উইকিসংকলন
bnwikisource
https://bn.wikisource.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%A8:%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE
MediaWiki 1.46.0-wmf.24
first-letter
মিডিয়া
বিশেষ
আলাপ
ব্যবহারকারী
ব্যবহারকারী আলাপ
উইকিসংকলন
উইকিসংকলন আলোচনা
চিত্র
চিত্র আলোচনা
মিডিয়াউইকি
মিডিয়াউইকি আলোচনা
টেমপ্লেট
টেমপ্লেট আলোচনা
সাহায্য
সাহায্য আলোচনা
বিষয়শ্রেণী
বিষয়শ্রেণী আলোচনা
লেখক
লেখক আলাপ
নির্ঘণ্ট
নির্ঘণ্ট আলাপ
পাতা
পাতা আলাপ
প্রবেশদ্বার
প্রবেশদ্বার আলাপ
প্রকাশক
প্রকাশক আলোচনা
রচনা
রচনা আলাপ
অনুবাদ
অনুবাদ আলোচনা
TimedText
TimedText talk
মডিউল
মডিউল আলাপ
Event
Event talk
টেমপ্লেট:PAGES NOT PROOFREAD
10
9620
1943983
1943931
2026-04-21T07:00:14Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1943983
wikitext
text/x-wiki
452226
g20me2qhdyxni6fr7pzw12xvkiwm2sg
টেমপ্লেট:ALL PAGES
10
9621
1943984
1943932
2026-04-21T07:00:24Z
SodiumBot
19245
বট টেমপ্লেট হালনাগাদ করছে
1943984
wikitext
text/x-wiki
563586
c1ltvd3ow7jsaxjgdht46bp4bvtxcoo
পাতা:আত্ম-চরিত - জওহরলাল নেহরু - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার (১৯৬৪).pdf/১৩০
104
853196
1943968
1857427
2026-04-20T15:07:28Z
Babulbaishya
2144
1943968
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Bodhisattwa" /></noinclude>{{Img float
| file = Kamala Nehru 4.jpg
| width = 450px
| align = center
| cap = কমলা নেহরু
}}<noinclude></noinclude>
56q416cujpyynq2tub4b0300h42qiwh
নির্ঘণ্ট:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf
102
866816
1943967
1937450
2026-04-20T15:02:56Z
Babulbaishya
2144
1943967
proofread-index
text/x-wiki
{{:MediaWiki:Proofreadpage_index_template
|wikidata_item=Q136141380
|Title=
|Subtitle=
|Volume=
|Issue=
|Edition=
|Author=
|Foreword_Author=
|Translator=
|Editor=
|Illustrator=
|Publisher=
|Address=
|Printer=
|Year=
|Source=pdf
|Image=1
|Progress=V
|Pages=<pagelist 1="প্রচ্ছদ" 2="প্রকাশক" 3="নিবেদন" 4="শুদ্ধি" 5="সূচীপত্র" 6="—" 7to10="বিজ্ঞাপন" 9="উৎসর্গ" 10="—" 11="নিবেদন" 12="—" 13="1" />
|Volumes=
|Remarks={{পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৫}}
|Notes={{RLFRR}}
|Header={{rvh|{{{pagenum}}}|আমেরিকার স্বাধীনতা}}{{rule}}
|Footer=
}}
nirbi4ol6kvpb9ztuivrsd17llwhlg7
ব্যবহারকারী:Babulbaishya/খেলাঘর
2
878555
1943985
1943770
2026-04-21T07:46:38Z
Babulbaishya
2144
1943985
wikitext
text/x-wiki
* Fraction Template: [[টেমপ্লেট:Sfrac]]
;মুদ্ৰণ সংশোধন
*আমেরিকার স্বাধীনতা
rv45div7vrvtb0iwsfubff4e4exty9s
1943986
1943985
2026-04-21T07:47:27Z
Babulbaishya
2144
1943986
wikitext
text/x-wiki
;Templates
* Fraction Template: [[টেমপ্লেট:Sfrac]]
;মুদ্ৰণ সংশোধন
*আমেরিকার স্বাধীনতা
hz6utkvyo337o48m41lxyuapzl2qem3
পাতা:আমেরিকার স্বাধীনতা - নিশিকান্ত গাঙ্গুলী (১৯২৩).pdf/৪
104
878618
1943963
1943929
2026-04-20T15:01:00Z
Babulbaishya
2144
1943963
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" /></noinclude>{{center|{{Xx-larger|শুদ্ধিপত্র।}}}}
{| style="margin-left: auto; margin-right: auto; border: none;" width="95%"
|-
| width="15%" |
| width="20%" |
| width="30%" |
| width="30%" |
|-
| পৃষ্ঠা || ছত্র|| অশুদ্ধ ||শুদ্ধ
|-
| ৯ || ২১ || গস্গল্ড্ ||{{বাম|গস্নল্ড}}
|-
| ৯ || ২১ || নামক ||(উঠিয়া যাইবে)
|-
| ১৭ || ৩ || হয়তে ||করা
|-
| ৩৮ || ৪ || ষড়ষন্ত্র ||ষড়যন্ত্র
|-
| ৬২ || ৭ || প্রাচীন প্রাচীন ||প্রধান প্রধান
|-
| ৬৩ || ৩ || স্থানীয় ||ধনী
|-
| ৬৫ || ১ || রুকিংঘা ||রুকিংঘাম
|-
| ৬৫ || ৩ || সম্রাটগণকে ||মন্ত্রিগণকে
|-
| ৬৭ || foot note L. 3 || vast || rest
|-
| ৭০ || ১২ || প্রেরণ ||প্রচলন
|-
| ৭২ || ৮ ||হসিচন্ ||হাচিন্সন্
|-
| ৭৩ || ১ ||খেয়াল ||চিহ্নিত
|-
| ৭৩ || ১৭ || হলক্||হন্লক
|-
| ৭৯ || ১ || সমর্থ||সমর্থন
|-
| ৭৯ || ৩ || বিরক্তিকর||বিরক্তি
|-
| ৭৯ ||১০ ||এটর্নিজোররেলের || এটর্নি-জেনারেলের
|-
|১০৬ || ১৪ ||গম্ভীর || গণ্ডীর
|-
| ১১৫ || ৩ || প্রাচীন|| প্রবীন
|-
| ১১৫ ||foot note L. 3 || read 'like'|| after another
|-
| ১৫০ || ১০ ||সহযোগী ||সহযাত্রী
|-
| ১৫৮ ||১৩ || পুংষা|| পুংষাং
|-
| ১৫৮ || ১৪ || ভবন্তিঃ|| ভবস্তি
|}<noinclude></noinclude>
7d6hyqcx1ozmtf42fio2q5elmnq8y5m
1943964
1943963
2026-04-20T15:01:33Z
Babulbaishya
2144
1943964
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" /></noinclude>{{center|{{Xx-larger|শুদ্ধিপত্র।}}}}
{| style="margin-left: auto; margin-right: auto; border: none;" width="95%"
|-
| width="15%" |
| width="20%" |
| width="30%" |
| width="30%" |
|-
| পৃষ্ঠা || ছত্র|| অশুদ্ধ ||{{ডান|শুদ্ধ}}
|-
| ৯ || ২১ || গস্গল্ড্ ||গস্নল্ড
|-
| ৯ || ২১ || নামক ||(উঠিয়া যাইবে)
|-
| ১৭ || ৩ || হয়তে ||করা
|-
| ৩৮ || ৪ || ষড়ষন্ত্র ||ষড়যন্ত্র
|-
| ৬২ || ৭ || প্রাচীন প্রাচীন ||প্রধান প্রধান
|-
| ৬৩ || ৩ || স্থানীয় ||ধনী
|-
| ৬৫ || ১ || রুকিংঘা ||রুকিংঘাম
|-
| ৬৫ || ৩ || সম্রাটগণকে ||মন্ত্রিগণকে
|-
| ৬৭ || foot note L. 3 || vast || rest
|-
| ৭০ || ১২ || প্রেরণ ||প্রচলন
|-
| ৭২ || ৮ ||হসিচন্ ||হাচিন্সন্
|-
| ৭৩ || ১ ||খেয়াল ||চিহ্নিত
|-
| ৭৩ || ১৭ || হলক্||হন্লক
|-
| ৭৯ || ১ || সমর্থ||সমর্থন
|-
| ৭৯ || ৩ || বিরক্তিকর||বিরক্তি
|-
| ৭৯ ||১০ ||এটর্নিজোররেলের || এটর্নি-জেনারেলের
|-
|১০৬ || ১৪ ||গম্ভীর || গণ্ডীর
|-
| ১১৫ || ৩ || প্রাচীন|| প্রবীন
|-
| ১১৫ ||foot note L. 3 || read 'like'|| after another
|-
| ১৫০ || ১০ ||সহযোগী ||সহযাত্রী
|-
| ১৫৮ ||১৩ || পুংষা|| পুংষাং
|-
| ১৫৮ || ১৪ || ভবন্তিঃ|| ভবস্তি
|}<noinclude></noinclude>
shcd4eph420nbl7vbopvrjsg442zctq
1943965
1943964
2026-04-20T15:01:54Z
Babulbaishya
2144
1943965
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" /></noinclude>{{center|{{Xx-larger|শুদ্ধিপত্র।}}}}
{| style="margin-left: auto; margin-right: auto; border: none;" width="95%"
|-
| width="15%" |
| width="20%" |
| width="30%" |
| width="30%" |
|-
| পৃষ্ঠা || ছত্র|| অশুদ্ধ ||শুদ্ধ
|-
| ৯ || ২১ || গস্গল্ড্ ||গস্নল্ড
|-
| ৯ || ২১ || নামক ||(উঠিয়া যাইবে)
|-
| ১৭ || ৩ || হয়তে ||করা
|-
| ৩৮ || ৪ || ষড়ষন্ত্র ||ষড়যন্ত্র
|-
| ৬২ || ৭ || প্রাচীন প্রাচীন ||প্রধান প্রধান
|-
| ৬৩ || ৩ || স্থানীয় ||ধনী
|-
| ৬৫ || ১ || রুকিংঘা ||রুকিংঘাম
|-
| ৬৫ || ৩ || সম্রাটগণকে ||মন্ত্রিগণকে
|-
| ৬৭ || foot note L. 3 || vast || rest
|-
| ৭০ || ১২ || প্রেরণ ||প্রচলন
|-
| ৭২ || ৮ ||হসিচন্ ||হাচিন্সন্
|-
| ৭৩ || ১ ||খেয়াল ||চিহ্নিত
|-
| ৭৩ || ১৭ || হলক্||হন্লক
|-
| ৭৯ || ১ || সমর্থ||সমর্থন
|-
| ৭৯ || ৩ || বিরক্তিকর||বিরক্তি
|-
| ৭৯ ||১০ ||এটর্নিজোররেলের || এটর্নি-জেনারেলের
|-
|১০৬ || ১৪ ||গম্ভীর || গণ্ডীর
|-
| ১১৫ || ৩ || প্রাচীন|| প্রবীন
|-
| ১১৫ ||foot note L. 3 || read 'like'|| after another
|-
| ১৫০ || ১০ ||সহযোগী ||সহযাত্রী
|-
| ১৫৮ ||১৩ || পুংষা|| পুংষাং
|-
| ১৫৮ || ১৪ || ভবন্তিঃ|| ভবস্তি
|}<noinclude></noinclude>
cuwxsen63uepmb314fmbgomjha7l0vm
1943966
1943965
2026-04-20T15:02:22Z
Babulbaishya
2144
1943966
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" /></noinclude>{{center|{{Xx-larger|শুদ্ধিপত্র।}}}}
{| style="margin-left: auto; margin-right: auto; border: none;" width="95%"
|-
| width="15%" |
| width="20%" |
| width="30%" |
| width="30%" |
|-
| পৃষ্ঠা || ছত্র|| অশুদ্ধ ||শুদ্ধ
|-
| ৯ || ২১ || গস্গল্ড্ ||গস্নল্ড
|-
| ৯ || ২১ || নামক ||(উঠিয়া যাইবে)
|-
| ১৭ || ৩ || হয়তে ||করা
|-
| ৩৮ || ৪ || ষড়ষন্ত্র ||ষড়যন্ত্র
|-
| ৬২ || ৭ || প্রাচীন প্রাচীন ||প্রধান প্রধান
|-
| ৬৩ || ৩ || স্থানীয় ||ধনী
|-
| ৬৫ || ১ || রুকিংঘা ||রুকিংঘাম
|-
| ৬৫ || ৩ || সম্রাটগণকে ||মন্ত্রিগণকে
|-
| ৬৭ || foot note L. 3. || vast || rest
|-
| ৭০ || ১২ || প্রেরণ ||প্রচলন
|-
| ৭২ || ৮ ||হসিচন্ ||হাচিন্সন্
|-
| ৭৩ || ১ ||খেয়াল ||চিহ্নিত
|-
| ৭৩ || ১৭ || হলক্||হন্লক
|-
| ৭৯ || ১ || সমর্থ||সমর্থন
|-
| ৭৯ || ৩ || বিরক্তিকর||বিরক্তি
|-
| ৭৯ ||১০ ||এটর্নিজোররেলের || এটর্নি-জেনারেলের
|-
|১০৬ || ১৪ ||গম্ভীর || গণ্ডীর
|-
| ১১৫ || ৩ || প্রাচীন|| প্রবীন
|-
| ১১৫ ||foot note L. 3. || read 'like'|| after another
|-
| ১৫০ || ১০ ||সহযোগী ||সহযাত্রী
|-
| ১৫৮ ||১৩ || পুংষা|| পুংষাং
|-
| ১৫৮ || ১৪ || ভবন্তিঃ|| ভবস্তি
|}<noinclude></noinclude>
pngg7t094luxrjh9aw6alwdc99385d0
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪২৮
104
878622
1943936
2026-04-20T12:41:19Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943936
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>ফেলিবার সফল চেষ্টা করিয়াছেন। যাহারা লিখিতে জানে না, অর্থাৎ যাহাদের লেখার পরখ হয় নাই, তা তাহারা যত বড় লোকই হোক, না জানিয়া তাহাদের দীর্ঘ লেখা ছাপিবার অনেক দুঃখ। ইহারা মনে করে সব কথাই বুঝি বলা চাইই। যা দেখে, যা শোনে, যা হয়, মনে করে সমস্তই লোককে দেখানো শোনানো দরকার। যারা ছবি আঁকিতে জানে না তারা যেমন তুলি হাতে করিয়া মনে করে যা চোখের সামনে দেখি সবই আঁকিয়া ফেলি। কিন্তু দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সে-ই শেষে টের পায়, না তা নয়। অনেক বড় জিনিষ বাদ দিতে হয়, অনেক বলিবার লোভ সম্বরণ করিতে হয়—তবে ছবি হয়। বলা বা আঁকার চেয়ে না বলা, না আঁকা ঢের শক্ত। অনেক আত্মসংযম অনেক লোভ দমন করিতে হয়, তবেই সত্যিকারের বলা এবং আঁকা হয়।
{{ফাঁক}}বাঃ এ যে আপনাকেই লেক্চার দিচ্ছি! মাপ করবেন—এ সব আমার চেয়ে আপনি নিজেই ঢের বেশি জানেন—সে আমি খুব জানি। যাই হোক ‘শ্রীকান্ত’ পড়ে লোকে কি রকম ছি ছি করে দয়া করে আমাকে জানাবেন। ততদিন ‘শ্রীকান্ত’ একটি ছত্রও আর লিখব না।
{{ফাঁক}}আমি আবার একটা গল্প লিখচি। অর্থাৎ শেষ করব বলে লিখচি। ভালই হবে। Comedy হবে Tragedy নয়। কত শীঘ্র শেষ হয়।
{{ফাঁক}}এ গল্পটা ‘গোরার’ পরেশবাবুর ভাব নেওয়া। অর্থাৎ নিজেদের কাছে বলতে অনুকরণ। তবে ধরবার যো নেই। সামাজিক পারিবারিক গল্প। আমার ত মনে মনে বড় উৎসাহ হয়েচে যে চমৎকার হবে। তবে কি থেকে যে কি হয়ে যাবে বলবার যো নেই।
{{ফাঁক}}প্রমথ চলে গেছে কি? আমি অনেক দিন তার চিঠি পাই নি। সে যে ভাল হচ্চে, এই আমাদের ভাগ্য। বাস্তবিক, সত্য কথা বলতে অমন বন্ধু আর হয় না। বন্ধু বলতে ত এই! ও যদি না বাঁচে আমার ত মনে হয় আমার ‘বন্ধু’র দিকটা যথার্থই খালি পড়ে যাবে।
{{ফাঁক}}আপনার পিতাঠাকুরের খবর কি? কেমন আছেন আজকাল? আচ্ছা ‘যমুনা’ আজকাল কি চলে? ফণী নাকি বই ছাপিয়েচে? সে বলত আপনার এক একটা গল্প আমি ৩০।৪০ বার পড়ে মুখস্থ করে ফেলি। আপনার লেখাই আমার আদর্শ। অথচ এমনি গুরুভক্তি যে একখানা বইও পাঠালে না। আমি তার সব লেখাই পড়েচি এবং সে সব লেখা যে কি সে ত আমার চেয়ে আর কেউ বেশি জানে না।
{{ফাঁক}}অবশ্য নানা কারণে আমিও তার সঙ্গে আর কোন সম্বন্ধ রাখি নাই। যাক পর চর্চ্চায় কাজ নেই।
{{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৪১৪}}</noinclude>
9iviz8vjncf6yv7m8bmj9b5zlalkrs2
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪২৯
104
878623
1943937
2026-04-20T12:48:08Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943937
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}গতমাসের, ‘ভারতবর্ষ’ তেমন ভাল হয় নাই। সমস্তই মেয়েদের লেখা—নতুন কাণ্ড বটে কিন্তু worth হিসাবে অন্যান্য বারের চেয়ে নীচে। সে ত হবারই কথা। কিন্তু একটা কাজ হয়েচে—file অনেকটা clear হয়েচে, না?
{{ফাঁক}}আপনি আমাকে ‘চৈতন্য চরিতামৃত’ পড়িতে দিয়াছিলেন—সেগুলি আমি ফিরাইয়া দিই নাই—আসিবার সময় মনেই হয় নাই—তারপরে সেগুলি এখানে চলিয়া আসিয়াছে। পুলিশে ঘাঁটাঘাঁটি করিয়া তাহাদের (আমার সব বইগুলিরই) এমন অবস্থা করিয়া দিয়াছে যে বিক্রী হওয়া শক্ত। মলাটে কিসের দাগ লাগিয়াছে—এগুলির অনেক দাম এবং পরের বই—আমি অতিশয় লজ্জিত হইয়া আছি কিন্তু কোন রকম উপায়ও দেখি না। এ ছাড়া আরও অনেকগুলি বৈষ্ণবগ্রন্থ পড়িতে দিয়াছিলেন। সমস্ত বইগুলি যে কতবার পড়িয়াছি (এমন কি রোজই প্রায় পড়ি) তা বলিতে পারি না। এগুলিও ফিরাইয়া দিবার কথা ছিল। আপনাকে অনেক রকমেই ত ক্ষতিগ্রস্ত করিয়াছি, তাই হঠাৎ এগুলির দাম বলিয়া দিতেও ইচ্ছা হয় না। বইগুলি বরং আমাকে দান করুন। আমি অনেক আশীর্ব্বাদ করিব। এবং ভবিষ্যতেও প্রত্যহ এই কথা মনে মনে আলোচনা করিয়া লজ্জা পাইব না।
{{ফাঁক}}উপেনবাবু, জলধরদাকে আমার কথাটা স্মরণ করাইয়া দিবেন। বহুকাল পূর্ব্বে জলধরদার (শ্রীজলধর সেন) একখানি চিঠি পাইয়াছিলাম কিন্তু তাহার জবাব দিয়াছিলাম কিনা মনে হয় না। যাই হোক সেজন্য তিনি পথ চাহিয়াও নাই তাও জানি।
{{Block right|{{কেন্দ্র|আপনাদেরই
শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}}}
<section end="A" />
<section begin="B" />{{Block right|{{কেন্দ্র|54, 36th Street, Rangoon,
22-2-16}}}}
{{বাম|করকমলেষু,}}
{{ফাঁক}}অনেক দিন আপনার পত্র পাই নাই। আশা করি সমস্ত ভাল। ভায়া আমি এবার বড়ই পড়িয়াছি। সুদূর হইতে প্রমথ ভায়ার বাতাস লাগিল<ref>প্রমথবাবু স্বাস্থ্যোদ্ধারের জন্য কিছুদিন ছত্রপুরে গিয়েছিলেন। কিন্তু ক্রমশঃ তাঁর শরীর ভেঙ্গে পড়ায় তিনি ছত্রপুর ছেড়ে উত্তর প্রদেশের ভাওয়ালী সেনিটোরিয়ামে যান। পরে ঐখানে তাঁহার মৃত্যু হয়।</ref> না কি হইল বুঝিতে পারিতেছি না। এ আবার আরও খারাপ। এ শুনি বর্ম্মা দেশের ব্যায়রাম—দেশ না ছাড়িলে কোন দিন এও ছাড়ে না। তাই দুয়ের এক বোধ করি অনিবার্য<section end="B" /><noinclude>{{rule}}
{{reflist}}{{কেন্দ্র|৪১৫}}</noinclude>
p9au48lzchuxxp4svnhe85vfu5wmz8u
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৩০
104
878624
1943938
2026-04-20T12:56:51Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943938
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>হইয়া উঠিতেছে। কি জানি, ভগবানই জানেন। ভয় হয়, হয়ত বা চিরজীবন পঙ্গু হইয়াই বা যাইব। এই সম্ভাবনা মনে করিতেও যেন পারি না। যাহাকে যথার্থই বলে ভয়ে ‘পেটের ভাত চাল’ হইয়া যাওয়া, আমার তাই হইয়াছে। সুতরাং Dispepsiaও ধীরে ধীরে অগ্রসর হইতেছে। হইবার কথাও বটে। কারণ, খাও দাও, স্নান কর, লেখাপড়া কর কিন্তু চলিয়া বেড়াইবার বিশেষ ক্ষমতা না থাকিলে হজম হওয়াও বন্ধ হইয়া আসে। ডান পায়ের হাঁটুর নীচে হইতে পায়ের আঙ্গুল পর্য্যন্ত সে এক প্রকাণ্ড কাণ্ড! অথচ গোদ নয়—কি যে ডাক্তারেরা তাহাও বলিতে পারে না—কতদিনে সারিবে কিংবা কোন দিন সারিবে কিনা এ খবরও তাঁরা দিতে পারেন না। দুদিন বা কিছু কমে দুদিন বা ঠিক তেমনি হইয়া দাঁড়ায়। গতবারে যখন লিখি, তখন এইরূপ কমিবার মুখে আসিতেছিল বলিয়া খুব একটা আশা হইয়াছিল, কিন্তু তার পরেই আবার যখন ধীরে ধীরে তেমনি হইয়া উঠিতে লাগিল তখন আশা ভরসা সব গেল। এই মানসিক চঞ্চলতা বশতঃ কিছুই কাজ করিতে ইচ্ছা হয় নাই। এই কথাটি জলধর দাদাকে (জলধর সেন) জানাইয়া এই “সমাজ ধর্ম্মের মূল্য” পড়িতে দিবেন। ইহার fair copy করা এইটুকু মাত্র পারিয়াছিলাম—বাকি লেখাটা fair করিয়া পরে পাঠাইতেছি। তারপর যাহা লিখিব মনে করিয়াছি তাহা শুদ্ধ মাত্র অপরাপর দেশের সামাজিক নিয়ম কানুনের সহিত আমাদের দেশের সমাজের একটা তুলনামূলক সমালোচনা ছাড়া আর কিছু না, সুতরাং সেদিকে কোনরূপ ব্যক্তিগত সমালোচনার ভয় নাই। জানি না এ প্রবন্ধ ‘ভারতবর্ষে’ ছাপাইবার তাঁহার প্রবৃত্তি হইবে কি না, কিন্তু যদি না হয়, এটা আপনি ফেরৎ পাঠাইবেন, আমি ধীরে ধীরে সমস্তটা লিখিয়া একটা পুস্তকের মত করিয়া রাখিব। এবং ভবিষ্যতে ইহার ব্যক্তিগত অংশগুলি বাদ দিয়া ছাপাইবার চেষ্টা করিব। বাস্তবিক ভায়া এই Sociology লইয়াই বহুদিন কাটাইয়াছি—অনেক কথা বলিবার জন্য প্রাণটা যেন আনচান করে। অথচ, কি করিয়া যে এ সকল বেশ ভদ্র লোকের মত বলা যায় তাও ঠিক করিতে পারি না।
{{ফাঁক}}আপনি যদি এইটুকুর শেষ দিকটা একবার পড়িয়া দেখিতে পারেন আর suggest করিয়া দিতে পারেন যে কি করিয়া কোন অংশ পরিবর্ত্তন করিলে কাহারও গায়ে লাগিবে না, অথচ, সব কথাগুলি বলাও যাইতে পারিবে, আমি সেইরূপ করিবার একটা চেষ্টা করিব। তবে আরও যেটুকু লেখা আছে, সেটুকু পাঠাইবার পরেই মতামত দিবেন। জলধরদাকে অনেক আশা দিয়াছিলাম কিন্তু গল্প লেখা মানসিক সুস্থিরতার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে। যদি অদৃষ্ট আমার চিরকালের মত ভাঙিয়াও<noinclude>{{কেন্দ্র|৪১৬}}</noinclude>
n042pssl30717rjktkz7yemw4xqbp8v
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৩১
104
878625
1943939
2026-04-20T13:02:59Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943939
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude><section begin="A" />থাকে তাহাও যদি ঠিক জানিতে পারি তাহা হইলেও ধীরে ধীরে এই মহা দুঃখ বোধকরি সহিয়া যাইবে। হয়ত বা তখন এই পঙ্গু হওয়াটাকেই ভগবানের আশীর্ব্বাদ বলিয়া মনেও করিব এবং স্থিরচিত্তে গ্রহণ করিতেও পারিব। আমার এই কাঠির মত শরীরে এইরূপ একটা ব্যামো যে কখনও সম্ভব হইতে পারিবে তাহাও মনে করি নাই। আর তাই যদি হয়—হয়ত বা শেষে ইহারই আমার আবশ্যকতা ছিল! ছেলেবেলায় ভগবানকে বড় ভালবাসিতাম—মাঝে বোধ করি সম্পূর্ণ হারাইয়া ছিলাম, আবার শেষ বয়সে যদি তিনিই দেখা দিতে আসেন―তাই ভাল।
{{ফাঁক}}মনের অস্থিরতায় অনেক বাজে কথা লিখিয়া ফেলিলাম। মাপ করিয়া চিঠিখানি পড়িবেন এই ভরসা।
{{ফাঁক}}আর একবার প্রমথ ভাষার খবরটা মনে করিয়া আমাকে জানাইবেন।
{{ফাঁক}}আপনাকে আন্তরিক শত সহস্র আশীর্ব্বাদ করিলাম।
{{ডান|শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
{{ফাঁক}}জলধরদাকে বলিবেন—যাহা আরম্ভ করিয়াছি অর্থাৎ ‘শ্রীকান্ত’ শেষ না হওয়া পর্য্যন্ত হঠাৎ বন্ধ কিছুতেই হইবে না।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|[ ‘ভারতী’ পত্রিকার লেখক শ্রীমণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|14, Lower Pozoungdoung Street,
Rangoon. 7. 1. 14}}}}
{{ফাঁক}}প্রিয় মণিবাবু—অনেক দিন হইয়া গেল আপনার চিঠির জবাব দিই নাই। এই ত্রুটির জন্য নিজেই লজ্জিত হইয়া আছি, ইহার উপর আপনি আর যেন কিছু মনে করিবেন না।
{{ফাঁক}}আপনার লেখার সমালোচনা শুনিয়া আপনি যে দুঃখিত হন নাই, একথা আপনার নিজের মুখে শুনিয়া বড় স্বস্তি পাইলাম। মাঝে মাঝে ভাবিতাম, আমার নিজের ত এই বিদ্যা, অপরের দোষ দেখাই, হয়তো বা তিনি কি ভাবিয়াছেন। যাক—বড় সুখী হইয়াছি।
{{ফাঁক}}আমি তার পরেও আপনার বইটা আর একবার আগাগোড়া পড়িয়াছিলাম, সত্যই খুব ভাল লাগিয়াছে—এবার আরও যেন একটু বেশি করিয়া বুঝিয়াছি, কেন, এ লেখা সকলের আমার মত ভাল লাগে না। যথার্থই আপনার লেখার toneটা কবির মত। Abstract ভাবের কবিতা যে-সব লোকের ভাল লাগে না, তাদেরই আপনার লেখা ভাল লাগে না একথা নিশ্চয় বলিতে পারি।
{{nop}}<section end="B" /><noinclude>{{কেন্দ্র|৪১৭}}</noinclude>
r8ua2nxn0p8q9257frh6xisljv48b4j
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৩২
104
878626
1943940
2026-04-20T13:06:50Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943940
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}যে-সব কবিতায় বা ছোট গল্পে অনেক fact আছে, ঘটনা আছে, ভাবটা নিতান্ত সাদাসিদা সাংসারিক, আমি দেখিয়াছি বেশি লোকেরই তা ভাল লাগে, তারা সেটা বোঝে ভাল, কেন না বোঝা সহজ। এইখানে আরো একটা কথা বলি। অনেক দিন পূর্ব্বে ‘বসুমতী’ কাগজে আপনার ‘বিন্দু’র সমালোচনা (?) করিয়া বলে, “হিন্দুর বিধবার রাত্রে আর এক বাড়িতে যাওয়া, কি রুচি, ইত্যাদি ইত্যাদি”। (আমার এক বন্ধু এই সমালোচনার কথাটা আমাকে জানান—আমি নিজে ঠিক কথাগুলা দেখি নাই।) সেইটা শুনিয়া একবার আমার মনে হয় এই লোকটার স্পর্দ্ধার মত আমিও একটা কঠিন প্রতিবাদ করিয়া কোন কাগজে ছাপাইয়া দিই—আমার মনে হইয়াছিল বলিব এবং খুব কড়া করিয়াই বলিব, “লেখকের রুচি খুব ভাল, শুধু তুমি গোঁড়া এবং নির্ব্বোধ তাই ইহাতে দোষ দেখিয়াছ”। বিন্দুর অপরাধটা যে কি আমি তাহা ত কোন মতেই ভাবিয়া পাইলাম না। সে বেচারা আর একটা নিতান্ত নিরুপায় হতভাগা সঙ্গীকে রাত্রিতে লুকাইয়া দেখিতে গিয়াছিল, যদি আবশ্যক হয়, এক ফোঁটা মুখে জল দিবে কিংবা এমনি একটা কিছু করিবে—এই ত। এতেই মহাভারত অশুদ্ধ হইয়া গেল। হয়ত বা মনে মনে একটু স্নেহও করিত—খেলার সঙ্গী—ইহা কি দোষের না রুচিবিগর্হিত? কারণ, সে বিধবা—অর্থাৎ, হিন্দুর বিধবার সুমুখে কেউ যদি মরে, আর সে যদি একটা আঙ্গুল দিয়া স্পর্শ করিলেও সে বাঁচে, হিন্দু বিধবা তাও যেন না করে—যেহেতু সে বিধবা এবং যে লোকটা মরিতেছে সে পরপুরুষ! এই ইহাদের হিন্দু বিধবার আদর্শ!
{{ফাঁক}}মনে হয়, লোকগুলা এতটাই সঙ্কীর্ণ মন লইয়া পরের দোষ দেখাইবার স্পর্দ্ধা করে এবং দেখায়, এবং লোকে সেই সমালোচনা পড়িয়া বলে, “ঠিক ত! ঠিক কথাই বলিয়াছে।”
{{ফাঁক}}আমি ঠিক বলিতে পারি না সমালোচনা কিরূপ ছিল, যেমন আমার বন্ধুর কাছে শুনিয়াছি সেইমত বলিলাম। আপনি নিজে হয়ত এই সমালোচনা দেখিয়াছেন।
{{ফাঁক}}আবার কতকগুলো পাঠকে মনে করে, যেখানে সেখানে জপতপ আর সন্ন্যাসী আর হিন্দু ধর্ম্মের বড় বড় কথা না থাকিলে সে গল্প বা উপন্যাস কোন মতেই ভাল হইতে পারে না।
{{ফাঁক}}আপনি লিখুন দেখি কোন বিধবার বিবাহ হইয়াছে—আপনার আর রক্ষা থাকিবে না—মার্ মার্ শব্দ করিয়া সব ছুটিয়া আসিবে। আর এই লোকগুলা নিতান্ত বেহায়া গালিগালাজ করিতে বিশেষ পটু, সেইটাই ইহাদের জোর—অর্থাৎ এরা চীৎকার করিয়া এবং গায়ের জোরে জিতিবার চেষ্টা করে এবং জিতিয়াও যায়।
{{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৪১৮}}</noinclude>
8e9liwkl2tm9n95rsdoi26hjzeryies
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৩৩
104
878627
1943941
2026-04-20T13:10:14Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943941
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude>{{ফাঁক}}দিন দিন আমাদের সাহিত্য যেন একেবারে একছাঁছে ঢালা গোছ হইয়া উঠিতেছে—প্রতি দিন সঙ্কীর্ণ হইতে সঙ্কীর্ণতর হইয়া উঠিতেছে। (তাই এক একবার আমার মনে হয়, উচ্ছৃঙ্খল লেখা লিখিতে সুরু করিয়া দিব—কেবল রাগের উপরেই যা-তা লিখিয়া ফেলিব!) আমি কিছু দিন পূর্ব্বে আমার দিদির নামে “নারীর মূল্য” বলিয়া একটা প্রবন্ধ লিখি। আমার দিদি ব্যাপারটা আমাকে চিঠিতে লিখিয়া পাঠান আমি সেইটাকে বড় করিয়া লিখি। এজন্য আত্মীয় বন্ধুবান্ধবেরা কত যে আমাকে চোখ রাঙাইয়াছেন। তাহা লিখিয়া জানান যায় না। কেহ কেহ এমনও বলিয়াছেন, আমি ম্লেচ্ছভাবাপন্ন—ঠিক হিন্দু নই। অথচ হিন্দুধর্ম্মকে আমি এক তিলও কটাক্ষ করি নাই, ইহার গোঁড়ামিকে আক্রমণ করিয়াছিলাম মাত্র। কত লোকে কত সমালোচনা (ভয়ানক প্রতিবাদ) করিবেন বলিয়া ভয় দেখাইলেন, অথচ আজ পর্য্যন্ত কেহই কিছু করিলেন না। সেই সময়ে আমার এক মামা চিঠি লিখিলেন আমি মনে মনে ব্রাহ্ম বাহিরে হিন্দু। অথচ, আমার গলায় তুলসীর মালা আছে, সন্ধ্যা-আহ্নিক না করিয়া জলগ্রহণ করি না, যার তার হাতে জল পর্য্যন্ত খাই না। (কিছু মনে করিবেন না মণিবাবু, আপনার কাছে এ-সব বলা অন্যায়।) আমি যা তাই শুধু আপনাকে বলিলাম। এ-সব থাকা সত্ত্বেও তাঁরা আমাকে কত যে গালিগালাজ করিলেন এবং আমি ভড়ং করি বলিয়া শাসাইয়া দিলেন তাহা আর কত লিখিব। তার পরেই পীড়িত হইয়া পড়িলাম, না হইলে ইচ্ছা ছিল, ঐ রকম করিয়া “ঠাকুর দেবতার মূল্য” এবং “হিন্দু শাস্ত্রের মূল্য” বলিয়া প্রবন্ধ সুরু করিব। যাক্ নিজের কথাতেই চিঠি পূর্ণ করিয়া দিলাম—কেমন আছেন? শরীর সারিল কি? নূতন কিছু লিখিলেন? হাঁ ভাল কথা, যা লিখিবেন শেষটায় অস্থির (impatient) হইয়া শেষ করিবেন না—এইখানে বোধ করি আপনার দোষ হয়।—আপনার শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
{{ফাঁক}}একটা অনুরোধ, যাহাই এই চিঠিতে লিখিয়া থাকি না কেন দোষ লইবেন না—যদি বা কিছু অন্যায় বলিয়াও থাকি তাহা হইলেও।
{{ফাঁক}}পুঃ—আপনার ভাষার দু-একটা তুচ্ছ খুঁত লইয়া প্রায়ই লোকজনকে হৈ চৈ করিতে দেখি। অবশ্য, আমি নিজে আপনার (ওই খুঁতগুলার) মত লিখি না, কিন্তু দোষও দেখি না। আপনি জানিয়া শুনিয়াই ঐ ভাষা এবং বানান লিখিতেছেন—বেশ করিতেছেন। যাহা ভাল বলিয়া বুঝিয়াছেন—শুধু পরের কথায় ছাড়িবেন না। আর যদি নিজে দেখেন ওগুলা বদলানো আবশ্যক, তখন বদলাইবেন।
{{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৪১৯}}</noinclude>
9arcuf30218zpfzi4fzv61jvby9ii8i
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৩৪
104
878628
1943942
2026-04-20T13:14:14Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943942
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|[ শ্রীহেমেন্দ্রকুমার রায়কে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|14, Lower Pozoungdoung Street,
Rangoon. 20-3-14.}}}}
{{ফাঁক}}প্রিয় হেমেন্দ্রবাবু—মাঝে অনেকদিন রেঙ্গুনে ছিলাম না, দিন কয়েক পূর্ব্বে ফিরে এসে আপনার চিঠি পাই। গত মেলেই সে চিঠির জবাব দেওয়া আমার উচিত ছিল, কিন্তু, দেহটা সে সময় এতই মন্দ ছিল যে, পাছে অসঙ্গত কিছু লিখে বসি, এই আশঙ্কায় জবাব দিই নাই। কিছু মনে করিবেন না। শরীরের জন্য আমার সব সময়ে সহজ ভদ্রতাটুকু পর্য্যন্ত রেখে চলা শক্ত হয়ে পড়ে। তবে, ভরসা এই যে আমি বুড়ো মানুষ,<ref>এই সময় শরৎচন্দ্রের বয়স মাত্র ৩৮ বছর।</ref> আপনার কাছে সব সময়েই ক্ষমার্হ।
{{ফাঁক}}‘চরিত্রহীন’, বোধ করি আগামী বর্ষের মাঝামাঝি নাগাদ শেষ হবে। সে ঠিক কথা,—শেষ না হওয়া পর্য্যন্ত সাধারণ পাঠক কিভাবে ও বস্তুটাকে গ্রহণ করবেন আন্দাজ করা যায় না। আমার লেখার ওপর আপনার অনুগ্রহ দেখে সত্যই বড় সুখী হয়েছি। অনেকেই অনুগ্রহ করেন বটে, কিন্তু, লেখা আমার নিতান্তই মামুলি ধরণের। বিশেষতঃ, আর কি আছে? তবে, এটা ঠিক করে রাখি যেন মনের সঙ্গে লেখার সঙ্গে ঐক্য থাকে। যা ভাবি, তাই যেন লিখি। এ কি মনে করবে, ও কি বলবে, সেদিকে প্রায়ই তাকাইনে। বোধ করি এই জন্যেই লোকের মাঝে মাঝে ভালও লাগে—কখন বা লাগেও না, তবুও বড় একটা তুচ্ছতাচ্ছল্য করে লেখককে অপমান করতে চায় না। আপনার লেখার বিশেষত্ব আছে। আমার খুব ভাল লাগে। অনেকদিন পূর্ব্বে ফণিকে বলে পাঠাই যেন সে আপনার অনুগ্রহটা বেশী করে আদায় করবার বিশেষ চেষ্টা করে। আমার বাঙলা ভাষার ওপর মোটেই দখল নেই বললে চলে—শব্দ সঞ্চয় খুব কম। কাজেই আমার লেখা সরল হয়—আমার পক্ষে শক্ত করে লেখাই অসম্ভব। আমার মূর্খতাই আমার কাজে লেগেছে। আচ্ছা, ভারতবর্ষে ‘হরিদ্বার’ প্রভৃতি ভ্রমনবৃত্তান্তে ‘হেমেন্দ্রনাথ রায়’ স্বাক্ষর করা ছিল, সে কি আপনিই? এ কথাটার জবাব দেবেন।
{{nop}}<noinclude>{{rh|
{{reflist}}||}}{{কেন্দ্র|৪২০}}</noinclude>
sb7ws3pqirtf8ep48f5vzeg0yei3jjt
1943943
1943942
2026-04-20T13:15:11Z
Nettime Sujata
5470
1943943
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{কেন্দ্র|[ শ্রীহেমেন্দ্রকুমার রায়কে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|14, Lower Pozoungdoung Street,
Rangoon. 20-3-14.}}}}
{{ফাঁক}}প্রিয় হেমেন্দ্রবাবু—মাঝে অনেকদিন রেঙ্গুনে ছিলাম না, দিন কয়েক পূর্ব্বে ফিরে এসে আপনার চিঠি পাই। গত মেলেই সে চিঠির জবাব দেওয়া আমার উচিত ছিল, কিন্তু, দেহটা সে সময় এতই মন্দ ছিল যে, পাছে অসঙ্গত কিছু লিখে বসি, এই আশঙ্কায় জবাব দিই নাই। কিছু মনে করিবেন না। শরীরের জন্য আমার সব সময়ে সহজ ভদ্রতাটুকু পর্য্যন্ত রেখে চলা শক্ত হয়ে পড়ে। তবে, ভরসা এই যে আমি বুড়ো মানুষ,<ref>এই সময় শরৎচন্দ্রের বয়স মাত্র ৩৮ বছর।</ref> আপনার কাছে সব সময়েই ক্ষমার্হ।
{{ফাঁক}}‘চরিত্রহীন’, বোধ করি আগামী বর্ষের মাঝামাঝি নাগাদ শেষ হবে। সে ঠিক কথা,—শেষ না হওয়া পর্য্যন্ত সাধারণ পাঠক কিভাবে ও বস্তুটাকে গ্রহণ করবেন আন্দাজ করা যায় না। আমার লেখার ওপর আপনার অনুগ্রহ দেখে সত্যই বড় সুখী হয়েছি। অনেকেই অনুগ্রহ করেন বটে, কিন্তু, লেখা আমার নিতান্তই মামুলি ধরণের। বিশেষতঃ, আর কি আছে? তবে, এটা ঠিক করে রাখি যেন মনের সঙ্গে লেখার সঙ্গে ঐক্য থাকে। যা ভাবি, তাই যেন লিখি। এ কি মনে করবে, ও কি বলবে, সেদিকে প্রায়ই তাকাইনে। বোধ করি এই জন্যেই লোকের মাঝে মাঝে ভালও লাগে—কখন বা লাগেও না, তবুও বড় একটা তুচ্ছতাচ্ছল্য করে লেখককে অপমান করতে চায় না। আপনার লেখার বিশেষত্ব আছে। আমার খুব ভাল লাগে। অনেকদিন পূর্ব্বে ফণিকে বলে পাঠাই যেন সে আপনার অনুগ্রহটা বেশী করে আদায় করবার বিশেষ চেষ্টা করে। আমার বাঙলা ভাষার ওপর মোটেই দখল নেই বললে চলে—শব্দ সঞ্চয় খুব কম। কাজেই আমার লেখা সরল হয়—আমার পক্ষে শক্ত করে লেখাই অসম্ভব। আমার মূর্খতাই আমার কাজে লেগেছে। আচ্ছা, ভারতবর্ষে ‘হরিদ্বার’ প্রভৃতি ভ্রমনবৃত্তান্তে ‘হেমেন্দ্রনাথ রায়’ স্বাক্ষর করা ছিল, সে কি আপনিই? এ কথাটার জবাব দেবেন।
{{nop}}<noinclude>{{rule}}
{{reflist}}{{কেন্দ্র|৪২০}}</noinclude>
ik4os1r02yp29ued04chtqjc1zxfpmi
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৩৫
104
878629
1943944
2026-04-20T13:19:56Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943944
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}মাঝে মাঝে সময় পেলে সংবাদ দেবেন। আপনার চিঠিটা যে কোথায় রেখেছি, খুঁজে পেলাম না, তাই ফণির ঠিকানায় পাঠালাম। হয়ত সব কথার জবাব দেওয়া হল না। শরীরটাও বড় দুর্ব্বল ঠেকছে। আজ এই পর্য্যন্ত—পর-পত্রে অপরাপর কথা জানাব। আমার অনেক কথাই বলবার আছে।
{{ফাঁক}}ফণিকে এবং ‘যমুনা’কে একটু দেখবেন। আপনি যদি সত্যই দেখেন, আমার তাহলে অর্দ্ধেক ভাবনা কমে যায়। এটা আমার আন্তরিক কথা—মন যোগানো কথা নয়। মন যোগানো কথা বড় একটা বলিও নে।—আপনাদের অনুগ্রহাকাঙ্ক্ষী
{{ডান|শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|[ চুঁচুড়ানিবাসী সাহিত্যিক শ্রীসুবোধ রায়কে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|54, 36th Street, Rangoon.
10-3-16}}}}
{{বাম|পরম কল্যাণবরেষু,}}
{{ফাঁক}}আমি বৃদ্ধ বলিয়া আপনাকে আশীর্ব্বাদ করিতেছি, আমার সহিত পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও আমাকে পত্র লিখিয়াছেন, ইহাকে পরম সৌভাগ্য জ্ঞান না করিয়া ধৃষ্টতা মনে করিব, এত বড় উঁচু মন আমার নাই।
{{ফাঁক}}তবে, আপনার চিঠির জবাব দিতে বিলম্ব হইয়াছে। তাহার প্রথম কারণ, আজকাল ১০।১২ দিনের মধ্যে মেল থাকে না। দ্বিতীয় কারণ, আমি বড় পীড়িত।
{{ফাঁক}}অবশ্য আমার এ বয়সে আর অসুখ-বিসুখের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা শোভা পায় না, তবুও প্রাণের মায়াটা ত কাটিতে চায় না—তাই মাঝে মাঝে মনে হয় আর কিছুদিন অপেক্ষা করিয়া চল্লিশের ওপারে গিয়া এ-সব ঘটিলেই সব দিকেই দেখিতে ভাল হইত। নিজের মনটাও আর খুঁত খুঁত করিতে পারিত না। কিন্তু সে কথা থাক্।
{{ফাঁক}}‘পল্লীসমাজ’ আপনার মন্দ লাগে নাই, বরং ভালই লাগিয়াছে শুনিয়া আনন্দিত হইয়াছি। বাল্য এবং যৌবন কালটার অনেকখানি পাড়াগাঁয়েই আমার কাটিয়াছে। গ্রামকেই বড় ভালবাসি। তাই দূরে বসিয়াও যে দুই চারিটা কথা মনে পড়িয়াছে তাহা লিখিয়াছি, স্মরণ শক্তিও আর বুড়া বয়সে নাই—তবুও যে কতক কতক মিলিয়াছে, এ আমার বাহাদুরী বই কি। তবে কিনা পাড়াগাঁয়ের লোকে যদি নিজের মনের সহিত মিলাইয়া লইয়া সত্য কথা গুলাই বলিবার চেষ্টা করে, তাহা হইলে কথাগুলা<section end="B" /><noinclude>{{কেন্দ্র|৪২১}}</noinclude>
423njy1v3yewf1y1n4oekcv4yi5i1ng
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৩৬
104
878630
1943945
2026-04-20T13:23:28Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943945
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>চলনসই প্রায়ই হয়। অন্ততঃ ভুলচুক তত হয় না, যত কলিকাতা বা সহরের বড়লোকে কল্পনা করিয়া বলিতে গেলে হয়।
{{ফাঁক}}তার পরে প্রতিকারের উপায়। উপায় কি, সে পরামর্শ দিবার সাধ্য কি আমার আছে? সে অনেক শক্তি, অনেক অভিজ্ঞতার কাজ। আমার মুখ দিয়া সে-কথা বাহির করা কতকটা ধৃষ্টতা নয় কি? তবুও মনের ঝোঁকে মাঝে মাঝে বলিয়াও ফেলিয়াছি ত! যেমন, প্রতিকার আছে শুধু জ্ঞান বিস্তারে। আর যারা প্রতিকার করিতে চায়, তাহাদের মানুষ হইতে হইবে গ্রাম ছাড়িয়া দূরে গিয়া,—বিদেশে বাহির হইয়া। কিন্তু কাজ করিতে হইবে গ্রামে বসিয়া এবং গ্রামের ভাল মন্দ সকল প্রকার লোকের সহিত ভাল করিয়া মিল করিয়া লইয়া—তবে। এইটা বড় দরকারী জিনিস। এই ধরণের দুটা চারটা কথা।
{{ফাঁক}}বিশ্বেশ্বরীর কথাগুলা হয়ত আপনার তেমন দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে পারে নাই।—যদি আপনার ধৈর্য্য রাখা সম্ভবপর হয়, আর একবার তাঁর কথাগুলায় চোখ বুলাইয়া লইলে যেগুলা প্রথমে নজরে পড়িতে পারে নাই, দ্বিতীয় বারে হয়ত চোখে লাগিতেও পারে। তবে এ কথাও সত্য যে, চোখে পড়িলেও সে-সব কথার এমন কিছু সত্যকার মূল্য নাই, যার জন্য আর একবার পড়িয়া সময় নষ্ট করা যাইতে পারে। সেটা আপনার ইচ্ছা।
{{ফাঁক}}একে একে মোটের উপর প্রায় সব কথাই হইল। বাকি রহিল শুধু ঐ শিষ্যত্বের কথাটা।
{{ফাঁক}}গুরু হইবার ভারি শক্তি ছিল আমার বয়স যখন ১৮ পার হয় নাই। তখন যাঁদের গুরুগিরি করিয়াছিলাম, এখন তাঁরা আমাকে ডিঙাইয়া এত উঁচুতে গিয়াছেন যে, তাঁদের নাম যদি করি, আপনার বিস্ময় রাখিবার স্থান থাকিবে না যে, আমি তাঁদেরও এক সময় লেখা পড়িয়া কাটিয়া কুটিয়া দিয়াছি, ভালমন্দ মতামত প্রকাশ করিয়াছি এবং পথ দেখাইয়া দিয়াছি!
{{ফাঁক}}তারপর যত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করিয়াছি, ঐ ক্ষমতাটা ততই হারাইয়াছি। এখন আজকাল একেবারেই আর নাই। আমি শিখাইব আপনাদের এ-কথা আর ত মনে আনিতেই পারি না।
{{ফাঁক}}এ পত্র যতদিনে আপনার হাতে পড়িবে, সেই সময় আমিও সম্ভবতঃ তোড়জোড় বাঁধিয়া রেঙ্গুন ছাড়িয়া জাহাজে চড়িব। দেহটা যদি দেশ বদলাইলে একটু সারে এই আশা।
{{ফাঁক}}আর একবার বুড়ো মানুষের আশীর্ব্বাদ গ্রহণ করিবেন। ইতি—
{{ডান|শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
{{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৪২২}}</noinclude>
1l1zgxi7jpijwv73keyra4ht2my3t5f
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৩৭
104
878631
1943946
2026-04-20T13:29:39Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943946
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{কেন্দ্র|[ শ্রীপ্রমথ চৌধুরীকে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|6, Nilkamal Kundu’s Lane,
Baje-Shibpur. ১৯/৯/১৬}}}}
{{ফাঁক}}সবিনয় নিবেদন, কোন কারণেই যে হঠাৎ আপনার চিঠি পেতে পারি এ আশা আমি কখনো করি নি। আজ শ্রীমান মণ্টুরও (দিলীপকুমার রায়) একখানা চিঠি পেলুম।
{{ফাঁক}}প্রায় মাস পাঁচেক হ’তে চল্ল আমি এদেশে এসেচি। আসা পর্য্যন্তই আপনার সঙ্গে দেখা করবার চেষ্টা করেচি। কিন্তু ঘটে ওঠেনি। একে ত কোথা দিয়ে গেলে আপনার বাড়িতে পৌঁছান যায় তা জানি নে, তার ওপর এও একটা সঙ্কোচ ছিল, পাছে অসময়ে গিয়ে আপনার সময় নষ্ট করি। এখন আপনি নিজেই যখন ডেকেচেন তখন ত নিশ্চয়ই যাবো। দেখি, কাল বুধবারে যদি আপনার আফিসে গিয়ে হাজির হ’তে পারি। না পারি শনিবারে আপনার বালিগঞ্জের বাড়িতে যাবই।
{{ফাঁক}}আমার দেখা করবার একটা বিশেষ হেতু আছে। আপনার লেখার আমিও একজন ভক্ত। অন্ততঃ একটু বেশি রকম পক্ষপাতী। তাই, বাইরের লোকেরা আপনাকে যখন গালি-গালাজ করে তখন আমারও লাগে। দুই পক্ষের লেখাই আমি মন দিয়ে পড়ি। কিন্তু আমার মুস্কিল হয়েচে এই যে, না পারি ঠাওরাতে তাদের ক্রোধের কারণ, না পারি বুঝতে আপনি বা কি বুঝিয়ে বলেন। এ-সব তর্কাতর্কি নিশ্চয়ই খুব উচ্চ অঙ্গের হয় তাতে আমার সংশয় নেই। কিন্তু, ছাপার অক্ষরে একটা অক্ষরও আমার মাথায় ঢোকে না। আমার বুদ্ধিটা মোটা; কোন জিনিস সেই জন্মে বেশ একটু মোটা করে বুঝতে না পারলে আমার বোঝাই হয় না। দেখা করবার হেতু এই। ভেবেচি মুখোমুখি জিজ্ঞাসা করে জেনে নেব ব্যাপারটা বাস্তবিক কি। শ্রীযুক্ত যাদবেশ্বর পণ্ডিত মশাইকে একদিন এই প্রশ্নই করেছিলুম। তিনি বুঝিয়েও দিয়েছিলেন। আমাদের মণিলালকেও জিজ্ঞাসা করেছিলুম, তিনিও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এইবার আপনার পালা।
{{ফাঁক}}শ্রীযুক্ত ক্ষীরোদবাবু (নাট্যকার) একদিন আমাকে বলেছিলেন, আমি বাঙলা সাহিত্যের একটি রত্ন। তার কারণ আমি যে ভাষায় লিখি তাই ঠিক। কিন্তু ‘সবুজপত্রে’র ওঁরা ভাষাটাকে একেবারে মাটি ক’রে দিচ্ছেন। ওঁদের ওটা ভাষাই নয়।
{{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৪২৩}}</noinclude>
2z6whgat66fxsfswvvdipiopltjk6t0
1943957
1943946
2026-04-20T14:27:30Z
Nettime Sujata
5470
1943957
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{কেন্দ্র|[ শ্রীপ্রমথ চৌধুরীকে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|6, Nilkamal Kundu’s Lane,
Baje-Shibpur. ১৯/৯/১৬}}}}
{{ফাঁক}}সবিনয় নিবেদন, কোন কারণেই যে হঠাৎ আপনার চিঠি পেতে পারি এ আশা আমি কখনো করি নি। আজ শ্রীমান মণ্টুরও (দিলীপকুমার রায়) একখানা চিঠি পেলুম।
{{ফাঁক}}প্রায় মাস পাঁচেক হ’তে চল্ল আমি এদেশে এসেচি। আসা পর্য্যন্তই আপনার সঙ্গে দেখা করবার চেষ্টা করেচি। কিন্তু ঘটে ওঠেনি। একে ত কোথা দিয়ে গেলে আপনার বাড়িতে পৌঁছান যায় তা জানি নে, তার ওপর এও একটা সঙ্কোচ ছিল, পাছে অসময়ে গিয়ে আপনার সময় নষ্ট করি। এখন আপনি নিজেই যখন ডেকেচেন তখন ত নিশ্চয়ই যাবো। দেখি, কাল বুধবারে যদি আপনার আফিসে গিয়ে হাজির হ’তে পারি। না পারি শনিবারে আপনার বালিগঞ্জের বাড়িতে যাবই।
{{ফাঁক}}আমার দেখা করবার একটা বিশেষ হেতু আছে। আপনার লেখার আমিও একজন ভক্ত। অন্ততঃ একটু বেশি রকম পক্ষপাতী। তাই, বাইরের লোকেরা আপনাকে যখন গালি-গালাজ করে তখন আমারও লাগে। দুই পক্ষের লেখাই আমি মন দিয়ে পড়ি। কিন্তু আমার মুস্কিল হয়েচে এই যে, না পারি ঠাওরাতে তাদের ক্রোধের কারণ, না পারি বুঝতে আপনি বা কি বুঝিয়ে বলেন। এ-সব তর্কাতর্কি নিশ্চয়ই খুব উচ্চ অঙ্গের হয় তাতে আমার সংশয় নেই। কিন্তু, ছাপার অক্ষরে একটা অক্ষরও আমার মাথায় ঢোকে না। আমার বুদ্ধিটা মোটা; কোন জিনিস সেই জন্মে বেশ একটু মোটা করে বুঝতে না পারলে আমার বোঝাই হয় না। দেখা করবার হেতু এই। ভেবেচি মুখোমুখি জিজ্ঞাসা করে জেনে নেব ব্যাপারটা বাস্তবিক কি। শ্রীযুক্ত যাদবেশ্বর পণ্ডিত মশাইকে একদিন এই প্রশ্নই করেছিলুম। তিনি বুঝিয়েও দিয়েছিলেন। আমাদের মণিলালকেও জিজ্ঞাসা করেছিলুম, তিনিও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এইবার আপনার পালা।
{{ফাঁক}}শ্রীযুক্ত ক্ষীরোদবাবু (নাট্যকার) একদিন আমাকে বলেছিলেন, আমি বাঙলা সাহিত্যের একটি রত্ন। তার কারণ আমি যে ভাষায় লিখি তাই ঠিক। কিন্তু ‘সবুজপত্রে’র ওঁরা ভাষাটাকে একেবারে মাটি ক’রে দিচ্ছেন। ওঁদের ওটা ভাষাই নয়।
{{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৪২৩}}</noinclude>
80j0s9vteq1co52ky52pkjxqnzvpilr
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৩৮
104
878632
1943947
2026-04-20T13:36:21Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943947
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}আমি নিজে কিন্তু কিছুতেই আবিষ্কার করতে পারলুম না, আমার ভাষার সঙ্গে ‘সবুজপত্রে’র ভাষার পার্থক্যটা কি। এই কথাটাই আপনার কাছে গিয়ে বেশ ভাল ক’রে বুঝে আসব।
{{ফাঁক}}আমার কোন লেখা আপনি পড়েছেন কি না জানি নে, যদি প’ড়ে থাকেন তাহ’লে কোন অসুবিধেই হবে না।
{{ফাঁক}}পণ্ডিত মশাই সেদিন বলেছিলেন বাঙলা ভাষাটা সংস্কৃত ঘেষা হওয়া চাই এবং তাই নিয়েই বিবাদ। কিন্তু ঘেষাটা যে কতখানি চাই তা তিনিও জানেন না, আপনারাও না। দেখি এই মীমাংসাটা যদি আপনার কাছে গেলে হয়।—
{{ডান|শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
<section end="A" />
<section begin="B" />{{Block right|{{কেন্দ্র|6, Nilikamal Kundu’s Lane,
Baje-Shibpur. 21. 9. 16}}}}
{{ফাঁক}}সবিনয় নিবেদন,—কাল আপনি আমাকে একখানি বই দিয়েছিলেন। এই বই পাওয়াটা আমার এমনি অভ্যাস হয়ে গেছে যে তা থেকে একটা বিশ্রী বদ্ অভ্যাস দাঁড়িয়েচে। সে বই পড়ি আর না পড়ি পাওয়াটা স্বীকার করা যে অন্ততঃ একটা ভদ্রতা এও আর যেন মনে পড়ে না। কথাটা দম্ভের মত শোনালেও জিনিসটা সত্য। তাই আপনার বইখানা অনেক দিনের পর এই ত্রুটিটা আজ যখন প্রথম দেখিয়ে দিলে তখন আপনাকে ধন্যবাদ না দিয়ে ত পারি নে। এক দফা ধন্যবাদ এ জন্য আর এক দফা ধন্যবাদ এই চিঠির শেষে পাবেন।
{{ফাঁক}}কাল রাত্রেই বইখানি শেষ করি। গল্প প’ড়ে এত আনন্দ বহুকাল পাই নি। এর বিশেষ সুখ্যাতি করতে যাওয়ার নাম এর সমালোচনা করা। এ কাজ অনেকেই করবেন ব’লে আপনাকে যে দিনরাত শাসাচ্চেন সে ইঙ্গিতও কাল আপনার ঘরে ব’সেই শুনে এলুম। সুতরাং এ কাজ আমি করব না। কিন্তু তাঁরাও যে কি করবেন, শিব গড়বেন কি বাঁদর গড়বেন সে তাঁরাই জানেন। তাঁদের ভাল লেগেছে—এ এক কথা, কিন্তু এ লেখার মধ্যে যে কত জোর, কত সূক্ষ্ম কারুকার্য্য আছে, এর নিজস্ব সৌন্দর্য্য কোনখানে, কোথায় এর মধুর কাব্যরস—সবচেয়ে এ লেখা লিখতে পারা যে কত শক্ত, এ কথা বুঝবে বোধ করি শুধু তারাই যাদের নিজেদের হাতেকলমে লেখার বাতিক আছে। আর সে লেখা পড়বার বাতিকও দেশের পাঁচ জনের আছে। কিন্তু সে যাক। আমার আসল কথাটা এই যে, এক রবিবাবুর লেখা প’ড়ে<section end="B" /><noinclude>{{কেন্দ্র|৪২৪}}</noinclude>
ja0qpxztt4z5wpwy97yoegsyo65p6rj
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৩৯
104
878633
1943948
2026-04-20T13:48:39Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943948
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude>মনে হয়েচে চেষ্টা করলেও আমি এমন পারি নে, আর কাল আপনার এই গল্পের বইটা প’ড়ে মনে হ’ল চেষ্টা করলে আমি এমন ক’রে কিছুতেই লিখতে পারি নে। এই কথাটা জানাবার জন্যই এই পত্র।
{{ফাঁক}}কাল সন্ধ্যার সময় অর্থাৎ আপনার ওখান থেকে বেরিয়ে ‘ভারতবর্ষ’ আফিসে আসি এবং সেইখানেই “সোমনাথের গল্পটা” শেষ ক’রে জলধরবাবু প্রভৃতি কয়েক জনের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা ওঠে। আমি আমার মত এই ব’লে দিই যে, এ বই পড়া উচিত তাদেরই বেশি কোরে যারা নিজেরা বই লেখে। এর নির্ম্মল লিখনভঙ্গী, সোজা সরল কথোপকথন অথচ এমনিই রসে ভরা, মনের ভাবটা বলবার এই অনাবিল, মুক্ত পথ তাঁরা যত শিখতে পারবেন, যারা বই লেখে না তারা তেমন কোরে শিখতে পারবে না। তাদের শুধু ভালই লাগবে কিন্তু গ্রন্থকারদের ভালও যেমন লাগবে শিক্ষাও তেমনি হবে। এই আমার মোটের ওপর বক্তব্য। এখানে একটা অনুরোধ আপনাকে কোরব। আপনি দয়া করে এইটে মনে করবেন না যে আমার এই উচ্ছ্বসিত প্রশংসার ভেতর এতটুকু অত্যুক্তি—ইতর লোকে যাকে বলে ‘খোসামোদ’ তাই আছে। কারণ আমি জানি ইতিমধ্যে যত লোকের যত প্রশংসা আপনি এই ‘চারইয়ারি’ উপলক্ষ্যে পেয়েছেন তার মধ্যে উপরোক্ত ওই ইতর কথাটা যে আছে তা নিজেই হয়ত অনুভব করেছেন। অন্ততঃ আমি হলে ত তাই করতুম। কারণ, এটা আমি নিশ্চয় বুঝতুম এ বই সাধারণ পাঠকের জন্য নয়। তারা বুঝবেই না।<ref>সেদিন এই বইয়ের প্রসঙ্গে একজন পণ্ডিত ব্যক্তি আমাকে বলেছিলেন, আপনি রবিবাবুর সব কবিতার মানে বুঝিয়ে দিতে পারেন?</br>
{{ফাঁক}}আমি বলি, না, পারি না। তার কারণ, আপনি বেদান্তে {{SIC|পড়|বড়}} পণ্ডিত হ’লেও কাব্য বোঝবার মত পণ্ডিত নন। তাছাড়া সব কবিতার মানে সবাইকে যে বুঝতেই হবে এমন কিছু মাথার দিব্যি দেওয়াও নাই। রবিবাবুর ‘শ্রেষ্ঠভিক্ষা’ প’ড়ে গুরুদাস বাবু বলেছিলেন এমন অশ্লীল বস্তু ইতিপূর্ব্বে তিনি দেখেন নাই। সুতরাং কথাটা স্যার গুরুদাসের মুখ থেকে বার হয়েছে বলেই মেনে নিতে হবে এবং না নিলে মারাত্মক অপরাধ হবে তাও ত নয়।—শঃ 2.10.16</ref> ইংরিজিতে একটা কথা আছে ‘art to hide art’ সেটা তারা না ধরতে পেরে মনে করবে এর চাঁচা-ছোলা সৌন্দর্য্যের মধ্যে সৌন্দর্য্যই নেই। এই ধরুন না যেমন মাড়ওয়ারীরা বাড়ি তৈরি করায় এবং তাতে পয়সা খরচ করে কারুকার্য্য করিয়ে নেয়।
{{ফাঁক}}পাঠকের Intelligence এবং Culture একটা বিশেষ সীমায় না পৌঁছন পর্য্যন্ত<noinclude>{{rule}}
{{reflist}}{{কেন্দ্র|৪২৫}}</noinclude>
ckbua57o61uaym0lam7oqaw63ze4v82
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৪০
104
878634
1943949
2026-04-20T13:55:29Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943949
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />তারা এ বইয়ের সমঝদার হতেই পারে না। কথাটা আমি বানিয়ে বলচি নে। সেদিন যে আলোচনা হয় তা থেকেই এই অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলুম। যাক্। আবার যদি কখনো দেখা হয় এ-কথা হবে। আপনাকে শত সহস্র ধন্যবাদ দিয়ে আজ বিদায় নিলুম। এমনও হতে পারে আমার ভাল লাগার দাম হয়ত আপনার কাছে খুবই সামান্য।—শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
<section end="A" />
<section begin="B" />{{Block right|{{কেন্দ্র|6, Nilkamal Kundu Lane,
Baje-Shibpore, Howrah, 11-10-16.}}}}
{{ফাঁক}}সবিনয় নিবেদন,—কয়েক দিন হল আপনার চিঠি পেয়ে জবাব দিতে বিলম্ব হওয়ায় লজ্জিত হয়ে আছি। যাওয়াও ঘটে উঠল না বলে নিজের মনেই এক প্রকার ক্লেশ বোধ করচি। পরশু অর্থাৎ বৃহস্পতিবারে যদি বাড়ি থাকেন, বিকেলবেলায় একবার আপনার ওখানে যাবো। কিন্তু কি একটা আমার স্বভাব, বড়লোকের বাড়ি যাবো মনে হলেই কেমন সমস্ত মনটা দ্বিধায় সঙ্কোচে অপ্রসন্ন হয়ে ওঠে। তাই যাইযাই করেও যাওয়া হয় না।
{{ফাঁক}}এই সঙ্কোচটা যদি কাটাতে পারি পরশু নিশ্চয় গিয়ে হাজির হব, আর যদি না যাই ত তার কারণ আপনাকে কিছু বোঝাতে হবে না। সে কথা কিন্তু যাক্।
{{ফাঁক}}আপনার এই বইখানার সমালোচনা যাঁরা লিখেছিলেন তাঁরা অতি উচ্ছ্বাসের দোষেই যে কাগজওয়ালাদের মনোরঞ্জন করতে পারেন নি তা বোধ হয় নয়। আপনি ত জানেন আমাদের কাগজে ‘নামের ভার’ না থাকলে ধারটা কেউ অর্থাৎ কোন সম্পাদক যাচাই করে দেখতে চান না। আমার সমালোচনা নিশ্চই ভালো হবে না, কারণ, এ বিষয়ে শক্তি আমার বড় কম কিন্তু নামটা নীচে লিখে দিলেই যে-কোন কাগজেই তা স্থান পাবে; সুতরাং তাই আমি আগামী মাসে করব কিনা ভাবচি। হয় ‘ভারতবর্ষে’ না হয় ‘প্রবাসীতে’। তবে কিনা অক্ষমের তুলির আঁচড়ে জিনিসটার চেহারে পাছে আজ-কালকার Indian আর্টের উৎকৃষ্ট নমুনার মত দেখায় সেই আমার ভয়। আর আপনার নিজের ত তাহলে কথাই নেই—আহ্লাদ রাখবার আর জায়গাই থাকবে না। তবে যদি অভয় দেন ত করি।
{{ফাঁক}}আপনার ‘বড়বাবুর বড়দিন’— শ্রীযুক্ত পাঁচকড়িবাবু<ref>‘নায়ক’ পত্রিকার সম্পাদক শ্রীপাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়।</ref>রা যাকে বলেন ‘মুন্সিয়ানা’ তার<section end="B" /><noinclude>{{rule}}
{{reflist}}{{কেন্দ্র|৪২৬}}</noinclude>
bhratdp10854dg3yezlh1h5otx4i181
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৪১
104
878635
1943950
2026-04-20T13:59:55Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943950
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude>যদিচ কোনো অভাব নেই (না থাকবারই কথা!) আমার কিন্তু ভাল লাগল না। আমি জানি এ সম্বন্ধে আপনার অন্যান্য সমঝদারদের সঙ্গে আমার মতভেদ আপনি স্পষ্টই টের পাচ্ছেন। তাঁরা হয়ত আপনাকে বলেচেন, একটা চরিত্রকে ‘বাঁদর’ বানিয়ে তোলবার ক্ষমতা আপনার অসাধারণ। আমিও যে তা বলি নে তা নয়। বিদ্রূপ ব্যাঙ্গের খোঁচায় মানুষের বিশেষ কোন একটা বাঁদরামি প্রবৃত্তিকে পাঠকের কাছে রিডিক্লাস করে তুলতে আপনি ভারি পারেন, কিন্তু আমি দেখি মানুষকে মানুষ করে দেখবার ক্ষমতা এর চেয়েও আপনার ঢের বেশি। এক একটা অত্যন্ত চাপা লোক যেমন তার বড় দুঃখটাকেও বলবার সময় এমন একটা তাচ্ছিল্যের সুর দেয় যে হঠাৎ মনে হয় যেন সে আর কারো দুঃখটা গল্প করে যাচ্চে। এর সঙ্গে তার নিজের যেন কোন সম্পর্ক নেই। আপনিও বলেন ঠিক তেমনি করে। ইনিয়ে বিনিয়ে কাতরোক্তি কোথাও নেই—অথচ, কত বড় না একটা জীবনের ট্র্যাজিডি পাঠকের বুকে গিয়ে বাজে। আপনার লেখায় এই সহজ শান্ত রিফাইণ্ড বলার ভঙ্গীটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। তাইতেই সেদিন লিখেছিলুমও ‘চারইয়ারী’র কথাগুলো ঠিকমত বোঝবার জন্যে পাঠকের Education এবং Culture বিশেষ একটা পর্য্যায়ে পৌঁছান দরকার। তা না হলে এর সমস্ত সৌন্দর্য্যই তার কাছে ঝুটো হয়ে যাবে।
{{ফাঁক}}কিন্তু ‘বাঁদর’ বানাবার সময় ওই চাপা তাচ্ছিল্যের সুরটা লেখায় কোনমতেই থাকা সম্ভবপর নয়, থাকেও না। বোধ করি এই জন্যেই ‘বড়দিন’ আমার ভাল লাগে নি। ওর মরালের তামাসাটা ধরতে পারলুম না।
{{ফাঁক}}আবার এমনও হ’তে পারে আমি মোটেই বুঝতে পারিনি। হয়ত তাই। সুতরাং আমার ভাল-না-লাগার দাম একেবারে নাও থাকতে পারে। হয়ত বা আগাগোড়াই অনধিকার-চর্চা করে যাচ্চি। তা যদি হয় আমাকে মাপ করবেন। অনধিকার-চর্চার কথাটা আমি অতি-বিনয় করে বলচি নে। কারণ, আমি লেখাপড়া শিখিনি, ইংরিজি ভাল করে না পড়াশুনা থাকলে লেখার ভাল-মন্দ বিচার করবার ক্ষমতা হয় না। এ ক্ষমতাটাও শিক্ষাসাপেক্ষ। বড় বড় লোকের বড় বড় সমালোচনা যারা পড়ে নি, তারা স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা থেকে অমনি এক রকম করে বুঝতে যে পারে না তা নয় বটে, কিন্তু যে-সব জিনিস তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বাইরে তাদের ভেতর তারা এক পাও ঢুকতে পারে না। কপাট যে বন্ধ, সে যে বাইরে দাঁড়িয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে শুধু বন্ধ কপাটের পানে চেয়ে আছে এও ঠাওর পায় না। এই জন্যেই ত সব জিনিসেরই সবাই সমালোচক। মনে করে কথার মানেগুলো যখন বুঝতে পারচি তখন সমস্তই বুঝচি। ইংরিজির কথা এই জন্য তুললুম যে বাঙলা ভাষায়<noinclude>{{কেন্দ্র|৪২৭}}</noinclude>
g29c1a2xwlmdu972naf6abqlwggoct6
পাতা:ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য - শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৬৫).pdf/২০০
104
878636
1943951
2026-04-20T14:05:08Z
Hrishikes
1618
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */
1943951
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Hrishikes" />{{rh|১৮৪|ভারতের শক্তি-সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য}}
{{block center/s}}</noinclude><poem>
বামদিকে মহাপাত্র নরসিংহ দাস।
সম্মুখে পাঠক চন্দ পড়ে ইতিহাস॥
রাজার সভাতে বৈসে সুপণ্ডিত ঘটা।
পরিধান পীত-বাস ভাল-জুড়ি ফোঁটা॥—মুকুন্দরাম
</poem>}}
ইহার ভিতর কোটাল বন্দী কালকেতুকে উপস্থিত করিলে কলিঙ্গরাজ বলিয়াছিলেন—
{{block center|<poem>
ছুত্যে না যুয়ায় বেটা অতি নীচ জাতি।
সভামাঝে বসিয়া কথার দেখ ভাতি॥
কোন্ সাধুজনে বধি নিলি বেটা ধন।
মোরে না কহিয়া বেটা কাটাইলি বন॥—মুকুন্দরাম
</poem>}}
ভাঁড়, দত্তও আসিয়া কলিঙ্গরাজের নিকটে যখন কালকেতুর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাইয়াছিল তখনও কলিঙ্গরাজের জাত্যভিমান উদ্ভিক্ত করিবার চেষ্টা দেখি— নিবেদহ; নরনাথ কর অবধান। রাজ্যেত বণিক হইল ব্যাধ বলবান ॥ গোপতে সৃজিল পরী গুজরাট নগরে। ব্যাধ-নন্দন হইয়া ছত্র ধরে শিরে। মাধব এই বর্ণ হিন্দ, কলিঙ্গ ভূপতির প্রতিষ্ঠিত বা পাজিত এক দেবীর কংসাইঅঞ্চলে প্রসিদ্ধি ছিল, এবং কংস নদীর তীরে দেবীর একটি প্রসিদ্ধ মন্দির ছিল বলিয়া মনে করি। বর্ণ হিন্দ-পাজিতা বলিয়া দেবী পৌরাণিক চণ্ডিকা বলিয়াই প্রসিদ্ধা ছিলেন। কালকেতু যে বন্য ব্যাধ জাতির প্রতিনিধি তাহাদের মধ্যেও তাহাদের নিজেদের এক দেবী ছিলেন; কালকেতুর সমৃদ্ধি ও প্রতিপত্তি-লাভের সঙ্গে এই দেবীও স্বাভাবিকভাবেই কতকটা প্রচারলাভ করিলেন। কালকেতুর গজরাট নগরে যে-সকল বর্ণ হিন্দ, বসতি স্থাপন করিল তাহাদিগকে এই বন্য ব্যাধ-প, জিতা বা বনের অধিবাসী 'পশ 'গণ-কর্তৃক পূজিতা দেবীকেই দেবী বলিয়া গ্রহণ করিতে হইল। পশ গণ-পূজিতা এবং কালকেতুর বরদাত্রী এই দেবী কে? সবগুলি চণ্ডীমঙ্গলেই দেখিতে পাই, এই দেবী স্বর্ণ-গোধিকা রূপ ধারণ করিয়া বনে ব্যাধ কালকেতুর নিকটে ধরা দিয়াছিলেন। ব্যাধ কালকেতু মৃগয়ার শিকার-রূপেই স্বর্ণ-গোধিকাকে গৃহে লইয়া আসিল; কালকেতুর অসাক্ষাতে কালকেতুর গৃহেই স্বর্ণ-গোধিকা অপরূপে দেবীমূর্তি ধারণ করিলেন। মোটামটি তাহা হইলে দেখিতে পাইতেছি, এই দেবীর যোগ গোধিকার সহিত। ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলিয়া মনে হয়। পুরাণগুলির মধ্যে অত্যন্ত অর্বাচীন পরাণ, বৃহদ্ধর্ম পুরাণে গোধিকারূপে দেবীর কালকেতু ব্যাধকে ছলনা করিবার উল্লেখ দেখা যায়। এই শ্লোকে ধনপতি সদাগর-কর্তৃক<noinclude></noinclude>
lgkb1ij01ek7n6t82zp4ytl307cbwyi
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৪২
104
878637
1943952
2026-04-20T14:10:10Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943952
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />সমালোচনার বইও নেই সে শেখবার বালাইও নেই। এও যে রীতিমত সাক্রেদি করে শিখতে হয় এ ধারণাও নেই। আমার ধারণা আছে বলেই এত কথা বললুম। এ-সব কথা আমি বিদ্বান লোকদের মুখে শুনেচি। অতএব, আমার ভাল-না-লাগার মূল্য আপনি এই আন্দাজে দেবেন। আমি জানি আমি যা-তা একটা সমালোচনা লিখে ছাপতে দিলেই তা ছাপা হয়ে যাবে এবং সেজন্য আপনার অনুমতি চাওয়াটাও বাহুল্য, কিন্তু আপনার লেখার উপর আমার একটু বেশি শ্রদ্ধা আছে ব’লেই আমার অক্ষমতা জানিয়ে আপনার মত জানতে চাচ্চি। যদি আপত্তি না থাকে ত দুটো একটা কথা বলবার সাধটা মিটিয়ে নিই। আমার বিজয়ার শ্রদ্ধা গ্রহণ করিবেন।
{{ডান|শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|[ ঢাকা ইণ্টারমিডিয়েট কলেজের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদকে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর।
২০. ৩. ১৮}}}}
{{ফাঁক}}সবিনয় নিবেদন,—দিন দুই হইল আপনার পত্র এবং ‘মীর পরিবার’ পাইয়াছি। শেষ গল্পটা (হামিদ) ছাড়া আর তিনটি গল্পই পড়িয়াছি। আজকালকার দিনে গল্প পড়িয়া আনন্দ পাওয়া এবং সুখ্যাতি করিতে পারা দুইই যেন কঠিন ব্যাপার হইয়া উঠিয়াছে। বই উপহার পাইয়া গ্রন্থকারকে দুটা ভাল কথা বলিতে, সর্ব্বান্তকরণে উৎসাহ দিতে পারি না বলিয়া আমি অতিশয় কুণ্ঠিত হইয়া থাকি। আপনি সেই সুযোগ আমাকে দিয়াছেন বলিয়া আপনাকে ধন্যবাদ জানাইতেছি।···
{{ফাঁক}}আপনার রচনার মধ্যে যে উর্দ্দু কথা ব্যবহার করিয়াছেন সে ভালই হইয়াছে। তা না হইলে মুসলমান পাঠক-পাঠিকা কখনই ইহাকে নিজেদের মাতৃভাষা বলিয়া অসঙ্কোচে গ্রহণ করিতে পারিত না। তাহাদের কেবলই মনে হইত ইহা হিন্দুদের ভাষা, আমাদের নয়। এই পাশাপাশি দুইজাতির মধ্যে সাহিত্যের সংযোগ সাধনের বোধ করি ইহাই সবচেয়ে ভাল উপায়। অবশ্য সকল সাহিত্যিকই এই মতের সপক্ষে নয়, কিন্তু আমি নিজে এইরূপ রচনারই পক্ষপাতি।
{{ফাঁক}}তবে, একটি কথা আপনাকে স্মরণ করাইয়া দেওয়া প্রয়োজন মনে করি। আমি অনেক দিন এই ব্যবসা করিতেছি, হয়ত যৎকিঞ্চিৎ অভিজ্ঞতাও সঞ্চয় করিয়াছি,<section end="B" /><noinclude>{{কেন্দ্র|৪২৮}}</noinclude>
jrd5cplrb8xnc95plbr6uzfgr31gc39
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৪৩
104
878638
1943953
2026-04-20T14:14:46Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943953
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude><section begin="A" />আশা করি, অযাচিত উপদেশ দিতেছি মনে করিয়া ক্ষুব্ধ হইবেন না। কথাটা এই যে, সকল জাতির মধ্যেই ভালমন্দ লোক আছে। হিন্দুর মধ্যেও আছে, মুসলমানের মধ্যেও আছে। এই সত্যটি বিস্মৃত হইবেন না। আর একটি কথা মনে রাখিবেন যে, গ্রন্থকার কোন বিশেষ জাতি, সম্প্রদায় বা ধর্ম্মের লোক নয়। সে হিন্দু, মুসলমান, খ্রীষ্টান, ইহুদি সমস্তই। ভবদীয় শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|[ কানপুর প্রবাসী মহিলা সাহিত্যিক শ্রীমতী লীলারাণী গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর (হাওড়া)
২৪।৭।১৯}}}}
{{ফাঁক}}পরম কল্যাণীয়াসু,—আপনার পত্র এবং ‘মিলন’ আদ্যোপান্ত পড়িলাম। আমার বই যে আপনার ভাল লাগে ইহার চেয়ে গ্রন্থকারের বড় পুরস্কার আর কি আছে। আপনি ভক্তির দাবী জানাইয়াছেন। ভক্তি যেখানে শুধু বিনয় নয়, সত্যকার বস্তু, সেখানে এ দাবী আছে বৈ কি। তবে, ভক্তি কাহাকে করি সেটাও একটু বিচার করা আবশ্যক।
{{ফাঁক}}আপনার সহিত আমার পরিচয় নাই, সেই জন্য বেশি কিছু প্রশ্ন করা শোভা পায় না, তবুও জিজ্ঞাসা করিতে ইচ্ছা হয়, আপনি যখন ব্রাহ্মসমাজের নয়, তখন বিধবাবিবাহ দিতে চান কেন?
{{ফাঁক}}এটা কি শুধু একটা ক্ষণিকের খেয়াল ‘হেম ও গুণীর’ অবস্থা দেখিয়া করুণায় জন্মগ্রহণ করিয়াছে? এতে কি আপনার সত্যকার আপত্তি নাই? তা যদি থাকে, অথচ একটা ‘মিলন’ হইয়া গেলেও মনটা খুসি হয়—এই যদি হয় ত এ ‘মিলনের’ বিশেষ কোন মূল্য আছে বলিয়া মনে করিতে পারি না।
{{ফাঁক}}তবে, লেখা হিসাবে অর্থাৎ রচনার ভাল-মন্দ বিচারে এ লেখার দাম ধার্য্য করিতে যাওয়া এটুকু চিঠির কর্ম্ম নয়।
{{ফাঁক}}আমার সকল বই আপনি পড়িয়াছেন কি না জানি না। পড়িয়া থাকিলে নিশ্চয়ই অন্ততঃ এই ব্যাপারটা চোখে পড়িয়াছে যে অনেকগুলি বড় এবং সুন্দর জীবন শুধু বিধবা-বিবাহ সমাজে না থাকার জন্যই চিরদিনের জন্য ব্যর্থ নিষ্ফল হইয়া গিয়াছে। ইহার অধিক নিজের সম্বন্ধে বলিবার আমার নাই।—শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
{{nop}}<section end="B" /><noinclude>{{কেন্দ্র|৪২৯}}</noinclude>
id364hgryppj8php109yoy7ad91suyj
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৪৪
104
878639
1943954
2026-04-20T14:18:56Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943954
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{dhr}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
২৯| ৭| ১৯}}}}
{{ফাঁক}}পরম কল্যাণীয়াসু,—আপনার পত্র পাইলাম। আমাকে চিঠি লিখিয়া প্রত্যুত্তরের আশা করাটা যে অত্যন্ত দুরাশা, আমার এই চমৎকার অভ্যাসটির খবর যে আপনি কি করিয়া সংগ্রহ করিলেন তাহাই ভাবিতেছি। কারণ, কথাটা এতবড় সত্য যে তাহার প্রতিবাদ করা আমার পক্ষে একেবারে অসম্ভব। যথার্থই লোকে আমার কাছে জবাব পায় না—আমি এমনি অগাধ কুড়ে।
{{ফাঁক}}তবুও আপনাকে দু’খানা চিঠি লিখিয়া ফেলিলাম যে কি করিয়া, ভাবিতে গিয়া দেখি ঐ যে আপনি ভক্তির দাবী করিয়াছেন, উহাই এই অসম্ভবকে সম্ভব করিয়াছে। বস্তুতঃ, এই বস্তুটা মানুষকে দিয়া কত অদ্ভুত কার্য্যই না করাইয়া লয়। আমাকে যে বড় ভাইয়ের মত ভক্তি করে, তাহাকেই চিঠি লিখিতেছি, তাহার কথার উত্তর দিতেছি,—ইহার অন্তরে কি বিপুল অহঙ্কারই না প্রচ্ছন্ন থাকে!
{{ফাঁক}}আপনাকে আমি কিছুই শিখাই নাই, কখনো চোখেও দেখি নাই, কাহার কন্যা, কাহার বধু, কি পরিচয় কিছুই জানি না, অথচ, নিজেকে যখন আপনি আমার ছোট বোন বলিয়া অভিহিত করিতেছেন—এ সৌভাগ্য কদাচিৎ ঘটে,—তখন, এ ভাগ্য যাহার ঘটে, তাহাকে এক প্রকার নেশার মত পাইয়া বসে।
{{ফাঁক}}আমাকে না জানিয়া এবং হিন্দু ঘরের বধূ হইয়াও আমাকে অসঙ্কোচে পত্র লিখিয়াছেন। ইহা সকলে পারে না সত্য। কিন্তু তাই বলিয়া আমিও যে আপনাকে অসঙ্কোচে পত্র লিখিতে পারি, প্রশ্ন করিতে পারি, এ আশঙ্কা আপনার মনের মধ্যে ছিল না বলিয়াই লিখিতে পারিয়াছিলেন, থাকিলে পারিতেন না। এতটুকু বিশ্বাস আমার প্রতি আপনার ছিলই। না হইলে এতগুলা বই লেখা আমার বৃথাই হইয়াছে।
{{ফাঁক}}বেশ, ছোট বোনের মত তুমি যখন খুশি আমাকে চিঠি লিখো। আমার সত্যকার শিষ্যা এবং সহোদরার অধিক একজন আছে, তাহার নাম নিরুপমা। আজ সাহিত্যের সংসারে সে আপনার বোধ করি অপরিচিত নয়, ‘দিদি’ অন্নপূর্ণার মন্দির’ ‘বিধিলিপি’ ইত্যাদি তাহারই লেখা। অথচ, এই মেয়েটিই এক দিন যখন তাহার ষোল বৎসর বয়সে অকস্মাৎ বিধবা হইয়া একেবারে কাঠ হইয়া গেল, তখন আমি তাহাকে বার বার করিয়া এই কথাটাই বুঝাইয়াছিলাম, “বুড়ি, বিধবা হওয়াটাই যে নারীজন্মের চরম দুর্গতি এবং সধবা থাকাটাই সর্ব্বোত্তম সার্থকতা ইহার কোনটাই সত্য<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩০}}</noinclude>
6x2agoiqfhmco2tuo86eaypie6nrsr6
1943958
1943954
2026-04-20T14:28:17Z
Nettime Sujata
5470
1943958
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
২৯| ৭| ১৯}}}}
{{ফাঁক}}পরম কল্যাণীয়াসু,—আপনার পত্র পাইলাম। আমাকে চিঠি লিখিয়া প্রত্যুত্তরের আশা করাটা যে অত্যন্ত দুরাশা, আমার এই চমৎকার অভ্যাসটির খবর যে আপনি কি করিয়া সংগ্রহ করিলেন তাহাই ভাবিতেছি। কারণ, কথাটা এতবড় সত্য যে তাহার প্রতিবাদ করা আমার পক্ষে একেবারে অসম্ভব। যথার্থই লোকে আমার কাছে জবাব পায় না—আমি এমনি অগাধ কুড়ে।
{{ফাঁক}}তবুও আপনাকে দু’খানা চিঠি লিখিয়া ফেলিলাম যে কি করিয়া, ভাবিতে গিয়া দেখি ঐ যে আপনি ভক্তির দাবী করিয়াছেন, উহাই এই অসম্ভবকে সম্ভব করিয়াছে। বস্তুতঃ, এই বস্তুটা মানুষকে দিয়া কত অদ্ভুত কার্য্যই না করাইয়া লয়। আমাকে যে বড় ভাইয়ের মত ভক্তি করে, তাহাকেই চিঠি লিখিতেছি, তাহার কথার উত্তর দিতেছি,—ইহার অন্তরে কি বিপুল অহঙ্কারই না প্রচ্ছন্ন থাকে!
{{ফাঁক}}আপনাকে আমি কিছুই শিখাই নাই, কখনো চোখেও দেখি নাই, কাহার কন্যা, কাহার বধু, কি পরিচয় কিছুই জানি না, অথচ, নিজেকে যখন আপনি আমার ছোট বোন বলিয়া অভিহিত করিতেছেন—এ সৌভাগ্য কদাচিৎ ঘটে,—তখন, এ ভাগ্য যাহার ঘটে, তাহাকে এক প্রকার নেশার মত পাইয়া বসে।
{{ফাঁক}}আমাকে না জানিয়া এবং হিন্দু ঘরের বধূ হইয়াও আমাকে অসঙ্কোচে পত্র লিখিয়াছেন। ইহা সকলে পারে না সত্য। কিন্তু তাই বলিয়া আমিও যে আপনাকে অসঙ্কোচে পত্র লিখিতে পারি, প্রশ্ন করিতে পারি, এ আশঙ্কা আপনার মনের মধ্যে ছিল না বলিয়াই লিখিতে পারিয়াছিলেন, থাকিলে পারিতেন না। এতটুকু বিশ্বাস আমার প্রতি আপনার ছিলই। না হইলে এতগুলা বই লেখা আমার বৃথাই হইয়াছে।
{{ফাঁক}}বেশ, ছোট বোনের মত তুমি যখন খুশি আমাকে চিঠি লিখো। আমার সত্যকার শিষ্যা এবং সহোদরার অধিক একজন আছে, তাহার নাম নিরুপমা। আজ সাহিত্যের সংসারে সে আপনার বোধ করি অপরিচিত নয়, ‘দিদি’ অন্নপূর্ণার মন্দির’ ‘বিধিলিপি’ ইত্যাদি তাহারই লেখা। অথচ, এই মেয়েটিই এক দিন যখন তাহার ষোল বৎসর বয়সে অকস্মাৎ বিধবা হইয়া একেবারে কাঠ হইয়া গেল, তখন আমি তাহাকে বার বার করিয়া এই কথাটাই বুঝাইয়াছিলাম, “বুড়ি, বিধবা হওয়াটাই যে নারীজন্মের চরম দুর্গতি এবং সধবা থাকাটাই সর্ব্বোত্তম সার্থকতা ইহার কোনটাই সত্য<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩০}}</noinclude>
qv76585xn5vh3wv95m9gt5vlffeedet
1943959
1943958
2026-04-20T14:28:57Z
Nettime Sujata
5470
1943959
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{dhr}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
২৯।৭।১৯}}}}
{{ফাঁক}}পরম কল্যাণীয়াসু,—আপনার পত্র পাইলাম। আমাকে চিঠি লিখিয়া প্রত্যুত্তরের আশা করাটা যে অত্যন্ত দুরাশা, আমার এই চমৎকার অভ্যাসটির খবর যে আপনি কি করিয়া সংগ্রহ করিলেন তাহাই ভাবিতেছি। কারণ, কথাটা এতবড় সত্য যে তাহার প্রতিবাদ করা আমার পক্ষে একেবারে অসম্ভব। যথার্থই লোকে আমার কাছে জবাব পায় না—আমি এমনি অগাধ কুড়ে।
{{ফাঁক}}তবুও আপনাকে দু’খানা চিঠি লিখিয়া ফেলিলাম যে কি করিয়া, ভাবিতে গিয়া দেখি ঐ যে আপনি ভক্তির দাবী করিয়াছেন, উহাই এই অসম্ভবকে সম্ভব করিয়াছে। বস্তুতঃ, এই বস্তুটা মানুষকে দিয়া কত অদ্ভুত কার্য্যই না করাইয়া লয়। আমাকে যে বড় ভাইয়ের মত ভক্তি করে, তাহাকেই চিঠি লিখিতেছি, তাহার কথার উত্তর দিতেছি,—ইহার অন্তরে কি বিপুল অহঙ্কারই না প্রচ্ছন্ন থাকে!
{{ফাঁক}}আপনাকে আমি কিছুই শিখাই নাই, কখনো চোখেও দেখি নাই, কাহার কন্যা, কাহার বধু, কি পরিচয় কিছুই জানি না, অথচ, নিজেকে যখন আপনি আমার ছোট বোন বলিয়া অভিহিত করিতেছেন—এ সৌভাগ্য কদাচিৎ ঘটে,—তখন, এ ভাগ্য যাহার ঘটে, তাহাকে এক প্রকার নেশার মত পাইয়া বসে।
{{ফাঁক}}আমাকে না জানিয়া এবং হিন্দু ঘরের বধূ হইয়াও আমাকে অসঙ্কোচে পত্র লিখিয়াছেন। ইহা সকলে পারে না সত্য। কিন্তু তাই বলিয়া আমিও যে আপনাকে অসঙ্কোচে পত্র লিখিতে পারি, প্রশ্ন করিতে পারি, এ আশঙ্কা আপনার মনের মধ্যে ছিল না বলিয়াই লিখিতে পারিয়াছিলেন, থাকিলে পারিতেন না। এতটুকু বিশ্বাস আমার প্রতি আপনার ছিলই। না হইলে এতগুলা বই লেখা আমার বৃথাই হইয়াছে।
{{ফাঁক}}বেশ, ছোট বোনের মত তুমি যখন খুশি আমাকে চিঠি লিখো। আমার সত্যকার শিষ্যা এবং সহোদরার অধিক একজন আছে, তাহার নাম নিরুপমা। আজ সাহিত্যের সংসারে সে আপনার বোধ করি অপরিচিত নয়, ‘দিদি’ অন্নপূর্ণার মন্দির’ ‘বিধিলিপি’ ইত্যাদি তাহারই লেখা। অথচ, এই মেয়েটিই এক দিন যখন তাহার ষোল বৎসর বয়সে অকস্মাৎ বিধবা হইয়া একেবারে কাঠ হইয়া গেল, তখন আমি তাহাকে বার বার করিয়া এই কথাটাই বুঝাইয়াছিলাম, “বুড়ি, বিধবা হওয়াটাই যে নারীজন্মের চরম দুর্গতি এবং সধবা থাকাটাই সর্ব্বোত্তম সার্থকতা ইহার কোনটাই সত্য<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩০}}</noinclude>
r4gu37munpr03imsfenoez9b45qnc3e
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৪৫
104
878640
1943955
2026-04-20T14:22:45Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943955
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude>নয়।” তখন হইতে সমস্ত চিত্ত তাহার সাহিত্যে নিযুক্ত করিয়া দিই, তাহার সমস্ত রচনা সংশোধন করি এবং হাতে ধরিয়া লিখিতে শিখাই—তাই আজ সে মানুষ হইয়াছে, শুধু মেয়ে-মানুষ হইয়াই নাই।
{{ফাঁক}}এইটি আমার বড় গর্ব্বের জিনিস।
{{ফাঁক}}তুমি লিখিয়াছ, যে স্বামীকে জানিল না চিনিল না তেমন বালবিধবার আবার বিবাহ দিতে দোষ কি? তোমার মুখে এই কথাটার অনেক দাম। এবং আমার লেখা যদি একটিও বালবিধবার প্রতি তোমার এই করুণা জাগাইতে পারিয়া থাকে ত আমরাও বড় পুরস্কার পাওয়া হইয়াছে।
{{ফাঁক}}এইবার তোমার লেখার সম্বন্ধে কিছু বলব। আজকাল রাশি রাশি বাঙলা উপন্যাস বাহির হইতেছে। ইহাতে দুটা জিনিস আমি লক্ষ্য করিয়াছি। প্রথম, পুরুষদের লেখা বইগুলা প্রায়ই যে অন্তঃসারহীন অপাঠ্য বই হইতেছে,—শুধু এই নয়, ইহাদের পোনর আনাই অন্য লোকের চুরি। এবং ইহাতে তাহারা লজ্জা পর্য্যন্ত অনুভব করে না। বই বিক্রী হইলেই তাহারা যথেষ্ট মনে করে।
{{ফাঁক}}দ্বিতীয় এই দেখিয়াছি মেয়েদের লেখা বইগুলা আর যাহাই হোক, সেগুলা অন্ততঃ কাহারো চুরি নয়। তাহারা যাহা কিছু ক্ষুদ্র পরিবারের মধ্যে দেখিয়াছে, নিজের জীবনে যথার্থ অনুভব করিয়াছে তাহাই কল্পনা দিয়া প্রকাশ করিতে চেষ্টা করে। সুতরাং তাহাতে কৃত্রিমতাও বেশি থাকে না।
{{ফাঁক}}তোমার লেখায় যে সৎসাহস ও সরলতা আছে, তাহা আমাকে মুগ্ধ করিয়াছে। রচনা হিসাবে খুব ভাল না হইলেও ইহার অকৃত্রিমতাই ইহাকে সুন্দর করিয়াছে। আমার পরিশিষ্ট লিখিতে গিয়া আর সময় নষ্ট করিয়ো না,—স্বাধীনভাবে বই লিখিয়ো, আমি আশীর্ব্বাদ করিতেছি তুমি কাহারো চেয়ে হীন হইবে না।
{{ফাঁক}}এইখানে তোমাকে আর একটা উপদেশ দিয়া রাখি। নারীর স্বামী পরম পূজনীয় ব্যক্তি, সকলের বড় গুরুজন। কিন্তু তাই বলিয়া স্ত্রীও দাসী নয়। এই সংস্কার নারীকে যত ছোট, যত ক্ষুদ্র, যত তুচ্ছ করে এমন আর কিছু নয়।
{{ফাঁক}}যখনই বই লিখবে এই কথাটাই সকলের বেশি মনে রাখতে চেষ্টা করিবে।
{{ফাঁক}}স্বামীর বিরুদ্ধে কদাচ বিদ্রোহের সুর মনে আনিতে নাই, কিন্তু স্বামীও মানুষ, মানুষকে ভগবান বলিয়া পূজা করিতে যাওয়া কেবল নিষ্ফল নয়, ইহাতে নিজেকে এবং স্বামীকে উভয়কেই ছোট করিয়া তোলা হয়।
{{ফাঁক}}তোমাকে আর একটা প্রশ্ন করিব। “যে বিধবা স্বামীকে জানে নাই চিনে নাই···”
{{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩১}}</noinclude>
8gsotmk36mq5lj4229mh0qm9g4qobwe
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৪৬
104
878641
1943956
2026-04-20T14:26:04Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943956
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>{{ফাঁক}}কিন্তু যে একবার জানিয়াছে চিনিয়াছে—অর্থাৎ যে ষোল সতের বছর বয়সে বিধবা হইয়াছে, তাহার সুদীর্ঘ জীবনে আর কাহাকেও ভালবাসিবার বা বিবাহ করিবার অধিকার নাই? নাই কিসের জন্য? একটু চিন্তা করিয়া দেখিলেই দেখিতে পাইবে, ইহার মধ্যে শুধু এই সংস্কারটাই গোপন আছে যে স্ত্রী স্বামীর জিনিস। স্ত্রীর নারী বলিয়া আর কোন স্বাধীন সত্তা নাই।
{{ফাঁক}}“হেম সংশয়ের মধ্যেই দিন কাটাইতেছিল। যাহার দৃঢ়তা নাই তাহার কি বন্ধনই ভাল নয়?”
{{ফাঁক}}বন্ধন কেবল তখনই ভাল যখন এই প্রশ্নটার শেষ মীমাংসা হইয়া যাইবে যে বিবাহই নারীর সর্ব্বশ্রেষ্ঠ শ্রেয়ঃ।
{{ফাঁক}}অথচ, আমি কোথাও বিধবার বিবাহ দিই নাই। এইটি তোমার কাছে আশ্চর্য্য বলিয়া মনে হইতে পারে।
{{ফাঁক}}তার উত্তর এই যে সংসারে অনেক আশ্চর্য্য দ্রব্য আছে, এবং চেষ্টা করিয়াও তাহার হেতু খুঁজিয়া পাওয়া যায় না।
{{ফাঁক}}তুমি আমার আশীর্ব্বাদ জানিয়ো।—শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
১৪-৮-১৯}}}}
{{ফাঁক}}পরম কল্যাণীয়াসু, কাল এবং আজ তোমার বড় এবং ছোট্ট দুখানি চিঠিই পেলাম। নিজের খবরটা দিই। আমি চিরকালই সমস্ত দোর জানালা খুলে শুই। সেদিন রাত্রি চারটের সময় ঘুম ভেঙে দেখি বিছানা বালিশ গায়ের জামা কাপড় সমস্ত বৃষ্টির ছাটে এমনি ভিজেচে যে শীত করচে। দুর্ভাগ্য আবার এমন যে সেদিন বিকেল বেলাতেও বার হয়ে পথে কম ভিজি নি,—দুটোতে জড়িয়ে একটু জ্বর মত হ’ল কিন্তু এক দিনেই সারলে না,—বাড়তেই লাগল। এখন ওটা সেরেছে। দ্বিতীয় দফায় আরো চমৎকার। ক’দিন থেকে ডান পায়ের হাঁটুর খানিকটে নীচেয় এত জ্বালা আর চুলকোতে লাগলো যে অস্থির হয়ে উঠলাম। দিন-চারেক পূর্ব্বে একদিন সকালে উঠে দেখি খানিকটে যায়গা লাল হয়ে ঠিক যেন একজিমার ভাব হয়েচে। একটু একটু ফুলেও আছে। কিছুদিন থেকে শুনছিলাম এদিকে খুব বেরিরেরি হচ্চে। ওটা যে কি পদার্থ তা আজও দেখবার সুযোগ পাইনি, ভাবলাম বুঝি, আমাকেই ধরেচে। ভয়ে যাই আর কি! কসে টিন্চার আইডিন লাগাতে সুরু<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩২}}</noinclude>
euiuf86uqmctrc30dmmw1hug1phm8tx
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৪৭
104
878642
1943960
2026-04-20T14:34:48Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943960
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude>করে দিলাম,—কিন্তু বার কয়েক ঘন-ঘন লাগাবার পরে সে এমন মূর্ত্তি ধারণ করলে যে, তার চেয়ে বুঝি সত্যিকারের বেরি-বেরি হওয়াই ছিল ভাল। ডাক্তার এসে ভয়ানক বকতে লাগলেন,—আপনার কি এতটুকু কোন বিষয়ে সবুর নেই? এবার না হয় কষ্টিক কিংবা এ্যাসিড-ট্যাসিড লাগিয়ে যা পারেন করুন আমি চললাম। যাই হোক পরে ঠাণ্ডা হয়ে ওষুধ আর মালিসের ব্যবস্থা করে হুকুম করে গেলেন, পা দুটো একটা তাকিয়ায় তুলে যেন চুপ করে শুয়ে থাকি। কি করি দিদি, তাই আছি। তৃতীয় দফায়,—কোন কালে আমি অম্বলের রুগি নই। এত কম খাই যে অম্বল পর্য্যন্ত আমার কাছে ঘেঁসে না, পাছে তাকেও বা অনাহারে শুকিয়ে মরতে হয়। কি যে সেদিন জোর করে ছাই পাঁশ কতকগুলো ঘরের তৈরি করা সন্দেশ খাইয়ে দিলে যে আজও যেন তার ঢেঁকুর উঠচে। আমি এ-দেশের একটি বিখ্যাত কুড়ে। চিবোবার ভয়ে কোন জিনিস সহজে মুখে দিতে চাইনে,—আমার ধাতে ও অত্যাচার সইবে কেন? কি বল দিদি, ঠিক না? কিন্তু বাড়ীর লোকে বোঝে না, তারা ভাবে আমি কেবল না খেয়েই রোগা। সুতরাং খেলেই বেশ ওদেরই মত হাতী হয়ে উঠব। স্বর্গীয় গিরিশবাবু তাঁর আবুহোসেনে লাখ কথার একটা কথা বলে গিয়েছেন যে “অবলার বড় নোলা, তারা মলেও খায়।” মেয়েমানুষ জাতটাকে তিনি চিনেছিলেন! আজ বিশ বছর আমরা কেবল খাওয়া নিয়েই লাঠালাঠি করে আসচি। খেলে না, খেলে না—রোগা হয়ে গেল—ঘর-সংসার রান্না-বান্না কিসের জন্যে—যেখানে দু-চোখ যায় বিবাগী হয়ে যাবো—ইত্যাদি কত কি। আমি বলি, ওরে বাপু, বিবাগী হবে ত শিগগীর হও,—এ যে শুধু আমাকে ভয় দেখিয়ে দেখিয়েই কাঁটা করে তুললে! বাস্তবিক, আমার দুঃখটা আর কেউ দেখলে না দিদি! আমি প্রায়ই ভাবি, সত্যিকার স্বর্গ যদি কোথাও থাকে ত সেখানে বোধ হয় এমন করে একজন আর একজনকে খাবার জন্যে জবরদস্তি করে না! আর তা যদি হয় ত আমি যেন বরঞ্চ নরকেই যাই!
{{ফাঁক}}হাঁ, আরও একটা আছে। দিন কুড়ি আগে কুকুরের ঝগড়া থামাতে গিয়ে কোথাকার একটা ঘেয়ো কুকুর আমার হাতের তেলোতে আচ্ছা করে দাঁত ফুটিয়ে দিয়ে পালাল। হতভাগা কুকুরটা কি অকৃতজ্ঞ! তাকেই আমি আমার ‘ভেলু’র কবল থেকে বাঁচাতে গিয়েছিলাম। ভয়ে কাউকে এ কথা বলিনি, শুকিয়েও গিয়েছিল, কিন্তু কাল থেকে আবার যেন মনে হচ্চে ব্যথা হচ্চে।
{{ফাঁক}}কিন্তু আর নয়, আপাততঃ এইখানেই আমার শারীরিক কুশলের তালিকাটা মোটামুটি সম্পূর্ণ করলাম। তবে একটা সুখ এই যে বুড়ো হয়েচি। এখন থেকে<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩৩}}</noinclude>
0y3wowfa6expbfnddi70v29n2evfkeu
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৪৮
104
878643
1943961
2026-04-20T14:38:42Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943961
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>এমনি একটা-না-একটা উপলক্ষ ক’রে ত চলতে হবে। কত রকম বেরকমের দুঃখ দৈন্য আপদ বিপদের মাঝখান দিয়ে ত আজ চল্লিশের কোটা পার হোলাম। শুনি আমাদের বংশে আজও কেউ চল্লিশ পৌঁছোন নি। সে হিসেবে ত অন্ততঃ পিতৃপিতামহদের হারিয়েছি! আর কি চাই!
{{ফাঁক}}যাক্ গে! বুড়ো মানুষের বাঁচা-মরা নিয়ে আর তোমাদের উদ্বিগ্ন করতে চাই নে, কিন্তু তুমি ত দিদি তেমন ভাল নেই? শরীরে যত্ন কোরো,—এখন পরিশ্রম করার দরকার নেই, ভাল হয়ে বাড়ি ফিরে এসো তার পরে সব হবে। তোমার খাতার লেখাগুলো ত মন দিয়েই পড়লাম,—সমস্তই আছে তাতে, নেই শুধু একটু শিক্ষা। সাহিত্য রচনা করবার কৌশলটাও ত আয়ত্ত করা চাই, ভাই, নইলে শুধু শুধু ত নিজের অনুভূতি মাত্র সম্বল করেই কাজ হবে না। কিন্তু আমি এই ব্যবসাই ত করি, ঠিক জানি এটুকু শিখিয়ে নিতে আমার বেশি দেরি লাগবে না। কতটুকু লিখতে হয়, কোনটা বাদ দিতে হয়, কোনটা চেপে যেতে হয়—
{{Block center|<poem>“ঘটে যা তা সব সত্য নয়,
কবি তব মনভূমি, রামের জন্মস্থান
অযোধ্যার চেয়ে ঢের সত্য জেনো।”</poem>}}
এতবড় সত্য কথা আর নেই। দিদি, যত ঘটনা ঘটে তার সবটুকু ত লিখতে নেই—কতক পরিস্ফুট করে বলা, কতক ইঙ্গিতে সারা, কতক পাঠকের মুখ দিয়ে বলিয়ে নেওয়া। অবশ্য, যতটুকু তোমাকে সাহায্য করতে পারতাম, কেবল চিঠি লিখে কেটেকুটে দিয়ে দূর থেকে বসে ততটুকু হবে না, তবুও চেষ্টা করতে হবে বৈকি। আর যদি এবারেও শীতের পূর্ব্বে বেরিয়ে পড়তে পারি ত, তোমাদের ঐ খোট্টার দেশেও না হয় ১০।১৫ দিনের জন্যে কাছাকাছি কোথাও একটা বাড়ি নিয়ে একটু সাহায্য করবার চেষ্টা করব। আর আমার সনাতন কুড়েমিই যদি সে সময়ে পেয়ে বসে ত বাস্ এই পর্য্যন্তই।
{{ফাঁক}}···মহিলারা? তাঁরা নিরাপদে থাকুন, তাঁদের অনেকের কাছেই তোমাকে বার করতে বোধ করি আমার প্রবৃত্তি হয় না। একটা কথা খুলে বলি। ঐ দূর থেকে শুনতেই···মহিলারা! উচ্চ শিক্ষিতা! দু’চার জন ছাড়া আমাকে তাঁরা মনে মনে ভারি ভয় করেন; তাঁদের কেবলই মনে হয় আমি তাঁদের ভিতরটা বুঝি খুঁটিয়ে দেখে নিচ্ছি—তাই তাঁরা আমার সামনে কিছুতে স্বস্তি পান না,—অন্তরটা তাঁদের এমনি কৃত্রিম, এমনি সঙ্কীর্ণতায় ভরা! বস্তুতঃ এদের মত সঙ্কীর্ণ চিত্তের স্ত্রীলোক বাঙলা দেশে আর নেই! দিদি, আমি কোন কালে খাওয়া-ছোঁয়ার বাচবিচার করিনে, কিন্তু···<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩৪}}</noinclude>
h5n0rbyclryrb8rz7634q6kjhu4jqi3
পাতা:প্রবন্ধ সংগ্রহ (প্রথম খণ্ড) - প্রমথ চৌধুরী (১৯৫৭).pdf/১
104
878644
1943962
2026-04-20T14:57:10Z
~2026-24222-67
21889
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ খালি পাতা তৈরি হয়েছে
1943962
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="103.59.176.148" /></noinclude><noinclude></noinclude>
r45flhjxi7qy2k95ju01m0s91m661wy
পাতা:আরামবাগ - পরেশনাথ সরকার (১৯১৭).pdf/১৭
104
878645
1943969
2026-04-20T15:10:54Z
Babulbaishya
2144
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "LIBRARY & FREE READING Sec. 282 যাৰামবাগ। প্রথম পরিচ্ছেদ । RARE বোগদাদের প্রসিদ্ধ বাইজি ফিরোজা বিবির মনোহর সৌধের সুন্দর অসজ্জিত কক্ষে, দুগ্ধ ফেন-নিভ সুকোনগ্ন শয্যায় বাইজির কুন্দ-কুসুমের মত স..." দিয়ে পাতা তৈরি
1943969
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Babulbaishya" /></noinclude>LIBRARY & FREE READING
Sec.
282
যাৰামবাগ।
প্রথম পরিচ্ছেদ ।
RARE
বোগদাদের প্রসিদ্ধ বাইজি ফিরোজা বিবির মনোহর সৌধের
সুন্দর অসজ্জিত কক্ষে, দুগ্ধ ফেন-নিভ সুকোনগ্ন শয্যায়
বাইজির কুন্দ-কুসুমের মত সুন্দরী ষোড়শী করা ওজান নিদ্রিতা,
পার্শ্বে বসিয়া বাদী বাতাস করিতেছে। আতর গোলাপের সুগন্ধে
বায়ু ভরপূর ! একজন সুন্দর যুবক ধীরে কক্ষে প্রবেন্ন করিল ।
বাঁদী তাড়াতাড়ি সেলাম করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। যুবক আলি,
পারস্যের এক ধনী বণিকের সন্তান। ভাজানের সহিত তাহার
সাদি হইবার কথা ! ধীরে ধীরে আলি আসিয়া গুলজানের
প্রান্তে বসিয়া বলিল- “বাদি!” বাঁদী সেলাম করিল।
“বেদানা ?”
“এনেছি।”
“আঙুর ?”
“এনেছি।”
“হারব ?” “ঠিক করে রেখেছি জনাব!” আলি একটু
"ভাবিয়া বলিল – “আর কি, ঠিক মনে হচ্ছে না।” বাঁদী উত্তর
করিল— "সবই ঠিক আছে জাহাপনা!”<noinclude></noinclude>
biudk5tgx7f7j58zkeoywz6ocycs6m7
পাতা:দুধ-ভাত - ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী.pdf/১৬
104
878646
1943970
2026-04-20T15:25:00Z
Babulbaishya
2144
/* মুদ্ৰণ সংশোধন কৰা হৈছে */
1943970
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rh|৪|দুধ-ভাত|৪}}</noinclude>ব'লে মিন্টু রাস্তায় বেরিয়ে সোজা মনুদের বাড়ী গিয়ে উঠলো। ওদের বাড়ী গিয়ে একদল বন্ধুবান্ধবদের মাঝে খেলাধুলো পেয়ে মিন্টু যে দুঃখ নিয়ে বেরিয়েছিল সব ভুলে গেল।
{{ফাঁক}}অনেকক্ষণ খেলাধুলোর পর মনুর মা ডাকলেন: সবাই খাবে এসো।
{{ফাঁক}}মিন্টুর মনে হলো এবার বাড়ী যেতে হবে। —আবার তার দুধ-ভাতের কথা মনে হলো। সে ঠিক করলে এখান থেকে পাখীদের বাড়ী যাবে। এমন সময় মনুর মা বললেন: এসো মিন্টু, খাবে এসো।
{{ফাঁক}}—না, আমি খেয়ে—না, বাড়ী যাবো। অস্পষ্ট ক'রে মিন্টু কি যে বললে বোঝা গেল না।
{{ফাঁক}}মনুর মা বললেন: তোমাদের চাকর ডাকতে এসেছিল, আমি ব'লে দিয়েছি ও এখানে খেলছে, খেয়ে দেয়ে পরে যাবে। মিন্টু চুপ ক'রে রইল। ভাবলো মনু নিশ্চয় দুধ-ভাত খায় না। যা—বাড়ীর রাগটা তাহ'লে বেশ জমবে।—কিন্তু বাড়ীতে আজ অনেক ভালো ভালো রান্না হচ্ছে।
{{ফাঁক}}মনু, মিন্টু আর সব ছোটরা খেতে বসে পড়লো—খুব হাসি গল্প, মজা ক’রে খাওয়া হচ্ছে। মনুর মা একবার এসে দেখে গেলেন: কি নিবি রে? মিন্টু ভালো ক'রে খাও, লজ্জা করো না। ও ঠাকুৰ দুধের বাটিগুলো নিয়ে এসো।
{{ফাঁক}}মিন্টুর সব আনন্দ নিবে গেছে !—য়্যাঁ, এখানেও দুধ?
{{ফাঁক}}—না মাসীমা, আমি দুধ খাবো না, পেট ভরে গেছে। ও ঠাকুর !
{{ফাঁক}}—না, না, সেকি হয়, একটু দুধ-ভাত না খেলে ছোট ছেলেপিলে বাঁচবে কি ক'রে ?<noinclude></noinclude>
5wtlxkso8qxo8rb1f8aehfh04yjhs2i
1943988
1943970
2026-04-21T08:40:02Z
Babulbaishya
2144
1943988
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Babulbaishya" />{{rh|৪|দুধ-ভাত|৪}}</noinclude>ব'লে মিন্টু রাস্তায় বেরিয়ে সোজা মনুদের বাড়ী গিয়ে উঠলো। ওদের বাড়ী গিয়ে একদল বন্ধুবান্ধবদের মাঝে খেলাধুলো পেয়ে মিন্টু যে দুঃখ নিয়ে বেরিয়েছিল সব ভুলে গেল।
{{ফাঁক}}অনেকক্ষণ খেলাধুলোর পর মনুর মা ডাকলেন: সবাই খাবে এসো।
{{ফাঁক}}মিন্টুর মনে হলো এবার বাড়ী যেতে হবে। —আবার তার দুধ-ভাতের কথা মনে হলো। সে ঠিক করলে এখান থেকে পাখীদের বাড়ী যাবে। এমন সময় মনুর মা বললেন: এসো মিন্টু, খাবে এসো।
{{ফাঁক}}—না, আমি খেয়ে—না, বাড়ী যাবো। অস্পষ্ট ক'রে মিন্টু কি যে বললে বোঝা গেল না।
{{ফাঁক}}মনুর মা বললেন: তোমাদের চাকর ডাকতে এসেছিল, আমি ব'লে দিয়েছি ও এখানে খেলছে, খেয়ে দেয়ে পরে যাবে। মিন্টু চুপ ক'রে রইল। ভাবলো মনু নিশ্চয় দুধ-ভাত খায় না। যা—বাড়ীর রাগটা তাহ'লে বেশ জমবে।—কিন্তু বাড়ীতে আজ অনেক ভালো ভালো রান্না হচ্ছে।
{{ফাঁক}}মনু, মিন্টু আর সব ছোটরা খেতে বসে পড়লো—খুব হাসি গল্প, মজা ক’রে খাওয়া হচ্ছে। মনুর মা একবার এসে দেখে গেলেন: কি নিবি রে? মিন্টু ভালো ক'রে খাও, লজ্জা করো না। ও ঠাকুৰ দুধের বাটিগুলো নিয়ে এসো।
{{ফাঁক}}মিন্টুর সব আনন্দ নিবে গেছে !—য়্যাঁ, এখানেও দুধ?
{{ফাঁক}}—না মাসীমা, আমি দুধ খাবো না, পেট ভরে গেছে। ও ঠাকুর !
{{ফাঁক}}—না, না, সেকি হয়, একটু দুধ-ভাত না খেলে ছোট ছেলেপিলে বাঁচবে কি ক'রে ?
{{nop}}<noinclude></noinclude>
27ma12a1rwwazajf9wuh0vwqsqdj4z7
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৪৯
104
878647
1943971
2026-04-20T15:57:54Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943971
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude>মেয়েদের হাতে আমি কোন দিন কিছু খাইনে। শুধু খাই তাঁদের হাতে যাঁদের বাপমা দু-জনেই ব্রাহ্মণ এবং বিয়েও হয়েচে ব্রাহ্মণের সঙ্গে।···সমাজ-ভুক্ত হোন তাতে আসে যায় না, কিন্তু ঐ রকম মেশানো জাত হ’লে আমি তাঁদের ছোঁয়া খাইনে। তারা বলে শরৎবাবু শুধু লেখেন বড় বড় কথা, কিন্তু বাস্তবিক তিনি ভারি গোঁড়া। আমি গোঁড়া নই লীলা, কিন্তু শুধু রাগ করেই এদের হাতে খাইনে। আর এটাও দেখেছ বোধ হয়···মেয়েদের মধ্যে সাড়ে পোনর-আনাই কুরূপা। কেবল সাবান পাউডার আর জামা কাপড়ের দ্বারা, আর নাকি খোনা গলায় কথা কয়ে যত দূর চলে! কেবল ৪।৫টি মেয়েকে দেখেচি তাঁরা সত্যিই শ্রদ্ধার পাত্রী। তাঁদের বি. এ. পাশ করা সত্ত্বেও আমাদের বোনেদের সঙ্গে প্রভেদ করা যায় না। এতই ভাল, মনে হয় যেন তাঁরা হিন্দুর মেয়ে হয়ে আজও আছেন।
{{ফাঁক}}এই মেয়েদের নিন্দে করচি বলে হয়ত তোমার খুব রাগ হচ্চে, কিন্তু জানই ত দিদি, ভেতরে ভেতরে তোমাদের প্রতি আমার কত শ্রদ্ধা কত স্নেহ। শুধু তাদের ন্যাকামি, বিদ্যের জাঁক আর কুসংস্কার-বর্জ্জিত আলোর দম্ভ, এবং যা সত্য নয় তার ভান—এই দেখেই আমার এত অরুচি।
{{ফাঁক}}তাদের কাছে তুমি হাসির পাত্রী হবে? কি বোলব, এদের ডজনখানেক গাড়ী বোঝাই করে যদি তোমাদের কানপুরে একবার চালান দিতে পারতাম! আর কিছু না হোক ভায়ার কাজে লাগতে পারত।
{{ফাঁক}}“দাদার মর্য্যাদা?” কি করে জানবে তোমার ত দাদা নেই!
{{ফাঁক}}তোমার স্বামীর উদার মতের কথা শুনে ভারি খুসি হলাম। আমি তাঁকে সর্ব্বান্তঃকরণে আশীর্ব্বাদ করচি। কিন্তু দিদি, একটি কথা তাঁকে বলতে ইচ্ছে করে। আমি নিজে একবার ছেলেবেলায় ৬।৭ শত বাঙালী কুলত্যাগিনীর ইতিহাস সংগ্রহ করেছিলাম। অনেক দিন, অনেক মেহন্নত, অনেক টাকা তাতে নষ্ট হয়, কিন্তু একটা আশ্চর্য্য শিক্ষাও আমার হয়েছিল। দুর্নামে দেশ ভরে গেল সত্যি, কিন্তু এই কথাটা নিঃসংশয়ে জানতে পারলাম, যারা কুলত্যাগ করে আসে তাদের শতকরা প্রায় আশি জন সধবা! বিধবা খুব কম! স্বামী বেঁচে থাকলেই বা কি, আর কড়া পাহারা দিয়ে রাখলেই বা কি! আর বিধবা হলেই বা কি! দিদি, অনেক দুঃখেই মেয়েমানুষে নিজের ধর্ম্ম নষ্ট করতে রাজী হয়, আর যে-জন্যে হয় সেটা পরপুরুষের রূপও নয়, একটা বীভৎস প্রবৃত্তির লোভও নয়। তারা এতবড় জিনিসটা যখন নিজের নষ্ট করে তখন বাইরে গিয়ে কিছু একটা আশ্চর্য্য বস্তু পাবার লোভে নয়, কেবল কিছু একটা থেকে আপনাকে রেহাই দেবার জন্যেই এ-দুঃখ মাথায় তুলে নেয়। এ-সকল<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩৫}}</noinclude>
npdb9yz2iu0acswtkafcls731ewfkik
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৫০
104
878648
1943972
2026-04-20T16:04:16Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943972
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude>কথা হয়ত তুমি সব বুঝবে না, আমার বলাও হয়ত সাজে না, কিন্তু—সবচেয়ে বড় কথা এই যে তুমি ত শুধু মেয়েমানুষই নও,—আমার ছোট বোন কি না! আর এ জিনিসটা সংসারে নিতান্ত তুচ্ছ জিনিসও নয়।
{{ফাঁক}}‘কাহিনী’র ভেতরে কতটা সত্যি আর কতটা কল্পনা আছে জানি নে, কিন্তু কল্পনা যদি হয় ত বাহাদুরী আছে বটে! সাহসের ত অন্ত নেই দেখি! কে উনি? এখন পবিত্রর কথা একটু বলা চাই। তাকে আমি বেশি দিন জানি নে বটে, কিন্তু এটা জানি সে নির্ম্মলচরিত্র এবং সত্যিই খুব সৎ ছেলে! তোমাকে দিদি হয়ত বলতেও পারে। কারণ বয়সে হয়ত তোমার চেয়ে ২।৪ মাসের ছোটই হবে। তার কাছে কখনো কোন নারীর অমর্য্যাদা হবে না এই ত আমার বিশ্বাস। তাকে তুমি চিঠি লিখতে পারো কোন ক্ষতি নেই। আর তা ছাড়া তুমি নিজেও ত খাঁটি সোনা। কার কেমন সম্মান কেমন মর্য্যাদা সমস্ত তোমার কাছে বজায় থাকবে এই আমার দৃঢ় ধারণা। শুনতে পাই সে নাকি এরি মধ্যে চারিদিকে রাষ্ট্র করে বেড়াচ্চে যে অল্পদিনের মধ্যে বাঙলা সাহিত্যে আর একজন লেখিকার লেখা দেখতে পাওয়া যাবে যে কারও চেয়ে ছোট যায়গায় দাঁড়াবে না। কাল একটা লোক ওই ‘মিলন’টা ছাপাবার জন্যে আমায় খোসামোদ করতে এসেছিল। আমি দিই নি। বলি, কাগজের উপযুক্ত নয়। তাড়াতাড়ি দরকার ত নেই। অনেকে খুব ভাল বলবে জানি, কিন্তু নিন্দে করবারও লোকের অভাব হবে না তাও জানি। আমি ধৈর্য্য ধরে এক বৎসর অপেক্ষা করে যখন মাসিক পত্রে ছাপতে দেব, তখন এই সন্দেহটা থাকবে না।
{{ফাঁক}}আমি ত তোমাকে শিষ্য করতে সম্মত হয়েছি, কিন্তু দেখো বোন, শেষকালে বুড়ির মত যেন গুরু-মারা বিদ্যে পেয়ে বোসো না। সে তো আমার চেয়ে বড় হয়ে গেছেই, হয়ত বা শেষকালে তুমিও তাই হবে। সংসারে বিচিত্র কিছুই নয়,—কিছুই বলা যায় না।
{{ফাঁক}}কিন্তু এতে স্বীকার কোরব যখন তুমি লিখে জানাবে যে তুমি ভাল হয়ে গেছ, আর কোন অসুখ নেই। নইলে হার্ট ডিজিজের লোককে আমি সাকরেদ কোরব না। আগে তাকে ডাক্তারের সার্টিফিকেট পেশ করতে হবে, তা কিন্তু জানিয়ে রাখচি। আমি কষ্ট করে শেখাবো আর তুমি হঠাৎ সরে পড়ে আমাকে পণ্ডশ্রম করাবে সে হবে না।
{{ফাঁক}}তুমি একবার লিখেছিলে “আপনার জানিত শ্রীরামপুর!” আর জয়রামপুরটা বুঝি অজানিত? তার ম্যালেরিয়া আর বোলতার মত মশার ঝাঁক সহজে ভুলতে পারে এমন মানুষ পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। গত বোশেখ মাসে এর ভয়েই<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩৬}}</noinclude>
tllta86h6qxk493l126jmc2aydm7m5r
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৫১
104
878649
1943973
2026-04-20T16:08:54Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943973
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude>বৌভাতের নিমন্ত্রণ নিতে পারি নি। জয়রামপুরের আর একটি মেয়ে আমাকে বলে দাদা, আর আমি বলি ‘ছোড়াদি’।
{{ফাঁক}}ডিহরীতে যাচ্ছো? যখন তোমাদের জন্মও হয় নি তখন আমি ওই ডিহরীর ক্যানালের পাড়ে পাড়ে পাকা খিরনী কুড়িয়ে কুড়িয়ে বেড়াতাম আর ফাঁস করে গিরগিটি ধরতাম। উঃ, সে কত কালের কথা। তখন রেল হয় নি, ছোট ষ্টিমারে চড়ে আরা থেকে যেতে হোতো। তোমাদের বাঙলোটাও আমি যেন চোখে দেখতে পাচ্চি। আচ্ছা, তোমাদের ঘর থেকে বেরিয়ে ডানহাতি সূর্য্য উঠে না? তখনকার কালে ওদেশে একটা ঘাট ছিল সতীচওড়া না এমনি একটা কি নাম। বোধ করি তোমাদের ওখান থেকে মাইল দুই হবে। কিছুকাল ঐখানে বসেচি, কি জানি সে ঘাটের অস্তিত্ব আজও আছে কি না!
{{ফাঁক}}‘ভবঘুরে’র ত কোথাও যেতে আসতে বাধে না কি না! আচ্ছা, বর্ম্মার অত কথা জানলে কি করে? ম্যাজিষ্ট্রেট (ডেপুটি) যে ওখানে ‘মিউক’ এ খবর কে দিলে? ম্যাণ্ডলে থেকে যে লাঞ্চে যাতায়াতের পথ আছে সেই বা কে বললে? যদি যথার্থই বর্ম্মায় থেকে থাকো সে কোন যায়গায়? ও দেশটার হেন স্থান তো নেই যেখানে এ দুটি পা একদিন না একদিন ঘুরে বেড়িয়েছে! অথচ আমার মত বাদশাকুড়েও দুনিয়ায় কমই আছে।
{{ফাঁক}}‘রাজলক্ষ্মী’কে কোথায় পাবে? ও-সব বানানো মিছে গল্প। ‘শ্রীকান্ত’ একটা উপন্যাস বইত নয়; ও-সব মিছে জনরবে কান দিতে নেই। ‘কাহিনী’টি কি সত্যি? কার কাহিনী? তুমি বেঁচে থাকো দীর্ঘজীবী হও, মানুষ হও বার বার এই আশীর্ব্বাদ করি। আমার আদেশেও কখনো ভুলেও শরীর অযত্ন কোরো না। তোমাকে দেখিনি তবুও কেন জানি নে তোমার উপর আমার বড় স্নেহ জন্মেচে! ঐটে বোধ হয় তোমার কপালের লেখা। আমার এমন মনে হচ্চে যদি না এত কুড়ে হতুম ত হয়ত শীতকালে শুধু তোমাকেই দেখবার জন্যে কানপুরে যেতাম। কিন্তু সে যে কখনো হবে না তাও বুঝি।
{{ফাঁক}}তোমার ছেলে দুটিকে অনেক আশীর্ব্বাদ করচি। তারা মা-বাপের গুণ যদি পায় ত সংসারে সার্থক হবে। কিন্তু তোমার নিজের বেঁচে থেকে মানুষ করা চাই। মরে গেলে কিছুতে চলবে না। তা হলে আমারও বোধ হয় সত্যিই ভারি কষ্ট হবে।
{{ডান|—দাদা{{ফাঁক}}}}
{{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩৭}}</noinclude>
tcd42fqsczfj0f35ifi9p9qaxn8zzx6
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৫২
104
878650
1943974
2026-04-20T16:15:40Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943974
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude><section begin="A" />{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
২৭শে জুন, ’২১}}}}
{{ফাঁক}}পরম কল্যাণীয়াসু,—লীলা আজ তোমার চিঠি পেলাম। তোমাকে যে জবাব দিইনি তা নিতান্তই সময়ের অভাবে। যথার্থই দিদি এখন আমার এক মুহূর্ত্তের সময় নেই। কংগ্রেসের কাজটা যদি সার্থক হয় ত আবার হয়ত সময় পাওয়া যাবে। আজকাল আমার সেই দু’বছর আগের মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ দিনের কথাগুলো নিরন্তর মনে পড়ে। আমি ছিলাম একজন ভলাণ্টিয়ার—আমার পাশের লোক এবং সুমুখের ৬।৭ জন যখন ‘যান গিয়া’ বলে গুলি খেয়ে পড়ে মরে গেল—তখন আমি পালাই নি, কিন্তু আমার লাগে নি। অনেকদিন আশ্চর্য্য হয়েছি, সেদিন কি করে মেশিনগানের গুলি লাগে নি। আজ মনে হয় তারও প্রয়োজন ছিল।—দাদা
<section end="A" />
<section begin="B" />{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
১৭ই মে, ১৯২৩}}}}
{{ফাঁক}}পরম কল্যাণীয়াসু,—কিছু কাল এখানে ছিলাম না। ঘণ্টা তিনেক হইল বরিশাল হইতে বাটী আসিয়া পৌঁছিয়া তোমার পোষ্টকার্ড পাইলাম। এই জন্যই যথাসময়ে চিঠির জবাব দেওয়া হয় নাই।···
{{ফাঁক}}হুগলী জেলে আমাদের কবি কাজী নজরুল উপোস করিয়া মর মর হইয়াছে। বেলা ১টার গাড়ীতে যাইতেছি, দেখি যদি দেখা করিতে দেয় ও দিলে আমার অনুরোধে যদি সে আবার খাইতে রাজী হয়। না হইলে তার কোন আশা দেখি না। একজন সত্যকার কবি। রবিবাবু ছাড়া বোধ হয় এখন কেহ আর এত বড় কবি নাই।···দাদা—
<section end="B" />
<section begin="C" />{{Block right|{{কেন্দ্র|৭ই ভাদ্র, ১৩২৬
(২৪ আগষ্ট, ১৯১৯)}}}}
{{ফাঁক}}···আমার একটু পরিচয় চাই না কি? কিন্তু রাজলক্ষ্মী আবার কে? কেউ নেই।...‘শ্রীকান্ত’টা আর একবার পড়ে দেখো। হয়ত তার ওপর ঘৃণাই হবে। কিন্তু সব কল্পনা, সব কল্পনা, বেবাক্ মিথ্যে। তারপরে আমার বিদ্যেসিদ্যে কিছু<section end="C" /><noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩৮}}</noinclude>
9ehsk82744bnsyk4ujzj870u1gc3aog
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৫৩
104
878651
1943975
2026-04-20T16:20:12Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943975
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude><section begin="A" />নেই। বড় দরিদ্র ছিলাম—২০টি টাকার জন্য এক্জামিন দিতে পাইনি। এমন দিন গেছে যখন ভগবানকে জানাতাম, হে ভগবান, আমার কিছুদিনের জন্যে জ্বর করে দাও তা’হলে দু-বেলা খাবার ভাবনা ভাবতে হবে না, উপবাস ক’রেই দিন কাটবে। অবশ্য বেশি দিনের জন্যে এ অবস্থা ছিল না। মায়ের মৃত্যুর পরে বাবা প্রায় পাগলের মতো হয়ে যা কিছু ছিল সমস্ত বিলিয়ে নষ্ট ক’রে দিয়ে স্বর্গগত হন।···তারপরে পড়তে সুরু করি। ১৪ বছর ১৪ ঘণ্টা ধরে পড়ি। সেই যে এক্জামিন দিতে পারি নি। কেবল সেই রাগে। বর্ম্মার রেঙ্গুনে ছিলাম কেরাণী—হঠাৎ বড় সাহেবের সঙ্গে মারামারি ক’রে চাকরি ছেড়ে দিয়ে এই ব্যবসা আরম্ভ করেছি। কিন্তু অকস্মাৎ এমনি কপাল ফিরে গেল যে রাতারাতিই একটা বিখ্যাত লোক হয়ে গেলাম। মাঝে মাঝে সন্ন্যাসীর চেলা হয়েও দিন কাটাতে ছাড়ি নি। আমার এই জীবনটা আগাগোড়াই যেন একটা মস্ত উপন্যাস। এবং এই উপন্যাসে সব কাজই করেছি, কেবল ছোট কাজ কখনো করি নি। যখন মরব—ফর্সা খাতা রেখে যাবো—যার মধ্যে কালির আঁচড় এক জায়গাও থাকবে না।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
৯ই আগষ্ট, ’২০}}}}
{{ফাঁক}}পরম কল্যাণীয়াসু,—আমার মানসিক পরিবর্ত্তন সম্বন্ধে একটা প্রশ্ন তুমি বহুদিন হইতে করিয়া আসিতেছ, এবং বহু দিন হইতেই আমি নীরবে আছি। কিন্তু আমার মত যখন তোমার বয়স হইবে, তখন হয়ত ইহা বুঝিতে পারিবে যে জগতে মানুষের এমন কথাও থাকিতে পারে যাহা কাহারও কাছে ব্যক্ত করা যায় না। গেলেও তাহাতে কল্যাণের চেয়েও অকল্যাণের মাত্রাই বাড়ে। অথচ, এই নীরবতার শাস্তি অতিশয় কঠিন।
{{ফাঁক}}ভীষ্ম যে একদিন স্তব্ধ হইয়া শরবর্ষণ সহ্য করিয়াছিলেন সে কথাটা চিরদিনের জন্য মহাভারতে লেখা হইয়া গেল, কিন্তু কত অলিখিত মহাভারতে যে এমন কত শরশয্যা নিত্যকাল ধরিয়া নিঃশব্দে রচিত হইয়া আসিতেছে তাহার একটা ছত্রও কোথাও বিদ্যমান নাই। এমনি করিয়াই সংসার চলিতেছে।···
{{ফাঁক}}তোমার এই দাদাটির অনেক বয়স হইয়াছে, অনেকের অনেক প্রকারের ঋণ এ নাগাদ শোধ করিতে হইয়াছে, তাহার এই উপদেশটা কখনো বিস্মৃত হইয়ো না যে, পৃথিবীতে কৌতূহল বস্তুটার মূল্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক দিয়া যত বড়ই হোক, তাহাকে দমন করার পুণ্যও সংসারে অল্প নয়।
{{nop}}<section end="B" /><noinclude>{{কেন্দ্র|৪৩৯}}</noinclude>
ivm05gapi586i2o2nlhx1hpvgp90jta
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৫৪
104
878652
1943976
2026-04-20T16:26:40Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943976
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}যে বেদনার প্রতিকার নাই, নালিশ করতে গেলে যাহার নীচেকার পঙ্ক জেরায় জেরায় একেবারে উপর পর্য্যন্ত ঘুলাইয়া উঠিতে পারে, সে যদি থিতাইয়া থাকে ত থাক না। কি সেখানে আছে নাই-বা জানা গেল। কি এমন ক্ষতি?···
{{ফাঁক}}দুঃখের ব্যাপারে আমিই সকলকে ছাড়াইয়া চলিয়াছি, আর সবাই আমার পিছনে খোঁড়াইয়া খোড়াইয়া আসিতেছে—এ ধারণা সত্যও নয়, সাধুও নয়। সৌভাগ্যের দম্ভে রাবণকে পড়িতে হইয়াছিল, কিন্তু দৈন্য ও দুর্ভাগ্যের অহঙ্কারে গৌতমীকে যখন সমস্ত অর্জ্জিত পুণ্যের জরিমানা দিতে হইয়াছিল, তখন সে বিচার ইংরেজ হাকিমের আদালতেও হয় নাই, কালা-গোরার মকদ্দমায় পিনাল কোডের ধারাতেও নিষ্পত্তি হয় নাই।···বই আমি যাই লিখি না কেন, এলোমেলো চিঠি লেখায় আমার সমকক্ষ হইতে পারে এরূপ ব্যক্তি যথেষ্ট নাই।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|[ শ্রীঅমল হোমকে লেখা ]}}
{{Dropinitial|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
১৬-৮-১৯}}}}
{{বাম|পরম কল্যাণীয়েষু,—}}
{{ফাঁক}}অমল, ‘ভারতী’র আড্ডায় সেদিন শুনলাম তোমারও নাকি খুব ফাঁড়া গিয়াছে<ref>এই চিঠিখানি জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের সময় অমলবাবুকে লেখা। এই সময় তিনি লাহোরের দৈনিক ‘ট্রিবিউন’ পত্রের সহিত যুক্ত ছিলেন।</ref>। ইংরেজের মারমূর্ত্তি খুব কাছে থেকেই দেখে নিলে ভাল করে। এ একটা কম লাভ নয়। আমাদের মোহ কাটাবার কাজে এরও প্রয়োজন ছিল। দরকার মনে করলেই ওরা যে কত নিষ্ঠুর কতটা পশু হ’তে পারে, তা ইতিহাসের পাতাতেই জানা ছিল এতদিন—এবার প্রত্যক্ষ জ্ঞান হ’ল।
{{ফাঁক}}আর এক লাভ—দেশের বেদনার মধ্যে আমরা যেন নতুন করে পেলাম রবিবাবুকে<ref>১৯১৫ সালে ইংরাজ গবর্ণমেণ্ট রবীন্দ্রনাথকে যে ‘নাইট’ উপাধি দিয়েছিল, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ তা ত্যাগ করেন।</ref>। এবার একা তিনিই আমাদের মুখ রেখেছেন।
{{ফাঁক}}‘নারায়ণের’ সময় সি. আর. দাশ একদিন আমাকে বলেছিলেন যে, রবিবাবু যখন<section end="B" /><noinclude>{{rule}}
{{reflist}}{{কেন্দ্র|৪৪০}}</noinclude>
9i2if2h4u7vpanqg47613jo1kku4asp
1943978
1943976
2026-04-20T16:34:59Z
Nettime Sujata
5470
1943978
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />{{ফাঁক}}যে বেদনার প্রতিকার নাই, নালিশ করতে গেলে যাহার নীচেকার পঙ্ক জেরায় জেরায় একেবারে উপর পর্য্যন্ত ঘুলাইয়া উঠিতে পারে, সে যদি থিতাইয়া থাকে ত থাক না। কি সেখানে আছে নাই-বা জানা গেল। কি এমন ক্ষতি?···
{{ফাঁক}}দুঃখের ব্যাপারে আমিই সকলকে ছাড়াইয়া চলিয়াছি, আর সবাই আমার পিছনে খোঁড়াইয়া খোড়াইয়া আসিতেছে—এ ধারণা সত্যও নয়, সাধুও নয়। সৌভাগ্যের দম্ভে রাবণকে পড়িতে হইয়াছিল, কিন্তু দৈন্য ও দুর্ভাগ্যের অহঙ্কারে গৌতমীকে যখন সমস্ত অর্জ্জিত পুণ্যের জরিমানা দিতে হইয়াছিল, তখন সে বিচার ইংরেজ হাকিমের আদালতেও হয় নাই, কালা-গোরার মকদ্দমায় পিনাল কোডের ধারাতেও নিষ্পত্তি হয় নাই।···বই আমি যাই লিখি না কেন, এলোমেলো চিঠি লেখায় আমার সমকক্ষ হইতে পারে এরূপ ব্যক্তি যথেষ্ট নাই।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|[ শ্রীঅমল হোমকে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
১৬-৮-১৯}}}}
{{বাম|পরম কল্যাণীয়েষু,—}}
{{ফাঁক}}অমল, ‘ভারতী’র আড্ডায় সেদিন শুনলাম তোমারও নাকি খুব ফাঁড়া গিয়াছে<ref>এই চিঠিখানি জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের সময় অমলবাবুকে লেখা। এই সময় তিনি লাহোরের দৈনিক ‘ট্রিবিউন’ পত্রের সহিত যুক্ত ছিলেন।</ref>। ইংরেজের মারমূর্ত্তি খুব কাছে থেকেই দেখে নিলে ভাল করে। এ একটা কম লাভ নয়। আমাদের মোহ কাটাবার কাজে এরও প্রয়োজন ছিল। দরকার মনে করলেই ওরা যে কত নিষ্ঠুর কতটা পশু হ’তে পারে, তা ইতিহাসের পাতাতেই জানা ছিল এতদিন—এবার প্রত্যক্ষ জ্ঞান হ’ল।
{{ফাঁক}}আর এক লাভ—দেশের বেদনার মধ্যে আমরা যেন নতুন করে পেলাম রবিবাবুকে<ref>১৯১৫ সালে ইংরাজ গবর্ণমেণ্ট রবীন্দ্রনাথকে যে ‘নাইট’ উপাধি দিয়েছিল, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ তা ত্যাগ করেন।</ref>। এবার একা তিনিই আমাদের মুখ রেখেছেন।
{{ফাঁক}}‘নারায়ণের’ সময় সি. আর. দাশ একদিন আমাকে বলেছিলেন যে, রবিবাবু যখন<section end="B" /><noinclude>{{rule}}
{{reflist}}{{কেন্দ্র|৪৪০}}</noinclude>
p868rlhouwqgkmon7a0w804rg0aft6u
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৫৫
104
878653
1943977
2026-04-20T16:33:48Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943977
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|পত্র-সঙ্কলন}}</noinclude><section begin="A" />নাইটহুড নেন, তখন নাকি দাশ সাহেব কেঁদেছিলেন। এখন একবার তাঁর দেখা পেলে জিজ্ঞাসা করতাম, আজ আমাদের বুক দশ হাত কি না বলুন।
{{ফাঁক}}তোমার কাগজের নামই শুনেছি—কখনো চোখে দেখিনি। পাঠিও না দুএকখানা। তোমার এডিটর ত এখন জেলে। চালাও জোরসে! তোমার নাম-ডাক এখান থেকে শুনেই আমরা খুশী হই। আমার স্নেহাশীর্ব্বাদ জেনো।
{{Block right|{{কেন্দ্র|ইতি—আশীর্ব্বাদক
শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}}}
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|[ শ্রীকেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
১২. ১০. ২০}}}}
{{ফাঁক}}শ্রদ্ধাস্পদেষু,—কেদারবাবু, আপনার অবস্থা শুনিলাম, এবার এ অধীনের অবস্থাটা শুনুন।
{{ফাঁক}}কিছুদিন হইতে পিঠের উপরটায় শির-দাঁড়া ধরিয়া একটা অল্প-স্বল্প ব্যথা উপভোগ করিতেছিলাম, বিশেষ কাহারো তাহাতে ক্ষতি-বৃদ্ধি ছিল না। না আমার না গৃহিণীর। অকস্মাৎ একরাত্রে ব্যথায় ঘুম ভাঙিয়া গেল, দেখি নিঃশ্বাস ফেলে কাহার সাধ্য! অনেক তাপ-সেক মালিশাদি করিয়া সকালে একটু ভাল লক্ষণ যদিবা দেখা দিল, সন্ধ্যা হইতে এমন হইল যে ডাক্তার ডাকা অনিবার্য্য হইয়া উঠিল। সেই অবধি ভুগিতেছি। তাহার উপরে আবার একদিন মোটর স্লিপ করায় কোমরেও দারুণ হ্যাঁচকা লাগিয়া আছে। তবে আফিম ভরসা। ইহাতে যদি অচলা ভক্তি রাখিতে পারি, তবে দুর্দ্দিন কাটিবেই কাটিবে। ভগবান শ্রীদেবাদিদেব আমাদের প্রতি বর দিয়াছিলেন যে রক্তবাহ্য না করিয়া আর আমরা কৈলাস গমন করিব না। সেটার সূচনা না হওয়া পর্য্যন্ত আমিই বা কি আর আপনিই বা কি—নির্ভয়ে থাকিতে পারেন—কোন দুশ্চিন্তার কারণ নাই।
{{ফাঁক}}এইজন্য সুরেশকেও<ref>বারাণসীর ‘উত্তরা’ পত্রিকার সম্পাদক শ্রীসুরেশচন্দ্র চক্রবর্তীর গৃহে শরৎচন্দ্রের সহিত রস-সাহিত্যিক কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচয় ঘটে।</ref> জবাব দিতে পারি নাই। গতবারের আপনার—নিজেও দুটান টানে! বড় চমৎকার বড় উপভোগ্য হয়েছে। ‘কালী ঘরামী’ও<ref>‘কালী ঘরামী’ কেদারবাবুর লেখা একটি গল্প।</ref> অনিন্দনীয়। প্রায় সবগুলিই ভাল হইয়াছে। সুরেশের incomplete গল্প সম্বন্ধে এখনও বলিবার<section end="B" /><noinclude>{{rule}}
{{reflist}}{{কেন্দ্র|৪৪১}}</noinclude>
k3mk2zyilz8itwhj2j3r0ockxsf9tuu
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৫৬
104
878654
1943979
2026-04-20T16:40:19Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943979
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" />{{কেন্দ্র|শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ}}</noinclude><section begin="A" />সময় আসে নাই। আরও দু’চারটে লেখা দেখি। একথা শুনিয়া সে যেন বলার চেয়ে বেশি কিছু না ভাবিয়া লয়। কাগজ ছবি ইত্যাদিকে অবশ্য ভাল কিছুতেই বলা যায় না, তবে ভবিষ্যতে ভাল হইবে আশা করা সাজে।
{{ফাঁক}}আমি আছি বৈকি। লিখিতে বসিতেছি। শীঘ্রই পাঠাইয়া দিয়া বাহির হইয়া পড়িব—যেখানে দু-চক্ষু যায়। অসুখের জন্য এবার ভারতবর্ষের ‘দেনা-পাওনাটা’ও লেখা হয় নাই।—আপনার শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
{{ফাঁক}}আপনার পাকা-হাতের হাল-ধরা বজায় থাকিলে ‘প্রবাস-জ্যোতিঃ’র (কাশী থেকে প্রকাশিত মাসিক পত্রিকা) আর যাই হোক, ডুবিবার সম্ভাবনা নাই। আমার মনে হয় এ-দুঃসময়ে আপনার আফিমের মাত্রাটা কিঞ্চিৎ বৃদ্ধি করিয়া দেওয়া কর্ত্তব্য! এবং কর্ত্তব্য পালনের ন্যায় বড় জিনিস সংসারে আর নাই।
<section end="A" />
<section begin="B" />{{Block right|{{কেন্দ্র|সামতাবেড়, পানিত্রাস, জেলা হাওড়া
৫ই আষাঢ়, ’৩৮}}}}
{{ফাঁক}}সুহৃদ্বরেষু,—কেদারবাবু, যথাসময়েই আপনার স্নেহশীতল চিঠিখানি পেয়েছিলাম, কিন্তু এ ক’দিন এমনি ব্যস্ত ছিলাম যে উত্তর দিতে পারিনি। কাল আমাদের হাবড়ার জেলা Congress election হয়ে গেলো। এবার বিরুদ্ধ দলের সোরগোল, গালিগালাজ ও লাঠি ঠক্ঠকি দেখে ভেবেছিলাম হয়ত বিনা রক্তপাতে শেষ হবে না। আমি President, সুতরাং আমাদেরও যথারীতি প্রস্তুত হতে হয়েছিল। সভায় দাঙ্গা হয় এ আমার ভারি ভয়, তাই কাঁটা তারের বেড়া, মায় electrification সবই তৈরি রাখতে হয়েছিল। আর তৈরি ছিল বলেই দাঙ্গা হয়নি, নির্ব্বিঘ্নে দখল কায়েম রাখা গেল। বছর দশেক President আছি, vested interest জন্মে গেছে—সহজে ছাড়া চলে না। চলে কি? আমাদের পক্ষের যুক্তিটা এই যে গলদ যতই থাক, তোমরা বলবার কে? এবং দেশের মুক্তি যদি আসে তো আমাদের দ্বারাই আসুক। তোমরা পারবে না। তোমরা হাত দিতে যেয়ো না। কিন্তু ওরা সম্মত হয় না বলেই তো আমরা রেগে যাই। নইলে আমাদের, অর্থাৎ সুভাষী দলের মেজাজ খুবই ঠাণ্ডা। অনেকটা আপনার মতো। যাক্, এখন একটু সময় পাওয়া গেল। দু-একমাস বই লিখতে শুরু করি। কি বলেন?
{{ফাঁক}}যখন কলকাতায় এসেছিলেন আমাকে একটু খবর দেননি কেন? রাস্তা ঘাট যত খারাপই হোক্, কিছু একটা উপায় করতামই। কাশী যাবেন কবে? একবার দেখা হ’লে বড় ভালো হয়। খবর দেবেন।
{{ডান|—আপনার শরৎ}}
{{nop}}<section end="B" /><noinclude>{{কেন্দ্র|৪৪২}}</noinclude>
n3cyxke4ozdh1wweljz5to490xh9oqi
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৫৭
104
878655
1943980
2026-04-20T16:44:16Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943980
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
১৪-১০-২৪}}}}
{{ফাঁক}}প্রিয়বরেষু,—আজ সকালে আপনার চিঠি পেলাম। নানা কাজে ভুলে থাকি, প্রতিদিন অনেক চিঠিই ত পাই, কিন্তু কালে-ভদ্রে লেখা আপনার কয়েক ছত্র আমাকে যে আনন্দ দেয় তা সত্যই দুর্লভ। প্রীতির মধ্যে দিয়ে আসবার সময়ে সে যেন অনেকখানি সঙ্গে করে আনে। কেদারবাবু, মানুষের সত্যকার ভালবাসা আমি টের পাই,—এখানে আমার বড় বেশি ভুলচুক হয় না।
{{ফাঁক}}আপনার শরীর ভাল নয়, একটু বেশি তাড়াতাড়িই যেন সে জীর্ণ হয়ে এলো। একদিন যদি সে ভার বইতে আর না চায় হায় হায় আমি কোরব না, কিন্তু ব্যথা পাবো। তখন নূতন লেখার সঙ্গে সঙ্গে কেবলি মনে হবে একজন আর নেই এ লেখা যার আনন্দ দিয়ে গ্রহণ করবার হৃদয় ছিল, শক্তি ছিল।
{{ফাঁক}}আপনার নিজের লেখার সম্বন্ধে কখনো আপনি একটি কথা বলেননি, আমিও কখনো একটি কথা বলিনি। অথচ, যেখানে যা বেরিয়েচে সমস্ত পড়েছি। প্রশংসার বদলে প্রশংসা দিতে আমার অত্যন্ত সঙ্কোচ হোতো। কেবলি মনে হোতো পাছে আপনার বিশ্বাস না হয়, পাছে আপনার আত্মসম্মানে আঘাত লাগে।
{{ফাঁক}}বৎসরও আসবে, বিজয়াও আসবে—একদিন কিন্তু আপনিও আসবেন না, আমিও না। আপনি আমার বয়সে বড়, আপনি আমাকে আশীর্ব্বাদ করবেন, সেদিন যেন আমার বেশি দুরে না থাকে। আমি ভারি শ্রান্ত। তুচ্ছ সুখ তুচ্ছ দুঃখ, একবার হাসি একবার কান্না—নিতান্তই আমার পুরণো হয়ে গেছে। আটচল্লিশ বছর বয়স হ’ল—ঢের হয়েছে। আমার বড় ইচ্ছে এর পরে কি আছে পেতে। নিরর্থক কতকগুলো বিলম্ব হবার কোন প্রয়োজন অনুভব করিনে। আপনি আমাকে আশীর্ব্বাদ করবেন। সত্যের সুমুখেই যদি এসে পড়ে থাকেন, আপনার সত্য আশীর্ব্বাদ আমার ফলবে।—
{{ডান|আপনার শ্রীশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়}}
{{nop}}<noinclude>{{কেন্দ্র|৪৪৩}}</noinclude>
cc3jm2302512788bwqe6mqvpv31v29r
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৫৮
104
878656
1943981
2026-04-20T16:51:50Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943981
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude>{{কেন্দ্র|[ শ্রীহরিদাস শাস্ত্রী<ref>হরিদাসবাবু কাশীতে কবিরাজী করতেন। এইখানেই উভয়ে পরিচিত হন।</ref>কে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
২৮.৩.২৫}}}}
{{ফাঁক}}তোমার চিঠি পড়িলাম। এবার কাশীতে গিয়া এত লোকের ভীড়ের মধ্যেও কেবল তোমাকেই শুধু আত্মীয় বলে মনে হইয়াছিল। অথচ কিছুই তোমার জানিতাম না। এই পত্র পড়িতে সময় কিছু নষ্ট হইল বটে, কিন্তু সময় কি শুধুই প্রহর দণ্ড পল বিপল? তার অতিরিক্ত আর কিছুই নয়? সে দিক দিয়া তোমার এই সুদীর্ঘ পত্র লিখিতে এবং আমার পড়িতে ও চিন্তা করিতে কিছুই নষ্ট হয় নাই, বরঞ্চ কিছু সঞ্চয়ই হইল···মেয়েদের ২৩ হইতে ৩৫ বৎসর বয়সের মধ্যেই সঙ্কটজনক সময়, কারণ ২২।২৩-এর পরে যখন সত্যকার প্রেম জাগ্রত হয়—তখন কেবল আধ্যাত্মিক ভালবাসাতে ইহার সকল ক্ষুধা মেটে না। কিন্তু এ তো গেল একটা দিক―শারীরিক দিক। কিন্তু আর একটা বড় দিক আছে—সেইটাই চিরদিনের মীমাংসাবিহীন সমস্যা। সংসারে সচরাচর এরূপ ঘটে না, কিন্তু যে দুই চারি জনের অদৃষ্টে ঘটে, তাহাদের মত ভাগ্যবানও নাই—দুর্ভাগাও নাই। ইহাদের দুর্ভাগ্যের উপর কাব্যজগতে সকল মাধুর্য্য সঞ্চিত হইয়া উঠিয়াছে···অথচ এত বড় সত্যও আর নাই—
<poem>::সুখ দুখ দুটী ভাই—
::সুখের লাগিয়া যে করে পীরিতি দুখ যায় তার ঠাঁই!</poem>
{{ফাঁক}}···সমাজের মধ্যে যাকে গৌরব দিতে পারা যায় না, তাকে কেবল মাত্র প্রেমের দ্বারাই সুখী করা যায় না। মর্য্যাদাহীন প্রেমের ভার, আলগা দিলেই দুর্ব্বিসহ হইয়া উঠে।···তা ছাড়া শুধু নিজেদের কথা নয়, ভাবি সন্তানের কথাটা সবচেয়ে বড় কথা, তাহাদের ঘাড়ে অপরের বোঝা চাপাইয়া দিবার ক্ষমতা অতিবড় প্রেমেরও নাই।···একটা কথা।—যথার্থ ভালবাসিলে মেয়েদের শক্তি ও সাহস পুরুষের অপেক্ষা ঢের বেশি। কোনো কিছুই তাহারা গ্রাহ্য করে না। পুরুষেরা যেখানে ভয়ে অভিভূত হইয়া পড়ে, মেয়েরা সেখানে স্পষ্ট কথা উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করিয়া দিতে দ্বিধাই করে না। ···সমাজের অবিচার অত্যাচারের যে কেহ প্রথমে প্রতিবাদ করে, তাহাকেই দুঃখ পাইতে হয়।···ইং ১৯২৫
{{ফাঁক}}···সত্যকার ভালবাসার জন্য জগতে দুঃখভোগ নাকি করিতে হয়। কেহ না করিলে সমাজের অর্থহীন অবিচারের প্রতিবিধান হইবে কিসে? সমাজের বিরুদ্ধে যাওয়া, আর ধর্ম্মের বিরুদ্ধে যাওয়া যে এক বস্তু নয়—এই কথাটাই লোকে ভুলিয়া যায়।
{{nop}}<noinclude>{{rule}}
{{reflist}}{{কেন্দ্র|৪৪৪}}</noinclude>
6q7qyl18puf5k6bwver8u7korzewkgb
পাতা:শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ (ত্রয়োদশ সম্ভার) - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৪৫৯
104
878657
1943982
2026-04-20T16:58:31Z
Nettime Sujata
5470
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে */
1943982
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="3" user="Nettime Sujata" /></noinclude><section begin="A" />{{কেন্দ্র|[ শ্রীসুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা ]}}
{{Block right|{{কেন্দ্র|বাজে শিবপুর, হাওড়া
২৮. ৪. ২৫}}}}
{{ফাঁক}}···শরীরটা তেমন সুস্থ নয়।
{{ফাঁক}}ভেলু<ref>শরৎচন্দ্রের কুকুরের নাম ছিল ভেলু।</ref> বেঁচে নেই। গত বৃহস্পতিবারের আগের বৃহস্পতিবারে আমি ঢাকা থেকে সকালে এসে পৌঁছাই। তখনি বেলগেছে হাসপাতাল থেকে তাকে মোটরে করে বাড়ী আনি। এসেই কিন্তু সে অত্যন্ত পীড়িত হয়ে পড়ে। ডাক্তারেরা বলেন acute gastritis. সাতদিন সাতরাত খাইনি ঘুমুইনি—তবুও পরের বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার সময় তার প্রাণ বার হয়ে গেল। শেষ দিন বড় যন্ত্রণা পেয়েই সে গেছে।
{{ফাঁক}}বুধবারে জোর করে কড়া ওষুধ খাওয়াবার চেষ্টা করি, চাম্চে দিয়ে মুখে গুঁজে দেবার অনেক চেষ্টা করেও ওষুধ তার পেটে গেল না; কিন্তু রাগের ওপর আমাকে কামড়ালে। সেদিন সমস্ত রাত আমার গলার কাছে মুখ রেখে কি তার কান্না। ভোরবেলায় সে কান্না তার থামলো।
{{ফাঁক}}আমার ২৪ ঘণ্টার সঙ্গী, কেবল এ-দুনিয়ায় আমাকেই সে চিনেছিল। যখন কামড়ালে এবং সবাই ভয় পেলে তখন রবিবাবুর এই কথাটাই শুধু মনে হতে লাগলো—তোমার প্রেমে আঘাত আছে নাইক অবহেলা! তার আঘাত ছিল, কিন্তু অবহেলা ছিল না। এর পূর্ব্বে এত ব্যথা আমি আর পাই নি।
{{ফাঁক}}···ডাক্তার প্রভৃতি বহু বন্ধু-বান্ধবেই এখন ধরেছেন চিকিৎসা করাতে। অর্থাৎ পাগলা কুকুর কামড়ানোর পরে যা করা উচিত। উচিত যা তাই চলবে। ২৮টা injectionএর আজ ১০টা injection হয়ে গেল। আরো ১৮টা বাকি। তাও সম্পূর্ণ হবে। মানুষকে বাঁচাতেই হবে,—কারণ, your life is too valuable! দেখাই যাক valuable lifeএর শেষটা কি দাঁড়ায়!{{ফাঁক|5em}}—তোমার শরৎ
<section end="A" />
<section begin="B" />{{কেন্দ্র|[ উপন্যাসিক শ্রীচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা ]}}
{{ডান|বাজে শিবপুর, ২১শে এপ্রিল, ’২৫}}
{{বাম|ভাই চারু,}}
{{ফাঁক}}এইমাত্র তোমার চিঠি পেলাম। আজ আমার চিঠিপত্র লেখবার মত মনের অবস্থা নয়, তবুও তোমাকে এই কথাটা না জানিয়ে থাকতে পারলাম না। তোমার হয়ত মনে পড়বে, আসবার সময় পথের ধারে—একটা মৃতপ্রায় বাছুর, তারপরেই একটা<section end="B" /><noinclude>{{rule}}
{{reflist}}{{কেন্দ্র|৪৪৫}}</noinclude>
ibnbtc635l8cd2jfzt8e6e633f1kjxy
পাতা:দুধ-ভাত - ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী.pdf/১৭
104
878658
1943987
2026-04-21T08:39:18Z
Babulbaishya
2144
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "দুধ-ভাত বাড়ীতে রাগ চলে, কিন্তু পরের বাড়ীতে ? অগত্যা মিণ্টকে—। ওখান থেকে সে পাখীদের বাড়ী গেল। আজ রবিবার, খুব ক’ষে খেলার দিন । বিকেল হয়ে এলো, মিন্টু বাড়ী যাবার নাম করে না ।..." দিয়ে পাতা তৈরি
1943987
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Babulbaishya" />{{rh|৫|দুধ-ভাত|৫}}</noinclude>দুধ-ভাত
বাড়ীতে রাগ চলে, কিন্তু পরের বাড়ীতে ?
অগত্যা মিণ্টকে—।
ওখান থেকে সে পাখীদের বাড়ী গেল। আজ রবিবার, খুব ক’ষে
খেলার দিন । বিকেল হয়ে এলো, মিন্টু বাড়ী যাবার নাম করে না ।
সে তো বাড়ী যাবে না ঠিকই ক'রে ফেলেছে। পাখীর মা সবাইকে
জলখাবার আর চা দিলেন, আর মিন্টুকেও। মিন্টু অবশ্যই আপত্তি
করেছিল, কারণ ওর ভীষণ লজ্জা করে অন্য জায়গায় খেতে। কিন্তু
তাহ'লে কি হয়, পাখীর মার কাছে কোনো আপত্তিই টিকলো না ৷
খাবার চা খেতে খেতে এলো এক বাটি দুধ ৷
—খেয়ে নাও মিন্টু, চা খাও না-খাও দুধটা খাও ।
মিন্টু দু'বার ঢোঁক গিলে দুধটার দিকে তাকিয়ে ভাবলো, কিজন্য
সে আজ সারাদিন বাড়ী ছাড়া ৷
কিন্তু মিন্টুকে খেতেই হলো— অগত্যা—।
সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সারাদিন হৈ চৈ ক'রে মিন্টুর চোখ বুজে
আসছে ৷ কোথায় যায় ? আচ্ছা, আজ চুপচাপ লুকিয়ে বিছানায়
গিয়ে শুয়ে পড়িগে, সকালবেলা উঠে আবার ভাববো কি করা যায়,
কোথায় যাওয়া যায় ৷
d
মিন্টু আস্তে আস্তে বাড়ী ঢুকলো। সন্তু বাইরের ঘরে পড়ছিল,
মুখ তু’লে মিন্টুকে দেখে বললে : এই যে ছোটদি! সারাদিন কোথায়
থাকা হয়েছিল শুনি ?
মুখ ভেঙিয়ে মিণ্ট উত্তর দিল : যেখানেই থাকি তোর কি ?
d
–যাও না, হবে'খন, আজ খাবার সময় ছোটকা খুঁজছিল, বড়দা<noinclude></noinclude>
cnde87dduqpw20byo80l8iosk290lfj
1943989
1943987
2026-04-21T08:42:05Z
Babulbaishya
2144
1943989
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Babulbaishya" />{{rh|৫|দুধ-ভাত|৫}}</noinclude>বাড়ীতে রাগ চলে, কিন্তু পরের বাড়ীতে?
অগত্যা মিণ্টুকে—।
ওখান থেকে সে পাখীদের বাড়ী গেল। আজ রবিবার, খুব ক’ষে
খেলার দিন। বিকেল হয়ে এলো, মিন্টু বাড়ী যাবার নাম করে না ।
সে তো বাড়ী যাবে না ঠিকই ক'রে ফেলেছে। পাখীর মা সবাইকে
জলখাবার আর চা দিলেন, আর মিন্টুকেও। মিন্টু অবশ্যই আপত্তি
করেছিল, কারণ ওর ভীষণ লজ্জা করে অন্য জায়গায় খেতে। কিন্তু
তাহ'লে কি হয়, পাখীর মার কাছে কোনো আপত্তিই টিকলো না ৷
খাবার চা খেতে খেতে এলো এক বাটি দুধ ৷
—খেয়ে নাও মিন্টু, চা খাও না-খাও দুধটা খাও ।
মিন্টু দু'বার ঢোঁক গিলে দুধটার দিকে তাকিয়ে ভাবলো, কিজন্য
সে আজ সারাদিন বাড়ী ছাড়া ৷
কিন্তু মিন্টুকে খেতেই হলো— অগত্যা—।
সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সারাদিন হৈ চৈ ক'রে মিন্টুর চোখ বুজে
আসছে ৷ কোথায় যায় ? আচ্ছা, আজ চুপচাপ লুকিয়ে বিছানায়
গিয়ে শুয়ে পড়িগে, সকালবেলা উঠে আবার ভাববো কি করা যায়,
কোথায় যাওয়া যায় ৷
d
মিন্টু আস্তে আস্তে বাড়ী ঢুকলো। সন্তু বাইরের ঘরে পড়ছিল,
মুখ তু’লে মিন্টুকে দেখে বললে : এই যে ছোটদি! সারাদিন কোথায়
থাকা হয়েছিল শুনি ?
মুখ ভেঙিয়ে মিণ্ট উত্তর দিল : যেখানেই থাকি তোর কি ?
d
–যাও না, হবে'খন, আজ খাবার সময় ছোটকা খুঁজছিল, বড়দা<noinclude></noinclude>
h0vbq2lgdo8c6e6brx0tcv42ht9ia2x
পাতা:কুরপালা - রমেশচন্দ্র সেন (১৯৪৬).pdf/৪
104
878659
1943990
2026-04-21T10:13:36Z
Babulbaishya
2144
/* লিখা নথকা */
1943990
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="0" user="Babulbaishya" /></noinclude><noinclude></noinclude>
tbfj0535cusopjh4qlkzrq3xjjcf7cc
পাতা:কুরপালা - রমেশচন্দ্র সেন (১৯৪৬).pdf/৫
104
878660
1943991
2026-04-21T10:19:27Z
Babulbaishya
2144
/* মুদ্রণ সংশোধন করা হয়নি */ "{{কেন্দ্র|{{larger|'''ভূমিকা'''}}}} {{ফাঁক}}শ্রদ্ধের শ্রীযুক্ত নলিনী কিশোর গুহ সম্পাদিত ঢাকার “সোন বাংলায়”এই উপন্যাসখানি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়। তারপর ব পরিবর্তন করিয়া বর্তমানে পু..." দিয়ে পাতা তৈরি
1943991
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="1" user="Babulbaishya" /></noinclude>{{কেন্দ্র|{{larger|'''ভূমিকা'''}}}}
{{ফাঁক}}শ্রদ্ধের শ্রীযুক্ত নলিনী কিশোর গুহ সম্পাদিত ঢাকার “সোন
বাংলায়”এই উপন্যাসখানি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়। তারপর ব
পরিবর্তন করিয়া বর্তমানে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইল ।
{{ফাঁক}}রেফ সংযোগে বর্ণের বিকল্পে দ্বিত্ব হয়। এখন পর্যন্ত দুই র
বানানই প্রচলিত থাকায় আমি কোন কোন জায়গায় দ্বিত্ব র
করিয়াছি। তবে অধিকাংশ স্থলেই দ্বিত্ব ব্যবহার করি না
সাধারণতঃ চলন্তিকার বানানই অনুসৃত হইয়াছে।
{{ফাঁক}}বহু বিদেশী গ্রন্থের খ্যাতনামা অনুবাদক, সাহিত্য-সেবক সমিি
ভূতপূর্ব সম্পাদক আমার স্নেহভাজন সাহিত্যিক বন্ধু শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রন
ঘোষ এই পুস্তকখানি প্রকাশের জন্য নানাভাবে আমাকে সাহ
করিয়া কৃতজ্ঞতাভাজন হইয়াছেন।
{{ফাঁক}}পূর্ববঙ্গের যে অঞ্চলকে কেন্দ্র করিয়া এই আখ্যান রচিত, পুস্ত
ব্যবহৃত সেই অঞ্চলের চাষীদের মধ্যে প্রচলিত কতগুলি কথ্য শ
অর্থ পরিশিষ্টে সন্নিবিষ্ট হইল ।
{| {{ts|wa|mc}}
| width=30% |<center>২০১, মুক্তারামবাবু ষ্ট্রীট,<br>কলিকাতা<br>ভাদ্র সংক্রান্তি, ১৩৫৩</center>
| width=3% rowspan=2| {{brace2|4|r}}
| {{ts|ar}} |<center>'''গ্রন্থকার'''</center>{{gap|1em}}
|}<noinclude></noinclude>
iu8yn0shd3iqd1y11dmf845yp86gm0x
পাতা:কুরপালা - রমেশচন্দ্র সেন (১৯৪৬).pdf/৬
104
878661
1943992
2026-04-21T10:19:50Z
Babulbaishya
2144
/* লিখা নথকা */
1943992
proofread-page
text/x-wiki
<noinclude><pagequality level="0" user="Babulbaishya" /></noinclude><noinclude></noinclude>
tbfj0535cusopjh4qlkzrq3xjjcf7cc