উইকিসংকলন
bnwikisource
https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.46.0-wmf.21
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিসংকলন
উইকিসংকলন আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
লেখক
লেখক আলাপ
নির্ঘণ্ট
নির্ঘণ্ট আলাপ
পাতা
পাতা আলাপ
প্রবেশদ্বার
প্রবেশদ্বার আলাপ
প্রকাশক
প্রকাশক আলোচনা
রচনা
রচনা আলাপ
অনুবাদ
অনুবাদ আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
Event
Event talk
টেমপ্লেট:ALL PAGES
10
9621
1941219
1941199
2026-03-29T07:00:15Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1941219
wikitext
text/x-wiki
562816
4j6tne8tpzhand0khm86r34a2f1fp4n
ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan/খেলাঘর
2
877512
1941208
1941205
2026-03-28T14:09:50Z
Tausheef Hassan
16566
1941208
wikitext
text/x-wiki
প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।
১। '''ভূতাপেক্ষিতা''' — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তখন আইনে খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক' কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়া যাবে না।
<br>আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্স কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ বা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে নতুন বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়।
<br>ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেক আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না, তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে।
<br>এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়।
<br>আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
<br>এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি।
{{collapse top|আন্তর্জাতিক উদারহণ}}
আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]'''<nowiki/>''''-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই।
{{Collapse bottom|}}
আপনার এই বিষয়ে সমালোচনায় আমি আপনার যুক্তি বিচারধারার উপর হতাশ হয়েছি। আপনি আইনের ধারার ভিত্তিতে সমালোচনা না করে, শব্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, যে শব্দ একটি নীতির নাম; কোনো নীতিমালার অংশ পর্যন্ত না। আপনি বইয়ের ভিতরের লেখা বাদ দিয়ে বইয়ের শিরনামের শব্দ নিয়ে সম্পূর্ণ বইয়ের সমালোচনা করছেন। আশা করি আপনি ভবিষ্যতে ধারা টেনে এনে, ধারার শব্দ উল্লেখ করে, ধারার ভিত্তিতে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। একটি লেখা আগে নিজেই নিজের সমালোচনা করবেন।
২। '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''': আপনি কি উক্ত মন্তব্য করার আগে ১৯১৪ সালের আইনটি পড়ে দেখেছেন? ১৯১৪ এর আইন স্পষ্টভাবে ভুতাপেক্ষ নয়; বরং আইনের [https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা] অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। কোনো মন্তব্য বা দাবিকে অবশ্যই আইনের ভিত্তিতে হতে হবে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি।
<br>৩। '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''': বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, কপিরাইট আইন, ২০০০ দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট আইনের বৃদ্ধি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ দ্বারা এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ থেকে আলাদা একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২-এর ৩ নং ধারা অনুযায়ী শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা।
<br>আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০ এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে অনর্থক সময় আমি ব্যয় করতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে।
<br>আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই। আপনার, আমার, আইনজীবী, সংবাদপত্রের সাংবাদিক, আইন প্রণেতা, সরকারি কর্মচারী, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল)। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ফলে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে।
<br>সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি দেশ অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাঘব হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আইন। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি দেশ। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। stakeholderদের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন" ২০১০ সাল হতে লেখা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। একে হঠকারিতা বললেও কম হয়ে যাবে। এই হঠকারিতায় উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের দ্বারা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে হঠকারিতায় এই আইন দেওয়া হয়েছে। এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে <u>বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়</u>। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো। ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো কোনো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। তখন মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়।
tp0gkx76gaxkbqpfz6scr04mj15e2ky
1941209
1941208
2026-03-28T14:18:30Z
Tausheef Hassan
16566
1941209
wikitext
text/x-wiki
প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।
১। '''ভূতাপেক্ষিতা''' — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তখন আইনে খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক' কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়া যাবে না।
<br>আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্স কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ বা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে নতুন বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়।
<br>ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেক আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না, তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে।
<br>এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়।
<br>আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
<br>এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি।
{{collapse top|আন্তর্জাতিক উদারহণ}}
আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]'''<nowiki/>''''-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই।
{{Collapse bottom|}}
আপনার এই বিষয়ে সমালোচনায় আমি আপনার যুক্তি বিচারধারার উপর হতাশ হয়েছি। আপনি আইনের ধারার ভিত্তিতে সমালোচনা না করে, শব্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, যে শব্দ একটি নীতির নাম; কোনো নীতিমালার অংশ পর্যন্ত না। আপনি বইয়ের ভিতরের লেখা বাদ দিয়ে বইয়ের শিরনামের শব্দ নিয়ে সম্পূর্ণ বইয়ের সমালোচনা করছেন। আশা করি আপনি ভবিষ্যতে ধারা টেনে এনে, ধারার শব্দ উল্লেখ করে, ধারার ভিত্তিতে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। একটি লেখা আগে নিজেই নিজের সমালোচনা করবেন।
<br>২। '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''': আপনি কি উক্ত মন্তব্য করার আগে ১৯১৪ সালের আইনটি পড়ে দেখেছেন? ১৯১৪ এর আইন স্পষ্টভাবে ভুতাপেক্ষ নয়; বরং আইনের [https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা] অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। কোনো মন্তব্য বা দাবিকে অবশ্যই আইনের ভিত্তিতে হতে হবে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি।
<br>৩। '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''': বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, কপিরাইট আইন, ২০০০ দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট আইনের বৃদ্ধি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ দ্বারা এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ থেকে আলাদা একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২-এর ৩ নং ধারা অনুযায়ী শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা।
<br>আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০ এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে অনর্থক সময় আমি ব্যয় করতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে।
<br>আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই। আপনার, আমার, আইনজীবী, সংবাদপত্রের সাংবাদিক, আইন প্রণেতা, সরকারি কর্মচারী, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল)। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ফলে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে।
<br>সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি দেশ অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাঘব হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আইন। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি দেশ। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। stakeholderদের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন" ২০১০ সাল হতে লেখা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। একে হঠকারিতা বললেও কম হয়ে যাবে। এই হঠকারিতায় উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের দ্বারা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে হঠকারিতায় এই আইন দেওয়া হয়েছে। এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে <u>বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়</u> কেননা যথাযথ কারণে এই নজির প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো। ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো কোনো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। তখন মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়।
41hctn2g1ph9uxmtf767zo82x238ywo
1941215
1941209
2026-03-28T15:31:04Z
Tausheef Hassan
16566
1941215
wikitext
text/x-wiki
প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।
১। '''ভূতাপেক্ষিতা''' — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তখন আইনে খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক' কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়া যাবে না।
<br>আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্স কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ বা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে নতুন বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়।
<br>ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেক আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না, তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে।
<br>এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়।
<br>আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
<br>এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি।
{{collapse top|আন্তর্জাতিক উদারহণ}}
আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]'''<nowiki/>''''-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই।
{{Collapse bottom|}}
আপনার এই বিষয়ে সমালোচনায় আমি আপনার যুক্তি বিচারধারার উপর হতাশ হয়েছি। আপনি আইনের ধারার ভিত্তিতে সমালোচনা না করে, শব্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, যে শব্দ একটি নীতির নাম; কোনো নীতিমালার অংশ পর্যন্ত না। আপনি বইয়ের ভিতরের লেখা বাদ দিয়ে বইয়ের শিরনামের শব্দ নিয়ে সম্পূর্ণ বইয়ের সমালোচনা করছেন। আশা করি আপনি ভবিষ্যতে ধারা টেনে এনে, ধারার শব্দ উল্লেখ করে, ধারার ভিত্তিতে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। একটি লেখা আগে নিজেই নিজের সমালোচনা করবেন।
<br>২। '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''': আপনি কি উক্ত মন্তব্য করার আগে ১৯১৪ সালের আইনটি পড়ে দেখেছেন? ১৯১৪ এর আইন স্পষ্টভাবে ভুতাপেক্ষ নয়; বরং আইনের [https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা] অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। কোনো মন্তব্য বা দাবিকে অবশ্যই আইনের ভিত্তিতে হতে হবে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি।
<br>৩। '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''': বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, কপিরাইট আইন, ২০০০ দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট আইনের বৃদ্ধি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ দ্বারা এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ থেকে আলাদা একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২-এর ৩ নং ধারা অনুযায়ী শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা।
<br>আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০ এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে অনর্থক সময় আমি ব্যয় করতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে।
<br>আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই। আপনার, আমার, আইনজীবী, সংবাদপত্রের সাংবাদিক, আইন প্রণেতা, সরকারি কর্মচারী, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল)। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ফলে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে।
<br>সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি দেশ অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাঘব হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আইন। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি দেশ। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। stakeholderদের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন" ২০১০ সাল হতে লেখা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। একে হঠকারিতা বললেও কম হয়ে যাবে। এই হঠকারিতায় উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের দ্বারা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে হঠকারিতায় এই আইন দেওয়া হয়েছে। এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে <u>বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়</u> কেননা যথাযথ কারণে এই নজির প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো। ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো কোনো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। তখন মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়।
<br>৪। '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''': আমি আগে ভূতাপেক্ষিতা অংশে বলেছি, আইনের নাম বা ধারার নাম নিয়ে বা ধারার সাধারণ নাম কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারে না। পারে শুধুমাত্র আইনের মূল পাঠ্য। আপনার প্রদত্ত ব্যাখ্যায় আইনের কোনো ধারা উল্লেখ করে তার আক্ষরিক বিশ্লেষণ নেই। বরং আইনের ধারার সাথে রীতিমতো সাংঘর্ষিক। আমাদের আইনের প্রতিটি শব্দের থেকে এক চুলও নড়বার সুযোগ নেই। ১০৫(৫) ধারা মনোযোগ দিয়ে দেখুন। আমি ১০৫(৫) ধারা অক্ষর ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। প্রয়োজন হলে আবার পড়ুন এবং বলুন আমার কোন যুক্তি কেনো ভুল। ধারায় বলা আছে, ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' এবং এর ইংরেজি অনুবাদে বলা আছে, ''"shall continue to be entitled to"''। এখানে "অব্যাহত" এবং "continue" এর অর্থ কোন অভিধানে বলা আছে যে, "কর্মের স্রষ্টার অধিকার কমলে নতুন নিয়ম চলবে এবং বেশি থাকলে আগের নিয়ম থাকবে"? কোন অভিধানে এই ব্যাখ্যা পাবেন না আপনি। আমি মূল প্রস্তাবনায় অভিধানিক অর্ধ দিয়েছি। অব্যাহত এবং continue অর্থ, আগে যা ছিল তাই থাকবে। এখানে লাভ-ক্ষতির বা কমা-বাড়ার কোনো হিসেব নেই এবং থাকারও সুযোগ নেই। অব্যাহত শব্দ দ্বারা আপনি যদি ভিন্ন কিছু বুঝে থাকেন তাহলে অনুগ্রহ করে তা ব্যক্ত করুন। উল্লেখ্য একটি শব্দ দ্বারা একেকজন একেকভাবে বুঝতে পারে। তাই অভিধানিক ব্যাখ্যা বেছে নেওয়া বেশি শ্রেয়। আবার এই ধারাটি সম্পূর্ণ হুবুহু ঔপনেবেশিক আইনের ইংরেজি বাক্যের অনুবাদ। এর উৎস ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, এর অর্থ universally accepted "আগে যা ছিল তা"; এর সাথে বাড়া-কমা বা লাভ-ক্ষতির হিসেব নেই। যদিও ১০৪নং ধারা অনুযায়ী বাংলা সংস্করণ থেকে সিদ্ধান্তে আশা উচিত, ইংরেজি উৎস আইনের ইচ্ছা বুঝতে সাহায্য করবে। আইনের বাহিরে গিয়ে আমরা কেউ মনগড়া ব্যাখ্যা দাড়া করাতে পারি না। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হলে আইনের ধারার পাঠ্য ধরে অক্ষর ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। বস্তুত আপনার ব্যাখ্যা "শর্ত সাপেক্ষে অধিকারের মেয়াদ সংরক্ষণ" যদি আইন করতে চাইতো, তাহলে আইন আলাদা করে তা বলতে পারতো। কিন্তু তা করা হয়নি। অধিকারের ক্ষেত্রে ১০৪(৪) ধারা রয়েছে। এবং ১০৫(৫) দ্বারা মেয়াদ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। শর্ত প্রয়োগ করলে তা উল্লেখ করে দিতো আইন। ১০৫(৪) সরাসরি ''সুবিধা-অসুবিধা'' (অধিকার স্থানান্তর)-এর কথা বলা আছে। তাই "এই ধারা ''সুবিধা-অসুবিধার'' জন্য না বলা", আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী।
<br>৫। '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''': আপনি বারংবার আইনের পাঠ্য বাদ দিয়ে, আইনের নাম, সাধারণ নাম এবং কনসেপ্ট ধরে ব্যাখ্যা প্রকাশ করছেন। আপনার এই দাবির আইনি ভিত্তি কি? আমি আইনের লেখা ও আদালতের রায় ব্যতীত এক চুলও যেতে রাজি নই। আগের আইনের কর্ম নতুন আইনে আনতে হলে সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, যেমন করেছে ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯১৪ এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০২৩। নতুন আইনের আওতায় কি শর্তে এসেছে, সেটাও উল্লেখ করা আছে এই আইন সমূহে। আগের আইনের কি বহাল থাকবে এবং কি থাকবে না তাও বলা আছে। কপিরাইট আইন, ২০০০-ও বলে দিয়েছে আগের কর্মের কি কি হবে। তন্মদ্ধে ১০৫(৫) বলেছে মেয়াদ অক্ষুণ্ণ থাকবে।
<br>৬। '''ব্যবহারিক উদাহরণ''':অন্যান্য প্রকাশকরা লাইসেন্স ফি এর বিনিময়ে বই প্রকাশ করেছে নাকি পাবলিক ডোমেইন বলে বই প্রকাশ করেছে তা প্রমাণ করবেন কিভাবে। আমি লক্ষ্য লক্ষ্য বই উদাহরণ দিলাম। কিন্তু আপনি এসে বলতে পারেন, এরা লাইসেন্স করে অর্থের বিনিময়ে পুনঃপ্রকাশ করেছে। আলাদা করে বইয়ের গায়ে লেখা থাকে না এই বিষয়। ব্যবহারিক উদাহরণ আইনের আদালতে কোনো সিধান্ত গ্রহণকারী ফ্যাক্টর হতে পারে না। কপিরাইট একটি কঠর ও জটিল আইন। তাই এখানে ''Chilling Effect'' কাজ করতে পারে। Chilling Effect এমন একটি মানসিক বা সামাজিক অবস্থা যেখানে মানুষ আইনি জটিলতা বা কঠোর শাস্তির ভয়ে নিজের ওপর অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে বর্তমানে পরিস্থিতি বিরাজমান। তাই আলদালতে ব্যবহারিক উদাহরণকে আমলে নেওয়া হয় না। আবার যদি এই ১০বছরের সময়কালে কোন বিখ্যাত বা পুনঃপ্রকাশ যোগ্য কর্ম না থাকে বা প্রকাশকদের অনীহা থাকে তাহলে কি করবেন?
qfrabsji63h7n0gb9515ie02fvknrd1
1941216
1941215
2026-03-28T15:43:14Z
Tausheef Hassan
16566
1941216
wikitext
text/x-wiki
প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।
১। '''ভূতাপেক্ষিতা''' — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তখন আইনে খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক' কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়া যাবে না।
<br>আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্স কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ বা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে নতুন বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়।
<br>ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেক আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না, তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে।
<br>এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়।
<br>আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
<br>এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি।
{{collapse top|আন্তর্জাতিক উদারহণ}}
আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]'''<nowiki/>''''-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই।
{{Collapse bottom|}}
আপনার এই বিষয়ে সমালোচনায় আমি আপনার যুক্তি বিচারধারার উপর হতাশ হয়েছি। আপনি আইনের ধারার ভিত্তিতে সমালোচনা না করে, শব্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, যে শব্দ একটি নীতির নাম; কোনো নীতিমালার অংশ পর্যন্ত না। আপনি বইয়ের ভিতরের লেখা বাদ দিয়ে বইয়ের শিরনামের শব্দ নিয়ে সম্পূর্ণ বইয়ের সমালোচনা করছেন। আশা করি আপনি ভবিষ্যতে ধারা টেনে এনে, ধারার শব্দ উল্লেখ করে, ধারার ভিত্তিতে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। একটি লেখা আগে নিজেই নিজের সমালোচনা করবেন।
<br>২। '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''': আপনি কি উক্ত মন্তব্য করার আগে ১৯১৪ সালের আইনটি পড়ে দেখেছেন? ১৯১৪ এর আইন স্পষ্টভাবে ভুতাপেক্ষ নয়; বরং আইনের [https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা] অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। কোনো মন্তব্য বা দাবিকে অবশ্যই আইনের ভিত্তিতে হতে হবে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি।
<br>৩। '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''': বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, কপিরাইট আইন, ২০০০ দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট আইনের বৃদ্ধি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ দ্বারা এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ থেকে আলাদা একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২-এর ৩ নং ধারা অনুযায়ী শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা।
<br>আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০ এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে অনর্থক সময় আমি ব্যয় করতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে।
<br>আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই। আপনার, আমার, আইনজীবী, সংবাদপত্রের সাংবাদিক, আইন প্রণেতা, সরকারি কর্মচারী, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল)। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ফলে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে।
<br>সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি দেশ অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাঘব হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আইন। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি দেশ। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। stakeholderদের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন" ২০১০ সাল হতে লেখা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। একে হঠকারিতা বললেও কম হয়ে যাবে। এই হঠকারিতায় উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের দ্বারা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে হঠকারিতায় এই আইন দেওয়া হয়েছে। এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে <u>বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়</u> কেননা যথাযথ কারণে এই নজির প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো। ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো কোনো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। তখন মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়।
<br>৪। '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''': আমি আগে ভূতাপেক্ষিতা অংশে বলেছি, আইনের নাম বা ধারার নাম নিয়ে বা ধারার সাধারণ নাম কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারে না। পারে শুধুমাত্র আইনের মূল পাঠ্য। আপনার প্রদত্ত ব্যাখ্যায় আইনের কোনো ধারা উল্লেখ করে তার আক্ষরিক বিশ্লেষণ নেই। বরং আইনের ধারার সাথে রীতিমতো সাংঘর্ষিক। আমাদের আইনের প্রতিটি শব্দের থেকে এক চুলও নড়বার সুযোগ নেই। ১০৫(৫) ধারা মনোযোগ দিয়ে দেখুন। আমি ১০৫(৫) ধারা অক্ষর ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। প্রয়োজন হলে আবার পড়ুন এবং বলুন আমার কোন যুক্তি কেনো ভুল। ধারায় বলা আছে, ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' এবং এর ইংরেজি অনুবাদে বলা আছে, ''"shall continue to be entitled to"''। এখানে "অব্যাহত" এবং "continue" এর অর্থ কোন অভিধানে বলা আছে যে, "কর্মের স্রষ্টার অধিকার কমলে নতুন নিয়ম চলবে এবং বেশি থাকলে আগের নিয়ম থাকবে"? কোন অভিধানে এই ব্যাখ্যা পাবেন না আপনি। আমি মূল প্রস্তাবনায় অভিধানিক অর্ধ দিয়েছি। অব্যাহত এবং continue অর্থ, আগে যা ছিল তাই থাকবে। এখানে লাভ-ক্ষতির বা কমা-বাড়ার কোনো হিসেব নেই এবং থাকারও সুযোগ নেই। অব্যাহত শব্দ দ্বারা আপনি যদি ভিন্ন কিছু বুঝে থাকেন তাহলে অনুগ্রহ করে তা ব্যক্ত করুন। উল্লেখ্য একটি শব্দ দ্বারা একেকজন একেকভাবে বুঝতে পারে। তাই অভিধানিক ব্যাখ্যা বেছে নেওয়া বেশি শ্রেয়। আবার এই ধারাটি সম্পূর্ণ হুবুহু ঔপনেবেশিক আইনের ইংরেজি বাক্যের অনুবাদ। এর উৎস ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, এর অর্থ universally accepted "আগে যা ছিল তা"; এর সাথে বাড়া-কমা বা লাভ-ক্ষতির হিসেব নেই। যদিও ১০৪নং ধারা অনুযায়ী বাংলা সংস্করণ থেকে সিদ্ধান্তে আশা উচিত, ইংরেজি উৎস আইনের ইচ্ছা বুঝতে সাহায্য করবে। আইনের বাহিরে গিয়ে আমরা কেউ মনগড়া ব্যাখ্যা দাড়া করাতে পারি না। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হলে আইনের ধারার পাঠ্য ধরে অক্ষর ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। বস্তুত আপনার ব্যাখ্যা "শর্ত সাপেক্ষে অধিকারের মেয়াদ সংরক্ষণ" যদি আইন করতে চাইতো, তাহলে আইন আলাদা করে তা বলতে পারতো। কিন্তু তা করা হয়নি। অধিকারের ক্ষেত্রে ১০৪(৪) ধারা রয়েছে। এবং ১০৫(৫) দ্বারা মেয়াদ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। শর্ত প্রয়োগ করলে তা উল্লেখ করে দিতো আইন। ১০৫(৪) সরাসরি ''সুবিধা-অসুবিধা'' (অধিকার স্থানান্তর)-এর কথা বলা আছে। তাই "এই ধারা ''সুবিধা-অসুবিধার'' জন্য না বলা", আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী।
<br>৫। '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''': আপনি বারংবার আইনের পাঠ্য বাদ দিয়ে, আইনের নাম, সাধারণ নাম এবং কনসেপ্ট ধরে ব্যাখ্যা প্রকাশ করছেন। আপনার এই দাবির আইনি ভিত্তি কি? আমি আইনের লেখা ও আদালতের রায় ব্যতীত এক চুলও যেতে রাজি নই। আগের আইনের কর্ম নতুন আইনে আনতে হলে সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, যেমন করেছে ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯১৪ এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০২৩। নতুন আইনের আওতায় কি শর্তে এসেছে, সেটাও উল্লেখ করা আছে এই আইন সমূহে। আগের আইনের কি বহাল থাকবে এবং কি থাকবে না তাও বলা আছে। কপিরাইট আইন, ২০০০-ও বলে দিয়েছে আগের কর্মের কি কি হবে। তন্মদ্ধে ১০৫(৫) বলেছে মেয়াদ অক্ষুণ্ণ থাকবে।
<br>৬। '''ব্যবহারিক উদাহরণ''':অন্যান্য প্রকাশকরা লাইসেন্স ফি এর বিনিময়ে বই প্রকাশ করেছে নাকি পাবলিক ডোমেইন বলে বই প্রকাশ করেছে তা প্রমাণ করবেন কিভাবে। আমি লক্ষ্য লক্ষ্য বই উদাহরণ দিলাম। কিন্তু আপনি এসে বলতে পারেন, এরা লাইসেন্স করে অর্থের বিনিময়ে পুনঃপ্রকাশ করেছে। আলাদা করে বইয়ের গায়ে লেখা থাকে না এই বিষয়। ব্যবহারিক উদাহরণ আইনের আদালতে কোনো সিধান্ত গ্রহণকারী ফ্যাক্টর হতে পারে না। কপিরাইট একটি কঠর ও জটিল আইন। তাই এখানে ''Chilling Effect'' কাজ করতে পারে। Chilling Effect এমন একটি মানসিক বা সামাজিক অবস্থা যেখানে মানুষ আইনি জটিলতা বা কঠোর শাস্তির ভয়ে নিজের ওপর অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে বর্তমানে পরিস্থিতি বিরাজমান। তাই আলদালতে ব্যবহারিক উদাহরণকে আমলে নেওয়া হয় না। আবার যদি এই ১০ বছরের সময়কালে কোন বিখ্যাত বা পুনঃপ্রকাশ যোগ্য কর্ম না থাকে বা প্রকাশকদের অনীহা থাকে তাহলে কি করবেন? তাও আমি উদাহরণ দিচ্ছি। [[:w:সৈয়দ মুজতবা আলী|সৈয়দ মুজতবা আলী]]র মৃত্যু ১৯৭৪ সালে বা ৫২ বছর আগে। তার বিখ্যাত গ্রন্থ [[:w:দেশে বিদেশে|দেশে বিদেশে]]। এই বইটি [https://www.rokomari.com/book/80412/deshe-bideshe বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র], [https://www.prothoma.com/shop/deshe-bideshe-31138 প্রথমা প্রকাশনা], [https://www.rokomari.com/book/25566/desh-bedeshe স্টুডেন্ট ওয়েজ], [https://www.rokomari.com/book/318056/deshe-bideshe নিউ এজ পাবলিশার্স] প্রকাশ করতেছে বর্তমানে। আমি নিশ্চিত যে আপনি খুঁজলে আরও উদাহরণ পাবেন। কিন্তু এরা পাবলিক ডোমেইন বলে মুক্তভাবে প্রকাশ করছে নাকি লাইসেন্স ফির বিনময়ে তা জানার জন্য তাদের সাথে আলাদা আলাদ করে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, তাই আলাদা কওরে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি আমি।
epgxhyvh6qafr3bpkz45xle11jkdflt
1941217
1941216
2026-03-28T16:09:32Z
Tausheef Hassan
16566
1941217
wikitext
text/x-wiki
প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষাগত কারণে উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় আমি দুঃখিত।
১। '''ভূতাপেক্ষিতা''' — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তখন আইন অনুযায়ী খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক'কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়া যাবে না।
<br>আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্সটি কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ বা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে নতুন প্রকাশিত বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে নতুন লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়।
<br>ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেককাল আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন বর্তমানে মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না, তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে।
<br>এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়।
<br>আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
<br>এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি।
{{collapse top|আন্তর্জাতিক উদারহণ}}
আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]'''<nowiki/>''''-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই।
{{Collapse bottom|}}
আপনার এই বিষয়ে সমালোচনায় আমি আপনার যুক্তি বিচারধারার উপর হতাশ হয়েছি। আপনি আইনের ধারার ভিত্তিতে সমালোচনা না করে, শব্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, যে শব্দ একটি নীতির নাম; কোনো নীতিমালার অংশ পর্যন্ত না। আপনি বইয়ের ভিতরের লেখা বাদ দিয়ে বইয়ের শিরনামের শব্দ নিয়ে সম্পূর্ণ বইয়ের সমালোচনা করছেন। আশা করি আপনি ভবিষ্যতে ধারা টেনে এনে, ধারার শব্দ উল্লেখ করে, ধারার ভিত্তিতে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। একটি লেখা আগে নিজেই নিজের সমালোচনা করবেন।
<br>২। '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''': আপনি কি উক্ত মন্তব্য করার আগে ১৯১৪ সালের আইনটি পড়ে দেখেছেন? ১৯১৪ এর আইন স্পষ্টভাবে ভুতাপেক্ষ নয়; বরং আইনের [https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা] অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। কোনো মন্তব্য বা দাবিকে অবশ্যই আইনের ভিত্তিতে হতে হবে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি।
<br>৩। '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''': বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, কপিরাইট আইন, ২০০০ দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট আইনের বৃদ্ধি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ দ্বারা এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ থেকে আলাদা একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২-এর ৩ নং ধারা অনুযায়ী শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা।
<br>আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০ এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে অনর্থক সময় আমি ব্যয় করতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে।
<br>আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই। আপনার, আমার, আইনজীবী, সংবাদপত্রের সাংবাদিক, আইন প্রণেতা, সরকারি কর্মচারী, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল)। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ফলে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে।
<br>সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি দেশ অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাঘব হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আইন। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে প্রতিটি দেশ। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। stakeholderদের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন" ২০১০ সাল হতে লেখা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। একে হঠকারিতা বললেও কম হয়ে যাবে। এই হঠকারিতায় উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের দ্বারা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে হঠকারিতায় এই আইন দেওয়া হয়েছে। এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে <u>বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়</u> কেননা যথাযথ কারণে এই নজির প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো। ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো কোনো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। তখন মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়।
<br>৪। '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''': আমি আগে ভূতাপেক্ষিতা অংশে বলেছি, আইনের নাম বা ধারার নাম নিয়ে বা ধারার সাধারণ নাম কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারে না। পারে শুধুমাত্র আইনের মূল পাঠ্য। আপনার প্রদত্ত ব্যাখ্যায় আইনের কোনো ধারা উল্লেখ করে তার আক্ষরিক বিশ্লেষণ নেই। বরং আইনের ধারার সাথে রীতিমতো সাংঘর্ষিক। আমাদের আইনের প্রতিটি শব্দের থেকে এক চুলও নড়বার সুযোগ নেই। ১০৫(৫) ধারা মনোযোগ দিয়ে দেখুন। আমি ১০৫(৫) ধারা অক্ষর ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। প্রয়োজন হলে আবার পড়ুন এবং বলুন আমার কোন যুক্তি কেনো ভুল। ধারায় বলা আছে, ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' এবং এর ইংরেজি অনুবাদে বলা আছে, ''"shall continue to be entitled to"''। এখানে "অব্যাহত" এবং "continue" এর অর্থ কোন অভিধানে বলা আছে যে, "কর্মের স্রষ্টার অধিকার কমলে নতুন নিয়ম চলবে এবং বেশি থাকলে আগের নিয়ম থাকবে"? কোন অভিধানে এই ব্যাখ্যা পাবেন না আপনি। আমি মূল প্রস্তাবনায় অভিধানিক অর্ধ দিয়েছি। অব্যাহত এবং continue অর্থ, আগে যা ছিল তাই থাকবে। এখানে লাভ-ক্ষতির বা কমা-বাড়ার কোনো হিসেব নেই এবং থাকারও সুযোগ নেই। অব্যাহত শব্দ দ্বারা আপনি যদি ভিন্ন কিছু বুঝে থাকেন তাহলে অনুগ্রহ করে তা ব্যক্ত করুন। উল্লেখ্য একটি শব্দ দ্বারা একেকজন একেকভাবে বুঝতে পারে। তাই অভিধানিক ব্যাখ্যা বেছে নেওয়া বেশি শ্রেয়। আবার এই ধারাটি সম্পূর্ণ হুবুহু ঔপনেবেশিক আইনের ইংরেজি বাক্যের অনুবাদ। এর উৎস ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, এর অর্থ universally accepted "আগে যা ছিল তা"; এর সাথে বাড়া-কমা বা লাভ-ক্ষতির হিসেব নেই। যদিও ১০৪নং ধারা অনুযায়ী বাংলা সংস্করণ থেকে সিদ্ধান্তে আশা উচিত, ইংরেজি উৎস আইনের ইচ্ছা বুঝতে সাহায্য করবে। আইনের বাহিরে গিয়ে আমরা কেউ মনগড়া ব্যাখ্যা দাড়া করাতে পারি না। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হলে আইনের ধারার পাঠ্য ধরে অক্ষর ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। বস্তুত আপনার ব্যাখ্যা "শর্ত সাপেক্ষে অধিকারের মেয়াদ সংরক্ষণ" যদি আইন করতে চাইতো, তাহলে আইন আলাদা করে তা বলতে পারতো। কিন্তু তা করা হয়নি। অধিকারের ক্ষেত্রে ১০৪(৪) ধারা রয়েছে। এবং ১০৫(৫) দ্বারা মেয়াদ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। শর্ত প্রয়োগ করলে তা উল্লেখ করে দিতো আইন। ১০৫(৪) সরাসরি ''সুবিধা-অসুবিধা'' (অধিকার স্থানান্তর)-এর কথা বলা আছে। তাই "এই ধারা ''সুবিধা-অসুবিধার'' জন্য না বলা", আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী।
<br>৫। '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''': আপনি বারংবার আইনের পাঠ্য বাদ দিয়ে, আইনের নাম, সাধারণ নাম এবং কনসেপ্ট ধরে ব্যাখ্যা প্রকাশ করছেন। আপনার এই দাবির আইনি ভিত্তি কি? আমি আইনের লেখা ও আদালতের রায় ব্যতীত এক চুলও যেতে রাজি নই। আগের আইনের কর্ম নতুন আইনে আনতে হলে সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, যেমন করেছে ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯১৪ এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০২৩। নতুন আইনের আওতায় কি শর্তে এসেছে, সেটাও উল্লেখ করা আছে এই আইন সমূহে। আগের আইনের কি বহাল থাকবে এবং কি থাকবে না তাও বলা আছে। কপিরাইট আইন, ২০০০-ও বলে দিয়েছে আগের কর্মের কি কি হবে। তন্মদ্ধে ১০৫(৫) বলেছে মেয়াদ অক্ষুণ্ণ থাকবে।
<br>৬। '''ব্যবহারিক উদাহরণ''':অন্যান্য প্রকাশকরা লাইসেন্স ফি এর বিনিময়ে বই প্রকাশ করেছে নাকি পাবলিক ডোমেইন বলে বই প্রকাশ করেছে তা প্রমাণ করবেন কিভাবে। আমি লক্ষ্য লক্ষ্য বই উদাহরণ দিলাম। কিন্তু আপনি এসে বলতে পারেন, এরা লাইসেন্স করে অর্থের বিনিময়ে পুনঃপ্রকাশ করেছে। আলাদা করে বইয়ের গায়ে লেখা থাকে না এই বিষয়। ব্যবহারিক উদাহরণ আইনের আদালতে কোনো সিধান্ত গ্রহণকারী ফ্যাক্টর হতে পারে না। কপিরাইট একটি কঠর ও জটিল আইন। তাই এখানে ''Chilling Effect'' কাজ করতে পারে। Chilling Effect এমন একটি মানসিক বা সামাজিক অবস্থা যেখানে মানুষ আইনি জটিলতা বা কঠোর শাস্তির ভয়ে নিজের ওপর অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে বর্তমানে পরিস্থিতি বিরাজমান। তাই আলদালতে ব্যবহারিক উদাহরণকে আমলে নেওয়া হয় না। আবার যদি এই ১০ বছরের সময়কালে কোন বিখ্যাত বা পুনঃপ্রকাশ যোগ্য কর্ম না থাকে বা প্রকাশকদের অনীহা থাকে তাহলে কি করবেন? তাও আমি উদাহরণ দিচ্ছি। [[:w:সৈয়দ মুজতবা আলী|সৈয়দ মুজতবা আলী]]র মৃত্যু ১৯৭৪ সালে বা ৫২ বছর আগে। তার বিখ্যাত গ্রন্থ [[:w:দেশে বিদেশে|দেশে বিদেশে]]। এই বইটি [https://www.rokomari.com/book/80412/deshe-bideshe বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র], [https://www.prothoma.com/shop/deshe-bideshe-31138 প্রথমা প্রকাশনা], [https://www.rokomari.com/book/25566/desh-bedeshe স্টুডেন্ট ওয়েজ], [https://www.rokomari.com/book/318056/deshe-bideshe নিউ এজ পাবলিশার্স] প্রকাশ করতেছে বর্তমানে। আমি নিশ্চিত যে আপনি খুঁজলে আরও উদাহরণ পাবেন। কিন্তু এরা পাবলিক ডোমেইন বলে মুক্তভাবে প্রকাশ করছে নাকি লাইসেন্স ফির বিনময়ে তা জানার জন্য তাদের সাথে আলাদা আলাদ করে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, তাই আলাদা কওরে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি আমি।
<br>আমি আপনার মতামতের প্রতিটি বাক্য ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এরপর মতবিরোধের জায়গা থাকলে আইনের পাঠ্য ধরে করুন এবং আমার যুক্তি কেন অসন্তোষজনক সেটি উল্লেখ করি প্রতিযুক্তি দিন। ধন্যবাদ।
hmpxfay1l6fvu2620yrc66kwe1fajkw
1941218
1941217
2026-03-28T17:59:58Z
Tausheef Hassan
16566
1941218
wikitext
text/x-wiki
প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষাগত কারণে উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় আমি দুঃখিত।
১। '''ভূতাপেক্ষিতা''' — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তখন আইন অনুযায়ী খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক'কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়া যাবে না।
<br>আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্সটি কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ বা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে নতুন প্রকাশিত বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে নতুন লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়।
<br>ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেককাল আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন বর্তমানে মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না, তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে।
<br>এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়।
<br>আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
<br>এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি।
{{collapse top|আন্তর্জাতিক উদারহণ}}
আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]'''<nowiki/>''''-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই।
{{Collapse bottom|}}
এই অংশে আমি বেশ কিছু দাবি করেছেন। যদিও আমি মনে করি দাবিসমূহ আইনের ভিত্তিতে নয়, আপনি চাইলে আপনার দাবির আইনি উৎস ব্যক্ত করতে পারেন। আপনার এই বিষয়ে সমালোচনায় আমি আপনার যুক্তি বিচারধারার উপর হতাশ হয়েছি। আপনি আইনের ধারার ভিত্তিতে সমালোচনা না করে, শব্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, যে শব্দ একটি নীতির নাম; কোনো নীতিমালার অংশ পর্যন্ত না। আপনি বইয়ের ভিতরের লেখা বাদ দিয়ে বইয়ের শিরনামের শব্দ নিয়ে সম্পূর্ণ বইয়ের সমালোচনা করছেন। আশা করি আপনি ভবিষ্যতে ধারা টেনে এনে, ধারার শব্দ উল্লেখ করে, ধারার ভিত্তিতে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। একটি লেখা আগে নিজেই নিজের সমালোচনা করবেন।
<br>২। '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''': আপনি কি উক্ত মন্তব্য করার আগে ১৯১৪ সালের আইনটি পড়ে দেখেছেন? ১৯১৪ এর আইন স্পষ্টভাবে ভুতাপেক্ষ নয়; বরং আইনের [https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা] অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। কোনো মন্তব্য বা দাবিকে অবশ্যই আইনের ভিত্তিতে হতে হবে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি।
<br>৩। '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''': বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদের বৃদ্ধি ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২'' দ্বারা ভারতের কপিরাইট মেয়াদ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' থেকে ভিন্ন একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২''-এর ৩ নং ধারা শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইন ''পিরাইট আইন, ২০০০'' পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা।
<br>আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০-এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আংশিক আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে অনর্থক সময় আমি ব্যয় করতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে।
<br>আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই। আপনার, আমার, আইনজীবীর, সংবাদপত্রের সাংবাদিকের, আইন প্রণেতার, সরকারি কর্মচারীর, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-24.html The Evidence Act, 1872]) এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল<sup>[https://www.cambridge.org/core/books/abs/trials-for-international-crimes-in-asia/trials-for-international-crimes-in-bangladesh/995CD8AA54604F855E32F031EF19E2D4]</sup> <small><sub>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-435/section-12495.html ধারা ১৯(৫) The International Crimes (Tribunals) Act, 1973])</sub></small>। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ব্যাপারে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে।
<br>সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রতিটি দেশ আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে যে, মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাঘব হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আইন পাশ করানো হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই প্রতিটি দেশ অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। সরকার stakeholderদের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন"-এর খসড়া ২০১৫ সাল হতে লেখা হচ্ছে।<sup>[https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-sid/2024/12/bad818b033344c2faa5ad1276e9ad0d9.pdf]</sup> কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক<sup>[https://obhanmason.com/blog/copyright-in-perpetuity/]</sup> ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। একে হঠকারিতা বললেও কম হয়ে যাবে। এই হঠকারিতায় উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52693.html ধারা ৬৭])। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে হঠকারিতায় এই আইন দেওয়া হয়েছে। এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে <u>বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়</u> কেননা যথাযথ কারণে এই নজির প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো? আমার মতে ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে একটি ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। যেহেতু ৭৯(৫) এর শুরুতেই লেখা আছে ''"এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে"'', তাই সংঘর্ষ সৃষ্টি হবে না এবং মেয়াদ বৃদ্ধি বৈধ থাকবে। এই কারণে মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়।
<br>৪। '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''': আমি আগে ভূতাপেক্ষিতা অংশে বলেছি, আইনের নাম, ধারার নাম অথবা ধারার সাধারণ নাম কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারে না। পারে শুধুমাত্র আইনের মূল পাঠ্য। আপনার প্রদত্ত মতামতে আইনের কোনো ধারা উল্লেখ করে তার আক্ষরিক বিশ্লেষণ নেই। বরং আপনার মতামত আইনের ধারার সাথে রীতিমতো সাংঘর্ষিক। আমাদের আইনের প্রতিটি শব্দের থেকে এক চুলও নড়বার সুযোগ নেই। ১০৫(৫) ধারা মনোযোগ দিয়ে দেখুন। আমি ১০৫(৫) ধারা শব্দ ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। প্রয়োজন হলে আবার পড়ুন এবং আমার কোন যুক্তি কেনো ভুল তা তুলে ধরুন। ধারায় বলা আছে, ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' এবং এর ইংরেজি অনুবাদে বলা আছে, ''"shall continue to be entitled to".'' এখানে "অব্যাহত" এবং "continue" এর অর্থ কি কোনো অভিধানে বলা আছে যে, "কর্মের স্রষ্টার অধিকার কমলে নতুন নিয়ম চলবে এবং বেশি থাকলে আগের নিয়ম থাকবে"? কোনো অভিধানে এই ব্যাখ্যা পাবেন না আপনি। আমি মূল প্রস্তাবনায় অভিধানিক অর্ধ দিয়েছি। অব্যাহত এবং continue অর্থ, আগে যা ছিল, তাই থাকবে। এখানে লাভ-ক্ষতির বা কমা-বাড়ার কোনো হিসেব নেই এবং থাকারও সুযোগ নেই। অব্যাহত শব্দ দ্বারা আপনি যদি ভিন্ন কিছু বুঝে থাকেন তাহলে অনুগ্রহ করে তা ব্যক্ত করুন। উল্লেখ্য একটি শব্দ একেকজন একেকভাবে বুঝতে পারে। তাই অভিধানিক ব্যাখ্যা বেছে নেওয়া বেশি শ্রেয়। আবার এই ধারাটি সম্পূর্ণ হুবুহু ঔপনেবেশিক আইনের ইংরেজি বাক্যের অনুবাদ। এর উৎস ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, এর অর্থ universally accepted "আগে যা ছিল তা"; এর সাথে বাড়া-কমা বা লাভ-ক্ষতির হিসেব নেই। যদিও ১০৪নং ধারা অনুযায়ী বাংলা সংস্করণ থেকে সিদ্ধান্তে আশা উচিত, ইংরেজি এই উৎস আইনের ইচ্ছা বুঝতে সাহায্য করবে। আইনের বাহিরে গিয়ে আমরা কেউ মনগড়া ব্যাখ্যা দাড়া করাতে পারি না। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হলে আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। বস্তুত আপনার ব্যাখ্যা "শর্ত সাপেক্ষে অধিকারের মেয়াদ সংরক্ষণ" যদি আইন করতে চাইতো, তাহলে আইন আলাদা করে তা বলতে পারতো। কিন্তু তা করা হয়নি। অধিকারের ক্ষেত্রে ১০৪(৪) ধারা রয়েছে। এবং ১০৫(৫) দ্বারা মেয়াদ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। শর্ত প্রয়োগ করলে তা উল্লেখ করে দিতো আইন। ১০৫(৪) সরাসরি ''সুবিধা-অসুবিধা'' (অধিকার স্থানান্তর)-এর কথা বলা আছে। তাই "এই ধারা ''সুবিধা-অসুবিধার'' জন্য না" বলাটা আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী।
<br>৫। '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''': আপনি বারংবার আইনের পাঠ্য বাদ দিয়ে, আইনের নাম, সাধারণ নাম এবং কনসেপ্ট ধরে ব্যাখ্যা প্রকাশ করছেন। আপনার এই দাবির আইনি ভিত্তি কি? আমি আইনের লেখা ও আদালতের রায় ব্যতীত এক চুলও যেতে রাজি নই। আগের আইনের কর্ম নতুন আইনে আনতে হলে সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, যেমনটি করেছে ভারতীয় ''কপিরাইট আইন, ১৯১৪'' এবং বাংলাদেশ ''কপিরাইট আইন, ২০২৩''। নতুন আইনের আওতায় কী শর্তে পুরাতন কর্ম এসেছে, সেটাও উল্লেখ করা আছে এই আইন সমূহে।<sup>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html]</sup> আগের আইনের কী বহাল থাকবে এবং কী থাকবে না তাও বলা আছে। কপিরাইট আইন, ২০০০-ও বলে দিয়েছে আগের কর্মের কী কী হবে। তন্মদ্ধে ১০৫(৫) বলেছে মেয়াদ অক্ষুণ্ণ থাকবে।
<br>৬। '''ব্যবহারিক উদাহরণ''': অন্যান্য প্রকাশকরা লাইসেন্স ফির বিনিময়ে বই প্রকাশ করেছে নাকি পাবলিক ডোমেইন বলে বই প্রকাশ করেছে তা প্রমাণ করবেন কিভাবে। আমি লক্ষ্য লক্ষ্য বই উদাহরণ দিলাম। কিন্তু আপনি এসে বলতে পারেন, এরা লাইসেন্স করে অর্থের বিনিময়ে পুনঃপ্রকাশ করেছে। আলাদা করে বইয়ের গায়ে লেখা থাকে না এই বিষয়। ব্যবহারিক উদাহরণ আইনের আদালতে কোনো সিধান্ত গ্রহণকারী ফ্যাক্টর হতে পারে না।([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-24.html The Evidence Act, 1872]) কপিরাইট একটি কঠর ও জটিল আইন। তাই এখানে ''Chilling Effect'' কাজ করতে পারে। Chilling Effect এমন একটি মানসিক বা সামাজিক অবস্থা যেখানে মানুষ আইনি জটিলতা বা কঠোর শাস্তির ভয়ে নিজের ওপর অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে বর্তমানে এই পরিস্থিতি বিরাজমান। তাই আলদালতে ব্যবহারিক উদাহরণকে আমলে নেওয়া হয় না। আবার, যদি এই ১০ বছর সময়কালে কোন বিখ্যাত বা পুনঃপ্রকাশ যোগ্য কর্ম না থাকে বা প্রকাশকদের অনীহা থাকে তাহলে কি করবেন? তাও আমি উদাহরণ দিচ্ছি। [[:w:সৈয়দ মুজতবা আলী|সৈয়দ মুজতবা আলী]]র মৃত্যু ১৯৭৪ সালে বা ৫২ বছর আগে। তার বিখ্যাত গ্রন্থ [[:w:দেশে বিদেশে|দেশে বিদেশে]]। এই বইটি [https://www.rokomari.com/book/80412/deshe-bideshe বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র], [https://www.prothoma.com/shop/deshe-bideshe-31138 প্রথমা প্রকাশনা], [https://www.rokomari.com/book/25566/desh-bedeshe স্টুডেন্ট ওয়েজ], [https://www.rokomari.com/book/318056/deshe-bideshe নিউ এজ পাবলিশার্স] প্রকাশ করতেছে বর্তমানে। আমি নিশ্চিত যে আপনি খুঁজলে আরও উদাহরণ পাবেন। কিন্তু এরা পাবলিক ডোমেইন বলে মুক্তভাবে প্রকাশ করছে নাকি লাইসেন্স ফির বিনময়ে তা জানার জন্য তাদের সাথে আলাদা আলাদ করে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, তাই আলাদা কওরে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি আমি।
<br>আমি আপনার মতামতের প্রতিটি বাক্য ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এরপর মতবিরোধের জায়গা থাকলে আইনের পাঠ্য ধরে করুন এবং আমার যুক্তি কেন অসন্তোষজনক সেটি উল্লেখ করি প্রতিযুক্তি দিন। ধন্যবাদ।
t0ctjbhuooztzlljdt8hor407ajwyip
মডিউল:Work/language
828
877600
1941213
1941173
2026-03-28T14:34:16Z
Bodhisattwa
2549
1941213
Scribunto
text/plain
return {
['Q1860'] = 'আরবি সাহিত্য', -- আরবি
['Q109016888'] = 'আরবি সাহিত্য', -- কোরানের আরবি
['Q8798'] = 'ইউক্রেনীয় সাহিত্য', -- ইউক্রেনীয়
['Q1860'] = 'ইংরেজি সাহিত্য', -- ইংরেজি
['Q1472196'] = 'ইংরেজি সাহিত্য', -- Early Modern English
['Q1617'] = 'উর্দু সাহিত্য', -- উর্দু
['Q5137'] = 'গুজরাটি সাহিত্য', -- গুজরাটি
['Q9129'] = 'গ্রিক সাহিত্য', -- গ্রিক
['Q35497'] = 'গ্রিক সাহিত্য', -- প্রাচীন গ্রিক
['Q107358'] = 'গ্রিক সাহিত্য', -- কোইনে গ্রিক
['Q7850'] = 'চীনা সাহিত্য', -- চীনা
['Q9035'] = 'ডেনীয় সাহিত্য', -- ডেনীয়
['Q58635'] = 'পাঞ্জাবি সাহিত্য', -- পাঞ্জাবি
['Q36727'] = 'পালি সাহিত্য', -- পালি
['Q150'] = 'ফরাসি সাহিত্য', -- ফরাসি
['Q9168'] = 'ফার্সি সাহিত্য', -- ফার্সি
['Q9610'] = 'বাংলা সাহিত্য', -- বাংলা
['Q4955986'] = 'ব্রজবুলি সাহিত্য', -- ব্রজবুলি
['Q36109'] = 'মৈথিলী সাহিত্য', -- মৈথিলী
['Q7737'] = 'রুশ সাহিত্য', -- রুশ
['Q11059'] = 'সংস্কৃত সাহিত্য', -- সংস্কৃত
['Q9333703'] = 'সংস্কৃত সাহিত্য', -- চিরায়ত সংস্কৃত
['Q33965'] = 'সাঁওতালি সাহিত্য', -- সাঁওতালি
['Q1568'] = 'হিন্দি সাহিত্য', -- হিন্দি
['Q9288'] = 'হিব্রু সাহিত্য', -- হিব্রু
['Q1982248'] = 'হিব্রু সাহিত্য', -- বাইবেলের হিব্রু
}
b24ldllxkh2fx8ad519eog432xfqgnn
পাতা:ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf/১৭৮
104
877665
1941206
2026-03-28T12:19:31Z
Hrishikes
1618
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1941206
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Hrishikes" />{{rh|১৬২|ভারতের শক্তি-সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য}}</noinclude>ডাক দেলে’; রণক্ষেত্রে তখন ‘ভদ্রকালী রূপ ধরি দেবী যে নাচন্তি’। দেবগণ সকলে মিলিয়া তখন মহাদেবীর রূপধারিণী সীতার স্তব-স্তুতি করিতে লাগিলেন।<ref>বিলঙ্কা-রামায়ণ; শ্রীপ্রফুল্লচন্দ্র দাস কর্তৃক প্রকাশিত, কটকের মনোহর প্রেসে মুদ্রিত।</ref>
{{gap}}বঙালী{{sic}} কবি জগৎরাম-কৃত রামায়ণেও আমরা দেবীমূর্তিধারিণী সীতা কর্তৃক রাবণ-বধের কাহিনী দেখিতে পাই। ‘জৈমিনী ভারতে’র আশ্রমপর্বেও এই কাহিনীর বর্ণনা আছে। ‘আনন্দ রামায়ণে’ সীতা কর্তৃক শতস্কন্ধ রাবণ-বধের কাহিনী আছে। ‘আনন্দ রামায়ণে’ ও ‘লিঙ্গামৃতে’ সীতা কর্তৃক কুম্ভকর্ণের পুত্রের নিধন-কাহিনী বর্ণিত আছে।<ref>রেভারেণ্ড ফাদার কামিল বুল্কে কর্তৃক হিন্দীতে লিখিত ‘রাম-কথা’ গ্রন্থখানির ৪৭৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।</ref>
{{gap}}এই-সকল উপাখ্যানের ভিতর দিয়া একটা জিনিস লক্ষ্য করিতে পারি—রাম-লক্ষ্মণ নিজের শক্তিতে রাবণ-বধ করিতে পারেন নাই, তাঁহাদিগকে দেবীর শরণ গ্রহণ করিতে হইয়াছিল, এবং দেবীই রাবণ-বধের মুখ্য কারণ। সারলা দাসের ‘বিলঙ্কা-রামায়ণে’ আরও একটি তথ্য লক্ষ্য করিতে পারি যে রাবণ মূলতঃ দেবীর ভক্ত এবং আশ্রিত ছিল। রাবণকেও আমরা ভদ্রকালীর স্তব করিতে দেখি—
{{block center|<poem>
জয় মাতা শাকম্ভরী শংকরঘরণী।
ত্রিলোক পালিনী মাতা ভক্ত উদ্ধারিণী॥
অভয় বর দায়িনী জয় মা পার্বতী।
রক্ষা কর মহামায়া পড়িল বিপত্তি॥
</poem>}}
{{gap}}তখন ‘রাবণ স্তবরে তোষ হোই ভগবতী’ রাবণকে নির্ভয় দান করিলেন। আমরা কৃত্তিবাসের রামায়ণেও রাবণ কর্তৃক ঠিক এইভাবেই অম্বিকার স্তব দেখিতে পাই। সুতরাং দেবীর আশ্রিত জনকে দেবীর শক্তি বা সাহায্য ব্যতীত বধ করা কিছুতেই সম্ভব ছিল না।
{{gap}}কিন্তু দেবীর আশ্রিত হইলেও শেষ পর্যন্ত রাবণ দেবী দ্বারাই নিহত হইয়াছিল এবং সীতা নিজেই সেই দেবী, এই-জাতীয় একটা লোকায়ত মত ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রচলিত ছিল। শূরবীর সিংহ ফতেহ্পুর জিলার একটি গ্রামে ‘জানকী বিজয়’ নামে ছোট একখানি হিন্দী পুঁথি আবিষ্কার করিয়াছেন; তাহাতে সীতাদ্বারা শ্বেত দ্বীপের অধিপতি সহস্রশীর্ষ রাবণের বধের কাহিনী বর্ণিত আছে।<ref>দ্রষ্টব্য ‘অমৃত পত্রিকা’ (হিন্দী), ২৭শে মে, ১৯৫৬।</ref>
{{gap}}ব্রজ-অঞ্চলে (মথুরা-বৃন্দাবন এবং পারিপার্শ্বিক অঞ্চলে) যে লৌকিক রামায়ণ-গীত বর্তমান কালেও প্রচলিত আছে তাহার মধ্যে একটি মজার কাহিনী<noinclude>{{rule|8em|align=left}}
{{smallrefs|85%}}</noinclude>
m9nm4e1lv7moa0haaunhb74otcucyqm
পাতা:ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf/১৭৯
104
877666
1941207
2026-03-28T12:36:27Z
Hrishikes
1618
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1941207
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Hrishikes" />{{rh||রামায়ণ-সাহিত্যে দেবী|১৬৩}}</noinclude>দেখিতে পাই। সীতাকে লইয়া রামচন্দ্র অযোধ্যায় ফিরিয়া আসিলে পর সীতা রামচন্দ্রকে বলিলেন যে রামচন্দ্র ত ‘রমনিয়া’কে মারিয়াছেন, রাবণকে মারিতে পারেন নাই। রাবণ লঙ্কায় থাকে না, সে থাকে ‘পলঙ্কা’য়—তাহার সহস্র শির এবং দ্বিসহস্র বাহু। শুনিয়া ভরত রামচন্দ্রকে বলিলেন, ‘তুমি ত এখন অযোধ্যার সিংহাসনে বস—আমি গিয়া রাবণ মারিয়া আসিতেছি।’ ভরত সৈন্য-সামন্ত লইয়া পলঙ্কা চলিলেন; কিন্তু নাকাসুর তাঁহাদিগকে অযোধ্যায় আনিয়া আটকাইয়া রাখিল। তখন সীতা নিজেই অগ্রবর্তী হইলেন, পলঙ্কা গিয়া রাবণকে খাইয়া ফেলিলেন এবং সেখান হইতে আর অযোধ্যায় ফিরিলেন না, সোজা কলিকাতায় আসিয়া ‘কালী মাই’ হইয়া রহিলেন। নারদ আসিয়া অযোধ্যায় ফিরিয়া যাইবার জন্য অনেক প্রার্থনা করিলেন, কিন্তু সীতা কিছুতেই রাজি হইলেন না, কালী মাই হইয়া কলিকাতায় রহিয়া গেলেন।
{{block center|<poem>
কিশ্ন অগারী পরি রহে পেস এক না খাই
সবরে জোধা চলি দএ, সবু লীনে বান উঠাই
পহুঁচী গয়ে কলকাত্তা মেঁ, তৌ মাতা মংদির পহুঁচী জাই।
মংদির পহুঁচী জাই পাস নারা তব জাগৌ
নারহু চরণ পর্যৌ ভৈরাই বাত অপনী ঠহরায়ৌ
মাতা তৌ ন্যৌঁ কহৈ সুনিলৈ জননী বাত
হমতে তূ তৌ কহা কহঁতি ঐ চলৌ হমারে সাথ।
সব চলিবে কী নাঁই অবঊ মতি আস লগায়ৌ
সবু দলু তুম ভগি জাউ পাস মতি মেরে আয়ৌ
বার বার তুমতে কহুঁ বচন কহুঁ সমুঝাই
কলকত্তা কী কালী বনি গঈ সবরে ঘার কূঁ জাই।<ref>আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে প্রকাশিত ‘ভারতীয় সাহিত্য’ পত্রিকায় (জুলাই, ১৯৫৭) ডক্টর সত্যেন্দ্র লিখিত ‘ব্রজলোক সাহিত্য মেঁ রামকথা’ প্রবন্ধ দ্রষ্টব্য।</ref>
</poem>}}
{{gap}}আধুনিক প্রসিদ্ধ হিন্দী কবি শ্রীসূর্যকান্ত ত্রিপাঠী (‘নিরালা’) বাঙলাদেশেই জন্মগ্রহণ এবং শিক্ষাগ্রহণ করিয়াছিলেন। মনে হয়, তিনি প্রত্যক্ষভাবে বাঙলাদেশের রামায়ণের প্রভাব পাইয়াছিলেন। ‘নিরালা’ কবি ‘রাম কী শক্তিপূজা’<ref>শ্রীসূর্যকান্ত ত্রিপাঠীর ‘অনামিকা’-শীর্ষক কবিতা-গ্রন্থে সঙ্কলিত।</ref> নামে একটি দীর্ঘ কবিতা রচনা করিয়াছেন; কবিতাটিতে তিনি বাঙলাদেশের রামায়ণে বর্ণিত রামচন্দ্র কর্তৃক দেবী-পূজার কাহিনীকে আধুনিক কবিকল্পনা ও কাব্য-কলায় মণ্ডিত করিয়া প্রকাশ করিয়াছেন। হিন্দী-সাহিত্যে কবিতাটির প্রসিদ্ধি আছে। অবশ্য হিন্দী-সাহিত্যে রামচন্দ্রের দেবী-পূজার কথা<noinclude>{{rule|8em|align=left}}
{{smallrefs|85%}}</noinclude>
2m65g1qq0f20iq5b5xzmxj3dddiopps
বিষয়শ্রেণী:ইউক্রেনীয় সাহিত্য
14
877667
1941210
2026-03-28T14:30:20Z
Bodhisattwa
2549
[[বিষয়শ্রেণী:রচনার ভাষা অনুযায়ী]] যোগ হটক্যাটের মাধ্যমে
1941210
wikitext
text/x-wiki
[[বিষয়শ্রেণী:রচনার ভাষা অনুযায়ী]]
bgor3dvba3ben66s7a3yxpnb4yl4urj
বিষয়শ্রেণী:উর্দু সাহিত্য
14
877668
1941211
2026-03-28T14:31:16Z
Bodhisattwa
2549
[[বিষয়শ্রেণী:রচনার ভাষা অনুযায়ী]] যোগ হটক্যাটের মাধ্যমে
1941211
wikitext
text/x-wiki
[[বিষয়শ্রেণী:রচনার ভাষা অনুযায়ী]]
bgor3dvba3ben66s7a3yxpnb4yl4urj
বিষয়শ্রেণী:গুজরাটি সাহিত্য
14
877669
1941212
2026-03-28T14:32:39Z
Bodhisattwa
2549
[[বিষয়শ্রেণী:রচনার ভাষা অনুযায়ী]] যোগ হটক্যাটের মাধ্যমে
1941212
wikitext
text/x-wiki
[[বিষয়শ্রেণী:রচনার ভাষা অনুযায়ী]]
bgor3dvba3ben66s7a3yxpnb4yl4urj
বিষয়শ্রেণী:সাঁওতালি সাহিত্য
14
877670
1941214
2026-03-28T14:35:08Z
Bodhisattwa
2549
"[[বিষয়শ্রেণী:রচনার ভাষা অনুযায়ী]]" দিয়ে পাতা তৈরি
1941214
wikitext
text/x-wiki
[[বিষয়শ্রেণী:রচনার ভাষা অনুযায়ী]]
bgor3dvba3ben66s7a3yxpnb4yl4urj