উইকিসংকলন bnwikisource https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.46.0-wmf.22 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিসংকলন উইকিসংকলন আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা লেখক লেখক আলাপ নির্ঘণ্ট নির্ঘণ্ট আলাপ পাতা পাতা আলাপ প্রবেশদ্বার প্রবেশদ্বার আলাপ প্রকাশক প্রকাশক আলোচনা রচনা রচনা আলাপ অনুবাদ অনুবাদ আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ Event Event talk উইকিসংকলন:লিপিশালা 4 140 1941572 1941264 2026-04-03T17:12:04Z MediaWiki message delivery 2648 /* Action Required: Update templates/modules for electoral maps (Migrating from P1846 to P14226) */ নতুন অনুচ্ছেদ 1941572 wikitext text/x-wiki {{প্রক্রিয়ার শীর্ষক | শিরোনাম = লিপিশালা | অনুচ্ছেদ = | পূর্ববর্তী = [[উইকিসংকলন:সম্প্রদায়ের প্রবেশদ্বার|সম্প্রদায়ের প্রবেশদ্বার]] | পরবর্তী = [[উইকিসংকলন:লিপিশালা/মহাফেজখানা|মহাফেজখানা]] | সংক্ষিপ্ত = [[WS:S]]<br/>[[WS:আলোচনাসভা]] | টীকা = লিপিশালা উইকিসংকলন সম্প্রদায় আলোচনা পৃষ্ঠা। যে কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা মন্তব্য করুন মুক্ত মনে। আপনি যেকোন বর্তমান আলোচনায় মন্তব্য করতে পারেন অথবা একটি নতুন শুরু করতে পারেন।<!--প্রকল্প সদস্যরা প্রায়ই #wikisource IRC চ্যানেল webclient পাওয়া যাবে।--> এছাড়া এটি উইকিসংকলনের প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য নিবেদিত পাতা। এখানে প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে যেকোনো প্রসঙ্গ তুলে ধরতে পারেন। উইকিসংকলনের যেকোন সদস্য প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে এখানে মন্তব্য রাখতে পারেন। }} {{উইকিসংকলন:লিপিশালা/দিকনির্দেশ}} __TOC__ __NEWSECTIONLINK__ [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলন প্রশাসন]] == সার্বজনীন আচরণবিধি ও প্রয়োগ নির্দেশিকার বার্ষিক পর্যালোচনা == <section begin="announcement-content" /> আপনাকে জানানো হচ্ছে যে, সার্বজনীন আচরণবিধি ও প্রয়োগ নির্দেশিকার বার্ষিক পর্যালোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে। আপনি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত যেকোন পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে পারেন। বার্ষিক পর্যালোচনার নির্ধারিত ধাপগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম। [[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Annual review/2026|আরও বিস্তারিত জানতে এবং মেটা-উইকির UCoC পাতায় চলমান আলোচনায় অংশ গ্রহণ করতে এখানে ক্লিক করুন]]। ​[[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Coordinating Committee|সার্বজনীন আচরণবিধি সমন্বয় কমিটি]] (ইউ৪সি) একটি বৈশ্বিক দল, যা সার্বজনীন আচরণবিধির ন্যায্য ও ধারাবাহিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করে। এই বার্ষিক পর্যালোচনাটি ইউ৪সি কর্তৃক পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইউ৪সি এবং এর দায়িত্বসমূহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে, আপনি [[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Coordinating Committee/Charter|ইউ৪সি সনদ দেখতে পারেন]]। দয়া করে এই তথ্যটি আপনার সম্প্রদায়ের অন্যান্য সদস্যদের সাথে এবং অন্য যে কোনও উপযুক্ত স্থানে শেয়ার করুন। -- ইউ৪সি-এর সহযোগিতায়, [[m:User:Keegan (WMF)|কিগান (WMF)]] ([[m:User talk:Keegan (WMF)|আলাপ]])<section end="announcement-content" /> ২১:০২, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) (এই বার্তাটি [[:উইকিসংকলন:প্রশাসকদের আলোচনাসভা]] পাতায় পাঠানো হয়েছিল ও একটি পুনর্নির্দেশের কারণে এখানে পোস্ট করা হচ্ছে।) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=Distribution_list/Global_message_delivery&oldid=29905753-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:Keegan (WMF)@metawiki পাঠিয়েছেন --> == PageImages এক্সটেনশন যোগ == {{tracked|T416800}} সুধী, উইকিসংকলনে [[:mw:Extension:PageImages|PageImages এক্সটেনশন]] যোগ করার জন্য সম্প্রদায়ের মতামত ও সমর্থন চাওয়া হচ্ছে। এই এক্সটেনশন যোগ করলে উইকিসংকলনের পাতায় যুক্ত ছবির থাম্বনেল তৈরি করে বাইরের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তা প্রদর্শিত হবে। উল্লেখ্য সকল উইকিপিডিয়া প্রকল্পে এই এক্সটেনশন ইতিমধ্যে অনেকদিন ধরেই যুক্ত। -- [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ১৫:০৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} -- [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১৫:২০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{support}} - [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ১৫:৫৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:জয়শ্রীরাম সরকার|জয়শ্রীরাম সরকার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:জয়শ্রীরাম সরকার|আলাপ]]) ১৬:৫১, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Nettime Sujata|Nettime Sujata]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Nettime Sujata|আলাপ]]) ১১:১৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Mahir256|মাহির২৫৬]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mahir256|আলাপ]]) ১৪:৫৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} – [[User:Tarunno|<span style="display:inline-block;color:#008329;font-weight:bold; transform: scale(-1,1);text-shadow:0 1px 2px #ddd">তারুণ্য</span>]]<span style="font-size:10px;vertical-align:text-top;"> [[ব্যবহারকারী আলাপ:Tarunno|আলাপ]]</span> • ১৫:০৬, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৫:৩৭, ১৭ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) == ২০০০-পূর্ব বাংলাদেশি কর্মের কপিরাইট মেয়াদ == সুধী, আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন। বাংলাদেশে <small>(ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে)</small> প্রকাশিত কর্ম এবং বাংলাদেশি <small>(ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানি)</small> লেখকদের কপিরাইট মেয়াদ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাবনা আমরা উত্থাপন করছি। প্রস্তাবনা: বাংলাদেশি/পূর্ব পাকিস্তানি নাগরিকের বা বাংলাদেশে/পূর্ব পাকিস্তানে প্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''সাহিত্যিক''' কর্মের ক্ষেত্রে কপিরাইট মেয়াদ: '''লেখকের মৃত্যু + ৫০ বছর'''; # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''সরকারি''' কর্মের ক্ষেত্রে: '''প্রকাশ + ৫০ বছর'''; # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''ছবি''' কর্মের ক্ষেত্রে: '''প্রকাশ + ৫০ বছর'''; # এবং ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে [https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047 কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২]-এর অধ্যায় ৩ কর্তৃক প্রণীত [[#মেয়াদ ৬২|অন্যান্য মেয়াদ সমূহ]]। এই প্রস্তাবনা লিখিতভাবে উপস্থাপনে সার্বিক সহায়তার জন্য [[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]]কে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। === আইনি বিশ্লেষণ ও যৌক্তিকতা === বর্তমান বাংলাদেশি ভূখণ্ডে কপিরাইট আইনসমূহের ক্রম নিচে উল্লেখ করা হলো: {| class="wikitable" style="margin: auto;" !আইন !সময়কাল !সাধারণ মেয়াদ |- |[https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/15848 ভারতীয় কপিরাইট আইন ১৯১৪] |১৯১৪ - ১৯৬২ |৫০ বছর |- |[https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047 কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২]<br>(১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |১৯৬২ - ২০০০ |৫০ বছর |- |[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html কপিরাইট আইন, ২০০০]<br>(২০০৫ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |২০০০ - ২০২৩ |৬০ বছর |- |[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452.html কপিরাইট আইন, ২০২৩] |২০২৩ - বর্তমান |৬০ বছর |- | colspan="3" |যেকোনো আইন রহিতকরণের ক্ষেত্রে:<br>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬]<br>(২০১৮ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |} অর্থাৎ ২০০০ সালের আইনে কপিরাইটের সাধারণ মেয়াদ প্রথমবারের মতো ৫০ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৬০ বছরে উন্নীত করা হয় এবং ২০২৩ সালের আইনেও তা চলমান থাকে।  স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ২০০০ সালের পূর্বে প্রকাশিত যে কর্মগুলোর কপিরাইট মেয়াদ তখনো শেষ হয়নি (যেমন, ১৯৯০ সালের একটি প্রকাশনা), সেগুলো কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বর্ধিত ৬০ বছরের মেয়াদের আওতায় চলে আসবে? শুরুতে মনে হতে পারে, যেহেতু নতুন আইনে সাধারণ মেয়াদ ৬০ বছর, তাই পুরনো সব বিদ্যমান কর্মও হয়তো এই সুবিধা পাবে। কিন্তু আইনের '''আক্ষরিক ব্যাখ্যা''' অনুসরণ করলে আমরা বিপরীত চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।  [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] ও সাধারণ আইনি কর্যধারা অনুযায়ী, কোনো আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে নতুন কোনো বিধান ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) পেছনের কর্মের ওপর কার্যকর হয় না। ২০০০ সালের আইনের কোথাও স্পষ্টভাবে বলা নেই যে, পূর্বের কর্মগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাবে। বরং এই <mark>আইনের ১০৫ নং ধারা অনুযায়ী ১৮ জুলাই, ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে যেকোনো কর্মের মেয়াদ বর্ধিত করা হয়নি।</mark>  <div style="float: right; margin-left: 15px; margin-bottom: 5px; border: 2px solid yellow"> {{show |1= আইন দেখুন |2={{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-846/section-30242.html|ধারা ১০৪|}}<br>ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html|কপিরাইট আইন, ২০০০}}}} ১০৪। এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে যাহা এই আইনের অনূদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে। {{Collapse bottom|}} }} </div> উল্লেখ্য, ধারা ১০৪ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার একটি নির্ভরযোগ্য অনূদিত পাঠ প্রদান করেছে। ইংরেজি ও বাংলা পাঠের সাথে সংঘর্ষ হলে, বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে। সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বাংলা পাঠ হতে আসতে হবে। তবে ইংরেজি পাঠ সংযুক্ত রাখা হয়েছে বোঝার সুবিধার্থে এবং আইনের ইন্টেন্ট বা উদ্দেশ্য পরিষ্কার করার জন্য। <div style="display:flex; flex-wrap:wrap; gap:10px;"> <div style="flex:1; min-width:300px; padding:10px;"> {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-846/section-30242.html|ধারা ১০৫|}}<br>রহিতকরণ, হেফাজত এবং ক্রান্তিকালীন বিধান<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html|কপিরাইট আইন, ২০০০}}}} ১০৫। (১) The Copyright Ordinance, 1962 (Ordinance no XXXIV of 1962) এতদ্বারা রহিত করা হইল। (২) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে এমন কোন কাজ করিয়া থাকেন যা দ্বারা তিনি সংশ্লিষ্ট সময়ে আইন মোতাবেক কোন কর্মের পুনরুৎপাদন বা সম্পাদনের জন্য অথবা এই আইন কার্যকর না হইলে ঐরূপ পুনরুৎপাদন বা সম্পাদন বৈধ হইত এমন কোন কর্মের পুনরুৎপাদন বা সম্পাদনের জন্য কোন প্রকার ব্যয় বা দায় এর জন্য দায়ী হন, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছুই ঐরূপ কাজ হইতে বা তৎসূত্রে উদ্ভূত কোন অধিকার বা স্বার্থ খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না, যদি না এই আইনবলে পুনরুৎপাদন বা সম্পাদন করিবার অধিকারী ব্যক্তি চুক্তিভঙ্গের দরুণ বোর্ড যেরূপ নির্ধারণ করে ঐরূপ ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে সম্মত না হন। (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত আইনের অধীন কোন কর্মের কপিরাইট ছিল না এমন কোন কর্মের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কপিরাইট থাকিবে না।   (৪) এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে যেক্ষেত্রে কোন কর্মের কপিরাইট বিদ্যমান ছিল ঐরূপ কপিরাইটের অন্তর্ভুক্ত অধিকার, এই আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ হইতে, কর্মটি যে শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ঐ শ্রেণী সম্বন্ধে ধারা ১৪-এ উলি্লখিত অধিকার হইবে এবং যদি উক্ত ধারা দ্বারা কোন নতুন অধিকার প্রদত্ত হয়, তাহা হইলে উক্ত অধিকারের মালিক- :(ক) এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে কর্মটির কপিরাইটের সম্পূর্ণ স্বত্ব-নিয়োগ হইয়া থাকিলে, উক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত স্বত্বাধিকারী স্বার্থের উত্তরাধিকারী হইবেন। :(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, ঐ ব্যক্তি হইবেন যিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন বাতিলকৃত আইনে কর্মটির কপিরাইটের প্রথম স্বত্বাধিকারী ছিলেন।   <mark>(৫) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, কোন ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে, তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন তাহা অব্যাহত থাকিবে।</mark>   <br>(৬) এই আইনের কোন কিছুই উহা কার্যকর হওয়ার পূর্বে কৃত কোন কাজ কপিরাইট লঙ্ঘনজনিত কাজ হিসাবে ব্যাখ্যায়িত হিসাবে গণ্য হইবে না, যদি ঐ কাজ অন্যভাবে ঐরূপ অধিকারলঙ্ঘন গঠন না করিয়া থাকে।   <br>(৭) এই ধারায় ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, রহিতকরণের ফলাফলের বিষয়ে ১৮৯৭ সনের জেনারেল ক্লজেস এ্যাক্ট (১৮৯৭ সনের ১০নং আইন) প্রযোজ্য হইবে। {{Collapse bottom|}} </div> <div style="flex:1; min-width:300px; padding:10px;"> {{Collapse top|Section 105<br>Repeals, savings and transitional provisions<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/upload/act/2021-11-17-10-44-05-32.-The-Copyright-Act-2000.pdf|Authentic English Text of Copyright Act, 2000 }}}} 105. (1) The Copyright Ordinance, 1962, (Ordinance no XXXIV of 1962) is hereby repealed. (2) Where any person has, before the commencement of this Act, taken any action whereby he has incurred any expenditure or liabilities in connection with the reproduction or performance of any work in a manner which at that time was lawful or for the purpose of or with a view to the reproduction or performance of a work at a time when such reproduction or performance would, but for the coming into force of this Act, have been lawful, nothing in this section shall diminish or prejudice any rights or interests arising from or in connection with such action which are subsisting and valuable at the said date, unless the person who, by virtue of this Act, becomes entitled to restrain such reproduction or performance agrees to pay such compensation as, failing agreement, may be determined by the Board. (3) Copyright shall not subsist by virtue of this Act in any work in which copyright did not subsist immediately before the commencement of this Act under any Act or Ordinance repealed by sub-section (1).  (4) Where copyright subsisted in any work immediately before the commencement of this Act, the rights comprising such copyright shall, as from the date of such commencement, be the rights specified in section 14 in relation to the class of works to which such work belongs, and where any new rights are conferred by that section, the owner of such rights shall be⎯ :(a) in any case where copyright in the work was wholly assigned before the commencement of this Act, the appointed assignee; and :(b) in any other case, the person who was the first owner of the copyright in the work under any Act or Ordinance repealed by sub-section (1) or his legal representatives. <mark>(5) Except as otherwise provided in this Act, where any person was entitled immediately before the commencement of this Act to copyright in any work or any right in such copyright or to an interest in any such right, he shall continue to be entitled to such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force.</mark> (6) Nothing contained in this Act shall be deemed to render any act done before its commencement an infringement of copyright if that act would not otherwise have constituted such an infringement. (7) If there is nothing otherwise provided by this section, the General Clauses Act, 1897 (Act X of 1897) shall apply with respect to the effect of repeals. {{Collapse bottom|}} </div> </div> উপরের ধারা ১০৫(৫) অনুসারে সিদ্ধান্তে আসা যায়, নতুন আইন প্রবর্তনের পূর্বে যে কর্মগুলোর কপিরাইট বহাল ছিল, সেগুলোর মেয়াদকাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে যেন ২০০০ সালের আইনটি পাসই হয়নি। অর্থাৎ, পুরোনো কর্মগুলোর ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত ৫০ বছরের মেয়াদই বলবৎ থাকবে। ধারা ১০৫(৫) এর একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হলো: {| class="wikitable" |+ !বিষয় !বাংলা !ইংরেজি !ব্যাখ্যা |- |'''দ্বন্দ্ব''' |এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে |Except as otherwise provided in this Act |সাধারণ হেফাজত। আইনে ভিন্ন কিছু উল্লেখ নেই। |- |'''কে?''' |কোন ব্যক্তি |where any person |বাংলাদেশি কর্মের প্রণেতা |- |'''কখনকার কর্ম?''' |এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে |was entitled immediately before the commencement of this Act |১৮ জুলাই, ২০০০ এর পূর্বে |- |'''কী?''' |কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে |to copyright in any work or any right in such copyright or to an interest in any such right |কপিরাইট সুরক্ষা |- |'''সময়কাল''' |তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন |such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force. |২০০০ এর আইন না থাকলে ৫০ বছর মেয়াদি সুরক্ষা থাকতো। |- |'''ক্রিয়া''' |তাহা অব্যাহত থাকিবে |he shall continue to be entitled to |৫০ বছর সুরক্ষা পাবে |} ১. '''দ্বন্দ্ব''': ''"এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে"'' - এই বাক্যাংশটি "দ্বন্দ্ব নিরোধ" হিসেবে পরিচিত। বাক্যাংশটি মূলত একই বা ভিন্ন আইনের সাথে দ্বন্দ্ব রোধে ঢালাওভাবে ব্যবহৃত হয়। ধারা ১০৫(৫) চাচ্ছে পূর্বের প্রদত্ত আইনি সুরক্ষার মেয়াদ অব্যাহত রাখতে। এই মেয়াদের অব্যাহতি ঢালাওভাবে সকল বাংলাদেশি কর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু এই ঢালাওভাবে প্রয়োগ সহজেই অপ্রত্যাশিত দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। এই দ্বন্দ্ব বর্তমানে প্রতীয়মান না হলেও, ভবিষ্যতে কোনো মামলায় আবিষ্কৃত হতে পারে। ফলে আপাত দৃষ্টিতে দ্বন্দ্ব না থাকলেও, সুরক্ষার খাতিরে এই দ্বন্দ্ব নিরোধ অংশ যুক্ত করেন আইন প্রণেতারা। এখন প্রশ্ন হতে পারে দ্বন্দ্ব আছে নাকি নেই? এই উপধারার সাথে কী প্রকারের দ্বন্দ্ব হওয়ার সুযোগ আছে? উদাহরণ স্বরূপ ধরি, ৬২-এর আইনে লোকসংস্কৃতির মেয়াদ ছিল ২৫ বছর কিন্তু নতুন আইন সেটাকে অসীম সুরক্ষা দিয়েছে। যেহেতু লোক সংস্কৃতির প্রকাশকাল নেই বা থাকলেও সেটি ২০০০ সালের পরে প্রকাশিত হলে সেটি আর লোকসংস্কৃতি বলে বিবেচিত হবে না। তাহলে এখানে দ্বন্দ্ব প্রতীয়মান হওয়ার সুযোগ আছে। পুরাতন আইনের অধীনে থাকলে, আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী এরা অসীম সুরক্ষা পাবে না। তাই এক্ষেত্রে আইনের মূল অংশ প্রাধান্য পাবে। উল্লেখ্য এটি একটু উদাহরণ মাত্র এবং বাস্তবতার সাথে মিল নেই। আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো সাধারণ সাহিত্যকর্ম, ছবি, সরকারি কর্ম ইত্যাদি। এই বিষয়সমূহে এরূপ কোনো দ্বন্দ্ব নেই আইনে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আইনে তো নতুন ৬০ বছর মেয়াদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ধারা চাচ্ছে আগের মেয়াদ অব্যাহত রাখতে, তাহলে এটা কি দ্বন্দ্ব? আইনি ব্যাখ্যার সুপ্রতিষ্ঠিত 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy) অনুযায়ী এই ধারণাটি পুরোপুরি যৌক্তিক নয়। আইনে কখনোই কোনো অর্থহীন বা অপ্রয়োজনীয় ধারা যুক্ত করা হয় না। যদি ২৪ থেকে ৩৩ ধারার সাধারণ ৬০ বছরের নিয়মটিকেই ১০৫(৫) ধারায় উল্লেখকৃত 'ভিন্নরূপ বিধান' হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তবে ১০৫(৫) ধারাটির কোনো প্রয়োগই অবশিষ্ট থাকে না। আইনশাস্ত্রে একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, 'বিশেষ বিধান সাধারণ বিধানের ওপর প্রাধান্য পায়' (Lex specialis derogat legi generali)। আইনের ২৪ থেকে ৩৩ ধারা হলো কপিরাইট মেয়াদের একটি General Provision, যা আইন পাসের পর থেকে নতুন কর্মের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে ১০৫(৫) ধারা হলো পুরোনো কর্মের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বিশেষ বিধান। প্রকৃতপক্ষে <mark>এখানে "ভিন্নরূপ বিধান" বলতে বোঝানো হয়েছে: যদি আইনের অন্য কোথাও স্পষ্টভাবে লেখা থাকত যে "পুরোনো 'কোনও' কর্মের মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাবে", কেবল তখনই সেটি কার্যকর হতো।</mark> ২. '''কে?''': ''"কোন ব্যক্তি"'' - বাংলাদেশি কর্মের প্রণেতাকে বুঝানো হয়েছে। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ২(২৭) ধারা অনুযায়ী: (২৭) "বাংলাদেশী কর্ম" অর্থ এমন সাহিত্য, নাট্য, সংগীত বা শিল্প কর্ম- (ক) যাহার প্রণেতা বাংলাদেশের নাগরিক; বা (খ) যাহা প্রথম বাংলাদেশে প্রকাশিত হইয়াছে; বা (গ) অপ্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে, যাহার প্রণেতা উহা তৈরীর সময় বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন; ৩. '''কখনকার কর্ম?''': ''"এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে"'' - কপিরাইট আইন, ২০০০ কার্যকর হয়েছে ১৮ জুলাই, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ উক্ত তারিখের পূর্বে প্রকাশিত যেকোনো কর্মের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য। ৪. '''কী?''': ''"কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে"'' - সাধারণ কপিরাইট সুরক্ষা। ৫. '''সময়কাল''': ''"তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন" / "such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force."'' - এই অংশে বলা আছে যে, ''এই আইন কার্যকর না হইলে'' কিন্তু আইন যেহেতু কার্যকর হয়েছে, এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তাই এই অংশ প্রযোজ্য নয়। এখানে আমাদের পূর্ববর্তী 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' যুক্তি প্রযোজ্য। আর এই বাক্যাংশটি শর্তমূলক (conditional clause) নয়। এখানে ''"এই আইন কার্যকর না হইলে"'' ("''if this Act had not come into force''") একটি counterfactual / irrealis / hypothetical / unreal conditional clause. আরও নির্দিষ্টভাবে, এটি হলো: * একটি শর্তবাচক উপবাক্য * যা past perfect রূপে আছে * এবং একটি অবাস্তব অতীত শর্ত প্রকাশ করছে * ব্যাকরণ আলোচনায় একে প্রায়ই প্রতিবাস্তব (counterfactual), অবাস্তব (irrealis), বা কাল্পনিক (hypothetical) বলা হয় এতে এই অর্থ নেই যে আইনটি সত্যিই কার্যকর হয়নি। এর অর্থ হলো যে এই অধিকার বা স্বার্থ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এমন একটি অবস্থা কল্পনা করতে হবে, যেখানে এই আইন কখনোই কার্যকর হয়নি; এবং সেই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কত সময়ের জন্য ওই অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হতেন, তা নির্ধারণ করতে হবে। অতএব বাক্যটি একটি আইনগত-কাল্পনিক তুলনা ব্যবহার করছে: বাস্তব অবস্থা: আইনটি কার্যকর আছে। কল্পিত অবস্থা: আইনটি কার্যকর হয়নি। তারপর আইনটি জিজ্ঞেস করছে: এই কল্পিত অবস্থায় ব্যক্তি কোন সময়কাল পর্যন্ত অধিকারী হতেন? এটি আইন প্রণয়নে খুবই সাধারণ একটি কৌশল। এখানে “অসম্ভব” কথাটির অর্থ গোঁজামিল বা অযৌক্তিক নয়; বরং এটি অধিকার নির্ণয়ের জন্য একটি প্রতিবাস্তব মানদণ্ড। ৬. '''ক্রিয়া''': ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' (''"he shall continue to be entitled to"''): এখানে "আব্যাহত"কে বাংলাদেশ সরকার ইংরেজিতে continue শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। {{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1123.html|বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩}} দ্বারা কার্যরত বাংলা ভাষা বিষয়ক বাংলাদেশি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলা একাডেমি। বাংলাদেশ সরকার তার নিজের সরকারি কাজে বাংলা ব্যবহারে বাংলা একাডেমির নিয়ম মানতে নির্দেশনা দেয়।<sup>[https://file-rajshahi.portal.gov.bd/files/bscic.rajshahi.gov.bd/files/62628c74_11b2_48a4_98e3_e694fdb18021/604f94fbbfa1ac882cb826c1fe5a2784.pdf]</sup> তাদের প্রকাশিত [https://web.archive.org/web/20210117115141/https://xeroxtree.com/pdf/adhunik_bangla_ovidhan.pdf আধুনিক বাংলা অভিধান] অনুযায়ী নকশা, মডেল ও ডিজাইনের সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, এই সংজ্ঞাসমূহ মানতে আইন {{color|red|বাধ্য (binding) নয়}}। অব্যাহত <small>/অব্ব্যাহতো/</small> [স. 7+| 17 + sqrt(27) + 5 ] বিণ, ১ অপ্রতিহত, অবাধ (অব্যাহত গতি)। ২ অব্যর্থ। ৩ অপ্রতিবন্ধ। অপ্রতিহত অর্থ বাধাহীনভাবে। অর্থাৎ, এই অংশ দ্বারা বলা হয়েছে। তার আগের মেয়াদ continue করবে। আগে যা ছিল তাই থাকবে। এবং তার মেয়াদে কোনো বাধা থাকবে না। অনেকে প্রায়োগিক অর্থ ভেবে বলতে পারেন যে, এই আইন শুধু চাচ্ছে যে অধিকার খর্বকারী মেয়াদ না কমাতে। কিন্তু অব্যাহত-এর বুৎপত্তিগত এবং সকল সংজ্ঞা অনুযায়ী, মেয়াদে বাধা দেবে না। এটি উভয়দিকে কাজ করে। শুধুমাত্র একদিকে নয়। সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রয়োগ ভিন্ন মানুষ ভিন্নভাবে নিতে পারে। এজন্য বুৎপত্তিগত ব্যাখ্যা মেনে নেওয়া শ্রেয়। আইনের ইন্টেন্ট বুঝার জন্য ইংরেজি অনুবাদ ব্যাবহার করা যেতে পারে। ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। যা বুঝায়, আগে যা ছিল তাই থাকবে। অর্থাৎ আগের ৫০ বছর মেয়াদ বলবৎ থাকবে। '''ধারা ১০৫(১)''': কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ রহিত করা হয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয়। ধারা ১০৫, আগের আইনের অধীন প্রকাশিত কর্মসমূহ নিজ নতুন আইনের আওতায় আত্তীকরণ করেনি, যেমনটা কপিরাইট আইন, ২০২৩ করেছে। অর্থাৎ, আগের কর্মসমূহের লাইসেন্স বিবেচনা কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর আলোকে করতে হবে। '''ধারা ১০৫(২)''': কোন মামলা বা অপরাধ ২০০০ এর আগে সংঘটিত হলে, তা আগের আইনের অধীনে বিচার হবে। '''ধারা ১০৫(৩)''': কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। '''ধারা ১০৫(৪)''': এই ধারায় "অধিকারের পরিধি বা প্রকৃতি" ব্যাখ্যা করা হয়ছে; "মেয়াদ" নয়। ১০৫(৪)-এর আশ্রয় নিয়ে প্রস্তাবের আরেকটা বিরোধিতা করা যেতে পারে যে ''ধারা ১০৫(৪)-এ বলা হয়েছে, পুরোনো কর্মগুলো নতুন আইনের "ধারা ১৪-এ উল্লিখিত অধিকার" পাবে। ফলে, যেহেতু কর্মটি নতুন আইনের (১৪ ধারার) অধীনে চলে আসছে, তাই এর মেয়াদও নতুন আইনের ৬০ বছর হওয়া উচিত।'' উ: আইনের দৃষ্টিতে "অধিকারের পরিধি বা প্রকৃতি" এবং "অধিকারের মেয়াদ" সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। ধারা ১০৫(৪) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শুধুমাত্র "ধারা ১৪"-এর কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে কপিরাইটের মেয়াদ নিয়ে একটি শব্দও নেই। ধারা ১৪ কেবল সংজ্ঞায়িত করেছে কপিরাইট বলতে কী কী 'কর্ম' বোঝায় এবং সেসব 'কর্ম'-এর কোন কোন অধিকার একচেটিয়াভাবে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ধারা ১০৫(৪) পুরোনো কর্মগুলোকে কেবল ধারা ১৪-তে থাকা নতুন ধরনের অধিকার ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই অধিকারটি কতদিন বজায় থাকবে, অর্থাৎ সময়কাল বা মেয়াদের বিষয়টি ঠিক তার পরের উপধারা ১০৫(৫)-এ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। <mark>১০৫(৫)-এ পরিষ্কার বলা হয়েছে, অধিকার যা-ই হোক না কেন, ব্যক্তি ঠিক সেই "সময়ের জন্য" অধিকার ভোগ করবেন, যা তিনি এই নতুন আইন না এলে পেতেন (অর্থাৎ ৫০ বছর)।</mark> '''ধারা ১০৫(৫)''': ব্যাখ্যা করা হয়েছে। '''ধারা ১০৫(৬)''': ধরুন এক প্রকারের পুনঃব্যবহার অনুমতি ১৯৬২ সালের আইনে দেওয়া হলেও, ২০০০ সালের আইনে দেওয়া হয়নি। তাহলে ২০০০ সালের আগে সেই কর্ম কেউ পুনঃব্যবহার করে থাকলে, সেটি নতুন আইনের আওতায় দণ্ডনীয় নয়। '''ধারা ১০৫(৭)''': [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] এর ৬ষ্ঠ ধারা বাংলাদেশের যেকোনো আইনের রহিতকরণের প্রভাব নির্ধারণ করে। কপিরাইট আইন, ২০০০-এর ১০৫(৭)-এ তা উল্লেখ করা আছে। ১০৫(৭)-এ উল্লেখ করা না থাকলেও, এই আইন বলবৎ থাকতো। কপিরাইট বাদেও এই ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল আইন অ-ভূতাপেক্ষ (Non-retroactive) যদিনা নতুন আইনে আলাদা করে উল্লেখ না থাকে। [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] এর ৬(গ) ধারা অনুযায়ী, নতুন আইনে অন্যথায় উল্লেখ না থাকলে, নতুন আইন নাগরিকের পূর্ব আইনের আওতায় প্রাপ্ত রাইট (অধিকার)কে প্রভাবিত করবে না। কপিরাইট এর নামানুসারেই একপ্রকারের রাইট বা অধিকার। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ধারা ১০৫ এই অংশের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। affect অর্থ প্রভাবিত করা। সেটা অধিকার বৃদ্ধি বা হ্রাস উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ১৯৬৩ সালের প্রকাশিত কোনো প্রকাশনার ক্ষেত্রে, কর্মের স্রষ্টা ৫০ বছরের অধিকার পেয়েছিলেন তার কর্মের উপর। আমি জনগণ, ৫০ বছর পর এটি মুক্তভাবে ব্যাবহারের অধিকার পেয়েছিলাম। নতুন আইন যেহেতু পূর্বের কর্মের ব্যাপারে কিছু বলেনি; শুধু নতুন কর্মের জন্য নতুন বর্ধিত অধিকার দিয়েছে। তাই এই আইন অনুযায়ী নতুন আইন আমার পূর্বে প্রাপ্ত অধিকারকে প্রভাবিত করবে না। সেটা যেকারো লাভ বা ক্ষতি যেজন্যই হোক না কেনো। ২০০০ এর আইনের ১০৫(৫)-এ এই আইনের নীতিমালাকে প্রয়োগ করা হয়েছে। {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-73/section-19978.html|Section 6}}<br>Effect of repeal<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html|The General Clauses Act, 1897}}}} 6. Where this Act, or any Act of Parliament or Regulation made after the commencement of this Act, repeals any enactment hitherto made or hereafter to be made, then, unless a different intention appears, the repeal shall not- :(a) revive anything not in force or existing at the time at which the repeal takes effect; or :(b) affect the previous operation of any enactment so repealed or anything duly done or suffered thereunder; or :<mark>(c) affect any right, privilege, obligation or liability acquired, accrued or incurred under any enactment so repealed;</mark> or :(d) affect any penalty, forfeiture or punishment incurred in respect of any offence committed against any enactment so repealed; or :(e) affect any investigation, legal proceeding or remedy in respect of any such right, privilege, obligation, liability, penalty, forfeiture or punishment as aforesaid; and any such investigation, legal proceeding or remedy may be instituted, continued or enforced, and any such penalty, forfeiture or punishment may be imposed as if the repealing Act or Regulation had not been passed. {{Collapse bottom|}} '''কপিরাইট আইন, ২০২৩''': এবার বর্তমানে বলবৎ 'কপিরাইট আইন, ২০২৩'-এ আসি। বলা যেতে পারে, নতুন আইনের ১২৭(২)(ক) ধারায় যেহেতু (২০০০-এর আইনে থাকা) পুরোনো অধিকারগুলো বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে, তাই পুরোনো কর্মগুলোও ৬০ বছর মেয়াদ পাবে। কিন্তু ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ৬(c) ধারা অনুযায়ী, রহিতকৃত আইনের অধীনে নির্ধারিত অধিকারের কাঠামো (যেমন ৫০ বছরের সীমা) অপরিবর্তিত থাকে। ফলে ২০২৩ সালের আইনটি কেবল সেই অবস্থাকেই সংরক্ষণ করে, যা ২০০০ সালের আইনের অধীনে অর্জিত হয়েছিল। যেহেতু ২০০০ সালের আইনটি ১০৫(৫) ধারার মাধ্যমে পুরোনো কর্মগুলোর মেয়াদকে সুনির্দিষ্টভাবে ৫০ বছরেই আটকে দিয়েছিল এবং অতিরিক্ত দশ বছর যুক্ত করার পক্ষে স্পষ্ট কোনও বিধান রাখেনি, তাই ২০২৩ সালের আইনও সেটিকে নতুন করে ৬০ বছরে উন্নীত করেনি। নিচে ২০২৩ সালের আইনের রহিতকরণ ধারাটি দেওয়া হলো:  {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html|ধারা ১২৭|}}<br>রহিতকরণ ও হেফাজত<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1452.html|কপিরাইট আইন, ২০২৩}}}} ১২৭। (১) কপিরাইট আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ২৮ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল। (২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত আইনের অধীন- :(ক) <mark>কৃত কোনো কাজ-কর্ম</mark>, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রণীত কোনো বিধি, জারীকৃত প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি, প্রদত্ত আদেশ, স্বত্বনিয়োগ, <mark>নিবন্ধন বা লাইসেন্স</mark>, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে, এবং এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন কৃত, গৃহীত, প্রণীত, জারীকৃত বা প্রদত্ত বলিয়া গণ্য হইবে; :(খ) উক্ত আইনের অধীন সূচিত কোনো কার্যধারা অসম্পূর্ণ থাকিলে উহা উক্ত আইন অনুযায়ী এইরূপে সমাপ্ত করা হইবে, যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই; :(গ) দায়েরকৃত কোনো মামলা বা মোকদ্দমা কোনো আদালতে চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই; :(ঘ) উক্ত আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বোর্ড এইরূপে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে; এবং :(ঙ) কপিরাইট অফিসে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিতপূর্বে যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে চাকুরিতে নিয়োজিত থাকিবেন এবং পূর্বের নিয়মে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন। {{Collapse bottom|}} উল্লেখ্য যে কপিরাইট আইন, ২০২৩ তার পূর্বসূরী আইন (শুধুমাত্র ২০০০ এর আইন)-এর অধীন প্রকাশিত কর্ম ১২৭(২)(ক) দ্বারা নিজের মধ্যে আত্তীকরণ করে। কিন্তু ২০০০ এর আইন, তার পূর্বসূরি ১৯৬২এর আইনের জন্য তা করে না। ফলে ১৯৬২ এর অধীন প্রকাশিত কর্ম ২০০০ বা ২০২৩ এর আইন আত্তীকরণ করে না এবং উত্তরসূরি আইনসমূহ তাদের নিজ নিজ হেফাজত ধারা অনুযায়ী ১৯৬২ এর অধীন কর্মগুলোতে ১৯৬২ এর আইন বলবৎ রাখে। ১৯৬২ হতে ২০০০ এর আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল কিন্তু ২০০০ থেকে ২০২৩ এর আইনে করা হয়নি/ তাই পূর্ববর্তী কর্মের মেয়াদ অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে কোনো ধারা যুক্ত করা হয়নি বা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ছিল না। কিন্তু আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হলে, তা আলাদা ভাবে যুক্ত করতে হতো, যা করা হয়নি। <mark>নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে, আইনের এই আক্ষরিক ও অ-ভূতাপেক্ষ (Non-retroactive) ব্যাখ্যাটিই আইনিভাবে অধিকতর নিরাপদ ও প্রচলিত।</mark> কারণ, কোনো অধিকারের মেয়াদ বা ব্যাপ্তি যদি পেছনের তারিখ থেকে বাড়াতে হয়, তবে আইনে তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখে দিতে হয়। '''আন্তর্জাতিক উদাহরণ''' আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই। '''কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২''': আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য ১৯৬২ সালের কপিরাইট অধ্যাদেশ। কপিরাইট আইন, ২০০০ পূর্ববর্তী আইনের মেয়াদসমূহ সংরক্ষণ করে। কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর মেয়াদসমূহ নিচে দেওয়া হলো: {{Collapse top|{{anchor|মেয়াদ ৬২}}CHAPTER III<br>TERM OF COPYRIGHT<br>{{url|https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047|The Copyright Ordinance, 1962}}}} 18. Term of copyright in published <mark>literary, dramatic, musical and artistic works.</mark>- :Except as otherwise hereinafter provided, copyright shall subsist in any literary, dramatic, musical or artistic work (other than a photograph) published within the life-time of the author until <mark>fifty years</mark> from the beginning of the calendar year next following the year in which the <mark>author dies</mark>. Explanation-In this section, the reference to the author shall, in the case of a work of joint authorship, be construed as a reference to the author who dies last.  19. Term of copyright in posthumous work.- :(1) In the case of a literary, dramatic or musical work or an engraving, in which copyright subsists at the date of the death of the author or, in the case of any such work of joint authorship, at or immediately before the date of the- death of the author who dies last, but which or any adaptation of which, has not been published before that date, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published or, where an adaptation of the work is published in any earlier year, from the beginning of the calendar year next following that year.  :(2) For this purposes of this section, a literary, dramatic or musical work or an adaptation of any such work shall be deemed to have been published, if it has been performed in public or if any records made in respect of the work have been sold, or offered for sale, to the public.  20. Term of copyright in cinematographic works, records and photographs.­  :(1) In the case of a cinematographic work, copyright shall subsist until fifty years fro.n the beginning of the calendar year next following the year in which the work is published.  :(2) In the case of a record, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the record is published.   :(3) In the case of a photograph, copyright shall subsist until fifty years from "the beginning of the calendar year next following the year in which the photograph is published.  20A. Term of copyright in broadcast.- :In the case of a broadcast, copyright shall subsist until twenty-five years from the beginning of the calendar year next following the year in which the broadcast first took place. 21. Term of copyright in anonymous and pseudonymous work.- :(1) In the case of a literary, dramatic, musical or artistic work (other than a photograph), which is published anonymously or pseudonymously, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.<br>Provided that where the identity of the author is disclosed before the expiry of the said period, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies.  :(2) In sub-section (1), references to the author shall, in the case of an anonymous work of joint authorship be construed,­  ::(a) where the identity of one of the authors is disclosed as references to that author;  ::(b) where the identity of more authors than one is disclosed, as references to the author who dies last from amongst such authors.  :(3) In sub-section (1), references to the author shall, in the case of a pseudonymous work of joint authorship, be construed,­  ::(a) where the names of one or more (but not all) of the authors are pseudonym and his or their identity is not disclosed, as references to the author whose name is not a pseudonym, or, if the names of two or more of the authors are not pseudonyms, as references to such one of those authors who dies last;  ::(b) where the names of one or more (but not all ) of the authors are pseudonyms and the identity of one or more of them is disclosed, as references to the author who dies last from amongst the authors whose names are not pseudonyms and the authors whose names are pseudonyms and are disclosed; and  ::(c) where the names of all the authors are pseudonyms and the identity of one of them is disclosed, as references to the author whose identity is disclosed or, if the identity of two or, more of such authors is disclosed as references to such one of those authors who dies last. Explanation-s-Pot the purposes of this section, the identity of an author shall be deemed to have been disclosed, if either the identity of the author is disclosed publicly by both the author and the publisher or is otherwise established to the satisfaction of the Board by that author.  22. Term of copyright in <mark>Government works</mark> and in works of International Organisations.- :(l) Copyright in a Government work shall, where government is the first owner of the copyright therein, subsist until <mark>fifty years</mark> from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.  :(2) In the case of a work of an international organisation to which the provisions of section 53 apply, copyright shall subsist shall until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.  23. Term of copyright in unpublished work.- :(1) If a work, whose author's identity is known, is not published posthumously within fifty years after the death of the author, such work shall fall into the public domain after fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies.  :(2) If a work, whose author's identity is not known, is not published within fifty years of its creation, such work shall fall into the public domain after fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is created.    {{Collapse bottom|}} === সংশোধন বনাম রহিতকরণ === কপিরাইটের মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি সুপরিচিত নজির রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে আমাদের প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। স্বাধীন ভারতে ১৯৯২ সালের সংশোধনী আইনের ([[:en:Indian_Copyright_Act_(3rd_Amendment)_1992|The Copyright Amendment Act, 1992]]) মাধ্যমে কপিরাইটের সাধারণ মেয়াদ ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। এই সংশোধনী পাসের সময় ভারতে যে কর্মগুলোর কপিরাইট তখনো বিদ্যমান (Alive) ছিল, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বর্ধিত ৬০ বছরের সুবিধা পেয়েছিল। প্রশ্ন আসতে পারে, ভারতে যদি বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বেড়ে থাকে, তবে বাংলাদেশে ২০০০ সালের নতুন আইন পাসের সময় বিদ্যমান কর্মগুলোর মেয়াদ কেন ৬০ বছর হবে না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে দুই দেশের আইন প্রণয়নের কাঠামোগত পার্থক্যের (''Amendment'' বনাম ''Repeal'') মধ্যে। ভারতের এই মেয়াদ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মের কপিরাইট। ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় তৎকালীন আইন অনুযায়ী তাঁর কর্মের কপিরাইট ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ভারত সরকার তড়িঘড়ি করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে মেয়াদ [https://www.telegraphindia.com/india/tagore-copyright-freedom-at-midnight/cid/910127?utm_source=chatgpt.com ১০ বছর বাড়িয়ে দেয়]। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে যখন এটিকে স্থায়ী আইন হিসেবে পাস করা হয়, তখন ভারত ১৯৯১ সালের সাময়িক অধ্যাদেশটি রেটিফাই করা সাপেক্ষে রহিত করলেও তাদের ১৯৫৭ সালের মূল আইনটিকে রহিত (Repeal) করেনি, বরং কেবল মূল একটি 'সংশোধনী' (Amendment) এনেছিল।  এই সংশোধনীর মাধ্যমে মূল আইনের পঞ্চম অধ্যায়ে 'fifty years'-এর স্থলে 'sixty years' প্রতিস্থাপিত করা হয় এবং নতুন আইনটিকে ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) ঠিক সেই ২৮ ডিসেম্বর ১৯৯১ তারিখ থেকেই কার্যকর ঘোষণা করা হয়। ফলে চলমান মূল আইন যখন 'সংশোধিত' হয়, তখন আইনের অধীনে থাকা সমস্ত বিদ্যমান বা 'অ্যালাইভ' অধিকারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সংশোধিত অবস্থার সুবিধা পায়।  বিপরীতে, বাংলাদেশ সরকার ১৯৬২ সালের মূল আইনটিকে (অধ্যাদেশ) 'সংশোধন' করেনি, বরং ২০০০ সালের আইনের ১০৫(১) ধারা দিয়ে তা সম্পূর্ণরূপে রহিত (Repeal) করে একটি নতুন আইন প্রবর্তন করে। যখন কোনো পুরোনো আইন বাতিল করে নতুন আইন আনা হয়, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরোনো আইনের অধীনে থাকা কর্মগুলো নতুন আইনের সুবিধা পায় না। কারণ, '''The General Clauses Act, 1897'''-এর ধারা ৬(c) অনুযায়ী, কোনো আইন রহিত (Repeal) হলে নতুন আইনে স্পষ্ট 'ভিন্নরূপ কোনো উদ্দেশ্য' (Different intention) না থাকলে, বাতিলকৃত আইনের অধীন অর্জিত অধিকার বা মেয়াদের কাঠামো (যেমন- ৫০ বছরের সীমা) ক্ষুণ্ণ বা পরিবর্তিত হয় না।  বাংলাদেশ যদি ভারতের মতো শুধু "মৃত কর্মগুলো আর জ্যান্ত হবে না" (ধারা ১০৫(৩)) লিখেই ক্ষান্ত হতো, তবে হয়তো বিতর্কের সুযোগ থাকত। কিন্তু আইনে ১০৫(৫) ধারায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ''"...তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন তাহা অব্যাহত থাকিবে।"''  অর্থাৎ, আইনসভা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, মেয়াদের ক্ষেত্রে নতুন আইনে তাদের 'ভিন্নরূপ কোনো উদ্দেশ্য' নেই। তারা পুরোনো আইনটি বাতিল করলেও, বিদ্যমান কর্মগুলোর মেয়াদ পুরোনো আইন (৫০ বছর) অনুসারেই চলবে। অধিকন্তু, ১০৫(৭) ধারায় 'জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট'-এর প্রয়োগ নিশ্চিত করে এই মেয়াদের সুরক্ষাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। === সার্বিক উপসংহার === উপরের বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা, ভারত ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নজিরের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, ২০০০ সালের ১৮ জুলাইয়ের পূর্বে প্রকাশিত কোনো কর্ম নতুন আইনের সাধারণ ৬০ বছরের মেয়াদের সুবিধা পাবে না। ভারতের আইনটি ছিল চলমান আইনের একটি 'সংশোধনী' হওয়ায় আতা বাংলাদেশের ২০০০ সালের সম্পূর্ণ নতুন আইনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয় না।) তাই ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারার মাধ্যমে এবং ২০২৩ আইনে তা কন্টিনিউ করার মাধ্যমে ২০০০-পূর্ব কর্মের কপিরাইটের মেয়াদ '''প্রকাশ বা লেখকের মৃত্যু + ৫০ বছর''' হিসেবেই আইনিভাবে নির্ধারিত হবে। ফলে আজকের তারিখ: {{#time: j F Y}} হিসেবে ৫০ বছর তথা {{#time: j F Y | -50 years }}-এর আগের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কর্ম কিংবা মৃত্যুবরণকারী লেখকের কর্ম উইকিসংকলনে আপলোড দিয়ে মুদ্রণ সংশোধন করতে কোনও আইনি বাধা নেই। [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৫:০৯, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}}: প্রস্তাবকারী হিসেবে। [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৭:০২, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:১৪, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * সহ-প্রস্তাবক হিসেবে {{দৃঢ় সমর্থন}}। শুরুতে আমি বরং বিরোধিতাকারী হিসেবেই প্রস্তাবককে নানান যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দুজনে মিলে দীর্ঘ আলোচলা, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও ক্রসচেক শেষে শেষপর্যন্ত এই ব্যাখ্যাতেই উপনীত হতে সক্ষম হই। ২০০০-পূর্ব প্রকাশনার জন্য এটাই এই আইনের সবচেয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা। সবশেষে, বেশ কিছুদিন ধরে নিরলসভাবে বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে আইনে লুকিয়ে থাকা এই বিধান এবং কমন্সে [[C:Commons:Village pump/Copyright#FoP in Bangladesh|বাংলাদেশের ভবনের ছবির কপিরাইট-অযোগ্যতা]]র বিষয়টি খুঁজে বের করার জন্য প্রস্তাবকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[Special:Contributions/MS Sakib|📝]]</b> ১১:৩৮, ২১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ০৭:০৫, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) :{{Comment}} — উপরে দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে আমার কিছু মতপার্থক্য আছে। নিচে তার আলোচনা করছি:— * '''ভূতাপেক্ষিতা''' — উপরে বলা হয়েছে যে নতুন আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে তা ভূতাপেক্ষ (retrospective), যা কিনা General Clauses Act অনুযায়ী হওয়ার কথা নয়; ফলে নতুন আইন দিয়ে পুরনো আইনের অধীনে প্রকাশিত বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারে না। আমার তা মনে হয় না। যে বইয়ের কপিরাইট জীবিত আছে, সেই জীবিত কপিরাইটের জীবৎকাল বাড়ানোকে ভূতাপেক্ষ বলা যায় কি? যদি তা হয়, তবে কবে থেকে ভূতাপেক্ষ? যদি পুরনো আইনের জন্মলগ্ন থেকে ভূতাপেক্ষ হয়, তবে যেসব বইয়ের কপিরাইট অধুনা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু পুরনো আইনের আমলে কিছুকাল আগে কপিরাইটে ছিল, সেই বইগুলিও এই ভূতাপেক্ষিতার সুযোগ লাভ করত এবং তাদের কপিরাইট পুনর্জীবিত হত। কিন্তু তা হয় না। কপিরাইট শেষ হয়ে গেলে এই তথাকথিত ভূতাপেক্ষ প্রাবধান দিয়ে কপিরাইট আর ফিরে আসে না। এতেই প্রমাণিত হয় যে এটা ভূতাপেক্ষ নয়; নতুন আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বাড়লে তা ভূতকাল থেকে বাড়ে না, বরং বর্তমান কাল থেকে বাড়ে। সেজন্যেই বিগত-কপিরাইট বইগুলি এর সুবিধা পায় না। ফলে এর সঙ্গে General Clauses Act-এর কোনই সংঘাত নেই। * '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''' — ১৯৯২ সালে ভারতীয় কপিরাইট আইন সংশোধন করে কপিরাইটের মেয়াদ লেখকের মরণোত্তর ৫০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। সেসময় রবীন্দ্রসাহিত্যের কপিরাইট ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন বিশ্বভারতীর কাছে। তাই এই অতীব লাভজনক কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধিই ছিল আইন-সংশোধনের মূল কারণ। প্রস্তাবকের মতে এমনটা হওয়া ভূতাপেক্ষ, তাহলে কিভাবে হল? প্রস্তাবকের দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী ১৯৯২-তে নতুন আইন না বানিয়ে চলমান আইনের সংশোধন হয়েছিল, তাই এটা ভূতাপেক্ষ নয়; নতুন আইন বানালে ভূতাপেক্ষ হত। বেশ, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের লেখাগুলো তো চলমান ১৯৫৭-এর আইনের অধীনে প্রকাশিতই হয় নি। রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার লেখাগুলি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৪৭-এর আইনের অধীনে (তাতে লেখকের মরণোত্তর সাত বছর কপিরাইট থাকত), আর পরের দিকের বইগুলি প্রকাশিত হয় ১৯১৪-এর আইনের অধীনে (তাতে মরণোত্তর ৫০ বছরের বিধান ছিল)। ১৮৪৭ এবং ১৯১৪-এর সাপেক্ষে ১৯৫৭-এর আইন হচ্ছে নতুন আইন। এই নতুন আইন দিয়ে কিভাবে রবীন্দ্রসাহিত্যের মেয়াদবৃদ্ধি করা গেল? এটা কি ভূতাপেক্ষ হচ্ছে না? প্রস্তাবক দেখাতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারা একটা ভূতাপেক্ষিতা-প্রতিরোধক ব্যবস্থা, যার কারণে ২০০০-এর আইন দিয়ে আগের বইগুলির কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটেনি। কিন্তু একই ব্যবস্থা তো ভারতীয় আইনেও ছিল। ভারতের ১৯৫৭-এর আইনের ৭৯(৫) ধারা এবং বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারা অবিকল এক ধারা, শুধু ধারার নম্বর আলাদা। কাজেই একই নিয়মের উপস্থিতিতে ভারতে যদি কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটে থাকে, তবে বাংলাদেশে তা ঘটেনি বলে কেন আমরা ধরে নেব? * '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''' — এখানে মনে পারে, ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইন ভিন্নপথগামী, তাই পরিণতিও ভিন্ন। কিন্তু ব্যাপারটা সেরকম নয়। দুদেশেরই আইনি পরিকাঠামো, বিভিন্ন স্থানীয় সংশোধনী সহ, কলোনিয়াল লেগ্যাসি। ব্রিটিশদের বানানো General Clauses Act, স্থানীয় সংশোধনী সহ, দুদেশেই চালু আছে। কাজেই একটার সঙ্গে অন্যটা তুলনাযোগ্য। কাজেই ভারতীয় আইনে যদি কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারে, তবে একই ব্যবস্থাযুক্ত বাংলাদেশি আইনে তা না বাড়ার কোন কারণ নেই। তাহলে ১০৫(৫) ধারার উপযোগিতা কী রইল? হ্যাঁ, উপযোগিতা আছে বৈকি, কিন্তু তা প্রস্তাবকের ব্যাখ্যার অনুসারী নয়। নিচে অন্যভাবে ব্যাখ্যার চেষ্টা করছি। * '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''' — যখন পুরনো আইন বাতিল করে নতুন আইন রচিত হয়, তখন নতুন আইনের শেষদিকে একটা রহিতকরণ ধারা (repeal section) থাকে। ভারত ও বাংলাদেশ দুদেশেই এই দস্তুর। পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকরা নতুন আইন দিয়ে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটা নিশ্চিত করতে এই ধারায় কয়েকটা উপধারা থাকে। নতুন আইনে কি সুবিধা পাওয়া যাবে বা যাবে না, সেসব এই ধারায় থাকে না, শুধু পুরনো আইনই এর ফোকাস। বাংলাদেশি আইনের ১০৫(৫) ধারা এই রহিতকরণ ধারার একটা উপধারা। এই ধারা দিয়ে পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকদের লেখকের মরণোত্তর ৫০ বছর কপিরাইটের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন আইনে মেয়াদ যদি ৫০ থেকে কমিয়ে ৪০ বছর করা হত, তাহলেও পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকদের, এই ধারার কারণে, ৫০ বছরের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকত। কিন্তু নতুন আইনের সুবিধা-অসুবিধার জন্য এই ধারা নয়। অর্থাৎ, পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকরা এই ধারা অনুযায়ী ৫০ বছরের অধিকার পাওয়ার পর, নতুন আইনের উপযুক্ত ধারা অনুযায়ী আরও অতিরিক্ত ১০ বছর পেতে পারেন। তাতে কোনই বাধা নেই। * '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''' — দেশে নতুন রাজা হলে পুরনো রাজার বিদ্যমান প্রজারা স্বতস্ক্রিয়ভাবে নতুন রাজার প্রজা হয়ে যায়। সেইরকম, নতুন কপিরাইট আইন হলে আগে থেকে কপিরাইটে থাকা বইগুলি স্বতস্ক্রিয়ভাবে নতুন আইনের আওতায় চলে আসে, ফলে তাদের কপিরাইটের মেয়াদ কমানো না গেলেও বাড়ানো যায়। এই কারণেই ভারতে রবীন্দ্রসাহিত্যের কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটেছিল। * '''ব্যবহারিক উদাহরণ''' — এটা সবারই জানা যে বিখ্যাত বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই অন্যান্য প্রকাশকরা সেগুলি ছেপে বাজারে ছাড়তে থাকে। রবীন্দ্রসাহিত্যের বেলাতেও এই ব্যাপার ঘটেছিল। যদি বাংলাদেশে ২০০০ সালের আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ না বেড়ে থাকে, তবে ১৯৫০ ও পরবর্তীতে মৃত লেখকদের বইগুলি এর সুবিধা পায় নি। সেক্ষেত্রে লেখকমৃত্যুর পর ৫০ পেরোনো কিন্তু ৬০-অনুত্তীর্ণ বিভিন্ন বিখ্যাত বই অবশ্যই অন্যান্য প্রকাশকরা বাজারে ছেড়ে থাকবেন। প্রস্তাবকের কাছ থেকে এমন কিছু ব্যবহারিক উদাহরণ আশা করছি, যাতে এই কপিরাইট না বাড়াটা পরিষ্কারভাবে প্রতিপন্ন হয়। — [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১২:৪২, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) *:{{ping|Hrishikes}} প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষাগত কারণে উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় আমি দুঃখিত। *:<br>১। '''ভূতাপেক্ষিতা''' — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তৎকালীন সময়ে আইনানুযায়ী খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক'কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়ার সুযোগ নেই। *:<br>আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্সটি কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ অথবা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে আইনের পরবর্তী নতুন প্রকাশিত বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে নতুন লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়। *:<br>ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেককাল আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন বর্তমানে মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না; বরং তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলে আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে। *:<br>এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়। *:<br>আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। <div style="float: right; margin-left: 15px; margin-bottom: 5px; border: 2px solid yellow"> {{show |1= আন্তর্জাতিক উদাহরণ |2=আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই }}</div> *:<br>এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি। *:<br>এই অংশে আমি বেশ কিছু দাবি করেছেন। যদিও আমি মনে করি দাবিসমূহ আইনের ভিত্তিতে নয়, আপনি চাইলে আপনার দাবির আইনি উৎস ব্যক্ত করতে পারেন। *:<br>২। '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''': রবীন্দ্রনাথের কিছু কর্ম ১৮৬৭ সালের আইনের অধীন প্রকাশিত হয়েছে। ১৯১৪ এর আইনের [https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা] অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি। *:<br>৩। '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''': বাংলাদেশ ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' এবং ভারতীয় ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদের বৃদ্ধি ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন একটা সংশোধনী আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২'' দ্বারা ভারতের কপিরাইট মেয়াদ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' থেকে আলাদা একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২''-এর ৩ নং ধারা শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইন ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা। *:<br>আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০-এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আংশিক আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২'' এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো মেয়াদ আটকানোর ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে। *:<br>আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কিছুই প্রামণ্য নয়। আপনার, আমার, আইনজীবীর, সংবাদপত্রের সাংবাদিকের, আইন প্রণেতার, সরকারি কর্মচারীর, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-24.html The Evidence Act, 1872]) এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল<sup>[https://www.cambridge.org/core/books/abs/trials-for-international-crimes-in-asia/trials-for-international-crimes-in-bangladesh/995CD8AA54604F855E32F031EF19E2D4]</sup> <small><sub>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-435/section-12495.html ধারা ১৯(৫) The International Crimes (Tribunals) Act, 1973])</sub></small>। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ব্যাপারে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে। *:<br>সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রতিটি দেশ আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে যে, মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাগু হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আলাদা আইন পাশ করানো হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি সংবেদনশীল, গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই প্রতিটি দেশ অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। সরকার stakeholder-দের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন"-এর খসড়া ২০১৫ সাল হতে লেখা হচ্ছে।<sup>[https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-sid/2024/12/bad818b033344c2faa5ad1276e9ad0d9.pdf]</sup> কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক<sup>[https://obhanmason.com/blog/copyright-in-perpetuity/]</sup> ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এখানে উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম সংবেদনশীল কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52693.html ধারা ৬৭])। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে তাড়াহুড়ো হয়েছে বলে একটি যুক্তি দেওয়া সম্ভব। আমার মতে স্বল্প সময়ে সম্মানিত তৎকালীন ভারতীয় আইন প্রণেতাদের এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে উপযুক্ত ছিল। কিন্তু এই কারণে ভারতের এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। তাই আমার মূল প্রস্তাবনার ভারতীয় আইনে অংশকে তার মাতৃ উৎসের মতোই খানকিটা সাংঘর্ষিক মনে হওয়ার সুযোগ আছে। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে <u>বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়;</u> কেননা যথাযথ কারণে এই নজির প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো? আমার মতে ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে একটি ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। যেহেতু ৭৯(৫) এর শুরুতেই লেখা আছে ''"এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে"'', তাই সংঘর্ষ সৃষ্টি হবে না এবং মেয়াদ বৃদ্ধি বৈধ থাকবে। এই কারণে মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়। *:<br>৪। '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''': আমি আগে ভূতাপেক্ষিতা অংশে বলেছি, আইনের নাম, ধারার নাম অথবা ধারার সাধারণ নাম কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারে না। পারে শুধুমাত্র আইনের মূল পাঠ্য। আপনার প্রদত্ত মতামতে আইনের কোনো ধারা উল্লেখ করে তার আক্ষরিক বিশ্লেষণ নেই। বরং আপনার মতামত বাংলাদেশের আইনের ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমাদের আইনের প্রতিটি শব্দের থেকে এক চুলও নড়বার সুযোগ নেই। আমি ১০৫(৫) ধারা শব্দ ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এই ধারার ব্যাখ্যায় আমার কোন যুক্তি কেন ভুল, তা তুলে ধরুন। ধারায় বলা আছে, ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' এবং এর ইংরেজি অনুবাদে বলা আছে, ''"shall continue to be entitled to".'' এখানে "অব্যাহত" এবং "continue" এর অর্থ কি কোনো অভিধানে বলা আছে যে, "কর্মের স্রষ্টার অধিকার কমলে নতুন নিয়ম চলবে এবং বেশি থাকলে আগের নিয়ম থাকবে"? কোনো অভিধানে এই ব্যাখ্যা পাবেন না আপনি। আমি মূল প্রস্তাবনায় অভিধানিক অর্ধ দিয়েছি। অব্যাহত এবং continue অর্থ, আগে যা ছিল, তাই থাকবে। এখানে লাভ-ক্ষতির বা কমা-বাড়ার কোনো হিসেব নেই এবং থাকারও সুযোগ নেই। অব্যাহত শব্দ দ্বারা আপনি যদি ভিন্ন কিছু বুঝে থাকেন তাহলে অনুগ্রহ করে তা ব্যক্ত করুন। উল্লেখ্য একটি শব্দ একেকজন একেকভাবে বুঝতে পারে। তাই অভিধানিক ব্যাখ্যা বেছে নেওয়া বেশি শ্রেয়। আবার এই ধারাটি সম্পূর্ণ হুবুহু ঔপনেবেশিক আইনের ইংরেজি বাক্যের অনুবাদ। এর উৎস ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, এর অর্থ universally accepted "আগে যা ছিল তা"; এর সাথে বাড়া-কমা বা লাভ-ক্ষতির হিসেব নেই। যদিও ১০৪নং ধারা অনুযায়ী বাংলা সংস্করণ থেকে সিদ্ধান্তে আসা উচিত, ইংরেজি এই উৎস আইনের ইচ্ছা বুঝতে সাহায্য করবে। আইনের বাহিরে গিয়ে আমরা কেউ মনগড়া ব্যাখ্যা দাড়া করাতে পারি না। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হলে আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। বস্তুত আপনার ব্যাখ্যা "শর্ত সাপেক্ষে অধিকারের মেয়াদ সংরক্ষণ" যদি আইন করতে চাইতো, তাহলে আইন আলাদা করে তা বলতে পারতো। কিন্তু তা করা হয়নি। অধিকারের ক্ষেত্রে ১০৪(৪) ধারা রয়েছে। এবং ১০৫(৫) দ্বারা মেয়াদ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। শর্ত প্রয়োগ করলে তা উল্লেখ করে দিতো আইন। ১০৫(৪) সরাসরি ''সুবিধা-অসুবিধা'' (অধিকার স্থানান্তর)-এর কথা বলা আছে। তাই "এই ধারা ''সুবিধা-অসুবিধার'' জন্য না" বলাটা আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী। *:<br>৫। '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''': আপনি বারংবার আইনের পাঠ্য বাদ দিয়ে, আইনের নাম, সাধারণ নাম এবং কনসেপ্ট ধরে ব্যাখ্যা প্রকাশ করছেন। আপনার এই দাবির আইনি ভিত্তি কি? আমি আইনের লেখা ও আদালতের রায় ব্যতীত এক চুলও সরার পক্ষপাতি নই। আগের আইনের কর্ম নতুন আইনে আনতে হলে সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, যেমনটি করেছে ভারতীয় ''কপিরাইট আইন, ১৯১৪''([https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা]) এবং বাংলাদেশ ''কপিরাইট আইন, ২০২৩'' ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html ধারা ১২৭])। নতুন আইনের আওতায় কী শর্তে পুরাতন কর্ম এসেছে, সেটাও উল্লেখ করা আছে এই আইন সমূহে।<sup>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html]</sup> আগের আইনের কী বহাল থাকবে এবং কী থাকবে না তাও বলা আছে। কপিরাইট আইন, ২০০০-ও বলে দিয়েছে আগের কর্মের কী কী হবে। তন্মদ্ধে ১০৫(৫) বলেছে মেয়াদ অক্ষুণ্ণ থাকবে। *:<br>৬। '''ব্যবহারিক উদাহরণ''': অন্যান্য প্রকাশকরা লাইসেন্স ফির বিনিময়ে বই প্রকাশ করেছে নাকি পাবলিক ডোমেইন বলে বই প্রকাশ করেছে তা প্রমাণ করবেন কিভাবে। আমি লক্ষ লক্ষ বই উদাহরণ দিলাম। কিন্তু আপনার বলার সুযোগ থাকবে, এরা লাইসেন্স করে অর্থের বিনিময়ে পুনঃপ্রকাশ করেছে। আলাদা করে বইয়ের গায়ে লেখা থাকে না এই বিষয়। ব্যবহারিক উদাহরণ আইনের আদালতে কোনো সিধান্ত গ্রহণকারী ফ্যাক্টর হতে পারে না।([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-24.html The Evidence Act, 1872]) কপিরাইট একটি কঠোর ও জটিল আইন। তাই এখানে ''Chilling Effect'' কাজ করতে পারে। Chilling Effect এমন একটি মানসিক বা সামাজিক অবস্থা যেখানে মানুষ আইনি জটিলতা বা কঠোর শাস্তির ভয়ে নিজের ওপর অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে বর্তমানে এই পরিস্থিতি বিরাজমান।<sup>[https://www.npr.org/2022/03/30/1089462508/teachers-fear-the-chilling-effect-of-floridas-so-called-dont-say-gay-law]</sup> তাই আলদালতে ব্যবহারিক উদাহরণকে আমলে নেওয়া হয় না। আবার, যদি এই ১০ বছর সময়কালে কোন বিখ্যাত বা পুনঃপ্রকাশ যোগ্য কর্ম না থাকে বা প্রকাশকদের অনীহা থাকে তাহলে কি করবেন? তাও আমি উদাহরণ দিচ্ছি। [[:w:সৈয়দ মুজতবা আলী|সৈয়দ মুজতবা আলী]]র মৃত্যু ১৯৭৪ সালে বা ৫২ বছর আগে। তার বিখ্যাত গ্রন্থ [[:w:দেশে বিদেশে|দেশে বিদেশে]]। এই বইটি [https://www.rokomari.com/book/80412/deshe-bideshe বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র], [https://www.prothoma.com/shop/deshe-bideshe-31138 প্রথমা প্রকাশনা], [https://www.rokomari.com/book/25566/desh-bedeshe স্টুডেন্ট ওয়েজ], [https://www.rokomari.com/book/318056/deshe-bideshe নিউ এজ পাবলিশার্স] প্রকাশ করছে বর্তমানে। আমি নিশ্চিত যে আপনি খুঁজলে বা বইয়ের দোকানে গেলে আরও উদাহরণ পাবেন। কিন্তু এরা পাবলিক ডোমেইন বলে মুক্তভাবে প্রকাশ করছে নাকি লাইসেন্স ফির বিনময়ে তা জানার জন্য তাদের সাথে আলাদা আলাদ করে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, তাই আলাদা কওরে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি আমি। *:<br>আমি আপনার মতামতের প্রতিটি বাক্য ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এরপর মতবিরোধের জায়গা থাকলে আইনের পাঠ্য ধরে করুন এবং আমার যুক্তি কেন অসন্তোষজনক সেটি উল্লেখ করে আইনি ভিত্তিতে প্রতিযুক্তি দিন। ধন্যবাদ। *:[[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ০৭:০৩, ৩০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) ::আপনার যা বক্তব্য, “আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই।”; এটা একটা ইজ্‌ম, যাকে বলে textualism. আইনের দুটো দিক, letter of law এবং spirit of law. শুধু letter of law আইনের সব কথা নয়, শেষ কথাও নয়। মার্কিন সংবিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে লেটার-বাদী আর স্পিরিট-বাদীদের মধ্যে বিতর্ক আছে, তা ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় পাবেন। তবে আমার পক্ষে ভারতীয় উদাহরণ দেওয়া সহজ। Spirit of law অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধানের একটা spirit তথা basic tenets আছে, সংসদ এর বাইরে গিয়ে আইন বানালে সুপ্রিম কোর্ট তা নাকচ করে দিতে পারে। ভারতে Public Interest Litigation নামে একটা সিস্টেম আছে, সেটা সংসদে পাশ হওয়া কোন আইন থেকে আসে নি, বরং সুপ্রিম কোর্টের spirit of law বিষয়ক ভাষ্য থেকে এসেছে। সমলিঙ্গ সম্পর্কের ওপর “বেআইনি” তকমা (৩৭৭ IPC) আদালতের spirit of law ব্যাখ্যায় সরে গিয়েছিল। সেই কারণে আইনের হুবহু পাঠই শেষ কথা নয়, আইনের সাধারণ প্রবণতা, পরম্পরা, আইনের কোন্ অধ্যায়ে ধারা বা উপধারাটা আছে, ধারার হেডিং কি, এসবও গুরুত্বপূর্ণ। * ভূতাপেক্ষ শব্দটা আলোচনায় আমি আমদানি করিনি, আপনার বক্তব্য থেকেই শব্দটা নেওয়া। এটা যে ব্যাখ্যামূলক শব্দ, এবং সরাসরি আইনে থাকে না, সেটাও আমার জানা আছে। কপিরাইটের জীবিত থাকার ব্যাপারটা যে biological অর্থে বলা হয় নি, সেটা বুঝতে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট। যেসব আন্তর্জাতিক উদাহরণ আপনি দিয়েছেন, তার সবেতেই নতুন আইনে মেয়াদ বাড়লে কপিরাইটভুক্ত পুরনো বইগুলোরও মেয়াদ বেড়েছে। ঐসব আইনের বাচনভঙ্গি পুরনো ব্রিটিশ লেগ্যাসিভুক্ত উপমহাদেশীয় আইনগুলির বাচনভঙ্গি থেকে আলাদা হতেই পারে, কিন্তু ধারণাটা একই, যে, নতুন আইনে কপিরাইটভুক্ত পুরনো বইয়ের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটে থাকে। * আপনার বক্তব্য অনুযায়ী ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। আমার কাছে এমন কিছু প্রতিভাত হয় নি। অব্যাহত শব্দের অর্থ আপনি ভুল বুঝেছেন। অভিধান খুললে দেখবেন, ব্যাহত মানে বাধাপ্রাপ্ত। কোন কিছুর প্রবাহ আটকে দিলে তা ব্যাহত বা বাধাপ্রাপ্ত হয়। প্রবহমানতা বাড়িয়ে দিলে ব্যাহত হওয়ার কোন ব্যাপারই নেই। কাজেই ১০৫(৫)-এ শুধু মেয়াদ-হ্রাসই আটকানো হয়েছে, মেয়াদ-বৃদ্ধি নয় (এ-ব্যাপারটা নিচে বিশদে দেখাচ্ছি)। * ভারতের আইনকে sloppy বলাটা শিষ্টাচার-বিরুদ্ধ হয়েছে। “আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।” — এটা অজ্ঞতা-প্রসূত মন্তব্য। ভারতের এই সাময়িক অধ্যাদেশগুলি সংসদের অধিবেশন চলাকালীন জারি করা যায় না। সংসদ যখন অধিবেশনে থাকে না, তখন আইন প্রণয়ণ করার আপৎকালীন প্রয়োজন অনুভূত হলে অধ্যাদেশ জারি হয়। কিন্তু অধ্যাদেশ সাময়িক হওয়ায় এর সময়সীমার মধ্যে সংসদীয় আইন দিয়ে অধ্যাদেশ জারির দিন থেকে তা আত্তীকরণ করতে হয়, নইলে তা তামাদি হয়ে যায়। আপনি একটা ব্লগ থেকে সংসদীয় বিতর্কের যে আংশিক রূপ পেয়েছেন (সম্পূর্ণটা অফিসিয়াল সাইটে আছে) তা অধ্যাদেশ নিয়ে নয়, বরং পরবর্তী প্রতিস্থাপক আইন নিয়ে। সেটা সাংসদদের রাজনৈতিক বিতর্ক (সংসদে যেটা হয়ে থাকে), আইনের টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি নিয়ে নয়। সেই আইনটা তার সংশোধন কার্য সম্পন্ন করার পর Repealing and Amending Act, 2001 দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। যাই হোক, আইনটা জারি হয়েছে ১৯৯২-এর এপ্রিলে, কাজেই বিষয়বস্তু পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞদের কাছে সময় ছিল। আপনার ভিন্নমত সত্ত্বেও, ১৯৫৭-র আইন সংশোধন করে যে পুরনো আইনের অধীনে প্রকাশিত কিন্তু তখনও কপিরাইটে থাকা বইয়ের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ আইনবিদদের মনে সন্দেহ ছিল না বলেই বিল বানিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছিল, নইলে অধ্যাদেশটাকে তামাদি হতে দেওয়া হত। কাজেই এটা কোন sloppy কাজ নয়। * বাংলাদেশের ২০২৩-এর আইন কিছুটা অন্য পথে গেছে ঠিকই, কিন্তু ২০০০-এর আইনটা গতানুগতিকতার মধ্যেই আছে। ভারতের ১৯৫৭-র আইন ও বাংলাদেশের ২০০০-এর আইন — এদুটোকে পাশাপাশি রেখে পড়লে স্বতই মনে হয় একটার অনুপ্রেরণায় অন্যটা রচিত (আসলেই কপি করা হয়েছে সেকথা বলছি না)। যেটাকে উইকিতে আমরা Edict-Gov বলি, অর্থাৎ ভারতীয় আইনের ধারা ৫২ আর বাংলাদেশের ধারা ৭২, এদুটো পাশাপাশি রাখলেই মিলটা বোঝা যাবে। সেজন্যেই ভারতীয় আইনকে sloppy বলে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশি আইনের ব্যাখ্যা মার্কিন আর ইউরোপীয় আইন দেখিয়ে করা যায় না। * এবার আপনার “আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে” এই textualist দাবির বিষয়ে দেখছি। ** বাংলাদেশের ১০৫(৪) অনুসারে আগের বইগুলোর কপিরাইটের অধিকার নতুন আইন চালু হওয়ার পর থেকে নতুন আইনের ধারা ১৪ অনুসারে প্রযুক্ত হবে, এমনকি নতুন আইনে নতুন অধিকার থাকলে সেগুলিও পুরনো বইতে বর্তাবে। এতদ্বারা পুরনো বইগুলো নতুন আইনের আওতায় এসেছে। তবে এতে মেয়াদ সম্পর্কে কিছু বলা নেই। ** ১০৫(৩) অনুসারে নতুন আইন আগের আইনের অধীনে প্রকাশিত বিগত-কপিরাইট বইয়ের কপিরাইট পুনরুদ্ধার করবে না। বিগত-কপিরাইট বইয়ের জন্য এই exclusion principle থাকায় কপিরাইটভুক্ত বইগুলি স্বতই অন্তর্ভুক্ত হয়। ** ধারা ১৩ অনুসারে কপিরাইট শুধু নতুন আইন অনুসারেই চলতে পারবে। অর্থাৎ রহিত আইন অনুসারে কপিরাইট চলতে পারবে না (বলা বাহুল্য, আগে যা অধিকার দেওয়া হয়ে গেছে, সেটার কাটছাঁট না করে, তথা “অব্যাহত” রেখে)। ** কপিরাইট নতুন আইন অনুযায়ী চলতে হলে ধারা ২৪ অনুযায়ী মরণোত্তর ৬০ বছরের বিধানও লাগু হবে। এই ধারায় আগের বইগুলোর জন্য কোন exclusion principle দেওয়া নেই, ফলে এটা generic ভাবে সর্বত্র প্রযোজ্য। ** এবার General Clauses Act, যাকে পাশ কাটিয়ে উপমহাদেশে কোন আইন রচনা করা যায় না। *** প্রথমে ৬ নম্বর ধারা দেখা যাক, যার বক্তব্য ২০০০-এর আইনের ১০৫ ধারায় বিধৃত। ১০৫(৩) এসেছে GC আইনের 6(a) থেকে। ১০৫-এর (২) এবং (৫) আগেকার অধিকার ও দায় (rights and liabilities) সম্পর্কিত, যা এসেছে GC আইনের 6(c) থেকে। ক্রিয়াপদ হিসাবে ১০৫(২)-তে আছে “খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না” (nothing in this section shall diminish or prejudice) এবং ১০৫(৫)-এ আছে “অব্যাহত থাকিবে” (shall continue to be entitled to)। GC আইনের 6(b) থেকে 6(e)-তে একটাই ক্রিয়াপদ: to affect. আভিধানিক অর্থে বাড়ানো বা কমানো দুটোতেই affect হয়। কিন্তু এটা উনিশ শতকের শেষদিকের আইন। সেযুগে আইনের পরিভাষায় affect বলতে কি বোঝাত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত [[:en:Page:Black's Law Dictionary (Second Edition).djvu/54|ব্ল্যাকের আইন অভিধান]] অনুসারে “This word is often used in the sense of acting injuriously upon persons and things.” অর্থাৎ সেযুগের আইনি ব্যবহারে affect দিয়ে কমানো বোঝায়, বাড়ানো নয়। সেজন্যেই ১০৫ ধারায় “খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না” লিখেছে। “অব্যাহত থাকিবে”-কেও এভাবেই বুঝতে হবে, কারণ GC আইনে দুটোই affect. *** এবার অন্য ধারা দেখা যাক। ধারা ২৪ অনুসারে এক আইন রহিত হয়ে একই বিষয়ে পরিবর্তনসহ বা অপরিবর্তিত ভাবে নতুন আইন হলে, পুরনো আইনের অধীনে জারি করা ব্যবস্থাগুলি চলতে থাকবে, যদি না তা নতুন আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ (inconsistent) হয়, এবং ধরে নেওয়া হবে যে নতুন আইন অনুসারে এই ব্যবস্থাগুলি চলছে; এবং পরে নতুন আইনের কোন ব্যবস্থা পরিবর্তিত (superseded) হলে পুরনো ব্যবস্থাগুলিও পরিবর্তিত হবে। *** GC আইনের ৬ ও ২৪ নং ধারা থেকে এই ব্যাখ্যাই দাঁড়ায় যে কপিরাইটের মেয়াদ সংক্রান্ত আগের আইনের ব্যবস্থা পুরনো বইয়ের জন্য নতুন আইন অনুসারে চলতে থাকবে কিন্তু সময়টা নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য ৫০-এর জায়গায় ৬০ বছর হবে। * ব্যবহারিক উদাহরণ বিষয়ে লক্ষ লক্ষ উদাহরণের নামে আপনি দিয়েছেন শুধু ভারতীয় বইয়ের উদাহরণ (''দেশে বিদেশে'' ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত)। বড় বড় প্রকাশকদের আইনি টিম থাকে, ফলে তারা আইনি পরামর্শ সহজেই পেতে পারে, chilling effect-এর কোন সম্ভাবনাই নেই। মূল কোম্পানি বইয়ের প্রকাশ ও বিক্রি চালাতে থাকলে একই দেশে অন্য কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয় না, দিলেও একসঙ্গে অনেক কোম্পানিকে দেয় না। License fee, chilling effect, বিখ্যাত বই না থাকা, এসব শুধুই অযুক্তি। পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ যে বাড়ে নি, সেটা বাংলাদেশের প্রকাশকরা বুঝতে পারল না, আর আপনি শুধু একাই বুঝতে পারলেন? আর এটা আদালত নয়, একটা আলোচনাসভা। এখানে এভিডেন্স অ্যাক্ট দেখিয়ে ব্যবহারিক উদাহরণকে পাশ কাটানো যায় না। * যাক, প্রকাশকরা না হয় নাই বুঝল, বাংলাদেশের বিদ্বজ্জনরাও কি বোঝে নি? বাংলাপিডিয়া একটা সরকারি প্রকাশনা। সেখানে [https://en.banglapedia.org/index.php?title=Copyright কপিরাইট] নিবন্ধে লিখেছে “In the Bangladesh Copyright Act 2000, the period has been fixed at 60 years.” কপিরাইটের দুরকম ব্যবস্থা থাকলে এখানে লিখল না কেন? এছাড়া [https://www.universepg.com/public/img/storage/journal-pdf/Sketch%20of%20the%20copyright%20act,%202000%20in%20Bangladesh%20enforcement,%20impediments%20and%20solutions.pdf এই নিবন্ধটা] দেখুন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের আইনবিদদের লেখা, ২০০০-এর আইনের ওপরে। এখানেও ৬০ বছর দিয়েছে, পুরনো বইয়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থার কথা কিছু লেখেনি। এরকম আরও কিছু লেখা পড়লাম, কোথাও দুরকম ব্যবস্থার কথা (৬০ ও ৫০) লেখা নেই। বাংলাদেশের ৬০-অনুত্তীর্ণ পুরনো বইয়ের সংখ্যা এখনও বিশাল। সেইসব বইয়ের আলাদা কপিরাইট মেয়াদের কথা কেউ কিছু লিখছে না কেন? কেউ কি এটা জানে না? সব দেখেশুনে আমি যা বুঝলাম, এই দুরকম কপিরাইট-মেয়াদের ব্যবস্থা শুধু আপনার কল্পনাতেই আছে, আর কোথাও নেই। উইকিমিডিয়া প্রকল্পগুলিতে বক্তব্য-প্রতিষ্ঠার জন্য secondary ও tertiary source-এর কদর আছে, কিন্তু আইনগুলি সবই primary source. কাজেই আপনার বক্তব্যটাকে অরিজিন্যাল রিসার্চের পর্যায়ে ফেলা যেতে পারে। আমি একজন সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ সম্পাদক, কোন আইনজ্ঞ নই। কিন্তু এটুকু বলতে পারি যে অরিজিন্যাল রিসার্চের উপর ভিত্তি করে (যেটা আদৌ আমার কাছে convincing মনে হয়নি) কপিরাইটের মত জটিল বিষয়ে উইকিসংকলনে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে না। আপনি আপনার এই রিসার্চ কোন প্রতিষ্ঠিত আইনের জার্নালে প্রকাশ করতে পারেন। তারপর peer review-তে যদি দেখা যায় যে প্রতিষ্ঠিত আইন-বিশারদরা আপনার বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, তখন আপনার নিবন্ধকে রেফারেন্স হিসেবে দেখিয়ে উইকিসংকলনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা যেতে পারে। আমাদের বিতর্ক অনেক হলো, এবার দেখা যাক, অন্য সম্পাদকরা কি বলেন। [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১৩:২৯, ৩০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) == Action Required: Update templates/modules for electoral maps (Migrating from P1846 to P14226) == Hello everyone, This is a notice regarding an ongoing data migration on Wikidata that may affect your election-related templates and Lua modules (such as <code>Module:Itemgroup/list</code>). '''The Change:'''<br /> Currently, many templates pull electoral maps from Wikidata using the property [[:d:Property:P1846|P1846]], combined with the qualifier [[:d:Property:P180|P180]]: [[:d:Q19571328|Q19571328]]. We are migrating this data (across roughly 4,000 items) to a newly created, dedicated property: '''[[:d:Property:P14226|P14226]]'''. '''What You Need To Do:'''<br /> To ensure your templates and infoboxes do not break or lose their maps, please update your local code to fetch data from [[:d:Property:P14226|P14226]] instead of the old [[:d:Property:P1846|P1846]] + [[:d:Property:P180|P180]] structure. A [[m:Wikidata/Property Migration: P1846 to P14226/List|list of pages]] was generated using Wikimedia Global Search. '''Deadline:'''<br /> We are temporarily retaining the old data on [[:d:Property:P1846|P1846]] to allow for a smooth transition. However, to complete the data cleanup on Wikidata, the old [[:d:Property:P1846|P1846]] statements will be removed after '''May 1, 2026'''. Please update your modules and templates before this date to prevent any disruption to your wiki's election articles. Let us know if you have any questions or need assistance with the query logic. Thank you for your help! [[User:ZI Jony|ZI Jony]] using [[ব্যবহারকারী:MediaWiki message delivery|MediaWiki message delivery]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MediaWiki message delivery|আলাপ]]) ১৭:১২, ৩ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) (এই বার্তাটি [[:উইকিসংকলন:প্রশাসকদের আলোচনাসভা]] পাতায় পাঠানো হয়েছিল ও একটি পুনর্নির্দেশের কারণে এখানে পোস্ট করা হচ্ছে।) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=Distribution_list/Non-Technical_Village_Pumps_distribution_list&oldid=29941252-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:ZI Jony@metawiki পাঠিয়েছেন --> dnsfafjluxr5d3z7fm742t7txgbiikm 1941578 1941572 2026-04-04T05:12:44Z Bodhisattwa 2549 [[Special:Contributions/MediaWiki message delivery|MediaWiki message delivery]] ([[User talk:MediaWiki message delivery|আলাপ]])-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে [[User:Hrishikes|Hrishikes]]-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত যাওয়া হয়েছে 1941264 wikitext text/x-wiki {{প্রক্রিয়ার শীর্ষক | শিরোনাম = লিপিশালা | অনুচ্ছেদ = | পূর্ববর্তী = [[উইকিসংকলন:সম্প্রদায়ের প্রবেশদ্বার|সম্প্রদায়ের প্রবেশদ্বার]] | পরবর্তী = [[উইকিসংকলন:লিপিশালা/মহাফেজখানা|মহাফেজখানা]] | সংক্ষিপ্ত = [[WS:S]]<br/>[[WS:আলোচনাসভা]] | টীকা = লিপিশালা উইকিসংকলন সম্প্রদায় আলোচনা পৃষ্ঠা। যে কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা মন্তব্য করুন মুক্ত মনে। আপনি যেকোন বর্তমান আলোচনায় মন্তব্য করতে পারেন অথবা একটি নতুন শুরু করতে পারেন।<!--প্রকল্প সদস্যরা প্রায়ই #wikisource IRC চ্যানেল webclient পাওয়া যাবে।--> এছাড়া এটি উইকিসংকলনের প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য নিবেদিত পাতা। এখানে প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে যেকোনো প্রসঙ্গ তুলে ধরতে পারেন। উইকিসংকলনের যেকোন সদস্য প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে এখানে মন্তব্য রাখতে পারেন। }} {{উইকিসংকলন:লিপিশালা/দিকনির্দেশ}} __TOC__ __NEWSECTIONLINK__ [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলন প্রশাসন]] == সার্বজনীন আচরণবিধি ও প্রয়োগ নির্দেশিকার বার্ষিক পর্যালোচনা == <section begin="announcement-content" /> আপনাকে জানানো হচ্ছে যে, সার্বজনীন আচরণবিধি ও প্রয়োগ নির্দেশিকার বার্ষিক পর্যালোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে। আপনি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত যেকোন পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে পারেন। বার্ষিক পর্যালোচনার নির্ধারিত ধাপগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম। [[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Annual review/2026|আরও বিস্তারিত জানতে এবং মেটা-উইকির UCoC পাতায় চলমান আলোচনায় অংশ গ্রহণ করতে এখানে ক্লিক করুন]]। ​[[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Coordinating Committee|সার্বজনীন আচরণবিধি সমন্বয় কমিটি]] (ইউ৪সি) একটি বৈশ্বিক দল, যা সার্বজনীন আচরণবিধির ন্যায্য ও ধারাবাহিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করে। এই বার্ষিক পর্যালোচনাটি ইউ৪সি কর্তৃক পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইউ৪সি এবং এর দায়িত্বসমূহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে, আপনি [[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Coordinating Committee/Charter|ইউ৪সি সনদ দেখতে পারেন]]। দয়া করে এই তথ্যটি আপনার সম্প্রদায়ের অন্যান্য সদস্যদের সাথে এবং অন্য যে কোনও উপযুক্ত স্থানে শেয়ার করুন। -- ইউ৪সি-এর সহযোগিতায়, [[m:User:Keegan (WMF)|কিগান (WMF)]] ([[m:User talk:Keegan (WMF)|আলাপ]])<section end="announcement-content" /> ২১:০২, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) (এই বার্তাটি [[:উইকিসংকলন:প্রশাসকদের আলোচনাসভা]] পাতায় পাঠানো হয়েছিল ও একটি পুনর্নির্দেশের কারণে এখানে পোস্ট করা হচ্ছে।) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=Distribution_list/Global_message_delivery&oldid=29905753-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:Keegan (WMF)@metawiki পাঠিয়েছেন --> == PageImages এক্সটেনশন যোগ == {{tracked|T416800}} সুধী, উইকিসংকলনে [[:mw:Extension:PageImages|PageImages এক্সটেনশন]] যোগ করার জন্য সম্প্রদায়ের মতামত ও সমর্থন চাওয়া হচ্ছে। এই এক্সটেনশন যোগ করলে উইকিসংকলনের পাতায় যুক্ত ছবির থাম্বনেল তৈরি করে বাইরের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তা প্রদর্শিত হবে। উল্লেখ্য সকল উইকিপিডিয়া প্রকল্পে এই এক্সটেনশন ইতিমধ্যে অনেকদিন ধরেই যুক্ত। -- [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ১৫:০৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} -- [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১৫:২০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{support}} - [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ১৫:৫৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:জয়শ্রীরাম সরকার|জয়শ্রীরাম সরকার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:জয়শ্রীরাম সরকার|আলাপ]]) ১৬:৫১, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Nettime Sujata|Nettime Sujata]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Nettime Sujata|আলাপ]]) ১১:১৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Mahir256|মাহির২৫৬]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mahir256|আলাপ]]) ১৪:৫৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} – [[User:Tarunno|<span style="display:inline-block;color:#008329;font-weight:bold; transform: scale(-1,1);text-shadow:0 1px 2px #ddd">তারুণ্য</span>]]<span style="font-size:10px;vertical-align:text-top;"> [[ব্যবহারকারী আলাপ:Tarunno|আলাপ]]</span> • ১৫:০৬, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৫:৩৭, ১৭ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) == ২০০০-পূর্ব বাংলাদেশি কর্মের কপিরাইট মেয়াদ == সুধী, আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন। বাংলাদেশে <small>(ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে)</small> প্রকাশিত কর্ম এবং বাংলাদেশি <small>(ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানি)</small> লেখকদের কপিরাইট মেয়াদ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাবনা আমরা উত্থাপন করছি। প্রস্তাবনা: বাংলাদেশি/পূর্ব পাকিস্তানি নাগরিকের বা বাংলাদেশে/পূর্ব পাকিস্তানে প্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''সাহিত্যিক''' কর্মের ক্ষেত্রে কপিরাইট মেয়াদ: '''লেখকের মৃত্যু + ৫০ বছর'''; # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''সরকারি''' কর্মের ক্ষেত্রে: '''প্রকাশ + ৫০ বছর'''; # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''ছবি''' কর্মের ক্ষেত্রে: '''প্রকাশ + ৫০ বছর'''; # এবং ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে [https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047 কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২]-এর অধ্যায় ৩ কর্তৃক প্রণীত [[#মেয়াদ ৬২|অন্যান্য মেয়াদ সমূহ]]। এই প্রস্তাবনা লিখিতভাবে উপস্থাপনে সার্বিক সহায়তার জন্য [[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]]কে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। === আইনি বিশ্লেষণ ও যৌক্তিকতা === বর্তমান বাংলাদেশি ভূখণ্ডে কপিরাইট আইনসমূহের ক্রম নিচে উল্লেখ করা হলো: {| class="wikitable" style="margin: auto;" !আইন !সময়কাল !সাধারণ মেয়াদ |- |[https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/15848 ভারতীয় কপিরাইট আইন ১৯১৪] |১৯১৪ - ১৯৬২ |৫০ বছর |- |[https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047 কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২]<br>(১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |১৯৬২ - ২০০০ |৫০ বছর |- |[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html কপিরাইট আইন, ২০০০]<br>(২০০৫ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |২০০০ - ২০২৩ |৬০ বছর |- |[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452.html কপিরাইট আইন, ২০২৩] |২০২৩ - বর্তমান |৬০ বছর |- | colspan="3" |যেকোনো আইন রহিতকরণের ক্ষেত্রে:<br>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬]<br>(২০১৮ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |} অর্থাৎ ২০০০ সালের আইনে কপিরাইটের সাধারণ মেয়াদ প্রথমবারের মতো ৫০ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৬০ বছরে উন্নীত করা হয় এবং ২০২৩ সালের আইনেও তা চলমান থাকে।  স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ২০০০ সালের পূর্বে প্রকাশিত যে কর্মগুলোর কপিরাইট মেয়াদ তখনো শেষ হয়নি (যেমন, ১৯৯০ সালের একটি প্রকাশনা), সেগুলো কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বর্ধিত ৬০ বছরের মেয়াদের আওতায় চলে আসবে? শুরুতে মনে হতে পারে, যেহেতু নতুন আইনে সাধারণ মেয়াদ ৬০ বছর, তাই পুরনো সব বিদ্যমান কর্মও হয়তো এই সুবিধা পাবে। কিন্তু আইনের '''আক্ষরিক ব্যাখ্যা''' অনুসরণ করলে আমরা বিপরীত চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।  [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] ও সাধারণ আইনি কর্যধারা অনুযায়ী, কোনো আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে নতুন কোনো বিধান ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) পেছনের কর্মের ওপর কার্যকর হয় না। ২০০০ সালের আইনের কোথাও স্পষ্টভাবে বলা নেই যে, পূর্বের কর্মগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাবে। বরং এই <mark>আইনের ১০৫ নং ধারা অনুযায়ী ১৮ জুলাই, ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে যেকোনো কর্মের মেয়াদ বর্ধিত করা হয়নি।</mark>  <div style="float: right; margin-left: 15px; margin-bottom: 5px; border: 2px solid yellow"> {{show |1= আইন দেখুন |2={{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-846/section-30242.html|ধারা ১০৪|}}<br>ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html|কপিরাইট আইন, ২০০০}}}} ১০৪। এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে যাহা এই আইনের অনূদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে। {{Collapse bottom|}} }} </div> উল্লেখ্য, ধারা ১০৪ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার একটি নির্ভরযোগ্য অনূদিত পাঠ প্রদান করেছে। ইংরেজি ও বাংলা পাঠের সাথে সংঘর্ষ হলে, বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে। সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বাংলা পাঠ হতে আসতে হবে। তবে ইংরেজি পাঠ সংযুক্ত রাখা হয়েছে বোঝার সুবিধার্থে এবং আইনের ইন্টেন্ট বা উদ্দেশ্য পরিষ্কার করার জন্য। <div style="display:flex; flex-wrap:wrap; gap:10px;"> <div style="flex:1; min-width:300px; padding:10px;"> {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-846/section-30242.html|ধারা ১০৫|}}<br>রহিতকরণ, হেফাজত এবং ক্রান্তিকালীন বিধান<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html|কপিরাইট আইন, ২০০০}}}} ১০৫। (১) The Copyright Ordinance, 1962 (Ordinance no XXXIV of 1962) এতদ্বারা রহিত করা হইল। (২) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে এমন কোন কাজ করিয়া থাকেন যা দ্বারা তিনি সংশ্লিষ্ট সময়ে আইন মোতাবেক কোন কর্মের পুনরুৎপাদন বা সম্পাদনের জন্য অথবা এই আইন কার্যকর না হইলে ঐরূপ পুনরুৎপাদন বা সম্পাদন বৈধ হইত এমন কোন কর্মের পুনরুৎপাদন বা সম্পাদনের জন্য কোন প্রকার ব্যয় বা দায় এর জন্য দায়ী হন, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছুই ঐরূপ কাজ হইতে বা তৎসূত্রে উদ্ভূত কোন অধিকার বা স্বার্থ খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না, যদি না এই আইনবলে পুনরুৎপাদন বা সম্পাদন করিবার অধিকারী ব্যক্তি চুক্তিভঙ্গের দরুণ বোর্ড যেরূপ নির্ধারণ করে ঐরূপ ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে সম্মত না হন। (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত আইনের অধীন কোন কর্মের কপিরাইট ছিল না এমন কোন কর্মের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কপিরাইট থাকিবে না।   (৪) এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে যেক্ষেত্রে কোন কর্মের কপিরাইট বিদ্যমান ছিল ঐরূপ কপিরাইটের অন্তর্ভুক্ত অধিকার, এই আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ হইতে, কর্মটি যে শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ঐ শ্রেণী সম্বন্ধে ধারা ১৪-এ উলি্লখিত অধিকার হইবে এবং যদি উক্ত ধারা দ্বারা কোন নতুন অধিকার প্রদত্ত হয়, তাহা হইলে উক্ত অধিকারের মালিক- :(ক) এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে কর্মটির কপিরাইটের সম্পূর্ণ স্বত্ব-নিয়োগ হইয়া থাকিলে, উক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত স্বত্বাধিকারী স্বার্থের উত্তরাধিকারী হইবেন। :(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, ঐ ব্যক্তি হইবেন যিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন বাতিলকৃত আইনে কর্মটির কপিরাইটের প্রথম স্বত্বাধিকারী ছিলেন।   <mark>(৫) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, কোন ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে, তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন তাহা অব্যাহত থাকিবে।</mark>   <br>(৬) এই আইনের কোন কিছুই উহা কার্যকর হওয়ার পূর্বে কৃত কোন কাজ কপিরাইট লঙ্ঘনজনিত কাজ হিসাবে ব্যাখ্যায়িত হিসাবে গণ্য হইবে না, যদি ঐ কাজ অন্যভাবে ঐরূপ অধিকারলঙ্ঘন গঠন না করিয়া থাকে।   <br>(৭) এই ধারায় ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, রহিতকরণের ফলাফলের বিষয়ে ১৮৯৭ সনের জেনারেল ক্লজেস এ্যাক্ট (১৮৯৭ সনের ১০নং আইন) প্রযোজ্য হইবে। {{Collapse bottom|}} </div> <div style="flex:1; min-width:300px; padding:10px;"> {{Collapse top|Section 105<br>Repeals, savings and transitional provisions<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/upload/act/2021-11-17-10-44-05-32.-The-Copyright-Act-2000.pdf|Authentic English Text of Copyright Act, 2000 }}}} 105. (1) The Copyright Ordinance, 1962, (Ordinance no XXXIV of 1962) is hereby repealed. (2) Where any person has, before the commencement of this Act, taken any action whereby he has incurred any expenditure or liabilities in connection with the reproduction or performance of any work in a manner which at that time was lawful or for the purpose of or with a view to the reproduction or performance of a work at a time when such reproduction or performance would, but for the coming into force of this Act, have been lawful, nothing in this section shall diminish or prejudice any rights or interests arising from or in connection with such action which are subsisting and valuable at the said date, unless the person who, by virtue of this Act, becomes entitled to restrain such reproduction or performance agrees to pay such compensation as, failing agreement, may be determined by the Board. (3) Copyright shall not subsist by virtue of this Act in any work in which copyright did not subsist immediately before the commencement of this Act under any Act or Ordinance repealed by sub-section (1).  (4) Where copyright subsisted in any work immediately before the commencement of this Act, the rights comprising such copyright shall, as from the date of such commencement, be the rights specified in section 14 in relation to the class of works to which such work belongs, and where any new rights are conferred by that section, the owner of such rights shall be⎯ :(a) in any case where copyright in the work was wholly assigned before the commencement of this Act, the appointed assignee; and :(b) in any other case, the person who was the first owner of the copyright in the work under any Act or Ordinance repealed by sub-section (1) or his legal representatives. <mark>(5) Except as otherwise provided in this Act, where any person was entitled immediately before the commencement of this Act to copyright in any work or any right in such copyright or to an interest in any such right, he shall continue to be entitled to such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force.</mark> (6) Nothing contained in this Act shall be deemed to render any act done before its commencement an infringement of copyright if that act would not otherwise have constituted such an infringement. (7) If there is nothing otherwise provided by this section, the General Clauses Act, 1897 (Act X of 1897) shall apply with respect to the effect of repeals. {{Collapse bottom|}} </div> </div> উপরের ধারা ১০৫(৫) অনুসারে সিদ্ধান্তে আসা যায়, নতুন আইন প্রবর্তনের পূর্বে যে কর্মগুলোর কপিরাইট বহাল ছিল, সেগুলোর মেয়াদকাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে যেন ২০০০ সালের আইনটি পাসই হয়নি। অর্থাৎ, পুরোনো কর্মগুলোর ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত ৫০ বছরের মেয়াদই বলবৎ থাকবে। ধারা ১০৫(৫) এর একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হলো: {| class="wikitable" |+ !বিষয় !বাংলা !ইংরেজি !ব্যাখ্যা |- |'''দ্বন্দ্ব''' |এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে |Except as otherwise provided in this Act |সাধারণ হেফাজত। আইনে ভিন্ন কিছু উল্লেখ নেই। |- |'''কে?''' |কোন ব্যক্তি |where any person |বাংলাদেশি কর্মের প্রণেতা |- |'''কখনকার কর্ম?''' |এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে |was entitled immediately before the commencement of this Act |১৮ জুলাই, ২০০০ এর পূর্বে |- |'''কী?''' |কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে |to copyright in any work or any right in such copyright or to an interest in any such right |কপিরাইট সুরক্ষা |- |'''সময়কাল''' |তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন |such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force. |২০০০ এর আইন না থাকলে ৫০ বছর মেয়াদি সুরক্ষা থাকতো। |- |'''ক্রিয়া''' |তাহা অব্যাহত থাকিবে |he shall continue to be entitled to |৫০ বছর সুরক্ষা পাবে |} ১. '''দ্বন্দ্ব''': ''"এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে"'' - এই বাক্যাংশটি "দ্বন্দ্ব নিরোধ" হিসেবে পরিচিত। বাক্যাংশটি মূলত একই বা ভিন্ন আইনের সাথে দ্বন্দ্ব রোধে ঢালাওভাবে ব্যবহৃত হয়। ধারা ১০৫(৫) চাচ্ছে পূর্বের প্রদত্ত আইনি সুরক্ষার মেয়াদ অব্যাহত রাখতে। এই মেয়াদের অব্যাহতি ঢালাওভাবে সকল বাংলাদেশি কর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু এই ঢালাওভাবে প্রয়োগ সহজেই অপ্রত্যাশিত দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। এই দ্বন্দ্ব বর্তমানে প্রতীয়মান না হলেও, ভবিষ্যতে কোনো মামলায় আবিষ্কৃত হতে পারে। ফলে আপাত দৃষ্টিতে দ্বন্দ্ব না থাকলেও, সুরক্ষার খাতিরে এই দ্বন্দ্ব নিরোধ অংশ যুক্ত করেন আইন প্রণেতারা। এখন প্রশ্ন হতে পারে দ্বন্দ্ব আছে নাকি নেই? এই উপধারার সাথে কী প্রকারের দ্বন্দ্ব হওয়ার সুযোগ আছে? উদাহরণ স্বরূপ ধরি, ৬২-এর আইনে লোকসংস্কৃতির মেয়াদ ছিল ২৫ বছর কিন্তু নতুন আইন সেটাকে অসীম সুরক্ষা দিয়েছে। যেহেতু লোক সংস্কৃতির প্রকাশকাল নেই বা থাকলেও সেটি ২০০০ সালের পরে প্রকাশিত হলে সেটি আর লোকসংস্কৃতি বলে বিবেচিত হবে না। তাহলে এখানে দ্বন্দ্ব প্রতীয়মান হওয়ার সুযোগ আছে। পুরাতন আইনের অধীনে থাকলে, আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী এরা অসীম সুরক্ষা পাবে না। তাই এক্ষেত্রে আইনের মূল অংশ প্রাধান্য পাবে। উল্লেখ্য এটি একটু উদাহরণ মাত্র এবং বাস্তবতার সাথে মিল নেই। আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো সাধারণ সাহিত্যকর্ম, ছবি, সরকারি কর্ম ইত্যাদি। এই বিষয়সমূহে এরূপ কোনো দ্বন্দ্ব নেই আইনে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আইনে তো নতুন ৬০ বছর মেয়াদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ধারা চাচ্ছে আগের মেয়াদ অব্যাহত রাখতে, তাহলে এটা কি দ্বন্দ্ব? আইনি ব্যাখ্যার সুপ্রতিষ্ঠিত 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy) অনুযায়ী এই ধারণাটি পুরোপুরি যৌক্তিক নয়। আইনে কখনোই কোনো অর্থহীন বা অপ্রয়োজনীয় ধারা যুক্ত করা হয় না। যদি ২৪ থেকে ৩৩ ধারার সাধারণ ৬০ বছরের নিয়মটিকেই ১০৫(৫) ধারায় উল্লেখকৃত 'ভিন্নরূপ বিধান' হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তবে ১০৫(৫) ধারাটির কোনো প্রয়োগই অবশিষ্ট থাকে না। আইনশাস্ত্রে একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, 'বিশেষ বিধান সাধারণ বিধানের ওপর প্রাধান্য পায়' (Lex specialis derogat legi generali)। আইনের ২৪ থেকে ৩৩ ধারা হলো কপিরাইট মেয়াদের একটি General Provision, যা আইন পাসের পর থেকে নতুন কর্মের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে ১০৫(৫) ধারা হলো পুরোনো কর্মের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বিশেষ বিধান। প্রকৃতপক্ষে <mark>এখানে "ভিন্নরূপ বিধান" বলতে বোঝানো হয়েছে: যদি আইনের অন্য কোথাও স্পষ্টভাবে লেখা থাকত যে "পুরোনো 'কোনও' কর্মের মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাবে", কেবল তখনই সেটি কার্যকর হতো।</mark> ২. '''কে?''': ''"কোন ব্যক্তি"'' - বাংলাদেশি কর্মের প্রণেতাকে বুঝানো হয়েছে। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ২(২৭) ধারা অনুযায়ী: (২৭) "বাংলাদেশী কর্ম" অর্থ এমন সাহিত্য, নাট্য, সংগীত বা শিল্প কর্ম- (ক) যাহার প্রণেতা বাংলাদেশের নাগরিক; বা (খ) যাহা প্রথম বাংলাদেশে প্রকাশিত হইয়াছে; বা (গ) অপ্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে, যাহার প্রণেতা উহা তৈরীর সময় বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন; ৩. '''কখনকার কর্ম?''': ''"এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে"'' - কপিরাইট আইন, ২০০০ কার্যকর হয়েছে ১৮ জুলাই, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ উক্ত তারিখের পূর্বে প্রকাশিত যেকোনো কর্মের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য। ৪. '''কী?''': ''"কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে"'' - সাধারণ কপিরাইট সুরক্ষা। ৫. '''সময়কাল''': ''"তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন" / "such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force."'' - এই অংশে বলা আছে যে, ''এই আইন কার্যকর না হইলে'' কিন্তু আইন যেহেতু কার্যকর হয়েছে, এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তাই এই অংশ প্রযোজ্য নয়। এখানে আমাদের পূর্ববর্তী 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' যুক্তি প্রযোজ্য। আর এই বাক্যাংশটি শর্তমূলক (conditional clause) নয়। এখানে ''"এই আইন কার্যকর না হইলে"'' ("''if this Act had not come into force''") একটি counterfactual / irrealis / hypothetical / unreal conditional clause. আরও নির্দিষ্টভাবে, এটি হলো: * একটি শর্তবাচক উপবাক্য * যা past perfect রূপে আছে * এবং একটি অবাস্তব অতীত শর্ত প্রকাশ করছে * ব্যাকরণ আলোচনায় একে প্রায়ই প্রতিবাস্তব (counterfactual), অবাস্তব (irrealis), বা কাল্পনিক (hypothetical) বলা হয় এতে এই অর্থ নেই যে আইনটি সত্যিই কার্যকর হয়নি। এর অর্থ হলো যে এই অধিকার বা স্বার্থ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এমন একটি অবস্থা কল্পনা করতে হবে, যেখানে এই আইন কখনোই কার্যকর হয়নি; এবং সেই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কত সময়ের জন্য ওই অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হতেন, তা নির্ধারণ করতে হবে। অতএব বাক্যটি একটি আইনগত-কাল্পনিক তুলনা ব্যবহার করছে: বাস্তব অবস্থা: আইনটি কার্যকর আছে। কল্পিত অবস্থা: আইনটি কার্যকর হয়নি। তারপর আইনটি জিজ্ঞেস করছে: এই কল্পিত অবস্থায় ব্যক্তি কোন সময়কাল পর্যন্ত অধিকারী হতেন? এটি আইন প্রণয়নে খুবই সাধারণ একটি কৌশল। এখানে “অসম্ভব” কথাটির অর্থ গোঁজামিল বা অযৌক্তিক নয়; বরং এটি অধিকার নির্ণয়ের জন্য একটি প্রতিবাস্তব মানদণ্ড। ৬. '''ক্রিয়া''': ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' (''"he shall continue to be entitled to"''): এখানে "আব্যাহত"কে বাংলাদেশ সরকার ইংরেজিতে continue শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। {{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1123.html|বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩}} দ্বারা কার্যরত বাংলা ভাষা বিষয়ক বাংলাদেশি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলা একাডেমি। বাংলাদেশ সরকার তার নিজের সরকারি কাজে বাংলা ব্যবহারে বাংলা একাডেমির নিয়ম মানতে নির্দেশনা দেয়।<sup>[https://file-rajshahi.portal.gov.bd/files/bscic.rajshahi.gov.bd/files/62628c74_11b2_48a4_98e3_e694fdb18021/604f94fbbfa1ac882cb826c1fe5a2784.pdf]</sup> তাদের প্রকাশিত [https://web.archive.org/web/20210117115141/https://xeroxtree.com/pdf/adhunik_bangla_ovidhan.pdf আধুনিক বাংলা অভিধান] অনুযায়ী নকশা, মডেল ও ডিজাইনের সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, এই সংজ্ঞাসমূহ মানতে আইন {{color|red|বাধ্য (binding) নয়}}। অব্যাহত <small>/অব্ব্যাহতো/</small> [স. 7+| 17 + sqrt(27) + 5 ] বিণ, ১ অপ্রতিহত, অবাধ (অব্যাহত গতি)। ২ অব্যর্থ। ৩ অপ্রতিবন্ধ। অপ্রতিহত অর্থ বাধাহীনভাবে। অর্থাৎ, এই অংশ দ্বারা বলা হয়েছে। তার আগের মেয়াদ continue করবে। আগে যা ছিল তাই থাকবে। এবং তার মেয়াদে কোনো বাধা থাকবে না। অনেকে প্রায়োগিক অর্থ ভেবে বলতে পারেন যে, এই আইন শুধু চাচ্ছে যে অধিকার খর্বকারী মেয়াদ না কমাতে। কিন্তু অব্যাহত-এর বুৎপত্তিগত এবং সকল সংজ্ঞা অনুযায়ী, মেয়াদে বাধা দেবে না। এটি উভয়দিকে কাজ করে। শুধুমাত্র একদিকে নয়। সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রয়োগ ভিন্ন মানুষ ভিন্নভাবে নিতে পারে। এজন্য বুৎপত্তিগত ব্যাখ্যা মেনে নেওয়া শ্রেয়। আইনের ইন্টেন্ট বুঝার জন্য ইংরেজি অনুবাদ ব্যাবহার করা যেতে পারে। ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। যা বুঝায়, আগে যা ছিল তাই থাকবে। অর্থাৎ আগের ৫০ বছর মেয়াদ বলবৎ থাকবে। '''ধারা ১০৫(১)''': কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ রহিত করা হয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয়। ধারা ১০৫, আগের আইনের অধীন প্রকাশিত কর্মসমূহ নিজ নতুন আইনের আওতায় আত্তীকরণ করেনি, যেমনটা কপিরাইট আইন, ২০২৩ করেছে। অর্থাৎ, আগের কর্মসমূহের লাইসেন্স বিবেচনা কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর আলোকে করতে হবে। '''ধারা ১০৫(২)''': কোন মামলা বা অপরাধ ২০০০ এর আগে সংঘটিত হলে, তা আগের আইনের অধীনে বিচার হবে। '''ধারা ১০৫(৩)''': কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। '''ধারা ১০৫(৪)''': এই ধারায় "অধিকারের পরিধি বা প্রকৃতি" ব্যাখ্যা করা হয়ছে; "মেয়াদ" নয়। ১০৫(৪)-এর আশ্রয় নিয়ে প্রস্তাবের আরেকটা বিরোধিতা করা যেতে পারে যে ''ধারা ১০৫(৪)-এ বলা হয়েছে, পুরোনো কর্মগুলো নতুন আইনের "ধারা ১৪-এ উল্লিখিত অধিকার" পাবে। ফলে, যেহেতু কর্মটি নতুন আইনের (১৪ ধারার) অধীনে চলে আসছে, তাই এর মেয়াদও নতুন আইনের ৬০ বছর হওয়া উচিত।'' উ: আইনের দৃষ্টিতে "অধিকারের পরিধি বা প্রকৃতি" এবং "অধিকারের মেয়াদ" সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। ধারা ১০৫(৪) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শুধুমাত্র "ধারা ১৪"-এর কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে কপিরাইটের মেয়াদ নিয়ে একটি শব্দও নেই। ধারা ১৪ কেবল সংজ্ঞায়িত করেছে কপিরাইট বলতে কী কী 'কর্ম' বোঝায় এবং সেসব 'কর্ম'-এর কোন কোন অধিকার একচেটিয়াভাবে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ধারা ১০৫(৪) পুরোনো কর্মগুলোকে কেবল ধারা ১৪-তে থাকা নতুন ধরনের অধিকার ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই অধিকারটি কতদিন বজায় থাকবে, অর্থাৎ সময়কাল বা মেয়াদের বিষয়টি ঠিক তার পরের উপধারা ১০৫(৫)-এ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। <mark>১০৫(৫)-এ পরিষ্কার বলা হয়েছে, অধিকার যা-ই হোক না কেন, ব্যক্তি ঠিক সেই "সময়ের জন্য" অধিকার ভোগ করবেন, যা তিনি এই নতুন আইন না এলে পেতেন (অর্থাৎ ৫০ বছর)।</mark> '''ধারা ১০৫(৫)''': ব্যাখ্যা করা হয়েছে। '''ধারা ১০৫(৬)''': ধরুন এক প্রকারের পুনঃব্যবহার অনুমতি ১৯৬২ সালের আইনে দেওয়া হলেও, ২০০০ সালের আইনে দেওয়া হয়নি। তাহলে ২০০০ সালের আগে সেই কর্ম কেউ পুনঃব্যবহার করে থাকলে, সেটি নতুন আইনের আওতায় দণ্ডনীয় নয়। '''ধারা ১০৫(৭)''': [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] এর ৬ষ্ঠ ধারা বাংলাদেশের যেকোনো আইনের রহিতকরণের প্রভাব নির্ধারণ করে। কপিরাইট আইন, ২০০০-এর ১০৫(৭)-এ তা উল্লেখ করা আছে। ১০৫(৭)-এ উল্লেখ করা না থাকলেও, এই আইন বলবৎ থাকতো। কপিরাইট বাদেও এই ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল আইন অ-ভূতাপেক্ষ (Non-retroactive) যদিনা নতুন আইনে আলাদা করে উল্লেখ না থাকে। [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] এর ৬(গ) ধারা অনুযায়ী, নতুন আইনে অন্যথায় উল্লেখ না থাকলে, নতুন আইন নাগরিকের পূর্ব আইনের আওতায় প্রাপ্ত রাইট (অধিকার)কে প্রভাবিত করবে না। কপিরাইট এর নামানুসারেই একপ্রকারের রাইট বা অধিকার। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ধারা ১০৫ এই অংশের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। affect অর্থ প্রভাবিত করা। সেটা অধিকার বৃদ্ধি বা হ্রাস উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ১৯৬৩ সালের প্রকাশিত কোনো প্রকাশনার ক্ষেত্রে, কর্মের স্রষ্টা ৫০ বছরের অধিকার পেয়েছিলেন তার কর্মের উপর। আমি জনগণ, ৫০ বছর পর এটি মুক্তভাবে ব্যাবহারের অধিকার পেয়েছিলাম। নতুন আইন যেহেতু পূর্বের কর্মের ব্যাপারে কিছু বলেনি; শুধু নতুন কর্মের জন্য নতুন বর্ধিত অধিকার দিয়েছে। তাই এই আইন অনুযায়ী নতুন আইন আমার পূর্বে প্রাপ্ত অধিকারকে প্রভাবিত করবে না। সেটা যেকারো লাভ বা ক্ষতি যেজন্যই হোক না কেনো। ২০০০ এর আইনের ১০৫(৫)-এ এই আইনের নীতিমালাকে প্রয়োগ করা হয়েছে। {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-73/section-19978.html|Section 6}}<br>Effect of repeal<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html|The General Clauses Act, 1897}}}} 6. Where this Act, or any Act of Parliament or Regulation made after the commencement of this Act, repeals any enactment hitherto made or hereafter to be made, then, unless a different intention appears, the repeal shall not- :(a) revive anything not in force or existing at the time at which the repeal takes effect; or :(b) affect the previous operation of any enactment so repealed or anything duly done or suffered thereunder; or :<mark>(c) affect any right, privilege, obligation or liability acquired, accrued or incurred under any enactment so repealed;</mark> or :(d) affect any penalty, forfeiture or punishment incurred in respect of any offence committed against any enactment so repealed; or :(e) affect any investigation, legal proceeding or remedy in respect of any such right, privilege, obligation, liability, penalty, forfeiture or punishment as aforesaid; and any such investigation, legal proceeding or remedy may be instituted, continued or enforced, and any such penalty, forfeiture or punishment may be imposed as if the repealing Act or Regulation had not been passed. {{Collapse bottom|}} '''কপিরাইট আইন, ২০২৩''': এবার বর্তমানে বলবৎ 'কপিরাইট আইন, ২০২৩'-এ আসি। বলা যেতে পারে, নতুন আইনের ১২৭(২)(ক) ধারায় যেহেতু (২০০০-এর আইনে থাকা) পুরোনো অধিকারগুলো বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে, তাই পুরোনো কর্মগুলোও ৬০ বছর মেয়াদ পাবে। কিন্তু ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ৬(c) ধারা অনুযায়ী, রহিতকৃত আইনের অধীনে নির্ধারিত অধিকারের কাঠামো (যেমন ৫০ বছরের সীমা) অপরিবর্তিত থাকে। ফলে ২০২৩ সালের আইনটি কেবল সেই অবস্থাকেই সংরক্ষণ করে, যা ২০০০ সালের আইনের অধীনে অর্জিত হয়েছিল। যেহেতু ২০০০ সালের আইনটি ১০৫(৫) ধারার মাধ্যমে পুরোনো কর্মগুলোর মেয়াদকে সুনির্দিষ্টভাবে ৫০ বছরেই আটকে দিয়েছিল এবং অতিরিক্ত দশ বছর যুক্ত করার পক্ষে স্পষ্ট কোনও বিধান রাখেনি, তাই ২০২৩ সালের আইনও সেটিকে নতুন করে ৬০ বছরে উন্নীত করেনি। নিচে ২০২৩ সালের আইনের রহিতকরণ ধারাটি দেওয়া হলো:  {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html|ধারা ১২৭|}}<br>রহিতকরণ ও হেফাজত<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1452.html|কপিরাইট আইন, ২০২৩}}}} ১২৭। (১) কপিরাইট আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ২৮ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল। (২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত আইনের অধীন- :(ক) <mark>কৃত কোনো কাজ-কর্ম</mark>, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রণীত কোনো বিধি, জারীকৃত প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি, প্রদত্ত আদেশ, স্বত্বনিয়োগ, <mark>নিবন্ধন বা লাইসেন্স</mark>, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে, এবং এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন কৃত, গৃহীত, প্রণীত, জারীকৃত বা প্রদত্ত বলিয়া গণ্য হইবে; :(খ) উক্ত আইনের অধীন সূচিত কোনো কার্যধারা অসম্পূর্ণ থাকিলে উহা উক্ত আইন অনুযায়ী এইরূপে সমাপ্ত করা হইবে, যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই; :(গ) দায়েরকৃত কোনো মামলা বা মোকদ্দমা কোনো আদালতে চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই; :(ঘ) উক্ত আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বোর্ড এইরূপে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে; এবং :(ঙ) কপিরাইট অফিসে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিতপূর্বে যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে চাকুরিতে নিয়োজিত থাকিবেন এবং পূর্বের নিয়মে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন। {{Collapse bottom|}} উল্লেখ্য যে কপিরাইট আইন, ২০২৩ তার পূর্বসূরী আইন (শুধুমাত্র ২০০০ এর আইন)-এর অধীন প্রকাশিত কর্ম ১২৭(২)(ক) দ্বারা নিজের মধ্যে আত্তীকরণ করে। কিন্তু ২০০০ এর আইন, তার পূর্বসূরি ১৯৬২এর আইনের জন্য তা করে না। ফলে ১৯৬২ এর অধীন প্রকাশিত কর্ম ২০০০ বা ২০২৩ এর আইন আত্তীকরণ করে না এবং উত্তরসূরি আইনসমূহ তাদের নিজ নিজ হেফাজত ধারা অনুযায়ী ১৯৬২ এর অধীন কর্মগুলোতে ১৯৬২ এর আইন বলবৎ রাখে। ১৯৬২ হতে ২০০০ এর আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল কিন্তু ২০০০ থেকে ২০২৩ এর আইনে করা হয়নি/ তাই পূর্ববর্তী কর্মের মেয়াদ অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে কোনো ধারা যুক্ত করা হয়নি বা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ছিল না। কিন্তু আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হলে, তা আলাদা ভাবে যুক্ত করতে হতো, যা করা হয়নি। <mark>নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে, আইনের এই আক্ষরিক ও অ-ভূতাপেক্ষ (Non-retroactive) ব্যাখ্যাটিই আইনিভাবে অধিকতর নিরাপদ ও প্রচলিত।</mark> কারণ, কোনো অধিকারের মেয়াদ বা ব্যাপ্তি যদি পেছনের তারিখ থেকে বাড়াতে হয়, তবে আইনে তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখে দিতে হয়। '''আন্তর্জাতিক উদাহরণ''' আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই। '''কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২''': আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য ১৯৬২ সালের কপিরাইট অধ্যাদেশ। কপিরাইট আইন, ২০০০ পূর্ববর্তী আইনের মেয়াদসমূহ সংরক্ষণ করে। কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর মেয়াদসমূহ নিচে দেওয়া হলো: {{Collapse top|{{anchor|মেয়াদ ৬২}}CHAPTER III<br>TERM OF COPYRIGHT<br>{{url|https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047|The Copyright Ordinance, 1962}}}} 18. Term of copyright in published <mark>literary, dramatic, musical and artistic works.</mark>- :Except as otherwise hereinafter provided, copyright shall subsist in any literary, dramatic, musical or artistic work (other than a photograph) published within the life-time of the author until <mark>fifty years</mark> from the beginning of the calendar year next following the year in which the <mark>author dies</mark>. Explanation-In this section, the reference to the author shall, in the case of a work of joint authorship, be construed as a reference to the author who dies last.  19. Term of copyright in posthumous work.- :(1) In the case of a literary, dramatic or musical work or an engraving, in which copyright subsists at the date of the death of the author or, in the case of any such work of joint authorship, at or immediately before the date of the- death of the author who dies last, but which or any adaptation of which, has not been published before that date, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published or, where an adaptation of the work is published in any earlier year, from the beginning of the calendar year next following that year.  :(2) For this purposes of this section, a literary, dramatic or musical work or an adaptation of any such work shall be deemed to have been published, if it has been performed in public or if any records made in respect of the work have been sold, or offered for sale, to the public.  20. Term of copyright in cinematographic works, records and photographs.­  :(1) In the case of a cinematographic work, copyright shall subsist until fifty years fro.n the beginning of the calendar year next following the year in which the work is published.  :(2) In the case of a record, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the record is published.   :(3) In the case of a photograph, copyright shall subsist until fifty years from "the beginning of the calendar year next following the year in which the photograph is published.  20A. Term of copyright in broadcast.- :In the case of a broadcast, copyright shall subsist until twenty-five years from the beginning of the calendar year next following the year in which the broadcast first took place. 21. Term of copyright in anonymous and pseudonymous work.- :(1) In the case of a literary, dramatic, musical or artistic work (other than a photograph), which is published anonymously or pseudonymously, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.<br>Provided that where the identity of the author is disclosed before the expiry of the said period, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies.  :(2) In sub-section (1), references to the author shall, in the case of an anonymous work of joint authorship be construed,­  ::(a) where the identity of one of the authors is disclosed as references to that author;  ::(b) where the identity of more authors than one is disclosed, as references to the author who dies last from amongst such authors.  :(3) In sub-section (1), references to the author shall, in the case of a pseudonymous work of joint authorship, be construed,­  ::(a) where the names of one or more (but not all) of the authors are pseudonym and his or their identity is not disclosed, as references to the author whose name is not a pseudonym, or, if the names of two or more of the authors are not pseudonyms, as references to such one of those authors who dies last;  ::(b) where the names of one or more (but not all ) of the authors are pseudonyms and the identity of one or more of them is disclosed, as references to the author who dies last from amongst the authors whose names are not pseudonyms and the authors whose names are pseudonyms and are disclosed; and  ::(c) where the names of all the authors are pseudonyms and the identity of one of them is disclosed, as references to the author whose identity is disclosed or, if the identity of two or, more of such authors is disclosed as references to such one of those authors who dies last. Explanation-s-Pot the purposes of this section, the identity of an author shall be deemed to have been disclosed, if either the identity of the author is disclosed publicly by both the author and the publisher or is otherwise established to the satisfaction of the Board by that author.  22. Term of copyright in <mark>Government works</mark> and in works of International Organisations.- :(l) Copyright in a Government work shall, where government is the first owner of the copyright therein, subsist until <mark>fifty years</mark> from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.  :(2) In the case of a work of an international organisation to which the provisions of section 53 apply, copyright shall subsist shall until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.  23. Term of copyright in unpublished work.- :(1) If a work, whose author's identity is known, is not published posthumously within fifty years after the death of the author, such work shall fall into the public domain after fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies.  :(2) If a work, whose author's identity is not known, is not published within fifty years of its creation, such work shall fall into the public domain after fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is created.    {{Collapse bottom|}} === সংশোধন বনাম রহিতকরণ === কপিরাইটের মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি সুপরিচিত নজির রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে আমাদের প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। স্বাধীন ভারতে ১৯৯২ সালের সংশোধনী আইনের ([[:en:Indian_Copyright_Act_(3rd_Amendment)_1992|The Copyright Amendment Act, 1992]]) মাধ্যমে কপিরাইটের সাধারণ মেয়াদ ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। এই সংশোধনী পাসের সময় ভারতে যে কর্মগুলোর কপিরাইট তখনো বিদ্যমান (Alive) ছিল, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বর্ধিত ৬০ বছরের সুবিধা পেয়েছিল। প্রশ্ন আসতে পারে, ভারতে যদি বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বেড়ে থাকে, তবে বাংলাদেশে ২০০০ সালের নতুন আইন পাসের সময় বিদ্যমান কর্মগুলোর মেয়াদ কেন ৬০ বছর হবে না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে দুই দেশের আইন প্রণয়নের কাঠামোগত পার্থক্যের (''Amendment'' বনাম ''Repeal'') মধ্যে। ভারতের এই মেয়াদ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মের কপিরাইট। ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় তৎকালীন আইন অনুযায়ী তাঁর কর্মের কপিরাইট ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ভারত সরকার তড়িঘড়ি করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে মেয়াদ [https://www.telegraphindia.com/india/tagore-copyright-freedom-at-midnight/cid/910127?utm_source=chatgpt.com ১০ বছর বাড়িয়ে দেয়]। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে যখন এটিকে স্থায়ী আইন হিসেবে পাস করা হয়, তখন ভারত ১৯৯১ সালের সাময়িক অধ্যাদেশটি রেটিফাই করা সাপেক্ষে রহিত করলেও তাদের ১৯৫৭ সালের মূল আইনটিকে রহিত (Repeal) করেনি, বরং কেবল মূল একটি 'সংশোধনী' (Amendment) এনেছিল।  এই সংশোধনীর মাধ্যমে মূল আইনের পঞ্চম অধ্যায়ে 'fifty years'-এর স্থলে 'sixty years' প্রতিস্থাপিত করা হয় এবং নতুন আইনটিকে ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) ঠিক সেই ২৮ ডিসেম্বর ১৯৯১ তারিখ থেকেই কার্যকর ঘোষণা করা হয়। ফলে চলমান মূল আইন যখন 'সংশোধিত' হয়, তখন আইনের অধীনে থাকা সমস্ত বিদ্যমান বা 'অ্যালাইভ' অধিকারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সংশোধিত অবস্থার সুবিধা পায়।  বিপরীতে, বাংলাদেশ সরকার ১৯৬২ সালের মূল আইনটিকে (অধ্যাদেশ) 'সংশোধন' করেনি, বরং ২০০০ সালের আইনের ১০৫(১) ধারা দিয়ে তা সম্পূর্ণরূপে রহিত (Repeal) করে একটি নতুন আইন প্রবর্তন করে। যখন কোনো পুরোনো আইন বাতিল করে নতুন আইন আনা হয়, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরোনো আইনের অধীনে থাকা কর্মগুলো নতুন আইনের সুবিধা পায় না। কারণ, '''The General Clauses Act, 1897'''-এর ধারা ৬(c) অনুযায়ী, কোনো আইন রহিত (Repeal) হলে নতুন আইনে স্পষ্ট 'ভিন্নরূপ কোনো উদ্দেশ্য' (Different intention) না থাকলে, বাতিলকৃত আইনের অধীন অর্জিত অধিকার বা মেয়াদের কাঠামো (যেমন- ৫০ বছরের সীমা) ক্ষুণ্ণ বা পরিবর্তিত হয় না।  বাংলাদেশ যদি ভারতের মতো শুধু "মৃত কর্মগুলো আর জ্যান্ত হবে না" (ধারা ১০৫(৩)) লিখেই ক্ষান্ত হতো, তবে হয়তো বিতর্কের সুযোগ থাকত। কিন্তু আইনে ১০৫(৫) ধারায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ''"...তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন তাহা অব্যাহত থাকিবে।"''  অর্থাৎ, আইনসভা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, মেয়াদের ক্ষেত্রে নতুন আইনে তাদের 'ভিন্নরূপ কোনো উদ্দেশ্য' নেই। তারা পুরোনো আইনটি বাতিল করলেও, বিদ্যমান কর্মগুলোর মেয়াদ পুরোনো আইন (৫০ বছর) অনুসারেই চলবে। অধিকন্তু, ১০৫(৭) ধারায় 'জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট'-এর প্রয়োগ নিশ্চিত করে এই মেয়াদের সুরক্ষাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। === সার্বিক উপসংহার === উপরের বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা, ভারত ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নজিরের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, ২০০০ সালের ১৮ জুলাইয়ের পূর্বে প্রকাশিত কোনো কর্ম নতুন আইনের সাধারণ ৬০ বছরের মেয়াদের সুবিধা পাবে না। ভারতের আইনটি ছিল চলমান আইনের একটি 'সংশোধনী' হওয়ায় আতা বাংলাদেশের ২০০০ সালের সম্পূর্ণ নতুন আইনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয় না।) তাই ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারার মাধ্যমে এবং ২০২৩ আইনে তা কন্টিনিউ করার মাধ্যমে ২০০০-পূর্ব কর্মের কপিরাইটের মেয়াদ '''প্রকাশ বা লেখকের মৃত্যু + ৫০ বছর''' হিসেবেই আইনিভাবে নির্ধারিত হবে। ফলে আজকের তারিখ: {{#time: j F Y}} হিসেবে ৫০ বছর তথা {{#time: j F Y | -50 years }}-এর আগের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কর্ম কিংবা মৃত্যুবরণকারী লেখকের কর্ম উইকিসংকলনে আপলোড দিয়ে মুদ্রণ সংশোধন করতে কোনও আইনি বাধা নেই। [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৫:০৯, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}}: প্রস্তাবকারী হিসেবে। [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৭:০২, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:১৪, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * সহ-প্রস্তাবক হিসেবে {{দৃঢ় সমর্থন}}। শুরুতে আমি বরং বিরোধিতাকারী হিসেবেই প্রস্তাবককে নানান যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দুজনে মিলে দীর্ঘ আলোচলা, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও ক্রসচেক শেষে শেষপর্যন্ত এই ব্যাখ্যাতেই উপনীত হতে সক্ষম হই। ২০০০-পূর্ব প্রকাশনার জন্য এটাই এই আইনের সবচেয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা। সবশেষে, বেশ কিছুদিন ধরে নিরলসভাবে বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে আইনে লুকিয়ে থাকা এই বিধান এবং কমন্সে [[C:Commons:Village pump/Copyright#FoP in Bangladesh|বাংলাদেশের ভবনের ছবির কপিরাইট-অযোগ্যতা]]র বিষয়টি খুঁজে বের করার জন্য প্রস্তাবকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[Special:Contributions/MS Sakib|📝]]</b> ১১:৩৮, ২১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ০৭:০৫, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) :{{Comment}} — উপরে দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে আমার কিছু মতপার্থক্য আছে। নিচে তার আলোচনা করছি:— * '''ভূতাপেক্ষিতা''' — উপরে বলা হয়েছে যে নতুন আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে তা ভূতাপেক্ষ (retrospective), যা কিনা General Clauses Act অনুযায়ী হওয়ার কথা নয়; ফলে নতুন আইন দিয়ে পুরনো আইনের অধীনে প্রকাশিত বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারে না। আমার তা মনে হয় না। যে বইয়ের কপিরাইট জীবিত আছে, সেই জীবিত কপিরাইটের জীবৎকাল বাড়ানোকে ভূতাপেক্ষ বলা যায় কি? যদি তা হয়, তবে কবে থেকে ভূতাপেক্ষ? যদি পুরনো আইনের জন্মলগ্ন থেকে ভূতাপেক্ষ হয়, তবে যেসব বইয়ের কপিরাইট অধুনা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু পুরনো আইনের আমলে কিছুকাল আগে কপিরাইটে ছিল, সেই বইগুলিও এই ভূতাপেক্ষিতার সুযোগ লাভ করত এবং তাদের কপিরাইট পুনর্জীবিত হত। কিন্তু তা হয় না। কপিরাইট শেষ হয়ে গেলে এই তথাকথিত ভূতাপেক্ষ প্রাবধান দিয়ে কপিরাইট আর ফিরে আসে না। এতেই প্রমাণিত হয় যে এটা ভূতাপেক্ষ নয়; নতুন আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বাড়লে তা ভূতকাল থেকে বাড়ে না, বরং বর্তমান কাল থেকে বাড়ে। সেজন্যেই বিগত-কপিরাইট বইগুলি এর সুবিধা পায় না। ফলে এর সঙ্গে General Clauses Act-এর কোনই সংঘাত নেই। * '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''' — ১৯৯২ সালে ভারতীয় কপিরাইট আইন সংশোধন করে কপিরাইটের মেয়াদ লেখকের মরণোত্তর ৫০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। সেসময় রবীন্দ্রসাহিত্যের কপিরাইট ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন বিশ্বভারতীর কাছে। তাই এই অতীব লাভজনক কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধিই ছিল আইন-সংশোধনের মূল কারণ। প্রস্তাবকের মতে এমনটা হওয়া ভূতাপেক্ষ, তাহলে কিভাবে হল? প্রস্তাবকের দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী ১৯৯২-তে নতুন আইন না বানিয়ে চলমান আইনের সংশোধন হয়েছিল, তাই এটা ভূতাপেক্ষ নয়; নতুন আইন বানালে ভূতাপেক্ষ হত। বেশ, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের লেখাগুলো তো চলমান ১৯৫৭-এর আইনের অধীনে প্রকাশিতই হয় নি। রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার লেখাগুলি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৪৭-এর আইনের অধীনে (তাতে লেখকের মরণোত্তর সাত বছর কপিরাইট থাকত), আর পরের দিকের বইগুলি প্রকাশিত হয় ১৯১৪-এর আইনের অধীনে (তাতে মরণোত্তর ৫০ বছরের বিধান ছিল)। ১৮৪৭ এবং ১৯১৪-এর সাপেক্ষে ১৯৫৭-এর আইন হচ্ছে নতুন আইন। এই নতুন আইন দিয়ে কিভাবে রবীন্দ্রসাহিত্যের মেয়াদবৃদ্ধি করা গেল? এটা কি ভূতাপেক্ষ হচ্ছে না? প্রস্তাবক দেখাতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারা একটা ভূতাপেক্ষিতা-প্রতিরোধক ব্যবস্থা, যার কারণে ২০০০-এর আইন দিয়ে আগের বইগুলির কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটেনি। কিন্তু একই ব্যবস্থা তো ভারতীয় আইনেও ছিল। ভারতের ১৯৫৭-এর আইনের ৭৯(৫) ধারা এবং বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারা অবিকল এক ধারা, শুধু ধারার নম্বর আলাদা। কাজেই একই নিয়মের উপস্থিতিতে ভারতে যদি কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটে থাকে, তবে বাংলাদেশে তা ঘটেনি বলে কেন আমরা ধরে নেব? * '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''' — এখানে মনে পারে, ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইন ভিন্নপথগামী, তাই পরিণতিও ভিন্ন। কিন্তু ব্যাপারটা সেরকম নয়। দুদেশেরই আইনি পরিকাঠামো, বিভিন্ন স্থানীয় সংশোধনী সহ, কলোনিয়াল লেগ্যাসি। ব্রিটিশদের বানানো General Clauses Act, স্থানীয় সংশোধনী সহ, দুদেশেই চালু আছে। কাজেই একটার সঙ্গে অন্যটা তুলনাযোগ্য। কাজেই ভারতীয় আইনে যদি কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারে, তবে একই ব্যবস্থাযুক্ত বাংলাদেশি আইনে তা না বাড়ার কোন কারণ নেই। তাহলে ১০৫(৫) ধারার উপযোগিতা কী রইল? হ্যাঁ, উপযোগিতা আছে বৈকি, কিন্তু তা প্রস্তাবকের ব্যাখ্যার অনুসারী নয়। নিচে অন্যভাবে ব্যাখ্যার চেষ্টা করছি। * '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''' — যখন পুরনো আইন বাতিল করে নতুন আইন রচিত হয়, তখন নতুন আইনের শেষদিকে একটা রহিতকরণ ধারা (repeal section) থাকে। ভারত ও বাংলাদেশ দুদেশেই এই দস্তুর। পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকরা নতুন আইন দিয়ে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটা নিশ্চিত করতে এই ধারায় কয়েকটা উপধারা থাকে। নতুন আইনে কি সুবিধা পাওয়া যাবে বা যাবে না, সেসব এই ধারায় থাকে না, শুধু পুরনো আইনই এর ফোকাস। বাংলাদেশি আইনের ১০৫(৫) ধারা এই রহিতকরণ ধারার একটা উপধারা। এই ধারা দিয়ে পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকদের লেখকের মরণোত্তর ৫০ বছর কপিরাইটের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন আইনে মেয়াদ যদি ৫০ থেকে কমিয়ে ৪০ বছর করা হত, তাহলেও পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকদের, এই ধারার কারণে, ৫০ বছরের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকত। কিন্তু নতুন আইনের সুবিধা-অসুবিধার জন্য এই ধারা নয়। অর্থাৎ, পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকরা এই ধারা অনুযায়ী ৫০ বছরের অধিকার পাওয়ার পর, নতুন আইনের উপযুক্ত ধারা অনুযায়ী আরও অতিরিক্ত ১০ বছর পেতে পারেন। তাতে কোনই বাধা নেই। * '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''' — দেশে নতুন রাজা হলে পুরনো রাজার বিদ্যমান প্রজারা স্বতস্ক্রিয়ভাবে নতুন রাজার প্রজা হয়ে যায়। সেইরকম, নতুন কপিরাইট আইন হলে আগে থেকে কপিরাইটে থাকা বইগুলি স্বতস্ক্রিয়ভাবে নতুন আইনের আওতায় চলে আসে, ফলে তাদের কপিরাইটের মেয়াদ কমানো না গেলেও বাড়ানো যায়। এই কারণেই ভারতে রবীন্দ্রসাহিত্যের কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটেছিল। * '''ব্যবহারিক উদাহরণ''' — এটা সবারই জানা যে বিখ্যাত বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই অন্যান্য প্রকাশকরা সেগুলি ছেপে বাজারে ছাড়তে থাকে। রবীন্দ্রসাহিত্যের বেলাতেও এই ব্যাপার ঘটেছিল। যদি বাংলাদেশে ২০০০ সালের আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ না বেড়ে থাকে, তবে ১৯৫০ ও পরবর্তীতে মৃত লেখকদের বইগুলি এর সুবিধা পায় নি। সেক্ষেত্রে লেখকমৃত্যুর পর ৫০ পেরোনো কিন্তু ৬০-অনুত্তীর্ণ বিভিন্ন বিখ্যাত বই অবশ্যই অন্যান্য প্রকাশকরা বাজারে ছেড়ে থাকবেন। প্রস্তাবকের কাছ থেকে এমন কিছু ব্যবহারিক উদাহরণ আশা করছি, যাতে এই কপিরাইট না বাড়াটা পরিষ্কারভাবে প্রতিপন্ন হয়। — [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১২:৪২, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) *:{{ping|Hrishikes}} প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষাগত কারণে উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় আমি দুঃখিত। *:<br>১। '''ভূতাপেক্ষিতা''' — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তৎকালীন সময়ে আইনানুযায়ী খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক'কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়ার সুযোগ নেই। *:<br>আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্সটি কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ অথবা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে আইনের পরবর্তী নতুন প্রকাশিত বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে নতুন লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়। *:<br>ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেককাল আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন বর্তমানে মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না; বরং তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলে আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে। *:<br>এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়। *:<br>আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। <div style="float: right; margin-left: 15px; margin-bottom: 5px; border: 2px solid yellow"> {{show |1= আন্তর্জাতিক উদাহরণ |2=আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই }}</div> *:<br>এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি। *:<br>এই অংশে আমি বেশ কিছু দাবি করেছেন। যদিও আমি মনে করি দাবিসমূহ আইনের ভিত্তিতে নয়, আপনি চাইলে আপনার দাবির আইনি উৎস ব্যক্ত করতে পারেন। *:<br>২। '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''': রবীন্দ্রনাথের কিছু কর্ম ১৮৬৭ সালের আইনের অধীন প্রকাশিত হয়েছে। ১৯১৪ এর আইনের [https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা] অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি। *:<br>৩। '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''': বাংলাদেশ ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' এবং ভারতীয় ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদের বৃদ্ধি ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন একটা সংশোধনী আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২'' দ্বারা ভারতের কপিরাইট মেয়াদ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' থেকে আলাদা একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২''-এর ৩ নং ধারা শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইন ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা। *:<br>আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০-এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আংশিক আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২'' এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো মেয়াদ আটকানোর ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে। *:<br>আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কিছুই প্রামণ্য নয়। আপনার, আমার, আইনজীবীর, সংবাদপত্রের সাংবাদিকের, আইন প্রণেতার, সরকারি কর্মচারীর, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-24.html The Evidence Act, 1872]) এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল<sup>[https://www.cambridge.org/core/books/abs/trials-for-international-crimes-in-asia/trials-for-international-crimes-in-bangladesh/995CD8AA54604F855E32F031EF19E2D4]</sup> <small><sub>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-435/section-12495.html ধারা ১৯(৫) The International Crimes (Tribunals) Act, 1973])</sub></small>। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ব্যাপারে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে। *:<br>সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রতিটি দেশ আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে যে, মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাগু হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আলাদা আইন পাশ করানো হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি সংবেদনশীল, গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই প্রতিটি দেশ অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। সরকার stakeholder-দের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন"-এর খসড়া ২০১৫ সাল হতে লেখা হচ্ছে।<sup>[https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-sid/2024/12/bad818b033344c2faa5ad1276e9ad0d9.pdf]</sup> কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক<sup>[https://obhanmason.com/blog/copyright-in-perpetuity/]</sup> ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এখানে উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম সংবেদনশীল কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52693.html ধারা ৬৭])। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে তাড়াহুড়ো হয়েছে বলে একটি যুক্তি দেওয়া সম্ভব। আমার মতে স্বল্প সময়ে সম্মানিত তৎকালীন ভারতীয় আইন প্রণেতাদের এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে উপযুক্ত ছিল। কিন্তু এই কারণে ভারতের এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। তাই আমার মূল প্রস্তাবনার ভারতীয় আইনে অংশকে তার মাতৃ উৎসের মতোই খানকিটা সাংঘর্ষিক মনে হওয়ার সুযোগ আছে। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে <u>বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়;</u> কেননা যথাযথ কারণে এই নজির প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো? আমার মতে ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে একটি ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। যেহেতু ৭৯(৫) এর শুরুতেই লেখা আছে ''"এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে"'', তাই সংঘর্ষ সৃষ্টি হবে না এবং মেয়াদ বৃদ্ধি বৈধ থাকবে। এই কারণে মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়। *:<br>৪। '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''': আমি আগে ভূতাপেক্ষিতা অংশে বলেছি, আইনের নাম, ধারার নাম অথবা ধারার সাধারণ নাম কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারে না। পারে শুধুমাত্র আইনের মূল পাঠ্য। আপনার প্রদত্ত মতামতে আইনের কোনো ধারা উল্লেখ করে তার আক্ষরিক বিশ্লেষণ নেই। বরং আপনার মতামত বাংলাদেশের আইনের ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমাদের আইনের প্রতিটি শব্দের থেকে এক চুলও নড়বার সুযোগ নেই। আমি ১০৫(৫) ধারা শব্দ ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এই ধারার ব্যাখ্যায় আমার কোন যুক্তি কেন ভুল, তা তুলে ধরুন। ধারায় বলা আছে, ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' এবং এর ইংরেজি অনুবাদে বলা আছে, ''"shall continue to be entitled to".'' এখানে "অব্যাহত" এবং "continue" এর অর্থ কি কোনো অভিধানে বলা আছে যে, "কর্মের স্রষ্টার অধিকার কমলে নতুন নিয়ম চলবে এবং বেশি থাকলে আগের নিয়ম থাকবে"? কোনো অভিধানে এই ব্যাখ্যা পাবেন না আপনি। আমি মূল প্রস্তাবনায় অভিধানিক অর্ধ দিয়েছি। অব্যাহত এবং continue অর্থ, আগে যা ছিল, তাই থাকবে। এখানে লাভ-ক্ষতির বা কমা-বাড়ার কোনো হিসেব নেই এবং থাকারও সুযোগ নেই। অব্যাহত শব্দ দ্বারা আপনি যদি ভিন্ন কিছু বুঝে থাকেন তাহলে অনুগ্রহ করে তা ব্যক্ত করুন। উল্লেখ্য একটি শব্দ একেকজন একেকভাবে বুঝতে পারে। তাই অভিধানিক ব্যাখ্যা বেছে নেওয়া বেশি শ্রেয়। আবার এই ধারাটি সম্পূর্ণ হুবুহু ঔপনেবেশিক আইনের ইংরেজি বাক্যের অনুবাদ। এর উৎস ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, এর অর্থ universally accepted "আগে যা ছিল তা"; এর সাথে বাড়া-কমা বা লাভ-ক্ষতির হিসেব নেই। যদিও ১০৪নং ধারা অনুযায়ী বাংলা সংস্করণ থেকে সিদ্ধান্তে আসা উচিত, ইংরেজি এই উৎস আইনের ইচ্ছা বুঝতে সাহায্য করবে। আইনের বাহিরে গিয়ে আমরা কেউ মনগড়া ব্যাখ্যা দাড়া করাতে পারি না। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হলে আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। বস্তুত আপনার ব্যাখ্যা "শর্ত সাপেক্ষে অধিকারের মেয়াদ সংরক্ষণ" যদি আইন করতে চাইতো, তাহলে আইন আলাদা করে তা বলতে পারতো। কিন্তু তা করা হয়নি। অধিকারের ক্ষেত্রে ১০৪(৪) ধারা রয়েছে। এবং ১০৫(৫) দ্বারা মেয়াদ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। শর্ত প্রয়োগ করলে তা উল্লেখ করে দিতো আইন। ১০৫(৪) সরাসরি ''সুবিধা-অসুবিধা'' (অধিকার স্থানান্তর)-এর কথা বলা আছে। তাই "এই ধারা ''সুবিধা-অসুবিধার'' জন্য না" বলাটা আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী। *:<br>৫। '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''': আপনি বারংবার আইনের পাঠ্য বাদ দিয়ে, আইনের নাম, সাধারণ নাম এবং কনসেপ্ট ধরে ব্যাখ্যা প্রকাশ করছেন। আপনার এই দাবির আইনি ভিত্তি কি? আমি আইনের লেখা ও আদালতের রায় ব্যতীত এক চুলও সরার পক্ষপাতি নই। আগের আইনের কর্ম নতুন আইনে আনতে হলে সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, যেমনটি করেছে ভারতীয় ''কপিরাইট আইন, ১৯১৪''([https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা]) এবং বাংলাদেশ ''কপিরাইট আইন, ২০২৩'' ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html ধারা ১২৭])। নতুন আইনের আওতায় কী শর্তে পুরাতন কর্ম এসেছে, সেটাও উল্লেখ করা আছে এই আইন সমূহে।<sup>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html]</sup> আগের আইনের কী বহাল থাকবে এবং কী থাকবে না তাও বলা আছে। কপিরাইট আইন, ২০০০-ও বলে দিয়েছে আগের কর্মের কী কী হবে। তন্মদ্ধে ১০৫(৫) বলেছে মেয়াদ অক্ষুণ্ণ থাকবে। *:<br>৬। '''ব্যবহারিক উদাহরণ''': অন্যান্য প্রকাশকরা লাইসেন্স ফির বিনিময়ে বই প্রকাশ করেছে নাকি পাবলিক ডোমেইন বলে বই প্রকাশ করেছে তা প্রমাণ করবেন কিভাবে। আমি লক্ষ লক্ষ বই উদাহরণ দিলাম। কিন্তু আপনার বলার সুযোগ থাকবে, এরা লাইসেন্স করে অর্থের বিনিময়ে পুনঃপ্রকাশ করেছে। আলাদা করে বইয়ের গায়ে লেখা থাকে না এই বিষয়। ব্যবহারিক উদাহরণ আইনের আদালতে কোনো সিধান্ত গ্রহণকারী ফ্যাক্টর হতে পারে না।([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-24.html The Evidence Act, 1872]) কপিরাইট একটি কঠোর ও জটিল আইন। তাই এখানে ''Chilling Effect'' কাজ করতে পারে। Chilling Effect এমন একটি মানসিক বা সামাজিক অবস্থা যেখানে মানুষ আইনি জটিলতা বা কঠোর শাস্তির ভয়ে নিজের ওপর অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে বর্তমানে এই পরিস্থিতি বিরাজমান।<sup>[https://www.npr.org/2022/03/30/1089462508/teachers-fear-the-chilling-effect-of-floridas-so-called-dont-say-gay-law]</sup> তাই আলদালতে ব্যবহারিক উদাহরণকে আমলে নেওয়া হয় না। আবার, যদি এই ১০ বছর সময়কালে কোন বিখ্যাত বা পুনঃপ্রকাশ যোগ্য কর্ম না থাকে বা প্রকাশকদের অনীহা থাকে তাহলে কি করবেন? তাও আমি উদাহরণ দিচ্ছি। [[:w:সৈয়দ মুজতবা আলী|সৈয়দ মুজতবা আলী]]র মৃত্যু ১৯৭৪ সালে বা ৫২ বছর আগে। তার বিখ্যাত গ্রন্থ [[:w:দেশে বিদেশে|দেশে বিদেশে]]। এই বইটি [https://www.rokomari.com/book/80412/deshe-bideshe বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র], [https://www.prothoma.com/shop/deshe-bideshe-31138 প্রথমা প্রকাশনা], [https://www.rokomari.com/book/25566/desh-bedeshe স্টুডেন্ট ওয়েজ], [https://www.rokomari.com/book/318056/deshe-bideshe নিউ এজ পাবলিশার্স] প্রকাশ করছে বর্তমানে। আমি নিশ্চিত যে আপনি খুঁজলে বা বইয়ের দোকানে গেলে আরও উদাহরণ পাবেন। কিন্তু এরা পাবলিক ডোমেইন বলে মুক্তভাবে প্রকাশ করছে নাকি লাইসেন্স ফির বিনময়ে তা জানার জন্য তাদের সাথে আলাদা আলাদ করে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, তাই আলাদা কওরে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি আমি। *:<br>আমি আপনার মতামতের প্রতিটি বাক্য ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এরপর মতবিরোধের জায়গা থাকলে আইনের পাঠ্য ধরে করুন এবং আমার যুক্তি কেন অসন্তোষজনক সেটি উল্লেখ করে আইনি ভিত্তিতে প্রতিযুক্তি দিন। ধন্যবাদ। *:[[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ০৭:০৩, ৩০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) ::আপনার যা বক্তব্য, “আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই।”; এটা একটা ইজ্‌ম, যাকে বলে textualism. আইনের দুটো দিক, letter of law এবং spirit of law. শুধু letter of law আইনের সব কথা নয়, শেষ কথাও নয়। মার্কিন সংবিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে লেটার-বাদী আর স্পিরিট-বাদীদের মধ্যে বিতর্ক আছে, তা ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় পাবেন। তবে আমার পক্ষে ভারতীয় উদাহরণ দেওয়া সহজ। Spirit of law অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধানের একটা spirit তথা basic tenets আছে, সংসদ এর বাইরে গিয়ে আইন বানালে সুপ্রিম কোর্ট তা নাকচ করে দিতে পারে। ভারতে Public Interest Litigation নামে একটা সিস্টেম আছে, সেটা সংসদে পাশ হওয়া কোন আইন থেকে আসে নি, বরং সুপ্রিম কোর্টের spirit of law বিষয়ক ভাষ্য থেকে এসেছে। সমলিঙ্গ সম্পর্কের ওপর “বেআইনি” তকমা (৩৭৭ IPC) আদালতের spirit of law ব্যাখ্যায় সরে গিয়েছিল। সেই কারণে আইনের হুবহু পাঠই শেষ কথা নয়, আইনের সাধারণ প্রবণতা, পরম্পরা, আইনের কোন্ অধ্যায়ে ধারা বা উপধারাটা আছে, ধারার হেডিং কি, এসবও গুরুত্বপূর্ণ। * ভূতাপেক্ষ শব্দটা আলোচনায় আমি আমদানি করিনি, আপনার বক্তব্য থেকেই শব্দটা নেওয়া। এটা যে ব্যাখ্যামূলক শব্দ, এবং সরাসরি আইনে থাকে না, সেটাও আমার জানা আছে। কপিরাইটের জীবিত থাকার ব্যাপারটা যে biological অর্থে বলা হয় নি, সেটা বুঝতে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট। যেসব আন্তর্জাতিক উদাহরণ আপনি দিয়েছেন, তার সবেতেই নতুন আইনে মেয়াদ বাড়লে কপিরাইটভুক্ত পুরনো বইগুলোরও মেয়াদ বেড়েছে। ঐসব আইনের বাচনভঙ্গি পুরনো ব্রিটিশ লেগ্যাসিভুক্ত উপমহাদেশীয় আইনগুলির বাচনভঙ্গি থেকে আলাদা হতেই পারে, কিন্তু ধারণাটা একই, যে, নতুন আইনে কপিরাইটভুক্ত পুরনো বইয়ের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটে থাকে। * আপনার বক্তব্য অনুযায়ী ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। আমার কাছে এমন কিছু প্রতিভাত হয় নি। অব্যাহত শব্দের অর্থ আপনি ভুল বুঝেছেন। অভিধান খুললে দেখবেন, ব্যাহত মানে বাধাপ্রাপ্ত। কোন কিছুর প্রবাহ আটকে দিলে তা ব্যাহত বা বাধাপ্রাপ্ত হয়। প্রবহমানতা বাড়িয়ে দিলে ব্যাহত হওয়ার কোন ব্যাপারই নেই। কাজেই ১০৫(৫)-এ শুধু মেয়াদ-হ্রাসই আটকানো হয়েছে, মেয়াদ-বৃদ্ধি নয় (এ-ব্যাপারটা নিচে বিশদে দেখাচ্ছি)। * ভারতের আইনকে sloppy বলাটা শিষ্টাচার-বিরুদ্ধ হয়েছে। “আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।” — এটা অজ্ঞতা-প্রসূত মন্তব্য। ভারতের এই সাময়িক অধ্যাদেশগুলি সংসদের অধিবেশন চলাকালীন জারি করা যায় না। সংসদ যখন অধিবেশনে থাকে না, তখন আইন প্রণয়ণ করার আপৎকালীন প্রয়োজন অনুভূত হলে অধ্যাদেশ জারি হয়। কিন্তু অধ্যাদেশ সাময়িক হওয়ায় এর সময়সীমার মধ্যে সংসদীয় আইন দিয়ে অধ্যাদেশ জারির দিন থেকে তা আত্তীকরণ করতে হয়, নইলে তা তামাদি হয়ে যায়। আপনি একটা ব্লগ থেকে সংসদীয় বিতর্কের যে আংশিক রূপ পেয়েছেন (সম্পূর্ণটা অফিসিয়াল সাইটে আছে) তা অধ্যাদেশ নিয়ে নয়, বরং পরবর্তী প্রতিস্থাপক আইন নিয়ে। সেটা সাংসদদের রাজনৈতিক বিতর্ক (সংসদে যেটা হয়ে থাকে), আইনের টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি নিয়ে নয়। সেই আইনটা তার সংশোধন কার্য সম্পন্ন করার পর Repealing and Amending Act, 2001 দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। যাই হোক, আইনটা জারি হয়েছে ১৯৯২-এর এপ্রিলে, কাজেই বিষয়বস্তু পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞদের কাছে সময় ছিল। আপনার ভিন্নমত সত্ত্বেও, ১৯৫৭-র আইন সংশোধন করে যে পুরনো আইনের অধীনে প্রকাশিত কিন্তু তখনও কপিরাইটে থাকা বইয়ের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ আইনবিদদের মনে সন্দেহ ছিল না বলেই বিল বানিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছিল, নইলে অধ্যাদেশটাকে তামাদি হতে দেওয়া হত। কাজেই এটা কোন sloppy কাজ নয়। * বাংলাদেশের ২০২৩-এর আইন কিছুটা অন্য পথে গেছে ঠিকই, কিন্তু ২০০০-এর আইনটা গতানুগতিকতার মধ্যেই আছে। ভারতের ১৯৫৭-র আইন ও বাংলাদেশের ২০০০-এর আইন — এদুটোকে পাশাপাশি রেখে পড়লে স্বতই মনে হয় একটার অনুপ্রেরণায় অন্যটা রচিত (আসলেই কপি করা হয়েছে সেকথা বলছি না)। যেটাকে উইকিতে আমরা Edict-Gov বলি, অর্থাৎ ভারতীয় আইনের ধারা ৫২ আর বাংলাদেশের ধারা ৭২, এদুটো পাশাপাশি রাখলেই মিলটা বোঝা যাবে। সেজন্যেই ভারতীয় আইনকে sloppy বলে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশি আইনের ব্যাখ্যা মার্কিন আর ইউরোপীয় আইন দেখিয়ে করা যায় না। * এবার আপনার “আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে” এই textualist দাবির বিষয়ে দেখছি। ** বাংলাদেশের ১০৫(৪) অনুসারে আগের বইগুলোর কপিরাইটের অধিকার নতুন আইন চালু হওয়ার পর থেকে নতুন আইনের ধারা ১৪ অনুসারে প্রযুক্ত হবে, এমনকি নতুন আইনে নতুন অধিকার থাকলে সেগুলিও পুরনো বইতে বর্তাবে। এতদ্বারা পুরনো বইগুলো নতুন আইনের আওতায় এসেছে। তবে এতে মেয়াদ সম্পর্কে কিছু বলা নেই। ** ১০৫(৩) অনুসারে নতুন আইন আগের আইনের অধীনে প্রকাশিত বিগত-কপিরাইট বইয়ের কপিরাইট পুনরুদ্ধার করবে না। বিগত-কপিরাইট বইয়ের জন্য এই exclusion principle থাকায় কপিরাইটভুক্ত বইগুলি স্বতই অন্তর্ভুক্ত হয়। ** ধারা ১৩ অনুসারে কপিরাইট শুধু নতুন আইন অনুসারেই চলতে পারবে। অর্থাৎ রহিত আইন অনুসারে কপিরাইট চলতে পারবে না (বলা বাহুল্য, আগে যা অধিকার দেওয়া হয়ে গেছে, সেটার কাটছাঁট না করে, তথা “অব্যাহত” রেখে)। ** কপিরাইট নতুন আইন অনুযায়ী চলতে হলে ধারা ২৪ অনুযায়ী মরণোত্তর ৬০ বছরের বিধানও লাগু হবে। এই ধারায় আগের বইগুলোর জন্য কোন exclusion principle দেওয়া নেই, ফলে এটা generic ভাবে সর্বত্র প্রযোজ্য। ** এবার General Clauses Act, যাকে পাশ কাটিয়ে উপমহাদেশে কোন আইন রচনা করা যায় না। *** প্রথমে ৬ নম্বর ধারা দেখা যাক, যার বক্তব্য ২০০০-এর আইনের ১০৫ ধারায় বিধৃত। ১০৫(৩) এসেছে GC আইনের 6(a) থেকে। ১০৫-এর (২) এবং (৫) আগেকার অধিকার ও দায় (rights and liabilities) সম্পর্কিত, যা এসেছে GC আইনের 6(c) থেকে। ক্রিয়াপদ হিসাবে ১০৫(২)-তে আছে “খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না” (nothing in this section shall diminish or prejudice) এবং ১০৫(৫)-এ আছে “অব্যাহত থাকিবে” (shall continue to be entitled to)। GC আইনের 6(b) থেকে 6(e)-তে একটাই ক্রিয়াপদ: to affect. আভিধানিক অর্থে বাড়ানো বা কমানো দুটোতেই affect হয়। কিন্তু এটা উনিশ শতকের শেষদিকের আইন। সেযুগে আইনের পরিভাষায় affect বলতে কি বোঝাত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত [[:en:Page:Black's Law Dictionary (Second Edition).djvu/54|ব্ল্যাকের আইন অভিধান]] অনুসারে “This word is often used in the sense of acting injuriously upon persons and things.” অর্থাৎ সেযুগের আইনি ব্যবহারে affect দিয়ে কমানো বোঝায়, বাড়ানো নয়। সেজন্যেই ১০৫ ধারায় “খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না” লিখেছে। “অব্যাহত থাকিবে”-কেও এভাবেই বুঝতে হবে, কারণ GC আইনে দুটোই affect. *** এবার অন্য ধারা দেখা যাক। ধারা ২৪ অনুসারে এক আইন রহিত হয়ে একই বিষয়ে পরিবর্তনসহ বা অপরিবর্তিত ভাবে নতুন আইন হলে, পুরনো আইনের অধীনে জারি করা ব্যবস্থাগুলি চলতে থাকবে, যদি না তা নতুন আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ (inconsistent) হয়, এবং ধরে নেওয়া হবে যে নতুন আইন অনুসারে এই ব্যবস্থাগুলি চলছে; এবং পরে নতুন আইনের কোন ব্যবস্থা পরিবর্তিত (superseded) হলে পুরনো ব্যবস্থাগুলিও পরিবর্তিত হবে। *** GC আইনের ৬ ও ২৪ নং ধারা থেকে এই ব্যাখ্যাই দাঁড়ায় যে কপিরাইটের মেয়াদ সংক্রান্ত আগের আইনের ব্যবস্থা পুরনো বইয়ের জন্য নতুন আইন অনুসারে চলতে থাকবে কিন্তু সময়টা নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য ৫০-এর জায়গায় ৬০ বছর হবে। * ব্যবহারিক উদাহরণ বিষয়ে লক্ষ লক্ষ উদাহরণের নামে আপনি দিয়েছেন শুধু ভারতীয় বইয়ের উদাহরণ (''দেশে বিদেশে'' ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত)। বড় বড় প্রকাশকদের আইনি টিম থাকে, ফলে তারা আইনি পরামর্শ সহজেই পেতে পারে, chilling effect-এর কোন সম্ভাবনাই নেই। মূল কোম্পানি বইয়ের প্রকাশ ও বিক্রি চালাতে থাকলে একই দেশে অন্য কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয় না, দিলেও একসঙ্গে অনেক কোম্পানিকে দেয় না। License fee, chilling effect, বিখ্যাত বই না থাকা, এসব শুধুই অযুক্তি। পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ যে বাড়ে নি, সেটা বাংলাদেশের প্রকাশকরা বুঝতে পারল না, আর আপনি শুধু একাই বুঝতে পারলেন? আর এটা আদালত নয়, একটা আলোচনাসভা। এখানে এভিডেন্স অ্যাক্ট দেখিয়ে ব্যবহারিক উদাহরণকে পাশ কাটানো যায় না। * যাক, প্রকাশকরা না হয় নাই বুঝল, বাংলাদেশের বিদ্বজ্জনরাও কি বোঝে নি? বাংলাপিডিয়া একটা সরকারি প্রকাশনা। সেখানে [https://en.banglapedia.org/index.php?title=Copyright কপিরাইট] নিবন্ধে লিখেছে “In the Bangladesh Copyright Act 2000, the period has been fixed at 60 years.” কপিরাইটের দুরকম ব্যবস্থা থাকলে এখানে লিখল না কেন? এছাড়া [https://www.universepg.com/public/img/storage/journal-pdf/Sketch%20of%20the%20copyright%20act,%202000%20in%20Bangladesh%20enforcement,%20impediments%20and%20solutions.pdf এই নিবন্ধটা] দেখুন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের আইনবিদদের লেখা, ২০০০-এর আইনের ওপরে। এখানেও ৬০ বছর দিয়েছে, পুরনো বইয়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থার কথা কিছু লেখেনি। এরকম আরও কিছু লেখা পড়লাম, কোথাও দুরকম ব্যবস্থার কথা (৬০ ও ৫০) লেখা নেই। বাংলাদেশের ৬০-অনুত্তীর্ণ পুরনো বইয়ের সংখ্যা এখনও বিশাল। সেইসব বইয়ের আলাদা কপিরাইট মেয়াদের কথা কেউ কিছু লিখছে না কেন? কেউ কি এটা জানে না? সব দেখেশুনে আমি যা বুঝলাম, এই দুরকম কপিরাইট-মেয়াদের ব্যবস্থা শুধু আপনার কল্পনাতেই আছে, আর কোথাও নেই। উইকিমিডিয়া প্রকল্পগুলিতে বক্তব্য-প্রতিষ্ঠার জন্য secondary ও tertiary source-এর কদর আছে, কিন্তু আইনগুলি সবই primary source. কাজেই আপনার বক্তব্যটাকে অরিজিন্যাল রিসার্চের পর্যায়ে ফেলা যেতে পারে। আমি একজন সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ সম্পাদক, কোন আইনজ্ঞ নই। কিন্তু এটুকু বলতে পারি যে অরিজিন্যাল রিসার্চের উপর ভিত্তি করে (যেটা আদৌ আমার কাছে convincing মনে হয়নি) কপিরাইটের মত জটিল বিষয়ে উইকিসংকলনে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে না। আপনি আপনার এই রিসার্চ কোন প্রতিষ্ঠিত আইনের জার্নালে প্রকাশ করতে পারেন। তারপর peer review-তে যদি দেখা যায় যে প্রতিষ্ঠিত আইন-বিশারদরা আপনার বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, তখন আপনার নিবন্ধকে রেফারেন্স হিসেবে দেখিয়ে উইকিসংকলনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা যেতে পারে। আমাদের বিতর্ক অনেক হলো, এবার দেখা যাক, অন্য সম্পাদকরা কি বলেন। [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১৩:২৯, ৩০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) 6i1nv5rv7nkg7z24ztxohihlpq1n55d টেমপ্লেট:PAGES NOT PROOFREAD 10 9620 1941604 1941535 2026-04-04T07:01:36Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1941604 wikitext text/x-wiki 452222 dywi1dgi3yuzkc4y4qkycnb0k41qcoh টেমপ্লেট:ALL PAGES 10 9621 1941605 1941536 2026-04-04T07:01:46Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1941605 wikitext text/x-wiki 562940 l8qgfnihakzd03dk03l50dml2udq2uo টেমপ্লেট:PR TEXTS 10 9622 1941606 1941537 2026-04-04T07:01:56Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1941606 wikitext text/x-wiki 19385 psabwg12e84z8e7lcbbtp2eeuyl8msp টেমপ্লেট:ALL TEXTS 10 9623 1941607 1941538 2026-04-04T07:02:06Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1941607 wikitext text/x-wiki 19385 psabwg12e84z8e7lcbbtp2eeuyl8msp লেখক:জোনাথন সুইফ্ট্ 100 651096 1941587 1941521 2026-04-04T05:50:07Z Bodhisattwa 2549 Bodhisattwa [[লেখক:জোনাথন সুইফট]] পাতাটিকে [[লেখক:জোনাথন সুইফ্ট্]] শিরোনামে কোনো পুনর্নির্দেশনা ছাড়াই স্থানান্তর করেছেন 1941521 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} === অন্যান্য === ==== অলীক কল্পকাহিনী ==== {{লেখক রচনা সারি|work = [[রচনা:এ ভয়েজ টু লিলিপুট|এ ভয়েজ টু লিলিপুট]]|item = Q94978692}} {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q106824244|label = ''[[d:Q106824244|অবাক্‌পুরীদর্শন]]''|p655 = [[লেখক:অজ্ঞাত লেখক|অজ্ঞাত]]|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:অপূর্ব্ব_দেশভ্রমণ_-_প্রথম_ভাগ.pdf|p577 = 1876}} {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q138720792|label = ''[[d:Q138720792|গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত]]''|p655 = [[লেখক:অজ্ঞাত লেখক|অজ্ঞাত]]|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:গলিভারের_ভ্রমণ-বৃত্তান্ত_(১৯১৩).pdf|p577 = 1913}}{{Talikak list end}} {{PD-old}} jo0if0oxqvsatwc33itot6tcozjxtrk উইকিসংকলন:গ্ল্যাম/ব্রিটিশ লাইব্রেরি - ভারতীয় মুদ্রণের দুই শতক/চিত্রশালা 4 806099 1941588 1856198 2026-04-04T05:51:11Z Bodhisattwa 2549 1941588 wikitext text/x-wiki <noinclude><big>{{center|'''[[:c:Category:Two Centuries of Indian Print|উইকিমিডিয়া কমন্সে এই গ্ল্যাম প্রকল্পের বিষয়শ্রেণী]]''' দেখুন}}</big></noinclude> <gallery mode=slideshow class="center"> ঘোসেটি বেগম.jpg|ঘোসেটি বেগম — ''[[বাঙ্গ্‌লার বেগম/ঘসিটী|বাঙ্গ্‌লার বেগম]] ({{Al|ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}})'' সেক্‌সপিয়র কৃত গ্রন্থ হইতে উদ্ধৃত অপূর্ব্বোপাখ্যান (page 58 crop).jpg|ওথেলো — ''[[সেক্‌সপিয়র কৃত গ্রন্থ হইতে উদ্ধৃত অপূর্ব্বোপাখ্যান/ওথেলোর উপাখ্যান|সেক্‌সপিয়র কৃত গ্রন্থ হইতে উদ্ধৃত অপূর্ব্বোপাখ্যান]] ({{Al|চার্লস ল্যাম্ব}}, {{Al|মেরী ল্যাম্ব}})'' গল্পের বই - সুখলতা রাও (page 41 crop).jpg|হরিণ ভাই — ''[[গল্পের বই/ভাই বোন|গল্পের বই]] ({{Al|সুখলতা রাও}})'' গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩) (page 11 crop).jpg|গলিভারের সর্ব্বাঙ্গ রজ্জুর দ্বারা বদ্ধ — ''[[গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত/দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ|গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত]] ({{Al| জোনাথন সুইফ্ট্}})'' <!-- Insert the image and caption in the line above according to the model Image:<File name on Commons, with extension>|Legend --> </gallery> 4c3fhm808c36x60vyt6m64sei5ca89c লেখক:প্যারীমোহন সেনগুপ্ত (১৮৯৩–১৯৪৭) 100 824593 1941616 1895665 2026-04-04T10:56:34Z Bodhisattwa 2549 Bodhisattwa [[লেখক:প্যারীমোহন সেনগুপ্ত]] পাতাটিকে [[লেখক:প্যারীমোহন সেনগুপ্ত (১৮৯৩–১৯৪৭)]] শিরোনামে কোনো পুনর্নির্দেশনা ছাড়াই স্থানান্তর করেছেন 1895665 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} === অন্যান্য === {{লেখক রচনা সারি|work = ''[[d:Q135334009|পল্লীসেবক উপেন্দ্রনাথ]]''|item = Q135334009}} {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q135320450|label = ''[[d:Q135320450|পল্লীসেবক উপেন্দ্রনাথ]]''|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:পল্লীসেবক_উপেন্দ্রনাথ_-_প্যারীমোহন_সেনগুপ্ত_(১৯৪০).pdf|p577 = 1940}} {{লেখক রচনা সারি|work = ''[[d:Q133653773|বেদবাণী]]''|item = Q133653773}} {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q133415496|label = ''[[d:Q133415496|বেদবাণী]]''|p123 = [[প্রকাশক:এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড|এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড]]|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:বেদবাণী_-_চারুচন্দ্র_বন্দ্যোপাধ্যায়_-_প্যারীমোহন_সেনগুপ্ত_(১৯২৩).pdf|p577 = 1923}}{{Talikak list end}} {{পাবলিক ডোমেইন ভারত}} dc3w8vmh5xju70oq0ggbep487juidly রচনা:রঘুবংশম্‌ 110 844497 1941609 1899680 2026-04-04T07:13:49Z Bodhisattwa 2549 Bodhisattwa [[রচনা:রঘুবংশ]] পাতাটিকে [[রচনা:রঘুবংশম্‌]] শিরোনামে কোনো পুনর্নির্দেশনা ছাড়াই স্থানান্তর করেছেন 1899680 wikitext text/x-wiki {{রচনা শীর্ষক}} ;সংস্করণ {{Talikak list|sparql= SELECT ?item WHERE { SERVICE wikibase:label { bd:serviceParam wikibase:language "bn". } ?item wdt:P31 wd:Q3331189; wdt:P629 wd:{{#invoke:Wikibase|id}}; wdt:P407 wd:Q9610. {?item wdt:P1957 [].} UNION {?item wdt:P1433 ?item2. ?item2 wdt:P1957 [].} optional { ?item rdfs:label ?label_ . filter(lang(?label_)="bn") bind(concat(":d:",strafter(str(?item),str(wd:)),"{","{!}","}",?label_) as ?label1) } optional { [] schema:about ?item; schema:isPartOf <https://bn.wikisource.org/>; schema:name ?label__ . ?item rdfs:label ?label_ . filter(lang(?label_)="bn") bind(concat(?label__,"{","{!}","}",?label_) as ?label2) } bind(coalesce(?label2,?label1) as ?label) } |columns=item,label,P577,P655,P98,P1433,P1957,P123 |row_template=রচনা সংস্করণ সারি |skip_table=1 |freq=30 |sort=P577 }} {{রচনা সংস্করণ সারি|item = [[:d:Q120567668|Q120567668]]|label = ''[[d:Q120567668|রঘুবংশ]]''|P577 = 1867|P655 = [[লেখক:চন্দ্রকান্ত তর্কভূষণ|চন্দ্রকান্ত তর্কভূষণ]]|P1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:রঘুবংশ_(চন্দ্রকান্ত_তর্কভূষণ).pdf}} {{রচনা সংস্করণ সারি|item = [[:d:Q125332565|Q125332565]]|label = ''[[d:Q125332565|রঘুবংশ]]''|P577 = 1878|P655 = [[লেখক:হরিশচন্দ্র কবিরত্ন|হরিশচন্দ্র কবিরত্ন]]|P1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:রঘুবংশ_-_কালিদাস_-_হরিশচন্দ্র_কবিরত্ন_(১৮৭৮).pdf}} {{রচনা সংস্করণ সারি|item = [[:d:Q134777594|Q134777594]]|label = ''[[d:Q134777594|রঘুবংশ (প্রথম ভাগ)]]''|P577 = 1891|P655 = [[লেখক:নবীনচন্দ্র দাস|নবীনচন্দ্র দাস]]|P1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:রঘুবংশ_(প্রথম_ভাগ)_-_নবীনচন্দ্র_দাস_(১৮৯১).pdf}} {{Talikak list end}} 96hsijewhyyyta8ve9l3v7bwrp3jc3h ব্যবহারকারী:Nettime Sujata/মুদ্রণ সংশোধিত বইয়ের তালিকা 2 845795 1941595 1937607 2026-04-04T06:04:19Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধিত বইয়ের তালিকা - আংশিক বা সম্পূর্ন (গদ্য) */ 1941595 wikitext text/x-wiki ==মুদ্রণ সংশোধিত বইয়ের তালিকা - আংশিক বা সম্পূর্ন (গদ্য)== {{div col|colwidth=15em}} # [https://w.wiki/FCM6 প্রবাদ মালা - অজ্ঞাত লেখক (১৮৯৪)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/জাপানে-পারস্যে জাপানে-পারস্যে] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ভারতবর্ষ ভারতবর্ষ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/গল্পগুচ্ছ_(তৃতীয়_খণ্ড) গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/গল্পগুচ্ছ_(দ্বিতীয়_খণ্ড)/প্রায়শ্চিত্ত গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড)/প্রায়শ্চিত্ত] # [https://bn.wikisource.org/wiki/জাপানে-পারস্যে জাপানে-পারস্যে] # [https://bn.wikisource.org/wiki/গোরা গোরা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিদ্যাসাগর বিদ্যাসাগর (বিহারীলাল সরকার)]* # [https://bn.wikisource.org/wiki/বাঙ্গালার_ইতিহাস_(ঈশ্বরচন্দ্র_বিদ্যাসাগর) বাঙ্গালার ইতিহাস] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিদ্যাসাগর-প্রসঙ্গ বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আখ্যানমঞ্জরী_(তৃতীয়_ভাগ) আখ্যানমঞ্জরী (তৃতীয় ভাগ)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আখ্যানমঞ্জরী_(দ্বিতীয়_ভাগ) আখ্যানমঞ্জরী (দ্বিতীয় ভাগ)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিদ্যাসাগরচরিত বিদ্যাসাগরচরিত] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিদ্যাসাগর-প্রসঙ্গ বিদ্যাসাগর-প্রসঙ্গ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিদ্যাসাগর_জননী_ভগবতী_দেবী বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বরেন্দ্র_রন্ধন বরেন্দ্র রন্ধন] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আফগানিস্থান_ভ্রমণ আফগানিস্থান ভ্রমণ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/নাবিক-বধূ নাবিক-বধূ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/শিবাজী শিবাজী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/সিরাজদ্দৌলা_(অক্ষয়কুমার_মৈত্রেয়) সিরাজদ্দৌলা (অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/লেফ্%E2%80%8Cটেন্যাণ্ট_সুরেশ_বিশ্বাস লেফ্‌টেন্যাণ্ট সুরেশ বিশ্বাস] # [https://bn.wikisource.org/wiki/উপেন্দ্রকিশোর_রচনাসমগ্র/গল্পমালা উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র/গল্পমালা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/সেক্%E2%80%8Cসপিয়র_কৃত_গ্রন্থ_হইতে_উদ্ধৃত_অপূর্ব্বোপাখ্যান সেক্‌সপিয়র কৃত গ্রন্থ হইতে উদ্ধৃত অপূর্ব্বোপাখ্যান] # [https://bn.wikisource.org/wiki/জয়তু_নেতাজী_(১৯৫০) জয়তু নেতাজী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/প্রবাদ_মালা_(১৮৯৪) প্রবাদ মালা (১৮৯৪)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/হেক্%E2%80%8Cটর_বধ_(১৮৭১) হেক্‌টর-বধ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিলাতযাত্রী_সন্ন্যাসীর_চিঠি বিলাতযাত্রী সন্ন্যাসীর চিঠি] # [https://bn.wikisource.org/wiki/কুরু_পাণ্ডব কুরু পাণ্ডব] # [https://bn.wikisource.org/wiki/দুই_বোন দুই বোন] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বৌ-ঠাকুরাণীর_হাট বৌ-ঠাকুরাণীর হাট] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আত্মপরিচয় আত্মপরিচয়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা শিক্ষা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/প্রজাপতির_নির্বন্ধ প্রজাপতির_নির্বন্ধ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিচিত্র_গল্প_(দ্বিতীয়_ভাগ) বিচিত্র গল্প (দ্বিতীয় ভাগ)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বাংলা_শব্দতত্ত্ব বাংলা শব্দতত্ত্ব] # [https://bn.wikisource.org/wiki/জাপান-যাত্রী জাপান-যাত্রী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/চোখের_বালি চোখের বালি] # [https://bn.wikisource.org/wiki/য়ুরোপ-যাত্রীর_ডায়ারি য়ুরোপ-যাত্রীর ডায়ারি] # [https://bn.wikisource.org/wiki/চার_অধ্যায় চার অধ্যায়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ছেলেবেলা ছেলেবেলা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/যোগাযোগ যোগাযোগ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/প্রজাপতির_নির্বন্ধ প্রজাপতির নির্বন্ধ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/শিক্ষা শিক্ষা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/সমূহ সমূহ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বাংলাভাষা-পরিচয় বাংলাভাষা-পরিচয়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আজাদী_সৈনিকের_ডায়েরী আজাদী সৈনিকের ডায়েরী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আলালের_ঘরের_দুলাল_(১৮৭০) আলালের ঘরের দুলাল (১৮৭০)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিষাদ-সিন্ধু/মহরম_পর্ব্ব/প্রথম_প্রবাহ বিষাদ-সিন্ধু/মহরম পর্ব্ব/প্রথম প্রবাহ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ইয়ুরোপে_তিন_বৎসর ইয়ুরোপে তিন বৎসর] # [https://bn.wikisource.org/wiki/জীবন-স্মৃতি জীবন-স্মৃতি] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ঘরে-বাইরে ঘরে-বাইরে] # [https://bn.wikisource.org/wiki/অলৌকিক_নয়,_লৌকিক_(প্রথম_খণ্ড) অলৌকিক নয়, লৌকিক (প্রথম_খণ্ড)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/নীল-দর্পণ_নাটক নীল-দর্পণ নাটক] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বাঙ্গ্%E2%80%8Cলার_বেগম বাঙ্গ্‌লার বেগম] # [https://bn.wikisource.org/wiki/হিন্দু_অথবা_প্রেসিডেন্%E2%80%8Cসী_কলেজের_ইতিবৃত্ত হিন্দু অথবা প্রেসিডেন্‌সী কলেজের ইতিবৃত্ত] # [https://bn.wikisource.org/wiki/মৃণালিনী_(১৮৭৪) মৃণালিনী (১৮৭৪)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ব্যায়াম_শিক্ষা_(প্রথম_ভাগ,_১৮৭৩) ব্যায়াম শিক্ষা (প্রথম ভাগ, ১৮৭৩)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/গল্পের_বই গল্পের বই] # [https://bn.wikisource.org/wiki/মিবার-গৌরব-কথা মিবার-গৌরব-কথা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/এপিক্%E2%80%8Cটেটসের_উপদেশ এপিক্‌টেটসের উপদেশ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/নেপালে_বঙ্গনারী নেপালে বঙ্গনারী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/পুরাবৃত্তের_সংক্ষেপ_বিবরণ পুরাবৃত্তের সংক্ষেপ বিবরণ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/মহারাজ_কৃষ্ণচন্দ্র_রায়স্য_চরিত্রং মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং] # [https://bn.wikisource.org/wiki/নেতাজী সুভাষ চন্দ্র] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিপ্লবী_সুভাষচন্দ্র বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র] # [https://bn.wikisource.org/wiki/উভয়_সঙ্কট উভয় সঙ্কট] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ছবি ছবি] # [https://bn.wikisource.org/wiki/রাণী_না_খুনি%3F_(শেষ_অংশ) রাণী না খুনি (শেষ অংশ)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/রকম_রকম রকম রকম] # [https://bn.wikisource.org/wiki/চূর্ণ_প্রতিমা চূর্ণ_প্রতিমা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/খুন_না_চুরি%3F খুন না চুরি] # [https://bn.wikisource.org/wiki/রাণী_না_খুনি%3F_(প্রথম_অংশ) রাণী না খুনি (প্রথম অংশ)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/শেষ_লীলা শেষ লীলা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/চেনা_দায় চেনা দায়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/জ্ঞাতি-শত্রু জ্ঞাতি-শত্রু] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বেওয়ারিশ_লাস বেওয়ারিশ লাস] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ঘর-পোড়া_লোক_(প্রথম_অংশ) ঘর-পোড়া লোক (প্রথম অংশ)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/খুনী_কে খুনী কে] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিপ্লবী_সুভাষচন্দ্র বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র] # [https://bn.wikisource.org/wiki/দিল্লী_চলো দিল্লী চলো] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ক্রৌঞ্চ-মিথুনের_মিলন-সেতু ক্রৌঞ্চ-মিথুনের মিলন-সেতু] # [https://bn.wikisource.org/wiki/মধুমল্লী মধুমল্লী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/গল্পস্বল্প গল্পস্বল্প] # গল্পগুচ্ছ (চতুর্থ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ## [https://w.wiki/BAME রবিবার] ## [https://w.wiki/BAMF শেষ কথা] ## [https://w.wiki/BAMK ল্যাবরেটরি] ## [https://w.wiki/BAMM বদনাম] ## [https://w.wiki/BAMP প্রগতিসংহার] ## [https://w.wiki/BAMR শেষ পুরস্কার] ## [https://w.wiki/BAMT মুসলমানীর গল্প] ## [https://w.wiki/BAMV ছোটো গল্প] ## [https://w.wiki/BAMX ভিখারিনী] ## [https://w.wiki/BAMY করুণা] ## [https://w.wiki/BAMa মুকুট] ## [https://w.wiki/BAMd প্রবেশক] # ছন্দ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ## [https://w.wiki/BAMe সংস্কৃত-বাংলা ও প্রাকৃত-বাংলার ছন্দ] ## [https://w.wiki/BAMf ছন্দের মাত্রা] ## [https://w.wiki/BAMh ছন্দের প্রকৃতি] ## [https://w.wiki/BAMk চলতিভাষার ছন্দ] ## [https://w.wiki/BAMm গদ্যছন্দ] ## [https://w.wiki/BAMo কাব্য ও ছন্দ] ## [https://w.wiki/BAMq বাংলা ভাষার স্বাভাবিক ছন্দ] ## [https://w.wiki/BAMr বাংলা শব্দ ও ছন্দ] ## [https://w.wiki/BAMs বিহারীলালের ছন্দ] ## [https://w.wiki/BAMt সন্ধ্যাসংগীতের ছন্দ] ## [https://w.wiki/BAMx বাংলা ছন্দে যুক্তাক্ষর] ## [https://w.wiki/BAM$ বাংলা ছন্দে অনুপ্রাস] ## [https://w.wiki/BAN2 কৌতুককাব্যের ছন্দ] ## [https://w.wiki/BAN4 ছড়ার ছন্দ] ## [https://w.wiki/BAN7 বাংলা ছন্দে স্বরবর্ণ] ## [https://w.wiki/BANA গদ্যকবিতা ও ছন্দ] ## [https://w.wiki/BAND প্রমথ চৌধুরীকে] ## [https://w.wiki/BANH প্যারীমোহন সেনগুপ্তকে] ## [https://w.wiki/BANK দিলীপকুমার রায়কে] ## [https://w.wiki/BANN ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে] ## [https://w.wiki/BANP শৈলেন্দ্রনাথ ঘোষকে] ## [https://w.wiki/BANQ সঞ্জয় ভট্টাচার্যকে] ## [https://w.wiki/BANR ছন্দবিচার] ## [https://w.wiki/BANV আমার ছন্দের গতি] ## [https://w.wiki/BANX গদ্যকাব্য] ## [https://w.wiki/BANY পয়ার ও দ্বাদশাক্ষর ছন্দ (সংযোজন)] ## [https://w.wiki/BANa সংজ্ঞাপরিচয়] # সমাজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ## [https://w.wiki/BANj সমুদ্রযাত্রা] ## [https://w.wiki/BANo অযোগ্য ভক্তি] # শান্তিনিকেতন (দ্বিতীয় খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ## [https://w.wiki/BALK ভক্ত] ## [https://w.wiki/BALM চিরনবীনতা] ## [https://w.wiki/BALQ বিশ্ববোধ] ## [https://w.wiki/BALR রসের ধর্ম] ## [https://w.wiki/BALV গুহাহিত] ## [https://w.wiki/BALX দুর্লভ] ## [https://w.wiki/BALY জন্মোৎসব] ## [https://w.wiki/BALZ শ্রাবণসন্ধ্যা] ## [https://w.wiki/BALb দ্বিধা] ## [https://w.wiki/BALc পূর্ণ] ## [https://w.wiki/BALd মাতৃশ্রাদ্ধ] ## [https://w.wiki/BALf শেষ] ## [https://w.wiki/BALj সামঞ্জস্য] ## [https://w.wiki/BALn জাগরণ] ## [https://w.wiki/BALp আত্মবোধ] ## [https://w.wiki/BALs ব্রাহ্মসমাজের সার্থকতা] ## [https://w.wiki/BALu সুন্দর] ## [https://w.wiki/BALv বর্ষশেষ] ## [https://w.wiki/BALx নববর্ষ] ## [https://w.wiki/BAL$ বৈশাখী ঝড়ের সন্ধ্যা] ## [https://w.wiki/BAM2 সত্যবোধ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বাঙ্গালীর_প্রতিভা_ও_সুভাষচন্দ্র বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/পথের_সঞ্চয় পথের সঞ্চয়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ভানুসিংহের_পত্রাবলী ভানুসিংহের পত্রাবলী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/শোধ-বোধ শোধ-বোধ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/গল্পগুচ্ছ_(তৃতীয়_খণ্ড) গল্পগুচ্ছ (তৃতীয় খণ্ড)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/সংকলন সংকলন] # বৈকুণ্ঠের খাতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ## [https://w.wiki/BAKk দ্বিতীয় দৃশ্য] ## [https://w.wiki/BAKn তৃতীয় দৃশ্য] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আনন্দমঠ_(১৯৩৮) আনন্দমঠ (১৯৩৮) - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বক্সা_ক্যাম্প বক্সা ক্যাম্প - অমলেন্দু দাশগুপ্ত] # আজাদ হিন্দ ফৌজ (দ্বিতীয় খণ্ড) - তারিণী শঙ্কর চক্রবর্তী সম্পাদিত ## [https://w.wiki/BAKT স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর অধিনায়কগণ] ## [https://w.wiki/BAKa বিচার] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আমার_আত্মকথা আমার আত্মকথা - বারীন্দ্রকুমার ঘোষ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/পথের_দাবী পথের দাবী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ভারতের_রাষ্ট্রনীতিক_প্রতিভা ভারতের রাষ্ট্রনীতিক প্রতিভা - অরবিন্দ ঘোষ (১৯২৫)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/জন্ম_ও_মৃত্যু জন্ম ও মৃত্যু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়] # [https://w.wiki/BAGN জননী - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) ১৯৪৫] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আমার_বাল্যকথা আমার বাল্যকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর] # [https://bn.wikisource.org/wiki/দেওয়ানা দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়] # মিষ্টান্ন-পাক ## [https://w.wiki/BAGC উপক্রমণিকা] ## [https://w.wiki/BAGF প্রথম পরিচ্ছেদ] # বৌদ্ধ-ভারত - শরৎকুমার রায় ## [https://w.wiki/BAFx দ্বিতীয় অধ্যায়] ## [https://w.wiki/BAG2 তৃতীয় অধ্যায়] ## [https://w.wiki/BAG3 চতুর্থ অধ্যায়] ## [https://w.wiki/BAG7 পঞ্চম অধ্যায়] ## [https://w.wiki/BAG9 ষষ্ঠ অধ্যায়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ছিন্নমুকুল ছিন্নমুকুল - স্বর্ণকুমারী দেবী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বাংলাদেশের_স্বাধীনতা_যুদ্ধ_দলিলপত্র_(পঞ্চদশ_খণ্ড) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (পঞ্চদশ খণ্ড)] # বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (নবম খণ্ড) # [https://w.wiki/HcQc বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র - প্রফুল্লরঞ্জন রায় - শ্যামদাস বন্দ্যোপাধ্যায়] # [https://w.wiki/HcQh নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন (১৯৪৬)] # [https://w.wiki/HcQk বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ (১৯৪৬)] # [https://w.wiki/HcQq জয়তু নেতাজী প্রবন্ধ সংকলন (১৯৫০)] # নেতাজী ও আজাদ হিন্দ ফৌজ - জ্যোতিপ্রসাদ বসু ## [https://w.wiki/BADB জীবনের ধারা (২)] ## [https://w.wiki/BADH কংগ্রেসের সিংহাসনে] ## [https://w.wiki/BADM স্বরূপ] ## [https://w.wiki/BADP দিল্লী চলো] ## [https://w.wiki/BADW ঝড়ের পর] ## [https://w.wiki/HcQr পরিশিষ্ট (ক)] ## [https://w.wiki/BADb পরিশিষ্ট (খ)] ## [https://w.wiki/BADe পরিশিষ্ট (গ)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/মা মা - ম্যাক্সিম গোর্কি - বিমল সেন)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/মোগল-বিদুষী মোগল-বিদুষী - ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯২৪)] # [https://w.wiki/A8rE গড্‌ডলিকা - পরশুরাম (১৯২৪)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/চমৎকুমারী_ইত্যাদি_গল্প চমৎকুমারী ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম] # [https://bn.wikisource.org/wiki/নীল_তারা_ইত্যাদি_গল্প নীল তারা ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আনন্দীবাঈ_ইত্যাদি_গল্প আনন্দীবাঈ ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ধুস্তুরী_মায়া_ইত্যাদি_গল্প ধুস্তুরী মায়া ইত্যাদি গল্প - পরশুরাম] # [https://bn.wikisource.org/wiki/চন্দ্রলোকে_যাত্রা চন্দ্রলোকে যাত্রা - রাজেন্দ্রলাল আচার্য] # [https://w.wiki/EPSQ সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮৫১)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/মহাভারত_(রাজশেখর_বসু) মহাভারত (রাজশেখর বসু)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/প্রাকৃতিকী প্রাকৃতিকী (১৯১৪)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বাংলাদেশের_স্বাধীনতা_যুদ্ধ_দলিলপত্র_(প্রথম_খণ্ড) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (প্রথম খণ্ড)] # বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (দ্বিতীয় খণ্ড) ## [https://w.wiki/BABA পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শাসনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরকে চিঠি] ## [https://w.wiki/BABR সাংবাদিকদের হরতাল] # বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (দ্বাদশ খণ্ড) ## [https://w.wiki/BADw বাংলাদেশের ওপর পাকিস্তান সৈন্যের আক্রমণে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের লোকসভার প্রস্তাব] ## [https://w.wiki/BADy পাকিস্তানের নৃশংসতার প্রশ্নে রাষ্ট্রসংঘের নির্লিপ্তির সমালোচনা করে প্রেরিত ভারতের লিপি] ## [https://w.wiki/BAE3 সীমান্তে হামলার ব্যাপারে পাকিস্তানের প্রতি ভারতের হুঁশিয়ারী] ## [https://w.wiki/BAF7 পাকিস্তানের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিবাদ] ## [https://w.wiki/BAFL পাকিস্তানের আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে নাঃ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা] ## [https://w.wiki/BAFP ভারতের মাটিতে গোলা নিক্ষেপের জন্য পাকিস্তানের প্রতি ভারতের সতর্কবাণী] ## [https://w.wiki/BAFR সীমা ছাড়লে গুরুতর পরিণতি হবেঃ পাকিস্তানের প্রতি ভারতে হুঁশিয়ারী] ## [https://w.wiki/BAFV পাকিস্তানের ঘটনাপ্রবাহ ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করবেঃ প্রধানমন্ত্রীর সরতর্কবাণী] ## [https://w.wiki/BAFX বাংলাদেশের প্রতি ভারতের স্বীকৃতি প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য] ## [https://w.wiki/BAFY জাতিসংঘের ‘সোশাল কমিটি অব দি ইকনমিক এণ্ড সোশাল কাউন্সিল’-এ ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সমর সেনের ভাষণ] ## [https://w.wiki/BAFg বাংরাদেশ প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নমনীয় বলে জনসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির অভিযোগ] ## [https://w.wiki/BADs পাকিস্তানের যুদ্ধপ্রস্তুতির মোকাবেলার প্রশ্নে আসাম প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির প্রস্তাব] # [https://w.wiki/BAAe বৈজ্ঞানিক পরিভাষা (উদ্ভিদ্‌বিদ্যা)] # [https://w.wiki/G7S$ বৈজ্ঞানিক পরিভাষা (প্রাণিবিদ্যা)] # [https://w.wiki/BAAT লোকরহস্য - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়] # [https://w.wiki/BAAQ বীরবাণী - স্বামী বিবেকানন্দ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/যাঁদের_দেখেছি যাঁদের দেখেছি] # [https://bn.wikisource.org/wiki/নারীর_মূল্য নারীর মূল্য] # তরুণের আহ্বান ## [https://w.wiki/BA9q তরুণের আহ্বান] ## [https://w.wiki/BAA4 দেশাত্মবোধই জাতির আদর্শ] ## [https://w.wiki/BAA8 তোমরা ওঠো জাগো] ## [https://w.wiki/BAAD আদর্শ সমাজের স্বপ্ন] ## [https://w.wiki/BAAE স্বাধীন ভারতের উত্তরাধিকারী] ## [https://w.wiki/BAAH স্বাধীনতার অখণ্ডরূপ] # [https://w.wiki/BA9j প্রাচীন ভারতে নারী - ক্ষিতিমোহন সেন (১৯৫০)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/রাজসিংহ_(১৮৮৫) রাজসিংহ (১৮৮৫) - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_সমালোচন বিবিধ সমালোচন - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/জাতীয়_আন্দোলনে_রবীন্দ্রনাথ জাতীয় আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ - প্রফুল্লকুমার সরকার (১৯৪৭)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/দুনিয়ার_দেনা দুনিয়ার দেনা - হেমলতা দেবী (১৯২০)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ঋষি_রবীন্দ্রনাথ ঋষি রবীন্দ্রনাথ - অমলেন্দু দাশগুপ্ত (১৯৫৪)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বিবিধ_কথা বিবিধ কথা -মোহিতলাল মজুমদার (১৯৪১)] # [https://w.wiki/BA9Q রবীন্দ্রনাথ - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৬০)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/নিগ্রোজাতির_কর্ম্মবীর_(১৯১৪) নিগ্রোজাতির কর্ম্মবীর - বিনয়কুমার সরকার (১৯১৪)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/জাতীয়_সাহিত্য জাতীয় সাহিত্য - আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (১৯৩৬)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আমার_দেখা_রাশিয়া আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আচার্য্য_প্রফুল্লচন্দ্র_রায়ের_প্রবন্ধ_ও_বক্তৃতাবলী আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রবন্ধ ও বক্তৃতাবলী - প্রফুল্লচন্দ্র রায়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ভারতে_অলিকসন্দর ভারতে অলিকসন্দর - সত্যচরণ শাস্ত্রী] # [https://w.wiki/B93U আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়)] # [https://w.wiki/BN89 নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৫৯)] # [https://w.wiki/BN84 অনুসন্ধান - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়] # [https://w.wiki/C6aS অথৈজল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়] # [https://w.wiki/CQ3J সাহিত্যে প্রগতি - ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত] # [https://w.wiki/CUS8 পর্ব্বতবাসিনী - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত] # [https://w.wiki/CYVV রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৩১)] # [https://w.wiki/CYXB সীতারাম - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৯)] # [https://w.wiki/Cd6H কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩)] # [https://w.wiki/E2EM (জওহরলাল নেহরু) বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার অনূদিত (১৯৫১)] # [https://w.wiki/E5zh স্বদেশী সমাজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৬২)]] # [https://w.wiki/HcRL পরিচয় - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৬)] # [https://w.wiki/HcPx বিশ্বমানবের লক্ষ্মীলাভ - সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৪০] # [https://w.wiki/HcQM দেবী চৌধুরাণী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৮৪)] # [https://w.wiki/EPSC হিমালয়-অভিযান - যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৯৪১)] # [https://w.wiki/HcPh বিবিধ প্রবন্ধ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৯)] # [https://w.wiki/Ep4F নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯)] # [https://w.wiki/EqZn মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৫৩)] # [https://w.wiki/Evoq পেশবাদিগের রাজ্যশাসন-পদ্ধতি - সুরেন্দ্রনাথ সেন (১৯৩০)] # [https://w.wiki/F2U5 আমার দেখা তুরষ্ক - শামসুন নাহার মাহমুদ (১৯৫৫)] # [https://w.wiki/FBzQ ‌টল্‌স্টয়ের গল্প - দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায় অনূদিত (১৯৫৫)] # [https://w.wiki/FEaM বড়বাড়ী - জলধর সেন (১৯২৬)] # [https://w.wiki/FWT5 ৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ (জুল ভার্ন) রাজেন্দ্রলাল আচার্য অনূদিত (১৯১৩)] # [https://w.wiki/FbPG পুষ্পপাত্র - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯১০)] # [https://w.wiki/Feni কুসুম-যুগল - বঙ্কিমবিহারী দাস (১৮৯৮)] # [https://w.wiki/FiQx প্রমোদবালা - রোহিণীকুমার সেনগুপ্ত (১৮৮৭)] # [https://w.wiki/FiwM ভয়ভাঙ্গা - দীনেশচন্দ্র সেন (১৯২৩)] # [https://w.wiki/FiwW ভাবে অভাব - রাধানাথ মিত্র (১৯০৪)] # [https://w.wiki/FqPF মুসোলিনী ও বর্ত্তমান ইটালী - তারানাথ রায় (১৯২৭)] # [https://w.wiki/FwHv ত্রিবেণী ও আরো দুটী গল্প - সুরেশচন্দ্র ঘটক (১৯২৫)] # [https://w.wiki/FyQA গুরুদক্ষিণা - সতীশচন্দ্র রায় (১৯২২)] # [https://w.wiki/G2Cj ভ্রান্তিবিলাস - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮৯০)] # [https://w.wiki/G38o লক্ষ্মী-মা - বিধুভূষণ বসু (১৯১০)] # [https://w.wiki/G6HB ধৰ্ম্মঘট - যতীন্দ্রনাথ পাল (১৯২০)] # [https://w.wiki/G9$8 লক্ষ্মী-মেয়ে - বিধুভূষণ বসু (১৯১২)] # [https://w.wiki/GC3W আলম্‌গীরের পত্রাবলী - যামিনীকান্ত সোম (১৯৩৫)] # [https://w.wiki/GLK4 ভাওয়ালী কাণ্ড - কেদারনাথ চক্রবর্তী (১৯২১)] # [https://w.wiki/GRJW ঝাঁশীর রাজকুমার - সখারাম গণেশ দেউস্কর (১৯০২)] # [https://w.wiki/GXya রূপ-রেখা - গোকুলচন্দ্র নাগ (১৯২২)] # [https://w.wiki/GapG গুপি গাইন ও বাঘা বাইন - উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৯৬৩)] # [https://w.wiki/GbZb গৌরী - যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত (১৯২২)] # [https://w.wiki/HcR2 প্রাচীন বাংলার গৌরব - হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯৪৬)] # [https://w.wiki/Grh7 চোরকাঁটা - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৫৩)] # [https://w.wiki/HBSp আঁধারে আলো - মন্মথ মোহন বসু (১৯৩৩)] # [https://w.wiki/Fx7Q কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮)] # [https://w.wiki/HGhH ভবঘুরে - নারায়ণচন্দ্র ভট্টাচার্য (১৯২০)] # [https://w.wiki/HNkB গৃহিণী - যতীন্দ্রনাথ পাল (১৯২১)] # [https://w.wiki/HQRX অহল্যা - দেবেন্দ্রকিশোর আচার্য চৌধুরী (১৮৯১)] # [https://w.wiki/HT$h শিখগুরু - কার্তিকচন্দ্র মিত্র (১৯২২)] # [https://w.wiki/HWxA প্রেমিক সন্ন্যাসী - অনাথনাথ বসু (১৯২১)] # [https://w.wiki/Ha4F ভূঁই-চাঁপা - দীনেশরঞ্জন দাশ (১৯২৫)] # [https://w.wiki/HcZC স্বপ্ন - গিরীন্দ্রশেখর বসু (১৯২৮)] # [https://w.wiki/Hfa5 স্বপ্নের সোভিয়েতে - তপোধীর ভট্টাচার্য (২০২৩)] </div> ==মুদ্রণ সংশোধিত বইয়ের তালিকা - আংশিক বা সম্পূর্ন (কাব্য ও কবিতা)== {{div col|colwidth=10em}} # [https://bn.wikisource.org/wiki/ক্ষণিকা ক্ষণিকা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/মানসী মানসী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/উৎসর্গ উৎসর্গ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ক্ষণিকা ক্ষণিকা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ভগ্নহৃদয় ভগ্নহৃদয়] # [https://bn.wikisource.org/wiki/পত্রপুট পত্রপুট] # [https://bn.wikisource.org/wiki/মহুয়া মহুয়া] # [https://bn.wikisource.org/wiki/নৈবেদ্য নৈবেদ্য] # [https://bn.wikisource.org/wiki/পূরবী পূরবী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/সোনার_তরী সোনার তরী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/কাহিনী_(১৯৮৯) কাহিনী (১৯৮৯)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/নবজাতক নবজাতক] # [https://bn.wikisource.org/wiki/গীতবিতান গীতবিতান] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বনবাণী বনবাণী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/কথা_(১৯৩৮) কথা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/শিশু_ভোলানাথ শিশু ভোলানাথ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/প্রবাহিণী প্রবাহিণী] # [https://bn.wikisource.org/wiki/সুনির্মল_বসুর_শ্রেষ্ঠ_কবিতা সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/চাণক্যশ্লোক চাণক্যশ্লোক] # [https://bn.wikisource.org/wiki/কাহিনী_(১৯১২) কাহিনী (১৯১২)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/পলাতকা পলাতকা] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ছড়ার_ছবি ছড়ার ছবি] # [https://w.wiki/HcRv কল্পনা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৫২)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বেল্লিক_রামায়ণ বেল্লিক রামায়ণ] # [https://bn.wikisource.org/wiki/ব্রজাঙ্গনা_কাব্য_(১৮৬৪) ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬৪)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/আত্মশক্তি আত্মশক্তি] # [https://bn.wikisource.org/wiki/সঞ্চয়িতা সঞ্চয়িতা] # [https://w.wiki/HcRc পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৩২)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/সটীক_মেঘনাদবধ_কাব্য সটীক মেঘনাদবধ কাব্য - মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৯১৯)] # [https://w.wiki/BvY7 চণ্ডিকা মঙ্গল - কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস] # [https://bn.wikisource.org/wiki/পূর্ব্ববঙ্গ-গীতিকা_(দ্বিতীয়_খণ্ড,_দ্বিতীয়_সংখ্যা) পূর্ব্ববঙ্গ-গীতিকা (দ্বিতীয় খণ্ড, দ্বিতীয়_সংখ্যা)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/পূর্ব্ববঙ্গ_গীতিকা_(চতুর্থ_খণ্ড,_দ্বিতীয়_সংখ্যা) পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা (চতুর্থ খণ্ড, দ্বিতীয় সংখ্যা)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/গোপীচন্দ্র_(দ্বিতীয়_খণ্ড) গোপীচন্দ্র (দ্বিতীয় খণ্ড) - দীনেশচন্দ্র সেন]* # [https://bn.wikisource.org/wiki/গোপীচন্দ্র_(দ্বিতীয়_খণ্ড)/গোপীচন্দ্রের_পাঁচালী গোপীচন্দ্রের পাঁচালী]* # [https://bn.wikisource.org/wiki/তীর্থ-সলিল তীর্থ-সলিল - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০৮)] # [https://bn.wikisource.org/wiki/বীরবাণী_(১৯০৫) বীরবাণী (১৯০৫)] # [https://w.wiki/FdFr জননী-জন্মভূমি - প্রমথনাথ দত্ত (১৯০৬)] # [https://w.wiki/Fh9z শিশির - ভুজঙ্গধর রায়চৌধুরী (১৯১১)] # [https://w.wiki/FiKZ চারণ - কনকভূষণ মুখোপাধ্যায় (১৯৩০)] # [https://w.wiki/FiwG পুষ্পাঞ্জলি - রসময় লাহা (১৮৯৭)] # [https://w.wiki/Fknc বেহুলা - চারুশীলা দেবী (১৯১৫)] # [https://w.wiki/FmX6 শিক্‌ওয়া ও জবাব-ই-শিক্‌ওয়া - গোলাম মোস্তফা অনূদিত, ইকবাল রচিত (১৯৬০)] # [https://w.wiki/FpBc বিষাদ - পুলিনবিহারী রায় (১৮৯৫)] # [https://w.wiki/FwHq প্রাণের হিসাব (তৃতীয় খণ্ড) - উদয় চাঁদ রায় (১৯২৩)] # [https://w.wiki/HcRT মূর্চ্ছনা - চণ্ডীদাস মুখোপাধ্যায় (১৯১৬)] # [https://w.wiki/G87w পথের বাঁশী - প্রবোধচন্দ্র মৈত্র (১৯৩০)] # [https://w.wiki/GJxG বীরবাহু কাব্য- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৫৩)] # [https://w.wiki/H2zN সাহানা - সুনীতি দেবী (১৯১৫)] # [https://w.wiki/HLLc প্রাণোচ্ছ্বাস - যোগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৮৮)] </div> </div> s1fsydpt3nq80bdijaa9wl0nnl2zmfg পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/১৬ 104 877718 1941539 1941458 2026-04-03T12:04:08Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941539 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{rh||(১২)|}}</noinclude>পনার কথা আপনি শ্রবণ করিতে পারিত না। রাজ সভার মধ্য স্থলে মহারাজ স্বয়ং বসিয়া ছিলেন। তাঁহারই সম্মুখ ভাগে বুলবুলের নিমিত্ত সোনার পিঞ্জর প্রস্তুত ছিল। প্রধান প্রধান সকল লোকেই সভাতে বর্ত্তমান। পূর্ব্বোক্ত দরিদ্রা বালা রাজ পাচিকা উপাধি প্রাপ্ত হইয়া দ্বারে দণ্ডায়মান থাকিতে অনুমতি পাইয়াছিল। উপস্থিত লোক মাত্রেই উত্তমোত্তম বস্ত্র পরিধান করিয়া পাংশু বর্ণ ঐ ক্ষুদ্র পক্ষীর প্রতি এক দৃষ্টে নিরীক্ষণ করাতে, রাজা মস্তক লাড়িয়া বুলবুলকে গাইতে আজ্ঞা করিলেন। বুলবুল যথা সাধ্য অতিশয় পরিশ্রম করিয়া মধুর স্বরে গীত গাইতে আরম্ভ করিল। ভূপাল তাহা শ্রবণ করিয়া এমত মুগ্ধ হইলেন, যে তাঁহার চক্ষু হইতে অশ্রু ধারা পতন হইতে লাগিল। দেশাধিপতির গণ্ডদেশ বহিয়া অশ্রু পড়িতেছে, বুলবুল তাহা অবলোকন করিবামাত্র আরও উত্তম সুর লাগাইয়া গান গাইতে লাগিল, ইহাতে সকলেরই অন্তঃকরণ একেবারে মুগ্ধ হইয়া উঠিল। পক্ষিরবে মহারাজ বিহ্বল হইয়া আজ্ঞা করিলেন সোনার পাতে বুলবুলের গলদেশ বাঁধাইয়া দেও। কিন্তু বুলবুল তাহা শুনিয়া রাজাকে সহস্র সহস্র প্রণাম করিয়া কহিল, মহারাজ! আপনি আমার সুস্বর শ্রবণে যে সন্তুষ্ট হইয়াছেন, ইহাই<noinclude></noinclude> msqzrrkuv5piajzwt7s5v6cyzp3uy6p পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/১৯ 104 877760 1941540 1941526 2026-04-03T12:08:41Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941540 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{rh||(১৩)|}}</noinclude>আমার যথেষ্ট পুরস্কার, সোনার পাতে কোন প্রয়োজন নাই। রাজার চক্ষু হইতে অশ্রু পতন আমার পক্ষে অমূল্য রত্ন স্বরূপ, রাজ অশ্রুর কি বিশেষ গুণ পরমেশ্বর জানেন ইহাতে আমি কতই পারিতোষিক পাইলাম। {{ফাঁক}}রাজমহিষী প্রভৃতি যে যে প্রাধানা স্ত্রী লোক গণ যবনিকার ভিতরে উপবিষ্টা হইয়া পক্ষী সংগীত শ্রবণ করিতেছিলেন, তাঁহারা সকলেই সন্তুষ্ট হইয়া কহিলেন, রাজ বাটীতে এমন মহোৎসবতো কখন দেখা যায় নাই। রাজ। বুলবুলকে বলিলেন, আমি রাজবাটীর ভিতরে তোমার নিনিত্ত একটি স্বর্ণ পিঞ্জর নির্ম্মাণ করিয়া দিই। তুমি তাহার ভিতরে আসিয়া অবস্থিতি কর। দিনে দুইবার এবং রাত্রিকালে একবার সেস্থান হইতে প্রস্থান করিয়া বাহিরে যাইতে পারিবে বলিয়া বার জন ভৃত্য নিযুক্ত করিলেন, যেন তাহারা প্রত্যেকে এক এক গাছি ফিতা লইয়া ঐ পক্ষীর পদদ্বয়ে বন্ধন করত উড়িয়া যাইবার সময়ে তাহার সঙ্গে২ যায়। এরূপ অবস্থায় উড়িতে হইলে পক্ষীরা কি সুখী হইতে পারে? না কখনই হইতে পারে না। অতএব ঐ সকল জাঁক জমক বুলবুলের পক্ষে সুখের কারণ না হইয়া বরং দুঃখের কারণ হইলেও সে তাহা স্বীকার করিল। {{nop}}<noinclude>{{rh||২|}}</noinclude> 8en8fxz1x2vhu0pqrkeawzuxcbtd3on পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২০ 104 877761 1941591 1941527 2026-04-04T05:58:39Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941591 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{rh||(১৪)|}}</noinclude>কিয়দ্দিন নগর বাসীলোক দিগের মুখে ঐ আশ্চর্য বুলবুল পক্ষীর বিষয় ছাড়া আর কোন কথা নাই। এক দিন মহারাজ সিংহাসনে বসিয়া রাজকার্য্য করিতেছেন, এমন সময়ে ডাকযোগে একটা পুলিন্দা প্রাপ্ত হইলেন, তাহার উপরে বুলবুলের নাম লেখা। রাজা পুলিন্দা পাইয়া বলিতে লাগিলেন, নিশ্চয় বোধ হইতেছে, ইহা ঐ জগৎ বিখ্যাত পক্ষী বিষয়ক কোন নুতন পুস্তক হইবে, কিন্তু তাহা পুস্তক না হইয়া একটা বাক্স হইল। ভিতরে উত্তম কারিগরী। মহারাজ বাক্স খুলিয়া দেখেন যে স্বাভাবিক বুলবুলের সদৃশ তাহাতে একটি পরম সুন্দর কৃত্রিম বুলবুল আছে। কেবল নীলকান্ত চন্দ্রকান্ত এবং পদ্মরাগ মণিতে খচিত। ঘড়ি যেমন তার দ্বারা ঘোরে ঐ পাখীতেও তেমনি কয়েকটা তার বান্ধা ছিল, তাহা কিরাইয়া দিলেই প্রকৃত বুলবুলের মত সুর ও যত রাগ আছে, তাহার একটি মাত্র রাগ এবং একটি মাত্র সুর নির্গত হইত। যতক্ষণ তারে জোর থাকিত ততক্ষণ ঐরূপ হইত। উহা ফুরাইলেই গান এবং সুরেরও শেষ হইত। পরে পক্ষীটি লেজ নাড়িতে আরম্ভ করিলে সোণা এবং রূপা ঝক্মক করিত। আর ইহার গলদেশে এক গাছি ফিতা ঝুলান ছিল, তাহাতে লেখা আছে এই, চায়না দেশীয় মহারাজের বুলবুলের সহিত<noinclude></noinclude> oly8saudtte0pimvhq7efarizehcjn8 পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২১ 104 877762 1941597 1941528 2026-04-04T06:07:02Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941597 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{rh||(১৫)|}}</noinclude>তুলনা করিতে হইলে যাপান দেশীয় রাজার বুলবুল অতি সামান্য। উপস্থিত লোক মাত্রই বলিতে লাগিল। আহা! কি শোভা এত বড় জাঁকাল দেখিতে পাই। যে ব্যক্তি ঐ পক্ষীকে আনয়ন করিয়াছিল, সেই অবধি তাহার উপাধি হইল, মহারাজের প্রধান বুলবুল বাহক। {{ফাঁক}}সভাসদগণ আপনাদের সম্মতি প্রকাশ করিয়া বলিলেন এক্ষণে জীবিত এবং কৃত্রিম বুলবুল উভয়ে সংমিলিত হইয়া গান করুক, উভয় সুরের সংযোগ শুনিতে অবশ্য মিষ্ট লাগিবে, অতএব তাহাদের উভয়কেই একত্রে গান করিতে আরম্ভ করাণ গেল। কিন্তু কিছুই হইল না। যে যার আপন রীত্যনুসারে গায়। জীবিত বুলবুল ধারা বাহিক রূপে কখন উচ্চৈঃস্বরে কখন বা লঘুস্বরে গান গাইতে লাগিল। কিন্তু কৃত্রিমট। সুরের পরিবর্ত্ত করিতে পারিল না। চুঙ্গির ও তারের যেমন শক্তি তেমনি সুর বাহির হইতে লাগিল। তাহা শুনিয়া প্রধান বাদ্যকর বলিল, আপনারা ইহাতে এ পক্ষীর প্রতি কোন দোষারোপ করিবেন না, পক্ষীটি বেলয়ে গীত গায় না, তাহাতেই উভয়ের মানের ঘরে ফাঁক পড়িয়া যায়। এই হেতু পরে ঐ কৃত্রিম পক্ষী কলা গাইতে নাগিল। পূর্ব্বে যেরূপ জীবিত বুলবুল রাজ সমীপে গান<noinclude></noinclude> b5gi8gy899ny0p7orwp3ym2541yrk5n পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২২ 104 877763 1941602 1941529 2026-04-04T06:15:12Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941602 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{rh||(১৬)|}}</noinclude>করিয়া সৌভাগ্য যুক্ত হইয়া ছিল। এও সেইরূপ হইল, অধিকন্তু মতিরমালা এবং স্বর্ণালঙ্কার পরিলে যেরূপ দেখিতে সুন্দর দেখায়। হীরা মণি স্বর্ণাদিতে ইহা ভূষিত হওয়াতে জীবিত বুলবুল অপেক্ষা ইহাকে সুন্দর দেখাইতে ছিল। তেত্রিশবার এক সুরে গাইয়াও ঐ কৃত্রিম বুলবুল কোন রূপে ক্লান্ত হইল না। লোক সকল আরও শুনিতে চাহিত। কিন্তু মহারাজ নিষেধ করিয়া কহিলেন, এবারে জীবিত বুলবুলের পালা, অতএব সে আসিয়া গান করুক। সে কোথায়? সে যে খোলা জানালা পাইয়া বন মধ্যে উড়িয়া গিয়াছিল কেহ তাহা দেখে নাই। {{ফাঁক}}মহারাজ বলিলেন, এ আবার কি? ইহা কেমন করিয়া ঘটিয়াছে, ইহাতে রাজসভাস্থ তাবৎ লোকে বুলবুলকে অতিশয় কৃতঘ্ন জন্তু বলিয়া নানা প্রকার নিন্দা করিতে লাগিল। তাহারা বলিল ও গেল গেলই তাহাতে ক্ষতি কি? উহা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট পক্ষীটিতো আমাদের নিকটে আছে, অতএব আর বার ঐ কৃত্রিম পক্ষীকে গাওয়াইতে আরম্ভ করাইয়া এক সুর চৌত্রিশবার শুনিল। তথাপি সেই রাগটি সুকঠিন ছিল বলিয়া এত শুনিয়াও সম্পূর্ণরূপে কেহ তাহা অভ্যাস করিতে পারিল না। প্রধান বাদ্যকর সেই কৃত্রিম বুল-<noinclude></noinclude> d2akrjetac40dbhrunywnvvi4wocj5o পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৪ 104 877765 1941541 2026-04-03T12:10:34Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941541 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(১৮)}}</noinclude>(১৮) যেন গানও শুনিতে পায়। রাজআজ্ঞানুসারে তাহারা পক্ষীরব শ্রবণ করত অতিশয় পুলকিত হইয়া উঠিল। একত্রে সকলেই বাহবা দিয়। করতানি প্রদান পূর্ব্বক মস্তক নাড়িতে লাগিল, কিন্তু এক দরিদ্রধীবর পূর্ব্বে জীবিত বুলবুলের গীত শ্রবণ করিয়া ছিল, সে তাহাদের কথায় আপন সম্মতি প্রদান না করিয়া কহিল, গানাদি সুন্দর বটে, তাহাতে সন্দেহ নাই, এক প্রকার মুম্বর শুনিতে পাইতেছি। তথাপি ইহাতে একটি বিশেষ ত্রুটি আছে, কিন্তু সে কি আমি নীচ লোক তাহা বলিতে পারি না। অনন্তর জীবিত বুলবুল রাজ্য হইতে দূরীকৃত হইল। {{ফাঁক}}মহারাজ আপনার শয্যার নিকটে একটি রেশমি গদির উপরে ঐ কৃত্রিম বুলবুলটিকে রাখিয়া রাশীকৃত মণি মুক্তা। প্রবালাদি দ্বারা তাহার চারিদিক ভূষিত করিলেন। তদবধি ঐ পক্ষী রাজায়ক উপাধি প্রাপ্ত হইয়া দেশ বিখ্যাত হইল। আরও একটি অদ্ভুত উপাধি পাইয়াছিল, কিন্তু তাহা প্রকাশ করিয়া না বলিলে কি জানি পাঠক মহাশয়ের। না বুঝিতে পারেন, এজন্য বিস্তারিত রূপে লিখিতে বাধিত হইলাম। সকল লোকের হৃদয়মণ্ডল বামপার্শ্বে থাকে। তাহা স্বাভাবিক, এ বিষয়ে রাজ। এবং প্রজাতে কিছুই বিশেষ নাই,<noinclude></noinclude> c1ycmnlaz3zl6kcuh48v0kpt3j8wiyu পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৫ 104 877766 1941542 2026-04-03T12:11:11Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941542 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(১৯)}}</noinclude>(১৯) অতএব চায়না দেশীয় মহারাজ সকল অঙ্গ হইতে আপনার বাম অঙ্গকে অতিশয় শ্রেষ্ঠ বোধ করিতেন, ইহাতেই উৎকৃষ্ট বিষয়ে সেই বুলবুল প্রধান অর্থাৎ হৃদয়ের ধন হইল। কৃত্রিম পক্ষী বিষয়ে প্রধান বাদ্যকর পঁচিশ খণ্ডে এক খানি গ্রন্থ প্রস্তুত করিলেন। পুস্তক খানি একে চায়না ভাযায় বিস্তারিত কঠিন কঠিন শব্দেতে ভূষিত, তাহাতে আবার গ্রন্থকার আপন গুণপনা প্রকাশ করিতে ত্রুটি করেন নাই। সুতরাং লোকদিগের কিছুই বোধ গম্য হইলনা। কিন্তু পাছে রাজা নির্ব্বোধ বিবেচনা করেন, অথবা প্রাণে সংহার করেন, এজন্য সকল লোকেই ভীত হইয়া কহিল, আমরা পুস্তক পাঠ করিয়া উত্তমরূপে বুঝিতে পারিয়াছি। এইরূপে এক বৎসর কাল লোকদিগের আনন্দের আর পরিসীমা রহিলনা। মহারাজ, সভাসদগণ, এবং চায়না দেশীয় প্রায় তারল্লোকেই কৃত্রিম বুলবুলের গীতটীকে মুখস্থ করিল। পক্ষী গান করিলে তাহারাও তাহার সঙ্গে গাইত। তাহাদের পূর্ব্বাপেক্ষা অধিক আহ্লাদিত হইবার মূল কারণ এই; বালকেরা পথে পথে রি, রি, রি, কঁ, কঁ, কঁ, কু, কু, কু, ইত্যাদি শব্দে গান করিয়। বেড়াইত। মহারাজও ঐরূপ গান করিতেন। এক দিন সন্ধ্যাকালে ভূপতি মহাশয় খট্টোপরিশয়ন<noinclude></noinclude> pucub8cpepoiadv062wp0mih6wte7jr পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/১ 104 877767 1941543 2026-04-03T12:12:15Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941543 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(মলাট)}}</noinclude>BENGALI FAMILY LIBRARY. গার্হস্থ্য বাঙ্গল। পুস্তক সঙ্গ হ। চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ। শ্রীযুক্ত মধুসূদন মুখোপাধ্যায় কর্তৃক ইংরাজী ভাষা হইতে অনুবাদিত। CALCUTTA. PRINTED EOR THE VERNACULAR LITERATURE COMMITTEE, By Anund chunder Vedantuvageen. AT THE TUTTOBODHINEE PRESS. 137. Price One Anna. মূল্য / আনা<noinclude></noinclude> 123quu9y8vbqa2u2tiqac6gxd10ktyx পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/৩ 104 877768 1941544 2026-04-03T12:13:04Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941544 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>25 Aontaner Bang. To BENGALI FAMILY LIBRARY. গার্হস্থ্য বাঙ্গলা পুস্তক সঙ্গ হ। চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ। শ্রীযুক্ত মধুসূদন মুখোপাধ্যায় কর্তৃক ইংরাজী ভাষা হইতে অনুবাদিত। Andersen. CALCUTTA. PRINTED FOR THE VERNACULAR LITERATURE COMMITTEE, By Anund chunder Vedantuvagees. AT THE TUTTOBODHINEE PRESS. 1857. Price One Anna. মূল্য / আনা।<noinclude></noinclude> cf1aa21z2ak1e4c6bjyco173i1zpnjj পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১০০ 104 877769 1941545 2026-04-03T12:35:26Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941545 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}আমাকে বলতে যাবে কিসের জন্যে। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, আমাকে বলেছিল বটে, কিন্তু জায়গাটা ঠিক মনে নেই। কাল একবার খুঁজে দেখতে হবে। {{ফাঁক}}তেওয়ারীর মনটা দুলিতে লাগিল, হয়ত কি আবার একটা ফ্যাসাদ জুটিয়েচে, কিন্তু এ সাহস তাহার হইল না যে কারণ জিজ্ঞাসা করে। অপূর্ব্ব নিজেই বলিল। কহিল, সে চুরির জিনিসগুলো এখন পুলিশের লোকে দিতে চায়, কিন্তু ভারতীর একটা সই চাই। {{ফাঁক}}তেওয়ারী আর একদিকে চাহিয়া চুপ করিয়া রহিল, অপূর্ব্ব বলিতে লাগিল, সেদিন একথাই ত জানাতে এসে তোর অবস্থা দেখে আর ফিরতে পারলেন না। তিনি না দেখলে ত তুই কবে মরে ভূত হয়ে যেতিস্ তেওয়ারী, আমার সঙ্গে পর্য্যন্ত দেখা হ’তো না। {{ফাঁক}}তেওয়ারী হাঁ, না কিছুই কহিল না, শেষ কথাটা শুনিবার জন্য নিঃশব্দে কাঠের মত বসিয়া রহিল। অপূর্ব্ব বলিল, এসে দেখি অন্ধকার ঘরে তুই আর তিনি। দ্বিতীয় ব্যক্তি নেই, কি যে ঘটবে তার ঠিক নেই, কোথায় খাওয়া, কোথায় শোওয়া, দুদিন আগে নিজের বাপ-মা মরে গেছে,—কিন্তু কি শক্ত মেয়েমানুষ, তেওয়ারী, কিছুতে ভ্রূক্ষেপই নেই! {{ফাঁক}}তেওয়ারী আর থাকিতে না পারিয়া বলিল, কবে গেলেন তিনি? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, আমার আসার পরদিনই। ভোর না হতেই ‘চললুম’ বলে যেন একেবারে উবে গেলেন। {{ফাঁক}}রাগ করে চলে গেলেন নাকি? {{ফাঁক}}রাগ কোরে? অপূর্ব্ব একটু ভাবিয়া কহিল, কি জানি হতেও পারে। তাঁকে বোঝাই তো যায় না,—নইলে তোর উপর এত যত্ন, একবার খবর নিতেও ত এলেন না তুই ভাল হলি কিনা! {{ফাঁক}}এই কথা তেওয়ারীর ভাল লাগিল না। বলিল, তাঁর নিজেরই হয়ত অসুখবিসুখ কিছু করেছে। {{ফাঁক}}নিজের অসুখ-বিসুখ! অপূর্ব্ব চমকিয়া গেল। তাহার সম্বন্ধে অনেকদিন অনেক কথাই মনে হইয়াছে, কিন্তু কোনদিন এ আশঙ্কা মনেও উদয় হয় নাই। যাবার সময় সে হয়ত রাগ করিয়াই গিয়াছে এবং এই রাগ করা লইয়াই মন তাহার যত কিছু কারণ খুঁজিয়া ফিরিয়াছে। কিন্তু অন্য সম্ভাবনাও যে থাকিতে পারে এদিক পানে ক্ষুদ্ধ চিত্ত তাহার দৃষ্টিপাতই করে নাই। হঠাৎ অসুখের কথায় এ লইয়া যত আলোচনা<noinclude>{{কেন্দ্র|৮৬}}</noinclude> ghzhnzbt6prxmr8rel3tkbrg1lt5q0c পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১০১ 104 877770 1941546 2026-04-03T12:40:46Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941546 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>সে রাত্রে হইয়াছিল সমস্ত এক নিমেষে মনে পড়িয়া অপূর্ব্ব বসন্ত ছাড়া আর কিছুই ভাবিতে পারিল না। তাহার নূতন বাসায় দেখিবার কেহ নাই, হয়ত হাসপাতালে লইয়া গেছে, হয়ত এতদিনে বাঁচিয়াও নাই, মনে মনে সে একেবারে অস্থির হইয়া উঠিল। একটা চেয়ারে বসিয়া আফিসের কলার নেকটাই ওয়েষ্টকোট খুলিতে খুলিতে তাহাদের আলাপ সুরু হইয়াছিল, হাতের কাজ তাহার সেইখানেই বন্ধ হইয়া গেল, মুখে তাহার শব্দ রহিল না, সেই চেয়ারে মাটির পুতুলের মত বসিয়া এই এক প্রকারের অপরিচিত, অস্পষ্ট অনুভূতি যেন তাহাকে আচ্ছন্ন করিয়া রাখিল যে সংসারে আর তাহার কোন কাজ করিবার নাই। {{ফাঁক}}কিছুক্ষণ অবধি কেহই কথা কহিল না। এমনি একভাবে মিনিট কুড়ি-পঁচিশ কাটিয়া গেলেও যখন অপূর্ব্ব নড়িবার চেষ্টা পর্য্যন্ত করিল না, তখন তেওয়ারী মনে মনে শুধু আশ্চর্য্য নয় উদ্বিগ্ন হইল। আস্তে আস্তে কহিল, ছোটবাবু বাড়িওয়ালার লোক এসেছিল; যদি তেতালার ঘরটাই নেওয়া হয় ত, এই মাসের মধ্যেই বদলানো চাই বলে গেল। আমার ভাবনা হয় পাছে কেউ আবার এসে পড়ে। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব মুখ তুলিয়া বলিল, কে আর আসচে। {{ফাঁক}}তেওয়ারী কহিল, আজ মায়ের একখানা পোষ্টকার্ড পেয়েচি। দরওয়ানকে দিয়ে তিনি লিখিয়েচেন। {{ফাঁক}}কি লিখেচেন? {{ফাঁক}}আমি ভাল হয়েছি বলে অনেক আহ্লাদ করেচেন। দরওয়ানের ভাই ছুটি নিয়ে দেশে যাচ্চে, তার হাতে বিশ্বেশ্বরের নামে পাঁচ টাকার পূজো পাঠিয়েচেন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, ভালই ত! মা তোকে ছেলের মত ভালবাসেন। {{ফাঁক}}তেওয়ারী শ্রদ্ধায় বিগলিত হইয়া কহিল, ছেলের বেশি। আমি চলে যাবো, মার ইচ্ছে ছুটি নিয়ে আমরা দুজনেই যাই। চারিদিকে অসুখ-বিসুখ— {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, অসুখ-বিসুখ কোথায় নেই? কলকাতায় হয় না? তাই বুঝি ভয় দেখিয়ে নানা কথা লিখেছিলি? {{ফাঁক}}আজ্ঞে না। তেওয়ারী ভাবিয়া রাখিয়াছিল আসল কথাটা সে রাত্রে আহারাদির পরে ধীরে-সুস্থে পাড়িবে। কিন্তু আর অপেক্ষা করা চলিল না। কহিল, কালীবাবু একেবারে নাছোড়বান্দা হয়ে ধরেচেন। বোধ হয় সকলেরই ইচ্ছে মাঝের চোত্ মাসটা বাদ দিয়ে বোশেখের প্রথমেই শুভ কাজটা হয়ে যায়। {{ফাঁক}}কালীবাবু অতিশয় নিষ্ঠাবান্ ব্রাহ্মণ, তাঁহার পরিবারে আচার-পরায়ণতার খ্যাতি প্রসিদ্ধ। তাঁহারই কনিষ্ঠা কন্যাকে মাতাঠাকুরাণী পছন্দ করিয়াছেন এ আভাস তাঁহার<noinclude>{{কেন্দ্র|৮৭}}</noinclude> mwgb13oi1932l5lwhy9656so4wq0kj7 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১০২ 104 877771 1941547 2026-04-03T12:44:23Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941547 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>কয়েকখানা পত্রেই ছিল। তেওয়ারীর কথাটা অপূর্বর ভাল লাগিল না। কহিল, এত তাড়াতাড়ি কিসের? কালীবাবুর গৌরীদানের সবুর না সয়, তিনি ত আর কোথাও চেষ্টা করতে পারেন না। {{ফাঁক}}তেওয়ারী একটু হাসিবার চেষ্টা করিয়া কহিল, তাড়াতাড়ি তাঁর কি মা’র কি করে জানাবো ছোটবাবু? লোকে হয়ত তাঁকে ভয় দেখায় বর্ম্মা দেশটা তেমন ভাল নয়, এখানে ছেলেরা বিগড়ে যায়। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব খামোকা ভয়ানক জ্বলিয়া উঠিয়া কহিল, দেখ, তেওয়ারী, তুই আমার ওপর অত পণ্ডিতি করিসনে বলে দিচ্ছি। মাকে তুই রোজ রোজ অত চিঠি লিখিস কিসের? আমি ছেলে মানুষ নই! {{ফাঁক}}এই অকারণ ক্রোধে তেওয়ারী প্রথমে বিস্মিত হইল, বিশেষতঃ রোগ হইতে উঠিয়া নানা কারণে তাহারও মেজাজ খুব ভাল ছিল না, সেও রাগিয়া বলিল, আসবার সময় মাকে একথা বলে আসতে পারেননি? তাহলে ত বেঁচে যেতাম, জাত-জন্ম খোয়াতে জাহাজে চড়তে হোত, না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব চোখ রাঙ্গাইয়া চট্‌ করিয়া কলার ও নেকটাই তুলিয়া লইয়া গলায় পরিতে লাগিল। তেওয়ারী বহুকাল হইতেই ইহার অর্থ জানিত। কহিল, তাহলে জলটল কিছু খাবেন না? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব তাহার প্রশ্নের জবাবে আলনা হইতে কোট লইয়া তাহাতে হাত গলাইতে গলাইতে দুম দুম করিয়া বাহির হইয়া গেল। {{ফাঁক}}তেওয়ারী গরম হইয়া বলিল, কাল রবিবারে চাটগাঁ দিয়ে একটা জাহাজ যায়—আমি তাতেই বাড়ি যাব বলে রাখলাম। অপূর্ব্ব সিড়ি হইতে কহিল, না যাস্ তো তোর দিব্বি রইল!—বলিয়া নীচে চলিয়া গেল। {{ফাঁক}}মিনিট পাঁচেকের মধ্যে প্রভু ও ভৃত্যের কিসের জন্য যে এমন একটা রাগারাগি হইয়া গেল অনভিজ্ঞ কেহ উপস্থিত থাকিলে সে একেবারে আশ্চর্য্য হইয়া যাইত, সে ভাবিয়াও পাইত না যে, এমনি অর্থহীন আঘাতের পথ দিয়াই মানুষের ব্যথিত বিক্ষুব্ধ চিত্ত চিরদিন আপনাকে সহজের মধ্যে ফিরাইয়া আনিবার পথ খুঁজিয়া পাইয়াছে। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৮৮}}</noinclude> o6vvhclnkf8qig40vh39a6bfpc6n983 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১০৩ 104 877772 1941548 2026-04-03T12:47:39Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941548 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{কেন্দ্র|১১}} {{ফাঁক}}অপূর্ব্বর যাইবার জায়গা একমাত্র ছিল তলওয়ারকরের বাটী। এখানে বাঙালীর অভাব নাই, কিন্তু আসিয়া পর্য্যন্ত এমন ঝড়-ঝাপটার মধ্যেই তাহার দিন কাটিয়াছে যে কাহারও সহিত পরিচয় করিবার আর ফুরসৎ পায় নাই। বাহির হইয়া আজও সে রেলওয়ে ষ্টেশনের দিকেই চলিয়াছিল, কিন্তু হঠাৎ মনে পড়িল আজ শনিবারে তাহার সস্ত্রীক থিয়েটারে যাইবার কথা। অতএব, পথে পথে ঘুরিয়া বেড়ানো ব্যতীত অন্য কিছু করিবার যখন রহিল না এবং কোথায় যাইবে যখন ভাবিতেছে, তখন অকস্মাৎ ভারতীকে মনে পড়িয়া তাহার প্রতি গভীর অকৃতজ্ঞতা আজ তাহাকে তীক্ষ্ণ করিয়া বিঁধিল। তাহার আহত অপরাধী মন তাহারি কাছে যেন জবাব দিহি করিয়া বারবার বলিতে লাগিল, সে ভালই আছে তাহার কিছুই হয় নাই; নহিলে এতবড় জীবনমরণ সমস্যার একটা খবর পর্য্যন্ত দিত না তাহা হইতেই পারে না, তবুও সে ওই জবাব-দিহির বেশি আর অগ্রসর হইল না। তেলের কারখানার কাছা-কাছি কোথায় তাহার নূতন বাসা ইহা সে ভুলে নাই, ইহাই খুঁজিয়া বাহির করিবার কল্পনায় মন তাহার নাচিয়া উঠিল, কিন্তু এমন করিয়া যে-লোক আত্মগোপন করিয়া আছে, এতকাল পরে তাহার তত্ত্ব লইতে যাওয়ার লজ্জাও সে সম্পুর্ণ কাটাইয়া উঠিতে পারিল না। হয়ত সে ইহাও চাহে না, হয়ত সে তাহাকে দেখিয়া বিরক্ত হইবে, তাই চলিতে চলিতে আপনাকে আপনি সে একশতবার করিয়া বলিতে লাগিল, পুলিশের লোকে তাহার সই চাহে, অতএব কাজের জন্যই সে আসিয়াছে; সে কেমন আছে কোথায় আছে এ-সকল অকারণ কৌতূহল তাহার নাই। এতদিন পরে এ অভিযোগ ভারতী কোন মতেই তাহার প্রতি আরোপ করিতে পারিবে না। {{ফাঁক}}এ অঞ্চলে অপূর্ব্ব আর কখনো আসে নাই। পূর্ব্বমুখে প্রশস্ত রাস্তা সোজা গিয়াছে, অনেক দূর হাঁটিয়া ডান দিকে নদীর ধারে যে পথ, সেইখানে আসিয়া একজনকে সে জিজ্ঞাসা করিল, এদিকে সাহেব মেমেরা কোথায় থাকে জানো? লোকটি প্রত্যুত্তরে আশে-পাশে যে সকল ছোট-বড় বাঙলো দেখাইয়া দিল তাহাদের আকৃতি, অবয়ব ও সাজ-সজ্জা দেখিয়াই অপূর্ব্ব বুঝিল তাহার প্রশ্ন করা ভুল হইয়াছে, সংশোধন করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, অনেক বাঙালীরাও ত থাকে এখানে, কেউ কারিকর, কেউ মিস্ত্রী, তাদের মেয়েছেলেরা— {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৮৯}}</noinclude> a2ndgw0vjs2iic9knavv876vjvmrfih 1941565 1941548 2026-04-03T16:01:08Z Nettime Sujata 5470 1941565 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{কেন্দ্র|১১}} {{ফাঁক}}অপূর্ব্বর যাইবার জায়গা একমাত্র ছিল তলওয়ারকরের বাটী। এখানে বাঙালীর অভাব নাই, কিন্তু আসিয়া পর্য্যন্ত এমন ঝড়-ঝাপটার মধ্যেই তাহার দিন কাটিয়াছে যে কাহারও সহিত পরিচয় করিবার আর ফুরসৎ পায় নাই। বাহির হইয়া আজও সে রেলওয়ে ষ্টেশনের দিকেই চলিয়াছিল, কিন্তু হঠাৎ মনে পড়িল আজ শনিবারে তাহার সস্ত্রীক থিয়েটারে যাইবার কথা। অতএব, পথে পথে ঘুরিয়া বেড়ানো ব্যতীত অন্য কিছু করিবার যখন রহিল না এবং কোথায় যাইবে যখন ভাবিতেছে, তখন অকস্মাৎ ভারতীকে মনে পড়িয়া তাহার প্রতি গভীর অকৃতজ্ঞতা আজ তাহাকে তীক্ষ্ণ করিয়া বিঁধিল। তাহার আহত অপরাধী মন তাহারি কাছে যেন জবাব দিহি করিয়া বারবার বলিতে লাগিল, সে ভালই আছে তাহার কিছুই হয় নাই; নহিলে এতবড় জীবনমরণ সমস্যার একটা খবর পর্য্যন্ত দিত না তাহা হইতেই পারে না, তবুও সে ওই জবাব-দিহির বেশি আর অগ্রসর হইল না। তেলের কারখানার কাছা-কাছি কোথায় তাহার নূতন বাসা ইহা সে ভুলে নাই, ইহাই খুঁজিয়া বাহির করিবার কল্পনায় মন তাহার নাচিয়া উঠিল, কিন্তু এমন করিয়া যে-লোক আত্মগোপন করিয়া আছে, এতকাল পরে তাহার তত্ত্ব লইতে যাওয়ার লজ্জাও সে সম্পুর্ণ কাটাইয়া উঠিতে পারিল না। হয়ত সে ইহাও চাহে না, হয়ত সে তাহাকে দেখিয়া বিরক্ত হইবে, তাই চলিতে চলিতে আপনাকে আপনি সে একশতবার করিয়া বলিতে লাগিল, পুলিশের লোকে তাহার সই চাহে, অতএব কাজের জন্যই সে আসিয়াছে; সে কেমন আছে কোথায় আছে এ-সকল অকারণ কৌতূহল তাহার নাই। এতদিন পরে এ অভিযোগ ভারতী কোন মতেই তাহার প্রতি আরোপ করিতে পারিবে না। {{ফাঁক}}এ অঞ্চলে অপূর্ব্ব আর কখনো আসে নাই। পূর্ব্বমুখে প্রশস্ত রাস্তা সোজা গিয়াছে, অনেক দূর হাঁটিয়া ডান দিকে নদীর ধারে যে পথ, সেইখানে আসিয়া একজনকে সে জিজ্ঞাসা করিল, এদিকে সাহেব মেমেরা কোথায় থাকে জানো? লোকটি প্রত্যুত্তরে আশে-পাশে যে সকল ছোট-বড় বাঙলো দেখাইয়া দিল তাহাদের আকৃতি, অবয়ব ও সাজ-সজ্জা দেখিয়াই অপূর্ব্ব বুঝিল তাহার প্রশ্ন করা ভুল হইয়াছে, সংশোধন করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, অনেক বাঙালীরাও ত থাকে এখানে, কেউ কারিকর, কেউ মিস্ত্রী, তাদের মেয়েছেলেরা— {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৮৯}}</noinclude> 457ti1by3snax7wind78ohgdhc8hgqi পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১০৪ 104 877773 1941549 2026-04-03T12:53:14Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941549 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}লোকটি কহিল, ঢের, ঢের। আমিই ত একজন মিস্ত্রী। আমার তাঁবেই ত পঞ্চাশজন কারিকর—যা কোরব তাই! ছোট সাহেবকে বলে জবাব পর্য্যন্ত দিতে পারি। কাকে খোঁজেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব চিন্তা করিয়া কহিল, দেখো আমি যাকে খুঁজি,—আচ্ছা, যারা বাঙালী ক্রীশ্চান কিংবা— {{ফাঁক}}লোকটি আশ্চর্য্য হইয়া বলিল, বোলচেন বাঙালী, আবার খৃষ্টান কি রকম? খৃষ্টান হলে আবার বাঙালী থাকে না কি? খৃষ্টান—খৃষ্টান। মোচলমান—মোচলমান। বস্, এই ত জানি মশায়! {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, আহা! বাঙলা দেশের লোক ত! বাঙলা ভাষা বলে ত? {{ফাঁক}}সে গরম হইয়া কহিল, ভাষা বললেই হ’ল? যে জাত দিয়ে খৃষ্টান হয়ে গেল তাতে আর পদার্থ রইল কি মশায়? কোন বাঙালী তার সঙ্গে আহার-ব্যবহার করুক একবার দেখি ত! ওই যে কোত্থেকে সব মেয়ে-মাষ্টার এসেচে ছেলেপুলেদের পড়ায়—বস্! তা বলে কেউ কি তাদের সঙ্গে খাচ্ছে, না বসচে? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কূল দেখিতে পাইয়া জিজ্ঞাসা করিল, তিনি কোথায় থাকেন জানেন? {{ফাঁক}}সে কহিল, তা আর জানিনে! এই রাস্তায় সোজা গাঙের ধারে গিয়ে জিজ্ঞেসা করবেন নতুন ইস্কুল ঘর কোথায়,—কচি ছেলেটা পর্য্যন্ত দেখিয়ে দেবে। ডাক্তারবাবু থাকেন কি না! মানুষ ত নয়,—দেবতা! মরা বাঁচাতে পারেন!—এই বলিয়া সে নিজের কাজে চলিয়া গেল। সেই পথে সোজা আসিয়া অপূর্ব্ব লাল রঙের একখানি কাঠের বাড়ি দেখিতে পাইল। বাড়িটি দ্বিতল, একেবারে নদীর উপরে। তখন রাত্রি হইয়াছে, পথে লোক নাই—উপরের খোলা জানালা হইতে আলো আসিতেছে,—কাহাকেও জিজ্ঞাসা করিবার জন্য সে সেইখানে চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া রহিল, কিন্তু মনের মধ্যে তাহার সন্দেহ রহিল না যে এইখানেই ভারতী থাকে এবং ওই জানালাতেই তাহার দেখা মিলিবে। {{ফাঁক}}মিনিট পনর পরে জন দুই-তিন লোক বাহির হইয়া তাহাকে দেখিয়া সহসা যেন চকিত হইয়া উঠিল। একজন প্রশ্ন করিল, কে? কাকে চান? {{ফাঁক}}তাহার সন্দিগ্ধ কণ্ঠস্বরে অপূর্ব্ব সঙ্কুচিত হইয়া বলিল, মিস্ জোসেফ বলে কোন স্ত্রীলোক থাকেন এখানে? {{ফাঁক}}সে তৎক্ষণাৎ বলিল, থাকেন বই কি—আসুন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্বর ঠিক যাইবার সঙ্কল্প ছিল না, কিন্তু দ্বিধা করিতেই লোকটি কহিল, আপনি<noinclude>{{কেন্দ্র|৯০}}</noinclude> ogtvogqheyqa91zw2ytucigu7b4aebq পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১০৫ 104 877774 1941550 2026-04-03T13:01:08Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941550 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন? কিন্তু তিনি ত ঘরেই আছেন,—আসুন। আমরা আপনাকে নিয়ে যাচ্চি, এই বলিয়া সে অগ্রসর হইল। {{ফাঁক}}তাহার ত্বরা দেখিয়া স্পষ্টই বুঝা গেল ইহারা তাহাকে যাচাই করিয়া লইতে চায়। অতএব, দ্বার হইতে এখন না বলিয়া ফিরিতে চাহিলে সন্দেহ ইহাদের এমনিই বিশ্রী হইয়া উঠিবে যে সে তাহা ভাবিতেই পারিল না। তাই চলুন, বলিয়া সে লোকটির অনুসরণ করিয়া এক মুহূর্ত্ত পরেই এই কাঠের বাড়ির নীচেকার ঘরে আসিয়া উপস্থিত হইল। ইহারই এক পাশ দিয়া উপরে উঠিবার সিঁড়ি। ঘরটি হলের মত প্রশস্ত। ছাদ হইতে ঝুলানো একটা মস্ত আলো, গোটা কয়েক টেবিল চেয়ার, একটা কালো বোর্ড এবং সমস্ত দেয়াল জুড়িয়া নানা আকারের ও নানা রঙের ম্যাপ টাঙানো। ইহাই যে নূতন স্কুলঘর অপূর্ব্ব তাহা দেখিয়াই চিনিল। তথায় চার পাঁচ জন স্ত্রীলোক ও পুরুষে মিলিয়া বোধ হয় একটা তর্কই করিতেছিল, সহসা একজন অপরিচিত লোককে প্রবেশ করিতে দেখিয়া চুপ করিল। অপূর্ব্ব একবার মাত্র তাহাদের প্রতি কটাক্ষে চাহিয়া যে তাহাকে আনিয়াছিল তাহারই পিছনে পিছনে উপরে উঠিয়া গেল। ভারতী ঘরেই ছিল, অপূর্ব্বকে দেখিয়া তাহার মুখ উজ্জ্বল হইয়া উঠিল, কাছে আসিয়া হাত ধরিয়া তাহাকে অভ্যর্থনা করিয়া চেয়ারে বসাইয়া কহিল, এতদিন আমার খোঁজ নেননি যে বড়? অপূর্ব্ব বলিল, আপনিও ত আমাদের খোঁজ নেননি! কিন্তু কথাটা যে জবাব হিসাবে ঠিক হইল না তাহা সে বলিয়াই বুঝিল। ভারতী শুধু একটু হাসিল, কহিল, তেওয়ারী বাড়ি যেতে চাচ্চে, যাক। না গেলে সে সারবে না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, অর্থাৎ আপনি যে আমাদের খবর নেন না এ অভিযোগ সত্য নয়। {{ফাঁক}}ভারতী পুনশ্চ একটু হাসিয়া কহিল, কাল রবিবার, কাল কিছু আর হবে না, কিন্তু পরশু বারোটার মধ্যেই কোর্টে গিয়ে টাকা আর জিনিসগুলো আপনার ফিরিয়ে আনবেন। একটু দেখে শুনে নেবেন, যেন ঠকায় না। {{ফাঁক}}আপনার কিন্তু একটা সই চাই। {{ফাঁক}}তা জানি। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব প্রশ্ন করিল, আপনার সঙ্গে তেওয়ারীর বোধ হয় দেখা হয়, না? {{ফাঁক}}ভারতী মাথা নাড়িয়া বলিল, না। কিন্তু আপনি যেন গিয়ে তার ওপর মিছে রাগ করবেন না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, মিছে না হোক, সত্যি রাগ করা উচিত। আপনি তার প্রাণ দিয়েচেন এটুকু কৃতজ্ঞতা তার থাকা উচিত ছিল! {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৯১}}</noinclude> 98u5m79z7k9ezxm86it5v9b0bsvjbxh পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১০৬ 104 877775 1941551 2026-04-03T13:05:42Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941551 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}ভারতী বলিল, নিশ্চয়ই আছে। নইলে, সে তো আমাকে জেলে পাঠাবার একবার অন্ততঃ চেষ্টা করেও দেখতো। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব এ ইঙ্গিত বুঝিল। আনতমুখে ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া শেষে বলিল, আপনি আমার উপর ভয়ানক রাগ করে আছেন। {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, কখ্‌খনো না। সারাদিন ইস্কুলে ছেলেমেয়ে পড়িয়ে, ঘরে ফিরে আবার সমিতির সেক্রেটারির কাজে অসংখ্য চিঠিপত্র লিখে, বিছানায় শুতে-না-শুতেই ত ঘুমিয়ে পড়ি,—রাগ করবার সময় কোথায় আমার? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, ওঃ—রাগ করবারও সময়টুকু নেই! {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, কই আর আছে? আপনি বরঞ্চ কোনদিন সকাল থেকে এসে দেখবেন সত্যি না মিছে! {{ফাঁক}}অপূর্ব্বর মুখ দিয়া অলক্ষিতে একটা দীর্ঘশ্বাস পড়িল। কহিল, দেখবার আমার দরকার কি! একটুখানি থামিয়া কহিল, ইস্কুলে আপনাকে কত মাইনে দেয়? {{ফাঁক}}ভারতী হাসি চাপিয়া গম্ভীর হইয়া বলিল, বেশ ত আপনি! মাইনের কথা বুঝি কাউকে জিজ্ঞাসা করতে আছে? এতে তার অপমান হয় না? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ক্ষুণ্ণকণ্ঠে কহিল, অপমান করবার জন্যে ত আর বলিনি। চাকরিই যখন করচেন— {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, না করে কি শুকিয়ে মরতে বলেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, এ যা চাকরি, এই ত শুকিয়ে মরা! তার চেয়ে বরঞ্চ আমাদের আফিসে একটা চাকরি আছে, মাইনে একশ’টাকা— হয়ত দু-এক ঘণ্টার বেশি খাটতেও হবে না। {{ফাঁক}}ভারতী প্রশ্ন করিল, আমাকে সেই চাকরি করতে বলেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, দোষই বা কি? {{ফাঁক}}ভারতী ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না, আমি কোরব না। আপনি ত তার কর্ত্তা, কাজে ভুলচুক হলেই লাঠি হাতে দরজায় এসে দাঁড়াবেন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব জবাব দিল না। সে মনে মনে বুঝিল ভারতী শুধু পরিহাস করিয়াছে, তথাপি তাহার সেই একটা দিনের আচরণের ইঙ্গিত করায় তাহার গা জ্বলিয়া গেল। কিছুক্ষণ হইতেই একটা তর্ক-বিতর্কের কলরোল নীচে হইতে শুনা যাইতেছিল, সহসা তাহা উদ্দাম হইয়া উঠিল। অপূর্ব্ব ভালমানুষটির মত জিজ্ঞাসা করিল, আপনাদের ইস্কুল বোস্‌লো বোধ হয়—ছেলেরা সব পড়ায় মন দিয়েছে। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৯২}}</noinclude> m29krax884myeb1z4rxhn9s2btwiclq পাতা:ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf/১৮৪ 104 877776 1941552 2026-04-03T14:52:36Z Hrishikes 1618 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941552 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Hrishikes" />{{rh|১৬৮|ভারতের শক্তি-সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য}} {{block center/s}}</noinclude><poem> তারে ধ্বংস করে ভগবতী, নিদয় হলি ভক্তের প্রতি, শেষকালে তার বংশে বাতি দিতেও কারে রাখলি নে।<ref>প্রাচীন কবিওয়ালার গান—প্রফুল্লচন্দ্র পাল সম্পাদিত (কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত)।</ref> </poem>{{block center/e}} {{gap}}রামচন্দ্রের নীলপদ্মে দেবীপূজার উল্লেখও বহু ভাবে পাই। পরাণচন্দ্রের একটি সুন্দর গানে দেখিতে পাই— {{block center|<poem> শ্রীরাম যেমন যুদ্ধকালে, পূজেছেন নীলপদ্ম ফুলে, শ্রদ্ধা করে মা, দিতে সেই নীলপদ্ম আমার সাধ্য নাই শ্যামা, দেহে আছে পদ্মবন, তাতে করি পদ্মাসন, হৃৎপদ্মে মা পূজে চরণ, মনের মানস পূরাব।<ref>ঊনবিংশ শতাব্দীর কবিওয়ালা ও বাংলা সাহিত্য, শ্রীনিরঞ্জন চক্রবর্তী, পৃ. ২৭৫। তুলনীয়—<br/> {{block center|width=350px|ঠেকে রাবণ বধে<br/>রঘুপতি করলে তোমার পূজা,<br/>হ্যাদে গো দীনদয়াময়ি,<br/>করলে তোমার পূজা শতাষ্ট নীলপদ্ম তুলে,<br/>মা তোমাকে পূজা দিলে,<br/>সেই দিন রামকে দেখা দিলে<br/>হয়ে আপনি দশভুজা। {{right|—রাইচরণ মাল,<br/>প্রাচীন কবিওয়ালার গান।}}}}</ref> </poem>}} {{gap}}রামচন্দ্র সাগর পার হইবার জন্য সাগরতীরে বসিয়াই দেবীর পূজা করিয়াছিলেন এই মতও বাঙলাদেশে চলিত ছিল এবং আছে। কবিওয়ালা রাজারাম বলিয়াছেন— {{block center|শরৎকালেতে ওমা ভবানী আপনি হলে দশভুজা।<br/> সেই সাগর পারে পূর্ণ ব্রহ্ম রাম তোমারে করেছেন পূজা॥<ref>প্রাচীন কবিওয়ালার গান।</ref>}} {{gap}}সারদা ভাণ্ডারী আবার বলিয়াছেন যে সেতুবন্ধে দেবী রাম কর্তৃক পূজিতা হইয়াছিলেন বলিয়াই দেবী ‘সেতুবন্ধে রামেশ্বরী’ নামে খ্যাতা।<ref>প্রাচীন কবিওয়ালার গান।</ref> {{gap}}হিন্দী লোকগীতেও এই-জাতীয় কিংবদন্তী চলিত আছে; যেমন— {{block center/s}}<poem> আনন্দী জগবন্দী কাট জগ কী ফন্দী, নাম জপো—ভক্তি করো। {{***|3|3em}} </poem><noinclude>{{block center/e}} {{rule|8em|align=left}} {{smallrefs|85%}}</noinclude> hh3eqik7aochuw513tqrxashoz64994 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১০৭ 104 877777 1941553 2026-04-03T15:05:21Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941553 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>{{ফাঁক}}ভারতী গম্ভীর মুখে কহিল, তাহলে হাঁকা-হাঁকিটা কিছু কম হ’তো। তাদের শিক্ষকেরা বোধ করি বিষয় নির্ব্বাচনে মন দিয়েচেন। {{ফাঁক}}আপনি যাবেন না? {{ফাঁক}}যাওয়া ত উচিত, কিন্তু আপনাকে ছেড়ে যেতে যে মন সরে না। এই বলিয়া সে মুখ টিপিয়া হাসিল। কিন্তু অপূর্ব্বর কান পর্য্যন্ত রাঙা হইয়া উঠিল। সে আর একদিকে চোখ ফিরাইয়া পাশের দেয়ালের গায়ে সাজানো কাঁচা ঝাউপাতা দিয়া লেখা কয়েকটা অক্ষরের প্রতি সহসা দৃষ্টিপাত করিয়া বলিয়া উঠিল, ওটা কি লেখা ওখানে? {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, পড়ুন না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ক্ষণকাল মনঃসংযোগ করিয়া বলিল, পথের দাবী। তার মানে? {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, ওই আমাদের সমিতির নাম, ওই আমাদের মন্ত্র, ওই আমাদের সাধনা! আপনি আমাদের সভ্য হবেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, আপনি নিজে একজন সভ্য নিশ্চয়ই, কিন্তু কি আমাদের করতে হবে? {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, আমরা সবাই পথিক। মানুষের মনুষ্যত্বের পথে চলবার সর্ব্বপ্রকার দাবী অঙ্গীকার করে আমরা সকল বাধা ভেঙে-চুরে চলবো। আমাদের পরে যারা আসবে তারা যেন নিরুপদ্রবে হাঁটতে পারে, তাদের অবাধ মুক্ত গতিকে কেউ যেন না রোধ করতে পারে, এই আমাদের পণ। আসবেন আমাদের দলে? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, আমরা পরাধীন জাতি, ইংরেজ নই, ফরাসী নই, আমেরিকান নই,—কোথায় পাবো আমরা অপ্রতিহত গতি? ষ্টেশনের একটা বেঞ্চে বসবার আমাদের অধিকার নেই, অপমানিত হয়ে নালিশ করবার পথ নেই,—বলিতে বলিতে সেদিনের সমস্ত লাঞ্ছনা,—ফিরিঙ্গী ছোঁড়াদের বুটের আঘাত হইতে ষ্টেশন মাষ্টারের বাহির করিয়া দেওয়া অবধি সকল অপমান কষ্ট অনুভব করিয়া তাহার দুই চক্ষু প্রদীপ্ত হইয়া উঠিল, কহিল, আমরা বসলে বেঞ্চ অপবিত্র হয়, আমরা গেলে ঘরের হাওয়া কলুষিত হয়,—আমরা যেন মানুষ নই! আমাদের যেন মানুষের প্রাণ, মানুষের রক্তমাংস গায়ে নেই! এই যদি আপনাদের সাধনা হয়, আছি আমি আপনাদের দলে। {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, আপনি কি মানুষের জ্বালা টের পান অপূর্ব্ববাবু? সত্যই কি মানুষের ছোঁয়ায় মানুষের আপত্তি করবার কিছু নেই, তার গায়ের বাতাসে আর একজনের ঘরের বাতাস অপবিত্র হয়ে ওঠে না? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব তীব্রকণ্ঠে বলিয়া উঠিল, নিশ্চয় নয়। মানুষের চামড়ার রঙ ত তার মনুষ্যত্বের মাপকাঠি নয়! কোন একটা বিশেষ দেশে জন্মানই ত তার অপরাধ হতে<noinclude>{{কেন্দ্র|৯৩}}</noinclude> ih2qm3q3kev5fyhu5k6k8qlqastyohg পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১০৮ 104 877778 1941554 2026-04-03T15:09:44Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941554 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>পারে না! মাপ করবেন আপনি, কিন্তু জোসেফ সাহেব ক্রীশ্চান বলেই ত শুধু আদালতে আমার কুড়ি টাকা দণ্ড হয়েছিল। ধর্ম্মমত ভিন্ন হলেই কি মানুষে হীন প্রতিপন্ন হবে? এ কোথাকার বিচার! এই বলচি আপনাকে আমি, এর জন্মই এরা একদিন মরবে। এই যে মানুষকে অকারণে ছোট করে দেখা, এই যে ঘৃণা, এই যে বিদ্বেষ, এ অপরাধ ভগবান কখনো ক্ষমা করবেন না। {{ফাঁক}}বেদনা ও লাঞ্ছনার মত মানুষের সত্যবস্তুটিকে টানিয়া বাহিরে আনিতে ত দ্বিতীয় পদার্থ নাই, তাই সে সমস্ত ভুলিয়া অপমানকারীর বিরুদ্ধে অপমানিতের, পীড়কের বিরুদ্ধে পীড়িতের মর্ম্মান্তিক অভিযোগে সহস্রমুখ হইয়া উঠিয়াছিল। ভারতী তাহার দৃপ্ত মুখের প্রতি চাহিয়া এতক্ষণ নিঃশব্দে বসিয়াছিল, কিন্তু কথা তাহার শেষ হইতেই সে শুধু একটু মুচকিয়া হাসিয়া মুখ ফিরাইল। অপূর্ব্ব চমকিয়া উঠিল, তাহার মুখের উপর কে যেন সজোরে মারিল। ভারতীর কোন প্রশ্নই এতক্ষণ সে খেয়াল করে নাই, কিন্তু সেগুলি অগ্নিরেখার মত তাহার মাথার মধ্যে দিয়া সশব্দে খেলিয়া গিয়া তাহাকে একেবারে বাক্যহীন করিয়া দিল। {{ফাঁক}}মিনিটখানেক পরে ভারতী পুনরায় যখন মুখ ফিরাইয়া চাহিল, তখন তাহার ওষ্ঠাধরে হাসির চিহ্নমাত্র ছিল না, কহিল, আজ শনিবারে আমাদের স্কুল বন্ধ, কিন্তু সমিতির কাজ হয়। চলুন না, নীচে গিয়ে আপনাকে ডাক্তারের সঙ্গে পরিচিত করে দিয়ে পথের দাবীর সভ্য করে নিই। {{ফাঁক}}তিনি বুঝি সভাপতি? {{ফাঁক}}সভাপতি? না, তিনি আমাদের মূল শিকড়। মাটির তলায় থাকেন, তাঁর কাজ চোখে দেখা যায় না। {{ফাঁক}}শিকড়ের প্রতি অপূর্ব্বর কিছুমাত্র কৌতূহল জন্মিল না। জিজ্ঞাসা করিল, আপনাদের সভ্যরা বোধহয় সকলে ক্রীশ্চান? {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, না, আমি ছাড়া সকলেই হিন্দু। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব আশ্চর্য্য হইয়া কহিল, কিন্তু মেয়েদের গলা পাচ্ছি যে? {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, তাঁরাও হিন্দু। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব মুহূর্ত্তকাল দ্বিধা করিয়া বলিল, কিন্তু তাঁরা বোধ হয় জাতিভেদ—অর্থাৎ কিনা, খাওয়া ছোঁয়ার বিচার বোধ করি করেন না? {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, না। তারপরে হাসিমুখে কহিল, কিন্তু কেউ যদি মেনে চলেন, তাঁর মুখেও আমরা কেউ খাবার জিনিস জোর করে গুঁজে দিইনে। মানুষের ব্যক্তিগত প্রবৃত্তিকে আমরা অত্যন্ত সম্মান করে চলি। আপনার ভয় নেই। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৯৪}}</noinclude> 4gm0p5aq419temgu2gy4s8f1j9ejg4p পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১০৯ 104 877779 1941555 2026-04-03T15:12:58Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941555 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>{{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, ভয় আবার কিসের? কিন্তু,—আচ্ছা, আপনার মত শিক্ষিতা মহিলাও বোধ করি আপনাদের দলে আছেন? {{ফাঁক}}আমার মত? এই বলিয়া সে হাসিয়া কহিল, আমাদের প্রেসিডেণ্ট যিনি, তাঁর নাম সুমিত্রা, তিনি একলা পৃথিবী ঘুরে এসেচেন,—শুধু ডাক্তার ছাড়া তাঁর মত বিদুষী বোধ হয় এ দেশে কেউ নেই। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বিস্ময়াপন্ন হইয়া প্রশ্ন করিল, আর ডাক্তার যাঁকে বলচেন, তিনি? {{ফাঁক}}ডাক্তার? শ্রদ্ধায় ও ভক্তিতে ভারতীর দুইচক্ষু যেন সজল হইয়া উঠিল, কহিল, তাঁর কথা থাক্ অপূর্ব্ববাবু। পরিচয় দিতে গেলেই হয়ত তাঁকে ছোট করে ফেলবো। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব আর কোন প্রশ্ন না করিয়া চুপ করিয়া রহিল। দেশের প্রতি ভালবাসার নেশা তাহার রক্তের মধ্যে—এই দিক দিয়া পথের দাবীর বিচিত্র নামটা তাহাকে টানিতে লাগিল। এই সঙ্গীহীন, বন্ধুহীন বিদেশে এতগুলি অসাধারণ শিক্ষিত নরনারীর আশা ও আকাঙ্খা, চেষ্টা ও উদ্যম, তাহাদের ইতিহাস, তাহাদের রহস্যময় কর্ম্মজীবনের অপরিজ্ঞাত পদ্ধতি ওই যে অদ্ভুত নামটাকে জড়াইয়া উঠিতে চাহিতেছে তাহার সহিত ঘনিষ্ঠ মিলনের লোভ সংবরণ করা কঠিন, কিন্তু তবুও কেমন যেন একপ্রকার বিজাতীয়, ধর্ম্মবিহীন, অস্বাস্থ্যকর বাষ্প নীচে হইতে উঠিয়া তাহার মনটাকে ধীরে ধীরে গ্লানিতে ভরিয়া আনিতে লাগিল। {{ফাঁক}}কলরব বাড়িয়া উঠিতেই ছিল, ভারতী কহিল, চলুন যাই। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব সায় দিয়া বলিল, চলুন— {{ফাঁক}}উভয়ে নীচে আসিলে ভারতী তাহাকে একটা বেতের সোফায় বসিতে দিয়া স্থানাভাবে তাহার পার্শ্বেই উপবেশন করিল। {{ফাঁক}}এই আসনটা এমন সঙ্কীর্ণ যে এত লোকের সম্মুখে ভদ্রতা রক্ষা করিয়া দুজনের বসা চলে না। এরূপ অদ্ভুত আচরণ ভারতী কোনদিন করে নাই, অপূর্ব্ব শুধু সঙ্কোচ নয়, অত্যন্ত লজ্জা বোধ করিতে লাগিল, কিন্তু এখানে এই সকল ব্যাপারে ভ্রূক্ষেপ করিবারও যেন কাহারও অবসর নাই। সে আর একটা বস্তু লক্ষ্য করিল যে, তাহার মত অপরিচিত ব্যক্তিকে আসন গ্রহণ করিতে দেখিয়া প্রায় সকলেই চাহিয়া দেখিল, কিন্তু, যে বিতণ্ডা উদ্দাম বেগে বহিতেছিল তাহাতে লেশমাত্র বাধা পড়িল না। কেবল একটি মাত্র লোক যে পিছন ফিরিয়া কোণের টেবিলে বসিয়া লিখিতেছিল সে লিখিতেই রহিল তাহার আগমন বোধ হয় জানিতেই পারিল না। অপূর্ব্ব গণিয়া দেখিল ছয়জন রমণী এবং আটজন পুরুষে মিলিয়া এই ভীষণ আলোচনা চলিতেছে। ইহাদের সকলেই অচেনা কেবল একটি ব্যক্তিকে অপূর্ব্ব চক্ষের পলকে<noinclude>{{কেন্দ্র|৯৫}}</noinclude> gbbafrejlqjnewez9fo6upu8hkpbiwc পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১১০ 104 877780 1941556 2026-04-03T15:16:55Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941556 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>চিনিতে পারিল। বেশভূষার কিছু পরিবর্ত্তন ঘটিয়াছে বটে, কিন্তু এই মূর্ত্তিকেই সে কিছুকাল পূর্ব্বে মিক্‌খিলা রেলওয়ে ষ্টেশনে টিকিট না কেনার দায় হইতে পুলিশের হাত হইতে রক্ষা করিয়াছিল এবং টাকাটা যত শীঘ্র সম্ভব ফিরাইয়া দিতে যিনি স্বেচ্ছায় প্রতিশ্রুত হইয়াছিলেন। লোকটি চাহিয়া দেখিল, কিন্তু মদের নেশায় যাহার কাছে হাত পাতিয়া উপকার গ্রহণ করিয়াছিলেন, মদ না খাওয়া অবস্থায় তাহাকে স্মরণ করিতে পারিলেন না। কিন্তু ইহার জন্য নয়, ভারতীকে মনে করিয়া তাহার বুকে এই ব্যথাটা অতিশয় বাজিল যে এরূপ সংসর্গে সে আসিয়া পড়িল কিরূপে? {{ফাঁক}}সুমুখে কে একজন দাঁড়াইয়াছিল, বসিয়া পড়িতেই অপূর্ব্বর কানের কাছে মুখ আনিয়া ভারতী চুপি চুপি কহিল, উনিই আমাদের প্রেসিডেণ্ট সুমিত্রা। {{ফাঁক}}বলিবার প্রয়োজন ছিল না। অপূর্ব্ব দেখিয়াই চিনিল। কারণ, নারীকে দিয়াই যদি কোন সমিতি পরিচালনা করিতে হয়, এই ত সেই বটে! বয়স বোধ করি ত্রিশের কাছে পৌঁছিয়াছে, কিন্তু যেন রাজ-রাণী! বর্ণ কাঁচা সোনার মত, দাক্ষিণাত্যের ধরণে এলো করিয়া মাথার চুল বাঁধা, হাতে গাছকয়েক করিয়া সোনার চুড়ি, ঘাড়ের কাছে সোনার হারের কিয়দংশ চিক্ চিক্ করিতেছে, কানে সবুজ পাথরের তৈরী দুলের উপর আলো পড়িয়া যেন সাপের চোখের মত জ্বলিতেছে,—এই ত চাই! —ললাট, চিবুক, নাক, চোখ, ভ্রূ, ওষ্ঠাধর,—কোথাও যেন আর খুঁত নাই,—একি ভয়ানক আশ্চর্য্য রূপ! কালো বোর্ডের গায়ে একটা হাত রাখিয়া তিনি দাঁড়াইয়াছিলেন, অপূর্ব্বর চোখে আর পলক পড়িল না। সে আঁক কষিয়াই মানুষ হইয়াছে, কাব্যের সহিত পরিচয় তাহার অত্যন্ত বিরল, কিন্তু, কাব্য যাঁহারা লেখেন, কেন যে তাঁহারা এত কিছু থাকিতে তরুণ লতিকার সঙ্গেই নারীদেহের তুলনা করেন তাহার জানিবার কিছু আর রহিল না। সম্মুখে একটি বিশ-বাইশ বছরের সাধারণ গোছের মহিলা আনতমুখে বসিয়াছিলেন, ভাবে বোধ হয়, তাঁহাকেই কেন্দ্র করিয়া এই তর্কের ঝড় উঠিয়াছে। আবার তাঁহারই অনতিদূরে বসিয়া প্রৌঢ় গোছের একজন ভদ্রলোক। তাঁহার পরনের কাটছাঁট পরিশুদ্ধ বিলাতি পোষাক দেখিয়া অবস্থাপন্ন বলিয়াই মনে হয়। খুব সম্ভব তিনিই প্রতিপক্ষ, কি বলিতেছিলেন অপূর্ব্ব ভাল শুনিতেও পায় নাই, মনোযোগও করে নাই, তাহার সমস্ত চিত্ত সুমিত্রার প্রতিই একেবারে একাগ্র হইয়া গিয়াছিল। তাঁহার কণ্ঠস্বরে কি জানি কোন্ পরম বিস্ময় ঝরিয়া পড়িবে এই ছিল তার আশা। অনতিকাল পূর্ব্বের ক্ষোভের হেতু তাহার মনেও ছিল না। সাহেবি পোষাক-পরা ভদ্রলোকটির প্রত্যুত্তরে এইবার তিনি কথা কহিলেন। এই ত! নারীর কণ্ঠস্বর ত একেই বলে! ইহার কণাটুকুও না বাদ যায়, অপূর্ব্ব এমনি করিয়াই কান<noinclude>{{কেন্দ্র|৯৬}}</noinclude> 5dfs2ot0sts2umfbistyndl4l4y6z7g পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১১১ 104 877781 1941557 2026-04-03T15:20:23Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941557 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>পাতিয়া রহিল। সুমিত্রা কহিলেন, মনোহরবাবু, আপনি ছেলেমানুষ উকিল নয়, আপনার তর্ক অসংলগ্ন হয়ে পড়লে ত মীমাংসা করতে পারব না। {{ফাঁক}}মনোহরবাবু উত্তর দিলেন, অসংলগ্ন তর্ক করা আমার পেশাও নয়। {{ফাঁক}}সুমিত্রা হাসিমুখে কহিলেন, তাই ত আশা করি। বেশ, বক্তব্য আপনার ছোট করে আনলে এইরূপ দাঁড়ায়। আপনি নবতারার স্বামীর বন্ধু। তিনি জোর করে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান, কিন্তু স্ত্রী স্বামীর ঘর করতে চান না, দেশের কাজ করতে চান, এতে অন্যায় কিছু ত দেখিনে। {{ফাঁক}}মনোহর বলিলেন, কিন্তু স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্ত্তব্য আছে ত? দেশের কাজ কোরব বললেই ত তার উত্তর হয় না। {{ফাঁক}}সুমিত্রা কহিলেন, দেখুন মনোহরবাবু, নবতারা কোন কাজ করবেন, না করবেন, সে বিচার তার উপর, কিন্তু তাঁর স্বামীরও স্ত্রীর প্রতি যে কর্ত্তব্য ছিল, তিনি তা কোনদিন করেননি, এ-কথা আপনারা সবাই জানেন! কর্ত্তব্য ত কেবল একদিকে নয়। {{ফাঁক}}মনোহর রাগিয়া কহিলেন, কিন্তু তাই বলে স্ত্রীকেও যে অসতী হয়ে যেতে হবে, সেও ত কোন যুক্তি হতে পারে না! এই বয়সে এই দলের মধ্যে থেকেও উনি সতীত্ব বজায় রেখে যে দেশের সেবা করতে পারবেন,—এ ত কোনমতেই জোর করে বলা চলে না! {{ফাঁক}}সুমিত্রার মুখ ঈষৎ আরক্ত হইয়াই তখনি সহজ হইয়া গেল, বলিলেন, জোর করে কিছু বলাও উচিত নয়। কিন্তু আমরা দেখচি নবতারার হৃদয় আছে, প্রাণ আছে, সাহস আছে এবং সবচেয়ে বড় যা সেই ধর্ম্মজ্ঞান আছে। দেশের সেবা করতে এইটুকুই আমরা যথেষ্ট জ্ঞান করি। তবে, আপনি যাকে সতীত্ব বলচেন, সে বজায় রাখবার ওঁর সুবিধে হবে কিনা সে উনিই জানেন! {{ফাঁক}}মনোহর নবতারার আনত মুখের প্রতি একবার কটাক্ষে চাহিয়া বিদ্রূপ করিয়া বলিয়া উঠিলেন, খাসা ধর্ম্মজ্ঞান ত! দেশের কাজে এই শিক্ষাই বোধ হয় উনি দেশের মেয়েদের দিয়ে বেড়াবেন? {{ফাঁক}}সুমিত্রা বলিলেন, ওঁর দায়িত্ববোধের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে। ব্যক্তিবিশেষের চরিত্র আলোচনা করা আমাদের নিয়ম নয়, কিন্তু যে স্বামীকে উনি ভালবাসতে পারেননি, আর একটা বড় কাজের জন্য যাঁকে ত্যাগ করে আসা উনি অন্যায় মনে করেননি, সেই শিক্ষাই যদি দেশের মেয়েদের উনি দিতে চান ত আমরা আপত্তি কোরব না। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৯৭}}</noinclude> qdmts1nfiosgrkujrhgr8d6ja6ztr4d পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১১২ 104 877782 1941558 2026-04-03T15:24:03Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941558 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}মনোহর কহিলেন, আমাদের এই সীতা-সাবিত্রীর দেশে এমন শিক্ষা উনি গৃহস্থ মেয়েদের দেবেন? {{ফাঁক}}সুমিত্রা সায় দিয়া বলিলেন, দেওয়া ত উচিত। মেয়েদের কাছে শুধু অর্থহীন বুলি উচ্চারণ না করে নবতারা যদি বলেন যে, এই দেশে একদিন সীতা আত্মসম্মান রাখতে স্বামী ত্যাগ করে পাতালে গিয়েছিলেন এবং রাজকন্যা সাবিত্রী দরিদ্র সত্যবানকে বিবাহের পূর্ব্বে এত ভালবেসেছিলেন যে অত্যন্ত স্বল্পায়ু জেনেও তাঁকে বিবাহ করতে তাঁর বাধেনি,—এবং আমি নিজেও যে দুর্বৃত্ত স্বামীকে ভালবাসতে পারিনি তাকে পরিত্যাগ করে এসেচি, অতএব, আমার মত অবস্থায় তোমরাও তাই কোরো,—এ শিক্ষায় ত দেশের মেয়েদের ভালই হবে মনোহরবাবু। {{ফাঁক}}মনোহরের ওষ্ঠাধর ক্রোধে কাঁপিতে লাগিল, প্রথমটা ত তাঁহার মুখ দিয়া কথাই বাহির হইল না, তারপর বলিয়া উঠিলেন, তাহলে দেশ উচ্ছন্ন যাবে। হঠাৎ হাত জোড় করিয়া কহিলেন, দোহাই আপনাদের, নিজেরা যা ইচ্ছে করুন, কিন্তু অপরকে এ শিক্ষা দেবেন না। ইউরোপের সভ্যতা আমদানি করে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু মেয়েদের মধ্যে তার প্রচার করে সমস্ত ভারতবর্ষটাকে আর রসাতলে পাঠবেন না। {{ফাঁক}}সুমিত্রার মুখের উপর বিরক্তি ও ক্লান্তি যেন একই সঙ্গে ফুটিয়া উঠিল, কহিলেন, রসাতল থেকে বাঁচাবার যদি কোন পথ থাকে ত এই। কিন্তু, ইউরোপীয় সভ্যতা সম্বন্ধে আপনার বিশেষ কোন জ্ঞান নেই, সুতরাং, এ নিয়ে তর্ক করলে শুধু সময় নষ্ট হবে। অনেক সময় গেছে, আমাদের অন্য কাজ আছে। {{ফাঁক}}মনোহরবাবু যথাসাধ্য ক্রোধ দমন করিয়া কহিলেন, সময় আমারও অপর্য্যাপ্ত নয়। নবতারা তাহলে যাবেন না? {{ফাঁক}}নবতারা এতক্ষণ মুখ তুলিয়াও চাহে নাই, সে মাথা নাড়িয়া জানাইল, না। {{ফাঁক}}মনোহর সুমিত্রাকে প্রশ্ন করিলেন, এঁর দায়িত্ব তাহলে আপনারাই নিলেন? {{ফাঁক}}নবতারাই ইহার জবাব দিল, কহিল, আমার দায়িত্ব আমিই নিতে পারবো, আপনি চিন্তিত হবেন না। {{ফাঁক}}মনোহর বক্রদৃষ্টিতে তাহার প্রতি চাহিয়া সুমিত্রাকেই পুনশ্চ প্রশ্ন করিলেন, কহিলেন, আপনাকেই জিজ্ঞাসা করি, স্বামিগৃহে বিবাহিত জীবনের চেয়ে গৌরবের বস্তু নারীর আর কিছু আছে আপনি বলতে পারেন? {{ফাঁক}}সুমিত্রা কহিলেন, অপরের যাই হোক, অন্ততঃ, নবতারার স্বামিগৃহে তার বিবাহিত জীবনকে আমি গৌরবের জীবন বলতে পারিনে। {{ফাঁক}}এই উত্তরের পরে মনোহর আর আত্মসংবরণ করিতে পারিলেন না। অত্যন্ত<noinclude>{{কেন্দ্র|৯৮}}</noinclude> 49o4tjmu1kcijrwz95ave6sbeqb7186 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১১৩ 104 877783 1941559 2026-04-03T15:29:41Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941559 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>কটুকণ্ঠে প্রশ্ন করিলেন, কিন্তু এইবার ঘরের বাইরে তার অসতী জীবনটাকে বোধ করি গৌরবের জীবন বলতে পারবেন? {{ফাঁক}}কিন্তু আশ্চর্য এই যে, এত বড় কদর্য্য বিদ্রূপেও কাহারও মুখে কোনরূপ চাঞ্চল্য প্রকাশ পাইল না। সুমিত্রা শান্তস্বরে বলিলেন, মনোহরবাবু, আমাদের সমিতির মধ্যে সংযতভাবে কথা বলা নিয়ম। {{ফাঁক}}আর এ নিয়ম যদি না মানতে পারি? {{ফাঁক}}আপনাকে বার করে দেওয়া হবে। {{ফাঁক}}মনোহরবাবু যেন ক্ষেপিয়া গেলেন। জ্যা-মুক্ত শরের ন্যায় সোজা দাঁড়াইয়া উঠিয়া কহিলেন, আচ্ছা চললুম! গুড বাই! এই বলিয়া দ্বারের কাছে আসিয়া তাঁহার উন্মত্ত ক্রোধ যেন সহস্রধারে ফাটিয়া পড়িল। হাত পা ছুঁড়িয়া চীৎকার করিয়া বলিতে লাগিলেন, আমি সমস্ত খবর তোমাদের জানি। ইংরেজ রাজত্ব তোমরা ঘুচাবে? মনেও কোরো না! আমি চাষা নই, আমি অ্যাডভোকেট। কোথায় বিচার পেতে হয়, কোথায় তোমাদের হাতে শেকল পরাতে হয় ভাল রকম জানি! আচ্ছা,—এই বলিয়া তিনি অন্ধকারে দ্রুতবেগে অদৃশ্য হইয়া গেলেন। {{ফাঁক}}হঠাৎ কি যেন একটা কাণ্ড ঘটিয়া গেল। উত্তেজনা কেহই প্রকাশ করিল না, কিন্তু সকলের মুখেই যেন কি একপ্রকার ছায়া পড়িল, কেবল যে লোকটা কোণে বসিয়া লিখিতেছিল, সে একবার চোখ তুলিয়াও চাহিল না। অপূর্ব্বর মনে হইল, হয় সে সম্পূর্ণ বধির, না হয়, একেবারে পাষাণের ন্যায় নিরাকুল, নির্ব্বিকার। ভারতীর মুখের চেহারাটা সে দেখিতে চাহিল, কিন্তু সে যেন ইচ্ছা করিয়াই আর একদিকে ঘাড় ফিরাইয়া রহিল। মনোহর ব্যক্তিটি যেই হোক, রাগের মাথায় এই সমিতির বিরুদ্ধে যে সকল কথা বলিয়া গেলেন তাহা অতিশয় সন্দেহজনক। এতগুলি আশ্চর্য্য নরনারী কোথা হইতে আসিয়াই বা এখানে সমিতি গঠন করিলেন, কি বা তাহার সত্যকার উদ্দেশ্য, হঠাৎ ভারতীই বা কি করিয়া ইহাদের সন্ধান পাইল? আর ওই যে লোকটি টিকিটের পরিবর্ত্তে একদিন অনায়াসে মদ কিনিয়া খাইয়া তাহারই চোখের সম্মুখে ধরা পড়িয়াছিল,—আর সকলের বড় এই নবতারা!—স্বামী ত্যাগ করিয়া দেশের কাজ করিতে আসিয়াছে, সতীত্ব রক্ষার কথা ভাবিবার এখন যাহার সময় নাই, অথচ এই লোকগুলা এত বড় অন্যায়কে শুধু সমর্থন নয়, প্রাণপণে প্রশ্রয় দিতেছে। এবং যিনি ইঁহাদের কর্ত্রী, স্ত্রীলোক হইয়াও তিনি প্রকাশ্য সভায় এতগুলি পুরুষের সমক্ষে সতীধর্ম্মের প্রতি তাঁহার একান্ত অবজ্ঞাই অসঙ্কোচে প্রকাশ করিতে লজ্জাবোধটুকুও করিলেন না! {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৯৯}}</noinclude> iwkisvqj6vv7b3khjn0hd49uvvl2fut পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১১৪ 104 877784 1941560 2026-04-03T15:33:00Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941560 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}কিছুক্ষণ অবধি সমস্ত ঘরটা নিস্তব্ধ হইয়া রহিল; বাহিরে অন্ধকার, অপ্রশস্ত রাজপথ তেমনি জনহীন নীরব, কেমন একপ্রকার উদ্বিগ্ন আশঙ্কায় অপূর্ব্বর মনের ভিতরটা যেন ভার হইয়া উঠিল। {{ফাঁক}}হঠাৎ সুমিত্রার কণ্ঠ ধ্বনিত হইয়া উঠিল, অপূর্ব্ববাবু! {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব চকিত হইয়া মুখ তুলিয়া চাহিল। {{ফাঁক}}সুমিত্রা কহিলেন, আপনি আমাদের চেনেন না, কিন্তু ভারতীর কাছ থেকে আমরা সবাই আপনাকে চিনি। শুনলাম আপনি আমাদের সমিতির মেম্বার হতে চান। সত্য? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব না বলিতে পারিল না, ঘাড় নাড়িয়া সম্মতি জানাইল। যে লোকটি একমনে লিখিতেছিল সুমিত্রা তাহাকে লক্ষ্য করিয়া কহিলেন, ডাক্তার, অপূর্ব্ববাবুর নামটা লিখে নেবেন। অপূর্ব্বকে হাসিয়া বলিলেন, আমাদের কোনরকম চাঁদা নেই,—টাকাকড়ি দিতে হয় না এইটে আমাদের সমিতির বিশেষত্ব। {{ফাঁক}}প্রত্যুত্তরে অপূর্ব্ব নিজেও একটু হাসিতে চেষ্টা করিল, কিন্তু পারিল না। একটা মোটা বাঁধানো খাতায় যথার্থই তাহার নাম লেখা হইয়া গেল দেখিয়া মনে মনে সে অস্বস্তিতে ভরিয়া উঠিল। এবং চুপ করিয়া থাকিতে আর না পারিয়া বলিয়া ফেলিল, কিন্তু কি উদ্দেশ্য, কি আমাকে করতে হবে কিছুই ত জানতে পারলাম না। {{ফাঁক}}ভারতী আপনাকে জানান নি? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ক্ষণকাল চিন্তা করিয়া বলিল, কিছু জানিয়েচেন, কিন্তু একটা কথা আপনাকে আমি জিজ্ঞাসা করি, নবতারার আচরণ আপনারা কি সত্যই অন্যায় মনে করেন না? {{ফাঁক}}সুমিত্রা কহিলেন, অন্ততঃ আমি করিনে। কারণ, দেশের বড় আমার কাছে কিছুই নেই। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব শ্রদ্ধাভরে কহিল, দেশকে আমিও প্রাণ দিয়ে ভালবাসি। এবং দেশের সেবা করবার অধিকার স্ত্রী-পুরুষ উভয়েরই সমান, কিন্তু এঁদের কর্ম্মক্ষেত্র ত এক নয়; আমরা পুরুষে বাইরে এসে কাজ করব, কিন্তু নারী গৃহের মধ্যে, শুদ্ধান্তঃপুরে স্বামিপুত্রের সেবার মধ্যে দিয়েই সার্থক হবেন। তাঁদের সত্যকার কল্যাণে দেশের যত বড় কাজ হবে বাইরে এসে পুরুষের সঙ্গে ভিড় করে দাঁড়ালে ত সে কাজ কিছুতেই হবে না। {{ফাঁক}}সুমিত্রা হাসিলেন। অপূর্ব্ব লক্ষ্য করিয়া দেখিল সকলেই যেন তাঁহার প্রতি চাহিয়া মুখ টিপিয়া হাসি গোপন করিল। সুমিত্রা কহিলেন, অপূর্ব্ববাবু, এটা<noinclude>{{কেন্দ্র|১০০}}</noinclude> nbyi95w1mlt20zgcupvv1m9jtrehq9n পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১১৫ 104 877785 1941561 2026-04-03T15:40:58Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941561 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>অনেক দিনের এবং অনেকের মুখের কথা তা আমরা অস্বীকার করিনে। কিন্তু আপনি ত জানেন কোন একটা কথা কেবলমাত্র বহুদিন ধরে বহু লোকে বলতে থাকলেই তা সত্য হয়ে ওঠে না। এ ফাঁকির কথা। যারা কোনদিন দেশের কাজ করেনি এ তাদের কথা, দেশের চেয়ে নিজের স্বার্থ যাদের ঢের বড় এ তাদের কথা। এর মধ্যে এতটুকু সত্য নেই। আপনি নিজে যখন কাজে লাগবেন, তখনই এই সত্য হৃদয়ঙ্গম করবেন যে যাকে আপনি নারীর বাইরে এসে ভিড় করা বলচেন সে যদি কখনও ঘটে, তখনই দেশের কাজ হবে, নইলে কেবলমাত্র পুরুষের ভিড়ে শুকনো বালির মত সমস্ত ঝরে ঝরে পড়বে, কোনদিন জমাট বাঁধবে না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব মনে মনে লজ্জা পাইয়া কহিল, কিন্তু এতে কি দুর্নীতি বাড়বে না? চরিত্র কলুষিত হবার ভয় থাকবে না? {{ফাঁক}}সুমিত্রা বলিলেন, ভয় কি ভিতরেই কম থাকে নাকি? অপূর্ব্ববাবু, ওটা বাইরে আসার দোষ নয়, দোষ বিধাতার, যিনি নর-নারী সৃষ্টি করেছেন, তাদের মধ্যে অনুরাগের আকর্ষণ দিয়েচেন, তাঁর। অপূর্ব্ববাবু মনের মধ্যে একটুখানি বিনয় রেখে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের দিকে একবার চেয়ে দেখুন দিকি? {{ফাঁক}}এই মন্তব্য শুনিয়া অপূর্ব্ব খুশী হইতে পারিল না, বরঞ্চ একটুখানি তীব্রতার সঙ্গেই বলিয়া উঠিল, অন্য দেশের কথা অন্য দেশ ভাবুক, আমি আমাদের নিজেদের কল্যাণ চিন্তা করতে পারলেই যথেষ্ট মনে করব। আপনি আমায় ক্ষমা করবেন, কিন্তু এখানে একটা বস্তু আমি লক্ষ্য না করে পারিনি যে, বিবাহিত জীবনের প্রতি আপনাদের আস্থা নেই, এমন কি নারীত্বের যা চরম উৎকর্ষ, সেই সতীত্ব ও পতিব্রতাধর্ম্মকেও আপনারা অবহেলার চক্ষে দেখেন। এর থেকে আসবে দেশের কল্যাণ? {{ফাঁক}}সুমিত্রা ক্ষণকাল তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া সকৌতুক স্নিগ্ধকণ্ঠে কহিলেন, অপূর্ব্ববাবু, আপনি একটু রাগ করে বলচেন, নইলে ঠিক ও ভাব ত আমি প্রকাশ করিনি। তবে, আগাগোড়াই যে আপনি ভুল বুঝেচেন তাও নয়। যে সমাজে কেবলমাত্র পুত্রার্থেই ভার্য্যা গ্রহণের বিধি আছে, নারী হয়ে তাকে ত আমি শ্রদ্ধার চোখে দেখতে পারিনে। আপনি সতীত্বের চরম উৎকর্ষের বড়াই করেছিলেন, কিন্তু, এই যে-দেশে বিবাহের ব্যবস্থা, সে-দেশে ও-বস্তু বড় হয় না, ছোটই হয়। সতীত্ব ত শুধু দেহেই পর্য্যবসিত নয়, অপূর্ব্ববাবু, মনেরও ত দরকার? কায়মনে ভালবাসতে না পারলে ত ওর উচ্চস্তরে পৌছান যায় না? আপনি কি সত্যই মনে করেন মন্ত্র পড়ে বিয়ে দিলেই যে-কোন বাঙালী মেয়ে যে-কোন বাঙালী পুরুষকে ভালবাসতে পারে? একি পুকুরের জল যে যে-কোন পাত্রে ঢেলে মুখ বন্ধ করে দিলেই কাজ চলে যাবে? {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১০১}}</noinclude> j7cf47praqfcf33obb5076c2fq0kcta পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১১৮ 104 877786 1941562 2026-04-03T15:52:37Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941562 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{কেন্দ্র|১২}} {{ফাঁক}}কয়েক পদ অগ্রসর হইয়াই অপূর্ব্ব সৌজন্য প্রকাশ করিয়া কহিল, আপনার এই অসুস্থ দুর্ব্বল শরীর নিয়ে আর পথ হেঁটে কাজ নেই। এই ত সোজা রাস্তা বড় রাস্তায় গিয়ে পড়েচে,— আমি অনায়াসে যেতে পারবো। {{ফাঁক}}ডাক্তার চলিতে চলিতেই একটু হাসিয়া বলিলেন, অনায়াসে এলেই কি অনায়াসে যেতে পারা যায় অপূর্ব্ববাবু? তখন, সন্ধ্যাবেলা যে পথটা সোজাই ছিল, এখন, এতরাত্রে জেরবাদী পাঠান আর বেকার কাফ্রিতে মিলে হয়ত তাকে রীতিমত বাঁকিয়ে রেখেচে। চলুন আর দাঁড়াবেন না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ইঙ্গিতটা বুঝিতে পারিয়াও জিজ্ঞাসা করিল, কি করে এরা? মারামারি? {{ফাঁক}}তাহার সঙ্গী পুনশ্চ হাসিয়া বলিলেন, করে বই কি! মদের খরচটা তারা পরের ঘাড়ে চাপাবার কাজে ও-অনুষ্ঠানটুকু বোধ করি ঠিক বাদ দিয়ে উঠতে পারে না। এই যেমন সোনার ঘড়িটা আপনার। অপরের পকেটে চালান যাবার সময়ে আপত্তি হবারই সম্ভাবনা। তার পরের ব্যাপারটাও অত্যন্ত স্বাভাবিক। ঠিক না? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব সভয়ে ঘাড় নাড়িয়া কহিল, ঠিক বটে, কিন্তু এ যে আমার বাবার ঘড়ি! {{ফাঁক}}ডাক্তার বলিলেন, এই তো তারা বুঝতে চায় না! কিন্তু, আজ না বুঝলে চলবে না। {{ফাঁক}}অর্থাৎ? {{ফাঁক}}অর্থাৎ, আজ এর বদলে কারুরই মদ খাবার সুবিধে হবে না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া সন্দিগ্ধকণ্ঠে কহিল, বরঞ্চ চলুন, আর কোন পথ দিয়ে ঘুরে যাওয়া যাক্। {{ফাঁক}}ডাক্তার তার মুখের প্রতি চাহিয়া খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিলেন। অনেকটা মেয়েদের মত স্নিগ্ধ সকৌতুক হাসি। কহিলেন, ঘুরে? এই দুপুর রাতে? না না, তার আবশ্যক নেই, চলুন—এই বলিয়া সেই শীর্ণ হাতখানি দিয়া অপূর্বর ডান হাতটি টানিয়া লইয়া একটা চাপ দিতেই অপূর্ব্ব অনেক দিনের অনেক জিম্‌নাষ্টিক, অনেক ক্রিকেট-হকি-খেলা হাতের ভিতরের হাড়গুলা পর্য্যন্ত যেন মড়মড় করিয়া উঠিল। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব হাত ছাড়াইয়া লইয়া বলিল, চলুন বুঝেচি। এই বলিয়া সে নিজেও একটু হাসিবার চেষ্টা করিয়া কহিল, কাকাবাবু সেদিন আপনার কথাতেই রহস্য করে আমাকে বলেছিলেন, সাধে কি বাবাজী মহাপুরুষের সম্বর্দ্ধনায় এত লোকজনের<noinclude>{{কেন্দ্র|১০৪}}</noinclude> irkxv05s9v0loiriiqgbatq1b2txpri 1941568 1941562 2026-04-03T16:02:49Z Nettime Sujata 5470 1941568 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{কেন্দ্র|১২}} {{ফাঁক}}কয়েক পদ অগ্রসর হইয়াই অপূর্ব্ব সৌজন্য প্রকাশ করিয়া কহিল, আপনার এই অসুস্থ দুর্ব্বল শরীর নিয়ে আর পথ হেঁটে কাজ নেই। এই ত সোজা রাস্তা বড় রাস্তায় গিয়ে পড়েচে,— আমি অনায়াসে যেতে পারবো। {{ফাঁক}}ডাক্তার চলিতে চলিতেই একটু হাসিয়া বলিলেন, অনায়াসে এলেই কি অনায়াসে যেতে পারা যায় অপূর্ব্ববাবু? তখন, সন্ধ্যাবেলা যে পথটা সোজাই ছিল, এখন, এতরাত্রে জেরবাদী পাঠান আর বেকার কাফ্রিতে মিলে হয়ত তাকে রীতিমত বাঁকিয়ে রেখেচে। চলুন আর দাঁড়াবেন না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ইঙ্গিতটা বুঝিতে পারিয়াও জিজ্ঞাসা করিল, কি করে এরা? মারামারি? {{ফাঁক}}তাহার সঙ্গী পুনশ্চ হাসিয়া বলিলেন, করে বই কি! মদের খরচটা তারা পরের ঘাড়ে চাপাবার কাজে ও-অনুষ্ঠানটুকু বোধ করি ঠিক বাদ দিয়ে উঠতে পারে না। এই যেমন সোনার ঘড়িটা আপনার। অপরের পকেটে চালান যাবার সময়ে আপত্তি হবারই সম্ভাবনা। তার পরের ব্যাপারটাও অত্যন্ত স্বাভাবিক। ঠিক না? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব সভয়ে ঘাড় নাড়িয়া কহিল, ঠিক বটে, কিন্তু এ যে আমার বাবার ঘড়ি! {{ফাঁক}}ডাক্তার বলিলেন, এই তো তারা বুঝতে চায় না! কিন্তু, আজ না বুঝলে চলবে না। {{ফাঁক}}অর্থাৎ? {{ফাঁক}}অর্থাৎ, আজ এর বদলে কারুরই মদ খাবার সুবিধে হবে না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া সন্দিগ্ধকণ্ঠে কহিল, বরঞ্চ চলুন, আর কোন পথ দিয়ে ঘুরে যাওয়া যাক্। {{ফাঁক}}ডাক্তার তার মুখের প্রতি চাহিয়া খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিলেন। অনেকটা মেয়েদের মত স্নিগ্ধ সকৌতুক হাসি। কহিলেন, ঘুরে? এই দুপুর রাতে? না না, তার আবশ্যক নেই, চলুন—এই বলিয়া সেই শীর্ণ হাতখানি দিয়া অপূর্বর ডান হাতটি টানিয়া লইয়া একটা চাপ দিতেই অপূর্ব্ব অনেক দিনের অনেক জিম্‌নাষ্টিক, অনেক ক্রিকেট-হকি-খেলা হাতের ভিতরের হাড়গুলা পর্য্যন্ত যেন মড়মড় করিয়া উঠিল। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব হাত ছাড়াইয়া লইয়া বলিল, চলুন বুঝেচি। এই বলিয়া সে নিজেও একটু হাসিবার চেষ্টা করিয়া কহিল, কাকাবাবু সেদিন আপনার কথাতেই রহস্য করে আমাকে বলেছিলেন, সাধে কি বাবাজী মহাপুরুষের সম্বর্দ্ধনায় এত লোকজনের<noinclude>{{কেন্দ্র|১০৪}}</noinclude> nc2pqy2kcny6nhwn7gqnqgn5x8zn9iw পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১১৯ 104 877787 1941563 2026-04-03T15:57:02Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941563 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>আয়োজন করতে হয়? আমাদের গুহ্য কেতাবে লেখা আছে, কৃপা করলে তিনি পাঁচ-সাত-দশজন পুলিশের ভবলীলা শুধু চড় মেরেই সাঙ্গ করে দিতে পারেন! কাকাবাবুর মুখের ভঙ্গীতে সেদিন আমরা খুব হেসেছিলাম, কিন্তু এখন মনে হচ্চে অত হাসা ঠিক সঙ্গত হয়নি—আপনি পারলেও বা পারতে পারেন। {{ফাঁক}}ডাক্তারের মুখের ভাব পরিবর্ত্তিত হইল, কহিলেন, কাকাবাবুর ওটা অতিশয়োক্তি। কিন্তু আমরা কে কে? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, আমি এবং তাঁরই দু-চারজন কর্ম্মচারী। {{ফাঁক}}ওঃ—এঁরা! এই বলিয়া তিনি একটা নিঃশ্বাস ফেলিলেন। অপূর্ব্ব ইহার অর্থ বুঝিল; এবং কিছুক্ষণ অবধি কোন কথা যেন তাহার মুখে আসিল না। সোজা পথটা আজ সোজাই ছিল, কারণ, যে জন্যই হৌক, পথিকের টাকাকড়ি কাড়িয়া লইবার আজ কেহ তথায় উপস্থিত ছিল না। নির্জ্জন গলিটা নিঃশব্দে পার হইয়া তাহারা বড় রাস্তার কাছাকাছি পৌঁছিলে অপূর্ব্ব সহসা বলিয়া উঠিল, এবার বোধ হয় আমি নির্ভয়ে যেতে পারবো। ধন্যবাদ। {{ফাঁক}}প্রত্যুত্তরে ডাক্তার স্বল্পালোকিত সম্মুখের প্রশস্ত রাজপথের বহুদূর পর্য্যন্ত দৃষ্টি প্রসারিত করিয়া ধীরে ধীরে কহিলেন, পারবেন বোধ হয়। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব নমস্কার করিয়া বিদায় গ্রহণ করিতে গিয়া ভিতরের কৌতূহল কোনমতেই আর সংবরণ করিতে পারিল না, বলিয়া ফেলিল, আচ্ছা, সব্য— {{ফাঁক}}না না, সব্য নয়, সব্য নয়—ডাক্তারবাবু {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ঈষৎ লজ্জিত হইয়া কহিল, আচ্ছা ডাক্তারবাবু, আমাদের সৌভাগ্য যে পথে কেউ ছিল না, কিন্তু ধরুন তারা দলে বেশি থাকলেও কি সত্য সত্যই কোন ভয় ছিল না? {{ফাঁক}}ডাক্তার কহিলেন, দলে তারা দু-দশজনের বেশি কোন দিনই থাকে না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, দু-দশজন! অর্থাৎ, দু-জন থাকলেও ভয় ছিল না, দশজন থাকলেও না? {{ফাঁক}}ডাক্তার মুচকিয়া হাসিয়া বলিলেন, না। {{ফাঁক}}বড় রাস্তার মোড়ের উপর আসিয়া অপূর্ব্ব জিজ্ঞাসা করিল, আচ্ছা, বাস্তবিকই কি আপনার পিস্তলের লক্ষ্য কিছুতেই ভুল হয় না? {{ফাঁক}}ডাক্তার তেমনি সহাস্যে ঘাড় নাড়িয়া উত্তর দিলেন, না। কিন্তু কেন বলুন ত? আমার সঙ্গে ত পিস্তল নেই। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, ওটা না নিয়েই বেরিয়েছিলেন,—আশ্চর্য্য! অন্ধকার গভীর রাত্রি ঝাঁ ঝাঁ করিতেছে, সে জনহীন দীর্ঘ পথের প্রতি চাহিয়া কহিল, পথে না আছে লোক,<noinclude>{{কেন্দ্র|১০৫}}</noinclude> 0anjbgy49fnh6l457s4jqk6c0ug4asg পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১২০ 104 877788 1941564 2026-04-03T16:00:31Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941564 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>না আছে একটা পুলিশ; আলো ত না থাকার মধ্যেই—আচ্ছা ডাক্তারবাবু, আমার বাসাটা প্রায় ক্রোশখানেক হবে, না? {{ফাঁক}}ডাক্তার বলিলেন, তা হবে বই কি। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, আচ্ছা নমস্কার, আপনাকে অনেক কষ্ট দিলাম। এই বলিয়া সে চলিতে উদ্যত হইয়া কহিল, আচ্ছা, এমন ত হতে পারে, সে ব্যাটারা আজ আর কোন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে? {{ফাঁক}}ডাক্তার সায় দিয়া কহিলেন, বিচিত্র নয়। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, নয়ই ত! আছেই! আচ্ছা, নমস্কার! কিন্তু মজা দেখেচেন, যেখানে আসল দরকার সেখানে পুলিশের ছায়াটি পর্য্যন্ত দেখবার যো নেই। এই হ’ল তাঁদের কর্তব্যজ্ঞান! আর এর জন্যেই আমরা ট্যাক্স জুগিয়ে মরি! সমস্ত বন্ধ করে দেওয়া উচিত, কি বলেন? {{ফাঁক}}তাতে আর সন্দেহ কি! বলিয়া ডাক্তার হাসিয়া ফেলিলেন। তেমনি মেয়েলি কোমল সুমিষ্ট হাসি। কহিলেন, চলুন, কথা কইতে কইতে আর খানিকটে আপনার সঙ্গে এগিয়ে যাই। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব লজ্জায় একেবারে স্নান হইয়া গেল। এক মুহূর্ত্ত মাটির দিকে চাহিয়া আস্তে আস্তে বলিল, আমি বড্ড ভীতু লোক ডাক্তারবাবু, আমার কিছু সাহস নেই। আর কেউ হলে অনায়াসে যেতে পারতো, এত রাত্রে আপনাকে কষ্ট দিত না। {{ফাঁক}}তাহার এই বিনয়-নম্র, নিরভিমান সত্য কথায় ডাক্তার নিজের হাসির জন্য নিজেও যেন লজ্জা পাইলেন, সস্নেহে তাহার কাঁধের উপর একটা হাত রাখিয়া কহিলেন, সঙ্গে যাবার জন্যেই আমি এসেচি অপূর্ব্ব বাবু, নইলে প্রেসিডেণ্ট আমাকে এ জিনিসটা হাতে গুঁজে দিতেন না। এই বলিয়া তিনি বাঁ হাতের মোটা কালো লাঠিটা দেখাইলেন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব চকিত হইয়া কহিল, সুমিত্রা? তিনি কি আপনাকেও আদেশ করতে পারেন? {{ফাঁক}}ডাক্তার হাসিলেন, বলিলেন, পারেন বই কি। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, কিন্তু তিনি ত অন্য লোকও সঙ্গে দিতে পারতেন? {{ফাঁক}}ডাক্তার কহিলেন, তার মানে সবাইকে দল বেঁধে পাঠানো। তার চেয়ে এই ব্যবস্থাই সোজা হয়েছে অপূর্ব্ববাবু। {{ফাঁক}}চলিতে চলিতে কথা হইতেছিল। ডাক্তার কহিলেন, সুমিত্রা আমাদের দলের কর্ত্রী, তাঁকে সকল দিক চেয়ে দেখে কাজ করতে হয়। যেখানে ছুরি-ছোরা খুন-জখম<noinclude>{{কেন্দ্র|১০৬}}</noinclude> a43wt6j5w9bo9wyhmpmsikj38la012v পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১১৬ 104 877789 1941566 2026-04-03T16:02:18Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941566 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}অপূর্ব্ব হঠাৎ কথা খুঁজিয়া না পাইয়া কহিল, কিন্তু চিরকাল চলেও ত যাচ্চে? {{ফাঁক}}সুমিত্রা তাহার কথা শুনিয়া হাসিয়া মাথা নাড়িয়া কহিলেন, তা যাচ্চে। প্রাণাধিক স্বামী বলে পাঠ লিখতেও তার বাধে না, কর্ত্তব্যবোধে শ্রদ্ধাভক্তি করতেও হয়ত তার আটকায় না। বস্তুতঃ, ঘরকন্নার কাজে এর বেশি তার প্রয়োজন হয় না। আপনি ত গল্প পড়েছেন, কোন্ এক ঋষি-পুত্রের দুধের বদলে চালের গুঁড়োর জল খেয়েই আরামে দিন কাটতো। কিন্তু আরাম যেমনই হোক, যা নয় তাকে তাই বলে গর্ব্ব করা ত যায় না। {{ফাঁক}}এই আলোচনা অপূর্ব্বর অত্যন্ত বিশ্রী ঠেকিল, কিন্তু এবারেও সে জবাব দিতে না পারিয়া কহিল, আপনি কি বলতে চান এর অধিক কারও ভাগ্যেই জোটে না? {{ফাঁক}}সুমিত্রা কহিলেন, না তা আমি বলতেই পারিনে। কারণ, সংসারে দৈবাৎ বলেও একটা শব্দ আছে। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, ওঃ—দৈবাৎ! কিন্তু কথা যদি আপনার সত্যও হয়, তবুও আমি বলি সমাজের মঙ্গলের জন্য, উত্তর পুরুষের কল্যাণের জন্য, আমাদের এই-ই ভাল। {{ফাঁক}}সুমিত্রা তেমনি শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলিলেন, না অপূর্ব্ববাবু, সমাজ এবং আপনার উত্তর পুরুষ কোনটারই এতে শেষ পর্য্যন্ত কল্যাণ হবে না। সমাজ ও বংশের নাম কোরে ব্যক্তিকে একদিন বলি দেওয়া হোতো, কিন্তু ফল তার ভাল হয়নি, আজ তা অচল। ভালবাসার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন উত্তর পুরুষের জন্য না হলে এমন ভয়ানক স্নেহের ব্যবস্থা তার মাঝখানে স্থান পেত না। এই ব্যর্থ বিবাহিত জীবনের মোহ নারীকে কাটাতেই হবে। তাকে বুঝাতেই হবে, এতে লজ্জাই আছে, গৌরব নেই। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ব্যাকুল হইয়া কহিল, কিন্তু ভেবে দেখুন আপনাদের এই সকল শিক্ষায় আমাদের সুনিয়ন্ত্রিত সমাজে অশান্তি এবং বিপ্লব এসেই উপস্থিত হবে। {{ফাঁক}}সুমিত্রা বলিলেন, হলই বা। অশান্তি এবং বিপ্লব মানেই ত অকল্যাণ নয় অপূর্ব্ববাবু। যে রুগ্ন, জীর্ণ, জরাগ্রস্ত সেই শুধু উৎকণ্ঠিত সতর্কতায় আপনাকে আগলে রাখতে চায় কোন দিক দিয়ে না তার গায়ে ধাক্কা লাগে। অনুক্ষণ এই ভয়েই সে কাঁটা হয়ে থাকে এতটুকু নাড়াচাড়াতেই তার প্রাণবায়ু চোখের পলকে বেরিয়ে যাবে। আর এমনি অবস্থাই যদি সমাজের হয়ে থাকে ত যাক্ না একটা হেস্ত নেস্ত হয়ে। দুদিন আগে পাছের জন্য কি-ই বা এমন ক্ষতি হবে? {{ফাঁক}}এ-কথার অপূর্ব আর জবাব দিল না, চুপ করিয়া রহিল। সুমিত্রা নিজেও ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিলেন, ঋষি-পুত্রের উপমা দিয়ে হয়ত আপনাকে আমি ব্যথা<noinclude>{{কেন্দ্র|১০২}}</noinclude> brch4yypt5flwdo4c12tygp89kbk9db পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১১৭ 104 877790 1941567 2026-04-03T16:02:33Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941567 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>দিয়েচি। কিন্তু ব্যথা যে আপনার পাওনা ছিল, তার থেকে আপনাকে আমি বাঁচাতামই বা কি করে? {{ফাঁক}}তাঁহার শেষের কথাটা অপূর্ব্ব বুঝিতে পারিল না, কিন্তু বিরক্তির পাত্র তাহার পূর্ণ হইয়া গিয়াছিল। তাই প্রত্যুত্তরে বলিয়া ফেলিল, জগন্নাথের পথে দাঁড়িয়ে ক্রীশ্চান মিশনারিরা যাত্রীদের অনেক ব্যথা দেয়। তবুও সেই ঠুঁটো জগন্নাথকে ত্যাগ করে কেউ হাত-ওয়ালা খৃষ্টকেও ভজে না। ঠুঁটো নিয়েই তাদের কাজ চলে যায়, এই আশ্চর্য্য! {{ফাঁক}}সুমিত্রা রাগ করিলেন না, হাসিয়া বলিলেন, সংসারে আশ্চর্য্য আছে বলেই ত মানুষের বাঁচা অসম্ভব হয়ে ওঠে না অপূর্ব্ববাবু। গাছের পাতার রঙ যে সবাই সবুজ দেখে না এ তারা জানেও না। তবুও যে লোকে তাকে সবুজ বলে, সংসারে এই কি কম আশ্চর্য্য! সতীত্বের সত্যিকার মূল্য জানলে কি— {{ফাঁক}}সুমিত্রা! যে লোকটি নিঃশব্দে এতক্ষণ লিখিতেছিল সে উঠিয়া দাঁড়াইল। সকলেই সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়াইয়া উঠিল। {{ফাঁক}}অপূর্ব দেখিল, গিরীশ মহাপাত্র। {{ফাঁক}}ভারতী তাহার কানে কানে বলিল, উনিই আমাদের ডাক্তার। উঠে দাঁড়ান। {{ফাঁক}}কলের পুতুলের মত অপূর্ব্ব উঠিয়া দাঁড়াইল, কিন্তু ক্রুদ্ধ মনোহরের শেষ কথাগুলা তাহার চক্ষের নিমেষে মনে পড়িয়া সমস্ত দেহের রক্ত যেন হিম হইয়া গেল। {{ফাঁক}}গিরীশ কাছে আসিয়া কহিলেন, আমাকে বোধ হয় আপনি ভুলে যাননি? আমাকে এঁরা সবাই ডাক্তার বলেন। এই বলিয়া তিনি হাসিলেন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব হাসিতে পারিল না; কিন্তু আস্তে আস্তে বলিল, আমার কাকাবাবুর খাতায় কি একটা ভয়ানক নাম লেখা আছে— {{ফাঁক}}গিরীশ সহসা তাহার দুই হাত নিজের হাতের মধ্যে টানিয়া লইয়া চুপিচুপি কহিলেন, সব্যসাচী ত? এই বলিয়া পুনশ্চ হাসিয়া বলিলেন, কিন্তু রাত হয়ে গেছে অপূর্ব্ববাবু, চলুন আপনাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসি। পথটা তেমন ভাল নয়,—পাঠান ওয়ার্কমেনগুলোর মদ খেলে আর যেন কাণ্ড জ্ঞান থাকে না। চলুন। এই বলিয়া যেন একপ্রকার জোর করিয়া তাহাকে ঘর হইতে বাহির করিয়া আনিলেন। {{ফাঁক}}সুমিত্রাকে একটা নমস্কার করা হইল না, ভারতীকে একটা কথা বলা হইল না,—কিন্তু সবচেয়ে যে কথাটা তাহার বুকে ধাক্কা মারিল সে ওই বাঁধানো খাতাটা,—তাহার নাম যাহাতে লেখা রহিল। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১০৩}}</noinclude> 7pqa41xenwdd9mko3dw0if7z4hm79xc পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১২১ 104 877791 1941569 2026-04-03T17:03:50Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941569 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>লেগেই আছে সেখানে যাকে তাকে ত পাঠানো যায় না। আমি উপস্থিত না থাকলে আজ আপনাকে থাকতে হোতো,—তিনি কোনমতেই আসতে দিতেন না। {{ফাঁক}}এই অন্ধকার, জনহীন পথে ছুরি-ছোরার কথায় অপূর্ব্বর সর্ব্বাঙ্গে কাঁটা দিয়া গেল। আস্তে আস্তে কহিল, কিন্তু এই পথেই যে আপনাকে একাকী ফিরতে হবে! {{ফাঁক}}ডাক্তার বলিলেন, তা হবে। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব আর প্রশ্ন করিল না। তাহাদের নিভৃত আলাপের গুঞ্জন শব্দ পাছে অবাঞ্ছিত কাহাকেও আকৃষ্ট করিয়া আনে এ খেয়াল তাহার মনের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। সে তাহার চক্ষু কর্ণ ও মনকে একই কালে রাস্তার দক্ষিণে বামে ও সম্মুখে একান্ত নিবিষ্ট করিয়া নিঃশব্দ দ্রুতপদে পথ চলিতে লাগিল। মিনিট পনর এই ভাবে চলিয়া সহরের প্রথম পুলিশ ষ্টেশনটা ডানহাতে রাখিয়া লোকালয়ে প্রবেশ করিয়া অপূর্ব্ব আবার কথা কহিল, বলিল, ডাক্তারবাবু আমার বাসা ত বেশি দূরে নয়, আজ রাত্রিটা ওখানে থাকলে ক্ষতি কি? {{ফাঁক}}ডাক্তার তাহার মনের কথা অনুমান করিয়া সহাস্যে কহিলেন, ক্ষতি ত অনেক জিনিসেই হয় না অপূর্ব্ববাবু, কিন্তু বিনা প্রয়োজনেও কোন কাজ করা আমাদের বারণ। শুধু কেবল প্রয়োজন নেই বলেই আমাকে ফিরে যেতে হবে। {{ফাঁক}}আপনারা কি অপ্রয়োজনে জগতে কিছুই করেন না? {{ফাঁক}}করা বারণ। আমি তাহলে বিদায় হই অপূর্ব্ববাবু? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কটাক্ষে পশ্চাতের সমস্ত অন্ধকার পথটার প্রতি চাহিয়া এই লোকটিকে একাকী ফিরিয়া যাইতে কল্পনা করিয়া আর একবার কণ্টকিত হইয়া উঠিল। কহিল, ডাক্তারবাবু, মানুষের মর্য্যাদা রক্ষা করাও কি আপনাদের বারণ? {{ফাঁক}}ডাক্তার আশ্চর্য্য হইয়া প্রশ্ন করিলেন, হঠাৎ এ কথা কেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ক্ষুণ্ণ অভিমানের সুরে বলিল, তা ছাড়া আর কি বলুন? আমি ভীতু লোক, দলবদ্ধ গুণ্ডাদের মধ্যে দিয়ে একলা যেতে পারিনে;—আমাকে নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে সেই বিপদের ভেতর দিয়ে আপনি যদি আজ একাকী ফিরে যান, আর কি আমি মুখ দেখাতে পারবো? {{ফাঁক}}ডাক্তার চক্ষের নিমিষে তাহার দুই হাত সস্নেহে ধরিয়া ফেলিয়া কহিলেন, আচ্ছা চলুন তবে আজ রাত্রির মত আপনার বাসাতে গিয়েই অতিথি হইগে। কিন্তু এ সব হাঙ্গামা কি সহজে নিতে আছে ভাই? {{ফাঁক}}কথাটা অপূর্ব্ব ঠিক বুঝিল না, কিন্তু কয়েক পদ অগ্রসর হইতেই হাতের মধ্যে<noinclude>{{কেন্দ্র|১০৭}}</noinclude> 29gw47c7frlextgl12d24qpo9lcqpvy পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১২২ 104 877792 1941570 2026-04-03T17:07:37Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941570 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>কেমনতর একপ্রকার টান অনুভব করিয়া ফিরিয়া চাহিয়াই কহিল, আপনার জুতোয় বোধকরি লাগচে ডাক্তারবাবু, আপনি খোঁড়াচ্চেন। {{ফাঁক}}ডাক্তার মৃদু হাসিয়া বলিলেন, ও কিছু না। লোকালয়ে আমার পা দুটো কেমন আপনিই খুঁড়িয়ে চলে। গিরীশ মহাপাত্রের চলন মনে পড়ে? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব থমকাইয়া দাঁড়াল। কহিল, আপনাকে যেতে হবে না, ডাক্তারবাবু। {{ফাঁক}}ডাক্তার তেমনি মৃদু হাসিয়া বলিলেন, কিন্তু আপনার মর্য্যাদা? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, আপনার কাছে আবার মর্য্যাদা কি? পায়ের ধুলোর যোগ্যও ত নই। আপনি ছাড়া পৃথিবীতে কি আর কারও এত বড় সাহস আছে! {{ফাঁক}}এই ডাক্তার ব্যক্তিটির জীবন-ইতিহাসের সহিত অপূর্ব্বর প্রত্যক্ষ পরিচয় কিছুই ছিল না। থাকিলে সে এই অত্যন্ত ক্ষুদ্র ব্যাপার লইয়া এতখানি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করিতে লজ্জায় মরিয়া যাইত। সমুদ্রের কাছে গোষ্পদের ন্যায় এই পথটুকুতে একাকী হাঁটা এই লোকটির কাছে কি! পুলিশের লোকে যাহাকে সব্যসাচী বলিয়া জানে, দশ-বারোজন দুর্ব্বৃত্তে মিলিয়া তাহার পথরোধ করিবে কি করিয়া? {{ফাঁক}}ডাক্তার মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিয়া শেষে ভাল মানুষটির মত কহিলেন, আচ্ছা, তার চেয়ে চলুন না কেন দুজনেই আবার একসঙ্গে ফিরে যাই? আমাকে একলা যদি বা কেউ আক্রমণ করতে সাহস করে আপনি কাছে থাকলে ত সে সম্ভাবনা থাকবে না! {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব অনিশ্চিতকণ্ঠে বলিল, আবার ফিরে যাবো? {{ফাঁক}}ডাক্তার বলিলেন, দোষ কি? আমার একলা যাবার বিপদের শঙ্কাও থাকবে না। {{ফাঁক}}থাকবো কোথায়? {{ফাঁক}}আমার কাছে। {{ফাঁক}}আফিস হইতে ফিরিয়া আজ অপূর্ব্বর খাওয়া হয় নাই, তাহার অত্যন্ত ক্ষুধা বোধ হইতেছিল, একটু লজ্জিত হইয়া কহিল, দেখুন, আমার কিন্তু এখনো খাওয়া হয়নি,—আচ্ছা, তা না হয় আজ— {{ফাঁক}}ডাক্তার হাসিমুখে বলিলেন, চলুন না, ভাগ্য পরীক্ষা করে আজ দেখাই যাক। কিন্তু একটা কথা, তেওয়ারী বেচারা বড় চিন্তিত হয়ে থাকবে। {{ফাঁক}}তেওয়ারীর উল্লেখে অপূর্ব্বর মনের মধ্যে হঠাৎ একটা হিংস্র প্রতিশোধের বাসনা প্রবল হইয়া উঠিল, রাগ করিয়া বলিল, মরুকগে ব্যাটা ভেবে,—চলুন যাই। এই বলিয়া সে একরকম জোর করিয়াই তাঁহাকে বাধা দিয়া সেই আলো-আঁধারের জনশূন্য পথে উভয়ে হাঁটিতে হাঁটিতে আবার ফিরিয়া চলিল। এবার কিন্তু ভয়ের কথা তাহার<noinclude>{{কেন্দ্র|১০৮}}</noinclude> r0kxz01xohxgvnsxhrmuv9qdcjze3ha পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১২৩ 104 877793 1941571 2026-04-03T17:11:17Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941571 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>মনেই হইল না। পুলিশ থানা পার হইয়া সহসা একসময়ে সে প্রশ্ন করিয়া বসিল, আচ্ছা ডাক্তারবাবু, আপনি কি এ্যানার্কিষ্ট? {{ফাঁক}}ডাক্তার অন্ধকারে তাহার মুখের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনার কাকাবাবু কি বলেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, তিনি বলেন সব্যসাচী একজন ভয়ানক এ্যানার্কিষ্ট। {{ফাঁক}}আমি যে সব্যসাচী এ সম্বন্ধে আপনার কোন সন্দেহ নেই? {{ফাঁক}}না। {{ফাঁক}}এ্যানার্কিষ্ট বলতে আপনি কি বোঝেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব এ প্রশ্নের হঠাৎ জবাব দিতে পারিল না। একটু ভাবিয়া কহিল, অর্থাৎ কি না রাজদ্রোহী,—যিনি রাজার শত্রু। {{ফাঁক}}ডাক্তার বলিলেন, আমাদের রাজা এ দেশে থাকেন না, থাকেন বিলাতে। লোকে বলে অতিশয় ভদ্রলোক। আমি তাঁকে কখনও চোখে দেখিনি, তিনিও আমার কখনও লেশমাত্র ক্ষতি করেননি। তাঁর প্রতি বৈরীভাব আসবে আমার কোথা থেকে অপূর্ব্ববাবু? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, যাদের আসে, তাদেরই বা কি কোরে আসে বলুন? তাদেরও ত তিনি কোন অনিষ্ট করেননি! {{ফাঁক}}ডাক্তার সবেগে মাথা নাড়িয়া কহিলেন, তাই আপনি যা বলচেন এদেশে তা নেই, একেবারে মিছে কথা! {{ফাঁক}}তাঁহার কণ্ঠস্বরের প্রবলতায় ও অস্বীকার করিবার তীব্রতায় অপূর্ব্ব চমকিয়া গেল। অবিশ্বাস করিবার সাহস তাহার হইল না, অথচ, দেশে কিছু যে একটা আছেই, ছেলেবেলা তাহারও গায়ে যে ইহার আঁচ লাগিয়া গেছে এবং ডেপুটী-ম্যাজিষ্ট্রেট বাবা না থাকিলে কোথাকার জল যে কোথায় গিয়া গড়াইতে পারিত ইহা সে বড়বয়সে পদে পদে অনুভব করিয়াছে। একটু ভাবিয়া কহিল, রাজা না হোন রাজকর্ম্মচারীর বিরুদ্ধে যে একটা ষড়যন্ত্র ছিল একথা ত মিথ্যে নয় ডাক্তারবাবু? {{ফাঁক}}ডাক্তার অনেকক্ষণ কোন উত্তর দিলেন না, তারপরে ধীরে ধীরে বলিলেন, কর্ম্মচারীরা রাজার ভৃত্য, মাইনে পায় হুকুম পালন করে। একজন যায় আর একজন আসে। এটা সহজ এবং মোটা কথা। কিন্তু এই সহজকে জটিল এবং মোটাকে নিরর্থক সূক্ষ্ম করে মানুষে যখন দেখতে চায়, তখনই তার সবচেয়ে বড় ভুল হয়। সেইজন্যে তাদের আঘাত করাকেই রাজশক্তির মূলে আঘাত করা ব’লে আত্মবঞ্চনা করে। এত বড় মারাত্মক ব্যর্থতা আর নেই। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১০৯}}</noinclude> tpro3827klacthtdxqx1f5ir73ct22s পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১২৪ 104 877794 1941573 2026-04-03T17:15:04Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941573 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}অপূর্ব্ব একটু চুপ করিয়া কহিল, কিন্তু এই ব্যর্থ কাজ করবার লোক কি ভারতবর্ষে নেই? {{ফাঁক}}ডাক্তার শান্তভাবে কহিলেন, হয়ত থাকতেও পারে। {{ফাঁক}}কিন্তু অপূর্ব্ব সহসা আগ্রহান্বিত হইয়া উঠিল, জিজ্ঞাসা করিল, আচ্ছা ডাক্তারবাবু, এঁরা সব আজকাল কোথায় থাকেন এবং কি করেন? {{ফাঁক}}তাহার ঔৎসুক্য ও ব্যগ্রতায় ডাক্তার শুধু মুচকিয়া হাসিলেন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, হাসলেন যে? {{ফাঁক}}ডাক্তার তেমনি হাসিমুখে বলিলেন, আপনার সেই কাকাবাবুটি উপস্থিত থাকলে কিন্তু বুঝতেন। আপনার বিশ্বাস আমি একজন এ্যানার্কিষ্টদের পাণ্ডা। তার মুখ থেকে কি এর জবাব আশা করতে আছে অপূর্ব্ববাবু? {{ফাঁক}}নিজের বুদ্ধিহীনতার এই সুস্পষ্ট ইঙ্গিতে অপূর্ব্ব অপ্রতিভ হইল, মনে মনে একটু রাগও করিল, কহিল, আশা করা সম্পূর্ণই অনুচিত হোতো আজ যদি না আমাকে দলভুক্ত করে নিতেন। মেম্বরদের এটুকু জানবার অধিকার আছে, এ বোধ করি আপনি অস্বীকার করেন না। এ তো ছেলেখেলা নয়, ভীষণ দায়িত্ব আছে যে! {{ফাঁক}}আছেই ত। বলিয়া ডাক্তারবাবু হাসিলেন। এই সুমিষ্ট হাসি ও নিরাতঙ্ক সহজ উক্তি ঠিক ব্যঙ্গোক্তির মত অপূর্ব্বর কানেই বাজিল। বিদ্রোহী দলের বাঁধানো খাতায় যাহার নাম লেখা হইল তাহার প্রশ্নের এই উত্তর? এর বেশি জানিবার তাহার প্রয়োজন নাই! মনে মনে ভীত ও ক্রুদ্ধ হইয়া এই লোকটিকে আজ সে ভুল বুঝিল, কিন্তু এই ভুল সংশোধন করিয়া পরবর্ত্তীকালে বহুবারই তাহাকে দেখিতে হইয়াছে কোন অবস্থায় কোন কারণেই ইঁহার মুখের হাসি উদ্বেগে এবং গলার স্বর উত্তেজনায় চঞ্চল হইয়া উঠে না। {{ফাঁক}}নিঃশব্দ গাম্ভীর্য্যে ডাক্তারের এই সামান্য সংক্ষিপ্ত জবাবটাকে সে প্রতিঘাত করিতে চাহিয়া নিরুত্তরে পথ চলিতে লাগিল, কিন্তু অধিকক্ষণ থাকিতে পারিল না, ওই ছোট্ট কথাটুকুর নিদারুণ তীক্ষ্ণতা তীরের ফলাটুকুর মতই যেন তাহার বুকে বিঁধিতে লাগিল। তিক্তকণ্ঠে কহিল, দলের খাতায় তাড়াতাড়ি নাম লিখে নিলেই ত হয় না, তার ফলাফল বুঝিয়েও দিতে হয়। {{ফাঁক}}কিন্তু সে কি তাঁরা দেননি? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, কিছুই না। পথের দাবী না পথের দাবী! দাবীর বহর যে এত, তা কে জানতো? আর আপনিও ত ছিলেন, নাম লেখবার পূর্ব্বে আপনারও ত জানা উচিত ছিল আমার যথার্থ মতামত কি! {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১১০}}</noinclude> gtrnooezsrgaosqfe46fiblk6apdt3i পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১২৫ 104 877795 1941574 2026-04-03T17:18:40Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941574 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>{{ফাঁক}}ডাক্তার একটু লজ্জিত হইয়া বলিলেন, মেয়েরা একটা ব্যাপার করেচেন, তাঁরাই জানেন কাকে মেম্বর করবেন এবং কাকে করবেন না। আমি হঠাৎ জুটে গেছি মাত্র। বাস্তবিকই আমি এঁদের সভার বিশেষ কিছু জানিনে অপূর্ব্ববাবু! {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বুঝিল ইহাও পরিহাস। উৎকণ্ঠায় ও আশঙ্কায় সমস্ত জিনিসটাই তাহার অত্যন্ত বিশ্রী লাগিতেছিল, আপনাকে সে আর সংবরণ করিতে পারিল না, জ্বলিয়া উঠিয়া কহিল, কেন ছলনা করচেন ডাক্তারবাবু, সুমিত্রাকে প্রেসিডেণ্ট করুন, আর যাকেই যা করুন, দল আপনার এবং আপনিই এর সব, তাতে লেশমাত্র সন্দেহ নেই। পুলিশের চোখে ধূলো দিতে পারবেন, কিন্তু আমার চোখকে ফাঁকি দিতে পারবেন না, এ আপনি নিশ্চয় জানবেন। {{ফাঁক}}তাহার কথা শুনিয়া এইবার এই শীর্ণদেহ রহস্যপ্রিয় লোকটি অকৃত্রিম বিস্ময়ে দুই চক্ষু বিস্ফারিত করিয়া তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া কহিলেন, আমার দল মানে এ্যানার্কিটের দল ত? আপনি মিথ্যে শঙ্কিত হয়ে উঠচেন অপূর্ব্ববাবু, আপনার আগাগোড়া ভুল হয়েচে। তাদের হ’ল জীবন-মৃত্যুর খেলা, তারা আপনার মত ভীতু লোককে দলে নেবে কেন? তারা কি পাগল? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব লজ্জায় এতটুকু হইয়া গেল, কিন্তু তাহার বুকের উপর হইতে গুরুভার পাষাণ নামিয়া গেল। ডাক্তার কহিলেন, পথের দাবী নাম দিয়ে সুমিত্রা এই ছোট্ট দলটির প্রতিষ্ঠা করেচেন। জীবন-যাত্রায় মানুষের পথ চলবার অধিকার যে কত বড় এবং কত পবিত্র এই মস্ত সত্যটাই মানুষে যেন ভুলে গেছে। আপনারা, অর্থাৎ দলের সভ্য যাঁরা, তাঁরা নিজেদের সমস্ত জীবন দিয়ে এই কথাটাই মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে চান। সুমিত্রা অনুরোধ করলেন আমি যে কয়দিন এখানে আছি তাঁর দলটিকে যেন গড়ে দিয়ে যাই। আমি রাজী হয়েছি,—এ ছাড়া আপনাদের সঙ্গে আমার কোন সম্বন্ধ নেই। আপনারা হলেন সমাজ-সংস্কারক, কিন্তু আমার সমাজ-সংস্কার করে বেড়াবার সময়ও নেই, ধৈর্য্যও নেই। হয়ত, কিছুদিন আছি, হয়ত, কালই চলে যেতে পারি; সারাজীবনে আর কখনো দেখাও না হতে পারে। বেঁচে আছি কি নেই, এটুকু খবরও হয়ত আপনাদের কানে পৌঁছবে না। {{ফাঁক}}কথাগুলি শান্ত, ধীর, উচ্ছ্বাস বা আবেগের বাষ্পও নাই। এই ব্যক্তি যেই হৌক, কিন্তু সব্যসাচীর যে বিবরণ অপূর্ব্ব কাকাবাবুর মুখে শুনিয়াছে, সেইসব দপ করিয়া মনে পড়িয়া তাহার বুকের কোথায় যেন খোঁচার মত বিঁধিল। কিন্তু তখনি মনে হইল, সে ত পাষাণ,—তাহার জন্য আবার বেদনাবোধ কি? ক্ষণকাল পরে জিজ্ঞাসা করিল, ডাক্তারবাবু, সুমিত্রা কে? আপনি তাঁকে জানলেন কি করে? {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১১১}}</noinclude> r605iun2vifrx14b3tbx3fqvskk6rxx পাতা:ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf/১৮৫ 104 877796 1941575 2026-04-04T04:55:10Z Hrishikes 1618 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941575 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Hrishikes" />{{rh||রামায়ণ-সাহিত্যে দেবী|১৬৯}} {{block center/s}}</noinclude><poem> নাম কী মহিমা যহ হৈ তুম্হারে, লিখ লিখ নাম পাকর সাগর ডালে, :::জলকে ঊপর পত্থর ধরো। {{float right|2=-5em|ভক্তি করো॥<ref>ডক্টর সত্যেন্দ্রের সংগ্রহ।</ref>}} </poem>{{block center/e}} {{gap}}কৃত্তিবাস-বর্ণিত দেবীর প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করিতে পারি। আমরা জানি, বহু পুরাণ-উপপুরাণে হিমাচল-সুতা পার্বতীর মূল রূপ কৃষ্ণবর্ণা কালী বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। বাঙলাদেশ কালী-প্রাধান্যের দেশ, এখানে এই মতটি ক্রমান্বয়ে বলবৎ হইয়া উঠিয়াছে। কৃত্তিবাসের বর্ণনায়ও এই সত্যের সমর্থন পাই। কৃত্তিবাসের রামায়ণেও দেখিতে পাই রাবণ সঙ্কটে পড়িয়া যে অভয়া অম্বিকার শরণ লইয়াছিল সেই দেবীও কৃষ্ণবর্ণা কালী বা শ্যামবর্ণা শ্যামা। রাবণ শঙ্করী অম্বিকার স্তব করিল, ফলে দেখিলাম— {{block center|<poem> অসিতবরণা কালী কোলে দশানন। রূপের ঘটায় ঘন তিমিরনাশন॥ অলকা ঝলকা উচ্চ কাদম্বিনী কেশ। তাহে শ্যামারুপে নীলসৌদামিনী বেশ॥ </poem>}} {{gap}}অন্যত্র রামচন্দ্র বলিতেছেন— {{block center|<poem> কার সাধ্য বিনাশিতে পারে দশাননে। রক্ষিছে রাবণ আজি হর-বরাঙ্গনে॥ ঐ দেখ রাবণের রথে বিভীষণ। জলদবরণী-কোলে রাজা দশানন॥ </poem>}} {{gap}}রামচন্দ্র অকাল-বোধন করিয়া তিন দিন ধরিয়া যে দেবীর পূজা করিলেন তিনি কালী দেবী। দেবী যখন নীলোৎপলের একটি হরণ করিয়াছিলেন তখন হনুমানকে স্পষ্টই বলিতে দেখি— {{block center|<poem> হেন লয় চিতে {{float right|2=-4em|তোমারে হেরিতে}} ::::পঙ্কজ হরিলা কালী॥ </poem>}} {{gap}}দেবী নীলোৎপলবর্ণাভা বলিয়াই কি রামচন্দ্র অষ্টোত্তরশত নীলোৎপলের দ্বারা পূজা করিয়া দেবীকে তুষ্ট করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন? {{nop}}<noinclude>{{rule|8em|align=left}} {{smallrefs|85%}}</noinclude> mnh9v4j3pnww36rymuokbz3n9z7luor ভারতের শক্তি-সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য/ষষ্ঠ অধ্যায় 0 877797 1941576 2026-04-04T04:59:21Z Hrishikes 1618 + 1941576 wikitext text/x-wiki <pages index="ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf" from=176 to=185 header=1 /> {{page break|label=}} {{smallrefs|85%}} cyyfzoiqbfetf7lgd98ia31s7gtdrgt পাতা:ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf/১৮৬ 104 877798 1941577 2026-04-04T05:09:47Z Hrishikes 1618 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941577 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Hrishikes" /></noinclude>{{c|'''সপ্তম অধ্যায়''' {{x-larger|'''বাঙলা মঙ্গল-কাব্যে দেবী'''}}}} পঞ্চদশ শতক হইতে আরম্ভ করিয়া অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত দেবীকে একটি বিশেষরূপে বাঙলা সাহিত্যে দেখিতে পাই বাঙলার মঙ্গল-কাব্যগুলির মধ্যে। এই মঙ্গল-কাব্যগুলি বাঙলাদেশেরই একটি বিশেষ সম্পদ্; কারণ, আমাদের মধ্যযুগের অন্যান্য যে-সব জাতীয় সাহিত্য রহিয়াছে তাহা অল্পবিস্তর ভারতবর্ষের বিভিন্নাঞ্চলের সাহিত্যের মধ্যে পাওয়া যায়; কিন্তু মঙ্গল-কাব্য একমাত্র বাঙলা সাহিত্যেই পাওয়া যায়। এই বাঙলা মঙ্গল-কাব্যগুলি সংস্কৃত-পুরাণ হইতে অনেকাংশে পৃথক্ হইলেও কতকগুলি সাদৃশ্যও স্পষ্ট লক্ষণীয়। এই সাদৃশ্যগুলির মধ্যে একটা প্রধান সাদৃশ্য এই, আমরা দেখি, পুরাণগুলিতে বিশেষ বিশেষ কালে উদ্ভূত এবং স্বীকৃত এবং ক্ষুদ্রাঞ্চলে বৃহদঞ্চলে প্রচলিত খ্যাত, অল্পখ্যাত এবং অখ্যাত বহু দেবীকে নানা কাহিনী বা দার্শনিক ব্যাখ্যার সাহায্যে সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধা এবং দার্শনিক-শক্তিতত্ত্বের দ্বারা প্রতিষ্ঠিতা এক মহাদেবীর সহিত যুক্ত করিবার চেষ্টা করা হইয়াছে। সব দেবীই যে এক আদিশক্তিরই দেশ-কাল-পাত্র-বিশেষ অবলম্বনে বিশেষ বিশেষ প্রকাশ মাত্র পুরাণকারগণের সকল কাহিনী ও তত্ত্বব্যাখ্যার ভিতর দিয়া এই সত্যটিরই প্রকাশ ঘটিয়াছে। সংস্কৃতভাষায় যে চেষ্টা দেখিলাম পুরাণগগুলির মধ্যে বাঙলাভাষায় তাহারই একটি নূতন চেষ্টা দেখিতে পাই মঙ্গল-কাব্যগুলির মধ্যে। {{gap}}ত্রয়োদশ শতকে বাঙলায় বৈদেশিক বিজয়ের পরে অতি স্বাভাবিকভাবেই সমাজের উচ্চকোটিতে প্রবর্তিত ব্রাহ্মণ্য ধর্ম ও সংস্কৃতির উপরে একটি প্রবল আঘাত লাগিয়াছিল। ইহার ফলে যে ক্ষতি হইয়াছিল তাহার পূরণ দেখিতে পাইলাম আবার অন্যভাবে। ব্রাহ্মণ্য ধর্ম, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের উপরে আঘাতের সুযোগ লইয়া লৌকিক ধর্ম, সংস্কৃতি ও সাহিত্য মাথা নাড়া দিয়া জাগিয়া উঠিবার সুযোগ পাইল। ভাষাসাহিত্য যখন গড়িয়া উঠিতে আরম্ভ করিল তখন তাহার রচয়িতা, শ্রোতা এবং সমজদার দেখা দিতে লাগিল সমাজের সর্বস্তরের জনগণের মধ্য হইতে। সেই সুযোগে সমাজের সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে যে-সকল দেব-দেবী ক্ষুদ্র পরিধির মধ্যে সংকুচিত হইয়া ছিলেন, নিম্নস্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিয়া অবজ্ঞাত ছিলেন, তাঁহারাও আস্তে আস্তে উপরের স্তরে ভাসিয়া উঠিয়া যতটা সম্ভব বিস্তার লাভের সুযোগ পাইলেন। সঙ্গে সঙ্গে এইসব দেব-দেবীকে অবলম্বন করিয়া আঞ্চলিক সমাজে যে-সকল কিংবদন্তী ও লৌকিক কাহিনী<noinclude></noinclude> 2k111fiz8ae42mzlgekulr675ww9p8n শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার)/পথের দাবী/১০ 0 877799 1941579 2026-04-04T05:15:19Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf" from=96 to=102 fromsection=B header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1941579 wikitext text/x-wiki <pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf" from=96 to=102 fromsection=B header=1/> k1pcgt4hybz78316j4uogovm6uc4qla শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার)/পথের দাবী/১১ 0 877800 1941580 2026-04-04T05:15:50Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf" from=103 to=117 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1941580 wikitext text/x-wiki <pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf" from=103 to=117 header=1/> i8mn36xs65vgp1b532adeiee52blfnb পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/১১ 104 877801 1941581 2026-04-04T05:22:51Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941581 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{Img float | file = গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩) (page 11 crop).jpg | width = 500px | align = center | cap = ১ নং</br>গলিভারের সর্ব্বাঙ্গ রজ্জুর দ্বারা বদ্ধ। }}<noinclude>{{left|Mohila Press, Calcutta.}}</noinclude> mdrx12lf27n54j32c13t7tnli9kp85v পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/১৩ 104 877802 1941582 2026-04-04T05:26:09Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941582 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rvh|৯|গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।}}{{rule}}</noinclude>বোধ হইতে লাগিল, আমার বাম পায়ের উপর কি একটা চলিতেছে। সেটা বরাবর বুকের উপর দিয়া হাঁটিয়া আসিয়া, আমার চিবুকের কাছে দাঁড়াইল। তখন যতদূর পারিলাম ঘাড় তুলিয়া দেখি, সেটা একটা মানুষের মতনই জীব; কিন্তু ৬ ইঞ্চিও উচ্চ কি না সন্দেহ! তাহার হাতে তীর ও ধনু, আর পীঠে তূণীর। তাহার সঙ্গে সঙ্গে ঐরূপ প্রায় আরও ৪০ টি প্রাণী আমার দেহ বহিয়া আসিতে লাগিল। {{ফাঁক}}আমার ত বিস্ময়ের সীমা রহিল না। আমি এমন চীৎকারধ্বনি করিয়া উঠিলাম, যে ভয়ে সকলেই পলায়ন করিল। আমি পরে জানিতে পারিয়াছিলাম, পলায়নের সময়ে কেহ কেহ আমার বুক হইতে মাটিতে লাফাইয়া পড়িতে গিয়া গুরুতর আঘাত পাইয়াছিল! যাহা হউক, তাহারা আবার ফিরিয়া আসিল এবং তাহাদের মধ্যে একজন সাহস করিয়া অগ্রসর হইয়া, আমার মুখখানা নিরীক্ষণ করিয়া দেখিতে লাগিল। তাহার ভঙ্গী দেখিয়া আমার বোধ হইল, তাহার মনে বিস্ময় ও প্রশংসার ভাব জাগিয়া উঠিয়াছে। সে যত দূর সম্ভব উচ্চৈঃস্বরে “হেকিনা ডেগুল্” বলিয়া চীৎকার করিয়া উঠিল। আর সকলে তাহার অনুকরণ করিয়া “হেকিনা ডেগুল্” বলিয়া শব্দ করিতে আরম্ভ করিল। কথা গুলির যে তাৎপর্য্য কি, তখন কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। {{nop}}<noinclude></noinclude> espeuv76qdlw2akvr31bmmrooj90euj পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৬ 104 877803 1941583 2026-04-04T05:38:38Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941583 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(২০)}}</noinclude>(20) করিয়া কৃত্রিম বুলবুলের উৎকৃষ্ট গীত শ্রবণ করিতে ছিলেন, এমত সময়ে পক্ষীর বাক্সের ভিতর হইতে কড়াৎ করিয়া একটা শব্দ হইল। শব্দ হইবামাত্র অন্তরস্থ প্রধান তারগাছটি হর হর শব্দ করাতে চাকাগুলা। ঘুরিয়া পড়িয়া একেবারে হঠাৎ ঐ বাদ্য যন্ত্রকে নিস্তব্ধ করিয়া ফেলিল। রাজা শয্য। হইতে লম্ফ প্রদান পূর্ব্বক আপনার চিকিৎসককে ডাকিতে লাগিলেন, দেখ দেখ, আমার কৃত্রিম বুলবুলের কি হইয়াছে? কিন্তু উহা কি জীবিত যে কবিরাজের ঔষধে কোন উপকার হইতে পারিবে, অতএব চিকিৎসক তাহার কিছুই করিতে পারিলেন না। পরদিন প্রাতঃকালে একজন ঘড়িওয়ালাকে আনাইলেন। ঘড়িওয়ালা বিস্তর কথা কহিয়া অনেক পরীক্ষার পর পূর্ব্ববৎ ঐ পক্ষীকে কতক কতক বিষয়ে এক প্রকার সুশৃঙ্খল করিল বটে, কিন্তু বলিল, ভোমরা সর্ব্বদা এযন্ত্র টিকে ব্যবহার না করিয়া বহুদিনের পর একবার ব্যবহার করিও। বিস্তর ব্যবহার হওয়াতে ইহার আলজিহ্বা ক্ষয় হইয়াছে, সুতন আলজিহ্বা বসাইলে পাছে বাদ্যের হানি হয়, এ কারণ সাহস করিয়া তাহাও বসাইতে পারি না। বৎসরের মধ্যে কেবল একবার ঐ কৃত্রিম পক্ষীর গীত শুনা যাইবে, এক্ষণে পক্ষীর যে অবস্থা এক<noinclude></noinclude> 6gq5bt31zvqcfijd8uc6mrlx6tzmonr পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৭ 104 877804 1941584 2026-04-04T05:39:55Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941584 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(২১)}}</noinclude>বারও তাহার পক্ষে অনেক বলিতে হইরে। কি জানি ইহাতে সে ভাল না থাকিলেও থাকিতে পারে। বাজাওয়ালা কঠিন ২ শব্দ ব্যবহার করিয়া বক্তৃতা দ্বারা সপ্রমাণ করিতে চাহিল যে পূর্ব্বে পক্ষী যেরূপ উত্তম ছিল, এক্ষণে সেইরূপই আছে। এমন বিবেচনা করা কর্তব্য। সুতরাং লোক সকল ও তাহার কথায় সেইরূপ বিবেচনা করিল। {{ফাঁক}}পরে যথার্থ মনোদুঃখ হেতুক চীন দেশীয় লোকেরা একেবারে সশঙ্কিত হইয়াছিল, তাহারা আপনাদিগের রাজাকে অতিশয় প্রেম করিত, তিনিও এমনি পীড়িত হইলেন, যে সকলেই অনুভব করিল, রাজার পীড়া আরোগ্য হইবার নহে। তৎপদে যিনি মূতন অভিষিক্ত হইবেন, তাঁহাকেও মনোনীত করিল। রাজপথে যাইতেই লোকেরা উজীর মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হইলে যদ্যপি জিজ্ঞাস! করিত, প্রাচীন মহারাজ কিরূপ আছেন? উজীর মাথা নাড়িয়া শোক প্র কাশ পূর্ব্বক আপন রীতানুসারে কঃ বলিয়। তঃহাদের কথা উড়াইয়া দিতেন, কোন উত্তর করিতেন না। {{ফাঁক}}রাজা পাংশুবর্ণ এবং স্পন্দ রহিত হইয়া অত্যুত্তম প্রশস্ত খটে শয়ন করিয়াছিলেন। সভাসদগণ সকল্পেই অনুভব করিল, তিনি পঞ্চত্ব পা<noinclude></noinclude> puxpg3zhrxodh42hidnnwelo91e0e6e পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৮ 104 877805 1941585 2026-04-04T05:40:42Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941585 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(২২)}}</noinclude>ইয়াছেন, এজন্য তাঁহাকে পরিত্যাগ পূর্ব্বক নূতন রাজাকে সম্বর্দ্ধনা করিতে চলিল। ভট্টরাজ এভৃতি রাজভৃত্যেরা সর্ব্বত্র এই দুর্ঘটনার সংবাদ প্রচার করিল, রাজবাটির সকল কুঠরী এবং যাতায়াত স্থান কাপড়ের দ্বারা মুড়িল, যেন কোন মতে পদ শব্দ না শুনিতে পাওয়া যায়, ইহাতে সকলই স্তব্ধ কোন স্থানে কোন প্রকার গোল হওনের সম্ভাবনা নাই। কিন্তু মহারাজ বিবর্ণ হইয়া মৃতবৎ সোণার ঝাপটা লাগান মকমলের প্রশস্ত মশারির ভিতর অত্যুত্তম পর্ব্যঙ্কোপরি শয়ন করিয়া থাকিলেও তৎকাল পর্যন্ত মরেন নাই। যে গৃহে তিনি শয়ন করিতেন, তাহারই উচ্চভাগে একটি গবাক্ষ দ্বার ছিল, তাহা দিয়া চন্দ্রের জ্যোতি রাজা এবং কৃত্রিম বুলবুলের উপর পড়িল। রাজার একেবারে শ্বাস বরোধ, বুকে যেন একখান পাতর চাপান রহিয়াছে, তিনি এমত বোধ করিলেন। চক্ষু উন্মীলন করিয়া দেখেন, যে ও পাতর নহে, যমরাজ নিজে তাঁহার বক্ষঃস্থলে উপবেশন করিয়াছেন,মস্তকে তাঁহার স্বর্ণ মুকুট, এক হস্তে খড়্গ এবং অন্য হস্তে জয়পতাক। রহিয়াছে। অদ্ভুত মূর্ত্তি সকল শয্যার চপুষ্পার্শ্বে মলের মশারি দিয়া উকি মারিয়া দেখিতেছে, কতক গুলা বড় কদাকার, কতক দেখিতে অতি মনোহর এবং মাধুর্য্য<noinclude></noinclude> k5j1675ajh7wlknx4sil19m3wg9kh49 পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৯ 104 877806 1941586 2026-04-04T05:41:45Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941586 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(২৩)}}</noinclude>রূপ,তাহারা কে? তাহারা ঐ মহারাজের ভাল এবং মন্দকর্ম্ম সকল, এক্ষণে মৃত্যুকে তাঁহার হৃদয় মধ্যে উপবিষ্ট দেখিয়া উহারা তাঁহার সম্মুখে দণ্ডারমান হওত আপনাদিগের সকল কথা চুপেই রাজাকে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। {{ফাঁক}}কেমন মহারাজ একথা আপনকার মনে হয়? ওকথা আপনকার মনে হয়? এইরূপ পরস্পর অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করাতে ভয়ে তাঁহার মস্তক হইতে ঘর্ম্ম নির্গত হইতে লাগিল। রাজা তাহাদিগকে নিস্তব্ধ করিবার কারণ উচ্চৈঃ স্বরে কহিলেন, আমি ইহার কিছুই জানিনা। ওখানেকে আছে? ঢাক বাজাও ঢাক বাজাও কিন্তু তাহারা ও কথাতে মনোযোগ না করিয়া বারম্বার সেই রূপ পরস্পর জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল, মৃত্যু মস্তক লাড়িয়া আপনার সম্মতি প্রদান করিলেন! বাজাও বাজাও এইরূপ শব্দ করিয়া রাজা চীৎকার করিতে লাগিলেন, অদ্ভুত মূর্ত্তি দিগের কথা বার্তায় তিনি অস্থির হওত,কৃত্রিম বুলবুল টিকে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, ওরে স্বমর্ণয় মনোহর প ক্ষী গান কর, তুমি কি গান করিতে জান না। আমি তোমাকে কত স্বর্ণ এবং অমূল্য প্রস্তর দিয়াছি, অন্য কথা দূরে থাকুক, আপনার স্বর্ণ ফিতাগাছটিও তোমার গলদেশে ঝুলাইয়া রাখিলাম, যেন তা-<noinclude></noinclude> 4ft5hkm9bpghf3akalz7kjgcb1xn5hy পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/১৪ 104 877807 1941589 2026-04-04T05:55:41Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941589 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rvh|১০|গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।}}{{rule}}</noinclude>{{ফাঁক}}যেমন শায়িত অবস্থায় ছিলাম, এতক্ষণ সেইরূপই থাকিতে হইল, ইহাতে যে আমার খুবই যন্ত্রণা হইতেছিল, তাহা বলাই বাহুল্য। এখন এই বন্ধন-দশা হইতে মুক্ত হইবার চেষ্টা করিতে লাগিলাম। যে সব দড়ি-দড়া ও খোঁটার সাহায্যে আমার বাম হাত মাটীতে বন্ধ ছিল, প্রথমে সেইগুলি ছিঁড়িয়া ও উপড়াইয়া ফেলিলাম। তারপর আর একবার একটু টানাটানির ফলে কিছু আঘাত লাগিল বটে, তথাপি মাথার বাম অংশের চুলগুলা বন্ধন হইতে মুক্ত হইল। এই ভাবে আমি যেন মাথাটা ইঞ্চি দুই ঘুরাইতে ফিরাইতে সমর্থ হইলাম। {{ফাঁক}}এইবার তাহাদের মধ্যে কয়েকটাকে ধরিবার চেষ্টা করিলাম; সকলেই পলাইয়া গেল, একটিকেও ধরিতে পারিলাম না। ইহাতে তাহাদের মধ্যে মহা আনন্দের কোলাহল পড়িয়া গেল! কোলাহল থামিয়া গেলে, শুনিলাম, একজন চীৎকার করিয়া বলিল, “টল্‌গো ফন্যাক্।” সঙ্গে সঙ্গে প্রায় একশতটা তীর আমার বাম অঙ্গে আসিয়া পড়িল, ঠিক যেন এক একটা ছূঁচ বিঁধিতে লাগিল! তা ছাড়া তাহারা শূন্যেও অসংখ্য তীর ছুড়িতে লাগিল। তাহার মধ্যে অনেক গুলা হয় ত আমার গায়েও পড়িয়া থাকিবে, আমি টের পাই নাই; কতকগুলা আমার মুখের উপর পড়িতে লাগিল; দেখিয়া, আমি বাম হাত দিয়া মুখ ঢাকিয়া রাখিলাম। {{nop}}<noinclude></noinclude> 5iwunrpmurf7kt8b3f5705lgbg8ehhp পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/১৫ 104 877808 1941590 2026-04-04T05:57:36Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941590 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rvh|১১|গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।}}{{rule}}</noinclude>{{ফাঁক}}এই বাণ-বৃষ্টির পর আমার যন্ত্রণার বৃদ্ধি হইল; তখন মুক্ত হইবার জন্য আর একবার চেষ্টা করিলাম। ফলে, প্রথমবারের অপেক্ষা ভীষণতর বাণবৃষ্টি আর একবার হইল! বেশীর ভাগ, কয়েকজন বর্শা আনিয়া আমার পাশে খুঁচাইতে চেষ্টা করিল। সৌভাগ্যের কথা যে, মোটা চামড়ার একটা কোট গায়ে পরা ছিল, সেজন্য বর্শার আঘাত লাগিল না। {{ফাঁক}}তখন ভাবিলাম, এইভাবে রাত্রি পর্য্যন্ত চুপ করিয়া শুইয়া থাকাই সর্ব্বাপেক্ষা নিরাপদ; বাম হস্ত ত মুক্ত থাকিল,; রাত্রি হইলে, অন্ধকারের সুযোগে, সহজেই নিজকে সম্পূর্ণ মুক্ত করিয়া লইতে পারিব। একবার মুক্তি পাইলে, এদেশের লোকদিগকে ভয় করিবার বিশেষ কোনও কারণ থাকিবে না; কেন না, যাহাকে নমুনাস্বরূপ দেখিলাম, সকলেই যদি উহারই মত হয়, তবে ওরূপ সহস্রটাও একসঙ্গে আসিলে আমার কিছুই করিতে পারিবে না,—মনে মনে এ ভরসা খুবই ছিল। {{ফাঁক}}যখন লোকগুলা দেখিল, আমি নিশ্চেষ্ট ভাবে পড়িয়া আছি, তখন তাহারা আর আমাকে উত্যক্ত করিল না। কিন্তু আমার চারিপাশে যেরূপ কলরব হইতে লাগিল, তাহা হইতে অনুমান করিলাম, বহুসংখ্যক লোকই সমবেত হইয়াছে। যেখানে আমি শুইয়াছিলাম, সেখান হইতে আন্দাজ ৪ ফুট দূরে, আমার ডান কাণের খুবই কাছে, ঘণ্টা খানেক<noinclude></noinclude> 4r8i9r308e292k1vrccejp5mvzjpl8x পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/১৬ 104 877809 1941592 2026-04-04T06:00:45Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941592 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rvh|১২|গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।}}{{rule}}</noinclude>ধরিয়া খটাখট্ শব্দ চলিতে লাগিল; বোধ হইতে লাগিল, যেন কত লোকই কাজ করিতেছে। ব্যাপারটা কি, দেখিবার জন্য কৌতূহল হইল। তখন দড়াদড়ি ও খোঁটা সত্ত্বেও যতখানি পারিলাম, মাথাটা ফিরাইয়া দেখি, মাটি হইতে এক হাত উঁচুতে একটা মঞ্চ খাটান হইয়াছে। সে মঞ্চে তাহাদের মত চার জন লোকের দাঁড়াইবার স্থান সংকুলান হয়, আর সেই মঞ্চে উঠিবার জন্য ২৷৩ টা সিঁড়িও লাগান হইয়াছে। {{dhr|2em}} {{Img float | file = গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩) (page 16 crop).jpg | width = 400px | align = center | cap = }}<noinclude></noinclude> leykuahwpxp8afvk55cdgzhdxb2v8rm গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত/দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ 0 877810 1941593 2026-04-04T06:01:07Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf" from=10 to=16 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1941593 wikitext text/x-wiki <pages index="গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf" from=10 to=16 header=1/> o8osd9p88xso9ct05yi0skcwg3dtf7j পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/১৭ 104 877811 1941594 2026-04-04T06:03:18Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941594 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{c|{{x-larger|'''তৃতীয় পরিচ্ছেদ।'''}}}} দেখিতে দেখিতে তাহাদের মধ্যে একজন সেই মঞ্চে উঠিয়া, আমাকে শুনাইয়া খুব একটা প্রকাণ্ড গোছের বক্তৃতা জুড়িয়া দিল। তাহাকে দেখিলে বোধ হয়, সে ঐ দেশের একজন উঁচুদরেরই লোক হইবে। বক্তৃতার বিন্দুবিসর্গও আমি বুঝিতে পারিলাম না বটে, কিন্তু বক্তৃতা আরম্ভ করিবার আগে তিনবার যে “ল্যাংগ্রো ডেহুল স্যান্” বলিয়া চীৎকার করিয়াছিল, তাহাতেই আমার যথেষ্ট উপকার হইল। কারণ, ঐ চীৎকার শুনিবামাত্র, প্রায় পঞ্চাশজন আসিয়া, আমার দেহের বাম ভাগের সকল বন্ধন কাটিয়া দিল। তখন আমি কতকটা স্বচ্ছন্দে ডান দিকে ফিরিয়া, বক্তার দেহ ও বক্তৃতার ভাবভঙ্গী দেখিতে পারিলাম। {{ফাঁক}}বক্তা মধ্যবয়স্ক এবং তাহার অনুচর তিনজনের অপেক্ষা কিছু দীর্ঘাক্বতি। তিনজনের মধ্যে একজন বক্তার পরিচ্ছদবাহী; অপর দুইজন বক্তার পার্শ্বচর। বলিবার ভাবভঙ্গী দেখিলে, তাহাকে বক্তা বলিতেই ইচ্ছা হয় বটে। বক্তৃতায় কোথাও বা আমায় কতমতে ভয় প্রদর্শন; কোথাও আমার নিকট কত প্রকারের অঙ্গীকার; কোথাও বা আমায় অনুগ্রহ ও দয়া প্রকাশ করা হইল! আমি ত বিন্দুবিসর্গও<noinclude></noinclude> fixak6lxysdq87v6k3lk5j2946f7x2t পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/১৮ 104 877812 1941596 2026-04-04T06:06:16Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941596 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rvh|১৪|গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।}}{{rule}}</noinclude>বুঝিতে পারিলাম না; কেবল নির্ব্বাক্ হইয়া দেখিতে ও শুনিতে লাগিলাম। বক্তৃতার অবসান হইলে, আমি অল্প কথায় তাহার উত্তর দিলাম। আমার কথায়, ভাবভঙ্গীতে যতদূর পারিলাম বিনয় ও বশ্যতা প্রকাশ করিলাম; আর, আমি যে বড়ই ক্ষুধার্ত্ত, ইহা বিশেষ ভাবে জানাইবার জন্য বারংবার মুখের দিকে অঙ্গুলি দিয়া দেখাইতে লাগিলাম। {{ফাঁক}}হার্গো (পরিশেষে শিখিয়াছিলাম, উচ্চপদস্থ লোককে ঐ দেশে “হার্গো” বলিয়া থাকে) আমার অভাব বুঝিতে পারিলেন। মঞ্চ হইতে নামিয়াই তিনি আদেশ দিলেন, যে অনেকগুলা সিঁড়ি আমার গাত্রে লাগান হউক। অবিলম্বে সিঁড়িগুলা বহিয়া, প্রায় একশত জন আমার মুখের দিকে অগ্রসর হইল। তাহাদের প্রত্যেকের হাতে মাংস ও অন্যান্য খাদ্যে পূর্ণ ঝুড়ি। মাংস নানাপ্রকার প্রাণীর বলিয়াই বোধ হইল; কিন্তু কোন্‌টা কোন্ জন্তুর মাংস তাহা আস্বাদে বুঝিতে পারিলাম না। রন্ধনও বেশ ভালই হইয়াছিল। মাংসের টুক্‌রাগুলা একটা ছোট মাছির ডানার চেয়েও ছোট, কাজেই এক এক গ্রাসে সেরূপ মাংসের টুকরা দশ পনের খানি করিয়া খাইতে লাগিলাম; রুটীগুলাও দেখিতে একটা একটা মাঝারী গোছের মটরের চেয়ে বড় নহে, কাজেই রুটীও ঐ সঙ্গে পাঁচ সাত খানা করিয়া এক একবারে মুখে পুরিতে লাগিলাম।<noinclude></noinclude> pi491mcllsskkfj5qzuq6d299jzmh0l পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/১৯ 104 877813 1941598 2026-04-04T06:09:00Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941598 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rvh|১৫|গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।}}{{rule}}</noinclude>পরিবেশনও, আহারের অনুরূপে, ক্ষিপ্র হইতে লাগিল; এবং আমার শরীরের ও ক্ষুধার পরিমাণ দেখিয়া পরিবেশকগণ যথেষ্ট আনন্দ অনুভব করিতে লাগিল। {{ফাঁক}}তারপর সঙ্কেত দ্বারা জানাইলাম যে, আমার তৃষ্ণা হইয়াছে, কিছু পানীয়ের প্রয়োজন। আমার খাওয়ার পরিমাণ দেখিয়াই তাহারা বুঝিয়াছিল, অল্প আনিলে চলিবে না! বুদ্ধি করিয়া, মদের বড় একটা পিপা আমার হাতের নিকট আনিয়া দিল ও মুখ খুলিয়া দিল। আমি এক চুমুকে পিপা নিঃশেষ করিয়া দিলাম—পিপাতে আধ পাইণ্টও ছিল কি না সন্দেহ। আর একটা পিপা আনিয়া দিল; সেটাও ঐ ভাবে শেষ করিয়া, আরো একটা আনিবার জন্য ইঙ্গিত করিলাম। কিন্তু আর তাহারা আনিল না; বোধ করি তাহাদের আর ছিল না। যে মদ খাইলাম, তাহা আমাদের দেশের বার্গেণ্ডি-মদেরই মতন; আস্বাদ আরও একটু ভাল। {{ফাঁক}}আমার আহারের পরিমাণ দেখিয়া তাহারা আহ্লাদে আমার বুকের উপর নৃত্য করিতে লাগিল এবং বারংবার “হেকিনা ডেগুল্‌” বলিয়া চীৎকার করিতে লাগিল। তারপর তাহারা পিপা দুইটা নীচে ফেলিয়া দিতে, আমাকে ইঙ্গিতে অনুরোধ করিল এবং “বোরাক্ মোভেলা” বলিয়া<noinclude></noinclude> pib23xqrw4t7eiyxx9z69xcfbxthvkb পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/৩০ 104 877814 1941599 2026-04-04T06:09:24Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941599 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(২৪)}}</noinclude>হাতে তোমার শোভা বৃদ্ধি করে! এক্ষণে আমি আজ্ঞা করিতেছি, তুমি গান কর, গান কর। ওতো জীবিত পক্ষী নয়, যে কথা শুনিবে, কোন ব্যক্তি ফিরাইয়া না দিলে ওযে কোন গীত গাইতে পারে না। তৎকালে সেখানে কোন লোক ছিল না, যে তারে পাক দেয়, সুতরাং কৃত্রিম বুলবুলকে নিস্তব্ধ থাকিতে হইল। প্রতি এক দৃষ্টে নিরীক্ষণ করিয়। তে চতুর্দিক অভিভূত॥ মৃত্যুও রাজার রহিলেন, ভয়ে {{ফাঁক}}এমত সময়ে হঠাৎ এক সুমধুর শব্দ গবাক্ষ দ্বার দিয়। নিঃসরণ হইল। এ আর কেহই নহে, সেই জীবিত বুলবুল মহারাজের বিপদের কথা শ্রবণ ক রিয়া তাঁহার অন্তঃকরণে ভরসা এবং সন্তনা দিবার কারণ দ্রুত গমনে ঐ রাজগৃহের সন্নিকটস্থ এক বৃক্ষশাখায় বসিয়া ঐরূপ গান করিতেছিল। গীতের এমনি মনোহর ভাব যে তাহা শ্রবণ করিয়। পূর্ব্বোক্ত অন্তত অপচ্ছায়া সকল ক্রমে দুর্ব্বল হইয়া উঠিল। মহারাজার শীর্ণ কায়ায় শীঘ্রই রক্ত পরিচালন হওয়াতে ক্রমশঃ তিনি সবল রোধ ক রিতে লাগিলেন। মৃত্যুও সেই মিণ্টরবে মোহিত হইয়া বলিলেন, আহা! বুলবুল! তুমি উত্তম গান করিতেছ, আরও গাও আরও গাও। বুলবুল উত্তর করিল, যমরাজ, আপনার আজ। আমি<noinclude></noinclude> ru0kq383i4209ono5gjct2mcyqf64yb পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/২০ 104 877815 1941600 2026-04-04T06:13:48Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941600 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" />{{rvh|১৬|গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।}}{{rule}}</noinclude>উচ্চৈঃস্বরে বার কতক চীৎকার করিয়া, নীচে যাহারা দাঁড়াইয়াছিল তাহাদিগকে সাবধান করিয়া দিল। পিপা দুইটী যখন গড়াইতেছিল, তখন সকলেই “হেকিনা ডেগুল্” বলিয়া আবার চীৎকার করিতে লাগিল। {{ফাঁক}}বলিতে কি, যখন লোকগুলা আমার শরীরের উপর দিয়া যাতায়াত করিতেছিল, তখন এক একবার ইচ্ছা হইতেছিল যে, গোটা ৪০৷৫০কে দুই মুঠায় ধরিয়া আছাড় দিয়া, মারিয়া ফেলি! কিন্তু প্রতি বারেই সে লোভ সম্বরণ করিয়া গেলাম। এই সকল ক্ষুদ্র মানবের সাহস দেখিয়া আমি মনে মনে খুবই বিস্মিত হইতে লাগিলাম। আমার এই প্রকাণ্ড দেহ, তাহার উপর, আমার অন্ততঃ একখানি হাতও মুক্ত আছে, ইহা দেখিয়াও তাহারা যে আমার শরীরের উপর চলিতেছে ফিরিতেছে, ইহা কম সাহসের কথা নহে! কিছুক্ষণ পরে, আমার খাওয়া প্রায় শেষ হইয়া আসিয়াছে, এমন সময় সম্রাটের নিকট হইতে একজন উচ্চপদস্থ দূত আসিয়া দেখা দিলেন। {{dhr|2em}} {{Img float | file = গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩) (page 20 crop).jpg | width = 100px | align = center | cap =}}<noinclude></noinclude> lwjc12j6q5oflltwlruza0a51lfqqcp গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত/তৃতীয় পরিচ্ছেদ 0 877816 1941601 2026-04-04T06:14:07Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf" from=17 to=20 header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1941601 wikitext text/x-wiki <pages index="গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf" from=17 to=20 header=1/> egfam1ye5k00zd5cco5m2d1rq4d9tp1 পাতা:গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩).pdf/৪ 104 877817 1941603 2026-04-04T06:16:02Z Bodhisattwa 2549 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941603 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{dhr|13em}} {{c|<poem>{{x-larger|'''কুন্তলীন প্রেস,'''}} ৬১ ও ৬২নং বৌবাজার ষ্ট্রীট, কলিকাতা; {{larger|শ্রীপূর্ণচন্দ্র দাস কর্তৃক মুদ্রিত।}}</poem>}} {{dhr|13em}}<noinclude></noinclude> ft86c82tr07p4gx70f9dthmv0o407zs লেখক:গোপালচন্দ্র চূড়ামণি 100 877818 1941608 2026-04-04T07:02:24Z Bodhisattwa 2549 "{{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-India}}" দিয়ে পাতা তৈরি 1941608 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-India}} kzijlajw0x8y0roj6h1yqedm4fjroyi 1941614 1941608 2026-04-04T08:34:33Z Bodhisattwa 2549 1941614 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} === অনুবাদকর্ম === ==== মহাকাব্য ==== {{লেখক রচনা সারি|work = [[রচনা:রঘুবংশম্‌|রঘুবংশম্‌]]|item = Q2046254|originalauthor = [[লেখক:কালিদাস|কালিদাস]]}} {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q138871056|label = ''[[d:Q138871056|রঘুবংশ]]''|p655 = [[লেখক:গোপালচন্দ্র চূড়ামণি|গোপালচন্দ্র চূড়ামণি]]|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:রঘুবংশ_-_গোপালচন্দ্র_চূড়ামণি_(১৮৫৬).pdf|p577 = 1856}}{{Talikak list end}} {{PD-India}} 06n4f397b90qjoj0k78lmxfv11lply4 নির্ঘণ্ট:রঘুবংশ - গোপালচন্দ্র চূড়ামণি (১৮৫৬).pdf 102 877819 1941610 2026-04-04T07:16:51Z Bodhisattwa 2549 "" দিয়ে পাতা তৈরি 1941610 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q138871056 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=5 |Progress=X |Pages=<pagelist /> |Volumes= |Remarks= |Notes={{BL-TCIP}} |Header= |Footer= }} 8bfp7i7q36j6afwj9fyxrafzs3tej6s লেখক:শার্লট মারিয়া টাকার 100 877820 1941611 2026-04-04T07:36:01Z Bodhisattwa 2549 "{{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-old}}" দিয়ে পাতা তৈরি 1941611 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-old}} l9713gmspii2pfr7op9ty60r90f99gu 1941613 1941611 2026-04-04T08:34:21Z Bodhisattwa 2549 1941613 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} === অন্যান্য === {{লেখক রচনা সারি|work = ''[[d:Q138871285|ডেব্রেক ইন ব্রিটেন]]''|item = Q138871285}} {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q106898374|label = ''[[d:Q106898374|ইংলণ্ড দেশে ধর্ম্মাৰুণোদয়]]''|p655 = [[লেখক:অজ্ঞাত লেখক|অজ্ঞাত]]|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:ইংলণ্ড_দেশে_ধর্ম্মাৰুণোদয়.pdf|p577 = 1857}}{{Talikak list end}} {{PD-old}} rzf2jozc2gnupx4yaq04dgh5csv3ff0 নির্ঘণ্ট:বিক্রমোর্ব্বশী নাটক - কালিদাস (১৮৬৮).pdf 102 877821 1941612 2026-04-04T07:42:31Z Bodhisattwa 2549 "" দিয়ে পাতা তৈরি 1941612 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q138871179 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=2 |Progress=X |Pages=<pagelist /> |Volumes= |Remarks= |Notes={{BL-TCIP}} |Header= |Footer= }} o9d2h2w5d7fw4u1trde70fx1avjk58z নির্ঘণ্ট:কুমার-সম্ভব - রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭২).pdf 102 877822 1941615 2026-04-04T10:11:42Z Bodhisattwa 2549 "" দিয়ে পাতা তৈরি 1941615 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q138872961 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=1 |Progress=X |Pages=<pagelist /> |Volumes= |Remarks= |Notes={{BL-TCIP}} |Header= |Footer= }} 4pkgy2frsnjc3162htaze0fv9palf2f লেখক:প্যারীমোহন সেনগুপ্ত 100 877823 1941617 2026-04-04T11:22:54Z Bodhisattwa 2549 "{{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-India}}" দিয়ে পাতা তৈরি 1941617 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-India}} kzijlajw0x8y0roj6h1yqedm4fjroyi