উইকিসংকলন bnwikisource https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE MediaWiki 1.46.0-wmf.22 first-letter মিডিয়া বিশেষ আলাপ ব্যবহারকারী ব্যবহারকারী আলাপ উইকিসংকলন উইকিসংকলন আলোচনা চিত্র চিত্র আলোচনা মিডিয়াউইকি মিডিয়াউইকি আলোচনা টেমপ্লেট টেমপ্লেট আলোচনা সাহায্য সাহায্য আলোচনা বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী আলোচনা লেখক লেখক আলাপ নির্ঘণ্ট নির্ঘণ্ট আলাপ পাতা পাতা আলাপ প্রবেশদ্বার প্রবেশদ্বার আলাপ প্রকাশক প্রকাশক আলোচনা রচনা রচনা আলাপ অনুবাদ অনুবাদ আলোচনা TimedText TimedText talk মডিউল মডিউল আলাপ Event Event talk উইকিসংকলন:লিপিশালা 4 140 1941977 1941808 2026-04-05T18:41:54Z MediaWiki message delivery 2648 /* Invitation to join South Asian Community and the Annual Planning Discussions with WMF */ নতুন অনুচ্ছেদ 1941977 wikitext text/x-wiki {{প্রক্রিয়ার শীর্ষক | শিরোনাম = লিপিশালা | অনুচ্ছেদ = | পূর্ববর্তী = [[উইকিসংকলন:সম্প্রদায়ের প্রবেশদ্বার|সম্প্রদায়ের প্রবেশদ্বার]] | পরবর্তী = [[উইকিসংকলন:লিপিশালা/মহাফেজখানা|মহাফেজখানা]] | সংক্ষিপ্ত = [[WS:S]]<br/>[[WS:আলোচনাসভা]] | টীকা = লিপিশালা উইকিসংকলন সম্প্রদায় আলোচনা পৃষ্ঠা। যে কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা মন্তব্য করুন মুক্ত মনে। আপনি যেকোন বর্তমান আলোচনায় মন্তব্য করতে পারেন অথবা একটি নতুন শুরু করতে পারেন।<!--প্রকল্প সদস্যরা প্রায়ই #wikisource IRC চ্যানেল webclient পাওয়া যাবে।--> এছাড়া এটি উইকিসংকলনের প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য নিবেদিত পাতা। এখানে প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে যেকোনো প্রসঙ্গ তুলে ধরতে পারেন। উইকিসংকলনের যেকোন সদস্য প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে এখানে মন্তব্য রাখতে পারেন। }} {{উইকিসংকলন:লিপিশালা/দিকনির্দেশ}} __TOC__ __NEWSECTIONLINK__ [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলন প্রশাসন]] == সার্বজনীন আচরণবিধি ও প্রয়োগ নির্দেশিকার বার্ষিক পর্যালোচনা == <section begin="announcement-content" /> আপনাকে জানানো হচ্ছে যে, সার্বজনীন আচরণবিধি ও প্রয়োগ নির্দেশিকার বার্ষিক পর্যালোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে। আপনি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত যেকোন পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে পারেন। বার্ষিক পর্যালোচনার নির্ধারিত ধাপগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম। [[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Annual review/2026|আরও বিস্তারিত জানতে এবং মেটা-উইকির UCoC পাতায় চলমান আলোচনায় অংশ গ্রহণ করতে এখানে ক্লিক করুন]]। ​[[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Coordinating Committee|সার্বজনীন আচরণবিধি সমন্বয় কমিটি]] (ইউ৪সি) একটি বৈশ্বিক দল, যা সার্বজনীন আচরণবিধির ন্যায্য ও ধারাবাহিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করে। এই বার্ষিক পর্যালোচনাটি ইউ৪সি কর্তৃক পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইউ৪সি এবং এর দায়িত্বসমূহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে, আপনি [[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Coordinating Committee/Charter|ইউ৪সি সনদ দেখতে পারেন]]। দয়া করে এই তথ্যটি আপনার সম্প্রদায়ের অন্যান্য সদস্যদের সাথে এবং অন্য যে কোনও উপযুক্ত স্থানে শেয়ার করুন। -- ইউ৪সি-এর সহযোগিতায়, [[m:User:Keegan (WMF)|কিগান (WMF)]] ([[m:User talk:Keegan (WMF)|আলাপ]])<section end="announcement-content" /> ২১:০২, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) (এই বার্তাটি [[:উইকিসংকলন:প্রশাসকদের আলোচনাসভা]] পাতায় পাঠানো হয়েছিল ও একটি পুনর্নির্দেশের কারণে এখানে পোস্ট করা হচ্ছে।) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=Distribution_list/Global_message_delivery&oldid=29905753-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:Keegan (WMF)@metawiki পাঠিয়েছেন --> == PageImages এক্সটেনশন যোগ == {{tracked|T416800}} সুধী, উইকিসংকলনে [[:mw:Extension:PageImages|PageImages এক্সটেনশন]] যোগ করার জন্য সম্প্রদায়ের মতামত ও সমর্থন চাওয়া হচ্ছে। এই এক্সটেনশন যোগ করলে উইকিসংকলনের পাতায় যুক্ত ছবির থাম্বনেল তৈরি করে বাইরের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তা প্রদর্শিত হবে। উল্লেখ্য সকল উইকিপিডিয়া প্রকল্পে এই এক্সটেনশন ইতিমধ্যে অনেকদিন ধরেই যুক্ত। -- [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ১৫:০৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} -- [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১৫:২০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{support}} - [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ১৫:৫৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:জয়শ্রীরাম সরকার|জয়শ্রীরাম সরকার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:জয়শ্রীরাম সরকার|আলাপ]]) ১৬:৫১, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Nettime Sujata|Nettime Sujata]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Nettime Sujata|আলাপ]]) ১১:১৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Mahir256|মাহির২৫৬]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mahir256|আলাপ]]) ১৪:৫৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} – [[User:Tarunno|<span style="display:inline-block;color:#008329;font-weight:bold; transform: scale(-1,1);text-shadow:0 1px 2px #ddd">তারুণ্য</span>]]<span style="font-size:10px;vertical-align:text-top;"> [[ব্যবহারকারী আলাপ:Tarunno|আলাপ]]</span> • ১৫:০৬, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৫:৩৭, ১৭ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) == ২০০০-পূর্ব বাংলাদেশি কর্মের কপিরাইট মেয়াদ == সুধী, আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন। বাংলাদেশে <small>(ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে)</small> প্রকাশিত কর্ম এবং বাংলাদেশি <small>(ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানি)</small> লেখকদের কপিরাইট মেয়াদ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাবনা আমরা উত্থাপন করছি। প্রস্তাবনা: বাংলাদেশি/পূর্ব পাকিস্তানি নাগরিকের বা বাংলাদেশে/পূর্ব পাকিস্তানে প্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''সাহিত্যিক''' কর্মের ক্ষেত্রে কপিরাইট মেয়াদ: '''লেখকের মৃত্যু + ৫০ বছর'''; # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''সরকারি''' কর্মের ক্ষেত্রে: '''প্রকাশ + ৫০ বছর'''; # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''ছবি''' কর্মের ক্ষেত্রে: '''প্রকাশ + ৫০ বছর'''; # এবং ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে [https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047 কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২]-এর অধ্যায় ৩ কর্তৃক প্রণীত [[#মেয়াদ ৬২|অন্যান্য মেয়াদ সমূহ]]। এই প্রস্তাবনা লিখিতভাবে উপস্থাপনে সার্বিক সহায়তার জন্য [[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]]কে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। === আইনি বিশ্লেষণ ও যৌক্তিকতা === বর্তমান বাংলাদেশি ভূখণ্ডে কপিরাইট আইনসমূহের ক্রম নিচে উল্লেখ করা হলো: {| class="wikitable" style="margin: auto;" !আইন !সময়কাল !সাধারণ মেয়াদ |- |[https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/15848 ভারতীয় কপিরাইট আইন ১৯১৪] |১৯১৪ - ১৯৬২ |৫০ বছর |- |[https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047 কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২]<br>(১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |১৯৬২ - ২০০০ |৫০ বছর |- |[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html কপিরাইট আইন, ২০০০]<br>(২০০৫ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |২০০০ - ২০২৩ |৬০ বছর |- |[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452.html কপিরাইট আইন, ২০২৩] |২০২৩ - বর্তমান |৬০ বছর |- | colspan="3" |যেকোনো আইন রহিতকরণের ক্ষেত্রে:<br>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬]<br>(২০১৮ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |} অর্থাৎ ২০০০ সালের আইনে কপিরাইটের সাধারণ মেয়াদ প্রথমবারের মতো ৫০ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৬০ বছরে উন্নীত করা হয় এবং ২০২৩ সালের আইনেও তা চলমান থাকে।  স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ২০০০ সালের পূর্বে প্রকাশিত যে কর্মগুলোর কপিরাইট মেয়াদ তখনো শেষ হয়নি (যেমন, ১৯৯০ সালের একটি প্রকাশনা), সেগুলো কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বর্ধিত ৬০ বছরের মেয়াদের আওতায় চলে আসবে? শুরুতে মনে হতে পারে, যেহেতু নতুন আইনে সাধারণ মেয়াদ ৬০ বছর, তাই পুরনো সব বিদ্যমান কর্মও হয়তো এই সুবিধা পাবে। কিন্তু আইনের '''আক্ষরিক ব্যাখ্যা''' অনুসরণ করলে আমরা বিপরীত চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।  [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] ও সাধারণ আইনি কর্যধারা অনুযায়ী, কোনো আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে নতুন কোনো বিধান ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) পেছনের কর্মের ওপর কার্যকর হয় না। ২০০০ সালের আইনের কোথাও স্পষ্টভাবে বলা নেই যে, পূর্বের কর্মগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাবে। বরং এই <mark>আইনের ১০৫ নং ধারা অনুযায়ী ১৮ জুলাই, ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে যেকোনো কর্মের মেয়াদ বর্ধিত করা হয়নি।</mark>  <div style="float: right; margin-left: 15px; margin-bottom: 5px; border: 2px solid yellow"> {{show |1= আইন দেখুন |2={{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-846/section-30242.html|ধারা ১০৪|}}<br>ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html|কপিরাইট আইন, ২০০০}}}} ১০৪। এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে যাহা এই আইনের অনূদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে। {{Collapse bottom|}} }} </div> উল্লেখ্য, ধারা ১০৪ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার একটি নির্ভরযোগ্য অনূদিত পাঠ প্রদান করেছে। ইংরেজি ও বাংলা পাঠের সাথে সংঘর্ষ হলে, বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে। সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বাংলা পাঠ হতে আসতে হবে। তবে ইংরেজি পাঠ সংযুক্ত রাখা হয়েছে বোঝার সুবিধার্থে এবং আইনের ইন্টেন্ট বা উদ্দেশ্য পরিষ্কার করার জন্য। <div style="display:flex; flex-wrap:wrap; gap:10px;"> <div style="flex:1; min-width:300px; padding:10px;"> {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-846/section-30242.html|ধারা ১০৫|}}<br>রহিতকরণ, হেফাজত এবং ক্রান্তিকালীন বিধান<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html|কপিরাইট আইন, ২০০০}}}} ১০৫। (১) The Copyright Ordinance, 1962 (Ordinance no XXXIV of 1962) এতদ্বারা রহিত করা হইল। (২) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে এমন কোন কাজ করিয়া থাকেন যা দ্বারা তিনি সংশ্লিষ্ট সময়ে আইন মোতাবেক কোন কর্মের পুনরুৎপাদন বা সম্পাদনের জন্য অথবা এই আইন কার্যকর না হইলে ঐরূপ পুনরুৎপাদন বা সম্পাদন বৈধ হইত এমন কোন কর্মের পুনরুৎপাদন বা সম্পাদনের জন্য কোন প্রকার ব্যয় বা দায় এর জন্য দায়ী হন, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছুই ঐরূপ কাজ হইতে বা তৎসূত্রে উদ্ভূত কোন অধিকার বা স্বার্থ খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না, যদি না এই আইনবলে পুনরুৎপাদন বা সম্পাদন করিবার অধিকারী ব্যক্তি চুক্তিভঙ্গের দরুণ বোর্ড যেরূপ নির্ধারণ করে ঐরূপ ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে সম্মত না হন। (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত আইনের অধীন কোন কর্মের কপিরাইট ছিল না এমন কোন কর্মের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কপিরাইট থাকিবে না।   (৪) এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে যেক্ষেত্রে কোন কর্মের কপিরাইট বিদ্যমান ছিল ঐরূপ কপিরাইটের অন্তর্ভুক্ত অধিকার, এই আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ হইতে, কর্মটি যে শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ঐ শ্রেণী সম্বন্ধে ধারা ১৪-এ উলি্লখিত অধিকার হইবে এবং যদি উক্ত ধারা দ্বারা কোন নতুন অধিকার প্রদত্ত হয়, তাহা হইলে উক্ত অধিকারের মালিক- :(ক) এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে কর্মটির কপিরাইটের সম্পূর্ণ স্বত্ব-নিয়োগ হইয়া থাকিলে, উক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত স্বত্বাধিকারী স্বার্থের উত্তরাধিকারী হইবেন। :(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, ঐ ব্যক্তি হইবেন যিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন বাতিলকৃত আইনে কর্মটির কপিরাইটের প্রথম স্বত্বাধিকারী ছিলেন।   <mark>(৫) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, কোন ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে, তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন তাহা অব্যাহত থাকিবে।</mark>   <br>(৬) এই আইনের কোন কিছুই উহা কার্যকর হওয়ার পূর্বে কৃত কোন কাজ কপিরাইট লঙ্ঘনজনিত কাজ হিসাবে ব্যাখ্যায়িত হিসাবে গণ্য হইবে না, যদি ঐ কাজ অন্যভাবে ঐরূপ অধিকারলঙ্ঘন গঠন না করিয়া থাকে।   <br>(৭) এই ধারায় ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, রহিতকরণের ফলাফলের বিষয়ে ১৮৯৭ সনের জেনারেল ক্লজেস এ্যাক্ট (১৮৯৭ সনের ১০নং আইন) প্রযোজ্য হইবে। {{Collapse bottom|}} </div> <div style="flex:1; min-width:300px; padding:10px;"> {{Collapse top|Section 105<br>Repeals, savings and transitional provisions<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/upload/act/2021-11-17-10-44-05-32.-The-Copyright-Act-2000.pdf|Authentic English Text of Copyright Act, 2000 }}}} 105. (1) The Copyright Ordinance, 1962, (Ordinance no XXXIV of 1962) is hereby repealed. (2) Where any person has, before the commencement of this Act, taken any action whereby he has incurred any expenditure or liabilities in connection with the reproduction or performance of any work in a manner which at that time was lawful or for the purpose of or with a view to the reproduction or performance of a work at a time when such reproduction or performance would, but for the coming into force of this Act, have been lawful, nothing in this section shall diminish or prejudice any rights or interests arising from or in connection with such action which are subsisting and valuable at the said date, unless the person who, by virtue of this Act, becomes entitled to restrain such reproduction or performance agrees to pay such compensation as, failing agreement, may be determined by the Board. (3) Copyright shall not subsist by virtue of this Act in any work in which copyright did not subsist immediately before the commencement of this Act under any Act or Ordinance repealed by sub-section (1).  (4) Where copyright subsisted in any work immediately before the commencement of this Act, the rights comprising such copyright shall, as from the date of such commencement, be the rights specified in section 14 in relation to the class of works to which such work belongs, and where any new rights are conferred by that section, the owner of such rights shall be⎯ :(a) in any case where copyright in the work was wholly assigned before the commencement of this Act, the appointed assignee; and :(b) in any other case, the person who was the first owner of the copyright in the work under any Act or Ordinance repealed by sub-section (1) or his legal representatives. <mark>(5) Except as otherwise provided in this Act, where any person was entitled immediately before the commencement of this Act to copyright in any work or any right in such copyright or to an interest in any such right, he shall continue to be entitled to such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force.</mark> (6) Nothing contained in this Act shall be deemed to render any act done before its commencement an infringement of copyright if that act would not otherwise have constituted such an infringement. (7) If there is nothing otherwise provided by this section, the General Clauses Act, 1897 (Act X of 1897) shall apply with respect to the effect of repeals. {{Collapse bottom|}} </div> </div> উপরের ধারা ১০৫(৫) অনুসারে সিদ্ধান্তে আসা যায়, নতুন আইন প্রবর্তনের পূর্বে যে কর্মগুলোর কপিরাইট বহাল ছিল, সেগুলোর মেয়াদকাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে যেন ২০০০ সালের আইনটি পাসই হয়নি। অর্থাৎ, পুরোনো কর্মগুলোর ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত ৫০ বছরের মেয়াদই বলবৎ থাকবে। ধারা ১০৫(৫) এর একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হলো: {| class="wikitable" |+ !বিষয় !বাংলা !ইংরেজি !ব্যাখ্যা |- |'''দ্বন্দ্ব''' |এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে |Except as otherwise provided in this Act |সাধারণ হেফাজত। আইনে ভিন্ন কিছু উল্লেখ নেই। |- |'''কে?''' |কোন ব্যক্তি |where any person |বাংলাদেশি কর্মের প্রণেতা |- |'''কখনকার কর্ম?''' |এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে |was entitled immediately before the commencement of this Act |১৮ জুলাই, ২০০০ এর পূর্বে |- |'''কী?''' |কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে |to copyright in any work or any right in such copyright or to an interest in any such right |কপিরাইট সুরক্ষা |- |'''সময়কাল''' |তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন |such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force. |২০০০ এর আইন না থাকলে ৫০ বছর মেয়াদি সুরক্ষা থাকতো। |- |'''ক্রিয়া''' |তাহা অব্যাহত থাকিবে |he shall continue to be entitled to |৫০ বছর সুরক্ষা পাবে |} ১. '''দ্বন্দ্ব''': ''"এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে"'' - এই বাক্যাংশটি "দ্বন্দ্ব নিরোধ" হিসেবে পরিচিত। বাক্যাংশটি মূলত একই বা ভিন্ন আইনের সাথে দ্বন্দ্ব রোধে ঢালাওভাবে ব্যবহৃত হয়। ধারা ১০৫(৫) চাচ্ছে পূর্বের প্রদত্ত আইনি সুরক্ষার মেয়াদ অব্যাহত রাখতে। এই মেয়াদের অব্যাহতি ঢালাওভাবে সকল বাংলাদেশি কর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু এই ঢালাওভাবে প্রয়োগ সহজেই অপ্রত্যাশিত দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। এই দ্বন্দ্ব বর্তমানে প্রতীয়মান না হলেও, ভবিষ্যতে কোনো মামলায় আবিষ্কৃত হতে পারে। ফলে আপাত দৃষ্টিতে দ্বন্দ্ব না থাকলেও, সুরক্ষার খাতিরে এই দ্বন্দ্ব নিরোধ অংশ যুক্ত করেন আইন প্রণেতারা। এখন প্রশ্ন হতে পারে দ্বন্দ্ব আছে নাকি নেই? এই উপধারার সাথে কী প্রকারের দ্বন্দ্ব হওয়ার সুযোগ আছে? উদাহরণ স্বরূপ ধরি, ৬২-এর আইনে লোকসংস্কৃতির মেয়াদ ছিল ২৫ বছর কিন্তু নতুন আইন সেটাকে অসীম সুরক্ষা দিয়েছে। যেহেতু লোক সংস্কৃতির প্রকাশকাল নেই বা থাকলেও সেটি ২০০০ সালের পরে প্রকাশিত হলে সেটি আর লোকসংস্কৃতি বলে বিবেচিত হবে না। তাহলে এখানে দ্বন্দ্ব প্রতীয়মান হওয়ার সুযোগ আছে। পুরাতন আইনের অধীনে থাকলে, আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী এরা অসীম সুরক্ষা পাবে না। তাই এক্ষেত্রে আইনের মূল অংশ প্রাধান্য পাবে। উল্লেখ্য এটি একটু উদাহরণ মাত্র এবং বাস্তবতার সাথে মিল নেই। আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো সাধারণ সাহিত্যকর্ম, ছবি, সরকারি কর্ম ইত্যাদি। এই বিষয়সমূহে এরূপ কোনো দ্বন্দ্ব নেই আইনে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আইনে তো নতুন ৬০ বছর মেয়াদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ধারা চাচ্ছে আগের মেয়াদ অব্যাহত রাখতে, তাহলে এটা কি দ্বন্দ্ব? আইনি ব্যাখ্যার সুপ্রতিষ্ঠিত 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy) অনুযায়ী এই ধারণাটি পুরোপুরি যৌক্তিক নয়। আইনে কখনোই কোনো অর্থহীন বা অপ্রয়োজনীয় ধারা যুক্ত করা হয় না। যদি ২৪ থেকে ৩৩ ধারার সাধারণ ৬০ বছরের নিয়মটিকেই ১০৫(৫) ধারায় উল্লেখকৃত 'ভিন্নরূপ বিধান' হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তবে ১০৫(৫) ধারাটির কোনো প্রয়োগই অবশিষ্ট থাকে না। আইনশাস্ত্রে একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, 'বিশেষ বিধান সাধারণ বিধানের ওপর প্রাধান্য পায়' (Lex specialis derogat legi generali)। আইনের ২৪ থেকে ৩৩ ধারা হলো কপিরাইট মেয়াদের একটি General Provision, যা আইন পাসের পর থেকে নতুন কর্মের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে ১০৫(৫) ধারা হলো পুরোনো কর্মের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বিশেষ বিধান। প্রকৃতপক্ষে <mark>এখানে "ভিন্নরূপ বিধান" বলতে বোঝানো হয়েছে: যদি আইনের অন্য কোথাও স্পষ্টভাবে লেখা থাকত যে "পুরোনো 'কোনও' কর্মের মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাবে", কেবল তখনই সেটি কার্যকর হতো।</mark> ২. '''কে?''': ''"কোন ব্যক্তি"'' - বাংলাদেশি কর্মের প্রণেতাকে বুঝানো হয়েছে। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ২(২৭) ধারা অনুযায়ী: (২৭) "বাংলাদেশী কর্ম" অর্থ এমন সাহিত্য, নাট্য, সংগীত বা শিল্প কর্ম- (ক) যাহার প্রণেতা বাংলাদেশের নাগরিক; বা (খ) যাহা প্রথম বাংলাদেশে প্রকাশিত হইয়াছে; বা (গ) অপ্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে, যাহার প্রণেতা উহা তৈরীর সময় বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন; ৩. '''কখনকার কর্ম?''': ''"এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে"'' - কপিরাইট আইন, ২০০০ কার্যকর হয়েছে ১৮ জুলাই, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ উক্ত তারিখের পূর্বে প্রকাশিত যেকোনো কর্মের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য। ৪. '''কী?''': ''"কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে"'' - সাধারণ কপিরাইট সুরক্ষা। ৫. '''সময়কাল''': ''"তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন" / "such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force."'' - এই অংশে বলা আছে যে, ''এই আইন কার্যকর না হইলে'' কিন্তু আইন যেহেতু কার্যকর হয়েছে, এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তাই এই অংশ প্রযোজ্য নয়। এখানে আমাদের পূর্ববর্তী 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' যুক্তি প্রযোজ্য। আর এই বাক্যাংশটি শর্তমূলক (conditional clause) নয়। এখানে ''"এই আইন কার্যকর না হইলে"'' ("''if this Act had not come into force''") একটি counterfactual / irrealis / hypothetical / unreal conditional clause. আরও নির্দিষ্টভাবে, এটি হলো: * একটি শর্তবাচক উপবাক্য * যা past perfect রূপে আছে * এবং একটি অবাস্তব অতীত শর্ত প্রকাশ করছে * ব্যাকরণ আলোচনায় একে প্রায়ই প্রতিবাস্তব (counterfactual), অবাস্তব (irrealis), বা কাল্পনিক (hypothetical) বলা হয় এতে এই অর্থ নেই যে আইনটি সত্যিই কার্যকর হয়নি। এর অর্থ হলো যে এই অধিকার বা স্বার্থ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এমন একটি অবস্থা কল্পনা করতে হবে, যেখানে এই আইন কখনোই কার্যকর হয়নি; এবং সেই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কত সময়ের জন্য ওই অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হতেন, তা নির্ধারণ করতে হবে। অতএব বাক্যটি একটি আইনগত-কাল্পনিক তুলনা ব্যবহার করছে: বাস্তব অবস্থা: আইনটি কার্যকর আছে। কল্পিত অবস্থা: আইনটি কার্যকর হয়নি। তারপর আইনটি জিজ্ঞেস করছে: এই কল্পিত অবস্থায় ব্যক্তি কোন সময়কাল পর্যন্ত অধিকারী হতেন? এটি আইন প্রণয়নে খুবই সাধারণ একটি কৌশল। এখানে “অসম্ভব” কথাটির অর্থ গোঁজামিল বা অযৌক্তিক নয়; বরং এটি অধিকার নির্ণয়ের জন্য একটি প্রতিবাস্তব মানদণ্ড। ৬. '''ক্রিয়া''': ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' (''"he shall continue to be entitled to"''): এখানে "আব্যাহত"কে বাংলাদেশ সরকার ইংরেজিতে continue শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। {{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1123.html|বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩}} দ্বারা কার্যরত বাংলা ভাষা বিষয়ক বাংলাদেশি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলা একাডেমি। বাংলাদেশ সরকার তার নিজের সরকারি কাজে বাংলা ব্যবহারে বাংলা একাডেমির নিয়ম মানতে নির্দেশনা দেয়।<sup>[https://file-rajshahi.portal.gov.bd/files/bscic.rajshahi.gov.bd/files/62628c74_11b2_48a4_98e3_e694fdb18021/604f94fbbfa1ac882cb826c1fe5a2784.pdf]</sup> তাদের প্রকাশিত [https://web.archive.org/web/20210117115141/https://xeroxtree.com/pdf/adhunik_bangla_ovidhan.pdf আধুনিক বাংলা অভিধান] অনুযায়ী নকশা, মডেল ও ডিজাইনের সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, এই সংজ্ঞাসমূহ মানতে আইন {{color|red|বাধ্য (binding) নয়}}। অব্যাহত <small>/অব্ব্যাহতো/</small> [স. 7+| 17 + sqrt(27) + 5 ] বিণ, ১ অপ্রতিহত, অবাধ (অব্যাহত গতি)। ২ অব্যর্থ। ৩ অপ্রতিবন্ধ। অপ্রতিহত অর্থ বাধাহীনভাবে। অর্থাৎ, এই অংশ দ্বারা বলা হয়েছে। তার আগের মেয়াদ continue করবে। আগে যা ছিল তাই থাকবে। এবং তার মেয়াদে কোনো বাধা থাকবে না। অনেকে প্রায়োগিক অর্থ ভেবে বলতে পারেন যে, এই আইন শুধু চাচ্ছে যে অধিকার খর্বকারী মেয়াদ না কমাতে। কিন্তু অব্যাহত-এর বুৎপত্তিগত এবং সকল সংজ্ঞা অনুযায়ী, মেয়াদে বাধা দেবে না। এটি উভয়দিকে কাজ করে। শুধুমাত্র একদিকে নয়। সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রয়োগ ভিন্ন মানুষ ভিন্নভাবে নিতে পারে। এজন্য বুৎপত্তিগত ব্যাখ্যা মেনে নেওয়া শ্রেয়। আইনের ইন্টেন্ট বুঝার জন্য ইংরেজি অনুবাদ ব্যাবহার করা যেতে পারে। ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। যা বুঝায়, আগে যা ছিল তাই থাকবে। অর্থাৎ আগের ৫০ বছর মেয়াদ বলবৎ থাকবে। '''ধারা ১০৫(১)''': কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ রহিত করা হয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয়। ধারা ১০৫, আগের আইনের অধীন প্রকাশিত কর্মসমূহ নিজ নতুন আইনের আওতায় আত্তীকরণ করেনি, যেমনটা কপিরাইট আইন, ২০২৩ করেছে। অর্থাৎ, আগের কর্মসমূহের লাইসেন্স বিবেচনা কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর আলোকে করতে হবে। '''ধারা ১০৫(২)''': কোন মামলা বা অপরাধ ২০০০ এর আগে সংঘটিত হলে, তা আগের আইনের অধীনে বিচার হবে। '''ধারা ১০৫(৩)''': কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। '''ধারা ১০৫(৪)''': এই ধারায় "অধিকারের পরিধি বা প্রকৃতি" ব্যাখ্যা করা হয়ছে; "মেয়াদ" নয়। ১০৫(৪)-এর আশ্রয় নিয়ে প্রস্তাবের আরেকটা বিরোধিতা করা যেতে পারে যে ''ধারা ১০৫(৪)-এ বলা হয়েছে, পুরোনো কর্মগুলো নতুন আইনের "ধারা ১৪-এ উল্লিখিত অধিকার" পাবে। ফলে, যেহেতু কর্মটি নতুন আইনের (১৪ ধারার) অধীনে চলে আসছে, তাই এর মেয়াদও নতুন আইনের ৬০ বছর হওয়া উচিত।'' উ: আইনের দৃষ্টিতে "অধিকারের পরিধি বা প্রকৃতি" এবং "অধিকারের মেয়াদ" সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। ধারা ১০৫(৪) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শুধুমাত্র "ধারা ১৪"-এর কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে কপিরাইটের মেয়াদ নিয়ে একটি শব্দও নেই। ধারা ১৪ কেবল সংজ্ঞায়িত করেছে কপিরাইট বলতে কী কী 'কর্ম' বোঝায় এবং সেসব 'কর্ম'-এর কোন কোন অধিকার একচেটিয়াভাবে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ধারা ১০৫(৪) পুরোনো কর্মগুলোকে কেবল ধারা ১৪-তে থাকা নতুন ধরনের অধিকার ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই অধিকারটি কতদিন বজায় থাকবে, অর্থাৎ সময়কাল বা মেয়াদের বিষয়টি ঠিক তার পরের উপধারা ১০৫(৫)-এ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। <mark>১০৫(৫)-এ পরিষ্কার বলা হয়েছে, অধিকার যা-ই হোক না কেন, ব্যক্তি ঠিক সেই "সময়ের জন্য" অধিকার ভোগ করবেন, যা তিনি এই নতুন আইন না এলে পেতেন (অর্থাৎ ৫০ বছর)।</mark> '''ধারা ১০৫(৫)''': ব্যাখ্যা করা হয়েছে। '''ধারা ১০৫(৬)''': ধরুন এক প্রকারের পুনঃব্যবহার অনুমতি ১৯৬২ সালের আইনে দেওয়া হলেও, ২০০০ সালের আইনে দেওয়া হয়নি। তাহলে ২০০০ সালের আগে সেই কর্ম কেউ পুনঃব্যবহার করে থাকলে, সেটি নতুন আইনের আওতায় দণ্ডনীয় নয়। '''ধারা ১০৫(৭)''': [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] এর ৬ষ্ঠ ধারা বাংলাদেশের যেকোনো আইনের রহিতকরণের প্রভাব নির্ধারণ করে। কপিরাইট আইন, ২০০০-এর ১০৫(৭)-এ তা উল্লেখ করা আছে। ১০৫(৭)-এ উল্লেখ করা না থাকলেও, এই আইন বলবৎ থাকতো। কপিরাইট বাদেও এই ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল আইন অ-ভূতাপেক্ষ (Non-retroactive) যদিনা নতুন আইনে আলাদা করে উল্লেখ না থাকে। [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] এর ৬(গ) ধারা অনুযায়ী, নতুন আইনে অন্যথায় উল্লেখ না থাকলে, নতুন আইন নাগরিকের পূর্ব আইনের আওতায় প্রাপ্ত রাইট (অধিকার)কে প্রভাবিত করবে না। কপিরাইট এর নামানুসারেই একপ্রকারের রাইট বা অধিকার। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ধারা ১০৫ এই অংশের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। affect অর্থ প্রভাবিত করা। সেটা অধিকার বৃদ্ধি বা হ্রাস উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ১৯৬৩ সালের প্রকাশিত কোনো প্রকাশনার ক্ষেত্রে, কর্মের স্রষ্টা ৫০ বছরের অধিকার পেয়েছিলেন তার কর্মের উপর। আমি জনগণ, ৫০ বছর পর এটি মুক্তভাবে ব্যাবহারের অধিকার পেয়েছিলাম। নতুন আইন যেহেতু পূর্বের কর্মের ব্যাপারে কিছু বলেনি; শুধু নতুন কর্মের জন্য নতুন বর্ধিত অধিকার দিয়েছে। তাই এই আইন অনুযায়ী নতুন আইন আমার পূর্বে প্রাপ্ত অধিকারকে প্রভাবিত করবে না। সেটা যেকারো লাভ বা ক্ষতি যেজন্যই হোক না কেনো। ২০০০ এর আইনের ১০৫(৫)-এ এই আইনের নীতিমালাকে প্রয়োগ করা হয়েছে। {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-73/section-19978.html|Section 6}}<br>Effect of repeal<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html|The General Clauses Act, 1897}}}} 6. Where this Act, or any Act of Parliament or Regulation made after the commencement of this Act, repeals any enactment hitherto made or hereafter to be made, then, unless a different intention appears, the repeal shall not- :(a) revive anything not in force or existing at the time at which the repeal takes effect; or :(b) affect the previous operation of any enactment so repealed or anything duly done or suffered thereunder; or :<mark>(c) affect any right, privilege, obligation or liability acquired, accrued or incurred under any enactment so repealed;</mark> or :(d) affect any penalty, forfeiture or punishment incurred in respect of any offence committed against any enactment so repealed; or :(e) affect any investigation, legal proceeding or remedy in respect of any such right, privilege, obligation, liability, penalty, forfeiture or punishment as aforesaid; and any such investigation, legal proceeding or remedy may be instituted, continued or enforced, and any such penalty, forfeiture or punishment may be imposed as if the repealing Act or Regulation had not been passed. {{Collapse bottom|}} '''কপিরাইট আইন, ২০২৩''': এবার বর্তমানে বলবৎ 'কপিরাইট আইন, ২০২৩'-এ আসি। বলা যেতে পারে, নতুন আইনের ১২৭(২)(ক) ধারায় যেহেতু (২০০০-এর আইনে থাকা) পুরোনো অধিকারগুলো বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে, তাই পুরোনো কর্মগুলোও ৬০ বছর মেয়াদ পাবে। কিন্তু ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ৬(c) ধারা অনুযায়ী, রহিতকৃত আইনের অধীনে নির্ধারিত অধিকারের কাঠামো (যেমন ৫০ বছরের সীমা) অপরিবর্তিত থাকে। ফলে ২০২৩ সালের আইনটি কেবল সেই অবস্থাকেই সংরক্ষণ করে, যা ২০০০ সালের আইনের অধীনে অর্জিত হয়েছিল। যেহেতু ২০০০ সালের আইনটি ১০৫(৫) ধারার মাধ্যমে পুরোনো কর্মগুলোর মেয়াদকে সুনির্দিষ্টভাবে ৫০ বছরেই আটকে দিয়েছিল এবং অতিরিক্ত দশ বছর যুক্ত করার পক্ষে স্পষ্ট কোনও বিধান রাখেনি, তাই ২০২৩ সালের আইনও সেটিকে নতুন করে ৬০ বছরে উন্নীত করেনি। নিচে ২০২৩ সালের আইনের রহিতকরণ ধারাটি দেওয়া হলো:  {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html|ধারা ১২৭|}}<br>রহিতকরণ ও হেফাজত<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1452.html|কপিরাইট আইন, ২০২৩}}}} ১২৭। (১) কপিরাইট আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ২৮ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল। (২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত আইনের অধীন- :(ক) <mark>কৃত কোনো কাজ-কর্ম</mark>, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রণীত কোনো বিধি, জারীকৃত প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি, প্রদত্ত আদেশ, স্বত্বনিয়োগ, <mark>নিবন্ধন বা লাইসেন্স</mark>, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে, এবং এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন কৃত, গৃহীত, প্রণীত, জারীকৃত বা প্রদত্ত বলিয়া গণ্য হইবে; :(খ) উক্ত আইনের অধীন সূচিত কোনো কার্যধারা অসম্পূর্ণ থাকিলে উহা উক্ত আইন অনুযায়ী এইরূপে সমাপ্ত করা হইবে, যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই; :(গ) দায়েরকৃত কোনো মামলা বা মোকদ্দমা কোনো আদালতে চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই; :(ঘ) উক্ত আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বোর্ড এইরূপে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে; এবং :(ঙ) কপিরাইট অফিসে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিতপূর্বে যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে চাকুরিতে নিয়োজিত থাকিবেন এবং পূর্বের নিয়মে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন। {{Collapse bottom|}} উল্লেখ্য যে কপিরাইট আইন, ২০২৩ তার পূর্বসূরী আইন (শুধুমাত্র ২০০০ এর আইন)-এর অধীন প্রকাশিত কর্ম ১২৭(২)(ক) দ্বারা নিজের মধ্যে আত্তীকরণ করে। কিন্তু ২০০০ এর আইন, তার পূর্বসূরি ১৯৬২এর আইনের জন্য তা করে না। ফলে ১৯৬২ এর অধীন প্রকাশিত কর্ম ২০০০ বা ২০২৩ এর আইন আত্তীকরণ করে না এবং উত্তরসূরি আইনসমূহ তাদের নিজ নিজ হেফাজত ধারা অনুযায়ী ১৯৬২ এর অধীন কর্মগুলোতে ১৯৬২ এর আইন বলবৎ রাখে। ১৯৬২ হতে ২০০০ এর আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল কিন্তু ২০০০ থেকে ২০২৩ এর আইনে করা হয়নি/ তাই পূর্ববর্তী কর্মের মেয়াদ অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে কোনো ধারা যুক্ত করা হয়নি বা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ছিল না। কিন্তু আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হলে, তা আলাদা ভাবে যুক্ত করতে হতো, যা করা হয়নি। <mark>নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে, আইনের এই আক্ষরিক ও অ-ভূতাপেক্ষ (Non-retroactive) ব্যাখ্যাটিই আইনিভাবে অধিকতর নিরাপদ ও প্রচলিত।</mark> কারণ, কোনো অধিকারের মেয়াদ বা ব্যাপ্তি যদি পেছনের তারিখ থেকে বাড়াতে হয়, তবে আইনে তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখে দিতে হয়। '''আন্তর্জাতিক উদাহরণ''' আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই। '''কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২''': আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য ১৯৬২ সালের কপিরাইট অধ্যাদেশ। কপিরাইট আইন, ২০০০ পূর্ববর্তী আইনের মেয়াদসমূহ সংরক্ষণ করে। কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর মেয়াদসমূহ নিচে দেওয়া হলো: {{Collapse top|{{anchor|মেয়াদ ৬২}}CHAPTER III<br>TERM OF COPYRIGHT<br>{{url|https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047|The Copyright Ordinance, 1962}}}} 18. Term of copyright in published <mark>literary, dramatic, musical and artistic works.</mark>- :Except as otherwise hereinafter provided, copyright shall subsist in any literary, dramatic, musical or artistic work (other than a photograph) published within the life-time of the author until <mark>fifty years</mark> from the beginning of the calendar year next following the year in which the <mark>author dies</mark>. Explanation-In this section, the reference to the author shall, in the case of a work of joint authorship, be construed as a reference to the author who dies last.  19. Term of copyright in posthumous work.- :(1) In the case of a literary, dramatic or musical work or an engraving, in which copyright subsists at the date of the death of the author or, in the case of any such work of joint authorship, at or immediately before the date of the- death of the author who dies last, but which or any adaptation of which, has not been published before that date, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published or, where an adaptation of the work is published in any earlier year, from the beginning of the calendar year next following that year.  :(2) For this purposes of this section, a literary, dramatic or musical work or an adaptation of any such work shall be deemed to have been published, if it has been performed in public or if any records made in respect of the work have been sold, or offered for sale, to the public.  20. Term of copyright in cinematographic works, records and photographs.­  :(1) In the case of a cinematographic work, copyright shall subsist until fifty years fro.n the beginning of the calendar year next following the year in which the work is published.  :(2) In the case of a record, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the record is published.   :(3) In the case of a photograph, copyright shall subsist until fifty years from "the beginning of the calendar year next following the year in which the photograph is published.  20A. Term of copyright in broadcast.- :In the case of a broadcast, copyright shall subsist until twenty-five years from the beginning of the calendar year next following the year in which the broadcast first took place. 21. Term of copyright in anonymous and pseudonymous work.- :(1) In the case of a literary, dramatic, musical or artistic work (other than a photograph), which is published anonymously or pseudonymously, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.<br>Provided that where the identity of the author is disclosed before the expiry of the said period, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies.  :(2) In sub-section (1), references to the author shall, in the case of an anonymous work of joint authorship be construed,­  ::(a) where the identity of one of the authors is disclosed as references to that author;  ::(b) where the identity of more authors than one is disclosed, as references to the author who dies last from amongst such authors.  :(3) In sub-section (1), references to the author shall, in the case of a pseudonymous work of joint authorship, be construed,­  ::(a) where the names of one or more (but not all) of the authors are pseudonym and his or their identity is not disclosed, as references to the author whose name is not a pseudonym, or, if the names of two or more of the authors are not pseudonyms, as references to such one of those authors who dies last;  ::(b) where the names of one or more (but not all ) of the authors are pseudonyms and the identity of one or more of them is disclosed, as references to the author who dies last from amongst the authors whose names are not pseudonyms and the authors whose names are pseudonyms and are disclosed; and  ::(c) where the names of all the authors are pseudonyms and the identity of one of them is disclosed, as references to the author whose identity is disclosed or, if the identity of two or, more of such authors is disclosed as references to such one of those authors who dies last. Explanation-s-Pot the purposes of this section, the identity of an author shall be deemed to have been disclosed, if either the identity of the author is disclosed publicly by both the author and the publisher or is otherwise established to the satisfaction of the Board by that author.  22. Term of copyright in <mark>Government works</mark> and in works of International Organisations.- :(l) Copyright in a Government work shall, where government is the first owner of the copyright therein, subsist until <mark>fifty years</mark> from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.  :(2) In the case of a work of an international organisation to which the provisions of section 53 apply, copyright shall subsist shall until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.  23. Term of copyright in unpublished work.- :(1) If a work, whose author's identity is known, is not published posthumously within fifty years after the death of the author, such work shall fall into the public domain after fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies.  :(2) If a work, whose author's identity is not known, is not published within fifty years of its creation, such work shall fall into the public domain after fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is created.    {{Collapse bottom|}} === সংশোধন বনাম রহিতকরণ === কপিরাইটের মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি সুপরিচিত নজির রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে আমাদের প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। স্বাধীন ভারতে ১৯৯২ সালের সংশোধনী আইনের ([[:en:Indian_Copyright_Act_(3rd_Amendment)_1992|The Copyright Amendment Act, 1992]]) মাধ্যমে কপিরাইটের সাধারণ মেয়াদ ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। এই সংশোধনী পাসের সময় ভারতে যে কর্মগুলোর কপিরাইট তখনো বিদ্যমান (Alive) ছিল, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বর্ধিত ৬০ বছরের সুবিধা পেয়েছিল। প্রশ্ন আসতে পারে, ভারতে যদি বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বেড়ে থাকে, তবে বাংলাদেশে ২০০০ সালের নতুন আইন পাসের সময় বিদ্যমান কর্মগুলোর মেয়াদ কেন ৬০ বছর হবে না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে দুই দেশের আইন প্রণয়নের কাঠামোগত পার্থক্যের (''Amendment'' বনাম ''Repeal'') মধ্যে। ভারতের এই মেয়াদ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মের কপিরাইট। ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় তৎকালীন আইন অনুযায়ী তাঁর কর্মের কপিরাইট ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ভারত সরকার তড়িঘড়ি করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে মেয়াদ [https://www.telegraphindia.com/india/tagore-copyright-freedom-at-midnight/cid/910127?utm_source=chatgpt.com ১০ বছর বাড়িয়ে দেয়]। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে যখন এটিকে স্থায়ী আইন হিসেবে পাস করা হয়, তখন ভারত ১৯৯১ সালের সাময়িক অধ্যাদেশটি রেটিফাই করা সাপেক্ষে রহিত করলেও তাদের ১৯৫৭ সালের মূল আইনটিকে রহিত (Repeal) করেনি, বরং কেবল মূল একটি 'সংশোধনী' (Amendment) এনেছিল।  এই সংশোধনীর মাধ্যমে মূল আইনের পঞ্চম অধ্যায়ে 'fifty years'-এর স্থলে 'sixty years' প্রতিস্থাপিত করা হয় এবং নতুন আইনটিকে ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) ঠিক সেই ২৮ ডিসেম্বর ১৯৯১ তারিখ থেকেই কার্যকর ঘোষণা করা হয়। ফলে চলমান মূল আইন যখন 'সংশোধিত' হয়, তখন আইনের অধীনে থাকা সমস্ত বিদ্যমান বা 'অ্যালাইভ' অধিকারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সংশোধিত অবস্থার সুবিধা পায়।  বিপরীতে, বাংলাদেশ সরকার ১৯৬২ সালের মূল আইনটিকে (অধ্যাদেশ) 'সংশোধন' করেনি, বরং ২০০০ সালের আইনের ১০৫(১) ধারা দিয়ে তা সম্পূর্ণরূপে রহিত (Repeal) করে একটি নতুন আইন প্রবর্তন করে। যখন কোনো পুরোনো আইন বাতিল করে নতুন আইন আনা হয়, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরোনো আইনের অধীনে থাকা কর্মগুলো নতুন আইনের সুবিধা পায় না। কারণ, '''The General Clauses Act, 1897'''-এর ধারা ৬(c) অনুযায়ী, কোনো আইন রহিত (Repeal) হলে নতুন আইনে স্পষ্ট 'ভিন্নরূপ কোনো উদ্দেশ্য' (Different intention) না থাকলে, বাতিলকৃত আইনের অধীন অর্জিত অধিকার বা মেয়াদের কাঠামো (যেমন- ৫০ বছরের সীমা) ক্ষুণ্ণ বা পরিবর্তিত হয় না।  বাংলাদেশ যদি ভারতের মতো শুধু "মৃত কর্মগুলো আর জ্যান্ত হবে না" (ধারা ১০৫(৩)) লিখেই ক্ষান্ত হতো, তবে হয়তো বিতর্কের সুযোগ থাকত। কিন্তু আইনে ১০৫(৫) ধারায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ''"...তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন তাহা অব্যাহত থাকিবে।"''  অর্থাৎ, আইনসভা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, মেয়াদের ক্ষেত্রে নতুন আইনে তাদের 'ভিন্নরূপ কোনো উদ্দেশ্য' নেই। তারা পুরোনো আইনটি বাতিল করলেও, বিদ্যমান কর্মগুলোর মেয়াদ পুরোনো আইন (৫০ বছর) অনুসারেই চলবে। অধিকন্তু, ১০৫(৭) ধারায় 'জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট'-এর প্রয়োগ নিশ্চিত করে এই মেয়াদের সুরক্ষাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। === সার্বিক উপসংহার === উপরের বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা, ভারত ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নজিরের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, ২০০০ সালের ১৮ জুলাইয়ের পূর্বে প্রকাশিত কোনো কর্ম নতুন আইনের সাধারণ ৬০ বছরের মেয়াদের সুবিধা পাবে না। ভারতের আইনটি ছিল চলমান আইনের একটি 'সংশোধনী' হওয়ায় আতা বাংলাদেশের ২০০০ সালের সম্পূর্ণ নতুন আইনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয় না।) তাই ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারার মাধ্যমে এবং ২০২৩ আইনে তা কন্টিনিউ করার মাধ্যমে ২০০০-পূর্ব কর্মের কপিরাইটের মেয়াদ '''প্রকাশ বা লেখকের মৃত্যু + ৫০ বছর''' হিসেবেই আইনিভাবে নির্ধারিত হবে। ফলে আজকের তারিখ: {{#time: j F Y}} হিসেবে ৫০ বছর তথা {{#time: j F Y | -50 years }}-এর আগের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কর্ম কিংবা মৃত্যুবরণকারী লেখকের কর্ম উইকিসংকলনে আপলোড দিয়ে মুদ্রণ সংশোধন করতে কোনও আইনি বাধা নেই। [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৫:০৯, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}}: প্রস্তাবকারী হিসেবে। [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৭:০২, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:১৪, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * সহ-প্রস্তাবক হিসেবে {{দৃঢ় সমর্থন}}। শুরুতে আমি বরং বিরোধিতাকারী হিসেবেই প্রস্তাবককে নানান যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দুজনে মিলে দীর্ঘ আলোচলা, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও ক্রসচেক শেষে শেষপর্যন্ত এই ব্যাখ্যাতেই উপনীত হতে সক্ষম হই। ২০০০-পূর্ব প্রকাশনার জন্য এটাই এই আইনের সবচেয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা। সবশেষে, বেশ কিছুদিন ধরে নিরলসভাবে বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে আইনে লুকিয়ে থাকা এই বিধান এবং কমন্সে [[C:Commons:Village pump/Copyright#FoP in Bangladesh|বাংলাদেশের ভবনের ছবির কপিরাইট-অযোগ্যতা]]র বিষয়টি খুঁজে বের করার জন্য প্রস্তাবকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[Special:Contributions/MS Sakib|📝]]</b> ১১:৩৮, ২১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ০৭:০৫, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) :{{Comment}} — উপরে দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে আমার কিছু মতপার্থক্য আছে। নিচে তার আলোচনা করছি:— * '''ভূতাপেক্ষিতা''' — উপরে বলা হয়েছে যে নতুন আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে তা ভূতাপেক্ষ (retrospective), যা কিনা General Clauses Act অনুযায়ী হওয়ার কথা নয়; ফলে নতুন আইন দিয়ে পুরনো আইনের অধীনে প্রকাশিত বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারে না। আমার তা মনে হয় না। যে বইয়ের কপিরাইট জীবিত আছে, সেই জীবিত কপিরাইটের জীবৎকাল বাড়ানোকে ভূতাপেক্ষ বলা যায় কি? যদি তা হয়, তবে কবে থেকে ভূতাপেক্ষ? যদি পুরনো আইনের জন্মলগ্ন থেকে ভূতাপেক্ষ হয়, তবে যেসব বইয়ের কপিরাইট অধুনা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু পুরনো আইনের আমলে কিছুকাল আগে কপিরাইটে ছিল, সেই বইগুলিও এই ভূতাপেক্ষিতার সুযোগ লাভ করত এবং তাদের কপিরাইট পুনর্জীবিত হত। কিন্তু তা হয় না। কপিরাইট শেষ হয়ে গেলে এই তথাকথিত ভূতাপেক্ষ প্রাবধান দিয়ে কপিরাইট আর ফিরে আসে না। এতেই প্রমাণিত হয় যে এটা ভূতাপেক্ষ নয়; নতুন আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বাড়লে তা ভূতকাল থেকে বাড়ে না, বরং বর্তমান কাল থেকে বাড়ে। সেজন্যেই বিগত-কপিরাইট বইগুলি এর সুবিধা পায় না। ফলে এর সঙ্গে General Clauses Act-এর কোনই সংঘাত নেই। * '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''' — ১৯৯২ সালে ভারতীয় কপিরাইট আইন সংশোধন করে কপিরাইটের মেয়াদ লেখকের মরণোত্তর ৫০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। সেসময় রবীন্দ্রসাহিত্যের কপিরাইট ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন বিশ্বভারতীর কাছে। তাই এই অতীব লাভজনক কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধিই ছিল আইন-সংশোধনের মূল কারণ। প্রস্তাবকের মতে এমনটা হওয়া ভূতাপেক্ষ, তাহলে কিভাবে হল? প্রস্তাবকের দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী ১৯৯২-তে নতুন আইন না বানিয়ে চলমান আইনের সংশোধন হয়েছিল, তাই এটা ভূতাপেক্ষ নয়; নতুন আইন বানালে ভূতাপেক্ষ হত। বেশ, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের লেখাগুলো তো চলমান ১৯৫৭-এর আইনের অধীনে প্রকাশিতই হয় নি। রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার লেখাগুলি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৪৭-এর আইনের অধীনে (তাতে লেখকের মরণোত্তর সাত বছর কপিরাইট থাকত), আর পরের দিকের বইগুলি প্রকাশিত হয় ১৯১৪-এর আইনের অধীনে (তাতে মরণোত্তর ৫০ বছরের বিধান ছিল)। ১৮৪৭ এবং ১৯১৪-এর সাপেক্ষে ১৯৫৭-এর আইন হচ্ছে নতুন আইন। এই নতুন আইন দিয়ে কিভাবে রবীন্দ্রসাহিত্যের মেয়াদবৃদ্ধি করা গেল? এটা কি ভূতাপেক্ষ হচ্ছে না? প্রস্তাবক দেখাতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারা একটা ভূতাপেক্ষিতা-প্রতিরোধক ব্যবস্থা, যার কারণে ২০০০-এর আইন দিয়ে আগের বইগুলির কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটেনি। কিন্তু একই ব্যবস্থা তো ভারতীয় আইনেও ছিল। ভারতের ১৯৫৭-এর আইনের ৭৯(৫) ধারা এবং বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারা অবিকল এক ধারা, শুধু ধারার নম্বর আলাদা। কাজেই একই নিয়মের উপস্থিতিতে ভারতে যদি কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটে থাকে, তবে বাংলাদেশে তা ঘটেনি বলে কেন আমরা ধরে নেব? * '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''' — এখানে মনে পারে, ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইন ভিন্নপথগামী, তাই পরিণতিও ভিন্ন। কিন্তু ব্যাপারটা সেরকম নয়। দুদেশেরই আইনি পরিকাঠামো, বিভিন্ন স্থানীয় সংশোধনী সহ, কলোনিয়াল লেগ্যাসি। ব্রিটিশদের বানানো General Clauses Act, স্থানীয় সংশোধনী সহ, দুদেশেই চালু আছে। কাজেই একটার সঙ্গে অন্যটা তুলনাযোগ্য। কাজেই ভারতীয় আইনে যদি কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারে, তবে একই ব্যবস্থাযুক্ত বাংলাদেশি আইনে তা না বাড়ার কোন কারণ নেই। তাহলে ১০৫(৫) ধারার উপযোগিতা কী রইল? হ্যাঁ, উপযোগিতা আছে বৈকি, কিন্তু তা প্রস্তাবকের ব্যাখ্যার অনুসারী নয়। নিচে অন্যভাবে ব্যাখ্যার চেষ্টা করছি। * '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''' — যখন পুরনো আইন বাতিল করে নতুন আইন রচিত হয়, তখন নতুন আইনের শেষদিকে একটা রহিতকরণ ধারা (repeal section) থাকে। ভারত ও বাংলাদেশ দুদেশেই এই দস্তুর। পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকরা নতুন আইন দিয়ে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটা নিশ্চিত করতে এই ধারায় কয়েকটা উপধারা থাকে। নতুন আইনে কি সুবিধা পাওয়া যাবে বা যাবে না, সেসব এই ধারায় থাকে না, শুধু পুরনো আইনই এর ফোকাস। বাংলাদেশি আইনের ১০৫(৫) ধারা এই রহিতকরণ ধারার একটা উপধারা। এই ধারা দিয়ে পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকদের লেখকের মরণোত্তর ৫০ বছর কপিরাইটের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন আইনে মেয়াদ যদি ৫০ থেকে কমিয়ে ৪০ বছর করা হত, তাহলেও পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকদের, এই ধারার কারণে, ৫০ বছরের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকত। কিন্তু নতুন আইনের সুবিধা-অসুবিধার জন্য এই ধারা নয়। অর্থাৎ, পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকরা এই ধারা অনুযায়ী ৫০ বছরের অধিকার পাওয়ার পর, নতুন আইনের উপযুক্ত ধারা অনুযায়ী আরও অতিরিক্ত ১০ বছর পেতে পারেন। তাতে কোনই বাধা নেই। * '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''' — দেশে নতুন রাজা হলে পুরনো রাজার বিদ্যমান প্রজারা স্বতস্ক্রিয়ভাবে নতুন রাজার প্রজা হয়ে যায়। সেইরকম, নতুন কপিরাইট আইন হলে আগে থেকে কপিরাইটে থাকা বইগুলি স্বতস্ক্রিয়ভাবে নতুন আইনের আওতায় চলে আসে, ফলে তাদের কপিরাইটের মেয়াদ কমানো না গেলেও বাড়ানো যায়। এই কারণেই ভারতে রবীন্দ্রসাহিত্যের কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটেছিল। * '''ব্যবহারিক উদাহরণ''' — এটা সবারই জানা যে বিখ্যাত বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই অন্যান্য প্রকাশকরা সেগুলি ছেপে বাজারে ছাড়তে থাকে। রবীন্দ্রসাহিত্যের বেলাতেও এই ব্যাপার ঘটেছিল। যদি বাংলাদেশে ২০০০ সালের আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ না বেড়ে থাকে, তবে ১৯৫০ ও পরবর্তীতে মৃত লেখকদের বইগুলি এর সুবিধা পায় নি। সেক্ষেত্রে লেখকমৃত্যুর পর ৫০ পেরোনো কিন্তু ৬০-অনুত্তীর্ণ বিভিন্ন বিখ্যাত বই অবশ্যই অন্যান্য প্রকাশকরা বাজারে ছেড়ে থাকবেন। প্রস্তাবকের কাছ থেকে এমন কিছু ব্যবহারিক উদাহরণ আশা করছি, যাতে এই কপিরাইট না বাড়াটা পরিষ্কারভাবে প্রতিপন্ন হয়। — [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১২:৪২, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) *:{{ping|Hrishikes}} প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষাগত কারণে উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় আমি দুঃখিত। *:<br>১। '''ভূতাপেক্ষিতা''' — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তৎকালীন সময়ে আইনানুযায়ী খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক'কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়ার সুযোগ নেই। *:<br>আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্সটি কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ অথবা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে আইনের পরবর্তী নতুন প্রকাশিত বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে নতুন লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়। *:<br>ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেককাল আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন বর্তমানে মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না; বরং তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলে আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে। *:<br>এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়। *:<br>আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। <div style="float: right; margin-left: 15px; margin-bottom: 5px; border: 2px solid yellow"> {{show |1= আন্তর্জাতিক উদাহরণ |2=আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই }}</div> *:<br>এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি। *:<br>এই অংশে আমি বেশ কিছু দাবি করেছেন। যদিও আমি মনে করি দাবিসমূহ আইনের ভিত্তিতে নয়, আপনি চাইলে আপনার দাবির আইনি উৎস ব্যক্ত করতে পারেন। *:<br>২। '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''': রবীন্দ্রনাথের কিছু কর্ম ১৮৬৭ সালের আইনের অধীন প্রকাশিত হয়েছে। ১৯১৪ এর আইনের [https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা] অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি। *:<br>৩। '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''': বাংলাদেশ ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' এবং ভারতীয় ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদের বৃদ্ধি ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন একটা সংশোধনী আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২'' দ্বারা ভারতের কপিরাইট মেয়াদ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' থেকে আলাদা একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২''-এর ৩ নং ধারা শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইন ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা। *:<br>আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০-এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আংশিক আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২'' এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো মেয়াদ আটকানোর ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে। *:<br>আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কিছুই প্রামণ্য নয়। আপনার, আমার, আইনজীবীর, সংবাদপত্রের সাংবাদিকের, আইন প্রণেতার, সরকারি কর্মচারীর, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-24.html The Evidence Act, 1872]) এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল<sup>[https://www.cambridge.org/core/books/abs/trials-for-international-crimes-in-asia/trials-for-international-crimes-in-bangladesh/995CD8AA54604F855E32F031EF19E2D4]</sup> <small><sub>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-435/section-12495.html ধারা ১৯(৫) The International Crimes (Tribunals) Act, 1973])</sub></small>। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ব্যাপারে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে। *:<br>সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রতিটি দেশ আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে যে, মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাগু হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আলাদা আইন পাশ করানো হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি সংবেদনশীল, গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই প্রতিটি দেশ অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। সরকার stakeholder-দের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন"-এর খসড়া ২০১৫ সাল হতে লেখা হচ্ছে।<sup>[https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-sid/2024/12/bad818b033344c2faa5ad1276e9ad0d9.pdf]</sup> কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক<sup>[https://obhanmason.com/blog/copyright-in-perpetuity/]</sup> ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এখানে উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম সংবেদনশীল কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52693.html ধারা ৬৭])। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে তাড়াহুড়ো হয়েছে বলে একটি যুক্তি দেওয়া সম্ভব। আমার মতে স্বল্প সময়ে সম্মানিত তৎকালীন ভারতীয় আইন প্রণেতাদের এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে উপযুক্ত ছিল। কিন্তু এই কারণে ভারতের এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। তাই আমার মূল প্রস্তাবনার ভারতীয় আইনে অংশকে তার মাতৃ উৎসের মতোই খানকিটা সাংঘর্ষিক মনে হওয়ার সুযোগ আছে। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে <u>বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়;</u> কেননা যথাযথ কারণে এই নজির প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো? আমার মতে ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে একটি ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। যেহেতু ৭৯(৫) এর শুরুতেই লেখা আছে ''"এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে"'', তাই সংঘর্ষ সৃষ্টি হবে না এবং মেয়াদ বৃদ্ধি বৈধ থাকবে। এই কারণে মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়। *:<br>৪। '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''': আমি আগে ভূতাপেক্ষিতা অংশে বলেছি, আইনের নাম, ধারার নাম অথবা ধারার সাধারণ নাম কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারে না। পারে শুধুমাত্র আইনের মূল পাঠ্য। আপনার প্রদত্ত মতামতে আইনের কোনো ধারা উল্লেখ করে তার আক্ষরিক বিশ্লেষণ নেই। বরং আপনার মতামত বাংলাদেশের আইনের ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমাদের আইনের প্রতিটি শব্দের থেকে এক চুলও নড়বার সুযোগ নেই। আমি ১০৫(৫) ধারা শব্দ ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এই ধারার ব্যাখ্যায় আমার কোন যুক্তি কেন ভুল, তা তুলে ধরুন। ধারায় বলা আছে, ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' এবং এর ইংরেজি অনুবাদে বলা আছে, ''"shall continue to be entitled to".'' এখানে "অব্যাহত" এবং "continue" এর অর্থ কি কোনো অভিধানে বলা আছে যে, "কর্মের স্রষ্টার অধিকার কমলে নতুন নিয়ম চলবে এবং বেশি থাকলে আগের নিয়ম থাকবে"? কোনো অভিধানে এই ব্যাখ্যা পাবেন না আপনি। আমি মূল প্রস্তাবনায় অভিধানিক অর্ধ দিয়েছি। অব্যাহত এবং continue অর্থ, আগে যা ছিল, তাই থাকবে। এখানে লাভ-ক্ষতির বা কমা-বাড়ার কোনো হিসেব নেই এবং থাকারও সুযোগ নেই। অব্যাহত শব্দ দ্বারা আপনি যদি ভিন্ন কিছু বুঝে থাকেন তাহলে অনুগ্রহ করে তা ব্যক্ত করুন। উল্লেখ্য একটি শব্দ একেকজন একেকভাবে বুঝতে পারে। তাই অভিধানিক ব্যাখ্যা বেছে নেওয়া বেশি শ্রেয়। আবার এই ধারাটি সম্পূর্ণ হুবুহু ঔপনেবেশিক আইনের ইংরেজি বাক্যের অনুবাদ। এর উৎস ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, এর অর্থ universally accepted "আগে যা ছিল তা"; এর সাথে বাড়া-কমা বা লাভ-ক্ষতির হিসেব নেই। যদিও ১০৪নং ধারা অনুযায়ী বাংলা সংস্করণ থেকে সিদ্ধান্তে আসা উচিত, ইংরেজি এই উৎস আইনের ইচ্ছা বুঝতে সাহায্য করবে। আইনের বাহিরে গিয়ে আমরা কেউ মনগড়া ব্যাখ্যা দাড়া করাতে পারি না। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হলে আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। বস্তুত আপনার ব্যাখ্যা "শর্ত সাপেক্ষে অধিকারের মেয়াদ সংরক্ষণ" যদি আইন করতে চাইতো, তাহলে আইন আলাদা করে তা বলতে পারতো। কিন্তু তা করা হয়নি। অধিকারের ক্ষেত্রে ১০৪(৪) ধারা রয়েছে। এবং ১০৫(৫) দ্বারা মেয়াদ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। শর্ত প্রয়োগ করলে তা উল্লেখ করে দিতো আইন। ১০৫(৪) সরাসরি ''সুবিধা-অসুবিধা'' (অধিকার স্থানান্তর)-এর কথা বলা আছে। তাই "এই ধারা ''সুবিধা-অসুবিধার'' জন্য না" বলাটা আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী। *:<br>৫। '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''': আপনি বারংবার আইনের পাঠ্য বাদ দিয়ে, আইনের নাম, সাধারণ নাম এবং কনসেপ্ট ধরে ব্যাখ্যা প্রকাশ করছেন। আপনার এই দাবির আইনি ভিত্তি কি? আমি আইনের লেখা ও আদালতের রায় ব্যতীত এক চুলও সরার পক্ষপাতি নই। আগের আইনের কর্ম নতুন আইনে আনতে হলে সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, যেমনটি করেছে ভারতীয় ''কপিরাইট আইন, ১৯১৪''([https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা]) এবং বাংলাদেশ ''কপিরাইট আইন, ২০২৩'' ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html ধারা ১২৭])। নতুন আইনের আওতায় কী শর্তে পুরাতন কর্ম এসেছে, সেটাও উল্লেখ করা আছে এই আইন সমূহে।<sup>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html]</sup> আগের আইনের কী বহাল থাকবে এবং কী থাকবে না তাও বলা আছে। কপিরাইট আইন, ২০০০-ও বলে দিয়েছে আগের কর্মের কী কী হবে। তন্মদ্ধে ১০৫(৫) বলেছে মেয়াদ অক্ষুণ্ণ থাকবে। *:<br>৬। '''ব্যবহারিক উদাহরণ''': অন্যান্য প্রকাশকরা লাইসেন্স ফির বিনিময়ে বই প্রকাশ করেছে নাকি পাবলিক ডোমেইন বলে বই প্রকাশ করেছে তা প্রমাণ করবেন কিভাবে। আমি লক্ষ লক্ষ বই উদাহরণ দিলাম। কিন্তু আপনার বলার সুযোগ থাকবে, এরা লাইসেন্স করে অর্থের বিনিময়ে পুনঃপ্রকাশ করেছে। আলাদা করে বইয়ের গায়ে লেখা থাকে না এই বিষয়। ব্যবহারিক উদাহরণ আইনের আদালতে কোনো সিধান্ত গ্রহণকারী ফ্যাক্টর হতে পারে না।([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-24.html The Evidence Act, 1872]) কপিরাইট একটি কঠোর ও জটিল আইন। তাই এখানে ''Chilling Effect'' কাজ করতে পারে। Chilling Effect এমন একটি মানসিক বা সামাজিক অবস্থা যেখানে মানুষ আইনি জটিলতা বা কঠোর শাস্তির ভয়ে নিজের ওপর অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে বর্তমানে এই পরিস্থিতি বিরাজমান।<sup>[https://www.npr.org/2022/03/30/1089462508/teachers-fear-the-chilling-effect-of-floridas-so-called-dont-say-gay-law]</sup> তাই আলদালতে ব্যবহারিক উদাহরণকে আমলে নেওয়া হয় না। আবার, যদি এই ১০ বছর সময়কালে কোন বিখ্যাত বা পুনঃপ্রকাশ যোগ্য কর্ম না থাকে বা প্রকাশকদের অনীহা থাকে তাহলে কি করবেন? তাও আমি উদাহরণ দিচ্ছি। [[:w:সৈয়দ মুজতবা আলী|সৈয়দ মুজতবা আলী]]র মৃত্যু ১৯৭৪ সালে বা ৫২ বছর আগে। তার বিখ্যাত গ্রন্থ [[:w:দেশে বিদেশে|দেশে বিদেশে]]। এই বইটি [https://www.rokomari.com/book/80412/deshe-bideshe বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র], [https://www.prothoma.com/shop/deshe-bideshe-31138 প্রথমা প্রকাশনা], [https://www.rokomari.com/book/25566/desh-bedeshe স্টুডেন্ট ওয়েজ], [https://www.rokomari.com/book/318056/deshe-bideshe নিউ এজ পাবলিশার্স] প্রকাশ করছে বর্তমানে। আমি নিশ্চিত যে আপনি খুঁজলে বা বইয়ের দোকানে গেলে আরও উদাহরণ পাবেন। কিন্তু এরা পাবলিক ডোমেইন বলে মুক্তভাবে প্রকাশ করছে নাকি লাইসেন্স ফির বিনময়ে তা জানার জন্য তাদের সাথে আলাদা আলাদ করে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, তাই আলাদা কওরে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি আমি। *:<br>আমি আপনার মতামতের প্রতিটি বাক্য ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এরপর মতবিরোধের জায়গা থাকলে আইনের পাঠ্য ধরে করুন এবং আমার যুক্তি কেন অসন্তোষজনক সেটি উল্লেখ করে আইনি ভিত্তিতে প্রতিযুক্তি দিন। ধন্যবাদ। *:[[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ০৭:০৩, ৩০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) ::আপনার যা বক্তব্য, “আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই।”; এটা একটা ইজ্‌ম, যাকে বলে textualism. আইনের দুটো দিক, letter of law এবং spirit of law. শুধু letter of law আইনের সব কথা নয়, শেষ কথাও নয়। মার্কিন সংবিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে লেটার-বাদী আর স্পিরিট-বাদীদের মধ্যে বিতর্ক আছে, তা ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় পাবেন। তবে আমার পক্ষে ভারতীয় উদাহরণ দেওয়া সহজ। Spirit of law অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধানের একটা spirit তথা basic tenets আছে, সংসদ এর বাইরে গিয়ে আইন বানালে সুপ্রিম কোর্ট তা নাকচ করে দিতে পারে। ভারতে Public Interest Litigation নামে একটা সিস্টেম আছে, সেটা সংসদে পাশ হওয়া কোন আইন থেকে আসে নি, বরং সুপ্রিম কোর্টের spirit of law বিষয়ক ভাষ্য থেকে এসেছে। সমলিঙ্গ সম্পর্কের ওপর “বেআইনি” তকমা (৩৭৭ IPC) আদালতের spirit of law ব্যাখ্যায় সরে গিয়েছিল। সেই কারণে আইনের হুবহু পাঠই শেষ কথা নয়, আইনের সাধারণ প্রবণতা, পরম্পরা, আইনের কোন্ অধ্যায়ে ধারা বা উপধারাটা আছে, ধারার হেডিং কি, এসবও গুরুত্বপূর্ণ। * ভূতাপেক্ষ শব্দটা আলোচনায় আমি আমদানি করিনি, আপনার বক্তব্য থেকেই শব্দটা নেওয়া। এটা যে ব্যাখ্যামূলক শব্দ, এবং সরাসরি আইনে থাকে না, সেটাও আমার জানা আছে। কপিরাইটের জীবিত থাকার ব্যাপারটা যে biological অর্থে বলা হয় নি, সেটা বুঝতে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট। যেসব আন্তর্জাতিক উদাহরণ আপনি দিয়েছেন, তার সবেতেই নতুন আইনে মেয়াদ বাড়লে কপিরাইটভুক্ত পুরনো বইগুলোরও মেয়াদ বেড়েছে। ঐসব আইনের বাচনভঙ্গি পুরনো ব্রিটিশ লেগ্যাসিভুক্ত উপমহাদেশীয় আইনগুলির বাচনভঙ্গি থেকে আলাদা হতেই পারে, কিন্তু ধারণাটা একই, যে, নতুন আইনে কপিরাইটভুক্ত পুরনো বইয়ের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটে থাকে। * আপনার বক্তব্য অনুযায়ী ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। আমার কাছে এমন কিছু প্রতিভাত হয় নি। অব্যাহত শব্দের অর্থ আপনি ভুল বুঝেছেন। অভিধান খুললে দেখবেন, ব্যাহত মানে বাধাপ্রাপ্ত। কোন কিছুর প্রবাহ আটকে দিলে তা ব্যাহত বা বাধাপ্রাপ্ত হয়। প্রবহমানতা বাড়িয়ে দিলে ব্যাহত হওয়ার কোন ব্যাপারই নেই। কাজেই ১০৫(৫)-এ শুধু মেয়াদ-হ্রাসই আটকানো হয়েছে, মেয়াদ-বৃদ্ধি নয় (এ-ব্যাপারটা নিচে বিশদে দেখাচ্ছি)। * ভারতের আইনকে sloppy বলাটা শিষ্টাচার-বিরুদ্ধ হয়েছে। “আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।” — এটা অজ্ঞতা-প্রসূত মন্তব্য। ভারতের এই সাময়িক অধ্যাদেশগুলি সংসদের অধিবেশন চলাকালীন জারি করা যায় না। সংসদ যখন অধিবেশনে থাকে না, তখন আইন প্রণয়ণ করার আপৎকালীন প্রয়োজন অনুভূত হলে অধ্যাদেশ জারি হয়। কিন্তু অধ্যাদেশ সাময়িক হওয়ায় এর সময়সীমার মধ্যে সংসদীয় আইন দিয়ে অধ্যাদেশ জারির দিন থেকে তা আত্তীকরণ করতে হয়, নইলে তা তামাদি হয়ে যায়। আপনি একটা ব্লগ থেকে সংসদীয় বিতর্কের যে আংশিক রূপ পেয়েছেন (সম্পূর্ণটা অফিসিয়াল সাইটে আছে) তা অধ্যাদেশ নিয়ে নয়, বরং পরবর্তী প্রতিস্থাপক আইন নিয়ে। সেটা সাংসদদের রাজনৈতিক বিতর্ক (সংসদে যেটা হয়ে থাকে), আইনের টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি নিয়ে নয়। সেই আইনটা তার সংশোধন কার্য সম্পন্ন করার পর Repealing and Amending Act, 2001 দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। যাই হোক, আইনটা জারি হয়েছে ১৯৯২-এর এপ্রিলে, কাজেই বিষয়বস্তু পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞদের কাছে সময় ছিল। আপনার ভিন্নমত সত্ত্বেও, ১৯৫৭-র আইন সংশোধন করে যে পুরনো আইনের অধীনে প্রকাশিত কিন্তু তখনও কপিরাইটে থাকা বইয়ের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ আইনবিদদের মনে সন্দেহ ছিল না বলেই বিল বানিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছিল, নইলে অধ্যাদেশটাকে তামাদি হতে দেওয়া হত। কাজেই এটা কোন sloppy কাজ নয়। * বাংলাদেশের ২০২৩-এর আইন কিছুটা অন্য পথে গেছে ঠিকই, কিন্তু ২০০০-এর আইনটা গতানুগতিকতার মধ্যেই আছে। ভারতের ১৯৫৭-র আইন ও বাংলাদেশের ২০০০-এর আইন — এদুটোকে পাশাপাশি রেখে পড়লে স্বতই মনে হয় একটার অনুপ্রেরণায় অন্যটা রচিত (আসলেই কপি করা হয়েছে সেকথা বলছি না)। যেটাকে উইকিতে আমরা Edict-Gov বলি, অর্থাৎ ভারতীয় আইনের ধারা ৫২ আর বাংলাদেশের ধারা ৭২, এদুটো পাশাপাশি রাখলেই মিলটা বোঝা যাবে। সেজন্যেই ভারতীয় আইনকে sloppy বলে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশি আইনের ব্যাখ্যা মার্কিন আর ইউরোপীয় আইন দেখিয়ে করা যায় না। * এবার আপনার “আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে” এই textualist দাবির বিষয়ে দেখছি। ** বাংলাদেশের ১০৫(৪) অনুসারে আগের বইগুলোর কপিরাইটের অধিকার নতুন আইন চালু হওয়ার পর থেকে নতুন আইনের ধারা ১৪ অনুসারে প্রযুক্ত হবে, এমনকি নতুন আইনে নতুন অধিকার থাকলে সেগুলিও পুরনো বইতে বর্তাবে। এতদ্বারা পুরনো বইগুলো নতুন আইনের আওতায় এসেছে। তবে এতে মেয়াদ সম্পর্কে কিছু বলা নেই। ** ১০৫(৩) অনুসারে নতুন আইন আগের আইনের অধীনে প্রকাশিত বিগত-কপিরাইট বইয়ের কপিরাইট পুনরুদ্ধার করবে না। বিগত-কপিরাইট বইয়ের জন্য এই exclusion principle থাকায় কপিরাইটভুক্ত বইগুলি স্বতই অন্তর্ভুক্ত হয়। ** ধারা ১৩ অনুসারে কপিরাইট শুধু নতুন আইন অনুসারেই চলতে পারবে। অর্থাৎ রহিত আইন অনুসারে কপিরাইট চলতে পারবে না (বলা বাহুল্য, আগে যা অধিকার দেওয়া হয়ে গেছে, সেটার কাটছাঁট না করে, তথা “অব্যাহত” রেখে)। ** কপিরাইট নতুন আইন অনুযায়ী চলতে হলে ধারা ২৪ অনুযায়ী মরণোত্তর ৬০ বছরের বিধানও লাগু হবে। এই ধারায় আগের বইগুলোর জন্য কোন exclusion principle দেওয়া নেই, ফলে এটা generic ভাবে সর্বত্র প্রযোজ্য। ** এবার General Clauses Act, যাকে পাশ কাটিয়ে উপমহাদেশে কোন আইন রচনা করা যায় না। *** প্রথমে ৬ নম্বর ধারা দেখা যাক, যার বক্তব্য ২০০০-এর আইনের ১০৫ ধারায় বিধৃত। ১০৫(৩) এসেছে GC আইনের 6(a) থেকে। ১০৫-এর (২) এবং (৫) আগেকার অধিকার ও দায় (rights and liabilities) সম্পর্কিত, যা এসেছে GC আইনের 6(c) থেকে। ক্রিয়াপদ হিসাবে ১০৫(২)-তে আছে “খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না” (nothing in this section shall diminish or prejudice) এবং ১০৫(৫)-এ আছে “অব্যাহত থাকিবে” (shall continue to be entitled to)। GC আইনের 6(b) থেকে 6(e)-তে একটাই ক্রিয়াপদ: to affect. আভিধানিক অর্থে বাড়ানো বা কমানো দুটোতেই affect হয়। কিন্তু এটা উনিশ শতকের শেষদিকের আইন। সেযুগে আইনের পরিভাষায় affect বলতে কি বোঝাত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত [[:en:Page:Black's Law Dictionary (Second Edition).djvu/54|ব্ল্যাকের আইন অভিধান]] অনুসারে “This word is often used in the sense of acting injuriously upon persons and things.” অর্থাৎ সেযুগের আইনি ব্যবহারে affect দিয়ে কমানো বোঝায়, বাড়ানো নয়। সেজন্যেই ১০৫ ধারায় “খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না” লিখেছে। “অব্যাহত থাকিবে”-কেও এভাবেই বুঝতে হবে, কারণ GC আইনে দুটোই affect. *** এবার অন্য ধারা দেখা যাক। ধারা ২৪ অনুসারে এক আইন রহিত হয়ে একই বিষয়ে পরিবর্তনসহ বা অপরিবর্তিত ভাবে নতুন আইন হলে, পুরনো আইনের অধীনে জারি করা ব্যবস্থাগুলি চলতে থাকবে, যদি না তা নতুন আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ (inconsistent) হয়, এবং ধরে নেওয়া হবে যে নতুন আইন অনুসারে এই ব্যবস্থাগুলি চলছে; এবং পরে নতুন আইনের কোন ব্যবস্থা পরিবর্তিত (superseded) হলে পুরনো ব্যবস্থাগুলিও পরিবর্তিত হবে। *** GC আইনের ৬ ও ২৪ নং ধারা থেকে এই ব্যাখ্যাই দাঁড়ায় যে কপিরাইটের মেয়াদ সংক্রান্ত আগের আইনের ব্যবস্থা পুরনো বইয়ের জন্য নতুন আইন অনুসারে চলতে থাকবে কিন্তু সময়টা নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য ৫০-এর জায়গায় ৬০ বছর হবে। * ব্যবহারিক উদাহরণ বিষয়ে লক্ষ লক্ষ উদাহরণের নামে আপনি দিয়েছেন শুধু ভারতীয় বইয়ের উদাহরণ (''দেশে বিদেশে'' ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত)। বড় বড় প্রকাশকদের আইনি টিম থাকে, ফলে তারা আইনি পরামর্শ সহজেই পেতে পারে, chilling effect-এর কোন সম্ভাবনাই নেই। মূল কোম্পানি বইয়ের প্রকাশ ও বিক্রি চালাতে থাকলে একই দেশে অন্য কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয় না, দিলেও একসঙ্গে অনেক কোম্পানিকে দেয় না। License fee, chilling effect, বিখ্যাত বই না থাকা, এসব শুধুই অযুক্তি। পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ যে বাড়ে নি, সেটা বাংলাদেশের প্রকাশকরা বুঝতে পারল না, আর আপনি শুধু একাই বুঝতে পারলেন? আর এটা আদালত নয়, একটা আলোচনাসভা। এখানে এভিডেন্স অ্যাক্ট দেখিয়ে ব্যবহারিক উদাহরণকে পাশ কাটানো যায় না। * যাক, প্রকাশকরা না হয় নাই বুঝল, বাংলাদেশের বিদ্বজ্জনরাও কি বোঝে নি? বাংলাপিডিয়া একটা সরকারি প্রকাশনা। সেখানে [https://en.banglapedia.org/index.php?title=Copyright কপিরাইট] নিবন্ধে লিখেছে “In the Bangladesh Copyright Act 2000, the period has been fixed at 60 years.” কপিরাইটের দুরকম ব্যবস্থা থাকলে এখানে লিখল না কেন? এছাড়া [https://www.universepg.com/public/img/storage/journal-pdf/Sketch%20of%20the%20copyright%20act,%202000%20in%20Bangladesh%20enforcement,%20impediments%20and%20solutions.pdf এই নিবন্ধটা] দেখুন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের আইনবিদদের লেখা, ২০০০-এর আইনের ওপরে। এখানেও ৬০ বছর দিয়েছে, পুরনো বইয়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থার কথা কিছু লেখেনি। এরকম আরও কিছু লেখা পড়লাম, কোথাও দুরকম ব্যবস্থার কথা (৬০ ও ৫০) লেখা নেই। বাংলাদেশের ৬০-অনুত্তীর্ণ পুরনো বইয়ের সংখ্যা এখনও বিশাল। সেইসব বইয়ের আলাদা কপিরাইট মেয়াদের কথা কেউ কিছু লিখছে না কেন? কেউ কি এটা জানে না? সব দেখেশুনে আমি যা বুঝলাম, এই দুরকম কপিরাইট-মেয়াদের ব্যবস্থা শুধু আপনার কল্পনাতেই আছে, আর কোথাও নেই। উইকিমিডিয়া প্রকল্পগুলিতে বক্তব্য-প্রতিষ্ঠার জন্য secondary ও tertiary source-এর কদর আছে, কিন্তু আইনগুলি সবই primary source. কাজেই আপনার বক্তব্যটাকে অরিজিন্যাল রিসার্চের পর্যায়ে ফেলা যেতে পারে। আমি একজন সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ সম্পাদক, কোন আইনজ্ঞ নই। কিন্তু এটুকু বলতে পারি যে অরিজিন্যাল রিসার্চের উপর ভিত্তি করে (যেটা আদৌ আমার কাছে convincing মনে হয়নি) কপিরাইটের মত জটিল বিষয়ে উইকিসংকলনে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে না। আপনি আপনার এই রিসার্চ কোন প্রতিষ্ঠিত আইনের জার্নালে প্রকাশ করতে পারেন। তারপর peer review-তে যদি দেখা যায় যে প্রতিষ্ঠিত আইন-বিশারদরা আপনার বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, তখন আপনার নিবন্ধকে রেফারেন্স হিসেবে দেখিয়ে উইকিসংকলনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা যেতে পারে। আমাদের বিতর্ক অনেক হলো, এবার দেখা যাক, অন্য সম্পাদকরা কি বলেন। [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১৩:২৯, ৩০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) :ব্যস্ততার জন্য শুধুমাত্র কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করছি :১। "অব্যাহত" এর সাথে এর সময়কালও বলা আছে "তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন", অর্থাৎ এইখানে সময়কাল দেওয়া আছে, যে পূর্বের সময়কাল বজায় থাকবে। আইনসভা যখন পরিষ্কার করে বলছে ‘আইন পাস না হলে যা হতো, তা-ই থাকবে’, তখন তারা মূলত একটি Time-lock বা মেয়াদের সীমা টেনে দিয়েছে। :২। কপিরাইট কোনো ‘প্রাকৃতিক অধিকার’ বা ‘সংবিধানের মৌলিক কাঠামো’র অংশ নয়। এটি একটি Statutory Right বা আইন দ্বারা সৃষ্ট অধিকার। বিধিবদ্ধ আইনের ক্ষেত্রে বিচারিক ব্যাখ্যা তখনই ‘Spirit’ খোঁজে, যখন আইনের ভাষা অস্পষ্ট থাকে। বাংলাদেশের ২০০০ সালের আইনের ১০৫(৫) ধারার ভাষা অত্যন্ত গাণিতিক এবং স্বচ্ছ। যেখানে ভাষা স্পষ্ট, সেখানে ‘Spirit’-এর দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত ১০ বছর যোগ করা আইনসভার ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। :৩। GCA-এর ২৪ নম্বর ধারা প্রযোজ্য হয় তখন, যখন নতুন আইন পুরোনো আইনের কোনো প্রবিধান বা আদেশ সম্পর্কে নীরব থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের ২০০০ সালের আইনের ১০৫(৫) ধারাটি একটি Explicit Saving Clause। GCA-এর ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো আইন রহিত হয়, তখন নতুন আইনে ‘ভিন্নরূপ উদ্দেশ্য’ (Different intention) না থাকলে পুরোনো মেয়াদের কাঠামোই বজায় থাকে। ১০৫(৫) ধারাটিই হলো সেই ‘ভিন্নরূপ উদ্দেশ্য’ যা নিশ্চিত করেছে যে পুরোনো কর্মগুলো নতুন আইনের ‘৬০ বছর’ মেয়াদের ছাঁচে পড়বে না। :৪। একাডেমিক নিবন্ধ বা এনসাইক্লোপিডিয়া সাধারণত আইনের মূল সুর (General Rule) নিয়ে আলোচনা করে, তারা প্রতিটি আইনের Transitional Provisions বা ‘সংক্রমণকালীন বিধান’ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে না। ল জার্নালের সাধারণ আলোচনা কখনোই আইনের বিধিবদ্ধ ধারাকে বাতিল করতে পারে না। নীরবতা মানেই এই নয় যে আইনটি পরিবর্তিত হয়ে গেছে। :৫। আইনের কোনো ধারা নিয়ে যদি দুটি ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে, তবে আদালত সবসময় কোন ব্যাখ্যাটি বেছে নেবে? যা জনসাধারণের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে (Public Access) প্রসারিত করে নাকি স্রষ্টার একচেটিয়া অধিকার। ১০৫(৫) ধারা যেহেতু পুরোনো মেয়াদের (৫০ বছর) দিকে সরাসরি নির্দেশ করছে, তাই একে টেনে বড় করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা যৌক্তিকতা নেই। :৬। বাংলাদেশে কপিরাইট লঙ্ঘনের হাজারো মামলা কেন হচ্ছে না? কারণ কপিরাইট এনফোর্সমেন্ট এমনিতেই দুর্বল। এই দুর্বলতাকে আইনের ‘বৈধতা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায় না। আবার এই ১০ বছরের সময়কালের বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশ বই খোঁজা কষ্টকর। :৭। ভারতীয় মেয়াদ "সংশোধনী" আইন দ্বারা বেড়েছে। এই আলাদা আইনটি খুলে দেখতে পারেন। সেখানে ভুতাপেক্ষিতার যে ধারা আছে সেখানে মেয়াদের ধারাটি নেই। :৮।আবার ১০৫(৫)কে যদি আপনি না মানেন তাহলে ১৯৯০-২০০০ যে বই পাবলিক ডোমেইনে ঢুকেছে, সেটা আবার ফেরত আসার কথা। :আমার বাসা থেকে কপিরাইট অফিস দূরে নয়। এই মাসের মঝামাঝি সময়ে আবার যাবো। তবে তাদের থেকে লিখিত কিছু আশা করা বৃথা। [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৭:১০, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) == Invitation to join South Asian Community and the Annual Planning Discussions with WMF == "Kindly feel free to translate this text into your own language." Dear Community member, We would like to invite you all to the April edition of the South Asia Open Community Call that will focus on a discussion with the leadership of the Wikimedia Foundation on their [[:m:Wikimedia Foundation Annual Plan/2026-2027|Annual Plan (2026-2027)]]. The [[:m:Wikimedia Foundation Annual Plan|Foundation’s Annual Plan]] is a high-level roadmap for what the organisation aims to achieve in the coming year. It includes not only the foundation’s Goals, Progress, and plan but also a summary of Global Trends that impact the present and future of our movement. This is the right time for the South Asia community to participate and share their thoughts on the Wikimedia Foundation’s annual plan, helping shape it together. Share your hopes, concerns, bold ideas, and specific requests to contribute to the Foundation’s planning. Hence, the next [[:m:South Asia Open Community Call|South Asia Open Community Call]] will be hosted on the following dates/times. Please mark the same in your calendar and sign up [[:m:Event:South Asia Open Community Call, April 2026|here]]. * Platform: Google Meet * Date: 17th April, 2026 * Time: 1930-2030 IST (1400-1600 UTC) * Registration Link: [[:m:Event:South Asia Open Community Call, April 2026|here]] Note: Only those who have registered will receive the joining link. Look forward to seeing you on the call, Best, [[ব্যবহারকারী:MediaWiki message delivery|MediaWiki message delivery]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:MediaWiki message delivery|আলাপ]]) ১৮:৪১, ৫ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=User:Nitesh_Gill/lists/Indic_VPs&oldid=29127818-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:Nitesh Gill@metawiki পাঠিয়েছেন --> kw523ll966od5egrwp39a5amit68hoe 1941978 1941977 2026-04-06T03:08:30Z Bodhisattwa 2549 [[Special:Contributions/MediaWiki message delivery|MediaWiki message delivery]] ([[User talk:MediaWiki message delivery|আলাপ]])-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে [[User:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]]-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত যাওয়া হয়েছে 1941808 wikitext text/x-wiki {{প্রক্রিয়ার শীর্ষক | শিরোনাম = লিপিশালা | অনুচ্ছেদ = | পূর্ববর্তী = [[উইকিসংকলন:সম্প্রদায়ের প্রবেশদ্বার|সম্প্রদায়ের প্রবেশদ্বার]] | পরবর্তী = [[উইকিসংকলন:লিপিশালা/মহাফেজখানা|মহাফেজখানা]] | সংক্ষিপ্ত = [[WS:S]]<br/>[[WS:আলোচনাসভা]] | টীকা = লিপিশালা উইকিসংকলন সম্প্রদায় আলোচনা পৃষ্ঠা। যে কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা মন্তব্য করুন মুক্ত মনে। আপনি যেকোন বর্তমান আলোচনায় মন্তব্য করতে পারেন অথবা একটি নতুন শুরু করতে পারেন।<!--প্রকল্প সদস্যরা প্রায়ই #wikisource IRC চ্যানেল webclient পাওয়া যাবে।--> এছাড়া এটি উইকিসংকলনের প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য নিবেদিত পাতা। এখানে প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে যেকোনো প্রসঙ্গ তুলে ধরতে পারেন। উইকিসংকলনের যেকোন সদস্য প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে এখানে মন্তব্য রাখতে পারেন। }} {{উইকিসংকলন:লিপিশালা/দিকনির্দেশ}} __TOC__ __NEWSECTIONLINK__ [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলন প্রশাসন]] == সার্বজনীন আচরণবিধি ও প্রয়োগ নির্দেশিকার বার্ষিক পর্যালোচনা == <section begin="announcement-content" /> আপনাকে জানানো হচ্ছে যে, সার্বজনীন আচরণবিধি ও প্রয়োগ নির্দেশিকার বার্ষিক পর্যালোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে। আপনি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত যেকোন পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে পারেন। বার্ষিক পর্যালোচনার নির্ধারিত ধাপগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম। [[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Annual review/2026|আরও বিস্তারিত জানতে এবং মেটা-উইকির UCoC পাতায় চলমান আলোচনায় অংশ গ্রহণ করতে এখানে ক্লিক করুন]]। ​[[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Coordinating Committee|সার্বজনীন আচরণবিধি সমন্বয় কমিটি]] (ইউ৪সি) একটি বৈশ্বিক দল, যা সার্বজনীন আচরণবিধির ন্যায্য ও ধারাবাহিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করে। এই বার্ষিক পর্যালোচনাটি ইউ৪সি কর্তৃক পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইউ৪সি এবং এর দায়িত্বসমূহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে, আপনি [[m:Special:MyLanguage/Universal Code of Conduct/Coordinating Committee/Charter|ইউ৪সি সনদ দেখতে পারেন]]। দয়া করে এই তথ্যটি আপনার সম্প্রদায়ের অন্যান্য সদস্যদের সাথে এবং অন্য যে কোনও উপযুক্ত স্থানে শেয়ার করুন। -- ইউ৪সি-এর সহযোগিতায়, [[m:User:Keegan (WMF)|কিগান (WMF)]] ([[m:User talk:Keegan (WMF)|আলাপ]])<section end="announcement-content" /> ২১:০২, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) (এই বার্তাটি [[:উইকিসংকলন:প্রশাসকদের আলোচনাসভা]] পাতায় পাঠানো হয়েছিল ও একটি পুনর্নির্দেশের কারণে এখানে পোস্ট করা হচ্ছে।) <!-- https://meta.wikimedia.org/w/index.php?title=Distribution_list/Global_message_delivery&oldid=29905753-এর তালিকা ব্যবহার করে বার্তাটি ব্যবহারকারী:Keegan (WMF)@metawiki পাঠিয়েছেন --> == PageImages এক্সটেনশন যোগ == {{tracked|T416800}} সুধী, উইকিসংকলনে [[:mw:Extension:PageImages|PageImages এক্সটেনশন]] যোগ করার জন্য সম্প্রদায়ের মতামত ও সমর্থন চাওয়া হচ্ছে। এই এক্সটেনশন যোগ করলে উইকিসংকলনের পাতায় যুক্ত ছবির থাম্বনেল তৈরি করে বাইরের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তা প্রদর্শিত হবে। উল্লেখ্য সকল উইকিপিডিয়া প্রকল্পে এই এক্সটেনশন ইতিমধ্যে অনেকদিন ধরেই যুক্ত। -- [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ১৫:০৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} -- [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১৫:২০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{support}} - [[ব্যবহারকারী:Bodhisattwa|বোধিসত্ত্ব]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Bodhisattwa|আলাপ]]) ১৫:৫৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:জয়শ্রীরাম সরকার|জয়শ্রীরাম সরকার]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:জয়শ্রীরাম সরকার|আলাপ]]) ১৬:৫১, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Nettime Sujata|Nettime Sujata]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Nettime Sujata|আলাপ]]) ১১:১৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Mahir256|মাহির২৫৬]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mahir256|আলাপ]]) ১৪:৫৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} – [[User:Tarunno|<span style="display:inline-block;color:#008329;font-weight:bold; transform: scale(-1,1);text-shadow:0 1px 2px #ddd">তারুণ্য</span>]]<span style="font-size:10px;vertical-align:text-top;"> [[ব্যবহারকারী আলাপ:Tarunno|আলাপ]]</span> • ১৫:০৬, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি) :{{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৫:৩৭, ১৭ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) == ২০০০-পূর্ব বাংলাদেশি কর্মের কপিরাইট মেয়াদ == সুধী, আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন। বাংলাদেশে <small>(ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে)</small> প্রকাশিত কর্ম এবং বাংলাদেশি <small>(ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানি)</small> লেখকদের কপিরাইট মেয়াদ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাবনা আমরা উত্থাপন করছি। প্রস্তাবনা: বাংলাদেশি/পূর্ব পাকিস্তানি নাগরিকের বা বাংলাদেশে/পূর্ব পাকিস্তানে প্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''সাহিত্যিক''' কর্মের ক্ষেত্রে কপিরাইট মেয়াদ: '''লেখকের মৃত্যু + ৫০ বছর'''; # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''সরকারি''' কর্মের ক্ষেত্রে: '''প্রকাশ + ৫০ বছর'''; # ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত '''ছবি''' কর্মের ক্ষেত্রে: '''প্রকাশ + ৫০ বছর'''; # এবং ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে [https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047 কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২]-এর অধ্যায় ৩ কর্তৃক প্রণীত [[#মেয়াদ ৬২|অন্যান্য মেয়াদ সমূহ]]। এই প্রস্তাবনা লিখিতভাবে উপস্থাপনে সার্বিক সহায়তার জন্য [[ব্যবহারকারী:MS Sakib|MS Sakib]]কে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। === আইনি বিশ্লেষণ ও যৌক্তিকতা === বর্তমান বাংলাদেশি ভূখণ্ডে কপিরাইট আইনসমূহের ক্রম নিচে উল্লেখ করা হলো: {| class="wikitable" style="margin: auto;" !আইন !সময়কাল !সাধারণ মেয়াদ |- |[https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/15848 ভারতীয় কপিরাইট আইন ১৯১৪] |১৯১৪ - ১৯৬২ |৫০ বছর |- |[https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047 কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২]<br>(১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |১৯৬২ - ২০০০ |৫০ বছর |- |[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html কপিরাইট আইন, ২০০০]<br>(২০০৫ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |২০০০ - ২০২৩ |৬০ বছর |- |[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452.html কপিরাইট আইন, ২০২৩] |২০২৩ - বর্তমান |৬০ বছর |- | colspan="3" |যেকোনো আইন রহিতকরণের ক্ষেত্রে:<br>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬]<br>(২০১৮ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) |} অর্থাৎ ২০০০ সালের আইনে কপিরাইটের সাধারণ মেয়াদ প্রথমবারের মতো ৫০ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৬০ বছরে উন্নীত করা হয় এবং ২০২৩ সালের আইনেও তা চলমান থাকে।  স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ২০০০ সালের পূর্বে প্রকাশিত যে কর্মগুলোর কপিরাইট মেয়াদ তখনো শেষ হয়নি (যেমন, ১৯৯০ সালের একটি প্রকাশনা), সেগুলো কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বর্ধিত ৬০ বছরের মেয়াদের আওতায় চলে আসবে? শুরুতে মনে হতে পারে, যেহেতু নতুন আইনে সাধারণ মেয়াদ ৬০ বছর, তাই পুরনো সব বিদ্যমান কর্মও হয়তো এই সুবিধা পাবে। কিন্তু আইনের '''আক্ষরিক ব্যাখ্যা''' অনুসরণ করলে আমরা বিপরীত চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।  [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] ও সাধারণ আইনি কর্যধারা অনুযায়ী, কোনো আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে নতুন কোনো বিধান ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) পেছনের কর্মের ওপর কার্যকর হয় না। ২০০০ সালের আইনের কোথাও স্পষ্টভাবে বলা নেই যে, পূর্বের কর্মগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাবে। বরং এই <mark>আইনের ১০৫ নং ধারা অনুযায়ী ১৮ জুলাই, ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে যেকোনো কর্মের মেয়াদ বর্ধিত করা হয়নি।</mark>  <div style="float: right; margin-left: 15px; margin-bottom: 5px; border: 2px solid yellow"> {{show |1= আইন দেখুন |2={{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-846/section-30242.html|ধারা ১০৪|}}<br>ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html|কপিরাইট আইন, ২০০০}}}} ১০৪। এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে যাহা এই আইনের অনূদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে। {{Collapse bottom|}} }} </div> উল্লেখ্য, ধারা ১০৪ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার একটি নির্ভরযোগ্য অনূদিত পাঠ প্রদান করেছে। ইংরেজি ও বাংলা পাঠের সাথে সংঘর্ষ হলে, বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে। সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বাংলা পাঠ হতে আসতে হবে। তবে ইংরেজি পাঠ সংযুক্ত রাখা হয়েছে বোঝার সুবিধার্থে এবং আইনের ইন্টেন্ট বা উদ্দেশ্য পরিষ্কার করার জন্য। <div style="display:flex; flex-wrap:wrap; gap:10px;"> <div style="flex:1; min-width:300px; padding:10px;"> {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-846/section-30242.html|ধারা ১০৫|}}<br>রহিতকরণ, হেফাজত এবং ক্রান্তিকালীন বিধান<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-846.html|কপিরাইট আইন, ২০০০}}}} ১০৫। (১) The Copyright Ordinance, 1962 (Ordinance no XXXIV of 1962) এতদ্বারা রহিত করা হইল। (২) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে এমন কোন কাজ করিয়া থাকেন যা দ্বারা তিনি সংশ্লিষ্ট সময়ে আইন মোতাবেক কোন কর্মের পুনরুৎপাদন বা সম্পাদনের জন্য অথবা এই আইন কার্যকর না হইলে ঐরূপ পুনরুৎপাদন বা সম্পাদন বৈধ হইত এমন কোন কর্মের পুনরুৎপাদন বা সম্পাদনের জন্য কোন প্রকার ব্যয় বা দায় এর জন্য দায়ী হন, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছুই ঐরূপ কাজ হইতে বা তৎসূত্রে উদ্ভূত কোন অধিকার বা স্বার্থ খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না, যদি না এই আইনবলে পুনরুৎপাদন বা সম্পাদন করিবার অধিকারী ব্যক্তি চুক্তিভঙ্গের দরুণ বোর্ড যেরূপ নির্ধারণ করে ঐরূপ ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে সম্মত না হন। (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত আইনের অধীন কোন কর্মের কপিরাইট ছিল না এমন কোন কর্মের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কপিরাইট থাকিবে না।   (৪) এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে যেক্ষেত্রে কোন কর্মের কপিরাইট বিদ্যমান ছিল ঐরূপ কপিরাইটের অন্তর্ভুক্ত অধিকার, এই আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ হইতে, কর্মটি যে শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ঐ শ্রেণী সম্বন্ধে ধারা ১৪-এ উলি্লখিত অধিকার হইবে এবং যদি উক্ত ধারা দ্বারা কোন নতুন অধিকার প্রদত্ত হয়, তাহা হইলে উক্ত অধিকারের মালিক- :(ক) এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে কর্মটির কপিরাইটের সম্পূর্ণ স্বত্ব-নিয়োগ হইয়া থাকিলে, উক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত স্বত্বাধিকারী স্বার্থের উত্তরাধিকারী হইবেন। :(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, ঐ ব্যক্তি হইবেন যিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন বাতিলকৃত আইনে কর্মটির কপিরাইটের প্রথম স্বত্বাধিকারী ছিলেন।   <mark>(৫) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, কোন ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে, তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন তাহা অব্যাহত থাকিবে।</mark>   <br>(৬) এই আইনের কোন কিছুই উহা কার্যকর হওয়ার পূর্বে কৃত কোন কাজ কপিরাইট লঙ্ঘনজনিত কাজ হিসাবে ব্যাখ্যায়িত হিসাবে গণ্য হইবে না, যদি ঐ কাজ অন্যভাবে ঐরূপ অধিকারলঙ্ঘন গঠন না করিয়া থাকে।   <br>(৭) এই ধারায় ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, রহিতকরণের ফলাফলের বিষয়ে ১৮৯৭ সনের জেনারেল ক্লজেস এ্যাক্ট (১৮৯৭ সনের ১০নং আইন) প্রযোজ্য হইবে। {{Collapse bottom|}} </div> <div style="flex:1; min-width:300px; padding:10px;"> {{Collapse top|Section 105<br>Repeals, savings and transitional provisions<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/upload/act/2021-11-17-10-44-05-32.-The-Copyright-Act-2000.pdf|Authentic English Text of Copyright Act, 2000 }}}} 105. (1) The Copyright Ordinance, 1962, (Ordinance no XXXIV of 1962) is hereby repealed. (2) Where any person has, before the commencement of this Act, taken any action whereby he has incurred any expenditure or liabilities in connection with the reproduction or performance of any work in a manner which at that time was lawful or for the purpose of or with a view to the reproduction or performance of a work at a time when such reproduction or performance would, but for the coming into force of this Act, have been lawful, nothing in this section shall diminish or prejudice any rights or interests arising from or in connection with such action which are subsisting and valuable at the said date, unless the person who, by virtue of this Act, becomes entitled to restrain such reproduction or performance agrees to pay such compensation as, failing agreement, may be determined by the Board. (3) Copyright shall not subsist by virtue of this Act in any work in which copyright did not subsist immediately before the commencement of this Act under any Act or Ordinance repealed by sub-section (1).  (4) Where copyright subsisted in any work immediately before the commencement of this Act, the rights comprising such copyright shall, as from the date of such commencement, be the rights specified in section 14 in relation to the class of works to which such work belongs, and where any new rights are conferred by that section, the owner of such rights shall be⎯ :(a) in any case where copyright in the work was wholly assigned before the commencement of this Act, the appointed assignee; and :(b) in any other case, the person who was the first owner of the copyright in the work under any Act or Ordinance repealed by sub-section (1) or his legal representatives. <mark>(5) Except as otherwise provided in this Act, where any person was entitled immediately before the commencement of this Act to copyright in any work or any right in such copyright or to an interest in any such right, he shall continue to be entitled to such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force.</mark> (6) Nothing contained in this Act shall be deemed to render any act done before its commencement an infringement of copyright if that act would not otherwise have constituted such an infringement. (7) If there is nothing otherwise provided by this section, the General Clauses Act, 1897 (Act X of 1897) shall apply with respect to the effect of repeals. {{Collapse bottom|}} </div> </div> উপরের ধারা ১০৫(৫) অনুসারে সিদ্ধান্তে আসা যায়, নতুন আইন প্রবর্তনের পূর্বে যে কর্মগুলোর কপিরাইট বহাল ছিল, সেগুলোর মেয়াদকাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে যেন ২০০০ সালের আইনটি পাসই হয়নি। অর্থাৎ, পুরোনো কর্মগুলোর ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত ৫০ বছরের মেয়াদই বলবৎ থাকবে। ধারা ১০৫(৫) এর একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হলো: {| class="wikitable" |+ !বিষয় !বাংলা !ইংরেজি !ব্যাখ্যা |- |'''দ্বন্দ্ব''' |এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে |Except as otherwise provided in this Act |সাধারণ হেফাজত। আইনে ভিন্ন কিছু উল্লেখ নেই। |- |'''কে?''' |কোন ব্যক্তি |where any person |বাংলাদেশি কর্মের প্রণেতা |- |'''কখনকার কর্ম?''' |এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে |was entitled immediately before the commencement of this Act |১৮ জুলাই, ২০০০ এর পূর্বে |- |'''কী?''' |কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে |to copyright in any work or any right in such copyright or to an interest in any such right |কপিরাইট সুরক্ষা |- |'''সময়কাল''' |তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন |such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force. |২০০০ এর আইন না থাকলে ৫০ বছর মেয়াদি সুরক্ষা থাকতো। |- |'''ক্রিয়া''' |তাহা অব্যাহত থাকিবে |he shall continue to be entitled to |৫০ বছর সুরক্ষা পাবে |} ১. '''দ্বন্দ্ব''': ''"এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে"'' - এই বাক্যাংশটি "দ্বন্দ্ব নিরোধ" হিসেবে পরিচিত। বাক্যাংশটি মূলত একই বা ভিন্ন আইনের সাথে দ্বন্দ্ব রোধে ঢালাওভাবে ব্যবহৃত হয়। ধারা ১০৫(৫) চাচ্ছে পূর্বের প্রদত্ত আইনি সুরক্ষার মেয়াদ অব্যাহত রাখতে। এই মেয়াদের অব্যাহতি ঢালাওভাবে সকল বাংলাদেশি কর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু এই ঢালাওভাবে প্রয়োগ সহজেই অপ্রত্যাশিত দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। এই দ্বন্দ্ব বর্তমানে প্রতীয়মান না হলেও, ভবিষ্যতে কোনো মামলায় আবিষ্কৃত হতে পারে। ফলে আপাত দৃষ্টিতে দ্বন্দ্ব না থাকলেও, সুরক্ষার খাতিরে এই দ্বন্দ্ব নিরোধ অংশ যুক্ত করেন আইন প্রণেতারা। এখন প্রশ্ন হতে পারে দ্বন্দ্ব আছে নাকি নেই? এই উপধারার সাথে কী প্রকারের দ্বন্দ্ব হওয়ার সুযোগ আছে? উদাহরণ স্বরূপ ধরি, ৬২-এর আইনে লোকসংস্কৃতির মেয়াদ ছিল ২৫ বছর কিন্তু নতুন আইন সেটাকে অসীম সুরক্ষা দিয়েছে। যেহেতু লোক সংস্কৃতির প্রকাশকাল নেই বা থাকলেও সেটি ২০০০ সালের পরে প্রকাশিত হলে সেটি আর লোকসংস্কৃতি বলে বিবেচিত হবে না। তাহলে এখানে দ্বন্দ্ব প্রতীয়মান হওয়ার সুযোগ আছে। পুরাতন আইনের অধীনে থাকলে, আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী এরা অসীম সুরক্ষা পাবে না। তাই এক্ষেত্রে আইনের মূল অংশ প্রাধান্য পাবে। উল্লেখ্য এটি একটু উদাহরণ মাত্র এবং বাস্তবতার সাথে মিল নেই। আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো সাধারণ সাহিত্যকর্ম, ছবি, সরকারি কর্ম ইত্যাদি। এই বিষয়সমূহে এরূপ কোনো দ্বন্দ্ব নেই আইনে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আইনে তো নতুন ৬০ বছর মেয়াদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ধারা চাচ্ছে আগের মেয়াদ অব্যাহত রাখতে, তাহলে এটা কি দ্বন্দ্ব? আইনি ব্যাখ্যার সুপ্রতিষ্ঠিত 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy) অনুযায়ী এই ধারণাটি পুরোপুরি যৌক্তিক নয়। আইনে কখনোই কোনো অর্থহীন বা অপ্রয়োজনীয় ধারা যুক্ত করা হয় না। যদি ২৪ থেকে ৩৩ ধারার সাধারণ ৬০ বছরের নিয়মটিকেই ১০৫(৫) ধারায় উল্লেখকৃত 'ভিন্নরূপ বিধান' হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তবে ১০৫(৫) ধারাটির কোনো প্রয়োগই অবশিষ্ট থাকে না। আইনশাস্ত্রে একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, 'বিশেষ বিধান সাধারণ বিধানের ওপর প্রাধান্য পায়' (Lex specialis derogat legi generali)। আইনের ২৪ থেকে ৩৩ ধারা হলো কপিরাইট মেয়াদের একটি General Provision, যা আইন পাসের পর থেকে নতুন কর্মের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে ১০৫(৫) ধারা হলো পুরোনো কর্মের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বিশেষ বিধান। প্রকৃতপক্ষে <mark>এখানে "ভিন্নরূপ বিধান" বলতে বোঝানো হয়েছে: যদি আইনের অন্য কোথাও স্পষ্টভাবে লেখা থাকত যে "পুরোনো 'কোনও' কর্মের মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাবে", কেবল তখনই সেটি কার্যকর হতো।</mark> ২. '''কে?''': ''"কোন ব্যক্তি"'' - বাংলাদেশি কর্মের প্রণেতাকে বুঝানো হয়েছে। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ২(২৭) ধারা অনুযায়ী: (২৭) "বাংলাদেশী কর্ম" অর্থ এমন সাহিত্য, নাট্য, সংগীত বা শিল্প কর্ম- (ক) যাহার প্রণেতা বাংলাদেশের নাগরিক; বা (খ) যাহা প্রথম বাংলাদেশে প্রকাশিত হইয়াছে; বা (গ) অপ্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে, যাহার প্রণেতা উহা তৈরীর সময় বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন; ৩. '''কখনকার কর্ম?''': ''"এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে"'' - কপিরাইট আইন, ২০০০ কার্যকর হয়েছে ১৮ জুলাই, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ উক্ত তারিখের পূর্বে প্রকাশিত যেকোনো কর্মের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য। ৪. '''কী?''': ''"কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে"'' - সাধারণ কপিরাইট সুরক্ষা। ৫. '''সময়কাল''': ''"তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন" / "such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force."'' - এই অংশে বলা আছে যে, ''এই আইন কার্যকর না হইলে'' কিন্তু আইন যেহেতু কার্যকর হয়েছে, এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তাই এই অংশ প্রযোজ্য নয়। এখানে আমাদের পূর্ববর্তী 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' যুক্তি প্রযোজ্য। আর এই বাক্যাংশটি শর্তমূলক (conditional clause) নয়। এখানে ''"এই আইন কার্যকর না হইলে"'' ("''if this Act had not come into force''") একটি counterfactual / irrealis / hypothetical / unreal conditional clause. আরও নির্দিষ্টভাবে, এটি হলো: * একটি শর্তবাচক উপবাক্য * যা past perfect রূপে আছে * এবং একটি অবাস্তব অতীত শর্ত প্রকাশ করছে * ব্যাকরণ আলোচনায় একে প্রায়ই প্রতিবাস্তব (counterfactual), অবাস্তব (irrealis), বা কাল্পনিক (hypothetical) বলা হয় এতে এই অর্থ নেই যে আইনটি সত্যিই কার্যকর হয়নি। এর অর্থ হলো যে এই অধিকার বা স্বার্থ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এমন একটি অবস্থা কল্পনা করতে হবে, যেখানে এই আইন কখনোই কার্যকর হয়নি; এবং সেই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কত সময়ের জন্য ওই অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হতেন, তা নির্ধারণ করতে হবে। অতএব বাক্যটি একটি আইনগত-কাল্পনিক তুলনা ব্যবহার করছে: বাস্তব অবস্থা: আইনটি কার্যকর আছে। কল্পিত অবস্থা: আইনটি কার্যকর হয়নি। তারপর আইনটি জিজ্ঞেস করছে: এই কল্পিত অবস্থায় ব্যক্তি কোন সময়কাল পর্যন্ত অধিকারী হতেন? এটি আইন প্রণয়নে খুবই সাধারণ একটি কৌশল। এখানে “অসম্ভব” কথাটির অর্থ গোঁজামিল বা অযৌক্তিক নয়; বরং এটি অধিকার নির্ণয়ের জন্য একটি প্রতিবাস্তব মানদণ্ড। ৬. '''ক্রিয়া''': ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' (''"he shall continue to be entitled to"''): এখানে "আব্যাহত"কে বাংলাদেশ সরকার ইংরেজিতে continue শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। {{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1123.html|বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩}} দ্বারা কার্যরত বাংলা ভাষা বিষয়ক বাংলাদেশি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলা একাডেমি। বাংলাদেশ সরকার তার নিজের সরকারি কাজে বাংলা ব্যবহারে বাংলা একাডেমির নিয়ম মানতে নির্দেশনা দেয়।<sup>[https://file-rajshahi.portal.gov.bd/files/bscic.rajshahi.gov.bd/files/62628c74_11b2_48a4_98e3_e694fdb18021/604f94fbbfa1ac882cb826c1fe5a2784.pdf]</sup> তাদের প্রকাশিত [https://web.archive.org/web/20210117115141/https://xeroxtree.com/pdf/adhunik_bangla_ovidhan.pdf আধুনিক বাংলা অভিধান] অনুযায়ী নকশা, মডেল ও ডিজাইনের সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, এই সংজ্ঞাসমূহ মানতে আইন {{color|red|বাধ্য (binding) নয়}}। অব্যাহত <small>/অব্ব্যাহতো/</small> [স. 7+| 17 + sqrt(27) + 5 ] বিণ, ১ অপ্রতিহত, অবাধ (অব্যাহত গতি)। ২ অব্যর্থ। ৩ অপ্রতিবন্ধ। অপ্রতিহত অর্থ বাধাহীনভাবে। অর্থাৎ, এই অংশ দ্বারা বলা হয়েছে। তার আগের মেয়াদ continue করবে। আগে যা ছিল তাই থাকবে। এবং তার মেয়াদে কোনো বাধা থাকবে না। অনেকে প্রায়োগিক অর্থ ভেবে বলতে পারেন যে, এই আইন শুধু চাচ্ছে যে অধিকার খর্বকারী মেয়াদ না কমাতে। কিন্তু অব্যাহত-এর বুৎপত্তিগত এবং সকল সংজ্ঞা অনুযায়ী, মেয়াদে বাধা দেবে না। এটি উভয়দিকে কাজ করে। শুধুমাত্র একদিকে নয়। সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রয়োগ ভিন্ন মানুষ ভিন্নভাবে নিতে পারে। এজন্য বুৎপত্তিগত ব্যাখ্যা মেনে নেওয়া শ্রেয়। আইনের ইন্টেন্ট বুঝার জন্য ইংরেজি অনুবাদ ব্যাবহার করা যেতে পারে। ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। যা বুঝায়, আগে যা ছিল তাই থাকবে। অর্থাৎ আগের ৫০ বছর মেয়াদ বলবৎ থাকবে। '''ধারা ১০৫(১)''': কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ রহিত করা হয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয়। ধারা ১০৫, আগের আইনের অধীন প্রকাশিত কর্মসমূহ নিজ নতুন আইনের আওতায় আত্তীকরণ করেনি, যেমনটা কপিরাইট আইন, ২০২৩ করেছে। অর্থাৎ, আগের কর্মসমূহের লাইসেন্স বিবেচনা কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর আলোকে করতে হবে। '''ধারা ১০৫(২)''': কোন মামলা বা অপরাধ ২০০০ এর আগে সংঘটিত হলে, তা আগের আইনের অধীনে বিচার হবে। '''ধারা ১০৫(৩)''': কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। '''ধারা ১০৫(৪)''': এই ধারায় "অধিকারের পরিধি বা প্রকৃতি" ব্যাখ্যা করা হয়ছে; "মেয়াদ" নয়। ১০৫(৪)-এর আশ্রয় নিয়ে প্রস্তাবের আরেকটা বিরোধিতা করা যেতে পারে যে ''ধারা ১০৫(৪)-এ বলা হয়েছে, পুরোনো কর্মগুলো নতুন আইনের "ধারা ১৪-এ উল্লিখিত অধিকার" পাবে। ফলে, যেহেতু কর্মটি নতুন আইনের (১৪ ধারার) অধীনে চলে আসছে, তাই এর মেয়াদও নতুন আইনের ৬০ বছর হওয়া উচিত।'' উ: আইনের দৃষ্টিতে "অধিকারের পরিধি বা প্রকৃতি" এবং "অধিকারের মেয়াদ" সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। ধারা ১০৫(৪) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শুধুমাত্র "ধারা ১৪"-এর কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে কপিরাইটের মেয়াদ নিয়ে একটি শব্দও নেই। ধারা ১৪ কেবল সংজ্ঞায়িত করেছে কপিরাইট বলতে কী কী 'কর্ম' বোঝায় এবং সেসব 'কর্ম'-এর কোন কোন অধিকার একচেটিয়াভাবে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ধারা ১০৫(৪) পুরোনো কর্মগুলোকে কেবল ধারা ১৪-তে থাকা নতুন ধরনের অধিকার ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই অধিকারটি কতদিন বজায় থাকবে, অর্থাৎ সময়কাল বা মেয়াদের বিষয়টি ঠিক তার পরের উপধারা ১০৫(৫)-এ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। <mark>১০৫(৫)-এ পরিষ্কার বলা হয়েছে, অধিকার যা-ই হোক না কেন, ব্যক্তি ঠিক সেই "সময়ের জন্য" অধিকার ভোগ করবেন, যা তিনি এই নতুন আইন না এলে পেতেন (অর্থাৎ ৫০ বছর)।</mark> '''ধারা ১০৫(৫)''': ব্যাখ্যা করা হয়েছে। '''ধারা ১০৫(৬)''': ধরুন এক প্রকারের পুনঃব্যবহার অনুমতি ১৯৬২ সালের আইনে দেওয়া হলেও, ২০০০ সালের আইনে দেওয়া হয়নি। তাহলে ২০০০ সালের আগে সেই কর্ম কেউ পুনঃব্যবহার করে থাকলে, সেটি নতুন আইনের আওতায় দণ্ডনীয় নয়। '''ধারা ১০৫(৭)''': [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] এর ৬ষ্ঠ ধারা বাংলাদেশের যেকোনো আইনের রহিতকরণের প্রভাব নির্ধারণ করে। কপিরাইট আইন, ২০০০-এর ১০৫(৭)-এ তা উল্লেখ করা আছে। ১০৫(৭)-এ উল্লেখ করা না থাকলেও, এই আইন বলবৎ থাকতো। কপিরাইট বাদেও এই ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল আইন অ-ভূতাপেক্ষ (Non-retroactive) যদিনা নতুন আইনে আলাদা করে উল্লেখ না থাকে। [http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬] এর ৬(গ) ধারা অনুযায়ী, নতুন আইনে অন্যথায় উল্লেখ না থাকলে, নতুন আইন নাগরিকের পূর্ব আইনের আওতায় প্রাপ্ত রাইট (অধিকার)কে প্রভাবিত করবে না। কপিরাইট এর নামানুসারেই একপ্রকারের রাইট বা অধিকার। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ধারা ১০৫ এই অংশের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। affect অর্থ প্রভাবিত করা। সেটা অধিকার বৃদ্ধি বা হ্রাস উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ১৯৬৩ সালের প্রকাশিত কোনো প্রকাশনার ক্ষেত্রে, কর্মের স্রষ্টা ৫০ বছরের অধিকার পেয়েছিলেন তার কর্মের উপর। আমি জনগণ, ৫০ বছর পর এটি মুক্তভাবে ব্যাবহারের অধিকার পেয়েছিলাম। নতুন আইন যেহেতু পূর্বের কর্মের ব্যাপারে কিছু বলেনি; শুধু নতুন কর্মের জন্য নতুন বর্ধিত অধিকার দিয়েছে। তাই এই আইন অনুযায়ী নতুন আইন আমার পূর্বে প্রাপ্ত অধিকারকে প্রভাবিত করবে না। সেটা যেকারো লাভ বা ক্ষতি যেজন্যই হোক না কেনো। ২০০০ এর আইনের ১০৫(৫)-এ এই আইনের নীতিমালাকে প্রয়োগ করা হয়েছে। {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-73/section-19978.html|Section 6}}<br>Effect of repeal<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-73.html|The General Clauses Act, 1897}}}} 6. Where this Act, or any Act of Parliament or Regulation made after the commencement of this Act, repeals any enactment hitherto made or hereafter to be made, then, unless a different intention appears, the repeal shall not- :(a) revive anything not in force or existing at the time at which the repeal takes effect; or :(b) affect the previous operation of any enactment so repealed or anything duly done or suffered thereunder; or :<mark>(c) affect any right, privilege, obligation or liability acquired, accrued or incurred under any enactment so repealed;</mark> or :(d) affect any penalty, forfeiture or punishment incurred in respect of any offence committed against any enactment so repealed; or :(e) affect any investigation, legal proceeding or remedy in respect of any such right, privilege, obligation, liability, penalty, forfeiture or punishment as aforesaid; and any such investigation, legal proceeding or remedy may be instituted, continued or enforced, and any such penalty, forfeiture or punishment may be imposed as if the repealing Act or Regulation had not been passed. {{Collapse bottom|}} '''কপিরাইট আইন, ২০২৩''': এবার বর্তমানে বলবৎ 'কপিরাইট আইন, ২০২৩'-এ আসি। বলা যেতে পারে, নতুন আইনের ১২৭(২)(ক) ধারায় যেহেতু (২০০০-এর আইনে থাকা) পুরোনো অধিকারগুলো বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে, তাই পুরোনো কর্মগুলোও ৬০ বছর মেয়াদ পাবে। কিন্তু ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ৬(c) ধারা অনুযায়ী, রহিতকৃত আইনের অধীনে নির্ধারিত অধিকারের কাঠামো (যেমন ৫০ বছরের সীমা) অপরিবর্তিত থাকে। ফলে ২০২৩ সালের আইনটি কেবল সেই অবস্থাকেই সংরক্ষণ করে, যা ২০০০ সালের আইনের অধীনে অর্জিত হয়েছিল। যেহেতু ২০০০ সালের আইনটি ১০৫(৫) ধারার মাধ্যমে পুরোনো কর্মগুলোর মেয়াদকে সুনির্দিষ্টভাবে ৫০ বছরেই আটকে দিয়েছিল এবং অতিরিক্ত দশ বছর যুক্ত করার পক্ষে স্পষ্ট কোনও বিধান রাখেনি, তাই ২০২৩ সালের আইনও সেটিকে নতুন করে ৬০ বছরে উন্নীত করেনি। নিচে ২০২৩ সালের আইনের রহিতকরণ ধারাটি দেওয়া হলো:  {{Collapse top|{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html|ধারা ১২৭|}}<br>রহিতকরণ ও হেফাজত<br>{{url|http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-1452.html|কপিরাইট আইন, ২০২৩}}}} ১২৭। (১) কপিরাইট আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ২৮ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল। (২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত আইনের অধীন- :(ক) <mark>কৃত কোনো কাজ-কর্ম</mark>, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রণীত কোনো বিধি, জারীকৃত প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি, প্রদত্ত আদেশ, স্বত্বনিয়োগ, <mark>নিবন্ধন বা লাইসেন্স</mark>, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে, এবং এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন কৃত, গৃহীত, প্রণীত, জারীকৃত বা প্রদত্ত বলিয়া গণ্য হইবে; :(খ) উক্ত আইনের অধীন সূচিত কোনো কার্যধারা অসম্পূর্ণ থাকিলে উহা উক্ত আইন অনুযায়ী এইরূপে সমাপ্ত করা হইবে, যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই; :(গ) দায়েরকৃত কোনো মামলা বা মোকদ্দমা কোনো আদালতে চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই; :(ঘ) উক্ত আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বোর্ড এইরূপে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে; এবং :(ঙ) কপিরাইট অফিসে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিতপূর্বে যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে চাকুরিতে নিয়োজিত থাকিবেন এবং পূর্বের নিয়মে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন। {{Collapse bottom|}} উল্লেখ্য যে কপিরাইট আইন, ২০২৩ তার পূর্বসূরী আইন (শুধুমাত্র ২০০০ এর আইন)-এর অধীন প্রকাশিত কর্ম ১২৭(২)(ক) দ্বারা নিজের মধ্যে আত্তীকরণ করে। কিন্তু ২০০০ এর আইন, তার পূর্বসূরি ১৯৬২এর আইনের জন্য তা করে না। ফলে ১৯৬২ এর অধীন প্রকাশিত কর্ম ২০০০ বা ২০২৩ এর আইন আত্তীকরণ করে না এবং উত্তরসূরি আইনসমূহ তাদের নিজ নিজ হেফাজত ধারা অনুযায়ী ১৯৬২ এর অধীন কর্মগুলোতে ১৯৬২ এর আইন বলবৎ রাখে। ১৯৬২ হতে ২০০০ এর আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল কিন্তু ২০০০ থেকে ২০২৩ এর আইনে করা হয়নি/ তাই পূর্ববর্তী কর্মের মেয়াদ অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে কোনো ধারা যুক্ত করা হয়নি বা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ছিল না। কিন্তু আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হলে, তা আলাদা ভাবে যুক্ত করতে হতো, যা করা হয়নি। <mark>নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে, আইনের এই আক্ষরিক ও অ-ভূতাপেক্ষ (Non-retroactive) ব্যাখ্যাটিই আইনিভাবে অধিকতর নিরাপদ ও প্রচলিত।</mark> কারণ, কোনো অধিকারের মেয়াদ বা ব্যাপ্তি যদি পেছনের তারিখ থেকে বাড়াতে হয়, তবে আইনে তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখে দিতে হয়। '''আন্তর্জাতিক উদাহরণ''' আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই। '''কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২''': আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য ১৯৬২ সালের কপিরাইট অধ্যাদেশ। কপিরাইট আইন, ২০০০ পূর্ববর্তী আইনের মেয়াদসমূহ সংরক্ষণ করে। কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর মেয়াদসমূহ নিচে দেওয়া হলো: {{Collapse top|{{anchor|মেয়াদ ৬২}}CHAPTER III<br>TERM OF COPYRIGHT<br>{{url|https://www.wipo.int/wipolex/en/legislation/details/5047|The Copyright Ordinance, 1962}}}} 18. Term of copyright in published <mark>literary, dramatic, musical and artistic works.</mark>- :Except as otherwise hereinafter provided, copyright shall subsist in any literary, dramatic, musical or artistic work (other than a photograph) published within the life-time of the author until <mark>fifty years</mark> from the beginning of the calendar year next following the year in which the <mark>author dies</mark>. Explanation-In this section, the reference to the author shall, in the case of a work of joint authorship, be construed as a reference to the author who dies last.  19. Term of copyright in posthumous work.- :(1) In the case of a literary, dramatic or musical work or an engraving, in which copyright subsists at the date of the death of the author or, in the case of any such work of joint authorship, at or immediately before the date of the- death of the author who dies last, but which or any adaptation of which, has not been published before that date, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published or, where an adaptation of the work is published in any earlier year, from the beginning of the calendar year next following that year.  :(2) For this purposes of this section, a literary, dramatic or musical work or an adaptation of any such work shall be deemed to have been published, if it has been performed in public or if any records made in respect of the work have been sold, or offered for sale, to the public.  20. Term of copyright in cinematographic works, records and photographs.­  :(1) In the case of a cinematographic work, copyright shall subsist until fifty years fro.n the beginning of the calendar year next following the year in which the work is published.  :(2) In the case of a record, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the record is published.   :(3) In the case of a photograph, copyright shall subsist until fifty years from "the beginning of the calendar year next following the year in which the photograph is published.  20A. Term of copyright in broadcast.- :In the case of a broadcast, copyright shall subsist until twenty-five years from the beginning of the calendar year next following the year in which the broadcast first took place. 21. Term of copyright in anonymous and pseudonymous work.- :(1) In the case of a literary, dramatic, musical or artistic work (other than a photograph), which is published anonymously or pseudonymously, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.<br>Provided that where the identity of the author is disclosed before the expiry of the said period, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies.  :(2) In sub-section (1), references to the author shall, in the case of an anonymous work of joint authorship be construed,­  ::(a) where the identity of one of the authors is disclosed as references to that author;  ::(b) where the identity of more authors than one is disclosed, as references to the author who dies last from amongst such authors.  :(3) In sub-section (1), references to the author shall, in the case of a pseudonymous work of joint authorship, be construed,­  ::(a) where the names of one or more (but not all) of the authors are pseudonym and his or their identity is not disclosed, as references to the author whose name is not a pseudonym, or, if the names of two or more of the authors are not pseudonyms, as references to such one of those authors who dies last;  ::(b) where the names of one or more (but not all ) of the authors are pseudonyms and the identity of one or more of them is disclosed, as references to the author who dies last from amongst the authors whose names are not pseudonyms and the authors whose names are pseudonyms and are disclosed; and  ::(c) where the names of all the authors are pseudonyms and the identity of one of them is disclosed, as references to the author whose identity is disclosed or, if the identity of two or, more of such authors is disclosed as references to such one of those authors who dies last. Explanation-s-Pot the purposes of this section, the identity of an author shall be deemed to have been disclosed, if either the identity of the author is disclosed publicly by both the author and the publisher or is otherwise established to the satisfaction of the Board by that author.  22. Term of copyright in <mark>Government works</mark> and in works of International Organisations.- :(l) Copyright in a Government work shall, where government is the first owner of the copyright therein, subsist until <mark>fifty years</mark> from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.  :(2) In the case of a work of an international organisation to which the provisions of section 53 apply, copyright shall subsist shall until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.  23. Term of copyright in unpublished work.- :(1) If a work, whose author's identity is known, is not published posthumously within fifty years after the death of the author, such work shall fall into the public domain after fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies.  :(2) If a work, whose author's identity is not known, is not published within fifty years of its creation, such work shall fall into the public domain after fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is created.    {{Collapse bottom|}} === সংশোধন বনাম রহিতকরণ === কপিরাইটের মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি সুপরিচিত নজির রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে আমাদের প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। স্বাধীন ভারতে ১৯৯২ সালের সংশোধনী আইনের ([[:en:Indian_Copyright_Act_(3rd_Amendment)_1992|The Copyright Amendment Act, 1992]]) মাধ্যমে কপিরাইটের সাধারণ মেয়াদ ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। এই সংশোধনী পাসের সময় ভারতে যে কর্মগুলোর কপিরাইট তখনো বিদ্যমান (Alive) ছিল, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বর্ধিত ৬০ বছরের সুবিধা পেয়েছিল। প্রশ্ন আসতে পারে, ভারতে যদি বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বেড়ে থাকে, তবে বাংলাদেশে ২০০০ সালের নতুন আইন পাসের সময় বিদ্যমান কর্মগুলোর মেয়াদ কেন ৬০ বছর হবে না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে দুই দেশের আইন প্রণয়নের কাঠামোগত পার্থক্যের (''Amendment'' বনাম ''Repeal'') মধ্যে। ভারতের এই মেয়াদ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মের কপিরাইট। ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় তৎকালীন আইন অনুযায়ী তাঁর কর্মের কপিরাইট ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ভারত সরকার তড়িঘড়ি করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে মেয়াদ [https://www.telegraphindia.com/india/tagore-copyright-freedom-at-midnight/cid/910127?utm_source=chatgpt.com ১০ বছর বাড়িয়ে দেয়]। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে যখন এটিকে স্থায়ী আইন হিসেবে পাস করা হয়, তখন ভারত ১৯৯১ সালের সাময়িক অধ্যাদেশটি রেটিফাই করা সাপেক্ষে রহিত করলেও তাদের ১৯৫৭ সালের মূল আইনটিকে রহিত (Repeal) করেনি, বরং কেবল মূল একটি 'সংশোধনী' (Amendment) এনেছিল।  এই সংশোধনীর মাধ্যমে মূল আইনের পঞ্চম অধ্যায়ে 'fifty years'-এর স্থলে 'sixty years' প্রতিস্থাপিত করা হয় এবং নতুন আইনটিকে ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) ঠিক সেই ২৮ ডিসেম্বর ১৯৯১ তারিখ থেকেই কার্যকর ঘোষণা করা হয়। ফলে চলমান মূল আইন যখন 'সংশোধিত' হয়, তখন আইনের অধীনে থাকা সমস্ত বিদ্যমান বা 'অ্যালাইভ' অধিকারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সংশোধিত অবস্থার সুবিধা পায়।  বিপরীতে, বাংলাদেশ সরকার ১৯৬২ সালের মূল আইনটিকে (অধ্যাদেশ) 'সংশোধন' করেনি, বরং ২০০০ সালের আইনের ১০৫(১) ধারা দিয়ে তা সম্পূর্ণরূপে রহিত (Repeal) করে একটি নতুন আইন প্রবর্তন করে। যখন কোনো পুরোনো আইন বাতিল করে নতুন আইন আনা হয়, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরোনো আইনের অধীনে থাকা কর্মগুলো নতুন আইনের সুবিধা পায় না। কারণ, '''The General Clauses Act, 1897'''-এর ধারা ৬(c) অনুযায়ী, কোনো আইন রহিত (Repeal) হলে নতুন আইনে স্পষ্ট 'ভিন্নরূপ কোনো উদ্দেশ্য' (Different intention) না থাকলে, বাতিলকৃত আইনের অধীন অর্জিত অধিকার বা মেয়াদের কাঠামো (যেমন- ৫০ বছরের সীমা) ক্ষুণ্ণ বা পরিবর্তিত হয় না।  বাংলাদেশ যদি ভারতের মতো শুধু "মৃত কর্মগুলো আর জ্যান্ত হবে না" (ধারা ১০৫(৩)) লিখেই ক্ষান্ত হতো, তবে হয়তো বিতর্কের সুযোগ থাকত। কিন্তু আইনে ১০৫(৫) ধারায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: ''"...তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন তাহা অব্যাহত থাকিবে।"''  অর্থাৎ, আইনসভা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, মেয়াদের ক্ষেত্রে নতুন আইনে তাদের 'ভিন্নরূপ কোনো উদ্দেশ্য' নেই। তারা পুরোনো আইনটি বাতিল করলেও, বিদ্যমান কর্মগুলোর মেয়াদ পুরোনো আইন (৫০ বছর) অনুসারেই চলবে। অধিকন্তু, ১০৫(৭) ধারায় 'জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট'-এর প্রয়োগ নিশ্চিত করে এই মেয়াদের সুরক্ষাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। === সার্বিক উপসংহার === উপরের বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা, ভারত ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নজিরের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, ২০০০ সালের ১৮ জুলাইয়ের পূর্বে প্রকাশিত কোনো কর্ম নতুন আইনের সাধারণ ৬০ বছরের মেয়াদের সুবিধা পাবে না। ভারতের আইনটি ছিল চলমান আইনের একটি 'সংশোধনী' হওয়ায় আতা বাংলাদেশের ২০০০ সালের সম্পূর্ণ নতুন আইনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয় না।) তাই ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারার মাধ্যমে এবং ২০২৩ আইনে তা কন্টিনিউ করার মাধ্যমে ২০০০-পূর্ব কর্মের কপিরাইটের মেয়াদ '''প্রকাশ বা লেখকের মৃত্যু + ৫০ বছর''' হিসেবেই আইনিভাবে নির্ধারিত হবে। ফলে আজকের তারিখ: {{#time: j F Y}} হিসেবে ৫০ বছর তথা {{#time: j F Y | -50 years }}-এর আগের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কর্ম কিংবা মৃত্যুবরণকারী লেখকের কর্ম উইকিসংকলনে আপলোড দিয়ে মুদ্রণ সংশোধন করতে কোনও আইনি বাধা নেই। [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৫:০৯, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}}: প্রস্তাবকারী হিসেবে। [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৭:০২, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Mehedi Abedin|Mehedi Abedin]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Mehedi Abedin|আলাপ]]) ১৮:১৪, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * সহ-প্রস্তাবক হিসেবে {{দৃঢ় সমর্থন}}। শুরুতে আমি বরং বিরোধিতাকারী হিসেবেই প্রস্তাবককে নানান যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দুজনে মিলে দীর্ঘ আলোচলা, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও ক্রসচেক শেষে শেষপর্যন্ত এই ব্যাখ্যাতেই উপনীত হতে সক্ষম হই। ২০০০-পূর্ব প্রকাশনার জন্য এটাই এই আইনের সবচেয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা। সবশেষে, বেশ কিছুদিন ধরে নিরলসভাবে বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে আইনে লুকিয়ে থাকা এই বিধান এবং কমন্সে [[C:Commons:Village pump/Copyright#FoP in Bangladesh|বাংলাদেশের ভবনের ছবির কপিরাইট-অযোগ্যতা]]র বিষয়টি খুঁজে বের করার জন্য প্রস্তাবকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ≈ <b style="border:2px solid#103;font-family:georgia;font-variant:small-caps">[[User:MS_Sakib|<b style="background-color:#1E816F;color:#fff">&nbsp;MS Sakib&nbsp;</b>]] [[User talk:MS Sakib|📩]] <b>·</b>[[Special:Contributions/MS Sakib|📝]]</b> ১১:৩৮, ২১ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) * {{সমর্থন}} [[ব্যবহারকারী:Yahya|Yahya]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Yahya|আলাপ]]) ০৭:০৫, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) :{{Comment}} — উপরে দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে আমার কিছু মতপার্থক্য আছে। নিচে তার আলোচনা করছি:— * '''ভূতাপেক্ষিতা''' — উপরে বলা হয়েছে যে নতুন আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে তা ভূতাপেক্ষ (retrospective), যা কিনা General Clauses Act অনুযায়ী হওয়ার কথা নয়; ফলে নতুন আইন দিয়ে পুরনো আইনের অধীনে প্রকাশিত বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারে না। আমার তা মনে হয় না। যে বইয়ের কপিরাইট জীবিত আছে, সেই জীবিত কপিরাইটের জীবৎকাল বাড়ানোকে ভূতাপেক্ষ বলা যায় কি? যদি তা হয়, তবে কবে থেকে ভূতাপেক্ষ? যদি পুরনো আইনের জন্মলগ্ন থেকে ভূতাপেক্ষ হয়, তবে যেসব বইয়ের কপিরাইট অধুনা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু পুরনো আইনের আমলে কিছুকাল আগে কপিরাইটে ছিল, সেই বইগুলিও এই ভূতাপেক্ষিতার সুযোগ লাভ করত এবং তাদের কপিরাইট পুনর্জীবিত হত। কিন্তু তা হয় না। কপিরাইট শেষ হয়ে গেলে এই তথাকথিত ভূতাপেক্ষ প্রাবধান দিয়ে কপিরাইট আর ফিরে আসে না। এতেই প্রমাণিত হয় যে এটা ভূতাপেক্ষ নয়; নতুন আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বাড়লে তা ভূতকাল থেকে বাড়ে না, বরং বর্তমান কাল থেকে বাড়ে। সেজন্যেই বিগত-কপিরাইট বইগুলি এর সুবিধা পায় না। ফলে এর সঙ্গে General Clauses Act-এর কোনই সংঘাত নেই। * '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''' — ১৯৯২ সালে ভারতীয় কপিরাইট আইন সংশোধন করে কপিরাইটের মেয়াদ লেখকের মরণোত্তর ৫০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। সেসময় রবীন্দ্রসাহিত্যের কপিরাইট ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন বিশ্বভারতীর কাছে। তাই এই অতীব লাভজনক কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধিই ছিল আইন-সংশোধনের মূল কারণ। প্রস্তাবকের মতে এমনটা হওয়া ভূতাপেক্ষ, তাহলে কিভাবে হল? প্রস্তাবকের দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী ১৯৯২-তে নতুন আইন না বানিয়ে চলমান আইনের সংশোধন হয়েছিল, তাই এটা ভূতাপেক্ষ নয়; নতুন আইন বানালে ভূতাপেক্ষ হত। বেশ, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের লেখাগুলো তো চলমান ১৯৫৭-এর আইনের অধীনে প্রকাশিতই হয় নি। রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার লেখাগুলি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৪৭-এর আইনের অধীনে (তাতে লেখকের মরণোত্তর সাত বছর কপিরাইট থাকত), আর পরের দিকের বইগুলি প্রকাশিত হয় ১৯১৪-এর আইনের অধীনে (তাতে মরণোত্তর ৫০ বছরের বিধান ছিল)। ১৮৪৭ এবং ১৯১৪-এর সাপেক্ষে ১৯৫৭-এর আইন হচ্ছে নতুন আইন। এই নতুন আইন দিয়ে কিভাবে রবীন্দ্রসাহিত্যের মেয়াদবৃদ্ধি করা গেল? এটা কি ভূতাপেক্ষ হচ্ছে না? প্রস্তাবক দেখাতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারা একটা ভূতাপেক্ষিতা-প্রতিরোধক ব্যবস্থা, যার কারণে ২০০০-এর আইন দিয়ে আগের বইগুলির কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটেনি। কিন্তু একই ব্যবস্থা তো ভারতীয় আইনেও ছিল। ভারতের ১৯৫৭-এর আইনের ৭৯(৫) ধারা এবং বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারা অবিকল এক ধারা, শুধু ধারার নম্বর আলাদা। কাজেই একই নিয়মের উপস্থিতিতে ভারতে যদি কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটে থাকে, তবে বাংলাদেশে তা ঘটেনি বলে কেন আমরা ধরে নেব? * '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''' — এখানে মনে পারে, ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইন ভিন্নপথগামী, তাই পরিণতিও ভিন্ন। কিন্তু ব্যাপারটা সেরকম নয়। দুদেশেরই আইনি পরিকাঠামো, বিভিন্ন স্থানীয় সংশোধনী সহ, কলোনিয়াল লেগ্যাসি। ব্রিটিশদের বানানো General Clauses Act, স্থানীয় সংশোধনী সহ, দুদেশেই চালু আছে। কাজেই একটার সঙ্গে অন্যটা তুলনাযোগ্য। কাজেই ভারতীয় আইনে যদি কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারে, তবে একই ব্যবস্থাযুক্ত বাংলাদেশি আইনে তা না বাড়ার কোন কারণ নেই। তাহলে ১০৫(৫) ধারার উপযোগিতা কী রইল? হ্যাঁ, উপযোগিতা আছে বৈকি, কিন্তু তা প্রস্তাবকের ব্যাখ্যার অনুসারী নয়। নিচে অন্যভাবে ব্যাখ্যার চেষ্টা করছি। * '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''' — যখন পুরনো আইন বাতিল করে নতুন আইন রচিত হয়, তখন নতুন আইনের শেষদিকে একটা রহিতকরণ ধারা (repeal section) থাকে। ভারত ও বাংলাদেশ দুদেশেই এই দস্তুর। পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকরা নতুন আইন দিয়ে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটা নিশ্চিত করতে এই ধারায় কয়েকটা উপধারা থাকে। নতুন আইনে কি সুবিধা পাওয়া যাবে বা যাবে না, সেসব এই ধারায় থাকে না, শুধু পুরনো আইনই এর ফোকাস। বাংলাদেশি আইনের ১০৫(৫) ধারা এই রহিতকরণ ধারার একটা উপধারা। এই ধারা দিয়ে পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকদের লেখকের মরণোত্তর ৫০ বছর কপিরাইটের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন আইনে মেয়াদ যদি ৫০ থেকে কমিয়ে ৪০ বছর করা হত, তাহলেও পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকদের, এই ধারার কারণে, ৫০ বছরের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকত। কিন্তু নতুন আইনের সুবিধা-অসুবিধার জন্য এই ধারা নয়। অর্থাৎ, পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকরা এই ধারা অনুযায়ী ৫০ বছরের অধিকার পাওয়ার পর, নতুন আইনের উপযুক্ত ধারা অনুযায়ী আরও অতিরিক্ত ১০ বছর পেতে পারেন। তাতে কোনই বাধা নেই। * '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''' — দেশে নতুন রাজা হলে পুরনো রাজার বিদ্যমান প্রজারা স্বতস্ক্রিয়ভাবে নতুন রাজার প্রজা হয়ে যায়। সেইরকম, নতুন কপিরাইট আইন হলে আগে থেকে কপিরাইটে থাকা বইগুলি স্বতস্ক্রিয়ভাবে নতুন আইনের আওতায় চলে আসে, ফলে তাদের কপিরাইটের মেয়াদ কমানো না গেলেও বাড়ানো যায়। এই কারণেই ভারতে রবীন্দ্রসাহিত্যের কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটেছিল। * '''ব্যবহারিক উদাহরণ''' — এটা সবারই জানা যে বিখ্যাত বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই অন্যান্য প্রকাশকরা সেগুলি ছেপে বাজারে ছাড়তে থাকে। রবীন্দ্রসাহিত্যের বেলাতেও এই ব্যাপার ঘটেছিল। যদি বাংলাদেশে ২০০০ সালের আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ না বেড়ে থাকে, তবে ১৯৫০ ও পরবর্তীতে মৃত লেখকদের বইগুলি এর সুবিধা পায় নি। সেক্ষেত্রে লেখকমৃত্যুর পর ৫০ পেরোনো কিন্তু ৬০-অনুত্তীর্ণ বিভিন্ন বিখ্যাত বই অবশ্যই অন্যান্য প্রকাশকরা বাজারে ছেড়ে থাকবেন। প্রস্তাবকের কাছ থেকে এমন কিছু ব্যবহারিক উদাহরণ আশা করছি, যাতে এই কপিরাইট না বাড়াটা পরিষ্কারভাবে প্রতিপন্ন হয়। — [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১২:৪২, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) *:{{ping|Hrishikes}} প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষাগত কারণে উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় আমি দুঃখিত। *:<br>১। '''ভূতাপেক্ষিতা''' — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তৎকালীন সময়ে আইনানুযায়ী খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক'কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়ার সুযোগ নেই। *:<br>আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্সটি কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ অথবা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে আইনের পরবর্তী নতুন প্রকাশিত বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে নতুন লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়। *:<br>ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেককাল আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন বর্তমানে মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না; বরং তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলে আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে। *:<br>এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়। *:<br>আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। <div style="float: right; margin-left: 15px; margin-bottom: 5px; border: 2px solid yellow"> {{show |1= আন্তর্জাতিক উদাহরণ |2=আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, ''Sonny Bono Copyright Term Extension Act ([https://www.copyright.gov/legislation/s505.pdf CTEA 1998]'')-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা '''('''[https://eur-lex.europa.eu/legal-content/en/TXT/?uri=CELEX:31993L0098#:~:text=regulating%20moral%20rights.-,Article%2010,-Application%20in%20time Directive 93/98/EEC]''')'''-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/contents The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995]-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ '[https://www.legislation.gov.uk/uksi/1995/3297/regulation/17 Extended and revived copyright]' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই }}</div> *:<br>এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি। *:<br>এই অংশে আমি বেশ কিছু দাবি করেছেন। যদিও আমি মনে করি দাবিসমূহ আইনের ভিত্তিতে নয়, আপনি চাইলে আপনার দাবির আইনি উৎস ব্যক্ত করতে পারেন। *:<br>২। '''রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন''': রবীন্দ্রনাথের কিছু কর্ম ১৮৬৭ সালের আইনের অধীন প্রকাশিত হয়েছে। ১৯১৪ এর আইনের [https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা] অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি। *:<br>৩। '''ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা''': বাংলাদেশ ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' এবং ভারতীয় ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদের বৃদ্ধি ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন একটা সংশোধনী আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২'' দ্বারা ভারতের কপিরাইট মেয়াদ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি ''কপিরাইট আইন, ১৯৫৭'' থেকে আলাদা একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২''-এর ৩ নং ধারা শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইন ''কপিরাইট আইন, ২০০০'' পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা। *:<br>আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০-এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আংশিক আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে ''কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২'' এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো মেয়াদ আটকানোর ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে। *:<br>আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কিছুই প্রামণ্য নয়। আপনার, আমার, আইনজীবীর, সংবাদপত্রের সাংবাদিকের, আইন প্রণেতার, সরকারি কর্মচারীর, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-24.html The Evidence Act, 1872]) এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল<sup>[https://www.cambridge.org/core/books/abs/trials-for-international-crimes-in-asia/trials-for-international-crimes-in-bangladesh/995CD8AA54604F855E32F031EF19E2D4]</sup> <small><sub>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-435/section-12495.html ধারা ১৯(৫) The International Crimes (Tribunals) Act, 1973])</sub></small>। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ব্যাপারে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে। *:<br>সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রতিটি দেশ আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে যে, মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাগু হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আলাদা আইন পাশ করানো হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি সংবেদনশীল, গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই প্রতিটি দেশ অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। সরকার stakeholder-দের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন"-এর খসড়া ২০১৫ সাল হতে লেখা হচ্ছে।<sup>[https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-sid/2024/12/bad818b033344c2faa5ad1276e9ad0d9.pdf]</sup> কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক<sup>[https://obhanmason.com/blog/copyright-in-perpetuity/]</sup> ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এখানে উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম সংবেদনশীল কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52693.html ধারা ৬৭])। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে তাড়াহুড়ো হয়েছে বলে একটি যুক্তি দেওয়া সম্ভব। আমার মতে স্বল্প সময়ে সম্মানিত তৎকালীন ভারতীয় আইন প্রণেতাদের এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে উপযুক্ত ছিল। কিন্তু এই কারণে ভারতের এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। তাই আমার মূল প্রস্তাবনার ভারতীয় আইনে অংশকে তার মাতৃ উৎসের মতোই খানকিটা সাংঘর্ষিক মনে হওয়ার সুযোগ আছে। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে <u>বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়;</u> কেননা যথাযথ কারণে এই নজির প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো? আমার মতে ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে একটি ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। যেহেতু ৭৯(৫) এর শুরুতেই লেখা আছে ''"এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে"'', তাই সংঘর্ষ সৃষ্টি হবে না এবং মেয়াদ বৃদ্ধি বৈধ থাকবে। এই কারণে মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়। *:<br>৪। '''রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য''': আমি আগে ভূতাপেক্ষিতা অংশে বলেছি, আইনের নাম, ধারার নাম অথবা ধারার সাধারণ নাম কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারে না। পারে শুধুমাত্র আইনের মূল পাঠ্য। আপনার প্রদত্ত মতামতে আইনের কোনো ধারা উল্লেখ করে তার আক্ষরিক বিশ্লেষণ নেই। বরং আপনার মতামত বাংলাদেশের আইনের ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমাদের আইনের প্রতিটি শব্দের থেকে এক চুলও নড়বার সুযোগ নেই। আমি ১০৫(৫) ধারা শব্দ ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এই ধারার ব্যাখ্যায় আমার কোন যুক্তি কেন ভুল, তা তুলে ধরুন। ধারায় বলা আছে, ''"তাহা অব্যাহত থাকিবে"'' এবং এর ইংরেজি অনুবাদে বলা আছে, ''"shall continue to be entitled to".'' এখানে "অব্যাহত" এবং "continue" এর অর্থ কি কোনো অভিধানে বলা আছে যে, "কর্মের স্রষ্টার অধিকার কমলে নতুন নিয়ম চলবে এবং বেশি থাকলে আগের নিয়ম থাকবে"? কোনো অভিধানে এই ব্যাখ্যা পাবেন না আপনি। আমি মূল প্রস্তাবনায় অভিধানিক অর্ধ দিয়েছি। অব্যাহত এবং continue অর্থ, আগে যা ছিল, তাই থাকবে। এখানে লাভ-ক্ষতির বা কমা-বাড়ার কোনো হিসেব নেই এবং থাকারও সুযোগ নেই। অব্যাহত শব্দ দ্বারা আপনি যদি ভিন্ন কিছু বুঝে থাকেন তাহলে অনুগ্রহ করে তা ব্যক্ত করুন। উল্লেখ্য একটি শব্দ একেকজন একেকভাবে বুঝতে পারে। তাই অভিধানিক ব্যাখ্যা বেছে নেওয়া বেশি শ্রেয়। আবার এই ধারাটি সম্পূর্ণ হুবুহু ঔপনেবেশিক আইনের ইংরেজি বাক্যের অনুবাদ। এর উৎস ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, এর অর্থ universally accepted "আগে যা ছিল তা"; এর সাথে বাড়া-কমা বা লাভ-ক্ষতির হিসেব নেই। যদিও ১০৪নং ধারা অনুযায়ী বাংলা সংস্করণ থেকে সিদ্ধান্তে আসা উচিত, ইংরেজি এই উৎস আইনের ইচ্ছা বুঝতে সাহায্য করবে। আইনের বাহিরে গিয়ে আমরা কেউ মনগড়া ব্যাখ্যা দাড়া করাতে পারি না। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হলে আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। বস্তুত আপনার ব্যাখ্যা "শর্ত সাপেক্ষে অধিকারের মেয়াদ সংরক্ষণ" যদি আইন করতে চাইতো, তাহলে আইন আলাদা করে তা বলতে পারতো। কিন্তু তা করা হয়নি। অধিকারের ক্ষেত্রে ১০৪(৪) ধারা রয়েছে। এবং ১০৫(৫) দ্বারা মেয়াদ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। শর্ত প্রয়োগ করলে তা উল্লেখ করে দিতো আইন। ১০৫(৪) সরাসরি ''সুবিধা-অসুবিধা'' (অধিকার স্থানান্তর)-এর কথা বলা আছে। তাই "এই ধারা ''সুবিধা-অসুবিধার'' জন্য না" বলাটা আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী। *:<br>৫। '''নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ''': আপনি বারংবার আইনের পাঠ্য বাদ দিয়ে, আইনের নাম, সাধারণ নাম এবং কনসেপ্ট ধরে ব্যাখ্যা প্রকাশ করছেন। আপনার এই দাবির আইনি ভিত্তি কি? আমি আইনের লেখা ও আদালতের রায় ব্যতীত এক চুলও সরার পক্ষপাতি নই। আগের আইনের কর্ম নতুন আইনে আনতে হলে সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, যেমনটি করেছে ভারতীয় ''কপিরাইট আইন, ১৯১৪''([https://ipindia.gov.in/writereaddata/Portal/Images/pdf/The_Copyright_Act__1914.pdf সর্বশেষ পাতা]) এবং বাংলাদেশ ''কপিরাইট আইন, ২০২৩'' ([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html ধারা ১২৭])। নতুন আইনের আওতায় কী শর্তে পুরাতন কর্ম এসেছে, সেটাও উল্লেখ করা আছে এই আইন সমূহে।<sup>[http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-1452/section-52753.html]</sup> আগের আইনের কী বহাল থাকবে এবং কী থাকবে না তাও বলা আছে। কপিরাইট আইন, ২০০০-ও বলে দিয়েছে আগের কর্মের কী কী হবে। তন্মদ্ধে ১০৫(৫) বলেছে মেয়াদ অক্ষুণ্ণ থাকবে। *:<br>৬। '''ব্যবহারিক উদাহরণ''': অন্যান্য প্রকাশকরা লাইসেন্স ফির বিনিময়ে বই প্রকাশ করেছে নাকি পাবলিক ডোমেইন বলে বই প্রকাশ করেছে তা প্রমাণ করবেন কিভাবে। আমি লক্ষ লক্ষ বই উদাহরণ দিলাম। কিন্তু আপনার বলার সুযোগ থাকবে, এরা লাইসেন্স করে অর্থের বিনিময়ে পুনঃপ্রকাশ করেছে। আলাদা করে বইয়ের গায়ে লেখা থাকে না এই বিষয়। ব্যবহারিক উদাহরণ আইনের আদালতে কোনো সিধান্ত গ্রহণকারী ফ্যাক্টর হতে পারে না।([http://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-details-24.html The Evidence Act, 1872]) কপিরাইট একটি কঠোর ও জটিল আইন। তাই এখানে ''Chilling Effect'' কাজ করতে পারে। Chilling Effect এমন একটি মানসিক বা সামাজিক অবস্থা যেখানে মানুষ আইনি জটিলতা বা কঠোর শাস্তির ভয়ে নিজের ওপর অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে বর্তমানে এই পরিস্থিতি বিরাজমান।<sup>[https://www.npr.org/2022/03/30/1089462508/teachers-fear-the-chilling-effect-of-floridas-so-called-dont-say-gay-law]</sup> তাই আলদালতে ব্যবহারিক উদাহরণকে আমলে নেওয়া হয় না। আবার, যদি এই ১০ বছর সময়কালে কোন বিখ্যাত বা পুনঃপ্রকাশ যোগ্য কর্ম না থাকে বা প্রকাশকদের অনীহা থাকে তাহলে কি করবেন? তাও আমি উদাহরণ দিচ্ছি। [[:w:সৈয়দ মুজতবা আলী|সৈয়দ মুজতবা আলী]]র মৃত্যু ১৯৭৪ সালে বা ৫২ বছর আগে। তার বিখ্যাত গ্রন্থ [[:w:দেশে বিদেশে|দেশে বিদেশে]]। এই বইটি [https://www.rokomari.com/book/80412/deshe-bideshe বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র], [https://www.prothoma.com/shop/deshe-bideshe-31138 প্রথমা প্রকাশনা], [https://www.rokomari.com/book/25566/desh-bedeshe স্টুডেন্ট ওয়েজ], [https://www.rokomari.com/book/318056/deshe-bideshe নিউ এজ পাবলিশার্স] প্রকাশ করছে বর্তমানে। আমি নিশ্চিত যে আপনি খুঁজলে বা বইয়ের দোকানে গেলে আরও উদাহরণ পাবেন। কিন্তু এরা পাবলিক ডোমেইন বলে মুক্তভাবে প্রকাশ করছে নাকি লাইসেন্স ফির বিনময়ে তা জানার জন্য তাদের সাথে আলাদা আলাদ করে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, তাই আলাদা কওরে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি আমি। *:<br>আমি আপনার মতামতের প্রতিটি বাক্য ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এরপর মতবিরোধের জায়গা থাকলে আইনের পাঠ্য ধরে করুন এবং আমার যুক্তি কেন অসন্তোষজনক সেটি উল্লেখ করে আইনি ভিত্তিতে প্রতিযুক্তি দিন। ধন্যবাদ। *:[[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ০৭:০৩, ৩০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) ::আপনার যা বক্তব্য, “আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই।”; এটা একটা ইজ্‌ম, যাকে বলে textualism. আইনের দুটো দিক, letter of law এবং spirit of law. শুধু letter of law আইনের সব কথা নয়, শেষ কথাও নয়। মার্কিন সংবিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে লেটার-বাদী আর স্পিরিট-বাদীদের মধ্যে বিতর্ক আছে, তা ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় পাবেন। তবে আমার পক্ষে ভারতীয় উদাহরণ দেওয়া সহজ। Spirit of law অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধানের একটা spirit তথা basic tenets আছে, সংসদ এর বাইরে গিয়ে আইন বানালে সুপ্রিম কোর্ট তা নাকচ করে দিতে পারে। ভারতে Public Interest Litigation নামে একটা সিস্টেম আছে, সেটা সংসদে পাশ হওয়া কোন আইন থেকে আসে নি, বরং সুপ্রিম কোর্টের spirit of law বিষয়ক ভাষ্য থেকে এসেছে। সমলিঙ্গ সম্পর্কের ওপর “বেআইনি” তকমা (৩৭৭ IPC) আদালতের spirit of law ব্যাখ্যায় সরে গিয়েছিল। সেই কারণে আইনের হুবহু পাঠই শেষ কথা নয়, আইনের সাধারণ প্রবণতা, পরম্পরা, আইনের কোন্ অধ্যায়ে ধারা বা উপধারাটা আছে, ধারার হেডিং কি, এসবও গুরুত্বপূর্ণ। * ভূতাপেক্ষ শব্দটা আলোচনায় আমি আমদানি করিনি, আপনার বক্তব্য থেকেই শব্দটা নেওয়া। এটা যে ব্যাখ্যামূলক শব্দ, এবং সরাসরি আইনে থাকে না, সেটাও আমার জানা আছে। কপিরাইটের জীবিত থাকার ব্যাপারটা যে biological অর্থে বলা হয় নি, সেটা বুঝতে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট। যেসব আন্তর্জাতিক উদাহরণ আপনি দিয়েছেন, তার সবেতেই নতুন আইনে মেয়াদ বাড়লে কপিরাইটভুক্ত পুরনো বইগুলোরও মেয়াদ বেড়েছে। ঐসব আইনের বাচনভঙ্গি পুরনো ব্রিটিশ লেগ্যাসিভুক্ত উপমহাদেশীয় আইনগুলির বাচনভঙ্গি থেকে আলাদা হতেই পারে, কিন্তু ধারণাটা একই, যে, নতুন আইনে কপিরাইটভুক্ত পুরনো বইয়ের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটে থাকে। * আপনার বক্তব্য অনুযায়ী ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। আমার কাছে এমন কিছু প্রতিভাত হয় নি। অব্যাহত শব্দের অর্থ আপনি ভুল বুঝেছেন। অভিধান খুললে দেখবেন, ব্যাহত মানে বাধাপ্রাপ্ত। কোন কিছুর প্রবাহ আটকে দিলে তা ব্যাহত বা বাধাপ্রাপ্ত হয়। প্রবহমানতা বাড়িয়ে দিলে ব্যাহত হওয়ার কোন ব্যাপারই নেই। কাজেই ১০৫(৫)-এ শুধু মেয়াদ-হ্রাসই আটকানো হয়েছে, মেয়াদ-বৃদ্ধি নয় (এ-ব্যাপারটা নিচে বিশদে দেখাচ্ছি)। * ভারতের আইনকে sloppy বলাটা শিষ্টাচার-বিরুদ্ধ হয়েছে। “আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।” — এটা অজ্ঞতা-প্রসূত মন্তব্য। ভারতের এই সাময়িক অধ্যাদেশগুলি সংসদের অধিবেশন চলাকালীন জারি করা যায় না। সংসদ যখন অধিবেশনে থাকে না, তখন আইন প্রণয়ণ করার আপৎকালীন প্রয়োজন অনুভূত হলে অধ্যাদেশ জারি হয়। কিন্তু অধ্যাদেশ সাময়িক হওয়ায় এর সময়সীমার মধ্যে সংসদীয় আইন দিয়ে অধ্যাদেশ জারির দিন থেকে তা আত্তীকরণ করতে হয়, নইলে তা তামাদি হয়ে যায়। আপনি একটা ব্লগ থেকে সংসদীয় বিতর্কের যে আংশিক রূপ পেয়েছেন (সম্পূর্ণটা অফিসিয়াল সাইটে আছে) তা অধ্যাদেশ নিয়ে নয়, বরং পরবর্তী প্রতিস্থাপক আইন নিয়ে। সেটা সাংসদদের রাজনৈতিক বিতর্ক (সংসদে যেটা হয়ে থাকে), আইনের টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি নিয়ে নয়। সেই আইনটা তার সংশোধন কার্য সম্পন্ন করার পর Repealing and Amending Act, 2001 দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। যাই হোক, আইনটা জারি হয়েছে ১৯৯২-এর এপ্রিলে, কাজেই বিষয়বস্তু পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞদের কাছে সময় ছিল। আপনার ভিন্নমত সত্ত্বেও, ১৯৫৭-র আইন সংশোধন করে যে পুরনো আইনের অধীনে প্রকাশিত কিন্তু তখনও কপিরাইটে থাকা বইয়ের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ আইনবিদদের মনে সন্দেহ ছিল না বলেই বিল বানিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছিল, নইলে অধ্যাদেশটাকে তামাদি হতে দেওয়া হত। কাজেই এটা কোন sloppy কাজ নয়। * বাংলাদেশের ২০২৩-এর আইন কিছুটা অন্য পথে গেছে ঠিকই, কিন্তু ২০০০-এর আইনটা গতানুগতিকতার মধ্যেই আছে। ভারতের ১৯৫৭-র আইন ও বাংলাদেশের ২০০০-এর আইন — এদুটোকে পাশাপাশি রেখে পড়লে স্বতই মনে হয় একটার অনুপ্রেরণায় অন্যটা রচিত (আসলেই কপি করা হয়েছে সেকথা বলছি না)। যেটাকে উইকিতে আমরা Edict-Gov বলি, অর্থাৎ ভারতীয় আইনের ধারা ৫২ আর বাংলাদেশের ধারা ৭২, এদুটো পাশাপাশি রাখলেই মিলটা বোঝা যাবে। সেজন্যেই ভারতীয় আইনকে sloppy বলে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশি আইনের ব্যাখ্যা মার্কিন আর ইউরোপীয় আইন দেখিয়ে করা যায় না। * এবার আপনার “আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে” এই textualist দাবির বিষয়ে দেখছি। ** বাংলাদেশের ১০৫(৪) অনুসারে আগের বইগুলোর কপিরাইটের অধিকার নতুন আইন চালু হওয়ার পর থেকে নতুন আইনের ধারা ১৪ অনুসারে প্রযুক্ত হবে, এমনকি নতুন আইনে নতুন অধিকার থাকলে সেগুলিও পুরনো বইতে বর্তাবে। এতদ্বারা পুরনো বইগুলো নতুন আইনের আওতায় এসেছে। তবে এতে মেয়াদ সম্পর্কে কিছু বলা নেই। ** ১০৫(৩) অনুসারে নতুন আইন আগের আইনের অধীনে প্রকাশিত বিগত-কপিরাইট বইয়ের কপিরাইট পুনরুদ্ধার করবে না। বিগত-কপিরাইট বইয়ের জন্য এই exclusion principle থাকায় কপিরাইটভুক্ত বইগুলি স্বতই অন্তর্ভুক্ত হয়। ** ধারা ১৩ অনুসারে কপিরাইট শুধু নতুন আইন অনুসারেই চলতে পারবে। অর্থাৎ রহিত আইন অনুসারে কপিরাইট চলতে পারবে না (বলা বাহুল্য, আগে যা অধিকার দেওয়া হয়ে গেছে, সেটার কাটছাঁট না করে, তথা “অব্যাহত” রেখে)। ** কপিরাইট নতুন আইন অনুযায়ী চলতে হলে ধারা ২৪ অনুযায়ী মরণোত্তর ৬০ বছরের বিধানও লাগু হবে। এই ধারায় আগের বইগুলোর জন্য কোন exclusion principle দেওয়া নেই, ফলে এটা generic ভাবে সর্বত্র প্রযোজ্য। ** এবার General Clauses Act, যাকে পাশ কাটিয়ে উপমহাদেশে কোন আইন রচনা করা যায় না। *** প্রথমে ৬ নম্বর ধারা দেখা যাক, যার বক্তব্য ২০০০-এর আইনের ১০৫ ধারায় বিধৃত। ১০৫(৩) এসেছে GC আইনের 6(a) থেকে। ১০৫-এর (২) এবং (৫) আগেকার অধিকার ও দায় (rights and liabilities) সম্পর্কিত, যা এসেছে GC আইনের 6(c) থেকে। ক্রিয়াপদ হিসাবে ১০৫(২)-তে আছে “খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না” (nothing in this section shall diminish or prejudice) এবং ১০৫(৫)-এ আছে “অব্যাহত থাকিবে” (shall continue to be entitled to)। GC আইনের 6(b) থেকে 6(e)-তে একটাই ক্রিয়াপদ: to affect. আভিধানিক অর্থে বাড়ানো বা কমানো দুটোতেই affect হয়। কিন্তু এটা উনিশ শতকের শেষদিকের আইন। সেযুগে আইনের পরিভাষায় affect বলতে কি বোঝাত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত [[:en:Page:Black's Law Dictionary (Second Edition).djvu/54|ব্ল্যাকের আইন অভিধান]] অনুসারে “This word is often used in the sense of acting injuriously upon persons and things.” অর্থাৎ সেযুগের আইনি ব্যবহারে affect দিয়ে কমানো বোঝায়, বাড়ানো নয়। সেজন্যেই ১০৫ ধারায় “খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না” লিখেছে। “অব্যাহত থাকিবে”-কেও এভাবেই বুঝতে হবে, কারণ GC আইনে দুটোই affect. *** এবার অন্য ধারা দেখা যাক। ধারা ২৪ অনুসারে এক আইন রহিত হয়ে একই বিষয়ে পরিবর্তনসহ বা অপরিবর্তিত ভাবে নতুন আইন হলে, পুরনো আইনের অধীনে জারি করা ব্যবস্থাগুলি চলতে থাকবে, যদি না তা নতুন আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ (inconsistent) হয়, এবং ধরে নেওয়া হবে যে নতুন আইন অনুসারে এই ব্যবস্থাগুলি চলছে; এবং পরে নতুন আইনের কোন ব্যবস্থা পরিবর্তিত (superseded) হলে পুরনো ব্যবস্থাগুলিও পরিবর্তিত হবে। *** GC আইনের ৬ ও ২৪ নং ধারা থেকে এই ব্যাখ্যাই দাঁড়ায় যে কপিরাইটের মেয়াদ সংক্রান্ত আগের আইনের ব্যবস্থা পুরনো বইয়ের জন্য নতুন আইন অনুসারে চলতে থাকবে কিন্তু সময়টা নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য ৫০-এর জায়গায় ৬০ বছর হবে। * ব্যবহারিক উদাহরণ বিষয়ে লক্ষ লক্ষ উদাহরণের নামে আপনি দিয়েছেন শুধু ভারতীয় বইয়ের উদাহরণ (''দেশে বিদেশে'' ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত)। বড় বড় প্রকাশকদের আইনি টিম থাকে, ফলে তারা আইনি পরামর্শ সহজেই পেতে পারে, chilling effect-এর কোন সম্ভাবনাই নেই। মূল কোম্পানি বইয়ের প্রকাশ ও বিক্রি চালাতে থাকলে একই দেশে অন্য কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয় না, দিলেও একসঙ্গে অনেক কোম্পানিকে দেয় না। License fee, chilling effect, বিখ্যাত বই না থাকা, এসব শুধুই অযুক্তি। পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ যে বাড়ে নি, সেটা বাংলাদেশের প্রকাশকরা বুঝতে পারল না, আর আপনি শুধু একাই বুঝতে পারলেন? আর এটা আদালত নয়, একটা আলোচনাসভা। এখানে এভিডেন্স অ্যাক্ট দেখিয়ে ব্যবহারিক উদাহরণকে পাশ কাটানো যায় না। * যাক, প্রকাশকরা না হয় নাই বুঝল, বাংলাদেশের বিদ্বজ্জনরাও কি বোঝে নি? বাংলাপিডিয়া একটা সরকারি প্রকাশনা। সেখানে [https://en.banglapedia.org/index.php?title=Copyright কপিরাইট] নিবন্ধে লিখেছে “In the Bangladesh Copyright Act 2000, the period has been fixed at 60 years.” কপিরাইটের দুরকম ব্যবস্থা থাকলে এখানে লিখল না কেন? এছাড়া [https://www.universepg.com/public/img/storage/journal-pdf/Sketch%20of%20the%20copyright%20act,%202000%20in%20Bangladesh%20enforcement,%20impediments%20and%20solutions.pdf এই নিবন্ধটা] দেখুন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের আইনবিদদের লেখা, ২০০০-এর আইনের ওপরে। এখানেও ৬০ বছর দিয়েছে, পুরনো বইয়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থার কথা কিছু লেখেনি। এরকম আরও কিছু লেখা পড়লাম, কোথাও দুরকম ব্যবস্থার কথা (৬০ ও ৫০) লেখা নেই। বাংলাদেশের ৬০-অনুত্তীর্ণ পুরনো বইয়ের সংখ্যা এখনও বিশাল। সেইসব বইয়ের আলাদা কপিরাইট মেয়াদের কথা কেউ কিছু লিখছে না কেন? কেউ কি এটা জানে না? সব দেখেশুনে আমি যা বুঝলাম, এই দুরকম কপিরাইট-মেয়াদের ব্যবস্থা শুধু আপনার কল্পনাতেই আছে, আর কোথাও নেই। উইকিমিডিয়া প্রকল্পগুলিতে বক্তব্য-প্রতিষ্ঠার জন্য secondary ও tertiary source-এর কদর আছে, কিন্তু আইনগুলি সবই primary source. কাজেই আপনার বক্তব্যটাকে অরিজিন্যাল রিসার্চের পর্যায়ে ফেলা যেতে পারে। আমি একজন সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ সম্পাদক, কোন আইনজ্ঞ নই। কিন্তু এটুকু বলতে পারি যে অরিজিন্যাল রিসার্চের উপর ভিত্তি করে (যেটা আদৌ আমার কাছে convincing মনে হয়নি) কপিরাইটের মত জটিল বিষয়ে উইকিসংকলনে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে না। আপনি আপনার এই রিসার্চ কোন প্রতিষ্ঠিত আইনের জার্নালে প্রকাশ করতে পারেন। তারপর peer review-তে যদি দেখা যায় যে প্রতিষ্ঠিত আইন-বিশারদরা আপনার বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, তখন আপনার নিবন্ধকে রেফারেন্স হিসেবে দেখিয়ে উইকিসংকলনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা যেতে পারে। আমাদের বিতর্ক অনেক হলো, এবার দেখা যাক, অন্য সম্পাদকরা কি বলেন। [[ব্যবহারকারী:Hrishikes|হৃষীকেশ]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Hrishikes|আলাপ]]) ১৩:২৯, ৩০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি) :ব্যস্ততার জন্য শুধুমাত্র কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করছি :১। "অব্যাহত" এর সাথে এর সময়কালও বলা আছে "তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন", অর্থাৎ এইখানে সময়কাল দেওয়া আছে, যে পূর্বের সময়কাল বজায় থাকবে। আইনসভা যখন পরিষ্কার করে বলছে ‘আইন পাস না হলে যা হতো, তা-ই থাকবে’, তখন তারা মূলত একটি Time-lock বা মেয়াদের সীমা টেনে দিয়েছে। :২। কপিরাইট কোনো ‘প্রাকৃতিক অধিকার’ বা ‘সংবিধানের মৌলিক কাঠামো’র অংশ নয়। এটি একটি Statutory Right বা আইন দ্বারা সৃষ্ট অধিকার। বিধিবদ্ধ আইনের ক্ষেত্রে বিচারিক ব্যাখ্যা তখনই ‘Spirit’ খোঁজে, যখন আইনের ভাষা অস্পষ্ট থাকে। বাংলাদেশের ২০০০ সালের আইনের ১০৫(৫) ধারার ভাষা অত্যন্ত গাণিতিক এবং স্বচ্ছ। যেখানে ভাষা স্পষ্ট, সেখানে ‘Spirit’-এর দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত ১০ বছর যোগ করা আইনসভার ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। :৩। GCA-এর ২৪ নম্বর ধারা প্রযোজ্য হয় তখন, যখন নতুন আইন পুরোনো আইনের কোনো প্রবিধান বা আদেশ সম্পর্কে নীরব থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের ২০০০ সালের আইনের ১০৫(৫) ধারাটি একটি Explicit Saving Clause। GCA-এর ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো আইন রহিত হয়, তখন নতুন আইনে ‘ভিন্নরূপ উদ্দেশ্য’ (Different intention) না থাকলে পুরোনো মেয়াদের কাঠামোই বজায় থাকে। ১০৫(৫) ধারাটিই হলো সেই ‘ভিন্নরূপ উদ্দেশ্য’ যা নিশ্চিত করেছে যে পুরোনো কর্মগুলো নতুন আইনের ‘৬০ বছর’ মেয়াদের ছাঁচে পড়বে না। :৪। একাডেমিক নিবন্ধ বা এনসাইক্লোপিডিয়া সাধারণত আইনের মূল সুর (General Rule) নিয়ে আলোচনা করে, তারা প্রতিটি আইনের Transitional Provisions বা ‘সংক্রমণকালীন বিধান’ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে না। ল জার্নালের সাধারণ আলোচনা কখনোই আইনের বিধিবদ্ধ ধারাকে বাতিল করতে পারে না। নীরবতা মানেই এই নয় যে আইনটি পরিবর্তিত হয়ে গেছে। :৫। আইনের কোনো ধারা নিয়ে যদি দুটি ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে, তবে আদালত সবসময় কোন ব্যাখ্যাটি বেছে নেবে? যা জনসাধারণের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে (Public Access) প্রসারিত করে নাকি স্রষ্টার একচেটিয়া অধিকার। ১০৫(৫) ধারা যেহেতু পুরোনো মেয়াদের (৫০ বছর) দিকে সরাসরি নির্দেশ করছে, তাই একে টেনে বড় করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা যৌক্তিকতা নেই। :৬। বাংলাদেশে কপিরাইট লঙ্ঘনের হাজারো মামলা কেন হচ্ছে না? কারণ কপিরাইট এনফোর্সমেন্ট এমনিতেই দুর্বল। এই দুর্বলতাকে আইনের ‘বৈধতা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায় না। আবার এই ১০ বছরের সময়কালের বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশ বই খোঁজা কষ্টকর। :৭। ভারতীয় মেয়াদ "সংশোধনী" আইন দ্বারা বেড়েছে। এই আলাদা আইনটি খুলে দেখতে পারেন। সেখানে ভুতাপেক্ষিতার যে ধারা আছে সেখানে মেয়াদের ধারাটি নেই। :৮।আবার ১০৫(৫)কে যদি আপনি না মানেন তাহলে ১৯৯০-২০০০ যে বই পাবলিক ডোমেইনে ঢুকেছে, সেটা আবার ফেরত আসার কথা। :আমার বাসা থেকে কপিরাইট অফিস দূরে নয়। এই মাসের মঝামাঝি সময়ে আবার যাবো। তবে তাদের থেকে লিখিত কিছু আশা করা বৃথা। [[ব্যবহারকারী:Tausheef Hassan|Tausheef Hassan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Tausheef Hassan|আলাপ]]) ১৭:১০, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি) n2779h4xl7holg8jo18ykpwle30n1gu টেমপ্লেট:PAGES NOT PROOFREAD 10 9620 1941985 1941843 2026-04-06T06:59:53Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1941985 wikitext text/x-wiki 452210 o6icode9tt8xpjjvwpfodj7zqj0g3hv টেমপ্লেট:ALL PAGES 10 9621 1941986 1941844 2026-04-06T07:00:03Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1941986 wikitext text/x-wiki 563025 mvovsbf7qjgnsys4sc9z3wkqqvpoi1r টেমপ্লেট:PR TEXTS 10 9622 1941987 1941846 2026-04-06T07:00:13Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1941987 wikitext text/x-wiki 19393 md7l52uyo14gtrvorqrsb45mjusipeq টেমপ্লেট:ALL TEXTS 10 9623 1941988 1941847 2026-04-06T07:00:23Z SodiumBot 19245 বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে 1941988 wikitext text/x-wiki 19393 md7l52uyo14gtrvorqrsb45mjusipeq ব্যবহারকারী:Shivishbrahma 2 775155 1941917 1841398 2026-04-05T12:48:11Z Shivishbrahma 10592 /* বই সংশোধন বা বৈধকরণ */ 1941917 wikitext text/x-wiki {{Userboxtop}} {{ব্যবহারকারী/ভারতীয়}} {{ব্যবহারকারী/বাঙালি}} {{ব্যবহারকারী/বাংলাভাষী}} {{Userboxbottom}} আমি পূর্বায়ণ, একজন ভারতীয় বাঙ্গালি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং স্মাতক। আমার শখের কাজের হল বই পড়া ও বই লেখা। == বই সংশোধন বা বৈধকরণ == # [[রোগশয্যায়]] {{done}} # [[ছবি ও গান]] {{done}} # [[গীতাঞ্জলি]] {{done}} # [[চিত্রবিচিত্র]] {{done}} # [[ক্ষণিকা]] {{done}} # [[নির্ঘণ্ট:এখন যাঁদের দেখছি - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf]] == প্রতিযোগিতা == {{ব্যবহারকারী/রবিমাস ১৪২৭}} 13qnbxudhvuc1j4syf3ebr1np2lm26n উইকিসংকলন:গ্ল্যাম/ব্রিটিশ লাইব্রেরি - ভারতীয় মুদ্রণের দুই শতক/চিত্রশালা 4 806099 1941979 1941588 2026-04-06T05:24:37Z Bodhisattwa 2549 1941979 wikitext text/x-wiki <noinclude><big>{{center|'''[[:c:Category:Two Centuries of Indian Print|উইকিমিডিয়া কমন্সে এই গ্ল্যাম প্রকল্পের বিষয়শ্রেণী]]''' দেখুন}}</big></noinclude> <gallery mode=slideshow class="center"> ঘোসেটি বেগম.jpg|ঘোসেটি বেগম — ''[[বাঙ্গ্‌লার বেগম/ঘসিটী|বাঙ্গ্‌লার বেগম]] ({{Al|ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়}})'' সেক্‌সপিয়র কৃত গ্রন্থ হইতে উদ্ধৃত অপূর্ব্বোপাখ্যান (page 58 crop).jpg|ওথেলো — ''[[সেক্‌সপিয়র কৃত গ্রন্থ হইতে উদ্ধৃত অপূর্ব্বোপাখ্যান/ওথেলোর উপাখ্যান|সেক্‌সপিয়র কৃত গ্রন্থ হইতে উদ্ধৃত অপূর্ব্বোপাখ্যান]] ({{Al|চার্লস ল্যাম্ব}}, {{Al|মেরী ল্যাম্ব}})'' গল্পের বই - সুখলতা রাও (page 41 crop).jpg|হরিণ ভাই — ''[[গল্পের বই/ভাই বোন|গল্পের বই]] ({{Al|সুখলতা রাও}})'' গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত (১৯১৩) (page 11 crop).jpg|গলিভারের সর্ব্বাঙ্গ রজ্জুর দ্বারা বদ্ধ — ''[[গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত/দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ|গলিভারের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত]] ({{Al|জোনাথন সুইফ্ট্}})'' <!-- Insert the image and caption in the line above according to the model Image:<File name on Commons, with extension>|Legend --> </gallery> 4lemw31zyt9bra0rdrhpb9s3h75m3s2 লেখক:সাদেক আলি 100 875821 1941952 1935087 2026-04-05T14:20:11Z Bodhisattwa 2549 1941952 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} {{Talikak list end}} {{PD-old}} f3a9kgxyjczu4ezbkbjk98v25gf7vlj 1941954 1941952 2026-04-05T14:20:42Z Bodhisattwa 2549 1941954 wikitext text/x-wiki {{লেখক}} {{Talikak list|special=author|target={{#invoke:Wikibase|id}}|row_template=লেখক সংস্করণ সারি}} === কবিতা === ==== সাধুজীবনী ==== {{লেখক রচনা সারি|work = ''[[d:Q105358957|হালতুন্নবী]]''|item = Q105358957}} {{লেখক সংস্করণ সারি|item = Q137884038|label = ''[[d:Q137884038|হালতণ্ণবি]]''|p1957 = https://bn.wikisource.org/wiki/নির্ঘণ্ট:হালতণ্ণবি_-_সাদেক_আলি_(১৯০৬).pdf|p577 = 1906}}{{Talikak list end}} {{PD-old}} 4gdd73wvswmubkle7nj4y9kr0ang2e5 পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৩ 104 877764 1941980 1941530 2026-04-06T05:44:55Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941980 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{rh||(১৭)|}}</noinclude>বুলের অত্যন্ত প্রশংসা করিয়া কহিল, যে ইহা প্রকৃত বুলবুল অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। হীরা মণি জহরাত আছে বলিয়া বাহ্য সৌন্দর্য্য নিমিত্ত আমি এমন কথা বলি নাই। কিন্তু তদপেক্ষাও ইহার একটি বিশেষ গুণ আছে, এজন্য ইহা বলিতেছি। সে পুনরায় বলিল হে প্রজাবৎসল রাজাধিরাজ! আপনি বিবেচনা করিয়া দেখুন, প্রকৃত বুলবুল কোন্ সুরে গাইবে, তাহাতে আপনি নির্ভর করিয়া থাকিতে পারেন না, কিন্তু কৃত্রিম বুলবুল যে সুরে এবং যে রাগে গাইবে,অগ্রেই তাহা প্রকাশিত আছে, অতএব কি গাইবে তাহাতে আপনি নির্ভর করিতে পারেন। কেহ ইচ্ছা করিলে ইহাকে খুলিয়া এক এক অংশ পৃথক করত মনুষ্য বুদ্ধিতে যতদূর পর্য্যন্ত কারিগরী হয়, তাহা দেখাইয়া দিতে পারেন। চুঙ্গি সকল কি প্রকারে আছে, ও কিরূপে কার্য্য করিতেছে, একটি হইতে আর একটি কিরূপে উদ্ভব হয়, ইচ্ছা হয় তো এ সকলই দেখান যায়। {{ফাঁক}}উপস্থিত লোক মাত্রই বলিতে লাগিল, আমরাও এইরূপ বিবেচনা করিতে ছিলাম। বাদ্যকরের প্রতি আদেশ হইল, আগামী রবিবারে তুমি সকল লোকের সাক্ষাতে বাক্স খুলিয়া পক্ষীকে সকলেরই নেত্রগোচর করাইবে। মহারাজ স্বয়ং আদেশ করিলেন, সাধারণ লোকে ইহার<noinclude></noinclude> 5rv34zj2uk03aj1fd1q3ql442iqjexm পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৪ 104 877765 1941981 1941541 2026-04-06T05:51:22Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941981 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(১৮)}}</noinclude>যেন গানও শুনিতে পায়। রাজআজ্ঞানুসারে তাহারা পক্ষীরব শ্রবণ করত অতিশয় পুলকিত হইয়া উঠিল। একত্রে সকলেই বাহবা দিয়া করতানি প্রদান পূর্ব্বক মস্তক নাড়িতে লাগিল, কিন্তু এক দরিদ্রধীবর পূর্ব্বে জীবিত বুলবুলের গীত শ্রবণ করিয়া ছিল, সে তাহাদের কথায় আপন সম্মতি প্রদান না করিয়া কহিল, গানাদি সুন্দর বটে, তাহাতে সন্দেহ নাই, এক প্রকার সুস্বর শুনিতে পাইতেছি। তথাপি ইহাতে একটি বিশেষ ত্রুটি আছে, কিন্তু সে কি আমি নীচ লোক তাহা বলিতে পারি না। অনন্তর জীবিত বুলবুল রাজ্য হইতে দূরীকৃত হইল। {{ফাঁক}}মহারাজ আপনার শয্যার নিকটে একটি রেশমি গদির উপরে ঐ কৃত্রিম বুলবুলটিকে রাখিয়া রাশীকৃত মণি মুক্তা প্রবালাদি দ্বারা তাহার চারিদিক ভূষিত করিলেন। তদবধি ঐ পক্ষী রাজাগায়ক উপাধি প্রাপ্ত হইয়া দেশ বিখ্যাত হইল। আরও একটি অদ্ভুত উপাধি পাইয়াছিল, কিন্তু তাহা প্রকাশ করিয়া না বলিলে কি জানি পাঠক মহাশয়েরা না বুঝিতে পারেন, এজন্য বিস্তারিত রূপে লিখিতে বাধিত হইলাম। সকল লোকের হৃদয়মণ্ডল বামপার্শ্বে থাকে। তাহা স্বাভাবিক, এ বিষয়ে রাজা এবং প্রজাতে কিছুই বিশেষ নাই,<noinclude></noinclude> cji2e47qb99ltbkwrmy05xmri2dcpjd পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৫ 104 877766 1941982 1941542 2026-04-06T05:56:57Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941982 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(১৯)}}</noinclude>অতএব চায়না দেশীয় মহারাজ সকল অঙ্গ হইতে আপনার বাম অঙ্গকে অতিশয় শ্রেষ্ঠ বোধ করিতেন, ইহাতেই উৎকৃষ্ট বিষয়ে সেই বুলবুল প্রধান অর্থাৎ হৃদয়ের ধন হইল। কৃত্রিম পক্ষী বিষয়ে প্রধান বাদ্যকর পঁচিশ খণ্ডে এক খানি গ্রন্থ প্রস্তুত করিলেন। পুস্তক খানি একে চায়না ভাযায় বিস্তারিত কঠিন কঠিন শব্দেতে ভূষিত, তাহাতে আবার গ্রন্থকার আপন গুণপনা প্রকাশ করিতে ত্রুটি করেন নাই। সুতরাং লোকদিগের কিছুই বোধ গম্য হইলনা। কিন্তু পাছে রাজা নির্ব্বোধ বিবেচনা করেন, অথবা প্রাণে সংহার করেন, এজন্য সকল লোকেই ভীত হইয়া কহিল, আমরা পুস্তক পাঠ করিয়া উত্তমরূপে বুঝিতে পারিয়াছি। এইরূপে এক বৎসর কাল লোকদিগের আনন্দের আর পরিসীমা রহিলনা। মহারাজ, সভাসদগণ, এবং চায়না দেশীয় প্রায় তাবল্লোকেই কৃত্রিম বুলবুলের গীতটীকে মুখস্থ করিল। পক্ষী গান করিলে তাহারাও তাহার সঙ্গে গাইত। তাহাদের পূর্ব্বাপেক্ষা অধিক আহ্লাদিত হইবার মূল কারণ এই; বালকেরা পথে পথে রি, রি, রি, কঁ, কঁ, কঁ, কু, কু, কু, ইত্যাদি শব্দে গান করিয়া বেড়াইত। মহারাজও ঐরূপ গান করিতেন। {{ফাঁক}}এক দিন সন্ধ্যাকালে ভূপতি মহাশয় খট্টোপরিশয়ন<noinclude></noinclude> 8uy9ilpt0pl02tvh4pumkgpokc6xlof পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/১ 104 877767 1941929 1941543 2026-04-05T13:39:08Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941929 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>{{dhr|3em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|'''BENGALI FAMILY LIBRARY.'''}}}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|'''গার্হস্থ্য বাঙ্গলা পুস্তক সঙ্গ‍্রহ।'''}}}} {{rule|9em}} {{কেন্দ্র|{{larger|চীন দেশীয়}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|বুলবুল পক্ষীর}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|বিবরণ।}}}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|'''শ্রীযুক্ত মধুসূদন মুখোপাধ্যায়'''}}}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|'''কর্ত্তৃক'''}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|ইংরাজী ভাষা হইতে}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|অনুবাদিত।}}}} {{rule|6em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|CALCUTTA.}}}} {{কেন্দ্র|PRINTED EOR THE VERNACULAR LITERATURE}} {{কেন্দ্র|COMMITTEE,}} {{কেন্দ্র|By Anund chunder Vedantuvagees.}} {{কেন্দ্র|AT THE TUTTOBODHINEE PRESS.}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|1857.}}}} {{কেন্দ্র|Price One Anna.{{ফাঁক|3em}} মূল্য ৴৹ আনা।}} {{dhr|3em}}<noinclude></noinclude> 1flf21ylok2th3nzp6ej6yhbsl1hwr4 1941931 1941929 2026-04-05T13:41:32Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941931 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>{{dhr|3em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|'''BENGALI FAMILY LIBRARY.'''}}}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|'''গার্হস্থ্য বাঙ্গলা পুস্তক সঙ্গ‍্রহ।'''}}}} {{rule|9em}} {{কেন্দ্র|{{larger|চীন দেশীয়}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|বুলবুল পক্ষীর}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|বিবরণ।}}}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|'''শ্রীযুক্ত মধুসূদন মুখোপাধ্যায়'''}}}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|'''কর্ত্তৃক'''}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|ইংরাজী ভাষা হইতে}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|অনুবাদিত।}}}} {{rule|6em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|CALCUTTA.}}}} {{কেন্দ্র|PRINTED EOR THE VERNACULAR LITERATURE}} {{কেন্দ্র|COMMITTEE,}} {{কেন্দ্র|{{larger|By Anund chunder Vedantuvagees.}}}} {{কেন্দ্র|AT THE TUTTOBODHINEE PRESS.}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|1857.}}}} {{কেন্দ্র|Price One Anna.{{ফাঁক|2em}} মূল্য ৴৹ আনা।}} {{dhr|3em}}<noinclude></noinclude> l6gsrg65fibt81y18lhqgrigf6zcq7y 1941935 1941931 2026-04-05T13:46:34Z Salil Kumar Mukherjee 12643 সংশোধন 1941935 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>{{dhr|3em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|'''BENGALI FAMILY LIBRARY.'''}}}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|'''গার্হস্থ্য বাঙ্গলা পুস্তক সঙ্গ‍্রহ।'''}}}} {{rule|9em}} {{dhr}} {{কেন্দ্র|{{larger|চীন দেশীয়}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|বুলবুল পক্ষীর}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|বিবরণ।}}}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|'''শ্রীযুক্ত মধুসূদন মুখোপাধ্যায়'''}}}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|'''কর্ত্তৃক'''}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|ইংরাজী ভাষা হইতে}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|অনুবাদিত।}}}} {{dhr}} {{rule|6em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|CALCUTTA.}}}} {{কেন্দ্র|PRINTED EOR THE VERNACULAR LITERATURE}} {{কেন্দ্র|COMMITTEE,}} {{কেন্দ্র|{{larger|By Anund chunder Vedantuvagees.}}}} {{কেন্দ্র|AT THE TUTTOBODHINEE PRESS.}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|1857.}}}} {{কেন্দ্র|Price One Anna.{{ফাঁক|2em}} মূল্য ৴৹ আনা।}} {{dhr|3em}}<noinclude></noinclude> euhfgxibitb9e7il79sor9eq9vejqr3 পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/৩ 104 877768 1941932 1941544 2026-04-05T13:43:15Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ 1941932 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>{{dhr|3em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|'''BENGALI FAMILY LIBRARY.'''}}}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|'''গার্হস্থ্য বাঙ্গলা পুস্তক সঙ্গ‍্রহ।'''}}}} {{rule|9em}} {{কেন্দ্র|{{larger|চীন দেশীয়}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|বুলবুল পক্ষীর}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|বিবরণ।}}}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|'''শ্রীযুক্ত মধুসূদন মুখোপাধ্যায়'''}}}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|'''কর্ত্তৃক'''}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|ইংরাজী ভাষা হইতে}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|অনুবাদিত।}}}} {{rule|6em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|CALCUTTA.}}}} {{কেন্দ্র|PRINTED EOR THE VERNACULAR LITERATURE}} {{কেন্দ্র|COMMITTEE,}} {{কেন্দ্র|{{larger|By Anund chunder Vedantuvagees.}}}} {{কেন্দ্র|AT THE TUTTOBODHINEE PRESS.}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|1857.}}}} {{কেন্দ্র|Price One Anna.{{ফাঁক|2em}} মূল্য ৴৹ আনা।}} {{dhr|3em}}<noinclude></noinclude> ewzrf2hgpzm3k1vgyurzjxc9aj9k8pd 1941934 1941932 2026-04-05T13:45:00Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941934 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>{{dhr|3em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|'''BENGALI FAMILY LIBRARY.'''}}}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|'''গার্হস্থ্য বাঙ্গলা পুস্তক সঙ্গ‍্রহ।'''}}}} {{rule|9em}} {{dhr}} {{কেন্দ্র|{{larger|চীন দেশীয়}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|বুলবুল পক্ষীর}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|বিবরণ।}}}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|'''শ্রীযুক্ত মধুসূদন মুখোপাধ্যায়'''}}}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|'''কর্ত্তৃক'''}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|ইংরাজী ভাষা হইতে}}}} {{কেন্দ্র|{{larger|অনুবাদিত।}}}} {{dhr}} {{rule|6em}} {{কেন্দ্র|{{xx-larger|CALCUTTA.}}}} {{কেন্দ্র|PRINTED EOR THE VERNACULAR LITERATURE}} {{কেন্দ্র|COMMITTEE,}} {{কেন্দ্র|{{larger|By Anund chunder Vedantuvagees.}}}} {{কেন্দ্র|AT THE TUTTOBODHINEE PRESS.}} {{কেন্দ্র|{{x-larger|1857.}}}} {{কেন্দ্র|Price One Anna.{{ফাঁক|2em}} মূল্য ৴৹ আনা।}} {{dhr|3em}}<noinclude></noinclude> euhfgxibitb9e7il79sor9eq9vejqr3 পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৬ 104 877803 1941983 1941583 2026-04-06T06:09:57Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941983 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(২০)}}</noinclude>করিয়া কৃত্রিম বুলবুলের উৎকৃষ্ট গীত শ্রবণ করিতে ছিলেন, এমত সময়ে পক্ষীর বাক্সের ভিতর হইতে কড়াৎ করিয়া একটা শব্দ হইল। শব্দ হইবামাত্র অন্তরস্থ প্রধান তারগাছটি হর্ হর্ শব্দ করাতে চাকাগুলা ঘুরিয়া পড়িয়া একেবারে হঠাৎ ঐ বাদ্য যন্ত্রকে নিস্তব্ধ করিয়া ফেলিল। রাজা শয্যা হইতে লম্ফ প্রদান পূর্ব্বক আপনার চিকিৎসককে ডাকিতে লাগিলেন, দেখ দেখ, আমার কৃত্রিম বুলবুলের কি হইয়াছে? কিন্তু উহা কি জীবিত যে কবিরাজের ঔষধে কোন উপকার হইতে পারিবে, অতএব চিকিৎসক তাহার কিছুই করিতে পারিলেন না। পরদিন প্রাতঃকালে একজন ঘড়িওয়ালাকে আনাইলেন। ঘড়িওয়ালা বিস্তর কথা কহিয়া অনেক পরীক্ষার পর পূর্ব্ববৎ ঐ পক্ষীকে কতক কতক বিষয়ে এক প্রকার সুশৃঙ্খল করিল বটে, কিন্তু বলিল, তোমরা সর্ব্বদা এযন্ত্র টিকে ব্যবহার না করিয়া বহুদিনের পর একবার ব্যবহার করিও। বিস্তর ব্যবহার হওয়াতে ইহার আলজিহ্বা ক্ষয় হইয়াছে, নুতন আলজিহ্বা বসাইলে পাছে বাদ্যের হানি হয়, এ কারণ সাহস করিয়া তাহাও বসাইতে পারি না। বৎসরের মধ্যে কেবল একবার ঐ কৃত্রিম পক্ষীর গীত শুনা যাইবে, এক্ষণে পক্ষীর যে অবস্থা এক-<noinclude></noinclude> okc1ky0j48lmsras4brrywkpxomdv4l পাতা:চীন দেশীয় বুলবুল পক্ষীর বিবরণ - মধুসূদন মুখোপাধ্যায় (১৮৫৭).pdf/২৭ 104 877804 1941984 1941584 2026-04-06T06:18:01Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941984 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Salil Kumar Mukherjee" />{{c|(২১)}}</noinclude>বারও তাহার পক্ষে অনেক বলিতে হইরে। কি জানি ইহাতে সে ভাল না থাকিলেও থাকিতে পারে। বাজাওয়ালা কঠিন২ শব্দ ব্যবহার করিয়া বক্তৃতা দ্বারা সপ্রমাণ করিতে চাহিল যে পূর্ব্বে পক্ষী যেরূপ উত্তম ছিল, এক্ষণে সেইরূপই আছে। এমন বিবেচনা করা কর্তব্য। সুতরাং লোক সকল ও তাহার কথায় সেইরূপ বিবেচনা করিল। {{ফাঁক}}পরে যথার্থ মনোদুঃখ হেতুক চীন দেশীয় লোকেরা একেবারে সশঙ্কিত হইয়াছিল, তাহারা আপনাদিগের রাজাকে অতিশয় প্রেম করিত, তিনিও এমনি পীড়িত হইলেন, যে সকলেই অনুভব করিল, রাজার পীড়া আরোগ্য হইবার নহে। তৎপদে যিনি নূতন অভিষিক্ত হইবেন, তাঁহাকেও মনোনীত করিল। রাজপথে যাইতেই লোকেরা উজীর মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ হইলে যদ্যপি জিজ্ঞাসা করিত, প্রাচীন মহারাজ কিরূপ আছেন? উজীর মাথা নাড়িয়া শোক প্রকাশ পূর্ব্বক আপন রীতানুসারে ফুঃ বলিয়া তঃহাদের কথা উড়াইয়া দিতেন, কোন উত্তর করিতেন না। {{ফাঁক}}রাজা পাংশুবর্ণ এবং স্পন্দ রহিত হইয়া অত্যুত্তম প্রশস্ত খটে শয়ন করিয়াছিলেন। সভাসদগণ সকল্পেই অনুভব করিল, তিনি পঞ্চত্ব পা-<noinclude></noinclude> 5f3xem2fh2t88iagxxd46ppksz8oyqa পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৪৪ 104 877889 1941940 1941912 2026-04-05T13:57:43Z Bodhisattwa 2549 1941940 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" /></noinclude>{{কেন্দ্র|{{x-larger|'''দাস ব্যবসায় (Slave Trade)।'''}}}} {{Custom rule|sp|50|w|40|w|40|sp|50}} {{কেন্দ্র|{{larger|সূত্রপাত।}}}} {{ফাঁক}}আমেরিকায় যখন স্পেনীয়গণ উপনিবেশ স্থাপন করিল, তখন আমেরিকার ভীষণ অরণ্যানি আবাদ করিবার জন্য অনেক শ্রমজীবীর আবশ্যক হইয়াছিল। প্রথমতঃ ইণ্ডিয়ানগণকে দিয়া জোর করিয়া স্পেনীয়গণ তাহাদের জমি আবাদ করাইয়া লইত। পরে ইণ্ডিয়ানগণ এরূপ কার্য্য করিতে অস্বীকৃত হইলে, তাহাদের উপর যে অত্যাচার ও উৎপীড়ন করা হয়, তাহাতে হাজার হাজার ইণ্ডিয়ান প্রাণ ত্যাগ করে। স্পেনের রাজা পঞ্চম চার্লস এই অত্যাচারের সংবাদ শুনিয়া অত্যন্ত দুঃখিত হন। এবং ১৫৪২ খৃঃ অব্দে ইণ্ডিয়ানগণকে জোর করিয়া দাসরূপে ব্যবহার না করিতে আদেশ প্রদান করেন। স্পেনীয়গণের জমি চাষ ও আবাদ করিবার জন্য শ্রমজীবী পাওয়া যাইবে কি প্রকারে, এখন ইহাই হইল প্রধান সমস্যা। {{ফাঁক}}এই সময়ে স্পেনের বণিকগণ আফ্রিকার উপকূলে ব্যবসায় বাণিজ্য করিত। বণিকগণ আফ্রিকার শান্ত নিরীহ অধিবাসি-গণকে দেখিয়া মনে করিল, ইহাদের দ্বারা আমেরিকার চাষ-আবাদের কার্য্য করাইয়া লইতে পারা যাইবে। প্রথমতঃ আফ্রিকার চোর, ডাকাত এবং খুনী আসামীগণকে ফাঁসি<noinclude></noinclude> q64ksghh5ctst0772wc4oqzdw8vufsu পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৪৫ 104 877890 1941941 1941913 2026-04-05T13:58:25Z Bodhisattwa 2549 1941941 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৩|দাস ব্যবসায়।}}{{rule}}</noinclude>কাষ্ঠে প্রেরণ না করিয়া, তৎপরিবর্তে আমেরিকার উপকূলে প্রেরণ করিবার নিয়ম হইল। এই হইল দাস ব্যবসায়ের প্রথম সূত্রপাত। {{ফাঁক}}এই ব্যবসায়ে বিশেষ সুবিধা দেখিয়া, বণিকগণ শীঘ্রই এই নিয়ম ভঙ্গ করিলেন, এবং নিরপরাধ ব্যক্তিগণকে চুরি করিয়া লইয়া আমেরিকাস্থ স্পেনীয়গণের নিকট বিক্রয় করিতে লাগিলেন। বণিকগণের প্ররোচনায় যে কোন লোককে বন্দী করিয়া বিক্রয় করিবার জন্য, আফ্রিকার এক সম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইতে লাগিল। {{ফাঁক}}ইংলণ্ড প্রথমে এই নীচ ঘৃণিত ব্যবসায়ে কলঙ্কিত হইল না। কিন্তু ১৫৫৭ খৃঃ অব্দে জন্ লক্ নামক এক জন নাবিক চুরি করিয়া পাঁচ জন নিগ্রোকে লণ্ডন সহরে প্রথম আনয়ন করে। তৎপরে ইংরেজ-বণিকগণ আফ্রিকার উপকূলে উপস্থিত হইলে, অধিবাসিগণ ভয়ে আর তাহাদের নিকটবর্ত্তী হইল না। ব্যবসায়ের সমূহ ক্ষতি দেখিয়া অপহৃত এই পাঁচ জন নিগ্রোকে শীঘ্র আফ্রিকায় প্রেরণ করা হইল। {{কেন্দ্র|{{larger|অবাধ প্রচলন}}}} {{ফাঁক}}নিগ্রোগণকে ক্রীতদাসরূপে বিক্রয় করিয়া স্পেন এবং পর্ত্তুগালের বণিকগণ দ্রুতগতিতে সমৃদ্ধিশালী হইয়া উঠিতে লাগিল। ইংলণ্ডের বণিকগণ এই সংবাদ অবগত হইয়া লুব্ধ হইয়া উঠ। ১৫৬২ খৃঃ অব্দে সার জন হকিন্স (Sir John<noinclude>{{left|{{gap}}৩}}}}</noinclude> a8lla8sfizy83pq6ki570adgfki694z 1941942 1941941 2026-04-05T13:58:38Z Bodhisattwa 2549 1941942 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৩|দাস ব্যবসায়।}}{{rule}}</noinclude>কাষ্ঠে প্রেরণ না করিয়া, তৎপরিবর্তে আমেরিকার উপকূলে প্রেরণ করিবার নিয়ম হইল। এই হইল দাস ব্যবসায়ের প্রথম সূত্রপাত। {{ফাঁক}}এই ব্যবসায়ে বিশেষ সুবিধা দেখিয়া, বণিকগণ শীঘ্রই এই নিয়ম ভঙ্গ করিলেন, এবং নিরপরাধ ব্যক্তিগণকে চুরি করিয়া লইয়া আমেরিকাস্থ স্পেনীয়গণের নিকট বিক্রয় করিতে লাগিলেন। বণিকগণের প্ররোচনায় যে কোন লোককে বন্দী করিয়া বিক্রয় করিবার জন্য, আফ্রিকার এক সম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইতে লাগিল। {{ফাঁক}}ইংলণ্ড প্রথমে এই নীচ ঘৃণিত ব্যবসায়ে কলঙ্কিত হইল না। কিন্তু ১৫৫৭ খৃঃ অব্দে জন্ লক্ নামক এক জন নাবিক চুরি করিয়া পাঁচ জন নিগ্রোকে লণ্ডন সহরে প্রথম আনয়ন করে। তৎপরে ইংরেজ-বণিকগণ আফ্রিকার উপকূলে উপস্থিত হইলে, অধিবাসিগণ ভয়ে আর তাহাদের নিকটবর্ত্তী হইল না। ব্যবসায়ের সমূহ ক্ষতি দেখিয়া অপহৃত এই পাঁচ জন নিগ্রোকে শীঘ্র আফ্রিকায় প্রেরণ করা হইল। {{কেন্দ্র|{{larger|অবাধ প্রচলন}}}} {{ফাঁক}}নিগ্রোগণকে ক্রীতদাসরূপে বিক্রয় করিয়া স্পেন এবং পর্ত্তুগালের বণিকগণ দ্রুতগতিতে সমৃদ্ধিশালী হইয়া উঠিতে লাগিল। ইংলণ্ডের বণিকগণ এই সংবাদ অবগত হইয়া লুব্ধ হইয়া উঠ। ১৫৬২ খৃঃ অব্দে সার জন হকিন্স (Sir John<noinclude>{{left|{{gap}}৩}}</noinclude> qxour1pmgv4iivr8y0cdht6on8fzxb0 পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৪৬ 104 877891 1941943 1941914 2026-04-05T13:58:54Z Bodhisattwa 2549 1941943 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৪|আমেরিকার স্বাধীনতা}}{{rule}}</noinclude>Hawkins) নামক জনৈক ইংরেজ-বণিক ক্রীতদাস-ব্যবসায় আরম্ভ করিবার সংঙ্কল্প করিল এবং অর্থদ্বারা বশ করিয়া অথবা জোর করিয়া তিন শত নিগ্রোকে হস্তগত করিল। তৎপর আলাণ্টিক মহাসাগর অতিক্রম করিয়া সেণ্ট ডমিগ্নো (St. Domigno) উপকূলে স্পেনীয়গণের নিকট অধিক লাভে বিক্রয় করিতে লাগিল। হকিন্সের এতাদৃশ লাভের সংবাদ শুনিয়া ইংলণ্ডে হৈ চৈ পড়িয়া গেল। এরূপ ব্যবসায় করিয়া লাভবান হইতে অনেকেই প্রলুব্ধ হইয়া উঠিল। একটি দল গঠিত হইল; এমন কি রাণী এলিজাবেথও এই ঘৃণিত ব্যবসায়ের অংশীদার হইলেন। এ যাত্রায় হকিন্স পাঁচ শত নিগ্রো আয়ত্ব করিয়া চালান দিল। পথিমধ্যে জাহাজ চড়ায় ঠেকিবার সম্ভাবনা হইলে, হতভাগ্য নিগ্রোগণকে সাগরের জলে ফেলিয়া দিবার জন্য হকিন্স প্রস্তুত হইল, কিন্তু ভগবানের কৃপায় জাহাজ না ঠেকিয়া চলিয়া যাইতে লাগিল। এই বারে যে লাভ হইল, রাণী তাহার অংশ পাইলেন; এই প্রকারে ইংলণ্ডে ক্রীতদাসব্যবসায় প্রচলিত হইয়া গেল। {{ফাঁক}}ক্রমে ক্রীতদাস-ব্যবসায়ে ইংরাজের লালসানল এত বর্দ্ধিত হইল যে, আইন করিয়া এই দাস-ব্যবসায়ের পথ সুগম করিয়া দেওয়া হইল। ওয়েষ্ট ইণ্ডিজে এমন নিয়ম করা হইল যে, যে কেহ চারি জন ক্রীতদাস রাখিবে, তাহাকে একশত একর জমি নিষ্কর প্রদান করা হইবে। {{ফাঁক}}আফ্রিকা হইতে আমেরিকার পথে নিগ্রো ক্রীতদাস-<noinclude></noinclude> f6ob1cv2w5d6fxf24ogxkk6bbcxfs7f পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৪৭ 104 877892 1941945 1941915 2026-04-05T13:59:17Z Bodhisattwa 2549 1941945 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৫|দাস ব্যবসায়।}}{{rule}}</noinclude>গণের দুর্দ্দশার কথা স্মরণ করিলে পাষাণও গলিয়া যায়। শত শত নর-নারীকে পিতৃপিতামহের বাস্তুভিটা হইতে জোর করিয়া ধরিয়া চালান দেওয়া হইত। তাহাদের হস্তপদ শৃঙ্খলাবদ্ধ করিয়া জাহাজের খোলের মধ্যে ফেলিয়া রাখা হইত! দারুণ গরমে তাহাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হইত। অনেক সময়ে খাদ্য পাওয়া দূরের কথা হতভাগ্যদের অদৃষ্টে জলটুকুও জুটিত না। সংক্রামক ব্যাধি আরম্ভ হইলে তাহাদিগকে শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থাতেই ফেলিয়া দেওয়া হইত। সাগরের নীলজলে তাহাদিগকে জীবন্ত সমাধির আশ্রয় গ্রহণ করিতে হইত। {{ফাঁক}}আমেরিকার বিদ্রোহ ঘোষণার পূর্ব্বে তথায় প্রায় দশ লক্ষের অধিক নিগ্রো-ক্রীতদাসের আমদানি হইয়াছিল। নিগ্রোগণের প্রচুর আমদানি হওয়ায় ঔপনিবেশিকগণ অত্যন্ত ক্ষমতাপ্রিয় হইয়া উঠিল। নিগ্রোগণের উপর প্রভুত্ব করিবার ফলে আমেরিকাবাসিগণের ঔদ্ধত্য অত্যন্ত বৃদ্ধি পাইয়াছিল; তাই ইংলণ্ডের প্রভুত্বও তাহাদের অসহ্য হইয়া উঠিয়াছিল। {{ফাঁক}}আমেরিকা স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হইলে, ১৭৮৭ খৃঃ অব্দে কংগ্রেস যুক্তরাজ্যের সকল প্রদেশেই ক্রীতদাস-ব্যবসায় বন্ধ করিয়া দিয়াছিল। {{dhr}} {{rule|4em}}<noinclude></noinclude> b5a6qmatbpzk7susf2hxc3v0c8mspv6 পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৪৮ 104 877893 1941946 1941911 2026-04-05T13:59:53Z Bodhisattwa 2549 1941946 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" /></noinclude>{{কেন্দ্র|{{x-larger|'''অশান্তির সূত্রপাত।'''}}}} {{Custom rule|sp|20|col|6|co|10|col|6|sp|20}} {{কেন্দ্র|{{larger|ইংলণ্ড হইতে নিযুক্ত উচ্চকর্ম্মচারীর স্বরূপ}}}} {{ফাঁক}}উপনিবেশসমূহে যে সকল রাজকর্মচারী উচ্চপদে নিযুক্ত হইয়া ইংলণ্ড হইতে গমন করিত, তাহাদের অনেকে চরিত্রহীন এবং নীচ বংশসম্ভূত ছিল। ক্ষমতা পাইয়া তাহারা তাহার অপব্যবহার করিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বোধ করিত না। {{ফাঁক}}জেনারেল হাস্কে (General Huske) নামক একজন প্রতিষ্ঠাবান আমেরিকান, ১৭৫৮ খৃঃ অব্দে ইংলণ্ড হইতে রাজ-কর্ম্মচারী নিয়োগ-বিষয়ে একখানা পত্রে লিখিয়াছেন,— “পার্লামেণ্টে উন্নতি-নিরাশ ব্যক্তি, দুশ্চরিত্রের পৃষ্ঠপোষকতাকারী, এমন কি অবস্থাপন্ন লোকের চাকরকেও রাজানুগ্রহে আমেরিকায় উচ্চপদ প্রদান করা হইত। উদাহরণ স্বরূপ বলিতে পারি—একটি প্রদেশে এক জন প্রধান বিচারক ইংলণ্ড হইতে নিযুক্ত হইয়াছিল। তাহার মধ্যে এই মাত্র যোগ্যতা ছিল যে, সভ্য-নির্বাচনের সময়ে সে প্রকাশ্যভাবে স্বীয় সম্মান এবং বিবেক বিসর্জ্জন দিয়াছিল। {{ফাঁক}}১৭৩৪ খৃঃ অব্দে কসবে নামক একব্যক্তি দ্বিতীয় জর্জ্জ কর্ত্তৃক প্রধান শাসনকর্তার পদে নিযুক্ত হইয়া নিউ ইয়র্কে গমন করেন।<noinclude></noinclude> 9wdk68bxpoz0gmv3nm7dmlbeks0m0ko পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৪৯ 104 877895 1941918 2026-04-05T12:57:54Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941918 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>{{ফাঁক}}ভারতী মাথা নাড়িয়া বলিল, সেটি হবে না। তেওয়ারীকে খবর দিয়েচি যে, আফিসের ফেরত কাল বিকালে আপনি বাসায় যাবেন এবং খবর নিয়েচি যে সে সুস্থ দেহে, বহাল তবিয়তে ঘর আগলাচ্চে,—কোন চিন্তা নেই। {{ফাঁক}}কিন্তু কেন? {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, কারণ সম্প্রতি আপনি আমাদের অভিভাবক। আজ সুমিত্রাদিদি অসুস্থ, নবতারা গেছেন অতুলবাবুকে সঙ্গে নিয়ে ওপারে, আপনাকে যেতে হবে আমার সঙ্গে। আপনার প্রতি প্রেসিডেণ্টের এই আদেশ। ওই ধুতি এনে রেখেচি, পরে নিয়ে চলুন। {{ফাঁক}}কোথায় যেতে হবে? {{ফাঁক}}মজুরদের লাইনের ঘরে। অর্থাৎ, বড় বড় কারখানার ক্রোড়পতি মালিকেরা ওয়ার্কমেনদের জন্যে লাইনবন্দী যে সব নরককুণ্ডু তৈরী করে দিয়েছে সেইখানে। আজ রবিবারে ছুটির দিনেই সেখানে কাজ। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব জিজ্ঞাসা করিল, কিন্তু সেখানে কেন? {{ফাঁক}}ভারতী উত্তর দিল, নইলে, পথের দাবীর সত্যিকারের কাজ কি এই ঘরে হতে পারে? একটু হাসিয়া কহিল, আপনি এ-সভার মাতব্বর সভ্য, সরেজমিনে না গেলে ত কাজের ধারা বুঝতে পারবেন না, অপূর্ব্ববাবু। {{ফাঁক}}চলুন, বলিয়া অপূর্ব্ব আফিসের পোষাক ছাড়িয়া মিনিট পাঁচেকের মধ্যে প্রস্তুত হইয়া লইল। {{ফাঁক}}ভারতী আলমারী খুলিয়া কি একটা বস্তু লুকাইয়া তাহার জামার পকেটে রাখিতে অপূর্ব্ব দেখিতে পাইয়া কহিল, ওটা আপনি কি নিলেন? {{ফাঁক}}গাদা পিস্তল। {{ফাঁক}}পিস্তল? পিস্তল কেন? {{ফাঁক}}আত্মরক্ষার জন্যে। {{ফাঁক}}ওর পাশ আছে? {{ফাঁক}}না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, পুলিশে যদি ধরে ত আত্মরক্ষা দুজনেরই হবে। ক’বছর দেয়? {{ফাঁক}}দেবে না,—চলুন! {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিল, দুর্গা—শ্রীহরি। চলুন। {{ফাঁক}}বড় রাস্তা ধরিয়া উত্তরে বর্ম্মা ও চীনা পল্লী পার হইয়া বাজারের পাশ দিয়া দুজনে প্রায় মাইলখানেক পথ হাঁটিয়া একটা প্রকাণ্ড কারখানার সম্মুখে আসিয়া উপস্থিত<noinclude>{{কেন্দ্র|১৩৫}}</noinclude> sw4ib1ygpsnvzlzptbvrv7eeipusl5y পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৫০ 104 877896 1941919 2026-04-05T13:01:56Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941919 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>হইল এবং বন্ধ ফটকের কাটা দরজার ফাঁক দিয়া গলিয়া ভিতরে প্রবেশ করিল। ডানদিকে সারি সারি করোগেট লোহার গুদাম ও তাহারই ও-ধারে কারিকর ও মজুরদিগের বাস করিবার ভাঙা কাঠ ও ভাঙা টিনের লম্বা লাইনবন্দী বস্তি। সুমুখ দিয়ে সারি সারি কয়েকটা জলের কল এবং পিছন দিকে এমনি সারি সারি টিনের পায়খানা। গোড়াতে হয়ত দরজা ছিল, এখন থলে ও চটছেঁড়া ঝুলিতেছে। ইহাই ভারতবর্ষীয় কুলী-লাইন। পাঞ্জাবী, মাদ্রাজী, বর্ম্মা, বাঙ্গালী, উড়ে, হিন্দু, মুসলমান স্ত্রী ও পুরুষে প্রায় হাজার খানেক জীব এই ব্যবস্থাকে আশ্রয় করিয়া দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর জীবন-যাত্রা নির্ব্বাহ করিয়া চলিয়াছে। {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, আজ কাজের দিন নয়, নইলে এই জলের কলেই দু-একটা রক্তা-রক্তি কাণ্ড দেখতে পেতেন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ঘাড় নাড়িয়া বলিল, ছুটির দিনের ভিড় দেখেই তা অনুভব করতে পারচি। {{ফাঁক}}এই জনতার সম্মুখেই একজন মাদ্রাজী স্ত্রীলোক পর্দ্দা ঠেলিয়া পায়খানায় ঢুকিতেছিল, পর্দ্দার অবস্থা দেখিয়া অপূর্ব্ব লজ্জায় রাঙা হইয়া উঠিয়া বলিল, পথের দাবী করতে হয় ত আর কোথাও শীঘ্র চলুন, এখানে আমি দাঁড়াতে পারব না। {{ফাঁক}}ভারতী নিজেও তাহা লক্ষ্য করিয়াছিল, কিন্তু প্রত্যুত্তরে শুধু একটুখানি হাসিল। অর্থাৎ মানুষের ধাপ হইতে নামাইয়া যাহাদের পশু করিয়া তোলা হইয়াছে তাহাদের আবার এ সকল বালাই কেন? {{ফাঁক}}কয়েকখানা ঘর পরে উভয়ে আসিয়া একজন বাঙালী মিস্ত্রির ঘরে প্রবেশ করিল। লোকটার বয়স হইয়াছে, কারখানায় পিতল ঢালাইয়ে কাজ করে, মদ খাইয়া কাঠের মেঝের উপর পড়িয়া অত্যন্ত মুখ খারাপ করিয়া কাহাকে গালি পাড়িতেছিল, ভারতী ডাকিয়া কহিল, মাণিক কার ওপরে রাগ কোরচ? সুশীলা কই? সে আজ দুদিন পড়তে যায় না কেন? {{ফাঁক}}মাণিক কোন মতে হাতে-পায়ে ভর দিয়া উঠিয়া বসিল, চোখ চাহিয়া চিনিতে পারিয়া বলিল, দিদিমণি! এসো, বোসো। সুশী কি ক’রে তোমার ইস্কুলে যাবে বল? রাঁধা-বাড়া বাসন মাজা মায় ছেলেটাকে সামলানো পর্য্যন্ত—বুক ফেটে যাচ্চে দিদিমণি, যোদো শালাকে আমি খুন না করি ত আমি কৈবর্ত্ত থেকে খারিজ! বড় সাহেবকে এমনি দরখাস্ত দেব যে শালার চাকরি খেয়ে দেব। {{ফাঁক}}ভারতী সহাস্যে কহিল, তা দিয়ো। আর বল ত না হয়, সুমিত্রাদিদিকে দিয়ে আমিই তোমার দরখাস্ত লিখে দেব। কিন্তু কাল আমাদের ফয়ার মাঠে মিটিং, তা মনে আছে ত? {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৩৬}}</noinclude> jxzxdcz3mbobgyle61u6lw8dxgn38z5 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৫১ 104 877897 1941920 2026-04-05T13:06:49Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941920 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>{{ফাঁক}}এমন সময় বছর দশ-এগারোর একটি মেয়ে আসিয়া প্রবেশ করিল। সে অঞ্চলের ভিতর হইতে এক বোতল মদ বাহির করিয়া সাবধানে মেঝের উপর রাখিয়া কহিল, বাবা, ঘোড়া মার্কা মদ আর নেই, তাই টুপি মার্কা মদ নিয়ে এলুম। চারটে পয়সা বাকি রইল। দেখ বাবা, রাম আইয়া মাতাল হয়ে আমাকে কি বলছিল জানো? {{ফাঁক}}প্রত্যুত্তরে তাহার পিতা রামিয়ার উদ্দেশে একটা কদর্য্য ভাষা উচ্চারণ করিল। ভারতী কহিল, ও-সব যায়গায় তুমি আর যেয়ো না। তোমার মা কোথায় সুশীলা? {{ফাঁক}}মা? মা তো পরশু রাত্তিরে যদুকাকার সঙ্গে বেরিয়ে গিয়ে লাইনের বাইরে ঘর ভাড়া করেচে। মেয়েটা আরও কি বলিতেছিল, কিন্তু বাপ গর্জ্জন করিয়া উঠিল,—করাচ্চি! এ বাবা বিয়ে-করা পরিবার, বেউশ্যে নয়! এই বলিয়া সে অনিশ্চিত কম্পিত হস্তে স্ক্রুর অভাবে ভাঙা খুন্তির ডগা দিয়া নূতন বোতলের ছিপি খুলিতে প্রবৃত্ত হইল। {{ফাঁক}}ভারতী হঠাৎ তাহার অঞ্চল প্রান্তে একটা প্রবল আকর্ষণ অনুভব করিয়া পিছন ফিরিয়া দেখিল, অপূর্ব্বর মুখ একেবারে ফ্যাকাশে হইয়া গেছে। কখনো সে ভারতীকে স্পর্শ করে নাই, কিন্তু এখন সে জ্ঞানই তাহার ছিল না। কহিল, চলুন এখান থেকে। {{ফাঁক}}একটু দাঁড়ান। {{ফাঁক}}না, এক মিনিট না। এই বলিয়া সে একপ্রকার জোর করিয়া তাহাকে বাহিরে আনিল। ঘরের ভিতরে মাণিক ছিপি বোতল ও খুন্তির বাঁট লইয়া বীরদর্পে গর্জ্জাইতে লাগিল যে, খুন করিয়া ফাঁসি যাইতে হয় সে ভি আচ্ছা। সে দেশো গুণ্ডার ছেলে, সে জেল বা ফাঁসি কোনটাকেই ভয় করে না। {{ফাঁক}}বাহিরে আসিয়া অপূর্ব্ব যেন অগ্নিকাণ্ডের ন্যায় জ্বলিয়া উঠিল,—হারামজাদা, নচ্ছার, পাজি মাতাল! যেন পিশাচের নরককুণ্ড বানিয়ে রেখেচে। এখানে পা দিতে আপনার ঘৃণা বোধ হ’ল না? {{ফাঁক}}ভারতী তাহার মুখের পানে চাহিয়া আস্তে আস্তে বলিল, না। তার কারণ, এ নরককুণ্ড ত এরা বানায়নি। এরা শুধু তার প্রায়শ্চিত্ত করচে। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, না এরা বানায়নি আমি বানিয়েচি। মেয়েটার কথা শুনলেন! ওর মা যেন কোন্ তীর্থযাত্রা করেছে! নির্লজ্জ বেহায়া শয়তান! আর কখনো যদি এখানে আসবেন ত টের পাবেন বলে দিচ্চি। {{ফাঁক}}ভারতী একটুখানি হাসিয়া কহিল, আমি ম্লেচ্ছ ক্রীশ্চান, আমার এখানে আসতে দোষ কি? {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৩৭}}</noinclude> qop07p9iiimjl4bppljxve585om2jov পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৫২ 104 877898 1941921 2026-04-05T13:11:28Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941921 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>অপূর্ব্ব রাগ করিয়া বলিল, দোষ নেই? ক্রীশ্চানের জন্য কি সৎ-অসৎ বস্তু নেই, নিজেদের সমাজের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয় না? {{ফাঁক}}ভারতী উত্তর দিল, কে আছে আমার যে জবাবদিহি কোরবো? কার মাথা ব্যথা পড়েছে আমার জন্যে, আপনিই বলুন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব সহসা কোন প্রত্যুত্তর খুঁজিয়া না পাইয়া শুধু বলিল, এসব আপনার চালাকি। আপনি ঘরে ফিরে চলুন। {{ফাঁক}}আমাকে আরও পাঁচ জায়গায় যেতে হবে। আপনার ভাল না লাগে আপনি ফিরে যান। {{ফাঁক}}ফিরে যান বললেই কি আপনাকে এখানে রেখে আমি যেতে পারি? {{ফাঁক}}তাহলে সঙ্গে থাকুন। মানুষের প্রতি মানুষে কত অত্যাচার করচে চোখ মেলে দেখতে শিখুন। কেবল ছোঁয়া-ছুয়ি বাঁচিয়ে, নিজে সাধু হয়ে থেকে ভেবেচেন পুণ্য সঞ্চয় করে একদিন স্বর্গে যাবেন? মনেও করবেন না। বলিতে বলিতে ভারতীর মুখের চেহারা কঠোর এবং গলার স্বর তীক্ষ্ণ হইয়া উঠিল, এই মূর্ত্তি ও কণ্ঠ অপূর্ব্বর অত্যন্ত পরিচিত। ভারতী কহিল, ওই মেয়েটার মা এবং যদু যে অপরাধ করেছে সে শুধু ওদের দণ্ড দিয়েই শেষ হবে? আপনি তার কেউ নয়? কখ্‌খনো না। ডাক্তারবাবুকে না জানা পর্য্যন্ত আমিও ঠিক এমনি করেই ভেবে এসেচি। কিন্তু আজ আমি নিশ্চয় জানি, এই নরককুণ্ডে যত পাপ জমা হবে তার ভার আপনাকে পর্যন্ত স্বর্গের দোর থেকে টেনে এনে এই নরককুণ্ডে ডোবাবে। সাধ্য কি আপনার এই দুষ্কৃতির ঋণ শোধ না করে পরিত্রাণ পান! আমরা নিজের গরজেই আসি অপূর্ব্ববাবু, এই উপলব্ধিই আমাদের ‘পথের দাবী’র সবচেয়ে বড় সাধনা! চলুন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব নিরীহ ও নিস্পৃহের নায় কহিল, চলুন। ভারতীর কথা কিন্তু সে বুঝিতেও পারিল না, বিশ্বাসও করিল না। {{ফাঁক}}কিছুদূরে একটা সেগুন গাছ ছিল, ভারতী আঙুল দিয়ে দেখাইয়া কহিল, ওই সামনে ক’ঘর বাঙালী থাকে,—চলুন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব জিজ্ঞাসা করিল, বাঙালী ভিন্ন অপর জাতের মধ্যে আপনারা কাজ করেন না? {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, করি। সকলকেই আমাদের প্রয়োজন, কিন্তু প্রেসিডেণ্ট ছাড়া আর ত কেউ সকলের ভাষা জানে না, তিনি সুস্থ থাকলে এ কাজ তাঁরই, আমার নয়। {{ফাঁক}}তিনি ভারতবর্ষের সমস্ত ভাষা জানেন? {{ফাঁক}}জানেন। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৩৮}}</noinclude> j12x0nnyt3sy76nqhejkdg98yg2bw6h 1941947 1941921 2026-04-05T13:59:56Z Nettime Sujata 5470 1941947 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}অপূর্ব্ব রাগ করিয়া বলিল, দোষ নেই? ক্রীশ্চানের জন্য কি সৎ-অসৎ বস্তু নেই, নিজেদের সমাজের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয় না? {{ফাঁক}}ভারতী উত্তর দিল, কে আছে আমার যে জবাবদিহি কোরবো? কার মাথা ব্যথা পড়েছে আমার জন্যে, আপনিই বলুন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব সহসা কোন প্রত্যুত্তর খুঁজিয়া না পাইয়া শুধু বলিল, এসব আপনার চালাকি। আপনি ঘরে ফিরে চলুন। {{ফাঁক}}আমাকে আরও পাঁচ জায়গায় যেতে হবে। আপনার ভাল না লাগে আপনি ফিরে যান। {{ফাঁক}}ফিরে যান বললেই কি আপনাকে এখানে রেখে আমি যেতে পারি? {{ফাঁক}}তাহলে সঙ্গে থাকুন। মানুষের প্রতি মানুষে কত অত্যাচার করচে চোখ মেলে দেখতে শিখুন। কেবল ছোঁয়া-ছুয়ি বাঁচিয়ে, নিজে সাধু হয়ে থেকে ভেবেচেন পুণ্য সঞ্চয় করে একদিন স্বর্গে যাবেন? মনেও করবেন না। বলিতে বলিতে ভারতীর মুখের চেহারা কঠোর এবং গলার স্বর তীক্ষ্ণ হইয়া উঠিল, এই মূর্ত্তি ও কণ্ঠ অপূর্ব্বর অত্যন্ত পরিচিত। ভারতী কহিল, ওই মেয়েটার মা এবং যদু যে অপরাধ করেছে সে শুধু ওদের দণ্ড দিয়েই শেষ হবে? আপনি তার কেউ নয়? কখ্‌খনো না। ডাক্তারবাবুকে না জানা পর্য্যন্ত আমিও ঠিক এমনি করেই ভেবে এসেচি। কিন্তু আজ আমি নিশ্চয় জানি, এই নরককুণ্ডে যত পাপ জমা হবে তার ভার আপনাকে পর্যন্ত স্বর্গের দোর থেকে টেনে এনে এই নরককুণ্ডে ডোবাবে। সাধ্য কি আপনার এই দুষ্কৃতির ঋণ শোধ না করে পরিত্রাণ পান! আমরা নিজের গরজেই আসি অপূর্ব্ববাবু, এই উপলব্ধিই আমাদের ‘পথের দাবী’র সবচেয়ে বড় সাধনা! চলুন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব নিরীহ ও নিস্পৃহের নায় কহিল, চলুন। ভারতীর কথা কিন্তু সে বুঝিতেও পারিল না, বিশ্বাসও করিল না। {{ফাঁক}}কিছুদূরে একটা সেগুন গাছ ছিল, ভারতী আঙুল দিয়ে দেখাইয়া কহিল, ওই সামনে ক’ঘর বাঙালী থাকে,—চলুন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব জিজ্ঞাসা করিল, বাঙালী ভিন্ন অপর জাতের মধ্যে আপনারা কাজ করেন না? {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, করি। সকলকেই আমাদের প্রয়োজন, কিন্তু প্রেসিডেণ্ট ছাড়া আর ত কেউ সকলের ভাষা জানে না, তিনি সুস্থ থাকলে এ কাজ তাঁরই, আমার নয়। {{ফাঁক}}তিনি ভারতবর্ষের সমস্ত ভাষা জানেন? {{ফাঁক}}জানেন। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৩৮}}</noinclude> 9zfbyxtfearw4tpkz1zqvx2qobome8h পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৫৩ 104 877899 1941922 2026-04-05T13:15:19Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941922 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>{{ফাঁক}}আর ডাক্তারবাবু? {{ফাঁক}}ভারতী হাসিয়া বলিল, ডাক্তারবাবু সম্বন্ধে আপনার ভারী কৌতূহল। একথা আপনি বিশ্বাস করতে পারেন না কেন যে, পৃথিবীতে যা কিছু জানা যায় তিনি জানেন, যা’ কিছু পারা যায় তিনি পারেন। কে তাঁর সব্যসাচী নাম রেখেছিল আমরা কেউ জানিনে, কিন্তু তাঁর অসাধ্য, তাঁর অজ্ঞাত সংসারে কিচ্ছু নেই। এই বলিয়া সে নিজের মনে চলিতেই লাগিল, কিন্তু তাহারই পিছনে সহসা থমকিয়া দাঁড়াইয়া অপূর্ব্বর মুখ দিয়া গভীর নিঃশ্বাস পড়িল। অকস্মাৎ এই কথাটা তাহার বুকের মধ্যে উদ্বেলিত হইয়া উঠিল যে, এই হতভাগ্য পরাধীন দেশে এতবড় একটা প্রাণের কোন মূল্য নাই, যে-কোন লোকের হাতে যে-কোন মুহূর্ত্তে তাহা কুকুর শিয়ালের মত বিনষ্ট হইতে পারে! সমস্ত জগৎ-বিধানে এতবড় নিষ্ঠুর অবিচার আর কি আছে! ভগবান মঙ্গলময় এই যদি সত্য, এ তবে কাহার ও কোন্ পাপের দণ্ড? {{ফাঁক}}উভয়ে একটা ঘরে আসিয়া প্রবেশ করিল। ভারতী ডাকিল, পাঁচকড়ি কেমন আছ আজ? {{ফাঁক}}অন্ধকার কোণ হইতে সাড়া আসিল, আজ একটু ভাল। এই বলিয়া একজন বুড়া গোছের লোক ডান হাতটা উঁচু করিয়া সুমুখে আসিয়া দাঁড়াইল। তাহার আগাগোড়া কি কতকগুলি প্রলেপ দেওয়া, কহিল, মা, মেয়েটা রক্ত আমাশায় বোধ হয় বাঁচবে না, ছেলেটার আবার কাল থেকে বেহুঁস জ্বর, এমন একটা পয়সা নেই যে এক ফোঁটা ওষুধ কিনে দি, কি এক বাটি সাগু-বার্লি রেঁধে খাওয়াই। তাহার দুই চোখ ছল ছল করিয়া আসিল। {{ফাঁক}}অপূর্ব্বর মুখ দিয়া হঠাৎ বাহির হইয়া গেল, পয়সা নেই কেন? {{ফাঁক}}এই অপরিচিত বাবুটিকে লোকটা কয়েক মুহূর্ত্ত নীরবে নিরীক্ষণ করিয়া বলিল, পুলির শেকল প’ড়ে ডানহাতটাই জখম হয়ে গেছে, মাসখানেক ধরে কাজে বার হতে পারিনি, পয়সা থাকবে কি করে বাবুমশায়? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব প্রশ্ন করিল, কারখানার ম্যানেজার এর ব্যবস্থা করেন না? {{ফাঁক}}পাঁচকড়ি কপালে একবার বাম হাতটা স্পর্শ করিয়া কহিল, হায়! হায়! দিন-মজুরদের আবার ব্যবস্থা! এতেই বলচে কাজ করতে না পারো ত ঘর ছেড়ে দাও, আবার যখন ভাল হবে তখন এসো,—কাজ দেবো। এ অবস্থায় কোথায় যাই বলুন ত মশায়? ছোট সাহেবের হাতে-পায়ে ধরে বড় জোর হপ্তাখানেক থাকতে পাবো। বিশ বচ্ছর কাজ করচি মশায়, এরা এমনি নেমকহারাম! {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৩৯}}</noinclude> 9fdn7dvknuuq5absbls78h3ssejv9ct পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৫৪ 104 877900 1941923 2026-04-05T13:18:26Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941923 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}কথা শুনিয়া অপূর্ব্ব রাগে জ্বলিতে লাগিল। তাহার এমনি ইচ্ছা করিতে লাগিল, ম্যানেজার লোকটাকে পায় ত কান ধরিয়া টানিয়া আনিয়া দেখায় সুদিনে যাহারা লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জ্জন করিয়া দিয়াছে, আজ দুর্দ্দিনে তাহারা কি দুঃখই ভোগ করিতেছে! অপূর্ব্বদের বাটীর কাছে গরুর গাড়ীর আড্ডা, তাহার মনে পড়িল, এক জোড়া গরু সমস্ত জীবন ধরিয়া বোঝা টানিয়া অবশেষে বৃদ্ধ ও অক্ষম হইয়া পড়িলে লোকটা তাহাদের কসাইখানায় বিক্রী করিয়া দিয়াছিল। এই হৃদয়হীনতা নিবারণ করিবার উপায় নাই, লোকে করে না, কেহ করিতে চাহিলে সবাই তাকে পাগল বলিয়া উড়াইয়া দেয়। সেই পথ দিয়া যখনই সে গিয়াছে, তখনই এই কথা মনে করিয়া তাহার চোখে জল আসিয়াছে। গরুর জন্য নয়, কিন্তু অর্থের পিপাসায় এই বর্ব্বর নিষ্ঠুরতায় মানুষে আপনাকে আপনি কত ছোটই না প্রতিদিন করিয়া আনিতেছে। সহসা ভারতীর কথাটা স্মরণ করিয়া সে মনে মনে কহিল, ঠিক কথাই ত! কে কোথায় করিতেছে—আমি ত করি না, অথবা, এমনিই ত হয়, এই ত চিরদিন হইয়া আসিতেছে—এই বলিয়াই ত এত বড় ত্রুটির জবাবদিহি হয় না! গরু-ঘোড়া শুধু উপলক্ষ। এই হাত-ভাঙা পাঁচকড়িটাও তাই। আপনাকে যে বাঁচাইতে পারে না তাহার হত্যায়, যে দুর্ব্বল তাহার পীড়নে, যে নিরুপায় তাহার লজ্জাহীন বঞ্চনায় এই যে মানুষে আপনার হৃদয়-বৃত্তির জীবন হরণ করিতেছে, সবলের এই যে আত্মহত্যার অহোরাত্রব্যাপী উৎসব চলিয়াছে, ইহার বাতি নিভিবে কবে? এই সর্ব্বনাশা উন্মত্ততার পরিসমাপ্তি ঘটিবে কোন্ পথ দিয়া? মরণের আগে কি আর তাহার চেতনা ফিরিবে না! {{ফাঁক}}ঘরের একধারে মলিন শতচ্ছিন্ন শয্যায় ছেলে-মেয়ে দুটা মৃতকল্পের ন্যায় পড়িয়াছিল, ভারতী কাছে গিয়া তাহাদের গায়ে হাত দিয়া পরীক্ষা করিতে লাগিল। অপূর্ব্ব ভয়ে সেখানে যাইতে পারিল না, কিন্তু দরিদ্র, পীড়িত শিশু দুটির নিঃশব্দ বেদনা তাহার বুকের মধ্যে যেন মুগুরের ঘা মারিতে লাগিল। সে সেইখানে দাঁড়াইয়া উচ্ছ্বসিত আবেগে আপনাকে আপনি বলিতে লাগিল, লোকে বলে, এই ত দুনিয়া! এমনি ভাবেই ত সংসারের সকল কাজ চিরদিন হইয়া আসিয়াছে! কিন্তু এই কি যুক্তি! পৃথিবী কি শুধু অতীতেরই জন্য! মানুষ কি কেবল তাহার পুরাতন সংস্কার লইয়া অচল হইয়া থাকিবে! নতুন কিছু কি সে কল্পনা করিবে না! উন্নতি করা কি তাহার শেষ হইয়া গেছে! যাহা বিগত, যাহা মৃত কেবল তাহারই ইচ্ছা, তাহারই বিধান মানুষের সকল ভবিষ্যৎ, সকল জীবন, সকল বড় হওয়ার দ্বার রুদ্ধ করিয়া দিয়া চিরকাল ধরিয়া প্রভুত্ব করিতে থাকিবে! {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৪০}}</noinclude> 3zln25dnqpbr88n3kdlwqhniodjafz6 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৫৫ 104 877901 1941924 2026-04-05T13:22:20Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941924 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>{{ফাঁক}}চলুন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব চমকিয়া দেখিল, ভারতী। পাঁচকড়ি নীরবে ম্লানমুখে দাঁড়াইয়াছিল, তাহাকে উদ্দেশ করিয়া ভারতী স্নিগ্ধকণ্ঠে কহিল, ভয় নেই তোমার, এরা সেরে উঠবে। কাল সকালেই আমি ডাক্তার, ওষুধ, পথ্য সব পাঠিয়ে দেব— {{ফাঁক}}তাহার কথা শেষ না হইতেই অপূর্ব্ব পকেটে হাত দিয়া টাকা বাহির করিতেছিল, সেই হাত ভারতী হাত বাড়াইয়া চাপিয়া ধরিয়া নিবারণ করিল। পাঁচকড়ির দৃষ্টি অন্যত্র ছিল, সে ইহা দেখিতে পাইল না, কিন্তু অপূর্ব্বও ইহার হেতু বুঝিল না। ভারতী তখন নিজের জামার পকেট হইতে চার আনার পয়সা বাহির করিয়া তাহার হাতে দিয়া কহিল, ছেলেদের চার-পয়সার মিছরি, চার পয়সার সাগু, আর বাকি দুআনার চাল ডাল এনে তুমি এ-বেলার মত খাও পাঁচকড়ি, কাল তোমার ব্যবস্থা করে দেব। আজ আমরা চললাম। এই বলিয়া অপূর্ব্বকে সঙ্গে লইয়া বাহির হইয়া আসিল। {{ফাঁক}}পথে আসিয়া অপূর্ব্ব ক্ষুণ্ণ হইয়া বলিল, আপনি ভারি কৃপণ। আমাকেও দিতে দিলেন না, নিজেও দিলেন না। {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, দিয়েই ত এলাম। {{ফাঁক}}একে দিয়ে আসা বলে? তার এই দুঃসময়ে পাই-পয়সার হিসেব করে চারআনা মাত্র হাতে দেওয়া ত শুধু অপমান। {{ফাঁক}}ভারতী জিজ্ঞাসা করিল, আপনি কত দিতে যাচ্ছিলেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ঠিক কিছুই করে নাই, খুব সম্ভব হাতে যাহা উঠিত, তাই দিত। কিন্তু এখন ভাবিয়া বলিল, অন্ততঃ গোটা পাঁচেক টাকা। {{ফাঁক}}ভারতী জিভ কাটিয়া কহিল, ওরে বাপ রে! সর্ব্বনাশ করেছিলেন আর কি। বাপ ত মদ খেয়ে সারারাত বেহুঁস হয়ে পড়ে থাকতো, কিন্তু ছেলে-মেয়ে দুটো মরে যেতো। {{ফাঁক}}মদ খেতো? {{ফাঁক}}খেতো না! হাতে টাকা পেলে মদ খায় না এমন অসাধারণ ব্যক্তি সংসারে কে আছে? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ক্ষণকাল অভিভূতের ন্যায় স্তব্ধভাবে থাকিয়া বলিল, আপনার সব কথায় তামাসা। রুগ্ন সন্তানের চিকিৎসার টাকায় বাপ মদ কিনে খাবে, এ কি কখনো সত্যি হতে পারে? {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, সত্যি না হয় ত আপনি যে ঠাকুরের দিব্যি করতে বলবেন,—মা মনসা, ওলা বিবি—হঠাৎ হাসিয়া ফেলিয়াই কিন্তু আপনাকে তৎক্ষণাৎ সংযত<noinclude>{{কেন্দ্র|১৪১}}</noinclude> 5pkz3cnn4log5hzbeimihveaibh9btt 1941927 1941924 2026-04-05T13:31:37Z Nettime Sujata 5470 1941927 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>{{ফাঁক}}চলুন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব চমকিয়া দেখিল, ভারতী। পাঁচকড়ি নীরবে ম্লানমুখে দাঁড়াইয়াছিল, তাহাকে উদ্দেশ করিয়া ভারতী স্নিগ্ধকণ্ঠে কহিল, ভয় নেই তোমার, এরা সেরে উঠবে। কাল সকালেই আমি ডাক্তার, ওষুধ, পথ্য সব পাঠিয়ে দেব— {{ফাঁক}}তাহার কথা শেষ না হইতেই অপূর্ব্ব পকেটে হাত দিয়া টাকা বাহির করিতেছিল, সেই হাত ভারতী হাত বাড়াইয়া চাপিয়া ধরিয়া নিবারণ করিল। পাঁচকড়ির দৃষ্টি অন্যত্র ছিল, সে ইহা দেখিতে পাইল না, কিন্তু অপূর্ব্বও ইহার হেতু বুঝিল না। ভারতী তখন নিজের জামার পকেট হইতে চার আনার পয়সা বাহির করিয়া তাহার হাতে দিয়া কহিল, ছেলেদের চার-পয়সার মিছরি, চার পয়সার সাগু, আর বাকি দুআনার চাল ডাল এনে তুমি এ-বেলার মত খাও পাঁচকড়ি, কাল তোমার ব্যবস্থা করে দেব। আজ আমরা চললাম। এই বলিয়া অপূর্ব্বকে সঙ্গে লইয়া বাহির হইয়া আসিল। {{ফাঁক}}পথে আসিয়া অপূর্ব্ব ক্ষুণ্ণ হইয়া বলিল, আপনি ভারি কৃপণ। আমাকেও দিতে দিলেন না, নিজেও দিলেন না। {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, দিয়েই ত এলাম। {{ফাঁক}}একে দিয়ে আসা বলে? তার এই দুঃসময়ে পাই-পয়সার হিসেব করে চারআনা মাত্র হাতে দেওয়া ত শুধু অপমান। {{ফাঁক}}ভারতী জিজ্ঞাসা করিল, আপনি কত দিতে যাচ্ছিলেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ঠিক কিছুই করে নাই, খুব সম্ভব হাতে যাহা উঠিত, তাই দিত। কিন্তু এখন ভাবিয়া বলিল, অন্ততঃ গোটা পাঁচেক টাকা। {{ফাঁক}}ভারতী জিভ কাটিয়া কহিল, ওরে বাপ্‌রে! সর্ব্বনাশ করেছিলেন আর কি। বাপ ত মদ খেয়ে সারারাত বেহুঁস হয়ে পড়ে থাকতো, কিন্তু ছেলে-মেয়ে দুটো মরে যেতো। {{ফাঁক}}মদ খেতো? {{ফাঁক}}খেতো না! হাতে টাকা পেলে মদ খায় না এমন অসাধারণ ব্যক্তি সংসারে কে আছে? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ক্ষণকাল অভিভূতের ন্যায় স্তব্ধভাবে থাকিয়া বলিল, আপনার সব কথায় তামাসা। রুগ্ন সন্তানের চিকিৎসার টাকায় বাপ মদ কিনে খাবে, এ কি কখনো সত্যি হতে পারে? {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, সত্যি না হয় ত আপনি যে ঠাকুরের দিব্যি করতে বলবেন,—মা মনসা, ওলা বিবি—হঠাৎ হাসিয়া ফেলিয়াই কিন্তু আপনাকে তৎক্ষণাৎ সংযত<noinclude>{{কেন্দ্র|১৪১}}</noinclude> svrascnzrpb55sh5cuek9sbgy9lissl পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৫৬ 104 877902 1941925 2026-04-05T13:25:53Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941925 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>করিয়া লইয়া বলিল, নইলে, দাতার হাত চেপে ধরে দুঃখীকে পেতে দেব না, সত্যি বলুন ত আমি কি এতই ছোট? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব জিজ্ঞাসা করিল, এদের মা নেই? {{ফাঁক}}না। {{ফাঁক}}কোথাও কোন আত্মীয়ও নেই বোধ করি? {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, থাকলেও কাজে লাগবে না। বছর দশ-বারো পূর্ব্বে পাঁচকড়ি একবার দেশে যায়, কোন এক প্রতিবেশীর বিধবা মেয়েকে ভুলিয়ে সাগর পার করে নিয়ে আসে। ছেলে-মেয়ে দুটি তারই; বছর দুই হ’ল, গলায় দড়ি দিয়ে সে ভবযন্ত্রণা এড়িয়েছে,—এই ত পাঁচকড়িদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিল, নরককুণ্ডুই বটে! {{ফাঁক}}ভারতী নিতান্ত সহজকণ্ঠে মাথা নাড়িয়া বলিল, তাতে আর লেশমাত্র মতভেদ নেই। কিন্তু মুস্কিল হয়েচে এই যে, এরা সব ভাই-বোন। রক্তের সম্বন্ধ অস্বীকার করেই রেহাই মিলবে না অপূর্ব্ববাবু, উপরে বসে যে ব্যক্তিটি সমস্ত দেখচেন, তিনি কড়ায় গণ্ডায় এর কৈফিয়ৎ নিয়ে তবে ছেড়ে দেবেন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব গম্ভার হইয়া বলিল, এখন মনে হচ্ছে যেন একেবারে অসম্ভব নয়। ক্ষণকাল পূর্ব্বে এই পাঁচকড়ির ঘরের মধ্যে দাঁড়াইয়াই যে সকল চিন্তা তাহার মনে হইয়াছিল, বিদ্যুদ্বেগে সেই সমস্তই আর একবার তাহার মনের মধ্যে বহিয়া গেল। বলিল, আমিও যখন মানুষ তখন দায়িত্ব আছে বৈ কি। {{ফাঁক}}ভারতী সায় দিল। বলিল, আগে আগে আমিও দেখতে পেতাম না, রাগ করে ঝগড়া করতাম। এই সব অজ্ঞান, দুঃখী, দুর্ব্বল-চিত্ত ভাই-বোনের ঘাড়ে অসহ্য পাপের বোঝা কে অহরহ চাপাচ্ছে এখন স্পষ্ট দেখতে পাই অপূর্ব্ববাবু। {{ফাঁক}}পাশের ঘরে একজন উড়িয়া মিস্ত্রী থাকে, তাহার পাশের ঘর হইতে মাঝে মাঝে তীক্ষ্ণ হাসি ও উচ্চ কোলাহল আসিতেছিল, পাঁচকড়ির ঘরের ভিতর হইতেও অপূর্ব্ব তাহা শুনিতে পাইয়াছিল। সেই ঘরে আসিয়া দুজনে উপস্থিত হইল। ভারতী ইহাদের পরিচিত, সকলে সমস্বরে তাহার অভ্যর্থনা করিল। একজন ছুটিয়া গিয়া একটা টুল ও একটা বেতের মোড়া আনিয়া উভয়কে বসিতে দিল। অনাবৃত কাঠের মেঝেতে বসিয়া ছয়-সাতজন পুরুষ ও আট-দশজন স্ত্রীলোকে মিলিয়া মদ খাইতেছিল। একটা ভাঙ্গা হারমোনিয়াম ও একটা বাঁয়া মাঝখানে, নানা রঙের ও নানা আকারের খালি বোতল চতুর্দ্দিকে গড়াইতেছে, একজন বুড়া গোছের স্ত্রীলোক মাতাল হইয়া ঘুমাইতেছে,—তাহাকে বিবস্ত্রা বলিলেই হয়। যাট হইতে পঁচিশ-ছাব্বিশ পর্য্যন্ত<noinclude>{{কেন্দ্র|১৪২}}</noinclude> 3abiv5xjfb8gmkredq4rtfwv4r9ijxv পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৫৭ 104 877903 1941926 2026-04-05T13:29:29Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941926 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>সকল বয়সের স্ত্রী-পুরুষই বসিয়া গিয়াছে,—আজ রবিবার, পুরুষদের ছুটির দিন। পিঁয়াজ-রুশুনের তরকারির সঙ্গে মিশিয়া সস্তা জারমান মদের অবর্ণনীয় গন্ধ অপূর্ব্বর নাকে লাগিতে তাহার গা বমি-বমি করিয়া আসিল। একজন অল্প বয়সী স্ত্রীলোকের হাতে মদের গেলাস ছিল, সে বোধ হয় তখনও পাকা হইয়া উঠে নাই, হয়ত অল্পদিন পূর্ব্বেই গৃহত্যাগ করিয়াছে, সে বাঁ হাতে সজোরে নিজের নাক টিপিয়া ধরিয়া গেলাসটা মুখে ঢালিয়া দিয়া তক্তার ফাঁক দিয়া অপর্যাপ্ত থুথু ফেলিতে লাগিল। একজন পুরুষ তাড়াতাড়ি তাহার মুখে খানিকটা তরকারি ও গুঁজিয়া দিল। বাঙালী মেয়ে মানুষকে চোখের সুমুখে মদ খাইতে দেখিয়া অপূর্ব্ব যেন একেবারে শীর্ণ হইয়া গেল। কিন্তু সে আড়চোখে চাহিয়া দেখিল, এতবড় ভয়ঙ্কর বীভৎস দৃশ্যেও ভারতীর মুখের উপরে বিকৃতির চিহ্ন মাত্র নাই। এ সব তাহার সহিয়া গেছে। কিন্তু ক্ষণেক পরে গৃহস্বামীর ফরমাসে টুনি যখন গান ধরিল, এই যমুনা সেই যমুনা—এবং পাশের লোকটা হারমোনিয়াম টানিয়া লইয়া খামোকা একটা চাবি টিপিয়া ধরিয়া প্রাণপণে বেলো করিতে সুরু করিল, তখন এত ভার ভারতীর বোধ হয় সহিল না। সে ব্যস্ত হইয়া বলিয়া উঠিল, মিস্ত্রী মশায়, কাল আমাদের মিটিং—এ কথা বোধ হয় ভোলনি? যাওয়া কিন্তু চাই-ই। {{ফাঁক}}চাই বই কি দিদিমণি! এই বলিয়া কালাচাঁদ একপাত্র মদ গলায় ঢালিয়া দিল। {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, ছেলেবেলায় পড়েচ ত খড় পাকিয়ে দড়ি করলে হাতী বাঁধা যায়। এক না হলে তোমরা কখনোও কিছু করতে পারবে না। কেবল তোমাদের ভালর জন্যই সুমিত্রাদিদি কি পরিশ্রম করেচেন বল ত! {{ফাঁক}}এ কথায় সকলে একবাক্যে সায় দিল। ভারতী বলিতে লাগিল, তোমরা ছাড়া কি এতবড় কারখানা একদিন চলে? তোমরাই ত এর সত্যিকারের মালিক, এ তো সোজা কথা কালাচাঁদ, এ তোমরা না বুঝতে চাইলে হবে কেন? {{ফাঁক}}সবাই বলিল, এ ঠিক কথা। তাহারা না চালাইলে সমস্ত অন্ধকার। {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, অথচ, তোমাদের কত কষ্ট একবার ভেবে দেখ দিকি। যখন তখন বিনা দোষে সাহেবরা তোমাদের লাথি জুতো মেরে বার করে দেয়। এই পাশের ঘরেই দেখ, কাজ করতে গিয়ে পাঁচকড়ির হাত ভেঙেছে বলে আজ সে খেতে পায় না, তার ছেলে-মেয়ে দুটো ওষুধ-পথ্যির অভাবে মারা যাচ্চে। ঘর থেকে পর্য্যন্ত বড়সাহেব তাকে দূর করে দিতে চায়! এই যে ক্রোর ক্রোর টাকা এরা লাভ করচে সে কাদের দৌলতে? আর তোমরা পাও কতটুকু? এই যে সেদিন শ্যামলালকে ছোট-সাহেব ঠেলে ফেলে দিলে, আজও সে হাসপাতালে, এ তোমরা সহ্য করবে<noinclude>{{কেন্দ্র|১৪৩}}</noinclude> acbxhc27ldhmfgppsgmyo77rxgg3yy3 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৫৮ 104 877904 1941928 2026-04-05T13:35:19Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941928 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>কেন? একবার সবাই এক হয়ে দাঁড়িয়ে জোর করে বলত, এ নির্য্যাতন আমরা আর সইব না, কেমন তোমাদের গায়ে হাত দিতে সাহস করে দেখি! কেবল একটিবার তোমাদের সত্যিকার জোরটুকু তোমরা চেয়ে দেখতে শেখো,—আর আমরা তোমাদের কাছে কিছুই চাইনে কালাচাঁদ। {{ফাঁক}}একজন মাতাল এতক্ষণ হাঁ করিয়া শুনিতেছিল, সে কহিল, বাবা! পারিনে কি? এমন একটি বল্টু ঢিল করে রেখে দিতে পারি, যে—কড় কড় কড়া‍ৎ! ব্যস্! অর্দ্ধেক কারখানাই ফরসা! {{ফাঁক}}ভারতী সভয়ে বলিয়া উঠিল, না না, দুলাল, ওসব কাজ কখ্‌খনো ক’রো না। ওতে তোমাদেরই সর্ব্বনাশ, হয়ত, লোক মারা যাবে, হয়ত—না না, এসব কথা স্বপ্নেও ভাবতে যেও না দুলাল। ওর চেয়ে ভয়ানক পাপ আর নেই। {{ফাঁক}}লোকটা মাতালের হাসি হাসিয়া বলিল, নাঃ―তা কি আর জানিনে! ও শুধু কথার কথা বলচি, আমরা পারিনে কি! {{ফাঁক}}ভারতী বলিতে লাগিল, তোমাদের সৎপথে, সত্যিকার পথে দাঁড়ানো চাই―তাতেই তোমরা সমস্ত পাবে। ওদের কাছে তোমাদের বহু বহু টাকা পাওনা—তাই কেবল কড়ায় গণ্ডায় আদায় করে নিতে হবে। {{ফাঁক}}মেয়ে-পুরুষে এই লইয়া গণ্ডগোল করিতে লাগিল। ভারতী কহিল, সন্ধ্যা হয়, এখনো আর এক জায়গায় যেতে হবে। আমরা তবে এখন আসি, কিন্তু কালকের কথা যেন কিছুতেই না ভুল হয়। এই বলিয়া সে উঠিয়া দাঁড়াইল। {{ফাঁক}}এই কালাচাঁদের আড্ডার সমস্ত ব্যাপারই অপূর্বর অত্যন্ত বিশ্রী লাগিয়াছিল, কিন্তু শেষের দিকে যে-সব আলোচনা হইল তাহাতে তাহার বিরক্তির অবধি রহিল না। বাহিরে আসিয়াই ভয়ানক রাগ করিয়া কহিল, তুমি এ সব কথা এদের বলতে গেলে কেন? {{ফাঁক}}ভারতী জিজ্ঞাসা করিল, কি সব কথা? {{ফাঁক}}অপূর্ব বলিল, ওই ব্যাটা হারামজাদা মাতাল! দুলাল না কি নাম, কি বললে শুনলে ত? ধর এ কথা যদি সাহেবদের কানে যায়? {{ফাঁক}}কানে যাবে কি করে? {{ফাঁক}}আরে, এরাই বলে দেবে। এরা কি যুধিষ্ঠির নাকি? মদের ঝোঁকে কখন্ কি কাণ্ড করে বসবে, তখন, তোমার নামেই দোষ হবে। হয়ত বলবে তুমিই শিখিয়ে দিয়েচ। {{ফাঁক}}কিন্তু সে তো মিছে কথা! {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৪৪}}</noinclude> cy246u0id3urq2e5edbyouovoa2rvdx পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৫৯ 104 877905 1941930 2026-04-05T13:40:32Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941930 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>{{ফাঁক}}অপূর্ব্ব অধীর হইয়া বলিল, মিছে কথা! আরে, ইংরেজ-রাজত্বে মিছে কথায় কখনো কারো জেল হয়নি নাকি? রাজত্বটাই ত মিছের ওপর দাঁড়িয়ে। {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, আমারও না হয় জেল হবে। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, তুমি ত বলে ফেললে, না হয় জেল হবে! না না, এ সব হবে না। এখানে আসা তোমার আর কখ্‌খনো—কখ্‌খনো চলবে না। {{ফাঁক}}কিছুদূরে একজনের কাছে প্রয়োজন ছিল, কিন্তু দ্বারে তাহার তালা দেওয়া দেখিয়া উভয়েই সেই পথেই ফিরিল। কালাচাঁদের ঘরের কাছে আসিয়া দেখিল, সেই ‘যমুনা প্রবাহিনী’র গান তখন থামিয়াছে, কিন্তু তৎপরিবর্ত্তে মদ-মত্ত তর্ক একেবারে উদ্দাম হইয়া উঠিয়াছে। একজন স্ত্রীলোক মাতাল হইয়া তাহার স্বামীর শোকে কান্না শুরু করিয়াছে, আর একজন তাহাকে এই বলিয়া সান্ত্বনা দিতেছে যে, দেশের কথা বলিয়া আর লাভ নাই,—এইখানেই আবার তোর সব হবে, তুই বরঞ্চ মানত করিয়া পূর্ণিমায় পূর্ণিমায় সত্যনারায়ণের কথা দে। অনেকে এই বলিয়া ঝগড়া করিতেছে যে, এই ক্রীশ্চান মেয়েগুলো কারখানায় ধর্ম্মঘট বাধাইয়া দিতে চায়। তাহা হইলে তাহাদের কষ্টের আর সীমা থাকিবে না, উহাদের লাইনের ঘরে আর আসিতে দেওয়া উচিত নয়। কালাচাঁদ মিস্ত্রী বুঝাইয়া বলিতেছে যে সে বোকা ছেলে নয়। ইহাদের দৌড়টাই কেবল সে দেখিতেছে। একজন অতিসাবধানী মেয়েমানুষ পরামর্শ দিল যে, খোকা, সাহেবকে এই বেলা সাবধান করিয়া দেওয়া ভাল। {{ফাঁক}}সেখান হইতে ভারতীকে জোর করিয়া দূরে টানিয়া লইয়া গিয়া অপূর্ব্ব তিক্তকণ্ঠে কহিল, আর করবে এদের ভাল? নেমকহারাম? হারামজাদা! পাজি! নচ্ছার! উঃ—পাশের ঘরে দুটো অনাথ ছেলেমেয়ে মরে, একজন কেউ চেয়ে দেখে না! নরক আর আছে কোথায়? {{ফাঁক}}ভারতী মুখপানে চাহিয়া বলিল, হঠাৎ হ’ল কি আপনার? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, আমার কিছুই হয়নি, আমি জানতাম। কিন্তু তুমি শুনলে কি না, তাই বল? {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, নূতন কিছুই নয়, এ-রকম ত আমরা রোজ শুনি। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব গর্জ্জিয়া উঠিয়া কহিল, এমনি শয়তানি? এমনি কৃতঘ্নতা? এদের চাও তুমি দলে আনতে—দলবদ্ধ করতে? এদের চাও তুমি ভাল? {{ফাঁক}}ভারতীর কণ্ঠস্বরে কোন উত্তেজনা প্রকাশ পাইল না। বরঞ্চ, সে একটুখানি মলিন হাসি হাসিয়া বলিল, এরা কারা অপূর্ব্ববাবু? এরা ত আমরাই। এই ছোট্ট কথাটুকু যখনি ভুলচেন, তখনি আপনার গোল বাধচে। আর ভাল? ভাল-করা বলে যদি<noinclude>{{কেন্দ্র|১৪৫}}</noinclude> imlqb0l0hb1tebtvcc1mpc6xncskhv1 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৬০ 104 877906 1941933 2026-04-05T13:44:58Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941933 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>সংসারে কোন কথা থাকে, তার যদি কোন অর্থ থাকে সে তো এইখানে। ভাল ত ডাক্তারবাবুর করা যায় না অপূর্ব্ববাবু। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব এ কথার কোন জবাব দিল না। {{ফাঁক}}দুজনে নিঃশব্দে ফটক পার হইয়া আবার সেই বর্ম্মাপাড়ার ভিতর দিয়া বাজারের পথ ঘুরিয়া বড় রাস্তায় আসিয়া পড়িল। তখন সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইয়া গেছে, গৃহস্থের ঘরে আলো জ্বলিয়াছে, পথের দুধারে ছোট ছোট রাত-দোকান বসিয়া বেচা-কেনা আরম্ভ হইয়াছে,—ইহারই মধ্যে দিয়া ভারতী মাথার কাপড় কপালের নীচে পর্য্যন্ত টানিয়া দিয়া নিঃশব্দে দ্রুতবেগে পথ হাঁটিয়া চলিল। অবশেষে লোকালয় শেষ হইয়া যেখানে জলা ও মাঠ শুরু হইল, সেইখানে তে-মাথায় আসিয়া সে পিছনে চাহিয়া কহিল, আপনি বাসায় যান ত সহরে যাবার এই ডানদিকের পথ। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব অন্যমনস্ক হইয়াছিল, জিজ্ঞাসা করিল, আপনি কি বলেন? {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, এতক্ষণে আপনার মাথা ঠাণ্ডা হয়েচে। যথাযোগ্য সম্বোধনের ভাষা মনে পড়েচে। {{ফাঁক}}তার মানে? {{ফাঁক}}তার মানে রাগের মাথায় এতক্ষণ আপনি তুমির ভেদাভেদ ছিল না। এখন ফিরে এল। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব অতিশয় লজ্জিত হইয়া স্বীকার করিয়া কহিল, আপনি রাগ করেননি? {{ফাঁক}}ভারতী হাসিয়া ফেলিল। বলিল, একটু করলেই বা। চলুন। {{ফাঁক}}আবার যাবো? {{ফাঁক}}যাবেন না ত কি অন্ধকার পথে আমি একলা যাবো? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব আর দ্বিরুক্তি করিল না। আজ মনের মধ্যে তাহার অনেক বিষ, অনেক জ্বালা দাউ দাউ কারিয়া জ্বলিতেছিল। মাতালগুলার কথা সে কোন মতে ভুলিতে পারিতেছিল না। চলিতে চলিতে হঠাৎ কটুকণ্ঠে সে বলিয়া উঠিল, এ সব হ’ল সুমিত্রার কাজ, আপনার ওখানে মোড়লি করতে যাবার দরকার কি? কে কোথায় কি করে বসবে, আর আপনাকে নিয়ে টানাটানি পড়বে। {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, পড়লই বা {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, বা রে, পড়লই বা! আসল কথা হচ্চে সর্দ্দারি করাই আপনার স্বভাব। কিন্তু আরো ত ঢের জায়গা আছে। {{ফাঁক}}একটা দেখিয়ে দিন না। {{ফাঁক}}আমার বয়ে গেছে। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৪৬}}</noinclude> huytm1vu4n8acx918m3r2rfmexe7u6w পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৬১ 104 877907 1941936 2026-04-05T13:48:51Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941936 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}খানিকটা খুঁড়িয়া রাস্তার এই স্থানটা মেরামত হইতেছিল। যাইবার সময় দিনের বেলায় কষ্ট হয় নাই, কিন্তু দুপাশের কৃষ্ণচূড়ার গাছের নীচে ভাঙা পথটা অন্ধকারে একেবারে দুর্গম হইয়া উঠিয়াছিল। ভারতী হাত বাড়াইয়া অপূর্ব্বর বাঁ হাতটা শক্ত করিয়া ধরিয়া বলিল, স্বভাব ত আমার যাবে না, অপূর্ব্ববাবু, কিছু একটা করাই চাই। কিন্তু আপনার মত আনাড়ির ওপরে মোড়লি করতে পাই ত আমি আর সমস্ত ছেড়ে দিতে পারি। {{ফাঁক}}আপনার সঙ্গে কথায় পারবার যো নেই। এই বলিয়া সে সাবধানে ঠাওর করিয়া পথ চলিতে লাগিল। <section end="A" /> <section begin="B" />{{কেন্দ্র|১৬ {{ফাঁক}}পরদিন অপরাহ্ণ বেলায় সুমিত্রার নেতৃত্বে ফয়ার মাঠে যে সভা আহূত হইল তাহাতে লোকজন বেশী জমিল না, এবং বক্তৃতা দিতে যাঁহারা প্রতিশ্রুত হইয়াছিলেন তাঁহাদের অনেকেই আসিয়া জুটিতে পারিলেন না। নানা কারণে সভার কার্য্য আরম্ভ করিতে বিলম্ব ঘটিল এবং আলোর বন্দোবস্ত না থাকায় সন্ধ্যার অব্যবহিত পরেই তাহা ভাঙিয়া দিতে হইল। সুমিত্রার নিজের বক্তৃতা ভিন্ন বোধ করি এই সভায় উল্লেখযোগ্য কিছুই হইতে পাইল না, কিন্তু তাই বলিয়া পথের দাবীর এই প্রথম উদ্যমটিকে ব্যর্থ বলিয়াও অভিহিত করা যায় না। কারণ, মুখে-মুখে চারিদিকের মজুরদের মধ্যেও যেমন ব্যাপারটা প্রচারিত হইয়া পড়িতে বাকি রহিল না, তেমনি কারখানার কর্ত্তৃপক্ষদের কানেও কথাটা পৌঁছিতে বিলম্ব হইল না। যেমন করিয়া হৌক, ইহাই সর্ব্বত্র রাষ্ট্র হইয়া পড়িল যে, কে-একজন বাঙালী স্ত্রীলোক সমস্ত পৃথিবী ঘুরিয়া অবশেষে বর্ম্মায় আসিয়া উপস্থিত হইয়াছেন, তাঁহার যেমন রূপ তেমনি শক্তি। তাঁহাকে বাধা দেয় কার সাধ্য! কেমন করিয়া তিনি সাহেবদের কানে ধরিয়া মজুরদের সর্ব্বপ্রকার সুখ-সুবিধা আদায় করিয়া লইবেন এবং তাহাদের মজুরির হার দ্বিগুণ বৃদ্ধি করিয়া দিবেন, নিজের মুখেই সে সকল কথা তিনি প্রকাশ্যে বিবৃত করিয়াছেন। যাহারা খবর না পাওয়ার জন্য সেদিন উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিজের মুখ হইতে সকল কথা শুনিতে পায় নাই তাহারা আগামী শনিবারে গিয়া যেন মাঠে উপস্থিত হয়। {{nop}}<section end="B" /><noinclude>{{কেন্দ্র|১৪৭}}</noinclude> b2yhl1z6gej9pn6qu46xw6zblfad4ev 1941937 1941936 2026-04-05T13:49:18Z Nettime Sujata 5470 1941937 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}খানিকটা খুঁড়িয়া রাস্তার এই স্থানটা মেরামত হইতেছিল। যাইবার সময় দিনের বেলায় কষ্ট হয় নাই, কিন্তু দুপাশের কৃষ্ণচূড়ার গাছের নীচে ভাঙা পথটা অন্ধকারে একেবারে দুর্গম হইয়া উঠিয়াছিল। ভারতী হাত বাড়াইয়া অপূর্ব্বর বাঁ হাতটা শক্ত করিয়া ধরিয়া বলিল, স্বভাব ত আমার যাবে না, অপূর্ব্ববাবু, কিছু একটা করাই চাই। কিন্তু আপনার মত আনাড়ির ওপরে মোড়লি করতে পাই ত আমি আর সমস্ত ছেড়ে দিতে পারি। {{ফাঁক}}আপনার সঙ্গে কথায় পারবার যো নেই। এই বলিয়া সে সাবধানে ঠাওর করিয়া পথ চলিতে লাগিল। <section end="A" /> <section begin="B" />{{কেন্দ্র|১৬}} {{ফাঁক}}পরদিন অপরাহ্ণ বেলায় সুমিত্রার নেতৃত্বে ফয়ার মাঠে যে সভা আহূত হইল তাহাতে লোকজন বেশী জমিল না, এবং বক্তৃতা দিতে যাঁহারা প্রতিশ্রুত হইয়াছিলেন তাঁহাদের অনেকেই আসিয়া জুটিতে পারিলেন না। নানা কারণে সভার কার্য্য আরম্ভ করিতে বিলম্ব ঘটিল এবং আলোর বন্দোবস্ত না থাকায় সন্ধ্যার অব্যবহিত পরেই তাহা ভাঙিয়া দিতে হইল। সুমিত্রার নিজের বক্তৃতা ভিন্ন বোধ করি এই সভায় উল্লেখযোগ্য কিছুই হইতে পাইল না, কিন্তু তাই বলিয়া পথের দাবীর এই প্রথম উদ্যমটিকে ব্যর্থ বলিয়াও অভিহিত করা যায় না। কারণ, মুখে-মুখে চারিদিকের মজুরদের মধ্যেও যেমন ব্যাপারটা প্রচারিত হইয়া পড়িতে বাকি রহিল না, তেমনি কারখানার কর্ত্তৃপক্ষদের কানেও কথাটা পৌঁছিতে বিলম্ব হইল না। যেমন করিয়া হৌক, ইহাই সর্ব্বত্র রাষ্ট্র হইয়া পড়িল যে, কে-একজন বাঙালী স্ত্রীলোক সমস্ত পৃথিবী ঘুরিয়া অবশেষে বর্ম্মায় আসিয়া উপস্থিত হইয়াছেন, তাঁহার যেমন রূপ তেমনি শক্তি। তাঁহাকে বাধা দেয় কার সাধ্য! কেমন করিয়া তিনি সাহেবদের কানে ধরিয়া মজুরদের সর্ব্বপ্রকার সুখ-সুবিধা আদায় করিয়া লইবেন এবং তাহাদের মজুরির হার দ্বিগুণ বৃদ্ধি করিয়া দিবেন, নিজের মুখেই সে সকল কথা তিনি প্রকাশ্যে বিবৃত করিয়াছেন। যাহারা খবর না পাওয়ার জন্য সেদিন উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিজের মুখ হইতে সকল কথা শুনিতে পায় নাই তাহারা আগামী শনিবারে গিয়া যেন মাঠে উপস্থিত হয়। {{nop}}<section end="B" /><noinclude>{{কেন্দ্র|১৪৭}}</noinclude> d5t6o7srafjgamfyljyvw7qlnpth481 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৬২ 104 877908 1941938 2026-04-05T13:52:36Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941938 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}বিশ-পঁচিশ ক্রোশের মধ্যে যতগুলো কল-কারখানা ছিল এই সংবাদ দাবানলের মত ছড়াইয়া পড়িল। সুমিত্রাকে কয়টা লোকেই বা চোখে দেখিয়াছে, কিন্তু তাঁহার রূপ ও শক্তির খ্যাতি অতিরঞ্জিত, এমন কি অমানুষিক হইয়াই যখন লোকের কানে গেল তখন এই অশিক্ষিত মজুরদের মধ্যে সহসা যেন একটা সাড়া পড়িয়া গেল। চিরদিন সংসারে অত্যাচারিত, পীড়িত, দুর্ব্বল বলিয়া মানুষের সহজ অধিকার হইতে যাহারা সবলের দ্বারা প্রবঞ্চিত, নিজের উপর বিশ্বাস করিবার কোন কারণ যাহারা দুনিয়ায় খুঁজিয়া পায় না, দেবতা ও দৈবের প্রতি তাহাদেরই বিশ্বাস সবচেয়ে বেশি। সুমিত্রার সম্বন্ধে জনশ্রুতি তাহাদের কাছে কিছুই অসঙ্গত বলিয়া বোধ হইল না,—এটা প্রায় একপ্রকার স্থির হইযা গেল যে, একটা রোজ কামাই করিয়া শনিবার দিন ফয়ার মাঠে হাজির হইতেই হইবে। তাঁহার কথা ও উপদেশের মধ্যে এমন পরশপাথর যদি বা কিছু থাকে যাহা দিয়া দিন-মজুরের দুঃখের কপাল রাতারাতি একেবারে ভোজবাজির মত সৌভাগ্যের দীপ্তিতে রাঙা হইয়া উঠিবে, তা হইলে যেমন করিয়া হোক সে দুর্লভ বস্তু তাহাদের সংগ্রহ করিয়া আনিতেই হইবে। {{ফাঁক}}সেদিন বৈকালের সভায় বক্তার অভাবে অপূর্ব্বর মত আনাড়িকেও সনির্ব্বন্ধ উপরোধের তাড়নায় বাধ্য হইয়া দুই-চারিটা কথা দাঁড়াইয়া উঠিয়া বলিতে হইয়াছিল। বলার অভ্যাস তাহার কোনকালে ছিল না, বলিয়াও ছিল সে অতিশয় বিশ্রী এবং এজন্য মনে মনে সে যৎপরোনাস্তি লজ্জিত হইয়াই ছিল, কিন্তু আজ হঠাৎ যখন খবর পাইল তাহাদের সেদিনকার বক্তৃতা বৃথা ত হয়ই নাই, বরঞ্চ ফল এতদূর গড়াইয়াছে যে তাহাদের আগামী সভায় সমস্ত কল-কারখানার কাজ বন্ধ করিয়া কারিকরের দল উপস্থিত হইবার সঙ্কল্প করিয়াছে, তখন শ্লাঘায় ও আত্মপ্রসাদের আনন্দে বুকের মধ্যেটা তাহার ফুলিয়া উঠিল। সেদিন নিজের বক্তব্যকে সে পরিস্ফুট করিতে পারে নাই, কিন্তু তাহার ভয় ভাঙিয়াছিল। বহুলোকের মাঝখানে উঠিয়া জনতাকে সম্বোধন করিয়া বলার মধ্যে যে নেশা আছে, সেদিন সে তাহার স্বাদ পাইয়াছিল, আজ আফিসে আসিয়াই সুমিত্রার চিঠির মধ্যে বহুবিধ প্রশংসার সঙ্গে আগামী সভার জন্যও পুনরায় বক্তার নিমন্ত্রণ পাইয়া সে উত্তেজনায় চঞ্চল হইয়া উঠিল। আফিসের কাজে মন দিতে পারিল না এবং কি করিয়া আরও বিশদ, আরও সতেজ ও আরও সুন্দর করিয়া বলা যায় তখন হইতে মনে মনে তাহার ইহারই মহড়া চলিতে লাগিল। দুপুরবেলা টিফিন খাইতে বসিয়া আজ সে হঠাৎ রামদাসের কাছে এই কথা প্রকাশ করিয়া ফেলিল। একদিন তাহারই জন্য সে ভারতীকে অপমান করিয়াছিল, সেই অবধি তাহার লেশমাত্র সংস্রবের কথাও এই লোকটির কাছে বলিতে অপূর্ব্বর অত্যন্ত<noinclude>{{কেন্দ্র|১৪৮}}</noinclude> k9hrffyr391pjioczbozo71e4n0li1z পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৬৩ 104 877909 1941939 2026-04-05T13:55:48Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941939 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>লজ্জা করিত। আদালতে সেই জরিমানার দিন হইতে গণনার হিসাবে কত দিনই বা গত হইয়াছে। ইহার মধ্যে সেই দুর্দ্দান্ত বর্ব্বর সাহেবটা মরিয়াছে, তাহার বাঙালী-স্ত্রী মরিয়াছে এবং তাহাদের সেই শয়তান ক্রীশ্চান মেয়েটাও ঘর ছাড়িয়া কোথায় চলিয়া গেছে এইটুকুই শুধু রামদাস জানিত। কিন্তু এই অবসরটুকুর মধ্যেই যে সেই ঘরছাড়া মেয়েটির সহিত নিঃশব্দ গোপনে তাহার বন্ধুর জীবনে কতবড় কাব্য ও কতবড় দুঃখের ইতিহাস দুঃসহ দ্রুতবেগে রচিত হইয়া উঠিতেছিল সে তাহার কোন খবরই পায় নাই। আজ পুলকের আতিশয্যে সকল কথাই যখন অপূর্ব্ব ব্যক্ত করিয়া কহিতে লাগিল, তখন রামদাস তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। ভারতী, সুমিত্রা, ডাক্তারবাবু, নবতারা, এমন কি সেই মাতালটার পর্য্যন্ত উল্লেখ করিয়া সে তাহাদের পথের দাবীর কর্ম্ম ও লক্ষ্য বিবৃত করিয়া সেদিনকার লাইনের ঘরে অভিযানের বিবরণ যখন একটি একটি করিয়া দিতে লাগিল তখন পর্য্যন্তও রামদাস একটি প্রশ্ন করিল না। একদিন দেশের জন্য এই লোকটি জেল খাটিয়াছে, বেত খাইয়াছে, হয়ত আরও কত-কি নির্য্যাতন ভোগ করিয়াছে, কেবল একটি দিন ছাড়া যাহার কোন বিবরণ কোনদিন সে রামদাসের কাছে শুনিতে পায় নাই, তথাপি তাহাকেই কল্পনায় বাড়াইয়া লইয়া অপূর্ব্ব আফিসের মধ্যে বড় হইয়াও আপনাকে সর্ব্বদাই ছোট না ভাবিয়া পারিত না। ক্ষুদ্রতা তাহার ছিল না, রামদাস তাহার বন্ধু—বন্ধুর প্রতি তাহার বিদ্বেষ ছিল না, কিন্তু বড় ও ছোটর ভাবটাও সে মন হইতে তাড়াইতে পারিত না। এমনি করিয়াই এই দুটি বন্ধুর ঘনিষ্ঠতার মাঝখানেও ব্যবধানের প্রাচীর গড়িয়া উঠিতেছিল। আজ সুমিত্রার পত্রখানি সে রামদাসের চোখের সম্মুখে রাখিয়া দিয়া নিজেকে পথের দাবীর একজন বিশিষ্ট সভ্য, এবং দেশের কাজে নিয়োজিত-প্রাণ বলিয়া আপনাকে ব্যক্ত করিয়া একদণ্ডেই যেন সে বন্ধুর সমকক্ষ হইয়া উঠিল। {{ফাঁক}}চিঠিখানি ইংরাজিতে লেখা, তলওয়ারকর আদ্যোপান্ত বার দুই তাহা নিঃশব্দে পাঠ করিয়া মুখ তুলিয়া জিজ্ঞাসা করিল, বাবুজি, এ-সকল কথা আমাকে আপনি একদিনও বলেননি কেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, বললেও কি এখন আর আপনি আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারতেন? {{ফাঁক}}তলওয়ারকর বলিল, এ-কথা কেন জিজ্ঞেসা করচেন? আমাকে ত আপনি যোগ দিতে ডাকেননি। {{ফাঁক}}তাহার কণ্ঠস্বরে একটা অভিমানের সুর অত্যন্ত স্পষ্ট হইয়াই অপূর্ব্বর কানে বাজিল, সে ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া বলিল, তার কারণ আছে রামদাসবাবু। আপনি<noinclude>{{কেন্দ্র|১৪৯}}</noinclude> a5fhqfv6cmlwqp8xvuy82d43g0l6pi4 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৬৪ 104 877910 1941944 2026-04-05T13:59:06Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941944 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>ত জানেন, এ-সব কাজের কত বড় দায়িত্ব, কত বড় শঙ্কা। আপনি বিবাহ করেচেন, আপনার মেয়ে আছে, স্ত্রী আছেন, আপনি গৃহস্থ—তাই আপনাকে এই ঝড়ের মধ্যে আর ডাকতে চাইনি। {{ফাঁক}}তলওয়ারকর বিস্মিত হইয়া বলিল, গৃহস্থের কি দেশের সেবার অধিকার নেই? জন্মভূমি কি শুধু আপনাদের, আমাদের নয়? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব লজ্জা পাইয়া কহিল, সে ইঙ্গিত আমি করিনি তলওয়ারকর, আমি শুধু এই কথাই বলেচি যে আপনি বিবাহিত, আপনি গৃহস্থ। অন্তত্র আপনার অনেক দায়িত্ব, তাই এ-বিদেশে এতবড় বিপদের মধ্যে যাওয়া বোধ করি আপনার ঠিক নয়। {{ফাঁক}}তলওয়ারকর কহিল, বোধ হয়! তা হ’তে পারে। কিন্তু বিজিত পরাধীন দেশের সেবা করার নামই ত বিপদ অপূর্ব্ববাবু। তার যে আর কোন নাম নেই এ-কথা আমি চিরদিন জানি। আমাদের হিন্দুর ঘরে বিবাহটা ধর্ম্ম, মাতৃভূমির সেবা তার চেয়ে বড় ধর্ম্ম। এক ধর্ম্ম আর এক ধর্ম্মাচরণে বাধা দেবে এ যদি আমি একটা দিনও মনে করতাম বাবুজি, আমি কখনো বিবাহ করতাম না। {{ফাঁক}}তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া অপূর্ব্ব আর প্রতিবাদ করিল না, চুপ করিয়া রহিল। কিন্তু এই যুক্তিকে সে মনে মনে সমর্থন করিল না। একদিন স্বদেশের কাজে এই লোকটি বহু দুঃখ পাইয়াছে, আজও তাহার অন্তরের তেজ একেবারে নিবিয়া যায় নাই, সামান্য প্রসঙ্গেই সহসা তাহা স্ফীত হইয়া উঠিয়াছে, এই কথা মনে করিয়া অপূর্ব্ব শ্রদ্ধায় বিগলিত হইল, কিন্তু তাহার অধিক আর কিছু সে সত্য সত্যই প্রত্যাশা করিল না। আহ্বান করিলেই সে যে স্ত্রী-পুত্রের মায়া কাটাইয়া, তাহাদের প্রতিপালনের পথ কণ্টকাকীর্ণ করিয়া পথের দাবীর সভ্য হইতে ছুটিয়া যাইবে ইহা সে বিশ্বাসও করিল না, ইচ্ছাও করিল না। স্বদেশ সেবার অধিকারের স্পর্দ্ধা এই কয়দিনেই তাহার এতখানি উঁচু হইয়া গিয়াছিল। সহসা এ প্রসঙ্গ সে বন্ধ করিয়া আগামী সভার হেতু ও উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যা করিতে গিয়া বন্ধুর কাছে কিন্তু এখন সরলকণ্ঠেই ব্যক্ত করিল যে, সেই একটি দিন ভিন্ন জীবনে কখনো সে বক্তৃতা করে নাই; সুমিত্রার নিমন্ত্রণ উপেক্ষা করিতে পারিবে না, কিন্তু একের কথা বহুজনকে শুনাইবার মত ভাষা বা অভিজ্ঞতা কোনটাই তাহার আয়ত্ত নয়। {{ফাঁক}}তলওয়ারকর জিজ্ঞাসা করিল, কি করবেন তাহ’লে? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, বক্তৃতা করার মত কেবল একটি দিনই জীবনে আমার কারখানা দেখবার সুযোগ ঘটেচে। তাদের কুলি-মজুরেরা যে অধিকাংশই পশুর জীবন-যাপন<noinclude>{{কেন্দ্র|১৫০}}</noinclude> m0imxswwt9iwwo8hyqj2gb5asmjp8rg নির্ঘণ্ট:রঘুবংশ - হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য (১৮৬৮).pdf 102 877911 1941948 2026-04-05T14:01:18Z Bodhisattwa 2549 "" দিয়ে পাতা তৈরি 1941948 proofread-index text/x-wiki {{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template |wikidata_item=Q138875810 |Title= |Subtitle= |Volume= |Issue= |Edition= |Author= |Foreword_Author= |Translator= |Editor= |Illustrator= |Publisher= |Address= |Printer= |Year= |Source=pdf |Image=3 |Progress=X |Pages=<pagelist /> |Volumes= |Remarks= |Notes={{BL-TCIP}} |Header= |Footer= }} pxb9mvm5fev9l29v4on9gx2wy6wv0sg শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার)/পথের দাবী/১৫ 0 877912 1941949 2026-04-05T14:02:38Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf" from=148 to=161 fromsection=B tosection=A header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1941949 wikitext text/x-wiki <pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf" from=148 to=161 fromsection=B tosection=A header=1/> gx2ulwwiwknfewnietg6duy8nqcxozk পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৪৯ 104 877913 1941950 2026-04-05T14:13:29Z Babulbaishya 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1941950 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৭|অশান্তির সূত্রপাত।}}{{rule}}</noinclude>ইংলণ্ডেশ্বর কর্ত্তৃক প্রধান শাসনকর্তার পদে নিযুক্ত হইয়াছেন বলিয়া গর্বে কবে স্ফীত হইয়া উঠিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কে পদার্পণ করিয়াই স্বীয় প্রভুত্ব প্রকাশ করিতে কালবিলম্ব করিলেন না। ঔপনিবেশিকগণকে ইংলণ্ডের শাসনশৃঙ্খলে বিজড়িত করিবেন, ইহাই কসবের মনের অভিসন্ধি হইল। ফলে দেশবাসী তাহার উপর অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া উঠিল। এই সময় “ইউনিক জারন্যাল” ( Unique Journal) প্রকাশিত হয় । লেখক তেজস্বী জেঙ্গার ১৭৩৪ খৃষ্টাব্দের ১৭ই নভেম্বরের প্রবন্ধে তীব্র ভাষায় গভর্ণরের কার্য্যের ঘোর প্রতিবাদ করেন। গবর্ণর চটিয়া অগ্নিশৰ্ম্মা হইলেন! কি অসম সাহস! শাসনকর্তার কার্য্যের সমালোচনা! রাজদ্রোহের অভিযোগে লেখককে গ্রেপ্তার করিয়া হাজতে রাখা হইল ৷ বন্ধুবর্গ জামিনে খালাস করিতে চাহিলে, সত্তর হাজার টাকার জামিন চাওয়া হইল! জামিনের এত টাকা সংগ্রহ করিতে না পারিয়া জেঙ্গার নয় মাস হাজত ভোগ করেন। বিচার আরম্ভ হইলে দুইজন ব্যারিষ্টার জেঙ্গারের পক্ষ সমর্থন করিলেন। বাদানুবাদের অজুহতে এই দুইজনের নাম ব্যারিষ্টারগণের তালিকা হইতে কাটিয়া দেওয়া হইল। জুরির বিচারে নির্দ্দোষিতা প্রতিপন্ন হওয়ায় জেঙ্গার মুক্তিলাভ করেন। সেই দিন সহরে প্রীতি-ভোজ দেওয়া হইল এবং জেঙ্গারকে নানা সম্মানে বিভূষিত করা হইল। সংবাদ-পত্রের স্বাধীনতা-ধ্বংসের আশঙ্কা দেখিয়া দেশবাসিগণ চঞ্চল হইয়া উঠিল। {{nop}}<noinclude></noinclude> 4byvriwnzt6mj4hxnqi58k2khr46lfu 1941955 1941950 2026-04-05T14:20:48Z Bodhisattwa 2549 1941955 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৭|অশান্তির সূত্রপাত।}}{{rule}}</noinclude>ইংলণ্ডেশ্বর কর্ত্তৃক প্রধান শাসনকর্তার পদে নিযুক্ত হইয়াছেন বলিয়া গর্বে কবে স্ফীত হইয়া উঠিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কে পদার্পণ করিয়াই স্বীয় প্রভুত্ব প্রকাশ করিতে কালবিলম্ব করিলেন না। ঔপনিবেশিকগণকে ইংলণ্ডের শাসনশৃঙ্খলে বিজড়িত করিবেন, ইহাই কসবের মনের অভিসন্ধি হইল। ফলে দেশবাসী তাহার উপর অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া উঠিল। এই সময় “ইউনিক জারন্যাল” (Unique Journal) প্রকাশিত হয়। লেখক তেজস্বী জেঙ্গার ১৭৩৪ খৃষ্টাব্দের ১৭ই নভেম্বরের প্রবন্ধে তীব্র ভাষায় গভর্ণরের কার্য্যের ঘোর প্রতিবাদ করেন। গবর্ণর চটিয়া অগ্নিশর্ম্মা হইলেন! কি অসম সাহস! শাসনকর্তার কার্য্যের সমালোচনা! রাজদ্রোহের অভিযোগে লেখককে গ্রেপ্তার করিয়া হাজতে রাখা হইল। বন্ধুবর্গ জামিনে খালাস করিতে চাহিলে, সত্তর হাজার টাকার জামিন চাওয়া হইল! জামিনের এত টাকা সংগ্রহ করিতে না পারিয়া জেঙ্গার নয় মাস হাজত ভোগ করেন। বিচার আরম্ভ হইলে দুইজন ব্যারিষ্টার জেঙ্গারের পক্ষ সমর্থন করিলেন। বাদানুবাদের অজুহতে এই দুইজনের নাম ব্যারিষ্টারগণের তালিকা হইতে কাটিয়া দেওয়া হইল। জুরির বিচারে নির্দ্দোষিতা প্রতিপন্ন হওয়ায় জেঙ্গার মুক্তিলাভ করেন। সেই দিন সহরে প্রীতি-ভোজ দেওয়া হইল এবং জেঙ্গারকে নানা সম্মানে বিভূষিত করা হইল। সংবাদ-পত্রের স্বাধীনতা-ধ্বংসের আশঙ্কা দেখিয়া দেশবাসিগণ চঞ্চল হইয়া উঠিল। {{nop}}<noinclude></noinclude> 121i6oesizs2v5qz2ua1a93rivs29je ব্যবহারকারী:Babulbaishya 2 877914 1941951 2026-04-05T14:16:20Z Babulbaishya 2144 "Babulbaishya" দিয়ে পাতা তৈরি 1941951 wikitext text/x-wiki Babulbaishya 5n4fvg32m2n1x4w2tlmahxs13luh4l1 পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৫০ 104 877915 1941953 2026-04-05T14:20:27Z Babulbaishya 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1941953 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৮|আমেরিকার স্বাধীনতা}}{{rule}}</noinclude>{{কেন্দ্র|{{larger|অষ্ট্রিয় সিংহাসন লইয়া বিবাদ।}}}} {{ফাঁক}}১৭৪০ খ্রীঃ অব্দে অষ্ট্রিয় সম্রাট্ ষষ্ঠ চার্লস পরলোক গমন করেন। ইউরোপের শক্তিনিচয় অষ্ট্ৰীয় সাম্রাজ্য ধ্বংস করিবার জন্য সম্রাট্ দুহিতা ম্যারিয়া থেরেসা যাহাতে পিতৃসিংহাসনে বসিতে না পারেন, তজ্জন্য এক ষড়যন্ত্র করে। ফলে ফরাসী, প্রুসিয়া এবং বেভেরিয়ার সঙ্গে ইংলণ্ড ও অস্ট্রিয়ার এক যুদ্ধ হয়। ১৭৪০ খ্রীঃ অব্দে আয়লাসাপেলে সন্ধি স্থাপিত হওয়ায় গণ্ডগোল মিটমাট হইয়া যায়। এই যুদ্ধের সময় আমেরিকায় ইংলণ্ডের সহিত ফরাসীর যুদ্ধ বাধিবার উপক্রম হইয়াছিল। ফলে এই সময় হইতে আমেরিকার প্রতি ইংলণ্ডের দৃষ্টি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়। {{কেন্দ্র|{{larger|সপ্তবর্ষ ব্যাপী যুদ্ধ}}}} {{ফাঁক}}অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ইউরোপীয় শক্তিসমূহ পরস্পর পরস্পরের সমকক্ষ ছিল। যে কোন দুইটী শক্তি মিলিত হইলেই যে কোন তৃতীয় শক্তিকে বিপর্যস্ত করিতে পারিত। ফরাসীর সহিত ইংরেজের অহি-নকুল সম্বন্ধ শত শত বৎসর যাবৎ চলিয়া আসিতেছিল; তাই কোন শক্তিকে ফরাসীর এবং কোন শক্তিকেই বা ইংরাজের মিত্র বলিয়া গণ্য করা যাইতে পারিবে, এই বিষয় লইয়া অনেক গবেষণা, অনেক মস্তিষ্ক চালনা হইতে লাগিল। এই সময়ে আবার ব্যবসায় বাণিজ্য, উপনিবেশ এবং সমুদ্রের আধিপত্য লইয়া ফরাসীর সহিত<noinclude></noinclude> 227hsc0ldkm9ctkjyhxzr6q39idftdi 1941956 1941953 2026-04-05T14:21:15Z Bodhisattwa 2549 1941956 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৮|আমেরিকার স্বাধীনতা}}{{rule}}</noinclude>{{কেন্দ্র|{{larger|অষ্ট্রিয় সিংহাসন লইয়া বিবাদ।}}}} {{ফাঁক}}১৭৪০ খ্রীঃ অব্দে অষ্ট্রিয় সম্রাট্ ষষ্ঠ চার্লস পরলোক গমন করেন। ইউরোপের শক্তিনিচয় অষ্ট্রীয় সাম্রাজ্য ধ্বংস করিবার জন্য সম্রাট্ দুহিতা ম্যারিয়া থেরেসা যাহাতে পিতৃসিংহাসনে বসিতে না পারেন, তজ্জন্য এক ষড়যন্ত্র করে। ফলে ফরাসী, প্রুসিয়া এবং বেভেরিয়ার সঙ্গে ইংলণ্ড ও অস্ট্রিয়ার এক যুদ্ধ হয়। ১৭৪০ খ্রীঃ অব্দে আয়লাসাপেলে সন্ধি স্থাপিত হওয়ায় গণ্ডগোল মিটমাট হইয়া যায়। এই যুদ্ধের সময় আমেরিকায় ইংলণ্ডের সহিত ফরাসীর যুদ্ধ বাধিবার উপক্রম হইয়াছিল। ফলে এই সময় হইতে আমেরিকার প্রতি ইংলণ্ডের দৃষ্টি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়। {{কেন্দ্র|{{larger|সপ্তবর্ষ ব্যাপী যুদ্ধ}}}} {{ফাঁক}}অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ইউরোপীয় শক্তিসমূহ পরস্পর পরস্পরের সমকক্ষ ছিল। যে কোন দুইটী শক্তি মিলিত হইলেই যে কোন তৃতীয় শক্তিকে বিপর্যস্ত করিতে পারিত। ফরাসীর সহিত ইংরেজের অহি-নকুল সম্বন্ধ শত শত বৎসর যাবৎ চলিয়া আসিতেছিল; তাই কোন শক্তিকে ফরাসীর এবং কোন শক্তিকেই বা ইংরাজের মিত্র বলিয়া গণ্য করা যাইতে পারিবে, এই বিষয় লইয়া অনেক গবেষণা, অনেক মস্তিষ্ক চালনা হইতে লাগিল। এই সময়ে আবার ব্যবসায় বাণিজ্য, উপনিবেশ এবং সমুদ্রের আধিপত্য লইয়া ফরাসীর সহিত<noinclude></noinclude> abmmm24shx5xk28u8jf91kxbiixutag পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৫১ 104 877916 1941957 2026-04-05T14:33:03Z Babulbaishya 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1941957 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৯|অশান্তির সূত্রপাত।}}{{rule}}</noinclude>ইংরাজের বিবাদ ঘনীভূত হইয়া উঠিল। পরিশেষে ১৭৫৬ খৃঃ অব্দে ইংলণ্ড ও ফরাসীতে সপ্তবর্ষ ব্যাপি যুদ্ধ আরম্ভ হয়। এই যুদ্ধ সম্বন্ধে আমেরিকাস্থ ঘটনাবলীর উপরই আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখিব। {{কেন্দ্র|{{larger|আমেরিকায় ফরাসী ও ইংরেজ।}}}} {{ফাঁক}}পূর্ব্বে বলা হইয়াছে যে ১৭৪৮ খৃঃ অব্দে আয়লাসাপেলের সন্ধিতে অষ্ট্ৰীয়ান যুদ্ধ অবসান হয়। কিন্তু এই সন্ধি দ্বারা আমেরিকাস্থ ইংরেজ ও ফরাসী উপনিবেশ সমূহের সীমানা নির্দ্ধারিত হয় নাই ৷ এখন এই উভয় জাতির মধ্যে সীমানা লইয়া বিবাদ উপস্থিত হইল। {{ফাঁক}}ষোড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভে ফরাসীরা কানাডা এবং লুসিয়ানা প্রদেশে উপনিবেশ স্থাপন করিয়া ক্রমে দক্ষিণ দিকে অনেক শত মাইল পর্যন্ত স্থান দখল করিয়া লয়। ক্রমে মিসিসিপি এবং তাহার শাখা নদীদ্বারা পরিবেষ্টিত সমুদয় স্থান ফরাসীরা দাবী করিল এবং এই দাবীর নিদর্শন স্বরূপ তাহারা উত্তর ও দক্ষিণ সীমানার মধ্যবর্তী স্থান সমূহে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুর্গ নিৰ্ম্মাণ করিল, এবং আলান্টিক উপকূলে ইংরেজের গতিবিধির পথ রোধ করিয়া দিল। পরে অহিও-নদী-পরিবেষ্টিত উপত্যকাও তাহাদের সীমানাভুক্ত বলিয়া দাবী করিল। এই সুবিস্তীর্ণ উপত্যকা অত্যন্ত উর্বরা ছিল। কিন্তু তখনও সেখানে লোকের বসতি তেমন অধিক ছিল না।<noinclude></noinclude> fj9ynktr7g5dfxggngtmmji0ufce9ej 1941959 1941957 2026-04-05T14:35:27Z Babulbaishya 2144 1941959 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৯|অশান্তির সূত্রপাত।}}{{rule}}</noinclude>ইংরাজের বিবাদ ঘনীভূত হইয়া উঠিল। পরিশেষে ১৭৫৬ খৃঃ অব্দে ইংলণ্ড ও ফরাসীতে সপ্তবর্ষ ব্যাপি যুদ্ধ আরম্ভ হয়। এই যুদ্ধ সম্বন্ধে আমেরিকাস্থ ঘটনাবলীর উপরই আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখিব। {{কেন্দ্র|{{larger|আমেরিকায় ফরাসী ও ইংরেজ।}}}} {{ফাঁক}}পূর্ব্বে বলা হইয়াছে যে ১৭৪৮ খৃঃ অব্দে আয়লাসাপেলের সন্ধিতে অষ্ট্ৰীয়ান যুদ্ধ অবসান হয়। কিন্তু এই সন্ধি দ্বারা আমেরিকাস্থ ইংরেজ ও ফরাসী উপনিবেশ সমূহের সীমানা নির্দ্ধারিত হয় নাই ৷ এখন এই উভয় জাতির মধ্যে সীমানা লইয়া বিবাদ উপস্থিত হইল। {{ফাঁক}}ষোড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভে ফরাসীরা কানাডা এবং লুসিয়ানা প্রদেশে উপনিবেশ স্থাপন করিয়া ক্রমে দক্ষিণ দিকে অনেক শত মাইল পর্যন্ত স্থান দখল করিয়া লয়। ক্রমে মিসিসিপি এবং তাহার শাখা নদীদ্বারা পরিবেষ্টিত সমুদয় স্থান ফরাসীরা দাবী করিল এবং এই দাবীর নিদর্শন স্বরূপ তাহারা উত্তর ও দক্ষিণ সীমানার মধ্যবর্তী স্থান সমূহে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুর্গ নিৰ্ম্মাণ করিল, এবং আলান্টিক উপকূলে ইংরেজের গতিবিধির পথ রোধ করিয়া দিল। পরে অহিও-নদী-পরিবেষ্টিত উপত্যকাও তাহাদের সীমানাভুক্ত বলিয়া দাবী করিল। এই সুবিস্তীর্ণ উপত্যকা অত্যন্ত উর্বরা ছিল। কিন্তু তখনও সেখানে লোকের বসতি তেমন অধিক ছিল না। {{nop}}<noinclude></noinclude> neev7sp5hwrexmyj7t97os05nf87bt5 1941963 1941959 2026-04-05T15:27:08Z Bodhisattwa 2549 1941963 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৩৯|অশান্তির সূত্রপাত।}}{{rule}}</noinclude>ইংরাজের বিবাদ ঘনীভূত হইয়া উঠিল। পরিশেষে ১৭৫৬ খৃঃ অব্দে ইংলণ্ড ও ফরাসীতে সপ্তবর্ষ ব্যাপি যুদ্ধ আরম্ভ হয়। এই যুদ্ধ সম্বন্ধে আমেরিকাস্থ ঘটনাবলীর উপরই আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখিব। {{কেন্দ্র|{{larger|আমেরিকায় ফরাসী ও ইংরেজ।}}}} {{ফাঁক}}পূর্ব্বে বলা হইয়াছে যে ১৭৪৮ খৃঃ অব্দে আয়লাসাপেলের সন্ধিতে অষ্ট্রীয়ান যুদ্ধ অবসান হয়। কিন্তু এই সন্ধি দ্বারা আমেরিকাস্থ ইংরেজ ও ফরাসী উপনিবেশ সমূহের সীমানা নির্দ্ধারিত হয় নাই । এখন এই উভয় জাতির মধ্যে সীমানা লইয়া বিবাদ উপস্থিত হইল। {{ফাঁক}}ষোড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভে ফরাসীরা কানাডা এবং লুসিয়ানা প্রদেশে উপনিবেশ স্থাপন করিয়া ক্রমে দক্ষিণ দিকে অনেক শত মাইল পর্যন্ত স্থান দখল করিয়া লয়। ক্রমে মিসিসিপি এবং তাহার শাখা নদীদ্বারা পরিবেষ্টিত সমুদয় স্থান ফরাসীরা দাবী করিল এবং এই দাবীর নিদর্শন স্বরূপ তাহারা উত্তর ও দক্ষিণ সীমানার মধ্যবর্তী স্থান সমূহে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুর্গ নির্ম্মাণ করিল, এবং আলাণ্টিক উপকূলে ইংরেজের গতিবিধির পথ রোধ করিয়া দিল। পরে অহিও-নদী-পরিবেষ্টিত উপত্যকাও তাহাদের সীমানাভুক্ত বলিয়া দাবী করিল। এই সুবিস্তীর্ণ উপত্যকা অত্যন্ত উর্বরা ছিল। কিন্তু তখনও সেখানে লোকের বসতি তেমন অধিক ছিল না। {{nop}}<noinclude></noinclude> l9xqiwn6j5h0fl9rlwbwoft4utzfzms পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৫২ 104 877917 1941958 2026-04-05T14:35:06Z Babulbaishya 2144 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "এই উপত্যকায় ফরাসীগণ তিনশত সৈন্য প্রেরণ করিল এবং নানা প্রকার প্ররোচনাদ্বারা ইণ্ডিয়ানগণকে বশীভূত করিয়া এই উপত্যকা হইতে ইংরাজ-বণিকগণকে বিতাড়িত করিবার জন্য চেষ্টা কর..." দিয়ে পাতা তৈরি 1941958 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Babulbaishya" />{{rvh|৪০|আমেরিকার স্বাধীনতা}}{{rule}}</noinclude>এই উপত্যকায় ফরাসীগণ তিনশত সৈন্য প্রেরণ করিল এবং নানা প্রকার প্ররোচনাদ্বারা ইণ্ডিয়ানগণকে বশীভূত করিয়া এই উপত্যকা হইতে ইংরাজ-বণিকগণকে বিতাড়িত করিবার জন্য চেষ্টা করিতে লাগিল । ইংরাজগণও কিন্তু এই উপত্যকা তাহাদের বলিয়া দাবী করিল। ১৭৪৯ খৃঃ অব্দে অনেক ইংরাজ-বণিক একত্র হইয়া একটী কোম্পানী গঠন করে । এই কোম্পানী অনেক জমিজমা পাইয়া এই মৰ্ম্মে সৰ্ত্তে আবদ্ধ হইল যে (১) তাহারা ঐ উপত্যকায় উপনিবেশ স্থাপন করিবে, (২) তত্রত্য ইণ্ডিয়ানগণের সঙ্গে ব্যবসায় বাণিজ্য করিবে, এবং (৩) ঐ উপত্যকা সংরক্ষণের উপযোগী সৈন্য রক্ষা করিবে । এই সর্ত্তানুসারে কোম্পানী ঐ উপত্যকা দখল করিতে প্রস্তুত হইল ৷ ১৭৫১ খৃষ্টাব্দের প্রারম্ভে উভয় পক্ষই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইতে লাগিল । ক্রমে দুই পক্ষে তুমুল যুদ্ধ আরম্ভ হয় । ইংরাজের প্রত্যেক উপনিবেশ হইতে সৈন্য প্রেরিত হইল ৷ ২১ বৎসরের যুবক ওয়াশিংটনের নায়কত্বে ভার্জিনিয়া হইতেও একদল সৈন্য প্রেরিত হইল । ফরাসী দুর্গ ডুকেন্স ( Fort Duquence ) ইংরেজগণ অধিকার করিয়া লইল এবং ইংলণ্ডের প্রধান মন্ত্রী পিটের নামানুসারে এই দুর্গের নাম রাখা হইল পিট-ফোর্ট ; পরে এই স্থান সহরে পরিণত হইলে পিট্‌ট্সবার্গ নামে অভিহিত করা হয় ৷ ১৭৬৩ খৃঃ অব্দে পারিস-সন্ধি দ্বারা এই যুদ্ধ মিট-মাট হইয়া যায়।<noinclude></noinclude> 3hgwl1v7zhvoshp615uwdw6sdfvh2w4 1941960 1941958 2026-04-05T14:39:33Z Babulbaishya 2144 1941960 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="1" user="Babulbaishya" />{{rvh|৪০|আমেরিকার স্বাধীনতা}}{{rule}}</noinclude>{{ফাঁক}}এই উপত্যকায় ফরাসীগণ তিনশত সৈন্য প্রেরণ করিল এবং নানা প্রকার প্ররোচনাদ্বারা ইণ্ডিয়ানগণকে বশীভূত করিয়া এই উপত্যকা হইতে ইংরাজ-বণিকগণকে বিতাড়িত করিবার জন্য চেষ্টা করিতে লাগিল। ইংরাজগণও কিন্তু এই উপত্যকা তাহাদের বলিয়া দাবী করিল। ১৭৪৯ খৃঃ অব্দে অনেক ইংরাজ-বণিক একত্র হইয়া একটী কোম্পানী গঠন করে। এই কোম্পানী অনেক জমিজমা পাইয়া এই মৰ্ম্মে সৰ্ত্তে আবদ্ধ হইল যে (১) তাহারা ঐ উপত্যকায় উপনিবেশ স্থাপন করিবে, (২) তত্রত্য ইণ্ডিয়ানগণের সঙ্গে ব্যবসায় বাণিজ্য করিবে, এবং (৩) ঐ উপত্যকা সংরক্ষণের উপযোগী সৈন্য রক্ষা করিবে। এই সর্ত্তানুসারে কোম্পানী ঐ উপত্যকা দখল করিতে প্রস্তুত হইল। {{ফাঁক}}১৭৫১ খৃষ্টাব্দের প্রারম্ভে উভয় পক্ষই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইতে লাগিল। ক্রমে দুই পক্ষে তুমুল যুদ্ধ আরম্ভ হয়। ইংরাজের প্রত্যেক উপনিবেশ হইতে সৈন্য প্রেরিত হইল। ২১ বৎসরের যুবক ওয়াশিংটনের নায়কত্বে ভার্জিনিয়া হইতেও একদল সৈন্য প্রেরিত হইল। {{ফাঁক}}ফরাসী দুর্গ ডুকেন্স (Fort Duquence) ইংরেজগণ অধিকার করিয়া লইল এবং ইংলণ্ডের প্রধান মন্ত্রী পিটের নামানুসারে এই দুর্গের নাম রাখা হইল পিট-ফোর্ট; পরে এই স্থান সহরে পরিণত হইলে পিট্‌সবার্গ নামে অভিহিত করা হয়। ১৭৬৩ খৃঃ অব্দে পারিস-সন্ধি দ্বারা এই যুদ্ধ মিট-মাট হইয়া যায়।<noinclude></noinclude> 0k3ufall7horew49nvk1namuuboa9w2 1941961 1941960 2026-04-05T14:41:18Z Babulbaishya 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1941961 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৪০|আমেরিকার স্বাধীনতা}}{{rule}}</noinclude>{{ফাঁক}}এই উপত্যকায় ফরাসীগণ তিনশত সৈন্য প্রেরণ করিল এবং নানা প্রকার প্ররোচনাদ্বারা ইণ্ডিয়ানগণকে বশীভূত করিয়া এই উপত্যকা হইতে ইংরাজ-বণিকগণকে বিতাড়িত করিবার জন্য চেষ্টা করিতে লাগিল। ইংরাজগণও কিন্তু এই উপত্যকা তাহাদের বলিয়া দাবী করিল। ১৭৪৯ খৃঃ অব্দে অনেক ইংরাজ-বণিক একত্র হইয়া একটী কোম্পানী গঠন করে। এই কোম্পানী অনেক জমিজমা পাইয়া এই মৰ্ম্মে সৰ্ত্তে আবদ্ধ হইল যে (১) তাহারা ঐ উপত্যকায় উপনিবেশ স্থাপন করিবে, (২) তত্রত্য ইণ্ডিয়ানগণের সঙ্গে ব্যবসায় বাণিজ্য করিবে, এবং (৩) ঐ উপত্যকা সংরক্ষণের উপযোগী সৈন্য রক্ষা করিবে। এই সর্ত্তানুসারে কোম্পানী ঐ উপত্যকা দখল করিতে প্রস্তুত হইল। {{ফাঁক}}১৭৫১ খৃষ্টাব্দের প্রারম্ভে উভয় পক্ষই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইতে লাগিল। ক্রমে দুই পক্ষে তুমুল যুদ্ধ আরম্ভ হয়। ইংরাজের প্রত্যেক উপনিবেশ হইতে সৈন্য প্রেরিত হইল। ২১ বৎসরের যুবক ওয়াশিংটনের নায়কত্বে ভার্জিনিয়া হইতেও একদল সৈন্য প্রেরিত হইল। {{ফাঁক}}ফরাসী দুর্গ ডুকেন্স (Fort Duquence) ইংরেজগণ অধিকার করিয়া লইল এবং ইংলণ্ডের প্রধান মন্ত্রী পিটের নামানুসারে এই দুর্গের নাম রাখা হইল পিট-ফোর্ট; পরে এই স্থান সহরে পরিণত হইলে পিট্‌সবার্গ নামে অভিহিত করা হয়। ১৭৬৩ খৃঃ অব্দে পারিস-সন্ধি দ্বারা এই যুদ্ধ মিট-মাট হইয়া যায়।<noinclude></noinclude> 9bmrpenpkqw8rwkrc3b3auwzgxqnrod 1941964 1941961 2026-04-05T15:27:41Z Bodhisattwa 2549 1941964 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৪০|আমেরিকার স্বাধীনতা}}{{rule}}</noinclude>{{ফাঁক}}এই উপত্যকায় ফরাসীগণ তিনশত সৈন্য প্রেরণ করিল এবং নানা প্রকার প্ররোচনাদ্বারা ইণ্ডিয়ানগণকে বশীভূত করিয়া এই উপত্যকা হইতে ইংরাজ-বণিকগণকে বিতাড়িত করিবার জন্য চেষ্টা করিতে লাগিল। ইংরাজগণও কিন্তু এই উপত্যকা তাহাদের বলিয়া দাবী করিল। ১৭৪৯ খৃঃ অব্দে অনেক ইংরাজ-বণিক একত্র হইয়া একটী কোম্পানী গঠন করে। এই কোম্পানী অনেক জমিজমা পাইয়া এই মর্ম্মে সর্ত্তে আবদ্ধ হইল যে (১) তাহারা ঐ উপত্যকায় উপনিবেশ স্থাপন করিবে, (২) তত্রত্য ইণ্ডিয়ানগণের সঙ্গে ব্যবসায় বাণিজ্য করিবে, এবং (৩) ঐ উপত্যকা সংরক্ষণের উপযোগী সৈন্য রক্ষা করিবে। এই সর্ত্তানুসারে কোম্পানী ঐ উপত্যকা দখল করিতে প্রস্তুত হইল। {{ফাঁক}}১৭৫১ খৃষ্টাব্দের প্রারম্ভে উভয় পক্ষই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইতে লাগিল। ক্রমে দুই পক্ষে তুমুল যুদ্ধ আরম্ভ হয়। ইংরাজের প্রত্যেক উপনিবেশ হইতে সৈন্য প্রেরিত হইল। ২১ বৎসরের যুবক ওয়াশিংটনের নায়কত্বে ভার্জিনিয়া হইতেও একদল সৈন্য প্রেরিত হইল। {{ফাঁক}}ফরাসী দুর্গ ডুকেন্স (Fort Duquence) ইংরেজগণ অধিকার করিয়া লইল এবং ইংলণ্ডের প্রধান মন্ত্রী পিটের নামানুসারে এই দুর্গের নাম রাখা হইল পিট-ফোর্ট; পরে এই স্থান সহরে পরিণত হইলে পিট্‌সবার্গ নামে অভিহিত করা হয়। ১৭৬৩ খৃঃ অব্দে পারিস-সন্ধি দ্বারা এই যুদ্ধ মিট-মাট হইয়া যায়।<noinclude></noinclude> jtbwdh4femst67d8gm4snxel05dfex0 পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৫৩ 104 877918 1941962 2026-04-05T14:48:44Z Babulbaishya 2144 /* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */ 1941962 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৪১|অশান্তির সূত্রপাত।}}{{rule}}</noinclude>তৎফলে অহিও উপত্যকা, এবং সমস্ত কানাডা প্রদেশ ইংরেজের অধিকারে আসে। স্পেনও ইংরেজকে ফ্লোরিডা ছাড়িয়া দিতে বাধ্য হয়। এই প্রকারে ম্যাক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত সমগ্র প্রদেশ ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভুক্ত হয়। {{কেন্দ্র|{{larger|পারিস-সন্ধির পর ইংলণ্ডের অবস্থা।}}}} {{ফাঁক}}১৭৬৩ খৃঃ অব্দে ব্রিটীশ সাম্রাজ্য সৌভাগ্যের উচ্চতম সোপানে আরোহণ করিল। প্রতিদ্বন্দী ফরাসী পরাজিত ও বিধ্বস্ত। স্পেনের উপনিবেশসমূহ ইংলণ্ডের হস্তগত! এখন আমেরিকায় ইংরেজের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হইল। এদিকে পলাশী-ক্ষেত্রে সিরাজদ্দৌলা পরাজিত হওয়ায় ভারতে ইংরেজ-রাজত্বের ভিত্তি প্রোথিত হইল। {{ফাঁক}}ইংলণ্ডের প্রধান মন্ত্রী পিটের দূরদর্শিতা, কৰ্ম্মকুশলতা, এবং উপযুক্ত লোক নির্ব্বাচনের ক্ষমতাই যে এই বিশাল সাম্রাজ্য-গঠনের মূলীভূত প্রধান কারণ, সে বিষয়ে কোনই সন্দেহ নাই ৷ ফলতঃ এই মন্ত্রীবরের অভাব না হইলে আমেরিকা কখনই ব্রিটিশ সাম্রাজ্য হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইতে পারিত না। এই বিশাল সাম্রাজ্য সুশৃঙ্খল ভাবে পরিচালনা করিবার জন্য চাই উদারতা, চাই অমায়িক সরলতা—যে উদারতা, যে সরলতা পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ অধিবাসীকে প্রেমের পবিত্র ডোরে এক সঙ্গে গ্রথিত করিয়া রাখিবে। কিন্তু বিশাল সাম্রাজ্য-রক্ষার উদারতা ইংলণ্ডের রাজার বা পার্লামেন্টের ছিল না ।<noinclude></noinclude> 9ciwdt76slzm984pfml0ygh3h8j92ia 1941965 1941962 2026-04-05T15:27:53Z Bodhisattwa 2549 1941965 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rvh|৪১|অশান্তির সূত্রপাত।}}{{rule}}</noinclude>তৎফলে অহিও উপত্যকা, এবং সমস্ত কানাডা প্রদেশ ইংরেজের অধিকারে আসে। স্পেনও ইংরেজকে ফ্লোরিডা ছাড়িয়া দিতে বাধ্য হয়। এই প্রকারে ম্যাক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত সমগ্র প্রদেশ ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভুক্ত হয়। {{কেন্দ্র|{{larger|পারিস-সন্ধির পর ইংলণ্ডের অবস্থা।}}}} {{ফাঁক}}১৭৬৩ খৃঃ অব্দে ব্রিটীশ সাম্রাজ্য সৌভাগ্যের উচ্চতম সোপানে আরোহণ করিল। প্রতিদ্বন্দী ফরাসী পরাজিত ও বিধ্বস্ত। স্পেনের উপনিবেশসমূহ ইংলণ্ডের হস্তগত! এখন আমেরিকায় ইংরেজের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হইল। এদিকে পলাশী-ক্ষেত্রে সিরাজদ্দৌলা পরাজিত হওয়ায় ভারতে ইংরেজ-রাজত্বের ভিত্তি প্রোথিত হইল। {{ফাঁক}}ইংলণ্ডের প্রধান মন্ত্রী পিটের দূরদর্শিতা, কর্ম্মকুশলতা, এবং উপযুক্ত লোক নির্ব্বাচনের ক্ষমতাই যে এই বিশাল সাম্রাজ্য-গঠনের মূলীভূত প্রধান কারণ, সে বিষয়ে কোনই সন্দেহ নাই। ফলতঃ এই মন্ত্রীবরের অভাব না হইলে আমেরিকা কখনই ব্রিটিশ সাম্রাজ্য হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইতে পারিত না। এই বিশাল সাম্রাজ্য সুশৃঙ্খল ভাবে পরিচালনা করিবার জন্য চাই উদারতা, চাই অমায়িক সরলতা—যে উদারতা, যে সরলতা পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ অধিবাসীকে প্রেমের পবিত্র ডোরে এক সঙ্গে গ্রথিত করিয়া রাখিবে। কিন্তু বিশাল সাম্রাজ্য-রক্ষার উদারতা ইংলণ্ডের রাজার বা পার্লামেণ্টের ছিল না।<noinclude></noinclude> ozamt6lh5i1g6pmtpdd1bqus6yrx4gd পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৬৫ 104 877919 1941966 2026-04-05T16:27:39Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941966 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>করে এ আমি অসংশয়ে অনুভব করে এসেচি, কিন্তু কেন, কিসের জন্যে তার ত কিছুই জানিনে। {{ফাঁক}}রামদাস হাসিয়া কহিল, তবুও আপনাকে বলতে হবে? নাই-ই বললেন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব চুপ করিয়া রহিল, কিন্তু তাহার মুখ দেখিয়া স্পষ্ট বুঝা গেল, এতবড় মর্য্যাদা ত্যাগ করা তার পক্ষে কঠিন। {{ফাঁক}}রামদাস নিজেই তখন বলিল, আমি কিন্তু এদের কথা কিছু কিছু জানি। {{ফাঁক}}কেমন করে জানলেন? {{ফাঁক}}বহুদিন এদের মধ্যে ছিলাম অপূর্ব্ববাবু। আমার চাকরির সার্টিফিকেটগুলো একবার চেয়ে দেখলেই দেখতে পাবেন দেশে আমি কলকারখানা, কুলি-মজুর নিয়েই কাল কাটিয়েচি। যদি হুকুম করেন ত অনেক দুঃখের কাহিনীই আপনাকে শোনাতে পারি। বাস্তবিক, এদের না দেখলে যে দেশের সত্যকার ব্যথার জায়গাটাই বাদ পড়ে যায় বাবুজি। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, সুমিত্রাও ঠিক এই কথাই বলেন। {{ফাঁক}}রামদাস কহিল, না বলে ত উপায় নেই। এবং জানেন বলেই ত পথের দাবীর কর্ত্রী তিনি। বাবুজি, আত্মত্যাগের উৎসই ঐখানে। দেশের সেবার বনেদ ওর ’পরে, ওর নাগাল না পেলে যে আপনার সকল উদ্যম, সকল ইচ্ছা মরুভূমির মত দুদিনে শুকিয়ে উঠবে। {{ফাঁক}}কথাগুলা অপূর্ব্ব এই নূতন শুনিল না, কিন্তু রামদাসের বুকের মধ্যে হইতে যেন তাহারা সশব্দে উঠিয়া আজ তাহার বুকের উপর তীক্ষ্ণ আঘাত করিল। রামদাস আরও কি বলিতে যাইতেছিল, কিন্তু অকস্মাৎ পর্দ্দা সরাইয়া সাহেব প্রবেশ করিতে দুজনেই চমকিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। সাহেব অপূর্ব্বকে উদ্দেশ করিয়া বলিলেন, আমি চললাম। তোমার টেবিলের উপরে একটা চিঠি রেখে এসেচি, কালই তার জবাব দেওয়া প্রয়োজন, এই বলিয়া তিনি তৎক্ষণাৎ বাহির হইয়া গেলেন। উভয়েই ঘড়ির দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া সবিস্ময়ে দেখিল বেলা চারিটা বাজিয়া গেছে। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৫১}}</noinclude> nmr5kno48uant5xs5vaitgoj6vwzx2y পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৬৬ 104 877920 1941967 2026-04-05T16:32:14Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941967 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{কেন্দ্র|১৭}} {{ফাঁক}}সাহেব চলিয়া গেলে আজ একটুখানি সকাল-সকাল আফিসের ছুটি দিয়া উভয়ে ফয়ার মাঠের উদ্দেশে বাহির হইয়া পড়িল। পাঁচটায় মিটিং সুরু হইবার কথা, তাহার আর বিলম্ব নাই। এই দিকটায় গাড়ী মিলে না, সুতরাং একটু দ্রুত না গেলে সময়ে পৌঁছানো যাইবে কি না সন্দেহ। পথের মধ্যে অপূর্ব্ব কথাবার্ত্তা প্রায় কিছুই বলিল না। তাহার জীবনের আজ একটা বিশেষ দিন। আশঙ্কা ও আনন্দের উত্তেজনায় তাহার মনের মধ্যে ঝড় বহিতেছিল। কারিকর ও কুলি-মজুরদের সম্বন্ধে কতক একখানা পুস্তক হইতে এবং কতক রামদাসের নিকট সে যোগাড় করিয়া লইয়াছিল, সেই সমস্ত মনে মনে সাজাইয়া গুছাইয়া অপূর্ব্ব নিঃশব্দে মহলা দিতে দিতে চলিতে লাগিল। ১৮৬৩ সালে বোম্বাইয়ের কোনখানে সর্ব্বপ্রথমে তূলার কারখানা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল, তারপরে সেইগুলা বাড়িয়া বাড়িয়া আজ তাহাদের সংখ্যা কত দাঁড়াইয়াছে, তখন কুলি-মজুরদের কিরূপ শোচনীয় অবস্থা ছিল, কিরূপ দিন-রাত্রি মেহন্নত করিতে হইত এবং এই লইয়া কবে বিলাতের তূলার কলের মালিকদের সহিত ভারতবর্ষীয় মালিকদের প্রথম বিবাদের সুত্রপাত হয় এবং কারখানা আইন কোন্ সনের কোন্ তারিখে কি কি বাধা অতিক্রম করিয়া পাশ হইয়া এদেশে প্রথম প্রচলিত হয় এবং সর্ত্ত তাহাতে কি ছিল এবং কখনই বা সেই আইন পরিবর্ত্তিত হইয়া কিরূপ দাঁড়াইয়াছে, তখনকার ও এখনকার বিলাতের ও ভারতবর্ষের মজুরির হারে পার্থক্য কতখানি, ইহাদের সঙ্ঘবদ্ধ করিবার কল্পনা কবে এবং কে উদ্ভাবন করিয়াছিল, তাহার ফল কি দাঁড়াইয়াছে, সে-দেশের ও এ-দেশের শ্রমিকগণের মধ্যে সুনীতি ও দুর্নীতির তুলনামূলক আলোচনা করিলে কি দেখা যায় এবং সংসারে লাভ-ক্ষতির পরিমাণ তাহাতে কোথায় নির্দ্দিষ্ট হইয়াছে ইত্যাদি সংগ্রহমালার কোথাও না খেই হারাইয়া যায় এই ভয়ে সে আপনাকে আপনি বার বার সতর্ক করিল। তাহার স্মরণশক্তি তীক্ষ্ণ ছিল, বক্তৃতার মাঝখানে হঠাৎ যে ভুলিয়া যাইবে না, অনেকগুলা একজামিন ভাল করিয়া পাশ করার ফলে এ ভরসা তাহার ছিল। সুতরাং মুখ দিয়া তাহার এই সকল নিরতিশয় সারগর্ভ বাক্যধারা কখনো বা উচ্চসপ্তকে, কখনো বা গম্ভীর খাদে, কখনো বা হুঙ্কার শব্দে গর্জ্জিয়া গর্জ্জিয়া এক সময়ে যখন সমাপ্ত হইবে তখন বিপুল শ্রোতৃমণ্ডলীর করতালিধ্বনি হয়ত বা সহজে থামিতেই চাহিবে না। সুমিত্রার প্রসন্ন দৃষ্টি সে স্পষ্ট দেখিতে লাগিল। আর ভারতী! এইটুকু সময়ে এতখানি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সে যে কি করিয়া আয়ত্ত করিল ইহারই আনন্দিত বিস্ময়ে মুখ তাহার সমুজ্জ্বল ও চোখের দৃষ্টি সজল হইয়া<noinclude>{{কেন্দ্র|১৫২}}</noinclude> saaheqygid64ykddguw3prsbaw7e2n8 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৬৭ 104 877921 1941968 2026-04-05T16:36:13Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941968 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>একমাত্র তাহারই মুখের পরে নিপতিত হইয়াছে, কল্পনায় প্রত্যক্ষবৎ দেখিতে পাইয়া অপূর্ব্বর শিরার রক্ত সবেগে বহিতে লাগিল। তাহার দ্রুত পদক্ষেপের সমান তালে পা ফেলিয়া চলা তলওয়ারকরের পক্ষে আজি যেন দুরূহ হইয়া পড়িল। তাহারা মাঠে পৌঁছিয়া দেখিল তথায় তিল ধারণের স্থান নাই, লোক জমিয়াছে যে কত তাহার সংখ্যা হয় না। সেদিনকার বক্তা হিসাবে অপূর্ব্বকে যাহারা চিনিতে পারিল তাহারা পথ ছাড়িয়া দিল, যাহারা চিনিত না তাহারাও দেখা-দেখি সরিয়া দাঁড়াইল। বিপুল জনতার মাঝখানে মাচা বাঁধা। ডাক্তার আজিও ফিরেন নাই, তাই শুধু তিনি ছাড়া পথের দাবীর সকল সভ্যই উপনীত। বন্ধুকে সঙ্গে করিয়া কোনমতে ভিড় ঠেলিয়া অপূর্ব্ব তথায় আসিয়া উপস্থিত হইল। মাচার উপরে একখানা বেঞ্চ তখনও খালি ছিল, চোখের ইঙ্গিতে নির্দ্দেশ করিয়া সুমিত্রা সেইখানে তাঁহাদের অভ্যর্থনা করিলেন। মাচার পুরোভাগে দাঁড়াইয়া পাঞ্জাবী একজন অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বক্তৃতা দিতেছিল, বোধ করি সে জবাব-পাওয়া মিস্ত্রী কিংবা এমনি কিছু একটা হইবে, অপূর্ব্বদের অভ্যাগমে ক্ষণকাল মাত্র বাধা পাইয়া পুনশ্চ দ্বিগুণ তেজে চীৎকার করিতে লাগিল। ভাল বক্তার কাছে জনতা যুক্তিতর্ক চাহে না, যাহা মন্দ তাহা কেন মন্দ এ খবরে তাহাদের আবশ্যক হয় না, শুধু মন্দ যে কত মন্দ অসংখ্য বিশেষণ যোগে ইহাই শুনিয়া তাহারা চরিতার্থ হইয়া যায়। পাঞ্জাবী মিস্ত্রীর প্রচণ্ড বলার মধ্যে বোধ করি এই গুণটাই পর্য্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান থাকায় শ্রোতার দল যে কিরূপ চঞ্চল হইয়া উঠিয়াছিল তাহাদের মুখ দেখিয়াই তাহা বুঝা যাইতেছিল। {{ফাঁক}}অকস্মাৎ কি যেন একটা ভয়ানক বিঘ্ন ঘটিল। মাঠের কোন এক প্রান্ত হইতে অগণিত চাপা-কণ্ঠে সত্রাস কলরব উঠিল এবং পরক্ষণেই দেখা গেল বহু লোক ঠেলা ঠেলি করিয়া পলাইবার চেষ্টা করিতেছে। এবং তাহাকেই দুইভাগে বিভক্ত করিয়া পিষিয়া মাড়াইয়া প্রকাণ্ড বড়-বড় ঘোড়ায় চড়িয়া বিশ-পঁচিশজন গোরা পুলিশকর্ম্মচারী দ্রুতবেগে অগ্রসর হইয়া আসিতেছে। তাহাদের একহাতে লাগাম এবং অন্যহাতে চাবুক,—কোমরবন্ধে পিস্তল ঝুলিতেছে। তাহাদের কাঁধের লোহার জাল ঝক্ ঝক্ করিতেছে এবং রাঙা মুখ ক্রোধে ও অস্তমান সূর্য্যকিরণে একেবারে সিঁদুরের মত লাল হইয়া উঠিয়াছে। যে ব্যক্তি বক্তৃতা দিতেছিল তাহার বজ্রকণ্ঠ হঠাৎ কখন নীরব হইল এবং মঞ্চ হইতে নীচের ভিড়ের মধ্যে চক্ষের পলকে সে যে কি করিয়া কোথায় অদৃশ্য হইল জানা গেল না। {{ফাঁক}}সর্দ্দার গোরা মঞ্চের ধারে ঘেঁষিয়া আসিয়া কর্কশ কণ্ঠে কহিল, মিটিং বন্ধ করিতে হইবে। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৫৩}}</noinclude> eq1rrtc9moiweytdk55fj0c8e141rz7 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৬৮ 104 877922 1941969 2026-04-05T16:40:30Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941969 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}সুমিত্রা এখনও আরোগ্য লাভ করিতে পারে নাই, তাহার উপবাস ক্লিষ্ট মুখের ’পরে পাণ্ডুর ছায়া পড়িল, কিন্তু তৎক্ষণাৎ উঠিয়া দাঁড়াইয়া জিজ্ঞাসা করিল, কেন? {{ফাঁক}}সে কহিল, হুকুম। {{ফাঁক}}কার হুকুম? {{ফাঁক}}গবর্ণমেণ্টের। {{ফাঁক}}কিসের জন্য? {{ফাঁক}}ষ্ট্রাইক করার জন্য মজুরদের ক্ষ্যাপাইয়া তোলা নিষেধ। {{ফাঁক}}সুমিত্রা বলিল, বৃথা ক্ষেপিয়ে দিয়ে তামাসা দেখবার আমাদের সময় নেই। ইউরোপ প্রভৃতি দেশের মত এদের দলবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দেওয়াই এই মিটিংএর উদ্দেশ্য। {{ফাঁক}}সাহেব চমকিয়া কহিল, দলবদ্ধ করা? ফার্ম্মের বিরুদ্ধে? সে তো এদেশে ভয়ানক বে-আইনি। তাতে নিশ্চয় শান্তিভঙ্গ হতে পারে। {{ফাঁক}}সুমিত্রা কহিল, নিশ্চয়, পারে বই কি! যে দেশে গবর্ণমেণ্ট মানেই ইংরাজ ব্যবসায়ী এবং সমস্ত দেশের রক্ত শোষণের জন্যই যে দেশে এই বিরাট যন্ত্র খাড়া করা— {{ফাঁক}}বক্তব্য তাহার শেষ হইতে পাইল না, গোরার রক্ত-চক্ষু আগুন হইয়া উঠিল। ধমক দিয়া বলিল, দ্বিতীয়বার এ-কথা উচ্চারণ করলে আমি অ্যারেষ্ট করতে বাধ্য হব। {{ফাঁক}}সুমিত্রার আচরণে এতটুকু চাঞ্চল্য প্রকাশ পাইল না, শুধু ক্ষণকাল তাহার মুখের প্রতি একদৃষ্টে চাহিয়া মুচকিয়া একটু হাসিল। কহিল, সাহেব, আমি অসুস্থ এবং অতিশয় দুর্ব্বল। না হলে শুধু দ্বিতীয়বার কেন, এ কথা একশ’বার চীৎকার করে এই লোকগুলিকে শুনিয়ে দিতাম। কিন্তু আজ আমার শক্তি নেই। এই বলিয়া সে আবার একটু হাসিল। {{ফাঁক}}এই পীড়িত রমণীর সহজ শান্ত হাসিটুকুর কাছে সাহেব মনে মনে বোধ হয় লজ্জা পাইল, অল্ রাইট! আপনাকে সাবধান করে দিলাম। ঘড়ি খুলিয়া কহিল, মিটিং বন্ধ করবার আমার হুকুম আছে, কিন্তু ভেঙ্গে দেবার নেই। দশ মিনিট সময় দিলাম, দু’চার কথায় এদের শান্তভাবে যেতে বলে দিন। আর কখনো যেন এরূপ না হয়। {{ফাঁক}}কিছুদিন হইতে প্রায় উপবাসেই সুমিত্রার দিন কাটিতেছিল। সকলের নিষেধ সত্ত্বেও সে আজ সামান্য একটু জ্বর লইয়াই সভায় উপস্থিত হইয়াছিল, কিন্তু এখন শ্রান্তি ও অবসাদ তাহাকে যেন আচ্ছন্ন করিয়া ধরিল। চৌকির পিঠে মাথা হেলান দিয়া সে অস্ফুটে ডাকিয়া কহিল, অপূর্ব্ববাবু, দশ মিনিট মাত্র সময় আছে,―হয়ত তাও নেই। চীৎকার করে সকলকে জানিয়ে দিন সঙ্ঘবদ্ধ না হ’লে এদের আর<noinclude>{{কেন্দ্র|১৫৪}}</noinclude> 93m87c0u063u9732fwhd9oxzbgi1rot পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৬৯ 104 877923 1941970 2026-04-05T16:44:44Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941970 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>উপায় নেই। কারখানার মালিকেরা আজ আমাদের যে অপমান করলে, মানুষ হলে এরা যেন তার শোধ নেয়। বলিতে বলিতে তাহার দুর্ব্বল কণ্ঠ ভাঙিয়া পড়িল, কিন্তু সভানেত্রীর এই আদেশ শুনিয়া অপূর্ব্বর সমস্ত মুখ ফ্যাকাশে হইয়া উঠিল। বিহ্বল নেত্রে সুমিত্রার প্রতি চাহিয়াই কহিল, উত্তেজিত করা কি বে-আইনি হবে না? {{ফাঁক}}সুমিত্রা বিস্মিত মৃদুকণ্ঠে বলিল, পিস্তলের জোরে সভা ভেঙে দেওয়াই কি আইনসঙ্গত? বৃথা রক্তপাত আমি চাইনে, কিন্তু এই কথাটা সকল শক্তি দিয়ে আপনি শুনিয়ে দিন আজকের অপমান শ্রমিকেরা যেন কিছুতে না ভোলে। {{ফাঁক}}পথের দাবীর অন্য চার-পাঁচজন পুরুষ সভ্য যাহারা মঞ্চের পরে আসীন ছিল চেহারা দেখিয়াই মনে হয় তাহারা সামান্য এবং তুচ্ছ ব্যক্তি। হয়ত, কারিকর কিংবা এমনি কিছু হইবে। অপূর্ব্ব নূতন হইলেও সমিতির শিক্ষিত এবং বিশিষ্ট সভ্য। এতবড় জনতাকে সম্বোধন করিবার ভার তাই তাহার প্রতি পড়িয়াছে। অপূর্ব্ব শুষ্ককণ্ঠে কহিল, আমি ত হিন্দি ভাল জানিনে। {{ফাঁক}}সুমিত্রা কথা কহিতে পারিতেছিল না, তথাপি কহিল, যা জানেন তাতেই দু-কথা বলে দিন অপূর্ব্ববাবু, সময় নষ্ট করবেন না। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব সকলের মুখের দিকে চাহিয়া দেখিল। ভারতী মুখ ফিরাইয়া ছিল, তাহার অভিমত জানা গেল না, কিন্তু জানা গেল সর্দ্দার-গোরার মনের ভাব। তাহার সহিত অত্যন্ত কাছে, অত্যন্ত স্পষ্ট এবং অত্যন্ত কঠিন চোখা-চোখি হইল। বলিবার জন্য অপূর্ব্ব উঠিয়া দাঁড়াইল, তাহার ঠোঁট নড়িতে লাগিল, কিন্তু সেই দুটি কম্পিত ওষ্ঠাধর হইতে বাঙলা ইংরাজি হিন্দি কোন ভাষাই ব্যক্ত হইল না। কেবল একান্ত পাণ্ডুর মুখের ’পরে ব্যক্ত যাহা হইল, তাহা আর যাহারই হৌক পথের দাবীর সভ্যদের জন্য নহে। {{ফাঁক}}তলওয়ারকর উঠিয়া দাঁড়াইল। সুমিত্রাকে লক্ষ্য করিয়া কহিল, আমি বাবুজির বন্ধু। আমি হিন্দি জানি। আদেশ পাই ত ওঁর বক্তব্য আমি চেঁচিয়ে সকলকে শুনিয়ে দিই। ভারতী মুখ ফিরিয়া চাহিল, সুমিত্রা বিস্মিত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলিয়া স্থির হইয়া রহিল এবং এই দুটি নারীর উন্নদ্ধ চোখের সম্মুখে লজ্জিত, অভিভূত, বাক্যহীন অপূর্ব্ব স্তব্ধ নতমুখে জড়বস্তুর মত বসিয়া পড়িল। {{ফাঁক}}রামদাস ফিরিয়া দাঁড়াইল। এবং তাহার দক্ষিণে বামে ও সম্মুখের বিক্ষুব্ধ, ভীত, চঞ্চল জনসমষ্টিকে সম্বোধন করিয়া উচ্চকণ্ঠে বলিতে লাগিল, ভাই সব! আমার অনেক কথা বলবার ছিল, কিন্তু এরা গায়ের জোরে আমাদের মুখ বন্ধ করেচে। এই বলিয়া সে আঙুল দিয়া সুমুখের পুলিশ-সওয়ারগণকে দেখাইয়া বলিল, এই ডালকুত্তাদের যারা আমাদের বিরুদ্ধে, তোমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে, তারা তোমাদেরই<noinclude>{{কেন্দ্র|১৫৫}}</noinclude> 4owcef7mklcqwl33udrgthj9dwj4mcy পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৭০ 104 877924 1941971 2026-04-05T16:47:48Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941971 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>কারখানার মালিকেরা। তারা কিছুতেই চায় না যে কেউ তোমাদের দুঃখ-দুর্দ্দশার কথা তোমাদের জানায়। তোমরা তাদের কল চালাবার, বোঝা বইবার জানোয়ার! অথচ, তোমরাও যে তাদেরি মত মানুষ, তেমনি পেট ভরে খাবার, তেমনি প্রাণ খুলে আনন্দ করবার জন্মগত অধিকার তোমরাও যে ভগবানের কাছ থেকে পেয়েচ এই সত্যটাই এরা সকল শক্তি, সকল শঠতা দিয়ে তোমাদের কাছ থেকে গোপন রাখতে চায়। শুধু একবার যদি তোমাদের ঘুম ভাঙে, কেবল একটিবার মাত্র যদি এই সত্য কথাটা বুঝতে পারো যে তোমরাও মানুষ, তোমরা যত দুঃখী, যত দরিদ্র, যত অশিক্ষিতই হও তবুও মানুষ, তোমাদের মানুষের দাবী কোন ওজুহাতে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে না, তা হলে, এই গোটা কতক কারখানার মালিক তোমাদের কাছে কতটুকু? এই সত্য কি তোমরা বুঝবে না? এ যে কেবল ধনীর বিরুদ্ধে দরিদ্রের আত্মরক্ষার লড়াই! এতে দেশ নেই, জাত নেই, ধর্ম্ম নেই, মতবাদ নেই—হিন্দু নেই, মুসলমান নেই,—জৈন, শিখ, কোন কিছুই নেই,—আছে শুধু ধনোন্মত্ত মালিক, আর তার অশেষ প্রবঞ্চিত অভুক্ত শ্রমিক। তোমাদের গায়ের জোরকে তারা ভয় করে, তোমাদের শিক্ষার শক্তিকে তারা অত্যন্ত সংশয়ের চোখে দেখে, তোমাদের জ্ঞানের আকাঙ্খায় তাদের রক্ত শুকিয়ে যায়। অক্ষম, দুর্ব্বল, মূর্খ, দুর্নীতিপরায়ণ তোমরাই যে তাদের বিলাস-ব্যসনের একমাত্র পাদপীঠ! তাই, মাত্র তোমাদের জীবনধারণটুকুর বেশি তিলার্দ্ধ যে তারা স্বেচ্ছায় কোনদিন দেবে না—এই সত্য হৃদয়ঙ্গম করা কি তোমাদের এতই কঠিন! আর সেই কথা মুক্তকণ্ঠে ব্যক্ত করার অপরাধেই কি আজ এই গোরাগুলোর কাছে আমার লাঞ্ছনাই সার হবে! দরিদ্রের এই বাঁচবার লড়াইয়ে তোমরা কি সকল শক্তি দিয়ে যোগ দিতে পারবে না? {{ফাঁক}}সর্দ্দার-গোরা এদেশে যেটুকু হিন্দি-ভাষা জ্ঞানলাভ করিয়াছিল তাহাতে বক্তৃতার মর্ম্ম প্রায় কিছুই বুঝিল না, কিন্তু সমবেত শ্রোতৃবর্গের মুখে চোখে উত্তেজনার চিহ্ন লক্ষ্য করিয়া নিজেও উত্তেজিত হইয়া উঠিল। তাহার রিষ্টওয়াচের প্রতি বক্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া বলিল, আর পাঁচ মিনিট মাত্র সময় আছে, আপনি শেষ করুন। {{ফাঁক}}তলওয়ারকর কহিল, শুধু পাঁচ মিনিট! তার বেশি এক মুহূর্ত্তও নয়! তবুও এই অমূল্য ক’টি মিনিট আমি কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেব না। ভাই বঞ্চিতের দল! তোমাদের কাছে আমার মিনতি—আমাদের তোমরা অবিশ্বাস কোরো না। শিক্ষিত বলে, ভদ্র-বংশের বলে, কারখানায় দিন-মজুরি করিনে বলে আমাদের সংশয়ের দৃষ্টিতে দেখে নিজেদের সর্ব্বনাশ তোমরা নিজেরাই কোরো না। তোমাদের ঘুম ভাঙাবার প্রথম শঙ্খধ্বনি সর্ব্বদেশে সর্ব্বকালে আমরাই করে এসেচি। আজ হয়ত না বুঝতেও<noinclude>{{কেন্দ্র|১৫৬}}</noinclude> 7oq5w20dmco22dg2njopzj07rw9zc9y শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার)/পথের দাবী/১৬ 0 877925 1941972 2026-04-05T16:50:13Z Bodhisattwa 2549 "<pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf" from=161 to=165 fromsection=B header=1/>" দিয়ে পাতা তৈরি 1941972 wikitext text/x-wiki <pages index="শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf" from=161 to=165 fromsection=B header=1/> q81ojhqz4yxz080o0j287z272rpazbh পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৭১ 104 877926 1941973 2026-04-05T16:51:15Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941973 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>পারো, কিন্তু নিশ্চয়ই জেনো এই পথের দাবীর চেয়ে বড় বন্ধু এদেশে তোমাদের আর কেউ নেই। তাহার কণ্ঠ শুষ্ক ও কঠিন হইয়া আসিতেছিল, তথাপি প্রাণপণে চীৎকার করিয়া কহিতে লাগিল, আমি বহুদিন তোমাদের মধ্যে কাজ করে এসেচি, আমাদের তোমরা চেনো না, কিন্তু আমি তোমাদের চিনি। যাদের তোমরা মনিব বলে জানো, একদিন আমি তাদেরই একজন ছিলাম। তারা কিছুতেই তোমাদের মানুষ হ’তে দেবে না। কেবল পশুর মত করে রেখেই তোমাদের মনুষ্যত্বের অধিকার তারা আটকে রাখতে পারে, আর কোন মতেই না—এই কথাটা তোমাদের আজ না বুঝলেই নয়। তোমরা অসাধু, তোমরা উচ্ছৃঙ্খল, তোমরা ইন্দ্রিয়াসক্ত—তাদের মুখ থেকে এই সকল অপবাদই তোমরা চিরদিন শুনে এসেচ। তাই, যখনই তোমরা তোমাদের দাবী জানিয়েচ তখনই তোমাদের সকল দুঃখ-কষ্টের মূলে তোমাদের অসংযত চরিত্রকে দায়ী করে তারা তোমাদের সর্ব্বপ্রকার উন্নতিকে নিবারিত করে এসেচে। কেবল এই মিথ্যেই তোমাদের তারা অনুক্ষণ বুঝিয়ে এসেছে,—ভাল না হলে কারও উন্নতিই কোন দিন হতে পারে না। কিন্তু, আজ আমি তোমাদের অসঙ্কোচে একান্ত অকপটে জানাতে চাই ঐ উক্তি তাদের কখনই সম্পূর্ণ সত্য নয়। তোমাদের চরিত্রই শুধু তোমাদের অবস্থার জন্য দায়ী নয়; তোমাদের এই প্রবঞ্চিত হীন অবস্থাও তোমাদের চরিত্রের জন্য দায়ী। তাদের অসত্যকে আজ তোমাদের নির্ভয়ে প্রতিবাদ করতেই হবে। প্রবলকণ্ঠে তোমাদের ঘোষণা করতেই হবে কেবল টাকাই সবটুকু নয়। বলিতে বলিতে তাহার নীরস কণ্ঠ অত্যন্ত প্রখর হইয়া উঠিল, কহিল, বিনাশ্রমে সংসারে কিছুই উৎপন্ন হয় না—তাই, শ্রমিকও ঠিক তোমাদেরই মত মালিক,—ঠিক তোমাদের মতই সকল বস্তু, সকল কারখানার অধিকারী। এমনি সময়ে কে একজন পাঞ্জাবী ভদ্রলোক সর্দ্দার-গোরার কানে কানে কি একটা কথা বলিতেই তাহার রক্ত-চক্ষু জ্বলন্ত অঙ্গারের মত উগ্র হইয়া উঠিল। সে গর্জ্জন করিয়া বলিল, ষ্টপ! এ চলবে না। এতে শান্তি ভঙ্গ হবে। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব চমকিয়া উঠিল। রামদাসের জামার খুঁট ধরিয়া টানাটানি করিতে লাগিল,—থামো, রামদাস থামো। এই নিঃসহায় নির্ব্বান্ধব বিদেশে যে তোমার স্ত্রী আছে,—তোমার ছোট্ট একফোঁটা মেয়ে আছে! {{ফাঁক}}রামদাস কর্ণপাতও করিল না। চীৎকার করিয়া কহিতে লাগিল—এরা অন্যায়কারী! এরা ভীরু! সত্যকে এরা কোনমতেই তোমাদের শুনতে দিতে চায় না! কিন্তু এরা জানে না সত্যকে গলা টিপে মারা যাবে না। সে চিরজীবী! সে অমর! গোরা ইহার অর্থ বুঝিল না। কিন্তু অকস্মাৎ সহস্র লোকের সর্ব্বাঙ্গ হইতে ঠিকরিয়া<noinclude>{{কেন্দ্র|১৫৭}}</noinclude> 1mzassnmy9jz0srhfrosnticrv0u570 পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৭২ 104 877927 1941974 2026-04-05T16:54:29Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941974 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>আসিয়া যেন তীক্ষ্ণ উত্তাপের ঝাঁঝ তাহার মুখে লাগিল। সে হুঙ্কার দিয়া উঠিল, এ চলবে না। এ রাজদ্রোহ! {{ফাঁক}}চক্ষের পলকে পাঁচ-ছয়জন ঘোড়া হইতে লাফাইয়া পড়িয়া রামদাসের দুই হাত ধরিয়া তাহাকে সবলে টানিয়া নীচে নামাইল। তাহার দীর্ঘ দেহ ঘোড়া ও ঘোড়সওয়ারের মাঝখানে এক মুহূর্ত্তে অন্তর্হিত হইল, কিন্তু তীক্ষ্ণ তীব্র কণ্ঠস্বর তাহার কিছুতেই চাপা পড়িল না, এই বিক্ষুব্ধ বিপুল জনতার একপ্রান্ত হইতে অপরপ্রান্ত পর্য্যন্ত ধ্বনিত হইতে লাগিল,—ভাই সকল, কখনো হয়ত আর আমাকে দেখবে না, কিন্তু মানুষ হয়ে জন্মাবার মর্য্যাদা যদি না মনিবের পায়ে নিঃশেষে বিলিয়ে দিয়ে থাকো ত এত বড় উৎপীড়ন, এত বড় অপমান তোমরা সহা ক’রো না! {{ফাঁক}}কিন্তু কথা তাহার শেষ না হহতেই যেন দক্ষ-যজ্ঞ বাধিয়া গেল। ঘোড়া ছুটিল, চাবুক চলিল এবং অবমানিত অভিভূত সন্ত্রস্ত শ্রমিকের দল উর্দ্ধশ্বাসে পলায়ন করিতে কে যে কাহার ঘাড়ে পড়িল এবং কে যে কাহার পদতলে গড়াইতে লাগিল তাহার ঠিকানা রহিল না। {{ফাঁক}}জনকয়েক দলিত পিষ্ট আহত লোক ছাড়া সমস্ত মাঠ জনশূন্য হইতে বিলম্ব ঘটিল না। কোনমতে খোঁড়াইতে খোঁড়াইতে যাহারা তখনও চলিয়াছিল তাহাদেরই প্রতি একদৃষ্টে চাহিয়া সুমিত্রা স্তব্ধ হইয়া রহিলেন এবং তাহারই অনতিদূরে বসিয়া অপূর্ব্ব ও আর একজন নির্ব্বাক নতমুখে তেমনি বিমূঢ়ের ন্যায় স্থির হইয়া রহিল। {{ফাঁক}}যে ব্যক্তি গাড়ী ডাকিতে গিয়াছিল মিনিট দশেক পরে গাড়ী লইয়া আসিলে সুমিত্রা নিঃশব্দে ভারতীর হাত ধরিয়া ধীরে ধীরে গিয়া তাহাতে উপবেশন করিলেন। নিজে হইতে কথা না কহিলে তাঁহার চিন্তার ব্যাঘাত করিতে কেহ তাঁহাকে ব্যর্থ প্রশ্ন করিত না। বিশেষতঃ, আজ তিনি অসুস্থ, শ্রান্ত এবং উৎপীড়িত। {{ফাঁক}}ভারতী ফিরিয়া আসিয়া কহিল, চলুন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব মুখ তুলিয়া চাহিল, ক্ষণকাল কি যেন চিন্তা করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কোথায় আমাকে যেতে বলেন? {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, আমার বাড়িতে। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কয়েক মুহূর্ত্ত চুপ করিয়া রহিল। শেষে আস্তে আস্তে বলিল, আপনারা ত জানেন সমিতির আমি অযোগ্য। ওখানে আর ত আমার ঠাঁই হতে পারে না। {{ফাঁক}}ভারতী প্রশ্ন করিল, তাহলে কোথায় এখন যাবেন? বাসায়? {{ফাঁক}}বাসায়? একবার যেতে হবে,—এই বলিয়াই অপুর্ব্বর চক্ষু সজল হইয়া আসিল;<noinclude>{{কেন্দ্র|১৫৮}}</noinclude> 785pyu2gm48g976h9fy3ds67m9s9yli পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৭৩ 104 877928 1941975 2026-04-05T16:58:03Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941975 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পথের দাবী}}</noinclude>তাহা কোনমতে সংবরণ করিয়া বলিল, কিন্তু এই বিদেশে আর একটা জায়গায় যে কি করে যাব আমি ভেবে পাইনে ভারতী! {{ফাঁক}}সুমিত্রা গাড়ীর মধ্যে হইতে ক্ষীণকণ্ঠে ডাকিয়া কহিলেন, তোমরা এসো। {{ফাঁক}}ভারতী পুনশ্চ কহিল, চলুন। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ঘাড় নাড়িয়া বলিল, পথের দাবীতে আমার স্থান নেই। {{ফাঁক}}ভারতী হঠাৎ যেন তাহার হাত ধরিতে গেল, কিন্তু সামলাইয়া লইয়া এক মুহূর্ত্ত তাহার মুখের ’পরে দুই চক্ষের সমগ্র দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া চুপি চুপি কহিল, পথেরদাবীতে স্থান নাও থাকতে পারে, কিন্তু আর একটা দাবী থেকে আপনাকে স্থানচ্যুত করতে পারে সংসারে এমন ত কিছুই নেই, অপূর্ব্ববাবু! {{ফাঁক}}গাড়ী হইতে সুমিত্রা পুনশ্চ অসহিষ্ণু কণ্ঠে প্রশ্ন করিল, তোমাদের আসতে কি দেরী হবে ভারতী? {{ফাঁক}}ভারতী হাত নাড়িয়া গাড়োয়ানকে যাইতে ইঙ্গিত করিয়া দিয়া কহিল, আপনি যান, এটুকু আমরা হেঁটেই যাবো। {{ফাঁক}}পথে চলিতে চলিতে অপূর্ব্ব হঠাৎ বলিয়া উঠিল, তুমি আমার সঙ্গে চল ভারতী! {{ফাঁক}}ভারতী কহিল, সঙ্গেই ত যাচ্ছি। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব বলিল, সে নয়। তলওয়ারকরের স্ত্রীর কাছে আমি কি করে যাবো, কি গিয়ে তাকে বোলব, কি তাঁর উপায় কোরব আমি ত কোন মতেই ভেবে পাইনে। রামদাসকে এখানে সঙ্গে করে আনবার দুর্বুদ্ধি আমার কেন হ’ল? {{ফাঁক}}ভারতী চুপ করিয়া রহিল। অপূর্ব্ব কহিতে লাগিল, এই বিদেশে হঠাৎ কি সর্ব্বনাশই হয়ে গেল! আমি ত কুল-কিনারা দেখতে পাইনে। {{ফাঁক}}ভারতী কোন মন্তব্যই প্রকাশ করিল না। উভয়ে কিছুক্ষণ নীরবে পথ চলিবার পরে অপূর্ব্ব উপায়হীন দুশ্চিন্তায় ব্যাকুল হইয়া সহসা গর্জ্জিয়া উঠিল, আমার দোষ কি? বার বার সাবধান করে দিলেও কেউ যদি গলায় দড়ি দিয়ে ঝোলে তাকে বাঁচাবো আমি কি কোরে? আমি কি বলেছিলাম যা তা বক্তৃতা দিতে। স্ত্রী আছে, মেয়ে আছে, ঘর-সংসার আছে এ হুঁস যার নেই—সে মরবে না তো মরবে কে? খাটুক আবার দু-বছর জেল! {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, আপনি কি তাঁর স্ত্রীর কাছে এখন যাবেন না? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব তাহার মুখের দিকে চাহিয়া কহিল, যেতে হবে বই কি। কিন্তু সাহেবকেই বা কাল কি জবাব দেব? তোমাকে কিন্তু বলে রাখচি ভারতী, সাহেব একটা কথা বললেই আমি চাকরি ছেড়ে দেবো। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৫৯}}</noinclude> pot2rebyze6xnkgl331jpvaglbgfrnw পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/১৭৪ 104 877929 1941976 2026-04-05T17:01:22Z Nettime Sujata 5470 /* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */ 1941976 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}দিয়ে কি করবেন? {{ফাঁক}}বাড়ি চলে যাবো। এদেশে মানুষ থাকে? {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, তাঁর উদ্ধারের চেষ্টাও করবেন না? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব থমকিয়া দাঁড়াইয়া কহিল, চল না একজন ভাল ব্যারিস্টারের কাছে যাই ভারতী। আমার প্রায় এক হাজার টাকা আছে, এতে হবে না? আমার ঘড়িটড়িগুলো বিক্রী করলে হয়ত আরও পাঁচ-ছ’শ টাকা হবে। চল না যাই। {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, কিন্তু তাঁর স্ত্রীর কাছে যাওয়া যে সর্ব্বাগ্রে প্রয়োজন অপূর্ব্ববাবু! আমার সঙ্গে আর যাবেন না, এইখান থেকেই একটা গাড়ী নিয়ে ষ্টেশনে চলে যান। তাঁর কি চাই, কি অভাব, অন্ততঃ একটা খবর দেওয়া যে বড় দরকার। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব ঘাড় নাড়িয়া সায় দিল, কিন্তু তথাপি সঙ্গে সঙ্গেই চলিতে লাগিল। ভারতী বলিল, এটুকু আমি একাই যেতে পারবো, আপনি ফিরুন। {{ফাঁক}}জবাব দিতে বোধ হয় অপূর্বর বাধিতেছিল, কিন্তু ক্ষণেক মাত্র। তাহার পরেই কহিল, আমি একলা যেতে পারব না। {{ফাঁক}}ভারতী বলিল, বাসা থেকে তেওয়ারীকে না হয় সঙ্গে নেবেন। {{ফাঁক}}না, তুমি সঙ্গে চল। {{ফাঁক}}আমার যে জরুরি কাজ আছে। {{ফাঁক}}তা হোক, চল। {{ফাঁক}}কিন্তু কেন আমাকে এত করে জড়াচ্ছেন অপূর্ব্ববাবু? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব চুপ করিয়া রহিল। {{ফাঁক}}ভারতী তার মুখের দিকে চাহিয়া একটুখানি হাসিল, কহিল, আচ্ছা চলুন আমার সঙ্গে। নিজের কাজটুকু আগে সেরে নিই। {{ফাঁক}}পথের মধ্যে ভারতী সহসা একসময়ে কহিল, যে আপনাকে চাকরি করতে বিদেশে পাঠিয়েচে সে আপনাকে চেনে না। তিনি মা হলেও, না। তেওয়ারী দেশে যাচ্ছে, আমি নিজে গিয়ে উদ্বোগ করে তার সঙ্গে আপনাকেও বাড়ি পাঠিয়ে দেবো। {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব মৌন হইয়া রহিল। ভারতী বলিল, কই, উত্তর দিলেন না যে বড়? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, উত্তর দেবার কিছু ত নেই। মা বেঁচে না থাকলে আমি সন্ন্যাসী হতুম। {{ফাঁক}}ভারতী আশ্চর্য্য হইয়া বলিল, সন্ন্যাসী? কিন্তু মা তো বেঁচে আছেন? {{ফাঁক}}অপূর্ব্ব কহিল, হ্যাঁ। দেশের পল্লীগ্রামে আমাদের একটা ছোট বাড়ি আছে, মাকে আমি সেইখানেই নিয়ে যাবো। {{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|১৬০}}</noinclude> fc6ra0n06iu7ts9h3lpn59uiyp9abhd পাতা:কাব্যমালঞ্চ - যতীন্দ্রমোহন বাগচী (১৯৩৬).pdf/১২৪ 104 877930 1941989 2026-04-06T07:11:15Z Salil Kumar Mukherjee 12643 /* সমস্যাসঙ্কুল */ 1941989 proofread-page text/x-wiki <noinclude><pagequality level="2" user="Salil Kumar Mukherjee" /></noinclude>কালাদিদি বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই— মাগো, আমার শোলোক-বলা কাজ‍্লাদিদি কই? পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,— ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে’ রই; মাগো, আমার কোলের কাছে কাজ‍্লা দিদি ক‍ই? সে দিন হ'তে দিদিকে আর কেনই বা না ডাকো, দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো? খাবার খেতে আমি যখন দিদি বলে ডাকি তখন, ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো, আমি ডাকি,—তুমি কেন চুপটি ক'রে থাকো ? বল্ মা দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে ? কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল বিয়ে হবে ! আমিও যদি লুকোই গিয়ে দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে i মি তখন একলা ঘরে কেমন করে' রবে? মিও নাই, দিদিও নাই—কেমন মজা হবে! এম বেড়ার ধারে নেবুর 'পাতে ভরে' গেছে শিউলি গাছের তল, নে মা পুকুর থেকে আবি যখন জল ; চালের ফাঁকে রাত হ’ল বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে, " উড়িয়ে মা গো, ছিঁড়তে গিয়ে ফল :- 'বে যখন, বল্‌বে কি মা বল্ ! পর উপর চাঁদ উঠেছে ওই— আমার কাজলা দিদি কই ? ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোপে ঝাড়ে ; কি না—তাইতে জেগে রই ; ার কাজলা দিদি কই ?<noinclude></noinclude> dqt4jpccdu7ldeklropjs9i65khixvk