেন: '''''আমিই তোমার প্রার্থনার ভিত্তি।'''''' কারণ আমি সত্যই আমাদের প্রভুর অর্থে দেখলাম ও বুঝলাম যে তিনি এটি দেখালেন কারণ তিনি চান যেন তা পরিচিত হোক যতটা এখন আছে তার চেয়ে বেশি: যে জ্ঞানে তিনি আমাদের কৃপা দেবেন যেন আমরা তাঁকে ভালোবাসি এবং তাঁকে আঁকড়ে ধরি। কারণ তিনি তাঁর স্বর্গীয় সম্পদকে পৃথিবীতে এত মহান ভালোবাসার সাথে দেখেন যে তিনি চান যেন আমাদের আরও আলো ও স্বর্গীয় আনন্দে সান্ত্বনা দেন, আমাদের হৃদয় গুলোকে তাঁর দিকে টেনে নেওয়ার জন্য, যে দুঃখ ও অন্ধকারের মধ্যে আমরা আছি।
* সেই সময় থেকে যখন এটি দেখানো হয়েছিল, আমি অনেকবার জানতে চেয়েছিলাম আমাদের প্রভুর অর্থ কী ছিল। এবং পনেরো বছর পর, এবং আরও বেশি, আমাকে আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে উত্তর দেওয়া হয়েছিল, এভাবে বলে: ''তুমি কি এই বিষয়ে তোমার প্রভুর অর্থ জানতে চাও? ভালো করে জানো: '''ভালোবাসা ছিল তাঁর অর্থ'''। কে তোমাকে এটি দেখিয়েছে? '''ভালোবাসা'''। তিনি তোমাকে কী দেখিয়েছেন? '''ভালোবাসা'''। কেন তিনি এটি দেখিয়েছেন? '''ভালোবাসার জন্য'''। এর মধ্যে নিজেকে স্থির রাখো এবং তুমি একই বিষয়ে আরও শিখবে ও জানবে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্য কিছু জানবে না বা শিখবে না।'' '''এভাবেই আমি শিখলাম যে ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রভুর অর্থ।'''
* '''আমি খুব নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে ঈশ্বর আমাদের তৈরি করার আগে তিনি আমাদের ভালোবাসতেন। যে ভালোবাসা কখনোই কমে যায়নি, বা কখনোই যাবে না। এবং এই ভালোবাসায় তিনি তাঁর সমস্ত কাজ করেছেন এবং এই ভালোবাসায় তিনি আমাদের জন্য সমস্ত কিছু লাভজনক করেছেন এবং এই ভালোবাসায় আমাদের জীবন চিরন্তন। আমাদের তৈরির মধ্যে আমাদের শুরু ছিল। কিন্তু যে ভালোবাসায় তিনি আমাদের তৈরি করেছেন তা তাঁর মধ্যে ছিল শুরু ছাড়াই: যে ভালোবাসায় আমাদের শুরু আছে। এবং এই সবকিছু আমরা ঈশ্বরে দেখব, শেষ ছাড়াই।'''
== নরিচের জুলিয়ান সম্পর্কে উক্তি ==
* '''নরিচের ঘণ্টা বাজে জোরে, মানুষ আসে আর যায়। <br /> জুলিয়ানের এই মিনারের পাশে, যা জানি তা বলি তাই।'''
** সিডনি কার্টার, "জুলিয়ান অফ নরিচ" (১৯৮৩) গানে। এটি "দ্য বেলস অফ নরিচ" নামেও পরিচিত।
*** [https://www.youtube.com/watch?v=I-irwWT3oYg গর্ডন বক, অ্যান মায়ো মুইর ও এড ট্রিকিটের রেকর্ড করা সংস্করণ]
*** [https://www.youtube.com/watch?v=I8vK2jK-UsI সং-আ-ডে প্রজেক্ট (১৯ জুলাই, ২০১১) - বেলস অফ নরিচ]
*** [https://www.youtube.com/watch?v=s-sTbvkY_l4 অ্যালবিয়ন ক্রিসমাস ব্যান্ডের পরিবেশনায়, কার্টার ও জুলিয়ানকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত ভূমিকা সহ]
== বহিঃসংযোগ ==
{{wikipedia|জুলিয়ান অফ নরিচ}}
{{commonscat|Julian of Norwich}}
* [http://www.umilta.net/julian.html দ্য জুলিয়ান সাইট]
* [http://www.luminarium.org/medlit/julian.htm লুমিনারিয়াম: জুলিয়ান অফ নরিচ]
* [http://www.newadvent.org/cathen/08557a.htm ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়ায় নরিচের জুলিয়ান বিষয়ক নিবন্ধ]
* ''[http://www.ccel.org/j/julian/revelations/index.html রিভেলেশন্স অব ডিভাইন লাভ]'', বিভিন্ন ফরম্যাটে
* ''[http://www.umilta.net/hertexts.html জুলিয়ান অফ নরিচ, টেক্সটস]'', 'জুলিয়ান অফ নরিচ, হার টেক্সটস অ্যান্ড কনটেক্সট' ওয়েবসাইটের একটি অংশ
* [http://www.poetseers.org/spiritual_and_devotional_poets/christian/julian মাদার জুলিয়ান অফ নরিচ] - নির্বাচিত প্রার্থনা ও কবিতা
[[বিষয়শ্রেণী:অকাল্পনিক সাহিত্য লেখক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ধন্য ব্যক্তি]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের ক্যাথলিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের ধর্মতত্ত্ববিদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:খ্রিস্টীয় নেতৃবৃন্দ]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৩৪০-এর দশকে জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৪১০-এর দশকে মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:রহস্যবাদী]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইংল্যান্ডের দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:নরিচের অধিবাসী]]
966prib7o4roh3e5e442u9rgnglzyb3
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী
0
14019
83266
83044
2026-05-02T09:27:24Z
SMontaha32
3112
/* */
83266
wikitext
text/x-wiki
[[File:Meuse-Argonne, 26 September–1 October 1918.gif|thumb|বিশ্বের সকল জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ এই জাতির [[w:মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী|সশস্ত্র বাহিনীতে]] প্রতিনিধিত্ব করেছে, যেমনটি আমাদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছিল। কারও জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তার দেশপ্রেম বা সেবাকে কেউ তুচ্ছ করেনি। অভিবাসী ও তাদের সন্তানরা... আমাদের মিত্র দেশগুলোর বংশধর, বিষুবীয় আফ্রিকার সন্তান এবং আমাদের নিজস্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লাল মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। তারা সবাই সমানভাবে নিজেদের 'আমেরিকান' পরিচয়ে গর্বিত ছিল। ~ [[ক্যালভিন কুলিজ]]]]
[[File:Brigadier General Smedley Butler, 1927 (14773211711).jpg|thumb|আমি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থেকে মেজর-জেনারেল পর্যন্ত সকল কমিশনড পদে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই সময়ে আমি আমার বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছি বড় ব্যবসা, ওয়াল স্ট্রিট এবং ব্যাংকারদের জন্য উচ্চমানের গুণ্ডা হিসেবে কাজ করতে। সংক্ষেপে, আমি ছিলাম একজন র্যাকেটিয়ার, পুঁজিবাদের জন্য একজন গ্যাংস্টার। ~ [[স্মেলি বাটলার]]]]
[[File:Haditha massacre.jpg|thumb|আমাদের জেগে উঠতে হবে এবং উপলব্ধি করতে হবে যে আমাদের প্রকৃত শত্রুরা কোনো দূরবর্তী দেশে নেই। তারা এমন কেউ নয় যাদের নাম আমরা জানি না বা যাদের সংস্কৃতি আমরা বুঝি না। শত্রুরা হলো এমন মানুষ যাদের আমরা খুব ভালোভাবেই চিনি এবং যাদের আমরা চিহ্নিত করতে পারি। শত্রু হলো সেই ব্যবস্থা যা লাভজনক হলেই যুদ্ধ বাধায়। শত্রু হলো সেই সব সিইও, যারা মুনাফার জন্য আমাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করে। যারা মুনাফার জন্য আমাদের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করে, সেই বিমা কোম্পানিগুলোই শত্রু। যারা মুনাফার জন্য আমাদের ঘরবাড়ি কেড়ে নেয়, সেই ব্যাংকগুলোই শত্রু। আমাদের শত্রুরা পাঁচ হাজার মাইল দূরে নয়, তারা আমাদের ঘরেই রয়েছে। ~ মাইকেল প্রিসনার]]
[[File:Huey Newton.jpg|thumb|আমরা বিশ্বের অন্য কোনো বর্ণের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না বা তাদের হত্যা করব না। কারণ কৃষ্ণাঙ্গদের মতোই তারাও আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী সরকারের শিকার। ~ [[হিউ নিউটন]]]]
[[File:STTC_Logo.png|thumb|মার্কিন সেনাবাহিনী এবং মেরিন কোরের বর্তমান সদস্য সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৫,১০,০০০ এবং ১,৮০,০০০। এছাড়া, সেনাবাহিনী ও মেরিন কোরের জন্য প্রায় ৮,০০,০০০ ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ সেনা প্রস্তুত রয়েছে। যদিও এই সংখ্যা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৫ লক্ষ মোট স্থলসেনা রয়েছে, তবুও দেশটির অনেক দায়বদ্ধতা থাকায় একক কোনো সামরিক অভিযানের জন্য এই শক্তি সীমিত হয়ে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, ইউরোপ ও কোরিয়ায় মার্কিন দায়বদ্ধতা এবং বাহিনীর পুনঃপ্রশিক্ষণ ও অস্ত্রসজ্জিত করার বিষয়গুলো বিবেচনা করলে, যুক্তরাষ্ট্রের হয়তো স্থলযুদ্ধের জন্য ২৫০,০০০-এর বেশি সক্রিয় সেনা নেই। যদি ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ বাহিনীকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য অভিযানে দশ লক্ষ সৈন্য মাঠে নামাতে পারবে। ~ [[ব্রুস ডব্লিউ. টেরি|ব্রুস ডব্লিউ. টেরি]]]]
[[File:X-35.jpg|thumb|যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়, তখন পৃথিবী অনেক বেশি নিরাপদ ও ভালো জায়গায় থাকে। ~ [[মার্কো রুবিও]]]]
[[File:Members_of_the_54th_Massachusetts_Volunteer_Regiment_color_guard_march_during_the_57th_presidential_inauguration_parade_130121-A-TT968-141.jpg|thumb|আমেরিকা আজও ইতিহাসের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল ও মানবিক সামরিক বাহিনী বজায় রেখেছে। প্রাচীন বাহিনীগুলো যারা যুদ্ধের লুণ্ঠনে মত্ত থাকত, কিংবা আধুনিক বাহিনীগুলো যারা নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিক ও বন্দিদের হত্যা করে, তাদের তুলনায় এটি সংযমের একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত। ~ ''নিউজউইক'']]
[[File:Maryland National Guard (17285160576).jpg|thumb|আমি আশা করি, রাস্তাঘাট, টিউব ও বাসে আমরা যে তরুণ আমেরিকান সৈনিকদের সাথে পরিচিত হচ্ছি, তারা আমাদের কাছে ঠিক ততটাই ভালো লেগেছে, যতটা আমরা তাদের ভালোবেসেছি। ~ [[আলফ্রেড জর্জ গার্ডিনার|আলফ্রেড জর্জ গার্ডিনার]]]]
[[File:2014PlainviewMNparadeCivilWar.jpg|thumb|দেশের জন্য লড়াই ও জীবন দেওয়ার জন্য আপনাকে ‘সোজা’ হতে হবে না। আপনার শুধু লক্ষ্যভেদ করতে পারাটাই যথেষ্ট। ~ [[ব্যারি গোল্ডওয়াটার]]]]
[[File:OlusteeKAFL.jpg|thumb|আমাদের সেনাদের চালানো যুদ্ধগুলো দুটি ভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যকার বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ। প্রথম ব্যবস্থায়, একদল ধর্মান্ধ গোষ্ঠী একটি নিপীড়নমূলক মতাদর্শের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য দাবি করে, নারীদের দাসত্বে বাধ্য করে এবং অবিশ্বাসীদের হত্যার লক্ষ্য নির্ধারণ করে। অন্য ব্যবস্থাটি এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যে, স্বাধীনতা হলো সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সার্বজনীন উপহার। ~ [[জর্জ ডব্লিউ. বুশ]]]]
[[File:The Old Flag Never Touched the Ground.jpg|thumb|সৈনিক ও গণতান্ত্রিকভাবে নিহতরা আমেরিকান মুক্তিদাতাদের দীর্ঘ ঐতিহ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, যার শুরুটা হয়েছিল আমেরিকান বিপ্লব থেকে... গৃহযুদ্ধ ছিল এই ঐতিহ্যের একটি ভিত্তিপ্রস্তর। একাডেমিক ইতিহাসবিদরা লেখেন যে এটি ছিল আঞ্চলিকতাবাদের কারণে... [[আব্রাহাম লিংকন|লিংকন]] জানতেন এর মূলে কী ছিল... দাসপ্রথা 'একটি অদ্ভুত ও শক্তিশালী স্বার্থের জন্ম দিয়েছিল। সবাই জানত যে এই স্বার্থই কোনোভাবে যুদ্ধের কারণ ছিল'... সৈন্যরা ইউনিয়ন রক্ষা করতে লড়াই করেছিল, কিন্তু তারা মানব বন্ধন শেষ করার জন্যও যুদ্ধ করেছিল। ~ [[জোসেফ মরিসন স্কিলি|জোসেফ এম. স্কিলি]]]]
[[File:Defense.gov_photo_essay_080703-F-9629D-147.jpg|thumb|আমি যখন আমাদের সেনাদের অভিযানে ডেকেছিলাম, তখন তাদের সাহস ও দক্ষতার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। আর আজ রাতে, তাদের কল্যাণে আমরা জিতছি। ~ [[জর্জ ডব্লিউ. বুশ]]]]
[[File:US Navy 031109-N-9769P-076 Guided missile cruiser USS Lake Champlain (CG 57) steams in the Southern California operating area.jpg|thumb|আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর নারী ও পুরুষেরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শত্রুর কাছে একটি পরিষ্কার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। ৭,০০০ মাইল দূরে, মহাসাগর ও মহাদেশ পেরিয়ে, পাহাড়ের চূড়ায় বা গুহায় থাকলেও; তোমরা এই জাতির বিচার থেকে রেহাই পাবে না। ~ [[জর্জ ডব্লিউ. বুশ]]]]
[[File:U.S. Army Pfc. Phoebe Alvarez, left, an administrative clerk with the 307th Engineer Battalion, and Command Sgt. Maj. Thomas Capel, right, the command sergeant major of the International Security Assistance 130524-M-UF830-033.jpg|thumb|যদি আমেরিকার প্রতিটি প্রান্তে স্বাধীন নাগরিকদের ওপর নক্ষত্রখচিত পতাকা উড়তে থাকে, এবং আমাদের দেশ যদি ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সভ্যতার পথে একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় যাত্রা বজায় রাখতে পারে, তবে আমরা এই মহৎ সেনাবাহিনীর নিঃস্বার্থ ত্যাগের কাছে ঋণী। ~ [[ফ্রেডরিক ডগলাস]]]]
[[File:Sailor with boatswain's pipe, USS Fitzgerald (DDG-62), May 2014.jpg|thumb|আমাদের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাহিনী আছে, ''কারণ'' আমাদের কাছে সেরা মানুষগুলো আছে। ~ অ্যাশটন কার্টার]]
[[File:150413-N-XM324-040 - PO3 Christina Casillas applies a splint to a simulated broken arm aboard USS Fitzgerald.jpg|thumb|আমাকে অবশ্যই সেইসব নারী ও পুরুষের সেবার কথা বলতে হবে যারা প্রজাতন্ত্রের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল... আমেরিকা তাদের প্রদত্ত সেবা, ত্যাগ এবং সহ্য করা কষ্টগুলো উপলব্ধি করে এবং মূল্যায়ন করে... তারা সবাই ছিল সাহসী। তারা সবাই ছিল আত্মত্যাগী... স্থল ও সমুদ্রের চল্লিশ লক্ষ ডিফেন্ডার জনগণের সেরা ঐতিহ্যের যোগ্য ছিল... তারা আমাদের গর্বিত করেছে। তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা রয়েছে, যা অবশ্যই যথাযথভাবে প্রকাশ করা উচিত। ~ [[ওয়ারেন জি. হার্ডিং]]]]
[[File:150902-N-XF387-351 - SN Ana Motapalomares records bearings.jpg|thumb|আমাদের প্রতিরক্ষা নিহিত রয়েছে সেই চেতনা সংরক্ষণের মধ্যে, যা স্বাধীনতাকে সকল মানুষের, সকল দেশের এবং সর্বকালের ঐতিহ্য হিসেবে মূল্যায়ন করে। ~ [[আব্রাহাম লিংকন]]]]
[[File:Iraqi child with U.S. Troops.jpg|thumb|[[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|আমরা]] গত শতাব্দীজুড়ে নিপীড়ন দমনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর নারী ও পুরুষদের বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে পাঠিয়েছি। আমরা ফ্যাসিবাদের পরাজয় ঘটিয়েছি... আমরা তা করতে ইচ্ছুক ছিলাম, সানন্দেই করেছি... সবকিছুই মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে, এবং যখন সেই সংঘাতগুলো শেষ হলো? আমরা কী করলাম? আমরা কি সেখানে থেকে দখল করেছিলাম? আমরা কি বলেছিলাম, ''ওকে, আমরা জার্মানিকে হারিয়েছি। এখন জার্মানি আমাদের? আমরা জাপানকে হারিয়েছি, তাই জাপান আমাদের?''? না... আমরা তাদের গড়ে তুলেছি। আমরা তাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দিয়েছি যা তারা গ্রহণ করেছে... আমরা কি কোনো জমি চেয়েছি? না। আমরা একমাত্র যে জমিটি চেয়েছিলাম তা ছিল আমাদের মৃতদের কবর দেওয়ার মতো যথেষ্ট জমি, আর এই ধরনের জাতিই আমরা। ~ [[কলিন পাওয়েল]]]]
[[File:OlusteeKAFL.jpg|thumb|সামরিক বাহিনী কোনো বস্তু নয়। এটি একদল নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক যারা আমাদের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে ইচ্ছুক। এটি কেবল এর ভেতরের মানুষগুলোর কারণেই কাজ করে। যন্ত্রপাতি যতই চমৎকার হোক—আর আমাদের চমৎকার যন্ত্রপাতি রয়েছে—মেশিন, অস্ত্র এবং স্যাটেলাইট যতই আধুনিক হোক না কেন, চূড়ান্ত বিচারে এটি অসাধারণ মানুষগুলোর ওপরই নির্ভর করে। ~ [[বারাক ওবামা]]]]
[[File:319th AFA soldiers chillin' out in Iraq.jpg|thumb|আমেরিকায় সৈনিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাদের সাহস ও ত্যাগের কথা বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়। সৈনিকদের নিঃস্বার্থতার এক অদৃশ্য আভা থাকে এবং তারা অত্যন্ত মর্যাদার সাথে চলাফেরা করে। ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা ইউনিফর্ম পরা সৈনিকদের ফার্স্ট ক্লাসে আপগ্রেড করেন, রেস্তোরাঁগুলো ভেটারানদের ছাড় দেয় এবং অপরিচিতরা তাদের হাত মেলায়। ~ বেনামী]]
[[File:011217-N-9769S-207 Ready for Working Party.jpg|thumb|এরা আমাদের সন্তান... এরা ভালো ছেলেমেয়ে... সেনাবাহিনী বা মেরিন কোরে যোগ দিলে কেউ নাৎসি হয়ে যায় না; বরং সে আমেরিকার এক সন্তান হয়ে ওঠে যে তার দেশের জন্য কাজ করছে। ~ [[টম ক্ল্যান্সি]]]]
[[File:Four_366th_Infantry_officers.gif|thumb|সামরিক বাহিনী সবসময়ই একটি অন্তর্মুখী সংগঠন। সেনাবাহিনী যে কারণে এতটা প্রগতিশীল তার একটি কারণ হলো, তারা সবসময় নিজেদের বিশ্লেষণ করে। সেনাবাহিনী সবসময় নিজের কাজ আরও ভালোভাবে করার উপায় খোঁজে... সেনাবাহিনীই আমেরিকায় বর্ণবৈষম্য দূরীকরণে নেতৃত্ব দিয়েছে... সেনাবাহিনী খুব আগেই বুঝতে পেরেছিল যে, কৃষ্ণাঙ্গ মানুষরা শ্বেতাঙ্গদের মতোই; পার্থক্য শুধু গায়ের রঙ একটু বেশি গাঢ়। তারাও সমান ভালো সৈনিক হতে পারে। ~ [[টম ক্ল্যান্সি]]]]
[[File:HHC U.S. Army soldiers.png|thumb|সৈনিকেরা। আপনারা এখন আপনাদের বাড়ি ও বন্ধুদের কাছে ফিরতে চলেছেন... আমি আপনাদের কাছে এবং যারা দেশের ডাকে সাড়া দিয়েছেন তাদের সবার কাছে অত্যন্ত ঋণী। আমি চাই দেশটি এখন কী কাজে ব্যস্ত তা যেন সবাই ব্যাপকভাবে বুঝতে পারে। আমরা সবাই একমত হব যে, আমাদের একটি মুক্ত সরকার রয়েছে, যেখানে প্রত্যেক মানুষেরই সমান অধিকার রয়েছে। ~ [[আব্রাহাম লিংকন]]]]
[[File:101110-N-6477M-070 Veteran's Day Naturalization Ceremony aboard USS Midway.jpg|thumb|আপনার সন্তানরা আমেরিকান সৈনিকের শান্ত, সুচিন্তিত ও দৃঢ় যুদ্ধস্পৃহা নিয়ে আপনাদের সেবা করেছে। তাদের এই স্পৃহা সত্যের ঐতিহ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর শত্রুর উন্মাদনা কেবল কাল্পনিক গল্পের ওপর ভিত্তি করে। তাদের আধ্যাত্মিক শক্তি ও ক্ষমতা আমাদের জয়ী করেছে। ~ [[ডগলাস ম্যাকআর্থার]]]]
[[File:US Navy 051206-M-7173M-015 Hospital Corpsman 3rd Class Jesse Munsey, assigned to the 2nd Battalion, 6th Marines, Gulf Company, observes the road up ahead.jpg|thumb|আমেরিকা এবং আমাদের মিত্ররা এক ভিন্ন ধরনের শত্রুর বিরুদ্ধে নতুন এক ধরনের যুদ্ধ করছে। এই সংঘাত আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর নারী ও পুরুষদের ওপর—যার মধ্যে গার্ড ও রিজার্ভও অন্তর্ভুক্ত—বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তারা প্রতিটি পরীক্ষায় সফল হয়েছে; প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। ~ [[জর্জ ডব্লিউ. বুশ]]]]
[[File:B-2 Spirit original.jpg|thumb|বিশ্বে মার্কিন সামরিক আধিপত্যের সারমর্ম হলো, তারা ইচ্ছে করলেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বোমা ফেলতে পারে। অন্য কোনো সরকারের এমন সক্ষমতা কোনোদিন ছিল না। ~ [[ডেভিড গ্রেবার]]]]
[[File:USS New Orleans (LPD-18) launches RIM-116 missile 2013.jpg|thumb|আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এই কথাটি চূড়ান্ত... যুক্তরাষ্ট্র স্থল, সমুদ্র, আকাশ এবং মহাকাশে আধিপত্য বজায় রেখেছে। ~ ইয়ান ব্রেমার]]
[[File:U.S. Marines at Camp Geiger in 1999.jpg|thumb|নিজেদের রক্ষা করার আগে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করাই আমেরিকান সৈনিকদের কাজ। এভাবে তারা নিজেদের আরও ভালোভাবে রক্ষা করতে পারে। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত মনে হতে পারে, তবে এটিই নিয়মমাফিক ও সোজা পথ। ~ মাইকেল টোটেন]]
[[File:82nd_Sus._Bde._supports_emergency_deployment_readiness_exercise_130128-A-QD996-003.jpg|thumb|যখন আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে যারা আমাদের ক্ষতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম... তা আমাকে অসাধারণ এক অনুভূতি দিয়েছিল। এটি আমাকে দেশপ্রেমিক, শক্তিশালী করে তুলেছিল। আমি এই দেশকে এমনভাবে ভালোবাসতে শুরু করলাম যা আমার জীবনে আগে কখনো অনুভব করিনি... আমরা সবাই এমন এক আমেরিকার স্বপ্ন দেখি। আমরা এমন এক শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী আমেরিকাকে চাই, যা প্রয়োজনে পাল্টা আঘাত করে। আমাদের ইতিহাস বইয়ে ঘুমন্ত দৈত্যের কথা শেখানো হয়েছিল, যে প্রয়োজনের সময় পরাশক্তি হিসেবে জেগে ওঠে এবং যার রয়েছে বিশ্বের সেরা সেনাবাহিনী। ~ স্টিভেন উইলিয়ামস]]
[[File:Iraqi girls playing.jpg|thumb|পৃথিবীতে যদি শান্তির কোনো কারিগর থেকে থাকে, তবে সেটি হলো মার্কিন সামরিক বাহিনী। ~ [[রাশ লিম্বো]]]]
[[File:American_bases_worldwide.svg|thumb|আমেরিকানরা এই ঘাঁটি সম্পর্কে যতটা ভাবে, তাতে আমরা সাধারণত মনে করি যে এগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও বিশ্ব শান্তির জন্য অপরিহার্য। বেশিরভাগ ঘাঁটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং শীতল যুদ্ধের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় থেকেই আমাদের নেতারা এমনটা দাবি করে আসছেন। এর ফলে, আমরা এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক মনে করি এবং মেনে নিই যে, বিপুল সংখ্যক মার্কিন সামরিক স্থাপনা অন্য দেশের মানুষের ভূমিতে রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন মাটিতে অন্য দেশের ঘাঁটি থাকার ধারণাটিই অকল্পনীয়। ~ ডেভিড ভাইন]]
[[File:U.S._Military_Installations_Map.jpg|thumb|এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা আজকের বিশ্বের একমাত্র টিকে থাকা সাম্রাজ্য। [[মানবতা|মানবতার ইতিহাসে]] এই প্রথম একটিমাত্র সাম্রাজ্য এত প্রভাবশালী, যার সামরিক বাজেট পরের ১৫টি দেশের সম্মিলিত বাজেটের চেয়েও বেশি এবং যার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স নিজেই বিশ্বের একাদশ বৃহত্তম অর্থনৈতিক সত্তা। আমরা এই বাস্তবতায় বাস করি এবং এই বাস্তবতা ভিন্ন ভিন্নভাবে আমাদের মুখোমুখি হয়। ~ [[তারিক আলী]]]]
'''মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী''' হলো [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]]ের জাতীয় সামরিক বাহিনী। এটি [[w:উত্তর আমেরিকা|উত্তর আমেরিকা]] মহাদেশের একটি দেশ। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনী [[w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী|মার্কিন সেনাবাহিনী]], [[w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী|মার্কিন নৌবাহিনী]], [[W:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেরিন কোর|মার্কিন মেরিন কোর]], [[w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনী|মার্কিন বিমান বাহিনী]], [[W:মার্কিন কোস্ট গার্ড|মার্কিন কোস্ট গার্ড]] এবং [[w:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ বাহিনী|মার্কিন মহাকাশ বাহিনী]] নিয়ে গঠিত। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে গণ্য করা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি এই বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তিনি সামরিক নীতি নির্ধারণে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সাথে কাজ করেন। এটি একটি ফেডারেল নির্বাহী বিভাগ, যা সামরিক নীতি ও যুদ্ধ পরিচালনার মূল সংস্থা হিসেবে কাজ করে। প্রতিটি শাখার সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তারা [[w:জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ|জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ]] হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন, তবে তাদের সরাসরি অপারেশনাল কমান্ড নেই। [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি]] হিসেবে বর্তমানে [[জো বাইডেন]] সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষাসচিব [[লয়েড অস্টিন]]।
==এ==
*আমাদের কাছে বিশাল সেনাবাহিনী আছে, সু[[শৃঙ্খলা|শৃঙ্খল]] এবং সুসজ্জিত, যার [[সেনাপতি|সেনাপতিরা]] সামরিক দক্ষতার দিক থেকে কারো চেয়ে কম নয়, এবং তৎপরতা ও [[উদ্দীপনা|উদ্দীপনায়]] শ্রেষ্ঠ। আমাদের অস্ত্রাগার এবং ভাণ্ডার আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সমৃদ্ধ... আপনাদের সামনে এখন শত্রুবাহিনীর পুরো শক্তি এবং তাদের ভিত্তিহীন ও ভাড়াটে সহায়ক শক্তিকে প্রতিহত করার মতো যথেষ্ট সেনাবাহিনী রয়েছে। আপনাদের সৈন্যদের হৃদয়ে স্বাধীনতার চেতনা প্রবল; তারা তাদের কারণের ন্যায়বিচারে অনুপ্রাণিত, এবং তারা যখন তাদের তলোয়ার আঁকড়ে ধরে তখন সাহায্যের জন্য [[স্বর্গ|স্বর্গের]] দিকে তাকাতে পারে। আপনাদের প্রতিপক্ষরা এমন অভাজনদের নিয়ে গঠিত যারা মানবতার অধিকারকে উপহাস করে, যারা ধর্মকে বিদ্রূপে পরিণত করে, এবং উচ্চ বেতনের জন্য তাদের তলোয়ার তাদের নেতা বা তাদের দেশের বিরুদ্ধে চালিত করতে পারে। তাহলে, অতীতে স্বর্গ থেকে প্রাপ্ত সাফল্যের কৃতজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে সেই সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আপনাদের মহৎ উদ্যোগে এগিয়ে যান। নিজের পক্ষ থেকে, আমি সাধারণ বিপদ এবং সাধারণ গৌরবে আপনাদের সাথে অংশ নেওয়ার চেয়ে বড় কোনো আশীর্বাদ চাই না।
**[[স্যামুয়েল অ্যাডামস]], [http://www.samuel-adams-heritage.com/documents/speech-about-declaration-of-independence.html স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সম্পর্কে ভাষণ] (১ আগস্ট ১৭৭৬)
*আসুন [[বিশ্ব|বিশ্ব]] নিয়ে আলোচনা করি। "[[ঈশ্বর|ঈশ্বর]] ছাড়া কি বিশ্বায়ন সম্ভব"—এই প্রশ্নের উত্তরের সহজ উত্তর হলো "হ্যাঁ"। বিশ্বায়ন আসলে নিজেই একটি কোড শব্দ, একটি মুখোশ, সি-শব্দ [[পুঁজিবাদ|পুঁজিবাদ]] ব্যবহার না করার জন্য। বিশ্বায়ন মূলত পুঁজিবাদের প্রসারের সর্বশেষ পর্যায়। এটি এমন কিছু নয় যা [[নিরপেক্ষ|নিরপেক্ষ]], এটি এমন একটি পুঁজিবাদ যার নিজস্ব নিয়ম আছে: এর নিজস্ব অর্থনৈতিক নিয়ম আছে, এর নিজস্ব রাজনৈতিক নিয়ম আছে, এর নিজস্ব সাংস্কৃতিক নিয়ম আছে এবং এর নিজস্ব সামরিক নিয়ম আছে। এটি একটি 'সিস্টেম'। এই সিস্টেমের মূলে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র বিদ্যমান [[সাম্রাজ্য|সাম্রাজ্য]]। [[মানবতা|মানবতার]] [[ইতিহাস|ইতিহাসে]] এই প্রথম এমন একটি একক সাম্রাজ্য এত প্রভাবশালী, যার সামরিক বাজেট পরবর্তী ১৫টি দেশের সম্মিলিত সামরিক বাজেটের চেয়ে বেশি, এবং যার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স নিজেই বিশ্বের একাদশ বৃহত্তম অর্থনৈতিক সত্তা। এটি সেই বাস্তবতা যাতে আমরা বাস করি, এবং এটি সেই বাস্তবতা যা বিভিন্ন উপায়ে আমাদের ''সম্মুখীন'' হয়।
**[[তারিক আলি]], [http://www.vpro.nl/programma/tegenlicht/artikelen/21200518/ দশম বিশ্বায়ন বক্তৃতা], ভিপ্রও।
*আমেরিকায়, সৈনিকদের প্রতি এক ধরনের [[শ্রদ্ধা|শ্রদ্ধা]] রয়েছে। একজনকে ক্রমাগত তাদের [[সাহস|সাহস]], তাদের আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। সৈনিকদের নিঃস্বার্থপরতার একটি অন্তর্নিহিত আভা থাকে, তারা মর্যাদাপূর্ণ আচরণের সাথে চলে। বিমানবালারা ইউনিফর্ম পরিহিত সৈনিকদের ফার্স্ট ক্লাসে আপগ্রেড করে, রেস্তোরাঁগুলো ভেটেরানদের ছাড় দেয়, অপরিচিতরা তাদের হাত মেলায় এবং বলে, 'আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ'।
**বেনামী, [http://www.theguardian.com/world/iran-blog/2015/jul/22/iran-military-uniform-gomrok-shopping-spree "হাউ আই লার্নড টু স্টপ ওরিং অ্যান্ড লাভ দ্য ইরানিয়ান আর্মি"], ''দ্য গার্ডিয়ান'' (২৩ জুলাই ২০১৫), যুক্তরাজ্য।
*প্রতিরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়ে, গল্পটি আপাতদৃষ্টিতে ভালো মনে হয়। প্রেসিডেন্ট সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছেন (যদিও ঋণের স্তূপের খরচে)। তিনি মার্কিন বাহিনীকে আধুনিকীকরণ এবং আমাদের সৈন্যদের বেতন বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করেছেন। এবং তিনি দেশ ও সীমানা সুরক্ষাকে তার প্রেসিডেন্সির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি করেছেন। বাস্তবে, [[ডোনাল্ড ট্রাম্প|ট্রাম্প]] [[পেন্টাগন|পেন্টাগনের]] জন্য একটি বিপর্যয় হয়েছেন। তিনি সামরিক নেতাদের প্রজাতন্ত্রের নির্দলীয় রক্ষক হিসেবে নয়, বরং "তার জেনারেল" হিসেবে উল্লেখ করেন, যাদের তিনি [[দাবা|দাবা]] বোর্ডের নাইটদের মতো নিজের ইচ্ছামতো সরাতে পারেন। তার এই ধরনের কথা শোনা কঠিন। এই নেতাদের কেউ কেউ দেশের সুরক্ষায় সন্তান হারিয়েছেন। তারা দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে দরজা খুলে এমন মানুষজনের মুখ থেকে তাদের জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক খবর শুনেছেন, যে তাদের সন্তান চিরতরে হারিয়ে গেছে। তবুও তারা এমন একজন ব্যক্তির নির্দেশে কাজ করছেন যিনি সামরিক সেবার কথা ভাবলে কুঁকড়ে যেতেন। ইউনিফর্ম পরা দেশপ্রেমিকরা এটি প্রকাশ্যে বলে বের হবে না কারণ তারা তাদের কমান্ডারের সাথে প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করতে চায় না, কিন্তু অনেকেই ট্রাম্পের সৌজন্যবোধের অভাব এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অদূরদর্শী নেতৃত্বে আতঙ্কিত। বারবার, তিনি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনার চেষ্টা করে বা নিজের দৃঢ়তা দেখানোর জন্য তা ব্যবহার করে এক ভয়ানক পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। এটি তিনি অফিসে প্রবেশের আগেই শুরু করেছিলেন। একজন প্রার্থী হিসেবে, ট্রাম্প সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আমেরিকার শত্রুদের বিরুদ্ধে কৌশল হিসেবে [[নির্যাতন|নির্যাতন]] গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, শপথ করে বলেছিলেন, "আমি ওয়াটারবোর্ডিং ফিরিয়ে আনব। এবং আমি ওয়াটারবোর্ডিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ানক কিছু ফিরিয়ে আনব।" বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে এই ধরনের বক্তব্য সন্ত্রাসীরা প্রচারণার জন্য ব্যবহার করে, আমেরিকার কথিত নিষ্ঠুরতার কথা প্রচার করে সমর্থকদের নিয়োগ করতে তাদের সাহায্য করে। এটি তাদের আখ্যানকে খাওয়ায়, বিদেশের মার্কিন বাহিনীকে বিপদে ফেলে। সৌভাগ্যবশত, প্রেসিডেন্ট তার মেয়াদ শুরুর দিকেই আগত দলের দ্বারা বিষয়টি বাদ দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছিলেন, যারা বুঝতে পেরেছিল যে ট্রাম্পের ভোল পাল্টানো জাতীয় প্রতিরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে।
** বেনামী, ''আ ওয়ার্নিং'' (২০১৯), পৃষ্ঠা ১০৩-১০৪।
*ট্রাম্প যখন নতুন সেনা ইউনিফর্ম ("খুব দামী," তিনি আক্ষেপ করেছিলেন, কিন্তু অন্যদিকে, "সুন্দর")-এর মতো বিষয়ে ভোল পাল্টান, তখন এটি ক্লান্তিকর। যখন এটি বিমান হামলার বিষয়ে হয়, তখন এটি ভয়ঙ্কর। প্রেসিডেন্টের আবেগপ্রবণতা আমাদের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বিপদ সৃষ্টি করে, যার পুরো মাত্রা বছরের পর বছর ধরে জানা যাবে না। তিনি পেন্টাগনের জন্য সামান্য মাথাব্যথার চেয়ে বেশি কিছু। তিনি এক অন্ধ করে দেওয়া মাইগ্রেন। যারা পেন্টাগনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করেছেন, যারা সিদ্ধান্তের মুহূর্তে ট্রাম্পের সাথে বসেছেন, তারা এটি খুব ভালোভাবেই জানেন। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে, তারা ইউনিফর্ম পরা নারী-পুরুষদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তাদের ওপর থাকা কমান্ডার-ইন-চিফ কতটা অসংযমী এবং তিনি কীভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে একটি বড় ব্যাটলশিপ খেলার অংশ হিসেবে দেখেন। আমাদের যোদ্ধারা আমাদের ক্ষতি করতে চাওয়া ব্যক্তিদের শিকার করতে বিশ্বের অন্ধকার কোণে যেতে সবকিছু বাজি রাখে। তাদের কর্তব্যের অলঙ্ঘনীয় কোডের জন্য তারা এমন একজন ব্যক্তির চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য যার মৌলিক নৈতিক কম্পাসের অভাব রয়েছে।
** বেনামী, ''আ ওয়ার্নিং'' (২০১৯), পৃষ্ঠা ১০৫।
*সেনাবাহিনী এগিয়ে চলেছে!
**"আর্মি গোজ রোলিং অ্যালং"
*আমেরিকান সেনাবাহিনী যুদ্ধে এত ভালো করার [[কারণ|কারণ]] হলো [[যুদ্ধ|যুদ্ধ]] হলো [[বিশৃঙ্খলা|বিশৃঙ্খলা]] এবং আমেরিকান সেনাবাহিনী প্রতিদিন বিশৃঙ্খলার অনুশীলন করে।
**নাৎসি সামরিক বাহিনীর বেনামী প্রবাদ, {{cite news |last1=লেসি |first1=জিম |title=নাথিং ওয়েন্ট অ্যাকর্ডিং টু প্ল্যান |url=http://content.time.com/time/nation/article/0,8599,443808,00.html |accessdate=২৩ জুলাই ২০১৯ |প্রকাশক=TIME |date=১৫ এপ্রিল, ২০০৩}}-এ উদ্ধৃত।
==বি==
*যুক্তরাষ্ট্রের [[ভবিষ্যৎ]] প্রস্তুতির সর্বোত্তম উপায় হলো তার অর্থনৈতিক শক্তি সঞ্চয় করা এবং কেবল তখনই সামরিকভাবে সাড়া দেওয়া যখন কোনো গুরুতর হুমকি তৈরি হয়। অন্যথায়, ওয়াশিংটনের উচিত সংঘাতের চেয়ে সমঝোতার পথ খোঁজা।
**ডাগ ব্যান্ডো, [http://nationalinterest.org/blog/the-skeptics/china-really-dangerous-16347 “চীন কি সত্যিই এতটা বিপজ্জনক?”] (২৫ মে ২০১৬), ''দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট''
*আমি একজন নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট। আমি সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিই। সামরিক বাহিনীর সাথে কাজ করা একজন ডেমোক্র্যাট হওয়া অদ্ভুত, কারণ সামরিক বাহিনীতে মূলত রিপাবলিকানদের আধিপত্য। আমি এই পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি কারণ আমি রুমের মধ্যে সন্দেহবাদী বা ভিন্নমতাবলম্বী হতে পছন্দ করি। আর যদি সামরিক পরিবেশে ভিন্নমতাবলম্বী হতে হয়, তবে সম্ভবত আপনাকে ডেমোক্র্যাটই হতে হবে। তবে এটি আমার পারিবারিক প্রেক্ষাপট। আমার এক দাদা ছিলেন যিনি প্রগ্রেসিভ হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন।
**থমাস বার্নেট, [http://archive.li/5c6cC#selection-123.0-123.14 ব্রায়ান ল্যাম্বের সাথে সাক্ষাৎকার] (মে ২০০৪), ''সি-স্প্যান''
*এ বিষয়ে কোনো ভুল করা উচিত নয়: কংগ্রেসের বিশাল, অকার্যকর এবং অযৌক্তিকভাবে ব্যয়বহুল যুদ্ধ যন্ত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্তের সাথে অধিকাংশ মানুষ যেভাবে জাতীয় নিরাপত্তা বা অভিধান অনুযায়ী “প্রতিরক্ষা”কে বোঝে, তার কোনো সম্পর্ক নেই। মার্কিন সমাজ নিশ্চিতভাবেই আমাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হুমকির মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ, ভোটাধিকার ক্ষয়, বন্দুক সহিংসতা, চরম বৈষম্য এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর করপোরেট দখল। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য যে, আমাদের কোনো প্রলয়ঙ্করী বৈশ্বিক আক্রমণকারী বা প্রকৃতপক্ষে অন্য কোনো দেশের হামলার হুমকি নেই... যদি এই অকার্যকর ও প্রাণঘাতী অর্থের অপচয় রোধে জনগণের কোনো প্রভাব ফেলতে হয়, তবে আমাদের অবশ্যই প্রচারণার কুয়াশা ভেদ করে দেখতে শিখতে হবে। এই প্রচারণা লাল, সাদা ও নীল পতাকার নিচে স্বার্থপর দুর্নীতিকে ঢেকে রাখে এবং সামরিক কর্মকর্তাদের জনগণের সেই স্বাভাবিক শ্রদ্ধাকে সিনিক বা নিচভাবে শোষণ করতে দেয়, যা সাহসী তরুণ-তরুণীরা আমাদের দেশকে রক্ষার জন্য জীবন বাজি রেখে অর্জন করেছে। ক্রিমিয়ার যুদ্ধে, রাশিয়ানরা ব্রিটিশ সৈন্যদের “গাধার দ্বারা পরিচালিত সিংহ” বলেছিল। আজকের মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এটিই একটি যথার্থ বর্ণনা।
** মিডিয়া বেঞ্জামিন এবং [https://www.salon.com/2021/12/07/congress-loots-the-treasury-for-us-machine--while-bickering-over-build-back-better/ নিকোলাস জে.এস. ডেভিস, কংগ্রেস লোটস দ্য ট্রেজারি ফর ইউ.এস. ওয়ার মেশিন — হোয়াইল বিকারিং ওভার বিল্ড ব্যাক বেটার, ''স্যালন,''] (৭ ডিসেম্বর, ২০২১)
*বিশ্বের পরবর্তী ১২ বা ১৩টি বৃহত্তম সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত খরচের চেয়েও বেশি ব্যয় করা একটি যুদ্ধ যন্ত্র বজায় রাখা আমাদের কম নিরাপদ করে তোলে। কারণ প্রতিটি নতুন প্রশাসন এই বিভ্রান্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যধিক ধ্বংসাত্মক সামরিক শক্তি যেকোনো জায়গায় মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে অনুভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহার করা যেতে পারে—এমনকি যখন স্পষ্টতই কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং যখন অনেক মূল সমস্যাই প্রথমত মার্কিন সামরিক শক্তির অপপ্রয়োগের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এই শতাব্দীতে আমাদের মুখোমুখি আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনীতির প্রতি প্রকৃত প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন, অথচ কংগ্রেস পেন্টাগন বাজেটের ১০ শতাংশেরও কম, মাত্র ৫৮ বিলিয়ন ডলার, আমাদের সরকারের কূটনৈতিক শাখা—পররাষ্ট্র দপ্তরের জন্য বরাদ্দ করে। আরও খারাপ বিষয় হলো, ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় প্রশাসনই শীর্ষ কূটনৈতিক পদগুলোতে এমন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে চলেছে যারা যুদ্ধ ও জবরদস্তির নীতিতে দীক্ষিত, যাদের আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শান্তিপূর্ণ কূটনীতির ক্ষেত্রে নগণ্য অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে। এটি কেবল একটি ব্যর্থ বৈদেশিক নীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করে, যা মিথ্যা পছন্দের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে—যেমন জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের মতে মধ্যযুগীয় অবরোধের মতো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, দশকের পর দশক ধরে দেশ ও অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করা অভ্যুত্থান এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা ও শহরগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা যুদ্ধ ও বিমান হামলা, যেমন [[ইরাক|ইরাকের]] মসুল এবং [[সিরিয়া|সিরিয়ার]] রাক্কায় দেখা গেছে।
** [[মিডিয়া বেঞ্জামিন]] এবং [https://www.salon.com/2021/12/07/congress-loots-the-treasury-for-us-machine--while-bickering-over-build-back-better/ নিকোলাস জে.এস. ডেভিস, কংগ্রেস লোটস দ্য ট্রেজারি ফর ইউ.এস. ওয়ার মেশিন — হোয়াইল বিকারিং ওভার বিল্ড ব্যাক বেটার, ''স্যালন,''] (৭ ডিসেম্বর, ২০২১)
*তোমাদের সেবা যেন কখনো বিচ্ছিন্ন না হয়, পতাকার প্রতি অটল থেকো! সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী চিরজীবী হোক! লাল, সাদা এবং নীলের জন্য তিনবার উল্লাসধ্বনি!
**থমাস আ বেকেট, সিনিয়র, “কলম্বিয়া, দ্য জেম অফ দ্য ওশান” (১৮৪৩)
*তুমি শান্তভাবে বুট ক্যাম্পে যাবে<br>তারা তোমাকে গুলি করে মেরে ফেলবে, তোমাকে মানুষ বানাবে<br>তুমি [[চিন্তা]] কোরো না, এটি একটি লক্ষ্যের জন্য<br>বৈশ্বিক করপোরেশনের নখর ভরার জন্য।
**জেলো বিয়াফ্রা, ''{{w|উই'ভ গট আ বিগার প্রবলেম নাও}}'', ''{{w|ইন গড উই ট্রাস্ট, ইনক.}}'' (১৯৮১)।
*[[ঈশ্বর]] আমাদের সৈন্যদের আশীর্বাদ করুন।
**[[জো বাইডেন]], [http://www.c-span.org/video/?401096-1/উইকলি প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাড্রেস] (২১ নভেম্বর ২০১৫)
*<p>স্বৈরাচারীরা তাদের [[লোহা|লোহার]] দণ্ড নাড়াক, এবং [[দাসত্ব|দাসপ্রথা]] তার জীর্ণ [[শৃঙ্খল|শিকল]] ঝনঝন করুক। আমরা তাদের [[ভয়]] করি না, আমরা [[ঈশ্বর|ঈশ্বরে]] [[বিশ্বাস]] রাখি...</p><p>ঈশ্বর চিরকাল রাজত্ব করেন। শত্রুরা উদ্ধত পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে। আমাদের সৈন্যরা সামরিক শব্দের সাথে অগ্রসর হচ্ছে। তাদের প্রবীণরা আমাদের যুবকদের সামনে থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, এবং জেনারেলরা দাড়িহীন বালকদের কাছে আত্মসমর্পণ করছে।</p>
**উইলিয়াম বিলিংস, “চেস্টার” (১৭৭০), [http://store.bobbyhorton.com/album/হোমস্পান সংস অফ দ্য প্যাট্রিওটস ইন দ্য আমেরিকান রেভোলিউশন ''দ্য নিউ ইংল্যান্ড স্যাম সিঙ্গার'']
*[[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] পর যুক্তরাষ্ট্র যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছিল, তা হলো ফিরে আসা ভেটেরানদের সহায়তা করা।
**আর্ল ব্লুমেনাউয়ার (১৮ ডিসেম্বর ২০০৭), “[হাউস রিস্টোরস ওরেগন ভেটেরানস প্রভিশনস কাট বাই সিনেট]”। প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ''কংগ্রেসম্যান আর্ল ব্লুমেনাউয়ার’স ওয়েবসাইট, রিপ্রেজেন্টিং দ্য ৩য় কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট অফ ওরেগন''। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ।
*<p>[[আমেরিকা|আমেরিকার]] সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী; এখানেই শেষ...</p><p>যুক্তরাষ্ট্র স্থল, [[সমুদ্র]], [[আকাশ]] এবং মহাকাশে আধিপত্য বিস্তার করে। আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যের দুঃসাহসিক অভিযান মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, কিন্তু [[ইরাক যুদ্ধ|ইরাক]] ও [[আফগানিস্তানে যুদ্ধ (২০০১–২০২১)|আফগানিস্তানের যুদ্ধ]] মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের হ্রাসের চেয়ে বরং যুদ্ধের পরিবর্তনশীল প্রকৃতিকেই বেশি নির্দেশ করে। সন্ত্রাসবাদী এবং গেরিলা যোদ্ধারা কৌশলে প্রচলিত সামরিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে। যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য সামরিক শক্তি সংকুচিত করতে শিখতে হবে। তবুও, যদিও প্রচলিত সামরিক শক্তি হয়তো সন্ত্রাসবাদীদের আটকাতে পারে না, এটি কিন্তু শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোকে প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে চমৎকার কাজ করে।</p>
**[[ইয়ান ব্রেমার]], [https://web.archive.org/web/20150528161550/http://time.com/3899972/us-superpower-status-military/ “দিজ আর দ্য ৫ রিজনস হোয়াই দ্য ইউ.এস. রিমেইনস দ্য ওয়ার্ল্ডস অনলি সুপারপাওয়ার: হোয়াই ওয়াশিংটন ক্যান স্টিল ক্লেইম গ্লোবাল প্রাইমেসি ইন দ্য ২১স্ট সেঞ্চুরি”] (২৮ মে ২০১৫), ''টাইম''
*যদি আপনার [[দেশ|দেশের]] আপনার [[প্রয়োজন]] হয়, তবে আপনার সেখানেই থাকা উচিত; আমি যখন [[যুবক]] ছিলাম তখন এমনটাই অনুভব করতাম, এবং আজও আমি তা-ই অনুভব করি।
**[[ফ্রাঙ্ক বাকলস]], মার্কিন সেনাবাহিনীতে সেবা সম্পর্কে, ''দ্য নক্সভিল নিউজে'' উদ্ধৃত
*[পররাষ্ট্র নীতির “সামরিকীকরণ” বিষয়ক উদ্বেগের প্রশ্নের জবাবে তাঁর প্রতিক্রিয়া] আমাদের সবারই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। প্রতিরক্ষা ও সামরিক নেতারা কূটনীতির ওপর শক্তির ভূমিকা পরিবর্তনের—উভয় দলের প্রশাসনের মধ্যেই—ক্ষতিকারক প্রবণতা তুলে ধরার ব্যাপারে পিছপা হন না। আমরা সবাই সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স [[রবার্ট গেটস|বব গেটস]]ের লাইনটি উদ্ধৃত করেছি যে, সামরিক বাহিনীতে আমাদের ফরেন সার্ভিস অফিসারদের চেয়ে বেশি সঙ্গীতজ্ঞ রয়েছে, এবং [[জিম ম্যাটিস|জিম ম্যাটিস]]ের পয়েন্টটি যে, আমরা যদি কূটনীতিতে কম বিনিয়োগ অব্যাহত রাখি তবে আমাদের “আরও গোলাবারুদ কিনতে হবে”। কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি যে, তাতে খুব একটা কাজ হয়নি। অবশ্যই, আমাদের নিশ্চিত করা উচিত যে আমাদের সামরিক বাহিনী অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে শক্তিশালী, যাতে আমাদের শেষ হাতিয়ারটি শক্তিশালী ও টেকসই হয়। এবং অবশ্যই, কূটনীতি পরিচালনায় শক্তি বা শক্তির হুমকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যারা আমাদের বিপরীতে টেবিলে বসেছিলেন, তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরে আমরা সবাই মার্কিন সামরিক বাহিনী থেকে উপকৃত হয়েছি... কিন্তু বারবার, আমরা দেখেছি যে সামরিক হাতিয়ারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের নীতির চোরাবালিতে নিয়ে যেতে পারে। বারবার, আমরা শক্তির অত্যধিক ব্যবহারের—বা সময়ের আগেই ব্যবহারের—ফাঁদে পড়েছি। এটি আমেরিকান রক্ত ও অর্থের ক্ষেত্রে অনেক বেশি ব্যয়সাধ্য এবং এটি কূটনীতিকে একটি বিকৃত ও কম সম্পদের সংস্থানযুক্ত গৌণ বিষয়ে পরিণত করে। [[সেপ্টেম্বর ১১-এর হামলা|৯/১১]]-পরবর্তী যুগের চিরস্থায়ী যুদ্ধে, [শক্তি ও কূটনীতির] এই “মহা বিপরীতকরণ” পররাষ্ট্র দপ্তরের পেশাদারদের এমন জাতি-গঠনের ভূমিকায় ঠেলে দিয়েছে যা আমেরিকান কূটনীতিক বা অন্য কোনো বাহ্যিক শক্তির ক্ষমতার বাইরে। যদিও আমাদের সহকর্মীরা সাহস ও বুদ্ধিমত্তার সাথে সেবা করেছেন, সত্যটি হলো আমরা আমেরিকান ফরেন সার্ভিস, ব্রিটিশ কলোনিয়াল সার্ভিস নই।
** উইলিয়াম জে. বার্নস, ''দ্য ডিপ্লোম্যাসি ইম্পারেটিভ: আ কিউ অ্যান্ড এ উইথ উইলিয়াম জে. বার্নস, দ্য ফরেন সার্ভিস জার্নাল,'' মে ২০১৯
*কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে, আমি আপনাদের রিপোর্ট করছি: আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্মান ও বীরত্বের সাথে লড়াই করেছে।
**[[জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ|জর্জ এইচ. ডাব্লিউ. বুশ]], [http://www.nytimes.com/1991/03/07/us/after-war-president-transcript-president-bush-s-address-end-gulf-war.html?pagewanted=all মার্কিন কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে ভাষণ] (২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১)
*<p>যখন আমি আমাদের সৈন্যদের কাজে আহ্বান জানিয়েছিলাম, আমি তাদের সাহস ও দক্ষতার ওপর পূর্ণ আস্থা নিয়ে তা করেছিলাম। এবং আজ রাতে, তাদের ধন্যবাদ, আমরা যুদ্ধে জয়ী হচ্ছি...</p><p>আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পুরুষ ও নারীরা এমন একটি বার্তা দিয়েছেন যা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শত্রুর কাছে পরিষ্কার। এমনকি ৭,০০০ মাইল দূরে, মহাসাগর ও মহাদেশ জুড়ে, পাহাড়ের চূড়ায় এবং গুহায়; তোমরা এই জাতির ন্যায়বিচার থেকে বাঁচতে পারবে না।</p>
**[[জর্জ ডব্লিউ বুশ|জর্জ ডাব্লিউ. বুশ]], স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন অ্যাড্রেস (২৯ জানুয়ারি ২০০২)
*<p>যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সকল পুরুষ ও নারীদের প্রতি...</p><p>একটি সমস্যাসংকুল বিশ্বের শান্তি এবং নির্যাতিত মানুষের আশা এখন আপনাদের ওপর নির্ভর করে। সেই আস্থা সঠিকভাবে অর্পিত। আপনারা যে শত্রুদের মোকাবিলা করবেন তারা আপনাদের দক্ষতা ও বীরত্ব সম্পর্কে জানতে পারবে। আপনারা যাদের মুক্ত করবেন তারা আমেরিকান সামরিক বাহিনীর সম্মানজনক ও শালীন চেতনা প্রত্যক্ষ করবে। এই সংঘাতের মধ্যে, আমেরিকা এমন এক শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে যার যুদ্ধের রীতি বা নৈতিকতার নিয়মের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই...</p><p>আমি জানি যে আমাদের সামরিক পরিবারের সদস্যরা প্রার্থনা করছেন যাতে যারা সেবা করছেন তারা সবাই নিরাপদে এবং শীঘ্রই ফিরে আসেন। লক্ষ লক্ষ আমেরিকান আপনাদের প্রিয়জনদের নিরাপত্তা এবং নিরপরাধীদের সুরক্ষার জন্য আপনাদের সাথে প্রার্থনা করছেন। আপনাদের ত্যাগের জন্য, আপনারা আমেরিকান জনগণের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা পেয়েছেন। এবং আপনারা জানতে পারেন যে আমাদের বাহিনী কাজ শেষ হবামাত্রই বাড়িতে ফিরে আসবে...</p><p>আমাদের দেশ ও বিশ্বের বিপদগুলো কাটিয়ে ওঠা হবে। আমরা এই বিপদের সময় পার করে শান্তির কাজ চালিয়ে যাব। আমরা আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করব। আমরা অন্যদের স্বাধীনতা এনে দেব এবং আমরা জয়ী হব...</p><p>ঈশ্বর আমাদের দেশকে এবং যারা তাকে রক্ষা করে তাদের আশীর্বাদ করুন।</p>
**[[জর্জ ডব্লিউ বুশ|জর্জ ডাব্লিউ. বুশ]], [https://listenonrepeat.com/watch/?v=5BwxI_l84dc ইরাক আক্রমণের ভাষণ] (১৯ মার্চ ২০০৩)
*আমেরিকা এবং আমাদের মিত্ররা ভিন্ন ধরনের শত্রুর বিরুদ্ধে নতুন ধরনের যুদ্ধ করছে। এই সংঘাত আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পুরুষ ও নারীদের—আমাদের গার্ড ও রিজার্ভসহ—ওপর বড় দাবি রাখে। তারা প্রতিটি পরীক্ষা দিয়েছে; তারা প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছে। এই যুদ্ধ সরকারে আমাদের ওপরও দাবি রাখে। আমরা আমাদের দেশ রক্ষার শপথ নিয়েছি। যারা আমাদের রণক্ষেত্রে রক্ষা করে, সেই সেবা করা পুরুষ ও নারীদের সহায়তা করার পবিত্র দায়িত্ব আমাদের রয়েছে।
**[[জর্জ ডব্লিউ বুশ|জর্জ ডাব্লিউ. বুশ]], [http://www.washingtonpost.com/wp-dyn/articles/A42299-2004Aug5.html প্রতিরক্ষা বিল স্বাক্ষরের সময় মন্তব্য] (৫ আগস্ট ২০০৪)
*ইরাকে আমাদের সৈন্যরা সাহসের সাথে লড়াই করেছে। তারা সবকিছুই করেছে যা আমরা তাদের করতে বলেছি। যেখানে ভুল হয়েছে, তার দায়ভার আমার।
**[[জর্জ ডাব্লিউ. বুশ]], [http://georgewbush-whitehouse.archives.gov/news/releases/2007/01/20070110-7.html জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ] (১০ জানুয়ারি ২০০৭)
*বাঙ্কার হিল থেকে [[বাগদাদ|বাগদাদ]], আমেরিকান সশস্ত্র বাহিনীর পুরুষ ও নারীরা আমাদের গণতন্ত্রের নিবেদিত অভিভাবক।
**[[জর্জ ডব্লিউ বুশ|জর্জ ডাব্লিউ. বুশ]], [https://georgewbush-whitehouse.archives.gov/news/releases/2008/11/20081101.html রেডিও ভাষণ] (১ নভেম্বর ২০০৮)
*আমাদের সৈন্যদের যুদ্ধগুলো দুটি নাটকীয়ভাবে ভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ। একটির অধীনে, ধর্মান্ধদের একটি ছোট দল একটি নিপীড়নমূলক আদর্শের প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য দাবি করে, নারীদের অধীনস্থতায় নিন্দা করে, এবং অবিশ্বাসী ব্যক্তিদের হত্যার জন্য চিহ্নিত করে। অন্য ব্যবস্থাটি এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে যে স্বাধীনতা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সার্বজনীন উপহার এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার শান্তির পথ আলোকিত করে। এই সেই বিশ্বাস যা [[যুক্তরাষ্ট্র|আমাদের জাতির]] জন্ম দিয়েছে। এবং দীর্ঘমেয়াদে, এই বিশ্বাসকে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করার একমাত্র ব্যবহারিক উপায়।
**[[জর্জ ডব্লিউ বুশ|জর্জ ডাব্লিউ. বুশ]], [http://www.nytimes.com/2009/01/15/us/politics/15bush-text.html?pagewanted=all&_r=0 হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ] (১৫ জানুয়ারি ২০০৯)
*<p>আমি [[কমান্ডার ইন চিফ|কমান্ডার ইন চিফ]] হওয়া মিস করি, এবং এটি একটি সহজ [[প্রশ্ন]] যার [[উত্তর]] দেওয়া যায়। আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে [[ভালোবাসি]]...</p><p>আমি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ভালোবাসি, এবং আমরা একটি ভাগ্যবান জাতি যে আমাদের এমন মানুষ আছে যারা [[সেবা|সেবা করতে]] স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসে।</p>
**[[জর্জ ডব্লিউ বুশ|জর্জ ডাব্লিউ. বুশ]], [https://web.archive.org/web/20131205082100/http://www.today.com/id/40108402/ns/today-today_news/t/bush-reacts-apology-kanye-west/ ''টুডে''তে সাক্ষাৎকার] (৯ নভেম্বর ২০১০), ম্যাট লাউয়ারের সাথে।
*যুদ্ধ একটি র্যাকেট (প্রতারণামূলক ব্যবসা)। এটি সবসময়ই ছিল। এটি সম্ভবত সবচেয়ে প্রাচীন, সহজেই সবচেয়ে লাভজনক, নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে নিষ্ঠুর। এটিই একমাত্র আন্তর্জাতিক পরিধির। এটিই একমাত্র ব্যবসা যেখানে মুনাফার হিসাব করা হয় ডলারে এবং ক্ষতির হিসাব করা হয় প্রাণে। ... একটি র্যাকেটকে আমার মতে, এমন কিছু হিসেবে বর্ণনা করা ভালো যা অধিকাংশ মানুষের কাছে যা মনে হয়, আসলে তা নয়।
** স্মেলি বাটলার ''ওয়ার ইজ আ র্যাকেট'' (১৯৩৫)-এ
*মাত্র একটি ছোট “ভেতরের” গোষ্ঠী জানে এটি কিসের জন্য। এটি খুব অল্প সংখ্যক মানুষের লাভের জন্য, অনেকের খরচে পরিচালিত হয়। যুদ্ধ থেকে অল্প কিছু মানুষ বিশাল সম্পদ অর্জন করে। ... এই নতুন অর্জিত অঞ্চল অবিলম্বে সেই অল্প কিছু মানুষ দ্বারা শোষিত হয়—সেই একই মানুষ যারা যুদ্ধে [[রক্ত]] থেকে ডলার নিংড়ে নিয়েছিল। সাধারণ জনগণ বিল বহন করে। আর এই বিল কী? ... নতুন বসানো সমাধিফলক। ছিন্নভিন্ন দেহ। চূর্ণ-বিচূর্ণ মন। ভাঙা হৃদয় ও বাড়ি। অর্থনৈতিক অস্থিরতা। মন্দা এবং এর সাথে সম্পর্কিত সমস্ত দুঃখ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পিঠভাঙা কর।
**স্মেলি বাটলার [[যুদ্ধ একটি র্যাকেট|''ওয়ার ইজ আ র্যাকেট'']] (১৯৩৫)-এ
*আমি তেত্রিশ বছর এবং চার মাস সক্রিয় সামরিক সেবায় কাটিয়েছি এই দেশের সবচেয়ে ক্ষিপ্র সামরিক বাহিনী, মেরিন কোরের সদস্য হিসেবে। আমি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থেকে মেজর-জেনারেল পর্যন্ত সকল কমিশনপ্রাপ্ত পদমর্যাদায় কাজ করেছি। এবং সেই সময়ে, আমি আমার বেশিরভাগ সময় বড় ব্যবসা, ওয়াল স্ট্রিট এবং ব্যাংকারদের জন্য উচ্চ শ্রেণির পেশী-মানব হিসেবে কাটিয়েছি। সংক্ষেপে, আমি ছিলাম একজন র্যাকেটিয়ার, পুঁজিবাদের জন্য একজন গ্যাংস্টার।
**স্মেলি বাটলার ''মাভেরিক মেরিন জেনারেল স্মেলি ডি. বাটলার অ্যান্ড দ্য কন্ট্রাডিকশনস অফ আমেরিকান মিলিটারি হিস্ট্রি'' (২০১৪)তে
=== হাইডি বিরিচ, [https://www.congress.gov/116/meeting/house/110495/witnesses/HHRG-116-AS02-Wstate-BeirichH-20200211.pdf “অ্যালার্মিং ইনসিডেন্টস অফ হোয়াইট সুপ্রিমেসি ইন দ্য মিলিটারি – হাউ টু স্টপ ইট?”], ''Congress.gov'', (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০) ===
* সশস্ত্র বাহিনীর নিজস্ব সৈন্যরা জানে যে পদমর্যাদায় [[শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য|শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব]] একটি গুরুতর [[সমস্যা]]। ২০১৭ সালে ''মিলিটারি টাইমসে''র একটি জরিপে দেখা গেছে যে, প্রায় ২৫ শতাংশ সক্রিয় সামরিক কর্মী সশস্ত্র বাহিনীতে [[শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ]] এবং [[বর্ণবাদের]] সম্মুখীন হয়েছেন। সেই সময়ে সক্রিয় দায়িত্ব পালনরত সৈন্য ছিল প্রায় ১.৩ মিলিয়ন, যার অর্থ প্রায় ৩,২৫,০০০ সৈন্য কোনো না কোনোভাবে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদের সম্মুখীন হয়েছিল। একই প্রকাশনার ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের পরবর্তী জরিপগুলোতেও মূলত একই উদ্বেগজনক ফলাফল পাওয়া গেছে।
** পৃষ্ঠা ৪
* এলিসনের মন্তব্যের জবাবে, প্রতিরক্ষা দপ্তর বলেছিল যে এটি “গত পাঁচ বছরে সার্ভিস সদস্যদের দ্বারা (অভ্যন্তরীণ) চরমপন্থী কার্যকলাপের ২৭টি রিপোর্ট” পেয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, সামরিক কর্মকর্তারা এই রিপোর্টগুলোর মধ্যে ২৫টির তদন্ত করেছেন; পরিশেষে, সামরিক বাহিনীর ১৮ জন সদস্যকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়েছে বা সশস্ত্র বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সৈন্যদের চরমপন্থার প্রকৃতি নথিভুক্ত করা হয়নি।
** পৃষ্ঠা ৪
* এক বিবৃতিতে, পেন্টাগনের মুখপাত্র, বিমান বাহিনীর মেজর কার্লা গ্লিসন বলেছেন: “ডিওডি সম্ভাব্য নতুন সৈন্য, নাবিক, বিমানসেনা এবং মেরিনদের সম্পর্কে যথাসম্ভব বেশি জানার জন্য একটি বহু-স্তরের পদ্ধতি ব্যবহার করে, যাতে আমরা মূল্যায়ন করতে পারি যে তাদের সামরিক বাহিনীতে সেবার বিশেষাধিকার দেওয়া উচিত কিনা। যদিও আমরা গ্যারান্টি দিতে পারি না যে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া প্রতিটি ব্যক্তি চরমপন্থী চিন্তাধারা থেকে মুক্ত থাকবে, বিভিন্ন স্ক্রিনিং সরঞ্জাম আমাদের এমন লোকদের শনাক্ত করার সর্বোত্তম সুযোগ প্রদান করে যারা আমাদের মূল্যবোধগুলো শেয়ার করে না।”
** পৃষ্ঠা ৯
* মিলিটারি টাইমসের ২০১৮ সালের জরিপে, যাতে প্রায় ৯০০ জন সক্রিয়-দায়িত্ব পালনরত সৈন্যের প্রতিক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল, অংশগ্রহণকারী সার্ভিস সদস্যদের মধ্যে ২২ শতাংশ বলেছিলেন যে তারা সশস্ত্র বাহিনীতে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ বা বর্ণবাদী মতাদর্শের লক্ষণ দেখেছেন। জরিপ করা সংখ্যালঘু সার্ভিস সদস্যদের মধ্যে, বর্ণবাদ এবং বর্ণবাদী মতাদর্শের ঘটনা ২০১৭ সালের ৪২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৮ সালে অর্ধেক ছাড়িয়ে গেছে। উত্তরদাতারা জাতিগত গালি ও ইহুদিবিদ্বেষী ভাষার নৈমিত্তিক ব্যবহার, অন্যান্য সৈন্যদের অভিযোগ সত্ত্বেও [[কনফেডারেট স্টেটস অফ আমেরিকা|কনফেডারেট]] পতাকার প্রদর্শন, যুদ্ধের অঞ্চলে বাথরুমের দেয়ালে আঁকা স্বস্তিকা এবং শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের সাথে যুক্ত ট্যাটুর কথা উল্লেখ করেছেন। এটি উল্লেখ করা উচিত যে, যদি এই আচরণ কোনো বেসামরিক কর্মক্ষেত্রে ঘটত, তবে এই ঘটনাগুলোকে প্রতিকূল কর্মপরিবেশে অবদান হিসেবে দেখা হতো। পত্রিকাটি রিপোর্ট করেছে যে একজন বেনামী সার্ভিস সদস্য লিখেছেন, “আমার কয়েকজন সহকর্মী আছেন যারা বলেছেন যে তারা ‘অল্টরাইট’, এবং তারা ‘কৃষ্ণাঙ্গ, মুসলিম, হিস্পানিক এবং সাধারণভাবে অভিবাসীদের প্রতি তীব্র ঘৃণার খুবই স্পষ্ট বক্তব্য’ দিয়েছেন। তারা অনুকূল দায়িত্ব প্রদান না করে অন্যদের শাস্তি দেয়, ইত্যাদি।”
** পৃষ্ঠা ১২
* ২০০৯ সালের একটি স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর (ডিএইচএস) রিপোর্ট আরও সতর্ক করেছিল যে, প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান রাষ্ট্রপতির নির্বাচন, অর্থনৈতিক মন্দা এবং [[ইরাক]] ও [[আফগানিস্তান|আফগানিস্তানে]] যুদ্ধ থেকে ফিরে আসা বেকার ভেটেরানদের আগমন ছিল সম্ভাব্য ফ্ল্যাশপয়েন্ট, এবং সামরিক কর্মী ও ভেটেরানদের চরম ডানপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো লক্ষ্যবস্তু করছিল। দুর্ভাগ্যবশত, এই রিপোর্ট রাজনীতিবিদ, রক্ষণশীল ভাষ্যকার এবং ভেটেরান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি রাজনৈতিক ঝড় সৃষ্টি করেছিল। ফলস্বরূপ, এটি ডিএইচএস সেক্রেটারি [[জ্যানেট ন্যাপোলিটানো|জ্যানেট ন্যাপোলিটানো]] দ্বারা বাতিল করা হয়েছিল এবং ওবামা প্রশাসন পরবর্তীতে সমস্যাটি সমাধানের জন্য খুব কমই কাজ করেছে।
** পৃষ্ঠা ১৩
* তৎকালীন প্রতিরক্ষা সচিব উইলিয়াম পেরি আপডেট করা প্রবিধানের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে আরও শক্তিশালী ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। পেরি বলেছিলেন, “প্রতিরক্ষা দপ্তরের নীতিতে সেনাবাহিনীতে বর্ণবাদী এবং চরমপন্থী কার্যকলাপের কোনো স্থান নেই। আমাদের অবশ্যই—এবং আমরা করব—সেনাবাহিনী থেকে ধর্মান্ধতা, বর্ণবাদ এবং চরমপন্থা মুছে ফেলার জন্য প্রতিটি প্রচেষ্টা করতে হবে। চরমপন্থী কার্যকলাপ ন্যায্যতা, সুশৃঙ্খলতা এবং শৃঙ্খলাকে আপস করে। সশস্ত্র বাহিনী, যা জাতি ও তার মূল্যবোধকে রক্ষা করে, সেই মূল্যবোধগুলোর উদাহরণ প্রশ্নাতীতভাবে হওয়া উচিত।”
** পৃষ্ঠা ১৪
* দীর্ঘকাল ধরে এই বিষয়ে দ্বিদলীয় ঐক্যমত্য রয়েছে যে, সামরিক বাহিনীতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের অনুমতি দেওয়া অগ্রহণযোগ্য এবং আমেরিকান জনগণের জন্য বিপজ্জনক, যাদের রক্ষার শপথ সশস্ত্র বাহিনী নিয়েছে। যেমন রিপাবলিকান সিনেটর রিচার্ড শেলবি (আর-আলা.) ২০০৬ সালে পেন্টাগনের কাছে লেখা এক চিঠিতে লিখেছিলেন, “সামরিক চরমপন্থীরা তাদের সহকর্মী এবং জনসাধারণের জন্য উচ্চতর হুমকি সৃষ্টি করে। আমরা টিমোথি ম্যাকভেই-এর সাথে দেখেছি যে আজকের বর্ণবাদী চরমপন্থী আগামিকালকের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদী হতে পারে। আমাদের সমাজের সমস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী হলো সেই শেষ স্থান যেখানে চরমপন্থীদের অস্তিত্ব থাকার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।”
** পৃষ্ঠা ১৬
* চরমপন্থীদের বিষয়ে সামরিক বাহিনী কীভাবে অন্যান্য শাখা এবং এফবিআই সহ অন্যান্য ফেডারেল এজেন্সির সাথে তথ্য শেয়ার করে তা অস্পষ্ট। যখন সার্ভিসগুলো তাদের পদমর্যাদায় কোনো চরমপন্থীকে সম্পর্কে সচেতন হয়, তখন সেই সৈন্যকে বরখাস্ত করার পরে সেই তথ্যের কী ঘটে? সার্ভিসগুলো কীভাবে একে অপরকে সতর্ক করে যখন তারা চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন কাউকে তালিকাভুক্ত করে? তারা কীভাবে সামরিক বাহিনীর নেটওয়ার্কগুলো তদন্ত করে যেগুলোর সাথে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী যুক্ত থাকতে পারে বা যেখান থেকে তাদের নিয়োগ দেওয়া হতে পারে? শাখা এবং তদন্তকারী সার্ভিসগুলো কীভাবে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করে? সার্ভিস সদস্য সামরিক বাহিনী ত্যাগ করার পরে সার্ভিসগুলো কীভাবে চরমপন্থীদের সম্পর্কে এবং এফবিআই ও বিচার দপ্তরের সাথে একে অপরের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে এবং তথ্য শেয়ার করে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
** পৃষ্ঠা ১৭
==সি==
*<p>আমরা পাহারা দিই...</p><p>সতর্ক থাকি...</p><p>আমরা কিছু একটা সঠিক করছি। আমাদের বিশ্বের সেরা বাহিনী আছে, কারণ আমাদের সেরা মানুষগুলো আছে। এটি একটি ''স্বেচ্ছাসেবী'' বাহিনী, তাই সেরা আমেরিকানদের পেতে আমাকে বাকি অর্থনীতির সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয় এবং আমাকে সামনের কথা চিন্তা করতে হয়। আমি কীভাবে প্রতিযোগিতা করব? কীভাবে আমাদের একটি আকর্ষণীয় জায়গা করে তুলব? তাই, আমাকে ক্রমাগত ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হয়...</p><p>তাই, কিছু সংস্কার করা বাকি। কিন্তু, মানুষের ক্ষেত্রে এটি একটি চমৎকার শক্তি বজায় রাখার বিষয়, যা হলো স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী, একটি প্রতিযোগিতামূলক শ্রম বাজারে শক্তিশালী...</p><p>এই প্রতিষ্ঠানে, এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকি। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের ঐতিহ্য।</p>
**[[অ্যাশটন কার্টার]], [http://www.charlierose.com/ চার্লি রোজের সাথে সাক্ষাৎকার] (ফেব্রুয়ারি ২০১৬)
*যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার হলো 'জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা', তাই যেসব নাগরিকরা সামরিক বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখেন, তাদের 'নিজেকে জানুন' বলার সময় এসেছে।
**আন্দা আর. চ্যাফি, [https://archive.org/details/valorofignorance00leahuoft ''দ্য ভ্যালর অফ ইগনোরেন্স''] (১৯০৯), হোমার লি, পৃষ্ঠা xi-xiiতে উদ্ধৃত।
*<p>সামরিক বাহিনী সবসময়ই একটি অত্যন্ত অন্তর্মুখী সংগঠন...</p><p>সেনাবাহিনী এত প্রগতিশীল হওয়ার একটি কারণ হলো এটি সবসময় নিজেকে যাচাই করে। সেনাবাহিনী সবসময় তার কাজ করার আরও ভালো উপায় খোঁজে...</p><p>সেনাবাহিনী বর্ণবাদ দূরীকরণে আমেরিকাকে নেতৃত্ব দিয়েছে...</p><p>সেনাবাহিনী খুব আগেই বুঝতে পেরেছিল যে, কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ আর শ্বেতাঙ্গ মানুষ একই; তারা কেবল একটু বেশি শ্যামলা। তারা ঠিক ততটাই ভালো সৈনিক হয়...</p><p>এরা আমাদের সন্তান...</p><p>এরা ভালো সন্তান...</p><p>সেনাবাহিনী বা মেরিন কোরে যোগ দিলে কেউ ক্রিপ্টো-মদ্যপ [[নাৎসিবাদ|নাৎসি]] হয়ে যায় না, বরং সে আমেরিকার এমন একটি সন্তান হয়ে ওঠে যে তার দেশের জন্য কাজ করছে...</p><p>এরা আমাদের সন্তান।</p>
**টম ক্ল্যান্সি, [http://c-spanvideo.org/program/TomC "ইন ডেপথ উইথ টম ক্ল্যান্সি"] (৩ ফেব্রুয়ারি ২০০২), ''সি-স্প্যান''
*আমেরিকানরা সম্মিলিতভাবে নিজেদের বিশ্বের যেকোনো কোণে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত শুরু হলে সেখানে ২৪ ঘণ্টা তলব করা একটি বিশাল উদ্ধারকারী দল হিসেবে ভাবে।
**এলড্রিজ ক্লিভার, ''সোল অন আইস'' (১৯৬৮), দ্বিতীয় খণ্ড: "র্যালিং রাউন্ড দ্য ফ্ল্যাগে" উদ্ধৃত।
*সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী সামরিক বাহিনী কাজ করেছে এবং আমাদের এমন কিছু করা উচিত নয় যা এটিকে দুর্বল করে, কারণ এটি এমন একদল মানুষকে সরবরাহ করেছে যারা আমাদের [[দেশ|দেশের]] সেবা করতে ইচ্ছুক।
**[[হিলারি ক্লিনটন]], [http://cnnpressroom.blogs.cnn.com/2016/02/04/rush-transcript-hillary-clinton-cnn-democratic-presidential-town-hall/ সিএনএন টাউন হল মিটিং] (ফেব্রুয়ারি ২০১৬)
*এখানে এক মিলিয়ন সৈন্যের এক ভূমি, যদি আমাদের প্রয়োজন হয়। আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়ব!
**জর্জ এম. কোহান, "ইউ আর আ গ্র্যান্ড ওল্ড ফ্ল্যাগ" (১৯০৬)
*<p>[[মুসলিম|মুসলিমরা]] জেনারেল [[জর্জ ওয়াশিংটন|জর্জ ওয়াশিংটনের]] অধীনে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সেবা করেছেন, যিনি আমেরিকান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কন্টিনেন্টাল আর্মির প্রধান ছিলেন। ওয়াশিংটনের বাহিনীতে সেবা করা সৈন্যদের তালিকায় বাম্পেট মুহাম্মদের মতো নাম আছে, যিনি ১৭৭৫ থেকে ১৭৮৩ সালের মধ্যে ভার্জিনিয়া লাইনের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। ওয়াশিংটনের আরেক সৈনিক, ইউসুফ বেন আলি ছিলেন একজন উত্তর আফ্রিকান আরব যিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনার জেনারেল থমাস সামটারের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। পিটার বাকমিনস্টার, যিনি বোস্টনে যুদ্ধ করেছিলেন, সম্ভবত ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বিশিষ্ট মুসলিম আমেরিকান সৈনিক। বাকমিনস্টার সেই বন্দুকটি চালিয়েছিলেন যা বাঙ্কার হিলের যুদ্ধে ব্রিটিশ মেজর জেনারেল জন পিটকাইর্নকে হত্যা করেছিল। এই বিখ্যাত যুদ্ধের কয়েক বছর পর, পিটার তার শেষ নাম পরিবর্তন করে 'সালাম' রাখেন, যা [[আরবি|আরবি]] শব্দ, যার অর্থ 'শান্তি'। পিটার সালাম পরবর্তীতে [[সারাটোগার যুদ্ধ|সারাটোগার যুদ্ধ]] এবং [[স্টনি পয়েন্টের যুদ্ধ|স্টনি পয়েন্টের যুদ্ধ]]ে সেবা করার জন্য কন্টিনেন্টাল আর্মিতে পুনরায় তালিকাভুক্ত হন। ওয়াশিংটনের সেনাবাহিনীতে মুসলিমদের সেবা নিয়ে সমস্যা থাকলে, তিনি মুহাম্মদ, আলি এবং সালামকে অ-মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব করতে ও সেবা করতে দিতেন না। এই মুসলিমদের আমেরিকাকে সেবা করার সম্মান দিয়ে, ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে একজন আমেরিকান দেশপ্রেমিক হওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিগত পটভূমির হতে হয় না...</p><p>আমেরিকান ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় গৃহযুদ্ধে মুসলিমরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে...</p><p>নিম্নলিখিত প্রশ্নটি নিয়ে চিন্তা করুন। [[জর্জ ওয়াশিংটন|জর্জ ওয়াশিংটন]] কার পক্ষে থাকতেন? মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সেবা করা মুসলিম নাগরিকরা, নাকি সেই গোঁড়া ধর্মান্ধদের দল যারা উপাসনালয়ে আমেরিকান নাগরিকদের সহিংসতার হুমকি দেয়?</p>
**ক্রেইগ কনসিটিন, [http://www.huffingtonpost.com/craig-considine/the-difference-between-an_1_b_8257506.html ''স্যালুটিং মুসলিম আমেরিকান প্যাট্রিয়টস'']
*আমাদের জনসংখ্যার মতো বিশ্বের সকল [[জাতি|জাতি]], [[ধর্ম|ধর্ম]] এবং [[জাতীয়তা|জাতীয়তা]] দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রতিনিধিত্ব করেছে। কোনো ব্যক্তির [[দেশপ্রেম|দেশপ্রেম]] বা সেবা তার জাতিগত উৎপত্তি, রাজনৈতিক মতামত বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। অভিবাসী এবং মধ্য ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তানরা আমাদের মিত্র দেশগুলো থেকে আসা বংশোদ্ভূতদের সাথে, নিরক্ষীয় আফ্রিকার সন্তানদের সাথে এবং আমাদের নিজস্ব আদিবাসী জনসংখ্যার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে, '''তাদের সবাই সমানভাবে 'আমেরিকান' নামের জন্য গর্বিত'''।
**[[ক্যালভিন কুলিজ]], [https://archive.org/stream/foundationsofrep00unit/foundationsofrep00unit_djvu.txt ''টলারেশন অ্যান্ড লিবারালিজম''] (৬ অক্টোবর ১৯২৫), আমেরিকান লিজিয়ন কনভেনশন, ওমাহা, নেব্রাস্কা।
*আমরা খ্যাতি নিয়ে [[জীবন|যাপন]] করি অথবা শিখায় ডুবে যাই!<br />হে! মার্কিন বিমান বাহিনীকে কিছুই থামাতে পারবে না!
**রবার্ট ম্যাকার্থার ক্রফোর্ড, ''দ্য ইউ.এস. এয়ার ফোর্স'' (১৯৪৭)
*সরকার শক্তি, প্রতারণা এবং ছলচাতুরীর মাধ্যমে শাসন করে। তথ্যের অবরোধ সামরিক বাহিনী থেকেই শুরু হয়। সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য সীমাবদ্ধ করে, তাছাড়া এর বিশাল আকার ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এমন যে এটি বোঝা এত কঠিন যে রাজনৈতিক নেতারাও সেই প্রতিষ্ঠানটি বুঝতে পারেন না যাকে তাদের কমান্ড করার কথা। আপনি প্রমাণ চান? মার্কিন গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের ২০১৬ সালের রিপোর্টটি পড়ার চেষ্টা করুন, যা বের করতে পারেনি যে সামরিক বাহিনী ঠিক কতটা তেল পোড়ায়। GAO উপসংহারে পৌঁছেছে: “[ক]ংগ্রেসের কাছে বার্ষিক ভিত্তিতে সামরিক পরিষেবাগুলোর কার্যকলাপের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির পরিমাণের ওপর পূর্ণ দৃশ্যমানতা নেই...” এটি অবাক হওয়ার মতো বিষয় নয়। ১৯৫০ সালের দিকে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আধুনিক সামরিক বাহিনী মার্কিন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১, ধারা ৯ লঙ্ঘন করে খরচের কোনো হিসাব দিতে অস্বীকার করেছে। ২০১৮ সালে পেন্টাগন তার প্রথম অডিটেই ব্যর্থ হয়েছে। এটি কেবল নিখোঁজ ৬.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিষয় নয়, এটি হলো অস্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা যা একটি বর্ম—একটি প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র যা মার্কিন সরকারের বিরোধিতা তো দূরের কথা, যারা মার্কিন সরকারকে বুঝতে চায় তাদের নিরপেক্ষ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
**[https://www.counterpunch.org/2019/06/14/the-climate-counter-offensive-secrecy-deception-and-disarming-the-green-new-deal/ দ্য ক্লাইমেট কাউন্টার-অফেনসিভ: সিক্রেসি, ডিসেপশন অ্যান্ড ডিসআর্মিং দ্য গ্রিন নিউ ডিল, রিচার্ড মোজার, ''কাউন্টারপাঞ্চ''] (১৪ জুন, ২০১৯)
==ডি==
*এবং আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে মার্কিন বাহিনীর কবরস্থানে পরিণত করব এবং তাদের [[পরিবার|পরিবার]] তাদের মৃত [[দেহ|দেহের]] জন্য অপেক্ষা করবে। তালিবানের [[যুদ্ধ|যুদ্ধ]] কেবল [[মুসলিম|মুসলিমদের]] [[শত্রু|শত্রুদের]] হাত থেকে [[আফগানিস্তান|আফগানিস্তানের]] [[স্বাধীনতা|স্বাধীনতার]] জন্য।
**[[মোল্লা দাদুল্লাহ]], [http://www.alertnet.org/thenews/newsdesk/ISL151157.htm তালিবান হাজার হাজার আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী মোতায়েন করেছে - কমান্ডার] ২ এপ্রিল ২০০৭।
*<p>আমরা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনীকে পুনর্গঠনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শুরু করব, আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমান খেলার ক্ষেত্র তৈরি করব এবং আমেরিকান শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করব, আমরা আমাদের বন্ধুদের আমাদের বিশ্বাস করার কারণ দেব। আমাদের শত্রুরা আমাদের ভয় পাওয়ার কারণ পাবে, এবং আমাদের নাগরিকরা আবারও বিশ্বাস করার কারণ পাবে। না, আপনি আমেরিকাকে চেনেন না, এবং আপনি কঠিন উপায়ে তা খুঁজে বের করতে চান না...</p><p>আমাদের সৈন্যদের জন্য প্রার্থনা করুন।</p>
**চার্লি ড্যানিয়েলস, [http://www.cnsnews.com/commentary/charlie-daniels/charlie-daniels-open-letter-americas-enemies-you-see-obama-you-dont-know "লেটার টু আমেরিকাস এনিমিজ"] (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬), ''সিএনএস নিউজ''
*একবার যদি কৃষ্ণাঙ্গ [[মানুষ|মানুষ]] তার শরীরে 'U.S.' পিতলের অক্ষরগুলো পায়; যদি সে তার বোতামে একটি প্রান্ত পায়, এবং কাঁধে একটি মাস্কেট ও পকেটে বুলেট পায়, তবে পৃথিবীতে এমন কোনো শক্তি নেই যা অস্বীকার করতে পারে যে সে নাগরিকত্বের অধিকার অর্জন করেছে।
**[[ফ্রেডরিক ডগলাস]], যার ছেলেরা চার্লস এবং লুইস কর্নেল রবার্ট গোল্ড শ-এর নেতৃত্বে ৫৪তম ম্যাসাচুসেটস ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টে সেবা করেছিলেন (১৮৬২)
*<p>যদি সে একটি মাস্কেট কাঁধে নিয়ে [[পতাকা|পতাকার]] জন্য যুদ্ধ করার, সরকারের জন্য যুদ্ধ করার মতো যথেষ্ট জ্ঞান রাখে, তবে তার ভোট দেওয়ার মতো যথেষ্ট জ্ঞান আছে...</p><p>কৃষ্ণাঙ্গকে বিপদের সময় নাগরিক হিসেবে এবং ঝামেলামুক্ত থাকলে ভিনদেশি হিসেবে দেখার মধ্যে খুব নিচতা আছে। যখন এই জাতি ঝামেলায় ছিল, তার প্রাথমিক সংগ্রামে, এটি কৃষ্ণাঙ্গকে নাগরিক হিসেবে দেখেছিল। ১৭৭৬ সালে সে নাগরিক ছিল। সংবিধান তৈরির সময় ১৩টি পুরোনো রাজ্যের মধ্যে ১১টিতে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল। আপনার ঝামেলায় আপনি আমাদের নাগরিক করেছেন। ১৮১২ সালে জেনারেল জ্যাকসন আমাদের নাগরিক হিসেবে সম্বোধন করেছিলেন; 'সহ-নাগরিক'। তিনি চেয়েছিলেন আমরা যুদ্ধ করি। আমরা তখন নাগরিক ছিলাম! আর এখন, যখন আপনি একটি কনস্ক্রিপশন বিল তৈরি করতে এসেছেন, কৃষ্ণাঙ্গ আবার নাগরিক। এই সরকারের ইতিহাসে সে মাত্র তিনবার নাগরিক হয়েছে, এবং এটি সবসময়ই বিপদের সময়। বিপদের সময় আমরা নাগরিক। আমরা কি যুদ্ধে নাগরিক এবং শান্তিতে ভিনদেশি হব? তা কি ন্যায্য হবে?</p>
**[[ফ্রেডরিক ডগলাস]], [http://teachingamericanhistory.org/library/document/what-the-black-man-wants/ "হোয়াট দ্য ব্ল্যাক ম্যান ওয়ান্টস"], বোস্টন, ম্যাসাচুসেটসে ভাষণ (১৮৬৫)
*আমরা এখানে পুরুষোচিত সাহসের প্রশংসা করতে আসিনি, যদিও তা একটি মহৎ উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হয়েছে। আমাদের কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে বিদ্রোহে জয় মানেই প্রজাতন্ত্রের মৃত্যু। আমাদের কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে অনুগত সৈন্যরা যারা এই মাটির নিচে বিশ্রাম নিচ্ছে তারা জাতি এবং [[কনফেডারেট স্টেটস অফ আমেরিকা|জাতি ধ্বংসকারীদের]] মাঝে নিজেদের ছুড়ে দিয়েছিল। যদি আজ আমাদের একটি দেশ থাকে যা [[ফ্রান্স|ফ্রান্সের]] মতো রক্তে ফুটছে না, যদি এখন আমাদের একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ থাকে, যা আর [[দাসত্ব|দাসত্বের]] নরকীয় ব্যবস্থার অভিশাপে অভিশপ্ত নয়, '''যদি আমেরিকান নামটি আর উপহাসকারী পৃথিবীর জন্য কোনো কথা বা হিস হিস শব্দ না হয়, যদি নক্ষত্রখচিত ব্যানারটি কেবল ভূমির প্রতিটি প্রান্তে স্বাধীন আমেরিকান নাগরিকদের ওপর উড়ে বেড়ায়, এবং আমাদের দেশের সামনে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সভ্যতার এক দীর্ঘ এবং গৌরবময় কর্মজীবন থাকে, তবে আমরা আমাদের চারপাশে সম্মানিত এই কবরগুলোতে বিশ্রামরত মহৎ সেনাবাহিনীর নিঃস্বার্থ ভক্তির কাছে ঋণী'''।
**[[ফ্রেডরিক ডগলাস]], [http://deadconfederates.com/2015/05/25/frederick-douglass-on-decoration-day-1871-5/ "দ্য আননোন লয়াল ডেড"] (৩০ মে ১৮৭১), আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রি, আর্লিংটন কাউন্টি, ভার্জিনিয়া।
* [[ওসামা বিন লাদেন|ওসামা বিন লাদেনের হত্যার]] কয়েকদিনের মধ্যে, ২ মে, ২০১১-এ জানা যায় যে মিশনটি সম্পাদনকারী [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী সিল|নৌবাহিনী সিল]] দল তার লক্ষ্যের জন্য জেরোনিমো কোড নাম ব্যবহার করেছিল। ''নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজে''র ৪ মের একটি প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে, "[[ওসামা বিন লাদেন|ওসামা বিন লাদেনের]] লাশের অদেখা ছবি এবং [[পাকিস্তান|পাকিস্তান]] কী জানত সেই প্রশ্নগুলোর পাশাপাশি, আল কায়েদা বসকে 'জেরোনিমো' ডাকার কারণগুলো ব্ল্যাক অপস মিশনের অন্যতম বড় রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে।" সেই কোড নাম বেছে নেওয়াটা সামরিক বাহিনীর কাছে রহস্য ছিল না, যারা শত্রু অঞ্চল নির্ধারণের জন্য "ইন্ডিয়ান কান্ট্রি" শব্দটিও ব্যবহার করে এবং তাদের হত্যার মেশিন ও অপারেশনগুলোকে ইউএইচ-১বি/সি ইরো কোয়া, ওএইচ-৫৮ডি কিওয়া, ওভি-১ মোহক, ওএইচ-৬ কাইউস, এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, এস-৫৮/এইচ-৩৪ চক্টো, ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক, থান্ডারবার্ড এবং রোলিং থান্ডারের মতো নাম দিয়ে চিহ্নিত করে। শেষেরটি হলো ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে [[ভিয়েতনাম|ভিয়েতনামের]] [[কৃষক|কৃষকদের]] ওপর নিরলস কার্পেট-বোমাবর্ষণের জন্য সামরিক নাম। উত্তর আমেরিকার আদিবাসী জাতি ও সম্প্রদায়গুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভিত্তিহীন একটি সামরিক বাহিনীর মূলে থাকা উপনিবেশবাদ ও [[সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]]ের সংবেদনশীলতার স্থায়ীত্বের আরও অনেক বর্তমান ও সাম্প্রতিক উদাহরণ রয়েছে।
** রোক্সান ডানবার-অরটিজ, ''অ্যান ইন্ডিজেনাস পিপলস হিস্ট্রি অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস'' (২০১৪)
==ই==
*সৈনিক, নাবিক এবং বিমানসেনা অ্যালিয়েড এক্সপিডিশনারি ফোর্স! <br> আপনারা সেই গ্রেট ক্রুসেডে যাত্রা করতে যাচ্ছেন, যার জন্য আমরা বহু মাস ধরে চেষ্টা করেছি। [[বিশ্ব|বিশ্বের]] [[চোখ]] আপনাদের ওপর। [[স্বাধীনতা]]-প্রেমী [[মানুষ|মানুষের]] [[আশা]] ও [[প্রার্থনা]] সব জায়গায় আপনাদের সাথে মার্চ করছে। অন্যান্য ফ্রন্টে আমাদের সাহসী মিত্র ও অস্ত্র-ভাইদের সাথে, আপনারা [[জার্মানি|জার্মান]] [[যুদ্ধ]] মেশিনের ধ্বংস, ইউরোপের নিপীড়িত জনগণের ওপর [[নাৎসি]] স্বৈরাচার দূরীকরণ এবং একটি [[স্বাধীনতা|স্বাধীন]] বিশ্বে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।<br> আপনাদের কাজ সহজ হবে না। আপনাদের শত্রু সুপ্রশিক্ষিত, সুসজ্জিত এবং যুদ্ধ-কঠিন। সে বন্যভাবে লড়াই করবে। <br>কিন্তু এটি ১৯৪৪ সাল! ১৯৪০-৪১ সালের [[নাৎসিবাদ|নাৎসি]] বিজয়ের পর অনেক কিছু ঘটেছে। [[জাতি|জাতিসংঘ]] জার্মানদের ওপর বিশাল পরাজয় চাপিয়েছে, খোলা যুদ্ধে, মানুষে-মানুষে। আমাদের বিমান আক্রমণ তাদের আকাশে শক্তি এবং মাটিতে যুদ্ধ করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়েছে। আমাদের হোম ফ্রন্টগুলো আমাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যাপক শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছে, এবং প্রশিক্ষিত যুদ্ধবাজ মানুষের বিশাল মজুদ আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। জোয়ার ঘুরে গেছে! বিশ্বের স্বাধীন মানুষ বিজয়ের দিকে একসাথে মার্চ করছে! <br>আমি আপনাদের সাহস, কর্তব্যর প্রতি ভক্তি এবং [[যুদ্ধ]]র দক্ষতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি।<br> আমরা পূর্ণ জয় ছাড়া কিছুই গ্রহণ করব না! শুভ [[ভাগ্য|ভাগ্য]]! এবং আসুন আমরা এই মহান ও মহৎ উদ্যোগের ওপর সর্বশক্তিমান [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] আশীর্বাদ প্রার্থনা করি।'''
**[[ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার]], [http://www.3ad.com/history/wwll/feature.pages/d.day.letters.htm অর্ডার অফ দ্য ডে (২ জুন ১৯৪৪), নরম্যান্ডিতে অবতরণের আগে সৈন্যদের কাছে একটি বার্তা], ফ্রাঙ্কলিন ওয়াটস, ''ভয়েসেস অফ হিস্ট্রি'' (১৯৪৫)-এ রিপোর্ট করা হয়েছে, পৃষ্ঠা ২৬০।
*'''[[আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন|আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন]]''': যদি আমরা আমাদের প্রতিরক্ষার জন্য অযোগ্য রাজ্য মিলিশিয়াদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হই, তবে আমরা এখনই ফরাসি ভাষা শেখা শুরু করতে পারি, মিস্টার প্রেসিডেন্ট। একটি জাতীয় সেনাবাহিনী ব্যাংক যেমন করে দেশটিকে আবদ্ধ করে।
**[[আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন]], রুফাস সেওয়েল দ্বারা ''জন অ্যাডামসে'' ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কার্ক এলিস লিখিত, "অংশ VI: অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ", (১৬ মার্চ – ২৭ এপ্রিল, ২০০৮); ডেভিড ম্যাককুলাফের বইয়ের ওপর ভিত্তি করে।
*'''[[জন অ্যাডামস|জন অ্যাডামস]]''': আমরা যখন শান্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি তখন পৃথিবীতে আমাদের কেন একটি সেনাবাহিনী প্রয়োজন?
**[[জন অ্যাডামস]], পল জিয়ামাট্টি দ্বারা ''জন অ্যাডামসে'' ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কার্ক এলিস লিখিত, "অংশ VI: অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ", (১৬ মার্চ – ২৭ এপ্রিল, ২০০৮) ডেভিড ম্যাককুলাফের বইয়ের ওপর ভিত্তি করে।
==এফ==
[[File:Jim_Nabors_as_Gomer_Pyle_in_"The_Andy_Griffith_Show"_(cropped).jpg|thumb|আমার শৈশবে, অর্থাৎ পঞ্চাশ ও [[১৯৬০-এর দশক|ষাটের দশকে]] এবং পরবর্তী সময়ে [[১৯৭০-এর দশক|সত্তরের দশকে]], আমেরিকান পপ সংস্কৃতিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরনের পরিচিতি ছিল, যার ফলে মাঝেমধ্যে তাদের নিয়ে কৌতুকও করা হতো। তখন “[[গামার পাইল, ইউ.এস.এম.সি.|গামার পাইল]]”, “[[হোগান্স হিরোস|হোগান্স হিরোস]]” বা “[[ম্যাকহেলস নেভি|ম্যাকহেলস নেভি]]”-এর মতো অনুষ্ঠান দেখা যেত। <br> তখন “[[সাউথ প্যাসিফিক (মিউজিক্যাল)|সাউথ প্যাসিফিক]]”-এর মতো [[শিল্পকর্ম]], “[[ক্যাচ-২২|ক্যাচ ২২]]”-এর মতো [[উপন্যাস]] এবং “[[ম্যাশ (চলচ্চিত্র)|ম্যাশ]]”-এর মতো [[চলচ্চিত্র]] তৈরি হতো। এগুলো সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব এবং [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] মতো বড় পরিসরে তাদের বীরত্বপূর্ণ অবদানকে সম্মান জানাত, তবুও এসব গল্পে বাস্তব মানুষ এবং তাদের সীমাবদ্ধতাগুলো ফুটে উঠত। <br> কিন্তু এখন আমাদের সামরিক বাহিনীর প্রতি এক ধরনের কৃত্রিম ভক্তি তৈরি হয়েছে, যা একই সাথে দূরবর্তী ও বিচ্ছিন্ন। ~ [[জেমস ফ্যালোস]]]]
* আমেরিকান জনগণের সাথে সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান দূরত্ব তাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে চিন্তা ও কথোপকথনের ধরণকেও বদলে দিয়েছে, এমনটাই দাবি করেন “[[দি আটলান্টিক|দি আটলান্টিক]]”-এর লেখক [[জেমস ফ্যালোস]]। জানুয়ারিতে ফ্যালোস তার কভার স্টোরি “কেন বিশ্বের সেরা সৈন্যরা বারবার হেরে যাচ্ছে?: আমেরিকান সামরিক বাহিনীর করুণ পতন” নিয়ে [[পিবিএস নিউজ|নিউজআওয়ার]]ে মার্গারেট ওয়ার্নারের সাথে আলোচনা করেন: <br> আমার শৈশবে, অর্থাৎ পঞ্চাশ ও [[১৯৬০-এর দশক|ষাটের দশকে]] এবং পরবর্তী সময়ে [[১৯৭০-এর দশক|সত্তরের দশকে]], আমেরিকান পপ সংস্কৃতিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরনের পরিচিতি ছিল, যার ফলে মাঝেমধ্যে তাদের নিয়ে কৌতুকও করা হতো। তখন “[[গামার পাইল, ইউ.এস.এম.সি.|গামার পাইল]]”, “[[হোগান্স হিরোস|হোগান্স হিরোস]]” বা “[[ম্যাকহেলস নেভি|ম্যাকহেলস নেভি]]”-এর মতো অনুষ্ঠান দেখা যেত। <br> তখন “[[সাউথ প্যাসিফিক (মিউজিক্যাল)|সাউথ প্যাসিফিক]]”-এর মতো [[শিল্পকর্ম]], “[[ক্যাচ-২২|ক্যাচ ২২]]”-এর মতো [[উপন্যাস]] এবং “[[ম্যাশ (চলচ্চিত্র)|ম্যাশ]]”-এর মতো [[চলচ্চিত্র]] তৈরি হতো। এগুলো সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব এবং [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] মতো বড় পরিসরে তাদের বীরত্বপূর্ণ অবদানকে সম্মান জানাত, তবুও এসব গল্পে বাস্তব মানুষ এবং তাদের সীমাবদ্ধতাগুলো ফুটে উঠত। <br> কিন্তু এখন আমাদের সামরিক বাহিনীর প্রতি এক ধরনের কৃত্রিম ভক্তি তৈরি হয়েছে, যা একই সাথে দূরবর্তী ও বিচ্ছিন্ন।
**জেমস ফ্যালোস, (জানুয়ারি ২০১৫); মেগান ক্রিগার এবং লরা সান্তানামের উদ্ধৃতিতে, [https://www.pbs.org/newshour/nation/many-Americans-died-u-s-wars “কতজন আমেরিকান মার্কিন যুদ্ধে মারা গেছেন?”], ''পিবিএস নিউজ আওয়ার: নেশন'', (আপডেট করা হয়েছে ২৭ মে, ২০১৯ দুপুর ১২:৩১ ইডিটি — প্রকাশিত হয়েছে ২৪ মে, ২০১৫)।
* যুদ্ধ যে [[বৈশ্বিক উষ্ণায়ন|জলবায়ু পরিবর্তন]] ত্বরান্বিত করে—এই বিশাল ও কলঙ্কিত সত্যটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গোপন রাখা হয়। এই বিষয়টি আড়ালে রাখতে সামরিক বাহিনীকে যেকোনো তদারকি বা বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আইনগত এই ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সবসময়ই বিদ্যমান ছিল, তবে জি. ডব্লিউ. বুশ ১৯৯৭ সালের কিয়োটো প্রোটোকলে এই সংক্রান্ত ভাষা যুক্ত করে এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন, যদিও তিনি পরবর্তীতে সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন... মার্কিন সামরিক বাহিনীর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের হিসাব থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত তালিকায় রয়েছে বিশ্বজুড়ে ১৩০টির বেশি দেশে থাকা ১,০০০-এর বেশি মার্কিন ঘাঁটি, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ৬,০০০ স্থাপনা, যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ এবং জেট বিমান। এছাড়া অস্ত্র পরীক্ষা এবং ন্যাটো সামরিক জোট ও আফ্রিকমের মতো বিশাল মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বহুপাক্ষিক কার্যক্রমও এই হিসাবের বাইরে। এই বিধানের আওতায় মার্কিন/জাতিসংঘ-অনুমোদিত “শান্তিরক্ষা” ও “মানবিক ত্রাণ” কার্যক্রমকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
**[[সারা ফ্লাউন্ডার্স]], উদ্ধৃত: [https://www.counterpunch.org/2019/06/14/the-climate-counter-offensive-secrecy-deception-and-disarming-the-green-new-deal/ জলবায়ু পাল্টা আক্রমণ: গোপনীয়তা, প্রতারণা এবং গ্রিন নিউ ডিলকে নিরস্ত্র করা, রিচার্ড মোজার, ''কাউন্টারপাঞ্চ''] (১৪ জুন, ২০১৯)
* [[বাজার]]ের লুকানো [[হাত]] কখনোই একটি লুকানো মুষ্টি (শক্তি) ছাড়া কাজ করবে না। [[ম্যাকডোনাল্ডস]] কখনোই [[ম্যাকডোনেল ডগলাস]] (এফ-১৫ বিমানের নকশাকার) ছাড়া উন্নতি করতে পারত না। আর যে লুকানো মুষ্টিটি [[সিলিকন ভ্যালি]]ের [[প্রযুক্তি|প্রযুক্তির]] প্রসারের জন্য বিশ্বকে নিরাপদ রাখে, তার নামই হলো [[ইউএস আর্মি]], [[মার্কিন বিমান বাহিনী|বিমান বাহিনী]], [[নৌবাহিনী]] এবং [[মার্কিন মেরিন কোর|মেরিন কোর]]।
**[[থমাস এল. ফ্রিডম্যান]], {{cite news
| url = http://www.nytimes.com/1999/03/28/magazine/a-manifesto-for-the-fast-world.html
| title = ফাস্ট ওয়ার্ল্ডের জন্য একটি ইশতেহার
| work = নিউ ইয়র্ক টাইমস
| date = ২৮ মার্চ, ১৯৯৯
| accessdate = ২০১০-০৬-২৮}}
=== “শারীরিক গঠন এবং শারীরিক সক্ষমতা: সামরিক পরিষেবার জন্য প্রয়োগ” (১৯৯০) ===
<small> কার্ল ই. ফ্রিড, [https://www.ncbi.nlm.nih.gov/books/NBK235960/ “শারীরিক গঠন এবং শারীরিক সক্ষমতা: সামরিক পরিষেবার জন্য প্রয়োগ”], ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিন (ইউএস) কমিটি অন মিলিটারি নিউট্রিশন রিসার্চ; ম্যারিয়ট বিএম, গ্রামস্ট্রুপ-স্কট জে, সম্পাদকবৃন্দ। ওয়াশিংটন (ডিসি): ন্যাশনাল একাডেমি প্রেস (ইউএস); ১৯৯০। </small>
[[File:Marine_Corps_Recruit_Depot_Parris_Island_Training_140513-M-XK446-114.jpg|thumb|[[সুনির্দিষ্ট]] শারীরিক সক্ষমতার [[পরীক্ষা]], যেমন 'অ্যানুয়াল টেস্ট রাইড', একসময় সেনাবাহিনীতে কার্যকর ছিল। তবে আজকের সেনাবাহিনী অত্যন্ত [[বৈচিত্র্যময়]] হওয়ায় নিয়মিতভাবে [[বাস্তবসম্মত]] যুদ্ধ সক্ষমতা পরীক্ষা দিয়ে সৈন্যদের বাছাই করা কঠিন। বর্তমানের [[ইউএস আর্মি ফিজিক্যাল ফিটনেস টেস্ট]] মূলত ২-মাইল [[দৌড়]], [[পুশ-আপ]] এবং [[সিট-আপ]] পরীক্ষার মাধ্যমে [[অ্যারোবিক ব্যায়াম|অ্যারোবিক সক্ষমতা]] যাচাই করে; এই মানদণ্ডগুলো মূলত চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য, প্রবেশের জন্য নয় এবং এগুলোর প্রয়োগ [[শরীরের চর্বি|শরীরের চর্বির]] মানদণ্ডের চেয়েও নমনীয়। ~ কার্ল ই. ফ্রিড]]
* সামরিক বাহিনীতে শারীরিক মানদণ্ড নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্য সবসময়ই ছিল এমন সৈন্যদের খুঁজে বের করা, যারা সামরিক পরিষেবার শারীরিক চাহিদা পূরণে সবচেয়ে উপযুক্ত। এই মানদণ্ডের অর্থ ছিল এমন সৈন্য নির্বাচন করা, যাদের দেখে মনে হয় তারা ভারি বোঝা বহন করতে এবং ভালো লড়াই করতে সক্ষম। বর্তমানে, ইউএস আর্মির শারীরিক সক্ষমতার ওপর জোর দেওয়ার অংশ হিসেবে শরীরের চর্বির মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে বাহিনীগুলো ''চরম জলবায়ু ও ভূখণ্ডে লড়াই করার মতো স্ট্যামিনা এবং ধৈর্য রাখে'' (স্টাডি অফ দ্য মিলিটারি সার্ভিসেস ফিজিক্যাল ফিটনেস, ১৯৮১)। <br> গত শতাব্দীর বেশিরভাগ সময় ধরে, উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত সৈন্যের শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রধান মাপকাঠি ছিল, কিন্তু ইদানীংকালের আগ পর্যন্ত এই মানদণ্ডগুলো কেবল কম ওজনের প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার জন্যই ব্যবহৃত হতো।
* প্রয়োজনের তাগিদে কিছু শারীরিক মানদণ্ড খুব সহজেই পরিবর্তন করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে কোনো বিষয়কে হয়তো ‘সৈনিকের বৈশিষ্ট্য’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও তা আসলে যুদ্ধের প্রয়োজনে খুব একটা জরুরি নয়। উচ্চতা এর একটি উদাহরণ। ইউরোপীয় রাজারা লম্বা সৈন্যদের নিয়ে গর্ব করতেন; এছাড়া ড্রিল ও অনুষ্ঠানের জন্য একই উচ্চতার মানুষ থাকাটা সুবিধাজনক ছিল। কিছু ইউজেনিকিস্ট দাবি করতেন যে অপরাধীরা সাধারণত অন্যদের তুলনায় খাটো হয় (ব্যাক্সটার, ১৮৭৫) এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সার্জন প্রস্তাব করেছিলেন যে শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে ভবিষ্যৎ বীরদের শনাক্ত করা সম্ভব (ফস্টার এবং অন্যান্য, ১৯৬৭)। তাই, ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মার্কিন সৈন্যদের জন্য ন্যূনতম উচ্চতা ছিল ৬৬ ইঞ্চি, যা পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে কমানো হয়েছে। জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় যখন নতুন সৈন্যের চাহিদা বাড়ত, তখনই সবচেয়ে শিথিল মানদণ্ড (এমনকি গৃহযুদ্ধের সময় কোনো ন্যূনতম উচ্চতার বাধ্যবাধকতা ছিল না) কার্যকর ছিল।
* সুনির্দিষ্ট শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা, যেমন 'অ্যানুয়াল টেস্ট রাইড', একসময় সেনাবাহিনীতে কার্যকর ছিল। তবে আজকের সেনাবাহিনী অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় হওয়ায় নিয়মিতভাবে বাস্তবসম্মত যুদ্ধ সক্ষমতা পরীক্ষা দিয়ে সৈন্যদের বাছাই করা কঠিন। বর্তমানের ইউএস আর্মি ফিজিক্যাল ফিটনেস টেস্ট মূলত ২-মাইল দৌড়, পুশ-আপ এবং সিট-আপ পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যারোবিক সক্ষমতা যাচাই করে; এই মানদণ্ডগুলো মূলত চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য, প্রবেশের জন্য নয় এবং এগুলোর প্রয়োগ শরীরের চর্বির মানদণ্ডের চেয়েও নমনীয়।
==জি==
[[File:CapShield01.jpg|thumb|১৯৫৩ সালের ১৩ জুলাইয়ের ([[কমিউনিস্ট]]) “[[ডেইলি ওয়ার্কার|ডেইলি ওয়ার্কার]]”-এ বলা হয় যে, [[কমিক্স]] সচেতনভাবে নিম্নোক্ত ভূমিকা পালন করে: <br> “...[[আমেরিকান]] [[যুবসমাজকে]] নিষ্ঠুর করে গড়ে তোলা, যাতে তারা আমাদের [[সরকার]]ের [[বিশ্ব আধিপত্যের]] লক্ষ্য বাস্তবায়নে [[সামরিক]] সেবার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারে। এছাড়া, [[জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] পতাকাতলে [[কোরীয় যুদ্ধ|কোরিয়ায়]] [[আমেরিকান]] [[সৈনিক]] ও [[বিমানসেনা|বিমানসেনাদের]] দ্বারা সংঘটিত [[অত্যাচার]] মেনে নিতে তাদের অভ্যস্ত করা।” ~ [[উইলিয়াম গেইনস]]]]
* ১৯৫৩ সালের ১৩ জুলাইয়ের (কমিউনিস্ট) “ডেইলি ওয়ার্কারে” বলা হয় যে, কমিক্স সচেতনভাবে নিম্নোক্ত ভূমিকা পালন করে: <br> “...আমেরিকান যুবসমাজকে নিষ্ঠুর করে গড়ে তোলা, যাতে তারা আমাদের [[সরকার]]ের বিশ্ব আধিপত্যের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সামরিক সেবার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারে। এছাড়া, [[জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] পতাকাতলে [[কোরীয় যুদ্ধ|কোরিয়ায়]] আমেরিকান সৈনিক ও বিমানসেনাদের দ্বারা সংঘটিত অত্যাচার মেনে নিতে তাদের অভ্যস্ত করা।”
** উইলিয়াম গেইনস, “আর ইউ এ রেড ডুপ?”, ''দ্য হন্ট অফ ফিয়ার'', ইসি কমিক্স, (আগস্ট ১৯৫৪)
*আমি [[আশা]] করি, রাস্তাঘাটে, টিউবে এবং বাসে আমরা যে তরুণ আমেরিকান সৈনিকের সাথে পরিচিত হচ্ছি, সে আমাদের সঙ্গ পেয়ে ততটাই আনন্দিত হয়েছে, যতটা আমরা তাকে পেয়ে হয়েছি।
**আলফ্রেড জর্জ গার্ডিনার, [https://books.google.com/books?id=A9LPAAAAMAAJ&pg=PA101&lpg=PA101&dq=%22The+directness+and+naturalness+of+the+American+is+the+most+enviable+of+his+traits.+It+gives+the+sense+of+a+man+who+is+born+free.%22&source=bl&ots=s6wfDHuUWv&sig=nRZZ4aIhKELXA_zsps9cZACrDjE&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwikhO3EooDUAhVH4CYKHVHTBRAQ6AEIJjAC#v=onepage&q=%22The%20directness%20and%20naturalness%20of%20the%20American%20is%20the%20most%20enviable%20of%20his%20traits.%20It%20gives%20the%20sense%20of%20a%20man%20who%20is%20born%20free.%22&f=false ''লিভস ইন দ্য উইন্ড''], পৃষ্ঠা ৯৭
*সৈনিকেরা, তোমরা পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে মহৎ দল। এই প্রান্তরকে চিরকালের জন্য গৌরব ও [[স্বাধীনতা|স্বাধীনতার]] প্রান্তরে পরিণত করতে তোমরা জীবন দিয়েছ।
**[[জেমস এ. গারফিল্ড]], [http://grandoldpartisan.typepad.com/blog/2015/10/garfield-speech.html “ডোন্ট পিচ ইয়োর টেন্ট অ্যামাং দ্য ডেড”] (অক্টোবর ১৮৭৯)
*যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী দশ বছরে পেন্টাগনের জন্য ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করার পথে রয়েছে। এই বিশাল অংকের ধারণা পাওয়ার জন্য বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর সামরিক খাতে চীন, রাশিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার সম্মিলিত খরচের চেয়েও বেশি ব্যয় করে। যদিও রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটরা তুলনামূলক ছোট “বিল্ড ব্যাক বেটার” আইন নিয়ে তীব্র দ্বিমত পোষণ করে, তবে সামরিক বাজেট এবং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে তারা অধিকাংশ সময় ঐক্যমত্য পোষণ করে।
**এমি গুডম্যান, [https://www.democracynow.org/2021/11/24/war_party_us_military_spending “দ্য ওয়ার পার্টি”: জেরেমি স্কেলহিল অন হাউ ইউ.এস. মিলটারিজম ইউনিফায়েস ডেমোক্র্যাটস অ্যান্ড রিপাবলিকানস, ''ডেমোক্রেসি নাও!''] (২৪ নভেম্বর ২০২১)
*অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর বৈশ্বিক শক্তি প্রয়োগের একটি সুনির্দিষ্ট মতবাদ রয়েছে। তাদের ধারণা, প্রায় ৮০০টি বিদেশি সামরিক ঘাঁটির মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে প্রাণঘাতী শক্তি নিয়ে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা তাদের থাকা উচিত। একদিক থেকে দেখলে, স্থলবাহিনী এখানে গৌণ; কারণ অন্তত [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] পর থেকে মার্কিন সামরিক মতবাদের মূল ভিত্তি হলো বিমান শক্তির ওপর নির্ভরতা। যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো যুদ্ধে জড়ায়নি যেখানে তাদের আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এছাড়া, তারা অন্য যেকোনো সামরিক বাহিনীর তুলনায় বিমান হামলার ওপর অনেক বেশি পদ্ধতিগতভাবে নির্ভর করেছে। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক ইরাক দখলের সময় তারা এমন শহরগুলোতেও বিমান হামলা চালিয়েছে যা আপাতদৃষ্টিতে তাদের নিজেদের দখলেই ছিল। '''বিশ্বে মার্কিন সামরিক আধিপত্যের মূল কারণ হলো—তারা ইচ্ছামতো, মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বোমা ফেলতে সক্ষম।''' অন্য কোনো সরকারের কখনোই এমন সক্ষমতা ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, এমন দাবিও করা যেতে পারে যে, এই শক্তির কারণেই ডলারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পুরো বিশ্ব মুদ্রাব্যবস্থা টিকে আছে।
**ডেভিড গ্রেবার, ''ডেট: দ্য ৫০০০ ইয়ার্স'', পৃষ্ঠা ৩৬৫-৩৬৬
*সবাই জানে যে, অন্তত [[জুলিয়াস সিজার|জুলিয়াস সিজারের]] সময় থেকে [[সমকামী পুরুষ|সমকামীরা]] সামরিক বাহিনীতে সম্মানের সাথে সেবা করে আসছে।
**ব্যারি গোল্ডওয়াটার, ১০ জুন ১৯৯৩-এর বিবৃতি, ''দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে'' “গোল্ডওয়াটার ব্যাকস গে ট্রুপস”-এ উদ্ধৃত (১১ জুন ১৯৯৩); এছাড়াও রবার্ট অ্যালান গোল্ডবার্গের লেখা ''ব্যারি গোল্ডওয়াটার'' (১৯৯৫), পৃষ্ঠা ৩৩২-এ উদ্ধৃত।
*আপনার [[দেশ|দেশের]] জন্য লড়াই করতে এবং [[মৃত্যু|মরতে]] আপনার 'বিষমকামী' হওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু লক্ষ্যভেদ করতে পারাটাই যথেষ্ট।
**ব্যারি গোল্ডওয়াটার, রবার্ট অ্যালান গোল্ডবার্গের লেখা ''ব্যারি গোল্ডওয়াটার'' (১৯৯৫), পৃষ্ঠা ৩৩২-এ উদ্ধৃত।
*[[যুদ্ধ]] আমাদের একটি মহান শক্তি এবং বুদ্ধিদীপ্ত জাতিতে পরিণত করেছে। দেশে [[শান্তি]], [[সুখ]] ও সমৃদ্ধি বজায় রাখা এবং অন্যান্য জাতির সম্মান অর্জনের জন্য আমাদের খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে প্রথমটির (শান্তি বজায় রাখা) প্রয়োজনীয়তা এবং আমাদের শক্তিই শেষোক্তটি (সম্মান) নিশ্চিত করে।
**ইউলিসিস এস. গ্র্যান্ট, [http://www.gutenberg.org/etext/4367 ''পার্সোনাল মেমোয়ার্স অফ জেনারেল ইউ. এস. গ্র্যান্ট''] (১৮৮৫)
*গত কয়েক দশকের প্রতিটি বড় মার্কিন যুদ্ধ একইভাবে শুরু হয়েছে। মার্কিন সরকার কোনো একটি আবেগপূর্ণ ও উসকানিমূলক মিথ্যা তৈরি করে। বড় মার্কিন মিডিয়া আউটলেটগুলো প্রশ্ন তোলা বা ভিন্নমত পোষণ না করে সেটিকে সত্য বলে প্রচার করে, ফলে তারা আক্রমণ করতে চাওয়া দেশের প্রতি তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এভাবেই আমরা [[ভিয়েতনাম যুদ্ধ|ভিয়েতনাম যুদ্ধে]] (উত্তর ভিয়েতনাম কর্তৃক টঙ্কিন উপসাগরে মার্কিন জাহাজ আক্রমণের ঘটনা), উপসাগরীয় যুদ্ধে (সাদ্দাম হোসেন ইনকিউবেটর থেকে শিশুদের কেড়ে নিয়েছিলেন বলে গুজব) এবং অবশ্যই [[ইরাক যুদ্ধ|ইরাক যুদ্ধে]] (সাদ্দামের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ছিল এবং তিনি আল-কায়েদার সাথে জোট করেছিলেন) জড়িয়েছি।
*ঠিক এই কৌশলটিই ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্যবহার করা হয়েছিল, যখন [[ভেনেজুয়েলা|ভেনেজুয়েলায়]] যারা শাসন পরিবর্তন করতে চায়, তাদের অনুকূলে প্রচারণার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়... তারা জোর দিয়ে দাবি করেছিল যে ট্রাকগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে [[নিকোলাস মাদুরো|প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর]] বাহিনী আগুন দিয়েছে।
**গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড: [https://theintercept.com/2019/03/10/nyts-expose-on-the-lies-about-burning-humanitarian-trucks-in-venezuela-shows-how-us-govt-and-media-spread-fake-news/ ''এনওয়াইটি’স এক্সপোজ অন দ্য লাইজ এবাউট বার্নিং হিউম্যানিটারিয়ান ট্রাকস ইন ভেনেজুয়েলা শোজ হাউ ইউ.এস. গভর্মেন্ট অ্যান্ড মিডিয়া স্প্রেড ফেক নিউজ, দ্য ইন্টারসেপ্ট,''] (১০ মার্চ ২০১৯)
==এইচ==
*<p>নোঙর তোলো, হে আমার ছেলেরা! নোঙর তোলো! বিদায়...</p><p>বিজয়ের উদ্দেশ্যে পাড়ি দাও এবং তাদের হাড়গোড় ডেভি জোন্সের সিন্দুকে পাঠিয়ে দাও, হুররে!</p>
**জন হেগান, “অ্যাঙ্করস অ্যাওয়ে” (১৯৯৭)
*প্রথমত, শান্তির সময়ে আমেরিকান সৈনিক অন্য যেকোনো ধরনের আমেরিকান নাগরিকের মতোই। ... সে সৈন্য হয় এবং সৈন্য হিসেবেই থাকে, কারণ এর বিনিময়ে সে যা পায়। যেই মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে সেনাবাহিনীর চেয়ে বেসামরিক জীবন থেকে বেশি কিছু পেতে পারে, তখনই সে তালিকাভুক্ত হতে বা পুনরায় তালিকাভুক্ত হতে অস্বীকার করবে।
**জনসন হেগুড, [https://www.google.com/search?client=firefox-b-1-d&sca_esv=eff03c613f9494ac&sxsrf=ACQVn09CdLISXoIzNp-OdekvEUi8LSfiKQ:1707412572546&q=Circular+Relative+to+Pay+of+Officers+and+Enlisted+Men+of+the+Army+Johnson+Hagood&si=AKbGX_rOAlAWZm8yZPZsiL6aVCbdD97y3lZlG6WCaiU0tO9pR9kr7DEFZM_KQ41UQN6taqiWwVkuJq4CSzVb9GzxZZq09wGtaQD01RrUFmokaS0KDXBbZSw7-_8-FED2rqn94PAJcn6LiUBQvthCQKqrLnX8_qBW4AS9QM1WQu-AixVQiaYNHmsDoiPcLoe6qHaFCPUSeTnAVN9cEN0h9uIstToyRKwAp1tFRUX5u0uLEQzkmo2Jyn5PqikxE0uhOOD_wmIhKHEa4lv0lvWsVezdiX-Yeq2YCg%3D%3D&sa=X&ved=2ahUKEwjzi_y-n5yEAxWSD1kFHfzBBVoQ6RN6BAg2EAE&biw=1903&bih=1206&dpr=0.9 ''সার্কুলার রিলেটিভ টু পে অফ অফিসারস অ্যান্ড এনলিস্টেড মেন অফ দ্য আর্মি''] (১৯০৭), ওয়াশিংটন, ডি.সি.: গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং অফিস, পৃষ্ঠা ৮, [https://press.armywarcollege.edu/cgi/viewcontent.cgi?article=3239&context=parameters “আ হিস্টোরিক্যাল পার্সপেক্টিভ অন টুডেস রিক্রুটিং ক্রাইসিস”] (২০২৩)-এ উদ্ধৃত, ব্রায়ান ম্যাকঅ্যালিস্টার লিন, ''দ্য ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজ কোয়ার্টারলি: প্যারামিটারস'', পৃষ্ঠা ১০
*<p>আমাদের সেই পুরুষ ও নারীদের সেবার কথা বলতে হবে, যারা বিশ্ব যুদ্ধে প্রজাতন্ত্রের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল। আমেরিকা তাদের প্রদত্ত সেবা, করা ত্যাগ এবং সহ্য করা কষ্ট উপলব্ধি করে ও তার কদর করে। যারা যুদ্ধক্ষেত্রের বিপদ ও গৌরব বা সমুদ্রের ঝুঁকি জেনেছিল এবং যারা লাইনের পেছনে সেবা করতে বাধ্য হয়েছিল, বা যারা ঘরে ক্যাম্পে ডাকের অপেক্ষায় থাকা বিশাল গ্র্যান্ড আর্মির রিজার্ভ গঠন করেছিল—তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য রাখা হবে না। সবাই ছিল সাহসী। সবাই ছিল আত্মত্যাগী। তারা সবাই সেই আদর্শের অংশীদার ছিল যা আমাদের ছেলেদের দুবার অস্ত্র হাতে যুদ্ধে পাঠিয়েছিল...</p><p>এরা যোগ্য সন্তান। আমাদের অমর সূচনালগ্নে যারা পতাকা উড্ডীন করেছিল, তারা তাদের উপযুক্ত উত্তরাধিকারী। যারা গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সংবিধান থেকে অস্পষ্টতা দূর করে ইউনিয়ন এবং জাতীয়তাকে রক্ষা করেছিল, এরা তাদের যোগ্য সন্তান। ১৮৯৮ সালে স্পেনীয়-মার্কিন যুদ্ধে যারা প্রথমবারের মতো মানবতার খাতিরে তলোয়ার তুলেছিল, এরা তাদের প্রস্তুত সন্তান। স্থল ও সমুদ্রে থাকা ৪০ লক্ষ রক্ষক সেই জনগণের সেরা ঐতিহ্যের যোগ্য ছিল, যারা শান্তিতে কখনও যুদ্ধবাজ ছিল না এবং যুদ্ধে কখনও শান্তিবাদী ছিল না। তারা আমাদের গর্বের অধিকারী। তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা রয়েছে, যা অবশ্যই প্রকৃত রূপ পেতে হবে। এটি কেবল একটি কর্তব্য নয়; এটি একটি বিশেষ অধিকার যে নিশ্চিত করা যায় যে তাদের করা ত্যাগ বৃথা যাবে না এবং যারা এখনও হতাহত হয়ে ভুগছে, তাদের প্রচুর সহায়তা করা হবে এবং তাদের নাগরিকত্বের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও আনন্দ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।</p>
**ওয়ারেন জি. হার্ডিং, ''দ্য আমেরিকান সোলজার'' (১৯২০)।
*<p>বিশ্বের অন্যান্য বাহিনী, যারা তাদের [[রাজা]] বা মাতৃভূমিকে রক্ষার প্রতিজ্ঞা করে, তাদের থেকে ভিন্ন; আমাদের সেবার [[শপথ]] আমাদের সামরিক বাহিনীকে সংবিধানের সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা এবং আদেশ মেনে চলার শর্তে রাষ্ট্রপতির প্রতি আনুগত্যের সাথে যুক্ত করে। কার্যত, সেই শপথের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনী আমাদের জনগণের নিরাপত্তাকে রক্ষা করার পাশাপাশি ধারণা, আদর্শ এবং আইনের শাসনকে রক্ষা করে। কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে, প্রত্যেক সৈন্য—সাধারণ সৈনিক থেকে জেনারেল পর্যন্ত—ইতিহাস, আইনি প্রক্রিয়া এবং মূল্যবোধের ওপর প্রশিক্ষণ নেয়। সেই প্রশিক্ষণ আমাদের রাইফেল রেঞ্জে বা ফিল্ড এক্সারসাইজে যা করি তার পরিপূরক। সৈন্যদের চমৎকার দক্ষতা আছে এবং তারা আমেরিকান জীবনযাত্রার চিন্তাশীল রক্ষক। আমি আমার কর্মজীবনের তিন বছরেরও বেশি সময় যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলাম; সেই সময়ে, আমি কিছু ভয়াবহ জিনিস দেখেছি এবং সেগুলোর অনেকগুলোই স্বপ্নে ফিরে আসে। মানুষ ও যুদ্ধের মধ্যে অশুভতা থাকে। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনীতে; যদিও এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে আইন বা প্রবিধান লঙ্ঘনের জন্য সৈন্যদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করার প্রয়োজন হয়েছে—অত্যধিক এবং ধারাবাহিকভাবে আমার সহযোদ্ধাদের কাজ আমাকে খুব গর্বিত করেছে...</p><p>আমি আমাদের সৈন্যদের চিনি, এবং আমি অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমাদের সামরিক ঐতিহ্য ও আমেরিকার যুদ্ধের ধরন জানি। যখন ভালোভাবে পরিচালিত ও প্রশিক্ষিত হয়, তখন যে আমেরিকানরা আমাদের দেশের পোশাক পরে, তারা চেতনার দিক থেকে বিশুদ্ধ এবং উদ্দেশ্যের দিক থেকে অবিচল। তারা যেখানে প্রেরিত হয় সেখানে যাবে, যেখানে তারা যায় সেখানে লড়াই করবে এবং যেখানে লড়াই করে সেখানে জেতার জন্য সবকিছু করবে। এবং তারা পৃথিবীর অন্য কোনো সৈনিকের মতো তা করবে না, কারণ আমরা তা-ই। অস্ত্র পেশা অনেক কিছু দাবি করে। সর্বোপরি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একজন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য হওয়ার জন্য অতুলনীয় দক্ষতার প্রয়োজন, কিন্তু শক্তিশালী চরিত্র, তীক্ষ্ণ মেধা এবং এটি বোঝার ক্ষমতাও প্রয়োজন যে বেসামরিক ব্যক্তিরা আমাদের যা করতে বলে তার সীমা আছে। যখন বেসামরিক কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত আদেশ আইনি, নৈতিক বা মানবিক সীমানা অতিক্রম করে, তখন যেকোনো পদমর্যাদার যেকোনো সৈনিকের প্রথমে সেই আদেশগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলার এবং স্পষ্টীকরণ পাওয়ার অধিকার ও কর্তব্য থাকে, এবং প্রয়োজনে যদি তারা সীমা অতিক্রম করে তবে তা অমান্য করার অধিকারও থাকে। সেটিই আমাদের আলাদা করে...</p><p>কিন্তু রাষ্ট্রপতি যেই হোন না কেন, সেই ব্যক্তির কখনোই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সামরিক বিচারের ইউনিফর্ম কোড, তাদের নীতি, তাদের শপথ বা স্থল যুদ্ধের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার ‘আদেশ’ দেওয়ার কর্তৃত্ব নেই।</p>
**মার্ক হার্টলিং, [http://www.cnn.com/2016/03/04/opinions/donald-trump-military-hertling/index.html “আ সোলজার’স ভিউ অন ট্রাম্প”] (৪ মার্চ ২০১৬), ''সিএনএন'', জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য: কেবল নিউজ নেটওয়ার্ক
*<p>তোমরা প্রায় ১০ হাজার আমেরিকান [[জীবন]] উৎসর্গ করেছ, যা আমাদের যুবসমাজের [[ফুল]]। তোমরা প্রদেশগুলোকে ধ্বংস করেছ। তোমরা যাদের উপকার করতে চাও তাদের মধ্যে অগণিত হাজারো মানুষকে হত্যা করেছ। তোমরা কনসেনট্রেশন ক্যাম্প স্থাপন করেছ। তোমাদের জেনারেলরা ফসল নিয়ে ঘরে ফিরছে, হাজার হাজার অসুস্থ, আহত ও উন্মাদ মানুষকে সাথে নিয়ে, যারা শরীর ও মনে বিধ্বস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তোমরা আমেরিকান পতাকাকে অসংখ্য মানুষের চোখে [[খ্রিস্টান|খ্রিস্টান]] গির্জায় অপবিত্রতা, মানুষের ঘরবাড়ি পোড়ানো এবং জল নির্যাতনের ভয়াবহতার প্রতীক বানিয়েছ...</p><p>তোমাদের বাস্তববাদী রাষ্ট্রনীতি, যা [[জর্জ ওয়াশিংটন]] ও আব্রাহাম লিঙ্কন বা বিপ্লব বা গৃহযুদ্ধের সৈন্যদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে ঘৃণা করে, তা কিছু ক্ষেত্রে তোমাদের উদাহরণের জন্য স্পেনের দিকে তাকিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি—না, আমি জানি—যে সাধারণত আমাদের কর্মকর্তা ও সৈন্যরা মানবিক। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তারা আমেরিকান উদ্ভাবন এবং ক্যাসটিলিয়ান নিষ্ঠুরতার মিশ্রণে তোমাদের যুদ্ধ চালিয়েছে...</p><p>তোমাদের বাস্তববাদী রাষ্ট্রনীতি এমন একটি জাতিকে রূপান্তর করতে সফল হয়েছে, যারা তিন বছর আগেও আমেরিকানদের পোশাকের প্রান্ত চুম্বন করতে এবং তাদের মুক্তিদাতা হিসেবে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ছিল, যারা সেই দ্বীপে তোমাদের পুরুষরা অবতরণের সময় আশীর্বাদ ও কৃতজ্ঞতা নিয়ে ভিড় করেছিল, তাদেরই এখন শতাব্দী পার হলেও মুছে ফেলা সম্ভব নয় এমন ঘৃণায় পূর্ণ বিরক্ত ও আপোষহীন শত্রুতে পরিণত করেছে।</p>
**জর্জ ফ্রিসবি হোর, [http://web.archive.org/web/20031204093243/http://www.bartleby.com/268/10/25.html ''সাবজুগেশন অফ দ্য ফিলিপাইনস ইনিসকুয়িটাস''] (মে ১৯০২)
*[[পারমাণবিক অস্ত্র]] সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে, গত ডুমসডে ক্লক রিপোর্টের চেয়ে পরিস্থিতি অনেক বেশি বিপজ্জনক। উন্নয়নের অধীনে থাকা নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকরভাবে বিপজ্জনক। '''[[জো বাইডেন|বাইডেন প্রশাসন]], ট্রাম্পের সংঘাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করে, চমস্কিকে হাতের বিপদ বর্ণনা করার জন্য শব্দ খুঁজে না পাওয়ার মতো অবস্থায় ফেলেছে। কেবল সম্প্রতি, [[জো বাইডেন|বাইডেন]] ন্যাটো নেতাদের সাথে দেখা করেছেন এবং তাদের দুটি যুদ্ধের—[[চীন]] এবং [[রাশিয়া]]—পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। চমস্কির মতে: “এটি পাগলামি ছাড়িয়ে গেছে।” শুধু তাই নয়, যখন সত্যিকারের কূটনীতির প্রয়োজন, তখন এই গোষ্ঠী প্ররোচনামূলক কাজ করছে।''' এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি।
**[https://www.counterpunch.org/2021/07/12/a-world-of-total-illusion-and-fantasy-an-interview-with-noam-chomsky/ আ ওয়ার্ল্ড অফ টোটাল ইলিউশন অ্যান্ড ফ্যান্টাসি: নোয়াম চমস্কি অন দ্য ফিউচার অফ দ্য প্ল্যানেট, রবার্ট হানজিকার, ''কাউন্টারপাঞ্চ''] (১২ জুলাই ২০২১)
*[[ইরাক]], [[সিরিয়া]], [[ইরান]], [[লিবিয়া]], [[সোমালিয়া]], [[সুদান]] এবং ইয়েমেনে প্রায় ১০,০০০ আমেরিকান কর্মরত আছেন... এই পুরুষ ও নারীরা সেই দেশগুলোর নাগরিকদের পাশাপাশি লড়াই করছেন।
**উইল হার্ড, [https://hurd.house.gov/media-center/press-releases/congressman-hurd-highlights-danger-posed-americans-due-immigration-ban ইমিগ্রেশন ব্যান বিষয়ক বিবৃতি] (২০১৭)
==আই==
* এই বিষয়টি মাথায় রেখে, চুক্তির অংশীদাররা তাদের ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত সক্ষমতা—আমি আবারও বলছি, সম্মিলিত সক্ষমতা—বিকাশ করার প্রতিজ্ঞা করেছে, যাতে তারা যেকোনো সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। সেই প্রতিজ্ঞার প্রতি অনুগত থেকে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে জোটের প্রতিটি সদস্য প্রতি বছর ক্রমান্বয়ে প্রতিরক্ষার জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। শক্তিশালী আমেরিকান, [[কানাডা|কানাডিয়ান]] এবং [[যুক্তরাজ্য|যুক্তরাজ্যের]] বাহিনী ইতিমধ্যেই মহাদেশটিতে অবস্থান করছে এবং তাদের [[ইউরোপ|ইউরোপীয়]] মিত্রদের পাশাপাশি প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছে। তবে আমাদের উদ্দেশ্য নিয়ে যেন কোনো ভুল ধারণা না হয়। আমরা যে সামরিক শক্তি অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছি, তা আত্মরক্ষার জন্য নূন্যতম প্রয়োজন। আমাদের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের কোনো সুযোগ নেই, ছিল না এবং কখনো থাকবে না। যদি বিষয়টি অন্যরকম হতো, তবে আন্তর্জাতিক মুক্ত ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের মতো একটি শক্তিশালী শান্তিকামী সংগঠন কি দৃঢ়ভাবে তাদের সংকল্প ব্যক্ত করত—আমি এখানে উদ্ধৃত করছি— “আগ্রাসন এড়ানোর লক্ষ্যে মুক্ত জাতিগুলোর তাদের প্রতিরক্ষা জোরদার করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা”?
** হেস্টিংস ইসমে, [https://www.nato.int/docu/speech/1953/s19530913.htm বিবিসি রেডিও টক], ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩
==জে==
*একটি নৌবাহিনী মূলত এবং অপরিহার্যভাবেই অভিজাততান্ত্রিক। আমরা এখন যে রাজনৈতিক নীতিগুলোর জন্য লড়াই করছি, তা যতই সত্য হোক না কেন, জাহাজের ডেকে, বন্দর থেকে দূরে বা গভীর সমুদ্রে এগুলো কখনোই ব্যবহারিকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়, এমনকি তা মেনে নেওয়াও যায় না। এটি কঠোর মনে হতে পারে, কিন্তু এটিই হলো সবচেয়ে সরল সত্য। যদিও কংগ্রেসের পাঠানো জাহাজগুলো [[মানবাধিকার]] ও প্রজাতন্ত্রী স্বাধীনতার নীতির জন্য লড়াই করতে পারে এবং অবশ্যই করা উচিত, কিন্তু সমুদ্রে জাহাজগুলো নিজেই এক চরম স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হতে হবে।
**জন পল জোন্স, [http://www.rulit.me/books/the-last-ship-read-334944-1.html কংগ্রেসের নৌ কমিটির কাছে চিঠি] (১৪ সেপ্টেম্বর ১৭৭৫)
==কে==
*হেল! এরা মেরিন। এদের মতো লোকেরাই গুয়াদালকানাল ধরে রেখেছিল এবং আইও জিমা দখল করেছিল। বাগদাদ তো কিছুই না।
**জন এফ. কেলি, [http://www.blackfive.net/main/2007/09/marine-general-.html মেরিন জেনারেল স্পিকস আউট]-এ উদ্ধৃত। বাগদাদ আক্রমণের শুরুতে এক সাংবাদিক পরাজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করলে কেলি এই জবাব দেন। (এপ্রিল ২০০৭)
* [[ভিয়েতনাম যুদ্ধ|ভিয়েতনাম]] থেকে ফিরে আসার পর এই মানুষগুলোর মনের অবস্থা কী হয়, তার ফলাফল সম্পর্কে আপনাদের সাথে কিছুটা কথা বলতে চাই। দেশ এখনো জানে না যে এটি একটি দানব তৈরি করেছে— লক্ষ লক্ষ মানুষের রূপ নেওয়া এক দানব, যাদের সহিংসতা ব্যবহার ও লেনদেন করতে শেখানো হয়েছে, এবং যাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় 'শূন্য' অর্জনের জন্য মরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে; এমন মানুষ যারা ফিরে এসেছে এক ধরনের [[ক্রোধ]] ও বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি নিয়ে, যা এখনো কেউ বুঝতে পারেনি। একজন ভেটেরান হিসেবে, এবং যে এই ক্রোধ অনুভব করে, আমি এ নিয়ে কথা বলতে চাই। আমরা ক্ষুব্ধ কারণ আমরা মনে করি, এই দেশের প্রশাসন আমাদের সবচেয়ে খারাপভাবে ব্যবহার করেছে। ১৯৭০ সালে ওয়েস্ট পয়েন্টে, ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাগনিউ বলেছিলেন: “কিছু মানুষ সমাজের অপরাধী ও অযোগ্যদের গ্ল্যামারাইজ করে, অথচ আমাদের সেরা ছেলেরা সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে এশিয়ার ধানের জমিতে প্রাণ দিচ্ছে, যে স্বাধীনতা ওই অযোগ্যরা অপব্যবহার করে।” আর এটি ভিয়েতনামে আমাদের অভিযানের জন্য একটি rallying point বা ঐক্যের বিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কাছে—যারা এশিয়ায় তাঁর ছেলে ছিল এবং যাদের সমর্থন দেওয়ার কথা ছিল দেশটির—তাঁর এই বক্তব্য একটি ভয়ঙ্কর বিকৃতি, যা থেকে আমরা কেবল গভীর বিতৃষ্ণা অনুভব করতে পারি; এবং এই কারণেই আজ ওয়াশিংটনে উপস্থিত কিছু মানুষের এই ক্রোধ। এটি একটি বিকৃতি কারণ আমরা কোনোভাবেই নিজেদের এই দেশের সেরা মানুষ বলে মনে করিনি; কারণ তিনি যাদের অযোগ্য বলছেন, তারা আমাদের জন্য এমনভাবে দাঁড়িয়েছিল যা এই দেশের আর কেউ সাহস করেনি; কারণ মারা যাওয়া অনেকেরই ইচ্ছা ছিল দেশে ফিরে এসে সেই অযোগ্যদের সাথে যোগ দিয়ে দক্ষিণ ভিয়েতনাম থেকে অবিলম্বে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো; কারণ সেই সেরা ছেলেদের অনেকেই আজ কোয়াড্রিপ্লেজিক (চতুর্থঙ্গ পক্ষাঘাতগ্রস্ত) বা অঙ্গহীন হয়ে ফিরেছে, এবং তারা পড়ে আছে এই দেশের ভেটেরান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হাসপাতালগুলোতে ভুলে যাওয়া অবস্থায়, যে হাসপাতালগুলোতে উড়ছে সেই পতাকা—যা অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছে। আমরা নিজেদের আমেরিকার সেরা মানুষ বলে ভাবতে পারি না, যখন আমরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আমাদের যা করতে বলা হয়েছিল, তার জন্য লজ্জিত এবং ঘৃণা বোধ করি।
** জন কেরি, [https://www.americanrhetoric.com/speeches/johnkerrysenateforeignrelationsvietnamwar.htm সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির সামনে বিবৃতি], ২২ এপ্রিল ১৯৭১, ওয়াশিংটন, ডি.সি.তে প্রদত্ত।
*জয়লাভ আমাদের করতেই হবে, কারণ আমাদের লক্ষ্য ন্যায়সংগত!
**ফ্রান্সিস স্কট কি, “দ্য স্টার-স্প্যাংলড ব্যানার” (১৮১৪)
*[[এঙ্গেলস]] একবার ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে সবচেয়ে নিষ্ঠুর সেনাবাহিনী বলেছিলেন। [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] সময়, [[জার্মানি|জার্মান]] [[ফ্যাসিবাদ|ফ্যাসিবাদী]] সেনাবাহিনী ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বর্বরতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে [[অ্যাডলফ হিটলার|হিটলারের]] গ্যাংস্টাররা যে বীভৎস ও ভয়ানক নিষ্ঠুরতা করেছিল, তা কোনো মানুষের [[মস্তিষ্ক|কল্পনার]] বাইরে। কিন্তু [[কোরীয় যুদ্ধ|কোরিয়ায়]], আমেরিকানরা হিটলারবাদীদের অনেক ছাড়িয়ে গেছে!
**[[কিম ইল-সাং]], ১৯৯৩ সালে সুইডিশ কমিউনিস্ট নেতা ফ্রাঙ্ক বাউডের কাছে এই মন্তব্য করেন। উক্তি ও অনুবাদ: ''Mot strömmen'', পৃষ্ঠা ১৮৬।
*আমার মনে হয় না কোনো অঙ্গরাজ্য ছিল যা সেখানে প্রতিনিধিত্বশীল ছিল না। এই [[অভিজ্ঞতা]] আমাকে দেশটির বৈচিত্র্য, মানুষ, [[ভাষা]] এবং [[সংস্কৃতি]]কে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে। এটা ভাবা অবিশ্বাস্য যে আমরা কতটা বৈচিত্র্যময় এবং আমরা কীভাবে একটি সংস্কৃতি হিসেবে একসাথে টিকে আছি। সত্যি বলতে, এটিই এই দেশের একমাত্র স্পষ্ট সত্য যা একে বিশ্বের কাছে অনন্য করে তুলেছে।
** জ্যাক কার্বি, মার্ক পিটার্সের নিবন্ধ [https://www.pastemagazine.com/articles/2017/02/8-ways-comic-book-legend-jack-kirby-fought-fascism.html “৮ ওয়েজ কমিক বুক লিজেন্ড জ্যাক কার্বি ফাউট ফ্যাসিবম”]-এ উদ্ধৃত, ''পেস্ট ম্যাগাজিন'', (১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭)।
*আমেরিকার লড়া কিছু যুদ্ধ ছিল “কেবল মুনাফার জন্য” এবং কিছু দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধের মতোই ধ্বংসাত্মক... আমেরিকা কখন যুদ্ধে যাবে, সে বিষয়ে আমেরিকান জনগণের কার্যত কোনো কথা বলার অধিকার নেই। এই সিদ্ধান্তগুলো কোনো পর্দার আড়ালে নেওয়া হয়... আমেরিকানদের কাছে মিথ্যা বলা অব্যাহত রাখা হয়েছে যে কেন আমরা যুদ্ধে যাই। কারণ আবারো বলছি, এর অন্যতম বড় কারণ হলো কেবল মুনাফা। এটি একসময় কিছুটা সত্য ছিল, কিন্তু এখন তা অত্যন্ত নগ্নভাবে ঘটছে।
**ড্যানিয়েল কোভালিক, [http://www.china.org.cn/world/Off_the_Wire/2021-12/08/content_77918107.htm ইন্টারভিউ]তে উদ্ধৃত, ''সিনহুয়া'', ৮ ডিসেম্বর, ২০২১।
*ইরাক ও [[আফগানিস্তান|আফগানিস্তানে]] মার্কিন আগ্রাসন প্রসঙ্গে] কৌশলগত দিক থেকে দেখলে, এটি একটি সম্পূর্ণ ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা উচিত। তবুও এটি ২০ বছর ধরে চলেছে। কেন? কারণ যে প্রতিরক্ষা শিল্প কোম্পানিগুলো বোমা, বিমান ও যানবাহন তৈরি করে—এবং এখন সরকারি সামরিক কর্মীদের পরিবর্তে যে বেসরকারি সামরিক ঠিকাদাররা যুদ্ধ করছে—তারা যুদ্ধ চলাকালীন কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার আয় করেছে। তাই '''তারা পরোয়া করেনি যে যুদ্ধ জয় হলো কি না; লক্ষ্য ছিল যুদ্ধটি যেন চিরকাল চলতে থাকে... আসল বিষয় হলো যুদ্ধ জয় করা নয়, বরং এটি নিশ্চিত করা যে যুদ্ধ যেন শেষ না হয়, কারণ আপনি মুনাফা করতেই থাকবেন।'''<BR>মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মানবাধিকারের উন্নয়ন করছে না। এটি মানবিকতাকে এগিয়ে নিচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে, এটি বিশালভাবে মানবিকতাকে ক্ষুণ্ণ করছে।
**ড্যানিয়েল কোভালিক, [http://www.china.org.cn/world/Off_the_Wire/2021-12/08/content_77918107.htm ইন্টারভিউ]তে উদ্ধৃত, ''সিনহুয়া'', ৮ ডিসেম্বর, ২০২১।
*আপনি কোন বাহিনীকে আপনাকে [[মুক্তি|মুক্ত]] করতে আসতে দেখতে চান? এবং এটি সর্বসম্মত, এমনকি নাৎসিরাও সবাই আবার একটি ছোট বিমানে উড়ে আমেরিকান লাইনে এসে আমেরিকানদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে, যদিও সবাই জানে যে সেই অর্থে আমরা ব্যতিক্রমী।
**চার্লস ক্রাউথামার, [http://conversationswithbillkristol.org/video/charles-krauthammer/ বিল ক্রিস্টলের সাথে সাক্ষাৎকার] (১৩ মার্চ ২০১৫)।
*সামরিক বাহিনী কমান্ডার ইন চিফকে কোনো পাত্তা দেয়নি। সাধারণত, বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের জাতিতে এটি স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। এতে কিছুটা অবাধ্যতার গন্ধ আছে। কিন্তু এমন একজন [[রাষ্ট্রপতি]] যার স্বভাব অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং দীর্ঘস্থায়ী অযৌক্তিক, তার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর কিছুটা সতর্কতা, এমনকি কিছুটা অনমনীয়তা স্বাগত জানানো উচিত।
**চার্লস ক্রাউথামার, [https://www.washingtonpost.com/opinions/the-guardrails-hold/2017/08/03/fcfc157c-7877-11e7-9eac-d56bd5568db8_story.html?noredirect=on&utm_term=.bc41e247bfa0 “দ্য গার্ডরেলস হোল্ড”] (৩ আগস্ট ২০১৭), ''দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট''।
==এল==
[[চিত্র:Barbara Lee official portrait.jpg|থাম্ব| পেন্টাগন বাজেট থেকে ৪০ বা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েও আপনি শক্তিশালী জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারেন... যখন আপনি সামরিক নীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতির ক্ষেত্রে জনগণের অবস্থান দেখেন—বিশেষ করে যখন এই অননুমোদিত যুদ্ধ, এই 'চিরস্থায়ী যুদ্ধ' বন্ধ করার কথা আসে—তখন জনতা আমাদের সাথেই আছে। ~ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান বারবারা লি]]
*<p>ষাট বছর আগে, ২৫ জুন ভোরবেলা, [[কোরীয় যুদ্ধ|কোরীয় যুদ্ধ]] শুরু হয়েছিল যখন কমিউনিস্ট [[উত্তর কোরিয়া]], কোরিয়া প্রজাতন্ত্রকে আক্রমণ করে। এর জবাবে, যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের ১৬টি সদস্য দেশ স্বাধীনতার সুরক্ষায় কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সাথে যোগ দেয়। '''পরবর্তী তিন বছরের লড়াইয়ে, প্রায় ৩৭,০০০ আমেরিকান তাদের [[জীবন]] হারান। তারা লড়াই করেছিলেন [[দক্ষিণ কোরিয়া|এমন কোরিয়ানদের]] [[স্বাধীনতা|স্বাধীনতার]] জন্য, যাদের তারা চিনতেনও না। আর তাদের ত্যাগের কারণেই, [[দক্ষিণ কোরিয়া|প্রজাতন্ত্রের]] শান্তি ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত হয়েছিল'''...</p><p>[[কোরীয় যুদ্ধ|কোরীয় যুদ্ধের]] ৬০তম বার্ষিকীতে, আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য [[যুক্তরাষ্ট্র|আমেরিকার]] কাছে কৃতজ্ঞ। সেই সময়ে, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র ছিল বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ, যার বার্ষিক মাথাপিছু আয় ছিল ৪০ ডলারের কম। ২০০৯ সালে, আমার দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার উন্নয়ন সহায়তা কমিটির সদস্য হয়; একমাত্র প্রজন্মেই সাহায্য গ্রহণকারী দেশ থেকে সাহায্য প্রদানকারী দেশে পরিণত হওয়া এটিই প্রথম দৃষ্টান্ত।</p>
** মিউং-বাক লি, [http://articles.latimes.com/2010/jun/25/opinion/la-oe-lee-thanks-20100625 “আ নোট অফ থ্যাঙ্কস”] (২৫ জুন ২০১০), ''দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস''।
*<p>আমরা সেখানে গিয়ে যুদ্ধ করেছি এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিটি [[শহর]] জ্বালিয়ে দিয়েছি...</p><p>প্রায় তিন বছরের বা তার কিছু বেশি সময়ে, আমরা কত শতাংশ—ধরুন—জনসংখ্যার বিশ শতাংশকে [[হত্যা]] করেছি?</p>
**কার্টিস লেমে, ''স্ট্র্যাটেজিক এয়ার ওয়ারফেয়ার: অ্যান ইন্টারভিউ উইথ জেনারেলস'' (১৯৮৮)।
* সামরিক সংযোগ ও সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খুব অল্প সংখ্যক ব্যক্তির সহিংস চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ সামরিক বাহিনী এবং সামগ্রিকভাবে দেশটির জন্য একটি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
** পিটার কে. লেভিন; জোসেফ এফ. অ্যাডামস; অ্যামি এ. অলরিচ; র্যাচেল জি. অগাস্টিন; মার্গারেট ডি.এম. বারবার; সুজিতা বি. ভাট; ক্যাথলিন এম. কনলি; ডেভ আই. কোটিং; অ্যালান বি. গেল্ডার; জেফারি এম. জাভোরস্কি; মার্ক এফ. কেই; ক্যারিংটন এ. মেটস; নীল ভি. মিত্তাল; ম্যাথিউ জে. রিড; [https://www.ida.org/research-and-publications/publications/all/p/pr/prohibited-extremist-activities-in-the-us-department-of-defense “প্রোহিবিটেড এক্সট্রিমিস্ট অ্যাক্টিভিটিস ইন দ্য ইউ.এস. ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স”], ''প্রতিরক্ষা দপ্তর'', (ডিসেম্বর ২০২৩); উইল কারলেস [https://www.usatoday.com/story/news/investigations/2023/12/26/pentagon-extremist-study-released/72034360007/ “আফটার ইউএসএ টুডে ইনভেস্টিগেশন, মিলিটারি ফাইনালি রিলিজড ইন্টারনাল এক্সট্রিমিজম রিপোর্ট”], ''ইউএসএ টুডে'', (২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩)-এ উদ্ধৃত।
* ডিওডিের নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রদান, উপযুক্ততা মূল্যায়ন এবং স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো মূলত স্নায়ু যুদ্ধের হুমকি এবং বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকির দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়, অথচ ঘরের ভেতরের চরমপন্থার হুমকির দিকে নয়।
** পিটার কে. লেভিনসহ অন্যরা; [https://www.ida.org/research-and-publications/publications/all/p/pr/prohibited-extremist-activities-in-the-us-department-of-defense “প্রোহিবিটেড এক্সট্রিমিস্ট অ্যাক্টিভিটিস ইন দ্য ইউ.এস. ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স”], ''প্রতিরক্ষা দপ্তর'', (ডিসেম্বর ২০২৩); উইল কারলেস [https://www.usatoday.com/story/news/investigations/2023/12/26/pentagon-extremist-study-released/72034360007/ “আফটার ইউএসএ টুডে ইনভেস্টিগেশন, মিলিটারি ফাইনালি রিলিজড ইন্টারনাল এক্সট্রিমিজম রিপোর্ট”], ''ইউএসএ টুডে'', (২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩)-এ উদ্ধৃত।
*জাতিসমূহের [[আইন]] গায়ের রঙের কোনো পার্থক্য জানে না, এবং '''যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শত্রু তাদের সেনাবাহিনীর কোনো বন্দীকে দাস বানিয়ে বিক্রি করে, তবে তা হবে কঠোরতম প্রতিশোধের একটি ক্ষেত্র''', যদি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিকার না পাওয়া যায়।
** ''দ্য লিবার কোড অফ ১৮৬৩'', মার্কিন যুদ্ধ দপ্তর, ৫৮
*আমি যদি নোবেল শান্তি পুরস্কার জিততাম, তবে আমি তা প্রদান করতাম হয় [[জর্জ ডব্লিউ. বুশ|বুশ প্রশাসনকে]], যারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি সফলভাবে নিরস্ত্রীকরণ এবং ইরানেও একই কাজ করার জন্য অধ্যবসায়ের সাথে কাজ করেছিল, অথবা আমি তা প্রদান করতাম জেনারেল পেট্রিয়াস ও মার্কিন সামরিক বাহিনীকে। বিশ্বে যদি শান্তির কোনো ইঞ্জিন থেকে থাকে, তবে তা হলো মার্কিন সামরিক বাহিনী।
**রাশ লিম্বো, [http://www.rushlimbaugh.com/home/daily/site_101207/content/01125107.guest.html ''রাশ লিম্বো''] (১২ অক্টোবর ২০০৭)।
*'''আমাদের নিজেদের [[স্বাধীনতা]] ও স্বাধীনতার দুর্গ কী?''' এটি কি আমাদের ভ্রুকুটি করা দুর্গ, আমাদের ঝকঝকে সমুদ্র উপকূল, আমাদের যুদ্ধের বাষ্পচালিত জাহাজের কামান, নাকি আমাদের বীর ও সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীর শক্তি? আমাদের ন্যায্য ভূমিতে স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে এগুলো আমাদের নির্ভরতা নয়। সংগ্রামের জন্য আমাদের দুর্বল বা শক্তিশালী না করেই এর সব কিছুই আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। '''আমাদের নির্ভরতা হলো [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] আমাদের হৃদয়ে রোপণ করা স্বাধীনতার ভালোবাসার ওপর। আমাদের প্রতিরক্ষা হলো সেই আত্মায়, যা স্বাধীনতাকে সব ভূমির, সব মানুষের উত্তরাধিকার হিসেবে মূল্যবান মনে করে। এই আত্মাকে ধ্বংস করুন, এবং আপনি আপনার নিজের দরজায় স্বৈরাচারের বীজ রোপণ করেছেন। নিজেদের বন্দিত্বের শিকলের সাথে পরিচিত করুন এবং আপনারা তা পরিধানের জন্য নিজেদের অঙ্গ প্রস্তুত করছেন। আপনাদের আশেপাশের মানুষের অধিকার পদদলিত করতে অভ্যস্ত হয়ে, আপনারা নিজেদের স্বাধীনতার প্রতিভা হারিয়ে ফেলেছেন এবং প্রথম ধূর্ত স্বৈরাচারের উপযুক্ত প্রজা হয়ে উঠেছেন যে জেগে ওঠে।'''
**[[আব্রাহাম লিঙ্কন|আব্রাহাম লিঙ্কনের]] এডওয়ার্ডসভিল, ইলিনয়-এ ভাষণ (১১ সেপ্টেম্বর ১৮৫৮); লিঙ্কন, আব্রাহাম; মারিও ম্যাথিউ কুওমো, হ্যারল্ড হোলজার, জি. এস. বোরিট, ''[http://books.google.de/books?id=8bWmmyJEMZoC&pg=PA128&redir_esc=y#v=onepage&q&f=false লিঙ্কন অন ডেমোক্রেসি]'' (ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১ সেপ্টেম্বর ২০০৪), ১২৮-এ উদ্ধৃত। {{ISBN|978-0823223459}}।
*এটা উল্লেখযোগ্য যে, সরকারের এই কঠিন সময়ে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর যে বিশাল সংখ্যক ব্যক্তি যারা বিভিন্ন পদে সুবিধা পেয়েছিলেন তারা পদত্যাগ করেছেন এবং যাদের দ্বারা লালিত হয়েছিলেন তাদের প্রতি মিথ্যা প্রমাণ করেছেন, কিন্তু কোনো সাধারণ সৈন্য বা সাধারণ নাবিক তাদের পতাকা ত্যাগ করেছে বলে জানা যায়নি। বিশ্বাসঘাতক সহযোগীদের উদাহরণ সত্ত্বেও যারা অটল ছিলেন সেই কর্মকর্তাদের প্রতি অনেক সম্মান; কিন্তু সবচেয়ে বড় সম্মান ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো সাধারণ সৈনিক ও নাবিকদের সর্বসম্মত দৃঢ়তা। যতটুকু জানা যায়, শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত তারা তাদের বিশ্বাসঘাতক প্রচেষ্টাকে সফলভাবে প্রতিহত করেছে, যাদের কমান্ড তারা মাত্র এক ঘণ্টা আগেও পরম আইন হিসেবে মেনে চলত। এটি সাধারণ মানুষের দেশপ্রেমিক প্রবৃত্তি। তারা কোনো যুক্তি ছাড়াই বোঝে যে, ওয়াশিংটন কর্তৃক তৈরি সরকার ধ্বংস করা তাদের জন্য কোনো ভালো বয়ে আনবে না।
**[[আব্রাহাম লিংকন|আব্রাহাম লিঙ্কন]], [http://millercenter.org/president/speeches/speech-3508 কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে ৪ঠা জুলাইয়ের বার্তা] (৪ জুলাই ১৮৬১)
*'''সাতাশি বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই মহাদেশে এক [[যুক্তরাষ্ট্র|নতুন জাতি]] নিয়ে এসেছিলেন, যা স্বাধীনতায় গড়া এবং এই প্রস্তাবনায় নিবেদিত যে সমস্ত মানুষ সমানভাবে সৃষ্ট। এখন আমরা এক মহান গৃহযুদ্ধে লিপ্ত, পরীক্ষা করছি যে সেই জাতি বা এমন কোনো জাতি কি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে?''' আমরা সেই যুদ্ধের এক মহান রণক্ষেত্রে মিলিত হয়েছি। আমরা এসেছি সেই মাঠের একটি অংশ উৎসর্গ করতে, [[যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী|যাঁরা এখানে জীবন দিয়েছেন]] সেই জাতির বেঁচে থাকার জন্য। এটি করা অত্যন্ত উপযুক্ত। '''কিন্তু, বৃহত্তর অর্থে, আমরা এই ভূমি উৎসর্গ করতে পারি না, পবিত্র করতে পারি না। এখানে লড়াই করা সাহসী পুরুষরা, জীবিত ও মৃত, তারা এটিকে উৎসর্গ করেছেন আমাদের যোগ করার বা বিয়োগ করার সামান্য ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। বিশ্ব খুব সামান্যই লক্ষ্য করবে, বা আমরা এখানে কী বলেছি তা মনে রাখবে, কিন্তু তারা এখানে কী করেছে তা কখনোই ভুলতে পারবে না। জীবিত আমাদের জন্য, বরং এখানে সেই অসমাপ্ত কাজের প্রতি নিবেদিত হওয়া উচিত যা যারা এখানে লড়াই করেছিলেন তারা মহৎভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।''' আমাদের বরং এখানে সেই মহান কাজের প্রতি নিবেদিত হওয়া উচিত যা আমাদের সামনে রয়েছে — যে এই সম্মানিত মৃতদের কাছ থেকে আমরা সেই উদ্দেশ্যের প্রতি বর্ধিত ভক্তি গ্রহণ করি যার জন্য তারা ভক্তির চূড়ান্ত পরিমাপ দিয়েছিলেন — যে '''আমরা এখানে উচ্চস্বরে প্রতিজ্ঞা করছি যে এই মৃতরা বৃথা যাননি — যে এই জাতি, ঈশ্বরের অধীনে, স্বাধীনতার এক নতুন জন্ম লাভ করবে — এবং যে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হবে না।'''
**[[আব্রাহাম লিংকন|আব্রাহাম লিঙ্কন]], ''দ্য গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস'' (১৯ নভেম্বর ১৮৬৩)
*সৈনিকগণ। আপনারা আপনাদের ঘর ও বন্ধুদের কাছে ফিরে যেতে প্রস্তুত, ক্যাম্পের দায়িত্ব পালনের পর, এই মহান প্রতিযোগিতায়। আমি আপনাদের কাছে এবং যারা দেশের ডাকে এগিয়ে এসেছেন তাদের সবার কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। '''আমি চাই এটি আরও ব্যাপকভাবে বোঝা যাক যে দেশটি এখন কিসের সাথে জড়িত। আমাদের আছে, সবাই একমত হবেন, এক মুক্ত সরকার, যেখানে প্রত্যেক মানুষের অন্য সবার সাথে সমান হওয়ার অধিকার আছে।'''
**[[আব্রাহাম লিংকন|আব্রাহাম লিঙ্কন]], ওয়ান হান্ড্রেড সিক্সটি-ফোর্থ ওহাইও রেজিমেন্টের উদ্দেশ্যে ভাষণ (১৮ আগস্ট ১৮৬৪), ওয়াশিংটন, ডি.সি.তে প্রদত্ত।
*'''যদি [[কনফেডারেট স্টেটস অফ আমেরিকা|আমাদের শত্রুরা]] সফল হয় তবে প্রতিটি মানবাধিকার হুমকির মুখে পড়বে। এই প্রতিযোগিতায় প্রত্যেকের ধারণার চেয়েও বেশি কিছু জড়িত। এই সংগ্রামে প্রশ্ন জড়িত যে আপনার সন্তান এবং আমার সন্তানরা সেই সুবিধাগুলো ভোগ করবে কি না যা আমরা ভোগ করেছি।''' আমি এটি বলছি যাতে আপনাদের প্রভাবিত করতে পারি, যদি আপনারা আগে থেকেই প্রভাবিত না হয়ে থাকেন, যে '''কোনো ছোট বিষয় আমাদের মহান উদ্দেশ্য থেকে আমাদের বিচ্যুত করা উচিত নয়।''' আমাদের পদ্ধতির ব্যবহারিক প্রয়োগে কিছু অনিয়ম থাকতে পারে। '''এটি ন্যায্য যে প্রতিটি ব্যক্তি তার সম্পত্তির মূল্যের সমানুপাতে কর প্রদান করবে; কিন্তু যদি আমরা কর সংগ্রহের আগে প্রতিটি ব্যক্তির কর অন্য সবার সমানুপাতে সমন্বয় করার জন্য অপেক্ষা করি, তবে আমরা কখনোই কোনো কর সংগ্রহ করতে পারব না।''' মাঝে মাঝে ভুল হতে পারে; সরকারের কর্মকর্তারা ভুল প্রতিরোধের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও কাজ ভুল হতে পারে। কিন্তু আমি আপনাদের অনুরোধ করি, এই মহান প্রজাতন্ত্রের নাগরিক হিসেবে, আপনারা আমাদের সামনে থাকা মহান কাজ থেকে আপনাদের মনকে বিচ্যুত হতে দেবেন না। '''এই সংগ্রাম আপনাদের বিচ্যুত হওয়ার জন্য খুব বড়।''' যখন আপনারা আপনাদের বাড়িতে ফিরে যাবেন, তখন মুক্ত সরকারের যোগ্য এক প্রজন্মের উচ্চতায় উঠে দাঁড়াবেন, এবং আমরা আমাদের শুরু করা মহান কাজ সম্পন্ন করব। আজ বিকেলে আপনারা আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন তার জন্য আমি আপনাদের আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
**[[আব্রাহাম লিংকন|আব্রাহাম লিঙ্কন]], ওয়ান হান্ড্রেড সিক্সটি-ফোর্থ ওহাইও রেজিমেন্টের উদ্দেশ্যে ভাষণ (১৮ আগস্ট ১৮৬৪), ওয়াশিংটন, ডি.সি.তে প্রদত্ত।
*সামরিক নিয়োগকারীরা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রায়ই এই কথাটি পুনরাবৃত্তি করতে পছন্দ করেন যে সশস্ত্র বাহিনীর গড় সদস্য গড় আমেরিকানদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত। এটি সত্য। প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে, প্রায় ৯৪% তালিকাভুক্ত কর্মীর হাই-স্কুল ডিপ্লোমা রয়েছে, যেখানে মাত্র ৬০% আমেরিকানদের তা আছে। সাধারণ জনসংখ্যার ৩০% এর তুলনায় প্রায় ৮৩% অফিসারের স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে।
**বেঞ্জামিন লাক্সেনবার্গ, [http://www.wsj.com/articles/military-officers-dont-need-college-degrees-1439249756 “মিলিটারি অফিসারস ডোন্ট নিড কলেজ ডিগ্রিস”] (১০ আগস্ট ২০১৫), ''ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল''
==এম==
[[চিত্র:US_Sons_OfLiberty_9Stripes_Flag.svg|থাম্ব|সংবিধানের প্রতি আমার কর্তব্য ও [[দায়িত্ব]] আছে, আমার আনুগত্য সেখানেই। আমি সংবিধানের প্রতিই [[শপথ]] নিয়েছি। আমাদের ইউনিফর্মে থাকা সবার একই শপথ। আমরা কোনো ব্যক্তি বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি শপথ নেই না।<br> আমাদের শপথ ও দায়িত্ব হলো সংবিধান রক্ষা ও প্রতিরক্ষা করা। এর অংশ হিসেবে আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির যেকোনো [[আইনি]] [[বৈধ]] আদেশ মানতে হয়, তা আপনি পছন্দ করুন বা না করুন। আদেশগুলো বৈধ হলে তা মানা আমাদের [[দায়িত্ব]]। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, [[সামরিক বাহিনী]] হিসেবে আমরা আইন অনুযায়ী বৈধ আদেশ মানতে বাধ্য। ~ [[মার্ক মিলি]]]]
[[চিত্র:US_map_1864_Civil_War_divisions.svg|থাম্ব|আমার মনে হয় একজন সৈনিক এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান হিসেবে আমার মূল [[দায়িত্ব]] হলো দেশের বাইরে কাজ করা। অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় মূলত অভ্যন্তরীণ [[রাজনীতি]] বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ, যদি না অন্য কোনো বিশেষ [[কারণ]] থাকে। ~ মার্ক মিলি]]
* তোমাদের [[পুত্র]] ও [[কন্যাদের]] আমেরিকান সৈনিকের শান্ত, সুচিন্তিত এবং দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে বিশ্বস্ততার সাথে সেবা করেছে। তাদের এই শক্তি মিথ্যা গল্পের ওপর ভিত্তি করে চলা শত্রুর গোঁড়ামিকে হারিয়ে আমাদের বিজয় এনে দিয়েছে। তারা বাড়ি ফিরছে, তাদের যত্ন নাও।
**ডগলাস ম্যাকআর্থার, [https://ussmissouri.org/learn-the-history/surrender/general-macarthurs-radio-address/ রেডিও ভাষণ] (২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫)।
* আমি ফিরে এসেছি। সর্বশক্তিমান [[ঈশ্বর|ঈশ্বরের]] কৃপায় আমাদের বাহিনী আবার দাঁড়িয়েছে।
**ডগলাস ম্যাকআর্থার, [https://www.youtube.com/watch?v=Wv1PF0tAE1s লেতে, ফিলিপাইনে অবতরণের সময়] (২০ অক্টোবর ১৯৪৪)
* <p>[[কোরীয় যুদ্ধ|কোরীয় যুদ্ধের]] রণক্ষেত্রে পুয়ের্তো রিকানরা ৬৫তম পদাতিক বাহিনীর র্যাঙ্কে যুদ্ধ করছে...</p><p>তারা যুদ্ধের ময়দানে সাফল্যের উজ্জ্বল নজির স্থাপন করছে। তাদের এই কমান্ডে পেয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। আমি আশা করি তাদের মতো আরও অনেকে আমাদের সাথে থাকবে।</p>
**ডগলাস ম্যাকআর্থার, [http://www.valerosos.com/HonorandFidelity3.html#The_Korean_War:_1950 ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫১ সালে টোকিওতে উদ্ধৃত]।
* আমি আবেগপ্রবণ হতে চাই না, তবে এখানে আমেরিকান সৈন্যদের সাথে থাকাটা আমার কাছে অনেক সম্মানের। আমি দেখেছি, আমেরিকান সৈন্যরা যেকোনো সামরিক মিশন সম্পন্ন করতে পারে। দক্ষিণ [[আফগানিস্তান]]ের কঠিন জায়গাতেও তারা কাজ করবে। তবে এখানে থেকে বোঝা যায় যে, সামরিক দিকটি পুরোপুরি সফল হলেও যুদ্ধের সাফল্যের জন্য এটি ২০% মাত্র। আসল কাজটা আফগান জনগণের। আমেরিকানরা জায়গাটা পরিষ্কার করে দেবে এবং তাদের কাজ করাটা সম্মানের। তারা কঠোর পরিশ্রম করছে, কিন্তু আফগানরা এগিয়ে আসবে কি না তার ওপরই নির্ভর করছে আমরা একে বিজয় বলতে পারি কি না।
**[[র্যাচেল ম্যাডো]], [http://rawstory.com/rawreplay/2010/07/06/maddow-afghanistan-counterinsurgency-deadline/ "আফগানিস্তান কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ডেডলাইন"] (৬ জুলাই ২০১০), ''র-স্টোরি''
* আমেরিকার স্থির নীতি হলো—যুদ্ধের চেয়ে শান্তি ভালো, আবার উপঢৌকন দেওয়ার চেয়ে যুদ্ধ ভালো। যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের সাথে যুদ্ধ চায় না, কিন্তু শান্তির জন্য কারো কাছে মাথা নত করবে না।
**[[জেমস ম্যাডিসন]], ওলকট চন্সি এবং উইলিয়াম শ্যালারের কাছে লেখা চিঠি, ১৮১৫ সালের চুক্তি। এটি বারবারি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটায় এবং জলদস্যু রাষ্ট্রগুলোকে উপঢৌকন দেওয়ার প্রথা বন্ধ করে। [http://books.google.com/books?id=YMwRAAAAYAAJ&pg=PA46| রবার্ট গ্রিনহোর "হিস্ট্রি অ্যান্ড প্রেজেন্ট কন্ডিশন অফ ত্রিপোলি", ১৮৩৫, পৃষ্ঠা ৪৬]-এ উদ্ধৃত।
* মন্টিজুমার হল থেকে ত্রিপোলির তীর পর্যন্ত!
আমরা আকাশ, স্থল ও সমুদ্রে আমাদের দেশের যুদ্ধ লড়ি!
সবার আগে লড়ি, অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য!
**''মেরিনস হাইম''
* আমেরিকা জেগে ওঠো। আমরা আমাদের সামরিক বাহিনী ও দেশকে ভালোবাসি, কিন্তু আমরা ট্রাম্পকে ঘৃণা করি।
**মার্শাল বি. ম্যাথারস, [https://twitter.com/Eminem/status/917922469775925248 "দ্য স্টর্ম"] (অক্টোবর ২০১৭)
:'''জোশুয়া এল. চেম্বারলেইন''': এটি ভিন্ন ধরনের একটি সেনাবাহিনী। [[ইতিহাস]] দেখলে দেখবেন মানুষ বেতন, নারী বা লুটের জন্য যুদ্ধ করে। তারা ভূমি বা ক্ষমতার জন্য লড়ে, অথবা রাজা তাদের নেতৃত্ব দেয়, কিংবা শুধু হত্যা করতে পছন্দ করে বলে লড়ে। কিন্তু আমরা নতুন কিছুর জন্য এখানে। পৃথিবীতে এমন ঘটনা খুব কম ঘটেছে। আমরা অন্যদের মুক্ত করার জন্য একটি সেনাবাহিনী। আমেরিকার মাটি মুক্ত হওয়া উচিত—পুরোটা। দাস রাষ্ট্র বা মুক্ত রাষ্ট্রের বিভাজন থাকবে না, এপাশ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত। কাউকে মাথা নত করতে হবে না। কেউ রাজবংশে জন্মায়নি। এখানে আমরা আপনার কাজ দিয়ে আপনাকে বিচার করি, আপনার বাবা কে তা দিয়ে নয়। এখানে আপনি কিছু হতে পারেন। এখানে ঘর গড়ার জায়গা আছে। এটা শুধু জমি নয়। জমি সবসময় আরও পাওয়া যায়। আসল কথা হলো, আমাদের সবার মূল্য আছে—আপনার এবং আমার। শেষ পর্যন্ত আমরা একে অপরের জন্য লড়ছি।
:*''গেটিসবার্গ'' (১৯৯৩), চিত্রনাট্য রোনাল্ড এফ. ম্যাক্সওয়েল
* মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী একটি শক্ত পাথরের মতো। এটি কৌশলগত ও অপারেশনাল দিক থেকে আমাদের দেখা সবচেয়ে যোগ্য এবং চমৎকারভাবে নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
**ব্যারি ম্যাকক্যাফ্রে, [http://www.jerrypournelle.com/reports/jerryp/Iraqreport.html "দ্য বটম লাইন – অবজারভেশনস ফ্রম ইরাকি ফ্রিডম"] (৪ মে ২০০৬), ''কেয়স ম্যানর স্পেশাল রিপোর্টসে'' উদ্ধৃত।
* আমরা প্রথমে আমেরিকান, শেষে আমেরিকান, সবসময় আমেরিকান। আমাদের মতপার্থক্য নিয়ে তর্ক হোক। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমরা শত্রু নই, বরং একটি বাস্তব শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে আমরা কমরেড। আমাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের সাথে আমাদের আদর্শ ও ভালোবাসার গভীরতা মিশে আছে। আমরা আমেরিকান, আমরা কখনোই আত্মসমর্পণ করব না। ''তারা'' করবে।
**[[জন ম্যাককেইন]], ''[http://www.gwu.edu/~action/2004/repconv04/mccain083004sp.html রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশন]'' (৩০ আগস্ট ২০০৪)
* ভুল করবেন না: আমি কোনো অপরিচিত প্রবৃত্তি থেকে আমাদের সামরিক বাহিনীকে মূল্যায়ন করি না। আমি একটি সামরিক পরিবারে বড় হয়েছি, আমার নিজের সেবার রেকর্ড আছে এবং আমার পুরো ক্যারিয়ারে আমি সশস্ত্র বাহিনীর সাথে যুক্ত ছিলাম। আমেরিকান সিস্টেমে সামরিক বাহিনীর মূল্য কেবল তখনই থাকে যখন তা জনগণের স্বাধীনতা রক্ষা করে।
**[[জন ম্যাককেইন]], [[ডোনাল্ড ট্রাম্প|ডোনাল্ড ট্রাম্প]]ের করা মন্তব্য সম্পর্কে বিবৃতি। মন্তব্যটি ছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খানের পিতা খিজির ও গাজালা খানের সম্পর্কে, যিনি ২০০৪ সালে ইরাকে নিহত হন ([http://edition.cnn.com/2016/08/01/politics/john-mccain-statement-khan-family/index.html])।
* সকল কার্যকলাপ [[বর্ণবাদ|বর্ণবাদমুক্ত]] রাখা এবং সকল ইউনিফর্মধারী সদস্য ও বেসামরিক কর্মচারীদের বর্ণের নির্বিশেষে সমান সুযোগ প্রদান করা প্রতিরক্ষা দপ্তরের নীতি।
**রবার্ট ম্যাকনামারা, ''নির্দেশনা ৫১২০.৩৬'' (জুলাই ১৯৬৩)
* আফ্রিকান আমেরিকানরা আমেরিকার যুদ্ধে যোগ দিতে চেয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতেও আমেরিকান সামরিক বাহিনীর শক্তি বজায় রাখার জন্য আফ্রিকান-আমেরিকান সংস্কৃতির ব্যক্তিগত ও সামরিক সম্মানবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
**ওয়াল্টার রাসেল মিড, [https://drive.google.com/file/d/0B-5-JeCa2Z7hZmU2ZTg0OTktYTRlNC00NzA2LThlOWItYzg5ODU4NTViYTE0/view?pref=2&pli=1 "দ্য জ্যাকসোনিয়ান ট্র্যাডিশন অ্যান্ড আমেরিকান ফরেন পলিসি"] (ডিসেম্বর ১৯৯৯), ''দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট'', পৃষ্ঠা ১৫
* আমেরিকান সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আমাদের অস্ত্রগুলো অনেক বেশি স্মার্ট এবং কার্যকর। আমাদের পেশাদার সেনাবাহিনী মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কার্যকর বাহিনী হয়ে উঠেছে। অপ্রতিসম যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। কৌশলের অভাব থাকলে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে জয় সম্ভব নয়। কিন্তু হাই-টেক অস্ত্র, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং গত বিশ বছরে অর্জিত সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক ও মানবিক দক্ষতা আমাদের সামরিক ক্ষমতাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। এই শক্তি কোনো জাদুর বড়ি নয় যে সবকিছু সম্ভব, তবে তৃতীয় বিশ্বের কোনো স্বৈরশাসক এখন আর প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ ঠেকাতে পারবে না। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী সাদ্দামের বাহিনীকে মাছি মারার মতো দমন করেছিল। দ্বিতীয় যুদ্ধে আমাদের প্রচলিত শ্রেষ্ঠত্ব আরও বেশি ছিল।
**ওয়াল্টার রাসেল মিড, [https://web.archive.org/web/20111023223930/http://blogs.the-american-interest.com/wrm/2011/10/20/farewell-to-the-great-loon/ "ফেয়ারওয়েল টু দ্য গ্রেট লুন"] (২০ অক্টোবর ২০১১), ''দ্য আমেরিকান ইন্টারেস্ট''
* আক্রমণাত্মক বাস্তবতা অনুযায়ী, যখন [[ইউরোপ|ইউরোপে]] এমন কোনো সম্ভাব্য শক্তি উদয় হয় যা স্থানীয় শক্তিগুলো দমন করতে পারে না, তখন যুক্তরাষ্ট্র তার সেনাবাহিনী [[আটলান্টিক মহাসাগর|আটলান্টিক]] পার করে পাঠাবে।
** [[জন মিয়ারশাইমার]], ''দ্য ট্র্যাজেডি অফ গ্রেট পাওয়ার পলিটিকস'' (২০০১)।
* '''মিলি''': আমার [[কর্তব্য]] ও [[দায়িত্ব]] সংবিধানের প্রতি, আমার [[আনুগত্য]] সেখানেই। আমি সংবিধানের শপথ নিয়েছি। আমাদের ইউনিফর্মে থাকা সবাই তাই করে। আমরা কোনো [[ব্যক্তি]] বা অন্য কিছুর শপথ নিই না, কেবল [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান]]ের শপথ নিই। আমাদের দায়িত্ব ও শপথ হলো সংবিধান রক্ষা করা। আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির যেকোনো [[আইনি]] আদেশ মানতে আমরা বাধ্য, তা আপনি পছন্দ করুন বা না করুন। আদেশগুলো আইনসম্মত হলে তা পালন করা আমাদের [[দায়িত্ব]]। আমরা আইন অনুযায়ী বৈধ আদেশ মানতে বাধ্য।
** [[মার্ক মিলি]], মেরি লুইস কেলি ও এরিকা রায়ানের সাক্ষাৎকার; [https://www.npr.org/2023/10/02/1202971562/mark-milley-donald-trump-military-army-constitution "'দ্য মিলিটারি হ্যাজ নো রোল' ইন পলিটিকস, সেজ রিটায়ারিং চেয়ার অফ দ্য জয়েন্ট চিফস”], অল থিংস কনসিডারড, ''এনপিআর'', (২ অক্টোবর, ২০২৩)
* '''কেলি''': অবসরপ্রাপ্ত [[যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী|এয়ার ফোর্স]] জেনারেল ও সিআইএর প্রাক্তন পরিচালক মাইকেল হেডেন জানতে চেয়েছেন: "আমরা কি ঠিক আছি?" তার প্রশ্ন ছিল, [[চীন]] বা [[রাশিয়া]] নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র নিজেই তার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় [[হুমকি]]। জেনারেল মিলি, আপনি কী ভাবেন?
: '''মিলি''': একজন [[সৈনিক]] এবং [[জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ]]ের চেয়ারম্যান হিসেবে আমার প্রাথমিক [[দায়িত্ব]] দেশের বাইরে। অভ্যন্তরীণ যেকোনো বিষয় মূলত [[রাজনীতি]] বা [[আইন প্রয়োগকারী সংস্থার]] কাজ, যদি না অন্য কোনো বিশেষ [[কারণ]] থাকে।
:* [[মার্ক মিলি]], মেরি লুইস কেলি ও এরিকা রায়ানের সাক্ষাৎকার; [https://www.npr.org/2023/10/02/1202971562/mark-milley-donald-trump-military-army-constitution "'দ্য মিলিটারি হ্যাজ নো রোল' ইন পলিটিকস, সেজ রিটায়ারিং চেয়ার অফ দ্য জয়েন্ট চিফস”], অল থিংস কনসিডারড, ''এনপিআর'', (২ অক্টোবর, ২০২৩)
* বিশ্বের ইতিহাসে আমেরিকান সৈনিকের মতো অন্য কেউ অপরিচিত মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেনি। আমাদের সৈনিকরা শুধু বিদেশে স্বাধীনতা দেয় না, দেশেও তা রক্ষা করে।
**[[জেল মিলার|জেল মিলার]], [https://web.archive.org/web/20141126130444/http://www.cbsnews.com:80/news/text-of-zell-millers-rnc-speech/ রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে ভাষণ] (২০০৪)
* আমি মনে করি সব যোগ্য পুরুষ ও নারীর ড্রাফটে নাম নিবন্ধন করা উচিত।
**[[মার্ক মিলি|মার্ক মিলি]], [http://www.npr.org/sections/thetwo-way/2016/02/03/465404486/army-marine-corps-generals-say-women-should-have-to-register-for-the-draft সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানি] (ফেব্রুয়ারি ২০১৬)
* <p>আজকের আর্মি মেজররা শুধু [[সন্ত্রাসবাদ|সন্ত্রাসবাদী]] ও [[গেরিলা যুদ্ধ|গেরিলাদের]] বিরুদ্ধে লড়াই জানে, কারণ তারা [[১১ সেপ্টেম্বর হামলা|৯/১১]]ের পর আর্মিতে এসেছে।</p><p>তবে উচ্চপর্যায়ের হুমকির ক্ষেত্রে গত ১৫ বছরে আমাদের দক্ষতা কমে গেছে।</p>
**মার্ক মিলি, [http://www.nytimes.com/2016/05/16/world/africa/army-milley-africa-terrorism-land-war.html?ribbon-ad-idx=5&rref=world/africa সাক্ষাৎকার] (২০১৬)
* [[নৌবাহিনী|নৌবাহিনীতে]], আপনি [[সাত সমুদ্র|সাত সমুদ্র]] পাড়ি দিতে পারেন!
নৌবাহিনীতে, আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন!
এখন সবাই এগিয়ে আসুন! নৌবাহিনীতে, নৌবাহিনীতে।
বুঝতে পারছেন না, আমাদের সাহায্য প্রয়োজন?
নৌবাহিনীতে! [[মাতৃভূমি|মাতৃভূমি]] রক্ষা করতে এগিয়ে আসুন। নৌবাহিনীতে!
**[https://www.youtube.com/watch?v=InBXu-iY7cw "ইন দ্য নেভি"] (১৭ জানুয়ারি ১৯৭৯), লিখেছেন জ্যাক মোরালি ও ভিক্টর উইলিস, ''গো ওয়েস্ট'' (১৯৭৯), কাসাব্লাঙ্কা রেকর্ডস। গেয়েছেন [[দ্য ভিলেজ পিপল|দ্য ভিলেজ পিপল]]।
* যুদ্ধের পর আমেরিকান সামরিক বিতর্ক ছিল কোন বাহিনী দেশের প্রধান রক্ষক হবে। [[যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিমান বাহিনী|আর্মি এয়ার ফোর্সেস]] (১৯৪৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আলাদা সার্ভিস, ইউএসএএফ হিসেবে তৈরি) দাবি করেছিল যে তাদের [[স্ট্র্যাটেজিক এয়ার কমান্ড|স্ট্র্যাটেজিক এয়ার কমান্ড]], বি-২৯ এবং পারমাণবিক বোমা দিয়ে দেশকে রক্ষা করতে পারবে। নৌবাহিনী দাবি করে যে ক্যারিয়ার এয়ার পাওয়ার যুদ্ধ জিতেছে এবং ভবিষ্যতেও সেরা থাকবে। মার্কিন মাটিতে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের নিয়ন্ত্রণ কার থাকবে তা নিয়েও বিতর্ক ছিল।
১৯৪৭ সালের ২৬ জুলাই [[জাতীয় নিরাপত্তা আইন ১৯৪৭|জাতীয় নিরাপত্তা আইন]] পাস হয়, যা "আর্মড ফোর্সেস অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস" গঠন করে এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে প্রতিরক্ষা দপ্তরের অধীনে আনে। তাত্ত্বিকভাবে, এর উদ্দেশ্য ছিল বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো। বাস্তবে, বাহিনীগুলোর মধ্যে ঝগড়া চলত। বিমান বাহিনীকে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের কৌশলগত কমান্ড দেওয়া হয়েছিল, আর সেনাবাহিনী ইউনিটগুলোর প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের দায়িত্ব নেয়। ১৯৪৯ সাল নাগাদ টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিসের অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট আর্টিলারি স্কুলে মাত্র একটি রেগুলার আর্মি অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ইউনিট সক্রিয় ছিল। তিনটি ঘটনা মহাদেশীয় বিমান প্রতিরক্ষার প্রশ্নকে সামনে আনে এবং কোন বাহিনী কী সরবরাহ করবে তা নির্ধারণ করতে বাধ্য করে।
**মার্ক এল. মরগান, মার্ক এ. বেরহো, [https://books.google.com/books?isbn=0615120121 “রিংস অফ সুপারসনিক স্টিল: এয়ার ডিফেন্সেস অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি ১৯৫০-১৯৭৯”], (২০০২), পৃষ্ঠা ৪।
* সরকার বলপ্রয়োগ, প্রতারণা এবং ধোঁকাবাজির মাধ্যমে শাসন করে। সামরিক বাহিনী নিজেই তথ্যের অবরোধ শুরু করে। তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করে। তাদের বিশাল আকার ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে রাজনৈতিক নেতারা এই প্রতিষ্ঠানকে বুঝতে পারেন না।
এর প্রমাণ? জিএও ২০১৬ সালের রিপোর্টটি পড়ুন। তারা সামরিক বাহিনী কত তেল পোড়ায় তা বের করতে পারেনি। জিএও সিদ্ধান্তে বলে: "কংগ্রেস জানে না সামরিক বাহিনী বার্ষিক কত জ্বালানি ব্যবহার করে..."
এটি অবাক হওয়ার মতো নয়। ১৯৫০ সালের পর থেকে আধুনিক সামরিক বাহিনী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১, সেকশন ৯ লঙ্ঘন করে ব্যয়ের হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। ২০১৮ সালে পেন্টাগন প্রথমবারের মতো অডিটে ব্যর্থ হয়। শুধু ৬.৫ ট্রিলিয়ন ডলার নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নয়, তাদের অস্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা একটি প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র, যা সরকারি কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা বা বোঝার চেষ্টাকারীদের থামিয়ে দেয়।
**[https://www.counterpunch.org/2019/06/14/the-climate-counter-offensive-secrecy-deception-and-disarming-the-green-new-deal/ দ্য ক্লাইমেট কাউন্টার-অফেনসিভ: সিক্রেসি, ডিসেপশন অ্যান্ড ডিজআর্মিং দ্য গ্রিন নিউ ডিল, রিচার্ড মোসার, ''কাউন্টারপাঞ্চ''] (১৪ জুন, ২০১৯)
* একটি বড় ও নোংরা গোপন তথ্য হলো—যুদ্ধ [[বৈশ্বিক উষ্ণায়ন|জলবায়ু পরিবর্তন]] বাড়ায়। সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে সচেতন। সব গোপন রাখতে সামরিক বাহিনীকে দায়বদ্ধতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এটি [[আইনের শাসন|আইনের শাসন]]ের ব্যতিক্রম। জি.ডব্লিউ. বুশ ১৯৯৭ সালের [[কিউটো প্রোটোকল|কিউটো অ্যাকর্ডস]]ে এই অব্যাহতি দাবি করেন, যদিও তিনি পরে তা স্বাক্ষর করেননি।
সামরিক বাহিনীর গ্রিনহাউস গ্যাস হিসাবের বাইরে রয়েছে ১৩০টি দেশে ১,০০০টির বেশি ঘাঁটি, যুক্তরাষ্ট্রের ৬,০০০ স্থাপনা, [[বিমানবাহী রণতরী|বিমানবাহী রণতরী]] এবং [[জেট বিমান|জেট বিমান]]। অস্ত্রের পরীক্ষা এবং ন্যাটো ও [[আফ্রিকোম|আফ্রিকোম]]ের মতো বিশাল সামরিক জোটের কার্যক্রমও এর বাইরে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা এবং মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমও অব্যাহতি পায়।
**[[সারা ফ্লাউন্ডার্স|সারা ফ্লাউন্ডার্স]] উদ্ধৃত: [https://www.counterpunch.org/2019/06/14/the-climate-counter-offensive-secrecy-deception-and-disarming-the-green-new-deal/ দ্য ক্লাইমেট কাউন্টার-অফেনসিভ: সিক্রেসি, ডিসেপশন অ্যান্ড ডিজআর্মিং দ্য গ্রিন নিউ ডিল, রিচার্ড মোসার, ''কাউন্টারপাঞ্চ''] (১৪ জুন, ২০১৯)
* সেনাবাহিনীতে যে কর্মকর্তাকে [[কাপুরুষতা]] বা [[বিশ্বাসঘাতকতা]]র জন্য বরখাস্ত করা হয়, সে নিজেকে [[ডেমোক্রেটিক পার্টি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)|ডেমোক্র্যাট]] বলে।
** [[অলিভার পি. মর্টন|অলিভার হ্যাজার্ড পেরি মর্টন]], ইন্ডিয়ানার ১৪তম গভর্নর, ইন্ডিয়ানাপলিসের Masonic Hall-এ ইউনিয়ন মাস মিটিং-এ বক্তৃতা (২০ জুন ১৮৬৬): [https://books.google.com/books?id=1-d9AAAAMAAJ&printsec=frontcover&dq=%22Treason+Exposed:+Record+of+the+Disloyal+Democracy%22&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwisi5WmtMrLAhUCOz4KHUcHCEcQ6AEIHDAA#v=onepage&q=%22Treason%20Exposed%3A%20Record%20of%20the%20Disloyal%20Democracy%22&f=false ''ট্রেজন এক্সপোজড: রেকর্ড অফ দ্য ডিসলয়াল ডেমোক্রেসি''] (১৮৬৬), রিপাবলিকান পার্টি (ইন্ড.) স্টেট সেন্ট্রাল কমিটি, পৃষ্ঠা ৩।
==এন==
* আমেরিকান সৈন্য [[ইসরায়েল|ইসরায়েলে]] পাঠানোর দরকার নেই, আমরা নিজেরাই নিজেদের [[রক্ষা|রক্ষা]] করি।
**[[বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু]], [http://www.c-span.org/video/?299666-1/israeli-prime-minister-netanyahu-address-joint-meeting-congress মার্কিন কংগ্রেসে যৌথ সভায় ভাষণ] (২৪ মে ২০১১)
* আমেরিকায় ইতিহাসের সবচেয়ে [[সুশৃঙ্খল]] ও [[মানবিক]] সামরিক বাহিনী রয়েছে। লুটতরাজে অভ্যস্ত প্রাচীন সেনাবাহিনী বা আধুনিক সময়ের নির্বিচারে বেসামরিক ও বন্দি হত্যাকারী বাহিনীর তুলনায় এটি অনেক সংযত।
**[[নিউজউইক|নিউজউইক]], [http://www.msnbc.msn.com/id/13124487/site/newsweek/ ''এমএসএনবিসি''] (১২ জুন ২০০৬)
* আমরা বিশ্বাস করি [[কালো মানুষ|কালো মানুষদের]] এমন কোনো [[বর্ণবাদী]] [[সরকার|সরকারকে]] রক্ষা করতে সামরিক বাহিনীতে [[যুদ্ধ|যুদ্ধ]] করতে বাধ্য করা উচিত নয়, যারা আমাদের [[সুরক্ষা|সুরক্ষা]] দেয় না। আমরা বিশ্বের অন্য কোনো বর্ণের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না, যারা আমেরিকার এই বর্ণবাদী সরকারের শিকারে পরিণত হচ্ছে। আমরা পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সহিংসতা থেকে [[যেকোনো মূল্যে|যেকোনো মূল্যে]] নিজেদের রক্ষা করব।
**[[হিউ নিউটন]], "ব্ল্যাক প্যান্থার পার্টি প্ল্যাটফর্ম, প্রোগ্রাম অ্যান্ড রুলস" (১৯৬৬), ''দ্য হিউ পি. নিউটন রিডারে'', পৃষ্ঠা ৫৬।
* [[ইসলামিক স্টেট|ইসলামিক স্টেট]]ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে সিরিয়ার বাঘুজ নামক স্থানে যখন খেলাফতের যোদ্ধারা কোণঠাসা, তখন মার্কিন সামরিক ড্রোনের নজর ছিল সেদিকে। সেখানে একটি নদীর তীরে অনেক নারী ও শিশু জড়ো হয়েছিল। কোনো সতর্কতা ছাড়াই আমেরিকান এফ-১৫ই অ্যাটাক জেট তাদের ওপর ৫০০ পাউন্ডের বোমা ফেলে। ধোঁয়া সরলে যারা বেঁচে ছিল, তাদের ওপর আবার ২০০০ পাউন্ডের বোমা ফেলা হয়। একজন লিগ্যাল অফিসার এটিকে [[যুদ্ধাপরাধ|যুদ্ধাপরাধ]] হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্তের দাবি জানান। কিন্তু সামরিক বাহিনী পুরো ঘটনাটি গোপন করে। মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হয়। রিপোর্টগুলো বিলম্বিত, কাটাছেঁড়া এবং শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পরিদর্শক তদন্ত শুরু করলেও রিপোর্ট থেকে হামলার উল্লেখ সরিয়ে ফেলা হয়। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী ঘটনাস্থল বুলডোজার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। পরের দিন বেসামরিক পর্যবেক্ষকরা সেখানে নারী ও শিশুদের মৃতদেহের স্তূপ খুঁজে পান।
**[https://www.nytimes.com/2021/11/13/us/us-airstrikes-civilian-deaths.html হাও দ্য ইউ.এস. হিড অ্যান এয়ারস্ট্রাইক দ্যাট কিলড ডজনস অফ সিভিলিয়ানস ইন সিরিয়া, ডেভ ফিলিপস ও এরিক শ্মিট ''নিউ ইয়র্ক টাইমস''] (১৩ নভেম্বর ২০২১)
==ও==
*যেখানেই [[অবিচার]], [[দমন]] এবং [[দুঃখ-কষ্ট]] থাকে, আমেরিকা সেখানে ছয় মাস দেরিতে উপস্থিত হয় এবং তার পাশের [[দেশ|দেশে]] [[বোমা]] ফেলে।
**[[পি. জে. ও'রোর্ক]], ''পিস কিলস: আমেরিকাস ফান নিউ ইম্পেরিয়ালিজম'' (২০০৪)।
*<p>[[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]] পৃথিবীর সবচেয়ে [[শক্তিশালী]] [[জাতি]]। এটি একটি অমোঘ সত্য। অন্য আটটি দেশের সম্মিলিত সামরিক খরচের চেয়েও আমরা বেশি ব্যয় করি। আমাদের সৈন্যরা বিশ্বের ইতিহাসের সেরা যুদ্ধশক্তি। কোনো জাতি আমাদের বা আমাদের মিত্রদের আক্রমণ করতে সাহস করে না, কারণ তারা জানে এটি ধ্বংসের পথ। জরিপ বলছে বিশ্বজুড়ে আমাদের অবস্থান বেশ উঁচুতে...</p><p>সব গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিশ্বের মানুষ [[বেইজিং]] বা [[মস্কো]]র দিকে তাকায় না; তারা আমাদের ডাকে...</p><p>যখন আপনারা আমেরিকানদের পেছনে লাগবেন, তখন আমরা আপনাদের পেছনে লাগব। সময় লাগতে পারে, কিন্তু আমাদের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ এবং আমাদের পৌঁছানোর ক্ষমতার কোনো সীমা নেই।</p>
**[[বারাক ওবামা|বারাক এইচ. ওবামা ২য়]], [https://medium.com/@WhiteHouse/president-obama-s-2016-state-of-the-union-address-7c06300f9726#.flsvqkay9 স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণ] (১২ জানুয়ারি ২০১৬)।
*এই পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে [[মিশেল ওবামা|মিশেল]] এবং আমি শুধু আপনাদের মুখপাত্র ছিলাম। আমরা টিভির পর্দায় বা [[মাইক্রোফোন|মাইক্রোফোনের]] সামনে মুখ বা কণ্ঠস্বর ছিলাম, কিন্তু এটি আমাদের জন্য ছিল না। এটি সবসময় আপনাদের জন্য ছিল। '''গত ১০ বছরে যা কিছু ঘটেছে তা আপনাদের কাজের প্রমাণ। আমরা যখন আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী ও ইউনিফর্মধারী নারী-পুরুষদের কথা বলি, তখন সামরিক বাহিনী কোনো বস্তু নয়। এটি নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিকদের একটি দল, যারা আমাদের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত। এর সদস্যরা আছে বলেই এটি কার্যকর। যন্ত্রপাতি বা হার্ডওয়্যার যেমনই হোক—আমাদের কাছে ভালো হার্ডওয়্যার আছে—তা মেশিন, অস্ত্র বা স্যাটেলাইট যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত সব অসাধারণ মানুষের ওপর নির্ভর করে।'''
**[[বারাক ওবামা]], ২০ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুসে তার স্টাফ সদস্যদের বিদায় জানিয়ে দেওয়া বক্তব্য। সূত্র: [http://edition.cnn.com/2017/01/20/politics/barack-obama-remarks/ ওবামার দায়িত্ব ছাড়ার পরের বক্তব্য: সিএনএন দ্বারা প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য, ২০ জানুয়ারি ২০১৭।]
==পি==
*[[আমেরিকা]] পৃথিবীর সবচেয়ে [[নৈতিক]] [[জাতি]]। এটি [[নৈতিক]] নীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সামরিক শক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমাদের অবশ্যই নৈতিক নীতি প্রয়োগ করতে হবে।
**[[রন পল]], [http://www.house.gov/paul/congrec/congrec2002/cr090402.htm মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভাষণ] (৪ সেপ্টেম্বর ২০০২), ওয়াশিংটন, ডি.সি.
*আমি একজন [[মার্কিন মেরিন কোর|মেরিন]]। দেশপ্রেম দেখানোর জন্য আমার [[গাড়ি|গাড়িতে]] ছোট [[পতাকা|পতাকা]] ওড়ানোর প্রয়োজন নেই।
**জোশ রে পারসন, [https://books.google.com/books?id=Phvvf-niiWUC&pg=PT68&lpg=PT68&dq=generation+kill+where+stars+and+stripes+and+eagles&source=bl&ots=lEypFHHqaL&sig=AMRhfTBqzBEnsPiju0YSgkuLd-8&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwiSu8rP3LfLAhWFXR4KHUb-BDAQ6AEIIjAB#v=onepage&q=generation%20kill%20where%20stars%20and%20stripes%20and%20eagles&f=false ''জেনারেশন কিল''] (২০০৩), ইভান রাইট, পৃষ্ঠা ৬৮-এ উদ্ধৃত।
*যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে, কিন্তু একটি বিষয়ে কেউ যুক্তরাষ্ট্রকে সমালোচনা করে না। কেউ মনে করে না যে [[ইরাক|ইরাকে]] হামলা চালানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের [[জমি]], [[পানি]] বা [[তেল]] লাভের কোনো উদ্দেশ্য ছিল। আমেরিকা সম্পদের কোনো লোভ করে না। [[২০শ শতাব্দী|বিংশ শতাব্দীতে]], '''আমেরিকান ছেলেরা দুটি বিশ্বযুদ্ধে লড়েছে, অনেকে প্রাণ হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ জিতেছে, জমি পেয়েছে, কিন্তু তারা তার প্রতিটি টুকরো ফিরিয়ে দিয়েছে। বিজয়ের পর আমেরিকা নিজের জন্য কিছু রাখেনি। আপনারা [[জাপান|জাপানকে]] ফিরিয়ে দিয়েছেন—একটি উন্নত জাপান, আপনারা [[জার্মানি|জার্মানি]] ফিরিয়ে দিয়েছেন—একটি উন্নত জার্মানি''', আপনারা [[মার্শাল পরিকল্পনা|মার্শাল প্ল্যান]]ের কথা শুনেছেন। আজ, আমি মনে করি না পৃথিবীতে কোনো বিবেকবান মানুষ আছেন যিনি মনে করেন ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বার্থপর বা বস্তুবাদী উদ্দেশ্য আছে। এই হামলার কারণ হলো, আপনি বিশ্বকে অরাজক হতে দিতে পারেন না। কিছু মানুষ আমাদের জীবনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বিনা কারণে নারী, শিশু এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছে। আমি মনে করি পুরো বিশ্ব ভাগ্যবান যে যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশ আছে, যাদের এই নতুন বিপদ মোকাবিলা করার ইচ্ছা এবং শক্তি আছে।
**[[শাইমন পেরেজ]], [http://www.iop.harvard.edu/events_forum_archive_2004.html ভাষণ] (২০ অক্টোবর ২০০৪)।
*আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর র্যাঙ্কে [[সাহস|সাহস]]ের অভাব নেই, কিন্তু আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এবং উচ্চপর্যায়ের সামরিক কমান্ডে [[আমলাতান্ত্রিক]] [[কাপুরুষতা]] বিদ্যমান।
**[[রালফ পিটারস]], ''বিয়ন্ড টেরর: স্ট্র্যাটেজি ইন এ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড'' (২০০২), পৃষ্ঠা ১৯৬।
*[[আব্রাহাম লিংকন|তিনি]] কিসের স্মৃতিস্তম্ভ তা বলেননি। আমি নিশ্চিত, তিনি এটিকে '''[[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী|আমাদের সৈনিকদের]] আনুগত্যের স্মৃতিস্তম্ভ''' হিসেবে রেখে যেতে চেয়েছিলেন, যারা [[পতাকা|পতাকা]] ও [[উচ্ছেদবাদ|আদর্শ]] ত্যাগ করার চেয়ে লিবির সব ভয়াবহতা সহ্য করাকে শ্রেয় মনে করেছিল।
**[[ডেভিড ডিক্সন পোর্টার]], [https://archive.org/details/incidentsanecdot00portiala ''ইনসিডেন্টস অ্যান্ড অ্যানেকডোটস অফ দ্য সিভিল ওয়ার''] (১৮৮৫), পৃষ্ঠা ২৯৯।
*আমি আমাদের [[পতাকা|পতাকা]], [[সংবিধান|সংবিধান]] এবং [[দেশ|দেশকে]] সীমাহীন [[ভালোবাসা|ভালোবাসা]] দিয়ে ভালোবাসি। একজন [[সৈনিক]] হিসেবে ৩৫ বছর ধরে আমি এই তিনটির প্রতিরক্ষা করেছি এবং প্রয়োজনে জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলাম।
**[[কলিন পাওয়েল]], [https://www.aclu.org/free-speech/letter-colin-powell প্যাট্রিক লেহিকে লেখা চিঠি] (১৮ মে ১৯৯৯)।
*আমি মনে করি [[যুক্তরাষ্ট্র|আমরা]] 'গ্রেট শয়তান' নই, বরং আমরা 'মহা রক্ষাকর্তা'। গত এক শতাব্দী ধরে আমরা [[দমন|দমন]] ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর নারী-পুরুষদের পাঠিয়েছি। আমরা [[ফ্যাসিবাদ|ফ্যাসিবাদ]] ও [[কমিউনিজম|কমিউনিজম]] পরাজিত করেছি। আমরা [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|প্রথম]] ও [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে]] [[ইউরোপ|ইউরোপকে]] বাঁচিয়েছি। আমরা তা করতে ইচ্ছুক ও আনন্দিত ছিলাম। আমরা [[কোরীয় যুদ্ধ|কোরিয়ায়]] গিয়েছি, [[ভিয়েতনাম যুদ্ধ|ভিয়েতনামে]] গিয়েছি। সব মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে। যুদ্ধ শেষে আমরা কী করেছি? আমরা কি দখলদার হিসেবে থেকে গেছি? আমরা কি বলেছি, 'আমরা [[জার্মানি|জার্মানি]]কে হারিয়েছি, এখন জার্মানি আমাদের'? বা '[[জাপান|জাপান]] হারিয়েছি, এখন তা আমাদের'? না। আমরা কী করেছি? আমরা তাদের গড়ে তুলেছি। আমরা তাদের [[গণতন্ত্র|গণতান্ত্রিক]] ব্যবস্থা দিয়েছি যা তারা মন থেকে গ্রহণ করেছে। আমরা কি কোনো জমি চেয়েছি? না। আমরা কেবল আমাদের মৃতদের সমাহিত করার মতো জমিটুকু চেয়েছি, আমরা এমন একটি জাতি।
**[[কলিন পাওয়েল]], [https://web.archive.org/web/20020220234413/http://www.cnn.com/2002/ALLPOLITICS/02/15/powell.mtv/index.html ''এমটিভি গ্লোবাল ডিসকাশন''] (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০২)।
*শাসক শ্রেণি এবং সেইসব [[বিলিয়নিয়ার|বিলিয়নিয়াররা]] যারা মানুষের কষ্টের ওপর লাভ করে, তারা শুধু তাদের সম্পদ বাড়ানো এবং বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবে। ... তাদের ক্ষমতা কেবল আমাদের বোঝানোর ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ যে যুদ্ধ, দমন এবং শোষণ আমাদের স্বার্থে। তারা বোঝে যে তাদের সম্পদ শ্রমজীবী মানুষকে অন্য দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য মারা যেতে রাজি করানোর ওপর নির্ভরশীল।
**প্রাক্তন সৈনিক [[মাইকেল প্রিসনার]], "আওয়ার রিয়েল এনিমিজ," ২১ ডিসেম্বর, ২০১১।
*আমি [[ইরাক|ইরাকে]] পরিবারগুলোকে রাস্তা থেকে বের করে দিয়েছি, শুধু দেশে ফিরে এসে দেখেছি এই দেশেও একই ঘটনা ঘটছে। এটি দুঃখজনক এবং অপ্রয়োজনীয় [[মহাবন্দা|ফোরক্লোজার সংকট]]। আমাদের সচেতন হতে হবে যে আমাদের আসল শত্রু সুদূর কোনো দেশে নয়। তারা এমন মানুষ নয় যাদের নাম আমরা জানি না বা যাদের সংস্কৃতি আমরা বুঝি না। শত্রু হলো সেই সিস্টেম যা লাভজনক হলে যুদ্ধ করে। শত্রু হলো সেই [[সিইও|সিইওরা]] যারা লাভজনক হলে আমাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করে। শত্রু হলো সেই [[বীমা|বীমা]] কোম্পানি যারা লাভজনক হলে আমাদের [[স্বাস্থ্যসেবা|স্বাস্থ্যসেবা]] দিতে অস্বীকার করে। শত্রু হলো সেই ব্যাংকগুলো যারা লাভজনক হলে আমাদের বাড়ি দখল করে। আমাদের শত্রু ৫ হাজার মাইল দূরে নয়, তারা আমাদের নিজেদের ঘরেই আছে।
**প্রাক্তন সৈনিক [[মাইকেল প্রিসনার]], "আওয়ার রিয়েল এনিমিজ," ২১ ডিসেম্বর, ২০১১।
==আর==
*যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতি একটি সহজ ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত: যুক্তরাষ্ট্র [[যুদ্ধ|যুদ্ধ]] শুরু করে না। আমরা কখনো [[আগ্রাসী|আগ্রাসী]] হব না। আমরা আগ্রাসন ঠেকাতে ও [[সুরক্ষা|সুরক্ষা]] দিতে আমাদের [[শক্তি|শক্তি]] বজায় রাখি—যাতে [[স্বাধীনতা|স্বাধীনতা]] ও [[শান্তি|শান্তি]] বজায় থাকে।
**[[রোনাল্ড রেগান]], [http://www.cnn.com/SPECIALS/cold.war/episodes/22/documents/starwars.speech/ ভাষণ]।
*আমেরিকানরা তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর যে আস্থা রাখে তা অস্বাভাবিক। ১৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র সামান্য অস্ত্রধারী কয়েকজন [[তালিবান|তালিবানকে]] হারাতে পারেনি, ১৩ বছর ধরে ইরাক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। রাশিয়া বা চীনরাশিয়া কৌশলগত জোটের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এটি আশাব্যঞ্জক নয়। ৬০ বছর আগে [[কোরীয় যুদ্ধ|কোরিয়াতে]] যুক্তরাষ্ট্র চীনকেও হারাতে পারেনি। আমেরিকানদের বোঝা উচিত যে "তাদের" সরকার হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ইউরোপকে [[পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ|বাষ্পীভূত]] করতে চলেছে। রাশিয়ান অস্ত্র ব্যবস্থা আমেরিকানদের চেয়ে অনেক উন্নত। আমেরিকান অস্ত্র ব্যক্তিগত কোম্পানিগুলো লাভের জন্য তৈরি করে। অস্ত্রের সক্ষমতা মূল বিষয় নয়। মার্কিন অস্ত্রের দাম আকাশচুম্বী, যার কারণ অন্তহীন খরচ।
**[[পল ক্রেইগ রবার্টস]], [http://www.informationclearinghouse.info/article44761.htm ''আওয়ার প্রসপেক্টস অ্যাগেইনস্ট দ্য রাশিয়ানস অ্যান্ড চাইনিজ ইন ডাব্লিউডাব্লিউ৩, ইনফরমেশন ক্লিয়ারিং হাউস''] (২৮ মে ২০১৬)।
*বিশ্ব হয়তো মার্কিন সামরিক-নিরাপত্তা কমপ্লেক্সের লোভের কারণে [[ধ্বংস|ধ্বংসের]] দিকে যাচ্ছে। ওবামা প্রশাসন [[শীতল যুদ্ধ|শীতল যুদ্ধ]] ফিরিয়ে এনেছে, যা একটি বিশ্বাসযোগ্য "শত্রু" তৈরি করেছে। "[[রাশিয়ান|রাশিয়ান]] হুমকি" ব্যবহার করে আমেরিকান করদাতাদের অর্থ, [[কল্যাণমূলক রাষ্ট্র|সামাজিক সেবা]] এবং [[অর্থনীতি|অর্থনীতি]] রক্তশূন্য করা হচ্ছে, যাতে [[অস্ত্র|অস্ত্র]] নির্মাতারা লাভবান হয়। 'নতুন শীতল যুদ্ধ'-এর সময় ওয়াশিংটনের যুক্তি ও পদক্ষেপ আসল [[শীতল যুদ্ধ|শীতল যুদ্ধ]]ের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক ও বেপরোয়া।
**[[পল ক্রেইগ রবার্টস]], [http://www.informationclearinghouse.info/article44761.htm ''আওয়ার প্রসপেক্টস অ্যাগেইনস্ট দ্য রাশিয়ানস অ্যান্ড চাইনিজ ইন ডাব্লিউডাব্লিউ৩, ইনফরমেশন ক্লিয়ারিং হাউস''] (২৮ মে ২০১৬)।
*প্রথম যুদ্ধটি—[[আমেরিকান বিপ্লব|স্বাধীনতার যুদ্ধ]]—ছাড়াও আমেরিকার সব যুদ্ধ ছিল [[সাম্রাজ্য|সাম্রাজ্যের]] জন্য। [[মেমোরিয়াল ডে|মেমোরিয়াল ডে]]তে বিপদের সময় সেবা দেওয়া সাহসী নারী-পুরুষদের নিয়ে ভাষণ শোনার সময় এই সত্যটি মনে রাখবেন। যুক্তরাষ্ট্র কখনো বিপদে ছিল না, কিন্তু ওয়াশিংটন অন্যের ওপর [[আধিপত্য|আধিপত্য]] বিস্তারের জন্য অনেক দেশে বিপদ বয়ে এনেছে।
**[[পল ক্রেইগ রবার্টস]], [http://www.informationclearinghouse.info/article44761.htm ''আওয়ার প্রসপেক্টস অ্যাগেইনস্ট দ্য রাশিয়ানস অ্যান্ড চাইনিজ ইন ডাব্লিউডাব্লিউ৩, ইনফরমেশন ক্লিয়ারিং হাউস''] (২৮ মে ২০১৬)।
*আজ প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটনের রাশিয়া ও চীনের ওপর [[আধিপত্য|আধিপত্য]] বিস্তারের চেষ্টার ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিপদের মুখে। রাশিয়া ও চীন ওয়াশিংটনের [[অহংকার|অহংকার]] ও [[মূর্খতা|মূর্খতা]]তে প্রভাবিত নয়। তারা আমেরিকার আদিবাসী [[প্লেইন ইন্ডিয়ানস|প্লেইন ইন্ডিয়ানস]] নয়, যারা [[ইউনিয়ন সেনাবাহিনী|ইউনিয়ন আর্মির]] হাতে [[মহিষ|মহিষ]] হত্যার মাধ্যমে ক্ষুধার্ত হয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল। আমেরিকানরা সেলফি ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের বিভ্রমে ব্যস্ত, কিন্তু তাদের উন্মাদ সরকার রাশিয়া ও চীনের সাথে ঝগড়া বাঁধিয়েছে। তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
**[[পল ক্রেইগ রবার্টস]], [http://www.informationclearinghouse.info/article44761.htm ''আওয়ার প্রসপেক্টস অ্যাগেইনস্ট দ্য রাশিয়ানস অ্যান্ড চাইনিজ ইন ডাব্লিউডাব্লিউ৩, ইনফরমেশন ক্লিয়ারিং হাউস''] (২৮ মে ২০১৬)।
*[[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র বাহিনী|আমাদের সামরিক বাহিনীর]] শাখার নেতারা অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির কথার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কেন? কারণ সমস্ত [[জাতি|জাতির]] [[পুরুষ|পুরুষ]] ও [[নারী|নারী]] সমন্বয়ে গঠিত আমাদের বাহিনীর [[মনোবল|মনোবল]] ও প্রতিশ্রুতি বিপদের মুখে পড়তে পারে।
**[[মিট রমনি]], [https://www.facebook.com/mittromney/posts/10154652303536121 ফেসবুক বিবৃতি] (১৮ আগস্ট ২০১৭)।
*শান্তির নিশ্চয়তা পেতে বিদেশে আমাদের সম্মান পাওয়ার জন্য একটি দক্ষ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রয়োজন। আমার প্রগতিশীল সহনাগরিকদের সাবধান করছি। আমি চাই তারা আমাদের [[আন্তর্জাতিক সম্পর্ক|আন্তর্জাতিক সম্পর্ক]] নিয়ে আগ্রহী থাকুক; এবং আঙ্কেল স্যামের বিদেশের স্বার্থের কথা মনে রাখুক। ন্যায়বিচার ও ন্যায্য আচরণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের মতোই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, শুধু একটি পার্থক্য হলো প্রতিটি জাতিকে আন্তর্জাতিক পুলিশি কাজ করতে হয়। যদি এখানে ঝামেলায় পড়েন, তবে পুলিশ ডাকতে পারেন; কিন্তু আঙ্কেল স্যাম যদি ঝামেলায় পড়েন, তবে তাকে নিজেই [[পুলিশ|পুলিশম্যান]] হতে হবে। আমি তাকে যথেষ্ট শক্তিশালী দেখতে চাই, যাতে সে অন্যদের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে উৎসাহিত করতে পারে। আমি জাতীয় বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছায় বিশ্বাস করি, তবে বন্ধুত্ব হতে হবে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। আমি এমন কোনো আমেরিকানকে ঘৃণা করি যে অন্য জাতির সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমেরিকার সরকার যেন ন্যায়পরায়ণ হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে না। আমি কোনো দুর্বল শক্তির ওপর অবিচার করতে চাই না, আর কোনো শক্তিশালী শক্তির কাছ থেকে অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করলে আমি চিরকাল মাথা নিচু করে থাকব।
**[[থিওডোর রুজভেল্ট]], [https://obamawhitehouse.archives.gov/blog/2011/12/06/archives-president-teddy-roosevelts-new-nationalism-speech ওসাওয়াটোমি ভাষণ], (৩১ আগস্ট ১৯১০)।
*যুক্তরাষ্ট্র যখন বিশ্বের [[সবচেয়ে শক্তিশালী|সবচেয়ে শক্তিশালী]] সামরিক শক্তি, তখন এই [[বিশ্ব|বিশ্ব]] একটি [[নিরাপদ|নিরাপদ]] এবং [[ভালো|ভালো]] জায়গা।
**[[মার্কো রুবিও]], [http://insider.foxnews.com/2015/11/10/marco-rubio-and-rand-paul-clash-national-security-fox-business-gop-debate ''মার্কো রুবিও অ্যান্ড র্যান্ড পল ক্ল্যাশ''] (১০ নভেম্বর ২০১৫) শিরোনামের ফক্সনিউজ ইনসাইডারে উদ্ধৃত। [[২০১৬ রিপাবলিকান বিতর্ক, মিলওয়াকি|২০১৬ রিপাবলিকান বিতর্কের]] সময় বলা হয়েছে।
==এস==
*২০১৯ সালে মার্কিন সামরিক ব্যয় ছিল ৭৩২ বিলিয়ন ডলার, যা [[চীন]]ের ২৬১ বিলিয়ন ডলারের প্রায় তিন গুণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০টি বিদেশী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে [[চীন]]ের মাত্র একটি (জিবুতিতে একটি ছোট নৌঘাঁটি)। চীনের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সামরিক ঘাঁটি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি চীনের কোনো ঘাঁটি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ৫,৮০০টি [[পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক ওয়ারহেড]] আছে; চীনের আছে প্রায় ৩২০টি। যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি [[বিমানবাহী রণতরী|বিমানবাহী রণতরী]] আছে; চীনের আছে একটি। গত ৪০ বছরে যুক্তরাষ্ট্র অনেক বিদেশী যুদ্ধ শুরু করেছে; চীন একটিও করেনি (যদিও সীমান্তে ছোটখাটো সংঘর্ষের জন্য তাদের সমালোচনা করা হয়েছে, যেমনটি সম্প্রতি [[ভারত|ভারতের]] সাথে হয়েছে, তবে তা যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছায়নি)।
**[[জেফরি স্যাকস]], [https://www.project-syndicate.org/commentary/america-evangelical-crusade-against-china-by-jeffrey-d-sachs-2020-08 আমেরিকার আনহোলি ক্রুসেড অ্যাগেইনস্ট চায়না], [[প্রজেক্ট সিন্ডিকেট|''প্রজেক্ট সিন্ডিকেট'']], (৫ আগস্ট ২০২০)
*[[ওমান উপসাগর|ওমান উপসাগরে]] তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং এর পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত... তবে এই ঘটনাকে [[ইরান|ইরানের]] সাথে যুদ্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এমন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, অঞ্চল এবং বিশ্বের জন্য এক চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে... এখন সময় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব দেখানোর... এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার... আমি [[ডোনাল্ড ট্রাম্প|প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে]] মনে করিয়ে দিতে চাই যে ইরানের সাথে যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের কোনো অনুমোদন নেই... যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আক্রমণ অবৈধ ও অসাংবিধানিক হবে।
**[[বার্নি স্যান্ডার্স]], [https://www.commondreams.org/news/2019/06/14/trump-must-not-be-allowed-use-gulf-oman-incidents-pretext-illegal-war-iran-bernie ''ট্রাম্প মাস্ট নট বি অ্যালাউড টু ইউজ গালফ অফ ওমান ইনসিডেন্টস অ্যাজ 'প্রিটেক্সট ফর ইললিগাল ওয়ার উইথ ইরান': বার্নি স্যান্ডার্স, কমন ড্রিমস'', আন্দ্রেয়া জার্মানস,] (১৪ জুন ২০১৯)
*[[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি|জাতীয় নিরাপত্তা নীতির]] ক্ষেত্রে, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে একটি ধারাবাহিক ও অতি-সামরিকায়িত পথে হাঁটছে। ব্যাপকভাবে দেখলে, [[১১ সেপ্টেম্বর হামলা|৯/১১]] থেকে বর্তমান পর্যন্ত "জাতীয় নিরাপত্তা" এবং "[[সন্ত্রাসবাদ দমন|সন্ত্রাসবাদ দমন]]" বিষয়ে মার্কিন নীতি অনেকাংশে একই রয়ে গেছে।... [[জো বাইডেন|বাইডেন]]ের অধীনে সাম্রাজ্যবাদী ধারায় কোনো বড় পরিবর্তন আসবে না। ড্রোন যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে এবং [[ইউরোপ]] ও [[এশিয়া]]তে শীতল যুদ্ধের আবহ ত্বরান্বিত হবে। বাইডেন [[ল্যাটিন আমেরিকা|ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয়]] অঞ্চলের [[বামপন্থী রাজনীতি|বামপন্থী আন্দোলন ও সরকারের]] প্রতি বৈরী অবস্থান বজায় রাখবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাইডেন ট্রাম্পের কিছু চরম অবস্থান পরিবর্তন করলেও, তিনি পৃথিবীর স্বাস্থ্যের চেয়ে [[বহুজাতিক কর্পোরেশন|বড় কর্পোরেশন]] ও সামরিক শিল্পের মুনাফাকে প্রাধান্য দেবেন। সীমানা সামরিকীকরণ ও [[শরণার্থী|শরণার্থীদের]] প্রতি দুর্ব্যবহার অব্যাহত থাকবে এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ [[নজরদারি|নজরদারি]] ব্যবস্থা বজায় থাকবে। কঠোর সত্য হলো: ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক বিরোধের চেয়ে 'ওয়ার পার্টি'র স্বার্থই বড়।
**[[জেরেমি স্কাহিল]], [https://theintercept.com/2021/11/21/america-militarism-foreign-policy-bush-obama-trump-biden/ দ্য ওয়ার পার্টি, ফ্রম বুশ টু ওবামা, অ্যান্ড ট্রাম্প টু বাইডেন, ইউ.এস. মিলিটারিজম ইজ দ্য গ্রেট ইউনিফায়ার, ''দ্য ইন্টারসেপ্ট''] (২১ নভেম্বর ২০২১)
*[[কন্টিনেন্টাল আর্মি|কন্টিনেন্টাল আর্মি]] একীভূতকরণের যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তা আর ২০০ বছরে অর্জিত হয়নি।
**রবার্ট এ. সেলিগ, [https://web.archive.org/web/20141201041830/http://www.americanrevolution.org/blk.php "দ্য রেভল্যুশনস ব্ল্যাক সোলজারস"], ''আমেরিকান রেভল্যুশন''
:'''ন্যাথানিয়েল ফিক''': তোমরা লজিস্টিকস চাও? সেনাবাহিনীতে যোগ দাও। মেরিনরা নিজেদের ব্যবস্থা নিজেরাই করে নেয়।
:*"স্ক্রুবি" (২০০৮), ডেভিড সাইমন ও এড বার্নস কর্তৃক লিখিত, ''[[জেনারেশন কিল]]'', হোম বক্স অফিস
*[[অপারেশন এন্ডুরিং ফ্রিডম|অপারেশন এন্ডুরিং ফ্রিডম]] (ওএফ) এবং [[অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম|অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম]] (ওআইএফ) শুরুর পর থেকে, [[যুদ্ধ|যুদ্ধে]] অংশ নেওয়া [[সামরিক|সামরিক]] কর্মীদের আত্মহত্যার হার সাধারণ জনসংখ্যার সমান (কাং ও বুলম্যান, ২০০৮) এবং সম্ভবত তার বেশি হয়ে গেছে।
** এডওয়ার্ড এ. সেলবি, মাইকেল ডি. আনেস্টিস, থিওডোর ডব্লিউ. বেন্ডার, জেসিকা ডি. রিবেইরো, ম্যাথিউ কে. নক, এম. ডেভিড রুড, ক্রেইগ জে. ব্রায়ান, ইনগ্রিড সি. লিম, মন্টি টি. বেকার, পিটার এম. গুটিয়েরেজ এবং থমাস ই. জয়নার, জুনিয়র; [https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC2834834/ “ওভারকামিং দ্য ফিয়ার অফ লিথাল ইনজুরি: ইভালুয়েটিং সুইসাইডাল বিহেভিয়র ইন দ্য মিলিটারি থ্রু দ্য লেন্স অফ দ্য ইন্টারপারসোনাল-সাইকোলজিক্যাল থিওরি অফ সুইসাইড”], ''ক্লিন সাইকোল রেভ'', ২০১০ এপ্রিল; ৩০(৩): ২৯৮–৩০৭।
*নিগ্রোদের অবশ্যই [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র বাহিনী|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেবায় সৈনিক হিসেবে]] তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের [[স্বাধীনতা|স্বাধীনতা]] বজায় রাখতে এবং [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের]] নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার সুরক্ষিত করতে অবদান রাখতে পারে।
**[[উইলিয়াম টিকুমসেহ শেরম্যান]], [http://teachingamericanhistory.org/library/document/forty-acres-and-a-mule-special-field-order-no-15/ "স্পেশাল ফিল্ড অর্ডার নং ১৫"] (১৬ জানুয়ারি ১৮৬৫), ''হেডকোয়ার্টারস মিলিটারি ডিভিশন অফ দ্য মিসিসিপি, ইন দ্য ফিল্ড'', সাভানা, জর্জিয়া।
*বেসামরিক [[আমেরিকান|আমেরিকানদের]] বুঝতে হবে যে নাগরিক অধিকারের সবচেয়ে বড় বিজয়গুলো [[মার্কিন মেরিন কোর|মেরিন]] এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী অর্জন করেছে, যা আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে সফলভাবে সমন্বিত খাত। কেন? কোনো জাতিগত রেফারেন্স ও বৈষম্য নেই। আমি প্রথমবার আফ্রিকান-আমেরিকান বা ল্যাটিনোদের সাথে একই কোয়ার্টারে ঘুমিয়েছি—বা তাদের কাছ থেকে আদেশ নিয়েছি—তা মেরিন কোরে প্রাইভেট হিসেবে কাজ করার সময়। হ্যাঁ, আমেরিকার সত্যিই আরও মেরিন মূল্যবোধ ও প্রভাব প্রয়োজন।
**[[মার্ক শিল্ডস|মার্ক শিল্ডস]], [https://web-beta.archive.org/web/20100726132218/http://www.creators.com:80/liberal/mark-shields/america-needs-more-marine-corps-values.html "আমেরিকা নিডস মোর মেরিন কোর ভ্যালুস"] (২০১০), ''ক্রিয়েটরস.কম''
*<p>আমার [[শৈশব|শৈশবে]] [[সেনাবাহিনী|সেনাবাহিনীর]] প্রতি মুগ্ধতা ছিল...</p><p>দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায়দের রক্ষা করার শিখ ধারণা শিখ মানসিকতার মূলে রয়েছে, এবং এই আদর্শগুলোই মার্কিন সেনাবাহিনী ধারণ করে।</p>
**সিমরাতপাল সিং, [http://edition.cnn.com/2016/04/04/us/sikh-army-captain-simratpal-singh-beard-turban/index.html?iid=ob_lockedrail_topeditorial&iref=obinsite "শিখ আর্মি ক্যাপ্টেন অ্যালাউড টু ওয়্যার বিয়ার্ড অ্যান্ড টারবান ইন ইউনিফর্ম"] (৫ এপ্রিল ২০১৬)-এ উদ্ধৃত, নাদিন শাকার, ''সিএনএন'', জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য: কেবল নিউজ নেটওয়ার্ক।
*[[আজ|আজকের]] সৈনিক এবং গণতন্ত্রের জন্য শহীদরা আমেরিকান মুক্তিদাতাদের দীর্ঘ ঐতিহ্যে একটি বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে, যা আমেরিকান বিপ্লব থেকে অপারেশন এন্ডুরিং ফ্রিডম ও ইরাকি ফ্রিডম পর্যন্ত বিস্তৃত। [[আমেরিকান গৃহযুদ্ধ|গৃহযুদ্ধ]] এই উত্তরাধিকারের একটি স্পর্শপাথর। একাডেমিক ইতিহাসবিদরা লেখেন যে এটি ছিল সেকশনালিজম, [[অর্থনীতি|অর্থনীতি]] বা [[রাজনীতি|রাজনীতি]] নিয়ে। এগুলো এর কারণ হতে পারে, কিন্তু [[আব্রাহাম লিংকন|আব্রাহাম লিংকন]] জানতেন এর মূলে কী ছিল। সংঘর্ষের আগে তার দ্বিতীয় উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেছিলেন, [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা|দাসপ্রথা]] 'একটি অদ্ভুত ও শক্তিশালী স্বার্থ তৈরি করেছিল। সবাই জানত যে এই স্বার্থই কোনোভাবে যুদ্ধের কারণ'। '''[[ইউনিয়ন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)|ইউনিয়ন]] সৈনিকরা ইউনিয়ন রক্ষায় লড়েছিল, কিন্তু [[দাসপ্রথা|মানবিক দাসত্ব]] বন্ধ করতেও লড়েছিল'''।
**[[জোসেফ মরিসন স্কেলি|জোসেফ এম. স্কেলি]], [https://web.archive.org/web/20070524182018/http://article.nationalreview.com/?q=ZjcwZTYwYmFmMGRlZTA1ZTc4ZTRkOGJkZDExMjBmNzM= "দ্য ডেমোক্রেটিক ফলেন: লেট আস অনার দোজ হু হ্যাভ ডিফেন্ডেড আওয়ার রাইট টু সেলফ-গভর্নমেন্ট উইথ দেয়ার লাস্ট ব্রেথস"] (১৮ মে ২০০৭), ''ন্যাশনাল রিভিউ অনলাইন''
*আমেরিকান হিসেবে আমরা ক্রমবর্ধমান বিভ্রান্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি যা আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
**[[মার্গারেট চেজ স্মিথ]], [http://static1.squarespace.com/static/55ae7dc3e4b0627b56f10b3e/t/56d5ad5d4d088e0ea4775a94/1456844125625/Declaration+of+Conscience.pdf ''ডিক্লারেশন অফ কনসায়েন্স''] (১ জুন ১৯৫০)
==টি==
*গল্পটি শুরু হয় ১৮ মার্চ, ২০১৯ সালে, [[কাতার|কাতারের]] [[আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি|আল উদেইদে]] একটি বড় বিমান বাহিনীর যুদ্ধ অপারেশন সেন্টারে। এটি দেখতে অনেকটা [[নাসা|নাসার]] মিশন কমান্ডের মতো। ব্যাংক ভর্তি কম্পিউটার, বড় পর্দা, সবাই [[ইসলামিক স্টেট|ইসলামিক স্টেটের]] বিরুদ্ধে বিমান যুদ্ধ দেখছে... এই দিনে, কমান্ড সেন্টারের অনেকেই ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি ড্রোন দেখছিল। তারা দেখছিল গাড়ি এবং অস্থায়ী তাঁবুর জঞ্জালে ভরা একটি মাঠ, যা ছিল সপ্তাহের যুদ্ধের অবশিষ্টাংশ। সেখানে অনেক মানুষও ছিল। ড্রোনটি নদীর ধারে বালুর বাঁধের কাছে আশ্রয় নেওয়া একদল নারী ও শিশুর ওপর ফোকাস করে। ড্রোনটি কয়েক মিনিট সেখানে ঘুরেছে, ক্যামেরাগুলো তাদের ওপর ফোকাস করে ছিল, হয় ঘুমানোর জন্য অথবা আসন্ন যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে। অপারেশন সেন্টারের লোকেরা শান্তভাবে এটি দেখছিল, তখন হঠাৎ... একটি আমেরিকান [[এফ-১৫|এফ-১৫]] অ্যাটাক জেট এসে এই নারী ও শিশুদের দলটির ওপর একটি বড় বোমা ফেলে... তাদের প্রায় সবাইকে হত্যা করে।
**[[ডেভিড ফিলিপস|ডেভ ফিলিপস]] উদ্ধৃত: [https://www.nytimes.com/2021/11/15/podcasts/the-daily/us-airstrike-casualties-isis.html?showTranscript=1 হাউ দ্য ইউ.এস. হিড আ ডেডলি এয়ারস্ট্রাইক], সাবরিনা টাভার্নিজ কর্তৃক, ''নিউ ইয়র্ক টাইমস'', ১৫ নভেম্বর ২০২১।
*কখন একটি লক্ষ্যে আঘাত করা যাবে তার নিয়ম আছে। অনেক সময় যারা সিদ্ধান্ত নেয় সেই নিয়মগুলো মানা হচ্ছে কি না, তারা কোনো কমান্ড সেন্টারে থাকে। তারা সব যাচাই করে অনুমতি দেয়। কিন্তু আপনি যদি বলেন যে আপনি আসন্ন হুমকির মুখে আছেন এবং নিজেকে রক্ষা করতে হবে, তবে খুব দ্রুত সেই নজরদারি এড়ানো যায়। [[যুদ্ধের আইন|যুদ্ধের আইন]] অনুযায়ী, এটি সবসময় অনুমোদিত। এটি টাস্ক ফোর্সকে সব অফিসার, নজরদারি এবং নিয়মকানুন জানা আইনজীবীদের এড়িয়ে সরাসরি বিমানের সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়। তাই, কেউ তাদের প্রশ্ন করার আগেই তারা যা খুশি আঘাত করতে পারত... কিন্তু অপারেশন সেন্টারের লোকেরা দেখছিল যে টাস্ক ফোর্স ৯ প্রায় সব সময়ই এই অজুহাত ব্যবহার করছে।
**[[ডেভিড ফিলিপস|ডেভ ফিলিপস]] উদ্ধৃত: [https://www.nytimes.com/2021/11/15/podcasts/the-daily/us-airstrike-casualties-isis.html?showTranscript=1 হাউ দ্য ইউ.এস. হিড আ ডেডলি এয়ারস্ট্রাইক], সাবরিনা টাভার্নিজ কর্তৃক, ''নিউ ইয়র্ক টাইমস'', ১৫ নভেম্বর ২০২১।
*আমি মনে করি সামরিক বাহিনীতে এমন মানুষ আছে যারা জবাবদিহিতা চায় এবং এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। কিন্তু তারা যে সিস্টেম তৈরি করেছে তা এতই ত্রুটিপূর্ণ যে এটি আসলে কতজন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে তা সম্পর্কে অর্থপূর্ণ কিছু বলতে পারে না। ভেবে দেখুন। এটি এমন একটি ঘটনা যেখানে ৭০ জন নিহত হয়েছিল। একটি হাই ডেফিনিশন রঙিন ড্রোন ক্যামেরার সামনে তারা মারা গিয়েছিল, যা অনেক সামরিক লোক দেখেছিল। এটি অবিলম্বে রিপোর্ট করা হয়েছিল এবং বারবার জানানো হয়েছিল। সিস্টেমটি কোনো যৌক্তিক উপায়ে সাড়া দিতে অক্ষম ছিল। সিস্টেম যদি এতটা স্পষ্ট কিছু সামলাতে না পারে, তবে এটি কী সামলাতে পারে?
**উদ্ধৃত: [https://www.nytimes.com/2021/11/15/podcasts/the-daily/us-airstrike-casualties-isis.html?showTranscript=1 হাউ দ্য ইউ.এস. হিড আ ডেডলি এয়ারস্ট্রাইক], সাবরিনা টাভার্নিজ কর্তৃক, ''নিউ ইয়র্ক টাইমস'', ১৫ নভেম্বর ২০২১।
*আমার মতে, যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য আমাদের যথেষ্ট বড় সশস্ত্র বাহিনী থাকা প্রয়োজন। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আক্রমণকারীরা যদি আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সরঞ্জাম তৈরি করে, তবে আমাদের দ্রুততর হতে হবে। আমরা কি স্বেচ্ছায় তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাধ্য না করে স্থায়ীভাবে আমাদের [[মার্কিন নৌবাহিনী|নৌবাহিনী]] এবং সাত লাখ ৫০ হাজার সৈন্য ও ১২ লাখ ৫০ হাজার রিজার্ভ সৈন্য বজায় রাখতে পারি? স্থায়ী নীতি হিসেবে এই প্রশ্নের উত্তর নিজেরাই পরিষ্কার। এটি কেবল পরিষেবাকে যথেষ্ট আকর্ষণীয় করার বিষয়। আমরা ধরে নিচ্ছি যে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া একটি ত্যাগ; এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অপ্রীতিকর পেশা, যা প্রতিটি ছেলে সহজাতভাবে এড়িয়ে চলে। তা মোটেও হওয়া উচিত নয়। যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনী বিপজ্জনক; কিন্তু আমরা যদি পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিই তবে আমরা যুদ্ধে থাকব না। সেনাবাহিনী মূলত একটি শান্তিকালীন, অত্যন্ত বিশেষায়িত পেশা, যেখানে বিপদের সম্ভাবনা কম। অভিজ্ঞতা দেখায় যে বিপদের সম্ভাবনা আছে বলে মানুষ কোনো পেশা এড়িয়ে চলে না। অনেক বিপজ্জনক বেসামরিক পেশা আছে—হাই-টেনশন তার নিয়ে কাজ, টানেল নির্মাণ, কয়লা খনি—সেসব পেশায় আগ্রহীর অভাব হয় না। সেনাবাহিনীর অনেক সুবিধা আছে—দায়িত্বহীন এক পরিচ্ছন্ন ও নিয়মিত জীবন, শৃঙ্খলা ও আদেশের আকর্ষণ যা কিছু মানুষকে টানে এবং অন্যদের খুব বেশি কষ্ট দেয়। মাসে ২১ ডলারে স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার মতো পেশা খুব কম, তবুও আজ আমরা মাসে পঁচিশ হাজারের বেশি মানুষকে তালিকাভুক্ত করছি। জুলাই মাসে আমরা ত্রিশ হাজারের বেশি তালিকাভুক্ত করেছি। স্বেচ্ছাসেবী তালিকাভুক্তি পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়নি। পর্যাপ্ত বেতন ও তিন বছরের তালিকাভুক্তি সত্ত্বেও, এটি যা চাওয়া হয়েছে তা অর্জন করেছে। এখন পর্যন্ত [[মার্কিন কংগ্রেস|কংগ্রেস]] এমনকি বলেনি যে একটি বড় সেনাবাহিনী প্রয়োজন। আমরা এমন একটি সেনাবাহিনী সরবরাহ না করার জন্য তালিকাভুক্তি সিস্টেমকে দোষ দিতে পারি না যা আমরা অনুমোদিত করিনি। [[হ্যারি এস. ট্রুম্যান|প্রেসিডেন্ট]] তালিকাভুক্তির জন্য কোনো আবেদন করেননি। নিশ্চিতভাবে প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে এবং স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে সংগঠিত একটি সাধারণ প্রচারণা পাঁচ লাখ মানুষ নিশ্চিত করতে পারে যদি প্রয়োজন হয়। অনেক লাখ মানুষ [[বেকারত্ব|বেকার]]।
**[[রবার্ট এ. ট্যাফট]], স্টাথিস, এস. ডব্লিউ. ২০০৯-এ উদ্ধৃত। বার্ক-ওয়াডসওয়ার্থ বিল (সিলেক্টিভ ট্রেনিং অ্যান্ড সার্ভিস অ্যাক্ট অফ ১৯৪০) ∗ ১৯৪০ ∗। ইন: ২০০৯। ''ল্যান্ডমার্ক ডিবেটস ইন কংগ্রেস: ফ্রম দ্য ডিক্লারেশন অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স টু দ্য ওয়ার ইন ইরাক'', ওয়াশিংটন, ডিসি: সিকিউ প্রেস। পৃষ্ঠা ৩২৭-৩৩৬।
*একজন বিদেশির কাছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি একটি সংজ্ঞায়িত জাতীয় বৈশিষ্ট্য।
**জর্ডান জি. টেইচার, [https://www.washingtonpost.com/news/in-sight/wp/2015/10/09/everyday-life-as-an-jrotc-cadet/?utm_term=.50afc770c709 "এভরিডে লাইফ অ্যাজ এন জেআরওটিসি ক্যাডেট"] (৯ অক্টোবর ২০১৫), ''দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট''
*বর্তমান মার্কিন সেনাবাহিনী এবং মেরিন কোরের শক্তি যথাক্রমে প্রায় ৫,১০,০০০ এবং ১,৮০,০০০। এছাড়াও, প্রায় ৮,০০,০০০ ন্যাশনাল গার্ড এবং রিজার্ভ সৈন্য আছে। এই সংখ্যাগুলো বোঝালেও যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৫ লাখ স্থল সৈন্য আছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিশ্রুতি যেকোনো একক সামরিক ইভেন্টের জন্য শক্তি সীমিত করে। প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন, [[ইউরোপ]] ও [[কোরিয়া|কোরিয়াতে]] প্রতিশ্রুতি এবং বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম পুনঃসজ্জার প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করলে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভবত স্থল যুদ্ধের জন্য ২৫০,০০০ এর বেশি সক্রিয় ডিউটি সৈন্য নেই। ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ পুরোপুরি সংগঠিত হলে, যুক্তরাষ্ট্র একটি অভিযানের জন্য সম্ভাব্য ১০ লাখ সৈন্য মাঠে নামাতে পারে।
**[[ব্রুস ডব্লিউ. টেরি|ব্রুস ডব্লিউ. টেরি]], [[:File:Use of land power to counter the Iranian nuclear proliferation challenge (2007).pdf|''দ্য ইউজ অফ ল্যান্ড পাওয়ার টু কাউন্টার দ্য ইরানিয়ান নিউক্লিয়ার প্রলিফারেশন চ্যালেঞ্জ'']] (২০০৭), কানসাস: ফোর্ট লিভেনওয়ার্থ।
*কন্টিনেন্টাল আর্মি সমন্বয়ের যে ডিগ্রি প্রদর্শন করেছিল, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত ২০০ বছর ধরে আমেরিকান সেনাবাহিনী আর অর্জন করতে পারেনি।
**মেরি ভি. থম্পসন, [http://www.mountvernon.org/george-washington/slavery/the-only-unavoidable-subject-of-regret/ "দ্য অনলি আনএভয়ডেবল সাবজেক্ট অফ রিগ্রেট"], ''মাউন্ট ভার্নন''
*জাতি, বর্ণ, ধর্ম বা জাতীয় উৎপত্তিনির্বিশেষে সশস্ত্র বাহিনীর সকল ব্যক্তির জন্য সমান আচরণ ও সুযোগ থাকবে।
**[[হ্যারি এস. ট্রুম্যান]], [[s:Executive Order 9981|''এক্সিকিউটিভ অর্ডার ৯৯৮১'']] (২৬ জুলাই ১৯৪৮)
*আমরা এমন একটি বিশ্ব নেতৃত্ব অর্জন করেছি যা শুধুমাত্র আমাদের সামরিক ও নৌ শক্তির ওপর নির্ভর করে না।
**[[হ্যারি এস. ট্রুম্যান]], [http://www.trumanlibrary.org/ww2/stofunio.htm মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ] (১৬ এপ্রিল ১৯৪৫)।
*আমেরিকার ইউনিফর্মধারী নারী-পুরুষরা [[নাৎসিবাদ|নাৎসিবাদ]], [[সাম্রাজ্যবাদ|সাম্রাজ্যবাদ]], [[কমিউনিজম|কমিউনিজম]] এবং [[সন্ত্রাসবাদ|সন্ত্রাসবাদের]] বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন দিয়েছেন। আমেরিকা সংঘাত বা সংঘর্ষ চায় না, তবে আমরা তা থেকে কখনোই পালাব না। ইতিহাস এমন শাসকদের দ্বারা পরিপূর্ণ যারা বোকামির সাথে আমেরিকার সংকল্প পরীক্ষা করেছে। যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি বা সংকল্প নিয়ে সন্দেহ করে, তারা আমাদের অতীতের দিকে তাকালে আর সন্দেহ করবে না। আমরা আমেরিকা বা আমাদের মিত্রদের ব্ল্যাকমেইল বা আক্রমণ হতে দেব না। আমরা আমেরিকান শহরগুলোকে ধ্বংসের হুমকির মুখে পড়তে দেব না। আমরা ভয় পাব না। এবং আমরা ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি হতে দেব না এই মাটিতে যা আমরা রক্ষা করতে কঠোর লড়াই করেছি এবং জীবন দিয়েছি।
**[[ডোনাল্ড ট্রাম্প]], [https://www.presidency.ucsb.edu/documents/remarks-the-national-assembly-south-korea-seoul-south-korea সোল, দক্ষিণ কোরিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদে মন্তব্য]; (৮ নভেম্বর ২০১৭)।
*সব পরিমাপে, [[পেন্টাগন|পেন্টাগন]] [[পেট্রোলিয়াম|পেট্রোলিয়াম]] পণ্য এবং শক্তির বৃহত্তম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারী... তবুও, '''পেন্টাগনের সব আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তিতে সামগ্রিক ছাড় রয়েছে... [[জলবায়ু পরিবর্তন|জলবায়ু পরিবর্তন]] নিয়ে যেকোনো কথা যাতে সামরিক বাহিনী অন্তর্ভুক্ত নয়, তা কেবল গরম বাতাস'''... 'দ্য ক্লাইমেট অফ ওয়ার' রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি কিয়োটো কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জে এমন একটি লুপহোল যা দিয়ে একটি ট্যাঙ্ক চালানো যায়। ১৯৪০ সালে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দেশের মোট শক্তি ব্যবহারের এক শতাংশ ব্যবহার করত; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে, সামরিক বাহিনীর অংশ ২৯ শতাংশে উন্নীত হয়... সামরিকবাদ গ্রহের সবচেয়ে তেল-ক্ষয়কারী কার্যকলাপ, যা আরও দ্রুত, বড়, বেশি জ্বালানি-গ্রাসী বিমান, ট্যাঙ্ক এবং নৌযান নিয়ে আরও তীব্র আকাশ ও স্থল যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। মার্চ ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের শুরুতে, সেনাবাহিনী অনুমান করেছিল যে তিন সপ্তাহের যুদ্ধের জন্য তাদের ৪০ মিলিয়ন গ্যালনের বেশি [[গ্যাসোলিন|গ্যাসোলিন]] প্রয়োজন হবে, যা [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ|প্রথম বিশ্বযুদ্ধে]] মিত্রবাহিনীর চার বছরে ব্যবহৃত মোট পরিমাণের চেয়ে বেশি। সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারের মধ্যে ছিল ২,০০০ এম-১ আব্রামস ট্যাঙ্ক যা যুদ্ধের জন্য চালু ছিল এবং প্রতি ঘণ্টায় ২৫০ গ্যালন জ্বালানি পোড়াত।
**[https://truthout.org/articles/the-military-assault-on-global-climate/ দ্য মিলিটারি অ্যাসল্ট অন গ্লোবাল ক্লাইমেট, এইচ প্যাট্রিসিয়া হেইনস কর্তৃক, ''ট্রুথআউট''], ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১।
*ইউএস এয়ার ফোর্স (ইউএসএএফ) বিশ্বের [[জেট জ্বালানি|জেট জ্বালানি]]র একক বৃহত্তম ভোক্তা... এফ-৪ ফ্যান্টম ফাইটার প্রতি ঘণ্টায় ১,৬০০ গ্যালনের বেশি জেট জ্বালানি পোড়ায় এবং সুপারসনিক গতিতে প্রতি ঘণ্টায় ১৪,৪০০ গ্যালনে পৌঁছায়। আটটি জেট ইঞ্জিনযুক্ত বি-৫২ স্ট্র্যাটোক্রুজার প্রতি মিনিটে ৫৫ গ্যালন জ্বালানি গিলে ফেলে... বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ জেট জ্বালানি ইউএসএএফ-এর উড়ন্ত হত্যার মেশিনগুলোকে খাওয়ায়; ২০০৬ সালে, তারা অবিশ্বাস্য ২.৬ বিলিয়ন গ্যালন ব্যবহার করেছিল।
**[https://truthout.org/articles/the-military-assault-on-global-climate/ দ্য মিলিটারি অ্যাসল্ট অন গ্লোবাল ক্লাইমেট, এইচ প্যাট্রিসিয়া হেইনস কর্তৃক, ''ট্রুথআউট''], ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১।
*(যুক্তরাষ্ট্র) সামরিক বাহিনী কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় [[জলবায়ু পরিবর্তন|জলবায়ু পরিবর্তন]] নিঃসরণের রিপোর্ট করে না, গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিঃসরণ সীমাবদ্ধ করার প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯৯৭ সালের কিয়োটো প্রোটোকল আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে। তাদের কার্যকলাপের ওপর কোনো বিধিনিষেধ থেকে সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করতে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল এবং জিতেছিল "বাঙ্কার" জ্বালানি (নৌযানের জন্য ঘন, ভারী জ্বালানি তেল) এবং বিশ্বব্যাপী সামরিক কার্যক্রম থেকে সমস্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ওপর সীমা থেকে ছাড়। আঘাতের ওপর আঘাত হিসেবে, [[জর্জ ডব্লিউ. বুশ|জর্জ ডব্লিউ. বুশ]] তার প্রেসিডেন্সির প্রথম কাজগুলোর একটি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে [[কিউটো প্রোটোকল|কিউটো প্রোটোকল]] থেকে বের করে নেন, এই বলে যে এটি খুব ব্যয়বহুল গ্রিনহাউস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে। এরপর, হোয়াইট হাউস জলবায়ু পরিবর্তনের বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে একটি নব্য-লুডাইট প্রচারণা শুরু করে। "দ্য গ্রিন জোন: দ্য এনভায়রনমেন্টাল কস্টস অফ মিলিটারিজম" নিয়ে গবেষণায়... প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে যুদ্ধের হতাহতের পরিসংখ্যান পাওয়া জ্বালানি ব্যবহারের ডেটা পাওয়ার চেয়ে সহজ।
**[https://truthout.org/articles/the-military-assault-on-global-climate/ দ্য মিলিটারি অ্যাসল্ট অন গ্লোবাল ক্লাইমেট, এইচ প্যাট্রিসিয়া হেইনস কর্তৃক, ''ট্রুথআউট''], ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১।
==ভি==
*আমেরিকানরা এই [[সামরিক ঘাঁটি|ঘাঁটি]]গুলো নিয়ে যেটুকু ভাবে, আমরা সাধারণত মনে করি যে সেগুলো জাতীয় [[নিরাপত্তা|নিরাপত্তা]] এবং বিশ্ব [[শান্তি|শান্তি]]র জন্য অপরিহার্য। আমাদের নেতারা দাবি করেছেন যে এগুলোর বেশিরভাগই [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ]] এবং [[শীতল যুদ্ধ|শীতল যুদ্ধের]] শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলস্বরূপ, আমরা পরিস্থিতিকে [[স্বাভাবিক|স্বাভাবিক]] মনে করি এবং মেনে নিই যে অন্যান্য [[দেশ|দেশে]], অন্য জনগণের [[ভূমি|ভূমিতে]] মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো বিস্ময়কর সংখ্যায় বিদ্যমান। অন্যদিকে, মার্কিন মাটিতে বিদেশী ঘাঁটি থাকার ধারণা অকল্পনীয়। <br> যদিও যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে কোনো স্বতন্ত্র বিদেশী ঘাঁটি নেই, তবে বিদেশী দেশগুলোতে এখন প্রায় ৮০০টি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৭০ বছর এবং কোরীয় যুদ্ধের ৬২ বছর পরও, পেন্টাগনের মতে [[জার্মানি|জার্মানি]]তে ১৭৪টি, [[জাপান|জাপান]]ে ১১৩টি এবং [[দক্ষিণ কোরিয়া|দক্ষিণ কোরিয়া]]তে ৮৩টি মার্কিন "বেস সাইট" রয়েছে। আরও শত শত ঘাঁটি [[অরুব|অরুব]] এবং [[অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়া]], [[বাহরাইন|বাহরাইন]] এবং [[বুলগেরিয়া|বুলগেরিয়া]], [[কলম্বিয়া|কলম্বিয়া]], [[কেনিয়া|কেনিয়া]] এবং [[কাতার|কাতার]] সহ প্রায় ৮০টি দেশে ছড়িয়ে আছে। যদিও খুব কম আমেরিকানই এটি বোঝে, সম্ভবত ইতিহাসের অন্য যেকোনো [[জনগণ|জনগণ]], [[জাতি|জাতি]] বা [[সাম্রাজ্য|সাম্রাজ্যের]] তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশী জমিতে বেশি ঘাঁটি রয়েছে।
**ডেভিড ভাইন, [https://www.thenation.com/article/the-united-states-probably-has-more-foreign-military-bases-than-any-other-people-nation-or-empire-in-history/ “দ্য ইউনাইটেড স্টেটস প্রোব্যাবলি হ্যাজ মোর ফরেন মিলিটারি বেসেস দ্যান এনি আদার পিপল, নেশন, অর এম্পায়ার ইন হিস্ট্রি”], ''দ্য নেশন'', (১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫)।
==ডব্লিউ==
*উভয় [[উপসাগরীয় যুদ্ধ|উপসাগরীয় যুদ্ধেই]], মার্কিন সামরিক বাহিনী অবিশ্বাস্য দক্ষতা ও শৃঙ্খলার সাথে কাজ করেছে এবং আমেরিকা শিখেছে যে [[ভিয়েতনামের যুদ্ধ|ভিয়েতনামের]] [[মাই লাই হত্যাকাণ্ড|মাই লাই]]ের মতো ঘটনাগুলো ছিল ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়।
**স্যাম উইলিয়ামসন, [http://supreme.findlaw.com/legal-commentary/a-review-of-anthony-swoffords-jarhead.html "আ রিভিউ অফ অ্যান্থনি সোফোর্ডস জারহেড"] (১৮ এপ্রিল ২০০৩)
*<p>এটি আশ্চর্যজনক, যখন আমরা একত্রিত হয়েছিলাম...</p><p>যখন আমরা আমাদের মতপার্থক্যগুলো দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম এবং যারা আমাদের ক্ষতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলাম...</p><p>যখন আমরা মৃতদের পরিবারকে সাহায্য করার জন্য একত্রিত হয়েছিলাম...</p><p>এটি আমাকে অসাধারণ অনুভব করিয়েছে। এটি আমাকে দেশপ্রেমিক করেছে, শক্তিশালী করেছে এবং এই দেশকে এমনভাবে ভালোবাসতে শিখিয়েছে যা আমি আমার দীর্ঘ জীবনে কখনো বাসিনি। আপনি জানেন? কারণ এটিই সেই আমেরিকা যার স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি। এটিই সেই আমেরিকা যা আমরা সবাই চাই, শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর একটি আমেরিকা যা প্রয়োজনে পাল্টা আঘাত করে। আমাদের ইতিহাসের বইগুলোতে আমরা যে ঘুমন্ত দৈত্যের কথা পড়েছি, যারা আমাদের প্রয়োজনীয় সুপার-পাওয়ার হতে প্রস্তুত এবং বিশ্বের সেরা সেনাবাহিনী নিয়ে। ওয়াও। ওয়াও। একটি কংগ্রেস এবং প্রেসিডেন্ট যারা একসাথে কাজ করবে, আর আমরা কী হয়েছি? এগারো বছর পর? এগারো বছর পর আমাদের সেই উত্তরগুলো নেই যা আমরা চেয়েছিলাম...</p><p>আমাদের কাছে বেশিরভাগই আছে। আমরা জানি কারা এটি করেছে, কেন তারা এটি করেছে। আমরা জানি তারা কীভাবে এটি করেছে। [[ষড়যন্ত্র তত্ত্ব|ষড়যন্ত্র তত্ত্ব]] প্রচুর আছে; প্রমাণ প্রায় সেখানে আছে। কিন্তু, আমরা নিজেদের ধ্বংস করতে অনেক কিছু করেছি। আমরা আমাদের স্বাধীনতা ধ্বংস করতে অনেক কিছু করেছি...</p>শেষ পর্যন্ত, আমরা যদি সেই পথে থাকতাম তবে আমরা যে আমেরিকা হতে পারতাম, আমরা যদি একসাথে থাকতাম তবে আমরা যে আমেরিকা হতে পারতাম, আমরা যদি ভালো হওয়ার জন্য, শক্তিশালী হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতাম, তা আবারও একটি স্বপ্ন। আপনি জানেন, এবং এটি সত্যিই দুঃখজনক...<p>আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভক্ত, এবং তা? তা আমার হৃদয় ভেঙে দেয়...</p><p>আপনি? আপনার বয়স যদি আঠারোর নিচে হয়, আপনি আমাদের মতো আমেরিকায় কখনো বাস করেননি। আপনি জানেন? আপনি একটি ভালো দেশে বাস করেছেন, আমাকে ভুল বুঝবেন না। আপনি একটি চমৎকার দেশে বাস করেছেন, যেটি এখন অসুস্থ, এটি নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। কিন্তু, এত কাছে এবং তবুও? এত দূরে...</p><p>আমার সেই আমেরিকান স্বপ্নের কথা মনে পড়ে, এবং আমি শুধু ভাবি। আমি ভাবি আমেরিকা কি কখনো আগের মতো হতে পারবে। আমরা দেখব।</p>
**[[স্টিভেন উইলিয়ামস|স্টিভেন উইলিয়ামস]], [https://www.youtube.com/watch?v=JHfrce1Yd48 "স্টোরি টাইম উইথ বুগি: সেপ্টেম্বর ১১থ, ২০০১"] (সেপ্টেম্বর ২০১২), ''ইউটিউব''
*আমি আমাদের সামরিক বাহিনীর নারী-পুরুষদের তাদের সেবার জন্য কৃতজ্ঞ, কিন্তু সেনাবাহিনী কেবল একটি উপায়, প্রয়োজনীয় মন্দ। তাদের দৃষ্টির আড়ালে রাখা উচিত, ঠিক যেমন আমি আমার বাড়িতে বন্দুকগুলোকে দৃষ্টির আড়ালে রাখি। একটি সামরিক প্যারেড মহত্ত্ব প্রদর্শন করে না—এটি শক্তি প্রদর্শন করে। এবং সম্ভবত সেখানেই আমি আমাদের নতুন [[জাতীয়তাবাদ|জাতীয়তাবাদীদের]] সাথে দ্বিমত পোষণ করি। আমার দৃষ্টিতে, ওয়াশিংটনের সবকিছুর চেয়ে একটি [[নিউ ইংল্যান্ড|নিউ ইংল্যান্ড]] টাউন হলে আমেরিকান মহত্ত্ব বেশি, এবং সব ট্যাঙ্ক ও রকেটের চেয়ে একটি [[অরেগন|অরেগন]] আপেল বাগান বা রোটারি মিটিংয়ে আমেরিকান মহত্ত্ব বেশি।
**[[কেভিন ডি. উইলিয়ামসন]], [https://www.nationalreview.com/2019/03/american-nationalism-public-policy-aesthetics-donald-trump/ "দ্য ন্যাশনালিজম শো"] (মার্চ ২০১৯), ''ন্যাশনাল রিভিউ''
*[[প্রজাতন্ত্রবাদ|প্রজাতন্ত্রবাদ]] মরে যায়নি। তারা ব্যক্তিগত [[সম্পদ|সম্পদ]] এবং [[সুখ|সুখ]]ের জন্য হুড়োহুড়ি প্রশমিত করতে রয়ে গেছে এবং তারা আমাদের অনেক আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষার মূলে রয়েছে: [[সাম্য|সাম্য]]ে আমাদের বিশ্বাস এবং আড়ম্বর ও বিশেষাধিকারের প্রতি আমাদের অপছন্দ; ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসন ও নির্ভরশীলতার সব বন্ধন থেকে মুক্তির জন্য আমাদের গভীর আকাঙ্ক্ষা; আমাদের পর্যায়ক্রমিক আশা, যা প্রকাশ পেয়েছে, উদাহরণস্বরূপ, সামরিক বীরদের নির্বাচনে।
**[[গর্ডন এস. উড|গর্ডন উড]], [http://scholarship.kentlaw.iit.edu/cgi/viewcontent.cgi?article=2785&context=cklawreview "ক্লাসিক্যাল রিপাবলিকানিজম অ্যান্ড দ্য আমেরিকান রেভল্যুশন"] (এপ্রিল ১৯৯০), ''শিকাগোকেন্ট ল রিভিউ''
==জেড==
*[[তালিবান|তালিবান]] চুক্তির বিষয়বস্তু মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সাথে ভালো ও ইতিবাচক সম্পর্ক আশা করে।
** [[জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ|জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ]], তালিবানের মুখপাত্র, তালিবান আফগানিস্তান থেকে প্রাথমিক সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে [[ট্রাম্প|ট্রাম্প]]ের টুইটকে স্বাগত জানিয়েছে [https://globalnews.ca/news/7385728/taliban-trump-tweet-early-troop-withdrawal-afghanistan/ প্রকাশিত ৮ অক্টোবর, ২০২০]
*ভবিষ্যতের [[আগ্রাসী যুদ্ধ|আগ্রাসী যুদ্ধের]] কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের [[সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স|সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স]]ের সুবিধা নেওয়ার ইচ্ছার সাথে সম্পর্কিত, যা [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে]] বিশাল আকার ধারণ করেছিল। [[আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ|আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ]] ক্রমাগত দেশটিকে সামরিকায়নের নীতি অনুসরণ করছে। [[মার্কিন সেনাবাহিনী|মার্কিন সেনাবাহিনী]] ও [[মার্কিন নৌবাহিনী|নৌবাহিনীর]] ব্যয় বছরে ১১,০০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ১৯৪৭-৪৮ সালে, আমেরিকার বাজেটের ৩৫ শতাংশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা ১৯৩৭-৩৮ সালের তুলনায় এগারো গুণ বেশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময় আমেরিকান সেনাবাহিনী [[পুঁজিবাদ|পুঁজিবাদী]] বিশ্বের সপ্তদশ বৃহত্তম ছিল; আজ এটি বৃহত্তম। যুক্তরাষ্ট্র কেবল [[পারমাণবিক অস্ত্র|পারমাণবিক বোমা]]র মজুদই বাড়াচ্ছে না; আমেরিকান কৌশলবিদরা খোলামেলাভাবে বলছে যে তারা [[ব্যাকটেরিওলজিক্যাল অস্ত্র|ব্যাকটেরিওলজিক্যাল অস্ত্র]] তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনায় শান্তির সময়ে [[আমেরিকা মহাদেশ|আমেরিকা মহাদেশ]] থেকে অনেক দূরে অসংখ্য ঘাঁটি ও সুবিধাজনক স্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা [[সোভিয়েত ইউনিয়ন|সোভিয়েত ইউনিয়ন]] ও নতুন গণতন্ত্রের দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে। আমেরিকা [[আলাস্কা|আলাস্কা]], [[জাপান|জাপান]], [[ইতালি|ইতালি]], [[দক্ষিণ কোরিয়া|দক্ষিণ কোরিয়া]], [[চীন|চীন]], [[মিশর|মিশর]], [[ইরান|ইরান]], [[তুরস্ক|তুরস্ক]], [[গ্রিস|গ্রিস]], [[অস্ট্রিয়া|অস্ট্রিয়া]] এবং [[পশ্চিম জার্মানি|পশ্চিম জার্মানি]]তে বিমান ও নৌ ঘাঁটি তৈরি করেছে বা করছে। [[আফগানিস্তান|আফগানিস্তান]] এবং এমনকি [[নেপাল|নেপাল]]েও আমেরিকান সামরিক মিশন রয়েছে। সামরিক আগ্রাসনের উদ্দেশ্যে [[উত্তর মেরু|উত্তর মেরু]] ব্যবহারের জন্য উন্মাদ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
** [[আন্দ্রে ঝদানভ]], "[https://soviethistory.msu.edu/1947-2/cold-war/cold-war-texts/zhdanov-on-the-international-situation/ নিউ আসপেক্টস অফ ওয়ার্ল্ড কনফ্লিক্ট: দ্য ইন্টারন্যাশনাল সিচুয়েশন]," ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭।
==আরও দেখুন==
* [[পেন্টাগন]]
* [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী]]
* [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনী]]
* [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোস্ট গার্ড]]
* [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেরিন কোর]]
* [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী]]
* [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পেস ফোর্স]]
* [[আইভান এডওয়ার্ডস]]
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র বাহিনী| ]]
oqm8sbh5kqq2nov9vcmd6raeh2vo1f3
হেনরি হোম, লর্ড কেইমস
0
14052
83248
83145
2026-05-01T18:04:56Z
Tuhin
172
সংশোধন
83248
wikitext
text/x-wiki
[[চিত্র:Henry Home, Lord Kames, by David Martin (PG 822).jpg|থাম্ব|যখন আপনি অন্যের দোষ নিয়ে আলোচনা করেন, তখন ভেবে দেখুন আপনি নিজেও সেই একই দোষে দোষী কি না। নিজের সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সেরা উপায় হলো অন্যের ত্রুটিগুলোকে নিজের ত্রুটি খুঁজে বের করার আয়নায় রূপান্তরিত করা।]]
'''[[w:হেনরি হোম, লর্ড কেইমস|হেনরি হোম, লর্ড কেইমস]]''' (১৬৯৬ – ২৭ ডিসেম্বর ১৭৮২) ছিলেন একজন স্কটিশ লেখক, দার্শনিক এবং বিচারক, যিনি স্কটল্যান্ডের কৃষি বিপ্লবে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্কটিশ এনলাইটেনমেন্ট-এর একজন কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি এডিনবার্গের ফিলোসফিক্যাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং দ্য সিলেক্ট সোসাইটিতে সক্রিয় ছিলেন। হোম স্কটিশ এনলাইটেনমেন্ট-এর সবচেয়ে প্রভাবশালী কিছু চিন্তাবিদদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন দার্শনিক ডেভিড হিউম, অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ, লেখক জেমস বসওয়েল, দার্শনিক উইলিয়াম কালেন এবং প্রকৃতিবিদ জন ওয়াকার।
== উক্তি ==
=== ''ট্রেজারি অফ থট'' (১৮৮১) ===
:<small>'''উদ্ধৃতিগুলো মাতুরিন এম ব্যালু (সম্পাদিত) ''ট্রেজারি অফ থট'', ৭ম সংস্করণ (বস্টন: হাউটন, মিফলিন অ্যান্ড কোম্পানি, ১৮৮১) থেকে সংগৃহীত'''</small>
* একজন ধনী ব্যক্তি শরীরচর্চা এবং সংযম ছাড়া সুস্থ মন বা সুস্থ শরীর উপভোগ করতে পারেন না। অথচ এগুলোই হলো দারিদ্র্যের প্রকৃত নিকৃষ্ট উপাদান।
** "অ্যাবস্টিনেন্স", পৃষ্ঠা ২
* আমাদের যা আছে তা ত্যাগ করা যতটা সহজ, আমরা যা পাওয়ার আশা করি তা ত্যাগ করা তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। কারণ প্রত্যাশা সব সময় উপভোগের চেয়েও বড় হয়।
** "অ্যান্টিসিপেশন", পৃষ্ঠা ২৫
* মানুষ সেই সুখে খুব সামান্যই তৃপ্তি পায় যা পেতে তাকে কোনো কষ্ট করতে হয় না। তারা সুখী যাদের বেদনা আনন্দের দিকে নিয়ে যায়।
** "অ্যাপ্রিসিয়েশন", পৃষ্ঠা ৩০
* পারসিমনি বা কৃপণতা স্বর্ণখনির মালিককেও সেই ব্যক্তির মতো দরিদ্র করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট যার কিছুই নেই; কারণ অতিরিক্ত অপচয়ের মতো কৃপণতাও একজন মানুষকে এক টুকরো রুটির ভিখারিতে পরিণত করতে পারে।
** "অ্যাভারিস", পৃষ্ঠা ৪২
* সৌন্দর্য একটি বিপজ্জনক গুণ, যা স্ত্রীর মনকে কলুষিত করার প্রবণতা রাখে, যদিও স্বামীর ওপর এটি খুব দ্রুতই তার প্রভাব হারায়। এমন একটি চেহারা যা প্রীতিকর ও মনমুগ্ধকর এবং প্রেমের উন্মাদনা ছাড়াই মমতা জোগায়, তা জীবনসঙ্গী হিসেবে অনেক বেশি নিরাপদ পছন্দ।
** "বিউটি", পৃষ্ঠা ৪৯
* একটি প্রীতিকর অবয়ব এবং জয় করে নেওয়ার মতো আচরণ, যা প্রেম ছাড়াই মমতা জোগায়, তা সব সময় নতুন থাকে। সৌন্দর্য তার স্বাদ হারায়, কিন্তু মহানুভবতা কখনো ফুরোয় না। দীর্ঘ পরিচয়ের পরেও সেগুলো প্রথম দেখার মতোই প্রীতিকর থাকে।
** "বিউটি", পৃষ্ঠা ৪৯
* পরোপকার খুব কম মন্দ অভ্যাসের সাথেই যুক্ত। তবে স্বার্থপরতা খুব কম গুণের সাথেই যুক্ত।
** "বেনেভোলেন্স", পৃষ্ঠা ৫২
* অনেক উজ্জ্বল কর্ম ভাগ্যগুণে সাফল্য পায়, যদিও জেনারেল বা রাষ্ট্রনায়ক সেই প্রশংসা কেড়ে নেয়।
** "চান্স", পৃষ্ঠা ৬৯
* আপনার সন্তানকে অসুখী করার একটি অব্যর্থ উপায় হলো তার সমস্ত আবদার পূরণ করা। তৃপ্তি পাওয়ার সাথে সাথে ঝোঁক আরও বাড়ে। আর তার প্রতিটি আবদার পূরণ করা যখন অসম্ভব হয়ে পড়বে, তখন সে কিছুটা একগুঁয়ে হয়ে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত আপনাকে থামতে বাধ্য হতে হবে।
** "চাইল্ড", পৃষ্ঠা ৭৬
* প্রতিটি মানুষ, সে যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন, নিজের চোখে নিজেকে অনেক বড় মনে করে।
** "কনসিট", পৃষ্ঠা ৮৭
* তুমি যদি অন্যদের নিন্দা থেকে বাঁচতে পারো, নিজের বিবেকের নিন্দা থেকে বাঁচার আশা করো না।
** "কনসায়েন্স", পৃষ্ঠা ৯১
* যার প্রতিশোধ নেওয়ার সাহস নেই, সে কখনো ক্ষমা করার মহানুভবতা খুঁজে পাবে না।
** "কারেজ", পৃষ্ঠা ১০০
* যাকে দেখে অনেক ধূর্ত মনে হয়, আদতে তার ধূর্ততা খুবই কম। কারণ তার মধ্যে একটি অপরিহার্য গুণের অভাব থাকে, আর তা হলো ধূর্ততা গোপন করা।
** "কানিং", পৃষ্ঠা ১০৮
* প্রথা হলো বৈষম্য দূর করার এক মহান শক্তি। এটি রাজপুত্রের সুখ ও কৃষকের কষ্ট সমানভাবে কমিয়ে দিয়ে ভাগ্যের বৈষম্য সংশোধন করে।
** "কাস্টম", পৃষ্ঠা ১১০
* মৃত্যু আমাদের নিজেদেরই হোক বা অন্যের, তা বাড়ির চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে কম ভয়াবহ মনে হয়। মৃত্যুশয্যায় নারী ও শিশুদের কান্না, শোকার্ত বন্ধু, অন্ধকার ঘর, মৃদু আলো, পুরোহিত এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতিই আমাদের সবচেয়ে বেশি বিচলিত করে। তখন আমাদের মনে হয় আমরা যেন ইতিমধ্যে অর্ধেক মৃত এবং সমাহিত হয়ে গেছি।
** "ডেথ", পৃষ্ঠা ১১৪
* আমরা খুব কমই সাফল্যের সাথে নিজেদের সম্পর্কে কথা বলতে পারি। আমি যদি নিজের নিন্দা করি, তবে আমি যা প্রকাশ করি তার চেয়েও বেশি বিশ্বাস করা হয়। আর যদি নিজের প্রশংসা করি, তবে অনেক কম।
** "ইগোটিজম", পৃষ্ঠা ১৪১
* বন্ধুর জন্য জীবন দেওয়া ততটা কঠিন নয়, যতটা কঠিন এমন একজন বন্ধু খুঁজে পাওয়া যার জন্য জীবন দেওয়া যায়।
** "ফ্রেন্ডশিপ", পৃষ্ঠা ১৯১
* প্রতিভার সঙ্গে উষ্ণ ও প্রদীপ্ত স্বভাবের এবং রুচিশীলতার সঙ্গে শান্ত ও স্থিরতার যোগসূত্র রয়েছে। একারণে, প্রতিভা সাধারণত এমন ব্যক্তির মধ্যেই দেখা যায় যিনি সর্বপ্রকার আবেগের বশবর্তী হন, তবে রুচিশীলতা কদাচিৎই দেখা যায়। এই আশীর্বাদপ্রাপ্ত ব্যক্তির উপর চারুকলার মতোই নৈতিক কর্তব্যসমূহও গভীর ছাপ ফেলে এবং প্রতিটি অনিয়মিত ইচ্ছাকে প্রতিহত করে। একই সাথে, শান্ত ও স্থির স্বভাব প্রবল প্রলোভনেও সহজে বিচলিত হয় না।
** "জিনিয়াস", পৃষ্ঠা ১৯৯
* মানুষ বিবেকের চেয়ে গৌরবের দ্বারা বেশি পরিচালিত হয়। অথচ গৌরবে পৌঁছানোর সংক্ষিপ্ততম পথ হলো বিবেক দ্বারা পরিচালিত হওয়া।
** "গ্লোরি", পৃষ্ঠা ২০৩
* কল্পনার শক্তি এমনই যে, কোনো কিছু হাতে পাওয়ার বাস্তব আনন্দের চেয়ে প্রত্যাশার এক অলীক আনন্দও আমাদেরকে বেশি প্রভাবিত করে।
** "ইমাজিনেশন", পৃষ্ঠা ২৫৩
* অকৃতজ্ঞতা হলো এমন এক অপরাধ, যাকে আমরা নিজেদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে লঘু বলে মনে করি, আর অন্যের ক্ষেত্রে তা সবচেয়ে ক্ষমার অযোগ্য।
** "ইনগ্র্যাটিচিউড", পৃষ্ঠা ২৬৩
* কোনো মানুষই ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের ক্ষতি করলে, নিজের আরও বড় ক্ষতি না করে পারে না।
** "ইনজুরি", পৃষ্ঠা ২৬৪
* যখন স্বার্থের সাথে বিবেকের সংঘাত বাড়ে, তখন অন্তঃসারশূন্য মানুষগুলো তাদের বন্ধু বানানোর জন্য যেকোনো অজুহাত খুঁজে নেয়।
** "ইন্টারেস্ট", পৃষ্ঠা ২৬৯
* আলো যেমন গুণের জন্য অনুকূল, তেমনই প্রতারণার জন্য প্রতিকূল।
** "লাইট", পৃষ্ঠা ৩০১
* ভালোবাসাকে আগুনের সাথে তুলনা করার বিষয়টি একটি দিক থেকে সত্যি, আর তা হলো, এটি যত তীব্রভাবে জ্বলে, তত তাড়াতাড়ি নিভে যায়।
** "লাভ", পৃষ্ঠা ৩০৫
* সৎ ভালোবাসার চেয়ে মহৎ ও উদার সবকিছুকে আর কিছুই বেশি উদ্বুদ্ধ করে না।
** "লাভ", পৃষ্ঠা ৩১০
* প্রেমে আমরা যতই ভালো ব্যবহার করি না কেন, বন্ধুত্বের চেয়ে প্রেমে আমরা বেশি ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিই। বন্ধুদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার পরিণতি সাধারণত খারাপ হয়, কিন্তু প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে তা ভালোয় ভালোয় শেষ হয়।
** "লাভ", পৃষ্ঠা ৩১০
* বিলাসিতা হয়তো দরিদ্রদের রুটি জোগাতে সাহায্য করে। তবে যদি বিলাসিতা না থাকত, তবে কোনো দরিদ্রও থাকত না।
** "লাক্সারি", পৃষ্ঠা ৩১৯
* মহৎ মন অপমান করে না, আবার তা সহ্যও করে না।
** "ম্যাগনানিমাস", পৃষ্ঠা ৩২১
* তীব্র আবেগ নির্জনতায় জন্মায়। জাগতিক কোলাহলে কোনো বস্তুই গভীর ছাপ ফেলার সময় পায় না।
** "প্যাশন", পৃষ্ঠা ৩৮১
* আশা ও ভয়ের মতো আবেগকে প্রজ্বলিত করার মতো আর কিছুই নেই: শান্ত স্বভাব ও বিনয়ী আচরণের একজন যুবতী প্রেমিক আকর্ষণে কম সক্ষম, বরং একজন অস্থিরচিত্ত ও ছ্যাঁচড়া তরুণী বেশি সফল; একজন বিচক্ষণ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ পুরুষ একজন সুন্দরী নারীর মন জয়ে ততটা সফল হতে পারে না, যতটা পারে একজন প্রফুল্ল, চঞ্চল ও অস্থিরমতি দাম্ভিক ব্যক্তি।
** "প্যাশন", পৃষ্ঠা ৩৮২
*প্রকৃত প্রশংসা প্রায়শই বিনয়ীদের প্রাপ্য। মিথ্যা প্রশংসা সর্বদা মহান ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
** "প্রেইজ", পৃষ্ঠা ৪১০
* সিনিকদের তুচ্ছ খাবার তাদের প্রশান্তি বা শালীনতা কোনোটাই বাড়ায়নি। অহংকার ডায়োজিনিসের সঙ্গে তার স্নানাগারে প্রবেশ করল; এবং সেখানেই সে সর্বকালের সবচেয়ে উদ্ধত আলেকজান্ডারকে আদেশ করার ধৃষ্টতা দেখাল।
** "প্রাইড", পৃষ্ঠা ৪১৮
* সাধারণ খ্যাতির চেয়ে অনিশ্চিত আর কিছুই নেই। মানুষ মেজাজ, আবেগ বা স্বার্থে আমার ক্ষতি করে; ক্ষতি করেছে বলেই আমাকে ঘৃণা করে; এবং ঘৃণা করে বলেই আমার নিন্দা করে।
** "রিপুটেশন", পৃষ্ঠা ৪৪৫
* উপহাস, যা প্রধানত অহংকার নামক এক স্বার্থপর আবেগ থেকে উদ্ভূত হয়, তা বড়জোর এক স্থূল আনন্দ মাত্র; অত্যন্ত মার্জিত ও রুচিশীল ব্যক্তিদের জন্য এটি এক অতিমাত্রায় রূঢ় বিনোদন।
** "রিডিকিউল", পৃষ্ঠা ৪৫৪
* এমনকি পোশাকও একজন মানুষের আত্ম-মর্যাদাবোধকে প্রভাবিত করতে পারে।
** "সেলফ-কনসিট", পৃষ্ঠা ৪৬২
* আমার এই ছোট মনিব তার ভদ্র-মাতার গড়া সেরকম কোনো বিলাসী নয়। তার মা-ই তাকে আত্মম্ভরিতায় ভরিয়ে তোলেন, এবং সেখানেই সে থেমে যায়। তিনি তাকে বারো বছর বয়সে পুরুষ হিসেবে গড়ে তোলেন, এবং তার পরের সারাজীবন বালক হিসেবেই রেখে দেন।
** "সেলফ-কনসিট", পৃষ্ঠা ৪৬২
* কাপুরুষ নিজেকে সতর্ক মনে করে, আর কৃপণ নিজেকে মিতব্যয়ী মনে করে।
** "সেলফ-ডিসিট", পৃষ্ঠা ৪৬৩
* যখন আপনি অন্যের দোষ নিয়ে আলোচনা করেন, তখন ভেবে দেখুন আপনি নিজেও একই দোষে দোষী কি না। নিজেকে জানার সর্বোত্তম উপায় হলো, অন্যের অপূর্ণতাকে আয়নায় রূপান্তরিত করে নিজেকে আবিষ্কার করা।
** "সেলফ-একজামিনেশন", পৃষ্ঠা ৪৬৪
* পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী মানুষ সেই, যে নিজেকে অসুখী মনে করে।
** "আনহ্যাপিন্যাস", পৃষ্ঠা ৫৩৫
* বড় চাহিদা বড় সম্পদ থেকেই জন্ম নেয়; কিন্তু তারা অবাধ্য সন্তান, কারণ তারা সম্পদকে দারিদ্র্যে ডুবিয়ে দেয়।
** "ওয়ান্টস", পৃষ্ঠা ৫৪৭
* প্রজ্ঞা যদি বিক্রি করা যেত, তবে কেউ তার মূল্য দিত না।প্রতিটি মানুষ প্রকৃতি থেকে পাওয়া তার অংশটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট।
** "উইজডম", পৃষ্ঠা ৫৫৬
* শব্দের অর্থ ও অনুকরণের ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে, মনের উপর এর একটি স্বতন্ত্র প্রভাব রয়েছে। এর পূর্ণতার কারণে তা কানে কমবেশি শ্রুতিমধুর হয়।
** "ওয়ার্ডস", পৃষ্ঠা ৫৬৫
== বহিঃসংযোগ ==
* {{উইকিপিডিয়া}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৬৯৬-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:১৭৮২-এ মৃত্যু]]
[[বিষয়শ্রেণী:স্কটল্যান্ডের বিচারক]]
a597nsiymofuzmyqhcla8ua7635cyvu
বিষয়শ্রেণী:পারমাণবিক যুদ্ধ
14
14097
83223
2026-05-01T14:02:52Z
Oindrojalik Watch
4169
"* [[পারমাণবিক অস্ত্র]] * [[পারমাণবিক যুদ্ধ]]" দিয়ে পাতা তৈরি
83223
wikitext
text/x-wiki
* [[পারমাণবিক অস্ত্র]]
* [[পারমাণবিক যুদ্ধ]]
104rnffs5ve09r3kvop20wau7apvaun
বিষয়শ্রেণী:পারমাণবিক অস্ত্র
14
14098
83224
2026-05-01T14:03:19Z
Oindrojalik Watch
4169
"* [[পারমাণবিক অস্ত্র]] * [[পারমাণবিক যুদ্ধ]]" দিয়ে পাতা তৈরি
83224
wikitext
text/x-wiki
* [[পারমাণবিক অস্ত্র]]
* [[পারমাণবিক যুদ্ধ]]
104rnffs5ve09r3kvop20wau7apvaun